(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: -)
علوم البلاغة القسم: البلاغة
الكتاب: علوم البلاغة «البيان، المعاني، البديع»
المؤلف: أحمد بن مصطفى المراغي (ت 1371هـ)
الناشر: *
عدد الصفحات: 399
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
বই: অলঙ্কারশাস্ত্র «বয়ান, মা'আনি, বাদি'»
লেখক: আহমদ ইবনে মুস্তাফা আল-মারাগী (মৃত্যু ১৩৭১ হি.)
প্রকাশক: *
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمات
مقدمة الكتاب…مقدمة الكتاب:
حمدا لك اللهم، بك المعونة والتوفيق، ومنك الهداية لأقوم طريق، إذا أظلمت الشبهات، في دجنة الخطوب المدلهمات، وبفضلك نطلب يقينا يملأ الصدر، ويستولي على زمام القلب، ويكبت ثورة النفس، فيردها عن غيها، ويكبح جماح شهواتها، فإنك الملجأ والنصير والمعين، وصلاة وسلاما على محمد عبدك ورسولك الذي آتيته الحكمة وفصل الخطاب، وعصمته من الخطأ وألهمته الصواب، ومننت عليه بفضيلة البيان، ففند بقاطع حجته قول من عارضه من أهل الزور والبهتان.
وبعد فإن موضع علوم البيان من علوم العربية، موضع الرأس من الإنسان، أو اليتيمة من قلائد العقيان، فهي مستودع سرها، ومظهر جلالها، فلا فضيلة لكلام على كلام، إلا بما يحويه من لطائفها، ويودع فيه من مزاياها وخصائصها، ولا تبريز لمتكلم على آخر، إلا بما يحوكه من وشيها، ويلفظه من درها، وينفثه من سحرها، ويجنيه من يانع ثمرها.
إلى أن بها نعرف وجه إعجاز القرآن، وندرك ما فيه من خصائص البيان، ونفهم براعة أسلوبه، وانسجام تأليفه، وسهولة نظمه وسلامته، وعذوبته وجزالته، إلى أمثال تلك المحاسن التي أسالت على العرب الوادي عجزا، حتى حارت عقولهم، وقصرت عن بلوغ شأوه جهابذتهم وفحولهم، حتى اضطر ذلكم المتكبر الجاحد، والصلف المعاند، الوليد بن المغيرة، أن يقول فيه مقالته المأثورة: "والله إن لكلامه لحلاوة، وإن عليه لطلاوة، وإن أسفله لمغدق، وإن أعلاه لمورق، وإن ليعلو ولا يعلى عليه، وما هو بقول البشر" فالجاهل بأسرارها،
ভূমিকাগ্রন্থের ভূমিকা...গ্রন্থের ভূমিকা:
হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনার মাধ্যমেই সাহায্য ও তাওফিক অর্জিত হয় এবং আপনার পক্ষ থেকেই আসে সরলতম পথের হেদায়েত, যখন ঘোরতর বিপদ-আপদের অন্ধকারে সংশয়সমূহ ঘনীভূত হয়। আমরা আপনার অনুগ্রহে এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস প্রার্থনা করি যা বক্ষকে পূর্ণ করে দেয়, হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, নফসের বিদ্রোহকে দমন করে তাকে তার পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে আনে এবং প্রবৃত্তির লাগামহীনতাকে রুখে দেয়। নিশ্চয় আপনিই আশ্রয়দাতা, সাহায্যকারী ও সহায়। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে আপনি হিকমত ও চূড়ান্ত ফয়সালাকারী বাকশৈলী দান করেছেন, তাঁকে ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন এবং সঠিক পথের ইলহাম দান করেছেন। আপনি তাঁকে বয়ানের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে ধন্য করেছেন, ফলে তিনি তাঁর অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে মিথ্যাচারী ও অপবাদদানকারী বিরোধীদের বক্তব্য খণ্ডন করেছেন।
অতঃপর, আরবি ভাষাতত্ত্বের জ্ঞানসমূহের মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বয়ান) অবস্থান হলো মানুষের শরীরে মাথার ন্যায়, কিংবা স্বর্ণালঙ্কারের হারের মধ্যমণির ন্যায়। এটিই হলো ভাষার রহস্যের ভাণ্ডার এবং তার মহিমার বহিঃপ্রকাশ। কোনো বাক্যের ওপর অন্য কোনো বাক্যের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কেবল তার গূঢ় রহস্যসমূহ ধারণ করা এবং তার মধ্যে নিহিত বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বসমূহের মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। একজন বক্তার ওপর অন্য বক্তার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কেবল তার সুনিপুণ বুনন, তার মুখ নিঃসৃত মুক্তোর ন্যায় বচন, তার জাদুকরী প্রভাব এবং তার পরিপক্ক ফল আহরণের দক্ষতার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়।
এমনকি এর মাধ্যমেই আমরা কুরআনের মুজিজার দিকসমূহ জানতে পারি এবং এতে বিদ্যমান অলঙ্কারশৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করি। আমরা এর শৈল্পিক ধারা, রচনার সুষমা, বাক্যবুননের সাবলীলতা ও নির্ভুলতা এবং এর মাধুর্য ও গাম্ভীর্য বুঝতে পারি। এছাড়া এমন সব সৌন্দর্য রয়েছে যা আরবদের অক্ষমতাকে প্রকাশ করে দিয়েছিল, এমনকি তাদের বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাদের বিজ্ঞ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা এর সমকক্ষ হতে ব্যর্থ হয়েছিল। অবশেষে সেই অহংকারী অস্বীকারকারী এবং একগুঁয়ে জেদী ওয়ালিদ ইবনে মুগিরাও এর ব্যাপারে তার সেই বিখ্যাত উক্তি করতে বাধ্য হয়েছিল: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই এই বাণীর এক বিশেষ মিষ্টতা আছে, এর রয়েছে এক অনন্য লাবণ্য। এর নিম্নদেশ ফলদায়ক এবং উপরিভাগ শাখা-পল্লবে সুশোভিত। নিশ্চয়ই এটি বিজয়ী হবে এবং এর ওপর অন্য কিছু বিজয়ী হতে পারবে না। আর এটি কোনো মানুষের বাণী নয়।" সুতরাং, যে ব্যক্তি এর রহস্য সম্পর্কে অজ্ঞ...
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
والمحروم من اقتطاف جني ثمارها، لا يعرف وجه الإعجاز إلا بالتقليد ولا يعلم ذلك إلا بالسماع، فسواه في قضية النظر، هو والزنجي والبربري، والفارسي والنبطي، إذ كل أولئك يتلقونه سماعا، ويصل إليه علمه مشافهة.
مما تقدم تعلم جليل خطرها، وعظيم منزلتها، وأنها لا تدانيها منزلة علم آخر من علوم العربية، فلا غرو إذا اتجهت همم العلماء والباحثين في مختلف العصور إلى التأليف فيها، وبسط القول في بيان مغازيها ومراميها، وقد رأينا أن ندلي دلونا بين الدلاء، ونضرب بسهم في هذا الميدان، والله ولي التوفيق، والهادي لأقوم طريق.
أحمد مصطفى المراغي.
আর যে ব্যক্তি এর পরিপক্ব ফল আহরণ করা থেকে বঞ্চিত, সে অন্ধ অনুকরণ ছাড়া অলৌকিকত্বের স্বরূপ চিনতে পারে না এবং কেবল শ্রবণের মাধ্যম ব্যতীত এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। ফলে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সে এবং কৃষ্ণাঙ্গ, বারবারি, পারসিক ও নবতী—সকলেই সমান; কারণ তারা সকলেই এটি শ্রবণের মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং এর জ্ঞান তাদের নিকট মৌখিকভাবে পৌঁছে থাকে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আপনি এর সুমহান গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হলেন এবং এটিও প্রতীয়মান হলো যে, আরবি ভাষাতত্ত্বের অন্য কোনো শাস্ত্রই এর মর্যাদার সমকক্ষ নয়। সুতরাং বিভিন্ন যুগে আলিম ও গবেষকবৃন্দের সংকল্প যদি এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা এবং এর গূঢ় রহস্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনায় নিবিষ্ট হয়, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমরাও এই ময়দানে আমাদের শ্রম বিনিয়োগ করার এবং অন্যদের ন্যায় কিঞ্চিৎ অবদান রাখার সংকল্প করেছি। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সরলতম পথের দিশারী।
আহমদ মুস্তফা আল-মারাগী।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
نبذة في تاريخ علوم البيان:1- الحاجة إلى وضع قواعدها:
أ- اشتعلت نار الجدل صدر الدولة العباسية حتى اندلع لهيبها وتطاير شررها إلى جميع أنحاء البلاد الإسلامية، ردحا من الزمن غير قليل بين أئمة الأدب وأرباب المقالات من علماء الكلام في بيان وجه إعجاز القرآن، واختلفوا في ذلك طرائق قددا، وتفرقوا أيدي سبا، وتعددت نزعاتهم، وتضاربت مذاهبهم وآراؤهم كما هو مسطور في زبر المتكلمين كالمواقف لعضد الدولة، والمقاصد لسعد الدين التفتازاني.
وكان الرأي الآفن من بين هذه الآراء وأبعدها عن الصواب، رأي إبراهيم النظام صاحب المذهب الذي ينسب إليه "مذهب الصرفة" إذ قال: إن القرآن ليس معجزا بفصاحته وبلاغته، وإن العرب كانوا قادرين على أن يأتوا بمثله، لكن الله صرفهم عن ذلك تصديقا لنبيه، وتأييدا لرسوله حتى يؤدي رسالات ربه، فانبرى المبرد عليه جم غفير من العلماء من بينهم الجاحظ والباقلاني، وإمام الحرمين، والفخر الرازي، وناضلوا نضالهم المحمود الذي خلد لهم في بطون الأسفار فكتبوا الفصول الممتعة مبينين خطل رأيه وفساد مذهبه، بما أملته عليهم قرائحهم الوقادة، وأفكارهم النقادة، حتى لم يبق في القوس منزع، ولا زيادة لمستزيد.
ب- كذلك قامت سوق نافقة للحجاج والمناظرة، بين أئمة اللغة والنحو أنصار الشعر الجاهلي، الذين رأوا أن الخير كل الخير في المحافظة على أساليب العرب وأوضاعها، والأباء والشعراء أنصار الشعر المحدث الذين لم يحفلوا بما درج عليه أسلافهم من العرب، ورأوا أنهم في حل من كل قديم، لا يشاكل بيئة
অলঙ্কার শাস্ত্রের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ:১- এর মূলনীতিসমূহ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা:
ক- আব্বাসীয় শাসনকালের শুরুর দিকে বিতর্কের আগুন প্রজ্বলিত হয়েছিল, যার শিখা এবং স্ফুলিঙ্গ দীর্ঘ সময় ধরে সমগ্র ইসলামী ভূখণ্ডের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই বিতর্ক ছিল সাহিত্যের ইমাম এবং ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের মধ্যে কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) দিকটি ব্যাখ্যা করার বিষয়ে। এ নিয়ে তারা বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং বিভিন্ন দলে উপদলভুক্ত হয়েছিলেন। তাদের প্রবণতা ছিল বহুমুখী এবং তাদের মাযহাব ও মতামতে ছিল চরম বৈপরীত্য, যেমনটি মুতাকাল্লিমদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে; যেমন আদুদ আদ-দাওলাহর 'আল-মাওয়াকিফ' এবং সাদ উদ্দীন আল-তাফতাজানির 'আল-মাকাসিদ'।
এইসব মতামতের মধ্যে সবচেয়ে অসার এবং সত্য থেকে দূরবর্তী মতটি ছিল ইব্রাহিম আন-নাজ্জামের, যার দিকে 'সারফাহ মতবাদ' নিসবত করা হয়। তিনি বলেছিলেন: কুরআন তার বিশুদ্ধতা (ফাসাহাত) ও অলঙ্কারশৈলীর (বালাঘাত) কারণে মোজেজা নয়, বরং আরবরা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম ছিল; কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীর সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং তাঁর রাসূলকে সমর্থন দিতে তাদেরকে তা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন যাতে তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিতে পারেন। ফলে এক বিশাল সংখ্যক আলেম তার প্রতিবাদে সোচ্চার হন, যাদের মধ্যে আল-জাহিজ, আল-বাকিলানি, ইমামুল হারামাইন এবং ফখরুদ্দীন আর-রাজি অন্যতম। তাঁরা অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবে এ নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম করেছেন যা কিতাবসমূহের পাতায় তাঁদের নাম অমর করে রেখেছে। তাঁরা তাঁদের প্রখর মেধা ও সূক্ষ্ম চিন্তাশক্তির মাধ্যমে তাঁর মতের ভ্রান্তি ও মাযহাবের অসারতা বর্ণনা করে চমৎকার সব অধ্যায় রচনা করেছেন; তাঁরা বিষয়টি এমন পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে এরপর আর কোনো তর্কের অবকাশ থাকেনি এবং নতুন কিছু যোগ করারও প্রয়োজন পড়েনি।
খ- একইভাবে ভাষা ও নাহু শাস্ত্রের ইমাম তথা জাহেলি কাব্যের অনুসারীদের মধ্যে বিতর্ক ও মুনাজারার একটি বাজার সরগরম হয়ে উঠেছিল। তাঁদের মতে প্রাচীন আরবদের পদ্ধতি ও রীতিনীতি আঁকড়ে ধরার মধ্যেই যাবতীয় কল্যাণ নিহিত। অন্যদিকে ছিলেন আধুনিক কাব্যের অনুসারী সাহিত্যিক ও কবিগণ, যারা তাদের পূর্বসূরি আরবদের রীতিনীতির তোয়াক্কা করতেন না। তাঁরা মনে করতেন যে তাঁরা সকল প্রাচীন প্রথা থেকে মুক্ত, যা এমন পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়...
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحضارة التي غذوا بلبانها، وربوا في أحضانها، ولم يكن الغرب ليحلموا بها من قبل، ولو أن القدر أتاح لهم أن يروا زخارف تلك المدنية، وطرائف لطائفها، لكان لهم شأن في آدابهم، ومهيع في أساليبهم غير شأنهم هذا.
جـ- أضف إلى تلك الضوضاء وذلك اللجب، ما شجر من الخلاف بين أئمة الأدب وأساطينه، في بيان وجوه تحسين الكلام حتى يرقى في سلم البلاغة، وينال قسطه من الفصاحة، وتناقضت آراؤهم في ذلك أيما تناقض، ففريق مال إلى رصين الكلام الجامع بين العذوبة والجزالة، وفريق أولع بالمنطق الموشى المشتمل على صنعة البديع، يرشد إلى ذلك ما تراه في كتاب "الشعر والشعراء" لابن قتيبة الدينوري المتوفى سنة 276هـ حين حكم على تلك الأبيات المشهورة لكثير عزة بأنها مونقة خلابة في لفظها، لكنك إذا فتشتها وبحثت عن ذات نفسها لم تحل منه بطائل، وهي:
ولما قضينا من منى كل حاجة
… ومسح بالأركان من هو ماسح
وشدت على حدب المهارى رحالنا
… ولم ينظر الغادي الذي هو رائح
أخذنا بأطراف الأحاديث بيننا
… وسالت بأعناق المطي الأباطح
ثم ما تجده في كتاب "الصناعتين" لأبي هلال العسكري من استحسان هذه الأبيات، ونقد حكم ابن قتيبة واتهام ذوقه، ووافقه على نقده أبو الفتح بن جني المتوفى سنة 392هـ في كتاب "الخصائص"، والإمام عبد القاهر في "أسرار البلاغة" وأطال الإطراء لثالثها إلى غير ذلك من مختلف الآراء مما لسنا بصدد سرده الآن.
كل أولئك لفت أنظار أئمة البلاغة إلى أن يصنعوا قوانين وضوابط يتحاكمون إليها عند الاختلاف، وتكون دستورا للناظرين في آداب العرب، منثورها ومنظومها، ونشأ من ذلك البحث في علوم البيان، أو علوم البلاغة.
2- أول من دونها:
لا نعلم أحد سبق أبا عبيدة معمر بن المثنى الراوية تلميذ الخليل بن أحمد المتوفى سنة 211هـ. فقد وضع كتابا في علم البيان سماه "مجاز القرآن" لكنه لم يرد بالمجاز الوصف الذي ينطبق على ما وضع من القواعد بعد، بل هو أشبه بكتاب
সেই সভ্যতা যার দুগ্ধে তারা পুষ্ট হয়েছে এবং যার কোলে তারা লালিত-পালিত হয়েছে; পশ্চিমারা এর আগে যার স্বপ্নও দেখেনি। নিয়তি যদি তাদের সেই সভ্যতার অলঙ্করণ এবং এর সূক্ষ্ম চমৎকারিত্বগুলো দেখার সুযোগ করে দিত, তবে তাদের সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদা এবং তাদের রচনাশৈলীতে বর্তমান গতির চেয়ে ভিন্ন এক প্রশস্ত পথ তৈরি হতো।
গ- সেই শোরগোল ও উত্তেজনার সাথে যুক্ত করুন সাহিত্যের ইমাম ও স্তম্ভদের মধ্যকার সেই মতভেদ, যা সৃষ্টি হয়েছিল বক্তব্যের সৌন্দর্যের দিকগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে—যাতে তা অলঙ্কারশাস্ত্রের সোপানে আরোহণ করে এবং প্রাঞ্জলতার ন্যায্য অংশ লাভ করে। এই বিষয়ে তাদের মতামত চরমভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিল। একদল বক্তব্যের সেই দৃঢ়তার দিকে ঝুঁকেছিলেন যা মাধুর্য ও গাম্ভীর্যের সমন্বয় ঘটায়, আর অন্যদল সেই অলঙ্কৃত যুক্তির প্রতি আসক্ত ছিলেন যা চমৎকারিত্বের শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রমাণ মেলে হিজরি ২৭৬ সনে মৃত্যুবরণকারী ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারীর 'আশ-শি'র ওয়া আশ-শুয়ারা' গ্রন্থে, যখন তিনি কুথাইয়ির আজ্জাহ-এর সেই বিখ্যাত কবিতাগুলোর ব্যাপারে এই রায় দিয়েছিলেন যে, সেগুলো শব্দ বিন্যাসে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ও চমৎকার, কিন্তু আপনি যদি এর গভীরে অনুসন্ধান করেন এবং এর মর্মার্থ তালাশ করেন তবে বিশেষ কোনো সারবস্তু পাবেন না। সেই কবিতাগুলো হলো:
যখন আমরা মিনার সকল প্রয়োজন পূরণ করলাম
… এবং রোকনসমূহ স্পর্শকারী ব্যক্তি তা স্পর্শ করল
আর কুজবিশিষ্ট উটগুলোর পিঠে আমাদের হাওদাগুলো কষে বাঁধা হলো
… এবং প্রাতঃভ্রমণকারী সেই ব্যক্তির দিকে তাকাল না যে ফিরে যাচ্ছিল
আমরা একে অপরের সাথে নানা কথার সূত্রপাত করলাম
… আর উটগুলোর গলার নিচ দিয়ে উপত্যকার ভূমি যেন বয়ে চলল
এরপর আপনি আবু হিলাল আল-আসকারীর 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থে এই কবিতাগুলোর প্রশংসা পাবেন, যেখানে তিনি ইবনে কুতায়বার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং তার রুচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। হিজরি ৩৯২ সনে মৃত্যুবরণকারী আবুল ফাতহ ইবন জিন্নি তার 'আল-খাসাইস' গ্রন্থে এবং ইমাম আব্দুল কাহির তার 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থে এই সমালোচনার সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং তৃতীয় পঙক্তিটির অঢেল প্রশংসা করেছেন। এভাবে আরও অনেক ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে যা এই মুহূর্তে বর্ণনা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
এসব বিষয়ই অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমামদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যেন তারা এমন কিছু নিয়ম ও মানদণ্ড তৈরি করেন যার কাছে তারা মতভেদের সময় বিচার প্রার্থনা করতে পারেন এবং যা আরবি সাহিত্যের গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রে পর্যালোচকদের জন্য একটি মূলনীতি বা সংবিধান হয়। আর এ থেকেই ইলমুল বয়ান বা অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়াদি নিয়ে গবেষণার উৎপত্তি ঘটে।
২- সর্বপ্রথম যারা এটি সংকলন করেছেন:
আমরা এমন কাউকে জানি না যিনি আল-খলীল ইবনে আহমদের ছাত্র ও হিজরি ২১১ সনে মৃত্যুবরণকারী বর্ণনাকারী আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্নার আগে এটি করেছেন। তিনি ইলমুল বয়ানের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন 'মাজাযুল কুরআন'। তবে তিনি 'মাজায' শব্দ দ্বারা সেই পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য নেননি যা পরবর্তীকালে প্রণীত নিয়মাবলীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে, বরং এটি অনেকটা...
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
في اللغة توخي فيه جمع الألفاظ التي أريد بها غير معانيها الوضعية، ألا تراه وقد سئل مرة عن قوله الله عز وعلا: {طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ} 1، فقال: هو مجاز كقول امرئ القيس:
ومسنونة زرق كأنياب أغوال
كما لا نعرف بالضبط أول من ألف في علم المعاني، وإنما أثر فيه نبذ عن بعض البلغاء كأبي عثمان عمرو بن بحر الجاحظ الكناني المتوفى سنة 255هـ إمام الأدباء وسلطان المنشئين في عصره، والقدوة في أساليبه التي اختص بها، وتحداه فيها الأئمة من بعده.
فقد أشار إلى مسائل منه في كتابه "إعجاز القرآن" وعني في كتابه "البيان والتبيين" بدرس بعض القواعد التي كثر ولوع القوم بها في عصره، كبيان معنى الفصاحة والبلاغة، وحسن البيان والتخلص من الخصم، وحسن الإسجاع، ثم قفّاه ابن قتيبة في كتابه "الشعر والشعراء"، والمبرد في كتابه "الكامل" فتعرضا لبعض نتف من هذه العلوم.
وغني عن البيان أن المتكلمين بداءة ذي بدء في أي فن من الفنون لا يحيطون بأطرافه، ولا يتغلغلون في استقصاء مباحثه.
لكنا نعلم أن أول من دون البديع الخليفة عبد الله بن المعتز بن المتوكل العباسي المتوفى سنة 296هـ فقد استقصى ما في الشعر من المحسنات، وألف كتابا سماه "البديع" ذكر فيه سبعة عشر نوعا منها الاستعارة والكناية والتورية والتجنيس والسجع، إلى غير ذلك، وقال: "ما جمع قبلي فنون البديع أحد، ولا سبقني إلى تأليفه مؤلف، ومن رأى أن يقتصر عل ما اخترنا فليفعل، ومن رأى إضافة شيء من المحاسن إليه فله اختباره".
ومن البين أن اسم البديع بهذا الإطلاق يتناول ما سماه المتأخرون بعلم البيان، ثم ألف معاصره قدامة بن جعفر الكاتب البغدادي المتوفى سنة 310هـ كتابا في نقد الشعر سماه "نقد قدامة" ذكر فيه ثلاثة عشر نوعا من البديع زيادة على ما أملاه ابن المعتز فتممها ثلاثين نوعا.
--------------------------------------------
ভাষা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, এতে এমন শব্দাবলি একত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে যার দ্বারা তাদের আভিধানিক অর্থের বাইরের অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আপনি কি দেখেননি যে, তাকে একবার মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {তার মোচাগুলো যেন শয়তানের মাথা} ১, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি একটি রূপক (মাজায), যেমনটি ইমরুল কায়েসের উক্তিতে রয়েছে:
এবং ধারালো নীল (তীর), যেন সেগুলো দানবদের দাঁত
যেমন আমরা ঠিক জানি না যে ইলমুল মা’আনী বিষয়ে প্রথম কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তবে এতে কিছু বাগ্মী ব্যক্তির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, যেমন সাহিত্যিকদের ইমাম এবং তাঁর যুগের লেখকদের সুলতান আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-জাহিজ আল-কিনানী (মৃত্যু ২৫৫ হিজরী), যিনি তাঁর নিজস্ব রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে আদর্শ ছিলেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমামগণ সেই শৈলীতে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
তিনি তাঁর "ই’জাযুল কুরআন" গ্রন্থে এর কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং তাঁর "আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন" গ্রন্থে এমন কিছু নিয়মনীতি আলোচনার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন যা তাঁর যুগে মানুষের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল, যেমন ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) এর অর্থ বর্ণনা করা, উত্তম বর্ণনাভঙ্গি এবং প্রতিপক্ষ থেকে মুক্তি লাভ করা, সুন্দর অনুপ্রাস (সজ’) ইত্যাদি। অতঃপর ইবনে কুতায়বা তাঁর "আশ-শির ওয়া আশ-শুয়ারা" গ্রন্থে এবং মুবাররাদ তাঁর "আল-কামিল" গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেন এবং তাঁরা এই বিজ্ঞানের কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করেন।
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যে কোনো শিল্পের সূচনালগ্নে যারা কথা বলেন, তাঁরা এর সমস্ত দিক আয়ত্ত করতে পারেন না এবং এর গবেষণার গভীরে পুরোপুরি প্রবেশ করতে পারেন না।
তবে আমরা জানি যে, সর্বপ্রথম 'বাদিয়' শাস্ত্র লিপিবদ্ধ করেছিলেন খলিফা আবদুল্লাহ ইবনুল মু’তায ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আল-আব্বাসী (মৃত্যু ২৯৬ হিজরী)। তিনি কবিতায় বিদ্যমান অলঙ্কারগুলো অনুসন্ধান করেছিলেন এবং "আল-বাদিয়" নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি সতেরটি প্রকার উল্লেখ করেছিলেন, যার মধ্যে ইস্তিয়ারা (রূপক), কিনায়া (পরোক্ষ উক্তি), তাওরিয়া (দ্ব্যর্থবোধকতা), তাজনিস (যমক) এবং সাজ’ (অনুপ্রাস) সহ আরও অনেক কিছু ছিল। তিনি বলেছিলেন: "আমার আগে কেউ বাদিয় শাস্ত্রের শাখাগুলো একত্রিত করেনি এবং এর সংকলনে আমার আগে কোনো লেখক অগ্রগামী হননি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের নির্বাচিত বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায় সে তা করতে পারে, আর যে এতে আরও কিছু সৌন্দর্য যোগ করতে চায় তার পরীক্ষা করার অধিকার রয়েছে"।
এটা স্পষ্ট যে, এই ব্যাপক অর্থে বাদিয় নামটি পরবর্তীকালের আলিমদের 'ইলমুল বায়ান' নামকেও অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর তাঁর সমসাময়িক বাগদাদের লেখক কুদামা ইবনে জাফর (মৃত্যু ৩১০ হিজরী) কাব্য সমালোচনার ওপর "নাকদু قدامة" (নাকদু কুদামা) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তিনি ইবনুল মু’তাযের বর্ণিত প্রকারগুলোর সাথে আরও তেরটি প্রকার যোগ করেন, যার ফলে মোট ত্রিশটি প্রকার পূর্ণ হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
تلا هذين العالمين أبو هلال الحسن بن عبد الله العسكري المتوفى سنة 395هـ وألف كتابه "الصناعتين" صناعتي النثر والنظم، جمع فيه خمسة وثلاثين نوعا من البديع، وبحث فيه عن عدة مسائل أخرى كالفصاحة والبلاغة والايجاز والإطناب والحشو والتطويل وعدة أبواب في نقد الشعر، إلى غير ذلك من جليل المباحث.
وكتابه يعتبر أول مصنف أشير فيه إلى مسائل علوم البيان الثلاثة: "المعاني والبيان والبديع".
3- رقي هذه العلوم بتأليف الإمام عبد القاهر:
تمخض القرن الخامس فولد نادرة البطن، ونابغة البلغاء، وإمام حلبة الفصحاء أبا بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني المتوفى سنة 471هـ الذي نظر يمنة ويسرة فلم يجد من مسائل هذه الفنون إلا نتفا مبعثرة لا تسمن ولا تغني من جوع فشمر عن ساعد الجد، وجمع متفرقاتها، وأقام بناءها على أسس متينة، وركز دعائمها على أرض جدد لا تنهار، وأملى من القواعد ما شاء الله أن يملي في كتابيه "أسرار البلاغة"، و"دلائل الإعجاز" وأحكم بنيانها بضرب الأمثلة والشواهد، حتى أناف بها على اليفاع، وقرن فيهما بين العلم والعمل، إذ رأى أن مسائل الفنون لا يستقر لها قرار إلا بكثرة الأمثلة والنماذج، فالصور الإجمالية التي تؤخذ من القواعد، إن لم تؤيدها الصور التفصيلية التي تستفاد من النماذج، لا تتمثل في الأذهان حق التمثل، ولا تنجلي حقيقتها تمام الانجلاء.
وقد ساعده على ذلك ما آتاه الله من عذوبة البيان، وما تجلى به فعله من الطلاوة الخلابة، والبلاغة الساحرة للألباب.
4- الإمام جار الله الزمخشري:
نبغ إثر عبد القاهر أستاذ المفسرين، جار الله الزمخشري المتوفى سنة 538هـ، وألف تفسيره "الكشاف" نحا فيه نحو الغرض المقصود من تفسير التنزيل، وهو إظهار أسراره، وشرح وجه إعجازه، ببيان وفاء دلالته على المراد، وكشف خصائصه ومزاياه التي استأثر بها، حتى بلغ هذه المرتبة، وحتى تحدى البشر بأنهم لن يأتوا بمثله ولو كان بعضهم لبعض ظهيرا.
এই দুই মনীষীর পর আগমন করেন আবু হিলাল আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসকারী (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরী) এবং তিনি তাঁর গ্রন্থ "আস-সিনাআতাইন" (গদ্য ও পদ্যের শিল্পদ্বয়) রচনা করেন। এতে তিনি পঁয়ত্রিশ প্রকারের 'বাদী' (অলঙ্কারশাস্ত্র) সংকলন করেন এবং এতে ফাসাহাত (সাবলীলতা), বালাগাত (অলঙ্কার), ইজায (সংক্ষিপ্ততা), ইত্নাব (বিবৃতি), হাশ্ব (অপ্রয়োজনীয় শব্দ), তাতওয়ীল (দীর্ঘসূত্রিতা) এবং কবিতা সমালোচনার বেশ কিছু অধ্যায়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয়ে আলোচনা করেন।
তাঁর গ্রন্থটিই প্রথম সংকলন হিসেবে বিবেচিত হয় যাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখা: "মাআনী, বায়ান ও বাদী" এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৩- ইমাম আব্দুল কাহিরের রচনার মাধ্যমে এই বিজ্ঞানসমূহের উন্নতি:
পঞ্চম শতাব্দীর গর্ভ থেকে এক দুর্লভ প্রতিভার জন্ম হয়, যিনি ছিলেন বাগ্মীদের শ্রেষ্ঠ এবং প্রাঞ্জলভাষীদের ইমাম; আবু বকর আব্দুল কাহির ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরজানী (মৃত্যু ৪৭১ হিজরী)। তিনি ডানে-বামে দৃষ্টিপাত করে এই শিল্পসমূহের বিক্ষিপ্ত কিছু অংশ ছাড়া আর কিছুই পেলেন না, যা ছিল অতি নগণ্য এবং যা কোনো ক্ষুধা নিবারণ বা তুষ্টির জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কোমর বেঁধে নামলেন এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করলেন। তিনি এর ইমারতকে এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং এর খুঁটিগুলোকে এমন এক শক্ত জমিনের ওপর গেড়ে দিলেন যা কখনও ধসে পড়বে না। তিনি তাঁর "আসরারুল বালাগাহ" ও "দালাইলুল ই'জায" গ্রন্থদ্বয়ে আল্লাহ যা চেয়েছেন সেই অনুযায়ী নিয়ম-নীতি বর্ণনা করেছেন। তিনি উদাহরণ ও দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে এর কাঠামোকে সুসংহত করেছেন, এমনকি একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি এ গ্রন্থদ্বয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও প্রয়োগের সমন্বয় ঘটিয়েছেন; কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, প্রচুর উদাহরণ ও নমুনা ছাড়া এই শিল্পসমূহের বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। কেননা নিয়ম-নীতি থেকে প্রাপ্ত সামগ্রিক চিত্র যদি নমুনা থেকে অর্জিত বিস্তারিত রূপরেখার মাধ্যমে সমর্থিত না হয়, তবে তা হৃদয়ে সঠিকভাবে অঙ্কিত হয় না এবং এর প্রকৃত রূপ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয় না।
আল্লাহ তাকে যে মধুর বাচনভঙ্গি দান করেছিলেন এবং তাঁর কর্মে যে মনোমুগ্ধকর উজ্জ্বলতা ও বুদ্ধিদীপ্ত জাদুকরী অলঙ্কার ফুটে উঠেছিল, তা তাকে এই কাজে সহায়তা করেছে।
৪- ইমাম জারুল্লাহ আল-যামাখশারী:
আব্দুল কাহিরের পর মুফাসসিরদের উস্তাদ জারুল্লাহ আল-যামাখশারী (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরী) খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি তাঁর তাফসীর গ্রন্থ "আল-কাশশাফ" রচনা করেন, যাতে তিনি নাযিলকৃত কুরআনের তাফসীরের মূল লক্ষ্যের দিকেই ধাবিত হয়েছেন। আর তা হলো এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করা এবং এর অলৌকিকত্বের (ই'জায) দিকগুলো ব্যাখ্যা করা। তিনি কাঙ্ক্ষিত অর্থের ওপর এর শব্দ প্রয়োগের যথার্থতা বর্ণনা করেছেন এবং এর সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী উন্মোচন করেছেন যার কারণে এটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এমনকি এটি মানবজাতিকে এই মর্মে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে যে, তারা এর মতো কিছু আনতে সক্ষম হবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وغني عن البيان أنه لن يصل إلى تلك المنزلة إلا من أتاه الله فطرة سليمة، ورأيا حصيفا، وفكرا ثاقبا، وبرهانا ساطعا، وقلما أطوع له من بنانه حتى يتاح له بواضح البرهان، وبديع البيان، أن يوضح خصائص التراكيب ولطائف الأساليب التي هي من أسرار التنزيل، وبذا أبان في عرض كلامه كثيرا من قواعد هذه الفنون التي اتخذها من جاء بعد، دستورا للكلام في كثير من مسائلها.
5- أبو يعقوب يوسف السكاكي:
جاء بعد من تقدم ذكرهم العلامة أبو يعقوب، يوسف السكاكي، المتوفى سنة 626هـ، وألف كتابه "مفتاح العلوم" وجمع في القسم الثالث منه زبدة ما كتبه الأئمة قبله في هذ الفنون، ونظم لآلئها المتفرقة في تضاعيف كتبهم، وأحاط بكثير من قواعدها المبعثرة في الأمهات، ورتبها أحسن ترتيب، وبوبها خير تبويب، وفصل فنون البيان الثلاثة بعضها من بعض، لما كان له من واسع الاطلاع على علوم المنطق والفلسفة.
ولولا أن المؤلف أولع بتطبيق أساليب العرب على علوم اليونان واصطلاحاتهم مع ما بينهما من بعد الدار، وشط المزار واختلاف البيئات وتباين المعتقدات، لكان خير كتاب أخرج للناس في هذه الفنون، لجمعه شتاتها، وضمه ما تفرق من قواعدها.
وقد اختصر مؤلفه في كتاب آخر سماه "التبيان"، ولخصه بعض المتأخرين في أمهات مشهورة، كما فعل ابن مالك في كتابه "المصباح" والخطيب جلال الدين محمد بن عبد الرحمن القزويني المتوفى سنة 739هـ في كتابيه "تلخيص المفتاح" و"شرح الإيضاح" والأخير مؤلف جليل، جمع فيه مؤلفه خلاصة "المفتاح" و"دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة" و"سر الفصاحة" لابن سنان الخفاجي.
6- الوزير ضياء الدين بن الأثير:
بينما السكاكي يؤلف كتابه "مفتاح العلوم" إذا بالوزير ضياء الدين أبي الفتح نصر بن محمد الموصلي الشيباني المعروف بابن الأثير الجزري المتوفى سنة 637هـ
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই উচ্চমর্যাদায় কেবল তিনিই পৌঁছাতে পারবেন যাকে আল্লাহ সুস্থ প্রকৃতি, বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি, তীক্ষ্ণ চিন্তা, উজ্জ্বল প্রমাণ এবং এমন কলম দান করেছেন যা তার আঙুলের চেয়েও বেশি অনুগত। যাতে তার পক্ষে সুস্পষ্ট দলিল ও চমৎকার বর্ণনার মাধ্যমে রচনার বৈশিষ্ট্য এবং শৈলীর সূক্ষ্ম রহস্যগুলো স্পষ্ট করা সম্ভব হয়, যা মূলত ওহীর রহস্যভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে তিনি তার আলোচনার পরতে পরতে এই শিল্পকলাগুলোর এমন অনেক নিয়ম বর্ণনা করেছেন, যা পরবর্তীগণ তাদের অধিকাংশ মাসআলার ক্ষেত্রে আলোচনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
৫- আবু ইয়াকুব ইউসুফ আস-সাক্কাকি:
পূর্বে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের পর আগমন করেন আল্লামা আবু ইয়াকুব ইউসুফ আস-সাক্কাকি, যিনি ৬২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার "মিফতাহুল উলুম" গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এর তৃতীয় খণ্ডে তার পূর্ববর্তী ইমামগণ এই শিল্পকলাগুলোতে যা কিছু লিখেছেন তার সারমর্ম একত্রিত করেন। তিনি তাদের কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তোগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে গেঁথেছেন এবং মূল গ্রন্থগুলোতে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকা অধিকাংশ নিয়মাবলিকে আয়ত্ত করেছেন। তিনি এগুলোকে সর্বোত্তম বিন্যাসে সাজিয়েছেন এবং চমৎকারভাবে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন। যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের ওপর তার অগাধ পাণ্ডিত্য থাকার কারণে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখাকে একে অপরের থেকে পৃথক করেছেন।
লেখক যদি গ্রীক বিজ্ঞান ও তাদের পরিভাষার ওপর আরবের শৈলীগুলোকে প্রয়োগ করার ব্যাপারে অতি উৎসাহী না হতেন—অথচ উভয়ের অবস্থান ও প্রেক্ষাপট অনেক দূরবর্তী এবং পরিবেশ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তর ব্যবধান—তবে এটিই হতো মানুষের জন্য এই শিল্পকলায় রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ; কারণ এতে তিনি বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সংকলিত করেছেন এবং এর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিয়মগুলোকে একত্রিত করেছেন।
এর লেখক নিজেই "আত-তিবয়ান" নামক অন্য একটি গ্রন্থে একে সংক্ষেপ করেছেন। পরবর্তী যুগের কেউ কেউ একে বিখ্যাত মূল গ্রন্থগুলোতে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেছেন; যেমনটি ইবনে মালিক তার "আল-মিসবাহ" গ্রন্থে করেছেন এবং খতিব জালালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-কাজভিনি (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি) তার "তালখিসুল মিফতাহ" এবং "শারহুল ইজাহ" নামক দুটি গ্রন্থে করেছেন। শেষোক্ত গ্রন্থটি একটি অনন্য কাজ, যেখানে লেখক "মিফতাহ", "দালাইলুল ইজাজ", "আসরারুল বালাগাহ" এবং ইবনে সিনান আল-খাফাজির "সিররুল ফাসাহাহ" এর সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছেন।
৬- উজির জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসির:
সাক্কাকি যখন তার "মিফতাহুল উলুম" গ্রন্থটি রচনা করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে উজির জিয়াউদ্দিন আবুল ফাতহ নাসর ইবনে মুহাম্মদ আল-মাওসিলি আশ-শাইবানি—যিনি ইবনুল আসির আল-জাজারি নামে পরিচিত এবং ৬৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—ছিলেন অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وزير الملك الأفضل بن صلاح الدين الأيوبي، يصنف كتابه "المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر" وهو كتاب فريد في بابه يفوق أنداده وأترابه، جمع فيه فأوعى، ولم يترك شاردة ولا واردة، لهما مساس بالكتابة والقريض إلا ذكرهما بشرح واف، يدل على طول باع، وسعة اطلاع، مع قدرة على النقد، وبديهة حاضرة في إدراك خصائص البلاغة، ومن ثمة اشتمل كتابه على كثير من أبواب تلك الفنون، وطبق عليهما كثيرا من آي الكتاب والسنة النبوية، وتلك منقبة امتاز بها من بين هاتيك المؤلفات في تلك العلوم.
وكان يحاكي في أسلوبه أسلوب القاضي الفاضل المتوفى سنة 596هـ وزير صلاح الدين الأيوبي "على ما بينهما من شاسع البون" وطريقة القاضي معروفة بين المتأدبين، وهي من النوع الذي يغلب عليه السجع والجناس وغيرهما من المحسنات اللفظية، وكانت براعة الكتاب في هذا العصر وما بعده تظهر في استعمال تلك الطلاوة اللفظية، وبها يفوق كاتب كاتبا، ويبز الأقران في هذا الميدان.
7- عصور الاختصار ووضع الشروح والحواشي:
طفق المؤلفون من القرن الثامن وما بعده يوسعون الشروح والحواشي على المفتاح وتلخيصه للقزويني، وصرفوا جل همتهم في تفسير ما أشكل من عبارات المؤلفين، والجمع بين ما تناقض من آرائهما.
ومن أجل تلك الشروح شروح مسعود سعد الدين التفتازاني المتوفى سنة 791هـ وشروح السيد الجرجاني المتوفى سنة 816هـ، ثم تتابعت التقارير والحواشي توضح ما انبهم من تلك التراكيب المجملة، والعبارات الغامضة، وليس علينا من غضاضة في التصريح بأن أساليب التأليف في تلك العصور قد ملكت عليها العجمة أمرها، وجلبت عليها أنواع التعقيد بخيلها ورجلها، فلم تكن هي الأساليب التي يجدر أن تكتب بها علوم البلاغة، أو بالأحرى علوم خصائص اللسان العربي في المبين.
ومن ثمة لم يكن القارئ ليجعلها قدوة في أساليبها، أو نماذج في تراكيبها، فهي أحرى أن تكون أساليب اصطلاحية علمية، لا لغوية أدبية، تشرح خصائص كلام العرب وتبين مزايا أساليبه، وما زالت تندلي وتتدهور حتى وصلت إلى ما تراه اليوم، تتضاءل في أطمارها البالية، وتنزوي أمام أهل الجيل الحاضر.
সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর পুত্র আল-মালিক আল-আফদালের উজির তাঁর "আল-মাসালুস সাঈর ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ শা'য়ির" গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি নিজ অঙ্গনে এক অনন্য গ্রন্থ যা সমসাময়িক ও সমজাতীয় অন্যান্য রচনাকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এতে জ্ঞানের এমন সমাবেশ ঘটিয়েছেন যে কিছুই বাদ রাখেননি; গদ্য রচনা ও পদ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোনো সূক্ষ্ম বা স্থূল বিষয় নেই যা তিনি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যাসহ উল্লেখ করেননি। এটি তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক অধ্যয়নের প্রমাণ দেয়, যার সাথে যুক্ত হয়েছে সমালোচনা করার সক্ষমতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবনে তাৎক্ষণিক প্রজ্ঞা। এর ফলে তাঁর কিতাবটি ওই সকল শিল্পের বহু অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তিনি সেগুলোর ওপর কিতাবুল্লাহর আয়াত ও নববী সুন্নাহর প্রচুর প্রয়োগ দেখিয়েছেন। এই জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে রচিত অন্যান্য গ্রন্থাবলির মধ্যে এটি তাঁর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।
তিনি তাঁর রচনাশৈলীতে সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর উজির আল-কাদি আল-ফাদিলের (মৃত্যু ৫৯৬ হিজরি) শৈলী অনুসরণ করতেন—যদিও তাদের উভয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। কাদির পদ্ধতি সাহিত্যিকদের মাঝে সুপরিচিত, যা এমন এক প্রকারের শৈলী যেখানে অনুপ্রাস, যমক এবং অন্যান্য শব্দালঙ্কারের প্রাধান্য থাকে। সেই যুগে এবং পরবর্তী সময়ে লেখকদের মুন্সিয়ানা এই শব্দালঙ্কারের মাধুর্য ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রকাশ পেত, যার মাধ্যমে এক লেখক অন্য লেখককে ছাড়িয়ে যেতেন এবং এই অঙ্গনে সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতেন।
৭- সংক্ষেপণ এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা রচনার যুগ:
অষ্টম হিজরি শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ের লেখকগণ 'আল-মিফতাহ' এবং কাজভিনী কর্তৃক সেটির সারসংক্ষেপ 'আত-তালখিস'-এর ওপর বিশদ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা রচনা শুরু করেন। তারা তাদের অধিকাংশ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন লেখকদের দুর্বোধ্য ইবারত বা বাক্যগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানে এবং তাদের মতামতের মধ্যে যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হতো তার সমন্বয় সাধনে।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাসউদ সাদউদ্দিন তাফতাজানি (মৃত্যু ৭৯১ হিজরি) ও সাইয়্যিদ জুরজানি (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি) রচিত ব্যাখ্যাসমূহ। এরপর একের পর এক পর্যালোচনা ও টীকা রচিত হতে থাকে, যা ওই সকল সংক্ষিপ্ত গঠনরীতি ও অস্পষ্ট বাক্যগুলোর জটিলতা স্পষ্ট করে। এই কথা স্পষ্টভাবে বলতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই যে, ওই যুগের রচনাশৈলী অনারবীয় প্রভাবের অধীনে চলে গিয়েছিল এবং তা নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেখানে নানা প্রকার জটিলতা টেনে এনেছিল। ফলে সেগুলো এমন শৈলী ছিল না যার মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্র কিংবা আরও স্পষ্টভাবে বললে আরবি ভাষার সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যাবলীর জ্ঞানসমূহ রচিত হওয়া সমীচীন।
আর এই কারণেই কোনো পাঠকের পক্ষে উচিত নয় সেগুলোকে নিজের রচনাশৈলীর আদর্শ বা বাক্য গঠনের নমুনা হিসেবে গ্রহণ করা। কারণ সেগুলো ভাষাতাত্ত্বিক বা সাহিত্যিক শৈলী হওয়ার পরিবর্তে পারিভাষিক বৈজ্ঞানিক শৈলী হওয়ার অধিক যোগ্য, যা আরবদের বাক্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে এবং তাদের শৈলীর গুণাবলি বর্ণনা করে। এই ধারাটি ক্রমাগত নিম্নমুখী ও অবনতির দিকে যেতে থাকে, শেষ পর্যন্ত তা আজকের এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন—জীর্ণ পোশাকে তা সংকুচিত হয়ে বর্তমান প্রজন্মের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
8- تأليف معاصرينا في هذه الفنون:
أنشئت المدارس العالية والثانوية بمصر في نهاية القرن الغابر، وسلكت في التربية والتعليم طريقا سويا، لا مشاكلة بينه وبين ما تقدمه في معهد العرفان، وكان في مقدمة تلك المدارس التي شيدت، مدرسة دار العلوم من نحو أربعين سنة ونيف، فألف أساتذتها مختصرات تناسب تلك البرامج المدرسية، ويسهل على الطلبة أن يحصلوا على بغيتهم منها، فحمد لهم الناس جميل صنعهم وأوفوهم حقهم في الثناء والتقريظ مقدار ما كان لمؤلفاتهم من الميزة إبان ظهورها.
وفي الحق أن تلك الرسائل وإن اختلف ترتيبها، وتنوع تبويبها، تنحو على الجملة في أسلوبها، منحى ما كتبه صاحب التلخيص وشراحه، وتسير على خطتهم وتحذو حذوهم "وقد عرفت حال هذه التآليف" فضلا عن خلوها من الأمثلة المنوعة التي تتضح بها مجملات تلك القواعد.
وأفضل تلك المختصرات كتاب "دروس البلاغة" فهو على إيجازه الذي لوحظ فيه حال النشء، وهم في بدء تحصيل مختلف العلوم، كفيل بتصوير القواعد في أذهانهم جهد المستطاع.
9- طريقنا في التأليف:
رأينا أن نضع كتابا يجمع بين طريق المتقدمين، من سعة الشرح والبيان، والاعتماد على الأمثلة والشواهد، حتى تستبين للقارئ خصائص البلاغة مرموقة محسوسة، ولطائف الكلام مجسمة ملموسة، ويسهل تطبيق العلم على العمل، والإجمال على التفصيل، وذلك أمثل الطرق، لبنائه على قواعد علم النفس، من تعويد الناظر الركون إلى الوجدان والحس، وطريق المتأخرين من حسن الترتيب والتبويب، وجمع ما تفرق من قواعد هذه الفنون، ليكون أنجع في الدرس، وأقرب إلى التناول.
فإذا كنا قد وفقنا إلى ما قصدنا وهدينا إلى الغرض الذي توخينا، فذلك من فضل الله علينا، وإن كنا تنكبنا عن جادة الحق وأخطأنا شاكلة الصواب، فليغض القارئ عما يراه من الهفوات، ويعثر عليه من الزلات،
৮- এই শিল্পসমূহে আমাদের সমসাময়িকদের রচনা:
গত শতাব্দীর শেষভাগে মিশরে উচ্চ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেগুলো শিক্ষা ও দীক্ষায় একটি সুষম পথ অনুসরণ করেছিল, যার সাথে ইরফান ইনস্টিটিউটে যা প্রদান করা হয় তার কোনো সাদৃশ্য ছিল না। এই প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর অগ্রভাগে ছিল ‘দারুল উলূম’ স্কুল, যা আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছরেরও কিছুকাল আগে নির্মিত হয়েছিল। এর শিক্ষকগণ এমন কিছু সারসংক্ষেপ রচনা করেছিলেন যা সেসব বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং ছাত্রদের জন্য তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হতো। ফলে মানুষ তাদের এই সুন্দর কর্মের প্রশংসা করেছিল এবং তাদের প্রশংসা ও স্তুতিতে তাদের প্রাপ্য যথাযথ সম্মান প্রদান করেছিল, ঠিক ততটুকুই যতটুকু তাদের রচনার বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশের সময় বিদ্যমান ছিল।
প্রকৃতপক্ষে সেই পুস্তিকাগুলোর বিন্যাস ভিন্ন এবং অধ্যায়গুলোতে বৈচিত্র্য থাকলেও, সামগ্রিকভাবে তাদের শৈলী ‘তালখীস’ এর লেখক এবং তার ব্যাখ্যাকারদের লেখনীর ধারা অনুসরণ করে। তারা তাদেরই পরিকল্পনা ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন—অথচ আপনি এই রচনাগুলোর অবস্থা সম্পর্কে ইতিপূর্বেই অবগত হয়েছেন—তাছাড়া এগুলো সেই বিচিত্র উদাহরণ থেকেও শূন্য যা এই নীতিমালার অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে দেয়।
সেই সারসংক্ষেপগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘দুরুসুল বালাগাহ’ নামক বইটি। এটি তার সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও—যা বিভিন্ন জ্ঞান অর্জনের শুরুর দিকে থাকা নবীন শিক্ষার্থীদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে করা হয়েছে—শিক্ষার্থীদের মনে যথাসম্ভব নীতিগুলো চিত্রায়িত করার জন্য যথেষ্ট।
৯- রচনায় আমাদের পদ্ধতি:
আমরা একটি বই রচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা পূর্বসূরীদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং উদাহরণ ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করার পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাবে, যাতে পাঠকের কাছে অলঙ্কারশাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ও অনুভূত হয় এবং বাক্যের সূক্ষ্ম কারুকার্যগুলো মূর্ত ও স্পর্শযোগ্য হয়ে ওঠে। এতে তাত্ত্বিক জ্ঞানকে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তারিতভাবে প্রয়োগ করা সহজ হবে। মনোবিজ্ঞানের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এটিই সর্বোত্তম পদ্ধতি, যা পাঠককে পর্যবেক্ষণ ও অনুভূতির ওপর নির্ভর করতে অভ্যস্ত করে। পাশাপাশি এতে উত্তরসূরীদের সুন্দর বিন্যাস, অধ্যায় বিভাজন এবং এই শাস্ত্রের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিয়মগুলো একত্রিত করার পদ্ধতিও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে এটি পাঠদানের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর এবং আয়ত্ত করার জন্য সহজতর হয়।
সুতরাং আমরা যা উদ্দেশ্য করেছি তাতে যদি সফল হই এবং আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত হই, তবে তা আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ। আর যদি আমরা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হই এবং সঠিক পথ থেকে ভুল করি, তবে পাঠক যেন তার দৃষ্টিতে ধরা পড়া ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন এবং যেসব বিচ্যুতি তিনি খুঁজে পান তা মার্জনা করেন।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فإن الطريق وعر، والمركب غير ذلول، وقديما قال الأول: "كفى المرء نبلا أن تعد معايبه".
وليعلم أنا لم ندخر وسعا في تمحيص ما كتبنا وتهذيبه، وتنقيح ما رتبنا وتجويده، بعد أن قضينا زمنا طويلا في البحث والتنقيب، في الأمهات المؤلفة في هذه الفنون وغيرها للمتقدمين والمتأخرين، واطلعنا على الرسائل التي صنفها معاصرونا، ومن تقدمهم، جزى الله الجميع خيرا، وعليه التكلان، وبه المستعان.
أحمد مصطفى المراغي
নিশ্চয়ই পথ দুর্গম এবং বাহন অবাধ্য, আর প্রাচীনকালে পূর্বসূরিগণ বলেছেন: "একজন ব্যক্তির মহানুভবতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তার দোষত্রুটি গণনা করা যায়।"
আর এটি জানা উচিত যে, আমরা যা লিখেছি তা যাচাই-বাছাই ও পরিমার্জনে এবং যা বিন্যস্ত করেছি তা সংশোধন ও উৎকর্ষ সাধনে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণের রচিত এই শাস্ত্র ও অন্যান্য শাস্ত্রের মূল গ্রন্থসমূহে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান ও গবেষণার পর এবং আমাদের সমসাময়িক ও তাদের পূর্বসূরিদের সংকলিত রিসালাসমূহ পর্যবেক্ষণের পর আমরা এটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহ সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তাঁরই উপর ভরসা এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।
আহমদ মুস্তফা আল-মারাগী
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المقدمة
في حقيقة الفصاحة والبلاغة لغة واسطلاحا…المقدمة:
في حقيقة الفصاحة والبلاغة لغة واصطلاحا:
الفصاحة لغة ومعان متعددة كلها تشف عن الظهور والإبانة، فيقال:
1- فصح اللبن وأفصح إذا أخذت عنه الرغوة، قال نضلة السلمي:
وتحت الرغوة اللبن الفصيح1.
2- أفصح الصبح: بدا ضوؤه، ومنه المثل: "أفصح الصبح لذي عينين"2.
3- يوم مفصح وفصح لا غيم فيه ولا قر.
4- أفصح الأعجمي بالعربية، وفصح لسانه بها إذا خلصت لغته من اللكنة وفي التنزيل: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا} 3. أي: أبين مني قولا.
والبلاغة لغة: تنبئ عن الوصول والانتهاء.
يقال: بلغت الغاية إذا انتهيت إليها، ومبلغ الشيء منتهاه، ورجل بليغ وبلْغ وبلَغ، حسن الكلام فصيحه يبلغ بعبارة لسانه كنه ما في قلبه، وبلغ بالضم بلاغة: صار بليغا، وتبالغ في كلامه تعاطى البلاغة وما هو ببليغ، وتبالغ به الفرح والحزن: تناهي.
أما البلاغة اصطلاحا فالبلغاء في ذلك فريقان:
1- المتقدمون كالإمام عبد القاهر الجرجاني ومن لف لفه، وهؤلاء يرون
--------------------------------------------
ভূমিকা
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ফাসাহাত এবং বালাগাতের স্বরূপ প্রসঙ্গে...ভূমিকা:
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ফাসাহাত এবং বালাগাতের স্বরূপ প্রসঙ্গে:
ফাসাহাত-এর শাব্দিক একাধিক অর্থ রয়েছে যার প্রতিটিই প্রকাশ ও স্পষ্টতার অর্থ বহন করে। যেমন বলা হয়:
১- দুধ স্বচ্ছ বা বিশুদ্ধ হয়েছে তখন বলা হয় যখন তার থেকে ফেনা দূরীভূত হয়। নাযলাহ আস-সুলামী বলেন:
আর ফেনার নিচেই রয়েছে খাঁটি ও স্বচ্ছ দুধ।১
২- সকাল স্পষ্ট হয়েছে: অর্থাৎ তার আলো প্রকাশিত হয়েছে। এ থেকেই একটি প্রবাদ প্রচলিত হয়েছে: "চক্ষুষ্মান ব্যক্তির নিকট সকাল স্পষ্ট হয়েছে।"২
৩- মেঘমুক্ত বা অতিশয় শীতহীন দিনকে স্বচ্ছ বা নির্মল দিন বলা হয়।
৪- কোনো অনারব যখন বিশুদ্ধ আরবিতে কথা বলে এবং তার ভাষা যখন জড়তা ও অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত হয়, তখন তাকে প্রাঞ্জলভাষী বলা হয়। আর পবিত্র কুরআনে এসেছে: {আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে অধিক প্রাঞ্জলভাষী}৩। অর্থাৎ: সে আমার চেয়ে অধিক স্পষ্টভাষী।
শাব্দিক অর্থে বালাগাত: এটি কোনো স্থানে পৌঁছানো এবং সমাপ্তির সংবাদ দেয়।
বলা হয়ে থাকে: আমি লক্ষ্যে পৌঁছেছি, যখন আমি সেখানে গিয়ে শেষ করি। আর কোনো বস্তুর শেষ সীমানাকে তার গন্তব্য বলা হয়। ‘বালিগ’ বা বাগ্মী বলা হয় এমন ব্যক্তিকে, যার কথা অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাঞ্জল, যে তার জিহ্বার প্রকাশভঙ্গির মাধ্যমে তার হৃদয়ের গভীর কথাটি যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে পারে। বাগ্মী হওয়া অর্থেও এই শব্দের ব্যবহার রয়েছে। আর কেউ যদি বাগ্মী না হয়েও বাগ্মিতা প্রদর্শনের চেষ্টা করে তবে তাকে বাগ্মিতার ভান করা বলা হয়। তদ্রূপ আনন্দ বা বিষাদ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোকেও এই শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়।
আর পারিভাষিক অর্থে বালাগাতের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞগণ দুই দলে বিভক্ত:
১- পূর্বসূরিগণ, যেমন ইমাম আব্দুল কাহের আল-জুরজানী এবং তাঁর অনুসারীগণ। তাঁরা মনে করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أن الفصاحة والبلاغة والبيان والبراعة ألفاظ مترادفة لا تتصف بها المفردات، وإنما يوصف بها الكلام بعد توخي1 معاني النحو فيما بين الكلم بحسب الأغراض التي يصاغ لها، وإلى ذلك أشار في دلائل الإعجاز في مواضع عدة منها قوله: "فصل في تحقيق القول على البلاغة والفصاحة والبيان والبراعة، وكل ما شاكل ذلك مما يعبر عن فضل بعض القائلين على بعض، من حيث نطقوا وتكلموا وأخبروا السامعين عن الأغراض والمقاصد، ومن المعلوم أنه لا معنى لهذه العبارات، وسائر ما يجري مجراها، مما يفرد فيه اللفظ بالنعت والصفة وينسب فيه الفضل والمزية إليه، غير وصف الكلام بحسن الدلالة وتمامها فيما له كانت دلالة" ثم قال: "ولا جهة لاستعمال هذه الخصال غير أن يؤتى المعنى من الجهة التي هي أصح لتأديته، ويختار له اللفظ الذي هو أخص به وأكشف عنه وأتم له، وأحرى بأن يكسبه نبلا ويظهر فيه مزية".
وقال قبله أبو هلال العسكري في الصناعتين: "الفصاحة والبلاغة ترجعان إلى معنى واحد، وإن اختلف أصلاهما؛ لأن كل واحد منهما إنما هو الإبانة على المعنى والإظهار له".
وقال الفخر الرازي في نهاية الإيجاز: وأكثر البلغاء لا يكادون يفرقون بين البلاغة والفصاحة بل يستعملونها استعمال الشيئين المترادفين على معنى واحد في تسوية الحكم بينهما.
ويشهد لذلك قول الجوهري في الصحاح: الفصاحة: البلاغة.
وعلى هذا الرأي فمرجعهما وما شاكلهما النظم والكلام دون الألفاظ المجردة والكلمات المفردة.
2- المتأخرون كأبي يعقوب يوسف السكاكي وابن الأثير، ومن شايعهما، وأولئك يرون إخراج الفصاحة من كَنَفَ2 البلاغة، ويجعلونها اسما لما كان بنجوة3 من تنافر الحروف وغرابة الألفاظ ومخالفة القياس، إلى آخر ما سيذكر
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই ফাসাহাত (বাকপটুতা), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), বায়ান (প্রকাশভঙ্গি) এবং বারায়াত (পারদর্শিতা) হলো সমার্থক শব্দ, যা একক শব্দের গুণ হিসেবে গণ্য হয় না। বরং একে বাক্যের গুণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যখন বাক্যের শব্দের মধ্যে ব্যাকরণগত অর্থের যথাযথ প্রয়োগ অন্বেষণ১ করা হয় সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী যে উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে বাক্যটি গঠিত হয়েছে। দালাইলুল ইজায-এ বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটিও রয়েছে: "বালাগাত, ফাসাহাত, বায়ান এবং বারায়াত ও এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ যা এক বক্তার ওপর অন্য বক্তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়—সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার একটি অধ্যায়। বক্তারা যখন কথা বলেন এবং শ্রোতাদের কাছে তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যক্ত করেন, তখন এটি স্পষ্ট যে এই অভিব্যক্তিগুলো এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়—যেখানে শব্দকে এককভাবে কোনো বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত করা হয় এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব বা বিশেষত্বের কথা বলা হয়—সেগুলোর অর্থ কেবল বাক্যের সেই গুণটিকেই বোঝায় যার মাধ্যমে এটি তার সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।" এরপর তিনি বলেন: "এই গুণাবলি ব্যবহারের আর কোনো উপায় নেই কেবল এটি ছাড়া যে, ভাব বা অর্থকে এমন দিক থেকে উপস্থাপন করতে হবে যা তা প্রকাশের জন্য সবচেয়ে সঠিক এবং তার জন্য এমন শব্দ নির্বাচন করতে হবে যা তার জন্য অধিকতর নির্দিষ্ট, তাকে অধিকতর স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে, তাকে পূর্ণতা দান করে এবং তাকে গাম্ভীর্য ও বিশেষত্ব প্রদানে অধিক উপযোগী।"
এর আগে আবু হিলাল আল-আসকারী 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থে বলেছেন: "ফাসাহাত ও বালাগাত একই অর্থের দিকে ফিরে যায়, যদিও তাদের ব্যুৎপত্তি ভিন্ন; কারণ তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য হলো অর্থের সুস্পষ্টতা ও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।"
ফখর আল-রাজি 'নিহায়াতুল ইজায' গ্রন্থে বলেছেন: অধিকাংশ আলঙ্কারিকরা বালাগাত ও ফাসাহাতের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য করেন না, বরং তারা উভয়কে একই অর্থের জন্য দুটি সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং উভয়ের বিধানকে সমান মনে করেন।
আস-সিহাহ গ্রন্থে জাওহারীর উক্তিটিও এর সাক্ষ্য দেয়: ফাসাহাত হলো বালাগাত।
এই মত অনুযায়ী, এই শব্দ দুটি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের মূল ভিত্তি হলো শব্দবিন্যাস ও বাক্য, কেবল বিচ্ছিন্ন শব্দ বা একক পদ নয়।
২- পরবর্তী যুগের পণ্ডিতগণ যেমন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আস-সাক্কাকী ও ইবনুল আসীর এবং যারা তাদের অনুসারী, তারা ফাসাহাতকে বালাগাতের গণ্ডি২ থেকে বের করে আনার পক্ষপাতি। তারা ফাসাহাতকে এমন একটি নাম হিসেবে সাব্যস্ত করেন যা অক্ষরের কর্কশতা, শব্দের দুর্বোধ্যতা এবং ব্যাকরণগত নিয়মের পরিপন্থী হওয়া থেকে মুক্ত৩ থাকবে—যেমনটি সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بعد، ويجعلون البلاغة اسما لما طابق مقتضى الحال مع الفصاحة، وعلى هذا الرأي فالبلاغة كل والفصاحة جزؤه، وعليه أيضا فالفصاحة من صفات المفرد كما هي من صفات المركب بحسب الاعتبارات الآتية:
وإلى هذا أشار صاحب الصناعتين حيث قال: وقيل: الفصاحة تمام آلة البيان فهي مقصورة على اللفظ؛ لأن الآلة تتعلق باللفظ، والبلاغة إنما هي إنهاء المعنى إلى القلب، فكأنها مقصورة على المعنى. ا. هـ.
وها نحن أولاء نشرحهما لك على الرأي الأخير فقد استقر عليه البحث، وبالله التوفيق، ومنه الهداية لأقوم طريق.
অতঃপর, তারা বালাগাতকে (সাবলীল অলঙ্কারিতা) এমন বিষয়ের নাম হিসেবে গণ্য করেন যা ফাসাহাতের (বিশুদ্ধতা) সাথে পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এই মত অনুযায়ী বালাগাত হলো একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় এবং ফাসাহাত হলো তার একটি অংশ। তদুপরি, ফাসাহাত যেমন একক শব্দের গুণ, তেমনি তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে বাক্য বা শব্দসমষ্টিরও গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়:
এ বিষয়ের প্রতি 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থের রচয়িতা ইঙ্গিত করে বলেছেন: "বলা হয়েছে যে, ফাসাহাত হলো বর্ণনা শৈলীর উপকরণের পূর্ণতা, যা কেবল শব্দের সাথে সম্পৃক্ত; কেননা উপকরণ শব্দের সাথেই সংশ্লিষ্ট। আর বালাগাত হলো অর্থের আবেদন হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, তাই এটি যেন অর্থের মাঝেই সীমাবদ্ধ।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
এখন আমরা এই শেষোক্ত মতের ভিত্তিতেই আপনার জন্য এ দুটির ব্যাখ্যা প্রদান করছি, কেননা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত এরই ওপর স্থির হয়েছে। আল্লাহর নিকটই তাওফিক বা সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর পক্ষ থেকেই সঠিক পথের হেদায়েত আসে।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصاحة
مدخل…الفصاحة:
تقع الفصاحة وصفا للمفرد والكلام والمتكلم.
فصاحة المفرد:
فصاحة المفرد تتحقق بسلامته من أربعة عيوب1:
1- تنافر الحروف.
2- غرابة اللفظ.
3- مخالفة القياس.
4- الكراهة في السمع.
تنافر الحروف:
صفة في الكلمة ينجم عنها ثقلها على اللسان وصعوبة النطق بها، ولا ضابط لذلك غير الذوق السليم والشعور الذي ينشأ من مزاولة أساليب البلغاء، وليس منشؤه قرب مخارج الحروف كما قيل ألا ترى أنك تجد الحسن في لفظ الجيش مع تقارب مخارج حروفه، ونحوه، الفم والشجر، وتجد لفظ ملع بمعنى أسرع متباعد المخارج وهو متنافر، ولا طول الكلمات؛ لأنه إن صح ذلك في نحو
--------------------------------------------
প্রাঞ্জলতা
ভূমিকা…প্রাঞ্জলতা:
প্রাঞ্জলতা গুণটি একক শব্দ, বাক্য এবং বক্তার বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
একক শব্দের প্রাঞ্জলতা:
একক শব্দের প্রাঞ্জলতা চারটি ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়১:
১- বর্ণের কর্কশতা বা অসমঞ্জস্যতা।
২- শব্দের অপরিচিতি।
৩- ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের ব্যত্যয়।
৪- শ্রুতিকটুতা।
বর্ণের কর্কশতা:
এটি শব্দের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার ফলে জিহ্বায় শব্দটির ভার সৃষ্টি হয় এবং উচ্চারণে কঠিন মনে হয়। সুস্থ রুচিবোধ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের বাচনভঙ্গি চর্চার মাধ্যমে অর্জিত অনুভূতি ব্যতিরেকে এর অন্য কোনো মানদণ্ড নেই। বর্ণের উচ্চারণস্থলের নৈকট্য এর মূল কারণ নয় যেমনটি বলা হয়ে থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, ‘আল-জাইশ’ শব্দটির বর্ণের উচ্চারণস্থলসমূহ নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও আপনি এতে সৌন্দর্য খুঁজে পান? অনুরূপভাবে ‘আল-ফাম’ এবং ‘আশ-শাজার’ শব্দগুলোও সুন্দর। আবার আপনি ‘মালা’ শব্দটি পাবেন যার অর্থ ‘দ্রুত চলা’, এর উচ্চারণস্থলসমূহ পরস্পর দূরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তা কর্কশ। আবার শব্দের দীর্ঘ হওয়াও এর কারণ নয়; কারণ যদি তা সঠিক হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صَهْصَلق1، وخنشليل2 وما جرى مجراهما، فليس يصح في نحو: ليستخلفنهم في الأرض فسيكفيكهم الله.
ولكن يمكن وضع ضابط إجمالي أساسه المشاهدة، وهو أن أصول الأبنية لا تحسن إلا في الثلاثي وفي بعض الرباعي نحو: عذب وعسجد. أما الخماسي الأصول نحو: صهصلق وجحمرش، وما جرى مجراهما، فإنه قبيح، ومن ثمة لم يوجد شيء من هذا الضرب في القرآن الكريم إلا ما كان معربا من أسماء الأنبياء كإبراهيم وإسماعيل.
والتنافر ضربان:
1- شديد متناه في الثقل كالصمعمع3 والطساسيج4 والظش5.
2- خفيف كالنقاخ6 والنقنقة7 والمثغنجر8 ومستشزرات في قول امرئ القيس:
غدائره مستئزرات إلى العلا
… تضل المداري في مثني ومرسل9
والضمير في غدائره يرجع إلى فرع في قوله قبله:
وفرع يزين المتن أسود فاحم
… أثيث كقنو النخلة المتعثكل10
--------------------------------------------
সহসালাক১ এবং খানশালিল২ এবং এই জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে [যে শ্রুতিকটুতা বা তানফুর রয়েছে], তা ‘তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধি করবেন’ এবং ‘আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য যথেষ্ট হবেন’ এর মতো শব্দগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তবে একটি সাধারণ নীতিমালা নির্ধারণ করা সম্ভব যার ভিত্তি হলো পর্যবেক্ষণ। আর তা হলো, শব্দের মূল গঠন কেবল ত্রি-মূলীয় এবং কিছু চতুর্-মূলীয় শব্দের ক্ষেত্রেই সুন্দর হয়, যেমন: ‘আযব’ (মিষ্টি) এবং ‘আসজাদ’ (স্বর্ণ)। পক্ষান্তরে পঞ্চ-মূলীয় মূল শব্দ যেমন: সহসালাক এবং জাহমারিশ এবং এই জাতীয় শব্দগুলো শ্রুতিকটু। এই কারণেই পবিত্র কুরআনে এই শ্রেণির কোনো শব্দ পাওয়া যায় না, কেবল নবীদের সেই নামগুলো ব্যতীত যেগুলোকে আরবিকরণ করা হয়েছে, যেমন: ইব্রাহিম ও ইসমাইল।
শব্দের এই শ্রুতিকটুতা (তানফুর) দুই প্রকার:
১- অত্যন্ত তীব্র ও চরম ভারী, যেমন: আস-সাম’আমা’৩, আত-তাসাসীজ৪ এবং আজ-জাশ৫।
২- হালকা, যেমন: আন-নুকাখ৬, আন-নুকনুকা৭, আল-মুসগানজির৮ এবং ইমরুল কায়সের উক্তিতে বর্ণিত ‘মুসতাশযিরাত’ শব্দ:
তার বিনুনিগুলো উপরের দিকে উন্নীত... জট পাকানো ও ছেড়ে দেওয়া চুলের ভাঁজে চিরুনিগুলো হারিয়ে যায়।৯
‘গদাইরিহি’ শব্দের সর্বনামটি পূর্বোক্ত চরণের ‘ফারউ’ (চুল) শব্দের দিকে ফিরেছে:
আর একগুচ্ছ চুল যা পিঠকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, যা কুচকুচে কালো... যা খেজুর গাছের ঘন ঝুলে থাকা ছড়ার ন্যায় নিবিড়।১০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الغرابة:
هي كون الكلمة غير ظاهرة المعنى، ولا مألوفة الاستعمال عند خُلّص العرب "لا عند المولدين؛ لأن كثيرا مما في المعاجم غريب عندهم".
ولذلك سببان1:
1- احتياجها إلى بحث وتفتيش في كتب اللغة، ثم يعثر على معناها بعد كمسحنفرة2 وبعاق3 وجردحل4 وجحيش بمعنى فريد مستبد برأيه في قول تأبط شرا يصف ابن عم له بكثرة الترحال:
يظل بموماة ويمسي بغيرها
… جحيشا ويعروري ظهور المسالك5
وهمرجلة وزيزم في قول ابن جحدر:
حلفت بما أرقلت حوله
… همرجلة خلقها شيظم
وما شبرقت من تنوفية
… بها من وحي الجن زيزم6
وربما لا يعثر على معناها كجحلنجع، قال في اللسان: قال أبو تراب: كنت سمعت من أبي الهيسع حرفا وهو جحلنجع فذكرته لشمر بن حمدويه وتبرأت إليه من معرفته، وكان أبو الهميسع من أعراب مدين لا نفهم كلامه، وأنشدته ما كان أنشدني:
--------------------------------------------
অপরিচিত হওয়া (আল-গুরাবাহ):
এটি হলো শব্দের অর্থ স্পষ্ট না হওয়া এবং বিশুদ্ধ আরবদের নিকট এর ব্যবহার পরিচিত না থাকা। এটি অর্বাচীনদের (মুওয়াল্লাদ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ অভিধানে বিদ্যমান অনেক শব্দই তাদের কাছে অপরিচিত।
এর দুটি কারণ রয়েছে:
১- শব্দটি বুঝতে ভাষাবিজ্ঞানের কিতাবসমূহে অনুসন্ধান ও খোঁজাখুঁজির প্রয়োজন হওয়া। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর এর অর্থ পাওয়া যায়, যেমন: মুসহানফিরা (প্রশস্ত), বা'য়াক (বৃষ্টি), জারদাহাল (উপত্যকা) এবং জাহীশ (একাকী বা নিজের মতে অটল ব্যক্তি)। তাআববাতা শাররান তার এক চাচাতো ভাইয়ের অত্যধিক ভ্রমণের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:
সে এক নির্জন মরুভূমিতে দিন কাটায় এবং অন্যটিতে সন্ধ্যা করে... সে একাকী এবং পথের পৃষ্ঠে সওয়ার হয়ে চলে।
এবং হামরাজালা ও যায়যাম শব্দ দুটি ইবনে জাখদারের এই কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে:
আমি শপথ করেছি সেই বাহনের যা চারপাশে দ্রুত চলেছে... এমন এক দ্রুতগামী উষ্ট্রী যার গঠন দীর্ঘ ও শক্তিশালী।
এবং সেই মরুভূমির যা সে পাড়ি দিয়েছে... যেখানে জিনের অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হয়।
কখনো কখনো শব্দের অর্থ পাওয়াই যায় না, যেমন: জুহলাঞ্জা'। 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আবু তুরাব বলেছেন, আমি আবু আল-হায়সামের কাছে একটি শব্দ শুনেছিলাম, সেটি হলো 'জুহলাঞ্জা'। আমি শামার বিন হামদাওয়াইহর কাছে এটি উল্লেখ করি এবং এর অর্থ জানার ব্যাপারে অক্ষমতা প্রকাশ করি। আবু আল-হায়সাম ছিলেন মাদায়েন অঞ্চলের এমন এক বেদুঈন যার কথা আমরা বুঝতে পারতাম না। তিনি আমাকে যা শুনিয়েছিলেন তা আমি তাকে শুনিয়েছিলাম:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إن تمنعي صوبك صوب المدمع
… يجري على الخد كضئب الثعثع
وطمحة صيرها جحلنجع
… لم يحضها الجدول بالتنوع1
قال في المثل السائر: ومن الغريب من يعاب استعماله في النثر دون النظم كلفظ مشمخر في أبيات بشر في وصف الأسد:
وأطلقت المهند من يميني
… فقد له من الأضلاع عشرا
فخر مضرحا بدم كأني
… هدمت به بناء مشمخرا2
ولفظ الشدنية، وهي ضرب من النوق في قول أبي تمام:
يا موضع الشدنية الوجناء
… ومصارع الأدلاج والإسراء3
ثم قال: واعلم أن كل يسوغ استعماله في الكلام المنثور يسوغ استعماله في المنظوم دون العكس، وذلك شيء استنبطته ودلني عليه الذوق.
وقال الجاحظ في البيان والتبيين: ورأيت الناس يديرون في كتبهم، أن امرأة خاصمت زوجها إلى يحيى بن يعمر، فانتهرها مرارا فقال له يحيى: أن سألتك ثمن شكرها وشبرك أنشأت تطلبها وتضهلها4 فإن كانوا قد رووا هذا الكلام لكي يدل على فصاحة وبلاغة فقد باعده الله من صفة البلاغة، وإن كانوا فعلوا ذلك؛ لأنه غريب فأبيات من الشعر العجاج والطرماح تأتي لهم مع الوصف الحسن على أكثر من ذلك.
2- احتياجها إلى التخريج على وجه بعيد حتى يفهم منها المعنى المقصود نحو مسرجا وصفا للأنف في قول رؤبة بن الحجاج "شاعر إسلامي":
--------------------------------------------
যদি তুমি তোমার বৃষ্টির ধারাকে অশ্রুপ্রবাহ থেকে নিবৃত্ত করো
... তবে তা গণ্ডদেশে স্বচ্ছ মুক্তদানার ন্যায় প্রবাহিত হবে।
এবং একটি দৃষ্টি যাকে সাদা মেঘে রূপান্তরিত করেছে
... ছোট নদী একে নাড়াচাড়া করে বিচিত্র রূপ দেয়নি।১
‘আল-মাসালুস সাইর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কিছু বিরল শব্দ রয়েছে যেগুলোর ব্যবহার গদ্যে দোষণীয় হলেও পদ্যে নয়, যেমন বিশর-এর সিংহ বর্ণনার কবিতাগুলোতে ‘মুশমাখির’ (সুউচ্চ) শব্দটির ব্যবহার:
আমি আমার ডান হাত থেকে ভারতীয় তলোয়ারটি মুক্ত করলাম
... যা তার দশটি পাঁজর কেটে ফেলল।
অতঃপর সে রক্তে রঞ্জিত হয়ে লুটিয়ে পড়ল, যেন আমি
... তার মাধ্যমে একটি সুউচ্চ ভবন ধসিয়ে দিলাম।২
এবং ‘শাদানিয়্যাহ’ শব্দটি, যা আবু তামমামের উক্তিতে এক প্রকার উষ্ট্রীকে বোঝায়:
হে উঁচু গণ্ডদেশ বিশিষ্ট শাদানি উষ্ট্রীর বসার স্থান
... এবং নৈশ ভ্রমণের লড়াকু ময়দান।৩
অতঃপর তিনি বলেন: জেনে রেখো, যে সকল শব্দ গদ্যে ব্যবহার করা বৈধ, তা পদ্যেও ব্যবহার করা বৈধ; কিন্তু এর বিপরীতটি (অর্থাৎ পদ্যের সব শব্দ গদ্যে ব্যবহার করা) সঠিক নয়। এটি এমন একটি বিষয় যা আমি উদ্ভাবন করেছি এবং আমার রসবোধ আমাকে এর দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
আল-জাহিয ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ গ্রন্থে বলেছেন: আমি লোকদের তাদের কিতাবসমূহে এ কথা প্রচার করতে দেখেছি যে, এক মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামারের কাছে অভিযোগ দায়ের করল। তিনি তাকে কয়েকবার ধমক দিলেন, অতঃপর ইয়াহইয়া তাকে বললেন: "যদি সে তোমার লজ্জাস্থানের বিনিময় এবং তোমার সাথে মিলনের সময়টি চেয়ে থাকে, তবে তুমি তাকে অন্বেষণ করতে এবং তার হক কমাতে শুরু করেছ।"৪ যদি তারা এই কথাটি বাগ্মিতা ও অলঙ্কার শাস্ত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণের জন্য বর্ণনা করে থাকে, তবে আল্লাহ একে অলঙ্কার শাস্ত্রের গুণ থেকে দূরে রেখেছেন। আর যদি তারা এটি কেবল বিরল শব্দের আধিক্যের কারণে করে থাকে, তবে আল-আজ্জাজ ও আত-তিরিম্মাহ-এর কবিতার পঙক্তিগুলো সুন্দর বর্ণনার সাথে এর চেয়েও বেশি বিরল শব্দ নিয়ে আসে।
২- উদ্দেশ্যমূলক অর্থ বোঝার জন্য শব্দটির দূরবর্তী কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়া। যেমন- ‘ইসলামী যুগের কবি’ রু’বাহ ইবনে হাজ্জাজের উক্তিতে নাকের বর্ণনায় ‘মুসাররাজান’ শব্দের ব্যবহার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أيام أبدت واضحا مفلجا
… أغر براقا وطرقا أبرجا
ومقلة وحاجبا مرجحا
… وفاحما ومرسنا مسرجا1
فالمرسن الأنف ولا يدري ماذ أراد بوصفه بمسرج، ومن ثم اختلف أئمة اللغة في تفسيره، فابن دريد قال: هو من قولهم للسيوف سريجية أي: منسوبة إلى حداد يسمى سريجا، فهو يريد تشبيهه بالسيف السريجي في الدقة والاستواء، وابن سيده صاحب "المحكم" قال: هو من السراج فهو يقصد أنه شبيه به في البريق واللمعان، وهذا قريب من قولهم: سرج وجهه بالكسر، أي: حسن، وسرج الله وجهه، بهجه وحسنه.
وعلى كلا الحالين فهوغير ظاهر الدلالة على ذلك المعنى؛ لأن مادة فعل بالتشديد إنما تدل على مجرد نسبة شيء إلى آخره لا على التشبيه، فدلالتها عليه بعيدة، وقريب من هذا امتناع استعمال اللفظ المشترك بين معنيين فأكثر بدون قرينة لما فيه من دخول الحيرة على السامع كاستعمال اللفظ المشترك بين المعنى وضده، إلا إذا وجدت قرينة تخصصه بالمراد، نحو: عزر، فإنه لفظ مشترك بين التعظيم والإهانة فلا تقول لقيت فلانا فعزرته إلا بقرينة، ومن ثم لم يستعمله القرآن الكريم إلا مع القرينة فقال: {فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ} 2.
فذكر النصر قرينة على إرادة التعظيم.
مخالفة القياس:
كون الكلمة غير جارية على القانون الصرفي المستنبط من كلام العرب جمع ناكس على نواكس، بمعنى مطأطئي الرءوس في قول الفرزدق:
وإذا الرجل رأوا يزيد رأيتهم
… خضع الرقاب نواكس الأبصار
"مع أن فواعل إنما تنقاس في وصف لمؤنث عاقل، لا لمذكر كما هنا"، وكفك الإدغام في أجلل من قول أبي النجم بن قدامة من رجاز الإسلام:
--------------------------------------------
এমন দিনগুলো যা প্রকাশ করেছিল উজ্জ্বল শুভ্র দাঁত
… ধবল জ্যোতির্ময় এবং প্রশস্ত সুন্দর চক্ষু।
এবং চোখের মণি ও ধনুকের মতো বাঁকানো ভ্রু
… এবং কুচকুচে কালো চুল ও সুগঠিত প্রদীপ্ত নাক।১
'মরসান' অর্থ হলো নাক, আর তিনি নাককে 'মুসাররাজ' বিশেষণে বিশেষায়িত করার মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানা যায় না। এ কারণেই ভাষাবিদ ইমামগণ এর ব্যাখ্যায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ইবনে দুরিদ বলেছেন: এটি তরবারির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তাদের 'সারিজিয়া' শব্দ থেকে এসেছে, অর্থাৎ যা 'সারিজ' নামক একজন কামারের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এর মাধ্যমে তিনি সূক্ষ্মতা ও সোজা হওয়ার ক্ষেত্রে সেটিকে সারিজিয়া তরবারির সাথে তুলনা করতে চেয়েছেন। আর 'আল-মুহকাম' গ্রন্থের রচয়িতা ইবনে সিদাহ বলেছেন: এটি 'সিরাজ' বা প্রদীপ থেকে উদ্ভূত; অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে এটি ঔজ্জ্বল্য ও দ্যুতির ক্ষেত্রে প্রদীপের মতো। এটি আরবদের 'সারাজা ওয়াজহুহু' (তার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হলো) কথাটির কাছাকাছি—যার অর্থ সুন্দর হওয়া—এবং 'আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করেছেন', অর্থাৎ তাকে প্রফুল্ল ও সুন্দর করেছেন।
উভয় ক্ষেত্রেই এই অর্থটির উপর এর বাচনিক প্রমাণ স্পষ্ট নয়; কারণ তাশদিদযুক্ত 'ফা'আলা' মূল ধাতুটি কেবল একটি বস্তুকে অন্যটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার প্রমাণ দেয়, উপমার নয়। তাই এর ওপর এর প্রমাণ সুদূরপরাহত। এর কাছাকাছি বিষয় হলো কোনো ইঙ্গিত বা প্রমাণ ছাড়া এমন শব্দের ব্যবহার যা দুই বা ততোধিক অর্থের মধ্যে সাধারণ (মুশতারাক), কারণ এতে শ্রোতার মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। যেমন কোনো শব্দকে তার অর্থ এবং তার বিপরীত অর্থের মধ্যে ব্যবহার করা—যদি না এমন কোনো ইঙ্গিত থাকে যা কাঙ্ক্ষিত অর্থটিকে নির্দিষ্ট করে দেয়। যেমন: 'আযযারা' শব্দটি; এটি সম্মান করা এবং অপমান করা—উভয় অর্থের মধ্যেই সাধারণ একটি শব্দ। তাই আপনি কোনো ইঙ্গিত ছাড়া বলতে পারবেন না যে, "আমি অমুকের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে 'আযযারা' করলাম", কারণ এতে অর্থের অস্পষ্টতা থাকে। একারণেই কুরআন মাজীদে ইঙ্গিত ছাড়া এই শব্দ ব্যবহৃত হয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে এবং তাঁকে সাহায্য করেছে} ২।
এখানে 'সাহায্য' করার উল্লেখটি 'সম্মান' করা বোঝানোর জন্য ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করেছে।
নিয়ম বা কিয়াসের পরিপন্থী হওয়া:
কোনো শব্দ আরবদের কথা থেকে সংকলিত সরফ বা রূপতত্ত্বের নিয়মানুযায়ী না হওয়া। যেমন ফারাযদাকের কবিতায় মাথা নিচু করার অর্থে 'নাকিস' শব্দের বহুবচন হিসেবে 'নাওয়াকিস' শব্দের ব্যবহার:
এবং যখন লোকেরা ইয়াযিদকে দেখে, তখন তুমি দেখবে তাদের
… ঘাড় অবনমিত এবং দৃষ্টি নিচু হয়ে আছে।
"অথচ 'ফাওয়ায়িল' ওজনের বহুবচন কেবল বুদ্ধিমান স্ত্রীলিঙ্গের বিশেষণের ক্ষেত্রে নিয়মসিদ্ধ, এখানে যেভাবে পুরুষলিঙ্গের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে তেমনটি নয়"। একইভাবে ইসলামের অন্যতম রাজায কবি আবু নাজম ইবনে কুদামার উক্তি 'আজলাল' শব্দে সন্ধি বা ইদগাম না করা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الحمد لله العلي الأجلل
… أنت مليك الناس ربا فأقبل
واستعمال همزة القطع بدل همزة الوصل في قول جميل:
ألا لا أرى اثنين أحسن شيمة
… على حدثان الدهر مني ومن جمل1
وعكسه في قوله: إن لم أقاتل فألبسوني برقعا.
فهذا وأمثاله قبيح يشين الكلام ويذهب بمائه2.
قال في الصناعتين: وإنما استعمل ذلك القدماء؛ لأنهم كانوا أصحاب بداية، والبداية مزلة، مع أن أشعارهم لم تكن تنقد عليهم، ولو نقدت كما تنقد على شعراء هذه الأزمنة ويبهرج3 من كلامهم ما كان فيه أدنى عيب لتجنبوه.
وقال القاضي عبد العزيز الجرجاني صاحب الوساطة بين المتنبي وخصومه: ولولا أن أهل الجاهلية جدوا بالتقدم، واعتقد الناس فيهم أنهم القدوة والأعلام الحجة لوجدت كثيرا من أشعارهم معيبا مترذلا ومردودا منفيا، لكن هذا الظن الجليل ستر عليهم ونفي الظنة عنهم فذهبت الخواطر في الذب عنهم كل مذهب وقامت في الاحتجاج لهم كل مقام. ا. هـ.
ويستثنى من ذلك ما ثبت عن العرب من الشواذ نحو: أبي، يأبى4، وعور5، واستحوذ6، وقطط7 شعره.
الكراهة في السمع:
هي أن تمج الكلمة الأسماع وتأنف منها الطباع لوحشيتها وغلظتها كالجرشي، بمعنى النفس في قول أبي الطيب يمدح سيف الدولة:
--------------------------------------------
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুউচ্চ ও মহিমান্বিত
… আপনি মানুষের অধিপতি ও রব, সুতরাং কবুল করুন।
এবং জামিলের উক্তিতে হামজাতুল ওয়াসলের পরিবর্তে হামজাতুল ক্বাত' এর ব্যবহার:
জেনে রেখো, যুগের বিবর্তনে আমি ও জামালের চেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী কোনো দুই ব্যক্তিকে আমি দেখি না
… ১
এবং এর বিপরীতটি তার এই উক্তিতে: যদি আমি যুদ্ধ না করি তবে তোমরা আমাকে বোরকা পরিয়ে দাও।
সুতরাং এটি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো কদর্য, যা বক্তব্যকে কলঙ্কিত করে এবং এর সৌন্দর্য নষ্ট করে ২।
'আস-সিনাআতাঈন' গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রাচীন কবিগণ কেবল এটি ব্যবহার করেছেন; কারণ তারা প্রারম্ভিক যুগের লোক ছিলেন, আর শুরুটা হলো পদস্খলনের স্থান। তাছাড়া তাদের কবিতাগুলো তখন সমালোচনার সম্মুখীন হতো না। যদি বর্তমান সময়ের কবিদের কবিতার মতো তাদের কবিতাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমালোচনা করা হতো এবং তাদের বক্তব্যের সামান্যতম ত্রুটিপূর্ণ ৩ অংশকেও বাতিল গণ্য করা হতো, তবে তারা এগুলো পরিহার করতেন।
'আল-ওয়াসাতাহ বাইনাল মুতানাব্বি ওয়া খুশুমিহি' গ্রন্থের রচয়িতা কাজী আব্দুল আজিজ আল-জুরজানি বলেন: যদি জাহেলি যুগের কবিরা অগ্রজ হওয়ার মর্যাদা না পেতেন এবং মানুষের মাঝে তাদের আদর্শ ও দলীলযোগ্য নিদর্শন হওয়ার বিশ্বাস না থাকত, তবে আপনি তাদের অনেক কবিতাকেই ত্রুটিপূর্ণ, তুচ্ছ এবং বর্জনীয় হিসেবে পেতেন। কিন্তু এই সুউচ্চ ধারণা তাদের (ত্রুটিগুলো) আড়াল করে রেখেছে এবং তাদের প্রতি কুধারণা দূর করে দিয়েছে। ফলে তাদের স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করতে গিয়ে চিন্তাধারা সকল পথে পরিচালিত হয়েছে এবং তাদের সমর্থনে সম্ভাব্য সকল ভূমিকা পালন করা হয়েছে। সমাপ্ত।
এবং এর থেকে আরবদের নিকট থেকে প্রমাণিত সেই ব্যতিক্রমগুলো স্বতন্ত্র থাকবে, যেমন: আবা, ইয়াবা ৪, এবং আওয়ারা ৫, ইস্তাহওয়াযা ৬ এবং ক্বাতিত্বা ৭ তার চুল।
শ্রবণে তিক্ততা:
তা হলো শব্দের অমার্জিত রূপ ও কর্কশতার কারণে শ্রবণ তা প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষের প্রকৃতি তা অপছন্দ করা। যেমন 'আল-জুরাশি' শব্দটি, যা আবু তায়্যিবের কবিতায় 'প্রাণ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যখন তিনি সাইফুদ্দৌলার প্রশংসা করছিলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مبارك الاسم أغر اللقب
… كريم الحرشي شريف النسب1
وكالنقاخ فيما أنشده شمر:
وأحمق ممن يلعق الماء قال لي
… دع الخمر واشرب من نقاخ مبرد2
لكن البصير بصنعة الكلام يعلم أن استثقال الطبع لما يسمع، إنما يتصور من جهة غرابة الكلمة ووحشيتها، ففي ذكر الغرابة غنية عن ذكرها.
تدريب أول:
بين ما أخل بفصاحة الكلمات التي وضعت بين قوسين:
قال المتنبي يمدح سيف الدولة:
1-وما أرضى لمقلته بحلم
… إذا انتبهت توهمه "ابتشاكا"3
2-لم يلقها إلا بشكة باسل
… يخشى الحوادث حازم "مستعدد"4
3-يا نفس صبرا كل حي لاق
… وكل "اثنين" إلى افتراق
4-فلا يبرم الأمر الذي هو "حالل"
… ولا "يحلل" الأمر الذي هو يبرم
5-أن بني للئام زهده
… ما لي في صدورهم من "مودده"
6- كتب بعض أمراء بغداد رقعة طرحها في المسجد الجامع حين مرضت أمه فقال: صين امرؤ ورعى دعا لامرأة "إنقحلة"، "مقسئنة" فقد منيت بأكل الطرموق فأصابها من أجله "الاستمصال" أن يمن الله عليها "بالإطرغشاش"، و"الإبرغشاش"5.
--------------------------------------------
নাম মোবারক, উপাধি উজ্জ্বল
… আল-হারাশি বংশোদ্ভূত উদার, উচ্চ বংশজাত১
এবং 'নাক্কাখ' (সুমিষ্ট পানি) শব্দের ন্যায়, যা শম্মার আবৃত্তি করেছেন:
এবং পানি চাটনকারী অপেক্ষাও অধিক নির্বোধ এক ব্যক্তি আমাকে বলল
… মদ পরিত্যাগ কর এবং শীতল সুমিষ্ট পানি পান কর২
কিন্তু বাকরীতিতে বিজ্ঞ ব্যক্তি জানেন যে, যা শোনা হয় তা শ্রুতিকটু মনে হওয়া কেবল শব্দের দুর্ভেদ্যতা এবং তার কর্কশতার দিক থেকেই কল্পনা করা যায়। সুতরাং দুর্ভেদ্যতার উল্লেখ করাই এর আলোচনা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
প্রথম অনুশীলন:
বন্ধনীভুক্ত শব্দগুলোর প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) কী কারণে ক্ষুণ্ন হয়েছে তা বর্ণনা কর:
আল-মুতানাব্বী সাইফুদ্দৌলার প্রশংসা করে বলেছেন:
১-আমি তার চোখের মণির জন্য এমন স্বপ্নের দ্বারা সন্তুষ্ট নই
… যখন সে জাগ্রত হয়, তখন সেটিকে "মিথ্যা" (ইবতিশাক) মনে করে৩
২-সে যুদ্ধের মুখোমুখি হয়নি বীরোচিত রণসজ্জা ব্যতীত
… বিপদের ভয়ে শঙ্কিত সংকল্পবদ্ধ ব্যক্তি "পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণকারী" (মুসতা’দিদ)৪
৩-হে মন! ধৈর্য ধরো, প্রতিটি জীবন্ত সত্তাই (মৃত্যুর) সম্মুখীন হবে
… এবং প্রতিটি "জোড়া" (ইসনায়ন) বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত
৪-সুতরাং যে বিষয়টি "শিথিল" (হালিল) তা যেন সে মজবুত না করে
… আর যে বিষয়টি মজবুত তা যেন সে "শিথিল" (ইউহালিল) না করে
৫-নিশ্চয়ই নীচ বংশীয়রা আমার বিরাগভাজন
… তাদের অন্তরে আমার প্রতি কোনো "ভালোবাসা" (মাওদাদাহ) নেই
৬- বাগদাদের জনৈক আমীর তার মা অসুস্থ হলে একটি চিরকুট লিখে জামে মসজিদে নিক্ষেপ করলেন। সেখানে তিনি বললেন: "আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে হিফাজত করুন এবং তার প্রতি দয়া করুন, যে এক 'বৃদ্ধা' (ইনকাহলা), 'জরাজীর্ণ' (মাকসাউন্না) মহিলার জন্য দুআ করবে; সে 'এক প্রকার আহার্য' (তুরুমুক) খাওয়ার কারণে বিপদে পড়েছে, যার ফলে তার 'উদরাময়' (ইসতিমসাল) হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে 'সুস্থতা' (ইতরিগশাশ) ও 'আরোগ্য' (ইবরিগশাশ) দান করেন।"৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تدريب ثان:
بين ما أخل بفصاحة الكلمات التي وضعت بين قوسين:
1- قال ابن نباتة في خطبة له يذكر أهوال يوم القيامة:
"أقمرط" وبالها، و"اشمخر" نكالها، فما ساغت ولا طابت1.
2- يوم "عصبصب" و"هلوف" ملا السجسج طلا2.
3-قد قلت لما "اطلخم" الأمر وانبعثت
… عشواء تالية غبسا "دهاريسا"3
4-نعم متاع الدنيا حباك به
… أروع لا "جيدر" ولا جبس4
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুশীলন:
বন্ধনীভুক্ত শব্দগুলোর প্রাঞ্জলতাকে (ফাসাহাত) যা বিনষ্ট করেছে তা বর্ণনা কর:
১- ইবনে নুবাতা কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা বর্ণনা করে তাঁর একটি ভাষণে বলেন:
"ইকমাতাররা" তার পরিণাম, এবং "ইশমাখাররা" তার শাস্তি, ফলে তা সহজসাধ্য কিংবা আনন্দদায়ক হলো না।১
২- এক "আসাবসাব" এবং "হালুফ" দিন, যা সমতল ভূমিকে শিশিরে সিক্ত করে দিল।২
৩-আমি বললাম যখন বিষয়টি "ইতলাখাম্মা" হলো এবং ধেয়ে এল... এক লক্ষ্যহীন উষ্ট্রী যা বয়ে আনল অন্ধকার "দাহারিসা"।৩
৪-পার্থিব জগতের কতই না উত্তম সম্পদ যা তোমাকে দান করেছেন... এক বিস্ময়কর ব্যক্তি, যিনি "জাইদার" নন এবং অলস নন।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
5-تقي نقي لم يكثر غنيمة
… بنهكة ذي قربى ولا "بحقلد"1
6- قال امرؤ القيس حين أدركته المنية وكان قد ذهب إلى ملك الروم يستنجده على قتلة أبيه: رب جفنة "مثعنجره" وطعنة "مسحنفره"، وخطبة مستحضره، وقصيدة محبره، تبقى غدا بأنقره2.
تمرين 1:
بين ما أخل بفصاحة الكلمات التي وضعت بين قوسين:
1-تشكو الوجى من "أظلل وأظلل"
… من طول إملال وظهر مملل3
2-فأرحام شعر تتصلن "لدنه"
… وأرحام مال ما تني تقطع4
3-رواق العز حولك "مسبطر"
… وملك علي ابنك في كمال5
--------------------------------------------
৫-তিনি একজন খোদাভীরু ও পবিত্র ব্যক্তি, যিনি আত্মীয়-স্বজনকে পর্যুদস্ত করে কিংবা "পাপের" মাধ্যমে গনিমতের মাল বৃদ্ধি করেননি...
৬- ইমরুল কায়েস যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন তখন তিনি বলেছিলেন—উল্লেখ্য যে, তিনি তাঁর পিতার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সাহায্য চাওয়ার জন্য রোম সম্রাটের নিকট গিয়েছিলেন: কতই না পূর্ণ পাত্র, কতই না প্রশস্ত আঘাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং সুসজ্জিত কবিতা, যা আগামীকাল আঙ্কারায় অবশিষ্ট থাকবে।
অনুশীলন ১:
উদ্ধৃতি চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলোর প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) যা দ্বারা ক্ষুণ্ণ হয়েছে তা বর্ণনা করো:
১-সে (উট) তার "ক্ষুরতলার" ব্যথার অভিযোগ করছে... দীর্ঘ বিরক্তি এবং ক্লান্ত পিঠের কারণে।
২-কাব্যের আত্মীয়তা "তাঁর নিকট" যুক্ত হয়... অথচ সম্পদের আত্মীয়তা ছিন্ন হতে মোটেও বিলম্ব করে না।
৩-মর্যাদার শামিয়ানা তোমার চারপাশে "প্রসারিত"... আর তোমার পুত্র আলীর রাজত্ব পূর্ণতায় আসীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4-لا نسب اليوم ولا خلة
… "إتسع" الفتق على الراقع1
5-فأيقنت أني عند ذلك ثائر
… غداتئذ أو هالك في "الهوالك"2
6- قال أبو علقمة يوما لحاجمه: أرهف، ظبات المشارط، وأمر المسح، واستنجل الرشح، وخفف الوطء، وعجل النزع، ولا تكرهن أبيا، ولا تردن أتيا، فقال له الحجام: ليس لي علم بالحروف3.
تمرين2:
بين ما أخل بفصاحة الكلمات التي وضعت بين قوسين:
1-جرت سحا فقلت له "أخبريني"
… نوى مشمولة فمتى اللقاء4
2-أعاذل قد جربت من خلقي
… أني أجود لأقوام وإن "ضننوا"
3- من كلام أم الهيثم الأعرابية لأبي عبيدة الراوية، وقد عادها في علة أصابتها، كنت وحمى "سدكة"، وشهدت مآدبة، فأكلت "جبجبة"، من صفيف "هلعة" فاعترتني "زلخة" فقيل لها أي شيء تقولين، فقالت أو للناس كلامان، والله ما كلمتكم إلا بالعربي الفصيح5.
4-يا نرجس الدنيا أقم أبدا
… "للاقتراح" ودائم النخب6
5- قال بعض الأدباء لكاتبه يوصيه بحسن الجلسة للكتابة والاستماع لما يملي عليه، ألصق روانفك "بالجبوب"، وخذ المسطر "بشناترك"، وأجل "حندورتيك" إلى "قيهلى" حتى لا أنغي نفية، إلا أودعتها "حماطة جلجلانك"7.
--------------------------------------------
৪-আজ কোনো বংশমর্যাদা নেই, নেই কোনো বন্ধুত্ব... তালিদাতার জন্য ফাটল ‘বিস্তৃত’ হয়ে গেছে।১
৫-তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে আমি প্রতিশোধ গ্রহণকারী হব... সেদিন সকালে অথবা ‘বিনষ্টকারীদের’ মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাব।২
৬- আবু আলকামা একদিন তার শিঙ্গাওয়ালাকে বললেন: ধারালো করো ক্ষুরের অগ্রভাগ, মসৃণ করো মোছার কাজ, বের করে আনো রক্তধারা, লঘু করো চাপ, দ্রুত করো অপসারণ, অবাধ্যকে বাধ্য করো না, আর আগমনকারীকে ফিরিয়ে দিও না। শিঙ্গাওয়ালা তাকে বলল: এই পরিভাষাগুলো সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই।৩
অনুশীলনী ২:
বন্ধনীভুক্ত শব্দগুলোর প্রাঞ্জলতা নষ্টকারী বিষয়গুলো বর্ণনা করো:
১-তা সজোরে প্রবাহিত হলো, তখন আমি তাকে বললাম: ‘আমাকে সংবাদ দাও’... এটি এক পরিব্যাপ্ত বিচ্ছেদ, তবে সাক্ষাৎ কবে হবে?৪
২-হে তিরস্কারকারী! তুমি তো আমার স্বভাব পরীক্ষা করেছ... যে আমি লোকেদের প্রতি বদান্যতা প্রদর্শন করি, যদিও তারা ‘কার্পণ্য করে’।
৩- বর্ণনাকারী আবু উবায়দার প্রতি গ্রাম্য নারী উম্মুল হায়সামের উক্তি থেকে; আবু উবায়দা তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি বললেন: আমি খাবার ‘লিপ্সু’ ছিলাম, এক ভোজসভায় উপস্থিত হয়েছিলাম, অতঃপর আমি ছোট ছোট টুকরো করা গোশত ঠাসা ‘পাকস্থলী’ খেয়েছিলাম, যা ছিল ‘ছাগীর’ ঝলসানো মাংসের অংশ, ফলে আমার ‘পিঠের ব্যথা’ দেখা দিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কী বলছেন? তিনি বললেন, মানুষের কি তবে দুটি ভাষা আছে? আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সাথে বিশুদ্ধ আরবি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলিনি।৫
৪-হে দুনিয়ার নার্গিস! তুমি চিরকাল টিকে থাকো... ‘উদ্ভাবনের’ জন্য এবং সর্বদা পান করার জন্য।৬
৫- জনৈক সাহিত্যিক তার লেখককে তার শ্রুতিলিপি লেখার ও শোনার সময় বসার ভঙ্গি সুন্দর করার জন্য উপদেশ দিয়ে বললেন: তোমার পশ্চাদ্দেশ ‘মাটির’ সাথে লেপ্টে রাখো, তোমার ‘আঙুল’ দিয়ে কলমটি ধরো, তোমার ‘চোখের মণি দুটি’ আমার ‘মুখের’ দিকে নিবদ্ধ করো, যাতে আমি কোনো কথা উচ্চারণ করামাত্রই তা তুমি তোমার ‘হৃদপিণ্ডের অন্তঃস্থলে’ গেঁথে নাও।৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصاحة الكلام:يراد بالكلام هنا ما يشمل المركب التام والناقص1.
وفصاحته تكون بسلامته من كل ما ينغلق به معناه وينبهم مغزاه، وإلا كان مردودا خارجا عن حدود البلاغة، ورسوم الفصاحة، ولو احتوى على أجل المعاني وأشرفها، وإنما يتم له ذلك إذا عرى عن الأشياء الآتية:
1- تنافر الكلمات مجتمعة، ويدخل فيه كثرة التكرار وتتابع الإضافات.
2- ضعف التأليف.
3- التعقيد اللفظي.
4- التعقيد المعنوي.
تنافر الكلمات - المعاظلة 2 اللفظية:
هو وصف يعرض للكمات مجتمعة فيوجب ثقلها واضطراب اللسان عند النطق بها، وقد علم بالاستقراء أن منشأه إما:
1- تكرير حرف أو حرفين من كلمة في المنثور أو المنظوم، وهو قسمان: أ- ما اشتد ثقله وتناهي كالذي أنشده الجاحظ:
وقبر حرب بمكان قفر
… وليس قرب قبر حرب قبر3
فأنت ترى أن قافاته وراءاته قلقة نابية، وكأنها سلسلة تتبرأ بعض حلقاتها من بعض.
--------------------------------------------
কালামের প্রাঞ্জলতা:এখানে কালাম বলতে যা পূর্ণ ও অপূর্ণ উভয় প্রকার বাক্য বা পদসমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে তা-ই বোঝানো হয়েছে ১।
আর এর প্রাঞ্জলতা অর্জিত হয় এমন সব বিষয় থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে যার ফলে এর অর্থ অস্পষ্ট হয়ে পড়ে এবং এর গূঢ় উদ্দেশ্য রহস্যাবৃত হয়ে যায়। অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য হবে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সীমা ও প্রাঞ্জলতার রীতিনীতির বাইরে গণ্য হবে, যদিও তা অত্যন্ত মহৎ ও শ্রেষ্ঠ অর্থ ধারণ করে থাকে। এটি কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থেকে মুক্ত থাকে:
১- শব্দের সমষ্টিগত শ্রুতিকটুতা বা পারস্পরিক সংঘর্ষ; আর এর মধ্যে শব্দের অধিক পুনরাবৃত্তি এবং একের পর এক সম্বন্ধসূচক পদের ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত।
২- দুর্বল রচনাশৈলী।
৩- শাব্দিক জটিলতা।
৪- অর্থগত জটিলতা।
শব্দের শ্রুতিকটুতা - শাব্দিক বাক্যজট ২:
এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা একত্রিত শব্দাবলির ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, যা উচ্চারণের সময় জিহ্বার জড়তা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা গেছে যে এর উৎস মূলত:
১- গদ্য বা পদ্যের কোনো শব্দে একটি বা দুটি বর্ণের পুনরাবৃত্তি হওয়া। এটি দুই প্রকার: ক- যার শ্রুতিকটুতা অত্যন্ত তীব্র ও চরম পর্যায়ের, যেমনটি জাহিজ বর্ণনা করেছেন:
হারবের কবর এক নির্জন স্থানে ... এবং হারবের কবরের নিকটে আর কোনো কবর নেই ৩
আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে এর ‘ক্বাফ’ এবং ‘রা’ বর্ণগুলো অত্যন্ত অস্থির ও শ্রুতিকটু, যেন এটি এমন একটি শিকল যার একটি আংটা অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ب- ما كان فيه بعض الثقل كقول أبي تمام:
كريم متى أمدحه أمدحه والورى
… معى وإذا ما لمته لمته وحدي1
وقول المتنبي:
كيف ترثي التي ترى كل جفن
… راءها غير جفنها غير راقي2
فتكرار الحاء والهاء المتقاربتي المخرج في بيت أبي تمام، والجيم والراء في أكثر كلمات بيت المتنبي، أوجب الثقل فيهما.
وقال بعض الوعاظ في كلام أورده: "حتى جنأت وجنات جنات الحبيب" فلما سمعه بعض الحاضرين صاح وقال: "سمعت جيما في جيم فصحت.
2- إيراد أفعال يتبع بعضها بعضا بدون عطف، سواء اختلفت بين المضي والاستقبال نحو قول القاضي الأرجاني يحدث عن الشمع:
بالنار فرقت الحوادث بيننا
… وبها نذرت أعود أقتل روحي3
أم لم تختلف كقول المتنبي يمدح سيف الدولة:
أقل أنل أقطع أحمل على سل أعد
… زدهش بشن تفضل أدن سر صل4
فورود نذرت أعود أقتل متتابعة على تلك الشاكلة في البيت الأول جاء ثقيلا متعاظلا، كما أن مجيء أفعال الأمر متكررة في البيت الثاني جعل للثقل فيها حظا عظيما، فإن جاءت الأفعال مع حرف العطف لم تكن في الثقل كالأول نحو قول عبد السلام بن رغبان المعروف بديك الجن:
أحل وأمرر وضر وانفع ولن واخشن وأبرر ثم انتدت للمعالي5.
--------------------------------------------
খ- যাতে কিছুটা উচ্চারণগত জটিলতা রয়েছে, যেমন আবু তামমামের উক্তি:
তিনি এমন এক মহানুভব যে, যখন আমি তাঁর প্রশংসা করি তখন সমগ্র সৃষ্টি
… আমার সাথে থাকে, আর যখন আমি তাঁকে ভর্ৎসনা করি তখন একাই করি।১
এবং আল-মুতানাব্বির উক্তি:
তুমি কীভাবে সেই নারীর জন্য শোক প্রকাশ করবে, যার চোখে বহমান অশ্রু ব্যতীত প্রতিটি চক্ষুই
… তাকে দর্শনকারী হিসেবে দেখে?২
আবু তামমামের চরণে কাছাকাছি উচ্চারণস্থল বিশিষ্ট 'হা' (حاء) এবং 'হা' (هاء) বর্ণের পুনরাবৃত্তি এবং মুتانাব্বির চরণের অধিকাংশ শব্দে 'জিম' ও 'রা' বর্ণের সমাবেশ এই দুই চরণে উচ্চারণের ভার বা জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
জনৈক উপদেশদাতা তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন: "এমনকি প্রিয়ার উদ্যানের গালগুলো ঝুঁকে পড়ল।" উপস্থিতদের মধ্যে একজন তা শুনে চিৎকার করে উঠলেন এবং বললেন: "আমি জিমের ভেতরে জিম শুনতে পেলাম, তাই চিৎকার করে উঠলাম।"
২- সংযোজক অব্যয় ছাড়াই একের পর এক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করা; চাই তা অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের ভিন্নতার সাথে হোক, যেমন কাজী আরজানি মোমবাতি সম্পর্কে বলেছেন:
দুর্ঘটনাগুলো আগুনের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে
… আর সেই আগুনেই আমি মানত করেছি যে, আমি পুনরায় ফিরে যাব ও নিজের প্রাণ বিসর্জন দেব।৩
অথবা কালের ভিন্নতা ছাড়াই (একই কালের ক্রিয়াপদ), যেমন সাইফুদ দাওলার প্রশংসায় মুتانাব্বির উক্তি:
ক্ষমা করুন, দান করুন, জায়গির দিন, আরোহণ করান, উচ্চ করুন, প্রার্থনা গ্রহণ করুন, পুনরায় দান করুন
… বাড়িয়ে দিন, বিমোহিত করুন, বর্ষণ করুন, অনুগ্রহ করুন, নিকটবর্তী করুন, আনন্দিত করুন, দান করুন।৪
প্রথম চরণে 'মানত করেছি', 'ফিরে যাব', 'হত্যা করব' ক্রিয়াপদগুলো এভাবে ধারাবাহিকভাবে আসায় তা অত্যন্ত ভারবহ ও জটিল হয়ে পড়েছে। তেমনিভাবে দ্বিতীয় চরণে অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়াগুলোর পুনরাবৃত্তি সেখানে উচ্চারণে চরম দুরূহতা সৃষ্টি করেছে। তবে ক্রিয়াপদগুলো যদি সংযোজক অব্যয়সহ আসে, তবে তা প্রথমটির মতো এতটা ভারবহ হয় না; যেমন 'দিকুল জিন' হিসেবে পরিচিত আবদুস সালাম বিন রাগবানের উক্তি:
তুমি মিষ্ট করো ও তিক্ত করো, ক্ষতি করো ও উপকার করো, নমনীয় হও ও কঠোর হও, এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো; অতঃপর সে উচ্চ মর্যাদার দিকে ধাবিত হলো।৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3- إيراد صفات متعددة على طريق واحدة كقول المتنبي في المديح، وقد أولع كثيرا بهذا النوع:
دان بعيد محب مبغض بهج
… أغر حلو ممر لين شرس
ند أبي غر واف أخي ثقة
… جعد سرته ندب رضى ندس1
ولا يخفى ما فيه من الثقل فما أشبه بسلسلة طويلة متصلة الحلقات.
4- تعاقب الأدوات ومجيء بعضها إثر بعض كمن وإلى، وفي وعن وعلى كقول أبي تمام:
كأنه في اجتماع الروح فيه له
… في كل جارحة من جسمه روح2
وقول المتنبي يصف فرسا:
وتسعدني في عمرة بعد غمرة
… سبوح لها منها عليها شواهد3
فمجيء في بعد له في البيت الأول، ولها منها عليها في البيت الثاني، أورث فيهما ثقلا جعل اللسان يتعثر عند النطق بهما، قال صاحب الصناعتين: وسبيل تلافي ذلك أن تفصل بين الحرفين كأن تقول: أقمت به شهيدا عليه.
5- تتابع الإضافات كما تقول: سرج فرس تابع الأمير، وعليه ورد قول ابن بابك:
حمامة جرعي حومة الجندل اسجعي
… فأنت بمرأى من سعاد ومسمع4
قال في دلائل الإعجاز: ومن شأن هذا الضرب أن يدخله الاستكراه، قال الصاحب بن عبادة: إياك والإضافات المتداخلة، وذكر أنه يستعمل في الهجاء كقوله:
--------------------------------------------
৩- একই ধারায় একাধিক গুণাবলি উল্লেখ করা, যেমন প্রশংসার বর্ণনায় আল-মুতানাব্বির উক্তি, তিনি এই প্রকারের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ছিলেন:
তিনি নিকটবর্তী, দূরবর্তী, প্রেমিক, বিদ্বেষী, প্রফুল্ল
… শ্রেষ্ঠ, মিষ্ট, তিক্ত, কোমল, কর্কশ।
প্রতিপক্ষ, আত্মমর্যাদাবান, মহৎ, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী, বিশ্বস্ত ভাই
… দৃঢ়চেতা, সরদার, তৎপর, সন্তুষ্ট, বিচক্ষণ।১
এর মধ্যে যে শ্রুতিকটুতা বা ভারীভাব রয়েছে তা গোপন নয়; এটি যেন একটি দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন কড়া বিশিষ্ট শিকলের মতো।
৪- অব্যয়সমূহের অনুক্রম এবং একের পর এক আসা, যেমন 'হতে' ও 'দিকে', এবং 'মধ্যে', 'সম্পর্কে' ও 'উপরে'। যেমন আবু তাম্মামের উক্তি:
যেন তার মধ্যে আত্মার সমাবেশের কারণে তার দেহের প্রতিটি অঙ্গে একটি করে আত্মা বিদ্যমান।২
এবং ঘোড়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল-মুতানাব্বির উক্তি:
সে আমাকে এক বিপদের পর অন্য বিপদে সাহায্য করে; সে এক দ্রুতগামী ঘোড়া, যার জন্য তার নিজের মধ্যেই তার উপরে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বিদ্যমান।৩
প্রথম চরণে 'তার জন্য' (লাহু) এর পর 'মধ্যে' (ফি) এবং দ্বিতীয় চরণে 'তার জন্য' (লাহা), 'তা হতে' (মিনহা), 'তার উপরে' (আলাইহা) এর ব্যবহার একটি ভারীভাব সৃষ্টি করেছে যা উচ্চারণের সময় জিহ্বাকে হোঁচট খেতে বাধ্য করে। 'আল-সিনাতাইন' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি পরিহারের উপায় হলো দুটি অব্যয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো, যেমন আপনি বলবেন: 'আমি তার কাছে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে অবস্থান করেছি।'
৫- সম্বন্ধপদের (ইদাফাত) ধারাবাহিকতা, যেমন আপনি বলেন: আমিরের অনুসারীর ঘোড়ার জিন। এই বিষয়ে ইবনে বাবাকের পঙ্ক্তিটি উদ্ধৃত হয়েছে:
হে কঙ্করময় মরুপ্রান্তরের কবুতর, তুমি কুজন করো
… কেননা তুমি সুয়াদের দৃষ্টি ও শ্রুতির গোচরে আছো।৪
'দালাইলুল ইজায' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই ধরনের রচনার স্বভাব হলো এতে শ্রুতিকটুতা বা অপছন্দনীয়তা প্রবেশ করে। সাহিব ইবনে আব্বাদ বলেছেন: তোমরা পরস্পর প্রবিষ্ট সম্বন্ধবাচক শব্দ (ইদাফাত) থেকে দূরে থাকো। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতায় ব্যবহৃত হয়, যেমন তার উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يا علي بن حمزة بن عمارة
… أنت والله ثلجة في خيارة1
"تنبيه" لا يقبح القسمان الأخيران إلا إذا أوجبا ثقلا على اللسان، وإلا فلا يخلان بالفصاحة، فقد تكررت الأدوات وكانت حسنة مليحة في قول قطري بن الفجاءة:
ولقد أراني للرماح دريئة
… من عن يميني مرة وأمامي2
كما تكررت الإضافة ولطفت في قوله تعالى: {ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا} 3. وقول ابن المعتر:
وطلت تدير الراح أيدي جآذر
… عتاق دنانير الوجوه ملاح4
ومن ذلك تعلم أنه لا وجه لعد هذين القسمين بعيدين عن التنافر.
ضعف التأليف:
هو أن يكون تأليف الكلام مخالفا لما اشتهر من قوانين النحو المشهورة، كوصل الضميرين، وتقديم غير الأعراف "مع وجوب الفصل في نحو هذا"، كقول المتنبي:
خلت البلاد من الغزالة ليلها
… فأعاضهاك الله كي لا تحزنا5
وكنصب المضارع بلا ناصب نحو:
انظرا قبل تلوماني إلى
… طلل بين النقا والمنحنى6
وكحذف نون يكن في الجزم حين يليها ساكن نحو:
--------------------------------------------
হে আলী ইবনে হামজা ইবনে আমারা
… আল্লাহর শপথ, তুমি হচ্ছ শসার মাঝে একখণ্ড বরফ১
"সতর্কবার্তা" শেষোক্ত দুই প্রকার তখনই মন্দ হিসেবে গণ্য হবে যখন তা জিহ্বার জন্য ভারী হয়ে দাঁড়াবে, অন্যথায় তা প্রাঞ্জলতার কোনো ক্ষতি করবে না। কেননা অব্যয়সমূহ বারবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা কাতারি ইবনুল ফুজআহ-এর উক্তিতে অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর হয়েছে:
নিশ্চয় আমি নিজেকে বল্লমের জন্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখতে পাই
… কখনও আমার ডান দিক থেকে এবং কখনও আমার সম্মুখ থেকে২
যেমনটি ইদাফাত (সম্বন্ধ পদ) বারবার ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও তা মহান আল্লাহর বাণীতে শ্রুতিমধুর হয়েছে: {এটি আপনার রবের দয়ার বিবরণ তাঁর বান্দা জাকারিয়ার প্রতি।} ৩। এবং ইবনে মু'তাজ-এর বাণীতে:
আর হরিণ শাবকের ন্যায় সুন্দরী তরুণীদের হাত শরাব পরিবেশন করতে থাকল
… যারা সম্ভ্রান্ত এবং যাদের মুখমণ্ডল স্বর্ণমুদ্রার মতো উজ্জ্বল ও সুন্দর৪
এ থেকে তুমি জানতে পারলে যে, এই দুই প্রকারকে তানাফুর (শব্দগত সংঘর্ষ) থেকে মুক্ত বলার কোনো অবকাশ নেই।
দুর্বল রচনাশৈলী (দা'ফুত তালিফ):
এটি হলো কালামের গঠন ব্যাকরণের সুপ্রসিদ্ধ নিয়মাবলির পরিপন্থী হওয়া, যেমন দুটি সর্বনামকে একত্রে যুক্ত করা এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে অগ্রবর্তী করা "অথচ এ ধরনের ক্ষেত্রে পৃথক করা আবশ্যক ছিল", যেমন মুتانাব্বির উক্তি:
রাতকালে শহর সূর্যশূন্য হয়ে পড়ে
… তাই আল্লাহ তোমাকে এর বিনিময়ে দান করেছেন যেন তুমি বিষণ্ণ না হও৫
এবং নসব প্রদানকারী অব্যয় ছাড়াই মুজারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)-কে নসব প্রদান করা, যেমন:
আমাকে তিরস্কার করার আগে তোমরা উভয়ে তাকাও
… আন-নাকা এবং আল-মুনহানা-র মধ্যবর্তী স্থানে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের দিকে৬
এবং জযম অবস্থায় 'ইয়াকুন' এর 'নুন' বিলুপ্ত করা যখন এর পরে কোনো সাকিন (স্থির বর্ণ) থাকে, যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لم يك الحق سوى أن هاجه
… رسم دار قد تعفت بالمرر1
وكالإضمار قبل الذكر لفظا ومعنى وحكما2 في قول حسان بن ثابت:
ولو أن مجدا أخلد الدهر واحدا
… من الناس أبقى مجده الدهر مطعما3
التعقيد:
هو ألا يكون الكلام ظاهر الدلالة عل المعنى المراد، ولذلك سببان: أحدهما يرجع إلى خلل في النظم والتركيب وهو التعقيد اللفظي، وثانيهما يرجع إلى المعنى وهو التعقيد المعنوي.
التعقيد اللفظي 4:
حقيقته أن تكون الألفاظ مرتبة لا على وفق ترتيب المعاني، فيفسد نظام الكلام وتأليفه بسبب ما يحصل فيه من تقديم وتأخير ونحو ذلك، كتقديم الصفة على الموصوف، والصلة على الموصول.
وهو مذموم مرفوض عند أهل البيان؛ لأنه يوجب اختلال المعنى واضطرابه، وذلك ضد الفصاحة التي هي ظهور وإبانة، ومن ثم قال العتابي: الألفاظ أجساد والمعاني أرواح، وإنما تراها بعين القلوب، فإذا قدمت منها مؤخرا أو أخرت منها مقدما، أفسدت الصورة وغيرت المعنى، كما لو حول رأس إلى موضع يد أو يد إلى موضع رجل، فإن الخلقة تتحول والحلية تتغير.
وأكثر من استعمله الفرزدق وكأنه كان يقصده؛ لأن مثله لا يجيء إلا متكلفا، إذ لو خلى الإنسان ونفسه تجري على سجيتها في الاسترسال لم يعرض لها شيء من هذا النوع، فمن ذلك قوله يمدح الوليد بن عبد الملك:
--------------------------------------------
সত্য তো কেবল এটাই ছিল যে তাকে বিচলিত করেছে
… একটি বসতভিটার ধ্বংসাবশেষ যা মারার নামক স্থানে বিলীন হয়ে গেছে১
আর শব্দ, অর্থ ও বিধানগতভাবে উল্লেখ করার পূর্বে সর্বনাম ব্যবহারের ন্যায়২ হাসসান ইবনে সাবিতের বাণীতে:
যদি মর্যাদা কালপ্রবাহে কোনো একজনকে চিরঞ্জীব করত
… তবে মানুষের মধ্য থেকে মুতঈমকে তার মর্যাদা কালপ্রবাহে চিরস্থায়ী রাখত৩
জটিলতা (তাক্বীদ):
এটি হলো বক্তব্য অভীষ্ট অর্থের ওপর স্পষ্ট নির্দেশক না হওয়া। এর দুটি কারণ রয়েছে: একটি বাক্যরীতি ও বিন্যাসগত ত্রুটির দিকে ফিরে যায় যা হলো শাব্দিক জটিলতা (তাক্বীদ লাফযি), আর দ্বিতীয়টি অর্থের দিকে ফিরে যায় যা হলো অর্থগত জটিলতা (তাক্বীদ মানাউয়ি)।
শাব্দিক জটিলতা ৪:
এর প্রকৃত রূপ হলো শব্দসমূহ অর্থের বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত না হওয়া, ফলে শব্দের আগে-পিছে করা এবং এই জাতীয় কারণে বক্তব্যের শৃঙ্খলা ও গাঁথুনি নষ্ট হয়ে যায়; যেমন বিশেষ্যের আগে বিশেষণ নিয়ে আসা কিংবা সম্বন্ধসূচক অব্যয়ের আগে মূল শব্দকে নিয়ে আসা।
অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট এটি নিন্দনীয় ও বর্জনীয়; কারণ এটি অর্থের বিকৃতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যা প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) পরিপন্থী—যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো স্পষ্টতা ও প্রকাশ। এই কারণেই আল-আত্তাবি বলেছেন: শব্দসমূহ হলো দেহ আর অর্থসমূহ হলো তার প্রাণ, যা তুমি কেবল অন্তর্দৃষ্টি দিয়েই দেখতে পাও। সুতরাং তুমি যদি পেছনের শব্দকে আগে নিয়ে আসো বা সামনের শব্দকে পেছনে নিয়ে যাও, তবে তুমি তার অবয়ব নষ্ট করলে এবং অর্থ পরিবর্তন করে দিলে; ঠিক যেমন মাথাকে হাতের স্থানে বা হাতকে পায়ের স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলে দৈহিক গঠন বিকৃত হয় এবং সৌন্দর্য পরিবর্তিত হয়ে যায়।
আল-ফারাযদাক এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন এবং মনে হয় তিনি এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করতেন; কারণ এই ধরনের বিষয় কৃত্রিমতা ছাড়া ঘটে না। কেননা মানুষ যদি তার স্বভাবজাত সাবলীল ধারায় নিজেকে ছেড়ে দিত, তবে এই জাতীয় কোনো কিছুই তার সামনে আসত না। যেমন ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের প্রশংসায় তার এই উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إلى ملك ما أمه من محارب
… أبوه ولا كانت كليب تصاهره1
يريده إلى ملك أبوه ليست أمه من محارب، فقدم وأخر حتى أبهم المعنى. وقوله في البيت المشهور الذي جرى مجرى المثل في التعقيد يمدح به إبراهيم بن هشام بن إسماعيل المخزومي خال هشام بن عبد الملك:
وما مثله في الناس إلا مملكا
… أبو أمه حمي أبوه يقاربه2
مراده: وما مثل هذا الممدوح في الناس حي يقاربه ويشبهه في الفضائل إلا مملكا أبو أم ذلك الملك أبو الممدوح، فيكون الممدوح خال الملك، وخلاصة ذلك أنه لا يماثله إلا ابن أخته.
فانظر رعاك الله كيف عقد المعنى، وصار به إلى التعمية دون الإفصاح، ولهذا قال الرماني: قد اجتمع في البيت أسباب الإشكال الثلاثة: سوء الترتيب وبه تغير نظام الكلام، وسلوك الطريق الأبعد في قوله: أبوه أمه أبوه، وكان يجزئه أن يقول: خاله، وإيقاع مشترك الألفاظ في قوله: حي يقاربه؛ لأنها لفظة تشترك فيها القبيلة، والحي من سائر الحيوان بالحياة.
قال في المثل السائر ومن أقبح هذا النوع قول الآخر:
فأصبحت بعد خط بهجتها
… كأن قفرا رسومها قلما3
يريد فأصبحت بعد بهجتها قفرا كأن قلما خط رسومها، ففصل بين الفعل الناقص وخبره، وبين كأن واسمها، وبين المضاف والمضاف إليه، وقدم خبر كأن عليها، وعلى اسمها.
التعقيد المعنوي:
هو خفاء دلالة الكلام على المعنى المراد من أجل ما عاقها من اللوازم البعيدة والكنايات المفتقرة إلى وسائط، أو اللوازم القريبة الخفية العلاقة، مع عدم
--------------------------------------------
এমন এক রাজার প্রতি যার মা মুহারিব গোত্রের নয়... তার পিতাও না, আর কুলাইব গোত্র তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখেনি।
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এমন এক রাজার প্রতি যার পিতা (এমন এক ব্যক্তি) যার মা মুহারিব গোত্রের নয়। কিন্তু তিনি শব্দগুলোকে আগে-পিছে করেছেন যার ফলে অর্থ অস্পষ্ট হয়ে গেছে। এবং জটিলতার ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য হয়ে যাওয়া তার সেই বিখ্যাত পঙক্তি, যাতে তিনি হিশাম বিন আব্দুল মালিকের মামা ইব্রাহিম বিন হিশাম বিন ইসমাইল আল-মাখজুমির প্রশংসা করেছেন:
মানুষের মাঝে তার মতো কেউ নেই, তবে সেই রাজা ছাড়া যার মায়ের পিতা হলেন সেই ব্যক্তির পিতা যাকে তিনি সাহায্য করেন (অর্থাৎ প্রশংসিত ব্যক্তি)।
তার উদ্দেশ্য হলো: মানুষের মাঝে এমন কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই যে এই প্রশংসিত ব্যক্তির সমকক্ষ হতে পারে বা শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে তার সদৃশ হতে পারে, তবে এমন একজন রাজা ছাড়া যার মায়ের পিতা হলেন স্বয়ং এই প্রশংসিত ব্যক্তির পিতা। ফলে প্রশংসিত ব্যক্তি রাজার মামা হন। সারকথা হলো, তার ভাগ্নে ছাড়া আর কেউ তার সমকক্ষ নয়।
সুতরাং লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন—তিনি কীভাবে অর্থকে জটিল করেছেন এবং প্রাঞ্জলতার বদলে অস্পষ্টতার দিকে নিয়ে গেছেন। একারণেই রুম্মানি বলেছেন: এই পঙক্তিতে সমস্যার তিনটি কারণ একত্রিত হয়েছে: বিন্যাসের ত্রুটি যার ফলে বাক্যের শৃঙ্খলা পরিবর্তিত হয়েছে; "তার পিতা, তার মা, তার পিতা" বলার মাধ্যমে দূরবর্তী পথ অবলম্বন করা, অথচ তিনি শুধু "তার মামা" বললেই পারতেন; এবং "জীবিত ব্যক্তি যে তার সমকক্ষ হবে" বাক্যে দ্ব্যর্থবোধক শব্দের ব্যবহার, কারণ "হায়" শব্দটি দ্বারা গোত্রও বোঝায় আবার জীবনধারী প্রাণীকেও বোঝায়।
'আল-মাসালুস সায়ির' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এই প্রকারের সবচেয়ে কুৎসিত উদাহরণ হলো অন্য একজনের এই উক্তি:
অতঃপর তার সৌন্দর্য অঙ্কনের পর তা এমন হয়ে গেল... যেন এক বিরান ভূমি, যার চিহ্নগুলো কলম (অঙ্কন করেছে)।
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তার সৌন্দর্যের পর তা একটি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যেন কোনো কলম তার চিহ্নগুলো এঁকেছে। ফলে তিনি অপূর্ণ ক্রিয়া ও তার খবরের মাঝে, 'যেন' (কান্না) ও তার বিশেষ্যের মাঝে এবং সম্বন্ধপদ ও যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। অধিকন্তু 'যেন' (কান্না)-এর খবরকে তার এবং তার বিশেষ্যের আগে নিয়ে এসেছেন।
অর্থগত জটিলতা:
এটি হলো উদ্দেশ্যকৃত অর্থের ওপর বাক্যের নির্দেশ অস্পষ্ট হওয়া; এর কারণ হতে পারে এমন কোনো দূরবর্তী অনুষঙ্গ বা রূপক যা ব্যাখ্যার জন্য একাধিক মাধ্যমের মুখাপেক্ষী, অথবা এমন নিকটবর্তী অনুষঙ্গ যার সম্পর্ক অস্পষ্ট, তার সাথে কোনো...
--------------------------------------------