(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
تاريخ التشريع الإسلامي القسم: أصول الفقه
الكتاب: تاريخ التشريع الإسلامي
المؤلف: مناع بن خليل القطان (ت 1420هـ)
الناشر: مكتبة وهبة
الطبعة: الخامسة 1422هـ-2001م
عدد الصفحات: 435
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামি শরীয়াহর ইতিহাস বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: ইসলামি শরীয়াহর ইতিহাস
লেখক: মান্না বিন খলিল আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ
সংস্করণ: পঞ্চম ১৪২২ হিজরি-২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمات
مقدمة الطبعة الرابعة…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الرابعة:
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله.
وبعد:
فهذه هي الطبعة الرابعة لكتابنا الذي نشر في الطبعات الثلاث السابقة بعنوان "التشريع والفقه في الإسلام تاريخا ومنهجا".
وقد رأيت العدول عن هذا العنوان إلى ما هو مشهور في المناهج الدراسية: "تاريخ التشريع الإسلامي" فإن الفقه مستمد من مصادر التشريع.
وهي طبعة أضيفت إليها بعض المسائل وهذب طرف منها، في ضوء ما أشار عليَّ به بعض الإخوة الذين يدرسون الكتاب لطلابهم.
وفقنا الله جميعا لما يحبه ويرضاه.
مناع بن خليل القطان
الأستاذ والمشرف على الدراسات العليا بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
উপস্থাপনাসমূহ
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।
অতঃপর:
এটি আমাদের সেই বইটির চতুর্থ সংস্করণ যা বিগত তিনটি সংস্করণে "ইসলামে আইন প্রণয়ন ও ফিকহ: ইতিহাস ও পদ্ধতি" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।
আমি এই শিরোনামটি পরিবর্তন করে শিক্ষাক্রমসমূহে যা প্রসিদ্ধ—অর্থাৎ "ইসলামী আইন প্রণয়নের ইতিহাস"—তা গ্রহণ করা সমীচীন মনে করেছি; কারণ ফিকহ মূলত শরয়ী বিধানের উৎসসমূহ থেকে সংগৃহীত।
এই সংস্করণে কিছু মাসআলা সংযোজন করা হয়েছে এবং এর কিছু অংশ পরিমার্জন করা হয়েছে, সেই সকল ভাইদের পরামর্শের আলোকে যারা তাদের ছাত্রদের এই বইটি পাঠদান করেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই কাজের তাওফিক দান করুন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
মান্না' বিন খলিল আল-কাত্তান
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ও তত্ত্বাবধায়ক
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولى:إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
ونشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلوات الله وسلامه عليه، وعلى أله وصحبه، ومن دعا بدعوته، واهتدى بهديه؛ وبعد:
فهذه كلمات في تاريخ التشريع والفقه الإسلامي، تعرض لك أهم المباحث المتعلقة بالتشريع ومصادره، ونشأة الفقه وتطوره، ومذاهب الفقهاء، وقواعد كل مذهب منها ومناهجه، وسيرة هؤلاء المجتهدين، وما بذلوه من جهد شاق في البحث بالأدلة، واستنباط الأحكام منها، وتطلعك على نمو الفقه الإسلامي وازدهاره، وما يستطيع أن يقدمه لمشكلات الحياة في كل عصر من حلول ناجحة، تكفل للإنسانية عوامل الرقي والتطور، وتقيم لها حضارة مثالية فاضلة، ترتكز دعائما على مباديء الحق والعدل.
ولعل في مثل ذلك الاطلاع وهذا العرض ما يفتح الباب للباحثين، وينير السبيل أمامهم للأخذ بأسباب النهوض بالفقه الإسلامي في العصر الحاضر، حتى تستعيد أمتنا سالف مجدها، وتحتل الصدارة في مصاف الدول.
والله من وراء القصد
…مناع خليل القطان
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর দাওয়াতের পথে আহ্বান করেন ও তাঁর প্রদর্শিত পথে হেদায়েত লাভ করেন, তাদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
এটি ইসলামী শরীয়ত এবং ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাসের ওপর কিছু আলোকপাত, যা আপনার সামনে উপস্থাপন করছে শরীয়ত এবং এর উৎস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভব ও বিকাশ, ফকীহগণের মাযহাবসমূহ এবং প্রতিটি মাযহাবের মূলনীতি ও কর্মপদ্ধতি। এতে আরও রয়েছে সেই সকল মুজতাহিদগণের জীবনী এবং দলীলাদি নিয়ে গবেষণা ও তা থেকে বিধানসমূহ আহরণের ক্ষেত্রে তাদের কঠোর পরিশ্রমের বিবরণ। এটি আপনাকে ইসলামী ফিকহের সমৃদ্ধি ও শ্রী-বৃদ্ধির সাথে পরিচয় করাবে এবং দেখাবে যে, ইসলামী ফিকহ প্রতিটি যুগে জীবনের নানাবিধ সমস্যার কী চমৎকার ও কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম, যা মানবতার উন্নতি ও বিকাশের ধারা নিশ্চিত করে এবং সত্য ও ন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে একটি আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ সভ্যতার বুনিয়াদ গড়ে তোলে।
সম্ভবত এই ধরণের অধ্যয়ন এবং উপস্থাপনা গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এবং বর্তমান যুগে ইসলামী ফিকহের নবজাগরণের পথকে আলোকিত করবে, যাতে আমাদের উম্মাহ তার হারানো গৌরব ফিরে পায় এবং বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে শীর্ষস্থানে আসীন হতে পারে।
আল্লাহই অভীষ্ট লক্ষ্যের পথপ্রদর্শক
…মান্না খলীল আল-কাত্তান
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد:يراد بالتاريخ تعريف الوقت، يقال: أرَخ الكتاب، وأرَّخه، وآرخه: وقَّته، أي بيَّن وقته. وعلم التاريخ علم يتضمن ذكر الوقائع وأوقاتها وما جرى فيها من أحداث، وما كان لها من أثر في حياة الناس، وتاريخ علم من العلوم أيا كان نوعه يشمل نشأة هذا العلم، ومراحل تطوره، وحياة رجاله، وما قدموه من نتاج فكري لخدمة هذا العلم والنهوض به.
وتاريخ العلوم على وجه الإجمال يأتي عرضا في كتب التاريخ العام أثناء ذكر الوقائع والحديث عن مشاهير الرجال والتعريف بالحالة العلمية والفكرية في عصر من العصور.
أما استخلاص هذا وتنسيقه وترتيبه ترتيبا علميًّا؛ ليكون فنًّا من الفنون، له موضوعه وقواعده وفوائده، فإنه لم يجد عناية كافية حتى يفرد كل علم بتاريخ له في بحث منهجي متكامل.
وهذا لا يعنى أن يكون السابقون قد أغفلوا تاريخ العلوم من مناهج بحثهم، فإن بعضهم تحدث عنها ولكنه حديث مجمل، لا يفي بالغرض المقصود، وقد أفرد ابن خلدون في مقدمته الباب السادس للحديث عن العلوم وأصنافها، والتعليم وطرقه، وسائر وجوهه، وما يعرض في ذلك كله من الأحوال، وخص الفصل السابع من هذا الباب بعلم الفقه وما يتبعه من الفرائض.
وأفرد الدكتور حسن إبراهيم حسن في كتابه "تاريخ الإسلام السياسي والديني والثقافي والاجتماعي" بابًا خاصًّا بالثقافة، تحدث فيه بإيجاز عن العلوم النقلية والعقلية، والحركة العلمية في كل علم منها بعصور الإسلام التي كتب فيها.
প্রারম্ভিকা:ইতিহাস বলতে সময়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বোঝায়। বলা হয়: কিতাবকে 'আরাখা', 'আররাখা' বা 'আরাখা' করা হয়েছে; অর্থাৎ সেটির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বা সময় স্পষ্ট করা হয়েছে। ইতিহাসবিদ্যা হলো এমন একটি শাস্ত্র যা ঘটনাবলি, তাদের সময়কাল, তাতে ঘটে যাওয়া বিষয়াদি এবং মানুষের জীবনে সেগুলোর প্রভাবের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করে। আর যেকোনো শাস্ত্রেরই ইতিহাস—তার ধরন যাই হোক না কেন—সেই শাস্ত্রের উৎপত্তি, তার ক্রমবিকাশের পর্যায়সমূহ, এর মনীষীদের জীবনচরিত এবং এই শাস্ত্রের সেবা ও উন্নতির জন্য তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সাধারণভাবে বিজ্ঞানের ইতিহাস সাধারণ ইতিহাসের বইগুলোতে আনুষঙ্গিক হিসেবে আসে, যখন ঘটনাবলি আলোচনা করা হয়, বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কথা বলা হয় এবং কোনো একটি যুগের বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার পরিচয় তুলে ধরা হয়।
তবে একে নির্যাসিত করা, সুবিন্যস্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাজানো—যাতে এটি একটি স্বতন্ত্র বিদ্যায় পরিণত হয় যার নিজস্ব বিষয়বস্তু, মূলনীতি ও উপকারিতা থাকবে—সেটি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি, যাতে একটি সুসংগত পদ্ধতিগত গবেষণার মাধ্যমে প্রতিটি শাস্ত্রের জন্য স্বতন্ত্র ইতিহাস তৈরি করা যায়।
এর অর্থ এই নয় যে, পূর্বসূরিগণ তাদের গবেষণাপদ্ধতিতে বিজ্ঞানের ইতিহাসকে উপেক্ষা করেছেন; কারণ তাঁদের কেউ কেউ এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন, তবে তা ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়। ইবনে খালদুন তাঁর 'মুকাদ্দিমা'র ষষ্ঠ অধ্যায়টি বিজ্ঞান ও তার প্রকারভেদ, শিক্ষা ও তার পদ্ধতি এবং এর অন্যান্য দিক এবং এ সবের ক্ষেত্রে যা কিছু ঘটে তা নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত করেছেন। আর তিনি এই অধ্যায়ের সপ্তম পরিচ্ছেদটিকে ফিকহ শাস্ত্র এবং এর অনুষঙ্গ হিসেবে ফারায়েজ শাস্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
ডক্টর হাসান ইব্রাহিম হাসান তাঁর 'তারিখুল ইসলাম আস-সিয়াসি ওয়াদ-দ্বীনি ওয়াল-সাকাফি ওয়াল-ইজতিমায়ি' গ্রন্থে সংস্কৃতির জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন। সেখানে তিনি বর্ণিত (নাকলি) ও যুক্তিগত (আকলি) শাস্ত্রসমূহ এবং ইসলামের যে যুগগুলো নিয়ে তিনি লিখেছেন সেগুলোতে প্রতিটি শাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক তৎপরতা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وألف الأستاذ أحمد أمين كتبه: فجر الإسلام، وضحى الإسلام، وظهر لإسلام، فتناول في بحثه الحياة العقلية في التاريخ الإسلامي، وشمل ذلك العلوم والمعارف.
فتاريخ التشريع والفقه الإسلامي هو أحد هذه العلوم التي لم يتوافر على خدمتها من العلماء إلا النزر اليسير من هؤلاء الذين ألفوا في هذا الفن الحديث، تأليفا موجزا يرسم الخطوط العامة لمناهج البحث التي ينبغي أن يقتفي أثرها الدارس لهذا العلم، فتكون دليلا له يعينه على استكمال عناصره، ومن ذلك "تاريخ التشريع الإسلامي" للخضري، و"نظرة عامة في تاريخ الفقه الإسلامي" للدكتور على حسن عبد القادر، و"تاريخ الفقه الإسلامي" للسايس. و"تاريخ الفقه الإسلامي" للدكتور محمد يوسف موسى، و" تاريخ التشريع الإسلامي" لعبد العظيم شرف الدين.
وقد ألف فضيلة الأستاذ محمد أبو زهرة مجموعة من الكتب في أبحاث موضوعية منها: "تاريخ المذاهب الإسلامية"، وكتبه عن الأئمة: "زيد بن علي" و"أبي حنيفة" و"مالك" و"الشافعي" و"أحمد" و"ابن حزم" و"ابن تيمية".
ومن الكتب التي عالجت هذا الموضوع أيضا كتاب "أصول التشريع الإسلامي" للأستاذ علي حسب الله، وكذلك كتاب "الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي" تأليف: محمد بن الحسن الحجوي الثعالبي الفاسي، وهو أوفاها في بحثه.
وهناك كتب أخرى تخدم هذا العلم، وتتناول كثيرًا من موضوعاته مثل: "المدخل الفقهي العام" للزرقا، "فلسفة التشريع في الإسلام" للمحمصاني، "مدخل الفقه الإسلامي" لمدكور، وصدر حديثا "مناهج التشريع الإسلامي في القرن الثاني الهجري" للدكتور محمد بلتاجي.
অধ্যাপক আহমদ আমিন তার গ্রন্থসমূহ: ফাজরুল ইসলাম, দুহাল ইসলাম এবং জুহরুল ইসলাম রচনা করেছেন। তিনি তার গবেষণায় ইসলামি ইতিহাসের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনকে আলোচনা করেছেন এবং এর মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞান ও জ্ঞান-বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহের ইতিহাস হলো সেই সব শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর সেবায় খুব কম সংখ্যক আলেমই এগিয়ে এসেছেন; যারা এই আধুনিক শিল্পে এমন সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন যা গবেষণার পদ্ধতিসমূহের সাধারণ রূপরেখা তুলে ধরে, যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য অনুসরণীয় হওয়া উচিত। এটি তার জন্য একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে যা তাকে এর উপাদানসমূহ পূর্ণ করতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খুদারির "তারিখুত তাশরি আল-ইসলামি", ডক্টর আলী হাসান আব্দুল কাদিরের "নাজরাহ আম্মাহ ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি", সাইয়িসের "তারিখুল ফিকহিল ইসলামি", ডক্টর মুহাম্মদ ইউসুফ মুসার "তারিখুল ফিকহিল ইসলামি" এবং আব্দুল আজিম শরাফ উদ্দিনের "তারিখুত তাশরি আল-ইসলামি"।
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ আবু জাহরা বিষয়ভিত্তিক গবেষণায় একগুচ্ছ গ্রন্থ রচনা করেছেন যার মধ্যে রয়েছে: "তারিখুল মাজাহিবিল ইসলামিয়্যাহ" এবং ইমামদের সম্পর্কে তার রচিত গ্রন্থসমূহ: "জায়েদ বিন আলী", "আবু হানিফা", "মালিক", "শাফেয়ী", "আহমদ", "ইবনে হাজম" এবং "ইবনে তাইমিয়া"।
এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে এমন গ্রন্থগুলোর মধ্যে অধ্যাপক আলী হাসবুল্লাহর "উসুলুত তাশরি আল-ইসলামি" এবং মুহাম্মদ বিন হাসান হাজাউয়ি সায়ালিবি ফাসি রচিত "আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি" অন্যতম, যা তার গবেষণায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ।
এই শাস্ত্রের সেবায় আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা এর অনেক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে যেমন: যারকার "আল-মাদখালুল ফিকহিল আম", মাহমাসানির "ফালসাফাতুত তাশরি ফিল ইসলাম", মাদাকুরের "মাদখালুল ফিকহিল ইসলামি" এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ডক্টর মুহাম্মদ বেলতাজির "মানাহিজুত তাশরি আল-ইসলামি ফিল করনিস সানি আল-হিজরি"।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومنها كتب أخرى في المذاهب تعتبر مصدرا لهذا العلم، ومن ذلك: اختلاف أبي حنيفة وابن أبي ليلى" لأبي يوسف. و"آداب الشافعي ومناقبه" للرازي، و"إعلام الموقعين" لابن القيم، و"الانتقاء من فضائل الثلاثة الأئمة الفقهاء" لابن عبد البر، و"ترتيب المدارك وتعريب المسالك لمعرفة أعلام مذهب مالك" للقاضي عياض، و"الديباج المذهب في معرفة أعياء علماء المذهب" لابن فرحون المالكي، و"الطبقات الكبرى" لابن سعد، و"سير أعلام النبلاء" للذهبي، و"وفيات الأعيان" لابن خلكان، و"فوات الوفيات" لابن شاكر، و"الفوائد البهية في تراجم الحنفية" للكنوي، و"طبقات الفقهاء الحنفية" لطاش كبرى زاده، وطبقات الفقهاء" للشيرازي، و"طبقات الشافعية الكبرى" للسبكي، و"طبقات الحنابلة" لابن أبي يعلي، وغيرها من كتب التراجم.
أهمية دراسة تاريخ التشريع والفقه الإسلامي:
وإذا كان المقصودُ من دراسة تاريخ علم من العلوم التعريفَ بمبادئه ومسائله وأهدافه وثماره حتى تتحقق الاستفادة منه، فإن الفقه الإسلامي، لم يعد قاصرًا على مجموعة الأحكام الفرعية في العبادات والمعاملات ولكنه، بالمفهوم العام أصبح منهجا متكاملا لشعب الحياة الإنسانية كلها، في العقيدة والعبادة، والاجتماع والاقتصاد، والتشريع، والسياسة؛ لأن الطور الذي وصل إليه الفقه الإسلامي في آخر مراحله كان بناء متراصًّا، ينظم العمران البشري وأنواع المعاملات والعلاقات الإنسانية للمسلمين تنظيما دقيقا، وهذا يعطي دراسة تاريخ التشريع والفقه الإسلامي أهمية كبيرة؛ لأنها تتناول الحياة الإسلامية في أخص عناصر مقوماتها، حيث كانت شريعة الإسلام هي القاعدة التي أقيم عليها بناء أمته، والمنطلق الذي ارتكزت عليها في حضارتها.
ورأي الناس في تاريخ هذه الأمة النموذج الأمثل للحضارة الإنسانية في
এসবের মধ্যে মাযহাবসমূহের আরও কিছু কিতাব রয়েছে যা এই ইলমের উৎস হিসেবে বিবেচিত, যেমন: আবু ইউসুফের "ইখতিলাফু আবি হানিফা ওয়া ইবনু আবি লায়লা", রাজীর "আদাবুশ শাফিঈ ওয়া মানাকিবুহু", ইবনুল কাইয়্যিমের "ই'লামুল মুয়াক্কিঈন", ইবনে আবদিল বাররের "আল-ইনতিকা মিন ফাদায়িলিল ছালাছাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা", কাযী ইয়াযের "তারতীবুল মাদারিক ওয়া তাকরীবুল মাসালিক লি-মা'রিফাতি আ'লামি মাযহাবি মালিক", ইবনে ফারহুন আল-মালিকীর "আদ-দীবাজুল মুজাহহাব ফী মা'রিফাতি আ'য়ান উলামাইল মাযহাব", ইবনে সা'দের "আত-তাবাকাতুল কুবরা", যাহাবীর "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা", ইবনে খাল্লিকানের "ওয়াফায়াতুল আইয়ান", ইবনে শাকিরের "ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত", লাখনভীর "আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ ফী তারাজুমিল হানাফিয়্যাহ", তাশ কুবরী যাদার "তাবাকাতুল ফুকাহা আল-হানাফিয়্যাহ", শিরাজীর "তাবাকাতুল ফুকাহা", সুবকীর "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা", ইবনে আবী ইয়া'লার "তাবাকাতুল হানাবিলা" এবং অন্যান্য জীবনীগ্রন্থসমূহ।
ইসলামি আইন প্রণয়ন ও ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাস অধ্যয়নের গুরুত্ব:
যদি কোনো জ্ঞানশাখার ইতিহাস অধ্যয়নের উদ্দেশ্য হয় তার মূলনীতি, মাসআলাসমূহ, লক্ষ্য এবং ফলাফল সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়, তবে ইসলামি ফিকহ কেবল ইবাদত ও লেনদেন সংক্রান্ত কিছু আনুষঙ্গিক বিধিবিধানের সংকলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি সামগ্রিক অর্থে আকিদা, ইবাদত, সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, আইন প্রণয়ন ও রাজনীতির মতো মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। কারণ ইসলামি ফিকহ তার বিকাশের সর্বশেষ পর্যায়ে যে স্তরে উপনীত হয়েছিল, তা ছিল একটি সুসংহত কাঠামো, যা মুসলমানদের সামাজিক নির্মাণ এবং বিভিন্ন প্রকারের মানবিক লেনদেন ও সম্পর্ককে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সুশৃঙ্খল করত। আর এটিই ইসলামি আইন (তাশরি') ও ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাস অধ্যয়নকে এক বিশাল গুরুত্ব প্রদান করে; কেননা এটি ইসলামি জীবনের মৌলিক উপাদানসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে ইসলামি শরিয়ত ছিল সেই মূল ভিত্তি যার ওপর এই উম্মাহর কাঠামো নির্মিত হয়েছিল এবং সেই প্রারম্ভবিন্দু যার ওপর ভিত্তি করে তাদের সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল।
আর মানুষ এই উম্মাহর ইতিহাসের মাঝে মানব সভ্যতার এক আদর্শ প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়...
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
أو عظمتها، تصورًا للحياة، وفهمًا لرسالتها، واتجاهًا نحو العمل فيها لخير الدنيا والآخرة.
وقد تعرض الإسلام في فترات من التاريخ إلى موجات عارمة من الغزو الفكري، لتوهين مفاهيم الإسلام والانحراف بها عن جادة الحق في القديم والحديث.
تعرَّض لها في القديم بموجة الفكر الفلسفي الروماني والفارسي، حين انخدع بهذا الجدل العقلي العقيم بعض الناس، وحاولوا التوفيق بين الدين والفلسفة في علم الكلام، فأدخلوا عناصر أجنبية من الفلسفة في مادته وصورته، واشتملت ما بحثه على أبحاث لا تمت إلى الدين الإسلامي بصلة، ولكن وضوح العقيدة الإسلامية وجهود المخلصين لها حالا دون التأثير عليها، ووقوع الدخل فيها.
واليوم، وفي العصر الحديث، يتعرض الإسلام لموجات عارمة أخرى بالتشكيك في صلاحية الإسلام لمسايرة تطورات العصر، ومتطلبات المدنية، واتهامه بالجمود والرجعية.
ولما كان الفقه الإسلامي هو الذي يمثل الحياة العلمية، والسلوك الاجتماعي في حياة المسلمين، فإنه جدير بأن يكون خط الدفاع الأول ضد الهجمات المتواصلة من المدنية الغريبة، والشيوعية الدولية على السواء.
ومن هنا كانت حركات الإصلاح والتقدم الإسلامي، التي يحاول بها المصلحون المسلمون التجديد، تبتدئ من الفقه؛ فهو يمثل عند دعاة الإصلاح الإسلامَ التاريخي، وهم يريدون الرجوع إلى الإسلام الأول، ويرون فيه حياة وقدرة على التطور الاجتماعي بمصادره الأصلية المستمدة من الكتاب والسنة.
أما الفقه في وضعه الحاضر، فهو في كثير منه من عمل الفقهاء أنفسهم، وهؤلاء المصلحون يريدون أن يصلوا من الإسلام نفسه -في مصادره التشريعية الأصيلة وإمكاناته الخاصة- إلى نظام حيوي تام متكامل للحياة الإنسانية. ولا
...বা এর মহত্ব, জীবন সম্পর্কে ধারণা, এর বাণীর উপলব্ধি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গলের জন্য এতে কাজ করার অভিমুখিতা।
ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলাম ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামের ধারণাগুলোকে দুর্বল করা এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালে একে সত্যের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করা।
প্রাচীনকালে এটি রোমান ও পারস্য দার্শনিক চিন্তাধারার ঢেউয়ের সম্মুখীন হয়েছিল, যখন কিছু মানুষ এই অসার বুদ্ধিগত বিতর্কে বিভ্রান্ত হয়েছিল। তারা ইলমুল কালামের মাধ্যমে ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। ফলে তারা দর্শনের বিজাতীয় উপাদানগুলোকে এর বিষয়বস্তু ও কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং এর গবেষণাসমূহে এমন সব বিষয় স্থান পেয়েছিল যার সাথে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ইসলামি আকীদার স্বচ্ছতা এবং এর প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রচেষ্টা একে প্রভাবিত হওয়া এবং এতে বিজাতীয় অনুপ্রবেশ ঘটা থেকে রক্ষা করেছে।
বর্তমানে এবং আধুনিক যুগে, যুগের বিবর্তন ও সভ্যতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইসলামের উপযোগিতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ এবং একে স্থবিরতা ও পশ্চাৎপদতার দায়ে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে ইসলাম পুনরায় প্রবল ঢেউয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।
যেহেতু ইসলামি ফিকহ মুসলমানদের জীবনে ইলমি জীবন ও সামাজিক আচরণের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই এটি বিজাতীয় সভ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সাম্যবাদ—উভয়ের নিরন্তর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যূহ হওয়ার যোগ্য।
এ কারণেই ইসলামি সংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনগুলো—যাদের মাধ্যমে মুসলিম সংস্কারকগণ সংস্কারের চেষ্টা করছেন—ফিকহ থেকেই শুরু হয়। সংস্কারকামীদের নিকট এটি ঐতিহাসিক ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা আদি ইসলামের দিকে ফিরে যেতে চান। তারা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত এর মৌলিক উৎসগুলোর মধ্যে জীবন এবং সামাজিক বিবর্তনের সক্ষমতা দেখতে পান।
বর্তমান অবস্থায় ফিকহের অনেক অংশই স্বয়ং ফকিহদের নিজস্ব গবেষণালব্ধ কাজ। এই সংস্কারকগণ ইসলামের মূল আইনি উৎস এবং এর নিজস্ব সম্ভাবনার মাধ্যমে খোদ ইসলাম থেকেই মানবজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত জীবনব্যবস্থায় পৌঁছাতে চান। আর...
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
يكون هذا إلا بإعادة النظر في الفقه وتطوراته، وبناء الأسس الجديدة على ما كان عليه الإسلام في عهده الأول، وعهد نهضة المسلمين الفقهية، وأيام الاجتهاد.
حاجة الجماعة إلى نظام يحكم سلوكها:
تحتاج أي جماعة من الجماعات إلى روابط تقوم عليها تجمعها، ومبادئ تحدد علاقاتها، وتحفظ حقوق أفرادها؛ لئلا يكون أمرها فوضى، فقد جبل الإنسان على الأثرة، وحب الذات، وانطوت نفسه على كثير من الغرائز التي تحتاج إلى تقويم وتهذيب، حتى لا يطغى الإنسان على أخيه الإنسان.
ولن يستطيع المرء أن يعيش وحده في معزل عن الناس؛ فإن حياته مرتبطة بحياة غيره، يتعاون معه، ويتبادل المنفعة الاجتماعية والمصالح المشتركة، وهذا معنى قولهم: "الإنسان مدني بالطبع".
وقد أوضح ابن خلدون هذه الحقيقة بقوله: "إن الاجتماع الإنساني ضروري"، ويعبر الحكماء عن هذا بقولهم: "الإنسان مدني بالطبع"، أي لا بد له من الاجتماع الذي هو المدنية في اصطلاحهم وهو العمران
… وإن الواحد من البشر غير مستقل بتحصيل حاجاته في معاشه
… وإن البشر لا يمكن حياتهم ووجودهم إلا باجتماعهم، وتعاونهم على تحصيل قوتهم، وضروراتهم. وإذا اجتمعوا دعت الضرورة إلى المعاملة واقتضاء الحاجات، ومد كل واحد منهم يده إلى حاجته يأخذها من صاحبه؛ لما في الطبيعة الحيوانية من الظلم والعدوان بعضهم على بعض، ويمانعه الآخر عنها
… فيقع التنازع المفضي إلى المقاتلة، فاستحال بقاؤهم فوضى دون حاكم يزع بعضهم عن بعض".
وقد اقترنت الحياة البشرية منذ نواتها الأولى في آدم عليه السلام بما أوحى الله به إلى رسله حتى تسلم عقيدتهم، وتستقيم حياتهم على جادة الحق؛ إذ لا بد للإنسان من ضوابط تقيم هذه العلائق على العدل والمساواة، وقد نشأت المجتمعات البدائية الأولى في الأسرة والقبلية على قواعد ومبادئ أملتها عليها ظروف البيئة وما جرى عليه العرف والعادة.
ফিকহ ও এর বিবর্তনসমূহ পুনর্বিবেচনা এবং ইসলামের প্রথম যুগ, মুসলিমদের ফিকহী জাগরণের যুগ ও ইজতিহাদের দিনগুলোতে ইসলাম যেভাবে ছিল তার ওপর ভিত্তি করে নতুন মূলনীতিসমূহ গড়ে তোলা ব্যতীত এটি সম্ভব নয়।
আচরণের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রতি সমাজের প্রয়োজনীয়তা:
যেকোনো মানবগোষ্ঠীর জন্য এমন বন্ধন প্রয়োজন যার ওপর ভিত্তি করে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে এবং এমন নীতিমালা প্রয়োজন যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করবে ও সদস্যদের অধিকার রক্ষা করবে; যাতে তাদের বিষয়সমূহ বিশৃঙ্খল না হয়ে পড়ে। কেননা মানুষের প্রকৃতিতে স্বার্থপরতা ও আত্মপ্রেম রয়েছে এবং তার সত্তা বহুবিধ প্রবৃত্তি দ্বারা বেষ্টিত যা সংশোধন ও পরিমার্জন করা আবশ্যক, যাতে মানুষ তার অন্য কোনো ভাই মানুষের ওপর জুলুম না করে।
মানুষ মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে একাকী বাস করতে পারে না; কারণ তার জীবন অন্যের জীবনের সাথে জড়িত। সে অন্যের সাথে সহযোগিতা করে এবং সামাজিক উপকার ও অভিন্ন স্বার্থ বিনিময় করে। আর এটাই হলো তাদের এই কথার অর্থ: "মানুষ স্বভাবতই সামাজিক।"
ইবনে খালদুন এই সত্যটি এই বলে স্পষ্ট করেছেন: "নিশ্চয়ই মানবীয় সমাজবদ্ধতা অপরিহার্য।" প্রজ্ঞাবানগণ একে এই বলে ব্যক্ত করেন: "মানুষ স্বভাবতই সামাজিক।" অর্থাৎ তার জন্য সমাজবদ্ধ হওয়া আবশ্যক, যা তাদের পরিভাষায় সভ্যতা এবং এটিই হলো জনবসতি ও উন্নয়ন
… আর মানুষের একার পক্ষে তার জীবনধারণের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অর্জন করা সম্ভব নয়
… নিশ্চয়ই মানুষের জীবন ও অস্তিত্ব তাদের সমাজবদ্ধ হওয়া এবং খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা ব্যতীত সম্ভব নয়। আর তারা যখন একত্রিত হয়, তখন লেনদেন ও প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর আবশ্যকতা দেখা দেয় এবং প্রত্যেকেই তার প্রয়োজন পূরণের জন্য তার হাত প্রসারিত করে এবং তা তার সঙ্গীর নিকট থেকে গ্রহণ করতে চায়; যেহেতু পশুপ্রবৃত্তির কারণে একে অপরের ওপর জুলুম ও শত্রুতা বিদ্যমান থাকে এবং অন্যজন তাকে তা থেকে বাধা দেয়
… ফলে বিবাদের সৃষ্টি হয় যা যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। তাই কোনো শাসক ব্যতীত যারা একে অপরকে সংবরণ করবে, তাদের বিশৃঙ্খল অবস্থায় টিকে থাকা অসম্ভব।"
আদম আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মানব জীবনের প্রথম সূচনা থেকেই তা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলগণের প্রতি যা ওহী করেছেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, যাতে তাদের আকিদা বিশুদ্ধ হয় এবং তাদের জীবন সত্যের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা মানুষের জন্য এমন নিয়ন্ত্রণবিধি থাকা অপরিহার্য যা এই সম্পর্কগুলোকে ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করবে। আদিম সমাজগুলো পরিবার ও গোত্রীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এমন সব নিয়ম ও মূলনীতির ওপর গড়ে উঠেছিল যা পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি দ্বারা নির্ধারিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وبتطور الحياة، وتجدد مطالبها، تطورت الأعراف والعادات، وارتقت ضوابط السلوك فيها، وأخذت طابعا إلزاميا في حياة الناس، يحتكمون إليه فيما بينهم.
وكلما ارتقت الجماعة البشرية في حياة أمة من الأمم، ارتقت معها أفكارها، وسنَّت لها من الأنظمة ما يحقق أمنها ورخاءها، ومثل هذه الأنظمة هو ما يسمى بالقانون.
معنى القانون:
فالقانون -إذًا- يُطلق على مجموعة القواعد والمبادئ والأنظمة التي يضعها أهل الرأي في أمة من الأمم؛ لتنظيم شئون الحياة الاجتماعية والاقتصادية؛ استجابة لمتطلبات الجماعة، وسدًّا لحاجاتها. وهو تعبير عن واقعها، يبين مدى ما وصلت إليه من رقي، وما أحرزته من تقدم، وبقدر ما تستفيد الأمة من تجارب بقدر ما تصحح من أخطاء قانونها، وتعمل على تغييره وتطويره، حتى يكون ملائما لطبيعة حياتها.
والقانون بهذا المعنى يختلف في كل أمة عن أختها؛ لاختلاف حياة الأمم في العادات والتقاليد والأعراف، واختلافها في درجات العلم والمعرفة، فالقانون الذي يصلح لأمة قد لا يصلح لأخرى، والذي يصلح لعصر لا يصلح لآخر، وقلما نجد في القوانين الوضعية توافقا في بلدين مختلفين بيئةً وعادةً وفكرًا.
ولا اعتبار في القانون للفضائل الأخلاقية التي توقظ الضمير الإنساني، وتربي فيه عواطف الخير، وتحفزه إلى مراعاة الحقوق الأدبية والتقيد بالتزاماتها.
كما أنه لا اعتبار فيه للعقيدة الدينية التي تصل العبد بخالقه، وتحدد علاقته بربه، وتبين أصل نشأته، ومصيره في الدار الآخرة.
ومثل هذه القوانين قد يسميها الناس -تجاوزا- بالشرائع الوضعية.
وكلمة "القانون" يونانية الأصل، كانت تستعمل بمعنى "القاعدة"، ودخلت إلى اللغة العربية، فاستعملت للدلالة على مقياس كل شيء، ولم يستعملها علماء
জীবনের বিবর্তন এবং এর চাহিদার নবায়নের সাথে সাথে প্রথা ও অভ্যাসগুলোর বিবর্তন ঘটেছে এবং এতে আচরণের মানদণ্ডগুলো উন্নত হয়েছে। এগুলো মানুষের জীবনে একটি বাধ্যতামূলক রূপ পরিগ্রহ করেছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করে থাকে।
কোনো জাতির জীবনে মানবীয় গোষ্ঠী যখনই উন্নত হয়েছে, তাদের চিন্তা-ভাবনাও তার সাথে উন্নত হয়েছে। তারা নিজেদের জন্য এমন কিছু বিধান প্রণয়ন করেছে যা তাদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে; এ ধরনের বিধানগুলোকেই আইন বলা হয়।
আইনের অর্থ:
সুতরাং, আইন বলতে এমন কিছু নিয়ম, মূলনীতি ও বিধিব্যবস্থাকে বোঝায় যা কোনো জাতির বিশেষজ্ঞগণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের বিষয়াদি সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করেন; যাতে করে গোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করা যায় এবং তাদের প্রয়োজন মিটানো সম্ভব হয়। এটি সেই জাতির বাস্তবতার প্রতিফলন, যা তাদের উৎকর্ষের সীমা এবং অর্জিত অগ্রগতির স্তরকে প্রকাশ করে। একটি জাতি তাদের অভিজ্ঞতা থেকে যতটা উপকৃত হয়, ততটাই তারা তাদের আইনের ভুলগুলো সংশোধন করে এবং তা পরিবর্তন ও বিবর্তনের জন্য কাজ করে, যাতে তা তাদের জীবনপ্রকৃতির জন্য মানানসই হয়।
এই অর্থে আইন প্রতিটি জাতির ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়; কারণ বিভিন্ন জাতির অভ্যাস, ঐতিহ্য ও প্রথা ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার স্তরেও পার্থক্য থাকে। ফলে যে আইন এক জাতির জন্য উপযোগী, তা অন্য জাতির জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে; এবং যা এক যুগের জন্য সঠিক, তা অন্য যুগের জন্য সঠিক না-ও হতে পারে। পরিবেশ, অভ্যাস ও চিন্তাধারায় ভিন্ন এমন দুটি দেশের মানবরচিত আইনের মধ্যে সামঞ্জস্য খুব কমই দেখা যায়।
আইনের ক্ষেত্রে সেই নৈতিক গুণাবলির কোনো গুরুত্ব নেই যা মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, তার মধ্যে কল্যাণকর আবেগ গড়ে তোলে এবং তাকে শিষ্টাচারমূলক অধিকারসমূহ রক্ষা ও দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করে।
তেমনিভাবে এতে সেই ধর্মীয় আকিদারও কোনো গুরুত্ব নেই যা বান্দাকে তার স্রষ্টার সাথে সংযুক্ত করে, রবের সাথে তার সম্পর্ক নির্ধারণ করে এবং তার সৃষ্টির উৎস ও পরকালে তার পরিণাম বর্ণনা করে।
এ জাতীয় আইনগুলোকে মানুষ রূপক অর্থে 'মানবরচিত শরিয়ত' বলে অভিহিত করে থাকে।
'কানুন' (আইন) শব্দটি মূলত গ্রিক বংশোদ্ভূত, যা 'নিয়ম' অর্থে ব্যবহৃত হতো। পরে এটি আরবি ভাষায় প্রবেশ করে এবং কোনো কিছুর পরিমাপক হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। আর আলেমগণ এটি ব্যবহার করেননি...
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المسلمين في العصور الأولى بمعنى الشرع، أو الحكم الشرعي، كما لم يستعملوا الشارع أو المشروع في واضع القانون أو المقنن، وإنما استعمل ذلك المتأخرون الذين تأثروا بدراسة القوانين الوضعية، فأطلقوا مصطلحات الشريعة عليها، واصطلاح الفقه الإسلامي يأبى ذلك كل الإباء. وسوف يتضح هذا من التعريف بمعنى الشريعة والتشريع.
معنى الشريعة والتشريع:
الشرع في اللغة: مصدر شرَع بالتخفيف، والتشريع، مصدر شرَّع بالتشديد، والشريعة في أصل الاستعمال اللغوي: مورد الماء الذي يقصد للشرب، ثم استعملها العرب في الطريقة المستقيمة، وذلك باعتبار أن مورد الماء سبيل الحياة والسلامة للأبدان، وكذلك الشأن من الطريقة المستقيمة التي تهدى الناس إلى الخير، ففيها حياة نفوسهم، وريِّ عقولهم، قال تعالى: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا} 1. ويقال: "شرعت الإبل"، إذا وردت شريعة الماء، و"شرع له الأمر" بمعنى سنه وبيَّن طريقته: قال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا} 2. وقال: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّه} 3. قال صاحب القاموس: الشريعة ما شرعه الله لعباده. وقال الراغب: الشرع: نهج الطريق الواضح. يقال: شرعت له طريقا، والشرع مصدر، ثم جعل اسما للطريق النهج، فقيل له: شرع، وشريعة، واستعير ذلك للطريقة الإلهية، قال بعضهم: سميت الشريعة شريعة: تشبيها بشريعة الماء من حيث إن من شرع فيها على الحقيقة المصدوقة روى وتطهر.
والشريعة الإسلامية في الاصطلاح: ما شرعه الله لعباده من العقائد والعبادات والأخلاق والمعاملات ونظم الحياة، في شعبها المختلفة لتنظيم علاقة الناس بربهم
--------------------------------------------
প্রথম যুগের মুসলিমগণ শরীয়ত বা শরয়ী বিধান অর্থে (নির্দিষ্ট কিছু শব্দ) ব্যবহার করতেন না, তেমনি তারা আইনপ্রণেতা বা বিধিবদ্ধকারী অর্থে 'শারী' (বিধানদাতা) বা 'মাশরু' (বিধিবদ্ধ) শব্দ ব্যবহার করতেন না। বরং পরবর্তীকালের আলেমগণ, যারা মানবরচিত আইন অধ্যয়নের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, তারা এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন এবং এর ওপর শরীয়তের পরিভাষাগুলো প্রয়োগ করেছেন। অথচ ইসলামী ফিকহের পরিভাষা এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। শরীয়ত ও তাশরীয়ের (বিধান প্রণয়ন) সংজ্ঞার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
শরীয়ত ও তাশরীয়ের অর্থ:
আভিধানিকভাবে 'শার' হলো 'শারাআ' (তাখফিফসহ) এর মূল ধাতু, এবং 'তাশরীয়' হলো 'শাররাআ' (তাশদীদসহ) এর মূল ধাতু। ভাষাগত ব্যবহারের মূলে 'শরীয়ত' বলতে পানীয় জলের সেই ঘাটকে বোঝায় যেখানে পান করার উদ্দেশ্যে আসা হয়। পরবর্তীতে আরবরা একে সরল ও সঠিক পথের অর্থে ব্যবহার করতে শুরু করে। কারণ, জলের ঘাট যেমন দেহের জীবন ও নিরাপত্তার মাধ্যম, তেমনি সঠিক পথও মানুষকে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের আত্মার জীবন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক তৃষ্ণা নিবারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের (বিধানের) ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি; সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন।" ১। বলা হয়: "উটগুলো শরীয়ত প্রাপ্ত হয়েছে", যখন তারা পানির ঘাটে উপস্থিত হয়। আর "তিনি তার জন্য বিষয়টি বিধিবদ্ধ করেছেন" অর্থ হলো তিনি তার পদ্ধতি নির্ধারণ ও বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পথই নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন।" ২। তিনি আরও বলেন: "তাদের কি এমন কিছু অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" ৩। কামুস রচয়িতা বলেন: শরীয়ত হলো যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন। ইমাম রাغب রহ. বলেন: 'শার' হলো স্পষ্ট পথের ওপর চলা। বলা হয়: 'আমি তার জন্য একটি পথ তৈরি করে দিয়েছি'। 'শার' একটি মূল ধাতু, পরবর্তীতে একে স্পষ্ট পথের নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একে 'শার' ও 'শরীয়ত' বলা হয়। এটি ঐশী পদ্ধতির জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: শরীয়তকে 'শরীয়ত' নামকরণ করা হয়েছে পানির ঘাটের সাথে সাদৃশ্য রেখে; কেননা যে ব্যক্তি এর ওপর সত্যনিষ্ঠভাবে চলবে, সে তৃপ্ত হবে এবং পবিত্র হবে।
পারিভাষিক অর্থে ইসলামী শরীয়ত হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য আকিদা, ইবাদত, আখলাক বা চরিত্র, মুয়ামালাত বা লেনদেন এবং জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন শাখায় মানুষের সাথে তাদের রবের সম্পর্ক পরিচালনার জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وعلاقاتهم بعضهم ببعض، وتحقيق سعادتهم في الدنيا والآخرة1؛ فشريعة الله هي المنهج الحق المستقيم الذي يصون الإنسانية من الزيغ والانحراف، ويجنبها مزالق الشر، ونوازع الهوى، وهي المورد العذب الذي يشفي غلتها، ويحيي نفوسَها، وترتوي به عقولها، ولهذا كانت الغاية من تشريع الله استقامة الإنسان على الجادة؛ لينال عز الدينا وسعادة الآخرة.
والشريعة بهذا المعنى خاصةٌ بما جاء عن الله تعالى، وبلغه رسلُه لعباده، والله هو الشارع الأول، وأحكامه هي التي تسمى شرعا، فلا يجوز إطلاق هذا على القوانين الوضعية؛ لأنها من صنع البشر، وقد جرى عرف كثير من الكاتبين على تسمية القوانين الوضعية بالتشريع الوضعي، وتسمية الوحي الإلهي بالتشريع السماوي، والحق أن الشرع أو الشريعة لا يجوز إطلاقها إلا على الطريقة الإلهية دون سواها من طرائق الناس وأنظمتهم.
مكان الشريعة الإسلامية بين الشرائع السماوية الأخرى:
خلق الله الناس وفَطَرَهم على الإيمان به، وركز في طباعهم من الغرائز والميول ما يعرض حياتهم للانحراف عن الحق تحت تأثير النزعات الجامحة والأهواء المختلفة: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ} 2، "كل مولود يولد على الفطرة وأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه" "متفق عليه". وذلك هو العهد الذي أخذه الله على بنى آدم: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ} 3. فاقتضت حكمة الله أن يصطفي من عباده رسلًا يرُدُّون الناس إلى فطرتهم ويرشدونهم
--------------------------------------------
এবং একে অপরের সাথে তাদের সম্পর্ক, এবং ইহকাল ও পরকালে তাদের সুখ অর্জন ১; আল্লাহর শরীয়াহ হলো সত্য ও সরল পথ যা মানবতাকে বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে এবং একে মন্দের পিচ্ছিল পথ ও প্রবৃত্তির তাড়না থেকে দূরে রাখে। এটি সেই সুপেয় উৎস যা মানুষের তৃষ্ণা মেটায়, প্রাণকে সঞ্জীবিত করে এবং যার মাধ্যমে বুদ্ধি পরিতৃপ্ত হয়। এজন্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে শরীয়াহ প্রদানের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সঠিক পথে সুপ্রতিষ্ঠিত করা; যাতে সে ইহকালে সম্মান ও পরকালে সুখ লাভ করতে পারে।
এই অর্থে শরীয়াহ কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এবং তাঁর রাসূলগণ কর্তৃক তাঁর বান্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া বিধানের সাথে সুনির্দিষ্ট। আল্লাহই হলেন প্রথম শরীয়াহ প্রণেতা, এবং তাঁর হুকুমগুলোকেই শরীয়াহ বলা হয়। তাই মানবরচিত আইনের ক্ষেত্রে এই শব্দ ব্যবহার করা বৈধ নয়; কারণ সেগুলো মানুষের তৈরি। অনেক লেখকের মধ্যে প্রচলিত রীতি হলো মানবরচিত আইনকে 'মানবরচিত বিধান' এবং ঐশী ওহীকে 'আসমানি বিধান' বলা। প্রকৃত সত্য হলো, 'শর' বা 'শরীয়াহ' শব্দটি কেবল ঐশী পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো মানুষের তৈরি পদ্ধতি বা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা বৈধ নয়।
অন্যান্য আসমানি শরীয়াহর মাঝে ইসলামি শরীয়াহর স্থান:
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনার স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর তাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের চরিত্রে এমন কিছু প্রবৃত্তি ও ঝোঁক নিহিত রেখেছেন যা উদ্দাম আবেগ ও বিভিন্ন কুপ্রবৃত্তির প্রভাবে তাদের জীবনকে সত্য থেকে বিচ্যুতির সম্মুখীন করতে পারে: "অতএব তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটিই আল্লাহর সেই ফিতরাত বা প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন।" ২, "প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। আর এটিই সেই অঙ্গীকার যা আল্লাহ বনী আদমের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন: "আর যখন তোমার রব বনী আদমের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রাখলেন যে— আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। পাছে তোমরা কিয়ামতের দিন বলো যে, আমরা তো এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম।" ৩। আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন রাসূলদের মনোনীত করবেন যারা মানুষকে তাদের ফিতরাতের দিকে ফিরিয়ে আনবেন এবং তাদের পথনির্দেশ দেবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المثل العليا في تقويم الأخلاق، والاهتداء بهدي الله حتى تقوم عليهم الحجة: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} 1.
وكانت رسالة كل رسول قاصرة على قومه، خاصة في إصلاح ما فسد من عقائدهم وأخلاقهم، والعمل على تهذيب نفوسهم وأرواحهم، بمرجعهم إلى فطرة التوحيد؛ حيث كانت المجتمعات الإنسانية في أطوارها الأولى محدودة المطالب، بدائية النشأة، سطحية التفكير محصورة في نطاق بيئتها: {وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلا فِيهَا نَذِير} 2، ولم يك أمر الناس في المعاملة متشعب النواحي، ضيق المسالك حتى تحتاج الخليقة إلى نظم تذلل بها عقبات الحياة، وتحل مشاكلها فلم يشأ الله البقاء لرسالة رسولٍ قبل محمد صلى الله عليه وسلم؛ كي تحمل عناصر الخلود، فكانت شريعة كل رسول خاصة بقومه للمحافظة على عقيدة التوحيد التي فطر عليها الخلق في عبودية الإنسان لله وحده رب العالمين، وتقويم حياتهم على هدى من الله.
فلما نمت معارف الإنسان، واتسعت مطالبه، وتعقدت أمامه مشاكل حياته، أذن الله بفجر دين جديد يلقي أضواءه على جوانب الحياة كلها؛ ليكتمل صرح الحضارة الإنسانية التي بناها رسل الله، فكان هذا الدين هو شريعة الإسلام: "إن مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بني بيتا فأحسنه وأجمله إلا موضع لبنة من زاوية، فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له، ويقولون: هلا وضعت هذه اللبنة؟ فأنا اللبنة، وأنا خاتمة النبيين" "متفق عليه".
وأخذ الله على أنبيائه بذلك العهد والميثاق: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ} 3.
فالوحي الإلهي المتتابع يمثل نهرا تكونت له روافد، وتفرعت جداول، تروي ما يذبل من أيك العقيدة، وما يجف من أعواد الفضيلة لتبقى خصائص الإنسانية
--------------------------------------------
চরিত্র সংশোধন এবং আল্লাহর হিদায়াতের মাধ্যমে পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁরা হলেন সর্বোত্তম আদর্শ, যাতে তাদের বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।} ১।
প্রত্যেক রাসূলের দাওয়াত তাঁর নিজ জাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, বিশেষ করে তাদের আকিদা ও চরিত্রে যা কিছু কলুষতা প্রবেশ করেছিল তা সংস্কার করার জন্য এবং তাওহিদের স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের আত্মা ও প্রাণকে পরিশুদ্ধ করার জন্য। কারণ মানব সমাজ তখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তাদের প্রয়োজন ছিল সীমিত, উদ্ভব ছিল আদিম এবং চিন্তা-ভাবনা ছিল অগভীর ও নিজস্ব পরিবেশের গণ্ডিবদ্ধ: {এমন কোনো জাতি নেই যাদের নিকট কোনো সতর্ককারী আসেনি।} ২। পারস্পরিক লেনদেনের বিষয়টি তখন অতটা বহুমুখী বা জটিল ছিল না যে, জীবনযাত্রার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বা সমস্যা সমাধানে কোনো সুবিন্যস্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। তাই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্ববর্তী কোনো রাসূলের বার্তাকে চিরস্থায়ী করতে চাননি; যেন তা অমরত্বের উপাদান ধারণ করতে পারে। প্রত্যেক রাসূলের শরিয়ত ছিল তাঁর নিজ জাতির জন্য সুনির্দিষ্ট, যেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে সৃষ্টির মূল স্বভাবজাত আকিদা ‘তাওহিদ’ সুরক্ষিত থাকে এবং আল্লাহর হিদায়াত অনুযায়ী তাদের জীবন পরিচালিত হয়।
যখন মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি পেল, চাহিদাও বিস্তৃত হলো এবং জীবনের সমস্যাগুলো জটিল হয়ে উঠল, তখন আল্লাহ এক নতুন দ্বীনের অভ্যুদয়ের অনুমতি দিলেন, যা জীবনের সকল দিকের ওপর আলোকপাত করবে; যাতে আল্লাহর রাসূলগণের নির্মিত মানব সভ্যতার অট্টালিকাটি পূর্ণতা পায়। আর সেই দ্বীন ছিল ইসলামের শরিয়ত: "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের জায়গা ফাঁকা রেখে দিল। মানুষ তার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: কেন এই ইটটি লাগানো হলো না? আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী।" (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)।
আর আল্লাহ তাঁর নবীদের কাছ থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন: {স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, তারপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন কোনো রাসূল আসবে, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ বিষয়ে আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি কি গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।} ৩।
সুতরাং পর্যায়ক্রমিক ঐশী ওহি একটি প্রবাহমান নদীর মতো, যার বহু শাখা-প্রশাখা ও উপনদী সৃষ্টি হয়েছে। যা আকিদার ঝিমিয়ে পড়া কুঞ্জবনকে এবং সচ্চরিত্রের শুকিয়ে যাওয়া ডালপালাকে সিক্ত করে, যাতে মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো অটুট থাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
البناءة في ازدهار ونمو، تؤتي أكلها لخير الناس كل حين بإذن ربها، ينبع هذا النهر ويفيض خيره حيث يوحي الله إلى ملائكته سفرائه إلى رسله، أو يكلم رسله سفراءه إلى خلقه.
وقد انتهى مصب هذا الماء الغدق برسالة محمد صلى الله عليه وسلم نبي الإسلامي، والنصوص القرآنية تعلن وحدة هذا التشريع من منبعه إلى مصبه.
{شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} 1.
والقرآن الكريم يحكي رسالات الأنبياء السابقين بعنوان القومية الخاصة.
{وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ} 2.
{وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 3.
{وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 4.
{وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ} 5.
{وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ} 6.
{ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى بِآياتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَأِهِ} 7.
ويقول تعالى في شأن عيسى: {وَرَسُولًا إِلَى بَنِي إِسْرائيل} 8.
ولكن رسولنا محمدا صلى الله عليه وسلم يعلن عالمية دعوته وأستاذيته للدنيا، ونبوته للعالمين، وختمه للنبيين.
{تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 9.
--------------------------------------------
গঠনমূলক কার্যাবলি সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির পথে, যা তার রবের অনুমতিক্রমে সর্বদা মানুষের কল্যাণে ফল দান করে। এই নহর বা নদীর উৎস ও কল্যাণের প্রবাহ সেখান থেকে শুরু হয় যেখানে আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের নিকট ওহী পাঠান যারা তাঁর রাসূলদের নিকট তাঁর দূত, অথবা তিনি সরাসরি তাঁর রাসূলদের সাথে কথা বলেন যারা তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁর দূত।
আর এই প্রাচুর্যময় পানির মোহনা ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। কুরআনের বাণীসমূহ এই শরীয়তের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এর একত্বের ঘোষণা দেয়।
"তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, আর যার নির্দেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম— এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে মতভেদ করো না।" ১।
আর কুরআনুল কারীম পূর্ববর্তী নবীগণের রিসালাতসমূহকে বিশেষ জাতিসত্তার শিরোনামে বর্ণনা করে।
"আর আমি অবশ্যই নূহকে তার কওমের প্রতি পাঠিয়েছিলাম।" ২।
"আর আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।" ৩।
"আর সামূদ জাতির নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।" ৪।
"আর মাদইয়ানের নিকট তাদের ভাই শুয়াইবকে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল: হে আমার কওম!" ৫।
"আর লূতের কথা স্মরণ করো যখন সে তার কওমকে বলেছিল।" ৬।
"অতঃপর তাদের পরে আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট পাঠিয়েছিলাম।" ৭।
আর আল্লাহ তাআলা ঈসার শানে বলেন: "আর তাকে বনী ইসরাঈলের নিকট রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছিলাম।" ৮।
কিন্তু আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দাওয়াতের বিশ্বজনীনতা, সারা বিশ্বের জন্য তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও শিক্ষকতা, জগতসমূহের জন্য তাঁর নবুওয়াত এবং তাঁর শেষ নবী হওয়ার ঘোষণা দেন।
"পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।" ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} 1.
{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} 2.
{مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} 3.
وفي الحديث: "كان كل نبي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس كافة" رواه البخاري و: "أنا العاقب فلا نبي بعدي" متفق عليه.
وقد اتفقت الشرائع السماوية في أصل العقيدة بالدعوة إلى توحيد الله تعالى، والإيمان به وبملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره.
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 4.
{قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} 5.
واتفقت في صول العبادات والأخلاق والتهذيب النفسي:
{قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى، وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى، بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا، وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى، إِنَّ هَذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَى، صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى} 6.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 7.
--------------------------------------------
{এবং আমি আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।} ১।
{বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল।} ২।
{মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।} ৩।
এবং হাদীসে এসেছে: "প্রত্যেক নবীকে কেবল তাঁর নিজ কওমের কাছে পাঠানো হতো, আর আমাকে সকল মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছে।" বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন। এবং: "আমিই আকিব (সর্বশেষ আগন্তুক), তাই আমার পরে আর কোনো নবী নেই।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
আর আসমানি শরীয়তসমূহ আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াত, তাঁর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাসের মতো আকিদার মূল বিষয়গুলোতে একমত হয়েছে।
{আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো।} ৪।
{বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করব না এবং আমাদের কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম।} ৫।
এবং তারা ইবাদত, আখলাক ও আত্মশুদ্ধির মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রেও একমত হয়েছে:
{নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করেছে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং তার রবের নাম স্মরণ করে সালাত আদায় করেছে। বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাত অধিকতর উত্তম ও চিরস্থায়ী। নিশ্চয়ই এটি পূর্ববর্তী সহীফাসমূহে বিদ্যমান ছিল; ইব্রাহীম ও মূসার সহীফাসমূহে।} ৬।
{হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।} ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأكثر الشرائع السماوية لم تتجاوز هذه الأصول: عقيدة، وعبادة، وخلقا، وبمثلها في التربية النفسية والمعاني الروحية النصرانية شريعة عيسى عليه السلام.
أما الشريعة اليهودية التي أرسل الله بها موسى عليه السلام فقد شملت بعض أنواع المعاملات، إلا أنها كانت محدودة، تحمل طابع بيئة بني إسرائيل، ولم تكتسب صفة العموم والشمول التي تجعلها صالحة لزمن آخر، أو لقوم آخرين، وقد أشار القرآن الكريم في عقوبتهم بتحريم الطيبات عليهم إلى هذا:
{فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا، وَأَخْذِهِمُ الرِّبا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} 1.
وفي الصحيحين عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال:
"إن اليهود جاءوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكروا له أن أمرأة منهم ورجلًا زنيا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما تجدون في التوراة من شأن الرجم"؟ قالوا: نفضحهم ويجلدون. قال عبد الله بن سلام: كذبتم، فيها آية الرجم، فأتوا بالتوراة فنشروها، فوضع أحدهم يده على آية الرجم، فقرأ ما قبلها وما بعدها، فقال له عبد الله بن سلام: ارفع يدك، فرفع يده فإذا فيها آية الرجم، فقال: صدقت يا محمد، فأمر بهما النبي صلى الله عليه وسلم فرجما، قال: فرأيت الرجل يجنأ على المرأة؛ ليقيها الحجارة".
أما شريعة الإسلام التي جاء بها محمد صلى الله عليه وسلم فإنها جاءت وافية بمطالب الحياة الإنسانية، تسد عوزها، وتحقق لها أهداف العمران في شتى جوانب حياتها الاجتماعية والاقتصادية والسياسية، فالإسلام عقيدة وعبادة، وخلق وتشريع، وحكم وقضاء، ومسجد وسوق، وهو علم وعمل، ومصحف وسيف، وهذا هو ما نعنيه عندما نقول: "الإسلام دين ودولة".
وقد اكتسبت نصوص الشريعة الإسلامية من المرونة والعموم ما جعل قواعدها
--------------------------------------------
অধিকাংশ আসমানি শরীয়ত এই মূলনীতিসমূহ অতিক্রম করেনি: আকিদা, ইবাদত এবং আখলাক; ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়ত অর্থাৎ খ্রিষ্টধর্মও আত্মিক পরিশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক অর্থের ক্ষেত্রে অনুরূপ ছিল।
পক্ষান্তরে ইয়াহুদি শরীয়ত, যা দিয়ে আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামকে পাঠিয়েছিলেন, তা কিছু লেনদেন ও কার্যাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তবে তা ছিল সীমাবদ্ধ, বনী ইসরাঈলের পরিবেশের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; এটি এমন ব্যাপকতা ও পূর্ণতা অর্জন করেনি যা একে অন্য কোনো সময়ের জন্য বা অন্য কোনো জাতির জন্য উপযোগী করে তোলে। তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করার শাস্তির মাধ্যমে কুরআন মাজীদ এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছে:
{সুতরাং ইয়াহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের ওপর এমন কিছু পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছি যা তাদের জন্য হালাল ছিল, এবং আল্লাহর পথে তাদের অনেককে বাধা প্রদানের কারণে। আর তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, যদিও তা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল, এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার কারণে। আর আমি তাদের মধ্যে যারা কাফির তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।} ১।
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
"ইয়াহুদিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে উল্লেখ করল যে, তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ ব্যভিচার করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তোমরা তাওরাতে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) সম্পর্কে কী পাও?' তারা বলল: 'আমরা তাদের অপমান করি এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হয়।' আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন: 'তোমরা মিথ্যা বলছ, এতে রজমের আয়াত রয়েছে।' অতঃপর তারা তাওরাত নিয়ে এল এবং তা খুলে ধরল। তখন তাদের একজন রজমের আয়াতের ওপর হাত রাখল এবং তার আগের ও পরের অংশ পড়ল। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাকে বললেন: 'তোমার হাত উঠাও।' সে তার হাত উঠাল, তখন দেখা গেল তাতে রজমের আয়াত রয়েছে। তখন তারা বলল: 'হে মুহাম্মদ, আপনি সত্য বলেছেন।' অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে (রজমের) আদেশ দিলেন এবং তাদের রজম করা হলো। (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি লোকটিকে দেখলাম সে মহিলার ওপর ঝুঁকে পড়ছিল যাতে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করা যায়।"
পক্ষান্তরে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ইসলামি শরীয়ত নিয়ে এসেছেন, তা মানব জীবনের সকল চাহিদার জন্য পূর্ণাঙ্গ হিসেবে এসেছে; এটি জীবনের অভাব পূরণ করে এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিকে সভ্যতার লক্ষ্যসমূহ অর্জন করে। সুতরাং ইসলাম হলো আকিদা ও ইবাদত, আখলাক ও বিধান, শাসন ও বিচার বিভাগ, মসজিদ ও বাজার; এটি জ্ঞান ও কর্ম, কুরআন ও তলোয়ার। আর এটিই আমাদের উদ্দেশ্য যখন আমরা বলি: "ইসলাম একটি ধর্ম ও রাষ্ট্র।"
ইসলামি শরীয়তের উৎসসমূহ এমন নমনীয়তা এবং ব্যাপকতা লাভ করেছে যা এর মূলনীতিসমূহকে করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صالحة للناس كافة في كل عصر من العصور، تساير عوامل النمو والارتقاء، وتقود الحضارة الإنسانية إلى معالم الحق وسبيل الرشاد، ولهذا أكمل الله بها الدين وأتم النعمة: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِينًا} 1.
الفرق بين التشريع السماوي والتقنين الوضعي:
تحدثنا آنفا عن كل من القانون الوضعي والتشريع السماوي، وبهذا يتبين الفرق بينهما، وقد ذكر هذه الفوارق على وجه التفصيل الشهيد عبد القادر عودة في مقدمة الجزء الأول من كتابه "التشريع الجنائي في الإسلام"، ونحن نجمل ذلك فيما يلي:
1- القانون الوضعي تنظيم بشري من صنع الناس، لا ينبغي مقارنته بالتشريع السماوي الذي جاء من عند الله؛ للفرق بين الخالق والمخلوق، ولن يستوي لدى العقول أن يقارن ما صنعه الناس بما صنعه رب الناس.
2- والذين يضعون القانون بشر، يخضعون للأهواء والنزعات، وتتغلب عليهم العواطف البشرية، فيقعون تحت تأثير هذه العوامل التي تحيد بهم عن تقدير الحق، والقيام على شئون الحياة بالقسط، ومهما ارتقى الناس في سلم المعرفة، فإنهم لا يستطيعون أن يدركوا حقائق الأمور، وأن يحيطوا بها خبرًا، وبهذا تكون القوانين الوضعية عرضة للتغيير والتبديل، ولا يكون لها مقياس ثابت لحكم، فما هو حلالٌ اليوم قد يصير حرامًا غدًا، وبذلك تختلف موازين الحياة ومقاييس الخير والشر، وتتلون بتلون الإنسان وتحوُّل ميوله وعواطفه، فتظل الحياة الإنسانية في اضطراب دائم، كما نشاهده اليوم في حياة الأمم التي تحكم بغير ما أنزل الله.
والشريعة وحي إلهي منزه عن ذلك كله، فهي تنزيل الحكيم العليم، الذي يعلم
--------------------------------------------
এটি সকল যুগের সকল মানুষের জন্য উপযোগী, যা প্রবৃদ্ধি ও উন্নতির উপাদানের সাথে তাল মিলিয়ে চলে এবং মানব সভ্যতাকে সত্যের নিদর্শন ও সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে। এই কারণেই আল্লাহ এর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" ১।
আসমানি শরিয়ত এবং মানবরচিত আইনের মধ্যে পার্থক্য:
আমরা ইতিপূর্বে মানবরচিত আইন ও আসমানি শরিয়ত উভয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, যার মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। শহীদ আব্দুল কাদের আওদাহ তাঁর 'আত-তাশরি আল-জিনাই ফিল ইসলাম' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় এই পার্থক্যগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। আমরা নিচে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
১- মানবরচিত আইন মানুষের তৈরি একটি মানবিক ব্যবস্থা, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা আসমানি শরিয়তের সাথে যার তুলনা করা উচিত নয়; কারণ সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। মানুষের তৈরি কোনো কিছুকে মানুষের রবের তৈরি বিষয়ের সাথে তুলনা করা বিবেকের কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।
২- আর যারা আইন প্রণয়ন করে তারা মানুষ, তারা খেয়াল-খুশি ও প্রবণতার বশীভূত হয় এবং তাদের ওপর মানবিক আবেগ প্রবল থাকে। ফলে তারা এমন সব উপাদানের প্রভাবে পড়ে যা তাদেরকে সত্যের মূল্যায়ন এবং ইনসাফের সাথে জীবন পরিচালনার বিষয় থেকে বিচ্যুত করে দেয়। মানুষ জ্ঞানের সিঁড়িতে যতই উঁচুতে আরোহণ করুক না কেন, তারা বিষয়সমূহের প্রকৃত হাকিকত উপলব্ধি করতে এবং তা পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করতে সক্ষম নয়। এই কারণেই মানবরচিত আইনসমূহ পরিবর্তন ও পরিমার্জনের সম্মুখীন হয় এবং বিচারের জন্য এর কোনো স্থায়ী মানদণ্ড থাকে না। ফলে আজ যা বৈধ, আগামীকাল তা অবৈধ হয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে জীবনের ভারসাম্য এবং ভালো-মন্দের মানদণ্ড পরিবর্তিত হয় এবং মানুষের রুচি ও আবেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে তা ভিন্ন রঙ ধারণ করে। ফলে মানবজীবন স্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে নিপতিত থাকে, যেমনটি আমরা আজ সেই সব জাতিগোষ্ঠীর জীবনে দেখতে পাই যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার ফয়সালা করে।
আর শরিয়ত হলো ঐশী ওহি যা এই সব কিছু থেকে পবিত্র। এটি মহাপ্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি জানেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
أحوال عباده، وما يصلح معاشهم ومعادهم، وما يحقق لهم الخير في دنياهم وأخراهم {أَلا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} 1، وهو سبحانه منزه عما يعتري الخلق من القصور والنقص {لا يَضِلُّ رَبِّي وَلا يَنْسَى} 2. وقد بنيت الشريعة الإسلامية الأصول الكلية التي تقوم عليها حياة البشر، ولا سبيل إلى الأخذ فيها بالرأي المجرد عن الدليل، والنبي صلى الله عليه وسلم مع عصمته لا يتبع إلا الوحي {إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيّ} 3، ولا يكون حكمه إلا بما علم عن الله {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّه} 4، وانتزاع التشريع من أيدي البشر، ورده إلى الله ورسوله يضع لنا شريعة ربانية ثابتة المقياس لا يعتريها خلل أو قصور.
3- والقانون الوضعي نظام محدود القواعد، يلبي حاجة الجماعة لتنظيم حياتهم الحاضرة، ويتطور بتطورها، نشأ بادئ ذي بَدء في نظام الأسرة، ثم في نظام القبيلة، ولم يتحول إلى نظريات علمية إلا في القرن التاسع عشر.
والتشريع السماوي -بعامة- يولد متكاملًا وافيًا بمطالب الحياة، محكم النسيج، صافي المورد.
4- وقواعد القانون الوضعي مؤقتة لجماعة خاصة في عصر معين، فهي في حاجة إلى التغيير كلما تطورت الجماعة وتجددت مطالبها.
وقواعد الشريعة الإسلامية -بصفة خاصة- لم تأت لقوم دون قوم، أو لعصر دون عصر، ولكنها قواعد كلية ثابتة مستقرة، تسد حاجة الجماعة وترفع مستواها في كل عصر، وقد مر على الشريعة الإسلامية زهاء أربعة عشر قرنا من الزمان، تغيرت فيها أوضاع الجماعات، واندثرت فيها مئات القوانين والأنظمة، وانقلبت
--------------------------------------------
তাঁর বান্দাদের অবস্থা, তাদের জীবনোপকরণ ও পারলৌকিক কল্যাণের বিষয়াদি এবং যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে মঙ্গল নিশ্চিত করে [সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত]। {যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত} ১। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সৃষ্টির অক্ষমতা ও অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র। {আমার প্রতিপালক পথ হারান না এবং ভুলেও যান না} ২। ইসলামী শরীয়ত এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত যার ওপর মানবজীবন দণ্ডায়মান; সেখানে দলীলবিহীন নিছক মতামতের কোনো স্থান নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও ওহী ব্যতীত অন্য কিছুর অনুসরণ করেন না {আমি কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহী করা হয়} ৩। আর তাঁর ফয়সালা কেবল তাই হয় যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে জেনেছেন {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করতে পারেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী} ৪। আর আইন প্রণয়নের বিষয়টি মানুষের হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য এমন এক রব্বানী শরীয়ত উপস্থাপন করে যা সুদৃঢ় মানদণ্ডসম্পন্ন এবং যাতে কোনো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা প্রবেশ করতে পারে না।
৩- আর মানব রচিত আইন হলো একটি সীমাবদ্ধ নিয়মনীতিমালা, যা সমাজের বর্তমান জীবন পরিচালনার প্রয়োজন মেটায় এবং সমাজের বিবর্তনের সাথে সাথে এটিও বিবর্তিত হয়। এটি সর্বপ্রথম পারিবারিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, এরপর গোত্রীয় ব্যবস্থায় রূপ নেয় এবং উনবিংশ শতাব্দীর আগে এটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে পরিণত হয়নি।
আর আসমানী বিধান—সাধারণভাবে—পরিপূর্ণ অবস্থায় জন্মলাভ করে যা জীবনের সকল চাহিদা মেটাতে সক্ষম, যার কাঠামো অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং উৎস নির্মল।
৪- আর মানব রচিত আইনের নিয়মাবলি কোনো নির্দিষ্ট যুগে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর জন্য সাময়িক; ফলে সমাজ ব্যবস্থার বিবর্তন ও চাহিদার পরিবর্তনের সাথে সাথে তা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
অন্যদিকে ইসলামী শরীয়তের নিয়মাবলি—বিশেষভাবে—কোনো বিশেষ জাতি বা বিশেষ যুগের জন্য আসেনি, বরং এগুলো হলো চিরস্থায়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত সামগ্রিক মূলনীতি, যা প্রতিটি যুগে সমাজের প্রয়োজন পূরণ করে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। ইসলামী শরীয়তের ওপর প্রায় চৌদ্দশ বছর অতিবাহিত হয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন জনসমষ্টির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, বিলুপ্ত হয়েছে শত শত আইন ও ব্যবস্থা এবং ওলটপালট হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
مبادئها رأسا على عقب، ولا تزال تلك الشريعة غضة صالحة لكل زمان ومكان، تحمل نصوصها عناصر النمو والارتقاء.
5- والقانون الوضعي لا يتناول سوى المعاملات المدنية، في الشئون الاجتماعية والاقتصادية التي تقوم عليها سلطة الدولة إذا استثنينا ما يتصل بالعلاقات الدولية، ولا يمت بصلة إلى عقيدة التوحيد ومقتضياتها.
والشريعة الإسلامية تتناول الإيمان بالله ورسله وعالم الغيب، وصلة العبد بربه، وسلوكه الأخلاقي، وأنظمة الحياة المختلفة في شتى مرافقها.
6- والقوانين الوضعية تهمل المسائل الأخلاقية، وتقصر المخالفة على ما فيه ضرر مباشر بالأفراد، أو إخلال بالأمن والنظام العام، فلا تعاقب القوانين الوضعية على الزنا في هاتين الحالتين يمس ضرره المباشر الأفراد، كما يمس الأمن العام، وأكثر القوانين الوضعية لا تعاقب على شرب الخمر، ولا تعاقب على السكر لذاته، وإنما تعاقب السكران إذا وجد في الطريق العام في حالة سكر بيِّن، فالعقاب على وجوده في حالة سكر في الطريق العام؛ لأن وجوده في هذه الحال يعرض الناس لأذاه واعتدائه، وليس العقاب على السكر لذاته باعتباره رذيلة، ولا على شرب الخمر باعتبار أن شربها مضر بالصحة، مذهب للعقل، متلف للمال، مفسد للأخلاق.
والشريعة الإسلامية شريعة أخلاقية، وليست الأخلاق في الإسلام أدبا يجمل صاحبه، ولكنها التزامات من واجبات الدين.
والأخلاق في الإسلام غاية تربوية للعبادات، والتزام أدبي في المعاملات، يجعل حياة الناس قائمة على المعروف والحسنى، وقد حث الإسلام على أمهات الفضائل الإنسانية ودعا إلى المثل العليا، وأثنى على مكارم الأخلاق، وقال الله في نبيه صلى الله عليه وسلم: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيم} 1.
7- تفقد القوانين الوضعية سلطتها على النفس البشرية؛ لأن سلطة العقوبة
--------------------------------------------
এর মূলনীতিগুলো আমূল বদলে যায় না, বরং এই শরীয়ত সর্বদা সজীব এবং প্রতিটি কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী হয়েই থাকে; এর ভাষ্যসমূহ প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির উপাদান বহন করে।
৫- আর মানবীয় আইন কেবল দেওয়ানি লেনদেন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে, যার ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত; যদি আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে বাদ দিই। এর সাথে তাওহীদের আকিদা ও তার চাহিদাসমূহের কোনো সম্পর্ক নেই।
পক্ষান্তরে ইসলামি শরীয়ত আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ এবং গায়েব বা অদৃশ্যের জগতের প্রতি বিশ্বাস, রবের সাথে বান্দার সম্পর্ক, তার নৈতিক আচরণ এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচলিত নানাবিধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।
৬- মানবীয় আইনসমূহ নৈতিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে এবং কেবল সেসব লঙ্ঘনকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করে যাতে ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয় অথবা জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। তাই মানবীয় আইনসমূহ ব্যভিচারের জন্য শাস্তি প্রদান করে না, যদিও এই দুই ক্ষেত্রেই এর প্রত্যক্ষ ক্ষতি ব্যক্তিদের ওপর যেমন পড়ে, তেমনি জননিরাপত্তার ওপরও পড়ে। অধিকাংশ মানবীয় আইন মদ্যপানের জন্য শাস্তি দেয় না, এমনকি মাতলামির জন্যও নয়। তারা কেবল মাতাল ব্যক্তিকে তখনই শাস্তি দেয় যখন তাকে প্রকাশ্য মাতাল অবস্থায় জনপথে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, শাস্তিটা হলো জনপথে মাতাল অবস্থায় থাকার কারণে; কেননা এই অবস্থায় তার উপস্থিতি মানুষকে কষ্ট দেয় বা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে। এটি মাতলামিকে একটি মন্দ গুণ হিসেবে বিবেচনা করে কিংবা মদ্যপানকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিবেকনাশক, সম্পদ অপচয়কারী ও নৈতিকতা বিধ্বংসী হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তি দেয় না।
আর ইসলামি শরীয়ত হলো একটি নৈতিক শরীয়ত। ইসলামে নৈতিকতা কেবল এমন কোনো শিষ্টাচার নয় যা কেবল তার অধিকারীকে অলঙ্কৃত করে, বরং এগুলো দ্বীনি ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত অঙ্গীকার।
ইসলামে নৈতিকতা হলো ইবাদতের একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক লক্ষ্য এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা, যা মানুষের জীবনকে সদাচার ও সুন্দরের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলাম মানবিক গুণাবলির মূল ভিত্তিগুলোর প্রতি উৎসাহিত করেছে এবং উচ্চতর আদর্শের দিকে আহ্বান জানিয়েছে। ইসলাম সচ্চরিত্রের প্রশংসা করেছে এবং আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে বলেছেন: “নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।” ১।
৭- মানবীয় আইনসমূহ মানুষের আত্মার ওপর তাদের কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলে; কারণ শাস্তির ক্ষমতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وحدها لا تكفي في ردع المجرم، ولذا فإن واضعي القانون يعملون على ترضية الجماهير وإقناعها بصلاحية النظم التي وضعوها حتي يمتثلوها، ولكن الناس يدركون أن لا سلطة للقوانين الوضعية إلا إذا وقع المرء تحت طائلة المخالفة، وضبط متلبسا بجريمته؛ إذ لا علاقة لها بالحياة الآخرة، فيكون المجال فسيحًا للخروج على القانون بوسائل الحيلة والدهاء. فلا يقف دون وصول الناس إلى أغراضهم السيئة من فساد في الأرض قانون مهما كان دقيقًا.
والشريعة الإسلامية تنبثق من فكرة الحلال والحرام، والإيمان بالدار الآخرة، وتربي الضمير الإنساني؛ ليكون رقيبا على المسلم في السر والعلن، يخشى عقاب الله الأخروي أكثر من خشيته للعقاب الدنيوي، فالفعل التعبدي، أو المدني أو الجنائي، أو الدستوري، أو الدولي، له أثره المترتب عليه في الدنيا من أداء الواجب، أو إفادة الحل والملك، أو إنشاء الحق أو زواله، أو توقيع العقوبة، أو ترتيب المسئولية، ولكن هذا الفعل الذي يترتب عليه أثره في الدنيا له أثر آخر مترتب عليه في الآخرة هو المثوبة أوالعقوبة الأخروية، ومن يتتبع آيات الأحكام يجد كثيرا منها قد رتب عليها جزاءان: جزاء دنيوي وجزاء أخروي.
ففي القتل يقول تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا} 1.
وفي قطع الطريق أو الحرابة يقول تعالى: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيم} 2.
وفي إشاعة الفاحشة ورمي المحصنات يقول جل شأنه: {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ
--------------------------------------------
শুধু এটিই অপরাধীকে দমনে যথেষ্ট নয়। এ কারণেই আইন প্রণেতারা জনগণকে সন্তুষ্ট করার এবং তাদের প্রণীত ব্যবস্থার উপযোগিতা সম্পর্কে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যাতে তারা তা মেনে চলে। কিন্তু মানুষ উপলব্ধি করে যে, মানবরচিত আইনের কোনো ক্ষমতা নেই যতক্ষণ না কেউ আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে এবং অপরাধের দায়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে; কারণ পরকালীন জীবনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে কূটকৌশল ও চাতুর্যের মাধ্যমে আইন ফাঁকি দেওয়ার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হয়। পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির মতো অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে মানুষকে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনই যথেষ্ট নয়, তা যত সূক্ষ্মই হোক না কেন।
আর ইসলামী শরীয়াহ হালাল ও হারামের ধারণা এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত হয়েছে। এটি মানুষের বিবেককে এমনভাবে গড়ে তোলে যাতে তা প্রকাশ্যে ও গোপনে মুসলিমের ওপর পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। সে দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে আল্লাহর পরকালীন শাস্তিকে বেশি ভয় পায়। ফলে ইবাদত সংক্রান্ত কাজ, বা দেওয়ানি, ফৌজদারি, সাংবিধানিক কিংবা আন্তর্জাতিক—সব কাজেরই দুনিয়াতে তার সুনির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে, যেমন: দায়িত্ব পালন, কোনো কিছু বৈধ হওয়া ও মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া, অধিকার প্রতিষ্ঠা বা বিলুপ্তি, দণ্ড প্রদান কিংবা দায়বদ্ধতা নির্ধারণ। কিন্তু দুনিয়াতে যে কাজের প্রভাব পড়ে, পরকালেও তার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি প্রভাব রয়েছে, আর তা হলো পরকালীন পুরস্কার বা শাস্তি। যে ব্যক্তি বিধিবিধান সংক্রান্ত আয়াতসমূহ (আয়াতুল আহকাম) লক্ষ্য করবে, সে দেখতে পাবে যে, এগুলোর অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই দুটি প্রতিদান নির্ধারণ করা হয়েছে: একটি দুনিয়ার প্রতিদান এবং অন্যটি পরকালীন প্রতিদান।
হত্যার বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত রেখেছেন} ১।
ডাকাতি বা হিরাবাহ্-এর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বলেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি তো কেবল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহা আজাব} ২।
অশ্লীলতা ছড়ানো এবং সচ্চরিত্রা নারীদের অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা পছন্দ করে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ} 1
… إلى غير ذلك من الآيات.
وبذلك يقيم الإسلام من داخل النفس البشرية رقابة على تعاليمه، بحيث يرعاهم المسلم في جوف الليل، كما يرعاها في وضح النهار، والأدلة الظاهرة لإثبات الحق في القضاء لا تجعل هذا الحق حلالا لمستحقه إلا إذا كان حقا له في الواقع، وقد سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم خصومة بباب حجرته فخرج إليها فقال: "إنما أنا بشر، وإنه يأتيني الخصم فلعل بعضكم أن يكون ألحن بحجته من بعض، فأحسب أنه صدق فأقضى له بذلك، فمن قضيت له بحق مسلم، فإنما هي قطعة من النار، فليأخذْها أو ليتركْها" متفق عليه.
أدوار التشريع ومراحله في تاريخ الفكر الإسلامي:
يذهب بعض الباحثين في تقسيم أدوار التشريع والفقه الإسلامي إلى مراعاة النشأة والتطور، والقوة والضعف، في تاريخ الفكر الإسلامي، فيقسمون الأدوار التي مر بها التشريع والفقه إلى الأدوار الآتية:
الدور الأول: وهو عصر التشريع في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي عهد الخلفاء الراشدين.
الدور الثاني: الدور التأسيسي للفقه، ويشمل العمل الفقهي في العصر الأموي، والكلام على مدرسة الحجاز ومدرسة العراق.
الدور الثالث: دور النهضة الفقهية، وتأسيس المذاهب، وتدوين الحديث والفقه.
--------------------------------------------
...যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তা পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে} ১
… এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ।
এভাবেই ইসলাম মানুষের অন্তরাত্মার ভেতর থেকে তার শিক্ষার ওপর একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, যাতে একজন মুসলিম গভীর রাতেও সেগুলোর হিফাজত করে, যেমনভাবে সে দিনের আলোতে তা রক্ষা করে। আর বিচারিক ফয়সালায় অধিকার প্রমাণের বাহ্যিক প্রমাণাদি সেই অধিকারকে ততক্ষণ পর্যন্ত পাওনাদারের জন্য হালাল করে না, যতক্ষণ না বাস্তবে তা তার প্রকৃত পাওনা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হুজরার দরজায় একবার ঝগড়ার শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ মাত্র। আমার কাছে বিবাদমান পক্ষগুলো আসে, সম্ভবত তোমাদের কেউ অন্যজনের তুলনায় তার যুক্তিতে অধিক বাকপটু হতে পারে, ফলে আমি মনে করি যে সে সত্য বলেছে এবং সেই অনুযায়ী তার পক্ষে ফয়সালা দিয়ে দিই। অতএব, আমি যদি কারো পক্ষে কোনো মুসলিমের হকের ফয়সালা করে দিই, তবে তা আগুনের একটি টুকরো মাত্র; এখন সে তা গ্রহণ করুক বা বর্জন করুক।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
ইসলামী চিন্তাধারার ইতিহাসে শরীয়ত প্রণয়নের পর্যায় ও স্তরসমূহ:
ইসলামী চিন্তাধারার ইতিহাসে শরীয়ত ও ইসলামী ফিকহ-এর পর্যায়সমূহ বিভাজনের ক্ষেত্রে কিছু গবেষক এর উৎপত্তি, বিকাশ, শক্তি ও দুর্বলতার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। ফলে তারা শরীয়ত ও ফিকহ যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে সেগুলোকে নিম্নোক্ত স্তরসমূহে বিভক্ত করেন:
প্রথম পর্যায়: এটি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগের শরীয়ত প্রণয়নকাল।
দ্বিতীয় পর্যায়: ফিকহ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের পর্যায়। এটি উমাইয়া যুগের ফিকহী কার্যক্রম এবং হিজাযী ঘরানা ও ইরাকী ঘরানা সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় পর্যায়: ফিকহী জাগরণের পর্যায়, মাযহাবসমূহের প্রতিষ্ঠা এবং হাদীস ও ফিকহ সংকলনের যুগ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الدور الرابع: دور التقليد وسد باب الاجتهاد بعد أن استقرت المذاهب.
الدور الخامس: دور اليقظة الفقهية وحركة الإصلاح الديني في الوقت الحاضرلفتح باب الاجتهاد.
ويذهب آخرون في تقسيمهم إلى مراعاة الأحداث السياسية والاجتماعية التي كان لها أثر في الفقه الإسلامي، فيقسمونه إلى الأدوار الآتية:
1- عهد التشريع: من البعثة إلى وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم سنة 11 هـ.
2- الدور الفقهي الأول: الفقه في عصر الخلفاء الراشدين 11-40هـ.
3- الدور الفقهي الثاني: الفقه في عهد صغار الصحابة وكبار التابعين إلى أوائل القرن الثاني الهجري.
4- الدور الفقهي الثالث: الفقه من أوائل القرن الثاني إلى منتصف القرن الرابع.
5- الدور الفقهي الرابع: الفقه من منتصف القرن الرابع إلى سقوط بغداد سنة 656 هـ.
6- الدور الفقهي الخامس: من سقوط بغداد إلى الوقت الحاضر.
وقد آثرنا التقسيم الثاني دون التزام بتفاصيل الأحداث الجزئية مع مراعاة الاهتمام بالجانب الموضوعي وما يستحق من عناية.
চতুর্থ পর্যায়: মাযহাবগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অন্ধ অনুসরণ এবং ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার পর্যায়।
পঞ্চম পর্যায়: ইজতিহাদের দরজা খোলার জন্য বর্তমান সময়ে ফিকহী জাগরণ এবং ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের পর্যায়।
আবার কেউ কেউ তাদের বিভাজনে সেই সব রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলির প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন যেগুলোর ইসলামি ফিকহের ওপর প্রভাব ছিল; ফলে তারা একে নিম্নলিখিত পর্যায়গুলোতে বিভক্ত করেছেন:
১- আইন প্রণয়নের যুগ: নবুওয়াত লাভ থেকে ১১ হিজরি সনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল পর্যন্ত।
২- প্রথম ফিকহী পর্যায়: খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে ফিকহ (১১-৪০ হিজরি)।
৩- দ্বিতীয় ফিকহী পর্যায়: কনিষ্ঠ সাহাবী এবং জ্যেষ্ঠ তাবিঈগণের যুগে ফিকহ, দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত।
৪- তৃতীয় ফিকহী পর্যায়: দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ফিকহ।
৫- চতুর্থ ফিকহী পর্যায়: চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ৬৫৬ হিজরি সনে বাগদাদের পতন পর্যন্ত ফিকহ।
৬- পঞ্চম ফিকহী পর্যায়: বাগদাদের পতন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।
আমরা আংশিক ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণে আবদ্ধ না থেকে এবং বিষয়ভিত্তিক দিক ও প্রয়োজনীয় গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে দ্বিতীয় বিভাজনটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الأول: عصر التشريع
عصر التشريع من البعثة إلى وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم سنة 11هـ
حالة العرب والعالم عند البعثة وبيان المهمة التي جاء بها الإسلام…عصر التشريع "من البعثة إلى وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم سنة 11 هـ":
حالة العرب والعالم عند البعثة وبيان المهمة التي جاء بها الإسلام:
ساد العالم في القرن السادس الميلادي -قبيل البعثة- دولتان كبيرتان على مقربة من جزيرة العرب؛ إحداهما دولة الفرس في الشمال الشرقي، والأخرى دولة الروم في الشمال والغرب. ولكل دولة من هاتين الدولتين حضارة ذات ثقافة وقانون، ولها عقائد تدين بها.
ففي الفرس تعاقب الملوك الأكاسرة، الذين بسطوا نفوذهم على أجزاء العالم المحيطة بهم، وبنوا لأنفسهم حضارة سميت بالحضارة الفارسية، وكانت آخر دولة حكمت الفرس قبل الإسلام "الدولة الساسانية" التي استمرت في الحكم من سنة 226م إلى سنة 651م حين استولى عليها المسلمون.
واشتهر الفرس بميلهم إلى عبادة المظاهر الطبيعية، وكانت تعاليم "زرادشت" -الذي زعموه نبيا لهم- تقوم على أساس أن هناك نزاعا وتصادما بين القوى المختلفة: بين النور والظلمة، والخصب والجدب
… إلخ، وأن للعالم أصلين أو إلهين؛ أصل الخير، وأصل الشر، وهما في نزاع دائم، ولكل من هذين الأصلين قدرة الخلق، فأصل الخير هو النور، وقد خلق كل ما هو حسن وخير ونافع، كخلق الحيوانات النافعة، والطيور الجميلة، وأصل الشر هو الظلمة، وقد خلق كل ما هو شر في العالم، فخلق الحيوانات المفترسة والحيات والحشرات وما شابهها، ولكن الفوز النهائي لروح الخير، وترى الزردشتية أن للإنسان حياتين؛ حياة أولى في الدنيا وحياة أخرى بعد الموت، ونصيبه من حياته الآخرة نتيجة لأعماله في حياته الأولى، وأن يوم القيامة قريب، حين ينتصر إله الخير على إله الشر.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিধান প্রণয়নের যুগ
নবুওয়াত লাভ থেকে ১১ হিজরি সনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত বিধান প্রণয়নের যুগ
নবুওয়াত লাভের সময় আরব ও বিশ্বের অবস্থা এবং ইসলাম যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিল তার বর্ণনা...বিধান প্রণয়নের যুগ "নবুওয়াত লাভ থেকে ১১ হিজরি সনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত":
নবুওয়াত লাভের সময় আরব ও বিশ্বের অবস্থা এবং ইসলাম যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিল তার বর্ণনা:
ষষ্ঠ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে -নবুওয়াত লাভের ঠিক আগে- আরব উপদ্বীপের সন্নিকটে দুটি বড় রাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিল; একটি উত্তর-পূর্বে পারস্য রাষ্ট্র এবং অন্যটি উত্তর ও পশ্চিমে রোমান রাষ্ট্র। এই দুটি রাষ্ট্রের প্রত্যেকেরই নিজস্ব সংস্কৃতি ও আইন সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিল এবং তাদের নির্দিষ্ট বিশ্বাস ও ধর্ম ছিল যা তারা পালন করত।
পারস্যে একের পর এক কিসরা রাজবংশের রাজারা ক্ষমতায় আসতেন, যারা তাদের চারপাশের বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং নিজেদের জন্য একটি সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন যা পারস্য সভ্যতা নামে পরিচিত ছিল। ইসলামের আগে পারস্য শাসনকারী সর্বশেষ রাষ্ট্র ছিল "সাসানীয় রাষ্ট্র", যা ২২৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন অব্যাহত রেখেছিল, অবশেষে মুসলমানরা তা নিজেদের অধিকারে নিয়ে নেয়।
পারসিকরা প্রাকৃতিক শক্তির উপাসনার প্রতি তাদের ঝোঁকের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। "জরথুস্ট্র" -যাকে তারা তাদের নবী বলে দাবি করত- তার শিক্ষাগুলো বিভিন্ন শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল: যেমন আলো ও অন্ধকার, উর্বরতা ও অনূর্বরতা... ইত্যাদি। তাদের মতে বিশ্বের দুটি মূল উৎস বা উপাস্য রয়েছে; মঙ্গলের উৎস এবং অমঙ্গলের উৎস। তারা সর্বদা পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত এবং এই দুটি উৎসের প্রত্যেকেরই সৃষ্টির ক্ষমতা রয়েছে। মঙ্গলের উৎস হলো আলো, যা সুন্দর, কল্যাণকর ও উপকারী সবকিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন উপকারী পশু ও সুন্দর পাখি। আর অমঙ্গলের উৎস হলো অন্ধকার, যা বিশ্বের যাবতীয় মন্দ সৃষ্টি করেছে, ফলে তা হিংস্র প্রাণী, সাপ, পতঙ্গ এবং এই জাতীয় বস্তু সৃষ্টি করেছে। তবে চূড়ান্ত বিজয় হবে মঙ্গলের আত্মার। জরথুস্ট্রবাদ বিশ্বাস করে যে মানুষের দুটি জীবন রয়েছে; প্রথমটি এই পৃথিবীর জীবন এবং অপরটি মৃত্যুর পরের জীবন। পরকালের প্রাপ্তি তার ইহকালের কর্মফলের ওপর নির্ভরশীল এবং কিয়ামত দিবস নিকটবর্তী, যখন মঙ্গলের দেবতা অমঙ্গলের দেবতার ওপর বিজয়ী হবে।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
واتخذ الفرس النار رمزًا لآلهة الخير، يشعلونها في معابدهم، وينفحونها بأمدادهم حتى تقوى على آلهة الشر وتنتصر عليها.
ولم تخرج تعاليم "ماني" في المانوية التي شاع مذهبها عن تعاليم "زرادشت" إلا في القليل من آرائها. وحول سنة 487م ظهر في فارس "مزدك" ودعا إلى مذهب ثنوي جديد، فكان يقول أيضا بالنور والظلمة، ولكنه عرف بتعاليمه الاشتراكية، فكان يرى أن الناس ولدوا سواء فليعيشوا سواء، وأهم ما تجب فيه المساواة: المال والنساء.
قال الشهرستاني: "وكان "مزدك" ينهى الناس عن المخالفة والمباغضة والقتال، ولما كان أكثر ذلك إنما يقع بسبب النساء والأموال، فأحل النساء وأباح الأموال، وجعل الناس شركة فيها كاشتراكهم في الماء والكلأ والنار".
وكان للفرس قانون في عهد الدولة الساسانية، تضمن الكلام على الأحوال الشخصية كالزواج، وعلى الملكية، وعلى الرق، وبعض الشئون العامة.
أما دولة الروم التي كان يحكمها القياصرة، فقد قامت حضارتها على الفلسفة النظرية والجدل المنطقي "اليوناني" ثم "الروماني"، وتوارثت آراء سقراط وأفلاطون وأرسطو، وسيطرت على مناطق البحر الأبيض المتوسط، بما في ذلك الشام ومصر والمغرب، حيث كانت عقائد النصرانية على اختلاف مذاهبها، ولقد لجأت النصرانية إلى الفلسفة اليونانية؛ لتستعين بها على الجدل، ولتؤيد تعاليمها وعقائدها أمام الوثنيين، وكانت الإسكندرية هي المركز الجغرافي لمزج الدين بالفلسفة، وظهر فيها المذهب المعروف بـ "الأفلاطونية الحديثة"، وذلك منذ عام 200 م تقريبا. وظلت النصرانية منتشرة في الشام ومصر والمغرب والنوبة والحبشة والعراق. كما قام السريانيون بنشر الفلسفة اليونانية، واتخذوا لأنفسهم مدارس متعددة، كانت أهم مراكزها في الرها ونصيبين وحران، واهتموا بترجمة الكتب اليونانية بعقائدها الوثنية، وثقافتها المتشعبة إلى اللغة السريانية، بما في ذلك القانون الروماني، وعلوم الطب، والفلك، والفلسفة.
পারস্যবাসীগণ আগুনকে কল্যাণের উপাস্যদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তারা তাদের উপাসনালয়গুলোতে আগুন প্রজ্বলন করত এবং সেগুলোকে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাহায্য করত যাতে তা অকল্যাণের উপাস্যদের ওপর শক্তিশালী হতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারে।
মানুয়িয়া মতবাদে 'মানি'-এর শিক্ষাগুলো, যার মতবাদ বহুল প্রচারিত হয়েছিল, তা সামান্য কিছু দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত 'জারথুস্ট্র'-এর শিক্ষা থেকে বিচ্যুত ছিল না। এবং ৪৮৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে পারস্যে 'মাজদাক'-এর আবির্ভাব ঘটে এবং সে এক নতুন দ্বৈতবাদী মতবাদের দিকে আহ্বান জানায়। সেও আলো ও অন্ধকারের কথা বলত, তবে সে তার সমাজতান্ত্রিক শিক্ষার জন্য পরিচিত ছিল। সে মনে করত যে মানুষ যেহেতু সমানভাবে জন্মগ্রহণ করেছে, তাই তাদের সমানভাবে বেঁচে থাকা উচিত। আর যে বিষয়গুলোতে সমতা থাকা সবচেয়ে জরুরি তা হলো: সম্পদ এবং নারী।
আশ-শাহরাস্তানি বলেন: "মাজদাক মানুষকে মতবিরোধ, ঘৃণা এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে নিষেধ করত। আর যেহেতু এগুলোর অধিকাংশ বিষয়ই নারী ও সম্পদের কারণে ঘটে থাকে, তাই সে নারীদের সবার জন্য হালাল করে দিয়েছিল এবং সম্পদকে অবাধ করে দিয়েছিল। সে এগুলোতে মানুষকে অংশীদার করে দিয়েছিল যেমন পানি, ঘাস এবং আগুনের ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্ব থাকে।"
সাসানীয় সাম্রাজ্যের আমলে পারস্যবাসীদের একটি আইন ছিল, যাতে ব্যক্তিগত বিষয়াদি যেমন বিবাহ, মালিকানা, দাসত্ব এবং কিছু সাধারণ বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আর রোম সাম্রাজ্য যা কায়সারদের দ্বারা শাসিত হতো, তার সভ্যতা তাত্ত্বিক দর্শন এবং 'গ্রিক' ও পরবর্তীতে 'রোমান' যৌক্তিক বিতর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। এটি সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটলের মতাদর্শ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিল এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যার মধ্যে শাম, মিসর এবং মাগরিব অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে বিভিন্ন মতভেদে খ্রিস্টধর্মের বিশ্বাসসমূহ বিদ্যমান ছিল। খ্রিস্টধর্ম গ্রিক দর্শনের আশ্রয় নিয়েছিল; যাতে বিতর্কের ক্ষেত্রে তার সাহায্য নেওয়া যায় এবং মূর্তিপূজকদের সামনে নিজের শিক্ষা ও বিশ্বাসকে সমর্থন করা যায়। আলেকজান্দ্রিয়া ছিল ধর্ম ও দর্শনের সংমিশ্রণের ভৌগোলিক কেন্দ্র, এবং সেখানে আনুমানিক ২০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে 'নব্য-প্লেটোবাদ' নামে পরিচিত মতবাদটি আত্মপ্রকাশ করে। শাম, মিসর, মাগরিব, নুবিয়া, আবিসিনিয়া এবং ইরাকে খ্রিস্টধর্মের প্রচার অব্যাহত ছিল। একইভাবে সিরীয়রা গ্রিক দর্শন প্রচার করেছিল এবং নিজেদের জন্য অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল, যেগুলোর প্রধান কেন্দ্র ছিল রুহা, নিসিবিন এবং হাররান। তারা পৌত্তলিক বিশ্বাস ও বহুমুখী সংস্কৃতি সম্বলিত গ্রিক বইগুলোকে সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিল, যার মধ্যে রোমান আইন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা এবং দর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وبإزاء هذا كله، كانت بقايا اليهودية متناثرة في بعض الأماكن، بشمال الجزيرة العربية وفي داخلها بـ "يثرب"، ولهؤلاء كذلك عقائدهم وموروثاتهم الدينية.
وأما العرب فقد كان أكثرهم من البدو الرحل الذين يعيشون في الصحراء، يربطهم نظام القبيلة بأعرافه الاجتماعية، وعادته التقليدية، ويحكمهم رؤساء القبائل الذين يفصلون في الخصومات ولهم سلطة الأمر والنهي عليهم، ولم يخلُ نظام القبيلة من بعض النظم الاجتماعية التي كانت سائدة أنذاك، كنظام الأسرة في الزواج، والقصاص في القتل.
وأقام بعضهم في المدن كمكة، ويثرب، والطائف، وباشروا الزراعة، وامتهنوا بعض الصناعات، وهذا من شأنه أن يقيم قواعد للمعاملات المالية والعلاقات التجارية. وساعد على هذا أسواقهم الكبرى، واجتماعهم في الحج، واشتهرت قريش في مكة بالتجارة، وكان لها علاقة تجارية مستمرة بسوريا "الرومانية"، والعراق "الساساني"، وباليمن في رحلتي الشتاء والصيف.
ولم يكن العرب في معزل عن الثقافات المحيطة بهم، بل إن النزاع الدائم بين الفرس والروم أدى إلى استفادة كل من الجانبين بالعرب، حتى يكونوا ردءا لصد غارات البدو عليهم. فأسس الفرس إمارة الحيرة على نهر الفرات، وأمروا عليها عمرو بن عدي، كما كون الغساسنة إمارة لهم في الشام. وكان آخر ملوك الحيرة النعمان بن المنذر الخامس، زوج هند، وهو الملقب بأبي قابوس، وصاحب النابغة الذبياني، وقد غضب عليه كسرى فحبسه حتى مات حوالي سنة 602 م.
وكان آخر ملوك الغساسنة جبلة بن الأيهم سنة 614م، ولما فتح المسلمون الشام أسلم جبلة وقدم المدينة، وأحسن عمر نزله، ولكنه لطم رجلا من بني فزارة، فنابذه وطلب إلى عمر القصاص، فأخذته العزة بالإثم، فقال له عمر: لا بد أن أقيدك، فهرب إلى قيصر، ولم يزل بالقسطنطينية حتى مات سنة 20هـ.
وقد تأثر عرب الحيرة بثقافة الفرس، كما تأثر الغسانيون بثقافة اليونان والديانة الرومية، وهؤلاء وأولئك كانوا على صلة بالعرب في قلب الجزيرة العربية.
এসবের পাশাপাশি, ইয়াহুদি ধর্মের অবশিষ্টাংশ আরব উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলের কিছু স্থানে এবং এর অভ্যন্তরে "ইয়াসরিবে" ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তাদেরও নিজস্ব বিশ্বাস ও ধর্মীয় উত্তরাধিকার ছিল।
আরবদের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, তাদের অধিকাংশই ছিল যাযাবর বেদুইন যারা মরুভূমিতে বাস করত। গোত্রীয় ব্যবস্থা তাদের সামাজিক প্রথা ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির মাধ্যমে একে অপরের সাথে আবদ্ধ করে রাখত। গোত্রপ্রধানরা তাদের শাসন করতেন, যারা বিরোধ নিষ্পত্তি করতেন এবং যাদের আদেশ ও নিষেধ করার ক্ষমতা ছিল। তৎকালীন প্রচলিত কিছু সামাজিক ব্যবস্থা থেকেও গোত্রীয় ব্যবস্থা মুক্ত ছিল না, যেমন বিবাহের ক্ষেত্রে পারিবারিক ব্যবস্থা এবং হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ।
তাদের কেউ কেউ মক্কা, ইয়াসরিব এবং তায়েফের মতো শহরগুলোতে বসবাস করত। তারা কৃষি কাজ শুরু করেছিল এবং কিছু শিল্প পেশায় নিয়োজিত ছিল। এর ফলে আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাদের বিশাল বাজারসমূহ এবং হজের সময় তাদের একত্রিত হওয়া এক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। মক্কার কুরাইশরা ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল এবং "রোমান" সিরিয়া, "সাসানীয়" ইরাক এবং ইয়েমেনের সাথে শীত ও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মাধ্যমে তাদের নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।
আরবরা তাদের চারপাশের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না; বরং পারস্য ও রোমের মধ্যকার চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব উভয় পক্ষকে আরবদের দ্বারা উপকৃত হতে প্ররোচিত করেছিল, যাতে তারা বেদুইনদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে পারস্যরা ফোরাত নদীর তীরে হিরা আমিরাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমর ইবনে আদি-কে সেখানকার শাসক নিযুক্ত করে। তেমনিভাবে গাসসানিরা সিরিয়ায় নিজেদের জন্য একটি আমিরাত গঠন করে। হিরার শেষ রাজা ছিলেন নুমান ইবনে মুনজির আল-খামিস, যিনি হিন্দের স্বামী এবং আবু কাবুস উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। তিনি নাবিগা আজ-জুবইয়ানির বন্ধু বা পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। পারস্য সম্রাট খসরু তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে কারারুদ্ধ করেন এবং সেখানেই আনুমানিক ৬০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গাসসানিদের শেষ রাজা ছিলেন জাবালা ইবনুল আইহাম (৬১৪ খ্রিস্টাব্দ)। যখন মুসলমানরা সিরিয়া জয় করল, তখন জাবালা ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় আসলেন। উমর তাকে যথাযথ সমাদর করলেন। কিন্তু তিনি বনু ফাজারা গোত্রের এক ব্যক্তিকে চড় মারলেন। ওই ব্যক্তি এর বিরোধিতা করলেন এবং উমরের কাছে কিসাসের দাবি জানালেন। তখন জাবালা অহংকারবশত অন্যায়ের পথে পা বাড়ালেন। উমর তাকে বললেন: "অবশ্যই আমাকে তোমার ওপর কিসাস কার্যকর করতে হবে।" তখন তিনি কায়সারের কাছে পালিয়ে গেলেন এবং হিজরি ২০ সনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কনস্টান্টিনোপলে অবস্থান করেন।
হিরার আরবরা পারস্য সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল, ঠিক যেমন গাসসানিরা গ্রিক সংস্কৃতি ও রোমান ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিল। আর তারা সকলেই আরব উপদ্বীপের কেন্দ্রস্থলে বসবাসকারী আরবদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখত।
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وتسربت اليهودية إلى بلاد العرب، واتخذت لها معاقل في "تيماء" و"فدك" و"خيبر" و"يثرب" كما تسربت النصرانية واتخذت موطنها الأساسي في "نجران".
وهذه الأمور الثلاثة:
1- التجارة.
2- الإمارات على تخوم فارس والروم.
3- اليهودية والنصرانية.
كانت وسائل لنقل المدنيات المجاورة إلى العرب ونفاذ ثقافتها إليهم.
ومع أن العرب قد ورثوا شيئا من ملة إبراهيم وإسماعيل، فإن طبيعتهم الخشنة ظلت مستعصية أمام هذه العوامل؛ لغلبة الجهل، وانتشار الوثنية، يعيشون في تناحر وفوضى. يقول ابن خلدون فيهم:
"إن العرب لطبيعة التوحش الذي هم فيه أهل انتهاب وعبث، ينتهبون ما قدروا عليه من غير مغالبة ولا ركوب خطر، ويفرون إلى منتجعهم بالقفر
… وهم إذا تغلبوا على أوطان أسرع إليها الخراب؛ لأنهم أمة وحشية، فينقلون الحجر من المباني ويخربونها؛ لينصبوه أثافي للقدر، ويخربون السقف ليعمروا به خيامهم، ويتخذوا الأوتاد منه لبيوتهم، وليس عندهم من أخذ أموال حدٌّ ينتهون إليه
… وهم متنافسون في الرياسة، وقل أن يسلم واحد منهم الأمر لغيره ولو كان أباه أو أخاه أو كبير عشيرته إلا في الأقل، فيتعدد الحكام منهم والأمراء، وهم أصعب الأمم انقيادًا بعضهم لبعض؛ للغلظة، والأنفة، وبُعد الهمة، والمنافسة في الرياسة، فقلما تجتمع أهواؤهم.
من أجل ذلك لا يحصل لهم الملك إلا بصيغة دينية من نبوة، أو ولاية، أو أثر عظيم من الدين على الجملة".
ومع ذلك كله فقد كانت لهم تقاليد في مأكلهم ومشربهم وملبسهم، وفي
আরব ভূখণ্ডে ইহুদি ধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তারা 'তায়মা', 'ফাদাক', 'খায়বার' ও 'ইয়াসরিব'-এ নিজেদের দুর্গ গড়ে তোলে। একইভাবে খ্রিস্টধর্মেরও অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তারা 'নাজরান'-এ নিজেদের প্রধান আবাসস্থল গড়ে তোলে।
আর এই তিনটি বিষয়:
১- ব্যবসা-বাণিজ্য।
২- পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত আমিরাতসমূহ।
৩- ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম।
এগুলো ছিল পার্শ্ববর্তী সভ্যতাগুলোকে আরবদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার এবং তাদের মাঝে সেই সব সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের মাধ্যম।
যদিও আরবরা ইবরাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর দ্বীনের কিছু অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিল, কিন্তু মূর্খতার প্রাধান্য এবং মূর্তিপূজার প্রসারের কারণে তাদের রুক্ষ প্রকৃতি এই বিষয়গুলোর সামনে দুর্ভেদ্য হয়েই থেকে গিয়েছিল; তারা পারস্পরিক বিবাদ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করত। তাদের সম্পর্কে ইবনে খালদুন বলেন:
"নিশ্চয়ই আরবরা তাদের বন্য স্বভাবের কারণে লুণ্ঠন ও অহেতুক কাজে লিপ্ত জাতি। তারা কোনো প্রকার সম্মুখ যুদ্ধ বা বিপদের ঝুঁকি না নিয়ে যতটুকু সম্ভব লুটে নেয় এবং মরুভূমির নির্জন প্রান্তরে তাদের চারণভূমিতে পালিয়ে যায়
… তারা যখন কোনো জনপদের ওপর বিজয়ী হয়, তখন সেখানে দ্রুত ধ্বংস নেমে আসে; কারণ তারা একটি বন্য জাতি। তারা ভবনগুলো থেকে পাথর সরিয়ে নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে ফেলে, যাতে সেগুলো চুলার পাথর হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা ছাদগুলো ভেঙে ফেলে যাতে তা দিয়ে তাদের তাঁবু মেরামত করতে পারে এবং ঘরের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সম্পদ লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই যা তারা মেনে চলবে
… তারা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় মত্ত থাকে। তাদের কেউ খুব কমই অন্যের শাসন মেনে নেয়, এমনকি সে যদি তার বাবা, ভাই বা গোত্রপ্রধানও হয় তবুও খুব কম ক্ষেত্রেই তা ঘটে। ফলে তাদের মধ্যে শাসক ও আমিরের সংখ্যা অনেক হয়ে যায়। কর্কশতা, অহমিকা, উচ্চাভিলাষ এবং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে তারা একে অপরের আনুগত্য করার ক্ষেত্রে জাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন। ফলে তাদের প্রবৃত্তিগুলো খুব কমই এক বিন্দুতে মিলিত হয়।
এই কারণে নবুওয়াত, বেলায়েত কিংবা সামগ্রিকভাবে দ্বীনের কোনো মহান প্রভাবের ধর্মীয় রূপ ছাড়া তাদের রাজত্ব বা ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হয় না।"
এতসব সত্ত্বেও তাদের পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রীতিনীতির ক্ষেত্রে নিজস্ব ঐতিহ্য ছিল, এবং...
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نكاحهم وطلاقهم، وفي بيوعهم وسائر معاملاتهم، وكانت لهم محارم يحرمونها كالأمهات والبنات والأخوات، ولهم مزاجر في مظالمهم في مثل الجنايات والديات والقسامة وما شاكلها.
تلك هي حال العرب والعالم قبل البعثة، وهي حال يستطير شرها، ويتفاقم خطرها بما أورثته للإنسانية من استبداد وظلم وشقاء وفساد، وفي وسط هذا الجو الخانق القاتل لقيم الحياة الإنسانية ومطالبها الروحية انبعث من بطحاء مكة صوت قوي رهيب يقول: "لا إله إلا الله". كان ذلك الصوت الداوي صوت محمد صلى الله عليه وسلم الذي اختاره الله؛ ليهدي العقول الحائرة إلى نور الإيمان بالعقيدة الصحيحة، ويفتح لها مسالك العلم النافع، ويمنحها العدل الذي يحطم قيود العسف والجبروت، والحرية التي ترقى بمستوى الإنسانية، وتحفظ لها حقوقها، والمساواة التي تهب لكل فرد فرصة يستثمر فيها مواهبه لخير المجتمع وصالحه، فأنذر وبشَّر، وأعلن دعوته ربانية عالمية، تتخطى جبال الحجاز، وهضاب نجد، وسعة البحار والوهاد، وتتجاوز كل مهمه قفر؛ لتعلن على الملأ إنسانيتها، وتدعو البشرية على اختلاف أجناسها وألوانها للانضواء تحت لوائها:
{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} 1.
{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} 2.
فكانت رسالة الهدى والرحمة: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} 3.
--------------------------------------------
তাদের বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে, তাদের ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য যাবতীয় লেনদেনের ক্ষেত্রে। তাদের মাঝে কতিপয় নারী নিষিদ্ধ ছিল যাদেরকে তারা হারাম মনে করত, যেমন মা, কন্যা ও বোন। তাদের জুলুম-অত্যাচারের ক্ষেত্রেও কিছু দণ্ডবিধি ছিল, যেমন অপরাধের সাজা, রক্তপণ (দিয়াত), কাসামাহ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
নবুওয়াত লাভের পূর্বে আরব ও বিশ্বের অবস্থা এমনই ছিল। এটি এমন এক অবস্থা ছিল যার অনিষ্ট চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং যার বিপদ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল; যা মানবতাকে উপহার দিয়েছিল স্বৈরাচার, জুলুম, দুর্ভাগ্য এবং ফাসাদ। মানবিক জীবনের মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চাহিদাকে শ্বাসরোধকারী এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মাঝে মক্কার উপত্যকা থেকে এক শক্তিশালী ও গম্ভীর আওয়াজ ধ্বনিত হলো: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।" সেই বজ্রনির্ঘোষ আওয়াজটি ছিল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের, যাঁকে আল্লাহ মনোনীত করেছিলেন; যাতে তিনি বিভ্রান্ত জ্ঞানবুদ্ধিকে সঠিক আকিদাহর ওপর ঈমানের নূরের দিকে পথপ্রদর্শন করেন, তার জন্য উপকারী ইলমের পথ উন্মুক্ত করেন এবং তাকে এমন ইনসাফ দান করেন যা জুলুম ও স্বৈরাচারের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে, এমন স্বাধীনতা দান করেন যা মানবতার মানকে উন্নত করে এবং তার অধিকারসমূহ রক্ষা করে, আর এমন সাম্য দান করেন যা প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রতিভাকে সমাজের কল্যাণ ও মঙ্গলে বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দেয়। অতঃপর তিনি সতর্ক করলেন ও সুসংবাদ দিলেন এবং তাঁর রব্বানী ও বিশ্বজনীন দাওয়াত ঘোষণা করলেন, যা হিজাযের পাহাড়, নাজদের মালভূমি এবং সমুদ্র ও উপত্যকার প্রশস্ততাকে অতিক্রম করে গেল। এটি প্রতিটি জনমানবহীন প্রান্তর পাড়ি দিল; যাতে বিশ্ববাসীর কাছে এর মানবিকতা ঘোষণা করা যায় এবং বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতিকে এর পতাকাতলে আসার আহ্বান জানানো যায়:
{বলুন, হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল} ১।
{আর আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি} ২।
সুতরাং এটি ছিল হিদায়াত ও রহমতের রিসালাত: {হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং যা অন্তরে আছে তার নিরাময়, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত} ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
التشريع في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم:عرفنا فيما سبق أن الشريعة خاصة بما جاء عن الله تعالى:
{أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} 1. وذلك لا يكون إلا في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، حيث انقطع الوحي بوفاته، فالتشريع إما أن يكون وحيا إلهيا بالمعنى واللفظ، وذلك يتمثل في القرآن الكريم الذي أنزله الله على رسولنا محمد صلى الله عليه وسلم، وإما أن يكون وحيا إليها بالمعنى دون اللفظ، وذلك يتمثل في سنة رسول صلى الله عليه وسلم، فإن لفظ الحديث من كلامه، وإن كان معناه وحيًا؛ لقوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} 2. فالله وحده هو المشرع، ورسوله هو المبين لشرعه {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} 3. وقد أوجب الله طاعة رسوله؛ لأنها من طاعته {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّه} 4. وجعل حكمه عن إلهام منه {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} 5 فلا شرع إلا ما شرع الله أو ما شرع رسوله، ولهذا كان للتشريع الإسلامي مصدران أساسيان؛ الكتاب والسنة، وبانتهاء حياة الرسول صلى الله عليه وسلم انتهى عهد التشريع.
وقد بين حديث عائشة كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأن الرؤيا الصالحة كانت أول أمره، ثم حبب إليه الخلاء، حتى جاءه الملك وهو يتعبد في غار حراء؛ فعن عائشة أم المؤمنين أنها قالت: "أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء فيتنحث فيه -وهو التعبُّد- الليالي ذوات العدد قبل أن ينزع إلى أهله ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة لمثلها، حتى جاءه الحق وهو في غار حراء،
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় শরীয়ত প্রণয়ন:আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, শরীয়ত কেবল সেই বিষয়গুলোর জন্য নির্দিষ্ট যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে:
{তাদের কি এমন শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} ১। আর এটি কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই সম্ভব ছিল, যেখানে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে ওহী বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং শরীয়ত প্রণয়ন হয়তো শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকে ঐশী ওহী হবে, যা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় যা আল্লাহ আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল করেছেন, অথবা তা শব্দ ছাড়া কেবল অর্থের দিক থেকে ওহী হবে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়; কারণ হাদীসের শব্দ তাঁর নিজের কথা হলেও এর অর্থ হচ্ছে ওহী; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} ২। সুতরাং আল্লাহই একমাত্র বিধানদাতা, এবং তাঁর রাসূল হলেন তাঁর শরীয়তের ব্যাখ্যাকারী {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} ৩। আর আল্লাহ তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ওয়াজিব করেছেন; কারণ এটি তাঁরই আনুগত্য {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} ৪। এবং তাঁর ফয়সালাকে তাঁর পক্ষ থেকে ইলহামের অন্তর্ভুক্ত করেছেন {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার করতে পারেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী} ৫। সুতরাং আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন বা তাঁর রাসূল যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ছাড়া অন্য কোনো শরীয়ত নেই। আর এই কারণেই ইসলামী শরীয়ত প্রণয়নের দুটি মূল উৎস রয়েছে; কিতাব ও সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের পরিসমাপ্তির মাধ্যমে শরীয়ত প্রণয়নের যুগের অবসান ঘটেছে।
আয়েশা (রা.)-এর হাদীস বর্ণনা করেছে যে, কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী আসা শুরু হয়েছিল এবং সত্য স্বপ্ন ছিল তাঁর নবুওয়াতের প্রারম্ভিক অবস্থা। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল, এমনকি হেরা গুহায় ইবাদত করার সময় তাঁর কাছে ফেরেশতা আসলেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত না হতো। এরপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে কাটাতেন এবং সেখানে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে টানা কয়েক রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন —আর তা হলো উপাসনা করা— এবং এর জন্য পাথেয় নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি আবার খাদীজার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পুনরায় পাথেয় নিতেন। এভাবে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে সত্য আসলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فجاءه الملك، فقال: اقرأ. قال: "ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني، فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ، فأخذنى فغطنى الثانية حتى بلغ من الجهد، ثم أرسلني: فقال: اقرأ، فقلت: ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني الثالثة، ثم أرسلني، فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} 1 "، فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد رضي الله عنها، فقال: "زملوني، زملوني"، فزملوه حتى ذهب عنه الروع، فقال لخديجة وأخبرها الخبر: "لقد خشيت على نفسي"، فقالت خديجة: كلا والله ما يخزيك الله أبدا؛ إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق. فانطلقت به خديجة حتى أتت ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزي -ابن عم خديجة- وكان امرأ تنصر في الجاهلية، وكان يكتب الكتاب العبراني، فيكتب من الإنجيل بالعبرانية ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخا كبيرا قد عمي، فقالت له خديجة: يا ابن عم، اسمع من ابن أخيك، فقال له ورقة: يا ابن أخي، ماذا ترى؟ فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى، فقال له ورقة: هذا الناموس الذي أنزل الله على موسى، يا ليتني فيها جذعًا، ليتني أكون حيًّا إذ يخرجك قومك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أوَمخرجي هُمْ؟ " قال: نعم، لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلا عودي، وإن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزرا، ثم لم ينشب ورقة أن توفى وفتر الوحي"، والحديث مخرج في الصحيحين وغيرهما.
ووقع في تاريخ أحمد بن حنبل عن الشعبي أن مدة فِترة الوحي كانت ثلاث سنين، وبه جزم ابن اسحاق، وحكى البيهقي أن مدة الرؤيا كانت ستة أشهر، وعلى هذا فابتداء النبوة بالرؤيا وقع من شهر مولده وهو شهر ربيع الأول بعد إكماله أربعين سنة، وبدئ بذلك؛ ليكون تمهيدا وتوطئة لليقظة، ثم كان ابتداء وحي اليقظة في رمضان، قال ابن حجر في الفتح:
--------------------------------------------
তখন ফেরেশতা তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন: "পাঠ করুন।" তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "তখন তিনি আমাকে ধরে সজোরে আলিঙ্গন করলেন, এমনকি আমি চরম কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পাঠ করুন'। আমি বললাম: 'আমি পাঠ করতে জানি না'। তখন তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে ধরে আলিঙ্গন করলেন, এমনকি আমি চরম কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পাঠ করুন'। আমি বললাম: 'আমি পাঠ করতে জানি না'। তখন তিনি তৃতীয়বার আমাকে ধরে আলিঙ্গন করলেন, এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার পালনকর্তা পরম দয়ালু।}" ১। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই আয়াতগুলো নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ফিরে এলেন এবং খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" তাঁরা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর আতঙ্ক দূর হলো। অতঃপর তিনি খাদিজাকে সব ঘটনা জানালেন এবং বললেন: "আমি নিজের জীবনের ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।" খাদিজা বললেন: "কখনই নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। কারণ আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, রিক্তহস্তদের উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপতিত বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন।" এরপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফাল বিন আসাদ বিন আব্দুল উযযার নিকট গেলেন। তিনি জাহিলিয়াত যুগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিব্রু ভাষায় লিখতে পারতেন। তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুসারে ইঞ্জিল থেকে হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করে লিখতেন। তিনি তখন অতি বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: "হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।" ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ?" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা যা দেখেছিলেন সব বর্ণনা করলেন। ওয়ারাকা তাঁকে বললেন: "ইনি হলেন সেই পবিত্র বার্তাবাহক (জিবরীল), যাঁকে আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। হায়! আমি যদি সেই সময় যুবক থাকতাম। হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন আপনার কওম আপনাকে দেশ থেকে বের করে দেবে।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন: "তারা কি আমাকে বের করে দেবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে অতীতে যে ব্যক্তিই এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করব।" এরপর অল্প দিনের মধ্যেই ওয়ারাকা ইন্তেকাল করেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে পড়ে।" এই হাদিসটি বুখারী ও মুসলিম সহ অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
আহমদ বিন হাম্বলের ঐতিহাসিক বর্ণনায় শা'বী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ওহী বন্ধ থাকার সময়কাল ছিল তিন বছর। ইবনে ইসহাক এই মতটিই নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন। ইমাম বাইহাকী উল্লেখ করেছেন যে, স্বপ্নের মাধ্যমে ওহীর সময়কাল ছিল ছয় মাস। এর ভিত্তিতে নবুয়তের সূচনা স্বপ্নের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তাঁর জন্মের মাসে অর্থাৎ রবিউল আউয়াল মাসে, যখন তাঁর বয়স পূর্ণ চল্লিশ বছর হয়েছিল। আর স্বপ্নের মাধ্যমে সূচনা করা হয়েছিল জাগ্রত অবস্থার ওহীর জন্য প্রস্তুতি ও ভূমিকা হিসেবে। এরপর জাগ্রত অবস্থায় ওহীর সূচনা হয়েছিল রমজান মাসে। ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
"إذا علم أنه كان يجاور في غار حراء في شهر رمضان، وأن ابتداء الوحي جاءه وهو في الغار المذكور اقتضى ذلك أن نبيء في شهر رمضان".
ثم كان نزول سورة المدثر بعد فترة الوحي، وفي الصحيحين عن أبي سلمة عن جابر: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يحدث عن فترة الوحي، قال في حديثه: $"بينما أنا أمشي سمعت صوتا من السماء، فرفعت بصري فإذا الملك الذي جاءني بحراء جالس على كرسي بين السماء والأرض، فرعبت منه، فرجعت فقلت: زملوني زملوني، فدثروني، فأنزل الله تعالى {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ، قُمْ فَأَنْذِرْ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ، وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ، وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} 1". والمراد بزملوني: دثروني، وإلا يقتضي ذلك نزول {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّل} حينئذ؛ لأن نزولها تأخر عن نزول {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّر} بالاتفاق؛ لأن أول المدثر الأمر بالإنذار، وذلك في أول البعثة، أما أول المزمل فهو الأمر بقيام الليل وترتيل القرآن.
وقد جاء في القرآن الكريم ثلاث آيات بينات تتعلق بنزول القرآن:
الأولى في سورة البقرة: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآن} 2.
والثانية في سورة الدخان: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَة} 3.
والثالثة في سورة القدر: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْر} 4.
ولا يجد الإنسان تعارضا بين هذه الآيات، فالليلة المباركة هي ليلة القدر من شهر رمضان، وإنما يلتبس عليه التوفيق بين هذه الآيات والواقع التاريخي في نزول القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم منجما في أكثر من عشرين عاما فكيف تجتمع هذه الأعوام في شهر بل في ليلة؟!! وللعلماء في هذا التوفيق مذهبان5:
--------------------------------------------
যখন জানা গেল যে তিনি রমজান মাসে হেরা গুহায় অবস্থান করতেন এবং উক্ত গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট ওহীর সূচনা হয়েছিল, তখন এটি একথাই দাবি করে যে তিনি রমজান মাসেই নবী হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।
অতঃপর ওহী স্থগিত থাকার সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর সূরা আল-মুদ্দাসসির নাজিল হয়। সহীহাইন-এ আবু সালামা থেকে জাবিরের বর্ণনায় এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওহী স্থগিত থাকার সময়কাল সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন, তখন তিনি তাঁর হাদীসে বলেন: "একদা আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম হেরা গুহায় আমার নিকট আসা সেই ফেরেশতা আকাশ ও জমিনের মাঝে একটি আসনে বসে আছেন। আমি তাঁকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম এবং ফিরে এসে বললাম: আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তখন তাঁরা আমাকে বস্ত্রাবৃত করলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন; আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন; আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন} ১।" এখানে 'যাম্মিলুনি' (আমাকে বস্ত্রাবৃত করো) এর অর্থ হলো 'দাসসিরুনি' (আমাকে কম্বল দিয়ে ঢাকো); অন্যথায় তা সেই সময়েই {হে বস্ত্রাবৃত (আল-মুয্যাম্মিল)} নাজিল হওয়ার দাবি করত; অথচ সর্বসম্মতিক্রমে {হে বস্ত্রাবৃত (আল-মুয্যাম্মিল)} এর নাজিল হওয়া {হে বস্ত্রাবৃত (আল-মুদ্দাসসির)} এর নাজিল হওয়ার পরবর্তী সময়ের ঘটনা। কারণ, সূরা মুদ্দাসসিরের প্রথমাংশ হলো সতর্ক করার আদেশ, যা নবুওয়াতের একেবারে শুরুতে হয়েছিল। আর সূরা মুয্যাম্মিলের প্রথমাংশ হলো রাতে সালাতে দাঁড়ানো এবং তারতীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশ।
পবিত্র কুরআনে কুরআন নাজিল হওয়া সংক্রান্ত তিনটি সুস্পষ্ট আয়াত এসেছে:
প্রথমটি সূরা আল-বাকারায়: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে} ২।
দ্বিতীয়টি সূরা আদ-দুখানে: {নিশ্চয়ই আমি এটি এক বরকতময় রাতে নাজিল করেছি} ৩।
তৃতীয়টি সূরা আল-কদরে: {নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে নাজিল করেছি} ৪।
মানুষ এই আয়াতগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য খুঁজে পায় না। কারণ বরকতময় রাতটি হলো রমজান মাসেরই কদরের রাত। তবে এই আয়াতগুলোর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দীর্ঘ বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্যায়ক্রমে কুরআন নাজিল হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতার সমন্বয় করার ক্ষেত্রেই কেবল সংশয় তৈরি হতে পারে। এই এতগুলো বছর কীভাবে একটি মাসে, বরং একটি রাতে একত্রিত হতে পারে?!! এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আলেমদের দুটি মত রয়েছে ৫:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তারীখুত তাশরীউল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أما المذهب الأول ويتزعمه ابن عباس فيرى أن القرآن نزل جملة واحدة من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة من السماء الدنيا، في ليلة القدر من شهر رمضان، ثم نزل ذلك مفرقا على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفق الحوادث والمقتضيات مدة البعثة، وعلى هذا فلا تنافي بين الآيات والواقع، فالآيات أخبرت عن نزول القرآن جملة، ولم تخبر عن نزوله تفصيلا، فعن ابن عباس وغيره "أنزل الله القرآن جملة واحدة من اللوح المحفوظ إلى بيت العزة من السماء الدنيا، ثم نزل مفصلا بحسب الوقائع في ثلاث وعشرين سنة على رسول الله صلى الله عليه وسلم".
أما المذهب الثاني ويتزعمه الشعبي، فيرى أن أول ما بدئ به الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما كان في شهر رمضان في الليلة المباركة "ليلة القدر"، ثم نزل القرآن الكريم تباعا على رسول الله صلى الله عليه وسلم بقية حياته. وعلى هذا فالآيات الثلاث أخبرت عن بدء نزول القرآن لا عن نزوله كله. ولا يتعارض هذا المعنى مع الواقع.
وأنت ترى من خلال هذين المذهبين أن مذهب ابن عباس لا يعطي لشهر رمضان مزية خاصة ذات صلة مباشرة بالأمة المحمدية؛ إذ كان المراد نزول القرآن إلى السماء الدنيا لا على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلا تظهر منة الله على هذه الأمة في شهر رمضان بهذا الفضل، والأقرب في ظهور المنة والفضل ما ذهب إليه الشعبي من بدء النزول في رمضان في ليلة القدر1، وقد ذهب ابن إسحاق إلى أنها ليلة السابع عشر من الشهر، وأشار القرآن الكريم إلى ذلك في قوله تعالى: {إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ} 2. والمراد بيوم التقاء الجمعين يوم التقاء المسلمين والمشركين ببدر، وهو يوم الجمعة 17 رمضان من السنة الثانية للهجرة، ويوم الفرقان هو اليوم الذي ابتدأ فيه نزول القرآن، وهما متحدان في الوصف، ويوافقان 17 رمضان وإن لم
--------------------------------------------
প্রথম মতটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ইবনে আব্বাস, সেটি হলো—কুরআন রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের বাইতুল ইজ্জতে একসাথে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর নবুওয়াতের সময়কালে বিভিন্ন ঘটনা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর তা খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়। সুতরাং এই মত অনুযায়ী আয়াতসমূহ এবং বাস্তবতার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ আয়াতগুলো কুরআনের সামগ্রিক অবতরণ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে, বিস্তারিত অবতরণ সম্পর্কে নয়। ইবনে আব্বাস ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের বাইতুল ইজ্জতে একসাথে কুরআন নাজিল করেছেন, এরপর তেইশ বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী তা বিস্তারিতভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন।"
দ্বিতীয় মতটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন শাবী, সেটি হলো—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার শুরুটা ছিল রমজান মাসের বরকতময় রাত ‘লাইলাতুল কদরে’। এরপর তাঁর জীবনের অবশিষ্ট সময়ে পবিত্র কুরআন ধারাবাহিকভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতে থাকে। এই মত অনুযায়ী, তিনটি আয়াত কুরআন অবতরণের শুরু সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে, পুরোটা একযোগে অবতরণ সম্পর্কে নয়। আর এই অর্থের সাথে বাস্তবতার কোনো বিরোধ নেই।
আপনি এই দুটি মতের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন যে, ইবনে আব্বাসের মত অনুযায়ী উম্মতে মুহাম্মদীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রমজান মাসের কোনো বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পায় না; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার আসমানে কুরআন অবতরণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নয়। ফলে এই শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে রমজান মাসে এই উম্মতের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে না। বরং অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে শাবীর মতটিই অধিকতর নিকটবর্তী, যা হলো—রমজানের লাইলাতুল কদরে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সূচনা হয়েছে।১ ইবনে ইসহাক অভিমত দিয়েছেন যে, এটি ছিল মাসের সতেরোতম রাত। পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছে: "যদি তোমরা আল্লাহর ওপর এবং সেই বিষয়ের ওপর ঈমান এনে থাকো যা আমি আমার বান্দার ওপর ফয়সালার দিনে (ইয়াওমুল ফুরকান) নাজিল করেছি, যেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল।"২। ‘দুই দল মুখোমুখি হওয়ার দিন’ বলতে বদর প্রান্তরে মুসলিম ও মুশরিকদের মুখোমুখি হওয়ার দিনকে বোঝানো হয়েছে, আর তা ছিল হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের ১৭ই রমজান শুক্রবার। আর ‘ফয়সালার দিন’ হলো সেই দিন যেদিন কুরআন অবতরণ শুরু হয়েছিল। এই উভয় বর্ণনা একই বৈশিষ্ট্যে একীভূত এবং ১৭ই রমজানের সাথে সংগতিপূর্ণ, যদিও...
--------------------------------------------