(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
جلباب المرأة المسلمة في الكتاب والسنة القسم: الفقه العام
الكتاب: جلباب المرأة المسلمة
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: دار السلام للنشر والتوزيع
الطبعة: الثالثة، 1423هـ -2002 م
عدد الصفحات: 260
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিম নারীর জিলবাব বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: মুসলিম নারীর জিলবাব
লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, ইবনুল হাজ নূহ ইবনে নাজাতি ইবনে আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানি (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুস সালাম প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৩ হিজরি -২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
باب المقدمات:
مقدمة الطبعة الجديدة:إن الحمد لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد؛ فهذه هي الطبعة الجديدة لكتابي "حجاب المرأة المسلمة في الكتاب والسنة"، وهي تختلف عن سابقاتها بزيادات مهمة في جوانب عديدة، أهمها تلك الزيادة في الأحادث وآثار السلف الدالة على أن وجه المرأة وكفيها ليس بعورة، فمثلًا هناك زيادة خمسة أحاديث "من صفحة 70 – 72"، حيث أصبح عدد الأدلة ثلاثة عشر دليلًا بدلًا من ثمانية أدلة في الطبعات السابقة، وكذلك أضفنا في هذه الطبعة عددًا من أهم الآثار السلفية الدالة على ذلك، يجدها القارئ "في صفحة 96 – 103"
وأهم من ذلك كله تلك الصفحات التي ألحقناها بـ "ص 51 – 53" وبينا فيها دقة نظر ابن عباس ومن تبعه من الصحابة والمفسرين في تأويل قوله
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকা পরিচ্ছেদ:
নতুন সংস্করণের ভূমিকা:যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শনকারী নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।
এরপর, এটি আমার ‘হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ’ গ্রন্থের নতুন সংস্করণ। এটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনের কারণে আলাদা। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সব হাদিস এবং সালাফদের (سلف) আসার (آثار) এর সংযোজন, যা প্রমাণ করে যে নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত দুই হাত আওরাত (عورة) নয়। উদাহরণস্বরূপ, সেখানে পাঁচটি হাদিস বৃদ্ধি করা হয়েছে (৭০-৭২ পৃষ্ঠা); ফলে দলিলসমূহের (أدلة) সংখ্যা পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর আটটি দলিলের পরিবর্তে বর্তমানে তেরোটিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে আমরা এই সংস্করণে এ বিষয়ের ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সালাফদের (سلف) আসার (آثار) যুক্ত করেছি, যা পাঠক ৯৬-১০৩ পৃষ্ঠায় পাবেন।
আর এ সবের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই পৃষ্ঠাগুলো যা আমরা ৫১-৫৩ পৃষ্ঠার সাথে যুক্ত করেছি এবং সেখানে আমরা ইবনে আব্বাস ও তাঁর অনুসারী সাহাবী (صحابة) ও মুফাসসিরদের (مفسرين) দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্মতা বর্ণনা করেছি আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদানের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعالى: {إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} ، وأن المراد الوجه والكفان، والمعنى: إلا ما ظهر عادة بإذن الشارع وأمره. فلا يرد حينئذ الاعتراض أو الإشكال الذي كنت أوردته على تفسير ابن جرير والقرطبي هناك، فراجعه فإنه مهم جدًّا، وفيه بيان أن الفضل في التنبه لهذا يعود إلى الحافظ ابن القطان الفاسي في كتابه الجامع النظر في أحكام النظر، وذلك من بركة الاستمرار في البحث وطلب العلم للوصول إلى الحق مما اختلف فيه الخلق.
وهناك زيادة تحت عنوان "فائدة مهمَّة" "ص144 – 117" حول خطورة استخدام الخادمات الكافرات في بيوت المسلمين.
وكذلك الزيادة من "ص 121 – 123" حول بعض ألوان ثوب المرأة، والتي قد تعتقد بعض النساء أنها من الزينة، وهي ليست كذلك، والأدلة عليها
…بالإضافة إلى العديد من الزيادات المعلولة والمختصرة، يجدها القارئ مبثوثة في مواقع مختلفة، حسبما يقتضيه البحث والتدقيق العلمي.
ومن ناحية أخرى؛ فإن هناك فقرات كانت في الطبعات السابقة في الهامش، فرأينا في هذه الطبعة أن تنقل إلى المتن؛ لأهميتها وضرورة إبرازها؛ كالمادة الموجودة من صفحة "74 – 79" تحت عنوان: "إبطال دعوى أن هذه الأدلة كلها كانت قبل فرضية الحجاب"، بالإضافة إلى فقرات متفرقة نقلت من الهامش إلى المتن حسبما رأينا أن المصلحة تقتضي ذلك.
هذا، وقد شرعت منذ مدة ليست بالقصيرة –ربما قاربت السنتين- بكتابة مقدمة لهذه الطبعة الجديدة، اضطرت من خلالها أن
মহান আল্লাহ বলেন: {তা থেকে যা প্রকাশ পায় তা ব্যতীত}, এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখমণ্ডল ও দুই কবজি পর্যন্ত হাত। এর অর্থ হলো: শারিয়াত প্রণেতার (الشارع) অনুমতি ও নির্দেশে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত। সেক্ষেত্রে ইবনে জারির ও আল-কুরতুবির তাফসিরের উপর আমি সেখানে যে আপত্তি বা সংশয় উত্থাপন করেছিলাম তা আর প্রযোজ্য হবে না। অতএব বিষয়টি পুনরায় দেখে নিন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে এটিও স্পষ্ট হয় যে, এ বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার কৃতিত্ব হাফিজ (الحافظ) ইবনুল কাত্তান আল-ফাসির, যা তাঁর 'জামিউন নজর ফি আহকামিন নজর' গ্রন্থে রয়েছে। এটি মূলত সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা ও ইলম অন্বেষণের বরকত, যে বিষয়ে সৃষ্টির মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।
মুসলিমদের ঘরে অমুসলিম পরিচারিকা ব্যবহারের ভয়াবহতা সম্পর্কে "একটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা" শিরোনামে ১১৪–১১৭ পৃষ্ঠায় একটি সংযোজন রয়েছে।
অনুরূপভাবে ১২১–১২৩ পৃষ্ঠায় নারীর পোশাকের কিছু রঙের ব্যাপারে সংযোজন করা হয়েছে, যা কোনো কোনো নারী সৌন্দর্য মনে করতে পারেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়, এবং এর সপক্ষে দলিলসমূহ
…এছাড়াও অনেক ত্রুটিযুক্ত (المعلولة) ও সংক্ষিপ্ত সংযোজন রয়েছে, যা পাঠক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সূক্ষ্ম যাচাইয়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকতে দেখবেন।
অন্যদিকে, পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে এমন কিছু অনুচ্ছেদ ছিল যা টীকায় ছিল, আমরা এই সংস্করণে সেগুলোকে মূল পাঠের (المتن) অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি; সেগুলোর গুরুত্ব ও প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তার কারণে। যেমন ৭৪–৭৯ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান বিষয়টি, যার শিরোনাম: "এই সমস্ত দলিল হিজাব ফরজ হওয়ার আগের—এ দাবির অসারতা প্রমাণ"। এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অনুচ্ছেদ টীকা থেকে মূল পাঠে (المتن) স্থানান্তর করা হয়েছে যেক্ষেত্রে আমরা মনে করেছি যে জনস্বার্থ বা উপযোগিতা এটি দাবি করে।
আমি বেশ কিছুকাল আগে থেকে—সম্ভবত প্রায় দুই বছর হবে—এই নতুন সংস্করণের জন্য একটি ভূমিকা লেখা শুরু করেছি, যার মাধ্যমে আমি বাধ্য হয়েছি যে...
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أتعرَّض لبعض الذين تناولوا كتابي هذا –أو بالأحرى قولي بأن وجه المرأة وكفيها ليسا بعورة- تناولوا بالنقد غير العلمي، والمصحوب بالتجريح كأني أنتصر لهذا الرأي متَّبعًا فيه هواي، ولا سلف لي فيه! فبدأت باستعراض أدلتهم وردودهم، وتتبع أقوالهم وشبهاتهم واحدة واحدة غالبًا، كما عُنيتُ بالرد على الشيخ التويجري عناية خاصة في كتابه: "الصارم المشهور"؛ لأنه كبيرهم في ذلك ومن أسبقهم! وأحيانًا أرد عليهم ردًّا عامًّا، وهذا حينما يكون الدليل واضحًا لا لبس فيه ولا غموض.... وهكذا، حتى وجدتني قد تجمع عندي ما يزيد على مائة صفحة بخط يدي من الحجم الكبير، أي أنه لو أتممته ونسقته؛ لقارب حجمه هذا الكتاب –الأصل- أو يزيد، مما جعل أمر إلحاق هذا الذي تجمع تحت اسم مقدمة الطبعة الجديدة لهذا الكتاب أمرًا غير مناسب من جوانب عديدة، منها أن حجمه سيزيد إلى الضعف، ومنها –وهو الأهم- تلك البحوث المتخصصة النادرة التي تناولتها بالبحث، فرأيت بعد نظر وتفكير أن أفصل هذا الذي كتبته عن هذه المقدمة، وأن أخرجه كتابًا مستقلًا؛ ليكون بيانًا للناس، ولعله –إن شاء الله- يكون هكذا أنفع لهم، وأسهل تداولًا، وسميته:
"الرَّد المفحم على من خالف العلماء وتشدد وتعصب، وألزم المرأة أن تستر وجهها وكفيها وأوجب، ولم يقنع بقولهم: إنه سنة ومستحب".
ولكن يبدو لي أنه لا بد هنا من أن أحصر أهم أخطاء المخالفين المتشددين بالقدر المستطاع من الإيجاز، فأقول:
أولًا: فسَّروا الإدناء في آية الجلابيب الآتية بتغطية الوجه، وهو
আমি ঐসব ব্যক্তিদের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি যারা আমার এই কিতাবটিকে—অথবা আরও স্পষ্টভাবে বললে, নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত সতর (عورة) নয় বলে আমার যে অভিমত—তাকে অবৈজ্ঞানিক সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। সেই সাথে তারা এমনভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন যেন আমি নিজের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে এই মতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি এবং এক্ষেত্রে আমার কোনো পূর্বসূরি (سلف) নেই! তাই আমি তাদের পেশ করা দলিল (دليل) ও উত্তরগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি এবং তাদের বক্তব্য ও সংশয়গুলো (شبهات) অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে একে অনুসরণ করেছি। বিশেষভাবে আমি শাইখ তুওয়াইজিরির 'আস-সারিমুল মাশহুর' কিতাবে করা আপত্তির জবাব দিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি; কারণ এ বিষয়ে তিনি তাদের মধ্যে প্রধান এবং অগ্রগামীদের অন্যতম। কখনও কখনও আমি তাদের সাধারণ উত্তর দিয়েছি, আর এটি তখন যখন দলিল (دليل) একদম স্পষ্ট থাকে এবং তাতে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা থাকে না... এভাবেই চলতে চলতে আমি দেখলাম যে, আমার হাতে লেখা বড় আকারের একশত পৃষ্ঠারও বেশি জমা হয়ে গেছে। অর্থাৎ, আমি যদি এটি পূর্ণ করতাম ও বিন্যস্ত করতাম, তবে এর কলেবর এই মূল কিতাবের আয়তনের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি হয়ে যেত। ফলে সংগৃহীত এই অংশটুকুকে কিতাবের নতুন সংস্করণের ভূমিকা হিসেবে যুক্ত করা বিভিন্ন দিক থেকে অনুপযুক্ত মনে হয়েছে। এর একটি কারণ হলো এর আকার দ্বিগুণ হয়ে যেত; আর দ্বিতীয়টি—যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তাহলো এতে আমি কিছু বিরল ও বিশেষায়িত গবেষণা নিয়ে আলোচনা করেছি। তাই গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমার এই লেখাকে এই ভূমিকা থেকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে প্রকাশ করব; যাতে এটি মানুষের জন্য একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে গণ্য হয় এবং ইনশাআল্লাহ এটি তাদের জন্য অধিক উপকারী ও সহজলভ্য হয়। আমি এর নাম রেখেছি:
"আর-রাদ্দুল মুফহিম আলা মান খালাফাল উলামা ওয়া তাশাদ্দাদা ওয়া তাআসসাবা, ওয়া আলযামাল মারা’তা আন তাসতুরা ওয়াজহাহা ওয়া কাফফাইহা ওয়া আওজাবা, ওয়া লাম ইয়াকনা বি-কাউলিহিম: ইন্নাহু সুন্নাতুন ওয়া মুস্তাহাব্ব" (আলেমদের বিরোধিতাকারী, কঠোরতা অবলম্বনকারী ও গোঁড়ামিপূর্ণ ব্যক্তিদের দাঁতভাঙা জবাব, যারা নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত ঢাকা ওয়াজিব (أوجب) সাব্যস্ত করেছে এবং এটি যে সুন্নাত (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحب) সেই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি)।
তবে আমার মনে হয়, এখানে কঠোরপন্থী বিরোধীদের প্রধান ভুলগুলো যতটুকু সম্ভব সংক্ষেপে তুলে ধরা প্রয়োজন। আমি বলছি:
প্রথমত: তারা নিম্নোক্ত জিলবাবের আয়াতে বর্ণিত 'ইদনা' (কাছে টেনে নেয়া) শব্দটির ব্যাখ্যা মুখমণ্ডল ঢাকা হিসেবে করেছেন, যা...
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
خلاف أصل هذه الكلمة في اللغة، وهو: التقرب؛ كما في كتب اللغة، وكما أفاده العلامة الراغب الأصبهاني في المفردات، ثم قال:
ويقال: دانيت بين الأمرين: أدنيت أحدهما من الآخر.
ثم ذكر الآية، ويكفي في ذلك حجة أن ابن عباس ترجمان القرآن فسرها بذلك، فقال:
تدني الجلباب إلى وجهها، ولا تضرب به؛ أي: لا تستره.
وسيأتى تخريجه قريبًا، وأن ما احتجوا به مما ينافيه؛ لا يصح عنه.
ثانيًا: فسّروا الجلباب بأنه الثوب الذي يغطي الوجه، ولا أصل له في اللغة أيضًا، بل هو ينافي تفسير العلماء بأنه الثوب الذي تلقيه المرأة على خمارها، ولم يقولوا: على وجهها، حتى الشيخ التويجري نفسه حكي هذا التفسير عن ابن مسعود رضي الله عنه وغيره من السلف، وهو الذي كنت ذكرته في الكتاب كما سيأتي ص83.
ثالثا: أصروا جميعًا على أن الخمار غطاء الرأس والوجه! فزادوا تفسيره الوجه من عند أنفسهم؛ ليجعلوا آية: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} حجة لهم، وهي عليهم؛ لأن الخمار لغة غطاء الرأس فقط، وهو المراد كلما جاء ذكره مطلقًا في السنة؛ كأحاديث المسح على الخمار وقوله صلى الله عليه وسلم:
"لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار" 1.
--------------------------------------------
এটি এই শব্দের ভাষাতাত্ত্বিক মূলের পরিপন্থী, যা হলো: নৈকট্য লাভ; যেমনটি অভিধানের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং আল্লামা রাগিব আল-আসফাহানি তার 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন:
এবং বলা হয়: আমি বিষয় দুটির মাঝে নৈকট্য বজায় রেখেছি; অর্থাৎ একটিকে অপরটির নিকটবর্তী করেছি।
অতঃপর তিনি আয়াতটি উল্লেখ করেন। আর এক্ষেত্রে এই প্রমাণটুকুই যথেষ্ট যে, কুরআনের মুখপাত্র ইবনে আব্বাস এর ব্যাখ্যা এভাবেই করেছেন। তিনি বলেছেন:
সে জিলবাব তার চেহারার নিকটবর্তী করবে, কিন্তু তা দিয়ে আবৃত করবে না; অর্থাৎ: তা ঢাকবে না।
শীঘ্রই এর উদ্ধৃতি বিশ্লেষণ (تخريج) আসবে। আর তারা এর বিপরীতে যা দিয়ে দলিল পেশ করে, তা তাঁর থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত নয়।
দ্বিতীয়ত: তারা জিলবাবের ব্যাখ্যা করেছেন এমন পোশাক হিসেবে যা চেহারা ঢেকে রাখে, ভাষাতত্ত্বে এরও কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটি আলেমদের করা সেই ব্যাখ্যার পরিপন্থী যেখানে বলা হয়েছে যে, জিলবাব হলো এমন পোশাক যা নারী তার ওড়নার ওপর পরিধান করে; তারা 'চেহারার ওপর' বলেননি। এমনকি শায়খ তুওয়াইজরি নিজেও ইবনে মাসউদ (রা.) এবং অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে এই ব্যাখ্যাটি বর্ণনা করেছেন, যা আমি কিতাবে উল্লেখ করেছি, যেমনটি ৮৩ পৃষ্ঠায় আসবে।
তৃতীয়ত: তারা সবাই এ বিষয়ে অনড় যে, ওড়না হলো মাথা ও চেহারা ঢাকার আবরণ! ফলে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যায় 'চেহারা' শব্দটি যুক্ত করেছেন; যাতে তারা ‘তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে’ আয়াতটিকে নিজেদের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। অথচ এটি তাদের বিপক্ষেই প্রমাণ; কারণ ভাষাগতভাবে ওড়না কেবল মাথা ঢাকার আবরণকে বোঝায়। সুন্নাহর যেখানেই এটি শর্তহীনভাবে (مطلق) এসেছে, সেখানেই এটিই উদ্দেশ্য; যেমন ওড়নার ওপর মাসাহ করার হাদিসসমূহ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী:
"আল্লাহ কোনো ঋতুমতী নারীর সালাত কবুল করেন না ওড়না ব্যতীত।" 1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بل هذا الحديث يؤكد بطلان تفسيرهم؛ لأن المتشددين أنفسهم –فضلًا عن أهل العلم- لا يستدلون به على شرطية ستر المرأة لوجهها في الصلاة، وإنما الرأس فقط: {فَاسْأَلُوهُمْ إِنْ كَانُوا يَنْطِقُونَ} .
ويزيده تأكيدًا تفسيرُهم لقوله تعالى في آية "القواعد": {أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ} بالجلباب، فقالوا: فيجوز للقاعدة أن تظهر أمام الأجانب بخمارها كاشفة وجهها، صرح بذلك أحد فضلائهم، أما الشيخ التويجري؛ فيشير إلى ذلك ولا يفصح! كما هو مشروح في موضعه من "الرد المفحم".
وقد تتبعت أقوال العلماء سلفًا وخلفًا في كل الاختصاصات، فرأيتهم أجمعوا على أن الخمار غطاء الرأس، وسميت ثمة أكثر من عشرين عالِمًا، وفيهم بعض الأئمة والحفاظ، ومنهم أبو الوليد الباجي المتوفى "474 هـ"، وزاد هذا في البيان، فقال جزاه الله خيرا:
"ولا يظهر منها غير دور وجهها".
رابعا: ادعى الشيخ التويجري الإجماع على أن وجه المرأة عورة، وقلده في ذلك كثير ممن لا علم عنده وفيهم بعض الدكاترة! وهي دعوى باطلة، لم يسبقه أحد إليها، وكتب الحنابلة التي تفقه عليها –فضلًا عن غيرها- كافية للدلالة على بطلانها، وقد ذكرت هناك في الرد كثيرًا من عباراتهم؛ مثل عبارة ابن هبيرة الحنبلي في كتابه الإفصاح، وفيها أن مذهب الأئمة الثلاثة أنه ليس بعورة؛ قال:
"وهو رواية عن الإمام أحمد".
وقد رجح هذه الرواية كثير من الحنابلة في مصنفاتهم كابْني قدامة
বরং এই হাদিসটি তাদের ব্যাখ্যার অসারতাকেই নিশ্চিত করে; কারণ আলেমগণ তো বটেই, খোদ চরমপন্থীরাও এটি দিয়ে সালাতে নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করার আবশ্যকতা প্রমাণ করেন না, বরং শুধুমাত্র মাথার ক্ষেত্রে দলিল পেশ করেন: {সুতরাং তাদেরকেই জিজ্ঞেস করুন, যদি তারা কথা বলতে পারে}।
এর সাথে আরও নিশ্চিতভাবে যুক্ত হয় 'আল-কাওয়াইদ' (বৃদ্ধা নারী) সংক্রান্ত আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের বহির্বাস খুলে রাখে}—এর ব্যাখ্যায় তাদের বক্তব্য। তারা বলেছেন: বৃদ্ধা নারীর জন্য তার ওড়না (খিমার) পরিহিত অবস্থায় মুখমণ্ডল খোলা রেখে পরপুরুষের সামনে আসা বৈধ। তাদেরই একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; তবে শায়খ তুওয়াইজরি এদিকে ইঙ্গিত দিলেও স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি! যেমনটি 'আল-রদ্দ আল-মუფহিম' গ্রন্থে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল শাস্ত্রের আলেমদের বক্তব্য অনুসন্ধান করেছি এবং দেখেছি যে, তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, 'খিমার' হলো মাথার আচ্ছাদন। সেখানে আমি বিশ জনেরও বেশি আলেমের নাম উল্লেখ করেছি, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইমাম এবং হাফেজ (حافظ) রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ৪৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি। তিনি এর বর্ণনায় আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন:
"এবং তার (নারীর) মুখমণ্ডলের পরিধি ব্যতীত অন্য কিছু প্রকাশ পাবে না।"
চতুর্থত: শায়খ তুওয়াইজরি দাবি করেছেন যে, নারীর মুখমণ্ডল 'আওরাত' হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে, আর জ্ঞানহীন বহু লোক এবং তাদের মধ্যে কিছু ডক্টরেট ডিগ্রিধারীও এ ক্ষেত্রে তার অন্ধ অনুসরণ করেছেন! অথচ এটি একটি অসার দাবি, তার আগে আর কেউ এমন দাবি করেননি। তিনি যে হাম্বলি কিতাবগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফিকহ অর্জন করেছেন—অন্যান্যগুলোর কথা বাদ দিলেও—সেগুলোই এর অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। আমি সেখানে 'আর-রদ্দ' গ্রন্থে তাদের অনেক উক্তি উল্লেখ করেছি; যেমন ইবনে হুবাইরা আল-হাম্বলির 'আল-ইফসাহ' গ্রন্থের বক্তব্য, যেখানে বলা হয়েছে যে, তিন ইমামের মাযহাব মতে এটি 'আওরাত' নয়; তিনি বলেছেন:
"এবং এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।"
এবং বহু হাম্বলি আলেম তাদের গ্রন্থসমূহে এই বর্ণনা (رواية)-টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যেমন দুই ইবনে কুদামা।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وغيرهما، ووجه ذلك صاحب المغني بقوله:
"لأنَّ الحاجة تدعو إلى كشف الوجه للبيع والشراء، والكفين للأخذ والإعطاء".
ومنهم العلامة ابن مفلح الحنبلي الذي قال فيه ابن قيِّم الجوزية:
"ما تحت قبة الفلك أعلم بمذهب الإمام أحمد من ابن مُفلح".
وقال له شيخه ابن تيمية:
"ما أنت ابن مفلح، بل أنت مفلح".
وهنا أرى لزامًا عليّ أن أبادر إلى نقل كلام هذا المفلح إلى القرّاء؛ لما فيه من العلم والفوائد العديدة، التي منها تأكيد بطلان دعوى الشيخ التويجري، ومنها موافقة كلامه رحمه الله ومن ذُكِرَ معه من العلماء الأعلام لصحة ما اخترته في هذه المسألة سابقًا ولاحقًا.
قال في كتابه القيم "الآداب الشرعية" –وهو من مراجع الشيخ التويجري، الأمر الذي يدل على أنه على علم به، ولكنه يكتم الحقائق العلمية عن قراء كتابه، ثم يدعي خلافها! - قال المفلح رحمه الله:
هل يسوغ الإنكار على النساء الأجانب إذا كشفن وجوههن في الطريق؟
ينبني "الجواب" على أن المرأة هل يجب عليها ستر وجهها، أو يجب غض النظر عنها؟
في المسألة قولان:
এবং তাঁরা দু’জন ব্যতীত আরও অনেকে; আর 'আল-মুগনি'র রচয়িতা এর কারণ দর্শিয়ে বলেছেন:
"কেননা ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনে মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখা এবং আদান-প্রদানের প্রয়োজনে উভয় হাতের কবজি পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখার আবশ্যকতা দেখা দেয়।"
তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বলি, যাঁর সম্পর্কে ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেছেন:
"আকাশের নিচে ইমাম আহমাদ-এর মাযহাব সম্পর্কে ইবনে মুফলিহের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কেউ নেই।"
তাঁর উস্তাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁকে বলতেন:
"তুমি তো কেবল ইবনে মুফলিহ (মুফলিহের পুত্র) নও, বরং তুমি নিজেই সফলকাম (مفلح)।"
আর এখানে আমি এই 'মুফলিহ'-এর কথা পাঠকদের নিকট পৌঁছে দেওয়া আমার জন্য আবশ্যক মনে করছি; কারণ এতে প্রচুর ইলম ও নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো শেখ তুওয়াইজরির দাবির অসারতা নিশ্চিত করা এবং তাঁর ও তাঁর সাথে উল্লিখিত বরেণ্য আলেমদের বক্তব্যের সাথে এই মাসআলায় আমার পূর্বাপর গৃহীত সিদ্ধান্তের সঠিকতা (صحة) মিলে যাওয়া।
তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ'-তে বলেছেন—যা শেখ তুওয়াইজরির অন্যতম তথ্যসূত্র, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর কিতাবের পাঠকদের কাছে ইলমি সত্য গোপন করেছেন এবং পরে তার বিপরীত দাবি করেছেন!—ইবনে মুফলিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
পরনারীগণ রাস্তায় চলাচলের সময় মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখলে তাদের কি নিষেধ করা সংগত?
এই 'জবাব' মূলত এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে যে, নারীর জন্য মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা কি ওয়াজিব (واجب), নাকি পুরুষের জন্য দৃষ্টি অবনত রাখা ওয়াজিব (واجب)?
এ মাসআলায় দুটি অভিমত রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال القاضي عياض في حديث جرير رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نظر الفجأة؟ فأمرني أن أصرف بصري. رواه مسلم1:
"قال العلماء رحمهم الله تعالى:
وفي هذا حُجَّة على أنه لا يجب على المرأة أن تستر وجهها في طريقها، وإنما ذلك سنة مستحبة لها، ويجب على الرجل غض البصر عنها في جميع الأحوال؛ إلا لغرض شرعي. ذكره الشيخ محيي الدين النووي ولم يزد عليه".
ثم ذكر المفلح قول ابن تيمية الذي يعتمد عليه التويجري في كتابه: "ص170" ويتجاهل أقوال جمهور العلماء، وقول القاضي عياض، وموافقة النووي عليه، ثم قال المفلح:
فعلى هذا؛ هل يشرع الإنكار؟ ينبني على الإنكار في مسائل الخلاف، وقد تقدم الخلاف فيه.
فأما على قولنا وقول جماعة من الشافعية وغيرهم: أن النظر إلى الأجنبية جائز من غير شهوة ولا خلوة؛ فلا ينبغي الإنكار".
قلت: وهذا الجواب يلتقي تمامًا مع قول الإمام أحمد، رحمه الله ورضي عنه:
"لا ينبغي للفقيه أن يحمل الناس على مذهبه"2.
--------------------------------------------
কাজি আইয়াজ হজরত জারির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে বলেন, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আকস্মিক দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ১:
"উলামায়ে কেরাম (রহ.) বলেছেন:
এতে এই মর্মে প্রমাণ (حجة) রয়েছে যে, পথচলার সময় নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করা ওয়াজিব (واجب) নয়, বরং এটি তার জন্য একটি মুস্তাহাব (مستحبة) সুন্নাত (سنة)। আর পুরুষদের জন্য সর্বাবস্থায় তাদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা ওয়াজিব (واجب); কেবল শরয়ি প্রয়োজন ছাড়া। এটি শায়খ মহিউদ্দিন নববী উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর অতিরিক্ত কিছু বলেননি।"
অতঃপর ইবনুল মুফলিহ ইবনে তাইমিয়াহ-র সেই বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যার ওপর তুওয়াইজরি তাঁর বইয়ের ১৭০ পৃষ্ঠায় নির্ভর করেছেন এবং জমহুর (جمهور) উলামাদের বক্তব্য, কাজি আইয়াজের উক্তি ও তাঁর প্রতি নববীর ঐকমত্যকে উপেক্ষা করেছেন। এরপর ইবনুল মুফলিহ বলেন:
অতএব, এর ভিত্তিতে; (এর বিরোধিতা করা কি) প্রতিবাদযোগ্য (الإنكار) হবে? এটি মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাগুলোতে আপত্তির বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে এবং এ বিষয়ে মতভেদ (الخلاف) ইতিপূর্বেও অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর আমাদের মত এবং শাফেয়ি মাজহাবের একদল ও অন্যদের অভিমত অনুযায়ী: লালসা ও নির্জনতা ছাড়া পরনারীর দিকে তাকানো জায়েজ (جائز); ফলে এ ক্ষেত্রে প্রতিবাদ (الإنكار) জানানো উচিত নয়।"
আমি বলি: এই উত্তরটি ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর বাণীর সাথে হুবহু মিলে যায়:
"কোনো ফকিহ (فقيه)-এর জন্য উচিত নয় মানুষকে নিজের মাজহাব মানতে বাধ্য করা।" ২.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
قلت: وهذا لو كان الحق معه؛ فكيف إذا كان مبطلًا مكابرًا مضللًا، إن لم نقل: مكفِّرًا؟! فقد قال التويجري في كتابه: "ص 249":
"ومن أباح السفور للنساء يعني به سفور الوجه فقط، واستدلَّ على ذلك بمثل ما استدل به الألباني؛ فقد فتح باب التبرج على مصراعيه، وجرّأ النساء على ارتكاب الأفعال الذميمة التي تفعلها السافرات الآن"!
وفي مكان آخر "ص233": "إلى الإلحاد في آيات الله! ".
كذا قال أصلحه الله وهداه؛ فماذا يقول في ابن المفلح والنووي والقاضي عياض وغيرهم من المقدسيين ومن سبقهم من الجمهور الذين هم سلفي فيما ذهبت إليه؟!
خامسًا: اتفاق التويجري ومن معه من المتشددين على تأويل الأحاديث الصحيحة حتى لا تتعارض مع رأيهم! كما فعلوا بحديث الخثعمية، وقد تلونوا في إبطال دلالته على وجوه مضحكة مبكية، رَدَدْتُها هناك، وأحدها سيأتي في الكتاب "ص 64" مع إبطاله، ومع ذلك فلا تزال طائفة منهم يصرون عليه، وهو زعمهم أنها كانت محرمة! وهم يعلمون أن إحرامها لا يمنعها من السدل على وجهها! والتويجري يسلم تارة بأنها كانت سافرة، ولكنه يعطل دلالته بقوله:
"ليس في دليل على أنها كانت مستديمة لكشفه"!
يريد أن الريح كشفت عن وجهها، وفي هذه اللحظة رآه الفضل بن العباس!!
আমি বলছি: এটি তখনই হতো যদি সত্য তার সাথে থাকত; তবে কেমন হবে যখন সে বাতিলপন্থী (مبطل), একগুঁয়ে (مكابر) এবং বিভ্রান্তকারী (مضلل), এমনকি যদি আমরা কাফির সাব্যস্তকারী (مكفر) না-ও বলি?! তুওয়াইজিরি তার বইয়ের ২৪৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
"আর যারা নারীদের জন্য পর্দা উন্মোচনকে (سفور) বৈধ করেছেন—এর দ্বারা কেবল মুখমণ্ডল উন্মোচনই বুঝায়—এবং এর সপক্ষে আলবানি যে ধরনের দলীল পেশ করেছেন সেরূপ দলীল পেশ করেছেন; তিনি তো বেপর্দা হওয়ার (تبرج) দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং নারীদেরকে সেই সব নিন্দনীয় কাজ করতে সাহসী করে তুলেছেন যা বর্তমানের পর্দা উন্মোচনকারী (سافرات) নারীরা করছে!"
অন্য স্থানে ২৩৩ পৃষ্ঠায়: "আল্লাহর আয়াতসমূহের ব্যাপারে বিচ্যুতি (إلحاد) ঘটানোর দিকে!"
তিনি এমনটাই বলেছেন, আল্লাহ তাকে সংশোধন করুন ও হেদায়েত দিন; তবে তিনি ইবনে মুফলিহ, নববী, কাজী আয়াজ এবং মাকদিসিদের মধ্য থেকে অন্যান্যদের ব্যাপারে এবং তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমদের ব্যাপারে কী বলবেন, যারা আমার গৃহীত মতের ক্ষেত্রে আমার পূর্বসূরি (سلف) ছিলেন?!
পঞ্চম: তুওয়াইজিরি এবং তার সাথে থাকা চরমপন্থীদের সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা (تأويل) করার ব্যাপারে একমত হওয়া যাতে তা তাদের মতের বিরোধী না হয়! যেমনটি তারা খাসআমিয়া গোত্রের নারীর হাদিসের ক্ষেত্রে করেছে। তারা এই হাদিসের প্রমাণিকতাকে (دلالة) বাতিল করার জন্য এমন সব হাস্যকর ও বেদনাদায়ক পথ অবলম্বন করেছে যা আমি সেখানে খণ্ডন করেছি এবং এর মধ্যে একটি এই বইয়ের ৬৪ পৃষ্ঠায় আসবে তার অসারতা বর্ণনাসহ। তবুও তাদের একটি দল এর ওপর অবিচল রয়েছে এবং তা হলো তাদের এই দাবি যে তিনি ইহরাম (إحرام) অবস্থায় ছিলেন! অথচ তারা জানে যে তার ইহরাম অবস্থায় থাকা তাকে চেহারার ওপর কাপড় ঝুলিয়ে (سدل) দিতে বাধা দেয় না! তুওয়াইজিরি কখনও স্বীকার করেন যে তিনি পর্দা উন্মোচনকারী (سافرة) ছিলেন, কিন্তু তিনি এটি বলে তার প্রমাণিকতাকে (دلالة) অকার্যকর করে দেন যে:
"এতে কোনো প্রমাণ নেই যে তিনি নিয়মিতভাবে তা উন্মুক্ত রাখতেন!"
তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে বাতাস তার মুখমণ্ডল থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছিল এবং সেই মুহূর্তে ফজল ইবনুল আব্বাস তাকে দেখেছিলেন!!
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فهل يقول هذا عربي يقرأ في الحديث: "فأخذ الفضل ينظر يلتفت إليها، وفي الرواية الأخرى: "فطفق ينظر إليها وأعجبه حسنها"؟!
أليست هذه مكابرة ولها قرنان بارزان؟!
وتارة يؤوله بالنظر إلى قدِّها وقوامها!!
إلى غير ذلك من التأويلات الباطلة التي بينا بطلانها مع ذكر أحاديث أخرى تأولوها على هذا النحو، رددناها هناك.
سادسًا: تواطؤهم على الاستدلال بالأحاديث الضعيفة والآثار الواهية؛ كحديث ابن عباس في الكشف عن العين الواحدة، مع علمهم بصعفة المبين في الكتاب "ص 88" ضمن الجواب عنه، بل قد ضعفه أحدهم.
إلى غير ذلك من الأحاديث التي فصلت القول بضعفها هناك، ومن أهمها حديث:
"أفعمياوان أنتما؟! ".
فقد تتابعوا على تقويته تقليدًا للتويجري، وهذا لغيره، وعلى الاحتجاج به على تحريم نظر المرأة إلى الرجل ولو كان أعمى! مع أنه ضعيف عند المحققين من الحفاظ كالإمام أحمد والبيهقي وابن عبد البر، ونقل القرطبي أنه لا يصح عند أهل الحديث، وعلى ذلك جرى كثير من الحنابلة من المقادسة وغيرهم، وهو الذي يقتضيه علم الحديث وأصوله؛ كما هو مبين في "الإرواء" "6/ 210".
হাদীস পাঠকারী কোনো আরব কি এমনটি বলতে পারেন: "অতঃপর ফাদল তার দিকে তাকাতে ও এদিক-ওদিক তাকাতে লাগলেন; এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: 'তিনি তার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং তার সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল'"?!
এটি কি এক প্রকার একগুঁয়েমি নয় যার সুস্পষ্ট লক্ষণ বিদ্যমান?!
আর কখনও তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) করেন তার দেহসৌষ্ঠব ও শারীরিক গঠনের দিকে তাকানোর মাধ্যমে!!
এ জাতীয় আরও অনেক বাতিল ব্যাখ্যা (التأويلات الباطلة) রয়েছে যেগুলোর অসারতা আমরা সেখানে অন্যান্য হাদিসের উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছি যেগুলোকে তারা এভাবে ব্যাখ্যা (تأولوها) করেছিল, আমরা সেগুলো সেখানে খণ্ডন করেছি।
ষষ্ঠত: দুর্বল (الضعيفة) হাদিস এবং অসার (الواهية) আছার (الآثار) এর মাধ্যমে দলিল প্রদানের (الاستدلال) ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া; যেমন এক চোখ খোলা রাখার ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের হাদিসটি। অথচ তারা কিতাবের ৮৮ পৃষ্ঠায় এর উত্তরের প্রেক্ষিতে এর স্পষ্ট দুর্বলতা (ضعفه) সম্পর্কে অবগত ছিলেন, বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে দুর্বল (ضعفه) বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া আরও অনেক হাদিস রয়েছে যেগুলোর দুর্বলতা (ضعفها) সম্পর্কে আমি সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাদিস হলো:
"তোমরা কি দুজনেই অন্ধ?!"
তারা তুওয়াইজিরীর অনুকরণ (تقليداً) করে একে শক্তিশালী (تقويته) সাব্যস্ত করতে পরস্পরকে অনুসরণ করেছেন। তারা এর মাধ্যমে নারীর পুরুষের প্রতি তাকানো হারাম হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ (الاحتجاج) করেন, এমনকি সেই পুরুষ অন্ধ হলেও! অথচ ইমাম আহমাদ, বায়হাকী এবং ইবনে আবদুল বার-এর মতো হাফেজদের (الحفاظ) মধ্যে যারা গবেষক (المحققين) তাদের নিকট এটি দুর্বল (ضعيف)। কুরতুবী বর্ণনা করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণের (أهل الحديث) নিকট এটি সহিহ নয় (لا يصح)। মাকদাসী ও অন্যান্য অনেক হাম্বলী ফকীহগণ এই মতের ওপর চলেছেন। আর ইলমে হাদিস ও এর মূলনীতিই (أصوله) এটি দাবি করে; যেমনটি 'ইরওয়া' গ্রন্থের ৬/২১০ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومع ذلك كله تجرأ الشيخ عبد القادر السندي –مسايرة منه للشيخ التويجري وغيره- فزعم أن إسناده صحيح! ففضح بذلك نفسه، وكشف به عن جهله أو تجاهله –للأسف- لأن فيه مجهولًا لم يروِ عنه غير واحد، مع مخالفته لأولئك الأعلام، وقد جاء في تأييد زعمه –على خلاف ما عهدناه عنه- بالعجب العجاب من التدليس والتضليل والتقليد وكتم العلم والإعراض عن قواعده مما لا يخطر في بال أحد، وهذا كلُّه مشروح هناك في نحو أربع صفحات كبار، ومن ذلك تجاهله أنه معارض لحديث فاطمة بنت قيس، وإذنه لها بالنزول في دار ابن أم مكتوم الأعمى، وهى ستراه حتمًا، وعلل ذلك صلى الله عليه وسلم بقوله لها:
"فإنك إذا وضعت خمارك؛ لم يرك".
وفي رواية للطبراني عنها قالت:
"وأمرني أن أكون عند ابن أم مكتوم؛ فإنه مكفوف البصر، لا يراني حين أخلع خماري".
وثمة أحاديث أخرى واهية حشرها التويجري في كتابه، وقد ذكرت هناك على سبيل المثال عشرًا منها، وفيها بعض الموضوعات!
سابعًا: تهافتهم على تضعيف بعض الأحاديث الصحيحة والآثار الثابتة عن الصحابة، وتجاهلهم الطرق المقوية لها، أو تضعيفها من بعضهم تضعيفًا شديدًا؛ كحديث عائشة في المرأة إذا بلغت: "لم يصلح أن يُرَى منها إلا وجهها وكفَّاها"؛ فقد أصروا على الاستمرار في تضعيفه؛ يقلد الجاهل فيهم من لا علم عنده! مخالفين في ذلك من قواه من حفاظ الحديث
ومع ذلك كله تجرأ الشيخ عبد القادر السندي –مسايرة منه للشيخ التويجري وغيره- فزعم أن إسناده صحيح! ففضح بذلك نفسه، وكشف به عن جهله أو تجاهله –للأسف- لأن فيه مجهولًا لم يروِ عنه غير واحد، مع مخالفته لأولئك الأعلام، وقد جاء في تأييد زعمه –على خلاف ما عهدناه عنه- بالعجب العجاب من التدليس والتضليل والتقليد وكتم العلم والإعراض عن قواعده مما لا يخطر في بال أحد، وهذا كلُّه مشروح هناك في نحو أربع صفحات كبار، ومن ذلك تجاهله أنه معارض لحديث فاطمة بنت قيس، وإذنه لها بالنزول في دار ابن أم مكتوم الأعمى، وهى ستراه حتمًا، وعلل ذلك صلى الله عليه وسلم بقوله لها:
এতসব সত্ত্বেও শায়খ আব্দুল কাদির আল-সিন্দি — শায়খ আল-তুয়াইজিরি ও অন্যদের অনুকরণ করতে গিয়ে — ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এর সূত্র (إسناد) সহিহ (صحيح)! এর মাধ্যমে তিনি নিজেকেই লজ্জিত করেছেন এবং এর দ্বারা নিজের অজ্ঞতা অথবা ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা — দুর্ভাগ্যবশত — প্রকাশ করে দিয়েছেন। কারণ এর মধ্যে একজন অজ্ঞাত (مجهول) বর্ণনাকারী রয়েছেন যার থেকে মাত্র একজন ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি; পাশাপাশি এটি সেই মহান ইমামদের মতের পরিপন্থী। তাঁর এই দাবিকে সমর্থন করতে গিয়ে তিনি — আমরা তাঁর কাছ থেকে যা ইতিপূর্বে দেখেছি তার বিপরীতে — তাদালিস (تدليس), বিভ্রান্তি সৃষ্টি, তাকলিদ (تقليد), ইলম গোপন করা এবং এর মূলনীতিসমূহ থেকে বিমুখ হওয়ার মতো এমন সব আশ্চর্যজনক ও নজিরবিহীন কর্মকাণ্ড করেছেন যা কারও কল্পনাতেও আসবে না। এই সব কিছু সেখানে প্রায় চার বড় পৃষ্ঠাজুড়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর সেই উপেক্ষাও শামিল যে, এটি ফাতিমা বিনতে কায়সের হাদিসের বিরোধী; যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতুমের ঘরে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি (ফাতিমা) নিশ্চিতভাবেই তাকে দেখবেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কাছে এর কারণ দর্শিয়ে বলেছিলেন:
"فإنك إذا وضعت خمارك؛ لم يرك".
"কেননা তুমি যখন তোমার মাথার কাপড় সরিয়ে রাখবে, তখন সে তোমাকে দেখবে না।"
وفي رواية للطبراني عنها قالت:
তাবারানির একটি বর্ণনায় তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
"وأمرني أن أكون عند ابن أم مكتوم؛ فإنه مكفوف البصر، لا يراني حين أخلع خماري".
"তিনি আমাকে ইবনে উম্মে মাকতুমের কাছে থাকার নির্দেশ দিলেন; কারণ তিনি দৃষ্টিহীন, আমি আমার মাথার কাপড় খুললে তিনি আমাকে দেখতে পাবেন না।"
وثمة أحاديث أخرى واهية حشرها التويجري في كتابه، وقد ذكرت هناك على سبيل المثال عشرًا منها، وفيها بعض الموضوعات!
আল-তুয়াইজিরি তাঁর বইয়ে আরও কিছু অত্যন্ত দুর্বল (واهية) হাদিস জড়ো করেছেন, আমি সেখানে উদাহরণস্বরূপ দশটি হাদিস উল্লেখ করেছি যার মধ্যে কিছু জাল (موضوعات) বর্ণনাও রয়েছে!
سابعًا: تهافتهم على تضعيف بعض الأحاديث الصحيحة والآثار الثابتة عن الصحابة، وتجاهلهم الطرق المقوية لها، أو تضعيفها من بعضهم تضعيفًا شديدًا؛ كحديث عائشة في المرأة إذا بلغت: "لم يصلح أن يُرَى منها إلا وجهها وكفَّاها"؛ فقد أصروا على الاستمرار في تضعيفه؛ يقلد الجاهل فيهم من لا علم عنده! مخالفين في ذلك من قواه من حفاظ الحديث
সপ্তমত: কিছু সহিহ (صحيحة) হাদিস এবং সাহাবীগণের থেকে প্রমাণিত (ثابتة) আসার (آثار)-কে দুর্বল আখ্যা দেওয়ার (تضعيف) ব্যাপারে তাদের তাড়াহুড়ো, এবং সেগুলোকে শক্তিশালীকারী অন্যান্য সূত্রগুলোকে উপেক্ষা করা, অথবা তাদের কারো পক্ষ থেকে সেগুলোকে কঠোরভাবে দুর্বল আখ্যা দেওয়া (تضعيف); যেমন সাবালিকা হওয়ার পর নারী সংক্রান্ত আয়েশার হাদিসটি: "তার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত অন্য কিছু দেখা যাওয়া বৈধ নয়।" তারা এটিকে দুর্বল আখ্যা দেওয়া (تضعيف)-র ওপর অবিচল রয়েছে; তাদের মধ্যে যে অজ্ঞ সে এমন ব্যক্তির তাকলিদ করে যার কোনো জ্ঞান নেই! এর মাধ্যমে তারা সেই হাদিস হাফিজ (حفاظ)-গণের বিরোধিতা করছেন যারা এই হাদিসটিকে শক্তিশালী সাব্যস্ত (تقوية) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كالبيهقي والذهبي؛ كما كنت ذكرت ذلك عنهما في الكتاب كما سيأتي "ص 57 – 59"، وتجاهل أكثرهم طرقه، ومنهم بعض الأفاضل، بل صرح التويجري "ص 236" أنه لم يأت إلا من حديث عائشة، وقد رأى بعينه في الموضع المشار إليه من الكتاب طريقين آخرين: أحدهما: عن أسماء بنت عميس، والآخر: عن قتادة مرسلًا بسند صحيح عنه. وقلده في ذلك كثير من المقلدة، وفيهم بعض النسوة كمؤلفة ما سمته: "حجابك أختي المسلمة" ص33، كما تجاهلوا تقوية من ذكرنا من الحفاظ وغيرهم كالمنذري والزيلعي والعسقلاني والشوكاني، وتنطع بعضهم ممن يظهر نفسه أنه من العارفين بهذا العلم الشريف –وفي مقدمتهم الشيخ السندي- فادعوا شدة ضعف بعض رواته؛ لكي يفروا من قاعدة تقوية الضعيف بمثله؛ موهمين ومدلسين على القراء أنه لا موثق لهم، ولا يستشهد بهم، ومنهم عبد الله بن لَهيعة؛ مخالفين في ذلك طريقة علماء الحديث في الاستشهاد به، ومنهم الإمام أحمد وابن تيمية رحمة الله عليهما، كما تجاهلوا جميعًا أن العلماء، ومنهم الإمام الشافعي يقوون الحديث المرسل إذا عمل به أكثر العلماء، وقد عملوا بهذا الحديث كما تقدم، ويأتى في الكتاب، يضاف إلى ذلك مقويات أخرى:
الأول: أنه رُوِيَ عن قتادة بسنده عن عائشة.
الثاني: أنه جاء من طريق أخرى عن أسماء.
الثالث: أنه عمل به هؤلاء الرواة الثلاثة:
أما قتادة؛ فقد قال في تفسير آية الإدناء: "أخذ الله عليهنَّ أن
যেমন বায়হাকি এবং যাহাবি; যেমনটি আমি কিতাবে তাঁদের থেকে উল্লেখ করেছি যা সামনে আসবে (পৃষ্ঠা ৫৭-৫৯)। তাঁদের অধিকাংশ এর সূত্রসমূহকে (طرق) উপেক্ষা করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিও রয়েছেন। এমনকি আল-তুওয়াইজারি (পৃষ্ঠা ২৩৬) স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে এটি আয়েশা (রা.)-এর হাদিস ব্যতীত আর কোনো সূত্রে আসেনি; অথচ তিনি কিতাবের নির্দেশিত স্থানে নিজের চোখে আরও দুটি সূত্র (طريقين) দেখেছিলেন: একটি আসমা বিনতে উমাইস থেকে, এবং অন্যটি কাতাদাহ থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسلًا) হিসেবে, তাঁর থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদে (بسند)। অনেক মুকাল্লিদ এই বিষয়ে তাঁকে অনুকরণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে কিছু নারীও রয়েছেন যেমন "হিজাবুকি উখতি আল-মুসলিমা" নামক বইয়ের লেখিকা (পৃষ্ঠা ৩৩)। তদ্রূপ তাঁরা আমাদের উল্লিখিত হাফেজগণ (الحفاظ) এবং অন্যান্য আলেম যেমন আল-মুনজিরি, আল-জাইলায়ি, আল-আসকালানি এবং আল-শাওকানি কর্তৃক হাদিসটিকে শক্তিশালী সাব্যস্ত করাকেও উপেক্ষা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ যারা নিজেদেরকে এই মহান শাস্ত্রের অভিজ্ঞ হিসেবে জাহির করেন—যাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন শেখ সিন্ধি—তাঁরা চরমপন্থা অবলম্বন করেছেন এবং এর কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (رواته) তীব্র দুর্বলতার (شدة ضعف) দাবি করেছেন; যাতে তাঁরা দুর্বল (الضعيف) হাদিসকে তার সমপর্যায়ের বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী করার মূলনীতি থেকে এড়িয়ে যেতে পারেন। তাঁরা পাঠকদের নিকট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং তথ্য গোপন (مدلسين) করে বোঝাতে চেয়েছেন যে তাঁদের কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই এবং তাঁদের দ্বারা প্রমাণ পেশ (يستشهد) করা যায় না। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া অন্যতম; এক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের (الاستشهاد) বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম আহমাদ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুমুল্লাহ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যেমন তাঁরা সকলে এটিও উপেক্ষা করেছেন যে উলামায়ে কেরাম, যাঁদের মধ্যে ইমাম শাফেঈও রয়েছেন, বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিসকে শক্তিশালী গণ্য করেন যখন অধিকাংশ আলেম সেই অনুযায়ী আমল করেন। আর এই হাদিস অনুযায়ী তাঁরা আমল করেছেন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কিতাবে সামনে আসবে; এর সাথে আরও কিছু শক্তিশালীকারী বিষয় যুক্ত রয়েছে:
প্রথমত: এটি কাতাদাহ থেকে তাঁর সনদে (بسنده) আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এটি আসমা (রা.)-এর সূত্রে অন্য একটি মাধ্যম (طريق) থেকে এসেছে।
তৃতীয়ত: এই তিনজন বর্ণনাকারী (الرواة) এর ওপর আমল করেছেন:
কাতাদাহ-এর কথা বলতে গেলে, তিনি পর্দার আয়াতের তাফসিরে বলেছেন: "আল্লাহ তাঁদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يُقَنِّعْنَ على الحواجب"؛ يعني: وليس على وجوههن كما قال الطبري:
ب- وأما عائشة؛ فقالت في المحرمة:
"تُسدِل الثوب على وجهها إن شاءت".
رواه البيهقي بسند صحيح.
قلت: فتخيير عائشة المحرمة في السدل دليل واضح على أن الوجه عندها ليس بعورة، وإلا لأوجبت ذلك عليها كما يقول المخالفون، ولذلك كتم قولها هذا عن قرائهم جمهور هؤلاء المؤلفين المتشددين، وفي مقدمتهم التويجري، وتعمد حذفها من رواية البيهقي هذه مؤِّلف: "فصل الخطاب"! وله أشياء أخرى من هذا القبيل بينتها هناك.
والشاهد أن هذا الأثر الصحيح عنها مما يقوي حديثها المرفوع، وهذا مما جهله القوم أو تجاهلوه، وأحلاهما مرٌّ!
ج- وأما أسماء؛ فقد صح أن قيس بن أبي حازم رآها امرأة بيضاء موشومة اليدين كما سيأتي في الكتاب مخرجًا، وذلك من فوائد هذه الطبعة.
الرابع: أثر ابن عباس المتقدم "ص6".
"تدني الجلباب إلى وجهها، ولا تضرب به".
ومثله تفسيره لآية الزِّينة: {إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} بالوجه والكفين كما تقدم أيضًا، ويأتي في الكتاب "ص59".
ومعه أثر ابن عمر أيضًا مثله.
ولا بد لي بهذه المناسبة من التنبيه على حقيقة مرة للعبرة والتعريف
"তারা ভ্রুর ওপর ওড়না টেনে দিত"; অর্থাৎ: তাদের চেহারার ওপর নয়, যেমনটি তাবারী বলেছেন:
খ- আর আয়েশা (রা.) এর ব্যাপারে; তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকা নারী সম্পর্কে বলেছেন:
"সে চাইলে তার চেহারার ওপর কাপড় ঝুলিয়ে দিতে পারে।"
বায়হাকী এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলি: ইহরামরত নারীকে কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আয়েশা (রা.)-এর এই এখতিয়ার দেওয়া এক স্পষ্ট দলিল যে, তাঁর কাছে চেহারা আবৃত করা ফরজ নয়। অন্যথায় তিনি তা তার ওপর ওয়াজিব করে দিতেন, যেমনটি বিরোধীরা বলে থাকেন। এ কারণেই কঠোরপন্থী একদল লেখক তাদের পাঠকদের কাছে তাঁর এই উক্তিটি গোপন করেছেন, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন তুওয়াইজরি। আর 'ফাসলুল খিতাব' গ্রন্থের লেখক বায়হাকীর এই বর্ণনা থেকে এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুছে ফেলেছেন! এ জাতীয় আরও কিছু বিষয় তাঁর রয়েছে যা আমি সেখানে স্পষ্ট করেছি।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাঁর থেকে বর্ণিত এই বিশুদ্ধ (صحيح) আসার (أثر) বা বর্ণনাটি তাঁর মারফু (مرفوع) হাদিসকে শক্তিশালী করে। এটি এমন এক বিষয় যা এই লোকেরা জানে না অথবা জানার ভান করে এড়িয়ে গেছে; আর এ দুটির যেকোনোটিই তিক্ত!
গ- আর আসমা (রা.)-এর ব্যাপারে; এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) যে, কায়েস ইবনে আবু হাযিম তাঁকে একজন ফর্সা নারী হিসেবে দেখেছিলেন যাঁর হাতে উল্কি আঁকা ছিল, যেমনটি কিতাবটিতে সামনে তথ্যসূত্রসহ (مخرجًا) আসবে। এটি এই সংস্করণের অন্যতম একটি উপকারিতা।
চতুর্থ: ইবনে আব্বাসের সেই আসার (أثر) যা ৬ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।
"সে তার জিলবাবকে চেহারার কাছাকাছি রাখবে, কিন্তু তা দিয়ে আবৃত করবে না।"
অনুরূপভাবে সৌন্দর্যের আয়াত: {যা এমনিতে প্রকাশ পায়}—এর ব্যাখ্যায় চেহারা ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত বুঝিয়েছেন, যেমনটি আগে গত হয়েছে এবং কিতাবের ৫৯ পৃষ্ঠায় আসবে।
তাঁর সাথে ইবনে উমরের আসারও (أثر) অনুরূপ।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা এবং পরিচিতির জন্য একটি তিক্ত সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والتذكير بالحكمة القائلة: الحق لا يعرف بالرجال، اعرف الحق تعرف الرجال. ذلك أن الشيخ التويجري في الوقت الذي يصر فيه على رفض حديث عائشة هذا مع ما له من الشواهد منها حديث قتادة المرسل؛ فإنه يقبل حديثًا آخر لها فيه: أنها انتقبت.... وفيه أنها قالت في صفية ونساء الأنصار "يهودية بين يهوديات"! وسنده أيضًا، ومتنه منكر جدًّا كما ترى، ومع ذلك فإن الشيخ يقويه بقوله "ص181":
وله شاهد مرسل"، ثم ذكره من مرسل عطاء!
وفي إسناده كذاب!
فليتأمل القراء الفرق الكبير بين هذا الشاهد الموضوع وبين الشاهد الصحيح للحديث الأول عن قتادة مع الشواهد الأخرى له، ثم ليقل: لماذا قبل التويجري حديث عائشة هذا ورفض ذاك؟!
الجواب: لأن المقبول فيه الانتقاب –مع أنه لا يفيد الإيجاب- والمرفوض ينفيه! فإذن الشيخ لا ينطلق فيما يذهب إليه –هنا- من القواعد العلمية الإسلامية، وإنما من –مثل- القاعدة اليهودية: الغاية تبرر الوسيلة! والله المستعان.
ثامنًا وأخيرًا: من عجائب بعض المتأخرين من الحنفية المقلدين وغيرهم أنهم –تقليدًا منهم لأئمتهم- يتفقون معنا على المخالفين المتشديين، لكنهم سرعان ما يتفقون معهم على أئمتهم! وذلك أنهم اجتهدوا –وهم المقلدون- فقيدوا مذهب الأئمة فقالوا: بشرط أمن الفتنة؛ يعنون: فتنة الرجال بالنساء، ثم غلا أحد الجهلة من المقلدة المعاصرين
এবং সেই প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যা বলে: সত্য ব্যক্তিদের দ্বারা চেনা যায় না, বরং সত্যকে জানুন তবেই সত্যের ধারক ব্যক্তিদের চিনতে পারবেন। বিষয়টি হলো, শায়খ তুওয়াইজিরি আয়েশা (রা.)-এর এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে যখন জেদ ধরছেন—অথচ এর একাধিক সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যার মধ্যে কাতাদাহ্-এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসটিও অন্তর্ভুক্ত—তখন তিনি আয়েশা (রা.)-এর অন্য একটি হাদিস গ্রহণ করছেন যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নেকাব পরিধান করেছিলেন... এবং তাতে এও আছে যে, তিনি সাফিয়্যাহ এবং আনসারী মহিলাদের সম্পর্কে বলেছিলেন "ইহুদিদের মাঝে এক ইহুদি নারী!" অথচ এর বর্ণনাসূত্র এবং মূল পাঠ (متن) উভয়ই আপনার দৃষ্টিতে অত্যন্ত অসমর্থিত (منكر جدا); তা সত্ত্বেও শায়খ একে শক্তিশালী সাব্যস্ত করেন এই বলে (পৃ. ১৮১):
"এবং এর একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) সমর্থনমূলক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে", অতঃপর তিনি আতা-এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা থেকে এটি উল্লেখ করেছেন!
অথচ এর বর্ণনাসূত্রে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) রয়েছে!
পাঠকগণ যেন এই জাল (موضوع) সমর্থনমূলক বর্ণনা এবং কাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত প্রথম হাদিসটির সহিহ (صحيح) সমর্থনমূলক বর্ণনা ও এর অন্যান্য সমর্থনমূলক বর্ণনার (شواهد) মধ্যে বিদ্যমান বিশাল ব্যবধান নিয়ে চিন্তা করেন। অতঃপর তারা যেন বলেন: কেন তুওয়াইজিরি আয়েশা (রা.)-এর এই হাদিসটি গ্রহণ করলেন আর ওইটি প্রত্যাখ্যান করলেন?!
উত্তর হলো: কারণ যে হাদিসটি গ্রহণ করা হয়েছে তাতে নেকাবের কথা আছে—যদিও তা নেকাব ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয় না—আর যা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা একে নাকচ করে! সুতরাং শায়খ এখানে যা অবলম্বন করছেন তা কোনো ইসলামী ইলমি নীতিমালা থেকে উৎসারিত নয়, বরং তা অনেকটা ইহুদিদের সেই মূলনীতির মতো: উদ্দেশ্যই উপায়ের যৌক্তিকতা প্রদান করে! আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি।
অষ্টম এবং সর্বশেষ: পরবর্তী যুগের মুকাল্লিদ হানাফি এবং অন্যদের একটি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে, তারা তাদের ইমামদের অন্ধ অনুকরণের খাতিরে আমাদের সাথে একমত হয়ে কঠোরতা অবলম্বনকারী বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন, কিন্তু পরক্ষণেই তারা তাদের ইমামদের বিপক্ষে গিয়ে ওই বিরোধীদের সাথেই একমত হন! বিষয়টি হলো যে, তারা মুকাল্লিদ হওয়া সত্ত্বেও ইজতিহাদ করেছেন এবং ইমামদের মাযহাবকে সীমাবদ্ধ করে বলেছেন: ফিতনা (فتنة) থেকে নিরাপদ থাকার শর্তে; তাদের উদ্দেশ্য হলো: নারীদের দ্বারা পুরুষদের ফিতনা (فتنة)। অতঃপর সমসাময়িক মুকাল্লিদদের মধ্য থেকে এক অজ্ঞ ব্যক্তি চরম বাড়াবাড়ি করেছেন...
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فنسب هذا الشرط إلى الأئمة أنفسهم! فنتج من ذلك عند بعض من لا علم عنده إلا التحطيب والتحويش: أن لا خلاف بين الأئمة والمخالفين!
وليس يخفى على الفقيه حقًّا أن الشرط المذكور باطل يقينًا؛ لأنه يعني الاستدراك على رب العالمين؛ ذلك لأن الفتنة بالنساء لم تحدث فيما بعد حتى نوجد لها حكمًا خاصًّا لم يكن من قبل، بل إنها كانت في عهد التشريع، وما قصة افتنان الفضل بن العباس بالمرأة الخثعمية وتكراره النظر إليها ببعيدة عن ذاكرة القراء الكرام.
ومن المعلوم أن الله تعالى لما أمر الرجال والنساء بغض الأبصار، وأمر النساء بالحجاب والتستر أمام الرجال؛ إنما جعل ذلك سدًّا للذريعة ودرءًا للفتنة، ومع ذلك لم يأمرهن عز وجل بأن يسترن وجوههن وأيديهن أمامهم، وأكد ذلك النبي صلى الله عليه وسلم في القصة المشار إليها بعدم أمره المرأة أن تستر وجهها، وصدق الله القائل: {وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا} .
والحقيقة أن الشرط المذكور إنما ذكره العلماء –ومنهم مؤلف الفقه على المذاهب الأربعة ص12- في نظر الرجل إلى وجه المرأة، فقالوا: يجوز ذلك بشرط أمن الفتنة، وهذا حق؛ بخلاف ما فعله المقلدة، فكأنهم استلزموا أن تستر المرأة وجهها وجوبًا، ولا تلازم؛ فإنهم يعلمون أن الشرط المذكور –بحق- لازم أيضًا على النساء، فلا يجوز لهن النظر إلى وجه الرجال إلا إذا أمنت الفتنة؛ فهل يستلزمون منه أن يستر الرجال أيضًا وجوههم عن النساء درءًا للفتنة كما كانت تفعل بعض القبائل المعروفين بـ "الملثمين"؟!
সুতরাং এই শর্তটি খোদ ইমামদের দিকেই নিসবত করা হয়েছে! এর ফলে এমন কিছু লোকের নিকট—যাদের কাজই হলো বাছবিচারহীনভাবে বিষয়াবলি সংগ্রহ ও স্তূপ করা—এই ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, ইমামগণ এবং তাঁদের বিরোধীদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই!
আর একজন প্রকৃত ফকীহ (فقيه)-এর নিকট এটি গোপন নয় যে, উল্লিখিত শর্তটি নিশ্চিতভাবে বাতিল (باطل); কেননা এটি রব্বুল আলামীনের বিধানের ওপর সংশোধনী (استدراك) আরোপের নামান্তর। কারণ, নারীদের মাধ্যমে ফিতনা (فتنة) পরবর্তী কোনো যুগে নতুন করে উদ্ভূত হয়নি যে আমাদের এর জন্য এমন কোনো বিশেষ হুকুম (حكم) উদ্ভাবন করতে হবে যা পূর্বে ছিল না। বরং এটি তো শরীয়ত প্রণয়নের যুগেই বিদ্যমান ছিল। খাস'আমি গোত্রের মহিলার প্রতি ফজল বিন আব্বাসের মোহিত হওয়া এবং তাঁর দিকে বারবার দৃষ্টিপাতের ঘটনাটি সম্মানিত পাঠকদের স্মৃতির অগোচরে নয়।
এটা সবারই জানা যে, আল্লাহ তাআলা যখন পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখার আদেশ দিয়েছেন এবং পুরুষদের সামনে নারীদের হিজাব ও পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছেন; তখন তিনি একে অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার (سد الذريعة) এবং ফিতনা (فتنة) প্রতিরোধের মাধ্যম হিসেবেই নির্ধারণ করেছেন। তা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ তাঁদেরকে পুরুষদের সামনে মুখমণ্ডল ও হাত আবৃত করার আদেশ দেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লিখিত ঘটনায় সেই মহিলাকে মুখ ঢাকার আদেশ না দিয়ে বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেন: "তোমার পালনকর্তা বিস্মৃত (نسيّا) হওয়ার নন।"
প্রকৃতপক্ষে উল্লিখিত শর্তটি উলামায়ে কেরাম—যাদের মধ্যে আল-ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআ কিতাবের লেখকও (পৃষ্ঠা ১২) রয়েছেন—নারীর মুখমণ্ডলের প্রতি পুরুষের দৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: ফিতনা (فتنة)-র আশঙ্কা না থাকার শর্তে এটি বৈধ (جائز); এবং এটিই সঠিক। কিন্তু মুকাল্লিদ (مقلد)-গণ যা করেছেন তা এর বিপরীত। তারা যেন বিষয়টিকে এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে, নারীর জন্য মুখমণ্ডল ঢাকা বাধ্যতামূলক (وجوبًا)। অথচ এর মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই; কারণ তারা জানেন যে, উল্লিখিত শর্তটি—ন্যায়সঙ্গতভাবে—নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং ফিতনা (فتنة) থেকে নিরাপদ না হলে তাদের জন্যও পুরুষদের মুখমণ্ডলের দিকে তাকানো বৈধ (جائز) নয়। তবে কি তারা এর ভিত্তিতে পুরুষদের জন্য নারীদের সামনে মুখমণ্ডল ঢাকাও আবশ্যক করে দেবেন, যাতে ফিতনা (فتنة) প্রতিরোধ করা যায়; যেমনটি 'আল-মুলাহ্ছামুন' (মুখাবরণধারী) হিসেবে পরিচিত কিছু গোত্র করে থাকত?!
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولو أنهم قالوا: يجب على المرأة المتسترة بالجلباب الواجب عليها إذا خشيت أن تصاب بأذى من بعض الفساق لإسفارها عن وجهها: أنه يجب عليها في هذه الحالة أن تستره دفعًا للأذى والفتنة؛ لكان له وجه في فقه الكتاب والسنة، بل يقال: إنه يجب عليها أن لا تخرج من دارها إذا خشيت أن يخلع الجلباب من رأسها من قبل بعض المتسلطين الأشرار المدعمين من رئيس لا يحكم بما أنزل الله كما وقع في بعض البلاد العربية منذ بضع سنين مع الأسف الشديد.
أما أن يجعل هذا الواجب شرعًا لازمًا على كل النساء في كل زمان ومكان، وإن لم يكن هناك من يؤذي المتجلببات؛ فكلَّا ثم كلَّا، وصدق الذي قال: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} .
هذه هي أهم أخطاء المخالفين المتشديين التي رأيت أنه لا بد من ذكرها هنا مع الاختصار قدر الاستطاعة؛ لصلتها القوية بالكتاب كما هو ظاهر.
ثم ختمت الرد المفحم بالتذكير بأن التشدد في الدين –مع نهي الشارع الحكيم عنه- لا يأتي بخير، ولا يمكن أن يخرج لنا جيلا من الفتيات المسلمات يحملن الإسلام علمًا وتطبيقًا بتوسط واعتدال، لا إفراط فيه ولا تفريط، لا كما بلغني عن بعض الفتيات الملتزمات في بعض البلاد العربية، أنهن لما سمعن بقوله صلى الله عليه وسلم: "لا تنتقب المحرمة ولا تلبس القفازين"؛ لم يتجاوبن معه، وقلن: ننتقب ونفدي!! وما كان هذا منهن إلا لما يقرع مسامعهن من التشديد في وجوههن!
আর তারা যদি বলত: যে নারী তার উপর আবশ্যকীয় জিলবাব দ্বারা আবৃত, সে যদি তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার কারণে কিছু পাপাচারী ব্যক্তির দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা করে, তবে এই অবস্থায় ক্ষতি ও ফিতনা (فتنة) প্রতিরোধের জন্য তার মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা তার জন্য ওয়াজিব; তবে কিতাব ও সুন্নাহর ফিকহ শাস্ত্রে এর একটি যৌক্তিক ভিত্তি থাকত। বরং বলা হয়: তার জন্য ঘর থেকে বের না হওয়া ওয়াজিব যদি সে আশঙ্কা করে যে, আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী শাসন করেন না এমন শাসকের মদদপুষ্ট কিছু জালিম ও দুরাচারী ব্যক্তি তার মাথা থেকে জিলবাব ছিনিয়ে নেবে; যেমনটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কয়েক বছর আগে কিছু আরব দেশে ঘটেছিল।
কিন্তু এই ওয়াজিবকে প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি স্থানে সকল নারীর জন্য শরয়িভাবে আবশ্যক গণ্য করা, এমনকি জিলবাব পরিহিতা নারীদের উত্যক্ত করার মতো কেউ না থাকলেও—তা কখনোই নয়, কখনোই নয়। আর তিনি সত্যই বলেছেন যিনি বলেছেন: {অথবা তাদের কি এমন কিছু অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?}
এগুলোই হলো চরমপন্থী বিরোধীদের প্রধান ভুলসমূহ যা আমি যথাসম্ভব সংক্ষেপে এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করেছি; কারণ কিতাবটির সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্ট।
অতঃপর আমি 'আর-রাদ্দুল মুফহিম' এর ইতি টেনেছি এই কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যে, দ্বীনের মধ্যে কঠোরতা বা চরমপন্থা—অথচ প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা তা নিষেধ করেছেন—কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। আর এটি আমাদের জন্য এমন এক মুসলিম তরুণী প্রজন্ম তৈরি করতে সক্ষম নয় যারা জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য সহকারে ইসলামকে ধারণ করবে, যেখানে থাকবে না কোনো অতিরঞ্জন কিংবা শিথিলতা। এটি সেই পরিস্থিতির মতো হবে না যেমনটি কিছু আরব দেশের কিছু একনিষ্ঠ তরুণীর ব্যাপারে আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তারা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শুনল: "ইহরামকারী নারী যেন নেকাব না পরে এবং হাতমোজা না পরে"; তারা তাতে সাড়া দেয়নি এবং বলেছিল: "আমরা নেকাবই পরব এবং প্রয়োজনে ফিদইয়া দেব!!" তাদের এই আচরণ কেবল তাদের কানে প্রতিনিয়ত মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়ে চরমপন্থার বাণীগুলো সজোরে আঘাত করার কারণেই হয়েছিল!
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إنني لا أستطيع أن أتصور أن مثل هذا التشديد –وهذا واحد من أمثلة لديَّ- يمكن أن يخرج لنا نساء سلفيات بإمكانهن أن يقمن بكل ما تطلبه حياتهن الاجتماعية المشروعة، على نمط ما كان عليه نساء السلف الصالح، ولا بأس من ذكر نماذج صالحة منهن، مع تخليص الروايات؛ اكتفاء بسوقها بألفاظها مخرجة هناك، فمنهن:
أم شريك الأنصارية التي كان ينزل عليها الضيفان؛ كما في الحديث الآتي في الكتاب "ص66".
وامرأة أبي أسيد التي صنعت الطعام للنبي صلى الله عليه وسلم ومن معه يوم دعاهم زوجها أبو أسيد يوم بنى بها، فكانت هي خادمهم وهي العروس.
وأسماء بنت أبي بكر التي كانت تخدم الزبير زوجها: تعلف فرسه، وتكفيه مؤنته، وتسوسه، وتنقل النوى على رأسها من أرض الزبير، وهي على بعد ثلثي فرسخ "أكثر من ثلاثة كيلو مترات"، وتدق النوى.
والمرأة الأنصارية التي استقبلت النبي صلى الله عليه وسلم، وبسطت له تحت النخيل، ورشت حوله، وذبحت له طعامًا، فأكل هو وأصحابه.
وعائشة وأم سليم اللتان كانتا تحملان القرب وتسقيان القوم؛ وكما سيأتي "ص40".
والرُّبَيِّع بنت مُعَوِّذ التي كانت تنفر مع نساء من الأنصار، فيسقين القوم، ويخدمنهم ويداوين الجرحى، ويحملن القتلى إلى المدينة.
আমি কল্পনা করতে পারি না যে, এই ধরনের কঠোরতা—যা আমার কাছে থাকা উদাহরণগুলোর একটি মাত্র—এমন কোনো সালাফী নারী তৈরি করতে সক্ষম হবে যারা তাদের বৈধ সামাজিক জীবনের যাবতীয় প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারে, ঠিক যেভাবে সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) নারীগণ করতেন। তাদের মধ্য থেকে কিছু নেককার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই, সাথে বর্ণনাগুলোর (روايات) বিশুদ্ধতা যাচাই করা হয়েছে এবং সেখানে বর্ণিত শব্দগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
উম্মে শারীক আল-আনসারিয়া, যাঁর নিকট মেহমানরা আসতেন; যেমনটি এই গ্রন্থের ৬৬ পৃষ্ঠায় পরবর্তী হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু উসাইদের স্ত্রী, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাথে থাকা ব্যক্তিদের জন্য খাবার তৈরি করেছিলেন, যেদিন তাঁর স্বামী আবু উসাইদ বাসর রাতের দিন তাঁদের দাওয়াত করেছিলেন। তিনি নববধূ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সেবা করেছিলেন।
আসমা বিনতে আবু বকর, যিনি তাঁর স্বামী যুবাইরের সেবা করতেন: তিনি তাঁর ঘোড়ার ঘাস দিতেন, তাঁর যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করতেন, ঘোড়া লালন-পালন করতেন এবং যুবাইরের জমি থেকে মাথার উপর খেজুরের আঁটি বহন করে আনতেন, যা দুই-তৃতীয়াংশ ফারসাখ (তিন কিলোমিটারের বেশি) দূরে অবস্থিত ছিল এবং তিনি সেই আঁটিগুলো পিষতেন।
সেই আনসারী নারী যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন, খেজুর গাছের নিচে তাঁর জন্য বসার ব্যবস্থা করেছিলেন, চারপাশে পানি ছিটিয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য পশু জবাই করে খাবার তৈরি করেছিলেন, ফলে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ তা আহার করেছিলেন।
আয়েশা এবং উম্মে সুলাইম, যাঁরা পানির মশক বহন করতেন এবং লোকজনকে পান করাতেন; যেমনটি ৪০ পৃষ্ঠায় সামনে আসবে।
রুবায়্যি বিনতে মুআউওয়িয, যিনি অন্যান্য আনসারী নারীদের সাথে যুদ্ধে বের হতেন। তাঁরা লোকজনকে পানি পান করাতেন, তাঁদের সেবা করতেন, আহতদের চিকিৎসা করতেন এবং নিহতদের মদিনায় বহন করে আনতেন।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي حديث آخر نحوه، وفيه: أنهن كن يعطين من الغنيمة.
وأم عطية التي غزت معه صلى الله عليه وسلم سبع غزوات؛ تخلفهم في رحالهم، وتصنع لهم الطعام، وتداوي الجرحى، وتقوم على المرضى.
وأم سليم أيضًا التي أخذت يوم حنين خنجرًا، فقال أبو طلحة: يا رسول الله! هذه أم سليم معها خنجر، فلما سألها صلى الله عليه وسلم؟ قالت: اتَّخذته إن دنا مني أحد من المشركين بقرت به بطنه! فجعل صلى الله عليه وسلم يضحك.
وجرى الأمر على هذا المنوال بعد النبي صلى الله عليه وسلم.
فهذه أسماء بنت يزيد الأنصارية قتلت يوم اليرموك سبعة من الروم بعمود فسطاطها.
ومثلها نساء خالد بن الوليد؛ فقد رآهن عبد الله بن قرط في غزوة الروم مشمرات يحملن الماء للمهاجرين.
وهذه سمراء بنت نهيك الصحابية رآها أبو بلج عليها درع1 غليظ وخمار غليظ، بيدها سوط، تؤدب الناس، وتأمر بالمعروف، وتنهى عن المنكر.
إلى غير ذلك من النماذج الرائعة المبثوثة في كتب السير والتاريخ، ولكنني التزمت الصحة فيما ذكرت، وهي كلها واضحة الدلالة على أن هذه
--------------------------------------------
অনুরূপ অন্য একটি হাদিসে এসেছে, যাতে বর্ণিত আছে যে: তাঁদেরকে গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) থেকে অংশ প্রদান করা হতো।
আর উম্মু আতিয়্যাহ (রা.), যিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন; তিনি তাঁদের মালপত্রের দেখাশোনা করতেন, তাঁদের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতেন, আহতদের চিকিৎসা করতেন এবং অসুস্থদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন।
অনুরূপভাবে উম্মু সুলাইম (রা.)-ও, যিনি হুনাইনের যুদ্ধের দিন একটি খঞ্জর (ছোট তলোয়ার) গ্রহণ করেছিলেন। তখন আবু তালহা (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই উম্মু সুলাইম, তাঁর সাথে একটি খঞ্জর রয়েছে। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি এটি সংগ্রহ করেছি যাতে মুশরিকদের কেউ আমার নিকটে আসে, তবে আমি এটি দিয়ে তার পেট চিরে ফেলব! এতে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসতে লাগলেন।
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তীকালেও বিষয়টি এই ধারাতেই চলমান ছিল।
যেমন এই আসমা বিনতে ইয়াজিদ আল-আনসারী (রা.), তিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে তাঁর তাঁবুর খুঁটি দিয়ে সাতজন রোমান সৈন্যকে হত্যা করেছিলেন।
একইভাবে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-এর পরিবারের মহিলারাও; আবদুল্লাহ বিন কুর্ত (রা.) রোম অভিযানে তাঁদেরকে কাপড় গুটিয়ে মুহাজিরদের জন্য পানি বহন করতে দেখেছিলেন।
আর এই সামরা বিনতে নাহিক (রা.), যিনি একজন নারী সাহাবী (صحابية); আবু বালজ তাঁকে একটি মোটা বর্ম সদৃশ পোশাক (درع)
১ এবং মোটা ওড়না পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন। তাঁর হাতে একটি চাবুক ছিল, তিনি মানুষের শিষ্টাচার শেখাতেন এবং সৎ কাজের আদেশ (تأمر بالمعروف) দিতেন ও অসৎ কাজে নিষেধ (تنهى عن المنكر) করতেন।
সীরাত ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে থাকা এই জাতীয় আরও বহু চমৎকার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে আমি এখানে যা কিছু উল্লেখ করেছি তাতে বিশুদ্ধতা (الصحة) বজায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম। এ সবগুলো বিষয়ই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الخدمات والبطولات ما كانت لتصدر من هذه النسوة الفاضلات لو كن متزمِّتات يرين أن الوجه والكفين من العورة؛ كتلك الفتيات! ذلك أمر بدهي فيما أرى؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم رباهن على الحنيفية السمحة السهلة.
وهذا هو الذي نريده من إخواننا المشايخ وكل داعية إلى الإسلام: أن يكونوا مصداق قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} ، وقوله: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} ، حذرين من الوقوع في الغلو المنهي عنه في قوله صلى الله عليه وسلم: "إياكم والغلو في الدين؛ فإنما هلك من كان قبلكم بالغلو في الدين" 1.
وقوله صلى الله عليه وسلم: "لا تشدِّدوا على أنفسكم؛ فإنما هلك من قبلكم بتشددهم على أنفسهم، وستجدون بقاياهم في الصوامع والديارات" 2.
مذكرًا –والذكرى تنفع المؤمنين- أن تحقيق ذلك لا يمكن إلا بنبذ التعصب المذهبي، ودراسة السنة والسيرة النبوية الصحيحة من قول وفعل وتقرير، مع الاهتمام بمعرفة ما كان عليه السلف من أمور يصدق علينا –كما صدق عليهم- قول رب العالمين: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي
--------------------------------------------
এই মহীয়সী নারীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সেবা ও বীরত্বগাথা প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হতো না, যদি তারা সেইসব তরুণীদের মতো কট্টরপন্থী হতেন যারা মনে করেন যে মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত সতর (عورة)-এর অন্তর্ভুক্ত; যেমনটি বর্তমানের ঐ তরুণীরা মনে করে থাকে! আমার দৃষ্টিতে এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে সহজ ও উদার একনিষ্ঠ (حنيفية) দ্বীনের আদর্শের ওপর লালন-পালন করেছিলেন।
আর এটিই আমরা আমাদের আলেম সমাজ ও ইসলামের প্রতিটি আহ্বায়কের কাছে প্রত্যাশা করি: তারা যেন মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তব নমুনা হন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি}, এবং তাঁর বাণী: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে}। তারা যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে নিষিদ্ধ হওয়া চরমপন্থা (غلو) থেকে সতর্ক থাকেন: "তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা (غلو) থেকে সাবধান থাকো; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা (غلو) অবলম্বনের কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।" ১।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করো না; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপের কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তোমরা গির্জা ও মঠগুলোতে তাদের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাবে।" ২।
আমি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—আর উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে—যে, মাযহাবী গোঁড়ামি বর্জন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقرير) সম্বলিত বিশুদ্ধ (صحيح) সুন্নাহ ও সীরাহ অধ্যয়ন ব্যতীত এটি অর্জন করা সম্ভব নয়। সেই সাথে আমাদের পূর্বসূরি (سلف) বা সালাফগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা জানার প্রতি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন, যাতে আমাদের ক্ষেত্রেও রাব্বুল আলামীনের এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়—যেমনটি তাঁদের ক্ষেত্রে সত্য হয়েছিল: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাত যার...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} .
هذا، وقد بدا لي وأنا صدد تحضير مادة "الرد المفحم" أن أستبدل اسم الكتاب "حجاب المرأة المسلمة
… " بـ"جلباب المرأة المسلمة
… "؛ لما بينهما من الفرق في الدلالة والمعنى؛ كما كنت استظهرت ذلك في الكتاب كما سيأتي "ص83"؛ ولأن موضوع الكتاب ألصق بهذا الاسم دون ذاك، فبينهما عموم وخصوص، فكل جلباب حجاب1، وليس كل حجاب جلبابًا كما هو ظاهر، وشجعني على ذلك أنني رأيت المخالفين خلطوا بينهما كما بينته في البحث الثاني من الرد المفحم، واستشهدت على ذلك بقول ابن تيمية رحمه الله تعالى:
"فآية الجلابيب عند البروز من المساكن، وآية الحجاب عند المخاطبة في المساكن".
ولذلك فقد انشرح صدري لنشره الآن بهذا العنوان:
"جلباب المرأة المسلمة في الكتاب والسنة".
سائلين الله تبارك وتعالى التوفيق لما يحبه ويرضاه.
وقد قام بنشره صهري الكريم نظام سكجها صاحب المكتبة الإسلامية جزاه الله خيرًا، وللتاريخ أقول: إنه وحده يملك حق طبعه ونشره على هذه الحلة الجميلة التي تحلى بها لأول مرة.
--------------------------------------------
...যাদের তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে; এটাই হলো মহাসাফল্য।}।
আর এখন, 'আর-রাদ্দুল মুফহিম' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতির সময় আমার কাছে মনে হয়েছে যে, 'হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ
…' নামটিকে 'জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ
…' দ্বারা পরিবর্তন করি; কারণ এই শব্দদ্বয়ের নির্দেশার্থ (دلالة) ও অর্থের (معنى) মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান; যেমনটি আমি এই কিতাবে স্পষ্ট করেছি এবং সামনে তা আসবে (পৃষ্ঠা ৮৩)। কেননা কিতাবের বিষয়টি ওই নামের চেয়ে এই নামের সাথেই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ দুটির মধ্যে সাধারণ এবং বিশেষ (عموم وخصوص) সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং প্রতিটি জিলবাবই হিজাব১, কিন্তু প্রতিটি হিজাব জিলবাব নয়—যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর আমাকে এই কাজে উৎসাহিত করেছে যে, আমি দেখেছি বিরোধীরা এই দুইয়ের মাঝে সংমিশ্রণ করে ফেলেছে, যা আমি 'আর-রাদ্দুল মুফহিম' এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে ব্যাখ্যা করেছি। আর এ বিষয়ে আমি ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর উক্তি দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছি:
"জিলবাব সংক্রান্ত আয়াতটি হলো ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার সময়ের জন্য, আর হিজাব সংক্রান্ত আয়াতটি হলো ঘরের ভেতরে কথোপকথনের সময়ের জন্য।"
তাই বর্তমান শিরোনামে এটি প্রকাশের ব্যাপারে আমার বক্ষ উন্মোচিত হয়েছে:
"কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিম নারীর জিলবাব"
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট সেই তাওফিক কামনা করছি যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
এটি প্রকাশ করেছেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় জামাতা নিজাম সাকাজহা, যিনি মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। ইতিহাসের খাতিরে আমি বলছি: এই সুন্দর অবয়বে এটি প্রথমবার মুদ্রণ ও প্রকাশের একমাত্র অধিকার কেবল তারই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وسابقًا كنت أعطيت حق طبعه الطبعة الثانية لصاحب المكتب الإسلامي زهير الشاويش، واستمر في طبعه على الأوفست عدة طبعات، وقفت على السادسة منها، وقد سقط منها السطر الأول من "الصفحة 49"، ولا أدري إذا كان مستمرًا في طبعه، رغم أني أنذرته بأن لا يعيد طبع شيء من كتبي، لا صفًّا جديدًا، ولا تصويرًا، لما ظهر لي بعد هجرتي إلى عمان من إخلاله بالأمانة العلمية والمادية وحق الصحبة –لا أقول: حق المشيخة التي يدعيها لي- مما لا مجال لذكره في هذه المقدمة، وحسب القراء الكرام مثال واحد على ذلك: أنه قرن اسمه مع اسمي في تحقيق كتاب التنكيل، وليس له فيه ولا حرف واحد من التحقيق، ثم طبعه –دون علمي طبعًا- بهذا التزوير ونشره على الناس! ولقد كان أحد المشهورين بطبع الكتب سرقة في مصر قد سطا على الكتاب، وزور فيه اسْمًا آخر لعالم معاصر متوفَّى قرنه محققًا معي! فغار منه صاحبنا القديم!، فقرن اسمه الكريم معه ومعي، كل ذلك تغيير شكل من أجل الأكل! فلينظر القارئ الكريم أيهما شر؟
وقد فصلت القول في صنيعهما هذا في مقدمة الطبعة الجديدة لـ "التنكيل" نشر مكتبة المعارف في الرياض، وله من مثل هذا الشيء الكثير والكثير جدًّا مما هو مبسوط في مقدمات الكتب التالية: "صحيح الكلم الطيب" الطبعة الجديدة، مكتبة المعارف، "صفة الصلاة" الطبعة الجديدة للمكتبة نفسها، "مختصر صحيح مسلم" للمنذري الطبعة الجديدة للمكتبة الإسلامية، "مختصر صحيح البخاري" المجلد الثاني، وقد صدر حديثًا بهمة دار ابن القيم – الدمام.
ইতিপূর্বে আমি আল-মাকতাব আল-ইসলামী-এর স্বত্বাধিকারী যুহাইর আল-শাভিশকে এর দ্বিতীয় সংস্করণ মুদ্রণের অধিকার দিয়েছিলাম। তিনি অফসেট পদ্ধতিতে এর বেশ কয়েকটি সংস্করণ ছাপানো অব্যাহত রাখেন, যার মধ্যে ষষ্ঠ সংস্করণটি আমি দেখেছি। সেই সংস্করণের ৪৯ নম্বর পৃষ্ঠার প্রথম লাইনটি বাদ পড়ে গিয়েছিল। আমি জানি না তিনি এর মুদ্রণ এখনো অব্যাহত রেখেছেন কি না, যদিও আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম যেন আমার কোনো বই-ই নতুন কম্পোজিশন বা অফসেট কপি করে পুনর্মুদ্রণ না করেন। কারণ আম্মানে হিজরত করার পর আমার কাছে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুগত আমানতদারিতা এবং বন্ধুত্বের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—আমি উস্তাদ-শাগরিদ সম্পর্কের (المشيخة) অধিকারের কথা বলছি না যা তিনি আমার ক্ষেত্রে দাবি করে থাকেন। এই ভূমিকায় এসবের বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। সম্মানিত পাঠকদের জন্য কেবল একটি উদাহরণই যথেষ্ট: তিনি 'আত-তানকিল' গ্রন্থটির সম্পাদনা (تحقيق) কার্যে আমার নামের সাথে নিজের নাম যুক্ত করেছেন, অথচ এতে সম্পাদনার (تحقيق) একটি অক্ষরও তার অবদান নয়। অতঃপর আমার অগোচরেই তিনি এই জালিয়াতি (تزوير) সহকারে এটি ছাপিয়েছেন এবং মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন! মিশরে চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে বই ছাপানোর জন্য কুখ্যাত এক ব্যক্তি বইটি জবরদখল করেছিল এবং তাতে মৃত একজন সমসাময়িক আলেমের নাম জাল করে আমার সাথে সম্পাদক (محقق) হিসেবে যুক্ত করেছিল! এতে আমাদের সেই পুরনো বন্ধু ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন! তাই তিনি তার সম্মানীয় নাম সেই ব্যক্তি এবং আমার নামের সাথে যুক্ত করেন। এই সমস্ত রূপবদল কেবল অর্থ উপার্জনের ধান্ধায়! এখন সম্মানিত পাঠকই বিবেচনা করুন, কোনটি বেশি মন্দ?
রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত 'আত-তানকিল' গ্রন্থের নতুন সংস্করণের ভূমিকায় আমি তাদের এই কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছি। এবং তার পক্ষ থেকে এ ধরণের কাজ অনেক এবং প্রচুর পরিমাণে ঘটেছে, যা নিম্নোক্ত বইগুলোর ভূমিকায় বিস্তারিতভাবে (مبسوط) বর্ণনা করা হয়েছে: 'সহীহ আল-কালিম আত-তাইয়িব'-এর নতুন সংস্করণ (মাকতাবাতুল মাআরিফ), একই লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত 'সিফাতুস সালাত'-এর নতুন সংস্করণ, আল-মাকতাব আল-ইসলামী থেকে প্রকাশিত মুনজিরীর 'মুখতাসার সহীহ মুসলিম'-এর নতুন সংস্করণ এবং 'মুখতাসার সহীহ বুখারী'-এর দ্বিতীয় খণ্ড, যা সম্প্রতি দাম্মামের দার ইবনে কায়্যিমের প্রচেষ্টায় প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
خاتمة:
ثم إنني لما عزمت على وضع هذه المقدمة؛ كان الإخوة الذين نضَّدوا حروف الكتاب في "مركز دار الحسن لصف الكمبيوتر" قد قدموه إلينا مخرجا، منتظرين منا أن نقدم إليهم المقدمة لينضدوها أيضًا ويضموها إلى الكتاب، ولكني بسبب الاضطرار المذكور في أول المقدمة تبين لي أن الكتاب نشره، ولذلك وجدت نفسي ألحق بالكتاب المنضد والمخرج فوائد جديدة أخرى غير التي كانت نضجت من قبل، كنت أعثر عليها في أثناء تحضير "الرد"، ولا تسمح نفسي إلا أن أطلع القراء عليها، أفعل هذا وأنا ذاكر أن مثل هذا الإلحاق –والكتاب مخرج- مما لا يستسيغه المنضدون، من أجل ذلك فإنني أقدم اعتذاري إلى الإخوة الأفاضل القائمين على المركز مرتين: لهذا الإلحاق أولًا، ولا سيما وقد بلوا منا بنحوه سابقًا فتحملونا جزاهم الله خيرًا، ولهذا التأخير الذي لا عهد لنا ولا لهم بمثله ثانيًا، ولكنه مشيئة الله وقدره، فنعتذر إليهم، والعذر عند كرام الناس مقبول.
وآخر دعوانا {أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} .
عمَّان 5 محرم 1412هـ
محمد ناصر الدين الألباني
উপসংহার:
অতঃপর আমি যখন এই ভূমিকাটি রচনার সংকল্প করলাম, তখন "মারকায দারুল হাসান লিসাফফিল কম্পিউটার"-এ যারা বইটির অক্ষরবিন্যাস করেছেন, সেই ভাইয়েরা বইটির বিন্যাসকৃত চূড়ান্ত কপি আমাদের নিকট পেশ করেছিলেন। তারা আমাদের থেকে ভূমিকাটির অপেক্ষায় ছিলেন যাতে তারা সেটিও বিন্যাস করে মূল বইয়ের সাথে যুক্ত করতে পারেন। কিন্তু ভূমিকার শুরুতে উল্লেখিত অনিবার্য কারণে আমার নিকট প্রতীয়মান হলো যে বইটি প্রকাশ করা প্রয়োজন। সেই কারণে আমি ইতোমধ্যে বিন্যাসকৃত ও প্রস্তুতকৃত বইটিতে ইতিপূর্বে প্রস্তুতকৃত তথ্যের বাইরেও আরও কিছু নতুন তাত্ত্বিক তথ্য বা উপকারিতা (فوائد) যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। এগুলো আমি "আর-রদ্দ" প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলাম এবং আমার মন সায় দিচ্ছিল না পাঠকদের এগুলো থেকে বঞ্চিত রাখতে। আমি এটি করছি এই কথা মাথায় রেখেই যে, বইটির বিন্যাস সম্পন্ন হওয়ার পর এ ধরনের সংযোজন করা অক্ষরবিন্যাসকারীদের নিকট পছন্দনীয় নয়। সেই কারণে আমি মারকাযের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সম্মানিত ভাইদের নিকট দুইবার ক্ষমা প্রার্থনা করছি: প্রথমত, এই সংযোজনের জন্য; বিশেষ করে তারা আগেও আমাদের পক্ষ থেকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং ধৈর্য ধরে আমাদের সহ্য করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। দ্বিতীয়ত, এই বিলম্বের জন্য যার নজির আমাদের বা তাদের অভিজ্ঞতায় ইতিপূর্বে ছিল না। কিন্তু এটি আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদির; তাই আমি তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর মহানুভব ব্যক্তিদের নিকট ওজর গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।
আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আম্মান, ৫ মহররম ১৪১২ হিজরি
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانية:الحمد لله رب العالمين، وصلاة الله وسلامه على أفضل رسله، وخاتم أنبيائه، وعلى آله وأصحابه، وإخوانه1؛ المتمسكين بسنته، والمتهدين بهديه، إلى يوم الدين.
أما بعد؛ فهذه هي الطبعة الثانية لكتابنا "حجاب المرأة المسلمة"، يصدرها المكتب الإسلامي –جزى الله صاحبه خيرًا- بعد أن مضى على الطبعة الأولى منه عشر سنوات؛ ازددنا فيها إيمانًا بضرورة نشره وإذاعته بين المسلمين، وخصوصًا النساء اللاتي اغتررن بالمدينة الأوربية الزائفة، وانجرفن وراء بهارجها ومفاتنها، فتبرجن تبرج الجاهلية الأولى، وكشفن من أبدانهن أمام الرجال الأجانب؛ ما كانت إحداهن من قبل لا تتجرأ أن تظهره أمام أبيها ومحارمها!
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বোত্তম রাসূল, সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী (أصحابه) ও ভাইদের১ উপর; যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন এবং তাঁর প্রদর্শিত হিদায়াতের পথ অনুসরণ করবেন।
অতঃপর; এটি আমাদের লিখিত গ্রন্থ "হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ"-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রথম সংস্করণ প্রকাশের দশ বছর পর আল-মাকতাবুল ইসলামী এটি প্রকাশ করছে—আল্লাহ এর কর্ণধারকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এই দীর্ঘ সময়ে মুসলমানদের মাঝে, বিশেষ করে সেইসব নারীদের মাঝে এই কিতাবটি প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে, যারা কৃত্রিম ইউরোপীয় সভ্যতায় প্রলুব্ধ হয়েছে এবং এর বাহ্যিক চাকচিক্য ও মোহের স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে তারা প্রাচীন জাহিলিয়াতের ন্যায় বেপর্দা হয়ে পড়েছে এবং পরপুরুষের সামনে নিজেদের শরীরের এমন সব অঙ্গ উন্মোচন করেছে, যা আগে তারা নিজেদের পিতা কিংবা মাহরামদের সামনেও প্রকাশ করতে সাহস করত না!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولقد علمت أن كتابنا هذا كان له الأثر الطيب –والحمد لله- عند الفتيات المؤمنات، والزوجات المحصنات، فقد استجاب لما تضمنه من الشروط الواجب توفرها في جلباب المرأة المسلمة الكثيرات منهن، وفيهن من بادرت إلى ستر وجهها أيضًا، حين علمت منه أن ذلك من محاسن الأمور، ومكارم الأخلاق، مقتديات فيه بالنساء الفضليات من السلف الصالح، وفيهن أمهات المؤمنين رضي الله عنهن.
ومع ذلك، فإن بعض أهل العلم وطلابه، ولا سيما المقلدين منهم –فإنهم مع إعجابهم بالكتاب وأسلوبه العلمي، وقوة حجته، ونصاعة برهانه- لم يرقهم ما جاء فيه من التصريح بأن وجه المرأة ليس بعورة، وقد كتب إلي بذلك أحد الأساتذة في المدارس الثانوية، وشافهني به آخرون هنا في سورية، وفي الحجاز أيضًا، وهؤلاء فريقان:
الأول:
من لا يزال يرى أن الوجه عورة، وليس ذلك عن دراسة الأدلة الشرعية، وتتبعها من مصادرها الأصلية، وإنما تقليدًا لمذهبه الذي نشأ عليه، أو البيئة التي عاش فيها، وفيها بعض المتحمسين لذلك أشد الحماسة بحسن نية، وعاطفة إسلامية، وغيرة دينية. وقد جلست إلى أحد هؤلاء الفضلاء جلسة دامت ساعات، تباحثنا فيها حول المسألة، وكان ذلك بطلب مني، لعلي أجد عنده، ما يؤيد رأيه، فلم أحظ بشيء من ذلك، وكل الذي سمعته منه، إنما هي شبهات عرضت له على بعض أدلة الكتاب، صدته عن الاقتناع بها، وتبني لازمها، فأجبته ليلتئذٍ عن شبهاته بما يسر الله، ثم فكرت
আমি জানতে পেরেছি যে—আলহামদুলিল্লাহ—আমাদের এই কিতাবটি মুমিন তরুণী এবং সতী-সাধ্বী স্ত্রীদের মধ্যে এক উত্তম প্রভাব ফেলেছে। মুসলিম নারীর জিলবাবের মধ্যে যে সকল শর্তাবলি থাকা আবশ্যক, কিতাবটিতে বর্ণিত সেই শর্তাবলির প্রতি তাদের অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা নিজ চেহারা আবৃত করার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, যখন তারা এখান থেকে জানতে পেরেছেন যে এটি উত্তম বিষয় এবং মহৎ চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে তারা সালাফে সালেহীন তথা নেককার পূর্বসূরি শ্রেষ্ঠ নারীগণের অনুসরণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে উম্মাহাতুল মুমিনিনও (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না) রয়েছেন।
তা সত্ত্বেও, কিছু আলেম এবং ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থী, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারী (مقلدين)—তারা কিতাবটি এবং এর ইলমি (علمي) পদ্ধতি, বলিষ্ঠ যুক্তি ও সুস্পষ্ট প্রমাণের প্রশংসা করলেও—নারীর চেহারা 'আওরাহ' (عورة) নয় বলে এতে যে স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে, তা তাদের পছন্দ হয়নি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষক এই বিষয়ে আমাকে পত্র লিখেছেন এবং সিরিয়া ও হিজাজের অন্যান্যরাও আমার সাথে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা মূলত দুই দলে বিভক্ত:
প্রথম দল:
যারা এখনো মনে করেন যে চেহারা হলো 'আওরাহ' (عورة)। এটি শরয়ি দলিলসমূহ (أدلة شرعية) বিস্তারিত অধ্যয়ন কিংবা সেগুলোর মূল উৎসসমূহ (مصادر) থেকে অনুসন্ধানের ফল নয়, বরং এটি কেবল সেই মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) যার ওপর তারা বেড়ে উঠেছেন অথবা সেই পরিবেশের প্রভাব যেখানে তারা বসবাস করেন। সেখানে এমন কিছু অতি-উৎসাহী লোক রয়েছেন যারা সদিচ্ছা, ইসলামি আবেগ এবং দ্বীনি গায়রতের কারণে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। আমি এই সকল গুণী ব্যক্তিদের একজনের সাথে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলাম এবং আমরা এ মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। বৈঠকটি আমার অনুরোধেই হয়েছিল, এই আশায় যে—হয়তো আমি তার কাছে এমন কিছু পাব যা তার মতামতের সপক্ষে দলিল হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু আমি তেমন কিছুই লাভ করতে পারিনি। আমি তার কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি তা ছিল মূলত কিছু সংশয় (شبهات), যা কিতাবের কিছু দলিলের বিপরীতে তার মনে উদয় হয়েছিল এবং তাকে তা মেনে নিতে ও তার অনিবার্য দাবি গ্রহণ করতে বাধা দিচ্ছিল। সেদিন রাতে আল্লাহ যা সহজ করে দিয়েছেন তা দ্বারা আমি তার সংশয়গুলোর জবাব দিয়েছিলাম, এরপর আমি চিন্তা করলাম...
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بعد ذلك في المسألة مرة أخرى، وأجلت النظر في أدلتها، وما وردني من شبهات حولها، فازددت بذلك اقتناعًا بصواب رأيي، وخطأ الرأي المخالف له، كيف لا، ورأينا هو ما ذهب إليه جماهير العلماء من المفسرين والفقهاء؛ كما هو مشروح في هذا الكتاب، وقد أوردت تلك الشبهات، وما فتح الله علي من الجواب في هذه الطبعة منه.
الثاني:
من يذهب معنا إلى أن الوجه ليس بعورة، ولكنه يرى مع ذلك أنه لا يجوز إشاعة هذا المذهب نظرًا لفساد الزمان، وسدًّا للذريعة، فإلى هؤلاء أقول:
إن الحكم الشرعي الثابت في الكتاب والسنة لا يجوز كتمانه وطيه عن الناس؛ بعلة فساد الزمان أو غيره، لعموم الأدلة القاضية بتحريم كتمان العلم، مثل قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ} [البقرة: 159] .
وقوله صلى الله عليه وسلم: "من كتم علمًا ألجمه الله يوم القيامة بلجام من نار".
رواه ابن حبان في صحيحه، والحاكم، وصححه هو والذهبي، وغير ذلك من النصوص الرادعة عن كتم العلم.
فإذا كان القول بأن وجه المرأة ليس بعورة حكمًا ثابتًا في الشرع كما
এরপর এই বিষয়টি নিয়ে আমি পুনরায় চিন্তা-ভাবনা করেছি এবং এর দলিলসমূহের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি, আর এ বিষয়ে আমার কাছে যেসব সংশয় পৌঁছেছে সেগুলোও পর্যালোচনা করেছি। ফলে আমার এই মতের সঠিকতা এবং এর বিপরীত মতের ভ্রান্তি সম্পর্কে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কেনই বা হবে না, অথচ আমাদের এই অভিমতটিই অধিকাংশ মুফাসসির এবং ফকিহগণ গ্রহণ করেছেন; যেমনটি এই কিতাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর আমি সেই সংশয়গুলো এবং এই সংস্করণে আল্লাহ আমাকে যে উত্তরগুলো প্রদান করার তাওফিক দিয়েছেন তা উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয়ত:
যারা আমাদের সাথে একমত যে মুখমন্ডল সতর (عورة) নয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে করেন যে জামানার ফাসাদ (فساد الزمان) এবং অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার (سد الذريعة) খাতিরে এই মতটি প্রচার করা জায়েজ নয়; তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই:
কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত শরয়ি বিধানকে (الحكم الشرعي) জামানার ফাসাদ বা অন্য কোনো অজুহাতে মানুষের কাছে গোপন করা বা গুটিয়ে রাখা জায়েজ নয়। কারণ ইলম গোপন করার অবৈধতা সম্পর্কে দলিলসমূহ ব্যাপক ও সাধারণ, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা গোপন করে আমি যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়েত নাযিল করেছি—মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর—তাদেরকে আল্লাহ লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদেরকে লানত করে।} [আল-বাকারা: ১৫৯]
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো ইলম গোপন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।"
ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকিম) ও জাহাবি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। ইলম গোপন করা থেকে বিরত রাখার বিষয়ে এ জাতীয় আরও অনেক নস (نصوص) রয়েছে।
সুতরাং নারীর মুখমন্ডল সতর (عورة) নয়—এই কথাটি যদি শরীয়তের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান হয়ে থাকে যেমন...
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نعتقد، فكيف يجوز القول بكتمانه، وترك تعريف الناس به؟! اللهم غُفرًا.
نعم؛ من كان يرى أنه مع ذلك لا يجوز العمل به سدًّا للذريعة، فعليه هو بدوره أن يبين ذلك الذي يراه للناس ولا يكتمه، ويأتي بالأدلة التي تؤيد رأيه، وهيهات هيهات! فهذا رسول الله صلى الله عليه وسلم يرى الفضل بن العباس رضي الله عنه يلتفت إلى المرأة الخثعمية، وكانت امرأة حسناء ينظر إليها، وتنظر إليه، وهي غير محرمة –كما سأبينه- ثم لا يكون منه عليه الصلاة والسلام أكثر من أن يصرف وجه الفضل عنها، ولا يأمرها أن تستر وجهها عنه، فأي ذريعة ووسيلة أوضح من هذه، وهو صلى الله عليه وسلم القائل بهذه المناسبة: "رأيت شابًّا وشابة، فلم آمن الشيطان عليهما" 1.
فهذا الحديث الصحيح، يقرر أن كشف المرأة عن وجهها –ولو كانت جميلة- حق لها، إن شاءت أن تأخذ به فعلت، وليس لأحد أن يمنعها من ذلك، بزعم خشية الافتنان بها، فمثل هذا الحديث منعنا من أن نقول برأي الفريق المذكور، وأوجب علينا إشاعة الرأي الصواب في المسألة.
على أنه لم يفتنا أن نلفت نظر النساء المؤمنات إلى أن كشف الوجه وإن كان جائزًا، فستره أفضل، وقد عقدنا لذلك فصلًا خاصًّا في الكتاب "الصفحة 104".
وبذلك أدينا الأمانة العلمية حق الأداء، فبينا ما يجب على المرأة، وما يحسن بها، فمن التزم الواجب فبها ونعمت، ومن أخذ بالأحسن فهو أفضل.
--------------------------------------------
আমরা বিশ্বাস করি, এমতাবস্থায় এটি গোপন রাখা এবং মানুষকে তা জানানো থেকে বিরত থাকা কীভাবে বৈধ হতে পারে?! হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন।
হ্যাঁ; যারা মনে করেন যে এর ওপর আমল করা অকল্যাণের পথ বন্ধ করার (سدًّا للذريعة) খাতিরে বৈধ নয়, তাদের উচিত তাদের এই মতামত মানুষের কাছে স্পষ্ট করা এবং তা গোপন না রাখা, এবং তাদের মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা। কিন্তু তা অসম্ভব! কেননা এই যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখলেন ফজল ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক খাসআমিয়া মহিলার দিকে তাকাচ্ছেন—যিনি ছিলেন সুন্দরী এবং তিনি তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন ও তিনিও মহিলার দিকে তাকাচ্ছিলেন—অথচ তিনি মুহরিম ছিলেন না (যেমনটি আমি অচিরেই বর্ণনা করব)—অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজল-এর চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেননি এবং তাকেও (মহিলাকে) চেহারা ঢাকার নির্দেশ দেননি। এর চেয়ে স্পষ্ট মাধ্যম বা উছিলা আর কী হতে পারে? অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই প্রসঙ্গেই বলেছিলেন: "আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম, তাই তাদের ব্যাপারে শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ বোধ করলাম না।" ১
সুতরাং এই সহিহ (صحيح) হাদিসটি এটিই সাব্যস্ত করে যে, নারীর চেহারা খোলা রাখা—যদিও সে সুন্দরী হয়—তার একটি অধিকার; সে চাইলে এটি গ্রহণ করতে পারে। আর ফিতনার আশঙ্কার অজুহাতে কাউকে এটি থেকে বিরত রাখার অধিকার কারোর নেই। এই ধরনের হাদিসই আমাদের উক্ত দলের মতামত গ্রহণ করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এই বিষয়ে সঠিক মতটি প্রচার করা আমাদের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছে।
তবে আমরা মুমিন নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভুলিনি যে, চেহারা খোলা রাখা যদিও বৈধ (جائز), তবে তা ঢেকে রাখা উত্তম। আর আমরা এ বিষয়ে কিতাবের ১০৪ পৃষ্ঠায় একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছি।
এর মাধ্যমে আমরা ইলমি আমানত যথাযথভাবে আদায় করেছি। ফলে আমরা বর্ণনা করেছি নারীর জন্য কোনটি আবশ্যক (واجب) এবং কোনটি তার জন্য উত্তম। অতএব, যে ব্যক্তি আবশ্যক (واجب) বিষয়টি পালন করল তা তো ভালোই, আর যে ব্যক্তি উত্তমটি গ্রহণ করল তা অধিকতর শ্রেষ্ঠ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا هو الذي التزمته عمليًّا مع زوجتي، وأرجو الله تعالى أن يوفقني لمثله مع بناتي حين يبلغن أو قبيل ذلك.
ومن الغريب ما جاء في كتاب الأستاذ الذي سبقت الإشارة إليه:
"وقد يلحظ أحدهم، أو يسمع حرصك الحسن على ستر أهلك الستر المطلوب دون السماح بإظهار الوجه، معاذ الله! فإذا قرأ ما كتبت، قال: خالفت فتواه تقواه، ورماك بما لا يجمل"!.
وقد كنت أرسلت إليه جواب كتابه بتاريخ "23/ 9/ 74هـ"1، ومما فيه جوابًا على هذه الفقرة؛ قولي:
"إن رماني أحدهم ظلمًا "بما لا يجمل"، فإن لي أسوة حسنة بالأنبياء والصالحين صولات الله عليهم أجمعين، الذين لم يرمهم أعداؤهم "بما لا يجمل" فقط، بل وبما يقبح، ومما لا شك فيه عندي؛ أن الرامي بما أشار إليه حضرة الكاتب، معتد ظالم، أو جاهل ينبغي أن يعلم، وذلك لأمرين.
الأول: أن غاية ما قررته في الكتاب أن وجه المرأة ليس بعورة، وأنه يجوز أن تظهره بالشرط المذكور فيه، وهذا ليس معناه أنه يلزم القائل به أن يكشف وجه زوجه ولا بد؛ لأن هذا ليس من شأن الأمر الجائز، بل هو من لوازم الأمر الواجب، إذ إن كل واحد يعلم أن الجائز هو ما يجوز فعله، كما يجوز تركه، فإذا أنا أخذت بالترك أو أخذت بالفعل؛ فعلى الحالتين لم أخرج
--------------------------------------------
এটাই আমি আমার স্ত্রীর সাথে বাস্তবিকভাবে অনুসরণ করেছি। আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে আমার কন্যাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করার তৌফিক দান করেন যখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হবে কিংবা তার কিছু আগে।
আর ইতিপূর্বে যে উস্তাদের কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাতে আসা বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর:
"হয়তো তাদের কেউ লক্ষ্য করবে, অথবা আপনার পরিবারের জন্য আপনার সেই উত্তম সতর্কতার কথা শুনবে যা আপনি চেহারা উন্মুক্ত করার অনুমতি না দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্দার বিষয়ে বজায় রেখেছেন—আল্লাহ রক্ষা করুন! অতঃপর যখন সে আপনার লেখা পড়বে, তখন সে বলবে: তার ফতোয়া তার তাকওয়ার বিপরীত হয়েছে; এবং সে আপনাকে এমন অপবাদ দিবে যা শোভনীয় নয়!"।
আমি গত "২৩/০৯/৭৪ হিজরি"১ তারিখে তার চিঠির উত্তর পাঠিয়েছিলাম, আর এই অনুচ্ছেদের জবাবে সেখানে আমার বক্তব্য ছিল:
"যদি কেউ অন্যায়ভাবে আমাকে এমন কোনো অপবাদ দেয় যা 'শোভনীয় নয়', তবে আমার জন্য নবীগণ এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে—তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তাঁদের শত্রুরা তাঁদেরকে কেবল 'অশোভন' বিষয় দিয়েই অপবাদ দেয়নি, বরং কদর্য বিষয় দিয়েও অপবাদ দিয়েছিল। আর আমার নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, লেখক মহোদয় যে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা দিয়ে যে ব্যক্তি অপবাদ দিবে সে একজন সীমালঙ্ঘনকারী জালেম, অথবা একজন জাহেল (جاهل) যাকে শিক্ষা দেওয়া উচিত। আর তা দুটি কারণে।
প্রথমত: আমি এই কিতাবে যা সিদ্ধান্ত দিয়েছি তার সারকথা হলো—নারীর চেহারা আওরাত (عورة) নয় এবং কিতাবে উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে তা প্রকাশ করা জায়েজ (جائز)। এর অর্থ এই নয় যে, এই মতের প্রবক্তাকে অবশ্যই তার স্ত্রীর চেহারা উন্মুক্ত করতে হবে; কারণ এটি কোনো জায়েজ (جائز) বিষয়ের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এটি ওয়াজিব (واجب) বিষয়ের আবশ্যকীয় দিক। কেননা প্রত্যেকেই জানে যে, জায়েজ (جائز) হলো তা-ই যা করাও বৈধ, আবার বর্জন করাও বৈধ। সুতরাং আমি যদি বর্জনের পথ বেছে নেই অথবা করার পথ বেছে নেই; উভয় অবস্থাতেই আমি গণ্ডি অতিক্রম করিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عما أفتيت به من الجواز. فتبين من ذلك أن من قال فِيَّ: "خالفت فتواه تقواه"؛ كان بعيدًا جدًّا عن الفهم السليم، أو العدل.
والآخر: أنني بجانب تقريري أن الوجه ليس بعورة، قد قررت أيضًا أن الستر هو الأفضل، ووردت فيه "ص104" على من زعم أن الستر بدعة وتنطع في الدين؛ بأحاديث وآثار أوردتها، ثم ختمتهما بما نصه "ص114":
فيستفاد مما ذكرنا أن ستر المرأة لوجهها ببرقع أو نحوه مما هو معروف اليوم عند النساء المحصنات، أمر مشروع محمود، وإن كان لا يجب ذلك عليها، بل من فعل فقد أحسن، ومن لا فلا حرج".
فهذا مني نص صريح في تفضيل الستر، ورد على الطائفتين المتشددتين: القائلين منهم بوجوبه، والقائلين منهم ببدعته، و"خير الأمور أوساطها"1.
وحقيقة الأمر عندي؛ أنه وإن كان قلبي ليكاد يتفطر أسى وحزنًا من السفور المزري، والتبرج المخزي، الذي تهافتت عليه النساء في هذا العصر، تهافت الفراش على النار، فإنني لا أرى أبدًا أن معالجة ذلك يكون بتحريم ما أباح الله لهن من الكشف عن الوجه، وأن نوجب عليهن ستره بدون أمر من الله ورسوله. بل إن حكمة التشريع، والتدرج فيه، وبعض أصوله التي
--------------------------------------------
আমি যে বৈধতার (جواز) ফতোয়া দিয়েছি সে বিষয়ে। এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যারা আমার ব্যাপারে বলেছে: "তার ফতোয়া তার তাকওয়ার পরিপন্থী হয়েছে"; তারা সঠিক বোধগম্যতা বা ইনসাফ থেকে অনেক দূরে ছিল।
দ্বিতীয়ত: আমি মুখমণ্ডল ‘আওরাত’ নয় বলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পাশাপাশি এটাও সিদ্ধান্ত দিয়েছি যে, পর্দা করাই উত্তম। আর যারা দাবি করে যে মুখ ঢাকা একটি বিদআত (بدعة) এবং দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি; তাদের ওপর আমি ১০৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত কিছু হাদিস ও আসার (آثار) দ্বারা খণ্ডন করেছি। অতঃপর ১১৪ পৃষ্ঠায় এই বক্তব্য দ্বারা সেই আলোচনা শেষ করেছি:
"সুতরাং আমাদের উল্লিখিত আলোচনা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান সময়ের সতী-সাধ্বী নারীদের মধ্যে পরিচিত বোরকা বা তদ্রূপ কিছুর মাধ্যমে কোনো মহিলার মুখমণ্ডল আবৃত করা একটি বিধিসম্মত (مشروع) ও প্রশংসনীয় বিষয়, যদিও তা তার ওপর ওয়াজিব (واجب) নয়। বরং যে তা করল সে উত্তম কাজ করল, আর যে করল না তার কোনো অসুবিধা বা গুনাহ নেই।"
এটি আমার পক্ষ থেকে পর্দা করাকে অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য এবং উভয় চরমপন্থী দলের বিরুদ্ধে একটি খণ্ডন—তাদের মধ্যে যারা একে ওয়াজিব (وجوب) বলে এবং যারা একে বিদআত (بدعة) বলে। আর "সর্বোত্তম কাজ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা" ১।
আমার নিকট প্রকৃত বিষয়টি হলো; বর্তমান যুগের নারীরা পতঙ্গ যেমন আগুনের দিকে ছুটে যায়, সেভাবে যে শোচনীয় বেপর্দা এবং লজ্জাজনক রূপ প্রদর্শনের (تبرج) দিকে ঝুঁকে পড়েছে, তাতে আমার অন্তর ব্যথায় ও দুঃখে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। তবুও আমি কোনোভাবেই মনে করি না যে, আল্লাহ তাদের জন্য মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার যে বৈধতা (إباحة) দিয়েছেন তা হারাম (تحريم) করার মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে, কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ ছাড়াই তাদের ওপর মুখ ঢাকা ওয়াজিব (إيجاب) করতে হবে। বরং শরীয়তের প্রজ্ঞার (حكمة التشريع) দাবি, এর বিধানের ক্রমান্বয়তা এবং এর এমন কিছু মূলনীতি (أصول)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
منها بقوله صلى الله عليه وسلم: "يسروا ولا تعسروا" 1، وأصول التربية الصحيحة، كل ذلك ليوجب على فقهاء الأمة ومربيها ومرشديها، أن يتلطفوا بالنساء، ويأخذوهن بالرفق لا بالشدة، ويتساهلوا معهن فيما يسر الله فيه، ولا سيما ونحن في زمن قل فيه من يأخذ بالعزائم من الأمور والفرائض، فضلًا عن المستحبات والنوافل!
فإذا كان بعض العلماء اليوم يرون أن في كشف المرأة عن وجهها مع سترها لما سواه من بدنها مما أمرها الله به خطرًا عليها –زعموا- فنرى أنه لا يليق بهم أن يكتفوا من المسألة بإظهار الإنكار الشديد على من يخالفهم في الرأي، واتخاذ القرار بمنع دخول الكتاب إلى بلادهم، بل إن عليهم أمرين اثنين لا بد لهم من القيام بهما:
الأول: أن يبينوا للناس حكم الله فيها، مستدلين عليه بالكتاب والسنة، لا تقليدًا للمذهب، أو اتباعًا للتقاليد، وبذلك فقط؛ يظهر للناس الصواب من الخطأ، بل الحق من الباطل {فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ} [الرعد: 17] . إنهم إن فعلوا ذلك استجاب لهم النساء المؤمنات، فهل يفعلون؟!
والآخر: أن يُعْنَوا بتربية الفتيات المسلمات تربية إسلامية صحيحة، وخصوصًا في المدارس والمساجد والجامعات، بتعليمهن وتثقيفهم الثقافة الشرعية النافعة، ومنع المجلات الخليعة أن تتسرب إليهن، وتفسد عليهم أخلاقهن، ونحو ذلك من الوسائل المبذولة في العصر الحاضر، مما يمك
--------------------------------------------
এর অন্যতম হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না" ১, এবং সঠিক লালন-পালনের মূলনীতি। এ সবকিছুই উম্মাহর ফকীহ, শিক্ষাবিদ এবং পথপ্রদর্শকদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করে যে, তারা যেন নারীদের প্রতি কোমল আচরণ করেন, তাদের সাথে কঠোরতা না করে নম্রতা অবলম্বন করেন এবং যে বিষয়গুলোতে আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন সেগুলোতে তাদের প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন করেন। বিশেষ করে আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে দৃঢ় সংকল্পের বিষয়সমূহ ও ফরজগুলো পালনের লোকই বিরল, পছন্দনীয় বিষয় এবং নফলগুলোর কথা তো বলাই বাহুল্য!
বর্তমানে কিছু আলেম যদি মনে করেন যে, নারীদের শরীরের অন্যান্য অংশ আবৃত রেখে শুধু মুখমণ্ডল খোলা রাখায়—তাদের দাবি অনুযায়ী—বিপদ রয়েছে, তবে আমরা মনে করি যে, তাদের জন্য কেবল মতবিরোধীদের প্রতি কঠোর প্রতিবাদ জানানো এবং তাদের দেশে বই প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা সমীচীন নয়। বরং তাদের ওপর দুটি কাজ করা আবশ্যক:
প্রথমত: এ বিষয়ে আল্লাহর বিধান মানুষের কাছে স্পষ্ট করা, যা কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে হতে হবে; কোনো মাজহাবের অন্ধ অনুসরণ বা প্রথা অনুসরণ করে নয়। কেবলমাত্র এভাবেই মানুষের সামনে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য স্পষ্ট হবে, বরং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য ফুটে উঠবে। {অতঃপর ফেনা তো ভেসে গিয়ে বিলীন হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে স্থায়ী হয়} [রা‘দ: ১৭]। তারা যদি এমনটি করেন, তবে মুমিন নারীরা অবশ্যই তাতে সাড়া দেবেন; কিন্তু তারা কি তা করবেন?!
দ্বিতীয়ত: মুসলিম মেয়েদের সঠিক ইসলামি আদর্শে গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হওয়া, বিশেষ করে বিদ্যালয়, মসজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের পাঠদান ও উপকারী শরয়ি জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে। এছাড়া অশ্লীল ম্যাগাজিনগুলো যাতে তাদের হাতে না পৌঁছে এবং তাদের চরিত্র নষ্ট করতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া এবং বর্তমান যুগে প্রচলিত অনুরূপ অন্যান্য মাধ্যমগুলো থেকে বিরত রাখা যা সক্ষম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাতিল ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
استعماله في الشر والخير، {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً} [الأنبياء: 35] .
بمثل هذا وذاك يمكن أن يوجد جيل من النساء المؤمنات اللاتي إذا سمعن مثل قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ} [الأحزاب: 59] ؛ بادرن إلى امتثال أمره كما فعلت نساء الأنصار رضي الله عنهن حين نزل قوله عز وجل: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} [النور: 31] ، بادرن فاختمرن بما تيسر لهن من الأزر كما هو مذكور في موضعه من الكتاب "الصفحة 78".
فمثل هذه النسوة يمكن أن تؤمر بستر الوجه إن كان واجبًا، وأما أمر السواد الأعظم من النساء بذلك، في مثل بلادنا السورية، وغيرها كمصر ونحوها من البلدان الأخرى التي انتشر، أو بدأ ينتشر فيها التبرج والخلاعة بأبشع صوره، مما لم تنج منه مع الأسف حتى بلاد التوحيد التي كنا نأمل أن تكون الحصن الحصين للمسلمين من هذا التبرج، فأمر هذا الجنس من النساء بستر الوجه الذي لم يأمر الله به، وهن لا استعداد عندهن أن يسترن نحورهن وصدورهن وما هو أكثر من ذلك؛ مما لا يذهب إليه من كان عنده ذرة من رائحة فقه الكتاب والسنة.
فمن الحكمة إذن، أن يقنع العلماء في هذا العصر بأن يستجيب النساء لما أمر الله بع من حجب البدن كله؛ حاشا الوجه والكفين، فمن حجبهما أيضًا منهن، فذلك ما نستحبه لهن، وندعو إليه. وأما إيجاب ذلك عليهن، فهو عندي تشدد في الدين، وتنطع لا يحبه الله، وخصوصًا على النساء اللاتي وصانا بهن رسول الله صلى الله عليه وسلم خيرًا، في أحاديث كثيرة، منها قوله عليه
অমঙ্গল ও মঙ্গলে এর ব্যবহার, "আমি তোমাদের অমঙ্গল ও মঙ্গল দ্বারা পরীক্ষা (فتنة) করি" [আল-আম্বিয়া: ৩৫]।
এর মাধ্যমে এমন এক মুমিন নারী প্রজন্মের উদ্ভব হওয়া সম্ভব, যারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো কথা শুনলে: "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের (جلباب) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়" [আল-আহযাব: ৫৯]; তারা দ্রুত সেই আদেশ পালনে সচেষ্ট হয়, যেমনটি আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) নারীরা করেছিলেন যখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: "তারা যেন তাদের ওড়না (خمار) দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত করে" [আন-নূর: ৩১]; তারা তৎক্ষণাৎ হাতের কাছে পাওয়া কাপড় দিয়ে নিজেদের আবৃত করেছিলেন, যা এই কিতাবের নির্দিষ্ট স্থানে (পৃষ্ঠা ৭৮) বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং এ জাতীয় নারীদের মুখমণ্ডল ঢাকার আদেশ দেওয়া যেতে পারে যদি তা ওয়াজিব (واجب) হয়। তবে আমাদের সিরিয়া কিংবা মিশর বা অন্য যেসব দেশে বেপর্দা (تبرج) ও নির্লজ্জতা জঘন্যতমরূপে ছড়িয়ে পড়েছে বা পড়তে শুরু করেছে, সেসব দেশের বিপুল সংখ্যক সাধারণ নারীকে এমন নির্দেশ দেওয়া সমীচীন নয়। দুর্ভাগ্যবশত, এমনকি তাওহীদের (توحيد) ভূখণ্ডগুলোও এ থেকে রক্ষা পায়নি, যেগুলোকে আমরা এই বেপর্দা থেকে মুসলিমদের জন্য এক সুরক্ষিত দুর্গ হিসেবে আশা করেছিলাম। তাই এ শ্রেণির নারীদের মুখমণ্ডল ঢাকার আদেশ দেওয়া—যা আল্লাহ নির্দেশ করেননি—অথচ তাদের নিজেদের গ্রীবা, বক্ষদেশ বা তার চেয়েও বেশি কিছু ঢাকার মানসিক প্রস্তুতি নেই; এমন চিন্তা কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারে না যার কিতাব ও সুন্নাহর ফিকহ (فقه) সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে।
সুতরাং হিকমত (حكمة) বা প্রজ্ঞা হলো বর্তমান যুগে আলেমদের এই বিষয়ে তুষ্ট থাকা যে, নারীরা যেন আল্লাহর সেই আদেশ মেনে চলে যাতে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি ব্যতীত পুরো শরীর আবৃত করার কথা বলা হয়েছে। আর তাদের মধ্যে যারা এই দুটি অংশও আবৃত করবে, আমরা তাদের জন্য সেটিকে মুস্তাহাব (مستحب) মনে করি এবং সেটির দিকেই আহ্বান জানাই। কিন্তু তাদের ওপর এটি আবশ্যক (إيجاب) করা আমার দৃষ্টিতে দ্বীনের ক্ষেত্রে কঠোরতা এবং বাড়াবাড়ি (تنطع), যা আল্লাহ পছন্দ করেন না। বিশেষ করে সেই সব নারীর ক্ষেত্রে যাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহু হাদিসে আমাদের কল্যাণের অসিয়ত (وصية) করেছেন, যার মধ্যে তাঁর এই বাণীও রয়েছে...