(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث
المؤلف: محمد جمال الدين بن محمد سعيد بن قاسم الحلاق القاسمي (ت 1332هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية -بيروت-لبنان
عدد الصفحات: 415
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কাওয়ায়িদুত তাহদিস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: কাওয়ায়িদুত তাহদিস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
লেখক: মুহাম্মদ জামালুদ্দিন বিন মুহাম্মদ সাঈদ বিন কাসিম আল-হাল্লাক আল-কাসেমী (ওফাত: ১৩৩২ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ -বৈরুত-লেবানন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
المقدمات:السيد محمد جمال الدين القاسمي الدمشقي لكاتب الشرق الأكبر أمير البيان المرحوم الأمير شكيب أرسلان:
لا يخفى على أهل الأدب، أن الجمال والقسام في العربي واحد، وأن معنى القاسم هو الجميل. فلا يوجد إذن لتأدية هذا المعنى أحسن من قولنا: "الجمال القاسمي" الذي جاء أسمًا على مسمى، مع العلم بأن الجمال الحقيقي، هو الجمال المعنوي، لا الجمال الصوري، الذي هو جمال زائل. فالجمال المعنوي هو الذي ورد به الحديث الشريف: "إن الله جميل ويحب الجمال".
وعلى هذا يمكنني أن أقول: إنه لم يعط أحد شطر الجمال المعنوي الذي يحبه الله تعالى، ويشغف به عباد الله تعالى، بدرجة المرحوم الشيخ جمال الدين القاسمي الدمشقي، الذي كان في هذه الحقبة الأخيرة جمال دمشق، وجمال القطر الشامي بأسره، في غزارة فضله، وسعة علمه، وشفوف حسه، وزكاء نفسه، وكرم أخلاقه، وشرف منازعه، وجمعه بين الشمائل الباهية، والمعارف المتناهية، بحيث أن كل من كان يدخل دمشق، ويتعرف إلى ذاك الحبر الفاضل، والجهبذ الكامل، كان يرى أنه لم يكن فيها إلا تلك الذات البهية، المتحلية بتلك الشمائل السرية، والعلوم العبقرية، لكان ذلك كافيًا في إظهار مزيتها على سائر البلاد، وإثبات أن أحاديث مجدها موصولة الإسناد.
لقد تعرفت إلى العلامة المشار إليه رحمه الله، منذ ثلاث وعشرين سنة أو أكثر وذلك بواسطة صديقه الأستاذ العلامة نادرة عصره، الشيخ عبد الرزاق البيطار، قدس الله روحه اللطفية، فقد كان هذان الجهبذان فرقدين في سماء الشام، يتشابهان كثيرًا في سجاحة الخلق، ورجاحة العقل، ونبالة القصد، وغزارة العلم، والجمع بين العقل والنقل، والرواية والفهم.
উপোদঘাতসমূহ:প্রাচ্যের শ্রেষ্ঠ লেখক, বাগ্মিতার রাজকুমার (আমীরুল বিয়ান) মরহুম আমীর শাকিব আরসালান কর্তৃক সাইয়্যেদ মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী আদ-দিমাশকী সম্পর্কে একটি নিবন্ধ:
সাহিত্য অনুরাগী ব্যক্তিবর্গের নিকট এটি অবিদিত নয় যে, আরবি ভাষায় ‘জামাল’ এবং ‘কাসাম’ শব্দদ্বয় সমার্থবোধক এবং ‘কাসেম’ শব্দের অর্থ হলো ‘সুন্দর’। সুতরাং এই অর্থটি ফুটিয়ে তোলার জন্য আমাদের এই উক্তি অপেক্ষা আর কোনো শ্রেষ্ঠ কথা হতে পারে না যে: “আল-জামাল আল-কাসেমী” (কাসেমী সৌন্দর্য), যা মূলত গুণানুসারেই সার্থকনামা হয়েছে। তবে এটি অনস্বীকার্য যে, প্রকৃত সৌন্দর্য হলো আত্মিক সৌন্দর্য, বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়; যা মূলত ক্ষণস্থায়ী। আত্মিক সৌন্দর্যের ব্যাপারেই হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।”
এমতাবস্থায় আমি বলতে পারি যে: মহান আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যার প্রতি মহান আল্লাহর বান্দারা আসক্ত হন, সেই আত্মিক সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ মরহুম শেখ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী আদ-দিমাশকীকে যেভাবে দান করা হয়েছে, তেমনটি এই সাম্প্রতিক যুগে আর কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি তাঁর অঢেল শ্রেষ্ঠত্ব, ইলমের প্রসারতা, অনুভূতির প্রখরতা, আত্মার পবিত্রতা, চরিত্রের মহানুভবতা, উচ্চমার্গীয় উদ্দেশ্য এবং চমৎকার বৈশিষ্ট্য ও সুদূরপ্রসারী জ্ঞানের সমন্বয়ের মাধ্যমে দামেস্কের তথা সমগ্র শাম প্রদেশের সৌন্দর্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। দামেস্কে যে কেউ প্রবেশ করত এবং সেই বিদগ্ধ পণ্ডিত ও পূর্ণাঙ্গ ধীমান ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হতো, সে দেখতে পেত যে, এই জনপদে যদি শুধুমাত্র এই উজ্জ্বল সত্তাটিই বিদ্যমান থাকতেন—যিনি সেই নিগূঢ় গুণাবলি ও অনন্য সাধারণ জ্ঞানে বিভূষিত ছিলেন—তবে সেটিই অন্যান্য শহরগুলোর ওপর এই শহরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য এবং এর গৌরবের হাদিসসমূহ যে নিরবচ্ছিন্ন সনদযুক্ত (موصولة الإسناد) তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হতো।
আমি উল্লিখিত আল্লামা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে তেইশ বছর বা তারও বেশি সময় আগে পরিচিত হয়েছিলাম, আর তা হয়েছিল তাঁর বন্ধু, যুগের অদ্বিতীয় পণ্ডিত আল্লামা শেখ আবদুর রাজ্জাক আল-বাইতারের মাধ্যমে, আল্লাহ তাঁর পবিত্র আত্মাকে রহমতস্নাত করুন। এই দুই ধীমান ব্যক্তি শাম প্রদেশের আকাশে দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো ছিলেন। তাঁরা চরিত্রের কোমলতা, বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব, উদ্দেশ্যের মহত্ত্ব, ইলমের প্রাচুর্য এবং আকল (যুক্তি) ও নকল (نقل) এবং বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবনের সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে একে অপরের অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولم يكن في وقتهما أعلى منهما فكرًا، وأبعد نظرًا، وأثقب ذهنًا، في فهم المتون والنصوص، والتمييز في بين العموم والخصوص؛ وكان وجودهما ضربة شديدة على الحشوية، وتلك الطبعة الجامدة، التي هي وأمثالها صارت حجة على الإسلام في تدهوره وإنحطاطه، وفقده معاليه السالفة.
وقد كنت لا أغشى دمشق مرة من المرار -والله يعلم كم كنت أزورها كل سنة- إلا كان أول ما أبادر إليه زيارة الأستاذين: الشيخ عبد الرازق البيطار، والشيخ كمال القاسمي، رحمهما الله، وجزاهما عن الإسلام خيرًا، وكانت تستمر مجالستي مع كل منهما أو معهما مجتمعين، الساعات الطوال، في الأيام والليال، ولا نشرع بمرورها، بسبب طرافة الحديث، ولطفاة النكات، وجلالة المواضيع، ونصاعة البراهين، وغزارة الشواهد، والنظم بين المعقول والمنقول، والجمع بين الفروع والأصول. فكنت إذا سمعت محاضراتهما نسيت نفسي، ورأيتني في حياة غير الحياة التي أعهدها. وكم حفظت مما سمعته منهما من شوارد، وعلقت من نوادر، وفهمت من حقائق، وتذوقت من رقائق، أنا فيها عيال عليهما وإني لأجر ذيل التية بهذا السند.
وقد كان للشيخ جمال رحمه الله عدا إحاطته العلمية، معارف لا يساويه فيها أحد من المجتمع الإسلامي عمومًا، والعربي الشامي خصوصًا. فقد صح فيه ذلك التعريف الذي عرف به بعضهم "العالم" فقالوا: "هو قبل كل شيء العالم بأحوال عصره ومصره".
وقد كنت إذا فارقت ذينك الأستاذين، لا أفتأ أعشو إلى منارهما، وأجاذبهما حبال المراسلة، استفادة منهما على البعد، واستحضارًا في الخيال لروحيهما اللتين هما معدن الأنس.
وعندي منهما كتب أعدها من أنفس الذخائر، وأثمن ما يورثه الأول للآخر. وربما أنشر بعض كتابات الشيخ جمال في أول فرصة تتسنى لي.
وكنت أعلم أن للشيخ جمال تآليف ممتعة، وربما كان يطلعني على بعضها، وربما طالعني ببعض آرائه فيها، واستأنس برأي القاصر، واستوري زندي الفاتر، وهو مع ذلك صاحب الرأي الذي انتهت إليه الأصالة، والقولخ الذي اندمجت فيه الدقة مع الجلالة.
তাদের সময়ে চিন্তা-চেতনা ও দূরদৃষ্টির ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মতন (المتون) ও নصوص (النصوص) অনুধাবনের ক্ষেত্রে তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী আর কেউ ছিল না। তারা আম (العموم) ও খাস (الخصوص)-এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়েও ছিলেন অনন্য। তাদের উপস্থিতি ছিল হাশবিয়্যাহ (الحشوية) এবং সেই জড়ত্ববাদী গোষ্ঠীর ওপর এক চরম আঘাত, যারা এবং যাদের সমমনারা ইসলামের অধঃপতন ও অবনতির যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে তর্কের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার ফলে ইসলাম তার পূর্বের গৌরব হারিয়েছিল।
আমি যতবারই দামেস্কে গিয়েছি—আর আল্লাহ জানেন আমি প্রতি বছর কতবার সেখানে যেতাম—আমার প্রথম কাজই হতো দুই উস্তাদ: শেখ আবদুল রাজ্জাক আল-বাইতার এবং শেখ কামাল আল-কাসিমি (আল্লাহ তাদের রহমত করুন এবং ইসলামের পক্ষ থেকে তাদের উত্তম প্রতিদান দিন)-এর সাথে সাক্ষাৎ করা। তাদের প্রত্যেকের সাথে বা একত্রে দীর্ঘ সময় দিন ও রাত অতিবাহিত হতো। আলোচনার মাধুর্য, সূক্ষ্ম রসিকতা, বিষয়ের গাম্ভীর্য, প্রমাণের স্পষ্টতা, উদাহরণের প্রাচুর্য এবং মা’কুল (المعقول) ও মানকুল (المنقول)-এর মধ্যে সমন্বয় এবং ফুরু (الفروع) ও উসুল (الأصول)-এর সংমিশ্রণের কারণে আমরা সময়ের বয়ে চলা টেরই পেতাম না। যখন আমি তাদের আলোচনা শুনতাম, তখন নিজেকে ভুলে যেতাম; মনে হতো আমি পরিচিত জীবনের বাইরে ভিন্ন এক জীবনে আছি। তাদের থেকে কত দুর্লভ বিষয় মুখস্থ করেছি, কত বিরল তথ্য টুকে নিয়েছি, কত ধ্রুব সত্য বুঝতে পেরেছি এবং কত আধ্যাত্মিক সুধা আস্বাদন করেছি—এসব ক্ষেত্রে আমি তাদের মুখাপেক্ষী এবং এই সনদ (السند)-এর সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত।
শেখ জামাল (রহ.)-এর ইলমি গভীরতা ছাড়াও এমন কিছু জ্ঞান ছিল, যাতে সমগ্র মুসলিম সমাজ, বিশেষ করে আরব ও শামী সমাজে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। ‘আলেম’ সম্পর্কে কেউ কেউ যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তা তাঁর ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত হয়েছে: "তিনি সবকিছুর আগে নিজ যুগ ও পরিবেশ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।"
যখনই আমি সেই দুই উস্তাদের থেকে বিদায় নিতাম, আমি সর্বদা তাদের আলোকবর্তিকার দিকে ব্যাকুল থাকতাম এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতাম, যাতে দূর থেকেও তাদের থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং কল্পনায় তাদের সেই প্রাণসত্তা অনুভব করা যায়, যা ছিল আন্তরিকতার খনি।
তাদের কাছ থেকে পাওয়া এমন কিছু পত্র বা পাণ্ডুলিপি আমার কাছে আছে, যেগুলোকে আমি অতি মূল্যবান সম্পদ এবং উত্তরসূরিদের জন্য শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার মনে করি। সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ অচিরেই শেখ জামালের কিছু লেখা প্রকাশ করব।
আমি জানতাম শেখ জামালের চমৎকার সব রচনা রয়েছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাকে তার কিছু অংশ দেখাতেন এবং সেখানে তাঁর কিছু মতামতের বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করতেন। তিনি আমার নগণ্য মতামতের মাধ্যমে সান্ত্বনা খুঁজতেন এবং আমার অকিঞ্চিৎকর জ্ঞানকে উজ্জীবিত করতেন। অথচ তিনি ছিলেন এমন এক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, যার নিকট মৌলিকতা এসে শেষ হয়েছে এবং যাঁর বক্তব্য ছিল সূক্ষ্মতা ও গাম্ভীর্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولكني لم أكن أطلعت على كتابه الذي هو تحت الطبع الآن، المسمى "قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث" فقد بعث به إلى ولده الأديب السيد ظافر القاسمي، أظفره الله بما أراده، وجعله فرعًا صالحًا لذلك الأصل المنقطع النظير. فرأيت من هذا الكتاب في حسن ترتيبه وتبويبه، وتقريب الطرق على مريد الحديث، والإحاطة بكل ما يلزم المسلم معرفته، من قواعد هذا العلم الشريف ما يقضي بالعجب لمن لم يكن يعرف علو درجة المؤلف، ولكنه مما لا يعجب منه مثلي ممن حضروا مجالسة الزاهرة. وسمعوا تقريراته الساحرة.
وإني لأوصي جميع الناشئة الإسلامية، التي تريد أن تفهم الشرع فهمًا ترتاح إليه ضمائرها، وتنعقد عليه خناصرها، أن لا تقدم شيئًا على قراءة تصانيف المرحوم الشيخ جمال القاسمي، الذي قسم الله له من اكتناه أسرار الشرع، ما لم يقسمه إلا لكبار الأئمة، وأحبار الأمة.
والله تعالى ينفع المسلمين بآثاره، ويهديهم في ظلمات هذه الحياة بزاهر أنواره آمين.
جنيف 5 رجب الفرد 1353
شكيب أرسلان
কিন্তু আমি তাঁর সেই কিতাবটি দেখার সুযোগ পাইনি যা বর্তমানে মুদ্রণাধীন, যার নাম হলো "কাওয়ায়েদুত তাহদীস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস"। সেটি তাঁর সুসাহিত্যিক পুত্র জনাব জাফির আল-কাসেমির নিকট পাঠানো হয়েছে—আল্লাহ তাঁকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিন এবং তাঁকে সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী মূলের এক যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে কবুল করুন। আমি এই কিতাবটির চমৎকার বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাস, হাদিস অন্বেষণকারীর জন্য সহজবোধ্য উপস্থাপনা এবং এই মহিমান্বিত শাস্ত্রের ঐ সকল মূলনীতি (قواعد) সম্পর্কে একজন মুসলিমের যা কিছু জানা আবশ্যক—সে সবকিছুর গভীরতা দেখে সত্যিই বিস্মিত হয়েছি। যে ব্যক্তি লেখকের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত নন, তাঁর নিকট এটি বিস্ময়কর মনে হতে পারে; কিন্তু আমার মতো যারা তাঁর জ্ঞানগর্ভ মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর জাদুকরী ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ শুনেছেন, তাঁদের নিকট এটি আশ্চর্যের কিছু নয়।
আমি মুসলিম প্রজন্মের সেই সকল তরুণদের উপদেশ দিচ্ছি, যারা শরিয়তকে এমনভাবে বুঝতে চায় যা তাদের হৃদয়ে প্রশান্তি দেয় এবং যা তারা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারে, তারা যেন মরহুম শায়খ জামাল আল-কাসেমির রচনাবলি পাঠের ওপর অন্য কোনো কিছুকে অগ্রাধিকার না দেয়। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে শরিয়তের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচনের এমন প্রজ্ঞা দান করেছেন, যা তিনি কেবল বড় বড় ইমাম ও উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদেরই দান করে থাকেন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর কর্ম ও রচনার মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং এই নশ্বর জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে তাঁর প্রজ্জ্বলিত নূরের মাধ্যমে তাঁদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।
জেনেভা, ৫ই রজব ১৩৫৩ হিজরি
শাকিব আরসালান
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১১)
قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث؛ لمصلح العصر المرحوم الإمام السيد محمد رشيد رضا:
نُعي إلينا القاسمي في شهر رجب من سنة 1332 فكتبت له ترجمة نشرتها في هذا الشهر والذي بعده من مجلد المنار السابع عشر وصفته في أولها بقولي1:
"هو علامة الشام، ونادرة الأيام، والمجلد لعلوم الإسلام، محيي السنة بالعلم والعمل والتعليم، والتهذيب والتأليف، وأحد حلقات الاتصال بين هدي السلف، والارتقاء المدني الذي يقتضيه الزمن، الفقيه الأصولي، المفسر المحدث، الأديب المتفنن، التقي الأواب، الحليم الأواه، العفيف النزيه، صاحب التصانيف الممتعة، والأبحاث المقنعة صديقنا الصفي، وخلنا الوافي، وأخونا الروحي، قدس الله روحه، ونور ضريحه، وأحسن عزاءنا عنه".
ثم ذكرت تصانيفه ورسائله2 مرتبة على الحروف فبلغت 79، ومنها هذا الكتاب "قواعد التحديث" الذي عني بطبعه نجله الكريم السيد ظافر القاسمي فتم في هذا الشهر "شوال سنة 1353" وكان يرسل إلي ما يتم طبعه منه متفرقًا لأنظر فيه، وأكتب للقراء تعريفًا به، على علم تفصيلي بمباحثه وأسلوبه، وتقسيمه وترتيبه، فأقول:
ليتني كنت أملك من وقتي الحاشك بالضروريات، الحاشد بالواجبات، فرصة واسعة أو نهزًا متفرقة في شهر أو شهرين أقرأ فيها هذا السفر النفيس كله، فأتذكر به من هذا العلم ما لعلي نسيت، وأتعلم مما جمعه المؤلف فيه ما جهلت، فهو الحقيق بأن يقرأ ما كتب، ويحصى ما جمعه، لتحريه النفع، وحسن اختياره في الجمع، وسلامة ذوقه في التعبير والتقسيم
--------------------------------------------
কাওয়াইদুল তাহদিস হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক একটি গ্রন্থ; যা সমকালীন সংস্কারক মরহুম ইমাম সাইয়্যিদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা কর্তৃক লিখিত:
১৩৩২ হিজরি সনের রজব মাসে আল-কাসিমির মৃত্যু সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছে। তখন আমি তাঁর জন্য একটি জীবনচরিত (ترجمة) লিখেছিলাম যা সেই মাসে এবং তার পরবর্তী মাসে আল-মানার-এর সপ্তদশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। তার শুরুতে আমি তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছিলাম১:
"তিনি ছিলেন শামের প্রথিতযশা পণ্ডিত (علامة), সমকালের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামের জ্ঞানসমূহের সারসংক্ষেপকারী। তিনি জ্ঞান, আমল, শিক্ষা, সংস্কার এবং রচনার মাধ্যমে সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন সালাফদের (سلف) হিদায়েত এবং যুগের প্রয়োজনে আধুনিক উন্নয়নের মধ্যকার সংযোগকারী অন্যতম এক যোগসূত্র। তিনি ছিলেন ফকিহ (فقيه), উসুলবিদ (أصولي), মুফাসসির (مفسر), মুহাদ্দিস (محدث), বহুমুখী প্রতিভাধর সাহিত্যিক, খোদাভীরু (تقي), আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী (أواب), সহনশীল (حليم), কোমল হৃদয়ের অধিকারী (أواه), পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের অধিকারী, মনোজ্ঞ রচনাবলী ও সন্তোষজনক গবেষণার সংকলক, আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, বিশ্বস্ত সহচর এবং আত্মিক ভাই। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন, তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং তাঁর বিদায়ে আমাদের উত্তম ধৈর্য দান করুন।"
অতঃপর আমি তাঁর গ্রন্থ ও পুস্তিকাগুলোর২ তালিকা বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করেছি যা ৭৯-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে এই 'কাওয়াইদুল তাহদিস' গ্রন্থটি, যা প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র সাইয়্যিদ জাফির আল-কাসিমি। ১৩৫৩ হিজরির শাওয়াল মাসে এর মুদ্রণ সম্পন্ন হয়। তিনি বইটির মুদ্রিত অংশগুলো আলাদা আলাদাভাবে আমার কাছে পাঠাতেন যেন আমি তা পর্যবেক্ষণ করি এবং এর আলোচ্য বিষয় (مباحث), শৈলী, বিভাজন ও বিন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত অবগতির ভিত্তিতে পাঠকদের জন্য একটি পরিচিতি লিখি। তাই আমি বলছি:
আফসোস! প্রয়োজনীয় ও আবশ্যিক কাজে পরিব্যাপ্ত আমার সময়ের মধ্যে যদি এক বা দুই মাসের জন্য দীর্ঘ অবসর বা বিক্ষিপ্ত কিছু সুযোগ পেতাম, তবে আমি এই মূল্যবান গ্রন্থটি সম্পূর্ণ পাঠ করতাম। এর মাধ্যমে আমি এই শাস্ত্রের সেই বিষয়গুলো স্মরণ করতে পারতাম যা সম্ভবত আমি ভুলে গিয়েছি এবং লেখক এতে যা সংকলন করেছেন তা থেকে অজানা বিষয়গুলো শিখতে পারতাম। লেখক যা লিখেছেন তা পাঠ করা এবং তিনি যা সংগ্রহ করেছেন তা গণনা করা একান্ত প্রয়োজন; কারণ তিনি উপকারের অন্বেষণ করেছেন, চমৎকারভাবে বিষয়বস্তু নির্বাচন করেছেন এবং বর্ণনাভঙ্গি ও বিন্যাসে তাঁর রুচিবোধের পরিচয় দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১২)
والترتيب والوضع، وقد بلغ في مصنفه هذا سدرة المنتهى من هذا العلم الاصطلاحي المحض، الذي يوعى بكد الحافظة، وتستنبط بقوة الذاكرة، فلا يستلذه الفكر الغواص على حقائق المعقولات، ولا الخيال الجوال في جواء الشعريات، ولا الروح المرفرف في رياض الأدب أو المحلق في سماء الإلهيات إذ جعله كأنه مجموعة علوم وفنون وأدب وتاريخ وتهذيب وتصوف، مصطفاة كلها من علم حديث المصطفى صلوات الله عليه وعلى آله، ومن كتب طبقات العلماء المهتدين به، كأنه قرص من أقراص أبكار النحل، جنته من طرائف الأزهار العطرية، ومجت فيه عسلها المشتار من طوائف الثمار الشهية، فلعل الظمآن لهذا العلم لا يجد فيه كتابًا له مطالعته كله، فينله ويعله ولا يمله، كأنه أقصوصة حب، أو ديوان شعر، اللهم إلا هذا الكتاب.
أقول هذا بعد أن طفت بجميع أبوابه، وكثير من مباحثه وفصوله، طوافًا سريعًا كأشواط الرمل في طواف النسك، ثم قرأت فيه بعض ما اختلفت العلماء في تحقيقه، وبعض ما لم يسبق لي الاطلاع عليه من مختارات نقوله، فصح لي أن أصفه وصفًا صحيحًا مجملًا يهدي إلى تفصيل:
صفة للكتاب وما فيه:
فأما تقسيمه وترتيب أبوابه وفصوله ومباحثه وضع عناوينها، فهو غاية في الحسن وتسهيل المطالعة والمراجعة بكثرتها، وجعلها عامة شاملة لوسائلها كمقاصدها، وفروعها كأصولها، وزادها حسنًا مراعاته في الطبع، بجعلها على أحدث وضع: من ترك بياض واسع بين سوادها، شامل للمعدود بالأرقام من مباحثها، مع إفراط فيه بترك بعض الصفات بعد ختام للفصل أو البحث خالية كلها.
ومن آيات إخلاص المؤلف وحسن اختيار الناشر، أن طبعه في هذا العهد الذي توجهت فيه همم الكثيرين من أهل الدين وطلاب العلم إلى الاشتغال بما كان متروكًا من علم الحديث، والاهتداء بالسنن الصحيحة في هذه الأقطار العربية، واجتناب الروايات الموضوعة المنكرة والواهية، واشتدت حاجتهم إلى معرفة الشذوذ والعلل والتعارض والتراجيح فيها، وبيان
বিন্যাস ও উপস্থাপনা; তিনি তাঁর এই সংকলনে এই বিশুদ্ধ পারিভাষিক জ্ঞান (العلم الاصطلاحي)-এর ক্ষেত্রে সিদরাতুল মুনতাহা বা চরম শিখরে পৌঁছেছেন, যা স্মৃতিশক্তির প্রচেষ্টার মাধ্যমে আয়ত্ত করা হয় এবং মেধার শক্তির মাধ্যমে আহরণ করা হয়। যুক্তিগ্রাহ্য বাস্তবতার গভীরে ডুব দেওয়া চিন্তাশীল মন, কাব্যিক জগতের বিচরণশীল কল্পনা, সাহিত্যের উদ্যানে বিচরণকারী কিংবা আধ্যাত্মিকতার আকাশে উড্ডয়নকারী আত্মা—কেউই একে স্বাচ্ছন্দ্যে আস্বাদন করতে পারবে না। কেননা তিনি একে বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কার ও তাসাউফের এমন এক অনন্য সংগ্রহে পরিণত করেছেন, যার সবকিছুই নবী (সা.)-এর হাদিস এবং তাঁর আদর্শে পরিচালিত হিদায়াতপ্রাপ্ত আলেমদের জীবনীগ্রন্থসমূহ থেকে চয়ন করা হয়েছে। এটি যেন মৌমাছির তৈরি একটি মৌচাক, যা দুর্লভ সুগন্ধি ফুলের নির্যাস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যেখানে সুস্বাদু ফলের মধু ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত এই ইলমের পিপাসু ব্যক্তি এমন কোনো বই পাবে না যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেও ক্লান্তি আসবে না, বরং এটি পড়ার সময় মনে হবে কোনো প্রেমের গল্প বা কাব্যগ্রন্থ পাঠ করছে—আল্লাহর কসম, এই কিতাবটি ব্যতীত।
আমি এ কথা বলছি এর প্রতিটি অধ্যায় এবং অনেক গবেষণা ও পরিচ্ছেদ দ্রুততার সাথে পর্যালোচনার পর, ঠিক যেমন হজের তওয়াফের সময় দ্রুত পদক্ষেপে (রিমল) চক্কর দেওয়া হয়। এরপর আমি এর কিছু অংশ পাঠ করেছি যেগুলোর গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণে আলেমগণ মতভেদ করেছেন এবং এর উদ্ধৃতিগুলো থেকে এমন কিছু বিষয় নির্বাচন করেছি যা আগে আমার নজরে আসেনি। ফলে আমার পক্ষে এটি সম্পর্কে একটি সঠিক ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে যা বিস্তারিত বর্ণনার পথ দেখাবে:
কিতাব ও এর বিষয়বস্তুর বৈশিষ্ট্য:
এর বিভাজন, অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহের বিন্যাস এবং সেগুলোর শিরোনাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে, যা প্রচুর শিরোনামের কারণে পাঠ ও তথ্য অনুসন্ধানকে সহজতর করেছে। এর শিরোনামগুলোকে এমনভাবে ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা হয়েছে যা মূল বিষয়ের পাশাপাশি এর মাধ্যম ও শাখা-প্রশাখাগুলোকেও ধারণ করে। মুদ্রণের ক্ষেত্রে আধুনিক বিন্যাস অনুসরণ করায় এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে; যেমন লেখার মাঝখানে পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখা এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদ বা গবেষণার শেষে ধারাবাহিক নম্বর ব্যবহার করা, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচ্ছেদ শেষে পৃষ্ঠা খালি রাখার আধিক্য দেখা গেছে।
লেখকের আন্তরিকতা ও প্রকাশকের উত্তম নির্বাচনের একটি নিদর্শন হলো যে, এটি এমন এক যুগে প্রকাশিত হয়েছে যখন অনেক দ্বীনদার ব্যক্তি ও তালিবে ইলমের আগ্রহ হাদিসের ওই সব শাখার প্রতি নিবদ্ধ হয়েছে যা আগে অবহেলিত ছিল। তারা এই আরব দেশগুলোতে সহিহ সুন্নাহর মাধ্যমে হিদায়াত লাভের চেষ্টা করছে এবং জাল (الموضوعة), বর্জনীয় (المنكرة) ও অত্যন্ত দুর্বল (الواهية) বর্ণনাগুলো পরিহার করছে। তাদের মধ্যে বর্ণনার বিচ্যুতি (الشذوذ), সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل), বৈপরীত্য (التعارض) এবং বর্ণনাসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ (التراجيح) সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে, এবং তার বিবরণ...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ذلك في كتاب سهل العبارة، جامع لأهم ما يحتاجون إليه من المصطلحات في الرواية والدراية ووصف دواوين السنة من المسانيد الصحاح والسنن، وكل ما يرشد إلى الاحتجاج والعمل، وأحسن أقوال الحفاظ، ورجال الجرح والتعديل وعلماء أصول الفقه في ذلك، وإنهم ليجدون كل هذه المطالب في هذا الكتاب دانية القطوف، مع زيادة يندر فيها المنكر ويكثر المعروف.
وأما طريقة المؤلف في تدوينه فهو أنه طالع كثيرًا من مصنفات المحدثين والأصوليين والفقهاء والصوفية والمتكلمين والأدباء من المتقدمين والمتأخرين، وكتب مذاكرات فيما اختار منها في هذا الفن وما يتصل به من العلم، ثم جمعها ورتبها كما وصفناها، وقد وفى بعض المسائل حقها، ببيان كل ما تمس إليه حاجة طلابها، وأوجز في بعضها واختصر، إما ليمحصه في فرصة أخرى، وإما ليفوض أمره إلى أهل البحث والنظر، ولا غضاضة عليه في هذا، فإمام المحدثين محمد بن إسماعيل البخاري قد سبقه في بعض أبواب جامعه الصحيح إلى مثله.
وقد فتح فيه بعد الخطبة والمقدمة تسعة أبواب لمباحث الحديث: من فضله وعلومه ومصطلحاته، ورواته، وكتبه، ومصنفيها، ودرجاته، وما يحتج به وما لا يحتج به، وحكم العمل به، وغير ذلك من المسائل في نوعي الرواية والدراية، فاستغرق ذلك 254 صفحة، وفتح الباب العاشر لفقه الحديث ومكانه من أصول الدين والمذاهب فيه، وما روي وألف في الاهتداء والعمل به، فبلغت صفحاته بهذه المباحث 383، يليها الخاتمة وهي في فوائد متفرقة يضطر إليها الأثري.
الكتب التي استمد منها هذا الكتاب:
وأما المصنفات التي استمد منها مباحث الكتاب ومسائله، فأكثرها لأشهر علماء الإسلام من الأئمة المستقلين أو المنتسبين إلى المذاهب المتبعة في الأمصار المعتمدة عند أهلها، وأقلها للمشهورين عند عوام القراء ومقلدة العمائم بالعلم والعرفان، أو بالولاية والكشف والإلهام. لهذا تجد فيه كل فئة من القراء ما تنتقد عليه نقله، من حيث تجد فيه كل فئة ما تعتمد ممن تقبل علمه ورأيه.
এটি একটি সহজবোধ্য ভাষার কিতাব, যা বর্ণনা (رواية) এবং অনুধাবন (دراية) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (مصطلحات) এবং মাসানিদ, সহিহ ও সুনান গ্রন্থাবলির বর্ণনার একটি সংকলন। এতে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) ও আমল করার নির্দেশিকা এবং হাফিজগণের (حفاظ) সর্বোত্তম উক্তি, জারহ ওয়া তাদিল (جرح وتعديل) বিশেষজ্ঞ এবং উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের আলিমগণের মতামত রয়েছে। পাঠকরা এই কিতাবে এই সমস্ত উদ্দেশ্য অনায়াসে খুঁজে পাবেন, যেখানে প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়ের আধিক্য কম এবং সুপরিচিত (معروف) বিষয়ের আধিক্য বেশি।
গ্রন্থকারের সংকলন পদ্ধতি হলো, তিনি মুহাদ্দিস (محدثين), উসুলবিদ (أصوليين), ফকিহ (فقهاء), সুফি (صوفية), ইলমুল কালামবিদ (متكلمين) এবং সাহিত্যিকদের (أدباء) মধ্য থেকে পূর্বসূরি (متقدمين) ও উত্তরসূরিদের (متأخرين) অসংখ্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন। তিনি এই শাস্ত্র (فن) এবং সংশ্লিষ্ট ইলম (علم) থেকে যা নির্বাচন করেছেন তা নিয়ে আলোচনা লিপিবদ্ধ করেছেন, অতঃপর সেগুলোকে আমাদের বর্ণিত পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি কিছু মাসয়ালার (مسائل) ক্ষেত্রে ছাত্রদের (طلاب) প্রয়োজনীয় সব বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে পূর্ণ হক আদায় করেছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত করেছেন; হয়তো অন্য কোনো সুযোগে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের জন্য, অথবা গবেষকদের ওপর তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এতে তার কোনো ত্রুটি নেই, কারণ মুহাদ্দিসগণের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারি তার জামিউস সহিহ-এর কিছু অধ্যায়ে অনুরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
তিনি খুতবা (خطبة) ও মুকাদ্দিমার (مقدمة) পর হাদিসের আলোচনার (مباحث) জন্য নয়টি অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন: হাদিসের ফজিলত, এর উলুম (علوم) ও পরিভাষা (مصطلحات), রাবিগণ (رواة), গ্রন্থসমূহ ও সেগুলোর লেখকগণ, হাদিসের স্তর (درجات), যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য ও যা গ্রহণযোগ্য নয়, হাদিস অনুযায়ী আমলের বিধান এবং বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবন (دراية) সংক্রান্ত অন্যান্য মাসয়ালা (مسائل)। এটি ২৫৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। দশম অধ্যায়টি তিনি ফিকহুল হাদিস (فقه الحديث), উসুলুদ দীন (أصول الدين)-এ এর অবস্থান ও এ সংক্রান্ত মাযহাবসমূহ (مذاهب), এবং হিদায়াত ও আমলের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত ও রচিত হয়েছে তার জন্য বরাদ্দ করেছেন; এই আলোচনাগুলোর (مباحث) মাধ্যমে পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৮৩ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর রয়েছে উপসংহার (خاتمة), যা হাদিস বিশারদদের (أثري) প্রয়োজনীয় বিবিধ উপকারিতা সংবলিত।
এই কিতাবটি যেসব কিতাবের ওপর ভিত্তি করে রচিত:
এই কিতাবের আলোচনা (مباحث) ও মাসয়ালাসমূহ (مسائل) যেসব গ্রন্থ (مصنفات) থেকে নেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশ ইসলামের প্রসিদ্ধ আলেমদের থেকে নেওয়া—যারা স্বতন্ত্র ইমাম (أئمة مستقلين) অথবা বিভিন্ন জনপদে প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য মাযহাবসমূহের (مذاهب متبعة) অনুসারী। আর এর সামান্য অংশ সাধারণ পাঠকদের (عوام) নিকট প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের থেকে নেওয়া, যারা ইলম ও ইরফান (عرفان), অথবা বিলায়াত (ولاية), কাশফ (كشف) ও ইলহামের (إلهام) বেশ ধারণকারী মুকাল্লিদ (مقلدة)। এ কারণেই পাঠকদের প্রতিটি গোষ্ঠী এতে এমন কিছু বর্ণনা পাবে যা তারা সমালোচনা করবে, আবার এমন কিছু পাবে যা তারা নির্ভরযোগ্য মনে করে তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করবে যাদের ইলম ও মতামতের ওপর তারা আস্থাশীল।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما المؤلف فغرضه من هذا وذاك، أن تنتفع بكتابه كل فئة من الفئات، فأهل البصيرة والاستدلال يزدادون علمًا ونورًا بما اختاره لهم من كتب الأئمة وعلماء الاستقلال، ولا يضرهم ما لا يوثق به من أقوال المقلدين ومدعي الكشف والإلهام، ولكن الذين يقدسون هؤلاء يجدون من أقوالهم ونقولهم وكشفهم أنهم يتفقون مع الآخرين على أن أصل هذا الدين "الإسلام" الأساسي المقدس المعصوم الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، هو كتاب الله وكلامه "القرآن العظيم" ويليه ما بينه للناس بأمره من سنة رسوله خاتم النبيين، التي تواترت أو اشتهرت عنه بعمل الصحابة والتابعين وأئمة الأمصار، ويليها ما صح عند هؤلاء الأئمة من حديثه صلى الله عليه وسلم المروي بنقل الثقات، وما دون هذا من الأخبار والآثار التي اختلف الحفاظ في أسانديها أو استشكل فقهاؤهم متونها، فهو محل اجتهاد.
ويجد قارئ هذا الكتاب من أقوال أصناف العلماء ما فيه لعله لا يجده مجموعًا في غيره، وإنني أورد نموذجًا من مباحثه وطريقته في نقوله:
المذاهب في الضعيف والمرسل والموقوف:
من أهم هذه المباحث: أقوال المحدثين في معنى الحديث الضعيف الذي وقع الاختلاف في العمل به، فاستحبه بعضهم في فضائل الأعمال، والأخذ به في المناقب. ومن فروع هذا الاختلاف أن الضعيف في جامع الترمذي ودون الضعيف في مسند أحمد، فيقبل من ضعاف المسند ما لا يقبل من ضعاف الترمذي لأنها تساوي الحسان فيه.
ومنها: الاحتجاج بالحديث المرسل واختلاف المذاهب فيه، واستثناء الجمهور مراسيل أصحابة، وحجتهم وحجة مخالفيهم، والأقوال في الموقوف على الصحابي الذي له حكم المرفوع، والذي يعد رأيا له، والأقوال في عدالة جميع الصحابة في الرواية عند جمهور أهل السنة وحجة مخالفيهم فيها، وغير ذلك من المسائل التي لا يستغني عن معرفتها الذين هداهم الله في هذا العهد إلى الاهتداء بهدي محمد صلى الله عليه وسلم على صراط الله الذي استقام عليه السلف الصالح وهي كثيرة. وقد بين المؤلف رحمه الله تعالى رأيه وفهمه في بعض دون بعض، وما كان لمن يُعنى بكثرة النقل، وعرض وجوه الاختلاف في العلم، أن يمحص المسائل كلها فيه،
আর লেখকের উদ্দেশ্য হলো এই যে, প্রতিটি শ্রেণির মানুষ যেন তাঁর এই কিতাব দ্বারা উপকৃত হতে পারে। সুতরাং প্রজ্ঞাবান ও যুক্তিনির্ভর ব্যক্তিবর্গ ইমামগণ এবং স্বাধীন আলেমগণের কিতাব থেকে তিনি যা নির্বাচন করেছেন, তার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পাবে। অন্ধ অনুসারীদের (مقلدين) এবং কাশফ ও ইলহামের দাবিদারদের অনির্ভরযোগ্য কথা তাঁদের কোনো ক্ষতি করবে না। তবে যারা এদের পবিত্র জ্ঞান করে, তারা তাঁদের কথা, উদ্ধৃতি এবং কাশফ থেকে এটি অনুধাবন করতে পারবে যে, তারা অন্যদের সাথে এই বিষয়ে একমত যে—এই দ্বীন ‘ইসলাম’-এর মূল, মৌলিক ও পবিত্র ভিত্তি, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না, তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর বাণী ‘মহাগ্রন্থ আল-কুরআন’। এরপর রয়েছে তাঁর আদেশে তাঁর রাসূল, সর্বশেষ নবী (সা.)-এর সুন্নাহ, যা সাহাবী, তাবিঈ এবং বড় বড় জনপদের ইমামগণের কর্মের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত (تواترت) হয়েছে অথবা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে (اشتهرت)। এরপর রয়েছে ঐসব হাদিস যা নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়ে এই ইমামগণের নিকট সহিহ (صح) বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর এর বাইরে যেসব বর্ণনা ও আছার রয়েছে, যেগুলোর সনদসমূহের (أسانيد) ক্ষেত্রে হাফেজগণ মতভেদ করেছেন অথবা ফকিহগণ যেগুলোর মতনসমূহের (متون) ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা খুঁজে পেয়েছেন, তা ইজতিহাদের (اجتهاد) ক্ষেত্র।
এবং এই কিতাবের পাঠক বিভিন্ন শ্রেণির আলেমগণের এমন সব বক্তব্য পাবেন যা সম্ভবত একত্রে অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। আমি তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু এবং উদ্ধৃতি প্রদানের পদ্ধতির একটি নমুনা উপস্থাপন করছি:
দুর্বল (ضعيف), বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং সাহাবীর বক্তব্যের (موقوف) ক্ষেত্রে মাযহাবসমূহ:
এই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: সেই দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অর্থ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের উক্তি, যার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আমলের ফযীলত ও মানাকিবের ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করাকে মুস্তাহাব বা উত্তম বলেছেন। এই মতভেদের একটি শাখা হলো এই যে, তিরমিযী-এর জামে-তে বর্ণিত দুর্বল (ضعيف) হাদিস আর মুসনাদে আহমাদ-এর দুর্বল হাদিস এক নয়; সুতরাং মুসনাদে আহমাদ-এর দুর্বল (ضعاف) হাদিসগুলোর মধ্য থেকে যা গ্রহণ করা হয়, তা তিরমিযী-এর দুর্বল (ضعاف) হাদিসের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয় না, কারণ সেগুলো সেখানে হাসান (حسان) পর্যায়ের সমতুল্য।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের ভিন্নতা, জুমহুর আলেম কর্তৃক সাহাবীদের মুরসাল (مراسيل) বর্ণনাগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা, তাঁদের দলিল ও তাঁদের বিরোধীদের দলিল। আরও রয়েছে সাহাবীর ওপর স্থগিত (موقوف) বর্ণনা সংক্রান্ত আলোচনা, যা মারফূ (مرفوع) এর হুকুম রাখে এবং যা তাঁর ব্যক্তিগত রায় হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া জুমহুর আহলে সুন্নাতের নিকট বর্ণনার ক্ষেত্রে সকল সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং এ বিষয়ে তাঁদের বিরোধীদের দলিলাদি সংক্রান্ত আলোচনা। এ জাতীয় আরও অনেক মাসআলা রয়েছে যা জানা তাদের জন্য অপরিহার্য, যাদের আল্লাহ তাআলা এই যুগে সালাফে সালেহীনের সুদৃঢ় পথ অনুযায়ী মুহাম্মদ (সা.)-এর হেদায়েতের মাধ্যমে পথ দেখিয়েছেন। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এগুলোর মধ্য থেকে কিছু বিষয়ে তাঁর নিজস্ব অভিমত ও উপলব্ধি ব্যক্ত করেছেন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা করেননি। কেননা যিনি প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান এবং ইলমের ক্ষেত্রে মতভেদের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার কাজে ব্যাপৃত থাকেন, তাঁর পক্ষে প্রতিটি মাসআলা সেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ويكون له حكم الترجيح بينها، على أن رأي كل مؤلف في مسائل الخلاف ينتظم في سلك سائر الآراء، والواجب على المطلع عليه من أهل العلم أن ينظر في دليله كدلائل غيره، ويعتمد ما يظهر له رجحانه، كما فعل المؤلف في بحث الجلال الدواني في الحديث الضعيف وأبدى رأيه في الاختلاف فيه إذ قال:
بحث الدواني في الضعيف:
"قال المحقق الجلال الدواني في رسالته أنموذج العلوم: اتفقوا على أن الحديث الضعيف لا تثبت له الأحكام الشرعية، ثم ذكروا أنه يجوز بل يستحب العمل بالأحاديث الضعيفة في فضائل الأعمال، وممن صرح به النووي في كتبه لا سيما كتاب الأذكار وفيه إشكال؛ لأن جواز العمل واستحبابه كلاهما من الأحكام الشرعية الخمسة فإذا استحب العمل بمقتضى الحديث الضعيف كان ثبوته بالحديث الضعيف، وذلك ينافي ما تقرر من عدم الأحكام بالأحاديث الضعيفة".
ثم نقل عن الدواني أن بعضهم حاول التقصي من هذا الإشكال، وتصحيح كلام النووي بما أورده وناقش فيه، ثم نقل عن الشهاب الخفاجي مناقشة للدواني في المسألة من شرحه للشفاء، ورد عليه ردًّا شديدًا فوق المعهود من لين الأستاذ القاسمي، بأن حكم على كل مناقشات الخفاجي بأنها عادة استحكمت في مصنفاته لا يحظى واقف عليها بطائل، وأنه سود وجه القرطاس هنا، وأن كلام الجلال غبار عليه، وأن مؤاخذته بمطلق الفضائل افتراء أو مشاغبة، وختم الرد بقوله: "فتأمل لعلك تجد القوس في يد الجلال، كما رآه الجمال." ا. هـ.
وأقول: نعم! إنها قد تحلت وتجلت بحلة الجلال والجمال؛ ولو أن الثاني حول نظره عن كتب هذه الطبقة الوسطى من العلماء المستدلين كالدواني والنووي والمناقشة العليمة فيها إلى كتب المناقب والفضائل لجامعي كل ما روي من المحدثين، وكتب الأوراد والتصوف التي لفقها من دونهم من المؤلفين، لوجد فيها من الغلو في الإطراء المنهي عنه والتشريع الذي لم يأذن به الله، ومن الاحتجاج بأقوال الصوفية ومقلدة الفقهاء وعبادتهم المبتدعة، ما فيه جناية على عقائد الإسلام القطعية، ومخالفة لنصوص القرآن والأحاديث الصحيحة، ولوجدهم
এর মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণের বিধান সাব্যস্ত হয়, তবে মতভেদের মাসআলাগুলোতে প্রত্যেক লেখকের অভিমত অন্যান্য মতামতের মতোই বিবেচিত। আলেমদের মধ্যে যারা এটি পাঠ করবেন, তাদের কর্তব্য হলো অন্যদের দলিলের মতো তার দলিলের দিকেও নজর দেওয়া এবং যার প্রাধান্য তার কাছে স্পষ্ট হয় তা গ্রহণ করা; যেমনটি লেখক আল্লামা জালালুদ্দিন দাওয়ানির দুর্বল (ضعيف) হাদিস সম্পর্কিত আলোচনায় করেছেন এবং এই বিষয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ব্যাপারে নিজের অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন:
দুর্বল (ضعيف) হাদিস বিষয়ে দাওয়ানির গবেষণা:
"মুহাক্কিক জালালুদ্দিন দাওয়ানি তার 'উনমুযাজুল উলুম' নামক রিসালায় বলেছেন: আলেমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত হয় না। এরপর তারা উল্লেখ করেছেন যে, নেক আমলের ফজিলত অর্জনে দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ অনুযায়ী আমল করা কেবল বৈধই নয় বরং তা মুস্তাহাব। ইমাম নববী তার কিতাবসমূহে, বিশেষ করে 'আল-আযকার' কিতাবে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে এতে একটি তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে; কেননা আমল বৈধ হওয়া এবং মুস্তাহাব হওয়া উভয়ই পাঁচটি শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যদি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের দাবি অনুযায়ী আমল করা মুস্তাহাব হয়, তবে তার ভিত্তি হলো এই দুর্বল (ضعيف) হাদিসটিই। আর এটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত না হওয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতির পরিপন্থী।"
এরপর তিনি দাওয়ানির উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন যে, কেউ কেউ এই তাত্ত্বিক জটিলতা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করেছেন এবং ইমাম নববীর বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যা তিনি সেখানে আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছেন। তারপর তিনি 'আশ-শিফা'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আল্লামা শিহাব খাফাজির পক্ষ থেকে দাওয়ানির ওপর করা একটি আপত্তি উদ্ধৃত করেন। তিনি উস্তাদ কাসেমীর স্বভাবজাত কোমলতার বাইরে গিয়ে তার অত্যন্ত কঠোর জবাব দেন। তিনি খাফাজির সমস্ত আলোচনাকে এমন এক অভ্যাস হিসেবে গণ্য করেছেন যা তার গ্রন্থগুলোতে বদ্ধমূল হয়ে গেছে, যার কোনো পাঠকই বিশেষ ফায়দা লাভ করতে পারে না। তিনি আরও বলেন যে, খাফাজি এখানে কেবল কাগজের পৃষ্ঠাই কালো করেছেন এবং জালালুদ্দিনের বক্তব্যের ওপর তার কোনো প্রভাব নেই। ফজিলতের সাধারণ বিষয়ের ওপর তার আপত্তিকে তিনি অপবাদ বা ঝগড়াটে আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই জবাবটি শেষ করেন এই বলে: "গভীরভাবে চিন্তা করুন, সম্ভবত আপনি ধনুর্ধর জালালুদ্দিনের হাতেই ধনুকটি দেখতে পাবেন, ঠিক যেমনটি জামালুদ্দিন দেখেছিলেন।" (সমাপ্ত)।
আমি বলব: হ্যাঁ! এটি প্রকৃতপক্ষেই মহিমা (জালাল) ও সৌন্দর্যের (জামাল) আবরণে সজ্জিত ও প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি যদি দাওয়ানি ও নববীর মতো মধ্যম স্তরের দলীল অন্বেষণকারী আলেমদের কিতাব এবং সেগুলোর ইলমি আলোচনার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মুহাদ্দিসগণ (محدثين)-এর সংকলিত 'মানাকিব' ও 'ফজিলত' সংক্রান্ত কিতাবসমূহের দিকে দিতেন, অথবা তাদের পরবর্তী লেখকদের সংকলিত যিকির-আযকার ও তাসাউফ বিষয়ক কিতাবগুলোর দিকে নজর দিতেন, তবে তিনি সেখানে প্রশংসার ক্ষেত্রে এমন নিষিদ্ধ বাড়াবাড়ি এবং এমন সব বিধান প্রণয়ন খুঁজে পেতেন যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। এছাড়া সুফিদের উক্তি, ফকিহদের অন্ধ অনুসারীদের বক্তব্য এবং তাদের আবিষ্কৃত ইবাদতকে দলিল হিসেবে গ্রহণের মতো বিষয়গুলোও দেখতে পেতেন, যা ইসলামের অকাট্য আকিদাহর ওপর আঘাত এবং কুরআনের স্পষ্ট বাণী ও সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের সরাসরি বিরোধী। আর তিনি তাদের পেতেন...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يحتجون عليها بقول من قالوا إنه يجوز الأخذ والعمل بالأحاديث الضعيفة، وهم لا يميزون بين الضعاف التي ألحقوها بالحسن، والمنكرة الواهية التي لم يقل بالأخذ بها أحد والتي نقل لنا القاسمي عن الإمام مسلم في مقدمة صحيحه وعن غيره من الإنكار عليها ما نقل، ولعقده لهذا الحديث فصلًا خاصًّا به.
الموضوعات والأحاديث غير المخرجة:
عقد المؤلف المقصد 48 من الباب الرابع للكلام على الحديث الموضوع بعد أن تكلم على الحديث الضعيف بما نقلنا بعضه عنه آنفًا، وأورد في هذا المقصد 14 مسألة، الخامسة منها فتوى الشيخ أحمد بن حجر الفقيه الشافعي في خطيب لا يبين مخرجي الأحاديث نقلها من كتابه الفتاوى الحديثية ملخصة، فلم يذكر فيها اعتماده على ما نقله عن الحافظ ابن حجر في منع ولي الأمر لهذا الخطيب من الخطابة إذا لم يكن محدثًا يروي الحديث بنفسه. فعلم بهذا أن ما اشترطه على نفسه من التزام نقل الأقوال بحروفها أغلبي لا مطرد1.
أهم فوائد الكتاب المقصورة منه بالذات:
الجمال القاسمي رحمه الله تعالى من المصلحين المجددين في هذا القرن "الرابع عشر للهجرة" وغرضه الأول من هذا الكتاب بث هداية الكتاب والسنة في الأمة على منهاج السلف الصالح وتسهيل سبيلها، وما أهلك المسلمين في دينهم ودنياهم إلا الإعراض عن هذه الهداية التي شرع الله الدين لأجلها.
ولهذا الإعراض سببان: أهونهما الجهل البسيط، وهو عدم العلم بما خاطب الله الناس في كتابه، وبما بينه لهم رسوله صلى الله عليه وسلم منه نسبته وهديه، وربما كان عليه أهل العصر الأول عصر النور من الاهتداء بالكتاب والسنة علمًا وعملًا وخلقًا، وجهادًا وفتحًا وحكمًا بين الناس وأعسرهما وأضرهما: الجهل المركب ووهم التعليم التقليدي لكتب المتأخرين من المتكلمين
--------------------------------------------
তারা এর সপক্ষে এমন ব্যক্তিদের মত উদ্ধৃত করে যারা বলেন যে দুর্বল (ضعيف) হাদিস গ্রহণ ও আমল করা বৈধ। অথচ তারা সেই সকল দুর্বল (ضعيف) হাদিস—যাকে তারা হাসান (حسن) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন—এবং সেই সকল প্রত্যাখ্যাত (منكر) ও অত্যন্ত দুর্বল (واهية) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না যা গ্রহণ করার কথা কেউ বলেনি। ইমাম কাসিমি রহ. তাঁর এই কিতাবে ইমাম মুসলিমের সহিহ-এর ভূমিকা এবং অন্যদের উদ্ধৃতি থেকে এই ধরনের বর্ণনার বিরুদ্ধে যে কঠোর অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং এই হাদিসের জন্য তিনি একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন।
জাল (موضوع) এবং উৎস উল্লেখহীন (غير مخرجة) হাদিসসমূহ:
লেখক চতুর্থ অধ্যায়ের ৪৮তম উদ্দেশ্যটি জাল (موضوع) হাদিস নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছেন, এর আগে তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিস নিয়ে আলোচনা করার পর যার কিছু অংশ আমরা ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করেছি। এই অধ্যায়ে তিনি ১৪টি মাসআলা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে পঞ্চমটি হলো শাফিঈ ফকিহ শেখ আহমদ ইবনে হাজার (আল-হাইতামি)-এর ফতোয়া এমন একজন খতিব সম্পর্কে যিনি হাদিসের উৎস বর্ণনা করেন না। তিনি এটি তাঁর কিতাব 'আল-ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ' থেকে সংক্ষেপে উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে হাফেজ ইবনে হাজারের উদ্ধৃতিতে তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করেননি যে, শাসক এই খতিবকে খুতবা প্রদান থেকে নিষিদ্ধ করবেন যদি তিনি নিজে একজন মুহাদ্দিস (محدث) না হন যিনি নিজেই হাদিস বর্ণনা করতে পারেন। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, তিনি নিজের ওপর প্রতিটি শব্দ অবিকল উদ্ধৃত করার যে শর্ত আরোপ করেছিলেন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পালিত হলেও সর্বক্ষেত্রে নয়।১
কিতাবটির মূল ও বিশেষ উপকারিতা:
জামাল আল-কাসিমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর একজন সংস্কারক ও মুজাদ্দিদ। এই কিতাব রচনায় তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য হলো উম্মতের মাঝে সালাফে সালেহিন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের মানহাজ বা আদর্শ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর হেদায়াত ছড়িয়ে দেওয়া এবং তার পথ সুগম করা। মুসলমানদের দ্বীন ও দুনিয়া যে ধ্বংস হয়েছে, তা কেবল এই হেদায়াত থেকে বিমুখ হওয়ার কারণেই হয়েছে যার জন্য আল্লাহ তাআলা এই দ্বীনকে বিধিবদ্ধ করেছেন।
এই বিমুখতার দুটি কারণ রয়েছে: এর মধ্যে সহজটি হলো সাধারণ অজ্ঞতা (الجهل البسيط), যা হলো আল্লাহ তাঁর কিতাবে মানুষের প্রতি যা সম্বোধন করেছেন এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন ও যে হেদায়াত দিয়েছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। অথচ প্রথম যুগের লোকেরা—যা ছিল আলোর যুগ—কুরআন ও সুন্নাহর হেদায়াতের ওপর ইলম, আমল, আখলাক, জিহাদ, বিজয় এবং মানুষের মাঝে শাসনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর অধিকতর কঠিন ও ক্ষতিকর কারণটি হলো জটিল অজ্ঞতা (الجهل المركب) এবং পরবর্তী যুগের মুতাকাল্লিমদের কিতাবসমূহের অন্ধ অনুকরণভিত্তিক শিক্ষার ভ্রান্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والفقهاء والصوفية، والاستغناء بها عما كان عليه السلف ومنهم أئمة الأمصار من المحدثين والفقهاء بشبهة شيطانية، هي أن فهم الكتاب والسنة خاص بالمجتهدين وأن المتأخرين من العلماء أعلم بما فهمه المصنفون المقلدون للائمة في القرون الوسطى، وأولئك أعلم بما فهمه الأئمة المجتهدون منهما مباشرة، وأن العلماء على طبقات في تقليد بعضهم لبعض، عدها بعض متأخري الفقهاء خمسًا، وعدها الشعراني من متأخري الصوفية ستًّا، كل طبقة تحجب أهل عصرها عما قبله، حتى تجرأ بعض من يؤلفون ويكتبون في المجلات ممن أعدوا لقب "كبار علماء الأزهر" -وهم الطبقة العاشرة على حساب الشعراني- على التصريح على عصرنا هذا بأن من يؤمن بآيات القرآن في بعض صفات الله تعالى على ظاهرها يكون كافرًا "!!! " وتجرأ بعض من قبله منهم على التصريح في مجلس إدارة الأزهر بأن من يقول إنه يعمل بما صح من الأحاديث على خلاف فقهاء المذاهب فهو زنديق "كما بيناه في المنار وفي تاريخ الأستاذ الإمام" وهؤلاء يكرهون علم الحديث وأهله. وقد صرح الحفاظ الأولون بأن الوقيعة في أهل الأثر من أدب أهل البدع كما نقله المؤلف.
نقوله ودروسه وغرضه الاصطلاحي فيهما:
نقل لنا الجمال القاسمي بحسن اختياره وجماله وقسامته في إرشاده، نصوصًا من كتب أشهر الأئمة من علماء الملة المستقلين، وكتب المنتسبين إلى مذاهب الكلام والفقه والتصوف المقلدين، صريحة في اتفاق الجميع على وجوب الاهتداء والعمل بكتاب الله وسنة رسوله، واتباع سلف الملة في الدين، وعلى خطإ من يخالفهم في هذا بما يقطع ألسنة الذين يصدون عن سبيل الله من عميان الجهل المركب، الذين لا يعلمون، ولا يعلمون أنهم لا يعلمون، وهم الذين وصفهم أبو حامد الغزالي بقوله: "أولئك هم العميان المنكسون، وعماهم في كلتا العينين" فهذه حكمة نقله عن كل طبقة من العلماء المشهورين حتى المعاصرين له ولنا من المصنفين، ومحرري المجلات العلمية، ومنها المنار، ومما نقله عنه ما ترى في بحث "قراءة البخاري لنازلة الوباء" ولكنه لم يصرح باسمه ولا باسم صاحبه خوفًا من الحكومة1.
--------------------------------------------
ফকিহ ও সুফিগণ; এবং এক শয়তানি সংশয়ের (شبهة) বশবর্তী হয়ে সালাফ তথা পূর্বসূরিদের—যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিভিন্ন অঞ্চলের ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ—অনুসৃত পথের বিকল্প হিসেবে এগুলোর ওপর নির্ভর করা। সেই সংশয়টি হলো, কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন করা কেবল মুজতাহিদদের (مجتهدين) জন্য নির্দিষ্ট এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ মধ্যযুগের ইমামদের অনুসারী (مقلدون) গ্রন্থকারদের বুঝ সম্পর্কে অধিক অবগত। আবার ঐ গ্রন্থকারগণ মুজতাহিদ (مجتهدون) ইমামগণ সরাসরি যা বুঝেছিলেন সে সম্পর্কে অধিক ওয়াকিফহাল। আলেমগণ একে অপরের তাকলিদ (تقليد) করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত; পরবর্তী যুগের কোনো কোনো ফকিহ একে পাঁচটি স্তর হিসেবে গণ্য করেছেন এবং পরবর্তী যুগের সুফি আল-শা'রানি একে ছয়টি স্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিটি স্তর তার সমসাময়িকদের পূর্ববর্তী স্তর থেকে আড়াল করে রাখে। এমনকি সাময়িকীতে লেখালেখি করেন এমন কেউ কেউ, যারা 'আজহারের বরেণ্য আলেম' উপাধিতে ভূষিত—শা'রানির গণনা অনুযায়ী যারা দশম স্তরের অন্তর্ভুক্ত—তারা আমাদের বর্তমান যুগে এই ঘোষণা দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছেন যে, যারা আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত কুরআনের আয়াতের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের ওপর ঈমান রাখবে তারা কাফের (كافر) হবে! আর তাদের পূর্ববর্তী কেউ আজহারের পরিচালনা পরিষদে এই ঘোষণা দেওয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি বলবে সে মাযহাবি ফকিহদের মতের বিপরীতে সহিহ (صحيح) হাদিস অনুযায়ী আমল করবে, সে একজন জিন্দিক (زنديق), যেমনটি আমরা আল-মানার এবং তারিখুল উস্তাযিল ইমাম গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। এরা হাদিস শাস্ত্র এবং এর পণ্ডিতদের অপছন্দ করে। প্রাচীন হাফিজগণ (حفاظ) স্পষ্ট করে গিয়েছেন যে, আহলুল আছার (أهل الأثر) তথা হাদিসপন্থীদের সমালোচনা করা বিদআতিদের (أهل البدع) বৈশিষ্ট্য, যা লেখক এখানে উদ্ধৃত করেছেন।
তাঁর উদ্ধৃতি, পাঠদান এবং এগুলোর পারিভাষিক উদ্দেশ্য:
জামাল আল-কাসিমি তাঁর চমৎকার নির্বাচন ও সুনিপুণ বিন্যাসে তাঁর দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থে আমাদের নিকট উম্মাহর প্রসিদ্ধ ও স্বতন্ত্র (مستقل) আলেমদের কিতাব এবং ইলমে কালাম, ফিকহ ও তাসাউফ মাযহাবের অনুসারী (مقلدين) আলেমদের কিতাব থেকে এমন কিছু সুস্পষ্ট মূল পাঠ (نصوص) উদ্ধৃত করেছেন যা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমে হিদায়াত লাভ ও আমল করা এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসরণের আবশ্যিকতার (واجب) ওপর সকলের ঐকমত্য প্রকাশ করে। এই উদ্ধৃতিগুলো সেইসব চরম অজ্ঞ ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ করে দেয় যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করে, যারা জানে না এবং জানে না যে তারা জানে না। তাদের সম্পর্কেই আবু হামিদ আল-গাজালি বলেছেন: "তারাই হলো বিভ্রান্ত অন্ধ, যাদের উভয় চোখই দৃষ্টিহীন।" প্রসিদ্ধ আলেমদের প্রতিটি স্তর, এমনকি তাঁর ও আমাদের সমসাময়িক লেখক এবং বৈজ্ঞানিক সাময়িকীর—যার মধ্যে আল-মানার অন্তর্ভুক্ত—সম্পাদকদের থেকে তাঁর এই উদ্ধৃতিগুলোর পেছনে এটাই হলো নিহিত প্রজ্ঞা। তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্যে 'মহামারী পরিস্থিতিতে বুখারি পাঠ' শীর্ষক আলোচনাটি আপনি দেখতে পাবেন; কিন্তু সরকারের ভয়ে তিনি তাঁর নিজের নাম বা তাঁর সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وصفت الأستاذ القاسمي في ترجمة المنار له بإصلاح، ورددت على من ينكر على هذا الوصف بما بينت طريقته فيه، واستنبطت مما أطلعت عليه من كتبه ومن حديثي معه أربعًا من مزاياه في الاستقامة على هذه الطريقة:
أولاهن: سبب تدريسه لبعض الكتب المتداولة كجمع الجوامع وكتب السعد التفتازاني وما هي كتب إصلاح، بل فنون اصطلاح أشبه بالألغاز.
الثانية: الاستعانة بنقول بعض المشهورين على إقناع المقلدين والمستدلين جميعًا من المعاصرين بما يقوم عليه الدليل.
الثالثة: أنه كان يتحرى مذهب السلف في الدين وينصرف في دروسه ومصنفاته، وما مذهب السلف إلا العمل بالكتاب والسنة بلا زيادة ولا نقصان.
وذكرت شاهدين من شعره على مذهبه هذا.
الرابعة: أنه كان يتحرى في المسائل الخلافية الاعتدال والإنصاف، واتباع ما يقوم عليه الدليل من غير تشنيع على المخالف ولا تحامل.
وقد أطلت في هذه بما لم أطل فيما قبلها، وذكرت ما أنكره عليه بعض متبعي السلف من أنه خالفهم في كتابه "تاريخ الجهمية والمعتزلة" وكتابه "نقد النصائح الكافية" وبينت ما توخاه من التأليف بين فرق المسلمين الكبرى فيهما، بما لا محل لإعادته هنا، وإنما ذكرت هذا الموضوع لأُذكر به من يستنكر مثله في هذا الكتاب، وقد نقل فيه عن داعية السلف المحقق العلامة ابن القيم سبقه إلى مثله، وتصريحه بأن في كلام كل فرقة ومذهب حقًّا وباطلًا.
كذلك: وقد ألف الأستاذ الشيخ طاهر الجزائري رحمه الله بعده كتاب "توجيه النظر، إلى أصول أهل الأثر" وهو في موضوع "كتاب قواعد التحديث" والعلامتان الجزائري والقاسمي كانا سيين في سعة الاطلاع وحسن الاختيار، إلا أن الجزائري أكثر اطلاعًا على الكتب، وولوعًا بالاستقصاء، والبحث، والقاسمي أشد تحريًا للإصلاح، وعناية بما ينفع
আমি উস্তাদ আল-কাসিমির ‘আল-মানার’-এ বর্ণিত জীবনীতে তাঁকে সংস্কারক হিসেবে অভিহিত করেছি এবং যারা তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষায়িত করার বিরোধিতা করেন, তাদের নিকট আমি এই পথে তাঁর কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে তার জবাব দিয়েছি। আমি তাঁর গ্রন্থসমূহ পাঠ করে এবং তাঁর সাথে আমার কথোপকথন থেকে এই পদ্ধতির ওপর অবিচল থাকার ক্ষেত্রে তাঁর চারটি শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য বের করেছি:
প্রথমত: তাঁর প্রচলিত কিছু কিতাব পাঠদানের কারণ, যেমন ‘জামউল জাওয়ামি’ এবং সা’দ আল-তাফতাজানির কিতাবসমূহ; অথচ এগুলো কোনো সংস্কারমূলক কিতাব নয়, বরং এগুলো হলো শাস্ত্রীয় পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত কলা যা অনেকটা ধাঁধার মতো।
দ্বিতীয়ত: দলীলের ভিত্তিতে সমসাময়িক মুকাল্লিদ (مقلد) এবং দলীল অন্বেষণকারী, উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট করার জন্য কিছু প্রসিদ্ধ ব্যক্তির উদ্ধৃতির সহায়তা নেওয়া।
তৃতীয়ত: তিনি দ্বীনের ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাব (مذهب السلف) অন্বেষণ করতেন এবং তাঁর পাঠদান ও গ্রন্থাবলীতে তা ফুটিয়ে তুলতেন। আর সালাফদের মাযহাব (مذهب السلف) বলতে বুঝায় কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ব্যতিরেকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা।
আমি তাঁর এই মাযহাবের (مذهب) স্বপক্ষে তাঁর কবিতা থেকে দুটি সাক্ষ্য বা দলিল উল্লেখ করেছি।
চতুর্থত: তিনি মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোতে পরিমিতিবোধ ও ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা অনুসন্ধান করতেন এবং বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি কোনো প্রকার কটাক্ষ বা পক্ষপাতিত্ব না করে দলীলের ভিত্তিতে যা সাব্যস্ত হয় তা অনুসরণ করতেন।
আমি এই শেষোক্ত বিষয়ে পূর্বের বিষয়গুলোর তুলনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছি এবং সালাফদের কোনো কোনো অনুসারী তাঁর যে বিষয়গুলো অপছন্দ করতেন—যেমন তিনি তাঁর ‘তারিখুল জাহমিয়া ওয়াল মুতাযিলা’ এবং ‘নাকদুন নাসায়িহ আল-কাফিয়া’ কিতাবদ্বয়ে তাদের বিরোধিতা করেছেন—তাও উল্লেখ করেছি। আমি সেখানে মুসলিমদের বৃহৎ দলগুলোর (فرقة) মধ্যে তিনি যে ঐক্যের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তা বর্ণনা করেছি, যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার অবকাশ নেই। আমি এই বিষয়টি কেবল তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য উল্লেখ করেছি যারা এই কিতাবে অনুরূপ বিষয়ের অবতারণা দেখে তা অপছন্দ করেন। অথচ তিনি এতে সালাফদের বিজ্ঞ গবেষক (محقق) আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, যিনি তাঁর আগেই অনুরূপ কাজ করেছেন এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, প্রতিটি দল ও মাযহাবের (مذهب) কথার মধ্যে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই বিদ্যমান।
তদ্রূপ: উস্তাদ শায়খ তাহির আল-জাযাইরি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পরে ‘তাওজিহুন নাজার ইলা উসুলি আহলিল আসার’ কিতাবটি রচনা করেছেন, যা মূলত ‘কাওয়ায়িদুল তাহদিস’ কিতাবের বিষয়ের ওপরই রচিত। আল্লামা আল-জাযাইরি এবং আল-কাসিমি উভয়ই পড়াশোনার ব্যাপকতা এবং উত্তম বিষয় চয়নের ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের ছিলেন; তবে আল-জাযাইরি কিতাব অধ্যয়নে অধিক বিস্তৃত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও গবেষণায় আগ্রহী ছিলেন, অন্যদিকে আল-কাসিমি সংস্কারের অন্বেষণে অধিক কঠোর এবং যা কল্যাণকর তার প্রতি অধিক সজাগ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
جماهير الناس، فمن ثم كان كتاب الجزائري، وهو أطول، قاصرًا على المسائل الخاصة بمصطلح الحديث وكتب المحدثين التي قلما ينتفع بها إلا المشتغلون بهذا العلم، فقد وفى بعض مسائلها حقه من الاستقصاء بما لم يفعله القاسمي، ولكنه أطال كل الإطالة بتخليص "كتاب علوم الحديث" للحاكم النيسابوري وهي اثنان وخمسون نوعًا ثم بما لخصه من "كتاب علل الحديث" لابن أبي حاتم الرازي، ثم بما استطرد من الكلام في مبحث كتابة الحديث إلى الكلام في "الخط العربي وتدرجه بالترقي إلى وصله للكمال الذي عليه الآن، وما يحتاج إليه بعد هذا الكمال من علائم الوقف والابتداء" وهو على إطالته في هذا الفن لم يراعه في العمل فكتابه كأكثر الكتب القديمة، وكتاب القاسمي كما علمت في تقسيمه وتفصيل عناوينه والبياض بينها لتسهيل المطالعة والمراجعة، فهو في هذا وفي طبعه على أحسن ما انتهت إليه الكتب الحديثة، كما أنه أكثر جمعًا وأعم نفعًا.
وخلاصة القول في تقريظ هذا الكتاب أننا لا نعرف مثله في موضوعه ومقصدًا ومبدأ وغاية، فنسأل الله تعالى أن يحسن جزاء مؤلفه وطابعه، وأن يوفق الأمة للانتفاع به.
محمد رشيد رضا
صاحب المنار.
সাধারণ মানুষ, সেই বিবেচনায় আল-জাযাইরির কিতাবটি—যা কলেবরে দীর্ঘতর—হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহ সংশ্লিষ্ট বিশেষ মাসআলাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেগুলোর দ্বারা এই শাস্ত্রের চর্চাকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ খুব একটা উপকৃত হতে পারেন না। তিনি এর কিছু মাসআলার অনুসন্ধানে এমন পূর্ণতা দান করেছেন যা আল-কাসিমি করেননি। কিন্তু তিনি হাকেম নিশাপুরি রচিত কিতাব উলূম আল-হাদিস-এর সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে আলোচনার অনেক দীর্ঘসূত্রতা ঘটিয়েছেন, যা বায়ান্নটি প্রকার (أنواع) সম্বলিত। অতঃপর তিনি ইবনে আবি হাতিম আল-রাজি রচিত কিতাব ইলাল আল-হাদিস-এর যে সারসংক্ষেপ করেছেন এবং হাদিস লিখন সংক্রান্ত আলোচনা থেকে অবান্তরভাবে 'আরবি লিপি ও এর ধাপে ধাপে উন্নতির মাধ্যমে বর্তমান পূর্ণাঙ্গ রূপে পৌঁছানোর ইতিবৃত্ত এবং এই পূর্ণতার পর বিরামচিহ্ন ও প্রারম্ভের চিহ্নসমূহের প্রয়োজনীয়তা' সম্পর্কে যা কিছু আলোচনা করেছেন, তাতে তিনি দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করেছেন। তিনি এই শিল্প নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করলেও তা রচনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেননি; ফলে তাঁর কিতাবটি অধিকাংশ প্রাচীন কিতাবসমূহের মতোই রয়ে গেছে। অন্যদিকে আপনি যেমনটি অবগত হয়েছেন, আল-কাসিমির কিতাবটি এর অধ্যায় বিভাজন, বিস্তারিত শিরোনাম বিন্যাস এবং সহজভাবে পাঠ ও পর্যালোচনার সুবিধার্থে মাঝখানে পর্যাপ্ত ফাঁকা স্থান রাখার ক্ষেত্রে অনন্য। ফলে কিতাবটি এই দিক থেকে এবং এর মুদ্রণশৈলীর বিচারে আধুনিক কিতাবসমূহের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ; পাশাপাশি এটি অধিক তথ্যসমৃদ্ধ ও অধিক ব্যাপক কল্যাণকর।
এই কিতাবটির প্রশংসায় সারকথা হলো, আমরা এর বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য, প্রারম্ভ ও পরিণতির বিচারে এর সমতুল্য অন্য কোনো কিতাব সম্পর্কে জানি না। অতএব, আমরা মহান আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখক ও মুদ্রণকারীকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং এই কিতাবের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার জন্য উম্মতকে তাওফিক দান করেন।
মুহাম্মদ রশিদ রিদা
আল-মানার-এর সম্পাদক।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
السيد محمد جمال الدين القاسمي الدمشقي 1:
1- ولادته:
"ولد ضحوة يوم الاثنين لثمان خلت من شهر جمادى الأولى سنة ثلاث وثمانين ومائتين وألف 17 أيلول 1866 في دمشق"2.
2- نسبه:
"هو محمد جمال الدين أبو الفرج بن محمد بن سعيد بن قاسم بن صالح بن إسماعيل بن أبي بكرن المعروف بالقاسمي، نسبة إلى جده المذكور، وهو الإمام فقيه الشام وصالحها في عصره، الشيخ قاسم المعروف بالحلاق، ولا يعرف من أجداده من خدم العلم حق الخدمة إلا جده المنوه به"2.
3- نشأته وشيوخه:
نشأ القاسم في بيت عرف بالتقوى والعلم. وكان أبوه فقيها غلب عليه الأدب، ميالا إلى الموسيقى، وله معرفة بأنغامها، حلو الصوت. ففي جو من حرمة الدين وجلاله، وهداه وسلطانه، ورقة الأدب وروائه، وتهذيبه وصفائه، وطلاوة الموسيقى وحلاوتها، وعذوبتها ونشوتها، فتح عينيه على النور. فأعانه هذا كله، كما أعانه تشجيع أبيه على أن ينشأ نشأة صحيحة صالحة. فضلًا عما فطر عليه من عناصر الحق والخير.
أخذ العلم على طريقة القدماء "فقرأ القرآن أولًا على الشيخ عبد الرحمن المصري، ثم تعلم الكتابة، على الشيخ محمود القوصي، نزيل دمشق، من صلحاء الأتراك، ثم انتقل إلى مكتب في المدرسة الظاهرية، وكان معلمه الشيخ رشيد قزيها، أخذ عنه مبادئ التوحيد والصرف والنحو والمنطلق والبيان والعروض وغيرها".
--------------------------------------------
আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি আদ-দিমাশকি ১:
১- তাঁর জন্ম:
"তিনি ১২৮৩ হিজরির ৮ই জুমাদাল উলা মোতাবেক ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই সেপ্টেম্বর সোমবার পূর্বাহ্নে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন" ২।
২- তাঁর বংশপরিচয়:
"তিনি হলেন মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আবু আল-ফারাজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে কাসিম ইবনে সালিহ ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি বকর, যিনি আল-কাসিমি নামে পরিচিত। এই উপাধিটি তাঁর উল্লিখিত পিতামহ (দাদা) শায়খ কাসিমের নামের দিকে নিসবত করে রাখা হয়েছে, যিনি 'আল-হাল্লাক' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন সিরিয়ার ইমাম, ফকিহ (فقيه) এবং সালিহ (صالح) ব্যক্তি। তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে উল্লিখিত এই পিতামহ ব্যতীত অন্য কেউ ইলমের প্রকৃত সেবা করেছেন বলে জানা যায় না" ২।
৩- তাঁর লালন-পালন ও শিক্ষকবৃন্দ:
আল-কাসিমি এমন এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন যা তাকওয়া এবং ইলমের জন্য সুপরিচিত ছিল। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ফকিহ (فقيه), যার ওপর সাহিত্যের প্রভাব ছিল প্রবল। তিনি সংগীতানুরাগী ছিলেন, এর সুর ও তালের জ্ঞান রাখতেন এবং সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। দ্বীনের গাম্ভীর্য ও মর্যাদা, এর হেদায়েত ও আধিপত্য, সাহিত্যের কমনীয়তা ও সৌন্দর্য এবং এর পরিমার্জিত রূপ ও নির্মলতা, আর সুরের মিষ্টতা ও আমেজ—এমন এক পরিমণ্ডলে তিনি আলোর দিকে চোখ মেলেন। এই সামগ্রিক পরিবেশ এবং সেই সঙ্গে তাঁর পিতার উৎসাহ তাঁকে একটি সঠিক ও সুন্দর (صالح) শৈশব ও জীবন গঠনে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়ের পথে তাঁর সহজাত গুণাবলি তো ছিলই।
তিনি প্রাচীন পদ্ধতিতে ইলম অর্জন শুরু করেন। "প্রথমে তিনি শায়খ আব্দুর রহমান আল-মিসরির কাছে কুরআন পাঠ করেন। এরপর দামেস্কে বসবাসকারী তুর্কিদের মধ্য হতে একজন পুণ্যবান (صلحاء) ব্যক্তি শায়খ মাহমুদ আল-কুসির কাছে লিখন পদ্ধতি শেখেন। এরপর তিনি আল-মাদরাসাতুজ জাহিরিয়ার মক্তবে চলে যান। সেখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন শায়খ রশিদ কাজিহা। তাঁর নিকট তিনি তাওহিদ, সারফ (صرف), নাহু (نحو), মানতিক (منطق), বায়ান (بيان), আরুজ (عروض) এবং অন্যান্য শাস্ত্রের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
"ثم جود القرآن على شيخ القراء الشيخ أحمد الحلواني".
"وكان مواظبًا على دورس الشيخ سليم العطار لقراءة حصة من الكتب المعينة كشرح الشذور، وابن عقيل، وشرح القطر، ومختصر السعد، وجمع الجوامع، وتفسير البيضاوي
… ".
"وسمع منه مجالس من البخاري دراية، وحضر دروسه في الموطأ، والشفاء، ومصابيح السنة، والجامع الصغير، والطريقة المحمدية وغيرها".
وذكر من مشايخة كلا من الشيخ بكري العطار، والشيخ محمد الخاني، وخال والده الشيخ حسن جبينة الشهير بالدسوقي.
وأجازه كثير من علماء عصره.
4- إقراؤه وإمامته للناس:
بدأ في إقراء الطلاب مبادئ العلوم، وله من العمر أربعة عشر عامًا. وكان معيدًا لوالده بدرسه العام في جامع السنانية حتى عام 1303-1887 وانتدب من عام 1309-1312هـ "1893-1896" لإلقاء دروس عامة خلال شهر رمضان في وادي العجم والنبك وبعلبك. وقام مقام أبيه في الدرس العام بعد وفاته عام 1317-1901. وبقي يؤم الناس في جامع السنانية، ويلقي الدرس العام فيه، إلى أن لقي وجه ربه.
5- عصره:
عاش القاسمي معظم حياته في أشد أيام الظلم والظلام. ولد ونظام الحكم المطلق قائم في الدولة العثمانية -وكانت البلاد الشامية جزءًا منها- فالحريات مفقودة، والأقلام مغلولة، والعقول مقيدة، والصحافة على ضعفها وقلتها مكبلة، والأحرار مطاردون، والدستور معلق والمجالس النيابية معطلة، والناس يحاسبون على الهمسة والنبسة، والجاسوسية تفتك بالأبرياء.
أما العدالة فمفقودة، لفساد النظام القضائي، وشراء مراكز القضاء، وانتشار الرشوة علنا بين موظفي السلطة العامة والمواطنين.
"এরপর তিনি শাইখুল কুররা শায়খ আহমদ আল-হালওয়ানির নিকট কুরআন সুন্দরভাবে তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন।"
"এবং তিনি শারহুশ শুযুর, ইবনে আকিল, শারহুল কাত্র, মুখতাসারুস সাদ, জামউল জাওয়ামি' এবং তাফসিরে বায়যাভি-এর মতো নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের অংশবিশেষ পাঠের জন্য শায়খ সেলিম আল-আত্তারের দরসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন
… "।
"তিনি তাঁর নিকট বুখারি থেকে অনুধাবনমূলক (دراية) মজলিসসমূহ শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর মুয়াত্তা, আশ-শিফা, মাসাবিহুস সুন্নাহ, আল-জামি আস-সগির, আত-তারিকাতুল মুহাম্মাদিয়াহ ও অন্যান্য কিতাবের দরসে উপস্থিত ছিলেন"।
তিনি তাঁর উস্তাদদের মধ্যে শায়খ বাকরি আল-আত্তার, শায়খ মুহাম্মদ আল-খানি এবং তাঁর পিতার মামা শায়খ হাসান জুবাইনাহ—যিনি আদ-দুসুকি নামে প্রসিদ্ধ—তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন।
তাঁর সমসাময়িক বহু আলিম তাঁকে ইজাজত বা অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন।
৪- তাঁর পাঠদান ও মানুষের ইমামতি:
তিনি চৌদ্দ বছর বয়সে ছাত্রদের ইলমের প্রাথমিক বিষয়সমূহ পড়াতে শুরু করেন। ১৩০৩ হিজরি (১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত তিনি সিনানিয়া জামে মসজিদে তাঁর পিতার সাধারণ পাঠদানে সহকারী (معيد) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৩০৯-১৩১২ হিজরি (১৮৯৩-১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত রমজান মাসে ওয়াদিউল আজম, আন-নাবক ও বালবাকে সাধারণ বক্তৃতা প্রদানের জন্য তাঁকে নিযুক্ত করা হয়। ১৩১৭ হিজরি (১৯০১ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সাধারণ পাঠদান পরিচালনা করেন। তিনি সিনানিয়া জামে মসজিদে ইমামতি ও সাধারণ দরস প্রদান অব্যাহত রাখেন, যে পর্যন্ত না তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে গমন করেন।
৫- তাঁর যুগ:
কাসিমি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন চরম জুলুম ও অন্ধকারের দিনগুলোতে। তিনি এমন সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন উসমানীয় সাম্রাজ্যে—শাম অঞ্চল যার অন্তর্ভুক্ত ছিল—স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম ছিল। তখন স্বাধীনতা ছিল বিলীন, কলম ছিল রুদ্ধ, চিন্তা ছিল শৃঙ্খলিত এবং সংবাদপত্রগুলো দুর্বল ও সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও ছিল অবরুদ্ধ। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা বিতাড়িত হতেন, সংবিধান ছিল স্থগিত এবং সংসদীয় সভাগুলো ছিল অকার্যকর। মানুষকে তাদের সামান্য ফিসফিসানি ও নড়াচড়ার জন্যও জবাবদিহি করতে হতো এবং গোয়েন্দাগিরি নিরপরাধ মানুষদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছিল।
আর বিচারব্যবস্থার দুর্নীতির কারণে ন্যায়বিচার ছিল অনুপস্থিত। বিচারকের পদগুলো ক্রয়-বিক্রয় হতো এবং সরকারি কর্মচারী ও নাগরিকদের মধ্যে প্রকাশ্যে ঘুষের বিস্তার ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأما الحياة الثقافية، فكانت مفقودة أو بالمفقودة أشبه، فلا مدارس ولا معاهد، ولا جامعات، والطباعة والصحابة ضعيفتان، ليس فيهما أي غناء. واعتماد القلة من الناس على الكتاتيب، وحلقات الجوامع، والدروس الخاصة في البيوت. والأمية منتشرة لأن الدولة فرضت الجهل المطلق على الناس، ليعشوا في جو من الظلام والغباء، وليس على الحكم والمستغلين أطراد الأمور في سلك من الظلم والبطش والخضوع.
وكان حال الحياة الدينية نتيجة طبعية للحياة الثقافية: جمود على القديم، وكتب صفراء يتداولها الطلاب، ومتون كثيرًا ما يحفظونها بدون فهم، وحواش وشروح وتقريرات وتعليقات تزيد في اضطراب عقول الطلاب وتشويشها.
وتقليد أعمى غلت معه العقول، فكتب الحديث لا تقرأ إلا للتبرك. وكتب التفسير ممتنعة عن الخاصة بله العامة. ولا يقرأ الناس إلا كتب الفقه التي وضعها المتأخرون. أما كتب اللغة والنحو والصرف والأدب وما إليها فيقرؤها بعض الطلاب على أنها أداة لفهم الكتاب والسنة، لا لذاتها.
وكانت الطرق، في ذلك العصر، في أوج انتشارها، يعتنقها بعض رجال الدين ويجمعون العامة حولهم، ويشغلونهم عن العمل النافع لإقامة المجتمع الإسلامي الصالح.
والحياة الاجتماعية كانت مفقودة فلا ندوات، ولا جمعيات إصلاحية، ولا حلقات اجتماعية، حتى ولا جمعيات خيرية.
والمرأة التي هي نصف المجتمع غائبة عنه، فليس لها في خدمته إلا نصيب قعيد البيت.
في هذا الجو الخانق العجيب، المتخلف في جميع مرافق الحياة، نشأ القاسمي، فكان كالطائر المغني في غير سربه، غريبًا عن أهل الزمان. ولعل هذا كله كان أدعى لإقدامه، والاقتناع بقدسية رسالته، وضرورة العمل لها، والسعي لنشرها، والمضي في تبليغها.
6- ثقافتة العامة:
أخذ القاسمي معارفة الأولى على الطريقة المألوفة في عصره. ثم أخذت الآفاق تتسع أمامه،
আর সাংস্কৃতিক জীবনের কথা বলতে গেলে, তা ছিল বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্তপ্রায়। কোনো বিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। মুদ্রণ ও সংবাদপত্রের অবস্থা ছিল দুর্বল (ضعيفة), যা থেকে কোনো উপকার পাওয়া যেত না। অল্পসংখ্যক মানুষ মক্তব, মসজিদের শিক্ষা-হালকা এবং ব্যক্তিগত গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করত। নিরক্ষরতা ছিল ব্যাপক; কারণ রাষ্ট্র জনগণের ওপর চরম মূর্খতা চাপিয়ে দিয়েছিল যাতে তারা অন্ধকার ও নির্বুদ্ধিতার মাঝে বসবাস করে। এর ফলে শাসক ও শোষক শ্রেণির জন্য জুলুম, নিপীড়ন ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে সবকিছু পরিচালনা করা সহজ হয়ে পড়েছিল।
সাংস্কৃতিক জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে ধর্মীয় জীবনের অবস্থাও ছিল স্থবির: পুরাতনের ওপর মন্থরতা, শিক্ষার্থীদের মাঝে সেকেলে জীর্ণ পাণ্ডুলিপির প্রচলন এবং এমন সব মূল পাঠ (متون) যা তারা প্রায়শই না বুঝে মুখস্থ করত। এছাড়া ছিল অসংখ্য টীকা (حواش), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح), সিদ্ধান্ত (تقريرات) ও মন্তব্য (تعليقات), যা শিক্ষার্থীদের মেধা ও চিন্তাশক্তিকে আরও বিভ্রান্ত ও এলোমেলো করে দিত।
অন্ধ অনুকরণ বা তাকলিদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মেধা স্থবির হয়ে পড়েছিল। হাদিসের কিতাবসমূহ কেবল বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে পড়া হতো। তাফসিরের কিতাবসমূহ সাধারণ তো বটেই, বিশিষ্টজনদের নিকটও ছিল দুষ্প্রাপ্য। মানুষ কেবল পরবর্তী যুগের ফকিহদের রচিত ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পাঠ করত। আর ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), সাহিত্য এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো কিছু শিক্ষার্থী কেবল কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার মাধ্যম হিসেবে পড়ত, স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে নয়।
সেই যুগে তরিকাসমূহ (الطرق) তাদের প্রচার-প্রসারের তুঙ্গে ছিল। কিছু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এতে যুক্ত হতেন এবং সাধারণ মানুষকে নিজেদের চারপাশে সমবেত করতেন। তারা মানুষকে একটি কল্যাণকর ইসলামি সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয় ও ফলপ্রসূ কাজ থেকে বিমুখ করে রাখতেন।
সামাজিক জীবন ছিল অনুপস্থিত; কোনো সেমিনার, সংস্কারমূলক সংগঠন, সামাজিক মজলিস, এমনকি কোনো দাতব্য সংস্থাও ছিল না।
নারী, যারা সমাজের অর্ধেক অংশ, তারা ছিলেন সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। গৃহস্থালি কাজ ছাড়া সমাজসেবায় তাদের আর কোনো ভূমিকা ছিল না।
জীবনের সকল ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ এই শ্বাসরুদ্ধকর ও অদ্ভুত পরিবেশে কাসেমী বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন ভিন্ন কোনো ঝাঁকের একটি সুকণ্ঠী পাখির মতো, নিজ যুগের মানুষের কাছে এক অপরিচিত আগন্তুক। সম্ভবত এই সামাজিক স্থবিরতাই তাঁকে সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যেতে, নিজ দাওয়াতের পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে, এর জন্য কাজ করা ও প্রচারের আবশ্যকতা উপলব্ধি করতে এবং তা পৌঁছে দেওয়ার পথে অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
৬- তাঁর সাধারণ শিক্ষা:
কাসেমী তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন তৎকালীন প্রচলিত পদ্ধতিতে। এরপর তাঁর সামনে জ্ঞানের দিগন্ত উন্মোচিত হতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فعكف على مكتبته الخاصة التي أسسها جده وأبوه، ينهل من معينها، ثم أخذ يتابع تطور الحرة العلمية في جميع نواحيها، راغبًا في الإحاطة بجميع أنواع المعرفة، لو أن الإحاطة ممكنة، وعنون ثقافته العامة مكتبته الخاصة، والكتب التي ألفها.
فأما مكتبته الخاصة، التي تنوف على ألف مجلد، فلم يخل كتاب فيها من تصحيح أو تعليق وترى فيها إلى جانب كتب التفسير والحديث والفقه واللغة والتصوف والأدب والتاريخ والأصول وغيرها، كتب الفلسفة القديمة والحديثة، والاجتماع، والرياضيات، والقانون المقارب، وكتب الفرق الإسلامية كالمعتزلة والظاهرية والشيعة الزيدية وغيرها.
كما أنها ضمت مجموعة قاربت مائة كتاب من كتب الديانات الأخرى كاليهودية والنصرانية.
وأما الكتب التي ألفها فترى فيها إلى جانب كتب التفسير والحديث والأصول، كتابًا في تاريخ دمشق، ورسالة في الجن، وكتيبًا في الشاي والقهوة والدخان، ومقالة عن القلب، وسفرا في دلائل التوحيد، وكتابًا في الآداب والأخلاق، إلى غير ذلك مما تراه واضحًا في أسماء كتبه.
وتقرأ هذه الكتب، فترى أنه عرف الاشتراكية قبل أكثر من نصف قرن، وما مدلولها، وما معناها، في وقت كان الذين سمعوا بها في العالم العربي أفرادًا معدودين1.
ونلحظ فيها حصيلة حسنة من علوم الفلك والجغرافيا والحيوان والنبات والجيولوجيا2.
وينقل عن الفارابي بحثًا، فيرى أنه استعمل كلمة "أثولوجيا"، فيصححها في الهامش ويقول: كذا في الأصل، وصوابه "ته ثولوجيا"3.
ويضع رسالته الشهيرة عن الجن، فيترجم له طلابه ما جاء في معجم لاروس وفي دائرة المعارف البريطانية تحت كلمة "جن"4.
وترى في كتابه "إرشاد الخلق إلى العمل بخبر البرق" بحثا عن "التلغراف" ومعناه، واشتقاقه من اللغة اليونانية، وأول من استعمل الكهرباء في المخابرة بعد. وكذلك "التليفون". ثم يشير إلى "التلغراف اللاسلكي" الذي كان حديث العهد بالظهور5.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর দাদা ও বাবার প্রতিষ্ঠিত নিজস্ব গ্রন্থাগারে নিমগ্ন হলেন এবং এর ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে থাকলেন। এরপর তিনি বৈজ্ঞানিক আন্দোলনের সর্বমুখী বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন; তাঁর আকাঙ্ক্ষা ছিল সকল প্রকার জ্ঞানকে আয়ত্ত করা, যদি তেমন আয়ত্ত করা সম্ভব হতো। তাঁর সাধারণ পাণ্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার এবং তাঁর রচিত বইগুলোর মাধ্যমে।
তাঁর নিজস্ব গ্রন্থাগারের কথা বলতে গেলে, যা এক হাজার খণ্ডেরও বেশি, সেখানে এমন কোনো বই ছিল না যাতে কোনো সংশোধন (تصحيح) বা টীকা (تعليق) ছিল না। সেখানে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ভাষা, তাসাউফ, সাহিত্য, ইতিহাস এবং উসুল (أصول) শাস্ত্রের বইয়ের পাশাপাশি আপনি প্রাচীন ও আধুনিক দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, তুলনামূলক আইন এবং বিভিন্ন ইসলামি দল যেমন মুতাজিলা, জাহিরিয়া ও শিয়া জাইদিয়া প্রভৃতির কিতাব দেখতে পাবেন।
এছাড়া এতে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টধর্মের মতো অন্যান্য ধর্মের প্রায় একশটি বইয়ের একটি সংগ্রহ ছিল।
আর তাঁর রচিত বইগুলোর মধ্যে তাফসির, হাদিস এবং উসুল (أصول) শাস্ত্রের বইয়ের পাশাপাশি আপনি পাবেন দামেস্কের ইতিহাসের ওপর একটি বই, জিনের ওপর একটি রিসালা বা পুস্তিকা, চা-কফি ও তামাকের ওপর একটি পুস্তিকা, হৃদপিণ্ড নিয়ে একটি প্রবন্ধ, তাওহিদের প্রমাণের ওপর একটি বৃহৎ গ্রন্থ এবং আদব ও আখলাকের ওপর একটি বই; যা তাঁর বইগুলোর নাম থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এই বইগুলো পড়লে আপনি দেখতে পাবেন যে, তিনি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় আগে সমাজতন্ত্র, এর তাৎপর্য ও অর্থ সম্পর্কে জানতেন; এমন এক সময়ে যখন আরব বিশ্বে এর নাম শোনা মানুষের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা।১
আমরা এতে জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা এবং ভূতত্ত্ববিদ্যার এক চমৎকার সমন্বয় লক্ষ্য করি।২
তিনি আল-ফারাবি থেকে একটি গবেষণা উদ্ধৃত করেন এবং দেখেন যে তিনি ‘আথুলুজিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তখন তিনি পার্শ্বটীকায় তা সঠিককরণ (تصحيح) করে বলেন: মূলে এভাবেই আছে, তবে এর সঠিক রূপ হলো ‘থুথুলুজিয়া’।৩
তিনি জিনের ওপর তাঁর বিখ্যাত পুস্তিকাটি লেখেন, আর তাঁর ছাত্ররা তাঁর জন্য ‘লারুস ডিকশনারি’ এবং ‘ব্রিটিশ এনসাইক্লোপিডিয়া’ থেকে ‘জিন’ শব্দের অধীনে যা এসেছে তা অনুবাদ করে দেয়।৪
তাঁর ‘ইরশাদুল খালক ইলাল আমালি বি-খাবারিল বারক’ নামক বইটিতে ‘টেলিগ্রাফ’, এর অর্থ, গ্রিক ভাষা থেকে এর ব্যুৎপত্তি এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের প্রথম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা দেখতে পাবেন। একইভাবে ‘টেলিফোন’ সম্পর্কেও। এরপর তিনি ‘বেতার টেলিগ্রাফ’ (ওয়্যারলেস)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেন, যা তখন মাত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল।৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ويصاب بالبواسير، فيؤلف كتابًا يسميه "ما قاله الأطباء المشاهير في علاج البواسير"1.
قال عنه عميد كلية الطب الأستاذ الدكتور عزة مريدن: "رسالة جامعة لكل ما يريد الباحث معرفته مما قيل عن هذا المرض قديمًا وحديثًا".
ويشير إلى ما قاله علماء البيولوجيا من موافقة الأولاد لوالديهم في بعض الأوضاع الجسدية والصفات النفسية2.
ويبحث في ذرائع إصلاح الزراعة، فينبه إلى السمادات الكيماوية وأنواعها: الفوسفورية، والبوتاسية، وإلى ضرورة استعمال الآلات الميكانيكية في الحرث والحصاد، وإلى الآفات والأمراض والحشرات الزراعية، وطرق مكافتحها
… 3.
ويتناول الحياة الدستورية، ويعقد فصلا عن أدب النائب في مجلس المبعوثين، وعن شروطه فيقول: "لا يطلب النائب بين خزائن النقود، ولا من وراء سجوف النعمة، ورغد العيش، فإن من ترفع عنك لا يهبط إليك" ولا يفوته من أن يشترط على النائب تضلعه في علم الحقوق، ومعرفته لحركة المجالس النيابية عند الأمم الراقية، وإدراكه علائق حكومته بحكومات أوروبا، وما نلته من الامتيازات، وأن يكون قادرًا على الاستخراج من كتب السياسة والإدارة والقضاء بإحدى اللغات الأجنبية4.
واستشهد بشروح قانون التجارة وقوة المراسلات -ومنها البرق- في الإثبات بين الخصوم5.
ويدعو المفتين إلى ضرورة التضلع في العلوم الرياضية6.
ويبحث مشكلة من مشاكل هذا القرن الكبرى وهي التمييز بسبب العنصر أو العرق أو اللون عام 1321-1904 فقرر أن "منشأ هذه الخرافة استعباد الزنوج، وأن من أحنى قامة الذل والهوان، نهض يطالب بحقوقه المهضومة، ويناقش ظلامه الحساب"7.
--------------------------------------------
তিনি অর্শ্বরোগে আক্রান্ত হন এবং ‘মা ক্বলাহুল আতিব্বাউল মাশাহিরু ফি ইলাজিল বাওয়াসির’ (অর্শ্বরোগের চিকিৎসায় প্রখ্যাত চিকিৎসকদের অভিমত) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন১।
চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর ইজ্জাহ মুরিদান তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ যা প্রাচীন ও আধুনিক কালে এই রোগ সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা জানার জন্য একজন গবেষকের প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে।"
এবং তিনি শারীরিক গঠন ও মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সন্তানদের তাদের পিতা-মাতার সদৃশ হওয়ার বিষয়ে জীববিজ্ঞানিদের মতামতের দিকে ইঙ্গিত করেন২।
তিনি কৃষি সংস্কারের উপায়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং রাসায়নিক সার ও এর বিভিন্ন প্রকার—ফসফেটিক ও পটাশিয়াম—সম্পর্কে এবং চাষাবাদ ও ফসল কাটার ক্ষেত্রে যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং কৃষি আপদ, রোগ ও পোকামাকড় এবং সেগুলো দমনের উপায় সম্পর্কে সচেতন করেন
… ৩।
তিনি সাংবিধানিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন এবং ‘মজলিসুল মাবউসিন’-এ প্রতিনিধিদের শিষ্টাচার ও তাদের যোগ্যতার শর্তাবলি সম্পর্কে একটি অধ্যায় বিন্যস্ত করেন। তিনি বলেন: "প্রতিনিধিকে কেবল অর্থভাণ্ডারের ভেতরে কিংবা বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের আড়ালে অন্বেষণ করা উচিত নয়, কেননা যে ব্যক্তি আপনার থেকে নিজেকে উচ্চাসনে রাখে সে কখনো আপনার সমপর্যায়ে নেমে আসবে না।" তিনি প্রতিনিধির জন্য আইনশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য, উন্নত জাতিসমূহের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান, ইউরোপীয় সরকারগুলোর সাথে নিজ সরকারের সম্পর্ক ও সুযোগ-সুবিধাগুলো অনুধাবন করা এবং কোনো একটি বিদেশী ভাষায় রাজনীতি, প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় গ্রন্থসমূহ থেকে তথ্য আহরণে সক্ষম হওয়ার শর্তারোপ করতেও ভুলেননি৪।
তিনি বাণিজ্যিক আইনের ব্যাখ্যাসমূহ এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পত্রালাপের—যার মধ্যে টেলিগ্রামও অন্তর্ভুক্ত—শক্তিশালী ভূমিকার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন৫।
তিনি মুফতিদের গণিতশাস্ত্রে পারদর্শী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার আহ্বান জানান৬।
তিনি ১৯০৪ (১৩২১ হিজরি) সালে এই শতাব্দীর অন্যতম প্রধান সমস্যা—অর্থাৎ বংশ, জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, "এই কুসংস্কারের মূলে রয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের দাসত্ব প্রথা। আর যারা একদা লাঞ্ছনা ও অবমাননায় মস্তক অবনত করেছিল, তারা আজ তাদের লুণ্ঠিত অধিকার আদায়ে সজাগ হয়েছে এবং তাদের প্রতি কৃত অন্যায়ের হিসাব তলব করছে"৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأولع عام 1324 - 1907 بفقة اللغات "الفيلولوجيا"، وأخذ يبحث عن أصول بعض الألفاظ المعربة من لغاتها الأصلية: اليونانية، والسريانية، والعبرية، والفارسية، والقبطية، والألمانية، والإيطالية، والفرنسية، وغيرها1.
لقد كان آخذا بأطراف المعرفة من كل سبب، لم يمنعه عن ذلك مخالفة في الدين أو المذهب أو العقيدة أو الطريقة، وأتاحت له حريته الفكرية أن يجول في آثار عقول الأمم، إلى اختلاف مللهم ونحلهم.
7- حرية واضطهاده:
آمن القاسمي بالحرية وقدسها، وأحب رجالها، وعشق أبطالها، وسعي إليها، وقضى حياته كلها، هو يرى أن الإنسانية ملازمة للحرية.
ولقد كان هذا واضحًا منذ طفولته المبكرة، فعرف بين أقرانه بالتحرير من الأوهام، وتقديسه لسلطان العقل، وحرية الفكر.
ولم يكن هذا خافيًا على حكام ذلك الزمان، فلفقوا له من مطلع شبابه تهمه خطيرة هي "الاجتهاد"، وألفوا لذلك محكمة خاصة دُعي للمثول أمامها مع لفيف من العلماء فاستجوبوا جميعًا، وأطلق سراحهم، إلا القاسمي، فقد أوقف ليلة واحدة في دائرة الشرطة، ثم أخلي سبيله في الصباح.
كان هذا في عام 1313 - 1897، وله من العمر ثلاثون عامًا.
لقد دون القاسمي وقائع المحاكمة في ترجمته لنفسه. ويغلب على ظني أن هذه الحادثة هي الحادثة الكبرى التي وقعت في أوائل القرن الرابع عشر الهجري -أواخر القرن التاسع عشر الميلادي- في البلاد الشامية.
فلم يكن في البلاد أحزاب سياسية، ولا حركات قومية، وإنما كان قوام الدولة على الخلافة ومذهب الدولة الرسمي هو المذهب الحنفي، فاتهام القاسمي بالاجتهاد مذهب
--------------------------------------------
১৩২৪ হিজরি - ১৯০৭ সালে তিনি ভাষাবিজ্ঞান বা "ফিলোলজি"-র প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন এবং গ্রিক, সিরিয়াক, হিব্রু, ফার্সি, কপ্টিক, জার্মান, ইতালীয়, ফরাসি ইত্যাদি মূল ভাষা থেকে আরবিতে আত্তীকৃত হওয়া কিছু শব্দের মূল উৎস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।১
তিনি জ্ঞানের প্রতিটি উৎস হতে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন; ধর্ম, মাযহাব (مذهب), আকিদাহ (عقيدة) বা তরিকার (طريقة) ভিন্নতা তাঁকে তা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তাঁর চিন্তার স্বাধীনতা তাঁকে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে বিচরণ করার সুযোগ করে দিয়েছিল, যদিও তাদের ধর্ম ও মতাদর্শ ভিন্ন ছিল।
৭- স্বাধীনতা এবং তাঁর ওপর নিগ্রহ:
আল-কাসিমি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন ও একে পবিত্র মনে করতেন। তিনি স্বাধীনতার অনুসারীদের ভালোবাসতেন, এর বীরদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং এর অন্বেষণে সচেষ্ট থাকতেন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন এই বিশ্বাসেই অতিবাহিত করেছেন যে, মানবতা স্বাধীনতার সাথে অবিচ্ছেদ্য।
এটি তাঁর শৈশব থেকেই স্পষ্ট ছিল; তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে কুসংস্কারমুক্ত থাকা, যুক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে সম্মান করা এবং চিন্তার স্বাধীনতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
তৎকালীন শাসকদের কাছে এটি গোপন ছিল না। তাই তাঁরা তাঁর যৌবনের শুরুতেই তাঁর বিরুদ্ধে "ইজতিহাদ" (اجتهاد)-এর মতো এক গুরুতর অভিযোগ আরোপ করেন। এর বিচারের জন্য তাঁরা একটি বিশেষ আদালত গঠন করেন এবং সেখানে একদল ওলামার সাথে তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে কাসিমিকে এক রাত পুলিশ দপ্তরে আটকে রাখা হয়েছিল; এরপর সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এটি ছিল ১৩১৩ হিজরি - ১৮৯৭ সালের ঘটনা এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর।
আল-কাসিমি তাঁর আত্মজীবনীতে এই বিচারের ঘটনাপ্রবাহ লিপিবদ্ধ করেছেন। আমার প্রবল ধারণা যে, এটিই ছিল চতুর্দশ হিজরি শতকের শুরুতে—অর্থাৎ উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে—শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে ঘটা সবচাইতে বড় ঘটনা।
তখন সে দেশে কোনো রাজনৈতিক দল বা জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ছিল না। বরং রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল খেলাফতের ওপর এবং রাষ্ট্রের সরকারি মাযহাব (مذهب) ছিল হানাফি মাযহাব। ফলে কাসিমির বিরুদ্ধে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অভিযোগ তোলা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
خامس في الإسلام هو "المذهب الجمالي"، كان ممكنًا أن يؤدي به إلى أعماق السجون أو إلى أبعد المنافي.
أضف إلى ذلك أن الاجتهاد يعني الحرية، وكلمة "الحرية" بمختلف أشكالها وألوانها، بما في ذلك الحرية الدينية، كانت تأباها سياسة الدولة، وتحاربها دون هوادة أو رحمة.
ولئن كانت هذه الحادثة قد مرت دون أن تؤثر على حياة القاسمي، إلا أنها تركت آثارًا كبرى في طرائقه في الإصلاح، والتأليف والدعوة والإرشاد.
ووقعت حادثة أخرى كانت أخف من الأولى وقعًا: ذلك أنه في 8 من صفر 1326 - 19 آذارأيار 1908 فتشت كبته بالرسدة في الجامع، وفي حجرته بالدار. وبقيت الكتب التي أشتبه بها وصودرت حتى 18 ربيع الآخر 1326 - 19 إيار 1908 وأعيدت1.
ثم يعلن استئناف الحياة الدستورية في المملكة العثمانية، فينتهج مع الأحرار، ويرى أن فجر عصر جديد قد آذن بالانبلاج.
ولكن الواقع يكذب هذه الآمال، ويتضح أن الأتراك قبل الدستور كانوا أرحم من الأتراك بعد الدستور، فلم تكد تمضي سنة وبعض السنة، على إعلان الحرية، حتى يدعى القاسمي أمام قاضي التحقيق بدمشق ليستجوب عن التهم التي تضمنها إدعاء الحق العام عليه وهي: "أن جمعية النهضة السورية لم تنشأ إلا بتشويقه، هو والشيخ عبد الرزاق البيطار، وأنهما من أركانها، وأنها فرع لجميعات في البلاد كاليمن ونجد، وأنها تطلب الاستقلال الإداري، وتريد تشويش الأمور الداخلية بطلب حكومة عربية، وأن لهم مكاتبات مع أمراء نجد ومواصلات، وكذلك مع المتمهدي في اليمن، وأن الشيخ طاهرا المغربي هو المحرض للمتمهدي على القيام لأنه مغربي. وما مذهب الوهابية، وكما عدتهم في الشام.. إلى نحو ذلك"2.
وإذا كنا لا نعرف عن هذه الحاديثة التاريخية الكبرى أكثر من هذه الأسطر، لفقدان إضبارتها، ولأن الأحياء الذين عاصروها لا يذكرون عنها شيئًا، فإن في هذه
--------------------------------------------
ইসলামে পঞ্চম (ধারা) হলো "جمالی (Jamali) মাযহাব (مذهب)", যা তাঁকে কারাগারের গভীর প্রকোষ্ঠে অথবা সুদূর নির্বাসনে নিয়ে যেতে পারত।
এর সাথে যুক্ত হয়েছিল এই যে, ইজতিহাদ (اجتهاد) মানেই হলো স্বাধীনতা; আর ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ "স্বাধীনতা" শব্দটির বিবিধ রূপ ও বৈচিত্র্য রাষ্ট্রীয় নীতিমালার পরিপন্থী ছিল এবং রাষ্ট্র কোনো প্রকার শৈথিল্য বা দয়া ছাড়াই এর বিরুদ্ধে লড়াই করত।
যদিও এই ঘটনাটি কাসিমীর জীবনে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলা ছাড়াই অতিক্রান্ত হয়েছিল, তবুও এটি তাঁর সংস্কার পদ্ধতি, রচনাশৈলী, দাওয়াত ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখেছিল।
এরপর আরও একটি ঘটনা ঘটে যা প্রথমটির তুলনায় কিছুটা হালকা ছিল: ৮ই সফর ১৩২৬ হিজরি - ১৯শে মার্চ/মে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে মসজিদে তাঁর কুতুবখানা (গ্রন্থাগার) এবং তাঁর বাড়ির কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সন্দেহজনক হিসেবে যে বইগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তা ১৮ই রবিউল আখের ১৩২৬ হিজরি - ১৯শে মে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জব্দ থাকে এবং পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হয়।১
অতঃপর উসমানীয় সালতানাতে সাংবিধানিক জীবন পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা এলে তিনি মুক্তিকামীদের সাথে পথ চলেন এবং মনে করেন যে, একটি নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।
কিন্তু বাস্তবতা এই আশাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সংবিধান প্রবর্তনের আগের তুর্কিরা সংবিধান পরবর্তী তুর্কিদের চেয়ে অধিক দয়ালু ছিল। স্বাধীনতা ঘোষণার এক বছর পার হতে না হতেই কাসিমীকে দামেস্কের তদন্তকারী বিচারকের সামনে তলব করা হয় যেন তাঁর বিরুদ্ধে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। অভিযোগগুলো ছিল: "সিরীয় রেনেসাঁ সোসাইটি কেবল তাঁর এবং শেখ আব্দুর রাজ্জাক আল-বাইতারের প্ররোচনাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁরা উভয়েই এর মূল স্তম্ভ, এটি ইয়েমেন ও নজদের মতো দেশগুলোতে বিদ্যমান সংগঠনগুলোর একটি শাখা, তারা প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন চায় এবং আরব সরকার গঠনের দাবির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। এছাড়াও তাদের সাথে নজদের আমিরদের যোগাযোগ ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান রয়েছে এবং একইভাবে ইয়েমেনের ভণ্ড মাহদীর সাথেও যোগাযোগ রয়েছে। আর শেখ তাহির আল-মাগরিবি মাগরেব অঞ্চলের মানুষ হওয়ার কারণে তিনি সেই মাহদীকে বিদ্রোহে প্ররোচনা দিয়েছেন। আর ওহাবি মাযহাব (مذهب) কী এবং সিরিয়ায় তাদের সংখ্যা কত... এই জাতীয় আরও অনেক কিছু।"২
এই বড় ঐতিহাসিক ঘটনাটি সম্পর্কে যদি আমরা এই কয়েকটি লাইনের চেয়ে বেশি কিছু না জানি—কারণ এর নথিপত্র হারিয়ে গেছে এবং তাঁর সমসাময়িক জীবিত ব্যক্তিরা এ সম্পর্কে কিছুই স্মরণ করতে পারেন না—তবে এই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأسطر من الدلالة على خطورتتها ما كان يمكن أن يؤدي بالقاسمي إلى المشنقة، أو إلى التنكيل القبيح.
وهكذا فإن القاسمي قد عاش الدستور وبعده، وهو هدف للاضطهاد، بسبب آرائه الحرة، وأفكاره الجريئة.
أما مظاهر حريته الكاملة فستراها حين بحث آرائه وأفكاره.
8- آراؤه وأفكاره:
في هذا البحث عناوين لبعض آراء القاسمي وأفكاره، والتقطتها من بعض كتبه دون استقصاء. وهذه العناوين التي كتبها بقلمه لا تغني عن الرجوع إلى أصول الأبحاث. وإنما تعطى فكرة عن عقل الرجل وتفكيره، فلقد كان يرى:
إن الدين مدرسة أخلاق1 وأنه يدعو للوحدة لا للتفرق2. وأن العقل حجة الله القاطعة البالغة، والنقل لا يأتي بما يناقض العقل3. وأن العلماء اتفقوا على أنه إذا تعارض العقل والنقل، أول النقل بالعقل4.
إن باب التناظر، والتحاور في المسائل مفتوح، حتى في مثل أخبار الصحيحين، وهي ما هي، وإن غل الفكر عن النظر والتأمل هو أعظم هادم لصرح التحقيق، فإن الحقيقة بنت البحث5.
وإن حرية العلم والتأليف قضت أن لا يبخل بفكر، ولا يضن برأي، لا على أن يهمس به همسًا، بل على أن يبث وينشر، ويصدع به في المجامع والجوامع ويجهر به على المسامع6.
إن تبين وجه الحق إنما هو بالوقوف على تفصيل المتنازع فيه وتحليله، وطرح كل ما سبق إلى القلب وغرس فيه، من تقليد أو تحزب أو تقية، أو حمية7
…وإن الحق ليس منحصرًا في قول ولا مذهب، وقد أنعم الله على الأمة بكثرة مجتهديها8.
--------------------------------------------
এই পঙক্তিগুলো তার ভয়াবহতার এমন নির্দেশক যা আল-কাসিমিকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যেতে পারত অথবা তাকে জঘন্য নির্যাতনের শিকার করতে পারত।
এভাবেই কাসিমি সংবিধানের সময়কাল এবং তার পরবর্তী সময়েও বেঁচে ছিলেন, এবং তিনি তাঁর স্বাধীন মত ও সাহসী চিন্তাধারার কারণে নিপীড়নের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন।
তাঁর পূর্ণ স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ আপনারা তাঁর মতামত ও চিন্তাধারা পর্যালোচনার সময় দেখতে পাবেন।
৮- তাঁর মতামত ও চিন্তাধারা:
এই গবেষণায় আল-কাসিমির কিছু মতামত ও চিন্তাধারার শিরোনাম রয়েছে, যা আমি তাঁর কিছু গ্রন্থ থেকে বিস্তারিত অনুসন্ধান ছাড়াই সংকলন করেছি। তাঁর নিজ কলমে লেখা এই শিরোনামগুলো মূল গবেষণার দিকে ফিরে যাওয়ার বিকল্প নয়। বরং এগুলো এই ব্যক্তির বিবেক ও চিন্তা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়; তিনি মনে করতেন:
নিশ্চয়ই দ্বীন হলো একটি নৈতিকতার পাঠশালা১ এবং এটি ঐক্যের ডাক দেয়, বিভেদের নয়২। বিবেক (العقل) হলো আল্লাহর অকাট্য ও চূড়ান্ত দলিল, আর বর্ণিত পাঠ (النقل) বিবেকের (العقل) পরিপন্থী কিছু নিয়ে আসে না৩। ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, যদি বিবেক (العقل) ও বর্ণিত পাঠের (النقل) মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে বর্ণিত পাঠকে (النقل) বিবেকের (العقل) আলোকে ব্যাখ্যা (أوّل) করতে হবে৪।
বিভিন্ন মাসআলায় বিতর্ক ও আলোচনার পথ উন্মুক্ত, এমনকি সহিহাইনের সংবাদ (أخبار) সমূহের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রেও—তা যে স্তরেরই হোক না কেন। চিন্তাশক্তিকে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা থেকে বিরত রাখা হলো প্রকৃত অনুসন্ধানের প্রাসাদ ধ্বংসকারী বৃহত্তম বিষয়, কারণ সত্য হলো গবেষণালব্ধ ফসল৫।
জ্ঞান ও রচনার স্বাধীনতা দাবি করে যে, কোনো চিন্তার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করা হবে না এবং কোনো মতামতের ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা দেখানো হবে না। এটি শুধু কানে কানে ফিসফিস করে বলার মতো বিষয় নয়, বরং একে প্রচার ও প্রসার করতে হবে এবং সভা-সমাবেশ ও মসজিদে উচ্চকণ্ঠে প্রকাশ করতে হবে এবং সকলের কর্ণগোচরে তা প্রচার করতে হবে৬।
সত্যের স্বরূপ উন্মোচিত হয় বিবাদপূর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত অনুধাবন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এবং অন্তরে প্রোথিত পূর্ববর্তী সকল অন্ধ অনুকরণ (تقليد), দলাদলি (تحزب), তাকিয়া (تقية) বা গোঁড়ামি (حمية) বর্জনের মাধ্যমে৭
…আর নিশ্চয়ই সত্য কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য বা মাজহাবের (مذهب) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতকে বহু সংখ্যক মুজতাহিদের (مجتهد) মাধ্যমে ধন্য করেছেন৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وإن مراد الإصلاح العلمي بالاجتهاد ليس القيام بمذهب خاص، والدعوة له على انفراده، وإنما المراد إنهاض همم رواد العلم، لتعرف المسائل بأدلتها 1
…إنا في الرأي مستقلون، ولسنا بمقليدن ولا متحزبين2.
ظهر لي أن قول بعض الفقهاء: "هو تعبدي لا يعقل معناه" فيه حجر على العقول والأفهم أن تنظر وتتأمل وتتدبر. فهو مناف لقاعدة إعمال الفكر لاستنباط المعاني3.
وله آراء في الدولة وقوتها والوطن والسياسة والعرب وغيرها جاء في بعضها:
إن القرآن قد أمر بوجوب إعداد القوة الحربية، وإنه لما ترك المسلمون العمل بهذا الأمر، أهملوا فرضًا من فروض الكفاية، وأصبحت جميع الأمة أئمة. وأن طمع العدو في البلاد الإسلامية؛ لأنه ليس فيها معامل للأسلحة، بل كلها مما يشترى من بلاد العدو. ولقد آن للأمة أن تنتبه من غفلتها قبل أن يداهم العدو ما بقي منها، فيقضي على الإسلام وممالك المسلمين، لاستعمار الأمصار، واستعباد الأحرار، ونزع الاستقلال المؤذن بالدمار4.
وإن حب الوطن من أمهات الفضائل، وهو أن يبذل المرء ما يقدر عليه، مما أعطاه الله من العلم والمال والخبرة والنصح في عامة الأحوال والأزمان لمنفعة وطنه ومواطنيه5.
وحض على الجهاد لأن العدو يريد أن يقضي على الدين، وأن ينهب الأموال والمقتنيات ويهتك الحرم، ويمحو تاريخ المجد، ويفني اللغة والعلوم6.
وهلل للدستور بكثير من الفرح7.
ودعا لتولية الأكفياء، وإعطاء كل ذي حق حقه، ووضع الأشياء في مواضعها، وتفويض الأعمال للقادرين عليها.. لأن كل من تتبع تواريخ الأمم، علم أنه ما انقلب عرش مجدها، إلا لتفويض الأعمال لمن لا يحسن القيام عليها، ويضع الأشياء في غير موضعها8.
--------------------------------------------
গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সংস্কারের উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ মাজহাব প্রতিষ্ঠা করা বা এককভাবে সেটির দিকে দাওয়াত দেওয়া নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানপিকারুদের হিম্মতকে জাগ্রত করা, যাতে তারা দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে মাসআলাগুলো জানতে পারে। ১
...আমরা মতামতের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র (مستقلون); আমরা অন্ধ অনুসারী (مقليدن) নই এবং কোনো গোষ্ঠীভুক্ত (متحزبين) নই।২
আমার নিকট প্রতিভাত হয়েছে যে, কতিপয় ফকিহগণের (فقهاء) এই উক্তি—"এটি একটি ইবাদত সংক্রান্ত বিষয় (تعبدي), যার অর্থ বোধগম্য নয়"—এর মাধ্যমে বুদ্ধি ও অনুধাবনশক্তির চিন্তা-গবেষণা ও গভীরভাবে অনুধাবনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। এটি গূঢ় অর্থ উদ্ভাবনের (استنباط) উদ্দেশ্যে চিন্তাশক্তি প্রয়োগের মূলনীতির পরিপন্থী।৩
রাষ্ট্র, এর শক্তি, জন্মভূমি, রাজনীতি, আরব এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর কিছু অভিমত রয়েছে, যার কয়েকটিতে বলা হয়েছে:
নিশ্চয়ই কুরআন যুদ্ধশক্তি অর্জনের আবশ্যিকতার নির্দেশ দিয়েছে। আর যখন মুসলমানরা এই আদেশ পালন বর্জন করল, তখন তারা ফরজে কিফায়ার (فرض الكفاية) অন্তর্ভুক্ত একটি ফরজকে অবহেলা করল এবং পুরো উম্মত গুনাহগার (آثمة) হয়ে পড়ল। মুসলিম দেশগুলোর ওপর শত্রুদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ার কারণ হলো সেখানে কোনো অস্ত্র কারখানা নেই, বরং সবকিছুই শত্রু দেশগুলো থেকে কিনতে হয়। উম্মাহর জন্য এখন সময় এসেছে তাদের এই গাফিলতি থেকে জাগ্রত হওয়ার, শত্রু অবশিষ্ট অংশটুকু আক্রমণ করে ইসলাম ও মুসলিম সাম্রাজ্য ধ্বংস করার আগেই; কারণ তারা নগরসমূহ উপনিবেশ করা, স্বাধীন মানুষদের দাস বানানো এবং ধ্বংসের বার্তা প্রদানকারী স্বাধীনতা হরণের পাঁয়তারা করছে।৪
দেশপ্রেম হলো সর্বোত্তম গুণাবলির অন্যতম। এটি হলো একজন ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী—আল্লাহ তাকে যে জ্ঞান, সম্পদ, অভিজ্ঞতা ও সদুপদেশ দান করেছেন—তা দ্বারা সাধারণ সব অবস্থায় ও সময়ে তার দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।৫
তিনি জিহাদের (جهاد) প্রতি উৎসাহিত করেছেন, কারণ শত্রু দ্বীনকে মিটিয়ে দিতে চায়, সম্পদ ও মালামাল লুণ্ঠন করতে চায়, পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চায়, গৌরবের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় এবং ভাষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বিলুপ্ত করতে চায়।৬
তিনি সংবিধান প্রবর্তনে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন।৭
তিনি যোগ্য ব্যক্তিদের নিযুক্ত করা, প্রত্যেক হকদারের প্রাপ্য প্রদান করা, উপযুক্ত স্থানে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা এবং সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ যে কেউ জাতিসমূহের ইতিহাস পর্যালোচনা করবে, সে জানতে পারবে যে তাদের গৌরবের সিংহাসন কেবল তখনই উল্টে গেছে, যখন এমন ব্যক্তিদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যারা তা সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি এবং অনুপযুক্ত স্থানে বিষয়গুলো স্থাপন করেছে।৮
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وكان يحترم آراء الفرق؛ لأن الخطأ من شأن غير المعصوم1.
وقد ترك دفترًا تاريخه أواخر شوال 1321 - 1904، قيد فيه من أوابد أفكاره ما يدعو إلى كثير من الإعجاب والتقدير2.
فهو يسر للانتقاد، ويعتبر الانتحار هربًا من القيام بالفروض، وأن القدر الذي يجب الإيمان به لا ينطوي على شيء يميت العزم أو يخمده، وأن الغرب قد اختارهم الله لتهذيب الأمم؛ لأنه أنزل القرآن بلغتهم، وأن قصص القرآن ليست إلا آيات وعبرًا. وأن وظيفة الأستاذ والرئيس أن ينظر في أمور جماعته، ويمهد لها سبيل المجد والارتقاء. وأن المناظرة في الأمور المذهبية التي توجب الضغائن. وتولد التعصب آفة العمران. وأن الكسل من النقائص التي تولد الحسائس والشرور. وأن من اشتهر بالبخل من الناس مرفوض.
وكذلك من اشتهر بالنميمة والثلب والسفه والكبرياء.. وأن أعمال المتقين تفقًا حصرمًا في أعين الحاسدين. وأن المتعصبين يستعملون تعاليمهم الفاسدة في تفريق الناس بعضهم عن بعض. وأن الحق يصرع إذا عمد إلى إظهاره بالسباب والشتائم.
وأن الحياة معترك هائل، يموج بالرزايا موجًا، وأن الإنسان فيها بمثابة المخاطر في معترك الحرب، إن فاتته ضربة سيف، ولا تفوته طعنة رمح، أو رمية سهم.
وأن الإسلام لا يبيح الحرب لذاتها، وقد حرم الاعتداء، وإنما يوجب تعميم الدعوة، فمن عراضها وجب جهاده عند القدرة، حتى يقبلها، أو يكون لأهلها السلطان الذي يتمكنون به من نشرها بدون معارض. وأن اللباس من الأمور العادية. والدين لا يذم لباسًا إلا إذا كان في لبسه ضرر في الأخلاق.
وأن السياسة مصابرة المكاره، ومسايرة الأهوال والمصاعب، وركوب الأسنة في سبيل المداراة والمجاراة، وتحين الفرص والظروف.
وأنه لا ينبغي للإنسان أن تكون وظيفته في الحياة دون النبات: ذاك يتطاول، وهم يتقاصرون.
--------------------------------------------
তিনি বিভিন্ন দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন; কারণ ভুল করা নিষ্পাপ নয় (غير معصوم) এমন ব্যক্তির স্বভাব।১
তিনি একটি ডায়েরি রেখে গেছেন যার তারিখ ১৩২১ হিজরির শাওয়াল মাসের শেষ দিক - ১৯০৪ সাল; সেখানে তিনি তাঁর চিন্তাধারার এমন কিছু অনন্য বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন যা অত্যন্ত প্রশংসা ও শ্রদ্ধার দাবি রাখে।২
তিনি সমালোচনাকে পছন্দ করতেন এবং আত্মহত্যাকে আবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহ (فروض) পালন থেকে পলায়ন বলে গণ্য করতেন। তিনি মনে করতেন যে, তাকদির (قدر), যার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক, এমন কোনো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে না যা সংকল্পকে ধ্বংস করে বা স্তিমিত করে দেয়। তিনি আরও মনে করতেন যে, আল্লাহ পাশ্চাত্যকে জাতিসমূহের সংস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন; কারণ তিনি তাদের ভাষায় কুরআন নাজিল করেছেন। কুরআনের কাহিনীসমূহ কেবল নিদর্শন ও উপদেশ বৈ কিছু নয়। আর উস্তাদ ও নেতার দায়িত্ব হলো তাঁর দলের বিষয়াবলি তদারকি করা এবং তাদের জন্য মর্যাদা ও উন্নতির পথ সুগম করা। মাযহাবী বিষয়ে যে বিতর্ক বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং গোঁড়ামি (تعصب) জন্ম দেয়, তা হলো সভ্যতার আপদ। অলসতা এমন এক ত্রুটি যা হীনম্মন্যতা ও অনিষ্টের জন্ম দেয়। আর মানুষের মধ্যে যে কৃপণতার জন্য পরিচিত, সে প্রত্যাখ্যাত (مرفوض)।
তেমনিভাবে যে ব্যক্তি চোগলখুরি (نميمة), কুৎসা রটনা, নির্বুদ্ধিতা ও অহংকারের জন্য পরিচিত সেও প্রত্যাখ্যাত। আর মুত্তাকিদের (متقين) কর্মসমূহ হিংসুকদের চোখে কাঁচা আঙুরের মতো বিঁধতে থাকে। সংকীর্ণমনা গোঁড়া (متعصب) ব্যক্তিরা তাদের কলুষিত শিক্ষা ব্যবহার করে মানুষকে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর সত্য পরাজিত হয় যখন একে প্রকাশ করতে গালিগালাজ ও কটুভাষার আশ্রয় নেওয়া হয়।
জীবন হলো এক বিশাল রণক্ষেত্র, যা বিপদের তরঙ্গে সদা উত্তাল। সেখানে মানুষের অবস্থান যুদ্ধের ময়দানে থাকা এক যোদ্ধার মতো; যে তলোয়ারের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও বল্লমের খোঁচা কিংবা তীরের আঘাত থেকে তার নিস্তার নেই।
ইসলাম যুদ্ধের খাতিরে যুদ্ধ করাকে বৈধ করে না এবং সীমালঙ্ঘনকে হারাম করেছে। বরং এটি দাওয়াতের ব্যাপক প্রচারকে আবশ্যক করে। সুতরাং যারা এতে বাধা প্রদান করবে, সামর্থ্য থাকা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ (جهاد) করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না তারা তা গ্রহণ করে অথবা ইসলামের অনুসারীদের এমন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় যার মাধ্যমে তারা কোনো বাধা ছাড়াই তা প্রচার করতে সক্ষম হয়। পোশাক-পরিচ্ছদ একটি সাধারণ বিষয়। দ্বীন কোনো পোশাকের নিন্দা করে না, যদি না তা পরিধানের ফলে চারিত্রিক কোনো ক্ষতি হয়।
রাজনীতি হলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা, ভয়াবহ পরিস্থিতি ও অসুবিধার সাথে মানিয়ে চলা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিযোগিতার স্বার্থে ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়া এবং সঠিক সুযোগ ও পরিস্থিতির অপেক্ষায় থাকা।
মানুষের জন্য এটি উচিত নয় যে, জীবনে তার ভূমিকা উদ্ভিদের চেয়েও নগণ্য হবে; উদ্ভিদ ঊর্ধ্বমুখী হয়, অথচ তারা অবনত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأن العاقل لا ينتصر لرأيه الذاتي، ولا يصر عليه، فربما كان صوابًا أو خطأ.
وأن عثمان كان محقًّا في نفي أبي ذر الغفاري لأن الحث على الزهد في الدنيا، والقناعة باليسير والكف من الرزق، وإماتة المطالب النفسية، والتباعد عن الزينة والمفاخرة.. كل هذه الأصول فقرات مخدرات لا يرتضيها عقل، ولم يأت بها شرع.
وأن حال الأمة لا يستقيم ولا يثبت على أساس مكين ما لم يتفق الكبراء بعضهم مع بعض، ويتصافوا مع الذين دونهم، ويفصلوا كل خلاف وخصومة بالتحكيم.
وأن الجبان يموت مرارًا قبل وفاته، والشجاع لا يذوق مرارة الموت إلا مرة واحدة.
وبعد فهذا قليل من كثير مما ترك القاسمي. عرضنا منه عناوين، وتركنا التفصيل إلى كتابنا الذي نعده عنه.
9- أسلوبه ومؤلفاته:
كان الكتاب في العصر الذي عاش فيه القاسمي يعتبرون السجع المثل الأعلى في الإنشاء.
وكانت "مقامات الحريري" القدوة التي يحتذيها الكتاب فيما يكتبون. ولقد درجوا على تحفيظها للطلاب، لتنمية الملكة الأدبية، وللنسج على منوالها.
ولقد كان والده أديبًا، إلى جانب تعمقه بالفقه فنشأه نشأة أدبية، على الطريقة المألوفة في عصره، فلما أخذ في الكتابة والتأليف جرى على الأسلوب الذي لقن إليه. فالتزم السجع في أكثر ما كتب في مطلع حياته، ثم استمر على التزامه في أكثر مقدمات كتبه حتى آخر حياته، وفي بعض رسائله الخاصة. على أن سجعه في أوائل أيامه أقرب إلى سجع المبتدئين، وكان في أواخرها أقرب إلى سجع أئمة الكتاب المتقدمين1.
ثم شاعت طرقة الترسل، وكان الأستاذ الإمام محمد عبده، من الذين استعملوها، ودعوا إلى نشرها. وكان القاسمي معجبًا بالأستاذ الإمام، فعدل عن السجع إلى الترسل، وفي أكثر ما كتب بعد تعرفه عليه عام 1321 - 1904، فجاء أسلوبه فيه عربيًّا صافيًا، رائعًا
--------------------------------------------
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কেবল নিজের ব্যক্তিগত মতামতের পক্ষাবলম্বন করেন না এবং সে বিষয়ে জেদ ধরেন না, কারণ তা সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে।
এবং উসমান (রা.) আবু যার আল-গিফারিকে নির্বাসিত করার ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন, কারণ দুনিয়াবিমুখতা (زهد), অল্পে তুষ্টি, সামান্য রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, নফসের চাহিদা দমন এবং সাজসজ্জা ও পারস্পরিক অহংকার থেকে দূরে থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা—এই সব মূলনীতি ছিল অসাড় বাক্যের মতো যা কোনো বিবেক গ্রহণ করে না এবং শরিয়তও তা নিয়ে আসেনি।
উম্মাহর অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সুসংহত ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না বড়রা একে অপরের সাথে একমত হবেন, তাঁদের অধীনস্থদের সাথে স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন এবং প্রতিটি মতভেদ ও বিবাদকে সালিশির (تحكيم) মাধ্যমে সমাধান করবেন।
কাপুরুষ মৃত্যুর আগে বহুবার মরে, কিন্তু সাহসী ব্যক্তি মৃত্যুর তিক্ততা মাত্র একবারই আস্বাদন করে।
পরিশেষে, কাসেমী যা রেখে গেছেন এটি তার সামান্য অংশ মাত্র। আমরা এখান থেকে কিছু শিরোনাম উপস্থাপন করেছি এবং বিস্তারিত আলোচনা আমাদের পরবর্তী বইয়ের জন্য রেখে দিয়েছি যা আমরা তাঁকে নিয়ে প্রস্তুত করছি।
৯- তাঁর লেখনশৈলী ও রচনাবলি:
কাসেমী যে যুগে বাস করতেন, সেই যুগের লেখকরা অনুপ্রাসযুক্ত গদ্যকে (سجع) রচনার ক্ষেত্রে এক আদর্শ মানদণ্ড মনে করতেন।
আর 'মাকামাতে হারিরি' ছিল লেখকদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সাহিত্যিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেই ধাঁচে রচনার জন্য এটি মুখস্থ করানোর প্রথা চালু রেখেছিলেন।
তাঁর পিতা ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি একজন সাহিত্যিকও ছিলেন। ফলে তিনি তাঁকে তৎকালীন প্রচলিত ধারায় সাহিত্যিক পরিবেশে গড়ে তোলেন। যখন তিনি লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনা শুরু করেন, তখন তিনি সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেন যা তাঁকে শেখানো হয়েছিল। তিনি তাঁর জীবনের শুরুর দিকের অধিকাংশ লেখায় অনুপ্রাস (سجع) মেনে চলতেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর অধিকাংশ বইয়ের ভূমিকায় ও কিছু ব্যক্তিগত চিঠিপত্রে তা অব্যাহত রাখেন। তবে তাঁর প্রথম জীবনের অনুপ্রাস (سجع) ছিল অনেকটা নতুন শিক্ষার্থীদের মতো, আর শেষ জীবনের অনুপ্রাস (سجع) ছিল প্রখ্যাত পূর্বসূরি লেখকদের অনুপ্রাসের কাছাকাছি।১
পরবর্তীতে সাবলীল গদ্যের (ترسل) রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং উস্তাদ ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা এটি ব্যবহার করতেন ও এর প্রসারে আহ্বান জানাতেন। কাসেমী ইমামের অনুরাগী ছিলেন, তাই তিনি অনুপ্রাস (سجع) ত্যাগ করে সাবলীল গদ্যের (ترسل) দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৩২১ হিজরি - ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ সালে ইমামের সাথে পরিচয়ের পর অধিকাংশ লেখায় তিনি এটি গ্রহণ করেন, ফলে তাঁর শৈলী হয়ে ওঠে বিশুদ্ধ আরবি ও চমৎকার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
في قوة التركيب، وجزالة الألفاظ، ودقة الأداء، دليلًا على تمكنه من لغة العرب، وصفا ذهنه، وغوصه على المعاني1.
أما كتبه التي ألفها فقد قاربت المائة. وأقدم ما عثرت عليه مؤلفاته، مجموعة سماها "السفينة" يرجع تاريخها إلى عام 1299 - 1883، ضم فيها طرائف من مطالعاته في الأدب والأخلاق والتصوف والتاريخ والشعر وغير ذلك وله من العمر ستة عشر عامًا. ومضى يكتب ويكتب إلى أن عجب الناس من بعده، كيف اتسع وقته -ولم يعش إلا تسعة وأربعين عامًا- لهذا الإنتاج الضخم، فضلًا عن تحمل مسئولية الرأي، وترجيح الأقوال ومناقشتها، والرجوع إلى المصادر، وفضلًا عن أعبائه العائلية، فلقد كان له زوج وسبعة أولاد، وفضلًا عن أمامته للناس في الأوقات الخمسة دون انقطاع، ودروسه العامة والخاصة، وتفقده للرحم ورحلاته، وزياراته لأصدقائه، وغير ذلك من المشاغل.
وليس من شأن هذه المقدمة أن تعد لك مؤلفات القاسمي وقد قاربت المائة، ولا أن تعرفك بمواضيعها، فارجع إلى هذا البحث، إن شئت، في الكتاب الذي لخصنا عنه هذا الفصل.
10- أسلوبه في الدعوة:
عرف عن القاسمي أنه كان عف اللسان والقلم، لم يتعرض بالأذى لأحد من خصومه، سواء أكان ذلك في دروسه الخاصة أو العامة، أو في مجالسه وندواته. وإنما كان يناقش بالبرهان والدليل، من الكتاب والسنة، وأقوال الأئمة والمراجع المعتمدة.
وكانت له طريقة في مناقشة خصومه له يعرف أهدأ منها، ولا أجمل من صبرها. وكثيرًا ما قصده بعض المتقحمين في داره، لا مستفيدًا، ولا مستوضحًا، ولا مناقشًا، بل محرجًا.
فكان يستقبلهم بصدره الواسع، وعلمه العميق، فلا يخرج المقتحم من داره إلا وقد أفحم وامتلأ إعجابًا وتقديرًا.
--------------------------------------------
বাক্যের গঠনশৈলী, শব্দের সাবলীলতা এবং উপস্থাপনার নির্ভুলতার মধ্যে তার আরবি ভাষার ওপর পূর্ণ দখল, স্বচ্ছ চিন্তাশক্তি এবং অর্থের গভীরে অবগাহনের প্রমাণ পাওয়া যায়১।
তার রচিত গ্রন্থাবলির সংখ্যা প্রায় একশ’র কাছাকাছি। তার পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে আমার খুঁজে পাওয়া প্রাচীনতম সংকলনটি হলো "আস-সাফিনা", যার রচনাকাল ১২৯৯ হিজরি - ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ। এতে তিনি সাহিত্য, আখলাক, তাসাউফ, ইতিহাস, কবিতা ও অন্যান্য বিষয়ে তার পঠিত চমৎকার অংশগুলো সংকলিত করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ষোলো বছর। তিনি নিরন্তর লিখে চলতেন, এমনকি তার পরবর্তী সময়ের মানুষেরা বিস্ময় প্রকাশ করত যে, তিনি কীভাবে এতো সময় পেতেন—অথচ তিনি মাত্র উনপঞ্চাশ বছর বেঁচে ছিলেন—এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রচনার জন্য। এর সাথে যুক্ত ছিল গবেষণালব্ধ মতামতের দায়ভার বহন, বিভিন্ন মতের অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান ও তা নিয়ে আলোচনা এবং মূল উৎসসমূহের অনুসন্ধান। এছাড়া ছিল তার পারিবারিক দায়িত্ব—তার স্ত্রী ও সাত সন্তান ছিল। আরও ছিল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মানুষের নিরবচ্ছিন্ন ইমামতি, সাধারণ ও বিশেষ পাঠদান, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, সফর এবং বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎসহ নানাবিধ ব্যস্ততা।
এই ভূমিকার উদ্দেশ্য কাসিমীর প্রায় একশ গ্রন্থের তালিকা প্রদান করা বা সেগুলোর বিষয়বস্তুর সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া নয়। আপনি চাইলে এই অধ্যায়টি যে কিতাব থেকে আমরা সংক্ষেপিত করেছি, তার মূল গবেষণাটি দেখে নিতে পারেন।
১০- দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি:
কাসিমীর সম্পর্কে এটি জানা ছিল যে, তিনি অত্যন্ত মার্জিত ভাষা ও লেখনীর অধিকারী ছিলেন; তিনি তার কোনো প্রতিপক্ষকে কখনো কটু কথা বলেননি, হোক তা তার বিশেষ বা সাধারণ পাঠদানে, কিংবা তার মজলিস ও সেমিনারগুলোতে। বরং তিনি কুরআন ও সুন্নাহ এবং ইমামগণের উক্তি ও নির্ভরযোগ্য (معتمدة) সূত্রসমূহের দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করতেন।
প্রতিপক্ষের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত শান্ত ও ধৈর্যশীল। অনেক সময় এমন হতো যে, কিছু আক্রমণাত্মক লোক তার বাড়িতে আসত; তারা কোনো জ্ঞান অর্জন, স্পষ্টীকরণ বা আলোচনার জন্য আসত না, বরং তাকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে আসত।
তিনি তাদের প্রশস্ত হৃদয় ও গভীর জ্ঞান দিয়ে গ্রহণ করতেন। ফলে সেই আক্রমণকারী ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিরুত্তর হয়ে যেত এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতায় ভরে উঠত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولم تتضمن كتبه، على كثرتها، وبعضها إنما وضع للرد على مخالفيه، لفظًا نابيًا، وإنما اعتصم بالنقاض العلمي الأدبي.
ومن الواضح لمن يطلع على هذه الكتب، أن القاسمي لم يكن يريد من الرد على مخالفيه، إفحام خصومه، أو تصغيره أقدارهم، أو الحط من مكانتهم، وإنما كان يهدف إلى الهدى والرشاد، وسواء السبيل، والدعوة إلى الصراط المستقيم، حتى ينقلب المخطئ مصيبًا، وحتى يعود المنحرف إلى الحق.
"ادفع بالتي هي أحسن" طريقته الوحيدة في الدعوة إلى الحق، فلم تعرف عنه رغبة لجاجة ولا إلحاح مع معاند، ولا استمرار مع مكابر أو مغرض.
11- وفاته:
وافاه أجله مساء السبت 23 جمادى الأولى 1332 - 18 نيسان 1914 ودفن في مقبرة الباب الصغير بدمشق.
الخاتمة:
هذه لمحة عن سيرة هذا الرجل الذي عاش للعلم والحق والخير وترك أعمق الأثر في معاصريه وأقرانه وتلاميذه، وفي العصر الذي عاش فيه، وفي العصور التي أتت من بعده، سواء أكان في النهضة الدينية، أم في النهضة الإسلامية والعربية بوجه عام. لقد كان حلقة في سلسلة الهدى والإصلاح التي لا ينقطع نورها عن العالم الإسلامي خلال القرون، فجددت للناس حقائق الدين، وجلت عنها ما علق بها من الخرافات والأوهام.
ظافر القاسمي
তাঁর অজস্র কিতাব থাকা সত্ত্বেও—যার কিছু অংশ ছিল বিরোধীদের খণ্ডনকল্পে রচিত—তাতে কোনো অশালীন শব্দের ব্যবহার ছিল না; বরং তিনি সর্বদা জ্ঞানতাত্ত্বিক ও শিষ্টাচারপূর্ণ সমালোচনার নীতি অবলম্বন করেছেন।
যারা এই কিতাবগুলো পাঠ করেন তাদের নিকট এটি সুস্পষ্ট যে, আল-কাসেমী তাঁর বিরোধীদের খণ্ডন করার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করা, তাদের মর্যাদাহানি করা কিংবা তাদের অবস্থানকে খাটো করার ইচ্ছা পোষণ করেননি। বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল হিদায়াত, সঠিক পথনির্দেশনা এবং সরল ও সঠিক পথের দিকে আহ্বান জানানো; যাতে ভুলকারী ব্যক্তি সঠিক দিশা পায় এবং সত্যচ্যুত ব্যক্তি পুনরায় সত্যের পথে ফিরে আসে।
"মন্দের মুকাবিলা উত্তম দ্বারা করো"—এটিই ছিল সত্যের দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর একমাত্র পদ্ধতি। কোনো হঠকারী ব্যক্তির সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার জেদ তাঁর ছিল না, এবং কোনো দাম্ভিক বা সংকীর্ণমনা ব্যক্তির সাথে অনর্থক বিতণ্ডা চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাসও তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি।
১১- তাঁর ইন্তেকাল:
২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৩৩২ হিজরি—১৮ এপ্রিল ১৯১৪ ঈসায়ী রোজ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কের 'বাবুস সাগির' গোরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
উপসংহার:
এটি সেই মহান ব্যক্তির জীবনীতে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, যিনি ইলম, সত্য ও কল্যাণের জন্য জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ, সমকক্ষ ও ছাত্রদের মাঝে এবং তাঁর সমকালীন ও পরবর্তী যুগগুলোতে গভীর প্রভাব রেখে গেছেন; চাই তা ধর্মীয় পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে হোক কিংবা সামগ্রিকভাবে ইসলামি ও আরবি রেনেসাঁর ক্ষেত্রে। তিনি ছিলেন হিদায়াত ও সংস্কারের সেই ধারার একটি অবিচ্ছেদ্য কড়ি, যার নূর শতাব্দীকাল ধরে মুসলিম বিশ্বে কখনো স্তিমিত হয়নি। এই ধারা মানুষের সামনে দ্বীনের প্রকৃত সত্যকে পুনর্জীবিত করেছে এবং দ্বীনের সাথে লেপ্টে থাকা কুসংস্কার ও অমূলক ধারণাগুলো দূরীভূত করেছে।
জাফির আল-কাসেমী।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
خطبة الكتاب:بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أنزل أحسن الحديث، وأودع درر بيانه في محكم الحديث، وألهم حملته العدول، وحفظته الفحول، إيضاح مصطلحه وقواعده، ليدنوا اجتناء ثمرات فوائده فإنه لسماء المعارف الشمس البازغة، وللهداية إلى طريق الحق الحجة الدامغة، أحمده حمد من أعمل بالحمد لسانه، وشغل بالشكر أركانه وجنانه، وأشكره شكر معترف بامتنانه، مغترف من بحر بره وإحسانه وأصلي وأسلم على من أوتي جوامع الكلم، وخص ببدائع الحكم، سيدنا محمد أفضل من كحلت به الرسالة أجفانها، ونظمت به النبوة جمانها، وعلى آله الفائزين بتلقي إرساله، واتباع أقواله وأفعاله، وعلى أصحابه الذين دأبوا في المآثر الصالحة، ونصبوا على تعاطي التجارت الرابحة، وعلى السادة الأتباع، الذين اقتفوا مسالك الأتباع، وجانبوا محدثات الابتداع، وعلى من تبعهم بإحسان، وتأسى بهم في حفظ الهدي النبوي المصون، ما أرسل راو الإسناد وعنعنه، وصحح متنه وحسنه.
أما بعد. فإن من سعادة الأمة أن يكون لديها من العلماء طائفة مهتمة، يختص عملها بتنوير عقولهم بالمعارف الحقة، وتحليتها بالعلوم الصافية بكمال الدقة، لا ينون في تبيين طرق السعادة ومواردها. ولا يألون جهدًا في السلوك بهم في جوادها، وذلك أن بداهة العقل حاكمة بأن جل المعارف البشرية، والعقائد الدينية، والأحكام الشرعية، مكتسبة أي من العلوم النظرية، فإن لم يكن في الناس معلم حكيم، قصرت العقول عن درك ما ينبغي لها دركه من التقويم، وانقطعت دون الكفاية مما يلزم لسد ضرورات الحياة الأولى، والاستعداد لما يكون في الأخرى، وساوى الإنسان في معيشته سائر الحيوانات، وحرم سعادة الدارين وفارق هذه الدنيا على أتعس الحالات. وإن من أعظم ما يسعى إليه الساعون، ويتنافس في الدعوة إليه المتنافسون، علوم الحديث الكاشفة النقاب، عن جمال وجوه مجملات الكتاب، والمدار لتفصيل الأحكام، وتبيين أقسام الحلال والحرام: إذ مستندها ما صح من الأخبار، وثبت حسنه من الآثار، ولا طريق لتعريف ذلك، إلا
কিতাবের ভূমিকা:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সর্বোত্তম হাদিস অবতীর্ণ করেছেন এবং এর অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর মুক্তাসমূহ সুদৃঢ় হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এর ন্যায়পরায়ণ (عدول) বাহক এবং পারদর্শী হাফেজদের এর পরিভাষা (مصطلح) ও নীতিমালা (قواعد) সুস্পষ্ট করার প্রেরণা দিয়েছেন, যাতে এর উপকারের ফলগুলো আহরণ করা সহজ হয়। কারণ এটি জ্ঞানের আকাশের প্রদীপ্ত সূর্য এবং সত্যের পথে হেদায়াতের অকাট্য দলিল। আমি তাঁর প্রশংসা করি এমন ব্যক্তির প্রশংসার ন্যায়, যে প্রশংসার মাধ্যমে নিজের জিহ্বাকে সচল রেখেছে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তরকে কৃতজ্ঞতায় নিয়োজিত রেখেছে। আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁর অনুগ্রহের স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাঁর দয়া ও ইহসানের সমুদ্র থেকে অঞ্জলি গ্রহণ করে। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করি তাঁর ওপর, যাঁকে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত ও অর্থপূর্ণ কথা) প্রদান করা হয়েছে এবং অনন্য হিকমত দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করা হয়েছে; আমাদের নেতা মুহাম্মদ, যাঁর মাধ্যমে রিসালাত তার পূর্ণতা লাভ করেছে এবং নবুওয়াত তার শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারের ওপর, যারা তাঁর বার্তা গ্রহণে এবং তাঁর কথা ও কাজের অনুসরণে সফল হয়েছেন; এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর, যারা নেক আমলে সচেষ্ট ছিলেন এবং লাভজনক ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। আরও বর্ষিত হোক সেই সকল অনুসরণকারী সুধীবৃন্দের ওপর, যারা পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করেছেন এবং নবউদ্ভাবিত বিদআত পরিহার করেছেন; এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং সংরক্ষিত নববী হেদায়াত রক্ষায় তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করেছেন; যতক্ষণ কোনো বর্ণনাকারী সনদ (إسناد) মুরসাল (مرسل) করবেন এবং আন’আনাহ (عنعنه) করবেন, এবং এর মতন (متن) সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) সাব্যস্ত করবেন।
অতপর, উম্মতের সৌভাগ্য এই যে, তাদের মধ্যে এমন একদল যত্নবান আলেম থাকবেন, যাঁদের কাজ হবে সত্য জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিত করা এবং পূর্ণ সূক্ষ্মতার সাথে স্বচ্ছ ইলম দ্বারা তাকে সুশোভিত করা। তাঁরা সৌভাগ্যের পথ ও উৎসসমূহ বর্ণনায় কোনো শিথিলতা করেন না এবং সেই পথে তাঁদের পরিচালিত করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেন না। আর এটি এজন্য যে, সহজাত বুদ্ধি এ ফয়সালাই দেয় যে, অধিকাংশ মানবীয় জ্ঞান, ধর্মীয় আকাইদ এবং শরয়ি আহকাম হলো অর্জিত জ্ঞান, যা তাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ। সুতরাং মানুষের মাঝে যদি কোনো প্রজ্ঞাবান শিক্ষক না থাকেন, তবে বুদ্ধি তার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সঠিক দিকনির্দেশনা অনুধাবনে অক্ষম হয়ে পড়বে। ফলে দুনিয়ার জীবনের প্রয়োজন মেটাতে এবং আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য যা আবশ্যক, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তখন মানুষ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অন্যান্য পশুর সমান হয়ে যাবে এবং উভয় জগতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দুনিয়া ত্যাগ করবে। আর প্রচেষ্টাকারীরা যা অর্জনে সচেষ্ট হয় এবং আহ্বানকারীরা যা প্রচারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো হাদিস শাস্ত্র, যা কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়াবলির সৌন্দর্যের ওপর থেকে পর্দা উন্মোচন করে এবং যা আহকামের বিস্তারিত বিবরণ ও হালাল-হারামের প্রকারভেদ স্পষ্ট করার মূল ভিত্তি। কারণ এর ভিত্তি হলো সেই সকল সংবাদ যা সহিহ (صحيح) এবং সেই সকল আসার (آثار) যা হাসান (حسن) হিসেবে প্রমাণিত। আর এটি চেনার কোনো পথ নেই, কেবল...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بما اصطلع عليه من أصول تلك المسالك. ولما كان الشيء يشرف بشرف موضوعه أو بمسيس الحاجة إليه، كان فن المصطلح مما جمع الأمرين، وفاز بالشرفين؛ لأنه يبصر من سواء السبيل الجواد، ويرقى الهمم لتعرف سنن الرشاد، وإني منذ تنشقت من علم الحديث أرج أردانه، حتى عمت من بحره في زاخره، وجريت طلقًا في ميدانه، لم أزل أسرح طرق الطرف في رياضه، وأورد ذود الفكر في حياضه، أستشيم بارقه إذا سرى، وأجرى مع هواه حيث جرى، وأنظم فرائده، وأقيد أوابده، وأدل على مقاصده، وأعوج إلى معاهده، حتى أشحذت كليل العزم، وأيقظت نائم الهم، وأجبت داعي الفكر لمقترحه، من جمع ما كنت وعيت من مصطلحه؛ إذ هو قطب تدور عليه أفلاك الأخبار، وعباب تنصب منه جداول معاني الآثار، قد سجم وابل فضله في الأصول فأزهرها، وتبسم وجه إقباله في الفروع فنورها، فاستخرت الله فيما قصدت، وتوكلت عليه فيما أردت، وشرعت في جمع لبابه، والمهمات من أبوابه، وإبراز دفائنه وكنوزه، وحل غوامضه ورموزه، ومن الكتب المعول عليها، والأصول المرجوع إليها، حتى غدا جامعًا لمجمع المصطلحات، وحاصرًا لامهاتها المعتبرات، مع تنبيهات نافعة وتنويرات ساطعة، توضح معالم أسرار الآثار، وتصيرها كالشمس في رائعة النهار، وضممت إليه فرائد تبهج الألباب، عثرت على خباياها في غير ما كتاب، مما لم يذكر في أسفار المصطلح، ولا يعلم مظانها إلا من لزند التنقيب اقتدح، فقيدت شواردها، وقصرت أوابدها على أسلوب جديد، يسهل الوقوف على أسرار هذا الفن الباهرة، ويرقى إلى الرسوخ في مقاصد السنة الطاهرة، والحذق في رد الخلاف إلى الحق المأثور، الذي تطمئن به القلوب وتنشرح الصدور. مما يتنافس فيه الكاملون، ويتباهي بتحصيل معرفته الراغبون، وقد سميته: "قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث" ورتبته على مقدمة وعشرة أبواب، مذيلة بخاتمة في فوائد متنوعة يضطر إليها الأثرى، ثم بتتمة في مقصدين بديعين. وعلى الله التكلان، في كل وقت وأوان، والحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
সেই সকল পথের মূলনীতিসমূহের (أصول) ওপর ভিত্তি করে যা পরিভাষায় রূপ লাভ করেছে। যেহেতু কোনো বিষয়ের মর্যাদা তার আলোচ্য বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্ব অথবা তার প্রতি গভীর প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে, তাই পরিভাষা বিদ্যা (المصطلح) এমন একটি শিল্প যা এই উভয় বিষয়কে একত্রিত করেছে এবং উভয় প্রকার মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে। কারণ এটি সরল পথের দিশা প্রদান করে এবং হেদায়েতের রীতিনীতি (سنن) জানার জন্য উদ্যমকে জাগ্রত করে। আমি যখন থেকে হাদিস শাস্ত্রের সুগন্ধি আস্বাদন করেছি এবং এর উত্তাল সমুদ্রে অবগাহন করেছি ও এর ময়দানে বিচরণ করেছি, তখন থেকেই আমি এর বাগানে দৃষ্টি চালনা করছি এবং এর জ্ঞানভাণ্ডার থেকে চিন্তার খোরাক গ্রহণ করছি। আমি এর চমকপ্রদ দিকগুলো অবলোকন করি, এর আদর্শের অনুগামী হই, এর অনন্য মুক্তাগুলোকে সুসংবদ্ধ করি, এর জটিল বিষয়গুলোকে লিপিবদ্ধ করি, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে পথপ্রদর্শন করি এবং এর চর্চাকেন্দ্রগুলোর প্রতি অনুরাগী হই। অবশেষে আমি আমার দুর্বল সংকল্পকে শাণিত করেছি, সুপ্ত উদ্যমকে জাগ্রত করেছি এবং চিন্তাশক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেই সকল পরিভাষা (مصطلح) সংকলনের ইচ্ছা পোষণ করেছি যা আমি হৃদয়ঙ্গম করেছি। কেননা এটি এমন একটি কেন্দ্র যাকে কেন্দ্র করে সংবাদসমূহের (أخبار) কক্ষপথ আবর্তিত হয় এবং এটি এমন এক সমুদ্র যা থেকে রেওয়ায়েতসমূহের (آثار) অর্থধারা প্রবাহিত হয়। এর ফযিলতের বারিধারা মূলনীতিসমূহের (الأصول) ওপর বর্ষিত হয়ে সেগুলোকে প্রস্ফুটিত করেছে এবং এর কল্যাণের ছোঁয়া শাখা-প্রশাখাগুলোর (الفروع) ওপর পড়ে সেগুলোকে আলোকিত করেছে। তাই আমি আমার সংকল্পের বিষয়ে আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করে এর সারনির্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সংকলন করতে শুরু করেছি। আমি এর গোপন রহস্য ও ভাণ্ডারসমূহ প্রকাশ করতে এবং এর জটিল ও রূপক বিষয়গুলো উন্মোচন করতে চেয়েছি। আমি নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ এবং সেই সকল মূলনীতি (الأصول) থেকে সাহায্য নিয়েছি যা সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য। অবশেষে এটি পরিভাষাসমূহের (المصطلحات) একটি সংকলনে পরিণত হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য মৌলিক বিষয়গুলোকে বেষ্টনকারী হয়েছে। সাথে রয়েছে বহু উপকারী সতর্কতা ও উজ্জ্বল ব্যাখ্যা, যা রেওয়ায়েতসমূহের (آثار) গোপন রহস্যগুলোকে উন্মোচিত করে এবং সেগুলোকে মধ্যাহ্নের প্রখর সূর্যের ন্যায় সুস্পষ্ট করে তোলে। আমি এতে এমন কিছু দুর্লভ মুক্তা সংযোজন করেছি যা অন্তরকে প্রফুল্ল করে, যার সন্ধান আমি বিভিন্ন কিতাবে পেয়েছি যা সাধারণ পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ক কিতাবগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি। গভীর অনুসন্ধানকারী ব্যতীত কেউ এগুলোর সন্ধান পায় না। আমি এই বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে একটি নতুন শৈলীতে সুসংবদ্ধ করেছি, যা এই শিল্পের বিস্ময়কর রহস্যগুলো জানা সহজ করে দেবে এবং পবিত্র সুন্নাহর উদ্দেশ্যসমূহ গভীরভাবে অনুধাবনে সহায়তা করবে। এছাড়া এটি মতভেদকে সেই বর্ণিত সত্যের (الحق المأثور) দিকে ফিরিয়ে নিতে পারদর্শিতা দান করবে, যার মাধ্যমে অন্তর প্রশান্ত ও বক্ষ প্রশস্ত হয়। পূর্ণতা অর্জনকারীরা এটি লাভের জন্য প্রতিযোগিতা করেন এবং জ্ঞানপিপাসুরা এর জ্ঞান অর্জনে গর্ববোধ করেন। আমি এর নামকরণ করেছি: "কাওয়াইদুত তাহদিস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস"। আমি এটিকে একটি ভূমিকা ও দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, যার শেষে বিবিধ ফায়দা সম্বলিত একটি উপসংহার রয়েছে যা হাদিসবেত্তার (الأثرى) জন্য অপরিহার্য। অতঃপর দুটি চমৎকার পরিশিষ্ট দ্বারা এটি সমাপ্ত করেছি। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপরই ভরসা। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথ প্রদর্শন করেছেন; আল্লাহ আমাদের পথ প্রদর্শন না করলে আমরা হেদায়েত পেতাম না।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مقدمة: في مطالع مهمة
المطلع الأول:
قال الزركشي في قواعده: "إن تصنيف العلم فرض كفاية على من منحه الله فهمًا واطلاعًا فلو ترك التصنيف لضيع العلم على الناس وقد قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ} 1 الآية، ولن تزال هذه الأمة في ازدياد وترق في المواهب والعلم". ا. هـ.
وقال نابغة البلغاء ابن المقفع في مقدمة الدرة اليتيمة2: "وجدنا الناس قبلنا لم يرضوا بما فازوا به من الفضل لأنفسهم حتى أشركونا معهم فيما أدركوا من علم الأولى والآخرة، فكتبوا به الكتب الباقية، وكفونا مئونة التجارب والفطن، وبلغ من اهتمامهم بذلك أن الرجل منهم كان يفتح له الباب من العلم والكلمة من الصواب وهو بالبلد غيرالمأهول فيكتبه على الصخور مبادرة منه للأجل، وكراهية لأن يسقط ذلك على من بعده3، فكان صنيعهم في ذلك صنيع الوالد الشفيق على ولده الرحيم بهم الذي يجمع لهم الأموال، والعقد4 إرادة أن لا تكون عليهم مئونة في الطلب وخشية عجزهم إن هم طلبوا فمنتهى علم عالمنا في هذا الزمان أن يأخذ من علمهم، وغاية إحسان محسننا أن يقتدي بسيرتهم، وأحسن ما يصيب من الحديث محدثنا أن ينظر في كتبهم فيكون كأنه إياهم يحاور، ومنهم يستمع غير أن الذي نجد في كتبهم هو المنتخل في آرائهم، والمنتقي من أحاديثم ولم تجدهم غادروا شيئًا يجد واصف بليغ في صفة له مقالًا لم يسبقوه إليه لا في تعظيم لله عز وجل وترغيب فيما عنده ولا في تصغير للدنيا وتزهيد فيها ولا في تحرير صنوف العلم، وتقسيم أقسامه وتجزئة أجزائها وتوضيح سبلها،
--------------------------------------------
ভূমিকা: গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক আলোচনা
প্রথম আলোচনা:
আয-যারকাশি তার কাওয়াইদ গ্রন্থে বলেছেন: "ইলম সংকলন (تصنيف) করা ঐ ব্যক্তির ওপর সমষ্টিগত দায়িত্ব (فرض كفاية) যাকে আল্লাহ তায়ালা প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন। যদি গ্রন্থ সংকলন বর্জন করা হতো তবে মানুষের নিকট ইলম নষ্ট হয়ে যেত। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন} ১ (আয়াত-৮১)। এই উম্মত সর্বদা প্রতিভা ও ইলমের ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ও উন্নতির স্তরে থাকবে।" সমাপ্ত।
অলঙ্কার শাস্ত্রের অনন্য প্রতিভা ইবনুল মুকাফফা আদ-দুররাতুল ইয়াতীমাহ এর ভূমিকায় বলেছেন: "আমরা আমাদের পূর্ববর্তী লোকদের দেখেছি যে, তারা নিজেদের অর্জিত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি যতক্ষণ না তারা প্রথম ও শেষ যুগের যা কিছু ইলম অর্জন করেছেন তাতে আমাদের অংশীদার করেছেন। ফলে তারা অবিনশ্বর কিতাবসমূহ লিখে গেছেন এবং আমাদের অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিশ্রমের কষ্ট লাঘব করেছেন। এ ব্যাপারে তাদের গুরুত্ব এতটাই ছিল যে, কোনো ব্যক্তি যদি জনশূন্য কোনো স্থানেও ইলমের কোনো দুয়ার বা সঠিক কোনো বাণীর সন্ধান পেতেন, তবে তিনি মৃত্যুর আশঙ্কায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছাতে না পারার ভয়ে পাথরের গায়ে তা লিখে রাখতেন। এক্ষেত্রে তাদের আচরণ ছিল সন্তানদের প্রতি মমতাশীল ও দয়ালু পিতার মতো, যিনি তাদের জন্য সম্পদ ও জীবনোপকরণ সংগ্রহ করেন; যাতে তাদের অন্বেষণের কষ্ট করতে না হয় এবং তারা যদি তা অর্জনে অক্ষম হয় তবে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সুতরাং আমাদের এই সময়ের একজন আলেমের ইলমের শেষ সীমা হলো তাদের ইলম থেকে গ্রহণ করা, এবং আমাদের সৎকর্মশীল ব্যক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাদের জীবনপদ্ধতির অনুসরণ করা। আর আমাদের হাদিস বিশারদগণের (محدث) হাদিস থেকে প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাদের কিতাবসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, যেন তিনি তাদের সাথেই কথোপকথন করছেন এবং তাদের থেকে সরাসরি শ্রবণ করছেন। তবে তাদের কিতাবসমূহে আমরা যা পাই তা হলো তাদের বাছাইকৃত (المنتخل) সুচিন্তিত মতামত এবং তাদের নির্বাচিত (المنتقي) হাদিসসমূহ। আপনি তাদেরকে এমন কোনো বিষয়ই অবশিষ্ট রেখে যেতে দেখবেন না যে বিষয়ে কোনো বাগ্মী ব্যক্তি বর্ণনা করতে গিয়ে তাদের অগ্রগামিতা পাবেন না; তা মহান আল্লাহর মহিমা বর্ণনা ও তাঁর পুরস্কারের প্রতি উৎসাহ প্রদানই হোক, কিংবা দুনিয়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করা ও এর প্রতি অনাসক্তি প্রকাশই হোক, অথবা ইলমের বিভিন্ন শাখা বিন্যাস (تحرير), এর শ্রেণিবিন্যাস, উপবিভাগ ও তার পথসমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রেই হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তাহদিসি মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وتبيين مآخذهم، ولا في وجوه الأدب، وضروب الأخلاق. فلم يبق في جليل من الأمر لقائل بعدهم مقال، وقد بقيت أشياء من عمل الأمور فيها مواضع لصغار الفطن، مشتقة من جسام حكم الأولين وقولهم ومن ذلك بعض ما أنا كاتب في كتابي من أبواب الأدب التي يحتاج إليها الناس" انتهى كلامه.
وفي قوله: "وقد بقيت
… " فتح لباب التصنيف على نحو هذا المعنى وقد قالوا: ينبغي أن لا يخلو تصنيف من أحد المعاني الثمانية التي تصنف لها العلماء وهي: اختراع معدوم، أو جمع مفترق، أو تكميل ناقص، أو تفصيل مجمل، أو تهذيب مطول، أو ترتيب مخلط، أو تعيين مبهم، أو تبيين خطأ كذا عدها أبو حيان يمكن الزيادة فيها.
قال ملا كاتب جلبي رحمه الله: "ومن الناس من ينكر التصنيف في هذا الزمان مطلقًا، ولا وجه لإنكاره من أهله وإنما يحمله عليه التنافس والحسد الجاري بين أهل الأعصار والله در القائل:
قل لمن لا يرى المعاصر شيئًا
… ويرى للأوائل التقديما
إن ذاك القديم كان حديثًا
… وسيبقى هذا الحديث قديما
واعلم: أن نتائج الأفكار لا تقف عند حد، وتصرفات الأنظار لا تنتهي إلى غاية، بل لكل عالم ومتعلم منها حظ يحرزه في وقته المقدر له، وليس لأحد أن يزاحمه فيه لأن العالم المعنوي واسع كالبحر الزاخر، والفيض الإلهي، ليس له انقطاع ولا آخر، والعلوم منح إلهية ومواهب صمدانية، فغير مستبعد أن يدخر لبعض المتأخرين، ما لم يدخر لكثير من المتقدمين، فلا تغتر بقول القائل: "ما ترك الأول للآخر! " بل القول الصحيح الظاهر: "كم ترك الأول للآخر! " فإنما يستجاد الشيء ويسترذل لجودته، ورداءته في ذاته لا تقدمه، وحدوثه. ويقال "ليس كلمة أضر بالعلم من قولهم: ما ترك الأول شيئًا" لأنه يقطع الآمال عن العلم، ويحمل على التعلم، فيقتصر الآخر على ما قدم الأول من الظاهر، وهو خطر عظيم، وقول سقيم فالأوائل وإن فازوا باستخراج الأصول وتمهيدها، فالأواخر فازوا بتفريع الأصول وتشييدها كما قال عليه الصلاة والسلام:
...এবং তাদের সূত্রের ব্যাখ্যা, শিষ্টাচারের বিবিধ দিক এবং নৈতিকতার প্রকারভেদ। ফলে কোনো মহান বিষয়ে পরবর্তীতে কারো কোনো কথা বলার মতো অবকাশ অবশিষ্ট নেই। তবে কর্মপদ্ধতির এমন কিছু বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে যা সূক্ষ্ম মেধার অধিকারীদের জন্য আলোচনার ক্ষেত্র হতে পারে, যা পূর্ববর্তীদের বিশাল প্রজ্ঞা ও উক্তি থেকে উৎসারিত। মানুষের প্রয়োজনীয় শিষ্টাচারের অধ্যায়সমূহ নিয়ে আমার কিতাবে যা লিখেছি, তা মূলত এরই অংশ।" - তাঁর কথা সমাপ্ত হলো।
তাঁর উক্তি: "এবং অবশিষ্ট রয়েছে
… " এর মাধ্যমে এই প্রকারের গ্রন্থ রচনার (تصنيف) দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। উলামায়ে কেরাম বলেছেন: কোনো গ্রন্থ রচনা (تصنيف) আটটি উদ্দেশ্যের কোনো একটি থেকে মুক্ত হওয়া উচিত নয় যার জন্য আলেমগণ গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলো হলো: অস্তিত্বহীন কোনো কিছুর উদ্ভাবন, অথবা বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রিত করা, অথবা অসম্পূর্ণ বিষয়কে পূর্ণ করা, অথবা সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা (تفصيل), অথবা দীর্ঘ আলোচনার পরিমার্জন, অথবা অগোছালো বিষয়ের বিন্যাস, অথবা অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়ের সুনির্দিষ্টকরণ, অথবা ভুলভ্রান্তি স্পষ্ট করা; আবু হাইয়ান এভাবেই এগুলো গণনা করেছেন, তবে এতে সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
মোল্লা কাতিব চালাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এই যুগে গ্রন্থ রচনাকে (تصنيف) নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করে। যোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ ধরনের আপত্তির কোনো যৌক্তিকতা নেই। সমসাময়িকদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক রেষারেষি ও হিংসাই কেবল তাকে এর ওপর উদ্বুদ্ধ করে। কবির উক্তি কতই না চমৎকার:
বলুন তাকে, যে সমসাময়িকদের কৃতিত্বকে কিছুই মনে করে না
… আর কেবল পূর্ববর্তীদেরই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়
নিশ্চয়ই সেই পুরাতন একদা নতুন ছিল
… আর এই নতুনও অচিরেই পুরাতন হয়ে যাবে
জেনে রাখুন: চিন্তার ফলাফল কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ থাকে না এবং অন্তর্দৃষ্টির বিচরণ কোনো গন্তব্যে গিয়ে শেষ হয় না। বরং প্রত্যেক আলেম ও শিক্ষার্থীর জন্য এতে নিজ নিজ নির্ধারিত অংশে অর্জন করার মতো কল্যাণ রয়েছে, যাতে অন্য কারো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। কারণ আধ্যাত্মিক জগত উত্তাল সমুদ্রের ন্যায় প্রশস্ত এবং ঐশ্বরিক করুণাধারা অবিচ্ছিন্ন ও অনন্ত। জ্ঞানসমূহ হলো ঐশ্বরিক দান ও রব্বানি উপহার। সুতরাং পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) কারো জন্য এমন কিছু জমা রাখা অসম্ভব নয়, যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের (متقدمين) অনেকের জন্য রাখা হয়নি। তাই এই প্রবাদ দ্বারা প্রতারিত হবেন না যে: 'পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কিছুই বাকি রেখে যাননি!' বরং সঠিক ও স্পষ্ট কথা হলো: 'পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!' কোনো বস্তুকে তার নিজস্ব সত্তাগত উৎকর্ষ বা নিকৃষ্টতার ভিত্তিতেই উত্তম বা অধম সাব্যস্ত করা হয়, তার প্রাচীনতা বা নতুনত্বের কারণে নয়। বলা হয়ে থাকে: 'পূর্ববর্তীরা কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি' - এই উক্তির চেয়ে জ্ঞানের জন্য ক্ষতিকারক আর কোনো কথা নেই। কারণ এটি জ্ঞান অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেয় এবং মানুষকে নিছক শেখার ওপর সীমাবদ্ধ করে ফেলে; ফলে পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের উপস্থাপিত বাহ্যিক বিষয়ের ওপরই তুষ্ট থাকে, যা এক মহা বিপদ ও ভ্রান্ত উক্তি। পূর্ববর্তীরা যদিও মূলনীতিসমূহ (أصول) উদ্ভাবন ও তার ভিত্তি স্থাপনের গৌরব অর্জন করেছেন, তবে পরবর্তীগণ সেই মূলনীতিসমূহের (أصول) শাখা-প্রশাখা বিস্তার ও তা সুদৃঢ়করণের সফলতা লাভ করেছেন। যেমন নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: