(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تناسق الدرر في تناسب السور = أسرار ترتيب القرآن   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: أسرار ترتيب القرآن: [«تَناسُق الدرر في تَناسُب السوَر» كما سَمّاه مؤلفُه]

المؤلف: جلال الدين السيوطي (849 - 911 هـ)

دراسة وتحقيق: عبد القادر أحمد عطا [ت 1403 هـ]- مرزوق علي إبراهيم

الناشر: دار الفضيلة للنشر والتوزيع بالقاهرة، [2002 م - 1422 هـ]

عدد الصفحات: 192

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তানাসিকুদ দুরার ফি তানাসুবিল সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর


কিতাব: আসরারু তারতিবিল কুরআন: [«তানাসিকুদ দুরার ফি তানাসুবিল সুওয়ার» যা এর লেখক নামকরণ করেছেন]

লেখক: জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (৮৪৯ - ৯১১ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: আব্দুল কাদির আহমদ আতা [মৃত্যু ১৪০৩ হিজরি]- মারজুক আলী ইব্রাহিম

প্রকাশক: দারুল ফাদিলা পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, কায়রো, [২০০২ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪২২ হিজরি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمات:

‌‌تقديم:

الحمد لله الذي أنزل الكتاب متناسبًا سوره وآياته، متشابهًا فواصله وغاياته، وأشهد أن لا إله إلا الله الذي تمت كلماته، وعمت مكرماته، وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده الذي خُتمت به نُبوَّاته، وكملت برسالته رسالاته، توالت عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه وذريته وأحبابه صلواته، وتواتر تسليمه وبركاته ما دامت حياته وبقيت ذاته وصفاته.. وبعد:

فهذا كتاب لطيف، تناول فيه مؤلفه من علوم القرآن، ألا وهو ترتيب السور وتناسقها ومناسباتها، وإيضاح ما في ذلك من إعجاز وبيان ومقاصد، وسوف يتجلى لنا من خلال عرض هذا الكتاب الدقائق التي فتح الله بها على مصنِّفه، وتلكم اللمحات الزكية التى أكثرها من نتاج فكره، وولاد نظره، وغير ذلك من فوائد، يجنيها القارئ.

وقد قلَّ اعتناء المفسرين بهذا النوع لدقته، وممن أكثر منه الإمام فخر الدين الرازي1 في تفسيره: أكثر لطائف القرآن مودعة في الترتيبات والروابط.

وقال بعض الأئمة: من محاسن الكلام أن يرتبط بعضه ببعض؛ لئلا يكون منقطعًا.

وهذا النوع يهمله بعض المفسرين -أو كثير منهم- وفوائده غزيرة، قال

--------------------------------------------

1 ترجمته في مقدمة المصنف، وقد أكثر السيوطي النقل عنه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

‌‌উপস্থাপনা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার সূরা ও আয়াতসমূহ সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, যার বিরতি ও লক্ষ্যসমূহ পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যাঁর বাণীসমূহ পূর্ণতা পেয়েছে এবং যাঁর অনুগ্রহসমূহ পরিব্যাপ্ত হয়েছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা, যাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং যাঁর রিসালাতের মাধ্যমে সকল ঐশী বার্তা পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পবিত্র স্ত্রীগণ, বংশধর ও প্রিয়জনদের ওপর বর্ষিত হোক তাঁর রহমত এবং মুতাওয়াতির বা বিরামহীন (تواتر) সালাম ও বরকত, যতক্ষণ তাঁর জীবনকাল বিদ্যমান এবং তাঁর সত্তা ও গুণাবলি অবশিষ্ট থাকে। অতঃপর:

এটি একটি চমৎকার গ্রন্থ, যেখানে এর লেখক উলুমুল কুরআনের একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর তা হলো—সূরাসমূহের বিন্যাস, সেগুলোর সামঞ্জস্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক, এবং এর মধ্যে নিহিত অলৌকিকতা, বর্ণনাশৈলী ও উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাখ্যা। এই গ্রন্থটি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের সামনে সেই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উন্মোচিত হবে যা আল্লাহ তাআলা এর লেখকের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। এছাড়া এখানে লেখকের নিজস্ব চিন্তা ও গবেষণালব্ধ এমন অনেক পবিত্র অন্তর্দৃষ্টি এবং অন্যান্য বিবিধ উপকারিতা রয়েছে যা পাঠক এখান থেকে আহরণ করতে পারবেন।

এই বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ার কারণে মুফাসসিরগণের মধ্যে এর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার হার তুলনামূলক কম। তবে ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজি১ তাঁর তাফসিরে এ বিষয়ে অধিক আলোচনা করেছেন; তিনি বলেন: কুরআনের অধিকাংশ সূক্ষ্ম রহস্য (لطائف) এর বিন্যাস ও যোগসূত্রগুলোর মধ্যেই গচ্ছিত রয়েছে।

কোনো কোনো ইমাম বলেন: উত্তম বাচনভঙ্গির অন্যতম সৌন্দর্য হলো এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে সুসংবদ্ধ থাকা, যাতে করে তা বিচ্ছিন্ন (منقطع) না হয়ে যায়।

কিছু মুফাসসির—কিংবা তাদের অনেকেই—এই বিষয়টি উপেক্ষা করেন, অথচ এর উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি বলেন

--------------------------------------------

১ গ্রন্থকারের ভূমিকায় তাঁর জীবনী আলোচনা করা হয়েছে, এবং সুয়ূতী তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
القاضي أبو بكر بن العربي1: ارتباط آي القرآن بعضها ببعض حتى تكون كالكلمة الواحدة، متسقة المعاني، منتظمة المباني -علم عظيم، لم يتعرض له إلا عالم واحد عمل فيه سورة البقرة، ثم فتح الله عز وجل لنا فيه، فلما لم نجد له حَمَلة، ورأينا الخلف بأوصاف البطلة ختمنا عليه، وجعلناه بيننا وبين الله ورددناه إليه2.

ثم إنك لا ترى علمًا هو أرسخ أصلًا، وأبسق فرعًا، وأحلى جنًى، وأعذب وِرْدًا، وأكرم نِتَاجًا، وأنور سراجًا، من علم البيان، الذى لولاه لم ترَ لسانًا يحوك3 الوَشْيَ، ويصوغ الحَلْيَ، ويلفظ الدر، وينفث السحر، ويقري4 الشهد، ويريك بدائع من الزهر، ويجنيك الحلو اليانع من الثمر، والذى لولا تَحَفِّيه5 بالعلوم، وعنايته بها، وتصويره إياها، لبقيت كامنة مستورة، ولما استبنت لها يد الدهر6 صورة، ولاستمر السرار7 بأهلَّتها، واستولى الخفاء على جملتها، إلى فوائد لا يدركها الإحصاء، ومحاسن لا يحصرها الاستقصاء8.

وقال الشيخ عز الدين بن عبد السلام9: المناسبة علم حسن؛ ولكن يشترط في حسن ارتباط الكلام أن يقع في أمر متحد مرتبط أوله بآخره، فإن وقع على أسباب مختلفة لم يشترط فيه ارتباط أحدهما بالآخر10.

--------------------------------------------

1 ترجمته في مقدمة المصنف أيضًا.

2 البرهان في علوم القرآن "1/ 35، 36".

3 أي: ينسج.

4 يقري: يجمع.

5 تحفَّى بفلان: احتفل.

6 يقولون: لا أفعله يد الدهر أي: لا أفعله أبدًا.

7 السِّرار بالكسر: اختفاء القمر في آخر ليلة في الشهر.

8 دلائل الإعجاز، لعبد القاهر الجرجاني 5، 6.

9 هو الإمام عبد العزيز بن عبد السلام المشهور بالعز، والملقب بسلطان العلماء، توفي سنة 660هـ، ترجمته في طبقات الشافعية "5/ 80".

10 البرهان في علوم القرآن "1/ 37".
আল-কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী ১: কুরআনের আয়াতসমূহের একটির সাথে অপরটির পারস্পরিক সম্পর্ক—যাতে তা একটি শব্দের মতো মনে হয়, যার অর্থগুলো সুসংগত এবং গঠনশৈলী সুবিন্যস্ত—এটি এক মহান জ্ঞান। কেবল একজন আলেমই এই বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন এবং সূরা আল-বাকারার ওপর কাজ করেছিলেন। এরপর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা আমাদের জন্য এর পথ উন্মুক্ত করেন। কিন্তু যখন আমরা এর কোনো উপযুক্ত বাহক পেলাম না এবং পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে অলস ও অযোগ্য ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রত্যক্ষ করলাম, তখন আমরা এই জ্ঞানকে আমাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ করে ফেললাম এবং একে আমাদের ও আল্লাহর মাঝে রেখে তাঁরই নিকট সোপর্দ করলাম ২।

অতঃপর আপনি ইলমুল বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) অপেক্ষা অধিক সুদৃঢ় মূলবিশিষ্ট, সুউচ্চ শাখা সমৃদ্ধ, অধিক মিষ্ট ফলদায়ী, অধিক নির্মল উৎসজাত, অধিক সম্মানিত ফলাফল প্রদানকারী এবং অধিক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা স্বরূপ অন্য কোনো জ্ঞান দেখবেন না। এই জ্ঞান না থাকলে আপনি এমন কোনো বাগ্মিতা দেখতেন না যা কারুকার্যখচিত ৩ রেশম বুনন করে, অলঙ্কার তৈরি করে, মুক্তা উগড়ে দেয়, যাদু বর্ষণ করে, মধু সংগ্রহ ৪ করে, আপনাকে পুষ্পের চমৎকারিত্ব দেখায় এবং বৃক্ষ হতে পরিপক্ক মিষ্ট ফল আহরণ করে। আর যদি এই বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগ ৫, এর প্রতি বিশেষ যত্ন এবং এর রূপায়ণ না থাকত, তবে জ্ঞানসমূহ সুপ্ত ও গোপন থেকে যেত। মহাকালের পরিক্রমায় ৬ এর কোনো অবয়ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেত না। আর নবচন্দ্রের বিলুপ্তি ৭ এর ন্যায় এটি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও রহস্যাবৃত থেকে যেত। এর এমন সব উপকারিতা রয়েছে যা গণনা করা সম্ভব নয় এবং এমন সব সৌন্দর্য রয়েছে যা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা অসম্ভব ৮।

এবং শায়খ ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম ৯ বলেছেন: মুনাসাবাহ (প্রাসঙ্গিকতা) একটি উত্তম (حسن) জ্ঞান; তবে বক্তব্যের সুসংগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে শর্ত হলো—তা যেন এমন একটি একক বিষয়ের ওপর হয় যার শুরুর সাথে শেষ অংশ সম্পৃক্ত। যদি তা ভিন্ন ভিন্ন কারণে সংঘটিত হয়, তবে একটির সাথে অপরটির সম্পৃক্ত থাকা শর্ত নয় ১০।

--------------------------------------------

১ তাঁর জীবনী গ্রন্থকারের মুকাদ্দিমাতেও (উপক্রমণিকা) রয়েছে।

২ আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন (১/৩৫, ৩৬)।

৩ অর্থাৎ: বুনন করা।

৪ يقري: অর্থাৎ একত্র করা বা সংগ্রহ করা।

৫ تحفَّى: কারো প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা বা যত্ন নেওয়া।

৬ তারা বলে থাকে: 'লা আফআলুহু ইয়াদাদ দাহর' অর্থাৎ আমি এটি কখনোই করব না।

৭ السِّرار: আরবি মাসের শেষ রাতে চাঁদের অদৃশ্য হওয়া।

৮ দালায়েলুল ইজায, আব্দুল কাহের আল-জুরজানী ৫, ৬।

৯ তিনি হলেন ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম, যিনি 'ইজ্জ' নামে সুপরিচিত এবং 'সুলতানুল উলামা' উপাধিতে ভূষিত। তিনি ৬৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (৫/৮০) গ্রন্থে রয়েছে।

১০ আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন (১/৩৭)।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
وقال برهان الدين إبراهيم البقاعي1: "وعلم المناسبات -الأهم من مناسبات القرآن وغيره- علم تعرف منه علل الترتيب، وموضوعه أجزاء الشيء المطلوب علم مناسبته من حيث الترتيب، وثمرته الاطلاع على الرتبة التي يستحقها الجزء بسبب ما له بما وراءه، وما أمامه من الارتباط والتعلق الذي هو كلحمة النسب، فعلم مناسبات القرآن علم تعرف منه علل ترتيب أجزائه، وهو سر البلاغة لأدائه إلى تحقيق مطابقة المعاني لما اقتضاه من الحال، وتتوقف الإجادة فيه على معرفة مقصود السورة المطلوب ذلك فيها، ويفيد ذلك معرفة المقصود من جميع جملها؛ فلذلك كان هذا العلم في غاية النفاسة، وكانت نسبته من علم التفسير نسبة علم البيان من النحو"2.

أما ترتيب السور: فقد اختلف العلماء في ترتيب السور:

- فالقول الأول: إنه توقيفي، تولاه النبي صلى الله عليه وآله وسلم كما أخبر به جبريل عن أمر ربه، فكان القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم مرتَّب السور، كما كان مرتب الآيات على هذا الترتيب الذي لدينا اليوم، وهو ترتيب مصحف عثمان الذي لم يتنازع أحد من الصحابة فيه مما يدل على عدم المخالفة والإجماع.

- والقول الثاني: إن ترتيب السور باجتهاد من الصحابة؛ بدليل اختلاف مصاحفهم في الترتيب؛ كمصحف ابن مسعود، ومصحف أُبي.

- والقول الثالث: إن بعض السور ترتيبه توقيفي، وبعضه باجتهاد من الصحابة؛ حيث ورد ما يدل على ترتيب بعض السور في عهد النبوة، فقد

--------------------------------------------

1 هو الإمام العالم العلامة ذو الفنون العديدة، والتصانيف المفيدة، والأقاويل السديدة، أبو الحسن إبراهيم بن عمر بن حسن الرباط علي بن أبي بكر البقاعي، توفي سنة 885هـ، ترجمته في: الضوء اللامع "1/ 101"، ووجيز الكلام "3/ 909، 910".

2 نظم الدرر في تناسب الآيات والسور "1/ 5".
وقال برهان الدين إبراهيم البقاعي১: "প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ক জ্ঞান (المناسبات) —যা কুরআনের প্রাসঙ্গিকতা ও অন্যান্য বিষয়ের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ— এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে বিন্যাসের কারণসমূহ (علل الترتيب) জানা যায়। এর আলোচ্য বিষয় হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের অংশসমূহের বিন্যাসগত দিক থেকে পারস্পরিক সম্পর্ক। আর এর সুফল হলো কোনো একটি অংশ তার পূর্বাপর সম্পর্কের কারণে যে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে তা উপলব্ধি করা, যা মূলত বংশীয় সম্পর্কের মতো সুদৃঢ়। অতএব, কুরআনের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ক জ্ঞান (المناسبات) এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে এর অংশসমূহের বিন্যাসশৈলীর কারণসমূহ (علل الترتيب) জানা যায়। এটিই হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) রহস্য, যা পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী অর্থের যথার্থতা নিশ্চিত করে। এই বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সূরার মূল উদ্দেশ্যের জ্ঞানের ওপর এবং এর মাধ্যমে সূরার সকল বাক্যের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায়। এই কারণে এই বিদ্যা অত্যন্ত মূল্যবান এবং কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক তেমন, যেমন ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের সাথে বর্ণনাশৈলী (بيان) শাস্ত্রের সম্পর্ক।"২

আর সূরাসমূহের বিন্যাসের বিষয়ে ওলামাগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন:

- প্রথম মত: এটি আল্লাহ ও রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفي), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআনের সূরাসমূহ সুবিন্যস্ত ছিল, ঠিক যেমন আয়াতের বিন্যাস আমাদের নিকট বর্তমানে বিদ্যমান। এটি উসমানের মুসহাফের বিন্যাস, যে ব্যাপারে কোনো সাহাবী দ্বিমত পোষণ করেননি, যা এর কোনো ব্যতিক্রম না থাকা এবং ঐক্যমত (إجماع) হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

- দ্বিতীয় মত: সূরাসমূহের বিন্যাস সাহাবীদের গবেষণালব্ধ (اجتهاد); এর প্রমাণ হলো তাদের ব্যক্তিগত মুসহাফসমূহের বিন্যাসে ভিন্নতা থাকা; যেমন ইবনে মাসউদের মুসহাফ এবং উবাইয়ের মুসহাফ।

- তৃতীয় মত: কিছু সূরার বিন্যাস আল্লাহ ও রাসুল কর্তৃক নির্ধারিত (توقيفي) এবং কিছু সাহাবীদের গবেষণালব্ধ (اجتهاد); যেহেতু নবুওয়তের যুগে কিছু সূরার বিন্যাসের সপক্ষে বর্ণনা এসেছে, ফলে...

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন মহান ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, বহু শাস্ত্রের পণ্ডিত, উপকারী গ্রন্থাবলীর রচয়িতা এবং সঠিক মতামতের অধিকারী আবু হাসান ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান আর-রিবাত আলি বিন আবি বকর আল-বিক্বায়ি। তিনি ৮৮৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনী বর্ণিত হয়েছে: আদ-দাওউল লামি (১/১০১) এবং অজিজুল কালাম (৩/৯০৯, ৯১০) গ্রন্থে।

২ নাজমুল দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার (১/৫)।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
ورد ما يدل على ترتيب السبع الطوال والحواميم والمفصل في حياته عليه الصلاة والسلام.

وقد ناقش بعض العلماء1 هذه الآراء الثلاثة، وانتهى إلى ما يلي:

- أن الرأى الثاني الذي يرى أن ترتيب السور باجتهاد الصحابة لم يستند إلى دليل يُعتمد عليه.

فاجتهاد بعض الصحابة في ترتيب مصاحفهم الخاصة كان اختيارًا منهم قبل أن يجمع القرآن جمعًا مرتبًا، فلما جمع في عهد عثمان بترتيب الآيات والسور على حرف واحد، واجتمعت الأمة على ذلك تركوا مصاحفهم، ولو كان الترتيب اجتهاديًّا لتمسكوا بها.

وحديث ابن عباس رضى الله عنهما: "قلت لعثمان: ما حملكم على أن عمدتم الأنفال وهي من المثاني، وإلى براءة وهي من المئين، فقرنتم بينها … "2.

وهذا الحديث يدور إسناده في كل رواياته على "يزيد الفارسي" الذي يذكره البخاري في الضعفاء، وفيه تشكيك في إثبات البسملة في أوائل السور؛ كأن عثمان كان يثبتها برأيه، وينفيها برأيه؛ ولذا قال الشيخ أحمد شاكر في تعليقه عليه بمسند الإمام أحمد: "إنه لا أصل له".

وغاية ما فيه أنه يدل على عدم الترتيب بين هاتين السورتين فقط3.

- أما الرأى الثالث: الذي يرى أن بعض السور ترتيبها توقيفي، وبعضها ترتيبه اجتهادي، فإن أدلته ترتكز على ذكر النصوص الدالة على

--------------------------------------------

1 هو الشيخ مناع خليل القطان في كتابه: مباحث في علوم القرآن 141، 142.

2 تخريج الحديث في مطلع سورة الأنفال.

3 وقد ذهب البيهقي إلى ذلك؛ حيث قال: "كان القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم مرتبًا سوره وآياته على هذا الترتيب إلا الأنفال وبراءة لحديث عثمان رضى الله عنه".
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় 'সাব'আ তিওয়াল' (সাতটি দীর্ঘ সুরা), 'হাওয়ামিম' (হা-মীম দ্বারা শুরু হওয়া সুরাসমূহ) এবং 'মুফাসসাল' সুরার বিন্যাস সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া যায়।

কিছু আলেম১ এই তিনটি মতামতের পর্যালোচনা করেছেন এবং নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন:

- দ্বিতীয় মতামতটি, যাতে মনে করা হয় যে সুরার বিন্যাস সাহাবায়ে কেরামের গবেষণালব্ধ (اجتهادي), তা কোনো নির্ভরযোগ্য দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়।

কারণ, সুবিন্যস্তভাবে কুরআন সংকলিত হওয়ার আগে কিছু সাহাবির নিজস্ব মাসহাফ বিন্যাসের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ ছিল তাঁদের নিজস্ব পছন্দ। অতঃপর যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে এক পঠনরীতির ওপর ভিত্তি করে আয়াত ও সুরাসমূহ বিন্যস্ত করে কুরআন সংকলন করা হলো এবং উম্মাহ এর ওপর একমত হলো, তখন তাঁরা তাঁদের নিজস্ব মাসহাফগুলো ত্যাগ করেছিলেন। যদি সুরার বিন্যাস গবেষণালব্ধ (اجتهادي) হতো, তবে তাঁরা অবশ্যই নিজেদের মাসহাফ আঁকড়ে ধরে থাকতেন।

আর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: "আমি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললাম, কিসে আপনাদের উদ্বুদ্ধ করল যে আপনারা আনফাল—যা 'মাসানি' (المثاني) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এবং বারাআত (সুরা তাওবা)—যা 'মিঈন' (المئين) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, এই দুটিকে একত্রে মেলালেন... … "২।

এই হাদিসটির সনদের (إسناد) সকল বর্ণনা 'ইয়াজিদ আল-ফারসি'-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত, যাকে ইমাম বুখারি দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। এতে সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ সাব্যস্ত করার বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করা হয়েছে; যেন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজের মতে এটি সাব্যস্ত করতেন এবং নিজের মতেই বাদ দিতেন। এ কারণেই শায়খ আহমদ শাকির মুসনাদে আহমদের টীকায় এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।"

বড়জোর এ বর্ণনাটি কেবল এই দুটি সুরার মধ্যে বিন্যাস না থাকার বিষয়ে প্রমাণ দেয় ৩।

- পক্ষান্তরে তৃতীয় মতামত: যাতে মনে করা হয় যে কিছু সুরার বিন্যাস ওহিনির্ভর (توقيفي) এবং কিছু সুরার বিন্যাস গবেষণালব্ধ (اجتهادي)। এর দলিলগুলো এমন কিছু পাঠের ওপর ভিত্তি করে যা...

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন শায়খ মান্না খলিল আল-কাত্তান, তাঁর গ্রন্থ: 'মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন', পৃষ্ঠা: ১৪১, ১৪২।

২ সুরা আনফালের শুরুতে হাদিসটির তাখরিজ (تخريج) করা হয়েছে।

৩ ইমাম বায়হাকি এই মত পোষণ করেছেন; তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে কুরআনের সুরা ও আয়াতসমূহ এই বিন্যাসেই সুসজ্জিত ছিল, কেবল উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে আনফাল ও বারাআত ব্যতীত।"
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
ما هو توقيفي، أما القسم الاجتهادي فإنه لا يستند إلى دليل يدل على أن ترتيبه اجتهادي؛ إذ إن ثبوت التوقيفي بأدلته لا يعني أن ما سواه اجتهادي، مع أنه قليل جدًّا.

وبهذا يترجح أن ترتيب السور توقيفي كترتيب الآيات1.

وقال أبو بكر بن الأنباري2: "أنزل الله القرآن كله إلى سماء الدنيا، ثم فرقه في بضع وعشرين، فكانت السورة تنزل لأمر يحدث، والآية جوابًا لمستخبر، ويوقف جبريل النبي صلى الله عليه وآله وسلم على موضع الآية والسورة، فاتساق السور كاتساق الآيات والحروف كله عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم فمن قدم سورة أو أخَّرها فقد أفسد نظم القرآن"3.

وقال الزركشي: قال بعض مشايخنا المحققين: قد وهم من قال: لا يطلب للآي الكريمة مناسبة؛ لأنها على حسب الوقائع المتفرقة، وفصل الخطاب أنها على حسب الوقائع تنزيلًا، وعلى حسب الحكمة ترتيبًا، فالمصحف كالصحف الكريمة على ما في وفق الكتاب المكنون، مرتبة سوره كلها وآياته بالتوقيف، وحافظ القرآن العظيم لو استفتي في أحكام متعددة، أو ناظر فيها، أو أملاها لذكر آية كل حكم على ما سئل، وإذا رجع إلى التلاوة لم يتل كما أفتى، ولا كما نزل مفرقًا؛ بل كما أنزل جملة إلى بيت العزة، ومن المعجز البين أسلوبه، ونظمه الباهر؛ فإنه {كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} [هود:1] .

قال: والذي ينبغي في كل آية أن يبحث عن كونها مكملة لما قبلها، أو مستقلة، ثم المستقلة ما وجه مناسباتها لما قبلها؟ ففي ذلك علم جَمٌّ، وهكذا في السور يُطلب وجه اتصالها بما قبلها وما سيقت له.

--------------------------------------------

1 مباحث في علوم القرآن، لمناع القطان "141" وما بعدها.

2 ترجمته في مقدمة المؤلف.

3 البرهان في علوم القرآن "1/ 260"، والجامع لأحكام القرآن "1/ 60"، والإتقان "1/ 60".
যা ওহিনির্ভর (توقيفي), পক্ষান্তরে ইজতিহাদভিত্তিক (اجتهادي) অংশের বিষয়ে এমন কোনো দলীল নেই যা নির্দেশ করে যে এর বিন্যাস ইজতিহাদভিত্তিক (اجتهادي); কারণ দলীল দ্বারা ওহিনির্ভরতা (توقيفي) সাব্যস্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে এছাড়া যা আছে তা ইজতিহাদভিত্তিক (اجتهادي), যদিও তা অত্যন্ত নগণ্য।

এর মাধ্যমে এটাই অগ্রগণ্য (راجح) হয় যে, সূরাসমূহের বিন্যাস আয়াতসমূহের বিন্যাসের মতোই ওহিনির্ভর (توقيفي)।১

আবু বকর ইবনুল আম্বারি২ বলেন: "আল্লাহ পুরো কুরআনকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর তা বিশ বছরের কিছু বেশি সময় ধরে অবতীর্ণ করেছেন। কোনো ঘটনা ঘটলে সূরা অবতীর্ণ হতো এবং কোনো জিজ্ঞাসাকারীর জবাবে আয়াত অবতীর্ণ হতো। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে আয়াত ও সূরার অবস্থানের কথা জানিয়ে দিতেন। সুতরাং সূরাসমূহের বিন্যাস হলো আয়াত ও বর্ণসমূহের বিন্যাসের মতোই, যা সম্পূর্ণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রাপ্ত। অতএব, যে ব্যক্তি কোনো সূরাকে আগে আনল বা পরে নিল, সে কুরআনের বিন্যাসশৈলীকে (نظم) বিকৃত করল।"৩

জারকাশি বলেন: আমাদের কতিপয় যাচাইকারী গবেষক (محققين) শায়খ বলেছেন: যারা বলেন যে সম্মানিত আয়াতসমূহের মাঝে যোগসূত্র (مناسبة) অন্বেষণ করা যাবে না—যেহেতু তা বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে—তারা ভ্রান্তিতে রয়েছেন। চূড়ান্ত ফয়সালা হলো, আয়াতসমূহ অবতরণের দিক থেকে (تنزيلًا) ঘটনার অনুগামী, আর বিন্যাসের দিক থেকে (ترتيبًا) হিকমত বা প্রজ্ঞার অনুগামী। সুতরাং মুসহাফ হলো সেই সম্মানিত সহীফাসমূহের ন্যায় যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাবের অনুরূপ, যার সমস্ত সূরা ও আয়াতসমূহ ওহিনির্ভর (توقيف) পদ্ধতিতে বিন্যস্ত। কুরআনে কারীমের একজন হাফেজকে যদি বিভিন্ন বিধান সম্পর্কে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হয়, বা তিনি সে বিষয়ে বিতর্ক করেন অথবা তা লিপিবদ্ধ করান, তবে তিনি জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিধানের আয়াত উল্লেখ করবেন; কিন্তু যখন তিনি তিলাওয়াতের দিকে ফিরে আসেন, তখন তিনি সেভাবে তিলাওয়াত করেন না যেভাবে তিনি ফতোয়া দিয়েছেন কিংবা যেভাবে তা পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে; বরং তিনি সেভাবেই তিলাওয়াত করেন যেভাবে তা বাইতুল ইজ্জতে একযোগে অবতীর্ণ হয়েছিল। আর এর স্পষ্ট মুজিযা (معجز) ও বিস্ময়কর বিন্যাসশৈলী হলো: {এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে} [হূদ: ১]।

তিনি বলেন: প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে যা হওয়া উচিত তা হলো—আয়াতটি কি তার পূর্ববর্তী আয়াতের পরিপূরক নাকি তা স্বতন্ত্র, সেটি অনুসন্ধান করা। অতঃপর স্বতন্ত্র আয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে এর যোগসূত্র (مناسبة) কী? এতে রয়েছে বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার। একইভাবে সূরাসমূহের ক্ষেত্রেও এর পূর্ববর্তী সূরার সাথে সম্পর্কের ধরণ এবং এটি কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে তা অন্বেষণ করতে হবে।

--------------------------------------------

১. মান্না আল-কাত্তান রচিত মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৪১ এবং পরবর্তী অংশ।

২. লেখকের ভূমিকায় তার জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন (১/২৬০), আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১/৬০) এবং আল-ইতকান (১/৬০)।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
وإذا اعتبرت افتتاح كل سورة وجدته في غاية المناسبة لما خُتم به السورة قبلها، ثم هو يخفى تارة ويظهر أخرى؛ كافتتاح سورة الأنعام بالحمد، فإنه مناسب لختام سورة المائدة من فصل القضاء؛ كما قال سبحانه وتعالى: {وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الزمر: 75] وكافتتاح سورة فاطر بـ {الْحَمْدُ} أيضًا، فإنه مناسب لختام ما قبلها من قوله: {وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ كَمَا فُعِلَ بِأَشْيَاعِهِمْ مِنْ قَبْلُ} [سبأ: 54] وكافتتاح سورة الحديد بالتسبيح: {سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الحديد: 1] فإنه مناسب لختام سورة الواقعة من الأمر به: {فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيم} [الواقعة: 74] .

وكافتتاح البقرة بقوله: {الم، ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ} إشارة إلى {الصِّرَاطَ} في قوله: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} كأنهم لما سألوا الهداية إلى الصراط المستقيم، قيل لهم: ذلك الصراط الذي سألتم الهداية إليه هو الكتاب.

وهذا معنى حسن يظهر فيه ارتباط سورة البقرة بالفاتحة1.

ومن لطائف سورة الكوثر أنها كالمقابلة للتي قبلها "الماعون"؛ لأن السابقة قد وصف الله فيها المنافق بأمور أربعة: البخل، وترك الصلاة، والرياء فيها، ومنع الزكاة، فذكر هنا في مقابلة البخل: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ} أي: الكثير.

وفي مقابلة ترك الصلاة: {فَصَلِّ} أي: دُمْ عليها.

وفي مقابلة الرياء: {لِرَبِّكَ} أي: لرضاه لا للناس.

--------------------------------------------

1 البرهان في علوم القرآن "1/ 38".
আর আপনি যদি প্রতিটি সূরার প্রারম্ভের প্রতি লক্ষ্য করেন, তবে একে তার পূর্ববর্তী সূরার সমাপ্তির সাথে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ পাবেন। অতঃপর এই বিষয়টি কখনও অস্পষ্ট থাকে, আবার কখনও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে; যেমন সূরা আল-আনআমের শুরু হয়েছে আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে, যা সূরা আল-মায়েদাহর সমাপ্তিতে বিচার-ফয়সালের প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হবে এবং বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক} [যুমার: ৭৫]। একইভাবে সূরা ফাতিরের প্রারম্ভে আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু হওয়াটাও তার পূর্ববর্তী সূরার শেষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে: {আর তাদের এবং তাদের কামনার মাঝে প্রাচীর তুলে দেওয়া হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে তাদের সমমনাদের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল} [সাবা: ৫৪]। আর সূরা আল-হাদিদের শুরু হয়েছে পবিত্রতা ঘোষণার মাধ্যমে: {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [হাদিদ: ১]। এটি সূরা আল-ওয়াকিয়ার শেষের নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: {অতএব, আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন} [ওয়াকিয়া: ৭৪] .

অনুরূপভাবে সূরা আল-বাকারার শুরু—{আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই}—হলো সূরা আল-ফাতিহার {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} আয়াতের ‘পথ’-এর দিকে ইঙ্গিতস্বরূপ। যেন তারা যখন সরল পথের হিদায়াত প্রার্থনা করল, তখন তাদেরকে বলা হলো: তোমরা যে পথের হিদায়াত চেয়েছিলে, তা হলো এই কিতাব।

এটি একটি চমৎকার অর্থ, যার মাধ্যমে সূরা আল-ফাতিহার সাথে সূরা আল-বাকারার গভীর যোগসূত্র প্রকাশ পায়।

সূরা আল-কাওসারের অন্যতম সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি তার পূর্ববর্তী সূরা ‘আল-মাউন’-এর বিপরীতে উপস্থাপিত হয়েছে; কারণ পূর্ববর্তী সূরায় আল্লাহ তাআলা মুনাফিকের চারটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন: কৃপণতা, সালাত ত্যাগ করা, সালাতে লোকদেখানো মনোভাব এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য বা জাকাত প্রদানে বাধা দেওয়া। তাই এখানে কৃপণতার বিপরীতে বলা হয়েছে: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আল-কাওসার দান করেছি}, অর্থাৎ প্রচুর নিয়ামত।

আর সালাত ত্যাগের বিপরীতে বলা হয়েছে: {অতএব আপনি সালাত আদায় করুন}, অর্থাৎ তাতে নিয়মিত ও অবিচল থাকুন।

আর লোকদেখানো মনোভাবের বিপরীতে বলা হয়েছে: {আপনার রবের জন্য}, অর্থাৎ কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য, মানুষের জন্য নয়।

--------------------------------------------

১ আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন "১/ ৩৮"।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي مقابلة الماعون: {وَانْحَرْ} وأراد به: التصدق بلحم الأضاحي، فاعتبر هذه المناسبة العجيبة1.

وكذلك مناسبة فاتحة سورة الإسراء بالتسبيح، وسورة الكهف بالتحميد؛ لأن التسبيح حيث جاء مقدَّم على التحميد، يقال: سبحان الله، والحمد لله2.

هذا، وأسأل الله أن ينفع بهذا العمل، وأن يرد الأمة الإسلامية إلى كتابها الكريم وهذا الفرقان، معتصمة به، تالية له، ومتدبرة لما فيه، ومتمسكة بسُنة نبيها خاتم النبيين محمد صلى الله عليه وآله وسلم وما كان عليه السلف الصالح من الصحابة ومن تبعهم، فلا معين إلا الله، ولا دليل إلا رسول الله، ولا زاد إلا التقوى، ولا عمل إلا الصبر عليه، ولا عز لنا إلا في إسلامنا، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

مرزوق علي إبراهيم

في مساء الجمعة

26 محرم 1422هـ

20 إبريل 2001م

مدينة نصر- القاهرة

--------------------------------------------

1 مفاتيح الغيب "تفسير الرازي" "8/ 701"، وكذا البرهان في علوم القرآن "1/ 39".

2 البرهان في علوم القرآن "1/ 39".
সুরা আল-মাউনের বিপরীতে রয়েছে: {এবং কোরবানি করুন}; আর এর দ্বারা তিনি কোরবানির পশুর গোশত সদকা করাকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং এই চমৎকার সামঞ্জস্যটি বিবেচনা করুন১।

অনুরূপভাবে সুরা আল-ইসরা তাসবিহ (পবিত্রতা ঘোষণা) দিয়ে এবং সুরা আল-কেহফ তাহমিদ (প্রশংসা জ্ঞাপন) দিয়ে শুরু হওয়ার সামঞ্জস্য; কেননা তাসবিহ যেখানেই আসে তা তাহমিদের অগ্রবর্তী হয়, যেমন বলা হয়: সুবহানাল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ২।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কর্মের মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন এবং মুসলিম উম্মাহকে তাদের সম্মানিত কিতাব ও এই ফুরকানের (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) দিকে ফিরিয়ে দেন; যেন তারা একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে, তিলাওয়াত করে, এর বিষয়বস্তু নিয়ে গবেষণা করে এবং তাদের নবী, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) এবং সাহাবী (صحابة) ও যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সেই সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে। আল্লাহ ছাড়া কোনো সাহায্যকারী নেই, রাসূলুল্লাহ ছাড়া কোনো পথপ্রদর্শক নেই, তাকওয়া ছাড়া কোনো পাথেয় নেই, ধৈর্যের সাথে আমল করা ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং আমাদের জন্য ইসলাম ছাড়া কোনো সম্মান নেই। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী (صحابة) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

মারজুক আলী ইবরাহিম

শুক্রবার সন্ধ্যা

২৬ মহররম ১৪২২ হিজরি

২০ এপ্রিল ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

নাসর সিটি- কায়রো

--------------------------------------------

১ মাফাতিহুল গাইব "তাফসিরে রাজি" (৮/৭০১), এবং আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন (১/৩৯)।

২ আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন (১/৩৯)।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌نُبْذَةٌ عن مصحف عثمان "رضي الله عنه":

من المآثر الخالدة لذي النورين ما فعله حين جمع الناس على مصحف واحد، وجمع القرآن فيه؛ وبذلك صلح أمر الناس من السلف والخلف، ولولا الذي فعله عثمان رضي الله عنه لألحد الناس في القرآن إلى يوم القيامة، كما قال الحسن البصري.

قال الزركشي: وقد اشتهر أن عثمان هو أول من جمع المصاحف؛ وليس كذلك؛ بل أول من جمعها في مصحف واحد الصديق، ثم أمر عثمان حين خاف الاختلاف في القراءة بتحويله منها إلى المصاحف1.

وقال القاضي أبو بكر الباقلاني2 في "الانتصار للقرآن": "لم يقصد عثمان رضي الله عنه قَصْدَ أبي بكر في جمع نفس القرآن بين لوحين؛ وإنما قصد جمعهم على القراءات الثابتة المعروفة عن النبي صلى الله عليه وسلم وإلغاء ما ليس كذلك، وأخذهم بمصحف لا تقديم فيه ولا تأخير، ولا تأويل أُثْبِتَ مع تنزيل، ومنسوخ تلاوته كتب مع مثبت رسمه ومفروض قراءته وحفظه؛ خشية دخول الفساد والشبهة على ما يأتي بَعْدُ"3.

والذي حمل الصحابة -رضوان الله عليهم- على جمع القرآن ما جاء في الحديث أنه كان مفرقًا في: العسب واللخاف وصدور الرجال، فخافوا ذَهَاب بعضه بذهاب حفظته، فجمعوه وكتبوه كما سمعوه من النبي صلى الله عليه وسلم من غير أن يُقدِّموا شيئًا أو يؤخروا، وهذا الترتيب كان منه

--------------------------------------------

1 البرهان في علوم القرآن "1/ 235" وما بعدها.

2 ترجمته في مقدمة المصنف.

3 الانتصار للقرآن، للباقلاني "1/ 11، 12"، وتناول المؤلف فضل أبي بكر وعمر وعلي -رضوان الله عليهم جميعًا- في كتابه هذا "1/ 97" وما بعدها.
উসমান "রাদিয়াল্লাহু আনহু" এর মুসহাফ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা:

যুন-নুরাইনের অন্যতম চিরস্থায়ী কীর্তি হলো যা তিনি করেছিলেন যখন তিনি জনগণকে একটি মুসহাফের ওপর একত্রিত করেছিলেন এবং তাতে কুরআন সংকলন করেছিলেন। এর মাধ্যমেই পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল মানুষের পরিস্থিতি সংশোধিত হয়েছে। হাসান বসরী যেমনটি বলেছেন, উসমান (রা.) যা করেছিলেন তা যদি না হতো, তবে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ কুরআনের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হতো।

যুরকাশি বলেন: এটি প্রসিদ্ধ যে উসমান (রা.)-ই সর্বপ্রথম মুসহাফসমূহ সংকলন করেছেন; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং সর্বপ্রথম মুসহাফে কুরআন সংকলনকারী ছিলেন সিদ্দিক (রা.)। অতঃপর উসমান (রা.) যখন কিরাত (القراءات) নিয়ে মতভেদের আশঙ্কা করলেন, তখন তিনি তা থেকে (অন্যান্য) মুসহাফে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন।১

কাজী আবু বকর আল-বাকিল্লানি২ তাঁর "আল-ইনতিসার লিল-কুরআন" গ্রন্থে বলেছেন: "উসমান (রা.)-এর উদ্দেশ্য আবু বকর (রা.)-এর মতো দুই মলাটের মাঝে সরাসরি কুরআন সংকলন করা ছিল না; বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত ও সুপ্রসিদ্ধ কিরাত (القراءات) সমূহের ওপর জনগণকে একত্রিত করা এবং যা তদ্রূপ নয় তা বাতিল করা। তিনি তাদেরকে এমন একটি মুসহাফের অনুসারী করতে চেয়েছিলেন যাতে কোনো অগ্র-পশ্চাৎ ছিল না, এবং ওহী নাযিলের সাথে যুক্ত কোনো ব্যাখ্যা (তাফসীর) লিপিবদ্ধ ছিল না, এমনকি যেগুলোর তিলাওয়াত রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে অথচ লিপি বিদ্যমান ছিল এবং যার কিরাত ও হিফয করা আবশ্যক ছিল—সেই সবের মাঝে যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কোনো বিকৃতি বা সংশয় তৈরি না হয় সেজন্যই তিনি এটি করেছিলেন।"৩

সাহাবীগণকে—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—কুরআন সংকলনে যা উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআন বিক্ষিপ্তভাবে ছিল: খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর এবং মানুষের বক্ষে। ফলে তাঁরা হিফযকারীদের মৃত্যুর সাথে সাথে কুরআনের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন। তাই তাঁরা যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছিলেন সেভাবেই এটি সংকলন ও লিপিবদ্ধ করলেন, কোনো কিছু আগে বা পরে না বাড়িয়ে। আর এই বিন্যাস ছিল তাঁর পক্ষ থেকেই।

--------------------------------------------

১ আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন "১/ ২৩৫" এবং পরবর্তী অংশ।

২ গ্রন্থকারের পরিচিতি মূল লেখকের ভূমিকায় দ্রষ্টব্য।

৩ আল-ইনতিসার লিল-কুরআন, আল-বাকিল্লানি "১/ ১১, ১২"; এবং লেখক এই কিতাবে আবু বকর, উমর ও আলী—রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন—এর মর্যাদার কথা আলোচনা করেছেন "১/ ৯৭" এবং পরবর্তী অংশে।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
-صلى الله عليه وسلم بتوقيف لهم على ذلك، وأن هذه الآية عقب تلك الآية، فثبت أن سعي الصحابة في جمعه في موضع واحد لا في ترتيبه؛ فإن القرآن مكتوب في اللوح المحفوظ على هذا الترتيب الذي هو في مصاحفنا الآن، أنزله الله جملة واحدة إلى سماء الدنيا؛ كما قال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} [البقرة: 185] وقال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} [القدر: 1] ثم كان ينزل مفرقًا على رسول الله صلى الله عليه وسلم مدة حياته عند الحاجة؛ كما قال تعالى: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} [الإسراء: 106] .

فترتيب النزول غير ترتيب التلاوة؛ وكان هذا الاتفاق من الصحابة سببًا لبقاء القرآن في الأمة، ورحمة من الله على عباده، وتسهيلًا وتحقيقًا لوعده بحفظه؛ كما قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] وزال بذلك الاختلاف، واتفقت الكلمة.

ولقد كانت قراءة أبي بكر وعمر وعثمان وزيد بن ثابت والمهاجرين والأنصار واحدة، كانوا يقرءون القراءة العامة، وهي القراءة التي قرأها رسول الله صلى الله عليه وسلم على جبريل مرتين في العام الذي قبض فيه، وكان زيد قد شهد العرضة الأخيرة، وكان يقرئ الناس بها حتى مات؛ ولذلك اعتمده الصديق في جمعه، وولاه عثمان كتابة المصحف.

ورُوي عن علي -رضى الله عنه- أنه قال: رحم الله أبا بكر! هو أول من جمع بين اللوحين، ولم يحتج الصحابة في أيام أبي بكر وعمر إلى جمعه على وجه ما جمعه عثمان؛ لأنه لم يحدث في أيامهما من الخلاف فيه ما حدث في زمن عثمان، ولقد وُفِّق لأمر عظيم، ورفع الاختلاف وجمع الكلمة، وأراح الأمة.

وقد قال علي رضى الله عنه: لو وُلِّيت ما وُلِّي عثمان لعملت بالمصاحف ما عمل1.

--------------------------------------------

1 البرهان في علوم القرآن "1/ 239، 240".
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি প্রদত্ত নির্দেশনার (توقيف) ভিত্তিতে এটি নির্ধারিত হয়েছিল যে, এই আয়াতটি ওই আয়াতের পরে বসবে। এতে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবীগণের প্রচেষ্টা ছিল পবিত্র কুরআনকে এক স্থানে সংকলন করার ক্ষেত্রে, এর ক্রমবিন্যাস করার ক্ষেত্রে নয়। কারণ, কুরআন লাওহে মাহফুজে এই ক্রম অনুসারেই লিপিবদ্ধ আছে যেভাবে বর্তমানে আমাদের মাসহাফগুলোতে বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা এটি দুনিয়ার আসমানে একবারে অবতীর্ণ করেছিলেন; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে} [বাকারা: ১৮৫] এবং তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে নাযিল করেছি} [কদর: ১]। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবদ্দশায় প্রয়োজন অনুযায়ী তা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে পৃথক পৃথকভাবে (مفرقًا) নাযিল হতো; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি কুরআন নাযিল করেছি খণ্ড খণ্ড করে (فرقناه), যাতে আপনি তা মানুষের কাছে পাঠ করেন বিরতি দিয়ে এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে নাযিল করেছি} [ইসরা: ১০৬]।

সুতরাং নাযিল হওয়ার ক্রম আর তিলাওয়াতের ক্রম এক নয়। সাহাবীগণের এই ঐকমত্য ছিল উম্মতের মাঝে কুরআন সংরক্ষিত থাকার কারণ, বান্দাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত এবং কুরআন সংরক্ষণের বিষয়ে আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়নের একটি সহজ মাধ্যম। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} [হিজর: ৯]। এর মাধ্যমে বিভেদ দূর হয়েছিল এবং সকলে একমতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

আবু বকর, উমর, উসমান, যায়িদ বিন সাবিত এবং মুহাজির ও আনসারগণের তিলাওয়াত ছিল অভিন্ন। তাঁরা সেই সাধারণ তিলাওয়াত (القراءة العامة) অনুযায়ী তিলাওয়াত করতেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ওফাতের বছরে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের নিকট দুই বার পেশ করেছিলেন। যায়িদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু এই শেষ উপস্থাপনায় (العرضة الأخيرة) উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে সেভাবেই তিলাওয়াত করাতেন। এই কারণেই সিদ্দিক (আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরআন সংকলনের কাজে তাঁর ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে মাসহাফ লেখার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে (رُوي) যে, তিনি বলেছিলেন: আল্লাহ আবু বকরকে রহম করুন! তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দুই মলাটের মাঝে কুরআন একত্রিত করেছেন। আবু বকর ও উমরের সময়ে সাহাবীগণ কুরআনকে সেভাবে সংকলন করার প্রয়োজনবোধ করেননি যেভাবে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছিলেন; কারণ তাঁদের সময়ে কুরআনের ব্যাপারে তেমন মতভেদ সৃষ্টি হয়নি যা উসমানের সময়ে দেখা দিয়েছিল। নিশ্চয়ই তিনি (উসমান) এক মহান কাজে সফল হয়েছিলেন, তিনি মতভেদ দূর করেছেন, উম্মতকে একমতে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং তাদের দুশ্চিন্তা লাঘব করেছেন।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেছিলেন: উসমান যা করেছেন, আমি যদি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতাম তবে মাসহাফগুলোর বিষয়ে আমিও তাই করতাম।

--------------------------------------------

১ আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন "১/ ২৩৯, ২৪০"।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
فائدة:

من الأدلة التي ساقها الباقلاني على صحة نقل القرآن وصحة تأليفه وترتيبه:

"ومما يدل على ذلك قول تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] وقوله: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} [القيامة: 17] وقد ثبت بإجماع الأمة -منا ومنهم- أن الله تعالى لم يرد بهاتين الآيتين أنه تعالى يحفظ القرآن على نفسه ولنفسه، وأنه يجمعه لنفسه، وأهل سمواته دون أهل أرضه، وأنه إنما عَنَى بذلك أنه يحفظه على المكلفين للعمل بموجبه، والمصير إلى مقتضاه ومتضمنه، وأنه يجمعه لهم فيكون محفوظًا عندهم، ومجموعًا لهم دونه، ومحروسًا من وجوه الخطأ والغلط والتخليط والإلباس، وإذا كان ذلك كذلك وجب بهاتين الآيتين القطع على صحة مصحف الجماعة، وسلامته من كل فساد ولبس؛ لأنه لو كان مغيرًا أو مبدلًا أو منقوصًا منه أو مزيدًا فيه، ومرتبًا على غير ما رتبه الله سبحانه؛ لكان غير محفوظ علينا، ولا مجموع لنا، وكيف يسوغ لمسلم أن يقول بتفريق ما ضمن الله جمعه، وتضييع ما أخبر بحفظه"1.

--------------------------------------------

1 الانتصار للقرآن، للباقلاني "1/ 63".
ফায়দা:

কুরআনের বর্ণনার বিশুদ্ধতা এবং এর সংকলন ও বিন্যাসের সঠিকতার সপক্ষে আল-বাকিল্লানি যে সকল দলিল পেশ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

"এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষক} [সূরা হিজর: ৯] এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানো আমারই দায়িত্ব} [সূরা কিয়ামাহ: ১৭]। আর উম্মতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) মাধ্যমে—আমাদের ও তাদের পক্ষ থেকে—এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা এই আয়াতদ্বয় দ্বারা এটি বোঝাননি যে, তিনি কুরআনকে কেবল নিজের সত্তার জন্য সংরক্ষণ করবেন, কিংবা তিনি তা কেবল নিজের জন্য এবং আসমানবাসীদের জন্য সংগ্রহ করবেন যমিনবাসীদের বাদ দিয়ে। বরং তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে, তিনি এটি মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষণ করবেন যাতে তারা এর বিধান অনুযায়ী আমল করতে পারে এবং এর লক্ষ্য ও বিষয়বস্তুর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে। আর তিনি এটি তাদের জন্যই সংকলন করবেন যাতে তা তাদের কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং কেবল তাঁর কাছে নয় বরং তাদের নিকট সংগৃহীত থাকে এবং যাবতীয় ভুল-ভ্রান্তি, বিকৃতি ও অস্পষ্টতা থেকে সুরক্ষিত থাকে। আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন এই আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে জামাআতের (উম্মাহর) মাসহাফের বিশুদ্ধতা এবং যাবতীয় বিপর্যয় ও সংশয় থেকে এর নিরাপদ থাকার বিষয়ে অকাট্য নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। কারণ যদি এটি পরিবর্তিত বা পরিমার্জিত হতো কিংবা এতে কোনো কিছু হ্রাস বা বৃদ্ধি করা হতো অথবা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেভাবে বিন্যস্ত করেছেন তার পরিবর্তে অন্যভাবে বিন্যস্ত করা হতো, তবে তা আমাদের কাছে সংরক্ষিত থাকত না এবং আমাদের জন্য সংগৃহীত হতো না। আর একজন মুসলিমের পক্ষে কীভাবে এটি বলা সঙ্গত হতে পারে যে, আল্লাহ যা সংগ্রহের জিম্মাদারি নিয়েছেন তা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেছে এবং যা সংরক্ষণের সংবাদ তিনি দিয়েছেন তা বিনষ্ট হয়ে গেছে" ১।

--------------------------------------------

১ আল-ইন্তিসার লিল-কুরআন, আল-বাকিল্লানি "১/৬৩"।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌عملنا في الكتاب:

كان العمل في تحقيق هذا الكتاب على المنهج التالي:

- قابلنا النسخة المطبوعة بتحقيق الأستاذ عبد القادر عطا "وهي نسخة دار الكتب المصرية" على نسخة دمشق1 المطبوعة، التي اعتمد محققها على نسخة الظاهرية.

- رمزنا لنسختنا المصرية بـ"المطبوعة".

- رمزنا لنسخة دمشق بـ"ظ"، وتميزت هذه النسخة بأنها أتم من النسخة المصرية في الغالب، وفيها ترضية على الصحابة، وبعد ذكر النبي أو الأنبياء يأتي بعد ذلك "عليه السلام" أو "عليهم السلام"، وكذلك حينما يأتي ذكر العلماء، يأتي بعدهم بـ"رحمه الله"، فضلًا عن الثناء على الله تعالى إذا ذكر الله عز وجل.

- وضعنا الزيادة من نسخة "ظ" بين معقوفين، وكذلك إذا كانت هناك إضافة من الأصول، أو تتمة لنقص وضعناها كذلك بين معقوفين.

- أبقينا التعليقات التى علق عليها الأستاذ عبد القادر عطا، وإن كان فيها خطأ صوبناه، وما كان من نقص أتممناه.

- الرجوع إلى المصادر التى أخذ عنها المؤلف، وكذلك المصادر التي دارت حول هذا الموضوع، وكل ذلك ساعد على تقويم النص، وخروجه بشكل أتم مما كان عليه سابقًا.

- قمنا بتصحيح ما وقع من تصحيف، وتحرير ما وقع من تحريف في النص.

--------------------------------------------

1 تحقيق: عبد الله محمد الدرويش - دار الكتاب العربي - سوريا - "1404هـ-1983م".
এই গ্রন্থ সম্পাদনায় আমাদের কর্মপদ্ধতি:

এই গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি যাচাই ও সম্পাদনার (تحقيق) কাজ নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে:

- আমরা উস্তাদ আব্দুল কাদির আতা কর্তৃক সম্পাদিত (تحقيق) মুদ্রিত সংস্করণটিকে (যা মূলত 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর' পাণ্ডুলিপির সংস্করণ) মুদ্রিত দামেস্ক পাণ্ডুলিপি-১-এর সাথে মিলিয়ে পাঠোদ্ধার করেছি, যার সম্পাদক জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন।

- আমরা আমাদের মিসরীয় সংস্করণটিকে "আল-মাতবু'আহ" (المطبوعة) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

- আমরা দামেস্ক পাণ্ডুলিপিকে "যা" (ظ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এই সংস্করণটি সাধারণত মিসরীয় সংস্করণের তুলনায় অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হিসেবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; এতে সাহাবীগণের নামের সাথে সন্তুষ্টি প্রকাশসূচক দোয়াবাক্য (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রয়েছে এবং নবী বা আম্বিয়াগণের বর্ণনার পর "আলাইহিস সালাম" বা "আলাইহিমুস সালাম" উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে উলামায়ে কিরামের আলোচনার পর তাঁদের জন্য "রাহিমাহুল্লাহ" এবং মহান আল্লাহর জিকিরের সময় তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণিত হয়েছে।

- "যা" (ظ) পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অংশগুলো আমরা তৃতীয় বন্ধনী বা ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি। একইভাবে মূল উৎসসমূহ থেকে কোনো সংযোজন বা কোনো অসম্পূর্ণতা পূরণের ক্ষেত্রেও আমরা তা তৃতীয় বন্ধনীতে উল্লেখ করেছি।

- উস্তাদ আব্দুল কাদির আতা যেসব টীকা প্রদান করেছেন তা আমরা বহাল রেখেছি; তবে সেখানে কোনো ভুল থাকলে আমরা তা সংশোধন করেছি এবং কোনো অসম্পূর্ণতা থাকলে তা পূর্ণ করেছি।

- গ্রন্থকার যেসব মূল উৎস থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন এবং এই বিষয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উৎসসমূহের সাহায্য নেওয়া হয়েছে; যা মূল পাঠ্যকে (نص) যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে এবং একে পূর্বের তুলনায় অধিকতর নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে।

- আমরা মূল পাঠ্যের মধ্যে শব্দ ও বর্ণের অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তনজনিত বিভ্রাট (تصحيف) সংশোধন করেছি এবং মূল পাঠ্যের যেকোনো বিকৃতি (تحريف) পরিমার্জন করেছি।

--------------------------------------------

১ সম্পাদনা (تحقيق): আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আদ-দারবিশ - দারুল কিতাব আল-আরাবি - সিরিয়া - "১৪০৪ হিজরি-১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ"।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌عظمة القرآن ووَحْدَتُه الموضوعية:

بقلم: عبد القادر أحمد عطا

قالت الجن حينما سمعوا القرآن من النبي صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا، يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا} 1، واهتزت عقيدة الشرك في قلب رجل من صناديد الكفر هو الوليد بن المغيرة حينما سمع بعض آياته من الرسول صلى الله عليه وسلم فقال: "ما هو بقول البشر"، وفزع أئمة الكفر من قريش حينما شاهدوا تأثير القرآن على القلوب، فقالوا لزعمائهم: {لا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ} 2، وسعى أهل النباهة من فتيان العرب -من أمثال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "يا رسول الله، علمني من هذا القرآن" حينما استأسر قلبه لسلطانه، واستشرف على عتبات الإسلام.

تلك واحدة من دلائل عظمة القرآن هي: سلطانه الروحاني الخفي على القلوب، وولايته المطلقة على مدارك الإنس والجن على السواء، وجاذبيته المضيئة لقلوب المهتدين والجاحدين جميعًا.

وقد يكون لبعض المكتوبات البشرية سلطان على المشاعر، وجاذبية للنفوس؛ ولكنها لم تصل في ماضي الزمان، ولن تصل في مستقبله إلى أعماق الروح، ولا إلى مستقر الإيمان واليقين، ولا إلى قمة التضحية في سبيلها بالمال والنفس، كما وصل الرواد الأوائل للإسلام إيمانًا بالقرأن، ويقينًا بسلطانه، واستشهادًا في سبيل دعوته، واحتمالًا لما لا يطيقه بشر في سبيل إعلاء كلمته.

تلك دلالة لا شك فيها من دلائل عظمة القرآن بالنسبة للمؤمنين،

--------------------------------------------

1 سورة الجن، الآيتان: 1، 2.

2 سورة فصلت، الآية: 26.
কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব ও এর বিষয়ভিত্তিক ঐক্য:

কলমে: আব্দুল কাদির আহমদ আতা

জ্বিন জাতি যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে কুরআন শ্রবণ করল, তখন তারা বলেছিল: {নিশ্চয় আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরিক করব না} ১। কুফরের অন্যতম প্রধান নেতা ওয়ালিদ বিন মুগীরাহর অন্তরে শিরকের আকিদা কেঁপে উঠেছিল যখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এর কিছু আয়াত শ্রবণ করল। তখন সে বলেছিল: "এটি কোনো মানুষের কথা নয়।" কুরাইশদের কুফরি নেতৃত্বের ধারকগণ যখন হৃদয়ের ওপর কুরআনের প্রভাব প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তারা তাদের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিল: {তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করো না এবং এর পাঠকালে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা বিজয়ী হতে পারো} ২। আরব যুবকদের মধ্যে যারা প্রজ্ঞাবান ছিলেন—যেমন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু—তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এই কুরআন থেকে শিক্ষা দান করুন", যখন তাঁর অন্তর এর রাজকীয় প্রভাবে বশীভূত হয়েছিল এবং তিনি ইসলামের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিলেন।

কুরআনের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো: হৃদয়ের ওপর এর প্রচ্ছন্ন আধ্যাত্মিক প্রভাব, মানব ও জ্বিন উভয়ের বোধশক্তির ওপর এর নিরঙ্কুশ আধিপত্য এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সত্য অস্বীকারকারী সকলের হৃদয়ে এর দীপ্তিময় আকর্ষণ।

মানুষের রচিত কিছু লেখনীরও হয়তো আবেগের ওপর প্রভাব এবং মনের জন্য আকর্ষণ থাকতে পারে; কিন্তু তা অতীত কালে কখনও পৌঁছাতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও কোনোদিন রুহের অতল গহ্বরে পৌঁছাতে পারবে না। আর না তা ঈমান ও ইয়াকিনের মূল কেন্দ্রে এবং এর পথে জান-মালের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের শিখরে পৌঁছাতে পারবে, যে উচ্চতায় ইসলামের প্রাথমিক অগ্রপথিকগণ কুরআনের প্রতি ঈমান, এর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর অটল বিশ্বাস, এর দাওয়াতের পথে শাহাদাত বরণ এবং এর বাণী সমুন্নত রাখার নিমিত্তে মানুষের দুঃসাধ্য বিষয়সমূহ ধৈর্যের সাথে সহ্য করার মাধ্যমে পৌঁছেছিলেন।

মুমিনদের জন্য এটি কুরআনের শ্রেষ্ঠত্বের এক অনস্বীকার্য নিদর্শন।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-জ্বিন, আয়াত: ১, ২।

২ সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ২৬।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
يقابلها على نفس الطريق عنف المقاومة لهذا السلطان من جانب الكفار، وجبروت التعذيب الذي تسلطوا به على المؤمنين في مطلع الدعوة، فما لبثوا أن فجروا جديدًا من ينابيع الإيمان بما ابتكروا من وسائل التعذيب، ووحدوا شتات الدعاة الأوائل تحت راية الرسول صلى الله عليه وسلم بما نفثوا من سموم الحقد والعداء، فكان القرآن هو محور هذا الصراع الرهيب العجيب الذي دارت رحاه على رمال جزيرة العرب، والذي طاشت في نهايته أحلام المعارضين على وفرة المال والرجال والسلاح حينما ذلت رقابهم أمام قلة من الرجال، وقلة من المال، وإعواز في السلاح يحدوها طوفان غامر من اليقين، وإيمان راسخ بالقرآن، وانطباع كامل بأخلاقه، فتحطمت إلى الأبد شوكة الكفر، وشمخ إلى الأبد صرح القرآن.

وثانية الدلائل على عظمة القرآن: صموده أمام دعوات الهدم على مدى التاريخ الطويل، وتصديه لهجمات الإلحاد الضارية في ميدان الحرب وفي ميدان الفكر، فلم تزده تلك الهجمات إلا انطلاقًا إلى آفاق جديدة من الأرض، وانبلاجًا لنوره على صدر الزمان، وأعماقًا بعيدة لجذوره في القلوب، ولئن ذبلت في بعض أحقاب التاريخ همم أهل الحضارة القرآنية تحت تأثير الصدمات المتوالية واستجابة المؤمنين إلى أهواء النفوس، فما كان هذا الذبول إلا غفوة أعقبها استجماع للقوة، ورؤية مضيئة لحركة التاريخ كما حددها القرآن، فعاد الذبول نضارة، وكان من الضعف قوة، ومن آمال أهل الإلحاد تمزق وخيبة وانحلال، وكان من هذا التمزق دفع لمجتمع المؤمنين إلى ذروة التاريخ.

لقد عانت حضارة القرآن تسلط قريش، وجبروت الروم، وجدل الفرس، وسلاح الصليبية، ولؤم اليهودية العالمية، وأخيرًا عانت بريق المذاهب السياسية والاقتصادية وأخصها الشيوعية اليهودية، وكان من أبناء الإسلام أعوان لهؤلاء المتآمرين حاولوا قهر الأعزة على أوهام الشيوعية، فأعزوا في سبيل ذلك أهل الأهواء؛ ولكن أولئك جميعًا ذلوا
একই পথে এর বিপরীতে ছিল এই কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে কাফেরদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের প্রচণ্ডতা এবং নির্যাতনের সেই নিষ্ঠুরতা, যা দাওয়াতের সূচনালগ্নে তারা মুমিনদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু অচিরেই তারা তাদের উদ্ভাবিত নির্যাতনের পন্থাসমূহের মাধ্যমে ঈমানের ঝরনাধারা থেকে নতুন প্রাণের সঞ্চার করল এবং তাদের বিদ্বেষ ও শত্রুতার বিষবাষ্প ছড়ানোর মাধ্যমে আদি দাওয়াতদানকারীদের বিচ্ছিন্নতাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করল। ফলে কুরআনই ছিল এই ভয়াবহ ও বিস্ময়কর সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু, যার যুদ্ধ আবর্তিত হয়েছিল আরব উপদ্বীপের তপ্ত বালুকারাশিতে। পরিশেষে বিরোধীদের ধন-সম্পদ, জনবল ও অস্ত্রের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও তাদের সকল স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল, যখন তারা একদল স্বল্পসংখ্যক মানুষ ও নগণ্য সহায়-সম্বলের সামনে মস্তক অবনত করল। সেই স্বল্পসংখ্যক মানুষ অস্ত্রের অভাব থাকা সত্ত্বেও এক প্রবল দৃঢ় বিশ্বাস, কুরআনের প্রতি অবিচল ঈমান এবং এর সুমহান চরিত্রের পূর্ণ প্রতিফলনে উদ্দীপ্ত ছিল। ফলে কুফরি শক্তির দম্ভ চিরতরে চূর্ণ হয়ে গেল এবং কুরআনের সুউচ্চ প্রাসাদ চিরকালের জন্য সমুন্নত হলো।

কুরআনের মহত্ত্বের দ্বিতীয় নিদর্শন হলো: দীর্ঘ ইতিহাসজুড়ে একে মিটিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার সামনে এর অটল স্থায়িত্ব এবং যুদ্ধক্ষেত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানে নাস্তিকতার প্রচণ্ড আক্রমণের বিরুদ্ধে এর সফল প্রতিরোধ। এসব আক্রমণ কুরআনকে কেবল নতুন নতুন দিগন্তের দিকেই ধাবিত করেছে, সময়ের বক্ষে এর জ্যোতিকে উদ্ভাসিত করেছে এবং মুমিনদের হৃদয়ের গভীরে এর শিকড়কে আরও দৃঢ়মূল করেছে। ইতিহাসের কোনো কোনো যুগে যদি ধারাবাহিক আঘাতের প্রভাবে এবং মুমিনদের নফসের প্রবৃত্তির তাড়নায় কুরআনকেন্দ্রিক সভ্যতার ধারকদের উদ্যম কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়ে থাকে, তবে সেই ম্লান হওয়া ছিল কেবলই এক সাময়িক তন্দ্রাচ্ছন্নতা, যার পরপরই শক্তি সঞ্চয় এবং কুরআন নির্দেশিত ইতিহাসের গতিধারার এক আলোকোজ্জ্বল দূরদর্শিতা অর্জিত হয়েছিল। ফলে সেই ম্লান অবস্থা সজীবতায় রূপ নিল, দুর্বলতা শক্তিতে রূপান্তরিত হলো, আর নাস্তিকদের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিন্নবিচ্ছিন্নতা, ব্যর্থতা ও পতনে পর্যবসিত হলো। আর তাদের এই বিপর্যয়ই মুমিন সমাজকে ইতিহাসের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

কুরআনিক সভ্যতা কুরাইশদের আধিপত্য, রোমানদের প্রতাপ, পারস্যের বিতর্ক, ক্রুসেডারদের অস্ত্র এবং আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদের হীনমন্যতার মোকাবিলা করেছে। পরিশেষে এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন মতবাদ, বিশেষ করে ইহুদিবাদী কমিউনিজমের চাকচিক্যের অগ্নিপরীক্ষা দিয়েছে। ইসলামের সন্তানদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ এই ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগী হয়েছিল, যারা কমিউনিজমের অলীক ভাবনার মোহে সম্মানিত ব্যক্তিদের পরাজিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে তারা প্রবৃত্তির অনুসারীদের (أهل الأهواء) শক্তিশালী করেছিল; কিন্তু পরিশেষে তারা সবাই লাঞ্ছিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
أمام صلابة الحق في القرآن، وذهلوا حينما عجز المال والسلاح والتكتل الدولي عن النيل من إيمان أهل القرآن.

وثالثة الدلائل على عظمة القرآن بعد الصمود الذي لا يستطيعه إلا الكتاب الحكيم: أنه كتاب حضارة تندرج تحت لوائه الأمم والشعوب، وتستسلم حضاراتها لحضارته، فما تلبث أن يحتويها الإطار الشامل للإسلام الرحيب، وتتخذ نفس الصفة الشرعية لخير أمة أخرجت للناس، تأمر بالمعروف، وتنهى عن المنكر داخل النفس وخارجها، وداخل الأمة وبين الأمم الأخرى، وتؤمن بالحق والعدل عن الله فيصلًا وحكمًا بين الجميع، فلا عنصرية ولا عصبية، ولا استمساك بالذات؛ بل هو إنكار لها، وعمل للمجموع مع الاحتفاظ بكرامة الفرد وكيانه بعيدًا عن أي لون من ألوان الامتهان.

فعظمة القرآن نابعة من أنه لا يستجدي الشعوب أن يتبعوه، ولا الحضارات أن تذوب في حضارته؛ بل يعرض أمام العالم وجهه السمح الكريم، ويكشف عن رحابته النادرة بين دساتير الحضارة، ويعلن حربه الضارية على الظلم وامتهان الإنسان للإنسان، وامتهان الإنسان لنفسه وعقله، ويكشف الستر البراق عن عفن اللؤم البشري، وعن الحبائل التى ينصبها أعداء العدل، ومتلصصة الفكر، أولئك الذين يحاربون الله ورسوله لا لشيء إلا لأن الإيمان بهما يقف سدًّا منيعًا أمام أطماعهم وشهواتهم التي لا تدع قيمة إلا حطمتها، ولا مثلًا أعلى إلا شوهته وأذلت أهله، والداعين إليه.

وعلى مر القرون ما زال كبار المفكرين في العالم كله يشيدون بتلك السمة التى استعصى عليهم الجهر بها هذا الردح الطويل من الزمان.

ورابعة الدلائل على عظمة القرآن: سرعته المذهلة في بناء الحضارات إذا أتيح له من ينفذ تعاليمه من القادة على نفسه وأهله قبل أن ينفذها بين
কুরআনের সত্যের কঠোরতার সামনে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল, এবং তারা তখন হতবাক হয়ে যায় যখন অর্থ, অস্ত্র এবং আন্তর্জাতিক জোট কুরআনের অনুসারীদের ঈমানকে বিন্দুমাত্র টলাতে ব্যর্থ হয়।

দৃঢ়তার পর—যা কেবল প্রজ্ঞাময় কিতাবই প্রদর্শন করতে সক্ষম—কুরআনের মহত্ত্বের তৃতীয় প্রমাণ হলো: এটি এমন এক সভ্যতার কিতাব যার পতাকাতলে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠী সমবেত হয় এবং তাদের সভ্যতাগুলো এর সভ্যতার কাছে নতি স্বীকার করে। ফলে খুব শীঘ্রই ইসলামের প্রশস্ত ও সর্বজনীন পরিমণ্ডল তাদের ধারণ করে নেয় এবং তারা মানুষের কল্যাণে প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাহর সেই শরয়ী বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, যা নিজের অভ্যন্তরে ও বাইরে এবং উম্মাহর ভেতরে ও অন্য জাতিসমূহের মাঝে সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সত্য ও ন্যায়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে যা সকলের মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী ও বিধানদাতা হিসেবে কাজ করে। সেখানে কোনো বর্ণবাদ নেই, নেই কোনো গোত্রপ্রীতি, কিংবা আত্মকেন্দ্রিকতা; বরং এটি আত্মঅহংকারকে অস্বীকার করে এবং ব্যক্তির মর্যাদা ও অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সমষ্টিগত কল্যাণে কাজ করে, যেখানে কোনো প্রকার লাঞ্ছনার অবকাশ নেই।

কুরআনের মহত্ত্ব এখান থেকেই উৎসারিত যে, এটি জাতিসমূহকে তার অনুসরণের জন্য অনুনয় করে না, কিংবা সভ্যতাগুলোকে তার সভ্যতায় বিলীন হওয়ার আহ্বান জানায় না; বরং এটি বিশ্বের সামনে তার উদার ও মহান রূপটি পেশ করে এবং সভ্যতার সংবিধানগুলোর মাঝে তার বিরল প্রশস্ততা উন্মোচন করে। এটি জুলুম, মানুষের ওপর মানুষের অবমাননা এবং মানুষের নিজের ও নিজের বিবেকের ওপর যে অবমাননা—তার বিরুদ্ধে আপসহীন যুদ্ধ ঘোষণা করে। এটি মানুষের নীচতার পঙ্কিলতা এবং ন্যায়ের শত্রু ও চিন্তার তস্করদের পাতা ফাঁদগুলোর ওপর থেকে চাকচিক্যময় আবরণ উন্মোচন করে দেয়। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কেবল এ কারণেই যে, তাঁদের প্রতি ঈমান তাদের সেই লোভ ও লালসার সামনে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়, যা প্রতিটি মূল্যবোধকে ধ্বংস করে এবং প্রতিটি উচ্চতর আদর্শকে বিকৃত করে তার অনুসারী ও আহবায়কদের লাঞ্ছিত করে।

বিগত শতাব্দীগুলো ধরে সারা বিশ্বের প্রথিতযশা চিন্তাবিদগণ সেই বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে আসছেন, যা দীর্ঘকাল ধরে প্রকাশ্যে ব্যক্ত করা তাদের জন্য সুকঠিন ছিল।

কুরআনের মহত্ত্বের চতুর্থ প্রমাণ হলো: সভ্যতা বিনির্মাণে এর বিস্ময়কর গতি, যদি এমন নেতৃত্ব পাওয়া যায় যারা অন্যদের মাঝে এর শিক্ষাগুলো বাস্তবায়নের আগে নিজের এবং নিজের পরিবারের ওপর তা কার্যকর করেন...
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
جمهور المؤمنين، وهو الأمر الذي أهاب الله تعالى بالمؤمنين أن يحرصوا عليه، وضمن لهم في سبيل ذلك تمكينًا سريعًا، وزحفًا منصورًا، وعونًا من جند الله يفوق كل قوة وكل جبروت وكل سلاح، وصادف هذا النصح الإلهي من القلوب حبًّا لا يقاوم للقرآن.

وتدعيمًا لذلك فقد كان القرآن دستورًا حضاريًّا للعمل على مستوى الأمة كلها، عن طريق الحفظ والدرس والتلاوة الواعية والتدبر والاقتناع والتذكر والتطبيق السلوكي الدقيق، والدليل على أن تحويل القرآن إلى سلوك لم يفرض على المؤمنين بعصا السلطان؛ وإنما جاء عن طريق الدرس والتدبر والاقتناع بعظمة القرآن -ما رواه أبو عبد الرحمن السلمي قال: حدثنا الذين كانوا يقرءون القرآن -كعثمان وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهما وغيرهما- أنهم كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات لم يتجاوزوها حتى يعملوا بما فيها من العلم والعمل، قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعًا؛ ولهذا كانوا يبقون مدة في حفظ السورة.

وقال أنس بن مالك رضي الله عنه: كان الرجل إذا قرأ البقرة وآل عمران جد في أعيننا، وأقام عبد الله بن عمر رضي الله عنهما على حفظ البقرة ثماني سنين.

ويضيق بنا المقام إذا استقصينا أقوال الصحابة في هذا الصدد؛ ولكن الذي نريد أن نوضحه هنا هو أن سرعة الحضارة القرآنية في الانتشار والتأصل نابعة من هذا الينبوع العريق في الأصالة، فلا تتعثر الحضارات إلا من جهل الشعوب بالدساتير وأهدافها، أو من قصور تلك الدساتير في ذاتها، أو في إقناع الشعوب بجدواها، وفي كلا الحالين تختلف الشعوب مع السلطات، وتتمرد على القانون، ومن هنا لا تسرع الحضارة في سيرها نحو غايتها على فرض صلاحيتها، فضلًا عن النفقات الهائلة التي
মুমিনদের সাধারণ জনসমষ্টি, আর এটিই সেই বিষয় যার প্রতি মহান আল্লাহ মুমিনদের যত্নশীল হতে উৎসাহিত করেছেন এবং এর বিনিময়ে তাদের জন্য দ্রুত প্রতিষ্ঠা, সাহায্যপুষ্ট অগ্রযাত্রা এবং আল্লাহর বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন এক সাহায্যের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যা সকল শক্তি, দাপট ও অস্ত্রের ঊর্ধ্বে। আর এই খোদায়ী নসিহত হৃদয়ে কুরআনের প্রতি এক অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসার সৃষ্টি করল।

এর সমর্থনে কুরআন ছিল সমগ্র উম্মাহর কর্মপদ্ধতির জন্য একটি সভ্যতামূলক সংবিধান; যা হিফজ, পাঠদান, সচেতন তিলাওয়াত, গভীর অনুধাবন (التدبر), দৃঢ় বিশ্বাস, স্মরণ এবং সূক্ষ্ম আচরণগত প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতো। কুরআনকে আচরণে রূপান্তর করার বিষয়টি যে মুমিনদের ওপর কোনো শাসকের দণ্ড দিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং এটি ছিল অধ্যয়ন, গভীর অনুধাবন (التدبر) এবং কুরআনের মহত্ত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের ফসল—তার প্রমাণ হলো যা আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি বর্ণনা করেছেন (رواه)। তিনি বলেন: যারা আমাদের কুরআন পাঠ করাতেন—যেমন উসমান এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ও অন্যান্যরা—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, তারা যখন নবী (সা.)-এর কাছ থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, যতক্ষণ না সেগুলোর ইলম ও আমল সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো অতিক্রম করে যেতেন না। তারা বলতেন: আমরা কুরআন, ইলম ও আমল সবই একত্রে শিখেছি। আর এই কারণেই তারা কোনো একটি সূরা হিফজ করার জন্য দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি সূরা আল-বাকারাহ এবং আলে ইমরান পাঠ করত, তখন আমাদের দৃষ্টিতে তার মর্যাদা অনেক বেড়ে যেত। আর আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সূরা আল-বাকারাহ হিফজ করতে আট বছর সময় লাগিয়েছিলেন।

এই প্রসঙ্গে সাহাবীগণের (الصحابة) সকল উক্তি বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করতে গেলে আলোচনার পরিসর সংকুচিত হয়ে আসবে; তবে আমরা এখানে যা স্পষ্ট করতে চাই তা হলো, কুরআনি সভ্যতার দ্রুত বিস্তার ও এর শিকড় মজবুত হওয়ার রহস্যটি এই সুগভীর মৌলিক উৎস থেকেই উৎসারিত। মূলত সভ্যতাগুলো তখনই হোঁচট খায় যখন জনগণ তাদের সংবিধান ও এর লক্ষ্য সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, অথবা খোদ সেই সংবিধানের মাঝেই কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে, কিংবা সেটি জনগণকে এর উপযোগিতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়। উভয় ক্ষেত্রেই জনগণ কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বিমত পোষণ করে এবং আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ফলে সভ্যতা তার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্যের অভিমুখে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে না, তদুপরি যে বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে হয় তা তো আছেই...
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
يتطلبها إيقاف التيار المتمرد على السلطة، وتعويق السلطة لذلك عن المضي إلى غايتها.

أما حضارة القرآن فتختلف عن جميع الحضارات من هذه الوجهة، فالقرآن هو الفطرة البشرية التي لا تختلف فيها أمة ولا جنس، فهو مقنع لجميع الناس بجدواه وعظيم فائدته، ودافع لهم بما يحتويه من وجوه الحكمة الملائمة لجميع الأجناس إلى الدرس والتدبر الذي لا يزيد الناس إلا إيمانًا وإمعانًا في استكشاف الحِكَم التي لا تنتهي، ولا تضعف في قوتها على كثرتها الكاثرة، ومن هنا كان العلم بدستور الحضارة الإسلامية إلى جانب الاقتناع به عاملًا رئيسيًّا من عوامل السرعة في البناء، والقوة في الأسس التي تقوم عليها الحضارة، وتوفير جهود السلطات الحاكمة؛ حيث تتفرغ لارتياد آفاق جدية لإقامة صرح الإسلام على أرضها.

لقد أمر رب القرآن بتدبر القرآن فقال تعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ} 1، ونعى على من لا يتدبرونه فقال: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} 2، ولا يمكن أن يكون التدبر إلا مقرونًا بفقه المعاني والأهداف والحكمة؛ ولهذا لم يؤثر خلاف بين الصحابة على معاني القرآن إلا نادرًا، ولم يتهرب المخالفون للشريعة من الحدود المشروعة لأمثالهم؛ بل تقدموا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم طالبين إقامة الحد عليهم، رغم محاولات ردهم عن الاعتراف، والمشروعة للتثبت من أهلية طالب الحد، وجديته في طلب التطهير من الذنب؛ حيث وصل هذا التطهير إلى الموت رجمًا بالحجارة، وما كان ذلك إلا لأن هؤلاء قد وصلوا إلى درجة من الوعي القرآني والإسلامي لم يصل إليها واضعو الدساتير الأرضية فضلًا عن الشعوب المحكومة بها.

--------------------------------------------

1 سورة "ص"، الآية: 29.

2 سورة النساء، الآية: 82.
এটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ধারাকে প্রতিহত করার এবং এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার দাবি রাখে।

পক্ষান্তরে কুরআনিক সভ্যতা এই দিক থেকে সকল সভ্যতার চেয়ে স্বতন্ত্র। কারণ কুরআন হলো মানুষের সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة), যাতে কোনো জাতি বা বর্ণের ভিন্নতা নেই। এটি সকল মানুষকে এর কার্যকারিতা ও মহৎ উপযোগিতা দ্বারা আশ্বস্ত করে এবং এতে বিদ্যমান প্রজ্ঞার (حكمة) দিকগুলো—যা সকল জাতির জন্য উপযুক্ত—মানুষকে এমন গভীর অনুধাবনের (تدبر) দিকে ধাবিত করে যা মানুষের ঈমান (إيمان) এবং সেই অশেষ হিকমতসমূহ (حكم) উদ্ঘাটনের গভীরতাকে কেবল বৃদ্ধিই করে। এর প্রাচুর্য সত্ত্বেও এর শক্তিতে কোনো ঘাটতি দেখা দেয় না। এখান থেকেই ইসলামি সভ্যতার মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান এবং এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস নির্মাণের একটি প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে, যা নির্মাণকার্যে গতিশীলতা এবং সভ্যতার ভিত্তিসমূহকে মজবুত করার উপাদান। এটি শাসক কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টাকে সাশ্রয় করে; ফলে তারা তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে ইসলামের প্রাসাদ নির্মাণে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনে মনোনিবেশ করতে পারে।

কুরআনের রব কুরআন নিয়ে গভীর অনুধাবনের (تدبر) নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর অনুধাবন (تدبر) করে} ১। আর যারা এতে গভীর অনুধাবন (تدبر) করে না তাদের তিরস্কার করে বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর অনুধাবন (تدبر) করে না?} ২। আর অর্থ, উদ্দেশ্য ও প্রজ্ঞার গভীর উপলব্ধি (فقه) ছাড়া এই গভীর অনুধাবন (تدبر) সম্ভব নয়। এ কারণেই সাহাবীগণের (صحابة) মাঝে কুরআনের অর্থের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ পরিলক্ষিত হয়নি বললেই চলে। এমনকি শরিয়তের (شريعة) বিধান লঙ্ঘনকারীরাও তাদের মতো অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حدود) থেকে পলায়ন করেনি; বরং তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে নিজেদের ওপর দণ্ড (حد) কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন। যদিও দণ্ডপ্রার্থীর যোগ্যতা এবং পাপাচার থেকে পবিত্র হওয়ার আবেদনের ঐকান্তিকতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে শরয়ি পন্থায় তাদের স্বীকারোক্তি থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি সেই পবিত্রতা অর্জনের পর্যায়টি পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (رجم) পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এটি কেবলমাত্র এই কারণেই সম্ভব হয়েছিল যে, তাঁরা কুরআনিক ও ইসলামি সচেতনতার এমন এক সুউচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন যেখানে মানবরচিত সংবিধান প্রণেতারা তো দূরে থাক, তাদের দ্বারা শাসিত জাতিগুলোও পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি।

--------------------------------------------

১ সূরা "সোয়াদ", আয়াত: ২৯।

২ সূরা নিসা, আয়াত: ৮২।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
تلك عظمة لا تساق إليها الشعوب بالعصا؛ وإنما تقوم على رعايتها الشعوب بمحض الإيمان والغيرة والعلم والتطلع إلى مزيد من النجاح، الأمر الذي استطاع به الرسول صلى الله عليه وسلم وخلفاؤه بناء أعظم حضارة عرفها التاريخ في ربع قرن من الزمان، لا يكفي لإصلاح مدينة واحدة تحت لواء دستور أرضي في أي دولة من دول العالم، وفي جميع أحقاب التاريخ.

ولعل هذا المعنى العظيم هو الذي يفسر لنا الحوافز التى شرعها الله تعالى لحفَّاظ القرآن، والتالين له في مختلف الأوقات -لا سيما قرآن الفجر المشهود- حيث يصل الإنسان في هذا الوقت إلى درجة عليا من الصفاء الذي يهيئ لمن يصاحب القرآن فيه فهمًا لا يمكن أن يتيسر في وقت آخر، حتى لقد شجع النبي صلى الله عليه وسلم من يقرأ القرآن بلا فهم تذرعًا إلى دفعه إلى درجة من الفهم فيما بعد، وكذلك من تشق عليهم القراءة تدريبًا لهم على أن يألفوا القرآن فتسهل عليهم قراءته، ثم فهمه وتدبره، وكان القرآن شرطًا لصحة الصلاة، وأفضل ما يتقرب به العبد إلى ربه، إلى آخر ما هو مسطور في السنة النبوية المشرقة.

وخامسة الدلائل على عظمة القرآن: أن إجماع أهله حجة على الناس جميعًا في مختلف العصور، ولم يمنح الله تلك الصفة على المستوى العالمي لأمة غير أمة القرآن، وما كانت عظمة تلك الأمة على هذه الصورة العجيبة إلا من عظمة دستورها: كتاب الله الحكيم.

والذي يتصل بالقرآن من دلائل حجية إجماع المسلمين على العالم قول الله تعالى: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} 1، ولا خروج إلى النور إلا بالقرآن، فإذا أجمعوا على باطل كانت نتيجة إجماعهم إما بقاء الناس في الظلمات، وإما إعادة الناس من النور إلى الظلمات، وهو ما يشهد التاريخ بخلافه؛ إذ أمة القرآن بقيادة رسولهم صلى الله عليه وسلم ومن بعده من

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآية: 257.
সেটি এমন এক মহিমা যেখানে জাতিসমূহকে লাঠির জোরে পরিচালিত করা হয় না; বরং জাতিসমূহ কেবল পূর্ণ ঈমান, আত্মমর্যাদাবোধ, জ্ঞান এবং উত্তরোত্তর সাফল্যের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করেই এর পরিচর্যা করে। এই মহিমার মাধ্যমেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর খলিফাগণ মাত্র পঁচিশ বছরের ব্যবধানে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সভ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিশ্বের যেকোনো রাষ্ট্রের পার্থিব সংবিধানের অধীনে ইতিহাসের সকল যুগে একটি মাত্র শহরের সংশোধনের জন্যও এই সময়টুকু পর্যাপ্ত নয়।

সম্ভবত এই মহান তাৎপর্যই আমাদের সামনে সেই অনুপ্রেরণাগুলোকে ব্যাখ্যা করে যা আল্লাহ তাআলা কুরআনের হাফেজ এবং বিভিন্ন সময়ে তিলাওয়াতকারীদের জন্য নির্ধারণ করেছেন—বিশেষ করে ফজরের সময়ের তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে—যেখানে মানুষ নির্মলতার এমন এক উচ্চ শিখরে পৌঁছায় যা কুরআনের সাথী হওয়ার মাধ্যমে তাকে এমন বোধ অর্জনে সহায়তা করে যা অন্য কোনো সময়ে সম্ভব নয়। এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ব্যক্তিকে কুরআন পাঠে উৎসাহিত করেছেন যে অর্থ বুঝতে পারে না, যেন এটি তাকে পরবর্তী সময়ে উপলব্ধির স্তরে নিয়ে যাওয়ার অসিলা হয়। একইভাবে যাদের জন্য পাঠ করা কষ্টকর, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন যাতে তারা কুরআনের সাথে পরিচিত হতে পারে এবং তাদের পাঠ সহজ হয়, অতঃপর তারা তা অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণা করতে পারে। আর কুরআন ছিল সালাত সহীহ (صحيح) হওয়ার শর্ত এবং বান্দার নিজ রবের নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম, যা উজ্জ্বল সুন্নাহর (سنة) পাতায় বিস্তারিত বর্ণিত রয়েছে।

কুরআনের মহত্ত্বের পঞ্চম প্রমাণ হলো: বিভিন্ন যুগে সকল মানুষের ওপর এর অনুসারীদের ঐকমত্য (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة)। আল্লাহ তাআলা বিশ্বজনীনভাবে কুরআনের উম্মত ছাড়া অন্য কোনো উম্মতকে এই বৈশিষ্ট্য দান করেননি। এই উম্মতের এমন বিস্ময়কর মহত্ত্ব কেবল তাদের সংবিধান—আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাব থেকেই উৎসারিত।

মুসলিমদের ঐকমত্যের (إجماع) প্রামাণিকতার (حجية) দলিলের সাথে কুরআনের যে যোগসূত্র রয়েছে তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক, তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন} ১। আর কুরআন ছাড়া আলোর দিকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। সুতরাং তারা যদি কোনো বাতিলের ওপর একমত হতো, তবে তাদের সেই ঐকমত্যের (إجماع) ফলাফল হতো হয় মানুষের অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকা, অথবা মানুষকে আলো থেকে পুনরায় অন্ধকারের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। অথচ ইতিহাস এর বিপরীত সাক্ষ্য দেয়; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের নেতৃত্বে কুরআনের এই উম্মত...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৭।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
الأئمة جاهدوا الناس لإنقاذهم من شؤم الظلام إلى وضح النور، وما زال إجماعهم هكذا في مجال الرأي والفكر والاستنباط.

وحينما أعطى الله تعالى أمة القرآن سلطان الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كان ذلك سلطانًا من الله تعالى لهم أن يصيبوا الحق فيما كان معروفًا أو منكرًا عند الله حينما يجمعون على أحدهما أو عليهما معًا أو يختلفون فلا يعدوهم الحق، وكذلك يقول الله تعالى عن أمة القرآن: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} 1 فالوسط: من يُرتضى قوله، والشاهد: من يكون قوله حجة في مجلس القضاء للفصل في الخصومات، وهو إيذان بأن الحق لا يعدوهم مجتمعين أو مختلفين.

وهذه الصفة وإن كانت لأمة القرآن فإنما اكتسبوها من القرآن، فلولا أن القرآن مهيمن على جميع الكتب، ورسوله شاهد على شهداء الأمم كلها، وفيصل بين الحق الذي هو من عند الله وبين باطل تلك الأمم، لما كان لأهله تلك الصفة، ولا تلك العظمة المستمدة من القرآن على مستوى العالم كله في الدنيا، والتي تتعدى الدنيا إلى مجلس القضاء في الآخرة؛ حيث يشهد رسول القرآن صلى الله عليه وسلم على شهداء الأمم جميعًا.

وأخيرًا، فإن إعجاز القرآن هو العظمة الذاتية التي حار العلماء والمفكرون في الكشف عنها، وما زالوا يكتشفون منها كل يوم جديدًا، ولا يزالون كذلك ما دام القرآن متلوًّا أو محفوظًا في الصدور.

وليس القول بالإعجاز في القرآن موجهًا نحو العجز عن فهمه بالقدر الذي تقوم به الشريعة كما يحلو لبعض هواة الجدل حول الدين أن يتلمسوا معنًى بعيدًا عن نطاق الفكر الإسلامي كهذا المعنى الذى لم يقل به أحد، فيقيموا حوله سوقًا لئيمًا من الجدل، ويطلقوا القول بعدم

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآية: 143.
ইমামগণ (الأئمة) মানুষকে অন্ধকারের অশুভ থেকে আলোর স্বচ্ছতায় উদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং মতামত (رأي), চিন্তা ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যমত্য (إجماع) সর্বদা এভাবেই অটুট ছিল।

আর যখন মহান আল্লাহ কুরআনের উম্মতকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের কর্তৃত্ব দান করেছেন, তখন এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি প্রদত্ত এই অধিকার যে, তারা যেন আল্লাহর নিকট যা সৎ বা অসৎ হিসেবে গণ্য, তার প্রকৃত সত্য অর্জন করতে পারে; যখন তারা কোনো একটি বিষয়ের ওপর অথবা উভয়টির ওপর একমত হয় কিংবা মতভেদ করে, তখন সত্য তাদের ছাড়িয়ে যায় না। একইভাবে মহান আল্লাহ কুরআনের উম্মত সম্পর্কে বলেছেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسط) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী (شهيد) হতে পার এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন} ১। এখানে মধ্যপন্থী (وسط) বলতে এমন কাউকে বোঝায় যার কথা সন্তোষজনক এবং সাক্ষী (شهيد) বলতে তাকে বোঝায় যার কথা বিচারালয়ে বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়। এটি একটি ঘোষণা যে, তারা সম্মিলিত বা পৃথক যাই হোক না কেন, সত্য তাদের বহির্ভূত নয়।

আর এই বৈশিষ্ট্যটি যদিও কুরআনের উম্মতের, তথাপি তারা তা কুরআন থেকেই অর্জন করেছে। কেননা কুরআন যদি পূর্ববর্তী সকল কিতাবের ওপর কর্তৃত্বশীল না হতো এবং এর রাসূল যদি সকল উম্মতের সাক্ষীদের ওপর সাক্ষী না হতেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সত্য ও সেই উম্মতদের বাতিলের মধ্যে মীমাংসাকারী না হতেন, তবে এর অনুসারীদের জন্য এই বৈশিষ্ট্য বা কুরআনের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিশ্বব্যাপী সেই মহানুভবতা অর্জিত হতো না, যা দুনিয়া অতিক্রম করে আখেরাতের বিচারালয় পর্যন্ত বিস্তৃত; যেখানে কুরআনের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল উম্মতের সাক্ষীদের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করবেন।

পরিশেষে, কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) হলো সেই স্বকীয় মহিমা যা উন্মোচনে আলেম ও চিন্তাবিদগণ বিস্ময়াভিভূত হয়েছেন এবং আজও তারা প্রতিদিন তা থেকে নতুন নতুন রহস্য উন্মোচন করে চলেছেন। আর যতক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করা হবে অথবা মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত থাকবে, ততক্ষণ এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত বক্তব্যটি কেবল শরীয়াহ (شريعة) পালনের জন্য যতটুকু অনুধাবন প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে অক্ষমতার দিকে নির্দেশ করে না, যেমনটি দ্বীন নিয়ে বিতর্কপ্রিয় কিছু শৌখিন লোক করতে পছন্দ করে; তারা ইসলামি চিন্তাধারার বহির্ভূত এমন এক দূরবর্তী অর্থ খোঁজার চেষ্টা করে যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি। এর মাধ্যমে তারা বিতর্কের এক হীন ক্ষেত্র তৈরি করে এবং এই বলে দাবি তোলে যে...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৩।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
إعجازه من هذه الوجهة التي لم تخطر على بال مسلم من العامة فضلًا عن الخاصة، فيظن بعض البسطاء في نهاية تلك السوق نفي الإعجاز عن القرآن بالكلية؛ نتيجة لذلك اللؤم في الفكر، أو لهذه الهواية البهلوانية مما يشبه ألعاب "السيرك" من الكلام يقتل به صاحبه نفسه، ويقتل غيره، وحسبه أن تلوك الألسنة اسمه على أي صفة وأي صورة من الصور والصفات حتى ولو كانت باللعنات المترادفات.

عظمة القرآن في أنه آية من آيات الله واضحة المعنى والهدف بالقدر الذي يحتمله البشر، ويفهم منه القانون الإلهي، سهل الأسلوب؛ حتى ليخيل لمن مارس طريقته أنه يستطيع مثله، فإذا حاول عجز عجزًا كاملًا، واعتراه النقص والتخبط مهما أجهد عقله ونفسه، وراضها على تلك الحكمة الأسلوبية الناصعة الوضوح في القرآن.

ولهذا كان وصف الوليد بن المغيرة للقرآن واضحًا في أن نسق القرآن مغاير تمامًا لنسق الكلام البشري، فما هو إلا ضرب من القول فوق قدرات البشر سماه: "سحرًا يؤثر".

قال الوليد لأبي جهل: والله ما فيكم رجل أعلم بالشعر مني، ولا برجزه، ولا بقصيده، ولا بأشعار الجن، والله ما يشبه الذي يقول شيئًا من هذا، ووالله إن لقوله الذي يقوله لحلاوة، وإن عليه لطلاوة، وإنه لمثمر أعلاه، مغدق أسفله، وإنه ليعلو ولا يُعلى عليه، وإنه ليحطم ما تحته.

فلما قال له أبو جهل: إن هذا القول لا يرضى به قومه، فكر طويلًا فلم يجد إلا أن ينسبه إلى قوة من القوى غير المنظورة، وغير المقدورة، فقال: "سحر يؤثر"، وبطلان نسبة القرآن إلى السحر معلوم؛ ولكن نسبة الوليد إياه إلى تلك القوة غير المنظورة يبطن العجز عن معارضته، وشلل القدرة العربية -على الأقل في ذلك العصر وفي وسط الكفار الذين يتلمسون وجهًا للمعارضة- عن الإتيان بمثله، فهو وإن لم
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর অলৌকিকত্ব যা সাধারণ মুসলিম তো বটেই, এমনকি বিশেষ স্তরের মানুষের মনেও উদিত হয়নি। ফলে সেই বাজারের শেষে কিছু সাধারণ মানুষ চিন্তার এই হীনম্মন্যতার দরুণ অথবা কথার কসরত নিয়ে এই ধরণের সার্কাসসুলভ শখের বশবর্তী হয়ে কুরআন থেকে অলৌকিকত্বের গুণটি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে বসে, যার মাধ্যমে বক্তা নিজেকে এবং অন্যকে ধ্বংস করে। তার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, মানুষের মুখে মুখে তার নাম আলোচিত হবে—সেটি যেভাবেই হোক বা যে রূপেই হোক, এমনকি তা যদি ক্রমাগত অভিশাপের মাধ্যমেও হয়।

কুরআনের মহিমা এতেই নিহিত যে, এটি মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এমন একটি নিদর্শন যার অর্থ ও উদ্দেশ্য মানুষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী অত্যন্ত স্পষ্ট, এবং যা থেকে ঐশী আইন অনুধাবন করা যায়। এর শৈলী অত্যন্ত সহজ; এমনকি যে এর ভাষারীতি চর্চা করে, তার মনে হতে পারে যে সেও এর অনুরূপ কিছু তৈরি করতে সক্ষম হবে। কিন্তু যখনই সে চেষ্টা করে, সে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যে অপূর্ণতা ও বিভ্রান্তি প্রকাশ পায়—তা সে তার বুদ্ধি ও আত্মাকে যতই নিয়োজিত করুক না কেন এবং কুরআনের সেই অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট শৈল্পিক প্রজ্ঞার সাথে নিজেকে যতই অভ্যস্ত করুক না কেন।

এই কারণেই কুরআনের ব্যাপারে ওয়ালিদ বিন মুগিরার বর্ণনা অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল যে, কুরআনের বিন্যাস মানবীয় বাকরীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি মানুষের সক্ষমতার ঊর্ধ্বে এক বিশেষ বাণী, যাকে সে "প্রভাবশালী জাদু" বলে অভিহিত করেছিল।

ওয়ালিদ আবু জাহলকে বলেছিল: "আল্লাহর শপথ! তোমাদের মধ্যে কাব্য, ছন্দ, কবিতা কিংবা জিনদের কাব্য সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক পারদর্শী আর কেউ নেই। আল্লাহর শপথ! তিনি যা বলেন, তা এগুলোর কোনোটির সাথেই সদৃশ নয়। আল্লাহর শপথ! তিনি যা বলেন তাতে এক অনন্য মাধুর্য আছে এবং এর ওপর এক বিশেষ লাবণ্য বিরাজমান। এর উপরিভাগ ফলদায়ক এবং এর তলদেশ প্রাচুর্যময়। এটি অবশ্যই বিজয়ী হয় এবং এর ওপর অন্য কিছু বিজয়ী হতে পারে না; আর এটি এর নিচে থাকা সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।"

আবু জাহল যখন তাকে বলল যে, তার জাতি এই কথায় সন্তুষ্ট হবে না, তখন সে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করল। অতঃপর একে এক অদৃশ্য ও অজেয় শক্তির সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পেল না। তাই সে বলল: "এটি তো প্রভাবশালী জাদু।" কুরআনের সাথে জাদুর এই সম্বন্ধের অসারতা সর্বজনবিদিত; তবে ওয়ালিদের একে সেই অদৃশ্য শক্তির সাথে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি মূলত একে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে তার অক্ষমতাকে এবং অন্তত সেই যুগে কাফেরদের মাঝে—যারা বিরোধিতার কোনো পথ খুঁজছিল—এর অনুরূপ কিছু আনয়নে আরবদের সক্ষমতার স্থবিরতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
يعزل القرآن عن القدرة البشرية عزلًا كاملًا؛ بل أبقى من يستطيع السحر قادرًا على مثله، فقد زلزل بهذا الرأي عموم القدرة الإنسانية على مثله، وشهادة العدو بذلك شهادة بالإعجاز إذا راعينا جانب الكفر واللدد في الخصومة في وزن هذا القول بميزان علمي دقيق.

ومن أحسن ما قيل في تعليل إعجاز القرآن ما قاله ابن عطية في مقدمة تفسيره "1/ 278": "إن الله قد أحاط بكل شيء علمًا، فإذا ترتبت اللفظة من القرآن عَلِمَ بإحاطته أي لفظة تصلح أن تلي الأولى، وتبين المعنى بعد المعنى، ثم كذلك من أول القرآن إلى آخره، والبشر يعمهم الجهل والنسيان والذهول، ومعلوم ضرورة أن أحدًا من البشر لا يحيط بذلك، فبهذا جاء نظم القرآن في الغاية القصوى من الفصاحة، وبهذا يبطل قول من قال: إن العرب كان في قدرتها الإتيان بمثله فصرفوا عن ذلك، والصحيح أنه لم يكن في قدرة أحد قط؛ ولهذا ترى البليغ ينقح القصيدة أو الخطبة حولًا، ثم ينظر فيها فيغيِّر فيها، وهلم جرًّا، وكتاب الله لو نزعت منه لفظة، ثم أدير لسان العرب على لفظة أحسن منها لم يوجد … وقامت الحجة على العالم بالعرب؛ إذ كانوا أرباب الفصاحة، ومظنة المعارضة".

لقد كان العرب أشد الناس أنفة، وأكثرهم مفاخرة، والكلام سيد عملهم، فكان من المحال أن يطيقوا ثلاثًا وعشرين سنة من التحدي ولا يعارضونه لو استطاعوا إلى ذلك السبيل.

ونقل السيوطي عن حازم في منهاج البلغاء ما يتم به كلام ابن عطية؛ إذ قال: وجه الإعجاز في القرآن من حيث استمرت الفصاحة والبلاغة فيه من جميع أنحائها في جميعه استمرارًا لا يوجد له فترة ولا يقدر عليه أحد من البشر، وكلام العرب ومَن تكلم بلغتهم لا تستمر الفصاحة والبلاغة من جميع أنحائها في العالي منه إلا في الشيء اليسير المعدود، ثم
এটি কুরআনকে মানবীয় ক্ষমতা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে; বরং যারা জাদু করতে সক্ষম তাদের এর অনুরূপ করার ক্ষমতা থেকেও দূরে রেখেছে। এই মতামতের মাধ্যমে এর অনুরূপ কিছু সৃষ্টিতে মানুষের সাধারণ সক্ষমতাকে নাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শত্রুর এই সাক্ষ্য অলৌকিকত্বের (إعجاز) সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য, যদি আমরা সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে এই উক্তির গুরুত্ব মূল্যায়ন করার সময় কুফরি এবং চরম শত্রুতার দিকটি বিবেচনা করি।

কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) কারণ বর্ণনায় ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসীরের মুকাদ্দিমায় (১/২৭৮) যা বলেছেন, তা অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তব্য: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুকে তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে আছেন। সুতরাং যখন কুরআনের কোনো শব্দ বিন্যস্ত করা হয়, তখন তিনি তাঁর পরিবেষ্টিত জ্ঞানের মাধ্যমে জানেন যে প্রথম শব্দটির পরে কোন শব্দটি বসানো উপযুক্ত এবং যা একটি অর্থের পর আরেকটি অর্থকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবেই বিন্যাস করা হয়েছে। পক্ষান্তরে অজ্ঞতা, বিস্মৃতি এবং অমনোযোগিতা মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আর এটি স্বতঃসিদ্ধ যে মানুষের মধ্যে কেউই এরূপ জ্ঞানের অধিকারী নয়। এ কারণেই কুরআনের বিন্যাস বাগ্মিতার (فصاحة) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমেই তাদের বক্তব্য বাতিল হয়ে যায় যারা বলে যে: আরবরা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখত, কিন্তু তাদের সে সক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া (صرفوا) হয়েছিল। সঠিক কথা হলো, এটি কখনোই কারো সাধ্যায়ত্ত ছিল না। এই কারণেই আপনি দেখবেন একজন সুবক্তা একটি কবিতা বা ভাষণকে এক বছর ধরে পরিমার্জন করেন, তারপর পুনরায় সেটি দেখেন এবং পরিবর্তন করেন—এভাবেই চলতে থাকে। কিন্তু আল্লাহর কিতাব থেকে যদি একটি শব্দও সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে তদপেক্ষা উত্তম কোনো শব্দ খোঁজার জন্য সমগ্র আরবি ভাষা তন্নতন্ন করে তালাশ করা হয়, তবুও তা পাওয়া যাবে না … আর আরবদের মাধ্যমেই বিশ্বের কাছে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যেহেতু তারা ছিল বাগ্মিতার (فصاحة) অধিপতি এবং কুরআনের বিরুদ্ধে বিরোধিতার প্রধান ক্ষেত্র।"

আরবরা ছিল চরম আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং অত্যন্ত গর্বপ্রিয় জাতি, আর বাকপটুতা ছিল তাদের শ্রেষ্ঠ কাজ। সুতরাং এটা অসম্ভব ছিল যে তারা তেইশ বছর ব্যাপী এই চ্যালেঞ্জ সহ্য করে যাবে অথচ এর কোনো মোকাবিলা করবে না—যদি তারা সেই পথ খুঁজে পেত বা সক্ষম হতো।

সুয়ূতী তার 'মিনহাজুল বুলাগা' গ্রন্থে হাযেম থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছেন যা ইবনে আতিয়্যাহর বক্তব্যকে পূর্ণতা দান করে। তিনি বলেছেন: "কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকটি এই যে, এর আগাগোড়া সব দিক থেকেই বাগ্মিতা (فصاحة) এবং অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) এমন এক নিরবচ্ছিন্ন ধারা বজায় রয়েছে যার কোনো ছেদ নেই এবং যা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। অথচ আরবদের বক্তব্য বা যারা তাদের ভাষায় কথা বলে, তাদের উচ্চাঙ্গের কথাগুলোতেও সব দিক থেকে বাগ্মিতা (فصاحة) এবং অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) এই ধারা সামান্য কিছু অংশ ছাড়া অন্য কোথাও স্থায়ী হয় না।"
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
تعرض الفترات الإنسانية، فينقطع طيب الكلام ورونقه، فلا تستمر لذلك الفصاحة في جميعه؛ بل توجد في تفاريق وأجزاء منه.

وأي عظمة تعدل عظمة العجز عن معارضة نظم القرآن وأسلوبه على مدى أربعة عشر قرنًا من الزمان وإلى أن يرث الله الأرض ومَن عليها؛ حتى أصبح الكلام في هذا الموضوع في عصرنا ضربًا من صرف الناس عن عظمة التشريعات القرآنية، ولعبة لئيمة يمارسها الأعداء من جبابرة اللؤم والخداع.

وقد فطن المرحوم الأستاذ الدكتور محمد أحمد الغمراوي في الكتاب الأول من كتابه "الإسلام في عصر العلم" إلى دلالة نص من القرآن على عظمة القرآن وإعجازه الذي لن يزال ماضيًا في الأمم من وجهة نظر العلم؛ ذلك النص هو قول الله تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} 1، وقد لفت رحمه الله النظر إلى كلمات "الفطرة" و"الناس" و"لا تبديل لخلق الله"، فالفطرة هي السنن الإلهية الثابتة التي تقوم عليها الخلقة في أصلها، والناس لفظ شامل لمن عاش ومن سيعيش على ظهر الأرض من كل الشعوب والأمم، وعدم التبديل يدحض زيف العلماء التجريبيين الذين يحلو لهم مهاجمة الإسلام وغيره من الأديان بالتعارض مع العلم؛ وإنما التعارض وقع في تجاربهم لا في السنن الثابتة التي لما يصلوا إليها بعد، فظنوا القصور في أصل القوانين، بينما القصور ما زال في عقولهم وتجاربهم.

ويقول رحمه الله: "ومن أعجب عجائب تلك الآية الكريمة وصف الإسلام -دين القرآن- بأنه نفس الفطرة التي فطر الله الناس عليها، وهذا شيء فوق العقل البشري أن يتصوره فضلًا عن أن يسبق إليه في القديم

--------------------------------------------

1 سورة الروم، الآية: 30.
মানুষের মানবিক সীমাবদ্ধতাগুলো যখন প্রকাশ পায়, তখন বক্তব্যের মাধুর্য ও লাবণ্য ছিন্ন হয়ে যায়; ফলে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের মধ্যে সাবলীলতা বজায় থাকে না, বরং তা কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন অংশে ও খণ্ডবিশেষে বিদ্যমান থাকে।

বিগত চৌদ্দশ বছর ধরে এবং আল্লাহ তাআলা পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত কুরআনের সুসংগত বিন্যাস ও শৈলীর মোকাবিলা করতে অক্ষম হওয়ার এই যে মাহাত্ম্য, তার সমকক্ষ আর কী হতে পারে? এমনকি বর্তমান যুগে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা মানুষের মনোযোগকে কুরআনী বিধানের মহিমা থেকে বিচ্যুত করার একটি অপকৌশল এবং ধূর্ত ও প্রতারক জালিম শত্রুদের দ্বারা পরিচালিত একটি হীন চক্রান্তে পরিণত হয়েছে।

মরহুম অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ আল-গামরাউয়ি তাঁর 'আল-ইসলাম ফি আসরিল ইলম' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের মাহাত্ম্য এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) ওপর কুরআনের একটি মূলপাঠের (نص) নির্দেশনার স্বরূপ উপলব্ধি করেছেন, যা জাতিসমূহের মধ্যে চিরকাল বলবৎ থাকবে। সেই মূলপাঠ (نص) হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত করুন; আল্লাহর সেই প্রকৃতির (فطرة) অনুসরণ করুন, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সঠিক দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।" ১। মরহুম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এখানে 'প্রকৃতি' (فطرة), 'মানুষ' এবং 'আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই'—এই শব্দগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রকৃতি (فطرة) হলো সেই সুপ্রতিষ্ঠিত ঐশ্বরিক নিয়মাবলি (سنن) যার ওপর সৃষ্টির মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। আর 'মানুষ' শব্দটি এমন এক ব্যাপক শব্দ যা পৃথিবীর বুকে অতীতে বসবাসকারী এবং ভবিষ্যতে বসবাসকারী সকল জাতি ও গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর সৃষ্টির পরিবর্তনহীনতা সেই সমস্ত পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানীদের অপপ্রচারকে খণ্ডন করে যারা বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের স্ববিরোধিতার অজুহাতে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের ওপর আক্রমণ করতে পছন্দ করেন। মূলত এই স্ববিরোধিতা তাদের পরীক্ষালব্ধ ফলাফলে ঘটেছে, সেই অটল নিয়মাবলির (سنن) ক্ষেত্রে নয় যে পর্যন্ত তারা এখনও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে তারা নিয়মের মূলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে ধারণা করেছে, অথচ সীমাবদ্ধতা আসলে তাদের প্রজ্ঞা ও পরীক্ষার মধ্যেই রয়ে গেছে।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: "এই মহিমান্বিত আয়াতের সবচেয়ে বিস্ময়কর অলৌকিক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো ইসলামকে—কুরআনের দ্বীনকে—ঠিক সেই প্রকৃতি (فطرة) হিসেবে বর্ণনা করা যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এটি এমন এক উচ্চতর বিষয় যা কল্পনা করাও মানবীয় বুদ্ধির অতীত, প্রাচীন যুগে এই ভাবনায় উপনীত হওয়া তো অনেক দূরের কথা।"

--------------------------------------------

১ সূরা আর-রুম, আয়াত: ৩০।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
والحديث، والإنسانية كلها إلى الآن لا تعقل حتى إمكان تحقيقه، فلا فلاسفتها ولا مشرعوها يحدثون أنفسهم بالوصول يومًا إلى نظام ينطبق على الفطرة من جميع وجوهها، والمسلمون في شغل بما ينبذ إليهم الغرب من الآراء والمذاهب، غافلين عن الكنز الذي بين أيديهم، والنور الذي فوق أبصارهم، والنعمة الكبرى التى مَنَّ الله عليهم بها في الإسلام.

وحسب القرآن من العظمة أنه المعجزة الباقية على مدى الدهر؛ حيث اندثرت معجزات الرسل السابقين جميعًا بعد أداء وظيفتها في إقامة الدليل على صدق أولئك الرسل. وحسبه كذلك من العظمة أنه يتصل بالحياة ما بقيت الحياة، فبه حياة القلوب بالإيمان، وبه حياة الإيمان بالجهاد، وبه قيام الجهاد بمنهجه الأمثل في تربية إنسان الحضارة الأمثل، وبهذا الإنسان الموصول بالقرآن تنبض الحياة بالعدل، وبه يدبر الظلم والإلحاد، وما كانت معجزات الرسل السابقين كذلك؛ فقد كانت كلها إما متصلة بحياة جسد، أو متحدية وهم السحر، أو حجة على قوم بعينهم مردوا على الكفر فهلكوا بعدها بوسيلة تدمير غيبية، وما كذلك معجزة القرآن التى بقيت لتحقق مزيدًا من الاتساع في قاعدة الإيمان على مدى الزمان.

وَحْدَةُ الموضوع في القرآن:

لا أريد أن أطيل القول في موضوع تلاحم آيات القرآن من الوجهة التي طرقها الإمام السيوطي، وطرقها في عصره الإمام برهان الدين البقاعي في كتابه "نظم الدرر في تناسب الآي والسور" وهو موسوعة جيدة جدًّا في ستة مجلدات مخطوطة -كبار- وطرقها حديثًا المرحوم الأستاذ سيد قطب في كتابه "في ظلال القرآن"؛ وإنما أريد أن أحدد القول في وحدة موضوع القرآن من حيث هو قوانين فطرية تتدرج إلى قانون واحد فطري من وجهة الاجتماع البشري، لا يمكن بأي حال أن يتبدل ولا يتغير؛ بل إنه يحكم التصرفات البشرية في كل مكان،
এবং হাদিস—সমগ্র মানবজাতি বর্তমান সময় পর্যন্ত এর বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি। না তাদের দার্শনিকগণ, না তাদের আইনপ্রণেতাগণ কখনো কল্পনা করতে পারেন এমন এক ব্যবস্থায় পৌঁছানোর যা সকল দিক থেকে মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ। অথচ মুসলিমরা পাশ্চাত্য থেকে তাদের প্রতি ছুড়ে দেওয়া বিভিন্ন মতবাদ ও আদর্শ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, তারা উদাসীন সেই অমূল্য রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে যা তাদের হাতের কাছেই রয়েছে, সেই নূর সম্পর্কে যা তাদের চোখের সামনে বিদ্যমান এবং সেই মহান নেয়ামত সম্পর্কে যা আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে তাদের দান করেছেন।

কুরআনের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এটি মহাকালের বুকে এক চিরস্থায়ী মুজিজা; যেখানে পূর্ববর্তী সকল রাসূলদের মুজিজাগুলো সেই রাসূলদের সত্যতার প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব পালনের পর বিলীন হয়ে গেছে। কুরআনের মাহাত্ম্যের জন্য এটিও যথেষ্ট যে, এটি জীবনের সাথে সম্পৃক্ত যতক্ষণ জীবন অবশিষ্ট থাকবে। এর মাধ্যমেই ঈমানের দ্বারা হৃদয়ের জীবন লাভ হয়, জিহাদের দ্বারা ঈমানের জীবন গতি পায় এবং এক আদর্শ সভ্যতার মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে জিহাদ তার সর্বোত্তম পদ্ধতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত এই মানুষের মাধ্যমেই জীবনে ন্যায়বিচারের স্পন্দন অনুভূত হয় এবং এর মাধ্যমেই জুলুম ও নাস্তিকতা দূরীভূত হয়। পূর্ববর্তী রাসূলদের মুজিজাগুলো এমন ছিল না; সেগুলো হয় কোনো দৈহিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, অথবা জাদুর বিভ্রান্তিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ছিল, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রমাণ স্বরূপ ছিল যারা কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কোনো অতীন্দ্রিয় ধ্বংসলীলার মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কুরআনের মুজিজা এমন নয়, যা সময়ের আবর্তে ঈমানের ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত করার জন্য অবশিষ্ট রয়েছে।

কুরআনের বিষয়ের ঐক্য:

কুরআনের আয়াতসমূহের পারস্পরিক যোগসূত্র বা সামঞ্জস্যের বিষয়ে আমি দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না যে দৃষ্টিকোণ থেকে ইমাম সুয়ূতী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর যুগে ইমাম বুরহানউদ্দিন আল-বিকায়ি তাঁর "নাজমুদ দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার" গ্রন্থে আলোচনা করেছেন—যা বড় আকারের ছয়টি পাণ্ডুলিপি খণ্ডে অত্যন্ত চমৎকার একটি বিশ্বকোষ—এবং আধুনিককালে মরহুম উস্তাদ সাইয়েদ কুতুব তাঁর "ফি জিলালিল কুরআন" গ্রন্থে যেভাবে আলোচনা করেছেন। বরং আমি কুরআনের বিষয়ের ঐক্যের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই যে, এটি এমন কিছু স্বভাবজাত আইন যা মানবীয় সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অখণ্ড স্বভাবজাত আইনের স্তরে উপনীত হয়। এটি কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তিত বা বিবর্তিত হওয়ার নয়; বরং এটি সব স্থানেই মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويخضعها لسنته وتجاربه المنظورة وغير المنظورة في ثنايا القرآن والتي تتنافر مع أهواء الناس، وتتفق تمامًا مع الوعي العقلي الموصول بوعي البصيرة والروح؛ أي: الوعي العقلي المنفصل عن الهوى.

أقول: إن القانون الرئيسي الذي تدور حوله مواضيع القرآن الفرعية هو: أن الإنسان عبد فقير مأمور محبوس في مملكة عدوه، والله معبود غني مانح للحرية من سجن الدنيا إلى حقيقة الحرية في جواره الأعلى، ولا تجد تشريعًا في القرآن وفي أي باب من أبواب الفقه الإسلامي إلا وهو متصل بهذا القانون الرئيسي؛ بحيث تتضافر التشريعات كلها لتحقيق هذا الأصل وتحويله إلى عقيدة شاملة هي "لا إله إلا الله محمد رسول الله".

ولقد جاء القرآن الكريم بهذا الأصل الفطري مؤيِّدًا بنصوصه فروعه الأربعة: فنحن نراه يؤكد عبودية الإنسان وغيره من الكائنات في نصوص أشملها قوله تعالى: {إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا} 1، ويؤكد فقر العباد بقوله: {وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ} 2، وأكد أن الإنسان خاضع للأمر وليس بآمر ولا حاكم بقوله: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} 3، {وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} 4 إلى آخر ما ورد في القرآن من الأوامر الموجَّهة إلى الإنسان على وجه الإلزام، وأكد حبس الإنسان في مملكة عدوه بقوله تعالى: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ} 5، فبين أن الدنيا للذين لا نصيب لهم في الآخرة، وهم أعداؤنا، وأريد هذا المعنى الذي يكون شطرًا كبيرًا في العقيدة بقوله:

--------------------------------------------

1 سورة مريم، الآية: 93.

2 سورة محمد، الآية: 38.

3 سورة آل عمران، الآية: 128.

4 سورة الإنسان، الآية: 30.

5 سورة الشورى، الآية: 20.
এবং তিনি এটিকে তাঁর সুন্নাহ (নিয়ম) এবং কুরআনের ভাঁজে ভাঁজে বিদ্যমান তাঁর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অভিজ্ঞতার অধীন করেন, যা মানুষের প্রবৃত্তির সাথে সাংঘর্ষিক এবং অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মার চেতনার সাথে সম্পৃক্ত বুদ্ধিগত চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ; অর্থাৎ: প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত বুদ্ধিগত চেতনা।

আমি বলছি: কুরআনের আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো যে প্রধান নিয়মের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয় তা হলো: মানুষ হচ্ছে এক অভাবী দাস, যে আদিষ্ট এবং তার শত্রুর রাজ্যে বন্দি; আর আল্লাহ হচ্ছেন অভাবমুক্ত মা'বুদ, যিনি দুনিয়ার বন্দিশালা থেকে তাঁর উচ্চতর সান্নিধ্যে প্রকৃত স্বাধীনতার মুক্তিদাতা। আপনি কুরআন এবং ইসলামি ফিকহ (فقه)-এর যেকোনো অধ্যায়ে এমন কোনো বিধান পাবেন না যা এই মূল নিয়মের সাথে যুক্ত নয়; ফলে সকল বিধান এই মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠা করতে এবং একে একটি পূর্ণাঙ্গ আকিদা (عقيدة)-য় রূপান্তরিত করতে পরস্পরকে সহযোগিতা করে, আর তা হলো: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)।

পবিত্র কুরআন এই ফিতরাগত মূলনীতিটি তার নস (نصوص)-সমূহের মাধ্যমে এর চারটি শাখাকে সমর্থন করে উপস্থাপন করেছে: আমরা দেখতে পাই যে এটি মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টির দাসত্বকে এমন সব নস (نصوص)-এর মাধ্যমে সাব্যস্ত করে যার মধ্যে সর্বাধিক ব্যাপক হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আসমান ও যমীনে এমন কেউ নেই, যে দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না} ১; এবং তিনি বান্দাদের অভাবী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবী} ২; এবং তিনি এটিও নিশ্চিত করেছেন যে মানুষ আদেশের অধীন, সে কোনো নির্দেশদাতা বা শাসক নয়, তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এ বিষয়ে আপনার কোনো অধিকার নেই} ৩, {আর আল্লাহ যা চান তা ছাড়া তোমরা কিছুই চাইতে পার না} ৪—মানুষের প্রতি বাধ্যতামূলকভাবে অর্পিত কুরআনের অন্যান্য সকল নির্দেশের শেষ পর্যন্ত। আর মানুষের শত্রুর রাজ্যে বন্দি থাকার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন: {যে ব্যক্তি পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি; আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই, কিন্তু পরকালে তার কোনো অংশ থাকবে না} ৫। সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দুনিয়া তাদের জন্য যাদের পরকালে কোনো অংশ নেই, আর তারাই আমাদের শত্রু। আকিদা (عقيدة)-র একটি বিশাল অংশ জুড়ে থাকা এই অর্থটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে:

--------------------------------------------

১ সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৯৩।

২ সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৩৮।

৩ সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১২৮।

৪ সুরা আল-ইনসান, আয়াত: ৩০।

৫ সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ২০।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
{وَلَوْلا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ، وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ، وَزُخْرُفًا وَإِنْ كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ} 1.

وآيات الله في النفس إذا تأملها الإنسان مجردًا عن الكتب والرسالات السماوية تبينت له تلك القوانين الفطرية، وتأكد له أن القرآن لم ينزل إلا بهذه الفطرة التي هي الخلقة الإلهية بقوانينها العلمية الثابتة التي يواجهها إنسان العصر فاغرًا فاه من الدهشة متصورًا أنه على ضد في هذه الحياة؛ لكثرة ما اعتراه من النسيان، وصلابة ما غلف قلبه من رين الغفلة؛ حتى ظن الباطل حقًّا والحق باطلًا إلا من عصم الله، وقليل ما هم.

فالإجماع قد انعقد في جميع الأفهام على أن العبد: اسم خاص للمملوك من جنس العقلاء، والمملوك: اسم لعاقل قهره غيره فاستولى عليه استيلاء السيد على العبد، سواء أكان القاهر له إنسانًا مثله، أو شهوة من شهواته، أم طاغوتًا من الطواغيت، أم شيطانًا من الشياطين، أم هو قوة خفية لا يستطيع أن يميزها، ولا يتبين لها وجهًا ولا جهة، قاهرة عليا فوق كل القوى.

وتَأَمُّلُ الإنسان في نفسه دون تقيد بكتاب ولا رسول يؤكد له في أصل الفطرة أنه عاقل مقهور بالتكوين والإنشاء من العدم، وإذا كان مقهورًا بأصل الفطرة على هذه الصورة فقد انعدمت في فطرته المشيئة؛ لأن المشيئة عبارة عن نهاية الملكية، والإنسان قد فطر على ضدها من المملوكية التي أوضحناها، والدليل على فقدان الإنسان للمشيئة من واقع سلوكه أنه يشاء الكثير من الخير، ولا يصيب إلا المقدور له، والمقسوم منذ الأزل السحيق.

--------------------------------------------

1 سورة الزخرف، الآيات: 33-35.

{“আর যদি সকল মানুষ এক মতাদর্শের অনুসারী (কাফির) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি কুফরি করে, আমি তাদের গৃহের ছাদসমূহ এবং তাতে আরোহণের সিঁড়িগুলো রৌপ্য-নির্মিত করে দিতাম। এবং তাদের গৃহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক তৈরি করে দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত। এবং আমি তাদের স্বর্ণালঙ্কারও দিতাম; আর এ সব কিছুই তো কেবল পার্থিব জীবনের ভোগসামগ্রী মাত্র। আর আপনার প্রতিপালকের নিকট পরকাল কেবল মুত্তাকীদের জন্য।”} ১.

মানুষ যদি আসমানি কিতাব এবং রিসালাতের বন্ধনমুক্ত হয়ে কেবল নিজের সত্তার মধ্যে নিহিত আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা করে, তবে তার নিকট সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত নিয়মগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার নিকট এটি সুনিশ্চিত হয় যে, কুরআন কেবল সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) আলোকেই অবতীর্ণ হয়েছে যা মূলত ঐশ্বরিক সৃষ্টি এবং তার সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলির বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান যুগের মানুষ যখন এর মুখোমুখি হয়, তখন সে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং নিজেকে এই জীবনের বিপরীত কোনো অবস্থায় কল্পনা করে। এটি ঘটে মূলত তার অত্যধিক বিস্মৃতি এবং তার হৃদয়ে পুঞ্জীভূত গাফিলতির কলুষতার কাঠিন্যের কারণে; এমনকি শেষ পর্যন্ত সে মিথ্যাকে সত্য এবং সত্যকে মিথ্যা মনে করতে শুরু করে, তবে তারা ব্যতীত যাদের আল্লাহ রক্ষা করেছেন, আর তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।

সমস্ত প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে এই বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত্য) (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ‘আবদ’ বা দাস হলো জ্ঞানসম্পন্ন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত মালিকানাধীন সত্তার একটি বিশেষ নাম। আর ‘মামলুক’ বা মালিকানাধীন হলো এমন এক জ্ঞানসম্পন্ন সত্তার নাম যাকে অন্য কেউ পরাভূত করে তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, যেমন একজন মনিব তার দাসের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে। চাই তাকে পরাভূতকারী সত্তাটি তার মতো কোনো মানুষ হোক, অথবা তার প্রবৃত্তিসমূহের কোনো লালসা হোক, কিংবা কোনো তাগুত (طاغوت), অথবা কোনো শয়তান (شيطان) হোক, কিংবা এমন কোনো গুপ্ত শক্তি হোক যা সে চিহ্নিত করতে পারে না এবং যার স্বরূপ বা দিক সে নিরূপণ করতে অক্ষম, অথচ তা সকল শক্তির ওপর এক বিজয়ী পরাক্রমশালী সত্তা।

কোনো কিতাব বা রাসুলের বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে মানুষের নিজের ভেতরকার চিন্তা ফিতরাতের মূলে তাকে এটি সুনিশ্চিত করে যে, সে অস্তিত্বহীনতা থেকে সৃজন ও সৃষ্টির নিরিখে এক বিজয়ী শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন জ্ঞানসম্পন্ন সত্তা। যখন সে ফিতরাতের মূলগত দিক থেকে এভাবে নিয়ন্ত্রিত, তখন তার ফিতরাত থেকে মাশিয়ত বা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি (مشيئة) বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ মাশিয়ত বা ইচ্ছাশক্তি (مشيئة) হলো মালিকানার চূড়ান্ত পর্যায়, অথচ মানুষকে এর বিপরীত ‘মালিকানাধীন’ বা পরাধীনতার বৈশিষ্ট্যে সৃষ্টি করা হয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি। মানুষের আচরণের বাস্তবতা থেকে তার মাশিয়ত বা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি (مشيئة) না থাকার প্রমাণ হলো এই যে, সে অনেক কল্যাণের ইচ্ছা করে, কিন্তু তার ভাগ্যে কেবল তাই জোটে যা তার জন্য নির্ধারিত এবং অনাদিকাল থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১. সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৩৩-৩৫।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وإذا تحققت العبودية في فطرة الإنسان، وتحقق عدم أهليته للملكية كان فقيرًا بفطرته، والفقر يقتضي الحجر وعدم التصرف إلا بإذن وسلطان من المالك الحق.

وإذا كان الإنسان في أصل الفطرة على ما وصفنا من العبودية والفقر يعيش على تلك البسيطة الهائلة من الأرض، ولا يستطيع النفوذ من أقطارها، كان مقامه عليها على تلك الصورة بحكم الحبس للمحنة والابتلاء، ولا يتصورها مملكة إلا من عجز عن إدراك الفطرة، واتخذ إلهه هواه، وادَّعى الحرية، وعلا في الأرض على الملوك على مدرجة الضلال.

والبلاء الذي يمتحن به الإنسان هو اختلاف بني جنسه حول تلك الحقائق الفطرية اختلافًا هائلًا، ومن وجهات مختلفة، فاختلف الناس حول الإذعان لتلك الحقائق، أو ادعاء ضدها من الحرية والغنى والحاكمية والسيادة، ثم اختلفوا حول الحق حينما اتفق بعضهم على أن عبودية الإنسان جبلة فطرية في أصل خلقته، ثم اختلقوا طرائق وشواكل حول الغيبيات كلها، لا سيما البعث الذي شكل الخلاف حوله مذهبًا دهريًّا على حكمة الفطرة من أولها إلى آخرها، فكان بعث الرسل وإنزال الكتب ضرورة لا محيص عنها؛ لإقامة الحجة، وهداية الناس، وحمايتهم من عواقب الخلاف حول الفطرة، وإن كان الخلاف في أصله هو الآخر فطرة وسنة من سنن الله في الخلق {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ، إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} 1، فإن الكتب والرسالات كانت لقمع الجنوح النفسي تحت تأثير الخلاف إلى فوضى مدمرة لا تبقي ولا تذر.

كان من أمهات المسائل التى عُنِيَ القرآن بفصل القول فيها: مسألة العبودية لله، ومسألة البعث للجزاء والكشف عن الحقيقة العظمى التي

--------------------------------------------

1 سورة هود، الآيتان: 118، 119.
যখন মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে (الفطرة) দাসত্ব (العبودية) বাস্তবায়িত হয় এবং তার মালিকানার অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়, তখন সে তার স্বভাবগতভাবেই নিঃস্ব (فقير) সাব্যস্ত হয়। আর এই নিঃস্বতা (الفقر) দাবি করে যে, প্রকৃত মালিকের পক্ষ থেকে অনুমতি ও কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে তার উপর বিধি-নিষেধ (الحجر) আরোপিত হবে এবং সে কোনো প্রকার ব্যয়ের অধিকার রাখবে না।

আর মানুষ যদি তার মূল ফিতরাত বা স্বভাবের (الفطرة) সেই অবস্থায় থাকে—যা আমরা দাসত্ব (العبودية) ও নিঃস্বতা (الفقر) হিসেবে বর্ণনা করেছি—এবং এই বিশাল পৃথিবীতে বসবাস করেও এর সীমানা অতিক্রম করতে সক্ষম না হয়, তবে এই অবস্থায় পৃথিবীতে তার অবস্থানটি পরীক্ষা ও ক্লেশের (الابتلاء) নিমিত্তে আবদ্ধ থাকার (الحبس) নামান্তর। যে ব্যক্তি ফিতরাত (الفطرة) উপলব্ধি করতে অক্ষম হয়েছে, নিজ প্রবৃত্তিকেই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, স্বাধীনতার (الحرية) দাবি তুলেছে এবং ভ্রান্তির (الضلال) সোপানে আরোহণ করে রাজাদের ন্যায় পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে, সে ব্যতীত অন্য কেউ এই ধরণীকে আপন রাজত্ব হিসেবে কল্পনা করতে পারে না।

আর মানুষকে যে পরীক্ষার (البلاء) সম্মুখীন করা হয়, তা হলো এই ফিতরাতগত সত্যসমূহ নিয়ে তার নিজ স্বজাতির মাঝে বিদ্যমান ব্যাপক ও বহুমুখী মতভেদ। ফলে মানুষ এই সত্যগুলোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কিংবা এর বিপরীতে স্বাধীনতা (الحرية), ঐশ্বর্য (الغنى), সার্বভৌমত্ব (الحاكمية) ও প্রভুত্বের (السيادة) দাবি করার ক্ষেত্রে মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। অতঃপর তারা সত্যের বিষয়েও মতবিরোধ করেছে; যদিও তাদের কেউ কেউ একমত হয়েছিল যে, মানুষের দাসত্ব (العبودية) হলো তার সৃষ্টিগত স্বভাবের (جبلة) মূল বৈশিষ্ট্য। এরপর তারা সমস্ত গায়েব বা অদৃশ্যের (الغيبيات) বিষয়াবলী নিয়ে নানা মত ও পথ উদ্ভাবন করেছে। বিশেষ করে পুনরুত্থান (البعث) সম্পর্কে তাদের মতভেদ ফিতরাতের (الفطرة) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান হিকমতের বিপরীতে একটি বস্তুবাদী দর্শনের (دهري) রূপ নিয়েছে। তাই অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠা (إقامة الحجة), মানুষকে হেদায়েত করা এবং ফিতরাত (الفطرة) সংক্রান্ত মতভেদের অশুভ পরিণতি থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য রাসূল প্রেরণ ও কিতাব অবতীর্ণ করা এক অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও মতভেদ স্বয়ং একটি স্বভাবজাত বিষয় এবং সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর একটি রীতি (سنة); যেমনটি এরশাদ হয়েছে: "যদি আপনার প্রতিপালক চাইতেন, তবে তিনি সমস্ত মানুষকে এক উম্মত করে দিতেন; কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে, তবে তারা নয় যাদের ওপর আপনার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।" মূলত আসমানি কিতাব ও রিসালাতসমূহের উদ্দেশ্য ছিল মতভেদের প্রভাবে ধ্বংসাত্মক বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়া নফসের প্রবণতাকে দমন করা, যা কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখে না।

কুরআন যে মৌলিক বিষয়গুলোর (أمهات المسائل) চূড়ান্ত মীমাংসা করতে গুরুত্বারোপ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: আল্লাহর দাসত্বের (العبودية) মাসয়ালা এবং প্রতিদান প্রদানের নিমিত্তে পুনরুত্থানের (البعث) মাসয়ালা ও সেই মহান সত্যের উন্মোচন যা—

--------------------------------------------

১. সূরা হুদ, আয়াত: ১১৮, ১১৯।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
اختلف حولها الإنسان في عالم الجسد المادي بما له من مقتضيات الخلاف واللدد في الخصومة، وتلك الحقيقة العظمى هي الوجود الإلهي، وإذعان كل الكائنات لسلطانه طوعًا أو كرهًا؛ ولذلك ارتبط إثبات البعث بإثبات الوجود الإلهي، وإثبات الدلائل على شمول علمه وقدرته، وارتبط كل ذلك بأصل الفطرة على الوجه الذي بيناه في هذه العجالة، وكان من تلك المسائل شطر كبير من القرآن، تبعًا لجهل أكثر الناس بها، ونسيان فطرتهم وهم يحاولون علمها، وتشددهم في إنكارها أو الغفلة عنها {وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لا يَبْعَثُ اللَّهُ مَنْ يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ، لِيُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ، إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} 1.

فلما كان الخلاف مركوزًا في الفطرة، لم تكن هناك سبيل إلى إدراك حقيقة البعث المؤكد للحقيقة الإلهية العظمى إلا حين يرتفع الخلاف بنقل الحياة إلى صورة أخرى ذات فطرة لا خلاف فيها، فيتحقق وجود حالة من الحياة مغايرة لتلك الحياة التي يحياها الإنسان في الدنيا ينكشف فيها الغطاء، ويحد البصر، فيرى ما لم يكن يراه من قبل {وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ} 2، فلا خلاف ولا تطاحن حول الحقائق.

ويطول بنا القول لو ذهبنا نستقصي منهج القرآن في إثبات هذا الشطر من فطرة الإنسان؛ ولكننا نشير إلى قسم آخر من أقسام تلك الفطرة؛ هو الحرية الإنسانية التي ترتبط هي الأخرى بموضوع البعث ارتباطًا وثيقًا؛ بحيث تشكل معه ومع العبودية والفقر إلى الله موضوعًا واحدًا، يتصل بموضوعات أخرى فرعية هي مقومات أو شواهد على صدق تلك الفطرة الإلهية الحكيمة، وتستغرق شطرًا كبيرًا من القرآن.

--------------------------------------------

1 سورة النحل، الآيات: 38-40.

2 سورة الحجر، الآية: 47.
বস্তুগত দেহের জগতে মানুষ এমন এক মহা সত্য নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছে, যাতে রয়েছে বিরোধ ও শত্রুতামূলক হঠকারিতার উপাদান; আর সেই মহা সত্য হলো আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাঁর সার্বভৌমত্বের প্রতি সকল সৃষ্টির স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বশ্যতা স্বীকার। এ কারণেই পুনরুত্থান প্রমাণ করার বিষয়টি আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের সাথে এবং তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার ব্যাপকতার দলিলসমূহ প্রমাণের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। আর এই সবকিছুই মানুষের মূল স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) সাথে সেই পদ্ধতিতে সম্পর্কিত যা আমরা এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বর্ণনা করেছি। মানুষের অধিকাংশের এ বিষয়ে অজ্ঞতা, তাদের সহজাত ফিতরাতকে বিস্মৃত হওয়া এবং এটি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের হঠকারিতা বা উদাসীনতার কারণে কুরআনের এক বড় অংশ এই বিষয়গুলো নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। {আর তারা আল্লাহর নামে তাদের কঠোর শপথ ব্যক্ত করে বলে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুত্থিত করবেন না। অবশ্যই করবেন, এটি তাঁর ওপর একটি সত্য প্রতিশ্রুতি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। এটি এ জন্য যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে তিনি তা তাদের নিকট সুস্পষ্ট করবেন এবং যাতে কাফিররা জানতে পারে যে তারা ছিল মিথ্যাবাদী (كاذبين)। কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য আমাদের বাণী কেবল এতটুকুই যে, যখন আমরা তা ইচ্ছা করি, তখন আমরা তাকে বলি: 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।} ১.

যেহেতু মতভেদ মানুষের ফিতরাতের গভীরে প্রোথিত, তাই আল্লাহর মহা সত্যকে সুনিশ্চিতকারী পুনরুত্থানের স্বরূপ উপলব্ধি করার আর কোনো পথ নেই যতক্ষণ না জীবনকে এমন এক ভিন্ন স্তরে স্থানান্তরের মাধ্যমে এই বিরোধ দূরীভূত হয় যেখানে ফিতরাতের মাঝে কোনো মতভেদ থাকবে না। ফলে সেখানে পার্থিব জীবনের চেয়ে ভিন্নতর এক জীবনব্যবস্থা তৈরি হবে যেখানে সব পর্দা উন্মোচিত হবে এবং দৃষ্টি হবে প্রখর। তখন মানুষ এমন কিছু প্রত্যক্ষ করবে যা আগে কখনও দেখেনি। {এবং আমি তাদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করে দেব} ২, ফলে সত্যকে কেন্দ্র করে কোনো মতভেদ বা সংঘাত থাকবে না।

মানুষের ফিতরাতের এই অংশটি প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে গেলে আমাদের আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে; তবে আমরা সেই ফিতরাতের অন্য একটি দিকের প্রতি ইঙ্গিত করছি; তা হলো মানুষের স্বাধীনতা। এটিও পুনরুত্থানের বিষয়ের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত; যা দাসত্ব ও আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতার সাথে মিলে এমন এক একক বিষয় গঠন করে যা অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট। সেই প্রসঙ্গগুলো মূলত এই প্রজ্ঞাপূর্ণ খোদায়ী ফিতরাতের সত্যতার ভিত্তি বা সাক্ষ্যস্বরূপ এবং তা কুরআনের এক বিশাল অংশ জুড়ে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৮-৪০।

২ সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৭।
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
لا حرية مطلقة للإنسان في هذه الدنيا، هكذا تنطق شواهد الفطرة التي جبل الله عليها الإنسان، وقامت عليها الشواهد في شريعته مما يمارسه نفس ذلك الإنسان الذي يدَّعي لنفسه الحرية والسيادة والغنى وهمًا وسرابًا لا حقيقة له في الذات ولا في الصفات، كما قرر القرآن.

والنموذج الواضح الذي يمكن الوصول من خلاله إلى هذه النتيجة الفطرية هو الغنى الذي ساد الناس بزعمه من جبابرة المال وملوك الأرض، حتى ملك العبيد، وخضعت له الرقاب، وجمع الجنود، واستولى على الأرض، فما له من منازع في أمر، ولا معقب في رأي، مطاع على عزة وامتناع في أنظار العامة من غير المستبصرين الباحثين عن الحقيقة في أصل الفطرة.

ويقول الإمام أبو زيد الدبوسي ردًّا على تلك الدعوى العريضة: إن هذا المدعِي للحرية والملك ما استقر سلطانه، وعلا مكانه بفطرته؛ وإنما بجنوده، وبأس عبيده، لا يستغني عنهم ساعة لاستدامة ما هو فيه، فهو يطلبهم بهواهم، وينيلهم مناهم، صدقًا برغبته فيهم، والناس يطيعونه رياء لخوفهم منه، أو طمعًا فيما في يده، وهو يطيع هوى من دونه، وهم يطيعون من فوقهم، وطاعته لهوى الناس ضرورية، وطاعة الناس له ليست ضرورية؛ لبقاء منزلتهم في أنهم عبيد فقراء مأمورون بلا وال، غير أن طاعة الناس له بأجسامهم، وطاعته لأهوائهم بقلبه فاستترت وما ظهرت إلا لأهل البصائر.

ويمضي الإمام الدبوسي في بيان العجيب إلى أن يقول مخاطبًا هذا النوع ممن يدعون الحرية والغنى:

فعميت وجلست على سرير العبودية للعبيد، وكان ائتمارك للجنود، وأحاطت بقلبك المكاره والآفات، وظننت أنك ملك، هيهات. ما أنت إلا مأمور حشمك، والرعية مأمور ملكهم، غير أن النفس لبست عليك مقام الائتمار بمسارعتك إلى الفعل قبل الأمر.
এই পৃথিবীতে মানুষের কোনো নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা নেই; মানুষের সহজাত প্রকৃতি (ফিতরাত), যার ওপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন, তার সাক্ষ্য এভাবেই দেয়। এমনকি তাঁর শরিয়তের প্রমাণাদিও এই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ সেই মানুষই বিভ্রম ও মরীচিকার বশবর্তী হয়ে নিজের জন্য স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অমুখাপেক্ষিতার দাবি করে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি তার সত্তা কিংবা গুণাবলির মধ্যে নেই—যেমনটি পবিত্র কোরআন সুনিশ্চিত করেছে।

সহজাত এই পরিণতির সপক্ষে একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো সেই ঐশ্বর্য, যা দুনিয়ার প্রতাপশালী ধনাঢ্য ও রাজন্যবর্গের দাবিমতে মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। এমনকি সে দাসদের মালিক হয়, মানুষের মস্তক তার সামনে অবনত হয়, সে সৈন্যবাহিনী সংগ্রহ করে এবং ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য কায়েম করে। ফলে কোনো বিষয়ে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না এবং তার সিদ্ধান্তের ওপর কোনো উচ্চবাচ্য চলে না। যারা প্রকৃত সহজাত সত্যের অন্বেষণে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন নয়, সেই সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে সে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অপরাজেয় হিসেবে মান্য হয়।

ইমাম আবু জায়েদ আদ-দাব্বুসি এই ব্যাপক দাবির খণ্ডনে বলেন: স্বাধীনতা ও রাজত্বের এই দাবিদার ব্যক্তির কর্তৃত্ব তার সহজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তার উচ্চমর্যাদাও সে কারণে নয়; বরং তা হয়েছে তার সৈন্যবাহিনী এবং দাসদের শক্তির মাধ্যমে। তার বর্তমান অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য সে এক মুহূর্তের জন্যও তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। ফলে সে তাদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী তাদের অন্বেষণ করে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে, যাতে তাদের প্রতি তার আসক্তি বজায় থাকে। আর মানুষ কেবল তার ভয়ে লোকদেখানো আনুগত্য করে অথবা তার ধন-সম্পদের লোভে। মূলত সে তার অধীনস্থদের মর্জির গোলামি করে, আর তারা তাদের ঊর্ধ্বতনের আনুগত্য করে। মানুষের মর্জির প্রতি তার এই আনুগত্য অপরিহার্য, কিন্তু তার প্রতি মানুষের আনুগত্য তেমন অপরিহার্য নয়; কারণ অভিভাবকহীন নিস্ব ও আজ্ঞাবহ দাস হিসেবে তাদের মূল অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকে। পার্থক্য শুধু এই যে, মানুষ কায়িকভাবে তার আনুগত্য করে, আর সে হৃদয়ের গভীর থেকে তাদের খেয়াল-খুশির আনুগত্য করে; যা প্রচ্ছন্ন থাকে এবং কেবল প্রজ্ঞাবানদের নিকটই তা প্রতিভাত হয়।

ইমাম আদ-দাব্বুসি এই বিস্ময়কর বর্ণনায় আরও অগ্রসর হয়ে স্বাধীনতা ও অমুখাপেক্ষিতার দাবিদারদের সম্বোধন করে বলেন:

“অতঃপর তুমি অন্ধ হয়ে গেলে এবং দাসদের দাসত্ব করার সিংহাসনে বসলে। তুমি তো আসলে তোমার সৈন্যদেরই আজ্ঞাবহ ছিলে এবং তোমার হৃদয়কে ঘিরে ধরেছে নানাবিধ অনিষ্ট ও আপদ। আর তুমি ধারণা করলে যে তুমিই রাজা—হায়, কতই না অসম্ভব! তুমি তো কেবল তোমার পরিচারকদের দ্বারা আদিষ্ট একজন, আর প্রজারা তাদের রাজার মাধ্যমে আদিষ্ট। পার্থক্য শুধু এই যে, তোমার প্রবৃত্তি তোমার আজ্ঞাবহতাকে একটি রাজকীয় আদেশের বিভ্রম দিয়ে আবৃত করেছে, কারণ তুমি নির্দেশের আগেই দ্রুততার সাথে কাজে প্রবৃত্ত হয়েছ।”
(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويمضي الإمام الدبوسي في بيانه العجيب إلى أن يقول مخاطبًا هذا النوع من الناس فيقول:

إن تصرفك في أموالك كلها متردد بين جائز مأمور به، وفاسد منهي عنه، وما هكذا علامة الملك والقهر؛ لكنه علامة الإذن على الفقر، غير أن الله تعالى خلقك للابتلاء مدة بقائك، وقرن بقاءك بغذائك، وخلق مما في الأرض منفعة لك إلى وقت انقضائك، فقسم لكل عبد نصيبًا مفرزًا؛ كي لا يتغالبوا فيتفانوا وجعل عليهم من أصلحهم قيمًا وهو السلطان، فهم يتمتعون بالأنصباء من يد القيم من أحوال طفولتهم وصغرهم، فإذا عقلوا سلمت إليهم الأنصباء لحق الإذن في التجارة دون إثبات الملك، فإذا بلغوا وكملت الحالة، ضربت عليهم الضرائب للمولى، وخوطبوا بأدائها مدة الحياة ليعتقوا إذا أدوا، وسلمت إليهم للحال الأنصباء لحق الإذن تسليم يد؛ ليتصور الأداء بحكم تباين الأيدي، وإن لم يكن في الحقيقة ملكًا للمؤدي، حتى لم يملكوا من أموالهم إلا بمقدار ما فك الله الحجر عنهم بالعقد.

وهنا يتصل هذا الموضوع بموضوع الرق في القرآن والشريعة بعدما انحسم القول في مشكلة الملك والحرية، والنصوص القرآنية المتعارضة في الظاهر، من حيث يثبت الملك في بعض النصوص للإنسان، ويرجع الملك كله لله وينتفي عن الإنسان في النصوص الأخرى، ثم يتصل الموضوع الواحد للقرآن بالتشريعات المالية وفروعها تحقيقًا للملك الإلهي والقدر المتاح للعباد بالتصرف، ثم بموضوع البقاء الإنساني بالتكاثر بعدما بقي المال، وما يتبع ذلك من أبواب التشريع، ثم بموضوع المجتمعات الإنسانية وحضاراتها التي لا تزدهر إلا تحت الأمر الإلهي، ولا تندثر إلا تحت التمرد على تلك الأوامر، وبموضوع القصص القرآني وتوجيه النظر نحوه في حركة التاريخ تحقيقًا لهذا الأصل الفطري الذي تدرج حتى وصل إلى قاعدة أوسع يحتمل فيها النسيان؛ ولهذا شرعت العبادات والذكر لدوام التذكر.
ইমাম দাবুসি তাঁর চমৎকার বর্ণনায় অগ্রসর হয়ে এই শ্রেণীর লোকদের সম্বোধন করে বলেন:

তোমার সমস্ত সম্পদের ওপর তোমার পরিচালনা হলো বৈধ (جائز) ও আদিষ্ট বিষয়, অথবা ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) ও নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে দোদুল্যমান। আর এটি আধিপত্য ও পূর্ণ মালিকানা (الملك)-এর চিহ্ন নয়; বরং এটি মুখাপেক্ষিতা (الفقر)-এর ওপর অনুমতির চিহ্ন। তবে মহান আল্লাহ তোমাকে তোমার জীবনকাল পর্যন্ত পরীক্ষার জন্য (للابتلاء) সৃষ্টি করেছেন এবং তোমার বেঁচে থাকাকে খাদ্যের সাথে যুক্ত করেছেন। তোমার শেষ সময় পর্যন্ত যা কিছু পৃথিবীতে আছে তাতে তোমার জন্য উপকার নিহিত রেখেছেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেক দাসের জন্য একটি পৃথক অংশ নির্ধারণ করেছেন; যাতে তারা একে অপরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ধ্বংস হয়ে না যায়। আর তিনি তাদের ওপর তাদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, আর তিনি হলেন সুলতান (শাসক)। তারা শৈশব ও কৈশোর থেকে তত্ত্বাবধায়কের হাত থেকে তাদের প্রাপ্য অংশসমূহ ভোগ করে। যখন তারা বুদ্ধিমান হয়, তখন মালিকানা (الملك) সাব্যস্ত করা ছাড়াই ব্যবসায়িক অনুমতির অধিকার হিসেবে তাদের প্রাপ্য অংশসমূহ তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়। অতঃপর যখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং অবস্থা পূর্ণতা পায়, তখন তাদের ওপর প্রকৃত মালিকের (আল্লাহর) উদ্দেশ্যে কর ধার্য করা হয় এবং জীবনভর তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে তা আদায়ের মাধ্যমে তারা মুক্তি লাভ করতে পারে। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে অনুমতির অধিকার হিসেবে তাদের হাতে অংশসমূহ অর্পণ করা হয় যাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে তা আদায়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে তা আদায়কারীর মালিকানা (الملك) নয়। এমনকি তারা তাদের সম্পদের ততটুকুরই মালিক হয় না যতটুকু আল্লাহ চুক্তির (بالعقد) মাধ্যমে তাদের ওপর থেকে আইনি সীমাবদ্ধতা (الحجر) তুলে নিয়েছেন।

এখানেই এই বিষয়টি কুরআন ও শরীয়াহর দাসত্ব (الرق) বিষয়ক প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত হয়, যখন মালিকানা (الملك) ও স্বাধীনতা (الحرية) সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যায়। আপাতদৃষ্টিতে (الظاهر) কুরআনের যে সমস্ত ভাষ্য (النصوص) বৈচিত্র্যপূর্ণ বা স্ববিরোধী মনে হয়—যেখানে কিছু ভাষ্যে (النصوص) মানুষের জন্য মালিকানা (الملك) সাব্যস্ত করা হয়েছে, আবার অন্য কিছু ভাষ্যে (النصوص) সমস্ত মালিকানা (الملك) আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে—সেই সব বিষয়ের সমাধানও এখানে পাওয়া যায়। অতঃপর কুরআনের এই একক বিষয়টি আর্থিক বিধান ও তার শাখা-প্রশাখার সাথে যুক্ত হয় যাতে ঐশ্বরিক মালিকানা (الملك) এবং বান্দাদের জন্য সম্পদ পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত হয়। এরপর এটি মানুষের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে টিকে থাকা এবং সম্পদের স্থায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত হয়। এরপর মানব সমাজ ও তাদের সভ্যতার বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়, যা কেবল খোদায়ী আদেশের অধীনেই বিকশিত হয় এবং সেই আদেশগুলোর অবাধ্যতার কারণেই ধ্বংস হয়ে যায়। এটি কুরআনের কাহিনীর বিষয়ের সাথেও সম্পৃক্ত এবং ইতিহাসের ধারায় একে অনুধাবনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সহজাত মূলনীতির সত্যতা নিশ্চিত করে, যা ধাপে ধাপে বিস্তৃত এমন এক ভিত্তির দিকে এগিয়ে যায় যেখানে বিস্মৃতি ঘটার সম্ভাবনা থাকে; আর এই কারণেই নিরন্তর স্মরণের জন্য ইবাদত ও জিকিরের বিধান দেওয়া হয়েছে।

(খণ্ড: ১) তানাসুকুদ্দুরারি ফি তানাসুবিস সুওয়ার = আসরারু তারতিবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولا يخلو موضوع من موضوعات التشريع من دليل واضح على تلك الفطرة الثابتة، وخير ما يمكن أن ندرك من خلاله موضوع الحرية الإنسانية هو موضوع الرق وما يتصل به من تشريعات؛ إذ إن الرق والعبودية لما كانا من فطرة الله تعالى التي فطر الناس عليها، وأن الملكية للإنسان في الدنيا ما هي إلا ابتلاء ينال الإنسان من خلالها ومن خلال الأوامر المتصلة بها حقيقة الحرية، فقد شرع الله من التشريعات السلوكية في هذا الصدد ما تتضح به تلك الفطرة لكل ذي عينين.

يملك الرجل أخاه ملك يمين بسبب مشروع هو أن يكون أو أحد أصوله ممن تمردوا على دعوة العبودية لله بالسلاح فأسروا في الحرب الدينية؛ ولكن رحمة الله اقتضت أن يشرع له وجه من وجوه الحرية هو "المكاتبة"، والكتابة باب واسع في الفقه الإسلامي، يشتري العبد حريته من سيده بمال معلوم، ولما كان العبد لا يملك، فقد ندب السيد إلى أن يأذن له في العمل بجزء من المال إحسانًا، ويتصرف العبد بقدر ما انفك عنه الحجر، كأنه مالك وليس إلا عبدًا، فإذا أدى عتق، وإذا عجز بقي عبدًا، ومن هذه القضية التي يمارسها الإنسان بأمر الله يمكن الفصل في قضية الحرية الكبرى على المستوى الغيبي، بعد دراستها على المستوى المشهود.

فالحرية الممنوحة من الله تعالى لعباده الذين أدوا ما وجب عليهم في دار الابتداء تشمل الذات في الدنيا والصفات في الآخرة جميعًا، ويشهد لذلك قوله تعالى عن هؤلاء الأحرار في دار النعيم: {لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ} 1، فما يريده هؤلاء الأحرار يتحقق بمجرد المشيئة، وتحقق المراد بمجرد المشيئة وإن كان حقًّا لله فقد أكرم الله به عبده المطيع بتكوين ما يشاؤه.

فإذا كانت الحرية في الدنيا هي خلاص حق الحر في نفسه وماله، فما

--------------------------------------------

1 سورة "ق"، الآية: 35.

শরীয়ত প্রণয়নের (تشريع) কোনো বিষয়ই সেই অটল স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) সুস্পষ্ট প্রমাণ থেকে মুক্ত নয়। মানুষের স্বাধীনতার বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হলো দাসত্ব (رق) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি। যেহেতু দাসত্ব ও গোলামি (عبودية) মহান আল্লাহর সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, এবং দুনিয়াতে মানুষের মালিকানা একটি পরীক্ষা (ابتلاء) মাত্র যার মাধ্যমে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আদেশসমূহের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করে; তাই আল্লাহ এই বিষয়ে এমন কিছু আচরণগত বিধান প্রণয়ন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি চক্ষুষ্মান ব্যক্তির কাছে সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একজন মানুষ তার ভাইকে শরীয়তসম্মত কারণে মালিকানাধীন করতে পারে; আর সেই কারণটি হলো, সে নিজে অথবা তার কোনো পূর্বপুরুষ অস্ত্র হাতে আল্লাহর গোলামির আহ্বানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং ধর্মীয় যুদ্ধে বন্দি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমত দাবি করেছে যে, তার জন্য স্বাধীনতার একটি পথ নির্ধারিত করা হোক, আর তা হলো 'চুক্তিবদ্ধ মুক্তি' (مكاتبة)। ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে মুকাতেবাহ একটি বিশাল অধ্যায়; যেখানে দাস একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তার মালিকের কাছ থেকে নিজের স্বাধীনতা ক্রয় করে। যেহেতু দাসের কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা নেই, তাই মালিককে উৎসাহিত করা হয়েছে যেন সে দাসের প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে তাকে উপার্জনের অনুমতি দেয়। দাস তার ওপর থেকে যতটুকু আইনি নিষেধাজ্ঞা (حجر) তুলে নেওয়া হয়েছে, ততটুকু সে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারে, যেন সে একজন মালিক—অথচ সে একজন দাস মাত্র। যদি সে অর্থ পরিশোধ করতে পারে তবে মুক্তি (عتق) লাভ করে, আর যদি অক্ষম হয় তবে দাস হিসেবেই থেকে যায়। মানুষ আল্লাহর নির্দেশে যে বিষয়টি চর্চা করে, তা থেকে অদৃশ্যের জগতের মহান স্বাধীনতার বিষয়টি ফয়সালা করা সম্ভব, দৃশ্যমান জগতের প্রেক্ষাপটে তা পর্যালোচনার পর।

পরীক্ষালয়ে (دار الابتداء) যারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে, সেই সব বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত স্বাধীনতা দুনিয়াতে তাদের সত্তা এবং আখিরাতে তাদের গুণাবলি—উভয়কেই শামিল করে। এর প্রমাণ হিসেবে জান্নাতবাসী সেই সব স্বাধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {সেখানে তারা যা চাইবে তা-ই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক} ১। এই সব স্বাধীন ব্যক্তিরা যা চাইবে, কেবল ইচ্ছার মাধ্যমেই তা বাস্তবায়িত হবে। কেবল ইচ্ছার মাধ্যমেই আকাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জন করা যদিও একমাত্র আল্লাহর হক, তবুও আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাকে যা চায় তা সৃষ্টি করে দেওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।

সুতরাং দুনিয়াতে স্বাধীনতা যদি নিজের সত্তা এবং মালের ওপর স্বাধীন ব্যক্তির হকের নিষ্কৃতি হয়, তবে...

--------------------------------------------

১ সূরা "ক্বাফ", আয়াত: ৩৫।