(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: -)
توضيح المقاصد والمسالك بشرح ألفية ابن مالك   (ابن أم قاسم المرادي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب : توضيح المقاصد والمسالك بشرح ألفية ابن مالك

المؤلف : أبو محمد بدر الدين حسن بن قاسم بن عبد الله بن عليّ المرادي المصري المالكي (المتوفى : 749هـ)

شرح وتحقيق : عبد الرحمن علي سليمان ، أستاذ اللغويات في جامعة الأزهر

الناشر : دار الفكر العربي

الطبعة : الأولى 1428هـ - 2008م

عدد الأجزاء : 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাওদিহুল মাকাসিদ ওয়াল মাসালিক বিশারহি আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক   (ইবনে উম্মে কাসিম আল-মুরাদি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ : তাওদিহুল মাকাসিদ ওয়াল মাসালিক বিশারহি আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক

লেখক : আবু মুহাম্মাদ বদরুদ্দিন হাসান বিন কাসিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-মুরাদি আল-মিসরি আল-মালিকি (মৃত্যু : ৭৪৯ হিজরি)

ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা : আব্দুর রহমান আলী সুলাইমান ، আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক

প্রকাশক : দারুল ফিকর আল-আরাবি

সংস্করণ : প্রথম ১৪২৮ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা : ৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: -)
ـ[توضيح المقاصد والمسالك بشرح ألفية ابن مالك]ـ

المؤلف: أبو محمد بدر الدين حسن بن قاسم بن عبد الله بن عليّ المرادي المصري المالكي (المتوفى: 749هـ)

شرح وتحقيق: عبد الرحمن علي سليمان، أستاذ اللغويات في جامعة الأزهر

الناشر: دار الفكر العربي

الطبعة: الأولى 1428هـ - 2008م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
—[আলফিয়া ইবনে মালিকের ব্যাখ্যায় তাওদিহুল মাকাসিদ ওয়াল মাসালিক]—

লেখক: আবু মুহাম্মাদ বদরুদ্দিন হাসান ইবনে কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলি আল-মুরাদি আল-মিসরি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৭৪৯ হিজরি)

ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা: আব্দুর রহমান আলি সুলাইমান, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক

প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৮ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

الحمد لله المنعوت بجميل الصفات، وصلى الله على سيدنا محمد أشرف الكائنات والمبعوث بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وعلى آله وصحبه الذين نصبوا أنفسهم للدفاع عن بيضة الدين حتى رفع الله بهم مناره، وأعلى كلمته وجعله دينه المرضيّ وطريقه المستقيم.

وبعد، فهذا "توضيح المقاصد والمسالك بشرح ألفية ابن مالك".

للمرادي المعروف بابن أم قاسم المتوفى عام 749هـ.

وفي هذا الشرح ظهرت شخصية ابن أم قاسم واضحة جلية دلت على قدرته وحصافة رأيه وتجلت فيه مواهبه وأفكاره.

ولا شك أنه شرح أوفى على الغاية ويمتاز بالدقة والسهولة، وإيضاحه لآراء النحاة ومذاهبهم.

وقد أرشد المؤلفين من بعده؛ لأن عنايته كانت متجهة إلى إيضاح ألفية ابن مالك وتبيان مقصودها.

فكان هذا الشرح مددا لمن بعده من شراح الألفية ومصدرا وثيقا لدى النحويين، وقد استمد منه المؤلفون خير ما يؤلفون.

وقد حققت من أول هذا الكتاب إلى باب الإضافة، نلت بهذا القسم درجة العالمية "الدكتوراه" مع مرتبة الشرف الأولى.

ثم حققت باقي الكتاب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উত্তম গুণাবলীতে ভূষিত। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর, যিনি সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ এবং হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের উপর, যারা দ্বীনের সুরক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত করেছিলেন, যার ফলে আল্লাহ তাদের মাধ্যমে দ্বীনের মিনারকে সমুন্নত করেছেন, তাঁর বাণীকে উচ্চকিত করেছেন এবং একে তাঁর পছন্দনীয় দ্বীন ও সরল পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অতঃপর, এটি হলো ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "তাওদীহুল মাকাসিদ ওয়াল মাসালিক"।

এটি আল-মুরাদী কর্তৃক রচিত, যিনি ইবনে উম্মে কাসিম নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি)।

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে উম্মে কাসিমের ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা তাঁর সক্ষমতা ও সুচিন্তিত মতামতের প্রমাণ দেয় এবং এতে তাঁর প্রতিভা ও চিন্তাধারা প্রতিফলিত হয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা সূক্ষ্মতা ও সহজবোধ্যতার জন্য অনন্য এবং এতে বৈয়াকরণদের মতামত ও মাযহাবসমূহ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এটি পরবর্তী লেখকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে; কারণ তাঁর মূল মনোযোগ ছিল ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা এবং এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার দিকে।

ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আলফিয়্যাহর পরবর্তী ব্যাখ্যাকারদের জন্য সহায়ক এবং বৈয়াকরণদের নিকট একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য হয়েছে; লেখকরা তাঁদের রচনার শ্রেষ্ঠ অংশ এখান থেকেই গ্রহণ করেছেন।

আমি এই কিতাবের শুরু থেকে ইদাফাত অধ্যায় পর্যন্ত সম্পাদনা করেছি, যার মাধ্যমে আমি প্রথম শ্রেণিতে সম্মানসহ ডক্টরেট (আলামিয়্যাহ) ডিগ্রি অর্জন করেছি।

অতঃপর আমি কিতাবের অবশিষ্ট অংশ সম্পাদনা করেছি।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৪)
وجعلته قسمين:

القسم الأول: الدراسة

ويقوم على ثلاثة أبواب:

الباب الأول: عصر ابن أم قاسم، ويشتمل على فصلين:

الفصل الأول: تحدثت فيه عن مصر في العصر المملوكي، ونظم الحكم والأحوال الاجتماعية والاقتصادية والحركة العلمية.

الفصل الثاني: تحدثت فيه عن مصر وتربتها الطيبة وسماحة أهلها، وعن النحو والنحاة، ودور العلماء حينما رأوا إقفار البلاد من الكتب العربية.

الباب الثاني: حياة ابن مالك وابن أم قاسم ويشتمل على أربعة فصول:

الفصل الأول: تناولت فيه حياة ابن مالك صاحب الألفية وبعض شراحها وأصحاب الحواشي.

الفصل الثاني: تناولت فيه التعريف بابن أم قاسم.

الفصل الثالث: تحدثت فيه عن شيوخ ابن أم قاسم وتلاميذه ومؤلفاته ووفاته.

الفصل الرابع: تناولت فيه الذين تأثروا به ودرسوا كتبه ونقلوا عنها.

الباب الثالث: موقف المؤلف من ابن مالك وما يعتمد عليه، ويضم أربعة فصول:

الفصل الأول: عرضت فيه مسائل من نقوله عن ابن مالك ودفع الاعتراضات الواردة عليه.

الفصل الثاني: سقت مسائل تفيد أنه كان يعتمد على السماع أكثر من القياس، ويميل إلى البصريين أكثر من الكوفيين.

الفصل الثالث: دونت فيه أمثلة من القرآن الكريم والحديث النبوي الشريف وأشعار العرب وأقوالهم.

الفصل الرابع: ذكرت فيه مسائل تبين موقفه من ألفية ابن مالك، وألفية ابن معط.
আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অংশ: গবেষণা

এটি তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে উম্মে কাসিমের যুগ, যা দুটি অধ্যায় সম্বলিত:

প্রথম অধ্যায়: এতে আমি মামলুক যুগে মিশর, শাসন ব্যবস্থা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি মিশরের পবিত্র মাটি ও তার অধিবাসীদের উদারতা, ব্যাকরণ ও ব্যাকরণবিদগণ এবং যখন আলেমগণ দেশটিকে আরবি কিতাব শূন্য দেখতে পেলেন তখন তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে মালিক ও ইবনে উম্মে কাসিমের জীবনী, যা চারটি অধ্যায় সম্বলিত:

প্রথম অধ্যায়: এতে আমি আলফিয়ার রচয়িতা ইবনে মালিক এবং এর কতিপয় ব্যাখ্যাকার ও টীকা প্রদানকারীদের জীবনী তুলে ধরেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি ইবনে উম্মে কাসিমের পরিচিতি তুলে ধরেছি।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমি ইবনে উম্মে কাসিমের উস্তাদগণ, ছাত্রবৃন্দ, তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে আমি তাদের কথা উল্লেখ করেছি যারা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তাঁর কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছেন এবং সেখান থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে মালিকের প্রতি লেখকের অবস্থান এবং তিনি যাঁর ওপর নির্ভর করেন, এটি চারটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অধ্যায়: এতে আমি ইবনে মালিক থেকে তাঁর উদ্ধৃত মাসআলাসমূহ উপস্থাপন করেছি এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলো খণ্ডন করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: আমি এমন কিছু মাসআলা পেশ করেছি যা নির্দেশ করে যে, তিনি কিয়াসের চেয়ে সামা-এর (শ্রুতিগ্রাহ্য বর্ণনা) ওপর বেশি নির্ভর করতেন এবং কুফাবাসীদের চেয়ে বসরার ব্যাকরণবিদদের দিকে বেশি ঝুঁকে ছিলেন।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমি পবিত্র কুরআন, হাদিসে নববী, আরবদের কবিতা ও তাঁদের প্রবাদ-প্রবচন থেকে উদাহরণ লিপিবদ্ধ করেছি।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে আমি এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছি যা ইবনে মালিকের আলফিয়া এবং ইবনে মু’তির আলফিয়ার ব্যাপারে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৫)
القسم الثاني: التحقيق

ويحتوي على تحقيق "توضيح المقاصد والمسالك بشرح ألفية ابن مالك" للمرادي المعروف بابن أم قاسم.

فقد حققت هذا الكتاب ووثقته وضبطت شواهده وشرحتها ونسبتها إلى أصحابها، وخرجت الأحاديث وشرحت ما صعب منها، وعرفت بالأعلام التي وردت في النص، وعلقت عليه، وقد أبرزت محاسنه وأظهرت مناقبه، ولاحظت أن المرادي في شرحه اعتمد كثيرا على ابن مالك. وأعتقد أن المكتبة العربية في أمسّ الحاجة إلى هذا الكتاب الذي يعد من أهم المراجع في إحياء التراث العربي.

بذلك أكون قد أضفت شيئا جديدا تعتز به المكتبة العربية.

والله أسأل أن يسدد خطانا على طريق الحق والصواب، وأن يكون عملي مثمرا نافعا، إنه سميع مجيب الدعاء.

والحمد لله رب العالمين.

أ. د/ عبد الرحمن عليّ سليمان

عميد كلية البنات الإسلامية

جامعة الأزهر، أسيوط
দ্বিতীয় বিভাগ: সম্পাদনা ও গবেষণা

এতে ইবনে উম্মে কাসিম নামে পরিচিত আল-মুরাদি রচিত "তাওদীহুল মাকাসিদ ওয়াল মাসালিক বিশারহি আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক"-এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আমি এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছি, এর প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেছি এবং এর কাব্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণগুলো বিন্যস্ত ও ব্যাখ্যা করে সেগুলোকে মূল রচয়িতাদের নামে উদ্ধৃত করেছি। আমি হাদিসগুলোর উৎস বিশ্লেষণ করেছি এবং এর জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। মূল পাঠে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পরিচয় তুলে ধরেছি এবং এর ওপর টীকা প্রদান করেছি। আমি এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি ফুটিয়ে তুলেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, আল-মুরাদি তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে মালিকের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। আমি বিশ্বাস করি যে, আরবি সাহিত্যভাণ্ডার এই গ্রন্থটির অভাব তীব্রভাবে অনুভব করছিল, যা আরবি ঐতিহ্য পুনর্জীবিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

এর মাধ্যমে আমি এমন নতুন কিছু সংযোজন করতে পেরেছি যা আরবি সাহিত্য জগতের জন্য গৌরবের বিষয় হবে।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সত্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমার এই কাজকে ফলপ্রসূ ও উপকারী করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান আলী সুলাইমান

ডিন, ইসলামিক গার্লস কলেজ

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, আসিউত
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌القسم الأول: الدراسة

‌‌الباب الأول: التعريف بالمرادي المعروف بابن أم قاسم

‌‌الفصل الأول:

العصر المملوكي

مصر في عهد المماليك 648هـ-923هـ "1250م- 1517م":

نقصد بهذا العصر الفترة التي حكم فيها سلاطين المماليك في مصر، منذ انقضاء عهد الأيوبيين عام 648هـ إلى أن فتحها الأتراك العثمانيون عام 923هـ.

ولا نقصد هنا استيعابا تاريخيا للعصر المذكور وتفصيلا وافيا لحوادثه العامة، فإن ذلك مما يضيق به هنا.

لفظ مملوك:

لفظ مملوك كان معناه في الأصل الرقيق الأبيض الذكر، والشرقيون في أوج عزهم -أي: في عهد صلاح الدين- هم أول من أدخل المماليك إلى مصر، وقد كانوا -بادئ بدء- ميليشيا ذليلة ثم تحولوا إلى طبقة عسكرية، وأخيرا أصبحوا الطبقة الحاكمة.

ولقد بلغ من قوة المماليك في سنة 1250م أنهم اغتالوا أحد السلاطين الفاطميين، وتولوا بعده ترشيح السلاطين من بين زعمائهم1.

أصل المماليك:

كان الرق منتشرا في العصور الوسطى، وكانت تجلب الغلمان المرد والفتيان الحسان من بلادهم البعيدة إلى أسواق الرقيق، حيث توجد الرغبة في اقتنائهم، وحيث يتنافس في ذلك المتنافسون للخدمة أو للهو.

وطريقة جلبهم لهذه البضائع، السرقة والخطف، يسرقون الغلمان ويخطفون العذارى من أهلهم ثم يستحلون بيعهم للناس، ويستحل الناس شراءهم.

ولم يبل بالرق شعب دون آخر أو جنس دون غيره فقد كان من الأرقاء التركي والجركسي والرومي والحبشي والفارسي وغيرهم، وأروج ما كانت تجارتهم في الأجناس التركية والجركسية لما تتصف به من جمال وطيب مجلس.

--------------------------------------------

1 راجع: تاريخ مصر في عهد المماليك إلى نهاية حكم إسماعيل، للمستر جون بانج، تعريب عليّ أحمد شكري.
‌প্রথম অংশ: গবেষণা

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবন উম্মে কাসিম হিসেবে পরিচিত আল-মুরাদী-এর পরিচয়

‌প্রথম অধ্যায়:

মামলুক যুগ

মামলুক শাসনামলে মিসর ৬৪৮ হি.-৯২৩ হি. "১২৫০ খ্রি.- ১৫১৭ খ্রি.":

এই যুগ বলতে আমরা সেই সময়কালকে বোঝাচ্ছি যে সময়ে মামলুক সুলতানগণ মিসরে শাসন করেছিলেন; অর্থাৎ ৬৪৮ হিজরীতে আইয়ুবী শাসনের অবসান থেকে শুরু করে ৯২৩ হিজরীতে উসমানীয় তুর্কিদের দ্বারা মিসর বিজিত হওয়া পর্যন্ত।

এখানে উল্লিখিত যুগের পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক বিবরণ প্রদান বা সাধারণ ঘটনাবলির বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি এই আলোচনার পরিসরকে সংকীর্ণ করে ফেলবে।

'মামলুক' শব্দ:

'মামলুক' শব্দের আদি অর্থ ছিল শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ক্রীতদাস। প্রাচ্যবাসীরা যখন তাদের গৌরবের চরম শিখরে ছিল—অর্থাৎ সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর যুগে—তারাই সর্বপ্রথম মিসরে মামলুকদের প্রবর্তন করেন। তারা সূচনালগ্নে একটি নগণ্য মিলিশিয়া বাহিনী ছিল, এরপর তারা একটি সামরিক শ্রেণিতে পরিণত হয় এবং পরিশেষে শাসক শ্রেণিতে উন্নীত হয়।

১২৫০ খ্রিস্টাব্দে মামলুকদের শক্তি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তারা একজন ফাতেমী সুলতানকে হত্যা করে এবং এরপর তাদের নেতাদের মধ্য থেকে সুলতান নির্বাচনের দায়িত্ব গ্রহণ করে।১

মামলুকদের উৎস:

মধ্যযুগে দাসপ্রথা ব্যাপক আকারে প্রচলিত ছিল। দূরদেশ থেকে শ্মশ্রুহীন কিশোর এবং সুন্দর তরুণদের দাসের বাজারে নিয়ে আসা হতো, যেখানে তাদের সংগ্রহের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকত এবং সেখানে তাদের সেবা বা আমোদ-প্রমোদের জন্য ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো।

এই 'পণ্য'গুলো সংগ্রহের পদ্ধতি ছিল চুরি ও অপহরণ; তারা কিশোরদের চুরি করত এবং পরিবার থেকে কুমারী মেয়েদের তুলে আনত, এরপর মানুষের কাছে তাদের বিক্রি করাকে বৈধ মনে করত এবং মানুষও তাদের ক্রয় করাকে বৈধ জ্ঞান করত।

দাসত্বের এই সংকটে কোনো একটি জাতি বা গোষ্ঠী নির্দিষ্ট ছিল না; বরং ক্রীতদাসদের মধ্যে তুর্কি, সার্কাসিয়ান, রোমান, হাবশি, পারস্য এবং অন্যান্য জাতির লোক ছিল। তুর্কি ও সার্কাসিয়ান জাতিগোষ্ঠীর দাসদের বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল, কারণ তারা সৌন্দর্য এবং উত্তম মজলিসী স্বভাবের অধিকারী ছিল।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মিস্টার জন ব্যাং রচিত 'তারীখু মিসরা ফী আহদিল মামালিক ইলা নিহায়াতি হুকমি ইসমাইল' (মামলুক যুগ থেকে ইসমাইলের শাসনকাল পর্যন্ত মিসরের ইতিহাস), আলী আহমদ শুকরী কর্তৃক অনূদিত।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১২)
وأول من استخدمهم وجلبهم إلى مصر وجعلهم عمدة جيشه هو "أحمد بن طولون" قال القلقشندي في صبح الأعشى الجزء الثالث في الكلام عمن ولي مصر ملكا قبل الفاطميين: "وأولهم أحمد بن طولون … وهو أول من جلب المماليك الأتراك إلى الديار المصرية واستخدمهم في عسكرها"1.

انتقال الحكم من الأيوبيين إلى المماليك:

أخذ عدد المماليك يتكاثر في مصر زمن الأيوبيين، وأخذ نفوذهم يزداد ويعظم، وقد قوي بأسهم في عهد الملك الصالح نجم الدين الأيوبي.

وقد انتصروا على الفرنجة في موقعة "فارسكور" بمعاونة الفلاحين. وهذه الموقعة كانت سببا مباشرا في توطيد سلطة المماليك وظهور قوتهم، وظلوا بعدها يتلمسون الفرصة للوثوب العملي إلى عرش البلاد، وقد أتيحت لهم هذه الفرصة عندما أساء لهم "توران شاه" وإلى "شجرة الدر" معا، وما زالوا يأتمرون حتى قتلوه، وملكوا عليهم من بعده "شجرة الدر" زوجة أبيه ثم ضربت "شجرة الدر" الحجاب على نفسها ورأت أخيرا بثاقب نظرها وبعيد رأيها أن تخلع نفسها عن الملك بعد أن مكثت ثمانين يوما، فتمت المشورة بسلطنة "عز الدين أيبك" ثم تزوج "شجرة الدر" ليكون واصلة بالبيت المالك القديم، وكان ذلك في ربيع الآخر سنة 648هـ ولقبوه بالملك المعز، فكان أول سلاطين المماليك بالديار المصرية2.

دولتا المماليك 648هـ-923هـ:

واتفق المؤرخون على تقسيم دولة المماليك في مصر إلى قسمين:

الأول: الدولة المملوكية الأولى المعروفة باسم دولة الأتراك أو البحرية، لأن معظم سلاطينها من الأتراك الذين أسكنهم الملك الصالح "جزيرة الروضة" وجعل منهم فرقة البحرية الصالحية، وامتد عصر هذه الدولة أكثر من مائة عام "1250-1382م".

--------------------------------------------

1 راجع: عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود رزق 1/ 13-20 ملخصا، وتاريخ آداب اللغة العربية لجورجي زيدان.

2 عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود رزق 1/ 22-26 ملخصا.
তাদের সর্বপ্রথম ব্যবহারকারী, মিসরে আনয়নকারী এবং নিজের সেনাবাহিনীর মূল ভিত্তি হিসেবে নিয়োগকারী ছিলেন "আহমদ ইবনে তুলুন"। আল-কালকাশান্দি 'সুবহুল আ’শা'র তৃতীয় খণ্ডে ফাতিমিদের পূর্বে যারা মিসরের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাদের আলোচনায় বলেন: "তাদের মধ্যে প্রথম হলেন আহমদ ইবনে তুলুন … এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তুর্কি মামলুকদের মিসরীয় ভূখণ্ডে নিয়ে আসেন এবং তাদেরকে স্বীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।"1.

আইয়ুবীয়দের থেকে মামলুকদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর:

আইয়ুবীয়দের যুগে মিসরে মামলুকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সুলতান আল-মালিকুস সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবীর শাসনামলে তাদের শক্তি অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠে।

তারা কৃষকদের সহায়তায় "ফারিসকুর" যুদ্ধে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। এই যুদ্ধটি ছিল মামলুকদের ক্ষমতা সুসংহত করার এবং তাদের শক্তির আত্মপ্রকাশের প্রত্যক্ষ কারণ। এর পর থেকে তারা দেশের সিংহাসন দখলের বাস্তব সুযোগ খুঁজতে থাকে। এই সুযোগটি তাদের সামনে আসে যখন "তুরান শাহ" একই সাথে মামলুকদের এবং "শাজারাতুদ দুর" উভয়ের সাথেই দুর্ব্যবহার করেন। তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে। এরপর তারা তার পরবর্তী শাসক হিসেবে তার পিতার স্ত্রী "শাজারাতুদ দুর"কে মনোনীত করে। পরবর্তীতে শাজারাতুদ দুর পর্দার অন্তরালে চলে যান এবং আশি দিন ক্ষমতায় থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্বীয় তীক্ষ্ণ মেধা ও দূরদর্শী চিন্তায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর পরামর্শের ভিত্তিতে "ইজ্জুদ্দিন আইবেক"কে সুলতান হিসেবে মনোনীত করা হয়। অতঃপর তিনি শাজারাতুদ দুরকে বিবাহ করেন যাতে পূর্ববর্তী রাজবংশের সাথে তার একটি যোগসূত্র স্থাপিত হয়। এটি ৬৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে সংঘটিত হয়েছিল এবং তারা তাকে 'আল-মালিকুল মুয়িজ' উপাধিতে ভূষিত করে। তিনিই ছিলেন মিসরীয় ভূখণ্ডের প্রথম মামলুক সুলতান।2.

মামলুকদের দুই রাষ্ট্র ৬৪৮ হি.-৯২৩ হি.:

ঐতিহাসিকগণ মিসরে মামলুক শাসনকালকে দুই ভাগে বিভক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন:

প্রথম: প্রথম মামলুক রাষ্ট্র, যা তুর্কি বা বাহরি মামলুক রাষ্ট্র নামে পরিচিত। কারণ এর অধিকাংশ সুলতান ছিলেন সেইসব তুর্কিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে সুলতান আল-মালিকুস সালিহ "জাজিরাতুর রওদা"য় বসতি স্থাপন করিয়েছিলেন এবং তাদের নিয়ে 'আল-বাহরিয়্যাহ আস-সালিহিয়্যাহ' বাহিনী গঠন করেছিলেন। এই রাষ্ট্রের শাসনকাল একশ বছরেরও বেশি সময় (১২৫০-১৩৮২ খ্রিস্টাব্দ) স্থায়ী হয়েছিল।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: আসর সালাতিনিল মামালিক, উস্তাদ মাহমুদ রিজক, ১/ ১৩-২০ (সংক্ষিপ্ত), এবং তারিখে আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ, জর্জ জিদান।

২. আসর সালাতিনিল মামালিক, উস্তাদ মাহমুদ রিজক, ১/ ২২-২৬ (সংক্ষিপ্ত)।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
وامتاز بما ظهر من سلاطين أقوياء أمثال "قطز، والظاهر بيبرس" وغيرهما.

أما القسم الثاني: فهو الدولة المملوكية الثانية التي أطلق عليها اسم دولة الجراكسة أو المماليك البرجية، لأن معظم سلاطينها من الجراكسة الذين اشتراهم السلطان قلاوون، وأنزلهم أبراج قلعة الجبل، وألف منهم فرقة الحرس الخاص.

وامتد حكم هذه الدولة إلى سنة 1517م وهي السنة التي استولى فيها العثمانيون على مصر1.

حضارة مصر في عهد المماليك:

نظام الحكم:

حينما انتقل الحكم إلى المماليك وتلقب المماليك بلقب السلاطين، بقيت القلعة مركز الحكم في البلاد حتى أواخر هذا العهد، وتأثرت أنظمة الحكم زمن المماليك بمن قبلهم.

فمن ذلك:

تعميم نظام الإقطاع في مصر، وكان الإقطاع مكافأة لكبار رجال الدولة من الأمراء والقواد بدل الرواتب والأعطية.

ومع هذا حاول سلطان من السلاطين أن يجعل السلطنة في ابنه من بعده خضوعا لعاطفة الأبوة، غير أن هذا لم يكن إلا وسيلة مؤقتة حتى يتيسر للأمراء شيء من الإجماع على سلطنة واحدة من كبارهم، فإذا تم ذلك خلع الأمراء ابن سلطانهم القديم وأرسلوه إلى أمه أو نفوه، وترتب على هذا من التولية والعزل في السلطنة، مما أدى إلى اضطراب الأحوال في كثير من الأحيان2.

الأحوال الاجتماعية:

وفد إلى مصر كثير من المماليك من مختلف الأجناس الآسيوية والأوربية

--------------------------------------------

1 عصر سلاطين المماليك، تاريخ مصر إلى الفتح العثماني تأليف عمر السكندري.

2 عصر سلاطين المماليك، للأستاذ محمد رزق، وتاريخ مصر إلى الفتح العثماني لعمر السكندري.
এটি কুতুজ, আজ-জাহির বাইবার্স এবং তাঁদের মতো অন্যান্য শক্তিশালী সুলতানদের আবির্ভাবের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছিল।

আর দ্বিতীয় অংশটি হলো দ্বিতীয় মামলুক রাষ্ট্র, যাকে সার্কাসিয়ান রাষ্ট্র বা বুরজি মামলুক বলা হয়; কারণ এর অধিকাংশ সুলতান ছিলেন সেই সার্কাসিয়ানদের মধ্য থেকে যাদের সুলতান কালাউন ক্রয় করেছিলেন এবং জাবাল দুর্গের বুরুজগুলোতে (মিনার) রেখেছিলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষ দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করেছিলেন।

এই রাষ্ট্রের শাসন ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, আর এটি সেই বছর যখন উসমানীয়রা মিশর দখল করে ১।

মামলুক যুগে মিশরের সভ্যতা:

শাসনব্যবস্থা:

যখন শাসনক্ষমতা মামলুকদের নিকট স্থানান্তরিত হয় এবং মামলুকরা সুলতান উপাধি গ্রহণ করে, তখন এই যুগের শেষ পর্যন্ত কেল্লাই দেশের শাসনকেন্দ্র হিসেবে বহাল ছিল এবং মামলুক আমলের শাসনব্যবস্থা তাদের পূর্ববর্তীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।

এর মধ্যে রয়েছে:

মিশরে ইকতা ব্যবস্থার প্রসার, আর ইকতা ছিল বেতন ও ভাতার পরিবর্তে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ আমীর ও সেনাপতিদের জন্য এক প্রকার পুরস্কার।

এতৎসত্ত্বেও, সুলতানদের মধ্য থেকে কোনো কোনো সুলতান পিতৃত্বের আবেগের বশবর্তী হয়ে তাঁর পরে তাঁর পুত্রের জন্য সালতানাত সুনির্দিষ্ট করার চেষ্টা করতেন। তবে এটি কেবলমাত্র একটি সাময়িক ব্যবস্থা ছিল যতক্ষণ না আমীরদের মধ্যে তাঁদের কোনো বড় নেতার সালতানাতের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হতো। যখন তা সম্পন্ন হতো, তখন আমীররা তাঁদের প্রাক্তন সুলতানের পুত্রকে ক্ষমতাচ্যুত করতেন এবং তাকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিতেন অথবা নির্বাসিত করতেন। এর ফলে সালতানাতে বারবার নিযুক্তি ও অপসারণের ঘটনা ঘটত, যা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াত ২।

সামাজিক অবস্থা:

এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন বংশোদ্ভূত অনেক মামলুক মিশরে আগমন করে।

--------------------------------------------

১ আসর সালাতিনিল মামালিক (মামলুক সুলতানদের যুগ), তারিখু মিসরা ইলাল ফাতহিল উসমানি (উসমানীয় বিজয় পর্যন্ত মিশরের ইতিহাস), লেখক ওমর আল-ইস্কান্দারি।

২ আসর সালাতিনিল মামালিক (মামলুক সুলতানদের যুগ), লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ রিজক; এবং তারিখু মিসরা ইলাল ফাতহিল উসমানি (উসমানীয় বিজয় পর্যন্ত মিশরের ইতিহাস), লেখক ওমর আল-ইস্কান্দারি।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
حتى صار منهم التركي والجركسي واليوناني والصيني والروسي، واعتزت هذه الجماعات المملوكية الوافدة على مصر بما صار لأفرادها من أنواع القوة والنفوذ والسلطان والعنف.

وعاش المماليك عيشة النعيم متمتعين بخيرات البلاد، وكان كل أمير مملوكي عبارة عن سلطان من حيث إقامته في قصر وإحاطته بالأتباع واتخاذه موظفين له.

وكون المماليك طبقة منفصلة تمام الانفصال عن سائر سكان سلطنتهم، ولم يكن كثير منهم متقنا للغة العربية، وفضل بعضهم التكلم بالتركية.

ومع وجود الطبقات والانفصال غلبت مظاهر القناعة على أهل البلاد بسبب ما أفادوا من أجور ومكافآت مقابل ما قاموا به للمماليك أرباب السيف وللموظفين أرباب القلم من صناعة الأقمشة والملابس والأواني والأطعمة كما أكثر المماليك من إنشاء التكايا والسبل والحمامات الشعبية1.

الأحوال الاقتصادية:

الزراعة: اهتم السلاطين بالزراعة فشقوا الترع وحفروا القنوات وقووا الجسور وأقاموا القناطر والسدود، غير أن اهتمامهم بالزراعة اقتصر في جملته على استغلال الأرض دون مصلحة الفلاح.

الصناعة: وتقدمت الصناعة في هذا العصر، ويصف المقريزي أحد الأسواق المصرية زمن المماليك بأنه "معمور الجانب من أوله إلى آخره بالحوانيت، ففي أوله كثير من البزازين الذي يبيعون ثياب الكتان من الخام".

التجارة: اتسعت التجارة في مصر إلى حد لم تبلغه قبلا، وكانت الإسكندرية مركزا لتجارة الأوربيين، كما كانت قوص مركزا لتجارة المصريين، واعتمدت حكومة المماليك على هذه التجارة وكسبت من ورائها أموالا طائلة، هي أحد أسرار عظمة الدولة المملوكية.

--------------------------------------------

1 عصر سلاطين المماليك، تاريخ مصر إلى الفتح العثماني، تاريخ مصر في عهد المماليك إلى نهاية حكم إسماعيل، تاريخ آداب اللغة العربية لجورجي زيدان.
এমনকি তাদের মধ্যে তুর্কি, সার্কাসিয়ান, গ্রীক, চীনা ও রুশরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। মিশরে আগত এই মামলুক গোষ্ঠীগুলো তাদের সদস্যদের অর্জিত শক্তি, প্রভাব, ক্ষমতা ও প্রতাপের কারণে গর্ববোধ করত।

মামলুকরা দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বিলাসিতায় জীবনযাপন করত। প্রতিটি মামলুক আমির প্রাসাদে বসবাস, অনুসারীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকা এবং নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগের দিক থেকে একেকজন সুলতানের মতো ছিলেন।

মামলুকরা তাদের সালতানাতের অন্যান্য অধিবাসী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি শ্রেণি গঠন করেছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন না এবং তাদের কেউ কেউ তুর্কি ভাষায় কথা বলা পছন্দ করতেন।

শ্রেণিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টির ছাপ প্রবল ছিল। কারণ তারা মামলুক 'তলোয়ারের মালিক' এবং সরকারি কর্মকর্তা 'কলমের মালিক'-দের জন্য কাপড়, পোশাক, তৈজসপত্র ও খাদ্যসামগ্রী তৈরির বিনিময়ে যে মজুরি ও পুরস্কার পেতেন তা থেকে উপকৃত হতেন। পাশাপাশি মামলুকরা বিপুল সংখ্যক খানকাহ, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং গণস্নানাগার নির্মাণ করেছিলেন ১।

অর্থনৈতিক অবস্থা:

কৃষি: সুলতানরা কৃষির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তারা খাল খনন করেছেন, নালা তৈরি করেছেন, সেতুগুলো শক্তিশালী করেছেন এবং কালভার্ট ও বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তবে কৃষির প্রতি তাদের এই মনোযোগ মূলত কৃষকের স্বার্থের পরিবর্তে ভূমির শোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

শিল্প: এই যুগে শিল্পের উন্নতি ঘটেছিল। মাকরিজি মামলুক আমলের একটি মিশরীয় বাজারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, "এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দোকানপাটে পরিপূর্ণ ছিল; এর শুরুর দিকে অনেক বস্ত্র বিক্রেতা ছিলেন যারা লিনেন কাপড়ের থান বিক্রি করতেন।"

বাণিজ্য: মিশরে বাণিজ্য এমন এক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছিল যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আলেকজান্দ্রিয়া ছিল ইউরোপীয়দের বাণিজ্যের কেন্দ্র, আর কুস ছিল মিশরীয়দের বাণিজ্যের কেন্দ্র। মামলুক সরকার এই বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করত, যা মামলুক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম রহস্য ছিল।

--------------------------------------------

১ আসর সালাতিনিল মামালিক, তারিখু মিসর ইলাল ফাতহিল উসমানি, তারিখু মিসর ফি আহদিল মামালিক ইলা নিহায়াতি হুকমি ইসমাইল, জুরজি যায়দানের তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم اكتشف البرتغال طريق رأس الرجاء الصالح إلى الهند، وحلت لشبونة محل الإسكندرية، فانقطع ذلك المصدر الذي استمدت منه دولة المماليك معظم ثروتها.

العلوم والفنون: شهد العصر المملوكي ما لم يشهده عصر إسلامي سابق من حركة واسعة في البناء والتعمير، فامتلأت مصر بالمساجد والمدارس والمنشآت العسكرية والمدافن التي لا تزال معظم آثارها قائمة في القاهرة والإسكندرية، ومنها جامع الظاهر بيبرس وجامع الناصر محمد بالقلعة، ومدرسة السلطان حسن بالقاهرة، وقلعة قايتباي بالإسكندرية1.

الحركة العلمية:

انتقال النشاط العلمي إلى مصر والقاهرة:

تلفت المسلمون في مشارق الأرض ومغاربها يبحثون لأنفسهم عن ملجأ يلجئون إليه ومأوى يأوون فيه بعد النكبات المتلاحقة "في عهد التتار" وبعد سقوط أكبر دولتهم سقوطا نهائيا، وهي الدولة العباسية، فلم يجدوا أمامهم غير مصر وبلاد الشام، حيث أسس المماليك لهم وأقاموا لأنفسهم سلطانا، فقد عمل المماليك على رد طغيان التتار، وما وقف سلاطين المماليك وأمراؤهم المواقف تلك، إلا أنهم مسلمون معنيون بشئون دينهم مطالبون بدفع الأذى عنه.

فتوجهت أنظار المسلمين إلى مصر ولفتوا قلوبهم وأرواحهم إلى القاهرة باعتبارها عاصمة جديدة.

وبذلك كله اكتسبت مصر مكانا في الحياة جديدا، لذلك انتقل النشاط العلمي من العراق وبغداد إلى مصر وقاهرتها، ونشرت القاهرة زعامتها العلمية وقيادتها الأدبية على البلاد الإسلامية تقريبا زهاء هذه القرون الثلاثة التي عاشت فيها دولة المماليك2.

--------------------------------------------

1 عصر سلاطين المماليك، تاريخ مصر إلى الفتح العثماني، تاريخ مصر في عهد المماليك إلى نهاية حكم إسماعيل، تاريخ آداب اللغة العربية لجورجي زيدان.

2 المراجع السابقة.
এরপর পর্তুগিজরা ভারতের দিকে উত্তমাশা অন্তরীপ পথ আবিষ্কার করে এবং লিসবন আলেকজান্দ্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে সেই উৎসটি বন্ধ হয়ে যায় যেখান থেকে মামলুক রাষ্ট্র তাদের সম্পদের অধিকাংশ আহরণ করত।

বিজ্ঞান ও শিল্পকলা: মামলুক যুগ নির্মাণ ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে এমন এক ব্যাপক তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেছে যা আগের কোনো ইসলামি যুগে দেখা যায়নি। ফলে মিসর মসজিদ, মাদ্রাসা, সামরিক স্থাপনা এবং সমাধিসৌধে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার অধিকাংশ নিদর্শন আজও কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ায় বিদ্যমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জহির বিবারস মসজিদ, দুর্গের ভেতরে অবস্থিত নাসির মুহাম্মদ মসজিদ, কায়রোর সুলতান হাসান মাদ্রাসা এবং আলেকজান্দ্রিয়ার কায়তবে দুর্গ১।

বৈজ্ঞানিক তৎপরতা:

মিসর ও কায়রোতে জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতার স্থানান্তর:

পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলমানরা তাতারদের আমলের একের পর এক বিপর্যয়ের পর এবং তাদের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র তথা আব্বাসীয় খেলাফতের চূড়ান্ত পতনের পর নিজেদের জন্য এমন এক আশ্রয় ও ঠিকানার সন্ধান করতে থাকেন যেখানে তারা আশ্রয় নিতে পারেন। তখন তারা তাদের সামনে মিসর ও শাম দেশ ছাড়া আর কিছুই পাননি, যেখানে মামলুকরা তাদের জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছিল এবং নিজেদের জন্য একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। মামলুকরা তাতারদের অত্যাচার প্রতিহত করতে সচেষ্ট ছিল। মামলুক সুলতান ও আমিররা এই অবস্থানগুলো গ্রহণ করেছিলেন কারণ তারা ছিলেন মুসলিম, যারা তাদের দ্বীনের বিষয়ে যত্নশীল এবং দ্বীন থেকে অনিষ্ট দূর করতে দায়বদ্ধ ছিলেন।

ফলে মুসলমানদের দৃষ্টি মিসরের দিকে নিবদ্ধ হয় এবং তারা কায়রোকে একটি নতুন রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে তাদের হৃদয় ও প্রাণকে সেদিকে ধাবিত করে।

এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে মিসর যাপিত জীবনে একটি নতুন স্থান লাভ করে। ফলে জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা ইরাক ও বাগদাদ থেকে মিসর ও কায়রোতে স্থানান্তরিত হয়। কায়রো মামলুক শাসনামলের এই প্রায় তিন শতাব্দীকাল ধরে মুসলিম বিশ্বে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক নেতৃত্ব ও সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্ব বিস্তার করেছিল২।

--------------------------------------------

১ আসর সালাতিনিল মামালিক, তারিখ মিসর ইলাল ফাতহিল উসমানি, তারিখ মিসর ফি আহদিল মামালিক ইলা নিহায়াতি হুকমি ইসমাইল, জুরজি জিদান রচিত তারিখ আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ।

২ পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
عوامل نشاط الحركة العلمية:

تنقسم العوامل إلى خارجية وداخلية … ونعني بالعوامل الخارجية ما وقع منها في خارج مثل ولم يكن لمصر ولا لأهلها يد في تدبيرها.

والداخلية: نعني بها ما وقع منها داخل مصر، وكان لأهلها يد في تدبيرها.

العوامل الخارجية:

وإيجازها فيما يلي:

1- وقوع كثير من البلاد الإسلامية في يد المغول، فغطى سيل التتار من أواسط آسيا إلى الشام، فكان مسرحا للنزاع العنيف بين دول التتار والمماليك، فالتف المسلمون حول من يحافظون عليهم من سلاطين المماليك، وعملوا على تدعيم ملكهم، ومن أهم وسائل تدعيم الملك إحياء العلوم والمعارف.

2- قتل العلماء وإتلاف الكتب العلمية، وعلى أثر ذلك فر من فر من العلماء من وجه التتار، أو أنف الإقامة في ظلهم واستقر بهم المقام في كف سلاطين مصر.

3- وفود العلماء والأدباء إلى مصر والشام، ومن هؤلاء ابن مالك الأندلسي وابن خلدون وغيرهما.

4- زوال الخلافة العباسية، فاتجهت الأعين إلى مصر حيث كانت مركزا للخلافة1.

العوامل الداخلية:

1- غيرة السلاطين والأمراء: وقد تجلت هذه الغيرة منهم في كفاحهم للتتار ومحاربتهم للفرنجة. حتى ردوا هؤلاء وهؤلاء عن مصر والشام والبلاد المقدسة، وهذه النزعة من دأبها أن توقظ أمثالها في نفوس العلماء وتدفعهم إلى رفع راية التعليم والتأليف ومواصلة البحث والاطلاع.

--------------------------------------------

1 المراجع السابقة.
বৈজ্ঞানিক তৎপরতার সক্রিয়তার কারণসমূহ:

কারণসমূহকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ভাগে বিভক্ত করা হয় … আর বাহ্যিক কারণ বলতে আমরা সেগুলোকে বুঝি যা এর বাইরে ঘটেছে এবং যাতে মিশর কিংবা তার অধিবাসীদের ব্যবস্থাপনার কোনো হাত ছিল না।

এবং অভ্যন্তরীণ: এগুলো দ্বারা আমরা সেগুলোকে বুঝি যা মিশরের অভ্যন্তরে ঘটেছে এবং যাতে এর অধিবাসীদের ব্যবস্থাপনার হাত ছিল।

বাহ্যিক কারণসমূহ:

যার সংক্ষিপ্তসার নিম্নরূপ:

১- অনেক মুসলিম ভূখণ্ড মঙ্গোলদের হস্তগত হওয়া, ফলে তাতারদের প্লাবন মধ্য এশিয়া থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ছেয়ে যায়। এটি ছিল তাতার ও মামলুক রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘাতের রঙ্গমঞ্চ। এমতাবস্থায় মুসলিমরা মামলুক সুলতানদের চারপাশে সমবেত হয় যারা তাদের সুরক্ষা দিচ্ছিলেন, এবং তারা তাদের রাজত্ব সুদৃঢ় করার জন্য কাজ করেন। আর রাজত্ব সুদৃঢ় করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুনর্জাগরণ।

২- আলেমদের হত্যা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বইপুস্তক ধ্বংস করা। এর ফলশ্রুতিতে আলেমদের মধ্যে যারা পলায়ন করার তারা তাতারদের সামনে থেকে পলায়ন করেন, অথবা তাদের ছায়াতলে বসবাস করাকে অপছন্দ করেন এবং মিশরের সুলতানদের আশ্রয়ে থিতু হন।

৩- মিশর ও সিরিয়ায় আলেম ও সাহিত্যিকদের আগমন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে মালিক আল-আন্দালুসী, ইবনে খালদুন এবং অন্যান্যরা।

৪- আব্বাসীয় খিলাফতের অবসান, ফলে দৃষ্টি মিশরের দিকে নিবদ্ধ হয় যেহেতু এটি ছিল খিলাফতের কেন্দ্র ১।

অভ্যন্তরীণ কারণসমূহ:

১- সুলতান ও আমিরদের আত্মমর্যাদাবোধ: তাতারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের এই আত্মমর্যাদাবোধ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি তারা এদের উভয়কে মিশর, সিরিয়া ও পবিত্র ভূমি থেকে প্রতিহত করেন। এই প্রবণতা আলেমদের মনেও অনুরূপ চেতনা জাগ্রত করে এবং তাদেরকে শিক্ষা ও গ্রন্থ রচনার পতাকা সমুন্নত রাখতে এবং গবেষণা ও অধ্যয়ন অব্যাহত রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
2- تعظيمهم لأهل العلم: فقد أقاموا للعلماء وزنا، ولا ريب أن هذا التعظيم له الأثر المباشر في نفوس العلماء على أن يظلوا حريصين على الشريعة، وأن يبثوا هذه الروح في نفوس طلابهم.

3- شعور العلماء بواجبهم وتنافسهم في أدائه: فكان لهذا التنافس الشديد الأثر المفيد في إحياء العلوم، وبخاصة في ميدان العلم والتأليف.

4- انصراف العناية إلى اللغة العربية: ولا شك أن مما عاون أهل العلم في تلك الآونة عناية السلاطين باللغة العربية التي اضطرتهم الظروف إليها اضطرارا، فأطلقوها تجري كما شاءت لها الأقدار في ضبط أمور الملك والسياسة والقضاء والعلوم، وذلك لعجز لغتهم التركية أو الجركسية عن أداء ما يتطلبه الملك الواسع من ضبط وأمن وربط، ونشر تعليمات وبعث مراسلات وكتابة.

5- إنشاء دور التعليم ونظامها: لا شك أن إنشاء دور التعليم يعتبر سببا أساسيا وحيويا لتنشيط الحركة العلمية، لما تضمنه من مدرسين وطلاب.

وسأذكر هنا على سبيل المثال بعض المدارس التي بنيت في عهد المماليك أو ظلت مزدهرة إلى العصر:

أ- المدرسة المعزية: عمرها السلطان عز الدين أيبك الجاشنكير أول ملوك البحرية، وذلك عام 654هـ.

ب- جامع القلعة: أنشأه الملك الناصر محمد بن قلاوون عام 718هـ وجعل فيه درسا وقراء.

جـ- مدرسة السلطان حسن: أنشأها السلطان الناصر حسن بن قلاوون، ابتداء من عام 757هـ، واستمر العمل فيها ثلاث سنوات.

د- المدرسة المؤيدية: هي الجامع المعروف بجوار باب زويلة أسسها المؤيد شيخ المحمودي وانتهت عمارتها عام 819هـ. وغير ذلك من المدارس والخوانق والزوايا.
২- আলেমদের প্রতি তাদের সম্মান প্রদর্শন: তারা আলেমদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করেছিলেন এবং নিঃসন্দেহে এই সম্মানের সরাসরি প্রভাব আলেমদের অন্তরে এমনভাবে পড়েছিল যাতে তারা শরীয়তের প্রতি যত্নবান থাকতে পারেন এবং এই চেতনা তাদের ছাত্রদের অন্তরেও সঞ্চার করতে পারেন।

৩- আলেমদের নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা এবং তা পালনে তাদের প্রতিযোগিতা: এই তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুনর্জীবনে বিশেষ করে শিক্ষা এবং গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী প্রভাব পড়েছিল।

৪- আরবি ভাষার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা: এতে কোন সন্দেহ নেই যে, সেই সময়ে আলেমদেরকে যা সহায়তা করেছিল তা হলো আরবি ভাষার প্রতি সুলতানদের বিশেষ যত্ন, যা তৎকালীন পরিস্থিতি তাদেরকে করতে বাধ্য করেছিল। ফলে তারা রাষ্ট্রীয় শাসন, রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আরবি ভাষাকে স্বাধীনভাবে চলতে দিয়েছিলেন; কারণ তাদের তুর্কি বা চেরকাশীয় ভাষা একটি বিশাল সাম্রাজ্যের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, যোগাযোগ রক্ষা, নির্দেশনাবলি প্রচার, পত্রবিনিময় এবং দাপ্তরিক লিখন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা পূরণে অক্ষম ছিল।

৫- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও এর ব্যবস্থাপনা: নিঃসন্দেহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনকে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনকে গতিশীল করার একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেহেতু এতে শিক্ষক ও ছাত্ররা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আমি এখানে উদাহরণস্বরূপ মামলুক যুগে নির্মিত অথবা সেই সময়ে সমৃদ্ধ ছিল এমন কিছু মাদরাসার কথা উল্লেখ করব:

ক- আল-মাদরাসা আল-মুইজ্জিয়া: বাহরি মামলুকদের প্রথম সুলতান ইজ্জুদ্দিন আইবাক আল-জাশনাকির ৬৫৪ হিজরিতে এটি নির্মাণ করেন।

খ- জামে আল-কালআ: সুলতান আল-নাসির মুহাম্মাদ ইবনে কালাউন ৭১৮ হিজরিতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে পাঠদান ও তিলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন।

গ- সুলতান হাসান মাদরাসা: সুলতান আল-নাসির হাসান ইবনে কালাউন ৭৫৭ হিজরি থেকে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং কাজ তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

ঘ- আল-মাদরাসা আল-মুয়াইয়াদিয়া: এটি বাবু জুওয়াইলার পাশে অবস্থিত একটি সুপরিচিত মসজিদ, যা আল-মুয়াইয়াদ শাইখ আল-মাহমুদি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ৮১৯ হিজরিতে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এছাড়াও আরও অনেক মাদরাসা, খানকাহ ও জাওয়িয়া রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
6- رصد الأوقاف على هذه المدارس والإحسان إلى أهلها، حيث إنه لا يمكن لمنشأة من المنشآت العامة أن تبقى دون أن توجه إليها عناية ورعاية.

ولا ريب في أن وجود دور الكتب العامة أو الخاصة له الأثر المحمود في النهوض العلمي ونشاط حركة التأليف … ونذكر فيما يلي بعض دور الكتب التي عرفت في العصر المملوكي نقلا عن المقريزي ج4 من خططه:

أ- خزانة كتب المدرسة الظاهرية البيبرسية: التي أنشأها الظاهر بيبرس عام 662هـ، وكانت تشتمل على أمهات الكتب في سائر العلوم.

ب- خزانة الكتب بجامع الحاكم بأمر الله: وهي التي زوده بها الأمير بيبرس الجاشنكير عام 703هـ.

ج- خزانة الكتب بالمدرسة الناصرية: التي بدأها كتبغا وأكملها الناصر قلاوون عام 703هـ.

د- خزانة الكتب بجامع الحظيري ببولاق: التي زوده بها منشئه الأمير عز الدين إيدمر الحظيري عام 737هـ.

هـ- خزانة الكتب بجامع المؤيد: قال المقريزي عنه: "نزل السلطان -أي المؤيد- في 20 محرم عام 819هـ إلى هذه العمارة … ".

وغير ذلك من خزانات الكتب.

7- العناية باختيار العلماء: وقد عني السلاطين والأمراء ومنشئو المدارس باختيار علمائها الذين يشرفون على أمورها، وأساتذتها الذين يتولون التدريس فيها وغير التدريس، فانتخبوهم من بين الأفذاذ ذوي الشهرة المعروفين بالعلم والفضل.

وحسبنا أن نذكر على سبيل المثال جانبا من هؤلاء الذين حملوا أعباء النهوض العلمي، وحافظوا على التراث الديني واللغوي في هذه الحقبة القاسية من تاريخ مصر فأسدوا إليها يدا بيضاء:
৬- এই মাদরাসাগুলোর জন্য ওয়াকফ বরাদ্দ করা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করা, কারণ কোনো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই যথাযথ মনোযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সরকারি বা বেসরকারি গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব জ্ঞানতাত্ত্বিক পুনর্জাগরণ এবং গ্রন্থ রচনা আন্দোলনের সক্রিয়তায় প্রশংসনীয় প্রভাব রাখে … আল-মাকরিজীর 'খিতাত' (চতুর্থ খণ্ড) থেকে উদ্ধৃত করে মামলুক যুগে পরিচিত কয়েকটি গ্রন্থাগারের কথা আমরা নিচে উল্লেখ করছি:

ক- মাদরাসা জাহিরিয়া বাইবারসিয়ার কুতুবখানা: যা জাহির বাইবারস ৬৬২ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করেন এবং এতে সমস্ত বিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন্থসমূহ সংগৃহীত ছিল।

খ- জামে আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহর কুতুবখানা: এটি আমির বাইবারস আল-জাশনাকির ৭০৩ হিজরিতে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

গ- মাদরাসা নাসিরিয়ার কুতুবখানা: যার কাজ কুতবুঘা শুরু করেছিলেন এবং আন-নাসির কালাউন ৭০৩ হিজরিতে সম্পন্ন করেন।

ঘ- বুলাকের জামে আল-হাজিরির কুতুবখানা: এর প্রতিষ্ঠাতা আমির ইজউদ্দীন আইদামুর আল-হাজিরি ৭৩৭ হিজরিতে এটি সমৃদ্ধ করেন।

ঙ- জামে আল-মুয়াইয়াদের কুতুবখানা: মাকরিজী এটি সম্পর্কে বলেছেন: "সুলতান—অর্থাৎ আল-মুয়াইয়াদ—৮১৯ হিজরির ২০শে মহররম এই ইমারতে পদার্পণ করেন … "।

এবং এ জাতীয় অন্যান্য কুতুবখানাসমূহ।

৭- আলেমদের নির্বাচনে বিশেষ যত্ন নেওয়া: সুলতানগণ, আমিরগণ এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিষয়াবলি তত্ত্বাবধানের জন্য আলেম এবং পাঠদান ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদের নির্বাচনের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন। তাঁরা তাঁদেরকে সুপ্রসিদ্ধ প্রতিভাবানদের মধ্য থেকে বেছে নিতেন যারা জ্ঞান ও মর্যাদায় সুপরিচিত ছিলেন।

উদাহরণস্বরূপ আমাদের সেই সব ব্যক্তিত্বের একাংশের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট যারা জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্থানের ভার বহন করেছেন এবং মিশরের ইতিহাসের এই কঠিন সন্ধিক্ষণে ধর্মীয় ও ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা করেছেন এবং এর প্রতি অসামান্য অবদান রেখেছেন:
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
أ- ممن تولى التدريس بالمدرسة الصلاحية في عصور مختلفة وولي أمرها، شمس الدين ابن اللبان شيخ المرادي، وبرهان الدين بن جماعة، وتقي الدين بن دقيق العيد وغيرهم.

ب- ممن تولى التدريس بالمدرسة الحزومية: المنشأة بعد عام 750هـ الشيخ بهاء الدين بن عقيل مدرسا للفقه.

جـ- ممن تولى التدريس بالمدرسة الناصرية: التي أنشأها العادل وأكملها الناصر بن قلاوون، القاضي زين الدين عليّ بن مخلوف المالكي لتدريس فقه المالكية1.

8- تشجيع المؤلفين: حيث إن العلماء قد وجدوا كل ضرب من ضروب التشجيع على المضي قدما في الناحية العلمية ففتحت لهم المدارس وأجريت لهم المرتبات، وأغدقت عليهم النعم الوفيرة إلى غير ذلك، وبذلك قد وجدوا ما يشجعهم على المضي في التأليف والتدوين والتصنيف.

9- تنافس العلماء: التنافس هنا ليس المراد منه تنافسهم في سبيل العلم وفي سبيل التأليف ومباراتهم بالمناظرات والمحاضرات وما إليها مما يكون ذا أثر كبير وبديع في الحركة العلمية، إنما التنافس هو في سبيل بلوغ المراكز العالية التي خصصت لهم في القضاء وفروعه، وفي مشيخة الإسلام وفي مشيخة المساجد والخوانق، سواء أكان الإغراء بالرواتب المادية أم المنزلة الأدبية التي يصلون إليها بمصاحبة السلطان.

وتنافس العلماء من هذه الناحية كان من وسائل تشجيع الحركة العلمية2.

--------------------------------------------

1 عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود رزق، والخطط للمقريزي.

2 عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود رزق، تاريخ مصر في عهد المماليك إلى نهاية حكم إسماعيل.
ক- বিভিন্ন যুগে আল-মাদরাসা আস-সালাহিয়্যাহ-তে যারা অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর পরিচালনার ভার গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-মুরাদির শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুল লাব্বান, বুরহানুদ্দিন ইবনে জামা'আহ, তাকিউদ্দিন ইবনে দাকীক আল-ঈদ এবং অন্যান্য।

খ- আল-মাদরাসা আল-হাযুমিয়্যাহ-তে যারা অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন (যা ৭৫০ হিজরির পর প্রতিষ্ঠিত): শায়খ বাহাউদ্দিন ইবনে আকীল ফিকহশাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

গ- আল-মাদরাসা আন-নাসিরিয়্যাহ-তে যারা অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন (যা আল-আদিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং নাসির ইবনে কালাউন সম্পন্ন করেছিলেন): মালিকি ফিকহ পড়ানোর জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন কাযী যাইনুদ্দিন আলী ইবনে মাখলূফ আল-মালিকি ১।

৮- লেখকদের উৎসাহ প্রদান: যেহেতু আলিমগণ জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার জন্য সর্বপ্রকার উৎসাহ-উদ্দীপনা লাভ করেছিলেন, তাই তাদের জন্য মাদরাসাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য বেতন বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং তাদের ওপর প্রচুর সুযোগ-সুবিধা ও নেয়ামত বর্ষণ করা হয়েছিল। এর ফলে তারা গ্রন্থ রচনা, সংকলন ও শ্রেণীবিন্যাসের কাজে এগিয়ে যাওয়ার উদ্দীপনা খুঁজে পেয়েছিলেন।

৯- আলিমদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা: এখানে প্রতিযোগিতা বলতে কেবল জ্ঞান অর্জন, গ্রন্থ রচনা এবং বিতর্ক সভা ও বক্তৃতার মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতাকে বোঝানো হয়নি—যার জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনে এক বিশাল ও চমৎকার প্রভাব রয়েছে। বরং এই প্রতিযোগিতা ছিল বিচার বিভাগ ও এর শাখা-প্রশাখা, মাশায়িখুল ইসলাম এবং মসজিদ ও খানকাহসমূহের প্রধানের পদে যে উচ্চমর্যাদা তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তা লাভের উদ্দেশ্যে। চাই তা বৈষয়িক বেতনের প্রলোভনে হোক কিংবা সুলতানের সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে অর্জিত সামাজিক মর্যাদার কারণে হোক।

আর এই দিক থেকে আলিমদের মধ্যকার এই প্রতিযোগিতা ছিল জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনকে উৎসাহিত করার অন্যতম মাধ্যম ২।

--------------------------------------------

১. উস্তাদ মাহমুদ রিযক রচিত ‘আসরু সালাতীনিল মামালিক’ এবং আল-মাকরিজি রচিত ‘আল-খিতাত’।

২. উস্তাদ মাহমুদ রিযক রচিত ‘আসরু সালাতীনিল মামালিক’, এবং ‘তারিখু মিসর ফী আহদিল মামালিক ইলা নিহায়াতি হুকমি ইসমাইল’।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২০)
نتائج نشاط الحركة العلمية:

تنحصر هذه النتائج في ثلاثة أمور:

أولا: وفود الطلاب إلى دور التعليم

لا شك أن افتتاح المدارس وتعيين العلماء فيها للتدريس والعناية باختيارهم وإجراء الرواتب على الطلاب من شأنه أن يجذب إليها قلوب الطلاب … ووفد الطلاب إلى دور التعليم من مصر وغيرها إذ أصبحت مصر أهم كعبة علمية إسلامية يحج إليها محبو العلم وطلابه.

ثانيا: كثرة العلماء والأدباء

إذ زخر العصر بالعدد الوافر من علماء المذاهب الأربعة والأصوليين والنحويين واللغويين والأدباء والمؤرخين وغيرهم.

وقد نشط كثير من هؤلاء العلماء إلى التأليف والفتوى والتدريس والوعظ، وشغلوا مناصب القضاء والكتابة، وشغفوا بالمحاورات والمناظرات.

وعن المناظرات. قال صاحب الدرر الكامنة 3/ 803 في ترجمة تاج الدين محمد المراكشي المولود في القاهرة: "إنه تناظر هو والفخري فكان من حضر لا يفهم ما يقولانه لسرعة عبارتهما".

ثالثا: نشاط الحركة التأليفية

هذه الحركة من أهم نتائج النشاط العلمي إذ هي الثمرة الخالدة والأثر الباقي وكانت مصر مفخرة بسببها.

وأتناول هنا بالكلام بعض العلوم المختلفة على سبيل المثال مركزا على العلوم اللغوية "النحو والصرف" حيث إني بصدده، وسأجمل القول فيما عداها، ولم نعن في هذا المقام إلا بالمؤلفين الذين اتصلوا بمصر والشام في ذلك العصر اتصالا ما، مثل الاستيطان أو الزيارة أو الوظيفة.
জ্ঞানচর্চামূলক কার্যক্রমের ফলাফল:

এই ফলাফলগুলো তিনটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ:

প্রথমত: শিক্ষা নিকেতনগুলোতে শিক্ষার্থীদের আগমন

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মাদ্রাসাগুলোর উদ্বোধন, পাঠদানের জন্য সেখানে আলেমদের নিয়োগ, তাদের নির্বাচনে বিশেষ সতর্কতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মনকে সেদিকে আকৃষ্ট করার মাধ্যম ছিল … এবং মিশর ও অন্যান্য দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নিকেতনগুলোতে আসতে শুরু করে; কেননা মিশর তখন ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে জ্ঞানানুরাগী ও শিক্ষার্থীরা ভিড় জমাতেন।

দ্বিতীয়ত: আলেম ও সাহিত্যিকদের প্রাচুর্য

যেহেতু এই যুগটি চার মাযহাবের আলেম, উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক এবং অন্যান্যদের বিপুল উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ ছিল।

এই আলেমদের অনেকেই গ্রন্থ রচনা, ফতোয়া প্রদান, অধ্যাপনা ও ওয়াজ-নসিহতের কাজে সক্রিয় ছিলেন এবং তারা বিচার বিভাগ ও দাপ্তরিক বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা সংলাপ ও বিতর্কের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন।

বিতর্ক সম্পর্কে ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩/৮০৩) গ্রন্থের লেখক কায়রোতে জন্মগ্রহণকারী তাজউদ্দীন মুহাম্মদ আল-মাররাকুশির জীবনীতে বলেন: "তিনি এবং আল-ফাখরি বিতর্কে লিপ্ত হতেন, তখন উপস্থিত ব্যক্তিরা তাদের বাচনভঙ্গির দ্রুততার কারণে তারা কী বলছেন তা বুঝতে পারতেন না।"

তৃতীয়ত: গ্রন্থ রচনা আন্দোলনের সক্রিয়তা

এই আন্দোলনটি জ্ঞানচর্চামূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল, কারণ এটিই হলো চিরস্থায়ী ফল ও অবশিষ্ট প্রভাব। আর এর কারণেই মিশর গৌরবের অধিকারী হয়েছিল।

আমি এখানে উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে কিছু আলোচনা করব, বিশেষ করে ভাষাতাত্ত্বিক বিজ্ঞান "নাহু ও সরফ"-এর ওপর গুরুত্বারোপ করব, যেহেতু এটিই আমার মূল লক্ষ্য। অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপে আলোচনা করব। এই পর্যায়ে আমি কেবল সেই সকল লেখকদের নিয়ে আলোচনা করব যারা সেই যুগে কোনো না কোনোভাবে মিশর ও সিরিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন, যেমন সেখানে বসবাস, ভ্রমণ বা চাকরির সূত্রে।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২১)
المؤلفات:

لا نبالغ إذا قلنا: إن مؤلفات علماء مصر في خلال عصر المماليك -وهو أقل من ثلاثمائة عام- تبلغ عدة آلاف، وحسبنا دليلا على ما نقول أن بعضهم عرف عنه أنه وحده ألف مئات من الكتب والرسائل كالسيوطي، فقد قيل: إن مؤلفاته أربت على ستمائة، وكابن تيمية الحراني، فقد قيل: إن مؤلفاته أربت على خمسمائة، وغير ذلك.

وبلا ريب كانت هذه المؤلفات تملأ دور الكتب المصرية في العصر المذكور بجوار دور التعليم، فلما جاء الفتح العثماني عام 923هـ وأزالوا حكم سلاطين المماليك نهبوا ذخائر البلاد ونفائسها وفي مقدمتها تلك المؤلفات. وحملوا ما حملوا إلى عاصمة بلادهم وجملوا بها دور كتبهم، ولم يبق في مصر إلا صبابة من تلك الكأس المليئة مبعثرة هنا وهناك، وكانت هذه الصبابة هي النواة لإنشاء دار الكتب المصرية بالقاهرة في عهد الخديو إسماعيل.

وبعد، فلنعد إلى هذه المؤلفات المصرية وعصر تأليفها وهو العصر المملوكي، وسأذكر أمثلة مقتصرة حيث المقام لا يتسع، ومن المؤلفات التاريخية:

1- وفيات الأعيان لابن خلكان المتوفى عام 681هـ وبه أكثر من ثمانمائة ترجمة.

2- الطالع السعيد الجامع لأسماء نجباء الصعيد، تأليف كمال الدين جعفر بن ثعلب الأدفوي المتوفى عام 748هـ وهو معجم حافل به أكثر من 590 ترجمة لأعلام الصعيد من معاصري المؤلف.

3- تاريخ النحاة، مؤلفه تاج الدين أبو محمد أحمد بن عبد القادر محمد بن مكتوم المتوفى عام 749هـ.

4- الوافي بالوفيات، وهو لصلاح الدين الصفدي المتوفى عام 764هـ وهو في نحو خمسين مجلدا.

5- الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة لابن حجر العسقلاني، وهو أربعة أجزاء تحتوي على أكثر من ألف ترجمة لأعلام هذه المائة مرتبة حسب الحروف، وغير ذلك.
রচনাবলী:

আমরা যদি বলি যে মামলুক যুগে—যা তিনশ বছরেরও কম সময় ছিল—মিশরীয় আলেমদের রচনাবলীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে, তবে তা অত্যুক্তি হবে না। আমাদের এই কথার স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে এটুকুই যথেষ্ট যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একাই শত শত গ্রন্থ ও রিসালা রচনা করেছেন বলে পরিচিত, যেমন সুয়ূতী; বলা হয়ে থাকে যে তাঁর রচনাবলী ছয়শ ছাড়িয়ে গেছে। আবার ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী সম্পর্কেও বলা হয় যে তাঁর রচনাবলী পাঁচশ অতিক্রম করেছে, এবং আরও অনেকে।

নিঃসন্দেহে এই রচনাবলী উল্লিখিত যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মিশরের পাঠাগারগুলোকে পূর্ণ করে রেখেছিল। অতঃপর যখন ৯২৩ হিজরিতে উসমানীয় বিজয় সূচিত হলো এবং তারা মামলুক সুলতানদের শাসনের অবসান ঘটালো, তখন তারা দেশের ধনভাণ্ডার ও মূল্যবান সম্পদসমূহ লুণ্ঠন করল, যার অগ্রভাগে ছিল এই গ্রন্থসমূহ। তারা যা পারল তা তাদের দেশের রাজধানীতে নিয়ে গেল এবং সেগুলো দিয়ে তাদের পাঠাগারগুলোকে সজ্জিত করল। মিশরে সেই পূর্ণ পানপাত্রের সামান্য কিছু অবশিষ্টাংশ এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়ে গেল। আর এই অবশিষ্টাংশই ছিল খেদিভ ইসমাইলের আমলে কায়রোতে 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ' প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

অতঃপর, আমরা পুনরায় সেই মিশরীয় গ্রন্থসমূহ এবং তাদের রচনাকাল অর্থাৎ মামলুক যুগের দিকে ফিরে যাই। পরিসর সংক্ষিপ্ত হওয়ায় আমি এখানে কিছু সীমিত উদাহরণ উল্লেখ করব। ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১- ইবনে খাল্লিকান (মৃত্যু ৬৮১ হি.) রচিত 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান', এতে আটশর বেশি জীবনী রয়েছে।

২- কামালুদ্দীন জাফর বিন সা’লাব আল-আদফুওয়ী (মৃত্যু ৭৪৮ হি.) রচিত 'আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি লি-আসমা-ই নুজাবা-ইস সাঈদ'। এটি একটি সমৃদ্ধ অভিধান যাতে লেখকের সমসাময়িক উচ্চ-মিশরের (সাঈদ) প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের ৫৯০টিরও বেশি জীবনী রয়েছে।

৩- 'তারীখুন নুহাত' (ব্যাকরণবিদদের ইতিহাস), এর লেখক হলেন তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আহমদ বিন আব্দুল কাদির মুহাম্মদ বিন মাকতুম (মৃত্যু ৭৪৯ হি.)।

৪- 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত', এটি সালাহুদ্দীন আস-সাফাদী (মৃত্যু ৭৬৪ হি.) রচিত, যা প্রায় পঞ্চাশ খণ্ডে সমাপ্ত।

৫- ইবনে হাজার আল-আসকালানী রচিত 'আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আইয়ানিল মিআতিস সামিনাহ'। এটি চার খণ্ডে বিভক্ত যা এই শতাব্দীর এক হাজারের বেশি বরণীয় ব্যক্তির জীবনী সংবলিত এবং বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত, এছাড়াও আরও অনেক।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২২)
تاريخ الخطط والآثار:

وهي المؤلفات التي تحدثت عن البلاد والمدن والمواضع، ومن مؤلفات:

1- الروضة البهية الزاهرة في خطط المعزية القاهرة: مؤلفها محيي الدين عبد الظاهر المتوفى عام 692هـ.

2- نهاية الأرب في معرفة كلام العرب: مؤلفه شهاب الدين القلقشندي المتوفى عام 821هـ.

3- المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار: مؤلفه تقي الدين المقريزي المتوفى عام 845هـ وهو أربعة أجزاء.

المؤلفات الدينية:

قد سرت النزعة الدينية والروح الإسلامية في أرجاء البلاد واعتنى العلماء بالتأليف، ومن ذلك على سبيل المثال:

1- الروضة: مؤلفه محيي الدين النووي المتوفى عام 676هـ.

2- الشامل: مؤلفه بهرام بن عبد الله بن عبد العزيز المتوفى عام 805هـ.

3- الفتاوى المصرية، لتقي الدين بن تيمية الحراني المتوفى عام 728هـ، وهو سبعة مجلدات وغير ذلك من الكتب الكثيرة.

تفسير القرآن الكريم:

1- تفسير القرآن الكريم: مؤلفه عبد العزيز أحمد بن سعد الديريني المتوفى عام 697هـ.

2- إتحاف الأريب بما في القرآن من الغريب، لأثير الدين بن حيان شيخ المرادي، المتوفى عام 745هـ. وغير ذلك من الكتب.

القراءات:

1- شرح الشاطبية: مؤلفه الحسن بن أم قاسم المرادي المتوفى عام 749هـ.

2- المقدمة الجزرية: وهي منظومة في علم التجويد من وضع شمس الدين الجزري المتوفى عام 833هـ. وغير ذلك1.

--------------------------------------------

1 راجع عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود
খিতাত (মানচিত্র ও জনপদ) এবং প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাস:

এগুলো হলো সেই সকল গ্রন্থ যা বিভিন্ন দেশ, শহর এবং স্থান নিয়ে আলোচনা করেছে। এ ধরনের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১- আর-রওদাতুল বাহিয়্যাহ আজ-জাহিরাহ ফি খিতাতিল মুইজ্জিয়্যাহ আল-কাহিরাহ: এর লেখক মুহিউদ্দীন আব্দুল জাহির, যিনি ৬৯২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

২- নিহায়াতুল আরাব ফি মা'রিফাতি কালামিল আরব: এর লেখক শিহাবুদ্দীন আল-কালকাশান্দি, যিনি ৮২১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

৩- আল-মাওয়াইজু ওয়াল ইতিবার বি যিকরিল খিতাতি ওয়াল আসার: এর লেখক তাক্বিউদ্দীন আল-মাক্বরিজি, যিনি ৮৪৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং এটি চার খণ্ডে বিভক্ত।

ধর্মীয় রচনাবলি:

দেশজুড়ে ধর্মীয় প্রবণতা এবং ইসলামি ভাবধারা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং উলামায়ে কেরাম গ্রন্থ রচনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ:

১- আর-রওদাহ: এর লেখক মুহিউদ্দীন আন-নববী, যিনি ৬৭৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

২- আশ-শামিল: এর লেখক বাহরাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ, যিনি ৮০৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

৩- আল-ফাতাওয়াল মিসরিয়্যাহ: এটি তাক্বিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানির রচনা, যিনি ৭২৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এটি সাত খণ্ডে সমাপ্ত এবং এছাড়া আরও অনেক কিতাব রয়েছে।

কুরআন মাজিদের তাফসির:

১- তাফসিরুল কুরআনিল কারিম: এর লেখক আব্দুল আজিজ আহমদ বিন সাদ আদ-দাইরিনি, যিনি ৬৯৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

২- ইতহাফুল আরিব বিমা ফিল কুরআনি মিনাল গারিব: আছিরুদ্দীন বিন হাইয়্যান (যিনি শাইখুল মুরাদি নামে পরিচিত) এর রচনা, তিনি ৭৪৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এছাড়া অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।

ক্বিরাতসমূহ:

১- শারহুশ শাতবিয়্যাহ: এর লেখক হাসান বিন উম্মে কাসিম আল-মুরাদি, যিনি ৭৪৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

২- আল-মুকাদ্দিমাতুল জাজারিয়্যাহ: এটি তাজবিদ শাস্ত্রের একটি কাব্যগ্রন্থ যা শামসুদ্দীন আল-জাজারি রচনা করেছেন, তিনি ৮৩৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এছাড়া অন্যান্য ১।

--------------------------------------------

১ উস্তাদ মাহমুদের লেখা 'আসরু সালাতিনিল মামালিক' (মামলুক সুলতানদের যুগ) দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
مؤلفات عربية:

بنفس الروح التي أثارت الجد في نفوس علماء الدين، ثار الجد في نفوس علماء العربية بجميع فنونها، ونبغ فيها علماء أجلاء منهم من يعتبر إماما في فنه وقدوة في مادته، والعربية كانت ولا تزال وستبقى، أهم الأدوات لفهم الدين وتوضيح مسائله، بينهما من الوشائج ما لا تستطيع الأيام فصله، ومن ثم لم تكن لعلماء اللغة تلك المنازل المرموقة التي سما إليها علماء الدين، لذلك لم يكن غريبا أن يحرص العلماء على أن ينبغوا أولا في علوم الشريعة، ثم يفيئوا إلى اللغة وفنونها فيتعهدوها بالعناية.

على أن هناك بعضا من العلماء غلب عليه الاشتغال باللغة وفنونها، لرغبة فيها وولوع فأجاد وأفاد، وسجل لنفسه بما ألفه ودونه من مسائلها سجلا خالدا.

كتب النحو والصرف:

ولعل النحو والصرف في مقدمة فنون العربية التي حظيت من العناية بنصيب أوفر، فقد وضعت فيهما أسفار قيمة، وعرف بهما رجال أفذاذ.

ونحن لا ننكر أن نحويي هذا العصر، لم يأتوا بجديد ممتع ولا بمبتكر رائع، وقصارى جهودهم بذلت في توضيح مسائل النحو وتوجيه قواعده، والاستدلال لها مع عرض الآراء المتناقضة أحيانا، والموازنة بينها وترجيح أحدها أحيانا أخرى.

ونحا بعضهم إلى وضع المتون ثم إلى شرحها ثم إلى شرح هذا الشرح أو اختصاره، وذلك على نمط مما كان يفعل علماء الدين بكتب الفقه، وزادت التحشية على المؤلفات، والاستدراك عليها ونحوه، حتى نتج من ذلك كله نتاج وفير في هاتين المادتين: النحو والصرف.

غير أننا لا نرى مناصا من التنويه بأن بعضهم كانت له في بحوثه شخصية وقوة تشعرنا بأنه كان حسن الذوق لمادته عميق الفهم، كامل الإلمام، دقيق الملاحظة والموازنة، جديد التوجيه والتعليل.
আরবি রচনাবলি:

যে চেতনায় ধর্মতত্ত্ববিদদের মনে একাগ্রতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই একই চেতনায় আরবি ভাষার সকল শাখার পণ্ডিতদের মনেও একাগ্রতা জেগেছিল। এতে এমন সব মহান পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছিল, যাদের কেউ কেউ নিজ শিল্পে ইমাম এবং নিজ বিষয়ে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হন। আরবি ভাষা ছিল, আছে এবং সর্বদা থাকবে দ্বীন বোঝার এবং এর মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করার প্রধানতম মাধ্যম। এই দুইয়ের মধ্যে এমন নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান যা মহাকাল কখনও বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। ফলে ভাষাবিদদের মর্যাদা সেই উচ্চ স্তরের ছিল না যা ধর্মতত্ত্ববিদরা অর্জন করেছিলেন। তাই এটি আশ্চর্যের কিছু ছিল না যে, আলিমগণ প্রথমে শরয়ি উলুমে পারদর্শিতা অর্জনে আগ্রহী হতেন এবং এরপর ভাষাতত্ত্ব ও এর শাখাগুলোর দিকে মনোনিবেশ করে সেগুলোর যত্ন নিতেন।

তবে এমন কিছু আলিমও ছিলেন, যাদের ওপর ভাষা ও এর শাখাগুলোর চর্চা প্রবল ছিল। এতে তাদের প্রবল আগ্রহ ও অনুরাগের কারণে তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং প্রভূত উপকার সাধন করেছিলেন। তারা এর মাসআলাসমূহ সম্পর্কে যা কিছু রচনা ও লিপিবদ্ধ করেছেন, তার মাধ্যমে নিজেদের জন্য এক অমর কীর্তি রেখে গেছেন।

নাহু ও সরফ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ:

সম্ভবত আরবি ভাষার শাখাগুলোর মধ্যে নাহু ও সরফ সর্বাধিক যত্ন লাভ করেছিল। এই দুই শাস্ত্রে বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং এদের মাধ্যমে বহু অদ্বিতীয় মনীষী পরিচিতি লাভ করেছেন।

আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, এই যুগের নাহুবিদগণ কোনো চমকপ্রদ নতুনত্ব কিংবা কোনো চমৎকার উদ্ভাবন নিয়ে আসতে পারেননি। তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় হয়েছে নাহুর মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করতে, এর নিয়মাবলিকে সঠিক খাতে পরিচালনা করতে এবং কখনও কখনও পরস্পরবিরোধী মতামত উপস্থাপনের মাধ্যমে সেগুলোর পক্ষে দলিল পেশ করা, সেগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং কখনও কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে।

তাদের কেউ কেউ প্রথমে মূলপাঠ বা মতন রচনা, এরপর তার ব্যাখ্যা, তারপর সেই ব্যাখ্যার আবার ব্যাখ্যা কিংবা তার সারসংক্ষেপ তৈরির পথ অবলম্বন করেছিলেন। এটি ছিল ঠিক সেই পদ্ধতির মতো, যা ধর্মতত্ত্ববিদগণ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে অবলম্বন করতেন। রচনাবলির ওপর টীকা ও সংশোধনী ইত্যাদির আধিক্য ঘটেছিল, যার ফলে এই দুই বিষয়ে—নাহু ও সরফ—প্রচুর পরিমাণ জ্ঞানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদিত হয়েছে।

তবে আমরা এটি উল্লেখ না করে পারছি না যে, তাদের মধ্যে কারও কারও গবেষণায় এমন ব্যক্তিত্ব ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যা আমাদের অনুধাবন করায় যে, তিনি তার বিষয়ের প্রতি রুচিশীল, গভীর বোধসম্পন্ন, পূর্ণ জ্ঞানধারী, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার অধিকারী এবং নতুন দিকনির্দেশনা ও যুক্তি উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأفضل الأمثلة لذلك: ابن هشام المصري. ذلك العلامة الذي قال فيه ابن خلدون: "ما زلنا ونحن بالمغرب نسمع أنه ظهر بمصر عالم بالعربية يقال له ابن هشام أنحى من سيبويه".

ونشير في هذا المقام إلى جالية علماء الأندلس بالمشرق وعلى رأسها جمال الدين بن مالك الأندلسي الذي وفد إلى بلاد الشام في عهد الملك الظاهر بيبرس، وتتلمذ له كثيرون من أبنائها، وانتشرت بينهم كتبه ومنظوماته، كالألفية والتسهيل وكلاهما في مقدمة الكتب التي اتخذت محورا للتأليف.

وكذلك أبو حيان الأندلسي، فقد وفد على مصر وتتلمذ لبعض رجالها وتتلمذ له بعض رجالها كابن أم قاسم المرادي، وأفادوا منه كما أفاد منهم.

وإليك بعضا من المؤلفات والرسائل في هذين الفنين على سبيل المثلا:

1- الألفية والتسهيل والكافية الشافية وهي أرجوزة في أكثر من 2750 بيتا لخص منها ألفيته وسبك المنظوم وفك المختوم، ولامية الأفعال لابن مالك المتوفى عم 672م.

2- شرح التسهيل، وشرح الألفية، والجنى الداني في حروف المعاني، ورسالة في الجمل التي لا تكون لها محل من الإعراب، وشرح باب وقف حمزة وهشام على الهمزة من الشاطبية، وشرح المقصد الجليل في شرح علم الخليل، والمفيد وهو شرح عمدة المفيد وعدة المجيد في التجويد، وشرح الاستعاذة والبسملة، لبدر الدين وهو ابن أم قاسم حسن بن قاسم المرادي المتوفى عام 749هـ.

3- مغني اللبيب عن كتب الأعاريب، وقطر الندى وبل الصدى، وشذور الذهب، وأوضح المسالك والجامع الصغير، والروضة الأدبية، وموقد الأذهان، والإعراب عن قواعد الإعراب، لابن هشام المصري المتوفى عام 761هـ.

4- المساعد في شرح التسهيل، وشرح الألفية، لبهاء الدين بن عقيل المتوفى عام 769هـ.
এর সর্বোত্তম উদাহরণ হলেন: ইবনে হিশাম আল-মিসরি। তিনি সেই মহান পণ্ডিত যাঁর সম্পর্কে ইবনে খালদুন বলেছেন: "আমরা মাগরিবে অবস্থানকালেও সর্বদা শুনতে পেতাম যে, মিশরে আরবি ভাষার এমন এক পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে যাঁকে ইবনে হিশাম বলা হয় এবং তিনি সিবাওয়াইহ-এর চেয়েও বড় ব্যাকরণবিদ।"

এই পর্যায়ে আমরা প্রাচ্যে আন্দালুসিয়ান আলেমদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করছি, যাঁদের শীর্ষে ছিলেন জামালুদ্দিন ইবনে মালিক আল-আন্দালুসি। তিনি সুলতান জাহির বিবারসের শাসনামলে শাম দেশে আগমন করেন। সেখানকার বহু শিক্ষার্থী তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে তাঁর রচিত গ্রন্থ ও কাব্যসমূহ ছড়িয়ে পড়ে, যেমন আল-আলফিয়্যাহ এবং আত-তাসহিল; আর এ উভয় গ্রন্থই রচনার ক্ষেত্রে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত গ্রন্থসমূহের অগ্রভাগে রয়েছে।

একইভাবে আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি; তিনি মিশরে আগমন করেন এবং সেখানকার কিছু পণ্ডিতের নিকট শিক্ষা লাভ করেন, আবার সেখানকার কিছু পণ্ডিত তাঁর নিকটও শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, যেমন ইবনে উম্মে কাসিম আল-মুরাদি; তাঁরা যেমন তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন, তিনিও তেমনি তাঁদের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন।

উদাহরণস্বরূপ এই দুটি শিল্পে রচিত কিছু গ্রন্থ ও পুস্তিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

১- আল-আলফিয়্যাহ, আত-তাসহিল এবং আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ—যা ২,৭৫০টিরও বেশি চরণের একটি কাব্যগ্রন্থ যেখান থেকে তিনি তাঁর আলফিয়্যাহ সংক্ষেপ করেছেন এবং কাব্যিক বিন্যাস ও এর গূঢ় রহস্য উম্মোচন করেছেন; এবং ইবনে মালিকের লামিয়াতুল আফআল, যিনি ৬৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

২- শারহুত তাসহিল, শারহুল আলফিয়্যাহ, আল-জানি আদ-দানি ফি হুরুফিল মাআনি, এরাব বা বাক্য বিশ্লেষণে স্থান নেই এমন বাক্যের ওপর একটি পুস্তিকা, শাতবিয়্যাহর হামজার ওপর হামজা ও হিশামের বিরতি (ওয়াকফ) অধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ইলমে খলিল বা ছন্দশাস্ত্রের ব্যাখ্যায় শারহুল মাকসাদ আল-জলিল, আল-মুফিদ—যা তাজবিদ শাস্ত্রের উমদাতুল মুফিদ ওয়া উদ্দাতুল মজিদ-এর ব্যাখ্যা, এবং ইস্তিয়াযাহ ও বাসমালাহ-এর ব্যাখ্যা; এসবই বদরুদ্দিন ইবনে উম্মে কাসিম হাসান বিন কাসিম আল-মুরাদির রচনা, যিনি ৭৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩- মুগনি আল-লাবিব আন কুতুবিল আআরিব, কাত্রুন নাদা ওয়া বাল্লুস সাদা, শুযুরুয যাহাব, আওদাহুল মাসালিক, আল-জামেউস সাগির, আর-রাওদাতুল আদাবিয়্যাহ, মাওকিদুল আযহান এবং আল-ইরাব আন কাওয়াইদিল ইরাব—এগুলো ইবনে হিশাম আল-মিসরির রচনা, যিনি ৭৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪- আল-মুসায়িদ ফি শারহিত তাসহিল এবং শারহুল আলফিয়্যাহ—এগুলো বাহাউদ্দিন ইবনে আকিলের রচনা, যিনি ৭৬৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
5- شرح الألفية ولم يكمله، وشرح التسهيل، لجمال الدين عبد الرحيم الأسنوي المتوفى عام 777هـ.

6- شرح الألفية، لشمس الدين بن الصائع محمد بن عبد الرحمن بن عليّ الزمردي المتوفى عام 777هـ.

7- شرح الألفية وشرح التسهيل، لناظر الجيش محب الدين محب محمد بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم الحلبي المتوفى عام 778هـ.

8- شرح ألفية ابن مالك، لأكمل الدين البابرتي المتوفى عام 786هـ.

9- حاشية على مغني اللبيب، لبدر الدين الدماميني المتوفى بالهند عام 827هـ.

10- الألغاز النحوية، والتصريح بمضمون التوضيح، وشرح الآجرومية، وإعراب الألفية، لخالد الأزهري الجرجاوي المتوفى عام 905هـ.

11- البهجة المرضية في شرح الألفية، الأشباه والنظائر في النحو، والفريدة في النحو والصرف والخط والنكت على الألفية والاقتراح في أصول النحو، وهمع الهوامع، وشرح شواهد المغني … لجلال الدين السيوطي المتوفى عام 911هـ1.

علم العروض:

فعلى سبيل المثال:

1- كتاب في العروض لابن مالك النحوي الأندلسي المتوفى عام 672هـ.

2- شرح المقصد الجليل في شرح علم الخليل، لابن أم قاسم المرادي المتوفى عام 749هـ.

3- كتاب القوافي، وجواهر البحور في العروض، لبدر الدين الدماميني المتوفى عام 728هـ2.

--------------------------------------------

1 عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود رزق.

2 نفس المرجع.
৫- আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি এবং আত-তাসহিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এটি জামালুদ্দিন আব্দুর রহিম আল-আসনাবি কর্তৃক রচিত, যিনি ৭৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৬- আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এটি শামসুদ্দিন ইবনুল সায়িগ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আলী আজ-জুমুররুদি কর্তৃক রচিত, যিনি ৭৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৭- আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং আত-তাসহিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এটি নাযিরুল জাইশ মুহিব্বুদ্দিন মুহিব মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল দায়েম আল-হালাবি কর্তৃক রচিত, যিনি ৭৭৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৮- ইবনে মালিকের আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এটি আকমালুদ্দিন আল-বাবরতি কর্তৃক রচিত, যিনি ৭৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৯- মুগনির লাবিব-এর ওপর টীকা (হাশিয়া); এটি বদরুদ্দিন আদ-দামামিনি কর্তৃক রচিত, যিনি ৮২৭ হিজরিতে ভারতে মৃত্যুবরণ করেন।

১০- আল-আলগায আন-নাহবিয়্যাহ (ব্যাকরণিক ধাঁধা), আত-তাসরিহ বি-মাদমুনিত তাওদিহ, আল-আজুরুমিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং আলফিয়ার ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ); এটি খালিদ আল-আযহারি আল-জিরজাবি কর্তৃক রচিত, যিনি ৯০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

১১- আল-বাহজাতুল মারদিয়্যাহ ফি শারহিল আলফিয়্যাহ, নাহু শাস্ত্রে আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর, নাহু, সরফ, লিপিবিদ্যার ওপর আল-ফারিদাহ, আলফিয়ার ওপর আন-নুকাত, উসুলুন নাহুর ওপর আল-ইকতিরাহ, হামউল হাওয়ামি এবং মুগনির উদাহরণসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ... এটি জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি কর্তৃক রচিত, যিনি ৯১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।১

ছন্দবিদ্যা:

উদাহরণস্বরূপ:

১- আন্দালুসীয় ব্যাকরণবিদ ইবনে মালিক কর্তৃক রচিত ছন্দবিদ্যার ওপর একটি কিতাব, যিনি ৬৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২- ইলমে খলিলের ব্যাখ্যায় 'শারহুল মাকসাদিল জালিল'; এটি ইবনুল উম্মি কাসিম আল-মুরাদি কর্তৃক রচিত, যিনি ৭৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩- কিতাবুল কাওয়াফি এবং ছন্দবিদ্যার ওপর জাওয়াহিরুল বুহুর; এটি বদরুদ্দিন আদ-দামামিনি কর্তৃক রচিত, যিনি ৭২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।২

--------------------------------------------

১ উস্তাদ মাহমুদ রিযক রচিত 'আসরু সালাতিনিল মামালিক'।

২ একই উৎস।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
علوم البلاغة:

أما علوم البلاغة فالمعروف أنها نضجت قبل هذا العصر نضوجا محمودا، فقد هذب عبد القاهر الجرجاني المتوفى عام 471هـ مسائلها ووجه أنواعها ورتب قواعدها في كتابيه: أسرار البلاغة في قالبها الأخير في كتابه مفتاح العلوم، وجاء العصر المملوكي فاشتغل علماؤه بالشرح والتفصيل أو الاختصار وعلى رأسهم جلال الدين القزويني وهو محمد بن عبد الرحمن المتوفى عام 739هـ فوضع تلخيص المفتاح من كتاب السكاكي، وسأذكر بعض المؤلفات على سبيل المثال:

1- المسترجل في الكنى، والمقتنى في سرد الكنى، لشمس الدين الذهبي المتوفى عام 748هـ.

2- مختصر أساس البلاغة للزمخشري، لشهاب الدين بن حجر العسقلاني المتوفى عام 852هـ.

3- الإفصاح، وهو نكت على التلخيص في البلاغة، وعقود الجمان في المعاني والبيان، وشرح أبيات تلخيص المفتاح، لجلال الدين السيوطي المتوفى عام 911هـ1.

الكتب الجامعة:

1- لسان العرب. المعجم اللغوي المشهور، لابن منظور الأفريقي المتوفى عام 711هـ.

2- طبقات الشافعية: وهو في تراجم أعلام الشافعية: لتاج الدين السبكي المتوفى عام 771هـ.

3- تاريخ ابن إياس، وهو المعروف ببدائع الزهور في وقائع الدهور، لابن إياس المتوفى عام 930هـ2.

--------------------------------------------

1 عصر سلاطين المماليك للأستاذ محمود رزق.

2 نفس المرجع.
বালাগাত শাস্ত্র:

বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে এটি সুবিদিত যে, এই যুগের পূর্বেই এটি প্রশংসনীয়ভাবে পরিপক্বতা লাভ করেছিল। ৪৭১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আব্দুল কাহের আল-জুরজানী তাঁর গ্রন্থদ্বয়ে এ শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ পরিমার্জিত করেছেন, এর প্রকারভেদগুলো নির্দেশ করেছেন এবং এর মূলনীতিগুলো সুবিন্যস্ত করেছেন। পরবর্তীতে ‘মিফতাহুল উলুম’ গ্রন্থে এটি তার চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে। অতঃপর মামলুক যুগ আসে এবং এই যুগের আলেমগণ এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত আলোচনা অথবা সংক্ষিপ্তকরণে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন জালালুদ্দিন আল-কাযউইনী, যিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান (ইন্তেকাল ৭৩৯ হি.); তিনি সাক্কাকীর গ্রন্থ থেকে ‘তালখীসুল মিফতাহ’ রচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ আমি নিম্নে কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করছি:

১- শামসুদ্দিন আয-যাহাবী (ইন্তেকাল ৭৪৮ হি.) রচিত ‘আল-মুসতারজাল ফিল কুনা’ এবং ‘আল-মুকতানা ফী সারদিল কুনা’।

২- শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজার আল-আসকালানী (ইন্তেকাল ৮৫২ হি.) রচিত যামাখশারীর ‘আসাসুল বালাগাত’-এর সংক্ষিপ্তসার।

৩- জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (ইন্তেকাল ৯১১ হি.) রচিত ‘আল-ইফসাহ’ (যা বালাগাত শাস্ত্রের ‘তালখীস’-এর উপর একটি টীকা), ‘উকুদুল জুমান ফিল মাআনী ওয়াল বায়ান’ এবং ‘শারহু আবয়াতি তালখীসিল মিফতাহ’১।

সারসংক্ষেপমূলক গ্রন্থসমূহ:

১- লিসানুল আরব: ইবনু মানযুর আল-আফ্রিকী (ইন্তেকাল ৭১১ হি.) রচিত সুবিখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান।

২- তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: এটি শাফিঈ মাযহাবের বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনীগ্রন্থ, যা তাজউদ্দীন আস-সুবকী (ইন্তেকাল ৭৭১ হি.) রচনা করেছেন।

৩- তারিখ ইবনে ইয়াস: এটি ‘বাদায়িউয যুহুর ফী ওয়াকায়িউদ দুহুর’ নামে পরিচিত, যা ইবনে ইয়াস (ইন্তেকাল ৯৩০ হি.) রচনা করেছেন২।

--------------------------------------------

১ উস্তাদ মাহমুদ রিযক রচিত ‘আসরু সালাতীনিল মামালিক’।

২ একই উৎস।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الثاني:

مصر:

وبعد الخلاصة الموجزة عن العصر المملوكي تناولت فيها نظم حكمه وأحواله الاجتماعية والاقتصادية والثقافية والعلمية، حيث العصر الذي عاش في كنفه ابن أم قاسم المرادي وتأثر به في كل أحواله … لا يفوتنا، أنه عاش في مصر وقاهرتها واستظل بسمائها، وافترش أرضها وشرب من ماء نيلها، لذلك سأسرد نبذة موجزة عن مصر وجوها وأحوالها فنقول:

مصر بنت النيل، الطيبة تربتها، الصافية سماؤها، المعتدل جوها، الرضية حياتها، السمح أهلها، الرحب جنابها، مرت بها العصور تتوالى دونها، صاحبت الشمس منذ مطلعها، ورافقت الزمن منذ نشأته، وعبرت بها الأحداث حيرى دونها، مع كثرة غيرها وصروفها، ولكن مصر كانت هادئة بإيمانها مطمئنة بيقينها، لذلك لم تكن تألو أن تخلع على هذه الأحداث والغير والصروف أثوابا من الهزء، وأردية من السخرية أن آمنت أن العاقبة لها، وأن الخلود في جانبها، وأن البقاء من نصيبها، أما ما دونها من عوادي الزمن ومحن الأيام، فإنها أمامها أشبه ببساط منشور يستعين به الهراجون والمتبذلون فيفكهون الناس حينا ببعض قصصهم، فإذا ما انقضت آونتهم وانتهت فترتهم، طووا بساط اللهو، فينشر غيرهم بساطا آخر جديدا، وهكذا دواليك، بين هذه الأمواج الصاخبة في بحر الزمان، وبين هذه العواصف المتلاحقة في جو الليالي، شهدت مصر ألوانا شتى من قصص الحياة ومثلها، آنًا تسمو إلى ما هي له أهل من السمو فتقبض بيدها على صولجانها، فيأتمر الناس بأمرها، وينتهون بنهيها، وآنًا تهددها الأحداث، وتتعاورها الخطوب، فتنثني باسمة أمام العاصفة، فتهزم شدتها بما وهب لها من لين، وتقهر قسوتها بما منحته من لطف، وهي هي مصر الباقية الوادعة.

وإذا كانت مصر هكذا كالطود الشامخ، فهي جديرة بأن تخرج أفذاذا وأشبالا في اللغة وغيرها مثل ابن أم قاسم المرادي وغيره، فهؤلاء استمدوا قوتهم من قوتها وتأثروا بجوها وحوادثها ومناخها.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

মিশর:

মামলুক যুগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের পর—যেখানে আমি এর শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি, যে যুগে ইবনে উম্মে কাসিম আল-মুরাদি বসবাস করেছেন এবং এর দ্বারা সর্বতোভাবে প্রভাবিত হয়েছেন—আমাদের এটি ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনি মিশরে ও তার রাজধানী কায়রোতে বসবাস করেছেন, এর আকাশের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন, এর জমিনকে শয্যা বানিয়েছেন এবং এর নীল নদের পানি পান করেছেন। তাই আমি মিশর, তার পরিবেশ ও অবস্থা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরব। আমরা বলি:

মিশর নীল নদের কন্যা; তার মাটি উর্বর, আকাশ স্বচ্ছ, আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ, জীবন তৃপ্তিময়, অধিবাসীরা উদার এবং তার আঙিনা প্রশস্ত। যুগ যুগ ধরে একের পর এক সময় এর ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের লগ্ন থেকেই সে সূর্যের সাথী এবং উৎপত্তিকাল থেকেই সে সময়ের সঙ্গী। বহু পরিবর্তন ও বিবর্তন সত্ত্বেও বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ একে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় অতিক্রম করে গেছে। কিন্তু মিশর তার ঈমানের শক্তিতে শান্ত এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের গুণে স্থির ছিল। তাই এসব ঘটনা ও উত্থান-পতনকে উপহাসের পোশাক ও বিদ্রূপের চাদর পরাতে সে কোনো দ্বিধা করেনি; কারণ সে বিশ্বাস করত যে, চূড়ান্ত পরিণাম তারই অনুকূলে, অমরত্ব তারই পক্ষে এবং টিকে থাকা তারই ভাগ্যে নির্ধারিত। আর এর বাইরে সময়ের যে বিপর্যয় ও দিনরাতের যে পরীক্ষা রয়েছে, তা মিশরের সামনে এক প্রসারিত শতরঞ্জির মতো, যা ভাঁড় ও আমোদপ্রিয়রা ব্যবহার করে থাকে; তারা তাদের কিছু কাহিনীর মাধ্যমে মানুষকে কিছুক্ষণ আনন্দ দেয়। অতঃপর যখন তাদের সময় শেষ হয় এবং মেয়াদ ফুরিয়ে যায়, তখন তারা আমোদ-প্রমোদের সেই শতরঞ্জি গুটিয়ে নেয় এবং অন্যরা এসে নতুন আরেকটি শতরঞ্জি পাতে। সময়ের সমুদ্রের এই উত্তাল তরঙ্গমালা এবং রাতের আকাশের এই একের পর এক ঝঞ্ঝাবায়ুর মাঝে মিশর জীবনের নানা বৈচিত্র্যময় কাহিনী ও দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করেছে। কখনো সে তার উপযুক্ত সুউচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করে নিজের হাতে রাজদণ্ড ধারণ করে, ফলে মানুষ তার আদেশে পরিচালিত হয় এবং তার নিষেধে নিবৃত্ত থাকে। আবার কখনো বিভিন্ন ঘটনা তাকে হুমকির মুখে ফেলে এবং বিপদাপদ তাকে ঘিরে ধরে, তখন সে ঝড়ের সামনে হাসিমুখে নুয়ে পড়ে; ফলে তাকে প্রদত্ত কোমলতা দিয়ে সে ঝড়ের তীব্রতাকে পরাজিত করে এবং তাকে দান করা মাধুর্য দিয়ে তার কঠোরতাকে দমন করে। এটাই সেই চিরস্থায়ী ও শান্তিময় মিশর।

আর মিশর যদি এমন সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় অটল হয়, তবে ভাষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইবনে উম্মে কাসিম আল-মুরাদির মতো অনন্য ব্যক্তিত্ব ও সিংহশাবকদের জন্ম দেওয়ার যোগ্যতা সে অবশ্যই রাখে। তারা মিশরের শক্তি থেকেই নিজেদের শক্তি আহরণ করেছেন এবং এর পরিবেশ, ঘটনাবলি ও জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩০)
فكان أدعى أن يحفزهم إلى العمل الجاد من أجل إعلاء اللغة العربية الغنية بألفاظها وأساليبها ومعانيها.

النحو والنحاة في عصر المماليك:

إن مصر والشام في هذه الآونة كانتا مستقلتين تخفق عليهما راية واحدة حملها المماليك الذين ولوا أمرهما بعد الأيبوبيين سنة 648هـ واتخذوا القاهرة قاعدة ملكهم.

وكان المماليك لشعورهم بنقص أحسابهم، ولأنهم دخلاء يحاولون استكمال مهابتهم بغرس ما يثمر النفع للبلاد، ثم كان حادث بغداد موجبا إليهم جسامة العبء الملقى على كاهلهم، فناصروا اللغة العربية؛ لأنها لغة الدين والشعب، ولم تحل جنسيتهم التركية والجركسية دون اعتمادها لسان الدولة الرسمي، وتحبيب علمائها لنشرها ورفع لوائها، ليستعيدوا مجد العراق في بلادهم. ثم تمكن المماليك من القبض على زمام المقاليد في مصر والشام، والعراق حينئذ في الاحتضار والأندلس في سبيل الزوال، وأن علماؤهما لم يلفوا أمامهم موطنا يعيشون فيه ويجدون مبتغاهم من الهدوء ونشر العلوم، وأن العلماء قد رأوا إقفار البلاد من الكتب العربية. يقول السيوطي وهو من علماء هذا العهد: "وقد ذهب جل الكتب في الفتن الكائنة من التتار وغيرهم بحيث إن الكتب الموجودة الآن في اللغة من تصانيف المتقدمين والمتأخرين لا تجيء حمل جمل واحد".

وربما كان في هذا الكلام شيء من الغلو إلا أنه -أيا ما كان- دليل على إحساسهم بالنقص والخسارة، وواجب الدين في أعناقهم يقضي عليهم بإحياء ما درس من علوم لغة الدين، وبينهم بعض المشارقة الذين فروا من وجه المغول، والجم الغفير من المغاربة والأندلسيين الذين وردوا القطرين من عهد بعيد، فهبت حركة طيبة في علومها، وفي مقدمتها النحو.

ومن الإنصاف أن نقول: إن عماد هذه الحركة التي كان فيها إمساك للحوباء إنما هي جالية الأندلس والمغرب، فألفية ابن مالك الأندلسي التي كثرت الشروح
ফলে এটি তাদের শব্দভাণ্ডার, প্রকাশভঙ্গি ও অর্থে সমৃদ্ধ আরবি ভাষাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য অধিকতর সহায়ক হয়েছিল।

মামলুক যুগে নাহু (ব্যাকরণ) ও নাহুবিদগণ:

এই সময়ে মিসর ও শাম ছিল স্বাধীন এবং সেখানে একক পতাকা উড়ছিল, যা বহন করেছিলেন মামলুকরা, যারা ৬৪৮ হিজরি সালে আইয়ুবিদের পর শাসনভার গ্রহণ করেন এবং কায়রোকে তাদের রাজত্বের কেন্দ্র বানান।

মামলুকগণ তাদের বংশমর্যাদার ঘাটতি অনুধাবন করায় এবং যেহেতু তারা বহিরাগত ছিলেন, তারা দেশের জন্য কল্যাণকর কিছু করার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি পূর্ণ করার চেষ্টা করতেন। অতঃপর বাগদাদের পতন তাদের কাঁধে অর্পিত দায়িত্বের বিশালতাকে অনিবার্য করে তোলে। ফলে তারা আরবি ভাষার পৃষ্ঠপোষকতা করেন; কারণ এটি ছিল ধর্ম ও জনগণের ভাষা। তাদের তুর্কি ও চেরকাসীয় বংশোদ্ভূত হওয়া সত্ত্বেও তা আরবিকে রাষ্ট্রের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার এবং এর প্রসারে ও ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখতে আলেমদের উৎসাহিত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, যাতে তারা তাদের দেশে ইরাকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারেন। অতঃপর মামলুকগণ মিসর ও শামের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে সক্ষম হন, যখন ইরাক মুমূর্ষু অবস্থায় এবং আন্দালুস বিলুপ্তির পথে ছিল। তখন এই অঞ্চলের আলেমগণ তাদের বসবাসের জন্য এবং জ্ঞানচর্চা ও প্রসারের উপযোগী শান্তিপূর্ণ কোনো আবাসস্থল খুঁজে পাচ্ছিলেন না। উপরন্তু, আলেমগণ লক্ষ্য করেছিলেন যে দেশগুলো আরবি গ্রন্থশূন্য হয়ে পড়েছে। এই যুগের অন্যতম আলেম আস-সুয়ূতী বলেন: "তাতার ও অন্যদের দ্বারা সৃষ্ট ফিতনায় অধিকাংশ কিতাব ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে ভাষা বিষয়ে পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের রচিত বর্তমান কিতাবগুলো একত্রিত করলে একটি উটের বোঝার সমানও হবে না"।

সম্ভবত এই উক্তিতে কিছুটা অতিরঞ্জন রয়েছে, তবে তা যা-ই হোক—এটি তাদের অভাববোধ ও ক্ষতির অনুভূতির একটি প্রমাণ। তাদের কাঁধে অর্পিত ধর্মীয় দায়িত্ব তাদের বাধ্য করেছিল দ্বীনের ভাষার বিলুপ্তপ্রায় জ্ঞানসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করতে। তাদের মধ্যে এমন কিছু প্রাচ্যের লোক ছিলেন যারা মঙ্গোলদের হাত থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, আর ছিল মাগরেব ও আন্দালুস থেকে আসা এক বিশাল জনস্রোত যারা দীর্ঘকাল আগেই এই দুই ভূখণ্ডে আগমন করেছিলেন। ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এক চমৎকার জাগরণ সৃষ্টি হয়, যার অগ্রভাগে ছিল নাহু (ব্যাকরণ)।

ন্যায়সংগতভাবে বলা যায় যে, এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি—যা প্রাণস্পন্দন ধরে রেখেছিল—তা ছিল আন্দালুস ও মাগরেবের প্রবাসী সমাজ। আন্দালুসী ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ, যার অসংখ্য ব্যাখ্যা...
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩১)
عليها، وطاف المؤلفون في القطرين حولها، هي التي توزعت دراستها على مراحل التعليم باعتبار شروحها سهولة وصعوبة واختصارا واتساعا، وكذا الكافية الشافية.

ففي هذا العصر فاضت دراسة النحو في أغلب القطرين وبخاصة القاهرة ودمشق وحلب، وقد كانت الدراسة أول أمرها أشبه بعلاج المريض الذي لم يبق فيه إلا الذماء، ولكن الترغيب والتقدير قد أكسبها استعادة ما فقد من الازدهار، فظهر جهابذة حفظوا وجود هذا العلم بعد نكبتي المشرق والمغرب. ونشطت حركة التأليف لتزايد الإقبال عليها.

ومن مظاهر هذا النشاط أن توخى أغلب المؤلفين في مؤلفاتهم التدرج والتنويع فيها، لاختلاف قدر الطالبين من مبتدئ وشاد ومنته، فجمعوا فيها بين وجيز ووسيط وبسيط، حبا في تعميم النفع كما صنع ابن مالك وابن أم قاسم وابن هشام والسيوطي.

فالتأليف على عمومه في خلال هذا العهد قد طرأ عليه اتجاه جديد.

ففي هذا العهد طفق المؤلفون ينشئون المتون مع استيعابها لما في المطولات، ويعملون على إيجازها ما وسعت قدرتهم، ومن هنا مست الحاجة إلى الشروح وربما جللت بالحواشي، وأقرب الأمثلة لهذا شروح ألفية ابن مالك وكافية ابن الحاجب.. وبعض الحواشي.

وهذه المؤلفات التي كانت غزيرة المادة العلمية من الجهة النحوية لم يعبها إلا ما شابها من الشروح والحواشي من كثرة بيان اللهجات العربية لكثير من الكلمات مما يمت إلى فقد اللغة بسبب وثيق، ومن التعليل والتوجيه لتضارب الآراء النحوية مما لا يعود بطائل على النحو، ومن محاولتهم أخذ القاعدة النحوية من مادة الكتاب المعلق عليه وكثيرا ما يكون في العبارة قصور في الدلالة.

لكن هذه الهنات لم تذهب بمحاسن هذه المصنفات، وجلها لا يزال إلى يومنا عتاد طلاب النحو ومطمح أنظارهم، ويظهر أن الحامل لهم على الإكثار من المتون حبهم في سرعة تلافي ما ضاع من كتب النحو.

والمتون كفيلة بجمع ما كثر من القواعد في موجز الكلام، فلكي يسهلوا على الراغبين جمع شتات هذا الفن في قبضة اليد صنفوها كعلاج بدا لهم.
এর ওপর ভিত্তি করে দুই ভূখণ্ডের লেখকগণ এর চারপাশেই আবর্তিত হয়েছেন। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সহজবোধ্যতা, দুরূহতা, সংক্ষিপ্ততা ও বিস্তারিত বর্ণনার ভিত্তিতে শিক্ষাস্তরে এটি বিন্যস্ত হয়েছে; অনুরূপভাবে কাফিয়াহ শাফিয়াহ গ্রন্থটিও।

এই যুগে দুই ভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকায়, বিশেষ করে কায়রো, দামেস্ক ও আলেপ্পোতে নাহু শাস্ত্রের চর্চা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে এই শাস্ত্রের অবস্থা ছিল মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসার মতো, যার শরীরে কেবল প্রাণের স্পন্দনটুকু অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু উৎসাহ প্রদান ও মূল্যায়নের ফলে এটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পায়। ফলে এমন সব প্রাজ্ঞ পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটে যারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিপর্যয়ের পর এই শাস্ত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেন। এর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে গ্রন্থ রচনার ধারায় গতিশীলতা আসে।

এই তৎপরতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, অধিকাংশ লেখক তাদের রচনায় ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া এবং বৈচিত্র্য আনয়নের প্রয়াস চালিয়েছেন; কারণ শিক্ষার্থীদের যোগ্যতায় ভিন্নতা ছিল—কেউ ছিল প্রাথমিক স্তরের, কেউ মধ্যম সারির, আবার কেউ ছিল উচ্চ স্তরের। তারা জনকল্যাণের প্রসারের লক্ষ্যে সংক্ষেপ, মধ্যম ও বিস্তারিত বর্ণনার সমন্বয় করেছেন, যেমনটি করেছেন ইবনে মালিক, ইবনে উম্মে কাসিম, ইবনে হিশাম এবং সুয়ূতী।

সাধারণভাবে এই যুগে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হয়।

এই যুগে লেখকগণ এমন সব মূলপাঠ (মতন) রচনা করতে শুরু করেন যা দীর্ঘ ও বিস্তারিত গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তুকে ধারণ করে। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগুলোকে সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করেন। এ থেকেই ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শরহ) প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং কখনো কখনো সেগুলোকে টীকা (হাশিয়া) দিয়ে সাজানো হয়। এর নিকটতম উদাহরণ হলো ইবনে মালিকের আলফিয়াহ এবং ইবনে হাজিবের কাফিয়াহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং কিছু হাশিয়া।

নাহু শাস্ত্রীয় জ্ঞানগর্ভ উপাদানে সমৃদ্ধ এই রচনাগুলোর একমাত্র ত্রুটি ছিল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাগুলোর মধ্যে আরবের বিভিন্ন উপভাষার অত্যধিক আলোচনা, যা ভাষার বিলুপ্তির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এছাড়া নাহু শাস্ত্রীয় মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে এমন সব যুক্তি ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে যা নাহুর জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ নয়। পাশাপাশি মূল গ্রন্থের ইবারত থেকে নাহু শাস্ত্রীয় নিয়ম বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, যদিও অনেক সময় সেই ইবারত বা বাক্যের অর্থে অস্পষ্টতা বিদ্যমান ছিল।

তবে এই সামান্য ত্রুটিগুলো এই গ্রন্থসমূহের গুণাবলিকে ম্লান করতে পারেনি। এগুলোর অধিকাংশ আজও নাহুর শিক্ষার্থীদের সম্বল এবং তাদের গভীর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। সম্ভবত লেখকগণের অধিক পরিমাণে মতন বা মূলপাঠ রচনার মূল কারণ ছিল নাহু শাস্ত্রের হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলোর অভাব দ্রুত পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা।

সংক্ষিপ্ত ইবারতের মাধ্যমে অজস্র নিয়মাবলিকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ‘মতন’ যথেষ্ট কার্যকর। তাই জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এই শিল্পের বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা সহজ করতে তারা এগুলোকে একটি সমাধান হিসেবে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩২)
فلم يكن بعد هذا بد من شروح تكشف قناع هذه المخدرات المكنونة، وبالتالي قد تقتضي الشروح تفصيلا لما أجمل فيها فكانت بعض الحواشي.

فما أجدر عهد المماليك بتسميته عهد المتون والشروح، وقلما ترى حاشية لمؤلف منهم … كل ذلك والأقطار الإسلامية الأخرى منصرفة عن هذا العلم وغيره، ترزح تحت نير الظلم من ملوك لا تحنو على اللغة وعلومها ولا تربطها بها أسباب.

فإن المطالع لصفحات تاريخ النحويين لهذا العهد لا تكاد تقع عيناه عليهم إلا متواطنين بالقطرين إما نازحين إليهما أو مولودين بهما.

فمما لا مرية فيه أنه لولا القطران في هذا الأمد لانقطعت الصلة بين النحو قديمه وحديثه ولكان له نظام آخر1.

المعاصرون للمرادي المعروف بابن أم قاسم:

لما كان المرادي المعروف بابن أم قاسم يعيش في عصر المماليك، الذي اشتهر بعهد المتون والشروح … رأيت أن أذكر نبذة موجزة عن بعض هؤلاء النحاة الذين عاصروا ابن أم قاسم، سواء أكانوا من مواليد مصر أم من النازحين إليها، مراعيا في ذلك الترتيب الزمني في وفياتهم.

مع العلم أنني لم أعثر على ما يدل على أنه يجتمع بهؤلاء ويناظرهم، والرابط بينهم هو العصر، وأن بعضهم كان قد تلقى عن شيخه أبي حيان.

1- برهان الدين السفاقسي:

نسبه: هو إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن أبي القاسم القبسي المالكي العلامة برهان الدين أبو إسحاق السفاقسي النحوي، صاحب إعراب القرآن.

مولده: قال ابن حجر في الدرر الكامنة: ولد في حدود سنة 677 سبع وسبعين وستمائة من الهجرة.

--------------------------------------------

1 نشأة النحو بتصرف "المزهر السيوطي".
এরপর এই নিভৃত রহস্যসমূহের পর্দা উন্মোচনকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর (শরাহ) প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে সংক্ষেপে বর্ণিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন দেখা দেয়, যার ফলে কিছু টীকাগ্রন্থের (হাশিয়া) উদ্ভব ঘটে।

তাই মামলুক যুগকে 'মতন ও শরাহ' (মূলপাঠ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ) এর যুগ হিসেবে অভিহিত করাই অধিক সংগত। তাঁদের কোনো লেখকের এমন কোনো টীকাগ্রন্থ খুব কমই দেখা যায় যা … এই সবকিছুই তখন ঘটছিল যখন অন্যান্য ইসলামি ভূখণ্ডগুলো এই জ্ঞান এবং অন্যান্য শাস্ত্র থেকে বিমুখ ছিল। তারা এমন সব রাজন্যবর্গের জুলুমের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল, যাদের এই ভাষা ও এর শাস্ত্রসমূহের প্রতি কোনো মমতা ছিল না এবং এর সাথে তাদের কোনো সম্পর্কও ছিল না।

প্রকৃতপক্ষে, এই যুগের ব্যাকরণবিদদের ইতিহাসের পাতা যারা অধ্যয়ন করবেন, তাদের দৃষ্টিতে এই ব্যাকরণবিদগণ এই দুই ভূখণ্ডের (মিসর ও সিরিয়া) অধিবাসী হিসেবেই প্রতিভাত হবেন; তারা হয় সেখানে হিজরত করে এসেছিলেন অথবা সেখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সময়ে যদি এই দুই ভূখণ্ড না থাকত, তবে প্রাচীন ও আধুনিক ব্যাকরণ শাস্ত্রের মধ্যকার যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং এর ধারা ভিন্ন রূপ লাভ করত।১

ইবন উম্মে কাসিম নামে পরিচিত আল-মুরাদি-র সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ:

যেহেতু ইবন উম্মে কাসিম নামে পরিচিত আল-মুরাদি মামলুক যুগে বসবাস করতেন—যা মতন ও শরাহ-এর যুগ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল—তাই আমি আল-মুরাদি-র সমসাময়িক কিছু ব্যাকরণবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি; তারা মিসরে জন্মগ্রহণকারী হোন কিংবা সেখানে হিজরতকারী, এবং এক্ষেত্রে তাঁদের মৃত্যুসন অনুযায়ী কালানুক্রম রক্ষা করেছি।

উল্লেখ্য যে, তাঁদের সাথে তাঁর (মুরাদির) সাক্ষাৎ বা শাস্ত্রীয় বিতর্কের কোনো প্রমাণ আমি খুঁজে পাইনি। তাঁদের মধ্যকার সাধারণ যোগসূত্র হলো এই যুগ এবং এটি যে, তাঁদের কেউ কেউ তাঁর উস্তাদ আবু হাইয়্যান-এর নিকট শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন।

১- বুরহানুদ্দীন আস-সাফাকুসি:

বংশপরিচয়: তিনি হলেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবিল কাসিম আল-ক্বাবিসি আল-মালিকি, আল্লামা বুরহানুদ্দীন আবু ইসহাক আস-সাফাকুসি আন-নাহবি (ব্যাকরণবিদ), যিনি 'ইরাবুল কুরআন'-এর রচয়িতা।

জন্ম: ইবনে হাজার 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হিজরি ৬৭৭ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

১ নাহু শাস্ত্রের উদ্ভব (নাশআতুন নাহু), সুয়ুতির 'আল-মুযহির' থেকে কিছুটা পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
من حياته: تنقل في أماكن مختلفة، وجلس في حلقة العلماء حتى تفقه في كل باب طرقه فسمع ببجاية من شيخها ناصر الدين، ثم قصد بيت الله الحرام فحج، وقدم القاهرة، وأخذ على الشيخ أبي حيان وملأ جعبته من علمه، ثم توجه إلى دمشق فسمع من المزي وزينب بنت الكمال وخلق كثير، وكان لتجويله في البلدان وتنقله فيها وسماعه العلم من أهلها وعلمائها أثر طيب في نفسه، إذ برع في العربية واشتهر وعلا قدره.

صفاته: كان فاضلا محبا للناس متوددا إليهم منفقا مما منحه الله من الخير، يرضى بكل تعب يلقاه من أجل العلم والمعرفة.

وفاته: مات في ثامن عشر ذي القعدة سنة 742هـ اثنتين وأربعين وسبعمائة من الهجرة.

2- ابن المرحل:

نسبه: هو عبد اللطيف بن عبد العزيز بن يوسف بن أبي العز عزيز بن نعمة بن ذوالة الحراني الأصل، الشافعي المعروف بابن المرحل العلامة شهاب الدين النحوي يكنى أبا الفرج بن عز الدين.

من حياته: سمع من ابن الحبوبي وعليّ البكري وشهاب المحسني وغيرهم، وقرأ بنفسه وخرج له تقي الدين بن رافع جزءا من حديثه، وتصدر الجامع الحاكمي، وانتفع به الناس، وقال الأسنوي في الطبقات: كان أبوه يبيع الرحال للجمال، فذلك سمي بابن المرحل وكان فاضلا في النحو واللغة والمعاني والبيان والقراءات، وكان تاجرا في الكتب، اعتنى بالعربية وخصوصا ألفية ابن مالك، فكان فيها ماهرا، وقرأها فأخذها جماعة بحلب والقاهرة منه، وكان شديد التثبيت في النقل.

وقد أخذ عنه الشيخ جمال الدين بن هاشم، وهو الذي نوه به وعرف بقدره، وكان يطريه ويفضله على أبي حيان وغيره، ويقول: كان الاسم في زمانه لأبي حيان والانتفاع بابن المرحل، وأخذ عنه الشيخ شمس الدين بن الصائغ، ورثاه لما مات بقصيدة على قافية الباء الموحدة أولها:

سما الفضلاء وانقض بعد شهاب … فقل في مصيب عز فيه مصاب
তাঁর জীবন থেকে: তিনি বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছেন এবং ওলামায়ে কেরামের মজলিসে বসেছেন, যতক্ষণ না তিনি যে সকল বিষয়ে জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন তাতে পূর্ণ বুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি বেজাইয়াতে সেখানকার শায়খ নাসিরুদ্দিনের নিকট ইলম অর্জন করেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহর) উদ্দেশ্যে যাত্রা করে হজ পালন করেন এবং কায়রোতে আগমন করেন। সেখানে তিনি শায়খ আবু হাইয়ানের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইলম দ্বারা নিজের জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করেন। এরপর তিনি দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং আল-মিজ্জি, জয়নব বিনতে কামাল ও আরও বহু জ্ঞানীর নিকট ইলম শ্রবণ করেন। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ এবং সেখানকার বাসিন্দা ও ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করার বিষয়টি তাঁর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে তিনি আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সুপরিচিত হয়ে ওঠেন ও তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

তাঁর গুণাবলি: তিনি ছিলেন একজন ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তি, মানুষকে ভালোবাসতেন, তাদের সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ করতেন এবং আল্লাহ তাঁকে যে কল্যাণ ও রিযিক দান করেছিলেন তা থেকে ব্যয় করতেন। ইলম ও জ্ঞান অর্জনের পথে আসা সকল কষ্টকে তিনি হাসিমুখে বরণ করে নিতেন।

তাঁর মৃত্যু: তিনি হিজরি ৭৪২ সনের ১৮ই জিলকদ মৃত্যুবরণ করেন।

২- ইবনুল মুরাহহাল:

তাঁর বংশপরিচয়: তিনি হলেন আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ বিন ইউসুফ বিন আবুল ইজ্জ আজিজ বিন নি'মাহ বিন যুওয়ালাহ আল-হাররানি (মূলত হাররানের অধিবাসী), আশ-শাফিয়ি; যিনি ইবনুল মুরাহহাল নামে পরিচিত। তিনি আল্লামা শিহাবুদ্দিন আন-নাহবি, তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) হলো আবুল ফারাজ বিন ইজ্জুদ্দিন।

তাঁর জীবন থেকে: তিনি ইবনুল হাবুবি, আলি আল-বাকরি, শিহাব আল-মুহসিনি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন। তিনি স্বয়ং পাঠ করেছেন এবং তাকিউদ্দিন বিন রাফি তাঁর হাদিসের একটি অংশ সংকলন করেছেন। তিনি আল-জামে আল-হাকিমিতে শিক্ষকতার আসনে আসীন হন এবং মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়। আল-আসনাবি তাঁর 'তবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর পিতা উটের হাওদা (রাহাল) বিক্রি করতেন, তাই তাঁকে ইবনুল মুরাহহাল বলা হতো। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা), মায়ানি, বায়ান এবং কিরাআত শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি বইয়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি আরবি ভাষার প্রতি, বিশেষ করে ইবনে মালিকের আলফিয়ার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন এবং তাতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি এটি পাঠ দান করতেন, ফলে আলেপ্পো ও কায়রোর একদল শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছেন। বর্ণনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন।

শায়খ জামালুদ্দিন বিন হিশাম তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন, আর তিনিই তাঁর উচ্চ প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর যোগ্যতাকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর গুণগান করতেন এবং তাঁকে আবু হাইয়ান ও অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। তিনি বলতেন: সেই যুগে খ্যাতি আবু হাইয়ানের থাকলেও প্রকৃত উপকার লাভ করা যেত ইবনুল মুরাহহালের নিকট থেকে। শায়খ শামসুদ্দিন বিন আস-সায়িগও তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর 'বা' অন্ত্যমিলবিশিষ্ট একটি শোকগাথা রচনা করেন, যার প্রারম্ভ ছিল এমন:

বিদ্বানগণ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, কিন্তু শিহাবের পতনের পর আর কেউ নেই … তবে এমন এক বিপদের কথা বলো যাতে সান্ত্বনা পাওয়া কঠিন।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وذكر الشيخ شمس الدين بن الصائغ، أن الشيخ عبد الله المنوفي الزاهد المشهور، بات عنده ليلة دفنه، وقرأ عليه ختمة.

وفاته: مات ابن المرحل بالقاهرة في المحرم سنة 744 أربع وأربعين وسبعمائة من الهجرة، وقد جاوز الأربعين1.

3- ابن التركماني:

نسبه: هو أحمد بن عثمان بن إبراهيم بن مصطفى بن سليمان المارديني الأصل المعروف بابن التركماني الحنفي القاضي تاج الدين.

مولده: قال ابن حجر في الدرر الكامنة، ولد بالقاهرة ليلة السبت الخامس والعشرين من ذي الحجة 681 إحدى وثمانين وستمائة من الهجرة.

من حياته: تقلب بين يدي العلماء، وجلس في حلقاتهم، وولي مناصب هامة في الدولة واشتغل بأنواع العلم ودرس وأفتى وناب في الحكم، وصنف في الفقه والأصلين والحديث والعربية والعروض والمنطق والهيئة، وسمع من الشيخ الدمياطي وابن الصواف والحجار، وحدث وسمع منه الكثير وجلس في حلقات درسه.

مصنفاته:

1- تعليقه على المحصل للإمام فخر الدين الرازي.

2- وشرح المنتخب للباجي.

3- وثلاثة تعاليق على الخلاصة في الفقه.

4- وشرح الجامع الكبير في الفقه.

5- وشرح الهداية.

6- ومصنفات في الفرائض.

7- وتعليقه على مقدمة ابن الحاجب في النحو.

8- وشرح المقرب لابن عصفور.

9- وشرح عروض ابن الحاجب.

10- وكتاب أحكام الرمي والسبق والمحلل.

11- وكتاب الأبحاث الجلية على مسألة ابن تيمية.

12- وشرح الشمسية في المنطق.

13- وشرح التبصرة في الهيئة للخرفي. ذكر ذلك المقريزي في المقفى في ترجمته.

وفاته: مات ابن التركماني في أوائل جمادى الأولى سنة 744 أربع وأربعين وسبعمائة من الهجرة2.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة ج3 ص2، طبقات الشافعية ج5 ص238.

2 بغية الوعاة للسيوطي ص145، الدرر ج1 ص21.
শায়খ শামসুদ্দিন ইবনাস সায়িগ উল্লেখ করেছেন যে, প্রখ্যাত যাহেদ শায়খ আবদুল্লাহ আল-মানুফি তাঁর দাফনের রাতে তাঁর কাছে অবস্থান করেন এবং তাঁর জন্য একবার পূর্ণ কুরআন খতম করেন।

তাঁর মৃত্যু: ইবনুল মুরাহহাল হিজরি ৭৪৪ সনের মহররম মাসে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর অতিক্রম করেছিল।১

৩- ইবনুত তুর্কমানি:

বংশপরিচয়: তিনি হলেন আহমদ বিন উসমান বিন ইব্রাহিম বিন মুস্তফা বিন সুলায়মান, আদি নিবাস মারদিন, যিনি ইবনুত তুর্কমানি আল-হানাফি আল-কাদি তাজউদ্দিন নামে পরিচিত।

জন্ম: ইবনে হাজার আদ-দুরারুল কামিনাহ গ্রন্থে বলেন, তিনি হিজরি ৬৮১ সনের ২৫শে জিলহজ শনিবার রাতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর জীবন থেকে: তিনি আলেমদের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠেন এবং তাঁদের পাঠচক্রে বসেন। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন এবং বিভিন্ন প্রকারের ইলম চর্চায় লিপ্ত থাকেন। তিনি পাঠদান করেন, ফতোয়া প্রদান করেন এবং বিচারকাজে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ফিকহ, উসুলাইন (ধর্মতত্ত্ব ও ফিকহের মূলনীতি), হাদিস, আরবি ভাষা, ছন্দবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি শায়খ আদ-দামইয়াতি, ইবনাস সাউয়াফ এবং আল-হাজ্জারের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং অনেক শিক্ষার্থী তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন ও তাঁর পাঠচক্রে উপস্থিত হয়েছেন।

তাঁর রচনাবলি:

১- ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজির আল-মুহাসসাল গ্রন্থের ওপর তাঁর টীকা।

২- আল-বাজির আল-মুনতাখাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৩- ফিকহ শাস্ত্রের আল-খুলাসাহ গ্রন্থের ওপর তিনটি টীকা।

৪- ফিকহ শাস্ত্রের আল-জামি আল-কবীর-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৫- আল-হিদায়াহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৬- ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রের বিভিন্ন রচনা।

৭- নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ইবনুল হাজিবের মুকাদ্দিমার ওপর তাঁর টীকা।

৮- ইবনে উসফুরের আল-মুকাররাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৯- ইবনুল হাজিবের আরুজ (ছন্দবিজ্ঞান)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১০- আহকামুর রামি ওয়াস সাবাক ওয়াল মুহাল্লিল নামক কিতাব।

১১- ইবনে তাইমিয়্যাহর মাসআলার ওপর আল-আবহাসুল জালিয়্যাহ নামক কিতাব।

১২- যুক্তিবিদ্যায় আশ-শামসিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১৩- খারাফির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক আত-তাবসিরাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। মাকরিজি আল-মুকাফফা গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

মৃত্যু: ইবনুত তুর্কমানি হিজরি ৭৪৪ সনের জমাদিউল আউয়াল মাসের শুরুর দিকে মৃত্যুবরণ করেন।২

--------------------------------------------

১. আদ-দুরারুল কামিনাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২; তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৩৮।

২. সুয়ুতির বুগয়াতুল উয়াহ, পৃষ্ঠা ১৪৫; আদ-দুরারু, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
4- قوام الدين الكرماني:

نسبه: هو مسعود بن محمد بن محمد بن سهل قوام الدين أبو محمد بن برهان الدين بن شرف الدين الكرماني الحنفي الصوفي.

مولده: قال ابن حجر في الدرر الكامنة: ولد سنة 664 أربع وستين وستمائة من الهجرة.

من حياته: تقلب وتنقل في البلدان طلبا للرزق وعونا على العيش، وجلس في حلقات علماء هذه البلاد واستفاد منهم وأفاد الناس، وشغلهم بعلمه وعربيته.

قال في الدرر الكامنة: واشتغل في تلك البلاد ومهر في الفقه والأصول والعربية، وكان نظارا بحاثا، وقدم دمشق فظهرت فضائله، ثم قدم القاهرة وشغل الناس بالعلم.

وكان باهرا في الأصول والفقه والعربية والنظم، فصيح العبارة، وأخذ عنه البرزالي وابن رافع.

وفاته: مات في منتصف شوال سنة 748 ثمان وأربعين وسبعمائة من الهجرة1.

5- أحمد بن مكتوم النحوي:

نسبه: هو أحمد بن عبد القادر بن أحمد مكتوم بن أحمد بن محمد بن سليم بن محمد القيسي تاج الدين أبو محمد الحنفي النحوي.

مولده: قال في الدرر الكامنة: ولد في آخر ذي الحجة سنة 682 اثنتين وثمانين وستمائة.

من حياته: كان نحويا بارعا، أخذ النحو عن البهاء بن النحاس، ولازم أبا حيان دهرا طويلا، وأخذ عن السروجي وغيره، وتقدم في الفقه والنحو واللغة، ودرس وناب في الحكم، وكان سمع من الدمياطي اتفاقا قبل أن يطلب، ثم أقبل على سماع الحديث ونسخ الأجزاء فأكثر عن أصحاب النجيب وابن علاق.

--------------------------------------------

1 بغية الوعاة للسيوطي ص391، والدرر ج5 ص116.
৪- কাওয়ামুদ্দীন আল-কিরমানি:

তাঁর বংশপরিচয়: তিনি হলেন মাসউদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাহল কাওয়ামুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ বিন বুরহানুদ্দীন বিন শারাফুদ্দীন আল-কিরমানি আল-হানাফি আস-সুফি।

তাঁর জন্ম: ইবনে হাজার ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ গ্রন্থে বলেন: তিনি হিজরি ৬৬৪ (ছয়শত চৌষট্টি) সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর জীবনকাল: তিনি জীবিকার অন্বেষণে এবং জীবন নির্বাহের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও স্থান পরিবর্তন করেছেন। তিনি এসব অঞ্চলের আলেমদের ইলমি মজলিসে বসেছেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হয়েছেন ও মানুষকে উপকৃত করেছেন। তিনি মানুষকে তাঁর ইলম ও আরবি ভাষা চর্চায় নিয়োজিত রেখেছিলেন।

‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি সেসব দেশে জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত হন এবং ফিকহ, উসুল ও আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একজন তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন গবেষক। তিনি যখন দামেস্কে পদার্পণ করেন, তখন তাঁর গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। এরপর তিনি কায়রোতে আসেন এবং মানুষকে ইলমচর্চায় ব্যস্ত রাখেন।

তিনি উসুল, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং ছন্দশাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ ও বাগ্মী ছিলেন। আল-বারজালি এবং ইবনে রাফি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

তাঁর মৃত্যু: তিনি হিজরি ৭৪৮ (সাতশত আটচল্লিশ) সালের শাওয়াল মাসের মাঝামাঝিতে মৃত্যুবরণ করেন।১

৫- আহমাদ বিন মাকতুম আন-নাহবি:

তাঁর বংশপরিচয়: তিনি হলেন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন আহমাদ মাকতুম বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম বিন মুহাম্মাদ আল-কায়সি তাজুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আল-হানাফি আন-নাহবি।

তাঁর জন্ম: ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি ৬৮২ (ছয়শত বিরাশি) হিজরি সালের জিলহজ মাসের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর জীবনকাল: তিনি একজন দক্ষ ব্যাকরণবিদ ছিলেন। তিনি বাহাউদ্দীন বিন আন-নাহহাসের নিকট নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং দীর্ঘকাল আবু হাইয়ানের সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি আস-সারুজি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ, নাহু ও ভাষাতত্ত্বে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষকতা করেছেন এবং বিচারকার্যে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইলম অন্বেষণের পূর্বেই দৈবক্রমে আদ-দিমইয়াতির নিকট থেকে শ্রবণ করেছিলেন। এরপর তিনি হাদিস শ্রবণে মনোনিবেশ করেন এবং পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেন। তিনি আন-নাজিবের শিষ্যবৃন্দ এবং ইবনুল আল্লাকের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেছেন।

--------------------------------------------

১ সুয়ুতির বুগয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ৩৯১ এবং আদ-দুরার, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৬।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقال في ذلك:

وعاب سماعي للحديث بعيد ما … كبرت أناس هم إلى العيب أقرب

وقالوا إمام في علوم كثيرة … يروح ويغدو سامعا يتطلب

والرواية عنه عزيزة، وقد سمع منه ابن رافع وذكره في معجمه.

مصنفاته منها:

1- الجمع بين العباب والمحكم في اللغة.

2- وله كتاب الجمع المتناهْ في أخبار اللغويين والنحاهْ، عشرة مجلدات، وكأنه مات عنها مسودة فتفرقت عنه شذر مذر.

3- شرح الهدياة في الفقه.

4- شرح كافية ابن الحاجب.

5- شرح شافية ابن الحاجب.

6- شرح الفصيح.

7- الدر اللقيط من البحر المحيط، مجلدان قصره على مباحث أبي حيان مع ابن عطية والزمخشري.

8- التذكرة ثلاثة مجلدات، سماها بقيد الأوابد -بخطه في المحمودية- قال السيوطي: وقفت عليها بخطه من المحمودية أعادنا الله إلى الانتفاع منها كما كنا قريبا بمحمد وآله.

وفاته: توفي الشيخ تاج الدين في الطاعون العام في رمضان سنة 749 تسع وأربعين وسبعمائة من الهجرة1.

6- شمس الدين الأصبهاني:

نسبه: هو محمود بن عبد الرحمن بن أحمد بن محمد بن أبي بكر بن عليّ شمس الدين أبو الثناء الأصبهاني.

مولده: قال السيوطي: ولد في شعبان 694 أربع وتسعين وستمائة.

من حياته: اشتغل ببلاده ومهر وتميز وتقدم في الفنون، وتجول في البلدان، واستمع من علمائها وجلس في حلقاتهم، ثم قدم دمشق فبهرت فضائله، وسمع كلامه التقى ابن تيمية فبالغ في تعظيمه، ولازم الجامع الأموي ليلا ونهارا مكبا على التلاوة، وشغل الطلبة ودرس بعد ابن الزملكاني بالرواحية، ثم قدم القاهرة

--------------------------------------------

1 بغية الوعاة للسيوطي، ص140، طبقات القراء ج1 ص70، الدرر الكامنة ج1 ص189.
এবং তিনি এ বিষয়ে বলেছেন:

একদল লোক আমার বার্ধক্যে হাদীস শ্রবণ করাকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছে, অথচ তারাই ত্রুটির অধিক নিকটবর্তী।

তারা বলেছে, বহুবিদ বিদ্যায় একজন ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি হাদীস শ্রবণের অন্বেষণে সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করেন।

তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনা অত্যন্ত বিরল, ইবনে রাফে’ তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর 'মু’জাম'-এ তা উল্লেখ করেছেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

১- আল-জামউ বাইনাল উবাব ওয়াল মুহকাম ফিল লুগাহ (ভাষাতত্ত্ব)।

২- তাঁর আরও রয়েছে 'আল-জামউল মুতানাহি ফি আখবারিল লুগাবিয়্যিনা ওয়ান নুয়াহ' নামক একটি গ্রন্থ, যা দশ খণ্ডে সমাপ্ত; ধারণা করা হয় যে এটি পাণ্ডুলিপি অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়, ফলে তা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।

৩- ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ আল-হিদায়াহর ব্যাখ্যা।

৪- ইবনুল হাজিবের কাফিয়ার ব্যাখ্যা।

৫- ইবনুল হাজিবের শাফিয়ার ব্যাখ্যা।

৬- আল-ফাসিহ-এর ব্যাখ্যা।

৭- আদ-দুররুল লাকিত মিনাল বাহরিল মুহিত, এটি দুই খণ্ডে রচিত; এতে তিনি ইবনে আতিয়্যাহ ও যামাখশারীর সাথে আবু হাইয়ানের আলোচনাগুলোর ওপর আলোকপাত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

৮- আত-তাযকিরাহ, যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত; তিনি এর নাম দিয়েছেন 'কাইদুল আওয়াবিত'—মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে এটি তাঁর নিজের হস্তাক্ষরে সংরক্ষিত রয়েছে। ইমাম সুয়ূতী বলেন: আমি মাহমুদিয়াতে এটি তাঁর হস্তাক্ষরে দেখেছি; আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিজনদের উসিলায় আমাদের পুনরায় তা থেকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করুন, যেমনটা আমরা অতীতে ছিলাম।

মৃত্যু: শায়খ তাজউদ্দীন হিজরি ৭৪৯ সনের রমজান মাসে মহামারী প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন১।

৬- শামসুদ্দীন আল-আসফাহানি:

বংশপরিচয়: তিনি হলেন মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আলী শামসুদ্দীন আবুস সানা আল-আসফাহানি।

জন্ম: সুয়ূতী বলেন: তিনি ৬৯৪ হিজরির শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন।

জীবনচরিত: তিনি নিজ দেশে জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন, সেখানকার ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাঁদের মজলিসে বসেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে আগমন করলে তাঁর জ্ঞান ও গুণাবলি সকলকে মুগ্ধ করে। তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া তাঁর আলোচনা শুনে তাঁর অত্যন্ত প্রশংসা করেন। তিনি দিবা-রাত্রি উমাইয়া মসজিদে অবস্থান করতেন এবং তিলাওয়াতে মগ্ন থাকতেন। তিনি ছাত্রদের পাঠদানে ব্যস্ত থাকতেন এবং ইবনুয যামলকানির পরে রাওয়াহিয়্যা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। অতঃপর তিনি কায়রোতে আগমন করেন।

--------------------------------------------

১. সুয়ূতী কৃত বুগয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ১৪০; তাবাকাতুল কুররা খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ৭০; আদ-দুরারুল কামিনাহ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৮৯।
(খণ্ড: ১) তাওদিহুল মাকাসিদি ওয়াল মাসালিকি বি শারহি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩৭)
واشتهر بين الناس وعلا قدره وسطع نجمه وبنى له قوصون الخانقاه بالقرافة ورتبه شيخا بها.

قال الأسنوي: كان بارعا في العقليات صحيح الاعتقاد.

صفاته: كان قوي الإيمان صالحا محبا لأهل الصلاح طارحا للتكليف، وكان يمتنع كثيرا من الأكل لئلا يحتاج إلى الشرب فيحتاج إلى دخول الخلاء فيضيع عليه الزمان.

تصانيفه منها:

1- صنف تفسيرا كبيرا.

2- شرح كافية ابن الحاجب.

3- شرح مختصر أصول ابن الحاجب.

4- شرح منهاج البيضاوي وطوالعه.

5- شرح بدائع ابن الساعاتي.

6- شرح الساوية في العروض، وغير ذلك.

وفاته: مات في ذي القعدة سنة 749 تسع وأربعين وسبعمائة بالطاعون العام1.

7- ابن الوردي المصري:

نسبه: هو عمر بن مظفر بن عمر بن محمد بن أبي الفوارس الإمام زين الدين بن الوردي المصري الحلبي الشافعي.

من حياته: كان إماما بارعا في النحو عالما فيه، تنقل بين يدي كثير من العلماء، وأخذ عنهم، فقرأ على الشرف البارزي وغيره، وبرع في الفقه والنحو والأدب مفننا في العلم، ونظمه في الذروة العليا والطبقة القصوى، وكان قد نشأ بحلب وتفقه بها ففاق الأقران، وكان ينوب في الحكم في كثير من معاملات حلب وولي القضاء وكان فاضلا حتى اشتهر بفضائله بين الناس، والرواية عنده عزيزة، وقد تحدث عنه أبو اليسر بن الصايغ الدمشقي، قال السيوطي: روى لنا عنه أعنى عن أبي اليسر جماعة بالإجازة.

تصانيفه منها:

1- البهجة في نظم الحاوي الصغير.

2- شرح ألفية ابن مالك.

3- ضوء الدرة على ألفية ابن معطي.

4- اللباب في علم الإعراب

--------------------------------------------

1 بغية الوعاة للسيوطي ص388، طبقات الشافعية ج5 ص41، الدرر ج5 ص95.
মানুষের মাঝে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করলেন, তাঁর মর্যাদা উচ্চ হলো এবং তাঁর সৌভাগ্যের নক্ষত্র উজ্জ্বল হলো। কুসুন তাঁর জন্য কারাফায় একটি খানকাহ নির্মাণ করে দিলেন এবং তাঁকে সেখানে শায়খ হিসেবে নিযুক্ত করলেন।

আসনাভী বলেন: তিনি বুদ্ধিভিত্তিক বিদ্যায় পারদর্শী এবং সঠিক আকিদার অধিকারী ছিলেন।

তাঁর গুণাবলি: তিনি শক্তিশালী ঈমানের অধিকারী, সৎকর্মশীল, পুণ্যবানদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এবং লৌকিকতামুক্ত ছিলেন। তিনি আহার গ্রহণে অনেক বিরত থাকতেন যাতে পান করার প্রয়োজন না হয়, যার ফলে শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন না পড়ে এবং তাঁর সময় নষ্ট না হয়।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১- তিনি একটি বৃহৎ তাফসীর গ্রন্থ রচনা করেন।

২- ইবনুল হাজিব রচিত কাফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৩- ইবনুল হাজিব রচিত মুখতাসারুল উসুলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৪- বাইদাভী রচিত মিনহাজ ও তাঁর তাওয়ালি গ্রন্থের ব্যাখ্যা।

৫- ইবনুস সাআতি রচিত বাদাই গ্রন্থের ব্যাখ্যা।

৬- আরুয শাস্ত্রের ওপর সাওয়িয়ার ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য।

তাঁর মৃত্যু: তিনি ৭৪৯ হিজরি সালের জিলকদ মাসে মহামারি প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

৭- ইবনুল ওয়ারদী আল-মিসরী:

তাঁর বংশপরিচয়: তিনি হলেন উমর ইবনে মুজাফফর ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল ফাওয়ারিস আল-ইমাম জাইনুদ্দীন ইবনুল ওয়ারদী আল-মিসরী আল-হালাবী আশ-শাফেয়ী।

তাঁর জীবন থেকে: তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে একজন পারদর্শী ইমাম এবং বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি অনেক আলেমের নিকট গমনাগমন করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি আশ-শরাফ আল-বারিজী এবং অন্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি ফিকহ, নাহু ও সাহিত্যে পারদর্শী হয়ে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর কাব্যগাঁথা ছিল অনন্য উচ্চতায় ও সর্বোচ্চ স্তরের। তিনি হালাবে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানে ফিকহ শিক্ষা করেন, ফলে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি হালাবের অনেক বিচারিক লেনদেনে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি একজন বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং মানুষের মাঝে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাঁর নিকট হাদিস বর্ণনা করা বিরল। তাঁর সম্পর্কে আবু আল-ইয়াসার ইবনুস সায়িগ আদ-দিমাশকী বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-ইয়াসার থেকে একদল ব্যক্তি অনুমতির (ইজাযাহ) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১- আল-বাহজাহ ফি নাযমিল হাভী আস-সাগীর।

২- ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৩- ইবনে মু'তীর আলফিয়্যাহ-এর ওপর দউউদ দুররাহ।

৪- আল-লুবাব ফি ইলমিল ইরাব।

--------------------------------------------

১- সুয়ূতী রচিত বুগইয়াতুল উয়াত পৃষ্ঠা ৩৮৮, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা ৪১, আদ-দুরার খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা ৯৫।