(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: -)
الوسيط في علوم ومصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: الوسيط في علوم ومصطلح الحديث
المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (ت 1403هـ)
الناشر: دار الفكر العربي
عدد الصفحات: 798
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ওয়াসিত ফি উলুম ওয়া মুসতালাহিল হাদিস বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: আল-ওয়াসিত ফি উলুম ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুওয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃ. ১৪০৩ হি.)
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمات
تقدمة بين يدي الكتاب…تقدمة بين يدي الكتاب:
الحمد لله الذي أنزل على عبده ونبيه محمد القرآن وحيا يتلى، وأنزل عليه السنة وحيا غير متلو، حيث قال فيما صح عنه: "ألا إنني أوتيت الكتاب، ومثله معه" 1، والصلاة والسلام على سيدنا محمد بعثه الله على حين فترة من الرسل ليفتح به أعينا عميا وآذانا صما، وقلوبا غلفا، فملأ الدنيا إيمانا وتوحيدا بعد أن ملئت شركا وكفرا، وهدى بعد أن ملئت ضلالا وخيرا بعد أن ملئت شرا، وعلما بعد أن ملئت جهلا، ونورا بعد أن كانت في ظلمات وعلى آله وأصحابه وأتباعه ومن اهتدى بهداه إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن علم الحديث النبوي الشريف لم يزل من قديم الزمان -والإسلام غض طري، والدين محكم الأساس قوي- أشرف العلوم وأجلها، وأنفعها وأبقاها ذكرا، وأعظمها أثرا، بعد علم القرآن الكريم الذي هو أصل الدين ومنبع الصراط المستقيم.
وقد عنيت الأمة الإسلامية من لدن عصر الرسول صلى الله عليه وسلم بحفظ الأحاديث وروايتها، والالتزام بها علما، وعملا، وسلوكا، وأخلاقا ثم عنيت بجمعها، وتدوينها في كتب الأحاديث والسنن، من الصحاح،
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাগ্রন্থের ভূমিকা…গ্রন্থের ভূমিকা:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দা ও নবী মুহাম্মাদের ওপর পঠিত ওহি (وحي يتلى) হিসেবে কুরআন নাজিল করেছেন এবং তাঁর ওপর অপঠিত ওহি (وحي غير متلو) হিসেবে সুন্নাহ নাজিল করেছেন। যেমন তাঁর থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে।" ১। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে আল্লাহ দীর্ঘকাল রাসূলগণের আগমন বন্ধ থাকার পর প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চক্ষু, বধির কর্ণ এবং মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ উন্মোচিত হয়। ফলে তিনি পৃথিবীকে ঈমান ও তাওহিদ দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন যখন তা শিরক ও কুফরে নিমজ্জিত ছিল, গোমরাহিতে পরিপূর্ণ পৃথিবীর বুকে হেদায়েত প্রতিষ্ঠা করেছেন, মন্দের ভিড়ে কল্যাণ ছড়িয়েছেন, মূর্খতায় আচ্ছন্ন বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন এবং অন্ধকার দূর করে নুর দ্বারা আলোকিত করেছেন। তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, অনুসারীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর আদর্শে পথ চলবে তাদের সবার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহিমান্বিত নববী হাদিস শাস্ত্র প্রাচীনকাল থেকেই—যখন ইসলাম ছিল সতেজ ও প্রাণবন্ত এবং দ্বীনের ভিত্তি ছিল সুদৃঢ় ও শক্তিশালী—কুরআনুল কারীমের জ্ঞানের পরে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, মহান, উপকারী, চিরস্মরণীয় এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন জ্ঞান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে; যা দ্বীনের মূল উৎস এবং সিরাত-ই-মুস্তাকীমের ঝরনাধারা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকেই মুসলিম উম্মাহ হাদিস সংরক্ষণ, বর্ণনা এবং জ্ঞান, আমল, আদর্শ ও আখলাকের ক্ষেত্রে তা অনুসরণের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিল। অতঃপর তাঁরা হাদিসসমূহ সংগ্রহ এবং হাদিস ও সুনান গ্রন্থাবলীতে তা সংকলন করার প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সহিহ (صحاح) সংকলনসমূহ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৬)
والسنن، والمسانيد والمعاجم، والجوامع، والمشيخات، والأجزاء ونحوها1.
وكذلك عنيت بالرواة، والمرويات من حيث القبول والرد، ووضعوا في ذلك أدق، وآصل، وأحكم قواعد النقد العلمي الصحيح، وتركوا لنا في علم تاريخ الرجال ثروة نادرة لا توجد في أية أمة من الأمم الأخرى وفي علم الجرح والتعديل ما لم يعرف عند أمة أخرى.
وكانت هذه العناية ممثلة في علماء الحديث، وجهابذته2، وأئمته النقاد الذين قضوا حياتهم في الارتحال، والأسفار، وجانبوا الراحة والاستقرار في سبيل لقاء الرواة، والبحث عنهم، وميزانهم بميزان دقيق، لا تحيف فيه على أحد منهم ولا غبن له، ولا نقص لحقه.
كما تكلموا في علم غريب الحديث، وعلم علله، وعلم مختلف الحديث ومشكله، وعلم ناسخه، ومنسوخه، وعلم محكمه، ومتشابهه، وعلم أسباب وروده وعلم التنبيه إلى التصحيف والتحريف الذي وقع فيه بعض المحدثين إلى غير ذلك من العلوم وهكذا نجد أنه ما من علم يتعلق بجانب من جوانب الحديث إلا وتكلموا فيه وأوسعوه شرحا وبيانا.
وكذلك عنوا بضبط متون الأحاديث ضبطا محكما متقنا، وتحقيق الروايات وتحريرها، ويبدو ذلك جليا في النسخة المحققة من صحيح الإمام البخاري.
وكذلك عنوا بشرح الأحاديث وبيان معانيها الإفرادية والتركيبية وما يستنبط منها من العقائد، والأحكام، والحكم، والآداب، وما تشتمل عليه من وجوه البلاغة وأساليب البيان، والمحسنات البديعية، حتى غدت كتب هذه الشروح دواوين عقيدة وشريعة، وأخلاق، ومواعظ،
--------------------------------------------
এবং সুনান, মুসনাদ, মু'জাম, জামি', মাশয়াখাত, আজজা ও এর অনুরূপ গ্রন্থসমূহ১।
একইভাবে তারা বর্ণনাকারী (رواة) এবং বর্ণিত বিষয়াবলির গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও বর্জনীয়তার (رد) বিচারে গুরুত্বারোপ করেছেন। এই বিষয়ে তারা সূক্ষ্মতম, মৌলিক এবং সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক সমালোচনার নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। তারা আমাদের জন্য বর্ণনাকারীদের ইতিহাসের (تاريخ الرجال) ক্ষেত্রে এমন এক বিরল সম্পদ রেখে গেছেন যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে পাওয়া যায় না। এছাড়া জারহ ওয়া তা'দিল (الجرح والتعديل) বা বর্ণনাকারীদের ত্রুটি উদ্ঘাটন ও গুণগান বিষয়ক ইলমে এমন অনন্য অবদান রেখেছেন যা অন্য কোনো জাতির মাঝে পরিচিত নয়।
এই বিশেষ মনোযোগ প্রতিফলিত হয়েছে হাদিসের আলিমগণ, এর বিচক্ষণ বিশেষজ্ঞবৃন্দ২ এবং সেইসব সমালোচক ইমামদের মাধ্যমে, যারা বর্ণনাকারী (رواة) সংগৃহীত করার জন্য তাদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাদের সম্পর্কে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে সফর ও ভ্রমণে জীবন অতিবাহিত করেছেন। তারা আরাম ও স্থবিরতা বর্জন করে তাদের এমন এক সূক্ষ্ম মাপকাঠিতে যাচাই করেছেন, যেখানে কারো প্রতি অবিচার করা হয়নি, কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি এবং কারো প্রাপ্য অধিকারে কমতি করা হয়নি।
তদুপরি তারা গরিবুল হাদিস (غريب الحديث) শাস্ত্র, ইলমে ইলাল (علل) বা হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক শাস্ত্র, মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث) ও মুশকিলুল হাদিস (مشكله), নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ), মুহকাম (محكم) ও মুতাশাবিহ (متشابه), আসবাবে উরুদ (أسباب وروده) বা হাদিস অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট এবং কিছু মুহাদ্দিস কর্তৃক সংঘটিত তাসহীফ (تصحيف) ও তাহরীফ (تحريف) বা শব্দ ও অক্ষর বিকৃতি সম্পর্কে সতর্কীকরণ বিষয়ক শাস্ত্রসহ অন্যান্য জ্ঞানশাখা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হাদিসের এমন কোনো দিক নেই যা নিয়ে তারা আলোচনা করেননি এবং তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করেননি।
এছাড়া তারা হাদিসের মূল পাঠ অত্যন্ত নিখুঁত ও সুদৃঢ়ভাবে সংরক্ষণের (ضبط) প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বর্ণনাগুলোর সত্যতা যাচাই ও সম্পাদনা করেছেন। এটি ইমাম বুখারীর সহীহ বুখারীর তাহকীককৃত পাণ্ডুলিপিতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
তারা হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর একক ও যৌগিক অর্থ বর্ণনার পাশাপাশি হাদিস থেকে আহরিত আকীদা, বিধান, হিকমত ও শিষ্টাচার বর্ণনায় মনোনিবেশ করেছেন। সেই সাথে হাদিসসমূহে বিদ্যমান অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন দিক, বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষাশৈলীর সৌন্দর্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি এই ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থগুলো আকীদা, শরীয়ত, আখলাক এবং উপদেশের বিশাল সংকলনে পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৭)
وعلم، وأدب، وبلاغة وبيان فكانت كالحديقة المزهرة المثمرة الغناء التي يتنتقل فيها الناظر من روض إلى روض، ومن ثمار إلى ثمار، ومن زهور إلى زهور حتى غدت متع القلوب ومشتهى النفوس، وانشراح الصدور، وقرات العيون.
إن تأليفي لهذا الكتاب يرجع إلى نحو ثلث قرن أو يزيد، حينما كنت أقوم بتدريس "الحديث الشريف" و"علومه" بكلية أصول الدين، إحدى كليات الجامع الأزهر العتيق، المعمور بالعلم والعلماء، أيام أن كان الأزهر الشريف بكلياته ومعاهده الدينية العلمية -هو الأزهر- والعلم هو العلم، وطلاب الأزهر -هم الطلاب- وحرصهم على العلم هو الحرص.
وقد كان في أول الأمر مباحث مكتوبة بخط يدي أمليها على الطلاب شيئًا فشيئًا، ثم بدا لي -ونعم ما بدا- أن أجمع هذه البحوث، ولا زلت أهذبها وأنقحها، وأقدم فيها وأؤخر، وأزيد فيها وأعيد حتى جاءت على هذا الوضع الحسن المستطاب.
ومن فضل الله على أني لا أسطر كلمة في العلم، ولا أكتب بحثًا، ولا أحقق مسألة من مسائل إلا وأحتفظ بما أكتبه عندي في حرز مصون، وما احتفظت بشيء مما كتبت إلا وانتفعت به غاية الانتفاع، حتى البحوث التي كتبتها في زمن طلب العلم.
ولعلكم تعجبون إذا قلت لكم -صادقًا- أني ما فرطت في كتاب ولا في "دفتر"1 من الدفاتر التي كانت عندي من عهد الصبا والطلب، وبعضها موجود في "مكتبتي" بقريتنا إلى يومنا هذا.
--------------------------------------------
জ্ঞান, সাহিত্য, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সাবলীল বাগ্মিতা—যা ছিল একটি পুষ্পিত, ফলবান ও সুশোভিত বাগানের মতো, যেখানে দর্শক এক কানন থেকে অন্য কাননে, এক ফল থেকে অন্য ফলে এবং এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বিচরণ করে। পরিশেষে তা হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার আকাঙ্ক্ষা, বক্ষের প্রফুল্লতা এবং চোখের শীতলতায় পরিণত হয়েছে।
এই গ্রন্থটি রচনার ইতিহাস আজ থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শতাব্দী বা তারও বেশি সময় আগের, যখন আমি প্রাচীন ও জ্ঞান-উলামায় সমৃদ্ধ জামে আজহারের অন্যতম অনুষদ ‘কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন’-এ ‘হাদিস শরিফ’ ও এর শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث) অধ্যাপনা করতাম। সেই দিনগুলোতে আল-আজহার শরিফ তার বিভিন্ন অনুষদ ও ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ নিয়ে ছিল প্রকৃত আল-আজহার, জ্ঞান ছিল প্রকৃত জ্ঞান, আজহারের শিক্ষার্থীরা ছিল প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং জ্ঞানের প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল অনন্য।
সূচনালগ্নে এগুলো ছিল আমার স্বহস্তে লিখিত কিছু প্রবন্ধ যা আমি শিক্ষার্থীদের সামনে ধীরে ধীরে পাঠ করতাম। এরপর আমার মনে হলো—এবং তা ছিল এক চমৎকার চিন্তা—যে এই গবেষণাগুলোকে একত্রিত করি। আমি নিরন্তর এগুলোকে পরিমার্জন ও সংশোধন করেছি, বিষয়ের বিন্যাস পরিবর্তন করেছি এবং সংযোজন-বিয়োজন করেছি, যতক্ষণ না এটি এই সুন্দর ও মনোরম অবয়বে প্রকাশ পেয়েছে।
এটি আল্লাহর অনুগ্রহ যে, আমি ইলমের পথে কোনো শব্দ লিপিবদ্ধ করিনি, কোনো গবেষণা করিনি কিংবা কোনো মাসয়ালা নিয়ে পর্যালোচনা (تحقيق) করিনি যা আমি সযত্নে সংরক্ষণ করে রাখিনি। আমি আমার লেখার যা কিছু সংরক্ষণ করেছি, তা থেকে আমি সর্বোচ্চ উপকৃত হয়েছি; এমনকি ছাত্রজীবনে লেখা গবেষণাগুলো থেকেও।
আপনারা হয়তো আশ্চর্যের সাথে শুনবেন—আর আমি সত্যই বলছি—শৈশব ও শিক্ষা জীবনের কোনো বই বা ‘নোটখাতা’ (دفتر) আমি হারিয়ে যেতে দিইনি। সেগুলোর কিছু আজও আমাদের গ্রামের বাড়িতে আমার পাঠাগারে সংরক্ষিত আছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
وما أردت -علم الله- بذكر هذا إلا استحثاث طلاب العلم، والتلاميذ اليوم على الاحتفاظ بكتبهم، والمذكرات التي تملى عليهم، لتكون ذكرى عندهم، وليرجعوا إليها عند الحاجة.
وقد كان الاحتفاظ بالكتب والدفاتر ونحوها خصيصة من خصائص طلاب الأزهر في هذا الوقت، وهو شيء أسجله تقريرا للحقيقة والواقع.
আর আল্লাহ জানেন—এ কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য কেবল বর্তমান সময়ের ইলম অন্বেষণকারী (طلاب العلم) ও শিক্ষার্থীদের তাদের কিতাবাদি এবং তাদের নিকট শ্রুত নোটসমূহ (المذكرات) সংরক্ষণে উৎসাহিত করা, যাতে এগুলো তাদের নিকট স্মারক হয়ে থাকে এবং প্রয়োজনে তারা এগুলোর শরণাপন্ন হতে পারে।
আর কিতাবপত্র, নোটবুক ও অনুরূপ দ্রব্যাদি সংরক্ষণ করা সেই সময়ে আজহারের ছাত্রদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য (خصيصة) ছিল; আর এটি এমন এক বিষয় যা আমি বাস্তব সত্যের বিবরণ হিসেবেই লিপিবদ্ধ করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
منهجي في تأليف هذا الكتاب:ولم أنهج في هذا الكتاب المنهج الذي اتبعه الإمام ابن الصلاح في "علومه" ومن نهج منهجه في هذا ممن جاء بعده بالبدء ببحوث الصحيح والحسن والضعيف ولا المنهج الذي اتبعه الإمام الحافظ ابن حجر في "النخبة، وشرحها" ولكني نهجت منهجا آخر ألهمني الله إياه.
ذلك أني بدأت بشرح الألفاظ التي يكثر دونها في هذا العلم -وبشرح ألقاب المحدثين- وذكر الحديث القدسي، والفرق بينه وبين القرآن، وبينه وبين الحديث النبوي. ثم بدا لي أن أؤخره حيث وضعته.
ثم ثنيت بشرح هذا المركب "علم الحديث" وتقسيمه إلى:
1- علم الحديث رواية.
2- وعلم الحديث دراية، والأطوار التي مر بها هذا العلم، وأشهر الكتب المدونة فيه قديما وحديثا، ثم ثلثت بالرواية: تعريفها، أقسامها، شروطها، تاريخها، عناية الأمة العربية بها، عناية الأمة الإسلامية بها، عناية الأمة الإسلامية بالإسناد، الإسناد المتصل الصحيح من خصائص هذه الأمة، ثم بينت الأطوار التي مر بها تدوين الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ثم في عهد الصحابة. وفيه سن الخلفاء الراشدون سنة التثبت في الرواية، ثم في عهد التابعين،
এই গ্রন্থ রচনায় আমার পদ্ধতি:এই গ্রন্থে আমি সেই পদ্ধতি অনুসরণ করিনি যা ইমাম ইবনুস সালাহ তাঁর ‘উলুম’ গ্রন্থে অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী যারা সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) ও যয়িফ (ضعيف)-এর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করার ক্ষেত্রে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। কিংবা আমি হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ‘নুখবাহ’ ও এর ‘শরহ’-এ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তাও অনুসরণ করিনি। বরং আমি ভিন্ন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যা আল্লাহ আমাকে ইলহাম করেছেন।
তা হলো, আমি এই শাস্ত্রে সচরাচর ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যাখ্যা—এবং মুহাদ্দিসগণের উপাধিগুলোর আলোচনার মাধ্যমে—শুরু করেছি। সেই সাথে হাদিসে কুদসি (قدسي), এর সাথে কুরআনের পার্থক্য এবং এর সাথে হাদিসে নববি (نبوي)-এর পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি। এরপর আমার নিকট একে যথাস্থানে পিছিয়ে দেওয়া সমীচীন মনে হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আমি এই যৌগিক পরিভাষা ‘ইলমে হাদিস’-এর ব্যাখ্যা এবং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি:
১- ইলমে হাদিস রিওয়ায়াত (رواية)।
২- এবং ইলমে হাদিস দিরায়াত (دراية), এই শাস্ত্রটি যে সকল বিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগে এতে সংকলিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ। এরপর তৃতীয়ত আমি রিওয়ায়াত (رواية): এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, শর্তাবলি, ইতিহাস, এর প্রতি আরব জাতির বিশেষ গুরুত্বারোপ, মুসলিম উম্মাহর বিশেষ যত্ন, ইসনাদ (إسناد)-এর প্রতি মুসলিম উম্মাহর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং সহিহ (صحيح) মুত্তাসিল (متصل) ইসনাদ (إسناد) যে এই উম্মাহর অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য—তা বর্ণনা করেছি। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং এরপর সাহাবীগণের যুগে হাদিস সংকলনের বিভিন্ন পর্যায় বর্ণনা করেছি। আর সাহাবীগণের যুগেই খুলাফায়ে রাশেদিন রিওয়ায়াত (رواية)-এর ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের (تثبت) রীতি প্রবর্তন করেছিলেন। অতঃপর তাবেয়িগণের যুগে,
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثم عرضت لتدوين الأحاديث والسنن تدوينا عامًّا في عهد الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز على رأس المائة الأولى، ثم وفقت بين حديث النهي عن الكتابة، والأحاديث المتكاثرة الدالة على كتابة الأحاديث في العهد النبوي، ثم العهود بعده، لأبين أن تدوين السنة بدأ في عهد مبكر جدا.
ثم بينت أشهر الكتب المؤلفة في القرن الثاني الهجري، كتاب الموطأ هو الباقي منها، ثم في القرن الثالث الذي يعتبر العصر الذهبي لتدوين الأحاديث والسنن.
ثم ذكرت أشهر الكتب المؤلفة في القرن الرابع، وبذلك تم جمع الأحاديث والسنن أو كاد، ثم جاءت عصور التهذيب والجمع بين الكتب المتفرقة وذلك في القرن الخامس وما بعده وبذلك أعطيت لطالب الحديث صورة واضحة لتدوين الأحاديث والسنن، وأعطيته تصورا عاما عن أشهر الكتب المؤلفة في الحديث وبذلك تشوقت نفسه إلى معرفة ما يتعلق بهذه الكتب التي سيأتي دراسة الكثير منها على التفصيل.
ثم بينت مناهج المؤلفين وطرائقهم في التأليف في الأحاديث، ثم عرضت لشروط الراوي في الإسلام، والفرق بين عدل الرواية، وعدل الشهادة، وكفاية شروط الراوي في الاطمئنان إلى مروياته، وترجح جانب الصدق على جانب الكذب، وجانب الضبط على جانب الغفلة ثم خلصت بعد هذا إلى طرق التحمل وطرق الأداء، وهي ثمانية؛ ليعلم الطالب، والباحث أن الأحاديث قامت على أساس متين من طرق الرواية الصحيحة، ثم بينت الإسناد العالي وأقسامه، والإسناد النازل وأقسامه ليعلم الطالب أن طلب علو الإسناد سنة قديمة ثم ذكرت جملة من المسائل والقواعد التي تتعلق بصفة كتابة الأحاديث وضبطها، وصفة روايتها، ومن ذلك الرواية بالمعنى، وبيان شروطها، وبيان أنها لم تجن
এরপর আমি প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে খলিফা রাশেদ ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের যুগে হাদিস ও সুন্নাহর সাধারণ সংকলনের বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। অতঃপর আমি হাদিস লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত হাদিস এবং নবিযুগে ও পরবর্তী যুগে হাদিস লিখে রাখার সপক্ষে বর্ণিত অসংখ্য হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি, যাতে আমি এটি স্পষ্ট করতে পারি যে, সুন্নাহ সংকলনের কাজ অতি প্রাচীনকালেই শুরু হয়েছিল।
এরপর আমি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রসিদ্ধ সংকলিত গ্রন্থসমূহ বর্ণনা করেছি, যার মধ্যে মুয়াত্তা গ্রন্থটি বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে। এরপর তৃতীয় শতাব্দীর কথা আলোচনা করেছি, যা হাদিস ও সুন্নাহ সংকলনের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত।
তারপর আমি চতুর্থ শতাব্দীতে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির কথা উল্লেখ করেছি, আর এর মাধ্যমেই হাদিস ও সুন্নাহ সংকলনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। অতঃপর পঞ্চম শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ে গ্রন্থসমূহের পরিমার্জন এবং বিক্ষিপ্ত গ্রন্থাবলিকে একত্রীকরণের যুগ আসে। এর মাধ্যমে আমি হাদিসের ছাত্রের সামনে হাদিস ও সুন্নাহ সংকলনের একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরেছি এবং হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে তাকে একটি সাধারণ ধারণা প্রদান করেছি, যাতে তার মনে এই গ্রন্থগুলোর বিস্তারিত বিষয়াদি জানার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।
এরপর আমি হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে লেখকদের কর্মপদ্ধতি ও রচনারীতি বর্ণনা করেছি। তারপর আমি ইসলামে রাবির শর্তাবলি এবং বর্ণনার ন্যায়পরায়ণতা (عدل) ও সাক্ষ্য প্রদানের ন্যায়পরায়ণতার (عدل) মধ্যে পার্থক্য উপস্থাপন করেছি। সেই সঙ্গে বর্ণনাসমূহের ওপর আশ্বস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে রাবির শর্তাবলির পর্যাপ্ততা এবং মিথ্যার ওপর সত্যের প্রাধান্য ও উদাসীনতার ওপর নির্ভুল হেফজ বা স্মৃতিশক্তির (ضبط) প্রাধান্যের বিষয়টি আলোচনা করেছি। এরপর আমি হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও হাদিস প্রদানের (أداء) আটটি পদ্ধতি সম্পর্কে সারসংক্ষেপ পেশ করেছি; যাতে ছাত্র ও গবেষক জানতে পারে যে, হাদিসসমূহ সঠিক (صحيح) বর্ণনা পদ্ধতির এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর আমি উচ্চ সনদ (الإسناد العالي) ও তার প্রকারভেদ এবং নিম্ন সনদ (الإسناد النازل) ও তার প্রকারভেদ বর্ণনা করেছি, যাতে ছাত্র জানতে পারে যে, উচ্চ সনদ (علو الإسناد) অন্বেষণ করা একটি প্রাচীন সুন্নত। তারপর আমি হাদিস লিখন, তার সঠিক সংরক্ষণ এবং তা বর্ণনা করার পদ্ধতি সংক্রান্ত কিছু মাসআলা ও মূলনীতি উল্লেখ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে শব্দ পরিবর্তন করে মর্মার্থের বর্ণনা (الرواية بالمعنى) ও তার শর্তাবলির বিবরণ এবং এটি যে কোনো ক্ষতি করেনি তার বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১০)
على الدين كما زعم بعض الناس وهذه المسائل والقواعد تعتبر بمثابة المفتاح لكتب الأحاديث والسنن وحل رموزها ثم عرضت لآداب المحدث ثم لآداب طالب الحديث، ولا سيما الرحلة في سبيل العلم والحديث ثم عرضت للزمن الذي يتهيأ فيه الطالب للتأليف في الحديث، بل وغيره، وإن عليه أن يتريث حتى يصير آهلا لذلك، وكان لا بد أن أعرض للأغراض التي تقصد من التأليف، على ما ذكره الإمام النووي وغيره.
ثم شرعت بعد ذلك في بيان ما يتعلق بأقسام الحديث في اصطلاح العلماء فبدأت بتقسيم الحديث من حيث عدد رواته إلى الأقسام الآتية:
المتواتر، وما هو؟ وما شروطه؟ وما هي الشبه التي أوردت: أيوجد أم لا؟ والعلم الذي يفيده، وأهو علم ضروري أم نظري.
المشهور ما هو؟ المستفيض ما هو العزيز الغريب.
وقد أوسعت القول في المتواتر، وفي المشهور، وأقسامه، والكتب التي ألفت في الأحاديث المشتهرة على الألسنة، ومما ينبغي أن يعلم أن ما عدا المتواتر قد يكون صحيحا أو حسنا أو ضعيفا.
ثم شرعت في تقسيم الحديث تقسيما ثانيا من حيث نسبته إلى قائله، وأنه ينقسم إلى
1- المرفوع.
2- والموقوف.
3- والمقطوع.
وبينت ما هو مرفوع صراحة، وما هو مرفوع حكما، وعقبت الموقوف بتفريعات مهمة عني بها أهل هذا الفن، ومما ينبغي أن يعلم أن هذه الثلاثة تشترك بين الصحيح والحسن، والضعيف لا كما زعم البعض أنها من أقسام الضعيف.
ثم شرعت في تفسيم الحديث تقسيما ثالثا من حيث القبول والرد إلى ثلاثة أقسام:
1- الصحيح.
2- والحسن.
3- والضعيف.
وبعد تعريف الصحيح ذكرت مسائل مهمة فيما يتعلق بالصحيحين، وبعد الحسن ذكرت ما يتعلق بالسنن وما هو على غرارها من الكتب، ثم
দ্বীন সম্পর্কে কিছু মানুষ যেমনটা ধারণা করেছে। এই মাসআলা ও নীতিমালাসমূহকে হাদিস এবং সুনান গ্রন্থাবলির চাবিকাঠি ও এগুলোর গূঢ় রহস্য উন্মোচনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর আমি হাদিস বিশারদ (المحدث)-এর আদব এবং হাদিসের ছাত্র (طالب الحديث)-এর আদবসমূহ বর্ণনা করেছি; বিশেষ করে জ্ঞান ও হাদিস অন্বেষণে সফরের বিষয়টি। এরপর আমি সেই সময়ের কথা উল্লেখ করেছি যখন একজন ছাত্র হাদিস বা অন্য কোনো বিষয়ে গ্রন্থ রচনার উপযুক্ত হয় এবং এ বিষয়ে তাকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে যতক্ষণ না সে এর যোগ্য হয়। এছাড়া গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল, যেমনটি ইমাম নববী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।
এরপর আমি আলেমগণের পরিভাষায় হাদিসের প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছি। বর্ণনাকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে হাদিসের নিম্নোক্ত প্রকারসমূহ দিয়ে আমি আলোচনা শুরু করেছি:
মুতাওয়াতির (المتواتر), এটি কী? এর শর্তাবলি কী কী? একে কেন্দ্র করে যেসব সংশয় উত্থাপন করা হয়েছে: এর অস্তিত্ব আছে কি নেই? এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান এবং তা কি অবশ্যাবশ্যক জ্ঞান (علم ضروري) নাকি তাত্ত্বিক জ্ঞান (علم نظري)।
মশহুর (المشهور) কী? মুস্তাফিদ (المستفيض) কী? আজিজ (العزيز) ও গারিব (الغريب)।
আমি মুতাওয়াতির (المتواتر) এবং মশহুর (المشهور) ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেই সাথে মানুষের মুখে প্রচলিত হাদিসসমূহ নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলি সম্পর্কেও বলেছি। এটি জেনে রাখা উচিত যে, মুতাওয়াতির (المتواتر) ব্যতীত অন্য প্রকারের হাদিসসমূহ সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) অথবা যয়িফ (ضعيف) হতে পারে।
এরপর আমি বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ভিত্তিতে হাদিসের দ্বিতীয় প্রকারভেদ শুরু করেছি, যা নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:
1- মারফু (المرفوع)।
2- মাওকুফ (الموقوف)।
3- মাকতু (المقطوع)।
আমি স্পষ্টভাবে মারফু (المرفوع صراحة) এবং হুকমান মারফু (المرفوع حكما) বর্ণনা করেছি। মাওকুফ (الموقوف)-এর পর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ শাখাসমূহ বর্ণনা করেছি। এটিও জানা আবশ্যক যে, এই তিন প্রকার (মারফু, মাওকুফ ও মাকতু) সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং যয়িফ (ضعيف)-এর মধ্যে সাধারণ; অর্থাৎ এগুলো এই তিন প্রকারেরই হতে পারে। বিষয়টি এমন নয় যে এগুলো যয়িফ (ضعيف)-এর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেছেন।
এরপর আমি গ্রহণ ও বর্জনের ভিত্তিতে হাদিসকে তৃতীয়বার তিনটি ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা শুরু করেছি:
1- সহিহ (صحيح)।
2- হাসান (حسن)।
3- যয়িফ (ضعيف)।
সহিহ (صحيح)-এর সংজ্ঞার পর আমি সহিহাইন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছি। হাসান (حسن)-এর আলোচনার পর আমি সুনান গ্রন্থাবলি এবং এই পর্যায়ের অন্যান্য কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এরপর
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১১)
استقصيت أنواع الضعيف مبتدئا بالمرسل منتهيا بالموضوع الذي هو شرها وأدونها.
وقد أفضت في القول في الحديث الموضوع! متى نشأ الوضع؟ وما هي أسبابه؟ وما هي علاماته وأماراته، وآثاره السيئة في كتب العلوم جاعلا لكتب كل علم فصلا ثم بينت جهاد العلماء المتشعب الفروع في مناهضة الوضع والوضاعين، والموضوعات عن طريق:
1- التأليف في الموضوعات حينا.
2- وتجريح الرواة وتعديلهم حينا آخر.
3- وتأليف كتب التخاريج حينا ثالثا.
4- وتأليف كتب الأحاديث المشتهرة حينا رابعا حتى أسلح طالب الحديث ضد دعاوي المستشرقين وافتراءاتهم في هذا الباب ثم شرعت في ذكر علم الجرح والتعديل، وكل ما يتصل به من قواعد ومسائل وإلى هنا كان الكتاب مبيضا من منذ بضعة عشر عاما.
ثم رأيت أن أتممه بذكر ما فاتني وذكر العلوم التي ألف فيها على سبيل الاستقلال وذكرت في كتب "علوم الحديث" و"مصطلحه" على أنها نوع من الأنواع.
وقد انتهزت فرصة تفرغي شهورا قبل موسم حج هذا العام 1402هـ وشهرا بعده فكان أن أتممت ما بقي من المباحث والأنواع فلله الحمد والمنة على ما وفق أولهم.
وقد كنت في عام 1382هـ 1962م ألفت كتابا وهو جزء صغير في بعض أنواع علوم الحديث وسميته: "في أصول الحديث" وقد طبع ونفذ.
وفي عام 1385هـ 1966م ألفت كتابا في بعض مباحث وأنواع علوم الحديث وفي آداب كتابة الحديث وآداب روايته، وفي آداب المحدث، وفي آداب طالب الحديث وسميته "علوم الحديث" وقد طبع ونفذ.
আমি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের প্রকারভেদগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধান করেছি, যা বিচ্ছিন্ন (مرسل) থেকে শুরু করে জাল (موضوع) পর্যন্ত বিস্তৃত, যা সবচাইতে নিকৃষ্ট ও নিম্নস্তরের।
আমি জাল (موضوع) হাদিস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি! কখন জালকরণ (وضع) শুরু হয়েছিল? এর কারণগুলো কী কী? এর আলামত ও চিহ্নসমূহ কী কী এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের গ্রন্থসমূহে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কী, যেখানে আমি প্রতিটি বিজ্ঞানের গ্রন্থের জন্য আলাদা পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি। এরপর আমি জালকরণ (وضع), জালকারীগণ (وضاعين) এবং জাল বর্ণনাগুলোর (الموضوعات) বিরুদ্ধে আলেমদের বহুমুখী সংগ্রামের কথা বর্ণনা করেছি, যা নিম্নোক্ত উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে:
১- মাঝেমধ্যে জাল বর্ণনাগুলোর (الموضوعات) ওপর গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে।
২- আবার কখনও বর্ণনাকারীদের ত্রুটি বর্ণনা (تجريح) ও তাদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (تعديل) মাধ্যমে।
৩- তৃতীয়ত, হাদিসের উৎস অনুসন্ধানমূলক (التخاريج) গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে।
৪- চতুর্থত, সুপরিচিত হাদিসগুলোর ওপর গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে, যাতে আমি হাদিসের ছাত্রকে এই বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের দাবি ও অপবাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসজ্জিত করতে পারি। এরপর আমি বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও গুণগান (الجرح والتعديل) বিদ্যা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মূলনীতি ও মাসআলাসমূহ আলোচনা করতে শুরু করেছি। এই পর্যন্ত কিতাবটি এক দশকেরও বেশি সময় আগে পাণ্ডুলিপি আকারে প্রস্তুত ছিল।
এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, যা বাদ পড়েছিল তা উল্লেখ করে এবং যে সকল শাস্ত্রের ওপর স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থ রচিত হয়েছে তা যুক্ত করে এটি সম্পন্ন করব। আমি "হাদিস বিজ্ঞান" এবং এর "পারিভাষিক শব্দ" (مصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে এগুলোকে অন্যতম প্রকার হিসেবে উল্লেখ করেছি।
আমি এই বছর ১৪০২ হিজরীর হজ মৌসুমের কয়েক মাস আগে এবং এক মাস পরের অবসর সময়ের সুযোগ গ্রহণ করেছি। ফলে অবশিষ্ট গবেষণা ও প্রকারভেদগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য, যিনি এর শুরুতে তাওফিক দান করেছেন।
আমি ১৩৮২ হিজরী মোতাবেক ১৯৬২ সালে একটি কিতাব লিখেছিলাম, যা হাদিস বিজ্ঞানের কিছু প্রকারের ওপর একটি ছোট পুস্তিকা ছিল এবং এর নাম দিয়েছিলাম: "উসুলুল হাদিস"; এটি মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর কপি শেষ হয়ে গেছে।
১৩৮৫ হিজরী মোতাবেক ১৯৬৬ সালে আমি হাদিস বিজ্ঞানের কিছু আলোচনা ও প্রকারভেদ, হাদিস লিখার আদব, হাদিস বর্ণনার (رواية) আদব, হাদিস বিশারদের (المحدث) আদব এবং হাদিসের ছাত্রের আদব সম্পর্কে একটি কিতাব লিখেছিলাম এবং এর নাম দিয়েছিলাম "উলুমুল হাদিস"; এটিও মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর কপি শেষ হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد جمعت ما كان في الكتابين وأضفت إليه أضعافهما فكان هذا السفر الكبير في "علوم الحديث" و"مصطلحه".
وقد جاء الكتاب خلاصات محررة لما يوجد في متفرقات كتب الفن من لدن الرامهرمزي إلى عصرنا هذا، وقد مخضتها حتى استخرجت زبدها مع حسن التبويب والتنسيق وتيسير العسير، وتقريب البعيد، ومع حسن العبارة وطلاوتها؛ وجمال العرض والأسلوب وما أشد حاجة طلاب العلم اليوم، والمثقفين ثقافة غير إسلامية إلى تقريب ألوان الثقافة الإسلامية الأصيلة إليهم ولا سيما علوم القرآن، وعلوم السنة ولما قمت في "التلفزيون" بمصرنا العزيزة بندوات في التعريف بالسنة وأئمتها وأشهر الكتب المدونة فيها نالت قبولا حسنا من رجال القانون والقضاء، والأطباء، والمهندسين، وعلماء الكون والفلكيين، والضباط وغيرهم وقد مكثت في ذلك ما يقرب من عام في برنامج "نور على نور" فعلمت أن هذه الأمة الإسلامية لا زالت بخير، ولكننا معاشر المشتغلين بالعلوم الإسلامية بعامة والمشتغلين بالأحاديث والسنة بخاصة علينا تبعات جسام في عدم قيامنا بما يجب علينا من تقريب وتيسير الثقافة الإسلامية إلى الناس كافة، فهل نحن فاعلون؟ وليس من الخير للإسلام والمسلمين أن يبقى العلم بهذه العلوم الإسلامية مقصورا على أهل العلم وطلابه.
أضف إلى كون هذا الكتاب زبدة أو خلاصة كتب الفن ما من الله به عليَّ من حصيلة دراساتي واشتغالي بالحديث وعلومه ما يقرب من نصف قرن فقد عنيت به من عهد الطلب حتى استأهلت -ولله الحمد والمنة- أن أناقش الأقوال وأنقد الآراء وأرجح قولا عن قول، ورأيا على رأي وأن يكون لي اجتهاد في كثير من مسائل هذا الفن كما يبدو ذلك واضحا من ثنايا بحوث هذا الكتاب وقد أقر بهذا بعض الزملاء والأقران الذين تخلصوا من العقد النفسية في بعض مؤلفاتهم ولا
আমি উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে যা ছিল তা সংগ্রহ করেছি এবং তার সাথে কয়েকগুণ বেশি তথ্য সংযোজন করেছি; ফলে এটি "হাদিস শাস্ত্র" ও তার "পরিভাষা (مصطلح)"-এর একটি বিশাল গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
এই গ্রন্থটি আল-রামাহুরমুজি থেকে শুরু করে আমাদের বর্তমান যুগ পর্যন্ত এই শাস্ত্রের (فن) বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে থাকা তথ্যের একটি পরিমার্জিত সারসংক্ষেপ হিসেবে সংকলিত হয়েছে। আমি সেগুলোকে মন্থন করে তার সারবস্তু বের করে এনেছি, সেই সাথে একে সুন্দরভাবে বিন্যস্ত ও সুশৃঙ্খল করেছি এবং কঠিন বিষয়কে সহজ ও দুর্বোধ্য বিষয়কে নিকটবর্তী করেছি। অধিকন্তু, এতে রয়েছে সাবলীল ভাষা, মাধুর্যপূর্ণ প্রকাশভঙ্গি এবং চমৎকার উপস্থাপনা শৈলী। বর্তমান সময়ের জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী এবং যারা অনৈসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত, তাদের নিকট খাঁটি ইসলামি সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক—বিশেষ করে কুরআন শাস্ত্র এবং সুন্নাহ শাস্ত্র—সহজবোধ্য করে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র। আমি যখন আমাদের প্রিয় মিশরের ‘টেলিভিশন’-এ সুন্নাহ, সুন্নাহর ইমামগণ এবং এতে সংকলিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের পরিচিতি বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতাম, তখন তা আইনজ্ঞ, বিচারক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্যদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিল। প্রায় এক বছর ধরে ‘নূর আলা নূর’ অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম চলাকালীন আমি অনুধাবন করেছি যে, এই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এখনও কল্যাণ অবশিষ্ট রয়েছে। তবে আমরা যারা সাধারণভাবে ইসলামি জ্ঞান এবং বিশেষভাবে হাদিস ও সুন্নাহ নিয়ে কাজ করছি, সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামি সংস্কৃতিকে সহজ ও সাবলীলভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ওপর এক বিশাল দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে যা আমরা যথাযথভাবে পালন করছি না। সুতরাং, আমরা কি তা পালন করব? ইসলাম এবং মুসলিমদের জন্য এটি কোনোভাবেই কল্যাণকর নয় যে, এই ইসলামি জ্ঞানসমূহ কেবল বিশেষজ্ঞ আলিম এবং শিক্ষার্থীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই গ্রন্থটি উক্ত শাস্ত্রের (فن) কিতাবসমূহের নির্যাস বা সারসংক্ষেপ হওয়ার পাশাপাশি এতে যুক্ত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে হাদিস ও তার শাস্ত্রসমূহ নিয়ে আমার দীর্ঘ অধ্যয়ন ও গবেষণার ফসল। ছাত্রজীবন থেকেই আমি এই বিষয়ের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলাম, যার ফলে—সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহর—আমি বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করার, মতামতগুলো বিশ্লেষণ (نقد) করার এবং এক মতের ওপর অন্য মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। এছাড়া এই শাস্ত্রের (فن) অনেক মাসআলায় আমার নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) রয়েছে, যা এই গ্রন্থের বিভিন্ন আলোচনার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমার অনেক সহকর্মী ও সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ, যারা তাদের রচনায় মানসিক সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত ছিলেন, তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أقول ذلك تعالما ولا تفاخرا، وإنما هو التحدث بنعمة الله عليَّ وصدق الله {وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ} 1.
وقد حصل من بعض الزملاء من طبقتنا2، ومن بعض الأبناء الذين هم من طبقة بعد طبقتنا اجتهادات في تنظيم مباحث هذا الفن وترتيبه، ولكل منا وجهة هو موليها.
وإذا كان العلماء قد قالوا: لا مشاحة في الاصطلاح فأنا أقول: "لا مشاحة في الاجتهاد" وبحسب المجتهد إن أصاب أن يكون له أجران، وإن أخطأ أن يكون له أجر، ولما كان هذا الكتاب ليس طويلا مملا، ولا قصيرا مخلا لم أتكلف له عنوانا وأسميته "الوسيط في علوم، ومصطلح الحديث".
والله أسأل أن يجعل عملي هذا مقبولا، ونفعه دائما، وأجره موصولا إنه سميع مجيب، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب، والحمد لله حمدا يوافي نعمه؛ ويكافئ مزيده وصلى الله تبارك وتعالى على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
مكة المكرمة في يوم الاثنين التاسع والعشرين من المحرم 1403هـ.
الموافق 15/ 11/ 1982م.
وكتبه
خادم القرآن والسنة
أبو السادات
محمد بن محمد أبو شهبة
--------------------------------------------
আমি এই কথা পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের জন্য বা অহংকারের জন্য বলছি না, বরং এটি কেবল আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। আর আল্লাহর কথা চিরন্তন সত্য: {আর আপনি আপনার রবের নেয়ামত বর্ণনা করুন} ১।
আমাদের সমসাময়িক বা একই স্তরের (طبقة) ২ কিছু সহকর্মী এবং আমাদের পরবর্তী স্তরের (طبقة) অনুজদের পক্ষ থেকে এই শাস্ত্রের বিষয়বস্তু বিন্যাস ও সাজানোর ক্ষেত্রে কিছু গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা সে অনুসরণ করে।
আলেমগণ যেহেতু বলেছেন: 'পরিভাষার (اصطلاح) ক্ষেত্রে কোনো কঠোরতা বা বিবাদ নেই', তাই আমি বলি: 'গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্রেও কোনো কঠোরতা নেই'। একজন গবেষকের (مجتهد) জন্য এটিই যথেষ্ট যে, তিনি যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব, আর ভুল করলে রয়েছে একটি সওয়াব। যেহেতু এই কিতাবটি বিরক্তিকর দীর্ঘ নয়, আবার অসম্পূর্ণ বা সংক্ষিপ্তও নয়, তাই এর শিরোনাম নির্ধারণে আমি কোনো কৃত্রিমতা অবলম্বন করিনি এবং এর নাম দিয়েছি "আল-ওয়াসিত ফি উলুম ওয়া মুসতালাহিল হাদিস" (হাদিস বিজ্ঞান ও পরিভাষার মধ্যম পথ)।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজ কবুল করেন, এর কল্যাণকে স্থায়ী করেন এবং এর প্রতিদানকে নিরবচ্ছিন্ন করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আমার এই তাওফিক কেবল আল্লাহরই অনুগ্রহে; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাচ্ছি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির উপযোগী। মহান আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
মক্কা মুকাররমা, সোমবার, ২৯শে মহররম, ১৪০৩ হিজরি।
মোতাবেক ১৫/ ১১/ ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ।
লিখেছেন
কুরআন ও সুন্নাহর খাদেম
আবুস সাদাত
মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المدخل للكتابمدخل
…المدخل للكتاب:
في شرح بعض المفردات التي يكثر دورانها في كتب الحديث والتفسير والفقه والوعظ والأخلاق، ومعرفة اصطلاحات العلماء فيها كي يكون القارئ والباحث على بينة من أمر هذه الألفاظ، وألقاب المشتغلين بالحديث.
"الحديث" هو في اللغة ضد القديم. ويطلق أيضا على قليل الكلام وكثيره قال تعالى: {فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ} وإطلاق الحديث على الكلام لأنه يحدث ويجد شيئا فشيئا1.
وفي اصطلاح المحدثين: هو أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وتقريراته، وصفاته الخِلقية والخُلُقية2 مثل كونه أبيض اللون مشربا بحمرة، ليس بالطويل البائن، ولا بالقصير، إلى غير ذلك من الصفات.
ومثل كونه أشجع الناس وأشدهم حياء وتواضعا وجودا، وعطفا على الفقراء والمساكين والأرامل واليتامي، وأعفاهم عند المقدرة إلى غير ذلك من غرر الأخلاق، ويدخل في ذلك سيرته وغزواته -صلى الله عليه وسلم3.
ومعنى التقرير أن يفعل أحد من الصحابة فعلا أو يقول قولا أمام
--------------------------------------------
গ্রন্থের ভূমিকা ভূমিকা
…গ্রন্থের ভূমিকা:
হাদিস, তাফসির, ফিকহ, ওয়াজ ও আখলাকের কিতাবসমূহে বারবার ব্যবহৃত হওয়া কিছু শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে আলেমদের পারিভাষিক পরিভাষা (اصطلاحات) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান প্রদান করা; যাতে পাঠক ও গবেষকগণ এই শব্দাবলি এবং হাদিস চর্চাকারীদের উপাধি (ألقاب) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।
"হাদিস" শাব্দিক অর্থে প্রাচীন (قديم)-এর বিপরীত। এটি অল্প বা অধিক কথা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে এর অনুরূপ কোনো কথা নিয়ে আসুক।} আর কথাকে হাদিস বলা হয় কারণ এটি ক্রমে ক্রমে সৃষ্টি বা নতুনরূপে প্রকাশ পায়১।
মুহাদ্দিসগণের পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح): হাদিস হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি (تقريرات) এবং তাঁর শারীরিক (خلقية) ও চারিত্রিক (خلقية) গুণাবলি২; যেমন—তাঁর গায়ের রঙ লালচে মিশ্রিত সাদা হওয়া, অতিরিক্ত লম্বা বা খাটো না হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য।
তেমনিভাবে তাঁর মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী, পরম লজ্জাশীল, বিনয়ী, দানশীল হওয়া এবং দরিদ্র, মিসকিন, বিধবা ও এতিমদের প্রতি সদয় হওয়া এবং সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেওয়া সহ মহত্তম চারিত্রিক গুণাবলি। এর অন্তর্ভুক্ত হবে তাঁর সিরাত (سيرة) ও যুদ্ধসমূহ (غزوات)-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম৩।
মৌনসম্মতি (تقرير)-এর অর্থ হলো সাহাবীদের মধ্য থেকে কারোর কোনো কাজ করা বা কোনো কথা বলা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
النبي صلى الله عليه وسلم ولا ينكره عليه، أو لا يكون أمامه ولكن يبلغه ويسكت عنه، فعدم إمكانه وسكوته تقرير له لأنه صلى الله عليه وسلم لا يقر أمرا غير مشروع.
والقول إما صريح كقال رسول الله أو حدثنا أو سمعت منه كذا وإما حكمي كقول الصحابي الذي لم يأخذ عن الإسرائيليات فيما لا مجال للرأي فيه. وكذلك الفعل إما صريح وإما حكمي والتقرير إما صريح وإما حكمي. وستتبين الأمثلة فيما سنذكره في بحث "الموقوف" إن شاء الله تعالى.
ومن العلماء من يزيد في تعريف الحديث: وأقوال الصحابة والتابعين وأفعالهم، وهو اصطلاح آخر. ويشهد له صنيع كثير من المحدثين في كتبهم حيث لا يقتصرون على المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما يذكرون المرفوع والمقطوع.
السنة: هي في اللغة الطريقة، والسيرة. قال صاحب المصباح المنير والسنة الطريقة، والسنة السيرة حميدة كانت أو ذميمة1.
لكنها عند الإطلاق تنصرف إلى الحميدة.
وفي اصطلاح المحدثين: أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته، وصفاته الخَلقية والخُلقية. وزاد بعضهم: وأقوال الصحابة والتابعين وأفعالهم: وعلى هذا فهي مرادفة للحديث في اصطلاحيه السابقين.
ويرى بعض العلماء أن الحديث خاص بقوله وفعله، والسنة تشمل الأقوال والأفعال والتقريرات والصفات، والسكنات والحركات في اليقظة والمنام والهم2 وعلى هذا فالسنة أعم من الحديث، وللسنة
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে কোনো কাজ করা হলো অথচ তিনি তা নিষেধ করেননি, অথবা তা তাঁর সামনে ঘটেনি কিন্তু সংবাদ পৌঁছানোর পর তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন। এমতাবস্থায় তাঁর অসমর্থতা ও নীরব থাকা সেই কাজের প্রতি মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে গণ্য হবে; কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরিয়ত পরিপন্থী কোনো বিষয়ের ওপর মৌনসম্মতি (يقر) প্রদান করেন না।
কথা কখনো সুস্পষ্ট (صريح) হয়—যেমন: রাসুলুল্লাহ বলেছেন, কিংবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কিংবা তাঁর থেকে আমি এরূপ শুনেছি। আবার কখনো তা হুকমি বা পরোক্ষ (حكمي) হয়—যেমন: এমন সাহাবীর বক্তব্য যাঁর বিষয়ে ইসরাঈলী বর্ণনা (إسرائيليات) থেকে গ্রহণের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং যা নিয়ে নিজস্ব রায় বা মত প্রদানের অবকাশ নেই। তদ্রূপ কাজও কখনো সুস্পষ্ট (صريح) আবার কখনো পরোক্ষ (حكمي) হতে পারে; এবং মৌনসম্মতিও (التقرير) কখনো সুস্পষ্ট (صريح) আবার কখনো পরোক্ষ (حكمي) হতে পারে। এর উদাহরণসমূহ ইনশাআল্লাহ 'মাওকুফ' (الموقوف) বিষয়ের আলোচনায় স্পষ্ট করা হবে।
কোনো কোনো আলেম হাদিসের সংজ্ঞায় সাহাবী ও তাবেয়ীগণের কথা ও কাজকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা একটি ভিন্ন পরিভাষা। অনেক মুহাদ্দিসের কর্মপদ্ধতি এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তাঁরা কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছানো মারফু (المرفوع) হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁরা মারফু (المرفوع) ও মাকতু (المقطوع) উভয়ই বর্ণনা করেছেন।
সুন্নাহ: আভিধানিক অর্থে এটি হচ্ছে পথ ও জীবনপদ্ধতি। ‘আল-মিসবাহুল মুনীর’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন: সুন্নাহ হলো পথ; সুন্নাহ হলো জীবনপদ্ধতি, তা প্রশংসনীয় হোক কিংবা নিন্দনীয়।১
তবে সাধারণভাবে শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা প্রশংসনীয় পদ্ধতির অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقريراته) এবং তাঁর শারীরিক (خلقية) ও চারিত্রিক (خلقية) গুণাবলিকে সুন্নাহ বলা হয়। কেউ কেউ এতে সাহাবী ও তাবেয়ীগণের কথা ও কাজকেও যুক্ত করেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পূর্বোক্ত দুটি পরিভাষায় এটি হাদিসের সমার্থক।
আবার কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে, হাদিস কেবল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা ও কাজের জন্য নির্দিষ্ট, আর সুন্নাহ কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقريرات), গুণাবলি, এমনকি জাগ্রত ও নিদ্রাবস্থায় তাঁর সকল স্থিতি ও গতি এবং তাঁর সংকল্পকেও (الهم) অন্তর্ভুক্ত করে। এই মতানুসারে সুন্নাহ হচ্ছে হাদিসের চেয়েও ব্যাপক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
اصطلاحات أخر، فهي عند الشرعيين تقابل البدعة، وعند الفقهاء تطلق على ما يقابل الفرض والواجب كقولهم سنة الصلاة كذا.
الخبر: قيل هو والحديث مترادفان وعليه فيكون تعريف الخبر هو ما ذكرناه في تعريف الحديث:
وقيل إن الحديث والخبر متباينان. فالحديث ما صدر عن النبي من قوله وفعله
… إلخ. والخبر ما جاء عن غيره موقوفًا عليه ومن ثم قيل لمن يشتغل بالتواريخ أخباري1، ولمن يشتغل بالحديث محدث.
وقيل: الخبر أعم من الحديث: فالحديث خاص بما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخبر يشمل ما جاء عن النبي وعن الصحابة والتابعين ومن بعدهم فكل حديث خبر ولا عكس فعلى هذا يكون بينهما عموم وخصوص مطلق يتجمعان وينفرد الأعم منهما.
الأثر: من العلماء من يجعله مرادفًا للحديث فيكون تعريفها واحدًا ومنه ما في مقدمة صحيح الإمام مسلم من تسمية الأحاديث بالآثار ومنه ما جاء عند الإمام الطحاوي في كتابه "مشكل الآثار" ومن العلماء من يقول: الأثر أعم من الحديث؛ فالحديث خاص بما جاء عن النبي، والأثر يشمل ما جاء عن النبي وغيره من الصحابة والتابعين، وقيل إنهما متباينان؛ فالحديث ما جاء عن النبي، والأثر ما جاء عن الصحابة، وإلى هذا ذهب فقهاء خراسان. قال أبو القاسم الفوراني منهم: الفقهاء يقولون: الخبر ما يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم والأثر ما يروى عن الصحابة، وفي النخبة لشيخ الإسلام ابن حجر: "ويقال للموقوف والمقطوع الأثر"2.
--------------------------------------------
অন্যান্য পরিভাষা; এটি শরীয়তবিদদের নিকট বিদআতের (بدعة) বিপরীত, আর ফকিহদের নিকট এটি ফরজ (فرض) ও ওয়াজিবের (واجب) বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের কথা: সালাতের সুন্নাত এমন।
খবর (الخبر): বলা হয়েছে যে, এটি এবং হাদিস সমার্থক (مترادفان)। সেই অনুযায়ী খবরের সংজ্ঞা সেটিই যা আমরা হাদিসের সংজ্ঞায় উল্লেখ করেছি:
আবার বলা হয়েছে যে, হাদিস এবং খবর ভিন্ন ভিন্ন (متباينان)। সুতরাং হাদিস হলো যা নবী (সা.)-এর কথা ও কাজ
… ইত্যাদি থেকে উৎসারিত। আর খবর হলো যা অন্য কারও থেকে বর্ণিত হয়ে তার ওপর স্থগিত (موقوفًا) থাকে। এজন্যই যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন তাদের আখবারি (أخباري)১ বলা হয়, আর যারা হাদিস নিয়ে কাজ করেন তাদের মুহাদ্দিস বলা হয়।
আবার বলা হয়েছে: খবর হলো হাদিসের চেয়ে ব্যাপক (أعم)। সুতরাং হাদিস নবী (সা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে খাস (خاص), আর খবর নবী (সা.), সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী ব্যক্তিদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, প্রত্যেক হাদিসই খবর, কিন্তু প্রতিটি খবর হাদিস নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এ দুটির মাঝে সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক (عموم وخصوص مطلق) বিদ্যমান; তারা কিছু ক্ষেত্রে একত্রিত হয় এবং ব্যাপকতর বিষয়টি এককভাবেও থাকতে পারে।
আছার (الأثر): আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে হাদিসের সমার্থক (مرادفًا) হিসেবে গণ্য করেন, ফলে এ দুটির সংজ্ঞা একই হয়। এর উদাহরণ হলো সহীহ ইমাম মুসলিম-এর মুখাদ্দিমায় হাদিসগুলোকে আছার (آثار) নামে অভিহিত করা। অনুরূপভাবে ইমাম তহাবী তার গ্রন্থ মুশকিলুল আছার-এ যা উল্লেখ করেছেন। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: আছার হলো হাদিসের চেয়ে ব্যাপক (أعم)। হাদিস নবী (সা.) থেকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে খাস (خاص), আর আছার নবী (সা.) এবং অন্যদের মধ্য হতে সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। আবার বলা হয়েছে যে, এ দুটি ভিন্ন ভিন্ন (متباينان)। হাদিস হলো যা নবী (সা.) থেকে বর্ণিত, আর আছার হলো যা সাহাবীদের থেকে বর্ণিত। খুরাসানের ফকিহগণ এই মত পোষণ করেছেন। তাদের মধ্য থেকে আবুল কাসেম আল-ফাওরানি বলেন: ফকিহগণ বলেন, খবর হলো যা নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয় এবং আছার হলো যা সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়। শেখুল ইসলাম ইবনে হাজার-এর নুখবাতুল ফিকার গ্রন্থে রয়েছে: "মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع) বর্ণনাকে আছার (الأثر) বলা হয়"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
السند: السند من معانيه في اللغة "ما استندت إليه من حائط وغيره" "المصباح المنير" وفي القاموس: "السند محركة ما قابلك من الجبل، وعلا عن السفح ومعتمد الإنسان".
وفي اصطلاح المحدثين: هو الطريق الموصل للمتن. وبعبارة أوضح: هو رواة الحديث الذين رووا لفظ الحديث. والمناسبة بين المعنيين ظاهرة. فإن الرواة للحديث هم الذين يعتمد عليهم المحدثون في معرفة المقبول من المردود، والصحيح من غيره.
"الإسناد" في اللغة: قال في القاموس "وسند إليه سنودا وتساند استند وفي الجبل صعد كأسند وأسندته أنا فيهما" ح1 ص303 وفي اصطلاح المحدثين له إطلاقان:
1- هم الرواة الراووان للمتن وعليه فهو مرادف للسند.
2- رفع الحديث إلى قائله ونسبته إليه وعليه فهو مغاير للسند ويكون من عمل الراوي للحديث.
المسند: بفتح النون له معان عند المحدثين:
1- يطلق ويراد به الإسناد فيكون مصدرا. ومثاله "مسند الشهاب" و"مسند الفردوس" أي أسانيد أحاديثهما1.
2- ويطلق ويراد به أحد أنواع علوم الحديث وسنذكره فيما يأتي إن شاء الله تعالى.
وأما المسند بكسر النون: فهو الذي يرفع الحديث إلى قائله.
المتن: المتن في اللغة. قال في المصباح المنير: "متن الشيء بالضم متانة اشتد وقوي فهو متين. والمتن من الأرض ما صلب وارتفع
… والمتن الظهر وفي القاموس، مادة متن "ومتن الكبش صفنه واستخرج بيضه
--------------------------------------------
সনদ (السند): আভিধানিক অর্থে সনদ (السند) বলতে বোঝায় "এমন কিছু যার ওপর তুমি নির্ভর করো, যেমন দেয়াল বা অন্য কিছু" (আল-মিসবাহুল মুনির)। আল-কামুস গ্রন্থে রয়েছে: "সনদ (السند) (নূনের যবরসহ) হলো পাহাড়ের সেই অংশ যা তোমার সম্মুখে পড়ে এবং যা পাদদেশ থেকে উঁচুতে অবস্থিত, আর এটি মানুষের নির্ভরস্থল।"
মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়: এটি হলো মতন (المتن) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ। আরও স্পষ্টভাবে বললে: এটি হলো হাদিসের সেই বর্ণনাকারী (راوي) যারা হাদিসের শব্দগুলো বর্ণনা করেছেন। (আভিধানিক ও পারিভাষিক) এই উভয় অর্থের মধ্যে যোগসূত্র সুস্পষ্ট। কারণ, মুহাদ্দিসগণ হাদিসের গ্রহণযোগ্য (المقبول) ও বর্জনীয় (المردود) এবং বিশুদ্ধ (الصحيح) ও অন্যান্য প্রকারের পার্থক্যের ক্ষেত্রে এই বর্ণনাকারীদের ওপরই নির্ভর করেন।
ইসনাদ (الإسناد) এর আভিধানিক অর্থ: আল-কামুস-এ বলা হয়েছে: "সে তার দিকে হেলান দিল, একে অপরের ওপর ভর দিল, সে নির্ভর করল এবং সে পাহাড়ে আরোহণ করল যেমনটি 'আসনাদা' ও 'আসনাতুহু' শব্দে ব্যবহৃত হয়।" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০৩)। মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এর দুটি প্রয়োগ রয়েছে:
1- তারা হলেন মতন (المتن) বর্ণনা করা বর্ণনাকারী (راوي) রাবীগণ। এই অর্থ অনুযায়ী এটি সনদ (السند) এর সমার্থক।
2- হাদিসকে তার বক্তা পর্যন্ত উন্নীত করা এবং তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা। এই অর্থ অনুযায়ী এটি সনদ (السند) থেকে ভিন্ন এবং এটি হাদিস বর্ণনাকারী (راوي)-র একটি কাজ।
মুসনাদ: (নূনের যবরসহ) মুহাদ্দিসগণের নিকট এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে:
1- এটি ইসনাদ (الإسناد) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি ক্রিয়ামূল (মাসদার) হিসেবে গণ্য। এর উদাহরণ হলো "মুসনাদ আশ-শিহাব" এবং "মুসনাদ আল-ফিরদাউস", অর্থাৎ এই গ্রন্থদ্বয়ের হাদিসসমূহের ইসনাদ (الإسناد) সমূহ।
2- এটি হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম একটি প্রকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করব।
আর মুসনিদ: (নূনের যেরসহ) তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি হাদিসকে তার বক্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
মতন (المتن): আভিধানিক অর্থ। আল-মিসবাহুল মুনির-এ বলা হয়েছে: "কোনো বস্তু 'মাতুনা' (পেশযোগে) অর্থ হলো তা শক্ত ও মজবুত হওয়া, সুতরাং তা মজবুত (متين)। আর জমিনের মতন (المتن) হলো যা শক্ত ও উঁচু
… আর মতন (المتن) হলো পিঠ। আল-কামুস-এ 'মাতন' ধাতু প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: 'এবং মেষের অণ্ডকোষের চামড়া চিরে অণ্ডকোষ বের করে আনা'।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بعروقها، وبالمكان متونا أقام
… والمماتنة: المباعدة في الغاية".
وفي اصطلاح المحدثين: هو ما ينتهي إليه السند من ألفاظ الحديث الدالة على معانيها والمناسبة بين المعنيين ظاهرة. فهو إما مأخوذ من المباعدة في الغاية لأنه غاية السند، أو لأن المسند استخرج المتن بسنده. أو لأنه المتن قوي واشتد بذكر سنده.
ولكي تكون على بينة من ذلك عمليا تذكر حديثا ونطبق هذه المصطلحات الأخيرة عليه.
قال الإمام البخاري في صحيحه: حدثنا الحميدي "قال" حدثنا سفيان "قال" حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري "قال" أخبرني محمد بن إبراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى
… " الحديث. فعمل الإمام البخاري في ذكر الحديث بسنده يسمى إسناده بالمعنى الثاني للفظ إسناد، ومن قوله حدثنا الحميدي
… إلى قول عمر: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: يسمى سندا، ويسمى إسنادا أيضا بالمعنى الأول، وقوله: "إنما الأعمال بالنيات" يسمى متن الحديث. والحديث يسمى مسنَدا بفتح النون. أي حديثا ذكر إسناده، والبخاري في ذكره للحديث بسنده: "مسنِدا" بكسر النون.
...শিকড়সহ, এবং সেই স্থানে সে শক্ত বা উঁচু ভূমি হিসেবে অবস্থান করল
… এবং মুমাতানাহ (المماتنة) অর্থ হলো: দূরত্বের শেষ সীমায় পৌঁছানো।"
আর মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) পরিভাষায়: সনদ (السند) যে স্থানে গিয়ে শেষ হয় এবং হাদিসের যে শব্দাবলি নির্দিষ্ট অর্থের ওপর নির্দেশ করে, তাকেই মতন (المتن) বলা হয়। আর আভিধানিক ও পারিভাষিক এই উভয় অর্থের মাঝে সামঞ্জস্যতা সুস্পষ্ট। সুতরাং এটি হয় দূরত্বের শেষ সীমা থেকে গৃহীত হয়েছে, কেননা এটিই হলো সনদের (السند) শেষ প্রান্ত; অথবা এই কারণে যে, মুসনিদ (المسند) তাঁর সনদের (السند) মাধ্যমে মতনকে (المتن) বের করে আনেন; অথবা এই কারণে যে, সনদ (السند) উল্লেখ করার মাধ্যমে মতনটি (المتن) শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়।
বিষয়টি ব্যবহারিকভাবে স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য আমরা একটি হাদিস উল্লেখ করব এবং এই শেষোক্ত পরিভাষাগুলো (المصطلحات) তার ওপর প্রয়োগ করব।
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট হুমাইদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে
… " হাদিসটি। সুতরাং ইমাম বুখারি যে স্বীয় সনদের (السند) মাধ্যমে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তাঁর এই কাজকে ইসনাদ (إسناد) শব্দের দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী ইসনাদ (إسناد) বলা হয়। আর তাঁর বাণী "আমাদের নিকট হুমাইদি বর্ণনা করেছেন
…" থেকে শুরু করে উমরের কথা "আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি" পর্যন্ত অংশটুকুকে সনদ (سند) বলা হয়; আবার একে প্রথম অর্থ অনুযায়ী ইসনাদও (إسناد) বলা হয়। আর তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" একে হাদিসের মতন (المتن) বলা হয়। আর এই হাদিসটিকে (নুন বর্ণে ফাতাহসহ) মুসনাদ (مسنَد) বলা হয়; অর্থাৎ এমন হাদিস যার ইসনাদ (إسناد) উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইমাম বুখারি যখন তাঁর সনদের (السند) সাথে হাদিসটি উল্লেখ করছেন তখন তাঁকে (নুন বর্ণে কাসরাসহ) মুসনিদ (مسنِد) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ألقاب المشتغلين بالحديث
مدخل…"ألقاب المشتغلين بالحديث":
الراوي: أو "المسنِد" هو ناقل الحديث بالإسناد سواء كان عنده علم به أو ليس له إلا مجرد الرواية.
طالب الحديث: هو المشتغل بدراسة الحديث رواية، ودراية، وشرحا، وفقها.
হাদিস চর্চাকারীদের উপাধি (ألقاب المشتغلين بالحديث)প্রবেশিকা (مدخل)…"হাদিস চর্চাকারীদের উপাধি (ألقاب المشتغلين بالحديث)":
বর্ণনাকারী (الراوي): অথবা "মুসনিদ (المسند)" হলেন হাদিসের সেই হস্তান্তকারী যিনি সনদ (الإسناد) সহ হাদিস বর্ণনা করেন, চাই তাঁর এ বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকুক কিংবা তিনি কেবল বর্ণনার অধিকারীই হোন না কেন।
হাদিসের ছাত্র (طالب الحديث): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি হাদিসের রিওয়ায়াত (رواية), দিরায়াত (دراية), ব্যাখ্যা (شرح) ও ফিকহ (فقه) বিষয়ক অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
المحدث: من تحمل الحديث رواية، واعتنى به دراية بأن يحفظ المتون ويكون عنده علم بالرجال وتواريخهم وجرحهم وتعديلهم. "الحافظ": هو من روى ما يصل إليه، ووعى ما يحتاج إليه أي بأن يكون ما يعلم من الأحاديث والرجال أكثر مما يجهله، وقال بعضهم تحديدا له بالعدد هو من أحاط علمه بمائة ألف حديث.
الحجة: أرفع درجة من الحافظ. وقال بعضهم: هو من حفظ ثلثمائة ألف حديث بأسانيدها.
الحاكم: هو من أحاط علمه بجميع الأحاديث المروية متنا وإسنادا وجرحا وتعديلا وتاريخا وعللا، وغريبا، وناسخا ومنسوخا، وتوفيقا بين ما ظاهره التعارض إلى نحو ذلك.
মুহাদ্দিস: যিনি বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে হাদিস গ্রহণ করেন এবং অনুধাবনের (دراية) মাধ্যমে এর প্রতি যত্নবান হন, এভাবে যে তিনি মূলপাঠসমূহ (متن) মুখস্থ করেন এবং বর্ণনাকারীদের (رجال) পরিচয়, তাঁদের ইতিহাস এবং তাঁদের সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা (تعديل) বিষয়ক জ্ঞান রাখেন। "হাফেজ": তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর নিকট যা পৌঁছেছে তা বর্ণনা করেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ আয়ত্ত করেন; অর্থাৎ হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের (رجال) সম্পর্কে তাঁর জানাশোনা বিষয়গুলো অজানা বিষয়ের চেয়ে বেশি হবে। কেউ কেউ সংখ্যার ভিত্তিতে তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, তিনি এমন ব্যক্তি যার জ্ঞান এক লক্ষ হাদিসকে পরিবেষ্টন করে।
হুজ্জাহ: হাফেজ অপেক্ষা উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সনদসহ (إسناد) তিন লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছেন।
হাকিম: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার জ্ঞান বর্ণিত সমস্ত হাদিসের মূলপাঠ (متن) ও সনদ (إسناد), সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা (تعديل), ইতিহাস, ত্রুটিসমূহ (علة), বিরল শব্দাবলি (غريب), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) এবং আপাতদৃষ্টে বিরোধপূর্ণ বর্ণনাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন (توفيق) প্রভৃতি যাবতীয় বিষয়কে পরিবেষ্টন করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
"
من مفاخر المحدثين":
ولا تستكثرن أيها القارئ هذا فقد كان أئمة الحديث وجهابذته في العصور الأولى يحفظون ذلك وأكثر منه، روي عن إمام الأئمة البخاري أنه كان يحفظ مائة ألف حديث صحيح. ومائتي ألف حديث غير صحيح. وقال الإمام في شأن صحيحه: صنفت هذا المسند الصحيح من ثلثمائة ألف حديث مسموعة.
وقال أبو داوود: "كتبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خمسمائة ألف حديث انتخبت منها ما ضمنته كتاب السنن".
وقال إمام أهل السنة أحمد بن حنبل: "انتقيت المسند من سبعمائة ألف وخمسين ألف حديث".
وسئل الإمام أبو زرعة1 عن رجل حلف بالطلاق أن أبا زرعة
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণের গৌরবময় কীর্তিগাঁথা:
হে পাঠক, আপনি এই সংখ্যাকে অধিক মনে করবেন না; কেননা প্রাথমিক যুগের হাদিসের ইমাম এবং মহাবিজ্ঞ বিশারদগণ (جهابذة) এই পরিমাণ এবং এর চেয়েও অধিক হাদিস মুখস্থ রাখতেন। ইমামগণের ইমাম বুখারী সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক লক্ষ সহীহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অশুদ্ধ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ রাখতেন। স্বীয় সহীহ গ্রন্থ সম্পর্কে ইমাম বলেন: "আমি এই মুসনাদ সহীহ গ্রন্থটি তিন লক্ষ শ্রবণকৃত হাদিস থেকে সংকলন করেছি।"
আবু দাউদ বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি, যেখান থেকে আমি সেই হাদিসগুলো নির্বাচন করেছি যা আমি সুনান গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছি।"
আহলুস সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: "আমি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হাদিস থেকে মুসনাদ গ্রন্থটি নির্বাচন করেছি।"
ইমাম আবু যুরআ ১ কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ব্যক্তি তালাকের শপথ করে বলেছিল যে, আবু যুরআ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
يحفظ مائتي ألف حديث هل يحنث؟ قال لا. ثم قال أحفظ مائة ألف حديث كما يحفظ الإنسان سورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} وفي المذاكرة ثلاثمائة ألف حديث إلى غير ذلك من النقول التي رويت عن غير هؤلاء من أعلام المحدثين والفقهاء1.
--------------------------------------------
দুই লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখলে কি শপথ ভঙ্গ হবে? তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, আমি এক লক্ষ হাদিস এমনভাবে মুখস্থ রাখি যেভাবে একজন মানুষ সূরা {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} মুখস্থ রাখে। আর মুজাকারা বা জ্ঞানচর্চামূলক আলোচনায় (المذاكرة) তিন লক্ষ হাদিস। এ ছাড়াও প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ (المحدثين) ও ফকিহগণের (الفقهاء) মধ্য থেকে অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণিত এই জাতীয় আরও অনেক উদ্ধৃতি (النقول) বর্ণিত (رويت) হয়েছে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
"
الحفظ والفقه للأحاديث":
ومما ينبغي أن يعلم أن أهل العصور الأولى من المحدثين كانوا يجمعون إلى الحفظ الفقاهة والفهم، والعلم بالعلل والرجال، والناسخ والمنوسخ وأن منهم من مزج الحديث بالفقه والاجتهاد في الأحكام. كما صنع البخاري في تراجمه وتبويب كتابه. والإمام مالك في موطئه. والترمذي في سننه. ومنهم من لم يصنع ذلك اقتصارا على المتون والأسانيد لا عجزا ولا قصورا في الفقه والفهم بل اقتصارا على الجمع، وذلك كما صنع الإمام مسلم والنسائي وأبو داود وابن ماجه وغيرهم كثيرون.
وأما ما يتقول به بعض المغرضين على أئمة الحديث. وأنهم كانوا زوامل أسفار لا يعلمون ما يحملون، فهذا الوصف أبعد ما يكون عن أهل القرون الأولى الذين جمعوا الأحاديث والسنة ودونوها في الصحاح والسنن والمسانيد والجوامع، وهذا النوع من المحدثين الذين جعلوا همهم الحفظ فقط إنما كان في العصور المتأخرة ممن لا عناية لهم بالفقه والدراية والتحقيق وهم الذين عناهم الحافظ أبو الفرج بن الجوزي في كتابه "صيد الخاطر" والتاج السبكي في بعض كتبه1.
--------------------------------------------
হাদিসের মুখস্থকরণ (الحفظ) ও ফিকহ (الفقه):
একটি বিষয় জেনে রাখা আবশ্যক যে, প্রাথমিক যুগের মুহাদ্দিসগণ মুখস্থকরণের (الحفظ) সাথে সাথে ফিকহী গভীরতা (الفقاهة) ও বোধশক্তি (الفهم), হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) ও বর্ণনাকারী (الرجال) বিষয়ক জ্ঞান এবং রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) শাস্ত্রের জ্ঞানকে সমন্বিত করতেন। তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা হাদিসের সাথে ফিকহ এবং বিধান (الأحكام) সংক্রান্ত ইজতিহাদকে (الاجتهاد) যুক্ত করেছেন; যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর কিতাবের শিরোনাম ও অধ্যায়বিন্যাসে করেছেন, ইমাম মালিক তাঁর মুওয়াত্তায় করেছেন এবং তিরমিযী তাঁর সুনান গ্রন্থে করেছেন। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ফিকহ ও বোধশক্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই কেবল সংগ্রহের খাতিরে নিজেদেরকে মূল পাঠ (المتون) ও সনদের (الأسانيد) বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। যেমনটি করেছেন ইমাম মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং আরও অনেকে।
আর হাদিস শাস্ত্রের ইমামদের সম্পর্কে কিছু সংকীর্ণমনা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি যে অপবাদ দেয় যে, তাঁরা ছিলেন কেবল পুস্তক বহনকারী বাহক সদৃশ যারা নিজেরা কী বহন করছে সে সম্পর্কে অবগত ছিল না; এই বর্ণনাটি সেই প্রথম যুগের মনীষীদের ক্ষেত্রে একেবারেই প্রযোজ্য নয় যারা হাদিস ও সুন্নাহ সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোকে সহিহ, সুনান, মুসনাদ ও জামে গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে যে শ্রেণির মুহাদ্দিসগণ কেবল মুখস্থকরণের (الحفظ) প্রতিই নিজেদের নিবদ্ধ করেছিলেন, তাঁরা ছিলেন পরবর্তী যুগের মানুষ যাদের ফিকহ, তত্ত্বজ্ঞান (الدراية) ও যাচাই-বাছাইয়ের (التحقيق) প্রতি কোনো বিশেষ আগ্রহ ছিল না। হাফেজ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি তাঁর ‘সাইদুল খাতির’ গ্রন্থে এবং তাজউদ্দীন আল-সুবকি তাঁর কোনো কোনো গ্রন্থে মূলত এই শ্রেণির মুহাদ্দিসদের সম্বন্ধেই আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
"
فائدتان":
"الأولى": ما نقلته عن العلماء في بيان من هو المحدث والحافظ والحجة
… إنما هو باعتبار أزمانهم وعصورهم الأولى. أما في عصورنا هذه فينبغي التسامح في ذلك. وإلا فإننا لا نجد من ينطبق عليه وصف المحدث فضلا عن غيره من الألقاب ومن قبل لاحظ بعض الأئمة عزة من يطلق على هذه الألقاب فما بالك بعصرنا هذا1 وغاية المحدث في عصرنا "إن وجد" أن يحيط بعلم الحديث رواية، والقدرة على البحث والتفتيش عن الرجال وجرحهم وتعديلهم من بطون الكتب، وقراءة الكتب الستة والموطأ والمسند والمستدرك وسنن الدارقطني والبيهقي ونحوها، وكثرة المداومة على قراءة هذه الكتب، والبحث والتفتيش حتى تتكون عنده ملكة بالعلم بما فيها، بحيث يتمكن من استخراج أي حديث منها إذا أراد، والعلم بمعظم الأحاديث فقها وغريبا.
ولا أدري ما إذا كان يوجد في عصرنا هذا من يستأهل لقب المحدث مع التسامح أم لا؟ لقد أصبح لقب المحدث يمنح لمن دون ذلك بكثير.
"الثانية": قد يقول قائل: إن ما ذكرته عن الألوف المؤلفة التي كان يحفظها الأئمة الكبار وما نقل عنهم في هذا لا يصدقه المدون في كتب الحديث على كثرتها. فإن ما يوجد فيها من الأحاديث المرفوعة لا يبلغ عشر هذا المقدار.
والجواب: أنه ليس المراد بهذه الألوف أنها كلها أحاديث متغايرة، كما هو الظاهر، وإنما يدخل في هذه الطرق المتعددة للحديث الواحد فقد يروى الحديث الواحد بعشرة أسانيد، وما هي في الحقيقة والواقع إلا طرق لحديث واحد، فيتخير أي إمام منها أصحها وأوثقها في نظره، ويدع ما عدا ذلك، وقد يكون فيما ذكره ما ليس صحيحا عند غيره.
--------------------------------------------
দুটি প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য:
"প্রথমটি": মুহাদ্দিস (المحدث), হাফিজ (الحافظ) এবং হুজ্জাহ (الحجة) কে—তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে আমি যা উদ্ধৃত করেছি
… তা মূলত তাঁদের যুগ ও আদি সময়কালের প্রেক্ষিতে। কিন্তু আমাদের বর্তমান যুগে এ বিষয়ে নমনীয়তা অবলম্বন করা সমীচীন। অন্যথায়, আমরা এমন কাউকে খুঁজে পাব না যাঁর ওপর মুহাদ্দিস (المحدث) বিশেষণটি প্রযোজ্য হয়, অন্যান্য উপাধির কথা তো বলাই বাহুল্য। ইতিপূর্বেও অনেক ইমাম লক্ষ্য করেছেন যে, এ সকল উপাধিতে ভূষিত হওয়ার মতো ব্যক্তি অত্যন্ত দুর্লভ, তাহলে আমাদের বর্তমান যুগের অবস্থা কী হতে পারে!১ আর বর্তমান যুগে একজন মুহাদ্দিসের (المحدث) সর্বোচ্চ পর্যায় হলো—"যদি পাওয়া যায়"—তিনি ইলমে হাদিস রেওয়াত (رواية) তথা বর্ণনাশাস্ত্রে পারদর্শী হবেন এবং কিতাবসমূহের গভীর থেকে রাবি (الرجال) বা বর্ণনাকারীদের অনুসন্ধান করার এবং তাঁদের জারহ (جرحهم) তথা সমালোচনা ও তা’দিল (تعديلهم) তথা গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণের সক্ষমতা রাখবেন; কুতুবে সিত্তাহ, মুয়াত্তা, মুসনাদ, মুস্তাদরাক এবং সুনানে দারা কুতনী ও বায়হাকীসহ অনুরূপ কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করবেন এবং এই কিতাবসমূহ পঠন-পাঠনে সর্বদা নিমগ্ন থাকবেন; এমনকি গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর মাঝে এমন এক প্রজ্ঞা (ملكة) তৈরি হবে যে, তিনি চাইলে সেখান থেকে যেকোনো হাদিস বের করতে সক্ষম হবেন এবং অধিকাংশ হাদিসের ফিকহ (فقها) তথা মর্মার্থ ও গরিব (غريبا) তথা বিরল শব্দার্থ সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন।
আমি জানি না যে, বর্তমান যুগে নমনীয়তা প্রদর্শনের পরেও এমন কেউ আছেন কি না যিনি মুহাদ্দিস (المحدث) উপাধির যোগ্য? বর্তমানে মুহাদ্দিস (المحدث) উপাধিটি এমন ব্যক্তিদের প্রদান করা হচ্ছে যারা এই যোগ্যতার চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের।
"দ্বিতীয়টি": কেউ হয়তো বলতে পারেন: বড় বড় ইমামগণ যে হাজার হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিসের অগুনতি কিতাব সংকলিত হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ সেসব কিতাবে বিদ্যমান মারফু (المرفوعة) হাদিসসমূহের সংখ্যা এর দশ ভাগের এক ভাগও নয়।
এর উত্তর হলো: বাহ্যত যেমনটি মনে হয়, এই হাজার হাজার সংখ্যা দ্বারা উদ্দেশ্য এটি নয় যে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন হাদিস; বরং এর মধ্যে একটি হাদিসের বহুসংখ্যক সূত্র (الطرق) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনো একটি হাদিস হয়তো দশটি সনদ (أسانيد) দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে এবং বাস্তবে সেগুলো একটি মাত্র হাদিসেরই বিভিন্ন সূত্র। ফলে কোনো ইমাম সেগুলোর মধ্য থেকে তাঁর দৃষ্টিতে যা বিশুদ্ধতম (أصحها) এবং নির্ভরযোগ্যতম (أوثقها) তা নির্বাচন করেন এবং বাকিগুলো বর্জন করেন। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা অন্য কারো নিকট সহিহ (صحيحا) নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد يكون فيما يتركه ما هو صحيح في الواقع، وأيضا يدخل في هذه الألوف آثار الصحابة والتابعين وغيرهم، وهذه الآثار تعتبر من الأحاديث عند كثير من المحدثين وما أكثر ما روي من الآثار، فكن على ذكر من ذلك حتى لا يلتبس عليك الأمر، وحتى تدفع تشكيكات المشككين في السنن والأحاديث.
এবং তিনি যা বর্জন করেছেন তার মধ্যে বাস্তবে এমন কিছু থাকাও সম্ভব যা বিশুদ্ধ (صحيح); এছাড়া এই হাজার হাজার বর্ণনার মধ্যে সাহাবী, তাবিঈ এবং অন্যদের আছার (آثار) বা বাণীসমূহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনেক হাদিস বিশারদের নিকট এই আছার (آثار) সমূহ হাদিস হিসেবেই গণ্য হয় এবং আছার (آثار) হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিমাণ অত্যন্ত বিশাল। সুতরাং এই বিষয়টি স্মরণে রাখুন যাতে আপনার নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট না হয় এবং যাতে আপনি সুনান ও হাদিসসমূহের ব্যাপারে সংশয়বাদীদের সন্দেহসমূহ নিরসন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
علوم الحديث بالمعنى العام
مدخل…علوم الحديث بالمعنى العام:
هذا المركب الإضافي يتكون من كلمتين:
1- علوم.
2- والحديث.
أما العلوم فهي جمع علم، والعلم يطلق على اليقين والمعرفة1، ويطلق على الصفة التي بها تنكشف المعلومات2، وعلى الملكة الراسخة في النفس التي بها الإدراك3، ويطلق ويراد به المسائل والقواعد التي تذكر في علم من العلوم4. وهذا الأخير هو المراد حينما نريد التعريف بعلم من العلوم المدونة، وأما الحديث فقد بينا معناه الاصطلاحي فيما سبق، وعلى هذا فيكون المراد بهذا المركب الإضافي: هي جميع العلوم والمعارف التي بحثت في الحديث من حيث روايته وجمعه في الكتب، أو5 من حيث بيان صحيحه من ضعيفه أو من حيث بيان رواته ونقدهم وجرحهم وتعديلهم، أو من حيث بيان غريبه أو بيان ناسخه ومنسوخه، أو مختلفه ومتعارضه، أو من حيث شرح معناه واستخراج الأحكام منه إلى غير ذلك من العلوم التي دارت في فلك الحديث الشريف، ثم تطور هذا المركب فأصبح يطلق علما لقبيا على علم الحديث دراية كما ستعلم فيما بعد
…--------------------------------------------
সাধারণ অর্থে হাদিস শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث)
উপক্রমণিকা (مدخل)…সাধারণ অর্থে হাদিস শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث):
এই সম্বন্ধযুক্ত পদটি (مركب إضافي) দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত:
১- শাস্ত্রসমূহ (علوم)।
২- এবং হাদিস।
পক্ষান্তরে 'উলুম' (علوم) শব্দটি 'ইলম' (علم) শব্দের বহুবচন। 'ইলম' শব্দটি নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) এবং জ্ঞান (معرفة) ১ অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার এটি এমন একটি গুণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে তথ্যসমূহ উন্মোচিত হয় ২। এছাড়া এটি আত্মার মধ্যে বদ্ধমূল সেই যোগ্যতা (ملكة) ৩ এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে উপলব্ধি অর্জিত হয়। আবার এর দ্বারা ঐ সকল আলোচ্য বিষয় (مسائل) এবং নীতিমালা (قواعد) ৪ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে যা কোনো একটি নির্দিষ্ট শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়। কোনো সুসংবদ্ধ শাস্ত্রের পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে এই শেষোক্ত অর্থটিই কাঙ্ক্ষিত। আর হাদিস শব্দের পারিভাষিক অর্থ আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি। সেই অনুযায়ী, এই সম্বন্ধযুক্ত পদটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ঐ সকল জ্ঞান ও শাস্ত্র যা হাদিসের বর্ণনা (رواية) এবং গ্রন্থসমূহে তা সংকলন করা নিয়ে আলোচনা করে, অথবা ৫ হাদিসের সহিহ (صحيح) ও জয়িফ (ضعيف) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে, অথবা বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় এবং তাদের সমালোচনা (نقد), জারহ (جرح) ও তাদিল (تعديل) সংক্রান্ত বিষয়ের বর্ণনা দান করে, অথবা হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা প্রদান করে, কিংবা নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ), অথবা হাদিসের বিভিন্নতা (مختلف) ও আপাত বৈপরীত্য (متعارض) নিয়ে আলোচনা করে, অথবা হাদিসের অর্থ ব্যাখ্যা করা এবং তা থেকে বিধানসমূহ (أحكام) আহরণ করা নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়াও হাদিসকে কেন্দ্র করে আবর্তিত অন্যান্য সকল শাস্ত্রই এর অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে এই পদসমষ্টির অর্থে বিবর্তন আসে এবং এটি ইলমুল হাদিস দিরায়াত (دراية)-এর পারিভাষিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, যা আপনি পরে জানতে পারবেন
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
"علم الحديث بالمعنى الإضافي "أي العام":
أما علم الحديث بمعناه الإضافي قبل صيرورته علما فينقسم إلى قسمين:
1- علم الحديث رواية.
2- وعلم الحديث دراية.
"علم الحديث رواية":
هو علم يشتمل على نقل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خِلقية وخُلُقية. وكذا ما أضيف إلى الصحابة والتابعين من أقوالهم وأفعالهم.
موضوعه: ذات النبي صلى الله عليه وسلم من حيث قوله وفعله
… إلخ، وذات الصحابة والتابعين من أقوالهم وأفعالهم. قاله الكرماني في شرح صحيح البخاري "ويرى كثير من العلماء أن موضوعه: هو أقوال النبي وأفعاله وتقريراته وصفاته الخِلقية والخُلقية وهو الأولى، ولم يرتض الأول قال السيوطي: ولم يزل شيخنا العلامة محيي الدين الكافيجي يتعجب من قوله: إن موضوع علم الحديث -يعني رواية- ذات الرسول ويقول: هذا موضوع الطب لا موضوع الحديث.
أقول: والحق أن التقييد بالحيثية المذكورة يخرج علم الطب لأنه موضوعه ذات الإنسان من حيث الصحة والمرض، ومع هذا فالأولى أن يقال: موضوعه: أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله
… إلخ.
وفائدته: الوقوف على ما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من حديث فنهتدي بهديه ونأتسي به. وإذا علمنا أن السنة هي الأصل الثاني من أصول التشريع وأنها شارحة للقرآن ومبينة له ومفسرة له. وتزيل مشكله. وتفصل مجمله، وتقيد مطلقه، وتخصص عامه؛ أدركنا جلالة هذا العلم وعظم فائدته للإسلام والمسلمين وأنه أشرف العلوم بعد علم القرآن الكريم وأفضلها.
অতিরিক্ত অর্থ তথা সাধারণ অর্থে হাদিস শাস্ত্র:
আর স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত অর্থ বিবেচনায় হাদিস শাস্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত:
1- হাদিস রিওয়ায়াত শাস্ত্র (علم الحديث رواية)।
2- এবং হাদিস দিরায়াত শাস্ত্র (علم الحديث دراية)।
"হাদিস রিওয়ায়াত শাস্ত্র (علم الحديث رواية)":
এটি এমন একটি শাস্ত্র যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত কথা (قول), কাজ (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير) অথবা তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। একইভাবে সাহাবী ও তাবিঈদের দিকে সম্পৃক্ত কথা ও কাজ বর্ণনাও এর অন্তর্ভুক্ত।
এর আলোচ্য বিষয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তা, তাঁর কথা ও কাজের দিক থেকে... ইত্যাদি, এবং সাহাবী ও তাবিঈদের সত্তা, তাঁদের কথা ও কাজের দিক থেকে। আল্লামা কিরমানি তাঁর সহিহ বুখারি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। "তবে অনেক আলিম মনে করেন যে, এর আলোচ্য বিষয় হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা (أقوال), কাজ (أفعال), মৌন সম্মতিসমূহ (تقريرات) এবং তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ; আর এটিই অধিকতর সঠিক মত। আল্লামা সুয়ূতী বলেন, প্রথমোক্ত মতটি (নবীর সত্তা হওয়া) তিনি পছন্দ করেননি এবং তিনি বলেছেন: আমাদের উস্তাদ আল্লামা মুহিউদ্দিন আল-কাফিয়াজি সর্বদা এই কথা শুনে বিস্মিত হতেন যে, হাদিস রিওয়ায়াত শাস্ত্রের (رواية) আলোচ্য বিষয় হলো রাসূলের সত্তা। তিনি বলতেন: এটি তো চিকিৎসা শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়, হাদিসের নয়।"
আমি বলি: সত্য হলো, উল্লিখিত প্রেক্ষিতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার ফলে চিকিৎসা শাস্ত্র এর থেকে আলাদা হয়ে যায়। কারণ চিকিৎসা শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের সত্তা সুস্থতা ও অসুস্থতার দিক থেকে। তা সত্ত্বেও এটাই বলা উত্তম যে, এর আলোচ্য বিষয় হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজসমূহ... ইত্যাদি।
এর উপকারিতা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস হিসেবে যা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে সে সম্পর্কে অবগত হওয়া, যাতে আমরা তাঁর হিদায়াতের পথে চলতে পারি এবং তাঁর অনুসরণ করতে পারি। যখন আমরা জানি যে সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের মূল উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় উৎস এবং এটি কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী; এটি কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ দূর করে, সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেয়, শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (مقيد) করে এবং সাধারণ (عام) নির্দেশকে বিশেষায়িত (تخصيص) করে; তখন আমরা এই শাস্ত্রের মহত্ব এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য এর বিশাল উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারি। আর এটি পবিত্র কুরআনুল কারিমের ইলমের পরে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ ইলম।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وغاية هذا العلم: الفوز بسعادة الدنيا والآخرة.
وواضعه: أبو بكر بن محمد بن عمرو بن حزم المتوفى سنة 120هـ، وقيل الإمام محمد بن شهاب الزهري المتوفى سنة 124هـ.
ومسائله: قضاياه التي تذكر فيه مثل قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنيات
… " ، فإنه متضمن لقضية قائلة: إنما الأعمال بالنيات بعض أقواله.
ونسبته: إلى غيره من العلوم الشرعية التي يجب الاعتناء بها: التباين وإن كانت لا غنى لها عنه.
وحكمه: أنه من فروض الكفاية فإذا لم يوجد في الأمة من يقوم به أثمت الأمة كلها.
واستمداده: من أقوال النبي وأفعاله وتقريراته ونحوها ومن أقوال الصحابة والتابعين وأفعالهم.
وفضله: أنه من أشرف العلوم وأفضلها إذ العلم إنما يشرف بشرف موضوعه وأشرف الكلام بعد كلام الله تعالى هو كلام رسوله صلى الله عليه وسلم.
এই ইলমের লক্ষ্য (غاية): দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য অর্জন করা।
এর প্রবর্তক (واضعه): আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজম (মৃত্যু ১২০ হি.), আর মতান্তরে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আল-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হি.)।
এর মাসআলাসমূহ (مسائله): এতে বর্ণিত সেই সকল প্রতিপাদ্য (قضاياه), যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল
… ", কেননা এটি এমন একটি প্রতিপাদ্যকে (قضية) অন্তর্ভুক্ত করে যা নির্দেশ করে যে, 'আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' বাক্যটি তাঁর কিছু বাণীর (أقوال) অন্তর্ভুক্ত।
অন্যান্য প্রয়োজনীয় শরিয়াহ বিজ্ঞানের সাথে এর সম্বন্ধ (نسبته): ভিন্নতা (التباين), যদিও সেই সকল বিজ্ঞান এই ইলমের প্রতি মুখাপেক্ষী।
এর বিধান (حكمه): এটি ফরজে কিফায়া (فروض الكفاية)-এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ না থাকে যে এই দায়িত্ব আঞ্জাম দেবে, তবে পুরো উম্মত গুনাহগার হবে।
এর উৎস (استمداده): নবীজির বাণী (أقوال), কর্ম (أفعال), মৌনসম্মতি (تقريرات) ও অনুরূপ বিষয়াবলি এবং সাহাবি ও তাবেয়িদের বাণী ও কর্ম হতে।
এর শ্রেষ্ঠত্ব (فضله): এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও উত্তম ইলম; কেননা কোনো ইলমের মর্যাদা তার আলোচ্য বিষয়ের (موضوعه) মর্যাদার ওপর নির্ভর করে এবং মহান আল্লাহর বাণীর পর তাঁর রাসূল (সা.)-এর বাণীই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
علم الحديث دراية
مدخل…"علم الحديث دراية":
تعريفه: هو علم بقوانين يعرف به أحوال السند والمتن وموضوعه السند والمتن هكذا عرفه الشيخ عز الدين بن جماعة وغيره وقال الحافظ ابن حجر: هو معرفة القواعد المعرفة بحال الراوي والمروي1.
ويمكن أن نعرفه بتعريف أوضح فنقول: هو علم بأصول وقواعد يتوصل بها إلى معرفة الصحيح والحسن والضعيف. وأقسام كل. وما يتصل بذلك من معرفة معنى الرواية وشروطها وأقسامها. وحال الرواة
--------------------------------------------
ইলমুল হাদিস দিরাইয়াহউপক্রমণিকা..."ইলমুল হাদিস দিরাইয়াহ":
এর সংজ্ঞা: এটি এমন কতিপয় নীতিমালা (قوانين) সংক্রান্ত জ্ঞান যার মাধ্যমে সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর অবস্থা (أحوال) জানা যায়। এর আলোচ্য বিষয় হলো সনদ (سند) ও মতন (متن); শায়খ ইযযুদ্দিন ইবনে জামাআহ ও অন্যান্যগণ এভাবেই একে সংজ্ঞায়িত করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: এটি হলো এমন কতিপয় নিয়মাবলি (قواعد) সংক্রান্ত জ্ঞান যা বর্ণনাকারী (راوي) ও বর্ণিত বিষয় (مروي)-এর অবস্থা সম্পর্কে অবগত করে।১
আমরা একে আরও স্পষ্ট সংজ্ঞায় বলতে পারি: এটি এমন কতিপয় মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد) সংক্রান্ত জ্ঞান যার মাধ্যমে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিস সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া এগুলোর প্রত্যেকটির প্রকারভেদ এবং বর্ণনা (رواية)-এর অর্থ, এর শর্তাবলি ও প্রকারভেদ এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সংক্রান্ত বিষয়াদিও এর অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وشروطهم، والجرح والتعديل، وتاريخ الرواة ومواليدهم ووفياتهم، والناسخ والمنسوخ ومختلف الحديث وغريبه إلى غير ذلك من المباحث والأنواع التي تذكر في كتب هذا الفن.
وموضوعه: الراوي والمروي من حيث القبول والرد.
وفائدته: معرفة المقبول من المردود، وتمييز الصحيح من الحسن من الضعيف.
وغايته: صيانة الأحاديث من الكذب والاختلاق وبذلك تصان الشريعة من التحليل والتحريم بغير دليل.
وواضعه: الإمام القاضي الرامهرمزي المتوفى سنة 360هـ.
ومسائله: قضاياه التي تذكر فيه كقولهم: الصحيح هو ما اتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن مثله من غير شذوذ ولا علة.
والضعيف ما فقد شروط الصحة أو الحسن كلا أو بعضا وهكذا.
ونسبته: إلى غيره من العلوم الشرعية التي ينبغي الاعتناء بها: التباين، وإن كانت لا غنى لها عنه.
وحكمه: أنه من فروض الكفاية إذا قام به البعض سقط عن الباقين، فإن فرطت فيه الأمة أثمت كلها.
واستمداده: من كلام أئمة الحديث ورواته، وأئمة الجرح والتعديل، وأئمة الفقه والاجتهاد المستند إلى ما جاء في كتاب الله، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
وفضله: أنه من أشرف العلوم وأجلها إذ هو يتعلق بالذب عن حديث رسول الله وسنته.
এবং তাদের শর্তাবলি, জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل), বর্ণনাকারীদের ইতিহাস, তাদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ, নাসিখ ও মানসুখ (الناسخ والمنسوخ), মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث) ও গরিবুল হাদিস (غريب الحديث) সহ এ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে আলোচিত অন্যান্য বিষয় ও প্রকারভেদ।
এর আলোচ্য বিষয়: গ্রহণ ও বর্জনের (القبول والرد) দিক থেকে বর্ণনাকারী (الراوي) ও বর্ণিত বিষয় (المروي)।
এর উপকারিতা: গ্রহণযোগ্য (المقبول) ও বর্জনীয় (المردود) বর্ণনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن) ও জয়িফ (الضعيف) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।
এর লক্ষ্য: হাদিসসমূহকে মিথ্যা ও জালিয়াতি থেকে রক্ষা করা এবং এর মাধ্যমে শরিয়তকে দলিলবিহীন হালাল ও হারাম সাব্যস্ত করা থেকে সুরক্ষা প্রদান করা।
এর প্রবর্তক: ইমাম কাজি রামাহুরমুজি, যিনি ৩৬০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
এর মাসয়ালাসমূহ (مسائله): এতে আলোচিত সেই সকল বিষয়সমূহ, যেমন মুহাদ্দিসগণের উক্তি: সহিহ (الصحيح) হলো সেই হাদিস যার সনদ (إسناده) ন্যায়পরায়ণ (العدল) ও নিখুঁত স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তার অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত, যা শায (شذوذ) ও ইল্লাত (علة) থেকে মুক্ত।
আর জয়িফ (الضعيف) হলো যার মধ্যে সহিহ (الصحة) বা হাসান (الحسن) হওয়ার শর্তাবলির সবটুকু অথবা কিছু অংশ অনুপস্থিত থাকে, এবং একইভাবে অন্যান্য পরিভাষা।
অন্যান্য শরিয়ত সংশ্লিষ্ট ইলমের সাথে এর সম্পর্ক: বৈসাদৃশ্য বা ভিন্নতা (التباين), যদিও অন্যান্য ইলমসমূহ এর ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল।
এর বিধান (حكمه): এটি ফরজে কিফায়া (فروض الكفاية); যদি সমাজের একটি অংশ তা পালন করে তবে অবশিষ্টদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালিত হয়ে যাবে, কিন্তু পুরো উম্মাহ যদি এক্ষেত্রে অবহেলা করে তবে সকলেই গুনাহগার হবে।
এর উৎস (استمداده): হাদিসের ইমাম ও বর্ণনাকারীগণ, জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামগণ এবং ফিকহ ও ইজতিহাদের ইমামগণের বক্তব্য থেকে যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত।
এর শ্রেষ্ঠত্ব: এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ ইলম, কেননা এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস ও সুন্নাহর সুরক্ষার সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"
تاريخ علم الحديث دراية":
إن أئمة الحديث عنوا به عناية فائقة من ناحية حفظه وضبطه، وتدوينه وتأليف الكتب الجامعة لمتونه، وقد بدأت هذه العناية من لدن عصر النبي صلى الله عليه وسلم. فقد كتبه بعض الصحابة في عهده وبعد عهده وكتبه التابعون وإن كان بدء التدوين مدونا عاما كان من أول القرن الثاني، ثم لم تلبث حركة التدوين أن ازدهرت شيئا فشيئا، وما كاد ينتهي القرن الثالث حتى كانت السنن والأحاديث مدونة كلها تقريبا في الصحاح والسنن والمسانيد وغيرها ولم يبق منها إلا شيء أقل من القليل كما ستعلم ذلك فيما بعد إن شاء الله.
كذلك عنوا به من نواح أخرى من جهة سنده ومتنه مما يتوقف عليه قبوله أورده، ولعمر الحق أن البحث عنه من هذه النواحي لبحث جليل القدر جم الفائدة، إذ يتوقف عليه تمييز الطيب من الخبيث، وتطهير الأحاديث مما عسى أن يكون دخلها من التزيد والاختلاق، وتلك النواحي التي بحثوا فيها مثل البحث في الرواية وشروطها وأقسامها، والتحمل والأداء والبحث عن أحوال الرواة من جرح وتعديل وقواعد كل، وبيان الصحيح من الحسن من الضعيف وأقسام كل، وبيان غريب الحديث، وناسخه ومنسوخه ومختلفه ومتعارضه وعلله إلى غير ذلك مما ذخرت به كتب أصول الحديث.
"قبل عصر التدوين":
وقد علمت أن التدوين للأحاديث إنما كان في آخر القرن الأول، ولم تكن مباحث هذا الفن وقواعده قبل عصر التدوين مدونة في السطور وإنما كانت منقوشة في الصدور. وعلى صفحات القلوب شأنها في ذلك شأن معظم الأحاديث قبل التدوين. وما كان رواة الأحاديث
তত্ত্বগত হাদিস বিজ্ঞানের (دراية) ইতিহাস:
নিশ্চয়ই হাদিসের ইমামগণ হাদিস মুখস্থ রাখা (حفظ), সংরক্ষণ (ضبط), সংকলন (تدوين) এবং হাদিসের মূল পাঠ (متون) সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থসমূহ প্রণয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিবিড় যত্ন প্রদান করেছেন। এই যত্নের ধারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই শুরু হয়েছিল। তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পরবর্তী সময়ে কিছু সাহাবী হাদিস লিখে রেখেছিলেন এবং তাবিঈগণও তা লিখেছিলেন। যদিও ব্যাপক আকারে সংকলন (تدوين عام) শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে, তবে এর কিছুকাল পরেই সংকলন আন্দোলন ধাপে ধাপে সমৃদ্ধ হতে থাকে। তৃতীয় হিজরি শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই প্রায় সকল সুন্নাহ ও হাদিসসমূহ সহিহ, সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য কিতাবসমূহে সংকলিত হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে সামান্য কিছু অংশই অবশিষ্ট ছিল, যা আপনি ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে জানতে পারবেন।
অনুরূপভাবে, তাঁরা হাদিসের সনদ (سند) ও মতন (متن) সহ অন্যান্য দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যার ওপর হাদিসের গ্রহণ (قبول) বা বর্জন (رد) নির্ভরশীল। সত্যের শপথ, এই সকল দিক থেকে হাদিস নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি কাজ। কারণ এর মাধ্যমেই উত্তম ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয় এবং হাদিসসমূহকে সেই সকল অতিরঞ্জন ও জালকরণ (اختلاق) থেকে পবিত্র করা যায় যা এতে প্রবেশ করতে পারত। তাঁরা যেসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে বর্ণনা (رواية), এর শর্তাবলী (شروط) ও প্রকারভেদ (أقسام), হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও প্রদান (أداء) এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা তথা জরাহ বা দোষারোপ (جرح) ও তাদিল বা গুণ বর্ণনা (تعديل) এবং এ সংক্রান্ত নিয়মাবলী। এ ছাড়াও সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) এর বর্ণনা ও এদের প্রত্যেকের প্রকারভেদ, বিরল শব্দসম্বলিত হাদিস (غريب الحديث), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), বৈচিত্র্যময় (مختلف) ও পরস্পরবিরোধী (متعارض) হাদিস এবং সুপ্ত ত্রুটি (علل) সহ অন্যান্য বিষয়াবলী যা উসুল আল-হাদিসের গ্রন্থসমূহে পরিপূর্ণ রয়েছে।
"সংকলন যুগের পূর্বে":
আপনি জেনেছেন যে, হাদিস সংকলন (تدوين) মূলত প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষে শুরু হয়েছিল। এই শাস্ত্রের আলোচনা ও নিয়মাবলী সংকলন যুগের আগে খাতায় লিপিবদ্ধ (مدونة) ছিল না, বরং তা মানুষের স্মৃতিতে খোদাই করা ছিল। সংকলনের পূর্বে অধিকাংশ হাদিসের ন্যায় এই বিষয়গুলোও মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল। আর হাদিস বর্ণনাকারীরা...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াসিতু ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والجامعون له بغائبة عنهم أصول هذا الفن وقواعده، بل كانوا يعرفونها حق المعرفة فكان وجودها في الأذهان، وإن لم توجد في الأعيان وليس أدل على هذا مما نقل إلينا من التثبت البالغ والتحوط الشديد في قبول الرواية والعمل بها، والتحرج من الإكثار من الرواية خشية الغلط أو النسيان، أو التزيد والوضع، وقد وضع أساس هذا التثبت الخلفاء الراشدون المهديون ومن جاء بعدهم من أئمة العلم والحديث.
"بعد عصر التدوين":
ولما دونت الأحاديث تدوينا عاما ودونت كتب أخرى في علوم أخرى وجدنا الكثير من قواعد هذا العلم وأصوله مفرقة في أثناء كتبهم المؤلفة في متون الأحاديث، أو المؤلفة في الفقه وأصوله، فمن ذلك ما نجده في أثناء مباحث كتابي "الرسالة" و"الأم" للإمام الشافعي المتوفى سنة 204هـ وما نقله تلاميذ الإمام أحمد بن حنبل المتوفى سنة 241هـ في أسئلتهم له ومحاورتهم معه، وما كتبه الإمام مسلم بن الحجاج المتوفى سنة 261هـ في مقدمة صحيحه، وهي مقدمة صحيحه، وهي مقدمة قيمة وتعتبر من المحاولات الجدية في تدوين هذا العلم، ولولا أنها مقدمة للصحيح لاعتبرتها أول ما دون في أصول الحديث والرواية، بالمعنى الفني الدقيق، وما ذكره الإمام أبو داود السجستاني المتوفى سنة 275هـ في رسالته إلى أهل مكة في بيان طريقته في كتابه "السنن" المشهور، وما ذكره الإمام أبو عيسى الترمذي المتوفى سنة 276هـ في ثنايا كتابه الجامع من تصحيح للأحاديث وتحسين وتضعيف ونقد للرواة وتعديل وتجريح، وما أثبته في كتاب "العلل" الذي هو في آخر جامعه. وكتابه "العلل" الذي ألفه على سبيل الاستقلال.
وما ذكره الإمام البخاري في تواريخه الثلاثة، وما ذكره الأئمة المتقدمون في كتبهم التي وضعت في الجرح والتعديل وتاريخ الرجال
যাঁরা হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরা এই শিল্পের মূলনীতি (أصول) এবং নিয়মাবলি (قواعد) সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন না; বরং তাঁরা এ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন। ফলে এই মূলনীতিগুলো তাঁদের অন্তরে বিদ্যমান ছিল, যদিও স্বতন্ত্র কিতাব আকারে তা বিদ্যমান ছিল না। কোনো বর্ণনা (رواية) গ্রহণ ও তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে তাঁদের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই (التثبت) এবং অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করার চেয়ে বড় কোনো দলিল এ বিষয়ে আর নেই। ভুল, বিস্মৃতি কিংবা অতিরিক্ত কিছু যুক্ত হওয়া অথবা জালকরণ (الوضع)-এর ভয়ে তাঁরা অধিক পরিমাণে বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে চরম সতর্ক ছিলেন। এই যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদিন এবং তাঁদের পরবর্তী ইলম ও হাদিসের ইমামগণ।
"সংকলন যুগের পর":
যখন হাদিসসমূহ ব্যাপকভাবে সংকলিত হলো এবং অন্যান্য শাস্ত্রের ওপর পৃথক কিতাবাদি রচিত হলো, তখন আমরা এই ইলমের অনেক নিয়মাবলি (قواعد) এবং মূলনীতি (أصول) হাদিসের মূলপাঠ (متون) সংক্রান্ত রচিত কিতাবসমূহ অথবা ফিকহ ও উসুল সংক্রান্ত কিতাবসমূহের মধ্যে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এর উদাহরণ হিসেবে আমরা ইমাম শাফিঈ (মৃত্যু ২০৪ হি.)-এর 'আর-রিসালাহ' ও 'আল-উম্ম' কিতাবদ্বয়ের বিভিন্ন আলোচনার মাঝে যা পাই এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.)-এর নিকট তাঁর ছাত্রদের করা প্রশ্ন ও কথোপকথনের বর্ণনাসমূহ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ২৬১ হি.) তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দামায় যা লিখেছেন তাও এর অন্তর্ভুক্ত; এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান মুকাদ্দামা এবং এই শাস্ত্র সংকলনের ক্ষেত্রে একটি ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত। এটি যদি সহিহ-এর মুকাদ্দামা না হতো, তবে সূক্ষ্ম কারিগরি অর্থে হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) এবং বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত বিষয়ে রচিত একেই আমি প্রথম সংকলন হিসেবে গণ্য করতাম। অনুরূপভাবে ইমাম আবু দাউদ সাজিস্তানি (মৃত্যু ২৭৫ হি.) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'সুনান'-এর পদ্ধতি বর্ণনায় মক্কাবাসীদের নিকট প্রেরিত পত্রে যা উল্লেখ করেছেন, এবং ইমাম আবু ঈসা তিরমিজি (মৃত্যু ২৭৬ হি.) তাঁর 'জামি' গ্রন্থের পরতে পরতে হাদিসসমূহকে সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح), হাসান সাব্যস্তকরণ (تحسين), দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف), বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (نقد للرواة) এবং নির্ভরযোগ্য ও অযোগ্য সাব্যস্তকরণ (تعديل وتجريح) বিষয়ে যা আলোচনা করেছেন, তাও এর অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে তিনি তাঁর জামি-র শেষে যুক্ত 'আল-ইলাল' নামক অংশে এবং স্বতন্ত্রভাবে রচিত তাঁর 'আল-ইলাল' কিতাবে যা প্রমাণ করেছেন।
ইমাম বুখারি তাঁর তিনটি 'তারিখ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন এবং পূর্ববর্তী ইমামগণ অযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (الجرح والتعديل) এবং বর্ণনাকারীদের জীবনচরিত সংক্রান্ত তাঁদের কিতাবসমূহে যা বর্ণনা করেছেন, সবই এই শাস্ত্রেরই অন্তর্ভুক্ত।