(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: -)
الخصائص القسم: النحو والصرف
الكتاب: الخصائص
المؤلف: أبو الفتح عثمان بن جني [ت 392 هـ]
المحقق: محمد علي النجار [ت 1385 هـ]
الناشر: الهيئة المصرية العامة للكتاب
الطبعة: الرابعة
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-খাসাইস বিভাগ: নাহু ও সারফ
গ্রন্থ: আল-খাসাইস
লেখক: আবুল ফাতহ উসমান ইবন জিন্নি [মৃত্যু ৩৯২ হিজরি]
সম্পাদক: মুহাম্মদ আলি আল-নাজ্জার [মৃত্যু ১৩৮৫ হিজরি]
প্রকাশক: আল-হাইআতুল মিসরিইয়াতুল আম্মাহ লিল কিতাব (মিশরীয় সাধারণ গ্রন্থ সংস্থা)
সংস্করণ: চতুর্থ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১)
المجلد الاول
المقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الواحد العدل القديم، وصلى الله على صفوته محمد وآله المنتخبين 1. وعليه وعليهم السلام أجمعين.
هذا -أطال الله بقاء مولانا السيد المنصور "المؤيد"2 بهاء الدولة وضياء الملة وغياث الأمة، وأدام ملكه ونصره، وسلطانه ومجده وتأييده وسموه، وكبت شانئه وعدوه- كتاب لم أزل على فارط الحال وتقادم الوقت ملاحظاً له، عاكف الفكر عليه، منجذب الرأي والروية إليه وادًّا أن أجد مهملاً3 أصله به أو خللاً أرتقه4 بعمله والوقت يزداد بنواديه5 ضيقًا ولا ينهج لي إلى الابتداء طريقًا. هذا مع إعظامي له وإعصامي6 بالأسباب المنتاطة به واعتقادي فيه أنه من أشرف ما صنف في علم العرب وأذهبه في طريق القياس والنظر وأعوده عليه بالحيطة والصون وآخذه له من حصة التوقير7 والأون، وأجمعه8 للأدلة على ما أودعته هذه اللغة الشريفة من خصائص الحكمة ونيطت به من علائق الإتقان والصنعة،
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি এক, ন্যায়বিচারক ও অনাদি; এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দা মুহাম্মদ এবং তাঁর নির্বাচিত পরিবারবর্গের ওপর। তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি—আল্লাহ আমাদের মহান অধিপতি, সাহায্যপ্রাপ্ত 'আল-মুয়ায়্যাদ', রাষ্ট্রের শোভা, মিল্লাতের আলোকবর্তিকা এবং উম্মাহর ত্রাণকর্তার দীর্ঘায়ু দান করুন এবং তাঁর রাজত্ব, বিজয়, কর্তৃত্ব, মর্যাদা, ঐশী সহায়তা ও উচ্চতাকে চিরস্থায়ী করুন এবং তাঁর কুৎসাকারীদের ও শত্রুদের অবদমিত করুন—এমন এক কিতাব যার প্রতি আমি দীর্ঘকাল ধরে লক্ষ্য রাখছিলাম, এতেই আমার চিন্তা নিমগ্ন ছিল এবং আমার মতামত ও দূরদর্শিতা এর প্রতিই আকৃষ্ট ছিল। আমি চাচ্ছিলাম যে, এতে যদি কোনো অবহেলিত বিষয় পেতাম তবে তা এর সাথে সংযুক্ত করতাম অথবা কোনো ছিদ্র বা ত্রুটি পেলে তা এই কাজের মাধ্যমে তালি দিতাম। কিন্তু সময় এর বিক্ষিপ্ত ব্যস্ততায় ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে পড়ছিল এবং সূচনার কোনো পথই আমার কাছে উন্মোচিত হচ্ছিল না। এটি সত্ত্বেও আমি এর প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতাম এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কারণগুলোকে আঁকড়ে ধরতাম। আমার বিশ্বাস এই যে, এটি আরবি ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠতম কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) ও নজরের (গবেষণা) পথে অত্যন্ত গভীরগামী। এটি ভাষার সুরক্ষা ও সংরক্ষণে অধিক ফলপ্রসূ এবং একে অত্যন্ত মর্যাদা ও প্রশান্তির অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি এই মহান ভাষার মাঝে গচ্ছিত প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নিপুণতা ও শিল্পের প্রমাণাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২)
فكانت مسافر وجوهه ومحاسر أذرعه وسوقه تصف لي ما اشتملت عليه مشاعره وتحي1 إلي بما خيطت عليه أقرابه2 وشواكله وتريني أن تعريد3 كل من الفريقين: البصريين والكوفيين عنه وتحاميهم طريق الإلمام به والخوض في أدنى أوشاله وخُلُجه فضلاً عن اقتحام غماره ولُجَجه إنما كان لامتناع جانبه، وانتشار شعاعه، وبادي تهاجر قوانينه وأوضاعه. وذلك أنا لم نر أحدًا من علماء البلدين4 تعرض لعمل أصول النحو، على مذهب أصول الكلام والفقه. فأما كتاب أصول أبي بكر5 فلم يلمم فيه بما نحن عليه، إلا حرفًا أو حرفين في أولهن وقد تعلق عليه به. وسنقول في معناه.
على أن أبا الحسن6 قد كان صنف في شيء من المقاييس كتيبا، إذا أنت قرنته بكتابنا هذا علمت بذاك أنا نبنا عنه فيه7، وكفيناه كلفة التعب به، وكافأناه على لطيف ما أولاناه من علومه المسوقة إلينا، المفيضة ماء البشر8 والبشاشة9 علينا، حتى
--------------------------------------------
তার চেহারার উন্মুক্ত অংশ এবং তার বাহু ও নলার অনাবৃত ভাগগুলো আমার কাছে বর্ণনা করছিল তার ভেতরের অনুভূতিসমূহ কী ধারণ করে আছে, এবং তা ইশারা করছিল সেই সব বিষয়ের প্রতি যার ওপর তার পার্শ্বদেশ ও শরীরের গঠন কাঠামো গঠিত। এটি আমাকে দেখাচ্ছিল যে, উভয় দল—অর্থাৎ বসরাবাসী ও কুফাবাসীদের—এর থেকে দূরে থাকা এবং এর সান্নিধ্যে যাওয়ার পথ এড়িয়ে চলা, এমনকি এর গভীর সাগরে ঝাঁপ দেওয়া তো দূরের কথা, এর সামান্য অগভীর জলাশয় বা নালাতেও প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা ছিল মূলত এর দুর্ভেদ্যতা, এর আলোকচ্ছটার বিস্তৃতি এবং এর নিয়ম ও বিন্যাসের বাহ্যিক ভিন্নতার কারণে। আর তা এই জন্য যে, আমরা এই দুই শহরের কোনো আলেমকেই ইলমে কালাম ও ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির আদলে নাহুর মূলনীতি বা উসুল নিয়ে কাজ করতে দেখিনি। আবু বকরের উসুল কিতাবের কথা বললে, তিনি এতে আমরা যে বিষয়ের ওপর রয়েছি তার ধারেকাছেও যাননি, কেবল এর শুরুর দিকে একটি বা দুটি শব্দ ছাড়া যার ওপর ভিত্তি করে তার সমালোচনা করা হয়েছে। আর আমরা শীঘ্রই তার মর্মার্থ সম্পর্কে আলোচনা করব।
তবে আবু আল-হাসান কিয়াসের কিছু বিষয়ে একটি ছোট পুস্তিকা রচনা করেছিলেন। আপনি যখন সেটিকে আমাদের এই কিতাবের সাথে তুলনা করবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে আমরা এই ক্ষেত্রে তার স্থলাভিয়িক্ত হয়েছি, তার পরিশ্রমের ভার লাঘব করেছি এবং তার সেই সূক্ষ্ম ইলমের প্রতিদান দিয়েছি যা তিনি আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যা আমাদের ওপর আনন্দ ও প্রসন্নতার বারিধারা বর্ষণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৩)
دعا ذلك أقوامًا نُزرت من معرفة حقائق هذا العلم حظوظهم، وتأخرت عن إدراكه أقدامهم، إلى الطعن عليه، والقدح في احتياجاته وعلله. وسترى ذلك مشروحًا في الفصول بإذن الله تعالى.
"ثم إن بعض من يعتادني1، ويُلم لقراءة هذا العلم بي، ممن آنس بصحبته لي، وأرتضي حالى أخذه عني، سأل فأطال المسألة، وأكثر الحفاوة والملاينة، أن أمضي الرأي في إنشاء هذا الكتاب، وأوليه طرفًا من العناية والانصباب2. فجمعت بين ما أعتقده: من وجوب ذلك علي، إلى ما أوثره3 من إجابة هذا السائل4لي. فبدأت به، ووضعت يدي فيه، واستعنت الله على عمله، واستمددته سبحانه من إرشاده وتوفيقه"، وهو -عز اسمه- مؤتِي ذاك بقدرته، وطَوله ومشيئته.
--------------------------------------------
এই বিষয়টি এমন কিছু গোষ্ঠীকে প্ররোচিত করেছে যাদের এই ইলমের হাকীকত বা প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান অতি সামান্য এবং যাদের পদযুগল তা অনুধাবনে পিছিয়ে রয়েছে, যাতে তারা এর ওপর সমালোচনা করে এবং এর প্রয়োজনীয়তা ও কারণগুলোর নিন্দা জানায়। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় অধ্যায়গুলোতে আপনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন।
"অতঃপর আমার কাছে যাতায়াতকারী এবং আমার কাছে এই ইলম পড়ার জন্য আগমনকারী এক ব্যক্তি, যার সান্নিধ্যে আমি আনন্দিত এবং আমার পক্ষ থেকে তার শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট, সে আবেদন করল এবং তার আরজি দীর্ঘায়িত করল, আর অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও বিনয় প্রদর্শন করল যেন আমি এই কিতাবটি রচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং এতে গভীর মনোযোগ ও শ্রম ব্যয় করি। ফলে আমি আমার উপর এর অপরিহার্যতা সম্পর্কে আমার বিশ্বাস এবং এই আবেদনকারীর আহবানে সাড়া দেওয়া—এই উভয় বিষয়ের সমন্বয় করলাম। এরপর আমি তা শুরু করলাম, এতে হাত রাখলাম, এর কাজের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং তাঁর কাছে হিদায়াত ও তাওফীক কামনা করলাম।" আর আল্লাহ—যাঁর নাম মহিমান্বিত—তিনি তাঁর ক্ষমতা, অনুগ্রহ ও ইচ্ছায় তা প্রদানকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৫)
هذا باب القول على الفصل بين الكلام والقول:"ولنقدم أمام القول على فرق1 بينهما طرفًا من ذكر أحوال تصاريفهما واشتقاقهما مع تقلب حروفهما فإن هذا وضع يتجاوز قدر الاشتقاق ويعلوه إلى ما فوقه. وستراه فتجده طريقًا غريبًا ومسلكًا من هذه اللغة الشريفة عجيبًا "2.
فأقول: إن معنى " ق ول " أين وجدت وكيف وقعت3، من تقدم بعض حروفها على بعض وتأخره عنه، إنما هو للخفوف والحركة 4، وجهات تراكيبها الست مستعملة كلها لم يهمل شيء منها ، وهي: " ق ول"، "ق ل و "، " وق ل " ، "ول ق " ، " ل ق و "، "ل وق ".
الأصل الأول "ق ول " وهو القول. وذلك أن الفم واللسان يخفان له ويقلقان ويمذلان به5. وهو بضد السكوت الذي هو داعية إلى السكون ألا ترى أن الابتداء لما كان أخذًا في القول لم يكن الحرف المبدوء به إلا متحركًا ولما كان الانتهاء أخذًا في السكوت لم يكن الحرف الموقوف عليه إلا ساكنًا.
الأصل الثاني "ق ل و " منه القلو: حمار الوحش وذلك لخفته وإسراعه قال العجاج:
--------------------------------------------
এটি কালাম (বাক্য) এবং কাওল (কথা)-এর মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণের অধ্যায়:"আমরা কথা বা সংজ্ঞার পার্থক্যের আলোচনার পূর্বে তাদের রূপান্তর এবং শব্দমূলের বিভিন্ন অবস্থা এবং তাদের বর্ণের বিন্যাস পরিবর্তনের আলোচনা থেকে সামান্য কিছু অংশ উপস্থাপন করব। কেননা এটি এমন একটি পদ্ধতি যা সাধারণ শব্দমূলের (ইশতিকাক) সীমানা ছাড়িয়ে তার ঊর্ধ্বের স্তরে আরোহণ করে। আপনি যখন এটি দেখবেন, তখন একে এই মর্যাদাপূর্ণ ভাষার একটি অনন্য পথ এবং বিস্ময়কর পদ্ধতি হিসেবে খুঁজে পাবেন।"
আমি বলছি: 'ক-ও-ল' (কাফ, ওয়াও, লাম)-এর অর্থ যেখানেই পাওয়া যাক এবং যেভাবে এর বর্ণের বিন্যাস ঘটুক না কেন—চাই একটি বর্ণ অন্যটির আগে আসুক বা পরে—তা মূলত ক্ষিপ্রতা এবং গতির অর্থ প্রকাশ করে। এর সম্ভাব্য ছয়টি বিন্যাসই ব্যবহৃত হয়েছে এবং তার কোনোটিই পরিত্যক্ত নয়। সেগুলো হলো: 'ক-ও-ল', 'ক-ল-ও', 'ও-ক-ল', 'ও-ল-ক', 'ল-ক-ও', 'ল-ও-ক'।
প্রথম মূল রূপটি হলো 'ক-ও-ল', যা থেকে 'কাওল' (কথা) উদ্ভূত। এর কারণ হলো কথা বলার সময় মুখ ও জিহ্বা ক্ষিপ্রতা প্রদর্শন করে, আন্দোলিত হয় এবং সচল থাকে। এটি নীরবতার বিপরীত, যা স্থিরতার দিকে আহ্বান জানায়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, প্রারম্ভ যেহেতু কথা বলার শুরু, তাই প্রারম্ভিক বর্ণটি সর্বদা স্বরযুক্ত (হারকাতযুক্ত) হয়? আর সমাপ্তি যেহেতু নীরবতার শুরু, তাই যে বর্ণের ওপর থামা হয় তা সর্বদা স্বরহীন (সাকিন) হয়।
দ্বিতীয় মূল রূপটি হলো 'ক-ল-ও', এখান থেকেই 'কালু' শব্দটি এসেছে, যার অর্থ বন্য গাধা; আর তা তার চপলতা ও দ্রুতগতির কারণে। আল-আজজাজ বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৬)
#تواضخ التقريب قلوا مغلجا1:#
ومنه قولهم: "قلوت البسر والسويق، فهما مقلوان "، وذلك لأن الشيء إذا قلي جفّ وخفّ، وكان أسرع إلى الحركة وألطف ومنه قولهم: "اقلوليت يا رجل " قال2:
قد عجبت مني ومن بعيليا
… لما رأتني خلقا مقلوليا
أي خفيفا للكبر3، "و" طائشا، "و"5 قال 6:
وسرب كعين الرمل عوج إلى الصبا
… رواعف بالجادي حور المدامع7
سمعن غناء بعد ما نمن نومة
… من الليل فاقلولين فوق المضاجع8
أي خففن لذكره وقلقن فزال عنهن نومهن واستثقالهن على الأرض. وبهذا يعلم أن لام اقلوليت واو لا ياء. فأما لام اذلوليت9 فمشكوك فيها.
--------------------------------------------
#দ্রুত গতির প্রতিযোগিতা... ১:#
এর থেকেই তাদের কথা: "আমি কাঁচা খেজুর ও ছাতু ভেজেছি, ফলে সেগুলো ভাজা (শুকনো ও হালকা) হয়েছে", আর এটি এজন্য যে, কোনো কিছু ভাজা হলে তা শুকিয়ে যায় ও হালকা হয়ে যায়, এবং তা নড়াচড়ার জন্য দ্রুততর ও সূক্ষ্মতর হয়। এর থেকেই তাদের কথা: "হে ব্যক্তি, তুমি চঞ্চল ও ক্ষিপ্র হয়েছ।" জনৈক কবি বলেন২:
সে আমার এবং আমার স্বামীর বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে
… যখন সে আমাকে জরাজীর্ণ ও অতিশয় হালকা (বার্ধক্যজনিত কারণে) দেখেছে।
অর্থাৎ বার্ধক্যের কারণে হালকা৩, এবং অস্থির। এবং৫ তিনি বলেন৬:
একটি দল যেন 'আইনুর রামল'-এর বন্য গাভী, যারা যৌবনের দিকে ঝুঁকে আছে
… জাফরানের রঙে রঞ্জিত নাসিকা এবং বড় কালো চোখের অশ্রু বিশিষ্ট।৭
তারা রাতের এক প্রহর ঘুমের পর গান শুনতে পেল
… ফলে তারা তাদের শয্যার ওপর চঞ্চল ও ক্ষিপ্র হয়ে উঠল।৮
অর্থাৎ তার স্মরণে তারা হালকা হয়ে উঠল এবং অস্থির হলো, ফলে তাদের ঘুম এবং জমিনের ওপর তাদের শরীরের ভারী ভাব দূর হয়ে গেল। এর দ্বারা জানা যায় যে, 'ইকলাওলাইতু' (اقلوليت) শব্দের লাম (শেষ বর্ণ) হলো ওয়াও (و), ইয়া (ي) নয়। তবে 'ইযলাওলাইতু'৯ (اذلوليت)-এর লাম বর্ণের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومن هذا الأصل أيضًا قوله:
#أقب كمقلاء الوليد خميص1#
فهو مفعال2 من قلوت بالقلة، ومذكرها القال؛ قال الراجز:
#وأنا في الضراب قيلان القلة#
فكأن القال مقلوب قلوت وياء القيلان مقلوبة عن واو وهي لام قلوت ومثال3 الكلمة فلعان. ونحوها عندي في القلب قولهم "باز " ومثاله فلع واللام منه واو لقولهم في تكسيره: ثلاثة أبواز ومثالها أفلاع. ويدل على صحة ما ذهبنا إليه: من قلب هذه الكلمة قولهم فيها "البازي"، وقالوا في تكسيرها "بُزاة" و"بوازٍ " أنشدنا أبو علي4 لذي الرمة:
كأن على أنيابها كل سدفة
… صياح البوازي من صريف اللوائك5
--------------------------------------------
আর এই মূলনীতি থেকেই তাঁর এই উক্তিটিও এসেছে:
#সন্তানের খেলার লাঠির মতো ক্ষীণকটি ও ক্ষুধার্ত-পেট১#
এটি 'ক্বালাওতু বিল ক্বিল্লাহ' (আমি ক্বিল্লাহ দিয়ে আঘাত করলাম) থেকে 'মিফআল'২ ওজনে এসেছে, এবং এর পুংলিঙ্গ হলো 'আল-ক্বাল'। রাজাজ কবি বলেছেন:
#আর আমি প্রহারের ক্ষেত্রে ক্বিল্লাহর লাঠিগুলোর মতো#
যেন 'আল-ক্বাল' শব্দটি 'ক্বালাওতু' থেকে বর্ণবিপর্যয়ের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে এবং 'ক্বিলান' শব্দের 'ইয়া' অক্ষরটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে যা 'ক্বালাওতু' এর 'লাম' কালিমা। শব্দটির রূপতাত্ত্বিক ওজন৩ হলো 'ফাল'আন'। আর বর্ণবিপর্যয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে এর অনুরূপ শব্দ হলো তাদের কথা 'বা-য' (বাজপাখি), যার ওজন হলো 'ফাল' এবং এর 'লাম' কালিমাটি হলো 'ওয়াও', কারণ এর বহুবচনে তারা বলে: 'সালাছাতু আবওয়া-য' (তিনটি বাজপাখি), যার ওজন 'আফলা-আ'। আমরা এই শব্দের বর্ণবিপর্যয় সম্পর্কে যে মত গ্রহণ করেছি তার সঠিকতার প্রমাণ হলো তাদের 'আল-বা-যী' বলা। তারা এর বহুবচনে 'বুযাত' এবং 'বাওয়া-যিন' বলে থাকে। আবু আলী৪ আমাদের নিকট যুর রুম্মাহ-এর কবিতাটি পাঠ করেছেন:
যেন তার দাঁতগুলোতে প্রতিটি অন্ধকারের সময়
… দাঁত দিয়ে চিবানোর শব্দের মতো বাজপাখিদের চিৎকার ধ্বনিত হচ্ছে৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال جرير:
إذا اجتمعوا عليّ فخل عنهم
… وعن باز يصك حباريات1
فهذا فاعل؛ لاطراد الإمالة في ألفه، وهي في فاعل أكثر منها في نحو مال وباب.
وحدثنا أبو علي سنة إحدى وأربعين2 قال: قال أبو سعيد3 الحسن بن الحسين "بازٌ " وثلاثة "أبواز " فإن كثرت فهي "البيزان" فهذا فلع وثلاثة أفلاع وهي الفلعان.
ويدل على أن تركيب هذه الكلمة من "ب ز و " أن الفعل منها عليه تصرف، وهو قولهم " بزا يبزو " إذا غلب وعلا ومنه البازي -وهو في الأصل اسم الفاعل ثم استعمل استعمال الأسماء كصاحب ووالد- وبُزاة وبواز يؤكد ذلك وعليه بقية الباب من أبزى وبزواء وقوله:
#فتبازت فتبازختُ لها4#
--------------------------------------------
জারীর বলেন:
তারা যদি আমার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও
… আর এক বাজপাখির পথও, যে তিতির জাতীয় পাখিদের আক্রমণ করে।১
এটি 'ফায়িল' ওজনে; কেননা এর আলিফ-এ ইমালাহ (উচ্চারণগত পরিবর্তন) নিয়মিতভাবে ঘটে, আর 'ফায়িল' ওজনে ইমালাহ হওয়ার প্রবণতা 'মাল' বা 'বাব'-এর মতো শব্দের চেয়ে বেশি।
আবু আলী [হিজরি] তিনশ একচল্লিশ সালে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন২, তিনি বলেন: আবু সাঈদ৩ হাসান ইবনে হুসাইন বলেছেন, "বাজ" (একবচন) এবং তিনটির জন্য "আবওয়াজ", আর সংখ্যায় বেশি হলে তা "বীযান"। সুতরাং এটি 'ফালু' ওজনে, যার বহুবচন 'আফলা' এবং 'ফাল'আন'।
এই শব্দটির মূল গঠন যে "বা-যা-ওয়া" থেকে এসেছে, তার প্রমাণ হলো এর ক্রিয়াটির রূপান্তর ঘটে, আর এটি আরবদের এই উক্তি থেকে এসেছে "বাযা ইয়াবযূ" যখন কেউ বিজয়ী হয় এবং উপরে ওঠে। এখান থেকেই "বাজী" শব্দটি এসেছে - যা মূলত ইসমে ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), কিন্তু পরবর্তীতে 'সাহিব' ও 'ওয়ালিদ'-এর মতো বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। "বুযাহ" এবং "বাওয়ায" শব্দগুলোও একে সমর্থন করে এবং এই একই মূলধাতুর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য রূপগুলো হলো "আবাযা" ও "বাযওয়া" এবং কবির এই উক্তি:
#সে তার পশ্চাৎভাগ উঁচু করল, আর আমিও তার জন্য ঝুঁকে দাঁড়ালাম৪#
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৯)
والبزا1 لأن ذلك كله شدة ومقاولة2 فاعرفه.
فمقلاء من قلوت وذلك أن القال -وهو المقلاء- هو العصا التي يضرب بها القلة وهي الصغيرة، وذلك لاستعمالها في الضرب بها.
"الثالث" "وق ل " منه الوقل3 للوعل، وذلك لحركته، وقالوا: توقل في الجبل: إذا صعد فيه، وذلك لا يكون إلا مع الحركة والاعتمال. قال ابن مقبل:
عودا أحم القرا إزمولة وقلا
… يأتي تراث أبيه يتبع القُذَفا4
"الرابع" "ول ق " قالوا: ولق يلق: إذا أسرع.
قال:
#جاءت به عنس من الشام تلق5#
أي تخِف وتسرع. وقرئ6 "إذ تِلقونه بألسنتكم " أي تخفون7 وتسرعون. وعلى
--------------------------------------------
এবং আল-বযা১ কারণ এই সব কিছুই কঠোরতা ও শক্ত প্রতিযোগিতার২ অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি চিনে রাখো।
মিকলা শব্দটি 'কালওতু' থেকে উদ্ভূত। এর কারণ হলো আল-কাল —যা মূলত মিকলা— হলো সেই লাঠি যা দিয়ে কুল্লাহ (ছোট কাঠি) আঘাত করা হয়। মূলত এটি দ্বারা আঘাত করার কাজে ব্যবহারের কারণেই এর এই নামকরণ।
"তৃতীয়" "ওয়া-কা-লাম" এখান থেকে বনছাগলের গতি বুঝাতে আল-ওয়াকাল৩ শব্দটির উৎপত্তি। ভাষাবিদগণ বলেন: পাহাড়ে 'তাওয়াক্কালা' করেছে: যখন কেউ তাতে আরোহণ করে। আর নড়াচড়া ও পরিশ্রম ব্যতিরেকে এটি সম্ভব নয়। ইবনুল মুকবিল বলেছেন:
এক বৃদ্ধ উট যার পিঠ কৃষ্ণবর্ণ, সে ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন ও পাহাড়ে আরোহণকারী
… সে তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পাহাড়ের সুউচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করে৪
"চতুর্থ" "ওয়া-লাম-কাফ" তারা বলেন: ওয়ালাকা ইয়ালিকু: যখন কেউ দ্রুত চলে।
তিনি বলেন:
#সিরিয়া থেকে একটি শক্তিশালী উটনী তাকে দ্রুত বহন করে নিয়ে আসল৫#
অর্থাৎ তা হালকা ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়। আর একটি পাঠরীতিতে৬ পঠিত হয়েছে "যখন তোমরা তোমাদের জিহ্বা দ্বারা এটি দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছিলে" অর্থাৎ তোমরা এতে তৎপরতা ও দ্রুততা দেখাচ্ছিলে৭। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১০)
هذا فقد يمكن أن يكون الأولق1 فوعلا من هذا اللفظ وأن يكون أيضا أفعل منه. فإذا كان أفعل فأمره ظاهر وإن سميت به لم تصرفه معرفة وإن كان فوعلا فأصله وولق فلما التقت الواوان في أول الكلمة أبدلت الأولى همزة لاستثقالها أولا كقولك في تحقير واصل: أويصل. ولو سميت بأولق على هذا لصرفته. والذي حملته الجماعة عليه أنه فوعل من تألق البرق إذا خفق وذلك لأن الخفوق مما يصحبه الانزعاج والاضطراب. على أن أبا إسحاق2 قد كان يجيز فيه أن يكون أفعل من ولق يلق. والوجه فيه ما عليه الكافة: من كونه فوعلا من " أل ق " وهو قولهم "ألق الرجل فهو مألوق " ألا ترى إلى إنشاد أبي زيد فيه:
تراقب عيناها القطيع كأنما
… يخالطها من مسه مس أولق3
وقد قالوا منه 4: ناقة مسعورة أي مجنونة وقيل5 في قول الله سبحانه {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ} : إن السعر هو الجنون وشاهد هذا القول قول القطامي 6:
--------------------------------------------
এটি হতে পারে যে 'আওলাক' শব্দটি এই শব্দমূল থেকে 'ফাও'আল' ওজনে গঠিত হয়েছে অথবা এটি 'আফ'আল' ওজনেও হতে পারে। যদি এটি 'আফ'আল' ওজনে হয়, তবে বিষয়টি সুস্পষ্ট; আর যদি আপনি একে নাম হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে নির্দিষ্টতা (মা'রিফা) হওয়ার কারণে এটি 'গাইরে মুনসারিফ' হবে। আর যদি এটি 'ফাও'আল' ওজনে হয়, তবে এর মূল ছিল 'ওয়াওলাক'; যখন শব্দের শুরুতে দুটি 'ওয়াও' একত্রিত হলো, তখন প্রথমটিকে হামজা দ্বারা পরিবর্তন করা হলো কারণ শুরুতে দুটি 'ওয়াও' উচ্চারণ করা কষ্টকর, যেমনটি আপনি 'ওয়াসিল' শব্দের তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবাচক রূপ) করার ক্ষেত্রে 'উওয়াইসিল' বলে থাকেন। আর যদি আপনি এই ভিত্তিতে 'আওলাক' শব্দটিকে নাম হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে একে 'মুনসারিফ' হিসেবে গণ্য করবেন। অধিকাংশ ভাষাবিদ যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো এটি বিজলির চমকানো (তআল্লুকুল বারক) থেকে 'ফাও'আল' ওজনে এসেছে যখন তা দপদপ করে; কারণ দপদপ করা বা কম্পনের সাথে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য জড়িত থাকে। যদিও আবু ইসহাক এটি 'ওয়ালাকা-ইয়ালিকু' থেকে 'আফ'আল' ওজনে হওয়া বৈধ বলে মনে করতেন। তবে সঠিক অভিমত হলো যা অধিকাংশ ভাষাবিদের অভিমত: এটি 'হামজা-লাম-কাফ' ধাতু থেকে 'ফাও'আল' ওজনে গঠিত। আর এটি তাদের সেই কথা থেকে এসেছে: "লোকটি আলকা হয়েছে, তাই সে মালুক (উন্মাদ)"। আপনি কি এই বিষয়ে আবু যায়িদের পঠিত পঙক্তিটি দেখেননি:
তার চোখ দুটি চাবুকের দিকে লক্ষ্য রাখছে, যেন
… তার স্পর্শে উন্মাদনার এক ছোঁয়া মিশে আছে।
তারা এ থেকে আরও বলেন: 'নাকাতুন মাসউরাহ' অর্থাৎ পাগল উষ্ট্রী। আর মহান আল্লাহর বাণী "নিশ্চয় অপরাধীরা বিভ্রান্তিতে এবং উন্মাদনায় (সু'উর) নিমজ্জিত" এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে: 'সু'উর' অর্থ হলো উন্মাদনা। আর এই মতের সপক্ষে কাতামির উক্তিটি প্রমাণস্বরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১১)
يتبعن سامية العينين تحسبها
… مسعورة أو ترى ما لا ترى الإبل1
"الخامس" "ل وق " جاء في الحديث2: "لا آكل من الطعام إلا ما لوّق لي " ، أي ما خُدِم وأعملت اليد في تحريكه وتلبِيقه3، حتى يطمئن وتتضامّ جهاته. ومنه اللوقة للزُبْدة وذلك لخفتها وإسراع حركتها وأنها ليست لها مسكة الجبن وثقل المصل ونحوهما. وتوهم قوم أن الألوقة -لما كانت هي اللوقة في المعنى، وتقاربت حروفهما- من لفظها4 وذلك باطل؛ لأنه لو كانت من هذا اللفظ لوجب تصحيح عينها إذ كانت الزيادة في أولها من زيادة الفعل والمثال مثاله فكان يجب على هذا أن تكون ألوقة كما قالوا في5 أثوب وأسوق وأعين وأنيب بالصحة ليفرق بذلك بين الاسم والفعل وهذا واضح. وإنما الألوقة فعولة من تألق البرق إذا لمع وبرق واضطرب وذلك لبريق الزبدة واضطرابها.
"السادس" "ل ق و " منه اللقوة للعقاب قيل لها ذلك لخفتها وسرعة طيرانها قال6:
كأني بفتخاء الجناحين لقوة
… دفوف من العقبان طأطأت شملال7
--------------------------------------------
তারা এমন এক উটনীকে অনুসরণ করে যার চোখ দুটি ঊর্ধ্বমুখী, তুমি তাকে মনে করবে
… পাগলপ্রায় অথবা সে এমন কিছু দেখছে যা অন্য উটগুলো দেখছে না।১
"পঞ্চম" "লাম-ওয়াও-কাফ" হাদিসে এসেছে২: "আমি এমন খাবার ব্যতীত খাই না যা আমার জন্য নরম (বা পরিপাটি) করা হয়েছে", অর্থাৎ যা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নাড়াচাড়া ও মিশ্রণ করার কাজে হাত ব্যবহার করা হয়েছে৩, যাতে তা থিতু হয় এবং এর বিভিন্ন অংশ একে অপরের সাথে মিশে যায়। মাখনকে 'লুকা' বলা এখান থেকেই এসেছে, কারণ এটি হালকা এবং এর নড়াচড়া দ্রুতগতির, আর এতে পনিরের মতো দৃঢ়তা বা ঘোলজাতীয় জিনিসের মতো ভারী ভাব নেই। একদল লোক ধারণা করেছে যে 'আলুকা' শব্দটি—যেহেতু অর্থে তা 'লুকা' শব্দেরই অনুরূপ এবং তাদের বর্ণগুলো কাছাকাছি—সেই 'লুকা' শব্দ থেকেই নির্গত৪। কিন্তু তা ভিত্তিহীন; কারণ যদি এটি এই শব্দমূল থেকে হতো, তবে এর 'আইন' বর্ণটি (মাঝের বর্ণ) অবিকৃত রাখা আবশ্যক হতো, যেহেতু এর শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণটি ক্রিয়ার অতিরিক্ত বর্ণের মতো এবং এর গঠনও ক্রিয়ার গঠনের মতো। এমতাবস্থায় আবশ্যক ছিল শব্দটিকে 'আলুকা' হিসেবে (ভাউয়েলসহ) উচ্চারণ করা যেমনটি তারা 'আছওয়াব', 'আসওয়াক', 'আইয়ুন' এবং 'আনিয়ুব' শব্দগুলোতে বর্ণকে অবিকৃত রেখেছে৫ যাতে বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা যায়, আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রকৃতপক্ষে 'আলুকা' শব্দটি 'ফাউলা' ওজনের, যা বিদ্যুতের চমকানো থেকে এসেছে যখন তা উজ্জ্বল হয়, চমকায় ও কম্পিত হয়। মাখনের উজ্জ্বলতা এবং এর নমনীয় চঞ্চলতার কারণেই একে এই নাম দেওয়া হয়েছে।
"ষষ্ঠ" "লাম-কাফ-ওয়াও" এখান থেকেই ঈগল পাখিকে 'লাকওয়া' বলা হয়। এর হালকা গড়ন এবং দ্রুত ওড়ার ক্ষমতার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। কবি বলেছেন৬:
যেন আমি নমনীয় ডানা বিশিষ্ট এক ক্ষিপ্র ঈগল
… ঈগলদের মধ্যে যে ওড়ার সময় মাটির কাছাকাছি থাকে এবং ক্ষিপ্রতায় নিচু হয়ে যায়৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومنه اللقوة1 في الوجه. والتقاؤهما أن الوجه اضطرب شكله فكأنه خفة فيه وطيش منه، وليست له مسكة الصحيح، ووفور المستقيم. ومنه قوله:
#وكانت لقوة لاقت قبيسا2#
واللقوة: الناقة السريعة اللقاح وذلك أنها أسرعت إلى ماء الفحل فقبلته ولم تنب عنه نبو العاقر.
فهذه الطرائق التي نحن فيها حزنة المذاهب، والتورد لها وعر المسلك، ولا يجب مع هذا أن تستنكر، ولا تستبعد فقد كان أبو علي رحمه الله يراها ويأخذ بها ألا تراه غلب كون لام أثفية3 -فيمن جعلها أفعولة- واوا على كونها ياء -وإن كانوا قد قالوا: "جاء يثفوه ويثفيه "4 - بقولهم: " جاء يثفه " ، قال: فيثفه لا يكون إلا من الواو، ولم يحفل بالحرف الشاذ من هذا وهو قولهم "يئس " مثل يعس5؛ لقلته. فلما وجد فاء وثف واوا قوي عنده في أثفية كون لامها واوا فتأنس للام بموضع الفاء على بعد بينهما 6.
وشاهدته غير مرة إذا أشكل عليه الحرف: الفاء، أو العين، أو اللام، استعان على علمه ومعرفته بتقليب أصول المثال الذي ذلك الحرف فيه. فهذ
--------------------------------------------
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুখমণ্ডলের লাকওয়া১। এদের উভয়ের মধ্যকার যোগসূত্র হলো এই যে, মুখমণ্ডলের অবয়ব বিকৃত হয়ে যায়, ফলে মনে হয় যেন এতে একপ্রকার অস্থিরতা ও চপলতা তৈরি হয়েছে; এতে সুস্থ ব্যক্তির মতো স্থিরতা এবং স্বাভাবিক ব্যক্তির মতো পূর্ণতা থাকে না। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কবির উক্তি:
#সে ছিল এক দ্রুত গর্ভধারণকারী উটনী, যে এক দ্রুত প্রজননকারী উটের সাক্ষাৎ পেয়েছিল২#
আর লাকওয়া হলো সেই মাদী উট যা দ্রুত গর্ভধারণ করে। এর কারণ হলো, সে পুরুষ উটের বীর্যের দিকে দ্রুত ধাবিত হয় এবং তা গ্রহণ করে নেয়; বন্ধ্যা উটনীর মতো তা থেকে বিমুখ হয় না।
আমরা যে পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করছি, তা হলো শাস্ত্রীয় মতামতের দুর্গম পথ, এবং এতে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে তা সত্ত্বেও একে অস্বীকার করা বা অবাস্তব মনে করা উচিত নয়। কেননা আবু আলী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মত পোষণ করতেন এবং এটি অনুসরণ করতেন। আপনি কি দেখেন না যে, যারা 'আসফিয়্যাহ'৩ শব্দটিকে 'আফউলাহ' ওজনে ধরেন, তাদের মতে এর 'লাম' বর্ণটি 'ওয়াও' হওয়াকে তিনি 'ইয়া' হওয়ার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন—যদিও তারা বলে থাকেন: "সে তার পেছনে আসল (ইয়াসফূহু এবং ইয়াসফীহি)"৪—তাদের "সে তার পেছনে আসল (ইয়াসফূহু)" উক্তির কারণে। তিনি বলেন: 'ইয়াসফূহু' কেবল 'ওয়াও' থেকেই হতে পারে। তিনি এ ক্ষেত্রে বিরল শব্দটির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি, যা হলো তাদের উক্তি "ইয়াইসু" যেমন "ইয়াআসু"৫; এর স্বল্পতার কারণে। সুতরাং যখন তিনি 'ওয়াসাফ' এর 'ফা' বর্ণটিকে 'ওয়াও' হিসেবে পেলেন, তখন 'আসফিয়্যাহ'-র 'লাম' বর্ণটি 'ওয়াও' হওয়ার বিষয়টি তাঁর নিকট শক্তিশালী হলো। এভাবে তিনি 'ফা' বর্ণের অবস্থানের মাধ্যমে 'লাম' বর্ণের স্বরূপ অনুধাবন করেন, যদিও উভয়ের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে৬।
আমি তাঁকে একাধিকবার দেখেছি, যখনই কোনো বর্ণের বিষয়ে তাঁর নিকট অস্পষ্টতা তৈরি হতো—তা 'ফা', 'আইন' কিংবা 'লাম' যাই হোক না কেন—তিনি সেই বর্ণের মূল ধাতু পরিবর্তনের মাধ্যমে সে সম্পর্কে জ্ঞান ও পরিচিতি লাভে সহায়তা নিতেন। সুতরাং এই—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أغرب مأخذًا مما تقتضيه صناعة الاشتقاق؛ لأن ذلك إنما يلتزم فيه شرْج1 واحد من تتالي الحروف، من غير تقليب لها ولا تحريف. وقد كان الناس: أبو بكر رحمه الله وغيره من تلك الطبقة، استسرفوا2 أبا إسحاق رحمه الله، فيما تجشمه من قوة حشده، وضمه شعاع ما انتشر من المثل المتباينة إلى أصله. فأما أن يتكلف تقليب الأصل ووضع كل واحد من أحنائه3 موضع صاحبه فشيء لم يعرض له ولا تضمن عهدته. وقد قال أبو بكر: "من عرف أنس ومن جهل استوحش " وإذا قام الشاهد والدليل وضح المنهج والسبيل.
وبعد فقد ترى ما قدمنا في هذا أنفًا4 وفيه كاف من غيره؛ علي أن هذا وإن لم يطرد وينقد في كل أصل، فالعذر على كل حال فيه أبين منه في الأصل الواحد من غير تقليب لشيء من حروفه فإذا جاز أن يخرج بعض الأصل الواحد من أن تنظمه قضية الاشتقاق له كان فيما تقلبت أصوله: فاؤه وعينه ولامه أسهل والمعذرة فيه أوضح.
وعلى أنك إن أنعمت النظر ولاطفته وتركت الضجر وتحاميته، لم تكد تعدم قرب بعض من بعض وإذا تأملت ذاك وجدته بإذن الله.
--------------------------------------------
শব্দপদ্ধতির ব্যুৎপত্তিগত নির্মাণ যা দাবি করে, এটি তার চেয়েও অধিক বিস্ময়কর এক পদ্ধতি; কারণ এতে কোনো প্রকার ওলট-পালট বা বিকৃতি ছাড়াই অক্ষরের অনুক্রমের কেবল একটি ধারাকে মেনে চলা হয়। মানুষ—অর্থাৎ আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এবং সেই স্তরের অন্যান্যরা—আবু ইসহাককে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সে বিষয়ে অত্যধিক মনে করেছেন যা তিনি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে করেছেন, অর্থাৎ বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন উদাহরণগুলোকে সংগ্রহ করে সেগুলোকে তাদের মূল ভিত্তির সাথে জুড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে। তবে মূল শব্দের ওলট-পালট করার কষ্ট স্বীকার করা এবং এর প্রতিটি অংশকে তার অপর অংশের স্থানে স্থাপন করা এমন একটি বিষয় যা তিনি উপস্থাপন করেননি এবং এর দায়ভারও তিনি গ্রহণ করেননি। আবু বকর বলেছেন: "যে চিনেছে সে স্বস্তি পেয়েছে, আর যে অজ্ঞ সে একাকীত্ব অনুভব করেছে।" যখন সাক্ষ্য ও প্রমাণ দণ্ডায়মান হয়, তখন পদ্ধতি ও পথ স্পষ্ট হয়ে যায়।
এরপর, আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন আমরা ইতিপূর্বে যা উপস্থাপন করেছি এবং তাতে অন্য বিষয়ের তুলনায় যথেষ্ট উপকরণ রয়েছে; তবে এটি যদি প্রতিটি মূল শব্দের ক্ষেত্রে কার্যকর না-ও হয়, তবুও সব অবস্থাতেই এর যুক্তি সেই একক মূল শব্দের যুক্তির চেয়ে বেশি স্পষ্ট যেখানে অক্ষরের কোনো ওলট-পালট নেই। সুতরাং, যদি কোনো একক মূল শব্দের কিছু অংশ ব্যুৎপত্তিগত নিয়মের বাইরে চলে যাওয়া বৈধ হয়, তবে যেটির মূল অক্ষরগুলো—ফা, আইন এবং লাম—ওলট-পালট হয়, সেটির ক্ষেত্রে তা আরও সহজ এবং এর ওজর বা যুক্তি আরও বেশি স্পষ্ট।
তাছাড়া, আপনি যদি গভীর ও সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টিপাত করেন এবং বিরক্তি বর্জন করে তা থেকে দূরে থাকেন, তবে আপনি একটির সাথে অপরটির নৈকট্য খুঁজে পেতে ব্যর্থ হবেন না। আর আপনি যখন তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি তা পেয়ে যাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما "ك ل م " فهذه أيضًا حالها، وذلك أنها حيث تقلبت فمعناها الدلالة على القوة والشدة. والمستعمل منها أصول خمسة، وهي: "ك ل م " "ك م ل " "ل ك م " "م ك ل " "م ل ك "، وأهملت1 منه2 "ل م ك "، فلم تأت في ثبت.
فمن ذلك الأصل الأول "ك ل م " منه الكلم للجرح. وذلك للشدة التي فيه وقالوا في قول الله سبحانه: {دَابَّةً مِنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ} قولين: أحدهما من الكَلام والآخر من الكِلام أي تجرحهم وتأكلهم وقالوا: الكُلام: ما غلظ من الأرض وذلك لشدته وقوته وقالوا: رجل كليم أي مجروح وجريح قال:
عليها الشيخ كالأسد الكليم3
ويجوز الكليم بالجر والرفع، فالرفع على قولك: عليها الشيخ الكليم كالأسد والجر على قولك: عليها الشيخ كالأسد "الكليم"4، إذا جرح فحمي أنفًا وغضب فلا يقوم له شيء، كما قال:
--------------------------------------------
আর "ক ল ম" এর বিষয়টিও তদ্রূপ। এর বিন্যাস যেখানেই পরিবর্তিত হোক না কেন, এর মূল অর্থ শক্তি ও কঠোরতার পরিচায়ক। এর থেকে ব্যবহৃত মূল রূপ পাঁচটি, সেগুলো হলো: "ক ল ম", "ক ম ল", "ল ক ম", "ম ক ল", "ম ল ক"। আর "ল ম ক" পরিত্যক্ত হয়েছে, যা কোনো প্রামাণ্য সংকলনে আসেনি।১
প্রথম মূল রূপ "ক ল ম" থেকে 'কালম' অর্থ ক্ষত বা জখম। এটি মূলত এর মধ্যে বিদ্যমান কঠোরতার কারণে। আল্লাহ সুবহানাহুর বাণী: {ভূপৃষ্ঠ হতে এক বিচিত্র প্রাণী যা তাদের সাথে কথা বলবে/আঘাত করবে} এর ক্ষেত্রে তারা দুটি মত ব্যক্ত করেছেন: একটি 'কালাম' (কথা বলা) থেকে এবং অন্যটি 'কিলাম' (জখম করা) থেকে, অর্থাৎ সে তাদের জখম করবে এবং খেয়ে ফেলবে। তারা আরও বলেন: 'কুলাম' হলো শক্ত বা রুক্ষ ভূমি, যা তার কঠোরতা ও শক্তির কারণে এই নাম পেয়েছে। তারা বলেন: 'রাজুলুন কালিম' অর্থ আহত ব্যক্তি। কবি বলেছেন:
তার ওপর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি আহত সিংহের ন্যায়৩
'আল-কালিম' শব্দটিকে যার (জের) এবং রাফ (পেশ) উভয় ভাবেই পড়া বৈধ। রাফ দিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অর্থ হবে: 'তার ওপর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি, যে আহত, সিংহের ন্যায়'। আর যার দিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অর্থ হবে: 'তার ওপর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি জখমপ্রাপ্ত সিংহের ন্যায়'।৪ যখন কেউ জখম হয় তখন সে আত্মসম্মানবোধ ও ক্রোধে প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে, ফলে তার সামনে কোনো কিছুই টিকতে পারে না। যেমনটি বলা হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كأن محربا من أسد ترج
… ينازلهم لنابيه قبيب1
ومنه الكلام وذلك أنه سبب لكل شر "وشدة"2 في أكثر الأمر؛ ألا ترى إلى قول3 رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من كفي مئونة لقلقه وقبقبه وذبذبه دخل الجنة" ، فاللقلق: اللسان، والقبقب: البطن، والذبذب: الفرج. ومنه قول4 أبي بكر رضي الله عنه في لسانه: "هذا أوردني الموارد".
وقال:
وجرح اللسان كجرح اليد5
وقال طرفة:
فإن القوافي يتلجن موالجا
… تضايق عنها أن تولجها الإبر6
--------------------------------------------
যেন তারাজের সিংহদের মধ্য থেকে এক ক্রুদ্ধ সিংহ
… তার দাঁতের কিড়মিড় শব্দে তাদের মোকাবিলা করছে।১
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কথা, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটিই সকল অনিষ্ট ও "কঠিন অবস্থার"২ কারণ; আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেননি৩: "যাকে তার জিহ্বা (লাকলাক), পেট (কাবকাব) এবং লজ্জাস্থানের (যাবযাব) অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা হয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" সুতরাং, 'লাকলাক' হলো জিহ্বা, 'কাবকাব' হলো পেট এবং 'যাবযাব' হলো লজ্জাস্থান। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি৪, যা তিনি তাঁর জিহ্বা সম্পর্কে বলেছিলেন: "এটিই আমাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছে।"
এবং তিনি বলেছেন:
আর জিহ্বার ক্ষত হাতের ক্ষতের মতোই৫
এবং তারাফাহ বলেছেন:
নিশ্চয়ই কাব্যিক পঙক্তিগুলো এমন সব সরু পথে প্রবেশ করে
… যেখানে সুঁই প্রবেশ করাও দুঃসাধ্য।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وامتثله الأخطل وأبر عليه، فقال:
حتى اتقوني وهم مني على حذر
… والقول ينفذ ما لا تنفذ الإبر1
وجاء به الطائي2 الصغير، فقال:
عتاب بأطراف القوافي كأنه
… طعان بأطراف القنا المنكعر
وهو باب واسع.
فلما كان الكلام أكثره إلى الشر، اشتق له من هذا الموضع. فهذا أصل.
الثاني "ك م ل " من ذلك كمَل الشيء وكمُل وكمِل فهو كامل وكميل. وعليه بقية تصرفه. والتقاؤهما أن الشيء إذا تم وكمل كان حينئذ أقوى وأشد منه إذا كان ناقصًا غير كامل.
الثالث "ل ك م " منه اللكم إذا وجأت الرجل ونحوه، ولا شك في شدة ما هذه سبيله؛ أنشد الأصمعي:
--------------------------------------------
আল-আখতাল এটি অনুসরণ করেছেন এবং এতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, অতঃপর তিনি বললেন:
এমনকি তারা আমাকে ভয় করতে শুরু করল এবং তারা আমার ব্যাপারে সতর্ক থাকল
… আর কথা এমনভাবে বিদ্ধ করে যা সূঁচও করতে পারে না।১
ছোট তাইয়্যী২ এটি নিয়ে এসেছেন, তিনি বলেছেন:
কবিতার অন্ত্যমিলের মাধ্যমে করা ভর্ৎসনা যেন
… ভেঙে যাওয়া বর্শার অগ্রভাগ দিয়ে করা আঘাতের মতো।
আর এটি একটি বিস্তৃত পরিচ্ছেদ।
যেহেতু কথার অধিকাংশ দিকই অনিষ্টের দিকে ধাবিত হয়, তাই এই প্রেক্ষাপট থেকেই এর ব্যুৎপত্তি করা হয়েছে। সুতরাং এটি একটি মূল ভিত্তি।
দ্বিতীয়টি হলো "ক ম ল"; এটি থেকে কোনো জিনিসের পূর্ণতা বা সমাপ্তি বুঝায় এবং এর রূপান্তরসমূহও এর ওপর ভিত্তি করে হয়। এদের মধ্যকার যোগসূত্র হলো যে, কোনো বস্তু যখন পূর্ণ ও সম্পূর্ণ হয়, তখন তা অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ অবস্থার চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়।
তৃতীয়টি হলো "ল ক ম"; তা থেকে 'আল-লাকম' (ঘুষি মারা), যখন আপনি কাউকে বা অনুরূপ কিছুকে আঘাত করেন। আর এই পদ্ধতির তীব্রতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই; আসমায়ী আবৃত্তি করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كان صوت جرعها تساجل
… هاتيك هاتا حتنى تكايل1
لدم العجى تلكمها الجنادل
وقال:
وخفان لكامان للقلع الكبد2
الرابع "م ك ل " منه بئر مكول، إذا قل ماؤها، قال القطامي:
كأنها قلب عادية مكل3
والتقاؤهما أن البئر موضوعة الأمر على جمتها بالماء، فإذا قل ماؤها4 كره موردها، وجفا جانبها. وتلك شدة ظاهرة.
--------------------------------------------
তার ঢোক গেলার শব্দ ছিল পরস্পর পাল্লা দেওয়ার মতো
… এটি সেটির মতো সমান ও সদৃশ।১
উটের পায়ের রগের আঘাতের মতো যা বড় বড় পাথর দ্বারা পিষ্ট হয়।
এবং তিনি বলেন:
ভারী ও শক্তিশালী দুটি ক্ষুর যা বিশাল চওড়া পাথরকে চূর্ণ করে।২
চতুর্থ মূলটি হলো "ম ক ল", এ থেকে এসেছে "মাকুল কূপ", যখন এর পানি কমে যায়। আল-কাতামি বলেছেন:
যেন তারা প্রাচীন ও শুষ্কপ্রায় কূপসমূহের গভীর তলদেশ।৩
আর এ দুটির সংযোগস্থল হলো এই যে, কূপের মূল বিষয়টি নির্ভর করে এর মধ্যে জমা হওয়া পানির ওপর। সুতরাং যখন এর পানি কমে যায়,৪ তখন সেখানে পানি সংগ্রহ করতে আসা অপছন্দনীয় হয়ে পড়ে এবং এর চারপাশ রুক্ষ হয়ে যায়। আর এটি একটি প্রকাশ্য কঠোরতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الخامس "م ل ك " من ذلك ملكت العجين، إذا أنعمت عجنه فاشتد وقوي. ومنه ملك الإنسان ألا تراهم يقولون: قد اشتملت عليه يدي، وذلك قوة وقدرة من المالك على ملكه ومنه الملك، لما يعطى1 صاحبه من القوة والغلبة، وأملكت الجارية؛ لأن يد بعلها تقتدر عليها. فكذلك بقية الباب كله.
فهذه أحكام هذين الأصلين على تصرفهما وتقلب حروفهما.
فهذا أمر قدمناه أمام القول على الفرق بين الكلام والقول؛ ليرى منه غور هذه اللغة الشريفة، الكريمة اللطيفة، ويعجب من وسيع مذاهبها، وبديع ما أمد به واضعها ومبتدئها. وهذا أوان القول على الفصل.
أما الكلام فكل لفظ مستقل بنفسه، مفيد لمعناه. وهو الذي2 يسميه النحويين الجمل، نحو زيد أخوك، وقام محمد وضرب سعيد، وفي الدار أبوك، وصه، ومه، ورويد، وحاء وعاء في الأصوات، وحس، ولب3، وأف، وأوه، فكل لفظ استقل بنفسه، وجنيت منه ثمرة معناه فهو كلام.
وأما القول فأصله أنه كل لفظ مذل به اللسان، تامًّا كان أو ناقصًا. فالتام هو المفيد، أعني الجملة وما كان في معناها، من نحو صهٍ وإيهٍ. والناقص ما كان بضد ذلك، نحو زيد، ومحمد، وإن، وكان أخوك، إذا كانت الزمانية لا الحدثية 4. فكل كلام قول، وليس كل قول كلامًا. هذا أصله. ثم يتسع فيه؛ فيوضع
--------------------------------------------
পঞ্চম বিষয়: "ম-ল-ক" (মীম, লাম, কাফ); এর একটি উদাহরণ হলো 'আমি আটা ছেনেছি' (মালাকতু আল-আজিন), যখন আপনি তা উত্তমরূপে মন্থন করেন ফলে তা সুসংহত ও শক্তিশালী হয়। মানুষের মালিকানাও (মিল্ক) এরই অন্তর্ভুক্ত। আপনি কি দেখেন না তারা বলে থাকে: "আমার হাত একে পরিবেষ্টন করে আছে", আর এটি মালিকের তার মালিকানাধীন বস্তুর ওপর শক্তি ও সামর্থ্যের বহিঃপ্রকাশ। এর থেকেই এসেছে 'রাজত্ব' (মুলক), কারণ এর অধিকারীকে শক্তি ও প্রাধান্য দান করা হয়। আর বলা হয় "আমি দাসীকে পাত্রস্থ করেছি" (আমলাকতু আল-জারিয়াহ); কারণ তার স্বামীর হাত তার ওপর সামর্থ্য রাখে। এই অধ্যায়ের বাকি সকল শব্দও অনুরূপ।
এই হলো এই দুটি মূলশব্দের (আসল) বিধান, তাদের রূপান্তর এবং অক্ষরগুলোর স্থান পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে।
এটি এমন এক বিষয় যা আমরা 'কালাম' (বাক্য) এবং 'কাওল' (কথা)-এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনার পূর্বে উপস্থাপন করেছি; যাতে এই মহান, মর্যাদাপূর্ণ এবং সূক্ষ্ম ভাষার গভীরতা অনুধাবন করা যায় এবং এর প্রশস্ত পথসমূহ ও এর প্রবর্তক ও উদ্ভাবক একে যে অভিনব রূপ দান করেছেন তাতে বিস্ময় প্রকাশ করা যায়। আর এখন এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যের আলোচনার উপযুক্ত সময়।
'কালাম' হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা নিজেই স্বতন্ত্র এবং নিজের অর্থ প্রকাশে সার্থক। ব্যাকরণবিদগণ একেই 'জুমলাহ' (বাক্য) বলে অভিহিত করেন। যেমন: "যায়েদ তোমার ভাই", "মুহাম্মদ দাঁড়িয়েছে", "সাঈদ প্রহার করেছে", "ঘরে তোমার পিতা আছে", এবং 'সাহ', 'মাহ', 'রুয়াইদা' (থামো, বিরত হও, ধীরে) শব্দসমূহ। আবার ধ্বনির ক্ষেত্রে 'হা' ও 'আ', এবং 'হাস', 'লাব্ব', 'উফ', 'আউয়াহ'। সুতরাং যে শব্দ নিজেই স্বতন্ত্র এবং যা থেকে অর্থের ফল লাভ করা যায়, তা-ই 'কালাম'।
আর 'কাওল'-এর মূল ভিত্তি হলো, এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা জিহ্বা উচ্চারণ করে, তা পূর্ণ হোক বা অপূর্ণ। পূর্ণ হলো যা অর্থবহ, অর্থাৎ 'জুমলাহ' বা বাক্য এবং যা তার সমার্থ বহন করে, যেমন 'সাহ' এবং 'ইহ'। আর অপূর্ণ হলো তার বিপরীত, যেমন: "যায়েদ", "মুহাম্মদ", "ইন" (যদি), "কানা আখুকা" (তোমার ভাই ছিল) - যখন এটি কেবল কালবাচক হয়, কোনো ঘটনা প্রকাশক (তাম্মাহ) না হয়। সুতরাং প্রত্যেক 'কালাম'-ই 'কাওল', কিন্তু প্রত্যেক 'কাওল' 'কালাম' নয়। এটিই এর মূল ভিত্তি। অতঃপর এর প্রয়োগে প্রশস্ততা আসে; ফলে একে স্থাপন করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
القول على الاعتقادات والآراء؛ وذلك نحو قولك: فلان يقول بقول أبي حنيفة، ويذهب إلى قول مالك ونحو ذلك، أي يعتقد ما كانا يريانه، ويقولان به، لا أنه يحكي لفظهما عينه، من غير تغيير لشيء من حروفه؛ ألا ترى أنك لو سألت رجلًا عن علة رفع زيد، من نحو قولنا: زيد قام أخوه فقال لك: ارتفع بالابتداء لقلت: هذا قول البصريين. ولو قال: ارتفع بما يعود عليه من ذكره1 لقلت: هذا قول الكوفيين، أي هذا رأي هؤلاء، وهذا اعتقاد هؤلاء. ولا تقول: كلام البصريين، ولا كلام الكوفيين، إلا أن تضع الكلام موضع القول، متجوزًا بذلك. وكذلك لو قلت: ارتفع لأن عليه عائدًا من بعده، أو ارتفع لأن عائدًا عاد عليه أو لعود ما عاد من ذكره، أو لأن ذكره أعيد عليه أو لأن ذكرًا له عاد من بعده، أو نحو ذلك، لقلت في جميعه: هذا قول الكوفيين، ولم تحفل باختلاف ألفاظه؛ لأنك إنما تريد اعتقادهم لا نفس حروفهم. وكذلك يقول القائل: لأبي الحسن في هذه المسئلة قول حسن، أو قول قبيح، وهو كذا، غير أني لا أضبط كلامه بعينه.
ومن أدل الدليل على الفرق بين الكلام والقول إجماع الناس على أن يقولوا: القرآن كلام الله، ولا يقال: القرآن قول الله؛ وذلك أن هذا موضع ضيق متحجر، لا يمكن تحريفه، ولا يسوغ تبديل شيء من حروفه. فعبر لذلك عنه بالكلام الذي لا يكون إلا أصواتًا تامة مفيدة، وعدل به عن القول الذي قد يكون أصواتًا غير مفيدة، وآراء معتقدة. قال سيبويه 2: " واعلم أن "قلت " في كلام العرب إنما وقعت على أن
--------------------------------------------
বিশ্বাস ও মতামতের ক্ষেত্রে 'কাওল' (বক্তব্য বা মত) শব্দের প্রয়োগ; যেমন তোমার এই কথা: অমুক ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফার মত (কাওল) অনুযায়ী কথা বলেন, অথবা তিনি ইমাম মালিকের মতের দিকে যান এবং এই জাতীয় কথা। অর্থাৎ, তিনি সেই বিশ্বাসই পোষণ করেন যা তারা মনে করতেন এবং যে মত তারা ব্যক্ত করতেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি তাদের ব্যবহৃত শব্দগুলোকে কোনো অক্ষরের পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বর্ণনা করছেন। তুমি কি দেখছ না যে, যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে আমাদের এই কথা: 'জায়েদ, তার ভাই দাঁড়িয়েছে' বাক্যে 'জায়েদ' শব্দটিতে রফ' (পেশ) হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, আর সে যদি তোমাকে বলে: 'এটি ইবতিদা (প্রারম্ভিকতা)-এর কারণে রফ' হয়েছে', তবে তুমি বলবে: এটি বসরার ভাষাবিদদের মত (কাওল)। আর যদি সে বলে: 'এটি তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী স্মরণের (যিকর) কারণে রফ' হয়েছে', তবে তুমি বলবে: এটি কুফার ভাষাবিদদের মত (কাওল)। অর্থাৎ, এটি তাদের রায় বা অভিমত এবং এটি তাদের বিশ্বাস। তুমি একে 'বসরার ভাষাবিদদের কালাম' বা 'কুফার ভাষাবিদদের কালাম' বলবে না, যদি না তুমি রূপকভাবে 'কালাম' শব্দটিকে 'কাওল' শব্দের স্থলে ব্যবহার করো। একইভাবে তুমি যদি বলো: 'এটি রফ' হয়েছে কারণ এর পরে একটি প্রত্যাবর্তনকারী বিষয় রয়েছে', অথবা 'এটি রফ' হয়েছে কারণ একটি প্রত্যাবর্তনকারী এর দিকে ফিরে এসেছে', অথবা 'তার উল্লেখ থেকে যা ফিরে এসেছে তার প্রত্যাবর্তনের কারণে', অথবা 'যেহেতু তার উল্লেখ তার দিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে', অথবা 'যেহেতু তার পরে তার একটি উল্লেখ ফিরে এসেছে' বা এই জাতীয় কিছু, তবে তুমি এই সবক্ষেত্রেই বলবে: 'এটি কুফাবাসীদের মত (কাওল)'। তুমি তাদের শব্দমালার ভিন্নতার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করবে না; কারণ তুমি এখানে তাদের বিশ্বাস বা দৃষ্টিভঙ্গিটিই বোঝাতে চাচ্ছ, তাদের উচ্চারিত হুবহু অক্ষরগুলো নয়। একইভাবে বক্তা বলে থাকেন: 'এই মাসআলায় আবুল হাসানের একটি সুন্দর মত (কাওল) রয়েছে' অথবা 'একটি মন্দ মত রয়েছে', আর তা হলো এই এই; কিন্তু আমি তার হুবহু কথাটি (কালাম) স্মরণে রাখিনি।
কালাম এবং কাওলের মধ্যে পার্থক্যের অন্যতম বড় প্রমাণ হলো মানুষের এই ঐকমত্য যে, তারা বলে: 'কুরআন আল্লাহর কালাম', কিন্তু বলা হয় না: 'কুরআন আল্লাহর কাওল'। এর কারণ হলো এটি একটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় বিষয়, যেখানে কোনো বিকৃতি ঘটানো সম্ভব নয় এবং এর কোনো অক্ষর পরিবর্তন করাও বৈধ নয়। তাই এর ক্ষেত্রে 'কালাম' শব্দ দ্বারা ভাব প্রকাশ করা হয়েছে, যা কেবল পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। আর একে 'কাওল' শব্দ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কারণ 'কাওল' কখনো অর্থহীন ধ্বনি হতে পারে আবার কখনো বিশ্বাসপ্রসূত মতামতও হতে পারে। সিবওয়াইহি বলেছেন: "জেনে রেখো যে, আরবদের ভাষায় 'কুলতু' (আমি বলেছি) শব্দটির প্রয়োগ হয়েছে এই জন্য যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২০)
يحكى بها، وإنما يحكى بعد القول ما كان كلامًا لا قولًا". ففرق بين الكلام والقول كما ترى. نعم وأخرج الكلام هنا مخرج ما قد استقر في النفوس، وزالت عنه عوارض الشكوك. ثم قال في التمثيل: "نحو قلت زيد منطلق، ألا ترى أنه يحسن أن تقول: زيد منطلق" فتمثيله بهذا يعلم منه أن الكلام عنده ما كان من الألفاظ قائمًا برأسه مستقلًا معناه وأن القول عنده بخلاف ذلك إذ لو كانت حال القول عنده حال الكلام لما قدم الفصل بينهما ولما أراك فيه أن الكلام هو الجمل المستقلة بأنفسها الغانية عن غيرها وأن القول لا يستحق هذه الصفة من حيث كانت الكلمة الواحدة قولًا وإن لم تكن كلامًا ومن حيث كان الاعتقاد والرأي قولًا وإن لم يكن كلامًا. فعلى هذا يكون قولنا قام زيد كلامًا فإن قلت شارطًا: إن قام زيد، فزدت عليه "إن " رجع بالزيادة إلى النقصان فصار قولًا لا كلامًا ألا تراه ناقصًا ومنتظرًا للتمام بجواب الشرط. وكذلك لو قلت في حكاية القسم: حلفت بالله أي كان قسمي هذا لكان كلامًا لكونه مستقلًا ولو أردت به صريح القسم لكان قولًا من حيث كان ناقصًا لاحتياجه إلى جوابه. فهذا ونحوه من البيان ما تراه.
فأما تجوزهم في تسميتهم الاعتقادات والآراء قولًا؛ فلأن الاعتقاد يخفى، فلا يعرف إلا بالقول، أو بما يقوم مقام القول: من شاهد الحال فلما كانت لا تظهر إلا بالقول سميت قولًا إذ كانت سببًا له، وكان القول دليلًا عليها كما يسمى الشيء باسم غيره إذا كان ملابسًا له. ومثله في الملابسة قول الله سبحانه: {وَيَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَمَا هُوَ بِمَيِّتٍ} ومعناه -والله أعلم- أسباب الموت؛
এর মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়, বরং 'কওল' (উক্তি) এর পরে কেবল তাই বর্ণিত হয় যা 'কালাম' (বাক্য), 'কওল' নয়।" সুতরাং আপনি যেমনটি দেখছেন, তিনি কালাম এবং কওলের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। হ্যাঁ, তিনি এখানে কালামকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছে এবং যা থেকে সন্দেহের আপদসমূহ দূর হয়ে গেছে। এরপর তিনি উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন: "যেমন 'আমি বললাম জায়েদ প্রস্থানকারী', আপনি কি দেখছেন না যে 'জায়েদ প্রস্থানকারী' বলাটা সংগত?" তাঁর এই উদাহরণ থেকে জানা যায় যে, তাঁর নিকট 'কালাম' হলো সেই শব্দসমষ্টি যা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং যার অর্থ স্বতন্ত্র। আর তাঁর নিকট 'কওল' এর বিপরীত। কারণ তাঁর নিকট যদি কওলের অবস্থা কালামের অবস্থার মতো হতো, তবে তিনি উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের অবতারণা করতেন না এবং আপনাকে দেখাতেন না যে কালাম হলো এমন বাক্য যা নিজের সত্তায় স্বতন্ত্র এবং অন্য কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। আর 'কওল' এই গুণের অধিকারী নয়, কারণ একটি শব্দও কওল হতে পারে যদিও তা কালাম নয়। তদ্রূপ বিশ্বাস ও মতামতও কওল হতে পারে যদিও তা কালাম নয়। সেই অনুযায়ী, আমাদের কথা 'জায়েদ দাঁড়িয়েছে' একটি কালাম। কিন্তু আপনি যদি শর্তযুক্ত করে বলেন: 'যদি জায়েদ দাঁড়ায়', তবে এতে 'যদি' যোগ করার ফলে তা আধিক্যের কারণে অপূর্ণতার দিকে ফিরে গেল এবং তা 'কওল' এ পরিণত হলো, 'কালাম' রইল না। আপনি কি দেখছেন না যে এটি অপূর্ণ এবং শর্তের উত্তরের মাধ্যমে পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে? তদ্রূপ, আপনি যদি শপথ বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেন: 'আমি আল্লাহর নামে শপথ করেছি', অর্থাৎ আমার এই শপথটি ছিল এমন, তবে তা স্বতন্ত্র হওয়ার কারণে 'কালাম' হতো। কিন্তু আপনি যদি এর মাধ্যমে সরাসরি শপথ করা উদ্দেশ্য করেন, তবে তা 'কওল' হতো; কারণ এর উত্তরের প্রয়োজনীয়তার দরুন তা অপূর্ণ। এগুলো এবং এই জাতীয় বর্ণনা আপনি যা দেখছেন।
আর বিশ্বাস ও মতামতকে 'কওল' হিসেবে নামকরণ করার ক্ষেত্রে তাঁদের রূপক ব্যবহারের কারণ হলো: বিশ্বাস গোপন থাকে, তাই কওল অথবা কওলের স্থলাভিষিক্ত কোনো পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছাড়া তা জানা যায় না। যেহেতু তা কওল ব্যতীত প্রকাশ পায় না, তাই একে কওল বলা হয় যেহেতু বিশ্বাস ছিল কওলের কারণ এবং কওল ছিল বিশ্বাসের প্রমাণ। যেমন কোনো বস্তুকে অন্য কোনো নামে অভিহিত করা হয় যখন সেটি তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকে। এ ধরণের সম্পৃক্ততার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তার কাছে সব দিক থেকে মৃত্যু আসবে অথচ সে মরবে না।" এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—মৃত্যুর কারণসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২১)
إذ لو جاءه الموت نفسه لمات به لا محالة. ومنه تسمية المزادة1 الراوية1 والنجو2 نفسه الغائط، وهو كثير.
فإن قيل: فكيف عبروا عن الاعتقادات والآراء بالقول، ولم يعبروا عنها بالكلام، ولو سووا بينهما أو قلبوا الاستعمال، كان ماذا؟ 3.
فالجواب أنهم إنما فعلوا ذلك من حيث كان القول بالاعتقاد أشبه منه بالكلام وذلك أن الاعتقاد لا يفهم إلا بغيره، وهو العبارة عنه كما أن القول قد لا يتم معناه إلا بغيره ألا ترى أنك إذا قلت: قام وأخليته من ضمير فإنه لا يتم معناه الذي وضع الكلام عليه وله؛ لأنه إنما وضع على أن يفاد معناه مقترنًا بما يسند إليه من الفاعل، وقام هذه نفسها قول، وهي ناقصة محتاجة إلى الفاعل كاحتياج الاعتقاد إلى العبارة عنه. فلما اشتبها من هنا عبر عن أحدهما بصاحبه. وليس كذلك الكلام؛ لأنه وضع على الاستقلال، والاستغناء عما سواه. والقول قد يكون من الفقر4 إلى غيره على ما قدمناه فكان إلى الاعتقاد المحتاج إلى البيان أقرب وبأن يعبر به عنه أليق. فاعرف ذلك.
--------------------------------------------
কারণ যদি স্বয়ং মৃত্যু তার কাছে আসত, তবে সে অবশ্যই তাতে মারা যেত। আর এ থেকেই 'মাজাদাহ' (পানির পাত্র)-কে 'রাউইয়াহ' এবং 'নাজু' (মল)-কে স্বয়ং 'গাইত' নামকরণ করা হয়েছে, আর এটি ভাষাশাস্ত্রে প্রচুর প্রচলিত।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে তারা কেন বিশ্বাস ও মতামতকে 'কওল' (উক্তি) দ্বারা ব্যক্ত করেছেন এবং সেগুলোকে কেন 'কালাম' (বাক্য) দ্বারা ব্যক্ত করেননি? আর যদি তারা এই দুটির মধ্যে সমতা বজায় রাখতেন কিংবা এই ব্যবহারের রদবদল করতেন, তবে কী হতো?
উত্তর হলো, তারা এটি এ কারণেই করেছেন যে, বিশ্বাসের সাথে 'কওল'-এর সাদৃশ্য 'কালাম'-এর তুলনায় অনেক বেশি। কারণ হলো, বিশ্বাস অন্য কোনো মাধ্যম ব্যতীত অনুধাবন করা যায় না, আর তা হলো তার প্রকাশভঙ্গি; ঠিক যেভাবে 'কওল'-এর অর্থ অনেক সময় অন্য কিছু ব্যতীত পূর্ণ হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যখন বলেন: 'ক্বামা' (সে দাঁড়িয়েছে) এবং একে সর্বনাম (জমির) থেকে মুক্ত রাখেন, তখন এর সেই অর্থ পূর্ণ হয় না যার ওপর ভিত্তি করে এবং যার জন্য বাক্যটি গঠিত হয়েছে? কারণ এটি এমনভাবে গঠিত হয়েছে যে, এর অর্থ তখনই প্রকাশ পাবে যখন তা সেই কর্তার (ফায়েল) সাথে যুক্ত হবে যার দিকে তাকে সম্বন্ধ করা হয়। আর এই 'ক্বামা' শব্দটি নিজেই একটি 'কওল', কিন্তু এটি অসম্পূর্ণ এবং কর্তার প্রতি মুখাপেক্ষী, ঠিক যেভাবে বিশ্বাস তার প্রকাশের প্রতি মুখাপেক্ষী। সুতরাং যখন এই দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য পাওয়া গেল, তখন একটির মাধ্যমে অন্যটিকে প্রকাশ করা হলো। কিন্তু 'কালাম' এমন নয়; কারণ এটি স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং অন্য কিছুর মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। আর 'কওল' কখনো কখনো অন্য কিছুর প্রতি অভাবী বা মুখাপেক্ষী হতে পারে—যেভাবে আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—তাই এটি বর্ণনার মুখাপেক্ষী 'বিশ্বাসের' অধিক নিকটবর্তী এবং এটি দ্বারা প্রকাশ করা অধিক উপযোগী। সুতরাং বিষয়টি জেনে রাখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২২)
فإن قيل: ولم وضع الكلام على ما كان مستقلًا بنفسه البتة والقول على ما قد يستقل بنفسه، وقد يحتاج إلى غيره ألاشتقاق قضى بذلك أم لغيره من سماع متلقى بالقبول والاتباع قيل: لا؛ بل لاشتقاق1 قضى بذلك2 دون مجرد السماع. وذلك أنا قد قدمنا في أول القول من هذا الفصل أن الكلام إنما هو من الكَلم والكَلام والكُلوم وهي الجراح؛ لما يدعو إليه، ولما يجنيه في أكثر الأمر على المتكلمة3، وأنشدنا في ذلك قوله:
وجرح اللسان كجرح اليد
ومنه قوله 4:
قوارص تأتيني ويحتقرونها
… وقد يملأ القطر الإناء فيفعم
ونحو ذلك من الأبيات التي جئنا بها هناك وغيرها مما يطول به الكتاب، وإنما ينقم من القول ويحقر5، ما ينثى6 ويؤثر، وذلك ما كان منه تامًّا غير ناقص ،ومفهومًا غير مستبهم وهذه صورة الجمل وهو ما كان من الألفاظ قائمًا برأسه غير محتاج إلى متمم له، فلهذا سموا ما كان من الألفاظ تامًا مفيدًا كلامًا؛ لأنه
--------------------------------------------
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন 'কালাম' শব্দটিকে এমন বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং 'কাওল' শব্দটিকে এমন বিষয়ের জন্য যা কখনো স্বতন্ত্র হয় আবার কখনো অন্যের মুখাপেক্ষী হয়? এটি কি ব্যুৎপত্তিগত কারণে নির্ধারিত হয়েছে নাকি কেবল শ্রুত বিষয়ের অনুসরণ ও গ্রহণের ভিত্তিতে? উত্তর হলো: না; বরং ব্যুৎপত্তিগত কারণেই এটি নির্ধারিত হয়েছে, কেবল শ্রুতির ভিত্তিতে নয়। এর কারণ আমরা এই আলোচনার শুরুতে ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, 'কালাম' শব্দটি মূলত 'কালম', 'কালাম' এবং 'কুলুম' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো জখম বা ক্ষত; কারণ এটি মানুষকে সেদিকেই ধাবিত করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বক্তার জন্য তা ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়। এই প্রসঙ্গে আমরা কবির পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছি:
জিহ্বার ক্ষত হলো হাতের ক্ষতের মতো
অনুরূপভাবে কবির বাণী:
কটু কথা আমার নিকট আসে আর তারা তা তুচ্ছজ্ঞান করে... অথচ জলবিন্দু পাত্র পূর্ণ করে দেয় এবং উপচে পড়ে
এই জাতীয় আরও কবিতা আমরা সেখানে উল্লেখ করেছি এবং অন্যান্য যা উল্লেখ করলে গ্রন্থ দীর্ঘ হয়ে যাবে। মূলত কথার মধ্য থেকে যা অপছন্দ ও তুচ্ছজ্ঞান করা হয়, তা-ই যা প্রচারিত হয় এবং প্রভাব ফেলে; আর তা হলো যা পূর্ণাঙ্গ, অসম্পূর্ণ নয় এবং যা বোধগম্য ও অস্পষ্ট নয়। এটিই হলো বাক্যের রূপ, অর্থাৎ শব্দমালার মধ্যে যা স্বতন্ত্রভাবে অবস্থান করে এবং পূর্ণতার জন্য অন্য কোনো পরিপূরকের মুখাপেক্ষী হয় না। এই কারণেই ভাষাবিদরা শব্দমালার মধ্য থেকে যা পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবোধক তাকে 'কালাম' নামকরণ করেছেন; কারণ এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في غالب الأمر وأكثر الحال مضر بصاحبه وكالجارح له. فهو إذًا من الكلوم التي هي الجروح. وأما القول فليس في أصل اشتقاقه ما هذه سبيله؛ ألا ترى أنا قد عقدنا تصرف " ق ول" وما كان أيضًا من تقاليبها الستة، فأرينا أن جميعها إنما هو للإسراع والخفة، فلذلك سموا كل ما مذل به اللسان من الأصوات قولًا، ناقصًا كان ذلك أو تامًّا. وهذا واضح مع أدنى تأمل.
واعلم أنه قد يوقع1 كل واحد من الكلام والقول موقع صاحبه، وإن كان أصلهما قبل ما ذكرته؛ ألا ترى إلى رؤبة كيف قال:
لو أنني أوتيت علم الحكل2
… علم سليمان كلام النمل
يريد قول3 الله عز وجل: {قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ} وعلى هذا اتسع فيهما جميعًا اتساعًا واحدًا فقال أبو النجم:
قالت له الطير تقدم راشدا
… إنك لا ترجع إلا حامدا
وقال الآخر:
وقالت له العينان سمعًا وطاعة
… وأبدت كمثل الدر لما يثقب4
--------------------------------------------
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবং অধিকাংশ অবস্থায় এটি তার অধিকারীর জন্য ক্ষতিকর এবং তাকে আহতকারীর মতো। তাই এটি 'কুলুম' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ক্ষত বা জখম। আর 'কাওল' (উক্তি) এর ক্ষেত্রে তার মূল ব্যুৎপত্তিতে এমন কোনো অর্থ নেই; আপনি কি দেখছেন না যে আমরা 'কা-ওয়া-লা' এবং এর ছয়টি সম্ভাব্য বিন্যাস বিশ্লেষণ করেছি এবং আমরা দেখিয়েছি যে এর সবগুলোর অর্থই হচ্ছে দ্রুততা ও লঘুতা? এই কারণেই জিহ্বা থেকে নিঃসরিত প্রতিটি ধ্বনিকেই তারা 'কাওল' নামে অভিহিত করেছে, তা অপূর্ণ হোক বা পূর্ণ। সামান্য চিন্তা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।
আর জেনে রাখুন যে, কখনো কখনো 'কালাম' এবং 'কাওল' এর প্রত্যেকটিকে অপরটির স্থলে ব্যবহার করা হয়, যদিও তাদের মূল ভিত্তি আমি যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ ছিল; আপনি কি রূ'বার দিকে লক্ষ্য করেননি তিনি কীভাবে বলেছেন:
যদি আমাকে হাকল এর জ্ঞান দেওয়া হতো
… সুলায়মানের মতো পিঁপড়াদের কালাম (কথা) এর জ্ঞান
এখানে তিনি মহান আল্লাহর বাণীকে বুঝিয়েছেন: {একটি পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকাকুল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো}। এর ভিত্তিতে উভয় শব্দের ক্ষেত্রেই একইভাবে প্রশস্ততা বা রূপক অর্থ তৈরি হয়েছে, যেমনটি আবু আল-নাজম বলেছেন:
পাখিরা তাকে বলল, সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়ে এগিয়ে যাও
… তুমি প্রশংসিত হয়েই ফিরে আসবে
আর অন্য একজন বলেছেন:
দুই চোখ তাকে বলল, শুনলাম ও মানলাম
… আর তা বিদ্ধ না করা মুক্তার ন্যায় প্রকাশিত হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال الراجز:
امتلأ الحوض وقال قطني1
وقال الآخر:
بينما نحن مرتعون2 بفلج
… قالت الدلح الرواء إنيه
إنيه: صوت رزمة السحاب وحنين الرعد وأنشدوا:
قد قالت الأنساع للبطن الحق3
فهذا كله اتساع في القول.
ومما جاء منه في الكلام قول الآخر:
فصبحت والطير لم تكلم
… جابية طمت بسيل مفعم4
وكأن الأصل في هذا الاتساع إنما هو محمول على القول ألا ترى إلى قلة الكلام هنا وكثرة القول وسبب ذلك وعلته عندي ما قدمناه من سعة مذاهب القول، وضيق مذاهب الكلام. وإذا جاز أن نسمي الرأي والاعتقاد قولًا، وإن لم يكن صوتًا، كانت تسمية ما هو أصوات قولًا أجدر بالجواز. ألا ترى أن الطير لها هدير والحوض له غطيط، والأنساع لها أطيط، والسحاب له دوي. فأما
--------------------------------------------
জনৈক 'রাজাজ' ছন্দের কবি বলেছেন:
জলাধারটি পূর্ণ হয়ে গেল এবং বলল, 'আমার জন্য যথেষ্ট'।১
অন্য একজন কবি বলেছেন:
আমরা যখন ফালজ নামক স্থানে পশু চরাচ্ছিলাম... তখন পানিভরা ভারী মেঘমালা বলল, 'ইনিহি'।২
'ইনিহি' হলো মেঘের পুঞ্জীভূত হওয়ার শব্দ এবং বজ্রের ধ্বনি। আর কবিগণ পাঠ করেছেন:
পিঠের জিনের ফিতাগুলো পেটের উদ্দেশ্যে বলল, 'মিলে যাও'।৩
এ সব কিছুই হলো উক্তির (কাওল) প্রয়োগের প্রশস্ততা।
আর কথাবার্তায় এর ব্যবহারের একটি উদাহরণ হলো অন্য এক কবির উক্তি:
আমি সকালে এমন এক জলাধারে পৌঁছলাম যখন পাখিরাও ডাকেনি... যা টইটম্বুর প্লাবনে ভরে গিয়েছিল।৪
মনে হয় এই প্রশস্ততার মূল ভিত্তি হলো একে 'উক্তি' (কাওল) হিসেবে গণ্য করা। আপনি কি দেখছেন না যে এখানে 'কালাম' (কথাবার্তা) এর ব্যবহার কত কম এবং 'কাওল' (উক্তি) এর ব্যবহার কত বেশি? আমার মতে এর কারণ ও হেতু হলো যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ উক্তির প্রয়োগক্ষেত্রের প্রশস্ততা এবং কথাবার্তার প্রয়োগক্ষেত্রের সংকীর্ণতা। আর যদি কোনো মতবাদ বা বিশ্বাসকে 'উক্তি' বলা বৈধ হয়—যদিও তা কোনো শব্দ নয়—তবে যা প্রকৃতপক্ষেই শব্দ বা আওয়াজ, তাকে 'উক্তি' বলা বৈধ হওয়ার অধিকতর যোগ্য। আপনি কি দেখছেন না যে পাখির গুঞ্জন রয়েছে, জলাধারের পানির শব্দ রয়েছে, জিনের ফিতার মড়মড় শব্দ রয়েছে এবং মেঘের গর্জন রয়েছে। পক্ষান্তরে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله:
وقالت له العينان سمعًا وطاعة
فإنه وإن لم يكن منهما صوت فإن الحال آذنت بأن لو كان لهما جارحة نطق لقالتا: سمعًا وطاعة. وقد حرر هذا الموضع وأوضحه عنترة بقوله:
لو كان يدري ما المحاورة اشتكى
… ولكان لو علم الكلام مكلمي
وامتثله شاعرنا1 آخرًا فقال:
فلو قدر السنان على لسان
… لقال لك السنان كما أقول
وقال أيضًا:
لو تعقل الشجر التي قابلتها
… مدت محيية إليك الأغصنا
ولا تستنكر ذكر هذا الرجل -وإن كان مولدًا- في أثناء ما نحن عليه من هذا الموضع وغموضه ولطف متسربه؛ فإن المعاني يتناهبها المولدون كما يتناهبها المتقدمون. وقد كان أبو العباس2 -وهو الكثير التعقب لجلة الناس- احتج بشيء من شعر حبيب3 بن أوس الطائي في كتابه في الاشتقاق، لما كان غرضه فيه معناه دون لفظه، فأنشد فيه له 4:
لو رأينا التوكيد خطة عجز
… ما شفعنا الأذان بالتثويب5
--------------------------------------------
তার কথা:
এবং তার প্রতি দু’টি চোখ বলল: আমি শুনলাম ও মেনে নিলাম
কেননা তাদের থেকে কোনো শব্দ নির্গত না হলেও, তাদের অবস্থা জানিয়ে দিচ্ছিল যে, যদি তাদের কথা বলার কোনো অঙ্গ থাকত, তবে তারা অবশ্যই বলত: শুনলাম ও মেনে নিলাম। আন্তারাহ এই বিষয়টি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তার এই উক্তিতে স্পষ্ট করেছেন:
যদি সে জানত কথোপকথন কী, তবে সে অভিযোগ করত
… আর যদি সে কথা বলতে পারত, তবে সে আমার সাথে কথা বলত।
আমাদের কবি১ পরবর্তীতে এর অনুসরণ করে বলেছেন:
যদি বর্শার ফলক জিহ্বা লাভ করার ক্ষমতা রাখত
… তবে বর্শার ফলক আপনাকে তাই বলত যা আমি বলি।
তিনি আরও বলেছেন:
আপনি যে বৃক্ষরাজির মুখোমুখি হয়েছেন তারা যদি জ্ঞান রাখত
… তবে তারা অভিবাদন জানিয়ে আপনার দিকে ডালপালা প্রসারিত করে দিত।
আর এই ব্যক্তির উল্লেখকে আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করবেন না—যদিও তিনি পরবর্তী যুগের কবি—আমাদের আলোচিত এই প্রসঙ্গের সূক্ষ্মতা ও এর নিগূঢ় প্রবেশের প্রেক্ষিতে; কারণ পূর্ববর্তীদের ন্যায় পরবর্তীরাও অর্থসমূহ আহরণ করে থাকে। আর আবু আব্বাস২—যিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুল ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তৎপর ছিলেন—তিনিও তাঁর 'আল-ইশতিকাক' গ্রন্থে হাবিব৩ বিন আওস আত-তাঈ-এর কবিতার পঙক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যখন তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এর অর্থগত দিক, শাব্দিক দিক নয়। তিনি তাঁর এই পঙক্তিটি পাঠ করেছেন ৪:
যদি আমরা তাকিদকে (দৃঢ়করণ) অক্ষমতার চিহ্ন মনে করতাম
… তবে আমরা আযানের সাথে তাসউইব৫ যুক্ত করতাম না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وإياك والحنبلية بحتًا؛ فإنها خلق ذميم، ومطعم على علاته وخيم 1.
وقال سيبويه 2: "هذا باب علم ما الكلم من العربية " فاختار الكلم على الكلام وذلك أن الكلام اسم من كلم بمنزلة السلام من سلم، وهما بمعنى التكليم والتسليم، وهما المصدران الجاريان على كلم وسلم قال الله سبحانه: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} وقال -عز اسمه: {صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} فلما كان الكلام مصدرًا، يصلح لما يصلح له الجنس، ولا يختص بالعدد دون غيره3، عدل عنه إلى الكلم، الذي هو جمع كلمة، بمنزلة4 سلمة5 وسلم، ونبقة ونبق، وثفنة6 وثفن. وذلك أنه أراد تفسير ثلاثة أشياء مخصوصة، وهي الاسم، والفعل، والحرف، فجاء بما يخص الجمع، وهو الكلم، وترك ما لا يخص الجمع، وهو الكلام، فكان ذلك أليق بمعناه، وأوفق لمراده. فأما قول مزاحم العقيلي:
لظل رهينًا خاشع الطرف حطه
… تخلب جدوى والكلام الطرائف7
--------------------------------------------
বিশুদ্ধ হাম্বলী মতবাদ থেকে সতর্ক থাকো; কেননা তা নিন্দনীয় স্বভাব এবং এর মন্দ ফলাফল সর্বাবস্থায় পীড়াদায়ক ১।
এবং সিবওয়াইহি বলেছেন ২: "এটি আরবির শব্দাবলি (কালিম) কী তা জানার অধ্যায়।" তিনি 'কালাম'-এর পরিবর্তে 'কালিম' শব্দটি বেছে নিয়েছেন, কারণ 'কালাম' হলো 'কাল্লামা' থেকে নির্গত একটি বিশেষ্য, যেমন 'সালাম' হলো 'সাল্লামা' থেকে। উভয়টি কথা বলা (তাকলিম) ও সালাম দেওয়ার (তাসলিম) অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এ দুটি হলো 'কাল্লামা' ও 'সাল্লামা' ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত মূল শব্দ (মাসদার)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছেন।} এবং তিনি—তাঁর নাম প্রতাপময়—বলেছেন: {তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।} যেহেতু 'কালাম' একটি মাসদার বা মূল শব্দ, যা কোনো সাধারণ শ্রেণির (জেন্স) জন্য উপযুক্ত এবং কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে বোঝায় না ৩, তাই তিনি এটি বর্জন করে 'কালিম' ব্যবহার করেছেন, যা হলো 'কালিমাহ'-এর বহুবচন; যেমন ৪ 'সালামাহ' ৫ থেকে 'সালাম', 'নাবাক্বাহ' থেকে 'নাবাক্ব' এবং 'সাফনাহ' ৬ থেকে 'সাফন'। এর কারণ হলো, তিনি তিনটি নির্দিষ্ট বিষয় অর্থাৎ বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয় (হরফ)-এর ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি যা বহুবচনকে নির্দিষ্ট করে তা নিয়ে এসেছেন, আর তা হলো 'কালিম', এবং যা বহুবচনকে নির্দিষ্ট করে না তা বর্জন করেছেন, আর তা হলো 'কালাম'। এটিই তাঁর অর্থের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাঁর উদ্দেশ্যের সাথে অধিক মানানসই ছিল। আর মুযাহিম আল-উকাইলির পঙক্তিটি হলো:
সে তার স্থানে স্থির হয়ে থাকতো অবনত দৃষ্টিতে... জাদওয়ার মোহনীয়তা ও চমৎকার আলাপচারিতা তাকে মুগ্ধ করে ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فوصفه بالجمع، فإنما ذلك وصف على المعنى، كما حكى أبو الحسن عنهم، من قولهم: "ذهب به الدينار1 الحمر والدرهم البيض " وكما قال:
تراها2 الضبع أعظمهن رأسا
فأعاد الضمير على معنى الجنسية لا على لفظ الواحد، لما كانت الضبع هنا جنسًا. وبنو تميم يقولون: كِلمة وكِلَم، ككِسرة وكِسَر.
فإن قلت: قدمت في أول كلامك أن الكلام واقع على الجمل دون الآحاد، وأعطيت ههنا أنه اسم الجنس؛ لأن المصدر كذلك حاله؛ والمصدر يتناول الجنس وآحاده تناولًا واحدًا. فقد أراك انصرفت عما عقدته على نفسك: من كون الكلام مختصًا بالجمل المركبة، وأنه لا يقع على الآحاد المجردة وأن ذلك إنما هو القول لأنه فيما زعمت يصلح للآحاد، والمفردات، وللجمل المركبات.
قيل: ما قدمناه صحيح وهذا الاعتراض ساقط عنه، وذلك أنا نقول: لا محالة أن الكلام مختص بالجمل، ونقول مع هذا: إنه جنس أي جنس للجمل، كما أن الإنسان من قول الله سبحانه: {إِنَّ الإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ} جنس للناس، فكذلك الكلام، جنس للجمل، فإذا قال: قام محمد فهو كلام، وإذا قال: قام محمد، وأخوك جعفر فهو أيضًا كلام؛ كما كان لما وقع على الجملة الواحدة كلامًا؛ وإذا قال:
--------------------------------------------
সুতরাং তিনি একে বহুবচন দ্বারা বিশেষিত করেছেন, আর এটি কেবল অর্থের নিরিখেই বিশেষিত করা হয়েছে, যেমনটি আবু হাসান তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা বলে থাকে: "লাল দিনার এবং সাদা দিরহামগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে।" এবং যেমনটি কবি বলেছেন:
হায়না তাকে দেখছে যার মাথা তাদের মধ্যে সর্ববৃহৎ
এখানে তিনি সর্বনামটিকে একবচনের শব্দের দিকে না ফিরিয়ে বরং জাতিবাচক অর্থের দিকে ফিরিয়েছেন, যেহেতু এখানে 'হায়না' একটি জাতি বা শ্রেণী বুঝিয়েছে। আর বনু তামীম গোত্রের লোকেরা বলে থাকে: 'কিলমাহ' এবং 'কিলাম', যেমন 'কিসরাহ' এবং 'কিসার'।
যদি আপনি বলেন: আপনি আপনার আলোচনার শুরুতে বলেছিলেন যে, 'কালাম' শব্দটি কেবল পূর্ণ বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, একক শব্দের ক্ষেত্রে নয়। কিন্তু এখানে আপনি ব্যক্ত করছেন যে এটি একটি জাতিবাচক বিশেষ্য; কারণ মাসদার বা ক্রিয়ামূলের অবস্থা এমনই হয়ে থাকে; আর মাসদার জাতি এবং তার একক—উভয়কেই একইভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং আমি দেখছি আপনি নিজের করা সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছেন যে, কালাম কেবল যৌগিক বাক্যের সাথেই নির্দিষ্ট, এবং তা একক বিচ্ছিন্ন শব্দের ওপর প্রযুক্ত হয় না; আর সেই বৈশিষ্ট্যটি কেবল 'কাউল' বা বাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ আপনার দাবি অনুযায়ী তা একক শব্দ, পৃথক শব্দ এবং যৌগিক বাক্য—সবার জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে।
বলা হয়েছে: আমরা আগে যা বলেছি তা সঠিক এবং এই আপত্তিটি অসার। তার কারণ হলো, আমরা বলছি: নিঃসন্দেহে 'কালাম' পূর্ণ বাক্যের সাথেই নির্দিষ্ট। তবে এর পাশাপাশি আমরা এও বলছি যে, এটি একটি জাতি; অর্থাৎ এটি বাক্যের একটি জাতি। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে}-তে 'মানুষ' শব্দটি সকল মানুষের জন্য একটি জাতিবাচক শব্দ। ঠিক তেমনি 'কালাম'ও পূর্ণ বাক্যের জন্য একটি জাতিবাচক শব্দ। তাই যখন কেউ বলে: 'মুহাম্মাদ দাঁড়িয়েছে', তখন তা একটি কালাম। আবার যখন কেউ বলে: 'মুহাম্মাদ দাঁড়িয়েছে এবং তোমার ভাই জাফর', তখন সেটিও কালাম; যেমনটি একটিমাত্র বাক্যের ওপর প্রযুক্ত হওয়ার সময় কালাম হয়েছিল; এবং যখন সে বলে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قام محمد وأخوك جعفر، وفي الدار سعيد، فهو أيضًا كلام؛ كما كان لما وقع على الجملتين كلامًا. وهذا طريق المصدر لما كان جنسًا لفعله؛ ألا ترى أنه إذا قام قومة واحدة فقد كان منه قيام، وإذا قام قومتين فقد كان منه قيام، وإذا قام مائة قومة فقد كان منه قيام. فالكلام إذًا إنما هو جنس للجمل التوام: مفردها، ومثناها، ومجموعها؛ كما أن القيام جنس للقومات: مفردها ومثناها ومجموعها. فنظير القومة الواحدة من القيام الجملة الواحدة من الكلام. وهذا جلي.
ومما يؤنسك بأن الكلام إنما هو للجمل التوام دون الآحاد أن العرب لما أرادت الواحد من ذلك خصته باسم له لا يقع إلا على الواحد، وهو قولهم: "كلِمة "، وهي حجازية، و "كِلمة " وهي تميمية. ويزيدك في بيان ذلك قول كثير:
لو يسمعون كما سمعت كلامها
… خروا لعزة ركعا وسجودا1
ومعلوم أن الكلمة الواحدة لا تشجو2، ولا تحزن، ولا تتملك قلب السامع، إنما ذلك فيما طال من الكلام، وأمتع سامعيه، بعذوبة مستمعه، ورقة حواشيه؛ وقد قال سيبويه 3: "هذا باب أقل ما يكون عليه الكلم " فذكر هنالك حرف العطف، وفاءه، وهمزة الاستفهام، ولام الابتداء، وغير ذلك مما هو على حرف واحد، وسمى كل واحد4 من ذلك كلمة. فليت شعري: كيف يستعذب قول القائل، وإنما نطق
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ও তোমার ভাই জাফর দাঁড়িয়েছে, এবং বাড়িতে সাঈদ আছে - এটিও কালাম (বক্তব্য); যেমনটি দুই বাক্যের ক্ষেত্রেও তা কালাম ছিল। এটি মাসদারের (ক্রিয়ামূল) পদ্ধতি যখন তা তার ক্রিয়ার জন্য একটি সাধারণ শ্রেণি বা জাতি হিসেবে গণ্য হয়; আপনি কি দেখেন না যে, যখন কেউ একবার দাঁড়ায়, তখন তার পক্ষ থেকে কিয়াম (দাঁড়ানো) সংঘটিত হয়, আর যখন সে দুইবার দাঁড়ায়, তখনও তার পক্ষ থেকে কিয়াম সংঘটিত হয়, এমনকি সে যদি একশবারও দাঁড়ায়, তখনও তার থেকে কিয়াম-ই সংঘটিত হয়। সুতরাং কালাম হলো পূর্ণাঙ্গ বাক্যসমূহের একটি সাধারণ শ্রেণি: চাই তা একক হোক, দ্বিবচন হোক কিংবা বহুবচন হোক; যেমনটি কিয়াম হলো একক দাঁড়ানোর একটি সাধারণ শ্রেণি: তার একক, দ্বৈত ও সমষ্টিগত সব অবস্থার জন্যই। অতএব, কিয়ামের ক্ষেত্রে একটি মাত্র দাঁড়ানো যেমন, কালামের ক্ষেত্রে একটি মাত্র পূর্ণাঙ্গ বাক্য ঠিক তেমন। আর এটি সুস্পষ্ট।
কালাম যে একক শব্দের জন্য নয় বরং পূর্ণাঙ্গ বাক্যের জন্য ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে যা আপনাকে আশ্বস্ত করবে তা হলো—আরবরা যখন এর একক কোনো অংশকে বুঝাতে চেয়েছে, তখন তারা এর জন্য এমন একটি বিশেষ নাম নির্দিষ্ট করেছে যা কেবল এককের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর তা হলো তাদের শব্দ: "কালিমা", যা হিজাজি উপভাষা; এবং "কিলমা", যা তামিমি উপভাষা। কুসাইয়্যিরের এই উক্তিটি এ বিষয়ে আপনার স্পষ্টতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে:
আমি যেভাবে তার কথা শুনেছি, তারা যদি তা শুনতে পেত ... তবে তারা আজ্জাহর সম্মানে রুকু ও সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।১
এটি সর্বজনবিদিত যে, একটি মাত্র শব্দ কাউকে ব্যথিত করে না, শোকার্ত করে না, কিংবা শ্রোতার হৃদয়কেও জয় করতে পারে না; বরং এটি দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমেই সম্ভব, যা তার শ্রুতিমধুরতা ও শৈল্পিক সূক্ষ্মতার দ্বারা শ্রোতাকে বিমোহিত করে। সিবাহওয়াইহ বলেছেন৩: "এটি একটি অধ্যায় যাতে শব্দ সর্বনিম্ন যে রূপে হতে পারে তা বর্ণিত হয়েছে।" সেখানে তিনি সংযোজক অব্যয়, ফা, প্রশ্নবোধক হামজাহ, প্রারম্ভিক লাম এবং এ জাতীয় অন্যান্য এক অক্ষরবিশিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোর প্রত্যেকটিকে৪ শব্দ বা কালিমা নামে অভিহিত করেছেন। হায় আফসোস! আমি যদি জানতাম, কোনো বক্তার কথা কীভাবে শ্রুতিমধুর হতে পারে যখন সে কেবল উচ্চারণ করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بحرف واحد! لا بل كيف يمكنه أن يجرد للنطق حرفًا واحدًا؛ ألا تراه أن لو كان ساكنًا لزمه أن يدخل عليه مكن أوله همزة الوصل، ليجد سبيلًا إلى النطق به، نحو "أِب أِص أِق " وكذلك إن كان متحركًا فأراد الابتداء به والوقوف عليه قال في النطق بالباء من بكر: بَه وفي الصاد من صلة: صِه وفي القاف من قدرة: قُه؛ فقد علمت بذلك أن لاسبيل إلى النطق بالحرف الواحد مجردًا من غيره ساكنًا كان، أو متحركًا. فالكلام إذًا من بيت كثير إنما يعني به المفيد من هذه الألفاظ، القائم برأسه المتجاوز لما لا يفيد ولا يقوم برأسه من جنسه، ألا ترى إلى قول الآخر 1:
ولما قضينا من منى كل حاجة
… ومسح بالأركان من هو ماسح
أخذنا بأطراف الأحاديث بيننا
… وسالت2 بأعناق المطي الأباطح
فقوله بأطراف الأحاديث يعلم منه أنه لا يكون إلا جملًا كثيرة، فضلًا عن الجملة الواحدة، فإن قلت: فقد قال الشنفرى:
كأن لها في الأرض نسيًا نقصه
… على أمها وإن تخاطبك تبلت3
--------------------------------------------
একটি মাত্র বর্ণ দ্বারা! না, বরং একজন ব্যক্তির পক্ষে উচ্চারণের জন্য একটি মাত্র বর্ণকে পৃথক করা কীভাবে সম্ভব? আপনি কি দেখছেন না যে, যদি বর্ণটি সাকিন (ব্যঞ্জনান্ত) হয়, তবে তার শুরুতে একটি হামজাতুল ওয়াসল (সংযোজক হামজা) যুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যাতে তা উচ্চারণের পথ পাওয়া যায়, যেমন 'ইব', 'ইস', 'ইক' ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, যদি বর্ণটি হরকতবিশিষ্ট হয় এবং কেউ তা দিয়ে শুরু করতে ও তার ওপর থামতে চায়, তবে সে 'বকর' শব্দের 'বা' উচ্চারণে বলবে: 'বাহ্', 'সিলাহ' শব্দের 'সোয়াদ' উচ্চারণে বলবে: 'সিহ্', এবং 'কুদরাহ' শব্দের 'কাফ' উচ্চারণে বলবে: 'কুহ্'। সুতরাং আপনি এর দ্বারা জানতে পারলেন যে, একক বর্ণকে অন্য কিছু ব্যতিরেকে পৃথকভাবে উচ্চারণ করার কোনো উপায় নেই, চাই তা সাকিন হোক বা হরকতবিশিষ্ট। ফলে কুদাইয়্যির-এর পংক্তিটিতে 'কালাম' (কথা) বলতে এই শব্দগুলোর মধ্য থেকে অর্থবহ শব্দকেই বোঝানো হয়েছে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং যা তার স্বজাতীয় নিরর্থক বা অসম্পূর্ণ বিষয়কে অতিক্রম করে যায়। আপনি কি অন্য একজনের এই উক্তিটি দেখেন না (১):
আর যখন আমরা মিনা থেকে আমাদের সকল প্রয়োজন পূরণ করলাম
… এবং রুকনসমূহ স্পর্শকারী ব্যক্তি তা স্পর্শ করল
আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার খণ্ডাংশগুলো গ্রহণ করলাম
… আর উটের স্কন্ধের ওপর ভর করে উপত্যকাগুলো বয়ে চলল (২)
তার উক্তি 'আলাপচারিতার খণ্ডাংশগুলো' (আতরাফুল আহাদিস) থেকে এটি জানা যায় যে, তা কেবল অনেকগুলো বাক্যের সমষ্টির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, একটি বাক্যের তো প্রশ্নই আসে না। আপনি যদি বলেন: তবে শানফারা তো বলেছেন:
মনে হয় যেন জমিনে তার কোনো হারানো বস্তু রয়েছে যা সে খুঁজছে
… সে তার গন্তব্যের দিকে সোজা চলে, আর যদি সে তোমার সাথে কথা বলে তবে সে লজ্জায় কথা সংক্ষেপ করে ফেলে (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খাসাইস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أي تقطع كلامها، ولا تكثره، كما قال ذو الرمة:
لها بشر مثل الحرير ومنطق
… رخيم الحواشي لا هراء ولا نزر1
فقوله: رخيم الحواشي: أي مختصر2 الأطراف وهذا ضد الهذر والإكثار وذاهب في التخفيف والإختصار قيل: فقد قال أيضًا: ولا نزر، وأيضًا فلسنا ندفع أن الخفر يقل معه الكلام، ويحذف فيه أحناء المقال إلا أنه على حال لا يكون ما يجري منه وإن قل ونزر أقل من الجمل التي هي قواعد الحديث، الذي يشوق موقعه ويروق مستمعه. وقد أكثرت الشعراء في هذا الموضع، حتى صار الدال عليه كالدال على المشاهد غير المشكوك فيه؛ ألا ترى إلى قوله:
وحديثها كالغيث يسمعه
… راعي سنين تتابعت جدبا!
فأصاخ يرجو أن يكون حيا
… ويقول من فرح هيا ربا 3
-يعني حنين السحاب وسجره4، وهذا لا يكون عن نبرة واحدة، ولا رزمة مختلسة، إنما يكون مع البدء فيه والرجع، وتثنى الحنين على صفحات السمع- وقول ابن الرومي 5:
--------------------------------------------
অর্থাৎ সে তার কথাকে সংক্ষিপ্ত করে, তা দীর্ঘায়িত করে না; যেমনটি যু-রুম্মাহ বলেছেন:
তার চামড়া রেশমের মতো এবং কথা
… কোমল প্রান্তবিশিষ্ট, যা অনর্থক নয় আবার অতি সামান্যও নয়১
তার উক্তি: "কোমল প্রান্তবিশিষ্ট": অর্থাৎ কথা সংক্ষেপ করা২। এটি প্রলাপ বকা এবং অতিরঞ্জনের বিপরীত এবং লঘুতা ও সংক্ষিপ্তকরণের দিকে ধাবিত হয়। বলা হয়েছে: তিনি আরও বলেছেন, "অতি সামান্যও নয়"। আমরাও এটা অস্বীকার করি না যে, লাজুকতার কারণে কথা কম হয় এবং তাতে কথার বাঁকগুলো বিলুপ্ত হয়, তবে তা এমন অবস্থায় হয় না যে তা সামান্য হলেও কথা বলার সেই মূল ভিত্তিগুলোর চেয়ে কম হয় যা শ্রোতাকে মুগ্ধ ও আকৃষ্ট করে। কবিরা এ বিষয়ে অনেক কথা বলেছেন, এমনকি এ বিষয়টি এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যা সন্দেহাতীতভাবে দৃশ্যমান বিষয়ের নির্দেশকের মতো; আপনি কি তার এ কথাটি দেখেন না:
তার কথা বৃষ্টির মতো যা শুনছে
… ক্রমাগত অনাবৃষ্টির কবলে পড়া বছরের একজন রাখাল!
সে কান পেতেছে এই আশায় যে এটি বৃষ্টি হবে
… এবং আনন্দের আতিশয্যে বলছে, হায় পাহাড়! ৩
—অর্থাৎ মেঘের গর্জন এবং এর শব্দ৪, আর এটি কেবল একটি সুর বা আকস্মিক কোনো আওয়াজ থেকে হয় না, বরং এটি শুরু এবং পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হয় এবং শ্রবণে এর প্রতিধ্বনি বারবার অনুরণিত হতে থাকে— এবং ইবনুর রুমির ৫ উক্তি:
--------------------------------------------