(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: -)
البلغة في تراجم أئمة النحو واللغة   (الفيروزآبادي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: البلغة في تراجم أئمة النحو واللغة

المؤلف: مجد الدين أبو طاهر محمد بن يعقوب الفيروزآبادى (ت 817هـ)

الناشر: دار سعد الدين للطباعة والنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى 1421هـ- 2000م

عدد الصفحات: 364

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-বুলগা ফি তারাজিম আইম্মাত আন-নাহবি ওয়াল-লুগাহ   (আল-ফিরোজাবাদি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আল-বুলগা ফি তারাজিম আইম্মাত আন-নাহবি ওয়াল-লুগাহ

লেখক: মাজদুদ্দীন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু ৮১৭ হি.)

প্রকাশক: দারু সা'দউদ্দীন লিত-তিবাআহ ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম ১৪২১ হি.- ২০০০ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمات

‌‌بين يدي الكتاب

…

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

بين يدي الكتاب:

الحمد لله كفاء الواجب وزيادة، يرضى به عنا، ويتقبله منا، والصلاة والسلام على سيدنا محمد نبيه وعبده، وعلى آله وصحبه.

وبعد: فكتاب البلغة أحد مصنفات العلامة مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزآبادي المتوفى سنة 817. ويتناول تراجم أئمة النحو واللغة حتى عصر المؤلف.

وهو يضم أكثر من أربعمائة ترجمة لشعراء وأدباء وفقهاء ومؤدبين، كانوا قبل ذلك نحويين أو لغويين. وقد سلك المصنف في عرض ذلك سبيل الإيجاز والشمول والدقة والتنوع، ولا تخلو ترجمة من خبر أو فائدة أو متعة.

والكتاب طبع أول مرة من وزارة الثقافة السورية سنة 1972م، فكان بلغة للباحث في التراث العربي، في مجال التراجم والتاريخ للنحاة واللغويين.

ثم طبع في مركز المخطوطات والتراث بالكويت سنة 1987م، وكان يرجو المحقق رحمه الله تعالى أن تكون هذه الطبعة قد تقدمت خطوة على طريق الكمال، وأن تخرج في أبهى حلة خالية من العيوب والأخطاء، لا سيما أنه ضم إليها ما يستفيد به القارئ، وأشار إلى ما يبعد عنه الغموض، ولكن هذه الطبعة لم تحقق ما كان يرجوه ويأمله، فهي لم تراجع على ما كتبه، فوقع فيها التصحيف، وجاءت خالية من الفهارس، فكان له استدراكات وتصحيحات على بعض تلك الطبعة، بقيت بخط يده.
‌‌ভূমিকা

‌‌গ্রন্থের প্রারম্ভে

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি

গ্রন্থের প্রারম্ভে:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর হকের অনুকূল এবং আরও অধিক, যার মাধ্যমে তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তা আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর নবী ও বান্দা, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাথীদের ওপর।

অতঃপর: আল-বুলগাহ গ্রন্থটি আল্লামা মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু ৮১৭ হি.)-এর অন্যতম রচনা। এতে লেখকের সময় পর্যন্ত নাহু (ব্যাকরণ) ও লুগাত (ভাষা)-এর ইমামদের জীবনী স্থান পেয়েছে।

এতে চারশ’রও বেশি কবি, সাহিত্যিক, ফকিহ ও শিক্ষকদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যারা এর পাশাপাশি নাহুবিদ বা ভাষাবিদও ছিলেন। লেখক এ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা, ব্যাপকতা, নির্ভুলতা ও বৈচিত্র্যের পথ অনুসরণ করেছেন। প্রতিটি জীবনীই কোনো না কোনো সংবাদ, উপকারিতা বা আনন্দের খোরাক সমৃদ্ধ।

বইটি প্রথমবার ১৯৭২ সালে সিরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয়। এটি আরবি ঐতিহ্যের গবেষকদের জন্য নাহুবিদ ও ভাষাবিদদের জীবনী ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে একটি পাথেয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে কুয়েতের পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহ্য কেন্দ্রে এটি মুদ্রিত হয়। মুহাক্কিক (গবেষক) — আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন — আশা করেছিলেন যে এই সংস্করণটি পূর্ণতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং ত্রুটি ও বিচ্যুতিমুক্ত হয়ে সুন্দর অবয়বে প্রকাশিত হবে; বিশেষ করে যেহেতু তিনি এতে পাঠকের জন্য উপকারী বিষয়সমূহ যোগ করেছিলেন এবং অস্পষ্টতা দূর করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সংস্করণটি তাঁর আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি, কারণ তাঁর পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী এটি যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়নি। ফলে এতে বর্ণবিকৃতি (তাসহীফ) রয়ে গেছে এবং এটি সূচিপত্রহীন অবস্থায় প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত সংস্করণের ওপর তাঁর কিছু সংযোজন ও সংশোধন ছিল, যা তাঁর হস্তাক্ষরেই রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌عملي في هذه الطبعة:

بدأت أنظر في صفحات هذا الكتاب، أصحح وأنقح ما يحتاج إلى تصحيح أو تنقيح، وهي نظرة لا بد منها قبل إعادة طبعه، ثم قمت بإثبات تعليقات واستدراكات وتصحيحات كان قد كتبها بخط يده المحقق محمد المصري رحمه الله، مستفيدا مما عثر عليه من مصادر مخطوطة، ومن ملاحظات الفضلاء وذوي العلم.

ثم عرفت ما تشابه من أسماء بعض الكتاب ذكرها المصنف، فأوضحت تسميتها إن كانت مبهمة، وأكملتها إن كانت ناقصة، ونسبتها إلى أصحابها، بالرجوع إلى المصادر التي تتعلق بها.

وثمة أعلام لم تُعرف جاءت في خلال ترجمات كثيرة، فعرفت بها باختصار، وإذا كان قد ترجم لها المصنف أحلت القارئ إلى رقم الترجمة، ومن اختصر المصنف في ترجمته عدت إلى بعض المصادر، وزدت تعريفا به في الحاشية، ما وجدت إلى ذلك سبيلا، حتى يستغني القارئ بهذا الكتاب.

وكتبت مدخلا تناولت فيه لمحة تاريخية موجزة عن النحو ومدارسه وأبرز أعلامه الذين ترجم لهم المصنف.

وختمت العمل بوضع فهارس جديدة للتراجم ولمصادر البحث والتحقيق.

أسأل الله عز وجل أن يلهمني السداد في القول والإخلاص في العمل، وأن يجعل ما بذلته من جهد متواضع خالصا لوجهه، وأن يتجاوز عما فيه قصرت، وأسأله أن يجزي مصنفه ومحققه خيرا.

ومن الله أرجو العون والتوفيق، والحمد لله رب العالمين.

دمشق في 1/ 8/ 1420 هـ

9/ 11/ 1999م

حسان أحمد راتب المصري.
এই সংস্করণে আমার কাজ:

আমি এই গ্রন্থের পৃষ্ঠাগুলো পর্যালোচনা করতে শুরু করি; যেখানে সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন ছিল, তা সম্পাদন করি। পুনরায় মুদ্রণের পূর্বে এই জাতীয় পর্যালোচনা অপরিহার্য। এরপর মুহাক্কিক মুহাম্মদ আল-মিসরি (রহিমাহুল্লাহ) নিজ হাতে যেসব টীকা, সংযোজন ও সংশোধন লিখেছিলেন, আমি সেগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এক্ষেত্রে তিনি যেসব পাণ্ডুলিপি উৎস খুঁজে পেয়েছিলেন এবং গুণী ও বিজ্ঞজনদের যেসব পর্যবেক্ষণ ছিল, তা থেকে উপকৃত হয়েছি।

অতঃপর লেখক কর্তৃক উল্লিখিত কিছু কিতাবের সদৃশ নামগুলো আমি শনাক্ত করেছি; সেগুলো অস্পষ্ট থাকলে স্পষ্ট করেছি, অপূর্ণ থাকলে পূর্ণ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোকে তাদের মূল লেখকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

অনেক জীবনীর মাঝে এমন কিছু ব্যক্তিত্বের নাম এসেছে যাদের পরিচয় জানা ছিল না, আমি সংক্ষেপে তাদের পরিচয় পেশ করেছি। যদি লেখক অন্য কোথাও তাদের জীবনী বর্ণনা করে থাকেন, তবে আমি পাঠককে সেই জীবনী নম্বরের দিকে নির্দেশ করেছি। আর লেখক যাদের জীবনী সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, আমি বিভিন্ন উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে পাদটীকায় তাদের পরিচয় বৃদ্ধি করেছি যতটুকু সম্ভব হয়েছে, যাতে পাঠক এই কিতাবের মাধ্যমেই অমুখাপেক্ষী হতে পারেন।

আমি একটি ভূমিকা লিখেছি যেখানে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, এর বিভিন্ন মাযহাব (ধারা) এবং লেখক যাদের জীবনী এনেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

জীবনীবলি এবং গবেষণা ও তাহকিকের উৎসসমূহের জন্য নতুন নির্ঘণ্ট তৈরির মাধ্যমে আমি কাজটি সমাপ্ত করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে কথায় সঠিকতা এবং কাজে ইখলাস দান করেন, আর আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমার পক্ষ থেকে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে তা যেন তিনি ক্ষমা করেন। আমি তাঁর নিকট এই কিতাবের লেখক এবং মুহাক্কিকের জন্য উত্তম প্রতিদান কামনা করি।

আল্লাহর নিকটই আমি সাহায্য ও তাওফিক কামনা করি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

দামেস্ক, ১/ ৮/ ১৪২০ হিজরি

৯/ ১১/ ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

হাসান আহমদ রাতেব আল-মিসরি।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مدخل في مدارس النحو وأعلامها:

المدرسة البصرية:

عُنيت البصرة قبل غيرها بالنحو، فوضعت قواعده وأصوله. وكان ابن أبي إسحاق الحضرمي المتوفى سنة 117 أول نحوي بالمعنى الدقيق لهذه الكلمة، اشتق قواعده، وقاس وعلل. ثم جاء عيسى بن عمر الثقفي المتوفى سنة 149 وأبو عمرو بن العلاء المتوفى سنة 154، ويونس بن حبيب المتوفى سنة 182 الذين تقدموا خطوات هامة في هذا المجال.

ويعود الفضل إلى الخليل بن أحمد الفراهيدي المتوفى سنة 175 في إقامة صرح النحو والصرف وأصولهما ورفع قواعدهما، التي ثبتت رغم الاختلاف الذي ظهر بين النحاة والمدارس، وقد اعتمد الخليل على السماع والتعليل والقياس. ومن ثم إلى سيبويه المتوفى سنة 180 الذي سجل في كتابه تلك الأصول والقواعد واستعمالاتها وأساليبها في كلام العرب. ثم أتى الأخفش الأوسط سعيد بن مسعدة المتوفى سنة 211 الذي لزم سيبويه وروى عنه كتابه وخالفه في كثير من المسائل، وتبعه محمد بن المستنير قطرب المتوفى سنة 206 في كثير من الآراء وأبو عمرو الجرمي المتوفى سنة 225 الذي لزم الأخفش، وأخذ عنه كل ما عنده، وكانت له بعض الآراء الصرفية خالف فيها سيبويه.

وأما أبو عثمان المازني المتوفى سنة 249 فقد أصبح بعد وفاة الأخفش والجرمي عالم البصرة، وقام بالفصل بين النحو والصرف، فنظم قواعد الصرف ومسائله الخاصة، حتى جعله علما مستقلا بأبنيته وقياساته، بعد أن كان مختلطا بعلم النحو في كتاب سيبويه، ثم لمع نجم تلميذه المبرد المتوفى سنة 285 وأصحابه أبي إسحاق الزجاج المتوفى سنة 310 وأبي بكر بن السراج المتوفى سنة 316 وأبي سعيد السيرافي المتوفى سنة 368 الذين أصلوا جذور المدرسة البصرية ومدوا فروعها للغاية.
নাহু শাস্ত্রের মাযহাব ও এর ইমামগণের পরিচিতি:

বসরী মাযহাব:

অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বসরা সর্বাগ্রে নাহু শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিল এবং এর নিয়ম-নীতি ও মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছিল। ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি (মৃত্যু ১১৭ হিজরি) ছিলেন এই শব্দের সঠিক অর্থে প্রথম নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ); তিনি এর নিয়মাবলী উদ্ভাবন করেন এবং কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) ও তা’লীল (কারণ অনুসন্ধান) করেন। এরপর ঈসা ইবনে ওমর আস-সাক্বাফি (মৃত্যু ১৪৯ হি.), আবু আমর ইবনে আল-আলা (মৃত্যু ১৫৪ হি.) এবং ইউনুস ইবনে হাবিব (মৃত্যু ১৮২ হি.) আগমন করেন, যারা এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

নাহু ও সরফ এবং তাদের মূলনীতির বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ ও নিয়মাবলীর ভিত্তি স্থাপনের কৃতিত্ব খলীল ইবনে আহমাদ আল-ফারাহিদি’র (মৃত্যু ১৭৫ হি.), যা পরবর্তী নাহুবিদ ও বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যকার মতভেদ সত্ত্বেও অটুট রয়েছে। খলীল মূলত সামা’ (আরবদের থেকে শোনা কথা), তা’লীল (কারণ অনুসন্ধান) এবং কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা)-এর ওপর নির্ভর করতেন। এরপর আসলেন সিবওয়াইহি (মৃত্যু ১৮০ হি.), যিনি তাঁর কিতাবে সেই সকল মূলনীতি, নিয়ম এবং আরবদের কথাবার্তায় সেগুলোর ব্যবহার ও শৈলী লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে আখফাশ আল-আওসাত সাঈদ ইবনে মাসআদা (মৃত্যু ২১১ হি.) আসলেন, যিনি সিবওয়াইহির সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর থেকে তাঁর কিতাবটি বর্ণনা করেন, তবে অনেক মাসআলায় তাঁর বিরোধিতা করেন। তাঁর অনুসারী ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে আল-মুস্তানির কুতরুব (মৃত্যু ২০৬ হি.), যিনি অনেক মতামতে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। এরপর আবু আমর আল-জারমি (মৃত্যু ২২৫ হি.) আসলেন, যিনি আখফাশের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে সকল জ্ঞান অর্জন করেন; সরফের কিছু বিষয়ে সিবওয়াইহির সাথে তাঁর মতভেদ ছিল।

আর আবু উসমান আল-মাজিনি (মৃত্যু ২৪৯ হি.) আখফাশ ও জারমির মৃত্যুর পর বসরার প্রধান আলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি নাহু ও সরফ শাস্ত্রের মধ্যে বিভাজন করেন। তিনি সরফের নিয়মাবলী ও এর বিশেষ মাসআলাসমূহ সুবিন্যস্ত করেন, এমনকি একে এর নিজস্ব গঠন ও কিয়াসসহ একটি স্বতন্ত্র ইলম (বিজ্ঞান) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন; অথচ সিবওয়াইহির কিতাবে এটি নাহু শাস্ত্রের সাথে মিশ্রিত ছিল। এরপর তাঁর ছাত্র মুবাররাদ (মৃত্যু ২৮৫ হি.) এবং তাঁর সঙ্গীগণ আবু ইসহাক আজ-জাজ্জাজ (মৃত্যু ৩১০ হি.), আবু বকর ইবনে আস-সাররাজ (মৃত্যু ৩১৬ হি.) ও আবু সাঈদ আস-সিরাফি (মৃত্যু ৩৬৮ হি.) খ্যাতি লাভ করেন। তাঁরা বসরী মাযহাবের শিকড়কে সুদৃঢ় করেন এবং এর শাখা-প্রশাখাকে চরম শিখরে পৌঁছে দেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
المدرسة الكوفية:

انشغل علماء الكوفة بادئ الأمر بالفقه ووضع أصوله ومقاييسه، وأذكر هنا أبا حنيفة النعمان، وعنوا بالقراءات ورواياتها، حتى اشتهر منهم عاصم وحمزة والكسائي، واهتموا أيضا برواية الأشعار، فتركوا المجال لعلماء البصرة الذين حازوا فضل السبق في علم النحو والصرف.

ولكن سرعان ما رغب علماء الكوفة بهذين العلمين، فكان أبو جعفر الرؤاسي المتوفى سنة 187 أول كوفي ألف في النحو، والذي أخذ العلم في البصرة عن أبي عمرو بن العلاء وعيسى بن عمر الثقفي. ثم ظهر الكسائي المتوفى سنة 189 الذي أخذ العلم من حلقات أئمة البصريين، ثم رجع إلى الكوفة فوضع أسس المدرسة الكوفية التى اعتمدت على الاتساع في رواية الأشعار والأقوال والقراءات الشاذة والقياس على الشاذ والنادر في اللغة، مخالفا بذلك البصريين في القواعد بآراء لا يقويها شاهد وربما رفض المسموع والشائع. وتبعه بذلك تلميذه الفراء المتوفى سنة 207 متسعا بهذه الجوانب ومتزودا بقدرة ثقافية كلامية فلسفية، أقدرته على الاستنباط والتحليل والاحتيال للآراء، وهشام بن معاوية الضرير المتوفى سنة 209، ثم جاء ثعلب أحمد بن يحيى المتوفى سنة 291 الذي أخذ عن الفراء كل ما كتب وقرأ كتاب سيبويه، وأخذ عن الأخفش الأوسط، حتى تبحر في مذهبي البصرة والكوفة. واشتهر بعد وفاته من تلاميذه كثيرون، من أمثال أبي موسى سليمان بن محمد المعروف بالحامض، الذي جلس بعد موت أستاذه مجلسه، حتى توفي سنة 305، وأبي عمر الزاهد المتوفى سنة 345، وأبي بكر بن الأنباري المتوفى سنة 328، ثم جاء أحمد بن فارس المتوفى سنة 395، الذي مد ظلال المدرسة الكوفية إلى حين ابن آجروم الصنهاجي المتوفى سنة 723، الذي كان آخر النحاة، الذين استظهروا آراء المدرسة الكوفية.
কুফী ব্যাকরণ ধারা:

কুফার উলামায়ে কেরাম প্রথম দিকে ফিকহ শাস্ত্র এবং এর মূলনীতি ও মানদণ্ড প্রণয়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে আমি আবু হানিফা আন-নু'মানের কথা উল্লেখ করছি। তারা কিরাআত ও এর বর্ণনাশৈলী নিয়েও ব্যাপৃত ছিলেন, যার ফলে তাদের মধ্য থেকে আসেম, হামযা ও কিসায়ীর ন্যায় ব্যক্তিগণ প্রসিদ্ধি লাভ করেন। পাশাপাশি তারা কাব্যচর্চা ও বর্ণনার প্রতিও আগ্রহী ছিলেন। ফলে তারা নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব) শাস্ত্রের ক্ষেত্রটি বসরার আলেমদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছিলেন, যারা এই দুই শাস্ত্রে অগ্রগামী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

কিন্তু শীঘ্রই কুফার আলেমগণ এই দুই শাস্ত্রের প্রতিও অনুরাগী হয়ে ওঠেন। ১৮৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু জাফর আর-রুআসী ছিলেন প্রথম কুফী ব্যক্তিত্ব, যিনি নাহু শাস্ত্রের ওপর গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি বসরার আবু আমর ইবনুল আলা এবং ঈসা ইবনে ওমর আস-সাক্বাফীর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। এরপর ১৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী কিসায়ীর আবির্ভাব ঘটে, যিনি বসরার ইমামদের জ্ঞানসভা থেকে ইলম হাসিল করেন। অতঃপর তিনি কুফায় ফিরে এসে কুফী ব্যাকরণ ধারার ভিত্তি স্থাপন করেন। এই ধারাটি কাব্য বর্ণনা, বিভিন্ন উক্তি ও বিরল কিরাআতের ব্যাপক ব্যবহারের ওপর এবং ভাষার বিরল ও অপ্রচলিত ব্যবহারের ওপর অনুমানের (কিয়াস) ওপর নির্ভরশীল ছিল। এর মাধ্যমে তিনি ব্যাকরণিক নিয়মের ক্ষেত্রে বসরার আলেমদের বিরোধিতা করেন এবং এমন সব মত প্রদান করেন যা কোনো শক্তিশালী প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত ছিল না, এমনকি কখনও কখনও তিনি শ্রুত ও প্রচলিত নিয়মকেও প্রত্যাখ্যান করতেন। ২০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী তার ছাত্র আল-ফাররা তাকে অনুসরণ করেন। তিনি এই দিকগুলোকে আরও প্রসারিত করেন এবং তার কালামশাস্ত্রীয় ও দার্শনিক সাংস্কৃতিক পারদর্শিতা তাকে মতামতের উদ্ভাবন, বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার সক্ষমতা দান করেছিল। ২০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হিশাম ইবনে মুয়াবিয়া আদ-দারীরও তাকে অনুসরণ করেন। এরপর ২৯১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী সা'লাব আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আসেন। তিনি আল-ফাররার সমস্ত রচনা গ্রহণ করেন এবং সিবাওয়াইহ-র কিতাব পাঠ করেন। এছাড়া তিনি আখফাশ আল-আওসাতের নিকট থেকেও ইলম অর্জন করেন, যার ফলে তিনি বসরা ও কুফা—উভয় মাযহাবেই অগাধ পাণ্ডিত্য লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর তার অসংখ্য ছাত্র প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাদের মধ্যে আবু মুসা সুলায়মান ইবনে মুহাম্মদ (যিনি আল-হামিজ নামে পরিচিত) অন্যতম। তিনি তার উস্তাদের মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং ৩০৫ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই পদে আসীন ছিলেন। আরও ছিলেন ৩৪৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু ওমর আল-যাহিদ এবং ৩২৮ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু বকর ইবনুল আমবারী। এরপর ৩৯৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আহমদ ইবনে ফারিস আসেন, যিনি কুফী ধারার প্রভাবকে দীর্ঘায়িত করেন। অবশেষে ৭২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনে আজুররুম আস-সিনহাজীর সময়কাল পর্যন্ত এটি বিস্তৃত ছিল। তিনি ছিলেন শেষ দিককার সেই সব ব্যাকরণবিদদের একজন, যারা কুফী ব্যাকরণ ধারার মতামতসমূহকে গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
المذهب البغدادي:

إن أوائل النحاة الذين ظهروا في بغداد كانوا ممن أخذ عن المبرد وثعلب وبذلك نشأ جيل يحمل آراء كلنا المدرستين، وكان منهم من مال في أغلب آرائه إلى أهل الكوفة، كابن كيسان المتوفى سنة 299 وابن شقير المتوفى سنة 315 وابن الخياط المتوفى سنة 320 والزجاجي المتوفى سنة 337، ومنهم من اتجه إلى الآخذ بأراء أهل البصرة كأبي على الفارسي المتوفى سنة 377، الذي عكف على حلقات البصريين، وابن جني المتوفى سنة 392، الذي يعد أول أئمة المدرسة البغدادية، وكان ظهور هذين العالمين إيذانا بنشوء مذهب جديد في الدراسة والتصنيف، مذهب يقوم على الانتخاب من آراء المدرستين جميعا والاجتهاد في استنباط آراء جديدة، معتمدين على تمثل آراء نحاة البصرة والكوفة وآراء البغداديين الأوائل، وكان أشهر أتباع المذهب الجديد الزمخشري المتوفى سنة 538 وابن الشجري المتوفى سنة 542 وأبو البركات بن الأنباري المتوفى سنة 577 وأبو البقاء العكبري سنة 616 وابن يعيش المتوفى سنة 643.

المذهب الأندلسي:

ابتدأت عناية الأندلسيين بنحو الكوفة، فكان أولهم جودي بن عثمان الموروي المتوفى سنة 198 الذي رحل إلى المشرق، وأخذ عن الكسائي والفراء، وعبد الملك بن حبيب السلمي المتوفى سنة 238، حتى إذا وصلنا إلى الأقشنيق المتوفى سنة 307 نراه يرحل إلى الشرق، ويعود بكتاب سيبويه، ويعلمه تلاميذه بقرطبة، وعنه أخذ أحمد بن يوسف بن حجاج المتوفى سنة 336، ويبدأ الاهتمام بالكتاب أكثر فأكثر على يدي محمد بن يحيى المهلبي الجياني المتوفى سنة 353 وأبي على القالي المتوفى سنة 356 وابن القوطية المتوفى سنة 367، وغيرهم. فطبع نحو الأندلسيين عند ذاك بالطابع البصري في أغلب مسائله وقواعده، ثم أقبل العلماء على شرح كتب المشرق المشهورة بشكل عام، والإفادة منها، واشتهر من نحاتهم كثيرون أمثال الزبيدي صاحب طبقات النحويين واللغويين المتوفى سنة 379 وابن الإقليلي المتوفى سنة 414 وابن السيد البطليوسي المتوفى سنة 521 والسهيلي أبي القاسم المتوفى سنة 581 وابن
বাগদাদি মাযহাব:

বাগদাদে আবির্ভূত প্রাথমিক ব্যাকরণবিদগণ ছিলেন তারা, যারা মুবাররাদ ও ছা'লাবের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। এর ফলে এমন এক প্রজন্মের সৃষ্টি হয় যারা উভয় মাযহাবের (বসরা ও কুফা) মতামত ধারণ করতেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা তাদের অধিকাংশ মতামতে কুফাবাসীদের প্রতি ঝুঁকেছিলেন, যেমন ইবনে কাইসান (মৃত্যু ২৯৯ হিজরি), ইবনে শুকাইর (মৃত্যু ৩১৫ হিজরি), ইবনুল খাইয়াত (মৃত্যু ৩২০ হিজরি) এবং আয-যাজ্জাজি (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি)। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বসরার পণ্ডিতদের মতামত অনুসরণের পথ অবলম্বন করেন, যেমন আবু আলী আল-ফারিসি (মৃত্যু ৩৭৭ হিজরি), যিনি বসরার ব্যাকরণবিদদের পাঠচক্রে নিমগ্ন থাকতেন, এবং ইবনে জিন্নি (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি), যাকে বাগদাদি মাযহাবের প্রথম ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দুই মনীষীর আবির্ভাব ছিল গবেষণা ও গ্রন্থ সংকলনের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারার সূচনালগ্ন; এমন এক ধারা যা উভয় মাযহাবের মতামত থেকে নির্বাচন এবং নতুন মতামত উদ্ভাবনে ইজতিহাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তারা বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মতামত এবং প্রাথমিক বাগদাদি ব্যাকরণবিদদের মতামতের সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করতেন। এই নতুন ধারার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অনুসারীদের মধ্যে ছিলেন আল-যামাখশারি (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরি), ইবনুল শাজারি (মৃত্যু ৫৪২ হিজরি), আবুল বারাকাত ইবনুল আনবারি (মৃত্যু ৫৭৭ হিজরি), আবু আল-বাকা আল-উকবারি (মৃত্যু ৬১৬ হিজরি) এবং ইবনে ইয়াঈশ (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)।

আন্দালুসি মাযহাব:

আন্দালুসিদের ব্যাকরণ চর্চা কুফার ব্যাকরণ ধারার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন জুদি বিন উসমান আল-মুরওয়ি (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি), যিনি প্রাচ্যে সফর করেছিলেন এবং আল-কিসায়ি ও আল-ফাররার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, এবং আব্দুল মালিক বিন হাবিব আস-সুলামি (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি)। আমরা যখন আল-আকশিনিক (মৃত্যু ৩০৭ হিজরি) পর্যন্ত পৌঁছাই, তখন দেখি যে তিনি প্রাচ্যে সফর করেন এবং সিবাওয়াইহ-এর কিতাব নিয়ে ফিরে আসেন এবং কর্ডোভায় তার ছাত্রদের তা শিক্ষা দেন। তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন আহমদ বিন ইউসুফ বিন হাজ্জাজ (মৃত্যু ৩৩৬ হিজরি)। এরপর মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুহাল্লাবি আল-জাইয়ানি (মৃত্যু ৩৫৩ হিজরি), আবু আলী আল-কালি (মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি) এবং ইবনুল কুতিয়্যাহ (মৃত্যু ৩৬৭ হিজরি) প্রমুখের হাত ধরে এই কিতাবের প্রতি আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলশ্রুতিতে তখন আন্দালুসিদের ব্যাকরণ চর্চা তার অধিকাংশ মাসআলা ও নিয়মনীতিতে বসরা ঘরানার ধাঁচে গঠিত হয়। অতঃপর উলামায়ে কেরাম সাধারণভাবে প্রাচ্যের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান এবং সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাদের ব্যাকরণবিদদের মধ্যে অনেকেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যেমন ‘তাবাকাতুন নাহউইয়িন ওয়াল লুগাউয়িন’ গ্রন্থের রচয়িতা আয-যুবাইদি (মৃত্যু ৩৭৯ হিজরি), ইবনুল ইকলিলি (মৃত্যু ৪১৪ হিজরি), ইবনুস সাইদ আল-বাতালইউসি (মৃত্যু ৫২১ হিজরি), আস-সুহাইলি আবুল কাসিম (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি) এবং ইবনে...
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
خروف المتوفى سنة 609 وابن عصفور الإشبيلي المتوفى سنة 662 والشلوبين المتوفى سنة 645 وغيرهم. وكان أولئك النحويين يتبعون منهج الانتقاء من آراء نحاة البصرة والكوفة، وربما ذهبوا إلى الفارسي وابن جني، ولكنهم كانوا إلى مذهب البصريين أميل. وكان خاتمة علماء الأندلس ابن مالك الجياني المتوفى سنة 672 صاحب الألفية، الذي جدد في النحو بعض التجديد وتوسع في الاستشهاد بالحديث، ورجح بعض آراء الكوفيين، ولم يصر على آراء البصريين.
৬০৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে খুরূফ, ৬৬২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবন আসফুর আল-ইশবিলি, ৬৪৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আশ-শালুবিন এবং অন্যান্যগণ। সেই ব্যাকরণবিদগণ বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মতামতের মধ্য থেকে চয়নের পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। কখনো কখনো তাঁরা আল-ফারিসি এবং ইবন জিন্নির মতের দিকেও ধাবিত হতেন, তবে বসরাবাসীদের মতাদর্শের দিকেই তাঁদের ঝোঁক বেশি ছিল। আর আন্দালুসিয়ার আলেমদের ধারায় সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব ছিলেন ‘আলফিয়া’-র রচয়িতা ইবনে মালিক আল-জিয়ানি (মৃত ৬৭২ হি.), যিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রে কিছুটা নতুনত্ব এনেছিলেন এবং হাদিসের উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিধি বিস্তৃত করেছিলেন। তিনি কুফাবাসীদের কিছু মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন এবং কেবল বসরাবাসীদের মতামতের ওপরই অনড় থাকেননি।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌مؤلف الكتاب:

هو مجد الدين محمد بن يعقوب بن محمد بن إبراهيم بن عمر بن أبي بكر بن أحمد بن محمود بن إدريس بن فضل الله ابن الشيخ أبي إسحاق إبراهيم بن على الفيروزآبادي الشيرازي الشافعي الصديقي، ويكنى بأبي الطاهر، وقد أملى نسبه هذا بنفسه.

ولد في "كارزين" من أرض فارس. قال في "القاموس المحيط": وكارزين "بلد" بفارس … وبه ولدت. وكانت ولادته في ربيع الآخر وقيل في جمادى الآخرة من شهور سنة 729هـ الموافق لسنة 1329م. ولم يصلنا شيء من أخبار أسرته سوى أن أباه كان من علماء اللغة والأدب بشيراز. وقد اشتهر بالفيروزآبادي نسبة إلى مدينة فيروزآباد التي تقع جنوبي شيراز بإيران، ربما لأن أباه وجده كانا من أبنائها.

وأما نسبته إلى شيراز فلربما أتته من أحد أجداده وهو الشيخ أبو إسحاق الشيرازي، والذي كان من فيروزآباد أيضا، وطلب العلم في شيراز، أو لأنه تلقى العلم فيها في بداية أمره، أو لأن أباه كان أحد علمائها.

وأما الصديقي فهي نسبة إلى أبي بكر الصديق رضي الله عنه. وقد رفع نسبه إليه بعد أن ولي قضاء اليمن، وقد قرأ السخاوي صاحب كتاب "الضوء اللامع لأهل القرن التاسع" هذه النسبة بخط الفيروزآبادي نفسه في بعض كتبه إلى نوابه. ذكر هذا لما ترجم له.

وكان يحب الانتساب إلى الحرم المكي. فقد جاء في آخر "تاج العروس" للزبيدي أنه وجد في بعض نسخ كتب الفيروزآبادي: قال مؤلفه الملتجئ إلى حرم الله محمد بن يعقوب … وجاء مثيل هذه العبارة في صدر إحدى نسختي كتابه "البلغة" الذي تحت يدنا المخطوطتين، ولعله فعل هذا اقتداء بالإمام الحسن بن محمد الصاغاني المتوفى سنة 650هـ. الذي كان يجب هذا اللجوء، وكان مجد الدين يقتدي به في كثير من الأحيان.
গ্রন্থকার:

তিনি হলেন মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে ইদরিস ইবনে ফজলুল্লাহ ইবনিল শাইখ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আলি আল-ফিরুজাবাদি আল-শিরাজি আল-শাফিঈ আস-সিদ্দিকী। তাঁর উপনাম (কুনিয়া) হলো আবু তাহির এবং তিনি নিজেই নিজের এই বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছেন।

তিনি পারস্যের "কারজিন" ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি "আল-কামুসুল মুহিত" গ্রন্থে বলেছেন: কারজিন হলো পারস্যের একটি "শহর" … এবং সেখানেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি। তাঁর জন্ম ছিল হিজরি ৭২৯ সালের রবিউস সানি মাসে, কারো মতে জুমাদাল উখরা মাসে, যা ১৩২৯ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক। তাঁর পরিবার সম্পর্কে আমাদের কাছে বিশেষ কোনো সংবাদ পৌঁছেনি, তবে এতটুকু জানা যায় যে, তাঁর পিতা শিরাজের ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম পণ্ডিত ছিলেন। তিনি ফিরুজাবাদি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যা ইরানের শিরাজের দক্ষিণে অবস্থিত ফিরুজাবাদ শহরের সাথে সম্পর্কিত; সম্ভবত তাঁর পিতা ও পিতামহ এই শহরেরই অধিবাসী ছিলেন।

আর শিরাজের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার কারণ সম্ভবত তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষ, যিনি হলেন শাইখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি। তিনিও ফিরুজাবাদের অধিবাসী ছিলেন এবং শিরাজে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। অথবা হতে পারে তিনি তাঁর প্রাথমিক জীবনে সেখানে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, কিংবা তাঁর পিতা সেখানকার অন্যতম আলেম ছিলেন বলে এই নিসবত বা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

আর "আস-সিদ্দিকী" হলো আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সম্পর্কিত নিসবত। ইয়েমেনের বিচারপতির (কাজী) দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তিনি নিজের বংশলতিকা তাঁর সাথে যুক্ত করেন। "আল-দাওউল লামি' লি-আহলি আল-কারনি আল-তাসি" গ্রন্থের লেখক আল-সাখাবি ফিরুজাবাদির নিজের হাতে লেখা তাঁর কোনো কোনো কিতাবে এই নিসবতটি তাঁর প্রতিনিধিদের কাছে পাঠাতে দেখেছেন। তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি মক্কার হারামের সাথে নিজের সম্পৃক্ততা প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন। যুবাইদির "তাজুল আরুস" গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ফিরুজাবাদির কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছেন: "এর লেখক, যিনি আল্লাহর হারামে আশ্রয় গ্রহণকারী মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব বলেন …"। আমাদের হাতে থাকা তাঁর "আল-বুলগাহ" গ্রন্থের দুটি পাণ্ডুলিপির একটির শুরুতেও অনুরূপ বাক্য পাওয়া গেছে। সম্ভবত তিনি এটি হিজরি ৬৫০ সালে ইন্তেকাল করা ইমাম হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-সাগানির অনুকরণে করেছেন, যিনি হারামে এই আশ্রয় গ্রহণ পছন্দ করতেন; মাজদুদ্দীন অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
وقد ترجم له كثير من العلماء الذين صنفوا كتبا في تراجم الرجال، نذكر ما وقفنا عليه من هذه الكتب بعد قليل، ولكن يغلب على هذه التراجم الإيجاز والاقتصاد. ولعل ترجمة السخاوي في "الضوء اللامع" أوسع ترجمة وجدت له، وأشمل تأريخ، من عالم له اختصار وشهرة في هذا المضمار، وفوق ذلك فهو قريب العهد به وبأخباره وبمن عاصروه، كما أورد فيها ما قاله فيه كبار علماء عاصروه. فهي ترجمة شاملة ضافية، وقد آثرنا ذكرها هنا لنقف أيضا على طريقة المؤرخين في سرد تراجم الرجال.

قال السخاوي في كتابه الضوء اللامع1: "محمد بن يعقوب بن محمد بن إبراهيم بن عمر بن عمر بن أبي بكر بن أحمد بن محمود بن إدريس بن فضل الله بن الشيخ أبي إسحاق إبراهيم بن على بن يوسف بن عبد الله، المجد، أبو الطاهر، وأبو عبد الله بن السراج أبي يوسف بن الصدر أبي إسحاق بن الحسام بن السراج الفيروزآبادي الشيرازي واللغوي الشافعي.

ولد في ربيع الآخر، وقيل في جمادى الآخرة، سنة تسع وعشرين وسبعمئة بكازرون، من أعمال شيراز، ونشأ بها، فحفظ القرآن وهو ابن سبع وجود الخط، وثم نقل فيها كتابين من كتب اللغة، وانتقل إلى شيراز وهو ابن ثمان وأخذ اللغة والأدب عن والده. ثم عن القوام عبد الله بن محمود بن النجم، وغيرهما من علماء شيراز، وسمع فيها على الشمس أبي عبد الله محمد بن النجم وغيرهما من علماء شيراز، وسمع فيها على الشمس أبي عبد الله محمد بن يوسف الأنصاري الزرندي المدني "الصحيح" بل قرأ عليه "جامع الترمذي" هناك درسا بعد درس في شهور سنة خمس وأربعين، وارتحل إلى العراق فدخل واسط، وقرأ بها القراءات العشر على الشهاب أحمد بن على الديواني، ثم دخل بغداد في السنة المذكورة، فأخذ عن التاج محمد بن السباك والسراج عمر بن علي القزويني خاتمة أصحاب الرشيد بن أبي القاسم، وعليه سمع "الصحيح" أيضا، بل قرأ عليه "المشارق" للصغاني، والمحبوبي محمد بن العاقولي، ونصر الله بن محمد بن

--------------------------------------------

1 ج10 / 79-86.
বহু আলেম যারা জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন তারা তার জীবনী আলোচনা করেছেন। আমরা কিছুক্ষণ পরেই সেই গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করব যেগুলোর সন্ধান আমরা পেয়েছি, তবে অধিকাংশ জীবনীতে অতিসংক্ষিপ্ততা ও পরিমিতি অবলম্বন করা হয়েছে। সম্ভবত সাখাভী তাঁর "আদ-দাও আল-লামি" গ্রন্থে যে জীবনীটি উল্লেখ করেছেন তা-ই এখন পর্যন্ত পাওয়া তার সবচেয়ে বিস্তৃত ও ব্যাপক ইতিহাস সমৃদ্ধ জীবনী। এটি এমন একজন পণ্ডিতের লেখনী যার এই ক্ষেত্রে সুখ্যাতি ও দক্ষতা রয়েছে। তদুপরি, তিনি তার সময়কালের, তার ঘটনাবলীর এবং তার সমসাময়িকদের নিকটবর্তী ছিলেন। এছাড়া তিনি এতে তার সমসাময়িক বড় বড় আলেমদের মন্তব্যও উদ্ধৃত করেছেন। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত জীবনী। আমরা এখানে এটি উল্লেখ করাকেই পছন্দ করেছি যাতে আমরা জীবনী বর্ণনায় ঐতিহাসিকদের পদ্ধতি সম্পর্কেও অবগত হতে পারি।

সাখাভী তাঁর 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে বলেন১: "মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে ফজলুল্লাহ ইবনে শায়খ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ, আল-মাজদ, আবু তাহের এবং আবু আবদুল্লাহ ইবনুস সিরাজ আবু ইউসুফ ইবনুস সদর আবু ইসহাক ইবনুল হুসাম ইবনুস সিরাজ আল-ফায়রুজাবাদী আশ-শিরাজী আল-লুগাভী আশ-শাফিয়ী।

তিনি সাতশ উনত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে, মতান্তরে জমাদিউল আখিরা মাসে শিরাজের অন্তর্গত কাযেরুন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। সাত বছর বয়সেই তিনি কুরআন মুখস্থ করেন এবং হস্তলিপি সুন্দর করেন। অতঃপর তিনি সেখানে ভাষাতত্ত্বের দুটি গ্রন্থ অনুলিপি করেন। আট বছর বয়সে তিনি শিরাজে স্থানান্তরিত হন এবং তাঁর পিতার নিকট ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা করেন। এরপর তিনি কাওয়াম আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ ইবনুন নাজ্ম এবং শিরাজের অন্যান্য আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে তিনি আশ-শামস আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-আনসারী আজ-জারান্দী আল-মাদানী থেকে "সহীহ" শ্রবণ করেন, বরং সেখানে তিনি তাঁর নিকট সাতশ পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনের মাসগুলোতে পাঠের পর পাঠ দিয়ে "জামে তিরমিযী" পাঠ করেন। এরপর তিনি ইরাক সফর করেন এবং ওয়াসিতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি শিহাব আহমদ ইবনে আলী আদ-দীওয়ানীর নিকট দশ ক্বিরাত পাঠ করেন। অতঃপর উক্ত বছরেই তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং আত-তাজ মুহাম্মদ ইবনুস সাব্বাক ও সিরাজ উমর ইবনে আলী আল-কাযভীনী (যিনি রশিদ ইবনে আবিল কাসিমের শেষ পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর কাছেও তিনি "সহীহ" শ্রবণ করেন, বরং তিনি তাঁর নিকট সাগানীর "আল-মাশারিক" পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি আল-মাহবুবী মুহাম্মদ ইবনুল আকুলী এবং নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে...

--------------------------------------------

১ খণ্ড ১০ / ৭৯-৮৬।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
الكتبي، والشرق عبد الله بن يكتاش، وهو قاضي بغداد ومدرس "النظامية"، وعمل عنده معيدها سنين، ثم ارتحل إلى دمشق فدخلها سنة خمس وخمسين، فسمع بها من التقي السبكي، وأكثر من مائة شيخ، منهم ابن الخباز وابن القيم ومحمد بن إسماعيل بن الحموي، وأحمد بن عبد الرحمن المرداوي، وأحمد بن مظفر النابلسي، ويحيى بن على بن مجلي بن الحداد الحنفين وغيرهم ببعلبك وحماة وحلب، وبالقدس من العلائي والبياني والتقى القلقشندي والشمس السعودي وطائفة، وقطن به نحو عشر سنين، وولى به تداريس وتصادير، وظهرت فضائله، وكثر الأخذ عنه، فكان من أخذ عنه الصلاح الصفدي، وأوسع من الثناء عليه، ثم دخل القاهرة بعد أن سمع بغزة والرملة، فكان ممن لقيه بها البهاء بن عقيل والجمال الإسنوي، وابن هشام، وسمع من العز بن جماعة والقلانسي والمظفر العطار وناصر الدين التونسي وناصر الدين الفارقي وابن نباتة والعروضي وأحمد بن محمد الجزائري، وسمع بمكة من الضياء خليل المالكي واليافعي والتقى الحرازي ونور الدين القسطلاني وجماعة، وجال في البلاد الشمالية والمشرقية، ودخل الروم والهند، ولقي جماعة جما من الفضلاء، وحمل عنهم شيئا كثيرا، تجمعهم مشيخته تخريج الجمال بن موسى المراكشي.

وقال فيما قرأته بخطه: إن من مشايخه من أصحاب الفخر بن البخاري والنجيب الحراني وابن عبد الدائم والشرف الدمياطي الجم الغفير والجمع الكثير من مشايخ العراق والشام ومصر وغيرها، وإن من مروياته الكتب الستة وسنن البيهقي ومسند أحمد وصحيح ابن حبان، ومصنفات ابن أبي شيبة، وقرأ "البخاري" بجامع الأزهر في رمضان سنة خمس وخمسين على ناصر الدين محمد بن أبي القاسم الفارقي، وسمعه على الشمس محمد السعودي بقراءة الشهاب أبي محمود الحافظ، وبدمشق على العز بن الحموي، وقرأ بعضه على التقي إسماعيل القلقشندي، والحافظ أبي سعيد العلائي. وقرأ "مسلما" على البياني بالمسجد الأقصى في أربعة عشر مجلسا، وعلى ناصر الدين أبي عبد الله محمد بن جهبل.
আল-কুতুবী, এবং আশ-শারক আবদুল্লাহ বিন ইয়াকতাশ, যিনি বাগদাদের বিচারক এবং "নিজামিয়া"র শিক্ষক ছিলেন। তিনি সেখানে কয়েক বছর শিক্ষক-সহকারী হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সাতশত পঞ্চান্ন হিজরিতে সেখানে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি তাকিউদ্দীন আস-সুবকি এবং একশতেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল খাব্বাজ, ইবনুল কাইয়্যিম, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-হামাউই, আহমাদ বিন আবদুর রহমান আল-মারদাউই, আহমাদ বিন মুজাফফর আন-নাবুলুসি, ইয়াহইয়া বিন আলী বিন মাজলি বিন আল-হাদ্দাদ আল-হানাফি এবং বালবাক, হামাহ ও আলেপ্পোর আরও অনেকে। জেরুজালেমে তিনি আল-আলায়ি, আল-বায়ানি, আত-তাকি আল-কালকাশান্দি, আশ-শামস আস-সুউদি এবং আরও এক দল উলামার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি সেখানে প্রায় দশ বছর অবস্থান করেন এবং সেখানে শিক্ষকতা ও গ্রন্থ রচনার দায়িত্ব পালন করেন। তার শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি প্রকাশ পায় এবং বহু মানুষ তার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। তার নিকট থেকে যারা ইলম গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে সালাহ আস-সাফাদি অন্যতম, যিনি তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অতঃপর গাজা ও রামলাতে ইলম শ্রবণের পর তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন। সেখানে তার সাথে যাদের সাক্ষাৎ হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন বাহাউদ্দীন বিন আকিল, জামালুদ্দীন আল-ইসনাবি এবং ইবনে হিশাম। তিনি ইজ্জুদ্দীন বিন জামা'আহ, আল-কালানিসি, আল-মুজাফফর আল-আত্তার, নাসিরুদ্দীন আত-তুনিসি, নাসিরুদ্দীন আল-ফারিকি, ইবনে নুবাতাহ, আল-আরুদি এবং আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-জাযায়েরির নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। মক্কায় তিনি দিয়া খলিল আল-মালিকি, আল-ইয়াফেয়ি, আত-তাকি আল-হাররাজি, নূরুদ্দীন আল-কাসতালানি এবং আরও এক দলের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তিনি উত্তর ও পূর্ব দিকের দেশগুলোতে ভ্রমণ করেন এবং রোম ও হিন্দুস্তান সফর করেন। তিনি বহু গুণীজনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের নিকট থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেন। জামাল বিন মুসা আল-মাররাকুশি কর্তৃক সংকলিত তার 'মাশইয়াখাহ' বা শিক্ষক তালিকায় তাদের সকলকে একত্রিত করা হয়েছে।

তিনি স্বহস্তে যা লিখেছেন তাতে আমি পড়েছি যে: তার শিক্ষকদের মধ্যে ফখর বিন আল-বুখারি, আন-নাজিব আল-হাররানি, ইবনে আবদুদ দায়িম এবং আশ-শারাফ আদ-দুমইয়াতির অনুসারী ইরাক, সিরিয়া, মিশর ও অন্যান্য অঞ্চলের এক বিশাল জামাত ও অসংখ্য উলামা রয়েছেন। তার বর্ণিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে কুতুবে সিত্তা, সুনানে বায়হাকি, মুসনাদে আহমাদ, সহিহ ইবনে হিব্বান এবং ইবনে আবি শায়বার মুসান্নাফসমূহ। তিনি সাতশত পঞ্চান্ন হিজরির রমজান মাসে জামে আজহারে নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবুল কাসিম আল-ফারিকির নিকট "বুখারি" পাঠ করেন। তিনি শিহাব আবু মাহমুদ আল-হাফিজের পাঠে শামসুদ্দীন মুহাম্মদ আস-সুউদির নিকট এটি শ্রবণ করেন এবং দামেস্কে ইজ্জুদ্দীন বিন আল-হামাউইর নিকট এটি শ্রবণ করেন। তিনি এর কিছু অংশ তাকিউদ্দীন ইসমাইল আল-কালকাশান্দি ও হাফিজ আবু সাঈদ আল-আলায়ির নিকট পাঠ করেন। তিনি মসজিদে আকসায় আল-বায়ানির নিকট চৌদ্দটি মজলিসে "সহিহ মুসলিম" পাঠ করেন এবং নাসিরুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাহবালের নিকটও এটি পাঠ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
بدمشق تجاه نعل النبي صلى الله عليه وسلم في ثلاثة أيام، وبعضه قراءة وسماعا على ابن الخباز، والعز بن جماعة والنجم أبي محمد عبد الرحيم بن إبراهيم بن هبة الله بن البارزي وأخيه الزين أبي حفص وناصر الدين الفارقي، وجميعه سماعا على الجمال أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عبد المعطي بالمسجد الحرام تجاه الكعبة، وسمع "سنن أبي داود" على أبي حفص عمر بن عثمان بن سالم بن خلف، وأبي إسحاق إبراهيم بن محمد بن يونس بن القواس، وقرأ "الترمذي" أيضا على ابن قيم الضيائية، والنجم أبي محمد بن البارزي، و"ابن ماجه" ببعلبك على الخطيب الصفي أبي الفضائل عبد الكريم والعز بن المظفر، و"المصابيح" على حمزة بن محمد، كما أوضحه في "التاريخ الكبير".

ثم دخل زبيد في رمضان سنة ست وتسعين بعد وفاة قاضي الأقضية باليمن كله الجمال الريمي شارح "التنبيه" فتلقاه الملك الأشرف إسماعيل بالقبول وبالغ في إكرامه وصرف له ألف دينار سوى ألف كان أمر ناظر عدن بتجهيزه بها واستمر مقيما في كنفه على نشر العلم فكثر الانتفاع به. وبعد مضي سنة وأزيد من شهرين أضاف إليه قضاء اليمن كله، وذلك في أول ذي الحجة سنة سبع وتسعين، بعد ابن عجيل، فارتفق بالمقام في تهامة، وقصده الطلبة، وقرءوا عليه الحديث، السلطان فمن دونه فاستقرت قدمه بزبيد مع الاستمرار في وظيفته إلى حين وفاته، وهي مدة تزيد على عشرين سنة بقية حياة الأشرف، ثم ولده الناصر أحمد، وكان الأشرف قد تزوج ابنته لمزيد جمالها، ونال منه براو رفعة بحيث إنه صنف كتابا وأهداه له على الطباق فملأها له دراهم، وفي أثناء هذه المدة قدم مكة أيضا مرارا، فجاور بها وبالمدينة النبوية والطائف، وعمل فيها مآثر حسنة لو تمت.

وكان يحب الانتساب إلى مكة مقتديا بالرضي الصغاني فيكتب بخطه: الملتجئ إلى حرم الله تعالى. ولم يقدر له قط أنه دخل بلدا إلا وأكرمه متوليها، وبالغ، مثل شاه منصور بن شجاع صاحب تبريز، والأشرف صاحب مصر، والأشرف صاحب اليمن، وابن عثمان ملك الروم، وأحمد بن أويس صاحب
দামেস্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাদুকার সামনে তিন দিনে, এবং এর কিছু অংশ ইবনুল খাব্বাজ, আল-ইয্য বিন জামাআহ, আন-নাজম আবু মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিন ইব্রাহিম বিন হিবাতুল্লাহ বিন আল-বারিজি এবং তাঁর ভাই আয-যাইন আবু হাফস ও নাসিরুদ্দিন আল-ফারিকির কাছে পাঠ ও শ্রবণের মাধ্যমে। আর এই পুরোটি আল-জামাল আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল মুআতির কাছে মসজিদে হারামে কাবার সামনে শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি 'সুনানে আবু দাউদ' শুনেছেন আবু হাফস উমর বিন উসমান বিন সালিম বিন খালাফ এবং আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন আল-কাওয়াসের কাছে। তিনি 'তিরমিজি'ও পাঠ করেছেন ইবনুল কাইয়্যিম আদ-দিয়াইয়্যাহ এবং আন-নাজম আবু মুহাম্মদ বিন আল-বারিজি-র কাছে। আর বালবক্কে খতিব আস-সাফি আবু আল-ফাদাইল আবদুল কারিম এবং আল-ইয্য বিন আল-মুজাফফরের কাছে 'ইবনে মাজাহ' এবং হামজাহ বিন মুহাম্মদের কাছে 'আল-মাসাবিহ' পাঠ করেছেন, যেমনটি তিনি 'আত-তারিখ আল-কাবীর'-এ স্পষ্ট করেছেন।

অতঃপর তিনি ৯৬ হিজরি সনের রমজান মাসে জাবিদ শহরে প্রবেশ করেন, যখন সমগ্র ইয়ামেনের প্রধান বিচারক এবং 'আত-তানবীহ'-এর ব্যাখ্যাকার আল-জামাল আর-রীমি ইন্তেকাল করেছিলেন। তখন বাদশাহ আল-আশরাফ ইসমাইল তাঁকে অত্যন্ত সমাদরের সাথে গ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জিত করেন। তিনি তাঁকে এক হাজার দিনার প্রদান করেন, এছাড়া অন্য এক হাজার দিনার যা তিনি আদনের নাজিরকে তাঁর প্রস্তুতির জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর আশ্রয়ে ইলম প্রসারে নিয়োজিত থেকে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন, যার ফলে অনেকে উপকৃত হয়। এক বছর দুই মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর, ৯৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুতে ইবনে উজাইলের পর তাঁকে সমগ্র ইয়ামেনের বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তিনি তিহামাহ অঞ্চলে অবস্থান করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে আসতে শুরু করে এবং তাঁর কাছে হাদিস পাঠ করে—সুলতান থেকে শুরু করে তাঁর নিচের স্তরের সকলে। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তাঁর পদে বহাল থেকে জাবিদে সুপ্রতিষ্ঠিত হন, যা বিশ বছরেরও বেশি সময় ছিল—আশরাফের অবশিষ্ট জীবনকাল এবং অতঃপর তাঁর পুত্র আন-নাসির আহমদের শাসনামল পর্যন্ত। আল-আশরাফ তাঁর কন্যার অত্যধিক সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি সুলতানের কাছ থেকে এমন অনুগ্রহ ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন যে, তিনি একটি কিতাব রচনা করে থালা ভর্তি করে তাঁকে উপহার দিলে সুলতান সেই থালাগুলো দিরহাম দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বারবার মক্কায়ও আগমন করেন এবং সেখানে তথা মদিনা মুনাওয়ারা ও তায়েফে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি কিছু উত্তম কীর্তি স্থাপন করেন যা পূর্ণতা পেলে ভালো হতো।

তিনি আর-রাদি আস-সাগানিকে অনুসরণ করে মক্কার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা পছন্দ করতেন এবং নিজ হাতে লিখতেন: ‘আল্লাহ তাআলার হারামে আশ্রয়গ্রহণকারী’। তাঁর ক্ষেত্রে এমনটি কখনো ঘটেনি যে তিনি কোনো শহরে প্রবেশ করেছেন অথচ সেখানকার শাসক তাঁকে সম্মান জানাননি এবং অতিরঞ্জিত সমাদর করেননি। যেমন তাবরিজের অধিপতি শাহ মনসুর বিন শুজা, মিশরের শাসক আল-আশরাফ, ইয়ামেনের শাসক আল-আশরাফ, রোমের রাজা ইবনে উসমান এবং আহমাদ বিন উওয়াইস...
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
بغداد، وتمرلنك الطاغية، وغيرهم.

واقتنى من ذلك كتبا نفيسة حتى نقل الجمال الخياط أنه سمع الناصر أحمد بن إسماعيل يقول إنه سمعه يقول: اشتريت بخمسين ألف مثقال ذهبا كتبا.

وكان لا يسافر إلا وصحبته منها عدة أحمال، ويخرج أكثرها في كل منزلة، فينظر فيها، ثم يعيدها إذا ارتحل، وكذا كانت له دنيا طائلة، ولكنه كان يدفعها إلى من يمحقها بالإسراف في صرفها، بحيث يملق أحيانا، ويحتاج لبيع بعض كتبه، فلذلك لم يوجد له بعد وفاته ما كان يظن به.

وصنف الكثير، فمن ذلك كما كتبه بخطه مع إدراجي فيه أشياء عن غيره: في التفسير:

- بصائر ذوي التمييز في الطائف الكتاب العزيز. مجلدان.

- تنوير المقياس في تفسير ابن عباس. أربع مجلدات.

- تيسير فاتحة الإياب في تفسير فاتحة الكتاب. مجلد كبير.

- الدر النظيم المرشد إلى مقاصد القرآن العظيم.

- حاصل كورة الخلاص في فضائل سورة الإخلاص.

- شرح قطبة الخشاف في شرح خطبة الكشاف.

وفي الحديث والتاريخ:

- شوارق الأسرار العية في شرح مشارق الأنوار النبوية. أربع مجلدات.

- منح الباري بالشيح الفسيح المجاري في شرح صحيح البخاري. كما ربع العبادات منه في عشرين مجلدة. ويخمن تمامه في أربعين مجلدا.

- عمدة الحكام في شرح عمدة الأحكام. مجلدان.

- امتضاض الهاد في افتراض الجهاد. مجلد.

- الإسعاد بالإصفاد إلى درجة الجهاد. ثلاث مجلدات.

- النفحة العنبرية في مولد خير البرية.

- الصلاة والبشر في الصلاة على خير البشر.
বাগদাদ, জালিম তৈমুর লঙ এবং অন্যান্যরা।

তিনি এর মাধ্যমে বহু মূল্যবান কিতাব সংগ্রহ করেছিলেন, এমনকি আল-জামাল আল-খাইয়াত বর্ণনা করেছেন যে তিনি আন-নাসির আহমাদ ইবনে ইসমাইলকে বলতে শুনেছেন যে তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: "আমি পঞ্চাশ হাজার মিসকাল স্বর্ণের বিনিময়ে কিতাবসমূহ কিনেছি।"

তিনি যখনই সফরে যেতেন, সাথে কিতাবের বিশাল বোঝা থাকতো। প্রতিটি যাত্রাবিরতিতে তিনি সেগুলোর অধিকাংশ বের করতেন, সেগুলো দেখতেন এবং যাত্রা শুরু করার সময় পুনরায় গুছিয়ে রাখতেন। একইভাবে তার প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল, কিন্তু তিনি তা এমন ব্যক্তিদের দান করতেন যারা অপচয় করে তা নিঃশেষ করে ফেলত, ফলে কখনও কখনও তিনি রিক্তহস্ত হয়ে পড়তেন এবং তার কিছু কিতাব বিক্রির প্রয়োজন হতো। এই কারণে তার ইন্তেকালের পর তেমন কিছু পাওয়া যায়নি যা তার সম্পর্কে ধারণা করা হতো।

তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার নিজ হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী (যাতে আমি অন্যদের থেকে প্রাপ্ত কিছু বিষয় যুক্ত করেছি) তার কিছু রচনা হলো: তাফসির শাস্ত্রে:

- বাসাইরু যাবিত তাময়ীয ফি লাতাইফিল কিতাবিল আযীয। দুই খণ্ড।

- তানভীরুল মিকইয়াস ফি তাফসীরি ইবনে আব্বাস। চার খণ্ড।

- তাইসীরু ফাতিহাতিল ইয়াব ফি তাফসীরি ফাতিহাতিল কিতাব। এক বিশাল খণ্ড।

- আদ-দুররুন নাযিম আল-মুরশিদ ইলা মাকাসিদিল কুরআনিল আযীম।

- হাসিলু কুরাতিল খালাস ফি ফাদাইলি সূরাতিল ইখলাস।

- শারহু খুতবাতিল কাশশাফ।

হাদিস ও ইতিহাস শাস্ত্রে:

- শওয়ারিকুল আসরারিল আলিয়্যাহ ফি শারহি মাশারিকিল আনওয়ারিন নাবাবিয়্যাহ। চার খণ্ড।

- মিনহুল বারী বিশ-শরহিল ফাসীহিল মাজারী ফি শারহি সহীহিল বুখারী। এর ইবাদত অধ্যায়ের এক-চতুর্থাংশই বিশ খণ্ডে সমাপ্ত। অনুমান করা হয় যে পুরো গ্রন্থটি চল্লিশ খণ্ডে হবে।

- উমদাতুল হুক্কাম ফি শারহি উমদাতিল আহকাম। দুই খণ্ড।

- ইমতিদাদুল হাদ ফি ইতিরাদিজ জিহাদ। এক খণ্ড।

- আল-ইস'আদ বিল-ইসফাদ ইলা দারাজাতিল জিহাদ। তিন খণ্ড।

- আন-নাফহাতুল আনবারিয়্যাহ ফি মাওলিদি খায়রিল বারিয়্যাহ।

- আস-সালাতু ওয়াল বাশার ফিস সালাতি আলা খায়রিল বাশার।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
- المني في فضل مني.

- المغانم المطابة في معالم طابة.

- مهيج الغرام إلى البلد الحرام.

- إثارة الحجون لزيارة الحجون، قال إنه عمله في ليلة، كما في خطبته.

- أحاسن اللطائف في محاسن الطائف.

- روضة الناظر في ترجمة الشيخ عبد القادر.

- المرقاة الوفية في طبقات الحنفية. أخذها من "بقات عبد القادر الحنفي".

- البلغة في تراجم أئمة النحاة واللغة.

- الفضل الوفي في العدل الأشرفي.

- نزهة الأذهان في تاريخ أصبهان. في مجلد.

- تعيين الغرفات للمعين على عين عرفات.

- منية السول في دعوات الرسول.

- التجاريح في فوائد متعلقة بأحاديث المصابيح.

- تسهيل طريق الوصول إلى الأحاديث الزائدة على جامع الأصول.

عمله وكذا:

- الأحاديث الضعيفة. وهو في مجلدات للناصر.

- كراسة في علم الحديث.

- الدر الغالي في الأحاديث العوالي.

- سفر السعادة.

- المتفق وضعا والمختلف صقعا.

وفي اللغة وغيرها.

- اللامع المعلم العجاب، الجامع بين المحكم والعباب، وزيادات امتلأ بها الوطاب، واعتلى منها الخطاب، ففاق كل مؤلف هذا الكتاب. يقدر تمامه في مائة
- মিনার ফজিলত বিষয়ে কাম্য বস্তু।

- মদিনার নিদর্শনাবলীতে পবিত্র অর্জনসমূহ।

- পবিত্র নগরীর প্রতি অনুরাগের উদ্দীপক।

- হাজুন জিয়ারতের উদ্দেশ্যে হাজুনের আলোচনা; তিনি বলেছেন যে, তিনি এটি এক রাতে রচনা করেছেন, যেমনটি তাঁর খুতবায় (ভূমিকায়) এসেছে।

- তায়েফের সৌন্দর্যে সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ।

- শেখ আব্দুল কাদিরের জীবনীতে দর্শকের উদ্যান।

- হানাফি ফকিহদের জীবনীতে পূর্ণাঙ্গ সোপান। তিনি এটি "আব্দুল কাদির হানাফির তবকাত" থেকে গ্রহণ করেছেন।

- ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ ইমামগণের জীবনীতে পর্যাপ্ত পাথেয়।

- আশরাফি ইনসাফে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা।

- আসফাহানের ইতিহাসে মেধার বিনোদন। এক খণ্ডে।

- আরাফাতের প্রস্রবণের সহায়তাকারীদের জন্য কক্ষ নির্ধারণ।

- রাসূলের দোয়াসমূহে প্রার্থনাকারীর প্রত্যাশা।

- মাসাবিহ-এর হাদিস সংশ্লিষ্ট ফায়দাসমূহে পর্যালোচনা।

- জামিউল উসুলের অতিরিক্ত হাদিসসমূহে পৌঁছানোর পথ সহজীকরণ।

এটি তাঁর কাজ এবং তদ্রূপ:

- দুর্বল হাদিসসমূহ। নাসিরের জন্য এটি কয়েক খণ্ডে।

- হাদিস শাস্ত্রের একটি পুস্তিকা।

- উচ্চ স্তরের হাদিসসমূহে মহামূল্যবান মুক্তা।

- সৌভাগ্যের সফর।

- লিখনে অভিন্ন ও অঞ্চলে ভিন্ন।

ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ে।

- বিস্ময়কর উজ্জ্বল গ্রন্থ, যা মুহকাম ও উবাব-এর সংকলন, এবং এমন সব বৃদ্ধিতে পূর্ণ যা দ্বারা জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ হয়েছে এবং বাগ্মিতা উচ্চ শিখরে পৌঁছেছে, ফলে এই কিতাবটি প্রতিটি রচনার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এর পূর্ণতা একশ খণ্ডে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
مجلد. كل مجلد يقرب من "صحاح الجوهري" في المقدار. رأيت بخطه أيضا أنه كمل منه مجاليد خمسة.

- القاموس المحيط والقابوس والوسيط، الجامع لما ذهب من لغة العرب شماطيط في جزأين ضخمين، وهو عديم النظير.

- مقصود ذوي الألباب في علم الإعراب. مجلد.

- تحبير الموشين فيما يقال بالسين والشين. أخذه عن البرهان الحلبي الحافظ ونقل عنه أنه تتبع أوهام "المجمل" لابن فارس في ألف موضع، مع تعظيمه لابن فارس وثنائه عليه.

- المثلث الكبير. في خمس مجلدات. والصغير.

- الروض المسلوف فيما له اسمان إلى ألوف.

- الدرر المبثثة في الغرر المثلثة.

- بلاغ التلقين في غرائب اللعين.

- تحفة القماعيل فيمن يسمى من الملائكة والناس إسماعيل.

- أسماء السراح في أسماء النكاح.

- أسماء الغادة في أسماء العادة.

- الجليس الأنيس في أسماء الخندريس. في مجلد.

- أنواء الغيث في أسماء الليث.

- أسماء الحمد.

- ترقيق الأسل في تصفيق العسل. في كراريس

- مزاد الزاد.

- زاد المعاد في وزن بانت سعاد. وشرحه في مجلد

- النخب الطرائف في النكت الشرائف.

إلى غيرها من مختصر ومطول.

قال التقى الكرماني: كان عديم النظير في زمانه نظما ونثرا بالفارسي
খণ্ড। প্রতিটি খণ্ড পরিমাণের দিক থেকে জওহরীর "সিহাহ" গ্রন্থের কাছাকাছি। আমি তাঁর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে এও দেখেছি যে, তিনি এর পাঁচটি খণ্ড সম্পন্ন করেছেন।

- আল-কামুস আল-মুহিত ওয়াল-কাবুস ওয়াল-ওয়াসিত; যা আরবী ভাষার বিলুপ্তপ্রায় ও বিক্ষিপ্ত শব্দাবলিকে একত্রিত করেছে। এটি দুই বিশাল খণ্ডে রচিত এবং এটি অনন্য ও অতুলনীয়।

- ই'রাব শাস্ত্রে বুদ্ধিমানদের উদ্দেশ্য (মাকসুদ যাউয়িল আলবাব ফী ইলমিল ই'রাব)। এক খণ্ড।

- সীন এবং শীন বর্ণের ব্যবহারিক বৈচিত্র্য বিষয়ক গ্রন্থ (তাহবীরুল মুশীন ফীমা ইয়ুকালু বিস-সীন ওয়াস-শীন)। তিনি এটি হাফেয বুরহান আল-হালাবী থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে ফারিসের "আল-মুজমাল" গ্রন্থের এক হাজারটি ভুল চিহ্নিত করেছেন, যদিও তিনি ইবনে ফারিসের প্রতি যথেষ্ট সম্মান ও প্রশংসা পোষণ করতেন।

- আল-মুসাল্লাস আল-কাবীর (বৃহৎ মুসাল্লাস); পাঁচ খণ্ডে। এবং আল-মুসাল্লাস আস-সাগীর (ক্ষুদ্র মুসাল্লাস)।

- আর-রাওযুল মাসলূফ; যার দুই থেকে হাজার পর্যন্ত নাম রয়েছে সে প্রসঙ্গে।

- আদ-দুরারুল মুবাসসাসাহ ফীল গুরারিল মুসাল্লাসাসাহ।

- বালাগুত তালকীন ফী গরাইবিল লাঈন।

- তুহফাতুল কামাঈল; ফেরেশতা ও মানুষের মধ্যে যাঁদের নাম ইসমাঈল রাখা হয়েছে তাঁদের বিষয়ে।

- আসমাউস সারাহ ফী আসমাইন নিকাহ।

- আসমাউল গাদাহ ফী আসমাউল আদাহ।

- আল-জালীসুল আনীস ফী আসমাইল খান্দারীস। এক খণ্ডে।

- আনওয়াউল গাইস ফী আসমাইল লাইস।

- আসমাউল হামদ।

- তারকীকুল আসাল ফী তাসফীকিল আসাল। কয়েক পুস্তিকায়।

- মাযাদুয যাদ।

- বানাত সুআদ-এর ছন্দে "যাদুল মাআদ"। এবং এক খণ্ডে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

- আন-নুখাবুত তরাইফ ফীন নুকাতিশ শরাইফ।

এ ছাড়াও ছোট-বড় আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

তাকী আল-কিরমানী বলেন: তিনি তাঁর সমসাময়িককালে ফারসী ভাষায় কাব্য ও গদ্য উভয় ক্ষেত্রেই অতুলনীয় ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
والعربي. جاب البلاد، وسار إلى الجبال والوهاد ورحل، وأطال النجعة، واجتمع بمشايخ كثيرة عزيزة، وعظم بالبلاد، أقام بدهلي مدة، وعظمه سلطانها وبالروم مدة، وبجله ملكها، وبفارس وغيرها، وورد بغداد في حدود سنة أربع وخمسين، واجتمع بوالدي، وقرأ عليه، ورحل معه إلى الشام، ثم إلى مصر، وسمعا بالقاهرة "الصحيح" على الفارقي، وفارقه والدي فحج ورجع إلى بغداد، وأقام المجد بالقاهرة مدة، ثم بالقدس، ثم بالشام، ثم جاور بمكة مدة عشر سنين أو أكثر، وصنف بها تصانيف، منها "شرح البخاري" سماه "منح الباري" وأظن أنه لم يكمل. و"القاموس" مطولا في مجلدات عديدة، ثم أمره والدي باختصاره فاختصره في مجلد ضخم وفيه فوائد عظيمة وفرائد كريمة، واعتراضات على الجوهري، وكان كثير الاعتناء بتصانيف الصغاني، ويمشي على نهجه، ويتبع طريقه، ويقتدي بصنيعه، حتى في المجاورة بمكة، وفي الجملة كان جملة حسنة. وفي الآخر ورد بغداد من مكة في حدود نيف وثمانين، واجتمع بوالدي أيضا، ثم ذهب إلى الهند. ثم رجع إلى مكة، وأقام بها مدة، ثم ورد بغداد سنة نيف وتسعين بعد وفاة والدي، ولازمته أيضا، واستفدت منه شيئا كثيرا، ثم سافر إلى بلاد فارس ثم رجع إلى مكة بعد أن اجتمع بتمرلنك في شيراز وعظمه وأكرمه، ووصله بنحو مائة ألف درهم. ثم توجه إلى مكة من طريق البحر، ثم دخل بلاد اليمن، وأقام بعدن وبتعز، وكان ملكه له يكرم ويعز1.

وقال الخزرجي في "تاريخ اليمن"2: إنه لم يزل في ازدياد من علوم الوجاهة والكانة ونفوذ الشفاعة والأوامر على قضاة الأمصار، ورام في سنة تسع وتسعين التوجه لمكة فكتب إلى السلطان ما مثاله:

--------------------------------------------

1 انتهت ترجمة الفيروزآبادي التي أوردها السخاوي في "الضوء اللامع".

2 الخزرجي: هو علي بن الحسن بن أبي بكر بن الحسن بن وهاس الخزرجي الزبيدي، مؤرخ وبحاثة من أهل زبيد. توفي سنة 812هـ. الضوء اللامع 5/ 210، وكتابه الذي ترجم فيه للفيروزآبادي هو "العقود اللؤلؤية في تاريخ الدولة الرسولية" ج2 / ص264 و278 و279.
...এবং আরবী। তিনি দেশ-বিদেশ পরিভ্রমণ করেছেন, পাহাড় ও উপত্যকা অতিক্রম করেছেন এবং দীর্ঘ সফর করেছেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন এবং বহু বরেণ্য ও মহান শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিভিন্ন দেশে তিনি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন। তিনি দিল্লিতে কিছুকাল অবস্থান করেন এবং সেখানকার সুলতান তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেন। রোম (আনাতোলিয়া) অঞ্চলেও তিনি কিছুকাল অবস্থান করেন এবং সেখানকার রাজা তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। এছাড়া পারস্য ও অন্যান্য স্থানেও তিনি অবস্থান করেছিলেন। তিনি আনুমানিক ৭৫৪ হিজরি সাল নাগাদ বাগদাদে আগমন করেন এবং আমার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি আমার পিতার সাথে সিরিয়ায় এবং পরবর্তীতে মিশরে সফর করেন। তাঁরা উভয়ে কায়রোতে আল-ফারিকীর নিকট 'সহীহ' (বুখারী) শ্রবণ করেন। অতঃপর আমার পিতা তাঁর থেকে বিদায় নিয়ে হজ পালন করেন এবং বাগদাদে ফিরে আসেন। আল-মাজদ (ফিরোজাবাদী) কায়রোতে কিছুকাল অবস্থান করেন, অতঃপর জেরুজালেমে, তারপর সিরিয়ায়। এরপর তিনি মক্কায় প্রায় দশ বছর বা তারও বেশি সময় অবস্থান করেন এবং সেখানে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে 'সহীহ বুখারী'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম দিয়েছেন 'মিনহুল বারী'; আমার ধারণা এটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এছাড়া তিনি 'আল-কামূস' গ্রন্থটি বিস্তারিতভাবে বহু খণ্ডে লিখেছিলেন, পরবর্তীতে আমার পিতা তাঁকে এটি সংক্ষেপ করার নির্দেশ দিলে তিনি তা একটি বিশাল খণ্ডে সংক্ষেপ করেন। এতে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা, বিরল জ্ঞানতত্ত্ব এবং আল-জাওহারীর ওপর বিভিন্ন তাত্ত্বিক আপত্তি বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আস-সাগানীর রচনাবলির প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, তাঁরই পদ্ধতি ও পথ অনুসরণ করতেন এবং তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন, এমনকি মক্কায় অবস্থানের ক্ষেত্রেও। সারকথা, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত গুণী ব্যক্তিত্ব। পরিশেষে তিনি সত্তর হিজরির পরবর্তী আশি (৭৮০) এর দশকের কাছাকাছি সময়ে মক্কা থেকে বাগদাদে আসেন এবং পুনরায় আমার পিতার সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি ভারতে যান। পুনরায় মক্কায় ফিরে আসেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন। অতঃপর আমার পিতার ইন্তেকালের পর ৯০ (৭৯০) এর দশকের দিকে তিনি পুনরায় বাগদাদে আগমন করেন এবং আমিও তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছি ও তাঁর থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি। এরপর তিনি পারস্য দেশে ভ্রমণ করেন এবং শিরাজ শহরে তৈমুর লঙের সাথে সাক্ষাৎ করার পর পুনরায় মক্কায় ফিরে যান। তৈমুর লঙ তাঁকে অনেক সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেন এবং প্রায় এক লক্ষ দিরহাম উপহার দেন। এরপর তিনি সমুদ্রপথে মক্কার দিকে রওনা হন, অতঃপর ইয়েমেনে প্রবেশ করেন এবং এডেন ও তা'ইজ শহরে অবস্থান করেন। সেখানকার রাজা তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন১।

আল-খাজরাজী 'তারীখে ইয়ামান'২ গ্রন্থে বলেন: তিনি সর্বদা ইলম, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং বিভিন্ন শহরের কাজীদের ওপর তাঁর সুপারিশ ও নির্দেশের কার্যকারিতার দিক থেকে উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করতে থাকেন। ৭৯৯ হিজরি সালে তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং সুলতানের নিকট একটি পত্র লেখেন যার নমুনা নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

১ সাখাবী কর্তৃক 'আদ-দাওউল লামি' গ্রন্থে বর্ণিত ফিরোজাবাদীর জীবনী এখানেই সমাপ্ত হয়েছে।

২ খাজরাজী: তিনি হলেন আলী বিন হাসান বিন আবু বকর বিন হাসান বিন ওয়াহাস আল-খাজরাজী আজ-জাবিদী। তিনি জাবিদ শহরের একজন ঐতিহাসিক ও গবেষক। তিনি ৮১২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। 'আদ-দাওউল লামি' ৫/২১০। তাঁর যে গ্রন্থে ফিরোজাবাদীর জীবনী বর্ণিত হয়েছে তা হলো 'আল-উকূদুল লু'লুইয়্যাহ ফী তারীখিদ দাওলাতির রাসূলিয়্যাহ', ২য় খণ্ড, ২৬৪, ২৭৮ ও ২৭৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
ومما ينهيه إلى العلوم الشريفة أنه غير خاف عليكم ضعف أقل العبيد، ورقة جسمه، ودقة بنيته، وعلو سنه وقد آل أمره إلى أن صار كالمسافر الذي تحزم وانتقل إذ وهن العظم، بل والرأس يشتعل، وتضعضع السن، وتقعقع الشن، فما هو إلا عظام في جراب، وبنيان مشرف على خراب، وقد ناهز العشر التي تسميها العرب دقاقة الرقاب، وقد مر على المسامع الشريفة غير مرة في صحيح البخاري قول سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا بلغ المرء ستين سنة فقد أعذر الله إليه". فكيف من نيف على السبعين. وأشرف على الثمانين؟ ولا يجمل بالمؤمن أن تمضي عليه أربع سنين ولا يتجدد له شوق وعزم إلى بيت رب العالمين وزيارة سيد المرسلين وقد ثبت في الحديث النبوي ذلك، وأقل العبيد له ست سنين عن تلك المسالك وقد غلب عليه الشوق حتى جل عمره عن الطوق، ومن أقصى أمنيته أن يجدد العهد بتلك المعاهد ويفوز مرة أخرى بتقبيل تلك المشاهد، وسؤاله من المراحم الحسنية الصدقة عليه بتجهيزه في هذه الأيام مجردا عن الأهالي والأقوام قبل اشتداد الحر، وغلبة الأوام. فإن الفضل أطيب والريح أزيب1، ومن الممكن أن يفوز الإنسان بإقامة شهر في كل حرم. وسيحظى بالتملي من مهابط الرحمة والكرم، وأيضا كان من عادة الخلفاء سلفا وخلفا أنهم كانوا يبردون البريد عمدا قصدا لتبليغ سلامهم إلى حضره سيد المرسلين، صلوات الله وسلامه عليه مددا، فاجعلني، جعلني الله فداك، ذاك البريد فلا أتمنى شيئا سواه ولا أريد:

شوقي إلى الكعبة الغراء قد زادا … فاستحمل القلص الوجادة الزادا

واستأذن الملك المنعام زيد على … واستودع الله أصحابا وأولادا

فلما وصل هذا إلى السلطان، كتب في طرة الكتاب ما مثاله:

"صدر الجمال المصري على لسان ما يحققه لك شفاها. إن هذا شيء لا ينطق به لساني، ولا يجري به قلمي، فقد كانت اليمن عمياء فاستنارت، فكيف

--------------------------------------------

1 أي أنشط.
আপনাদের মহান জ্ঞানের গোচরীভূত করা হচ্ছে যে, এই নগণ্য দাসের দুর্বলতা, শরীরের কৃশতা, শারীরিক কাঠামোর ভঙ্গুরতা এবং বার্ধক্যের আধিক্য আপনাদের নিকট অবিদিত নয়। তার অবস্থা এখন এমন এক মুসাফিরের ন্যায় হয়েছে যে তার আসবাবপত্র গুছিয়ে প্রস্থান করেছে; কেননা হাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে, বরং মাথার চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে, বার্ধক্য তাকে জীর্ণ করে দিয়েছে এবং শরীর শিথিল হয়ে পড়েছে। সে এখন থলের ভেতর রাখা কিছু হাড়ের সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়, যেন এক ধ্বংসোন্মুখ অট্টালিকা। সে এখন সেই দশকের কাছাকাছি পৌঁছেছে যাকে আরবরা ‘ঘাড় মটকানো’ দশক বলে অভিহিত করে। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী আপনাদের মহান শ্রবণে বারবার পৌঁছেছে যে: “যখন কোনো ব্যক্তি ষাট বছরে পৌঁছায়, তখন আল্লাহ তার ওজরের পথ বন্ধ করে দেন (অর্থাৎ তার জন্য অজুহাত পেশ করার সুযোগ রাখেন না)।” তবে সত্তরোর্ধ্ব এবং আশির কাছাকাছি ব্যক্তির অবস্থা কী হতে পারে? কোনো মুমিনের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে তার জীবনের চারটি বছর অতিবাহিত হয়ে যাবে অথচ রাব্বুল আলামীনের ঘরের প্রতি এবং সাইয়িদুল মুরসালিনের যিয়ারতের জন্য তার মনে নতুন কোনো ব্যাকুলতা বা সংকল্প জাগ্রত হবে না। হাদীস শরীফেও এর প্রমাণ রয়েছে। এই নগণ্য দাস সেই পবিত্র পথগুলো থেকে ছয় বছর ধরে বিচ্ছিন্ন। তার ওপর ব্যাকুলতা এতটাই প্রবল হয়েছে যে তার জীবন শক্তি এখন সহ্যের অতীত। তার পরম আকাঙ্ক্ষা হলো সেই পবিত্র স্থানগুলোর সাথে পুনরায় অঙ্গীকার নবায়ন করা এবং আরও একবার সেই বরকতময় স্থানগুলো চুম্বনের সৌভাগ্য লাভ করা। দয়ালু মহানুভবদের প্রতি তার আরজি হলো, এই দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন ও গোত্র ছাড়াই তাকে সফরের সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করে দেওয়ার সদকা করা হোক, যেন প্রচণ্ড গরম ও তীব্র পিপাসা শুরু হওয়ার আগেই সে যাত্রা করতে পারে। কেননা এই সময়টি অত্যন্ত অনুকূল এবং পরিবেশ সহায়ক। একজন মানুষের পক্ষে প্রতিটি হারামে এক মাস করে অবস্থান করার সৌভাগ্য লাভ করা সম্ভব। সে রহমত ও করুণা নাজিলের স্থানগুলো দুচোখ ভরে দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া পূর্বসূরী ও উত্তরসূরী খলিফাদের রীতি ছিল যে, তারা সাইয়িদুল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দরবারে সালাম পৌঁছানোর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বার্তাবাহক পাঠাতেন। সুতরাং আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আমাকেই সেই বার্তাবাহক বানিয়ে দিন; এ ছাড়া আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই এবং আমি অন্য কিছু চাইও না:

উজ্জ্বল কাবার প্রতি আমার ব্যাকুলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে … তাই দ্রুতগামী উটগুলো যেন পাথেয় বহন করে নিয়ে চলে।

আর মহান দাতা বাদশাহর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করছি … এবং বন্ধু ও সন্তানদের আল্লাহর নিকট আমানত হিসেবে সঁপে দিচ্ছি।

যখন এই পত্রটি সুলতানের নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি পত্রের এক প্রান্তে এই মর্মে লিখলেন:

“জামাল মিসরী মৌখিকভাবে আপনার নিকট যা ব্যক্ত করবেন তা সত্য। এটি এমন এক বিষয় যা আমার জিহ্বা উচ্চারণ করতে পারছে না এবং আমার কলমও তা লিখতে সক্ষম হচ্ছে না। ইয়ামেন তো অন্ধ ছিল, অতঃপর তা আলোকিত হয়েছে; এমতাবস্থায়...

--------------------------------------------

১. অর্থাৎ অধিকতর উদ্যমী।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
يمكن أن تتقدم؟ وأنت تعلم أن الله تعالى قد أحيا بك ما كان ميتا من العلم. فبالله عليك إلا ما وهبت لنا بقية هذا العمر، والله يا مجد الدين، يمينا بارة إني أري فراق الدنيا ولا أرى فراقك. أنت اليمن وأهله".

وذكره التقي الفاسي1 فقال: وكانت له بالحديث عناية غير قوية وكذا بالفقه وله تحصيل في فنون العلم، سيما اللغة، فله فيها اليد الطولي، وألف فيها تواليف حسنة، منها القاموس، ولا نظير له في كتب اللغة، لكثرة ما حواه من الزيادات على الكتب المعتمدة، كالصحاح.

قلت: وقد يمز فيه زياداته عليه، فكانت غاية في الكثرة بحيث لو أفردت لجاءت قدر الصحاح أو أكثر في عدد الكلمات، وأما ما نبه عليه من أوهامه فشيء كثير أشار إليه في الهامش بصفر، وأعراه من الشواهد اختصارا. ونبه في خطبته على الاكتفاء عن قوله "معروف" بحرف الميم، وعن "موضع" بالعين، وعن "الجمع" بالجيم، وعن "جمع الجمع" بجج، وعن "القرية" بالهاء، وعن "البلد" بالدال، وضبط ذلك بالنظم بعضهم، بل أثنى على الكتاب الأئمة نظما ونثرا، وتعرض فيه لأكثر ألفاظ الحديث والرواة، ووقع له في ضبط كثيرين خطأ، فإنه -كما قال التقي الفاسي في ذيل التقييد- لم يكن بالماهر في الصنعة الحديثية، وله فيما يكتبه من الأسانيد أوهام، وأما شرحه على "البخاري" فقد ملأه بغرائب المنقولات، سيما أنه لما اشتهرت باليمن مقالة ابن عربي، وغلبت على علماء تلك البلاد وصار يدخل في شرحه من "قبوحاته الهلكية"2 ما كان سببا لشين الكتاب المذكور.

ولذا قال شيخنا3 إنه رأي القطعة التي كملت منه في حياة مؤلفه، وقد أكتلها

--------------------------------------------

1 هو تقي الدين محمد بن أحمد بن على الفاسي المتوفى سنة 832 هـ، وكتابه الذي ذكر فيه الفيروزآبادي هو "العقد الثمين في تاريخ البلد الأمين" ج2 397.

2 المراد كتابه "الفتوحات المكية".

3 أي ابن حجر العسقلاني
আপনি কি সামনে এগিয়ে যেতে পারেন? আপনি জানেন যে আল্লাহ তাআলা আপনার মাধ্যমে ইলমের সেই অংশকে জীবিত করেছেন যা মৃতপ্রায় ছিল। আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনার জীবনের বাকি সময়টুকু আমাদের জন্য দান করুন। হে মাজদুদ্দীন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি দুনিয়া ত্যাগ করাকে সহজ মনে করি কিন্তু আপনার বিচ্ছেদ নয়। আপনি তো ইয়েমেন এবং তার অধিবাসীদের জন্য বরকত।"

তাকী আল-ফাসী তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: হাদীস শাস্ত্রের প্রতি তাঁর মনোযোগ খুব একটা প্রবল ছিল না, ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও তাই। তবে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর ব্যুৎপত্তি ছিল, বিশেষ করে আরবী ভাষায় তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। তিনি এতে অত্যন্ত চমৎকার সব কিতাব রচনা করেছেন, যার অন্যতম হলো 'আল-قاموس' (আল-কামুস)। ভাষার কিতাবসমূহের মাঝে এর কোনো নজির নেই, কারণ এতে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ—যেমন 'আস-সিহাহ'—এর তুলনায় অনেক বেশি তথ্য সংযোজিত হয়েছে।

আমি বলছি: তিনি এতে তাঁর অতিরিক্ত সংযোজনসমূহকে পৃথক করেছেন, যা পরিমাণে এতো বেশি ছিল যে, যদি সেগুলোকে আলাদা করা হতো তবে শব্দের সংখ্যার দিক থেকে তা 'আস-সিহাহ'-এর সমান বা তার চেয়েও বেশি হতো। আর তাঁর যে সকল ভুলের ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেছেন, তা সংখ্যায় অনেক। তিনি টীকাতে 'শূন্য' (০) চিহ্ন দিয়ে সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তিনি এটিকে কাব্যিক উদাহরণ বা প্রমাণাদি থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন যে, 'মা'রুফ' (পরিচিত) শব্দের পরিবর্তে 'মীম' অক্ষর, 'মাওদি' (স্থান) এর পরিবর্তে 'আইন', 'জামউ' (বহুবচন) এর পরিবর্তে 'জীম', 'জামউল জামউ' (বহুবচনের বহুবচন) এর পরিবর্তে 'জিম-জিম', 'কারয়াহ' (গ্রাম) এর পরিবর্তে 'হা' এবং 'বালাদ' (শহর) এর পরিবর্তে 'দাল' অক্ষর ব্যবহার করাই যথেষ্ট মনে করেছেন। কেউ কেউ এগুলোকে পদ্যের মাধ্যমে সুবিন্যস্ত করেছেন। বরং ইমামগণ গদ্যে ও পদ্যে এই কিতাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এতে তিনি হাদীসের অধিকাংশ শব্দ এবং বর্ণনাকারীদের প্রসঙ্গ এনেছেন, তবে অনেকের নাম বা শব্দ নির্ধারণে তিনি ভুল করেছেন। কারণ—যেমনটি তাকী আল-ফাসী 'যাইলুত তাকয়ীদ'-এ বলেছেন—তিনি হাদীস শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন না। তাঁর লিখিত সনদগুলোতেও কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। আর 'বুখারী'র ওপর তাঁর যে ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, তা তিনি বিরল ও অদ্ভুত সব বর্ণনা দ্বারা পূর্ণ করেছেন; বিশেষ করে যখন ইয়েমেনে ইবনে আরাবীর মতবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই অঞ্চলের আলেমদের ওপর তা প্রবল হয়েছিল। তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে আরাবীর সেই 'ধ্বংসাত্মক কদর্য বিষয়সমূহ' অন্তর্ভুক্ত করতে থাকেন, যা উক্ত কিতাবটির মান ক্ষুণ্ন করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এ কারণেই আমাদের শাইখ বলেছেন যে, তিনি এর সেই অংশটি দেখেছেন যা লেখকের জীবদ্দশায় পূর্ণ হয়েছিল এবং তিনি তা সম্পন্ন করেছিলেন।

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন তাকীউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-ফাসী, মৃত্যু ৮৩২ হিজরী। তাঁর কিতাব যাতে তিনি ফায়রূযাবাদীর উল্লেখ করেছেন তা হলো "আল-ইকদুত সামীন ফী তারীখিল বালাদিল আমীন" খণ্ড ২, পৃ. ৩৯৭।

২. এর দ্বারা তাঁর কিতাব "আল-ফুতুহাতুল মাক্কিয়্যাহ" বোঝানো হয়েছে।

৩. অর্থাৎ ইবনে হাজার আল-আসকালানী।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الأرضة بكمالها، بحيث لا يقدر على قراءة شيء منها قال1:

ولم أكن أتهمه بالمقالة المذكورة، إلا أنه كان يحب المداراة، ولقد أظهر لي إنكارها والغض منها2.

ثم ذكر الفاسي أنه ذكر أنه ألف شرح الفاتحة في ليلة واحدة، فكأنه غير المشار إليه. وكذا ألف "ترقيق الأسل" في ليلة عندما سأله بعضهم عن العسل، هل هو قيء النحلة أو خرؤها؟ فكأنه غير المتداول، لكونه في نحو نصف مجلد وأنه وقف على مؤلفه على علم الحديث بخطه، وأنه ذكر في مؤلفه في فضل الحجون من دفن فيه من الصحابة، مع كونهم لم يصرح في تراجمهم من كتب الصحابة بذلك، بل وما رأيت وفاة كلهم بمكة، فإن كان في دفنهم به قول من قال إنهم نزلوا مكة فذلك غير لازم، لكونهم كانوا يدفنون في أماكن متعددة.

وقال أيضا: إن الناس استغربوا منه انتسابه للشيخ أبي إسحاق، وكذا لأبي بكر الصديق.

ولذا قال شيخنا3: لم أزل أسمع مشايخنا يطعنون في انتسابه إلى الشيخ أبي إسحاق مستندين إلى أن أبا إسحاق لم يعقب.

قال: ثم ارتقى درجة فادعى، بعد أن ولي القضاء باليمن بمدة طويلة أنه من ذرية أبي بكر الصديق، وصار يكتب بخطه "محمد الصديقي". ولم يكن مدفوعا عن معرفة، إلا أن النفس تأبى قبول ذلك.

وقال الجمال الخياط فيما نقله عن خط الذهبي في الشيخ أبي إسحاق إنه لم

--------------------------------------------

1 هذا مضمون كلام ابن حجر.

2 جري بين أبي بكر بن محمد بن صالح الجبلي التعزي اليماني المتوفى سنة 811هـ وبين الفيروزآبادي مراجعات بسبب إنكار الأول على المشتغلين بكتب ابن عربي، وصنف في المنع جزءا رد عليه الفيروزآبادي تعصبا مع صوفية زبيد. الضوء اللامع 11/ 78، 79. ولعل هذا الرد هو الرسالة التي صنفها الفيروزآبادي في الانتصار لابن عربي صاحب الفتوحات المكية الموجودة في دار الكتب الظاهرية بدمشق.

3 هو محمد بن عبد الله بن ظهيرة، المتوفى سنة 817هـ. ترجمته في الضوء اللامع 8/ 94-97
উঁইপোকা পুরোপুরি (খেয়ে ফেলেছে), যার ফলে এর কিছুই পাঠ করা সম্ভব নয়। তিনি বললেন ১:

আমি তাকে উল্লেখিত মতবাদের জন্য অভিযুক্ত করতাম না, তবে তিনি মোলায়েম আচরণ বা কৌশল পছন্দ করতেন। তিনি আমার কাছে তা অস্বীকার করেছেন এবং এর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন ২।

এরপর ফাসি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (সেই ব্যক্তি) সূরা ফাতিহার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ এক রাতেই রচনা করেছিলেন বলে বর্ণিত হয়েছে, তবে মনে হয় এটি সেই নির্দেশিত কিতাবটি নয়। একইভাবে তিনি "তারকীকুল আসাল" এক রাতে রচনা করেছিলেন যখন তাকে কেউ মধু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এটি কি মৌমাছির বমি নাকি মল? মনে হয় এটি প্রচলিত কিতাবটি নয়, কারণ এটি প্রায় অর্ধেক খণ্ডব্যাপী এবং তিনি তার নিজের হাতের লেখায় হাদিস শাস্ত্রের উপর তার একটি রচনার সন্ধান পেয়েছেন। সেখানে তিনি হাজুন (মক্কার একটি কবরস্থান)-এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, সেখানে কোন কোন সাহাবী সমাহিত হয়েছেন, যদিও সাহাবীদের জীবনীর কিতাবসমূহে তাদের জীবনীতে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ নেই। বরং আমি তাদের সবার মৃত্যু মক্কায় হতেও দেখিনি। যদি তাদের সেখানে দাফন করার ব্যাপারে কারও বক্তব্য থাকে যে তারা মক্কায় এসেছিলেন, তবে তা আবশ্যক নয়; কারণ তারা বিভিন্ন স্থানে সমাহিত হতেন।

তিনি আরও বলেন: লোকেরা শায়খ আবু ইসহাকের সাথে এবং একইভাবে আবু বকর সিদ্দিকের সাথে তার বংশীয় সম্পর্কের দাবিতে বিস্মিত হয়েছিল।

একারণেই আমাদের শায়খ ৩ বলেছেন: আমি সর্বদা আমাদের মাশায়েখদের থেকে শায়খ আবু ইসহাকের সাথে তার বংশীয় সম্পর্কের ব্যাপারে আপত্তি করতে শুনেছি। তাদের যুক্তি হলো আবু ইসহাকের কোনো বংশধর ছিল না।

তিনি বলেন: এরপর তিনি আরও এক ধাপ উপরে উঠে দাবি করলেন—ইয়েমেনে বিচারপতির পদে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালনের পর—যে তিনি আবু বকর সিদ্দিকের বংশধর এবং তিনি নিজের হাতে "মুহাম্মদ আস-সিদ্দিকী" লিখতে শুরু করলেন। এটা কেবল জ্ঞানের অভাবের কারণে ছিল না, বরং মন এটা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

জামাল আল-খাইয়্যাত শায়খ আবু ইসহাক সম্পর্কে যাহাবীর হস্তলিপি থেকে যা নকল করেছেন তাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি...

--------------------------------------------

১ এটি ইবনে হাজারের বক্তব্যের সারমর্ম।

২ আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-জাবালি আত-তা’যযি আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ৮১১ হিজরি) এবং আল-ফিরোজাবাদীর মধ্যে কিছু বিতর্ক হয়েছিল। কারণ প্রথমজন ইবনে আরবির কিতাব পাঠে রতদের বিরোধিতা করতেন। তিনি এই বিরোধিতায় একটি পুস্তিকা রচনা করেন, যার উত্তরে ফিরোজাবাদী জাবিদের সুফিদের পক্ষাবলম্বন করে উত্তর দেন। আদ-দাও আল-লামি ১১/৭৮, ৭৯। সম্ভবত এই উত্তরটিই হলো সেই রিসালা যা ফিরোজাবাদী 'ফুতুহাতে মাক্কিয়া'র লেখক ইবনে আরবির সমর্থনে লিখেছিলেন, যা দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

৩ তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুহাইরা, মৃত্যু ৮১৭ হিজরি। তার জীবনী আদ-দাও আল-লামি ৮/৯৪-৯৭ তে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
يتأهل ظنا، وكذا أنكر عليه غيره تصديقه بوجود رتن الهندي، وإنكاره قول الذهبي في "الميزان"1 إنه لا وجود له، ويقول: إنه دخل قريته ورأى ذريته، وهم مطبقون على تصديقه.

قال الفاسي: وله شعر كثير، في بعض قلق لجلبه فيه ألفاظا لغوية عويصة ونثره أعلى. وكان كثير الاستحضار لمستحسنات من الشعر والحكايات، وله خط جيد مع الإسراع، وسرعة حفظ.

بلغني عنه أنه قال: ما كنت أنام حتى أحفظ مائتي سطر، وقال: إن أول قدومه مكة -فيما أعلم- سنة ستين، ثم في سنة سبعين، وأقام بها خمس سنين أو ستا متوالية، وتكرر قدومه لها، وارتحل منها إلى الطائف، وكان له فيه بستان، وكذا أنشأ بمكة دارا على الصفا، عملها مدرسة للأشراف صاحب اليمن وقرر بهما مدرسين وطلبة، وفعل بالمدينة كذلك، ثم أعرض عن ذلك بعد موت الأشرف، وله بمنى دور وغيرها دور، وحدث بالكثير من تصانيفه ومروياته.

سمع منه الجمال بن ظهيرة، وروى عنه في حياته، ومات قبله بشهر.

وترجمه الصلاح الأقفهسي في "معجم الجمال"2 بقوله: كتب عنه الصلاح الصفدي، وبالغ في الثناء عليه، وجال في البلاد، ولقي الملوك والأكابر، ونال وجاهة ورفعة، وصنف التصانيف السائرة كالقاموس وغيره وولى قضاء الأقضية ببلاد اليمن، وقدم بمكة، وجاور بها مدة، وابتنى بها دارا.

وطول المقريزي في "عقوده" ترجمته3 وقال: إن آخر ما اجتمعت به في مكة

--------------------------------------------

1 أي كتابه ميزان الاعتدال في نقد الرجال، ج2 45.

2 الصلاح الأقفهسي: هو خليل بن محمد بن محمد بن عبد الرحيم، صلاح الدين الأقفهسي، المتوفى سنة 820هـ -أو 821هـ- صنف معجما لجمال الدين محمد بن عبد الله بن ظهيرة، المذكور في الحاشية السابقة. الضوء اللامع 3/ 202.

3 لأحمد بن علي المقريزي المؤرخ الشهير، المتوفى سنة 845هـ كتاب "درر العقود الفريدة في تراجم الأعيان المفيدة" صدر عن وزارة الثقافة بدمشق قطعة منه في جزأين بتحقيق محمد المصري محقق كتاب "البلغة" والدكتور عدنان درويش، والقطعة ليس فيها تراجم المحمدين.
তিনি ধারণা বশত যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন, একইভাবে অন্যান্যরা তার রতন আল-হিন্দির অস্তিত্বকে বিশ্বাস করা এবং "আল-মিজান"১ গ্রন্থে আয-যাহাবীর এই বক্তব্যকে অস্বীকার করার সমালোচনা করেছেন যে তার (রতনের) কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন: তিনি তার (রতনের) গ্রামে প্রবেশ করেছেন এবং তার বংশধরদের দেখেছেন, আর তারা তার সত্যতার ব্যাপারে একমত।

আল-ফাসি বলেন: তার প্রচুর কবিতা রয়েছে, যার কিছু কিছুতে জটিল ভাষাগত শব্দের ব্যবহারের কারণে কিছুটা অসংলগ্নতা রয়েছে, তবে তার গদ্য অধিকতর উচ্চমানের। তিনি চমৎকার কবিতা ও কিচ্ছা-কাহিনী স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। দ্রুত লেখার পাশাপাশি তার হস্তাক্ষর ছিল সুন্দর এবং মুখস্থ করার ক্ষমতা ছিল প্রখর।

তার সম্পর্কে আমার নিকট পৌঁছেছে যে তিনি বলতেন: আমি দুইশত লাইন মুখস্থ না করা পর্যন্ত ঘুমাতাম না। তিনি আরও বলেন: আমার জানামতে তার মক্কায় প্রথম আগমন ঘটেছিল ষাট (৭৬০ হি.) সালে, অতঃপর সত্তর (৭৭০ হি.) সালে। তিনি সেখানে টানা পাঁচ বা ছয় বছর অবস্থান করেন। সেখানে তার বারবার যাতায়াত ছিল। তিনি সেখান থেকে তায়েফে পাড়ি জমান এবং সেখানে তার একটি বাগান ছিল। একইভাবে তিনি মক্কার সাফা পাহাড়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন, যা তিনি ইয়েমেনের বাদশাহ আল-আশরাফের জন্য মাদ্রাসা হিসেবে তৈরি করেছিলেন এবং সেখানে শিক্ষক ও ছাত্রদের নিযুক্ত করেছিলেন। মদিনাতেও তিনি অনুরূপ করেছিলেন। আল-আশরাফের মৃত্যুর পর তিনি এসব থেকে বিমুখ হন। মিনায় তার একাধিক বাড়ি এবং অন্যত্রও ঘরবাড়ি ছিল। তিনি তার অনেক রচনা ও বর্ণিত বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন।

আল-জামাল বিন জুহাইরাহ তার নিকট থেকে শুনেছেন এবং তার জীবদ্দশায় তার থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি তার এক মাস আগে ইন্তেকাল করেন।

আস-সালাহ আল-আকফাহসি "মু'জাম আল-জামাল"২ গ্রন্থে তার জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আস-সালাহ আস-সাফাদি তার নিকট থেকে লিখেছেন এবং তার অতিশয় প্রশংসা করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং রাজা-বাদশাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান লাভ করেছিলেন। তিনি আল-কামুস সহ অন্যান্য মশহুর কিতাব রচনা করেছেন। তিনি ইয়েমেনে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মক্কায় আগমন করেন এবং সেখানে বেশ কিছুকাল অবস্থান করেন এবং সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন।

আল-মাকরিজি তার "উকুদ"৩ গ্রন্থে তার জীবনী দীর্ঘায়িত করেছেন এবং বলেছেন: মক্কায় তার সাথে আমার শেষ সাক্ষাতের বিষয়টি ছিল

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ তার কিতাব মিযানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫।

২ আস-সালাহ আল-আকফাহসি: তিনি হলেন খলিল বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম, সালাহউদ্দীন আল-আকফাহসি, যিনি ৮২০ হিজরি—অথবা ৮২১ হিজরি—সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জামালউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুহাইরাহর জন্য একটি মু'জাম সংকলন করেন, যার উল্লেখ পূর্ববর্তী টীকায় রয়েছে। আদ-দউ আল-লামি ৩/২০২।

৩ বিখ্যাত ঐতিহাসিক আহমদ বিন আলী আল-মাকরিজির জন্য, যিনি ৮৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তার রচিত "দুরারুল উকুদিল ফারিদাহ ফি তারাজিমিল আয়ানিল মুফিদাহ" গ্রন্থটি। দামেস্কের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এর একটি অংশ দুই খণ্ডে মুহাম্মদ আল-মাসরি—যিনি "আল-বুলগাহ" কিতাবের মুহাক্কিক—এবং ডক্টর আদনান দারউইশের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই অংশে 'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিদের জীবনী নেই।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
سنة تسعين، وقرأت عليه بعض مصنفاته، وناولني قاموسه، وأجازني، وأفادني.

وكذا لقيه شيخنا بزبيد في سنة ثمانمائة، وتناول منه أكثر "القاموس"، وقرأ عليه وسمع منه أشياء، وأورده في "معجمه"1 و"إنبائه"2، وقرض لشيخنا تعليق التعليق وعظمه جدا، والتقى الفاسي، وقرأ عليه أشياء، وأورده في "تاريخ مكة" و"ذيل التقييد"3. والبرهان الحلبي أخذ عنه "تحبير الموشين" في آخرين ممن أخذت عنهم كالموفق الأبي، والتقي ابن الفهد، وأرجو إن تأخر الزمان يكون آخر أصحابه موتا على رأس القرن العاشر.

وممن ترجمه ابن خطيب الناصرية4، لكن باختصار جدا، والتقي ابن قاضي شهبة5 وغيرهما.

مات، وقد متع بسمعه وحواسه في ليلة عشرى شوال سنة سبع عشرة بزبيد،

--------------------------------------------

1 اسم الكتاب: "المعجم المؤسس للمعجم المفهرس" في تراجم الرجال أيضا. ترجمة الفيروزآبادي فيه موجزة في الصفحتين 286 و287 من نسخة مخطوطة في مكتبة الأوقاف بحلب وقد نقلت مؤخرا إلى مكتبة الأسد بدمشق.

2 اسم الكتاب: "إنباء العمر بأبناء الغمر" مطبوع. وجاءت ترجمة الفيروزآبادي في ج2 159.

3 التقييد: هو كتاب "التقييد لمعرفة الرواة والسنن والمسانيد" لابن نقطة محمد بن عبد الغني، المتوفى سنة 629هـ. وفيات الأعيان 1/ 520. ذيل عليه تقي الدين الفاسي المذكور قبلا.

4 في كتابه "الدر المنتخب في تاريخ مملكة حلب" ج2/ 362 مخطوطة حلب، التي نقلت مؤخرا إلى مكتبة الأسد بدمشق.

5 لتقي الدين، أبي بكر بن قاضي شهبة، المتوفى سنة 851هـ تاريخ كبير ذيل على تواريخ ابن كثير والذهبي والبرازلي. قال عنه ابنه بدر الدين محمد بن أبي بكر قاضي شهبة، المتوفى سنة 874هـ "كتب منه خمس مجلدات ضخمة إلى سنة عشر وثمانمائة وكتب كراريس متفرقة من ذلك نحو مجلدة إلى سنة وفاته "أي سنة 851" لكن فقد من ذلك كراريس لم نجدها بعد وفاته، ثم اختصر هذا الذيل فكتب منه مجلدين إلى سنة ثمان وثمانمئة، وكتب منه كراريس بعد ذلك، ولو تمت كان مجلدة أخرى، ترجمة تقي الدين بن قاضي شهبة بقلم ابن بدر الدين. تحقيق الدكتور عدنان درويش. مجلة مجمع اللغة العربية بدمشق. المجلد 58 الجزء 3 الصفحة 438.
নব্বই সালে আমি তাঁর নিকট তাঁর কিছু গ্রন্থ পাঠ করেছি, তিনি আমাকে তাঁর 'কামূস' প্রদান করেছেন, আমাকে ইজাযত দিয়েছেন এবং আমাকে উপকৃত করেছেন।

একইভাবে আমাদের শায়খ আটশত হিজরি সালে যাবীদে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে 'কামূস'-এর অধিকাংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর নিকট পাঠ করেছেন এবং তাঁর থেকে অনেক কিছু শ্রবণ করেছেন। তিনি (শায়খ) তাঁকে তাঁর 'মু'জাম' ১ এবং 'ইনবা' ২ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি আমাদের শায়খের 'তা'লীকুত তা'লীক' গ্রন্থের ওপর অভিমত লিখেছেন এবং এর অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন। আল-ফাসীও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তাঁর নিকট কিছু বিষয় পাঠ করেছেন এবং তাঁকে তাঁর 'তারীখে মক্কা' ও 'যাইলুত তাকয়ীদ' ৩ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বুরহান আল-হালাবী তাঁর নিকট থেকে 'তাহবীরুল মুওয়াশশীন' গ্রহণ করেছেন; এছাড়া আরও অনেকের সাথে যাঁদের কাছ থেকে আমি শিক্ষা গ্রহণ করেছি, যেমন আল-মুওয়াফফাক আল-উবী এবং আত-তাকী ইবনু ফাহাদ। আমি আশা করি যে, সময় যদি দীর্ঘ হয়, তবে দশম শতাব্দীর শুরুতে তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবেন।

যাঁরা তাঁর জীবনী সংকলন করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল খাতীব আন-নাসিরিয়্যাহ ৪—তবে অত্যন্ত সংক্ষেপে—এবং আত-তাকী ইবনু কাদী শুহবাহ ৫ ও অন্যান্যরা।

তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৮১৭ হিজরি সালের ২০শে শাওয়াল দিবাগত রাতে যাবীদ শহরে, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর শ্রবণশক্তি ও ইন্দ্রিয়সমূহ দ্বারা সুস্থভাবে উপকৃত হচ্ছিলেন,

--------------------------------------------

১ গ্রন্থের নাম: 'আল-মু'জামুল মুয়াসসিস লিল মু'জামিল মুফাহরাস', এটিও ব্যক্তিদের জীবনী বিষয়ক। এতে আল-ফায়রূযাবাদীর জীবনী হালব-এর আওকাফ লাইব্রেরির একটি পাণ্ডুলিপির ২৮৬ ও ২৮৭ পৃষ্ঠায় সংক্ষেপে রয়েছে, যা সম্প্রতি দামেস্কের মাকতাবাতুল আসাদ-এ স্থানান্তরিত হয়েছে।

২ গ্রন্থের নাম: 'ইনবাউল উমর বি-আবনাউল গুমর', এটি মুদ্রিত। আল-ফায়রূযাবাদীর জীবনী ২য় খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠায় এসেছে।

৩ তাকয়ীদ: এটি হলো ইবনু নুকতাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল গনী (মৃত ৬২৯ হিজরি) রচিত 'আত-তাকয়ীদ লি-মা'রিফাতির রুওয়াত ওয়াস সুনানি ওয়াল মাসানীদ'। ওফায়াতুল আইয়ান ১/৫২০। পূর্বে উল্লিখিত তাকীউদ্দীন আল-ফাসী এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন।

৪ তাঁর 'আদ-দুররুল মুনতাখাব ফী তারীখি মামলিকাতি হালাব' গ্রন্থে ২য় খণ্ড/৩৬২, হালব-এর পাণ্ডুলিপি, যা সম্প্রতি দামেস্কের মাকতাবাতুল আসাদ-এ স্থানান্তরিত হয়েছে।

৫ তাকীউদ্দীন আবু বকর বিন কাদী শুহবাহ (মৃত ৮৫১ হিজরি)-এর একটি বৃহৎ ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে যা ইবনু কাসীর, আয-যাহাবী ও আল-বিরাযালী-এর ইতিহাস গ্রন্থসমূহের পরিশিষ্ট। তাঁর পুত্র বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর কাদী শুহবাহ (মৃত ৮৭৪ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে বলেন, "তিনি ৮১০ হিজরি সাল পর্যন্ত এর পাঁচটি বিশাল খণ্ড লিখেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর বছর (অর্থাৎ ৮৫১ হিজরি) পর্যন্ত এর থেকে বিক্ষিপ্তভাবে প্রায় এক খণ্ড পরিমাণ পুস্তিকা লিখেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর সেই পুস্তিকাগুলোর কিছু অংশ হারিয়ে যায় যা আমরা খুঁজে পাইনি। এরপর তিনি এই পরিশিষ্টটি সংক্ষেপ করেন এবং ৮০৮ হিজরি সাল পর্যন্ত দুই খণ্ড লিখেন, এবং এরপর আরও কিছু পুস্তিকা লিখেন; যদি তা পূর্ণ হতো তবে তা আরও এক খণ্ড হতো।" ইবনু বদরুদ্দীনের কলমে তাকীউদ্দীন বিন কাদী শুহবাহ-এর জীবনী। সম্পাদনা: ড. আদনান দারুইশ। দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমি সাময়িকী। খণ্ড ৫৮, অংশ ৩, পৃষ্ঠা ৪৩৮।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقد ناهز التسعين1، وكان يرجو وفاته بمكة، فما قدر. رحمه الله وإيانا.

أنشدني شيخي بالقاهرة، والموفق الأبي بمكة قال كل منهما: أنشدني المجد لنفسه مما كتبه عنه الصفدي في سنة سبع وخمسين:

أحبتنا الأماجد إن رحلتم … ولم ترعوا لنا عهدا وإلا

أودعكم وأودعكم قلوبا … لعل الله يجمعنا وإلا

وعندي في ترجمته بأول ما كتبه من القاموس فوائد، منها قول الأديب المفلق نور الدين على بن محمد بن العليف العلي العدناني المكي الشافعي، وقد قرأ عليه القاموس:

مذ مد مجد الدين في أيامه … من بعض أبحر علمه القاموسا

ذهبت صحاح الجوهري كأنها … سحر المدائن حين ألقي موسى

ومن شعره أيضا في مدح البديعية التي نظمها أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن يوسف بن عمر العلوي، وجيه الدين، المتوفى سنة 804هـ:

هذا القصيد حوي البدائع كلها … وسما على نظم الآفاق وفاقا

حتى أقر الحاسدون بحسنه … فأبان من أهل الخلاف وفاقا

ورقا بناظمه ذري لم يرفها … من رق لفظا في الورى آفاقا

وقال أيضا:

هذا قصيد بديع الحسن لست ترى … شعرا بديعا يدانيه ولا حسنا

سني ببهجته أهل النهى وسما … حسنا وفاح له طيب ولاح سنا

--------------------------------------------

1 وكذا في إنباء الغمر لابن حجر العسقلاني، وكذلك في المصادر، ويستنتج منها أيضا أن عمره لما توفى كان 88 سنة. إلا أن ابن حجر قال في ترجمته في ذلك الدرر الكامنة: "وقد جاوز التسعين" ولعله وهم أو تصحيف. ونقل الزركلي في الأعلام عن العقيق اليماني رواية أخرى هي أنه توفي في شوال سنة 819هـ.
তিনি নব্বই বছরের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন১, এবং তিনি মক্কায় মৃত্যু বরণ করার আশা করেছিলেন, কিন্তু তা নির্ধারিত ছিল না। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং আমাদের প্রতি রহম করুন।

কায়রোতে আমার শায়খ এবং মক্কায় আল-মুওয়াফফাক আল-উব্বি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন: আল-মাজদ আমাকে নিজের রচিত সেই কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন যা আস-সাফাদি সাতান্ন হিজরি সালে তাঁর থেকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন:

আমাদের মহান প্রিয়জনরা, যদি আপনারা চলে যান … এবং আমাদের প্রতি কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেন, তবে অন্যথা

আমি আপনাদের বিদায় জানাচ্ছি এবং আপনাদের নিকট হৃদয় গচ্ছিত রাখছি … সম্ভবত আল্লাহ আমাদের একত্রিত করবেন, নতুবা

তাঁর জীবনীতে 'আল-কামুস'-এর শুরুতে তিনি যা লিখেছেন তাতে অনেক জ্ঞানগর্ভ বিষয় রয়েছে, তন্মধ্যে প্রখ্যাত সাহিত্যিক নূরুদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আলিফ আল-আলি আল-আদনানি আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি-এর উক্তিটি অন্যতম, যিনি তাঁর নিকট আল-কামুস পাঠ করেছিলেন:

যখন মাজদুদ্দীন তাঁর যুগে তাঁর ইলমের সমুদ্রের কিছু অংশ থেকে 'আল-কামুস' প্রসারিত করলেন …

তখন জওহারির 'সিহাহ' বিলীন হয়ে গেল যেন তা ছিল … জাদুকরদের জাদু, যখন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করেছিলেন

তাঁর কবিতার মধ্যে এটিও রয়েছে যা তিনি আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে উমর আল-আলাউয়ি ওয়াজিহুদ্দীন (মৃত্যু ৮০৪ হিজরি) রচিত 'আল-বাদিয়িয়্যাহ'-এর প্রশংসায় লিখেছেন:

এই কাসিদাটি সমস্ত সৌন্দর্য ধারণ করেছে … এবং দিগন্তের কাব্যরীতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য লাভ করেছে

এমনকি ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিরাও এর সৌন্দর্যের স্বীকৃতি দিয়েছে … ফলে এটি বিরোধীদের পক্ষ থেকেও ঐকমত্য প্রকাশ করেছে

এটি এর রচয়িতাকে এমন উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে যেখানে পৌঁছাতে পারেনি … সৃষ্টির মাঝে কাব্যিক সুক্ষ্মতায় পারদর্শী দিগ্বিজয়ীগণ

তিনি আরও বলেছেন:

এটি চমৎকার সৌন্দর্যের এক কাসিদা, তুমি দেখবে না … এর নিকটবর্তী কোনো চমৎকার কাব্য বা সৌন্দর্য

এর উজ্জ্বলতায় জ্ঞানীরা প্রফুল্ল হয়েছে এবং এটি সৌন্দর্যে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে … এর সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর জ্যোতি প্রকাশিত হয়েছে

--------------------------------------------

১ ইবনে হাজার আল-আসকালানির ইনবাউল গুমর-এ এমনই রয়েছে, এবং অন্যান্য উৎসগুলোতেও তাই, যেখান থেকে এটিও অনুমান করা যায় যে তাঁর মৃত্যুর সময় বয়স ছিল ৮৮ বছর। তবে ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ'-তে তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "তিনি নব্বই অতিক্রম করেছিলেন", সম্ভবত এটি কোনো ভুল বা লিপিকরের বিচ্যুতি। আর যিরিকলি 'আল-আলাম'-এ 'আল-আকিকুল ইয়ামানি' থেকে অন্য একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি ৮১৯ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أما العلامة ابن حجر العسقلاني، فهو من كبار المصنفين في تراجم الرجال وهو في نفس الوقت معاصره، والفيروزآبادي شيخه، وقد ترجم له ثلاث مرات: الأولى في كتابه "إنباء الغمر بأبناء العمر" والثانية في كتابه "ذيل الدرر الكامنة" والثالثة في كتابه "المجمع المؤسس للمعجم المفهرس" وقد رأينا إيراد الترجمة التي وردت في "إبناء الغمر" لأنها أكثر تلك الترجمات الثلاث تفصيلا.

قال ابن حجر: "محمد بن يعقوب بن محمد بن إبراهيم بن عمر، الشيرازي، الشيخ، العلامة، مجد الدين، أبو طاهر، الفيروزآبادي. كان يرفع نسبه إلى الشيخ أبي إسحاق الشيرازي صاحب "التنبيه"، ويذكر أنه بعد "عمر" أبا بكر بن أحمد بن أحمد بن فضل الله ابن الشيخ أبي إسحاق، ولم أزل أسمع مشايخنا يطعنون في ذلك مستندين إلى أن أبا إسحاق لم يعقب، ثم ارتقى مجد الدين درجة فادعى -بعد أن ولي قضاء اليمن بمدة طويلة- أنه من ذرية أبي بكر الصديق، وزاد إلى أن رأيت بخطه لبعض نوابه في بعض كتبه: محمد الصديقي، ولم يكن مدفوعا عن معرفة، إلا أن النفس تأبى قبول ذلك.

ولد الشيخ مجد الدين سنة تسع وعشرين وسبعمائة بكازرون، وتفقه ببلاده، وسمع بها من محمد بن يوسف الزرندي المدني "صحيح البخاري"، وعلى بعض أصحاب الرشيد بن أبي القاسم، ونظر في اللغة فكانت جل قصده في التحصيل، فمهر فيها إلى أن بهر وفاق أقرانه، ودخل الديار الشامية بعد الخمسين، فسمع بها، وظهرت فضائله، وكثر الآخذون عنه، ثم دخل القاهرة. ثم جال في البلاد الشمالية والشرقية، ودخل الهند، وعاد منها على طريق اليمن قاصدا مكة، ودخل زبيد، فتلقاه الملك الأشرف إسماعيل بالقبول، وكان ذلك بعد وفاة جمال الدين الريمي قاضي الأقضية باليمن كله، فقرره الأشرف مكانه، وبالغ في إكرامه، فاستقرت قدمه بزبيد، واستمر في ذلك إلى أن مات. وقدم في هذه المدة مكة مكرارا وأقام بها، وبالطائف، ثم رجع.

صنف "القاموس المحيط" في اللغة، لا مزيد عليه في حسن الاختصار، وميز
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানীর কথা বলতে গেলে, তিনি রিজাল শাস্ত্রের (জীবনীকারদের) অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক এবং একই সাথে তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। আর ফিরোজাবাদী ছিলেন তাঁর উস্তাদ। তিনি তাঁর জীবনী তিনবার লিখেছেন: প্রথমটি তাঁর 'ইনবাউল গুমর বি আবনাইল উমর' গ্রন্থে, দ্বিতীয়টি 'যাইলুদ দুরারিল কামিনাহ' গ্রন্থে এবং তৃতীয়টি 'আল-মুজমাতুল মুয়াসসিস লিল মু'জামিল মুফাহরাস' গ্রন্থে। আমরা 'ইনবাউল গুমর'-এ বর্ণিত জীবনীটিই উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি, কারণ এটি ওই তিনটি জীবনীর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত।

ইবনে হাজার বলেন: "মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন উমর, আশ-শিরাজী, শায়খ, আল্লামা, মাজদুদ্দিন, আবু তাহির, ফিরোজাবাদী। তিনি তাঁর বংশধারা 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের লেখক শায়খ আবু ইসহাক শিরাজীর দিকে সম্পৃক্ত করতেন এবং উল্লেখ করতেন যে, 'উমর'-এর পরে (তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে) আবু বকর বিন আহমদ বিন আহমদ বিন ফজলুল্লাহ বিন শায়খ আবু ইসহাক ছিলেন। আমি সর্বদা আমাদের উস্তাদদের এই বংশদাবীর সমালোচনা করতে শুনেছি; তাঁদের যুক্তি ছিল যে, আবু ইসহাক নিঃসন্তান ছিলেন। এরপর মাজদুদ্দিন আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করলেন—ইয়ামেনের প্রধান বিচারপতির পদে দীর্ঘকাল অধিষ্ঠিত থাকার পর—যে তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর বংশধর। তিনি আরও অগ্রসর হলেন, এমনকি আমি তাঁর কোনো কোনো কিতাবে তাঁর জনৈক প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে তাঁর নিজের হাতে লেখা লিপি দেখেছি: 'মুহাম্মাদ আস-সিদ্দিকী'। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনস্বীকার্য ছিল, তবে মন এই দাবিটি গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করে।

শায়খ মাজদুদ্দিন ৭২৯ হিজরী সনে কাযেরুনে জন্মগ্রহণ করেন এবং নিজ এলাকায় ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আয-যারান্দী আল-মাদানী থেকে 'সহীহ বুখারী' শ্রবণ করেন এবং রশিদ বিন আবুল কাসিমের কিছু ছাত্রের কাছেও পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি ভাষা বিজ্ঞানে গভীর মনোনিবেশ করেন এবং জ্ঞান অর্জনে এটিই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। ফলে তিনি এতে এমন দক্ষতা অর্জন করেন যে তিনি সবাইকে বিস্মিত করেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। ৭৫০ হিজরীর পর তিনি শামে (সিরিয়া) প্রবেশ করেন এবং সেখানে হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় এবং তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এরপর তিনি কায়রোতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো ভ্রমণ করেন এবং ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ইয়ামেনের পথ ধরে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং যাবীদে পৌঁছান। বাদশাহ আল-আশরাফ ইসমাইল তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন। এটি ছিল পুরো ইয়ামেনের প্রধান বিচারপতি জামালুদ্দিন আর-রাইমীর ইন্তেকালের পরের ঘটনা। বাদশাহ আশরাফ তাঁকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন এবং তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেন। ফলে তিনি যাবীদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং আমৃত্যু সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি বারবার মক্কায় এসেছেন এবং মক্কা ও তায়েফে অবস্থান করেছেন, এরপর পুনরায় ফিরে যেতেন।

তিনি ভাষা বিজ্ঞানের ওপর 'আল-কামুস আল-মুহিত' রচনা করেন, যার সংক্ষিপ্তকরণের সৌন্দর্যের কোনো তুলনা নেই। তিনি আরও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত...
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فيه زياداته على "الصحاح"، وأكثر في عدد الكلمات، وقرئ عليه، وكان أولا ابتدأ بكتاب كبير في اللغة "اللامع المعلم العجاب الجامع بين المحكم والعباب" وكان يقول: لو كمل لكان مائة مجلد.

وذكر عنه الشيخ برهان الدين الحلبي أنه تتبع أوهام "المجمل" لابن فارس في ألف موضع، وكان مع ذلك يعظم ابن فارس ويثني عليه.

وقد أكثر المجاورة بالحرمين، وحصل دنيا طائلة، وكتبا نفيسة، لكنه كان كثير التبذير، وكان لا يسافر إلا وصحبته عدة أحمال من الكتب، ويخرج أكثرها في كل منزلة ينظر فيها ويعيدها إذا رحل، وكان إذا أملق باعها.

وكان الأشرف كثير الإكرام له، حتى إنه صنف له كتابا وأهداه له على أطباق فملأها له دراهم.

وصنف للناصر كتابا سماه "تسهيل الوصول إلى الأحاديث الزائدة على جامع الأصول"1 و "الإصعاد إلى رتبة الاجتهاد" في أربعة أسفار، وشرع في شرح مطول على "البخاري" ملأه بغرائب المنقولات. ذكر لي أنه بلغ عشرين سفرا، إلا أنه لما اشتهرت باليمن مقالة ابن عربي2 ودعا إليها الشيخ إسماعيل الجبرتي، وغلب على علماء تلك البلاد، صار الشيخ مجد الدين يدخل في "شرح البخاري" من كلام ابن العربي في "الفتوحات"3 ما كان سببا لشين الكتاب. ولم أكن أتهم الشيخ بالمقالة المذكورة، إلا أنه كان يحب المدارة، وكان الناشري -فاضل الفقهاء بزبيد- يبالغ في الإنكار على إسماعيل -وشرح ذلك يطول- ولما اجتمعت بالشيخ مجد الدين أظهر

--------------------------------------------

1 بهامش نسخة مخطوطة من هذا الكتاب حاشية مثالها: قال لنا شيخنا المصنف: إن لذلك فوائد منها أن يصلح ما عساه يعرض للكتب من الفساد في الحمل من بلل أو حك أو نحو ذلك، ومنها أن القطاع إذا رأوا شخصا جالسا وحوله عدة من الكتب هابوه فربما لم يعرضوا له بسوء.

2 لعل المراد قوله بوحدة الوجود.

3 الفتوحات المكية لابن عربي. من أشهر كتبه، وقد طبع مرات.
এতে "সিহাহ"-এর তুলনায় তাঁর বর্ধিত অংশসমূহ রয়েছে এবং এতে শব্দের সংখ্যাও অধিক। তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছিল। তিনি প্রথমে ভাষা বিষয়ে "আল-লামি' আল-মুআল্লিম আল-উজাব আল-জামি' বাইন আল-মুহকাম ওয়াল-উবাব" নামক একটি বিশাল গ্রন্থ শুরু করেছিলেন। তিনি বলতেন: এটি পূর্ণ হলে একশত খণ্ডে সমাপ্ত হতো।

শায়খ বুরহানউদ্দিন আল-হালাবি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে ফারিসের "আল-মুজমাল" গ্রন্থের এক হাজার স্থানে ভুল চিহ্নিত করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি ইবনে ফারিসকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।

তিনি দীর্ঘ সময় দুই হারামে (মক্কা ও মদিনা) অবস্থান করেছেন এবং প্রচুর পার্থিব সম্পদ ও মূল্যবান কিতাবাদি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত অপব্যয়ী ছিলেন। তিনি যখনই সফরে বের হতেন, তাঁর সাথে কয়েক বোঝা কিতাব থাকত। প্রতিটি যাত্রাবিরতিতে তিনি সেগুলোর অধিকাংশ বের করতেন, সেগুলো দেখতেন এবং রওনা হওয়ার সময় পুনরায় গুছিয়ে রাখতেন। যখন তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়তেন, তখন সেগুলো বিক্রি করে দিতেন।

আল-আশরাফ তাঁকে অনেক সম্মান করতেন, এমনকি তিনি তাঁর জন্য একটি কিতাব রচনা করেছিলেন এবং তা তাঁকে থালায় করে উপহার দিয়েছিলেন, আর তিনি (আল-আশরাফ) সেই থালাগুলো তাঁর জন্য দিরহাম দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছিলেন।

তিনি আন-নাসিরের জন্য "তাসহিলুল উসুল ইলাল আহাদিস আজ-জাইদাহ আলা জামিউল উসুল"১ এবং চার খণ্ডে "আল-ইস'আদ ইলা রুতবাতিল ইজতিহাদ" নামক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি "বুখারি"-র ওপর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) লিখতে শুরু করেন যা তিনি দুর্লভ সব উদ্ধৃতি দ্বারা পূর্ণ করেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে এটি বিশ খণ্ডে পৌঁছেছিল। তবে যখন ইয়ামেনে ইবনে আরাবির মতবাদ২ প্রসিদ্ধ হলো এবং শায়খ ইসমাইল আল-জাবারতি এর দিকে আহ্বান জানালেন এবং সেই অঞ্চলের আলেমদের ওপর তা প্রভাব বিস্তার করল, তখন শায়খ মাজদুদ্দিন তাঁর "বুখারি-র শারহ"-এর মধ্যে ইবনে আরাবির "ফুতুহাত"৩ থেকে এমন কিছু কথা অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করলেন যা কিতাবটির ত্রুটির কারণ হয়ে দাঁড়ালো। আমি শায়খকে উক্ত মতবাদের জন্য অভিযুক্ত করতাম না, তবে তিনি আপসকামিতা পছন্দ করতেন। জাবিদের ফকিহদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আন-নাশিরি শায়খ ইসমাইলের তীব্র বিরোধিতা করতেন - এর বিবরণ অত্যন্ত দীর্ঘ - এবং যখন আমি শায়খ মাজদুদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি প্রকাশ করলেন...

--------------------------------------------

১ এই কিতাবটির একটি পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় একটি টীকা রয়েছে যার উদাহরণ হলো: আমাদের শায়খ গ্রন্থকার আমাদের বলেছেন: এর কিছু উপকারিতা আছে। তার মধ্যে একটি হলো, বহন করার সময় আর্দ্রতা বা ঘর্ষণ বা এই জাতীয় কারণে কিতাবের যে সম্ভাব্য ক্ষতি হয় তা সংস্কার করা। আর একটি হলো, ডাকাতরা যখন কোনো ব্যক্তিকে বসা দেখে এবং তার চারপাশে অনেক কিতাব দেখে, তখন তারা তাকে ভয় পায়, ফলে সম্ভবত তারা তার কোনো অনিষ্ট করে না।

২ সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য তাঁর ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের এককত্ব) সংক্রান্ত মতবাদ।

৩ ইবনে আরাবির "আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়্যাহ"। এটি তাঁর অন্যতম প্রসিদ্ধ কিতাব এবং এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
لي مقالة ابن العربي وغض منها1.

ورأتيه يصدق بوجود رتن الهندي، وينكر على الذهبي قوله في "الميزان"2 أنه لا وجود له. قال الشيخ مجد الدين: إنه دخل قريته، ورأى ذريته، وهم مطبقون على تصديقه، وقد أوضحت ذلك في ترجمة رتن من كتاب "الإصابة"3.

ومن تصانيفه "شوارق الأسرار في مشارق الأنوار" والروض المسلوف فيما له اسمان إلى ألوف" و"تحبير الموشين فيما يقال بالسين والشين"، وكان يقول: ما كنت أنام حتى أحفظ مائتي سطر. ولم يقدر له قط أن دخل بلدا إلا وأكرمه متوليها، وبالغ في إكرامه، مثل شاه شجاع صاحب تبريز، والأشرف صاحب مصر،

--------------------------------------------

1 قال ابن حجر في ترجمة الفيروزآبادي في "ذيل الدرر الكامنة": "ولما اجتمعت أنا بالشيخ إسماعيل سألني عن ابن العربي وما يقول علماؤكم فيه، فأجبته بما عندي في ذلك. فلم يعجبني فلما اجتمعت بشيخنا مجد الدين ذكرت له ذلك فتبرأ من مقاله ابن العربي، وأظهر موافقتي فيما أنسبه إليه".

2 هو "ميزان الاعتدال في نقد الرجال" للإمام الذهبي. مطبوع ومشهور.

3 طول ابن حجر ترجمة رتن كثيرا في كتابه "الإصابة" وجاءت ترجمته برقم 2659؛ لأنه ادعى الصحبة. وقال: "رتن بن عبد الله الهندي ثم البترندي، ويقال المرندي، ويقال رطن، بالطاء المثناة، ابن ساهوك بن جكندربيو … ويقال: رتن بن نصر بن كربال، وقيل: رتن بن ميرن بن مندي. شيخ خفي خبره بزعمه دهرا طويلا إلى أن ظهر على رأس القرن السادس، فادعى الصحبة، فروى عنه ولده … " وقال في نهاية ترجمته: "ولما اجتمعت بشيخنا مجد الدين الشيرازي شيخ اللغة بزبيد من اليمن وهو ذاك قاضي القضاة ببلاد اليمن رأيته ينكر على الذهبي إنكار وجود رتن، وذكر لي أنه دخل ضيعته لما دخل الهند، ووجد فيها من لا يحصى كثرة ينقلون عن آبائهم وأسلافهم عن قصة رتن ويثبتون وجوده، فقلت هو "يريد الذهبي" لم يجزم بعدم وجوده، بل تردد، وهو معذور، والذي يظهر أنه كان طال عمره فادعى ما ادعى، فتمادى على ذلك حتى اشتهر، ولو كان صادقا لاشتهر في المائة الثانية أو الثالثة أو الرابعة أو الخامسة ولكنه لم ينقل عنه شيء إلا في أواخر السادسة، ثم في أوائل السابعة، قبيل وفاته، وقد اختلف في سنة وفاته كما تقدم، والله أعلم". الإصابة ج2 515-520.

وللحافظ الذهبي كتاب "كسر وثن رتن" مفقود. مقدمة سير أعلام النبلاء 1/ 83.
আমি ইবনুল আরাবীর বক্তব্য দেখেছি এবং তিনি তা থেকে বিমুখ ছিলেন।১.

এবং আমি তাকে রতন আল-হিন্দির অস্তিত্বকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে দেখেছি, এবং তিনি 'আল-মিজান'-এ২ আয-যাহাবীর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন যে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। শাইখ মাজদউদ্দীন বলেছেন: তিনি তার গ্রামে প্রবেশ করেছেন এবং তার বংশধরদের দেখেছেন, যারা তাকে সত্য বলে স্বীকার করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। আমি 'আল-ইসাবাহ'৩ গ্রন্থের রতনের জীবনীতে তা স্পষ্ট করেছি।

তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'শাওয়ারিকুল আসরার ফী মাশারিকিল আনওয়ার', 'আর-রওদুল মাসলূফ ফীমা লাহু ইসমানি ইলা উলূফ' এবং 'তাহবীরুল মুওয়াশীন ফীমা ইউকালু বিস-সিন ওয়াশ-শিন'। তিনি বলতেন: আমি দুইশ লাইন মুখস্থ না করা পর্যন্ত ঘুমাতাম না। তিনি যখনই কোনো শহরে প্রবেশ করতেন, সেখানকার শাসক তাকে সম্মানিত করতেন এবং তাকে সম্মান করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখাতেন, যেমন তাবরিজের শাসক শাহ সুজা এবং মিসরের শাসক আল-আশরাফ।

--------------------------------------------

১ ইবনে হাজার 'যাইলুদ দুরারিল কামিনাহ'-তে আল-ফিরোজাবাদীর জীবনীতে বলেন: "যখন আমি শাইখ ইসমাইলের সাথে সাক্ষাত করলাম, তিনি আমাকে ইবনুল আরাবী সম্পর্কে এবং আপনাদের আলেমরা তার সম্পর্কে কী বলেন তা জিজ্ঞাসা করলেন। আমি সে সম্পর্কে আমার কাছে যা ছিল তা দিয়ে উত্তর দিলাম। তা আমার পছন্দ হলো না। অতঃপর যখন আমি আমাদের শাইখ মাজদউদ্দীনের সাথে সাক্ষাত করলাম, আমি তার কাছে তা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ইবনুল আরাবীর বক্তব্য থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করলেন এবং আমি তার প্রতি যা আরোপ করেছি সে বিষয়ে আমার সাথে একমত পোষণ করলেন।"

২ এটি হলো ইমাম যাহাবীর 'মিযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল'। এটি মুদ্রিত ও সুপ্রসিদ্ধ।

৩ ইবনে হাজার তার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে রতনের জীবনী অনেক দীর্ঘ করেছেন এবং তার জীবনী ২৬৫৯ নম্বর ক্রমিকে এসেছে; কারণ তিনি সাহাবী হওয়ার দাবি করেছিলেন। তিনি বলেন: "রতন ইবনে আবদুল্লাহ আল-হিন্দি, অতঃপর আল-বাতরান্দি, তাকে আল-মারান্দিও বলা হয়, এবং ত-এর সাথে রতনও বলা হয়, ইবনে সাহুক ইবনে জাকান্দারবিউ... এবং বলা হয়: রতন ইবনে নাসর ইবনে কারবাল, আবার বলা হয়: রতন ইবনে মিরান ইবনে মান্দি। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার সংবাদ তার দাবি অনুযায়ী দীর্ঘকাল গোপন ছিল, অবশেষে ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুতে তিনি প্রকাশ পেলেন এবং সাহাবী হওয়ার দাবি করলেন। তার পুত্র তার থেকে বর্ণনা করেছেন..." এবং তিনি জীবনীর শেষে বলেন: "যখন আমি ইয়ামেনের জাবিদ শহরের ভাষাবিদদের শাইখ এবং তখনকার ইয়ামেন ভূখণ্ডের প্রধান বিচারপতি আমাদের শাইখ মাজদউদ্দীন আশ-শিরাজীর সাথে সাক্ষাত করলাম, আমি তাকে রতনের অস্তিত্ব অস্বীকার করার কারণে আয-যাহাবীর প্রতিবাদ করতে দেখলাম। তিনি আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তখন তার গ্রামে গিয়েছিলেন এবং সেখানে অসংখ্য মানুষ পেয়েছিলেন যারা তাদের পিতা ও পূর্বপুরুষদের থেকে রতনের কাহিনী বর্ণনা করেন এবং তার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। তখন আমি বললাম, তিনি (যাহাবী) তার অস্তিত্বহীনতার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না, বরং সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তিনি এক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত। আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি দীর্ঘজীবী ছিলেন এবং যা দাবি করার তা দাবি করেছিলেন, অতঃপর তা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রসিদ্ধি লাভ করে। যদি তিনি সত্যবাদী হতেন, তবে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীতে তিনি প্রসিদ্ধ হতেন, কিন্তু ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগ এবং সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সম্পর্কে কিছুই বর্ণিত হয়নি। তার মৃত্যুর সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" আল-ইসাবাহ ২/৫১৫-৫২০।

হাফিজ যাহাবীর 'কাসরু ওয়াসানি রতন' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা বর্তমানে নিখোঁজ। সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর ভূমিকা ১/৮৩।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
والأشرف صاحب اليمن، وابن عثمان صاحب التركية، وأحمد بن أويس صاحب بغداد، وغيرهم.

ومتعه الله بسمعه وبصره إلى أن مات.

سمع الشيخ مجد الدين من ابن الخباز، وابن القيم، وابن الحموي، وأحمد بن عبد الرحمن المرداوي، وأحمد بن مطر النابلسي، والشيخ تقي الدين السبكي، ويحيى بن علي بن محلي بن الحداد، وغيرهم بدمشق في سنة نيف وخمسين.

وبالقدس من العلائي والتباني. وبمصر من القلانسي ومظفر الدين، وناصر الدين التونسي وابن نباتة والفارقي والعرضي والعز بن جماعة. وبمكة من الخليل المالكي والتقي الحرازي، ولقي بغيرها من البلاد جمعا جما من الفضلاء، وحمل عنهم شيئا كثيرا، وخرج له الجمال المراكشي مشيخة.

واعتنى بالحديث.

اجتمعت به في زبيد، وفي وادي الخصيب، وناولني جل "القاموس" وأذن لي مع المناولة أن أرويه عنه. وقرأت عليه من حديثه عدة أجزاء، وسمعت منه "المسلسل" بالأولية، بسماعه من السبكي، وكتب لي تقريظا على بعض تخريجاتي أبلغ فيه.

وأنشدني لنفسه في سنة ثمانمائة بزبيد بيتين كتبهما عنه الصلاح الصفدي في سنة سبع وخمسين بدمشق، وبين كتابتهما عنه ووفاته ستون سنة:

أخلانا الأماجد إن رحلنا … ولم ترعوا لنا عهدا وإلا

نودعكم ونودعكم قلوبا … لعل الله يجمعنا وإلا

مات في ليلة العشرين من شوال وهو ممتع بحواسه، وقد ناهز التسعين1.

لقد أوقفتنا هاتان الترجمتان لابن حجر والسخاوي على حياة الفيروزآبادي، ولادة ومنشأ ودراسة وتدريسا، وعلى العلوم التي انصرف إليها.

--------------------------------------------

1 قال ابن حجر نفسه في ترجمته "ذيل الدرر الكامنة": "وقد جاوز التسعين" انظر آخر ترجمة السخاوي المتقدمة.
এবং ইয়ামেনের শাসক আশরাফ, তুরস্কের শাসক ইবনে উসমান, বাগদাদের শাসক আহমাদ ইবনে উওয়াইস এবং অন্যান্যরা।

আল্লাহ তাকে মৃত্যু পর্যন্ত তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি দ্বারা উপকৃত করেছেন।

শেখ মাজদুদ্দীন দামেস্কে সাতশ পঞ্চাশ হিজরির কিছুকাল পরে ইবনুল খাব্বায, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনুল হামাওয়ি, আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মারদাউয়ি, আহমাদ ইবনে মাতার আন-নাবুলুসি, শেখ তাকিউদ্দীন আস-সুবকি, ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে মাহাল্লি ইবনুল হাদ্দাদ এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

এবং জেরুজালেমে আল-আলাই ও আত-তাব্বানি থেকে; মিশরে আল-কালানিসি, মুজাফফরুদ্দীন, নাসিরুদ্দীন আত-তিউনিসি, ইবনে নুবাতাহ, আল-ফারিবি, আল-আরদি এবং ইজ্জ ইবনে জামাআহ থেকে; এবং মক্কায় আল-খলিল আল-মালিকি ও আত-তাকি আল-হাররাযি থেকে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বিভিন্ন শহরে অসংখ্য গুণীজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের নিকট থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেছেন। জামাল আল-মাররাকুশি তার জন্য একটি 'মাশয়াখা' (শিক্ষক তালিকা সংকলন) তৈরি করেছিলেন।

তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন।

আমি যাবীদে এবং ওয়াদি আল-খাসিবে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাকে 'আল-কামুস'-এর অধিকাংশ অংশ প্রদান (মুনাওয়ালা) করেছেন এবং প্রদানের সাথে সাথে তা তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন। আমি তার নিকট থেকে তার বর্ণিত হাদিসের বেশ কিছু অংশ পড়েছি এবং তার নিকট থেকে 'আল-মুসালসাল বিল-আউওয়ালিয়্যাহ' হাদিসটি শুনেছি, যা তিনি সুবকি থেকে শুনেছিলেন। তিনি আমার কিছু গবেষণার ওপর একটি চমৎকার প্রশংসামূলক পাণ্ডিত্যপূর্ণ অভিমত লিখে দিয়েছিলেন।

তিনি ৮০০ হিজরিতে যাবীদে আমাকে নিজের রচিত দুটি পংক্তি শুনিয়েছেন, যা সালাহ আস-সাফাদি ৭৫৭ হিজরিতে দামেস্কে তার নিকট থেকে লিখে নিয়েছিলেন; এটি লেখার সময় এবং তার মৃত্যুর মধ্যে ষাট বছরের ব্যবধান ছিল:

হে আমাদের মহান বন্ধুগণ! যদি আমরা চলে যাই … আর তোমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করো, তবে (কি হবে?);

আমরা তোমাদের বিদায় জানাচ্ছি এবং তোমাদের নিকট হৃদয় রেখে যাচ্ছি … হতে পারে আল্লাহ আমাদের পুনরায় মিলিত করবেন, অন্যথায় (বিদায়)।

তিনি শাওয়াল মাসের বিশ তারিখের রাতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি তার সকল ইন্দ্রিয়শক্তি অক্ষুণ্ণ অবস্থায় ভোগ করছিলেন এবং তার বয়স নব্বইয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।১

ইবনে হাজার এবং সাখাওয়ির এই দুটি জীবনী আমাদের সামনে আল-ফিরোজাবাদীর জন্ম, বেড়ে ওঠা, অধ্যয়ন, অধ্যাপনা এবং তিনি যে সকল শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিয়েছে।

--------------------------------------------

১ ইবনে হাজার স্বয়ং তার জীবনীগ্রন্থ 'যায়লুদ দুরারিল কামিনাহ'-তে বলেছেন: "তিনি নব্বই বছর অতিক্রম করেছিলেন"। পূর্বে উল্লিখিত সাখাওয়ির জীবনীর শেষ অংশ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
وأتقنها وعلى مشايخه وتلاميذه، والوظائف التي تولاها، وآراء العلماء والحكام فيه، ورحلاته، وعلى معظم كتبه التي صنفها، وعلى أسماء من اجتمع بهم أو أخذوا عنه أو أخذ عنهم.

ويبدو أنه نال حظا كبيرا من الاحترام والتبجيل لدى عامة الناس وخاصتهم، وأنه كان متفوقا في كثير من صنوف العلوم والمعارف، وتنبئنا مصنفاته التي سنذكرها بعلو قدمه وطول باعه، كما كان محسنا للغة الفارسية ونظم بها شعرا.

أما شعره الذي تحدثت عنه المصادر إذ قال الفاسي: "وله شعر كثير" فلم يصلنا منه إلا بضعة أبيات، ذكرناها قبل قليل.

وأما مآخذ بعض متشددي العلماء عليه فهي في ظني لا يبرأ من مثلها عالم والرد عليه يسير.

وتوفي رحمه الله متمتعا بحواسه بزبيد في اليمن سنة 817هـ الموافقة لسنة 1415م، وعمره ثمان وثمانون سنة هجرية حسب معظم المصادر1.

مصنفاته:

صنف الفيروزآبادي أكثر من سبعين مصنفا، منها المجلدات ومنها الوريقات. وقد اختلفت عناوين بعض هذه المصنفات في المصادر اختلافا بسيطا وهو أمر مألوف في عناوين المصنفات القديمة، لأمور لا مجال هنا لذكرها، ونورد ثبتا بما وقفنا عليه من تلك المصنفات في المصادر بعد تتبع طويل، مع إشارة إلى ما طبع منها، وإلى أمكنة وجود ما يزال مخطوطا، مرتبة حسب حروف الهجاء:

1- إثارة الحجون "أو الشجون" إلى زيارة الحجون2. صنفه في ليلة واحدة. منه نسخة مخطوطة في دار الكتب المصرية برقم 3952.

--------------------------------------------

1 وصورة قبره في كتاب "الفضل المزيد على بغية المستفيد في أخبار مدينة زبيد" لعبد الرحمن بن علي الديبع. الصفحة 213. وقد وقعت في مجلة العربي الكويتية. العدد 68 تشرين الثاني سنة 1972 الصفحة 100 على استطلاع عن مدينة زبيد، فيه صورة لقبره فيها.

2 الحجون الأولى: الكسول. والثانية: جبل بأعلى مكة المكرمة.
এবং তিনি সেগুলোতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এবং তার শিক্ষক ও ছাত্রগণ, তিনি যে সকল পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে নিয়ে আলেম ও শাসকদের দৃষ্টিভঙ্গি, তার সফরসমূহ, তার রচিত অধিকাংশ গ্রন্থ এবং যাদের সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন অথবা যারা তার থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন কিংবা তিনি যাদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন তাদের নামসমূহের ওপর (আলোকপাত করা হয়েছে)।

এবং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সাধারণ ও বিশিষ্ট সর্বস্তরের মানুষের নিকট অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের অধিকারী ছিলেন। তিনি বহুবিধ ইলম ও জ্ঞানের শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তার রচনাবলি—যা আমরা অচিরেই উল্লেখ করব—তার সুউচ্চ মর্যাদা ও গভীর পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেয়। এছাড়াও তিনি ফারসি ভাষায় দক্ষ ছিলেন এবং সেই ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন।

আর তার কবিতার বিষয়ে যা উৎস গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আল-ফাসি বলেছেন: "তার প্রচুর কবিতা রয়েছে," তবে তার মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটি পঙ্‌ক্তি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যা আমরা কিছুক্ষণ পূর্বে উল্লেখ করেছি।

আর তার প্রতি কিছু কঠোর মনোভাবাপন্ন আলেমের যে আপত্তি বা সমালোচনা রয়েছে, আমার মতে কোনো আলেমই এ জাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত নন এবং এর উত্তর দেওয়াও সহজ।

এবং তিনি (আল্লাহ তাকে রহমত করুন) ৮১৭ হিজরি মোতাবেক ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেনের জাবিদ শহরে সজ্ঞানে ইন্তেকাল করেন। অধিকাংশ উৎস গ্রন্থ অনুযায়ী সে সময় তার বয়স ছিল আটাশি হিজরি বছর।১

তার রচনাবলি:

আল-ফিরোজাবাদি সত্তরটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে কোনোটি বৃহদাকার খণ্ড আবার কোনোটি কয়েক পাতার পুস্তিকা। উৎস গ্রন্থগুলোতে এই রচনাবলির কয়েকটির শিরোনামে সামান্য ভিন্নতা দেখা যায়, যা প্রাচীন পাণ্ডুলিপিসমূহের শিরোনামের ক্ষেত্রে একটি পরিচিত বিষয়, যার কারণসমূহ এখানে উল্লেখ করার অবকাশ নেই। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উৎস গ্রন্থসমূহে আমরা তার যে সকল রচনার সন্ধান পেয়েছি সেগুলোর একটি তালিকা এখানে তুলে ধরছি। সাথে সাথে সেগুলোর মধ্যে কোনটি মুদ্রিত হয়েছে এবং কোনটি এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে কোথায় সংরক্ষিত আছে তারও ইঙ্গিত প্রদান করছি, যা বর্ণনাক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে:

১- ইষারাতুল হাজুন (অথবা আশ-শুজুন) ইলা যিয়ারাতিল হাজুন।২ এটি তিনি এক রাতেই রচনা করেছেন। মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে ৩৯৫২ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি কপি রয়েছে।

--------------------------------------------

১. তার কবরের ছবি আব্দুর রহমান বিন আলী আদ-দাইবা রচিত "আল-ফাদলুল মাজিদ আলা বুগয়াতিল মুস্তাফিদ ফি আখবারি মদিনাতি জাবিদ" গ্রন্থের ২১৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আল-আরাবি ম্যাগাজিনের ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসের ৬৮তম সংখ্যার ১০০ পৃষ্ঠায় জাবিদ শহরের ওপর একটি প্রতিবেদনে তার কবরের ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

২. প্রথম 'হাজুন' অর্থ: অলস। এবং দ্বিতীয় 'হাজুন' হলো মক্কা মুকাররমার উচ্চভূমিতে অবস্থিত একটি পাহাড়।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
2- أحاسن اللطائف في محاسن الطائف. ذكره السخاوي1 وابن العماد2 وحاجي خليفة3 والفاسي4 والزبيدي5.

3- الأحاديث الضعيفة. مجلدان، عمله للناصر أحمد صاحب اليمن. ذكره الشوكاني6 وحاجي خليفة7 والفاسي8.

4- الإسعاد بالإصعاد إلى درجة الاجتهاد. ثلاثة مجلدات، ألفه للأشراف إسماعيل، صاحب اليمن. ذكره ابن حجر العسقلاني9 والسيوطي10 والشوكاني وحاجي خليفة، وطاش كبرى زاده11.

5- أسماء الحمد. ذكره السخاوي وحاجي خليفة. ومنه نسخة مخطوطة في دار الكتب الظاهرية بدمشق التي نقلت إلى مكتبة الأسد برقم 414 ش 2351.

6- أسماء السراج "أو البراح" في أسماء النكاح. ذكره السخاوي، وابن العماد والفاسي وحاجي خليفة.

7- أسماء الغادة في أسماء العادة. ذكره السخاوي، والبغدادي 12 والسيوطي 13 والفاسي14.

--------------------------------------------

1 في الضوء اللامع.

2 في شذرات الذهب.

3 في كشف الظنون 1/ 14

4 في العقد الثمين 2/ 396

5 في مقدمة تاج العروس.

6 في البدر الطالع.

7 في كشف الظنون.

8 في العقد الثمين 2/ 392.

9 في ذيل الدرر الكامنة وإنباء الغمر، وعنوانه فيهما: "الإصعاد إلى درجة الاجتهاد".

10 في بغية الوعاة

11 في مفتاح السعادة.

12 في إيضاح المكنون 1/ 80.

13 في بغية الوعاة.

14 في العقد الثمين.
২- আহাসিনুল লাতাইফ ফি মাহাসিনিত তাইফ। এটি সাখাভি১, ইবনুল ইমাদ২, হাজি খলিফা৩, ফাসি৪ এবং জুবাইদি৫ উল্লেখ করেছেন।

৩- আল-আহাদিসুদ দাইফা। এটি দুই খণ্ড বিশিষ্ট, যা তিনি ইয়েমেনের শাসক আন-নাসির আহমদের জন্য রচনা করেছেন। এটি শাওকানি৬, হাজি খলিফা৭ এবং ফাসি৮ উল্লেখ করেছেন।

৪- আল-ইসআদ বিল-ইসআদ ইলা দারাজাতিল ইজতিহাদ। এটি তিন খণ্ড বিশিষ্ট, যা তিনি ইয়েমেনের আশরাফ গোত্রীয় শাসক ইসমাইলের জন্য রচনা করেছেন। এটি ইবনে হাজার আল-আসকালানি৯, সুয়ুতি১০, শাওকানি, হাজি খলিফা এবং তাশ কুবরি জাদাহ১১ উল্লেখ করেছেন।

৫- আসমাউল হামদ। এটি সাখাভি এবং হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন। দামেস্কের দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যা-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে, যা ৪১৪ শ ২৩৫১ নম্বরে আল-আসাদ লাইব্রেরিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

৬- আসমাউস সিরাজ "অথবা আল-বাররাহ" ফি আসমাউন নিকাহ। এটি সাখাভি, ইবনুল ইমাদ, ফাসি এবং হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন।

৭- আসমাউল গাদা ফি আসমাউল আদাহ। এটি সাখাভি, বাগদাদি১২, সুয়ুতি১৩ এবং ফাসি১৪ উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দওউল লামি গ্রন্থে।

২ শাজারাতুজ জাহাব গ্রন্থে।

৩ কাশফুজ জুনুন ১/১৪ গ্রন্থে।

৪ আল-ইকদুস সামিন ২/৩৯৬ গ্রন্থে।

৫ তাজুল আরুস-এর ভূমিকায়।

৬ আল-বাদরুত তালি গ্রন্থে।

৭ কাশফুজ জুনুন গ্রন্থে।

৮ আল-ইকদুস সামিন ২/৩৯২ গ্রন্থে।

৯ জাইলুদ দুরারিল কামিনা এবং ইমবাউল গুমর গ্রন্থে, আর এই দুই গ্রন্থে এর শিরোনাম হলো: "আল-ইসআদ ইলা দারাজাতিল ইজতিহাদ"।

১০ বুগয়াতুল উয়াত গ্রন্থে।

১১ মিফতাহুস সা'আদাহ গ্রন্থে।

১২ ইদাহুল মাকনুন ১/৮০ গ্রন্থে।

১৩ বুগয়াতুল উয়াত গ্রন্থে।

১৪ আল-ইকদুস সামিন গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
8- الإشارات إلى ما في كتب الفقه من الأسماء والأماكن واللغات. ذكره الزركلي1.

9 - الاعتباط بمعالجة ابن الخياط. في أجوبة مسائل سئل عنها بحق الشيخ محيي الدين بن العربي. ذكره البغدادي والمقري.

10- الألطاف الخفية في أشراف الحنفية. ذكره صاحب كشف الظنون.

11- امتضاض السهاد "الشهاد" في افتراض الجهاد. ذكره السخاوي والشوكاني وحاجي خليفة والفاسي والبغدادي. وانظر مقدمة تاج العروس.

12- أنواء الغيث في أسماء الليث. ذكره السخاوي والسيوطي وحاجي خليفة والفاسي.

13- بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز. حققه الأستاذ محمد علي النجار، وطبع بالقاهرة سنة 1383هـ، وصدر ثانية بالقاهرة في سنة أجزاء، آخرها بتحقيق عبد العليم الطحاوي، وذكره الشوكاني بعنوان "لطائف ذوي التمييز".

14- بلاغ التلقين في غرائب اللعين. ذكره السخاوي2.

15- البلغة في تراجم "تاريخ" أئمة النحو "النحاة" واللغة. وهو الكتاب الذي بين أيدينا. وذكره السخاوي وابن العماد والشوكاني وحاجي خليفة، وطاش كبرى زاده3

16- تاريخ مرو4.

17- تثقيف الأسل في تفضيل العسل. ذكره السخاوي، وحاجي خليفة5

--------------------------------------------

1 في الأعلام.

2 في الضوء اللامع.

3 في مفتاح السعادة.

4 ذكر في كشف الظنون.

5 في كشف الظنون.
৮- ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত নামসমূহ, স্থানসমূহ এবং ভাষাসমূহের প্রতি ইঙ্গিত। এটি যিরিকলি উল্লেখ করেছেন।১

৯ - ইবনুল খইয়্যাতের সমালোচনার প্রত্যুত্তর। শাইখ মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত মাসআলাসমূহের উত্তরে। এটি বাগদাদী এবং মাক্কারী উল্লেখ করেছেন।

১০- হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনায় সূক্ষ্ম অনুগ্রহসমূহ। এটি কাশফুয যুনুন প্রণেতা উল্লেখ করেছেন।

১১- জিহাদ ফরয হওয়ার ব্যাপারে বিনিদ্র রজনীর দহন। এটি সাখাবী, শাওকানী, হাজী খলিফা, ফাসী এবং বাগদাদী উল্লেখ করেছেন। তাজুল আরূস-এর ভূমিকা দেখুন।

১২- লাইসের (সিংহের) নামসমূহের ক্ষেত্রে বৃষ্টির নক্ষত্রপুঞ্জ। এটি সাখাবী, সুয়ূতী, হাজী খলিফা এবং ফাসী উল্লেখ করেছেন।

১৩- সম্মানিত কিতাবের (কুরআনের) সূক্ষ্ম বিষয়াবলীতে প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্দৃষ্টি। এটি উস্তাদ মুহাম্মাদ আলী আন-নাজ্জার সম্পাদনা করেছেন এবং ১৩৮৩ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে। পুনরায় কায়রোতে কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যার শেষ খণ্ডটি আব্দুল আলীম আত-তাহাবী সম্পাদনা করেছেন। শাওকানী এটি "লাতায়েফু যাউয়িত তামীয" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।

১৪- অভিশপ্তের আশ্চর্যজনক বিষয়াবলীতে শিক্ষাদানের বার্তা। এটি সাখাবী উল্লেখ করেছেন।২

১৫- নাহু (ব্যাকরণ) এবং ভাষা শাস্ত্রের ইমামগণের জীবনীতে (ইতিহাসে) পর্যাপ্ত তথ্য। এটিই সেই কিতাব যা আমাদের সামনে রয়েছে। সাখাবী, ইবনুল ইমাদ, শাওকানী, হাজী খলিফা এবং তাশ কুবরা জাদাহ এটি উল্লেখ করেছেন।৩

১৬- মার্ভ-এর ইতিহাস।৪

১৭- মধুর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় বর্শার সংস্কার। এটি সাখাবী এবং হাজী খলিফা উল্লেখ করেছেন।৫

--------------------------------------------

১ আল-আলাম গ্রন্থে।

২ আদ-দাওউল লামে গ্রন্থে।

৩ মিফতাহুস সাআদাহ গ্রন্থে।

৪ কাশফুয যুনুন-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ কাশফুয যুনুন-এ।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
بعنوان "ترقيق الأسل..". وفي هدية العرفين "تثبيت الأسل" ولعله "ترقيق الأسل" القادم1.

18- تحبير الموشين فيما يقال بالسين والشين. تتبع فيه أوهام ابن فارس في المجمل في ألف موضع. طبع مرات، في الجزائر سنة 1327هـ بتحقيق محمد بن شنب وفي بيروت سنة 1330هـ ثم بدمشق سنة 1983 م بتحقيق محمد خير البقاعي.

19- تحفة الأبيه2 فيمن نسب لغير أبيه. طبع بمصر سنة 1370 هـ - 1950 م.

20- تحفة القماعيل3 فيمن يسمى من الملائكة والناس بإسماعيل. ذكره السيوطي والسخاوي وابن العماد وحاجي خليفة والفاسي. وانظر مقدمة تاج العروس.

21- التحف والطرائف في النكت الشرائف. ولعله "نخب الطرائف" القادم.

22- التخاريج "أوالتجاريح" في فوائد متعلقة بأحاديث المصابيح للفراء البغوي. ذكره السخاوي وابن العماد وحاجي خليفة والفاسي والبغدادي.

23- ترقيق الأسل في تصفيق "تضعيف العسل". لعله "تثقيف الأسل" المتقدم.

24- تسهيل طرائق الوصول إلى الأحاديث الزائدة على جامع الأصول. ألفه للناصر ابن الأشرف، صاحب اليمن. ذكره في الضوء اللامع والبدر الطالع وبغية الوعاة وشذرات الذهب ومفتاح السعادة وكشف الظنون والعقد الثمين ودرة

--------------------------------------------

1 وقد صنف محمد بن محمد بن عبد الله الخيضري المتوفى سنة 894هـ كتابا عنوانه "تقريم الأسل في تفضيل العسل". قال عنه السخاوي في الضوء اللامع 9/ 121 "سبقه الفيروزآبادي إلى ضده".

2 الأبيه: الفطن.

3 القماعيل: جمع قمعال، وهو السيد.
"তরকীকুল আসাল..." শিরোনামে। হাদিয়াতুল আরিফিন গ্রন্থে "তাসবিতুল আসাল" এসেছে এবং সম্ভবত এটি পরবর্তী "তরকীকুল আসাল" ই হবে ১।

১৮- তাহবীরুল মুওয়াশশীন ফীমা ইয়ুক্বালু বিস-সীন ওয়াশ-শীন। এতে তিনি আল-মুজমাল গ্রন্থে ইবনে ফারিসের ভুলগুলো এক হাজার স্থানে চিহ্নিত করেছেন। এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে: আলজেরিয়ায় ১৩২৭ হিজরিতে মুহাম্মাদ বিন শানাব-এর সম্পাদনায়; বৈরুতে ১৩৩০ হিজরিতে; এরপর দামেস্কে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মাদ খাইর আল-বিক্বায়ীর সম্পাদনায়।

১৯- তুহফাতুল আবীহ ২ সেই সব ব্যক্তিদের সম্পর্কে যাদেরকে তাদের পিতা ছাড়া অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। এটি মিশরে ১৩৭০ হিজরি - ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।

২০- তুহফাতুল কামাঈল ৩ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে যাদের নাম ইসমাইল রাখা হয়েছে তাদের সম্পর্কে। সুয়ূতী, সাখাবী, ইবনুল ইমাদ, হাজি খলিফা এবং ফাসী এর কথা উল্লেখ করেছেন। তাজুল আরূস-এর ভূমিকা দ্রষ্টব্য।

২১- আত-তুহাফ ওয়াত-তারায়েফ ফীন-নুকাতিশ শারাইফ। সম্ভবত এটি পরবর্তী "নুখাবুত তারায়েফ" হবে।

২২- আত-তাখারীজ (অথবা আত-তাজারীহ্) আল-ফাররা আল-বাগাভী রচিত মাসাবীহ গ্রন্থের হাদীস সংশ্লিষ্ট ফায়দা প্রসঙ্গে। সাখাবী, ইবনুল ইমাদ, হাজি খলিফা, ফাসী এবং বাগদাদী এটি উল্লেখ করেছেন।

২৩- তরকীকুল আসাল ফী তাসফীক্ব "তাদঈফুল আসাল"। সম্ভবত এটি পূর্বে উল্লিখিত "তাসক্বীফুল আসাল" হবে।

২৪- তাসহীলু ত্বারাইকিল উসূল ইলাল আহাদীস য-যায়িদা আলা জামিউল উসূল। এটি তিনি ইয়েমেনের শাসক আন-নাসির ইবনুল আশরাফের জন্য রচনা করেছেন। আদ-দউউল লামি', আল-বদরুত তালি', বুগয়াতুল উআত, শাযারাতুয যাহাব, মিফতাহুস সাআদা, কাশফুয যুনুন, আল-ইকদুস সামীন এবং দুররাতু... গ্রন্থে এর উল্লেখ রয়েছে।

--------------------------------------------

১ এবং মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খাইদারী (মৃত্যু ৮৯৪ হি.) "তাক্বরীমুল আসাল ফী তাফদীলিল আসাল" শিরোনামে একটি কিতাব রচনা করেছেন। সাখাবী আদ-দউউল লামি' (৯/১২১) গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: "ফিরোযাবাদী তার বিপরীত বিষয়ে অগ্রগামী ছিলেন।"

২ আল-আবীহ: বিচক্ষণ বা বুদ্ধিমান ব্যক্তি।

৩ আল-কামাঈল: এটি ক্বিমআল-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো সর্দার বা নেতা।
(খণ্ড: ১) আল-বুলগাতু ফি তারাজিমি আইম্মাতিন নাহয়ি ওয়াল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الحجال، وذيل الدرر الكامنة، وعنوانه فيه "تسهيل الوصول".

25- تعيين "تعين" الغرفات للمعين على عين عرفات. ذكر في الضوء اللامع والشذرات والكشف والعقد الثمين ومقدمة تاج العروس.

26- تنوير المقباس في تفسير ابن عباس: نسبه إليه السخاوي والشوكاني وابن العماد. طبع مرات1. وقالوا: إنه منسوب للمجد على جهة الغلط، والصحيح أنه له2.

27- تهييج "مهيج" الغرام إلى البلد الحرام. ذكر في الضوء والشذرات والكشف.

28- تيسير فاتحة الإهاب "الإياب" بتفسير فاتح الكتاب. ذكر في الضوء والشذرات والبغية والبدر الطالع ومفتاح السعادة. منه نسخة في القاهرة، وأخرى في مكتبة الأحقاف بتريم، عنوانها "فاتحة الكتاب … ".

29- جزء في فضل سورة يس. جمعة للشيخ إسماعيل بن إبراهيم بن عبد الصمد الهاشمي العقيلي، المتوفى سنة 806هـ. ذكره المقريزي في ترجمة الشيخ إسماعيل هذا، في كتابه درر العقود الفريدة.

30- جليس "المجلس" الأنيس في أسماء الخندريس، وهو في بيان أسماء الخمر على حروف المعجم، وعدد أوصافها، وتعظيم الأمر في تحريمها، وذكر من حرمها على نفسه في الجاهلية والإسلام. منه نسخ بدار الكتب بالقاهرة، والمكتبة التيمورية، والإسكندرية.

31- حاصل كورة الخلاص في فضائل سورة الإخلاص. ذكر في الضوء والشذرات والكشف، وفي مفتاح السعادة بعنوان "كورة الخلاص".

32- الحث على طلب العلم. منه نسخة دار الكتب المصرية برقم 22 أدب

--------------------------------------------

1 منها الطبعة الصادرة عن شركة مصطفى البابي الحلبي بالقاهرة عام 1951م، وطبعة دار الكتب العلمية ببيروت عام 1992م.

2 راجع إن شئت نص الإجازة به في العقد الثمين 2/ 395.
আল-হিজাল, এবং যাইলে দোরারুল কামিনাহ, এবং এতে এর শিরোনাম হলো "তাসহিলুল উসুল"।

২৫- তা'য়িন (বা "তা'আয়ুন") আল-গুরাফাত লিল-মু'য়িন আলা আইন আরাফাত। এটি আদ-দাওউল লামি', আশ-শাযারাত, আল-কাশফ, আল-ইকদুজ সামিন এবং তাজুল আরুসের ভূমিকায় উল্লেখিত হয়েছে।

২৬- তানভিরুল মিকবাস ফি তাফসির ইবনে আব্বাস: সাখাবি, শাওকানি এবং ইবনুল ইমাদ এটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন। এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।১ এবং তাঁরা বলেছেন: এটি ভুলবশত মাজদ-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তবে সঠিক হলো এটি তাঁরই।২

২৭- তাহয়ীজ (বা "মুহায়্যিজ") আল-গারাম ইলাল বালাদিল হারাম। এটি আদ-দাও, আশ-শাযারাত এবং আল-কাশফ-এ উল্লেখিত হয়েছে।

২৮- তাইসির ফাতিহাতুল ইহাব (বা "আল-ইয়াব") বিতাসফসির ফাতিহিল কিতাব। এটি আদ-দাও, আশ-শাযারাত, আল-বুগইয়াহ, আল-বাদরুত তালি' এবং মিফতাহুস সা'আদাহ-তে উল্লেখিত হয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি কায়রোতে এবং অন্যটি তারিমের আহকাফ লাইব্রেরিতে রয়েছে, যার শিরোনাম "ফাতিহাতুল কিতাব..."।

২৯- সূরা ইয়াসিনের ফজিলত বিষয়ক একটি পুস্তিকা। এটি শেখ ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল সামাদ আল-হাশিমি আল-উকাইলি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি) সংকলন করেছেন। আল-মাকরিজি তাঁর 'দোরারুল উকুদ আল-ফারিদাহ' গ্রন্থে এই শেখ ইসমাইলের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

৩০- জালিস (বা "আল-মাজলিস") আল-আনিস ফি আসমায়িল খানদারিস; এটি অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী মদের নামসমূহ, এর গুণাগুণের সংখ্যা, এটি হারাম হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ এবং জাহিলিয়াত ও ইসলামি যুগে যারা নিজের জন্য এটি হারাম করেছিলেন তাদের বর্ণনায় রচিত। এর পাণ্ডুলিপিসমূহ কায়রোর দারুল কুতুব, তাইমুরিয়া লাইব্রেরি এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় রয়েছে।

৩১- হাসিল কুরাতুল খালাস ফি ফাদায়িল সুরাতুল ইখলাস। এটি আদ-দাও, আশ-শাযারাত এবং আল-কাশফ-এ উল্লেখিত হয়েছে, এবং মিফতাহুস সা'আদাহ-তে "কুরাতুল খালাস" শিরোনামে রয়েছে।

৩২- আল-হাসসু আলা তলাবিল ইলম (জ্ঞান অন্বেষণে উৎসাহ প্রদান)। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুবের সাহিত্য বিভাগে ২২ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

--------------------------------------------

১ এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫১ সালে কায়রোর মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি কোম্পানি কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণ এবং ১৯৯২ সালে বৈরুতের দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণ।

২ আপনি চাইলে আল-ইকদুজ সামিন ২/৩৯৫-এ এর ইজাজতের (অনুমতিপত্রের) মূল পাঠটি দেখে নিতে পারেন।