(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: -)
منهاج المحدثين في القرن الأول الهجري وحتى عصرنا الحاضر القسم: علوم الحديث
الكتاب: منهاج المحدثين في القرن الأول الهجري وحتى عصرنا الحاضر
المؤلف: على عبد الباسط مزيد
الناشر: الهيئة المصرية العامة للكتاب
الطبعة: -
عدد الصفحات: 493
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা
লেখক: আলী আব্দুল বাসিত মাজিদ
প্রকাশক: আল-হায়আহ আল-মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল-কিতাব
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৩
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم:
الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجًا، يهدي به الله من اتبع رضوانه سبل السلام، ويخرجهم من الظلمات إلى النور بإذنه، ويهديهم إلى صراط مستقيم.
وأفضل الصلاة وأتم التسليم على سيدنا محمد الذي بعثه الله في الأميين رسولًا منهم، يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفي ضلال مبين.. أما بعد،
لقد أمرنا الله تعالى باتباع رسوله دون مراء، وطاعته دون جدال، فقال: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] ، وحذرنا من مخالفته بالفتنة أو العذاب الأليم، قال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] ، فلا ينبغي لمؤمن أن يتردد في الاحتكام إلى شرعه، والالتزام بمنهجه وهديه. قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36] .
ولا يشك مسلم في أن شرع الله تعالى وهديه يتمثل في القرآن الكريم والسُّنَّة المطهرة؛ ولذلك قال تعالى: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النور: 54] ، وقال صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه"، فالكتاب والسُّنَّة هما الشرع الحنيف، والدين القيم، من تمسك بهما رشد، ومن حكم بهما عدل، ومن عمل بهما أُجر، ومن التزم بهما هُدي إلى صراط مستقيم، قال صلى الله عليه وسلم: "تركت فيكم أمرين لن تضلوا بعدي إن تمسكتم بهما: كتاب الله وسنتي".
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি; এর মাধ্যমে আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে, এবং স্বীয় নির্দেশে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দেন।
আর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক, যাঁকে আল্লাহ উম্মিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন; যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। অতঃপর...
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাদের কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই তাঁর রাসূলের অনুসরণ এবং কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। আর তিনি তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করার ব্যাপারে ফেতনা কিংবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সতর্কতা প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো ফেতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে} [আন-নূর: ৬৩]। সুতরাং কোনো মুমিনের পক্ষে তাঁর প্রবর্তিত শরীয়তের ফয়সালা গ্রহণ করতে এবং তাঁর আদর্শ ও হেদায়াত অনুসরণে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া সমীচীন নয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো} [আল-আহযাব: ৩৬]।
কোনো মুসলিমের এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলার শরীয়ত ও হেদায়াত কুরআনুল কারিম এবং পবিত্র সুন্নাহর (سنة) মধ্যেই নিহিত। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলো, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো} [আন-নূর: ৫৪]। আর নবী (সা.) এরশাদ করেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে।" সুতরাং কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) হলো বিশুদ্ধ শরীয়ত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। যে এই দুটিকে আঁকড়ে ধরবে সে সঠিক পথ পাবে, যে এই দুটির ভিত্তিতে ফয়সালা করবে সে ইনসাফ করবে, যে এই দুটি অনুযায়ী আমল করবে সে পুরস্কৃত হবে এবং যে এই দুটির অনুসারী হবে সে সরল পথের দিশা পাবে। নবী (সা.) এরশাদ করেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না যদি এই দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকো: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ (سنة)।"
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولقد أدرك السلف قدر السُّنَّة ومكانتها -فضلًا عن القرآن الكريم- فحفظوها في الصدور، ودونوها في السطور، ورَعَوْها حق رعايتها، فكانت مصدر قوتهم، وسر هيبتهم.
ومن الغريب والعجيب أننا في الوقت الذي نرى فيه عناية؛ بل ومفاخرة غير المسلمين بتراثهم الحضاري والثقافي والعلمي -نرى نابتة تزعم الانتساب إلى الإسلام تهاجم موروثها الديني، وتعمل جاهدة للنيل منه والحط من قدره؛ بل وتسعى للخلاص منه.
وهؤلاء وُلدوا في بلادنا، ويتكلمون بلغتنا؛ ولكنهم تغذوا فكر الكفرة والمشركين والملاحدة، فنمت أعوادهم مائلة إليهم، وجندوا أنفسهم الخبيثة وأقلامهم الملوثة للثرثرة في وسائل الإعلام والنشر المختلفة، ومن حين لآخر يختلقون المشاكل ليُسقطوا من بناء الإسلام لَبِنة، ومن مهابته في النفوس جزءًا، وقد اتخذت هذه الفئة الضالة مسالك شتى للوصول إلى أغراضهم، وللالتفات حول الإسلام جميعًا، فمنهم من جنَّد نفسه للنيل من قدسية القرآن الكريم، وسوء تأويله، ومنهم من جند نفسه للنيل من قدسية الحديث الشريف، أو التشكيك في الصحيح منه، وهؤلاء لا يخرجون عن ثلاثة أصناف: صنف جاهل غبي افتتن بحب الظهور، وصنف ملحد يدعو إلى الإلحاد لهوى في نفسه، وصنف مأجور لخدمة غير المسلمين الطامعين.
وقد قيض الله تعالى لهؤلاء وأمثالهم في كل عصر مَن يتصدى لهم، ويفضح أمرهم، ويحذِّر المسلمين منهم، وصدق الله العظيم إذ يقول: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .
ويوضح هذا البحث مدى عناية السلف والخلف -رجالًا ونساء- بالحديث النبوي الشريف، تدوينًا وتوثيقًا ورواية وغير ذلك، وأنهم بذلوا جهودًا كبيرة جدًّا من أجل خدمة السُّنَّة النبوية، والمحافظة عليها، والذود عنها في حياة النبي صلى الله عليه وسلم وبعد مماته.
পূর্বসূরিগণ (السلف) পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি সুন্নাহর মর্যাদা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তাঁরা তা অন্তরে মুখস্থ করেছেন, লেখনীর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। ফলে এটি ছিল তাঁদের শক্তির উৎস এবং তাঁদের প্রভাব-প্রতিপত্তির রহস্য।
এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অদ্ভুত বিষয় যে, যখন আমরা অমুসলিমদের তাদের সভ্যগত, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য নিয়ে যত্নশীল হতে দেখি—বরং তা নিয়ে গর্ব করতে দেখি—তখন আমাদের মাঝে এমন এক নব্য সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটছে যারা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করা সত্ত্বেও নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ করছে। তারা একে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে; এমনকি তারা এ থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি পেতেও সচেষ্ট।
এরা আমাদের দেশেই জন্মগ্রহণ করেছে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলে; কিন্তু তারা কাফের, মুশরিক ও নাস্তিকদের চিন্তাধারায় পুষ্ট হয়েছে। ফলে তাদের স্বরূপ তাদের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। তারা তাদের কলুষিত প্রবৃত্তি ও অপবিত্র কলমকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশনা মাধ্যমে প্রলাপ বকতে নিয়োজিত করেছে। তারা মাঝে মাঝেই নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভাবন করে যাতে ইসলামের প্রাসাদের একটি করে ইট এবং মানুষের অন্তর থেকে এর গাম্ভীর্যের অংশবিশেষ ধসিয়ে দেওয়া যায়। এই পথভ্রষ্ট দলটি তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এবং ইসলামকে সবদিক থেকে এড়িয়ে চলার জন্য নানাবিধ পন্থা অবলম্বন করেছে। তাদের মধ্যে কেউ পবিত্র কুরআনের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করতে এবং এর অপব্যাখ্যায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে, আবার কেউ হাদিসের পবিত্রতা নষ্ট করতে বা এর মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) হাদিস সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করতে আত্মনিয়োগ করেছে। এরা মূলত তিনটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত: এক শ্রেণি হলো জাহেল বা মূর্খ যারা আত্মপ্রচারের মোহে আচ্ছন্ন, দ্বিতীয় শ্রেণি হলো নাস্তিক যারা নিজেদের কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে নাস্তিকতার আহ্বান জানায়, আর তৃতীয় শ্রেণি হলো ভাড়াটে গোষ্ঠী যারা লোভী অমুসলিমদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিয়োজিত।
মহান আল্লাহ প্রত্যেক যুগে এদের এবং এদের মতাদর্শীদের প্রতিহত করার জন্য, তাদের স্বরূপ উন্মোচন করার জন্য এবং মুসলমানদেরকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য এমন একদল মানুষ নির্ধারণ করে দিয়েছেন যারা তাদের মোকাবিলা করবেন। মহান আল্লাহর বাণী চিরসত্য, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী।” [সূরা হিজর: ৯]।
এই গবেষণাটি হাদিস সংকলন (تدوين), প্রামাণ্যিকরণ (توثيق) ও বর্ণনা (رواية) ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে পূর্বসূরি (السلف) এবং উত্তরসূরিদের (الخلف) অবদানের বিষয়টি স্পষ্ট করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় ও তাঁর ইন্তেকালের পর সুন্নাহর সেবা, এর হেফাজত এবং একে রক্ষা করার জন্য তাঁরা যে বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তা-ও এখানে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৯)
- وقد جاء هذا البحث في مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب:
المقدمة: فيها التنبيه على أهمية التمسك بالسُّنَّة النبوية باعتبارها المصدر الثاني للتشريع الإسلامي، وأنها نالت عناية السلف في الصدر الأول للإسلام، والتنبيه أيضًا على أن هناك مشوشين يسعون للنيل من السُّنَّة المطهرة، وأن علماء المسلمين المتخصصين تعقبوا هذه الفئة الضالة، وفندوا كافة مزاعمهم، وردوهم على أعقابهم خاسرين.
التمهيد: وفيه فصلان:
الفصل الأول: منكرو السُّنَّة والرد عليهم، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: مزاعم منكري السُّنَّة قديمًا والرد عليها.
المبحث الثاني: منكرو السُّنَّة حديثًا، وتفنيد مزاعمهم.
الفصل الثاني: مكانة السُّنَّة في التشريع الإسلامي.
الباب الأول: مناهج المحدثين في القرن الأول الهجري:
وفيه أحد عشر فصلًا:
الفصل الأول: مظاهر اهتمام الصحابة بالسُّنَّة.
الفصل الثاني: كتابة السُّنَّة في العهد النبوي.
الفصل الثالث: أشهر الصحف والكتابات في العهد النبوي.
الفصل الرابع: الكتاب الذي كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمرو بن حزم.
الفصل الخامس: بواعث كتابة الحديث الشريف في القرن الأول الهجري.
الفصل السادس: مظاهر احتياط الصحابة في قبول الحديث الشريف.
الفصل السابع: منهج الصحابة في رواية الحديث الشريف.
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা এবং তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
ভূমিকা: এতে ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার গুরুত্বের বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে এবং এটি যে ইসলামের প্রথম যুগে পূর্বসূরিদের বিশেষ যত্ন লাভ করেছিল তা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা পবিত্র সুন্নাহর অবমাননা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞ মুসলিম আলেমগণ এই পথভ্রষ্ট গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের সকল অপপ্রচার খণ্ডন করেছেন এবং তাদের চরমভাবে পরাজিত করেছেন।
প্রারম্ভিকা: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারী এবং তাদের জবাব; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রাচীনকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের দাবি এবং তার জবাব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আধুনিককালের সুন্নাহ অস্বীকারকারী এবং তাদের অপপ্রচারের খণ্ডন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামী শরীয়ত ব্যবস্থায় সুন্নাহর অবস্থান।
প্রথম অধ্যায়: হিজরি প্রথম শতাব্দীতে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতিসমূহ (مناهج):
এতে ১১টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের গুরুত্ব প্রদানের নিদর্শনসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী কারীম (সা.)-এর যুগে সুন্নাহ সংকলন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী কারীম (সা.)-এর যুগে সংকলিত প্রসিদ্ধ পাণ্ডুলিপি ও লেখনীসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমর ইবনে হাযম (রা.)-এর নিকট যে লিপিটি লিখেছিলেন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হিজরি প্রথম শতাব্দীতে হাদিস সংকলনের কারণসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হাদিস গ্রহণ (قبول) করার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের সতর্কতা অবলম্বনের নিদর্শনসমূহ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج)।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثامن: الصحابة المكثرون لرواية الحديث الشريف.
الفصل التاسع: أسباب تفاوت الصحابة في رواية الحديث الشريف.
الفصل العاشر: دور أمهات المؤمنين في خدمة الحديث الشريف.
الفصل الحادي عشر: أسباب تفاوت أمهات المؤمنين في الرواية.
الباب الثاني: مناهج المحدثين في القرن الثاني الهجري:
وفيه سبعة فصول:
الفصل الأول: المستجدات في هذا العصر.
الفصل الثاني: التدوين الشامل للسنة في هذا العصر، ومنهج العلماء في التصنيف.
الفصل الثالث: جهود التابعين في توثيق السُّنَّة وحفظها وتدوينها في النصف الأول من القرن الثاني الهجري.
الفصل الرابع: أشهر الصحف والكتابات في القرن الثاني الهجري.
الفصل الخامس: ضوابط الرواية عند التابعين.
الفصل السادس: التصنيف في القرن الثاني وبداية الثالث الهجريين.
الفصل السابع: الأئمة الأربعة، وأثرهم في علوم الحديث.
الباب الثالث: مناهج المحدثين في القرن الثالث الهجري وحتى عصرنا الحاضر:
وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: مناهج المحدثين في القرن الثالث الهجري:
وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: أهم المشكلات التي واجهت المحدثين في القرن الثالث الهجري.
অষ্টম পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনায় অধিক বর্ণনাকারী (المكثرون) সাহাবীগণ।
নবম পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনায় সাহাবীগণের মধ্যে পার্থক্যের কারণসমূহ।
দশম পরিচ্ছেদ: হাদিসের সেবায় উম্মাহাতুল মুমিনিনের ভূমিকা।
একাদশ পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনায় (الرواية) উম্মাহাতুল মুমিনিনের মধ্যে পার্থক্যের কারণসমূহ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি:
এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই যুগের নতুন উদ্ভূত বিষয়সমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই যুগে সুন্নাহর ব্যাপক সংকলন (التدوين) এবং গ্রন্থ বিন্যাসে (التصنيف) আলিমগণের পদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধে সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق), তা সংরক্ষণ ও সংকলনে (تدوين) তাবেয়ীগণের প্রচেষ্টা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর বিখ্যাত সহিফা (الصحف) ও রচনাবলি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাবেয়ীগণের নিকট হাদিস বর্ণনার (الرواية) নীতিমালা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে গ্রন্থ বিন্যাস (التصنيف)।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: চার ইমাম এবং হাদিস শাস্ত্রে (علوم الحديث) তাঁদের প্রভাব।
তৃতীয় অধ্যায়: হিজরি তৃতীয় শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি:
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি:
এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المبحث): হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে মুহাদ্দিসগণ যেসব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: تدوين الحديث وعلومه في القرن الثالث الهجري.
المبحث الثالث: مناهج العلماء في تدوين الحديث في القرن الثالث الهجري.
المبحث الرابع: أئمة القرن الثالث الهجري، ومناهجهم.
وفيه: الإمام البخاري، والإمام مسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، وأحمد بن حنبل.
الفصل الثاني: مناهج المحدثين في القرن الرابع الهجري.
الفصل الثالث: منهج التصنيف في القرن الخامس وحتى سقوط الخلافة العباسية.
الفصل الرابع: منهج التصنيف من سقوط الخلافة العباسية حتى عصرنا الحاضر:
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: السُّنَّة من عام "656هـ" حتى عام "911هـ".
المبحث الثاني: دور العلماء في خدمة السُّنَّة بعد عام "911هـ" وحتى آخر القرن الرابع الهجري.
المبحث الثالث: دور أشهر الممالك التي كان لها أثر ملموس في خدمة السُّنَّة في هذا العصر.
المبحث الرابع: جهود علماء المسلمين في خدمة السُّنَّة في العصر الحاضر.
والله الموفق والمستعان
دكتور/ علي عبد الباسط مزيد
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে হাদিস সংকলন (تدوين) ও হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে হাদিস সংকলনের (تدوين) ক্ষেত্রে আলেমগণের কর্মপদ্ধতিসমূহ (مناهج)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর ইমামগণ এবং তাঁদের কর্মপদ্ধতিসমূহ (مناهج)।
এতে রয়েছে: ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ এবং আহমদ বিন হাম্বল।
দ্বিতীয় অধ্যায়: হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে হাদিস বিশারদগণের (محدثين) কর্মপদ্ধতিসমূহ (مناهج)।
তৃতীয় অধ্যায়: হিজরি পঞ্চম শতাব্দী থেকে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন পর্যন্ত গ্রন্থ রচনার (تصنيف) পদ্ধতি (منهج)।
চতুর্থ অধ্যায়: আব্বাসীয় খিলাফতের পতন থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত গ্রন্থ রচনার (تصنيف) পদ্ধতি (منهج):
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ৬৫৬ হিজরি থেকে ৯১১ হিজরি পর্যন্ত সুন্নাহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ৯১১ হিজরির পর থেকে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সুন্নাহর সেবায় আলেমগণের ভূমিকা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই যুগে সুন্নাহর সেবায় দৃশ্যমান প্রভাব রাখা প্রসিদ্ধ রাষ্ট্রসমূহের ভূমিকা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বর্তমান যুগে সুন্নাহর সেবায় মুসলিম আলেমগণের প্রচেষ্টা।
আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।
ডক্টর/ আলী আব্দুল বাসিত মাজিদ
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
التمهيد
الفصل الأول: منكرو السنة والرد عليهم
المبحث الأول: مزاعم منكري السنة قديما، والرد عليها…التمهيد:
وفيه فصلان:
الفصل الأول: منكرو السُّنَّة والرد عليهم
لأهمية السُّنَّة في بناء التشريع الإسلامي اهتمت بها الأمة اهتمامًا بالغًا، وسخروا لها كافة جهودهم وكل طاقاتهم، ابتداء من الصحابة رضوان الله عليهم، وتمخض عن هذا الاهتمام علوم عظيمة غايتها البحث في معاني الأحاديث النبوية الشريفة، وشكلها، وطريقة روايتها، وتمييز صحيحها من سقيمها، ولم يوجد رجل أو امرأة ممن روى الحديث الشريف إلا وله ترجمة خضعت لبحث دقيق من كل ناحية. ورغم ذلك ظهر في كل عصر من ينكر السُّنَّة، ويطالب بالاكتفاء بالقرآن الكريم، بحجة أن السُّنَّة لم تنقل إلينا كما ينبغي، وهذا افتراء يدحضه عديد من الأدلة، ونوضح ذلك من خلال المبحثين الآتيين:
المبحث الأول: مزاعم منكري السُّنَّة قديمًا، والرد عليها
من يتأمل كلام منكري السُّنَّة قديمًا يجدهم يركزون على عدة مزاعم؛ هي:
الأول: أن القرآن الكريم نزل بلسان عربي يفهمه مَن عرف العربية، وتفقه فيها، وقد ورد إلينا ورودًا قطعيًّا لا شك فيه، فلا حاجة إلى السُّنَّة كي تبينه.
الثاني: أن الله تعالى قد نص في كتابه العزيز على أنه قد حوى كل شيء، وفيه تبيان كل شيء.
الثالث: أن السُّنَّة قد وردت إلينا ورودًا ظنيًّا؛ لأنها نقلت عن طريق الرواة الذين يخطئون وينسون ويكذبون، فالرواية باطلة، وما تنقله باطل لا يصح الاحتجاج به.
ভূমিকা
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারী এবং তাদের খণ্ডন
প্রথম অনুচ্ছেদ: অতীতে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের দাবি-দাওয়া এবং সেগুলোর খণ্ডন…ভূমিকা:
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারী এবং তাদের খণ্ডন
ইসলামি শরিয়ত কাঠামোর নির্মাণে সুন্নাহর গুরুত্বের কারণে উম্মাহ এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের যুগ থেকে শুরু করে তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও শক্তি এর পেছনে উৎসর্গ করেছে। এই গুরুত্বারোপের ফলে এমন কিছু মহান শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে যার লক্ষ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের অর্থ, অবয়ব এবং বর্ণনা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা এবং এর মধ্য থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হাদিস থেকে পৃথক করা। হাদিস বর্ণনা করেছেন এমন প্রত্যেক পুরুষ বা নারীর জীবনীই প্রতিটি দিক থেকে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার অধীন হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিটি যুগে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা সুন্নাহকে অস্বীকার করে এবং কেবল কুরআনুল কারীমকেই যথেষ্ট মনে করার দাবি জানায়; এই অজুহাতে যে, সুন্নাহ আমাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি। এটি একটি অপবাদ যা অসংখ্য দলিলের মাধ্যমে খণ্ডন করা হয়েছে। আমরা নিম্নোক্ত দুটি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করব:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অতীতে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের দাবি-দাওয়া এবং সেগুলোর খণ্ডন
যারা অতীতে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের বক্তব্য নিয়ে চিন্তা করবেন তারা দেখবেন যে, তারা কয়েকটি দাবির ওপর গুরুত্বারোপ করে; সেগুলো হলো:
প্রথমত: কুরআনুল কারীম আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে যা যারা আরবি ভাষা জানেন এবং এতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছেন তারা বুঝতে পারেন। আর এটি আমাদের কাছে সুনিশ্চিত (قطعي) পন্থায় পৌঁছেছে যাতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং এটি ব্যাখ্যা করার জন্য সুন্নাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, এতে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এতে সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
তৃতীয়ত: সুন্নাহ আমাদের কাছে ধারণাপ্রসূত (ظني) পন্থায় পৌঁছেছে; কারণ এটি সেই সব বর্ণনাকারী (الرواة)-দের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যারা ভুল করেন, বিস্মৃত হন এবং মিথ্যা বলেন। সুতরাং এই বর্ণনা বাতিল এবং এর মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে তাও বাতিল, যার দ্বারা দলিল পেশ করা (الاحتجاج) সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرابع: كيف نسوي بين القرآن الكريم الذي ورد ورودًا قطعيًّا، والسُّنَّة التي وردت ورودًا ظنيًّا، ونخصص بها عام الكتاب، أو نقيد مطلقه؟ 1
وقد تصدى كثير من الأئمة والعلماء -قديمًا وحديثًا- بالرد على منكري السُّنَّة وتفنيد مزاعمهم.. ونتخير من هذه الردود رد الإمام الشافعي، والعالِم الحجة ابن أبي حاتم الرازي.
أولًا: رد الإمام الشافعي
يعتبر رد الإمام الشافعي من أبلغ الردود وأبين المناقشات قديمًا. ومجمل رده ومناقشته لهم ينحصر فيما يلي2:
أولًا: أن الله تعالى نص في القرآن الكريم على السُّنَّة، وذلك في قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [الجمعة: 2] ، ونحوه قوله تعالى: {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آَيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 151] فالعطف هنا على مغاير، فالكتاب غير الحكمة، ولا يُسلَّم للمعترضين أن الكتاب والحكمة لفظان يدلان على معنى واحد، وأن الحكمة هي الكتاب.
فهذا الاعتراض مدفوع بما جاء في آيات أخرى، نحو قوله تعالى: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آَيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ} [الأحزاب: 34] ، فالحكمة هي السُّنَّة، وآيات الله هي القرآن الكريم، والمراد بالتلاوة القراءة، ولو صح قولهم لكانت الكلمات الثلاث "آياته، الكتاب، الحكمة" مترادفات، وهي جميعًا في آية واحدة، وهي قوله تعالى: {يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ} [البقرة: 129] والقول باشتمال آية واحدة على ثلاثة مترادفات غير معهود في الأسلوب القرآني، ويتنافى مع إيجاز القرآن وبلاغته3.
--------------------------------------------
চতুর্থ: আমরা কীভাবে পবিত্র কুরআন—যা অকাট্য (قطعي) উপায়ে বর্ণিত হয়েছে এবং সুন্নাহ—যা ধারণাপ্রসূত (ظني) উপায়ে বর্ণিত হয়েছে, এই দুইয়ের মাঝে সমতা বিধান করব? এবং কীভাবে সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষিত করব অথবা এর নিরঙ্কুশ (مطلق) বিধানকে সীমাবদ্ধ করব? ১
অতীত ও বর্তমানের বহু ইমাম ও আলিম সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের জবাব দিতে এবং তাদের অমূলক দাবিগুলো খণ্ডন করতে এগিয়ে এসেছেন। আমরা এই জবাবগুলোর মধ্য থেকে ইমাম শাফিঈ এবং প্রামাণিক (حجة) আলিম ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির জবাবগুলো নির্বাচন করছি।
প্রথমত: ইমাম শাফিঈর জবাব
প্রাচীনকালের বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যে ইমাম শাফিঈর জবাবটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট হিসেবে গণ্য হয়। তাদের প্রতি তাঁর জবাব ও আলোচনার সারসংক্ষেপ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ২:
প্রথমত: মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুন্নাহর ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন।" [জুমুআ: ২]। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন এবং যা তোমরা জানতে না তা শিক্ষা দেন।" [বাকারা: ১৫১]। এখানে শব্দ সংযোজন (العطف) ভিন্নতর বিষয়ের ওপর করা হয়েছে; ফলে 'কিতাব' এবং 'হিকমাহ' ভিন্ন দুটি বিষয়। বিরোধীদের এই দাবি মেনে নেওয়া যায় না যে, কিতাব ও হিকমাহ শব্দ দুটি একই অর্থ প্রকাশ করে এবং হিকমাহ মূলত কিতাবই।
তাদের এই আপত্তিটি অন্য আয়াতের মাধ্যমে খণ্ডন করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমাহ পঠিত হয় তা তোমরা স্মরণ করো।" [আহযাব: ৩৪]। এখানে হিকমাহ হলো সুন্নাহ এবং আল্লাহর আয়াতসমূহ হলো পবিত্র কুরআন। আর তিলাওয়াত অর্থ পাঠ করা। তাদের কথা যদি সঠিক হতো, তবে 'আয়াতসমূহ', 'কিতাব' ও 'হিকমাহ'—এই তিনটি শব্দ সমার্থক (مترادفات) হতো, অথচ এগুলো সব একটি আয়াতেই বর্ণিত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন।" [বাকারা: ১২৯]। একটি আয়াতে তিনটি সমার্থক (مترادفات) শব্দের সমাবেশ কুরআনের শৈলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা কুরআনের সংক্ষিপ্ততা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) পরিপন্থী ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وإذا كان القرآن الكريم اشتمل على السُّنَّة، فيجب علينا أن نأخذ بها، وألا نكون كمن آمنوا ببعض الكتاب وكفروا ببعض، قال تعالى: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ} [البقرة: 85] .
ثانيًا1: قد فرض الله تعالى علينا اتباع النبي صلى الله عليه وسلم فقال تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] ، وقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36] ، وقال: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80] ، وقال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] .
فهذه الآيات ونحوها تدل على أن هناك أحكامًا وأوامر للرسول صلى الله عليه وسلم ليست في القرآن، ويجب علينا اتباعها تنفيذًا لأوامر الله تعالى في كتابه العزيز، ولا يمكن اتباعها إلا بأخذها من الرواة الذين نقلوها، وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب -كما يقول الأصوليون.
وليس المراد من حكم الرسول صلى الله عليه وسلم وطاعته في الآيات هو الحكم بما أنزل الله في كتابه، وطاعته فيما يبلغهم من كتاب الله عز وجل كما يزعم لمعترضون، ولو سلمنا ذلك جدلًا، فإنا لا نجد السبيل إلى تطبيق أحكام الله عز وجل على الوجه الأكمل إلا إذا اقتدينا بالرسول صلى الله عليه وسلم القدوة الحسنة والوقوف على سنته والأخذ بها، وطريقنا إليها هو الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ثالثًا: هناك بعض الأحكام التي نُسخت في القرآن الكريم وجاءت مكانها أحكام أخرى، ولم يبين هذا النسخ إلا السُّنَّة؛ مما يجعلنا في حاجة إلى الأخذ بها.
ومن ذلك قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا
আর যদি পবিত্র কুরআন সুন্নাহকে (السنة) অন্তর্ভুক্ত করে থাকে, তবে আমাদের জন্য তা গ্রহণ করা আবশ্যক (واجب)। আমাদের তেমন হওয়া উচিত নয় যারা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করে এবং অন্য কিছু অংশকে অস্বীকার করে। মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান আনো এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এমনটি করে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা, আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [বাকারা: ৮৫]।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ ফরয করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু না, আপনার পালনকর্তার কসম! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক নির্ধারণ করে, অতঃপর আপনার ফয়সালার বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেয়} [নিসা: ৬৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে অন্য কোনো ইখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হলো} [আহযাব: ৩৬]। তিনি আরও বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করলো} [নিসা: ৮০]। এবং তিনি বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব নেমে আসবে} [নূর: ৬৩]।
এই আয়াতসমূহ এবং এই জাতীয় বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন কিছু বিধান ও আদেশ রয়েছে যা কুরআনে নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে যে আদেশ দিয়েছেন তা পালনার্থে আমাদের সেই বিধানগুলোর অনুসরণ করা আবশ্যক (واجب)। আর যারা সেই বিধানগুলো বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ সেই বর্ণনাকারীগণের (الرواة) থেকে গ্রহণ করা ব্যতীত এগুলোর অনুসরণ সম্ভব নয়। উসুলবিদগণ (الأصوليون) যেমনটি বলেন— "যা ছাড়া কোনো ওয়াজিব (واجب) কাজ সম্পন্ন হয় না, তা সম্পন্ন করাও ওয়াজিব (واجب)"।
আয়াতসমূহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফয়সালা ও তাঁর আনুগত্যের উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা নাযিল করেছেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করা কিংবা আল্লাহর কিতাব থেকে যা তিনি তাঁদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সেই ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করা নয়— যেমনটি বিরোধীরা দাবি করে থাকে। তর্কের খাতিরে যদি আমরা তা মেনেও নিই, তবুও আমরা আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগের কোনো পথ পাব না, যতক্ষণ না আমরা উত্তম আদর্শ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করি এবং তাঁর সুন্নাহ (السنة) অবগত হয়ে তা গ্রহণ করি। আর সেখানে পৌঁছানোর পথ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনা (الرواية)।
তৃতীয়ত: কুরআনে এমন কিছু বিধান রয়েছে যা রহিত (نسخت) করা হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য বিধান এসেছে। এই রহিতকরণ (النسخ) সুন্নাহ (السنة) ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা স্পষ্ট হয়নি; যা আমাদের সুন্নাহ (السنة) গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের কারো নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, সে যদি কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য অসিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো...
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ} [البقرة: 180] ، فالآية تفرض وتقرر على المؤمنين أن يوصوا لوالديهم وأقربائهم إذا أحسوا بدنوِّ الأجل، وجاءت السُّنَّة بنسخ الوصية للوالدين والأقربن، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا وصية لوارث" 1، ولا دليل على هذا النسخ إلا بالسُّنَّة، فتطبيق حكم الله على الوجه الأكمل لا يكون إلا بالأخذ بالسُّنَّة، وذلك حتى لا يُعمل بآية قد نسخ الشرع حكمها.
رابعًا: وصرحوا بما هو حق؛ ولكنهم سرعان ما حوَّروه إلى باطل، فقالوا: إن السُّنَّة تخصص العام في القرآن الكريم، والقرآن قطعي الورود، والسُّنَّة ظنية الثبوت؛ فلهذا تُرد السُّنَّة؛ لأن القرآن قطعي وهي ظنية.
وهؤلاء يعارضون أنفسهم بأنفسهم؛ لأنهم يتفقون -مع غيرهم- على أن حرمة الدم والمال مقطوع بهما، ومتفقون على أنه إذا شهد اثنان على إنسان بأنه قتل آخر عمدًا، فإنه يباح دمه ويُقتل قَصاصًا، وإذا شهد اثنان على إنسان بأنه انتهب مالًا عوقب ويؤخذ من ماله بقدر ما أخذ، وقد حكمنا بذلك بناء على ظننا أن الشاهدين صادقان، فهذا تخصيص قطعي بظني: القطعي هو حرمة الدم والمال، والظني هو شهادة الشهود، ومنكرو السُّنَّة يعترفون بذلك ويقبلونه، فلِمَ يرفضون السُّنَّة بحجة أنها ظنية والقرآن قطعي؟!
--------------------------------------------
{পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সংগতভাবে অসিয়ত করা মুত্তাকিদের ওপর একটি অধিকার} [আল-বাকারাহ: ১৮০], এই আয়াতটি মুমিনদের ওপর তাদের মৃত্যু নিকটবর্তী অনুভব করলে পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করাকে অপরিহার্য ও সুনির্ধারিত করে। অতঃপর সুন্নাহ পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করার বিধানকে রহিতকরণ (نسخ) করার মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত নেই"। এই রহিতকরণ (نسخ)-এর সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো দলিল নেই। আল্লাহর বিধানকে পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সুন্নাহ গ্রহণ করা ব্যতীত সম্ভব নয়, যাতে এমন কোনো আয়াতের ওপর আমল না হয়ে যায় যার বিধান শরিয়ত রহিতকরণ (نسخ) করে দিয়েছে।
চতুর্থত: তারা সত্য কথাটি স্পষ্ট করে বলেছে; কিন্তু দ্রুতই তারা একে বাতিলের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে। তারা বলেছে: সুন্নাহ পবিত্র কুরআনের সাধারণ (عام) বিধানকে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করে, আর কুরআন অকাট্য সূত্রে আগত (قطعي الورود), অন্যদিকে সুন্নাহর সাব্যস্ত হওয়া ধারণাপ্রসূত (ظنية الثبوت); একারণে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা হবে; কারণ কুরআন অকাট্য (قطعي) আর সুন্নাহ ধারণাপ্রসূত (ظنية)।
এরা নিজেদের কথার মাধ্যমে নিজেরাই বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছে; কারণ তারা অন্যদের ন্যায় এ বিষয়ে একমত যে, জীবন ও সম্পদের পবিত্রতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। তারা এ বিষয়েও একমত যে, যদি দুইজন ব্যক্তি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য দেয় যে সে অন্য একজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে, তবে তার রক্ত বৈধ হয়ে যায় এবং কিসাস হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়। আবার যদি দুইজন ব্যক্তি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে সম্পদ লুণ্ঠনের সাক্ষ্য দেয়, তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং তার সম্পদ থেকে যতটুকু সে নিয়েছে তা কেড়ে নেওয়া হয়। আমরা এই বিচার করি আমাদের এই ধারণার ভিত্তিতে যে সাক্ষী দুইজন সত্যবাদী। সুতরাং এটি হলো একটি অকাট্য (قطعي) বিষয়কে ধারণাপ্রসূত (ظني) বিষয় দ্বারা নির্দিষ্টকরণ (تخصيص): এখানে অকাট্য (قطعي) বিষয়টি হলো জীবন ও সম্পদের পবিত্রতা, আর ধারণাপ্রসূত (ظني) বিষয়টি হলো সাক্ষীদের সাক্ষ্য। সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা বিষয়টি স্বীকার করে এবং গ্রহণ করে, তবে কেন তারা সুন্নাহ ধারণাপ্রসূত (ظنية) আর কুরআন অকাট্য (قطعي) হওয়ার অজুহাতে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا شك أن في الأخبار أو الأحاديث احتمال الخطأ والوهم والكذب؛ ولكن العلماء وضعوا ضوابط ومقاييس كثيرة للتثبت والتأكد من عدالة الرواة وضبطهم؛ بحيث يصبح نقل الحديث على وجه الصحة أكثر تأكيدًا من أداء الشهادة على الوجه الصحيح، ومنكرو السُّنَّة لا يختلفون في صحة الشهادة، فكيف يختلفون في صحة رواية السُّنَّة ونسبة الظن فيها أقل من نسبة الظن في الشهادة؟!
فالقرآن الكريم نص على اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم ويكون ذلك باتباع ما صدر عنه من قول أو فعل أو تقرير أو صفة، ونحن لا نعرف ذلك إلا بالرواية التي نالت عناية فائقة من الأئمة العلماء الذين وضعوا كافة الأسس والضوابط والمقاييس التي تبين حال كل واحد من رواة الحديث الشريف من حيث العدالة والضبط والإتقان
… إلخ.
ثانيًا: مناقشة الإمام ابن أبي حاتم الرازي للمنكرين للسُّنَّة
عاش ابن أبي حاتم في القرن الثالث وأوائل القرن الرابع الهجريين، وهو من أبرز الحريصين على نقل الرواية الصحيحة، وله مناقشات هامة في إثبات مشروعية الرواية في مقدمة كتابه "الجرح والتعديل" "1/ 1/ 1-13" ويمكننا توضيحها فيما يلي:
أولًا: قد جعل الله تعالى المسلمين عدولًا يُعتمد على شهادتهم وروايتهم، قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143] ومعنى الوسط: العدل، وهم كذلك بتمسكهم بمبادئ دينهم، فهم يشهدون يوم القيامة على الأنبياء بأنهم بلغوا عن ربهم رسالاته إلى الناس بناء على إخبار الله ورسوله لهم بذلك، وإذا كان الله تعالى جعلهم عدولًا وقَبِلَ روايتهم وأخبارهم التي رَوَوْها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه أحرى بنا أن نقبل روايتهم؛ لأنها نوع من الشهادة.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সংবাদ বা হাদিসের ক্ষেত্রে ভুল, বিভ্রম (وهم) এবং মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে; কিন্তু আলেমগণ বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং তাঁদের নির্ভুলতা (ضبط) যাচাই ও নিশ্চিত করার জন্য অনেক নীতিমালা ও মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন; যার ফলে হাদিসের শুদ্ধতা (صحة) বর্ণনা করা সঠিক সাক্ষ্য প্রদানের চেয়েও অধিক সুনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা সাক্ষ্যের শুদ্ধতার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে না, তবে তারা সুন্নাহর বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধতা এবং এতে ধারণাপ্রসূত (ظن) বিষয়ের অনুপাত সাক্ষ্যের তুলনায় কম হওয়া সত্ত্বেও কেন দ্বিমত পোষণ করে?!
পবিত্র কুরআন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে এবং তা তাঁর থেকে বর্ণিত কথা, কাজ, মৌন সম্মতি (تقرير) বা গুণাবলীর অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা এসব বিষয় কেবল বর্ণনার (رواية) মাধ্যমেই জানতে পারি, যা সেই ইমাম ও আলেমদের কাছ থেকে অত্যন্ত যত্ন লাভ করেছে যাঁরা এমন সকল মূলনীতি ও মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন যা হাদিসের প্রত্যেক বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), নির্ভুলতা (ضبط) এবং পারদর্শিতার (إتقان) অবস্থা স্পষ্ট করে দেয়... ইত্যাদি।
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের বিষয়ে ইমাম ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির আলোচনা
ইবনে আবি হাতিম তৃতীয় এবং চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে জীবিত ছিলেন। তিনি বিশুদ্ধ বর্ণনা (الرواية الصحيحة) সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর গ্রন্থ "আল-জারহ ওয়াত তাদিল"-এর ভূমিকার (১/ ১/ ১-১৩) বর্ণনার বৈধতা প্রমাণের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে, যা আমরা নিচে স্পষ্ট করতে পারি:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের ন্যায়পরায়ণ (عدول) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যাঁদের সাক্ষ্য এবং বর্ণনার (رواية) ওপর নির্ভর করা যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন।" [বাকারা: ১৪৩]। এখানে মধ্যপন্থী বা 'ওয়াসাত' শব্দের অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণতা (عدل)। দ্বীনের মূলনীতির ওপর অবিচল থাকার কারণে তাঁরা তেমনই। তাঁরা কিয়ামতের দিন নবীদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবেন যে, তাঁরা তাঁদের রবের পক্ষ থেকে রিসালাত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন; আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করার ভিত্তিতেই তাঁরা এটি করবেন। আল্লাহ তাআলা যখন তাঁদের ন্যায়পরায়ণ (عدول) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁদের বর্ণনা (رواية) ও সংবাদ গ্রহণ করেছেন, তখন আমাদের জন্য তাঁদের বর্ণনা গ্রহণ করা আরও বেশি সমীচীন; কারণ এটি এক প্রকার সাক্ষ্য।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وروى ابن أبي حاتم في تفسير الآية السابقة بإسناده عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي أنه قال صلى الله عليه وسلم: "يُدعى نوح عليه السلام يوم القيامة، فيقال له: هل بلغت؟ فيقول: نعم، فيُدعى قومه، فيقال لهم: هل بلغكم؟ فيقولون: ما أتانا من نذير، وما أتانا من أحد، فيُقال لنوح عليه السلام: مَن يشهد لك؟ فيقول: محمد صلى الله عليه وسلم وأمته، فذلك قوله عز وجل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} " قال: "الوسط: العدل، فتُدعون فتشهدون له بالبلاغ، ثم يشهد عليكم بعد".
قال ابن أبي حاتم: لما أخبر الله عز وجل أنه جعل هذه الأمة عدلًا في شهادتهم بتبليغ رسلهم رسالات ربهم بَانَ أن السُّنَّة تصح بالأخبار المروية؛ إذ كانت هذه الأمة إنما علمت بتبليغ الأنبياء رسالات ربهم بإخبار نبيهم صلى الله عليه وسلم.
وقد أشار الله تعالى إلى أن الأخبار لا تؤخذ إلا من العُدول؛ لأن هذا يجعلنا نطمئن إلى سلامة ما نُقل إلينا من التغيير والتحريف والتبديل1.
ثانيًا: قد حث الله تعالى المؤمنين بأن يَنْقُل من فَقُه أو تعلَّم من الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الآخرين الذين لم يتمكنوا من ذلك، وعملية النقل هذه هي الرواية، قال تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] .
روى ابن أبي حاتم بسنده عن ابن عباس 0رضي الله عنهما- أنه قال في تفسير هذه الآية: "لتنفر طائفة ولتمكث طائفة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فالماكثون مع رسول الله صلى الله عليه وسلم هم الذين يتفقهون في الدين وينذرون قومهم إذا رجعوا إليهم من الغزو لعلهم يحذرون ما أنزل من بعدهم من قضاء الله عز وجل وكتابه وحدوده".
قال ابن أبي حاتم: "قد أمر الله عز وجل المتخلفين مع نبيه صلى الله عليه وسلم عمن خرج غازيًا أن يخبروا إخوانهم الغازين إذا رجعوا إليهم بما سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم من سنته، فدل ذلك على أن السنن تصح بالإخبار".
--------------------------------------------
ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদ (إسناد) সহ পূর্ববর্তী আয়াতের তাফসিরে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন নুহ (আলাইহিস সালাম)-কে ডাকা হবে। তাঁকে বলা হবে: আপনি কি পৌঁছে দিয়েছেন? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। এরপর তাঁর কওমকে ডাকা হবে এবং তাদের বলা হবে: তিনি কি আপনাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? তারা বলবে: আমাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি এবং আমাদের কাছে কেউ আসেনি। তখন নুহ (আলাইহিস সালাম)-কে বলা হবে: আপনার পক্ষে কে সাক্ষ্য দিবে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর উম্মত। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে তৈরি করেছি}।" তিনি বললেন: "মধ্যপন্থী অর্থ: ন্যায়পরায়ণ (العدل); সুতরাং তোমাদের ডাকা হবে এবং তোমরা তাঁর বাণী পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে, এরপর তিনি তোমাদের ওপর সাক্ষ্য দিবেন।"
ইবনে আবি হাতিম বলেন: আল্লাহ তাআলা যখন সংবাদ দিলেন যে, তিনি এই উম্মতকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে রাসূলগণের রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ (عدلا) বানিয়েছেন, তখন এটি স্পষ্ট হলো যে বর্ণিত সংবাদ (الأخبار) সমূহের মাধ্যমে সুন্নাহ বিশুদ্ধ (تصح) সাব্যস্ত হয়; যেহেতু এই উম্মত তাঁদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদের মাধ্যমেই তাঁদের রবের রিসালাত বিষয়ে নবীদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার কথা জানতে পেরেছে।
আল্লাহ তাআলা এ দিকেও ইঙ্গিত করেছেন যে, সংবাদ (الأخبار) কেবল ন্যায়পরায়ণ (العدول) ব্যক্তিদের থেকেই গ্রহণ করা হবে; কারণ এটি আমাদের কাছে যা বর্ণিত হয়ে এসেছে তা পরিবর্তন, বিকৃতি এবং রদবদল থেকে নিরাপদ থাকার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করে।১
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উৎসাহিত করেছেন যাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যারা দ্বীন অনুধাবন করেছেন বা শিখেছেন, তারা অন্যদের কাছে তা পৌঁছে দেয় যারা এতে সক্ষম হয়নি। আর স্থানান্তরের এই প্রক্রিয়াটিই হলো বর্ণনা (الرواية)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে} [আত-তাওবাহ: ১২২]।
ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদ (سند) সহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন: "একদল যেন যুদ্ধে বের হয় এবং একদল যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অবস্থান করে। যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অবস্থান করবে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করবে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করবে, যাতে তারা তাদের পরবর্তী সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিচারিক ফয়সালা, কিতাব এবং সীমারেখা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পারে।"
ইবনে আবি হাতিম বলেন: "আল্লাহ তাআলা যারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে অবস্থান করেছে তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যাতে তারা তাদের সেই মুজাহিদ ভাইদেরকে—যারা ফিরে এসেছে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে যা শুনেছে তা সংবাদ দেয়। এটি প্রমাণ করে যে সংবাদ (إخبار) প্রদানের মাধ্যমে সুন্নাহ বিশুদ্ধ (تصح) হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي رواية لابن عباس رضي الله عنهما قال في تفسير الآية الكريمة: "كان ينطلق من كل حي من العرب عصابة، فيأتون النبي صلى الله عليه وسلم فيسألونه عما يريدون من أمر دينهم ويتفقهون في دينهم، ويقولون لنبي الله صلى الله عليه وسلم: ما تأمرنا أن نفعله؟ وأخبِرنا ما نقول لعشائرنا
… فيأمرهم نبي الله بطاعة الله وطاعة رسوله، ويبعثهم إلى قومهم بالصلاة والزكاة، وكانوا إذا أتَوا قومهم نادَوا: أن من أسلم فهو منا، وينذرونهم، حتى إن الرجل ليفارق أباه وأمه، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخبرهم، وينذرهم قومهم، فإذا رجعوا إليهم يدعونهم إلى الإسلام وينذرونهم النار ويبشرونهم بالجنة".
ثالثًا: قد كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتمد على رواية أخبار العدول، وينفذ بمقتضاها بعض الأحكام، وإذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعل ذلك فنحن نتأسى به، ونقبل السُّنَّة التي تأتينا عن طريق الرواة العدول، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: 6] .
روى ابن أبي حاتم بسنده عن ابن عباس في سبب نزول هذه الآية قوله: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث الوليد بن عقبة بن أبي مُعَيط إلى بني المصطلق ليأخذ منهم الصدقات، وأنه لما أتاهم الخبر فرحوا وخرجوا ليتلقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنه لما حُدِّث الوليد أنهم خرجوا يتلقونه رجع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! إن بني المصطلق قد منعوا الصدقة، فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم غضبًا شديدًا، فبينا هو يحدث نفسه أن يغزوهم إذ أتاه رجل فقال: يا رسول الله! إنا حُدِّثنا أن رسولك رجع من نصف الطريق، وإنا خشينا أن يكون رده كتاب جاءه منك بغضب علينا، وإنا نعوذ بالله من غضبه وغضب رسوله".
ورُوي عن مجاهد وقتادة والضحاك نحو ذلك.
قال ابن أبي حاتم: "لما أخبر الوليد بن أبي معيط النبي صلى الله عليه وسلم بامتناع من بعث إليهم مصدقًا فقبل خبره لصدق الوليد وستره عنده، وتغيظ عليهم بذلك
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)-এ তিনি এই পবিত্র আয়াতের তাফসিরে বলেন: "আরবদের প্রতিটি গোত্র থেকে এক একটি ক্ষুদ্র দল বের হতো, তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসত এবং তাদের দ্বীনের বিষয় সম্পর্কে যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করত এবং দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করত। তারা আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলত: 'আপনি আমাদের কী করার আদেশ দিচ্ছেন? এবং আমাদের বলুন আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের কী বলব...' তখন আল্লাহর নবী তাদের আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের নির্দেশ দিতেন এবং নামায ও যাকাতের বিধান দিয়ে তাদের কওমের নিকট পাঠাতেন। তারা যখন তাদের কওমের নিকট আসত, তখন ঘোষণা দিত: 'যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত'। তারা তাদের সতর্ক করত, এমনকি কোনো ব্যক্তি তার বাবা ও মায়ের থেকেও পৃথক হয়ে যেত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সংবাদ দিতেন এবং তাদের কওম সম্পর্কে সতর্ক করতেন। যখন তারা তাদের নিকট ফিরে যেত, তখন তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিত, জাহান্নাম সম্পর্কে সতর্ক করত এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিত।"
তৃতীয়ত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিদের সংবাদের বর্ণনার (رواية) ওপর নির্ভর করতেন এবং তার প্রেক্ষিতে কিছু বিধান কার্যকর করতেন। যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনটি করে থাকেন, তবে আমরাও তাঁরই অনুসরণ করব এবং ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীদের (رواة) সূত্রে আমাদের নিকট যে সুন্নাহ পৌঁছেছে তা গ্রহণ করব। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো কওমকে আক্রান্ত না করো, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও।} [সূরা আল-হুজুরাত: ৬]।
ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে ইবনে আব্বাস থেকে এই আয়াত নাযিলের কারণ সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওয়ালিদ ইবনে উকবা ইবনে আবি মুআইতকে বনু মুস্তালিকের নিকট পাঠিয়েছিলেন তাদের কাছ থেকে সদকা সংগ্রহ করতে। যখন তাদের নিকট সংবাদ পৌঁছাল, তারা আনন্দিত হলো এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিনিধিকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে এল। যখন ওয়ালিদকে বলা হলো যে তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বের হয়েছে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এলেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! বনু মুস্তালিক সদকা দিতে অস্বীকার করেছে'। এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। যখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা ভাবছিলেন, ঠিক তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট খবর পৌঁছেছে যে আপনার প্রতিনিধি মাঝপথ থেকে ফিরে গেছেন। আমরা ভয় পেয়েছি যে হয়তো আপনার পক্ষ থেকে কোনো পত্র এসেছে যাতে আপনি আমাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন। আমরা আল্লাহর ক্রোধ এবং তাঁর রাসূলের ক্রোধ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই'।"
মুজাহিদ, কাতাদাহ এবং দাহ্হাক থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (رؤي) হয়েছে।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: "ওয়ালিদ ইবনে আবি মুআইত যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের সদকা দিতে অস্বীকার করার কথা জানালেন যাঁদের নিকট তাঁকে সদকা সংগ্রাহক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, তখন নবীজি তাঁর সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন; কারণ ওয়ালিদ তাঁর নিকট সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন, আর একারণেই তিনি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهمَّ بغزوهم حتى نزل عليه القرآن: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} فكف عند ذلك عنهم، دل على أن السنن تصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بنقل الرواة الصادقين لها".
وقد تدل الآية على أن الفسقة لا تُؤخذ منهم الرواية، وبذلك تصان السُّنَّة من التحريف والتبديل1.
رابعًا: وقد ورد في أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم وجوب أخذ السنن بنقل الرواة العدول لها، ومن ذلك: الأمر بنقل الأخبار عنه صلى الله عليه وسلم وذلك في قوله: "بلغوا عني ولو آية، وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، ومن كذب عليَّ متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار" 2، وقوله: "حدثوا عني ولا حرج" 3، وقوله في أكثر من حديث: "فليبلغ الشاهد الغائب" 4.
وقد حذر النبي صلى الله عليه وسلم من الكذب عليه وبيَّن عقاب من يفعل ذلك، فلا يحل التحديث عنه إلا إذا تأكدنا من صحة نسبة الحديث إليه، ولا نقبل رواية الكاذبين، وبذلك نصل إلى الحق من سنته.
--------------------------------------------
এবং তিনি তাদের ওপর আক্রমণ করার সংকল্প করেছিলেন যতক্ষণ না তাঁর ওপর কোরআন অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।} ফলে তিনি তখন তাদের ব্যাপারে বিরত থাকলেন। এটি নির্দেশ করে যে, সত্যবাদী (الصادقين) বর্ণনাকারীদের (الرواة) মাধ্যমে বর্ণনা করার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহর বিশুদ্ধতা (تصح) প্রমাণিত হয়।
এই আয়াতটি এ কথাও নির্দেশ করতে পারে যে, পাপাচারীদের (الفسقة) থেকে কোনো বর্ণনা (الرواية) গ্রহণ করা হবে না। এর মাধ্যমেই সুন্নাহ বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষিত থাকে।১
চতুর্থত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতেও নির্ভরযোগ্য (العدول) বর্ণনাকারীদের (الرواة) মাধ্যমে সুন্নাহ গ্রহণের আবশ্যকতা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো তাঁর পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ, যা তাঁর এই বাণীতে বিদ্যমান: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়। আর বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"২ তাঁর আরও বাণী: "আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।"৩ এবং একাধিক হাদিসে তাঁর বাণী: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।"৪
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং যারা এরূপ করবে তাদের শাস্তি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদিসটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়। আর আমরা মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) বর্ণনা (الرواية) গ্রহণ করি না; এর মাধ্যমেই আমরা তাঁর সুন্নাহর সঠিক জ্ঞানে পৌঁছাতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২১)
ففي الحديث الشريف الحض على نقل السُّنة، والترغيب في طلبها، والسعى إلى تحصيلها وتبليغها، وتوصية المرتحلين فيها، قال ابن أبي حاتم: "ولما أوصى النبي صلى الله عليه وسلم بطالبي الآثار، والمرتحلين فيها، ونبه عن فضيلتهم؛ عُلم أن في ذلك ثبوت الآثار، بنقل الطالبين الناقلين لها، ولو لم تثبت بنقل الرواة لها لما كان في ترغيب النبي صلى الله عليه وسلم فيها معنى".
قال الأستاذ الدكتور/ رفعت فوزي مُعقبًا على ما سبق: "ويرى ابن أبي حاتم أنه أتى في ذلك بما يراه كافيًا لدحض حجة هؤلاء وإبطال دعواهم، ولا أظن أنه يُقنع مثل هؤلاء القوم بطريقته هذه؛ لأنه يستشهد بما يرفضونه أساسًا، وهو الآثار، وحتى تلك الآيات التي ساقها؛ لأنه يبين مواطن الاستشهاد فيها اعتمادًا على ما ساقه من آثار وردت في آثارها، وهو كمحدث أُشربت نفسه حب الحديث، لا يريد أن يخرج عن دائرة التحديث حتى في المواطن التي ينبغي فيها الخروج عنها؛ ليكون عمله مجديًا ويؤدي الغاية المرجوَّة منه.
ومهما يكن من شيء، فقد أفاد عمله هذا من ناحية أخرى؛ من حيث بيان مشروعية الرواية وأهميتها في نقل السنن، وفي ذلك تأصيل لها، وبيان لقيمتها، كما أفاد عمله هذا كذلك طمأنة لقلوب المؤمنين"1.
--------------------------------------------
পবিত্র হাদিসে সুন্নাহ স্থানান্তরের প্রেরণা, তা অন্বেষণে আগ্রহ সৃষ্টি, তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া ও প্রচার করা এবং এই পথে বিচরণকারীদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: "যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আছার (آثار) অন্বেষণকারী এবং এই পথে সফরকারীদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন এবং তাদের উচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন করেছেন; তাই জানা গেল যে, অন্বেষণকারী ও বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমেই আছার (آثار) সাব্যস্ত হওয়া প্রমাণিত হয়। যদি বর্ণনাকারী (رواة)-দের বর্ণনার মাধ্যমে তা সাব্যস্ত না হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির কোনো অর্থ থাকত না।"
প্রফেসর ডক্টর রিফাত ফাওজি পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "ইবনে আবি হাতিম মনে করেন যে, তিনি এই ক্ষেত্রে যা উপস্থাপন করেছেন তা বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন এবং তাদের দাবি নস্যাৎ করার জন্য যথেষ্ট। তবে আমি মনে করি না যে তিনি এই পদ্ধতির মাধ্যমে এ ধরনের লোকদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন; কারণ তিনি মূলত এমন বিষয়ের মাধ্যমে দলিল দিচ্ছেন যা তারা মূলত প্রত্যাখ্যান করে, আর তা হলো আছার (آثار)। এমনকি তিনি যে আয়াতগুলো উদ্ধৃত করেছেন সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা; কারণ তিনি সেই আয়াতগুলোর দলিলের ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করেছেন তার উপস্থাপিত আছার (آثار)-এর ওপর ভিত্তি করে, যা সেগুলোর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে। তিনি একজন মুহাদ্দিস (محدث) হিসেবে যার অন্তর হাদিসের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত, তিনি হাদিস শাস্ত্রের পরিমণ্ডল থেকে বের হতে চান না, এমনকি সেই ক্ষেত্রগুলোতেও যেখানে বের হওয়া প্রয়োজন ছিল; যাতে তার কাজ ফলপ্রসূ হয় এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।
যাই হোক না কেন, তার এই কাজ অন্য একটি দিক থেকে উপকার বয়ে এনেছে; বর্ণনার (رواية) বৈধতা এবং সুন্নাহ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বর্ণনার মাধ্যমে। এর মধ্যে এই বিষয়ের তাত্ত্বিক ভিত্তি (تأصيل) এবং এর গুরুত্বের বর্ণনা রয়েছে। পাশাপাশি তার এই কাজ মুমিনদের হৃদয়ে প্রশান্তিও জুগিয়েছে।"1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني: منكرو السُّنَّة حديثًا، وتفنيد مزاعمهمسبق أن ذكرنا أن منكري السُّنَّة بزغوا في كل عصر، وقد رد عليهم الإمام الشافعي قديمًا وكذلك ابن أبي حاتم وغيرهما.
وحديثًا أنكر بعض الناس أن تكون السُّنَّة مصدرًا للتشريع الإسلامي مُتذرعين بالعديد من الحجج، وأهمها ما يلي1:
أولًا: القرآن الكريم حوى كل أمور الدين ووضحها؛ بحيث يغني عما عداه، قال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] ، والأخذ بالسُّنَّة يناقض ذلك.
ثانيًا: الله تعالى ضَمِنَ حفظ كتابه لأنه مصدر التشريع ولم يضمن حفظ السُّنَّة، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] ولو كانت السُّنَّة دليلًا من أدلة التشريع وحجة كالقرآن لتكفل الله بحفظها، ولا يستطيع أحد أن يدَّعي أن السُّنَّة وصلت إلينا بنصها.
ثالثًا: لو كانت السُّنَّة حجة ومصدرًا من مصادر التشريع لتكفل النبي صلى الله عليه وسلم بكتابتها، ولعمل الصحابة والتابعون على جمعها وتدوينها صيانة لها من العبث والتبديل والتحريف والنسيان؛ لكن الثابت -هكذا يزعمون- أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن كتابتها وأمر بمحو ما كُتب منها، وكذلك فعل الصحابة والتابعون.
رابعًا: ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يدل على عدم حجية السُّنَّة، ومن ذلك قوله: "إن الحديث سيفشو عني، فما أتاكم يوافق القرآن فهو عني، وما أتاكم عني يخالف القرآن فليس مني"2، وقوله: "إذا حُدِّثتم عني حديثًا تنكرونه -قلته أو
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আধুনিক যুগে সুন্নাহ অস্বীকারকারী এবং তাদের দাবিসমূহের খণ্ডনআমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের আবির্ভাব প্রতিটি যুগেই ঘটেছে এবং অতীতে ইমাম শাফেয়ী, ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যান্যরা তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।
আর আধুনিক যুগে কিছু মানুষ ইসলামী শরিয়তের উৎস হিসেবে সুন্নাহর অবস্থানকে অস্বীকার করেছে এবং তারা বিভিন্ন অজুহাত পেশ করেছে, যার মধ্যে প্রধানগুলো নিম্নরূপ ১:
প্রথমত: পবিত্র কুরআন দ্বীনের যাবতীয় বিষয়বস্তু ধারণ করেছে এবং তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে; ফলে তা অন্য সবকিছুর প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি} [আল-আনআম: ৩৮], আর সুন্নাহ গ্রহণ করা এই কথার পরিপন্থী।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন কারণ এটি শরিয়তের উৎস, কিন্তু তিনি সুন্নাহ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী} [আল-হিজর: ৯]। যদি সুন্নাহ শরিয়তের দলিল (دليل) সমূহের একটি দলিল এবং কুরআনের মতো প্রমাণ (حجة) হতো, তবে আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিতেন। আর সুন্নাহ অবিকল শব্দে আমাদের কাছে পৌঁছেছে—এমন দাবি কেউ করতে পারবে না।
তৃতীয়ত: যদি সুন্নাহ কোনো প্রমাণ (حجة) এবং শরিয়তের উৎসসমূহের একটি হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তা লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা নিতেন এবং সাহাবী ও তাবেঈগণ তা পরিবর্তন, পরিমার্জন, বিকৃতি ও বিস্মৃতি থেকে রক্ষার জন্য তা সংগ্রহ ও সংকলন করার কাজ করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যেমনটা তারা দাবি করে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি লিখতে নিষেধ করেছিলেন এবং যা কিছু লেখা হয়েছিল তা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন; আর সাহাবী ও তাবেঈগণও অনুরূপ করেছিলেন।
চতুর্থত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) না থাকার ওপর প্রমাণ দেয়। যেমন তাঁর বাণী: "আমার পক্ষ থেকে প্রচুর হাদিস প্রচারিত হবে। সুতরাং যা তোমাদের কাছে আসবে এবং কুরআনের সাথে মিলবে, তা আমার পক্ষ থেকে। আর যা তোমাদের কাছে আসবে এবং কুরআনের পরিপন্থী হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়" ২। এবং তাঁর বাণী: "যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করা হয় যা তোমরা অস্বীকার করো—আমি তা বলেছি অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لم أقله- فلا تصدقوا به؛ فإني لا أقول ما يُنكر ولا يُعرف"1، وقوله: "إني لا أحل إلا ما أحل الله في كتابه، ولا أحرم إلا ما حرم الله في كتابه"2، وفي رواية: "لا يمسكن الناس على شيء، فإني لا أحل ما أحل الله، ولا أحرم إلا ما حرم الله" 3.
فهذه الأحاديث تفيد وجوب عرض السُّنَّة على القرآن، وأن نأخذ منها ما وافق القرآن، وما خالفه لا نقيله، فلا أهمية للسُّنَّة، ودورها هو التوكيد والتكرار لما في القرآن الكريم.
خامسًا: أكثر بعض الصحابة من التحديث عن الرسول كثرة لا تتناسب مع صحبته للرسول، مما يدل على أنه كان يتقوَّل عليه لأهواء سياسية وشخصية، فكيف نثق فيما رووه إذن؟
سادسًا: لم يهتم علماء الحديث بنقد المتن، فصححوا أحاديث كثيرة موضوعة ولو عُرضت على مقاييس أخرى "غير السند" لتبين عدم صحتها.
- مناقشة مزاعم منكري السُّنَّة حديثًا 4:
فيما يلي تفنيد لحجج المنكرين للسُّنة حديثًا:
الأول: المراد بالكتاب في الآية الكريمة: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} اللوح المحفوظ، وليس القرآن كما يزعمون، وكذلك في قوله: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] .
--------------------------------------------
আমি তা বলিনি—তবে তোমরা তা বিশ্বাস করো না; কেননা আমি এমন কিছু বলি না যা অগ্রাহ্য (منكر) এবং অপরিচিত (لا يُعرف) মনে হয়।"১, এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হালাল করেছেন আমি কেবল তা-ই হালাল করি এবং আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হারাম করেছেন আমি কেবল তা-ই হারাম করি।"২, অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "মানুষ যেন আমার নামে কোনো কিছুকে আঁকড়ে না ধরে, কেননা আমি কেবল তা-ই হালাল করি যা আল্লাহ হালাল করেছেন এবং তা-ই হারাম করি যা আল্লাহ হারাম করেছেন।"৩।
এই হাদিসগুলো সুন্নাহকে কুরআনের ওপর উপস্থাপন করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে এবং আমরা সুন্নাহ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করব যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর যা এর পরিপন্থী তা আমরা গ্রহণ করব না। সুতরাং সুন্নাহর স্বতন্ত্র কোনো গুরুত্ব নেই এবং এর ভূমিকা হলো পবিত্র কুরআনে যা আছে তা নিশ্চিত করা এবং পুনরাবৃত্তি করা।
পঞ্চম: কতিপয় সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এমন মাত্রায় হাদিস বর্ণনা করেছেন যা রাসূলের সাথে তাঁদের সাহচর্যের সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা নির্দেশ করে যে তাঁরা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে তাঁর নামে মিথ্যাচার করেছেন; এমতাবস্থায় তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর আমরা কীভাবে আস্থা রাখতে পারি?
ষষ্ঠ: হাদিস বিশারদগণ পাঠ্য (متن) সমালোচনায় ভ্রূক্ষেপ করেননি, ফলে তাঁরা অনেক জাল (موضوع) হাদিসকেও সঠিক (صححوا) বলে সাব্যস্ত করেছেন। যদি এই হাদিসগুলো সনদ (سند) ব্যতীত অন্যান্য মাপকাঠিতে যাচাই করা হতো, তবে সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট হয়ে যেত।
- আধুনিক যুগে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের দাবিসমূহের পর্যালোচনা ৪:
নিচে আধুনিক সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের যুক্তিসমূহের খণ্ডন করা হলো:
প্রথমত: পবিত্র আয়াতের "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ রাখিনি" অংশে 'কিতাব' বলতে 'লাওহে মাহফুজ' বোঝানো হয়েছে, তাদের দাবি অনুযায়ী এটি কুরআন নয়। অনুরূপভাবে তাঁর এই বাণীতেও: "এবং আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি জিনিসের স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ" [আন-নাহল: ৮৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الثاني: والمراد بالذكر في الآية الكريمة: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} الشرع والدين الذي بعث به رسوله، فهو يشمل القرآن والسُّنَّة ولا يخص أحدهما، والدليل قوله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [الأنبياء: 7] .
وقد قيض الله تعالى من يحفظ كتابه، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وتنقيتها من الدخيل والموضوع، وحفظها من التغيير والتبديل والتحريف.
وهذا ما فهمه عبد الله بن المبارك حين قيل له: "هذه الأحاديث الموضوعية؟ " فقال: تعيش لها الجهابذة، وتلا قوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.
وقال ابن حزم في معرض رده على الزاعمين أن الذكر هو القرآن: "هذه دعوى كاذبة مجردة عن البرهان وتخصيص للذكر بلا دليل، والذكر اسم واقع على كل ما أنزل الله على نبيه صلى الله عليه وسلم من قرآن أو سنة"2.
الثالث: كون الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بعدم كتابة السُّنَّة فليس ذلك دليلًا على عدم حجيتها؛ وإنما كان ذلك لأسباب تقتضيها المصلحة، ومن هذه الأسباب: أن النهي كان أولًا وذلك للتفرغ لحفظ القرآن الكريم والاطمئنان إلى عدم اختلاطه بغيره.
ومنها: أن النهي كان في حق أشخاص بعينهم حتى لا يتكلوا على الكتابة أو لضعفهم في كتابة العربية.
وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم أَذِنَ بكتابة السُّنَّة لبعض الصحابة في أول الإسلام، ثم كان الإذن لمن شاء أن يكتب بعد ذلك.
الرابع: الأحاديث التي احتجوا بها على عدم حجية السُّنَّة لا تنهض دليلًا على رأيهم؛ لأنها غير صحيحة:
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: এই আয়াতে "জিকির" (الذكر) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই শরিয়ত ও দ্বীন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসুলকে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং এটি কুরআন ও সুন্নাহ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং কোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট নয়। এর প্রমাণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো" [আল-আম্বিয়া: ৭]।
আল্লাহ তাআলা এমন একদল মানুষকে নির্ধারণ করেছেন যারা তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর হিফাজত করেন এবং একে বাহ্যিক অনুপ্রবেশ (الدخيل) ও জাল (الموضوع) বর্ণনা থেকে মুক্ত রাখেন এবং একে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করেন।
আর এটিই ছিল আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক-এর উপলদ্ধি। যখন তাঁকে বলা হয়েছিল: "এই জাল (الموضوعة) হাদিসগুলোর ব্যাপারে কী হবে?" তিনি বলেছিলেন: "এগুলোর জন্য বিজ্ঞ ও দক্ষ হাদিস বিশারদগণ (الجهابذة) জীবিত আছেন।" অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই আমি জিকির নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী" ১।
ইবনে হাজম যারা দাবি করে যে জিকির বলতে কেবল কুরআনকে বোঝানো হয়েছে, তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছেন: "এটি একটি মিথ্যা দাবি যা প্রমাণহীন এবং দলিল ছাড়াই জিকির শব্দকে নির্দিষ্ট করার নামান্তর। মূলত জিকির এমন একটি নাম যা আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা কিছু নাযিল করেছেন—তা কুরআন হোক বা সুন্নাহ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য" ২।
তৃতীয়ত: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহ লিখে রাখতে যে নিষেধ করেছিলেন, তা সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) না থাকার দলিল নয়; বরং তা ছিল কল্যাণকর (مصلحة) কিছু কারণের প্রেক্ষাপটে। এর মধ্যে একটি কারণ হলো: এই নিষেধাজ্ঞা ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে, যাতে সাহাবীগণ কেবল কুরআন হিফজ করার জন্য পূর্ণ নিবিষ্ট হতে পারেন এবং এটি যেন অন্য কিছুর সাথে মিশে না যায় সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।
অন্য একটি কারণ হলো: এই নিষেধাজ্ঞা ছিল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য, যাতে তারা কেবল লেখার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন অথবা আরবি লেখায় তাদের দুর্বলতার কারণে।
এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের শুরুর দিকেই কোনো কোনো সাহাবীকে সুন্নাহ লেখার অনুমতি (أذن) দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে যার ইচ্ছা তাকেই লেখার অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল।
চতুর্থত: সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকার করার পক্ষে তারা যে সকল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে, সেগুলো তাদের মতের সপক্ষে দলিল হিসেবে টিকতে পারে না; কারণ সেগুলো সহিহ (صحيحة) নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحديث الأول:
"إن الحديث سيفشو عني
… "، قال البيهقي: "رواه خالد بن أبي كريمة عن أبي جعفر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وخالد مجهول، وأبو جعفر ليس بصحابي، فالحديث منقطع"، وقال مرة أخرى: "والحديث الذي رُوي في عرض الحديث على القرآن باطل لا يصح، وهو ينعكس على نفسه بالبطلان" يعني بذلك: أن يتعارض مع ما يدعو إليه القرآن من طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم والاحتكام إلى الله ورسوله، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ} [النساء: 59] .
وقد قال الشافعي فيما نقله عنه البيهقي في هذا الحديث: "ما روى هذا أحد يثبت حديثه في شيء صغر ولا كبر".
وقال: "وهذه أيضًا رواية منقطعة، عن رجل مجهول، ونحن لا نقبل هذه الرواية في شيء".
ثم رواه البيهقي بسنده عن الشافعي قال: قال أبو يوسف: حدثني خالد بن أبي كريمة، عن أبي جعفر، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه دعا اليهود فسألهم فحدثوه حتى كذبوا على عيسى عليه السلام فصَعِدَ النبي صلى الله عليه وسلم المنبر، فخطب الناس فقال: "إن الحديث سيفشو عني، فما أتاكم عني يوافق القرآن فهو عني، وما أتاكم عني يخالف القرآن فليس عني".
قال البيهقي: هذه الرواية منقطعة، كما قال الشافعي في كتاب الرسالة، وكأنه أراد بالمجهول خالد بن أبي كريمة، فلم يعرف من حاله ما يثبت به خبره1.
وقد روى الطبراني عن ابن عمر نحو ما جاء عند الشافعي، قال السخاوي: قد سُئل شيخنا -يعني الحافظ ابن حجر- عن هذا الحديث فقال: إنه جاء من طرق لا تخلو من مقال، وقال الصنعاني: هو موضوع2.
--------------------------------------------
প্রথম হাদিস:
"নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে হাদিস ছড়িয়ে পড়বে
… ", ইমাম বায়হাকি বলেন: "এটি খালিদ বিন আবি কারিমা আবু জাফর থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। খালিদ হলেন অজ্ঞাত (مجهول), আর আবু জাফর সাহাবি (صحابي) নন; সুতরাং হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)"। তিনি অন্য এক সময়ে বলেছেন: "কুরআনের সাথে হাদিসের তুলনা করার বিষয়ে যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তা অসার (باطل) এবং তা বিশুদ্ধ নয় (لا يصح), বরং এটি নিজেই নিজের অসারতাকে ফুটিয়ে তোলে।" এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে: এটি কুরআনের সেই নির্দেশের পরিপন্থী যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে ফয়সালা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যকার আদেশদানকারীদের; অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রেখে থাকো} [আন-নিসা: ৫৯]।
ইমাম শাফেয়ি এই হাদিস সম্পর্কে যা বলেছেন এবং যা বায়হাকি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন তা হলো: "যাদের হাদিস কোনো ছোট বা বড় বিষয়ে নির্ভরযোগ্য (يثبت), তাদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি।"
তিনি আরও বলেন: "এটিও একটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة) বর্ণনা, যা একজন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে, আমরা কোনো বিষয়েই এ ধরনের বর্ণনা গ্রহণ করি না।"
অতঃপর বায়হাকি তাঁর সনদে ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু ইউসুফ বলেছেন: খালিদ বিন আবি কারিমা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জাফর থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইহুদিদের ডাকলেন এবং তাদের কিছু জিজ্ঞাসা করলেন। তারা তাঁর কাছে বর্ণনা করতে গিয়ে ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি মিথ্যা আরোপ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে হাদিস ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা আসবে এবং তা কুরআনের সাথে মিলবে, তা আমার পক্ষ থেকে (বলে গণ্য)। আর যা আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে আসবে অথচ কুরআনের পরিপন্থী হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়।"
বায়হাকি বলেন: এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة), যেমনটি ইমাম শাফেয়ি আর-রিসালাহ গ্রন্থে বলেছেন। সম্ভবত তিনি অজ্ঞাত (مجهول) বলতে খালিদ বিন আবি কারিমাকে বুঝিয়েছেন, কারণ তাঁর অবস্থা সম্পর্কে এমন কিছু জানা যায়নি যার মাধ্যমে তাঁর সংবাদটি নির্ভরযোগ্য (يثبت) হতে পারে।১
ইমাম শাফেয়ির কাছে যা এসেছে, তাবারানি ইবনে উমর থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সাখাবি বলেন: আমাদের শাইখ—অর্থাৎ হাফিজ ইবনে হাজার—কে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি এমন কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা আপত্তি (مقال) থেকে মুক্ত নয়। আর সানআনি বলেন: এটি জাল (موضوع)।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال ابن حزم في الحسين بن عبد الله بن عبد الله بن عباس بن عبد المطلب الهاشمي المدني أحد رواة الحديث من بعض طرقه: "الحسين بن عبد الله متهم بالزندقة"1.
ومن جهة أخرى، فإنه على اعتبار التسليم بقبول هذا الحديث، فإن "العلماء بهذا الحديث قديمًا على أن السُّنَّة تأتي بجديد، وأن كل ما تأتي به يجب أن يُلتمس له أصل في القرآن الكريم، مع التسليم بأن الأخذ بالسُّنَّة واجب، أما اليوم -فكما نرى- يُستدل به على ترك السُّنَّة وعدم الأخذ بها"2.
الحديث الثاني:
"إذا حُدثتم عني حديثًا تعرفونه ولا تنكرونه
… "، قال الدكتور رفعت فوزي: "فرواياته كلها ضعيفة منقطعة كما نص على ذلك العلماء"3.
الحديث الثالث:
"إني لا أحل ما أحل الله...."، قال الشافعي: "هذا منقطع، وعلى فرض صحته فليس فيه دليل للخصم فيما يدَّعِي؛ لأن معناه أن ليس للناس أن يقولوا: كيف يُحل رسول الله صلى الله عليه وسلم ويحرم ما ليس في القرآن، فإن الرسول صلى الله عليه وسلم مُشرِّع، وهو لا يحل إلا ما كان حلالًا في شرع الله، ولا يحرم إلا ما كان حرامًا فيه، وكل ما يحله أو يحرمه إنما هو في كتاب الله باعتبار أنه أمر بطاعته، ونهى عن مخالفته، فقد أمرنا أن نطيعه صلى الله عليه وسلم فيما يحله أو يحرمه، أو أن كل ما يحرمه أو يحله له أصل في كتاب الله عز وجل أو نظير يقاس عليه4.
والعجيب في هؤلاء المنكرين للسُّنَّة أنهم يستدلون بها على عدم حجيتها، فكيف يرفض هؤلاء السُّنَّة ثم يأخذون منها الدليل على ما يزعمون؟! وإن جاز لهم ذلك، فلماذا يستدلون بالأحاديث الضعيفة ويتركون الأحاديث الصحيحة التي تحث على كتابة السُّنَّة، وعلى الأخذ بالسُّنَّة؟!
--------------------------------------------
এবং ইবনে হাজম হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশেমি আল-মাদানি—যিনি কিছু সূত্রে বর্ণিত হাদিসের একজন রাবী—প্রসঙ্গে বলেছেন: "হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالزندقة)"১।
অন্যদিকে, এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেওয়ার ভিত্তিতে "এই হাদিস সম্পর্কে পূর্ববর্তী আলিমগণের অভিমত ছিল এই যে, সুন্নাহ নতুন বিধান নিয়ে আসে এবং এর আনীত প্রতিটি বিষয়ের মূল ভিত্তি পবিত্র কুরআনে তালাশ করা আবশ্যক, এর পাশাপাশি সুন্নাহ অনুসরণ করা যে ওয়াজিব (واجب) তাও তারা স্বীকার করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে—যেমনটি আমরা দেখছি—এই হাদিসকে সুন্নাহ বর্জন ও তা গ্রহণ না করার সপক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে"২।
দ্বিতীয় হাদিস:
"যখন তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করা হয় যা তোমরা চিনতে পারো এবং অস্বীকার করো না
… ", ডক্টর রিফাত ফাওজি বলেছেন: "এর সকল বর্ণনা বা রেওয়ায়েত হলো দুর্বল (ضعيفة) ও বিচ্ছিন্ন (منقطعة), যেমনটি আলিমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন"৩।
তৃতীয় হাদিস:
"আমি আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু হালাল করি না....", ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: "এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), আর যদি এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরেও নেওয়া হয়, তবুও বিবাদমান পক্ষের দাবির সপক্ষে এতে কোনো দলিল নেই; কারণ এর অর্থ হলো—মানুষের এটি বলা সংগত নয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে এমন বিষয় হালাল বা হারাম করেন যা কুরআনে নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন শরিয়ত প্রণেতা (مشرع), আর তিনি আল্লাহর শরিয়তে যা হালাল কেবল তা-ই হালাল করেন এবং যা হারাম তা-ই হারাম করেন। তিনি যা কিছু হালাল বা হারাম করেন তার মূল ভিত্তি আল্লাহর কিতাবেই রয়েছে, যেহেতু আল্লাহ তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হালাল বা হারাম করেন তাতে যেন আমরা তাঁর আনুগত্য করি। অথবা তিনি যা কিছু হারাম বা হালাল করেন তার একটি মূল ভিত্তি মহান আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে অথবা এমন কোনো সদৃশ বিষয় রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস বা অনুমান করা যায়৪।
আর এই সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের ক্ষেত্রে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা অস্বীকার করার জন্যই সুন্নাহ থেকে দলিল পেশ করে! কীভাবে তারা সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে আবার নিজেদের দাবির সপক্ষে সুন্নাহ থেকেই প্রমাণ গ্রহণ করে?! আর যদি তাদের জন্য তা বৈধই হয়, তবে কেন তারা দুর্বল (ضعيفة) হাদিসসমূহ দিয়ে দলিল পেশ করে এবং সেই সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলো বর্জন করে যা সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে এবং সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করে?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الخامس: بالنسبة لزعمهم بأن الصحابة والتابعين زادوا على السُّنَّة وتقوَّلوا على الرسول صلى الله عليه وسلم بحجة أن ما رووه بلغ من الكثرة حدًّا لا يتناسب مع صحبتهم للرسول صلى الله عليه وسلم فهذا مدحوض، والرد عليه لا يحتاج إلى عناء كبير.
فلقد كان الصحابة -رضوان الله عليهم- حريصين على استيعاب دين الله ونقله إلى الأجيال اللاحقة، ولم يكن دافعهم إلى ذلك أهواء شخصية وسياسية كما يزعمون؛ وإنما كان الدافع هو الغيرة على دين الله تعالى، وشدة الرغبة في الحفاظ عليه1.
--------------------------------------------
পঞ্চম: তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে যে, সাহাবিগণ (الصحابة) এবং তাবিঈগণ (التابعين) সুন্নাহর ওপর অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা আরোপ করেছেন এই অজুহাতে যে, তাঁদের বর্ণনা (رواية) সমূহের আধিক্য এমন এক সীমায় পৌঁছেছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁদের সাহচর্যের মেয়াদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; তবে এই দাবিটি অসার এবং এর খণ্ডন করতে বিশেষ কোনো পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই।
বস্তুত সাহাবিগণ (الصحابة)—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—আল্লাহর দ্বীনকে অনুধাবন করতে এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তাঁদের এই কাজের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রবৃত্তি কাজ করেনি যেমনটি তারা দাবি করে থাকে; বরং এর মূল চালিকাশক্তি ছিল মহান আল্লাহর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ মমতা এবং তা সংরক্ষণের তীব্র ব্যাকুলতা।১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: مكانة السُّنَّة في التشريع الإسلاميالسُّنَّة هي المصدر الثاني في التشريع الإسلامي بعد القرآن الكريم، وإنها حُجة جميع المسلمين اتفاقًا، وبنص القرآن الكريم في آيات عديدة.
ومهمة الرسول صلى الله عليه وسلم الأُولى هي تبليغ الوحي الإلهي متمثلًا في القرآن الكريم.
ثم عليه مهمة أخرى؛ وهي أن يبين للناس الأصول العامة والأحكام المجملة، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] .
وليكون لهذا التبيين والتوضيح مكانةٌ في نفوس المؤمنين، وموضعُ احترام كامل وتقدير -نص القرآن على وجوب طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59] ، وقال تعالى: {مَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] ، وقال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80] .
وقد قرن الله تعالى طاعة رسوله بطاعته عز وجل وجعل في التزامنا بذلك حياة لنا، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} [الأنفال: 24] ، وجعل الله شرط الإيمان الصحيح الاحتكام إلى الله ورسوله، قال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] ، وقال تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] ، ولا يجوز مخالفته البتة، وقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالا مُبِينًا} [الأحزاب: 36] .
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদাপবিত্র কুরআনের পর ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। এটি সকল মুসলিমের ঐক্যমত্যে (اتفاقًا) এবং পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতের সুস্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী একটি অকাট্য দলিল (حجة)।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রধান দায়িত্ব হলো পবিত্র কুরআনের রূপে নাজিল হওয়া খোদায়ী ওহি প্রচার করা।
অতঃপর তাঁর ওপর আরও একটি দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে; আর তা হলো মানুষের কাছে সাধারণ মূলনীতিসমূহ এবং সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিধানাবলি ব্যাখ্যা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে দেন।} [আন-নাহল: ৪৪]
এই বিবরণ ও ব্যাখ্যার মর্যাদা মুমিনদের অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং একে পূর্ণ সম্মান ও শ্রদ্ধার স্থানে আসীন করতে পবিত্র কুরআন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের অপরিহার্যতা বর্ণনা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর তাদেরও।} [আন-নিসা: ৫৯]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {রাসুল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} [আন-নিসা: ৮০]।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলের আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন এবং আমাদের জন্য এর অনুসরণের মধ্যেই জীবন নিহিত রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে।} [আল-আনফাল: ২৪]। আল্লাহ তাআলা সঠিক (صحيح) ইমানের শর্ত হিসেবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিচার মানাকে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ইমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে অতি চমৎকার।} [আন-নিসা: ৫৯]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫]। তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হলো।} [আল-আহজাব: ৩৬] ।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويطمئن الله تعالى المؤمنين من ناحية تشريع الرسول صلى الله عليه وسلم بأنه لا يأمر إلا بالمعروف ولا ينهى إلا عن المنكر، وأنه يحل ما هو طيب ويحرم ما هو خبيث، قال تعالى: {يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 157] .
- والأحاديث الصحيحة التي تؤكد أهمية طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم والتمسك بسنته كثيرة:
منها: "تركت فيكم أمرين لن تضلوا بعدي ما إن تمسكتم بهما: كتاب الله وسنتي" 1.
ومنها: "كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبَى"، قالوا: يا رسول الله! ومَن يأبَى؟ قال: "من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبَى" 2.
ومنها: حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه الذي رواه أبو داود والترمذي من طريق شعبة، عن أبي عون، عن الحارث بن عمرو بن أخي المغيرة بن شعبة، عن أناس من أهل حمص من أصحاب معاذ بن جبل: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث معاذًا إلى اليمن فقال له: "كيف تصنع إن عرض لك قضاء"؟ قال: أقضي بما في كتاب الله. قال: "فإن لم تجد"؟ قال: فبسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الحديث3.
ومعظم المسلمين يحفظون الحديث الصحيح الذي حذر فيه الرسول صلى الله عليه وسلم من ترك سنته
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রবর্তিত শরীয়তের ব্যাপারে মুমিনদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি কেবল সৎকাজের আদেশ দেন এবং কেবল অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। আর তিনি পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজে বাধা দেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন। আর তিনি তাদের ওপর থেকে তাদের বোঝা ও শৃঙ্খল নামিয়ে দেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর সাথে যে নূর নাযিল করা হয়েছে তার অনুসরণ করেছে, তারাই সফলকাম।} [আল-আরাফ: ১৫৭]।
- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের গুরুত্ব এবং তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব নিশ্চিতকারী সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ অনেক রয়েছে:
সেগুলোর মধ্যে: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা সে দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে ততক্ষণ তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ।" ১।
আরও রয়েছে: "আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই অস্বীকার করল।" ২।
আরও রয়েছে: মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস, যা আবু দাউদ ও তিরমিজি শু’বা-এর সূত্রে, আবু আউন থেকে, হারিস ইবনে আমর ইবনে আখি আল-মুগিরা ইবনে শু’বা থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের সাথী হিমসবাসীদের একদল লোক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার কাছে কোনো বিচার্য বিষয় উপস্থিত হলে তুমি কীভাবে ফয়সালা করবে?" তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। রাসূলুল্লাহ বললেন: "যদি তুমি সেখানে তা না পাও?" তিনি বললেন: তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী... (হাদিসের অবশিষ্টাংশ)। ৩।
অধিকাংশ মুসলিমই সেই সহিহ (صحيح) হাদিসটি মুখস্থ জানেন যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহ বর্জনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والاحتكام إلى القرآن وحدة: "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا يوشك الرجل متكئًا على أريكته يحدث بحديث من حديثي فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله عز وجل فما وجدنا فيه من حلال استحللناه، وما وجدنا فيه من حرام حرمناه، ألا وإن ما حرم رسول الله مثل ما حرم الله" 1.
--------------------------------------------
এবং কেবল কোরআনের মাধ্যমে ফয়সালা করা: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করে বলবে: আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। আমরা তাতে যা হালাল পাব তাই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তাই হারাম হিসেবে গণ্য করব। জেনে রেখো, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই।" 1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩২)
- عَلاقة السُّنَّة بالقرآن الكريم:
السُّنَّة مرتبطة بالقرآن ارتباطًا وثيقًا، فقد تكون مفصِّلة لِمُجْمَلِه كبيانها لكيفية الصلاة، ففي الحديث: "صلوا كما رأيتموني أُصلي" 1؛ حيث تحديد الوقت والعدد والكيفية، ونحو بيانها لكيفية الحج، ففي الحديث: "خذوا عني مناسككم" 2، وأيضًا المسائل المتعلقة بالزكاة والصيام
…وقد تكون مُقيِّدة لمطلقه، ومن ذلك قوله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} قيدت السُّنَّة القطع في المرة الأولى بقطع اليد من مفصل الكف
… ، وقوله تعالى في الميراث يقسَّم {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 11] قيدته السُّنَّة بأنه لا وصية لوارث، وبأن تكون الوصية لغيره في حدود الثلث
…وقد تكون مُخصِّصة لعامه، ومن الأحكام التي جاءت عامة في القرآن الكريم الميراث في: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْن} [النساء: 11] خصصته السُّنَّة بأن القاتل لا يرث، ولا يرث المؤمن الكافر والعكس، وبقوله صلى الله عليه وسلم: "نحن الأنبياء لا نُورَث، ما تركناه صدقة"، ومنه أيضًا أن الله تعالى قال في الزواج: {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُم} [النساء: 24] خصصته السُّنَّة بأنه: "لا تنكح المرأة على عمتها، ولا على خالتها، ولا على ابنة أخيها، ولا على ابن أختها، فإنكم إن فعلتم ذلك قطعتم أرحامكم"، وبقوله: "يُحَرَّم من الرضاع ما يحرم من النسب".
وقد تكون مُوَضِّحة لمشكله؛ كتوضيح الشجرة في: {كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَة} [إبراهيم: 24] بأنها النخلة، وكتوضيح التثبيت في: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآَخِرَةِ} [إبراهيم: 27] بأن ذلك في القبر حين يُسأل المؤمن.
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক:
সুন্নাহ পবিত্র কুরআনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়সমূহের বিস্তারিত বর্ণনাকারী (مفصل) হতে পারে, যেমন নামাজের পদ্ধতির বর্ণনা। হাদিসে এসেছে: "তোমরা সেভাবেই নামাজ পড়ো, যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ" ১; যেখানে নামাজের সময়, রাকাত সংখ্যা এবং পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে হজের পদ্ধতির বর্ণনাও সুন্নাহর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, হাদিসে এসেছে: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি শিখে নাও" ২। এছাড়াও জাকাত ও রোজা সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহও এর অন্তর্ভুক্ত
…
আবার সুন্নাহ কুরআনের শর্তহীন বা সাধারণ (مطلق) বিধানকে সীমাবদ্ধকারী (مقيدة) হতে পারে। এর একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {চোর এবং চোরনী, উভয়ের হাত কেটে দাও}। এখানে সুন্নাহ প্রথমবার চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটার বিধানকে কব্জি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ (مقيدة) করেছে
… । মিরাসের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী হলো: উত্তরাধিকার বণ্টন করা হবে {তার কৃত অসিয়ত পালন অথবা ঋণ পরিশোধের পর} [নিসা: ১১]। সুন্নাহ একে এই বলে সীমাবদ্ধ (مقيدة) করেছে যে, কোনো উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা যাবে না এবং অন্যদের জন্য অসিয়ত মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে হতে হবে
…
সুন্নাহ কুরআনের ব্যাপক বা সাধারণ (عام) বিধানকে নির্দিষ্টকারী বা বিশিষ্টকারী (مخصصة) হতে পারে। পবিত্র কুরআনে মিরাস বা উত্তরাধিকারের যে সাধারণ (عام) বিধান এসেছে তা হলো: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান} [নিসা: ১১]। সুন্নাহ একে এই বলে নির্দিষ্ট (مخصصة) করেছে যে, হত্যাকারী কোনো উত্তরাধিকার পাবে না এবং মুমিন ব্যক্তি কোনো কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য হবে না। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে একে নির্দিষ্ট করা হয়েছে: "আমরা নবীগণ, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না; আমরা যা রেখে যাই তা সদকা।" তদ্রূপ বিবাহের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {এদের ছাড়া বাকিদের তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে} [নিসা: ২৪]। সুন্নাহ একে এই বলে নির্দিষ্ট (مخصصة) করেছে যে: "কোনো নারীকে তার ফুফু, তার খালা, তার ভাইয়ের মেয়ে অথবা তার বোনের মেয়ের সাথে একত্রে বিবাহ করা যাবে না; কারণ তোমরা যদি এমনটি করো, তবে তোমরা তোমাদের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।" এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বংশগত সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের সম্পর্কের কারণেও তা হারাম হয়।"
সুন্নাহ কুরআনের জটিল বা অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়ের ব্যাখ্যাদানকারী (موضحة) হতে পারে; যেমন পবিত্র বৃক্ষের বর্ণনা: {পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়} [ইব্রাহিম: ২৪] এখানে বৃক্ষ বলতে খেজুর গাছকে বোঝানো হয়েছে। অনুরূপভাবে স্থির রাখার ব্যাখ্যা এই আয়াতে: {যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে স্থির রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭], যে এটি কবরে মুমিন ব্যক্তিকে সওয়াল-জওয়াব করার সময়ের কথা বলা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد تكون موضِّحة لمبهمه، فلم يفهم الصحابة الظلم في قوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} [الأنعام: 82] فبيَّن النبي صلى الله عليه وسلم ذلك للصحابة بأن المراد "الشرك"، واستدل بقوله تعالى: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} [لقمان: 13] .
وهناك أحكام أتى بها النبي صلى الله عليه وسلم ولم يذكرها القرآن الكريم مجملة أو مفصلة أو مبهمة أو عامة أو خاصة أو مطلقة أو مقيدة، ومن ذلك تحريم لحوم الْحُمُر الأهلية، وتحريم كل ذي ناب من السباع، وتحريم كل ذي مخلب من الطير، وتحريم الجمع بين المرأة وعمتها أو خالتها في الزواج
… إلخ، وتحليله لحوم الضب والأرانب؛ ولكن: هل هذه الأحكام جديدة أم نُصَّ عليها في كتاب الله عز وجل؟
أ- يرى المحدثون أن مثل هذه الأحكام جديد سكت عنه القرآن الكريم.
ب- ويرى بعض العلماء -وخاصة الأصوليين- أن هذه الأحكام ليست جديدة، فكل ما جاءت به السُّنَّة لا يخرج عن كونه بيانًا لما في كتاب الله عز وجل.
وقد كان السبب في اختلافهم هذا اختلاف فهمهم لما جاء في كتاب الله تعالى أنه قد حوى كل شيء، وأنه فيه: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} 1.
فالمحدِّثون يرون أن مثل هذه الأحكام -وإن لم ينص عليها القرآن الكريم- تندرج تحت الآيات التي تأمر باتباع رسول الله صلى الله عليه وسلم وطاعته، وتحذر من مخالفته فيما يحكم بينهم، فالقرآن الكريم -إذن- قد بيَّن كل ما يأتي به الرسول صلى الله عليه وسلم حين نص على سنته والأخذ بها.
وأصحاب الرأي الثاني يرون أن القرآن الكريم قد اشتمل على الأصول العامة التي يمكن أن يندرج تحتها كل ما ينفع المؤمنين ويوجه مسيرتهم على الطريق
--------------------------------------------
কখনো সুন্নাহ কুরআনের অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে। সাহাবীগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্ম বুঝতে পারেননি: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত} [আল-আনআম: ৮২]। তখন নবী (সা.) সাহাবীগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন যে, এখানে 'জুলুম' বলতে 'শিরক' উদ্দেশ্য। তিনি মহান আল্লাহর বাণী দিয়ে এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন: {নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম} [লুকমান: ১৩]।
আবার এমন কিছু বিধান রয়েছে যা নবী (সা.) নিয়ে এসেছেন কিন্তু পবিত্র কুরআনে তা সংক্ষিপ্ত (مجمل), বিস্তারিত (مفصل), অস্পষ্ট (مبهم), সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص), শর্তহীন (مطلق) কিংবা শর্তযুক্ত (مقيد) কোনোভাবেই উল্লেখ করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম করা, হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট পশু হারাম করা, নখযুক্ত শিকারী পাখি হারাম করা এবং বিবাহে স্ত্রী ও তার ফুফু বা খালাকে একত্রে রাখা হারাম করা
… ইত্যাদি। আবার গুইসাপ ও খরগোশের গোশত হালাল করাও এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো: এই বিধানগুলো কি নতুন নাকি মহান আল্লাহর কিতাবে এগুলোর বর্ণনা রয়েছে?
ক- হাদিস বিশারদগণের (المحدثون) মতে, এই জাতীয় বিধানগুলো নতুন যে বিষয়ে কুরআন মৌনতা অবলম্বন করেছে।
খ- কিছু আলিম—বিশেষ করে মূলনীতিবিদগণ (الأصوليون)—মনে করেন যে, এই বিধানগুলো নতুন নয়। কারণ সুন্নাহ যা কিছু নিয়ে আসে তা মহান আল্লাহর কিতাবের বর্ণনার বহির্ভূত নয়।
তাদের এই মতভেদের কারণ হলো পবিত্র কুরআনের সেই আয়াতের মর্ম উপলব্ধিতে ভিন্নতা যেখানে বলা হয়েছে যে কুরআন সবকিছুকে শামিল করেছে: {এবং আমি তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা} ১।
হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) মনে করেন যে, এই ধরনের বিধানগুলো—যদিও কুরআনে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি—সেই আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ ও তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দেয় এবং তাঁর ফয়সালার বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করে। সুতরাং, পবিত্র কুরআন পরোক্ষভাবে রাসূল (সা.) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুই স্পষ্ট করে দিয়েছে যখন তা সুন্নাহর অনুসরণ ও তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আর দ্বিতীয় মতের অনুসারীগণ মনে করেন যে, কুরআন এমন কিছু সাধারণ মূলনীতি (الأصول العامة) ধারণ করে যার অধীনে মুমিনদের জন্য কল্যাণকর এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার মতো সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المستقيم، وكل ما يأمر به الرسول صلى الله عليه وسلم إنما هو بهدى من هذه الأصول، وتطبيق لحكمتها العامة، أو إلحاق بفرع من الفروع التي نص الله عز وجل في كتابه على أصولها.
فمثلًا ما ورد في السُّنَّة من تحريم لحوم الحُمُر الأهلية، وكل ذي ناب من السباع، وكل ذي مخلب من الطير -له أصل في كتاب الله عز وجل، قال تعالى: {وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157] .
فالرسول صلى الله عليه وسلم عَلِمَ بوحي من الله تعالى أن مثل هذه اللحوم من الخبائث فحرمها على المسلمين. وما ورد من تحليل لحوم الأرنب والضب أصله في الآية السابقة، فالرسول صلى الله عليه وسلم نص على تحليله؛ لأنه عَلِمَ أنهما من الطيبات التي أحلها الله عز وجل: {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ} [الاعراف: 157] .
والرسول صلى الله عليه وسلم حرم الجمع بين المرأة وعمتها أو خالتها؛ لأن مثله قد حرمه الله -وهو الجمع بين الأختين- في كتاب الله عز وجل، فالمصلحة فيها جميعًا واحدة؛ وهي قطع صلة الرحم، وبث عوامل التفكك في الأسر التي يريد الإسلام لها أن تتماسك وتتراحم؛ ولهذا نص صلى الله عليه وسلم على هذه المصلحة عندما نهى عن الجمع بين المرأة وعمتها أو خالتها فقال: "فإنكم إن فعلتم ذلك قطعتم أرحامكم" 1.
ولكل من هؤلاء وأولئكم حجته2؛ ولكن الذي يهمنا هنا أمران:
الأمر الأول: أن ما جاءت به السُّنَّة من هذا القبيل واجب الاتباع، وهو ما يعترف به الفريقان مع اختلاف وجهتي نظرهما في كونه مندرجًا تحت ما جاء به صلى الله عليه وسلم في كتاب الله عز وجل أو جديدًا لم ينص عليه فيه.
الأمر الثاني: أن السُّنَّة على كلتا الوجهتين أضافت شيئًا نحن في حاجة إليه
--------------------------------------------
সরল পথ; আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছুর আদেশ প্রদান করেন, তা মূলত এই মূলনীতিসমূহ (أصول)-এর হেদায়েত অনুসারে এবং এগুলোর সাধারণ প্রজ্ঞার প্রয়োগ মাত্র, অথবা এমন কোনো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণিত মূলনীতিসমূহের (أصول) সাথে সংযুক্ত করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, সুন্নাহতে গৃহপালিত গাধার গোশত, সকল প্রকার শিকারি চতুষ্পদ প্রাণী এবং সকল প্রকার শিকারি পাখির গোশত হারাম (تحريم) হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে—তার মূল উৎস আল্লাহ তাআলার কিতাবে বিদ্যমান। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম (تحريم) করে দেন।" [আল-আরাফ: ১৫৭]।
সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে অহির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, এই ধরণের গোশত অপবিত্র বস্তুর অন্তর্ভুক্ত, তাই তিনি মুসলমানদের জন্য তা হারাম (تحريم) করেছেন। আর খরগোশ ও ধব (এক প্রকার মরুভূমির সরীসৃপ)-এর গোশত হালাল (تحليل) হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মূল উৎসও পূর্বোক্ত আয়াতে বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হালাল হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন; কারণ তিনি জানতেন যে এ দুটি সেই পবিত্র বস্তুর অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাআলা হালাল (تحليل) করেছেন: "আর তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল (تحليل) করে দেন।" [আল-আরাফ: ১৫৭]।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো মহিলা এবং তার ফুফু বা খালাকে একত্রে বিবাহ করা হারাম (تحريم) করেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এর সদৃশ একটি বিষয়—অর্থাৎ দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা—হারাম (تحريم) করেছেন। এই সবগুলোর ক্ষেত্রে মূল কল্যাণ (المصلحة) অভিন্ন; আর তা হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া রোধ করা এবং পরিবারগুলোর মধ্যে ভাঙনের কারণগুলো ছড়িয়ে পড়া রোধ করা, যে পরিবারগুলোকে ইসলাম সুসংহত ও দয়াশীল হিসেবে দেখতে চায়। এজন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো মহিলা এবং তার ফুফু বা খালাকে একত্রে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন, তখন এই কল্যাণের (المصلحة) কথা স্পষ্ট করে বলেছেন: "নিশ্চয় তোমরা যদি এটি করো, তবে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করলে।" ১।
এদের প্রত্যেকের নিকটই নিজ নিজ দলিল (حجة) রয়েছে ২; তবে এখানে আমাদের নিকট দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
প্রথম বিষয়: সুন্নাহর এই ধরণের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب); আর এটি উভয় পক্ষই স্বীকার করেন, যদিও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে যে—এটি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তাআলার কিতাবে যা নিয়ে এসেছেন তার অন্তর্ভুক্ত, নাকি এটি এমন কোনো নতুন বিষয় যা তাতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (نص) হয়নি।
দ্বিতীয় বিষয়: উভয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারেই সুন্নাহ এমন কিছু সংযোজন করেছে যার প্রয়োজনীয়তা আমাদের রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
سواء أأسميناه بيانًا أم جديدًا، ولن نستطيع أن نهتدي إليه من عند أنفسنا، ومن غير هدى من نبينا صلى الله عليه وسلم.
ويبين الإمام ابن تيمية: لماذا يجب علينا اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم اتباعًا مطلقًا فيقول: "الحديث النبوي عند الإطلاق ينصرف إلى ما حدَّث به رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد النبوة من قوله وفعله وإقراره، فإن سنته ثبتت من هذه الوجوه الثلاثة، فما قاله إن كان خبرًا وجب تصديقه به، وإن كان تشريعًا -إيجابًا أو تحريمًا- وجب اتباعه فيه، فإن الآيات الدالة على نبوة الأنبياء دلت على أنهم معصومون فيما يخبرون به عن الله عز وجل فلا يكون خبرهم إلا حقًّا، وهو يتضمن أن الله ينبئه بالغيب، وأنه ينبئ بالغيب، والرسول مأمور بدعوة الخَلْق وتبليغهم رسالات ربه"1.
قال فضيلة الدكتور رفعت فوزي2: "وقد يسأل بعضنا هذا السؤال: لماذا لم يحتوِ كتاب الله عز وجل تفصيلًا على مثل هذه الأمور التي تركها لبيان الرسول صلى الله عليه وسلم؟
والجواب: أن كتاب الله عز وجل لو اهتم بهذه التفصيلات لاستطال استطالة تجعل من الحرج على المؤمنين أن يستقصوه، ويحفظوه، ويرتلوه، وكل هذا واجب عليهم، هذا بالإضافة إلى أنه كتاب هداية يضم كل ما يهدي المؤمنين في كل وقت، ومثل هذه التفصيلات لا أعتقد أن التالي لها -لو كانت في كتاب الله- تشع في نفسه تلك الهداية التي يستشعرها المؤمن في كل آية يتلوها من كتاب الله الكريم.
وأيضًا لإظهار رحمة الرسول صلى الله عليه وسلم بأمته، فهو بهم {رَءُوفٌ رَحِيمٌ} كما قال الله عز وجل وهذه الرحمة تظهر في بيان كتاب الله حتى لا يترك المؤمنين حَيْرى في فَهْم وتطبيق نصوص كتاب الله العزيز.
وحتى تتحقق القدوة بالرسول صلى الله عليه وسلم لا بُدَّ من الاقتناع العقلي، وهذا يتمثل
--------------------------------------------
আমরা একে বর্ণনা বা নতুন (যাই) বলি না কেন, আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েত ব্যতিরেকে এর সঠিক পথ খুঁজে পেতে সক্ষম হব না।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া ব্যাখ্যা করেছেন কেন আমাদের জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নিঃশর্তভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। তিনি বলেন: "সাধারণভাবে হাদিসে নববী বলতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তির পর যা কিছু বর্ণনা করেছেন—চাই তা তাঁর কথা, কাজ কিংবা মৌনসম্মতি (إقرار) হোক না কেন—তাকেই বোঝায়। কেননা তাঁর সুন্নাত এই তিন পদ্ধতিতেই সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তিনি যা বলেছেন তা যদি সংবাদ হয়, তবে তা বিশ্বাস করা আবশ্যক; আর যদি তা শরয়ি বিধান হয়—চাই তা আবশ্যিক (إيجاب) বা হারাম (تحريم) করা হোক—তবে তাতে তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক। কারণ নবীদের নবুয়তের ওপর নির্দেশকারী আয়াতসমূহ প্রমাণ করে যে, তাঁরা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা সংবাদ প্রদান করেন তাতে তাঁরা নিষ্পাপ (معصوم); ফলে তাঁদের সংবাদ সত্য ছাড়া আর কিছুই হয় না। আর এটি একথাই অন্তর্ভুক্ত করে যে, আল্লাহ তাঁকে অদৃশ্যের সংবাদ দান করেন এবং তিনি অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান করেন। আর রাসূলকে সৃষ্টির প্রতি আহ্বান জানানো এবং তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"১।
সম্মানিত ডক্টর রিফাত ফাওযী২ বলেন: "আমাদের মধ্যে কেউ এই প্রশ্ন করতে পারেন: মহান আল্লাহর কিতাব কেন এই জাতীয় বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ ধারণ করেনি, যা তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন?
উত্তর হলো: মহান আল্লাহর কিতাব যদি এই বিশদ বিবরণগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিত, তবে তা এতটাই দীর্ঘ হতো যে মুমিনদের জন্য তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুধাবন করা, মুখস্থ করা এবং তিলাওয়াত করা কঠিন হয়ে পড়ত, অথচ এ সবই তাদের জন্য আবশ্যক। এর পাশাপাশি এটি হলো হেদায়েতের কিতাব, যা মুমিনদের জন্য সর্বসময়ের দিশারি বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি মনে করি না যে, এ ধরনের বিস্তারিত বিবরণ যদি আল্লাহর কিতাবে থাকত, তবে তা পাঠকারীর অন্তরে সেই হেদায়েতের নূর বিচ্ছুরিত করত যা একজন মুমিন মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি আয়াত তিলাওয়াতের সময় অনুভব করেন।
অধিকন্তু, এটি উম্মতের প্রতি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রহমত প্রকাশের জন্যও বটে; কারণ তিনি তাদের প্রতি {মমতাময় ও দয়ালু}, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন। আর এই রহমত আল্লাহর কিতাবের বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রকাশ পায়, যাতে তিনি মুমিনদেরকে মহান আল্লাহর কিতাবের পাঠ (نص) বা ভাষ্যসমূহ বোঝা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে ফেলে না রাখেন।
আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আদর্শ হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সন্তুষ্টি অপরিহার্য, আর এটি প্রতিফলিত হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
في أن يرى المسلمون أن هذا الرسول صلى الله عليه وسلم ليس شخصًا كغيره؛ وإنما هو جزء من دينهم الذي جاء به من عند الله، ولن يتحقق هذا الجزء إلا باتباع نبيهم في الصلوات وغيرها، وإلا فكيف يصلي المؤمن دون تنفيذ ما أتى به الرسول صلى الله عليه وسلم في هذا المجال؟! إن هذا مستحيل -عقلًا- والله عز وجل أعلم".
মুসলমানদের এ বিষয়টি অনুধাবন করা প্রয়োজন যে, এই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্য কোনো সাধারণ ব্যক্তির মতো নন; বরং তিনি তাদের সেই দ্বীনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। আর দ্বীনের এই অংশটির দাবি ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সালাত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের নবীর অনুসরণ করা হবে। অন্যথায়, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ক্ষেত্রে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা পালন করা ব্যতিরেকে একজন মুমিন কীভাবে সালাত আদায় করবে?! এটি যুক্তির নিরিখে অসম্ভব—আর মহান আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
মিনহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফিল কারনিল আউয়্যালিল হিজরি ওয়া হাত্তা আসরিনাল হাদির
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الباب الأول: مناهج المحدثين في القرن الأول الهجري
الفصل الأول: مظاهر اهتمام الصحابة بالسنة…الباب الأول: مناهج المحدثين في القرن الأول الهجري
- وفيه أحد عشر فصلًا:
الفصل الأول: مظاهر اهتمام الصحابة بالسُّنَّة
هناك عدة مظاهر تدل على اهتمام الصحابة رضي الله عنهم بالسُّنَّة، ومن أهمها ما يلي:
الأول: الحرص على حضور مجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم لسماعه والرواية عنه والاقتداء به والالتزام بأوامره وتوجيهاته.
ومما يدل على ذلك ما رواه البخاري في صحيحه عن عمر رضي الله عنه قال: كنت أنا وجار لي من الأنصار من بني أمية بن زيد، وهي من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يومًا وأنزل يومًا، فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم من الوحي وغيره، وإذا نزل فعل مثل ذلك1.
الثاني: حرص بعضهم على سماع الحديث من الرسول صلى الله عليه وسلم أكثر من مرة ليحدث به غيره؛ فقد جاء في صحيح مسلم قول عمرو بن عَنْبَسَة رضي الله عنه بعد أن حدَّث بحديث: لقد كبرت سني، ورق عظمي، واقترب أجلي، وما بي حاجة إلى أن أكذب على الله ولا على رسول الله صلى الله عليه وسلم لو لم أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا مرة أو مرتين أو ثلاثًا -حتى عَدَّ سبع مرات- ما حدثت به أبدًا؛ ولكني سمعته أكثر من ذلك2.
الثالث: كما حرصوا على أن تنقل أقواله صلى الله عليه وسلم كما صدرت منه نقية غير
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: হিজরি প্রথম শতাব্দীতে হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) পদ্ধতিসমূহপ্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের গুরুত্বারোপের স্বরূপ…প্রথম অধ্যায়: হিজরি প্রথম শতাব্দীতে হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) পদ্ধতিসমূহ
- এতে এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের গুরুত্বারোপের স্বরূপ
সুন্নাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর গুরুত্বারোপের বেশ কিছু নিদর্শন রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানগুলো হলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মজলিসে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ, যাতে তাঁর কথা শোনা যায়, তাঁর থেকে বর্ণনা (الرواية) করা যায়, তাঁর অনুসরণ করা যায় এবং তাঁর আদেশ ও দিকনির্দেশনা মেনে চলা যায়।
এর প্রমাণ হলো যা বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি এবং বনু উমাইয়া বিন জায়েদ গোত্রের আমার এক আনসারি প্রতিবেশী—যারা মদিনার উচ্চভূমিতে (আওয়ালি) বসবাস করত—আমরা পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হতাম। সে একদিন যেত আর আমি একদিন যেতাম। আমি যেদিন যেতাম, সেদিনকার ওহীসহ অন্যান্য খবরাখবর নিয়ে আসতাম। আর সে যেদিন যেত, সে-ও অনুরূপ করত।১
দ্বিতীয়ত: তাঁদের কারো কারো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে একাধিকবার হাদিস শোনার প্রতি আগ্রহ, যাতে তিনি তা অন্যের কাছে বর্ণনা করতে পারেন। সহিহ মুসলিম-এ আমর বিন আনবাসাহ (রা.)-এর একটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে। তিনি একটি হাদিস বর্ণনা করার পর বলেন: আমার বয়স বেড়েছে, হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। আমার আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নামে মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে এটি একবার, দুইবার বা তিনবার—এমনকি তিনি সাতবার পর্যন্ত গণনা করলেন—না শুনতাম, তবে কখনো তা বর্ণনা করতাম না; কিন্তু আমি তা এর চেয়েও বেশিবার শুনেছি।২
তৃতীয়ত: তদ্রূপ তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীসমূহ যেভাবে তাঁর নিকট থেকে প্রকাশিত হয়েছে, সেভাবেই স্বচ্ছ ও অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন...
--------------------------------------------