(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الطالب بمعرفة أحاديث مختصر ابن الحاجب القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: تحفة الطالب بمعرفة أحاديث مختصر ابن الحاجب
المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (ت 774هـ)
الناشر: دار ابن حزم
الطبعة: الطبعة الثانية 1416هـ - 1996م
عدد الصفحات: 503
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুখতাসার ইবনুল হাজিবের হাদিসসমূহ জানার ক্ষেত্রে তালিবে ইলমদের জন্য উপহার বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: মুখতাসার ইবনুল হাজিবের হাদিসসমূহ জানার ক্ষেত্রে তালিবে ইলমদের জন্য উপহার
লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসীর আল-কুরাশী আল-বাসরি অতঃপর আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি)
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمات
مقدمة الطبعة الثانية…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانية:
الحمد لله رب العالمين وأفضل الصلاة وأتم التسليم على سيدنا محمد النبي الأمين، وعلى آله وأصحابه ومن سار على هديه إلى يوم الدين.
وبعد: فإني أضع بين يديك أيها القارئ الكريم هذا السفر المبارك في طبعته الثانية مزيدة منقحة، راجيا الله سبحانه أن يجعله عملا مباركا مبرورا مشكورا متقبلا عنده.
وكتاب تحفة الطالب بمعرفة أحاديث مختصر ابن الحاجب الذي بين يديك، كتاب جليل القدر عظيم الفائدة، أوقفنا فيه مؤلفه الإمام الشهير الحافظ النحرير أبو الفداء عماد الدين ابن كثير على أحاديث مختصر ابن الحاجب في أصول الفقه. والإمام أبو عمرو بن الحاجب إمام أصولي نحوي نظار، ذاعت كتبه في الأقطار واستفاد منها طلاب العلم وعلماء الأمصار. ويكفي مختصره أهمية أن نافت شروحه على الخمسين شرحا وقام على تخريج أحاديثه خمسة أئمة أعلام ينتمون إلى مدارس فقهية متعددة، مع إمامتهم في الحديث، ومسلكهم العقدي الصحيح.
فلم يمنعهم مانع من الإفادة من كتاب مالكي، وإن كان أحدهم شافعيا أو حنبليا.
وهذه هي طبيعة مدرستنا الإسلامية الحقة لم تعرف للتعصب طريقا، ولا للتحيز مسلكا، ولا للجحود سجية وهديا.
وبهذا الطريق السوي مضت وتمضي عجلة العلم بطلابها النجباء، واردين من المنهل العذب الرائق، ينحون بالأمة نحو المعالي.
প্রারম্ভিকাদ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।
অতঃপর: হে সম্মানিত পাঠক, আমি এই বরকতময় কিতাবটির পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ আপনার হাতে তুলে দিচ্ছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন একে একটি বরকতময়, নেক, প্রশংসনীয় ও তাঁর দরবারে কবুলকৃত আমল হিসেবে গণ্য করেন।
আপনার হাতে থাকা 'তুহফাতুত তালিব বি-মারিফাতি আহাদিসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব' গ্রন্থটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং মহা উপকারী একটি কিতাব। এর রচয়িতা প্রখ্যাত ইমাম, সুদক্ষ হাফেজ আবুল ফিদা ইমাদ উদ্দিন ইবনে কাসির উসুলুল ফিকহের গ্রন্থ 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব'-এর হাদিসসমূহ সম্পর্কে আমাদের অবগত করেছেন। আর ইমাম আবু আমর ইবনুল হাজিব ছিলেন একজন উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ ও গবেষক ইমাম; যাঁর কিতাবসমূহ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের ইলম অন্বেষণকারী ও উলামায়ে কেরাম তা থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাঁর 'মুখতাসার' এর গুরুত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক এবং হাদীসশাস্ত্রে পারদর্শিতা ও সঠিক আকিদার অনুসারী বিভিন্ন ফিকহি মাযহাবের পাঁচজন বরেণ্য ইমাম এর হাদীসসমূহের তাখরিজ সম্পন্ন করেছেন।
কোনো বাধাই তাঁদেরকে একজন মালেকি ঘরানার কিতাব থেকে উপকৃত হতে বিরত রাখতে পারেনি, যদিও তাঁদের কেউ শাফেয়ী কিংবা হাম্বলি ছিলেন।
আর এটাই হলো আমাদের প্রকৃত ইসলামি ঘরানার প্রকৃতি; যা গোঁড়ামির পথ চেনে না, পক্ষপাতের পথ অবলম্বন করে না এবং সত্য অস্বীকার করাকে স্বভাব বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে না।
এই সঠিক পথেই ইলমের চাকা তার মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং চলবে, যারা স্বচ্ছ ও সুপেয় প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করছে এবং উম্মাহকে উচ্চমর্যাদার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৮)
وفقنا الله لكل فضيلة، وبصرنا بأنفسنا، وهدانا الصراط المستقيم.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
المحقق
আল্লাহ আমাদের প্রতিটি শ্রেষ্ঠ কাজের তাওফিক দান করুন, আমাদের নিজেদের ব্যাপারে অন্তর্দৃষ্টি দান করুন এবং আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
আর আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
গবেষক-সম্পাদক
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولى:بعد حمد الله تعالى والثناء عليه بما هو له أهل، فله الحمد والشكر، وله الفضل والمنة في الآخرة والأولى.
والصلاة والسلام على سيد الخلق أجمعين، المبعوث رحمة للعالمين، سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه، ومن عمل بسنته، واهتدى بهداه إلى يوم نلقاه.
وبعد: لما كان هذا الكتاب الذي بين يدي القارئ الكريم اليوم هو رسالتي للماجستير، والتي تقدمت بها إلى جامعة أم القرى العتيدة بمكة المكرمة، وإني أسأل الله تعالى أن يعلي صرحها، ويديم مجدها وذكرها، وأن يدفع عنها كل سوء وسيئة، كما دفع ويدفع عن بيته الكريم وهي تتربع بين أحيائه، وأن يجزل المثوبة ويكرم العاقبة لكل من مد لها يدا بالخير وأراد لها الصالح والصلاح.
فإني أتقدم بشكري العميق للقائمين على جامعة أم القرى جميعا. كما أشكر القائمين على مكتبة الحرم المكي، والحرم المدني الشريفين، والقائمين على المكتبة المركزية بالجامعة الإسلامية وقسم المخطوطات فيها، والمكتبة المحمودية بالمدينة المنورة، والقائمين على دار الكتب المصرية ومعهد المخطوطات التابع لجامعة الدول العربية بالقاهرة، والمكتبة السليمانية ومكتبة فيض الله "ملّت" بإسلام بول بتركيا؛ لما لهم من فضل في تسهيل مهمة البحث، وذلك بتهيئة المصادر والاطلاع على المخطوطات التي احتجت إلى الرجوع إليها والاستفادة منها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:মহান আল্লাহর উপযুক্ত প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপনের পর; সকল প্রশংসা ও শুকরিয়া কেবল তাঁরই জন্য, এবং পরকাল ও ইহকালে সকল অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁরই।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর, আর যারা তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়।
অতঃপর: সম্মানিত পাঠকের সামনে বর্তমানে যে বইটি রয়েছে, তা মূলত আমার মাস্টার্সের গবেষণাপত্র, যা আমি মক্কা আল-মুকাররামার প্রাচীন উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশ করেছিলাম। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই প্রতিষ্ঠানের সম্মানকে সুউচ্চ করেন, এর গৌরব ও খ্যাতি চিরস্থায়ী করেন এবং একে সকল প্রকার অনিষ্ট ও মন্দ থেকে রক্ষা করেন—যেমনটি তিনি তাঁর সম্মানিত ঘরকে (কাবা) রক্ষা করেছেন ও করছেন, অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি সেই পবিত্র ঘরেরই পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত। আর যারা এই প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে হাত বাড়িয়েছেন এবং এর মঙ্গল ও উন্নতি কামনা করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাদের পরিণাম সম্মানজনক করেন।
আমি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দায়িত্বশীলদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে আমি মক্কার হারাম লাইব্রেরি ও মদিনার হারাম লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও এর পাণ্ডুলিপি বিভাগের দায়িত্বশীলদের, মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদীয়া লাইব্রেরি, মিশরের দারুল কুতুব ও কায়রোতে অবস্থিত আরব লীগের অধীনস্থ পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সুলাইমানিয়া লাইব্রেরি এবং ফয়জুল্লাহ 'মিল্লাত' লাইব্রেরির কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি; কারণ গবেষণার কাজ সহজ করতে তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। তারা আমাকে প্রয়োজনীয় উৎসসমূহ প্রস্তুত করে দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলো দেখা ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১০)
كما أتقدم بشكري الخالص إلى أستاذي المشرف على هذه الرسالة، فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور محمد أحمد يوسف القاسم، الذي لم يدخر وسعا ولم يأل جهدا في إبداء ملاحظاته وتوجيهاته السديدة لي. وأشكر كافة مشايخي الفضلاء الكرام، وأخص أستاذي الكريم فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور أحمد بن محمد نور سيف بوافر الشكر والتقدير؛ لما له من فضل علي وعلى طلبة العلم بملاحظاته وتوجيهاته السديدة، كما أشكره مرة أخرى وأشكر معه فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور سعد بن سعد جاويش؛ لتفضلهما بمناقشة الرسالة. كما أتقدم بشكري العميق وتقديري الخالص إلى كافة زملائي الكرام وأخص العراقيين منهم، وأتقدم بشكري وجزيل تقديري إلى كل من له يد عون أو فضل علي في إعارة كتاب أو مراجعة نص أو مقابلة مخطوط أو إسداء نصح أو توجيه أو دعاء.
وإني إذ أسجل شكري وتقديري واحترامي للجميع، فإني أسأل الله لعلي القدير أن يمدهم بعون من عنده وأن يوفقهم لكل خير، وأن يكرمهم في الدنيا، ويجزل مثوبتهم في الآخرة. كما أسأله تعالى أن يوفقني لرد فضل الجميع، وأسأله سبحانه أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، فإنه سبحانه نعم المولى ونعم النصير، والله ولي التوفيق.
আমি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক আমার উস্তায, সম্মানিত শায়খ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ ইউসুফ আল-কাসিমের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে তাঁর সঠিক পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে কোনো ত্রুটি করেননি এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। আমি আমার সকল সম্মানিত ও মহৎ মাশায়েখদের ধন্যবাদ জানাই, বিশেষভাবে আমার সম্মানিত উস্তায শায়খ প্রফেসর ডক্টর আহমদ বিন মুহাম্মদ নূর সাইফকে প্রচুর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই; আমার ওপর এবং ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর তাঁর সঠিক পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে যে অনুগ্রহ রয়েছে তার জন্য। আমি তাঁকে আবারও ধন্যবাদ জানাই এবং তাঁর সঙ্গে সম্মানিত শায়খ প্রফেসর ডক্টর সাদ বিন সাদ জাবিশকেও ধন্যবাদ জানাই; এই অভিসন্দর্ভটি পর্যালোচনার জন্য তাঁদের সদয় সম্মতির কারণে। আমি আমার সকল সম্মানিত সহকর্মীদের প্রতিও গভীর ধন্যবাদ ও অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে ইরাকিদের প্রতি। আমি সেই সকল ব্যক্তির প্রতিও আমার ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাদের সহযোগিতার হাত ছিল অথবা আমার ওপর অনুগ্রহ ছিল কোনো বই ধার দেওয়া, কোনো পাঠ পর্যালোচনা করা, কোনো পাণ্ডুলিপি তুলনা করা কিংবা নসীহত, দিকনির্দেশনা অথবা দুআ প্রদানের মাধ্যমে।
আমি যখন সকলের প্রতি আমার এই কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও সম্মান নিবেদন করছি, তখন আমি মহান শক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য প্রদান করেন এবং তাঁদেরকে সকল কল্যাণের তাওফীক দান করেন, আর দুনিয়াতে তাঁদের সম্মানিত করেন এবং আখিরাতে তাঁদের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। সেই সঙ্গে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে সকলের অনুগ্রহের প্রতিদান দেওয়ার তাওফীক দান করেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের আমলগুলোকে একমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحيم الرحيم
تمهيد:الحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة وأتم التسليم على سيدنا الهادي والرسول الأمين، سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه، ومن سار على هديه واتبع خطاه وانتهج منهجه إلى يوم الدين.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله.
{هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُون} 1.
وأنزل عليه كتابه الذي هو أصل دينه، نوّر به بصائر المؤمنين، وأحيا به قلوب المتقين، وطمأن به قلوب الموحدين: {الَّذِينَ آَمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} 2، وأوحى إلى رسوله صلى الله عليه وسلم تبيين مقاصده خاصة وعامة، وتوضيح مجمله ومفصله، فكان صلى الله عليه وسلم بسنته القولية والفعلية والتقريرية هو المعبّر عن كتابه، الدالّ على معانيه، الهادي إلى طريق تطبيقه. فغدا الصحابة الكرام -رجالهم ونساؤهم- يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عما خفي عليهم من معنى، وما استشكل عليهم من مراد، وعن حكم ما استجدّ لهم من حوادث، فتجد أحدهم يسأل عن الأمر الصغير والكبير، وتأتي المرأة لتسأله وتقول: يا رسول الله، إن الله لا يستحيي من الحق3
…--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, পথপ্রদর্শক ও বিশ্বস্ত রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর, আর যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত পথে চলবেন, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এবং তাঁর মানহাজ (কর্মপন্থা) অবলম্বন করবেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে} ১।
এবং তিনি তাঁর ওপর তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা তাঁর দ্বীনের মূল ভিত্তি; এর মাধ্যমে তিনি মুমিনদের অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন, মুত্তাকীদের অন্তরকে জীবিত করেছেন এবং এর দ্বারা একত্ববাদীদের অন্তরকে প্রশান্ত করেছেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়} ২। এবং তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এর বিশেষ ও সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ বয়ান করার এবং এর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করার ওহী পাঠিয়েছেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৌখিক, ব্যবহারিক ও মৌন সম্মতির সুন্নাহর মাধ্যমে এই কিতাবের ভাষ্যকার, এর অর্থের নির্দেশক এবং এটি বাস্তবায়নের পথের দিশারী হয়েছিলেন। অতঃপর সম্মানিত সাহাবীগণ—পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ঐসব বিষয়ের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন যা তাঁদের কাছে অস্পষ্ট ছিল, এবং যা বুঝতে তাঁদের সমস্যা হতো, আর যেসব নতুন ঘটনা উদ্ভূত হতো সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জানতে চাইতেন। আপনি দেখবেন তাঁদের কেউ ছোট ও বড় সকল বিষয়ে প্রশ্ন করতেন, এমনকি একজন নারী এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহর রাসূল, নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না ৩
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১২)
وتسأله شيئا لو لم يكن من أمر الدين لما استحسن السؤال عنه؛ لأنهم رضي الله عنهم جميعا- علموا وأدركوا وأيقنوا أن معلمهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنه العارف بدقائق الشرع وحقائق التنزيل، وأن الله شرّفهم وأعلى منزلتهم بدخولهم الإسلام، وأن كل ما يفعلون وما يقولون -صغيرا أو كبيرا- يجب أن يكون على وفق ما شرعه الله، ويجب أن يكونوا على معرفة به، وأن الاستحياء في التساؤل عن أمر الشرع مذموم، وأن العمل الذي يجانب مراد الشارع باطل، فلا بد مع إخلاص النية من العلم، فالنوايا لا تغني وحدها إذا كان العمل غير صحيح، فلا بد من إخلاص النية في العمل وموافقته لمراد الشارع سبحانه وتعالى. وآمنوا رضي الله عنهم جميعا- أن تبليغ الرسالة جزء من واجباتهم فقاموا ينقلون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما سمعوه ووعوه، ويوضحون ما فقهوه. فكان نقلهم لما سمعوه وشاهدوه وعلموه منه دقيقا، وفهمهم له صحيحا؛ لأنهم عايشوا الوحي وعاصروا التنزيل ووقعت الحوادث بين أيديهم، إضافة لما أكرمهم الله به من الورع والتقوى، وما خصّ به زمانهم من خيرية على القرون، وما حباهم من فطنة وذكاء.
وقد تلقاها عنهم آخرون هم على درجة عالية من الفهم والوعي، وقوة الحافظة واستحضار المعاني، وكتب البعض صحائف، وترك البعض الآخر الكتابة لدقة تثبته وقوة حافظته. وبلّغوا هم بدورهم ما وعوه وحفظوه وما كتبوه وهكذا.... حتى إذا تباعد الزمن شيئا قليلا رأى العلماء والأئمة النجباء أن الاعتماد على الحفظ وحده لا يكفي، وأنه لا بد من تقييد السنة وجمعها في الكتب
… فتمت عملية الجمع والكتابة والتدوين1
… إلا أن البعض تساهل في الجمع فجمع كل ما سمع مرويا بالسند، ووضع البعض الآخر شروطا لقبول رواية الراوي ومن يأخذ عنه العلم، وكانت شروط بعضهم أشد من بعض، وكان شرط الإمامين الجليلين البخاري ومسلم -عليهما رحمة الله- في صحيحيهما في الدرجة الأولى من التحري عن رواة الأخبار،
--------------------------------------------
আর আপনি তাকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করছেন যে, যদি সেটি দ্বীনের বিষয় না হতো তবে তা জিজ্ঞাসা করা সমীচীন মনে হতো না; কারণ তারা—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—জানতেন, অনুধাবন করতেন এবং নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করতেন যে, তাঁদের শিক্ষক হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর তিনিই হলেন শরীয়তের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এবং ওহী অবতীর্ণ হওয়ার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। আল্লাহ তাআলা ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে তাঁদেরকে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। তাঁরা ছোট-বড় যা কিছুই করেন বা বলেন, তা অবশ্যই আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার অনুকূলে হতে হবে এবং সে বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। শরীয়তের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে লজ্জাবোধ করা নিন্দনীয় এবং শরীয়তপ্রণেতার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী আমল বাতিল বলে গণ্য হবে। সুতরাং নিয়তের একনিষ্ঠতার পাশাপাশি ইলম বা জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কেননা আমল যদি সঠিক না হয়, তবে কেবল নিয়ত যথেষ্ট নয়। তাই আমলে নিয়তের ইখলাস থাকার পাশাপাশি তা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইচ্ছার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া জরুরি। তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—বিশ্বাস করতেন যে, রিসালাত পৌঁছে দেওয়া তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন ও হৃদয়ে ধারণ করেছেন তা বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং যা বুঝতে পেরেছেন তা ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। তাঁর কাছ থেকে তাঁরা যা শুনেছেন, দেখেছেন এবং জেনেছেন তার বর্ণনা অত্যন্ত নিখুঁত ছিল এবং এ বিষয়ে তাঁদের উপলব্ধিও ছিল সঠিক; কেননা তাঁরা ওহীর প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন, ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়কালে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের সামনেই বিভিন্ন ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাঁদেরকে পরহেজারি ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে সম্মানিত করেছিলেন এবং তাঁদের যুগকে অন্য সকল যুগের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন এবং তাঁদেরকে প্রখর মেধা ও বুদ্ধিমত্তা প্রদান করেছিলেন।
আর তাঁদের কাছ থেকে পরবর্তী এমন একদল লোক এটি গ্রহণ করেছিলেন, যাঁরা অনুধাবন ও সচেতনতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের ছিলেন এবং যাঁদের মুখস্থ শক্তি ও অর্থ স্মরণে রাখার ক্ষমতা ছিল প্রবল। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, আবার কেউ কেউ তাঁর সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও প্রখর স্মৃতিশক্তির ওপর নির্ভর করে লেখা পরিহার করেছিলেন। তাঁরাও তাঁদের পক্ষ থেকে যা অনুধাবন করেছেন, মুখস্থ করেছেন এবং যা লিখেছেন তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং এভাবেই চলতে থাকে...। এমনকি যখন সময় কিছুটা অতিবাহিত হলো, তখন বিজ্ঞ আলিম ও ইমামগণ উপলব্ধি করলেন যে, কেবল মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয় এবং সুন্নাহকে লিপিবদ্ধ করে কিতাব আকারে সংকলন করা আবশ্যক। ফলে সংগ্রহ, লেখনী ও সংকলনের১ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো...। তবে সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কেউ কেউ কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং সনদসহ বর্ণিত যা কিছু শুনেছেন তাই সংগ্রহ করেছেন। আবার কেউ কেউ বর্ণনাকারীর বর্ণনা কবুল করার ক্ষেত্রে এবং কার কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করা হবে সে বিষয়ে শর্তারোপ করেছেন। তাঁদের কারো কারো শর্ত অন্যের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ছিল। আর দুই মহান ইমাম—ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)—তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে সংবাদ বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের শর্ত পালন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وشرطهما مدوّن معلوم لدى طلبة العلم1، فكانت روايتهما نقية صحيحة بعيدة عن النقد. لذلك تلقتها الأمة بالقبول حتى قال أحد الأئمة: لو حلف أحدهم بالطلاق أن جميع ما في البخاري ومسلم صحيح، لم يحنث ولم تطلق زوجته2
… بيد أن غيرهما لم يكونوا على هذه الدرجة من الدقة والتمحيص؛ لذلك لم يغفل الأئمة الأعلام -عليهم رحمة الله- هذه الناحية، فوضعوا شروطا دقيقة ضابطة للعلم؛ حتى يحكم للرواية بالقبول أو الردّ، وقسموا الحديث تبعا لتلك الشروط إلى: صحيح، وحسن، وضعيف، ووضعوا لها درجات، وقسموا الضعيف إلى أقسام كثيرة.
ثم إن بعض من جاء بعدهم من المصنفين استشهد بروايات من غير أن يعزوها لمصدرها، وإن البعض منهم ساقها من غير تمحيص فلم تكتمل فوائدها؛ لأن الناظر فيها لا يعلم ما استشهد به المؤلف صحيحا أو سقيما، فأدرك الأئمة هذه المهمة فأماطوا اللثام عما خفي مصدره، وصعب مسلكه، وتعذر الوصول إليه.
ومن تلكم الكتب: كتاب "مختصر ابن الحاجب -عليه رحمة الله- في أصول الفقه" فهو كتاب جليل في فنه بديع في صنعه دقيق في عبارته، تلقاه العلماء وطلاب العلم بالقبول والعناية، ولكن كان فيه ما وصفنا. فلم يغفله الأئمة الحفاظ كما أنهم لم يغفلوا عن غيره، فشمّروا عن سواعد الجد لتبيين أحاديثها، وأعلام الدارسين لها بصحة الصحيح وحسن الحسن وعلة المعلول، كما أنهم بينوا مواطن أخذها ومظان عزوها. ومن أولئك الأعلام إمامنا الجليل الحافظ الناقد الأصيل عماد الدين أبو الفداء إسماعيل بن عمر ابن كثير -عليه رحمة الله تعالى- فألّف كتابه القيم "تحفة الطالب بمعرفة أحاديث مختصر ابن الحاجب" فأجاد وأفاد، وهو الكتاب الذي قمت على تحقيقه، ولله الحمد والفضل والمنة، وقد قدمت له بدراسة تضمنت أربعة فصول، هي كما يلي:
الفصل الأول: دراسة حياة المؤلف الإمام ابن كثير، وتتضمن مبحثين:
--------------------------------------------
তাদের (বুখারী ও মুসলিমের) শর্তসমূহ জ্ঞানান্বেষীদের নিকট লিপিবদ্ধ ও সুবিদিত১, ফলে তাদের বর্ণনাগুলো ছিল স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ এবং সমালোচনামুক্ত। এজন্যই উম্মাহ এগুলোকে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে, এমনকি ইমামদের একজন বলেছেন: যদি কেউ তালাকের শপথ করে বলে যে বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই সহীহ, তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে না এবং তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হবে না২
… তবে এই দুজন ব্যতীত অন্যরা নির্ভুলতা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের এই স্তরে ছিলেন না। একারণে প্রখ্যাত ইমামগণ—তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—এই বিষয়টি উপেক্ষা করেননি; বরং তারা ইলমের জন্য সূক্ষ্ম ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যাতে বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এই শর্তাবলীর ভিত্তিতে তারা হাদীসকে সহীহ, হাসান এবং যঈফ হিসেবে বিভক্ত করেছেন এবং এগুলোর জন্য বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করেছেন। আর তারা যঈফ হাদীসকেও অনেকগুলো প্রকারে বিভক্ত করেছেন।
অতঃপর পরবর্তীকালের অনেক গ্রন্থকার এমন সব বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যেগুলোর মূল উৎস তারা উল্লেখ করেননি। তাদের কেউ কেউ এগুলো কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই উদ্ধৃত করেছেন, ফলে এর উপকারিতা পূর্ণতা পায়নি; কারণ পাঠক জানেন না যে লেখক যে বর্ণনা দ্বারা দলিল দিয়েছেন তা সহীহ নাকি রুগ্ন। ইমামগণ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন এবং যার উৎস অস্পষ্ট ছিল, যার পথ ছিল দুর্গম এবং যার কাছে পৌঁছানো দুঃসাধ্য ছিল, তা তারা উন্মোচিত করেছেন।
এই জাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো: ইমাম ইবনুল হাজিব—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—এর উসূলে ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ "মুখতাসার ইবনিল হাজিব"। এটি স্বীয় বিষয়ে এক মহান গ্রন্থ, যার বিন্যাস চমৎকার ও শব্দশৈলী অত্যন্ত সূক্ষ্ম। ওলামায়ে কেরাম ও জ্ঞানান্বেষীরা একে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু এতেও সেই সব বিষয় ছিল যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। তাই হাফেয ইমামগণ এই গ্রন্থটিকেও উপেক্ষা করেননি, যেমনটি তারা অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও করেননি। তারা এর হাদীসসমূহ স্পষ্ট করতে এবং শিক্ষার্থীদেরকে সহীহ’র বিশুদ্ধতা, হাসান-এর উৎকর্ষ এবং ত্রুটিযুক্ত হাদীসের ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত করতে পূর্ণ উদ্যমে সচেষ্ট হয়েছেন। পাশাপাশি তারা হাদীসগুলোর গ্রহণের স্থান এবং উৎসসমূহ বর্ণনা করেছেন। আর সেই সব মহান ইমামদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের মহান ইমাম, প্রখ্যাত হাফেয ও মূল্যান্বয়নকারী ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসীর—তাঁর ওপর মহান আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হোক। তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসারি ইবনিল হাজিব" রচনা করেছেন এবং এতে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন ও ইলমী ফায়দা প্রদান করেছেন। এটিই সেই গ্রন্থ যা আমি সম্পাদনা (তাহকীক) করেছি; আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ ও কৃতজ্ঞতা। আমি এর শুরুতে একটি গবেষণা উপস্থাপন করেছি যা চারটি অধ্যায় সম্বলিত, তা নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: লেখক ইমাম ইবনে কাসীরের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, যা দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأول: حياته العامة.
المبحث الثاني: حياته العلمية.
الفصل الثاني: دراسة حياة مؤلف الأصل ابن الحاجب، وتتضمن مبحثين:
المبحث الأول: حياته العامة.
المبحث الثاني: حياته العلمية.
الفصل الثالث: في التخريج وأهميته، وتضمّن:
معنى التخريج، أهمية التخريج، جهود الحافظ ابن كثير في هذا الفن.
الفصل الرابع: دراسة الكتاب، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: وتضمن: اسم الكتاب، صحة نسبة الكتاب للمؤلف، نسخ الكتاب.
المبحث الثاني: وتضمن: من قام على تخريج الكتاب غير الإمام ابن كثير، بعض مزايا كتاب تحفة الطالب، منهج الحافظ ابن كثير في كتاب تحفة الطالب، منهج التحقيق.
هذا، وأسأل الله العلي القدير أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، وأن يرحم العلماء العاملين، وأن يوفقنا لخدمة دينه وشرعه القويم. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصل اللهم وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين.
مكة المكرمة
في 7/ 6/ 1406هـ
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাধারণ জীবন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: মূল লেখক ইবনুল হাজিবের জীবনী পর্যালোচনা, যা দুটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাধারণ জীবন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবন।
তৃতীয় অধ্যায়: তাখরিজ এবং এর গুরুত্ব প্রসঙ্গে, এতে রয়েছে:
তাখরিজের অর্থ, তাখরিজের গুরুত্ব এবং এই শিল্পে হাফেয ইবনে কাসিরের অবদান।
চতুর্থ অধ্যায়: গ্রন্থটি সম্পর্কে পর্যালোচনা, এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: গ্রন্থের নাম, লেখকের প্রতি গ্রন্থের সম্বন্ধের সঠিকতা এবং গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: ইমাম ইবনে কাসির ছাড়া আর যারা গ্রন্থটির তাখরিজ করেছেন, 'তুহফাতুত তালিব' গ্রন্থের কিছু বৈশিষ্ট্য, 'তুহফাতুত তালিব' গ্রন্থে হাফেয ইবনে কাসিরের কর্মপদ্ধতি এবং সম্পাদনা পদ্ধতি।
পরিশেষে, আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এবং আমলকারী আলেমদের প্রতি রহম করেন, আর আমাদের তাঁর দ্বীন ও সুদৃঢ় শরীয়তের খেদমত করার তাওফিক দান করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
মক্কা মুকাররমা
৭/ ৬/ ১৪০৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
القسم الأول: الدراسة
الفصل الأول: دراسة حياة المؤلف "الإمام الحافظ ابن كثير"
المبحث الأول: حياته العامة
أولا: اسمه ونسبه…القسم الأول: الدراسة
الفصل الأول: دراسة حياة المؤلف "الإمام الحافظ ابن كثير"
المبحث الأول: حياته العامة
ويتضمن ما يلي:
- أولا: اسمه ونسبه.
- ثانيا: مولده.
- ثالثا: أسرته.
- رابعا: زوجته وأولاده.
أولا: اسمه ونسبه
هو إسماعيل بن عمر بن كثير بن ضوء بن درع القرشي الحصبلي القيسي، البُصْرَوي الأصل، الدمشقي النشأة والتعليم، الشافعي، عماد الدين أبو الفداء1.
الإمام العالم العلامة، المفسر المحدث الحافظ، الفقيه المؤرخ
…--------------------------------------------
প্রথম অংশ: গবেষণা
প্রথম অধ্যায়: লেখক "আল-ইমাম আল-হাফিজ ইবনে কাসীর"-এর জীবন পর্যালোচনা
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাধারণ জীবন
প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়…প্রথম অংশ: গবেষণা
প্রথম অধ্যায়: লেখক "আল-ইমাম আল-হাফিজ ইবনে কাসীর"-এর জীবন পর্যালোচনা
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাধারণ জীবন
এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
- প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
- দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম।
- তৃতীয়ত: তাঁর পরিবার।
- চতুর্থত: তাঁর স্ত্রী ও সন্তানাদি।
প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়
তিনি হলেন ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর বিন দাউ বিন দির' আল-কুরাশি আল-হাসবালি আল-কাইসি, মূলগতভাবে বুসরাভি (বুসরার অধিবাসী), দামেশকে তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা লাভ, শাফেয়ী, ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা১।
ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, হাফিজ, ফকিহ ও ঐতিহাসিক
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثانيا: مولدهولد ابن كثير في إحدى المدن الدمشقية في بلدة تسمى بـ "مجدل القرية" من أعمال بُصْرَى شرقي دمشق، وكان ذلك سنة سبعمائة أو سنة إحدى وسبعمائة من الهجرة النبوية الشريفة1.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: তাঁর জন্মইবনে কাসীর দামেস্কের অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর একটিতে, 'মাজদাল আল-কারইয়াহ' নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন, যা দামেস্কের পূর্ব দিকে বুসরা অঞ্চলের অন্তর্গত। তাঁর জন্ম হয়েছিল হিজরী সাতশত অথবা সাতশত এক সালে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثالثا: أسرتهولد ابن كثير في أسرة قرشية عريقة عرفت بالعلم والخلق والديانة، وكان ينتمي إلى بني حصلة. وقد ولد والده في قرية يقال لها "الشركيون" تقع غربي بصرى وبينها وبين أذرعات، وذلك في حدود سنة أربع وستمائة. ودرس القرآن والحديث والفقه وعلوم الشرع، وأخذ عن النووي والتقي الفزاري وغيرهما من العلماء. وتولى الخطابة في قرية شرقي بصرى مدة طويلة وكان خطيبا فصيحا، يقول الشعر ويعرف فنونه، وكان الناس يستمعون إليه ويلتفّون حوله. ثم تحول إلى "مجدل القرية" وتزوج منها بمريم بنت فرج بن علي، وكانت امرأة صالحة حافظة لكتاب الله. وقد أنجبت له: كمال الدين عبد الوهاب، وعبد العزيز، ومحمدا وإسماعيل، وكان قد توفي وهو شاب صغير يطلب العلم في دمشق، فسمى ولده إسماعيل "ابن كثير" باسمه.
وكذلك ولد له منها: يونس، وإدريس، وكانوا جميعا مشتغلين بطلب العلم، عليهم رحمة الله تعالى جميعا1.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: তাঁর পরিবারইবনে কাসীর একটি প্রাচীন কুরাইশ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন যারা জ্ঞান, চরিত্র ও ধার্মিকতার জন্য পরিচিত ছিল এবং তিনি বনু হাসলা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা "শারকিয়্যুন" নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যা বুসরার পশ্চিমে এবং বুসরা ও আযরিআতের মাঝামাঝি অবস্থিত; এটি আনুমানিক ৬০৪ হিজরি সালের কাছাকাছি সময়ের ঘটনা। তিনি কুরআন, হাদীস, ফিকহ ও শরীয়াহর বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং ইমাম নববী, তাকী আল-ফাজারী ও অন্যান্য আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘকাল বুসরার পূর্বদিকের একটি গ্রামে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন বাগ্মী খতিব ছিলেন, কবিতা রচনা করতেন এবং এর শিল্পকলা সম্পর্কে জানতেন; মানুষ তাঁর কথা শুনত এবং তাঁকে ঘিরে সমবেত হতো। এরপর তিনি "মাজদাল আল-কারইয়াহ"-তে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে মারইয়াম বিনতে ফারাজ বিন আলীকে বিয়ে করেন; তিনি একজন নেককার নারী ও আল্লাহর কিতাবের হাফেজা ছিলেন। তাঁর গর্ভে তাঁর কামালুদ্দীন আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুল আযীয, মুহাম্মদ ও ইসমাঈল জন্মগ্রহণ করেন। (পিতার অন্য এক পুত্র) ইসমাঈল দামেস্কে ইলম অন্বেষণরত অবস্থায় যুবক বয়সে ইন্তেকাল করেছিলেন, তাই তিনি তাঁর এই সন্তানের (ইবনে কাসীর) নামও তাঁর নামানুসারে "ইসমাঈল" রাখেন।
অনুরূপভাবে তাঁর গর্ভে তাঁর আরও ইউনুস ও ইদরীস জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁরা সকলেই ইলম অর্জনে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁদের সকলের ওপর মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত বর্ষিত হোক। ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২১)
رابعا: زوجته وأولادهتزوج الإمام ابن كثير بابنة شيخه أبي الحجاج المزي، وكانت امرأة صالحة حافظة لكتاب الله بارة بوالديها، وكانت قد حفظت القرآن على والدتها عائشة بنت إبراهيم بن صديق1.
وقد رزق منها بأولاد أربعة، نذكرهم مرتبين حسب سني وفياتهم:
1- عمر بن إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي. وكان فقيها، كتب تصانيف أبيه وولي الحسبة مرارا والأوقاف، ودرس بأماكن عديدة. توفي سنة ثلاث وثمانين وسبعمائة2.
2- أحمد بن إسماعيل بن عمر بن كثير. وكان حسن السمت عارفا بالأمور، توفي سنة إحدى وثمانمائة3.
3- بدر الدين محمد بن إسماعيل بن كثير، أبو البقاء. درس العلم وتفقه على كثير من الشيوخ، وكان ذا فضل، معروفا بحسن الخط وجودة الضبط. توفي سنة ثلاث وثمانمائة4.
4- التاج عبد الوهاب بن إسماعيل بن كثير. سمع من أبيه وغيره من الشيوخ، توفي سنة أربعين وثمانمائة4، عليهم رحمة الله تعالى جميعا.
--------------------------------------------
চতুর্থত: তাঁর স্ত্রী ও সন্তানসন্ততিইমাম ইবনে কাসীর তাঁর শাইখ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি একজন নেককার নারী, আল্লাহর কিতাবের হাফেজা এবং পিতা-মাতার প্রতি অনুগত ছিলেন। তিনি তাঁর মাতা আয়েশা বিনতে ইব্রাহিম বিন সিদ্দিকের নিকট কুরআন মুখস্থ করেছিলেন১।
তাঁর ঔরসে তিনি চারজন সন্তান লাভ করেন, আমরা তাঁদের মৃত্যুর বছর অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করছি:
১- ওমর বিন ইসমাইল বিন ওমর বিন কাসীর আল-কুরাশী। তিনি একজন ফকীহ ছিলেন, তাঁর পিতার গ্রন্থসমূহ অনুলিপি করতেন এবং বহুবার হিসবাহ ও ওয়াকফ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে পাঠদান করেছেন। তিনি সাতশত তিরাশি হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন২।
২- আহমদ বিন ইসমাইল বিন ওমর বিন কাসীর। তিনি সচ্চরিত্রবান ও বিভিন্ন বিষয়ে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি আটশত এক হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন৩।
৩- বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন কাসীর, আবু আল-বাকা। তিনি জ্ঞান অর্জন করেন এবং বহু শাইখের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি অত্যন্ত গুণী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর সুন্দর হস্তাক্ষর ও নির্ভুল বর্ণনার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি আটশত তিন হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন৪।
৪- আত-তাজ আব্দুল ওয়াহহাব বিন ইসমাইল বিন কাসীর। তিনি তাঁর পিতা ও অন্যান্য শাইখদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আটশত চল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন৪, তাঁদের সকলের ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني: حياته العلمية
أولا: طلبه العلم…المبحث الثاني: حياته العلمية
ويتضمن ما يلي:
- أولا: طلبه العلم.
- ثانيا: شيوخه.
- ثالثا: تلاميذه.
- رابعا: مكانته العلمية، وثناء العلماء عليه.
- خامسا: مؤلفاته.
- سادسا: وفاته.
أولا: طلبه العلم
كان لأسرة ابن كثير العلمية أثر كبير في توجيهه التوجيه السليم الصحيح، والتحاقه بطلب العلم منذ نعومة أظفاره؛ فكان والده عالما وخطيبا، ووالدته حافظة لكتاب الله، وإخوته مشتغلين بالعلم. فلا غرابة أن ينشأ هذا الصغير على طلب العلم وأن يسلك مسلك العلماء
… وقد انتقلت أسرته إلى دمشق بعد وفاة والده برفقة أخيه عبد الوهاب وكان ذلك سنة سبع وسبعمائة للهجرة، ودرس علومه الأولى على يد أخيه عبد الوهاب، وحفظ القرآن على يد الشيخ شمس الدين البعلبكي وعمره لم يتجاوز الحادية عشرة1.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবনপ্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবন
এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- প্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ।
- দ্বিতীয়ত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
- তৃতীয়ত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
- চতুর্থত: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
- পঞ্চমত: তাঁর রচনাবলি।
- ষষ্ঠত: তাঁর মৃত্যু।
প্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ
ইবনে কাসীরের ইলমি পরিবারের তাঁর সঠিক ও যথাযথ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে এবং শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণে তাঁর যোগদানের পেছনে এক বড় প্রভাব ছিল; তাঁর পিতা ছিলেন একজন আলেম ও খতীব, তাঁর মাতা ছিলেন আল্লাহর কিতাবের হাফেজা এবং তাঁর ভাইয়েরাও ইলম চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন। সুতরাং এই বালকের ইলম অন্বেষণের ওপর বেড়ে ওঠা এবং আলেমদের পথ অবলম্বন করা আশ্চর্যের কিছু নয়
… তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তাঁর ভাই আব্দুল ওয়াহহাবের সঙ্গে তাঁর পরিবার দামেস্কে স্থানান্তরিত হয় এবং তা ছিল ৭০৭ হিজরি সনে। তিনি তাঁর প্রাথমিক ইলম তাঁর ভাই আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট অর্জন করেন এবং এগারো বছর বয়স অতিক্রম করার পূর্বেই শায়খ শামসুদ্দীন আল-বালবাক্কীর নিকট কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم توجه لقراءة الحديث؛ فسمع صحيح مسلم في تسعة مجالس بقراءة الوزير أبي القاسم الأزدي قراءة صحيحة1، وسمع بدار الحديث الأشرفية نحوا من خمسمائة جزء بالإجازات والسماع في الحديث، من شيخه المسند أبي العباس بن الشحنة2.
كما أنه درس القراءات والتفسير، وعني بالفقه والأصول، ودرس التاريخ، وعلم الرجال، والنحو والشعر وآداب العرب، وغيرها من العلوم. وهكذا أخذ يقرأ ويواصل ويتابع ويعكف على العلم، ويجلس إلى العلماء يأخذ عنهم ويحفظ المتون ويقرأ المطولات. وقد حظي ابن كثير بشيوخ أجلاء وعلماء فضلاء كان لهم تأثير واضح في علمه وثقافته، وقد عرفوا بغزارة العلم وسعة الاطلاع كما عرفوا بالتقوى والورع والإخلاص أمثال الحافظ المزي، والذهبي، وابن تيمية، وغيرهم كثير، عليهم رحمة الله تعالى جميعا. وما زال كذلك حتى أتقن العلوم ونال حظه الوافر من جميع الفنون؛ فشهد بعلمه العلماء، وبرسوخه وتقدمه الفضلاء، فأعطيت له الإجازات واشتهر بالضبط والتحرير3، حتى ذاع صيته وطار في الأمصار ذكره، وتولى مشيخة العديد من المدارس، وانتهت إليه رئاسة العلم في التفسير والحديث والفقه والتاريخ4
… فهرع إليه طلاب العلم من كل صقع، يطلبون علمه ويتفقهون به، ويحفظون عنه ويسمعون منه.
--------------------------------------------
তারপর তিনি হাদিস পাঠের দিকে মনোনিবেশ করেন; অতঃপর তিনি নয়টি মজলিসে উজির আবুল কাসিম আল-আযদি-এর বিশুদ্ধ পঠনশৈলীর মাধ্যমে সহীহ মুসলিম শ্রবণ করেন১, এবং তিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-তে তার শায়খ আল-মুসনিদ আবুল আব্বাস ইবনুন শুহনাহ থেকে ইজাজত ও শ্রবণের মাধ্যমে হাদিসের প্রায় পাঁচশত জুজ (অংশ) শ্রবণ করেন২।
একইভাবে তিনি কিরাত ও তাফসির অধ্যয়ন করেন, ফিকহ ও উসুলের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হন এবং ইতিহাস, ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী শাস্ত্র), নাহু (ব্যাকরণ), কবিতা ও আরবদের সাহিত্যসহ অন্যান্য শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়ন করেন। এভাবেই তিনি পাঠ অব্যাহত রাখেন এবং ইলম চর্চায় নিমগ্ন থেকে ওলামাদের মজলিসে উপবিষ্ট হয়ে তাদের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেন, মূল পাঠ্যসমূহ মুখস্থ করেন এবং দীর্ঘ কিতাবসমূহ পাঠ করেন। ইবনে কাসীর এমন কিছু মহান শায়খ এবং বিজ্ঞ আলেমদের সাহচর্য লাভ করেন যাদের তার ইলম ও প্রজ্ঞার ওপর স্পষ্ট প্রভাব ছিল; তারা যেমন জ্ঞানের গভীরতা ও ব্যাপক অধ্যয়নের জন্য পরিচিত ছিলেন, তেমনি তাকওয়া, পরহেজগারি ও ইখলাসের জন্যও প্রসিদ্ধ ছিলেন, যেমন— হাফেজ আল-মিযযি, আয-যাহাবি, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আরও অনেকে, আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। এভাবেই তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখাগুলোতে দক্ষতা অর্জন করেন এবং সকল বিদ্যায় প্রভূত অংশ লাভ করেন; ফলে ওলামাগণ তার ইলমের এবং গুণীজনরা তার গভীরতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করেন। তাকে ইজাজত প্রদান করা হয় এবং তিনি নির্ভুলতা ও সুনিপুণ লেখনীর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন৩, এমনকি তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জনপদে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বহু মাদ্রাসার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও ইতিহাসে ইলমের শীর্ষ নেতৃত্ব তার ওপর এসে পর্যবসিত হয়৪
… ফলে প্রতিটি অঞ্চল থেকে জ্ঞানপিপাসুরা তার কাছে ছুটে আসতেন, তারা তার কাছে জ্ঞান অন্বেষণ করতেন, দীনী জ্ঞান অর্জন করতেন এবং তার কাছ থেকে বর্ণনা মুখস্থ ও শ্রবণ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثانيا: حياته العلمية…ثانيا: شيوخه
لقد ولد ابن كثير في أسرة علمية نالت حظها من العلم، وأخذت نصيبها من المعرفة؛ فأمه التي كانت تحفظ كتاب الله العزيز يمكن أن نقول: إنها كانت شيخته الأولى، فلا بد أنه سمع منها الكثير من كتاب الله تعالى ولا بد أنه حفظ عنها منه شيئا، ولا بد أن أنفاسها الطيبة قد عطرت مسامعه وهي تستعيد حفظه وتؤكد تذكاره وتتلوه آناء الله وأطراف النهار في كل يوم. وإن أخاه عبد الوهاب كان شيخه أيضا؛ فقد تلقى عنه وكان ذا علم وفضل، كما أنه تلقى عن شيوخ كثيرين، وإننا سنذكر بعض خواصّ شيوخه مرتبين حسب حروف المعجم، كما أننا سنذكر ترجمة موجزة لشيخين من شيوخه كان لهما ذكر في كتابنا تحفة الطالب، وهما الإمامان الحافظان أبو الحجاج المزي، وأبو عبد الله الذهبي. ولنبدأ بترجمتهما ثم نعدد باقي شيوخه.
1- الإمام المزي1: هو العالم الحبر الحافظ محدث الشام، جمال الدين أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف القضاعي، ثم الكلبي الدمشقي الشافعي.
ولد سنة أربع وخمسين وستمائة ونشأ بالمزة. حفظ القرآن وتفقه وأقبل على العلم فسمع الكتب الستة ومعجم الطبراني وغيرها، وأخذ العلم عن أبي الخير النووي والعفيف التلمساني والأربلي وغيرهم، وكان كثير العلم ثقة حجة، صادق اللهجة حسن الخلق، كثير السكوت قليل الكلام مصنفا، ومن مصنفاته: تهذيب الكمال، وتحفة الأشراف في معرفة الأطراف، وغيرهما. وتوفي في صفر سنة اثنتين وأربعين وسبعمائة.
2- الإمام الذهبي2: هو الإمام العالم العلامة الحافظ المحدث شيخ الجرح والتعديل، شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز الذهبي. ولد سنة ثلاث وسبعين وستمائة بكفر بطنا في غوطة دمشق، سمع من شيوخ كثيرين منهم: الإمام المزي، وأحمد بن هبة الله بن عساكر، وشرف الدين الفزاري، وغيرهم. صنف المصنفات الجليلة، منها: تاريخ الإسلام، وسير أعلام النبلاء، وميزان الاعتدال، وغيرها. توفي سنة ثمان وأربعين وسبعمائة.
3- برهان الدين بن سباع الفزاري: شيخ الشافعية في زمانه ابن شيخ الإسلام
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাঁর ইলমী জীবন…দ্বিতীয়ত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ
ইবনে কাসীর এমন এক ইলমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যারা ইলম ও জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে নিজেদের অংশ লাভ করেছিলেন। তাঁর মা, যিনি মহান আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করেছিলেন, তাঁকে তাঁর প্রথম শিক্ষিকা বলা যেতে পারে। অবশ্যই তিনি তাঁর নিকট থেকে আল্লাহর কিতাবের অনেক অংশ শুনেছেন এবং নিশ্চিতভাবেই তাঁর নিকট থেকে এর কিছু অংশ মুখস্থ করেছেন। নিশ্চয়ই তাঁর মায়ের পবিত্র নিঃশ্বাস তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয়কে সুবাসিত করেছিল যখন তিনি তাঁর মুখস্থ অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন, স্মৃতির তাকিদ দিতেন এবং দিনে-রাতে সর্বদা তা তিলাওয়াত করতেন। তাঁর ভাই আব্দুল ওয়াহহাবও তাঁর শিক্ষক ছিলেন; তিনি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তিনি (ভাই) জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তদুপরি তিনি বহুসংখ্যক মাশায়েখের নিকট ইলম অর্জন করেছেন। আমরা তাঁর বিশিষ্ট উস্তাদদের বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব। এছাড়াও আমরা তাঁর এমন দুইজন উস্তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করব যাদের আলোচনা আমাদের 'তুহফাতুত তালিব' গ্রন্থে রয়েছে; তাঁরা হলেন দুই হাফেজ ইমাম—আবু হাজ্জাজ আল-মিযযী এবং আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী। প্রথমে তাঁদের জীবনী দিয়ে শুরু করা যাক, অতঃপর তাঁর অন্যান্য উস্তাদদের তালিকা প্রদান করা হবে।
১- ইমাম মিযযী: তিনি হলেন প্রাজ্ঞ আলিম, হাফেজ, শামের মুহাদ্দিস, জামালুদ্দীন আবু হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আয-যাকী আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-কুদায়ী, অতঃপর আল-কালবী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিয়ী।
তিনি ৬৬৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং মিযযাহ নামক স্থানে বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন মুখস্থ করেন, ফিকহ অর্জন করেন এবং ইলমের দিকে নিবিষ্ট হন। তিনি কুতুবে সিত্তা (ছয়টি কিতাব), মু'জামে তাবারানী ও অন্যান্য কিতাব শ্রবণ করেছেন। তিনি আবুল খাইর আন-নাওয়াবী, আফীফ আত-তিলমিসানী, আল-ইরবেলী ও অন্যদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী, নির্ভরযোগ্য ও হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ) ছিলেন। তিনি সত্যবাদী, সদাচারী, অধিক নীরব এবং পরিমিত কথার অধিকারী একজন গ্রন্থকার ছিলেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: তাহযীবুল কামাল, তুহফাতুল আশরাফ ফি মা'রিফাতিল আতরাফ ইত্যাদি। তিনি ৭৪২ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
২- ইমাম যাহাবী: তিনি হলেন ইমাম, আলিম, আল্লামা, হাফেজ, মুহাদ্দিস এবং জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রের শায়খ, শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কায়মায আয-যাহাবী। তিনি ৬৭৩ হিজরি সনে দামেস্কের গুতার অন্তর্গত কাফর বাতনা-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বহু উস্তাদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম মিযযী, আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির, শারফুদ্দীন আল-ফাজারী ও অন্যান্যরা রয়েছেন। তিনি বহু মহিমান্বিত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: তারিখুল ইসলাম, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, মীযানুল ইতিদাল ইত্যাদি। তিনি ৭৪৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৩- বুরহানুদ্দীন বিন সিবাহ আল-ফাজারী: স্বীয় যুগের শাফিয়ী মাযহাবের শায়খ এবং শায়খুল ইসলামের পুত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تاج الدين الفزاري، الصعيدي الأصل الدمشقي، المتوفى سنة "729هـ"1.
4- أبو العباس أحمد بن أبي طالب بن نعمة الصالحي الحجار، الشهير بابن الشحنة، المتوفى سنة "730هـ"2.
5- تقي الدين أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية، الحراني الحنبلي شيخ الإسلام، المتوفى سنة "728هـ"3.
6- بهاء الدين القاسم بن محمد بن بدر الدين بن عساكر، الدمشقي الطبيب المعمر، المتوفى سنة "723هـ"4.
7- كمال الدين محمد بن علي بن عبد الواحد الأنصاري، شيخ الشافعية في زمانه، أبو المعالي المعروف بابن الزملكاني، المتوفى سنة "727"5.
8- الملك الكامل ناصر الدين أبو المعالي محمد بن عبد الملك السعيد عبد الملك بن سلطان الصالح إسماعيل، المتوفى سنة "727هـ"6 عليهم رحمة الله تعالى جميعا.
--------------------------------------------
তাজউদ্দীন আল-ফাজারী, মূলত সাঈদী কিন্তু দামেস্কী, মৃত্যু বছর "৭২৯ হিজরি"১।
৪- আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আবি তালিব ইবনে নি'মাহ আস-সালিহি আল-হাজ্জার, ইবনুশ শুহনা নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু বছর "৭৩০ হিজরি"২।
৫- তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, হাররানী হাম্বলী শায়খুল ইসলাম, মৃত্যু বছর "৭২৮ হিজরি"৩।
৬- বাহাউদ্দীন কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বদরুদ্দীন ইবনে আসাকির, দামেস্কী চিকিৎসক ও দীর্ঘজীবী, মৃত্যু বছর "৭২৩ হিজরি"৪।
৭- কামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-আনসারী, তাঁর সমকালীন শাফিঈগণের শায়খ, আবু আল-মা'আলী যিনি ইবনুয যামলকানী নামে পরিচিত, মৃত্যু বছর "৭২৭"৫।
৮- আল-মালিক আল-কামিল নাসিরুদ্দীন আবু আল-মা'আলী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আস-সাঈদ আব্দুল মালিক ইবনে সুলতান আস-সালিহ ইসমাইল, মৃত্যু বছর "৭২৭ হিজরি"৬ তাদের সকলের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثالثا: تلاميذهلقد أخذ عن الإمام ابن كثير طلاب كثيرون تفقهوا به وحفظوا عنه، فالإمام قد تولى التدريس في مدارس كثيرة، وألقى دروسه المفيدة في الجامع الأموي وغيره، ولا يمكننا استيعاب جميع طلابه؛ لذا فإننا سنقتصر على ذكر بعضهم، وسأذكر ترجمة موجزة لواحد منهم، وهو الإمام بدر الدين الزركشي.
وذلك لأنه قام على تخريج كتاب المختصر بعد شيخه ابن كثير، وقد ذكرت نقولا عن كتابه في التعليق على كتاب تحفة الطالب. وسأبدأ بذكره ونذكر الباقين مرتبين على حروف المعجم.
1- بدر الدين الزركشي1: هو أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن بهادر بن عبد الله الزركشي، ولد بالقاهرة سنة خمس وأربعين وسبعمائة وأخذ عن جمال الدين الإسنوي، وجمال الدين البلقيني، ومغلطاي ثم توجه إلى بلاد الشام قاصدا سماع الحديث من الحافظ ابن كثير، فنزل دمشق وأخذ عنه، ثم رحل إلى حلب فأخذ عن شهاب الدين الأوزاعي الفقه والأصول، ثم عاد إلى القاهرة. ومن مصنفاته: البرهان في علوم القرآن، والمعتبر، والإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة، وغيرها. توفي سنة أربع وتسعين وسبعمائة.
2- أحمد بن حجي بن موسى السعدي الحسباني، الدمشقي الشافعي، المتوفى سنة "816"2.
3- شهاب الدين أحمد بن محمد بن محمد بن أحمد الحريري، الدمشقي المعروف بالسلاوي الشافعي، المتوفى سنة "813هـ"3.
4- عبد الرحمن بن الحسين بن عبد الرحمن الكردي، الشهير بالحافظ العراقي، الشافعي المتوفى سنة "806هـ"4.
5- محمد بن علي بن الحسن بن حمزة بن أبي المحاسن الدمشقي، الحسيني الشافعي، المتوفى سنة "765هـ"5 عليهم رحمة الله تعالى جميعا.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: তাঁর ছাত্রগণইমাম ইবনে কাসীরের নিকট থেকে বহু ছাত্র জ্ঞান অর্জন করেছেন যারা তাঁর মাধ্যমে ফিকহ শিখেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদীস সংরক্ষণ করেছেন। ইমাম অনেক মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উমভী জামে মসজিদ ও অন্যান্য স্থানে তাঁর মূল্যবান দরস প্রদান করেছেন। তাঁর সকল ছাত্রের বিবরণ প্রদান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়; তাই আমরা তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। আমি তাদের একজনের সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করব, তিনি হলেন ইমাম বদরুদ্দিন আজ-জারকাশী।
এর কারণ হলো তিনি তাঁর শাইখ ইবনে কাসীরের পর 'আল-মুখতাসার' গ্রন্থের তাখরীজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমি 'তুহফাতুত তালিব' গ্রন্থের টীকায় তাঁর কিতাব থেকে উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছি। আমি তাঁর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করব এবং অবশিষ্টদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব।
১- বদরুদ্দিন আজ-জারকাশী: তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাহাদুর ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জারকাশী। তিনি ৭৪৫ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং জামালুদ্দিন আল-ইসনাভী, জামালুদ্দিন আল-বুলকিনী ও মুগলতাই-এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি হাফেজ ইবনে কাসীরের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণের উদ্দেশ্যে শাম (সিরিয়া) অভিমুখে যাত্রা করেন এবং দামেস্কে অবস্থান করে তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি হালাব (আলেপ্পো) সফর করেন এবং শিহাবুদ্দিন আল-আওযাঈর নিকট থেকে ফিকহ ও উসুল শিক্ষা করেন। এরপর তিনি পুনরায় কায়রোতে ফিরে আসেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন, আল-মু'তাবার, আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা ইত্যাদি। তিনি ৭৯৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
২- আহমাদ ইবনে হাজ্জী ইবনে মুসা আস-সাদী আল-হুসবানী, আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ, মৃত্যু ৮১৬ হিজরি।
৩- শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-হারীরী, আদ-দিমাশকী, যিনি আস-সালাবী আশ-শাফিঈ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮১৩ হিজরি।
৪- আব্দুর রহমান ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুর্দি, যিনি হাফেজ আল-ইরাকী হিসেবে প্রসিদ্ধ, আশ-শাফিঈ, মৃত্যু ৮০৬ হিজরি।
৫- মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে হামজাহ ইবনে আবুল মাহাসিন আদ-দিমাশকী, আল-হুসাইনী আশ-শাফিঈ, মৃত্যু ৭৬৫ হিজরি। তাঁদের সকলের ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رابعا: مكانته العلمية، وثناء العلماء عليهتتضح مكانة ابن كثير العلمية في المدارس التي تولى التدريس فيها، والمساجد التي كان يلقي فيها محاضراته، وفي مؤلفاته وكتبه التي كتبها.
أما المدارس التي كان يدرس فيها فهي:
مدرسة دار الحديث الأشرفية.
والمدرسة الصالحية، أو تربة أم الصالح.
والمدرسة النجيبية.
والمدرسة التنكزية.
والمدرسة النورية الكبرى.
وهذه المدارس كانت مهبط أفئدة طلاب العلم في الشرق والغرب؛ لما يدرّس فيها من علوم ولمكانة شيوخها وأساتذتها ومنزلتهم العلمية. إذ لا يتولى التدريس فيها إلا من كان ذا قدم راسخة في العلم ومكانة بين العلماء؛ كسلطان العلماء العز بن عبد السلام وشيخ الإسلام ابن تيمية والحافظين المزي والذهبي
… عليهم رحمة الله جميعا. كما أنه تولى إلقاء الدروس في عدد من مساجد دمشق المهمة؛ كالجامع الأموي، وجامع تنكز، والجامع الفوقاني وكان يقوم بالخطابة فيه أيضا.
كما أن مكانته تتجلى1 من موقفه من الأمر السلطاني، الذي كان قد قضى بفرض ضرائب على نصارى أهل الشام، وأخذ ربع أموالهم عوضا عما فعله الفرنجة في اعتدائهم على الإسكندرية، فقال الإمام ابن كثير لنائب السلطنة في الشام: لا يجوز أخذ شيء من أموالهم زائد على الجزية ما داموا يؤدونها، وأحكام الملة قائمة عليهم ما داموا كذلك، وقال له: اكتب إلى السلطنة بذلك. فكتب نائب السلطنة إلى الديار المصرية بفتوى الشيخ، وجاءه الجواب برد ما أخذ من الجباية عليهم1.
--------------------------------------------
চতুর্থ: তাঁর ইলমি মাকাম (পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদা) এবং তাঁর বিষয়ে উলামায়ে কেরামের প্রশংসাইবনে কাসীরের ইলমি মাকাম স্পষ্ট হয় সেই সব মাদরাসা থেকে যেগুলোতে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, সেই সব মসজিদ থেকে যেখানে তিনি তাঁর বক্তৃতা প্রদান করতেন এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী ও কিতাবসমূহ থেকে।
যে মাদরাসাগুলোতে তিনি শিক্ষকতা করতেন সেগুলো হলো:
দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়া মাদরাসা।
আস-সালিহিয়্যাহ মাদরাসা, অথবা তুরবাতু উম্মিস সালিহ।
আন-নাজিবিয়্যাহ মাদরাসা।
আত-তানকিজিয়্যাহ মাদরাসা।
আল-নুরিয়্যাহ আল-কুবরা মাদরাসা।
এই মাদরাসাগুলো ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ইলম অন্বেষণকারীদের প্রাণের কেন্দ্রস্থল; কারণ সেখানে যে সকল জ্ঞান পড়ানো হতো এবং সেখানকার শায়খ ও উস্তাদগণের ইলমি মাকাম ও উচ্চমর্যাদার কারণে। কেননা সেখানে কেবল তারাই শিক্ষকতার দায়িত্ব পেতেন ইলমের ময়দানে যাদের পদচারণা ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং উলামায়ে কেরামের মাঝে ছিল সুউচ্চ মর্যাদা; যেমন সুলতানুল উলামা ইয ইবন আবদুস সালাম, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং দুই হাফেজ—আল-মিযযি ও আয-যাহাবি
… তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। এছাড়াও তিনি দামেস্কের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে দরস প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন; যেমন উমাইয়া জামে মসজিদ, তানকিজ জামে মসজিদ এবং জামে আল-ফাওকানি, যেখানে তিনি খুতবাও প্রদান করতেন।
একইভাবে তাঁর উচ্চমর্যাদা ফুটে ওঠে১ সুলতানি নির্দেশের বিপরীতে তাঁর অবস্থান থেকে, যে আদেশে সিরিয়ার খ্রিস্টানদের ওপর কর আরোপ করা এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় ফ্রাঙ্কদের আক্রমণের বিনিময়ে তাদের সম্পদের এক-চতুর্থাংশ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইমাম ইবনে কাসীর শামের নায়েবে সুলতানকে বলেছিলেন: জিজিয়া ব্যতীত তাদের থেকে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করা বৈধ নয় যতক্ষণ তারা তা প্রদান করছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর মিল্লাতের বিধানাবলী বলবৎ রয়েছে। তিনি তাকে আরও বলেছিলেন: সুলতানের নিকট এ বিষয়ে চিঠি লিখুন। তখন নায়েবে সুলতান শায়খের ফতোয়া উল্লেখ করে মিশরে চিঠি পাঠান এবং সংগৃহীত কর ফেরত দেওয়ার নির্দেশসহ তার উত্তর ফিরে আসে১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهكذا يكون العلماء الأتقياء، يقولون الحق ولا يخافون في الله لومة لائم، يسهرون على تطبيق حدود الشرع ومصالح الناس، وهذا هو موقف الإسلام العظيم في العدل والإنصاف والمساواة والخير العميم لكل الناس. ولكن أين مواقف النصارى واليهود وأهل الذمة والكفرة -عليهم لعنة الله تعالى جميعا- من هذه المواقف
… وقد أصبحنا نتمثل بقول الشاعر:
حكمنا فكان العدل منا سجية
… فلما حكمتم سال بالدم أبطح
اللهم ردنا إلى دينك ردا جميلا، ولا تجعل لعدونا في الحياة ولا بعد الممات علينا سبيلا.
ثناء العلماء عليه:
قال شيخه الذهبي في المعجم المختص: "هو فقيه متقن، ومحدث محقق، ومفسر نقّاد، وله تصانيف مفيدة"1.
وقال أبو المحاسن الدمشقي: "الشيخ الإمام، العالم الحافظ، المفيد البارع، عماد الدين أبو الفداء
… أفتى ودرس، وناظر وبرع في الفقه والتفسير والنحو، وأمعن النظر في الرجال والعلل
… "2.
وقال ابن حجي: "أحفظ من أدركناه لمتون الأحاديث وأعرفهم بجرحها ورجالها، صحيحها وسقيمها، وكان أقرانه وشيوخه يعترفون له بذلك، وما أعرف أني اجتمعت به على كثرة ترددي إليه إلا واستفدت منه"3.
--------------------------------------------
ধর্মভীরু আলেমগণ এমনই হয়ে থাকেন; তাঁরা সত্য কথা বলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পান না। তাঁরা শরীয়তের বিধান বাস্তবায়ন এবং মানুষের কল্যাণের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত থাকেন। ন্যায়বিচার, ইনসাফ, সাম্য এবং সকল মানুষের প্রতি অবারিত কল্যাণের ক্ষেত্রে মহান ইসলামের অবস্থান এমনই। কিন্তু নাসারা, ইহুদি, জিম্মি ও কাফেরদের—তাদের সকলের ওপর মহান আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক—অবস্থান এই মহান আদর্শের তুলনায় কোথায়
... কবির এই বাণীর মাধ্যমেই এখন আমাদের উদাহরণ দেওয়া যায়:
আমরা যখন শাসন করেছি, তখন ন্যায়বিচার ছিল আমাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য
... আর যখন তোমরা শাসনভার গ্রহণ করলে, তখন প্রান্তর রক্তে রঞ্জিত হলো।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার দ্বীনের দিকে সুন্দরভাবে ফিরিয়ে দিন এবং জীবনে কিংবা মরণের পর আমাদের ওপর আমাদের শত্রুদের কোনো পথ বা কর্তৃত্ব রাখবেন না।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:
তাঁর উস্তাদ আয-যাহাবী ‘আল-মুজামুল মুখতাস’ গ্রন্থে বলেছেন: “তিনি একজন সুনিপুণ ফকীহ, গবেষক মুহাদ্দিস এবং সূক্ষ্মদর্শী মুফাসসির; তাঁর অনেক উপকারী রচনা রয়েছে।”১।
আবু আল-মাহাসিন আদ-দিমাশকী বলেছেন: “শায়খ ইমাম, আলিম হাফেজ, বিজ্ঞ শিক্ষাদানকারী, ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা
... তিনি ফতোয়া প্রদান করেছেন, পাঠদান করেছেন এবং বিতর্ক করেছেন; ফিকহ, তাফসীর ও নাহু শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং রিজাল (বর্ণনাকারী) ও ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রে গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন
... ”২।
ইবনে হাজ্জী বলেছেন: “হাদিসের মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে আমাদের দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন এবং হাদিসের জারাহ (সমালোচনা), রিজাল, সহীহ ও সাকীম (দুর্বল) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর সমসাময়িক ও উস্তাদগণ তাঁর এই যোগ্যতার স্বীকৃতি দিতেন। আমি তাঁর কাছে বারবার যাতায়াত করা সত্ত্বেও এমনটি জানি না যে, তাঁর সাথে কোনো মজলিসে বসেছি অথচ তাঁর থেকে উপকৃত হইনি।”৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خامسا: مؤلفاته 1:
ربت مؤلفات الإمام ابن كثير على الأربعين مؤلفا، وإن الغالبية من هذه المؤلفات لا يزال ينتظر من ينفض عنه غبار السنين الطوال لإخراجه والاستفادة منه، كما أن قسما آخر لا نعرف عنها سوى الاسم أشار إليها في مؤلفاته. وتمتاز مؤلفاته بالتنوع، وإن كان الغالب عليها الحديث.
وسأبين ما هو مطبوع من كتبه أو مخطوط وما أشار إليه في بعض مؤلفاته قدر الاستطاعة وحسب الوسع، مرتبا إياها على حروف المعجم.
فالمطبوع منها:
1- الاجتهاد في طلب الجهاد.
2- أحاديث التوحيد والرد على أهل الشرك.
3- اختصار علوم الحديث.
4- البداية والنهاية.
5- تحفة الطالب بمعرفة أحاديث مختصر ابن الحاجب.
6- تفسير القرآن العظيم.
7- سيرة عمر بن عبد العزيز.
8- فضائل القرآن.
9- الفصول في اختصار سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
10- المسائل الفقهية التي انفرد بها الإمام الشافعي من دون إخوانه من الأئمة.
11- مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
12- النهاية أو الفتن والملاحم.
والمخطوط منها:
1- آداب الحمامات2.
--------------------------------------------
পঞ্চম: তাঁর রচনাবলী১:
ইমাম ইবনে কাসীরের রচনাবলী চল্লিশটিরও বেশি। এগুলোর অধিকাংশ এখনো দীর্ঘ বছরের ধুলোবালি ঝেড়ে তা প্রকাশ ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আবার কিছু অংশ সম্পর্কে আমরা শুধু নামটুকুই জানি, যা তিনি তাঁর গ্রন্থাবলীতে উল্লেখ করেছেন। তাঁর রচনাবলী বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ার বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত, যদিও সেগুলোর অধিকাংশ হাদীস শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
আমি সাধ্যানুযায়ী তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে যেগুলো মুদ্রিত, পাণ্ডুলিপি কিংবা তিনি তাঁর কোনো কোনো গ্রন্থে যেগুলোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা বর্ণনা করব। আমি এগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।
সেগুলোর মধ্যে মুদ্রিত হলো:
১- জিহাদ অন্বেষণে কঠোর প্রচেষ্টা।
২- তাওহীদের হাদীসসমূহ এবং শিরকপন্থীদের প্রতিবাদ।
৩- হাদীস বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্তসার।
৪- আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।
৫- তুহফাতুত ত্বালিব বি-মা‘রিফাতি আহাদীসি মুখতাসারি ইবনিল হাজিব।
৬- তাফসীরুল কুরআনিল আযীম।
৭- সীরাতে উমর ইবনে আব্দুল আযীয।
৮- ফাযায়িলুল কুরআন।
৯- আল-ফুসুল ফি ইখতিসারি সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
১০- ইমাম শাফেয়ী তাঁর সমসাময়িক ইমামগণের মধ্যে যেসব ফিকহী মাসআলায় একক মত পোষণ করেছেন।
১১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মবৃত্তান্ত।
১২- আন-নিহায়া অথবা ফিতনা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের বিবরণ।
পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত:
১- আদাবুল হাম্মামাত (গোসলখানার আদবসমূহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2- الأحكام الكبير1.
3- إرشاد الفقيه إلى معرفة أدلة التنبيه2.
4- التكميل في معرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل3.
5- جامع المسانيد والسنن الهادي لأقوم سَنَن4.
6- رسالة في أحاديث الإشراك5.
7- شعب الإيمان6.
8- طبقات الفقهاء من الشافعية7.
9- اختصار كتاب الإمام البيهقي "المدخل إلى كتاب السنن"8.
10- كتاب العقائد9.
11- مسند الفاروق أمير المؤمنين أبي حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأقواله على أبواب العلم10.
--------------------------------------------
২- আল-আহকামুল কাবির ১।
৩- ইরশাদুল ফাকিহ ইলা মা'রিফাতি আদিল্লাতিত তানবিহ ২।
৪- আত-তাকমিল ফি মা'রিফাতিস সিকাত ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাজাহিল ৩।
৫- জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সানান ৪।
৬- রিসালাহ ফি আহাদিসিল ইশরাক ৫।
৭- শুআবুল ইমান ৬।
৮- তাবাকাতুল ফুকাহা মিনাশ শাফিইয়্যাহ ৭।
৯- ইমাম বায়হাকীর কিতাব "আল-মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান"-এর সংক্ষেপণ ৮।
১০- কিতাবুল আকাইদ ৯।
১১- আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ এবং ইলমের অধ্যায়সমূহ অনুযায়ী তাঁর উক্তি ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
12- الواضح النفيس في مناقب ابن إدريس1.
أما الكتب التي ذكرها في بعض مصنفاته -كالتفسير والبداية والنهاية وغيرهما- فهي2:
1- أحاديث الأصول.
2- الأحكام الصغرى.
3- الأحكام الكبرى.
4- أقوال العلماء في معنى الصلاة الوسطى.
5- بطلان وضع الجزية عن يهود خيبر.
6- سيرة أبي بكر الصديق رضي الله عنه.
7- سيرة عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
8- شرح قطعة من صحيح البخاري.
9- كتاب تراجم لشيخه ابن تيمية.
10- كتاب صفة النار.
11- كتاب الصيام.
12- كتاب المدخل إلى سنن البيهقي.
13- مسألة الذبيحة التي لم يذكر اسم الله عليها.
14- مسألة الأغاني بالألحان.
--------------------------------------------
১২- আল-ওয়াদিহ আন-নাফিস ফি মানাকিবি ইবনি ইদ্রিস (ইবনু ইদ্রিস তথা ইমাম শাফিঈর গুণাবলি বিষয়ক সুস্পষ্ট ও মূল্যবান গ্রন্থ)১।
আর সেসব গ্রন্থ যা তিনি তাঁর কিছু রচনায় উল্লেখ করেছেন—যেমন তাফসীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া এবং অন্যান্য—সেগুলো হলো২:
১- আহাদিসুল উসুল (মূলনীতি সংক্রান্ত হাদীসসমূহ)।
২- আল-আহকামুস সুগরা (ক্ষুদ্রতর বিধিবিধান)।
৩- আল-আহকামুল কুবরা (বৃহত্তর বিধিবিধান)।
৪- 'সালাতুল উস্তা' (মধ্যবর্তী সালাত)-এর অর্থ সম্পর্কে আলেমদের মতামত।
৫- খায়বরের ইহুদিদের থেকে জিজিয়া রহিতকরণের অসারতা।
৬- আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহুর সীরাত।
৭- উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর সীরাত।
৮- সহীহ বুখারীর একটি অংশের ব্যাখ্যা।
৯- তাঁর শাইখ ইবনু তায়মিয়্যাহর জীবনী সংবলিত গ্রন্থ।
১০- জাহান্নামের বর্ণনা বিষয়ক গ্রন্থ।
১১- সিয়াম (রোজা) বিষয়ক গ্রন্থ।
১২- সুনানে বাইহাকীর ভূমিকা বিষয়ক গ্রন্থ।
১৩- যে যবেহকৃত পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি সে সম্পর্কিত মাসআলা।
১৪- সুর সহযোগে গানের মাসআলা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
15- مسند الشيخين أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.
16- مشيخة خرجها لشيخه علاء الدين القويزي.
17- العقائد.
18- بيع أمهات الأولاد.
19- المقدمات في مصطلح الحديث.
20- كتاب في مسألة السماع.
21- الكواكب الدراري في التاريخ، انتخبه من كتابه الكبير البداية والنهاية.
22- شرح قطعة كبيرة من كتاب التنبيه للإمام الشيرازي.
23- مصنف مفرد في تحريم الجمع بين الأختين.
24- مصنف في حكم الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في التشهد الأخير.
25- الأحكام على أبواب التنبيه.
أما الأجزاء فهي:
1- جزء في الأحاديث الواردة في قتل الكلاب، واختلاف الأئمة في ذلك.
2- جزء في إسناد حديث الشفاعة الطويل.
3- جزء في بناء المساجد واحترامها وتوقيرها وتطييبها وتبخيرها.
4- جزء في تقصّي طريق حديث ابن عباس في فضل العمل في عشر ذي الحجة، المروي في البخاري1.
5- جزء في تكذيب حديث ذكره الخطيب البغدادي في تاريخه عن ابن عمر أن السجل كاتب النبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
১৫- মুসনাদুশ শাইখাইন আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
১৬- মাশইয়াখা, যা তিনি তাঁর উস্তাদ আলাউদ্দীন আল-কুয়াইজির জন্য সংকলন করেছেন।
১৭- আল-আকায়িদ (আকিদাহসমূহ)।
১৮- উম্মাহাতুল আওলাদ (সন্তানবতী দাসী) বিক্রয়।
১৯- হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার ভূমিকা।
২০- সমা বা গান শোনা সংক্রান্ত মাসআলার কিতাব।
২১- আল-কাওয়াকিবুদ দারাারি ফিত তারিখ; এটি তিনি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' থেকে নির্বাচন করেছেন।
২২- ইমাম শিরাযীর 'আত-তানবীহ' কিতাবের একটি বড় অংশের ব্যাখ্যা।
২৩- দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম হওয়া প্রসঙ্গে একটি স্বতন্ত্র সংকলন।
২৪- শেষ তাশাহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের বিধান সংক্রান্ত সংকলন।
২৫- আত-তানবীহ-এর অধ্যায়সমূহের ওপর ভিত্তি করে আহকাম (বিধানসমূহ)।
আর পুস্তিকাগুলো (জুয) হলো:
১- কুকুর নিধন সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং এ বিষয়ে ইমামগণের মতপার্থক্য বিষয়ক পুস্তিকা।
২- দীর্ঘ শাফাআতের হাদিসের সনদসমূহ বিষয়ক পুস্তিকা।
৩- মসজিদ নির্মাণ, এর সম্মান, মর্যাদা রক্ষা এবং সুগন্ধি ও ধূপ ব্যবহারের বিধান বিষয়ক পুস্তিকা।
৪- জিলহজ মাসের দশ দিনের আমলের ফজিলত সম্পর্কে বুখারীতে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদিসের সূত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের ওপর পুস্তিকা।
৫- খতিব বাগদাদী তাঁর ইতিহাসে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ 'আস-সিজিল' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লেখক ছিলেন—তা মিথ্যা সাব্যস্ত করার ওপর পুস্তিকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
6- جزء في دخول مؤمني الجن الجنة.
7- جزء في ذكر المهدي.
8- جزء في طرق وألفاظ وعلل وما يتعلق بحديث كفارة المجلس.
9- جزء في فتح القسطنطينة.
10- جزء في فضائل الشيخين أبي بكر وعمر.
11- جزء في مسألة: هل الأخوان تسمى أخوه؟
12- جزء مفرد في تكذيب ما ادعاه يهود خيبر من أن بأيديهم كتابا من النبي صلى الله عليه وسلم فيه وضع الجزية عنهم، كتبه علي بن أبي طالب، وشهود جماعة من الصحابة منهم: سعد بن معاذ، ومعاوية بن أبي سفيان، رضي الله عنهم.
6- মুমিন জিনদের জান্নাতে প্রবেশ সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা।
7- মাহদী সংক্রান্ত বর্ণনার একটি পুস্তিকা।
8- মজলিসের কাফফারার হাদীসের সূত্রসমূহ, শব্দাবলী, সূক্ষ্ম ত্রুটি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি পুস্তিকা।
9- কনস্টান্টিনোপল বিজয় সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা।
10- শাইখাইন আবু বকর ও উমরের মর্যাদা সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা।
11- এই মাসআলা সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা: দুই ভাইকে কি ‘ভাইগণ’ বলা যায়?
12- খায়বারের ইহুদিদের এই দাবির অসারতা বর্ণনায় একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা যে, তাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে একটি পত্র রয়েছে যাতে তাদের থেকে জিযিয়া মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে, যা আলী ইবনে আবী তালিব লিখেছিলেন এবং এতে একদল সাহাবী সাক্ষী ছিলেন যাদের মধ্যে সা’দ ইবনে মুআয এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفاته:وبعد هذا الجهد الجهيد والعمل المتواصل الدءوب أربعة وسبعين عاما قضاها في طاعة الرحمن، في التعلم والتعليم والصبر والمصابرة حتى كلّ جسده وضعفت قواه وفقد بصره، بعد أن ألف كتبا وخرج أجيالا ونصح الأمة
… ولا بد للإنسان من رحيل عن الدنيا فـ {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ} 1 لتوفى النفوس أعمالها وتعطى للناس أجورها كاملة غير منقوصة
… ويضاعف لمن يشاء، وأجر الصابرين بغير حساب. قال تعالى: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ} 2. وفي يوم الخميس السادس والعشرين من شهر شعبان سنة أربع وسبعين وسبعمائة، ودّعت دمشق إمامها وخطيبها وحافظها أبا الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي إلى رضوان الله تعالى -إن شاء الله- حيث المستقر الدائم، ودفن بجوار شيخه ومحبه شيخ الإسلام ابن تيمية، عليهما من الله شآبيب الرحمة والرضوان وعلى سائر المسلمين.
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:এই কঠোর পরিশ্রম এবং চুয়াত্তর বছরের নিরলস ও অবিরাম কর্মতৎপরতার পর, যা তিনি দয়াময় আল্লাহর আনুগত্যে, জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদান এবং ধৈর্য ও সহনশীলতায় অতিবাহিত করেছেন; এমনকি তাঁর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শক্তি হ্রাস পায় এবং তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন; বহু কিতাব রচনা, বহু প্রজন্ম তৈরি এবং উম্মতকে নসিহত করার পর
… আর মানুষের জন্য দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া অনিবার্য, কারণ {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে} ১; যেন আত্মাসমূহকে তাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হয় এবং মানুষকে তাদের প্রতিদান কোনো কমতি ছাড়াই পরিপূর্ণভাবে প্রদান করা হয়
… আর তিনি যাকে ইচ্ছা তা বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেন, এবং ধৈর্যশীলদের প্রতিদান তো হিসাবহীন। মহান আল্লাহ বলেন: {ধৈর্যশীলদের তো তাদের প্রতিদান হিসাব ছাড়াই পূর্ণমাত্রায় দান করা হবে} ২। আর ৭৭৪ হিজরি সনের ২৬শে শাবান বৃহস্পতিবার, দামেস্ক তার ইমাম, খতিব এবং হাফেজ আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশীকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পানে—ইনশাআল্লাহ—যেখানে চিরস্থায়ী আবাস, সেখানে বিদায় জানায়। তাঁকে তাঁর উস্তাদ ও তাঁর প্রিয় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার পাশেই দাফন করা হয়; তাঁদের উভয়ের ওপর এবং সকল মুসলিমের ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির বারিধারা বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الفصل الثاني: دراسة حياة المؤلف الأصل "الإمام ابن الحاجب"
المبحث الأول: حياته العامة…الفصل الثاني: دراسة حياة مؤلف الأصل "الإمام ابن الحاجب"
المبحث الأول: حياته العامة
ويتضمن ما يلي:
- أولا: اسمه ونسبه.
- ثانيا: مولده.
- ثالثا: أسرته.
أولا: اسمه ونسبه
هو عثمان بن عمر بن أبي بكر بن يونس الدّويني الإسنائي المالكي، جمال الدين أبو عمرو بن الحاجب1.
الإمام العالم العلامة المحقق الأصولي النحوي
… النظار.
ثانيا: مولده
ولد ابن الحاجب في مدينة إسنا -بكسر الهمزة وسكون السين- بالصعيد الأعلى في مصر2، في أواخر سنة سبعين وخمسمائة.
ثالثا: أسرته
ينتمي ابن الحاجب إلى أسرة كردية، تنتسب إلى "دَوِين" وهي بلدة في
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: মূল লেখক "ইমাম ইবনুল হাজিব"-এর জীবন নিয়ে গবেষণাপ্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাধারণ জীবন...দ্বিতীয় অধ্যায়: মূল লেখক "ইমাম ইবনুল হাজিব"-এর জীবন নিয়ে গবেষণা
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাধারণ জীবন
এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
- দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম।
- তৃতীয়ত: তাঁর পরিবার।
প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়
তিনি হলেন উসমান বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইউনুস আদ-দুওয়াইনি আল-ইসনাই আল-মালিকি, জামালুদ্দিন আবু আমর ইবনুল হাজিব১।
ইমাম, আলেম, আল্লামা, গবেষক, উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ
... পর্যালোচক।
দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম
ইবনুল হাজিব মিসরের উচ্চাঞ্চলের ইসনা শহরে—হামজার নিচে কাসরা এবং সিনের ওপর সুকুন সহকারে—পাঁচশত সত্তর হিজরি সালের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন২।
তৃতীয়ত: তাঁর পরিবার
ইবনুল হাজিব একটি কুর্দি পরিবারের সন্তান, যাদের বংশীয় সম্পর্ক "দুওয়াইন"-এর সাথে, যা একটি শহর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
نواحي "أران" في آخر حدود "أذربيجان" بقرب "تفليس" ومنها ملوك الشام بنو أيوب1.
وكان أبوه حاجبا لعز الدين موسك الصلاحي، ابن خال السلطان صلاح الدين الأيوبي، وقيل: إن أباه لم يكن حاجبا، وإنما كان يصحب بعض الأمراء، فلما مات أبوه كان أبو عمرو صبيا فرباه فعرف به، والأول أشهر2.
--------------------------------------------
"তিফলিস"-এর নিকটবর্তী "আজারবাইজান"-এর শেষ সীমানার "আরান" অঞ্চলসমূহ এবং সেখান থেকেই সিরিয়ার রাজন্যবর্গ বনু আইয়ুবের উদ্ভব।১
তাঁর পিতা সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর মামাতো ভাই ইজ্জুদ্দিন মুসিক আস-সালাহীর হাজিব (সহকারী) ছিলেন। আবার বলা হয় যে, তাঁর পিতা হাজিব ছিলেন না, বরং তিনি কিছু আমিরের সাহচর্যে থাকতেন। অতঃপর যখন তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন, তখন আবু আমর অল্পবয়স্ক বালক ছিলেন; ফলে তিনি (উক্ত আমির) তাঁকে লালন-পালন করেন এবং তিনি তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেন। তবে প্রথম মতটিই অধিক প্রসিদ্ধ।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
المبحث الثاني: حياته العلميةويتضمن ما يلي:
- أولا: طلبه للعلم.
- ثانيا: شيوخه.
- ثالثا: تلاميذه.
- رابعا: آثاره.
- خامسا: ثناء العلماء عليه.
- سادسا: وفاته.
أولا: طلبه للعلم:
رحل والده إلى إسنا، من الصعيد إلى القاهرة، وكان أبو عمرو آنذاك لا يزال صغيرا. فلما نشأ اهتم بتعليمه فأرسله إلى الشيوخ لطلب العلم، فاشتغل بالقرآن الكريم، وقرأ على الإمام الشاطبي بعض القراءات، وسمع الحديث منه، ومن أبي القاسم البوصيري، وإسماعيل بن ياسين، وغيرهم، وأخذ الفقه على أبي منصور الأبياري وغيره، كما أنه درس النحو والتصريف وعلوم العربية، وغيرها من العلوم على يد شيوخ أجلاء كالشاطبي، وأبي الجود اللخمي، وأبي الفضل الغزنوي، وأبي الحسن الأبياري، وغيرهم. وما زال على هذا الدأب حتى صار أبرز فقهاء زمانه في الفقه، كما أنه كان مبرزا في علوم كثيرة؛ فتوجهت إليه الأنظار، وأصبح محط إعجاب الحضار، وشهد له أهل العلم في كثير من الأمصار. فجاءه طلاب العلم من كل مكان للتلقي عنه، والحفظ منه،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবনএতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
- প্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ।
- দ্বিতীয়ত: তাঁর শায়খগণ।
- তৃতীয়ত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
- চতুর্থত: তাঁর রচনাবলি।
- পঞ্চমত: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
- ষষ্ঠত: তাঁর মৃত্যু।
প্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ:
তাঁর পিতা ইসনা থেকে, অর্থাৎ উর্ধ্ব মিশর থেকে কায়রোতে হিজরত করেন; আবু আমর তখনো অল্পবয়স্ক ছিলেন। যখন তিনি বড় হতে থাকেন, তখন তাঁর পিতা তাঁর শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হন এবং ইলম অর্জনের জন্য তাঁকে শায়খদের কাছে পাঠান। ফলে তিনি পবিত্র কুরআন নিয়ে নিমগ্ন হন এবং ইমাম শাতিবির কাছে কিছু কিরাত পাঠ করেন। তিনি তাঁর (শাতিবি) নিকট থেকে এবং আবু কাসিম আল-বুসিরি, ইসমাইল বিন ইয়াসিন ও অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি আবু মনসুর আল-আবিয়ারি ও অন্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি নাহু, সারফ, আরবি ভাষাতত্ত্ব এবং অন্যান্য শাস্ত্র শাতিবি, আবু আল-জুদ আল-লাখমি, আবু আল-ফাদল আল-গাজনাভি, আবু আল-হাসান আল-আবিয়ারি প্রমুখ মহান শায়খদের কাছে অধ্যয়ন করেন। তিনি এই নিরলস প্রচেষ্টায় অব্যাহত থাকেন, এমনকি তিনি তাঁর সময়ের ফিকহ শাস্ত্রের সবচেয়ে বিশিষ্ট ফকিহ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বহু শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন; ফলে সকলের দৃষ্টি তাঁর দিকে নিবদ্ধ হয়, তিনি উপস্থিত সুধীজনের প্রশংসার পাত্রে পরিণত হন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম সমাজ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করেন। ফলে জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও মুখস্থ করার জন্য সব জায়গা থেকে তাঁর কাছে আসতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালিব বি-মা’রিফাতি আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৪০)
والتفقه به. وصنف المصنفات التي تشهد له بطول الباع في العلم، والقدرة على جمع أشتات العلوم. وكان صحيح الذهن، قوي الفهم، حادّ القريحة1.
ثانيا: شيوخه
تلقى ابن الحاجب عن شيوخ كثيرين، منهم:
- أبو محمد القاسم بن فيرة2 بن أبي القاسم خلف بن أحمد الرعيني الشاطبي، الضرير المقرئ، المتوفى سنة "590هـ"3.
- وأبو القاسم هبة الله بن علي بن مسعود الأنصاري، مسند الديار المصرية، المتوفى سنة "598هـ"4.
- وغياث الدين بن فارس بن مكي المنذري أبو الجود اللخمي، الفقيه الفرضي، النحوي المتوفى سنة "605هـ"5.
- وأبو الحسن علي بن إسماعيل بن علي الصنهاجي الأبياري، نزيل الإسكندرية، المتوفى سنة "616هـ"6. عليهم رحمة الله جميعا.
ثالثا: تلاميذه
لقد أخذ عن ابن الحاجب طلاب كثيرون، منهم:
- الحافظ عبد العظيم بن عبد القوي بن سلامة المنذري، المتوفى سنة "656هـ"7.
--------------------------------------------
এবং এতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের বিক্ষিপ্ত জ্ঞানকে একত্রিত করার সক্ষমতার সাক্ষ্য দেয়। তিনি ছিলেন প্রখর মেধা, শক্তিশালী বোধশক্তি এবং তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন ব্যক্তি১।
দ্বিতীয়ত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ
ইবনুল হাজিব অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
- আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে ফিররাহ২ ইবনে আবিল কাসিম খালাফ ইবনে আহমদ আর-রুআইনি আশ-শাতিবি, অন্ধ ক্বারি, মৃত্যু "৫৯০ হিজরি"৩।
- এবং আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে মাসউদ আল-আনসারি, মিসর ভূখণ্ডের শীর্ষ মুহাদ্দিস, মৃত্যু "৫৯৮ হিজরি"৪।
- এবং গিয়াসুদ্দিন ইবনে ফারিস ইবনে মাক্কি আল-মুনজিরি আবুল জুদ আল-লাখমি, ফকিহ, ফরায়েজবিদ ও ব্যাকরণবিদ, মৃত্যু "৬০৫ হিজরি"৫।
- এবং আবুল হাসান আলি ইবনে ইসমাইল ইবনে আলি আস-সানহাজি আল-আবিয়ারি, ইস্কান্দারিয়ার অধিবাসী, মৃত্যু "৬১৬ হিজরি"৬। তাঁদের সকলের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
তৃতীয়ত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ
ইবনুল হাজিবের কাছ থেকে অনেক শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
- হাফেজ আবদুল আজিম ইবনে আবদুল কাবি ইবনে সালামাহ আল-মুনজিরি, মৃত্যু "৬৫৬ হিজরি"৭।
--------------------------------------------