القسم: علوم الحديث
الكتاب: مدرسة الحديث في مصر
المؤلف: محمد رشاد خليفة
الناشر: الهيئة العامة لشئون المطابع الأميرية بالقاهرة
الطبعة: -
عدد الصفحات: 564
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
বই: মিশরের হাদিস চর্চাকেন্দ্র
লেখক: মুহাম্মদ রাশাদ খলিফা
প্রকাশক: আল-হাইআহ আল-আম্মাহ লি-শুউনিল মাতাবি আল-আমিরিয়্যাহ, কায়রো
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
এরপর মিশরে মামলুক সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়: ফলে আইয়ুবীয়দের হাতে যে বিপর্যয়ের শিকার আল-আজহার হয়েছিল, তা থেকে এটি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং পুনরায় তার ইলমি মর্যাদা ফিরে পায়। এটি কুরআনের ভাষা এবং শরীয়াহ বিজ্ঞানের সংরক্ষক হয়ে ওঠে। মামলুক সুলতানদের মধ্যে আল-জাহির বিবারস আল-আজহারের প্রতি সবচেয়ে বেশি যত্নশীল ছিলেন; তিনি সেখানে জুমার খুতবা পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন, যা সালাহউদ্দিনের সময় থেকে বন্ধ ছিল।
অনেক মামলুক সুলতান আল-আজহার মসজিদের স্থাপত্য ও উন্নয়নে এবং এর ওয়াকফ সম্পত্তির প্রতি মনোনিবেশ করেন। তাঁরা এর আলেম ও ছাত্রদের বিভিন্ন অনুদান প্রদান করেন। সেখানে পুনরায় দরসের হালকাগুলো ফিরে আসে যা ফিকহ, তাফসির ও হাদিস বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। এটি নসিহতের মজলিস দ্বারা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং সাত কেরাআতের প্রত্যেকটির জন্য একজন বিশেষ শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। এর পাশাপাশি দর্শন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানও সেখানে পড়ানো হতো। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এর দরসের হালকাগুলোতে উপস্থিত হতেন। সেখানে একজন ইমাম নিযুক্ত করা হয় যিনি নামাজ পড়াতেন এবং জুমার খুতবা দিতেন। এছাড়া এর বিভিন্ন বিষয় দেখাশোনার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এর প্রশাসনিক, আর্থিক ও নির্মাণ সংক্রান্ত সকল দিক দেখাশোনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করতেন। এর ছাত্র সংখ্যা মিশরের গ্রামাঞ্চল, পারস্য, কৃষ্ণাঙ্গ অঞ্চল এবং উত্তর আফ্রিকার সাতশ পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছিল এবং এই প্রতিটি জাতির বসবাসের জন্য পৃথক ছাত্রাবাস বরাদ্দ করা হয়েছিল।
মামলুক যুগে আল-আজহারের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে মর্যাদা ফিরে আসে: এখানে সরকারি ফরমান ও আইনসমূহ পাঠ করা হতো। সে যুগের আলেমগণ বিচারব্যবস্থা ও ফতোয়া প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা পথপ্রদর্শন ও দিকনির্দেশনার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের উচ্চতর নীতি নির্ধারণে তাঁদের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
এভাবে মামলুক যুগে আল-আজহারের মর্যাদা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে; এটি ছিল ইবাদতের একটি মসজিদ, ইসলামি ও আরবি শিক্ষার একটি উচ্চতর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক কার্যাবলীর একটি কেন্দ্র। এটি মানুষের জন্য আশ্রয় ও নিরাপত্তার স্থল ছিল, যেখানে হেদায়েত অন্বেষণ করা হতো, মজলুমরা আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসত এবং দরিদ্র, হাজি, সুফি ও ইলম অন্বেষণকারীরা এখানে আশ্রয় গ্রহণ করত।
সেই সময় থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত আল-আজহার দ্বীন ও ইলমের প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। এটি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের কাছে হকের ঝাণ্ডা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করছে। এটি কখনো বিচ্যুত হয়নি বা সত্য থেকে সরে যায়নি; কখনো বাতিলের দিকে ডাকেনি এবং হকের দাওয়াত দিতে অবহেলা করেনি। এটি সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে, তাদের পরম সমাদরে গ্রহণ করে এবং সুশিক্ষিত করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। শিক্ষার্থীরা এখানে দ্বীন, ভাষা, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, ইলমুল কালাম ও গণিত বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। এছাড়া তারা অন্যান্য মানবিক সংস্কৃতিও শেখে এবং এর শায়খদের কাছ থেকে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয়। অতঃপর তারা সেখান থেকে এমন সম্পদ নিয়ে বিদায় নেয় যা থেকে দ্বীন ও দুনিয়া অন্বেষণকারীরা একত্রে লাভবান হয় এবং সাধারণ মানুষ ও আলেম সমাজ একইভাবে উপকৃত হয়।
আল-আজহারের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। যুগে যুগে বিশ্বের রাজা-বাদশাহ ও বিশ্বনেতারা এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের আশা-ভরসা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আল-আজহারের কারণেই তারা মিশরকে ভালোবেসেছে। ফলে এটি পর্যটকদের গন্তব্য, দিশেহারাদের আলোকবর্তিকা এবং কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ের মণিকোঠায় পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
তাবেয়ীগণ (التابعون) তাঁদের (সাহাবীগণের) নিকট থেকে অর্জিত জ্ঞান গ্রহণ করেছেন এবং তা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পৌঁছে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধভাবে যেমনটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চেয়েছিলেন। অতঃপর তাবে-তাবেয়ীগণ (أتباع التابعين) তা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট প্রতিটি জনপদ ও শহরে পৌঁছে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং সনদ (الإسناد) দ্বারা সুদৃঢ় অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। আর এটি মহান আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ: "নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" ১
সেই সব বরেণ্য সাহাবীগণ (الصحابة), যারা হিদায়াতের ঝাণ্ডা ও নূরের মশাল হাতে মিশরে প্রবেশ করেছিলেন, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর কথা ও কাজ বর্ণনা (روى) করেছেন এবং তাঁর শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায়, বিজয় ও অভিযানে তাঁর প্রতিটি গতিবিধি ও স্থিরতা বর্ণনা করেছেন—তাঁদের কথা স্মরণ করার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একইভাবে সেই সব বরেণ্য তাবেয়ীগণ (التابعون) ও তাবে-তাবেয়ীগণ (أتباع التابعين), যারা তাঁদের কাছ থেকে তা বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাদিসের বর্ণনাকারীগণ (رواة), যারা পূর্বসূরী থেকে উত্তরসূরীরূপে ধারাবাহিকভাবে তা গ্রহণ করেছেন—তাঁদের আলোচনাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের অর্জিত এই জ্ঞানসমূহ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতা রক্ষায় অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা এই ইলমকে সব ধরনের কালিমা ও বিজাতীয় অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যাতে পরবর্তী প্রজন্মসমূহ এটি ঠিক তেমনই স্বচ্ছ অবস্থায় পায় যেমনটি তাঁরা লাভ করেছিলেন। এই সবকিছুর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মিশরীয় ধারার এই গবেষণার সুদৃঢ় ভিত্তি, যা শূন্য থেকে তৈরি হয়নি কিংবা এটি যে সময়কালকে ধারণ করে তা অস্তিত্বহীন কিছু ছিল না। বরং এটি গড়ে উঠেছে সেই ভিত্তির ওপর যার মাধ্যমে ইসলামের শরীয়াহ শতাব্দীকাল ধরে বিশিষ্টতা লাভ করেছে এবং অন্যান্য সকল ধর্মের তুলনায় যার জ্ঞান ও বিজ্ঞান সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
তাবেয়ী (التابعي): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে সাহাবীর (الصحابي) সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তিনি সাহাবী থেকে যত বেশি উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তাবেয়ী হিসেবে তিনি তত বেশি নির্ভরযোগ্য (أوثق) বলে গণ্য হয়েছেন।
তাবে-তাবেয়ী (تابع التابعي): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে তাবেয়ীগণের (التابعين) সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তাবেয়ীগণের কাছ থেকে তাঁর জ্ঞান অর্জনের মাত্রা যত বেশি হয়েছে, তিনি তাবে-তাবেয়ী হিসেবে তত উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন, এভাবেই পর্যায়ক্রমে।
আমাদের এই গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা মিশরের সেই সমস্ত প্রথিতযশা সাহাবীগণ (الصحابة), তাবেয়ীগণ (التابعون) এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরব, যাঁদের আগমনে মিশর ধন্য হয়েছে; চাই তাঁরা ইসলামি বিজয়ের সাথে এসেছেন কিংবা তার পরে, অথবা তাঁরা মিশরেরই অধিবাসী ছিলেন। তাঁরা এই দ্বীন-ই-হানিফের সেই সকল জ্ঞান সেখানে পৌঁছে দিয়েছেন যা মিশরে হাদিস শাস্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এরপর আমরা সেই সব প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করব যাঁদের কাছ থেকে সুন্নাহ গ্রহণ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তাঁরা আমাদের মনোনীত সময়কালের মহান মনীষীদের নিকট তা হস্তান্তর করেছেন। ইনশাআল্লাহ, এই বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم) আলোচনায় আমাদের বিশেষ মনোযোগ থাকবে তাঁদের নাম, লকব এবং কুনিয়াত (উপনাম) সঠিকভাবে নির্ণয় করা এবং ইলম অন্বেষণে তাঁদের সফরের বর্ণনার ওপর। এরপর আমরা তাঁদের শাইখ বা শিক্ষক এবং ছাত্রদের বিবরণ প্রদান করব এবং তাঁদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে—সাহাবীগণ (الصحابة) ব্যতীত, কারণ তাঁরা এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে—তা তুলে ধরব। এছাড়া তথ্যসূত্র অনুযায়ী তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতিগুলো উল্লেখ করব।
পরিশেষে, এটি মিশরের সেই সকল প্রসিদ্ধ দ্বীনি ইলমের বাহকদের নামের একটি বিবরণ, সুন্নাহ বর্ণনায় যাঁদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। আমরা তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুসন অনুযায়ী কালানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব। ইনশাআল্লাহ, বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم الرجال) সংক্রান্ত মৌলিক উৎসসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা এই মহান মনীষীদের এমনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব যা তাঁদের যথাযথ পরিচয় তুলে ধরে।
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------