(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: -)
مدرسة الحديث في مصر   (محمد رشاد خليفة)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: مدرسة الحديث في مصر

المؤلف: محمد رشاد خليفة

الناشر: الهيئة العامة لشئون المطابع الأميرية بالقاهرة

الطبعة: -

عدد الصفحات: 564

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিশরের হাদিস চর্চাকেন্দ্র   (মুহাম্মদ রাশাদ খলিফা)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


বই: মিশরের হাদিস চর্চাকেন্দ্র

লেখক: মুহাম্মদ রাশাদ খলিফা

প্রকাশক: আল-হাইআহ আল-আম্মাহ লি-শুউনিল মাতাবি আল-আমিরিয়্যাহ, কায়রো

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

الحمد لله الذي شرح صدورنا بالكتاب والسنة أصل الإسلام وجماع الدين، والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم المبعوث رحمة ونعمة وهدى للعالمين، أرسله الله إلى الناس بقرآن يتلى هداية ونورا: {كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آَيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} 1 وسنة تروى بيانًا لهذا القرآن: تفصل مجمله، وتوضح مبهمه، وتكشف للناس ما خفي منه، وتضيف إليه كثيرا مما لم يرد فيه، فهدى الله أناسًا إلى اتباع سنته، ووفقهم لخدمتها بحفظها وروايتها وأرشدهم إلى تنقيتها والدفاع عنها، وسخرهم لجمعها وتدوينها ونشرها، ثم جند لها من العلماء من يسر تداولها وقرب جناها، صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه صلاة وسلامًا دائمين متلازمين إلى يوم الدين:

وبعد: فقد رأيت العلماء منذ فجر الإسلام قد بلغت عنايتهم بالقرآن الكريم درجة تفوق الوصف، وكان لكل منهم في ذلك منهجه الذي تميز به، فمن مفسر يبين أسلوبه ويوضح غريبه، إلى شارح يجلي آياته ويربط سوره، ويذكر أسباب نزوله، ومن مهتم بقراءاته وتوجيه رواياته، إلى معنى بإعراب جمله وبيان مفرداته، ومن بليغ يحرص على إبراز بيانه ومعانيه، إلى فقيه يلتمس أدلة الأحكام فيه.

ولم تكن هذه العناية بالقرآن أمرًا غريبًا من المسلمين، فإنه الكتاب الذي نزل على نبيهم، وإنه الهدى بعد الضلال، والعز بعد الذل، والغنى بعد الفقر، وإنه -فوق ذلك- النور الذي أضاء حياتهم، ووضع به الله أقدامهم على الطريق: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ} 2.

أما السنة، فإنها وإن وجدت على مدى العصور، من يهتم بأمرها ويعنى بشأنها، إلا أنها لم تبلغ في ذلك مبلغ القرآن الكريم، وقد كانت جديرة بذلك؛ لأنها تناولت بالشرح والتفصيل كل أمور الدين، ولأنها المرآة الصافية لحياة النبي صلى الله عليه وسلم وحياة آله وصحبه، وبقدر ما يتمثل المؤمنون في نفوسهم هذه الحياة الكريمة أسوة واقتداء تكون درجتهم من صدق الإيمان واليقين، ولأن ما تلقيناه من السنة عن السابقين كان من الغزارة بحيث بلغ مئات الألوف من الأحاديث.

--------------------------------------------

1 سورة هود من الآية: 1.

2 سورة الشورى الآيتان 52، 53.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের বক্ষ উন্মুক্ত করেছেন, যা ইসলামের মূল ভিত্তি এবং দ্বীনের সারনির্যাস। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত, নিয়ামত ও হিদায়াত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাকে মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন তিলাওয়াতযোগ্য কুরআনের সাথে যা পথনির্দেশ ও আলো: {এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে}। আর এমন এক সুন্নাহর সাথে যা এই কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে বর্ণিত হয়: এটি এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) অংশসমূহকে বিস্তারিত করে, অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, এর গোপন দিকগুলো মানুষের কাছে উন্মোচিত করে এবং এতে এমন অনেক কিছু যোগ করে যা সরাসরি তাতে উল্লেখ করা হয়নি। অতঃপর আল্লাহ একদল মানুষকে তাঁর সুন্নাহর অনুসরণের হিদায়াত দিয়েছেন, একে মুখস্থকরণ ও বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে এর খিদমত করার তৌফিক দিয়েছেন এবং একে পরিচ্ছন্ন করা ও প্রতিরক্ষার পথ দেখিয়েছেন। তিনি একে সংগ্রহ, সংকলন ও প্রচারের কাজে তাদের নিয়োজিত করেছেন। এরপর তিনি আলেমদের মধ্য থেকে এমন এক বাহিনী তৈরি করেছেন যারা এর প্রচারকে সহজ করেছেন এবং এর সুফলকে নিকটবর্তী করেছেন। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর চিরস্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক:

অতঃপর: আমি লক্ষ্য করেছি যে, ইসলামের উষালগ্ন থেকেই আল-কুরআনুল কারীমের প্রতি আলেমগণের যত্ন ও মনোযোগ বর্ণনাতীত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের প্রত্যেকেরই এ ক্ষেত্রে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কর্মপদ্ধতি ছিল। কেউ মুফাসসির হিসেবে এর শৈলী বয়ান করেছেন এবং এর বিরল শব্দসমূহ স্পষ্ট করেছেন, কেউ ব্যাখ্যাকার হিসেবে এর আয়াতসমূহকে ব্যাখ্যা করেছেন, সূরাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছেন এবং এর শানে নুযূল উল্লেখ করেছেন। কেউ এর কিরাতসমূহ ও এর বর্ণনাগুলোর (رواية) দিকনির্দেশনা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন, কেউ এর বাক্যের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ও শব্দার্থের বর্ণনায় মনোনিবেশ করেছেন। আবার কোনো বাগ্মী এর অলংকার ও ভাবার্থ ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন, আর কোনো ফকিহ এর মধ্যে আহকামের দলীলসমূহ তালাশ করেছেন।

কুরআনের প্রতি মুসলমানদের এই মনোযোগ কোনো বিস্ময়কর বিষয় ছিল না; কারণ এটি সেই কিতাব যা তাদের নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটিই হলো পথভ্রষ্টতার পর হিদায়াত, লাঞ্ছনার পর সম্মান এবং দারিদ্র্যের পর সচ্ছলতা। তদুপরি এটি সেই নূর যা তাদের জীবনকে আলোকিত করেছে এবং আল্লাহ এর মাধ্যমেই তাদের সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন: {এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে করেছি একটি নূর, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর আপনি অবশ্যই সরল পথের দিকে দিশা দিচ্ছেন—সেই আল্লাহর পথ, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব যাঁর। জেনে রাখুন, সকল বিষয় আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করে}।

পক্ষান্তরে সুন্নাহর বিষয়টি হলো, যদিও যুগে যুগে এমন মানুষ পাওয়া গেছে যারা এর গুরুত্ব দিয়েছেন ও যত্ন নিয়েছেন, তবুও তা কুরআনুল কারীমের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ তা এর যোগ্য ছিল; কারণ এটি দ্বীনের যাবতীয় বিষয়াদি ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণের মাধ্যমে তুলে ধরেছে এবং এটি নবী (সা.), তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের জীবনের এক স্বচ্ছ দর্পণ। মুমিনগণ এই মহৎ জীবনকে আদর্শ হিসেবে যতটা নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারবে, তাদের ঈমান ও ইয়াকিনের সত্যতার স্তর সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে আমরা যে সুন্নাহ লাভ করেছি তা ছিল অত্যন্ত বিশাল, যার পরিমাণ কয়েক লক্ষ হাদিস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

১. সূরা হুদ, আয়াত: ১।

২. সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫২, ৫৩।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৪)
والآثار، ولأنها لم تكتب كما كتب القرآن في العصر الأول، بل كان اعتماد الصحابة فيها على حفظ الصدور، ثم تداولها من الطوائف حديثة العهد بالإسلام -وفيهم الكثير ممن كاد للإسلام وأهله عن طريق الدس في السنة والكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما وضع بعضًا من الأحاديث موضع الشك، وما جعل السنة في جملتها لا تحظى بالإجماع الذي حظي به القرآن الكريم، وأخيرًا لأن كل عناية بالسنة إنما هي في الواقع عناية بالقرآن؛ لأنها الشارحة له، والمبينة لما جاء فيه، فكل جهد يبذل في سبيل تنقيتها وتجليتها وتبويبها وتصنيفها، وتقديمها إلى الدارسين والعاملين في وضوح لا لبس معه هو جهد مبذول في الحقيقة للعناية بكتاب الله عز وجل.

من أجل هذا، ولإبراز دور مصر في خدمة السنة، وتقديرًا لجهود العلماء فيها على مدى الأجيال وتعاقب السنين استنهاضًا للهمم وشحذا للملكات رأيت أن أوجه عنايتي إلى دراسة السنة في مصر، ووقع اختياري على تلك الفترة التي حظيت دراستها فيما بنصيب كبير، وكان علماؤها الأعلام في مركز الصدارة لعلماء المسلمين في كل أنحاء الدنيا، لعل ذلك يكون حافزًا على دراسة السنة في كل بلد دخله الإسلام، وباعثًا على جعل دراستي هذه بداية لسلسلة من الدراسات يقوم بها المتخصصون في السنة في مسارها عبر القرون منذ عهد النبوة إلى وقتنا الحاضر.

ولعل ذلك أيضًا يكون دافعًا لأبناء هذا البلد العريق أن يصلوا حاضرهم بماضيهم في العناية بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، فينهضوا للدفاع عنه، ويعملوا على بعث الكنوز المدفونة والذخائر الموروثة منه بعد رقود طال أمده.

إن مصر التي احتضنت الإسلام وسعدت به، واستمتعت منه بدفء الإيمان وحرارة اليقين، فانتصرت به على أعدائها في الداخل والخارج ليسعدها اليوم أن تعاود الكرة من جديد، وأن تتحمس لإحياء سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففي إحيائها لها حياة، وفي التشبث بها اعتصام بحبل الله القوي وشرعه القويم.

إلى هذه الغاية النبيلة نرمي من وراء هذه الدراسة، وإلى هذا الهدف العظيم نسعى بهذا البحث الذي نرجو أن يحقق الله به النفع لنا ولأمتنا في ديننا ودنيانا، وأن يجعله بداية لعديد من البحوث في السنة يقوم بها المتخصصون فيها، وغرسًا كريمًا نافعًا يؤتي ثماره الطيبة في المستقبل القريب بإذن الله، والله المستعان، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وقد عرضت في هذا البحث بعض المجهودات التي بذلها سلفنا الصالح، وهي مجهودات نعتز بها، لما فيها من جهد طويل متتابع في خدمة السنة الغراء، وتوجيه نفوس القارئين إليها، وشغل أفكارهم بها، عسى أن أكون ممن شملهم وعد النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: "من دعا إلى
এবং আছার (آثار), এবং যেহেতু এটি প্রথম যুগে কুরআনের মতো লিখিত আকারে ছিল না, বরং এতে সাহাবীদের নির্ভরতা ছিল অন্তরের হিফজ (حفظ الصدور)-এর ওপর। পরবর্তীতে এটি ইসলামের সাথে নতুন পরিচিত হওয়া গোষ্ঠীগুলোর মাঝে আবর্তিত হয়—যাদের মধ্যে এমন অনেকে ছিল যারা সুন্নাহর মধ্যে অনুপ্রবেশ (الدس) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপের (الكذب) মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি সাধনের ষড়যন্ত্র করেছিল। যা কিছু হাদিসকে সন্দেহের আবর্তে ফেলে দেয় এবং সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর ক্ষেত্রে এমন ঐক্যমত (إجماع) অর্জনে বাধা দেয় যা পবিত্র কুরআন লাভ করেছে। পরিশেষে, সুন্নাহর প্রতি যেকোনো যত্ন প্রকৃতপক্ষে কুরআনেরই যত্ন; কারণ সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং এতে যা এসেছে তার বিশদ বর্ণনাকারী। অতএব, সুন্নাহকে পরিচ্ছন্ন করা, স্পষ্ট করা, অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস ও শ্রেণিবিন্যাস করা এবং শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কোনো সংশয় ছাড়াই স্বচ্ছভাবে উপস্থাপনের জন্য ব্যয়িত প্রতিটি শ্রম প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর কিতাবের যত্নেই নিবেদিত শ্রম।

এই কারণে এবং সুন্নাহর খিদমতে মিসরের ভূমিকা ফুটিয়ে তুলতে, যুগের পর যুগ এবং বছরের পর বছর ধরে সেখানে আলেমদের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করতে, সংকল্পকে জাগ্রত করতে এবং মেধাকে শাণিত করতে আমি মিসরে সুন্নাহ বিষয়ক অধ্যয়নের দিকে আমার মনোযোগ নিবদ্ধ করা সমীচীন মনে করেছি। আমি এমন একটি সময়কাল নির্বাচন করেছি যার ওপর ব্যাপক পড়াশোনা হয়েছে এবং যার প্রখ্যাত আলেমগণ সারা বিশ্বের মুসলিম আলেমদের মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিলেন। সম্ভবত এটি এমন প্রতিটি দেশে সুন্নাহ চর্চার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগাবে যেখানে ইসলাম প্রবেশ করেছে এবং আমার এই গবেষণাকে নবুওয়াতের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সুন্নাহর পথপরিক্রমার ওপর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত ধারাবাহিক গবেষণার সূচনায় পরিণত করবে।

সম্ভবত এটি এই প্রাচীন দেশের সন্তানদের জন্য তাদের বর্তমানকে অতীতের সাথে মিলিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি যত্নশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে। ফলে তারা এর প্রতিরক্ষায় সজাগ হবে এবং দীর্ঘকাল সুপ্ত থাকার পর এর প্রোথিত সম্পদ ও উত্তরাধিকার হিসেবে প্রাপ্ত ভাণ্ডারসমূহ পুনর্জীবিত করতে সচেষ্ট হবে।

নিশ্চয়ই মিসর, যা ইসলামকে ধারণ করেছে এবং এর মাধ্যমে সৌভাগ্যমন্ডিত হয়েছে, ঈমানের উষ্ণতা ও ইয়াকিনের উত্তাপ উপভোগ করেছে এবং এর বদৌলতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রুদের ওপর জয়ী হয়েছে, আজ পুনরায় সেই প্রচেষ্টা শুরু করতে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ পুনর্জীবিত করার ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠতে পেরে আনন্দিত। কেননা সুন্নাহর পুনর্জীবনেই জাতির জীবন নিহিত এবং এটি আঁকড়ে ধরা মানেই আল্লাহর শক্তিশালী রজ্জু ও তাঁর সুদৃঢ় শরীয়তকে মজবুতভাবে ধারণ করা।

এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা এই মহৎ লক্ষ্য অর্জনের সংকল্প করেছি এবং এই মহান উদ্দেশ্য সাধনে সচেষ্ট হয়েছি। আমরা আশা করি মহান আল্লাহ আমাদের ও আমাদের উম্মতের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করবেন। তিনি যেন একে সুন্নাহ বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত আরও বহু গবেষণার সূচনা হিসেবে কবুল করেন এবং একে এমন এক বরকতময় ও উপকারী চারাগাছ হিসেবে কবুল করেন যা অদূর ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ উত্তম ফল দান করবে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক (نعم الوكيل)।

আমি এই গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরি পুণ্যবানদের (سلف صالح) কিছু প্রচেষ্টা তুলে ধরেছি, যেসব প্রচেষ্টার জন্য আমরা গর্ববোধ করি। কারণ এতে উজ্জ্বল সুন্নাহর খিদমতে দীর্ঘ ও ধারাবাহিক শ্রম রয়েছে এবং পাঠকদের মনকে এর দিকে ধাবিত করা ও তাদের চিন্তাধারাকে এতে নিবিষ্ট করার প্রয়াস রয়েছে। সম্ভবত আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব যাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: "যে ব্যক্তি (সৎপথের) দিকে আহ্বান জানায়...
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৫)
هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئًا"1. فإن الدعوة إلى الهدى لا تقتصر على دعوة اللسان، وإنما تكون برسم الطريق إلى الخير والإغراء بالسير فيه، وهو في مجال العناية بالسنة يكون بنشر علومها ومعارفها، والتنبيه إلى مدارسها المختلفة ورجالها، وآثارهم النافعة المثمرة في ميادينها المتعددة.

على أنني أعتذر عما عسى أن يكون فرط مني من خطأ غير مقصود، أو تقصير فيما لم يبلغه وسعي واجتهادي.

ولعل الناظر في هذا المجهود يرى فيه ما يكشف عن حسن النية ومواصلة الجهد الذي أرجو أن يكون وحده موضع الرضا والتقدير، وسبيلًا للصفح عن التقصير.

وأسأل الله أن ينفعنا بالقرآن الكريم، وبالسنة النبوية المطهرة، وبكل ما يتصل بهما دراسة وعملًا، وأن يكتب لنا النجاح في كل ما نزاوله في أمر يتعلق بهما، إنه سميع مجيب، وهو نعم المول ونعم النصير،

القاهرة في رمضان 1402هـ

يوليو 1982م

محمد رشاد محمد خليفة

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري.
যে ব্যক্তি কোনো পথপ্রদর্শনের (هدى) দিকে আহ্বান জানাবে, তার জন্য ওই ব্যক্তিদের সমপরিমাণ সওয়াব থাকবে যারা তাকে অনুসরণ করবে; তাদের সওয়াব থেকে সামান্যতমও হ্রাস পাবে না।"১. বস্তুত পথপ্রদর্শনের (هدى) প্রতি আহ্বান কেবল মৌখিক দাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা হলো কল্যাণের পথ অঙ্কন করা এবং সেই পথে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করা। সুন্নাহর পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি হলো এর জ্ঞান ও বিজ্ঞানসমূহের প্রসার ঘটানো এবং এর বিভিন্ন ঘরানা, বর্ণনাকারী (رجال) এবং তাদের বহুমুখী অঙ্গনে ফলপ্রসূ ও উপকারী রচনাবলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

এতদসত্ত্বেও আমার পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল কিংবা আমার সাধ্যাতীত ও গবেষণার (اجتهاد) পরিধির বাইরের কোনো ত্রুটির জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সম্ভবত এই প্রচেষ্টার প্রতি নিবিষ্ট পাঠক এতে আমার সদিচ্ছা ও নিরবচ্ছিন্ন শ্রমের প্রতিফলন দেখতে পাবেন; আমি আশা করি কেবল এটিই যেন সন্তুষ্টি ও মূল্যায়নের যোগ্য হয় এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমার মাধ্যম হয়।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের কুরআনুল কারিম ও পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে এবং এ দুটির অধ্যয়ন ও আমল সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ের মাধ্যমে উপকৃত করেন। এ দুটির সাথে সংশ্লিষ্ট আমাদের সকল কার্যে তিনি যেন সফলতা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী, এবং তিনিই উত্তম অভিভাবক ও সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

কায়রো, রমজান ১৪০২ হিজরি

জুলাই ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

মুহাম্মদ রাশাদ মুহাম্মদ খলিফা

--------------------------------------------

১ এটি বুখারি বর্ণনা (أخرج) করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الباب الأول: أعلام المحدثين في مصر منذ الفتح الإسلامي حتى سقوط بغداد

‌‌مدخل

…

أعلام المحدثين في مصر:

تمهيد:

نقصد بالعلم ذلك العالم الفذ الذي يؤمه الناس لما عنده من معازف، وقد أصبح فيما بينهم منارة يهتدي بها الحائرون، وعلمًا يلتف حوله الدارسون، يفيض عليهم من علومه، وينفعهم بدروسه وأماليه ومدوناته.

ونعني بالمحدث من له عناية بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم رواية أو دراية، دراسة أو تعليمًا، أو جمعًا وتصنيفًا، أو تدوينًا وتأليفًا.

وإذا كنا في هذا الباب بصدد الترجمة لأعلام المحدثين في مصر فإنما نريد بهم هؤلاء الذين كانوا أئمة في الحديث وعلومه في هذه البلاد، ممن كان يرجع إليهم الكثير في التلقي منهم والأخذ عنهم، والانتفاع بهم فيما نقلوه إلى من عاصرهم أو جاء بعدهم، عن طريق الرواية أو التدريس، أو الإملاء أو التدوين، أو غير ذلك من طرق التحمل والأداء.

وأول هؤلاء صلة بنبي الإسلام صلوات الله وسلامه عليه هم الصحابة رضوان الله عليهم، وقد اقترن وجودهم في مصر بالفتح الإسلامي لها عام عشرين، ومنذ ذلك الحين بدأت في مصر رواية الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولا بد أن نشير هنا إلى فتح مصر وما اقترن به من الظروف والملابسات، لما له من أثر في وضع النواة التي أثمرت فيما بعد مدرسة الحديث في مصر.

ذلك أن الفتوح التي ظفر بها المسلمون في الشام، وانتصارهم الحاسم في موقعة اليرموك جعل أعناقهم تشرئب، ونفوسهم تتطلع إلى توسيع رقعة الإسلام، والتدرج في تلك الفتوح التي كان لا بد منها لحماية حدود الدولة الإسلامية، وتثبيت ملكهم فيما وصلوا إليه من البلاد المجاورة.

وكان من أقوى ما أعانهم على التفكير في فتح مصر ما كان فيها من تفكك سياسي أدى إليه وقوع الخلاف المذهبي بين الحكام من الرومان والقبط من أهل مصر، وقد تم ذلك العون بما عود الله به المسلمين من نصرهم على الأعداء ما دام جهادهم في سبيل نصرة العقيدة وإعلاء كلمة الله.

ففي العام الثامن عشر للهجرة، سار عمرو بن العاص على رأس جيش قوامه أربعة آلاف، حتى وصل إلى بلبيس بعد استيلائه على الفرما، وكان قتال عنيف بعد حصار دام شهرًا كانت نهايته هزيمة منكرة لجيش الروم الذي يربو على اثني عشر ألفًا من المقاتلين.
প্রথম অধ্যায়: ইসলামি বিজয় থেকে বাগদাদের পতন পর্যন্ত মিসরের প্রথিতযশা হাদিস বিশারদগণ

ভূমিকা

…

মিসরের প্রথিতযশা হাদিস বিশারদগণ:

উপস্থাপনা:

প্রথিতযশা ব্যক্তি বলতে আমরা সেই অনন্য পণ্ডিতকে বুঝি, যাঁর জ্ঞানভাণ্ডারের কারণে মানুষ তাঁর অভিমুখী হয়। তিনি তাঁদের মাঝে এমন এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হন যার মাধ্যমে পথহারা মানুষ পথ খুঁজে পায় এবং এমন এক নিশান হিসেবে পরিচিত হন যাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীগণ সমবেত হয়। তিনি তাঁদের ওপর নিজের ইলমের সুধা বর্ষণ করেন এবং তাঁর পাঠদান, শ্রুতিলিপিকরণ (إملاء) ও সংকলনসমূহের (مدونات) মাধ্যমে তাঁদের উপকৃত করেন।

আর মুহাদ্দিস বলতে আমরা তাঁকে বুঝি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের বর্ণনা (رواية) বা তত্ত্বগত জ্ঞান (دراية), অধ্যয়ন বা পাঠদান, অথবা সংগ্রহ ও শ্রেণিবিন্যাস কিংবা সংকলন ও রচনার ক্ষেত্রে যাঁর বিশেষ মনোনিবেশ রয়েছে।

যেহেতু এই অধ্যায়ে আমরা মিসরের প্রথিতযশা হাদিস বিশারদদের জীবনী আলোচনা করছি, তাই আমরা তাঁদেরই বুঝিয়েছি যাঁরা এই ভূখণ্ডে হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রে ইমাম (أئمة) ছিলেন। সমসাময়িক বা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হাদিস বর্ণনা (رواية), পাঠদান, শ্রুতিলিপিকরণ (إملاء) বা সংকলন কিংবা হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও প্রদানের (أداء) অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা যা পৌঁছে দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে জ্ঞান আহরণ ও গ্রহণের জন্য অনেকে তাঁদেরই মুখাপেক্ষী হতেন এবং তাঁদের দ্বারা উপকৃত হতেন।

ইসলামের নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সাথে তাঁদের মধ্যে প্রথম সম্পর্ক হলো সাহাবি (صحابة) -দের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)। হিজরি ২০ সনে মিসর বিজয়ের সাথেই সেখানে তাঁদের উপস্থিতি যুক্ত হয় এবং সেই সময় থেকেই মিসরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা (رواية) শুরু হয়।

সিরিয়ায় মুসলিমদের বিজয় এবং ইয়ারমুক যুদ্ধে তাঁদের চূড়ান্ত জয় তাঁদেরকে নতুন দিগন্তের স্বপ্ন দেখায়। ফলে তাঁদের প্রাণ ইসলামি ভূখণ্ডের সীমানা সম্প্রসারণ এবং ধাপে ধাপে সেই সব দেশ বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়, যা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা রক্ষা এবং পার্শ্ববর্তী বিজিত দেশগুলোতে নিজেদের শাসন সুসংহত করার জন্য অপরিহার্য ছিল।

মিসর বিজয়ের চিন্তায় তাঁদের সবচেয়ে বেশি যা সহায়ক হয়েছিল তা হলো সেখানকার রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, যা রোমান শাসক ও মিসরের কিবতি অধিবাসীদের মধ্যে মাযহাবগত বিরোধের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। আর এই সহায়তা পূর্ণতা পেয়েছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত সেই সাহায্যের মাধ্যমে, যা তিনি শত্রুদের বিরুদ্ধে মুমিনদের দান করেন যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের জিহাদ হবে আকিদা বা বিশ্বাসের প্রতিরক্ষা এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য।

অতঃপর হিজরি ১৮ সনে, আমর ইবনুল আস চার হাজার সৈন্যের এক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে রওনা হন এবং আল-ফারমা দখলের পর বিলবিস নামক স্থানে পৌঁছান। এক মাসব্যাপী অবরোধের পর সেখানে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার পরিণতিতে বারো হাজারেরও বেশি সৈন্যের রোমান বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৪)
وما زال الجيش الإسلامي يواصل الفتوح من بلدة إلى أخرى، حتى تم الفتح لمصر عام عشرين، وانساح الصحابة والتابعون في أنحاء البلاد طولًا وعرضًا، ينشرون دين الله، ويبلغون رسالة النبي عليه الصلاة والسلام، وأخذ كثير من أهل البلاد يقبلون على الفاتحين الأولين ويؤثرونهم بالحب، بعد أن عرفوا سماحة الإسلام وعدالته، وظهر لهم الفارق الكبير بين ما كانوا عليه أيام حكم الرومان من غطرسة وظلم واستبداد، وما لمسوه في هؤلاء الفاتحين من عدالة ورأفة ورفق وإحسان فدخل في الإسلام كثير من أهل البلاد، وبدءوا يطلبون ما لديهم من معارف الإسلام وعلومه الرفيعة وكانت مادة الصحابة في تعليم هؤلاء أصول الدين ما تلقوه عن النبي صلى الله عليه وسلم من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

كان الصحابة ينشرون دين الله ويبلغون عن رسوله، ودخل كثير من أهل البلاد في الإسلام فتعلموا على يد الصحابة والتابعين أحكام الدين وأصول العلم، فحفظوا القرآن، ورووا السنة وتفقهوا في الدين.

وكان من أكثر الصحابة رواية عن الرسول صلى الله عليه وسلم عبد الله بن عمرو بن العاص، وقد امتاز على غيره من سائر الصحابة بأنه كان يكتب ما يسمعه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم لا يكتبون.

خرج عبد الله بن عمرو بن العاص إلى مصر عندما ولاه إياه معاوية، وبقي بها مقيمًا بعد وفاة والده، وكان يحج ويعتمر ثم يعود إليها، حتى توفي بها في بعض الأقوال.

ولم يكن عبد الله بن عمرو وحده الذي يكثر من رواية الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويتصدى لتعليم الناس في مصر، فقد كان معه كثير من الصحابة يؤدون نفس المهمة ويقومون بهذا الدور.

كان هناك عقبة بن عامر الجهني، كما كان خارجة بن حذاقة، وعبد الله بن سعد بن أبي السرح، ومحمية بن جزء، وعبد الله بن الحارث بن جزء، وأبو بصرة الغفاري، وأبو سعد الخير ومعاذ بن أنس الجهني، وعبد الله بن أنيس، وعبادة بن الصامت وكثير غير هؤلاء ممن سنذكرهم في أول فصول هذا الكتاب.

تخرج على يد هؤلاء الصحابة الكثير من التابعين، منهم أبو الخير مرثد بن عبد الله اليزني مفتي أهل مصر، ويزيد بن أبي حبيب، وعبد العزيز بن مروان، وعمار بن سعد التجيبي، ثم الحارث بن يعقوب الأنصاري -والد الفقيه عمر بن الحارث- وعطاء بن دينار، ثم جعفر بن ربيعة الكندي، وغير هؤلاء كثير.
ইসলামি সেনাবাহিনী এক শহর থেকে অন্য শহরের দিকে তাদের বিজয় অভিযান অব্যাহত রাখে, অবশেষে হিজরি ২০ সালে মিসর বিজয় সম্পন্ন হয়। সাহাবি (صحابة) এবং তাবেয়িগণ (تابعون) দেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বরাবর ছড়িয়ে পড়েন। তাঁরা আল্লাহর দীন প্রচার করেন এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের রিসালাত পৌঁছে দিতে থাকেন। এদেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলামি সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের পর প্রথম যুগের বিজেতাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং তাঁদের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা পোষণ করতে শুরু করে। তারা প্রত্যক্ষ করে যে, রোমান শাসনামলের অহমিকা, জুলুম ও স্বৈরাচারের সাথে এই বিজেতাদের মধ্যে অনুভূত ন্যায়বিচার, দয়া, নম্রতা ও সদাচরণের বিশাল পার্থক্য রয়েছে। ফলে দেশের বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে এবং সাহাবিদের নিকট রক্ষিত ইসলামের সুউচ্চ জ্ঞান ও বিজ্ঞানসমূহ অর্জনের অন্বেষা শুরু করে। এই লোকদের দীনের মূলনীতিসমূহ শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবিদের প্রধান উপাদান ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে প্রাপ্ত আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ।

সাহাবিগণ (صحابة) আল্লাহর দীন প্রচার করতেন এবং রাসুলের পক্ষ থেকে তা পৌঁছে দিতেন। এদেশের অনেক মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হয়ে সাহাবি (صحابة) ও তাবেয়িদের (تابعين) নিকট দীনের বিধিবিধান ও ইলমের মূলনীতিসমূহ শিক্ষা লাভ করেন। ফলে তাঁরা কুরআন হিফজ করেন, সুন্নাহ বর্ণনা (رووا) করেন এবং দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সবচেয়ে বেশি বর্ণনা (رواية) কারী সাহাবিদের (صحابة) মধ্যে অন্যতম ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস। অন্যান্য সাহাবিদের ওপর তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনতেন তা লিখে রাখতেন, যেখানে অন্যরা তা লিখতেন না।

মুয়াবিয়া যখন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসকে মিসরের গভর্নর নিযুক্ত করেন, তখন তিনি সেখানে গমন করেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তিনি হজ ও উমরাহ পালন করতেন এবং পুনরায় সেখানে ফিরে আসতেন। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক হারে হাদিস বর্ণনা (رواية) এবং মিসরে মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার কাজে আব্দুল্লাহ বিন আমর একা ছিলেন না; বরং তাঁর সাথে আরও অনেক সাহাবি (صحابة) একই দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করছিলেন।

সেখানে ছিলেন উকবা বিন আমির আল-জুহানি, খারিজা বিন হুজাফা, আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারাহ, মাহমিয়া বিন জায, আব্দুল্লাহ বিন হারিস বিন জায, আবু বাসরা আল-গিফারি, আবু সাদ আল-খাইর, মুয়াজ বিন আনাস আল-জুহানি, আব্দুল্লাহ বিন আনিস, উবাদা বিন সামিত এবং তাঁদের বাইরেও আরও অনেকে যাদের নাম আমরা এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়গুলোতে উল্লেখ করব।

এই সাহাবিদের (صحابة) নিকট বহু সংখ্যক তাবেয়ি (تابعين) ইলম অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মিসরীয়দের মুফতি আবুল খাইর মারসাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াজানি, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব, আব্দুল আজিজ বিন মারওয়ান, আম্মার বিন সাদ আত-তুজিবি, অতঃপর হারিস বিন ইয়াকুব আল-আনসারি—যিনি ফকিহ উমর বিন হারিসের পিতা—আতা বিন দিনার, জাফর বিন রবিআ আল-কিন্দি এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৫)
ثم كان أتباع التابعين ومن جاء بعدهم يتناقلون رواية الحديث، ويتدارسونه بينهم، ويعملونه للناس، ويفقهونهم فيه، وكانت الرحلة في طلب العلم من مصر وإليها من العوامل المؤثرة في الرواية وازدهارها، فنبغ في مصر أئمة وظهر فحول، أخذ عنهم البخاري ومسلم وغيرهما من أصحاب الصحاح، بل كان من مصر بعض أصحاب هذه الصحاح، فالنسائي صاحب السنن الكبرى والصغرى كان من أهل مصر وفيها يقيم.

ولم تنقطع مدارسة الحديث تحملًا وأداء في مصر منذ أكرمها الله بالفتح الإسلامي طيلة عصر الرواية، حتى إذا جاء عصر التدوين كان علماء مصر من أسبق الناس فيه، فقد عرف العالم الإسلامي من علماء مصر الإمام النسائي صاحب السنن، والطحاوي صاحب معاني الآثار وشرحه، كما عرف غيرهما من أساطين العلم وجهابذة السنة، كان المرجع إليهم في كل مهم من علوم الحديث.

وكانت المساجد هي مراكز الإشعاع في كافة أنحاء البلاد، فيها يجلس الشيوخ للدرس والإسماع، ويحضر التلاميذ للتحصيل والاستماع، وفيما يتخرج النابهون في كل علم وفن، وإليها يفد الطالبون للفتوى، والراغبون في المعرفة والفقه في أصول الدين، وما يكاد الناس يتسامعون بنبوغ شيخ في علوم السنة حتى يحج إليه طلاب الحديث من كل مكان، يأخذونه عنه، ويتلقون منه، ويستجيزونه في المسموع والمكتوب، ثم ينصرفون إلى غيره من الشيوخ أملا في الحصول على المزيد.

وكانت هذه البيوت الإلهية منتشرة في طول البلاد وعرضها، تغص دائمًا بحلقات العلم، وتزخر بطلاب المعرفة.

ثم بدأ السلاطين والأمراء في مصر يبنون المدارس، ويعدونها لاستقبال الطلاب، ويرتبون الأرزاق لشيوخها والقائمين بالتدريس فيها، ويجعلون بعضها لدراسة الحديث وبعضها لدراسة الفقه وغير ذلك.

نقل السيوطي في كتابه حسن المحاضرة1 عن ابن خلكان قال: لما ملك صلاح الدين بن أيوب الديار المصرية لم يكن بها شيء من المدارس، فإن الدولة العبيدية كان مذهبها مذهب الرافضة والشيعة، فلم يكونوا يقولون بهذه الأشياء، فبنى السلطان صلاح الدين بالقرافة الصغرى المدرسة المجاورة للإمام الشافعي، وبنى مدرسة مجاورة للمشهد الحسيني بالقاهرة، وجعل دار سعيد السعداء -خادم الخلفاء المصرين- خانقاه2 وجعل دار عباس الوزير العبيدي مدرسة للحنفية

--------------------------------------------

1 حسن المحاضرة ج2 ص256.

2 الخانقاء جمعها خوانقن وكذلك الرباطات والزوايا: معاهد دينية إسلامية للرجال والنساء، أنشئت لإيواء المنقطعين للعلم والزهاد والعباد.
এরপর অনু-তাবেয়িগণ (أتباع التابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম হাদিসের বর্ণনা (رواية) আদান-প্রদান করতেন, নিজেদের মধ্যে তা পর্যালোচনা করতেন, মানুষের মাঝে তা প্রচার করতেন এবং তাদের মাঝে এর প্রজ্ঞা বা ফিকহ তৈরি করতেন। ইলম অন্বেষণে মিশরে আসা-যাওয়া ছিল বর্ণনা (رواية) এবং এর সমৃদ্ধির অন্যতম প্রভাবশালী কারণ। ফলে মিশরে অনেক ইমাম ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ (فحول) প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাদের কাছ থেকে ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্য সহিহ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ হাদিস গ্রহণ করেছেন। এমনকি এই সহিহ গ্রন্থসমূহের কোনো কোনো লেখক মিশরেরই অধিবাসী ছিলেন। যেমন—সুনানুল কুবরা ও সুনানুল সুগরার সংকলক ইমাম নাসাঈ মিশরের অধিবাসী ছিলেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন।

আল্লাহ তাআলা মিশরকে ইসলামি বিজয়ের মাধ্যমে সম্মানিত করার পর থেকে বর্ণনা যুগ (عصر الرواية) জুড়ে সেখানে হাদিস গ্রহণ (تحملًا) ও প্রদানের (أداء) ধারা নিরবচ্ছিন্নভাবে জারি ছিল। এমনকি যখন সংকলন যুগ (التدوين) শুরু হলো, তখন মিশরের ওলামায়ে কেরাম তাতে অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইসলামি বিশ্ব মিশরের আলেমদের মধ্য থেকে সুনান গ্রন্থের প্রণেতা ইমাম নাসাঈ এবং মাআনী আল-আসার ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রণেতা ইমাম তহাবিকে চিনত। তেমনিভাবে তারা ইলমের স্তম্ভসমূহ (أساطين العلم) এবং সুন্নাহর প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণকেও (جهابذة السنة) চিনত, হাদিস শাস্ত্রসমূহের (علوم الحديث) প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হতো।

মসজিদগুলো ছিল সারা দেশের আলোকবর্তিকা। সেখানে শায়খগণ দরস ও হাদিস শ্রবণ করানোর (الإسماع) জন্য বসতেন এবং ছাত্ররা ইলম অর্জন (التحصيل) ও শ্রবণের (الاستماع) জন্য উপস্থিত হতো। সেখান থেকেই প্রতিটি জ্ঞান ও শিল্পে মেধাবীরা উত্তীর্ণ হতো। ফতোয়া অন্বেষীরা এবং দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) ও মাআরিফ বা জ্ঞান অর্জনে আগ্রহীরা সেখানেই ভিড় করত। কোনো একজন শায়খ সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শী হওয়ার খবর জানাজানি হওয়া মাত্রই সব জায়গা থেকে হাদিসের ছাত্ররা তাঁর কাছে ছুটে আসত। তারা তাঁর কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করত, তাঁর থেকে শিক্ষা নিত এবং শ্রুত ও লিখিত পাণ্ডুলিপির জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি (إجازة) প্রার্থনা করত। এরপর তারা আরও বেশি ইলম হাসিলের আশায় অন্য শায়খদের দিকে মনোনিবেশ করত।

এই খোদায়ী ঘরগুলো সারা দেশে বিস্তৃত ছিল, যা সর্বদা ইলমি হালকা (حلقات العلم) দিয়ে পরিপূর্ণ এবং জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের দ্বারা সমৃদ্ধ থাকত।

এরপর মিশরের সুলতান ও আমিরগণ মাদ্রাসা নির্মাণ শুরু করেন এবং ছাত্রদের গ্রহণের জন্য সেগুলো প্রস্তুত করেন। তাঁরা সেখানে শায়খ ও শিক্ষকদের জন্য বেতনের ব্যবস্থা করেন। কোনো কোনো মাদ্রাসাকে তাঁরা হাদিস চর্চার জন্য এবং কোনো কোনোটিকে ফিকহ (الفقه) চর্চা ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য নির্ধারিত করেন।

ইমাম সুয়ুতি তাঁর হুসনুল মুহাদারা গ্রন্থে ইবনে খাল্লিকান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘যখন সালাহউদ্দিন আইয়ুবী মিশর শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন সেখানে মাদ্রাসার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। কারণ ওবায়দী (ফাতেমি) শাসনের মাযহাব (المذهب) ছিল রাফেজি (الرافضة) ও শিয়া (الشيعة) মতবাদ, তাই তারা এসব বিষয়ের প্রবক্তা ছিল না। সুলতান সালাহউদ্দিন কারাফাতুস সুগরা এলাকায় ইমাম শাফেয়ির মাজার সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। কায়রোতে মাশহাদ আল-হুসাইনির সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। মিশরীয় খলিফাদের সেবক সাঈদ আস-সুয়াদার বাসভবনকে খানকাহ (خانقاه) হিসেবে এবং ওবায়দী উজির আব্বাসের বাসভবনকে হানাফিদের মাদ্রাসায় পরিণত করেন।’

--------------------------------------------

১. হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৬।

২. খানকাহ (الخانقاء), এর বহুবচন হলো খাওয়ানি (خوانق); একইভাবে রিবাত ও জাওয়িয়া: এগুলো পুরুষ ও নারীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা জ্ঞানপিপাসু ইবাদতকারী ও জাহিদ (الزهاد والعباد) ব্যক্তিদের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৬)
وهي المعرفة الآن بالسيوفية- وبنى المدرسة التي بمصر المعروفة بزين التجار للشافعية -وتعرف الآن بالشريفية- وبنى بمصر مدرسة أخرى للمالكية -وهي المعروفة الآن بالقمحية.

ومن هذا نرى عناية الأمراء ورجال الدولة بالعلماء، وتهيئة المناخ الملائم لهم ليؤدوا رسالتهم على الوجه الأكمل، وفي هذا شرف للأمراء والعلماء والمتعلمين على السواء.

كانت المدارس تقام لدراسة العلوم ومن بينها علوم الحديث، وكانت تقام لدراسة الفقه على المذاهب المتعددة وتدرس معها السنة، وكانت هناك دار للحديث بناها أمير مصر لدراسة الحديث وعلومه في بداية القرن السابع.

ذكر السيوطي في كتابه1 هذه المدرسة فقال عنها:

المدرسة الكاملية، وهي دار الحديث، وليس بمصر دار حديث غيرها وغير دار الحديث التي بالشيخونية، قال المقريزي: وهي ثاني دار حديث عملت للحديث، فإن أول من بنى دار حديث على وجه الأرض الملك العادل نور الدين محمود بن زنكي بدمشق، ثم بنى الكامل هذه الدار -يقصد المدرسة الكاملية- بناها الملك الكامل، وكانت عمارتها في سنة إحدى وعشرين وستمائة، وجعل شيخها أبا الخطاب عمر بن دحية، ثم وليها بعده أخوه أبو عمرو عثمان بن دحية، ثم وليها الحافظ زكي الدين المنذري، ثم وليها شرف الدين بن أبي الخطاب بن دحية، ثم وليها بعده المحدث محيي الدين بن سواقة ثم تاج الدين بن القسطلاني المالكي وهكذا حتى وليها الشيخ سراج الدين عمر بن الملقن.

وكان الملك الصالح نجم الدين أيوب أميرًا لمصر خلفًا لوالده الملك الكامل، فسار على نهجه في بناء المدارس ورعاية الحركة العلمية، فبنى المدرسة الصلاحية بين القصرين، وكانت أربع مدارس للمذاهب الفقهية الأربعة.

ثم توالى في عهد المماليك بناء المدارس التي انتسبت إلى أمراء مصر المتعاقبين، فالمدرسة الظاهرية للملك الظاهر بيبرس، والمدرسة المنصورية للمنصور قلاوون، والناصرية للناصر محمد بن قلاوون، والخانقاه البيبرسية لركن الدين بيبرس الحاشنكيري، وغير ذلك من المدارس العلمية التي بناها الأمراء، وأحاطوها بالرعاية والتكريم.

أما الأزهر فإنه منذ إنشائه لم يكن له حظ مرفور يستأهل التنويه به في دراسة الحديث، فقد كان في عهد الفاطميين يمثل ركنًا هامًّا من أركان الحياة الإسلامية والرسمية في الدولة، فبين جنباته كانت تقام الصلوات الخمس وصلاة الجمعة والعيدين، وفي ساحته يلتقي الخلفاء بالشعب يعظون ويوجهون ويقررون، ومن فوق منبره يخطب الخلفاء الجمع في رمضان وأيام الأعياد.

--------------------------------------------

1 حسن المحاضرة ج2 ص262.
যা বর্তমানে সুয়ুফিয়্যাহ নামে পরিচিত—এবং তিনি মিশরে শাফেয়ি মাযহাবের জন্য জাইনুত তুজ্জার নামে পরিচিত মাদরাসাটি নির্মাণ করেছিলেন—যা এখন শারিফিয়্যাহ নামে পরিচিত—এবং মিশরে মালিকি মাযহাবের জন্য অন্য একটি মাদরাসা নির্মাণ করেছিলেন—যা বর্তমানে কামহিয়্যাহ নামে পরিচিত।

এ থেকে আমরা উলামায়ে কেরামের প্রতি আমির ও রাষ্ট্রনায়কদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়টি দেখতে পাই; আর এর মধ্যে আমির, আলেম ও শিক্ষার্থী—সবার জন্যই সমভাবে মর্যাদা নিহিত রয়েছে।

মাদরাসাগুলো বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন মাযহাবের ফিকহ চর্চার জন্য মাদরাসা নির্মাণ করা হতো এবং তার সাথে সুন্নাহ (السنة) পড়ানো হতো। সপ্তম হিজরি শতকের শুরুতে মিশরের আমির হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র (علومه) অধ্যয়নের জন্য একটি দারুল হাদিস নির্মাণ করেছিলেন।

সুয়ুতি তাঁর গ্রন্থে১ এই মাদরাসা সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন:

মাদরাসা কামিলিয়্যাহ, যা একটি দারুল হাদিস; মিশরে এটি এবং শায়খুনিয়্যাহ-তে অবস্থিত দারুল হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো দারুল হাদিস নেই। মাকরিযি বলেন: এটি হাদিসের জন্য নির্মিত দ্বিতীয় দারুল হাদিস। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম দামেশকের বাদশাহ আদিল নুরউদ্দিন মাহমুদ বিন জাঙ্কি দারুল হাদিস নির্মাণ করেন, এরপর বাদশাহ কামিল এই প্রতিষ্ঠানটি—অর্থাৎ মাদরাসা কামিলিয়্যাহ—নির্মাণ করেন। এর নির্মাণকাল ছিল ৬২১ হিজরি সাল। তিনি আবুল খাত্তাব উমর বিন দিহইয়াকে এর শায়খ (شيخها) হিসেবে নিযুক্ত করেন। তাঁর পর তাঁর ভাই আবু আমর উসমান বিন দিহইয়া এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর হাফিজ (الحافظ) যাকিউদ্দীন আল-মুনযিরি, তারপর শরফুদ্দীন বিন আবুল খাত্তাব বিন দিহইয়া এর দায়িত্বে নিয়োজিত হন। এরপর মুহাদ্দিস (المحدث) মুহিউদ্দীন বিন সাওয়াকা, তারপর তাজউদ্দীন আল-কাসতালানি আল-মালিকি এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে শায়খ সিরাজউদ্দীন উমর ইবনুল মুলাক্কিন এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

বাদশাহ সালিহ নাজমুদ্দীন আইয়ুব তাঁর পিতা বাদশাহ কামিলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মিশরের আমির হন। তিনি মাদরাসা নির্মাণ ও জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর পিতার পথ অনুসরণ করেন। তিনি 'বাইনাল কাসরাইন' নামক স্থানে মাদরাসা সালাহিয়্যাহ নির্মাণ করেন, যা ছিল চারটি ফিকহি মাযহাবের জন্য চারটি স্বতন্ত্র মাদরাসা।

পরবর্তীতে মামলুক যুগে মিশরের পর্যায়ক্রমিক আমিরদের নামে মাদরাসা নির্মাণের ধারা অব্যাহত থাকে। যেমন: বাদশাহ জাহির বিবারসের জন্য মাদরাসা জহিরিয়্যাহ, মানসুর কালাউনের জন্য মাদরাসা মানসুরিয়্যাহ, নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের জন্য মাদরাসা নাসিরিয়্যাহ, রুকনুদ্দীন বিবারস আল-জাশিনকিরের জন্য খানকাহ বিবারসিয়্যাহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যা আমিরগণ নির্মাণ করেছিলেন এবং সেগুলোকে বিশেষ যত্ন ও সম্মানের সাথে পরিচালনা করতেন।

আল-আযহারের বিষয়টি হলো, প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাদিস চর্চার ক্ষেত্রে এটি তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো গুরুত্ব পায়নি। ফাতিমি আমলে এটি রাষ্ট্রের ইসলামি ও দাপ্তরিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হতো। এর প্রাঙ্গণে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ ও দুই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হতো। এর চত্বরে খলিফাগণ জনগণের সাথে মিলিত হয়ে নসিহত করতেন, দিকনির্দেশনা দিতেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানাতেন। এর মিম্বর থেকে খলিফাগণ রমজান ও ঈদের দিনগুলোতে জুমার খুতবা প্রদান করতেন।

--------------------------------------------

১ হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬২।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৭)
وكان الأزهر في عهد الفاطميين مدرسة للشيعة. وكان أول كتاب درس فيه من وضع أبي حنيفة النعمان بن محمد القيرواني الشيعي قاضي المعز لدين الله الفاطمي، أملى اختصاره ابنه علي بن النعمان على جماعة بالأزهر، ثم توالى أبناء النعمان -وهم من المغرب- على التدريس بالأزهر كما درس بالأزهر أيضًا كتاب في الفقه الشيعي، ألفه يعقوب بن كلس وزير المعز لدين الله والعزيز بالله، وجعله أساسًا لدروسه في شهر رمضان، وكان تحضر إلى هذه الدروس عامة الناس وخاصتهم، ويجلس في حلقته الفقهاء والقضاة وكبار رجال الدولة.

وكان ابن كلس أول من فكر في اتخاذ الأزهر معهدًا علميًّا للدراسة، واستأذن العزيز بالله في تعيين جماعة من الفقهاء للتدريس بالأزهر، فأسهم الأزهر بنصيب كبير في الحركة العلمية أيام المعز والعزيز، فكانت تعقد به حلقات لدراسة الدين واللغة والأدب والقراءات والنحو والمنطق والفلك، وكانت الدراسة فيه تجري على الأنماط الآتية:

1- حلقات يجتمع فيها من يرغبون في الاستماع إلى تلاوة القرآن الكريم وشرحه، وتضم كثيرًا ممن اتصفوا بالورع والتقوى واهتموا بتفهم كتاب الله.

2- حلقات أخرى يجلس فيها الطلاب إلى المدرسين يتناقشون معهم في المسائل العلمية، ويأخذون عنهم بعض أماليهم.

3- محاضرات تلقى في أيام الاثنين والثلاثاء من كل أسبوع، يحضرها كثير من المثقفين، ويعقبها مناقشات في موضوع المحاضرة من فقه أو حديث أو تفسير.

4- وإلى جانب هذا كانت هناك دروس دينية لمن أراد فهم الدين من النساء.

ثم قامت الدولة الأيوبية السنية على أنقاض الدولة الفاطمية الشيعية، فقضت على كل أثر للشيعة، وكان الأزهر هدفًا أساسيًّا للحملة على التشيع، باعتباره ركن الشيعة الركين، فأبطل صلاح الدين الجمعة فيه، وظل كذلك نحو مائة عام لا تقام فيه الجمعة، وكان ذلك إيذانًا بإهمال شأنه، فهبطت مكانته، وركدت في جنباته الحياة العلمية التي عهدها في العصر الفاطمي، وعمل الأيوبيون على صرف الناس عن الأزهر، وأغروا علماءه بترك التدريس فيه، والقيام بتدريس العلوم في مدارسهم التي أسسوها، وأغدقوا عليها الأموال لتنافس الأزهر وتزعزع مكانته العلمية، فتوزع الأزهر إلى مدارس الأيوبيين، وحمل الأزهريون أنفسهم لواء الحركة العلمية في هذه المدارس التي لم تكن في الحقيقة إلا امتدادًا لحركة الأزهر، وتوسيعًا لدائرتها في الآفاق.

وكانت مواد الدراسة في هذه المدراس الأيوبية السنية القرآن والقراءات والنحو والصرف والبلاغة والتفسير والحديث وفيه المذاهب الأربعة وأصول الفقه والرياضيات والمنطق والكلام.
ফাতিমীয় শাসনামলে আল-আজহার ছিল শিয়াদের একটি শিক্ষাকেন্দ্র। সেখানে সর্বপ্রথম যে কিতাবটি পাঠদান করা হয়েছিল, তা ছিল ফাতিমীয় খলিফা আল-মুইজ লি-দিনিল্লাহর প্রধান বিচারক আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কায়রাওয়ানি আশ-শিয়ির রচনা। তাঁর পুত্র আলী ইবনে আন-নুমান আল-আজহারে সমবেত একটি দলের সামনে এর সংক্ষিপ্তসার পাঠ বা ইমলা (أملى) করেছিলেন। এরপর মাগরিব অঞ্চল থেকে আগত নুমান পরিবারের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে আল-আজহারে পাঠদান অব্যাহত রাখেন। এছাড়াও সেখানে শিয়া ফিকহ শাস্ত্রের একটি কিতাব পড়ানো হতো, যা আল-মুইজ লি-দিনিল্লাহ ও আল-আজিজ বিল্লাহর উজির ইয়াকুব ইবনে কিলিস রচনা করেছিলেন। তিনি একে রমজান মাসের পাঠদানের মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। এসব পাঠদানে সাধারণ ও বিশিষ্ট উভয় শ্রেণির মানুষ উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর মজলিসে ফকিহ, বিচারক ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বসতেন।

ইবনে কিলিসই প্রথম আল-আজহারকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন এবং আল-আজহারে একদল ফকিহ নিয়োগের জন্য আল-আজিজ বিল্লাহর অনুমতি প্রার্থনা করেন। ফলে আল-মুইজ ও আল-আজিজের সময়ে আল-আজহার জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনে ব্যাপক অবদান রাখে। সেখানে দ্বীন, ভাষা, সাহিত্য, কিরাত, ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার জন্য বিভিন্ন পাঠচক্র বা হালাকা অনুষ্ঠিত হতো। তখনকার শিক্ষা কার্যক্রম নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো:

১- এমন সব হালাকা যেখানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও এর ব্যাখ্যা শোনার জন্য আগ্রহীরা সমবেত হতেন। এতে এমন অনেক ব্যক্তি অংশ নিতেন যারা পরহেজগার ও মুত্তাকি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আল্লাহর কিতাব অনুধাবনের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

২- অন্যান্য হালাকা যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে বসতেন, তাঁদের সাথে বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শ্রুতলিপি (أمالي) গ্রহণ করতেন।

৩- প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও মঙ্গলবার আয়োজিত বিশেষ লেকচার, যেখানে অনেক শিক্ষিত মানুষ উপস্থিত থাকতেন। লেকচার পরবর্তী সময়ে ফিকহ, হাদিস কিংবা তাফসিরের আলোচিত বিষয়ের ওপর পর্যালোচনা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হতো।

৪- এর পাশাপাশি নারীদের মধ্য থেকে যারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চাইতেন, তাঁদের জন্য পৃথক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল।

পরবর্তীতে শিয়া ফাতিমীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর সুন্নি আইয়ুবীয় সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা শিয়াদের সমস্ত প্রভাব ও চিহ্ন বিলুপ্ত করে দেয়। আল-আজহার ছিল এই শিয়া-বিরোধী অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু, কারণ এটি ছিল শিয়া মতবাদের প্রধান দুর্গ। সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী সেখানে জুমার নামাজ বন্ধ করে দেন এবং প্রায় একশত বছর সেখানে জুমা স্থগিত থাকে। এটি ছিল মূলত আল-আজহারের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ। ফলে এর মর্যাদা হ্রাস পায় এবং ফাতিমীয় যুগে যে জ্ঞানতাত্ত্বিক চাঞ্চল্য ছিল তা স্থবির হয়ে পড়ে। আইয়ুবীয়রা জনগণকে আল-আজহার থেকে বিমুখ করার চেষ্টা করেন এবং এখানকার আলেমদের তাঁদের প্রতিষ্ঠিত নতুন নতুন মাদরাসাসমূহে পাঠদানের জন্য প্রলুব্ধ করেন। তাঁরা এসব মাদরাসায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন যেন সেগুলো আল-আজহারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে এবং এর শিক্ষা-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। ফলে আল-আজহারের জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারা আইয়ুবীয় মাদরাসাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আজহারি আলেমরা মূলত সেই মাদরাসাগুলোতেই জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, যা প্রকৃতপক্ষে আল-আজহারের শিক্ষা কার্যক্রমেরই একটি সম্প্রসারণ ও পরিধিকে দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত করা মাত্র ছিল।

এই সুন্নি আইয়ুবীয় মাদরাসাসমূহের পাঠ্যবিষয় ছিল কুরআন, কিরাত, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), তাফসির ও হাদিস। এছাড়াও পাঠ্যক্রমে ছিল চার মাজহাবের ফিকহ, ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه), গণিত, যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল কালাম।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم قامت الدولة المملوكية في مصر: فانتعش الأزهر بعد ما أصابه من نكسة على يد الأيوبين وعادت إليه مكانته العلمية من جديد، ليكون حفيظًا على لغة القرآن وعلوم الشريعة، وكان الظاهر بيبرس أكثر سلاطين المماليك عناية بالأزهر، فأمر بإعادة خطبة الجمعة إليه، بعد أن ظلت معطلة منذ أيام صلاح الدين.

وعني الكثير من سلاطين المماليك بعمارة الجامع الأزهر ووقف الأموال عليه، ومنح الهبات لعلمائه وطلابه، وعادت إليه حلقات الدروس التي ازدهرت بعلوم الفقه والتفسير والحديث، وعمر بمجالس الوعظ، وجعل لكل قراءة من القراءات السبع مدرس خاص، ودرس فيه إلى جوار ذلك الفلسفة والعلوم الطبيعية، وتردد على حلقاته الأعيان وكبار رجال الدولة، وعين له إمام يصلي بالناس ويخطب فيهم خطبة الجمعة، كما عين له مشرف يتولى مختلف شئونه، وكان كبار رجال الدولة يتقربون إلى الله برعاية كافة نواحيه الإدارية والمالية والتعميرية، وبلغ عدد طلابه سبعمائة وخمسين من أبناء الريف المصري ومن الفرس والزنوج وشمالي إفريقية، وخصص رواق لإقامة كل من هذه الجنسيات.

وعادت للأزهر مكانته كمركز لأعمال الدولة في عهد المماليك: ففيه كانت تتلى المنشورات والقوانين، وشغل علماؤه وظائف كبرى في ذلك العهد ومن بينها القضاء والإفتاء، كما حملوا مسئولياتهم كاملة في الهداية والتوجيه، وكان لهم أكبر الأثر في توجيه السياسة العليا في البلاد.

وبذلك برزت مكانة الأزهر في العصر المملوكي، فقد كان مسجدًا للعبادة، وجامعة عليا للدراسات الإسلامية والعربية، ومركزا لأعمال الدولة الرسمية، كما كان مثابة للناس وأمنًا، تلتمس فيه الهداية، ويفزع إليه المظلوم، ويأوي إليه الفقراء والحجاج، والمتصوفة وطلاب العلم.

ومنذ ذلك الحين وحتى وقتنا هذا والأزهر حارس على الدين والعلم، يحمل لواء الحق إلى الناس في كل أقطار الأرض، وينشر دعوة الإسلام على أساس من الكتاب والسنة، لم ينحرف ولم يزغ، لم يدع إلى باطل، ولم يقصر في الدعوة إلى الحق، يفتح أبوابه للدارسين من كافة أنحاء الدنيا، يتلقاهم حفيًّا بهم حريصًا على تثقيفهم، يتزودون بين جنباته من علوم الدين واللغة والمنطق والفلسفة والكلام والرياضيات، كما يتعلمون غيرهما من الثقافات الإنسانية، ويفيدون من شيوخه ما أفاء الله عليهم من علوم، ثم يصدرون عنه وقد تزودوا بحصيلة يفيد منها طالبو الدين والدنيا معا، وينتفع بها العامة والعلماء على حد سواء.

ذاع صيت الأزهر وعظم خطره، واهتم به على مر الأيام ملوك الدنيا وزعماء العالم، وتعلقت به آمال المسلمين في شتى الأنحاء، وأحبوا مصر من أجل الأزهر، فأصبحت به قبلة السائحين، ومنار الحائرين، ومهوى أفئدة الملايين من المسلمين.

এরপর মিশরে মামলুক সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়: ফলে আইয়ুবীয়দের হাতে যে বিপর্যয়ের শিকার আল-আজহার হয়েছিল, তা থেকে এটি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং পুনরায় তার ইলমি মর্যাদা ফিরে পায়। এটি কুরআনের ভাষা এবং শরীয়াহ বিজ্ঞানের সংরক্ষক হয়ে ওঠে। মামলুক সুলতানদের মধ্যে আল-জাহির বিবারস আল-আজহারের প্রতি সবচেয়ে বেশি যত্নশীল ছিলেন; তিনি সেখানে জুমার খুতবা পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন, যা সালাহউদ্দিনের সময় থেকে বন্ধ ছিল।

অনেক মামলুক সুলতান আল-আজহার মসজিদের স্থাপত্য ও উন্নয়নে এবং এর ওয়াকফ সম্পত্তির প্রতি মনোনিবেশ করেন। তাঁরা এর আলেম ও ছাত্রদের বিভিন্ন অনুদান প্রদান করেন। সেখানে পুনরায় দরসের হালকাগুলো ফিরে আসে যা ফিকহ, তাফসির ও হাদিস বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। এটি নসিহতের মজলিস দ্বারা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং সাত কেরাআতের প্রত্যেকটির জন্য একজন বিশেষ শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। এর পাশাপাশি দর্শন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানও সেখানে পড়ানো হতো। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এর দরসের হালকাগুলোতে উপস্থিত হতেন। সেখানে একজন ইমাম নিযুক্ত করা হয় যিনি নামাজ পড়াতেন এবং জুমার খুতবা দিতেন। এছাড়া এর বিভিন্ন বিষয় দেখাশোনার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এর প্রশাসনিক, আর্থিক ও নির্মাণ সংক্রান্ত সকল দিক দেখাশোনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করতেন। এর ছাত্র সংখ্যা মিশরের গ্রামাঞ্চল, পারস্য, কৃষ্ণাঙ্গ অঞ্চল এবং উত্তর আফ্রিকার সাতশ পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছিল এবং এই প্রতিটি জাতির বসবাসের জন্য পৃথক ছাত্রাবাস বরাদ্দ করা হয়েছিল।

মামলুক যুগে আল-আজহারের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে মর্যাদা ফিরে আসে: এখানে সরকারি ফরমান ও আইনসমূহ পাঠ করা হতো। সে যুগের আলেমগণ বিচারব্যবস্থা ও ফতোয়া প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা পথপ্রদর্শন ও দিকনির্দেশনার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের উচ্চতর নীতি নির্ধারণে তাঁদের ব্যাপক প্রভাব ছিল।

এভাবে মামলুক যুগে আল-আজহারের মর্যাদা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে; এটি ছিল ইবাদতের একটি মসজিদ, ইসলামি ও আরবি শিক্ষার একটি উচ্চতর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক কার্যাবলীর একটি কেন্দ্র। এটি মানুষের জন্য আশ্রয় ও নিরাপত্তার স্থল ছিল, যেখানে হেদায়েত অন্বেষণ করা হতো, মজলুমরা আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসত এবং দরিদ্র, হাজি, সুফি ও ইলম অন্বেষণকারীরা এখানে আশ্রয় গ্রহণ করত।

সেই সময় থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত আল-আজহার দ্বীন ও ইলমের প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। এটি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের কাছে হকের ঝাণ্ডা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করছে। এটি কখনো বিচ্যুত হয়নি বা সত্য থেকে সরে যায়নি; কখনো বাতিলের দিকে ডাকেনি এবং হকের দাওয়াত দিতে অবহেলা করেনি। এটি সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে, তাদের পরম সমাদরে গ্রহণ করে এবং সুশিক্ষিত করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। শিক্ষার্থীরা এখানে দ্বীন, ভাষা, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, ইলমুল কালাম ও গণিত বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। এছাড়া তারা অন্যান্য মানবিক সংস্কৃতিও শেখে এবং এর শায়খদের কাছ থেকে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয়। অতঃপর তারা সেখান থেকে এমন সম্পদ নিয়ে বিদায় নেয় যা থেকে দ্বীন ও দুনিয়া অন্বেষণকারীরা একত্রে লাভবান হয় এবং সাধারণ মানুষ ও আলেম সমাজ একইভাবে উপকৃত হয়।

আল-আজহারের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। যুগে যুগে বিশ্বের রাজা-বাদশাহ ও বিশ্বনেতারা এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের আশা-ভরসা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আল-আজহারের কারণেই তারা মিশরকে ভালোবেসেছে। ফলে এটি পর্যটকদের গন্তব্য, দিশেহারাদের আলোকবর্তিকা এবং কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ের মণিকোঠায় পরিণত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৯)
وله أن أمة أرادت أن تبلغ ما بلغته مصر عن طريق الأزهر من مكانة سامية، وقيادة روحية لدول العالم الإسلامي، لما استطاعت ذلك ولو بذلت في سبيله أضعاف ما تنفقه على الدعاية لنفسها لمئات السنين.

إن عالمًا واحدًا يوفده الأزهر إلى أي بلد إسلامي في العالم، ويتمكن من أداء رسالته على الوجه الأكمل يستطيع -مع توفيق الله وحسن رعايته- أن يؤثر في ذلك البلد تأثيرًا طيبًا لا تستطيعه كل أجهزة الدعاية والإعلام.

إن الأزهر هو الورقة الرابحة لمصر حتى الآن، تستطيع من خلاله -بعد تدعيمه والعناية بشأنه- أن تتصدر به دول العالم، وأن تستعيد به الكثير مما ضاع في فترات الضعف والتخاذل.

إنه الدعامة الطيبة للمسلمين في كل آفاق الأرض، يستطيعون أن يؤكدوا دوره في نشر تعاليم الإسلام، ويلتفوا حول ما ينادي به من دعوة إلى العمل بالكتاب والسنة، والتأليف بين القلوب لتجتمع على كلمة الله.

إن تعاليم الدين تفعل في النفوس فعل السحر، وقد حمى الله الدين بالأزهر، وما من عالم من علماء الإسلام في أي بلد من بلاد الدنيا منذ ألف سنة أو يزيد إلا وللأزهر في عنقه دين وله عليه فضل، ومن أجل هذا تعلق المسلمون عن طريق علمائهم بالأزهر، وأحبوا البلد الذي حل فيه الأزهر، وتعمقت جذور هذا الحب على تتابع الأجيال منذ مئات السنين، فأوفدوا إليه أبناءهم من أقاصي الأرض، واستعذبوا مفارقتهم -وهم فلذات الأكباد- في سبيل طلب العلم فيه لأزمان قد تمتد إلى سنوات وسنوات، استجابة لدعوة الحق تبارك وتعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} 1.

وإذا كان علينا أن نربط بين الأزهر في علوم الدين، وبين حظه من علوم الحديث والسنة، فإننا نكتفي بأن نشير إلى أن انفتاح الأزهر في عصر المماليك، واستقباله للدارسين من أهل مصر والوافدين عليه، ممن كان لهم دور خطير في علوم السنة من أمثال شيخ الإسلام ابن حجر والإمام العيني والسخاوي والسيوطي يقضي بأن يكون للأزهر جانب، موفور من تخصصات هؤلاء وقد ورد في تراجم بعضهم تصريح بأنه كان يدرس الحديث في الأزهر، وأن بعضهم كان يقيم فيه، مثل شيخ الإسلام زكريا الأنصاري، وقد جاء في ترجمة عبد الرحيم العباسي أنه كان ممن يدرسون الحديث بالأزهر، وفي هذا القدر ما يحقق الجانب المنشود من مدرسة الحديث في مصر في هذه الجامعة العظيمة.

--------------------------------------------

1 سورة التوبة، من الآية: 122.
কোনো জাতির পক্ষেই আল-আজহারের মাধ্যমে মিসর যে সুউচ্চ মর্যাদা এবং বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর জন্য যে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব লাভ করেছে, তা অর্জন করা সম্ভব হতো না; এমনকি তারা যদি কয়েকশ বছর ধরে নিজেদের প্রচারের জন্য যা ব্যয় করে তার কয়েকগুণও এ পথে ব্যয় করত।

আল-আজহার বিশ্বের যেকোনো মুসলিম দেশে একজন আলিমকে প্রেরণ করলে এবং তিনি যদি তাঁর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হন, তবে আল্লাহর তৌফিক ও তাঁর সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে তিনি সেই দেশে এমন ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, যা প্রচার ও গণমাধ্যমের সকল যন্ত্র মিলেও করতে সক্ষম নয়।

আল-আজহার আজ অবধি মিসরের জন্য একটি সফল হাতিয়ার; একে শক্তিশালী করার মাধ্যমে এবং এর যথাযথ যত্ন নেওয়ার মধ্য দিয়ে মিসর বিশ্বের দেশগুলোর নেতৃত্বে আসীন হতে পারে এবং এর মাধ্যমেই দুর্বলতা ও স্থবিরতার যুগে হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছুই পুনরুদ্ধার করতে পারে।

এটি পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মুসলিমদের জন্য এক কল্যাণময় স্তম্ভ; তারা ইসলামের শিক্ষা প্রচারে আল-আজহারের ভূমিকা সুসংহত করতে পারে এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার যে উদাত্ত আহ্বান এটি জানায় এবং আল্লাহর কালিমার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তরের মেলবন্ধন তৈরির যে ডাক দেয়, তার চারপাশে তারা সমবেত হতে পারে।

ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের অন্তরে জাদুকরী প্রভাব ফেলে। আল্লাহ তাআলা আল-আজহারের মাধ্যমে দ্বীনকে হিফাজত করেছেন। গত এক হাজার বছর বা তারও বেশি সময় ধরে বিশ্বের যেকোনো দেশের এমন কোনো ইসলামী পণ্ডিত বা আলিম নেই, যাঁর ওপর আল-আজহারের ঋণ ও অনুগ্রহ নেই। একারণেই মুসলিমগণ তাঁদের আলিমদের মাধ্যমে আল-আজহারের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন এবং যে ভূখণ্ডে আল-আজহার অবস্থিত, সেই দেশকে ভালোবেসেছেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শত শত বছর ধরে এই ভালোবাসার শিকড় অত্যন্ত গভীর হয়েছে। ফলে তাঁরা পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে তাঁদের সন্তানদের এখানে পাঠিয়েছেন এবং ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে তাঁদের—কলিজার টুকরো সন্তানদের—বিচ্ছেদ অম্লান বদনে বরণ করে নিয়েছেন। তাঁরা মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন: “তবে তাদের প্রত্যেকটি বড় দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে, তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সাবধান হতে পারে।” ১

আমরা যদি ধর্মীয় জ্ঞানবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আল-আজহারের অবদানের সাথে হাদিস ও সুন্নাহ শাস্ত্রের যোগসূত্র স্থাপন করতে চাই, তবে কেবল এটুকু উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে যে, মামলুক যুগে আল-আজহারের দ্বার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়া এবং মিসরীয় ও বহিরাগত শিক্ষার্থীদের জন্য এর দুয়ার খুলে দেওয়া—যাদের মধ্যে সুন্নাহ শাস্ত্রের (علوم السنة) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার, ইমাম আইনি, সাখাভি এবং সুয়ুতি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তা এটাই নির্দেশ করে যে, আল-আজহারে এই মনীষীদের বিশেষায়িত জ্ঞানের এক বিশাল অংশ বিদ্যমান ছিল। তাঁদের কয়েকজনের জীবনীতে (تراجم) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁরা আল-আজহারে হাদিস পাঠদান করতেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে অবস্থানও করতেন, যেমন শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারি। আব্দুর রহিম আল-আব্বাসির জীবনীতে (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল-আজহারে হাদিস পাঠদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই মহান বিশ্ববিদ্যালয়ে মিসরের হাদিস শাস্ত্রীয় ধারার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই তথ্যটুকুই যথেষ্ট।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২২ এর অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১০)
لقد احتضن الأزهر الكتاب والسنة، وتخرج فيه علماء التفسير والحديث، وأخذ هؤلاء علوم الدين عمن قبلهم من الأعلام، وهؤلاء عمن قبلهم، وهكذا في سلسلة تمتد على الأجيال إلى عصر الصحابة رضوان الله عليهم، وهم الذين كانوا همزة الوصل بيننا وبين ذلك العهد النبوي الكريم.

فلنبدأ -بعون الله- في بيان أشهر من عرفنا من الصحابة الذين نزلوا مصر، وكانوا الدعامة الأولى في الدراسات الدينية الإسلامية -ومن بينها علوم الحديث- ثم نتبعهم -بإذن الله- بذكر التابعين وأتباعهم، ثم نصل بهذه السلسلة المباركة من الأعلام في الحديث إلى الفترة المحددة لموضوع هذا البحث، وعلى الله قصد السبيل.
আল-আযহার কুরআন ও সুন্নাহকে ধারণ করেছে এবং এখান থেকেই তাফসির ও হাদিসের আলেমগণ শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। এই ব্যক্তিবর্গ তাঁদের পূর্ববর্তী বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে দীনের জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে; এভাবে একটি পরম্পরা (سلسلة) প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাহাবিদের (الصحابة) যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তাঁরাই ছিলেন আমাদের এবং সেই মহান নববী যুগের মধ্যকার যোগসূত্র।

অতএব আমরা—আল্লাহর সাহায্যে—মিশরে আগত সাহাবিদের (الصحابة) মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত ব্যক্তিবর্গের বিবরণের মাধ্যমে শুরু করছি, যাঁরা ছিলেন ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষা—যার অন্তর্ভুক্ত হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)—এর প্রথম ভিত্তি। অতঃপর আমরা—আল্লাহর ইচ্ছায়—তাবেয়িদের (التابعين) এবং তাঁদের অনুসারীদের (أتباعهم) বর্ণনার মাধ্যমে অগ্রসর হব। এরপর হাদিস বিশারদদের এই বরকতময় পরম্পরার (سلسلة) মাধ্যমে আমরা এই গবেষণার বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময়কাল পর্যন্ত পৌঁছাব। আর সঠিক পথ প্রদর্শন আল্লাহরই জিম্মায়।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول: الصحابة والتابعون وأتباعهم

‌‌مدخل

…

الصحابة والتابعون وأتباعهم:

تمهيد:

في عرضنا لمن أخذ عنهم أعلام المحدثين في مصر نتعرض لذكر الصحابة والتابعين الذين نزلوا مصر بسبب الفتح وغيره، أو كانوا من أبنائها الأصليين ممن أدركوا شرف الصحبة أو التبع، فنترجم لمشاهير منهم، وقد يكون من بين هؤلاء الصحابة من لم تكن له رواية للحديث، ولكننا نورده باعتبار منزلته في صدر الإسلام، وأنه كان صورة مجسدة للكثير من الفضائل التي تحلى بها عامة المسلمين في العصر الأول، ولا سيما من كان منهم وثيق الصلة بالرسول صلى الله عليه وسلم، فإنه وإن لم يرو عن النبي صلى الله عليه وسلم حديثًا قوليًّا إلا أن حياته وأفعاله كانت تنطق بما كان عليه السلف الصالح من اقتداء بنبينا صلوات الله وسلامه عليه.

وبين يدي تراجم الصحابة نتقدم بكلمات موجزة يتبين منها: من هو الصحابي؟ وبم تعرف الصحبة؟ ولماذا أجمعت الأمة على نسبة العدالة والتوثيق إلى الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين؟ كما يتبين التابعي وتابعه ممن كانوا أوعية للعلم ونقلة للدين.

من هو الصحابي 1؟:

المحققون من أهل الحديث -كالبخاري وأحمد بن حنبل- على أن الصحابي هو من لقي النبي صلى الله عليه وسلم وهو مميز مؤمنًا به ومات على الإسلام، طالت مجالسته له أو قصرت، روى عنه أو لم يرو، غزا معه أو لم يغز.

قال البخاري في صحيحه: من صحب النبي صلى الله عليه وسلم، أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه.

وقال أبو المظفر السمعاني: أصحاب الحديث يطلقون اسم الصحابي على كل من روى عنه صلى الله عليه وسلم حديثًا أو كلمة، ويتوسعون حتى يعدون من رآه رؤية من الصحابة. فلشرف منزلته صلى الله عليه وسلم أعطوا كل من رآه حكم الصحبة، وذكر أن اسم الصحابي من حيث اللغة والظاهر يقع على من طالت صحبته للنبي صلى الله عليه وسلم وكثرت مجالسته له على طريق التبع له والأخذ عنه. قال: وهذا طريق الأصوليين.

وقال ابن الصلاح في مقدمته: روينا عن شعبة عن موسى السيلاني -وأثنى عليه خيرًا- قال: "أتيت أنس بن مالك فقلت: هل بقي من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من أحد غيرك؟ قال: "بقي ناس من الأعراب قد رأوه، فأما من صحبه فلا" إسناده جيد حدث به مسلم بحضرة أبي زرعة -وهذا القول قريب من قول الأصوليين.

--------------------------------------------

1 الحديث والمحدثون ص129.
প্রথম অধ্যায়: সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعون) ও তাঁদের অনুসারীগণ (أتباع)

ভূমিকা

…

সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعون) ও তাঁদের অনুসারীগণ (أتباع):

উপস্থাপনা:

মিশরের বরেণ্য মুহাদ্দিসগণ যাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা সেই সকল সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈগণের (تابعون) আলোচনা করব, যাঁরা দেশবিজয় বা অন্য কোনো কারণে মিশরে আগমন করেছিলেন, অথবা যাঁরা মিশরের আদি অধিবাসী ছিলেন এবং সাহাবী (صحابة) বা তাবিঈ (تابعي) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। আমরা তাঁদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবনী আলোচনা করব। এই সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারেন যাঁদের থেকে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি, কিন্তু আমরা ইসলামের প্রাথমিক যুগে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার কথা বিবেচনা করে তাঁদের নাম উল্লেখ করছি। তাঁরা ছিলেন সেই সকল গুণাবলির মূর্ত প্রতীক যা প্রথম যুগের সাধারণ মুসলমানগণ ধারণ করতেন; বিশেষ করে যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখতেন। কেননা তিনি যদিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি কোনো মৌখিক হাদিস বর্ণনা করেননি, তবুও তাঁর জীবন ও কর্ম সালাফে সালেহীনের সেই আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটাত যা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।

সাহাবীদের (صحابة) জীবনী আলোচনার প্রাক্কালে আমরা সংক্ষিপ্ত কিছু কথা উপস্থাপন করছি যা থেকে স্পষ্ট হবে: সাহাবী (صحابي) কে? সাহাবী হওয়া কিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়? এবং কেন সমগ্র উম্মত সাহাবীদের (صحابة) ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভরযোগ্যতা (توثيق)-এর বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে? পাশাপাশি তাবিঈ (تابعي) এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের (تابع تابعه) পরিচয়ও স্পষ্ট হবে, যাঁরা ছিলেন ইলমের আধার এবং দ্বীনের বাহক।

সাহাবী (صحابي) কে? ১:

হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মধ্যে ইমাম বুখারী ও আহমাদ ইবনে হাম্বলের মতো গবেষকগণ (محققون) এই মত পোষণ করেন যে, সাহাবী (صحابي) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় সচেতন বা সমঝদার (مميز) হয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর সাথে অবস্থানের সময় দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত, তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করে থাকুন বা না থাকুন, তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকুন বা না থাকুন।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ বুখারী গ্রন্থে বলেছেন: মুসলমানদের মধ্যে যিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য পেয়েছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনি তাঁর সাহাবীদের (أصحاب) অন্তর্ভুক্ত।

আবু মুজাফফর আস-সামআনী বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) সাহাবী (صحابي) শব্দটি এমন প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন যিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস অথবা একটি শব্দও বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এ ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেন, এমনকি যিনি তাঁকে কেবল এক নজর দেখেছেন তাঁকেও সাহাবীদের (صحابة) অন্তর্ভুক্ত করেন। মূলত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে তাঁরা তাঁর দর্শন লাভকারী প্রত্যেককে সাহাবী হওয়ার হুকুম প্রদান করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাব্দিক ও বাহ্যিক দিক থেকে সাহাবী (صحابي) শব্দটি কেবল তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাঁদের সান্নিধ্য দীর্ঘ ছিল এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জনের লক্ষে অধিককাল তাঁর মজলিসে অবস্থান করেছেন। তিনি বলেন: এটিই হলো উসূলবিদদের (أصوليين) পদ্ধতি।

ইবনে আস-সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমাহ গ্রন্থে বলেছেন: আমরা শু’বা থেকে, তিনি মুসা আস-সায়লানী—যাঁর তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেছেন—সূত্রে বর্ণনা করেছি, তিনি (মুসা) বলেন: "আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের (أصحاب) মধ্যে আর কেউ কি অবশিষ্ট আছেন? তিনি বললেন: 'মরুচারী আরবদের (বেদুঈন) মধ্যে এমন কিছু লোক অবশিষ্ট আছেন যারা তাঁকে দেখেছেন, তবে যারা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছেন (صحبه) এমন কেউ নেই'।" এর সনদ (إسناد) উত্তম (جيد); ইমাম মুসলিম এটি আবু জুরআ-র উপস্থিতিতে বর্ণনা করেছেন—আর এই মতটি উসূলবিদদের (أصوليين) মতের কাছাকাছি।

--------------------------------------------

১. আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, পৃ. ১২৯।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
بم تعرف الصحبة:

تعرف الصحبة بواحد مما يأتي:

1- بالتواتر كما في الخلفاء الأربعة.

2- أو بالاستفاضة والشهرة القاصرة عن التواتر، كما في ضمام بن ثعلبة وعكاشة بن محصن.

3- أو بأن يروى عن آحاد الصحابة أنه صحابي، كما في حممة بن أبي حممة الدوسي الذي مات بأصبهان مبطونًا، فإن أبا موسى الأشعري شهد له أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم.

4- أو بقوله وإخباره عن نفسه بأنه صحابي بعد ثبوت عدالته ومعاصرته للنبي صلى الله عليه وسلم.

5- وتعرف أيضًا بإخبار أحد التابعين أن فلانًا من الصحابة، بناء على قبول التزكية من الواحد العدل وهو الراجح.

إجماع الأمة على عدالة الصحابة وتوثيقهم:

شهد الله ورسوله بعدالة الصحابة، فقال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآَزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} 1.

وروى الترمذي وابن حبان في صحيحهما عن عبد الله بن مغفل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الله الله في أصحابي لا تتخذوهم غرضًا بعدي، فمن أحبهم فبحبي أحبهم، ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم، ومن آذاهم فقد آذاني، ومن آذاني فقد آذى الله، ومن آذى الله يوشك أن يأخذه".

هذان دليلان نقليان على تعديل الله ورسوله للصحابة رضي الله عنهم، وهل يمكن أن يكون بعد تعديل الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم مقال لأحد من خلق الله يحكم فيه للصحابة بما يحكم به على عامة الناس أو لهم بالجرح أو التعديل؟

إنه لو لم تقم الآيات القرآنية والأحاديث النبوية شاهد صدق على تعديلهم لأوجب الحال ذلك، فقد هاجروا في الله وجاهدوا مع رسوله، ونصروا الإسلام وبذلوا في سبيله المهج، والأرواح وضحوا بالمال والأهل والولد في سبيل نشره والدعوة إليه، وحفظو القرآن والسنة ونقلوها إلى من بعدهم، وكانوا أمناء على تعاليم الدين، في قوة من الإيمان وصدق من اليقين.

--------------------------------------------

1 سورة الفتح: 29.
সাহাবী হওয়ার পরিচয় কীভাবে জানা যায়:

নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলোর কোনো একটির মাধ্যমে সাহাবী হওয়া সাব্যস্ত হয়:

1- মুতাওয়াতির বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (تواتر) মাধ্যমে, যেমনটি চার খলিফার ক্ষেত্রে হয়েছে।

2- অথবা এমন প্রসিদ্ধি (استفاضة) ও খ্যাতির (شهرة) মাধ্যমে যা মুতাওয়াতিরের (تواتر) পর্যায়ে না পৌঁছালেও ব্যাপক, যেমন দিমাম ইবনে সা'লাবা এবং উকাশা ইবনে মিহসান-এর ক্ষেত্রে হয়েছে।

3- অথবা যদি কোনো একক সাহাবীর বর্ণনা (آحاد) থেকে জানা যায় যে তিনি একজন সাহাবী, যেমন হুমামাহ ইবনে আবি হুমামাহ আদ-দাওসি-এর ক্ষেত্রে হয়েছে, যিনি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে ইসফাহানে ইন্তেকাল করেছিলেন। কেননা আবু মুসা আশআরি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শুনতে দেখেছেন।

4- অথবা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমকালীন হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তার নিজের দাবির মাধ্যমে যে, তিনি একজন সাহাবী।

5- এছাড়া কোনো একজন তাবেয়ীর (تابعين) তথ্য দেওয়ার মাধ্যমেও জানা যায় যে অমুক একজন সাহাবী। এটি একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির (عدل) পক্ষ থেকে চারিত্রিক বিশুদ্ধতা প্রমাণের (تزكية) স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে বলা হয় এবং এটিই অধিক সঠিক (راجح)।

সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) প্রদানের বিষয়ে উম্মতের ঐকমত্য (إجماع):

আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সাক্ষ্য দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে দয়াশীল। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইনজিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ, যেমন একটি চারাগাছ, যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং কাণ্ডের ওপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে, যা চাষীকে আনন্দিত করে যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।} 1.

তিরমিযি এবং ইবনে হিব্বান তাদের সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তাদেরকে সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত করো না। যারা তাদের ভালোবাসবে, তারা আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসবে। আর যারা তাদের ঘৃণা করবে, তারা আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাদের ঘৃণা করবে। যারা তাদের কষ্ট দিল, তারা মূলত আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে মূলত আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দিল, অচিরেই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।"

এগুলো হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে সাহাবীগণের (রা.) ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের (تعديل) দুটি দালিলিক প্রমাণ। আর মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের (تعديل) পর কি আল্লাহর কোনো সৃষ্টির পক্ষে এমন অবকাশ থাকে যে, সে সাধারণ মানুষের ওপর প্রয়োগকৃত নিয়মে সাহাবীদের বিচার করবে অথবা তাদের দোষারোপ (جرح) কিংবা গুণের (تعديل) বিচার করবে?

যদি কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসসমূহ তাদের ন্যায়পরায়ণতার (تعديل) সত্য সাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান না-ও থাকত, তবুও তাদের সামগ্রিক অবস্থাই তা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কেননা তারা আল্লাহর জন্য হিজরত করেছেন, তাঁর রাসুলের সাথে জিহাদ করেছেন, ইসলামকে সাহায্য করেছেন এবং এর পথে নিজেদের প্রাণ ও আত্মা উৎসর্গ করেছেন। তারা দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে নিজেদের সম্পদ, পরিবার ও সন্তান বিসর্জন দিয়েছেন। তারা কুরআন ও সুন্নাহ সংরক্ষণ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন। ঈমানের দৃঢ়তা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে তারা দ্বীনের শিক্ষা প্রচারের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আমানতদার ছিলেন।

--------------------------------------------

1 সুরা আল-ফাতহ: ২৯।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال أبو زرعة الرازي: إذا رأيت الرجل ينتقص أحدًا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعلم أنه زنديق، وذلك أن الرسول حق، والقرآن حق، وما جاء به حق، وإنما أدى ذلك كله إلينا الصحابة، وهؤلاء الزنادقة يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة، فالجرح بهم أولى.

قال ابن الصلاح: ثم إن الأمة مجمعة على تعديل جميع الصحابة، ومن لابس الفتن منهم فكذلك بإجماع العلماء الذين يعتد بهم فيه، إحسانًا للظن بهم، ونظرًا إلى ما تمهد لهم من المآثر، وكأن الله سبحانه وتعالى أتاح الإجماع على ذلك لكونهم نقلة الشريعة.

أما بعد: فإن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم هم وزراؤه وجنوده، وخلصاؤه وأهل محبته، يكفيهم شرفًا أن يشيد الله عز وجل بهم في كتابه الكريم ليبقى هذا الإطراء الإلهي أثرًا خالدًا يدوم على الزمن ما يبقى الزمن، فقد استجابوا لداعي الحق ابتغاء مرضاته، وحبًّا لرسوله الكريم، ذلك الحب الذي ملك عليهم نفوسهم فانقادوا له إيمانًا بما جاء به، وكانوا معه نصراء دعوته يشدون أزره، وأمناء سره ينفذون أمره.

أحب الصحابة الرسول صلى الله عليه وسلم حبًّا ملأ قلوبهم، وسيطر على وجدانهم ومشاعرهم حتى جعل أحدهم يقول وهو يلفظ أنفاسه الأخيرة مجاهدًا في إحدى الغزوات: والله ما أحب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم في مكانه تصيبه شوكة.

لقد غمر هذا الحب نفوسهم فامتلأت بالرضا والطمأنينة، وترجموه بجوارحهم انقيادًا لله وطاعة لرسوله، واتباعًا له صلى الله عليه وسلم فيما يأمر به، واجتنابًا لما ينهى عنه، ووعيًا كريمًا لكل ما يفعل وما يقول: فحفظوا قوله، وحكوا فعله، وكانوا صورا حية للمسلم الكامل الذي يرضى الله ورسوله عنه، وصدق عليهم قول الله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 1.

لقد اعتبر الرسول صلى الله عليه وسلم الصحابة أصفياءه وخاصته، وجنوده وأهل محبته، فقربهم وأثنى عليهم، ومدحهم ودافع عنهم بهذا القول الكريم: "لا تسبوا أصحابي، لا تسبوا أصحابي، فوالذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبًا ما أدرك مد أحدهم ولا نصيفه" 2.

لقد اختارهم الله عز وجل لتأييد نبيه ومساندة رسوله، واصطفاهم لحمل الرسالة عنه، وتبليغها إلى الأجيال من بعده، فكانوا حملة الدين، ونقلة العلم، وحفظة القرآن، ورواة السنة، انتشروا في أقطار الأرض دعاة بالقول والعمل، هداة بالكتاب والسنة، وتلقى

--------------------------------------------

1 سورة التوبة: 100.

2 أخرجه مسلم ج16 ص92.
আবু যুরআ আর-রাজি বলেন: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে সে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে কাউকে খাটো করছে, তখন জেনে রেখো যে সে একজন পথভ্রষ্ট ধর্মত্যাগী (زنديق)। এর কারণ হলো, রাসুল সত্য, কুরআন সত্য এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা-ও সত্য। আর এই সব কিছু আমাদের কাছে সাহাবীগণই পৌঁছে দিয়েছেন। এই ধর্মত্যাগীরা (الزنادقة) আমাদের সাক্ষীদের অযোগ্য সাব্যস্ত (يجرحوا) করতে চায় যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করে দিতে পারে; অথচ তাদেরই অযোগ্য সাব্যস্ত করা (الجرح) অধিকতর সংগত।

ইবনুল সালাহ বলেন: অতঃপর উম্মত সকল সাহাবীকে ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার (تعديل) বিষয়ে একমত হয়েছে। আর তাঁদের মধ্যে যারা ফিতনায় জড়িয়েছিলেন, গ্রহণযোগ্য ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য অনুযায়ী তাঁরাও একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁদের প্রতি সুধারণা পোষণ এবং তাঁদের সুদীর্ঘ গৌরবময় কার্যাবলীর প্রতি দৃষ্টিপাত করে সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের শরীয়তের বাহক হওয়ার কারণে এ বিষয়ে ঐকমত্যের (الإجماع) সুযোগ করে দিয়েছেন।

আম্মা বা'দ: নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ হলেন তাঁর উজির ও সৈন্যবাহিনী এবং তাঁর একান্ত সুহৃদ ও ভালোবাসার পাত্র। তাঁদের জন্য এই মর্যাদাটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাঁদের প্রশংসা করেছেন, যাতে এই ঐশী গুণগান সময়ের পরিক্রমায় এক চিরস্থায়ী নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান থাকে। তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং তাঁর সম্মানিত রাসুলের প্রতি ভালোবাসার টানে সত্যের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। সেই ভালোবাসা তাঁদের সত্তাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছিল যে, তাঁরা তাঁর আনীত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনে তাঁর অনুগত হয়েছিলেন। তাঁরা তাঁর দাওয়াতের সহায়ক ছিলেন যারা তাঁর হাতকে শক্তিশালী করেছিলেন এবং তাঁর গোপনীয় বিষয়ের আমানতদার ছিলেন যারা তাঁর আদেশ বাস্তবায়ন করতেন।

সাহাবীগণ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন গভীর ভালোবাসায় সিক্ত করেছিলেন যা তাঁদের অন্তরকে পরিপূর্ণ করেছিল এবং তাঁদের অস্তিত্ব ও অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করেছিল; এমনকি তাঁদের কেউ যুদ্ধে মুজাহিদ হিসেবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময়ও বলতেন: আল্লাহর কসম, আমি এটিও পছন্দ করি না যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিজ স্থানে অবস্থানকালে একটি কাঁটার দ্বারাও আঘাতপ্রাপ্ত হোন।

এই ভালোবাসা তাঁদের অন্তরাত্মাকে প্লাবিত করেছিল, ফলে তা সন্তুষ্টি ও প্রশান্তিতে ভরে উঠেছিল। তাঁরা আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসুলের অনুসরণের মাধ্যমে এবং তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাঁদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা সেই ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি যা কিছু বলতেন বা করতেন তার প্রতি তাঁরা অত্যন্ত সচেতন ছিলেন; ফলে তাঁরা তাঁর বাণীসমূহ মুখস্থ করেছেন এবং তাঁর কর্মসমূহ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা ছিলেন এমন একজন পূর্ণাঙ্গ মুসলিমের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যাঁর ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সন্তুষ্ট। তাঁদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী সত্য হয়েছে: {আর যারা হিজরতকারী ও আনসারদের মধ্যে প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।} ১।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে তাঁর নিবিড় বন্ধু, ঘনিষ্ঠ জন, সৈন্যবাহিনী এবং ভালোবাসার পাত্র হিসেবে গণ্য করতেন। তিনি তাঁদেরকে কাছে টেনে নিয়েছেন, তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং এই মহৎ বাণীর মাধ্যমে তাঁদের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না, তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবে তা তাঁদের এক মুদ (এক অঞ্জলি) বা তার অর্ধেক পরিমাণ সদকার সওয়াবের সমান হবে না।" ২।

মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর সমর্থন ও তাঁর রাসুলের সাহায্যের জন্য মনোনীত করেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে রিসালাতের আমানত বহন করার জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদেরকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং তাঁরা ছিলেন দ্বীনের ধারক, ইলমের বাহক, কুরআনের সংরক্ষক এবং সুন্নাহর বর্ণনাকারী (رواة)। তাঁরা পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে কথা ও কাজের মাধ্যমে আহ্বানকারী এবং কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে পথপ্রদর্শক হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং গ্রহণ করেছিলেন—

--------------------------------------------

১ সূরা আত-তাওবাহ: ১০০।

২ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ৯২।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৬)
عنهم التابعون ما حملوا، وبلغوه بأمانة إلى من بعدهم نقيًّا خالصًا كما أراد الله ورسوله، ونقله أتباع التابعين إلى من جاء بعدهم من الأجيال في كل قطر ومصر محوطًا بالرعاية، مدعمًا بالإسناد، محفوظًا بوعد الله عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.

إن في ذكر أعلام الصحابة الذين دخلوا مصر يحملون بأيمانهم أعلام الهدى ومشاعل النور، يروون عن النبي صلى الله عليه وسلم قوله وفعله، وينقلون حركاته وسكناته، في سلمه وحربه، وفي فتوحه وغزواته، ثم في ذكر من نقل ذلك عنهم من أعلام التابعين وتابعيهم، ثم من جاء بعد ذلك من رواة الحديث ونقلته خلفًا عن سلف، كل منهم يسلم إلى من بعده ما تلقاه من هذه المعارف حريصًا على سلامتها، باذلًا أقصى الجهد في صيانتها من الشوائب، وحياطتها من الدخيل، لكي تتلقاها الأجيال منه نقية كما تحملها إن في كل ذلك تدعيمًا لهذه الدراسة المصرية التي لم تنشط من فراغ، ولم توجد في الفترة التي تتناولها فيها من عدم، وإنما ارتكزت على أساس تميزت به شرعة الإسلام في مسارها عبر القرون، وتوثقت به علومها ومعارفها من بين سائر الأديان.

أما التابعي: فهو من لقي الصحابي مؤمنًا، وكلما استفاد منه وروى عنه كان أوثق في التبع.

وتابع التابعي: هو من لقي التابعين مؤمنًا؛ وكلما زادت استفادته من التابعين ارتفع في درجة التبع، وهكذا.

وفي مجال دراستنا هذه نستعرض أبرز من شرفت بهم مصر من أعلام الصحابة والتابعين وأتباعهم، ممن جاءوا مع الفتح الإسلامي أو بعده، أو كانوا من أهل مصر، ممن نقلوا إليه من علوم هذا الدين الحنيف ما كان أساسًا لمدرسة الحديث في مصر، ثم نستعرض أسماء المشاهير ممن أخذ عنهم السنة حتى أسلموها إلى أعلامنا الأجلاء في الفترة التي اخترناها لهذه الدراسة، وسوف تكون عنايتنا -بإذن الله- في تراجم هؤلاء الأعلام بارزة في تحقيق أسمائهم وألقابهم وكناهم، ورحلاتهم في طلب العلم، ثم في بيان شيوخهم وتلاميذهم، وما قيل في تقويمهم -فيما عدا الصحابة فإنهم يجلون عن ذلك- وتاريخ ولادتهم أو وفاتهم في حدود ما تسعفنا به المراجع، وما نجد فيها من نقول معتمدة لعلماء الجرح والتعديل.

وبعد: فهذا بيان بأسماء أشهر من كان بمصر من نقلة علوم الدين، ممن كان لهم أبلغ الأثر في رواية السنة، نذكرهم مرتين زمنيًّا بحسب الوفاة لكل منهم، وسوف نبذل -بإذن الله- جهدنا في ترجمة هؤلاء الأعلام بما يعرف بهم، بعد الرجوع إلى المصادر الأولى في تراجم الرجال،

--------------------------------------------

1 سورة الحجر: 9.

তাবেয়ীগণ (التابعون) তাঁদের (সাহাবীগণের) নিকট থেকে অর্জিত জ্ঞান গ্রহণ করেছেন এবং তা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পৌঁছে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধভাবে যেমনটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চেয়েছিলেন। অতঃপর তাবে-তাবেয়ীগণ (أتباع التابعين) তা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট প্রতিটি জনপদ ও শহরে পৌঁছে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং সনদ (الإسناد) দ্বারা সুদৃঢ় অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। আর এটি মহান আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ: "নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" ১

সেই সব বরেণ্য সাহাবীগণ (الصحابة), যারা হিদায়াতের ঝাণ্ডা ও নূরের মশাল হাতে মিশরে প্রবেশ করেছিলেন, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর কথা ও কাজ বর্ণনা (روى) করেছেন এবং তাঁর শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায়, বিজয় ও অভিযানে তাঁর প্রতিটি গতিবিধি ও স্থিরতা বর্ণনা করেছেন—তাঁদের কথা স্মরণ করার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একইভাবে সেই সব বরেণ্য তাবেয়ীগণ (التابعون) ও তাবে-তাবেয়ীগণ (أتباع التابعين), যারা তাঁদের কাছ থেকে তা বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাদিসের বর্ণনাকারীগণ (رواة), যারা পূর্বসূরী থেকে উত্তরসূরীরূপে ধারাবাহিকভাবে তা গ্রহণ করেছেন—তাঁদের আলোচনাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের অর্জিত এই জ্ঞানসমূহ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতা রক্ষায় অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা এই ইলমকে সব ধরনের কালিমা ও বিজাতীয় অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যাতে পরবর্তী প্রজন্মসমূহ এটি ঠিক তেমনই স্বচ্ছ অবস্থায় পায় যেমনটি তাঁরা লাভ করেছিলেন। এই সবকিছুর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মিশরীয় ধারার এই গবেষণার সুদৃঢ় ভিত্তি, যা শূন্য থেকে তৈরি হয়নি কিংবা এটি যে সময়কালকে ধারণ করে তা অস্তিত্বহীন কিছু ছিল না। বরং এটি গড়ে উঠেছে সেই ভিত্তির ওপর যার মাধ্যমে ইসলামের শরীয়াহ শতাব্দীকাল ধরে বিশিষ্টতা লাভ করেছে এবং অন্যান্য সকল ধর্মের তুলনায় যার জ্ঞান ও বিজ্ঞান সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তাবেয়ী (التابعي): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে সাহাবীর (الصحابي) সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তিনি সাহাবী থেকে যত বেশি উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তাবেয়ী হিসেবে তিনি তত বেশি নির্ভরযোগ্য (أوثق) বলে গণ্য হয়েছেন।

তাবে-তাবেয়ী (تابع التابعي): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে তাবেয়ীগণের (التابعين) সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তাবেয়ীগণের কাছ থেকে তাঁর জ্ঞান অর্জনের মাত্রা যত বেশি হয়েছে, তিনি তাবে-তাবেয়ী হিসেবে তত উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন, এভাবেই পর্যায়ক্রমে।

আমাদের এই গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা মিশরের সেই সমস্ত প্রথিতযশা সাহাবীগণ (الصحابة), তাবেয়ীগণ (التابعون) এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরব, যাঁদের আগমনে মিশর ধন্য হয়েছে; চাই তাঁরা ইসলামি বিজয়ের সাথে এসেছেন কিংবা তার পরে, অথবা তাঁরা মিশরেরই অধিবাসী ছিলেন। তাঁরা এই দ্বীন-ই-হানিফের সেই সকল জ্ঞান সেখানে পৌঁছে দিয়েছেন যা মিশরে হাদিস শাস্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এরপর আমরা সেই সব প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করব যাঁদের কাছ থেকে সুন্নাহ গ্রহণ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তাঁরা আমাদের মনোনীত সময়কালের মহান মনীষীদের নিকট তা হস্তান্তর করেছেন। ইনশাআল্লাহ, এই বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم) আলোচনায় আমাদের বিশেষ মনোযোগ থাকবে তাঁদের নাম, লকব এবং কুনিয়াত (উপনাম) সঠিকভাবে নির্ণয় করা এবং ইলম অন্বেষণে তাঁদের সফরের বর্ণনার ওপর। এরপর আমরা তাঁদের শাইখ বা শিক্ষক এবং ছাত্রদের বিবরণ প্রদান করব এবং তাঁদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে—সাহাবীগণ (الصحابة) ব্যতীত, কারণ তাঁরা এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে—তা তুলে ধরব। এছাড়া তথ্যসূত্র অনুযায়ী তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতিগুলো উল্লেখ করব।

পরিশেষে, এটি মিশরের সেই সকল প্রসিদ্ধ দ্বীনি ইলমের বাহকদের নামের একটি বিবরণ, সুন্নাহ বর্ণনায় যাঁদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। আমরা তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুসন অনুযায়ী কালানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব। ইনশাআল্লাহ, বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم الرجال) সংক্রান্ত মৌলিক উৎসসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা এই মহান মনীষীদের এমনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব যা তাঁদের যথাযথ পরিচয় তুলে ধরে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হিজর: ৯।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الصحابة:

1- أبو ذر الغفاري: جندب بن جنادة -وقيل: يزيد بن عبد الله، وقيل: بربر بن جنادة، وقيل: جندب بن سكن، وقيل: خلف بن عبد الله- أسلم قديمًا بمكة وكان من فضلاء الصحابة ونبلائهم وقرائهم، قال ابن الربيع: شهد فتح مصر واختط بها، ولهم عنه عشرون حديثًا، وقد سكن مصر مدة، ثم خرج منها لما رأى اثنين يتنازعان في موضع لبنة كما أمره رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك، وقد أورد صاحب الإصابة قصة إسلامه، روى أبو ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم، وروى عنه أنس وابن عباس وأبو إدريس الخولاني وزيد بن وهب الجهني والأحنف بن قيس وجبير بن نفير وعبد الرحمن بن تميم وسعيد بن المسيب وخالد بن وهبان ابن خالة أبي ذر، وامرأة أبي ذر وعبد الله بن الصامت وخرشة بن الحر وزيد بن ظبيان وخلق كثير، له واحد وثمانون ومائتا حديث، وكان أحد النجباء ألحقه عمر بالبدريين وإن لم يشهد بدرًا، وكان يوازي ابن مسعود في العلم وقال فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما أقلت الغبراء ولا أظلت الخضراء أصدق لهجة من أبي ذر" أخرجه أبو داود وأحمد بن عبد الله بن عمرو بن العاص، مات رحمه الله بالربذة سنة إحدى وثلاثين وقيل: اثنتين وثلاثين1.

2- عقبة بن عامر بن عبس الجهني أبو عمرو، كان من أحسن الناس صوتًا بالقرآن، قال الذهبي: صحابي شهد فتح مصر، روى عن النبي صلى الله عليه وسلم كثيرًا، وروى عنه جماعة من الصحابة والتابعين منهم ابن عباس وأبو أمامة وجبير بن نفير وبعجة بن عبد الله الجهني وأبو إدريس الخولاني وخلق من أهل مصر، قال أبو سعيد بن يونس: كان قارئًا عالمًا بالفرائض والفقه فصيح اللسان شاعرًا كاتبًا، وهو أحد من جمع القرآن، قال: ورأيت مصحفه بمصر على غير تأليف مصحف عثمان وفي آخره: كتبه عقبة بن عامر بيده، قال خليفة بن خياط في تاريخه: مات سنة ثمان وخمسين عقبة بن عامر الجهني2.

3- عبد الله بن عمرو بن العاص بن وائل بن هاشم بن سعيد بن سهم القرشي السهمي كنيته أبو محمد، ويقال: أبو عبد الرحمن، يقال: كان اسمه العاص فغيره النبي صلى الله عليه وسلم إلى عبد الله، روى عن النبي صلى الله عليه وسلم كثيرًا وعن عمر وأبي الدرداء ومعاذ وابن عوف وعن والده عمرو، له سبعمائة حديث، قال أبو نعيم: حدث عنه من الصحابة ابن عمر وأبو أمامة والمسور والسائب بن يزيد وأبو الطفيل وعدد كثير من التابعين، قال في الإصابة: منهم سعيد بن المسيب وعروة وطاوس وأبو العباس الشاعر وعطاء بن يسار وعكرمة … وخلق، قال ابن الربيع: شهد فتح مصر واختط بها ولأهلها عنه أكثر من مائة حديث، وقال ابن سعد: أسلم قبل أبيه ولم يكن بين مولدهما إلا اثنتنا عشرة سنة، قال الواقدي: مات بالشام سنة خمس وستين وهو يومئذ ابن اثنتين وسبعين سنة وقال ابن البرقي: مات بمكة وقيل: بالطائف وقيل: بمصر3.

--------------------------------------------

1 الإصابة ج4 ص62، والخلاصة ص378، وشذرات الذهب ج1 ص39.

2 الإصابة ج2 ص489.

3 الإصابة ج2 ص351، والخلاصة ص176.
‌সাহাবীগণ (الصحابة):

১- আবু যর আল-গিফারী: জুনদুব বিন জুনাদাহ -মতান্তরে: ইয়াযিদ বিন আব্দুল্লাহ, মতান্তরে: বারবার বিন জুনাদাহ, মতান্তরে: জুনদুব বিন সাকান, মতান্তরে: খালাফ বিন আব্দুল্লাহ- তিনি মক্কায় ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের (فضلاء الصحابة), তাঁদের মধ্যে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ও ক্বারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনুর রবী‘ বলেছেন: তিনি মিশর বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন। মিশরীয়দের নিকট তাঁর সূত্রে ২০টি হাদিস বর্ণিত আছে। তিনি কিছুদিন মিশরে বসবাস করেছিলেন, অতঃপর যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ অনুযায়ী দুই ব্যক্তিকে একটি ইটের জায়গার জন্য বিবাদে লিপ্ত হতে দেখলেন, তখন সেখান থেকে বের হয়ে যান। ‘আল-ইসabah’ গ্রন্থের লেখক তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আবু যর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর থেকে আনাস, ইবনে আব্বাস, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী, যায়িদ বিন ওয়াহাব আল-জুহানি, আল-আহনাফ বিন কায়েস, জুবায়ের বিন নুফাইর, আব্দুর রহমান বিন তামীম, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আবু যরের ভাগ্নে খালিদ বিন ওয়াহবান, আবু যরের স্ত্রী, আব্দুল্লাহ বিন আস-সামিত, খারশাহ বিন আল-হুর, যায়িদ বিন জাবিয়ান এবং আরও বহু লোক বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২৮১টি। তিনি উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের (النجباء) একজন ছিলেন; উমর (রা.) তাঁকে বদরী সাহাবীদের (البدريين) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যদিও তিনি বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না। ইলমের ক্ষেত্রে তিনি ইবনে মাসউদের সমকক্ষ ছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আবু যরের চেয়ে অধিক সত্যভাষী (أصدق لهجة) আর কাউকে জমিন বহন করেনি এবং আকাশ ছায়া দেয়নি।" এটি আবু দাউদ এবং আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস বর্ণনা করেছেন। তিনি (রহ.) ৩১ হিজরীতে মতান্তরে ৩২ হিজরীতে রাবাযা নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।

২- উকবাহ বিন আমির বিন আবস আল-জুহানি আবু আমর; তিনি কুরআন তিলাওয়াতে মানুষের মধ্যে সুন্দরতম কণ্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন। আয-যাহাবী বলেন: তিনি একজন সাহাবী (صحابي) যিনি মিশর বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবীদের (صحابة) একটি দল ও তাবিঈগণ (تابعين) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে ইবনে আব্বাস, আবু উমামাহ, জুবায়ের বিন নুফাইর, বাহজাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুহানি, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী এবং মিশরের বহু লোক রয়েছেন। আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেন: তিনি একজন ক্বারী এবং ফারায়িয (الفرائض) ও ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে পণ্ডিত, সাবলীল ভাষী, কবি ও লেখক ছিলেন। তিনি কুরআন সংকলনকারীদের একজন। তিনি আরও বলেন: আমি মিশরে তাঁর মুসহাফ দেখেছি যা উসমানী মুসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী ছিল না এবং এর শেষে লেখা ছিল: "উকবাহ বিন আমির নিজ হাতে এটি লিখেছেন।" খলিফা বিন খইয়াত তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন: ৫৮ হিজরীতে উকবাহ বিন আমির আল-জুহানি ইন্তেকাল করেন।

৩- আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস বিন ওয়ায়িল বিন হাশিম বিন সাঈদ বিন সাহম আল-কুরাশী আস-সাহমী, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ, মতান্তরে: আবু আব্দুর রহমান। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর নাম ছিল আল-আস, পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিবর্তন করে আব্দুল্লাহ রাখেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং উমর, আবু দারদা, মুয়াজ, ইবনে আউফ ও তাঁর পিতা আমর থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা সাতশত। আবু নুয়াইম বলেন: তাঁর থেকে সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে ইবনে উমর, আবু উমামাহ, আল-মিসওয়ার, আস-সাইব বিন ইয়াযিদ, আবু তুফাইল এবং বিপুল সংখ্যক তাবিঈ (تابعين) বর্ণনা করেছেন। ‘আল-ইসabah’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁদের মধ্যে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ, তাউস, আবু আব্বাস আশ-শাঈর, আতা বিন ইয়াসার, ইকরামা... এবং আরও অনেকে রয়েছেন। ইবনুর রবী‘ বলেছেন: তিনি মিশর বিজয়ে অংশ নেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন। মিশরের অধিবাসীদের কাছে তাঁর সূত্রে ১০০টির বেশি হাদিস বর্ণিত আছে। ইবনে সাদ বলেন: তিনি তাঁর পিতার আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁদের উভয়ের বয়সের ব্যবধান ছিল মাত্র ১২ বছর। আল-ওয়াকিদী বলেন: তিনি ৬৫ হিজরীতে সিরিয়ায় ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছর। ইবনুল বারকী বলেন: তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে: তায়েফে, আবার মতান্তরে: মিশরে।

--------------------------------------------

১ আল-ইসabah, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬২; আল-খুলাসাহ, পৃষ্ঠা ৩৭৮; এবং শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৯।

২ আল-ইসabah, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৮৯।

৩ আল-ইসabah, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫১; এবং আল-খুলাসাহ, পৃষ্ঠা ১৭৬।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌التابعون وأتباعهم ومن جاء بعدهم:

1- أبو الخير مرثد بن عبد الله اليزني:

مفتي أهل مصر، ويزن من حمير، روى عن أبي أيوب الأنصاري وأبي بصرة الغفاري وعقبة بن عامر الجهني وتفقه عليه، كما روى عن زيد بن ثابت وعبد الله بن عمرو وعدة، وعنه عبد الرحمن بن شماسة وجعفر بن ربيعة ويزيد بن أبي حبيب وغيرهم، قال سعيد بن عفير: مات سنة تسعين1.

2- مكحول:

أبو عبد الله بن أبي مسلم الهذلي عالم أهل الشام الفقيه الحافظ، كان مولى لامرأة من هذيل، قال مكحول عن نفسه: عتقت بمصر فلم أدع بها علمًا إلا حويته فيما أرى، ثم أتيت العراق ثم المدينة فلم أدع بهما علمًا إلا حويته فيما أرى، ثم أتيت الشام فغربلتها، وقال أبو حاتم: ما أعلم بالشام أفقه من مكحول، قال في الخلاصة: روى عن كثير من الصحابة منهم واثلة بن الأسقع وأنس وأبي أمامة الباهلي وخلق، وعنه أيوب بن موسى وزيد بن واقد والأوزاعي وخلق قال ابن كثير: كان نوبيًّا، وقال سليمان بن عبد الرحمن: مات سنة ثلاث عشرة ومائة2.

3- نافع:

الإمام العلم أبو عبد الله العدوي المدني، روى عن مولاه ابن عمر وعائشة وأبي لبابة وأبي هريرة وأم سلمة ورافع بن خديج وطائفة، وعنه ابناه أبو بكر وعمر وأيوب وابن جريج ومالك والأوزاعي وعبيد الله بن عمر وابن عوف وعقيل بن خالد والليث وخلق، قال البخاري: أصح الأسانيد مالك عن نافع عن ابن عمر، وقال عبيد الله بن عمر: بعث عمر بن عبد العزيز نافعًا إلى أهل مصر يعلمهم السنن، مات رحمه الله سنة سبع عشرة ومائة3.

4- الأعرج الحافظ المقرئ:

عبد الرحمن بن هرمز أبو داود مولى ربيعة بن الحارث بن عبد الملك الهاشمي مولاهم المدني كاتب المصاحف، روى عن أبي هريرة وأبي سعيد الخدري ومعاوية وعبد الله بن بحينة وجماعة، وعنه الزهري وأبو الزناد وصالح بن كيسان ويحيى بن سعيد وعبد الله بن لهيعة وآخرون، قال الذهبي: وكان ثقة ثبتًا عالمًا مقرئًا تحول في آخر عمره إلى الإسكندرية مرابطًا فتوفي سنة سبع عشرة ومائة4.

5- يزيد بن أبي حبيب:

الإمام الكبير أبو رجاء الأزدي مولاهم المصري الفقيه، روى عن عبد الله بن الحارث الزبيدي وأبي الطفيل وسعيد بن أبي هند وعراك بن مالك وأبي الخير اليزني وعطاء وعكرمة وطائفة، وحدث عنه سعيد بن أبي أيوب وحيوة بن شريح ويحيى بن أيوب ومحمد

--------------------------------------------

1 تذكرة الحافظ ج1 ص73، والخلاصة ص318 والشذرات ج1 ص99.

2 تذكرة الحافظ ج1 ص107، والخلاصة ص331، والشذرات ج1 ص146.

3 تذكرة الحافظ ج1 ص99، والخلاصة ص343، والشذرات ج1 ص154.

4 تذكرة الحافظ ج1 ص97، والخلاصة ص200، والشذرات ج1 ص153.
তাবেয়িগণ, তাঁদের অনুসারীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীতে আগমনকারীগণ:

১- আবুল খায়ের মারছাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াজানি:

মিশরের অধিবাসীদের মুফতি, এবং ইয়াজান হলো হিমইয়ার গোত্রের একটি শাখা। তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারি, আবু বাসরা আল-গিফারি এবং উকবা বিন আমির আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। এছাড়াও তিনি জায়েদ বিন সাবিত, আব্দুল্লাহ বিন আমর এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আব্দুর রহমান বিন শুমাসাহ, জাফর বিন রাবিয়াহ, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। সাঈদ বিন উফাইর বলেন: তিনি নব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।১

২- মাকহুল:

আবু আব্দুল্লাহ বিন আবি মুসলিম আল-হুজালি, সিরিয়াবাসীদের (আহলে শাম) আলেম, ফকিহ (فقيه) এবং হাফিজ (حافظ)। তিনি হুজাইল গোত্রের এক মহিলার মুক্তদাস ছিলেন। মাকহুল নিজের সম্পর্কে বলেছেন: আমি মিশরে থাকাকালীন মুক্ত হই, সেখানে আমি এমন কোনো জ্ঞান অর্জন করতে বাকি রাখিনি যা আমার আয়ত্তে আনা সম্ভব ছিল। এরপর আমি ইরাক ও মদিনায় আসি এবং সেখানেও অর্জনের মতো সবটুকু জ্ঞান আহরণ করি। এরপর আমি সিরিয়ায় এসে তা তন্নতন্ন করে খুঁজি। আবু হাতিম বলেছেন: সিরিয়ায় মাকহুলের চেয়ে বড় ফকিহ (فقيه) আমি আর কাউকে জানি না। 'আল-খুলাসা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি ওয়াসিলা বিন আসকা, আনাস, আবু উমামা আল-বাহিলি এবং আরও অসংখ্য সাহাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আইয়ুব বিন মুসা, জায়েদ বিন ওয়াকিদ, আওজায়ি এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসির বলেছেন: তিনি নুবিয়ান বংশোদ্ভূত ছিলেন। সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান বলেন: তিনি একশ তেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।২

৩- নাফে':

সুপ্রসিদ্ধ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-আদাভি আল-মাদানি। তিনি তাঁর মনিব ইবনে উমর, আয়েশা, আবু লুবাবাহ, আবু হুরায়রা, উম্মে সালামাহ, রাফে' বিন খাদিজ এবং একদল রাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর দুই পুত্র আবু বকর ও উমর, আইয়ুব, ইবনে জুরাইজ, মালিক, আওজায়ি, উবায়দুল্লাহ বিন উমর, ইবনে আওফ, উকাইল বিন খালিদ, লাইস এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি বলেছেন: সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো মালিক—নাফে'—ইবনে উমর। উবায়দুল্লাহ বিন উমর বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ নাফে'কে মিশরের অধিবাসীদের নিকট সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি একশ সতেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩

৪- আল-আরাজ আল-হাফিজ (الحافظ) আল-মুকারি (المقرئ):

আব্দুর রহমান বিন হুরমুজ আবু দাউদ, হাশেমি বংশীয় রাবিয়াহ বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিবের মুক্তদাস, মদিনার অধিবাসী এবং পবিত্র মাসহাফের লিপিকার। তিনি আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ আল-খুদরি, মুয়াবিয়া, আব্দুল্লাহ বিন বুহাইনা এবং একদল রাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে জুহরি, আবু জিনাদ, সালিহ বিন কাইসান, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াহ এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম জাহাবি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), আলেম এবং ক্বারি (مقرئ) ছিলেন। জীবনের শেষভাগে তিনি সীমান্তবর্তী প্রহরী হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়ায় চলে যান এবং সেখানে একশ সতেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৪

৫- ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব:

বিখ্যাত ইমাম আবু রাজা আল-আজদি, তাঁদের মুক্তদাস, মিশরের অধিবাসী ফকিহ (فقيه)। তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস আল-জুবাইদি, আবু তুফাইল, সাঈদ বিন আবি হিন্দ, ইরাক বিন মালিক, আবুল খায়ের আল-ইয়াজানি, আতা, ইকরিমা এবং একদল রাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে সাঈদ বিন আবি আইয়ুব, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব এবং মুহাম্মদ...

--------------------------------------------

১ তাকিরাতুল হাফিজ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৩; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৩১৮ এবং আশ-শাজারাত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৯।

২ তাকিরাতুল হাফিজ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৭; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৩৩১ এবং আশ-শাজারাত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৬।

৩ তাকিরাতুল হাফিজ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৯; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৩৪৩ এবং আশ-শাজারাত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৪।

৪ তাকিরাতুল হাফিজ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৭; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ২০০ এবং আশ-শাজারাত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৩।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ১৯)
بن إسحاق وسليمان التيمي وابن لهيعة والليث ويزيد بن أبي أنيسة، قال ابن يونس: كان حليمًا عاقلًا، وقال الليث: يزيد عالمنا وسيدنا، وقال ابن سعد: ثقة كثير الحديث، مات سنة ثمان وعشرين ومائة1.

6- عبيد الله بن أبي جعفر الكناني:

مولاهم الإمام أبو بكر الليثي المصري الفقيه القدوة، سمع أبا سلمة بن عبد الرحمن والأعرج وحمزة بن عبد الله بن عمر وعطاء بن أبي رباح والشعبي، وعنه ابن إسحاق وعمرو بن الحارث وحيوة بن شريح وسعيد بن أبي أيوب والليث وابن لهيعة وآخرون، قال ابن سعد: كان ثقة في زمانه، وقال سليمان بن أبي داود: ما رأت عيني عالمًا زاهدًا إلا عبيد الله بن أبي جعفر، أرخ ابن العماد وفاته مقتولًا بمصر سنة اثنتين وثلاثين ومائة2.

7- عقيل بن خالد بن عقيل الأيلي:

الحافظ الحجة أبو خالد الأموي من موالي عثمان رضي الله عنه، روى عن القاسم وسالم والزهري وعكرمة وعراك بن مالك وعمرو بن شعيب، وعنه ابن أخيه سلامة بن روح ويحيى بن أيوب والليث ومفضل بن فضالة وابن لهيعة والمصريون، قال رفيقه يونس: ما أحدًا أعلم بحديث الزهري من عقيل، وثقه أحمد وابن معين، مات بمصر فجأة سنة أربع وأربعين ومائة3.

8- عمرو بن الحارث:

بن يعقوب بن عبد الله الأنصاري مولاهم أبو أمية المصري، روى عن أبيه والزهري وعمرو بن شعيب وأبي يونس مولى أبي هريرة وابن أبي مليكة وخلق، وعنه شيخاه قتادة وبكير بن الأشج والليث ومالك وابن وهب -وهو راويته- وخلق، وهو أحد الأعلام قال أبو حاتم: كان أحفظ أهل زمانه، وقال ابن وهب: ما رأيت أحفظ منه، ولو بقي لنا عمرو ما احتجنا إلى مالك، مات سنة ثمان وأربعين ومائة، وله ست وخمسون سنة4.

9- يونس بن يزيد الأيلي:

بن أبي النجاد الحافظ الثبت أبو يزيد مولى معاوية بن أبي سفيان، روى عن عكرمة والقاسم وسالم والزمهري ونافع وطائفة، وعنه الأوزاعي وعمرو بن الحارث والليث وجرير بن حازم وابن وهب وعثمان بن عمر بن فارس وآخرون. قال أحمد: ثقة، وقال أحمد بن صالح الحافظ المصري: نحن لا نقدم في الزهري على يونس أحدًا، قال أبو سعيد بن يونس: مات سنة اثنتين وخمسين ومائة5.

10- حيوة بن شريح:

بن صفوان التجيبي أبو زرعة المصري أحد العلماء الزهاد، روى عن أبي يونس مولى أبو هريرة ويزيد بن أبي حبيب وحميد بن هانئ وربيعة القصير وخلق، وعنه

--------------------------------------------

1 تذكرة الحافظ ج1 ص129 والخلاصة ص370، والشذرات ج1 ص175.

2 تذكرة الحافظ ج1 ص136، والخلاصة ص211، والشذرات ج1 ص190.

3 تذكرة الحافظ ج1 ص161 والخلاصة ص260، والشذرات ج1 ص216.

4 الخلاصة ص244 والكاشف ج2 ص326.

5 تذكرة الحافظ ج1 ص162، والخلاصة ص380، والشذرات ج1 ص233.
...ইবনে ইসহাক, সুলায়মান আল-তাইমি, ইবনে লাহিয়াহ, আল-লাইস এবং ইয়াজিদ বিন আবি আনিসাহ। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ধৈর্যশীল ও বুদ্ধিমান ছিলেন। লাইস বলেন: ইয়াজিদ আমাদের আলেম ও সরদার। ইবনে সা'দ বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ; ১২৮ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

6- উবায়দুল্লাহ বিন আবি জাফর আল-কিনানি:

তাদের আযাদকৃত দাস, ইমাম আবু বকর আল-লাইসি আল-মিসরি, ফকিহ (فقيه) এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান, আল-আরাজ, হামজাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উমর, আতা বিন আবি রাবাহ এবং আল-শা'বি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে ইসহাক, আমর বিন আল-হারিস, হাইওয়াহ বিন শুরায়হ, সাঈদ বিন আবি আইয়ুব, আল-লাইস, ইবনে লাহিয়াহ এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে সা'দ বলেন: তিনি তাঁর সময়ের নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। সুলায়মান বিন আবি দাউদ বলেন: আমার চোখ উবায়দুল্লাহ বিন আবি জাফর ব্যতীত অন্য কোনো আলেমকে দুনিয়াবিমুখ (زاهد) হিসেবে দেখেনি। ইবনে আল-ইমাদ তাঁর মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেছেন যে, ১৩২ হিজরিতে মিসরে তিনি নিহত হন।

7- উকাইল বিন খালিদ বিন উকাইল আল-আইলি:

হাফিজ (حافظ), প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة), আবু খালিদ আল-উমাবি, তিনি উসমান (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর আযাদকৃত দাসদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি কাসিম, সালিম, জুহরি, ইকরিমাহ, ইররাক বিন মালিক এবং আমর বিন শুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সালামাহ বিন রুহ, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, আল-লাইস, মুফাদদাল বিন ফাদালাহ, ইবনে লাহিয়াহ এবং মিসরীয়রা বর্ণনা করেছেন। তাঁর সঙ্গী ইউনুস বলেন: জুহরির হাদিস সম্পর্কে উকাইলের চেয়ে অধিক জ্ঞাত আর কেউ নেই। আহমাদ এবং ইবনে মাঈন তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। ১৪৪ হিজরিতে মিসরে হঠাৎ তাঁর মৃত্যু হয়।

8- আমর বিন আল-হারিস:

বিন ইয়াকুব বিন আবদুল্লাহ আনসারি, তাদের আযাদকৃত দাস, আবু উমাইয়া আল-মিসরি। তিনি তাঁর পিতা, জুহরি, আমর বিন শুআইব, আবু হুরায়রার আযাদকৃত দাস আবু ইউনুস, ইবনে আবি মুলাইকাহ এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর দুই উস্তাদ কাতাদাহ ও বুকাইর বিন আল-আশাজ্জ, আল-লাইস, মালিক, ইবনে ওয়াহাব (যিনি তাঁর বর্ণনাকারী) এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় হাফিজ (أحفظ) ছিলেন। ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি তাঁর চেয়ে বড় হাফিজ (أحفظ) দেখিনি। আমর যদি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, তবে আমাদের মালিকের প্রয়োজন হতো না। ১৪৮ হিজরিতে ৫৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

9- ইউনুস বিন ইয়াজিদ আল-আইলি:

বিন আবি আল-নাজাদ, হাফিজ (حافظ), সুদৃঢ় (ثبت), আবু ইয়াজিদ, মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ানের আযাদকৃত দাস। তিনি ইকরিমাহ, কাসিম, সালিম, জুহরি, নাফি' এবং একদল উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আওজাই, আমর বিন আল-হারিস, আল-লাইস, জারির বিন হাযিম, ইবনে ওয়াহাব, উসমান বিন উমর বিন ফারিস এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। মিসরের হাফিজ (حافظ) আহমাদ বিন সালিহ বলেন: জুহরির হাদিসের ক্ষেত্রে আমরা ইউনুসের ওপর কাউকে প্রাধান্য দেই না। আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেন: তিনি ১৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

10- হাইওয়াহ বিন শুরায়হ:

বিন সাফওয়ান আল-তুজাইবি, আবু জুরআহ আল-মিসরি, অন্যতম আলেম ও দুনিয়াবিমুখ (زاهد)। তিনি আবু ইউনুস (আবু হুরায়রার আযাদকৃত দাস), ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব, হুমাইদ বিন হানি, রাবিআহ আল-কাসির এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে...

--------------------------------------------

1 তাজকিরাতুল হাফিজ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১২৯, আল-খুলাসাহ পৃষ্ঠা ৩৭০ এবং আল-শাজারাত খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৭৫।

2 তাজকিরাতুল হাফিজ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৩৬, আল-খুলাসাহ পৃষ্ঠা ২১১ এবং আল-শাজারাত খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৯০।

3 তাজকিরাতুল হাফিজ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৬১, আল-খুলাসাহ পৃষ্ঠা ২৬০ এবং আল-শাজারাত খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ২১৬।

4 আল-খুলাসাহ পৃষ্ঠা ২৪৪ এবং আল-কাশিফ খণ্ড ২ পৃষ্ঠা ৩২৬।

5 তাজকিরাতুল হাফিজ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৬২, আল-খুলাসাহ পৃষ্ঠা ৩৮০ এবং আল-শাজারাত খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ২৩৩।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২০)
الليث وابن وهب والمقرئ وهانئ بن التوكل -آخر من حدث عنه- وابن المبارك، وثقه أحمد وابن معين والفسوي، وحيوة بن شريح صاحب كرامات وأحوال، قال يحيى بن بكير: مات سنة ثمان وخمسين ومائة1.

11- يحيى بن أيوب الغافقي المصري:

روى عن بكير بن الأشج ويزيد بن أبي حبيب وجعفر بن ربيعة، وعنه ابن وهب وسعيد بن أبي مريم والليث، وثقه ابن معين ويعقوب بن سفيان، قال أحمد: سيئ الحفظ، وقال أبو حاتم: محله الصدق ولا يحتج به، قال في الخلاصة: وقد احتج به الستة، توفي سنة ثلاث وستين ومائة2.

12- ابن لهيعة:

عبد الله بن عقبة بن لهيعة الخضرمي الغافقي المصري أبو عبد الرحمن الفقيه قاضي مصر ومسندها، روى عن عطاء وعمرو بن دينار والأعرج وابن أبي مليكة وعمرو بن شعيب وعكرمة وخلق، وعنه شعبة وعمرو بن الحرث والليث بن وهب ويحيى بن بكير والمقرئ والثوري والأوزاعي وابن المبارك، وثقه أحمد وقال: احترقت كتبه وهو صحيح الكتاب، من كتب عنه قديمًا فسماعه صحيح، وقال يحيى بن معين: ليس بالقوي. وقال مسلم: تركه وكيع ويحيى القطان وابن مهدي، قال يحيى بن بكير: مات سنة أربع وسبعين ومائة3.

13- بكر بن مضر:

بن حكم بن سليمان أبو محمد المصري، روى عن يزيد بن أبي حبيب وأبي قبيل وجعفر بن ربيعة، وعنه ابنه إسحاق وقتيبة وابن وهب وابن القاسم كان ثقة عابدًا، ولد سنة اثنتين ومائة، ومات سنة أربع وسبعين ومائة4.

14- الليث بن سعد:

بن عبد الرحمن الفهمي أبو الحارث المصري أحد الأعلام، ولد بقلقشندة سنة أربع وتسعين، وروى عن الزهري وعطاء ونافع، وابن أبي مليكة وقتادة وسعيد المقبري وصفوان بن سليم وخلائق، وعنه ابنه شعيب وابن عجلان وابن لهيعة وهشيم وابن المبارك والوليد محمد بن رمح: كان دخل الليث ثمانين ألف دينار في العام وما وجبت عليه زكاة قط، وثقه ابن معين وأحمد، وقال ابن سعد: كان ثقة كثير الحديث صحيحه، وقال الشافعي: كان الليث أفقه من مالك إلا أنه ضيعه أصحابه، قال ابن بكير: ولد سنة أربع وتسعين وتوفي سنة خمس وسبعين ومائة5.

--------------------------------------------

1 الخلاصة ص82 والكاشف ج1 ص263.

2 الخلاصة ص362 والكاشف ج3 ص250 وشذرات الذهب ج1 ص258.

3 الخلاصة ص179 والكاشف ج2 ص122 والشذرات ج1 ص283.

4 الخلاصة ص44، والكاشف ج1 ص162.

5 الخلاصة ص275، والكاشف ج3 ص13 والشذرات ج1 ص285.
আল-লাইস, ইবনে ওয়াহাব, আল-মুকরি এবং হানি বিন আত-তাওয়াক্কুল—যিনি তার থেকে সর্বশেষ বর্ণনা করেছেন—এবং ইবনুল মুবারাক; আহমদ, ইবনে মাইন এবং আল-ফাসাউয়ি তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। হাইওয়াহ বিন শুরাইহ ছিলেন কারামত ও আধ্যাত্মিক অবস্থার (أحوال) অধিকারী। ইয়াহইয়া বিন বুকাইর বলেন: তিনি ১৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।১

১১- ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-গাফেকি আল-মিসরি:

তিনি বুকাইর বিন আশাজ, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব এবং জাফর বিন রাবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইবনে ওয়াহাব, সাঈদ বিন আবি মারিয়াম এবং আল-লাইস বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাইন এবং ইয়াকুব বিন সুফিয়ান তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। আহমদ বলেছেন: তিনি দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ)। আবু হাতিম বলেছেন: তার স্থান সত্যবাদিতার স্তরে (محله الصدق), তবে তার দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না (لا يحتج به)। আল-খুলাসাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ছয়টি কিতাবের (কুতুবুস সিত্তাহ) সংকলকগণ তার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন (احتج به)। তিনি ১৬৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।২

১২- ইবনে লাহিয়াহ:

আবদুল্লাহ বিন উকবাহ বিন লাহিয়াহ আল-হাদরামি আল-গাফেকি আল-মিসরি আবু আবদুর রহমান আল-ফকিহ, মিসরের বিচারক এবং তার বর্ণনার উৎস (مسند)। তিনি আতা, আমর বিন দিনার, আল-আ’রাজ, ইবনে আবি মুলাইকাহ, আমর বিন শুয়াইব, ইকরিমা এবং একদল রাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, আমর বিন আল-হারিস, আল-লাইস বিন ওয়াহাব, ইয়াহইয়া বিন বুকাইর, আল-মুকরি, সাওরি, আওযায়ি এবং ইবনুল মুবারাক। আহমদ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন এবং বলেছেন: তার কিতাবসমূহ পুড়ে গিয়েছিল কিন্তু তার কিতাব সঠিক (صحيح الكتاب) ছিল; যারা প্রাচীনকালে (পুড়ে যাওয়ার আগে) তার থেকে লিখে নিয়েছেন তাদের শ্রবণ সহিহ (صحيح)। ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)। মুসলিম বলেছেন: ওয়াকি, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং ইবনে মাহদি তাকে বর্জন করেছেন (تركه)। ইয়াহইয়া বিন বুকাইর বলেন: তিনি ১৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩

১৩- বকর বিন মুদার:

বিন হাকাম বিন সুলাইমান আবু মুহাম্মদ আল-মিসরি। তিনি ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব, আবু কাবিল এবং জাফর বিন রাবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে তার পুত্র ইসহাক, কুতাইবাহ, ইবনে ওয়াহাব এবং ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ইবাদতগুজার (عابد) ছিলেন। তিনি ১০২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৪

১৪- আল-লাইস বিন সাদ:

বিন আবদুর রহমান আল-ফাহমি আবু আল-হারিস আল-মিসরি, অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম (أحد الأعلام)। তিনি ৯৪ হিজরিতে কালকাশান্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুহরি, আতা, নাফে, ইবনে আবি মুলাইকাহ, কাতাদাহ, সাঈদ আল-মাকবুরি, সাফওয়ান বিন সুলাইম এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন তার পুত্র শুয়াইব, ইবনে আজলান, ইবনে লাহিয়াহ, হুশাইম, ইবনুল মুবারাক এবং ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন রুমহ। আল-লাইসের বার্ষিক আয় ছিল আশি হাজার দিনার, অথচ তার ওপর কখনো জাকাত ওয়াজিব হয়নি (দানশীলতার কারণে)। ইবনে মাইন ও আহমদ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। ইবনে সাদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (كثير الحديث) ছিলেন যার হাদিস সহিহ (صحيح)। ইমাম শাফেয়ি বলেন: আল-লাইস ইমাম মালিকের চেয়েও বড় ফকিহ (أفقه) ছিলেন, কিন্তু তার ছাত্ররা তাকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করেনি। ইবনে বুকাইর বলেন: তিনি ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৫

--------------------------------------------

১ আল-খুলাসাহ পৃ. ৮২ এবং আল-কাশিফ খণ্ড ১, পৃ. ২৬৩।

২ আল-খুলাসাহ পৃ. ৩৬২, আল-কাশিফ খণ্ড ৩, পৃ. ২৫০ এবং শাযারাতুয যাহাব খণ্ড ১, পৃ. ২৫৮।

৩ আল-খুলাসাহ পৃ. ১৭৯, আল-কাশিফ খণ্ড ২, পৃ. ১২২ এবং শাযারাতুয যাহাব খণ্ড ১, পৃ. ২৮৩।

৪ আল-খুলাসাহ পৃ. ৪৪ এবং আল-কাশিফ খণ্ড ১, পৃ. ১৬২।

৫ আল-খুলাসাহ পৃ. ২৭৫, আল-কাশিফ খণ্ড ৩, পৃ. ১৩ এবং শাযারাতুয যাহাব খণ্ড ১, পৃ. ২৮৫।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২১)
15- المفضل من فضالة بن عبيد الرعيني أبو معاوية المصري الفقيه قاضي مصر، روى عن يزيد بن أبي حبيب وعقيل ويونس وعياش بن عباس القتباني، وعنه الوليد بن مسلم وقتيبة وزكريا وكان زاهدًا ورعًا قانتًا مجاب الدعوة، قال ابن يونس: ثقة وكذا قال ابن معين، وقال أبو حاتم وابن خراش: صدوق، مات سنة إحدى وثمانين ومائة1.

16- عبد الرحمن بن القاسم:

الإمام فقيه الديار المصرية أبو عبد الله العتقي مولاهم المصري سمع مالك بن أنس وتفقه به وعبد الرحمن بن شريح وبكر بن مضر ونافع بن نعيم، وعنه أصبغ بن الفرج والحارث بن مسكين وعيسى بن مثرود ومحمد بن عبد الله بن الحكم ومحمد بن سلمة المرادي، قال فيه مالك: مثله مثل جراب مملوء مسكًا، وقال النسائي: ثقة مأمون، قال يونس بن عبد الأعلى: مات سنة إحدى وتسعين ومائة2.

17- عبد الله بن وهب بن مسلم المصري الفهري -وقيل:

الفهمي- مولاهم أبو محمد الخير أحد الأعلام، روى عن يونس بن يزيد وحيوة بن شريح وأسامة الليثي ومالك والثوري وابن جريج وحنظلة بن أبي سفيان وحيي بن عبد الله المعافري. وخلق، وعنه شيخه الليث، وابن مهدي وأصبغ بن الفرج وحرملة وأحمد بن صالح وسعيد بن أبي مريم وسحنون بن سعيد والحارث بن مسكين وأبو الطاهر أحمد بن السرح وعبد الملك بن شعيب وبحر بن نصر وإبراهيم بن منذر وسعيد بن منصور وأحمد بن عبد الرحمن والربيع بن سليمان المرادي ويونس بن عبد الأعلى وخلائق، قال الذهبي: وكان ثقة حجة حافظًا مجتهدًا لا يقلد أحدًا إذا تعبد وتزهد، قال أحمد بن صالح: ما رأيت أحدًا أكثر حديثًا منه حدث بمائة ألف حديث، وقد وقع عندنا سبعون ألف حديث، وقال عبد الرحمن بن القاسم: لو مات ابن عيينة لقطعت إلى ابن وهب أكباد الإبل ما دون أحد العلم تدوينه، ذكر ابن وهب وابن القاسم عند مالك فقال: ابن القاسم فقيه وابن وهب عالم، وقال أبو طاهر بن عمرو: جاء نعي ابن وهب ونحن في مجلس ابن عيينة فقال: إنا لله وإنا إليه راجعون، أصيب المسلمون به عامة وأصبت به خاصة، قال النسائي: ابن وهب ثقة ما أعلمه روى عن ثقة حديثًا منكرًا، وقال يونس: مات في شعبان سنة سبع وتسعين ومائة3.

18- الإمام الشافعي:

محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب بن عبيد بن عبد يزيد بن هاشم بن المطلب القرشي الشافعي، نسيب رسول الله صلى الله عليه وسلم وناصر سنته

--------------------------------------------

1 الخلاصة ص330، والكاشف ج3 ص170، والشذرات ج1 ص297.

2 تذكرة الحافظ ج1 ص356 والخلاصة ص197، وشذرات الذهب ج1 ص329.

3 تذكرة الحافظ ج1 ص304، والخلاصة ص185، والشذرات ج1 ص347.
15- আল-মুফাদ্দাল ইবনে ফাদালা ইবনে উবাইদ আর-রুআইনি আবু মুয়াবিয়া আল-মিসরি। তিনি ছিলেন ফকিহ (فقيه) এবং মিসরের বিচারক। তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, উকাইল, ইউনুস এবং আইয়াশ ইবনে আব্বাস আল-কুতবানি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, কুতাইবা এবং জাকারিয়া বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন সংসারবিরাগী (زاهدًا), পরহেযগার (ورعًا), ইবাদতগুজার (قانتًا) এবং মুজাবুদ্ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়)। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة); ইবনে মাইনও অনুরূপ বলেছেন। আবু হাতিম এবং ইবনে খিরাশ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق)। তিনি ১৮১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।১

16- আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম:

মিসরীয় ভূখণ্ডের ইমাম (الإمام) ও ফকিহ (فقيه), আবু আব্দুল্লাহ আল-উতাকি, তাঁদের মুক্তদাস, মিসরীয়। তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। এছাড়াও তিনি আবদুর রহমান ইবনে শুরাইহ, বকর ইবনে মুদার এবং নাফি ইবনে নুআইম থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে আসবাগ ইবনুল ফারাজ, হারিস ইবনে মিসকিন, ঈসা ইবনে মাসরুদ, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হাকাম এবং মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-মুরাদি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তাঁর উদাহরণ হলো কস্তুরি ভর্তি একটি থলের মতো। নাসায়ি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون)। ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা বলেছেন: তিনি ১৯১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।২

17- আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুসলিম আল-মিসরি আল-ফিহরি—এবং বলা হয়ে থাকে:

আল-ফাহমি—তাঁদের মুক্তদাস, আবু মুহাম্মদ আল-খাইর, অন্যতম এক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ, হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ, উসামা আল-লাইসি, মালিক, সাওরি, ইবনে জুরাইজ, হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান এবং হাইয়ি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাআফিরিসহ অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর শিক্ষক লাইস, ইবনে মাহদি, আসবাগ ইবনুল ফারাজ, হারমালা, আহমাদ ইবনে সালিহ, সাঈদ ইবনে আবি মারিয়াম, সাহনুন ইবনে সাঈদ, হারিস ইবনে মিসকিন, আবু তাহির আহমাদ ইবনে সারহ, আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব, বাহর ইবনে নাসর, ইব্রাহিম ইবনে মুনজির, সাঈদ ইবনে মানসুর, আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান, রাবি ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদি, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা এবং এক বিশাল জামাত বর্ণনা করেছেন। ইমাম জাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), প্রমাণ (حجة), হাফেজ (حافظًا) এবং মুজতাহিদ (مجتهدًا); তিনি ইবাদত ও কৃচ্ছ্রসাধনের ক্ষেত্রে কারো অন্ধ অনুকরণ (তাকলিদ) করতেন না। আহমাদ ইবনে সালিহ বলেন: আমি তাঁর চেয়ে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী আর কাউকে দেখিনি; তিনি এক লক্ষ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে সত্তর হাজার হাদিস আমাদের হস্তগত হয়েছে। আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম বলেন: যদি ইবনে উয়ায়না মারা যেতেন, তবে আমি ইবনে ওয়াহাবের কাছে পৌঁছানোর জন্য উটের কলিজা বিদীর্ণ করে পথ চলতাম (কঠোর পরিশ্রম করতাম), কারণ ইলম সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। ইমাম মালিকের সামনে ইবনে ওয়াহাব ও ইবনুল কাসিমের উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: ইবনুল কাসিম হলেন ফকিহ (فقيه) আর ইবনে ওয়াহাব হলেন আলেম (عالم)। আবু তাহির ইবনে আমর বলেন: যখন ইবনে ওয়াহাবের মৃত্যুর সংবাদ এল, তখন আমরা ইবনে উয়ায়নার মজলিসে ছিলাম। তিনি বললেন: 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন'; তাঁর মৃত্যুতে সাধারণভাবে মুসলমানরা এবং বিশেষভাবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। নাসায়ি বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব নির্ভরযোগ্য (ثقة), আমি জানি না যে তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য রাবি থেকে কোনো মুনকার (منكرًا) হাদিস বর্ণনা করেছেন কি না। ইউনুস বলেন: তিনি ১৯৭ হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।৩

18- ইমাম শাফেয়ি:

মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনুল আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফি ইবনে সায়িব ইবনে উবায়েদ ইবনে আব্দ ইয়াজিদ ইবনে হাশিম ইবনুল মুত্তালিব আল-কুরাশি আল-শাফেয়ি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর এবং তাঁর সুন্নাহর সাহায্যকারী।

--------------------------------------------

১. আল-খুলাসাতু, পৃ. ৩৩০; আল-কাশিফ, খণ্ড ৩, পৃ. ১৭০; এবং আশ-শাজারাত, খণ্ড ১, পৃ. ২৯৭।

২. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ১, পৃ. ৩৫৬; আল-খুলাসাতু, পৃ. ১৯৭; এবং শাজারাতুজ জাহাব, খণ্ড ১, পৃ. ৩২৯।

৩. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ১, পৃ. ৩০৪; আল-খুলাসাতু, পৃ. ১৮৫; এবং আশ-শাজারাত, খণ্ড ১, পৃ. ৩৪৭।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২২)
ولد سنة خمسين ومائة بغزة، فحمل إلى مكة لما فطم فنشأ بها، وأقبل على العلوم فتفقه بمسلم الزنجي وغيره، روى عن عمه محمد بن علي وعبد العزيز بن الماجشون، ومالك وإسماعيل بن جعفر وإبراهيم بن أبي يحيى وخلق، وعنه أبو بكر الحميدي وأحمد بن حنبل والبويطي وأبو ثور وحرملة والربيع المرادي والزعفراني وأمم سواهم، وكان أحذق قريش بالرمي، وكان قبل ذلك قد برع في الشعر واللغة وأيام العرب، ثم أقبل على الحديث والفقه وجود القرآن، وكان يختمه في رمضان ستين مرة، ثم حفظ الموطأ وعرضه على مالك وأذن له مسلم بن خالد بالفتوى وهو ابن عشرين سنة، وثقه أحمد، وقال ابن معين: ليس به بأس، وقال أبو داود: ما أعلم للشافعي حديثًا خطأ، وقال أبو حاتم: صدوق، وصح عن الشافعي قوله: إذا صح الحديث فاضربوا بقولي الحائط، قال الذهبي: وكان حافظًا للحديث بصيرًا بعلله لا يقبل منه إلا ما ثبت عنده، مات رحمه الله بمصر سنة أربع ومائتين1.

19- أسد بن موسى:

بن إبراهيم بن الوليد بن عبد الملك بن مروان بن الحكم الأموي الحافظ المعروف بأسد السنة، نزل مصر وصنف التصانيف ولد عام اثنين وثلاثين ومائة، سمع شعبة والمسعودي وشيبان وابن أبي ذئب وحماد بن سلمة وعبد العزيز بن الماجشون وطبقتهم، وعنه أحمد بن صالح والربيع بن سليمان المرادي والمقدام بن داود الرعيني وأبو يزيد يوسف القراطيسي، قال النسائي: ثقة ولو لم يصنف لكان خيرًا له، وقال البخاري: هو مشهور الحديث، وقال ابن يونس: ثقة توفي في المحرم سنة اثني عشرة ومائتين2.

20- عبد الله بن يوسف التنيسي:

أبو محمد الكلاعي الدمشقي ثم التنيسي الحافظ الحجة حدث عن سعيد بن عبد العزيز وعبد الرحمن بن يزيد بن جابر ومالك والليث وطبقتهم، وعنه البخاري وأبو حاتم والذهلي ويحيى بن عثمان بن صالح وبكر بن سهل الدمياطي ويوسف بن يزيد القراطيسي ومحمد بن إسحاق الصاغاني وخلق، قال ابن معين: أثبت الناس في الموطأ عبد الله بن مسلمة القعنبي وعبد الله بن يوسف التنيسي، وثقة أبو حاتم وأبو سعيد بن يونس، وقال البخاري: كان من أثبت الشاميين، مات بمصر سنة ثماني عشرة ومائتين3.

21- عبد الله بن الزبير القرشي:

بن عيسى الأسدي أبو بكر الحميدي المكي الحافظ الفقيه أحد الأئمة، كان بمصر ملازمًا للشافعي فلما مات رجع إلى مكة، صحب ابن عيينة تسع عشرة سنة والشافعي وتفقه به، روى عن مسلم بن خالد وفضيل بن عياض وابن عيينة والداروردي،

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ ج1 ص361، والخلاصة ص377، وشذرات الذهب ج2 ص9.

2 تذكرة الحفاظ ج1 ص402، والخلاصة ص26، وشذرات الذهب ج2 ص27.

3 تذكرة الحفاظ ج2 ص404، والخلاصة ص186، وشذرات الذهب ج2 ص44.
১৫০ হিজরিতে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন, দুধপানের পর তাঁকে মক্কায় নিয়ে আসা হয় এবং তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং মুসলিম আল-জাঞ্জি ও অন্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি তাঁর চাচা মুহাম্মদ বিন আলী, আব্দুল আজিজ বিন আল-মাজিশুন, মালিক, ইসমাইল বিন জাফর, ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহিয়া এবং অসংখ্য (خلق) ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু বকর আল-হুমায়দি, আহমদ বিন হাম্বল, আল-বুওয়াইতি, আবু সাওর, হারমালা, আল-রবি আল-মুরাদি, আল-জাফরানি এবং এক বিশাল জামাত বর্ণনা করেছেন। তিনি কুরাইশদের মধ্যে তীরন্দাজিতে সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন। এর পূর্বে তিনি কবিতা, ভাষা এবং আরবদের ইতিহাসেও বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। অতঃপর তিনি হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তিলাওয়াত বিশুদ্ধকরণে মনোনিবেশ করেন। তিনি রমজান মাসে ষাটবার কুরআন খতম করতেন। এরপর তিনি মুওয়াত্তা মুখস্থ করেন এবং তা মালিকের নিকট উপস্থাপন করেন। মুসলিম বিন خالد তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেন যখন তাঁর বয়স মাত্র বিশ বছর। আহমদ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)। আবু দাউদ বলেছেন: শাফেয়ির কোনো হাদিসে আমি ভুল খুঁজে পাইনি। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق)। ইমাম শাফেয়ি থেকে এই উক্তিটি সহিহ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে: "যদি হাদিস সহিহ (صح) হয়, তবে আমার উক্তিকে দেয়ালে ছুঁড়ে মারো।" ইমাম জাহাবি বলেছেন: তিনি ছিলেন হাদিসের হাফেজ (حافظ) এবং এর ত্রুটিসমূহ (علل) সম্পর্কে প্রখর দৃষ্টির অধিকারী; তাঁর নিকট যা প্রমাণিত হতো, কেবল তা-ই তিনি গ্রহণ করতেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ২০৪ হিজরিতে মিসরে ইন্তেকাল করেন।১

১৯- আসাদ বিন মুসা:

ইবনে ইব্রাহিম বিন আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান বিন আল-হাকাম আল-উমাইয়ুয়ি। তিনি হাফেজ (الحافظ) এবং 'আসাদুস সুন্নাহ' নামে পরিচিত। তিনি মিসরে বসবাস করতেন এবং অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ১৩২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুবা, আল-মাসউদি, শায়বান, ইবনে আবি জিব, হাম্মাদ বিন সালামা, আব্দুল আজিজ বিন আল-মাজিশুন এবং তাঁদের সমসাময়িক স্তরের ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর নিকট থেকে আহমদ বিন সালিহ, আল-রবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদি, আল-মিকদাম বিন দাউদ আল-রুইনি এবং আবু ইয়াজিদ ইউসুফ আল-কারাতিসি বর্ণনা করেছেন। নাসায়ি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তিনি যদি কিতাব রচনা না করতেন তবে তাঁর জন্য ভালো হতো। বুখারি বলেছেন: তিনি হাদিসে প্রসিদ্ধ (مشهور الحديث)। ইবনে ইউনুস বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। তিনি ২১২ হিজরির মহরম মাসে ইন্তেকাল করেন।২

২০- আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-তিন্নিসি:

আবু মুহাম্মদ আল-কালাই আদ-দিমাশকি, পরবর্তীতে আল-তিন্নিসি। তিনি হাফেজ (الحافظ) এবং নির্ভরযোগ্য দলীল (الحجة)। তিনি সাইদ বিন আব্দুল আজিজ, আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির, মালিক, আল-লাইস এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বুখারি, আবু হাতিম, আল-জুহলি, ইয়াহইয়া বিন উসমান বিন সালিহ, বকর বিন সাহল আদ-দামিয়াতি, ইউসুফ বিন ইয়াজিদ আল-কারাতিসি, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-সাগানি এবং এক বিরাট জামাত বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: মুওয়াত্তার বর্ণনায় সবচেয়ে দৃঢ় (أثبت) ব্যক্তিগণ হলেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা আল-কানাবি এবং আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-তিন্নিসি। আবু হাতিম এবং আবু সাঈদ বিন ইউনুস তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقة) বলেছেন। বুখারি বলেছেন: তিনি শামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ় (أثبت) ছিলেন। তিনি ২১৮ হিজরিতে মিসরে ইন্তেকাল করেন।৩

২১- আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের আল-কুরাশি:

ইবনে ঈসা আল-আসাদি আবু বকর আল-হুমায়দি আল-মাক্কি। তিনি হাফেজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه) এবং অন্যতম প্রধান ইমাম। তিনি মিসরে ইমাম শাফেয়ির সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন, যখন তিনি ইন্তেকাল করেন তখন তিনি মক্কায় ফিরে আসেন। তিনি উনিশ বছর ইবনে উয়াইনার সান্নিধ্যে ছিলেন এবং ইমাম শাফেয়ির সাহচর্যে থেকে তাঁর নিকট ফিকহ অর্জন করেন। তিনি মুসলিম বিন খালিদ, ফুদাইল বিন ইয়াদ, ইবনে উয়াইনা এবং আদ-দারওয়ারদি থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬১; আল-খুলাসাহ, পৃষ্ঠা ৩৭৭; শাজারাতুজ জাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯।

২ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০২; আল-খুলাসাহ, পৃষ্ঠা ২৬; শাজারাতুজ জাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭।

৩ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০৪; আল-খুলাসাহ, পৃষ্ঠা ১৮৬; শাজারাতুজ জাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعنه البخاري والذهلي وأبو زرعة وأحمد بن الأزهر وسلمة بن شبيب وأبو حاتم وبشر بن موسى وخلق، قال أبو حاتم: أثبت الناس في سفيان بن عيينة الحميدي، وقال الفسوي: ما لقيت أحدًا أنصح للإسلام وأهله من الحميدي، مات رحمه الله بمكة سنة تسع عشرة ومائتين1.

22- عبد الله بن صالح:

بن محمد بن مسلم الإمام المحدث أبو صالح الجهني مولاهم المصري كاتب الليث وتلميذه، ولد سنة سبع وثلاثين ومائة، ورأى عمرو بن الحارث وسمع من موسى بن علي ومعاوية بن صالح وعبد العزيز بن الماجشون وسعيد بن عبد العزيز الدمشقي والليث بن سعد ويحيى بن أيوب ونافع بن يزيد وطبقتهم، وعنه البخاري وأبو حاتم وابن معين وسمويه والدارمي ومحمد بن إسماعيل الترمذي وإبراهيم بن ديزيل ومحمد بن عثمان بن أبي السوار، قال ابن عدي: هو عندي مستقيم الحديث لا يتعمد الكذب إلا أنه يقع منه الخطأ، وقال أبو زرعة: حسن الحديث، وأما النسائي فقال: ليس بثقة، قال ابن يونس: مات سنة ثلاث وعشرين ومائتين2.

23- سعيد بن الحكم:

بن محمد بن سالم الجمحي مولاهم الحافظ المصري بن أبي مريم أبو محمد سمع يحيى بن أيوب ونافع بن يزيد ومالكًا والليث وأبا غسان محمد بن مطرف ومحمد بن جعفر بن أبي كثير وخلق، وعنه البخاري وابن معين ومحمد بن يحيى ومحمد بن إسحاق الصاغاني والذهلي وعثمان الدارمي ويحيى بن عثمان بن صالح وخلق، قال أبو داود: هو عندي حجة، ووثقه العجلي وأبو حاتم، قال ابن يونس: كان فقيهًا ولد سنة أربع وأربعين ومائة وتوفي سنة أربع وعشرين ومائتين3.

24- أصبغ بن الفرج:

بن سعيد بن نافع الأموي مولى عمر بن عبد العزيز أبو عبد الله الوراق الفقيه المفتي المصري، ولد بعد الخمسين ومائة، وحدث عن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم وقيل: إنه أخذ عن أسامة بن زيد أيضًا وسمع من عبد العزيز والداروردي وحاتم بن إسماعيل وعيسى بن يونس وابن وهب، وبرع في الفروع، وعنه البخاري وأحمد بن الفرات وأبو حاتم وأبو الدرداء عبد العزيز المروزي وبكر بن سهل الدمياطي وأبو يزيد القراطيسي ويحيى بن عثمان بن صالح ومحمد بن عوف الحمصي، قال أبو حاتم: صدوق، قال ابن اللباد: ما انفتح لي طريق الفقه إلا من أصول أصبغ، وقال ابن يونس: كان مضطلعًا بالفقه والنظر، ولد بعد الخمسين ومائة، وتوفي يوم الأحد لأربع بقين من شوال سنة خمس وعشرين ومائتين4.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحافظ ج2 ص413، والخلاصة ص167، وشذرات الذهب ج2 ص45.

2 تذكرة الحفاظ ج1 ص388، والخلاصة ص170 وشذرات الذهب ج2 ص51.

3 تذكرة الحفاظ ج1 ص392، والخلاصة ص116، وشذرات الذهب ج2 ص53.

4 تذكرة الحفاظ ج2 ص457، والخلاصة ص33، وشذرات الذهب ج2 ص56.
এবং তার নিকট থেকে বুখারি, জুহলি, আবু জুরআহ, আহমাদ ইবনুল আজহার, সালামাহ ইবনে শাবিব, আবু হাতিম, বিশর ইবনে মুসা এবং আরও অসংখ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে হুমাইদি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت)। ফাসাবি বলেন: আমি হুমাইদির চেয়ে ইসলাম এবং মুসলিমদের অধিক হিতাকাঙ্ক্ষী আর কাউকে দেখিনি। তিনি ২১৯ হিজরি সনে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)।

২২- আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ:

ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম, ইমাম ও হাদিস বিশারদ (المحدث), আবু সালিহ আল-জুহানি, তাদের আযাদকৃত দাস, মিসরীয়। তিনি লাইসের লেখক এবং তার ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৩৭ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমর ইবনুল হারিসকে দেখেছেন এবং মুসা ইবনে আলী, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ, আবদুল আজিজ ইবনুল মাজিশুন, সাঈদ ইবনে আবদুল আজিজ আদ-দিমাশকি, লাইস ইবনে সাদ, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, নাফে ইবনে ইয়াজিদ এবং তাদের সমপর্যায়ের স্তরের বর্ণনাকারীদের থেকে শুনেছেন। তার থেকে বুখারি, আবু হাতিম, ইবনে মাইন, সামুওয়াইহ, দারিমি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তিরমিজি, ইব্রাহিম ইবনে দিজিল এবং মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবিস সাওয়ার বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি বলেন: আমার নিকট তিনি সঠিক হাদিস (مستقيم الحديث) বর্ণনাকারী, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা (كذب) বলতেন না, তবে তার থেকে ভুল (الخطأ) হয়ে যেত। আবু জুরআহ বলেন: তার হাদিস গ্রহণযোগ্য (حسن الحديث)। তবে নাসায়ি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ২২৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

২৩- সাঈদ ইবনুল হাকাম:

ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম আল-জুমাহি, তাদের আযাদকৃত দাস, মিসরীয় হাফেজ (الحافظ), ইবনে আবি মারইয়াম, আবু মুহাম্মদ। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, নাফে ইবনে ইয়াজিদ, মালিক, লাইস, আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে মুতাররিফ, মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির এবং আরও অনেকের থেকে শুনেছেন। তার থেকে বুখারি, ইবনে মাইন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, জুহলি, উসমান আদ-দারিমি, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন: তিনি আমার নিকট দলিল (حجة)। আজলি ও আবু হাতিম তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে অভিহিত করেছেন। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ফকিহ ছিলেন; ১৪৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২২৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

২৪- আসবাগ ইবনুল ফারাজ:

ইবনে সাঈদ ইবনে নাফে আল-উমাউয়ি, উমর ইবনে আবদুল আজিজের আযাদকৃত দাস, আবু আবদুল্লাহ আল-ওয়াররাক, মিসরীয় ফকিহ ও মুফতি। তিনি ১৫০ হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবদুর রহমান ইবনে জাইদ ইবনে আসলাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। বলা হয় যে, তিনি উসামা ইবনে জাইদ থেকেও বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তিনি আবদুল আজিজ, দারাওয়ারদি, হাতিম ইবনে ইসমাইল, ঈসা ইবনে ইউনুস এবং ইবনে ওয়াহাব থেকে শুনেছেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগত মাসআলাগুলোতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তার থেকে বুখারি, আহমাদ ইবনুল ফুরাত, আবু হাতিম, আবু দাউদ আবদুল আজিজ আল-মারওয়াজি, বকর ইবনে সাহল আদ-দামিয়াতি, আবু ইয়াজিদ আল-কারাতিসি, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ এবং মুহাম্মদ ইবনে আউফ আল-হিমসি বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق)। ইবনে লাব্বাদ বলেন: আসবাগের উসুল (মূলনীতি) থেকেই আমার জন্য ফিকহের পথ উন্মোচিত হয়েছে। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ফিকহ ও গবেষণায় সুদক্ষ ছিলেন। তিনি ১৫০ হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২২৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের বাকি থাকা চার দিন থাকতে (২৬ শে শাওয়াল) রবিবার মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১ তাকিরাতুল হাফেজ, ২য় খণ্ড, ৪১৩ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসাহ, ১৬৭ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।

২ তাকিরাতুল হাফেজ, ১ম খণ্ড, ৩৮৮ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসাহ, ১৭০ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ৫১ পৃষ্ঠা।

৩ তাকিরাতুল হাফেজ, ১ম খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসাহ, ১১৬ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ৫৩ পৃষ্ঠা।

৪ তাকিরাতুল হাফেজ, ২য় খণ্ড, ৪৫৭ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসাহ, ৩৩ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ৫৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৪)
25- سعيد بن كثير:

بن عفير أبو عثمان الأنصاري الإمام المصري الحافظ العلامة قاضي الديار المصرية، سمع يحيى بن أيوب ومالكًا والليث وسليمان بن بلال وابن وهب وطائفة، وعنه البخاري وأبو بكر الصاغاني وعثمان بن خرزاد وروح بن الفرج وأحمد بن حماد زغبة وأحمد بن محمد الرشديني ويحيى بن عثمان وخلق كثير، وثقه ابن عدي وغيره، وتحامل عليه الجوزجاني، وقال أبو حاتم: كان يقرأ في كتب الناس وهو صدوق، قال ابن يونس: كان مولده في سنة ست وأربعين ومائة، وتوفي في رمضان سنة ست وعشرين ومائتين1.

26- نعيم بن حماد المروزي:

الإمام الشهير أبو عبد الله الخزاعي الفرضي الأعور نزيل مصر، سمع إبراهيم بن طهمان وأبا حمزة السكري وعيسى بن عبيد الكندي وخارجة بن مصعب وأبو حاتم وبكر بن سهل الدمياطي، كما روى عنه ابن معين والذهلي وطائفة، وثقه العجلي وأحمد ويحيى، قال الخطيب: يقال: إنه أول من جمع المسند، وقال أبو زرعة: وصل أحاديث يوقفها الناس، وذكره ابن عدي في الكامل، وذكر له أحاديث منكرة ثم قال: وأرجو أن يكون باقي حديثه مستقيمًا، أخرج من مصر في فتنة القول بخلق القرآن فحبس بسامراء، قال ابن سعد والعجلي: مات في السجن سنة ثمان وعشرين ومائتين2.

27- يحيى بن عبد الله بن بكير:

المخزومي -مولاهم- المصري محدث مصر أبو زكريا الإمام الحافظ الثقة صاحب مالك والليث أكثر عنهما، كما روى عن بكر بن مضر وخلق، وعنه البخاري وحرملة بن يحيى وأبو زرعة وأبو حاتم وطائفة، قال أبو حاتم: كان يفهم هذا الشأن يكتب حديثه ولا يحتج به، وقال الذهبي: وقد علم تعنت أبي حاتم في الرجال وإلا فقد احتج به الشيخان وأين مثل ابن بكير في إمامته وبصره بالفتوى وغزارة علمه، قال بقي بن مخلد: سمع يحيى بن بكير الموطأ من مالك سبع عشرة مرة، توفي يحيى في صفر سنة إحدى وثلاثين ومائتين3.

28- حرملة بن يحيى:

بن عبد الله التجيبي -مولاهم- أبو حفص المصري الفقيه صاحب الشافعي، روى عن ابن وهب نحو مائة ألف حديث، وعن نوفل بن إسماعيل وأيوب بن سويد وبشر بن بكر التنيسي وأبي عبد الله الشافعي، وعنه مسلم والقزويني وبقي بن مخلد والحسن بن سفيان وابن قتيبة العسقلاني، قال ابن عدي: قد تبحرت في حديث حرملة وفتشته الكثير فلم أجد في حديثه ما يجب أن يضعف من أجله، وقال ابن معين: شيخ بمصر يقال له حرملة أعلم الناس بابن وهب، وقال أبو عمر الكندي لم يكن بمصر أحد أكتب عن ابن وهب منه، قال ابن يونس ولد سنة ست وستين ومائة، ومات في شوال سنة إحدى وأربعين ومائتين4.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ ج2 ص427، والخلاصة ص120، وشذرات الذهب ج2 ص58.

2تذكرة الحفاظ ج2 ص418، والخلاصة ص346، وشذرات الذهب ج2 ص66.

3 تذكرة الحفاظ ج2 ص421، والخلاصة ص365، وشذرات الذهب ج2 ص71.

4 تذكرة الحفاظ ج2 ص786، والخلاصة ص63وشذرات الذهب ج2 ص103.
২৫- সাঈদ বিন কাসীর:

বিন উফায়র আবু উসমান আল-আনসারি, মিশরের ইমাম, হাফেজ (الحافظ), আল্লামা এবং মিশরের বিচারক। তিনি ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, মালিক, লাইস, সুলাইমান বিন বিলাল, ইবনে ওয়াহাব এবং একদল উলামার নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন বুখারি, আবু বকর আল-সাগানি, উসমান বিন খুরজাদ, রাওহ বিন আল-ফারাজ, আহমদ বিন হাম্মাদ যাগবাহ, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-রুশদিনি, ইয়াহইয়া বিন উসমান এবং আরও অনেকে। ইবনে আদি ও অন্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, তবে জাওজাজানি তাঁর প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। আবু হাতেম বলেন: তিনি অন্যদের কিতাব থেকে পাঠ করতেন এবং তিনি সত্যবাদী (صدوق)। ইবনে ইউনুস বলেন: তাঁর জন্ম ১৪৬ হিজরিতে এবং মৃত্যু ২২৬ হিজরির রমজান মাসে।

২৬- নুআইম বিন হাম্মাদ আল-মারওয়াযি:

সুপ্রসিদ্ধ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-খুজাঈ আল-ফারাযি আল-আওয়ার, তিনি মিশরে বসবাস করতেন। তিনি ইব্রাহিম বিন তাহমান, আবু হামজাহ আল-সুক্কারি, ঈসা বিন উবাইদ আল-কিন্দি, খারিজাহ বিন মুসআব, আবু হাতেম এবং বকর বিন সাহল আদ-দামিয়াতি থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে ইবনে মাঈন, আল-যুহলি এবং একটি দল বর্ণনা করেছেন। আল-ইজলি, আহমদ এবং ইয়াহইয়া তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। খতিব বাগদাদি বলেন: বলা হয় যে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মুসনাদ সংকলন করেছেন। আবু যুরআহ বলেন: তিনি সেইসব হাদিসকে সংযুক্ত (وصل) করতেন যেগুলোকে অন্যরা স্থগিত (يوقفها) হিসেবে গণ্য করত। ইবনে আদি তাঁর সম্পর্কে আল-কামিল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কিছু অগ্রহণযোগ্য (منكرة) হাদিস উল্লেখ করার পর বলেন: আমি আশা করি তাঁর বাকি হাদিসগুলো সঠিক (مستقيمًا)। কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব সংক্রান্ত ফিতনার সময় তাঁকে মিশর থেকে বের করে সামাররায় বন্দি করা হয়। ইবনে সা’দ এবং আল-ইজলি বলেন: তিনি ২২৮ হিজরিতে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

২৭- ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর:

আল-মাখজুমি —তাদের মুক্তদাস— মিশরের মুহাদ্দিস আবু যাকারিয়া ইমাম, হাফেজ (الحافظ) এবং নির্ভরযোগ্য (الثقة)। তিনি মালিক ও লাইসের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন এবং তাঁদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি বকর বিন মুদার এবং একদল উলামার থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বুখারি, হারমালাহ বিন ইয়াহইয়া, আবু যুরআহ, আবু হাতেম এবং একটি দল হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতেম বলেন: তিনি এই শাস্ত্র বুঝতেন, তাঁর হাদিস লিখে রাখা হতো কিন্তু তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হতো না (لا يحتج به)। ইমাম আল-জাহাবি বলেন: বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে আবু হাতেমের কঠোরতা (تعنت) সর্বজনবিদিত, তা না হলে শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (احتج به) করেছেন; ইমামত, ফতোয়া প্রদানে পারদর্শিতা এবং জ্ঞানের গভীরতায় ইবনে বুকাইরের সমতুল্য আর কে আছে? বাকি বিন মাখলাদ বলেন: ইয়াহইয়া বিন বুকাইর ইমাম মালিকের নিকট থেকে সতেরো বার মুয়াত্তা শুনেছেন। ইয়াহইয়া ২৩১ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

২৮- হারমালাহ বিন ইয়াহইয়া:

বিন আব্দুল্লাহ আল-তুজিবি —তাদের মুক্তদাস— আবু হাফস আল-মিসরি ফকিহ এবং শাফেয়ির ছাত্র। তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে প্রায় এক লক্ষ হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি নাওফাল বিন ইসমাইল, আইয়ুব বিন সুওয়াইদ, বিশর বিন বকর আত-তান্নিসি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে মুসলিম, আল-কাজউইনি, বাকি বিন মাখলাদ, হাসান বিন সুফিয়ান এবং ইবনে কুতাইবাহ আল-আসকালানি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি বলেন: আমি হারমালাহর হাদিস নিয়ে গভীর গবেষণা ও অনেক অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু তাঁর হাদিসে এমন কিছু পাইনি যার কারণে তাঁকে দুর্বল (يضعف) বলা আবশ্যক হয়। ইবনে মাঈন বলেন: মিশরে হারমালাহ নামক একজন শায়খ আছেন যিনি ইবনে ওয়াহাবের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। আবু উমর আল-কিন্দি বলেন: মিশরে ইবনে ওয়াহাব থেকে তাঁর চেয়ে বেশি কেউ লেখেননি। ইবনে ইউনুস বলেন, তিনি ১৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪১ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪২৭; আল-খুলাসাহ, পৃ. ১২০; শাযারাতুয যাহাব, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৮।

২ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪১৮; আল-খুলাসাহ, পৃ. ৩৪৬; শাযারাতুয যাহাব, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৬।

৩ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪২১; আল-খুলাসাহ, পৃ. ৩৬৫; শাযারাতুয যাহাব, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭১।

৪ তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭৮৬; আল-খুলাসাহ, পৃ. ৬৩; শাযারাতুয যাহাব, ২য় খণ্ড, পৃ. ১০৩।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৫)
29- أبو عبد الله محمد بن رمح بن مهاجر التجيبي: -مولاهم- المصري الحافظ، روى عن ابن وهب والليث وابن لهيعة وحكى عن مالك، وعنه مسلم وابن ماجه وبقي ومحمد بن زيان، مكثر علامة أخباري، قال النسائي: ما أخطأ في حديث واحد، مات سنة اثنتين وأربعين مائتين1.

30- أحمد بن صالح المصري: الإمام الحافظ أبو جعفر الطبري ثم المصري أحد الأعلام ولد بمصر سنة سبعين ومائة، وسمع سفيان بن عيينة وعبد الله بن وهب وابن أبي فديك وعبد الرزاق وطائفة، وعنه البخاري وأبو داود وصالح جزرة وأبو إسماعيل الترمذي وأبو بكر بن داود وخلق، قال صالح جزرة: لم يكن بمصر من يحسن الحديث غيره، وقال محمد بن عبد الله بن نمير: إذا جاوزت الفرات فليس أحد مثل أحمد بن صالح، وثقه أحمد ويحيى وابن المديني وأبو حاتم وجماعة، وسمع عنه النسائي ولم يحدث عنه، وتكلم فيه بغير حجة لأنه طرده من مجلسه، فقد كان ابن صالح لا يحدث أحدًا إلا بعد أن يشهد عنده رجلان أنه من أهل الخير والعدالة، فدخل عليه النسائي بغير إذن ولم يأته بالبينة فأخرجه. ا. هـ ملقن، توفي رحمه الله سنة ثمان وأربعين ومائتين2.

31- أبو بكر محمد بن عبد الله بن عبد الرحيم البرقي: الزهري -مولاهم- المصري الحافظ العلم صاحب كتاب الضعفاء، سمع عمرو بن أبي سلمة التنيسي وأسد بن موسى وعبد الملك بن هشام ومحمد بن يوسف الفريابي وأبا عبد الرحمن المقري ويحيى بن معين وعنه أبو داود والنسائي وقال: لا بأس به، ومحمد بن المعافي وعمر بن البجير وطائفة، قال ابن يونس: ثقة حديث بالمغازي مات سنة تسع وأربعين ومائتين3.

32- الحارث بن مسكين الأموي: -مولاهم- الحافظ الفقيه عالم الديار المصرية وقاضيها أبو عمرو، رأى الليث وسأله عن مسألة، وتفقه بابن وهب وابن القاسم وحدث عنهما وعن سفيان بن عيينة وبشر بن عمرو وأشهب وعدة، وعنه أبو داود والنسائي ووثقاه وأبو يعلى ومحمد بن زيان وابن أبي داود، وخلق، أثنى عليه أحمد وقال فيه قولًا جميلًا قال الخطيب: كان فقيهًا ثبتًا مات وله ست وتسعون سنة في ربيع الأول سنة خمسين ومائتين4.

33- الحسن بن عبد العزيز الوزير الجذامي: أبو علي الحروي المصري ثم البغدادي، روى عن بشر بن بكر يحيى بن سنان وعبد الله بن يوسف، وعنه البخاري، وقال الدارقطني لم ير مثله فضلًا وزهدًا، ووثقه أبو حاتم: وقال ابن يونس: مات بالعراق سنة سبع وخمسين ومائتين5.

--------------------------------------------

1 الخلاصة ص487، والكاشف ج3 ص43.

2 تذكرة الحفاظ ج2 ص495، والخلاصة ص9، وشذرات الذهب ج2 ص117.

3 تذكرة الحفاظ ج2 ص569، والخلاصة ص294، وشذرات الذهب ج2 ص120.

4 الكاشف ج2 ص514، والخلاصة ص58، وشذرات الذهب ج2 ص121.

5 الخلاصة ص67، وحسن المحاضرة ج1 ص347.
29- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন রুমহ বিন মুহাজির আত-তুজিবি: -তাদের মুক্ত দাস- মিশরী, হাফেজ (الحافظ), তিনি ইবনে ওয়াহাব, লাইস ও ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মালেক থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তাঁর থেকে মুসলিম, ইবনে মাজাহ, বাকি এবং মুহাম্মদ বিন জিয়ান বর্ণনা করেছেন। তিনি অধিক বর্ণনাকারী (مكثر), বিজ্ঞ আল্লামা এবং ইতিহাস-সংবাদ বিশেষজ্ঞ (أخباري) ছিলেন। নাসায়ী বলেন: তিনি একটি হাদিসেও ভুল করেননি। তিনি দুইশত বিয়াল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

30- আহমদ বিন সালেহ আল-মিসরি: ইমাম, হাফেজ (الحافظ) আবু জাফর আত-তাবারী অতপর আল-মিসরি, বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের একজন। তিনি একশত সত্তর হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব, ইবনে আবি ফুদাইক, আব্দুর রাজ্জাক এবং একদল রাবীর নিকট হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে বুখারী, আবু দাউদ, সালেহ জাযারা, আবু ইসমাইল আত-তিরমিজি, আবু বকর বিন দাউদ এবং অসংখ্য মানুষ বর্ণনা করেছেন। সালেহ জাযারা বলেন: মিশরে তাঁর চেয়ে ভালো হাদিস বিশারদ আর কেউ ছিল না। মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়র বলেন: আপনি যখন ফোরাত নদী পার হবেন, তখন আহমদ বিন সালেহ-এর মতো দ্বিতীয় কাউকে পাবেন না। আহমদ, ইয়াহইয়া, ইবনুল মাদিনী, আবু হাতিম এবং একদল উলামা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه)। নাসায়ী তাঁর কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন কিন্তু তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেননি। তিনি তাঁর সম্পর্কে কোনো প্রমাণ ছাড়াই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, কারণ তিনি তাঁকে নিজের মজলিস থেকে বের করে দিয়েছিলেন। মূলত ইবনে সালেহ ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে হাদিস শোনাতেন না, যতক্ষণ না তাঁর সামনে দুইজন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কল্যাণ ও ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) অধিকারী বলে সাক্ষ্য দিত। নাসায়ী অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে প্রবেশ করেছিলেন এবং কোনো প্রমাণ পেশ করেননি, তাই তিনি তাঁকে বের করে দিয়েছিলেন। ইবনে মুলাক্কিন এর বক্তব্য সমাপ্ত। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি দুইশত আটচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

31- আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহিম আল-বারকি: যুহরী -তাদের মুক্ত দাস- মিশরী, হাফেজ (الحافظ) ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, তিনি কিতাবুদ দুআফা এর রচয়িতা। তিনি আমর বিন আবি সালামা আত-তিন্নিসি, আসাদ বিন মুসা, আব্দুল মালিক বিন হিশাম, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিয়াবি, আবু আব্দুর রহমান আল-মুদরি এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে আবু দাউদ এবং নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (নাসায়ী) বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)। এছাড়া মুহাম্মদ বিন আল-মুআফি, ওমর বিন আল-বুজাইর এবং একদল রাবী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং যুদ্ধ-বিগ্রহের (মাগাজি) বর্ণনায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি দুইশত উনপঞ্চাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

32- হারিস বিন মিসকিন আল-উমাবী: -তাদের মুক্ত দাস- হাফেজ (الحافظ), ফকিহ, মিশরীয় ভূখণ্ডের আলিম এবং সেখানকার কাজী, উপনাম আবু আমর। তিনি লাইসকে দেখেছেন এবং তাঁকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করেছেন। তিনি ইবনে ওয়াহাব এবং ইবনুল কাসিমের কাছে ফিকহ অর্জন করেছেন এবং তাঁদের থেকে ও সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, বিশর বিন আমর, আশহাব এবং আরও অনেকের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু দাউদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়ই তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقاه)। এছাড়া আবু ইয়ালা, মুহাম্মদ বিন জিয়ান, ইবনে আবি দাউদ এবং অসংখ্য মানুষ বর্ণনা করেছেন। আহমদ তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত সুন্দর মন্তব্য করেছেন। খতিব বলেন: তিনি ফকিহ এবং অত্যন্ত সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য (ثبت) ছিলেন। তিনি দুইশত পঞ্চাশ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

33- হাসান বিন আব্দুল আজিজ আল-ওয়াযির আল-জুজামি: আবু আলী আল-হারাওয়ী আল-মিসরি অতপর আল-বাগদাদী। তিনি বিশর বিন বকর, ইয়াহইয়া বিন সিনান এবং আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বুখারী বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনী বলেন: মর্যাদা ও দুনিয়াবিমুখতায় তাঁর মতো আর কাউকে দেখা যায়নি। আবু হাতিম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه)। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি দুইশত সাতান্ন হিজরিতে ইরাকে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১. আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৪৮৭; আল-কাশিফ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৩।

২. তাযকিরাতুল হাফফায, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৯৫; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৯; শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৭।

৩. তাযকিরাতুল হাফফায, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৬৯; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ২৯৪; শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২০।

৪. আল-কাশিফ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫১৪; আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৫৮; শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২১।

৫. আল-খুলাসা, পৃষ্ঠা ৬৭; হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৭।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৬)
34- محمد بن سنجر:

أبو عبد الله الجرجاني الحافظ المصري صاحب المسند، روى عن أبي نعيم وطبقته، وسمع يزيد بن هارون والفريابي وأبا المغيرة الخولاني وأبا عاصم وخالد بن مخلد وأسد بن موسى والحصيدي، وعنه عيسى بن مكين وأحمد بن عمر بن منصور ومحمد بن المسيب الأرغياني ومحمد بن دليل وعبد الجبار بن أحمد السمرقندي وإبراهيم بن محمد بن الضحاك وعبد الرحمن بن أحمد الرشديني، وقال ابن أبي حاتم: ابن سنجر ثقة، قال الذهبي: سكن ابن سنجر قرية قطاية من أعمال مصر، ومات في ربيع الأول سنة ثمان وخمسين ومائتين1.

35- قبيطة:

الحافظ الثقة أبو علي الحسن بن سليمان البصري نزيل مصر، روى عن أبي نعمي وأبي غسان الهندي وعبد الله بن يوسف التنيسي وطبقتهم، وعنه أبو بكر بن خزيمة وأبو بكر بن زياد النيسابوري وجماعة، وصفه ابن يونس بالحفظ ووثقه، وذكره ابن فرحون في طبقات المالكية وقال: مات بمصر سنة إحدى وستين ومائتين2.

36- يونس بن عبد الأعلى:

بن ميسرة بن حفص الصدفي أبو موسى المصري أحد الأعلام روى عن ابن عيينة والشافعي وابن وهب والوليد بن مسلم ومعن بن عيسى وأبي ضمرة وعدة، وتفقه بالشافعي، وعنه مسلم والنسائي وأبو بكر بن زياد وابن أبي حاتم وأبو الطاهر والمديني وخلائق قال النسائي وغيره: ثقة، وقال الشافعي: ما رأيت أعقل من يونس، قال ابن أبي حاتم: سمعت أبي يوثق يونس ويرفع من شأنه، مات سنة أربع وستين ومائتين3.

37- الإمام محمد بن علي بن داود البغدادي:

أبو بكر ابن أخت غزال -وقيل عراك- نزيل مصر، روى عن سعيد بن داود الزنبري وأحمد بن عبد الملك الحراني وأحمد بن حنبل ويحيى بن معين، وعنه أبو جعفر الطحاوي وعلي بن أحمد علان وغيرهما قال أبو سعيد بن يونس: كان يحفظ الحديث ويفهم، حدث بمصر وخرج إلى قرية من أسفل بلادها فمات بها في ربيع الأول سنة أربع وستين ومائتين4.

38- محمد بن عبد الله بن عبد الحكم المصري:

أبو عبد الله الإمام الحافظ الفقيه، ولد سنة اثنتين، وثمانين ومائة، وروى عن ابن وهب وأبي ضمرة، وابن أبي فديك والشافعي وأشهب وإسحاق بن الفرات وأنس بن عياض وأيوب بن سويد، وعنه النسائي وأبو حاتم وابن خزيمة وابن صاعد وابن أبي حاتم وأبو بكر بن زياد والأصم وخلق، قال النسائي: ثقة، ومرة قال: صدوق، وقال ابن خزيمة: ما رأيت في الفقهاء أعلم بأقاويل الصحابة والتابعين منه، وقال ابن أبي حاتم: ثقة صدوق، مات سنة ثمان وستين ومائتين5.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ ج2 ص578، وحسن المحاضرة ج1 ص348، والشذرات ج2 ص138.

2 تذكرة الحفاظ ج2 ص572، وحسن المحاضرة ج1 ص348 والشذرات ج2 ص142.

3 تذكرة الحفاظ ج2 ص527، والخلاصة ص379، والشذرات ج2 ص149.

4 تذكرة الحفاظ ج2 ص659، وحسن المحاضرة ج1 ص338.

5 تذكرة الحفاظ ج2 ص546 والخلاصة ص294 وشذرات الذهب ج2 ص154.
34- মুহাম্মদ বিন সঞ্জর:

আবু আব্দুল্লাহ আল-জুরজানি, হাফিজ (الحافظ), মিসরীয়, মুসনাদ-এর রচয়িতা। তিনি আবু নুআইম এবং তাঁর সমপর্যায়ের রাবিদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইয়াজিদ বিন হারুন, আল-ফিরইয়াবি, আবু মুগিরা আল-খাওলানি, আবু আসিম, খালিদ বিন মাখলাদ, আসাদ বিন মুসা এবং আল-হুসাইদি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন মাকীন, আহমাদ বিন উমর বিন মানসুর, মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব আল-আরগিয়ানি, মুহাম্মদ বিন দালীল, আব্দুল জাব্বার বিন আহমাদ আল-সামারকান্দি, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-দাহহাক এবং আব্দুর রহমান বিন আহমাদ আল-রুশদিনী। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: ইবনে সঞ্জর নির্ভরযোগ্য (ثقة)। ইমাম যাহাবি বলেছেন: ইবনে সঞ্জর মিসরের কাতাআ নামক গ্রামে বসবাস করতেন এবং তিনি ২৫৮ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।১।

35- কুবায়তাহ:

হাফিজ (الحافظ), নির্ভরযোগ্য (الثقة), আবু আলী আল-হাসান বিন সুলাইমান আল-বাসরি, মিসরের অধিবাসী। তিনি আবু নুআইম, আবু গাসসান আল-হিন্দি, আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-তিন্নিসি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের রাবিদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন খুজাইমাহ, আবু বকর বিন যিয়াদ আল-নিশাপুরি এবং একদল রাবি। ইবনে ইউনুস তাঁকে প্রখর মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (الحفظ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। ইবনে ফারহুন ‘তাবাকাত আল-মালিকিয়্যাহ’-এ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ২৬১ হিজরিতে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন।২।

36- ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা:

বিন মায়সারাহ বিন হাফস আল-সাদাফি, আবু মুসা আল-মিসরি। অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব (الأعلام)। তিনি ইবনে উয়ায়নাহ, শাফেয়ী, ইবনে ওয়াহাব, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, মান বিন ঈসা, আবু দামরা এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইমাম শাফেয়ীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন মুসলিম, নাসায়ী, আবু বকর বিন যিয়াদ, ইবনে আবি হাতিম, আবু তাহির, আল-মাদিনি এবং এক বিশাল জনগোষ্ঠী। নাসায়ী ও অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: আমি ইউনুসের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান আর কাউকে দেখিনি। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমি আমার পিতাকে ইউনুসকে নির্ভরযোগ্য (يوثق) বলতে এবং তাঁর মর্যাদাকে উচ্চকিত করতে শুনেছি। তিনি ২৬৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩।

37- ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী বিন দাউদ আল-বাগদাদী:

আবু বকর, গাজালের (মতান্তরে আরাকের) ভাগ্নে, মিসরের অধিবাসী। তিনি সাঈদ বিন দাউদ আল-যানবারি, আহমাদ বিন আব্দুল মালিক আল-হাররানি, আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-তাহাবি, আলী বিন আহমাদ আল্লান এবং আরও অনেকে। আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেছেন: তিনি হাদিস মুখস্থ রাখতেন (يحفظ الحديث) এবং প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তিনি মিসরে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিম্ন অঞ্চলের একটি গ্রামে গমন করেছিলেন, সেখানেই ২৬৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।৪।

38- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম আল-মিসরি:

আবু আব্দুল্লাহ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه)। তিনি ১৮২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনে ওয়াহাব, আবু দামরা, ইবনে আবি ফুদাইক, ইমাম শাফেয়ী, আশহাব, ইসহাক বিন আল-ফুরাত, আনাস বিন আইয়াদ এবং আইয়ুব বিন সুয়াইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন নাসায়ী, আবু হাতিম, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে সায়েদ, ইবনে আবি হাতিম, আবু বকর বিন যিয়াদ, আল-আসাম এবং বহু রাবি। নাসায়ী তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, আবার কখনো সত্যবাদী (صدوق) বলেছেন। ইবনে খুজাইমাহ বলেছেন: ফকিহদের (الفقهاء) মধ্যে আমি তাঁর চেয়ে সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ীদের (التابعين) মতামতের বিষয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সত্যবাদী (صدوق)। তিনি ২৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৫।

--------------------------------------------

১. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ২, পৃ. ৫৭৮; হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ১, পৃ. ৩৪৮; আশ-শাযারাত, খণ্ড ২, পৃ. ১৩৮।

২. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ২, পৃ. ৫৭২; হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ১, পৃ. ৩৪৮; আশ-শাযারাত, খণ্ড ২, পৃ. ১৪২।

৩. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ২, পৃ. ৫২৭; আল-খুলাসাহ, পৃ. ৩৭৯; আশ-শাযারাত, খণ্ড ২, পৃ. ১৪৯।

৪. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ২, পৃ. ৬৫৯; হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ১, পৃ. ৩৩৮।

৫. তাজকিরাতুল হাফিজ, খণ্ড ২, পৃ. ৫৪৬; আল-খুলাসাহ, পৃ. ২৯৪; শাযারাতুজ জাহাব, খণ্ড ২, পৃ. ১৫৪।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৭)
39- الربيع بن سليمان بن بعد الجبار بن كامل المرادي:

مولاهم المؤذن المصري صاحب الإمام الشافعي وناقل علمه، ولد سنة أربع وسبعين ومائة، سمع ابن وهب وشعيب بن الليث وبشر بن بكر ويحيى بن حسان وأسد السنة وأيوب بن سويد، وعنه محمد بن إسماعيل الترمذي وابن الملقن السلمي وأصحاب السنن ولكن الترمذي بواسطة، وأبو زرعة الرازي وأبو حاتم وابن أبي حاتم وزكريا الساجي والطحاوي وأبو بكر بن زياد والحسن بن حبيب الحصائري وأبو العباس الأصم وخلق كثير، وثقة ابن يونس، مات في شوال سنة سبعين ومائتين1.

40- محمد بن حماد الطهراني الرازي: الحافظ الثقة الجوال في الآفاق أبو عبد الله نزيل عسقلان، سمع عبد الرزاق بن همام وعبيد الله بن موسى وعبيد الله بن عبد المجيد الحنفي وأبا عاصم النبيل ويعلى بن عبيد، وعنه ابن ماجه في سننه وأبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن أبي ثابت وعبد الرحمن بن حاتم وقال: هو ثقة كتبت عنه بالري وبغداد والإسكندرية مات في ربيع الآخر سنة إحدى وسبعين ومائتين2.

41- يحيى بن عثمان بن صالح السهمي:

أبو زكريا المصري، روى عن أبيه وأصبغ بن فرج وعبد الغفار الحراني وخلق، وعنه ابن ماجه في سننه وآخرون، قال ابن أبي حاتم: يتكلمون فيه قال ابن يونس: كان حافظًا للحديث وحدث بما لم يوجد عند غيره وتوفي سنة اثنتين وثمانين ومائتين3.

42- عبدان أبو محمد بن محمد بن عيسى المروزي:

الفقيه الحافظ مفتي مصر وعالمها وزاهدها أقام بمصر سنين، سمع قتيبة بن سعيد وإسماعيل بن مسعود الجحدري وعلي بن حجر وأبا كريب وطبقتهم، وقرأ على المزني وابن الربيع، وتفقه به ابن خزيمة وأبو إسحاق المروزي وخلق، وعنه ابنه سعيد ومحمد بن زكريا وعبد المؤمن بن خلف النسفيون، وكان يرجع إليه في الفتاوى والمعضلات قال الخطيب: ثقة حافظ صالح، ولد ليلة عرفة سنة عشرين ومائتين، وتوفي ليلة عرفة سنة ثلاث وتسعين ومائتين4.

43- علي بن سعيد بن بشير مهران:

الحافظ البارع أبو الحسن الرازي نزيل مصر ومحدثها المعروف بعليك، حدث عن عبد الأعلى عن حماد وجبارة بن المغلس وبشر بن معاذ العقدي وعبد الرحمن بن خالد بن نجيح ومحمد بن هاشم البعلبكي ونوح بن عمر السكسكي وطبقتهم وعنه أبو سعد بن الأعرابي وعبد الله بن جعفر بن الورد ومحمد بن أحمد بن خروف وأبو القاسم الطبراني والحسن بن رشيق وآخرون، قال حمزة السهمي: سألت الدارقطني عنه فقال: لم يكن

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ ج3 ص587، والخلاصة ص98، وشذرات الذهب ج2 ص159.

2 تذكرة الحفاظ ج2 ص610 والخلاصة ص284، وشذرات الذهب ج2 ص161.

3 الخلاصة ص 366، وحسن المحاضرة ج1 ص349.

4 تذكرة الحفاظ ج2 ص687، وحسن المحاضرة ج1 ص349.
39- আল-রাবি ইবনে সুলায়মান ইবনে আবদ আল-জাব্বার ইবনে কামিল আল-মুরাদি:

তাদের আযাদকৃত দাস, মিশরের মুয়াজ্জিন, ইমাম শাফিঈর সহচর এবং তাঁর ইলমের বাহক। তিনি ১৭৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনে ওয়াহাব, শুআইব ইবনুল লাইস, বিশর ইবনে বকর, ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান, আসাদ আস-সুন্নাহ এবং আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তিরমিজি, ইবনুল মুলাক্কিন আস-সুলামি এবং সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, তবে তিরমিজি একজন মাধ্যম হয়ে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু জুরআ আর-রাজি, আবু হাতিম, ইবনে আবি হাতিম, জাকারিয়া আস-সাজি, আত-তাহাবি, আবু বকর ইবনে জিয়াদ, আল-হাসান ইবনে হাবিব আল-হাসাইরি, আবু আব্বাস আল-আসআম এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইউনুস তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ২৭০ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।১

40- মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আত-তেহরানি আর-রাজি: হাফেজ (حافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং দেশ-দেশান্তর ভ্রমণকারী। আবু আব্দুল্লাহ উপনামধারী এই ব্যক্তি আসকালানে বসবাস করতেন। তিনি আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদিল মাজিদ আল-হানাফি, আবু আসিম আন-নাবিল এবং ইয়ালা ইবনে উবাইদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন এবং আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাবিত ও আবদুর রহমান ইবনে হাতিম বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনে আবি হাতিম) বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আমি রাই, বাগদাদ এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি। তিনি ২৭১ হিজরির রবিউল আখের মাসে মৃত্যুবরণ করেন।২

41- ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ আস-সাহমি:

আবু জাকারিয়া আল-মিসরি। তিনি তাঁর পিতা, আসবাগ ইবনুল ফারাজ, আবদ আল-গফফার আল-হাররানি এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম বলেন: তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা (يتكلمون فيه) রয়েছে। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি হাদিসের হাফেজ (حافظ) ছিলেন এবং এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যা অন্য কারো কাছে পাওয়া যেত না। তিনি ২৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩

42- আবদান আবু মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-মারওয়াজি:

ফকিহ (فقيه), হাফেজ (حافظ), মিশরের মুফতি এবং সেখানকার আলেম ও জাহিদ (زاهد)। তিনি মিশরে অনেক বছর অবস্থান করেন। তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ, ইসমাইল ইবনে মাসউদ আল-জাহদারি, আলি ইবনে হুজর, আবু কুরাইব এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আল-মুজানি এবং ইবনুর রাবি-এর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন। ইবনে খুজাইমা, আবু ইসহাক আল-মারওয়াজি এবং আরও অনেকে তাঁর কাছে ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া এবং আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আন-নাসাফি বর্ণনা করেছেন। ফতোয়া প্রদান এবং জটিল সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া হতো। খতিব বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফেজ (حافظ), নেককার (صالح)। তিনি ২২০ হিজরির আরাফাহর রাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯৩ হিজরির আরাফাহর রাতে মৃত্যুবরণ করেন।৪

43- আলি ইবনে সাঈদ ইবনে বাশির মেহরান:

প্রাজ্ঞ হাফেজ (حافظ), আবু আল-হাসান আর-রাজি, মিশরের অধিবাসী এবং সেখানকার মুহাদ্দিস (محدث), যিনি 'আলাইক' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আবদ আল-আলা থেকে হাম্মাদের মাধ্যমে এবং জাবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস, বিশর ইবনে মুয়ায আল-আকাদি, আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে নাজিহ, মুহাম্মদ ইবনে হাশিম আল-বালবাকি, নুহ ইবনে উমর আস-সাকসাকি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু সাদ ইবনুল আরাবি, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনুল ওয়ার্দ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে খুরুফ, আবুল কাসিম আত-তাবারানি, আল-হাসান ইবনে রশিখ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। হামজা আস-সাহমি বলেন: আমি আদ-দারাকুতনিকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন: তিনি (তেমন) ছিলেন না...

--------------------------------------------

১ তাযকিরাত আল-হুফফাজ, ৩য় খণ্ড, ৫৮৭ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসা, ৯৮ পৃষ্ঠা এবং শাযারাত আয-যাহাব, ২য় খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা।

২ তাযকিরাত আল-হুফফাজ, ২য় খণ্ড, ৬১০ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসা, ২৮৪ পৃষ্ঠা এবং শাযারাত আয-যাহাব, ২য় খণ্ড, ১৬১ পৃষ্ঠা।

৩ আল-খুলাসা, ৩৬৬ পৃষ্ঠা এবং হুসন আল-মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩৪৯ পৃষ্ঠা।

৪ তাযকিরাত আল-হুফফাজ, ২য় খণ্ড, ৬৮৭ পৃষ্ঠা এবং হুসন আল-মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩৪৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৮)
في دينه بذاك، حدث بأحاديث لم يتابع عليها، قال ابن يونس: كان يحفظ ويفهم، مات سنة سبع وتسعين ومائتين1.

44- النسائي:

أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب بن علي بن سنان بن يحيى القاضي الحافظ الإمام شيخ الإسلام، أحد الأئمة المبرزين، جال البلاد واستوطن مصر وأقام بزقاق القناديل، قال الحاكم: كان النسائي أفقه مشايخ مصر في عصره، وأعرفهم بالصحيح والسقيم من الآثار، وأعرفهم بالرجال، ولد سنة خمس عشرة ومائتين، وسمع قتيبة بن سعيد وإسحاق بن راهويه وهشام بن عمار وعيسى بن زغبة ومحمد بن النضر المروزي وأبا كريب سويد بن نصر الشاه وأمثالهم بخراسان ومصر والشام والعراق والجزيرة والحجاز، وبرع في هذا الشأن، وتفرد بالمعرفة والإتقان وعلو الإسناد، حدث عنه ابن حوضى والطحاوي والعقيلي وابن يونس وأبو بشر الدولابي وأبو علي الحسين بن محمد النيسابوري وحمزة الكناني والحسن بن الخضر السيوطي وأبو بكر بن السني وأبو القاسم الطبراني ومحمد بن معاوية بن الأحمر الأندلسي والحسن بن رشيق ومحمد بن عبد الله بن حيويه وآخرون، قال الذهبي: النسائي أحفظ من مسلم، له من المصنفات السنن الكبرى والصغرى -إحدى الكتب الستة- وخصائص علي ومسند علي ومسند مالك قال الدارقطني: خرج حاجا فامتحن بدمشق وأدرك الشهادة فقال: احملوني إلى مكة فحمل وتوفي بها في صفر سنة ثلاث وثلاثمائة، وهو مدفون بين الصفا والمروة2.

45- يحيى بن زكريا النيسابوري:

الإمام الحافظ أبو زكريا الأعرج "حيويه" رحال جوال روى عن إسحاق بن راهويه وعلي بن حجر وقتيبة ومحمد بن طريف ويحيى خلف ويعقوب الدورقي ويونس بن عبد الأعلى وطبقتهم، وعنه ولد أخيه أبو الحسن محمد بن عبد الله بن حيويه صاحب النسائي قال ابن يونس: كان حافظًا فاضلًا نبيلًا، قال في العبر: دخل مصر على كبر السن ومات بها سنة سبع وثلاثمائة3.

46- محمد بن محمد بن النفاخ بن بدر الباهلي:

أبو الحسبن، قال في العبر، بغدادي حافظ متعفف روى عن إسحاق بن أبي إسرائيل وطبقته، وتوفي بمصر عام أربع عشرة وثلاثمائة4.

47- الطحاوي:

الإمام العلامة الحافظ أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الأزدي الحجري المصري الطحاوي الحنفي، صاحب التصانيف البديعة، من بلدة طحا من قرى مصر، سمع هارون

--------------------------------------------

1 تذكرة الحافظ ج2 ص750 وحسن المحاضرة ج1 ص350.

2 تذكرة الحافظ ج2 ص698، والخلاصة ص6 وشذرات الذهب ج2 ص339.

3 تذكرة الحافظ ج2 ص744 والخلاصة ص363 وشذرات الذهب ج2 ص251.

4 شذرات الذهب ج2 ص369 وحسن المحاضرة ج1 ص350.
তাঁর দ্বীনের বিষয়েও তিনি তেমনই ছিলেন। তিনি এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো অনুসরণকারী পাওয়া যায় না (لم يتابع عليها)। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি মুখস্থ রাখতেন ও বুঝতেন। তিনি ২৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।১।

৪৪- আন-নাসায়ী:

আবু আবদুর রহমান আহমদ বিন শুয়াইব বিন আলী বিন সিনান বিন ইয়াহইয়া আল-কাজী, হাফেজ (الحافظ), ইমাম, শাইখুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ইমামগণের অন্যতম। তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং মিশরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং জুগাকুল কানাদিল-এ অবস্থান করতেন। আল-হাকিম বলেন: নাসায়ী তাঁর সমসাময়িক মিশরের মাশায়েখদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ ছিলেন এবং آثار (রেওয়ায়েত)-এর বিশুদ্ধ (الصحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (السقيم) সম্পর্কে এবং বর্ণনাকারী (الرجال) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তিনি ২১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খোরাসান, মিশর, সিরিয়া, ইরাক, জাজিরা ও হিজাজে কুতাইবা বিন সাঈদ, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, হিশাম বিন আম্মার, ঈসা বিন জুগবাহ, মুহাম্মদ বিন নাদর আল-মারওয়াজি, আবু কুরাইব সুয়াইদ বিন নাসর আশ-শাহ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি এই শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং জ্ঞান, নিপুণতা (الإتقان) ও উচ্চতর সনদ (علو الإسناد)-এর ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন। তাঁর নিকট থেকে ইবনে হাওদা, তাহাবি, উকাইলি, ইবনে ইউনুস, আবু বিশর আদ-দুলাবি, আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আন-নিশাপুরি, হামজা আল-কিনানি, হাসান বিন খদর আস-সুয়ুতি, আবু বকর বিন আস-সুন্নি, আবুল কাসিম আত-তাবারানি, মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া বিন আল-আহমার আল-আন্দালুসি, হাসান বিন রাশিক, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাইউইয়াহ এবং আরও অনেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবি বলেন: নাসায়ী ইমাম মুসলিমের চেয়েও বড় হাফেজ (أحفظ)। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে সুনান আল-কুবরা এবং সুনান আস-সুগরা (যা ছয়টি কিতাবের অন্যতম), খাসাইসে আলী, মুসনাদে আলী ও মুসনাদে মালিক। আদ-দারাকুতনি বলেন: তিনি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, এরপর দামেস্কে পরীক্ষার সম্মুখীন হন এবং শাহাদাত লাভ করেন। তিনি বলেছিলেন: "আমাকে মক্কায় নিয়ে যাও।" তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৩০৩ হিজরির সফর মাসে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে সমাহিত করা হয়েছে।২।

৪৫- ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া আন-নিশাপুরি:

ইমাম, হাফেজ (الحافظ) আবু জাকারিয়া আল-আরাজ 'হাইউইয়াহ'। তিনি ছিলেন একজন পরিব্রাজক। তিনি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আলী বিন হাজর, কুতাইবা, মুহাম্মদ বিন তারিফ, ইয়াহইয়া খালাফ, ইয়াকুব আদ-দাওরাকি, ইউনুস বিন আবদুল আলা এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবু হাসান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাইউইয়াহ (যিনি ইমাম নাসায়ীর সাথী ছিলেন) বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি একজন হাফেজ (حافظًا), শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান ব্যক্তি ছিলেন। 'আল-ইবার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি বার্ধক্যে মিশরে প্রবেশ করেন এবং ৩০৭ হিজরিতে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।৩।

৪৬- মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাফফাখ বিন বদর আল-বাহিলি:

আবু আবুল হুসাইন। 'আল-ইবার' গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি বাগদাদের হাফেজ (حافظ) ও অত্যন্ত নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইসহাক বিন আবি ইসরাঈল ও তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩১৪ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।৪।

৪৭- আত-তাহাবি:

ইমাম, আল্লামা, হাফেজ (الحافظ) আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-আযদি আল-হাজারি আল-মিসরি আত-তাহাবি আল-হানাফি। তিনি চমৎকার সব গ্রন্থাবলির রচয়িতা। তিনি মিশরের ত্বহা নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি হারুন...

--------------------------------------------

১ তাজকিরাতুল হাফেজ ২য় খণ্ড, ৭৫০ পৃষ্ঠা এবং হুসনুল মুহাদারা ১ম খণ্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা।

২ তাজকিরাতুল হাফেজ ২য় খণ্ড, ৬৯৮ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসাহ ৬ পৃষ্ঠা এবং শাযারাতুয যাহাব ২য় খণ্ড, ৩৩৯ পৃষ্ঠা।

৩ তাজকিরাতুল হাফেজ ২য় খণ্ড, ৭৪৪ পৃষ্ঠা; আল-খুলাসাহ ৩৬৩ পৃষ্ঠা এবং শাযারাতুয যাহাব ২য় খণ্ড, ২৫১ পৃষ্ঠা।

৪ শাযারাতুয যাহাব ২য় খণ্ড, ৩৬৯ পৃষ্ঠা এবং হুসনুল মুহাদারা ১ম খণ্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ২৯)
بن سعيد الأيلي وعبد الغني بن رفاعة ويونس بن عبد الأعلى وعيسى بن مثرود ومحمد بن عبد الله بن الحكم وبحر بن نصر وطبقتهم، وعنه أحمد بن القاسم الخشاب وأبو الحسن محمد بن أحمد الإخميمي ويوسف الميانجي وأبو بكر بن المقرئ والطبراني وأحمد بن عبد الوارث الزحاج وعبد العزيز بن محمد الجوهري ومحمد بن بكر بن مطروح، قال ابن يونس: وكان ثقة ثبتًا فقيهًا عاقلًا لم يخلف مثله، ولد سنة سبع وثلاثين ومائتين، قال الشيرازي: وانتهت إليه رياسة الحنفية بمصر، قال ابن يونس: مات في مستهل ذي القعدة سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة1.

48- مكحول:

الحافظ المحدث أبو عبد الرحمن محمد بن عبد الله بن عبد السلام بن أبي أيوب البيروني، سمع بمصر والشام والجزيرة من ابن عبد الحكم وأبي عمير عيسى بن النحاس ومحمد بن هاشم البعلبكي ومحمد بن إسماعيل بن عيلة وأحمد بن حرب الموصلي وأحمد بن سليمان الرهاوي وسليمان بن سيف الحراني، وعنه أبو سليمان بن زير وأبو محمد بن ذكوان البعلبكي وعلي بن الحسين قاضي أذنه وأبو أحمد الحاكم وأبو بكر بن المقرئ وبعد الوهاب بن الحسن الكلابي وآخرون، قال الذهبي: وكان من الثقات العالمين، توفي في أول شهر جمادى الآخرة سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة2.

49- الطحان:

الحافظ المفيد الإمام أبو بكر أحمد بن عمرو بن جابر محدث الرملة، سمع العباس بن الوليد البيروني وإبراهيم بن عبد الله القصار وبكار بن قتيبة ومحمد بن عوف الطائي وسليمان بن سيف الحراني وطبقتهم، وعنه أبو سليمان بن زير ومحمد بن المظفر وأبو بكر بن المقرئ وأبو الحسين بن جميع وعمر بن علي الأنطاكي وأبو بكر بن أبي الحديد وخلق، توفي سنة ثلاث وثلاثين وثلاثمائة3.

50- ابن الحداد:

العلامة الحافظ شيخ عصره أبو بكر محمد بن أحمد بن محمد بن جعفر الكناني المصري الشافعي صاحب الفروع المشهورة، روى عن أبي الزنباع وأبي يزيد القراطيسي ومحمد بن عقيل الفريابي ومحمد بن جعفر بن الإمام وأبي عبد الرحمن والنسائي ولزمه وتخرج به وعول عليه، وعنه يوسف بن قاسم القاضي وغيره، قال الذهبي: وكان من أوعية العلم ذا لسن وفصاح وبصر بالحديث والفقه والنحو، مات عند قدومه من الحج سنة أربع وأربعين وثلاثمائة، وله من العمر ثمانون عامًا4.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحافظ ج3 ص808، وحسن المحاضرة ج1 ص350 وشذرات الذهب ج2 ص288.

2 تذكرة الحافظ ج3 ص814، وحسن المحاضرة ج1 ص351 والشذرات ج2 ص291.

3 تذكرة الحافظ ج3 ص845، وحسن المحاضرة ج1 ص351 والشذرات ج2 ص334.

4 تذكرة الحافظ ج3 ص899، وحسن المحاضرة ج1 ص351 والشذرات ج2 ص367.
...ইবনে সাঈদ আল-আইলি, আবদুল গনি ইবনে রিফাআহ, ইউসুফ ইবনে আবদিল আলা, ঈসা ইবনে মাসরুদ, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাকাম, বাহর ইবনে নাসর এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল কাসিম আল-খাশ্শাব, আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ইখমিমি, ইউসুফ আল-মিয়ানজি, আবু বকর ইবনুল মুকরি, তাবারানি, আহমদ ইবনে আবদিল ওয়ারিস আল-জাজ্জাজ, আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি এবং মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে মাতরুহ। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبتًا), ফকিহ ও বিজ্ঞ ব্যক্তি; তাঁর সমতুল্য কেউ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেননি। তিনি ২৩৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। শিরাজী বলেন: মিশরে হানাফি মাজহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপরই শেষ হয়েছিল। ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ৩২১ হিজরির জিলকদ মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।১

৪৮- মাখুল:

হাফেজ (الحافظ), মুহাদ্দিস (المحدث) আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিস সালাম ইবনে আবি আইয়ুব আল-বুরানি। তিনি মিশর, শাম ও জাজিরায় ইবনে আবদিল হাকাম, আবু উমাইর ঈসা ইবনে আন-নাহহাস, মুহাম্মদ ইবনে হাশিম আল-বালবাকি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আইলাহ, আহমদ ইবনে হারব আল-মাউসিলি, আহমদ ইবনে সুলায়মান আল-রুহাবি এবং সুলায়মান ইবনে সাইফ আল-হাররানি থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু সুলায়মান ইবনে জাইর, আবু মুহাম্মদ ইবনে জাকওয়ান আল-বালবাকি, আদনার কাজি আলী ইবনুল হুসাইন, আবু আহমদ আল-হাকিম, আবু বকর ইবনুল মুকরি, আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান আল-কিলাবি এবং আরও অনেকে। আজ-জাহাবি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (الثقات) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৩২১ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।২

৪৯- আত-তাহহান:

হাফেজ (الحافظ), মুফিদ, ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে আমর ইবনে জাবির; তিনি রামলার মুহাদ্দিস (محدث) ছিলেন। তিনি আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ আল-বুরানি, ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাসসার, বাক্কার ইবনে কুতাইবা, মুহাম্মদ ইবনে আউফ আত-তায়ী, সুলায়মান ইবনে সাইফ আল-হাররানি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু সুলায়মান ইবনে জাইর, মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর, আবু বকর ইবনুল মুকরি, আবুল হুসাইন ইবনে জামি, উমর ইবনে আলী আল-আনতাকি, আবু বকর ইবনে আবিল হাদিদ এবং অসংখ্য মানুষ। তিনি ৩৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩

৫০- ইবনুল হাদ্দাদ:

আল্লামা (العلامة), হাফেজ (الحافظ), স্বীয় যুগের শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-কিনানি আল-মিসরি আল-শাফেয়ি; তিনি প্রসিদ্ধ ফুরু (শাখা বিধান) বিষয়ক কিতাবের লেখক। তিনি আবু জুনবা', আবু ইয়াজিদ আল-কিরাতসি, মুহাম্মদ ইবনে আকিল আল-ফারইয়াবি, মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনুল ইমাম এবং আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর (নাসায়ি) সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ওপরই নির্ভর করতেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন কাজি ইউসুফ ইবনে কাসিম এবং আরও অনেকে। আজ-জাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন জ্ঞানের আধার, অত্যন্ত বাগ্মী, প্রাঞ্জলভাষী এবং হাদিস, ফিকহ ও নাহু শাস্ত্রে প্রখর দৃষ্টির অধিকারী। ৩৪৪ হিজরিতে হজ থেকে ফেরার পথে আশি বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।৪

--------------------------------------------

১ তাকারাতুল হাফেজ, ৩য় খণ্ড, ৮০৮ পৃষ্ঠা; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠা।

২ তাকারাতুল হাফেজ, ৩য় খণ্ড, ৮১৪ পৃষ্ঠা; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ২৯১ পৃষ্ঠা।

৩ তাকারাতুল হাফেজ, ৩য় খণ্ড, ৮৪৫ পৃষ্ঠা; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ৩৩৪ পৃষ্ঠা।

৪ তাকারাতুল হাফেজ, ৩য় খণ্ড, ৮৯৯ পৃষ্ঠা; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা এবং শাজারাতুজ জাহাব, ২য় খণ্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মাদরাসাতুল হাদীস ফী মিসর (পৃষ্ঠা: ৩০)
51- ابن يونس:

الحافظ الإمام أبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد بن الإمام يونس بن عبد الأعلى الصدفي المصري صاحب تاريخ مصر، ولد سنة إحدى وثمانين ومائتين، وسمع أباه أحمد بن حماد زغبة وعلي بن سعيد الرازي وعبد الملك بن يحيى بن بكير وأبا عبد الرحمن النسائي، وأبا يعقوب المنجنيقي وعبد السلام بن سهل البغدادي وطبقهم، قال الذهبي: ولم يرحل ولا سمع بغير مصر لكنه إمام في هذا الشأن متيقظ، وعنه أبو عبد الله بن منده وأبو محمد بن النحاس وعبد الواحد بن محمد البلخي وآخرون، توفي سنة سبع وأربعين وثلاثمائة1.

52- ابن السكن:

الحافظ الحجة أبو علي سعيد بن عثمان بن السكن البغدادي نزيل مصر، ولد سنة أربع وتسعين ومائتين، وسمع أبا القاسم وابن جوصا وسعيد بن عبد العزيز الحلبي ومحمد بن محمد بن بدر الباهلي وأبا عروبة الحراني ومحمد بن يوسف الفربري وطبقهم، روى عنه عبد الله بن منده وعبد الغني بن سعيد وعلي بن محمد الدقاق وعبد الله بن محمد بن أسد القرطبي وأبو عبد الله محمد بن أحمد بن يحيى بن مفرج وأبو جعفر بن عون الله وآخرون، توفي في المحرم سنة ثلاث وخمسين وثلاثمائة2.

53- حمزة بن محمد بن علي بن العباس الكناني المصري:

الحافظ الزاهد العالم أبو القاسم ولد سنة خمس وسبعين ومائتين، وروى عن النسائي والحسن بن أحمد بن الصيقل وعمران بن موسى بن حميد الطبيب ومحمد بن سعيد السراج وسعيد بن عثمان الحراني وأبي يعلى الموصلي ومحمد بن عثمان الصدفي وعبدان الأهوازي وخلق، وهو مملي مجلس البطاقة، روى عنه ابن منده وعبد الغني بن سعيد الأزدي وأبو الحسن الدارقطني ومحمد بن عمر بن خطاب والحسين بن الحسن اللواز والفقيه علي بن محمد أبو الحسن القابسي وأحمد بن محمد بن الحاج وعلي بن حمصة الحراني خاتمة أصحابه وآخرون، وقال الصوري: كان حمزة ثبتًا حافظًا قال أبو القاسم محمد بن يحيى الطحان: سمعت منه ومات في ذي الحجة سنة سبع وخمسين وثلاثمائة3.

54- النقاش:

الحافظ الإمام الجوال أبو بكر محمد بن علي بن حسن المصري نزيل تنيس ولد سنة اثنتين وثمانين ومائتين، وسمع النسائي ومحمد بن جعفر الإمام نزيل دمياط والقاسم بن الليث الرسعني وأبا علي وأبا يعقوب المنجنيقي وعمر بن أبي غيلان البغدادي وأبا يعلى الموصولي وعبدان الأهوازي وجماهر بن محمد الزملكاني وطبقتهم، كما سمع من أبي العلاء محمد بن أحمد بن جعفر الوكيعي والحسن بن الفرج الغزي وعبد الله بن إسحاق المدائني، ولم ينتشر حديثه لإنزوائه بتنيس، روى عنه الدارقطني والحسين بن جعفر الكللي ويحيى بن علي بن الطحان وإبراهيم بن الطحان وإبراهيم بن علي الغازي والحسن بن عمر بن جماعة الإسكندراني والقاضي علي بن الحسين بن جابر التنيسي وآخرون، مات سنة تسع وستين وثلاثمائة4.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحافظ ج3 ص898، وحسن المحاضرة ج1 ص351 والشذرات ج3 ص375.

2 تذكرة الحافظ ج3 ص937، وحسن المحضارة ج1 ص351 وشذرات ج3 ص12.

3 تذكرة الحافظ ج3 ص932، وحسن المحاضرة ج1 ص351 والشذرات ج3 ص23.

4 تذكرة الحافظ ج3 ص957 وحسن المحاضرة ج1 ص352 والشذرات ج3 ص70.
51- ইবন ইউনুস:

হিফজকারী (الحافظ), ইমাম (الإمام) আবু সাঈদ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন ইমাম ইউনুস বিন আবদিল আলা আস-সাদাফি আল-মিসরি, যিনি ‘তারিখে মিসর’-এর লেখক। তিনি ২৮১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা আহমদ বিন হাম্মাদ যাগবা, আলি বিন সাঈদ আর-রাজি, আবদুল মালিক বিন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর, আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ি, আবু ইয়াকুব আল-মানজানিগি, আবদুস সালাম বিন সাহল আল-বাগদাদি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। ইমাম যাহাবি বলেন: “তিনি (ইলম অন্বেষণে) দেশভ্রমণ করেননি এবং মিসরের বাইরে অন্য কোথাও শ্রবণ করেননি, তবে তিনি এই শাস্ত্রে একজন প্রাজ্ঞ ও সতর্ক (متيقظ) ইমাম (إمام) ছিলেন।” তাঁর নিকট থেকে আবু আবদুল্লাহ বিন মান্দাহ, আবু মুহাম্মদ বিন আন-নাহহাস, আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আল-বালখি এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৪৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।১

52- ইবনুস সাকান:

হিফজকারী (الحافظ), প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (الحجة) আবু আলি সাঈদ বিন উসমান বিনুস সাকান আল-বাগদাদি, যিনি মিসরে বসবাস করতেন। তিনি ২৯৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবুল কাসিম, ইবন জাওসা, সাঈদ বিন আবদিল আজিজ আল-হালাবি, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন বদর আল-বাহিলি, আবু আরুবা আল-হাররানি, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মান্দাহ, আবদুল গনি বিন সাঈদ, আলি বিন মুহাম্মদ আদ-দাক্কাক, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আসাদ আল-কুরতুবি, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুফাররিজ, আবু জাফর বিন আউনুল্লাহ এবং আরও অনেকে। তিনি ৩৫৩ হিজরি সনের মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন।২

53- হামজাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আব্বাস আল-কিনানি আল-মিসরি:

হিফজকারী (الحافظ), সংসারবিরাগী (الزاهد), আলিম (العالم) আবুল কাসিম। তিনি ২৭৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নাসায়ি, হাসান বিন আহমদ বিন আস-সাইকাল, ইমরান বিন মুসা বিন হুমাইদ আত-তবিব, মুহাম্মদ বিন সাঈদ আস-সাররাজ, সাঈদ বিন উসমান আল-হাররানি, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, মুহাম্মদ বিন উসমান আস-সাদাফি, আবদান আল-আহওয়াজি এবং বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ‘মাজলিসুল বিতাকাহ’ এর শ্রুতলিপি প্রদানকারী (مملي)। তাঁর নিকট থেকে ইবন মান্দাহ, আবদুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদি, আবুল হাসান আদ-দারাকুতনি, মুহাম্মদ বিন উমর বিন খাত্তাব, হুসাইন বিন হাসান আল-লাওয়াজ, ফকিহ আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ আল-কাবিছি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিনুল হাজ্জ, আলি বিন হিমসাহ আল-হাররানি (যিনি তাঁর সর্বশেষ ছাত্র) এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সুরি বলেন: “হামজাহ ছিলেন অত্যন্ত সুদৃঢ় (ثبتًا) ও হিফজকারী (حافظًا)।” আবুুল কাসিম মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আত-তাহহান বলেন: “আমি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি।” তিনি ৩৫৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন।৩

54- আন-নাককাশ:

হিফজকারী (الحافظ), ইমাম (الإمام), পরিব্রাজক (الجوال) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলি বিন হাসান আল-মিসরি, যিনি তিন্নিসে বসবাস করতেন। তিনি ২৮২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নাসায়ি, দামইয়াতের অধিবাসী ইমাম মুহাম্মদ বিন জাফর, কাসিম বিন লাইস আর-রাসাআনি, আবু আলি, আবু ইয়াকুব আল-মানজানিগি, উমর বিন আবি গাইলান আল-বাগদাদি, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আবদান আল-আহওয়াজি, জামাহির বিন মুহাম্মদ আজ-জামালকানি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। এছাড়াও তিনি আবুুল আলা মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জাফর আল-ওয়াকিয়ি, হাসান বিন ফরাজ আল-গাজ্জি এবং আবদুল্লাহ বিন ইসহাক আল-মাদায়িনির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিন্নিসে নিভৃতবাসে থাকার কারণে তাঁর বর্ণিত হাদিস ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়নি। তাঁর নিকট থেকে আদ-দারাকুতনি, হুসাইন বিন জাফর আল-কুল্লালি, ইয়াহইয়া বিন আলি বিন আত-তাহহান, ইবরাহিম বিন আত-তাহহান, ইবরাহিম বিন আলি আল-গাজি, হাসান বিন উমর বিন জামায়াহ আল-ইসকান্দারানি, কাজি আলি বিন হুসাইন বিন জাবির আত-তিন্নিসি এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৬৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।৪

--------------------------------------------

1 তাজকিরাতুল হাফিজ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৯৮; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১; আশ-শাযারাত, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৫।

2 তাজকিরাতুল হাফিজ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৩৭; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১; শাযারাত, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২।

3 তাজকিরাতুল হাফিজ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৩২; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১; আশ-শাযারাত, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩।

4 তাজকিরাতুল হাফিজ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৫৭; হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫২; আশ-শাযারাত, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭০।