القسم: علوم أخرى
الكتاب: الإشارات في علم العبارات
المؤلف: خليل بن شاهين الظاهري، غرس الدين (ت 873هـ)
الناشر: دار الفكر - بيروت
عدد الصفحات: 877
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: অন্যান্য শাস্ত্র
গ্রন্থ: স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের ইঙ্গিতসমূহ
লেখক: খলিল বিন শাহীন আল-জাহিরি, গুরসুদ্দিন (মৃত্যু ৮৭৩ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল ফিকর - বৈরুত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(কেউ যদি শীসকে দেখে) তবে তার জীবন অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং সে সম্পদ ও সন্তান লাভ করবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি শীস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তা নির্দেশ করে যে সে অছি (ওসিয়ত পালনকারী) এবং বড় বড় কাজের দায়িত্বশীল হবে এবং সে ওসিয়ত পূর্ণ করবে ও তার যথাযথ হক আদায় করবে; কেননা শীস (আলাইহিস সালাম) জমিনের বুকে অছি ছিলেন। যে ব্যক্তি ইদরিস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার অবস্থা ভালো হবে এবং তার শেষ পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইদরিস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তা ইবাদতে পরিশ্রম এবং তাতে দূরদর্শিতা লাভের প্রমাণ; কেননা ইদরিস (আলাইহিস সালাম) ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ এবং প্রজ্ঞায় সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। (আর যে ব্যক্তি) নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার আয়ু দীর্ঘ হবে, তবে সে শত্রুদের পক্ষ থেকে ক্ষতি ও কষ্টের সম্মুখীন হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য সফল হবে। আরও বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার এমন কিছু শত্রু ও প্রতিবেশী থাকবে যারা তার প্রতি হিংসা করবে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদের ওপর প্রতিশোধ নেবেন। (আর যে ব্যক্তি) হুদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে শত্রুরা তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে-ই তাদের ওপর জয়ী হবে। আরও বলা হয়েছে: (আর যে ব্যক্তি) হুদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে সঠিক পথ ও কল্যাণ লাভ করবে এবং তার হাতে একদল মানুষ বিপদ থেকে মুক্তি পাবে। (আর যে ব্যক্তি) লুত (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবে এবং তার কাজ সহজ হওয়ার মাধ্যমে পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি লুত (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার এমন এক পাপাচারী স্ত্রী থাকবে যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, তাই তার উচিত সেই স্ত্রীর ব্যাপারে নিজের কল্যাণের দিকে লক্ষ রাখা। আর যদি সে নিজে তার কওমের মতো পাপাচারী কাজে লিপ্ত থাকে, তবে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তওবা করে। (আর যে ব্যক্তি) সালিহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা হবে তার নামের অর্থ (সংশোধন বা কল্যাণ) অনুযায়ী। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে হজ পালন করবে। আরও বলা হয়েছে, কোনো জালিম সুলতানের পক্ষ থেকে তার কাছে জুলুম পৌঁছাবে। কেউ কেউ বলেছেন, সে তার পিতামাতার অবাধ্য হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে আল্লাহ তাআলার মহব্বত লাভ করবে, তার চিন্তা ও দুঃখ দূর হবে এবং সে কল্যাণ ও প্রশস্ত দুনিয়া লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং তার প্রয়োজন পূরণ হবে। আরও বলা হয়েছে, ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা সত্যবাদী মানুষ হওয়া বা কারও পক্ষ থেকে ওয়াদা লাভ করার ও তা সত্যে পরিণত হওয়ার নিদর্শন। (আর যে ব্যক্তি) ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে সুসংবাদ, বিজয় ও গনিমত লাভ করবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {এবং আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছি, যে নবীদের মধ্য হতে একজন নেককার ব্যক্তি}। আরও বলা হয়েছে, ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা পিতামাতার অবাধ্যতা থেকে মুক্তির লক্ষণ। (আর যে ব্যক্তি) ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সন্তানদের পক্ষ থেকে তার কাছে চিন্তা ও দুঃখ পৌঁছাবে, কিন্তু এরপর সে আনন্দিত হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার কোনো নিরুদ্দেশ ব্যক্তি থাকলে সে কল্যাণ ও সুসংবাদ নিয়ে ফিরে আসবে। (আর যে ব্যক্তি) ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে তার ওপর অপবাদ আসবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সুলতানের মর্যাদায় পৌঁছাবে, তার কদর বৃদ্ধি পাবে এবং সে নিজ উদ্দেশ্যে সফল হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সম্ভবত কোনো মহিলার পক্ষ থেকে তার চিন্তা আসবে কিন্তু পরিণাম কল্যাণের হবে; আর সম্ভবত তাকে দেখা একটি সুসংবাদ। (আর যে ব্যক্তি) শুআইব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে মানুষ তাকে পরাস্ত করবে, কিন্তু এরপর সে তাকে দমনকারীদের ওপর বিজয়ী হবে। (আর যে ব্যক্তি) মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে পরিবার ও পরিজন নিয়ে পরীক্ষায় পড়বে, এরপর তার অবস্থা সুসংহত হবে এবং সে জয়ী হবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {এবং আমি আমার রহমতে তার ভাই হারুনকে নবী হিসেবে দান করেছি}। কেউ কেউ বলেছেন: এই জনপদে কোনো জালিম সুলতান ধ্বংস হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মুসাকে দেখে, তা নির্দেশ করে যে সে এক পরাস্ত ব্যক্তি ছিল, এরপর সে তার শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে এবং তার বিরোধীদের দমন করবে। আর যদি সে সমুদ্রে থাকে তবে সে সহি-সালামতে মুক্তি পাবে। আর যাকে স্বপ্নে মুসার লাঠি দেওয়া হবে, সে প্রকৃতপক্ষে রসায়ন বিদ্যা লাভ করবে এবং সে যা ভয় করে তা থেকে মুক্তি পাবে। আর যাকে আলীর তলোয়ার দেওয়া হবে, সে প্রকৃতপক্ষে সাহসিকতা লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) হারুন (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে খলিফা হবে অথবা এমন এক মহান ব্যক্তি হবে যে বিপদ ও বিবাদের সম্মুখীন হবে, কিন্তু তার পরিণাম কল্যাণের দিকে হবে। (আর যে ব্যক্তি) আল-ইয়াসাকে দেখে, তার কঠিন কাজ সহজ হবে। (আর যে ব্যক্তি) দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে পরিবার-পরিজনের পক্ষ থেকে তার ক্ষতি হবে এবং তার মন সংকীর্ণ হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে তার পরিবারের মধ্যে খলিফা হবে এবং সম্ভবত সে কল্যাণ, প্রজ্ঞা ও রাজত্ব লাভ করবে। আর সম্ভবত কোনো মহিলার কারণে সে পরীক্ষায় পড়বে। আর সম্ভবত তার কাছে কোনো সঞ্চিত বস্তু রয়েছে যাতে পোকা ধরেছে, তাই সে যেন তা রক্ষা করে। (আর যে ব্যক্তি) সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সে যদি যোগ্য হয় তবে সুলতানের মর্যাদায় পৌঁছাবে, আর তার সম্পদ ও নেয়ামত বৃদ্ধি পাবে। আরও বলা হয়েছে, এটি সকল অবস্থায় হুকুম কার্যকর হওয়া এবং কল্যাণ অর্জনের লক্ষণ। আরও বলা হয়েছে, সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা সফর করা এবং শীঘ্রই সেখান থেকে ফিরে আসার নিদর্শন। আর সম্ভবত নামের অর্থের কারণে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে নেক কাজ করার তৌফিক দেবেন। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে একজন নেককার সন্তান লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে দুনিয়া উপার্জন ও তার কর্মব্যস্ততা থেকে বিমুখ হবে এবং আখিরাতের কাজে লিপ্ত হবে। আরও বলা হয়েছে, ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা জীবন, সমৃদ্ধি, সুসংবাদ ও কল্যাণের নিদর্শন। (আর যে ব্যক্তি) খিজির (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার সাথে দূরবর্তী সফর করবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি খিজির (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে হজ পালন করবে এবং তার আয়ু দীর্ঘ হবে। (আর যে ব্যক্তি) ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার জন্য কঠিন কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তা নির্দেশ করে যে সে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করবে এবং তা কবুল হবে। (আর যে ব্যক্তি) আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে রোগব্যাধি ও ব্যথা থেকে মুক্তি পাবে এবং তার অবস্থার সংশোধন হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে এবং সে যদি অসুস্থ হয় অথবা তার কোনো রোগী থাকে, তবে সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আরোগ্য লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে বিপদের পর তার মুক্তি মিলবে এবং ধ্বংসের পর আনন্দ আসবে এবং সে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বেরিয়ে আসবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততায় বেরিয়ে আসবে। (আর যে ব্যক্তি) যুল-কিফল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে যদি জামিন হওয়ার উপযুক্ত হয় তবে সে তা গ্রহণ করবে, আর যদি উপযুক্ত না হয় তবে তাকে আমানত সোপর্দ করা হবে। (আর যে ব্যক্তি) লুকমান (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, আল্লাহ তাআলা তাকে হিকমত, সঠিকতা ও নেক চিন্তা দান করবেন। (আর যে ব্যক্তি) যুল-কারনাইন-কে দেখে, সে এক মহান ব্যক্তির অনুসরণ করবে এবং তার কাছে সুপারিশ করবে, আর তার সুপারিশ কবুল করা হবে ও প্রয়োজন পূরণ হবে। (আর যে ব্যক্তি) ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার মৃতপ্রায় কাজগুলো পুনর্জীবিত হবে, আনুগত্য শক্তিশালী হবে এবং নেক কাজ করার তৌফিক লাভ হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে ইবাদত, জগতবিমুখতা ও তাকওয়া লাভ করবে; সম্ভবত তার সফর বৃদ্ধি পাবে এবং সে যা ভয় করে তা থেকে মুক্তি পাবে। আর সম্ভবত সে চিকিৎসাবিদ্যা লাভ করবে, এমনকি তার সময়ে তার মতো আর কেউ থাকবে না। (আর যে ব্যক্তি) তাঁর মাতা মারিয়াম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সেই স্থানে এক মহান নিদর্শন প্রকাশ পাবে। (আর যে ব্যক্তি) মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখে, তবে তার দুঃখের পর মুক্তি আসবে এবং তার ঋণ পরিশোধ হবে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী তা হবে মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয় তাদের নির্ধারিত সময় হলো সকাল। সকাল কি অতি নিকটবর্তী নয়?" আমরা যা বলেছি তার শর্ত হলো, সে প্রতিটি সালাত তার নিজ সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করবে। যদি তাতে কোনো কমতি বা বেশি হয়, তবে তা অসম্ভব এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পরিপন্থী। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে এই সালাতগুলোর মধ্যে কোনো একটি কাজা সালাত আদায় করছে, তবে তা তার ঋণ পরিশোধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে। বলা হয়ে থাকে যে, যে ব্যক্তি দেখবে সে সালাত আদায় করেছে এবং তাতে কিছু কমতি করেছে, তবে সে সফর করবে; আর যদি মহিলা হয়, তবে সে ঋতুবতী হবে। আরও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দেখবে সে তার সালাত পূর্ণ করেনি, তার প্রয়োজনও পূর্ণ হবে না। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে অজু ছাড়া সালাত আদায় করছে, তবে সে অসুস্থ হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে এমন স্থানে সালাত আদায় করছে যেখানে সালাত বৈধ নয়, তবে তা তার দ্বীনের মধ্যে বিচ্যুতি নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে: যে ব্যক্তি দেখবে ইমামের সাথে তার সালাত ছুটে গেছে, তবে তাও এর অনুরূপ। আর যদি সে সালাতের শেষ অংশ পায় এবং এরপর একাকী তা পূর্ণ করে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে মরুভূমিতে সালাত আদায় করছে, তবে তা দুই পন্থায় ব্যাখ্যাযোগ্য: হয় সফর নতুবা হজ। ইসমাইল ইবনে আশআস বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখবে সে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করছে, তবে তা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তার দীর্ঘায়ু লাভের লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে আত্তাহিইয়াত-এর (তাশাহহুদ) জন্য বসেছে, তবে তা কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে বাম দিকে সালাম ফিরিয়েছে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে বসে বা শুয়ে সালাত আদায় করছে, তবে তা বিভিন্ন বিষয়ে তার অক্ষমতা নির্দেশ করে; কখনো কখনো তা শারীরিক অসুস্থতা বা বার্ধক্যেরও প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাতরত অবস্থায় মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছে, তবে তাকে সন্তান দান করা হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "যখন সে তার রবকে নিভৃতে আহ্বান করেছিল।" (যে ব্যক্তি দেখবে) সে নফল সালাত আদায় করছে, তবে সে এমন নেক আমল করবে যার মাধ্যমে সে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে। আর যদি নফলটি রাতের নফল (তাহাজ্জুদ) হয়, তবে তা নির্দেশ করে যে তাকে প্রশংসনীয় কিছু দান করা হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো, যা তোমার জন্য অতিরিক্ত (নফল) ইবাদত।" কখনো কখনো এর অর্থ হতে পারে বিচ্ছিন্ন মতাদর্শের একদল মানুষের হৃদয়ে সম্প্রীতি স্থাপন করা। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো দুশ্চিন্তা ও শোক দূর হওয়া। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সারা রাত সালাত আদায় করছে, তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতে প্রচুর পরিমাণে কল্যাণ লাভের নিদর্শন। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে কাবার উপরে সালাত আদায় করছে, তবে তা শরিয়ত বিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার আলামত। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে তিন মসজিদের কোনো একটিতে সালাত আদায় করেছে, তবে তার জন্য সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং তা তার আমল কবুল হওয়ার দলিল। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে কোনো জামে মসজিদ বা মাদরাসা বা এই জাতীয় স্থানে সালাত আদায় করছে, তবে তা কল্যাণের আধিক্য নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে, সম্মানিত স্থানসমূহে সালাত হলো নিরাপত্তা, সংশোধন ও রহমত। আবার বলা হয়েছে, জুমার সালাতের স্বপ্ন দেখা সফর ও হালাল রিজিকের প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে গির্জা বা এই জাতীয় কোনো স্থানে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সালাত আদায় করছে, তবে তার প্রভাব কোনো জিম্মির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সে তাকে পরাজিত করবে। (জাহিজ আল-মুয়াইর বলেন) সালাত তিন প্রকার: ফরজ, সুন্নাত ও নফল। ফরজ সালাত হজ পালন এবং অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ করে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।" আর সুন্নাত পবিত্রতা, অপছন্দনীয় বিষয়ে ধৈর্য ধারণ, সুখ্যাতি এবং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়ার নিদর্শন। আর নফল সালাত পরিবারের প্রতি বদান্যতা এবং বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি সম্পাদন এবং সবার সাথে সৌজন্য প্রদর্শনের নির্দেশ করে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে পশুর ওপর আরোহণ করে সালাত আদায় করছে, তবে তা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রয়েছে কিন্তু রুকু করছে না, যদি সে সম্পদশালী হয় তবে সে জাকাত প্রদান থেকে বিরত রয়েছে, অতএব সে যেন আল্লাহকে ভয় করে; অন্যথায় সে এমন কোনো কাজে লিপ্ত রয়েছে যার কোনো ফলাফল নেই, তবে তার সংশোধনের আশা করা যায়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে রুকু করেছে এবং তাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছে কিন্তু সিজদা করছে না, তবে সে তওবা থেকে দূরে রয়েছে এবং সম্ভবত তার আয়ু স্বল্প, তাই সে যেন দ্রুত তওবা করে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাত কসর করছে, তবে সে সফর করবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য সালাত কসর করায় কোনো গুনাহ নেই।" (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাতের মধ্যে হাসছে, তবে সে অত্যন্ত ক্রীড়াকৌতুকপ্রিয়, তাই সে যেন আল্লাহর কাছে তওবা করে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে মদ্যপ অবস্থায় সালাত আদায় করছে, তবে সে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছো তা বুঝতে পারো।" {যে ব্যক্তি দেখবে} সে অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করছে, তবে তা তার দ্বীনের বিপর্যয় এবং তার কার্যাদির অপূর্ণতা ও জটিলতার লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সালাত সাতটি দিক নির্দেশ করে: নিরাপত্তা, আনন্দ, সম্মান, উচ্চ মর্যাদা, কষ্টের পর মুক্তি, উদ্দেশ্য হাসিল এবং প্রয়োজন পূরণ। তিনি আরও বলেন, সিজদার স্বপ্ন পাঁচটি বিষয়ের প্রতীক: উদ্দেশ্য লাভ, রাজত্ব বা ঐশ্বর্য, সাহায্য, বিজয় এবং আল্লাহর আদেশের আনুগত্য; যেমন আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা রুকু করো, সিজদা করো এবং তোমাদের রবের ইবাদত করো..."। বলা হয়ে থাকে: জানাজার সালাত কবুল হওয়া দোয়া, আবার বলা হয়েছে এটি গ্রহণযোগ্য সুপারিশ। আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ বলেন: সাধারণভাবে সালাত দ্বীন ও দুনিয়ার সকল ক্ষেত্রেই প্রশংসনীয় এবং এটি নেতৃত্ব লাভ, আশা পূরণ, অভিভাবকত্ব প্রাপ্তি, ঋণ পরিশোধ, আমানত রক্ষা অথবা আল্লাহর ফরজসমূহ আদায়ের প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে জোহরের সালাত আদায় করছে, তবে সে তার কাজকর্মে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং সেদিনের নির্মলতা অনুযায়ী সে সম্মান লাভ করবে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে আসরের সালাত আদায় করছে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে যে কার্যে লিপ্ত বা যা অন্বেষণ করছে তার অধিকাংশ অতিবাহিত হয়েছে এবং সামান্যই অবশিষ্ট আছে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে মাগরিবের সালাত আদায় করছে, তবে সে তার প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি সংশোধনে মনোনিবেশ করবে।
তাঁর সম্পদ, নেয়ামত ও কল্যাণ লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তিনি তাঁর দ্বীনে অনন্য হবেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল হবে।
(সূরা আল-আনআম): ইবনে সিরিন বলেন, যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে এটি পাঠ করতে দেখে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য লাভ করবে। আল-কিরমানি বলেন: উট, গরু, ছাগল ও এ জাতীয় পশুর পক্ষ থেকে বরকত ও সচ্ছলতা আসবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দেবেন।
(সূরা আল-আরাফ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে এটি পাঠ করতে দেখে, সে তার দ্বীনে একনিষ্ঠ হবে এবং তার শেষ পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আল-কিরমানি বলেন: সম্ভবত সে তূর সিনাই (সিনাই পর্বত) যিয়ারত করবে। কেউ কেউ বলেন, এটি শত্রুর উপহাস এবং খারাপ অবস্থায় তাকে দেখার ইঙ্গিত। জাফর আস-সাদিক বলেন: সৃষ্টিকর্তা তার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন এবং সে আমানত রক্ষা করবে।
(সূরা আল-আনফাল): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে এবং তার সম্পদ, নেয়ামত ও গণিমত অর্জিত হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সম্মান, মর্যাদা ও উচ্চ পদমর্যাদা লাভ করবে।
(সূরা আত-তাওবাহ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি সূরা আত-তাওবাহ পাঠ করবে, আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল না করা পর্যন্ত সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে না। আল-কিরমানি বলেন: তার শেষ পরিণাম কল্যাণময় হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সৃষ্টির মাঝে প্রিয় ও আকাঙ্ক্ষিত হবে এবং কল্যাণের পথে চলবে।
(সূরা ইউনুস): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি সূরা ইউনুস পাঠ করবে, আল্লাহ তার রিযিক প্রশস্ত করে দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহ তার থেকে শত্রু ও জাদুকরদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবেন এবং তাদের পরাস্ত করবেন। কেউ কেউ বলেন: যদি সে বন্দি থাকে, তবে মুক্তি পাবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে তার কথাবার্তা ও ইবাদতকে সুন্দর করবে।
(সূরা হুদ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে এটি পাঠ করতে দেখে, কৃষি কাজ ও আঙ্গুর বাগান রোপণের মাধ্যমে তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। আল-কিরমানি বলেন: সে কর্মব্যস্ততায় অগ্রসর হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দ্বীনের পথে বিচরণকারী হবে।
(সূরা ইউসুফ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি তার যৌবনকালে এটি পাঠ করবে, সে মাজলুম (অত্যাচারিত) হবে এবং অনেক সফর করবে, আর তার শেষ পরিণাম ভালো হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সম্মান, উচ্চ মর্যাদা, সচ্ছলতা ও প্রতিপত্তি লাভ করবে এবং সংকটের পর মুক্তি পাবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সত্যবাদী ও আমানতদার হবে।
(সূরা আর-রাদ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে যদি এর যোগ্য হয় তবে তার কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি পাবে, অন্যথায় তা তাসবিহ ও তাহলিল হিসেবে গণ্য হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার আনুগত্য ও নেক কাজ বৃদ্ধি পাবে। কেউ কেউ বলেন: সে রাজার ভয়ে ভীত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সম্ভবত তার মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে।
(সূরা ইবরাহিম): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তা নেক কাজ ও ইবাদতে অবিচল থাকার প্রমাণ বহন করে। আল-কিরমানি বলেন: তার অবস্থা সুসংহত হবে এবং তার পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আল্লাহর নিকট সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে। কেউ কেউ বলেন: তার সম্পর্কে যা বলা হয় তা থেকে সে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।
(সূরা আল-হিজর): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সৃষ্টির কাছে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে। কেউ কেউ বলেন: সে প্রতিপত্তি ও গাম্ভীর্যের অধিকারী হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার সকল উদ্দেশ্য সফল হবে এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। কেউ কেউ বলেন, এটি পাপাচার থেকে বাধা দানকারী। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আল্লাহর নিকট কবুলযোগ্য হবে।
(সূরা আন-নাহল): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে হালাল রিযিক লাভ করবে এবং দ্বীনদার ও ধার্মিক লোকদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আপদ-বিপদ ও মুসিবত থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার অবস্থার উন্নতি ঘটবে। কেউ কেউ বলেন, এটি শরীরের সুস্থতার লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম দান করবেন এবং যদি সে অসুস্থ থাকে তবে তাকে সুস্থতা দান করবেন।
(সূরা আল-ইসরা): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির নিকট উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী হবে এবং বিনয়ী ও নম্র মুমিন হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে তার শত্রুদের ওপর জয়ী হবে এবং তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে। কেউ কেউ বলেন, তার একটি অবাধ্য সন্তান হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দ্বীন ও ধর্ম পালনে শক্তিশালী এবং কথা ও বিশ্বাসে সত্যবাদী হবে।
(সূরা আল-kahf): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার জীবনে সকল প্রকার আপদ ও ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে এবং দ্বীনের পথে একনিষ্ঠ হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার দীর্ঘ হায়াত হবে এবং আখিরাতের সুখ নসিব হবে। কেউ কেউ বলেন: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের কারণে তার মনে ভয়ের সঞ্চার হবে, তবে আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করবেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহ পূর্ণতা পাবে।
(সূরা মারইয়াম): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ সংরক্ষণ ও আশ্রয়ে থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: সে কল্যাণের পথে চলবে এবং নবী (সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতসমূহ পালন করবে। কেউ কেউ বলেন, স্বপ্নদ্রষ্টার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপবাদ রটানো হবে, তবে সে তা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হবে। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন।
(সূরা ত্বহা): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে শত্রুদের সাথে তর্কে লিপ্ত হবে এবং তাদের ওপর বিজয়ী ও জয়ী হবে। আল-কিরমানি বলেন: সেই স্থানে তার নাম কল্যাণের সাথে প্রসিদ্ধ হবে। কেউ কেউ বলেন, এটি দ্বীনের ব্যাপারে গাফলতি ও বিস্মৃতি। কেউ কেউ বলেন, নেককার ব্যক্তির জন্য এটি আরোগ্য ও নিরাপত্তা। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দ্বীন ও ধর্মপরায়ণতার জন্য পরিচিতি লাভ করবে।
(সূরা আল-আম্বিয়া): ইবনে সিরিন বলেন: আল্লাহ তাকে নবীদের জ্ঞান ও তাদের জীবনীর অনুসরণের তাওফিক দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: দুনিয়া ও আখিরাত তার অনুকূলে আসবে। কেউ কেউ বলেন, এটি নামাজ, দোয়া, ইবাদত এবং শত্রুদের ওপর বিজয়ের লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে একজন আমলকারী আলেম হবে এবং দুঃখের পর আনন্দ ও কষ্টের পর স্বস্তি লাভ করবে।
(সূরা আল-হজ্জ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে হজ্জের কাজে তার সম্পদ ব্যয় করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সন্তোষজনক কাজসমূহ বেছে নেবে...
(সুরা আল-মুমিনুন) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে মুমিনদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল-কিরমানি বলেন: তার ইবাদতের ফজিলত, উচ্চ মর্যাদা ও সৌভাগ্য লাভ হবে। বলা হয়েছে: এটি সফলতা ও সংশোধনের লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে যুহদ (দুনিয়া বিরাগ) ও তাকওয়ার পথ অবলম্বন করবে এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও নেক কাজে সচেষ্ট হবে; সে প্রশংসিত চরিত্রের অধিকারী ও আমানতদারিতে সুদৃঢ় হবে। (সুরা আন-নূর) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তা ইলম ও হিকমতের ওপর দালালত করে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দানশীল ও ইহসানকারী হবে। বলা হয়েছে: তার অবয়বে ও অন্তরে নূর পয়দা হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা ঈমানের নূর দ্বারা তার বাতেনকে আলোকিত করবেন। (সুরা আল-ফুরকান) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহর মাখলুকের সাথে ইনসাফকারী ও ন্যায়পরায়ণ হবে। বলা হয়েছে: তার পার্থক্য করার সক্ষমতা লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং বাতিলকে বিলুপ্ত করবে। (সুরা আশ-শুআরা) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে আল্লাহ তাআলার হিফাজত ও আশ্রয়ে থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: সে কটু কথা, মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র হবে এবং আল্লাহর পথের পথিক হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করবেন। (সুরা আন-নামল) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সুলতানের নিকট তার উচ্চ মর্যাদা ও মাকাম লাভ হবে। আল-কিরমানি বলেন: দুনিয়াবি কাজে সৌভাগ্য, সম্পদ ও উন্নতি তাকে সাহায্য করবে। বলা হয়েছে: এটি আদেশ, নিষেধ, বুঝ ও বিচক্ষণতার ওপর দালালত করে। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি সম্পদ ও নিআমতের ওপর দালালত করে। (সুরা আল-কাসাস) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে তা কোনো গুপ্তধন বা সম্পদ প্রকাশ পাওয়া ও তা হস্তগত হওয়ার ওপর দালালত করে, এবং সে আল্লাহ তাআলার যিকিরকারী ও শুকরগুজার হবে। আল-কিরমানি বলেন: এটি আল্লাহ তাআলার যিকিরে প্রচেষ্টা ও সাধনা, তাঁর নিআমতের শুকরিয়া এবং বিবিধ বিষয়ের সংশোধনের ওপর দালালত করে। বলা হয়েছে: সঠিক মতামতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি প্রচুর কল্যাণ ও রিযিকের প্রাচুর্যের ওপর দালালত করে। (সুরা আল-আনকাবুত) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে এবং এর তিলাওয়াত অব্যাহত রাখবে, সে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর হিফাজত ও আমানতদারিতে থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হবে। বলা হয়েছে: দুশ্চিন্তার বিষয় থেকে মুক্তি, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসানি এবং শত্রুদের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ হবে। (সুরা আর-রূম) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে জিম্মিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারবে। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা ও সাধনা করা বোঝায়। বলা হয়েছে: কাঙ্ক্ষিত কোনো বিষয় পূর্ণ হবে অথবা কারো সাথে বিবাদ থাকলে বিজয়ের সুসংবাদ লাভ হবে। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন। (সুরা লুকমান) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে আলিম, হেকিম ও ইবাদতগুজার হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আলিম ও হেকিমদের সান্নিধ্য লাভ করবে। বলা হয়েছে: তাকে হিকমত ও উত্তম নসিহত দান করা হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: মানুষ তার হিকমত ও নসিহত দ্বারা উপকৃত হবে। (সুরা আস-সajদাহ) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সম্ভবত সে অধিক সিজদাকারী হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার পরিণাম শুভ হবে। (সুরা আল-আহজাব) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সম্ভবত সে এমন কোনো হারানো বস্তু খুঁজে পাবে যার কোনো হদিস ছিল না এবং সে তা মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবে। আল-কিরমানি বলেন: সম্ভবত সে স্বপ্নে কোনো নবীকে দেখবে অথবা জাগ্রত অবস্থায় এমন কিছু দেখবে যা তাকে আনন্দিত করবে। বলা হয়েছে: ধারণাতীত উৎস থেকে বিজয় ও সাহায্য লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক লাভ এবং সত্যের অনুসরণ নসিব হবে। (সুরা সাবা) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে তা যুহদ, ইবাদত এবং দুনিয়াবি পথ পরিহারের ওপর দালালত করে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে অবিচল থাকবে। বলা হয়েছে: কোনো হারিয়ে যাওয়া নিআমত বা হারানো বস্তু স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে ফিরে আসবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: নেককারদের স্বভাব এবং দীনের পথে চলা নসিব হবে। (সুরা ফাতির) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে ফেরেশতাদের কার্যাবলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও ইবাদতে অবিচল থাকবে। বলা হয়েছে: যে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হবে তার ওপর সে বিজয় লাভ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার জন্য রিযিকের দরজা খুলে দেওয়া হবে। (সুরা ইয়াসিন) যে এটি পাঠ করবে তার পরিণাম শুভ হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার হায়াত দীর্ঘ হবে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে রহমত ও মাগফিরাত দান করবেন। বলা হয়েছে: আল্লাহ তাকে এমন প্রাচুর্য দান করবেন যা ঈর্ষার উদ্রেক করবে। আরও বলা হয়েছে: তার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহব্বত সুদৃঢ় হবে। (সুরা আস-সাফফাত) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে তাওফিক ও হিদায়েত লাভ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে মানুষের আমানত রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট হবে এবং সংশোধনমূলক কাজে মশগুল থাকবে। বলা হয়েছে: অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া অথবা স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লাহকে ভয়কারী এবং তাঁর আনুগত্যে সচেষ্ট হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে এক নেক সন্তান লাভ করবে। (সুরা সদ) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে তা তওবা ও আমানত রক্ষার ওপর দালালত করে। আল-কিরমানি বলেন: এটি আল্লাহর অনুগ্রহে রহমত ও মাগফিরাত অন্বেষণের ওপর দালালত করে। বলা হয়েছে: এটি সত্য কসম এবং তার ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেয়। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে প্রচুর সম্পদের মালিক এবং কাজে অত্যন্ত বুদ্ধিমান হবে। (সুরা আজ-জুমার) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তাকে মার্জনা করবেন। আল-কিরমানি বলেন: তার শেষ পরিণাম শুভ হবে। বলা হয়েছে: প্রচুর কিতাব অর্জন, বুঝ ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ হবে; সম্ভবত কারো জন্য কষ্ট স্বীকার করবে অথবা কোনো একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং দীন শক্তিশালী হবে। (সুরা গাফির) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে বিনয়ী ও খাঁটি মুমিন হবে।
দানকারীর অন্তরের সংকল্প তার কর্মের বিপরীত হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তিনি বিপদ-আপদ ও রোগব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবেন।
(সূরা আদ-দুহা) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে কোনো যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দেবে না। (আল-কিরমানি বলেন): সে দান ও মহানুভবতার মাধ্যমে দুর্বলদের সাহায্য করবে। বলা হয়েছে: ভয়ের পর নিরাপত্তা, নিরাশার পর সুসংবাদ এবং হতাশার পর আশা লাভ হবে। সে যদি দরিদ্র হয় তবে সচ্ছল হবে। কখনও কখনও এর মাধ্যমে তার নিজের মৃত্যু সংবাদও ইঙ্গিত করা হয়, কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আপনার প্রতিপালক আপনাকে শীঘ্রই এমন কিছু দেবেন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন} এবং তাঁর বাণী: {আপনার জন্য পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ}। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে ছোটদের, এতিমদের এবং অভাবীদের সম্মান করবে।
(সূরা আল-ইনশিরাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার জন্য কঠিন বিষয়গুলো সহজ হয়ে যাবে। (আল-কিরমানি বলেন): তার কাজ সহজ হবে এবং অন্তর প্রশস্ত হবে। বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা কোনো মানুষের প্রতি যে উপকার করেছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। (জাফর আস-সাদিক বলেন): ক্লান্তির পর প্রশান্তি লাভ হবে।
(সূরা আত-তীন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার চরিত্র সুন্দর হবে, রিযিক প্রশস্ত হবে এবং তার কাজ ও স্বভাব প্রশংসিত হবে। (আল-কিরমানি বলেন): তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং অবস্থার উন্নতি হবে। বলা হয়েছে: রিযিক, বরকত ও দীর্ঘায়ু লাভ। কখনও সে শপথ করবে অথবা তাকে শপথ করানো হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রত্যাশিত বিষয়গুলো লাভ করবে।
(সূরা আল-আলাক) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম ও কুরআন দান করবেন। (আল-কিরমানি বলেন): সে হবে প্রাঞ্জলভাষী, কুরআন তেলাওয়াতকারী এবং আমলকারী আলেম। বলা হয়েছে: কোনো মানুষের পক্ষ থেকে হুমকি পাওয়া। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে বিনয়ী এবং প্রশংসনীয় কর্মের অধিকারী হবে।
(সূরা আল-কদর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে এর সওয়াব লাভ না করা পর্যন্ত দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে না। (আল-কিরমানি বলেন): তার আয়ু দীর্ঘ হবে এবং উদ্দেশ্য সফল হবে। বলা হয়েছে: বিজয় অর্জন এবং তার ধারণার চেয়েও বহুগুণ আমল করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): দুনিয়া ও আখেরাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
(সূরা আল-বাইয়্যিনাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তওবা না করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে না। (আল-কিরমানি বলেন): সে সৃষ্টিজগতকে সুপথের দিকে আহ্বান করবে। বলা হয়েছে: কলুষতার পর অন্তরের সংশোধন এবং সন্দেহের পর দৃঢ় বিশ্বাস লাভ। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার হাতে একদল পথভ্রষ্ট লোক তওবা করবে।
(সূরা আয-যিলযাল) এটি ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও কল্যাণকর কাজের নির্দেশ দেয়। (আল-কিরমানি বলেন): সে জুলুমের শিকার হতে পারে। বলা হয়েছে: সে রিযিক লাভ করবে এবং সম্ভবত তা কোনো গুপ্তভাণ্ডার থেকে হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার হাতে কাফেরদের একটি সম্প্রদায় ধ্বংস হবে।
(সূরা আল-আদিয়াত) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সাহাবী ও আহলে বায়াতের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে যুদ্ধের দিকে মনোনিবেশ করবে অথবা তেজী ঘোড়া পছন্দ করবে। বলা হয়েছে: কোনো মানুষের কাছ থেকে রূঢ় আচরণ পাওয়া। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে যুদ্ধ করবে এবং শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে।
(সূরা আল-কারিয়াহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, নেক আমলের কারণে তার পাল্লা ভারী হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে তার কর্মে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হবে তবে পরিণাম কল্যাণের দিকে যাবে। বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে উদাসীন হতে পারে, তাই তার উচিত আল্লাহকে ভয় করা ও তওবা করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে সৃষ্টির কাছে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে।
(সূরা আত-তাকাসুর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে একদল নেককার লোকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। (আল-কিরমানি বলেন): তার এমন একদল লোকের সাথে সম্পর্ক হবে যারা ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও বিবাদে লিপ্ত এবং তারা তার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলবে কিন্তু তিনি তা শুনবেন না। বলা হয়েছে: দুনিয়ার কাজে ব্যস্ততা এবং যা পাওয়া যাবে না তা অন্বেষণ করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে দুনিয়া বিমুখ বা যাহেদ হবে।
(সূরা আল-আসর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার কাজে ধৈর্যশীল হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এবং আমানত আদায় করবে। বলা হয়েছে: এমন বিষয় যা কঠিন হওয়ার পর সহজ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার কাছে কল্যাণ পৌঁছাবে এবং ব্যবসায় রিযিক বৃদ্ধি পাবে।
(সূরা আল-হুমাযাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে অধিক বাচাল হবে এবং মানুষের কাছে সুপরিচিত হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে সম্পদের প্রতি লোভী হবে এবং দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত থাকবে এবং কাজের পরিণাম নিয়ে চিন্তা করবে না। বলা হয়েছে: সে তার নিকটাত্মীয়দের গীবত করবে, তাই তার উচিত তওবা করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে তার সম্পদ আল্লাহ তাআলার রাস্তায় ব্যয় করবে।
(সূরা আল-ফীল) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে জালেমদের সাহায্যকারী হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে আক্রমণকারী শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে এবং তার উদ্দেশ্য সফল হবে। বলা হয়েছে: সে এমন কাজ করবে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে তার শত্রুদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং সম্ভবত ক্লান্তির পর প্রশান্তি লাভ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার হাতে বিজয় অর্জিত হবে এবং সে তার শত্রুর ওপর জয়ী হবে।
(সূরা কুরাইশ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ রাখবেন। (আল-কিরমানি বলেন): সে কারো সঙ্গী হবে এবং তাকে উপদেশ দেবে, কল্যাণের প্রতি আগ্রহী হবে এবং দ্বীনের পথে চলবে। বলা হয়েছে: বড় ধরণের মুনাফা অর্জন এবং তার জন্য সফর ও কল্যাণ বয়ে আনা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে সবার সাথে সুন্দর ব্যবহারের কারণে মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত ও প্রিয় হবে।
(সূরা আল-মাউন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে নামাযে অবহেলা করবে অথবা অসময়ে নামায পড়বে। (আল-কিরমানি বলেন): সে এমন লোকদের সঙ্গ দেবে যাদের দ্বীন কলুষিত এবং যারা নামাযে অলস। বলা হয়েছে: মানুষের পক্ষ থেকে তার উপকার হবে এবং তাদের থেকে তার কোনো উদ্দেশ্য হাসিল হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে কম ধার্মিক ও বিদ্রোহী শত্রুদের ওপর জয়ী হবে।
(সূরা আল-কাওসার) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সম্পদ, নেয়ামত ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভ করবে এবং তার সন্তান সংখ্যা কম হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ লাভ করবে এবং তার শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করবে। বলা হয়েছে: সওয়াব ও প্রতিদান অর্জন। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে কল্যাণকর কাজ করবে এবং সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে।
(সূরা আল-কাফিরুন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে বিদআতের পথে হাঁটবে এবং নিন্দিত হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে নেক কাজ করার তাওফিক পাবে এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। বলা হয়েছে: ঈমান ও বিশুদ্ধ দ্বীন লাভ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): দ্বীন ও শরীয়তের ওপর তার বিশ্বাস সুদৃঢ় হবে।
(সূরা আন-নাসর)
নিশ্চয়ই তিনি জটিল ও দুরূহ বিষয়সমূহ অন্বেষণ করেন। যদি তিনি সেখান থেকে কিছু পাঠ করেন, তবে তিনি এমন কাজে লিপ্ত হন যার মাধ্যমে তাঁর কোনো উপকার সাধিত হয় না। সম্ভবত এর ফলে তাঁর ও অন্য লোকদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় তা নিন্দার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কখনো কখনো তিনি যা প্রকৃতপক্ষে খুঁজছেন তা অনুধাবনে অক্ষমতা এবং তা উপলব্ধি করতে না পারার কারণে এমনটি হতে পারে, এমনকি এটি কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণও হতে পারে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) তাওহীদ, যুক্তিবিদ্যা, অলঙ্কারশাস্ত্র কিংবা এই জাতীয় বিষয়ের কালাম শাস্ত্রের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে বিস্ময়কর বিষয়াদিতে লিপ্ত হবে এবং সম্ভবত তা থেকে তার দ্বীনের জন্য কোনো উপকার হবে না। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) তাসবীহ ও তাহলীলের ফযীলত সম্বলিত কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে কল্যাণের পথে সুমিষ্ট ভাষী ও সৎকর্মশীল হবে, নিজ কর্মে প্রশংসিত হবে, দুনিয়া বিমুখ হবে এবং আখিরাত অন্বেষণকারী হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) দুআ কিংবা খুতবার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে আল্লাহ তাআলা তার দুআ কবুল করবেন এবং তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেবেন। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কিসসা বা কাহিনীগ্রন্থের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে সেগুলোর উপদেশের প্রতি অতি আগ্রহী হবে এবং তা শ্রবণে অনুরাগী হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) রাজাবাদশাহদের কাহিনীর খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে মানুষ তার কর্মের জন্য তাকে নিন্দা করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) হিকমত বা প্রজ্ঞার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তা তিলাওয়াতকৃত মুসহাফ থেকে কুরআন পাঠের সমতুল্য। বলা হয়ে থাকে যে, সে হবে অত্যন্ত মেধাবী, প্রখর বোধসম্পন্ন এবং বিস্ময়কর বাকপটুতার অধিকারী। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) নাহু বা ব্যাকরণ এবং সাহিত্যের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে দুনিয়া ও দুনিয়াদারির কাজে অতি আগ্রহী হবে এবং মানুষের নিকট খ্যাতি ও প্রশংসা অন্বেষণ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) পত্রবলীর সংকলন বা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে রাজা-বাদশাহ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিকট লিপিকার হিসেবে নিযুক্ত হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) চিকিৎসা শাস্ত্রের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে তার গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে নেতৃত্বদানকারী হবে এবং বিশৃঙ্খল বিষয়সমূহ সংস্কারকারী হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) বস্তুর প্রকৃতি বা সৃষ্টিতত্ত্বের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে দুনিয়াবি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে এবং জানবে যে দুনিয়া অন্বেষণে কোনো স্থায়ী কল্যাণ নেই। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) জ্যোতির্বিদ্যার কিতাবের খণ্ডসমূহ এবং সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তা তার দুনিয়াবি কাজসমূহের সংশোধনের লক্ষণ, কিন্তু এর দ্বারা সে নিজে বা অন্য কেউ উপকৃত হবে না। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কবিতার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে—তা যদি প্রশংসা বা প্রেম বিষয়ক কবিতা হয়, তবে সে এমন কাজে লিপ্ত হবে যার ফলে মানুষের নিকট থেকে তার ওপর নিন্দা ও অপবাদ আসবে এবং তার দ্বীন ও দুনিয়াতে এর কোনো কল্যাণ নেই। আর যদি তা এমন কবিতা হয় যাতে ফযীলত ও তাওহীদের বর্ণনা রয়েছে এবং সে তা পাঠ করে, তবে সে কল্যাণ ও উপকার লাভ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) স্বপ্নের ব্যাখ্যার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তার নিকট অতি সম্মানিত কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছাবে এবং সেই সংবাদের কারণে সে কৃতজ্ঞতা, কল্যাণ ও মর্যাদা লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর আপনি আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন"। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) প্রকৌশলবিদ্যার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে এমন এক বিদ্যায় লিপ্ত হবে যার মাধ্যমে সে মানুষের মধ্যে খ্যাতি অর্জন করবে, কিন্তু তার দ্বীনের জন্য এতে কোনো কল্যাণ নেই এবং সে হবে অতি চিন্তাশীল। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) বণ্টন ও ভূমি জরিপ বিষয়ক কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে এমন এক সফরে বের হবে যাতে কোনো উপকার নেই। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) গণিত শাস্ত্রের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে দুনিয়া অন্বেষণে চিন্তিত ও বিষণ্ণ হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কৌতুক ও হাস্যরসের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তার থেকে কোনো মন্দ অথচ প্রাঞ্জল কাজ প্রকাশ পাবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) মানুষের দোষ-ত্রুটি ও ব্যঙ্গাত্মক বর্ণনার কিতাবের খণ্ডসমূহ যাতে কোনো উপকার নেই, অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে মানুষ তার গীবত করবে এবং সে তাদের মধ্যে মন্দ আচরণের জন্য পরিচিত হবে। বলা হয়ে থাকে যে, কিতাবের খণ্ডসমূহ যদি বন্ধ অবস্থায় দেখা যায় এবং তার ভেতরে কী আছে তা জানা না যায়, তবে তা উপকার লাভের লক্ষণ, যদিও এর ব্যাখ্যা পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। আরও বলা হয়েছে যে, কিতাবের খণ্ডসমূহ দেখা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণকর যতক্ষণ না জাগ্রত অবস্থায় কোনো অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটে; আর যদি কোনো মন্দ ঘটনা ঘটে তবে তা শুভ নয়। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে অনেক কিতাবের খণ্ডসমূহ সংগ্রহ করছে, তবে সে বিভিন্ন বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করবে; যদি সে সেগুলো পাঠ করে তবে তার সেই ব্যুৎপত্তি হবে মূল ভিত্তি ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর যদি পাঠ না করে তবে তার বিপরীত হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে কোনো কিতাব বাঁধাই করছে, তবে সে কোনো গুণী ব্যক্তির প্রতি ইহসান করবে; কিতাব সেলাই করার বিষয়টিও তদ্রূপ। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে তৌরাত পাঠ করছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো উচ্চপদস্থ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে শক্তি অর্জন এবং সে তার বন্ধুদের পক্ষ থেকে কল্যাণ ও উপকার লাভ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে উচ্চস্বরে তৌরাত পাঠ করছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো বিবাদ, কিন্তু সে সত্যের মাধ্যমে জয়ী হবে এবং তার উদ্দেশ্য সফল হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কেউ তাকে তৌরাত পাঠ শেখাচ্ছে, তবে তা কল্যাণ লাভের দলিল। বলা হয়েছে যে, তৌরাত এর ব্যাখ্যা হলো প্রাচীন ও মর্যাদাবান কোনো ব্যক্তি যার হিজরত ও ফযীলত রয়েছে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে তৌরাত মুখস্থ পাঠ করছে, কিতাব দেখে নয়, তবে সে বিবাদের পর তার প্রয়োজন পূরণে সফল হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে কিতাব দেখে ইঞ্জিল পাঠ করছে, তবে সে নাসারাদের পক্ষ থেকে উপকার লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি কিতাব ছাড়া ইঞ্জিল পাঠ করবে, সে সত্য ত্যাগ করে বাতিলের দ্বারা প্রতারিত হবে এবং সে নাসারাদের প্রতি অনুরাগী হবে। (সহীফা বা পত্রসমূহ দেখার ব্যাখ্যা): ইবনে সীরীন বলেছেন: (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে ইবরাহীমের সহীফা কিংবা মূসার সহীফা পাঠ করছে, তবে কেউ তাকে সঠিক পথের দিশা দেবে এবং ভুলের পথ থেকে তাকে বিরত রাখবে, বিশেষ করে যদি সে কিতাব থেকে পাঠ করে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে মুখস্থ সহীফা পাঠ করছে, তবে তা মানুষের মাঝে মুনাফিকীর সাথে জীবন যাপনের নির্দেশক। জাবির মাগরিবী বলেছেন: যদি কোনো মুসলিম দেখে যে সে মুসহাফ বর্জন করে ইবরাহীম কিংবা মূসার সহীফা পাঠে লিপ্ত হয়েছে, তবে তা ইসলাম ধর্মের প্রতি তার বিশ্বাসের দুর্বলতা নির্দেশ করে এবং সে ইহুদী ও নাসারাদের প্রতি অনুরাগী হবে এবং তাদের মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়বে। যাবুর দেখার ব্যাখ্যা কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত। যে ব্যক্তি দেখবে সে কিতাব থেকে যাবুর পাঠ করছে, সে উত্তম কাজ বেছে নেবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে মুখস্থ যাবুর পাঠ করছে, তবে তা তার কর্মে মুনাফিকী ও লোকদেখানো স্বভাবের প্রমাণ। আবু সাঈদ আল-ওয়ায়েজ বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখবে সে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের কোনো একজনের সহীফা পাঠ করছে, তবে তা কল্যাণকর। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে কোনো সহীফা লিখছে অথবা তাতে দৃষ্টিপাত করছে কিন্তু তা ভালোভাবে পাঠ করতে পারছে না, তবে সে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই ইহা..."