(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: -)
الإشارات في علم العبارات   (خليل بن شاهين)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: الإشارات في علم العبارات

المؤلف: خليل بن شاهين الظاهري، غرس الدين (ت 873هـ)

الناشر: دار الفكر - بيروت

عدد الصفحات: 877

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের ইঙ্গিতসমূহ   (খলিল বিন শাহীন)

বিভাগ: অন্যান্য শাস্ত্র


গ্রন্থ: স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের ইঙ্গিতসমূহ

লেখক: খলিল বিন শাহীন আল-জাহিরি, গুরসুদ্দিন (মৃত্যু ৮৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ফিকর - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬০৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم (الْحَمد لله) الَّذِي خلق آدم من طين ثمَّ نفخ فِيهِ روحاً ثمَّ اصطفاه للرسالة كَمَا اصْطفى إِدْرِيس من بعده ونوحا وَاتخذ إِبْرَاهِيم خَلِيلًا ومُوسَى كليماً وَإِسْمَاعِيل ذبيحاً وَنصر هودا على عَاد وألان الْحَدِيد لداود ووسع لِسُلَيْمَان فِي الأَرْض روحاً وسخر لَهُ ريحًا وأيد صَالحا بآياته وَهَارُون بِرِسَالَاتِهِ وَجعل الْمَسِيح آيَة وروحاً ونجى يُوسُف من الْجب وَعلمه من تَأْوِيل الْأَحَادِيث فَكَانَ فِي أُمُوره نجيحا وأسعف لُقْمَان من الْأَنَام وآتاه الْحِكْمَة فِي الْمَنَام فَاسْتَيْقَظَ حكيماً فصيحا وَخص مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بالحوض المورود وبوأه من الْجنَّة مقْعدا فسيحا وَأنزل عَلَيْهِ فِي مُحكم كِتَابه الْعَزِيز: {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى} وَجعل علم التَّعْبِير من الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة وَلم يظْهر لَهَا منازعا وَلَا مزيحاً (أَحْمَده) على كل حَال وأشكره على نعمه الَّتِي لَيْسَ لَهَا زَوَال (وَأشْهد أَن لَا اله إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة خَالِصَة فِي السِّرّ والإعلان مفرا بهَا الْقلب وَاللِّسَان (وَأشْهد) ان مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي حَاز من المكارم والمفاخر الرُّتْبَة الْعليا وجاهد فِي سَبِيل الله بِقَلْبِه وقالبه فَمَا أبقى بقيا وَكَانَ عليه الصلاة والسلام فِي كل يَوْم يَقُول لأَصْحَابه: أَيّكُم رأى رُؤْيا صلى الله عليه وسلم وعَلى آله الأخيار صَلَاة دائمة آنَاء اللَّيْل وأطراف النَّهَار. (يَقُول) الْفَقِير إِلَى الله تَعَالَى خَلِيل بن شاهين الظَّاهِرِيّ لطف الله بِهِ (قَوْله تَعَالَى) {فَلَمَّا خر تبينت الْجِنّ أَن لَو كَانُوا يعلمُونَ الْغَيْب مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَاب المهين} وَقَوله تَعَالَى فِي تَكْذِيب الكهانة {وَلَا بقول كَاهِن قَلِيلا مَا تذكرُونَ} (قَالَ) الواحدي الكاهن هُوَ الَّذِي يخبر عَن المغيبات وَقد ذمّ الشَّرْع الْكل لِتَفَرُّدِهِ تَعَالَى بِعلم الْغَيْب فَأَعْرَضت عَن ذَلِك وَلم ألتفت إِلَيْهِ وَأَرَدْت أَن أجمع كتابا يشْتَمل على علم يظْهر بِهِ المغيبات وَله أصل فِي الشَّرِيعَة وَهُوَ علم التَّأْوِيل وَالتَّعْبِير (وسميته) (كتاب الإشارات فِي علم الْعبارَات) واعتمدت فِي ذَلِك على كتب الْمُتَقَدِّمين وأقوال الْمَشَايِخ المعتبرين مثل كتاب الْأُصُول لدانيال الْحَكِيم وَكتاب التَّقْسِيم لجَعْفَر الصَّادِق وَكتاب الْجَوَامِع لمُحَمد بن سِيرِين وَكتاب الدستور لإِبْرَاهِيم الْكرْمَانِي وَكتاب الْإِرْشَاد لجَابِر المغربي وَكتاب التَّعْبِير لإسماعيل بن الْأَشْعَث وَكتاب كنز الرُّؤْيَا للمأموني وَكتاب بَيَان التَّعْبِير لعبدوس وَكتاب جمل الدَّلَائِل وَكتاب مبادئ التَّعْبِير وَكتاب كَافِي الرُّؤْيَا وَكتاب التَّعْبِير للطاموسي وَكتاب مقرمط الرُّؤْيَا وَكتاب تحفة الْمُلُوك وَكتاب منهاج التَّعْبِير لخَالِد الْأَصْفَهَانِي وَكتاب مُقَدّمَة التَّعْبِير وَكتاب حقائق الرُّؤْيَا وَكتاب الْوَجِيز لمُحَمد بن شامويه وَكتاب التَّعْبِير لأبي سعيد الْوَاعِظ وَكتاب كَامِل التَّعْبِير للشَّيْخ أبي الْفضل حُبَيْش بن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد النقيشي وَكتاب الإشارات إِلَى علم الْعبارَات لأبي عبد الله بن أَحْمد بن عَامر السالمي وَكتاب الدّرّ المنظم فِي السِّرّ الْمُعظم لمُحَمد الْقرشِي النصيبي وَغير ذَلِك مثل الشَّيْخ أوحد الدّين عبد اللَّطِيف الدمياطي وَالشَّيْخ عبد الْقَادِر الأشموني وَالشَّيْخ يُوسُف الكربوني السكندري وَالشَّيْخ مُحَمَّد الفرعوني وَالشَّيْخ حسن الرَّمْلِيّ وَالشَّيْخ نور الدّين الْكَرْخِي الغزاوي وَالشَّيْخ تَقِيّ الدّين الْمَقْدِسِي وَالشَّيْخ شرف الدّين الكركي وَالشَّيْخ شمس الدّين حمرون الصَّفَدِي وَغير ذَلِك (وأضفت) إِلَى ذَلِك مَا اتّفق لي ولغيري من الرُّؤْيَا الصَّحِيحَة الَّتِي ظَهرت كفلق الصُّبْح فَمَا اتَّفقُوا عَلَيْهِ بَينته بقول وَاحِد وَمَا اخْتلفُوا فِيهِ بَينته وبينت تَعْبِير كل وَاحِد على حَده وَمَا ظهر مَعْنَاهُ أولته بِدَلِيل أَو معنى وَاضح أَشرت فِي أَوله بقوله: قَالَ بعض المعبرين أَو قَالَ بَعضهم.

‌‌(فصل فِي إِيضَاح أَدِلَّة تدل على أَن علم الرُّؤْيَا لَهُ أصل فِي الشَّرِيعَة)

مِنْهَا قَوْله تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ مكنا ليوسف فِي الأَرْض ولنعلمه من تَأْوِيل الْأَحَادِيث} قَالَ الواحدي: هُوَ تَأْوِيل الرُّؤْيَا وَقَوله تَعَالَى: {لَهُم الْبُشْرَى فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة} قَالَ بعض الْمُفَسّرين: يَعْنِي الرُّؤْيَا
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। (সকল প্রশংসা আল্লাহর) যিনি আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার মধ্যে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন, তারপর তাকে নবুওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন যেমনটি তিনি তার পরে ইদ্রিস ও নূহকে মনোনীত করেছিলেন। তিনি ইব্রাহিমকে খলিল (বন্ধু), মূসাকে কালিম (যাঁর সাথে কথা বলেছেন) এবং ইসমাইলকে জাবিহ (কুরবানি হওয়া ব্যক্তি) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি হুদকে আদ জাতির বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন, দাউদের জন্য লোহাকে নরম করেছেন এবং সুলায়মানের জন্য জমিনে প্রশস্ততা ও রুহ দান করেছেন এবং বাতাসকে তার অনুগত করে দিয়েছেন। তিনি সালিহকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দ্বারা এবং হারুনকে তাঁর রিসালাত দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। তিনি মসীহকে (ঈসা) একটি নিদর্শন ও রুহ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং ইউসুফকে কূপ থেকে উদ্ধার করেছেন ও তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন, ফলে তিনি তার কাজকর্মে সফল হয়েছিলেন। তিনি লোকমানকে সৃষ্টির মধ্যে সাহায্য করেছেন এবং তাকে ঘুমের মধ্যে হিকমত বা প্রজ্ঞা দান করেছেন, ফলে তিনি প্রজ্ঞাবান ও প্রাঞ্জলভাষী হিসেবে জাগ্রত হলেন। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাউজে কাউসার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং জান্নাতে তাকে প্রশস্ত স্থান দান করেছেন। তিনি তাঁর সুসংহত মহামহিম কিতাবে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করেছেন: {তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, এটি তো ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়}। তিনি স্বপ্ন ব্যাখ্যার জ্ঞানকে শরয়ী জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা অপসারণকারী প্রকাশ করেননি। আমি সকল অবস্থায় (তাঁর প্রশংসা করি) এবং তাঁর সেইসব নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করি যার কোনো ক্ষয় নেই। (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই), তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা গোপনে ও প্রকাশ্যে খাঁটি এবং অন্তর ও জিহ্বা দ্বারা স্বীকৃত। (আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে), মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি মহত্ত্ব ও গৌরবের সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করেছেন এবং আল্লাহর পথে মনে-প্রাণে জিহাদ করেছেন, ফলে তিনি কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিদিন তাঁর সাহাবীদের বলতেন: "তোমাদের মধ্যে আজ কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছে?" তাঁর ওপর এবং তাঁর উত্তম বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—এমন রহমত যা রাত-দিন সর্বদা জারি থাকে। মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী খলিল বিন শাহিন আল-জাহিরি (আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করুন) (বলেন): (মহান আল্লাহর বাণী) {অতঃপর যখন তিনি (সুলায়মান) পড়ে গেলেন, তখন জিনরা বুঝতে পারল যে, তারা যদি অদৃশ্য বিষয় জানত তবে তারা এমন লাঞ্ছনাকর শাস্তির মধ্যে পড়ে থাকত না}। এবং গণকদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী {আর এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর}। (ওয়াহিদি বলেন), গণক সেই ব্যক্তি যে অদৃশ্যের সংবাদ দেয়। শরীয়ত এই সমস্ত বিষয়কে নিন্দা করেছে কারণ অদৃশ্যের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর জন্য সুনির্দিষ্ট। তাই আমি সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করিনি। আমি এমন একটি কিতাব সংকলন করতে চেয়েছি যা এমন এক জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করবে যার মাধ্যমে অদৃশ্য বিষয় প্রকাশিত হয় এবং শরীয়তেও যার মূল ভিত্তি রয়েছে; আর তা হলো স্বপ্ন ব্যাখ্যা ও তাবিরের জ্ঞান। (আমি এর নামকরণ করেছি) (কিতাবুল ইশারাত ফি ইলমিল ইবারাত - স্বপ্ন ব্যাখ্যাতত্ত্বের নির্দেশিকা)। এ ক্ষেত্রে আমি পূর্ববর্তী ইমামদের কিতাব এবং নির্ভরযোগ্য মাশায়েখদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি। যেমন: দানিয়াল আল-হাকিমের 'কিতাবুল উসুল', জাফর আস-সাদিকের 'কিতাবুত তাকসিম', মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের 'কিতাবুল জাওয়ামি', ইব্রাহিম আল-কিরমানির 'কিতাবুদ দাস্তুর', জাবির আল-মাগরিবির 'কিতাবুল ইরশাদ', ইসমাইল বিন আল-আশআসের 'কিতাবুত তাবির', আল-মামুনির 'কিতাবুল কানজুুর রুয়া', আবদুসের 'কিতাবুল বয়ানুত তাবির', 'কিতাবুল জুমালুদ দালায়েল', 'কিতাবুল মাবাদিুত তাবির', 'কিতাবুল কাফিউর রুয়া', আল-তামুসীর 'কিতাবুত তাবির', 'কিতাবুল মুকারমাতুর রুয়া', 'কিতাবুল তুহফাতুল মুলুক', খালিদ আল-আসফাহানির 'কিতাবুল মিনহাজুত তাবির', 'কিতাবুল মুকাদ্দিমাতুত তাবির', 'কিতাবুল হাকায়িকুর রুয়া', মুহাম্মদ বিন শামওয়াইহ-এর 'কিতাবুল ওয়াজিজ', আবু সাঈদ আল-ওয়ায়িজের 'কিতাবুত তাবির', শেখ আবু আল-ফজল হুবাইশ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-নাকিশির 'কিতাবুল কামিলুত তাবির', আবু আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আমির আল-সালিমির 'কিতাবুল ইশারাত ইলা ইলমিল ইবারাত', মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-নাসিবির 'কিতাবুদ দুররুল মুনাত্তাম ফিস সিররিল মুয়াজ্জাম' এবং অন্যান্যদের কিতাব। এছাড়াও শেখ আওহাদুদ্দিন আব্দুল লতিফ আদ-দামিয়াতি, শেখ আব্দুল কাদির আল-আশমুনি, শেখ ইউসুফ আল-কারবুনি আল-ইসকান্দারি, শেখ মুহাম্মদ আল-ফিরআউনি, শেখ হাসান আর-রামলি, শেখ নুরুদ্দিন আল-কারখি আল-গাজ্জাউই, শেখ তকিউদ্দিন আল-মাকদিসি, শেখ শারাফুদ্দিন আল-কারাকি, শেখ শামসুদ্দিন হামরুন আস-সাফাদি এবং অন্যান্যদের মতামত গ্রহণ করেছি। (আমি আরও যুক্ত করেছি) আমার নিজের এবং অন্যদের সেইসব সত্য স্বপ্ন যা সুবহে সাদিকের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়েছে। যে বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন তা আমি একক বক্তব্যে বর্ণনা করেছি এবং যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন তা আমি পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি এবং প্রত্যেকের ব্যাখ্যা আলাদাভাবে স্পষ্ট করেছি। আর যার অর্থ সুস্পষ্ট হয়েছে, তার ব্যাখ্যা আমি দলিল বা স্পষ্ট অর্থের মাধ্যমে প্রদান করেছি এবং তার শুরুতে লিখেছি: কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেছেন অথবা তাদের কেউ কেউ বলেছেন।

‌‌(স্বপ্ন ব্যাখ্যার জ্ঞান যে শরীয়তসম্মত তার প্রমাণাদি স্পষ্ট করার অধ্যায়)

এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং যাতে আমি তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেই}। ওয়াহিদি বলেন: এর অর্থ হলো স্বপ্নের ব্যাখ্যা। মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালে}। কিছু মুফাসসির বলেন: এর দ্বারা স্বপ্ন উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬০৪)
الصَّالِحَة جُزْء من سِتَّة وَأَرْبَعين جُزْءا من النُّبُوَّة قَالَ الشهرزوري فِي شَرحه للأربعين حَدِيثا وَكَذَا زين الْعَرَب فِي شَرحه للمصابيح: إِن مُدَّة ابْتِدَاء وَحي الرَّسُول عليه السلام إِلَى مُفَارقَته الدُّنْيَا كَانَت ثَلَاثَة وَعشْرين سنة وَكَانَت سِتَّة أشهر مِنْهَا فِي أول الْأَمر يُوحى إِلَيْهِ مناما فَهِيَ جُزْء من سِتَّة وَأَرْبَعين جُزْءا من جملَة أَيَّام الْوَحْي لِأَنَّهُ عَاشَ ثَلَاثًا وَسِتِّينَ سنة على أَكثر الرِّوَايَات وَأوحى إِلَيْهِ بعد أَرْبَعِينَ سنة وَمِنْهَا قَوْله عليه الصلاة والسلام: من لم يُؤمن بالرؤيا الصَّالِحَة لم يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر وَمِنْهَا قَوْله عليه الصلاة والسلام: لم يبْق من النُّبُوَّة إِلَّا الْمُبَشِّرَات وَهِي الرُّؤْيَا الصَّالِحَة يَرَاهَا الْمُسلم أَو ترى لَهُ وَمِنْهَا قَوْله عليه الصلاة والسلام: أصدقكم حَدِيثا أصدقكم رُؤْيا وَإِذا اقْترب الزَّمَان لم تكد تكذب رُؤْيا الْمُؤمن وَلَا يَنْبَغِي لأحد أَن يكذب فِي رُؤْيَاهُ يزْعم أَنه رأى غير مَا رأى فَإِن الرُّؤْيَا وَحي يوحيه الله لَهُ فِي الْمَنَام وَمِنْهَا قَوْله عليه الصلاة والسلام فِي صَحِيح البُخَارِيّ: أَن من تحلم بحلم لم يره كلف أَن يعْقد بَين شعيرتين وَلم يفعل وَمعنى الْحلم هُوَ معنى الرُّؤْيَا لَكِن غلب اسْتِعْمَال الرُّؤْيَا فِي المحبوبة والحلم فِي الْمَكْرُوهَة وَقَالَ عمر رضي الله عنه: أَلا أخْبركُم أَن الْإِنْسَان إِذا نَام عرج بِرُوحِهِ إِلَى السَّمَاء فَمَا رأى قبل أَن يصل إِلَى السَّمَاء فَذَلِك حلم وَمَا رأى بعد أَن يصل إِلَى السَّمَاء فَذَلِك الَّذِي يكون وَفِي قَول ابْن سِيرِين بَيَان أَن لَيْسَ كل مَا يرَاهُ الْإِنْسَان يكون صَحِيحا وَيجوز تَعْبِيره إِنَّمَا الصَّحِيح مِنْهُ مَا كَانَ من الله تَعَالَى يَأْتِيك بِهِ ملك الرُّؤْيَا وَهُوَ روحائيل من نُسْخَة أم الْكتاب يَعْنِي من اللَّوْح الْمَحْفُوظ وَمَا سوى ذَلِك أضغاث أَحْلَام لَا تَأْوِيل لَهَا.

‌‌(فصل فِي بَيَان معرفَة الرُّؤْيَا ومجاريها وقوتها وضعفها)

وبينت مَا كَانَ مُسْتَقِيمًا وَاضحا وألغيت مَا كَانَ أضغاثاً مختلطاً وتأملت ذَلِك بِتَوْفِيق الله تَعَالَى. (وَاعْلَم) أَن صدق الرُّؤْيَا إِن نمت على جَنْبك الْأَيْمن لقَوْل ابْن سِيرِين: من نَام على جنبه الْأَيْمن فَرَأى رُؤْيا فَهِيَ من الله تَعَالَى وَمن نَام على جنبه الْأَيْسَر أَو على ظَهره وَرَأى رُؤْيا فَإِنَّهَا من قبل الْأَرْوَاح وَرُبمَا يَصح بعض وَمَا كَانَ مِنْهَا فِي مَنَامه على بَطْنه فَهُوَ أضغاث أَحْلَام وأصدق مَا تكون الرُّؤْيَا فِي الرّبيع والصيف لما تقدم من الحَدِيث الشريف وَقد ذهب بَعضهم بِأَن تَفْسِير ذَلِك على هَذَا الْوَجْه وأضعف مَا تكون فِي الخريف والشتاء وَقد قَالَ ابْن سِيرِين وَغَيره: أقوى مَا تكون الرُّؤْيَا عِنْد إِدْرَاك الثِّمَار واجتماع أمرهَا وأضعف مَا تكون عِنْد سُقُوط وَرقهَا وَذَهَاب ثَمَرهَا وَقيل إِن الله تَعَالَى وكل على كل مدر وَشَجر ملكا لحفظه من الْجِنّ لِئَلَّا يفسدونه فَإِذا انْقَضى أوانها وَارْتَفَعت الْمَلَائِكَة والموكلون بهَا بَعدت النُّفُوس وتغيرت الأمزجة فتظهر الأحلام السوء والاضغاث. فصل وَأقرب مَا تخرج الرُّؤْيَا أَي تظهر الرُّؤْيَا إِذا رئيت آخر اللَّيْل فَإِنَّهُ ينْتَظر بهَا وروى أَن ابْن سِيرِين قَالَ: من رأى رُؤْيا أول اللَّيْل فَإِنَّهُ ينْتَظر بهَا إِلَى عشْرين سنة فمادون ذَلِك وَيُقَاس على اللَّيْل وعَلى السنين وَيعرف مَا مضى من اللَّيْل وَينْقص من السنين بِقَدرِهِ مِثَاله إِذا مضى من اللَّيْل نصفه ينْتَظر الرُّؤْيَا إِلَى عشر سِنِين فَمَا دون ذَلِك وَيُقَاس على ذَلِك وَمن رأى رُؤْيا بعد الصُّبْح فَإِنَّهُ ينْتَظر لَهَا مُدَّة شهر وَمَا دون ذَلِك وَكَذَلِكَ رُؤْيَة النَّهَار وَقد ظَهرت رُؤْيَة يُوسُف عليه السلام بعد عشْرين سنة فَلَا حل ذَلِك حد آخر انْتِظَار الرُّؤْيَا عشْرين وَقَالَ الْكرْمَانِي: أصح مَا تكون الرُّؤْيَا عِنْد استغراق النّوم لقَوْل عَليّ بن أبي طَالب كرم الله وَجهه: مَا زَالَ الْإِنْسَان يرى الشَّيْء فَيكون وَيرى الشَّيْء فَلَا يكون وَالْجَوَاب عَن ذَلِك فِي قَول عمر بن الْخطاب رضي الله عنه. فصل وَقد يبطل تَأْوِيل الرُّؤْيَا إِذا كَانَ الْإِنْسَان قد عمل فِيمَا يرَاهُ فِي مَنَامه وشغل بِهِ فِي الْيَقَظَة سره وَفِي الحَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم: إِن الرُّؤْيَا ثَلَاثَة فالرؤيا الصَّالِحَة بشرى من الله تَعَالَى والرؤيا من تخويف الشَّيْطَان والرؤيا مِمَّا يحدث بِهِ الرجل نَفسه وَقَالَ بعض المعبرين: الرُّؤْيَا الصَّالِحَة على قسمَيْنِ: قسم بشرى وَقسم تحذير وَقد تخرج الرُّؤْيَا على مآرب كَثِيرَة وَقد رأى كسْرَى فِي الْمَنَام زَوَال ملكه وَظُهُور مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَكَانَ كَذَلِك وَقد رأى النمرود حِين رمى الْخَلِيل إِبْرَاهِيم عليه السلام بمنجنيق أَن الْخَلِيل فِي رَوْضَة خضراء وفيهَا عين جَارِيَة فَكَانَ كَذَلِك وَرَأى فِرْعَوْن أَنه دخل الْبَحْر وَجُنُوده فَغَرقُوا فَكَانَ الْأَمر كَذَلِك وَإِن لم تخرج الرُّؤْيَا لصَاحِبهَا خرجت لِبَنِيهِ أَو لنظيره أَو لأحد من عشيرته وَقد رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامه أَن ابْن أبي الْعيص فِي الْجنَّة بعد مَوته وَكَانَ مُشْركًا فأولها النَّبِي صلى الله عليه وسلم عتاب بن أسيد لِأَنَّهُ كَانَ نَظِيره وَإِن عبرت الرُّؤْيَا فِي الْمَنَام فَإِنَّهَا تخرج على نَحْو مَا عبرت بِهِ إِذا كَانَ الْمعبر مِمَّن يركن إِلَيْهِ وسيمته الْخَيْر وَإِن
সৎ স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। শাহরজুরী তাঁর ‘আরবাঈন’ (চল্লিশ হাদীস)-এর ব্যাখ্যায় এবং যয়নুল আরব ‘মাসাবীহ’-এর ব্যাখ্যায় বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ওহী শুরু হওয়ার সময় থেকে তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল তেইশ বছর। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাস তাঁর নিকট স্বপ্নের মাধ্যমে ওহী আসত। সুতরাং ওহীর মোট দিনগুলোর সাপেক্ষে এটি হলো ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। কারণ অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তেষট্টি বছর বেঁচে ছিলেন এবং চল্লিশ বছর বয়সের পর তাঁর নিকট ওহী আসা শুরু হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে নবী করীম (সা.)-এর বাণী: যে ব্যক্তি সৎ স্বপ্নের ওপর ঈমান রাখে না, সে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে না। আরও রয়েছে তাঁর বাণী: নবুওয়তের আর কিছু অবশিষ্ট নেই কেবল মুবাশশিরাত (সুসংবাদ) ব্যতীত; আর তা হলো সৎ স্বপ্ন যা একজন মুসলিম নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়। আরও রয়েছে তাঁর বাণী: তোমাদের মধ্যে যে কথায় বেশি সত্যবাদী, তার স্বপ্নও বেশি সত্য। আর যখন সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর কারও জন্য তার স্বপ্নে মিথ্যা বলা উচিত নয়, অর্থাৎ যা দেখেনি তা দেখেছে বলে দাবি করা; কারণ স্বপ্ন হলো ওহী যা আল্লাহ তাকে ঘুমের মধ্যে প্রদান করেন। সহীহ বুখারীতে নবী করীম (সা.)-এর আরও একটি বাণী রয়েছে: যে ব্যক্তি এমন কোনো স্বপ্নের দাবি করল যা সে দেখেনি, তাকে দুটি যবের দানার মাঝে গিঁট দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে, অথচ সে তা করতে পারবে না। ‘হুলম’ (স্বপ্ন)-এর অর্থও ‘রুয়া’ (স্বপ্ন)-এর ন্যায়, তবে সাধারণত প্রিয় স্বপ্নের ক্ষেত্রে ‘রুয়া’ এবং অপ্রিয় স্বপ্নের ক্ষেত্রে ‘হুলম’ শব্দটির ব্যবহার বেশি হয়। উমর (রা.) বলেন: আমি কি তোমাদের বলব না যে, মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রূহ আসমানের দিকে আরোহণ করে; আসমানে পৌঁছানোর আগে সে যা দেখে তা ‘হুলম’, আর আসমানে পৌঁছানোর পর সে যা দেখে তা-ই মূলত সত্য স্বপ্ন। ইবনে সিরীনের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয় যে, মানুষ যা দেখে তার সবই সঠিক হয় না এবং সবকিছুর ব্যাখ্যাও করা যায় না। বরং কেবল তা-ই সঠিক যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, যা স্বপ্নের ফেরেশতা রূহাইল ‘উম্মুল কিতাব’ তথা ‘লাওহে মাহফুজ’ থেকে নিয়ে আসেন। আর এছাড়া বাকিগুলো হলো অর্থহীন অলীক কল্পনা, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

‌‌(স্বপ্ন সম্পর্কিত জ্ঞান, এর গতিপ্রকৃতি এবং এর সবলতা ও দুর্বলতা বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

আমি এখানে যা সঠিক ও স্পষ্ট তা বর্ণনা করেছি এবং যা অসার ও বিভ্রান্তিকর তা বর্জন করেছি এবং মহান আল্লাহর তৌফিকের মাধ্যমে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছি। (জেনে রাখুন) স্বপ্নের সত্যতা নির্ভর করে আপনি যদি আপনার ডান কাতে ঘুমান; কারণ ইবনে সিরীন বলেছেন: যে ব্যক্তি ডান কাতে শুয়ে স্বপ্ন দেখে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর যে বাম কাতে বা পিঠের ওপর শুয়ে স্বপ্ন দেখে, তা রূহ বা আত্মার পক্ষ থেকে হয় এবং এর কিছু অংশ সত্য হতে পারে। আর পেটের ওপর শুয়ে ঘুমের মধ্যে যা দেখা হয়, তা অলীক কল্পনা মাত্র। আর সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন বসন্তকাল ও গ্রীষ্মকালে হয়ে থাকে—পূর্বে বর্ণিত হাদীসের কারণে। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা এভাবেই দিয়েছেন। আর সবচেয়ে দুর্বল স্বপ্ন হয়ে থাকে শরৎ ও শীতকালে। ইবনে সিরীন ও অন্যান্যরা বলেন: ফল পাকার সময় এবং সেগুলো যখন পূর্ণতা পায় তখন স্বপ্ন সবচেয়ে শক্তিশালী হয়; আর যখন গাছের পাতা ঝরতে থাকে এবং ফল শেষ হয়ে যায় তখন স্বপ্ন সবচেয়ে দুর্বল হয়। বলা হয়ে থাকে যে, মহান আল্লাহ প্রতিটি মাটি ও বৃক্ষের ওপর একজন করে ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন যেন তারা জিনদের থেকে এগুলোকে রক্ষা করে এবং তারা যেন এগুলো নষ্ট করতে না পারে। যখন ফলের সময় শেষ হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাগণ উপরে উঠে যান, তখন মানুষের মন ও মেজাজে পরিবর্তন আসে, ফলে মন্দ স্বপ্ন ও অলীক কল্পনা দেখা দেয়। পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের বাস্তবতা প্রকাশের নিকটতম সময় হলো রাতের শেষ ভাগে দেখা স্বপ্ন; কারণ এর জন্য প্রতীক্ষা করা হয়। বর্ণিত আছে যে, ইবনে সিরীন বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতের প্রথম ভাগে স্বপ্ন দেখে, তাকে বিশ বছর বা তার কম সময় পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতে হয়। রাত এবং বছরের ওপর কিয়াস করে এই সময় নির্ণয় করা হয়। রাতের যতটুকু অংশ অতিবাহিত হয়েছে, বছর থেকেও সেই অনুপাতে কমিয়ে ধরা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর স্বপ্ন দেখা হয়, তবে তার জন্য দশ বছর বা তার কম সময় পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতে হবে—এভাবেই অনুমান করতে হবে। আর যে ব্যক্তি সুবহে সাদেকের পর স্বপ্ন দেখে, তার জন্য এক মাস বা তার কম সময় প্রতীক্ষা করতে হয়। দিনের বেলা দেখা স্বপ্নের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। ইউসুফ (আ.)-এর স্বপ্নের ফল বিশ বছর পর প্রকাশ পেয়েছিল, তাই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার শেষ সময় বিশ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কিরমানী বলেন: গভীর ঘুমের সময় দেখা স্বপ্ন সবচেয়ে নির্ভুল। আলী ইবনে আবু তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বলেন: মানুষ অনবরত এমন কিছু দেখে যা বাস্তব হয়, আবার এমন কিছু দেখে যা বাস্তব হয় না। এর উত্তর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বক্তব্যে রয়েছে। পরিচ্ছেদ: কখনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা বাতিল হয়ে যায় যদি মানুষ ঘুমের মধ্যে এমন কিছু দেখে যা নিয়ে সে জাগ্রত অবস্থায় কাজ করেছে বা যা নিয়ে তার মন ব্যস্ত ছিল। নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: স্বপ্ন তিন প্রকার: সৎ স্বপ্ন যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শনকারী স্বপ্ন এবং মানুষের নিজের মনের খেয়াল বা জল্পনা-কল্পনা। কোনো কোনো স্বপ্ন বিশারদ বলেন: সৎ স্বপ্ন দুই প্রকার—এক প্রকার সুসংবাদ এবং অন্য প্রকার সতর্কবার্তা। কখনো স্বপ্ন অনেক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়। যেমন কিসরা স্বপ্নে তার রাজত্ব চলে যাওয়া এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব দেখেছিলেন এবং তা বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। নমরুদ যখন ইব্রাহীম খলীল (আ.)-কে মানজানিকের মাধ্যমে নিক্ষেপ করেছিল, তখন সে দেখেছিল যে ইব্রাহীম (আ.) এক সবুজ উদ্যানে রয়েছেন যেখানে ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে—বাস্তবে তেমনই হয়েছিল। ফেরাউন স্বপ্নে দেখেছিল যে সে এবং তার সৈন্যরা সমুদ্রে প্রবেশ করেছে এবং ডুবে মারা গেছে—বাস্তবে তেমনই ঘটেছিল। যদি স্বপ্নের ফল স্বপ্নদ্রষ্টার জীবনে প্রকাশিত না হয়, তবে তা তার সন্তান, তার সমকক্ষ কেউ বা তার বংশের কারও জীবনে প্রকাশিত হয়। নবী করীম (সা.) স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, ইবনে আবি আল-আস মৃত্যুর পর জান্নাতে রয়েছে, অথচ সে ছিল মুশরিক। নবী করীম (সা.) এর ব্যাখ্যা করেছিলেন আত্তাব বিন আসীদের জন্য, কারণ সে তার সমকক্ষ ছিল। আর যদি স্বপ্নের মধ্যেই কোনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা হয়, তবে সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ীই তা বাস্তবায়িত হবে, যদি ব্যাখ্যাকারী এমন কেউ হন যার ওপর নির্ভর করা যায় এবং যার বৈশিষ্ট্য উত্তম।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬০৫)
رأى الْإِنْسَان رُؤْيا مِمَّا تدل على خير أَو غَيره ثمَّ انتظرها فرآها على صفة مَا رأى أَولا فَتكون قد عبرت وَلَا يكون ذَلِك تَكْرَارا عِنْد بعض المعبرين وَلَيْسَت الرُّؤْيَا تبطل بِتَأْوِيل مَا أول بِمَا يُخَالف التَّعْبِير إِذْ لَو كَانَ ذَلِك لبطلت رُؤْيا عَزِيز مصر لقَوْل المعبرين اضغاث أَحْلَام وَإِن الشَّيْطَان يتَمَثَّل فِي الرُّؤْيَا بِكُل شَيْء إِلَّا بِاللَّه تَعَالَى وَمَلَائِكَته وَكتبه وَرُسُله وَفِي الحَدِيث: إِذا رأى أحدكُم مَا يكره فَليقمْ وليتفل وَلَا يحدث بِهِ النَّاس وَفِي الحَدِيث: الْمَنَام على رجل طَائِر إِذا قصّ وَقع وَأول بَعضهم قصّ الرجل الْوُقُوع وَفِي حَدِيث آخر مَا يدل مَعْنَاهُ أَن الْإِنْسَان إِذا رأى فِي مَنَامه مَا يكره فَلَا يحدث بِهِ أحدا وَأَن يبصق عَن يسَاره ويتعوذ من الشَّيْطَان فَإِنَّهُ لَا يضرّهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى. وَيَنْبَغِي أَن يكون الْمعبر ذَا حذاقة وفطنة صَدُوقًا فِي كَلَامه حسنا فِي أَفعاله مشتهراً بالديانة والصيانة بِحَيْثُ لَا يُنكر عَلَيْهِ فِيمَا يعبره لشهرة صدقه وَلذَلِك سمى الله يُوسُف بِالصديقِ وَأَن يكون عَارِفًا بالأصول فِي علم التَّعْبِير وَأَن يُمَيّز رُؤْيَة كل أحد بِحَسب حَاله وَمَا يَلِيق بِهِ وَمَا يُنَاسِبه وَلَا يُسَاوِي النَّاس فِيمَا يرونه وَيعْتَبر فِي تَعْبِيره على مَا يظْهر لَهُ من آيَات الْقُرْآن وَتَفْسِيره وَمن حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَا يَنْقُلهُ المتقدمون فِي كتبهمْ وَقد يَقع نَوَادِر ويعتمد على تعبيرها من الْأَلْفَاظ الجلية الظَّاهِرَة بَين النَّاس وَمَا نقل عَن الأدباء فِي أشعارهم وَغير ذَلِك من أَشْيَاء تناسب فِي الْمَعْنى كَمَا سنذكر إِن شَاءَ الله تَعَالَى بعض ذَلِك فِي بَاب النَّوَادِر وَلَو اعْتمد المعبرون على مَا ضبط فِي الْكتب خَاصَّة لعجزوا عَن أَشْيَاء كَثِيرَة لم تذكر فِي الْكتب لِأَن علم التَّعْبِير وَاخْتِلَاف رُؤْيا النَّاس كبحر لَيْسَ لَهُ شاطئ وَقد وضعت هَذَا الْكتاب مُلَخصا وبوبته ثَمَانِينَ بَابا وَجعلت لكل بَاب مَا يُنَاسِبه من مَعَانِيه وأسأل الله الْعِصْمَة من الْخَطَأ وَالنِّسْيَان فَإِنَّهُ حسبي وَنعم الْوَكِيل.

‌‌(الْبَاب الأول)

 

‌‌(فِي رُؤْيَة الله تَعَالَى وَالْعرش والكرسي واللوح والقلم وسدرة الْمُنْتَهى)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة الله تَعَالَى)

قَالَ دانيال: من رأى الله عز وجل من الْمُؤمنِينَ فِي مَنَامه بِلَا كَيفَ وَلَا كَيْفيَّة مثل مَا ورد فِي الْأَخْبَار يدل على أَنه تَعَالَى يرِيه ذَاته يَوْم الْقِيَامَة وتنجح حَاجته (وَمن) رَآهُ وَهُوَ قَائِم وَالله تَعَالَى ينظر إِلَيْهِ دَائِما يدل على أَن هَذَا العَبْد يسلم فِي أَمر يكون فِي رَحْمَة الله تَعَالَى فَإِن كَانَ مذنبا يَنْبَغِي أَن يَتُوب وَقَالَ ابْن سِيرِين: من رأى الله تَعَالَى وَهُوَ يتَكَلَّم مَعَه يدل على أَن هَذَا العَبْد يكون عِنْد الله عَزِيزًا لقَوْله تَعَالَى: {وقربناه نجيا} (وَمن رأى) أَن الله كَلمه من وَرَاء حجاب يدل على زِيَادَة مَاله وَنعمته وَقُوَّة دينه وأمانته (وَمن رأى) أَن الله كَلمه لَا من وَرَاء حجاب يدل على وُقُوع الْخطاب عَلَيْهِ لأجل الدّين لقَوْله تَعَالَى: {وَمَا كَانَ لبشر أَن يكلمهُ الله إِلَّا وَحيا أَو من وَرَاء حجاب} (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى قربه وعززه ورحمه بكرامة يدل على أَنه تَعَالَى يرحمه فِي الْآخِرَة وَلكنه يَبْتَلِيه فِي الدُّنْيَا (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى يعظه يعْمل عملا يكون لله فِيهِ رضَا لقَوْله تَعَالَى: {يعظكم لَعَلَّكُمْ تذكرُونَ} (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى بشره بِالْخَيرِ يدل على أَن الله تَعَالَى رَاض عَنهُ (وَمن) رأى أَنه بشره بِالشَّرِّ يدل على أَن الله تَعَالَى غَضْبَان عَلَيْهِ فليتق الله وَيحسن أَفعاله. (وَمن) رأى أَنه قَائِم بَين يَدي الله ناكسا رَأسه يدل على أَنه يصل إِلَيْهِ ظَالِم لقَوْله تَعَالَى: {وَلَو ترى إِذْ المجرمون ناكسوا رؤوسهم عِنْد رَبهم} وَقَالَ الْكرْمَانِي: من أعطَاهُ الله تَعَالَى شَيْئا فِي مَنَامه سلط الْبلَاء والمحنة على بدنه فِي الدُّنْيَا (وَمن) رأى الله تَعَالَى وَرَأى من يُخبرهُ يَقع لَهُ حَاجَة عِنْد أحد من النَّاس وَيكون قَضَاؤُهَا على مَا تكون الرُّؤْيَا لَهُ (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى نزل على أَرض أَو مَدِينَة أَو قَرْيَة أَو حارة وَنَحْو ذَلِك يدل على أَن الله تَعَالَى ينصر أهل ذَلِك الْمَكَان ويظفرهم على الْأَعْدَاء فَإِن كَانَ فِيهَا قحط يدل على الخصب وَإِن كَانَ فِيهَا خصب زَاد الله خصبها ويرزق أَهلهَا التَّسْوِيَة (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى نور وَهُوَ قَادر على وَصفه فَإِنَّهُ يدل على أَن الله تَعَالَى سَمَّاهُ باسم آخر يحصل لَهُ شرف وعظمة (وَمن) رأى أَن الله تَعَالَى قَالَ لَهُ تعال إِلَى يدل على قرب أَجله (وَمن) رأى أَن الله تَعَالَى غضب على أهل مَكَان يدل على أَن قَاضِي ذَلِك الْمَكَان يمِيل فِي الْقَضَاء وَأَنه يظلم الرّعية أَو عالمه يكون غير متدين وَإِن كَانَ الرَّائِي سَارِقا سَقَطت رجله وَيدل على أَن الرَّائِي يكون مذنبا أَيْضا ولائقا بالعقوبة وَيَقَع فِي ذَلِك الْمَكَان بلَاء وفتنة. (وَمن) رأى أَن الله تَعَالَى على صُورَة رجل مَعْرُوف يدل على أَن ذَلِك الرجل قاهر وعظيم (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى فِي الْمَقَابِر يدل على نزُول الرَّحْمَة على تِلْكَ الْمَقَابِر (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى على صُورَة وَهُوَ يسْجد لَهَا فَإِنَّهُ يفتري على الله تَعَالَى: (وَمن رأى) أَنه يسب الله تَعَالَى يكون كَافِرًا بِنِعْمَة الله تَعَالَى وساخطاً لقضائه وَحكمه وَمن رأى أَن الله تَعَالَى جَالس على سَرِير أَو مُضْطَجع أَو نَائِم أَو غير ذَلِك مِمَّا لَا يَلِيق فِي حَقه جلّ وَعز يدل على أَن الرَّائِي يعْصى الله تَعَالَى ويصاحب الأشرار وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ: رُؤْيا الله تَعَالَى فِي الْمَنَام تؤول على سَبْعَة أوجه: حُصُول نعْمَة فِي الدُّنْيَا وراحة فِي الْآخِرَة وَأمن وراحة وَنور وهداية وَقُوَّة للدّين وَالْعَفو وَالدُّخُول إِلَى الْجنَّة بكرمه وَيظْهر الْعدْل ويقهر الظلمَة فِي تِلْكَ الديار ويعز الرَّائِي ويشرفه وَينظر إِلَيْهِ نظرة الرَّحْمَة وَقَالَ أَبُو حَاتِم: سَأَلت مُحَمَّد بن سِيرِين أَي الرُّؤْيَا أصح عنْدك؟ قَالَ: أَن يرى العَبْد خالقه بِلَا كَيفَ وَلَا كَيْفيَّة وَقَالَ السالمي رحمه الله: من رأى الله عز وجل وَهُوَ يعانقه أَو يقبله فَازَ بِالْأَمر الَّذِي يَطْلُبهُ ونال من حسن الْعَمَل مَا يرغبه (وَمن رأى) أَنه أعطَاهُ شَيْئا من أُمُور الدُّنْيَا فَإِنَّهُ يُصِيبهُ أسقام (وَمن رأى) أَنه وعده بالمغفرة أَو بشره أَو غير ذَلِك فَإِن الْوَعْد يكون على حِكْمَة لقَوْله تَعَالَى: {قَوْله الْحق} (وَمن رأى) أَنه يفر من الله تَعَالَى وَهُوَ يَطْلُبهُ فَإِنَّهُ يحول عَن الْعِبَادَة وَالطَّاعَة أَو يعْتق وَالِده إِن كَانَ حَيا أَو يأبق من سَيّده إِن كَانَ لَهُ سيد. (وَمن رأى) أَن الله سبحانه وتعالى يهينه يكون ذَا بِدعَة فليتق الله سبحانه وتعالى لقَوْله: {يسمعُونَ كَلَام الله ثمَّ يحرفونه من بعد مَا عقلوه} الْآيَة وَمن رأى أَن الله سبحانه وتعالى على غير مَا ذكرنَا جَمِيعه يكون نوعا مُفردا مِمَّا يُوَافق الشَّرِيعَة فَهُوَ خير على كل حَال وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى كَأَنَّهُ قَائِم بَين يَدي الله تَعَالَى وَالله ينظر إِلَيْهِ فَإِن كَانَ من الصَّالِحين فليحذر الله تَعَالَى لقَوْله تَعَالَى: {يَوْم يقوم النَّاس لرب الْعَالمين} (وَمن رأى) كَأَنَّهُ يكلم الله من وَرَاء حجاب فَإِنَّهُ يحسن دينه وَإِن كَانَ عِنْده أَمَانَة أَدَّاهَا وَإِن كَانَ ذَا سُلْطَان نفذ أمره (وَمن رأى) أَنه يتَكَلَّم مَعَ الله تَعَالَى من غير حجاب فَإِنَّهُ يؤول بِحُصُول خلل فِي دينه لقَوْله تَعَالَى: {وَمَا كَانَ لبشر أَن يكلمهُ الله} الْآيَة (وَمن رأى) أَن الله سبحانه وتعالى حَاسبه أَو غفر لَهُ وَلم يعاين صفة لقى الله فِي الْقِيَامَة كَذَلِك (وَمن رأى) أَن الله تَعَالَى ساخط عَلَيْهِ فَإِنَّهُ عَاق لوَالِديهِ فليستغفر لَهُم وَرُبمَا يسْقط من مَكَان رفيع لقَوْله تَعَالَى: {وَمن يحلل عَلَيْهِ غَضَبي فقد هوى} .

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة الْعَرْش وَمَا يَتَّصِف بِهِ)

من رَآهُ على هَيئته الموصوفة عِنْد الْعلمَاء فَهُوَ خير على كل حَال وَقيل إِن الْعَرْش يعبر بأمير كَبِير وَمن رَآهُ وَهُوَ مزخرف يعبر بِأَنَّهُ يصاحب رجلا جليل الْقدر وَيحصل لَهُ مِنْهُ عز وجاه وَإِن رَآهُ بالزخرف ملونا بألوان شَتَّى يدل على أَن الرَّائِي يصاحب رُؤَسَاء ذَوي فَضَائِل وَمَعْرِفَة بعلو قدره وَمن رَآهُ على غير هَيْئَة حَسَنَة يكون ذَلِك نقصا فِي حق الرَّائِي وحقارة لَهُ (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق رُؤْيَة الْعَرْش تؤول على خَمْسَة أوجه: رفْعَة ومرتبة ورياسة وَعز وجاه وَمن رأى أَنه يُطِيل النّظر إِلَى الْعَرْش من غير مشقة فَإِنَّهُ يَدُوم فِي سُلْطَانه.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة كرْسِي الله تَعَالَى وَهُوَ فِي الْمَنَام علم)

وَقَالَ بعض المعبرين: هُوَ رجل كَامِل عَاقل (وَقَالَ) جَابر المغربي: الْكُرْسِيّ يؤول بمطيع أَو زاهد تَقِيّ كَامِل أَو ملك عَادل ورع عَالم وَمن رأى أَنه متلأليء بِالنورِ وَعَلِيهِ جلالة رهيبة فَيكون الرَّائِي ذَا مهابة وَصَلَاح وَإِن رَآهَا أحد من الْعلمَاء يكون فِي حَقه أحسن من غَيره ويصل إِلَى رائيه خير من السُّلْطَان الْعَادِل أَو من الْعَالم الْعَامِل وَيكثر مَاله (وَمن) رأى بضد ذَلِك يدل على حُصُول نقص فِي أُمُور الْعلمَاء والأدباء (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: رُؤْيَة الْكُرْسِيّ تؤول على سِتَّة أوجه الْعدْل والعز وَالْولَايَة وعلو الْأَمر وَالْقدر والجاه وَأما الْكُرْسِيّ يؤلفه النجار فَهُوَ امْرَأَة بِقدر ذَلِك الْكُرْسِيّ (وَقَالَ) السالمي: رُؤْيَة الْكُرْسِيّ خير على كل حَال مَا لم يكن فِيهِ مَا يُنكر فِي الشَّرِيعَة إِن فَإِن كَانَ فِيهِ مَا يُنكر فَلَيْسَ بجيد فِي حق الرَّائِي إِمَّا فِي الدّين أَو فِي أَمر يَطْلُبهُ من أُمُور الدُّنْيَا.
মানুষ এমন কোনো স্বপ্ন দেখল যা কল্যাণ বা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়, তারপর সে সেটির জন্য অপেক্ষা করল এবং প্রথমবার যেমন দেখেছিল তেমনই হতে দেখল; সে ক্ষেত্রে সেটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর মতে এটি পুনরাবৃত্তি হবে না। কোনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা যদি মূল ব্যাখ্যার বিপরীতে করা হয়, তবে তার মাধ্যমে স্বপ্নটি বাতিল হয়ে যায় না। কারণ তেমনটি হলে মিশররাজের স্বপ্ন বাতিল হয়ে যেত, যখন ব্যাখ্যাকারীরা সেটিকে 'অলীক স্বপ্ন' বলেছিল। শয়তান স্বপ্নে আল্লাহ তাআলা, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং রাসূলগণ ব্যতীত সব কিছুর রূপ ধারণ করতে পারে। হাদীসে এসেছে: তোমাদের কেউ যখন অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তখন সে যেন উঠে দাঁড়ায় এবং থুথু ফেলে এবং মানুষের কাছে তা বর্ণনা না করে। অন্য হাদীসে আছে: স্বপ্ন কোনো পাখির পায়ে থাকে, যখন তা বর্ণনা করা হয় তখন তা ঘটে যায়। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী 'পায়ে থাকা' বলতে 'ঘটে যাওয়া' বুঝিয়েছেন। অন্য এক হাদীসে এমন অর্থ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, মানুষ যখন স্বপ্নে অপ্রিয় কিছু দেখে, তখন সে যেন কাউকে তা না বলে, তার বাম দিকে থুতু ফেলে এবং শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে; তবে ইনশাআল্লাহ তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর হওয়া উচিত দক্ষ, বুদ্ধিমান, কথায় সত্যবাদী, কাজে উত্তম এবং দ্বীনদারী ও পবিত্রতা রক্ষায় সুপরিচিত; যাতে তার সত্যবাদিতার খ্যাতির কারণে তার ব্যাখ্যায় কেউ আপত্তি না করে। এজন্যই আল্লাহ ইউসুফকে 'অতি সত্যবাদী' নামে অভিহিত করেছেন। তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যার মূলনীতিসমূহে অভিজ্ঞ হতে হবে এবং প্রত্যেকের স্বপ্নকে তার অবস্থা ও যা তার জন্য উপযুক্ত ও মানানসই সেই অনুযায়ী পৃথক করতে হবে। তিনি মানুষের দেখা স্বপ্নের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান করবেন না। তিনি তার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কুরআন মাজীদের আয়াত ও তার তাফসীর, রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর হাদীস এবং পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করবেন। কখনো কখনো বিরল ঘটনা ঘটে থাকে, সে ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে প্রচলিত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য শব্দাবলির ওপর এবং সাহিত্যিকদের কবিতা ও অন্যান্য বিষয় থেকে যা অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার ওপর নির্ভর করা হয়; যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ বিরল ঘটনার অধ্যায়ে কিছু বর্ণনা করব। যদি স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীরা কেবল কিতাবে যা লিপিবদ্ধ আছে তার ওপর নির্ভর করতেন, তবে তারা অনেক বিষয়ে অক্ষম হয়ে পড়তেন যা কিতাবে বর্ণিত হয়নি; কারণ স্বপ্ন ব্যাখ্যা এবং মানুষের স্বপ্নের ভিন্নতা এমন এক সমুদ্রের মতো যার কোনো তীর নেই। আমি এই কিতাবটি সংক্ষিপ্ত আকারে লিখেছি এবং আশিটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। প্রতিটি অধ্যায়ে তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো রেখেছি। আমি আল্লাহর কাছে ভুল ও বিস্মৃতি থেকে সুরক্ষা কামনা করি, কারণ তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

‌‌(প্রথম অধ্যায়)

 

‌‌(আল্লাহ তাআলা, আরশ, কুরসি, লওহ, কলম এবং সিদরাতুল মুনতাহা দেখা সংক্রান্ত)

 

৩ - ‌‌(আল্লাহ তাআলাকে দেখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

দানিয়াল বলেছেন: মুমিনদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্নে আল্লাহ আজ্জা ও জাল-কে কোনো ধরণ ও প্রকৃতি ছাড়াই দেখল যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তা নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে স্বয়ং নিজেকে দেখাবেন এবং তার প্রয়োজন পূরণ হবে। যে ব্যক্তি তাঁকে দণ্ডায়মান দেখল এবং আল্লাহ তাআলা সর্বক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে আছেন, তা নির্দেশ করে যে এই বান্দা এমন বিষয়ে মুক্তি পাবে যা আল্লাহ তাআলার রহমতের অন্তর্ভুক্ত। যদি সে পাপী হয়, তবে তার তাওবা করা উচিত। ইবনে সিরীন বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে দেখল যে তিনি তার সাথে কথা বলছেন, তা নির্দেশ করে যে এই বান্দা আল্লাহর নিকট সম্মানিত হবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তাকে অতি নিকটবর্তী করে একান্ত আলাপে ধন্য করেছি।" যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ পর্দার আড়াল থেকে তার সাথে কথা বলছেন, তা তার ধন-সম্পদ, নেয়ামত, দ্বীনি শক্তি ও আমানতদারী বৃদ্ধির প্রমাণ। আর যে ব্যক্তি দেখল আল্লাহ পর্দার আড়াল ছাড়া সরাসরি তার সাথে কথা বলছেন, তা দ্বীনি কারণে তার ওপর কোনো সতর্কবার্তা বা ভাষণ আসার ইঙ্গিত; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কোনো মানুষের জন্যই এমন নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহী ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ব্যতীত।" যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা তাকে নিকটবর্তী করেছেন, তাকে সম্মান দিয়েছেন এবং মহত্ত্বের সাথে দয়া করেছেন, তা নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা আখিরাতে তার ওপর দয়া করবেন তবে দুনিয়াতে তাকে পরীক্ষায় ফেলবেন। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা তাকে উপদেশ দিচ্ছেন, তবে সে এমন কোনো কাজ করবে যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা তাকে কল্যাণের সুসংবাদ দিচ্ছেন, তা নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা তার ওপর সন্তুষ্ট। আর যে ব্যক্তি দেখল যে তিনি তাকে অকল্যাণের সংবাদ দিচ্ছেন, তা নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা তার ওপর রাগান্বিত, তাই সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তার কর্মসমূহ সংশোধন করে। যে ব্যক্তি দেখল যে সে আল্লাহর দুই হাতের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা নির্দেশ করে যে সে কোনো জালেমের কবলে পড়বে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তুমি যদি দেখতে পেতে যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে মাথা নিচু করে থাকবে!" আল-কিরমানী বলেছেন: যাকে আল্লাহ তাআলা স্বপ্নে কিছু দান করেন, দুনিয়াতে তার শরীরের ওপর বিপদ ও পরীক্ষা আপতিত হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে দেখল এবং এমন কাউকে দেখল যে তাকে সংবাদ দিচ্ছে, তবে কোনো মানুষের কাছে তার কোনো প্রয়োজন দেখা দেবে এবং তার স্বপ্নের ধরন অনুযায়ী তা পূরণ হবে। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা কোনো জমিন, শহর, গ্রাম বা পাড়ায় অবতীর্ণ হয়েছেন, তা নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা সেই স্থানের অধিবাসীদের সাহায্য করবেন এবং শত্রুদের ওপর বিজয় দান করবেন। যদি সেখানে দুর্ভিক্ষ থাকে তবে তা সচ্ছলতায় রূপ নেবে, আর যদি সচ্ছলতা থাকে তবে আল্লাহ তা আরও বাড়িয়ে দেবেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাম্যাবস্থা দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে নূর হিসেবে দেখল এবং সে তা বর্ণনা করতে সক্ষম হলো, তবে তা নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা তাকে অন্য কোনো নামে নামধারী করবেন যার ফলে সে মর্যাদা ও মহিমা লাভ করবে। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা তাকে বলছেন "আমার কাছে এসো", তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা কোনো স্থানের অধিবাসীদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন, তা নির্দেশ করে যে সেই স্থানের বিচারক বিচারে পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং তিনি প্রজাদের ওপর জুলুম করছেন অথবা সেই স্থানের আলেম ধর্মপ্রাণ নন। আর যদি স্বপ্নদ্রষ্টা চোর হয় তবে তার পা কাটা যাবে এবং এটি আরও নির্দেশ করে যে স্বপ্নদ্রষ্টা নিজেও পাপী এবং শাস্তির উপযুক্ত এবং সেই স্থানে বিপদ ও ফিতনা আপতিত হবে। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা কোনো পরিচিত ব্যক্তির আকৃতিতে আছেন, তবে তা নির্দেশ করে যে সেই ব্যক্তি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও মহান। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে কবরস্থানে দেখল, তা সেই কবরবাসীদের ওপর রহমত বর্ষণের প্রমাণ। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা কোনো আকৃতিতে আছেন এবং সে তাঁকে সিজদা করছে, তবে সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করছে। যে ব্যক্তি দেখল যে সে আল্লাহ তাআলাকে গালি দিচ্ছে, তবে সে আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তাঁর ফয়সালা ও হুকুমের ওপর অসন্তুষ্ট। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা খাটের ওপর বসে আছেন অথবা শুয়ে আছেন অথবা ঘুমাচ্ছেন অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু যা মহান রবের শানে মানানসই নয়, তা নির্দেশ করে যে স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লাহর নাফরমানি করছে এবং মন্দ লোকদের সঙ্গ দিচ্ছে। জাফর আস-সাদিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: স্বপ্নে আল্লাহ তাআলাকে দেখা সাতটি বিষয়ের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়: দুনিয়াতে নেয়ামত লাভ, আখিরাতে শান্তি, নিরাপত্তা ও আরাম, নূর ও হেদায়েত, দ্বীনি শক্তি, ক্ষমা লাভ এবং তাঁর অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশ। এর ফলে ন্যায়বিচার প্রকাশিত হয় এবং সেই জনপদে জালেমরা পরাজিত হয় এবং স্বপ্নদ্রষ্টা মর্যাদা ও সম্মান লাভ করে এবং আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান। আবু হাতেম বলেছেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে সিরীনকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কাছে কোন স্বপ্নটি সবচেয়ে বেশি সঠিক? তিনি বললেন: বান্দার তার স্রষ্টাকে কোনো ধরণ ও প্রকৃতি ছাড়াই দেখা। আস-সালেমী (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ আজ্জা ও জাল-কে দেখল যে তিনি তাকে আলিঙ্গন করছেন বা চুমু খাচ্ছেন, তবে সে যা চায় তাতে সফল হবে এবং তার পছন্দনীয় নেক আমল নসিব হবে। যে ব্যক্তি দেখল যে তিনি তাকে দুনিয়াবী কোনো বিষয় দান করেছেন, তবে সে রোগে আক্রান্ত হবে। যে ব্যক্তি দেখল যে তিনি তাকে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বা সুসংবাদ দিয়েছেন বা অন্য কিছু, তবে সেই প্রতিশ্রুতি প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে বাস্তবায়িত হবে; কারণ আল্লাহর বাণী: "তাঁর কথাই সত্য।" যে ব্যক্তি দেখল যে সে আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে আর আল্লাহ তাকে খুঁজছেন, তবে সে ইবাদত ও আনুগত্য থেকে দূরে সরে যাবে অথবা তার পিতা জীবিত থাকলে সে তাকে মুক্ত করবে অথবা সে যদি ক্রীতদাস হয় তবে তার মুনিবের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে অপমান করছেন, তবে সে বিদআতি হবে; সুতরাং সে যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভয় করে; আল্লাহর বাণীর কারণে: "তারা আল্লাহর কালাম শোনার পর তা অনুধাবন করার পরেও বিকৃত করত।" আর যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো স্বতন্ত্র অবস্থায় দেখল যা শরীয়তসম্মত, তবে তা সর্বাবস্থায় কল্যাণকর। আবু সাঈদ আল-ওয়াজ বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহ তাআলার দুই হাতের সামনে দণ্ডায়মান দেখল এবং আল্লাহ তার দিকে তাকিয়ে আছেন, সে যদি নেককার হয় তবে সে যেন আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে; কারণ আল্লাহ বলেছেন: "যেদিন মানুষ বিশ্বপ্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হবে।" যে ব্যক্তি দেখল যেন সে পর্দার আড়াল থেকে আল্লাহর সাথে কথা বলছে, তবে তার দ্বীন সুন্দর হবে এবং তার কাছে আমানত থাকলে তা সে আদায় করবে আর সে যদি শাসক হয় তবে তার নির্দেশ কার্যকর হবে। যে ব্যক্তি দেখল যে সে পর্দার আড়াল ছাড়াই আল্লাহর সাথে কথা বলছে, তবে তা তার দ্বীনের ত্রুটির কারণ হবে; আল্লাহর বাণীর কারণে: "কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন...।" যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার হিসাব নিচ্ছেন অথবা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সে কোনো আকৃতি প্রত্যক্ষ করেনি, তবে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহকে এভাবেই পাবে। যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা তার ওপর অসন্তুষ্ট, তবে সে তার পিতামাতার অবাধ্য; তাই সে যেন তাদের কাছে ক্ষমা চায়। অনেক সময় এটি কোনো উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যার ওপর আমার ক্রোধ আপতিত হয়, সে ধ্বংস হয়ে যায়।"

৪ - ‌‌(আরশ এবং এর গুণাবলি দেখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি আরশকে আলেমদের বর্ণিত আকৃতিতে দেখল, তা সর্বাবস্থায় কল্যাণকর। বলা হয়ে থাকে যে, আরশ দ্বারা বড় কোনো আমীর বা নেতা বোঝানো হয়। যে ব্যক্তি আরশকে সুসজ্জিত দেখল, তার ব্যাখ্যা হলো সে কোনো মহান ব্যক্তির সঙ্গী হবে এবং তার থেকে মর্যাদা ও প্রভাব লাভ করবে। আর যদি সেটিকে বিভিন্ন রঙে সুসজ্জিত দেখে, তবে তা নির্দেশ করে যে স্বপ্নদ্রষ্টা এমন সব নেতাদের সঙ্গ লাভ করবে যারা গুণী এবং নিজ মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন। যে ব্যক্তি আরশকে সুন্দর নয় এমন আকৃতিতে দেখল, তা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য কোনো ত্রুটি ও হীনতার লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেছেন: আরশ দেখার ব্যাখ্যা পাঁচটি বিষয়ের ওপর হয়: উচ্চতা, পদমর্যাদা, নেতৃত্ব, সম্মান ও প্রভাব। যে ব্যক্তি দেখল যে সে কোনো কষ্ট ছাড়াই আরশের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে আছে, তবে তার কর্তৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হবে।

৫ - ‌‌(আল্লাহ তাআলার কুরসি দেখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যা স্বপ্নে জ্ঞান হিসেবে গণ্য হয়)

কোনো কোনো স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী বলেছেন: এটি একজন পূর্ণাঙ্গ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি। জাবের আল-মাগরিবী বলেছেন: কুরসি দ্বারা অনুগত অথবা দুনিয়াবিমুখ পরহেযগার পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি অথবা ন্যায়পরায়ণ, মুত্তাকী ও আলেম বাদশাহ বোঝানো হয়। যে ব্যক্তি দেখল যে সেটি নূরের প্রভায় উজ্জ্বল এবং তার ওপর গাম্ভীর্য ও প্রভাব বিদ্যমান, তবে স্বপ্নদ্রষ্টা প্রভাব ও সংশোধনের অধিকারী হবে। যদি কোনো আলেম এটি দেখেন তবে তা অন্যদের তুলনায় তার জন্য বেশি উত্তম হবে এবং স্বপ্নদ্রষ্টা কোনো ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ বা আমলকারী আলেমের পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভ করবে এবং তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত দেখল, তা আলেম ও সাহিত্যিকদের বিষয়ে কোনো ত্রুটি ঘটার ইঙ্গিত। জাফর আস-সাদিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: কুরসি দেখার ব্যাখ্যা ছয়টি বিষয়ের ওপর হয়: ন্যায়বিচার, সম্মান, শাসনক্ষমতা, বিষয়ের উচ্চতা, মর্যাদা ও প্রভাব। আর কাঠমিস্ত্রির তৈরি কুরসির ক্ষেত্রে তা সেই কুরসির পরিমাণ অনুযায়ী কোনো নারী বোঝায়। আস-সালেমী বলেছেন: কুরসি দেখা সর্বাবস্থায় কল্যাণকর যতক্ষণ না তাতে শরীয়ত বিরোধী কিছু দেখা যায়। যদি তাতে অপছন্দনীয় কিছু থাকে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য ভালো নয়; হয় তার দ্বীনের ক্ষেত্রে অথবা দুনিয়াবী কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে যা সে খুঁজছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬০৭)
6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة اللَّوْح الْمَحْفُوظ)

وَهِي تعبر بِرُؤْيَة رجل عَالم مُؤمن مَقْبُول الْكَلَام (وَقَالَ) بعض المعبرين: هُوَ رجل مصلح ينْفق مَاله فِي طَرِيق الْحق (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: هُوَ يؤول للرائي بِحُصُول علم وَقُرْآن وَحِكْمَة لقَوْله عز وجل: {بل هُوَ قُرْآن مجيد فِي لوح مَحْفُوظ} وَقَالَ جَابر المغربي: وَمن رأى اللَّوْح الْمَحْفُوظ صَغِيرا حَقِيرًا يدل على كَون حَال الرَّائِي رديئا وَمن رأى اسْمه مَكْتُوبًا فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله (وَمن رأى) شَيْئا مَكْتُوبًا فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ يكون ذَلِك الشَّيْء مَوْجُودا بِعَيْنِه وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: رُؤْيَته اللَّوْح الَّذِي يتَعَلَّم فِيهِ الصّبيان يؤول على سِتَّة أوجه رياسة وَولد وعالم وهداية ونفاذ أَمر وَعلم.

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة الْقَلَم)

فَمن رأى قلم الْقُدْرَة وَهُوَ يكْتب فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ وَفسّر قِرَاءَة الْكتاب فَإِن الرُّؤْيَة تكون كَمَا هِيَ مَكْتُوبَة وَإِن لم يُفَسر الْكِتَابَة فَإِنَّهُ يكون متفكرا فِي خلق الله ورؤية الْقَلَم مَا لم يكن فِيهِ حَادث فَهِيَ جَيِّدَة وَإِن كَانَ فِيهِ حَادث فَهِيَ تشوش خاطر أَو تَعْطِيل مَا يَقْصِدهُ من أُمُور الدُّنْيَا وَأما أَقْلَام الْكِتَابَة فلهَا تأويلات فَمن رأى أَن بِيَدِهِ قَلما يرزقه الله تَعَالَى ولدا عَالما وَقيل إِنَّه وَظِيفَة وَقيل علم لقَوْله تَعَالَى: {علم بالقلم} الْآيَة وَإِن رَآهُ يكْتب بِهِ فَهُوَ مشي حَال وَقَضَاء حَاجَة (وَمن رأى) بِهِ مَا يعِيبهُ فَهُوَ ضد ذَلِك (وَمن رأى) أَنه يكْتب وَلَا يظْهر أثر كِتَابَته فَإِنَّهُ إِن كَانَ صَاحب منصب عزل عَنهُ وَقيل أمره لَا ينفذ وَقد رأى بعض الْأَعْيَان بِيَدِهِ أَرْبَعَة أَقْلَام فعبرت بأَرْبعَة وظائف وَكَانَ الْأَمر كَذَلِك وَمن رأى بِيَدِهِ عدَّة أَقْلَام فَهُوَ خير على كل حَال وَمن رأى أَنه يبرى قَلما وَأتم برايته يكون مُسَددًا فِي أُمُوره وَإِن عسرت عَلَيْهِ برايته يكون بضد ذَلِك (وَمن رأى) أَنه يَمْتَد قَلما من دَوَاة مَجْهُولَة فَإِنَّهُ يركب فَاحِشَة (وَمن رأى) أَنه زوج قَلما إِلَى قلم فَفِيهِ وَجْهَان إِمَّا أَن يُولد لَهُ ولدان أَو يَأْتِيهِ أَخ (وَمن رأى) أَن قلمه ضَاعَ أَو سرق أَو بَاعه أَو كسر فَلَا خير فِيهِ وَيكون التَّعْبِير على قدر حسب الرَّائِي وَمن رأى أَنه يكْتب بقلم وَهُوَ أُمِّي فَلَا خير فِيهِ وَرُبمَا يدل على قرب وَفَاته وَقَالَ الإِمَام جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: رُؤْيَة الْقَلَم تؤول على سَبْعَة أوجه: حِكْمَة وَأمر وَعلم وأبهة وَولَايَة واستقامة الْأَشْيَاء ونيل المُرَاد.

8 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة سِدْرَة الْمُنْتَهى)

من رأى بهَا أوراقاً ثَابِتَة يدل على كَثْرَة المواليد فِي ذَلِك الزَّمَان وَالْمَكَان (وَمن رأى) وَرقهَا أَو بعضه يتساقط فَيدل على وُقُوع فنَاء (وَمن رأى) أَن ورقة عَلَيْهَا اسْم معِين اصْفَرَّتْ يكون قرب أجل صَاحب ذَلِك الِاسْم وَإِن سَقَطت يكون فرَاغ عمره (وَمن رأى) أَنَّهَا خَالِيَة عَن أوراقها لَا خير فِيهِ وَرُبمَا دلّت رؤيتها على انْتِهَاء أَمر الرَّائِي بِمَا هُوَ فِيهِ من خير أَو شَرّ لاشتقاق اسْمهَا.

‌‌(الْبَاب الثَّانِي)

 

‌‌(فِي رُؤْيَة الْمَلَائِكَة وَالْوَحي وَالسَّمَاوَات والأفلاك)

فصل من رأى جِبْرِيل عليه السلام فَإِنَّهُ يُسَافر فِي طلب علم وَيدْرك أمْنِيته وَإِن تَكَرَّرت رُؤْيَاهُ فَإِنَّهُ ظفر على الْأَعْدَاء وَرُبمَا أَمر بِمَعْرُوف أَو نهى عَن مُنكر (وَمن رأى) مِيكَائِيل فَإِنَّهُ يرْزق مَالا وشرفا وَعزا وَيكون سخيا جوادا (وَمن رأى) إسْرَافيل فَإِنَّهُ خبر صَالح وسفر فِيهِ معاش بمصلحة وَمَنْفَعَة (وَمن رأى) عزرائيل ملك الْمَوْت فليستعد للْمَوْت وَإِن كَانَ هُنَاكَ عليل يدل على مَوته وَرُبمَا دلّ ذَلِك على عَدو قَاصد فليعتبر بِسوء أَحْوَال الرُّؤْيَا وَمَا تدل عَلَيْهِ من صَلَاح وَفَسَاد (وَمن رأى) أَنه يقبله فَيدل على حُصُول مِيرَاث وَقيل تدل على تفرق جمَاعَة أَو حُدُوث أَمر مَكْرُوه (وَمن رأى) أحدا من الْمَلَائِكَة الروحانية أَو الْكِرَام الْكَاتِبين فَإِن ذَلِك شَهَادَة يرزقها أَو شَهَادَة تقع عَلَيْهِ وَمن رأى أحد الْمَلَائِكَة فِي مَوضِع فَإِن
6 - ‌‌(লাওহে মাহফুজ দেখা বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

এটি একজন আলেম, মুমিন এবং যার কথা গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তির দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। (কেউ বলেছেন) কিছু স্বপ্নবিশারদ মনে করেন: এটি একজন সৎ ব্যক্তি যিনি সত্যের পথে নিজের অর্থ ব্যয় করেন। (আল-কিরমানি বলেছেন): স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য এটি জ্ঞান, কুরআন এবং প্রজ্ঞা অর্জনের লক্ষণ; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলক) সংরক্ষিত।} জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি লাওহে মাহফুজকে ছোট ও নগণ্য দেখবে, তা স্বপ্নদ্রষ্টার অবস্থা মন্দ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর যে ব্যক্তি লাওহে মাহফুজে নিজের নাম লিখিত দেখবে, তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ দেয়। (আর যে ব্যক্তি) লাওহে মাহফুজে কোনো কিছু লিখিত দেখবে, সেই বিষয়টি হুবহু বাস্তবে সংঘটিত হবে। জাফর সাদিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: শিশুরা যে তখতি বা স্লেটে শিক্ষা গ্রহণ করে তা দেখার ব্যাখ্যা ছয়টি দিক থেকে হতে পারে: নেতৃত্ব, সন্তান, আলেম, হিদায়াত, নির্দেশ কার্যকর হওয়া এবং জ্ঞান।

7 - ‌‌(কলম দেখা বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি কুদরতের কলমকে লাওহে মাহফুজে লিখতে দেখে এবং সেই লেখার অর্থ বুঝতে পারে, তবে স্বপ্নটি যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই বাস্তবায়িত হবে। আর যদি সেই লেখা বুঝতে না পারে, তবে সে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তাশীল হবে। কলম দেখার মধ্যে যতক্ষণ কোনো ত্রুটি বা দুর্ঘটনা না থাকে ততক্ষণ তা কল্যাণকর; কিন্তু যদি তাতে কোনো ত্রুটি দেখা যায়, তবে তা মনের অস্থিরতা বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার লক্ষণ। আর লেখার কলমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে; যে ব্যক্তি দেখবে যে তার হাতে কলম আছে, আল্লাহ তাআলা তাকে একজন জ্ঞানী সন্তান দান করবেন। বলা হয়েছে এটি একটি পদমর্যাদা, আবার বলা হয়েছে এটি জ্ঞান; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন}। আর যদি দেখে যে সে তা দিয়ে লিখছে, তবে তার অবস্থা ভালো হবে এবং প্রয়োজন পূরণ হবে। (আর যে ব্যক্তি) কলমে এমন কিছু দেখে যা ত্রুটিপূর্ণ, তবে তা এর বিপরীত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে লিখছে কিন্তু লেখার কোনো চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছে না, তবে সে যদি কোনো পদমর্যাদার অধিকারী হয় তবে তাকে পদচ্যুত করা হবে; বলা হয়েছে তার নির্দেশ কার্যকর হবে না। কোনো এক বিশিষ্ট ব্যক্তি তার হাতে চারটি কলম দেখেছিলেন, তখন তার ব্যাখ্যা করা হয়েছিল চারটি পদের মাধ্যমে এবং বাস্তবেও তাই হয়েছিল। যে ব্যক্তি নিজের হাতে অনেকগুলো কলম দেখবে, তা সর্বাবস্থায় কল্যাণকর। যে ব্যক্তি কলম শার্প করে এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন করে, সে তার কার্যাবলীতে সঠিক পথে থাকবে। আর যদি কলম শার্প করা তার জন্য কঠিন হয়, তবে তা এর বিপরীত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো অজ্ঞাত দোয়াত থেকে কলমে কালি নিচ্ছে, তবে সে কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে এক কলমকে অন্য কলমের সাথে যুক্ত করেছে, এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: হয় তার দুটি সন্তান হবে, নতুবা তার এক ভাই আসবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে তার কলম হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে বা সে তা বিক্রি করে দিয়েছে অথবা তা ভেঙে গেছে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। এর ব্যাখ্যা স্বপ্নদ্রষ্টার মর্যাদা অনুযায়ী হবে। যে ব্যক্তি দেখে যে সে কলম দিয়ে লিখছে অথচ সে নিরক্ষর, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই এবং সম্ভবত তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ইমাম জাফর সাদিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: কলম দেখার ব্যাখ্যা সাতটি দিক থেকে হতে পারে: প্রজ্ঞা, আদেশ, জ্ঞান, গাম্ভীর্য, শাসনক্ষমতা, বিষয়াদির স্থিতিশীলতা এবং উদ্দেশ্য লাভ।

8 - ‌‌(সিদরাতুল মুনতাহা দেখা বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি সেখানে স্থির পাতাসমূহ দেখবে, তা সেই সময় ও স্থানে প্রচুর জন্মহারের ইঙ্গিত দেয়। (আর যে ব্যক্তি) এর পাতা বা কিছু অংশ ঝরে পড়তে দেখবে, তবে তা মড়ক বা প্রাণহানির ইঙ্গিত দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) যে কোনো একটি পাতায় নির্দিষ্ট কোনো নাম রয়েছে এবং তা হলুদ হয়ে গেছে, তবে সেই নামের ব্যক্তির মৃত্যু নিকটবর্তী। আর যদি পাতাটি ঝরে যায়, তবে তার আয়ু শেষ। (যে ব্যক্তি দেখে) যে এটি পত্রহীন, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। সম্ভবত এর দর্শন স্বপ্নদ্রষ্টার বর্তমান অবস্থার সমাপ্তি নির্দেশ করে, তা ভালো হোক বা মন্দ হোক; কারণ এর নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে এটি গ্রহণ করা হয়েছে।

‌‌(দ্বিতীয় অধ্যায়)

 

‌‌(ফেরেশতা, ওহি, আসমান ও কক্ষপথসমূহ দেখা প্রসঙ্গে)

পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখবে, সে জ্ঞান অন্বেষণে সফর করবে এবং তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। যদি বারংবার তাকে দেখে, তবে সে শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবে এবং সম্ভবত সে সৎ কাজের আদেশ দিবে অথবা অসৎ কাজে নিষেধ করবে। (যে ব্যক্তি) মিকাইলকে দেখবে, তাকে সম্পদ, মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করা হবে এবং সে দানশীল ও মহানুভব হবে। (যে ব্যক্তি) ইসরাফিলকে দেখবে, তা সুসংবাদ এবং এমন সফরের ইঙ্গিত দেয় যাতে কল্যাণ ও উপকারের মাধ্যমে জীবিকা অর্জিত হবে। (যে ব্যক্তি) আজরাঈল তথা মালাকুল মাউতকে দেখবে, সে যেন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আর যদি সেখানে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি থাকে, তবে তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। সম্ভবত এটি কোনো ধাবমান শত্রুরও ইঙ্গিত হতে পারে; তাই স্বপ্নের অবস্থার ভালো-মন্দ এবং তা যে সংশোধন বা বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয় তা বিবেচনা করা উচিত। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তাকে চুম্বন করছে, তবে তা উত্তরাধিকার প্রাপ্তির ইঙ্গিত দেয়। বলা হয়েছে এটি দলের বিচ্ছিন্নতা বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত দেয়। (যে ব্যক্তি) আধ্যাত্মিক ফেরেশতা বা কিরামান কাতিবিনদের কাউকে দেখবে, তবে সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে অথবা তার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য প্রদান করা হবে। যে ব্যক্তি কোনো স্থানে ফেরেশতাদের কাউকে দেখবে, তবে সে...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬০৮)
أَهله يصيبون خيرا وظفرا وفرجا من هم أَو غم وَإِذا رأى جملَة من الْمَلَائِكَة فَرُبمَا يدل على عَسْكَر وَرُبمَا يكون طاعونا وحربا (وَقَالَ) بَعضهم: الْملك يعبر بِالْملكِ أَو بقاصده. (وَمن رأى) أَنه يطير مَعَ الْمَلَائِكَة فَإِنَّهُ ينَال السَّعَادَة فِي الْآخِرَة ويفوز برضوان الله وَكَرمه (وَمن رأى) أحدا من الْمَلَائِكَة على هَيْئَة إِنْسَان حسن الملبس والمنظر فَإِنَّهُ سرُور وَخير وَإِن رَآهُ على صُورَة قبيحة أَو نُقْصَان فَإِنَّهُ ضد ذَلِك وَإِن رأى ملكا وَأخْبرهُ بِأَمْر فَيكون كَذَلِك وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: رُؤْيَة الْمَلَائِكَة إِذا كَانُوا معروفين تدل على حُصُول شَيْء لصَاحب الرُّؤْيَا وَعز وَقُوَّة وَبشَارَة وَنَصره وَأمن وَيسر وَحج (وَمن رأى) الْمَلَائِكَة هَبَطت فِي مَكَان فَإِنَّهُ يؤول بالنصرة لأَهله (وَمن رأى) أحدا من الْمَلَائِكَة على صفة النسْوَة فَإِنَّهُ يؤول بكذبه على الله تَعَالَى (وَمن رأى) كَأَن الْمَلَائِكَة يلعنونه فَإِنَّهُ يؤول بِفساد دينه وَعدم اعْتِقَاده (وَمن رأى) أحدا من الْمَلَائِكَة يصنع شَيْئا مَعْرُوفا فَإِنَّهُ يؤول على حسن دين صَاحب تِلْكَ الصَّنْعَة وسلوكه فِيهَا وَفِي تِلْكَ الطَّرِيقَة الحميدة (وَمن رأى) أَنه صَاحب ملكا فَإِنَّهُ عز ودولة ورفعة وظفر.

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْوَحْي)

من رأى أَنه أوحى إِلَيْهِ أَو إِلَى غَيره بِأَمْر على لِسَان ملك مَعْرُوف الْهَيْئَة لَا يشك فِيهِ فَإِنَّهُ يعبر على سِتَّة أوجه: أَولهَا مَا يخبر بِهِ حق لقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم الدَّال مَعْنَاهُ على ذَلِك وَالثَّانِي: تَفْوِيض أَمر إِلَيْهِ أَو وُصُول خبر من السُّلْطَان على لِسَان وَاسِطَة ثمَّ يعْتَبر الْخَبَر على مَا يظْهر مِمَّا قيل للرائي وَالثَّالِث: علو شَأْن وارتفاع مَكَان وَعز وإقبال وَالرَّابِع: زِيَادَة فِي الْعلم وَصَلَاح فِي الدّين وسياسة فِي الْأُمُور وَالْخَامِس: رُبمَا يكون مضى من عمر الرَّائِي أَرْبَعُونَ سنة إِذا كَانَ مِمَّا يعبر عَنهُ وَالسَّادِس: إِنَّه كَرَامَة من الله تَعَالَى وعصمة.

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا السَّمَاوَات)

من رأى أَنه فِي السَّمَاء الأولى فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله وَمن رأى أَنه فِي السَّمَاء الثَّانِيَة يحصل لَهُ علم وَحِكْمَة وَمن رأى أَنه فِي السَّمَاء الثَّالِثَة يحصل لَهُ الْعِزّ والإقبال فِي الدُّنْيَا (وَمن رأى) أَنه فِي السَّمَاء الرَّابِعَة فَإِنَّهُ يتَقرَّب إِلَى السُّلْطَان وَمن رأى أَنه فِي السَّمَاء الْخَامِسَة يحصل لَهُ فزع وجزع (وَمن رأى) أَنه فِي السَّمَاء السَّادِسَة يحصل لَهُ سَعَادَة وجاه (وَمن) رأى أَنه صعد إِلَى السَّمَاء وَوجد بَابهَا مغلوقا فَلَا خير فِيهِ وَيدل على عمله إِمَّا برياء أَو نقص فِيهِ (وَمن رأى) أَنه لَا يَسْتَطِيع النّظر إِلَى السَّمَاء نكس رَأسه فَإِنَّهُ يعز سُلْطَانه وَتغَير أُمُوره وَقَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه فِي السَّمَاء فَإِنَّهُ يدل على أَنه يُسَافر سفرا عَظِيما ويجد فِي ذَلِك السّفر عزا ومرتبة فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة (وَمن) رأى أَنه طَار على عرض السَّمَاء يكون مثل ذَلِك وَمن رأى أَنه يُسَافر مُسْتَقِيمًا إِلَى أَن وصل إِلَى السَّمَاء يدل على وُصُول شدَّة ونصرة للرائي وَمن رأى أَنه سَار إِلَى السَّمَاء قَائِما وَلم يعد إِلَى الأَرْض يدل على انْقِضَاء عمره (وَمن رأى) أَن رَأسه وصل إِلَى السَّمَاء يدل على علو الْمنزلَة وَزِيَادَة الأبهة (وَمن رأى) انه سمع من السَّمَاء نِدَاء مُنَاد فَإِنَّهُ يكون خيرا. (قَالَ) الْكرْمَانِي: من رأى أَنه بني فِي السَّمَاء بِنَاء فَإِنَّهُ يدل على مَوته وَمن رأى أَنه بنى فِي السَّمَاء بِنَاء من الْآجر والجص يدل على أَنه يكون مغرورا فِي الدُّنْيَا وَمن رأى أَنه نزل من السَّمَاء رمل أَو تُرَاب إِن كَانَ قَلِيلا يكون جيدا وَإِن كَانَ كثيرا يكون ضد ذَلِك وَمن رأى أَنه نزل من السَّمَاء نَار أَو عقرب أَو حَيَّة أَو حجر يدل على نزُول عَذَاب الله على ذَلِك الْمَكَان (وَمن رأى) أَنه تدلى من السَّمَاء يدل على أَنه يتَمَسَّك بدين الله وَسنة رَسُوله (وَمن رأى) أَنه مُعَلّق من السَّمَاء بِحَبل يدل على علو أمره (وَمن رأى) ابواب السَّمَاء مفتحة يدل على إِجَابَة الدُّعَاء وَكَثْرَة الأمطار وجريان الْمِيَاه لقَوْله تَعَالَى: {ففتحنا أَبْوَاب السَّمَاء بِمَاء منهمر} الْآيَة (وَمن رأى) أَنه صعد إِلَى السَّمَاء بسلم أَو بِسَبَب من الْأَسْبَاب نَالَ من الْملك حظرة ورفعة وَإِن صعد إِلَيْهَا بِلَا سلم وَلَا سَبَب نَالَ مِنْهُ خوفًا. (وَمن) رأى أَنه غَابَ فِي إِحْدَى السَّمَاوَات وَلم يدر بِنَفسِهِ فِي أَي سَمَاء هُوَ وَلم يرجع إِلَى الدُّنْيَا فَإِنَّهُ يَمُوت لَا
তার পরিবার কল্যাণ, বিজয় এবং দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি লাভ করবে। আর যদি একদল ফেরেশতা দেখে, তবে তা সম্ভবত একটি বিশাল সেনাবাহিনী নির্দেশ করে, আবার কখনো তা প্লেগ রোগ বা যুদ্ধের ইঙ্গিত হতে পারে। কেউ কেউ বলেন: ফেরেশতা দেখা মানে বাদশাহ বা তার প্রতিনিধির দেখা পাওয়া। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে ফেরেশতাদের সাথে উড়ছে, তবে সে পরকালে সৌভাগ্য অর্জন করবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ লাভ করবে। যে ব্যক্তি ফেরেশতাদের কাউকে সুন্দর পোশাক ও সুন্দর আকৃতি সম্পন্ন মানুষের বেশে দেখল, তবে তা আনন্দ ও কল্যাণের প্রতীক। আর যদি কুৎসিত বা অসম্পূর্ণ আকৃতিতে দেখে, তবে তা বিপরীত অর্থ বহন করে। যদি সে কোনো ফেরেশতাকে দেখে এবং তিনি তাকে কোনো সংবাদ প্রদান করেন, তবে তা তেমনই ঘটবে। আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ বলেন: পরিচিত ফেরেশতাদের দেখা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য কোনো কিছু প্রাপ্তি, সম্মান, শক্তি, সুসংবাদ, বিজয়, নিরাপত্তা, সচ্ছলতা এবং হজের ইঙ্গিত দেয়। যে দেখে যে ফেরেশতারা কোনো স্থানে অবতরণ করছে, তবে তা সেই স্থানের অধিবাসীদের জন্য বিজয়ের ব্যাখ্যা দেয়। যদি কেউ ফেরেশতাদের কাউকে নারী রূপে দেখে, তবে তা আল্লাহর ওপর তার মিথ্যাচারের ইঙ্গিত। যে দেখল ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিচ্ছে, তবে তা তার দীনের বিকৃতি এবং বিশ্বাসের অভাবকে নির্দেশ করে। যে দেখল কোনো ফেরেশতা পরিচিত কোনো কাজ করছেন, তবে তা সেই নির্দিষ্ট কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তির উত্তম দীনদারী এবং সেই প্রশংসিত পথে তার চলার পরিচায়ক। যে দেখল সে কোনো ফেরেশতার সাহচর্য পেয়েছে, তবে তা সম্মান, প্রতিপত্তি, উচ্চ মর্যাদা এবং বিজয়।

৩ - ‌‌(ওহী বা প্রত্যাদেশ দেখা বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

যে স্বপ্নে দেখল যে কোনো সুপরিচিত আকৃতির ফেরেশতার মাধ্যমে তার প্রতি বা অন্য কারও প্রতি কোনো বিষয়ে ওহী বা প্রত্যাদেশ এসেছে যাতে তার কোনো সন্দেহ নেই, তবে তা ছয়টি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয়: প্রথমত: তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের মর্মার্থ তা-ই নির্দেশ করে। দ্বিতীয়ত: তার ওপর কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা অথবা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সুলতানের পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছানো; অতঃপর স্বপ্নদ্রষ্টাকে যা বলা হয়েছে সেই নিরিখেই সংবাদের বিচার করা হবে। তৃতীয়ত: সুউচ্চ মর্যাদা, উচ্চ পদমর্যাদা, সম্মান ও সৌভাগ্য। চতুর্থত: ইলম বা জ্ঞান বৃদ্ধি, দীনের সংস্কার এবং কার্যাবলীতে বিচক্ষণতা। পঞ্চমত: সম্ভবত স্বপ্নদ্রষ্টার বয়সের চল্লিশ বছর অতিবাহিত হওয়া, যদি তা সেভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। ষষ্ঠত: এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান এবং সুরক্ষা।

৪ - ‌‌(আকাশসমূহ দেখা বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

যে দেখল সে প্রথম আকাশে রয়েছে, তবে তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যে দেখল সে দ্বিতীয় আকাশে রয়েছে, তবে সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করবে। যে দেখল সে তৃতীয় আকাশে রয়েছে, তবে সে দুনিয়াতে সম্মান ও সৌভাগ্য লাভ করবে। যে দেখল সে চতুর্থ আকাশে রয়েছে, তবে সে সুলতানের নৈকট্য লাভ করবে। যে দেখল সে পঞ্চম আকাশে রয়েছে, তবে সে ভয় ও অস্থিরতা লাভ করবে। যে দেখল সে ষষ্ঠ আকাশে রয়েছে, তবে সে সুখ ও প্রতিপত্তি লাভ করবে। যে দেখল সে আকাশে আরোহণ করেছে কিন্তু তার দরজা বন্ধ পেয়েছে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই; এটি তার আমলের ক্ষেত্রে রিয়া (লোকদেখানো) অথবা কোনো ত্রুটি নির্দেশ করে। যে দেখল সে আকাশের দিকে তাকাতে না পেরে মাথা নিচু করে ফেলল, তার প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে এবং অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। ইবনে সিরীন বলেন: যে দেখল সে আকাশে রয়েছে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে দীর্ঘ সফর করবে এবং সেই সফরে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। যে আকাশের প্রশস্ততায় উড়ল, তার ব্যাখ্যাও অনুরূপ। যে সোজা আকাশের দিকে সফর করে সেখানে পৌঁছে গেল, তা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য কাঠিন্য ও বিজয়ের আগমন নির্দেশ করে। যে আকাশের দিকে যাত্রা করল এবং আর জমিনে ফিরে এল না, তা তার জীবনকাল শেষ হওয়ার নির্দেশক। যার মাথা আকাশে পৌঁছাল, তা তার সুউচ্চ মর্যাদা ও শান-শওকত বৃদ্ধির দলিল। যে আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারীর ডাক শুনতে পেল, তা কল্যাণকর হবে। আল-কিরমানি বলেন: যে আকাশে কোনো দালান নির্মাণ করল, তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি আকাশে ইট ও চুন দিয়ে ঘর নির্মাণ করল, তা নির্দেশ করে যে সে দুনিয়াতে প্রতারিত হবে। যে আকাশ থেকে বালু বা মাটি পড়তে দেখল, তা যদি অল্প হয় তবে ভালো, আর বেশি হলে তা মন্দ। যে দেখল আকাশ থেকে আগুন, বিচ্ছু, সাপ বা পাথর বর্ষিত হচ্ছে, তা সেই স্থানে আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব নাজিল হওয়ার ইঙ্গিত। যে আকাশ থেকে ঝুলে আছে, তা নির্দেশ করে যে সে আল্লাহর দীন ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। যে রশি দিয়ে আকাশ থেকে ঝুলে আছে, তা তার পদমর্যাদার উচ্চতা নির্দেশ করে। আকাশের দরজাগুলো উন্মুক্ত দেখা দোয়া কবুল হওয়া এবং প্রচুর বৃষ্টি ও পানির প্রবাহের ইঙ্গিত, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর আমি প্রবল বর্ষণকারী পানির মাধ্যমে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দিলাম।" (আয়াত)। যে মই বা কোনো উসিলায় আকাশে উঠল, সে বাদশাহর নৈকট্য ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে; আর যদি মই বা উসিলা ছাড়া উঠে থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে ভীতি প্রাপ্ত হবে। যে কোনো এক আকাশে অদৃশ্য হয়ে গেল এবং নিজে কোন আকাশে আছে তা বুঝতে পারল না এবং দুনিয়াতে আর ফিরে এল না, তবে সে মারা যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬০৯)
محَالة لقَوْله تَعَالَى: {إِنِّي متوفيك ورافعك إِلَيّ} وَمن رأى أَنه فِي السَّمَاء وَلم يدر مَتى صعد إِلَيْهَا فَإِنَّهُ يدْخل الْجنَّة إِن شَاءَ الله تَعَالَى (وَمن رأى) أَنه وَقع من السَّمَاء فَإِن ذَلِك مَكْرُوه فِي الدّين لقَوْله تَعَالَى: {وَمن يُشْرك بِاللَّه فَكَأَنَّمَا خر من السَّمَاء} الْآيَة وَمن رأى ذَلِك سُلْطَانا أَو ذَا سُلْطَان فَإِنَّهُ يَزُول عَنهُ سُلْطَانه وَلَا يتم لَهُ أمره (وَمن رأى) أَن طَائِر طَار بِهِ إِلَى السَّمَاء وَلم يَقع فَإِنَّهُ يُصِيبهُ رفْعَة وَخيرا (وَمن رأى) فِي السَّمَاء سِرَاجًا فَإِنَّهُ يؤول ذَلِك بالشمس فَإِن رَآهُ انطفأ فَإِن الشَّمْس تكسف (وَمن رأى) أَن السَّمَاء انشقت فَإِنَّهُ اخْتِلَاف بَين النَّاس أَو كذب على الله لقَوْله تَعَالَى: {تكَاد السَّمَاوَات يتفطرن مِنْهُ} الْآيَة (وَقيل) رُؤْيَة السَّمَاوَات سفر وغيبة وَقيل أمطار لِأَن الْعَرَب تسمى الْمَطَر سَمَاء وأنشدوا فِي ذَلِك شعرًا:

(إِذا نزل السَّمَاء بِأَرْض قوم … رعيناه وَإِن كَانُوا غضابا)

(وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: (من رأى) لون السَّمَاء أَبيض يكون فِي ذَلِك الْمَكَان نعْمَة وخصب وَإِن رَآهُ أَخْضَر فَهُوَ خير وَإِن رَآهُ أصفر فَهُوَ دَاء وَمرض وَإِن رَآهُ أَحْمَر فَهُوَ حَرْب وَسَفك دم وَإِن رَآهُ أسود فَهُوَ قحط وضيق وَإِن رأى أَن السَّمَاء تتلون يكون فِي ذَلِك الْمَكَان بلَاء وفتنة عَظِيمَة. (وَمن رأى) فِي السَّمَاء عَلَامَات حَمْرَاء مثل الأعمدة يكون لمثل ذَلِك الْمَكَان قُوَّة ونصرة (وَمن رأى) أَنه عبد السَّمَاء يكون ضَالًّا بِلَا دين (وَمن رأى) أَنه نزل من السَّمَاء حِنْطَة أَو دَقِيق تكون نعْمَته مزيدة (وَمن رأى) أَن فِي السَّمَاء أشجارا أَو قناديل موقدة أَو نَحْوهَا يدل على انْتِقَال جمَاعَة من أهل الدُّنْيَا إِلَى الْآخِرَة فَإِن عرف من ذَلِك شَيْئا أَو قيل لَهُ هَذَا لفُلَان يكون الْمُنْتَقل هُوَ بِعَيْنِه.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة الأفلاك)

من رأى أَن الْفلك دائر فَإِنَّهُ تحسن معيشته وَإِن رَآهُ وَاقِفًا من غير دوران يكون ضد ذَلِك (وَمن رأى) أَنه مُتَعَلق بِهِ مُتَمَكن مِنْهُ فَإِنَّهُ يهم بِأَمْر وينتج فِيهِ وَإِن لم يتَمَكَّن يكون ضد ذَلِك (وَمن رأى) أَن الْفلك يَدُور أَو يَتَحَرَّك فَإِنَّهُ يُسَافر من منزله إِلَى منزل آخر.

6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْبَيْت الْمَعْمُور وَهُوَ يؤول على أوجه)

(قَالَ) ابْن سِيرِين: من رأى أَنه دخل فِيهِ فَإِنَّهُ يتَقَدَّم على قوم وَيظْهر بِالْعلمِ وينجح ويأمن من شَرّ الْأَعْدَاء (وَمن رأى) أَن الْبَيْت الْمَعْمُور مَوْضُوع على الأَرْض فَإِنَّهُ يدل على مصاحبة ملك عَادل (وَمن رأى) أَنه قَامَ فِي الْبَيْت الْمَعْمُور فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله (وَمن رأى) أَنه دخل أَو فعل فِيهِ شَيْئا من أَنْوَاع الْعِبَادَات فَإِنَّهُ يدل على حُصُول مُرَاده (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: من رأى طَرِيقا مُسْتَقِيمًا من الأَرْض إِلَى الْبَيْت الْمَعْمُور فَإِنَّهُ يدل على كَثْرَة الْحجَّاج فِي تِلْكَ السّنة (وَمن رأى) أَن الْبَيْت الْمَعْمُور مزخرف أَو بِهِ مَا يزين فَإِنَّهُ يؤول بنظام الْأَمر ونتائج الْأَحْوَال فِي حق الْعلمَاء.

‌‌(الْبَاب الثَّالِث)

 

‌‌(فِي رُؤْيا الشَّمْس وَالْقَمَر وَالْكَوَاكِب وَاللَّيْل وَالنَّهَار وَالْحر وَالْبرد)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الشَّمْس)

(قَالَ) دانيال: رُؤْيا الشَّمْس تؤول بالخليفة وَالسُّلْطَان فَمن رأى أحدث فِيهَا حَادث مِمَّا يُنكر فِي الْيَقَظَة فَيكون عَائِدًا إِلَيْهَا حسب الْحَادِث (وَمن رأى) أَنه قبض الشَّمْس فِي السَّمَاء بِيَدِهِ أَو جعلهَا فِي ملكه أَو صَار شمسا أَو صَار فِي مَكَانهَا أَو أَخذ من ضوئها يحصل لَهُ السلطنة إِن كَانَ يَلِيق بِهِ ذَلِك وَإِلَّا يحصل للرائي عَظمَة وأبهة على مِقْدَاره ويتقرب عِنْده أَو يَنُوب عَنهُ (وَمن رأى) أَنه أَخذ الشَّمْس بِيَدِهِ لَكِن لَا من السَّمَاء وَلَا نور لَهَا وَلَا شُعَاع وَأَنَّهَا لم تكن مظْلمَة يحصل لَهُ
আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে তা অনিবার্য: "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পরিগ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার কাছে উঠিয়ে নেব।" আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে আকাশে দেখতে পায় এবং জানে না যে কখন সেখানে আরোহণ করেছে, তবে ইনশাআল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আকাশ থেকে পড়ে গেছে, তবে তা দ্বীনের ক্ষেত্রে অপছন্দনীয়; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল।" (আয়াত) আর যদি কোনো শাসক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি তা দেখে, তবে তার ক্ষমতা অপসারিত হবে এবং তার কাজ সুসম্পন্ন হবে না। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে কোনো পাখি তাকে নিয়ে আকাশের দিকে উড়ে গেছে এবং সে পড়ে যায়নি, তবে সে উচ্চমর্যাদা ও কল্যাণ লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) আকাশে কোনো প্রদীপ দেখে, তবে তা সূর্য দ্বারা ব্যাখ্যা করা হবে; যদি সে দেখে যে তা নিভে গেছে, তবে সূর্যগ্রহণ হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে আকাশ বিদীর্ণ হয়ে গেছে, তবে তা মানুষের মধ্যে বিবাদ অথবা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপের ইঙ্গিত; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "এতে আকাশসমূহ বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়।" (আয়াত) (বলা হয়েছে) আকাশ দেখা ভ্রমণ ও অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। আবার কেউ বলেছেন, এর অর্থ বৃষ্টি; কারণ আরবরা বৃষ্টিকেও 'সামা' (আকাশ) বলে অভিহিত করে। এ প্রসঙ্গে তারা একটি কাব্য আবৃত্তি করেছেন:

(যখন কোনো সম্প্রদায়ের ভূমিতে আকাশ [বৃষ্টি] বর্ষিত হয়... আমরা সেখানে চারণ করি যদিও তারা রাগান্বিত হয়।)

(এবং ইমাম) জাফর সাদিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (যে ব্যক্তি দেখে) আকাশের রঙ সাদা, তবে সেই স্থানে নেয়ামত ও সচ্ছলতা দেখা দেবে। যদি সবুজ দেখে তবে তা কল্যাণকর। যদি হলুদ দেখে তবে তা ব্যাধি ও অসুস্থতা। যদি লাল দেখে তবে তা যুদ্ধ ও রক্তপাত। আর যদি কালো দেখে তবে তা দুর্ভিক্ষ ও সংকট। যদি দেখে আকাশ রঙ পরিবর্তন করছে, তবে সেই স্থানে বড় ধরণের বিপর্যয় ও ফিতনা দেখা দেবে। (আর যে ব্যক্তি) আকাশে স্তম্ভের মতো লাল চিহ্ন দেখে, তবে সেই স্থানের জন্য তা শক্তি ও বিজয়ের পরিচায়ক। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আকাশের উপাসনা করছে, তবে সে ধর্মহীন ও পথভ্রষ্ট হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) আকাশ থেকে গম বা আটা বর্ষিত হচ্ছে, তবে তার নেয়ামত বৃদ্ধি পাবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) আকাশে বৃক্ষরাজি অথবা প্রজ্জ্বলিত প্রদীপসমূহ বা অনুরূপ কিছু রয়েছে, তবে তা দুনিয়াবাসীদের একটি দলের আখিরাতে প্রস্থানের নির্দেশ দেয়। যদি সে এর মধ্য হতে কিছু চিনতে পারে অথবা তাকে বলা হয় যে এটি অমুকের জন্য, তবে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিই মৃত্যুবরণ করবে।

৫ - ‌‌(মহাকাশীয় কক্ষপথ দেখার অনুচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি দেখে যে কক্ষপথ ঘূর্ণায়মান, তবে তার জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। আর যদি দেখে তা না ঘুরে স্থির হয়ে আছে, তবে বিষয়টি এর বিপরীত হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে এর সাথে ঝুলে আছে এবং তাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবে সে কোনো কাজের ইচ্ছা করবে এবং তাতে সফল হবে; আর যদি সুপ্রতিষ্ঠিত না হতে পারে তবে ফল বিপরীত হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) কক্ষপথ ঘুরছে বা নড়াচড়া করছে, তবে সে নিজের আবাসস্থল থেকে অন্য আবাসস্থলে স্থানান্তরিত হবে।

৬ - ‌‌(বায়তুল মামুর দেখার অনুচ্ছেদ, যা কয়েকটি দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়)

(ইমাম) ইবনে সিরীন বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে সেখানে প্রবেশ করেছে, তবে সে কোনো সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেবে, তার জ্ঞান প্রকাশ পাবে, সে সফল হবে এবং শত্রুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) বায়তুল মামুর জমিনে রাখা হয়েছে, তবে তা একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর সাহচর্য নির্দেশ করে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে বায়তুল মামুরে দাঁড়িয়ে আছে, তবে তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণ। (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে সেখানে প্রবেশ করেছে বা কোনো ইবাদত পালন করেছে, তবে তা তার উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার প্রমাণ। আল-কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তি জমিন থেকে বায়তুল মামুর পর্যন্ত একটি সোজা পথ দেখে, তবে তা সেই বছর অধিক সংখ্যক মানুষের হজ পালনের ইঙ্গিত দেয়। (আর যে ব্যক্তি দেখে) বায়তুল মামুর কারুকার্যমণ্ডিত বা সুসজ্জিত, তবে তা আলেমদের ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল অবস্থা ও কার্যাবলীর শুভ পরিণতির নির্দেশ দেয়।

‌‌(তৃতীয় অধ্যায়)

 

‌‌(সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, রাত-দিন এবং গরম ও শীত দেখা প্রসঙ্গে)

 

৩ - ‌‌(সূর্য দেখার অনুচ্ছেদ)

(হযরত) দানিয়াল (আ.) বলেন: সূর্য দেখার ব্যাখ্যা হলো খলিফা ও সুলতান। সুতরাং যে ব্যক্তি সূর্যের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয় বা পরিবর্তন দেখবে যা বাস্তবে অপছন্দনীয়, তবে তা পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী সুলতানের ওপর বর্তাবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আকাশে সূর্যকে হাত দিয়ে ধরেছে অথবা তা তার মালিকানাধীন হয়েছে অথবা সে নিজেই সূর্য হয়ে গেছে কিংবা সূর্যের স্থানে অবস্থান নিয়েছে অথবা সূর্যের আলো থেকে কিছু গ্রহণ করেছে; তবে সে রাজত্ব লাভ করবে যদি সে তার যোগ্য হয়। অন্যথায় স্বপ্নদ্রষ্টা তার মর্যাদা অনুযায়ী মহত্ত্ব ও প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভ করবে এবং সুলতানের নৈকট্যপ্রাপ্ত হবে অথবা তার প্রতিনিধি হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে হাত দিয়ে সূর্য ধরেছে কিন্তু তা আকাশ থেকে নয় এবং তার কোনো আলো বা জ্যোতি নেই এবং তা অন্ধকারও ছিল না, তবে সে লাভ করবে-
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১০)
الْفرج من الغموم وَإِن كَانَت مظْلمَة وَلم يكن فِي مَكَان يحْتَاج السُّلْطَان إِلَى الرَّائِي فِي أَمر من الْأُمُور. (وَقَالَ) جَابر المغربي: الشَّمْس تعبر بالوالدة وَاسْتدلَّ لذَلِك بقوله تَعَالَى فِي قصَّة يُوسُف عليه السلام: {إِنِّي رَأَيْت أحد عشر كوكبا وَالشَّمْس وَالْقَمَر رَأَيْتهمْ لي ساجدين} (وَمن رأى) الشَّمْس مضيئة قد طلعت فِي بَيته خَاصَّة يخْطب امْرَأَة من أَقَاربه وَإِن رَآهَا طلعت فِي بَيت غَيره يخْطب امْرَأَة من الْأَجَانِب وَفِي كِلَاهُمَا يحصل لَهُ خير وَمَنْفَعَة من أهل تِلْكَ الْمَرْأَة (وَمن) رأى أَنه يسْجد للشمس يظْهر مِنْهُ خَطِيئَة (وَمن رأى) الشَّمْس على الأَرْض وَلَا ضوء لَهَا يدل على عزل ملك ذَلِك الْمَكَان (وَمن رَآهَا فِي يَده مظْلمَة سَوْدَاء) يحصل للْملك وللرائي مَا يكرهانه (وَمن رأى) الشَّمْس فِي منخس وَغَابَتْ فِيهِ يدل على موت السُّلْطَان لَا محَالة. (وَقَالَ) إِسْمَاعِيل بن الْأَشْعَث: (وَمن رأى) الشَّمْس تكَلمه فَإِنَّهُ ينَال من السُّلْطَان عزا وشرفا (وَمن رأى) شمسين قد اصطكا فَإِنَّهُمَا سلطانان يقتتلان (وَمن رأى) أَن الشَّمْس طلعت من الأَرْض وأنارت كَمَا تكون فَإِن كَانَ مَرِيضا يدل على إِفَاقَته وَإِن كَانَ لَهُ غَائِب يدل على رُجُوعه سالما غانما (وَمن رأى) أَن الشَّمْس طلعت بعد مَا غَابَتْ فَإِن كَانَ فِي أَمر ملتبس ينْكَشف لَهُ أَو تنْفق سلْعَته وصناعته بعد كسادها أَو يُرَاجع زَوجته (وَمن رأى) أَن الشَّمْس طلعت من الْمغرب أَو من غير مطْلعهَا فَإِنَّهُ يكون حَادِثا يحدث أَو تكون آيَة للرائي إِن كَانَ مُطيعًا فَهِيَ تبشير وَإِن كَانَ عَاصِيا فَهِيَ إنذار (قَالَ جَعْفَر الصَّادِق) : الشَّمْس تؤول عِنْد المعبرين على ثَمَانِيَة أوجه: خَليفَة وسلطان وَرَئِيس وعالم كَبِير وَعدل وَنذر وبعل امْرَأَة وَامْرَأَتَيْنِ (قَالَ) أَبُو سعيد الْوَاعِظ: (وَمن رأى) الشَّمْس تَدور حول السَّمَاء وَهُوَ نَاظر إِلَيْهَا فَإِنَّهُ يكون مرشداً للْملك يقْتَدى بِرَأْيهِ وَرُبمَا كَانَت الشَّمْس أَمِيرا عَظِيم المزية تَوليته عَن الْخَلِيفَة وَرُبمَا كَانَت امْرَأَة جميلَة أَو جملَة من الذَّهَب.

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْقَمَر)

قَالَ دانيال: يؤول إِمَّا بوزير الْخَلِيفَة أَو بوزير الْملك أَو بِمن يقوم مقامهما فَمن رأى أَنه أمسك الْقَمَر أَو جعله فِي ملكه يدل على أَنه يكون وزيرا للْملك أَو مقربا عِنْده أَو خَاصّا من خواصه (وَمن رأى) أَنه حَارب الْقَمَر يدل على أَنه يحصل لَهُ الْمُحَاربَة مَعَ أحد هَؤُلَاءِ الْمَذْكُورين (وَمن رأى) أَنه أَقَامَ مقَام الْقَمَر أَو أَخذ مِنْهُ نورا يكون أحد هَؤُلَاءِ وَمن أَخذ الْقَمَر لَا من السَّمَاء وَلَا نور لَهُ وَلَا شُعَاع وَلم يكن مظلما يدل على الْفرج من الغموم وَإِن كَانَ مظلما وَلم يكن فِي مَكَانَهُ يدل على احْتِيَاج أحد هَؤُلَاءِ إِلَى الرَّائِي فِي أَمر من الْأُمُور (وَقَالَ) ابْن سِيرِين: إِن الْقَمَر إِذا كَانَ بَدْرًا يؤول بِالْملكِ (وَمن رأى) أَن الْقَمَر انْشَقَّ نِصْفَيْنِ يدل على هَلَاك الْملك أَو أحد هَؤُلَاءِ الْمَذْكُورين (وَمن رأى) أَنَّهُمَا انضما بعد الانشقاق يدل على أَن النَّاس يتظلمون مِنْهُ وَيطْلبُونَ الْعدْل (وَقَالَ) بَعضهم: تمرض زَوجته (وَمن رأى) أَن الْقَمَر كَلمه يدل على وجدان الْولَايَة ونجاح الْحَاجة (وَمن رأى) القمرين البدرين تحاربا يدل على محاربة ملكَيْنِ وَإِن كَانَا غير بدرين يدل على محاربة اثْنَيْنِ مِمَّن هُوَ دون الْملك (وَقَالَ جَابر المغربي) : من رأى الْقَمَر فِي يَده أَو عِنْده يدل على أَنه يخْطب امْرَأَة فَإِن كَانَ الْقَمَر هلالا فَإِنَّهَا تكون الْمَرْأَة دونه فِي الأَصْل وَالنّسب وَإِن كَانَ نصف الْقَمَر مظلما تكون الْمَرْأَة من أَوْلَاد الموَالِي وَإِن كَانَ بَدْرًا تكون أَعلَى مِنْهُ فِي الأَصْل وَالنّسب وَإِن رَأَتْ هَذِه الرُّؤْيَا امْرَأَة فَإِنَّهُ يطْلبهَا بعل وَيكون حكم ذَلِك فِي التَّعْبِير على مَا تقدم وَإِن رأى الْقَمَر نقيا قد طلع فِي بَيته يدل على أَنه يحصل لَهُ خير من قبل ملكه أَو يخْطب امْرَأَة أَو يَشْتَرِي أمه وَإِن رَآهُ طالعا فِي بَيت أحد غَيره يدل على أَنه يخْطب امْرَأَة من أهل ذَلِك الْبَيْت وَيحصل لَهُ بِسَبَبِهَا خير ومنعة وَإِن رأى الْقَمَر منخسفاً يدل على رداءة حَال ملك ذَلِك الزَّمَان أَو حَال وزيره مثل عزل الْملك عَن مَمْلَكَته أَو الْوَزير عَن وزارته خُصُوصا إِذا انخسف بِتَمَامِهِ. (وَمن رأى) الْقَمَر هلالا طلع من مطلعه لَكِن لَا فِي أول شهر وَبعد طلوعه أَخذ نوره فِي التزايد إِلَى أَن صَار بَدْرًا يدل على أَن يُولد ولد فِي ذَلِك الْمَكَان وَيصير ملكا أَو يكون الْوَزير أَو من يقوم مقَامه ملكا (وَمن رأى) هلالا طالعا من غير مطلعه يدل على وُقُوع أَمر صَعب فِي ذَلِك الْمَكَان يحصل مِنْهُ للنَّاس غم (وَقَالَ) بَعضهم: رُؤْيا الْقَمَر تدل على ولادَة ابْن ملك ذَلِك الْمَكَان فَإِن رأى للقمر نورا زَائِدا يدل على طول حَيَاة ذَلِك الْمَوْلُود وَإِن رأى أَنه بدر يكون عمره وسطا وَإِن رَآهُ نَاقص النُّور يكون عمره قَصِيرا (وَمن رأى) أَنه عبد الْقَمَر يكون مَشْغُولًا بِخِدْمَة ملك أَو وَزِير (وَمن رأى) أَنه دنا من الْقَمَر يدل على أَنه يحصل لَهُ من ملك أَو وَزِير خيرا وَمَنْفَعَة (وَقَالَ) إِسْمَاعِيل بن الْأَشْعَث: من رأى
দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি, যদিও তা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় এবং যদি তা এমন স্থানে না হয় যেখানে সুলতানের কোনো বিষয়ে স্বপ্নদ্রষ্টার প্রয়োজন পড়ে। (বলেন) জাবির আল-মাগরিবী: সূর্যকে মাতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং এর স্বপক্ষে তিনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে মহান আল্লাহর বাণী থেকে দলিল পেশ করেন: "আমি দেখেছি এগারোটি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চন্দ্র; আমি তাদের দেখেছি আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।" (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে বিশেষ করে তার নিজের বাড়িতে উদিত হয়েছে, তবে সে তার আত্মীয়দের মধ্য থেকে কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। আর যদি দেখে যে তা অন্য কারো বাড়িতে উদিত হয়েছে, তবে সে অনাত্মীয় কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। উভয় ক্ষেত্রেই সেই নারীর পরিবার থেকে সে কল্যাণ ও উপকার লাভ করবে। (আর যে) দেখে যে সে সূর্যের প্রতি সিজদা করছে, তবে তার দ্বারা কোনো পাপ প্রকাশ পাবে। (আর যে দেখে) সূর্য জমিনের ওপর পড়ে আছে এবং তাতে কোনো আলো নেই, তবে তা ওই স্থানের রাজার ক্ষমতাচ্যুতির ওপর দালালত করে। (আর যে দেখে যে সূর্য তার হাতে অন্ধকারাচ্ছন্ন বা কালো অবস্থায় আছে) তবে রাজা এবং স্বপ্নদ্রষ্টা উভয়ের জন্যই এমন কিছু ঘটবে যা তারা অপছন্দ করে। (আর যে দেখে) সূর্য কোনো গর্তে বা ডুবন্ত স্থানে রয়েছে এবং তাতে অস্তমিত হয়েছে, তবে তা অনিবার্যভাবে সুলতানের মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। (বলেন) ইসমাইল ইবনে আল-আশআস: (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সূর্য তার সাথে কথা বলছে, তবে সে সুলতানের পক্ষ থেকে মর্যাদা ও সম্মান লাভ করবে। (আর যে দেখে) যে দুটি সূর্য পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, তবে তারা দুজন সুলতান যারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সূর্য জমিন থেকে উদিত হয়েছে এবং আগের মতোই আলোকিত করছে, তবে সে অসুস্থ হলে আরোগ্য লাভ করবে এবং তার কোনো ব্যক্তি নিরুদ্দেশ থাকলে সে সুস্থ ও লাভবান অবস্থায় ফিরে আসবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সূর্য অস্ত যাওয়ার পর পুনরায় উদিত হয়েছে, তবে তার কোনো অস্পষ্ট বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে, অথবা মন্দার পর তার পণ্য ও কারুশিল্পে লাভ হবে, অথবা সে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে অথবা তার স্বাভাবিক উদয়স্থল ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে উদিত হয়েছে, তবে কোনো বড় ঘটনা ঘটবে অথবা তা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য একটি নিদর্শন হবে; যদি সে অনুগত হয় তবে তা সুসংবাদ এবং যদি সে পাপিষ্ঠ হয় তবে তা সতর্কবার্তা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): স্বপ্ন বিশারদদের নিকট সূর্যের ব্যাখ্যা আটটি দিক থেকে হয়: খলিফা, সুলতান, নেতা, বড় আলেম, ন্যায়বিচার, মানত বা সতর্কবার্তা, নারীর স্বামী এবং দুই নারী। (বলেন) আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ: (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সূর্য আকাশের চারদিকে ঘুরছে এবং সে তার দিকে তাকিয়ে আছে, তবে সে রাজার উপদেষ্টা হবে যার মতামতের অনুসরণ করা হয়। কখনো সূর্য দ্বারা বড় মর্যাদাসম্পন্ন আমীর বোঝায় যাকে খলিফা নিযুক্ত করেছেন। আবার কখনো তা দ্বারা সুন্দরী নারী অথবা স্বর্ণের খণ্ড বোঝানো হয়।

৪ - ‌‌(চাঁদ দেখার ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

দানিয়াল বলেন: এর ব্যাখ্যা হয় খলিফার উজির, অথবা রাজার উজির, অথবা তাদের স্থলাভিষিক্ত কেউ। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখে যে সে চাঁদকে ধরেছে অথবা তা নিজের মালিকানাধীন করেছে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে রাজার উজির হবে অথবা রাজার নিকটবর্তী বা তার বিশেষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে চাঁদের সাথে যুদ্ধ করছে, তবে এর অর্থ হলো উল্লিখিত ব্যক্তিদের কারো সাথে তার বিবাদ বা যুদ্ধ হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে চাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে অথবা চাঁদ থেকে আলো গ্রহণ করেছে, তবে সে ওই ব্যক্তিদের একজন হবে। আর যে ব্যক্তি চাঁদকে আকাশ থেকে নয় বরং অন্যভাবে ধরল কিন্তু তাতে কোনো আলো বা কিরণ ছিল না অথচ তা অন্ধকারও ছিল না, তবে তা দুঃখ থেকে মুক্তির ইঙ্গিত দেয়। আর যদি তা অন্ধকার হয় এবং নিজের স্থানে না থাকে, তবে তা নির্দেশ করে যে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের কারো কোনো বিষয়ে স্বপ্নদ্রষ্টার প্রয়োজন পড়বে। (বলেন) ইবনে সিরিন: চাঁদ যখন পূর্ণিমা হয় তখন তা রাজা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে চাঁদ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, তবে তা রাজার মৃত্যু অথবা উল্লিখিত ব্যক্তিদের কারো ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে বিভক্ত হওয়ার পর চাঁদ দুটি পুনরায় একত্রিত হয়েছে, তবে তার অর্থ হলো মানুষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করবে। (বলেন) কেউ কেউ: তার স্ত্রী অসুস্থ হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে চাঁদ তার সাথে কথা বলছে, তবে তা ক্ষমতা লাভ এবং প্রয়োজন পূরণের ইঙ্গিত দেয়। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে দুটি পূর্ণ চাঁদ লড়াই করছে, তবে তা দুই রাজার যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়। আর যদি সেগুলো পূর্ণ চাঁদ না হয়, তবে রাজা অপেক্ষা নিম্নমর্যাদার দুই ব্যক্তির যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়। (জাবির আল-মাগরিবী বলেন): যে ব্যক্তি স্বপ্নে চাঁদকে নিজের হাতে বা নিজের কাছে দেখে, তবে সে কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। যদি চাঁদটি নতুন চাঁদ (হেলাল) হয়, তবে ওই নারী বংশ ও মর্যাদায় তার চেয়ে নিম্নস্তরের হবে। যদি চাঁদের অর্ধেক অন্ধকার হয়, তবে ওই নারী মুক্ত দাসের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি তা পূর্ণিমা হয়, তবে সে বংশ ও মর্যাদায় তার চেয়ে উন্নত হবে। যদি কোনো নারী এই স্বপ্ন দেখে, তবে কোনো পুরুষ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে এবং এর ব্যাখ্যার হুকুম পূর্ববর্ণিত নিয়ম অনুযায়ীই হবে। আর যদি দেখে যে স্বচ্ছ চাঁদ তার বাড়িতে উদিত হয়েছে, তবে সে তার রাজার পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভ করবে অথবা কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে কিংবা কোনো দাসী ক্রয় করবে। আর যদি দেখে যে চাঁদ অন্য কারো বাড়িতে উদিত হয়েছে, তবে সে ওই বাড়ির কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে এবং তার মাধ্যমে কল্যাণ ও নিরাপত্তা লাভ করবে। আর যদি চাঁদকে গ্রহণ লাগা অবস্থায় দেখে, তবে তা ওই সময়ের রাজার অথবা তার উজিরের অবস্থার অবনতি নির্দেশ করে; যেমন রাজার ক্ষমতাচ্যুতি বা উজিরের পদচ্যুতি, বিশেষ করে যদি পূর্ণ গ্রহণ লাগে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে মাসের শুরু ব্যতীত অন্য সময়ে চাঁদ উদয়স্থল থেকে নতুন চাঁদ হিসেবে উদিত হয়েছে এবং উদয়ের পর তার আলো বাড়তে বাড়তে পূর্ণিমায় পরিণত হয়েছে, তবে তা ওই স্থানে একটি শিশুর জন্মের ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে রাজা হবে, অথবা উজির বা তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি রাজা হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে হেলাল তার উদয়স্থল ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে উদিত হয়েছে, তবে ওই স্থানে কোনো কঠিন বিপদ ঘটবে যাতে মানুষের মনে দুঃখ আসবে। (বলেন) কেউ কেউ: চাঁদ দেখা ওই স্থানের রাজার পুত্র সন্তান জন্মের ইঙ্গিত দেয়। যদি চাঁদের আলো অনেক বেশি দেখে, তবে তা ওই নবজাতকের দীর্ঘায়ুর প্রমাণ। যদি তাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে তবে তার বয়স হবে মধ্যম এবং যদি আলো কম দেখে তবে তার বয়স হবে অল্প। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে চাঁদের উপাসনা করছে, তবে সে রাজা বা উজিরের খেদমতে লিপ্ত হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে চাঁদের নিকটবর্তী হয়েছে, তবে সে রাজা বা উজিরের নিকট থেকে কল্যাণ ও উপকার লাভ করবে। (বলেন) ইসমাইল ইবনে আল-আশআস: যে দেখে—
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১১)
أَنه أمسك الْقَمَر أَو جَاءَ الْقَمَر إِلَيْهِ يدل على أَن تكون زَوجته حَامِلا وتلد ولدا يكون مقربا عِنْد الْملك أَو عَالما (وَمن رأى) أَن الْقَمَر خرج عَن حَده أسقطت زَوجته ولدا ذكرا وَإِن لم تكن حَامِلا فَلَيْسَ بمحمود (وَمن رأى) أَنه يَأْكُل من الْقَمَر فَإِنَّهُ يغيب أحد الْمَذْكُورين فِي صدر هَذَا الْفَصْل (وَمن رأى) أَن الْقَمَر غَابَ أَو هُوَ على المغيب فقد صَار الْأَمر الَّذِي هُوَ فِيهِ على آخِره وَكَذَلِكَ أول اللَّيْل أَو وَسطه أَو آخِره فقد يمْضِي الْأَمر بِقدر مَا مضى مِنْهُ. (وَقَالَ) أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى الْقَمَر ضوئياً فَإِنَّهُ يؤول بِرِضا الْوَالِد وَإِذا كَانَ بِخِلَاف ذَلِك فتعبيره ضِدّه وَقيل رُؤْيا اجْتِمَاع الْأَهِلّة تؤول بِالْحَجِّ لقَوْله تَعَالَى: {يَسْأَلُونَك عَن الْأَهِلّة قل هِيَ مَوَاقِيت للنَّاس وَالْحج} (وَمن رأى) هلالاً مُفردا وَهُوَ يرِيه للنَّاس وَلم يره غَيره فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله (وَمن رأى) هلالاً قد طلع وَغَابَ فَإِن الْأَمر الَّذِي هُوَ طَالبه لَا يتم لَهُ (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الْقَمَر تؤول على سَبْعَة عشر وَجها: ملك أَو وَزِير أَو نديم الْملك أَو رَئِيس أَو شرِيف أَو جَارِيَة أَو غُلَام أَو أَمر بَاطِل أَو وَال أَو عَالم مُفسد أَو رجل مُعظم أَو ولد أَو وَلَده أَو زَوْجَة أَو بعل زَوْجَة أَو ولد أَو عَظمَة.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْكَوَاكِب)

أما الدراري فَهِيَ سَبْعَة وَقد تقدم الْكَلَام فِي الشَّمْس وَالْقَمَر وَأما الْخَمْسَة الْبَاقِيَة فَهِيَ: زحل وَهُوَ صَاحب عَذَاب الْملك وَالْمُشْتَرِي وَهُوَ صَاحب خزانَة أَمْوَاله والمريخ وَهُوَ صَاحب حربه والزهرة وَهِي زَوْجَة الْملك وَعُطَارِد وَهُوَ كَاتبه والنجوم الْمَعْرُوفَة فَهِيَ أعيانه وَبَاقِي النُّجُوم جيوش لَهُ (وَقَالَ) جَابر المغربي: غير الشَّمْس وَالْقَمَر من الْكَوَاكِب إخْوَة وأخوات (وَمن رأى) أَنه يملك النُّجُوم فَإِنَّهُ يملك أَشْرَاف النَّاس ويحتوي على قُلُوبهم (وَمن رأى) أَنه يضع شَيْئا مِنْهَا فَإِنَّهُ يضع للنَّاس مثل ذَلِك (وَمن رأى) أَنه أصَاب مِنْهَا أَو من نورها شَيْئا فَإِنَّهُ يُصِيب مَنْفَعَة بِقدر مَا أصَاب (وَمن رأى) النُّجُوم فِي بَيت أَو فِي السَّمَاء منيرة فَإِنَّهُ يُصِيب سُلْطَانا وَعزا ويرتفع شَأْنه وَمن رأى أَنه ينظر النُّجُوم الْمَعْرُوفَة فَذَلِك رشد وهداية وصواب فِي رَأْي وَمن رأى أَنه يَأْكُل النُّجُوم فَإِن ذَلِك غيبَة ووقيعة فِي النَّاس (وَمن رأى) أَنه أَخذ نجماً فَإِن كَانَ لَهُ امْرَأَة حُبْلَى فَإِنَّهَا تَلد ابْنة (وَمن رأى) أَن نجما انقض عَلَيْهِ نجم أصَاب سُلْطَانا ورفعة (وَمن رأى) أَن نجما رمى بِهِ فَأَصَابَهُ يلقى من الشَّيْطَان شدَّة ثمَّ ينفرج مَا بِهِ وَإِن أصَاب سفينة غرقت أَو دَابَّة عطبت (وَمن رأى) أَن نجما سقط مَاتَ سَرِيعا (وَمن رأى) أَن رَأسه عَاد نجما فَإِنَّهُ دُيُون تنجم عَلَيْهِ. (وَمن رأى) أَن نجما سقط فِي الأَرْض فَإِنَّهُ سُقُوط رجل جليل الْقدر وَإِن كَانَ لَهُ غَائِب أقدم إِلَيْهِ وَإِن كَانَ عِنْده حَامِل فتعبير ذَلِك النَّجْم إِن كَانَ مذكرا تضع ولدا ذكر وَإِن كَانَ مؤنثا تضع بِنْتا (وَمن رأى) أَن النُّجُوم مجتمعة عِنْده فِي دَاره فَإِنَّهُ يدل على هَلَاكه (وَمن رأى) نجما طلع ثمَّ غَابَ من غير سير فَإِن الْأَمر الَّذِي يَطْلُبهُ لَا يتم لَهُ وَهُوَ أَيْضا بِمَنْزِلَة الْهَلَاك (وَمن رأى) أَنه طلع وَتمّ طلوعه وَسَار فتعبيره ضِدّه قَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى سهيلا طلع فَإِنَّهُ يدل على الإدبار ورؤيا الزهرة تدل على الإقبال ورؤيا المُشْتَرِي تدل على صفاء الْعَيْش إِلَى آخر الْعُمر والشعري تؤول بِأَمْر محَال لِأَنَّهَا كَانَت تعبد فِي الْجَاهِلِيَّة وكل مَا يعبد سوى الله فَهُوَ محَال وَقيل رُؤْيا النُّجُوم مُطلقًا تؤول بِالسَّفرِ لِأَن الْمُسَافِرين يَهْتَدُونَ بهَا فِي الْبَحْر.

6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا اللَّيْل وَالنَّهَار)

أما الْأَيَّام فَيَأْتِي ذكرهَا فِي أحد فُصُول الْبَاب الثَّامِن عشر وَأما اللَّيْل وَالنَّهَار فَالْمُرَاد بهما الظلمَة والنور وَقَالَ ابْن سِيرِين: من رأى لَيْلًا مظلما فَإِنَّهُ يدل على الْحزن وَالْغَم (وَمن رأى) لَيْلَة نيرة طيبَة وَالنَّاس يَجدونَ فِيهَا رَاحَة فَإِنَّهَا تؤول بالفرح وَالسُّرُور والعيش الطّيب وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى أَنه يمشي فِي ليل مظلم وَالطَّرِيق مُبْهَم عَلَيْهِ وَهُوَ يظنّ أَنه على جادة الطَّرِيق فَإِنَّهُ يدل على استقامته فِي طَرِيق الدّين (وَقَالَ) جَابر المغربي: من رأى اللَّيْل نَهَارا وَالشَّمْس طالعة فَإِنَّهُ يدل على الْخَيْر وَالْمَنْفَعَة وَحُصُول المُرَاد (وَمن رأى) بِخِلَافِهِ فتعبيره بِخِلَافِهِ (وَقَالَ) أَبُو سعيد الْوَاعِظ: رُؤْيا اللَّيْل تؤول بالضلالة (وَمن رأى) أَن الدَّهْر كُله ليل لَا نَهَار فِيهِ فَإِنَّهُ غم أهل ذَلِك الْمَكَان وفزع وجزع وَخَوف والظلمة ظلم لمن كَانَ أَهله (وَمن رأى) لَيْلًا وَبِه قمر وكواكب تَدور فَلَا بَأْس بِهِ (وَمن رأى) أَن دَاره ظلمَة فَإِنَّهُ يُسَافر سفرا بَعيدا وَقيل رُؤْيا الظُّلُمَات تؤول بالتحير فِي طَرِيق الدّين (وَمن رأى) أَنه فِي الظُّلُمَات ثمَّ تبدل بِالنورِ فَإِنَّهُ يدل على التَّوْبَة وَفتح أَبْوَاب الدّين (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: من رأى أَنه كَانَ فِي الظُّلُمَات ثمَّ جَاءَ إِلَى النُّور ثمَّ رَجَعَ إِلَى الظُّلُمَات فَإِنَّهُ يؤول بالنفاق لقَوْله تَعَالَى: {وَإِذا أظلم عَلَيْهِم قَامُوا} . (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: والظلمات تؤول على خَمْسَة أوجه: كفر وتحير وتعسير أَمر وبدعة وَوُقُوع فِي ضَلَالَة من رأى أَنه خرج من الظُّلُمَات إِلَى النُّور وَكَانَ من أهل الصّلاح فَإِنَّهُ يخرج من الْفقر إِلَى الْغنى وَأما النُّور يَعْنِي النَّهَار فَإِنَّهُ يؤول بِالْهدى وَأول النَّهَار يؤول بِأول الْأَمر الَّذِي يَطْلُبهُ وَنصفه وَآخره يُقَاس على ذَلِك (وَمن رأى) أَن الدَّهْر كُله نَهَار فَإِنَّهُ يؤول باستقامة أُمُوره وَطول عمره وَرُبمَا يستشيره سُلْطَان ويقتدى بِرَأْيهِ.

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْحر وَالْبرد)

أما الْحر فَإِنَّهُ يؤول بالهم وَالْغَم وشدته أبلغ وَأما الْبرد فَإِنَّهُ مشقة ومحنة وَعَذَاب وَقيل فقر ومضرة (وَمن رأى) عضوا من أَعْضَائِهِ سقط من الْبرد فَإِنَّهُ يؤول بهلاكه أَو هَلَاك أحد من أَقَاربه وَقيل رُؤْيا الْبرد فِي وقته مَا لم يتَجَاوَز الْحَد فَلَيْسَ بمضر وَكَذَلِكَ الْحر وَالله أعلم بِالصَّوَابِ.

‌‌(الْبَاب الرَّابِع)

 

‌‌(فِي رُؤْيا الْقِيَامَة وأشراطها وَالْجنَّة وَالنَّار والصراط وَالْمِيزَان والحوض والحساب)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْقِيَامَة وأشراطها)

(وَمن رأى) أَن الْقِيَامَة قَامَت وَبسط الله الْعدْل بَين النَّاس يدل على أَنه إِن كَانَ فِي أهل ذَلِك الْمَكَان مظلومون سلط الله على ظالميهم الشدَّة والمضرة وَإِن رأى أهل ذَلِك الْمَكَان قَائِمين بَين يَدي الله تَعَالَى وعلامة غضب الله تَعَالَى وعذابه مَوْجُودَة لَا يكون مَحْمُودًا (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الْقِيَامَة تؤول فِي حق أهل الصّلاح على أَرْبَعَة أوجه: الْفَلاح والأفراح والنجاح وَالصَّلَاح وسعادة الخاتمة وَفِي حق أهل الْفساد يكون بضد ذَلِك (وَمن رأى) من أَشْرَاط الْقِيَامَة شَيْئا مثل النفخ فِي الصُّور وطلوع الشَّمْس من الْمغرب وَخُرُوج الدَّابَّة أَو نَحْو ذَلِك فَإِن تَأْوِيله فتْنَة تظهر فَيهْلك فِيهَا قوم وينجو آخَرُونَ وَيَنْبَغِي للرائي أَن يَتُوب وَخُرُوج الدَّجَّال رجل ذُو بِدعَة وضلالة يظْهر فِي النَّاس والنفخ فِي الصُّور طاعون أَو إنذار السُّلْطَان فِي بعث أَو غير أَو قِيَامَة تكون فِي الْبَلَد أَو سفر عَام إِلَى الْحَج والحشر ومجيء الله تَعَالَى لفصل الْقَضَاء واجتماع الْخلق لِلْحسابِ عدل من الله تَعَالَى يكون فِي النَّاس إِمَام عَادل يقدم عَلَيْهِم أَو يَوْم عَظِيم يرَاهُ النَّاس ويشهدونه (وَمن رأى) كَأَنَّهُ أَخذ كِتَابه بِيَمِينِهِ فَازَ بالصلاح وَالثنَاء الْجَمِيل والعز (وَمن رأى) كَأَنَّهُ أَخذ كِتَابه بِشمَالِهِ هلك بالإثم أَو بالفقر وَالْحَاجة.

4 - ‌‌(فصل فِي الْحساب)

وَمن رأى أَنه ذهب بِهِ إِلَى مَكَان الْحساب يدل على الْغَفْلَة لقَوْله تَعَالَى: {اقْترب للنَّاس حسابهم وهم فِي غفله معرضون} وَمن رأى أَنه حُوسِبَ يَقع فِي محنة وَعَذَاب لقَوْله عليه السلام: من نُوقِشَ الْحساب عذب (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا حِسَاب الْقِيَامَة تؤول على سِتَّة أوجه من الْعَذَاب: من ملك أَو شغل أَو دَاء أَو غم أَو عناء أَو عمر قصير.

5 - ‌‌(فصل فِي الصِّرَاط)

من رأى أَنه كَانَ قَائِما على الصِّرَاط يَسْتَقِيم على يَده أُمُور معوجة لقَوْله تَعَالَى: {ويهديك صراطا مُسْتَقِيمًا}
সে চাঁদ ধরেছে বা চাঁদ তার নিকট এসেছে—এটি নির্দেশ করে যে তার স্ত্রী গর্ভবতী হবে এবং এমন এক সন্তান জন্ম দেবে যে রাজার নিকটবর্তী হবে অথবা একজন আলেম হবে। (আর যে দেখল) চাঁদ তার সীমার বাইরে চলে গেছে, তবে তার স্ত্রী একটি পুত্র সন্তান গর্ভপাত করবে; আর সে যদি গর্ভবতী না হয় তবে এই স্বপ্ন শুভ নয়। (আর যে দেখল) সে চাঁদ থেকে কিছু খাচ্ছে, তবে এই পরিচ্ছেদের শুরুতে বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ একজন অদৃশ্য হয়ে যাবে। (আর যে দেখল) চাঁদ ডুবে গেছে অথবা তা অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, তবে সে যে অবস্থায় আছে তা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনুরূপভাবে রাতের শুরু, মধ্যভাগ বা শেষভাগ—রাতের যতটুকু অংশ অতিক্রান্ত হয়েছে, সেই অনুপাতে তার বিষয়াদিও অতিক্রান্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে। আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ বলেছেন: যে ব্যক্তি চাঁদকে জ্যোতির্ময় দেখল, তা পিতামাতার সন্তুষ্টির ওপর ব্যাখ্যা করা হয়। আর যদি এর বিপরীত হয়, তবে তার ব্যাখ্যাও বিপরীত হবে। কেউ কেউ বলেছেন, নতুন চাঁদের (হেলাল) সমষ্টি দেখার ব্যাখ্যা হলো হজ; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা মানুষের (কাজের) সময় এবং হজের জন্য নির্ধারিত।" (আর যে দেখল) একটি একক নতুন চাঁদ যা সে মানুষকে দেখাচ্ছে কিন্তু সে ছাড়া অন্য কেউ তা দেখতে পাচ্ছে না, তবে এটি তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার নিদর্শন। (আর যে দেখল) নতুন চাঁদ উদিত হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে গেছে, তবে সে যে বিষয়টি কামনা করছে তা পূর্ণ হবে না। জাফর আস-সাদিক বলেছেন: চাঁদের স্বপ্ন সতেরোটি অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়: রাজা, উজির, রাজার সঙ্গী, নেতা, শরীফ বা উচ্চবংশীয় ব্যক্তি, দাসী, গোলাম, বাতিল কোনো বিষয়, শাসক, ফাসাদ সৃষ্টিকারী আলেম, সম্মানিত ব্যক্তি, সন্তান, সন্তানের সন্তান, স্ত্রী, স্বামীর স্ত্রী অথবা মহত্ত্ব।

5 - ‌‌(নক্ষত্র দেখার পরিচ্ছেদ)

গ্রহসমূহ সাতটি; সূর্য ও চাঁদ সম্পর্কে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। বাকি পাঁচটি হলো: শনি—যে রাজার শাস্তির অধিকারী; বৃহস্পতি—যে তার ধনভাণ্ডারের অধিকারী; মঙ্গল—যে তার যুদ্ধের অধিকারী; শুক্র—যে রাজার স্ত্রী; এবং বুধ—যে তার লেখক। সুপরিচিত নক্ষত্রগুলো রাজার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং বাকি নক্ষত্রগুলো তার সৈন্যবাহিনী। জাবির আল-মাগরিবি বলেছেন: সূর্য ও চাঁদ ব্যতীত অন্যান্য নক্ষত্রগুলো হলো ভাই ও বোন। (আর যে দেখল) সে নক্ষত্রগুলোর মালিক হয়েছে, তবে সে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন মানুষদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করবে এবং তাদের অন্তরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। (আর যে দেখল) সে এগুলোর মধ্য থেকে কোনো কিছু স্থাপন করছে, তবে সে মানুষের জন্যও অনুরূপ কিছু করবে। (আর যে দেখল) সে নক্ষত্রগুলো থেকে বা সেগুলোর আলো থেকে কোনো কিছু লাভ করেছে, তবে সে সেই পরিমাণ উপকার লাভ করবে। (আর যে দেখল) নক্ষত্রগুলো কোনো ঘরে বা আকাশে উজ্জ্বল অবস্থায় আছে, তবে সে রাজকীয় ক্ষমতা ও মর্যাদা লাভ করবে এবং তার শান ও শওকত বৃদ্ধি পাবে। আর যে দেখল সে সুপরিচিত নক্ষত্রগুলোর দিকে তাকাচ্ছে, তবে তা সুপথ প্রাপ্তি, হেদায়েত এবং মতামতের সঠিকতা নির্দেশ করে। যে দেখল সে নক্ষত্রগুলো খাচ্ছে, তবে তা মানুষের গিবত বা পরনিন্দা করা নির্দেশ করে। (আর যে দেখল) সে একটি নক্ষত্র গ্রহণ করেছে এবং তার স্ত্রী যদি গর্ভবতী হয়, তবে সে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেবে। (আর যে দেখল) তার ওপর একটি নক্ষত্র ধাবিত হয়েছে, তবে সে রাজকীয় ক্ষমতা ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। (আর যে দেখল) কোনো নক্ষত্র তাকে আঘাত করেছে, তবে সে শয়তানের পক্ষ থেকে কঠোর সমস্যার সম্মুখীন হবে এবং পরবর্তীতে তা থেকে মুক্তি পাবে; আর যদি তা কোনো জাহাজে আঘাত করে তবে তা ডুবে যাবে অথবা কোনো চতুষ্পদ জন্তুর ওপর পড়লে তা ধ্বংস হবে। (আর যে দেখল) কোনো নক্ষত্র খসে পড়েছে, তবে সে দ্রুত মৃত্যুবরণ করবে। (আর যে দেখল) তার মাথা নক্ষত্রে পরিণত হয়েছে, তবে তার ওপর অনেক ঋণ পুঞ্জীভূত হবে। (আর যে দেখল) কোনো নক্ষত্র মাটিতে পড়েছে, তবে এটি কোনো মহান ব্যক্তির পতনের লক্ষণ। আর যদি তার কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি থাকে তবে সে ফিরে আসবে; আর যদি তার কাছে কোনো গর্ভবতী স্ত্রী থাকে, তবে সেই নক্ষত্রটি যদি পুংলিঙ্গবাচক হয় তবে পুত্র সন্তান প্রসব করবে আর স্ত্রীলিঙ্গবাচক হলে কন্যা সন্তান প্রসব করবে। (আর যে দেখল) নক্ষত্রগুলো তার বাড়িতে একত্রিত হয়েছে, তবে এটি তার ধ্বংসের ওপর দলিল। (আর যে দেখল) একটি নক্ষত্র উদিত হয়ে আবার কোনো গতি ছাড়াই অদৃশ্য হয়ে গেল, তবে সে যা খুঁজছে তা পূর্ণ হবে না এবং এটি ধ্বংসের সমতুল্য। (আর যে দেখল) নক্ষত্রটি উদিত হয়ে পূর্ণতা পেয়েছে এবং সচল হয়েছে, তবে তার ব্যাখ্যা এর বিপরীত হবে। আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ বলেছেন: যে ব্যক্তি সুহাইল নক্ষত্রকে উদিত হতে দেখল, তা পশ্চাৎপদতা বা পতনের দলিল। শুক্র গ্রহ দেখার অর্থ হলো উন্নতি বা সৌভাগ্য। বৃহস্পতি গ্রহ দেখার অর্থ হলো জীবনের শেষ পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন। আর শিয়া'রা নক্ষত্র দেখার ব্যাখ্যা অসম্ভব কোনো বিষয় নিয়ে করা হয়; কারণ জাহেলিয়াত যুগে এর ইবাদত করা হতো, আর আল্লাহ ছাড়া যারই ইবাদত করা হয় তা বাতিল ও অসম্ভব। কেউ কেউ বলেছেন, নক্ষত্র দেখার স্বপ্ন সাধারণভাবে ভ্রমণের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়; কারণ মুসাফিররা সমুদ্রে এর মাধ্যমে পথ খুঁজে পায়।

6 - ‌‌(দিন ও রাত দেখার পরিচ্ছেদ)

দিনসমূহের আলোচনা আঠারোতম অধ্যায়ের একটি পরিচ্ছেদে আসবে। আর দিন ও রাত বলতে এখানে অন্ধকার ও আলো বুঝানো হয়েছে। ইবনে সিরিন বলেছেন: যে ব্যক্তি অন্ধকার রাত দেখল, তা দুঃখ ও উদ্বেগের ওপর দলিল। (আর যে দেখল) একটি উজ্জ্বল ও মনোরম রাত এবং মানুষ তাতে স্বস্তি অনুভব করছে, তবে তা আনন্দ, খুশি ও সুন্দর জীবনের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়। আল-কিরমানি বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখল সে অন্ধকার রাতে হাঁটছে এবং পথ তার কাছে অস্পষ্ট, অথচ সে মনে করছে সে মূল পথেই আছে, তবে এটি দ্বীনের পথে তার অটল থাকার দলিল। জাবির আল-মাগরিবি বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতকে দিন হতে দেখল এবং সূর্য উদিত অবস্থায় দেখল, তবে তা কল্যাণ, উপকার এবং উদ্দেশ্য হাসিলের দলিল। (আর যে দেখল) এর বিপরীত, তবে তার ব্যাখ্যাও বিপরীত হবে। আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ বলেছেন: রাত দেখার স্বপ্ন গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতার ওপর ব্যাখ্যা করা হয়। (আর যে দেখল) সারা কাল বা পুরো সময়টিই রাত এবং তাতে কোনো দিন নেই, তবে এটি সেই স্থানের অধিবাসীদের দুঃখ, আতঙ্ক, অস্থিরতা ও ভয়ের লক্ষণ। আর অন্ধকার হলো সেই ব্যক্তির জন্য জুলুম যে তার যোগ্য। (আর যে দেখল) রাত রয়েছে এবং তাতে চাঁদ ও নক্ষত্র বিচরণ করছে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। (আর যে দেখল) তার ঘর অন্ধকারাচ্ছন্ন, তবে সে দূর দেশে সফর করবে। কেউ কেউ বলেছেন, অন্ধকার দেখার স্বপ্ন দ্বীনের পথে বিভ্রান্ত হওয়ার ওপর ব্যাখ্যা করা হয়। (আর যে দেখল) সে অন্ধকারে ছিল এরপর তা আলোতে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে তা তওবা করা এবং দ্বীনের দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার দলিল। আল-কিরমানি বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখল সে অন্ধকারে ছিল, এরপর আলোতে আসলো, এরপর আবার অন্ধকারে ফিরে গেল, তবে এটি মোনাফেকির ওপর ব্যাখ্যা করা হয়; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন তাদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায়, তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকে।" জাফর আস-সাদিক বলেছেন: অন্ধকার পাঁচটি দিক নির্দেশ করে: কুফরি, বিভ্রান্তি, কাজের কঠিনতা, বিদআত এবং পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া। যে দেখল সে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বেরিয়ে এসেছে এবং সে যদি নেককার লোক হয়, তবে সে দারিদ্র্য থেকে সচ্ছলতায় ফিরে আসবে। আর আলো অর্থাৎ দিন হেদায়েতের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়। দিনের শুরু হলো তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের শুরু, আর দিনের মধ্যভাগ ও শেষভাগ সেই হিসেবেই পরিমাপ করা হবে। (আর যে দেখল) পুরো সময়টিই দিন, তবে তা তার কাজের স্থিরতা এবং দীর্ঘ আয়ুর ওপর ব্যাখ্যা করা হয়; কখনো কখনো রাজা তার সাথে পরামর্শ করবেন এবং তার মতামতের অনুসরণ করা হবে।

7 - ‌‌(গরম ও শীত দেখার পরিচ্ছেদ)

গরমের স্বপ্ন উদ্বেগ ও দুঃখের ওপর ব্যাখ্যা করা হয় এবং এর তীব্রতা অধিকতর উদ্বেগের কারণ। আর শীতের স্বপ্ন কষ্ট, পরীক্ষা ও আজাবের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়; কেউ কেউ বলেছেন এটি দারিদ্র্য ও ক্ষতির লক্ষণ। (আর যে দেখল) শীতের কারণে তার শরীরের কোনো অঙ্গ খসে পড়েছে, তবে তা তার ধ্বংস বা তার কোনো আত্মীয়ের ধ্বংসের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়। কেউ কেউ বলেছেন, শীতের সময় শীত দেখা যতক্ষণ তা সীমা অতিক্রম না করে, ততক্ষণ তা ক্ষতিকারক নয়; গরমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আর আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সম্যক অবগত।

‌‌(চতুর্থ অধ্যায়)

 

‌‌(কিয়ামত ও এর নিদর্শনসমূহ, জান্নাত, জাহান্নাম, পুলসিরাত, মিজান, হাউজ এবং হিসাব দেখার বিষয়ে)

 

3 - ‌‌(কিয়ামত ও এর নিদর্শনসমূহ দেখার পরিচ্ছেদ)

(আর যে দেখল) কিয়ামত কায়েম হয়েছে এবং আল্লাহ মানুষের মধ্যে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তবে এটি নির্দেশ করে যে যদি সেই স্থানের অধিবাসীদের মধ্যে কোনো মজলুম বা অত্যাচারিত লোক থাকে, তবে আল্লাহ তাদের অত্যাচারীদের ওপর কঠোরতা ও বিপদ চাপিয়ে দেবেন। আর যদি দেখে সেই স্থানের অধিবাসীরা আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং আল্লাহর ক্রোধ ও আজাবের চিহ্ন বিদ্যমান, তবে এটি শুভ নয়। জাফর আস-সাদিক বলেছেন: কিয়ামতের স্বপ্ন নেককারদের জন্য চারটি বিষয় নির্দেশ করে: সফলতা, আনন্দ, মুক্তি, সংশোধন এবং শেষ পরিণতি ভালো হওয়া। আর ফাসাদ বা পাপাচারী লোকদের জন্য এর বিপরীত হবে। (আর যে দেখল) কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের কোনো একটি, যেমন সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, দাজ্জাল বা দাব্বাতুল আরদ এর বহিঃপ্রকাশ অথবা এই জাতীয় কিছু, তবে এর ব্যাখ্যা হলো এমন ফেতনা বা বিপর্যয় প্রকাশ পাবে যাতে একদল ধ্বংস হবে এবং অন্য দল মুক্তি পাবে; আর স্বপ্নদ্রষ্টার উচিত তওবা করা। দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ হলো বিদআতি ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তির আবির্ভাব যে মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবে। সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হলো মহামারি অথবা কোনো অভিযানের ব্যাপারে শাসকের সতর্কবার্তা অথবা সেই শহরে কিয়ামত সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কিংবা হজের জন্য সাধারণ সফর। হাশর বা বিচারকার্যের ফায়সালার জন্য আল্লাহ তাআলার আসা এবং হিসাবের জন্য সৃষ্টির একত্রিত হওয়া হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার যা মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে অথবা কোনো ন্যায়পরায়ণ নেতার আগমন কিংবা কোনো মহাদিবস যা মানুষ স্বচক্ষে দেখবে ও প্রত্যক্ষ করবে। (আর যে দেখল) সে তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করেছে, তবে সে নেক আমল, সুন্দর প্রশংসা ও মর্যাদা লাভে সফল হবে। (আর যে দেখল) সে তার আমলনামা বাম হাতে গ্রহণ করেছে, তবে সে পাপের কারণে অথবা দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে ধ্বংস হবে।

4 - ‌‌(হিসাব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি দেখল তাকে হিসাবের স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে তা গাফিলতির ওপর দলিল; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মানুষের হিসাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অথচ তারা উদাসীনতায় বিমুখ হয়ে আছে।" যে ব্যক্তি দেখল তার হিসাব নেওয়া হচ্ছে, তবে সে বিপদ ও আজাবে পতিত হবে; কারণ নবী করীম (সা.) বলেছেন: "যার হিসাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে, তাকে আজাব দেওয়া হবে।" জাফর আস-সাদিক বলেছেন: কিয়ামতের হিসাব দেখার স্বপ্ন ছয়টি আজাব বা কষ্টের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়: শাসকের পক্ষ থেকে কষ্ট, ব্যস্ততা, রোগ-ব্যাধি, দুঃখ, ক্লান্তি অথবা স্বল্প আয়ু।

5 - ‌‌(পুলসিরাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি দেখল সে পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তবে তার হাতে অনেক বক্র বা কঠিন বিষয় সহজ ও সঠিক হবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তিনি আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৩)
(وَمن رأى) أَنه مر على الصِّرَاط يَأْمَن من البلايا والشدائد (وَمن رأى) أَنه سقط من الصِّرَاط فِي النَّار يَقع فِي فتْنَة وبلاء ومصيبة عَظِيمَة (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: من رأى أَنه جَازَ الصِّرَاط يخْتَار طَرِيق الْخيرَات وَيعْمل أعمالا صَالِحَة وَيطْلب رضَا الله (وَمن رأى) أَنه وَقع من الصِّرَاط فِي النَّار يَأْخُذ عملا من الْملك وَيكون على يَدَيْهِ ظلم كثير وذنوب كَثِيرَة (وَمن رأى) أَنه ابتلع الصِّرَاط فَإِنَّهُ يعْمل أمرا مُسْتَقِيمًا يطْلب النَّاس إِظْهَاره مِنْهُ فيكتمه (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الصِّرَاط تؤول على سِتَّة أوجه: أَمر مُسْتَقِيم أَو أَمر صَعب أَو خوف أَو ظلم من قبل السُّلْطَان أَو ذَنْب أَو نفاق مَعَ النَّاس وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى أَنه على الصِّرَاط فَإِنَّهُ مُسْتَقِيم فِي الدّين (وَمن رأى) أَنه زل عَن الصِّرَاط وَهُوَ يبكي فَإِنَّهُ يؤول بالغفلة فِي الدّين وَلَكِن يُرْجَى لَهُ الْمَغْفِرَة وَرُبمَا دلّت رُؤْيا الصِّرَاط على الزّهْد فِي الدُّنْيَا.

6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْمِيزَان)

من رأى الْمِيزَان فَإِنَّهُ يدل على انبساط الْعدْل وارتفاع الظُّلم لقَوْله تَعَالَى: {وَنَضَع الموازين الْقسْط ليَوْم الْقِيَامَة فَلَا تظلم نفس شَيْئا} قَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا ميزَان الْقِيَامَة تؤول على سِتَّة أوجه: قَاض أَو عَالم أَو فَقِيه أَو مهندس أَو حكم بَاطِل.

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا حَوْض الْكَوْثَر)

من رأى أَن الْقِيَامَة قَامَت وَاجْتمعَ الْخلق عِنْد حَوْض الْكَوْثَر يطْلبُونَ المَاء فَإِنَّهُ يدل على ولَايَة ملك يعدل بَين النَّاس (وَمن رأى) أَنه شرب مِنْهُ فَإِنَّهُ يَمُوت على الْإِسْلَام (وَمن رأى) أَنه يَدُور حوله ويسال المَاء مِنْهُ فَيمْنَع يدل أَنه يعادي أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى اسْمه مَكْتُوبًا عَلَيْهِ وَأخذ كأسا وَشرب مِنْهُ يدل على أَنه يصحب عَالما كَبِيرا أَو سخيا وينال مِنْهُ مَنْفَعَة فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَقَالَ جَابر المغربي: من رأى أَنه شرب مِنْهُ متواتر وَلَكِن مَاءَهُ كدر أجاج يدل على أَن الرَّائِي منافقا وَلَا يعْتَقد الْقُرْآن وأخبار النَّبِي عليه السلام ويحقر دين الْإِسْلَام وَإِن كَانَ مَاؤُهُ مثل مَا ورد فِي الْأَخْبَار وَيكون الرَّائِي من جملَة أكَابِر الْإِسْلَام الَّذين يشربون مِنْهُ وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: رُؤْيا الْحَوْض من حَيْثُ الْجُمْلَة تؤول على أَرْبَعَة أوجه: رجل نَافِع للنَّاس وَرجل غَنِي أَو مَال مَجْمُوع أَو عَالم ينفع النَّاس بِعِلْمِهِ وَرُبمَا دلّت عمَارَة الْحَوْض على فعل الْخيرَات وهدمه يدل على ضد ذَلِك.

8 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْجنَّة رزقنا الله إِيَّاهَا بمنه وَكَرمه)

وَمن رأى أَنه دخل الْجنَّة فَإِنَّهُ يحصل لَهُ فَرح وسرور وَبشَارَة من الله تَعَالَى بالخيرات وَقيل أَمن لقَوْله: {ادخلوها بِسَلام أمنين} (وَمن رأى) أَنه تنَاول من فواكه الْجنَّة أَو أعطَاهُ أحد وَأكل مِنْهَا فَإِنَّهُ يصل إِلَيْهِ بِمِقْدَار ذَلِك من الْخَيْر والراحة وَمن رأى أَنه تنَاول فَاكِهَة بِيَدِهِ وَأكل فَإِنَّهُ يتَعَلَّم الدّين وَيحصل سيرة الْمُتَّقِينَ وَلَا يُسْتَفَاد مِنْهُ وَمن رأى كَأَنَّهُ مَعَ الْحور فِي الْجنَّة تسهل لَهُ الأشغال الْحَسَنَة وَمن رأى أَنه مُقيم فِي الْجنَّة وَلم يعلم أَنه فِيهَا يكون فِي الدُّنْيَا ذَا نعْمَة وإقبال إِلَى انْقِضَاء أَجله (وَمن رأى) أَنه أَرَادَ الدُّخُول فِي الْجنَّة وَلَكِن منع يكون ميله فِي الدُّنْيَا إِلَى الْفساد والعصيان وَمن رأى بَاب الْجنَّة قد غلق فِي وَجهه يكون عَاق الْوَالِدين وَمن رأى أَنه قرب إِلَى الْجنَّة ثمَّ رد عَنْهَا بِمَرَض وَيُؤَدِّي مَرضه إِلَى الْمَوْت وَلم يشف. (وَمن رأى) أَن الْمَلَائِكَة قد أخذُوا بِيَدِهِ إِلَى الْجنَّة فَإِنَّهُ يَتُوب إِلَى الله متاباً ويرتحل من الدُّنْيَا عَن قريب وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى أَنه قيل لَهُ ادخل الْجنَّة وَلم يدْخل يتَجَنَّب عَن طَرِيق الدّيانَة (وَمن رأى) أَنه قيل لَهُ تدخل الْجنَّة يحصل لَهُ مِيرَاث (وَمن رأى) أَنه سل السَّيْف وَدخل الْجنَّة فَإِنَّهُ يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ وَينْهى عَن الْمُنكر (وَمن رأى) أَنه جَالس تَحت شَجَرَة طُوبَى يحصل لَهُ مُرَاده فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة لقَوْله تَعَالَى: {طُوبَى لَهُم وَحسن مآب} {وَمن رأى} أَنه شرب فِي الْجنَّة شرابًا أَو لَبَنًا فَإِنَّهُ يصير غَنِيا من الْعلم وَالْحكمَة (وَمن رأى) أَنه قد امْتنع من نعم الْجنَّة فَإِنَّهُ يدل على الضَّلَالَة وَقلة الدّين لقَوْله تَعَالَى: {من يُشْرك بِاللَّه فقد حرم الله عَلَيْهِ الْجنَّة} .
(আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে পুলসিরাত অতিক্রম করেছে, সে বালা-মুসিবত ও কঠোরতা থেকে নিরাপদ থাকবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে পুলসিরাত থেকে আগুনে পড়ে গেছে, সে ফিতনা, বিপদ এবং কঠিন মুসিবতে পতিত হবে। (এবং আল-কিরমানী বলেন): যে ব্যক্তি দেখে যে সে পুলসিরাত পার হয়েছে, সে কল্যাণের পথ বেছে নেবে, নেক আমল করবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে পুলসিরাত থেকে আগুনে পড়ে গেছে, সে শাসকের কাছ থেকে কোনো কর্মভার গ্রহণ করবে এবং তার হাতে অনেক জুলুম ও পাপ সংঘটিত হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে পুলসিরাত গিলে ফেলেছে, তবে সে কোনো সঠিক কাজ করবে যা মানুষ তার নিকট প্রকাশ করতে চাইবে কিন্তু সে তা গোপন রাখবে। (এবং জাফর আল-সাদিক বলেন): পুলসিরাত দেখার স্বপ্নের ব্যাখ্যা ছয়টি দিক থেকে হয়: সঠিক বিষয়, কঠিন কাজ, ভয়, সুলতানের পক্ষ থেকে জুলুম, গুনাহ অথবা মানুষের সাথে মুনাফিকি। আর আবু সাঈদ আল-ওয়ায়েজ বলেন: যে ব্যক্তি নিজেকে পুলসিরাতের উপর দেখে, সে দ্বীনের পথে অটল রয়েছে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কাঁদতে কাঁদতে পুলসিরাত থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীনতা, কিন্তু তার জন্য ক্ষমার আশা করা যায়। আর কখনো পুলসিরাত দেখার অর্থ দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি (যুহদ) হতে পারে।

৬ - ‌‌(মীযান বা তুলাদণ্ড দেখার অধ্যায়)

যে ব্যক্তি মীযান দেখে, তবে তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলুম দূরীভূত হওয়ার প্রমাণ; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি কিয়ামতের দিন ইনসাফের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না}। জাফর আল-সাদিক বলেন: কিয়ামতের পাল্লা দেখার ব্যাখ্যা ছয়টি দিক থেকে হয়: বিচারক, আলেম, ফকিহ, প্রকৌশলী অথবা মিথ্যা ফয়সালা।

৭ - ‌‌(হাউজে কাউসার দেখার অধ্যায়)

যে ব্যক্তি দেখে যে কিয়ামত সংগঠিত হয়েছে এবং সৃষ্টিজগত হাউজে কাউসারের নিকট পানি পানের জন্য সমবেত হয়েছে, তবে তা এমন এক বাদশাহর কর্তৃত্বের দলিল যে মানুষের মধ্যে ইনসাফ করবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তা থেকে পান করেছে, তবে সে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে এর চারপাশে ঘুরছে এবং পানি চাইছে কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তবে এটি নির্দেশ করে যে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। আল-কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তি তার নাম সেখানে লিখিত দেখে এবং একটি পেয়ালা নিয়ে তা থেকে পান করে, তবে এটি নির্দেশ করে যে সে কোনো বড় আলেম বা দানশীল ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার মাধ্যমে উপকৃত হবে। জাবের আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে তা থেকে ক্রমাগত পান করছে কিন্তু পানি ঘোলা ও লোনা, তবে এটি নির্দেশ করে যে স্বপ্নদ্রষ্টা মুনাফিক এবং সে কুরআন ও নবী আলাইহিস সালামের সংবাদসমূহের প্রতি বিশ্বাস রাখে না এবং ইসলাম ধর্মকে তুচ্ছজ্ঞান করে। আর যদি পানি বর্ণানুযায়ী (স্বচ্ছ) হয়, তবে স্বপ্নদ্রষ্টা ইসলামের সেইসব মহান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা তা থেকে পান করবেন। জাফর আল-সাদিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: সামগ্রিকভাবে হাউজ দেখার স্বপ্ন চারটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয়: মানুষের জন্য উপকারী ব্যক্তি, ধনী ব্যক্তি, পুঞ্জীভূত সম্পদ অথবা এমন আলেম যিনি তার ইলম দ্বারা মানুষের উপকার করেন। আর কখনো হাউজ নির্মাণ করা নেক কাজের দলিল এবং তা ধ্বংস করা এর বিপরীত কিছুর দলিল।

৮ - ‌‌(জান্নাত দেখার অধ্যায়, আল্লাহ তাঁর করুণা ও দয়ায় আমাদের তা নসিব করুন)

আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তবে তার আনন্দ, খুশি এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কল্যাণের সুসংবাদ লাভ হবে। আর বলা হয়েছে যে এটি নিরাপত্তার লক্ষণ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাতে শান্তিতে ও নিরাপদে প্রবেশ করো}। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে জান্নাতের ফলমূল গ্রহণ করেছে অথবা কেউ তাকে দিয়েছে এবং সে তা খেয়েছে, তবে সেই পরিমাণ কল্যাণ ও আরাম তার কাছে পৌঁছাবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে নিজ হাতে জান্নাতের ফল পেড়ে খাচ্ছে, তবে সে দ্বীন শিক্ষা করবে এবং মুত্তাকীদের চরিত্র লাভ করবে, কিন্তু তা থেকে সে উপকৃত হবে না। আর যে ব্যক্তি নিজেকে জান্নাতে হুরদের সাথে দেখে, তবে তার উত্তম কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে জান্নাতে অবস্থান করছে কিন্তু জানত না যে সে সেখানে আছে, তবে সে মৃত্যু পর্যন্ত দুনিয়াতে নিয়ামত ও সৌভাগ্যের অধিকারী হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইছে কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে, তবে দুনিয়াতে তার ঝোঁক ফাসাদ ও নাফরমানির দিকে হবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে জান্নাতের দরজা তার মুখের ওপর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে সে হবে পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে জান্নাতের নিকটবর্তী হয়েছে অতঃপর সেখান থেকে ফিরে এসেছে, তবে সে এমন রোগে আক্রান্ত হবে যা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে এবং সে আর আরোগ্য লাভ করবে না। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে ফেরেশতারা তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাচ্ছেন, তবে সে আল্লাহর কাছে তওবা করবে এবং অচিরেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে। আল-কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তিকে বলা হলো জান্নাতে প্রবেশ করো কিন্তু সে প্রবেশ করল না, সে দ্বীনদারির পথ থেকে দূরে সরে থাকবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে তাকে বলা হয়েছে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তলোয়ার কোষমুক্ত করে জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তবে সে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তূবা গাছের নিচে বসে আছে, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তার উদ্দেশ্য সফল হবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য রয়েছে তূবা (পরম সুখ) এবং উত্তম প্রত্যাবর্তন}। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে জান্নাতে কোনো পানীয় অথবা দুধ পান করেছে, তবে সে ইলম ও হিকমতে সমৃদ্ধ হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে জান্নাতের নিয়ামত গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে, তবে এটি ভ্রষ্টতা এবং দ্বীনদারির অভাব প্রকাশ করে, মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন}।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৪)
(وَمن رأى) أَنه قد ناول أحدا من فواكه الْجنَّة فَإِنَّهُ يَسْتَفِيد من علمه (وَمن رأى) أَنه قد ألْقى فِي الْجنَّة نَارا فَإِنَّهُ يَأْكُل من بُسْتَان أحد شَيْئا حَرَامًا (وَمن رأى) أَنه أعطي قصرا فِي الْجنَّة يحصل لَهُ ولَايَة أَو ينْكح جَارِيَة وَقَالَ جَابر المغربي: من رأى رضوَان وَهُوَ فرحان يحصل لَهُ وفور السرُور وَالنعْمَة والحبور لقَوْله تَعَالَى: {طبتم فادخلوها خَالِدين} (وَمن رأى) أَنه على مَكَان عَال وَهُوَ على هَيْئَة الْجنَّة ويحسب أَنه فِي الْجنَّة يتَوَصَّل إِلَى سُلْطَان عَادل أَو غنى فَاضل أَو عَالم عَامل (وَمن رأى) أَنه مُتَوَجّه إِلَى الْجنَّة فَإِنَّهُ يسْلك طَرِيق الْحق (وَمن رأى) أَن بِيَدِهِ مَفَاتِيح الْجنَّة فَإِنَّهُ يتوفى على التَّوْحِيد لقَوْله عليه السلام: مِفْتَاح الْجنَّة لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله وَمن رأى أَنه فِي الْجنَّة وَحدث مِنْهُ مَا لَا يَلِيق أَن يكون بهَا فَإِنَّهُ يرتكب الْمعاصِي وَإِذا رأى الْمَرِيض أَنه دخل الْجنَّة فَإِنَّهُ يدل على مَوته وَدَفنه لقَوْله تَعَالَى: {الَّذين تتوفاهم الْمَلَائِكَة طيبين يَقُولُونَ سَلام عَلَيْكُم ادخُلُوا الْجنَّة} وَالْمرَاد بِالْجنَّةِ هُنَا الْقَبْر لقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم: الْقَبْر إِمَّا رَوْضَة من رياض الْجنَّة أَو حُفْرَة من حفر النَّار وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه رُؤْيا الْجنَّة تؤول على تِسْعَة أوجه علم وزهد ومنة وَفَرح وَبشَارَة وَخير وبركة وسعادة وَأمن.

‌‌(الْبَاب الْخَامِس)

 

‌‌(فِي رُؤْيا السَّحَاب والمطر والثلج والطل وَالْبرد والضباب والشفق وقوس قزَح)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا السَّحَاب)

من رأى قِطْعَة من سَحَاب على رَأسه يحصل لَهُ عَظمَة بمقدارها وَينفذ أمره وَمن رأى سَحَابَة مرت على رَأسه يصحب رجلا ذَا عهد وَأَمَانَة وَيحصل مِنْهُ مُرَاده وَقَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه يَسُوق السَّحَاب فِي الْهَوَاء يدل على أَنه يصاحب الْعلمَاء والحكماء وَإِن رأى هَذِه الرُّؤْيَا ملك أَو من يقوم مقَامه يدل على إرْسَال الرُّسُل وَأَصْحَاب الْأَخْبَار فِي ولَايَته (وَمن رأى) سَحَابَة دخلت فِي بَيته ضافه عَالم أَو حَكِيم (وَمن رأى) أَنه أَخذ السَّحَاب فِي الْهَوَاء وَجَاء بِهِ إِلَى الأَرْض يحصل لَهُ مَا لَا يحصل لأمثاله وَقيل يجد عَظمَة وعلماً وَمن رأى أَنه فِي ظلّ السَّحَاب يجد فِي تِلْكَ السّنة خير أَو نعْمَة كَثِيرَة لقَوْله تَعَالَى: {وظللنا عَلَيْهِم الْغَمَام} الْآيَة (وَمن رأى) أَنه خاط ثوبا من السَّحَاب ولبسه يحصل لَهُ من الْعلم مَا لَا يحصل لأمثاله وَمن رأى أَن السَّحَاب ستر جَمِيع الدُّنْيَا وَلم ينزل مِنْهُ مطر فَلَيْسَ بمحمود قَالَ الْكرْمَانِي: من رأى أَنه جمع السَّحَاب أَو حمله أَو كَلمه يدل على الْعلم وَالْحكمَة وَمن رأى أَنه بَين يَدَيْهِ وَلَكِن لم يسْتَطع أَن يجمعه يدل على أَنه يكون مَعَ الْحُكَمَاء وَلَا يحصل لَهُ من حكمتهم شَيْء وَقَالَ جَابر المغربي: من رأى سحابا أسود مخوفا منبسط فَوق مَوضِع يدل على غضب الله وعذابه. (وَمن رأى) سحابا انبسط فِي بَيته أَو فِي ثَوْبه يدل على حُصُول علم وَحِكْمَة لأولاده وَأهل بَيته بِمِقْدَار ذَلِك السَّحَاب وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن الْأَشْعَث: والسحاب الْأسود خوف وسحاب الْمَطَر بركَة وَخير ورخاء وَرُبمَا يكون غما وَأما السَّحَاب الَّذِي يجاء بِهِ من شاطئ الْبَحْر وَيُقَال لَهُ أسفح فَهُوَ يدل على الْغَنِيمَة وَقيل من رأى أَنه أَخذ شَيْئا من السَّحَاب فَإِنَّهُ يكثر الْحَرْث وَالزَّرْع والضياع وَمن رأى أَنه ركب السَّحَاب فَإِنَّهُ يدْرك حِكْمَة متنوعة وَمن رأى أَن السحابة استقبلته فَإِنَّهَا أَمن وَعدل وَبشَارَة وراحة من كل غم وَإِن كَانَ الرجل من أهل الْفساد فَإِنَّهَا عُقُوبَة وَعَذَاب ينزل مِنْهَا وَمن رأى أَن السَّحَاب سقط على الأَرْض فَإِنَّهَا سيول وأمطار تنزل وجراد ينتشر وغارات أَعدَاء على تِلْكَ الأَرْض إِن كَانَ مَعَ السَّحَاب ريح شَدِيد أَو ظلمَة أَو مَا يكره فِي التَّأْوِيل وَمن رأى أَن السَّحَاب غطى الشَّمْس فَإِن الْملك يَمُوت أَو يفر أَو يعْزل وَمن رأى أَنه ركب السَّحَاب فَإِنَّهُ يتَزَوَّج إِن كَانَ عزبا أَو يركب سفينة إِن أمل سفرا فِي الْبَحْر أَو صَار بعسكر أَو برفقة وَيَرْفَعهُ السُّلْطَان أَعلَى منزلَة وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا السَّحَاب تؤول على تِسْعَة أوجه: حِكْمَة ورياسة وَملك وَرَحْمَة وعفة وَعَذَاب وقحط وبلاء وفتنة.

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْمَطَر)

قَالَ دانيال: رُؤْيا الْمَطَر تؤول بِالْخَيرِ وَالرَّحْمَة من الله تَعَالَى إِذا كَانَ عَاما لقَوْله تَعَالَى: (وَهُوَ الَّذِي ينزل الْغَيْث من
(আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে সে কাউকে জান্নাতের কোনো ফল প্রদান করেছে, তবে সে তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হবে। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে সে জান্নাতে আগুন নিক্ষেপ করেছে, তবে সে অন্য কারো বাগান থেকে কোনো হারাম বস্তু ভক্ষণ করবে। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে তাকে জান্নাতে একটি প্রাসাদ দান করা হয়েছে, তবে সে কোনো নেতৃত্ব লাভ করবে অথবা কোনো পরিচারিকাকে বিবাহ করবে। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি জান্নাতের রক্ষক রেদওয়ানকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখে, সে প্রচুর আনন্দ, নেয়ামত ও উল্লাস লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "তোমরা পবিত্র হয়েছ, সুতরাং চিরস্থায়ীভাবে জান্নাতে প্রবেশ করো।" (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে সে কোনো উঁচু স্থানে রয়েছে যা জান্নাতের আকৃতিতে এবং সে মনে করছে যে সে জান্নাতেই আছে, তবে সে কোনো ন্যায়পরায়ণ সুলতান, বা কোনো মহৎ ধনী ব্যক্তি অথবা কোনো আমলকারী আলেমের সান্নিধ্য লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে সে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে সে হকের পথে চলছে। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে তার হাতে জান্নাতের চাবিকাঠি রয়েছে, তবে সে তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করবে; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’।" আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে সে জান্নাতে আছে এবং তার দ্বারা এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা সেখানে হওয়া অনুচিত, তবে সে পাপাচারে লিপ্ত হবে। আর যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তবে তা তার মৃত্যু ও দাফনের প্রতি ইঙ্গিত করে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় ঘটায় এবং তারা বলে: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।" আর এখানে জান্নাত বলতে কবর উদ্দেশ্য; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "কবর হয় জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য থেকে একটি বাগান, অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য থেকে একটি গর্ত।" জাফর আল-সাদিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: জান্নাতের স্বপ্ন নয়টি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয়: জ্ঞান, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), অনুগ্রহ, আনন্দ, সুসংবাদ, কল্যাণ, বরকত, সৌভাগ্য এবং নিরাপত্তা।

‌‌(পঞ্চম অধ্যায়)

 

‌‌(মেঘ, বৃষ্টি, বরফ, শিশির, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা, গোধূলি ও রংধনু দেখার বর্ণনায়)

 

৩ - ‌‌(মেঘ দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি নিজের মাথার ওপর মেঘের একটি টুকরো দেখে, সে তার পরিমাণ অনুযায়ী মহত্ত্ব লাভ করবে এবং তার আদেশ জারি হবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে তার মাথার ওপর দিয়ে মেঘ চলে যাচ্ছে, সে কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও আমানতদার ব্যক্তির সঙ্গ লাভ করবে এবং তার মাধ্যমে নিজের উদ্দেশ্য পূর্ণ করবে। ইবনে সীরীন বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে আকাশে মেঘ পরিচালনা করছে, তবে তা ইঙ্গিত দেয় যে সে আলেম ও জ্ঞানীদের সঙ্গ লাভ করবে। আর যদি এই স্বপ্ন কোনো বাদশাহ বা তার স্থলাভিষিক্ত কেউ দেখে, তবে তা তার রাজ্যে দূত ও সংবাদবাহক প্রেরণের ইঙ্গিত দেয়। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে মেঘ তার ঘরে প্রবেশ করেছে, তবে তার কাছে কোনো আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তি মেহমান হিসেবে আসবে। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে সে আকাশ থেকে মেঘ ধরে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে, তবে সে এমন কিছু অর্জন করবে যা তার সমপর্যায়ের অন্যরা পায় না; কেউ কেউ বলেছেন সে মহত্ত্ব ও জ্ঞান লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে মেঘের ছায়ায় আছে, তবে সে সেই বছরে কল্যাণ বা প্রচুর নেয়ামত লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর আমি তাদের ওপর মেঘমালা দ্বারা ছায়া দান করেছি।" (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে সে মেঘ দিয়ে একটি পোশাক সেলাই করে পরিধান করেছে, তবে সে এমন জ্ঞান লাভ করবে যা তার সমপর্যায়ের অন্যরা পায় না। আর যে ব্যক্তি দেখে যে মেঘ সমস্ত জগতকে ঢেকে ফেলেছে কিন্তু তা থেকে কোনো বৃষ্টি বর্ষিত হয়নি, তবে তা প্রশংসনীয় নয়। আল-কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে মেঘ একত্রিত করেছে বা বহন করেছে অথবা তার সাথে কথা বলেছে, তা জ্ঞান ও হিকমতের ইঙ্গিত দেয়। আর যে ব্যক্তি দেখে যে মেঘ তার সামনে রয়েছে কিন্তু সে তা একত্রিত করতে পারছে না, তবে তা ইঙ্গিত দেয় যে সে জ্ঞানীদের সাথে থাকবে কিন্তু তাদের জ্ঞান থেকে কিছুই অর্জন করতে পারবে না। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি কোনো স্থানের ওপর বিস্তৃত ভয়ংকর কালো মেঘ দেখে, তা আল্লাহর ক্রোধ ও আযাবের ইঙ্গিত দেয়। (আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে) যে তার ঘরে বা তার পোশাকে মেঘ বিস্তৃত হয়েছে, তবে তা সেই মেঘের পরিমাণ অনুযায়ী তার সন্তান ও পরিবারবর্গের জ্ঞান ও হিকমত অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। ইসমাইল ইবনে আশআস বলেন: কালো মেঘ হলো ভয়, আর বৃষ্টির মেঘ হলো বরকত, কল্যাণ ও সচ্ছলতা, আবার কখনো তা দুশ্চিন্তাও হতে পারে। আর যে মেঘ সমুদ্রের তীর থেকে আসে এবং যাকে ‘আসফাহ’ বলা হয়, তা গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ মালের ইঙ্গিত দেয়। কেউ কেউ বলেছেন, যে ব্যক্তি দেখে যে সে মেঘ থেকে কিছু গ্রহণ করেছে, তবে তার চাষাবাদ, শস্য ও ভূ-সম্পত্তি বৃদ্ধি পাবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে মেঘের ওপর আরোহণ করেছে, তবে সে বহুমুখী প্রজ্ঞা অর্জন করবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে মেঘ তার অভিমুখে এসেছে, তবে তা নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সুসংবাদ এবং সমস্ত দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তির লক্ষণ। আর যদি লোকটি পাপাচারী হয়, তবে তা শাস্তি ও আযাব যা মেঘ থেকে নাজিল হবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে মেঘ মাটির ওপর পতিত হয়েছে, তবে তা প্লাবন ও প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ হওয়া, পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়া এবং সেই ভূমিতে শত্রুর আক্রমণের লক্ষণ, যদি মেঘের সাথে প্রবল বাতাস বা অন্ধকার অথবা ব্যাখ্যায় অপছন্দনীয় কিছু থাকে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে মেঘ সূর্যকে ঢেকে ফেলেছে, তবে বাদশাহ মারা যাবে অথবা পালিয়ে যাবে কিংবা অপসারিত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে মেঘের ওপর আরোহণ করেছে, তবে সে অবিবাহিত হলে বিবাহ করবে, অথবা সমুদ্রে সফরের ইচ্ছা থাকলে জাহাজে আরোহণ করবে, কিংবা সেনাবাহিনী বা কাফেলায় যুক্ত হবে এবং সুলতান তাকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবেন। জাফর আল-সাদিক বলেন: মেঘের স্বপ্ন নয়টি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয়: হিকমত, নেতৃত্ব, রাজত্ব, রহমত, পবিত্রতা, আযাব, দুর্ভিক্ষ, বালা-মসিবত এবং ফিতনা।

৪ - ‌‌(বৃষ্টি দেখার পরিচ্ছেদ)

দানিয়াল (আ.) বলেন: বৃষ্টির স্বপ্ন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও রহমত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় যখন তা সাধারণ ও ব্যাপক হয়; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর তিনিই সেই সত্তা যিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন..."
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৫)
بعد مَا قَنطُوا وينشر رَحمته} فَإِن نزل الْمَطَر فِي وقته تحبه النَّاس وَيكون مرضياً وَإِن نزل فِي غير وقته لَا تحبه النَّاس وَيكون مذموما وَإِذا كَانَ الْمَطَر خَاصّا مثل أَن ينزل على دَار أَو محلّة فَهُوَ دَاء وَمرض أَو بلَاء ومحنة وَإِن نزل الْمَطَر هَنِيئًا يكون خير أَو مَنْفَعَة (وَمن رأى) أَن الْمَطَر نزل فِي أول السّنة أَو أول الشَّهْر يحصل فِي تِلْكَ السّنة أَو فِي ذَلِك الشَّهْر رخاء ونعمة وَإِن نزل الْمَطَر شَدِيدا مثل الطوفان يلْحق أهل ذَلِك الْمَكَان غم عَظِيم وَإِن رأى مَرِيض أَنه نزل مطر خَفِيف متواتر شفى وَإِن رأى مَطَرا شَدِيدا كدرا نزل على التَّوَاتُر يهْلك فِي ذَلِك الْمَرَض وَقَالَ ابْن سِيرِين: من رأى مَطَرا شَدِيدا كدراً نزل على التَّوَاتُر فِي وقته على الدَّوَام يلْحق بِأَهْل ذَلِك الْمَكَان عَسْكَر دَاء وبلاء وَمن رأى أَنه مسح بِمَاء الْمَطَر يَأْمَن من الْخَوْف وَمن رأى أَنه جَاءَ من كل قَطْرَة من قطرات الْمَطَر صَوت يزْدَاد عزه وجاهه وينتشر اسْمه فِي ذَلِك الْمَكَان وَإِن رأى مَطَرا عَظِيما نزل وَجرى فِي كل مَكَان مِنْهُ نهر وَلم يلْحق الرَّائِي مِنْهُ ضَرَر يكون متعصبا بِالْملكِ ويكف شَره من نَفسه وَإِذا لم يسْتَطع أَن يعبره لَا يَسْتَطِيع أَن يدْفع شَره وَإِن نزل من الْهَوَاء مَاء مثل الْمَطَر يحصل فِي ذَلِك الْمَكَان مرض وَعَذَاب. (وَمن رأى) أَنه يشرب من مَاء الْمَطَر فَإِن كَانَ صافيا أصَاب خيرا وَإِن كَانَ كدراً مرض بِقدر مَا شرب (وَمن رأى) أَن مَطَرا ينزل من السَّمَاء لَيْسَ كَهَيئَةِ الْمَطَر فَإِن كَانَ نَوعه محبوبا كَانَ صلاحا وَإِن كَانَ مَكْرُوها كَانَ بلَاء وفتنة (وَمن رأى) أَنه اغْتسل بِمَاء الْمَطَر أَو تَوَضَّأ بِهِ فَإِنَّهُ صَلَاح فِي دينه ودنياه وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الْمَطَر تؤول على اثنى عشر وَجها رَحْمَة وبركة واستغاثة وَمرض وبلاء وَحرب وَسَفك دم وفتنة وقحط وإيمان وَكفر وَكذب.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الثَّلج)

من رأى الثَّلج يلْحقهُ غم وداء وَعَذَاب إِلَّا أَن يرَاهُ قَلِيلا نزل فِي وقته (وَمن) رأى ثلجاً فِي الشتَاء أَو فِي أَرض يكون الثَّلج فِيهَا مُتَّصِلا يدل على النِّعْمَة والرخاء وَقَالَ جَابر المغربي: يدل على هزيمَة الْعَسْكَر خُصُوصا إِذا كَانَ بِالرِّيحِ وَقَالَ الْكرْمَانِي: إِن رأى الثَّلج فِي مَكَان بَارِد يكون خيرا وَإِن رَآهُ فِي مَكَان حَار يدل على الْقَحْط وَالْغَم وَإِن أكل الثَّلج إِن كَانَ فِي الشتَاء كَانَ أحسن مَا يكون فِي الصَّيف وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رُؤْيا الثَّلج تؤول على سِتَّة أوجه رزق وَاسع وحياة وَمَال كثير وَرخّص السّعر وعسكر وَمرض إِن جمعه فِي الصَّيف.

6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الطل وَهُوَ الندى)

من رأى الطل نزل على الْأَشْجَار فأورقت يصل من رجل كريم إِلَى قوم ذَلِك الْمَكَان خير.

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْبرد)

قَالَ الْكرْمَانِي: رُؤْيا الْبرد عَذَاب وضيق واحتياج وَإِن نزل فِي وقته قَلِيلا يحصل لأهل ذَلِك الْمَكَان رخاء وَقيل من رأى الْبرد وَقع بِأَرْض فَإِنَّهُ غوث من الله تَعَالَى مَا لم يفْسد شَيْئا وَإِن فحش فَهُوَ عَذَاب ينزل بذلك الْمَكَان وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الْبرد تؤول على خَمْسَة أوجه: بلَاء وخصومة وعسكر وقحط وَمرض.

8 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الضباب)

من رأى فِي مَنَامه ضبابا قد صب عَلَيْهِ فَهُوَ رجل يُرِيد الْبَاطِل فليتق الله ربه وَقيل من رأى ضبابا فَإِنَّهُ يهتم ويحزن وَإِن رَآهُ انْكَشَفَ عَنهُ فَهُوَ ينجلي عَنهُ ذَلِك (وَمن) رأى أَنه غطى شَيْئا ثمَّ انْكَشَفَ فَهُوَ أَمر غم عَلَيْهِ ثمَّ يَتَّضِح لَهُ.

9 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الشَّفق)

من رأى الشَّفق فَإِنَّهُ يدل على طلب أَمر وَإِن رَآهُ غَابَ فَإِنَّهُ يدل على انْتِهَاء الْأَمر الْمَطْلُوب وَأَنه صَار إِلَى آخر.
{তাদের নিরাশ হওয়ার পর এবং তিনি তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন}। যদি বৃষ্টি তার যথা সময়ে বর্ষিত হয়, তবে মানুষ তা পছন্দ করে এবং তা সন্তোষজনক হয়। আর যদি তা অসময়ে বর্ষিত হয়, তবে মানুষ তা অপছন্দ করে এবং তা নিন্দনীয় হয়। যদি বৃষ্টি সুনির্দিষ্ট হয়, যেমন কোনো বাড়ি বা মহল্লায় বর্ষিত হয়, তবে তা রোগ-ব্যাধি অথবা বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা। যদি বৃষ্টি তৃপ্তিদায়ক হয়, তবে তা কল্যাণ বা উপকার। (যে ব্যক্তি দেখে) যে বৃষ্টির পানি বছরের শুরুতে বা মাসের শুরুতে বর্ষিত হয়েছে, তবে সেই বছরে বা সেই মাসে সচ্ছলতা ও নেয়ামত অর্জিত হবে। আর যদি বৃষ্টি মহাপ্লাবনের ন্যায় প্রবল বেগে বর্ষিত হয়, তবে সেই স্থানের অধিবাসীরা বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পতিত হবে। যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি দেখে যে হালকা ও একাধারে বৃষ্টি হচ্ছে, তবে সে সুস্থতা লাভ করবে। আর যদি দেখে যে একাধারে ঘোলাটে ও প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে, তবে সে সেই রোগে মৃত্যুবরণ করবে। ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে যথা সময়ে বিরতিহীনভাবে প্রবল ও ঘোলাটে বৃষ্টি হচ্ছে, তবে সেই স্থানের অধিবাসীদের ওপর রোগ ও বিপদের বাহিনী আপতিত হবে। যে ব্যক্তি দেখে যে সে বৃষ্টির পানি দিয়ে শরীর মুছেছে, সে ভয় থেকে নিরাপদ হবে। যে ব্যক্তি দেখে যে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা থেকে শব্দ আসছে, তবে তার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সেই স্থানে তার নাম ছড়িয়ে পড়বে। যদি দেখে যে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে এবং তা থেকে প্রতিটি স্থানে নদী প্রবাহিত হচ্ছে, আর স্বপ্নদ্রষ্টার কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে সে বাদশাহর নৈকট্য লাভ করবে এবং বাদশাহ তার নিজের পক্ষ থেকে তার অনিষ্ট বন্ধ করবেন। আর যদি সে নদী পার হতে না পারে, তবে সে তার অনিষ্ট প্রতিহত করতে পারবে না। যদি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো পানি বর্ষিত হয়, তবে সেই স্থানে রোগ ও আজাব সংঘটিত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বৃষ্টির পানি পান করছে, তবে তা যদি স্বচ্ছ হয় তবে সে কল্যাণ লাভ করবে, আর যদি ঘোলাটে হয় তবে পান করার পরিমাণ অনুযায়ী অসুস্থ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে আকাশ থেকে এমন কিছু বর্ষিত হচ্ছে যা বৃষ্টির আকৃতিতে নয়, তবে তা যদি পছন্দনীয় কিছু হয় তবে তা হবে কল্যাণকর, আর যদি অপছন্দনীয় কিছু হয় তবে তা হবে বিপদ ও ফিতনা। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বৃষ্টির পানি দিয়ে গোসল করেছে বা অজু করেছে, তবে তা তার দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধনের লক্ষণ। জাফর সাদিক বলেন: বৃষ্টির স্বপ্ন বারোটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়— রহমত, বরকত, সাহায্য প্রার্থনা, রোগ, বিপদ, যুদ্ধ, রক্তপাত, ফিতনা, দুর্ভিক্ষ, ঈমান, কুফর এবং মিথ্যা।

৫ - ‌‌(তুষার বা বরফ দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি তুষার দেখে, তার ওপর দুঃখ, ব্যাধি ও আজাব আপতিত হবে, যদি না তা পরিমাণে অল্প হয় এবং যথা সময়ে বর্ষিত হয়। (যে ব্যক্তি) শীতকালে তুষার দেখে অথবা এমন কোনো ভূমিতে দেখে যেখানে সর্বদা তুষার থাকে, তবে তা নেয়ামত ও সচ্ছলতার ইঙ্গিত দেয়। জাবের মাগরিবী বলেন: এটি বাহিনীর পরাজয় নির্দেশ করে, বিশেষ করে যদি তার সাথে বাতাস থাকে। আল-কিরমানী বলেন: যদি তুষার কোনো শীতল স্থানে দেখা যায় তবে তা ভালো, আর যদি কোনো উষ্ণ স্থানে দেখা যায় তবে তা দুর্ভিক্ষ ও দুঃখের ইঙ্গিত দেয়। আর তুষার খাওয়া যদি শীতকালে হয় তবে তা গ্রীষ্মকালের চেয়ে উত্তম। জাফর সাদিক বলেন: তুষার দেখার স্বপ্ন ছয়টি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়— প্রশস্ত রিজিক, জীবন, প্রচুর সম্পদ, পণ্যের স্বল্পমূল্য, বাহিনী এবং রোগ যদি তা গ্রীষ্মকালে সংগ্রহ করা হয়।

৬ - ‌‌(শিশির দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি দেখে যে বৃক্ষরাজির ওপর শিশির বর্ষিত হয়েছে যার ফলে পাতা গজিয়েছে, তবে সেই স্থানের মানুষের কাছে একজন সম্মানিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কল্যাণ পৌঁছাবে।

৭ - ‌‌(শিলাবৃষ্টি দেখার পরিচ্ছেদ)

আল-কিরমানী বলেন: শিলাবৃষ্টি দেখার অর্থ আজাব, সংকীর্ণতা ও অভাব। যদি তা যথা সময়ে অল্প পরিমাণে বর্ষিত হয়, তবে সেই স্থানের অধিবাসীদের জন্য সচ্ছলতা অর্জিত হবে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দেখে কোনো ভূমিতে শিলাবৃষ্টি হয়েছে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য, যতক্ষণ না তা কোনো কিছুর ক্ষতি করে। আর যদি তা মাত্রাতিরিক্ত হয়, তবে তা সেই স্থানে অবতীর্ণ আজাব। জাফর সাদিক বলেন: শিলাবৃষ্টির স্বপ্ন পাঁচটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়— বিপদ, বিবাদ, বাহিনী, দুর্ভিক্ষ ও রোগ।

৮ - ‌‌(কুয়াশা দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে তার ওপর কুয়াশা ছেয়ে গেছে, তবে সে এমন ব্যক্তি যে বাতিলের অনুসরণ করতে চায়, তাই তার উচিত তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করা। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুয়াশা দেখে সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও শোকাতুর হবে। আর যদি দেখে যে তা তার থেকে অপসারিত হয়েছে, তবে তার থেকে দুঃখ দূর হয়ে যাবে। (যে ব্যক্তি) দেখে যে সে কোনো কিছু ঢেকে দিয়েছে এরপর তা উন্মুক্ত হয়েছে, তবে সেটি এমন বিষয় যা তার কাছে অস্পষ্ট ছিল এরপর তা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

৯ - ‌‌(গোধূলি বা সন্ধ্যার লালিমা দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি গোধূলি দেখে, তবে তা কোনো বিষয় অন্বেষণ করার ইঙ্গিত দেয়। আর যদি দেখে যে তা অদৃশ্য হয়ে গেছে, তবে তা উদ্দিষ্ট বিষয়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে এবং এটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৬)
10 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا قَوس قزَح)

من رَآهُ أصفر يدل على الْعلَّة وَالْمَرَض يُصِيب أهل ذَلِك الْمَكَان وَإِن رَآهُ أَحْمَر يدل على الْحَرْب وَسَفك الدَّم بَين أهل ذَلِك الْمَكَان وَإِن رَآهُ أَخْضَر يدل على الرخَاء وَالنعْمَة فِي ذَلِك الْمَكَان وَقَالَ جَابر المغربي: من رأى فِي السَّمَاء عَلامَة حَمْرَاء مثل العمود تحصل للْملك الَّذِي لذَلِك الْمَكَان قُوَّة وَإِن كَانَت سَوْدَاء يكون تَأْوِيله بضد ذَلِك وَقيل من رأى قَوس قزَح طلع من الأَرْض ثمَّ امْتَدَّ إِلَى أَن وصل السَّمَاء يدل على أَمر يظْهر من أهل تِلْكَ الأَرْض فَإِن غَابَ فَلَا يكون لما ظهر مِنْهُم أصل وَلَا تَأْثِير وَلَا قُوَّة (وَمن رأى) أَنه مضيء فَهُوَ حسن وَإِن رَآهُ مظلما فَهُوَ قَبِيح وَالله أعلم بِالصَّوَابِ.

‌‌(الْبَاب السَّادِس)

 

‌‌(فِي رُؤْيا الْبَرْق والرعد وَالصَّوَاعِق والرياح والسراب)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْبَرْق)

وَمن رأى الْبَرْق فَإِنَّهُ حُصُول خوف شَدِيد لَهُ وَلأَهل تِلْكَ الأَرْض لقَوْله تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي يريكم الْبَرْق خوفًا وَطَمَعًا} وَقيل إِن الْبَرْق خَازِن دَار الْملك (وَمن رأى) أَنه أَخذ من الْبَرْق شَيْئا يطْلب امرا يحصل لَهُ فِيهِ خير وَمَنْفَعَة وَإِن لمع الْبَرْق دَائِما تكون النِّعْمَة فِي تِلْكَ السّنة كَثِيرَة خُصُوصا إِذا هَب مَعَه ريح خَفِيف وَقيل من رأى الْبَرْق يلوح على عمَارَة مُرْتَفعَة وَالنَّاس يصيحون بأصواتهم يدل على زِيَارَة الْمَدِينَة الشَّرِيفَة النَّبَوِيَّة وَقيل إِن الْبَرْق يؤول بِالذَّهَب لِأَنَّهُ يَبْرق مثل الذَّهَب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: هُوَ خَازِن دَار الْملك ووعد وعتاب وَرَحْمَة وَطَرِيق مُسْتَقِيم.

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الرَّعْد)

رُؤْيا الرَّعْد خوف من عَامل الْملك أَو من أعوانه وَإِن كَانَ مَعَ الرَّعْد مطر يكون الْأَمْن والرخاء وَإِن كَانَ الرَّعْد شَدِيدا والمطر قَلِيلا يدل على خوف الرَّائِي من دُعَاء وَالِديهِ عَلَيْهِ وَمن سمع صَوت الرَّعْد فِي وَقت نزُول الْمَطَر فَإِنَّهُ يدل على حُصُول الْخَيْر وَالْبركَة والرخاء فِي ذَلِك الْمَكَان وَقَالَ جَابر المغربي: صَوت الرَّعْد الشَّديد يدل على انبساط صيت الْملك وهيبته فِي ذَلِك الْمَكَان وَإِن رأى الرَّعْد مَعَ الْبَرْق وَفِي الْهَوَاء ظلمَة شَدِيدَة يدل على ظُهُور ملك جَائِر فِي ذَلِك الْمَكَان وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الرَّعْد تؤول على خَمْسَة أوجه الْعَذَاب وَالْحكمَة وَالرَّحْمَة والصولة وَغَضب الْملك.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الصَّوَاعِق)

قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى الصاعقة سَقَطت يلْحق أهل ذَلِك الْمَكَان بِقَدرِهَا عَذَاب من الله لقَوْله تَعَالَى: {وَيُرْسل عَلَيْهَا حسبانا من السَّمَاء فَتُصْبِح صَعِيدا زلقا} فَيَنْبَغِي لَهُم أَن يتوبوا من ذنوبهم إِلَى الله تَعَالَى وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى صَاعِقَة نزلت من السَّمَاء أَو من الْهَوَاء مثل الْمَطَر فَهُوَ بلَاء وفتنة وَسَفك دِمَاء من جِهَة حَرْب يَقع بَين الْمُلُوك وَقَالَ جَابر المغربي: من رأى صَاعِقَة سَقَطت وأحرقته يهْلك من عُقُوبَة ملك أَو يمرض أَو يلْحقهُ آفَة عَظِيمَة تهلكه وَقيل أَن الصاعقة وعد من الْملك وتخويف لقَوْله تَعَالَى: {فَإِن أَعرضُوا فَقل أَنْذَرْتُكُمْ صَاعِقَة مثل صَاعِقَة عَاد وَثَمُود} (وَمن رأى) أَن صَاعِقَة وَقعت فِي بلد وأحرقت أرْضهَا فَإِن ذَلِك سُلْطَان ينزل فِي ذَلِك الْمَكَان أَو يحدث فِيهَا فَسَادًا أَو حَرْب أَو غلاء شَدِيد أَو أمراض تعم أهل ذَلِك الْمَكَان وَإِن وَقعت بِغَيْر نَار فَهِيَ ملك مقبل يظنّ بِالنَّاسِ سوءا وينجون من بأسه (وَمن رأى) أَن صَاعِقَة وَقعت فِي دَاره فَإِن كَانَ عِنْده مَرِيض مَاتَ وَإِن كَانَ لَهُ غَائِب يطْرق لَهُ قصّ أَو يَسْطُو عَلَيْهِ صَاحب الْمَدِينَة.
১০ - ‌‌(রংধনু দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি একে হলুদ দেখবে, তা সেই স্থানের অধিবাসীদের ওপর আপতিত পীড়া ও ব্যাধির প্রমাণ বহন করে। আর যদি একে লাল দেখে, তবে তা সেই স্থানের অধিবাসীদের মাঝে যুদ্ধ ও রক্তপাতের ইঙ্গিত দেয়। আর যদি একে সবুজ দেখে, তবে তা সেই স্থানে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও নেয়ামতের প্রমাণ দেয়। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি আকাশে স্তম্ভের মতো লাল চিহ্ন দেখবে, তবে তা সেই স্থানের বাদশাহর শক্তি অর্জনের পরিচায়ক। আর যদি তা কালো হয়, তবে তার ব্যাখ্যা এর বিপরীত হবে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দেখবে যে জমিন থেকে রংধনু উদিত হয়ে আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, তবে তা সেই স্থানের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে কোনো বিষয় প্রকাশ পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়; অতঃপর যদি তা অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে যা প্রকাশ পেয়েছিল তার কোনো মূল ভিত্তি, প্রভাব বা শক্তি থাকবে না। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) যে এটি উজ্জ্বল, তবে তা উত্তম; আর যদি একে অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখে, তবে তা মন্দ। আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।

‌‌(ষষ্ঠ অধ্যায়)

 

‌‌(বিদ্যুৎ, মেঘের গর্জন, বজ্রপাত, বায়ু ও মরীচিকা দর্শন প্রসঙ্গে)

 

৩ - ‌‌(বিদ্যুৎ দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি বিদ্যুৎ দেখবে, তবে তা তার জন্য এবং সেই স্থানের অধিবাসীদের জন্য চরম ভীতি সঞ্চারের কারণ হবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তিনিই তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান ভয় ও আশার সঞ্চার করতে।" আর বলা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ হলো রাজপ্রাসাদের কোষাধ্যক্ষ। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) যে সে বিদ্যুৎ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেছে, তবে সে এমন কিছু অন্বেষণ করছে যাতে তার জন্য কল্যাণ ও উপকার নিহিত রয়েছে। আর যদি বিদ্যুৎ সর্বদা চমকাতে থাকে, তবে সেই বছর নেয়ামত প্রচুর হবে, বিশেষ করে যদি তার সাথে মৃদু বাতাস প্রবাহিত হয়। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দেখবে যে কোনো সুউচ্চ প্রাসাদের ওপর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং মানুষ উচ্চস্বরে চিৎকার করছে, তবে তা মর্যাদাপূর্ণ নববী শহর (মদিনা) যিয়ারতের ইঙ্গিত দেয়। আরও বলা হয়েছে যে, বিদ্যুতের ব্যাখ্যা স্বর্ণ দিয়েও করা হয়, কারণ তা স্বর্ণের ন্যায় চমকায়। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি রাজপ্রাসাদের কোষাধ্যক্ষ, প্রতিশ্রুতি, তিরস্কার, রহমত এবং সঠিক পথের পরিচায়ক।

৪ - ‌‌(মেঘের গর্জন দেখার পরিচ্ছেদ)

মেঘের গর্জন দেখা রাজকীয় কর্মচারী বা তার সাহায্যকারীদের পক্ষ থেকে ভীতির কারণ। আর যদি গর্জনের সাথে বৃষ্টি থাকে, তবে তা নিরাপত্তা ও সচ্ছলতার প্রতীক। আর যদি গর্জন তীব্র হয় কিন্তু বৃষ্টি সামান্য হয়, তবে তা দ্রষ্টার প্রতি তার পিতামাতার বদদোয়ার কারণে তার ভীতির ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি বৃষ্টি বর্ষণের সময় মেঘের গর্জনের শব্দ শুনবে, তবে তা সেই স্থানে কল্যাণ, বরকত ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভের প্রমাণ দেয়। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: মেঘের তীব্র গর্জন সেই স্থানে বাদশাহর সুখ্যাতি ও প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ দেয়। আর যদি বিদ্যুতের সাথে মেঘের গর্জন দেখে এবং আকাশে ঘোর অন্ধকার থাকে, তবে তা সেই স্থানে কোনো জালেম বাদশাহর আবির্ভাবের ইঙ্গিত দেয়। জাফর আস-সাদিক বলেন: মেঘের গর্জন দেখার ব্যাখ্যা পাঁচটি বিষয়ের ওপর হয়: আজাব, প্রজ্ঞা, রহমত, প্রতাপ এবং বাদশাহর ক্রোধ।

৫ - ‌‌(বজ্রপাত দেখার পরিচ্ছেদ)

ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি দেখবে যে বজ্রপাত হয়েছে, তবে সেই স্থানের অধিবাসীদের ওপর তার মাত্রা অনুযায়ী আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব আপতিত হবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "এবং তিনি তার ওপর আকাশ থেকে এক নির্ধারিত শাস্তি পাঠাবেন, ফলে তা মসৃণ ধূলিময় ময়দানে পরিণত হবে।" অতএব তাদের উচিত তাদের গুনাহ থেকে মহান আল্লাহর নিকট তওবা করা। আল-কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তি দেখবে যে আকাশ বা শূন্যলোক থেকে বৃষ্টির মতো বজ্রপাত হচ্ছে, তবে তা মুসিবত, ফিতনা এবং বাদশাহদের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে রক্তপাতের ইঙ্গিত। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি দেখবে যে বজ্রপাত হয়ে তাকে পুড়িয়ে ফেলেছে, তবে সে বাদশাহর শাস্তিতে ধ্বংস হবে অথবা অসুস্থ হবে কিংবা তার ওপর এমন বড় কোনো বিপদ আসবে যা তাকে ধ্বংস করে দিবে। বলা হয়েছে যে, বজ্রপাত হলো বাদশাহর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ও ভীতি প্রদর্শন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি এক বজ্রপাত সম্পর্কে, আদ ও সামুদ জাতির বজ্রপাতের ন্যায়।" (আর যে ব্যক্তি দেখবে) যে কোনো শহরে বজ্রপাত হয়েছে এবং তার ভূমি পুড়িয়ে ফেলেছে, তবে তা সেই স্থানে কোনো সুলতানের আগমন অথবা সেখানে ফাসাদ, যুদ্ধ, চরম দুর্ভিক্ষ কিংবা সেই স্থানের অধিবাসীদের মাঝে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ। আর যদি আগুন ছাড়া বজ্রপাত ঘটে, তবে তা এমন এক আগন্তুক বাদশাহর লক্ষণ যে মানুষের প্রতি কুধারণা পোষণ করে কিন্তু তারা তার ক্ষতি থেকে মুক্তি পায়। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) যে তার ঘরে বজ্রপাত হয়েছে, যদি তার নিকট কোনো রোগী থাকে তবে সে মারা যাবে; আর যদি তার কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি থাকে তবে তার সম্পর্কে সংবাদ আসবে অথবা শহরের অধিপতি তার ওপর চড়াও হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৭)
6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الرِّيَاح)

قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَن الرّيح هبت هبوباً شَدِيدا فَإِنَّهُ يلْحق أهل ذَلِك الْمَكَان خوف وَإِن اشْتَدَّ هبوب الرّيح حَتَّى قلعت الْأَشْجَار يلْحق أهل ذَلِك الْمَكَان بلَاء ومصيبة مثل عِلّة الطَّاعُون والنقطة والحصبة قَالَ الْكرْمَانِي: الرّيح السمُوم يدل على الْأَمْرَاض المحرقة وَالرِّيح الزَّمْهَرِير تدل على الْأَمْرَاض الْبَارِدَة وَالرِّيح المعتدلة تدل على الصِّحَّة وَالرِّيح الَّتِي تجْعَل الْأَشْجَار حاملة تدل على صَلَاح أهل ذَلِك الْمَكَان. (وَمن رأى) أَن الرّيح أذهبته من مَكَانَهُ يدل على أَنه يُسَافر سفرا بَعيدا أَو يحصل لَهُ فِي ذَلِك السّفر جاه وأبهة بِقدر ذهابها إِيَّاه من الأَرْض إِلَى السَّمَاء وَقَالَ جَابر المغربي: من أذهبه الرّيح الشَّديد إِلَى جَانب السَّمَاء فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله وَإِن جَاءَ بِهِ بعد الذّهاب من السَّمَاء إِلَى الأَرْض فَإِنَّهُ يمرض وَيحصل لَهُ الشِّفَاء (وَمن رأى) انه جلس على الرّيح يحصل لَهُ العظمة ونفاذ الْأَمر (وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن الْأَشْعَث) : وَمن رأى أَن ريح الْمشرق هبت فَإِنَّهُ يدل على الْخَيْر وعَلى صِحَة أهل ذَلِك الْمَكَان (وَمن رأى) ريح الْمغرب هبت خَفِيفا يكون مثل ذَلِك (وَمن رأى) أَن الرّيح الْجنُوب هبت خَفِيفا فَإِنَّهُ يدل على ازدياد المَال وَالنعْمَة لأهل ذَلِك الْمَكَان (وَمن رأى) ريح الشمَال هبت خَفِيفا فَإِنَّهُ يدل على الشِّفَاء والراحة وَإِن هبت شَدِيدا لَا يكون خيرا وَإِن سمع صَوت الرّيح يدل على انبساط خبر ملك كَبِير فِي ذَلِك الْمَكَان (وَمن رأى) أَن الرّيح حملت أَقْوَامًا ورفعتهم إِلَى الجو فَإِنَّهُ يدل على حُصُول الشّرف والسيادة لَهُم. (وَمن رأى) أَن الريحين تقابلا فانهما جيشان يتقابلان (وَمن رأى) إعصارا قد أقبل ثمَّ انبسط على الأَرْض فانهم قوم يخرجُون إِلَى حَرْب أَو شَرّ ثمَّ يصطلحان (وَمن رأى) أَن الرّيح اشتدت عَلَيْهِ حَتَّى كَادَت ترميه من مَكَانَهُ فَإِنَّهُ عَدو فليحذر (وَمن رأى) أَنه يملك الرّيح فَإِنَّهُ يُصِيب سلطنة وَعزا (وَمن رأى) أَن الرّيح فِيهَا غبرة أَو ظلمَة فَإِنَّهُ هم وَخَوف شَدِيد وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيَة الرّيح تؤول على تِسْعَة أوجه: بِشَارَة ونفاذ أَمر وَمَال وَمَوْت وَعَذَاب وَقتل وَمرض وشفاء وراحة.

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا السراب)

قَالَ ابْن سِيرِين: رُؤْيا السراب بَاطِل وَعلم لَا خير فِيهِ وَلَا مَنْفَعَة لقَوْله تَعَالَى: {وَالَّذين كفرُوا أَعْمَالهم كسراب بقيعة} .

‌‌(الْبَاب السَّابِع)

 

‌‌(فِي رُؤْيا الْأَنْبِيَاء والآل وَالصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْخُلَفَاء وأنسابهم)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْأَنْبِيَاء)

قَالَ ابْن سِيرِين: رُؤْيا أولى الْعَزْم من الرُّسُل تدل على الْعِزّ والشرف ورؤيا الرُّسُل تدل على الظفر والنصر ورؤيا النَّبِي دين وديانة وَأَدَاء أَمَانه وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى النَّبِي فَرحا مَسْرُورا ذَا بشاشة يدل على الْعِزّ والجاه وَالظفر وَإِن رَآهُ غَضْبَان عبوس الْوَجْه يدل على الشدَّة وَالْعلَّة وَرُبمَا يجد بعْدهَا فرجا وَإِن رأى أَنه سمع أَو أَخذ شَيْئا من نَبِي يُصِيب نَصِيبا من علم ذَلِك النَّبِي وَيكون مَسْرُورا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: من رأى آدم عليه السلام إِن كَانَ أَهلا يُصِيب السِّيَادَة وَالْولَايَة الْعَظِيمَة لقَوْله تَعَالَى: {اني جَاعل فِي الأَرْض خليفه} وَإِن لم يكن أَهلا لَهُ يَتُوب لقَوْله تَعَالَى: {فَتَابَ عَلَيْهِ وَهدى} (وَمن رأى) أَنه كلم آدم عليه السلام يحصل لَهُ علم وَمَعْرِفَة لقَوْله تَعَالَى: {وَعلم آدم الْأَسْمَاء كلهَا} (وَمن رأى) إِنَّه لم يطع آدم عليه السلام يدل على نحوسته وعصيانه وَقيل من رأى آدم فَهُوَ حُصُول خير وَإِن رأى أَنه ذبح آدم فَإِنَّهُ عَاق لوَالِديهِ أَو معلميه (وَمن رأى) حَوَّاء يدل على وجدان دولة الدُّنْيَا وازدياد مَال ونعمة وَأَوْلَاد وإصابة مُرَاد يهواه.
6 - ‌‌(পরিচ্ছেদ: বাতাস দেখা প্রসঙ্গে)

ইবনে সিরীন বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে প্রবল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, তবে সেই স্থানের অধিবাসীদের ওপর ভয় আপতিত হবে। আর যদি বাতাসের প্রবাহ এতটাই প্রবল হয় যে গাছপালা উপড়ে ফেলে, তবে সেই স্থানের অধিবাসীদের ওপর মহামারী, বসন্ত এবং হামের মতো বিপদ-আপদ ও মুসিবত আপতিত হবে। কিরমানী বলেন: দহনকারী গরম বাতাস উত্তপ্ত রোগসমূহের ওপর দালালত করে এবং অতিশয় শীতল বাতাস ঠাণ্ডাজনিত রোগসমূহের ওপর দালালত করে। পরিমিত বাতাস সুস্থতার প্রমাণ এবং যে বাতাস গাছপালাকে ফলবতী করে তা সেই স্থানের অধিবাসীদের সংশোধনের প্রমাণ। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) বাতাস তাকে তার স্থান থেকে নিয়ে গেছে, এটি প্রমাণ করে যে সে দূরবর্তী কোনো সফর করবে অথবা সেই সফরে সে ভূমি থেকে আসমান পর্যন্ত যাওয়ার দূরত্ব অনুযায়ী মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভ করবে। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যাকে প্রবল বাতাস আসমানের দিকে নিয়ে গেছে, তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ। আর যদি আসমান থেকে ভূমিতে যাওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হয়, তবে সে অসুস্থ হবে এবং পরে আরোগ্য লাভ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) সে বাতাসের ওপর বসেছে, সে মহত্ব ও আদেশ জারির ক্ষমতা লাভ করবে। (ইসমাঈল ইবনুল আশআস বলেন): যে ব্যক্তি দেখল পূর্বদিকের বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, তবে তা কল্যাণের এবং সেই স্থানের অধিবাসীদের সুস্থতার প্রমাণ। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) পশ্চিমদিকের বাতাস মৃদু প্রবাহিত হচ্ছে, তবে সেটিও অনুরূপ। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) দক্ষিণদিকের বাতাস মৃদু প্রবাহিত হচ্ছে, তবে তা সেই স্থানের অধিবাসীদের জন্য সম্পদ ও নেয়ামত বৃদ্ধির প্রমাণ। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) উত্তরদিকের বাতাস মৃদু প্রবাহিত হচ্ছে, তবে তা আরোগ্য ও প্রশান্তির প্রমাণ; আর যদি তা প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় তবে তা ভালো নয়। যদি বাতাসের শব্দ শোনে, তবে তা সেই স্থানে কোনো মহান বাদশাহর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) বাতাস একদল লোককে বহন করে শূন্যে তুলে নিয়েছে, তবে তা তাদের জন্য সম্মান ও নেতৃত্ব লাভের প্রমাণ। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) দুটি বাতাস একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, তবে তারা দুটি সৈন্যদল যারা পরস্পরের মুখোমুখি হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) একটি টর্নেডো বা ঘূর্ণিঝড় এসেছে এবং পরে ভূমিতে শান্ত হয়ে গেছে, তবে তারা এমন একদল লোক যারা যুদ্ধ বা অনিষ্টের জন্য বের হবে এবং পরে সন্ধি করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) বাতাস তার ওপর প্রবল হয়ে উঠেছে এমনকি তাকে তার স্থান থেকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম করেছে, তবে সে একজন শত্রু, সুতরাং সে যেন সতর্ক থাকে। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) সে বাতাসের মালিক হয়েছে, তবে সে রাজত্ব ও মর্যাদা লাভ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) বাতাসের মধ্যে ধুলিকণা বা অন্ধকার রয়েছে, তবে তা দুশ্চিন্তা ও চরম ভয়ের লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: বাতাস দেখার ব্যাখ্যা নয়টি বিষয়ের ওপর হয়: সুসংবাদ, আদেশ জারি হওয়া, সম্পদ, মৃত্যু, আযাব, হত্যা, রোগ, আরোগ্য এবং প্রশান্তি।

7 - ‌‌(পরিচ্ছেদ: মরু-মরীচিকা দেখা প্রসঙ্গে)

ইবনে সিরীন বলেন: মরু-মরীচিকা দেখা অলীক বিষয় এবং এমন জ্ঞান যাতে কোনো কল্যাণ বা উপকার নেই; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর যারা কুফরি করে তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়।"

‌‌(সপ্তম অধ্যায়)

 

‌‌(নবীগণ, তাঁদের পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, তাবিঈগণ, খলীফাগণ এবং তাঁদের বংশপরিচয় দেখা প্রসঙ্গে)

 

3 - ‌‌(পরিচ্ছেদ: নবীগণকে দেখা প্রসঙ্গে)

ইবনে সিরীন বলেন: রসূলগণের মধ্যে যারা উলুল আযম (দৃঢ়প্রতিজ্ঞ) তাঁদের দেখা মর্যাদা ও সম্মানের প্রমাণ। রসূলগণকে দেখা বিজয় ও সাহায্যের প্রমাণ। আর নবীকে দেখা হলো দ্বীন, ধার্মিকতা এবং আমানত আদায় করা। কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তি নবীকে আনন্দিত, খুশি ও হাস্যোজ্জ্বল দেখল, তা মর্যাদা, প্রতিপত্তি ও বিজয়ের প্রমাণ। আর যদি তাঁকে রাগান্বিত ও বিমর্ষ চেহারায় দেখে, তবে তা কষ্ট ও ব্যাধির প্রমাণ, হতে পারে এরপরে সে মুক্তি লাভ করবে। যদি দেখে যে সে কোনো নবীর কাছ থেকে কিছু শুনেছে বা গ্রহণ করেছে, তবে সে সেই নবীর ইলম বা জ্ঞানের অংশ লাভ করবে এবং আনন্দিত হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: যে ব্যক্তি আদম আলাইহিস সালাম-কে দেখল, সে যদি যোগ্য হয় তবে মহান নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলীফা নিযুক্ত করছি।" আর যদি সে এর যোগ্য না হয়, তবে সে তাওবা করবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "অতঃপর তিনি তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে সুপথ প্রদর্শন করলেন।" (এবং যে ব্যক্তি দেখল) সে আদম আলাইহিস সালাম-এর সাথে কথা বলেছে, সে ইলম ও মারিফত লাভ করবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন।" (এবং যে ব্যক্তি দেখল) সে আদম আলাইহিস সালাম-এর আনুগত্য করেনি, তবে তা তার দুর্ভাগ্য ও অবাধ্যতার প্রমাণ। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি আদমকে দেখল তা কল্যাণ লাভের মাধ্যম। আর যদি দেখে যে সে আদমকে যবেহ করেছে, তবে সে তার পিতামাতা বা শিক্ষকদের অবাধ্য হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখল) হাওয়া আলাইহাস সালাম-কে, তবে তা পার্থিব সম্পদ লাভ, ধন-সম্পদ ও নেয়ামত বৃদ্ধি, সন্তানাদি লাভ এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিলের প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৮)
(وَمن رأى شَيْئا) يكون عَيْشًا طيبا وَيحصل لَهُ مَال وَأَوْلَاد وَقيل من رأى شَيْئا فَإِنَّهُ يدل على أَنه وصّى ومقدم على أُمُور عِظَام وانه يُوفي بِالْوَصِيَّةِ ويؤديها حَقًا لِأَن شَيْئا كَانَ وَصِيّا على وَجه الأَرْض من رأى ادريس يحسن أمره وَيكون عاقبته محموده وَقيل من رأى ادريس يدل على اجْتِهَاد فِي الْعِبَادَة وان يكون فِيهَا بَصيرًا فَإِن ادريس كَانَ أعدل أهل زَمَانه وأعرفهم بالحكمة (وَمن رأى) نوحًا يطول عمره وَلَكِن يصادفه من الاعداء ضَرَر وتعب وعاقبة الْأَمر يحصل مُرَاده وَقيل: من رأى نوحًا يكون لَهُ أَعدَاء وجيران يحسدونه وينجيه الله تَعَالَى من شرهم وينتقم الله مِنْهُم (وَمن رأى) هودا فَإِن الأعادي تتسلط عَلَيْهِ وَهُوَ يظْهر عَلَيْهِم وَقيل (وَمن رأى) هودا فَإِنَّهُ يفوز برشد وَخير وينجو قوم من سوء على يَدَيْهِ (وَمن رأى) لوطا فَإِنَّهُ يتَحَوَّل من مَكَان إِلَى مَكَان وعاقبة أمره تكون محمودة فِي تسهيل اشغاله وَقيل من رأى لوطا فَإِنَّهُ يكون لَهُ امْرَأَة فاسقة لَا خير فِيهَا فَلْينْظر فِي مصْلحَته مَعهَا وَإِن كَانَ مِمَّن يعْمل عمل قومه فليتق الله وليتب. (وَمن رأى) صَالحا فتعبيره فِي إشتقاق اسْمه وَقيل من رأى إِبْرَاهِيم فَإِنَّهُ يحجّ وَقيل يصل إِلَيْهِ جور من سُلْطَان ظَالِم وَقَالَ بَعضهم يُخَالف أَبَوَيْهِ وَقيل من رأى إِبْرَاهِيم فَإِنَّهُ يرْزق محبَّة الله تَعَالَى وَيذْهب همه وغمه ويصيب خيرا وَدُنْيا وَاسِعَة (وَمن رأى) إِسْمَاعِيل يَعْلُو قدره وتقضى حَوَائِجه وَقيل من رأى إِسْمَاعِيل يدل على إِنْسَان صَدُوق أَو يوعده أحد بوعد وَيصدق فِيهِ (وَمن رأى) إِسْحَاق يحصل لَهُ بِشَارَة وَفتح وغنيمة لقَوْله تَعَالَى: {وبشرناه باسحاق نَبيا من الصَّالِحين} وَقيل من رأى إِسْحَاق فَإِنَّهُ نجاة من عقوق أَصله (وَمن رأى) يَعْقُوب فَإِنَّهُ يصل إِلَيْهِ هم وغم من جِهَة الْأَوْلَاد ويفرح بعد ذَلِك وَقيل من رأى يَعْقُوب فَإِن كَانَ لَهُ غَائِب يَأْتِي بِخَير وَبشَارَة (وَمن رأى) يُوسُف فَإِنَّهُ يحصل لَهُ من جِهَة أَقَاربه بهتان وَفِي عاقبته يصل إِلَى مرتبَة السُّلْطَان ويعلو قدره ويبلغ مُرَاده وَقيل من رأى يُوسُف رُبمَا يحصل لَهُ هم من قبل امْرَأَة وعاقبته إِلَى خير وَرُبمَا دلّت رُؤْيَته على بشرى (وَمن رأى) شعيبا فَإِن النَّاس يقهرونه ثمَّ بعد ذَلِك يظفر على من يَقْهَرهُ (وَمن رأى) مُوسَى عليه السلام فَإِنَّهُ يَبْتَلِي بالأهل والعيال ثمَّ يَسْتَقِيم حَاله ويظفر لقَوْله تَعَالَى: {وَوَهَبْنَا لَهُ من رَحْمَتنَا أَخَاهُ هَارُون نَبيا} وَقَالَ بَعضهم: يهْلك فِي هَذِه الديار سُلْطَان ظَالِم وَقيل من رأى مُوسَى فَإِنَّهُ يدل على أَنه رجل مغلوب ثمَّ يظفر بالنصر على أعدائه ويقهر من يعاديه وَإِن كَانَ فِي بَحر ينجو سالما وَمن أعطي عَصا مُوسَى فِي مَنَامه فَإِنَّهُ يرْزق علم الكيمياء حَقًا وينجو مِمَّا يخَاف وَمن أعْطى سيف على يرْزق الشجَاعَة حَقًا (وَمن رأى) هَارُون يكون خَليفَة أَو رجلا كَبِيرا يُصِيب بلَاء وخصومة وَتَكون عاقبته إِلَى خير. (وَمن رأى) اليسع تيَسّر امْرَهْ العسير (وَمن رأى) دَاوُد فَإِنَّهُ يحصل لَهُ ضَرَر وضيق صَدره من جِهَة الْعِيَال وَقيل من رأى دَاوُد يكون خَليفَة فِي أَهله وَرُبمَا ينَال خيرا وَحكما وملكاً وَرُبمَا يبتلى بِسَبَب امْرَأَة وَرُبمَا كَانَ عِنْده شَيْء مدخر فاثر فِيهِ السوس فلينقذه (وَمن رأى) سُلَيْمَان فَإِنَّهُ يَعْلُو قدره ويصل إِلَى مرتبَة السُّلْطَان ان كَانَ مِمَّن يَلِيق بِهِ ويزداد مَاله وَنعمته وَقيل نَفاذ أَمر وَحُصُول خير على كل حَال وَقيل من رأى سُلَيْمَان فَإِنَّهُ يدل على السّفر وَالرُّجُوع مِنْهُ عَن قريب وَرُبمَا ينَال سَلامَة لاشتقاق الِاسْم (وَمن رأى) زَكَرِيَّا فَإِن الله تَعَالَى يوفقه لفعل الْخيرَات وَقيل من رأى زَكَرِيَّا فَإِنَّهُ يرْزق ولدا صَالحا (وَمن رأى) يحيى فَإِنَّهُ يتَجَنَّب عَن اكْتِسَاب الدُّنْيَا وأشغالها وَيكون مَشْغُولًا بأشغال الْآخِرَة وَقيل من رأى يحيى فَإِنَّهُ يدل على حَيَاة ودولة وبشرى وَخير (وَمن رأى) الْخضر فَإِنَّهُ يُسَافر سفرا بَعيدا بِالسَّعَةِ والأمان وَقيل من رأى الْخضر فَإِنَّهُ يحجّ وَيكون عمره طَويلا. (وَمن رأى) إلْيَاس فَإِنَّهُ يسهل عَلَيْهِ الْأُمُور الصعاب وَقيل من رأى إلْيَاس فَإِنَّهُ يدل على أَنه يَدْعُو الله تَعَالَى فيستجاب لَهُ (وَمن رأى) أَيُّوب فَإِنَّهُ يخلص من الْأَمْرَاض والأوجاع وتنصلح أَحْوَاله وَقيل من رأى أَيُّوب فَإِن كَانَ مَرِيضا أَو عِنْده مَرِيض يحصل لَهُ الشِّفَاء من الله تَعَالَى (وَمن رأى) يُونُس فَإِنَّهُ يحصل لَهُ الْفرج بعد الشدَّة وَالسُّرُور بعد الثبور وَيخرج من الظُّلُمَات إِلَى النُّور وَقيل من رأى يُونُس فَإِنَّهُ يخرج من الضّيق إِلَى الفضاء (وَمن رأى) ذَا الكفل فَإِن كَانَ مِمَّن تلِيق بِهِ الْكفَالَة فَإِنَّهُ يتقلدها وَإِن لم يكن فيؤتمن أَمَانَة (وَمن رأى) لُقْمَان يرزقه الله تَعَالَى حِكْمَة وسداداً ورأيا صَالحا (وَمن رأى) ذَا القرنين فَإِنَّهُ يتبع رجلا كَبِيرا ويشفع عِنْده وَتقبل شَفَاعَته وتقضى حَاجته (وَمن رأى) عِيسَى فَإِنَّهُ يحيى أشغاله الْميتَة وَيُقَوِّي الطَّاعَات وَيحصل لَهُ التَّوْفِيق لفعل الْخيرَات وَقيل من رأى عِيسَى يرْزق الْعِبَادَة والزهد وَالتَّقوى وَرُبمَا كثرت أَسْفَاره وينجو مِمَّا يخَاف وَرُبمَا رزق علم الطِّبّ حَتَّى لَا يكون فِي زَمَانه مثله (وَمن رأى) أمه مَرْيَم فانها آيَة عَظِيمَة تظهر فِي ذَلِك الْموضع (وَمن رأى) الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ يحصل لَهُ الْفرج بعد الْغم وَيقْضى دينه

(কেউ যদি শীসকে দেখে) তবে তার জীবন অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং সে সম্পদ ও সন্তান লাভ করবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি শীস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তা নির্দেশ করে যে সে অছি (ওসিয়ত পালনকারী) এবং বড় বড় কাজের দায়িত্বশীল হবে এবং সে ওসিয়ত পূর্ণ করবে ও তার যথাযথ হক আদায় করবে; কেননা শীস (আলাইহিস সালাম) জমিনের বুকে অছি ছিলেন। যে ব্যক্তি ইদরিস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার অবস্থা ভালো হবে এবং তার শেষ পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইদরিস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তা ইবাদতে পরিশ্রম এবং তাতে দূরদর্শিতা লাভের প্রমাণ; কেননা ইদরিস (আলাইহিস সালাম) ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ এবং প্রজ্ঞায় সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। (আর যে ব্যক্তি) নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার আয়ু দীর্ঘ হবে, তবে সে শত্রুদের পক্ষ থেকে ক্ষতি ও কষ্টের সম্মুখীন হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য সফল হবে। আরও বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার এমন কিছু শত্রু ও প্রতিবেশী থাকবে যারা তার প্রতি হিংসা করবে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদের ওপর প্রতিশোধ নেবেন। (আর যে ব্যক্তি) হুদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে শত্রুরা তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে-ই তাদের ওপর জয়ী হবে। আরও বলা হয়েছে: (আর যে ব্যক্তি) হুদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে সঠিক পথ ও কল্যাণ লাভ করবে এবং তার হাতে একদল মানুষ বিপদ থেকে মুক্তি পাবে। (আর যে ব্যক্তি) লুত (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবে এবং তার কাজ সহজ হওয়ার মাধ্যমে পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি লুত (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার এমন এক পাপাচারী স্ত্রী থাকবে যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, তাই তার উচিত সেই স্ত্রীর ব্যাপারে নিজের কল্যাণের দিকে লক্ষ রাখা। আর যদি সে নিজে তার কওমের মতো পাপাচারী কাজে লিপ্ত থাকে, তবে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তওবা করে। (আর যে ব্যক্তি) সালিহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা হবে তার নামের অর্থ (সংশোধন বা কল্যাণ) অনুযায়ী। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে হজ পালন করবে। আরও বলা হয়েছে, কোনো জালিম সুলতানের পক্ষ থেকে তার কাছে জুলুম পৌঁছাবে। কেউ কেউ বলেছেন, সে তার পিতামাতার অবাধ্য হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে আল্লাহ তাআলার মহব্বত লাভ করবে, তার চিন্তা ও দুঃখ দূর হবে এবং সে কল্যাণ ও প্রশস্ত দুনিয়া লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং তার প্রয়োজন পূরণ হবে। আরও বলা হয়েছে, ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা সত্যবাদী মানুষ হওয়া বা কারও পক্ষ থেকে ওয়াদা লাভ করার ও তা সত্যে পরিণত হওয়ার নিদর্শন। (আর যে ব্যক্তি) ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে সুসংবাদ, বিজয় ও গনিমত লাভ করবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {এবং আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছি, যে নবীদের মধ্য হতে একজন নেককার ব্যক্তি}। আরও বলা হয়েছে, ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা পিতামাতার অবাধ্যতা থেকে মুক্তির লক্ষণ। (আর যে ব্যক্তি) ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সন্তানদের পক্ষ থেকে তার কাছে চিন্তা ও দুঃখ পৌঁছাবে, কিন্তু এরপর সে আনন্দিত হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার কোনো নিরুদ্দেশ ব্যক্তি থাকলে সে কল্যাণ ও সুসংবাদ নিয়ে ফিরে আসবে। (আর যে ব্যক্তি) ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে তার ওপর অপবাদ আসবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সুলতানের মর্যাদায় পৌঁছাবে, তার কদর বৃদ্ধি পাবে এবং সে নিজ উদ্দেশ্যে সফল হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সম্ভবত কোনো মহিলার পক্ষ থেকে তার চিন্তা আসবে কিন্তু পরিণাম কল্যাণের হবে; আর সম্ভবত তাকে দেখা একটি সুসংবাদ। (আর যে ব্যক্তি) শুআইব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে মানুষ তাকে পরাস্ত করবে, কিন্তু এরপর সে তাকে দমনকারীদের ওপর বিজয়ী হবে। (আর যে ব্যক্তি) মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে পরিবার ও পরিজন নিয়ে পরীক্ষায় পড়বে, এরপর তার অবস্থা সুসংহত হবে এবং সে জয়ী হবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {এবং আমি আমার রহমতে তার ভাই হারুনকে নবী হিসেবে দান করেছি}। কেউ কেউ বলেছেন: এই জনপদে কোনো জালিম সুলতান ধ্বংস হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মুসাকে দেখে, তা নির্দেশ করে যে সে এক পরাস্ত ব্যক্তি ছিল, এরপর সে তার শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে এবং তার বিরোধীদের দমন করবে। আর যদি সে সমুদ্রে থাকে তবে সে সহি-সালামতে মুক্তি পাবে। আর যাকে স্বপ্নে মুসার লাঠি দেওয়া হবে, সে প্রকৃতপক্ষে রসায়ন বিদ্যা লাভ করবে এবং সে যা ভয় করে তা থেকে মুক্তি পাবে। আর যাকে আলীর তলোয়ার দেওয়া হবে, সে প্রকৃতপক্ষে সাহসিকতা লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) হারুন (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে খলিফা হবে অথবা এমন এক মহান ব্যক্তি হবে যে বিপদ ও বিবাদের সম্মুখীন হবে, কিন্তু তার পরিণাম কল্যাণের দিকে হবে। (আর যে ব্যক্তি) আল-ইয়াসাকে দেখে, তার কঠিন কাজ সহজ হবে। (আর যে ব্যক্তি) দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে পরিবার-পরিজনের পক্ষ থেকে তার ক্ষতি হবে এবং তার মন সংকীর্ণ হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে তার পরিবারের মধ্যে খলিফা হবে এবং সম্ভবত সে কল্যাণ, প্রজ্ঞা ও রাজত্ব লাভ করবে। আর সম্ভবত কোনো মহিলার কারণে সে পরীক্ষায় পড়বে। আর সম্ভবত তার কাছে কোনো সঞ্চিত বস্তু রয়েছে যাতে পোকা ধরেছে, তাই সে যেন তা রক্ষা করে। (আর যে ব্যক্তি) সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সে যদি যোগ্য হয় তবে সুলতানের মর্যাদায় পৌঁছাবে, আর তার সম্পদ ও নেয়ামত বৃদ্ধি পাবে। আরও বলা হয়েছে, এটি সকল অবস্থায় হুকুম কার্যকর হওয়া এবং কল্যাণ অর্জনের লক্ষণ। আরও বলা হয়েছে, সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা সফর করা এবং শীঘ্রই সেখান থেকে ফিরে আসার নিদর্শন। আর সম্ভবত নামের অর্থের কারণে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে নেক কাজ করার তৌফিক দেবেন। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে একজন নেককার সন্তান লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে দুনিয়া উপার্জন ও তার কর্মব্যস্ততা থেকে বিমুখ হবে এবং আখিরাতের কাজে লিপ্ত হবে। আরও বলা হয়েছে, ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম)-কে দেখা জীবন, সমৃদ্ধি, সুসংবাদ ও কল্যাণের নিদর্শন। (আর যে ব্যক্তি) খিজির (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার সাথে দূরবর্তী সফর করবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি খিজির (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে হজ পালন করবে এবং তার আয়ু দীর্ঘ হবে। (আর যে ব্যক্তি) ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার জন্য কঠিন কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তা নির্দেশ করে যে সে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করবে এবং তা কবুল হবে। (আর যে ব্যক্তি) আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সে রোগব্যাধি ও ব্যথা থেকে মুক্তি পাবে এবং তার অবস্থার সংশোধন হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে এবং সে যদি অসুস্থ হয় অথবা তার কোনো রোগী থাকে, তবে সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আরোগ্য লাভ করবে। (আর যে ব্যক্তি) ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে বিপদের পর তার মুক্তি মিলবে এবং ধ্বংসের পর আনন্দ আসবে এবং সে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বেরিয়ে আসবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততায় বেরিয়ে আসবে। (আর যে ব্যক্তি) যুল-কিফল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে যদি জামিন হওয়ার উপযুক্ত হয় তবে সে তা গ্রহণ করবে, আর যদি উপযুক্ত না হয় তবে তাকে আমানত সোপর্দ করা হবে। (আর যে ব্যক্তি) লুকমান (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, আল্লাহ তাআলা তাকে হিকমত, সঠিকতা ও নেক চিন্তা দান করবেন। (আর যে ব্যক্তি) যুল-কারনাইন-কে দেখে, সে এক মহান ব্যক্তির অনুসরণ করবে এবং তার কাছে সুপারিশ করবে, আর তার সুপারিশ কবুল করা হবে ও প্রয়োজন পূরণ হবে। (আর যে ব্যক্তি) ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে তার মৃতপ্রায় কাজগুলো পুনর্জীবিত হবে, আনুগত্য শক্তিশালী হবে এবং নেক কাজ করার তৌফিক লাভ হবে। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে ইবাদত, জগতবিমুখতা ও তাকওয়া লাভ করবে; সম্ভবত তার সফর বৃদ্ধি পাবে এবং সে যা ভয় করে তা থেকে মুক্তি পাবে। আর সম্ভবত সে চিকিৎসাবিদ্যা লাভ করবে, এমনকি তার সময়ে তার মতো আর কেউ থাকবে না। (আর যে ব্যক্তি) তাঁর মাতা মারিয়াম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, তবে সেই স্থানে এক মহান নিদর্শন প্রকাশ পাবে। (আর যে ব্যক্তি) মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখে, তবে তার দুঃখের পর মুক্তি আসবে এবং তার ঋণ পরিশোধ হবে।

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬১৯)
وَإِن كَانَ مَحْبُوسًا أَو مُقَيّدا فَإِنَّهُ يتَخَلَّص من حَبسه وَقَيده ويأمن من خَوفه وَإِن كَانَ فِي ضيق وقحط توافرت النِّعْمَة وَالْخَيْر عَلَيْهِ وَأما إِذا كَانَ غَنِيا فَإِنَّهُ يزْدَاد غنى وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة رضي الله عنه: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: من رَآنِي فِي الْمَنَام فقد رَآنِي حَقًا فَإِن الشَّيْطَان لَا يتَمَثَّل بِي وَقيل رُؤْيَته عليه السلام تدل على سَعَادَة العقبى وَقيل ان كَانَ مَغْلُوبًا ينتصر على أعدائه وَإِن كَانَ مَرِيضا شفَاه الله تَعَالَى. (وَمن رأى) أَنه يزور نَبيا من الْأَنْبِيَاء سَوَاء كَانَ حَيا أَو مَيتا فَإِن ذَلِك يؤول على ثَلَاثَة أوجه: الأول ان كَانَ متقياً زَادَت تقواه وَإِن كَانَ عَاصِيا تَابَ الله عَلَيْهِ وَالثَّانِي يزوره كَمَا رأى أَو حُصُول خير وبركة وَالثَّالِث دَلِيل أَنه من أهل الْجنَّة وَمن الفائزين (وَمن رأى) أَنه يسب نَبيا فَإِنَّهُ يطعن فِيمَا أَتَى بِهِ (وَمن رأى) نَبيا ازْدَادَ طولا أَو عرضا عَمَّا هُوَ فَتكون فِي النَّاس فتْنَة (وَمن رأى) أحدا مِنْهُم عليهم السلام وَهُوَ شيخ كَبِير فَإِنَّهُ يكون رَاحَة لأهل ذَلِك الْمَكَان (وَمن رأى) أحدا مِنْهُم وَهُوَ فِي صُورَة حَسَنَة فَإِنَّهُ صَلَاح فِي دينه ودنياه (وَمن رأى) أَن أحدا مِنْهُم ألبسهُ شَيْئا من مَتَاع الدُّنْيَا وَأَعْطَاهُ فَهُوَ حُصُول بركَة وشفاعة يَوْم الْقِيَامَة (وَمن رأى) أَنه أعْطى أحدا مِنْهُم بِشَيْء من مَتَاع الدُّنْيَا فَإِنَّهُ يهمل سنته وَلَيْسَ ذَلِك بِصَالح إِن أعطَاهُ شَيْئا مِمَّا يسْتَحبّ نَوعه فَإِنَّهُ يفعل الْخيرَات (وَمن رأى) أَنه نبش قبر أحد من الْأَنْبِيَاء فَإِنَّهُ يتبع سنته وَإِن وجد من عظمه شَيْئا يكون اتِّبَاعه أبلغ وَحصل مُرَاده من ذَلِك. (وَمن رأى) أحدا من الْأَنْبِيَاء وَهُوَ يَأْمُرهُ بِمَا يُخَالف الشَّرِيعَة يكون ذَلِك نهيا لَهُ وزجراً وتهديداً لقَوْله عليه السلام: إِذا لم تستح من الله فَاصْنَعْ مَا شِئْت فَإِن ذَلِك لَيْسَ بِأَمْر على فعل وَإِنَّمَا هُوَ تهديد (وَمن رأى) أحدا من الْأَنْبِيَاء فِيهِ نُقْصَان فَإِنَّهُ يدل على نُقْصَان دين الرَّائِي فليتق الله (وَمن رأى) أحدا من الْأَنْبِيَاء على غير صُورَة حَسَنَة فَهُوَ قريب من ذَلِك وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: رُؤْيا الْأَنْبِيَاء أَو أحد مِنْهُم يؤول على أحد عشر وَجها: رَحْمَة ونعمة وَعز وعلو قدر ودولة وظفر وسعادة ورياسة وَقُوَّة أهل السّنة وَالْجَمَاعَة وَالْخَيْر فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وراحة لأهل ذَلِك الْمَكَان وَقَالَ: من رأى أَنه يناقش أحدا من الْأَنْبِيَاء ويجادله وَيرْفَع عَلَيْهِ صَوته فَإِن ذَلِك بِدعَة قد أحدثها فِي الدّين وَالسّنَن (وَمن رأى) أَنه يقْتله فَلْينْظر فِيمَا يرْوى عَنهُ فليتق الله تَعَالَى ولينته (وَمن رأى) أَنه يلبس ملبوس الْأَنْبِيَاء فَإِنَّهُ صَالح لدينِهِ ودنياه (وَمن رأى) أَنه صَار نَبيا فَإِنَّهُ يَمُوت شَهِيدا أَو يرْزق الصَّبْر وَالْعِبَادَة والاحتساب على المصائب (وَمن رأى) أَنه يفعل بعض أَفعَال النَّبِيين من الْعِبَادَة وَالْبر فَهُوَ دَلِيل على حسن دينه وَصِحَّة يقينه للشَّرْع وَإِذا رأى مَا لَا يُنَاسب فِيهَا فَهُوَ ضد ذَلِك وَقيل تفريج هم وغم (وَمن رأى) أحدا مِنْهُم وَفِيه نُقْصَان أَو عيب فَإِنَّهُ قلَّة دين.

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الصَّحَابَة)

من رأى أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه: وَهُوَ فرحان طلق الْوَجْه فَإِنَّهُ فَرح وسرور على قَول ابْن سِيرِين: وَقيل تَحْصِيل علم وَمن رَآهُ فِي مَكَان مَعْرُوف وَهُوَ على هَذِه الْهَيْئَة فَإِنَّهُ حُصُول خير لأهل ذَلِك الْمَكَان وَإِن رَآهُ وَهُوَ عبوس فَهُوَ ضد ذَلِك وَقيل من رأى أَبَا بكر فَإِنَّهُ يكون صَدُوقًا أَمينا كثير الْخَيْر (وَمن رأى) عمر رضي الله عنه قَالَ ابْن سِيرِين: يكون حسن السِّيرَة وَقيل يكون طَوِيل الْعُمر وَالْفضل قوالاً للحق فعالاً للخير مزهقا للباطل وَرُبمَا يرْزق الطّواف بِالْبَيْتِ الْعَتِيق (وَمن رأى) عُثْمَان رضي الله عنه: فَإِنَّهُ يدل على الْحيَاء والزهد والورع والرياضة وَقيل يكون خيرا فَاضلا وَرُبمَا يقتل ظلما (وَمن رأى) عَليّ بن أبي طَالب كرم الله وَجهه فَإِنَّهُ يكون عالي الْمحل ورفيع الْمَكَان وطلق اللِّسَان وشجاعاً وقوى الْقلب مؤثراً مُصدقا وَقيل من رَآهُ وَهُوَ طلق الْوَجْه ينَال علما وشجاعة وَمن رَآهُ حَيا فِي مَكَان ينَال أهل ذَلِك الْمَكَان الْعلم وَالْعدْل والإنصاف وَيرْفَع عَنْهُم الْجور والإجحاف. وَمن رأى أحدا من الصَّحَابَة رضي الله عنهم فليتأول من اشتقاق اسْمه مثل سعد وَسَعِيد فَإِنَّهُ يكون سعيدا ومسعود أَو سديد الرَّأْي وَرُبمَا حسنت أَفعاله وَقيل من رأى أحدا مِنْهُم يكون فِي دين الْإِسْلَام قَوِيا فَردا ذَا رياضة وصادق الْأَقْوَال وَحسن الافعال وَرُبمَا يقْتَدى بِأَفْعَال من رَآهُ مِنْهُم لقَوْله عليه السلام: أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: رُؤْيا الْحسن وَالْحُسَيْن تدل على الِاتِّصَال بِبَعْض الاكابر وينال خيرا وراحة وَرُبمَا يَمُوت شَهِيدا (وَمن رأى) جَعْفَر الطيار فَإِنَّهُ يحجّ ويغزو (وَمن رأى) أَبَا هُرَيْرَة أَو أنس بن مَالك فَإِنَّهُ يكون رَاغِبًا لسنن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَيكون ميله إِلَى علمه وشريعته وَيطول عمره (وَمن رأى) سلمَان الْفَارِسِي يرزقه الله الْعلم وَالْقُرْآن (وَمن رأى)
যদি সে বন্দী বা শৃঙ্খলিত থাকে, তবে সে তার বন্দিত্ব ও শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাবে এবং তার ভয় থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে। যদি সে অভাব ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে থাকে, তবে তার উপর নেয়ামত ও কল্যাণ প্রচুর পরিমাণে বর্ষিত হবে। আর যদি সে ধনী হয়, তবে তার সম্পদ আরও বৃদ্ধি পাবে। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকেই দেখল; কারণ শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।" বলা হয়েছে যে, তাঁকে (আলাইহিস সালাম) দেখা পরকালীন সৌভাগ্যের নিদর্শন। আরও বলা হয়েছে যে, স্বপ্নদ্রষ্টা যদি পরাজিত অবস্থায় থাকে, তবে সে তার শত্রুদের উপর বিজয়ী হবে, আর যদি অসুস্থ থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করবেন। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো নবীকে যিয়ারত করছে, তিনি জীবিত হন বা মৃত, তবে এর ব্যাখ্যা তিনটি দিক থেকে হয়: প্রথমত, সে যদি মুত্তাকী হয় তবে তার তাকওয়া বৃদ্ধি পাবে, আর যদি গুনাহগার হয় তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। দ্বিতীয়ত, সে তাঁকে বাস্তবে যিয়ারত করবে অথবা কল্যাণ ও বরকত লাভ করবে। তৃতীয়ত, এটি প্রমাণ করে যে সে জান্নাতবাসী ও সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো নবীকে গালি দিচ্ছে, তবে সে তাঁর আনীত শরীয়তকে কটাক্ষ করছে। (যে ব্যক্তি দেখে) কোনো নবীর উচ্চতা বা প্রস্থ স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মানুষের মধ্যে ফিতনা দেখা দেবে। (যে ব্যক্তি দেখে) তাঁদের কাউকে অতিশয় বৃদ্ধ হিসেবে, তবে তা সেই এলাকার মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) তাঁদের কাউকে সুন্দর আকৃতিতে, তবে তা তার দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধনের লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখে) যে তাঁদের কেউ তাকে পার্থিব কোনো সামগ্রী পরিয়ে দিয়েছেন বা দান করেছেন, তবে তা বরকত লাভ এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশ প্রাপ্তির নিদর্শন। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তাঁদের কাউকে কোনো পার্থিব সামগ্রী প্রদান করছে, তবে সে তাঁর সুন্নাতকে অবহেলা করছে এবং এটি শুভ লক্ষণ নয়। তবে যদি এমন কিছু দান করে যা পছন্দনীয়, তবে সে নেক কাজ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো নবীর কবর খনন করছে, তবে সে তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করবে। আর যদি তাঁর হাড়ের কোনো অংশ পায়, তবে তার অনুসরণ আরও দৃঢ় হবে এবং সে তার উদ্দেশ্য লাভে সফল হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) কোনো নবী তাকে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজের আদেশ দিচ্ছেন, তবে তা হবে তার জন্য নিষেধ, সতর্কতা ও হুমকি স্বরূপ। যেমনটি নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যখন তুমি আল্লাহকে লজ্জা করবে না, তখন যা ইচ্ছা করো।" এটি কোনো কাজের নির্দেশ নয়, বরং হুমকি। (যে ব্যক্তি দেখে) কোনো নবীর মধ্যে কোনো ত্রুটি রয়েছে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার দ্বীনের ত্রুটি নির্দেশ করে; সুতরাং সে যেন আল্লাহকে ভয় করে। (যে ব্যক্তি দেখে) কোনো নবীকে অসুন্দর আকৃতিতে, তবে তার ব্যাখ্যাও অনুরূপ। জাফর সাদিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: নবীদেরকে বা তাঁদের কাউকে স্বপ্নে দেখার ব্যাখ্যা এগারোটি দিক থেকে হতে পারে: রহমত, নেয়ামত, ইজ্জত, উচ্চ মর্যাদা, প্রতিপত্তি, বিজয়, সৌভাগ্য, নেতৃত্ব, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের শক্তি বৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ এবং সেই এলাকার অধিবাসীদের জন্য স্বস্তি। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে কোনো নবীর সাথে তর্কে লিপ্ত হচ্ছে, বিবাদ করছে এবং তাঁর সামনে কণ্ঠস্বর উঁচু করছে, তবে তা তার দ্বারা দ্বীন ও সুন্নাতের মধ্যে উদ্ভাবিত কোনো বিদআত। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো নবীকে হত্যা করছে, তবে সে তাঁর পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয় সে বিষয়ে চিন্তা করুক, আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুক এবং বিরত হোক। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নবীদের পোশাক পরিধান করছে, তবে তা তার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নিজে নবী হয়ে গেছে, তবে সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে অথবা তাকে ধৈর্য, ইবাদত এবং বিপদে সওয়াবের আশা করার তাওফিক দেওয়া হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নবীদের ইবাদত ও নেক কাজের মতো কোনো কাজ করছে, তবে তা তার দ্বীনের সৌন্দর্য এবং শরীয়তের প্রতি সুদৃঢ় ইয়াকীনের প্রমাণ। আর যদি অসংগতিপূর্ণ কিছু দেখে তবে তা এর বিপরীত। বলা হয়েছে যে, এটি দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখে) তাঁদের কাউকে এবং তাঁর মধ্যে কোনো কমতি বা খুঁত রয়েছে, তবে তা দ্বীনদারীর অভাব।

৪ - ‌‌(সাহাবীগণের স্বপ্নের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে আনন্দিত ও হাসোজ্জ্বল মুখে দেখল, ইবনে সিরীনের মতে তা আনন্দ ও খুশির সংবাদ। আরও বলা হয়েছে যে, এটি ইলম হাসিলের লক্ষণ। যদি তাঁকে কোনো পরিচিত স্থানে এই অবস্থায় দেখে, তবে তা সেই এলাকার মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আর যদি তাঁকে বিমর্ষ দেখে, তবে তা এর বিপরীত। বলা হয়েছে যে, যে আবু বকরকে দেখবে সে সত্যবাদী, আমানতদার ও প্রভূত কল্যাণের অধিকারী হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে, ইবনে সিরীন বলেন: সে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হবে। আরও বলা হয়েছে যে, সে দীর্ঘায়ু ও ফযীলতের অধিকারী হবে, সত্যবাদী হবে, সৎকর্মে তৎপর হবে, বাতিলকে বিনাশকারী হবে এবং সম্ভবত সে বায়তুল্লাহ যিয়ারতের তাওফিক পাবে। (যে ব্যক্তি দেখে) উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে, তবে তা লজ্জা, যুহদ, পরহেযগারী ও আধ্যাত্মিক সাধনার দলিল। আরও বলা হয়েছে যে, সে একজন নেককার ও ফযীলতপূর্ণ মানুষ হবে এবং সম্ভবত সে মজলুম অবস্থায় শহীদ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) আলী ইবনে আবি তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-কে, তবে সে উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ স্থানের অধিকারী হবে, বাগ্মী হবে, সাহসী ও দৃঢ় হৃদয়ের অধিকারী হবে, অন্যকে অগ্রাধিকার দানকারী এবং সত্যনিষ্ঠ হবে। বলা হয়েছে যে, যে তাঁকে হাসোজ্জ্বল মুখে দেখেছে সে ইলম ও সাহসিকতা লাভ করবে। আর যে তাঁকে কোনো স্থানে জীবিত দেখল, তবে সেই এলাকার মানুষ ইলম, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ লাভ করবে এবং তাদের ওপর থেকে অন্যায় ও জুলুম দূরীভূত হবে। যে ব্যক্তি কোনো সাহাবীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) দেখে, সে যেন তাঁদের নামের ব্যুৎপত্তি থেকে অর্থ গ্রহণ করে; যেমন সাদ বা সাঈদ দেখলে সে ভাগ্যবান বা সৌভাগ্যবান হবে অথবা সঠিক মতের অধিকারী হবে। সম্ভবত তার কর্মসমূহ সুন্দর হবে। আরও বলা হয়েছে যে, যে তাঁদের কাউকে দেখবে সে ইসলাম ধর্মে শক্তিশালী, অনন্য, আধ্যাত্মিক সাধক, সত্যবাদী এবং উত্তম কর্মশীল হবে। সম্ভবত সে যাকে দেখেছে তার কর্মের অনুসরণ করবে; কারণ নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাঁদের যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াত পাবে।" জাফর সাদিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: হাসান ও হুসাইনকে স্বপ্নে দেখা কোনো মহান ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় এবং সে কল্যাণ ও স্বস্তি লাভ করবে, সম্ভবত সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) জাফর তাইয়ারকে, তবে সে হজ ও জিহাদ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) আবু হুরায়রা বা আনাস বিন মালিককে, তবে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের প্রতি আগ্রহী হবে, তাঁর ইলম ও শরীয়তের প্রতি অনুরাগী হবে এবং তার আয়ু দীর্ঘ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) সালমান ফারসীকে, আল্লাহ তাকে ইলম ও কুরআন দান করবেন। (যে ব্যক্তি দেখে)
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২০)
سعد بن أبي وَقاص يكون ميله إِلَى الْغَزْو (وَمن رأى) عبد الله بن عَبَّاس وَعبد الله بن مَسْعُود فَإِنَّهُ يشْتَغل بمهمات الْعِبَادَات ويجتهد فِي أَفعَال الدّين (وَمن رأى) بِلَالًا فَإِنَّهُ يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ وَيكون ذَا ذكر على رُؤُوس الْخَلَائق وعَلى الْجُمْلَة رُؤْيا صحابة النَّبِي خير ومنفعه فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا التَّابِعين)

(وَمن رأى) أحدا من التَّابِعين اعطاه شَيْئا أَو كلمة أَو خالطه فَإِنَّهُ حُصُول خير على كل حَال مَا لم يكن فِي الرُّؤْيَا مَا يُنكر فِي الْيَقَظَة فيؤول بِحَسب ذَلِك وَقيل رُؤْيا التَّابِعين تدل على اتِّبَاع مَعْرُوف وسلوك طَرِيق الْخَيْر.

6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْخُلَفَاء)

من رأى أحد الْخُلَفَاء بشائش الْوَجْه سليم الطَّبْع يتَلَفَّظ مَعَه بلين الْكَلَام فَإِنَّهُ يحصل لَهُ خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَإِن رَآهُ وَهُوَ يَأْمر بِفعل فِي مستخلصه فَإِنَّهُ يُصِيب شرفا وذكراً عَالِيا وَخيرا عَاجلا فِي دُنْيَاهُ وآخرته (وَمن رأى) أَن الْخَلِيفَة كتب لَهُ عهدا مكملاً بِولَايَة فَإِنَّهُ لَا يزَال معاهد الله على الدّين وَالتَّقوى وَقيل من رأى أَن الْخَلِيفَة ولاه على قوم فَإِنَّهُ يحصل لَهُ شرف وَإِن كَانَ من أهل الولايات حصل لَهُ ذَلِك وَلَا يسود قومه (وَمن رأى) أَن الْخَلِيفَة كَسَاه أَو حمله أَو أركبه أَو أعطَاهُ شَيْئا من مَتَاع الدُّنْيَا فَإِنَّهُ يُصِيب سُلْطَانا وَعزا وفخراً بِقدر مَا ينْسب إِلَيْهِ ذَلِك الْعَطاء (وَمن رأى) أَنه يُعَاقِبهُ أَو جرى بَينهمَا كَلَام الْبر فَإِنَّهُ يصلح حَاله عِنْده أَو غَيره من الاعيان (وَمن رأى) أَن الْخَلِيفَة يخاصمه فَإِنَّهُ يظفر بحاجته وينصر على أعدائه (وَمن رأى) وَجه الْخَلِيفَة عبوساً ينظر إِلَيْهِ بِعَين الْغَضَب أَو رأى فِيهِ نقصا أَو خللا فَإِنَّهُ نُقْصَان فِي دين الرَّائِي والخلل عَائِد إِلَيْهِ قَالَ جَابر المغربي: من رأى أَنه صَار خَليفَة فَإِنَّهُ ان لم يكن أَهلا لذَلِك فَإِنَّهُ يشْتَهر بشهرة قبيحة وَقيل يصل إِلَيْهِ خبر سوء أَو يحصل لَهُ أَمر يُؤَدِّي إِلَى الضَّرَر من حَيْثُ الْجُمْلَة الْأَخِيرَة فِي ذَلِك (وَمن رأى) أَنه يَأْكُل مَعَ الْخَلِيفَة فِي إِنَاء أَو أطْعمهُ شَيْئا فَإِنَّهُ يُصِيبهُ حزن بِقدر مَا أكل (وَمن رأى) أَنه هُوَ والخليفة على فرَاش وَاحِد فَإِنَّهُ يشركهُ فِي أمره أَو يوليه مَكَانا يحكم فِيهِ وَقيل اما ان يتَزَوَّج امْرَأَة من بَيت الْخَلِيفَة أَو يَهبهُ جَارِيَة.

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْإِنْسَان)

من رأى أحدا مِنْهُم لم يكن فِيهِ سَيِّئَة نقص فَهُوَ خير وَإِن رأى نقصا فضد ذَلِك (وَمن رأى) شريفا فَإِنَّهُ يدل على الشّرف للرائي وَقيل رُؤْيَة الشرفاء تدل على أكَابِر الأقوام وأشرافهم (وَمن رأى) أَنه صَار شريفا فَإِنَّهُ يسود على قوم وَلَا بَأْس برؤيا الشريف.

‌‌(الْبَاب الثَّامِن)

 

‌‌(فِي رُؤْيا الْوضُوء وَالْغسْل وَالتَّيَمُّم وَالصَّلَاة وَالْقِرَاءَة والمصحف والمجلدات والهياكل)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْوضُوء)

من رأى أَنه تَوَضَّأ بِمَاء صَاف وَأتم وضوءه فَإِن كَانَ مهموما فرج الله عَنهُ همه وَإِن كَانَ مديونا قضى الله دينه وَإِن كَانَ مَرِيضا شفَاه الله تَعَالَى وَإِن كَانَ مذنبا يَتُوب الله عَلَيْهِ وَيغْفر ذنُوبه وَإِن كَانَ خَائفًا أَمنه الله تَعَالَى وَهُوَ خير على كل حَال (وَمن رأى) أَنه لم يتم وضوءه أَو تعذر عَلَيْهِ ذَلِك فَإِنَّهُ لَا يتم لَهُ أَمر هُوَ طَالبه ويرجى لَهُ النجاح من فضل الْوضُوء (وَمن رأى) أَنه تَوَضَّأ بِمَا لَا يجوز الْوضُوء بِهِ فَهُوَ بِمَنْزِلَة من لَا يتم وضوءه وَقيل: من تَوَضَّأ بِلَبن أَو عسل فَهُوَ حسن فِي الدّين (وَمن رأى) أَنه تَوَضَّأ بِمَاء حَار فَلَا خير فِيهِ (وَمن رأى) انه تَوَضَّأ بِمَاء كدر وَمَا أشبه ذَلِك فَإِنَّهُ هم وغم وَلَكِن ويرجى لَهُ الْفرج (وَمن رأى) أَنه يطْلب الْوضُوء وَلَا يجد المَاء فَإِن الْأَمر الَّذِي يَطْلُبهُ يعسر عَلَيْهِ وَلَكِن يُرْجَى لَهُ من فضل الله تيسيره (وَمن رأى) أَنه يتَوَضَّأ وَهُوَ جنب فَإِنَّهُ يدْخل فِي أَمر يعسر عَلَيْهِ وَلَا يَتَيَسَّر.
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে দেখলে যুদ্ধের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। (যে ব্যক্তি দেখে) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে, সে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহে আত্মনিয়োগ করবে এবং দ্বীনি কাজে কঠোর পরিশ্রম করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) বিলালকে, সে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং জনসমক্ষে সুখ্যাতি ও উচ্চমর্যাদা লাভ করবে। মোটের উপর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের দর্শন দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ ও উপকারের লক্ষণ।

৫ - ‌‌(তাবিঈগণের দর্শন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

(যে ব্যক্তি দেখে) তাবিঈগণের মধ্য হতে কেউ তাকে কিছু দিয়েছেন বা কোনো কথা বলেছেন কিংবা তার সাথে মেলামেশা করেছেন, তবে তা সব অবস্থাতেই কল্যাণ প্রাপ্তি, যদি না স্বপ্নে এমন কিছু দেখা যায় যা জাগ্রত অবস্থায় শরীয়ত পরিপন্থী; সেক্ষেত্রে সে অনুযায়ী ব্যাখ্যা হবে। বলা হয়েছে, তাবিঈগণের দর্শন সৎকাজের অনুসরণ এবং কল্যাণের পথে চলার প্রমাণ।

৬ - ‌‌(খলিফাগণের দর্শন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি কোনো খলিফাকে প্রফুল্ল মুখ ও শান্ত মেজাজে দেখল এবং তিনি তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বললেন, তবে তার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জিত হবে। আর যদি তাকে এমন কোনো কাজের আদেশ দিতে দেখে যা তার ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট, তবে সে সম্মান, সুখ্যাতি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে দ্রুত কল্যাণ লাভ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) খলিফা তাকে কোনো প্রদেশের শাসনভার অর্পণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ অঙ্গীকারনামা লিখে দিয়েছেন, তবে সে সর্বদা দ্বীন ও তাকওয়ার উপর আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দেখে যে খলিফা তাকে কোনো জাতির ওপর নিযুক্ত করেছেন, তবে সে সম্মান লাভ করবে; আর সে যদি শাসনক্ষমতার যোগ্য হয় তবে তা লাভ করবে এবং নিজ জাতির ওপর নেতৃত্ব দেবে। (যে ব্যক্তি দেখে) খলিফা তাকে পোশাক পরিয়েছেন, কোনো সওয়ারিতে চড়িয়েছেন অথবা দুনিয়াবী কোনো সামগ্রী দান করেছেন, তবে সে সেই দানের গুরুত্ব অনুযায়ী শাসনক্ষমতা, মর্যাদা ও গৌরব লাভ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) খলিফা তাকে শাস্তি দিচ্ছেন অথবা তাদের মাঝে সদ্ভাবপূর্ণ আলাপ হচ্ছে, তবে তার অবস্থা খলিফার নিকট বা অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট উন্নত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) খলিফা তার সাথে বিবাদ করছেন, তবে সে তার উদ্দেশ্য লাভে সফল হবে এবং শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) খলিফার মুখ বিষণ্ণ এবং তিনি ক্রোধের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন অথবা খলিফার মাঝে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি দেখে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার দ্বীনের মধ্যে ঘাটতি এবং এই ত্রুটি তারই দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি নিজেকে খলিফা হতে দেখল অথচ সে এর যোগ্য নয়, তবে সে মন্দভাবে খ্যাতি লাভ করবে। বলা হয়েছে, তার কাছে কোনো দুঃসংবাদ পৌঁছাবে অথবা এমন কোনো বিষয় ঘটবে যা সামগ্রিকভাবে ক্ষতির কারণ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) সে খলিফার সাথে একই পাত্রে খাবার খাচ্ছে অথবা খলিফা তাকে কিছু খাইয়েছেন, তবে সে যতটুকু খেয়েছে সেই পরিমাণ দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) সে এবং খলিফা একই বিছানায় আছে, তবে সে খলিফার কাজে অংশীদার হবে অথবা তাকে এমন কোনো স্থানে নিযুক্ত করবেন যেখানে সে শাসন করবে। বলা হয়েছে যে, হয়তো সে খলিফার পরিবারের কোনো নারীকে বিবাহ করবে অথবা খলিফা তাকে কোনো দাসী উপহার দেবেন।

৭ - ‌‌(মানুষের দর্শন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে দেখল যার মধ্যে কোনো মন্দ বা ত্রুটি নেই, তবে তা কল্যাণকর; আর যদি ত্রুটি দেখে তবে তা বিপরীত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) কোনো শরীফ (মর্যাদাসম্পন্ন) ব্যক্তিকে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার মর্যাদার লক্ষণ। বলা হয়েছে, শরীফ ব্যক্তিদের দর্শন জাতির নেতৃস্থানীয় ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নির্দেশ করে। (যে ব্যক্তি দেখে) সে নিজে শরীফ হয়েছে, তবে সে স্বজাতির ওপর নেতৃত্ব দেবে; শরীফ ব্যক্তিকে দেখা মন্দ নয়।

‌‌(অষ্টম অধ্যায়)

 

‌‌(ওযু, গোসল, তায়াম্মুম, সালাত, তিলাওয়াত, মুসহাফ, কিতাব ও উপাসনালয় দেখার বর্ণনায়)

 

৩ - ‌‌(ওযু সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি দেখে যে সে স্বচ্ছ পানি দিয়ে ওযু করেছে এবং ওযু পূর্ণ করেছে, সে যদি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে তবে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন; যদি ঋণগ্রস্ত থাকে তবে আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধ করে দেবেন; যদি অসুস্থ থাকে তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আরোগ্য দান করবেন; যদি পাপী হয় তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন এবং তার গুনাহ ক্ষমা করবেন; আর যদি ভীত থাকে তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে নিরাপত্তা দেবেন—এটি সব অবস্থাতেই কল্যাণকর। (যে ব্যক্তি দেখে) সে ওযু পূর্ণ করেনি অথবা তা সম্পন্ন করতে অসমর্থ হয়েছে, তবে সে যে বিষয়টি খুঁজছে তা পূর্ণ হবে না, তবে ওযুর ফযিলতের কারণে তার সফলতার আশা করা যায়। (যে ব্যক্তি দেখে) সে এমন কিছু দিয়ে ওযু করেছে যা দিয়ে ওযু করা জায়েয নয়, তবে তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মতো যে ওযু পূর্ণ করেনি। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দুধ বা মধু দিয়ে ওযু করেছে, তা দ্বীনের ক্ষেত্রে উত্তম। (যে ব্যক্তি দেখে) সে গরম পানি দিয়ে ওযু করেছে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। (যে ব্যক্তি দেখে) সে ঘোলাটে পানি বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে ওযু করেছে, তবে তা চিন্তা ও কষ্টের লক্ষণ, কিন্তু তার মুক্তির আশা করা যায়। (যে ব্যক্তি দেখে) সে ওযু করতে চাচ্ছে কিন্তু পানি পাচ্ছে না, তবে সে যা চাচ্ছে তা তার জন্য কঠিন হবে, কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে তা সহজ হওয়ার আশা করা যায়। (যে ব্যক্তি দেখে) সে অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় ওযু করছে, তবে সে এমন কাজে লিপ্ত হবে যা তার জন্য কঠিন হবে এবং তা সহজ হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২১)
4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْغسْل)

قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه اغْتسل فِي بَحر أَو نهر فَإِنَّهُ يدل على الدّيانَة والخضوع لله تَعَالَى وَقيل من رأى أَنه اغْتسل غسل بِمَاء صَاف طَاهِر فَحكمه حكم الْوضُوء وَزِيَادَة على ذَلِك أُمُور الْآخِرَة وَإِن كَانَ المَاء غير صَاف وَلَا طَاهِر فتعبيره ضد ذَلِك وَلَا يُرْجَى لَهُ الْخَيْر (وَمن رأى) أَنه اغْتسل من الْجَنَابَة بِمَا يجوز الْغسْل بِهِ فَإِنَّهُ تتيسر لَهُ الْأُمُور وَيخرج من الْهم وَالْغَم وَإِن تعذر عَلَيْهِ ذَلِك فتعبيره ضِدّه (وَمن رأى) أَنه جنب وَلم يجد مَا يغْتَسل بِهِ فَإِنَّهُ يعسر عَلَيْهِ أُمُور الدُّنْيَا وَالْآخِرَة (وَمن رأى) أَنه اغْتسل غسل الْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ فَإِنَّهُ زِيَادَة دَرَجَات فِي الْآخِرَة مَعَ مَا تقدم من تَفْسِير ذَلِك (وَمن رأى) أَنه اغْتسل وَلبس ثِيَابه فَإِنَّهُ يَنْقَطِع عَنهُ الْهم وَيسلم من كل بلَاء وسقم وَإِن كَانَت الثِّيَاب جدداً كَانَ أبلغ لِأَن أَيُّوب اغْتسل وَلبس ثيابًا جددا فَخرج مِمَّا كَانَ فِيهِ من بلَاء (وَمن رأى) أَنه غسل أحدا فَإِنَّهُ يُزَكِّيه (وَإِن رأى) أَن أحدا غسله فَهُوَ تَزْكِيَة أَيْضا (وَمن رأى) أَنه غسل مَا لَا يجوز تغسيله فَإِنَّهُ يتَعَلَّق بِأَمْر يعْتَقد أَنه مُسْتَقِيم وَالْأَمر بِخِلَافِهِ (وَمن رأى) أَنه غسل يَدَيْهِ وَوَجهه فَلَا بَأْس بِهِ وَقَالَ جَابر المغربي: الْغسْل يدل على النَّظَافَة فِي الدّين والورع زِيَادَة أبهة وشهرة حَسَنَة (وَمن رأى) أَنه اغْتسل بحنوط أَو بعضه فَإِن كَانَ لَهُ محب تزداد محبته وَإِن الْمُحب متنفرا فَإِنَّهُ يزْدَاد نفورا وَاسْتِعْمَال الصابون زِيَادَة فِي النَّظَافَة.

5 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة التَّيَمُّم)

(من رأى) أَنه تيَمّم فِي مَكَان لَا يُوجد فِيهِ المَاء وَأتم ذَلِك فتعبيره تَمام الْوضُوء وَكَذَلِكَ ان تعذر (وَمن رأى) أَنه تيَمّم وَالْمَاء مَوْجُود يدل على أَنه منحرف عَن الشَّرِيعَة فليتب إِلَى الله تَعَالَى وليرجع وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: التَّيَمُّم حُصُول المُرَاد وَهُوَ شِفَاء ورزق وَحج وَفَرح وَعتق.

6 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الصَّلَاة)

(من رأى) أَنه يُصَلِّي جِهَة الشرق فَإِن كَانَ الرَّائِي مَشْهُورا بِالْخَيرِ يحجّ وَإِن كَانَ بِخِلَاف ذَلِك يكون ميله إِلَى أهل الذِّمَّة وَقيل: من رأى أَنه يُصَلِّي شرقا أَو غربا فقد ينحرف عَن الاسلام بِعَمَل مِنْهُ يُخَالف الشَّرِيعَة (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي نَحْو الشمَال مستدبر الْقبْلَة فقد نبذ الاسلام وَرَاء ظَهره لقَوْله تَعَالَى: {فنبذوه وَرَاء ظُهُورهمْ} رُبمَا التمس من امْرَأَة دبرهَا أَو اشْتغل عَنْهَا بغَيْرهَا وَقَالَ بَعضهم: رُبمَا يرْزق تَوْبَة هَذَا إِذا كَانَ الرَّائِي من أهل الدّين وَالصَّلَاح (وَمن رأى) أهل الْمَسْجِد يصلونَ إِلَى غير الْقبْلَة يعْزل رَئِيس ذَلِك الْمَكَان (وَمن رأى) عَالما يُصَلِّي إِلَى غير الْقبْلَة أَو عمل بِخِلَاف السّنة فقد خَالف الشَّرِيعَة وَاتبع الْهوى (وَمن رأى) أَن صلَاته فَاتَت عَن وَقتهَا وَلَا يجد موضعا أَو مَكَانا يُصَلِّي فِيهِ فَإِنَّهُ يدل على أَمر عسير وَقيل يتَعَذَّر عَلَيْهِ طلب شَيْء فِي أَمر آخرته (وَمن رأى) أَنه يؤم قوما فِي الصَّلَاة فَإِنَّهُ يَلِي ولَايَة يعدل فِيهَا وَإِن لم يكن أَهلا لذَلِك يَسْتَقِيم أمره وَيصْلح حَاله (وَمن رأى) أَنه يؤم قوما مجهولين فِي مَكَان مَجْهُول وَلَا يدْرِي مَا يقْرَأ فَهُوَ على شرف الْمَوْت فليتق ربه (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي نَحْو الْقبْلَة مُسْتَقِيمًا فَإِنَّهُ يتبع الشَّرِيعَة وَالسّنة. وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى أَنه يؤم قوما فَإِنَّهُ علو قدر ونفاذ أَمر (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي فِي السُّوق فَلَا خير فِيهِ وَقيل: من رأى أَنه يؤم قوما بمَكَان يَقْتَضِي ذَلِك فَإِن ذَلِك الْمَكَان ينظر إِلَيْهِ بِالْخَيرِ وَيحصل لَهُ تقدم على غَيره وَيكون مسموع القَوْل (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الظّهْر فَإِنَّهُ صفاء وَقت وَحُصُول مُرَاد وَزِيَادَة خيرات وَقيل: من رأى أَنه يُصَلِّي الظّهْر فَإِنَّهُ يظفر بحاجته ويستظهر على جَمِيع مَا يَطْلُبهُ وَإِن كَانَت هِيَ صَلَاة الْجُمُعَة فَإِن يتم لَهُ جَمِيع مَا يُرِيد ويبلغ مَا يؤمله وَيحصل لَهُ فضل الله تَعَالَى فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة لقَوْله تَعَالَى: {فَإِذا قضيت الصَّلَاة فَانْتَشرُوا فِي الأَرْض وابتغوا من فضل الله} (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي صَلَاة الْعَصْر فَإِنَّهُ حُصُول مُرَاد وَلَكِن بعد مشقة (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الْمغرب فَإِن الْأَمر الَّذِي يَطْلُبهُ من خير أَو شَرّ يتم عَاجلا وَقيل انه يُؤَدِّي صدَاق زَوجته (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الْعشَاء الْأَخِيرَة فَإِنَّهُ يُعَامل أقرباءه وَيحصل لَهُ سرُور وَقيل يحصل لَهُ مكر وبكاء لقَوْله تَعَالَى: {وجاؤوا أباهم عشَاء يَبْكُونَ} (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الصُّبْح فَإِنَّهُ حُصُول مَال وَكسب حَلَال وَقيل: إِنَّه وعد قريب يَأْتِيهِ خيرا أَو شرا على
৪ - ‌‌(গোসল দেখার পরিচ্ছেদ)

ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে সমুদ্র বা নদীতে গোসল করেছে, তবে তা দ্বীনদারী এবং মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের নিদর্শন। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দেখল সে স্বচ্ছ ও পবিত্র পানি দিয়ে গোসল করেছে, তবে তার হুকুম অজুর হুকুমের মতো এবং এর অতিরিক্ত হলো আখেরাতের বিষয়াদি। আর পানি যদি স্বচ্ছ ও পবিত্র না হয়, তবে তার ব্যাখ্যা এর বিপরীত হবে এবং তার জন্য কল্যাণের আশা করা যায় না। (যে ব্যক্তি দেখল) সে জানাবাত থেকে এমন পানি দিয়ে গোসল করেছে যা দিয়ে গোসল করা জায়েজ, তবে তার সকল কাজ সহজ হবে এবং সে দুশ্চিন্তা ও শোক থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি তার জন্য তা করা দুঃসাধ্য হয়, তবে তার ব্যাখ্যা এর বিপরীত। (যে ব্যক্তি দেখল) সে অপবিত্র অবস্থায় আছে কিন্তু গোসল করার মতো পানি খুঁজে পাচ্ছে না, তবে তার দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়সমূহ কঠিন হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে জুমার গোসল অথবা দুই ঈদের গোসল করেছে, তবে ইতিপূর্বে বর্ণিত ব্যাখ্যার সাথে সাথে এটি আখেরাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধির দলিল। (যে ব্যক্তি দেখল) সে গোসল করেছে এবং কাপড় পরিধান করেছে, তবে তার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং সে সকল বিপদ ও ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে। আর কাপড় যদি নতুন হয় তবে তা আরও জোরালো হবে, কেননা আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) গোসল করেছিলেন এবং নতুন কাপড় পরিধান করেছিলেন, ফলে তিনি যে বিপদে ছিলেন তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। (যে ব্যক্তি দেখল) সে কাউকে গোসল করিয়ে দিচ্ছে, তবে সে তাকে পরিশুদ্ধ করছে। (যদি দেখে) কেউ তাকে গোসল করিয়ে দিচ্ছে, তবে এটিও তার পরিশুদ্ধি। (যে ব্যক্তি দেখল) সে এমন কিছু ধৌত করছে যা ধৌত করা জায়েজ নয়, তবে সে এমন কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হবে যা সে সঠিক মনে করে, অথচ বিষয়টি তার বিপরীত। (যে ব্যক্তি দেখল) সে তার দুই হাত ও মুখমণ্ডল ধৌত করেছে, তবে এতে কোনো ক্ষতি নেই। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: গোসল দ্বীনের পরিচ্ছন্নতা ও পরহেজগারির ওপর দালালত করে এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সুখ্যাতি বৃদ্ধি করে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে সুগন্ধি বা তার অংশবিশেষ দিয়ে গোসল করেছে, তবে তার যদি কোনো প্রিয়জন থাকে তবে তার মহব্বত বৃদ্ধি পাবে, আর যদি সেই প্রিয়জন বিরক্ত থাকে তবে তার বিরক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। আর সাবান ব্যবহার করা পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির লক্ষণ।

৫ - ‌‌(তায়াম্মুম দেখার পরিচ্ছেদ)

(যে ব্যক্তি দেখল) সে এমন স্থানে তায়াম্মুম করেছে যেখানে পানি পাওয়া যায় না এবং তা পূর্ণ করেছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো অজুর পূর্ণতা; একইভাবে যদি তা দুঃসাধ্য হয়। (যে ব্যক্তি দেখল) পানি থাকা সত্ত্বেও সে তায়াম্মুম করেছে, তবে এটি নির্দেশ করে যে সে শরিয়ত থেকে বিচ্যুত, সুতরাং তার উচিত মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং ফিরে আসা। জাফর আস-সাদিক বলেন: তায়াম্মুম হলো উদ্দেশ্য হাসিল হওয়া এবং এটি আরোগ্য, রিজিক, হজ, আনন্দ ও মুক্তি।

৬ - ‌‌(নামাজ দেখার পরিচ্ছেদ)

(যে ব্যক্তি দেখল) সে পূর্ব দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে, যদি স্বপ্নদ্রষ্টা নেককার হিসেবে পরিচিত হয় তবে সে হজ করবে। আর যদি সে এর বিপরীত হয়, তবে জিম্মিদের প্রতি তার ঝোঁক তৈরি হবে। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখল সে পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে, তবে সে তার এমন কোনো কাজের মাধ্যমে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হতে পারে যা শরিয়ত বিরোধী। (যে ব্যক্তি দেখল) সে উত্তর দিকে কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে নামাজ পড়ছে, তবে সে ইসলামকে তার পেছনে নিক্ষেপ করেছে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "অতঃপর তারা তা তাদের পেছনে নিক্ষেপ করল"। সম্ভবত সে কোনো নারীর সাথে অপ্রাকৃতিক উপায়ে সঙ্গম করতে চায় অথবা তাকে ছেড়ে অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাকে। কেউ কেউ বলেছেন: সম্ভবত তাকে তওবা নসিব করা হবে, এটি তখন হবে যখন স্বপ্নদ্রষ্টা দ্বীনদার ও সৎকর্মশীল লোক হয়। (যে ব্যক্তি দেখল) মসজিদের লোকেরা কিবলা ছাড়া অন্য দিকে নামাজ পড়ছে, তবে ওই স্থানের প্রধানকে বরখাস্ত করা হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) কোনো আলেম কিবলা ছাড়া অন্য দিকে নামাজ পড়ছে অথবা সুন্নাহ বিরোধী কাজ করছে, তবে সে শরিয়তের বিরোধিতা করেছে এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। (যে ব্যক্তি দেখল) তার নামাজের ওয়াক্ত পার হয়ে গেছে কিন্তু সে নামাজ পড়ার মতো কোনো জায়গা বা স্থান পাচ্ছে না, তবে এটি কঠিন বিষয়ের ওপর দালালত করে। বলা হয়েছে: তার জন্য আখেরাতের কোনো বিষয়ে কিছু প্রার্থনা করা দুঃসাধ্য হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে কোনো কওমের নামাজে ইমামতি করছে, তবে সে এমন কোনো দায়িত্ব বা শাসনভার লাভ করবে যেখানে সে ইনসাফ করবে। আর যদি সে তার যোগ্য না হয়, তবে তার বিষয়াদি সুসংহত হবে এবং তার অবস্থা সংশোধন হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে কোনো অপরিচিত স্থানে অপরিচিত লোকদের ইমামতি করছে এবং সে কী পাঠ করছে তা জানে না, তবে সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে; সুতরাং সে যেন তার রবকে ভয় করে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে কিবলার দিকে মুখ করে সঠিকভাবে নামাজ পড়ছে, তবে সে শরিয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ করছে। আল-কিরমানি বলেন: যে ব্যক্তি দেখল সে কোনো কওমের ইমামতি করছে, তবে তা মর্যাদার উচ্চতা এবং আদেশ জারী হওয়ার লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখল) সে বাজারে নামাজ পড়ছে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখল সে এমন স্থানে কোনো কওমের ইমামতি করছে যা এর উপযুক্ত, তবে ওই স্থানটির দিকে কল্যাণের দৃষ্টিতে দেখা হবে এবং সে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে এবং তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে জোহরের নামাজ পড়ছে, তবে তা সময়ের স্বচ্ছতা, উদ্দেশ্য হাসিল এবং কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষণ। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখল সে জোহরের নামাজ পড়ছে, তবে সে তার হাজত পূরণে সফল হবে এবং যা কিছু সে চায় তার ওপর জয়লাভ করবে। আর যদি তা জুমার নামাজ হয়, তবে সে যা কিছু চায় তার সবটুকুই পূর্ণ হবে এবং তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। আর দুনিয়া ও আখেরাতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "অতঃপর যখন নামাজ শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো।" (যে ব্যক্তি দেখল) সে আসরের নামাজ পড়ছে, তবে তা উদ্দেশ্য হাসিল হওয়া বুঝায়, কিন্তু কষ্টের পর। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মাগরিবের নামাজ পড়ছে, তবে কল্যাণ বা অকল্যাণের যে বিষয়টি সে খুঁজছে তা দ্রুত পূর্ণ হবে। বলা হয়েছে যে, সে তার স্ত্রীর মোহরানা আদায় করবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে এশার নামাজ পড়ছে, তবে সে তার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদাচরণ করবে এবং আনন্দ লাভ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, সে প্রতারণা ও কান্নার সম্মুখীন হবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর তারা এশার সময় তাদের পিতার কাছে কাঁদতে কাঁদতে এলো।" (যে ব্যক্তি দেখল) সে ফজরের নামাজ পড়ছে, তবে তা সম্পদ লাভ এবং হালাল উপার্জনের লক্ষণ। বলা হয়েছে: এটি কোনো নিকটবর্তী অঙ্গীকার যা তার কাছে কল্যাণ বা অকল্যাণ নিয়ে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২২)
حسب مَا هُوَ متوقع ذَلِك لقَوْله تَعَالَى: {إِن موعدهم الصُّبْح أَلَيْسَ الصُّبْح بقريب} وَشرط فِيمَا قُلْنَا أَنه يُؤَدِّي كل صَلَاة فِي وَقتهَا كَامِلَة فَإِن حصل فِيهَا نقص أَو زِيَادَة فَهُوَ محَال ومخالف لما ذكر (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي صَلَاة فَاتَتْهُ من هَذِه الصَّلَوَات فَإِنَّهُ يدل على قَضَاء دينه وَقيل من رأى أَنه صلى صَلَاة وَنقص مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يُسَافر وَإِن كَانَت امْرَأَة فَإِنَّهَا تحيض وَقيل إِن من رأى أَنه لم يتم صلَاته لم تتمّ حَاجته (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي بِغَيْر وضوء فَإِنَّهُ يمرض (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي فِي مَكَان لَا تجوز فِيهِ الصَّلَاة فَإِنَّهُ فَسَاد فِي دينه وَقيل: من رأى أَن الصَّلَاة فَاتَتْهُ مَعَ الإِمَام فَهُوَ نَظِير ذَلِك وَإِن أدْرك آخر الصَّلَاة ثمَّ أتمهَا مُنْفَردا لَا بَأْس بذلك (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي فِي الصَّحرَاء فَهُوَ على وَجْهَيْن: إِمَّا سفر أَو حج. وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن الْأَشْعَث: من رأى أَنه يسْجد لله تَعَالَى فَإِنَّهُ شكر لله وَطول حَيَاة لَهُ (وَمن رأى) أَنه جلس فِي التَّحِيَّات فَإِنَّهُ زِيَادَة خير (وَمن رأى) أَنه سلم عَن شِمَاله فَلَا خير فِيهِ (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي قَاعِدا أَو رَاقِدًا فَإِنَّهُ يدل على عَجزه عَن أُمُور وَرُبمَا دلّ على توعك الْبدن أَو على كبر السن (وَمن رأى) أَنه يسْأَل الله تَعَالَى فِي صلَاته فَإِنَّهُ يرْزق ولدا لقَوْله تَعَالَى: {إِذْ نَادَى ربه نِدَاء خفِيا} (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي نَافِلَة يعْمل عملا صَالحا يتَقرَّب بِهِ إِلَى الله تَعَالَى وَإِن كَانَت النَّافِلَة نَافِلَة اللَّيْل تدل على أَنه يرْزق بِشَيْء مَحْمُود لقَوْله تَعَالَى: {وَمن اللَّيْل فتجهد بِهِ نَافِلَة لَك} الْآيَة وَرُبمَا ألف بَين قُلُوب قوم تشَتت أهواؤهم وَقيل: زَوَال هم وغم (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي اللَّيْل كُله فَهُوَ حُصُول خير فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة بأوفر نصيب من الله تَعَالَى (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي فَوق الْكَعْبَة فَهُوَ ارْتِكَاب مَا يُخَالف الشَّرِيعَة (وَمن رأى) أَنه صلى بِأحد الْمَسَاجِد الثَّلَاث فَإِنَّهُ تَضْعِيف الأجور لَهُ وَدَلِيل على قبُول أَعماله (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي بِجَامِع أَو مدرسة أَو مَا يُنَاسب ذَلِك فَهُوَ زِيَادَة فِي الْخيرَات وَقيل الصَّلَاة فِي الْأَمَاكِن الْمُعْتَبرَة أَمن وَصَلَاة وَرَحْمَة وَقيل رُؤْيا صَلَاة الْجُمُعَة تدل على السّفر والرزق الْحَلَال (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي بكنيسة أَو مَا يُنَاسب ذَلِك على القانون الشَّرْعِيّ فَإِن كَلمته تعلو على أحد من أهل الذِّمَّة ويقهره. (وَقَالَ جاحظ الْمُعير) الصَّلَاة على ثَلَاثَة أوجه: فَرِيضَة وَسنة وتطوع فَأَما الْفَرِيضَة فتدل على الْحَج والتجنب عَن الْفَوَاحِش وَالْمُنكر لقَوْله تَعَالَى: {ان الصَّلَاة تنْهى عَن الْفَحْشَاء وَالْمُنكر} وَأما السّنة فتدل على النَّظَافَة وَالصَّبْر على مَا يكره والشهرة الْحَسَنَة والشفقة على مَا خلق الله تَعَالَى وَأما التَّطَوُّع فَيدل على التَّوَسُّع على عِيَاله وَالْقِيَام بمهمات الاصدقاء وَالْجَار واظهار الْمُرُوءَة مَعَ كل أحد. (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي على دَابَّة فَهُوَ حُصُول هم (وَمن رأى) أَنه أَطَالَ قيام صلَاته وَلم يرْكَع فَإِن كَانَ ذَا مَال فَهُوَ مَانع الزَّكَاة فليتق الله والا فَهُوَ قَائِم فِي أَمر لَيْسَ لَهُ نتيجة ويرجى لَهُ الصّلاح (وَمن رأى) أَنه ركع وَأطَال فِيهِ وَلم يسْجد فَإِنَّهُ بعيد التَّوْبَة وَرُبمَا كَانَ قصير الْعُمر فليبادر إِلَى التَّوْبَة (وَمن رأى) أَنه قصر صلَاته فَإِنَّهُ سفر لقَوْله تَعَالَى: {وَإِذا ضَرَبْتُمْ فِي الأَرْض فَلَيْسَ عَلَيْكُم جنَاح أَن تقصرُوا من الصَّلَاة} (وَمن رأى) أَنه يضْحك فِي الصَّلَاة فَإِنَّهُ كثير اللَّهْو فليتب إِلَى الله (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي وَهُوَ سَكرَان فَإِنَّهُ يشْهد شَهَادَة زور لقَوْله تَعَالَى: {وَلَا تقربُوا الصَّلَاة وَأَنْتُم سكارى حَتَّى تعلمُوا مَا تَقولُونَ} {وَمن رأى} أَنه يُصَلِّي وَهُوَ جنب فَإِنَّهُ فَسَاد فِي دينه ونقصان فِي أُمُوره وتعسرها عَلَيْهِ. وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: الصَّلَاة على سَبْعَة أوجه: أَمن وسرور وَعز ومرتبة وَفرج بعد شدَّة وَحُصُول مُرَاد وَقَضَاء حَاجَة وَقَالَ أَيْضا رُؤْيا السُّجُود على خَمْسَة: حُصُول مَقْصُود ودولة وَنصر وظفر والامتثال لأمر الله تَعَالَى: {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا ارْكَعُوا واسجدوا واعبدوا ربكُم} الْآيَة وَقيل: ان الصَّلَاة على الْمَيِّت دُعَاء مستجاب وَقيل شَفَاعَة تقبل. وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: الصَّلَاة من حَيْثُ الْجُمْلَة محمودة على كل حَال فِي الدّين وَالدُّنْيَا وتدل على إِدْرَاك رياسة وبلوغ أمل ونيل الْولَايَة وَقَضَاء دين أَو أَدَاء أَمَانَة أَو قَضَاء فَرَائض الله تَعَالَى (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الظّهْر فَإِنَّهُ يكون فِي أُمُوره وسطا وَيحصل لَهُ عز بِحَسب صفاء ذَلِك الْيَوْم (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الْعَصْر فَإِنَّهُ يدل على أَنه قد مضى فِي الْأَمر الَّذِي هُوَ فِيهِ أَو طَالبه أَكْثَره وَلم يبْق مِنْهُ إِلَّا الْقَلِيل (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الْمغرب فَإِنَّهُ يقوم باصلاح مَا يلْزم

প্রত্যাশা অনুযায়ী তা হবে মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয় তাদের নির্ধারিত সময় হলো সকাল। সকাল কি অতি নিকটবর্তী নয়?" আমরা যা বলেছি তার শর্ত হলো, সে প্রতিটি সালাত তার নিজ সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করবে। যদি তাতে কোনো কমতি বা বেশি হয়, তবে তা অসম্ভব এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পরিপন্থী। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে এই সালাতগুলোর মধ্যে কোনো একটি কাজা সালাত আদায় করছে, তবে তা তার ঋণ পরিশোধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে। বলা হয়ে থাকে যে, যে ব্যক্তি দেখবে সে সালাত আদায় করেছে এবং তাতে কিছু কমতি করেছে, তবে সে সফর করবে; আর যদি মহিলা হয়, তবে সে ঋতুবতী হবে। আরও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দেখবে সে তার সালাত পূর্ণ করেনি, তার প্রয়োজনও পূর্ণ হবে না। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে অজু ছাড়া সালাত আদায় করছে, তবে সে অসুস্থ হবে। (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে এমন স্থানে সালাত আদায় করছে যেখানে সালাত বৈধ নয়, তবে তা তার দ্বীনের মধ্যে বিচ্যুতি নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে: যে ব্যক্তি দেখবে ইমামের সাথে তার সালাত ছুটে গেছে, তবে তাও এর অনুরূপ। আর যদি সে সালাতের শেষ অংশ পায় এবং এরপর একাকী তা পূর্ণ করে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে মরুভূমিতে সালাত আদায় করছে, তবে তা দুই পন্থায় ব্যাখ্যাযোগ্য: হয় সফর নতুবা হজ। ইসমাইল ইবনে আশআস বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখবে সে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করছে, তবে তা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তার দীর্ঘায়ু লাভের লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে আত্তাহিইয়াত-এর (তাশাহহুদ) জন্য বসেছে, তবে তা কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে বাম দিকে সালাম ফিরিয়েছে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে বসে বা শুয়ে সালাত আদায় করছে, তবে তা বিভিন্ন বিষয়ে তার অক্ষমতা নির্দেশ করে; কখনো কখনো তা শারীরিক অসুস্থতা বা বার্ধক্যেরও প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাতরত অবস্থায় মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছে, তবে তাকে সন্তান দান করা হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "যখন সে তার রবকে নিভৃতে আহ্বান করেছিল।" (যে ব্যক্তি দেখবে) সে নফল সালাত আদায় করছে, তবে সে এমন নেক আমল করবে যার মাধ্যমে সে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে। আর যদি নফলটি রাতের নফল (তাহাজ্জুদ) হয়, তবে তা নির্দেশ করে যে তাকে প্রশংসনীয় কিছু দান করা হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো, যা তোমার জন্য অতিরিক্ত (নফল) ইবাদত।" কখনো কখনো এর অর্থ হতে পারে বিচ্ছিন্ন মতাদর্শের একদল মানুষের হৃদয়ে সম্প্রীতি স্থাপন করা। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো দুশ্চিন্তা ও শোক দূর হওয়া। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সারা রাত সালাত আদায় করছে, তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতে প্রচুর পরিমাণে কল্যাণ লাভের নিদর্শন। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে কাবার উপরে সালাত আদায় করছে, তবে তা শরিয়ত বিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার আলামত। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে তিন মসজিদের কোনো একটিতে সালাত আদায় করেছে, তবে তার জন্য সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং তা তার আমল কবুল হওয়ার দলিল। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে কোনো জামে মসজিদ বা মাদরাসা বা এই জাতীয় স্থানে সালাত আদায় করছে, তবে তা কল্যাণের আধিক্য নির্দেশ করে। বলা হয়ে থাকে, সম্মানিত স্থানসমূহে সালাত হলো নিরাপত্তা, সংশোধন ও রহমত। আবার বলা হয়েছে, জুমার সালাতের স্বপ্ন দেখা সফর ও হালাল রিজিকের প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে গির্জা বা এই জাতীয় কোনো স্থানে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সালাত আদায় করছে, তবে তার প্রভাব কোনো জিম্মির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সে তাকে পরাজিত করবে। (জাহিজ আল-মুয়াইর বলেন) সালাত তিন প্রকার: ফরজ, সুন্নাত ও নফল। ফরজ সালাত হজ পালন এবং অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ করে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।" আর সুন্নাত পবিত্রতা, অপছন্দনীয় বিষয়ে ধৈর্য ধারণ, সুখ্যাতি এবং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়ার নিদর্শন। আর নফল সালাত পরিবারের প্রতি বদান্যতা এবং বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি সম্পাদন এবং সবার সাথে সৌজন্য প্রদর্শনের নির্দেশ করে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে পশুর ওপর আরোহণ করে সালাত আদায় করছে, তবে তা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রয়েছে কিন্তু রুকু করছে না, যদি সে সম্পদশালী হয় তবে সে জাকাত প্রদান থেকে বিরত রয়েছে, অতএব সে যেন আল্লাহকে ভয় করে; অন্যথায় সে এমন কোনো কাজে লিপ্ত রয়েছে যার কোনো ফলাফল নেই, তবে তার সংশোধনের আশা করা যায়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে রুকু করেছে এবং তাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছে কিন্তু সিজদা করছে না, তবে সে তওবা থেকে দূরে রয়েছে এবং সম্ভবত তার আয়ু স্বল্প, তাই সে যেন দ্রুত তওবা করে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাত কসর করছে, তবে সে সফর করবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য সালাত কসর করায় কোনো গুনাহ নেই।" (যে ব্যক্তি দেখবে) সে সালাতের মধ্যে হাসছে, তবে সে অত্যন্ত ক্রীড়াকৌতুকপ্রিয়, তাই সে যেন আল্লাহর কাছে তওবা করে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে মদ্যপ অবস্থায় সালাত আদায় করছে, তবে সে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছো তা বুঝতে পারো।" {যে ব্যক্তি দেখবে} সে অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করছে, তবে তা তার দ্বীনের বিপর্যয় এবং তার কার্যাদির অপূর্ণতা ও জটিলতার লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সালাত সাতটি দিক নির্দেশ করে: নিরাপত্তা, আনন্দ, সম্মান, উচ্চ মর্যাদা, কষ্টের পর মুক্তি, উদ্দেশ্য হাসিল এবং প্রয়োজন পূরণ। তিনি আরও বলেন, সিজদার স্বপ্ন পাঁচটি বিষয়ের প্রতীক: উদ্দেশ্য লাভ, রাজত্ব বা ঐশ্বর্য, সাহায্য, বিজয় এবং আল্লাহর আদেশের আনুগত্য; যেমন আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা রুকু করো, সিজদা করো এবং তোমাদের রবের ইবাদত করো..."। বলা হয়ে থাকে: জানাজার সালাত কবুল হওয়া দোয়া, আবার বলা হয়েছে এটি গ্রহণযোগ্য সুপারিশ। আবু সাঈদ আল-ওয়াইজ বলেন: সাধারণভাবে সালাত দ্বীন ও দুনিয়ার সকল ক্ষেত্রেই প্রশংসনীয় এবং এটি নেতৃত্ব লাভ, আশা পূরণ, অভিভাবকত্ব প্রাপ্তি, ঋণ পরিশোধ, আমানত রক্ষা অথবা আল্লাহর ফরজসমূহ আদায়ের প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে জোহরের সালাত আদায় করছে, তবে সে তার কাজকর্মে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং সেদিনের নির্মলতা অনুযায়ী সে সম্মান লাভ করবে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে আসরের সালাত আদায় করছে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে যে কার্যে লিপ্ত বা যা অন্বেষণ করছে তার অধিকাংশ অতিবাহিত হয়েছে এবং সামান্যই অবশিষ্ট আছে। (যে ব্যক্তি দেখবে) সে মাগরিবের সালাত আদায় করছে, তবে সে তার প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি সংশোধনে মনোনিবেশ করবে।

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৩)
من أَمر عِيَاله (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الْعشَاء فَإِنَّهُ يُعَامل عِيَاله بِمَا يفرح بِهِ قُلُوبهم (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي الصُّبْح فَإِنَّهُ يَبْتَدِئ أمرا يحصل مِنْهُ صَلَاح سَبَب معاشه (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي قَاعِدا من غير عذر فَإِن عمله نَاقص (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي رَاكِبًا فَإِنَّهُ يُصِيبهُ خوف شَدِيد وتعب (وَمن رأى) ملكا يُصَلِّي بقَوْمه ورعيته وَهُوَ رَاكب وهم كَذَلِك فَإِن كَانُوا فِي حَرْب يؤول بالظفر وَالتَّوْبَة وَطول الْحَيَاة وَحُصُول النجَاة وَتَحْصِيل المَال (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي على جِدَار وَنَحْو ذَلِك فَإِنَّهُ يخضع لبَعض الرؤساء. (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي قَائِما وَالنَّاس يصلونَ خَلفه قَاعِدين فَإِنَّهُ يَلِي أَمر لَا ينقاد إِلَيْهِ من ينْسب لذَلِك الامر (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي قَاعِدا وَالنَّاس يصلونَ خَلفه قيَاما فتعبيره ضد مَا تقدم (وَمن رأى) أَنه يؤم رجَالًا وَنسَاء فَإِنَّهُ يكون وَاسِطَة خير فِي الاصلاح بَين النَّاس وَإِن كَانَ أَهلا للْقَضَاء فَإِنَّهُ يَتَوَلَّاهُ (وَمن رأى) أَنه يُصَلِّي بِالنَّاسِ نَافِلَة دخل فِي ضَمَان لَا يضرّهُ وَقيل من رأى أَنه صَار إِمَامًا فَإِنَّهُ يَرث مِيرَاثا لقَوْله تَعَالَى: {ونجعلهم أَئِمَّة ونجعلهم الْوَارِثين} .

7 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْقِرَاءَة)

(وَمن رأى) أَنه يقْرَأ شَيْئا من الْقُرْآن وَلَا يعرف مَا قَرَأَهُ أَو نَسيَه فَإِن كَانَ مَرِيضا شفَاه الله تَعَالَى وَإِن كَانَ مهموما فرج الله همه وَإِن كَانَ عِنْده قلق زَالَ لقَوْله تَعَالَى: {وشفاء لما فِي الصُّدُور} وَقيل: من رأى أَنه يقْرَأ الْقُرْآن فَإِنَّهُ يتَكَلَّم بِالْحَقِّ وَقَالَ ابْن سِيرِين: يكون حَاكما ان كَانَ لائقا بِهِ (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ آيَة الرَّحْمَة فَإِنَّهُ حُصُول خير وَإِن كَانَت آيَة عَذَاب فضد ذَلِك (وَمن رأى) أَنه قَرَأَ الْقُرْآن وَأتم قِرَاءَته فَإِنَّهُ يَنْقَضِي أَجله على خير وَإِن قَرَأَ نصفه يكون مضى نصف عمره (وَمن رأى) أَنه حَافظ وَكَانَ كَذَلِك يدل على زِيَادَة الْخَيْر وَإِن لم يكن حَافِظًا فَلَا بَأْس بِهِ (وَمن رأى) أَن أحدا يقْرَأ وَهُوَ يسمعهُ فَهُوَ يتبع الْقُرْآن (وَإِن رأى) ذَلِك وَلم يفهم مَا يَقُوله فضد ذَلِك. وَقَالَ جَابر المغربي: (وَمن رأى) أَنه ختم الْقُرْآن يحصل لَهُ بُلُوغ مَقْصُود وَإِن كَانَت الْقِرَاءَة صَحِيحَة فَهُوَ حُصُول مَال وَإِن كَانَ صَوته حسنا فَهُوَ على منزلَة وارتقاء دَرَجَة وَقد يعبر المعبرون الْآيَة على مَعْنَاهَا وَمَا تدل عَلَيْهِ (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ بمَكَان لَا تجوز الْقِرَاءَة فِيهِ يدل على ان فِي دينه خللا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق رضي الله عنه: تدل على أَرْبَعَة أوجه: السَّلَام والغنى وبلوغ الْمَقَاصِد وَحجَّة لقَوْله عليه السلام: الْقُرْآن حجَّة لَك أَو عَلَيْك. (سُورَة الْفَاتِحَة) من رأى أَنه يَقْرَأها تدل على تسهيل الْأُمُور الصعاب وَحُصُول سَعَة وَخير وَقَالَ الْكرْمَانِي: يقبل الله طَاعَته ويؤمنه مِمَّا يخَاف وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يوفقه الله تَعَالَى لطاعته وَيكون حَرِيصًا على الدُّعَاء وَالِاسْتِغْفَار وَيخْتم لَهُ بِالْخَيرِ وَقيل: من رأى أَنه يقْرَأ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم خَاصَّة فَإِنَّهُ يسْأَل الله الْبركَة فِي مَاله وَزِيَادَة فِي رزقه وَرُبمَا بِجَانِب دعاؤه ببركتها وَقيل: من رأى أَنه يقْرَأ الْفَاتِحَة فَإِنَّهُ يحجّ أَو يَدْعُو بِدُعَاء فيستجاب لَهُ سُورَة الْبَقَرَة قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه قراها فَإِنَّهُ يدل على طول عمره لِأَنَّهَا اطول السُّور وَيكون صَابِرًا على الْبلَاء وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون فِي أَمَان من أعدائه وتنتظم أُمُوره وَقيل حُصُول مِيرَاث وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون دينه وَقَوله صَحِيحا (آيَة الْكُرْسِيّ) : قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا على الِانْفِرَاد خَاصَّة يكون آمنا من الْآفَات وَيحصل مُرَاده وَقَالَ الْكرْمَانِي: إِن كَانَ مَرِيضا شفَاه الله وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ قدر وجاه وَحُرْمَة. (سُورَة آل عمرَان) : قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون محبوبا عِنْد النَّاس بَرِيئًا من الافعال السَّيئَة وَقَالَ الْكرْمَانِي يخْتم بِالْخَيرِ لَهُ وَقيل: يكون مُرَاد قَارِئهَا حُصُول ولد صَالح وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون دينه وَقَوله صَحِيحا قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَ شهد الله الْآيَة خَاصَّة يكون قد وفى حُقُوق الله اللَّازِمَة ويخلص من دَار الدُّنْيَا على جميل وَقَالَ الْكرْمَانِي: ان كَانَ عِنْده امانة يُؤَدِّيهَا إِلَى صَاحبهَا وَيكون عَزِيزًا عِنْد النَّاس وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَيكون فريداً فِي دينه وَقَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَ: {قل اللَّهُمَّ مَالك الْملك} الْآيَة خَاصَّة يحصل لَهُ من الْمُلُوك مرتبَة وَعز وجاه وَقَالَ الْكرْمَانِي: يحصل لَهُ مُرَاده (سُورَة النِّسَاء) قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه يقْرؤهَا يحصل لَهُ مِيرَاث وتكثر أقرباؤه وَعِيَاله وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون طَوِيل الْعُمر وَتحصل لَهُ الْخيرَات وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون عفيفا (سُورَة الْمَائِدَة) : قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه يقْرؤهَا يكون عَزِيزًا مكرما فِي قومه وَقَالَ الْكرْمَانِي: يحصل
যে ব্যক্তি দেখে যে সে এশার সালাত আদায় করছে, তবে সে তার পরিবারের সাথে এমন আচরণ করবে যা তাদের অন্তরকে আনন্দিত করে। (আর যে দেখে) সে ফজরের সালাত আদায় করছে, তবে সে এমন একটি কাজ শুরু করবে যার মাধ্যমে তার জীবিকার সংস্থান ও কল্যাণ সাধিত হবে। (আর যে দেখে) সে কোনো ওজর ছাড়াই বসে সালাত আদায় করছে, তবে তার আমল ত্রুটিপূর্ণ। (আর যে দেখে) সে আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করছে, তবে সে তীব্র ভয় ও ক্লান্তি অনুভব করবে। (আর যে দেখে) কোনো বাদশাহ তার কওম ও প্রজাদের নিয়ে সালাত আদায় করছেন এমতাবস্থায় যে তিনি আরোহী এবং তারাও আরোহী, এমতাবস্থায় যদি তারা যুদ্ধে লিপ্ত থাকে, তবে এর অর্থ হলো বিজয়, তওবা, দীর্ঘ জীবন, মুক্তি লাভ এবং সম্পদ অর্জন। (আর যে দেখে) সে দেয়ালের ওপর বা এজাতীয় কিছুর ওপর সালাত আদায় করছে, তবে সে কোনো নেতার প্রতি অনুগত হবে। (আর যে দেখে) সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে এবং মানুষ তার পেছনে বসে সালাত আদায় করছে, তবে সে এমন কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার অনুগত হবে না। (আর যে দেখে) সে বসে সালাত আদায় করছে এবং মানুষ তার পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে, তবে এর ব্যাখ্যা পূর্বেরটির বিপরীত। (আর যে দেখে) সে নারী ও পুরুষদের ইমামতি করছে, তবে সে মানুষের মাঝে বিবাদ মীমাংসায় কল্যাণের মাধ্যম হবে; আর যদি সে বিচারক হওয়ার যোগ্য হয়, তবে সে তা প্রাপ্ত হবে। (আর যে দেখে) সে মানুষের ইমাম হয়ে নফল সালাত আদায় করছে, তবে সে এমন এক জিম্মাদারিতে প্রবেশ করবে যা তার কোনো ক্ষতি করবে না। আর বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দেখে সে ইমাম হয়েছে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি চেয়েছিলাম তাদের নেতা বানাতে এবং তাদের উত্তরাধিকারী করতে।"

৭ - ‌‌(কুরআন তিলাওয়াত দেখার পরিচ্ছেদ)

(আর যে দেখে) সে কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করছে কিন্তু কী পড়ছে তা বুঝতে পারছে না অথবা তা ভুলে গেছে, তবে সে অসুস্থ হলে আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করবেন, চিন্তিত হলে আল্লাহ তার চিন্তা দূর করবেন এবং উদ্বিগ্ন থাকলে তা দূর হয়ে যাবে। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং যা অন্তরে আছে তার জন্য নিরাময়।" বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে সে কুরআন তিলাওয়াত করছে, তবে সে সত্য কথা বলবে। ইবনে সিরিন রহ. বলেছেন: সে যদি যোগ্য হয় তবে সে বিচারক হবে। (আর যে দেখে) সে রহমতের আয়াত পাঠ করছে, তবে তা কল্যাণ লাভের লক্ষণ; আর যদি তা আজাবের আয়াত হয়, তবে তার বিপরীত। (আর যে দেখে) সে কুরআন পাঠ করেছে এবং তিলাওয়াত সম্পন্ন করেছে, তবে তার শেষ সময় কল্যাণের সাথে অতিবাহিত হবে। আর যদি অর্ধেক পাঠ করে, তবে তার অর্ধেক জীবন অতিক্রান্ত হয়েছে। (আর যে দেখে) সে হাফেজ এবং বাস্তবেও সে হাফেজ, তবে তা কল্যাণ বৃদ্ধির প্রমাণ। আর যদি হাফেজ না হয়, তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। (আর যে দেখে) কেউ তিলাওয়াত করছে এবং সে তা শুনছে, তবে সে কুরআন অনুসরণকারী। (আর যদি দেখে) সে তা শুনছে কিন্তু যা বলা হচ্ছে তা বুঝতে পারছে না, তবে বিষয়টি এর বিপরীত। জাবির আল-মাগরিবী রহ. বলেন: (আর যে দেখে) সে কুরআন খতম করেছে, তার উদ্দেশ্য সফল হবে। যদি তিলাওয়াত সঠিক হয়, তবে তা সম্পদ লাভের ইঙ্গিত। যদি তার কণ্ঠস্বর সুন্দর হয়, তবে তা উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান লাভের লক্ষণ। কখনো কখনো ব্যাখ্যাকারগণ আয়াতের অর্থ ও যা নির্দেশ করে তার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। (আর যে দেখে) সে এমন স্থানে তিলাওয়াত করছে যেখানে তিলাওয়াত করা বৈধ নয়, তবে তা তার দ্বীনের ত্রুটির পরিচায়ক। জাফর আস-সাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এর ব্যাখ্যা চারটি দিক নির্দেশ করে: শান্তি, সচ্ছলতা, উদ্দেশ্য সফল হওয়া এবং দলিল হওয়া। কারণ নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন: "কুরআন তোমার পক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে দলিল।" (সূরা আল-ফাতিহা): যে ব্যক্তি দেখে সে এটি পাঠ করছে, তবে তা কঠিন কাজ সহজ হওয়া এবং সচ্ছলতা ও কল্যাণ লাভের প্রমাণ। কিরমানী রহ. বলেন: আল্লাহ তার ইবাদত কবুল করবেন এবং সে যা থেকে ভয় পায় তা থেকে তাকে নিরাপত্তা দেবেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দেবেন, সে দোয়া ও ইস্তিগফারের প্রতি আগ্রহী হবে এবং তার শেষ পরিণাম ভালো হবে। কেউ কেউ বলেছেন: যে দেখে সে বিশেষভাবে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করছে, তবে সে আল্লাহর কাছে তার সম্পদে বরকত ও রিজিক বৃদ্ধির আবেদন করবে এবং সম্ভবত এই বরকতে তার দোয়া কবুল হবে। কেউ কেউ বলেছেন: যে সূরা ফাতিহা পাঠ করার স্বপ্ন দেখে, সে হজ করবে অথবা কোনো দোয়া করবে যা কবুল হবে। সূরা আল-বাকারা: ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে ব্যক্তি দেখে সে এটি পাঠ করছে, তবে তা তার দীর্ঘায়ুর লক্ষণ, কারণ এটি দীর্ঘতম সূরা; এবং সে বিপদে ধৈর্যশীল হবে। কিরমানী রহ. বলেন: সে তার শত্রুদের থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার কার্যাবলি সুশৃঙ্খল হবে। কেউ কেউ বলেছেন এটি উত্তরাধিকার লাভের লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার দ্বীন ও কথা সঠিক হবে। (আয়াতুল কুরসি): ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে ব্যক্তি বিশেষভাবে শুধুমাত্র এটি পাঠ করে, সে বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার উদ্দেশ্য পূরণ হবে। কিরমানী রহ. বলেন: সে অসুস্থ থাকলে আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করবেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে মর্যাদা, প্রতিপত্তি ও সম্মান লাভ করবে। (সূরা আলে ইমরান): ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে এটি পাঠ করে সে মানুষের কাছে প্রিয় হবে এবং মন্দ কাজ থেকে মুক্ত থাকবে। কিরমানী রহ. বলেন: তার শেষ পরিণাম ভালো হবে। কেউ কেউ বলেছেন: এর পাঠকারীর উদ্দেশ্য হলো নেক সন্তান লাভ করা। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার দ্বীন ও কথা সঠিক হবে। ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে ব্যক্তি বিশেষভাবে 'শাহিদাল্লাহু' আয়াতটি পাঠ করে, সে আল্লাহর ওপর অর্পিত আবশ্যিক হকসমূহ আদায় করবে এবং দুনিয়া থেকে সুন্দরভাবে বিদায় নেবে। কিরমানী রহ. বলেন: তার কাছে যদি কোনো আমানত থাকে তবে সে তা তার মালিকের কাছে ফেরত দেবে এবং সে মানুষের কাছে সম্মানিত হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করবে এবং তার দ্বীনের ক্ষেত্রে অনন্য হবে। ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে ব্যক্তি বিশেষভাবে 'কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলক' আয়াতটি পাঠ করে, সে বাদশাহদের কাছ থেকে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান লাভ করবে। কিরমানী রহ. বলেন: তার উদ্দেশ্য সফল হবে। (সূরা আন-নিসা): ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে ব্যক্তি দেখে সে এটি পাঠ করছে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং তার আত্মীয়স্বজন ও পরিবার বৃদ্ধি পাবে। কিরমানী রহ. বলেন: সে দীর্ঘায়ু হবে এবং প্রভূত কল্যাণ লাভ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হবে। (সূরা আল-মায়িদাহ): ইবনে সিরিন রহ. বলেন: যে ব্যক্তি দেখে সে এটি পাঠ করছে, সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে। কিরমানী রহ. বলেন: লাভ করবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৪)
لَهُ مَال ونعمة وخيرات وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون فريدا فِي دينه وَيحصل لَهُ المُرَاد (سُورَة الْأَنْعَام) : قَالَ ابْن سِيرِين من رأى أَنه يقْرؤهَا يحصل لَهُ السَّعَادَة الدُّنْيَوِيَّة والأخروية وَقَالَ الْكرْمَانِي: بركَة وغنى من قبل الْجمال وَالْبَقر وَالْغنم وَنَحْوهَا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يوفقه الله تَعَالَى لطاعته. (سُورَة الْأَعْرَاف) قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه يقْرؤهَا يكون فِي دينه مخلصا وَتَكون عاقبته محمودة وَقَالَ الْكرْمَانِي: رُبمَا يزور طور سيناء وَقيل شماتة عَدو ورؤيته على سوء حَال وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون الْخَالِق رَاضِيا عَنهُ يحفظ الْأَمَانَة (سُورَة الْأَنْفَال) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يظفر على أعدائه وَيحصل لَهُ مَال ونعمة وغنيمة وَقَالَ الْكرْمَانِي: وَيحصل لَهُ عز وجاه وعلو مرتبَة (سُورَة التَّوْبَة) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَ سُورَة التَّوْبَة لم يخرج من الدُّنْيَا حَتَّى يَتُوب الله عَلَيْهِ وَقَالَ الْكرْمَانِي: تكون عاقبته خيرا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون بَين الْخلق محبوبا مرغوبا ويسلك طَرِيق الْخيرَات (سُورَة يُونُس) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَ سُورَة يُونُس يُوسع الله عَلَيْهِ الرزق وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكف الله عَنهُ كيد الأعادي والسحرة ويقهرهم وَقيل: ان كَانَ مَحْبُوسًا أطلق وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: فَإِنَّهُ يحسن أَلْفَاظه وعبادته. (سُورَة هود) قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه يقْرؤهَا يزْدَاد مَاله من الزِّرَاعَة وغرس الكروم وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون مُقبلا فِي الاشغال وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون سالكا فِي طَرِيق الدّين (سُورَة يُوسُف) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فِي عهد شبوبيته يكون مَظْلُوما ويسافر سفرا كثيرا وَتَكون عاقبته خيرا وَقَالَ الْكرْمَانِي: ينَال شرف وعلو قدر وغنى وَعز وَفرج بعد ضيق وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون صَادِق القَوْل صَاحب امانة (سُورَة الرَّعْد) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يزْدَاد فِي قِرَاءَة الْقُرْآن إِن كَانَ من أَهله إِلَّا فَهُوَ تَسْبِيح وتهليل وَقَالَ الْكرْمَانِي: تزداد طَاعَته وَفعله الْخيرَات وَقيل: أَنه أَمن من مَخَافَة ملك وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُبمَا يقرب أَجله (سُورَة إِبْرَاهِيم) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا تدل على مُلَازمَة الْخيرَات والعبادات وَقَالَ الْكرْمَانِي: تستقيم أَحْوَاله وتحمد عاقبته وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون عِنْد الله معززا مكرما وَقيل: يكون بَرِيئًا مِمَّا يُقَال فِي حَقه. (سُورَة الْحجر) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون عِنْد الْخلق معززا مكرما وَقيل: يكون ذَا جاه ووقار وَقَالَ الْكرْمَانِي: يحصل لَهُ جَمِيع مقاصده ويعلو قدره وَقيل تحجير من الْمعاصِي وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون عِنْد الله مَقْبُولًا (سُورَة النَّحْل) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا رزق رزقا حَلَالا وَيكون محبا لأهل الدّين والديانة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يَأْمَن من الْآفَات والمصائب ويجد حَاله وَقيل صِحَة بدن وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: إِن الله تَعَالَى يرزقه علما وَإِن كَانَ مَرِيضا عافاه. (سُورَة الْإِسْرَاء) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون عِنْد الْخَالِق والخلق ذَا منزلَة وجاه عَال وَيكون مُؤمنا ذَا خشوع وخضوع وَقَالَ الْكرْمَانِي: أَنه يظفر على من يعاديه ويصل إِلَى مُرَاده وَقيل يَأْتِيهِ ولد عَاق وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون قوي الدّين والديانة صَادِق فِي القَوْل والاعتقاد (سُورَة الْكَهْف) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون آمنا فِي حَيَاته من جَمِيع الْآفَات والعاهات وَيكون فِي طَرِيق الدّين مخلصا وَقَالَ الْكرْمَانِي: يطول عمره ويرزق سَعَادَة الْآخِرَة وَقيل: يحصل لَهُ خوف من مكايد أعاديه وينجيه الله من ذَلِك وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: نِهَايَة أُمُور فِيمَا يرومه (سُورَة مَرْيَم) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا كَانَ عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة فِي حرزه وكنفه وَقَالَ الْكرْمَانِي: فَإِنَّهُ يسْلك طرق الْخيرَات وَيُؤَدِّي سنَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقيل يكذب على الرَّائِي ويفتري عَلَيْهِ وَيكون بَرِيئًا من ذَلِك وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق كَذَلِك. (سُورَة طه) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يُجَادِل الأعادي ويظفر بهم وينتصر عَلَيْهِم وَقَالَ الْكرْمَانِي: يشْتَهر اسْمه بالخيرات فِي ذَلِك الْمَكَان وَقيل غَفلَة فِي الدّين وسهو وَقيل أَمَان من الشِّفَاء لمن يكون صَالحا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون مَعْرُوفا بِالدّينِ والديانة (سُورَة الْأَنْبِيَاء) قَالَ ابْن سِيرِين: يرزقه الله علم الْأَنْبِيَاء وسيرتهم وَقَالَ الْكرْمَانِي: يحصل لَهُ إقبال الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَقيل صَلَاة وَدُعَاء وَعبادَة وَنصر على الْأَعْدَاء وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: وَيكون عَالما عَاملا وَيحصل لَهُ الْفَرح بعد التَّرَحِ والراحة بعد التَّعَب. (سُورَة الْحَج) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يصرف مَاله فِي الْحَج وَقَالَ الْكرْمَانِي: يخْتَار أفعالا مرضية فِي

তাঁর সম্পদ, নেয়ামত ও কল্যাণ লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তিনি তাঁর দ্বীনে অনন্য হবেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল হবে।

(সূরা আল-আনআম): ইবনে সিরিন বলেন, যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে এটি পাঠ করতে দেখে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য লাভ করবে। আল-কিরমানি বলেন: উট, গরু, ছাগল ও এ জাতীয় পশুর পক্ষ থেকে বরকত ও সচ্ছলতা আসবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দেবেন।

(সূরা আল-আরাফ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে এটি পাঠ করতে দেখে, সে তার দ্বীনে একনিষ্ঠ হবে এবং তার শেষ পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আল-কিরমানি বলেন: সম্ভবত সে তূর সিনাই (সিনাই পর্বত) যিয়ারত করবে। কেউ কেউ বলেন, এটি শত্রুর উপহাস এবং খারাপ অবস্থায় তাকে দেখার ইঙ্গিত। জাফর আস-সাদিক বলেন: সৃষ্টিকর্তা তার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন এবং সে আমানত রক্ষা করবে।

(সূরা আল-আনফাল): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে এবং তার সম্পদ, নেয়ামত ও গণিমত অর্জিত হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সম্মান, মর্যাদা ও উচ্চ পদমর্যাদা লাভ করবে।

(সূরা আত-তাওবাহ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি সূরা আত-তাওবাহ পাঠ করবে, আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল না করা পর্যন্ত সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে না। আল-কিরমানি বলেন: তার শেষ পরিণাম কল্যাণময় হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সৃষ্টির মাঝে প্রিয় ও আকাঙ্ক্ষিত হবে এবং কল্যাণের পথে চলবে।

(সূরা ইউনুস): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি সূরা ইউনুস পাঠ করবে, আল্লাহ তার রিযিক প্রশস্ত করে দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহ তার থেকে শত্রু ও জাদুকরদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবেন এবং তাদের পরাস্ত করবেন। কেউ কেউ বলেন: যদি সে বন্দি থাকে, তবে মুক্তি পাবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে তার কথাবার্তা ও ইবাদতকে সুন্দর করবে।

(সূরা হুদ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে এটি পাঠ করতে দেখে, কৃষি কাজ ও আঙ্গুর বাগান রোপণের মাধ্যমে তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। আল-কিরমানি বলেন: সে কর্মব্যস্ততায় অগ্রসর হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দ্বীনের পথে বিচরণকারী হবে।

(সূরা ইউসুফ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি তার যৌবনকালে এটি পাঠ করবে, সে মাজলুম (অত্যাচারিত) হবে এবং অনেক সফর করবে, আর তার শেষ পরিণাম ভালো হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সম্মান, উচ্চ মর্যাদা, সচ্ছলতা ও প্রতিপত্তি লাভ করবে এবং সংকটের পর মুক্তি পাবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সত্যবাদী ও আমানতদার হবে।

(সূরা আর-রাদ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে যদি এর যোগ্য হয় তবে তার কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি পাবে, অন্যথায় তা তাসবিহ ও তাহলিল হিসেবে গণ্য হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার আনুগত্য ও নেক কাজ বৃদ্ধি পাবে। কেউ কেউ বলেন: সে রাজার ভয়ে ভীত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সম্ভবত তার মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে।

(সূরা ইবরাহিম): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তা নেক কাজ ও ইবাদতে অবিচল থাকার প্রমাণ বহন করে। আল-কিরমানি বলেন: তার অবস্থা সুসংহত হবে এবং তার পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আল্লাহর নিকট সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে। কেউ কেউ বলেন: তার সম্পর্কে যা বলা হয় তা থেকে সে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

(সূরা আল-হিজর): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সৃষ্টির কাছে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে। কেউ কেউ বলেন: সে প্রতিপত্তি ও গাম্ভীর্যের অধিকারী হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার সকল উদ্দেশ্য সফল হবে এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। কেউ কেউ বলেন, এটি পাপাচার থেকে বাধা দানকারী। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আল্লাহর নিকট কবুলযোগ্য হবে।

(সূরা আন-নাহল): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে হালাল রিযিক লাভ করবে এবং দ্বীনদার ও ধার্মিক লোকদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আপদ-বিপদ ও মুসিবত থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার অবস্থার উন্নতি ঘটবে। কেউ কেউ বলেন, এটি শরীরের সুস্থতার লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম দান করবেন এবং যদি সে অসুস্থ থাকে তবে তাকে সুস্থতা দান করবেন।

(সূরা আল-ইসরা): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির নিকট উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী হবে এবং বিনয়ী ও নম্র মুমিন হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে তার শত্রুদের ওপর জয়ী হবে এবং তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে। কেউ কেউ বলেন, তার একটি অবাধ্য সন্তান হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দ্বীন ও ধর্ম পালনে শক্তিশালী এবং কথা ও বিশ্বাসে সত্যবাদী হবে।

(সূরা আল-kahf): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার জীবনে সকল প্রকার আপদ ও ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে এবং দ্বীনের পথে একনিষ্ঠ হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার দীর্ঘ হায়াত হবে এবং আখিরাতের সুখ নসিব হবে। কেউ কেউ বলেন: শত্রুদের ষড়যন্ত্রের কারণে তার মনে ভয়ের সঞ্চার হবে, তবে আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করবেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহ পূর্ণতা পাবে।

(সূরা মারইয়াম): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ সংরক্ষণ ও আশ্রয়ে থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: সে কল্যাণের পথে চলবে এবং নবী (সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতসমূহ পালন করবে। কেউ কেউ বলেন, স্বপ্নদ্রষ্টার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপবাদ রটানো হবে, তবে সে তা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হবে। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন।

(সূরা ত্বহা): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে শত্রুদের সাথে তর্কে লিপ্ত হবে এবং তাদের ওপর বিজয়ী ও জয়ী হবে। আল-কিরমানি বলেন: সেই স্থানে তার নাম কল্যাণের সাথে প্রসিদ্ধ হবে। কেউ কেউ বলেন, এটি দ্বীনের ব্যাপারে গাফলতি ও বিস্মৃতি। কেউ কেউ বলেন, নেককার ব্যক্তির জন্য এটি আরোগ্য ও নিরাপত্তা। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দ্বীন ও ধর্মপরায়ণতার জন্য পরিচিতি লাভ করবে।

(সূরা আল-আম্বিয়া): ইবনে সিরিন বলেন: আল্লাহ তাকে নবীদের জ্ঞান ও তাদের জীবনীর অনুসরণের তাওফিক দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: দুনিয়া ও আখিরাত তার অনুকূলে আসবে। কেউ কেউ বলেন, এটি নামাজ, দোয়া, ইবাদত এবং শত্রুদের ওপর বিজয়ের লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে একজন আমলকারী আলেম হবে এবং দুঃখের পর আনন্দ ও কষ্টের পর স্বস্তি লাভ করবে।

(সূরা আল-হজ্জ): ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে হজ্জের কাজে তার সম্পদ ব্যয় করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সন্তোষজনক কাজসমূহ বেছে নেবে...

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৫)
الدُّنْيَا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: أَنه يسْلك طَرِيق الزّهْد والورع ويجتهد فِي عبَادَة الله تَعَالَى وَفعل الْخيرَات (سُورَة الْمُؤْمِنُونَ) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يدْخل مَعَ الْمُؤمنِينَ الْجنَّة وَقَالَ الْكرْمَانِي يحصل لَهُ فضل الْعِبَادَات وعلو الدَّرَجَات والسعادة وَقيل: فوز وَصَلَاح وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون مَحْمُود السِّيرَة قوي الْأَمَانَة (سُورَة النُّور) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فانها تدل على الْعلم وَالْحكمَة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ذَا جود واحسان على خلق الله تَعَالَى وَقيل ذَا نور فِي الْهَيْئَة وَالْقلب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: ينور الله تَعَالَى بَاطِنه بِنور الْإِيمَان (سُورَة الْفرْقَان) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يفرق بَين الْحق وَالْبَاطِل وَقَالَ الْكرْمَانِي: انه يكون منصفا مَعَ خلق الله تَعَالَى وَيكون ذَا عدل وَقيل: ذَا قدره على التَّمْيِيز وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يثبت الْحق وَيبْطل الْبَاطِل (سُورَة الشُّعَرَاء) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا كَانَ فِي حفظ الله تَعَالَى وكنفه (وَقَالَ الْكرْمَانِي) : يكون منزها عَن الْكَلَام الْقَبِيح وَالْكذب والخنا وسالكا لطريق الله (قَالَ جَعْفَر الصَّادِق) : يصونه الله تَعَالَى عَن الْفَوَاحِش. (سُورَة النَّمْل) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يحصل لَهُ علو قدر ومنزلة عِنْد السُّلْطَان (وَقَالَ الْكرْمَانِي) : تساعده السَّعَادَة والدولة والاقبال فِي أُمُور دُنْيَاهُ: وَقيل يدل على الْأَمر وَالنَّهْي والفهم والحذاقة (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) : يدل على المَال وَالنعْمَة (سُورَة الْقَصَص) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فانها تدل على كنز أَو مَال يظْهر ويظفر بِهِ وَيكون ذَاكِرًا شاكرا لله تَعَالَى وَقَالَ الْكرْمَانِي: يدل على الِاجْتِهَاد وَالسَّعْي فِي ذكر الله تَعَالَى وَالشُّكْر لنعمائه وَصَلَاح الْأُمُور وَقيل حُصُول صَوَاب الرَّأْي وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يدل على وفور الْخَيْر وَكَثْرَة الرزق (سُورَة العنكبوت) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا وداوم على قرَاءَتهَا يكون فِي حفظ الله وأمانه إِلَى انْقِضَاء أَجله وَقَالَ الْكرْمَانِي: أَمَان من خوف وشفاء من كل دَاء وَقيل نجاة من أَمر مهموم بِهِ وَيسر من الله وَسَلام من شَرّ الأعادي وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: ظفر على الأعادي. (سُورَة الرّوم) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يظفر بحاجة من قبل أهل الذِّمَّة وَقَالَ الْكرْمَانِي: اجْتِهَاد فِي سَبِيل الله وَقيل تَمام أَمر يرومه أَو يكون بَينه وَبَين أحد مخاصمة فيبشر بالظفر وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق كَذَلِك (سُورَة لُقْمَان) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون عَالما حَاكما عابداً وَقَالَ الْكرْمَانِي: فَإِنَّهُ يصاحب أهل الْعلم الْحُكَمَاء وَقيل: يُؤْتى حِكْمَة ووعظا حسنا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: تستفيد النَّاس مِنْهُ من حكمه ووعظه (سُورَة السَّجْدَة) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا رُبمَا يكون كثير السُّجُود وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون قَرِيبا من الله تَعَالَى وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون عَاقِبَة أمره خيرا (سُورَة الْأَحْزَاب) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا رُبمَا يلقِي شَيْئا ضَاعَ لَاحَدَّ فَيردهُ على صَاحبه وَقَالَ الْكرْمَانِي: رُبمَا يرى نَبيا من الْأَنْبِيَاء فِي مَنَامه أَو مَا يسره تَعْبِير ذَلِك فِي الْيَقَظَة وَقيل: حُصُول ظفر واغاثة من حَيْثُ لَا يدْرِي وَلَا يكون ذَلِك فِي أمله وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: حُصُول التَّوْفِيق من الله تَعَالَى ومتابعة الْحق. (سُورَة سبأ) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فانها تدل على الزّهْد وَالْعِبَادَة والتجنب عَن مسالك الدُّنْيَا وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ملازما لطاعة الله تَعَالَى وَقيل نعْمَة زَالَت أَو شَيْء عدم يرجعان إِلَى الرَّائِي وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ سيرة الصلحاء وسلوك طَرِيق الدّين (سُورَة فاطر) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يقتبس من أَفعَال الْمَلَائِكَة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ملازما لطاعة الله تَعَالَى وعبادته وَقيل ينَال ظفرا على من يجادله وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يفتح فِي وَجهه بَاب الرزق (سُورَة يس) من قَرَأَهَا تكون عاقبته خيرا وَقَالَ الْكرْمَانِي يطول عمره وَيَرْزقهُ الله تَعَالَى الرَّحْمَة والغفران وَقيل يرزقه الله سَعَة وافرة يحْسد عَلَيْهَا وَقيل تكون محبَّة النَّبِي صلى الله عليه وسلم عِنْده مُؤَكدَة. (سُورَة الصافات) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يرْزق التَّوْفِيق وَالْهِدَايَة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون حَرِيصًا على أَمَانَة الْخلق وَيكون مَشْغُولًا بالصلاح وَقيل تَطْهِير من الدنس أَو يكون صَاحب الرُّؤْيَا خَائفًا من الله وحريصا على طَاعَته وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يرْزق ولدا صَالحا (سُورَة ص) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يدل على التَّوْبَة وَحفظ الْأَمَانَة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يدل على طلب الرَّحْمَة وَالْمَغْفِرَة من فضل الله وَقيل يَمِين صَادِق يحلفهُ وثبات عَلَيْهِ وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون وافر المَال ذكيا فِي الأشغال (سُورَة الزمر) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا غفر الله تَعَالَى ذنُوبه وَتجَاوز عَنهُ وَقَالَ الْكرْمَانِي: تكون عاقبته خيرا وَقيل اكْتِسَاب كتب كَثِيرَة وَفهم وبصيرة وَرُبمَا يتعب لأحد أَو يكون من جملَة جمَاعَة وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يَعْلُو قدره وَيُقَوِّي دينه (سُورَة غَافِر) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون مُؤمنا خَالِصا ذَا خشوع

(সুরা আল-মুমিনুন) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে মুমিনদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল-কিরমানি বলেন: তার ইবাদতের ফজিলত, উচ্চ মর্যাদা ও সৌভাগ্য লাভ হবে। বলা হয়েছে: এটি সফলতা ও সংশোধনের লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে যুহদ (দুনিয়া বিরাগ) ও তাকওয়ার পথ অবলম্বন করবে এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও নেক কাজে সচেষ্ট হবে; সে প্রশংসিত চরিত্রের অধিকারী ও আমানতদারিতে সুদৃঢ় হবে। (সুরা আন-নূর) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তা ইলম ও হিকমতের ওপর দালালত করে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দানশীল ও ইহসানকারী হবে। বলা হয়েছে: তার অবয়বে ও অন্তরে নূর পয়দা হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা ঈমানের নূর দ্বারা তার বাতেনকে আলোকিত করবেন। (সুরা আল-ফুরকান) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহর মাখলুকের সাথে ইনসাফকারী ও ন্যায়পরায়ণ হবে। বলা হয়েছে: তার পার্থক্য করার সক্ষমতা লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং বাতিলকে বিলুপ্ত করবে। (সুরা আশ-শুআরা) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে আল্লাহ তাআলার হিফাজত ও আশ্রয়ে থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: সে কটু কথা, মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র হবে এবং আল্লাহর পথের পথিক হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করবেন। (সুরা আন-নামল) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সুলতানের নিকট তার উচ্চ মর্যাদা ও মাকাম লাভ হবে। আল-কিরমানি বলেন: দুনিয়াবি কাজে সৌভাগ্য, সম্পদ ও উন্নতি তাকে সাহায্য করবে। বলা হয়েছে: এটি আদেশ, নিষেধ, বুঝ ও বিচক্ষণতার ওপর দালালত করে। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি সম্পদ ও নিআমতের ওপর দালালত করে। (সুরা আল-কাসাস) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে তা কোনো গুপ্তধন বা সম্পদ প্রকাশ পাওয়া ও তা হস্তগত হওয়ার ওপর দালালত করে, এবং সে আল্লাহ তাআলার যিকিরকারী ও শুকরগুজার হবে। আল-কিরমানি বলেন: এটি আল্লাহ তাআলার যিকিরে প্রচেষ্টা ও সাধনা, তাঁর নিআমতের শুকরিয়া এবং বিবিধ বিষয়ের সংশোধনের ওপর দালালত করে। বলা হয়েছে: সঠিক মতামতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি প্রচুর কল্যাণ ও রিযিকের প্রাচুর্যের ওপর দালালত করে। (সুরা আল-আনকাবুত) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে এবং এর তিলাওয়াত অব্যাহত রাখবে, সে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর হিফাজত ও আমানতদারিতে থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হবে। বলা হয়েছে: দুশ্চিন্তার বিষয় থেকে মুক্তি, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসানি এবং শত্রুদের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ হবে। (সুরা আর-রূম) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে জিম্মিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারবে। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা ও সাধনা করা বোঝায়। বলা হয়েছে: কাঙ্ক্ষিত কোনো বিষয় পূর্ণ হবে অথবা কারো সাথে বিবাদ থাকলে বিজয়ের সুসংবাদ লাভ হবে। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন। (সুরা লুকমান) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে আলিম, হেকিম ও ইবাদতগুজার হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আলিম ও হেকিমদের সান্নিধ্য লাভ করবে। বলা হয়েছে: তাকে হিকমত ও উত্তম নসিহত দান করা হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: মানুষ তার হিকমত ও নসিহত দ্বারা উপকৃত হবে। (সুরা আস-সajদাহ) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সম্ভবত সে অধিক সিজদাকারী হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার পরিণাম শুভ হবে। (সুরা আল-আহজাব) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সম্ভবত সে এমন কোনো হারানো বস্তু খুঁজে পাবে যার কোনো হদিস ছিল না এবং সে তা মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবে। আল-কিরমানি বলেন: সম্ভবত সে স্বপ্নে কোনো নবীকে দেখবে অথবা জাগ্রত অবস্থায় এমন কিছু দেখবে যা তাকে আনন্দিত করবে। বলা হয়েছে: ধারণাতীত উৎস থেকে বিজয় ও সাহায্য লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক লাভ এবং সত্যের অনুসরণ নসিব হবে। (সুরা সাবা) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে তা যুহদ, ইবাদত এবং দুনিয়াবি পথ পরিহারের ওপর দালালত করে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে অবিচল থাকবে। বলা হয়েছে: কোনো হারিয়ে যাওয়া নিআমত বা হারানো বস্তু স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে ফিরে আসবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: নেককারদের স্বভাব এবং দীনের পথে চলা নসিব হবে। (সুরা ফাতির) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে ফেরেশতাদের কার্যাবলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও ইবাদতে অবিচল থাকবে। বলা হয়েছে: যে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হবে তার ওপর সে বিজয় লাভ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার জন্য রিযিকের দরজা খুলে দেওয়া হবে। (সুরা ইয়াসিন) যে এটি পাঠ করবে তার পরিণাম শুভ হবে। আল-কিরমানি বলেন: তার হায়াত দীর্ঘ হবে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে রহমত ও মাগফিরাত দান করবেন। বলা হয়েছে: আল্লাহ তাকে এমন প্রাচুর্য দান করবেন যা ঈর্ষার উদ্রেক করবে। আরও বলা হয়েছে: তার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহব্বত সুদৃঢ় হবে। (সুরা আস-সাফফাত) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে তাওফিক ও হিদায়েত লাভ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে মানুষের আমানত রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট হবে এবং সংশোধনমূলক কাজে মশগুল থাকবে। বলা হয়েছে: অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া অথবা স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লাহকে ভয়কারী এবং তাঁর আনুগত্যে সচেষ্ট হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে এক নেক সন্তান লাভ করবে। (সুরা সদ) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে তা তওবা ও আমানত রক্ষার ওপর দালালত করে। আল-কিরমানি বলেন: এটি আল্লাহর অনুগ্রহে রহমত ও মাগফিরাত অন্বেষণের ওপর দালালত করে। বলা হয়েছে: এটি সত্য কসম এবং তার ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেয়। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে প্রচুর সম্পদের মালিক এবং কাজে অত্যন্ত বুদ্ধিমান হবে। (সুরা আজ-জুমার) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তাকে মার্জনা করবেন। আল-কিরমানি বলেন: তার শেষ পরিণাম শুভ হবে। বলা হয়েছে: প্রচুর কিতাব অর্জন, বুঝ ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ হবে; সম্ভবত কারো জন্য কষ্ট স্বীকার করবে অথবা কোনো একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং দীন শক্তিশালী হবে। (সুরা গাফির) ইবনে সিরিন বলেন: যে এটি পাঠ করবে সে বিনয়ী ও খাঁটি মুমিন হবে।

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৬)
وخضوع وَقَالَ الْكرْمَانِي: تكون سيرته حسنه وسلوكه فِي طَرِيق الدّين مُسْتَقِيمًا وَقيل بِشَارَة بالمغفرة وَنَجَاة من المهالك أَو يعْفُو عَن مذنب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ من الله عز وجل رَحْمَة ومغفرة. (سُورَة فصلت) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يتَقرَّب إِلَى الله بِالطَّاعَةِ وَيكون من جملَة خَواص عباده وَقيل يعْمل عملا صَالحا فِي سره وعلانيته وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون دينا ويسلك طَرِيق الصّلاح وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق كَذَلِك. (سُورَة الشورى) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا ينجو يَوْم الْقِيَامَة من عَذَاب النَّار وَقَالَ الْكرْمَانِي: يسهل الله عَلَيْهِ الْحساب يَوْم الْقِيَامَة وَقيل: إِن كَانَ مَرِيضا عافاه الله تَعَالَى وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يعِيش زَمَانا طَويلا (سُورَة الزخرف) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون مواظباً على الصَّلَاة مداوما للصَّوْم وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ذَا خوف وخشوع وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون صَادِق القَوْل ذَا فعال جميلَة (سُورَة الدُّخان) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون عابداً قَائِم اللَّيْل وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون صَادِق القَوْل وَقيل: يضعف عَن طلب الدُّنْيَا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ الْغنى ووفور الرزق (سُورَة الجاثية) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يَتُوب وَيرجع إِلَى الله وَقَالَ الْكرْمَانِي: يتَجَنَّب عَن الدُّنْيَا ويندم على سالف ذنُوبه وَقيل بُلُوغ سَعَادَة وَنَجَاة من سوء الْحساب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يدل على ذكر وتوبة. (سُورَة الْأَحْقَاف) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون مُطيعًا لأمر وَالِديهِ وَقَالَ الْكرْمَانِي: محسناً خُصُوصا فِي حق وَالِديهِ وَقيل: حُصُول خوف من غرق وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا اشياء عَجِيبَة (سُورَة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يظفر بالأعداء وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون فِي حفظ الله تَعَالَى وأمانه وَقيل: علو وَشرف وَذكر جميل وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون مَحْمُود الْخِصَال وَحسن الفعال (سُورَة الْفَتْح) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِن الله عز وجل ينصره وَيفتح لَهُ أَبْوَاب الْخيرَات وَقَالَ الْكرْمَانِي: يغْفر الله تَعَالَى ذنُوبه ويتجاوز عَنهُ وَقيل يُسْتَجَاب دعاؤه وينال مأموله وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يوفقه الله للْجِهَاد (سُورَة الحجرات) قَالَ ابْن سِيرِين من قَرَأَهَا يزدري بِالنَّاسِ ويستعيبهم وَقَالَ الْكرْمَانِي: بِقصد ضَرَر النَّاس وَقيل: إِن كَانَ من أهل الصّلاح فَإِنَّهُ يتَنَبَّه لأوامر الله وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون طَالبا صلَة الرَّحِم وراجيا محبَّة النَّاس. (سُورَة ق) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا يكون مَشْغُولًا بِالطَّاعَةِ وَالْعِبَادَة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ذَا جود واحسان على الْخلق وَقيل: يَمِين يحلف عَلَيْهِ صَادِقا فِيهِ وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يُوسع الله عَلَيْهِ الْخَيْر وَيُعْطِيه من نعمه (سُورَة الذاريات) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِن الله يوفقه للصلاح وَقَالَ الْكرْمَانِي: تهون أُمُوره الصعاب وَقيل يتَزَوَّج وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: حُصُول رزق من زراعة (سُورَة الطّور) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِن الله ينصره على الْأَعْدَاء وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون معينا للحق مجتنبا للباطل وَقيل: ان كَانَ لَهُ غَائِب يَأْتِي وَرُبمَا يغلط بِكَلَام ثمَّ يرجع إِلَى الصَّوَاب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يجاور بِمَكَّة شرفها الله تَعَالَى (سُورَة النَّجْم) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِن الله يفتح لَهُ أَبْوَاب الْخَيْر وَالرَّحْمَة فِي وَجهه وَقَالَ الْكرْمَانِي: يظفر بالأعادي ويقهرهم وَقيل: يرزقه الله تَعَالَى ولدا حسنا صَالحا محبوبا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق كَذَلِك. (سُورَة الْقَمَر) من قَرَأَهَا يظفر بالأعادي عَاجلا وَيكون منصورا وَقَالَ الْكرْمَانِي: يدل على تسهيل الْأُمُور الصعاب وَقيل رُجُوع من شكّ وريب إِلَى الصّلاح وَالصَّوَاب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون مسحوراً وَلم يضرّهُ ذَلِك (سُورَة الرَّحْمَن) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يدل على التجنب عَن قَول الْكَذِب والمحال وَقَالَ الْكرْمَانِي: إِنَّه يخْتَار السِّيرَة الْحَسَنَة وسلوك طَرِيق الدّين وَقيل: يحفظ الْقُرْآن ويتفقه فِي الدّين أَو يتَعَلَّم شَيْئا يحْتَاج النَّاس إِلَيْهِ بِسَبَبِهِ وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: نعْمَة فِي الدُّنْيَا وَرَحْمَة فِي الْآخِرَة (سُورَة الْوَاقِعَة) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يَتُوب فِي آخر عمره من جَمِيع الذُّنُوب وَقَالَ الْكرْمَانِي: يحصل لَهُ توفيق فِي الْعِبَادَة وَقيل: أَمن من شَرّ يَوْم الْقِيَامَة وَسُمْعَة وغنى وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: حُصُول التَّوْفِيق والطاعات والعبادات. (سُورَة الْحَدِيد) من قَرَأَهَا يدل على حُصُول الرزق بتعب ومشقة وَقَالَ الْكرْمَانِي: انه يخْتَار طَرِيق الْآخِرَة ومرضاة الله تَعَالَى وَقيل: يكون شَدِيد الْبَأْس قوي الْعَزْم والحزم وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون مَحْمُود الْخِصَال سالكا طَرِيق الدّين (سُورَة المجادلة) من قَرَأَهَا يحصل لَهُ جِدَال وخصومة مَعَ النِّسَاء وَقَالَ الْكرْمَانِي: يُجَادِل مَعَ كل أحد من طَرِيق
এবং বিনয়। আল-কিরমানি বলেন: তার স্বভাব সুন্দর হবে এবং দ্বীনের পথে তার পথচলা হবে সুদৃঢ়। বলা হয়েছে, এটি ক্ষমা এবং ধ্বংস থেকে মুক্তির সুসংবাদ অথবা সে কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার প্রতি রহমত ও মাগফিরাত অর্জিত হবে। (সূরা ফুসসিলাত) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে এবং তাঁর বিশেষ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। বলা হয়েছে, সে গোপনে ও প্রকাশ্যে সৎ কাজ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে দ্বীনদার হবে এবং সততার পথ অবলম্বন করবে। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন। (সূরা আশ-শূরা) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পাবে। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার হিসাব সহজ করে দেবেন। বলা হয়েছে: সে যদি অসুস্থ থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থতা দান করবেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে দীর্ঘকাল জীবিত থাকবে। (সূরা আয-যুখরুফ) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে সালাতের প্রতি যত্নবান এবং নিয়মিত রোজা পালনকারী হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে ভয় ও বিনয় সম্পন্ন হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সত্যবাদী ও সুন্দর কর্মের অধিকারী হবে। (সূরা আদ-দুখান) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে ইবাদতকারী ও রাত্রি জাগরণকারী হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সত্যবাদী হবে। বলা হয়েছে: দুনিয়া অন্বেষণে তার আগ্রহ কমে যাবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সচ্ছলতা ও প্রচুর রিযিক লাভ করবে। (সূরা আল-জাছিয়াহ) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে তওবা করবে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। আল-কিরমানি বলেন: সে দুনিয়া থেকে বিমুখ হবে এবং তার অতীতের গুনাহের জন্য লজ্জিত হবে। বলা হয়েছে, এটি সৌভাগ্য লাভ এবং কঠিন হিসাব থেকে মুক্তির লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি জিকির ও তওবার ইঙ্গিত দেয়। (সূরা আল-আহকাফ) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে তার পিতা-মাতার আদেশের অনুগত হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে পরোপকারী হবে, বিশেষ করে পিতা-মাতার প্রতি। বলা হয়েছে: ডুবে যাওয়ার ভয় তৈরি হতে পারে। জাফর আস-সাদিক বলেন: বিস্ময়কর সব জিনিস প্রত্যক্ষ করবে। (সূরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহ তাআলার হিফাজত ও নিরাপত্তায় থাকবে। বলা হয়েছে: উচ্চ মর্যাদা, সম্মান এবং সুখ্যাতি লাভ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে প্রশংসনীয় স্বভাব ও সুন্দর কর্মের অধিকারী হবে। (সূরা আল-ফাতহ) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য করবেন এবং তার জন্য কল্যাণের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং তাকে মার্জনা করবেন। বলা হয়েছে: তার দোয়া কবুল হবে এবং সে তার আশা পূরণ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাকে জিহাদের তাওফিক দান করবেন। (সূরা আল-হুজুরাত) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করবে এবং তাদের খুঁত ধরবে। আল-কিরমানি বলেন: সে মানুষের ক্ষতি করার ইচ্ছা পোষণ করবে। বলা হয়েছে: যদি সে নেককার হয়, তবে সে আল্লাহর আদেশের প্রতি মনোযোগী হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার আশা রাখবে। (সূরা ক্বাফ) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে আনুগত্য ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সৃষ্টির প্রতি দানশীল ও ইহসানকারী হবে। বলা হয়েছে: সে কোনো কসম বা শপথ করলে তাতে সত্যবাদী হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তার কল্যাণ প্রশস্ত করবেন এবং তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহ দান করবেন। (সূরা আয-যারিয়াত) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাকে কল্যাণের তাওফিক দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: তার কঠিন কাজগুলো সহজ হবে। বলা হয়েছে: সে বিবাহ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: কৃষি কাজ থেকে রিযিক লাভ হবে। (সূরা আত-তূর) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাকে শত্রুদের ওপর বিজয় দান করবেন। আল-কিরমানি বলেন: সে সত্যের সাহায্যকারী এবং বাতিল বর্জনকারী হবে। বলা হয়েছে: তার কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি থাকলে সে ফিরে আসবে এবং কখনও কখনও সে কথায় ভুল করতে পারে কিন্তু পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে মক্কায় অবস্থান করবে, আল্লাহ তাআলা শহরটিকে সম্মানিত করুন। (সূরা আন-নাজম) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ ও রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করবেন। আল-কিরমানি বলেন: সে শত্রুদের ওপর জয়ী হবে এবং তাদের পরাস্ত করবে। বলা হয়েছে: আল্লাহ তাকে একজন সুন্দর, সৎ ও প্রিয় সন্তান দান করবেন। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন। (সূরা আল-কামার) যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে দ্রুত শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবে এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আল-কিরমানি বলেন: এটি কঠিন বিষয়গুলো সহজ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বলা হয়েছে: সন্দেহ ও সংশয় থেকে সত্য ও সঠিক পথে ফিরে আসবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে জাদুগ্রস্ত হবে, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সূরা আর-রহমান) যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, তা মিথ্যা ও অসম্ভব কথা থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দেয়। আল-কিরমানি বলেন: সে উত্তম জীবন এবং দ্বীনের পথে চলা বেছে নেবে। বলা হয়েছে: সে কুরআন হিফজ করবে এবং দ্বীনের পাণ্ডিত্য অর্জন করবে অথবা এমন কিছু শিখবে যার প্রয়োজনীয়তা হেতু মানুষ তার মুখাপেক্ষী হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: দুনিয়াতে নেয়ামত এবং আখেরাতে রহমত লাভ হবে। (সূরা আল-ওয়াকিআহ) যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে তার শেষ বয়সে সমস্ত গুনাহ থেকে তওবা করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে ইবাদতে তাওফিক লাভ করবে। বলা হয়েছে: কিয়ামতের দিনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা, সুখ্যাতি ও সচ্ছলতা লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: তাওফিক, আনুগত্য ও ইবাদত অর্জিত হবে। (সূরা আল-হাদিদ) যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, তা কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে রিযিক অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। আল-কিরমানি বলেন: সে আখেরাতের পথ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি বেছে নেবে। বলা হয়েছে: সে অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ও বিচক্ষণ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে প্রশংসনীয় গুণের অধিকারী হবে এবং দ্বীনের পথে চলবে। (সূরা আল-মুজাদালাহ) যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, তার নারীদের সাথে ঝগড়া ও বিবাদ হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে তর্কের মাধ্যমে সবার সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৭)
الدّين وَقيل: ينجو من مجادلة سَوَاء كَانَ فِي علم أَو فِي غَيره وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يُجَادِل مَعَ الْأَهْل والأقارب وَيصْلح بالاحتجاج ويلقي بَينهم الْمحبَّة (سُورَة الْحَشْر) من قَرَأَهَا حشره الله يَوْم الْقِيَامَة مَعَ الْخُلَفَاء الصَّالِحين وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون مصاحبا لأهل الصّلاح وثابتا على ذَلِك وَقيل: خُرُوج من هم على سَعَة وَرُبمَا كَانَ مُسَافِرًا يبعد رُجُوعه وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يقهر من أعدائه. (سُورَة الممتحنة) من قَرَأَهَا يكون حَاله مُسْتَقِيمًا وَرُبمَا يمْتَحن فِي بعض أشغاله وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون مصاحبا لأهل الصّلاح وَقيل تَوْبَة وَصَلَاح وَحفظ لِسَان وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: تحصل لَهُ محبَّة وَرُبمَا يُؤَدِّي إِلَى الْهَلَاك (سُورَة الصَّفّ) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يفعل الْخيرَات ويغازي فِي سَبِيل الله وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون اجْتِهَاده فِي مرضاة الله تَعَالَى وسلوكه بطرِيق الْحق وَقيل مصافة أَقوام للحرب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون فِي آخر عمره شَهِيدا. (سُورَة الْجُمُعَة) من قَرَأَهَا يرزقه الله من علم الْأَوَّلين ويشتهر بِهِ وَقَالَ الْكرْمَانِي: يحصل لَهُ قدر وَحُرْمَة وجاه وَقيل يكون متهاونا فِي طلب رزقه وَيفتح الله عَلَيْهِ أَبْوَاب الرزق وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يرزقه الله التَّوْفِيق لفعل الْخَيْر (سُورَة المُنَافِقُونَ) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يصدر مِنْهُ النِّفَاق فِي السِّرّ وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ميله إِلَى الْمُنَافِقين وَقيل: يبلي بعدو مخادع مُنَافِق إِن كَانَ من أهل التَّقْوَى وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: إِن كَانَ مُتَّهم يبرأ من النِّفَاق وَالْمُنَافِقِينَ. (سُورَة التغابن) من قَرَأَهَا يُعْطي الصَّدقَات الوافرة وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون رؤوفا على الضُّعَفَاء وَقيل تخويف وتهديد وَإِن كَانَ تَارِكًا للفرائض فليتب إِلَى الله تَعَالَى وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يكون مُسْتَقِيمًا فِي طَرِيق الْحق وَقَول الصدْق (سُورَة الطَّلَاق) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يُخَاصم النِّسَاء من جِهَة الدّين وَقَالَ الْكرْمَانِي: انه يُرَاعِي فِي سيره الْحق وَيكون حَرِيصًا فِي ذَلِك وَقيل: شكّ بَين صَاحب الرُّؤْيَا وَزَوجته فليتفقد نَفسه من الْجَهْل وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: تدل على حَاجته مَعَ أهل بَيته وَمنع الصَدَاق. (سُورَة التَّحْرِيم) من قَرَأَهَا تدل على النِّفَاق فِي بَيته ثمَّ بعد ذَلِك يُرَاعِي الخواطر وَيتبع مرضاتهم وَقَالَ الْكرْمَانِي: يتَجَنَّب عَن الْحَرَام وَقيل يرْزق من حَيْثُ لَا يحْتَسب وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: إِنَّه يكون مجتنبا للمحرمات. (سُورَة الْملك) قَالَ ابْن سِيرِين: من قَرَأَهَا فَإِن الله ينجيه من عَذَاب الْقَبْر وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون مَحْمُود العواقب وَقيل: نجاة من عَذَاب الله عِنْد قبض روحه وبشرى وبركة وَخير وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ علو قدر وشأن (سُورَة ن) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يحب اعطاء الصَّدقَات والخيرات وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون كثير الاحسان وَالْخَيْر مَعَ كل أحد وَقيل: يكون كَاتبا حسن الْخط أَو يكون لَهُ عَادَة بِالصَّدَقَةِ وَقد منعهَا مُدَّة فليجرها على الْعَادة وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: إِن الله يرزقه الفصاحة وَالْعلم والبراعة (سُورَة الحاقة) من قَرَأَهَا فَإِنَّهَا تدل على حُصُول رزق ونعمة وافرة من الله تَعَالَى وَرُبمَا يتخوف وَقَالَ الْكرْمَانِي: يكون ناصرا ومعينا للحق وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: لم يسْلك إِلَّا طَرِيق الْحق (سُورَة المعارج) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يفعل الْخَيْر لمرضاة الله تَعَالَى وَقَالَ الْكرْمَانِي: أَنه يداوم على الصَّدقَات والفقراء وَالْمَسَاكِين وَقيل: يَدْعُو على نَفسه أَو على غَيره بِالشَّرِّ وَالثُّبُور فليتب وليرجع عَن ذَلِك (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: أَنه يَأْمَن من الْفَزع والجوع. (سُورَة نوح) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يَتُوب إِلَى الله وَتَكون عاقبته محمودة (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يفعل الْخيرَات مَعَ عباد الله تَعَالَى وَقيل يعصيه أهل بَيته وَإِن كَانَ رَسُول غَائِب فَإِنَّهُ يبطيء وَرُبمَا يعود وَلَا يقْضِي حَاجته (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: إِنَّه يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ ويقهر الأعادي (سُورَة الْجِنّ) من قَرَأَهَا يدل على الْفَزع فِي اللَّيْل (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يَأْمَن من شَرّ الْجِنّ وَقيل يرزقه الله إلهاما وفهما دَقِيقًا نَافِعًا (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق كَذَلِك (سُورَة المزمل) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يحب مواظبته على الصَّلَاة بِاللَّيْلِ (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يحيي اللَّيْل بالطاعات والعبادات وَقيل: رُبمَا يكون مُعْتَادا فِي اللَّيْل للْقِيَام بِالذكر وَقد غفل عَن ذَلِك فليواظب عَلَيْهِ (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ التَّوْفِيق للطاعة وَالْعِبَادَة (سُورَة المدثر) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يعْمل الصَّالِحَات وَلم يرض لأحد سوءا (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يكون للمعروف أقرب وَقيل: يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ وَيُنْهِي عَن الْمُنكر وَيتبع طَرِيق الرشد (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: تحسن سيرته بَين النَّاس وَيُقَوِّي رَأْيه. (سُورَة الْقِيَامَة) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يَمُوت على الشَّهَادَة وَقَالَ الْكرْمَانِي: خوف من عَذَاب الله وَقيل: يَظْلمه انسان
দ্বীন। আর বলা হয়েছে: সে বিতণ্ডা থেকে মুক্তি পাবে, তা ইলম বা অন্য বিষয়ে হোক না কেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে বিতর্ক করবে এবং যুক্তির মাধ্যমে সংশোধন করবে এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করবে। (সূরা হাশর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে নেককার খলিফাদের সাথে সমবেত করবেন। আল-কিরমানি বলেন: সে নেককারদের সঙ্গী হবে এবং তার উপর অবিচল থাকবে। আর বলা হয়েছে: দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে প্রশস্ততার দিকে ধাবিত হবে; আর সম্ভবত সে এমন এক মুসাফির হবে যার ফিরে আসা বিলম্বিত হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে তার শত্রুদের পরাভূত করবে। (সূরা মুমতাহিনাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার অবস্থা সঠিক ও সুদৃঢ় হবে এবং সম্ভবত তার কিছু কাজে তাকে পরীক্ষা করা হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে নেককারদের সঙ্গী হবে। আর বলা হয়েছে এটি তাওবা, সংশোধন ও জিহ্বা হেফাজত করার লক্ষণ। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে ভালোবাসা লাভ করবে এবং সম্ভবত তা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। (সূরা সফ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সৎকর্ম সম্পাদন করবে এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধে অংশ নেবে। আল-কিরমানি বলেন: তার প্রচেষ্টা হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং তার পথচলা হবে সত্যের পথে। আর বলা হয়েছে এটি যুদ্ধের জন্য কাতারবদ্ধ হওয়া বোঝায়। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে তার জীবনের শেষ ভাগে শহীদ হবে। (সূরা জুমুআহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে পূর্ববর্তীদের ইলম দান করবেন এবং সে এর মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে মর্যাদা, সম্মান ও প্রতিপত্তি লাভ করবে। আর বলা হয়েছে সে তার রিজিক অন্বেষণে শিথিল হতে পারে, তবে আল্লাহ তার জন্য রিজিকের দরজাগুলো খুলে দেবেন। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাকে নেক আমল করার তাওফিক দান করবেন। (সূরা মুনাফিকুন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার থেকে গোপনে মুনাফেকি প্রকাশ পাবে। আল-কিরমানি বলেন: মুনাফিকদের প্রতি তার ঝোঁক তৈরি হবে। আর বলা হয়েছে: যদি সে মুত্তাকি হয়, তবে সে একজন প্রতারক মুনাফিক শত্রুর দ্বারা পরীক্ষিত হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে যদি অভিযুক্ত হয়, তবে সে নিফাক ও মুনাফিকদের থেকে মুক্ত হবে। (সূরা তাগাবুন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে প্রচুর পরিমাণে সদকা প্রদান করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে দুর্বলদের প্রতি দয়ালু হবে। আর বলা হয়েছে এটি ভয় প্রদর্শন ও হুমকির লক্ষণ; আর যদি সে ফরজ কাজসমূহ ত্যাগকারী হয় তবে তার উচিত মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সত্যের পথে এবং সত্য কথায় অটল থাকবে। (সূরা তালাক) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে দ্বীনি কারণে নারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে তার পথচলায় সত্যের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং এ বিষয়ে যত্নশীল হবে। আর বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা ও তার স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হবে, তাই তার উচিত অজ্ঞতা থেকে নিজেকে যাচাই করা। জাফর আস-সাদিক বলেন: এটি তার পরিবারের লোকদের সাথে অভাবগ্রস্ত হওয়া এবং মোহরানা আটকে রাখার ইঙ্গিত দেয়। (সূরা তাহরীম) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তা তার ঘরে নিফাক থাকার প্রতি ইঙ্গিত দেয়, এরপর সে তাদের মন রক্ষা করে চলবে এবং তাদের সন্তুষ্টির অনুসরণ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে হারাম থেকে বেঁচে থাকবে। আর বলা হয়েছে সে এমন জায়গা থেকে রিজিক লাভ করবে যা সে কল্পনাও করেনি। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকবে। (সূরা মুলক) ইবনে সিরিন বলেন: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেবেন। আল-কিরমানি বলেন: তার পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আর বলা হয়েছে: রূহ কবজের সময় আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি, সুসংবাদ, বরকত ও কল্যাণ লাভ হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে উচ্চ মর্যাদা ও শান লাভ করবে। (সূরা নুন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সদকা ও কল্যাণমূলক কাজ করা পছন্দ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে প্রত্যেকের সাথে অধিক ইহসান ও কল্যাণ করবে। আর বলা হয়েছে: সে সুন্দর হস্তাক্ষর সম্পন্ন লেখক হবে অথবা তার সদকা করার অভ্যাস ছিল যা সে কিছুকাল বন্ধ রেখেছে, তাই তার উচিত তা পুনরায় চালু করা। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাকে বাগ্মিতা, জ্ঞান ও নৈপুণ্য দান করবেন। (সূরা হাক্কাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচুর রিজিক ও নেয়ামত লাভের ইঙ্গিত দেয় এবং সম্ভবত সে ভীত হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সত্যের সাহায্যকারী ও সহযোগী হবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে কেবল সত্যের পথেই চলবে। (সূরা মাআরিজ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কল্যাণকর কাজ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে সদকা প্রদান এবং ফকির ও মিসকিনদের সেবায় অবিচল থাকবে। আর বলা হয়েছে: সে নিজের বা অন্যের জন্য অকল্যাণ ও ধ্বংসের দোয়া করে, তাই তার উচিত তওবা করা এবং তা থেকে ফিরে আসা। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আতঙ্ক ও ক্ষুধা থেকে নিরাপদ থাকবে। (সূরা নূহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে আল্লাহর কাছে তওবা করবে এবং তার পরিণাম প্রশংসনীয় হবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আল্লাহর বান্দাদের সাথে কল্যাণকর কাজ করবে। আর বলা হয়েছে তার পরিবারের লোকেরা তার অবাধ্য হবে; আর যদি সে অনুপস্থিত কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধি হয় তবে সে বিলম্ব করবে এবং সম্ভবত ফিরে আসবে কিন্তু তার প্রয়োজন পূর্ণ হবে না। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং শত্রুদের পরাভূত করবে। (সূরা জিন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তা রাতে আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়। আল-কিরমানি বলেন: সে জিনের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। আর বলা হয়েছে আল্লাহ তাকে ইলহাম এবং সূক্ষ্ম ও উপকারী বোধশক্তি দান করবেন। জাফর আস-সাদিকও অনুরূপ বলেছেন। (সূরা মুয্যাম্মিল) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে রাতের বেলা সালাত আদায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা পছন্দ করবে। আল-কিরমানি বলেন: সে আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে রাত জাগ্রত রাখবে। আর বলা হয়েছে: সম্ভবত সে রাতে জিকিরের জন্য জেগে উঠতে অভ্যস্ত ছিল কিন্তু এখন সে বিষয়ে গাফেল হয়ে গেছে, তাই তার উচিত তাতে নিয়মিত হওয়া। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে আনুগত্য ও ইবাদতের তাওফিক লাভ করবে। (সূরা মুদ্দাসসির) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে নেক আমল করবে এবং কারো জন্য মন্দ পছন্দ করবে না। আল-কিরমানি বলেন: সে সৎকাজের অধিক নিকটবর্তী হবে। আর বলা হয়েছে: সে সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎকাজে বাধা দেবে এবং সঠিক পথ অনুসরণ করবে। জাফর আস-সাদিক বলেন: মানুষের মাঝে তার জীবনযাত্রা সুন্দর হবে এবং তার মতামত শক্তিশালী হবে। (সূরা কিয়ামাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে শাহাদাতের সাথে মৃত্যুবরণ করবে। আল-কিরমানি বলেন: আল্লাহর আজাবের ভয়। আর বলা হয়েছে: কোনো মানুষ তার উপর জুলুম করবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৮)
ويجور عَلَيْهِ وَتَكون عاقبته النَّصْر وَالظفر وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: انه يخرج وَيرجع عَن الْحلف وَيَتُوب إِلَى الله. (سُورَة الْإِنْسَان) من قَرَأَهَا يطْلب مرضاة الله وَيطْعم الطَّعَام على حبه وَيكون خَائفًا من الله (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يحسن وَيفْعل الْخيرَات مَعَ خلق الله تَعَالَى وَقيل: نجاة من عَذَاب الله يَوْم الْقِيَامَة وسرور (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: حُصُول التَّوْفِيق على السخاء وَالنعْمَة (سُورَة المرسلات) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يَتُوب عَن الْكَذِب وَيتْرك الْبَاطِل (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يطْلب حسن السِّيرَة وسلوك الطَّرِيق الْحق وَقيل: يعْمل عملا يحبب بِهِ نَفسه للنَّاس (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: تتسع عَلَيْهِ دُنْيَاهُ وَيحصل لَهُ نعْمَة (سُورَة النبأ) من قَرَأَهَا يكون متفكراً فِي آلَاء الله تَعَالَى شاكراً لأنعمه (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يدل على فعل الْخَيْر وَالْعَمَل الصَّالح وَقيل: يجْتَهد فِي ظلم وَيسْأل الْعلمَاء (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يَعْلُو قدره وتنفذ كَلمته. (سُورَة النازعات) من قَرَأَهَا فَإِنَّهَا تدل على الْخَوْف فِي حَالَة النزع (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: إِنَّه يَتُوب إِلَى الله تَعَالَى خوفًا من عِقَابه وَقيل: رُبمَا تقرب منيته فتستحب لَهُ الْوَصِيَّة (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: إِن قلبه يصفو من دنس الشُّبُهَات (سُورَة عبس) من قَرَأَهَا رُبمَا يكون عبوسا (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يكون كثير الصَّوْم وَقيل يتهاون بِالنَّاسِ ويستحقر بهم (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكون فَاعل الْخَيْر مَعَ الضُّعَفَاء وللمساكين (سُورَة التكوير) من قَرَأَهَا يخَاف عَلَيْهِ من وجع وَرُبمَا يكون فَاعل الْخَيْر حسن السِّيرَة (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يُسَافر سفرا كثيرا نَاحيَة الْمشرق وَقيل نُقْصَان فِي بهائه وَقلة هيبته عِنْد أَهله وجيرانه لقَوْل بَعضهم هَذَا الْبَيْت:

(فقر الْفَتى يذهب نور الْفَتى … كَمَا تصير الشَّمْس عِنْد الْغُرُوب)

(قَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: أَمَان بعد خوف وَفَرح بعد ترح (سُورَة الانفطار) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ متهاون بِالتَّوْبَةِ فليبادر وليخش الله تَعَالَى: (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يكون رَاغِبًا فِي الدُّنْيَا وَنَعِيمهَا وَقيل: يتَعَيَّن عَلَيْهِ الِاحْتِرَاز من جِيرَانه فهم أعداؤه لَا يخفون لَهُ قبيحا (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكون عِنْد السُّلْطَان والأكابر معززا مكرما (سُورَة المطففين) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يخْشَى الله تَعَالَى ويوفي الْكَيْل وَالْمِيزَان (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يكون عادلا يُؤَدِّي الْأَمَانَات إِلَى أَهلهَا وَقيل يبخس الْكَيْل أَو يستحسن ذَلِك (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكون منصفا مَعَ كل أحد (سُورَة الانشقاق) من قَرَأَهَا أُوتِيَ كِتَابه بِيَمِينِهِ (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يهون عَلَيْهِ الْحساب يَوْم الْمرجع والمآب وَقيل دَلِيل على رخص الطَّعَام (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكون كثير النَّسْل وَالْأَوْلَاد. (سُورَة البروج) من قَرَأَهَا يكون فِي الدُّنْيَا ذَا هم وغم (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يرزقه الله تَعَالَى ثَوابًا فِي الْآخِرَة وعلو الدرجَة وَقيل: ينسى شَهَادَة يُؤَدِّيهَا وَأَمَانَة يمْنَعهَا (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكْشف غمه وَيَزُول همه. (سُورَة الطارق) من قَرَأَهَا يرزقه الله تَعَالَى ولدا صَالحا (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: تقر عينه بِولد صَالح وَقيل: خوف من لصوص وَيخَاف على مَا لَهُ مِنْهُم (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ فَرح وَخير بِسَبَب وَلَده. (سُورَة الْأَعْلَى) من قَرَأَهَا فَإِنَّهَا تدل على كَثْرَة التَّسْبِيح وَالتَّكْبِير والتهليل (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: لم يخل لِسَانه عَن ذكر الله عز وجل وَقيل: يكون صَاحب الرُّؤْيَا كثير النسْيَان ويرجى لَهُ زَوَاله (قَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: تهون عَلَيْهِ الْأُمُور الصعاب (سُورَة الغاشية) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يفزع ويخشى من الْفَزع الْأَكْبَر وَرُبمَا يرْزق تَوْبَة (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: ثَابتا فِي جَمِيع الاشغال وطالبا مرضاة الله تَعَالَى وَقيل: ينْفق مَاله على قوم لَا يشكرونه وَلَا يحمدونه (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يَعْلُو قدره وَمحله وتنفذ كَلمته (سُورَة الْفجْر) من قَرَأَهَا يكون رَاغِبًا فِي طَاعَة الرَّحْمَن (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يرزقه الله تَعَالَى الْحَج وَقيل: يكون كثير الدُّعَاء لنَفسِهِ وللمسلمين (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: نقص فِي هيبته وصولته. (سُورَة الْبَلَد) من قَرَأَهَا يدل على صَاحب الصَّدقَات (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: وَيحسن إِلَى من يَقْصِدهُ وَقيل: أَمن من خوف وَنَجَاة بعد يأس (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: توفيق لاطعام الطَّعَام وإكرام الْمِسْكِين (سُورَة الشَّمْس) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يفْسد على يَده بعض الأشغال (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: إِنَّه يَتُوب وينعم على فعله وَقيل يكون ميله للْعُلَمَاء. (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكون ذَا فهم وحذق وعالما عَاملا (سُورَة اللَّيْل) من قَرَأَهَا يكون قَلِيل الزَّكَاة فِي مَاله (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يوفقه الله تَعَالَى للْقِيَام بِاللَّيْلِ فِي طَاعَته وَقيل يُعْطي صَاحب الرُّؤْيَا مَالا لإِنْسَان وتبسط إِلَيْهِ يَده
তার ওপর জুলুম হতে পারে তবে তার পরিণাম হবে বিজয় ও সাফল্য। জাফর আস-সাদিক বলেন: সে কোনো শপথ থেকে ফিরে আসবে এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করবে। (সূরা আল-ইনসান) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করবে, তাঁরই ভালোবাসায় অন্নদান করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সদাচরণ ও কল্যাণ করবে। বলা হয়েছে: কিয়ামতের দিন আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি ও আনন্দ লাভ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): বদান্যতা ও নিয়ামতের ওপর তৌফিক লাভ হবে। (সূরা আল-মুরসালাত) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে মিথ্যা থেকে তাওবা করবে এবং বাতিল ত্যাগ করবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে সুন্দর চরিত্র ও সত্যের পথ অন্বেষণ করবে। বলা হয়েছে: সে এমন কাজ করবে যার মাধ্যমে সে মানুষের কাছে প্রিয় হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার দুনিয়া প্রশস্ত হবে এবং সে নিয়ামত লাভ করবে। (সূরা আন-নাবা) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাদি নিয়ে চিন্তাশীল এবং তাঁর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হবে। (আল-কিরমানি বলেন): এটি কল্যাণকর কাজ ও নেক আমলের দলিল। বলা হয়েছে: সে কোনো জুলুমের বিষয়ে ইজতিহাদ করবে এবং আলেমদের নিকট প্রশ্ন করবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং তার কথা কার্যকর হবে। (সূরা আন-নাজিআত) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তা মৃত্যুর যন্ত্রণার সময় ভয়ের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। (আল-কিরমানি বলেন): সে আল্লাহর শাস্তির ভয়ে তাঁর নিকট তাওবা করবে। বলা হয়েছে: সম্ভবত তার মৃত্যু নিকটবর্তী, তাই তার জন্য অসিয়ত করা মুস্তাহাব। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার অন্তর সংশয়ের কলুষতা থেকে পবিত্র হবে। (সূরা আবাসা) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সম্ভবত সে বিমর্ষ বা ভ্রুকুটি করা অবস্থায় থাকবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে অধিক রোজা পালনকারী হবে। বলা হয়েছে: সে মানুষকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান করবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে দুর্বল ও মিসকিনদের সাথে কল্যাণকর কাজ করবে। (সূরা আত-তাকউইর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তার কোনো ব্যথার ভয় রয়েছে, তবে সে কল্যাণকামী ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হতে পারে। (আল-কিরমানি বলেন): সে পূর্ব দিকে অনেক সফর করবে। বলা হয়েছে: তার সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিকট হ্রাস পাবে, যেমনটি কেউ এই কবিতায় বলেছেন:

(যুবকের দরিদ্রতা তার নূরকে হরণ করে... যেমন সূর্যাস্তের সময় সূর্য ম্লান হয়ে যায়)

(জাফর আস-সাদিক বলেন): ভয়ের পর নিরাপত্তা এবং দুঃখের পর আনন্দ লাভ হবে। (সূরা আল-ইনফিতার) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে তাওবায় অবহেলাকারী, তাই তার উচিত দ্রুত তাওবা করা এবং আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা। (আল-কিরমানি বলেন): সে দুনিয়া ও এর ভোগবিলাসের প্রতি আগ্রহী হবে। বলা হয়েছে: তার প্রতিবেশীদের থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক, কারণ তারা তার শত্রু এবং তারা তার কোনো মন্দ কাজ গোপন রাখে না। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে সুলতান ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিকট সম্মানিত ও সমাদৃত হবে। (সূরা আল-মুতাফফিফিন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে এবং মাপে ও ওজনে পূর্ণতা দেবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে ন্যায়পরায়ণ হবে এবং আমানতসমূহ তার প্রাপককে বুঝিয়ে দেবে। বলা হয়েছে: সে মাপে কম দেয় অথবা এমন কাজকে ভালো মনে করে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে প্রত্যেকের সাথে ইনসাফকারী হবে। (সূরা আল-ইনশিকাক) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে। (আল-কিরমানি বলেন): পরকালে প্রত্যাবর্তনের দিন তার হিসাব সহজ হবে। বলা হয়েছে: এটি খাদ্যের মূল্য সস্তা হওয়ার দলিল। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার অধিক বংশধর ও সন্তানসন্ততি হবে। (সূরা আল-বুরুজ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে দুনিয়াতে দুশ্চিন্তা ও দুঃখের মধ্যে থাকবে। (আল-কিরমানি বলেন): আল্লাহ তাআলা তাকে পরকালে সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। বলা হয়েছে: সে কোনো সাক্ষ্য ভুলে যাবে যা তার দেওয়া উচিত ছিল অথবা কোনো আমানত আটকে রাখবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার দুঃখ-কষ্ট উন্মোচিত হবে এবং দুশ্চিন্তা দূর হবে। (সূরা আত-তারিক) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে নেক সন্তান দান করবেন। (আল-কিরমানি বলেন): নেক সন্তানের মাধ্যমে তার চক্ষু শীতল হবে। বলা হয়েছে: চোরের ভয় এবং সম্পদের ওপর তাদের থেকে আশঙ্কা থাকবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সন্তানের কারণে তার আনন্দ ও কল্যাণ অর্জিত হবে। (সূরা আল-আলা) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তা অধিক পরিমাণে তাসবিহ, তাকবির ও তাহলিল পাঠের ইঙ্গিত দেয়। (আল-কিরমানি বলেন): তার জবান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার জিকির থেকে বিরত থাকবে না। বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা অধিক বিস্মৃতিপ্রবণ হবে এবং তা দূর হওয়ার আশা করা যায়। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার কঠিন বিষয়গুলো সহজ হয়ে যাবে। (সূরা আল-গাশিয়াহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে আতঙ্কিত হবে এবং মহা-আতঙ্ককে ভয় করবে, সম্ভবত তাকে তাওবা নসিব করা হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে সকল কাজে অবিচল থাকবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করবে। বলা হয়েছে: সে এমন কওমের জন্য সম্পদ ব্যয় করবে যারা তার কৃতজ্ঞতা বা প্রশংসা করবে না। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার মর্যাদা ও অবস্থান উচ্চ হবে এবং তার কথা কার্যকর হবে। (সূরা আল-ফজর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে পরম করুণাময় আল্লাহর আনুগত্যে আগ্রহী হবে। (আল-কিরমানি বলেন): আল্লাহ তাআলা তাকে হজ নসিব করবেন। বলা হয়েছে: সে নিজের ও মুসলিমদের জন্য অধিক দোয়া করবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার গাম্ভীর্য ও প্রভাবে কিছুটা ঘাটতি হবে। (সূরা আল-বালাদ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তা অধিক সদকাকারীর ওপর দলিলাত প্রদান করে। (আল-কিরমানি বলেন): যে তার কাছে আসবে তার প্রতি সে ইহসান করবে। বলা হয়েছে: ভয়ের পর নিরাপত্তা এবং নিরাশার পর মুক্তি। (জাফর আস-সাদিক বলেন): অন্নদান ও মিসকিনদের সম্মান করার তৌফিক লাভ হবে। (সূরা আশ-শামস) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তার হাতে কিছু কাজ পণ্ড হতে পারে। (আল-কিরমানি বলেন): সে তাওবা করবে এবং তার কাজের কারণে নেয়ামত প্রাপ্ত হবে। বলা হয়েছে: আলেমদের প্রতি তার ঝোঁক থাকবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও কর্মঠ আলেম হবে। (সূরা আল-লাইল) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তার সম্পদে জাকাতের পরিমাণ কম হবে। (আল-কিরমানি বলেন): আল্লাহ তাআলা তাকে রাতে তাঁর আনুগত্যে দাঁড়ানোর তৌফিক দেবেন। বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা কোনো মানুষকে সম্পদ দান করবে এবং তার হাত অন্যের প্রতি প্রসারিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬২৯)
وَضمير الْمُعْطى خلاف مَا يفعل ذَلِك (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يَأْمَن من الْآفَات والعاهات (سُورَة الضُّحَى) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ لم يمْنَع السَّائِل (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يعين الضُّعَفَاء بالجود والاحسان وَقيل: أَمن بعد خوف وبشرى بعد إِيَاس ورجاء بعد قنوط وَإِن كَانَ فَقِيرا اسْتغنى وَرُبمَا نعيت إِلَيْهِ نَفسه لقَوْله تَعَالَى: {ولسوف يعطيك رَبك فترضى} وَقَوله تَعَالَى: {وللآخرة خير لَك من الأولى} (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: إِنَّه يوقر الصَّغِير واليتيم وَالْفَقِير (سُورَة الانشراح) من قَرَأَهَا تهون عَلَيْهِ الْأُمُور الصعاب (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يَتَيَسَّر أمره وينشرح صَدره وَقيل امتنان لصَاحب الرُّؤْيَا على إِنْسَان بِمَا صنع مَعَه (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: حُصُول رَاحَة بعد تَعب. (سُورَة التِّين) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ تحسن سيرته وتتسع أرزاقه وتحمد أَفعاله وخصاله (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يزْدَاد مَاله وتستقيم أَحْوَاله وَقيل رزق وبركة وَطول عمر وَرُبمَا حلف يَمِينا أَو يحلفها (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يحصل لَهُ مَا يؤمله فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة (سُورَة العلق) من قَرَأَهَا يرزقه الله تَعَالَى الْعلم وَالْقُرْآن (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يكون فصيح اللِّسَان قاريء الْقُرْآن عَالما عَاملا وَقيل تهديد من إِنْسَان (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يكون متواضعا حميد الْأَفْعَال (سُورَة الْقدر) من قَرَأَهَا لم يخرج من الدُّنْيَا حَتَّى يُصَادف ثَوَابهَا (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: يطول عمره وَيحصل مُرَاده وَقيل نصْرَة وَقيل عمل بأضعاف مَا يظنّ (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يَعْلُو قدره فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة. (سُورَة الْبَيِّنَة) من قَرَأَهَا لم يرحل من الدُّنْيَا إِلَّا بِالتَّوْبَةِ (وَقَالَ) الْكرْمَانِي: انه يَدْعُو الْخلق إِلَى الرشد وَقيل صَلَاح ضمير بعد فَسَاد ويقين بعد شكّ (وَقَالَ) جَعْفَر الصَّادِق: يَتُوب على يَده جمَاعَة ضَالَّة (سُورَة الزلزلة) تدل على الْعدْل والانصاف وَفعل الْخَيْر (وَقَالَ الْكرْمَانِي) انه يرتكب الْمَظَالِم وَقيل ينَال رزقا وَرُبمَا يكون من خبيئة (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يهْلك على يَده قوما من الْكَفَرَة (سُورَة العاديات) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون محبا للصحابة والآل (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يتَوَجَّه إِلَى الْغَزْو أَو يحب الْخَيل العاديات وَقيل حُصُول مخاشنة من إِنْسَان (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) : يغازي ويظفر بالأعادي (سُورَة القارعة) من قَرَأَهَا ثقلت مَوَازِينه من فعل الْخيرَات (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يكون متحيرا فِي أَفعاله وعاقبته إِلَى صَلَاح وَقيل: يكون صَاحب الرُّؤْيَا متهاونا بعقوبة الله تَعَالَى فليتق الله وليتب (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يكون معززا مكرما عِنْد الْخلق. (سُورَة التكاثر) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يزور جمَاعَة من الصلحاء (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يحصل لَهُ جمَاعَة لَهُم ديانَة وخصومة وَيَقُولُونَ فِي حَقه قَول الزُّور وَلم يسمع مِنْهُم وَقبل شغل الدُّنْيَا وَطلب مَا لَا يحصل (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يكون زاهدا عَن الدُّنْيَا (سُورَة الْعَصْر) من قَرَأَهَا يكون فِي أشغاله صَابِرًا وَقَالَ الْكرْمَانِي: تصل إِلَيْهِ خسارة وَيُؤَدِّي الْأَمَانَة وَقيل أَمر يعسر ثمَّ يَتَيَسَّر (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يصل إِلَيْهِ خير وَزِيَادَة رزق من تِجَارَة (سُورَة الْهمزَة) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون كثير الْكَلَام وَيكون عِنْد الْخلق مَعْرُوفا (وَقَالَ الْكرْمَانِي) حَرِيصًا على المَال وعَلى أشغال الدُّنْيَا وَلم يتفكر فِي عواقب الْأُمُور وَقيل: يغتاب قرَابَته فليتب عَن ذَلِك (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يصرف مَاله فِي سَبِيل الله تَعَالَى. (سُورَة الْفِيل) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون معينا للظلمة (وَقَالَ الْكرْمَانِي) انه يظفر بالأعادي العوادي وَيحصل لَهُ مرامه وَقيل فعل يَفْعَله يَكْفِيهِ الله من شَرّ أعدائه وَرُبمَا كَانَ حُصُول رَاحَة بعد تَعب (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يحصل على يَدَيْهِ فتوح ويظفر بعدوه (سُورَة قُرَيْش) من قَرَأَهَا فَإِن الله تَعَالَى يُؤمنهُ من الْفَزع (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يصاحب أحدا وينصحه وَيكون رَاغِبًا فِي الْخيرَات سالكا لطريق الدّين وَقيل ربح كَبِير وسفر يَنَالهُ وَخير (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) انه يكون مرغوبا محبوبا عِنْد النَّاس بِفعل الْجَمِيل مَعَ كل أحد سُورَة الماعون من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون قَلِيل الصَّلَاة أَو يُصَلِّي فِي غير وَقت الصَّلَاة (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يصاحب أَقْوَامًا فاسدي الدّين هم كسَالَى فِي الصَّلَاة وَقيل مَنْفَعَة تحصل للنَّاس مِنْهُ وَأمر يحصل لَهُ مِنْهُم (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) إِنَّه يظفر بالأعادي الْخَوَالِف القليلي الدّين. (سُورَة الْكَوْثَر) من قَرَأَهَا يحصل لَهُ مَال ونعمة ودولة وَيكون قَلِيل الْأَوْلَاد (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يحصل لَهُ انعام من أكَابِر محتشمين ويظفر بِمن يعاديه وَقيل حُصُول أجر وثواب (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يفعل الْخيرَات وَيحصل لَهُ الْأجر وَالثَّوَاب (سُورَة الْكَافِرُونَ) من قَرَأَهَا يكون مرتكبا طرق الْبِدْعَة سيء الثَّنَاء (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يحصل لَهُ التَّوْفِيق لفعل الْخَيْر ويغازي وَقيل: إِيمَان وَدين خَالص (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يكون قوي الِاعْتِقَاد فِي الدّين والشريعة (سُورَة النَّصْر)

দানকারীর অন্তরের সংকল্প তার কর্মের বিপরীত হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তিনি বিপদ-আপদ ও রোগব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবেন।

(সূরা আদ-দুহা) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে কোনো যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দেবে না। (আল-কিরমানি বলেন): সে দান ও মহানুভবতার মাধ্যমে দুর্বলদের সাহায্য করবে। বলা হয়েছে: ভয়ের পর নিরাপত্তা, নিরাশার পর সুসংবাদ এবং হতাশার পর আশা লাভ হবে। সে যদি দরিদ্র হয় তবে সচ্ছল হবে। কখনও কখনও এর মাধ্যমে তার নিজের মৃত্যু সংবাদও ইঙ্গিত করা হয়, কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আপনার প্রতিপালক আপনাকে শীঘ্রই এমন কিছু দেবেন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন} এবং তাঁর বাণী: {আপনার জন্য পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ}। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে ছোটদের, এতিমদের এবং অভাবীদের সম্মান করবে।

(সূরা আল-ইনশিরাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার জন্য কঠিন বিষয়গুলো সহজ হয়ে যাবে। (আল-কিরমানি বলেন): তার কাজ সহজ হবে এবং অন্তর প্রশস্ত হবে। বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা কোনো মানুষের প্রতি যে উপকার করেছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। (জাফর আস-সাদিক বলেন): ক্লান্তির পর প্রশান্তি লাভ হবে।

(সূরা আত-তীন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার চরিত্র সুন্দর হবে, রিযিক প্রশস্ত হবে এবং তার কাজ ও স্বভাব প্রশংসিত হবে। (আল-কিরমানি বলেন): তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং অবস্থার উন্নতি হবে। বলা হয়েছে: রিযিক, বরকত ও দীর্ঘায়ু লাভ। কখনও সে শপথ করবে অথবা তাকে শপথ করানো হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রত্যাশিত বিষয়গুলো লাভ করবে।

(সূরা আল-আলাক) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ইলম ও কুরআন দান করবেন। (আল-কিরমানি বলেন): সে হবে প্রাঞ্জলভাষী, কুরআন তেলাওয়াতকারী এবং আমলকারী আলেম। বলা হয়েছে: কোনো মানুষের পক্ষ থেকে হুমকি পাওয়া। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে বিনয়ী এবং প্রশংসনীয় কর্মের অধিকারী হবে।

(সূরা আল-কদর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে এর সওয়াব লাভ না করা পর্যন্ত দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে না। (আল-কিরমানি বলেন): তার আয়ু দীর্ঘ হবে এবং উদ্দেশ্য সফল হবে। বলা হয়েছে: বিজয় অর্জন এবং তার ধারণার চেয়েও বহুগুণ আমল করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): দুনিয়া ও আখেরাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

(সূরা আল-বাইয়্যিনাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তওবা না করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে না। (আল-কিরমানি বলেন): সে সৃষ্টিজগতকে সুপথের দিকে আহ্বান করবে। বলা হয়েছে: কলুষতার পর অন্তরের সংশোধন এবং সন্দেহের পর দৃঢ় বিশ্বাস লাভ। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার হাতে একদল পথভ্রষ্ট লোক তওবা করবে।

(সূরা আয-যিলযাল) এটি ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও কল্যাণকর কাজের নির্দেশ দেয়। (আল-কিরমানি বলেন): সে জুলুমের শিকার হতে পারে। বলা হয়েছে: সে রিযিক লাভ করবে এবং সম্ভবত তা কোনো গুপ্তভাণ্ডার থেকে হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার হাতে কাফেরদের একটি সম্প্রদায় ধ্বংস হবে।

(সূরা আল-আদিয়াত) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সাহাবী ও আহলে বায়াতের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে যুদ্ধের দিকে মনোনিবেশ করবে অথবা তেজী ঘোড়া পছন্দ করবে। বলা হয়েছে: কোনো মানুষের কাছ থেকে রূঢ় আচরণ পাওয়া। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে যুদ্ধ করবে এবং শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে।

(সূরা আল-কারিয়াহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, নেক আমলের কারণে তার পাল্লা ভারী হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে তার কর্মে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হবে তবে পরিণাম কল্যাণের দিকে যাবে। বলা হয়েছে: স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে উদাসীন হতে পারে, তাই তার উচিত আল্লাহকে ভয় করা ও তওবা করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে সৃষ্টির কাছে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হবে।

(সূরা আত-তাকাসুর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে একদল নেককার লোকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। (আল-কিরমানি বলেন): তার এমন একদল লোকের সাথে সম্পর্ক হবে যারা ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও বিবাদে লিপ্ত এবং তারা তার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলবে কিন্তু তিনি তা শুনবেন না। বলা হয়েছে: দুনিয়ার কাজে ব্যস্ততা এবং যা পাওয়া যাবে না তা অন্বেষণ করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে দুনিয়া বিমুখ বা যাহেদ হবে।

(সূরা আল-আসর) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার কাজে ধৈর্যশীল হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এবং আমানত আদায় করবে। বলা হয়েছে: এমন বিষয় যা কঠিন হওয়ার পর সহজ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার কাছে কল্যাণ পৌঁছাবে এবং ব্যবসায় রিযিক বৃদ্ধি পাবে।

(সূরা আল-হুমাযাহ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে অধিক বাচাল হবে এবং মানুষের কাছে সুপরিচিত হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে সম্পদের প্রতি লোভী হবে এবং দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত থাকবে এবং কাজের পরিণাম নিয়ে চিন্তা করবে না। বলা হয়েছে: সে তার নিকটাত্মীয়দের গীবত করবে, তাই তার উচিত তওবা করা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে তার সম্পদ আল্লাহ তাআলার রাস্তায় ব্যয় করবে।

(সূরা আল-ফীল) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে জালেমদের সাহায্যকারী হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে আক্রমণকারী শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে এবং তার উদ্দেশ্য সফল হবে। বলা হয়েছে: সে এমন কাজ করবে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে তার শত্রুদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং সম্ভবত ক্লান্তির পর প্রশান্তি লাভ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): তার হাতে বিজয় অর্জিত হবে এবং সে তার শত্রুর ওপর জয়ী হবে।

(সূরা কুরাইশ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ রাখবেন। (আল-কিরমানি বলেন): সে কারো সঙ্গী হবে এবং তাকে উপদেশ দেবে, কল্যাণের প্রতি আগ্রহী হবে এবং দ্বীনের পথে চলবে। বলা হয়েছে: বড় ধরণের মুনাফা অর্জন এবং তার জন্য সফর ও কল্যাণ বয়ে আনা। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে সবার সাথে সুন্দর ব্যবহারের কারণে মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত ও প্রিয় হবে।

(সূরা আল-মাউন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে নামাযে অবহেলা করবে অথবা অসময়ে নামায পড়বে। (আল-কিরমানি বলেন): সে এমন লোকদের সঙ্গ দেবে যাদের দ্বীন কলুষিত এবং যারা নামাযে অলস। বলা হয়েছে: মানুষের পক্ষ থেকে তার উপকার হবে এবং তাদের থেকে তার কোনো উদ্দেশ্য হাসিল হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে কম ধার্মিক ও বিদ্রোহী শত্রুদের ওপর জয়ী হবে।

(সূরা আল-কাওসার) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে সম্পদ, নেয়ামত ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভ করবে এবং তার সন্তান সংখ্যা কম হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ লাভ করবে এবং তার শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করবে। বলা হয়েছে: সওয়াব ও প্রতিদান অর্জন। (জাফর আস-সাদিক বলেন): সে কল্যাণকর কাজ করবে এবং সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে।

(সূরা আল-কাফিরুন) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে বিদআতের পথে হাঁটবে এবং নিন্দিত হবে। (আল-কিরমানি বলেন): সে নেক কাজ করার তাওফিক পাবে এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। বলা হয়েছে: ঈমান ও বিশুদ্ধ দ্বীন লাভ হবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন): দ্বীন ও শরীয়তের ওপর তার বিশ্বাস সুদৃঢ় হবে।

(সূরা আন-নাসর)

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬৩০)
من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ ينتصر على الْأَعْدَاء (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يحصل لَهُ ضيق صدر ثمَّ بعد ذَلِك يفرج عَنهُ وَقيل موت إِنْسَان عَزِيز (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يقرب أَجله لِأَنَّهُ لما أَتَى بهَا جِبْرِيل النَّبِي علم بفراغ عمره. (سُورَة المسد) من قَرَأَهَا يكون كثير الْمَكْر والحيل فليتق الله وليحذر عِقَابه (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يكون لَهُ امْرَأَة سوء نمامة وَقيل ذهَاب مَال وخسران (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) تسْعَى جمَاعَة فِي ضَرَره وَلم يظفروا بِهِ (سُورَة الاخلاص) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يسْلك طَرِيق التَّوْحِيد ويتجنب الْبِدْعَة والضلالة بعد هَذَا الْمَنَام وَلم يرْزق ولدا (وَقَالَ الْكرْمَانِي) يكون صَاحب ديانَة خَالص الِاعْتِقَاد وَقيل تَوْبَة نصوح وإيمان صَادِق وَرُبمَا لَا يعِيش لصَاحب الرُّؤْيَا ولد (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يَعْلُو قدره وَيحصل مرامه فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة (سُورَة الفلق) من قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون مسحورا وينجو من ذَلِك (وَقَالَ الْكرْمَانِي) انه ينجو من الْعِلَل والآفات ويأمن شَرّ الدُّنْيَا وَقيل نجاة من الحساد وأعين أهل الْفساد (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) يَأْمَن من شَرّ النِّسَاء والسحرة وَيحصل لَهُ رزق وافر (سُورَة النَّاس) من قَرَأَهَا فَإِن الله تَعَالَى ينجيه من آفَة كل عين ناظرة وَمن شَرّ الأشرار وَكيد الْفجار (وَقَالَ الْكرْمَانِي) انه يَأْمَن من شَرّ الْخلق والخلق من شَره وَقيل يَأْمَن من شَرّ وَسْوَسَة الشَّيْطَان (وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق) ان الله ينجيه من شَرّ ابليس اللعين.

8 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الْمُصحف الشريف)

رُؤْيا تؤول بِالْعلمِ وَالْحكمَة فَمن رأى أَنه يقْرَأ الْقُرْآن فِي الْمُصحف أَو ينظر فِيهِ يدل على انتشار علمه وحكمته وعدله فِي الْخلق وَرُبمَا يحصل لَهُ مِيرَاث وَقيل يرزقه الله حِكْمَة وصلاحا فِي الدّين (وَمن رأى) أَنه اشْترى مُصحفا فَإِنَّهُ يتفقه فِي الدّين (وَمن رأى) أَنه أحرق مُصحفا يدل على فَسَاد دينه وَقلة عقله وَفَسَاد عقيدته (وَمن رأى) أَنه بَاعَ مُصحفا يكون محروما من كسب الْعلم وتحصيله وَيكون حَقِيرًا ذليلا وَقَالَ الْكرْمَانِي: من رأى أَنه فتح مُصحفا وَوَضعه على مِنْبَر الْمَسْجِد فَإِن كَانَ من أهل الْقُرْآن يحصل لَهُ شهرة بِالْخَيرِ وَرُبمَا يسود على جمَاعَة (وَمن رأى) أَنه أكل أوراق الْمُصحف فَإِن كَانَ من أهل الْقُرْآن وَالتَّقوى فَإِنَّهُ يكون كثير الْقِرَاءَة فَإِن لم يكن فَإِنَّهُ تِلَاوَة الْقُرْآن وَإِن كَانَ يُرِيد أكلهَا وَلَا يقدر فَإِن كَانَ من أهل الصّلاح فَإِنَّهُ يعالج على حفظه فَلَعَلَّ الله يسهل لَهُ وَإِن لم يكن فَلَا يحصل لَهُ من المعالجة نتيجة (وَمن رأى) أَنه يمزق أوراق الْمُصحف فَإِنَّهُ يكون كسلاناً فِي صلَاته فليواظب عَلَيْهَا. (وَمن رأى) أَنه محا الْقُرْآن بِلِسَانِهِ فقد ارْتكب اثما عَظِيما لقَوْله تَعَالَى: {يُرِيدُونَ ليطفئوا نور الله بأفواههم} قيل رُبمَا يحفظ الْقُرْآن (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ الْقُرْآن يدل على دُخُوله فِي أَمر لَيْسَ لَهُ فِيهِ معِين (وَمن رأى) أَنه فتح الْمُصحف وَلم يجد فِيهِ كِتَابَة فَإِنَّهُ لَا خير فِيهِ وَرُبمَا فِيهِ وَرُبمَا يُرِيد غَيره أَن ينْسَخ لَهُ مُصحفا وَرُبمَا يعلم غَيره ان كَانَ من أَهله وَقَالَ جَابر المغربي: من رأى أَنه قبل مُصحفا فَإِنَّهُ يفعل الْخَيْر (وَمن رأى) أَنه ينْقل مَا بالمصحف على الأَرْض يدل على إلحاده (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ فِي الْمُصحف وَهُوَ عُرْيَان تكون معيشته من الْقُرْآن (وَمن رأى) أَنه توكأ على مصحف أَو وَضعه تَحت رَأسه فَيدل على وَجْهَيْن: الأول إِن كَانَ من أهل التَّقْوَى يكون حَرِيصًا عَلَيْهِ وَإِن لم يكن فيرتكب مَا لَا يحل لَهُ (وَمن رأى) أَنه ضَاعَ مصحفه فَإِنَّهُ ينسى الْعلم وَالْقُرْآن (وَمن رأى) أَنه تقلد بمصحف فَإِنَّهُ يَلِي ولَايَة أَو يتقلد أَمَانَة وَيكون من حَملَة الْقُرْآن وَقيل نجاة وَأمن وصيانة وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن الْأَشْعَث: من رأى أَنه ينظر فِي الْمُصحف وينقله على مَا يسْتَعْمل فَإِنَّهُ يُفَسر الْقُرْآن على غير الصَّوَاب بِرَأْيهِ فَليرْجع عَن ذَلِك (وَمن رأى) أَن الْمُصحف يحدثه أَو يتَكَلَّم مَعَه فَإِن كَانَ فِي الْكَلَام مَا يدل على الْخَيْر فَخير وَإِن كَانَ مَا يدل على الشَّرّ فشر (وَمن رأى) أَن الْمُصحف وَقع من يَده أَو أَخذ مِنْهُ فَإِن كَانَ عَالما أَو ذَا وَظِيفَة فَإِنَّهُ يعْزل مِنْهَا وَإِن لم يكن فَلَا خير فِيهِ وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الْمُصحف على سَبْعَة أوجه: علم وَحِكْمَة وميراث وَأَمَانَة ورزق حَلَال وَحكم وَقُوَّة.

9 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا المجلدات)

من رأى من المجلدات تَفْسِير الْقُرْآن بِيَدِهِ فَإِن أُمُوره تستقيم وَإِن رأى أَنه يطالع فِيهِ فَإِنَّهُ يحل المشكلات (وَمن رأى) مجلدات الْفِقْه فَإِنَّهُ يكون سالكا طَرِيق الْخَيْر وَإِن قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون مُتبعا للأوامر مجتنبا للنواهي مُخْتَارًا للصَّوَاب (وَمن رأى) من مجلدات الْأَخْبَار أَو قَرَأَهَا فَإِنَّهُ يكون مقربا عِنْد الْمُلُوك ومقبول الرَّأْي (وَمن رأى) من مجلدات الْأُصُول
যে ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করবে, সে শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবে। (কিরমানী বলেন) তার মনে সংকীর্ণতা তৈরি হবে এবং পরবর্তীতে তা দূর হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলেন, এটি কোনো প্রিয় মানুষের মৃত্যুর লক্ষণ। (জাফর আস-সাদিক বলেন) তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে, কারণ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন এই সূরা নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন, তখন তিনি তাঁর আয়ু শেষ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। (সূরা আল-মাসাদ) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে অনেক বেশি ষড়যন্ত্র ও কৌশল অবলম্বনকারী হবে; সুতরাং তার উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক হওয়া। (কিরমানী বলেন) তার এমন এক মন্দ স্ত্রী থাকবে যে চোগলখুরি করবে। কেউ কেউ বলেন, এটি সম্পদ হারানো ও ক্ষতির লক্ষণ। (জাফর আস-সাদিক বলেন) একদল লোক তার ক্ষতির চেষ্টা করবে কিন্তু তারা সফল হবে না। (সূরা আল-ইখলাস) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তাওহীদের পথ অবলম্বন করবে এবং এই স্বপ্নের পর বিদআত ও ভ্রষ্টতা পরিহার করবে, তবে সে কোনো সন্তান লাভ করবে না। (কিরমানী বলেন) সে ধর্মপ্রাণ ও বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী হবে। কেউ কেউ বলেন, এটি খাঁটি তওবা ও সত্য ঈমানের লক্ষণ; আবার কখনো স্বপ্নদ্রষ্টার কোনো সন্তান জীবিত না থাকার অর্থও বহন করে। (জাফর আস-সাদিক বলেন) তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করবে। (সূরা আল-ফালাক) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে জাদুগ্রস্ত হবে কিন্তু তা থেকে মুক্তি লাভ করবে। (কিরমানী বলেন) সে রোগব্যাধি ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাবে এবং দুনিয়ার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। কেউ কেউ বলেন, এটি হিংসুক ও অনিষ্টকারীদের দৃষ্টি থেকে মুক্তির লক্ষণ। (জাফর আস-সাদিক বলেন) সে নারী ও জাদুকরদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রচুর রিযিক লাভ করবে। (সূরা আন-নাস) যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রত্যেক কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখের বিপদ থেকে এবং পাপাচারীদের অনিষ্ট ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবেন। (কিরমানী বলেন) সে সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং সৃষ্টিজগতও তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। কেউ কেউ বলেন, সে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকবে। (জাফর আস-সাদিক বলেন) আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত ইবলিসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।

৮ - ‌‌(পবিত্র মুসহাফ বা কুরআন দেখার অধ্যায়)

এই স্বপ্ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে মুসহাফ দেখে কুরআন পাঠ করছে অথবা তার দিকে তাকাচ্ছে, তবে তা সৃষ্টির মাঝে তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচার ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ। কখনো কখনো সে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে। কেউ কেউ বলেন, আল্লাহ তাকে দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও নেক আমল দান করবেন। (যে ব্যক্তি দেখল) সে একটি মুসহাফ ক্রয় করেছে, তবে সে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে একটি মুসহাফ পুড়িয়ে ফেলেছে, তবে তা তার দ্বীনের বিপর্যয়, বুদ্ধির স্বল্পতা ও আকিদার নষ্ট হওয়ার প্রমাণ। (যে ব্যক্তি দেখল) সে একটি মুসহাফ বিক্রি করে দিয়েছে, তবে সে জ্ঞান অর্জন ও তা হাসিল করা থেকে বঞ্চিত হবে এবং অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে। কিরমানী বলেন: যে ব্যক্তি দেখল যে সে একটি মুসহাফ খুলল এবং তা মসজিদের মিম্বরের ওপর রাখল, সে যদি কুরআনওয়ালা (হাফেজ বা আলেম) হয় তবে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে এবং সম্ভবত সে একদল লোকের ওপর নেতৃত্ব দেবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মুসহাফের পাতা ভক্ষণ করছে, সে যদি কুরআন ও তাকওয়ার অনুসারী হয় তবে সে অধিক তিলাওয়াতকারী হবে। আর যদি সে তেমন না হয় তবে তা কুরআন তিলাওয়াত করা বুঝাবে। আর যদি সে তা ভক্ষণ করতে চায় কিন্তু সক্ষম না হয়, তবে সে যদি সৎ ব্যক্তি হয় তবে কুরআন হিফজ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে এবং সম্ভবত আল্লাহ তার জন্য তা সহজ করে দেবেন; আর যদি সে সৎ না হয় তবে তার এই চেষ্টায় কোনো ফল আসবে না। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মুসহাফের পাতা ছিঁড়ে ফেলছে, তবে সে তার সালাতে অলস হবে, সুতরাং তার উচিত সালাতে যত্নবান হওয়া। (যে ব্যক্তি দেখল) সে তার জবান দিয়ে কুরআন মুছে ফেলেছে, তবে সে এক মহাপাপ করেছে; কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়}। কেউ কেউ বলেন, সম্ভবত সে কুরআন হিফজ করবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে কুরআন পাঠ করছে, তবে তা এমন এক কাজে তার প্রবেশের ইঙ্গিত দেয় যেখানে তার কোনো সাহায্যকারী নেই। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মুসহাফ খুলল কিন্তু তাতে কোনো লেখা পেল না, তবে এতে কোনো কল্যাণ নেই। সম্ভবত অন্য কেউ তাকে দিয়ে একটি মুসহাফ লিখিয়ে নিতে চায়, আর যদি সে উপযুক্ত হয় তবে সে অন্যকে শিক্ষা দেবে। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: যে ব্যক্তি দেখল সে মুসহাফ চুম্বন করেছে, তবে সে কল্যাণকর কাজ করবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মুসহাফের বিষয়বস্তু মাটিতে স্থানান্তর করছে, তবে তা তার ধর্মদ্রোহিতার প্রমাণ। (যে ব্যক্তি দেখল) সে উলঙ্গ অবস্থায় মুসহাফ দেখে পাঠ করছে, তবে কুরআনের মাধ্যমেই তার জীবিকা নির্বাহ হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মুসহাফের ওপর হেলান দিয়েছে অথবা তা তার মাথার নিচে রেখেছে, তবে এটি দুটি অর্থ বহন করে: প্রথমত, সে যদি মুত্তাকী হয় তবে সে এর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হবে, আর যদি তা না হয় তবে সে এমন কাজ করবে যা তার জন্য হালাল নয়। (যে ব্যক্তি দেখল) তার মুসহাফ হারিয়ে গেছে, তবে সে জ্ঞান ও কুরআন ভুলে যাবে। (যে ব্যক্তি দেখল) সে মুসহাফ গলায় ঝুলিয়েছে, তবে সে কোনো শাসনভার গ্রহণ করবে অথবা কোনো আমানত গ্রহণ করবে এবং সে কুরআনের বাহকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেউ কেউ বলেন, এটি মুক্তি, নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের লক্ষণ। ইসমাইল ইবনে আল-আশ-আস বলেন: যে ব্যক্তি দেখল সে মুসহাফের দিকে তাকাচ্ছে এবং তা নিজের খেয়ালখুশি মতো ব্যবহার করছে, তবে সে নিজের রায় বা মতানুসারে কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করবে, সুতরাং তার উচিত তা থেকে ফিরে আসা। (যে ব্যক্তি দেখল) মুসহাফ তার সাথে কথা বলছে, তবে কথার বিষয়বস্তু যদি কল্যাণের হয় তবে তা কল্যাণ, আর যদি মন্দের হয় তবে তা মন্দ। (যে ব্যক্তি দেখল) মুসহাফ তার হাত থেকে পড়ে গেছে অথবা তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে যদি আলেম বা পদস্থ ব্যক্তি হয় তবে তাকে পদচ্যুত করা হবে, আর যদি তা না হয় তবে এতে কোনো কল্যাণ নেই। জাফর আস-সাদিক বলেন: মুসহাফ দেখার স্বপ্ন সাতটি দিক বহন করে: জ্ঞান, প্রজ্ঞা, উত্তরাধিকার, আমানত, হালাল রিযিক, বিচারিক ক্ষমতা এবং শক্তি।

৯ - ‌‌(বিভিন্ন কিতাব দেখার অধ্যায়)

যে ব্যক্তি দেখল তার হাতে কুরআনের তাফসীরের কিতাব রয়েছে, তবে তার বিষয়াদি সুসংহত হবে। আর যদি দেখে সে তা পাঠ করছে, তবে সে জটিল সমস্যার সমাধান করবে। (যে ব্যক্তি দেখল) ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ, তবে সে কল্যাণের পথে চলবে। আর যদি সেগুলো পাঠ করে, তবে সে আদেশসমূহ পালনকারী, নিষেধসমূহ বর্জনকারী এবং সঠিক পথ অবলম্বনকারী হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) ইতিহাস বা সংবাদের কিতাবসমূহ অথবা সেগুলো পাঠ করল, তবে সে বাদশাহদের নিকটবর্তী হবে এবং তার মতামত গ্রহণযোগ্য হবে। (যে ব্যক্তি দেখল) উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের কিতাবসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬৩১)
فَإِنَّهُ يبْحَث عَن الْأَشْيَاء الغوامض فَإِن قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يشْتَغل بِمَا لَا يحصل لَهُ فَائِدَة وَرُبمَا يحصل بَينه وَبَين أَقوام جِدَال وَرُبمَا أدّى ذَلِك إِلَى ملامة وَرُبمَا يكون قُصُور فهم عَمَّا هُوَ طَالب حَقِيقَة وَعدم ادراك ذَلِك وَقد يكون ارْتِكَاب أَمر مَنْهِيّ عَنهُ (وَمن رأى) مجلدات الْكَلَام فِي بَاب التَّوْحِيد أَو الْمنطق أَو الْبَيَان أَو مَا يُنَاسب ذَلِك أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يشْتَغل بِأُمُور عَجِيبَة وَرُبمَا لَا يُفِيد من ذَلِك شَيْء لدينِهِ. (وَمن رأى) مجلدات فَضَائِل التَّسْبِيح والتهليل أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يكون طلق اللِّسَان بالخيرات وَالصَّلَاح مَحْمُودًا فِي أَفعاله متجنبا للدنيا طَالبا للآخرة (وَمن رأى) من مجلدات الدَّعْوَات أَو الْخطب أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِن الله تَعَالَى يستجيب دعاءه ويبلغه مأمنه (وَمن رأى) من مجلدات الْقَصَص أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يكون حَرِيصًا على مواعظها رَاغِبًا فِي استماعها (وَمن رأى) من مجلدات قصَص الْمُلُوك أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا يلومه النَّاس فِي أَفعاله (وَمن رأى) من مجلدات الْحِكْمَة أَو قَرَأَ شَيْئا مِنْهَا فَإِنَّهُ يدل على قِرَاءَة الْقُرْآن من الْمُصحف وَقيل يكون ذكياً ذَا فهم وَكَلَام غَرِيب (وَمن رأى) من مجلدات النَّحْو وَالْأَدب أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يكون حَرِيصًا على الدُّنْيَا وأشغالها وَيطْلب الشُّهْرَة وَالثنَاء فِي الْخلق (وَمن رأى) من مجلدات الرسائل أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يصير كَاتبا عِنْد الْمُلُوك والأكابر. (وَمن رأى) من مجلدات الطِّبّ أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يكون رَئِيسا فِي مهماته مصلحا للأمور الْفَاسِدَة (وَمن رأى) من مجلدات الطبائع أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يكون عَالما بِأُمُور الدُّنْيَا يدْرِي بِأَن لَيْسَ فِي طلبَهَا فَائِدَة بَاقِيَة (وَمن رأى) من مجلدات النُّجُوم وَقَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ صَلَاح أشغال دُنْيَاهُ وَلَا ينْتَفع مِنْهُ وَلَا من غَيره (وَمن رأى) من مجلدات الشّعْر أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِن كَانَ مدحا أَو غزلا فَإِنَّهُ يشْتَغل بِفعل يحصل لَهُ بذلك من النَّاس الْمَلَامَة والطعن وَلَيْسَ لَهُ مصلحَة مِنْهُ فِي دينه ودنياه وَإِن كَانَ شعرًا فِيهِ فَضَائِل وتوحيد وَهُوَ يقْرَأ يُصَادف خيرا وَفَائِدَة (وَمن رأى) من مجلدات التَّعْبِير أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يصل إِلَيْهِ حَدِيث من شخص جليل الْقدر وَيحصل لَهُ من ذَلِك الحَدِيث امتنان وَخير وَشرف لقَوْله عز وجل: {وعلمتني من تَأْوِيل الْأَحَادِيث} (وَمن رأى) من مجلدات الهندسة أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يشْتَغل بِعلم يشْتَهر فِي النَّاس بِهِ وَلَيْسَ لدينِهِ من ذَلِك مَنْفَعَة وَيكون كثير الافتكار. (وَمن رأى) من مجلدات الْقِسْمَة والمساحة أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يُسَافر سفرا بِلَا مَنْفَعَة من مجلدات (وَمن رأى) الْحساب أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا يكون مهموما مغموما فِي طلب الدُّنْيَا (وَمن رأى) من مجلدات النَّوَادِر والمضاحك أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يصدر مِنْهُ فعل قَبِيح فصيح (وَمن رأى) من مجلدات عُيُوب النَّاس وهجوهم وَمَا لَا مَنْفَعَة فِيهِ أَو قَرَأَ مِنْهَا شَيْئا فَإِنَّهُ يغتابه الْخلق ويشتهر بَينهم بالسيرة الذميمة وَقيل رُؤْيا المجلدات إِذا لم تفتح وَلم يعلم مَا فِيهَا فَهُوَ حُصُول مَنْفَعَة وَإِن كَانَ تعبيرها على مَا تقدم وَقيل رُؤْيا المجلدات مَا لم يحدث بهَا حَادث مُنكر فِي الْيَقَظَة فَهُوَ خير على كل حَال وَإِن حصل مَا يُنكر فَلَيْسَ بمحمود (وَمن رأى) أَنه يجمع مجلدات كَثِيرَة فَإِنَّهُ يُحِيط بعلوم شَتَّى فَإِن قَرَأَهَا كَانَت احاطته عَن أصل وَحَقِيقَة وَإِن لم يَقْرَأها فضد ذَلِك (وَمن رأى) أَنه يجلد كتابا فَإِنَّهُ يحسن إِلَى رجل فَاضل وَكَذَلِكَ الحبك (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ التَّوْرَاة فَإِنَّهُ يؤول بِحُصُول قُوَّة من قبل الأكابر وَذي الحشمة وينال من أَصْحَابه خيرا وَمَنْفَعَة (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ التوارة جَهرا بِصَوْت عَال فَإِن يؤول بِالْخُصُومَةِ وَلكنه يظفر بِالْحَقِّ وَيحصل لَهُ مُرَاده (وَمن رأى) أَن أحدا يُعلمهُ قِرَاءَة التَّوْرَاة فَإِنَّهُ يدل على حُصُول الْخَيْر وَقيل ان التَّوْرَاة تؤول بالكبير الْقَدِيم الْهِجْرَة الْفَاضِل (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ التَّوْرَاة من حفظه لَا من كتاب فَإِنَّهُ يظفر بحاجته بعد مخاصمة (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ الانجيل من الْكتاب فَإِنَّهُ يحصل لَهُ مَنْفَعَة من قبل النَّصَارَى وَمن قَرَأَهُ من غير كتاب فَإِنَّهُ ينخدع بِالْبَاطِلِ عَن الْحق وَيكون محبا لِلنَّصَارَى. (ورؤيا الصُّحُف) : قَالَ ابْن سِيرِين: (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ صحف إِبْرَاهِيم أَو صحف مُوسَى فَإِنَّهُ يدله أحد على طَرِيق الصَّوَاب ويمنعه عَن طَرِيق الْخَطَأ خُصُوصا إِذا قَرَأَ من الْكتاب (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ الصُّحُف عَن ظهر الْقلب فَإِنَّهُ يدل على معيشته بَين النَّاس بالنفاق قَالَ جَابر المغربي: إِذا رأى الْمُسلم أَنه ترك الْمُصحف واشتغل بِقِرَاءَة صحف إِبْرَاهِيم أَو مُوسَى فَإِنَّهُ يدل على ضعف اعْتِقَاده فِي دين الاسلام وَيكون محبا للْيَهُود وَالنَّصَارَى وَيكون مائلا إِلَى مَا هم عَلَيْهِ ورؤيا الزبُور تؤول بِالْخَيرِ فَمن رأى أَنه يقْرَأ الزبُور من الْكتاب فَإِنَّهُ يخْتَار الْفِعْل الْحسن (وَمن رأى) أَنه يقْرَأ عَن ظهر الْقلب فَإِنَّهُ يدل على نفَاقه وريائه فِي الْأَفْعَال وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى أَنه يقْرَأ صحيفَة من صحف أحد من الْأَنْبِيَاء فَهُوَ خير (وَمن رأى) أَنه يكْتب صحيفَة أَو ينظر فِيهَا وَلَا يحسن قرَاءَتهَا فَإِنَّهُ يُصِيب مِيرَاثا لقَوْله تَعَالَى: (إِن هَذَا

নিশ্চয়ই তিনি জটিল ও দুরূহ বিষয়সমূহ অন্বেষণ করেন। যদি তিনি সেখান থেকে কিছু পাঠ করেন, তবে তিনি এমন কাজে লিপ্ত হন যার মাধ্যমে তাঁর কোনো উপকার সাধিত হয় না। সম্ভবত এর ফলে তাঁর ও অন্য লোকদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় তা নিন্দার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কখনো কখনো তিনি যা প্রকৃতপক্ষে খুঁজছেন তা অনুধাবনে অক্ষমতা এবং তা উপলব্ধি করতে না পারার কারণে এমনটি হতে পারে, এমনকি এটি কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণও হতে পারে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) তাওহীদ, যুক্তিবিদ্যা, অলঙ্কারশাস্ত্র কিংবা এই জাতীয় বিষয়ের কালাম শাস্ত্রের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে বিস্ময়কর বিষয়াদিতে লিপ্ত হবে এবং সম্ভবত তা থেকে তার দ্বীনের জন্য কোনো উপকার হবে না। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) তাসবীহ ও তাহলীলের ফযীলত সম্বলিত কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে কল্যাণের পথে সুমিষ্ট ভাষী ও সৎকর্মশীল হবে, নিজ কর্মে প্রশংসিত হবে, দুনিয়া বিমুখ হবে এবং আখিরাত অন্বেষণকারী হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) দুআ কিংবা খুতবার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে আল্লাহ তাআলা তার দুআ কবুল করবেন এবং তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেবেন। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কিসসা বা কাহিনীগ্রন্থের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে সেগুলোর উপদেশের প্রতি অতি আগ্রহী হবে এবং তা শ্রবণে অনুরাগী হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) রাজাবাদশাহদের কাহিনীর খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে মানুষ তার কর্মের জন্য তাকে নিন্দা করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) হিকমত বা প্রজ্ঞার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তা তিলাওয়াতকৃত মুসহাফ থেকে কুরআন পাঠের সমতুল্য। বলা হয়ে থাকে যে, সে হবে অত্যন্ত মেধাবী, প্রখর বোধসম্পন্ন এবং বিস্ময়কর বাকপটুতার অধিকারী। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) নাহু বা ব্যাকরণ এবং সাহিত্যের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে দুনিয়া ও দুনিয়াদারির কাজে অতি আগ্রহী হবে এবং মানুষের নিকট খ্যাতি ও প্রশংসা অন্বেষণ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) পত্রবলীর সংকলন বা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে রাজা-বাদশাহ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিকট লিপিকার হিসেবে নিযুক্ত হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) চিকিৎসা শাস্ত্রের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে তার গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে নেতৃত্বদানকারী হবে এবং বিশৃঙ্খল বিষয়সমূহ সংস্কারকারী হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) বস্তুর প্রকৃতি বা সৃষ্টিতত্ত্বের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে দুনিয়াবি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে এবং জানবে যে দুনিয়া অন্বেষণে কোনো স্থায়ী কল্যাণ নেই। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) জ্যোতির্বিদ্যার কিতাবের খণ্ডসমূহ এবং সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তা তার দুনিয়াবি কাজসমূহের সংশোধনের লক্ষণ, কিন্তু এর দ্বারা সে নিজে বা অন্য কেউ উপকৃত হবে না। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কবিতার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে—তা যদি প্রশংসা বা প্রেম বিষয়ক কবিতা হয়, তবে সে এমন কাজে লিপ্ত হবে যার ফলে মানুষের নিকট থেকে তার ওপর নিন্দা ও অপবাদ আসবে এবং তার দ্বীন ও দুনিয়াতে এর কোনো কল্যাণ নেই। আর যদি তা এমন কবিতা হয় যাতে ফযীলত ও তাওহীদের বর্ণনা রয়েছে এবং সে তা পাঠ করে, তবে সে কল্যাণ ও উপকার লাভ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) স্বপ্নের ব্যাখ্যার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তার নিকট অতি সম্মানিত কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছাবে এবং সেই সংবাদের কারণে সে কৃতজ্ঞতা, কল্যাণ ও মর্যাদা লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর আপনি আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন"। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) প্রকৌশলবিদ্যার কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে এমন এক বিদ্যায় লিপ্ত হবে যার মাধ্যমে সে মানুষের মধ্যে খ্যাতি অর্জন করবে, কিন্তু তার দ্বীনের জন্য এতে কোনো কল্যাণ নেই এবং সে হবে অতি চিন্তাশীল। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) বণ্টন ও ভূমি জরিপ বিষয়ক কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে এমন এক সফরে বের হবে যাতে কোনো উপকার নেই। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) গণিত শাস্ত্রের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে সে দুনিয়া অন্বেষণে চিন্তিত ও বিষণ্ণ হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কৌতুক ও হাস্যরসের কিতাবের খণ্ডসমূহ অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে তার থেকে কোনো মন্দ অথচ প্রাঞ্জল কাজ প্রকাশ পাবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) মানুষের দোষ-ত্রুটি ও ব্যঙ্গাত্মক বর্ণনার কিতাবের খণ্ডসমূহ যাতে কোনো উপকার নেই, অথবা সেখান থেকে কিছু পাঠ করেছে, তবে মানুষ তার গীবত করবে এবং সে তাদের মধ্যে মন্দ আচরণের জন্য পরিচিত হবে। বলা হয়ে থাকে যে, কিতাবের খণ্ডসমূহ যদি বন্ধ অবস্থায় দেখা যায় এবং তার ভেতরে কী আছে তা জানা না যায়, তবে তা উপকার লাভের লক্ষণ, যদিও এর ব্যাখ্যা পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। আরও বলা হয়েছে যে, কিতাবের খণ্ডসমূহ দেখা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণকর যতক্ষণ না জাগ্রত অবস্থায় কোনো অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটে; আর যদি কোনো মন্দ ঘটনা ঘটে তবে তা শুভ নয়। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে অনেক কিতাবের খণ্ডসমূহ সংগ্রহ করছে, তবে সে বিভিন্ন বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করবে; যদি সে সেগুলো পাঠ করে তবে তার সেই ব্যুৎপত্তি হবে মূল ভিত্তি ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর যদি পাঠ না করে তবে তার বিপরীত হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে কোনো কিতাব বাঁধাই করছে, তবে সে কোনো গুণী ব্যক্তির প্রতি ইহসান করবে; কিতাব সেলাই করার বিষয়টিও তদ্রূপ। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে তৌরাত পাঠ করছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো উচ্চপদস্থ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে শক্তি অর্জন এবং সে তার বন্ধুদের পক্ষ থেকে কল্যাণ ও উপকার লাভ করবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে উচ্চস্বরে তৌরাত পাঠ করছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো বিবাদ, কিন্তু সে সত্যের মাধ্যমে জয়ী হবে এবং তার উদ্দেশ্য সফল হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) কেউ তাকে তৌরাত পাঠ শেখাচ্ছে, তবে তা কল্যাণ লাভের দলিল। বলা হয়েছে যে, তৌরাত এর ব্যাখ্যা হলো প্রাচীন ও মর্যাদাবান কোনো ব্যক্তি যার হিজরত ও ফযীলত রয়েছে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে তৌরাত মুখস্থ পাঠ করছে, কিতাব দেখে নয়, তবে সে বিবাদের পর তার প্রয়োজন পূরণে সফল হবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে কিতাব দেখে ইঞ্জিল পাঠ করছে, তবে সে নাসারাদের পক্ষ থেকে উপকার লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি কিতাব ছাড়া ইঞ্জিল পাঠ করবে, সে সত্য ত্যাগ করে বাতিলের দ্বারা প্রতারিত হবে এবং সে নাসারাদের প্রতি অনুরাগী হবে। (সহীফা বা পত্রসমূহ দেখার ব্যাখ্যা): ইবনে সীরীন বলেছেন: (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে ইবরাহীমের সহীফা কিংবা মূসার সহীফা পাঠ করছে, তবে কেউ তাকে সঠিক পথের দিশা দেবে এবং ভুলের পথ থেকে তাকে বিরত রাখবে, বিশেষ করে যদি সে কিতাব থেকে পাঠ করে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে মুখস্থ সহীফা পাঠ করছে, তবে তা মানুষের মাঝে মুনাফিকীর সাথে জীবন যাপনের নির্দেশক। জাবির মাগরিবী বলেছেন: যদি কোনো মুসলিম দেখে যে সে মুসহাফ বর্জন করে ইবরাহীম কিংবা মূসার সহীফা পাঠে লিপ্ত হয়েছে, তবে তা ইসলাম ধর্মের প্রতি তার বিশ্বাসের দুর্বলতা নির্দেশ করে এবং সে ইহুদী ও নাসারাদের প্রতি অনুরাগী হবে এবং তাদের মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়বে। যাবুর দেখার ব্যাখ্যা কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত। যে ব্যক্তি দেখবে সে কিতাব থেকে যাবুর পাঠ করছে, সে উত্তম কাজ বেছে নেবে। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে মুখস্থ যাবুর পাঠ করছে, তবে তা তার কর্মে মুনাফিকী ও লোকদেখানো স্বভাবের প্রমাণ। আবু সাঈদ আল-ওয়ায়েজ বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখবে সে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের কোনো একজনের সহীফা পাঠ করছে, তবে তা কল্যাণকর। (এবং যে ব্যক্তি দেখেছে) সে কোনো সহীফা লিখছে অথবা তাতে দৃষ্টিপাত করছে কিন্তু তা ভালোভাবে পাঠ করতে পারছে না, তবে সে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ লাভ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই ইহা..."

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬৩২)
لفي الصُّحُف الأولى صحف إِبْرَاهِيم ومُوسَى) {وَمن رأى} أَنه يقْرَأ وَجه صحيفَة أصَاب مِيرَاثا وَإِن قَرَأَ ظهرهَا فَإِنَّهُ يجْتَمع عَلَيْهِ دين لقَوْله تَعَالَى: {اقْرَأ كتابك كفى بِنَفْسِك الْيَوْم عَلَيْك حسيبا} {فَإِن رأى} نَفسه حاذقة من قِرَاءَة ذَلِك نَالَ ولَايَة ومالا (فَإِن رَأَتْ) ذَلِك امْرَأَة فانها تكسب جملَة فِي معاشها (وَمن رأى) آيَة من كتب الله الْمنزلَة مَكْتُوبَة على قَمِيصه فَإِنَّهُ يدل على أَنه معتصم بِأَيّ كتاب هِيَ مِنْهُ فِي جَمِيع أَحْوَاله وَإِذا رأى أحدا من أهل الذِّمَّة وَفِي يَده مصحف أَو كتاب غَرِيب فَإِنَّهُ يَقع فِي شدَّة.

10 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الهياكل)

من رأى هيكلا وَعِنْده حَامِل تَأتي بِولد (وَمن رأى) أَنه مقلد بهياكل ان كَانَ من أهل الدولة فَإِنَّهُ يُسَافر وَإِن كَانَ من أهل المعاش فَإِنَّهُ يُهَيِّئ أمرا وَإِن كَانَ لصا أَو مجرما أَو ذَا حِرْفَة قبيحة تنكر عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يسجن وَيصير فِي حرز صَاحب الشرطة وَقيل ان كَانَ مشكور السِّيرَة يكون فِي حرز من أعدائه (وَمن رأى) أَنه حَامِلا هيكلا فَإِن كَانَ مِمَّن يَلِيق بِهِ فَإِنَّهُ يكون لَهُ مهابة فِي أعين الْخلق لقَوْل بَعضهم فلَان هيكل أَي مهاب وَرُبمَا دلّ الهيكل وَحمله على الْحَرْب وَالْخِصَام (وَمن رأى) هيكلا مُعَلّقا على دَابَّة فتعبيره على وَجْهَيْن حسن الدَّابَّة وَحُصُول الْمَنْفَعَة مِنْهَا أَو مَرضهَا وتغليبها (وَمن رأى) هيكلا وَقد حصل بِهِ مَا يُنكر فِي الْيَقَظَة فَلَيْسَ بمحمود وَقيل رُؤْيا الهياكل جمَاعَة يحصل بهم حفظ.

‌‌(الْبَاب التَّاسِع)

 

‌‌(فِي رُؤْيا الْأَذَان وَالْعِبَادَة وَالذكر وَالْخطْبَة والوعظ والمجالس للفقه)

 

3 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيَة الْأَذَان)

قَالَ ابْن سِيرِين: من رأى أَنه يُؤذن فِي مَكَان مَعْرُوف إِن كَانَ مُؤمنا من أهل الصّلاح ومتقياً يرزقه الله تَعَالَى زِيَارَة الْكَعْبَة لقَوْله تَعَالَى: {وَأذن فِي النَّاس بِالْحَجِّ} الْآيَة (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي مَكَان مَجْهُول فَإِنَّهُ مَكْرُوه غير مَحْمُود إِن كَانَ الرَّائِي فَاسِقًا فَإِنَّهُ يسرق (وَمن رأى) انه يُؤذن على مَنَارَة مَسْجِد فَإِنَّهُ يَدْعُو الْخلق إِلَى طَاعَة الله تَعَالَى (وَمن رأى) أَنه يُؤذن على فرَاشه وَهُوَ نَائِم فَهُوَ استخفاف بِزَوْجَتِهِ وَعِيَاله (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي بَاب دَاره فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي وسط دَاره فَإِنَّهُ يَمُوت وَلَده أَو أُخْته (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي صفة فَإِنَّهُ يَمُوت وَالِده أَو عَمه (وَمن رأى) أَنه يُؤذن على سطح جِيرَانه فَإِنَّهُ يظنّ ظن السوء بِأحد من أهل جِيرَانه (وَمن رأى) أَنه يُؤذن بِبَاب السُّلْطَان فَإِنَّهُ ينْكَشف بفضيحة وَقيل يتَكَلَّم بِالْحَقِّ فِي جَانب السُّلْطَان (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي السُّوق فَإِنَّهُ يدل على الْفقر والإفلاس وَقيل يهْلك أحد من أَهله. (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي مَكَان غويص فَإِنَّهُ يكون زنديقاً منافقاً (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي حارة لَيست بمَكَان الْأَذَان إِنَّه يدل التَّجَسُّس (وَمن رأى) أَنه يُؤذن مَعَ أهل بَيته فَإِنَّهُ يدل على حُدُوث مُصِيبَة وَكَذَلِكَ الْمَرْأَة إِذا رَأَتْ أَنَّهَا تؤذن (وَمن رأى) أَنه يُرِيد أَن ينقص فِي الْأَذَان فَهُوَ سلوك أَمر غير الْحق (وَمن رأى) أَن طفْلا صَغِيرا يُؤذن فَإِنَّهُ كَلَام زور فِي حق وَالِديهِ (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي الْحمام فَإِنَّهُ نقص فِي دينه ودنياه (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي قافلة أَو رفْقَة يَسِيرُونَ فَإِنَّهُ يتهم قوما بِسَرِقَة وهم مِنْهَا بريئون لقَوْله تَعَالَى: {ثمَّ أذن مُؤذن أيتها العير إِنَّكُم لسارقون} {وَمن رأى} أَنه يُؤذن وَيُقِيم الصَّلَاة وَكَانَ مَحْبُوسًا فَإِنَّهُ يُطلق من سجنه (وَمن رأى) أَنه يُؤذن بلعب وَلَهو فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله وَقَالَ جَابر المغربي: (من رأى) أَنه يُؤذن فِي الصَّحرَاء بمفرده فَإِنَّهُ يدل على قرب أَجله. (وَمن رأى) أَنه يُؤذن على رَأس جبل فَإِنَّهُ يدل على الْكَلَام الصَّادِق فِي حق جليل الْقدر وَقيل: من رأى أَنه يُؤذن على المئذنة فَإِنَّهُ علو قدر وَمن رأى أَنه يُؤذن فِي محراب فَإِنَّهُ يدل على السّفر وَالرُّجُوع بالسلامة وَحُصُول المُرَاد وَمن رأى أَنه يسمع الْأَذَان فَإِنَّهُ يكون كسلاناً فِي الصَّلَاة (وَمن رأى) أَنه يسمع صَوت الْإِقَامَة فَإِنَّهُ يدل على التَّوْفِيق لفعل الْخَيْر وَقيل: من رأى أَنه يُؤذن وَيُقِيم الصَّلَاة وَقوم مجتمعون لَا يأْتونَ الصَّلَاة فَإِنَّهُ يَدْعُو قوما إِلَى الْحق فيأبون وَيَكُونُونَ ظالمين لقَوْله تَعَالَى: {فَأذن مُؤذن بَينهم أَن لعنة الله على الظَّالِمين} وَقيل: من رأى أَنه يكبر فِي الصَّلَاة فَإِن أحسن التَّكْبِير اتبع طَرِيق السّنة وَإِن لحن تؤول على ثَلَاثَة أوجه: شماتة بعدوه وَحُصُول فَرح أَو حزن (وَمن رأى)
(পূর্ববর্তী সহীফাসমূহে যা রয়েছে, যেমন ইবরাহীম ও মূসার সহীফা) {এবং যে ব্যক্তি দেখে} যে সে একটি সহীফার পাতা পড়ছে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে। আর যদি সে পাতার উল্টো পিঠ পড়ে, তবে তার ওপর ঋণ পুঞ্জীভূত হবে। কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার কিতাব পাঠ করো; আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট}। {যদি সে দেখে} যে সে তা পাঠে পারদর্শী, তবে সে কর্তৃত্ব ও সম্পদ লাভ করবে। (যদি কোনো নারী) এমনটি দেখে, তবে সে তার জীবিকায় সচ্ছলতা লাভ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের কোনো আয়াত তার জামায় লেখা রয়েছে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে তার সকল অবস্থায় ঐ কিতাবটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছে যেখান থেকে আয়াতটি নেওয়া হয়েছে। আর যখন কোনো জিম্মিকে দেখে যার হাতে একটি মুসহাফ বা কোনো অপরিচিত কিতাব রয়েছে, তবে সে কঠোর বিপদে পড়বে।

১০ - ‌‌(তাবিয বা কাঠামো দেখার পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি কোনো তাবিয (হায়কাল) দেখে এবং তার নিকট কোনো গর্ভবতী নারী থাকে, তবে সে পুত্র সন্তান জন্ম দেবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে তার গলায় তাবিয ঝুলানো রয়েছে, সে যদি রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হয় তবে সে সফর করবে। আর যদি কর্মজীবী হয় তবে সে কোনো বিষয়ের প্রস্তুতি নেবে। যদি সে চোর, অপরাধী বা মন্দ পেশার অধিকারী হয় তবে সে কারারুদ্ধ হবে এবং পুলিশের হেফাজতে যাবে। আর বলা হয়েছে, যদি সে প্রশংসিত চরিত্রের অধিকারী হয় তবে সে তার শত্রুদের থেকে হিফাযতে থাকবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে একটি তাবিয বহন করছে, সে যদি এর যোগ্য হয় তবে মানুষের চোখে তার প্রতিপত্তি সৃষ্টি হবে; কেননা কেউ কেউ বলে থাকেন যে অমুক ব্যক্তি ‘হায়কাল’ অর্থাৎ প্রভাবশালী। কখনো তাবিয ও তা বহন করা যুদ্ধ ও বিবাদের ওপরও প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখে) কোনো পশুর ওপর তাবিয ঝুলানো আছে, তবে এর ব্যাখ্যা দুই প্রকার: পশুর সৌন্দর্য ও তা থেকে উপকার লাভ অথবা এর রোগ ও দুর্বলতা। (যে ব্যক্তি দেখে) তাবিযে এমন কিছু রয়েছে যা বাস্তব জীবনে অপছন্দনীয়, তবে তা প্রশংসনীয় নয়। বলা হয়েছে, তাবিযসমূহ দেখা এমন একদল মানুষের প্রতীক যাদের মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জিত হয়।

‌‌(নবম অধ্যায়)

 

‌‌(আযান, ইবাদত, যিকর, খুতবা, উপদেশ এবং ফিকহ মজলিস দেখা সংক্রান্ত)

 

৩ - ‌‌(আযান দেখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

ইবনে সিরীন বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে কোনো পরিচিত স্থানে আযান দিচ্ছে, সে যদি মুমিন, সৎকর্মশীল ও পরহেযগার হয় তবে আল্লাহ তাআলা তাকে কাবাগৃহ যিয়ারতের তাওফীক দান করবেন। কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মানুষের মধ্যে হজের আযান দাও (ঘোষণা করো)}। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো অপরিচিত স্থানে আযান দিচ্ছে, তবে তা অপছন্দনীয় ও অকল্যাণকর। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা ফাসেক হয় তবে সে চুরি করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে মসজিদের মিনারের ওপর আযান দিচ্ছে, তবে সে মানুষকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে আহ্বান করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে ঘুমানো অবস্থায় নিজের বিছানায় আযান দিচ্ছে, তবে তা তার স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার ঘরের দরজায় আযান দিচ্ছে, তবে তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার ঘরের মাঝখানে আযান দিচ্ছে, তবে তার সন্তান অথবা বোন মারা যাবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বারান্দায় আযান দিচ্ছে, তবে তার পিতা অথবা চাচা মারা যাবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে প্রতিবেশীর ছাদে আযান দিচ্ছে, তবে সে প্রতিবেশীর কোনো সদস্য সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সুলতানের দরজায় আযান দিচ্ছে, তবে তার কোনো বিষয় কলঙ্কজনকভাবে প্রকাশ পাবে; আবার বলা হয়েছে যে সে সুলতানের সামনে সত্য কথা বলবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বাজারে আযান দিচ্ছে, তবে তা দারিদ্র্য ও নিঃস্ব হওয়ার প্রমাণ দেয়; আবার বলা হয়েছে তার পরিবারের কেউ ধ্বংস হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো গভীর গর্ত বা নিচু স্থানে আযান দিচ্ছে, তবে সে যিন্দিক ও মুনাফিক হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে এমন কোনো গলিতে আযান দিচ্ছে যা আযানের জায়গা নয়, তবে তা গোয়েন্দাগিরির ওপর প্রমাণ দেয়। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে আযান দিচ্ছে, তবে তা কোনো মুসীবত ঘটার প্রমাণ দেয়; একইভাবে নারী যদি দেখে যে সে আযান দিচ্ছে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আযানে কমতি করতে চাচ্ছে, তবে সে অসত্য পথে পরিচালিত হচ্ছে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে কোনো ছোট শিশু আযান দিচ্ছে, তবে তা তার পিতামাতা সম্পর্কে মিথ্যা কথা। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে গোসলখানায় আযান দিচ্ছে, তবে তা তার দ্বীন ও দুনিয়ার অপূর্ণতার লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো কাফেলা বা পথযাত্রীদের মাঝে আযান দিচ্ছে, তবে সে কোনো সম্প্রদায়ের ওপর চুরির অপবাদ দেবে অথচ তারা এ থেকে নির্দোষ; মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর একজন আহ্বানকারী আযান দিয়ে (ঘোষণা) করল, হে কাফেলা! তোমরা তো চোর}। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আযান ও একামত দিচ্ছে এবং সে কারাবন্দী, তবে সে কারাগার থেকে মুক্তি পাবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে খেলাধুলা ও তামাশাচ্ছলে আযান দিচ্ছে, তবে তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ দেয়। জাবির আল-মাগরিবী বলেন: (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে জনমানবহীন প্রান্তরে একাকী আযান দিচ্ছে, তবে তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে পাহাড়ের চূড়ায় আযান দিচ্ছে, তবে তা কোনো মর্যাদাশীল ব্যক্তির ব্যাপারে সত্য কথার প্রমাণ দেয়। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে যে সে মিনারের ওপর আযান দিচ্ছে, তবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। যে ব্যক্তি দেখে যে সে মেহরাবে আযান দিচ্ছে, তবে তা সফর এবং নিরাপদে প্রত্যাবর্তন ও উদ্দেশ্য সফলের প্রমাণ দেয়। যে ব্যক্তি দেখে যে সে আযান শুনছে, তবে সে নামাযের ব্যাপারে অলস হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে একামতের শব্দ শুনছে, তবে তা সৎকাজ করার তাওফীক লাভের প্রমাণ। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে যে সে আযান ও একামত দিচ্ছে অথচ সমবেত লোকেরা নামাযে আসছে না, তবে সে একদল মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান করছে কিন্তু তারা তা অস্বীকার করছে এবং তারা যালিম; কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী আযান দিয়ে (ঘোষণা) করল যে, যালিমদের ওপর আল্লাহর লানত}। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে যে সে নামাযে তাকবীর দিচ্ছে, যদি সে সুন্দরভাবে তাকবীর দেয় তবে সে সুন্নাহর পথ অনুসরণ করবে। আর যদি ভুল উচ্চারণ করে তবে এর ব্যাখ্যা তিনটি: শত্রুর ওপর আনন্দ প্রকাশ, আনন্দ লাভ অথবা দুঃখ পাওয়া। (এবং যে ব্যক্তি দেখে)
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ফী ইলমিল ইবারাত (পৃষ্ঠা: ৬৩৩)
أَنه يُؤذن على سطح فَإِنَّهُ شهرة بِسَبَب امْرَأَة وعاقبته فِي ذَلِك إِلَى خير وَقيل: من رأى أَنه يُؤذن بمَكَان لَا يَنْبَغِي الْأَذَان فِيهِ فَإِنَّهُ لَا خير فِيهِ وَرُبمَا يحصل لَهُ جُنُون وَمَا أشبه ذَلِك وَقيل: من رأى أَنه يُؤذن أَو رأى أحدا يُؤذن على ظهر بَهِيمَة فَهُوَ سفر (وَمن رأى) أَنه يُؤذن فِي مركب فَإِنَّهُ يدل على تسهيل الْأُمُور وَكَذَلِكَ إِذا رأى أَنه يُؤذن على رَأس بَيت. (وَمن رأى) أَنه يكبر فِي الأعياد فَإِنَّهُ يعظم شَعَائِر الله وَلَا بَأْس بِهَذِهِ الرُّؤْيَا وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: رُؤْيا الْأَذَان تؤول على اثْنَي عشر وَجها حج وَقَول حق وَأمر وَقدر ورياسة وسفر وَمَوْت وَدفع وإفلاس وخيانة وتجسس وَقلة دين ونفاق.

4 - ‌‌(فصل فِي رُؤْيا الدُّعَاء)

(وَمن رأى) أَنه يَدْعُو لنَفسِهِ وَيطْلب من الله عز وجل الرَّحْمَة والتضرع تكون خاتمته إِلَى خير وتقضي حَوَائِجه (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو لرجل صَالح يصل إِلَيْهِ خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَالدّين (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو لرجل مُفسد أَو ظَالِم فَإِنَّهُ يكون معينا لَهُ فِي ظلمه وفساده (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو لجَمِيع الْخلق فَإِنَّهُ يطْلب صَلَاح أَحْوَال الْخلق (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو لنَفسِهِ خَاصَّة فَإِن الله تَعَالَى يرزقه ولدا لقَوْله تَعَالَى: {وزَكَرِيا إِذْ نَادَى ربه رب لَا تذرني فَردا وَأَنت خير الْوَارِثين} قيل من رأى أَنه يَدْعُو وَيَدعِي لَهُ فَهُوَ خير وبركة (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو عقيب الصَّلَاة فَإِنَّهُ نِهَايَة أَمر (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو على إِنْسَان فَإِنَّهُ يَقْهَرهُ بالْكلَام وَإِن دَعَا على نَفسه فَإِنَّهُ لَا يشْكر نعْمَة الله (وَمن رأى) أَنه يُرِيد الدُّعَاء وَلَا يَسْتَطِيع فَلَا خير فِيهِ (وَمن رأى) أَنه يَدْعُو فِي مَنَامه فَإِنَّهُ يدل على إهمال أَمر وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى أَنه يَدْعُو دُعَاء مَعْرُوفا فَإِنَّهُ يُصَلِّي صَلَاة مَفْرُوضَة (وَمن رأى) كَأَنَّهُ يَدْعُو دُعَاء لَيْسَ فِيهِ اسْم الله تَعَالَى فَإِنَّهُ يُصَلِّي صَلَاة رُؤْيَاهُ (وَمن رأى) كَأَنَّهُ يَدْعُو ربه فِي ظلمَة فَإِنَّهُ ينجو من غم لقَوْله تَعَالَى: {فنادي فِي الظُّلُمَات} الْآيَة وَحسن الدُّعَاء دَلِيل على النُّصْرَة لقَوْله تَعَالَى: {وَذكروا الله كثيرا وانتصروا} الْآيَة.

5 - ‌‌(فصل فِي الْعِبَادَة)

من رأى أَنه يعبد الله تَعَالَى بِنَوْع من أَنْوَاع الْعِبَادَات وَهُوَ فِي ذَلِك سلك طَرِيق الرشاد فَهُوَ حُصُول خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة (وَمن رأى) أَنه يعبد مَا لَا يجوز فِي الشَّرْع فتعبيره ضد ذَلِك (وَمن رأى) فِي عِبَادَته نُقْصَانا فَهُوَ مقصر فِي مصَالح نَفسه (وَمن رأى) أَنه يتعبد فِي مَكَان لَا تجوز فِيهِ الْعِبَادَة فَإِنَّهُ يدل على النِّفَاق (وَمن رأى) أَنه يعْتَكف فَإِنَّهُ يكون متجنباً أُمُور الدُّنْيَا (وَمن رأى) أَنه يسبح الله تَعَالَى فَإِنَّهُ يفرج همه ويكشف غمه وَالسوء عَنهُ لقَوْله تَعَالَى: {فلولا أَنه كَانَ من المسبحين} الْآيَة وَقيل: الْعِبَادَة تؤول على خَمْسَة أوجه: تقرب إِلَى الله وسلوك طرق حميدة ومناصحة الْمُلُوك وَبشَارَة وَنَجَاة وظفر بالأعداء وَقَالَ أَبُو سعيد الْوَاعِظ: من رأى أَنه يسْتَغْفر الله يرزقه مَالا وَولدا لقَوْله تَعَالَى: {فَقلت اسْتَغْفرُوا ربكُم} الْآيَة (وَمن رأى) أَنه فرغ من صلَاته ثمَّ اسْتغْفر الله تَعَالَى وَوَجهه نَحْو الْقبْلَة فَإِنَّهُ يُسْتَجَاب دعاؤه وَإِن كَانَ وَجهه إِلَى غير الْقبْلَة فَإِنَّهُ يُذنب ذَنبا ثمَّ يَتُوب مِنْهُ (وَمن رأى) أَنه سكت عَن الاسْتِغْفَار دلّ على نفاق لقَوْله تَعَالَى: {وَإِذا قيل لَهُم تَعَالَوْا يسْتَغْفر لكم رَسُول الله لووا رؤوسهم} وَإِذا رَأَتْ امْرَأَة أَنه يُقَال لَهَا استغفري لذنبك فَإِنَّهَا تتهم بِفَاحِشَة (وَمن رأى) أَنه يَقُول: سُبْحَانَ الله فَإِنَّهُ تفرج همومه من حَيْثُ لَا يحْتَسب. (وَمن رأى) كَأَنَّهُ نسي التَّسْبِيح أَصَابَهُ غم وَحبس طَوِيل لما تقدم من قصَّة يُونُس عليه السلام وَرُبمَا دلّ ذَلِك على إهمال الطَّاعَات لقَوْله تَعَالَى: {نسوا الله فنسيهم} {وَمن رأى} أَنه يحمد الله تَعَالَى فَإِنَّهُ ينَال نورا وَهدى فِي دينه (وَمن رأى) أَنه يشْكر الله تَعَالَى فَإِنَّهُ ينَال قُوَّة وَزِيَادَة نعْمَة وَإِن كَانَ أَهلا للولاية نَالَ بَلْدَة طيبَة عامرة لقَوْله تَعَالَى {واشكروا لَهُ بَلْدَة طيبَة وَرب غَفُور} وَقيل: رُؤْيا الْحَمد وَالشُّكْر زِيَادَة نعْمَة ورفعة وَرُبمَا رزق ولدا لقَوْله تَعَالَى: {الْحَمد لله الَّذِي وهب لي على الْكبر إِسْمَاعِيل} .

6 - ‌‌(فصل فِي الذّكر)

{من رأى} أَنه مواظب على الذّكر يَأْمَن من شَرّ الْأَعْدَاء وَيفتح فِي وَجهه أَبْوَاب الْخيرَات وينجو من الْبلَاء وتسهل لَهُ أُمُوره العسيرة (وَمن رأى) أَنه يذكر الله كثيرا فَإِنَّهُ يدل على الْفَلاح لقَوْله تَعَالَى: {واذْكُرُوا الله كثيرا لَعَلَّكُمْ تفلحون}
কে যদি দেখে যে সে ছাদের উপর আযান দিচ্ছে, তবে এটি একজন নারীর কারণে খ্যাতির ইঙ্গিত দেয় এবং এর শেষ পরিণতি কল্যাণের দিকে হবে। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে যে সে এমন স্থানে আযান দিচ্ছে যেখানে আযান দেওয়া সমীচীন নয়, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই এবং সম্ভবত সে উন্মাদনা বা অনুরূপ কিছুর শিকার হবে। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে যে সে আযান দিচ্ছে অথবা দেখে যে কেউ পশুর পিঠে চড়ে আযান দিচ্ছে, তবে তা সফরের লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নৌকায় আযান দিচ্ছে, তবে তা কাজ সহজ হওয়ার দলিল এবং একইভাবে যদি সে দেখে যে সে ঘরের ছাদে আযান দিচ্ছে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে ঈদের দিনগুলোতে তাকবির দিচ্ছে, তবে সে আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করবে এবং এই স্বপ্নে কোনো দোষ নেই। জাফর সাদিক বলেছেন: আযানের স্বপ্ন বারোটি বিষয়ের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়—হজ, সত্য কথা, আদেশ, সামর্থ্য, নেতৃত্ব, সফর, মৃত্যু, প্রতিরোধ, দেউলিয়া হওয়া, বিশ্বাসঘাতকতা, গোয়েন্দাগিরি, দ্বীনের অভাব এবং মুনাফিকি।

৪ - ‌‌(দুআ দেখার পরিচ্ছেদ)

(যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নিজের জন্য দুআ করছে এবং মহান আল্লাহর কাছে রহমত ও বিনয় প্রার্থনা করছে, তবে তার শেষ পরিণতি কল্যাণের হবে এবং তার হাজত পূরণ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে একজন পুণ্যবান ব্যক্তির জন্য দুআ করছে, তবে তার কাছে দুনিয়া, আখেরাত ও দ্বীনের কল্যাণ পৌঁছাবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে একজন ফাসেক বা জালেম ব্যক্তির জন্য দুআ করছে, তবে সে তার জুলুম ও ফাসাদে সাহায্যকারী হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সমস্ত সৃষ্টির জন্য দুআ করছে, তবে সে সৃষ্টির অবস্থার সংশোধন কামনা করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বিশেষভাবে নিজের জন্য দুআ করছে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তান দান করবেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর স্মরণ করুন যাকারিয়ার কথা, যখন তিনি তাঁর রবকে ডেকেছিলেন—হে আমার রব, আমাকে একা রাখবেন না, আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী।" বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি দেখে যে সে দুআ করছে এবং তার জন্য দুআ করা হচ্ছে, তবে তা কল্যাণ ও বরকত। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নামাজের পর দুআ করছে, তবে এটি কোনো কাজের পরিসমাপ্তি। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো মানুষের বিরুদ্ধে বদদোয়া করছে, তবে সে তাকে কথার মাধ্যমে পরাস্ত করবে। আর যদি সে নিজের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে, তবে সে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে দুআ করতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না, তবে এতে কোনো কল্যাণ নেই। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার স্বপ্নে দুআ করছে, তবে তা কোনো বিষয়ে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। আবু সাঈদ আল-ওয়ায়েজ বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে কোনো পরিচিত দুআ করছে, তবে সে কোনো ফরজ নামাজ আদায় করছে। (যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে এমন কোনো দুআ করছে যাতে আল্লাহ তাআলার নাম নেই, তবে সে তার স্বপ্নের নামাজ পড়ছে (অর্থাৎ কেবল লোক দেখানো নামাজ)। (যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে অন্ধকারে তার রবকে ডাকছে, তবে সে দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর সে অন্ধকারে আহ্বান করল" (আয়াতের অংশ)। আর সুন্দর দুআ হলো সাহায্যের দলিল; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করল এবং বিজয়ী হলো" (আয়াতের অংশ)।

৫ - ‌‌(ইবাদত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি দেখে যে সে আল্লাহ তাআলার ইবাদতসমূহের কোনো এক প্রকারের ইবাদত করছে এবং সে ক্ষেত্রে সঠিক পথে চলছে, তবে তা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভের লক্ষণ। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে এমন কিছু ইবাদত করছে যা শরিয়তে অনুমোদিত নয়, তবে এর ব্যাখ্যা এর বিপরীত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) তার ইবাদতে কোনো ত্রুটি রয়েছে, তবে সে নিজের স্বার্থে গাফেল। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে এমন স্থানে ইবাদত করছে যেখানে ইবাদত করা বৈধ নয়, তবে তা মুনাফিকির ইঙ্গিত দেয়। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে ইতিকাফ করছে, তবে সে দুনিয়াবি বিষয়াবলি থেকে বিমুখ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আল্লাহ তাআলার তাসবিহ পাঠ করছে, তবে তিনি তার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তার থেকে দুঃখ ও অমঙ্গল সরিয়ে দেবেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি সে তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতো" (আয়াতের অংশ)। বলা হয়েছে: ইবাদতের ব্যাখ্যা পাঁচটি উপায়ে করা হয়—আল্লাহর নৈকট্য লাভ, প্রশংসনীয় পথে চলা, রাজাদের সদুপদেশ প্রদান, সুসংবাদ এবং মুক্তি ও শত্রুদের ওপর বিজয়। আবু সাঈদ আল-ওয়ায়েজ বলেছেন: যে ব্যক্তি দেখে যে সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে, আল্লাহ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করবেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি বললাম, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো" (আয়াতের অংশ)। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার নামাজ শেষ করেছে এবং কিবলামুখী হয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, তবে তার দুআ কবুল হবে। আর যদি তার মুখ কিবলা ছাড়া অন্য দিকে থাকে, তবে সে কোনো গুনাহ করবে এবং পরে তা থেকে তওবা করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে ইস্তিগফার করা থেকে বিরত রয়েছে, তবে তা মুনাফিকির দলিল; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়।" আর কোনো নারী যদি দেখে যে তাকে বলা হচ্ছে "তোমার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো", তবে সে ব্যভিচারের অপবাদে অভিযুক্ত হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বলছে "সুবহানাল্লাহ", তবে অভাবনীয় উৎস থেকে তার দুশ্চিন্তা দূর হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে তাসবিহ পড়তে ভুলে গেছে, তবে সে ইউনুস আলাইহিস সালাম-এর ঘটনার প্রেক্ষিতে দুঃখ এবং দীর্ঘ কারাবাসে পতিত হবে; আর সম্ভবত এটি আনুগত্যের বিষয়ে অবহেলার দলিল; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহও তাদেরকে ভুলে গেছেন।" (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আল্লাহর প্রশংসা করছে, তবে সে তার দ্বীনের ব্যাপারে নূর ও হেদায়েত লাভ করবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছে, তবে সে শক্তি ও নেয়ামতের বৃদ্ধি লাভ করবে; আর যদি সে শাসনের যোগ্য হয়, তবে সে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ জনপদ লাভ করবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "শুকরিয়া আদায় করো তাঁর, এক পবিত্র জনপদ এবং ক্ষমাশীল রব।" বলা হয়েছে: প্রশংসা ও শুকরিয়া দেখার অর্থ হলো নেয়ামতের বৃদ্ধি ও মর্যাদা লাভ, এবং সম্ভবত সন্তান লাভ; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বার্ধক্যে ইসমাইলকে দান করেছেন।"

৬ - ‌‌(জিকির সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ)

{যে ব্যক্তি দেখে} যে সে নিয়মিত জিকির করছে, তবে সে শত্রুদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে, তার জন্য কল্যাণের দ্বারসমূহ উন্মোচিত হবে, সে বিপদ থেকে মুক্তি পাবে এবং তার কঠিন কাজগুলো সহজ হবে। (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে আল্লাহকে অধিক স্মরণ করছে, তবে তা সাফল্যের দলিল; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।"