(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: -)
الفوز الكبير في أصول التفسير   (ولي الله الدهلوي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الفوز الكبير في أصول التفسير

المؤلف: الإمام أحمد بن عبد الرحيم المعروف بـ «ولي الله الدهلوي» (ت 1176هـ)

عَرَّبَه من الفارسية: سلمان الحسيني النَّدوي

الناشر: دار الصحوة - القاهرة

الطبعة: الثانية - 1407 هـ - 1986 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.

عدد الصفحات: 201

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর   (শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর

লেখক: ইমাম আহমদ বিন আব্দুর রহীম, যিনি «শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি» নামে পরিচিত (মৃত্যু ১১৭৬ হিজরি)

ফার্সি থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন: সালমান আল-হুসাইনি আল-নাদভী

প্রকাশক: দারুস সাহওয়াহ - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয় - ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

আল্লাহ এর লেখক এবং যিনি এর অনুলিখনের ব্যয়ভার বহন করেছেন তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০১

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب:‌‌ الفوز الكبير في أصول التفسير

المؤلف: الإمام أحمد بن عبد الرحيم (المعروف بـ «ولي الله الدهلوي» (المتوفى: 1176هـ)

عَرَّبَه من الفارسية: سلمان الحسيني النَّدوي

الناشر: دار الصحوة - القاهرة

الطبعة: الثانية - 1407 هـ - 1986 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

গ্রন্থ:‌‌ আল-ফাউযুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর

লেখক: ইমাম আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম (যিনি ‘শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি’ নামে পরিচিত) (মৃত্যু: ১১৭৬ হিজরি)

ফারসি থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন: সালমান আল-হুসাইনি আন-নাদভি

প্রকাশক: দারুস সাহওয়া - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয় - ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

আল্লাহ তাআলা এর লেখক এবং যিনি এর লিখন ব্যয় বহন করেছেন তাদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌مقدمة الكتاب

إن آلاء الله - تعالى - ونعمة على عبده الضعيف كثيرة لا تحصى، وأجل هذه النعم توفيقه إياي لفهم كتابه الحكيم، وإن ممن سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصغر أفراد أمته، منزلة، عظيمة وفيرة، وأعظمها تبليغه صلى الله عليه وسلم لكتاب ربه عز وجل.

لقد تلقى الجيل الأول منه صلى الله عليه وسلم القرآن الكريم، وتلقى الجيل الثاني من الجيل الأول وهكذا دواليك حتى وصل إلى العبد الضعيف فنال حظه من تلاوته وفهمه وتدبره. اللهم صل على هذا النبي الكريم، سيدنا ومولانا شفيعنا أفضل صواتك وأيمن بركاتك وعلى آله وأصحابه، وعلماء أمته أجمعين، برحمتك يا أرحم الراحمين.

أما بعد!

يقول الفقير إلى الله، ولي الله بن عبد الرحيم - عاملهما الله - تعالى - بلطفه العظيم -: إنه لما فتح الله - تعالى - على بابا من كتابه الحكيم، خطر لي أن أقيد الفوائد النافعة التي تنفع إخواني في تدبر كلام الله عز وجل وأرجو أن مجرد فهم هذه القواعد يفتح للطلاب طريقاً واسعاً إلى فهم
গ্রন্থের ভূমিকা

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও নিআমতসমূহ তাঁর এই দুর্বল (ضعيف) বান্দার ওপর অগণিত ও অশেষ। এসকল নিআমতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাব অনুধাবনের জন্য আমাকে তাওফিক দান করা। আমাদের সায়্যিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তাঁর উম্মতের ক্ষুদ্রতম সদস্যের ওপর যে অবদান রয়েছে তা অত্যন্ত মহান ও সুপ্রচুর; আর এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো তাঁর মহান রবের কিতাব পৌঁছে দেওয়া।

প্রথম প্রজন্ম সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে কুরআনুল কারিম গ্রহণ করেছেন, দ্বিতীয় প্রজন্ম প্রথম প্রজন্ম থেকে গ্রহণ করেছেন এবং এভাবেই পর্যায়ক্রমে তা এই দুর্বল (ضعيف) বান্দা পর্যন্ত পৌঁছেছে; ফলে সেও এর তিলাওয়াত, অনুধাবন ও গবেষণার সৌভাগ্য লাভ করেছে। হে আল্লাহ! আপনি এই মহান নবী, আমাদের নেতা ও সুপারিশকারীর ওপর আপনার সর্বোত্তম রহমত ও বরকত বর্ষণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁর উম্মতের সকল উলামায়ে কেরামের ওপরও রহমত বর্ষণ করুন, আপনার রহমতের অসিলায় হে পরম দয়ালু।

অতঃপর!

আল্লাহর মুখাপেক্ষী ওলিউল্লাহ বিন আব্দুর রহীম—আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান অনুগ্রহে তাঁদের প্রতি সদয় হোন—বলছেন: যখন মহান আল্লাহ আমার জন্য তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের একটি দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন, তখন আমার মনে হলো যে, আমি সেই উপকারী বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করি যা আমার ভাইদের মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে উপকারে আসবে। আমি আশা করি যে, এই নীতিমালা (قواعد) সমূহের সাধারণ অনুধাবনই শিক্ষার্থীদের জন্য ইলম অর্জনের এক প্রশস্ত পথ উন্মুক্ত করে দিবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
معاني كتاب الله - تعالى -، وأنهم لو قضوا أعمارهم في مطالعة كتب التفسير، أو قراءتها على المفسرين، لا يظفرون بهذه القواعد والأصول بهذا الضبط والتناسق.

وسميتها "بالفوز الكبير في أصول التفسير" وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت، وهو حسبي ونعم الوكيل.

وقد جمعت مقاصد هذه الرسالة في خمسة أبواب، وهي كما يلي:

1 - الباب الأول: في العلوم الخمسة التي يدل عليها القرآن الكريم نصاً، حتى وكأن القرآن نزل بالأصالة لهذه العلوم الخمسة.

2 - الباب الثاني: في وجوه خفاء نظم القرآن بالنسبة إلى أفهام أهل هذا العصر، وتجليتها بأوضح بيان.

3 - الباب الثالث: في بيان لطائف نظم القرآن، والأسلوب القرآني البديع.

4 - الباب الرابع: في مناهج التفسير، وبيان أسباب الاختلاف ووجوهه في تفسير الصحابة والتابعين.

5 - الباب الخامس: في بيان غريب القرآن، وأسباب النزول التي لابد من حفظها للمفسر، ويحظر بدونها الخوض في التفسير.
আল্লাহ তাআলার কিতাবের অর্থসমূহ; আর তারা যদি তাদের সমগ্র জীবন তাফসিরের গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নে অথবা মুফাসসিরগণের নিকট তা পাঠ করে অতিবাহিত করে, তবুও তারা এই নিয়মাবলী (القواعد) এবং মূলনীতিসমূহ (الأصول) এমন নির্ভুলতা (ضبط) ও সুশৃঙ্খলভাবে লাভ করতে পারবে না।

আমি এর নামকরণ করেছি "আল-ফাউজুল কাবীর ফি উসূলিত তাফসির"। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমি এই রিসালাহর উদ্দেশ্যসমূহকে পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

1 - প্রথম অধ্যায়: ওই পাঁচটি ইলম সম্পর্কে যা পবিত্র কুরআন অকাট্য পাঠ (نص) হিসেবে নির্দেশ করে, এমনকি মনে হয় যেন কুরআন মূলত এই পাঁচটি ইলমের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছে।

2 - দ্বিতীয় অধ্যায়: বর্তমান যুগের মানুষের বোধগম্যতার নিরিখে কুরআনের বিন্যাসশৈলীর অস্পষ্টতার দিকগুলো এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল বর্ণনার মাধ্যমে তা সুস্পষ্ট করার প্রসঙ্গে।

3 - তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনের বিন্যাসশৈলীর নিগূঢ় রহস্য (لطائف) এবং কুরআনের চমৎকার শৈলী বর্ণনায়।

4 - চতুর্থ অধ্যায়: তাফসিরের পদ্ধতিসমূহ (مناهج), এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণের তাফসিরের ক্ষেত্রে মতভেদের কারণ ও প্রকারসমূহ বর্ণনায়।

5 - পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলি (غريب القرآن) এবং অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) বর্ণনায়, যা একজন মুফাসসিরের জন্য মুখস্থ রাখা অপরিহার্য এবং যা ব্যতীত তাফসিরে প্রবৃত্ত হওয়া নিষিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الباب الأول

العلوم الخمسة الأساسية التي يشتمل عليها القرآن

ليعلم أن المعاني التي يشتمل عليها القرآن لا تخرج عن خمسة علوم:

1 - علم الأحكام: كالواجب والمندوب والمباح والمكروه والحرام، سواء كانت من قسم العبادات أو المعاملات، أو الاجتماع أو السياسة المدنية.

ويرجع تفصيل هذا العلم وشرحه إلى الفقيه.

2 - علم الجدل: وهي المحاجة مع الفرق الأربع الباطلة، اليهود والنصارى والمشركين والمنافقين.

ويرجع في شرح هذا العلم وتعريفه إلى المتكلم.

3 - علم التذكير بآلاء الله: كبيان خلق السموات والأرض وإلهام العباد ما يحتاجون إليه، وبيان الصفات الإلهية.

4 - علم التذكير بأيام الله: وهو بيان تلك الوقائع والحوادث التي أحدثها الله - تعالى - إنعاماً على المطيعين ونكالا للمجرمين (كقصص الأنبياء - عليهم الصلوات
প্রথম অধ্যায়

কুরআন যে পাঁচটি মৌলিক জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে

জেনে রাখা আবশ্যক যে, কুরআনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ মূলত পাঁচটি জ্ঞানের (علم) বাইরে নয়:

১ - বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান (علم الأحكام): যেমন অবশ্যকর্তব্য (واجب), পছন্দনীয় (مندوب), বৈধ (مباح), অপছন্দনীয় (مكروه) এবং নিষিদ্ধ (حرام); চাই তা ইবাদত বা লেনদেন সংক্রান্ত হোক, অথবা সামাজিক বা নাগরিক রাজনীতি সংক্রান্ত হোক।

এই জ্ঞানের বিস্তারিত বিবরণ ও ব্যাখ্যা ফকিহগণের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

২ - বিতর্ক সংক্রান্ত জ্ঞান (علم الجدل): এটি হলো চারটি বাতিল ফেরকার সাথে যুক্তি-তর্ক; যথা—ইয়াহুদি, নাসারা, মুশরিক ও মুনাফিক।

এই জ্ঞানের ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমগণের শরণাপন্ন হতে হয়।

৩ - আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জ্ঞান (علم التذكير بآلاء الله): যেমন আসমান ও জমিন সৃষ্টির বর্ণনা, বান্দাদের প্রয়োজনীয় বিষয়ের ইলহাম দান এবং ঐশী গুণাবলির বর্ণনা।

৪ - আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ঘটনাবলি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জ্ঞান (علم التذكير بأيام الله): এটি হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক সংঘটিত সেই সকল বাস্তব ঘটনা ও পরিস্থিতির বর্ণনা, যা তিনি অনুগতদের প্রতি অনুগ্রহস্বরূপ এবং অপরাধীদের শাস্তিস্বরূপ সংঘটিত করেছেন (যেমন নবীদের কাহিনীসমূহ - তাঁদের ওপর দরুদ...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
والتسليمات - ومواقف شعوبهم وأقوامهم معهم) .

5 - علم التذكير بالموت وما بعد الموت: كالحشر والنشر والحساب والميزان، والجنة والنار.

ويرجع تفصيل هذه العلوم وبيانها وذكر الأحاديث والآثار المتعلقة بها إلى الواعظ والمذكر.

اسلوب القرآن الكريم في عرض العلوم القرآنية:

وقد جاءت هذه العلوم في القرآن الكريم على طريقة العرب الأولين، لا على منهج العلماء المتأخرين، فلم يلتزم في آيات الأحكام، منه، طريق الإيجاز والاختصار كمؤلفي المتون الفقهية، ولا طريق تنقيح الحدود والقيود، كما يفعله الأصوليون.

وقد التزم في آيات الجدل والمخاصمة إيراد الأدلة المشهورة المسلمة، والبراهين الخطابية، لا تنقيح البراهين، وتقسيمها على طريقة المنطقيين.

ولم يراع في الانتقال من مقصد إلى آخر، ومن موضوع إلى موضوع آخر، تلك المناسبة، التي يراعيها الأدباء المتأخرون، بل ألقى على عباده ما رآه مهماً، سواء كان مقدماً أو مؤخراً.
এবং তাদের প্রতি সালাম — এবং তাদের সাথে তাদের জাতি ও কওমের আচরণসমূহ)।

৫ - মৃত্যু এবং মৃত্যু-পরবর্তী বিষয়াবলি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ইলম (জ্ঞান): যেমন হাশর, নশর, হিসাব ও মিযান, এবং জান্নাত ও জাহান্নাম।

এই সকল ইলমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, বর্ণনা এবং এ সংশ্লিষ্ট হাদিস ও আছার (آثار) উল্লেখ করার বিষয়টি ওয়ায়েজ ও মুযাক্কিরের (উপদেশদাতা) বিষয়াধীন।

কুরআনুল কারিমে কুরআনি ইলমসমূহ উপস্থাপনের পদ্ধতি:

এই ইলমসমূহ কুরআনুল কারিমে আদি আরবদের পদ্ধতিতে এসেছে, পরবর্তী যুগের আলেমদের মানহাজ (منهج) অনুযায়ী নয়। তাই কুরআনের আহকামের আয়াতসমূহে ফিকহি মতুন রচয়িতাদের ন্যায় সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তকরণের পথ অবলম্বন করা হয়নি, কিংবা উসূলবিদদের (أصوليون) ন্যায় সংজ্ঞা ও শর্তাবলির পরিমার্জনের পথও অনুসরণ করা হয়নি।

আর বিতর্ক ও বাদানুবাদের আয়াতসমূহে প্রসিদ্ধ ও সর্বজনস্বীকৃত দলীলসমূহ এবং আলঙ্কারিক প্রমাণাদি উপস্থাপনের রীতি অনুসৃত হয়েছে; যুক্তিবিদদের (منطقيين) ন্যায় প্রমাণাদির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিভাগ করা হয়নি।

এক উদ্দেশ্য থেকে অন্য উদ্দেশ্যে এবং এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে গমনের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের সাহিত্যিকগণ যে প্রাসঙ্গিকতা (مناسبة) রক্ষা করেন, এখানে তা বিবেচনা করা হয়নি; বরং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন তা-ই অবতীর্ণ করেছেন, চাই তা আগে বর্ণিত হোক বা পরে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌حقيقة أسباب النزول:

وقد ربط عامة المفسرين كل آية من آيات الأحكام وآيات المخاصمة بقصة تروى في سبب نزولها، وظنوا أنها هي سبب النزول، والحق أن نزول القرآن الكريم إنما كان لتهذيب النفوس الإنسانية، وإزالة العقائد الباطلة، والأعمال الفاسدة.

فالسبب الحقيقي - إذن - في نزول آيات المخاصمة هو وجود العقائد الباطلة في نفوس المخاطبين. وسبب نزول آيات الأحكام إنما هو شيوع المظالم ووجود الأعمال الفاسدة فيهم. وسبب نزول آيات التذكير (بآلاء الله وأيامه وبالموت) إنما هو عدم تيقظهم وتنبههم بما يرون ويمرون عليه من آلاء الله وأيامه، وحوادث الموت، وما سيكون بعده من وقائع هائلة.

أما الأسباب الخاصة والقصص الجزئية التي تجشم بيانها المفسرون فليس لها دخل في ذلك إلا في بعض الآيات الكريمة، التي تشتمل على تعريض بحادث من الحوادث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم أو قبله، بحيث يقع القارئ بعد هذا التعريض في ترقب وانتظار لما كان وراءه من قصة أو حادث أو سبب، ولا يزال ترقبه إلا بسيط القصة وبيان سبب النزول.

لأجل ذلك يلزمنا أن نشرح هذه العلوم بطريقة لا نحتاج معها إلى إيراد قصص جزئية.
নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপটের (أسباب النزول) প্রকৃত স্বরূপ:

সাধারণ মুফাসসিরগণ (المفسرون) বিধান সম্পর্কিত আয়াত (آيات الأحكام) এবং বিতর্ক বা যুক্তিখণ্ডনমূলক আয়াতগুলোর (آيات المخاصمة) প্রত্যেকটিকে নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب النزول) হিসেবে বর্ণিত কোনো না কোনো গল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন এবং ধারণা করেছেন যে, এটিই আয়াত নাযিলের প্রকৃত কারণ। প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআনের অবতরণ তো হয়েছে মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য এবং ভ্রান্ত আকিদাহ ও কলুষিত আমলসমূহ দূর করার জন্য।

সুতরাং, বিতর্ক বা যুক্তিখণ্ডনমূলক আয়াতগুলো (آيات المخاصمة) নাযিল হওয়ার প্রকৃত কারণ হলো সম্বোধিত ব্যক্তিদের অন্তরে বিদ্যমান ভ্রান্ত আকিদাহসমূহ। আর বিধান সম্পর্কিত আয়াতসমূহ (آيات الأحكام) নাযিল হওয়ার কারণ হলো তাদের মধ্যে জুলুম-অবিচার এবং কলুষিত কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তার। আর আল্লাহ তাআলার নিআমত, তাঁর বিশেষ দিনসমূহ এবং মৃত্যু সম্পর্কে উপদেশমূলক আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার কারণ হলো আল্লাহ তাআলার যে সকল নিআমত ও কুদরতের নিদর্শন তারা অবলোকন করে বা যার পাশ দিয়ে তারা অতিক্রম করে, সেই সম্পর্কে এবং মৃত্যুর ঘটনাবলি ও পরবর্তী ভয়াবহ ঘটনাসমূহ সম্পর্কে তাদের অসচেতনতা ও অমনোযোগিতা।

পক্ষান্তরে সেই বিশেষ কারণ বা আংশিক কাহিনিসমূহ যা বর্ণনা করার জন্য মুফাসসিরগণ (المفسرون) বিশেষ শ্রম ব্যয় করেছেন, তার কোনো প্রভাব মূলত ঐ কয়েকটি আয়াত ছাড়া অন্যগুলোতে নেই, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের বা পূর্ববর্তী কোনো ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ফলে সেই ইঙ্গিতের কারণে পাঠক সেই ঘটনার পেছনের কাহিনি বা কারণ জানার অপেক্ষায় থাকে। আর সেই প্রতীক্ষা তখনই শেষ হয় যখন সেই কাহিনি বর্ণনা করা হয় এবং নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট (سبب النزول) স্পষ্ট করা হয়।

এই কারণেই আমাদের কর্তব্য হলো এই শাস্ত্রসমূহকে এমন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যাতে আমাদের আংশিক কাহিনিগুলো অবতারণা করার প্রয়োজন না পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الأول

في علم الجدل

لقد وقع الجدل في القرآن الكريم مع الفرق الأربعة الباطلة: المشركين، واليهود والنصارى والمنافقين.

طريقان للجدل في القرآن الكريم:

وكان هذا الجدل والاحتجاج على طريقين:

1 - الأول أن تذكر العقيدة الباطلة وينص على شناعتها وفسادها واستنكارها، فحسب.

2 - الثاني أن تحدد الشبهات التي وقع فيها هؤلاء الفرق، ثم تعرض حلولها وأجوبتها بالأدلة البرهانية أو الخطابية.

مفهوم الحنيف:

وقد كان المشركون يسمون أنفسهم "حنفاء" ويدعون التدين بملة سيدنا إبراهيم عليه السلام.

والحنيف هو من ينتمي إلى إبراهيم عليه السلام ويتدين بملته، ويلتزم شعائره.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

বিতর্ক শাস্ত্র (علم الجدل) প্রসঙ্গে

পবিত্র কুরআনে চারটি বাতিল দলের সাথে বিতর্ক (الجدل) সংঘটিত হয়েছে: মুশরিক, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুনাফিক।

পবিত্র কুরআনে বিতর্কের (الجدل) দুটি পদ্ধতি:

এই বিতর্ক (الجدل) এবং যুক্তি প্রদর্শন ছিল দুটি পদ্ধতিতে:

1 - প্রথম পদ্ধতিটি হলো কেবল বাতিল আকিদা বা বিশ্বাসের উল্লেখ করা এবং এর জঘন্যতা, অসারতা ও অগ্রহণযোগ্যতা বর্ণনা করা।

2 - দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো সেই সব সংশয় (الشبهات) চিহ্নিত করা যাতে এই দলগুলো নিপতিত হয়েছিল, অতঃপর অকাট্য (البرهانية) বা অলংকারপূর্ণ (الخطابية) প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান ও উত্তর পেশ করা।

হানিফ (الحنيف)-এর ধারণা:

মুশরিকরা নিজেদের "হানিফ" (حنفاء) বলে অভিহিত করত এবং আমাদের নেতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের আদর্শ (ملة) অনুসরণের দাবি করত।

হানিফ (الحنيف) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের অনুসারী হন, তাঁর আদর্শ (ملته) গ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রবর্তিত নিদর্শনাবলি (شعائره) মেনে চলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌شعائر الملة الإبراهيمية:

وإن شعائر الملة الإبراهيمية هي: حج بيت الله الحرام، واستقباله في الصلوات، والغسل من الجنابة والاختتان، وسائر خصال الفطرة، وتحريم الأشهر الحرم، وتعظيم المسجد الحرام، وتحريم المحرمات النسبية والرضاعية، والذبح في الحلق، والنحر في اللبة، والتقرب بالذبح والنحر إلى الله - تعالى - لاسيما في أيام الحج.

بعض شرائع الملة الإبراهيمية:

وقد كان الوضوء، والصلاة، والصوم من طلوع الفجر إلى غروب الشمس، والصدقة على اليتامى والمساكين، والإعانة على نوائب الحق، وصلة الأرحام، أموراً مشروعة في أصل ملة إبراهيم عليه السلام وكانوا يتمادحون بهذه الأعمال ويرونها فضيلة ومفخرة، إلا أن جمهور المشركين تركوها وانصرفوا عنها، وأصبحت عندهم هذه الأمور والشعائر كأن لم تكن شيئاً.

وكان تحريم القتل والسرقة والزنا والربا والغصب ثابتاً معلوماً في أصل الملة الحنيفية، ويجري استنكارها عندهم في الجملة، ولكن جمهور المشركين كانوا يرتكبونها، وينساقون وراءها بحكم النفس الأمارة بالسوء.
মিল্লাতে ইবরাহিমির নিদর্শনাবলি:

নিশ্চয়ই মিল্লাতে ইবরাহিমির নিদর্শনাবলি হলো: আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহ) হজ করা, নামাজের সময় কিবলার অভিমুখে দণ্ডায়মান হওয়া, জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করা, খতনা করা এবং ফিতরাতের (প্রকৃতির) অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ। এ ছাড়া সম্মানিত মাসগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করা, মসজিদুল হারামের মহিমা বজায় রাখা, বংশীয় ও দুগ্ধপানজনিত হারাম সম্পর্কসমূহ নিষিদ্ধ রাখা, পশুর কণ্ঠনালিতে জবেহ করা, সিনার উপরিভাগে নহর করা এবং বিশেষত হজের দিনগুলোতে জবেহ ও নহরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করা।

মিল্লাতে ইবরাহিমির কিছু বিধান:

অজু, নামাজ, ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করা, এতিম ও মিসকিনদের দান-সদকা করা, ন্যায্য প্রয়োজনে সাহায্য করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা—এসবই ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মূল মিল্লাতে বিধিবদ্ধ বিষয় হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা এই আমলগুলোর প্রশংসা করত এবং এগুলোকে মর্যাদা ও গৌরবের বিষয় মনে করত। তবে অধিকাংশ মুশরিক এসব আমল পরিত্যাগ করেছিল এবং তা থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছিল। ফলে তাদের কাছে এই বিষয় ও নিদর্শনগুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেন সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

হত্যা, চুরি, জিনা, সুদ ও জবরদখল হারাম হওয়া ‘মিল্লাতে হানিফিয়া’-র মূলে সুনিশ্চিত ও সুবিদিত বিষয় ছিল এবং সাধারণভাবে তাদের মধ্যে এগুলোর প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা প্রচলিত ছিল। কিন্তু অধিকাংশ মুশরিক নফসে আম্মারার (মন্দপ্ররোচনাকারী আত্মা) তাড়নায় এই অপরাধগুলো করত এবং এর মোহে ধাবিত হতো।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌العقائد الثابتة لدى المشركين وانحرافهم عنها:

وكانت عقيدة إثبات وجود الله - تعالى - وأنه خالق الأرض والسموات العلى، وأنه مدبر الحوادث العظام، وأنه قادر على إرسال الرسل، ومجاز للعباد على أعمالهم، وأنه قادر مقدر للحوادث العظيمة، قبل وقوعها، وأن الملائكة عباد الله المقربون، وأنهم يستحقون الإكرام، كل ذلك كان ثابتاً عندهم، ويدل على ذلك شعرهم، ولكن جمهور المشركين، وقعوا في شبهات كثيرة تجاه هذه المعتقدات، لاستبعاد بعض الأمور، وعدم ألفتهم لإدراكها والإحاطة بمفاهيمها.

وقد كان ضلال هؤلاء وانحرافهم في الشرك والتشبيه والتحريف، وجحود الآخرة، واستبعاد رسالة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم وشيوع الأعمال القبيحة والمظالم فيما بينهم، وابتداع الطقوس والتقاليد الباطلة، واندراس العبادات والشعائر الحقة الصحيحة.

حقيقة الشرك ومظاهره وأنواعه:

والشرك هو: إثبات الصفات الخاصة بالله - تعالى - لغيره، مثل إثبات التصرف المطلق في الكون بالإدارة المطلقة التي يعبر عنها "بكن فيكون" أو إثبات العلم الذاتي الذي
মুশরিকদের মাঝে বিদ্যমান সুপ্রতিষ্ঠিত আকীদা এবং তা থেকে তাদের বিচ্যুতি:

আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের স্বীকৃতি এবং তিনি যে আসমান ও সুউচ্চ জমিনসমূহের স্রষ্টা, মহাজাগতিক বড় বড় ঘটনাবলির পরিচালক, রাসূল প্রেরণে সক্ষম এবং বান্দাদের আমলের প্রতিদান প্রদানকারী; আর তিনি যে বড় বড় ঘটনাবলি ঘটার পূর্বেই সেগুলোর সক্ষম নির্ধারণকারী (مقدر); ফেরেশতারা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বান্দা এবং তারা সম্মানের পাত্র—এই সবকিছুই তাদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। তাদের কাব্যচর্চা এর প্রমাণ দেয়। কিন্তু মুশরিকদের সাধারণ জনগোষ্ঠী এই বিশ্বাসগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সংশয়ের (شبهات) আবর্তে নিপতিত হয়েছিল; কিছু বিষয়কে সুদূরপরাহত মনে করা এবং সেগুলোর প্রকৃত ধারণা অনুধাবন ও পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত না থাকার কারণে।

তাদের এই পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি নিহিত ছিল শিরক (شرك), আল্লাহর গুণাবলিতে সৃষ্টির সাদৃশ্য প্রদান (تشبيه), বিকৃতি (تحريف) ও পরকাল অস্বীকারের মধ্যে; সাইয়্যিদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে অসম্ভব মনে করা, নিজেদের মাঝে অশ্লীল কাজ ও জুলুম-অত্যাচারের ব্যাপকতা, বাতিল প্রথা ও রীতিনীতির উদ্ভাবন এবং সত্য ও সঠিক ইবাদত ও দ্বীনি নিদর্শনাবলির বিলুপ্তির মাঝে।

শিরকের হাকীকত, এর বহিঃপ্রকাশ ও প্রকারভেদ:

শিরক (شرك) হলো: আল্লাহ তাআলার জন্য সুনির্দিষ্ট গুণাবলি অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত করা। যেমন: মহাবিশ্বের ওপর এমন নিরঙ্কুশ পরিচালনার ক্ষমতা সাব্যস্ত করা যা কেবল নিরঙ্কুশ ইচ্ছার দ্বারা সম্পাদিত হয় এবং যাকে "হও এবং হয়ে যায়" (كن فيكون) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়; অথবা এমন সত্তাগত জ্ঞান (علم ذاتي) সাব্যস্ত করা যা...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
لا يحصل بالاكتساب عن طريق الحواس والدليل العقلي، والمنام والإلهام وأمثال هذه الوسائل المادية أو الروحية، أو إثبات إيجاد شفاء المريض، أو إثبات اللعنة على شخص أو السخط عليه بحيث ينقلب نتيجة هذا اللعن والسخط معدما، أو مريضاً أو شقياً، أو الرحمة لشخص والرضا عنه بحيث ينقلب هو بسبب هذه الرحمة والرضا غنياً صحيحاً، معافى، سعيداً.

وهؤلاء المشركون لا يعرفون مع الله - تعالى - شريكاً، في خلق الجواهر (أي أصول المادة) وتدبير الأمور العظام، ويعترفون بأنه لا قدرة لأحد إذا أبرم الله - تعالى - شيئاً وقضى به أن يمانعه ويقف دونه، إنما إشراكهم في أمور خاصة ببعض العباد، إذ أنهم يظنون أن سلطاناً عظيماً من السلاطين العظام، كما يرسل عبيده وأصحابه الزلفى لديه إلى بعض نواحي مملكته للقيام ببعض الأمور الجزئية، ويجعلهم متصرفين فيها - إلى أن يصدر عنه قرار آخر - باختيارهم وسلطتهم، وأنه لا يقوم بشئون الرعية وأمورهم الجزئية بنفسه، بل يكل ذلك إلى الولاة والحكام، ويقبل منهم شفاعتهم وتزكيتهم للموظفين الذين يعملون تحت إشرافهم، والمتصلين بهم، والمتزلفين لديهم، كذلك قد خلع ملك الملوك على الإطلاق - تعالى شأنه - على بعض عباده المقربين خلعة الألوهية، وجعل سخطهم ورضاهم مؤثراً في عباده الأخرين.
এটি পঞ্চইন্দ্রিয়, যৌক্তিক প্রমাণ, স্বপ্ন, ইলহাম (إلهام) এবং এ জাতীয় বৈষয়িক বা আধ্যাত্মিক উপায়ের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; অথবা অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য লাভ নিশ্চিত করা, কিংবা কোনো ব্যক্তির ওপর অভিশাপ বা ক্রোধের বিষয়টি সাব্যস্ত করাও এর অন্তর্ভুক্ত নয়—যার ফলে ওই অভিশাপ ও ক্রোধের পরিণতিতে সে নিঃস্ব, অসুস্থ বা দুর্ভাগা হয়ে পড়ে; অথবা কারও প্রতি দয়া ও সন্তুষ্টির বিষয় এমনভাবে সাব্যস্ত করা নয়—যাতে ওই দয়া ও সন্তুষ্টির কারণে সে ধনী, সুস্থ, নিরাপদ ও সুখী হয়ে যায়।

আর এই মুশরিকরা মহান আল্লাহর সাথে মৌলিক সত্তা (অর্থাৎ পদার্থের মূল উপাদান) সৃষ্টি এবং মহাজাগতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো অংশীদার সাব্যস্ত করে না। তারা স্বীকার করে যে, মহান আল্লাহ যখন কোনো বিষয় অমোঘ করে দেন এবং তার ফয়সালা করেন, তখন তা প্রতিরোধ করার বা তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কারও নেই। তাদের শিরক মূলত বিশেষ কিছু বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে। কেননা তারা ধারণা করে যে, কোনো একজন মহান সম্রাট যেমন তার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু আংশিক কাজ সম্পাদনের জন্য তার দাস ও নৈকট্যপ্রাপ্ত সহচরদের প্রেরণ করেন এবং তাদের সেখানে—যতক্ষণ না তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসে—নিজস্ব এখতিয়ার ও ক্ষমতায় স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেন; আর তিনি (সম্রাট) প্রজাদের সাধারণ ও খুটিনাটি বিষয়াদি নিজে পরিচালনা করেন না, বরং তা গভর্নর ও শাসকদের ওপর ন্যস্ত করেন এবং তাদের সুপারিশ (شفاعة) এবং তাদের অধীনে কর্মরত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তাদের করা সত্যায়ন (تزكية) গ্রহণ করেন; ঠিক তেমনি সর্বাধিরাজ মহান আল্লাহও তাঁর কতিপয় নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের ওপর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার বৈশিষ্ট্য অর্পণ করেছেন এবং তাদের অসন্তুষ্টি ও সন্তুষ্টিকে অন্যান্য বান্দাদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فكانوا - لأجل ذلك - يرون من الضرورة التزلف إلى أولئك العباد المقربين حتى يكون هذا وسيلة لصلاحية القبول في حضرة الملك الحقيقي، وتنال شفاعتهم - في حقهم - عند الجزاء على الأعمال الحساب - الخطوة والقبول لديه - سبحانه -.

ونظراً لهذه الملاحظة والتصور الذي رسخ في نفوسهم حدثتهم أنفسهم بالسجود أمامهم والذبح لهم والحلف بأسمائهم والاستعانة بقدرتهم المطلقة، ونحت صورهم وتماثيلهم من الحجر والصفر والنحاس وغير ذلك. وجعلها قبلة للتوجه إلى أرواحهم، وتدرج الجهلة من هذا الطريق إلى أن بدأوا يعبدون هذه الصور والتماثيل ويعتقدون أنها آلهة بذاتها، ووقع في المعتقدات خلط والتباس وفساد عظيم.

‌‌معنى التشبيه وصوره:

والتشبيه عبارة عن إثبات الصفات البشرية (أو أي صفة من صفات المخلوقين) لله - تعالى - فكانوا يقولون مثلا: إن الملائكة بنات الله، وأن يقبل شفاعة عباده ولو لم يرض بها كما يفعل الملوك - أحيانا - مع الامراء الكبار وحكام الولايات، وإنهم - لما لم يستطيعوا إدراك السمع والبصر حسبما يليق بشأن الألوهية - قاسوهما على أسماعهم
এজন্য তারা সেই নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের তোষামোদ করাকে আবশ্যক মনে করত, যাতে এটি প্রকৃত বাদশাহর দরবারে কবুল হওয়ার যোগ্যতার মাধ্যম হয় এবং কর্মের প্রতিফল ও হিসাবের সময় তাদের ব্যাপারে তাদের সুপারিশ (شفاعة) মহান আল্লাহর নিকট নৈকট্য ও গ্রহণযোগ্যতা লাভের মাধ্যম হয়।

এই পর্যবেক্ষণ এবং তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হওয়া ধারণার প্রেক্ষিতে তাদের প্রবৃত্তি তাদেরকে তাদের সামনে সিজদা করতে, তাদের উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতে, তাদের নামে শপথ করতে এবং তাদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে প্ররোচিত করল। তারা পাথর, পিত্তল, তামা এবং অন্যান্য বস্তু দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি ও মূর্তি খোদাই করল এবং সেগুলোকে তাদের রুহের প্রতি নিবিষ্ট হওয়ার কিবলারূপে নির্ধারণ করল। মূর্খরা এই পথ ধরে পর্যায়ক্রমে এমন স্তরে পৌঁছে গেল যে, তারা এই ছবি ও মূর্তিগুলোর ইবাদত শুরু করল এবং বিশ্বাস করতে লাগল যে এগুলো স্বতন্ত্র ইলাহ। ফলে বিশ্বাস ও আকিদার মধ্যে সংমিশ্রণ, অস্পষ্টতা এবং চরম বিপর্যয় দেখা দিল।

‌‌সাদৃশ্য প্রদান (تشبيه) এর অর্থ ও তার রূপসমূহ:

সাদৃশ্য প্রদান (تشبيه) হলো আল্লাহ তাআলার জন্য মানবীয় গুণাবলি (অথবা সৃষ্টির যেকোনো গুণ) সাব্যস্ত করা। উদাহরণস্বরূপ তারা বলত: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা; এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সুপারিশ (شفاعة) গ্রহণ করেন যদিও তিনি তাতে সন্তুষ্ট না হন, যেমনটি রাজন্যবর্গ কখনো কখনো বড় বড় আমির ও প্রদেশের শাসকদের ক্ষেত্রে করে থাকেন। যেহেতু তারা আল্লাহত্বের শানের উপযুক্ত শ্রবণ ও দর্শন উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি, তাই তারা এগুলোকে নিজেদের শ্রবণেন্দ্রিয়ের ওপর তুলনা (قياس) করল।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وأبصارهم، ووقعوا في التجسيم ونسبة التحيز إلى الله - سبحانه -.

منشأ التحريف ومظاهره:

أما التحريف فإن قصته هي أن أولاد سيدنا إسماعيل عليه السلام كانوا على شريعة جدهم - إبراهيم عليه السلام حتى وجد فيهم "عمرو بن لحى" - لعنه الله - ووضع لهم الأصنام وشرع لهم عبادتها، واختراع طقوس البحيرة والسائبة والحام، والاستقسام بالأزلام وأمثال هذه من الطقوس والبدع، وقد كان ذلك قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم بقرابة ثلاثمائة سنة.

وكان هؤلاء الجهلة يستدلون بآثار آبائهم، ويرونها عندهم حجة قاطعة.

وأما أحوال البعث والحشر والنشر فإن الأنبياء السابقين وإن تعرضوا لبيانها فإنهم لم يبينوها أو لم تتضمن صحفهم بيانها بذلك التفصيل والإسهاب الذي نجده في القرآن الكريم، ولذلك كان المشركون قليلي الإطلاع على تفاصيلهما، ويستبعدون وقوعهما.

وكانوا بالرغم من اعترافهم بنبوة جدهم سيدنا إبراهيم عليه السلام ونبوة سيدنا إسماعيل عليه السلام -
এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি; তারা দেহবাদ (التجسيم) এবং মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে স্থানিক সীমাবদ্ধতা (التحيز) আরোপ করার বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছিল।

বিকৃতির (التحريف) উৎস ও এর স্বরূপসমূহ:

বিকৃতির (التحريف) প্রকৃত ঘটনা এই যে, আমাদের নেতা সাইয়্যিদুনা ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরগণ তাঁদের পিতামহ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের শরিয়তের ওপর অটল ছিলেন। অবশেষে তাদের মধ্যে "আমর ইবনে লুহাই" -তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক- আবির্ভূত হলো এবং সে তাদের জন্য মূর্তিপূজার প্রবর্তন করল ও তাদের জন্য মূর্তিপূজার বিধান চালু করল। এছাড়া সে বাহিরা, সাইবা ও হাম-এর মতো প্রথা, তীরের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ (الاستقسام بالأزلام) এবং এই জাতীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের (البدع) প্রবর্তন করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত হওয়ার প্রায় তিনশ বছর আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।

এই মূর্খরা তাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যানুসারী বর্ণনা বা নিদর্শনাবলিকে (آثار) দলিল হিসেবে পেশ করত এবং তারা সেগুলোকে নিজেদের নিকট অকাট্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করত।

আর পুনরুত্থান (البعث), হাশর (الحشر) ও কিয়ামত বা মৃতদের উত্থিত হওয়ার (النشر) অবস্থাগুলোর কথা পূর্ববর্তী নবীগণ যদিও আলোচনা করেছিলেন, তবে তাঁরা তা বিশদভাবে বর্ণনা করেননি অথবা তাঁদের সহীফাসমূহে সেই বিস্তারিত ও দীর্ঘ বর্ণনা বিদ্যমান ছিল না, যা আমরা পবিত্র কুরআনে দেখতে পাই। এই কারণে মুশরিকরা এগুলোর খুঁটিনাটি সম্পর্কে খুব কমই অবগত ছিল এবং তারা এগুলোর সংঘটনকে অসম্ভব বলে মনে করত।

তারা তাদের পিতামহ সাইয়্যিদুনা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা ইসমাইল আলাইহিস সালামের নবুওয়াতের (نبوة) স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও -
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
حتى بنبوة سيدنا موسى عليه السلام أيضا، تحول الصفات البشرية (التي يتسم بها الأنبياء) بينهم وبين رؤية جمالهم الحقيقي، وتحجبهم - لجهلهم وقلة إدراكهم - عن الإطلاع على مكانتهم الحقيقية، وكانوا لعدم تفطنهم وإدراكهم لحقيقة التدبير الإلهي والحكمة الإلهية التي تقتضي بعثة الأنبياء والمرسلين، يستبعدون رسالة الرسل لاعتقادهم أن الرسول ينبغي أن يكون مثل المرسل (وأن يكون بينهما اشتراك في الصفات) ويوردون لأجل ذلك شبهات واهية ركيكة، فيقولون مثلا:

* كيف يكون النبي محتاجاً إلى الطعام والشراب؟

* ولماذا لم يرسل الله ملكاً رسولا؟

* وما هو الغرض في أنه لا يوحى إلى كل شخص على حدته، وهلم جراً؟

وإذا كنت - أيها القاري - تتوقف في التسليم بصحة ما يقال عن عقائد المشركين وأعمالهم، فانظر إلى المخرفين في هذا العصر، لاسيما من يقطنون منهم بأطراف دار الإسلام، ما هي تصوراتهم عن "الولاية"، فرغم أنهم يعترفون بولاية الأولياء المتقدمين، يرون وجود الأولياء في عصرنا هذا من المستحيلات، ويؤمون القبور والعتبات، وقد ابتلوا بأنواع
এমনকি আমাদের সাইয়্যিদিনা মূসা আলাইহিস সালাম-এর নবুওয়াতের ক্ষেত্রেও, মানবীয় গুণাবলি (যা নবীদের বৈশিষ্ট্য) তাদের এবং তাঁদের প্রকৃত সৌন্দর্য দর্শনের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাদের অজ্ঞতা ও উপলব্ধির স্বল্পতার কারণে তা তাঁদের প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করেছিল। তারা ঐশী পরিকল্পনা ও খোদায়ী হিকমতের হাকিকত সম্পর্কে অসচেতন হওয়ার কারণে—যা নবী ও প্রেরিত পুরুষগণের (المرسلين) প্রেরণের দাবি রাখে—রাসূলদের রেসালাতকে অবাস্তব মনে করত। তাদের ধারণা ছিল যে, রাসূলকে (الرسول) অবশ্যই প্রেরণকারীর (المرسل) মতো হতে হবে (অর্থাৎ তাদের মধ্যে গুণাবলির অংশীদারিত্ব থাকতে হবে)। একারণে তারা অত্যন্ত দুর্বল ও অন্তঃসারশূন্য সংশয় উত্থাপন করত। যেমন তারা বলত:

* কীভাবে একজন নবী পানাহারের মুখাপেক্ষী হতে পারেন?

* আর কেনই বা আল্লাহ কোনো ফেরেশতাকে রাসূল (الرسول) হিসেবে পাঠালেন না?

* প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে আলাদাভাবে ওহী (الوحي) না পাঠানোর উদ্দেশ্যই বা কী? এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু।

হে পাঠক! মুশরিকদের আকিদা ও আমল সম্পর্কে যা বলা হয়, তার সত্যতা স্বীকারে যদি আপনি ইতস্তত করেন, তবে বর্তমান যুগের বিভ্রান্ত লোকদের দিকে লক্ষ্য করুন; বিশেষ করে যারা দারুল ইসলামের প্রান্তিক অঞ্চলে বসবাস করে। 'বিলায়াত' (الولاية) সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? যদিও তারা পূর্ববর্তী আউলিয়াগণের (الأولياء) বিলায়াত স্বীকার করে, তবুও তারা আমাদের এই যুগে আউলিয়াদের (الأولياء) অস্তিত্বকে অসম্ভব মনে করে। তারা কবর ও মাজারের অভিমুখী হয় এবং তারা বিভিন্ন প্রকারের...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪০)
من الشرك والبدع والخرافات، وتمكن منهم التحريف والتشبيه، وتغلغل في نفوسهم حتى لم تبق بحكم ما جاء في الحديث الصحيح "لتتبعن سنن من كان قبلكم، إلخ" بلية من البلايا ولا فتنة من الفتن إلا وطائفة من طوائف المسلمين - اسماً - تخوض فيها وتعلق بها، عافانا الله سبحانه عن ذلك.

وبالجملة فإن رحمة الله تعالى - اقتضت بعثة سيد الأنبياء محمد بن عبد الله - صلوات الله وسلامه عليه - في الجزيرة العربية، وأمره بإقامة الملة الحنيفية، ومجادلة هؤلاء الفرق الباطلة عن طريق القرآن العظيم، وقد كان الاستدلال في مجادلتهم بالمسلمات التي هي بقايا الملة الإبراهيمية، ليتحقق إلزام ويقع الإفحام.

‌‌الجدل القرآني مع المشتركين:

لقد رد الله - تعالى - على المشركين ومعتقداتهم الباطلة بشتى الطرق، وبيانها كما يلي.

1 - أولا: مطالبتهم بالدليل على ما يزعمون، ونقض تمسكهم بتقليد آبائهم.

2 - ثانياً: إثبات أن لا تساوي بين الرب والعباد وأن الرب - تعالى - مختص باستحقاق أقصى غاية التعظيم بخلاف جميع عباده وجمع مخلوقاته.
শির্‌ক, বিদআত ও কুসংস্কারের কারণে এবং বিকৃতি (تحريف) ও সাদৃশ্যপ্রদান (تشبيه) তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার ফলে এবং তাদের অন্তরে এমনভাবে গেঁথে যাওয়ার কারণে—সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত এই কথা অনুযায়ী যে, "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে, ইত্যাদি"—এমন কোনো বিপদ বা ফিতনা অবশিষ্ট নেই যাতে নামধারী মুসলমানদের কোনো না কোনো দল লিপ্ত হয়নি বা তাতে জড়িয়ে পড়েনি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার রহমত এই দাবি করেছিল যে, তিনি আরব উপদ্বীপে আম্বিয়াগণের সর্দার মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কে প্রেরণ করবেন এবং তাঁকে একনিষ্ঠ মিল্লাত (ملة حنيفية) প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেবেন এবং মহাগ্রন্থ কুরআনের পন্থায় এই বাতিল দলগুলোর সাথে বিতর্ক করার আদেশ দেবেন। তাদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে ইব্রাহিমি মিল্লাতের অবশিষ্ট স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোকে (مسلمات) প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতো, যাতে অকাট্য যুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিপক্ষ নিরুত্তর হয়ে যায়।

‌‌মুশরিকদের সাথে কুরআনের বিতর্ক:

আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের এবং তাদের বাতিল আকিদাহর প্রতিবাদ বিভিন্ন পন্থায় করেছেন, যার বর্ণনা নিম্নরূপ।

1 - প্রথমত: তারা যা দাবি করে সে বিষয়ে তাদের কাছে দলীল (دليل) তলব করা এবং তাদের পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করার প্রবণতাকে খণ্ডন করা।

2 - দ্বিতীয়ত: এটি প্রমাণ করা যে, প্রতিপালক এবং বান্দাদের মধ্যে কোনো সমতা নেই এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত বান্দা ও সৃষ্টির বিপরীতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মহিমা ও উপাসনা পাওয়ার একমাত্র অধিকারী।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪১)
3 - ثالثاًَ: بيان إجماع الأنبياء والمرسلين على هذه الحقيقة الكبرى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} .

4 - رابعاً: بيان شناعة عبادة الأصنام، وأن الاحجار ساقطة عن مرتبة الكمال الإنساني فكيف تظل بمرتبة الألوهية، يسجد لها ويتوجه إليها!

ومثل هذا الرد والتفنيد لأولئك المشركين الذين كانوا يعتقدون هذه الأصنام آلهة معبودة لذاتها.

‌‌الرد على التشبيه:

وكان الرد على التشبيه بعدة طرق:

1 - أولاً: بمطالبتهم بالدليل على دعواهم، ونقض تمسكهم بتقليد آبائهم.

2 - ثانياً: ببيان ضرورة التجانس بين الوالد والولد، (للرد على عقيدة الابنية) وظاهرة انه مفقود، باد ذلك للعيان.

3 - ثالثاً: بيان شناعة نسبة ما هو مكروه ومذموم لديهم - كما تدل على ذلك مواقفهم - إلى الله - تعالى - قال تعالى {أَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُونَ}
3 - তৃতীয়ত: এই মহাসত্যের ওপর সকল নবী ও রাসূলগণের ঐকমত্যের (إجماع) বর্ণনা: {আর আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহি নাজিল করিনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।}

4 - চতুর্থত: মূর্তিপূজার জঘন্যতা বর্ণনা করা এবং এ কথা স্পষ্ট করা যে, পাথরসমূহ মানবীয় পূর্ণতার স্তর থেকেও বিচ্যুত; সুতরাং সেগুলো কীভাবে উপাসত্বের (الألوهية) স্তরে থাকতে পারে, যার সামনে সিজদাহ করা হয় এবং যার অভিমুখী হওয়া হয়!

আর এই ধরনের প্রতিবাদ ও খণ্ডন সেই সকল মুশরিকদের জন্য যারা এই মূর্তিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ উপাস্য ইলাহ হিসেবে বিশ্বাস করত।

‌‌সাদৃশ্য স্থাপনের (التشبيه) প্রতিবাদ:

সাদৃশ্য স্থাপনের (التشبيه) প্রতিবাদটি বিভিন্ন উপায়ে করা হয়েছে:

1 - প্রথমত: তাদের দাবির সপক্ষে দলিল তলব করার মাধ্যমে এবং তাদের পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুকরণের (التقليد) ওপর অটল থাকাকে খণ্ডন করার মাধ্যমে।

2 - দ্বিতীয়ত: পিতা ও সন্তানের মধ্যে পারস্পরিক সমজাতীয়তা থাকার আবশ্যকতা বর্ণনা করার মাধ্যমে (সন্তান গ্রহণের আকিদাহ খণ্ডন করার জন্য), যা দৃশ্যত সেখানে অনুপস্থিত এবং এটি সবার কাছেই সুস্পষ্ট।

3 - তৃতীয়ত: তাদের নিকট যা অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয়—যেমনটি তাদের আচরণ থেকে বোঝা যায়—তা মহান আল্লাহর প্রতি আরোপ করার জঘন্যতা বর্ণনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি তোমার রবের জন্য কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান?}
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪২)
وقد سبق هنا الرد لقوم اعتادوا المقدمات المشهورة والمتوهمات الشعرية وكان أكثرهم من هذا القبيل.

الرد على التحريف:

وكان الرد على التحريف بإثبات أمرين:

1 - أنه لم يؤثر عن أئمة الملة الحنيفية (إبراهيم وإسماعيل وغيرهما من الأنبياء الماضين) ما يقولون من تحريفات.

2 - أنه من اختراعات من ليسوا بمعصومين وابتداعاتهم.

‌‌الرد على استبعاد القيامة:

وكان الرد على استبعاد البعث والحشر والنشر بوجوه عديدة.

1 - بالقياس على إحياء الأرض بعد موتها، وأمثال ذلك.

2 - بتنقيح المناط وهو عبارة - هنا - عن بيان شمول القدرة الإلهية، وإمكان الإعادة بعد البدء بل يسرها وسهولتها.

3 - ببيان موافقة أهل الكتب السماوية كلهم في الإخبار بالقيامة، واعتقادها.
এখানে ইতিপূর্বে এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি উত্তর প্রদান করা হয়েছে যারা সুপ্রসিদ্ধ প্রারম্ভিকা এবং কাব্যিক কল্পনানির্ভর ধারণায় অভ্যস্ত ছিল এবং তাদের অধিকাংশই ছিল এই পর্যায়ভুক্ত।

বিকৃতি (تحريف) এর প্রতিবাদ:

বিকৃতি (تحريف) এর প্রতিবাদ করা হয়েছে দুটি বিষয় প্রমাণের মাধ্যমে:

১ - হানিফি মিল্লাতের ইমামগণ (ইব্রাহিম, ইসমাইল এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীগণ) থেকে তারা যেসব বিকৃতি (تحريفات) এর কথা বলে, সে সংক্রান্ত কিছুই বর্ণিত (مؤثر) হয়নি।

২ - এটি মূলত মাসুম (নিষ্পাপ) নন এমন ব্যক্তিদের মনগড়া উদ্ভাবন ও নব-আবিষ্কার।

‌‌কেয়ামতকে অসম্ভব মনে করার প্রতিবাদ:

পুনরুত্থান (بعث), হাশর (حشر) এবং নশর (نشر) অসম্ভব মনে করার প্রতিবাদ বিভিন্নভাবে করা হয়েছে।

১ - মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করার ওপর কিয়াস (قياس) করার মাধ্যমে এবং এ জাতীয় অন্যান্য উদাহরণের সাহায্যে।

২ - তানকিহুল মানাত (تنقيح المناط) এর মাধ্যমে; যা এখানে মহান আল্লাহর কুদরতের ব্যাপকতা এবং সৃষ্টির সূচনার পর তার পুনরাবৃত্তির সম্ভাব্যতা, বরং এর সহজসাধ্যতা ও অনায়াসসাধ্যতার বর্ণনাকে বুঝায়।

৩ - কেয়ামতের সংবাদ প্রদান এবং সে বিষয়ে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সকল আসমানি কিতাবধারীদের ঐকমত্য বর্ণনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৩)
الرد على منكري الرسالة:

وكان الرد على المنكرين للرسالة والمستبعدين لها بالوجوه التالية:

1 - وقوع الرسالة وتحققها للأنبياء الماضين.

{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ} .

{وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا قُلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ} .

2 - الرد على استبعاد الرسالة واستغرابها بأنها - هنا - عبارة عن الوحي الإلهي (الذي يتلقاه رجل من البشر باصطفاء الله إياه) .

{قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ} .

وتفسير الوحي بما لا يكون من المستحيلات.

{وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} .
রিসালাত অস্বীকারকারীদের খণ্ডন:

রিসালাত অস্বীকারকারী এবং একে অসম্ভব মনেকারীদের খণ্ডন নিম্নোক্ত দিকগুলো থেকে করা হয়েছে:

১ - অতীত নবীদের ক্ষেত্রে রিসালাতের বাস্তবতা ও তার সত্যতা।

{আপনার পূর্বে আমি পুরুষদেরই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহি (وحي) প্রেরণ করতাম।} .

{আর যারা কুফরি করে তারা বলে, "আপনি প্রেরিত (مرسل) নন।" বলুন, "আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ এবং যার কাছে কিতাবের জ্ঞান আছে, তারাই যথেষ্ট।"} .

২ - রিসালাতকে অসম্ভব সাব্যস্ত করা এবং তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশের খণ্ডন এই মর্মে যে—তা হলো মূলত খোদায়ী ওহি (وحي) (যা আল্লাহর মনোনীত কোনো ব্যক্তি প্রাপ্ত হন)।

{বলুন, "আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহি (وحي) অবতীর্ণ হয়।"} .

এবং ওহি (وحي)-এর এমন ব্যাখ্যা প্রদান করা যাতে তা অসম্ভব কোনো বিষয় মনে না হয়।

{কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহি (وحي) ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ব্যতীত, কিংবা কোনো দূত (رسول) প্রেরণ ব্যতীত; অতঃপর তিনি তাঁর অনুমতিসাপেক্ষে যা ইচ্ছা ওহি (وحي) প্রেরণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাময়।} .
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৪)
3 - بيان أن عدم ظهور المعجزات التي يقترحونها على الرسول، وعدم موافقة الله - تعالى إياهم في تعيين شخص يتوخون رسالته، وعدم إرساله - تعالى شأنه - الملائكة رسلا بين الناس، وعدم إيحائه إلى كل شخص من الأشخاص، كل ذلك ينبني على المصالح الكلية التي يقصر علمهم عن إدراكها وتعجز عقولهم عن الإحاطة بمراميها.

ولما أن أكثر الناس الذين بعث إليهم الرسول صلى الله عليه وسلم كانوا مشركين، لذلك فإن هذه المعاني قد تكررت في القرآن الكريم بأساليب متعددة وفي سور كثيرة، وبتأكيدات بالغة، ولم يتحاش القرآن العظيم تردادها وتكرارها، فإنه حقيق أن يكون خطاب الحكيم المطلق لهؤلاء الجهلة، والضعيفي العقول كذلك بتأكيد بليغ وتكرار مزي.

-‌‌ الجدل القرآني مع اليهود -

أنواع ضلال اليهود:

لقد كان اليهود يؤمنون بالتوراة، وكان ضلالهم التحريف في أحكام التوراة، سواء كان تحريفا لفظياً أو تحريفاً معنوياً، وكتمان آيات التوراة، وإلحاق ما ليس منها بها، والتقصير في تنفيذ أحكامها، والعصبية الشديدة لديانتهم، واستنكار رسالة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وسوء الأدب مع رسول الله -
3 - এটি বর্ণনা করা যে, রাসূলের নিকট তারা যে অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) প্রস্তাব করেছিল তা প্রকাশ না পাওয়া, আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাদের পছন্দসই কোনো ব্যক্তিকে রাসূল হিসেবে মনোনীত না করা, ফেরেশতাদেরকে মানুষের মাঝে রাসূল (رسل) হিসেবে প্রেরণ না করা এবং প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট ওহী (وحي) প্রেরণ না করা—এই সব কিছুই এমন কিছু সামষ্টিক কল্যাণের (المصالح الكلية) ওপর নির্ভরশীল যা উপলব্ধি করতে তাদের জ্ঞান অপর্যাপ্ত এবং যার গূঢ় রহস্য অনুধাবন করতে তাদের বুদ্ধি অক্ষম।

যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন তাদের অধিকাংশ ছিল মুশরিক (مشركين), তাই এই বিষয়গুলো পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন শৈলীতে, বহু সূরাতে এবং অত্যন্ত জোরালোভাবে বারবার বর্ণিত হয়েছে। মহান কুরআন এগুলো বারবার উল্লেখ করতে কোনো দ্বিধা করেনি; কেননা পরম প্রজ্ঞাবান সত্তার পক্ষ থেকে এই জাহেল (جهلة) ও দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের প্রতি অত্যন্ত অলঙ্কারপূর্ণ ও জোরালো বক্তব্য এবং অর্থবহ পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সম্বোধন করাই ছিল সমীচীন।

-‌‌ ইহুদিদের সাথে কুরআনিক বিতর্ক -

ইহুদিদের গোমরাহির (ضلال) প্রকারভেদ:

ইহুদিরা তাওরাতের প্রতি ঈমান রাখত, কিন্তু তাদের গোমরাহি (ضلال) ছিল তাওরাতের বিধানের (أحكام) মধ্যে বিকৃতি (تحريف) সাধনের মাধ্যমে—তা শব্দগত বিকৃতি (تحريف لفظي) হোক কিংবা অর্থগত বিকৃতি (تحريف معنوي) হোক। এছাড়া তাওরাতের আয়াতসমূহ (آيات) গোপন করা, যা তাওরাতের অংশ নয় তা তাতে অন্তর্ভুক্ত করা, এর বিধানসমূহ পালনে শিথিলতা প্রদর্শন করা, নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে চরম গোঁড়ামি, আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতকে (رسالة) অস্বীকার করা এবং আল্লাহর রাসূলের সাথে অশোভন আচরণ করাই ছিল তাদের পথভ্রষ্টতা।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৫)
صلى الله عليه وسلم تبارك وتعالى، والبخل والحرص، وأمثالها من الرذائل الخلقية.

التحريف اللفظي:

وقد تحقق لدى الفقير أن تحريفهم اللفظي إنما كان في ترجمة التوراة وما يجري مجراها، لا في أصل التوراة وهذا هو قول ابن عباس رضي الله عنهما.

التحريف المعنوي وبعض أمثلته:

أما التحريف المعنوي فإنه عبارة عن التأويلات الفاسدة وحمل الآيات على غير معانيها المرادة بتعسف وانحراف عن قصد السبيل. ونذكر فيما يلي عدداً من وجوه التحريف المعنوية:

المثال الأول:

1 - منها: أن الفرق بين المتدين الفاسق والكافر الجاحد معتبر في كل ملة من الملل، وتوعد الكافر بالخلود في النار والعذاب الأليم وأثبت للفاسق خروجه من النار بشفاعة الأنبياء والمرسلين وجاء التصريح في كل ديانة بذلك باسم التدين بتلك الديانة، فأثبت ذلك في التوراة لليهود
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবারাকা ওয়া তাআলা, এবং কৃপণতা ও লোভ এবং এই জাতীয় চারিত্রিক কলুষতা।

শব্দগত বিকৃতি (التحريف اللفظي):

এই অধমের নিকট এটি সুনিশ্চিত হয়েছে যে, তাদের শব্দগত বিকৃতি (التحريف اللفظي) মূলত তাওরাতের অনুবাদ এবং এই জাতীয় বিষয়াবলীতে ঘটেছে, মূল তাওরাতের মূলপাঠে নয়; আর এটিই ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর অভিমত।

অর্থগত বিকৃতি (التحريف المعنوي) এবং এর কিছু উদাহরণ:

পক্ষান্তরে অর্থগত বিকৃতি (التحريف المعنوي) হলো ভ্রান্ত ব্যাখ্যাসমূহ এবং আয়াতগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে সেগুলোর লক্ষ্যোদ্ভূত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে প্রয়োগ করা। নিম্নে আমরা অর্থগত বিকৃতির (التحريف المعنوي) বিভিন্ন দিক উল্লেখ করছি:

প্রথম উদাহরণ:

১ - তার মধ্যে একটি হলো: পাপাচারী (الفاسق) ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এবং অস্বীকারকারী কাফির (الكافر)-এর মধ্যকার পার্থক্য প্রতিটি ধর্মাদর্শেই স্বীকৃত। কাফির (الكافر)-কে জাহান্নামে চিরস্থায়ী অবস্থান ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি প্রদান করা হয়েছে এবং পাপাচারী (الفاسق)-এর জন্য নবী ও রাসুলগণের সুপারিশের (شفاعة) মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ধর্মেই সেই ধর্মের অনুসরণের নামে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে; অতঃপর তাওরাতে এটি ইহুদিদের জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৬)
والعبريين، وفي الإنجيل للنصرانيين، وفي القرآن العظيم للمسلمين.

والحقيقة أن مناط الحكم هو الإيمان بالله - تعالى - وباليوم الآخر، والإيمان بالنبي الذي بعث لهم، والنقياد له والعمل بشريعته، والاجتناب عن نواهيه، لا خصوص الديانة وخصوص الطائفة المسماة باليهود والنصرانيين وغيرهم، ولكن اليهود بدأوا يظنون أن كل من كان يهودياً أو عبريا، فهو من أهل الجنة، ولابد أن تناله شفاعة الأنبياء وتخلصه من العذاب، وأنه لا يمكث في النار إلا أياماً معدودات، ولو لم يكن مناط الحكم - الذي قد سبق بيانه - متحققاً ولم يكن إيمانه بالله - تعالى - على الوجه الصحيح ولا يملك شيئاً من الإدراك الصحيح لمعنى الرسالة والآخرة، وهذا هو الخطأ الصريح والجهل الصرف.

ولما أن القرآن العظيم مهيمن على الكتب السابقة ومبين لما فيها من إبهام وغموض، فقد كشف شبهاتهم هذه ورد عليها ردوداً واضحة مقنعة.

{بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ}
...এবং হিব্রুদের জন্য, আর খ্রিস্টানদের জন্য ইঞ্জিলে এবং মুসলমানদের জন্য মহান কুরআনে।

প্রকৃত সত্য এই যে, ফয়সালার মূল ভিত্তি (مناط الحكم) হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, আর তাদের প্রতি প্রেরিত নবীর ওপর বিশ্বাস (إيمان) আনা, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর শরীয়ত অনুযায়ী আমল করা এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করা। এটি কোনো বিশেষ ধর্ম কিংবা ইহুদি, খ্রিস্টান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়। কিন্তু ইহুদিরা ধারণা করতে শুরু করেছিল যে, যে ব্যক্তি ইহুদি বা হিব্রু হবে সে জান্নাতবাসী হবেই, আর নবীদের সুপারিশ তাকে অবশ্যই স্পর্শ করবে এবং আজাব থেকে মুক্তি দেবে; সে জাহান্নামে মাত্র হাতেগোনা কয়েক দিন অবস্থান করবে। যদিও ফয়সালার সেই মূল ভিত্তি (مناط الحكم)—যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে—অর্জিত না হয় এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি তার বিশ্বাস (إيمان) সঠিক পন্থায় না থাকে এবং রিসালাত ও পরকালের মর্ম সম্পর্কে তার কোনো সঠিক উপলব্ধি না থাকে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এটিই হলো স্পষ্ট ভুল এবং নিছক মূর্খতা।

যেহেতু মহান কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর তদারককারী ও রক্ষক এবং সেগুলোর অস্পষ্টতা ও জটিলতার ব্যাখ্যাকারী (مبين), তাই এটি তাদের এই সংশয়গুলোকে উন্মোচিত করেছে এবং সেগুলোর সুস্পষ্ট ও সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেছে।

{হ্যাঁ, যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করেছে এবং তার পাপাচার তাকে বেষ্টন করে নিয়েছে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।}
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৭)
المثال الثاني:

2 - ومنها أن الأحكام ذكرت في كل ملة من الملل السابقة حسب مصالح عصرها ودورها، وروعيت في التشريع عادات الناس الصالحة، وأكد الحكم بالأخذ بها والمداومة عليها، واعتقادها، وانحصار الحق فيها، والمراد أن الحق منحصر فيها في ذلك العصر، وأن المداومة عليها إضافية وليست مداومة حقيقة، اي أنها صالحة للعمل إلى أن يأتي نبي جديد ويكشف الستار عن رسالة جديدة، ولكن اليهود حملوا ذلك على استحالة النسخ.

وكانت الوصاة بالتمسك بتلك الملة والعض عليها تعني التمسك بالإيمان والأعمال الصالحة، ولا اعتبار لخصوص ملة من الملل ولا دخل لها فيها، ولكن هؤلاء اعتقدوا أن الخصوص معتبر، وأن يعقوب عليه السلام إنما وصى بنيه بالتمسك "باليهودية".

المثال الثالث:

3 - ومنها أن الله تبارك وتعالى شرف الأنبياء والتابعين لهم بإحسان في كل ملة بوصفهم مقربين، محبوبين مؤضين، ووصف أعدائهم والجاحدين لملتهم بالمغضوب عليهم، الملعونين والممقوتين، وجاءت هذه الصفات في
দ্বিতীয় উদাহরণ:

২ - এর মধ্যে একটি হলো, পূর্ববর্তী প্রতিটি ধর্মাদর্শের বিধানসমূহ (الأحكام) সেই সময়ের জনকল্যাণ ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিধান প্রণয়নের (تشريع) ক্ষেত্রে মানুষের উত্তম রীতি-নীতিকে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং সেই বিধানগুলো গ্রহণ, সেগুলোর ওপর অবিচল থাকা, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং সত্য কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়ার বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যে, সত্য কেবল সেই নির্দিষ্ট যুগে তার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং সেটির ওপর অবিচল থাকা ছিল আপেক্ষিক, প্রকৃত অর্থে চিরস্থায়ী নয়; অর্থাৎ নতুন কোনো নবী আবির্ভূত হয়ে নতুন কোনো বার্তার পর্দা উন্মোচন না করা পর্যন্ত তা আমলযোগ্য ছিল। কিন্তু ইহুদিরা একে বিধান রহিতকরণের (نسخ) অসম্ভবতা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সেই ধর্মাদর্শকে আঁকড়ে ধরা এবং তা শক্তভাবে ধারণ করার নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা। এতে কোনো বিশেষ ধর্মাদর্শের বৈশিষ্ট্যের কোনো প্রভাব ছিল না এবং এর সাথে তার কোনো সম্পর্কও ছিল না। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে নিয়েছিল যে, সেই বৈশিষ্ট্যই ধর্তব্য (معتبر), এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর সন্তানদের কেবল "ইহুদিবাদ" আঁকড়ে ধরারই উপদেশ দিয়েছিলেন।

তৃতীয় উদাহরণ:

৩ - এর মধ্যে একটি হলো, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা প্রতিটি ধর্মাদর্শের নবীগণ এবং তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীদের (التابعين) সান্নিধ্যপ্রাপ্ত, প্রিয় ও সন্তুষ্টভাজন হিসেবে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁদের শত্রু ও তাঁদের আদর্শ অস্বীকারকারীদের অভিশপ্ত, লাঞ্ছিত ও আল্লাহর ক্রোধে পতিত হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৮)
كل ملة في قوالب الألفاظ والكلمات المعروفة السائدة فيهم لهذه المعاني، فما الغرابة إذن، لو ذكرت كلمة "الأبناء" بدل المحبوبين! ؟

ولكن اليهود ظنوا أن هذا التشريف يدور على اسم اليهودي والعبري والإسلرائيلي، ولم يعرفوا أن هذا التشريف ليس لاسم دون اسم، إنما هو لأجل الانقياد والطاعة، والخضوع، والسير على طريق الأنبياء والمرسلين، ليس غير.

وهنا كثير من أمثال هذه التأويلات الفاسدة التي ركزت في نفوسهم، وتلقوها وتوارثوها عن آبائهم، وقد تكفل القرآن الكريم بردها ورفع هذه الشبهات ودحضها وإبطالها أتم إبطال.

كتمان الآيات

أما كتمان الايات فإن اليهود كانوا لأجل المحافظة على جاه شريف أو كبير، أو لطلب منصب أو رئاسة يخفون بعض الأحكام والآيات من التوراة، حى لا يذهب اعتقاد الناس فيهم بتركهم للعمل بها، وانصرافهم عنها، ولنذكر بعض الأمثلة منه.

1 - كان من تلك الأحكام، حكم رجم الزاني، الذي كان مصرحاً به في التوراة ولكنهم لإجماع أحبارهم على ترك
প্রতিটি জাতিই এই অর্থগুলো প্রকাশের জন্য তাদের মধ্যে প্রচলিত ও পরিচিত শব্দ এবং বাক্যের কাঠামো ব্যবহার করে থাকে; সুতরাং 'প্রিয়জন' এর পরিবর্তে 'সন্তান' শব্দ ব্যবহার করা হলে তাতে বিস্ময়ের কী আছে?

কিন্তু ইহুদিরা ধারণা করেছিল যে, এই সম্মান ও মর্যাদা ইহুদি, হিব্রু ও ইসরায়েলি নামের সাথেই আবর্তিত হয়। তারা এটা জানত না যে, এই মর্যাদা নির্দিষ্ট কোনো নামের জন্য নয়, বরং তা কেবল আনুগত্য, অনুবর্তিতা, বিনয় এবং নবী ও রাসূলগণের (المرسلين) পথে চলার ওপর নির্ভরশীল, অন্য কিছু নয়।

এখানে এ জাতীয় অনেক ভ্রান্ত ব্যাখ্যার (تأويلات) উদাহরণ রয়েছে যা তাদের হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল এবং তারা তাদের পিতৃপুরুষদের নিকট হতে তা গ্রহণ করেছিল ও উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিল। পবিত্র কুরআন অত্যন্ত সুচারুভাবে এই সংশয়গুলো (شبهات) নিরসন করে সেগুলো খণ্ডন ও বাতিল করার দায়িত্ব পালন করেছে।

আয়াত গোপন করা

আয়াত গোপন করার বিষয়টি হলো—ইহুদিরা তাদের উচ্চ মর্যাদা বা প্রতিপত্তি রক্ষা করার জন্য অথবা কোনো পদ বা নেতৃত্ব লাভের আশায় তাওরাতের কিছু বিধান ও আয়াত গোপন করত; যাতে সেই বিধানগুলো পালন না করা এবং তা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে না যায়। আমরা এর কিছু উদাহরণ এখানে উল্লেখ করছি।

1 - সেসব বিধানের মধ্যে একটি ছিল ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের (رجم) বিধান, যা তাওরাতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত ছিল; কিন্তু তাদের পণ্ডিতদের ঐকমত্যের (إجماع) কারণে তারা তা বর্জন করেছিল...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الرجم واستبداله بالجلد وتسحيم الوجه تركوا العمل برجم الزاني، وكان الأحبار - خشية الفضيجة والعار - يخفون تلك الآيات التي فيها نص هذا الحكم الصريح.

2 - كذلك تلك آيات التي ذكرت فيها بشارة هاجر وإسماعيل عليهما السلام بأنه سوف يولد في أعقابهم من يبعثه الله - تعالى - نبياً ورسولاً، والآيات التي تحمل إشارات واضحة إلى دين يظهر ويبلغ كماله في أرض الحجاز، وتضج به جبال عرفات بالتلبية، ويؤم الناس لزيارتها من الأقطار والأمصار.

وبالرغم من أن هذه الآيات لا تزال توجد في التوراة حتى اليوم كان اليهود يتأولونها بأن هذه الآيات إنما تخبر بظهرو ذلك الدين ولكنها لا تأمر باتباعه الخوضع له. وكانت هذه الكلمة على طرف لسانهم "ملحمة كتبت علينا".

ولكن لما كان عامة اليهود أنفسهم لا تقبل نفوسهم هذه التأويلات الركيكة الباطلة، ولا يعترفون بصحتها وسلامتها، كانوا يتواصون فيما بينهم أن لا يفشوا هذا السر ولا يتعالنوه فيما بينهم:

{أَتُحَدِّثُونَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوكُمْ بِهِ عِنْدَ رَبِّكُمْ}
ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা (الرجم) করার বিধান তারা বর্জন করেছিল এবং এর পরিবর্তে বেত্রাঘাত (الجلد) ও মুখমণ্ডল কালো করাকে (تسحيم الوجه) স্থলাভিষিক্ত করেছিল। ইহুদি পণ্ডিতগণ (الأحبار) — কেলেঙ্কারি ও অপমানের ভয়ে — সেই আয়াতগুলো গোপন করত যেগুলোতে এই সুস্পষ্ট বিধানের পাঠ বিদ্যমান ছিল।

2 - অনুরূপভাবে ঐ আয়াতগুলোও তারা গোপন করত যেখানে হাজেরা ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর সুসংবাদ উল্লেখ ছিল যে, তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আল্লাহ তাআলা একজনকে নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করবেন। আর সেই আয়াতগুলোও, যাতে হিজাজ ভূমিতে একটি দ্বীন বা ধর্ম প্রকাশ পাওয়ার এবং পূর্ণতা লাভ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, যার ফলে আরাফাত পাহাড় তালবিয়াহ (التلبية) ধ্বনিতে মুখরিত হবে এবং দেশ-দেশান্তর ও শহরগুলো থেকে মানুষ তা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সমবেত হবে।

যদিও এই আয়াতগুলো আজও তৌরাতে বিদ্যমান, তবুও ইহুদিরা এগুলোর অপব্যাখ্যা (التأويل) করত যে, এই আয়াতগুলো কেবল সেই দ্বীনের আবির্ভাবের সংবাদ দেয় কিন্তু তা অনুসরণ বা তার প্রতি অনুগত হওয়ার নির্দেশ দেয় না। তাদের মুখে সর্বদা এই কথাটি থাকত: "এটি আমাদের উপর লিখিত একটি যুদ্ধ (বা সংকট)।"

কিন্তু সাধারণ ইহুদিদের মন যখন এই দুর্বল ও বাতিল ব্যাখ্যাগুলো (التأويلات) গ্রহণ করত না এবং তারা এর নির্ভুলতা ও সঠিকতা স্বীকার করত না, তখন তারা একে অপরকে উপদেশ দিত যেন তারা এই গোপন রহস্য প্রকাশ না করে এবং নিজেদের মধ্যে তা জানাজানি না করে:

“আল্লাহ তোমাদের কাছে যা উন্মোচন করেছেন, তোমরা কি তাদের কাছে তা বর্ণনা করছ, যাতে তারা তোমাদের রবের কাছে এর মাধ্যমে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করতে পারে?”
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫০)
فيا أسفى على جهل اليهود بل على كذبهم وافترائهم، أفهل كان امتتان الله - تعالى - على هاجر وإسماعيل عليهما السلام بهذه المبالغة والتأكيد، وذكر هذه الأمة الخيرة بهذا التشريف والتكريم يعني غير ذلك من معنى؟ يمكن به اليهود أن يزعموا أن هذه الآيات لا تدل على الحث والتحريض على إتباع هذا الدين والتسليم له! سبحانك هذا إفك عظيم.

الإلحاق والافتراء

وأما الإلحاق والافتراء على الله - تعالى - ونسبة ما يكتبونه إلى الله - تعالى - وإلى التوراة، فيرجع سببه إلى أن أحبارهم ورهبانهم تعقموا وتشددوا في الدين، وسلكوا طريق الاستحسان أي استنباط بعض الأحكام بناءًأ على إدراك المصالح فيها بدون أي نص من الشارع، (بل بالعقل المصلحي والهوى البشري) ورجحوا استنباطات واهية، واستسحانات دخلية، فوضعها أتباعهم موضع الأصل وألحقوها به، واعتقدوا اتفاق سلفهم على شيء حجة قاطعة، ولم يكن لديهم مستند في إنكار نبوة عيسى عليه السلام إلا أقوال سلفهم، وكذلك حالهم في كثير من الأحكام.

وأما التقصير والتساهل في تنفيذ أحكام الشريعة وارتكاب المناهي، والبخل والحرص، وما إلى ذلك فظاهر أنه من
ইহুদিদের অজ্ঞতা বরং তাদের মিথ্যাচার ও অপবাদের জন্য কতই না আক্ষেপ! হাজেরা ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর এই অতিরঞ্জিত ও তাকিদপূর্ণ অনুগ্রহ প্রদর্শন এবং এই উত্তম উম্মতকে এমন সম্মান ও মর্যাদার সাথে স্মরণ করার কি অন্য কোনো অর্থ হতে পারে? যার মাধ্যমে ইহুদিরা দাবি করতে পারে যে, এই আয়াতগুলো এই দ্বীন অনুসরণ এবং এর প্রতি আত্মসমর্পণ করার উৎসাহ ও প্রেরণা প্রদান করে না! আপনি পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ।

সংযোজন ও মিথ্যাচার

আর মহান আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ ও সংযোজন করা এবং তারা যা লেখে তা মহান আল্লাহ ও তাওরাতের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো—তাদের আলেম ও দরবেশরা দ্বীনের ব্যাপারে অতি সূক্ষ্মতা ও কঠোরতা অবলম্বন করেছিল। তারা ইস্তিহসান (الاستحسان) অর্থাৎ শরয়ি প্রবর্তকের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) ছাড়াই নিছক জনকল্যাণ উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে কিছু বিধান উদ্ভাবনের পথ অবলম্বন করেছিল (বরং স্বার্থান্বেষী বুদ্ধি ও মানবিক প্রবৃত্তির দ্বারা)। তারা দুর্বল (واهية) উদ্ভাবন ও অনুপ্রবেশকৃত ইস্তিহসানসমূহকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। অতঃপর তাদের অনুসারীরা সেগুলোকে মূলনীতির (أصل) স্থলাভিষিক্ত করেছিল এবং এর সাথে সংযুক্ত করেছিল। তারা বিশ্বাস করত যে, তাদের পূর্বসূরিদের (سلف) কোনো বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করা একটি অকাট্য দলিল (حجة قاطعة)। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের নিকট পূর্বসূরিদের উক্তি ব্যতীত আর কোনো প্রমাণ ছিল না। অনেক বিধানের ক্ষেত্রেও তাদের অবস্থা ছিল তদ্রূপ।

আর শরীয়তের বিধানসমূহ কার্যকর করার ক্ষেত্রে অবহেলা ও শিথিলতা (تساهل), নিষিদ্ধ কার্যাবলিতে লিপ্ত হওয়া, কার্পণ্য ও লোভ এবং এ জাতীয় বিষয়গুলোর কারণ সুস্পষ্ট যে, তা...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫১)
مقتضيات النفي الإمارة بالسوء ولا ينجو منها إلا من شاء ربك ورحمه.

{إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي}

ولكن هذه الرزيلة في أهل الكتاب تحمل لوناً آخر، إذ أنهم يتكلفون تأويلات فاسدة لتبيرها، وإبرازها في صورة التدين وصبغها بصبغة الأحكام الشرعية.

أسباب استبعاد رسالة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم:

وأما استبعاد رسالة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فيرجع سببه إلى اختلاف عادات الأنبياء وأحوالهم وسيرهم في الإكثار من التزوج مثلاً والتقليل منه، وأمثال ذلك، واختلاف شرائعهم ومناهجهم، واختلاف سنن الله - تعالى - في معاملة انبيائه ورسله، وبعثة نبي إسماعيل، وقد كان جمهور الأنبياء قبل ذلك يبعثون في بني إسرائيل، وأمثال هذه الأسباب.

الغرض من النبوة:

والأصل في هذه المسالة أن النبوة يقصد منه إصلاح النفوس، وإصلاح العادات الجارية في القوم الذي يبعث إليه النبي لا إنشاء أصول البر والإثم، والخير والشر.
কুপ্রবৃত্তির (النفس الأمارة بالسوء) তাড়না অনস্বীকার্য এবং তা থেকে কেউ রক্ষা পায় না, কেবল আপনার প্রতিপালক যার প্রতি অনুগ্রহ ও দয়া করেন সে ব্যতীত।

{নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দ কর্মে অধিক প্ররোচনা দেয়, কিন্তু আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ব্যতীত।}

কিন্তু আহলে কিতাবদের মাঝে এই চারিত্রিক বিচ্যুতি ভিন্ন রূপ ধারণ করে, কেননা তারা একে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের জন্য ভ্রান্ত অপব্যাখ্যা (تأويلات فاسدة) করার চেষ্টা করে এবং একে ধার্মিকতার আবরণে উপস্থাপন করে শারয়ি বিধানের রঙে রঞ্জিত করে।

সাইয়্যিদুনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে অস্বীকার করার কারণসমূহ:

আর সাইয়্যিদুনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে সুদূরপরাহত মনে করার কারণ মূলত নবীদের অভ্যাস, অবস্থা এবং জীবনচরিতের ভিন্নতা; যেমন বিবাহের সংখ্যাধিক্য কিংবা স্বল্পতা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। তদুপরি তাঁদের শরিয়ত ও কর্মপদ্ধতির (مناهج) ভিন্নতা, নবীদের সাথে মহান আল্লাহর আচরণের রীতির ভিন্নতা এবং ইসমাইল আ.-এর বংশে নবীর আবির্ভাব। অথচ ইতিপূর্বে অধিকাংশ নবী বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে প্রেরিত হতেন—মূলত এসব কারণেই তারা রিসালাতকে অস্বীকার করেছিল।

নবুওয়াতের উদ্দেশ্য:

এই বিষয়ের মূল নীতি হলো, নবুওয়াতের মূল লক্ষ্য হলো আত্মার সংশোধন এবং যে জাতির নিকট নবী প্রেরিত হয়েছেন তাদের প্রচলিত রীতিনীতির সংস্কার করা; পুণ্য ও পাপ কিংবা কল্যাণ ও অকল্যাণের মৌলিক নীতিমালা নতুন করে উদ্ভাবন করা নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫২)
مجال عمل النبوة في إصلاح الناس:

وكل قوم يملك عادات ومناهج خاصة في عباداته، ونظام اسرته، واجتماعه وسياسته ومدنيته، فإذا ظهرت فيه النبوة، فإنها لا تستأصل هذه العادات ولا تضع له عادات جديدة، بل إنما تقييم الميزان القسط، وتمييز بينها، فما كان منها موافقاً للأصل، مطابقاً لرضا الله - تعالى - أبقته وحفظته، وما كان منها مخالفاً لرضا الله - تعالى - أبقته وحفظته، وما كان منها مخالفاً للأصل، منافياً لرضا الله - تعالى - عدلته حسب الضرورة وسوته.

كذلك يكون التذكير بآلاء الله، والتذكير بايام الله - على هذا الأسلوب - بمكا يكون معروفاً عندهم، شائعاً لديهم، فهذا هو السبب في اختلاف شرائع الأنبياء - عليهم صلوات الله وسلامه -.

اختلاف شرائع الأنبياء كاختلاف وصفات الطبيب:

وهذا الاختلاف في شرائع الأنبياء كالاختلاف في أحكام الطبيب، فإنه عند معالجته لشخصين مختلفى المزاج، يصف لأحدهما أدوية وأغذية باردة، وللآخر أدوية وأغذية حارة، وغرض الطبيب من معالجتهما واحد، وهو إصلاح مزاجه، وإزالة الفساد الطارئ عليه، ليس غير، ويمكن أن يصف الطبيب لكل منطقة أدوية وأغذية مختلقة تلائم أهلها، كما
মানুষের সংশোধনে নবুওয়তের কর্মক্ষেত্র:

প্রত্যেক জাতির ইবাদত-বন্দেগি, পারিবারিক ব্যবস্থা, সমাজ, রাজনীতি ও সভ্যতার ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু অভ্যাস ও কর্মপন্থা (مناهج) থাকে। যখন তাদের মাঝে নবুওয়তের আবির্ভাব ঘটে, তখন তা এই অভ্যাসগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে না এবং তাদের জন্য নতুন কোনো অভ্যাসও প্রবর্তন করে না; বরং তা কেবল ইনসাফের মানদণ্ড স্থাপন করে এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যা কিছু মূলনীতির (الأصل) সাথে সংগতিপূর্ণ এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুকূল হয়, নবুওয়ত তাকে বহাল রাখে ও সংরক্ষণ করে। আর যা কিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিপন্থী হয়, নবুওয়ত তাকে বহাল রাখে ও সংরক্ষণ করে; এবং যা কিছু মূলনীতির (الأصل) পরিপন্থী ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির বিরোধী হয়, তা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন (عدلته) ও সুবিন্যস্ত করে।

একইভাবে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ এবং আল্লাহর দিনসমূহ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও—এই পদ্ধতিতে—তাদের মাঝে পরিচিত ও প্রচলিত পন্থায় হয়ে থাকে। নবীগণের—তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—শরিয়তসমূহের পার্থক্যের মূল কারণ এটিই।

নবীগণের শরিয়তের বিভিন্নতা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের বিভিন্নতার ন্যায়:

নবীগণের শরিয়তসমূহের এই বিভিন্নতা চিকিৎসকের নির্দেশনার (أحكام) পার্থক্যের মতো। কারণ চিকিৎসক যখন ভিন্ন ভিন্ন মেজাজের দুইজন ব্যক্তির চিকিৎসা করেন, তখন তিনি একজনের জন্য শীতল ওষুধ ও খাবার এবং অন্যজনের জন্য উষ্ণ ওষুধ ও খাবারের ব্যবস্থা দেন। চিকিৎসকের এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য অভিন্ন, আর তা হলো রোগীর মেজাজ সংশোধন করা এবং তাতে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলা দূর করা মাত্র; অন্য কিছু নয়। চিকিৎসক প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য তাদের উপযোগী ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ ও খাদ্যের নির্দেশ দিতে পারেন, যেমন...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫৩)
يمكن أن يختار في كل فصل من فصول وطقس من الطقوس علاجاً مختلفاً يناسب الفصل والطقس.

كذلك لما أراد الحكيم المطلق والطبيب الحقيقي معالجة مرض النفوس والقلوب، واقتضت مشيئته - جل مجده - إصلاح مزاجهم، وتقوية ملكاتهم وإزالة الفساد الطارئ عليهم، اختلف عرجه - تقدست أسماؤه - لاختلاف عادات الشعوب والأمم واختلاف ملكاتهم واستعداداتهم ومراعاة للمشهورات والمسلمات عندهم.

وعل كل، فإنك إذا أردت أن ترى نماذج اليهود في هذه الأمة فانظر إلى علماء السوء، طلاب الدنيا، المولعين بتقليد آبائهم، المعرضين عن كتاب الله - تعالى - وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم الذين يستندون إلى تعمقات العلماء وتشديداتهم، واستنباطاتهم التي لا اصل لها في الكتاب والسنة، تاركين كلام الشارع المعصوم صلى الله عليه وسلم يتتبعون الأحاديث الموضوعة. ويجرون وراء التأويلات الفاسدة.

الجدل القرآني مع النصارى

ضلال النصارى في بحث حقيقة المسيح عليه السلام: -

لقد كان النصارى يؤمنون بسيدنا عيسى عليه السلام ولكن كان ضلالهم في تقسيمهم الرب تبارك وتعالى إلى
ঋতু ও আবহাওয়ার প্রতিটি পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

একইভাবে, যখন পরম প্রজ্ঞাময় এবং প্রকৃত চিকিৎসক আত্মা ও হৃদয়ের ব্যাধি নিরাময় করতে চাইলেন এবং তাঁর ইচ্ছা—তাঁর মহিমা সুউচ্চ—তাদের স্বভাব সংশোধন, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের ওপর আপতিত কলুষতা দূর করার দাবি করল, তখন তাঁর বিধানসমূহ—তাঁর নামসমূহ পবিত্র—বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর প্রথা, তাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির ভিন্নতা এবং তাদের নিকট প্রচলিত ও স্বীকৃত বিষয়সমূহের প্রতি লক্ষ্য রেখে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে।

সারকথা এই যে, আপনি যদি এই উম্মতের মধ্যে ইহুদিদের নমুনা দেখতে চান, তবে সেইসব দুনিয়ালোভী অসৎ আলেমদের দিকে তাকান, যারা তাদের পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণে মত্ত এবং মহান আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে বিমুখ; যারা আলেমদের অতি-গূঢ় ব্যাখ্যা, কঠোরতা এবং এমন সব গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে যার কোনো ভিত্তি কিতাব ও সুন্নাহতে নেই। তারা নিষ্পাপ শরীয়ত প্রণেতা (সা.)-এর বাণী পরিত্যাগ করে জাল (الموضوعة) হাদিসসমূহের অনুসরণ করে এবং ভ্রান্ত ব্যাখ্যার পেছনে ছোটে।

খ্রিস্টানদের সাথে কুরআনিক বিতর্ক

ঈসা আলাইহিস সালাম-এর প্রকৃত পরিচয়ের অনুসন্ধানে খ্রিস্টানদের বিভ্রান্তি:-

খ্রিস্টানরা আমাদের নেতা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর ওপর ঈমান এনেছিল, কিন্তু তাদের বিভ্রান্তি ছিল বরকতময় ও সুউচ্চ পালনকর্তাকে বিভক্ত করার মধ্যে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫৪)
ثلاثة أجزاء تتتغاير من بعض الوجوه، وتتحد من بعض آخر، وكانوا يسمونها "الأقانيم الثلاثة" أحدها: الأب الذي يحتل مكانة "مبدأ العالم"، والثاني: الإبن، وهو بمعنى "الصادر الأول" الذي يعني الكلي العام الشامل لجميع الموجودات، والثالث: أقنوم روح القدس، وهو يعني "العقول المجردة".

أقنوم "الإبن" تقمص المسيح عليه السلام:

وكانوا يعتقدون أن أقنوم الإبن تقمص روح المسيح - عليه الصلام - أي أن الملك جبريل كما كان يأتي - أحياناً - في صورة رجل، كذلك ظهر "الإبن" في صورة عيسى، ولذلك فهو "الإله" أيضاً، وهو "ابن الله" كذلك، وهو البشر أيضاًَ، وتجري بالنسبة إليه الأحكام البشرية والأحكام الإلهية على السواء.

دليل هذه العقيدة الباطلة:

وقد استندوا في استنباط هذه العقيدة الغريبة إلى بعض الآيات في الإنجيل التذ ذكر فيها لفظ "الإبن" والآيات التي نسب فيها المسيح عليه السلام بعض أفعال الله - تعالى - إلى نفسه.

جواب الإشكال الأول:

وجواب الإشكال الأول - وهو ورود لفظ "الإبن"
তিনটি অংশ যা কিছু দিক থেকে ভিন্ন এবং অন্য কিছু দিক থেকে অভিন্ন। তারা এগুলোকে "তিনটি সত্তা (الأقانيم الثلاثة)" বলে অভিহিত করত। তার মধ্যে একটি হলো: পিতা, যা "মহাবিশ্বের উৎস" হিসেবে স্থান দখল করে আছে। দ্বিতীয়টি হলো: পুত্র (الإبن), যার অর্থ হলো "প্রথম নির্গত সত্তা (الصادر الأول)", যা সকল বিদ্যমান বস্তুকে পরিবেষ্টনকারী সাধারণ সামগ্রিকতাকে বোঝায়। এবং তৃতীয়টি হলো: পবিত্র আত্মা (روح القدس) নামক সত্তা (أقنوم), যার অর্থ হলো "বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিসমূহ" (العقول المجردة)।

পুত্র (الإبن) সত্তার (أقنوم) মসীহ আলাইহিস সালামের রূপ ধারণ:

তারা বিশ্বাস করত যে, পুত্র (الإبن) নামক সত্তাটি (أقنوم) মসীহ আলাইহিস সালামের রূহ বা আত্মার রূপ ধারণ করেছে। অর্থাৎ ফেরেশতা জিবরাঈল যেমন মাঝে মাঝে মানুষের রূপে আসতেন, তেমনি "পুত্র (الإبن)" ঈসা আলাইহিস সালামের আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে। এই কারণেই সে "উপাস্য (الإله)" এবং একইভাবে সে "আল্লাহর পুত্র"। আবার সে একজন মানুষও বটে। তার ক্ষেত্রে মানবিক বিধান ও ঐশ্বরিক বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।

এই বাতিল আকিদাহ (العقيدة) বা বিশ্বাসের প্রমাণ:

তারা এই অদ্ভুত আকিদাহ (العقيدة) আহরণের (استنباط) ক্ষেত্রে ইনজিলের এমন কিছু আয়াতের ওপর নির্ভর করেছে যেখানে "পুত্র (الإبن)" শব্দটি উল্লিখিত হয়েছে এবং এমন কিছু আয়াতের ওপর যেখানে মসীহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর কিছু কার্যাবলিকে নিজের দিকে সম্পর্কিত করেছেন।

প্রথম সংশয় বা আপত্তির উত্তর:

প্রথম সংশয়ের উত্তর—আর তা হলো "পুত্র (الإبن)" শব্দের উল্লেখ হওয়া সংক্রান্ত—
(খণ্ড: ১) আল-ফাউজুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (পৃষ্ঠা: ৫৫)
في آيات الإنجيل بالنسبة لعيسى عليه السلام إذا سلمنا أن ما نقل في الإنجيل من مثل هذه الآيات هي من كلام عيسى عليه السلام لا من الإضافات والإلحاقات - أن لفظ "الإبن" في العهد القديم كان يستعمل بمعنى المقرب والمحبوب والمختار، وتشهد على هذه الدعوى دلائل وقرائن كثيرة في الإنجيل.

جواب الإشكال الثاني:

وجواب الإشكال الثاني - وهو نسبة سيدنا عيسى عليه السلام بعض أفعال الله - تعالى إلى نفسه - إذا سلمنا صحتها وثبوت نقلها عنه - أنها على طريق الحكاية، مثل أن يحكي رسول الملك عنه فيقول: فتحنا البلد الفلاني، وحكمنا القلعة الفلانية، فظاهر أن هذا الرسول ليس إلا ترجماناً للملك ومبلغاً عنه، وحقيقة الفعل راجعة إلى نفسه.

نوع خاص من الوحي:

ويمكن أن الوحي إلى عيسى عليه السلام عن طريق إنطباع المعاني في لوح قلبه من قبل الملأ الأعلى، لا تمثل جبريل عليه السلام بصورة البشر وإلقاء الوحي إليه، فبسبب هذا الإنطباع المباشر جري منه من الكلام ما أشعر بنسبة الأفعال إليه، مع أن الحقيقة غير ذلك، والأمر واضح. وبالجملة فإن الله - تعالى - رد على هذه المسالك الباطلة،
ঈসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে ইঞ্জিলের আয়াতগুলোর বিষয়ে—যদি আমরা এই বিষয়টি মেনে নিই যে, ইঞ্জিলে বর্ণিত এ জাতীয় আয়াতসমূহ ঈসা আলাইহিস সালামের নিজস্ব বাণী, কোনো সংযোজন বা প্রক্ষিপ্ত (إلحاقات) অংশ নয়—তবে পুরাতন নিয়মে 'পুত্র' শব্দটি নিকটবর্তী, প্রিয় এবং মনোনীত ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত হতো। ইঞ্জিলের বহু প্রমাণ ও নিদর্শন এই দাবির সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে।

দ্বিতীয় আপত্তির উত্তর:

দ্বিতীয় আপত্তির উত্তর হলো—যা আমাদের সাইয়্যিদ ঈসা আলাইহিস সালাম কর্তৃক আল্লাহর কিছু কাজকে নিজের সত্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার সাথে সংশ্লিষ্ট—যদি আমরা এর বিশুদ্ধতা (صحة) এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হওয়ার প্রামাণিকতা (ثبوت) স্বীকার করে নিই—তবে তা নিছক বর্ণনার ভঙ্গি (حكاية) মাত্র। যেমন কোনো বাদশাহর দূত তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: 'আমরা অমুক শহর জয় করেছি এবং অমুক কেল্লা বিজয় করেছি'। এখানে এটি স্পষ্ট যে, এই দূত বাদশাহর একজন অনুবাদক ও বার্তাবাহক ছাড়া আর কিছুই নন এবং কার্যের প্রকৃত হাকিকত বাদশাহর সত্তার সাথেই সংশ্লিষ্ট।

ওহীর একটি বিশেষ প্রকার:

এটাও সম্ভব যে, ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ওহী (وحي) ঊর্ধ্বজগত (الملأ الأعلى) থেকে তাঁর হৃদয়ে অর্থের প্রতিফলনের মাধ্যমে অবতীর্ণ হতো; জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মানুষের আকৃতি ধারণ করে তাঁর নিকট ওহী প্রদান করতেন না। এই প্রত্যক্ষ প্রতিফলনের কারণেই তাঁর জবান থেকে এমন কিছু কথা প্রকাশিত হয়েছে যা কাজগুলোকে তাঁর নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার আভাস দেয়, যদিও প্রকৃত বাস্তবতা ভিন্ন এবং বিষয়টি স্পষ্ট। মোদ্দাকথা হলো, আল্লাহ তাআলা এই সকল ভ্রান্ত পথ ও মতবাদগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।