(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: -)
الجديد في شرح كتاب التوحيد القسم: العقيدة
الكتاب: الجديد في شرح كتاب التوحيد
المؤلف: محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي
دارسة وتحقيق: محمد بن أحمد سيد أحمد
الناشر: مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الخامسة، 1424هـ/2003م
عدد الصفحات: 489
راجعه وصححه وأعد فهرسته للشاملة (أبو أيوب السليمان)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যায় আল-জাদীদ বিভাগ: আকীদা
বই: কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যায় আল-জাদীদ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুলাইমান আল-কারআওয়ী
গবেষণা ও তাহকীক: মুহাম্মদ বিন আহমাদ সাইয়্যেদ আহমাদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাওয়াদী, জেদ্দা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৯
শামেলার জন্য এটি পর্যালোচনা, সংশোধন এবং সূচিপত্র প্রস্তুত করেছেন (আবু আইয়ুব আস-সুলাইমান)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[الجديد في شرح كتاب التوحيد]ـ
تأليف: محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي
دراسة وتحقيق: محمد بن أحمد سيد أحمد
الناشر: مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الخامسة، 1424هـ/2003م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
—[কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যায় আল-জাদীদ]—
রচনা: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুলাইমান আল-কারআউয়ী
গবেষণা ও তাহকীক: মুহাম্মদ বিন আহমাদ সাইয়্যেদ আহমাদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাওয়াদী, জেদ্দা, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪২৪ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الجديد في شرح كتاب التوحيد
تأليف: الشيخ محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي
حققه وخرج أحاديثه: محمد بن أحمد سيد أحمد
المدرس بدار الحديث الخيرية بمكة المكرمة
مقدمة المحققإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ونشهد أن محمدا عبده ورسوله. أما بعد:
فإن التوحيد هو أساس الإسلام، وقوام الدين، وهو زبدة الرسالات الإلهية وغايتها، وقطب رحاها وعمدتها، ترتكز كلها عليه، وتستند في وجودها إليه، وتبتدئ منه وتنتهي إليه.
وعلم التوحيد هو أشرف العلوم، وأعلاها قدرا، وأعظمها خطرا، فحاجة العباد إلى هذا العلم فوق كل حاجة، وضرورتهم إليه فوق كل ضرورة، فإنه لا حياة للقلوب، ولا نعيم ولا طمأنينة إلا بأن تعرف ربها ومعبودها وفاطرها، بأسمائه وصفاته وأفعاله.
وكتاب التوحيد لمجدد عصره وعلامة زمانه الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله كتاب فرد في معناه لم يسبق إلى مثله في كثرة فوائده ودقة مسائله، وحسن ترتيبه وتبويبه. ولما كنت ممن شرفوا بتدريس هذا الكتاب وشروحه أكثر من عشر سنوات في (دار الحديث الخيرية) بمكة المكرمة، والتي تعتبر بحق صرحا علميا شامخا، فقد وقع اختياري على شرح نفيس لكتاب التوحيد،
কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যায় আল-জাদীদ
রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুলাইমান আল-কারআওয়ী
তাহকীক ও হাদিস তাখরীজ করেছেন: মুহাম্মদ বিন আহমাদ সাইয়িদ আহমাদ
শিক্ষক, দারুল হাদিস আল-খাইরিয়্যাহ, মক্কা মুকাররমাহ
মুহাক্কিকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতঃপর:
নিশ্চয়ই তাওহীদ হলো ইসলামের মূল ভিত্তি এবং দ্বীনের ভিত্তিপ্রস্তর। এটি ঐশী রিসালাতসমূহের নির্যাস ও উদ্দেশ্য এবং এর আবর্তন কেন্দ্র ও স্তম্ভ। দ্বীনের সবকিছুই এর ওপর দণ্ডায়মান এবং এর অস্তিত্বের জন্য এরই ওপর নির্ভরশীল। সবকিছু এরই মাধ্যমে শুরু হয় এবং এরই মাঝে সমাপ্ত হয়।
তাওহীদের ইলম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম, মর্যাদায় সুউচ্চ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ইলমের প্রতি বান্দার মুখাপেক্ষিতা অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে অধিক এবং এর প্রয়োজনীয়তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। কেননা অন্তরসমূহের কোনো প্রকৃত জীবন নেই, কোনো সুখ বা প্রশান্তি নেই—যতক্ষণ না সে তার রব, তার মাবুদ এবং তার স্রষ্টাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে জানতে পারে।
თავისი যুগের মুজাদ্দিদ ও আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) বিরচিত ‘কিতাবুত তাওহীদ’ এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে একটি অনন্য কিতাব। এর প্রচুর উপকারিতা, মাসআলাসমূহের সূক্ষ্মতা এবং চমৎকার বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের ক্ষেত্রে এর সমতুল্য কোনো কিতাব এর আগে রচিত হয়নি। যেহেতু আমি মক্কা মুকাররমাহর ‘দারুল হাদিস আল-খাইরিয়্যাহ’ প্রতিষ্ঠানে—যা একটি সুউচ্চ ইলমী মিনার হিসেবে গণ্য—দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কিতাব এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ পড়ানোর সৌভাগ্য লাভ করেছি, তাই আমি কিতাবুত তাওহীদের একটি অত্যন্ত মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ নির্বাচন করেছি,
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وهو الموسوم بـ"الجديد في شرح كتاب التوحيد" لمؤلفه فضيلة الشيخ محمد بن عبد العزيز القرعاوي، فألفيته شرحا لطيفا، وسلما منيفا إلى فهم ما استشكل فهمه، مع وضوح العبارة وسلاسة الأسلوب، وقد وجدت لزاما علي أن أقوم بضبط نصوص هذا الكتاب القيم مع تخريج أحاديثه وتصويب أخطائه، حتى يعم به النفع وتعظم به الفائدة -إن شاء الله تعالى-، والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به النفع العميم. إنه ولي التوفيق والهادي إلى أقوم طريق.
وكتبه
محمد بن أحمد سيد أحمد
المدرس بدار الحديث الخيرية
بمكة المكرمة
এটি সম্মানীয় শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-কারআউয়ি রচিত "আল-জাদিদ ফি শারহি কিতাবিত তাওহিদ" নামে পরিচিত; আমি এটিকে একটি চমৎকার ব্যাখ্যা এবং যা বোঝা কঠিন তা অনুধাবনের জন্য এক সুউচ্চ সোপান হিসেবে পেয়েছি, যার শব্দচয়ন স্পষ্ট এবং বর্ণনাভঙ্গি সাবলীল। আমি এই মূল্যবান গ্রন্থের পাঠ্যসমূহ যথাযথভাবে বিন্যাস করা, এর হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ করা এবং এর ভুলসমূহ সংশোধন করা আমার জন্য আবশ্যক মনে করেছি, যাতে এর মাধ্যমে উপকারিতা সাধারণ হয় এবং এর কল্যাণ বৃদ্ধি পায়—যদি আল্লাহ তাআলা চান। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন এবং এর মাধ্যমে ব্যাপক উপকার দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
লিখেছেন
মুহাম্মাদ বিন আহমাদ সাইয়িদ আহমাদ
শিক্ষক, দারুল হাদিস আল-খাইরিয়াহ
মক্কা আল-মুকাররামাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة مؤلف "كتاب التوحيد"
* اسمه ونسبه:
هو الإمام العلامة (الرباني) ، محيي السنة مجدد الدعوة، محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد التميمي.
* مولده:
ولد رحمه الله سنة 1115 هـ، في بلدة العيينة من أرض نجد، وقرأ القرآن قبل بلوغه العشر، وكان حاد الفهم، سريع الإدراك يتعجب أهله من فطنته وذكائه.
* شيوخه ورحلاته العلمية:
أخذ العلم عن والده وغيره، ثم رحل للتزود من طلب العلم، فأتى البصرة والحجاز مرارا، والأحساء وغيرها، وأخذ عن علماء تلك الأقطار، ومنهم الشيخ محمد حياة السندي المدني، والشيخ إسماعيل العجلوني، وعلي أفندي الداغستاني، والشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي ثم المدني، والشيخ محمد المجموعي وغيرهم، وأجازوه. وقد حج ووقف بالملتزم، وسأل الله أن يظهر هذا الدين، وأن يرزقه
"কিতাবুত তাওহীদ"-এর লেখকের জীবনী* তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন ইমাম আল্লামাহ (রব্বানী), সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনকারী ও দাওয়াতের সংস্কারক, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন রাশিদ আত-তামিমী।
* তাঁর জন্ম:
তিনি রহিমানুল্লাহ ১১১৫ হিজরিতে নজদ ভূমির উয়াইনা জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর ধীশক্তিসম্পন্ন ও দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার অধিকারী, যার ফলে তাঁর পরিবার তাঁর প্রজ্ঞা ও মেধা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করত।
* তাঁর উস্তাদগণ ও ইলমি সফরসমূহ:
তিনি তাঁর পিতা ও অন্যদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। অতঃপর ইলম অর্জনে পাথেয় সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে বের হন। তিনি বারবার বসরা, হিজাজ, আল-আহসা ও অন্যান্য অঞ্চলে গমন করেন এবং ঐ সকল ভূখণ্ডের উলামাদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধি আল-মাদানি, শেখ ইসমাইল আল-আজলুনি, আলি আফেন্দি আদ-দাগিস্তানি, শেখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আন-নাজদি অতঃপর আল-মাদানি, শেখ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ি এবং আরও অনেকে; তাঁরা তাঁকে ইজাযত প্রদান করেন। তিনি হজ সম্পাদন করেন এবং মুলতাজামে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন যেন আল্লাহ এই দ্বীনকে বিজয়ী করেন এবং তাঁকে দান করেন
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
القبول من الناس. ثم قصد المدينة وحضر عند علمائها، ثم ارتحل يريد الشام فحصل له عائق لما اقتضته الحكمة الإلهية من ظهور هذا الدين في البلاد النجدية، فرجع إليها، وقدم على والده في بلدة "حريملاء".
* جهاده ودعوته:
عاد الشيخ رحمه الله من رحلاته العلمية - وقد علم من أحوال الناس ومعتقداتهم في بلده وفي غيرها من البلاد المجاورة - ما أسخطه، وحفز همته إلى دعوتهم إلى التوحيد الخالص من شوائب الشرك والبدع والمعاصي، فبدأ دعوته من "حريملاء" وذلك بإنكاره مظاهر الشرك والبدع فيها، ثم ارتحل إلى "العيينة"، وأزال ما في (الجبيلة) وتلك الجهات من القباب والمساجد المبنية على قبور الصحابة وغيرها، ثم قدم (الدرعية) وتلقاه الإمام محمد بن سعود وبادره بالقبول، فشمر في الدعوة إلى توحيد الله، وإفراده بالعبادة، وسائر شرائع الإسلام، والنهي عن الشرك بالله وسائر المحرمات.
وقد أقام الله به علم الجهاد، وأدحض شبه أهل الشرك والعناد، وجد الإمام في نصرته، حتى انتشر التوحيد وعمرت به نجد بعد خرابها، واجتمعت بعد افتراقها، وكان لهم الغلبة والظهور على أعدائهم.
وبالجملة فمحاسنه وفضائله أكثر من أن تحصر، وأشهر من أن تذكر.
মানুষের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্যতা। এরপর তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানকার আলেমদের মজলিসে উপস্থিত হন। তারপর তিনি শামের উদ্দেশ্যে রওনা হন, কিন্তু ঐশী হিকমতের কারণে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় যা নজদ ভূখণ্ডে এই দ্বীনের বহিঃপ্রকাশের দাবি রাখে। ফলে তিনি সেখানে ফিরে আসেন এবং 'হুরায়মিলা' নামক জনপদে তাঁর পিতার নিকট উপস্থিত হন।
* তাঁর জিহাদ ও দাওয়াত:
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইলমি সফর থেকে ফিরে আসেন—এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর নিজ শহর এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য অঞ্চলে মানুষের অবস্থা ও তাদের আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে যা জানতে পারেন তা তাঁকে রাগান্বিত করে—এবং শিরক, বিদআত ও পাপাচারের পঙ্কিলতামুক্ত বিশুদ্ধ তাওহিদের দিকে তাদের আহ্বান করার ব্যাপারে তাঁর হিম্মতকে জাগ্রত করে। অতঃপর তিনি 'হুরায়মিলা' থেকে তাঁর দাওয়াত শুরু করেন এবং সেখানে বিদ্যমান শিরক ও বিদআতের বাহ্যিক রূপগুলোর প্রতিবাদ জানান। এরপর তিনি 'উয়াইনা' সফর করেন এবং 'জুবাইলা' ও ঐ অঞ্চলগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যদের কবরের ওপর নির্মিত গম্বুজ ও মসজিদসমূহ অপসারণ করেন। এরপর তিনি 'দিরইয়াহ' গমন করেন এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ তাঁকে স্বাগত জানান ও তৎক্ষণাৎ তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর তাওহিদ, ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং ইসলামের অন্যান্য বিধিবিধানের দাওয়াত প্রদানের কাজে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন এবং আল্লাহর সাথে শিরক করা ও অন্যান্য সকল হারাম কাজ থেকে নিষেধ করতে থাকেন।
আর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে জিহাদের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেন এবং শিরক ও হঠকারিতায় লিপ্ত ব্যক্তিদের সংশয়গুলো নস্যাৎ করে দেন। ইমাম (মুহাম্মদ বিন সাউদ) তাঁকে সহযোগিতার ব্যাপারে কঠোর পরিশ্রম করেন, ফলে তাওহিদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং নজদ ভূখণ্ড তার ধ্বংসযজ্ঞের পর আবাদ হয়। অনৈক্যের পর তা ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাদের শত্রুদের ওপর তারা বিজয় ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাঁর মহৎ গুণাবলী ও শ্রেষ্ঠত্বসমূহ গণনা করে শেষ করার মতো নয় এবং তা বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়ে না এমন সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
* ثناء العلماء عليه:
قال الشيخ عبد القادر بن بدران الدمشقي: ((ولما امتلأ وطابه من الآثار وعلم السنة، وبرع في مذهب الإمام أحمد، أخذ ينصر الحق ويحارب البدع، ويقاوم ما أدخله الجاهلون في هذا الدين الحنيف، والشريعة السمحاء، ولم يزل مثابرا على الدعوة حتى توفاه الله)) .
وقال عالم الأحساء الشيخ حسين بن غنام:
لقد رفع المولى به رتبة الهدى
… بوقت به يعلى الضلال ويرفع
سقاه نمير الفهم مولاه فارتوى
… وعام بتيار المعارف يقطع
فأحيا به التوحيد بعد اندراسه
… وأوهى به من مطلع الشرك مهيع
سما ذروة المجد التي ما ارتقى لها
… سواه ولا حاذى فناها سميدع
وشمر في منهاج سنة أحمد
… يشيد ويحمي ما تعفى ويرفع
* مؤلفاته:
صنف رحمه الله مصنفات كثيرة منها:
كشف الشبهات، وكتاب أصول الإيمان، وكتاب فضائل الإسلام، فضائل القرآن، وكتاب مختصر السيرة، والسيرة المطولة، وكتاب مجموع الحديث، ومختصر الشرح الكبير، ومختصر الصواعق المرسلة، ومختصر زاد المعاد، وكتاب الإيمان، وله رسائل ونصائح وأجوبة، وله هذا الكتاب النفيس في التوحيد وما يجب من حق الله على العبيد.
* উলামায়ে কিরামের তাঁর প্রতি প্রশংসা:
শেখ আব্দুল কাদির ইবনে বদরান আদ-দিমাশকি বলেন: ((যখন তাঁর ঝুলি আসার (আছার) ও সুন্নাহর ইলমে পরিপূর্ণ হলো এবং তিনি ইমাম আহমদের মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করলেন, তখন তিনি সত্যের সাহায্য করতে ও বিদআতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শুরু করলেন এবং অজ্ঞ লোকেরা এই হানিফ (পরিশুদ্ধ) দ্বীন ও প্রশস্ত শরীয়তের মধ্যে যা কিছু প্রবেশ করিয়েছিল তা প্রতিহত করতে লাগলেন। তিনি দাওয়াতের কাজে অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটালেন।))
আহসার আলিম শেখ হুসাইন ইবনে ঘান্নাম বলেন:
নিশ্চয়ই মাবুদ তাঁর মাধ্যমে হিদায়াতের মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন
… এমন এক সময়ে যখন গোমরাহি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল এবং ছড়িয়ে পড়েছিল।
তাঁর মাবুদ তাঁকে স্বচ্ছ প্রজ্ঞার সুধা পান করিয়েছেন এবং তিনি তৃপ্ত হয়েছেন
… আর তিনি জ্ঞানের প্রবল স্রোতে অবগাহন করে তা পাড়ি দিয়েছেন।
তিনি তাওহীদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তাঁর মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন
… আর শিরকের উৎপত্তিস্থল ও পথসমূহকে তাঁর দ্বারা দুর্বল করে দিয়েছেন।
তিনি মর্যাদার এমন এক শিখরে আরোহণ করেছেন যেখানে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ পৌঁছাতে পারেনি
… এবং কোনো মহান ব্যক্তিও তাঁর সমকক্ষ হতে পারেনি।
তিনি আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর মানহাজে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হয়েছেন
… যা কিছু মিটে গিয়েছিল তা তিনি পুনর্নির্মাণ ও রক্ষা করেছেন এবং সমুন্নত করেছেন।
* তাঁর রচনাবলি:
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
কাশফুশ শুবুহাত, কিতাব উসুলুল ঈমান, কিতাব ফাদায়িলুল ইসলাম, ফাদায়িলুল কুরআন, কিতাব মুখতাসারুস সিরাহ, আস-সিরাতুল মুতাওওয়ালাহ, কিতাব মাজমু'উল হাদিস, মুখতাসারুশ শারহিল কাবীর, মুখতাসারুস সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ, মুখতাসারু যাদিল মা'আদ এবং কিতাবুল ঈমান। এছাড়াও তাঁর অনেক পত্রাবলী, উপদেশবাণী ও প্রশ্নোত্তর রয়েছে। আর তাঁর রয়েছে তাওহীদের ওপর এই মূল্যবান কিতাবটি, যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক বিষয়ে রচিত।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال فيه الشيخ سليمان بن سحمان رحمه الله:
قد ألف الشيخ في التوحيد مختصرا
… يكفي أخا اللب إيضاحا وتبيانا
فيه البيان لتوحيد الإله بما
… قد يغفل العبد للطاعات إيمانا
حبا وخوفا وتعظيما ورجا
… وخشية منه للرحمن إذعانا
*وفاته:
توفي رحمه الله سنة 1206 هـ، وكان يوما مشهودا، وقد رثاه جماعة من العلماء. رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته1.
--------------------------------------------
এ সম্পর্কে শাইখ সুলাইমান ইবনে সাহমান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
শাইখ তাওহীদের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন
… যা বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য ব্যাখ্যা ও বর্ণনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
এতে রয়েছে ইলাহ-র তাওহীদের এমন বর্ণনা যার প্রতি
… আনুগত্য ও ইমানের ক্ষেত্রে বান্দা উদাসীন থাকতে পারে।
মহব্বত, ভয়, সম্মান ও আশা নিয়ে
… এবং আনুগত্য সহকারে রহমানের প্রতি ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে।
*তাঁর মৃত্যু:
তিনি ১২০৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন), এবং দিনটি ছিল একটি স্মরণীয় দিন। উলামায়ে কেরামের একটি দল তাঁর স্মরণে শোকগাঁথা রচনা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ترجمة الشارحهو محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي من قبيلة عنزه، ولد في عنيزة في منطقة القصيم في المملكة العربية السعودية سنة (1353) هـ في 24 رمضان، وقد شب في مدينة عنيزة، والتحق في إحدى الكتاتيب، ودرس القرآن الكريم وبعض علوم الشريعة واللغة العربية، ثم التحق بالمعهد العلمي بعنيزة عام 1377 هـ، وتخرج منه عام 1381 هـ، والتحق بكلية الشريعة بالرياض، ثم تخرج منها عام 1385 هـ 1386 هـ. وقد انتظم في سلك القضاء منذ تخرجه حتى قضى سنتين في القضاء، فانتقل بعد ذلك إلى التدريس في وزارة المعارف، ولا يزال حتى الآن مدرسا بمعهد النور بعنيزة.
أما حالته الاجتماعية فقد نشأ يتيما عصاميا بنى مستقبله بنفسه، ولا يزال يعمل في حقل الدعوة الإسلامية إضافة إلى عمله الرسمي في معهد النور.
أما كتابه الجديد فهو بحق جديد في شكله، وإن كان قديما في موضوعه؛ لأن كتاب التوحيد يستحق بحق أكثر من ذلك. وإن شرحا كهذا يخرج للطلبة بقالب يتناسب مع ما فهموه من مشاكل العصر، ومخططات العدو الجديدة التي تتلون في ظاهرها. وحلقة مخططات أعداء الإسلام هي الكفر ومحو الإسلام، لذا كان هذا الكتاب جديدا
ব্যাখ্যাকারকের জীবনীতিনি হলেন আনজাহ গোত্রের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আস-সুলাইমান আল-কারআউয়ি। তিনি সৌদি আরব রাজ্যের কাসিম অঞ্চলের উনাইজাহ শহরে ১৩৫৩ হিজরি সনের ২৪শে রমজান জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উনাইজাহ শহরেই বেড়ে ওঠেন এবং একটি মক্তবে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন এবং শরীয়াহ ও আরবি ভাষার কিছু ইলম অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি ১৩৭৭ হিজরি সনে উনাইজাহর সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউটে (আল-মা'হাদ আল-ইলমি) ভর্তি হন এবং ১৩৮১ হিজরি সনে সেখান থেকে উত্তীর্ণ হন। অতঃপর তিনি রিয়াদের শরীয়াহ ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৩৮৫-১৩৮৬ হিজরি সনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা সমাপনের পর তিনি বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন এবং সেখানে দুই বছর অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষকতা পেশায় স্থানান্তরিত হন এবং বর্তমানেও তিনি উনাইজাহর নূর ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তার সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি একজন স্বাবলম্বী এতিম হিসেবে বেড়ে উঠেছেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তুলেছেন। নূর ইনস্টিটিউটে তার দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি ইসলামি দাওয়াতের ময়দানেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার এই নতুন বইটি আঙ্গিকের দিক থেকে সত্যিই অভিনব, যদিও এর বিষয়বস্তু প্রাচীন; কারণ কিতাবুত তাওহীদ প্রকৃতপক্ষে এর চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। এ ধরনের একটি ব্যাখ্যা শিক্ষার্থীদের সামনে এমন এক ছাঁচে উপস্থাপিত হয়েছে যা বর্তমান যুগের সমস্যাবলি এবং শত্রুদের নতুন নতুন বহুরূপী ষড়যন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর ইসলাম বিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো কুফর এবং ইসলামকে মিটিয়ে দেওয়া; তাই এই বইটি ছিল সময়োপযোগী ও নতুন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
في حقيقته كما هو جديد في اسمه. والله المسؤول أن ينفع به الأمة وينقذها من مكائد العدو ومخططاته. فجزى الله المؤلف وصاحب المتن1 عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء.
وكتبه
الأستاذ عبد الله الحمد الجلالي
المدرس في معهد عنيزة العلمي
--------------------------------------------
এটি এর হাকিকতে যেমন নতুন, তেমনি এর নামেও নতুন। আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যে, তিনি এর দ্বারা উম্মাহকে উপকৃত করবেন এবং শত্রুর ষড়যন্ত্র ও নীল-নকশা থেকে তাদের রক্ষা করবেন। আল্লাহ লেখক এবং মূল পাঠের১ রচয়িতাকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এটি লিখেছেন
উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-হামদ আল-জালালি
উনাইজাহ ইলমি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تقريظالحمد لله وحده، وأصلي وأسلم على من لا نبي بعده نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، أما بعد: فقد استعرضت الكتاب المسمى بالجديد في شرح كتاب التوحيد للشيخ محمد العبد العزيز القرعاوي، فألفيته منهجا قويا في تقريب المعنى إلى أذهان الطلبة، وصياغته بأسلوب مناسب للعصر، وتبيين معنى النصوص بشرح مفرداتها ومجمل معناها. وأرجو الله أن يتقبل منه، وأن ينفع بما كتب إنه جواد كريم.
قاله كاتبه: محمد الصالح العثيمين
প্রশংসাপত্রসমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর ওপর, যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই—আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতপর: আমি শাইখ মুহাম্মদ আল-আবদুল আজিজ আল-কারআউয়ী প্রণীত ‘আল-জাদীদ ফী শারহ কিতাব আত-তাওহীদ’ নামক গ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছি। আমি একে শিক্ষার্থীদের নিকট বিষয়ের অর্থ সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী পদ্ধতি হিসেবে পেয়েছি; যা বর্তমান যুগের উপযোগী শৈলীতে রচিত এবং শব্দার্থ ও সামগ্রিক অর্থের ব্যাখ্যার মাধ্যমে মূল পাঠের মর্মার্থ স্পষ্টকারী। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর এই আমল কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু।
এটি লিখেছেন: মুহাম্মদ আস-সালেহ আল-উসাইমীন
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمة الشّارحالحمد لله الذي أنقذ هذه الأمة من الشرك إلى التوحيد، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا ضديد ولا نديد. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم المبعوث بهذا الدين المجيد.
اللهم صل وسلم على عبدك ورسولك محمد، وعلى آله وصحبه أهل الشجاعة والرأي السديد.
أما بعد: فإني عزمت بعون الله على شرح كتاب التوحيد الذي هو حق الله على العبيد، وذلك لما لصاحب هذا الكتاب الشيخ محمد بن عبد الوهاب من الفضل الكبير على هذه الأمة، حيث جدد ما اندثر من دينها وصحح ما فسد من عقيدتها، وجاهد في سبيل ذلك بنفسه وماله وقلمه، ولما لكتابه هذا من المكانة العلمية؛ حيث إنه يبحث في أشرف العلوم، وهو توحيد الله وإفراده بالعبادة وتخليص الناس من عبادة العباد إلى عبادة رب العباد، وذلك بما يحويه من الأدلة الشرعية من كتاب الله وسنة رسوله وأقوال السلف الصالح. وقد شرح الكتاب شروحا متعددة منها المختصر ومنها المطول، وقد كتبت بأساليب تتناسب مع العصر الذي ألفت فيه، وتلائم أهل ذلك العصر وهممهم العالية وجدهم واجتهادهم.
أما أنا فقد شرحت هذا الكتاب شرحا يتناسب مع ظروف أهل هذا العصر، وضعف هممهم وانشغالهم بالعلوم الأخرى، ولما كان هذا العلم في هذا العصر لا يطلب غالبا إلا في المدارس النظامية شرحت هذا الكتاب بأسلوب سهل مبسط سائرا فيه على خطوات التربية الحديثة. وطريقتي في الشرح كما يلي:
ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতকে শিরক থেকে তাওহীদের দিকে উদ্ধার করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে এই মহিমান্বিত দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে।
হে আল্লাহ, আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যারা ছিলেন বীরত্ব ও সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী।
অতঃপর: আমি আল্লাহর সাহায্যে 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর ব্যাখ্যা করার সংকল্প করেছি, যা বান্দার ওপর আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার (হক)। আর এটি এই কিতাবের রচয়িতা শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের এই উম্মতের ওপর যে মহান অনুগ্রহ রয়েছে তার কারণে; কেননা তিনি দ্বীনের বিলুপ্তপ্রায় বিষয়গুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং আকিদার বিকৃতিসমূহ সংশোধন করেছেন। তিনি এ পথে তাঁর জীবন, সম্পদ ও কলম দিয়ে জিহাদ করেছেন। এছাড়া এই কিতাবের যে বৈজ্ঞানিক ও ইলমি মর্যাদা রয়েছে তার কারণেও আমি এটি বেছে নিয়েছি; কারণ এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইলম তথা আল্লাহর তাওহীদ, ইবাদতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করা এবং মানুষকে সৃষ্টির গোলামি থেকে মুক্ত করে সৃষ্টির রবের ইবাদতের দিকে নিয়ে আসা নিয়ে আলোচনা করে। আর তা এই কিতাবে বর্ণিত আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বাণীর শরয়ি দলীলসমূহের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই কিতাবের অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার কোনটি সংক্ষিপ্ত আবার কোনটি বিস্তারিত। সেগুলো যে যুগে রচিত হয়েছে সেই যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শৈলীতে লেখা হয়েছিল এবং তা সেই সময়ের মানুষের অবস্থা ও তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং মেধা ও পরিশ্রমের উপযোগী ছিল।
আর আমি এই কিতাবটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছি যা বর্তমান যুগের মানুষের অবস্থা, তাদের দুর্বল স্পৃহা এবং অন্যান্য বৈষয়িক বিদ্যায় তাদের নিমগ্নতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যেহেতু বর্তমান যুগে এই ইলম সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়সমূহ ছাড়া অন্য কোথাও খুব একটা অন্বেষণ করা হয় না, তাই আমি আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির অনুসরণ করে একটি সহজ ও সাবলীল ভঙ্গিতে এই কিতাবটি ব্যাখ্যা করেছি। ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أولا: إيراد النص، فإذا كان النص آية وصاحب المتن لم يكملها كملتها تتميما للفائدة، وقد يستلزم المعنى إيراد آية قبلها أو بعدها.
ثانيا: شرح الكلمات.
ثالثا: الشرح الإجمالي.
رابعا: استخراج الفوائد.
خامسا: المناسبة. وتنقسم إلى قسمين: مناسبة النص للباب، وهذه المناسبة تورد في كل باب، ومناسبة النص للتوحيد، فهذه قد تورد أحيانا إذا اقتضى الأمر ذلك.
سادسا: قد تكتب ملاحظة بعد المناسبة أحيانا إذا اقتضى الأمر ذلك.
سابعا: المناقشة على النص. وإذا كان هناك كلام في المتن لا يمكن شرحه على الطريقة المذكورة، جعلناه تتمة في آخر الباب. وقد سميته (الجديد في شرح كتاب التوحيد) .
والله أسأل أن يجعل عملي خالصا لوجهه الكريم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتبه: محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي
প্রথমত: মূল পাঠটি উপস্থাপন করা। যদি পাঠটি কোনো আয়াত হয় এবং মূল গ্রন্থকার তা পূর্ণ না করে থাকেন, তবে উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে আমি তা পূর্ণ করে দিয়েছি। অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কখনো কখনো তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আয়াত উল্লেখ করার প্রয়োজন হতে পারে।
দ্বিতীয়ত: শব্দ বিশ্লেষণ।
তৃতীয়ত: সামগ্রিক ব্যাখ্যা।
চতুর্থত: শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ আহরণ।
পঞ্চমত: প্রাসঙ্গিকতা। এটি দুই ভাগে বিভক্ত: অধ্যায়ের সাথে পাঠের প্রাসঙ্গিকতা—যা প্রতিটি অধ্যায়েই উল্লেখ করা হয়েছে; এবং তাওহীদের সাথে পাঠের প্রাসঙ্গিকতা—যা প্রয়োজন সাপেক্ষে কখনো কখনো উল্লেখ করা হয়েছে।
ষষ্ঠত: প্রাসঙ্গিকতার পর প্রয়োজনবোধে কখনো কখনো বিশেষ টীকা লেখা হতে পারে।
সপ্তমত: পাঠের ওপর আলোচনা। মূল পাঠে যদি এমন কোনো কথা থাকে যা উল্লিখিত পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না হয়, তবে সেটিকে আমরা অধ্যায়ের শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি। আমি এর নাম দিয়েছি (আল-জাদিদ ফি শারহি কিতাবিত তাওহীদ)।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
লিখেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুলাইমান আল-কার'আবী
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كتاب التوحيد1
قال الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو
--------------------------------------------
কিতাবুত তাওহিদ (তাওহিদের বই)১
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র রিজিকদাতা, তিনি মহাশক্তিশালী ও প্রবল পরাক্রমশালী।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} 1.
شرح الكلمات:
الجن: عالم مستتر عن الأنظار.
الإنس: هم بنو آدم.
يعبدون: أي يوحدون. والعبادة: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة2.
ما أريد منهم من رزق: لم يرد الله منهم أن يرزقوا أنفسهم ولا يرزقوا غيرهم.
وما أريد أن يطعمون: ولم يرد منهم أن يطعموا أنفسهم ولا يطعموا غيرهم، وإنما أسند الرزق والإطعام إلى نفسه؛ لأن الخلق عيال الله فمن أطعمهم فكأنما أطعم الرب عزوجل.
الرزاق: كثير الرزق لخلقه.
ذو القوة: صاحب القوة.
المتين: الشديد القوة.
الشرح الإجمالي:
يخبرنا الله سبحانه وتعالى أنه هو الذي أوجد الجن والإنس، وأن الحكمة من إيجادهم هي إفراده بالعبادة والكفر بما سواه، وأنه لم يخلقهم
--------------------------------------------
প্রবল শক্তিশালী।} ১।
শব্দার্থ:
জিন: দৃষ্টির আড়ালে থাকা এক জগত।
ইনস: তারা হলো আদম সন্তান।
ইবাদত করবে: অর্থাৎ তারা তাঁর একত্ববাদ (তাওহীদ) প্রকাশ করবে। আর ইবাদত: এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। ২।
আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না: আল্লাহ তাদের নিকট চাননি যে তারা নিজেদের রিজিক দিক অথবা অন্য কাউকে রিজিক দিক।
এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে: আর তিনি তাদের নিকট চাননি যে তারা নিজেদের আহার করাক কিংবা অন্য কাউকে আহার করাক। মূলত তিনি রিজিক ও আহার প্রদানকে নিজের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন; কারণ সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিজনস্বরূপ, তাই যে তাদের আহার করাল সে যেন মহান রবকেই আহার করাল।
রাজ্জাক: তাঁর সৃষ্টির জন্য প্রচুর রিজিক দাতা।
যুল-কুওয়াহ: শক্তির অধিকারী।
আল-মাতীন: প্রবল শক্তিশালী।
সামগ্রিক ব্যাখ্যা:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনিই জিন ও ইনসকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের সৃষ্টির রহস্য হলো কেবল তাঁরই ইবাদত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা অস্বীকার করা। আর তিনি তাদের সৃষ্টি করেননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لمصلحة نفوذ لذاته، وإنما أوجدهم للعبادة، وتكفل بأرزاقهم، وهو صادق بوعده قادر على تحقيقه لأنه قوي متين.
الفوائد:
1. أن الحكمة من خلق الجن والإنس هي إفراد الله بالعبادة.
2. إثبات وجود الجن.
3. كمال غنى الله عن خلقه.
4. أن مصدر الرزق من الله، ولكن العبد مأمور بفعل الأسباب.
5. إثبات اسمين من أسماء الله وهما: الرزاق، والمتين.
مناسبة الآية للتوحيد:
حيث دلت الآية الكريمة على أن الحكمة من خلق الجن والإنس هي إفراد الله بالعبادة والكفر بما سواه.
المناقشة:
أ. اشرح الكلمات الآتية: الجن، الإنس، ليعبدون، ما أريد منهم من رزق، وما أريد أن يطعمون، الرزاق، ذو القوة المتين.
ب. اشرح الآية شرحا إجماليا.
ج. استخرج أربع فوائد من الآية مع ذكر المأخذ.
د. وضح مناسبة الآية للتوحيد.
নিজ সত্তার কোনো প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়, বরং তিনি তাদের কেবলমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাদের রিজিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী এবং তা বাস্তবায়নে সক্ষম, কারণ তিনি মহাশক্তিশালী ও অত্যন্ত সুদৃঢ়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
১. জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির রহস্য হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা।
২. জিন জাতির অস্তিত্বের প্রমাণ।
৩. সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতার পূর্ণতা।
৪. রিজিকের উৎস একমাত্র আল্লাহ, তবে বান্দাকে উপায়-উপকরণ অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে দুটি নাম সাব্যস্ত হওয়া, যথা: আর-রাজজাক (অধিক রিজিকদাতা) এবং আল-মাতিন (সুদৃঢ়)।
তাওহিদের সাথে আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা:
যেহেতু এই মহিমান্বিত আয়াতটি নির্দেশ করে যে, জিন ও মানব সৃষ্টির মূল হিকমত হলো কেবল আল্লাহর ইবাদত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তাকে অস্বীকার করা।
আলোচনা:
ক. নিচের শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করো: জিন, ইনসান, তারা যেন আমার ইবাদত করে, আমি তাদের নিকট কোনো রিজিক চাই না, আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে, অতিশয় রিজিকদাতা, মহাশক্তিশালী ও সুদৃঢ় সত্তা।
খ. আয়াতটির একটি সামগ্রিক ব্যাখ্যা দাও।
গ. আয়াতটি থেকে চারটি শিক্ষা বের করো এবং এর উৎস (দলিল) উল্লেখ করো।
ঘ. তাওহিদের সাথে আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট করো।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ فَسِيرُوا فِي الأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} 1.
شرح الكلمات:
بعثنا: أرسلنا.
الرسول: هو من أوحي إليه بشرع وأمر بتبليغه2. ورسول هنا نكرة تعم جميع الرسل.
اعبدوا الله: وحدوه بجميع أنواع العبادة. والعبادة لغة: التذلل.
اجتنبوا: ابتعدوا.
الطاغوت: هو كل ما تجاوز به العبد حده من معبود أو متبوع أو مطاع في غير طاعة الله ورسوله3. والطواغيت كثيرون ورؤوسهم خمسة: إبليس لعنه الله، ومن غير أحكام الله، ومن حكم بغير ما أنزل الله، ومن دعى إلى عبادة نفسه، ومن عبد من دون الله وهو راضي بالعبادة.
هدى الله: وفقه للخير.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কারো কারো প্রতি আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কারো কারো প্রতি পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। অতএব তোমরা যমীনে ভ্রমণ করো এবং দেখো, অস্বীকারকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।" ১।
শব্দ বিশ্লেষণ:
আমরা পাঠিয়েছি: আমরা প্রেরণ করেছি।
রাসূল: তিনি এমন ব্যক্তি যার কাছে কোনো শরীয়াত অহী করা হয়েছে এবং তা প্রচার করার আদেশ দেওয়া হয়েছে ২। আর এখানে 'রাসূল' শব্দটি অনির্দিষ্ট, যা সকল রাসূলকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আল্লাহর ইবাদত করো: সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে তাঁকে একত্ব প্রদান করো। আর আভিধানিক অর্থে ইবাদত হলো: চরম বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা।
বর্জন করো: দূরে থাকো।
তাগুত: বান্দা উপাস্য, অনুসরণীয় অথবা মান্যবর হিসেবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের বাইরে যাকে নিয়ে নিজের সীমা অতিক্রম করে, তাকেই তাগুত বলা হয় ৩। আর তাগুত অনেক, তাদের মধ্যে প্রধান পাঁচটি হলো: ইবলিস (আল্লাহর লানত তার ওপর), যে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করে, যে আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতীত ফয়সালা প্রদান করে, যে নিজেকে উপাসনা করার আহ্বান জানায় এবং আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয় আর সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে।
আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন: তাঁকে কল্যাণের তৌফিক দান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
حقت عليه الضلالة: وجبت وثبتت لكفره وعناده. والضلالة هي الكفر.
سيروا في الأرض: سير اعتبار وتفكر.
عاقبة المكذبين: من الأمم السابقة كعاد وفرعون، وما وقع بهم من عاقبة التكذيب.
الشرح الإجمالي:
يخبر الله سبحانه وتعالى في هذه الآية الكريمة أنه أرسل في كل طائفة من الناس رسولا يبلغهم ويأمرهم بتوحيده والكفر بما سواه. وقد انقسم الناس حيال هؤلاء الرسل إلى قسمين: فمنهم من وفقه الله إلى الخير فاستجاب لدعوة الرسل، وامتثل ما أمروا به (واجتنب) ما نهوا عنه.
ومنهم من حرم من التوفيق فأعرض عن الحق فخسر الدنيا والآخرة. والذي يسير في نواحي الأراضي معتبرا سيرى آثار عقوبة الله لبعض المعاندين كعاد وثمود وفرعون.
الفوائد:
1. بيان أن الناس لم يتركوا هملا1.
2. عموم الرسالة لجميع الأمم ونفس الفترة بين الرسل التي توجب طمس معالم الدين بالكلية.
3. إن مهمة الرسل الدعوة إلى عبادة الله والكفر بما سواه.
4. إن هداية التوفيق خاصة بالله دون غيره.
--------------------------------------------
তার ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে: তার কুফর ও হঠকারিতার কারণে তা অবধারিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর পথভ্রষ্টতা হলো কুফর।
তোমরা জমিনে পরিভ্রমণ করো: শিক্ষা গ্রহণ ও চিন্তা-ভাবনার উদ্দেশ্যে পরিভ্রমণ।
মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি: পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ যেমন আদ ও ফেরাউন এবং মিথ্যারোপ করার কারণে তাদের ওপর যে ভয়াবহ পরিণাম নেমে এসেছিল।
সামগ্রিক ব্যাখ্যা:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই সম্মানিত আয়াতে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি মানুষের প্রতিটি দলের নিকট একজন করে রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট দ্বীনের বার্তা পৌঁছে দেবেন এবং তাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর সাথে কুফর করার (বর্জন করার) নির্দেশ দেবেন। এই রাসূলদের দাওয়াতের প্রেক্ষিতে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে: তাদের মধ্যে কেউ এমন ছিল যাদের আল্লাহ কল্যাণের তাওফিক দিয়েছেন, ফলে তারা রাসূলদের দাওয়াতে সাড়া দিয়েছে এবং তারা যা আদেশ করেছেন তা পালন করেছে এবং যা থেকে তারা নিষেধ করেছেন তা (বর্জন করেছে)।
আর তাদের মধ্যে কেউ এমন ছিল যারা তাওফিক থেকে বঞ্চিত হয়েছে, ফলে তারা সত্য থেকে বিমুখ হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়েছে। আর যে ব্যক্তি শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর প্রান্তরে পরিভ্রমণ করবে, সে আদ, সামুদ ও ফেরাউনের মতো কিছু হঠকারীর ওপর আল্লাহর শাস্তির নিদর্শনসমূহ দেখতে পাবে।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
১. এটি বর্ণনা করা যে, মানুষকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।১।
২. সকল জাতির জন্য রিসালাতের ব্যাপকতা এবং রাসূলদের মধ্যবর্তী সেই সময়কাল সম্পর্কে ধারণা যা দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে দেয়।
৩. নিশ্চয়ই রাসূলদের মূল দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব উপাস্যের সাথে কুফর (বর্জন) করা।
৪. নিশ্চয়ই তাওফিকের হিদায়াত কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, অন্য কারো জন্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
5. لا يلزم من أمر الله بالشيء إرادته له.
6. استحباب السياحة لقصد الاعتبار والتفكر بآثار القرون الأولى.
مناسبة الآية للتوحيد:
حيث دلت الآية الكريمة على أن عبادة الله لا تصلح إلا إذا كفر بما سواه.
المناقشة:
أ. اشرح الكلمات الآتية: بعثنا، الرسول، اعبدوا الله، اجتنبوا الطاغوت، هدى الله، حقت عليه الضلالة، سيروا في الأرض، عاقبة المكذبين.
ب. اشرح الآية شرحا إجماليا.
ج. استخرج خمس فوائد من الآية مع ذكر المآخذ.
د. وضح مناسبة الآية للتوحيد.
وقوله تعالى: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَاّ تَعْبُدُوا إِلَاّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً} 1.
--------------------------------------------
৫. আল্লাহর কোনো কিছুর নির্দেশ দেওয়ার মানে এই নয় যে, তিনি তা (সেই ব্যক্তির জন্য) ইচ্ছা করেছেন।
৬. পূর্ববর্তী যুগের নিদর্শনসমূহ দেখে শিক্ষা গ্রহণ এবং চিন্তা-ভাবনার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা মুস্তাহাব।
তাওহিদের সাথে আয়াতের সামঞ্জস্য:
যেহেতু এই মহান আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছুকে অস্বীকার করা ব্যতীত আল্লাহর ইবাদত সঠিক হয় না।
আলোচনা:
ক. নিচের শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করো: আমরা পাঠিয়েছি, রাসূল, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাগুত বর্জন করো, আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন, তার উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে, জমিনে ভ্রমণ করো, মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি।
খ. আয়াতটির একটি সামগ্রিক ব্যাখ্যা প্রদান করো।
গ. আয়াত থেকে পাঁচটি শিক্ষা বের করো এবং এর উৎসগুলো উল্লেখ করো।
ঘ. তাওহিদের সাথে আয়াতের সামঞ্জস্য স্পষ্ট করো।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যে কোনো একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো এবং বলো, ‘হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন’।” ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
شرح الكلمات:
قضى: أمر ووصى.
أن لا تعبدوا إلا إياه: أن تصرفوا جميع أنواع العبادة إلى الله دون غيره. وبالوالدين إحسانا: الإحسان إلى الوالدين هو احترامهما والقيام بما يصلح أحوالهما، والدعاء لهما وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما، وبعد وفاتهما استمرار الدعاء لهما وإكرام صديقهما.
عندك: في كنفك ورعايتك.
ولا تقل لهما أف: لا يظهر منك ما يشعر بالضيق والضجر منهما.
تنهرهما: تزجرهما. كريما: أي جميلا لا شراسة فيه.
واخفض لهما جناح الذل من الرحمة: تواضع وتذلل لهما رحمة بهما لا خوف العار وطلب الحظوة لديهما فقط.
الشرح الإجمالي:
يأمر الله سبحانه وتعالى جميع المكلفين بأن يفردوه بالعبادة، وأن يبروا بوالديهم. وأكد حق الوالدين بذكره بعد حقه عزوجل، ثم ذكر بعض أنواع البر لهما، وخاصة في حال العجز والضعف، ومن ذلك عدم إظهار ما يشعر بالضيق منهما وعدم رفع الصوت بزجرهما، والأمر بلين الجانب لهما واللطف في الكلام معهما، والدعاء لهما في حياتهما وبعد وفاتهما.
الفوائد:
1. وجوب إفراد الله بالعبادة.
2. وجوب البر بالوالدين على كل واحد من الولد بعينه.
3. التكافل الاجتماعي موجود في الإسلام.
শব্দের ব্যাখ্যা:
নির্ধারণ করেছেন: আদেশ দিয়েছেন এবং অসিয়ত করেছেন।
যেন তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করো: অর্থাৎ তোমরা যেন ইবাদতের সমস্ত প্রকার আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন না করো। এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার হলো তাদের সম্মান করা এবং তাদের অবস্থা সংশোধন হয় এমন কাজ সম্পাদন করা, তাদের জন্য দোয়া করা এবং তাদের মাধ্যমে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা রক্ষা করা, আর তাদের মৃত্যুর পর তাদের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখা এবং তাদের বন্ধুদের সম্মান করা।
তোমার কাছে: তোমার আশ্রয়ে এবং তোমার তত্ত্বাবধানে।
এবং তাদের প্রতি 'উফ' বলো না: তোমার পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ না করা যা তাদের প্রতি বিরক্তি বা অসন্তোষের উদ্রেক করে।
তাদের ধমক দিও না: তাদের প্রতি কঠোরতা করো না। সম্মানজনক: অর্থাৎ সুন্দর কথা যাতে কোনো কর্কশতা নেই।
আর তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা অবনমিত করো: কেবল লোকলজ্জার ভয়ে বা তাদের কাছে প্রতিপত্তি লাভের আশায় নয়, বরং তাদের প্রতি করুণাসিক্ত হয়ে তাদের সামনে বিনয়ী ও অবনত হও।
সামগ্রিক ব্যাখ্যা:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (মুকাল্লাফ) নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তারা ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করে এবং তাদের পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করে। মহান আল্লাহ নিজের অধিকারের পরেই তাদের অধিকারের কথা উল্লেখ করে একে সুনিশ্চিত করেছেন। অতঃপর তাদের প্রতি সদ্ব্যবহারের কিছু ধরন বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে তাদের বার্ধক্য ও অক্ষমতার অবস্থায়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো—তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ না করা, ধমক দিয়ে তাদের সাথে উচ্চস্বরে কথা না বলা এবং তাদের সাথে নম্রভাবে ও কোমলভাবে কথা বলার নির্দেশ প্রদান করা, এবং তাদের জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তাদের জন্য দোয়া করা।
উপকারিতা:
১. একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা ওয়াজিব।
২. প্রত্যেক সন্তানের ওপর ব্যক্তিগতভাবে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা ওয়াজিব।
৩. ইসলামে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مناسبة الآية للتوحيد:
حيث دلت الآية الكريمة على وجوب إفراد الله بالعبادة.
المناقشة:
أ. اشرح الكلمات الآتية: قضى، ألا تعبدوا إلا إياه، وبالوالدين إحسانا، عندك، فلا تقل لهما أف، تنهرهما، كريما، واخفض لهما جناح الذل من الرحمة.
ب. اشرح الآيتين شرحا إجماليا.
ج. استخرج ثلاث فوائد من الآيتين مع ذكر المأخذ.
د. وضح مناسبة الآية للتوحيد.
وقوله تعالى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالاً فَخُوراً} 1.
شرح الكلمات:
اعبدوا الله: أفردوه بالعبادة.
ولا تشركوا به شيئا: أي اكفروا بكل معبود سواه حيا كان أم ميتا جمادا أو حيوانا.
--------------------------------------------
তাওহীদের সাথে আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা:
যেহেতু সম্মানিত আয়াতটি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার আবশ্যকতা প্রমাণ করে।
আলোচনা:
ক. নিচের শব্দসমূহ ব্যাখ্যা করুন: তিনি ফয়সালা (আদেশ) করেছেন, যেন তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করো, এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করো, তোমার কাছে, তবে তাদের উভয়কে 'উফ' বলো না, তাদের ধমক দিও না, সম্মানজনক, এবং দয়া করে তাদের জন্য বিনয়ের ডানা অবনমিত করো।
খ. আয়াতদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করুন।
গ. আয়াতদ্বয় থেকে দলিলসহ তিনটি ফায়দা (উপকারিতা) বের করুন।
ঘ. তাওহীদের সাথে আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট করুন।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না; এবং পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী, মুসাফির এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদাচরণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।" ১।
শব্দার্থ বিশ্লেষণ:
আল্লাহর ইবাদত করো: ইবাদতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করো।
এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না: অর্থাৎ তিনি ব্যতীত অন্য সকল উপাস্যকে অস্বীকার করো, চাই তা জীবিত হোক বা মৃত, জড় হোক বা প্রাণী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبالوالدين إحسانا: ارجع إلى شرح الآية السابقة (ص23) .
بذي القربى: كل من يصدق عليه تسمية القريب.
اليتامى: جمع يتيم وهو من مات أبوه ولم يبلغ.
المساكين: جمع مسكين وهو الفقير.
الجار ذي القربى: وهو الجار الملاصق. وقيل: الجار الذي تربطك به قرابة.
الجار الجنب: هو الجار الذي لا تربطك به قرابة. وقيل: الجار غير الملاصق.
والصاحب بالجنب: هو كل من لازمك رجاء نفعك كالزوجة والمسافر ونحوهما.
ابن السبيل: هو المنقطع في السفر.
وما ملكت أيمانكم: هم العبيد والمماليك.
المختال: هو المتكبر.
الفخور: هو المعجب بنفسه المادح لها.
الشرح الإجمالي:
لما كان الإخلاص هو أساس الدين، ابتدأ الله هذه الآية بالأمر بإخلاص التوحيد له والكفر بما سواه، وأردف ذلك ببر الوالدين؛ لأنهما هما السبب الظاهر في وجود الإنسان في هذه الحياة، ولم يغفل سبحانه وتعالى حق الأقارب؛ لأنهم أرجى الناس بفضله وإحسانه، وحتى لا ييأس بقية إخوانه المسلمين أوصى سبحانه وتعالى بالأيتام عموما والمساكين سواء القريب منهم أو البعيد، ثم أخذ سبحانه وتعالى يبين حقوق الملازمين
এবং পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ: পূর্ববর্তী আয়াতের (পৃষ্ঠা ২৩) ব্যাখ্যার দিকে ফিরে যান।
নিকটাত্মীয়: যাদের ওপর নিকটাত্মীয় বা আত্মীয় শব্দের প্রয়োগ যথার্থ হয়।
এতিমগণ: এটি 'ইয়াতীম' শব্দের বহুবচন। যার পিতা মারা গেছে এবং সে এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।
মিসকীনগণ: এটি 'মিসকীন' শব্দের বহুবচন, আর সে হলো দরিদ্র।
নিকটবর্তী প্রতিবেশী: সে হলো সংলগ্ন প্রতিবেশী। আবার বলা হয়েছে: সেই প্রতিবেশী যার সাথে আপনার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।
দূরবর্তী প্রতিবেশী: সে হলো সেই প্রতিবেশী যার সাথে আপনার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। আবার বলা হয়েছে: অ-সংলগ্ন প্রতিবেশী।
পার্শ্বসাথী: সে হলো ঐ ব্যক্তি যে আপনার উপকারের আশায় আপনার সাথে অবস্থান করে, যেমন স্ত্রী, সফরসঙ্গী এবং এই জাতীয় অন্য কেউ।
মুসাফির: সে হলো ঐ ব্যক্তি যে সফরে (পাথেয়হীন হয়ে) বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসী: তারা হলো দাস ও মালিকানাধীন ব্যক্তিগণ।
দাম্ভিক: সে হলো অহংকারী।
আত্মশ্লাঘাকারী: সে হলো ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে নিয়ে আত্মতৃপ্ত এবং নিজের প্রশংসা নিজেই করে।
সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা:
যেহেতু ইখলাস বা একনিষ্ঠতা হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি, তাই আল্লাহ এই আয়াতটি তাঁর প্রতি একনিষ্ঠভাবে তাওহীদ পালন করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছুকে অস্বীকার করার নির্দেশের মাধ্যমে শুরু করেছেন। এরপর তিনি পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন; কারণ এই জীবনে মানুষের অস্তিত্বের পেছনে তাঁরাই হলেন প্রকাশ্য মাধ্যম। মহান আল্লাহ নিকটাত্মীয়দের অধিকারের কথা বিস্মৃত হননি; কারণ তাঁর অনুগ্রহ ও সদাচরণের ক্ষেত্রে তারাই মানুষের নিকট সর্বাধিক আশার স্থল। আর যাতে অবশিষ্ট মুসলিম ভাইয়েরা নিরাশ না হয়, সেজন্য মহান আল্লাহ সাধারণভাবে এতিমদের এবং নিকটবর্তী কিংবা দূরবর্তী মিসকীনদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন। এরপর মহান আল্লাহ সাথে অবস্থানকারীদের অধিকার বর্ণনা করতে শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
له في الغالب في الحياة، فبدأهم بالجار الذي يجمع بين حق الإسلام والقرابة والجوار، ثم الجار الذي له حقان.. حق الإسلام والجوار، ثم الجار الذي له حق الجوار فقط وهو الذمي. ثم ذكر حق من سيلازمه ويرجو فضله كالزوجة ورفيق السفر ونحوهما، ولما كان الإسلام يقدر الحركة والانتقال من بلد إلى آخر والسياحة بقصد الرزق والاعتبار، أوصى بمساعدة المسافر الذي يحتاج إلى المساعدة سواء كان ذلك ماديا أو معنويا..
وتأكيدا للعدل والمساواة بين أفراد المسلمين لم ينس الإسلام المماليك، بل أوصى بحقوقهم والرفق بهم والاعتراف بإنسانيتهم، ولما كانت هذه الأعمال أعمال خير قد يعجب فاعلها بنفسه حذر الله سبحانه وتعالى من الكبر والإعجاب بالنفس؛ لأنهما قد يحبطان هذه الأعمال الجليلة.
الفوائد:
1. وجوب عبادة الله وحده.
2. وجوب بر الوالدين وطاعتهما ما لم يكن في معصية، أو شيئا يضر الولد لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا ضرر ولا ضرار "1.
3. مشروعية صلة الأقارب حسب قربهم من الشخص.
4. وجوب الإحسان إلى من تعوله من الأيتام، وذلك بحفظهم وحسن تربيتهم وتنمية مالهم.
5. استحباب الإحسان إلى المساكين وأنواع الإحسان كثيرة.
6. وجوب حق الجار.
7. الحث على مساعدة كل من لازمك يرجو فضلك من رفيق سفر وحضر ونحوهما.
8. وجوب مساعدة المنقطع به في السفر
--------------------------------------------
জীবনে সাধারণত যার সান্নিধ্য বেশি পাওয়া যায়, তাই তিনি (আল্লাহ) প্রথমে সেই প্রতিবেশীকে দিয়ে শুরু করেছেন যার ক্ষেত্রে ইসলাম, আত্মীয়তা ও প্রতিবেশী হওয়ার—এই তিনটি অধিকারই একত্রিত হয়েছে। অতঃপর সেই প্রতিবেশী যার দুটি অধিকার রয়েছে: ইসলামের অধিকার ও প্রতিবেশীর অধিকার। এরপর সেই প্রতিবেশী যার কেবল প্রতিবেশীর অধিকার রয়েছে, আর সে হলো যিম্মি। অতঃপর তিনি এমন ব্যক্তির অধিকার উল্লেখ করেছেন যে সর্বদা সাথে থাকে এবং অনুগ্রহের প্রত্যাশা করে, যেমন স্ত্রী, সফরের সঙ্গী এবং এই জাতীয় ব্যক্তিগণ। যেহেতু ইসলাম এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলাচল, স্থানান্তর এবং রিযিক অন্বেষণ ও শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে গুরুত্ব দেয়, তাই ইসলাম এমন মুসাফিরকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছে যার সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে, চাই তা বস্তুগত হোক বা মানসিকভাবে।
মুসলিম সমাজের ব্যক্তিবর্গের মাঝে ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে ইসলাম দাসদের কথা ভুলে যায়নি; বরং তাদের অধিকার প্রদান, তাদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের মানবিক সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যেহেতু এই কাজগুলো নেক আমল এবং আমলকারী এতে আত্মমুগ্ধতায় আক্রান্ত হতে পারে, তাই মহান আল্লাহ অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা থেকে সতর্ক করেছেন; কারণ এ দুটি বিষয় এই মহান আমলগুলোকে বিনষ্ট করে দিতে পারে।
ফায়দাসমূহ:
১. একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা ওয়াজিব।
২. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা এবং তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না তা কোনো পাপের কাজে হয় অথবা এমন কিছু হয় যা সন্তানের জন্য ক্ষতিকর; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না।"১
৩. ব্যক্তির সাথে আত্মীয়তার নৈকট্যের ক্রমানুসারে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিধান।
৪. তোমার তত্ত্বাবধানে থাকা এতিমদের প্রতি ইহসান করা ওয়াজিব; আর তা হলো তাদের হেফাজত করা, উত্তম লালন-পালন এবং তাদের সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটানোর মাধ্যমে।
৫. মিসকিনদের প্রতি ইহসান করা মুস্তাহাব এবং ইহসানের পদ্ধতি অনেক প্রকারের হয়ে থাকে।
৬. প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা ওয়াজিব।
৭. সফর বা আবাসস্থলে তোমার সাথে অবস্থানকারী যে ব্যক্তি তোমার অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, তাকে সাহায্য করার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
৮. সফরে নিঃস্ব হয়ে পড়া ব্যক্তিকে সাহায্য করা ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
9. وجوب الإحسان إلى المماليك.
10. تحريم الكبر والخيلاء.
11. إثبات صفة المحبة لله.
مناسبة الآية للتوحيد:
حيث دلت الآية الكريمة على وجوب إخلاص العبادة لله وحده والكفر بمن سواه.
ملاحظة:
الجار من حيث هو ثلائة أقسام: الأول: له ثلاثة حقوق: الإسلام والقرابة والجوار. والثاني: له حقان: الإسلام والجوار. والثالث: له حق الجوار فقط وهو الذمي.
المناقشة:
أ. اشرح الكلمات الآتية: اعبدوا الله، ولا تشركوا به شيئا، وبالوالدين إحسانا، بذي القربى، اليتامى، المساكين، الجار ذي القربى، الجار الجنب، الصاحب بالجنب، ابن السبيل، ما ملكت أيمانكم، مختال، فخور.
ب. اشرح الآية شرحا إجماليا.
ج. استخرج سبع فوائد من الآية مع ذكر المأخذ.
د. وضح مناسبة الآية للتوحيد.
৯. অধীনস্থ দাস-দাসীদের প্রতি সদাচরণের আবশ্যকতা।
১০. অহংকার ও দাম্ভিকতার নিষিদ্ধতা।
১১. আল্লাহর জন্য ভালোবাসার (মহব্বত) গুণ সাব্যস্ত করা।
তাওহীদের সাথে আয়াতের সম্পর্ক:
যেহেতু সম্মানিত আয়াতটি একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছুকে অস্বীকার করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে।
দ্রষ্টব্য:
প্রতিবেশী সত্তাগতভাবে তিন প্রকার: প্রথম: যার তিনটি অধিকার রয়েছে: ইসলাম, আত্মীয়তা এবং প্রতিবেশিত্ব। দ্বিতীয়: যার দুটি অধিকার রয়েছে: ইসলাম এবং প্রতিবেশিত্ব। তৃতীয়: যার কেবল প্রতিবেশিত্বের অধিকার রয়েছে, আর সে হলো জিম্মি (অমুসলিম নাগরিক)।
আলোচনা:
ক. নিম্নোক্ত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করো: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করো, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্বসাথী, মুসাফির, তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে (দাস-দাসী), আত্মম্ভরী, দাম্ভিক।
খ. আয়াতের সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা করো।
গ. উৎস উল্লেখসহ আয়াত থেকে সাতটি শিক্ষা বের করো।
ঘ. তাওহীদের সাথে আয়াতের সম্পর্ক স্পষ্ট করো।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقول الله تعالى: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَاّ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ مِنْ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} 12.
شرح الكلمات:
تعالوا: أقبلوا.
أتل: أقصص.
ما حرم ربكم عليكم: ما حرم بحق لا تخرصا وظنا. والتحريم لغة: المنع.
ألا تشركوا به شيئا: لا تعبدوا معه غيره.
ولا تقتلوا أولادكم من إملاق: لا تقتلوا بنيكم وبناتكم من أجل الفقر.
(وبالوالدين إحسانا) : تقدم شرحها.
الفواحش: هي المعاصي.
ما ظهر منها: ما كان بينك وبين الناس. وما بطن: ما كان بينك وبين الله.
النفس التي حرم الله: نفس المسلم والكافر المعاهد والذمي والمستأمن.
إلا بالحق: المراد بالحق زنا بعد إحصان، أو كفر بعد إيمان، أو القتل المتعمد لنفس معصومة فيقتل به وهو القصاص، أو غير ذلك مما أباح الإسلام قتل النفس به.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা এসো, তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি তোমাদের তিলাওয়াত করে শুনাই; তা হলো: তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, পিতা-মাতার প্রতি সদাচার করবে, অভাবের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না—আমিই তোমাদেরকে এবং তাদেরকে রিযিক দেই—প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন হোক কোনো অশ্লীলতার কাছেও যাবে না, এবং আল্লাহ যে প্রাণকে (হত্যা করা) হারাম করেছেন সংগত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করবে না। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝতে পারো।} ১ ২।
শব্দ বিশ্লেষণ:
তাআলাও: এগিয়ে এসো।
আত্লু: আমি বর্ণনা করি বা পড়ে শুনাই।
তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন: যা প্রকৃতপক্ষে হারাম করেছেন, নিছক অনুমান বা ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়। আর আভিধানিক অর্থে তাহরিম মানে হলো: নিষিদ্ধ করা।
যেন তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করো: তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করো না।
অভাবের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না: দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের পুত্র ও কন্যাদের হত্যা করো না।
(পিতা-মাতার প্রতি সদাচার): এর ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আল-ফাওয়াহিশ: এগুলো হলো পাপাচার বা গুনাহসমূহ।
তার মধ্যে যা প্রকাশ্য: যা তোমার ও মানুষের মাঝে হয়ে থাকে। আর যা গোপন: যা তোমার ও আল্লাহর মাঝে হয়ে থাকে।
আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন: মুসলিমের প্রাণ এবং চুক্তিবদ্ধ, জিম্মি ও নিরাপত্তা প্রাপ্ত কাফেরের প্রাণ।
সংগত কারণ ছাড়া: সংগত কারণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করা, অথবা ঈমান আনার পর কুফরি করা, অথবা কোনো নিরাপদ ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা যার ফলে তাকে কিসাস বা দণ্ডস্বরূপ হত্যা করা হয়, কিংবা ইসলামে অন্য যে সকল কারণে হত্যার বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ذلكم: الإشارة تعود إلى المحرمات السابقة.
وصاكم: الوصية هي الأمر المؤكد.
لعلكم تعقلون: لكي تعقلوا ما ذكر فتعملون به.
الشرح الإجمالي:
يأمر الله نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بأن يدعو خصوم الدعوة إلى الإقبال والإصغاء إلى ما سيفصله عليهم من الخطوط العريضة لهذه الدعوة والقواعد الثابتة المشرفة، وذكر بعضا منها في هذه الآية وما بعدها. ولما كان الشرك يحبط كل عمل صالح ابتدأ الله هذه الحقائق بالتحذير من الشرك، ثم عقب بالأمر بالبر بالوالدين. ولما كان قتل الذرية سفاهة في الشخص وقطعا لشجرته وأروفته، نهى الله عن قتل الأولاد. وذكر الفقر هنا؛ لأنه أنحل الأسباب للقتل في الجاهلية، وإلا فالقتل بغير حق محرم بأي سبب من الأسباب.. ولما كان السبب الغالب في قتل الأولاد خوف الفقر تكفل الله برزقهم وأولادهم معا، ثم نهى سبحانه وتعالى عن جميع المعاصي ما ظهر منها للناس وما اختفى. ولما كان القتل بغير حق يهد كيان المجتمع بما ينجم عنه من الفوضى والدمار والثأر والأحقاد خصه الله بالنهي بعد الفواحش إجمالا، ثم أكبر الله تحريم هذه الأشياء حيث نص عليها بلفظ الوصية من أجل أن نعقلها فنعمل بها.
الفوائد:
1. أن الشرك هو أكبر الكبائر، ولا يصح معه عمل لهذا بدأ الله به.
2. وجوب بر الوالدين.
এগুলো: এই ইঙ্গিতটি পূর্বোক্ত হারাম বিষয়গুলোর দিকে ফিরেছে।
তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: অসিয়ত হলো সুনিশ্চিত নির্দেশ।
যাতে তোমরা বুঝতে পারো: যাতে তোমরা যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অনুধাবন করতে পারো এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারো।
সামগ্রিক ব্যাখ্যা:
আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তিনি দাওয়াতের বিরোধীদেরকে এগিয়ে আসার এবং এই দাওয়াতের যে রূপরেখা ও সুপ্রতিষ্ঠিত সম্মানিত মূলনীতিসমূহ তিনি তাদের নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করবেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনার আহ্বান জানান; আর তিনি এই আয়াতে ও এর পরবর্তী আয়াতগুলোতে তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন। যেহেতু শিরক সমস্ত সৎ আমলকে বিনষ্ট করে দেয়, তাই আল্লাহ শিরক থেকে সতর্ক করার মাধ্যমে এই সত্যগুলোর সূচনা করেছেন, অতঃপর পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশের মাধ্যমে তার অনুগমন করেছেন। যেহেতু সন্তান হত্যা করা ব্যক্তির জন্য একটি নির্বুদ্ধিতা এবং তার বংশধারা ও শাখা-প্রশাখা কর্তন করার শামিল, তাই আল্লাহ সন্তানদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। আর এখানে দারিদ্র্যের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ জাহেলি যুগে এটিই ছিল হত্যার অন্যতম কারণ, নতুবা যেকোনো কারণেই হোক না কেন অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। যেহেতু সন্তান হত্যার প্রধান কারণ ছিল দারিদ্র্যের ভয়, তাই আল্লাহ তাদের এবং তাদের সন্তানদের—উভয়ের রিজিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমস্ত পাপাচার থেকে নিষেধ করেছেন, চাই তা মানুষের সামনে প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন। যেহেতু অন্যায়ভাবে হত্যা করা সমাজের ভিত্তিকে ধসিয়ে দেয়—যার ফলে বিশৃঙ্খলা, ধ্বংস, প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়—তাই আল্লাহ অশ্লীল কাজসমূহের সাধারণ বর্ণনার পর বিশেষভাবে হত্যার বিষয়টি নিষেধ করেছেন। অতঃপর আল্লাহ এই বিষয়গুলোর হারামের গুরুত্বকে বড় করে দেখিয়েছেন, যেহেতু তিনি এগুলোকে অসিয়তের শব্দে ব্যক্ত করেছেন যাতে আমরা এগুলো বুঝতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারি।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
১. শিরক হলো সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ, এর উপস্থিতিতে কোনো আমলই শুদ্ধ হয় না, এজন্যই আল্লাহ এটি দিয়ে শুরু করেছেন।
২. পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করা ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
3. تحريم قتل الأولاد، ويلحق به الإجهاض بعد أربعين يوما من ابتداء الحمل.
4. تكفل الله بالرزق لجميع الناس.
5. مكافحة الحمل خوف الفقر من أعمال الجاهلية.
6. تحريم الفواحش وما يؤدي إليها.
7. تحريم قتل النفس التي حرم الله إلا بالحق.
8. لم يفصل الله المراد بالحق هنا، وقد ذكر النبي صلى الله عليه وسلم شيئا منه في حديث صحيح مفاده: زنا بعد إحصان، وكفر بعد إيمان، والنفس بالنفس.
مناسبة الآية للتوحيد:
حيث حذرت الآية عن الشرك بجميع صوره وأشكاله.
المناقشة:
أ. اشرح الكلمات الآتية: أتل، ما حرم ربكم عليكم، ألا تشركوا به شيئا، وبالوالدين إحسانا، ولا تقتلوا أولادكم، إملاق، الفواحش، ما ظهر منها، ما بطن، النفس التي حرم الله إلا بالحق، ذلكم، وصاكم به لعلكم تعقلون.
৩. সন্তান হত্যা হারাম করা হয়েছে, আর গর্ভধারণের চল্লিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গর্ভপাত ঘটানোও এর অন্তর্ভুক্ত।
৪. আল্লাহ সকল মানুষের রিযিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
৫. দারিদ্র্যের ভয়ে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
৬. অশ্লীলতা এবং যা অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করে তা হারাম করা হয়েছে।
৭. ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা নিষিদ্ধ।
৮. এখানে 'ন্যায়সঙ্গত কারণ' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা আল্লাহ বিস্তারিত বর্ণনা করেননি, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি সহীহ হাদীসে এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন যার মর্মার্থ হলো: বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার, ঈমান আনার পর কুফরী এবং প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ।
তাওহীদের সাথে আয়াতের সংগতি:
যেহেতু এই আয়াত শিরকের সকল প্রকার ও ধরণ থেকে সতর্ক করেছে।
আলোচনা:
ক. নিচের শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করো: আমি পাঠ করি, তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন, তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, অভাব-অনটন, অশ্লীলতা, যা প্রকাশ্য, যা গোপন, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত, এ বিষয়গুলো, তিনি তোমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো।
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ب. اشرح الآية شرحا إجماليا.
ج. استخرج سبع فوائد من الآية مع ذكر المأخذ.
د. وضح مناسبة الآية للتوحيد.
وعن معاذ بن جبل1 رضي الله عنه قال: " كنت رديف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار، فقال لي: يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد وما حق العباد على الله؟ قلت: الله ورسوله أعلم. قال: حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا. قلت: يا رسول الله أفلا أبشر الناس؟ قال: لا تبشرهم فيتكلوا ". (أخرجاه في الصحيحين) 2.
شرح الكلمات:
رديف النبي: راكبا خلفه.
حق الله على العباد: حق إيجاب.
--------------------------------------------
খ. আয়াতটির একটি সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা প্রদান করুন।
গ. উৎস উল্লেখপূর্বক আয়াতটি থেকে সাতটি শিক্ষা বের করুন।
ঘ. তাওহীদের সাথে আয়াতটির সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট করুন।
মুআয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি একটি গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: 'হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর কী হক এবং আল্লাহর ওপর বান্দার কী হক?' আমি বললাম: 'আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।' তিনি বললেন: 'বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করেনি।' আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না?' তিনি বললেন: 'তাদের সুসংবাদ দিও না, কারণ তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে'।" (তাঁরা উভয়ে এটি সহীহাইন-এ বর্ণনা করেছেন)।
শব্দার্থ:
নবীর পেছনে আরোহী: তাঁর পেছনে আরোহণকারী।
বান্দার ওপর আল্লাহর হক: আবশ্যকীয় হক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জাদীদু ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حق العباد على الله: أي ما أوجبه الله على نفسه إنعاما وتفضلا، وليس استحقاق مقابلة كحق المخلوق على المخلوق.
أبشر الناس: أخبرهم بما يسرهم من هذا القول.
يتكلوا: يعتمدوا.
الشرح الإجمالي:
يخبرنا معاذ بن جبل رضي الله عنه أنه ذات يوم كان راكبا خلف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار، فأراد النبي صلى الله عليه وسلم أن يخصه بأهم مسائل العلم وأجلها، وقد استعمل رسول الله الأسلوب الاستجوابي في تعليم معاذ وتشويقه، وأن معاذا لم يخض فيما لا يعلم، وأن النبي صلى الله عليه وسلم بين لمعاذ حقيقتين هامتين هما ما يجب لله على المكلفين من خلقه، وما أوجبه لعباده على نفسه إنعاما وتفضلا، ولما كان معاذ يحرص على ما يسر المسلمين استأذن من النبي صلى الله عليه وسلم في نشر هذه المسألة، فنهاه النبي صلى الله عليه وسلم مخافة أن يعتمدوا على هذا الوعد فيتركوا التنافس في الأعمال الصالحة التي تحط سيئاتهم وترفع درجاتهم، لكن معاذ أخبر تحرجا من كتمان العلم مع أن العاقل يفهم تحذير النبي صلى الله عليه وسلم أمته من الاتكال من قوله: " فيتكلوا ".
الفوائد:
1. جواز الإرداف على الدابة إذا لم يشق عليها.
2. تواضعه صلى الله عليه وسلم.
3. أن عرق الحمار طاهر.
4. فضل معاذ بن جبل رضي الله عنه.
5. الأسلوب الاستجوابي في التعليم من أساليب الإسلام.
আল্লাহর ওপর বান্দার হক: অর্থাৎ আল্লাহ অনুগ্রহ ও করুণা স্বরূপ নিজের ওপর যা আবশ্যক করে নিয়েছেন; এটি কোনো বিনিময়মূলক অধিকার নয়, যেমনটি এক সৃষ্টির ওপর অন্য সৃষ্টির অধিকার হয়ে থাকে।
মানুষকে সুসংবাদ দিন: এই কথাটি দ্বারা তাদের আনন্দিত করে এমন সংবাদ দিন।
তারা যেন নির্ভর করে: তারা যেন ভরসা করে।
সামগ্রিক ব্যাখ্যা:
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, একদিন তিনি একটি গাধার পিঠে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে আরোহী ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইলমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়গুলোর একটি বিশেষভাবে শেখাতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজকে শিক্ষা দিতে এবং তাঁর মাঝে আগ্রহ তৈরি করতে প্রশ্নোত্তরের পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। মুয়াজ এমন বিষয়ে লিপ্ত হননি যা তিনি জানতেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজের নিকট দুটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্পষ্ট করেছেন: প্রথমটি হলো, সৃষ্টির মধ্যে যারা মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য), আল্লাহর প্রতি তাদের কী কর্তব্য রয়েছে; আর দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ অনুগ্রহ ও করুণা স্বরূপ নিজের ওপর বান্দাদের জন্য কী আবশ্যক করে নিয়েছেন। মুয়াজ যেহেতু মুসলমানদের আনন্দদায়ক বিষয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, তাই তিনি এই বিষয়টি প্রচার করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এটি করতে নিষেধ করলেন এই ভয়ে যে, মানুষ কেবল এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে বসবে এবং সেইসব নেক আমলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া ছেড়ে দেবে যা তাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয় এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। তবে মুয়াজ ইলম বা জ্ঞান গোপন করার গুনাহ থেকে বাঁচতে পরবর্তী সময়ে এটি জানিয়ে দিয়েছিলেন; যদিও একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর 'তারা যেন এর ওপর ভরসা করে না বসে'—এই বাণীর মাধ্যমে উম্মতকে কেবল এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ব্যাপারে তাঁর সতর্কতা অনুধাবন করতে পারেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
১. পশুর ওপর কষ্ট না হলে তার পিঠে কাউকে পেছনে বসিয়ে আরোহণ করা বৈধ।
২. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিনয় ও নম্রতা।
৩. গাধার ঘাম পবিত্র।
৪. মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা।
৫. শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশ্নোত্তরের পদ্ধতি গ্রহণ করা ইসলামের অন্যতম একটি পদ্ধতি।