(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
الأصول من علم الأصول   (ابن عثيمين)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الأصول من علم الأصول

المؤلف: محمد بن صالح العثيمين

الناشر: دار ابن الجوزي

الطبعة: الرابعة، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 99

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


বই: আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة المؤلف

الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً.

أما بعد: فهذه رسالة مختصرة في أصول الفقه كتبناها على وفق المنهج المقرر للسنة الثالثة الثانوية في المعاهد العلمية، وسميناها:

«الأصول من علم الأصول»

أسأل اللهَ أن يجعل عملنا خالصاً لله نافعاً لعباد الله، إنه قريب مجيب.
লেখকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের ওপর শান্তি ও অগণিত রহমত বর্ষণ করুন।

অতঃপর, এটি ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা আমরা ইলমি ইনস্টিটিউটসমূহের মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় বর্ষের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী রচনা করেছি এবং আমরা এর নামকরণ করেছি:

«আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল»

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একান্তই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে এবং দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أصُول الفِقْه

 

‌‌تعريفه:

أصول الفقه يعرّف باعتبارين:

الأول: باعتبار مفردَيهِ؛ أي: باعتبار كلمة أصول، وكلمة فقه.

فالأصول: جمع أصل، وهو ما يبنى عليه غيره، ومن ذلك أصل الجدار وهو أساسه، وأصل الشجرة الذي يتفرع منه أغصانها قال الله تعالى: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ} [ابراهيم:24].

والفقه لغة: الفهم، ومنه قوله تعالى: {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي} [طه:27]

واصطلاحاً: معرفة الأحكام الشرعية العملية بأدلتها التفصيلية.

فالمراد بقولنا: «معرفة»؛ العلم والظن؛ لأن إدراك الأحكام الفقهية قد يكون يقينيًّا، وقد يكون ظنيًّا، كما في كثير من مسائل الفقه.

والمراد بقولنا: «الأحكام الشرعية»؛ الأحكام المتلقاة من الشرع؛ كالوجوب والتحريم، فخرج به الأحكام العقلية؛ كمعرفة أن الكل أكبر من الجزء والأحكام العادية؛ كمعرفة نزول الطل في الليلة الشاتية إذا كان الجو صحواً.
উসূলুল ফিকহ

 

এর সংজ্ঞা:

উসূলুল ফিকহকে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করা হয়:

প্রথমত: এর একক শব্দদ্বয়ের বিবেচনায়; অর্থাৎ: 'উসূল' (أصول) এবং 'ফিকহ' শব্দদ্বয়ের বিবেচনায়।

উসূল (أصول) হলো: মূল বা ভিত্তি (أصل) শব্দের বহুবচন, যা এমন বস্তুকে বোঝায় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে। এরই উদাহরণ হলো দেয়ালের ভিত্তি (أصل), যা তার মূল কাঠামো; এবং গাছের মূল (أصل), যা থেকে এর ডালপালা শাখা-প্রশাখা হিসেবে বিস্তার লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তুমি কি দেখনি আল্লাহ কীভাবে উপমা দিয়েছেন? পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র গাছের ন্যায়, যার মূল (أصل) সুদৃঢ় এবং যার শাখা (فرع) আকাশে বিস্তৃত} [সূরা ইব্রাহিম: ২৪]।

ফিকহ আভিধানিকভাবে: উপলব্ধি বা বুঝ। এখান থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আমার জিহ্বা হতে জড়তা দূর করে দিন [যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে]} [সূরা ত্বহা: ২৭]।

আর পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاحاً): বিস্তারিত দলীলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে আহরিত আমল সংক্রান্ত (العملية) শরয়ী বিধানাবলির (الأحكام الشرعية) জ্ঞান (معرفة)।

আমাদের এই সংজ্ঞায় 'জ্ঞান' (معرفة) বলতে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) এবং প্রবল ধারণা (الظن) উভয়ই উদ্দেশ্য; কারণ ফিকহী বিধানাবলির উপলব্ধি কখনো নিশ্চিতভাবে (يقينيًّا) হতে পারে, আবার কখনো ধারণাগতভাবে (ظنيًّا) হতে পারে, যেমনটি ফিকহের অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

আর 'শরয়ী বিধান' (الأحكام الشرعية) বলতে ঐসব বিধান উদ্দেশ্য যা শরিয়ত থেকে গৃহীত; যেমন: আবশ্যকতা (الوجوب) এবং নিষিদ্ধতা (التحريم)। এর মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক বিধানসমূহ (الأحكام العقلية) বহির্ভূত হয়ে যায়; যেমন—এই জ্ঞান যে, 'সমগ্র অংশটি তার খণ্ডাংশের চেয়ে বড়'। এবং অভ্যাসগত বিধানসমূহও (الأحكام العادية) এর বাইরে থাকে; যেমন—আকাশ পরিষ্কার থাকলে শীতের রাতে শিশির পড়ার বিষয়টি জানা।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৮)
والمراد بقولنا: «العملية»؛ ما لا يتعلق بالاعتقاد؛ كالصلاة والزكاة، فخرج به ما يتعلق بالاعتقاد؛ كتوحيد الله ومعرفة أسمائه وصفاته، فلا يسمّى ذلك فقهاً في الاصطلاح.

والمراد بقولنا: «بأدلتها التفصيلية»؛ أدلة الفقه المقرونة بمسائل الفقه التفصيلية؛ فخرج به أصول الفقه؛ لأن البحث فيه إنما يكون في أدلة الفقه الإجمالية.

الثاني: باعتبار كونه؛ لقباً لهذا الفن المعين، فيعرف بأنه: علم يبحث عن أدلة الفقه الإجمالية وكيفية الاستفادة منها وحال المستفيد.

فالمراد بقولنا: «الإجمالية»؛ القواعد العامة مثل قولهم: الأمر للوجوب والنهي للتحريم والصحة تقتضي النفوذ، فخرج به الأدلة التفصيلية فلا تذكر في أصول الفقه إلا على سبيل التمثيل للقاعدة.

والمراد بقولنا: «وكيفية الاستفادة منها»؛ معرفة كيف يستفيد الأحكام من أدلتها بدراسة أحكام الألفاظ ودلالاتها من عموم وخصوص وإطلاق وتقييد وناسخ ومنسوخ وغير ذلك، فإنَّه بإدراكه يستفيد من أدلة الفقه أحكامها.

والمراد بقولنا: «وحال المستفيد»؛ معرفة حال المستفيد وهو المجتهد، سمي مستفيداً؛ لأنه يستفيد بنفسه الأحكام من أدلتها لبلوغه مرتبة الاجتهاد، فمعرفة المجتهد وشروط الاجتهاد وحكمه ونحو ذلك يبحث في أصول الفقه.

فائدة أصول الفقه:

إن أصول الفقه علم جليل القدر، بالغ الأهمية، غزير
আমাদের কথা: 'আমলগত (العملية)' বলতে উদ্দেশ্য হলো—যা বিশ্বাসের (আকীদা) সাথে সম্পৃক্ত নয়; যেমন সালাত ও জাকাত। এর মাধ্যমে সেই বিষয়গুলো বাদ পড়েছে যা বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত; যেমন আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। পারিভাষিক পরিভাষায় একে ফিকহ বলা হয় না।

আমাদের কথা: 'বিশদ দলীলসমূহ (الأدلة التفصيلية)' বলতে উদ্দেশ্য হলো—ফিকহ শাস্ত্রের সেই সকল দলীল যা ফিকহের বিশদ মাসআলাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট। এর মাধ্যমে উসুলুল ফিকহ বাদ পড়েছে; কারণ এতে কেবল ফিকহের সামগ্রিক দলীলসমূহ (الأدلة الإجمالية) নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয়টি হলো: এই বিশেষ শাস্ত্রের একটি উপাধি বা নাম হিসেবে; এর সংজ্ঞা হলো—এমন একটি জ্ঞান যা ফিকহ শাস্ত্রের সামগ্রিক দলীলসমূহ (الأدلة الإجمالية), তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি (كيفية الاستفادة) এবং বিধান আহরণকারীর (المستفيد) অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।

আমাদের কথা: 'সামগ্রিক (الإجمالية)' বলতে উদ্দেশ্য হলো—সাধারণ মূলনীতিসমূহ (القواعد العامة); যেমন আলেমদের উক্তি: আদেশ ‘ওয়াজিব’ (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে, নিষেধ ‘হারাম’ (تحريم) হওয়ার দাবি রাখে এবং বিশুদ্ধতা কার্যকর হওয়াকে আবশ্যক করে। এর মাধ্যমে বিশদ দলীলসমূহ (الأدلة التفصيلية) বাদ পড়েছে; তাই উসুলুল ফিকহ-এ বিশদ দলীলগুলো কেবল মূলনীতির উদাহরণ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়।

আমাদের কথা: 'আহরণের পদ্ধতি (كيفية الاستفادة)' বলতে উদ্দেশ্য হলো—শব্দের বিধান এবং এর অর্থবোধকতা যেমন: সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص), নিঃশর্ত (مطلق), শর্তযুক্ত (مقيد), রহিতকারী (ناسخ), রহিত (منسوخ) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো অধ্যয়নের মাধ্যমে দলীল থেকে কীভাবে বিধান আহরণ করা যায় তা জানা। কেননা, এ বিষয়গুলো অনুধাবন করার মাধ্যমেই ফিকহ শাস্ত্রের দলীলসমূহ থেকে তার বিধানাবলি আহরণ করা সম্ভব হয়।

আমাদের কথা: 'আহরণকারীর অবস্থা (حال المستفيد)' বলতে উদ্দেশ্য হলো—আহরণকারীর অবস্থা সম্পর্কে জানা, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ (المجتهد)। তাঁকে আহরণকারী বলা হয়েছে; কারণ তিনি ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছানোর কারণে নিজেই দলীল থেকে বিধান আহরণ করতে পারেন। সুতরাং মুজতাহিদ সম্পর্কে জানা, ইজতিহাদের শর্তাবলি, এর বিধান এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো উসুলুল ফিকহ-এ আলোচিত হয়।

উসুলুল ফিকহ-এর উপকারিতা:

নিশ্চয় উসুলুল ফিকহ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্ঞান, যা অত্যন্ত সমৃদ্ধ...
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯)
الفائدة، فائدته: التَّمَكُّن من حصول قدرة يستطيع بها استخراج الأحكام الشرعية من أدلتها على أسس سليمة.

وأول من جمعه كفنٍ مستقل الإمام الشافعي محمد بن إدريس رحمه الله، ثم تابعه العلماء في ذلك، فألفوا فيه التآليف المتنوعة، ما بين منثور، ومنظوم، ومختصر، ومبسوط حتى صار فنًّا مستقلًّا، له كيانه، ومميزاته.
উপকারিতা (الفائدة), এর লক্ষ্য হলো: এমন এক সক্ষমতা অর্জন করা যার মাধ্যমে সঠিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে উৎসসমূহ হতে শরয়ী বিধিবিধান (الأحكام الشرعية) আহরণ করা সম্ভব হয়।

আর একে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র শাস্ত্র (فن مستقل) হিসেবে সংকলন করেন ইমাম শাফিঈ মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস (রহিমাহুল্লাহ)। অতঃপর আলেমগণ এই বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেন এবং এ সংক্রান্ত নানাবিধ গ্রন্থ রচনা করেন—যার মধ্যে রয়েছে গদ্য (منثور), পদ্য (منظوم), সংক্ষিপ্ত (مختصر) এবং বিস্তারিত (مبسوط) সংকলন; এভাবে এটি নিজস্ব সত্তা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে (فن مستقل) পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الأحكام

الأحكام: جمع حُكم وهو لغةً: القضاء.

واصطلاحاً: ما اقْتضاه خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين من طلب، أو تخيير، أو وضع.

فالمراد بقولنا: «خطاب الشرع»؛ الكتاب والسنة.

والمراد بقولنا: «المتعلق بأفعال المكلفين»؛ ما تعلق بأعمالهم سواء كانت قولاً أم فعلاً، إيجاداً أم تركاً.

فخرج به ما تعلق بالاعتقاد فلا يسمى حكماً بهذا الاصطلاح.

والمراد بقولنا: «المكلفين»؛ ما من شأنهم التكليف فيشمل الصغير والمجنون.

والمراد بقولنا: «من طلب»؛ الأمر والنهي سواء على سبيل الإلزام، أو الأفضلية.

والمراد بقولنا: «أو تخيير»؛ المباح.

والمراد بقولنا: «أو وضع»؛ الصحيح والفاسد ونحوهما مما وضعه الشارع من علامات وأوصاف للنفوذ والإلغاء.

 

‌‌أقسام الأحكام الشرعية:

تنقسم الأحكام الشرعية إلى قسمين: تكليفية ووضعية.
বিধানসমূহ (الأحكام)

বিধানসমূহ (الأحكام): এটি বিধান (حكم) শব্দের বহুবচন, যার শাব্দিক অর্থ (لغةً): ফয়সালা করা।

পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً): মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি সম্বোধন (خطاب الشرع), যা কোনো কিছু দাবি করা, পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া অথবা কোনো কিছুকে কোনো কিছুর কারণ বা শর্ত হিসেবে নির্ধারণ (وضع) করাকে বোঝায়।

আমাদের বক্তব্যে 'শরয়ি সম্বোধন' (خطاب الشرع) বলতে কিতাব ও সুন্নাহ উদ্দেশ্য।

আমাদের বক্তব্যে 'মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট' বলতে তাদের আমল বা কাজকে বোঝানো হয়েছে, চাই তা মৌখিক হোক বা ব্যবহারিক, কোনো কিছু সম্পাদন করা হোক বা বর্জন করা।

এর মাধ্যমে বিশ্বাসের (اعتقاد) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বহির্ভূত হয়ে গেছে; তাই এই পরিভাষায় সেগুলোকে বিধান (حكم) বলা হয় না।

আমাদের বক্তব্যে 'মুকাল্লাফ' (المكلفين) বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে যাদের প্রকৃতিগতভাবেই দায়বদ্ধ হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে, ফলে এর মধ্যে শিশু ও পাগলও অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের বক্তব্যে 'দাবি' (طلب) বলতে আদেশ (الأمر) ও নিষেধকে (النهي) বোঝায়, চাই তা বাধ্যতামূলকভাবে হোক বা উত্তম হওয়ার ভিত্তিতে হোক।

আমাদের বক্তব্যে 'পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া' (تخيير) বলতে বৈধ (مباح) বিষয়কে বোঝায়।

আমাদের বক্তব্যে 'নির্ধারণ করা' (وضع) বলতে সঠিক (الصحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (الفاسد) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়কে বোঝায়, যা শারে’ বা বিধানদাতা কোনো বিষয় কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার চিহ্ন ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

 

‌শরয়ি বিধানের প্রকারভেদ:

শরয়ি বিধানসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: নির্দেশনামূলক (تكليفية) এবং প্রবর্তনমূলক (وضعية)।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌فالتكليفية خمسة: الواجب والمندوب والمحرَّم والمكروه والمباح.

1 - فالواجب لغة: الساقط واللازم.

واصطلاحاً: ما أمر به الشارع على وجه الإلزام؛ كالصلوات الخمس.

فخرج بقولنا: «ما أمر به الشارع»؛ المحرم والمكروه والمباح.

وخرج بقولنا: «على وجه الإلزام»؛ المندوب.

والواجب يثاب فاعله امتثالاً، ويستحق العقاب تاركُه.

ويُسمَّى: فرضاً وفريضة وحتماً ولازماً.

2 - والمندوب لغة: المدعوُّ.

واصطلاحاً: ما أمر به الشارع لا على وجه الإلزام؛ كالرواتب.

فخرج بقولنا: «ما أمر به الشارع»؛ المحرم والمكروه والمباح.

وخرج بقولنا: «لا على وجه الإلزام»؛ الواجب.

والمندوب يثاب فاعله امتثالاً، ولا يعاقب تاركه.

ويُسمَّى سنة ومسنوناً ومستحباً ونفلاً.

3 - والمحرم لغة: الممنوع.

واصطلاحاً: ما نهى عنه الشارع على وجه الإلزام بالترك؛ كعقوق الوالدين.

فخرج بقولنا: «ما نهى عنه الشارع»؛ الواجب والمندوب والمباح.
‌‌বিধানগত বিধান (تكليفية) পাঁচটি: ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب), হারাম (المحرم), মাকরূহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح)।

১ - ওয়াজিব (الواجب) এর শাব্দিক অর্থ: পতিত এবং আবশ্যক।

পারিভাষিক অর্থ: বিধানদাতা (الشارع) যা পালনের জন্য অপরিহার্যভাবে (الإلزام) নির্দেশ দিয়েছেন; যেমন- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।

আমাদের এই উক্তি: "যা বিধানদাতা (الشارع) নির্দেশ দিয়েছেন" এর মাধ্যমে হারাম (المحرم), মাকরূহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল।

আর আমাদের এই উক্তি: "অপরিহার্যভাবে (الإلزام)" এর মাধ্যমে মানদুব (المندوب) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল।

ওয়াজিব (الواجب) পালনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে পালন করলে সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তির উপযুক্ত হয়।

একে ফরজ (فرضاً), ফরিদা (فريضة), অমোঘ (حتماً) এবং অপরিহার্য (لازماً) বলা হয়।

২ - মানদুব (المندوب) এর শাব্দিক অর্থ: আহূত বা আমন্ত্রিত।

পারিভাষিক অর্থ: বিধানদাতা (الشارع) যা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তা অপরিহার্য (الإلزام) নয়; যেমন- সুন্নতে রাওয়াতীব নামাজসমূহ।

আমাদের এই উক্তি: "যা বিধানদাতা (الشارع) নির্দেশ দিয়েছেন" এর মাধ্যমে হারাম (المحرم), মাকরূহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল।

আর আমাদের এই উক্তি: "অপরিহার্য নয় (لا على وجه الإلزام)" এর মাধ্যমে ওয়াজিব (الواجب) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল।

মানদুব (المندوب) পালনকারী আনুগত্যের উদ্দেশ্যে পালন করলে সওয়াব পায় কিন্তু বর্জনকারী শাস্তি পায় না।

একে সুন্নাহ (سنة), মাসনুন (مسنوناً), মুস্তাহাব (مستحباً) এবং নফল (نفلاً) বলা হয়।

৩ - হারাম (المحرم) এর শাব্দিক অর্থ: নিষিদ্ধ।

পারিভাষিক অর্থ: বিধানদাতা (الشارع) যা বর্জন করার জন্য অপরিহার্যভাবে (الإلزام بالترك) নিষেধ করেছেন; যেমন- পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।

আমাদের এই উক্তি: "যা বিধানদাতা (الشارع) নিষেধ করেছেন" এর মাধ্যমে ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب) এবং মুবাহ (المباح) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১২)
وخرج بقولنا: «على وجه الإلزام بالترك»؛ المكروه.

والمحرم يثاب تاركه امتثالاً، ويستحق العقاب فاعله.

ويسمى: محظوراً أو ممنوعاً.

4 - والمكروه لغة: المبغض.

واصطلاحاً: ما نهى عنه الشارع لا على وجه الإلزام بالترك؛ كالأخذ بالشمال والإعطاء بها.

فخرج بقولنا: «ما نهى عنه الشارع»؛ الواجب والمندوب والمباح.

وخرج بقولنا: «لا على وجه الإلزام بالترك»؛ المحرم.

والمكروه: يثاب تاركه امتثالاً، ولا يعاقب فاعله.

5 - والمباح لغة: المعلن والمأذون فيه.

واصطلاحاً: ما لا يتعلق به أمر، ولا نهي لذاته؛ كالأكل في رمضان ليلاً.

فخرج بقولنا: «ما لا يتعلق به أمر»؛ الواجب والمندوب.

وخرج بقولنا: «ولا نهي»؛ المحرم والمكروه.

وخرج بقولنا: «لذاته»؛ ما لو تعلق به أمر لكونه وسيلة لمأمور به، أو نهي لكونه وسيلة لمنهي عنه، فإن له حكم ما كان وسيلة له من مأمور، أو منهي، ولا يخرجه ذلك عن كونه مباحاً في الأصل.

والمباح ما دام على وصف الإباحة، فإنه لا يترتب عليه ثواب ولا عقاب.

ويسمى: حلالاً وجائزاً.
আমাদের উক্তি ‘বর্জন করার আবশ্যিকতার ভিত্তিতে’ এর মাধ্যমে অপছন্দনীয় (المكروه) বিষয়টি বাদ পড়েছে।

আর নিষিদ্ধ (المحرم) হলো এমন কাজ, যা আনুগত্যের উদ্দেশ্যে বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা লঙ্খন করলে শাস্তির উপযুক্ত হতে হয়।

একে নিষিদ্ধ (محظوراً) বা বর্জিত (ممنوعاً) হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

৪ - অপছন্দনীয় (المكروه) শব্দটির আভিধানিক অর্থ: ঘৃণিত।

এবং পরিভাষায়: বিধানদাতা (الشارع) যা বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তা বর্জনের ক্ষেত্রে আবশ্যিকতা (الإلزام) আরোপ করেননি; যেমন বাম হাত দিয়ে আদান-প্রদান করা।

সুতরাং আমাদের উক্তি ‘বিধানদাতা যা থেকে নিষেধ করেছেন’ এর মাধ্যমে আবশ্যক (الواجب), পছন্দনীয় (المندوب) এবং বৈধ (المباح) বিষয়গুলো বাদ পড়েছে।

এবং আমাদের উক্তি ‘বর্জনের আবশ্যিকতার ভিত্তিতে নয়’ এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ (المحرم) বিষয়টি বাদ পড়েছে।

আর অপছন্দনীয় (المكروه) বিষয়ের বিধান হলো: যা আনুগত্যের উদ্দেশ্যে বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু তা সম্পাদনকারীকে শাস্তি দেওয়া হয় না।

৫ - বৈধ (المباح) শব্দটির আভিধানিক অর্থ: ঘোষিত হওয়া বা অনুমোদিত।

এবং পরিভাষায়: যার মূল সত্তার (لذاته) সাথে কোনো আদেশ বা নিষেধ সম্পৃক্ত নয়; যেমন রমজানের রাতে আহার করা।

সুতরাং আমাদের উক্তি ‘যার সাথে কোনো আদেশ সম্পৃক্ত নয়’ এর মাধ্যমে আবশ্যক (الواجب) ও পছন্দনীয় (المندوب) বিষয়গুলো বাদ পড়েছে।

এবং আমাদের উক্তি ‘কোনো নিষেধ নেই’ এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ (المحرم) ও অপছন্দনীয় (المكروه) বিষয়গুলো বাদ পড়েছে।

আর আমাদের উক্তি ‘তার নিজস্ব সত্তার জন্য’ (لذاته) এর মাধ্যমে সেই সব বিষয় বাদ পড়েছে যা কোনো আদিষ্ট বিষয়ের মাধ্যম হওয়ার কারণে আদেশের অন্তর্ভুক্ত হয় অথবা কোনো নিষিদ্ধ কাজের মাধ্যম হওয়ার কারণে নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হয়; কারণ সেক্ষেত্রে বিষয়টি তখন সংশ্লিষ্ট আদেশকৃত বা নিষিদ্ধ বিষয়ের বিধান প্রাপ্ত হয়। তবে এটি বিষয়টিকে তার মূলগত বৈধতা (مباحاً) থেকে বের করে দেয় না।

আর বৈধ (المباح) বিষয় যতক্ষণ বৈধতার গুণাবলীতে বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ এর ওপর কোনো সওয়াব বা শাস্তি বর্তায় না।

একে হালাল (حلالاً) এবং জায়েজ (جائزاً) হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الأحكام الوضعية:

الأحكام الوضعية: ما وضعه الشارع من أمارات، لثبوت أو انتفاء، أو نفوذ، أو إلغاء.

ومنها: الصحة والفساد.

1 - فالصحيح لغة: السليم من المرض.

واصطلاحاً: ما ترتبت آثار فعله عليه عبادةً كان أم عقداً.

فالصحيح من العبادات: ما برئت به الذمة، وسقط به الطلب.

والصحيح من العقود: ما ترتبت آثاره على وجوده؛ كترتب الملك على عقد البيع مثلاً.

ولا يكون الشيء صحيحاً إلا بتمام شروطه وانتفاء موانعه.

مثال ذلك في العبادات: أن يأتي بالصلاة في وقتها تامة شروطها وأركانها وواجباتها.

ومثال ذلك في العقود: أن يعقد بيعاً تامة شروطه المعروفة مع انتفاء موانعه.

فإن فُقِد شرطٌ من الشروط، أو وُجِد مانع من الموانع امتنعت الصحة.

مثال فَقْد الشرط في العبادة: أن يصلي بلا طهارة.

ومثال فقد الشرط في العقد: أن يبيع ما لا يملك.

ومثال وجود المانع في العبادة: أن يتطوع بنفل مطلق في وقت النهي.

ومثال وجود المانع في العقد: أن يبيع من تلزمه الجمعة شيئاً، بعد ندائها الثاني على وجه لا يباح.
‌وضعীয় বিধানসমূহ (الأحكام الوضعية):

وضعীয় বিধানসমূহ (الأحكام الوضعية): বিধানদাতা (الشارع) কোনো বিষয় সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া, অথবা কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার জন্য যেসব চিহ্ন বা আলামত নির্ধারণ করেছেন।

তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো: শুদ্ধতা (الصحة) এবং অশুদ্ধতা (الفساد)।

১ - আভিধানিক অর্থে শুদ্ধ (الصحيح) হলো: রোগব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়া।

পারিভাষিক অর্থে: যার ক্রিয়াগত প্রভাব সেটির ওপর আপতিত হয়, চাই তা ইবাদত হোক কিংবা চুক্তি।

ইবাদতের ক্ষেত্রে শুদ্ধ (الصحيح) হলো: যার মাধ্যমে দায়মুক্তি ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট দাবি রহিত হয়।

চুক্তির ক্ষেত্রে শুদ্ধ (الصحيح) হলো: যার অস্তিত্বের ওপর তার ফলাফল নির্ভর করে; যেমন বিক্রয় চুক্তির ফলে মালিকানা অর্জিত হওয়া।

কোনো বিষয় ততক্ষণ পর্যন্ত শুদ্ধ (صحيح) হয় না, যতক্ষণ না তার সকল শর্ত (شروط) পূর্ণ হয় এবং সকল প্রতিবন্ধক (موانع) দূরীভূত হয়।

ইবাদতের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা এবং এর শর্তসমূহ (شروط), রোকনসমূহ (أركان) ও ওয়াজিবসমূহ (واجبات) যথাযথভাবে পালন করা।

চুক্তির ক্ষেত্রে এর উদাহরণ: পরিচিত শর্তসমূহ (شروط) পূর্ণ করে এবং প্রতিবন্ধকসমূহ (موانع) ব্যতিরেকে কোনো বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করা।

যদি কোনো শর্ত (شرط) অনুপস্থিত থাকে অথবা কোনো প্রতিবন্ধক (مانع) উপস্থিত থাকে, তবে শুদ্ধতা (الصحة) বজায় থাকে না।

ইবাদতে শর্ত (شرط) অনুপস্থিত থাকার উদাহরণ: পবিত্রতা (طهارة) ব্যতিরেকে সালাত আদায় করা।

চুক্তিতে শর্ত (شرط) অনুপস্থিত থাকার উদাহরণ: নিজের মালিকানায় নেই এমন কিছু বিক্রি করা।

ইবাদতে প্রতিবন্ধক (مانع) উপস্থিত থাকার উদাহরণ: নিষিদ্ধ সময়ে সাধারণ নফল (نفل مطلق) ইবাদত করা।

চুক্তিতে প্রতিবন্ধক (مانع) উপস্থিত থাকার উদাহরণ: যার ওপর জুমুআ ওয়াজিব, তার নিকট জুমুআর দ্বিতীয় আযানের পর এমন পন্থায় কোনো কিছু বিক্রি করা যা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - والفاسد لغة: الذاهب ضياعاً وخسراً.

واصطلاحاً: ما لا تترتب آثار فعله عليه عبادةً كان أم عقداً.

فالفاسد من العبادات: ما لا تبرأ به الذمة، ولا يسقط به الطلب؛ كالصلاة قبل وقتها.

والفاسد من العقود: ما لا تترتب آثاره عليه؛ كبيع المجهول.

وكل فاسد من العبادات والعقود والشروط فإنه محرّم؛ لأن ذلك مِنْ تعدِّي حدود الله، واتخاذِ آياته هزؤاً، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم أنكر على من اشترطوا شروطاً ليست في كتاب الله. (1)

والفاسد والباطل بمعنى واحد إلا في موضعين:

الأول: في الإحرام؛ فرّقوا بينهما بأن الفاسد ما وطئ فيه المُحرمِ قبل التحلل الأول، والباطل ما ارتد فيه عن الإسلام.

الثاني: في النكاح؛ فرقوا بينهما بأن الفاسد ما اختلف العلماء في فساده كالنكاح بلا ولي، والباطل ما أجمعوا على بطلانه كنكاح المعتدة.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري «2155» كتاب البيوع، 65 - باب إن شاء رد المصراة.

ومسلم «1504» كتاب العتق، 2 - باب إنما الولاء لمن أعتق.
2 - শাব্দিক অর্থে অকার্যকর (الفاسد): যা বিনাশ ও ক্ষতির দিকে ধাবিত হয়।

পারিভাষিক অর্থে: ইবাদত হোক কিংবা চুক্তি, যার ক্রিয়ার ফলাফল তার ওপর বর্তায় না।

ইবাদতের ক্ষেত্রে অকার্যকর (الفاسد) বিষয় হলো: যার মাধ্যমে জিম্মাদারি বা দায়ভার মুক্ত হয় না এবং তা পালনের দাবিও রহিত হয় না; যেমন সময়ের আগে সালাত আদায় করা।

চুক্তির ক্ষেত্রে অকার্যকর (الفاسد) হলো: যার ওপর সেই চুক্তির ফলাফলগুলো কার্যকর হয় না; যেমন অজ্ঞাত বা অনির্ধারিত জিনিসের কেনা-বেচা (বাইউল মাজহুল)।

ইবাদত, চুক্তি এবং শর্তাবলির মধ্যে প্রতিটি অকার্যকর (الفاسد) বিষয়ই হারাম; কারণ তা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন এবং তাঁর আয়াতসমূহকে উপহাস করার অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন যারা এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। (১)

অকার্যকর (الفاسد) এবং বাতিল (الباطل) একই অর্থবোধক, তবে দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত:

প্রথমত: ইহরামের ক্ষেত্রে; ফকিহগণ এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন যে, অকার্যকর (الفاسد) হলো যাতে মুহরিম ব্যক্তি প্রথম হালাল হওয়ার আগে সহবাস করে, আর বাতিল (الباطل) হলো যাতে সে ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত: নিকাহ বা বিয়ের ক্ষেত্রে; তারা এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন যে, অকার্যকর (الفاسد) হলো যার অসারতার বিষয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন—যেমন অভিভাবক ছাড়া বিয়ে; আর বাতিল (الباطل) হলো যার অসারতার বিষয়ে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন—যেমন ইদ্দত পালনরত নারীর বিয়ে।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২১৫৫), কিতাবুল বুয়ু (ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়), ৬৫- পরিচ্ছেদ: যদি সে চায় তবে মুসাররাহ পশু ফেরত দিতে পারে।

এবং মুসলিম (১৫০৪), কিতাবুল ইতক (দাসমুক্তি অধ্যায়), ২- পরিচ্ছেদ: ওয়ালা (উত্তরাধিকারের বিশেষ অধিকার) কেবল তার জন্য যে মুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌العِلم

 

‌‌تعريفه:

العلم: إدراك الشيء على ما هو عليه إدراكاً جازماً؛ كإدراك أن الكل أكبر من الجزء، وأن النية شرط في العبادة.

فخرج بقولنا: «إدراك الشيء»؛ عدم الإدراك بالكلية ويسمّى «الجهل البسيط»، مثل أن يُسأل: متى كانت غزوة بدر؟ فيقول: لا أدري.

وخرج بقولنا: «على ما هو عليه»؛ إدراكه على وجه يخالف ما هو عليه، ويسمّى «الجهل المركب»، مثل أن يُسأل: متى كانت غزوة بدر؟ فيقول: في السنة الثالثة من الهجرة.

وخرج بقولنا: «إدراكاً جازماً»؛ إدراك الشيء إدراكاً غير جازم، بحيث يحتمل عنده أن يكون على غير الوجه الذي أدركه، فلا يسمى ذلك علماً. ثم إن ترجح عنده أحد الاحتمالين فالراجح ظن والمرجوح وَهم، وإن تساوى الأمران فهو شك.

وبهذا تبيّن أن تعلق الإدراك بالأشياء كالآتي:

1 - علم؛ وهو إدراك الشيء على ما هو عليه إدراكاً جازماً.

2 - جهل بسيط؛ وهو عدم الإدراك بالكلية.
জ্ঞান (العلم)

 

‌এর সংজ্ঞা:

জ্ঞান (العلم): কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী সুনিশ্চিতভাবে উপলব্ধি (إدراكاً جازماً) করা; যেমন—এটি উপলব্ধি করা যে, অংশ অপেক্ষা পূর্ণ বস্তু বড় এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত একটি শর্ত।

আমাদের সংজ্ঞায় ‘কোনো বিষয় উপলব্ধি করা’ কথাটির মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে একেবারেই উপলব্ধি না থাকা বাদ পড়েছে, যাকে ‘সরল অজ্ঞতা’ (الجهل البسيط) বলা হয়। যেমন—কাউকে জিজ্ঞাসা করা হলো: বদর যুদ্ধ কখন হয়েছিল? উত্তরে সে বলল: আমি জানি না।

‘তার প্রকৃত বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী’ কথাটির মাধ্যমে কোনো বিষয়কে তার বাস্তব অবস্থার বিপরীতভাবে উপলব্ধি করা বাদ পড়েছে, যাকে ‘জটিল অজ্ঞতা’ (الجهل المركب) বলা হয়। যেমন—কাউকে জিজ্ঞাসা করা হলো: বদর যুদ্ধ কখন হয়েছিল? উত্তরে সে বলল: হিজরি তৃতীয় বর্ষে।

‘সুনিশ্চিত উপলব্ধি’ (إدراكاً جازماً) কথাটির মাধ্যমে কোনো বিষয়কে এমনভাবে উপলব্ধি করা বাদ পড়েছে যা সুনিশ্চিত নয়, বরং সেখানে তার বিপরীত কোনো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়; এমতাবস্থায় তাকে জ্ঞান (العلم) বলা হয় না। অতঃপর যদি ব্যক্তির নিকট দুটি সম্ভাবনার মধ্যে একটির প্রাধান্য প্রকাশ পায়, তবে সেই প্রবল সম্ভাবনাকে ‘প্রবল ধারণা’ (ظن) এবং দুর্বল সম্ভাবনাকে ‘ক্ষীণ ধারণা’ (وهم) বলা হয়। আর যদি উভয় সম্ভাবনা সমান হয়, তবে তাকে ‘সন্দেহ’ (شك) বলা হয়।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, উপলব্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

1 - জ্ঞান (العلم); আর তা হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী সুনিশ্চিতভাবে উপলব্ধি (إدراكاً جازماً) করা।

2 - সরল অজ্ঞতা (الجهل البسيط); আর তা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে একেবারেই উপলব্ধি না থাকা।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - جهل مركب؛ وهو إدراك الشيء على وجه يخالف ما هو عليه.

4 - ظن، وهو إدراك الشيء مع احتمال ضد مرجوح.

5 - وهم، وهو إدراك الشيء مع احتمال ضدٍّ راجح.

6 - شك، وهو إدراك الشيء مع احتمال ضدٍّ مساو.

 

‌‌أقسام العلم:

ينقسم العلم إلى قسمين: ضروري ونظري.

1 - فالضروري: ما يكون إدراك المعلوم فيه ضروريًّا، بحيث يضطر إليه من غير نظر ولا استدلال؛ كالعلم بأن الكل أكبر من الجزء، وأن النار حارة، وأن محمداً رسول الله.

2 - والنظري: ما يحتاج إلى نظر واستدلال؛ كالعلم بوجوب النية في الصلاة.
3 - জটিল অজ্ঞতা (جهل مركب); এটি হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে উপলব্ধি করা।

4 - ধারণা (ظن), আর তা হলো কোনো বিষয়কে উপলব্ধি করার সাথে সাথে তার বিপরীতে একটি দুর্বলতর (مرجوح) সম্ভাবনা থাকা।

5 - বিভ্রম (وهم), আর তা হলো কোনো বিষয়কে উপলব্ধি করার সাথে সাথে তার বিপরীতে একটি প্রবলতর (راجح) সম্ভাবনা থাকা।

6 - সন্দেহ (شك), আর তা হলো কোনো বিষয়কে উপলব্ধি করার সাথে সাথে তার বিপরীতে সমপর্যায়ের (مساو) সম্ভাবনা থাকা।

 

‌‌জ্ঞানের প্রকারভেদ:

জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত: স্বতঃসিদ্ধ (ضروري) এবং গবেষণালব্ধ (نظري)।

1 - স্বতঃসিদ্ধ (ضروري): যাতে কোনো জ্ঞাত বিষয়কে উপলব্ধি করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, ফলে মানুষ কোনো চিন্তা-গবেষণা (نظر) বা যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন (استدلال) ছাড়াই তা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়; যেমন এই জ্ঞান যে, সমগ্র তার অংশের চেয়ে বড়, আগুন উত্তপ্ত এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।

2 - গবেষণালব্ধ (نظري): যা অর্জনে চিন্তা-গবেষণা (نظر) ও যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপনের (استدلال) প্রয়োজন হয়; যেমন সালাতে নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি জানা।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الكلام

‌‌تعريفه:

الكلام لغة: اللفظ الموضوع لمعنى.

واصطلاحاً: اللفظ المفيد مثل: الله ربنا ومحمد نبينا.

وأقل ما يتألف منه الكلام اسمان، أو فعل واسم.

مثال الأول: محمد رسول الله، ومثال الثاني: استقام محمد.

وواحد الكلام كلمة وهي: اللفظ الموضوع لمعنى مفرد وهي إما اسم، أو فعل، أو حرف.

أ - فالاسم: ما دل على معنى في نفسه من غير إشعار بزمن.

وهو ثلاثة أنواع:

الأول: ما يفيد العموم كالأسماء الموصولة.

الثاني: ما يفيد الإطلاق كالنكرة في سياق الإثبات.

الثالث: ما يفيد الخصوص كالأعلام.

ب - والفعل: ما دل على معنى في نفسه، وأشعر بهيئته بأحد الأزمنة الثلاثة.

وهو إما ماضٍ كـ «فَهِمَ»، أو مضارع كـ «يَفْهَمُ»، أو أمر كَـ «اِفْهَمْ».

والفعل بأقسامه يفيد الإطلاق فلا عموم له.

ج - والحرف: ما دل على معنى في غيره، ومنه:
কালাম (الكلام)

এর সংজ্ঞা:

কালাম (الكلام) শাব্দিক অর্থে: কোনো অর্থের জন্য নির্ধারিত শব্দ (اللفظ)।

পরিভাষাগত অর্থে: অর্থবহ শব্দ (اللفظ), যেমন: আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক এবং মুহাম্মদ আমাদের নবী।

ন্যূনতম যা দ্বারা কালাম (الكلام) গঠিত হয় তা হলো দুটি বিশেষ্য (اسم), অথবা একটি ক্রিয়া (فعل) এবং একটি বিশেষ্য (اسم)।

প্রথমটির উদাহরণ: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, এবং দ্বিতীয়টির উদাহরণ: মুহাম্মদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কালাম (الكلام)-এর একক হলো কালিমা (كلمة), আর তা হলো: একক কোনো অর্থের জন্য নির্ধারিত শব্দ (اللفظ)। এটি হয় বিশেষ্য (اسم), অথবা ক্রিয়া (فعل), অথবা অব্যয় (حرف)।

ক - বিশেষ্য (الاسم): যা কোনো কালের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়াই নিজস্ব অর্থের ওপর নির্দেশ করে।

এটি তিন প্রকার:

প্রথম: যা ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশ করে, যেমন সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যসমূহ (الأسماء الموصولة)।

দ্বিতীয়: যা শর্তহীনতা (الإطلاق) প্রকাশ করে, যেমন ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة)।

তৃতীয়: যা সুনির্দিষ্টতা (الخصوص) প্রকাশ করে, যেমন নামবাচক বিশেষ্যসমূহ (الأعلام)।

খ - ক্রিয়া (الفعل): যা নিজস্ব অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং তার গঠনের মাধ্যমে তিনটি কালের কোনো একটিকে নির্দেশ করে।

এটি হয় অতীতকাল (ماضٍ) যেমন: ‘সে বুঝেছে’, অথবা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (مضارع) যেমন: ‘সে বুঝছে’, অথবা আদেশবাচক (أمر) যেমন: ‘তুমি বোঝো’।

ক্রিয়া তার সকল প্রকারভেদে শর্তহীনতা (الإطلاق) প্রকাশ করে, তাই এর কোনো ব্যাপকতা (العموم) নেই।

গ - অব্যয় (الحرف): যা অন্য শব্দ ব্যতিরেকে পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো:
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - الواو: وتأتي عاطفة فتفيد اشتراك المتعاطفين في الحكم، ولا تقتضي الترتيب، ولا تنافيه إلا بدليل.

2 - الفاء: وتأتي عاطفة فتفيد اشتراك المتعاطفين في الحكم مع الترتيب والتعقيب، وتأتي سببية فتفيد التعليل

3 - اللام الجارّة. ولها معانٍ منها: التعليل والتمليك والإباحة.

4 - على الجارّة. ولها معانٍ منها: الوجوب.

 

‌‌أقسام الكلام:

ينقسم الكلام باعتبار إمكان وصفه بالصدق وعدمه إلى قسمين: خبر وإنشاء.

1 - فالخبر: ما يمكن أن يوصف بالصدق أو الكذب لذاته.

فخرج بقولنا: «ما يمكن أن يوصف بالصدق والكذب»؛ الإنشاء؛ لأنه لا يمكن فيه ذلك، فإن مدلوله ليس مخبراً عنه حتى يمكن أن يقال: إنه صدق أو كذب.

وخرج بقولنا: «لذاته»؛ الخبر الذي لا يحتمل الصدق، أو لا يحتمل الكذب باعتبار المخبر به، وذلك أن الخبر من حيث المخبر به ثلاثة أقسام:

الأول - ما لا يمكن وصفه بالكذب؛ كخبر الله ورسوله الثابت عنه.

الثاني - ما لا يمكن وصفه بالصدق؛ كالخبر عن المستحيل شرعاً أو عقلاً، فالأول: كخبر مدعي الرسالة بعد النبي صلى الله عليه وسلم، والثاني: كالخبر عن اجتماع النقيضين كالحركة والسكون في عين واحدة في زمن واحد.
1 - ওয়াও (الواو): এটি সংযোজক (عاطفة) হিসেবে আসে যা হুকুমের (الحكم) ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশীদারিত্বের অর্থ প্রদান করে। এটি কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত ক্রমানুসার (الترتيب) দাবি করে না, আবার তার পরিপন্থীও নয়।

2 - ফা (الفاء): এটি সংযোজক (عاطفة) হিসেবে আসে এবং ক্রমানুসার (الترتيب) ও অবিলম্বে বা ব্যবধানহীনতা (التعقيب) সহ হুকুমের (الحكم) ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের অর্থ প্রদান করে। এটি কারণিক (سببية) হিসেবেও আসে যা কারণ দর্শানোর (التعليل) অর্থ প্রকাশ করে।

3 - হরফে জার লাম (اللام الجارّة): এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: কারণ দর্শানো (التعليل), মালিকানা প্রদান (التمليك) এবং বৈধতা (الإباحة)।

4 - হরফে জার আলা (على الجارّة): এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: আবশ্যকতা (الوجوب)।

 

‌‌বচনের প্রকারভেদ (أقسام الكلام):

বচনকে সত্য বা মিথ্যা বিশেষণে বিশেষিত করার সম্ভাবনার বিচারে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়: সংবাদ (خبر) এবং অনুজ্ঞামূলক বাক্য (إنشاء)।

1 - সংবাদ (الخبر): যা স্বয়ং তার সত্তার বিচারে সত্য অথবা মিথ্যা বিশেষণে বিশেষিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

আমাদের এই উক্তি "যা সত্য বা মিথ্যা বিশেষণে বিশেষিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে" এর মাধ্যমে অনুজ্ঞামূলক বাক্য (الإنشاء) বহির্ভূত হয়ে গেছে; কারণ এতে সেই সম্ভাবনা নেই। কেননা এর মর্মার্থ কোনো সংবাদ নয় যে তা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার কথা বলা সম্ভব হবে।

আর আমাদের উক্তি "তার সত্তার বিচারে" (لذاته) এর মাধ্যমে এমন সংবাদ (الخبر) বহির্ভূত হয়ে গেছে যা সংবাদদাতার বিচারে সত্যের সম্ভাবনা রাখে না অথবা মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে না। আর তা এ কারণে যে, সংবাদদাতার বিচারে সংবাদ (الخبر) তিন প্রকার:

প্রথম - যা মিথ্যা বিশেষণে বিশেষিত হওয়া অসম্ভব; যেমন মহান আল্লাহ এবং তাঁর থেকে প্রমাণিত (الثابت) রাসূলের সংবাদ।

দ্বিতীয় - যা সত্য বিশেষণে বিশেষিত হওয়া অসম্ভব; যেমন শরিয়তগতভাবে (شرعاً) বা যুক্তিকভাবে (عقلاً) অসম্ভব কোনো সংবাদ। প্রথমটির উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর নবুওয়াতের দাবিদারের সংবাদ। দ্বিতীয়টির উদাহরণ: একই সময়ে এবং একই বস্তুতে গতিশীলতা ও স্থবিরতার মতো দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের একত্র হওয়ার (اجتماع النقيضين) সংবাদ।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
الثالث: ما يمكن أن يوصف بالصدق والكذب إما على السواء، أو مع رجحان أحدهما، كإخبار شخص عن قدوم غائب ونحوه.

2 - والإنشاء: ما لا يمكن أن يوصف بالصدق والكذب، ومنه الأمر والنهي. كقوله تعالى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} [النساء: من الآية 36] وقد يكون الكلام خبراً إنشاء باعتبارين؛ كصيغ العقود اللفظية مثل: بعت وقبلت، فإنها باعتبار دلالتها على ما في نفس العاقد خبر، وباعتبار ترتب العقد عليها إنشاء.

وقد يأتي الكلام بصورة الخبر والمراد به الإنشاء وبالعكس لفائدة.

مثال الأول: قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} [البقرة: من الآية 228] فقوله: يتربصن بصورة الخبر والمراد بها الأمر، وفائدة ذلك تأكيد فعل المأمور به، حتى كأنه أمر واقع، يتحدث عنه كصفة من صفات المأمور.

ومثال العكس: قوله تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ} [العنكبوت: من الآية 12] فقوله: «ولنحمل» بصورة الأمر والمراد بها الخبر، أي: ونحن نحمل. وفائدة ذلك تنزيل الشيء المخبر عنه منزلة المفروض الملزم به.

 

‌‌الحقيقة والمجاز:

وينقسم الكلام من حيث الاستعمال إلى حقيقةٍ ومجازٍ.

1 - فالحقيقة هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له، مثل: أسد للحيوان المفترس.

فخرج بقولنا: «المستعمل»؛ المهمل، فلا يسمى حقيقة ولا مجازاً.
তৃতীয়: যা সত্য (الصدق) এবং মিথ্যা (الكذب) উভয় গুণের অধিকারী হতে পারে সমানভাবে, অথবা কোনো একটির প্রাধান্যসহ; যেমন কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির আগমন বা অনুরূপ কোনো বিষয়ে কারো সংবাদ দেওয়া।

২ - আর ইনশা (নির্মাণমূলক বাক্য) (الإنشاء): যা সত্য (الصدق) এবং মিথ্যা (الكذب) গুণের অধিকারী হওয়া সম্ভব নয়। আদেশ (الأمر) এবং নিষেধ (النهي) এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না} [আন-নিসা: ৩৬ নং আয়াতের অংশবিশেষ]। কখনো কখনো একই বাক্য দুটি ভিন্ন বিবেচনায় সংবাদ (خبر) এবং ইনশা (إنشاء) হতে পারে; যেমন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দসমূহ, যথা: 'আমি বিক্রয় করলাম' এবং 'আমি গ্রহণ করলাম'। কেননা, চুক্তিকারীর মনে যা আছে তা প্রকাশ করার দিক থেকে এটি সংবাদ (خبر), আর এর মাধ্যমে চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিক থেকে এটি ইনশা (إنشاء)।

কখনো কখনো বাক্য সংবাদ (خبر) এর রূপে আসে অথচ তার দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে ইনশা (إنشاء), আবার কোনো বিশেষ উপকারের উদ্দেশ্যে এর বিপরীতটিও হয়ে থাকে।

প্রথমটির উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদেরকে প্রতীক্ষায় রাখবে} [আল-বাকারা: ২২৮ নং আয়াতের অংশবিশেষ]। এখানে "তারা প্রতীক্ষায় রাখবে" কথাটি সংবাদ (خبر) এর রূপে এসেছে কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আদেশ (الأمر)। এর উপকারিতা হলো আদিষ্ট বিষয়টির গুরুত্ব নিশ্চিত করা, যেন এটি একটি বাস্তব ঘটনা যা ঘটে গেছে এবং আদিষ্ট ব্যক্তির একটি গুণ হিসেবে তা বর্ণিত হচ্ছে।

বিপরীতটির উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর কাফেররা মুমিনদের বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো এবং আমরা তোমাদের পাপের বোঝা বহন করব} [আল-আনকাবুত: ১২ নং আয়াতের অংশবিশেষ]। এখানে "আমরা যেন বহন করি" কথাটি আদেশ (الأمر) এর রূপে এসেছে কিন্তু উদ্দেশ্য হলো সংবাদ (خبر), অর্থাৎ: 'এবং আমরা অবশ্যই তা বহন করব'। এর উপকারিতা হলো, সংবাদকৃত বিষয়টিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে আসা যেন তা অবধারিত এবং পালনীয়।

 

‌‌হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) (الحقيقة) এবং মাজায (রূপক অর্থ) (المجاز):

ব্যবহারের দিক থেকে বাক্য হাকিকত (الحقيقة) এবং মাজায (المجاز) — এই দুই ভাগে বিভক্ত।

১ - হাকিকত (الحقيقة) হলো: এমন শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থেই ব্যবহৃত (المستعمل) হয়, যেমন: হিংস্র পশুর ক্ষেত্রে 'সিংহ' শব্দের ব্যবহার।

আমাদের সংজ্ঞায় "ব্যবহৃত (المستعمل)" কথাটি বলার মাধ্যমে অব্যবহৃত বা নিরর্থক (المهمل) শব্দসমূহ বাদ পড়ে গেল; সুতরাং তাকে হাকিকত (الحقيقة) বা মাজায (المجاز) কোনোটিই বলা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২০)
وخرج بقولنا: «فيما وضع له»؛ المجاز.

وتنقسم الحقيقة إلى ثلاثة أقسام: لغوية وشرعية وعرفية.

فاللغوية هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له في اللغة.

فخرج بقولنا: «في اللغة»؛ الحقيقة الشرعية والعرفية.

مثال ذلك الصلاة، فإن حقيقتها اللغوية الدعاء، فتحمل عليه في كلام أهل اللغة.

والحقيقة الشرعية هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له في الشرع.

فخرج بقولنا: «في الشرع»؛ الحقيقة اللغوية والعرفية.

مثال ذلك: الصلاة، فإن حقيقتها الشرعية الأقوال والأفعال المعلومة المفتتحة بالتكبير المختتمة بالتسليم، فتحمل في كلام أهل الشرع على ذلك.

والحقيقة العرفية هي: اللفظ المستعمل فيما وضع له في العرف.

فخرج بقولنا: «في العرف»؛ الحقيقة اللغوية والشرعية.

مثال ذلك: الدابة، فإن حقيقتها العرفية ذات الأربع من الحيوان، فتحمل عليه في كلام أهل العرف.

وفائدة معرفة تقسيم الحقيقة إلى ثلاثة أقسام: أن نحمل كل لفظ على معناه الحقيقي في موضع استعماله، فيحمل في استعمال أهل اللغة على الحقيقة اللغوية، وفي استعمال الشرع على الحقيقة الشرعية، وفي استعمال أهل العرف على الحقيقة العرفية.

2 - والمجاز هو: اللفظ المستعمل في غير ما وضع له، مثل: أسد للرجل الشجاع.
আমাদের বক্তব্য 'যার জন্য তা নির্ধারিত'—এর দ্বারা রূপক অর্থ (المجاز) বাদ পড়ে গেছে।

প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) তিন ভাগে বিভক্ত: ভাষাগত (اللغوية), শরয়ী (الشرعية) এবং প্রচলিত (العرفية)।

ভাষাগত প্রকৃত অর্থ (اللغوية) হলো: সেই শব্দ যা ভাষার বিধানে যার জন্য নির্ধারিত সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আমাদের বক্তব্য 'ভাষার বিধানে'—এর দ্বারা শরয়ী (الشرعية) এবং প্রচলিত (العرفية) প্রকৃত অর্থ বাদ পড়ে গেছে।

এর উদাহরণ হলো সালাত; এর ভাষাগত (اللغوية) প্রকৃত অর্থ হলো দুয়া (الدعاء), সুতরাং ভাষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একে এই অর্থেই গ্রহণ করা হবে।

শরয়ী প্রকৃত অর্থ (الشرعية) হলো: সেই শব্দ যা শরীয়তের বিধানে যার জন্য নির্ধারিত সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আমাদের বক্তব্য 'শরীয়তের বিধানে'—এর দ্বারা ভাষাগত (اللغوية) এবং প্রচলিত (العرفية) প্রকৃত অর্থ বাদ পড়ে গেছে।

এর উদাহরণ হলো: সালাত; এর শরয়ী (الشرعية) প্রকৃত অর্থ হলো সুনির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজ যা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু হয় এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হয়, সুতরাং শরীয়ত বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একে এই অর্থেই গ্রহণ করা হবে।

প্রচলিত প্রকৃত অর্থ (العرفية) হলো: সেই শব্দ যা প্রচলিত রীতি বা ব্যবহারে যার জন্য নির্ধারিত সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আমাদের বক্তব্য 'প্রচলিত রীতিতে'—এর দ্বারা ভাষাগত (اللغوية) এবং শরয়ী (الشرعية) প্রকৃত অর্থ বাদ পড়ে গেছে।

এর উদাহরণ হলো: 'দাব্বাহ' (চতুষ্পদ প্রাণী); এর প্রচলিত (العرفية) প্রকৃত অর্থ হলো চতুষ্পদ পশু, সুতরাং সাধারণ মানুষের প্রচলিত কথাবার্তায় একে এই অর্থেই গ্রহণ করা হবে।

প্রকৃত অর্থকে (الحقيقة) তিন ভাগে বিভক্ত করার জ্ঞান অর্জনের উপকারিতা হলো: প্রতিটি শব্দকে তার ব্যবহারের ক্ষেত্র অনুযায়ী প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করা। সুতরাং ভাষা বিশেষজ্ঞদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভাষাগত প্রকৃত (اللغوية) অর্থে, শরীয়তের ব্যবহারে শরয়ী প্রকৃত (الشرعية) অর্থে এবং প্রচলিত প্রথার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রকৃত (العرفية) অর্থে শব্দগুলোকে গ্রহণ করা হবে।

2 - আর রূপক অর্থ (المجاز) হলো: সেই শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন: সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'সিংহ' (أسد) শব্দের ব্যবহার।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২১)
فخرج بقولنا: «المستعمل»؛ المهمل، فلا يسمى حقيقة ولا مجازاً.

وخرج بقولنا: «في غير ما وضع له»؛ الحقيقة.

ولا يجوز حمل اللفظ على مجازه إلا بدليل صحيح يمنع من إرادة الحقيقة، وهو ما يسمى في علم البيان بالقرينة.

ويشترط لصحة استعمال اللفظ في مجازه: وجود ارتباط بين المعنى الحقيقي والمجازي، ليصح التعبير به عنه، وهو ما يسمى في علم البيان بالعلاقة، والعلاقة إما أن تكون المشابهة أو غيرها.

فإن كانت المشابهة سمي التجوز «استعارة»؛ كالتجوز بلفظ أسد عن الرجل الشجاع.

وإن كانت غير المشابهة سمي التجوز «مجازاً مرسلاً» إن كان التجوز في الكلمات، و «مجازاً عقليًّا» إن كان التجوز في الإسناد.

مثال ذلك في المجاز المرسل: أن تقول: رعينا المطر، فكلمة «المطر» مجاز عن العشب، فالتجوز بالكلمة.

ومثال ذلك في المجاز العقلي: أن تقول: أنبت المطر العشب فالكلمات كلها يراد بها حقيقة معناها، لكن إسناد الإنبات إلى المطر مجاز؛ لأن المنبت حقيقة هو الله تعالى فالتجوز في الإسناد.

ومن المجاز المرسل: التجوز بالزيادة، والتجوز بالحذف.

مثلوا للمجاز بالزيادة بقوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] فقالوا: إن الكاف زائدة لتأكيد نفي المثل عن الله تعالى.
আমাদের "ব্যবহৃত" (المستعمل) কথাটি দ্বারা "অব্যবহৃত" (المهمل) শব্দ বাদ পড়েছে, সুতরাং একে "প্রকৃত অর্থ" (حقيقة) বা "রূপক অর্থ" (مجازاً) কোনোটিই বলা যাবে না।

আর আমাদের "যা যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে তা ব্যতীত অন্য অর্থে" (في غير ما وضع له) কথাটি দ্বারা "প্রকৃত অর্থ" (الحقيقة) বাদ পড়েছে।

কোনো শব্দকে তার "রূপক অর্থে" (مجازه) গ্রহণ করা বৈধ নয় যতক্ষণ না এমন কোনো "সঠিক দলিল" (دليل صحيح) পাওয়া যায় যা "প্রকৃত অর্থ" (الحقيقة) গ্রহণের ইচ্ছাকে বাধা প্রদান করে। অলঙ্কারশাস্ত্রে একে "সূত্র বা চিহ্ন" (القرينة) বলা হয়।

শব্দকে তার রূপক অর্থে ব্যবহারের বিশুদ্ধতার জন্য শর্ত হলো: "প্রকৃত অর্থ" (المعنى الحقيقي) এবং "রূপক অর্থের" (المجازي) মধ্যে একটি "সম্পর্ক" (ارتباط) বিদ্যমান থাকা, যাতে একটির মাধ্যমে অপরটি প্রকাশ করা সঠিক হয়। অলঙ্কারশাস্ত্রে একে "যোগসূত্র" (العلاقة) বলা হয়। এই যোগসূত্র হয় "সাদৃশ্যপূর্ণ" (المشابهة) হবে অথবা অন্য কিছু।

যদি তা সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে এই রূপক প্রয়োগকে "রূপক অলঙ্কার" (استعارة) বলা হয়; যেমন একজন সাহসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'সিংহ' শব্দটির রূপক ব্যবহার।

আর যদি তা সাদৃশ্যহীন হয়, তবে শব্দের ক্ষেত্রে রূপক প্রয়োগ হলে তাকে "মুক্ত রূপক" (مجازاً مرسلاً) বলা হয়, আর যদি সেই রূপক প্রয়োগ "সম্বন্ধযুক্ত করার" (الإسناد) ক্ষেত্রে হয়, তবে তাকে "বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক" (مجازاً عقليًّا) বলা হয়।

"মুক্ত রূপকের" (المجاز المرسل) উদাহরণ হলো তোমার কথা: "আমরা বৃষ্টি চড়িয়েছি (তৃণলতা খাইয়েছি)"। এখানে 'বৃষ্টি' শব্দটি ঘাসের "রূপক" (مجاز) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, সুতরাং এটি শব্দের রূপক প্রয়োগ।

আর "বুদ্ধিবৃত্তিক রূপকের" (المجاز العقلي) উদাহরণ হলো তোমার কথা: "বৃষ্টি ঘাস উৎপন্ন করেছে"। এখানে প্রতিটি শব্দের মাধ্যমে তার প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য, কিন্তু ঘাস উৎপন্ন করার বিষয়টিকে বৃষ্টির সাথে "সম্বন্ধযুক্ত করা" (إسناد) একটি রূপক মাত্র। কারণ প্রকৃতপক্ষে উৎপন্নকারী হলেন মহান আল্লাহ। সুতরাং এটি সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে রূপক প্রয়োগ।

"মুক্ত রূপকের" (المجاز المرسل) অন্তর্ভুক্ত হলো: "অতিরিক্ত ব্যবহারের" (بالزيادة) মাধ্যমে রূপক এবং "বর্জনের" (بالحذف) মাধ্যমে রূপক।

অতিরিক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে রূপকের উদাহরণ হিসেবে উলামাগণ মহান আল্লাহর এই বাণীটি পেশ করেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} [সূরা আশ-শূরা: ১১]। তাঁরা বলেন: এখানে 'কাফ' অক্ষরটি অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যাতে আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ হওয়ার বিষয়টি নাকচ করার ক্ষেত্রে "দৃঢ়তা" (تأكيد) প্রদান করা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২২)
ومثال المجاز بالحذف: قوله تعالى: {وسئل القرية} [يوسف: 82] أي: واسأل أهل القرية؛ فحذفت «أهل» مجازاً، وللمجاز أنواع كثيرة مذكورة في علم البيان.

وإنما ذكر طرف من الحقيقة والمجاز في أصول الفقه؛ لأن دلالة الألفاظ إما حقيقة وإما مجاز، فاحتيج إلى معرفة كل منهما وحكمه. والله أعلم.

 

‌‌تنبيه:

تقسيم الكلام الى حقيقة ومجاز هو المشهور عند أكثر المتأخرين في القران وغيره، وقال بعض أهل العلم: لا مجاز في القران، وقال اخرون: لا مجاز في القران ولا في غيره، وبه قال أبو إسحاق الإسفراييني ومن المتأخرين العلامة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي، وقد بين شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم أنه اصطلاح حادث بعد انقصاء القرون الثلاثة المفضلة، ونصره بأدلة قوية كثيرة تبين لمن اطلع عليها أن هذا القول هو الصواب (1).

--------------------------------------------

(1) كتاب الإيمان ص 73، ومختصر الصواعق ص 1510.
উহ্যকরণের মাধ্যমে রূপকার্থের (المجاز بالحذف) উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং গ্রামকে জিজ্ঞাসা করুন} [ইউসুফ: ৮২] অর্থাৎ: গ্রামের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা করুন; এখানে 'অধিবাসী' শব্দটি রূপকভাবে (مجازاً) উহ্য করা হয়েছে। ইলমুল বয়ানে (علم البيان) রূপকার্থের (المجاز) অনেক প্রকার বর্ণিত হয়েছে।

উসুল আল-ফিকহ-এ (أصول الفقه) প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) ও রূপকার্থের (المجاز) কিয়দাংশ উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ শব্দের অর্থগত নির্দেশনা হয় প্রকৃত (حقيقة) হবে অথবা রূপক (مجاز) হবে। ফলে এ দুটির প্রত্যেকটি সম্পর্কে জানা এবং এগুলোর বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সতর্কীকরণ:

বাক্যকে প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপকার্থে (مجاز) বিভক্ত করা কুরআন ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের (المتأخرين) অধিকাংশ আলিমের নিকট প্রসিদ্ধ। তবে কোনো কোনো আলিম বলেছেন: কুরআনে কোনো রূপকার্থ (مجاز) নেই। আবার অন্যগণ বলেছেন: কুরআন বা অন্য কোথাও কোনো রূপকার্থ (مجاز) নেই। আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি এবং পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্যে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শিনকিতি এই মতই পোষণ করেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম বর্ণনা করেছেন যে, এটি (রূপকার্থের বিভাজন) শ্রেষ্ঠ তিন যুগ (القرون الثلاثة المفضلة) অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ভূত একটি পরিভাষা। তিনি এটিকে অনেক শক্তিশালী দলিলের মাধ্যমে সমর্থন করেছেন, যা পর্যালোচনা করলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে এই মতটিই সঠিক (১)।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল ইমান, পৃষ্ঠা: ৭৩ এবং মুখতাসারুস সাওয়াইক, পৃষ্ঠা: ১৫১০।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الأمر

‌‌تعريفه:

الأمر: قول يتضمن طلب الفعل على وجه الاستعلاء، مثل: أقيموا الصلاة وآتوا الزكاة.

فخرج بقولنا: «قول»؛ الإشارة فلا تسمى أمراً، وإن أفادت معناه.

وخرج بقولنا: «طلب الفعل»؛ النهي لأنه طلب ترك، والمراد بالفعل الإيجاد، فيشمل القول المأمور به.

وخرج بقولنا: «على وجه الاستعلاء»؛ الالتماس، والدعاء وغيرهما مما يستفاد من صيغة الأمر بالقرائن.

 

‌‌صيغ الأمر:

صيغ الأمر أربع:

1 - فعل الأمر، مثل: {اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ} [العنكبوت: من الآية 45]

2 - اسم فعل الأمر، مثل: حيّ على الصلاة.

3 - المصدر النائب عن فعل الأمر، مثل: {فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَاب} [محمد: من الآية 4]

4 - المضارع المقرون بلام الأمر، مثل: {لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [المجادلة: من الآية 4]
‌‌আদেশ (الأمر)

‌‌এর সংজ্ঞা:

আদেশ (الأمر): এমন একটি বক্তব্য (قول) যা শ্রেষ্ঠত্ব বা কর্তৃত্বের (استعلاء) ভিত্তিতে কোনো কাজ (فعل) সম্পাদনের দাবি অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: "তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো।"

আমাদের সংজ্ঞায় "বক্তব্য" (قول) কথাটি দ্বারা "ইশারা" (إشارة) বা ইঙ্গিত বাদ পড়ে যায়; ফলে একে আদেশ (الأمر) বলা হয় না, যদিও তা আদেশের অর্থ প্রদান করে।

"কাজ সম্পাদনের দাবি" (طلب الفعل) কথাটি দ্বারা "নিষেধ" (نهي) বাদ পড়ে যায়; কারণ নিষেধ হলো কোনো কাজ বর্জন (ترك) করার দাবি। আর এখানে "কাজ" (فعل) দ্বারা কোনো কিছু সম্পাদন করা বা অস্তিত্বে আনা বুঝানো হয়েছে, যা আদেশকৃত বক্তব্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

"শ্রেষ্ঠত্ব বা কর্তৃত্বের ভিত্তিতে" (على وجه الاستعلاء) কথাটি দ্বারা "সমপর্যায়ের অনুরোধ" (التماس), "প্রার্থনা" (دعاء) এবং এমন অন্যান্য বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায় যা পারিপার্শ্বিক আলামতের (قرائن) মাধ্যমে আদেশের রূপ (صيغة الأمر) থেকে নির্ণীত হয়।

 

‌‌আদেশের রূপসমূহ (صيغ الأمر):

আদেশের রূপ (صيغ الأمر) চারটি:

1 - আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر), যেমন: {আপনার প্রতি যে কিতাব ওহি করা হয়েছে, তা পাঠ করুন।} [সূরা আল-আনকাবুত: ৪৫ এর অংশবিশেষ]

2 - আদেশসূচক ক্রিয়াবিশেষ্য (اسم فعل الأمر), যেমন: সালাতের দিকে এসো (حيّ على الصلاة)।

3 - আদেশসূচক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত মূলক্রিয়া (المصدر النائب عن فعل الأمر), যেমন: {যখন তোমরা কাফিরদের মোকাবিলা করবে, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো।} [সূরা মুহাম্মাদ: ৪ এর অংশবিশেষ]

4 - আদেশসূচক ‘লাম’ যুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع المقرون بلام الأمر), যেমন: {যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো।} [সূরা আল-মুজাদালাহ: ৪ এর অংশবিশেষ]
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد يستفاد طلب الفعل من غير صيغة الأمر، مثل أن يوصف بأنه فرض، أو واجب، أو مندوب، أو طاعة، أو يمدح فاعله، أو يذم تاركه، أو يرتب على فعله ثواب، أو على تركه عقاب (1).

 

‌‌ما تقتضيه صيغة الأمر:

صيغة الأمر عند الإطلاق تقتضي: وجوب المأمور به، والمبادرة بفعله فوراً.

فمن الأدلة على أنها تقتضي الوجوب قوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: من الآية 63]، وجه الدلالة أن الله حذر المخالفين عن أمر الرسول صلى الله عليه وسلم أن تصيبهم فتنة، وهي الزيغ، أو يصيبهم عذاب أليم، والتحذير بمثل ذلك لا يكون إلا على ترك

--------------------------------------------

(1) علق فضيلة الشيخ المؤلف رحمه الله تعالى بقوله:

ومثال ما وصف بأنه فرض: قوله صلى الله عليه وسلم: «فأعلمهم أن الله قد فرض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة ....».

ومثال ما وصف بأنه واجب: قوله صلى الله عليه وسلم: «غسل الجمعة واجب على كل محتلم».

ومثال ما وصف بأنه طاعة: قوله صلى الله عليه وسلم: «من أطاع أميري فقد أطاعني».

ومثال ما مدح فاعله: قوله صلى الله عليه وسلم: «نعم الرجل عبد الله بن عمر لو كان يقوم من الليل».

ومثال ما ذم تاركه: قوله صلى الله عليه وسلم: «من ترك الرمي بعدما علمه رغبة عنه، فإنها نعمة كفرها» ..

ومثال ما رتب على فعله الثواب: قوله صلى الله عليه وسلم: «من صلى علي صلاة صلى الله عليه بت عشرا».

ومثال ما رتب على تركه العقاب: قوله صلى الله عليه وسلم: «من ترك ثلاث جمع تهاونا طبع الله على قلبه».
কোনো কাজ করার নির্দেশ কখনো কখনো নির্দেশসূচক শব্দ (صيغة الأمر) ছাড়াও অন্যভাবে বোঝা যেতে পারে। যেমন কোনো কাজকে ফরজ (فرض), বা ওয়াজিব (واجب), বা পছন্দনীয় (مندوب), অথবা আনুগত্য (طاعة) হিসেবে বর্ণনা করা হলে; কিংবা কাজটির কর্তার প্রশংসা করা হলে, বা বর্জনকারীর নিন্দা করা হলে; অথবা কাজটি করার জন্য সওয়াব বা বর্জনের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হলে (১)।

 

‌‌নির্দেশসূচক শব্দ (صيغة الأمر) যা দাবি করে:

নির্দেশসূচক শব্দ (صيغة الأمر) যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা আদিষ্ট বিষয়টি ওয়াজিব হওয়া (وجوب) এবং অবিলম্বে তা পালন করার দাবি রাখে।

এটি যে ওয়াজিব হওয়া (وجوب) দাবি করে, তার অন্যতম দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (ফিতনা) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} [আন-নূর: ৬৩ নং আয়াতের অংশ]। দলিলের দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের বিরোধিতাকারীদের এই মর্মে সতর্ক করেছেন যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা—যা হলো বিপথগামিতা (الزيغ)—অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে। আর এ ধরনের সতর্কতা কেবল কোনো কাজ বর্জন করার কারণেই দেওয়া হয় যা...

--------------------------------------------

(১) শ্রদ্ধেয় লেখক শাইখ রহিমাহুল্লাহু তাআলা নিম্নোক্ত মন্তব্য করেছেন:

কোনো কাজ ফরজ (فرض) হিসেবে বর্ণিত হওয়ার উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ (فرض) করেছেন...।"

কোনো কাজ ওয়াজিব (واجب) হিসেবে বর্ণিত হওয়ার উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "জুমার দিনে গোসল করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ওয়াজিব (واجب)।"

কোনো কাজ আনুগত্য (طاعة) হিসেবে বর্ণিত হওয়ার উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমার (নিযুক্ত) আমিরের আনুগত্য করল, সে মূলত আমারই আনুগত্য (طاعة) করল।"

কর্তার প্রশংসা করা হয়েছে এমন উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আবদুল্লাহ ইবনে উমর কতই না চমৎকার লোক, যদি সে রাতে নামাজ পড়ত।"

বর্জনকারীর নিন্দা করা হয়েছে এমন উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ শেখার পর অনাগ্রহবশত তা বর্জন করল, সে মূলত একটি নেয়ামত অস্বীকার করল।"

কাজটি করার জন্য সওয়াব নির্ধারণের উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করবেন।"

বর্জনের জন্য শাস্তির বিধান রাখার উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তিনটি জুমা বর্জন করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
واجب؛ فدل على أن أمر الرسول صلى الله عليه وسلم المطلق يقتضي وجوب فعل المأمور.

ومن الأدلة على أنه للفور قوله تعالى: {فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ} [البقرة: (148)، والمائدة: 48] والمأمورات الشرعية خير، والأمر بالاستباق إليها دليل على وجوب المبادرة.

ولأن النبي صلى الله عليه وسلم كره تأخير الناس ما أمرهم به من النحر والحلق يوم الحديبية، حتى دخل على أم سلمة رضي الله عنها فذكر لها ما لقي من الناس (1).

ولأن المبادرة بالفعل أحوط وأبرأ، والتأخير له آفات، ويقتضي تراكم الواجبات حتى يعجز عنها.

وقد يخرج الأمر عن الوجوب والفورية لدليل يقتضي ذلك، فيخرج عن الوجوب إلى معان منها:

1 - الندب؛ كقوله تعالى: {وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ} [البقرة: 282] فالأمر بالإشهاد على التبايع للندب بدليل أن النبي صلى الله عليه وسلم اشترى فرساً من أعرابي ولم يشهد (2).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري «2731، 2732» كتاب الشروط، 15 - باب الشروط في الجهاد والمصالحة مع أهل الحرب وكتابة الشروط. وأحمد «4/ 326/ 19117».

(2) رواه أبو داود «3607» كتاب الأقضية، باب إذا علم الحاكم صدق الشاهد الواحد، يجوز له أن يحكم به؟.

والنسائي في «الكبرى»، «6243» كتاب البيوع، 82 - التسهيل في ترك الإشهاد على البيع.

وأحمد «5/ 215»، وصححه الإلباني في «الإرواء» «1286».
ওয়াজিব (واجب); এটি প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বা শর্তহীন (مطلق) নির্দেশ নির্দেশিত কাজটির আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে।

এটি অবিলম্বে (فور) পালনের প্রমাণসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৮ এবং সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৮]। শরয়ী নির্দেশিত বিষয়সমূহ হলো কল্যাণকর কাজ, আর সেগুলোর দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়ার নির্দেশ হলো তা দ্রুত পালনের আবশ্যকতা (وجوب)-এর দলিল।

আর যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার দিনে কুরবানি ও মাথা মুণ্ডন করার বিষয়ে তাঁর নির্দেশ পালনে মানুষের বিলম্ব করাকে অপছন্দ করেছিলেন; এমনকি তিনি উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং মানুষের কাছ থেকে তিনি যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছিলেন তা তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন (১)।

তদুপরি দ্রুত কাজ সম্পাদন করা অধিক সতর্কতামূলক ও জিম্মামুক্তির কারণ, আর বিলম্ব করার মধ্যে বিভিন্ন আপদ রয়েছে এবং এটি ওয়াজিব (واجب) কার্যাবলীর স্তূপ তৈরি করে, যার ফলে পরিশেষে তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়তে হয়।

তবে কখনও কখনও কোনো দালিলের ভিত্তিতে নির্দেশটি আবশ্যকতা (وجوب) এবং তাৎক্ষণিকতার (فورية) পর্যায় থেকে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে। সেক্ষেত্রে আবশ্যকতা (وجوب) থেকে সরে গিয়ে যেসব অর্থ প্রকাশ করে তার মধ্যে রয়েছে:

১ - মুস্তাহাব (ندب); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা যখন কেনা-বেচা করো, তখন সাক্ষী রাখো} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮২]। এখানে কেনা-বেচার সময় সাক্ষী রাখার নির্দেশটি মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে গণ্য, কারণ এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক বেদুঈনের কাছ থেকে একটি ঘোড়া ক্রয় করেছিলেন এবং কোনো সাক্ষী রাখেননি (২)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (২৭৩১, ২৭৩২), কিতাবুশ শুরূত, ১৫ - জিহাদ ও সন্ধি এবং শর্তাবলি লিপিবদ্ধ করার অধ্যায়। এবং ইমাম আহমাদ (৪/৩২৬/১৯১১৭)।

(২) ইমাম আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (৩৬০৭), কিতাবুল আকদিয়া, অধ্যায়: বিচারক যখন একজন সাক্ষীর সত্যতা নিশ্চিত হন, তখন কি তিনি তা দিয়ে ফয়সালা করতে পারবেন?।

এবং ইমাম নাসাঈ তাঁর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে (৬২৪৩), কিতাবুল বুয়ূ, ৮২ - কেনা-বেচায় সাক্ষী না রাখার অবকাশ অধ্যায়।

এবং ইমাম আহমাদ (৫/২১৫), আর আলবানী একে ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে সহিহ (صحيح) বলেছেন (১২৮৬)।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - الإباحة؛ وأكثر ما يقع ذلك إذا ورد بعد الحظر، أو جواباً لما يتوهم أنه محظور.

مثاله بعد الحظر: قوله تعالى: {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا} [المائدة: 2] فالأمر بالاصطياد للإباحة لوقوعه بعد الحظر المستفاد من قوله تعالى: {غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ} [المائدة: 1]

ومثاله جواباً لما يتوهم أنه محظور؛ قوله صلى الله عليه وسلم: «افعل ولا حرج» (1)، في جواب من سألوه في حجة الوداع عن تقديم أفعال الحج التي تفعل يوم العيد بعضها على بعض.

3 - التهديد كقوله تعالى: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [فصلت: من الآية 40]، {إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارا} [الكهف: من الآية 29] فذكر الوعيد بعد الأمر المذكور دليل على أنه للتهديد.

ويخرج الأمر عن الفورية إلى التراخي.

مثاله: قضاء رمضان فإنه مأمور به لكن دلَّ الدليل على أنه للتراخي، فعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان يكون عليّ الصوم من رمضان فما أستطيع أن أقضيه إلا في شعبان، وذلك لمكان رسول الله صلى الله عليه وسلم (2)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري «83» كتاب العلم، 23 - باب الفتيا وهو واقف على الدابة وغيرها.

ومسلم «1306» كتاب الحج، 57 - باب من حلق قبل النحر أو نحر قبل الرمي.

(2) انظر: البخاري «1950» كتاب الصوم، 40 - متى يقضى قضاء رمضان.

ومسلم «1146» كتاب الصيام، 26 - باب قضاء رمضان في شعبان.
২ - বৈধতা (الإباحة); এটি সাধারণত নিষেধাজ্ঞার পর আসলে, অথবা যা নিষিদ্ধ বলে ধারণা করা হয়েছে তার জবাবে আসলে ঘটে থাকে।

নিষেধজ্ঞার পরের উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا} [আল-মায়িদাহ: ২] অর্থাৎ: "আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে, তখন শিকার করো।" এখানে শিকার করার আদেশটি বৈধতা (الإباحة) বুঝানোর জন্য এসেছে, কারণ এটি সেই নিষেধাজ্ঞার পরে এসেছে যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে বুঝা যায়: {غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وأنْتُمْ حُرُمٌ} [আল-মায়িদাহ: ১] অর্থাৎ: "তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাকবে তখন শিকার করাকে বৈধ মনে করো না।"

আর যা নিষিদ্ধ বলে ধারণা করা হয়েছে তার জবাবের উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «করো, এতে কোনো অসুবিধা নেই» (১), এটি তিনি বিদায় হজের সময় যারা ঈদের দিনে পালনীয় হজের কাজগুলো একটির আগে অন্যটি করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাদের জবাবে বলেছিলেন।

৩ - হুমকি (التهديد), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [ফুসসিলাত: ৪০] অর্থাৎ: "তোমাদের যা ইচ্ছা করো, নিশ্চয় তিনি তোমরা যা করো সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা", এবং {إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارا} [আল-কাহফ: ২৯] অর্থাৎ: "নিশ্চয় আমি জালিমদের জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি।" উক্ত আদেশের পর শাস্তির ধমকি উল্লেখ থাকাই প্রমাণ করে যে, এটি হুমকির (التهديد) জন্য এসেছে।

আবার কখনো আদেশটি অবিলম্বে (الفورية) পালন করার পর্যায় থেকে সরে এসে বিলম্বে (التراخي) পালনের পর্যায়ে চলে যায়।

উদাহরণ: রমজানের কাজা রোজা; এটি পালনের আদেশ থাকলেও দলিল প্রমাণ করে যে এটি বিলম্বে (التراخي) পালনের জন্য। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার ওপর রমজানের কাজা রোজা থাকতো কিন্তু আমি শাবান মাস ছাড়া তা আদায় করতে পারতাম না; আর তা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে তাঁর অবস্থানের কারণে।" (২)

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৮৩), ইলম অধ্যায়, ২৩- পরিচ্ছেদ: সওয়ারির পিঠে সওয়ার থাকা অবস্থায় বা অন্য কোনোভাবে ফতোয়া প্রদান করা।

এবং মুসলিম (১৩০৬), হজ অধ্যায়, ৫৭- পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোরবানির আগে মাথা মুণ্ডন করে অথবা কঙ্কর মারার আগে কোরবানি করে।

(২) দেখুন: বুখারি (১৯৫০), রোজা অধ্যায়, ৪০- পরিচ্ছেদ: কখন রমজানের কাজা আদায় করতে হবে।

এবং মুসলিম (১১৪৬), সিয়াম অধ্যায়, ২৬- পরিচ্ছেদ: শাবান মাসে রমজানের কাজা আদায় করা।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولو كان التأخير محرماً ما أقِرّت عليه عائشة رضي الله عنها.

 

‌‌ما لا يتم المأمور إلا به:

إذا توقف فعل المأمور به على شيء كان ذلك الشيء مأموراً به، فإن كان المأمور به واجباً كان ذلك الشيء واجباً، وإن كان المأمور به مندوباً كان ذلك الشيء مندوباً.

مثال الواجب: ستر العورة فإذا توقف على شراء ثوب كان ذلك الشراء واجباً.

ومثال المندوب: التطيب للجمعة، فإذا توقف على شراء طيب كان ذلك الشراء مندوباً.

وهذه القاعدة في ضمن قاعدة أعم منها وهي: الوسائل لها أحكام المقاصد، فوسائل المأمورات مأمور بها، ووسائل المنهيات منهي عنها.
আর যদি বিলম্ব করা নিষিদ্ধ (محرم) হতো, তবে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে এর ওপর বহাল রাখা হতো না।

 

‌‌যা ছাড়া আদিষ্ট বিষয় (مأمور به) পূর্ণ হয় না:

যদি কোনো আদিষ্ট (مأمور به) কাজ সম্পাদন করা কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই বিষয়টিও আদিষ্ট (مأمور به) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং আদিষ্ট (مأمور به) বিষয়টি যদি ওয়াজিব (واجب) হয়, তবে সেই বিষয়টিও ওয়াজিব (واجب) হবে; আর যদি আদিষ্ট (مأمور به) বিষয়টি মুস্তাহাব (مندوب) হয়, তবে সেই বিষয়টিও মুস্তাহাব (مندوب) হবে।

ওয়াজিব (واجب)-এর উদাহরণ: সতর ঢাকা; সুতরাং যদি তা কাপড় ক্রয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই ক্রয় করাও ওয়াজিব (واجب)।

মুস্তাহাব (مندوب)-এর উদাহরণ: জুমার জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা; সুতরাং যদি তা সুগন্ধি ক্রয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই ক্রয় করাও মুস্তাহাব (مندوب)।

এই নীতিটি একটি ব্যাপকতর নীতির অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো: উপকরণের বিধান উদ্দেশ্যের বিধানের অনুরূপ (الوسائل لها أحكام المقاصد)। অতএব, আদিষ্ট বিষয়সমূহের উপকরণসমূহও আদিষ্ট, আর নিষিদ্ধ (منهي عنها) বিষয়সমূহের উপকরণসমূহও নিষিদ্ধ (منهي عنها)।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌النَّهْي

 

‌‌تعريفه:

النهي: قول يتضمن طلب الكف على وجه الاستعلاء بصيغة مخصوصة هي المضارع المقرون بلا الناهية، مثل قوله تعالى: {وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآياتِنَا وَالَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ} [الأنعام: من الآية 150].

فخرج بقولنا: «قول»؛ الإشارة، فلا تسمى نهياً وإن أفادت معناه.

وخرج بقولنا: «طلب الكف»؛ الأمر، لأنه طلب فعل.

وخرج بقولنا: «على وجه الاستعلاء»؛ الالتماس والدعاء وغيرهما مما يستفاد من النهي بالقرائن.

وخرج بقولنا: «بصيغة مخصوصة هي المضارع إلخ»؛ ما دل على طلب الكف بصيغة الأمر مثل: دع، اترك، كف، ونحوها؛ فإن هذه وإن تضمنت طلب الكف لكنها بصيغة الأمر فتكون أمراً لا نهياً.

وقد يستفاد طلب الكف بغير صيغة النهي، مثل: أن يوصف الفعل بالتحريم أو الحظر أو القبح، أو يذم فاعله، أو يرتب على فعله عقاب، أو نحو ذلك (1).

--------------------------------------------

(1) علق فضيلة الشيخ المؤلف رحمه الله تعالى بقوله: =
‌‌নিষেধ (النهي)

 

‌‌এর সংজ্ঞা:

নিষেধ (النهي): এমন এক বক্তব্য যা শ্রেষ্ঠত্ব বা উচ্চতা (الاستعلاء)-এর ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট গঠনরীতি (صيغة)-র মাধ্যমে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা (الكف)-র দাবি অন্তর্ভুক্ত করে। আর সেই নির্দিষ্ট গঠনরীতিটি হলো না-বোধক ‘লা’ যুক্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়া (المضارع المقرون بلا الناهية); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আপনি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না।} [আল-আন‘আম: ১৫০ এর অংশ]।

আমাদের সংজ্ঞায় «বক্তব্য» কথাটি দ্বারা ইশারা বা ইঙ্গিত বাদ পড়ে যায়; সুতরাং ইশারা যদি নিষেধের অর্থও প্রকাশ করে, তবুও তাকে পরিভাষায় নিষেধ (النهي) বলা হবে না।

আমাদের সংজ্ঞায় «বিরত থাকার দাবি» কথাটি দ্বারা আদেশ (الأمر) বাদ পড়ে যায়; কারণ তা কোনো কাজ করার দাবি।

আমাদের সংজ্ঞায় «শ্রেষ্ঠত্ব বা উচ্চতার ভিত্তিতে» কথাটি দ্বারা সমপর্যায়ের ব্যক্তির কাছে আবেদন (الالتماس), প্রার্থনা (الدعاء) এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায়, যা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (قرائن) ভিত্তিতে নিষেধ থেকে বুঝে নেওয়া হয়।

আমাদের সংজ্ঞায় «একটি নির্দিষ্ট গঠনরীতি তথা বর্তমানকালীন ক্রিয়া... ইত্যাদি» কথাটি দ্বারা ওইসব শব্দ বাদ পড়ে যায় যা আদেশ (الأمر)-এর গঠনরীতি (صيغة)-র মাধ্যমে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। যেমন: ‘বর্জন করো’, ‘ছেড়ে দাও’, ‘বিরত থাকো’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। কারণ এগুলোতে যদিও বিরত থাকার দাবি রয়েছে, কিন্তু এগুলো যেহেতু আদেশ (الأمر)-এর গঠনরীতিতে (صيغة) এসেছে, তাই এগুলোকে আদেশ (الأمر) বলা হবে, নিষেধ (النهي) নয়।

কখনও কখনও নিষেধ (النهي)-এর গঠনরীতি ছাড়াও বিরত থাকার দাবি বোঝা যেতে পারে; যেমন কোনো কাজকে হারাম (التحريم), নিষিদ্ধ (الحظر) বা মন্দ (القبح) হিসেবে অভিহিত করা, অথবা উক্ত কাজ সম্পাদনকারীকে তিরস্কার করা, কিংবা উক্ত কাজের ওপর শাস্তির (عقاب) বিধান রাখা, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু (১)।

--------------------------------------------

(১) সম্মানিত লেখক শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) মন্তব্য করেছেন: =
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌ما تقتضيه صيغة النهي:

صيغة النهي عند الإطلاق تقتضي تحريم المنهي عنه وفساده.

فمن الأدلة على أنها تقتضي التحريم قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: من الآية 7] فالأمر بالانتهاء عما نهى عنه، يقتضي وجوب الانتهاء، ومِنْ لَازِمِ ذلك تحريم الفعل.

ومن الأدلة على أنه يقتضي الفساد قوله صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» (1)؛ أي: مردود، وما نهى عنه؛ فليس عليه أمر النبي صلى الله عليه وسلم، فيكون مردوداً.

هذا وقاعدة المذهب في المنهي عنه هل يكون باطلاً أو صحيحاً مع التحريم؟ كما يلي:

1 - أن يكون النهي عائداً إلى ذات المنهي عنه، أو شرطه فيكون باطلاً.

2 - أن يكون النهي عائداً إلى أمر خارج لا يتعلق بذات المنهي عنه ولا شرطه، فلا يكون باطلاً.

--------------------------------------------

= مثال ما وصف الفعل بالتحريم: قوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا}.

ومثال وصفه بالقبح: قوله صلى الله عليه وسلم: «ثمن الكلب خبيث».

ومثال ذم فاعله: قوله صلى الله عليه وسلم: «يئس».

ومثال ما رتب على فعله عقاب: قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} [النساء: 10].

(1) رواه مسلم «1718» «18» كتاب الأقضية، 8 - باب نقض الأحكام الباطلة ورد محدثات الأمور.
নিষেধাজ্ঞার শব্দরূপ যা দাবি করে:

নিষেধাজ্ঞার শব্দরূপ যখন শর্তহীনভাবে বা সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা নিষিদ্ধ বিষয়টি হারাম (تحريم) হওয়া এবং তা বাতিল (فساد) হওয়াকে আবশ্যক করে।

এটি যে হারাম (تحريم) হওয়াকে আবশ্যক করে তার দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর রাসুল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ]। সুতরাং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যা বিরত থাকাকে ওয়াজিব (وجوب) করে; আর এর অনিবার্য দাবি হলো সেই কাজটি হারাম (تحريم) হওয়া।

আর এটি যে বাতিল (فساد) হওয়াকে আবশ্যক করে তার দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)" (১); অর্থাৎ তা অগ্রাহ্য। আর যে বিষয় থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো নির্দেশনা নেই, সুতরাং তা প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে।

নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে মাজহাবের মূলনীতি হলো—হারাম (تحريم) হওয়ার পাশাপাশি সেটি কি বাতিল (باطل) হবে নাকি সহিহ (صحيح)? এর বিবরণ নিম্নরূপ:

১ - নিষেধাজ্ঞাটি যদি স্বয়ং নিষিদ্ধ বিষয়ের সত্তার প্রতি অথবা তার শর্তের (شرط) প্রতি অর্পিত হয়, তবে সেটি বাতিল (باطل) হবে।

২ - নিষেধাজ্ঞাটি যদি এমন কোনো বহির্ভূত বিষয়ের প্রতি অর্পিত হয় যা নিষিদ্ধ বিষয়ের সত্তা কিংবা তার শর্তের (شرط) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তবে সেটি বাতিল (باطل) হবে না।

--------------------------------------------

= কাজটিকে হারাম হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম (تحريم) করেছেন}।

কাজটিকে মন্দ বা নিকৃষ্ট হিসেবে বর্ণনা করার উদাহরণ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কুকুরের বিক্রয়মূল্য অপবিত্র (خبيث)।"

কাজটি সম্পাদনকারীর নিন্দার উদাহরণ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।"

কোনো কাজের ওপর শাস্তির বিধান আরোপ করার উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের ধন-সম্পদ গ্রাস করে, তারা কেবল তাদের পেটে আগুন ভক্ষণ করে এবং অতি শীঘ্রই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} [আন-নিসা: ১০]।

(১) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, হাদিস নং: ১৭১৮, ১৮ - বিচার-ফয়সালা অধ্যায়, ৮ - বাতিল (باطل) হুকুম রহিতকরণ এবং নতুন উদ্ভাবিত বিষয় প্রত্যাখ্যান করা বিষয়ক পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩০)
مثال العائد إلى ذات المنهي عنه في العبادة: النهي عن صوم يوم العيدين.

ومثال العائد إلى ذاته في المعاملة: النهي عن البيع بعد نداء الجمعة الثاني ممن تلزمه الجمعة.

ومثال العائد إلى شرطه في العبادة: النهي عن لبس الرجل ثوب الحرير، فستر العورة شرط لصحة الصلاة، فإذا سترها بثوب منهي عنه، لم تصح الصلاة لعود النهي إلى شرطها.

ومثال العائد إلى شرطه في المعاملة: النهي عن بيع الحمل، فالعلم بالمبيع شرط لصحة البيع، فإذا باع الحمل لم يصح البيع لعود النهي إلى شرطه.

ومثال النهي العائد إلى أمر خارج في العبادة: النهي عن لبس الرجل عمامة الحرير، فلو صلى وعليه عمامة حرير، لم تبطل صلاته؛ لأن النهي لا يعود إلى ذات الصلاة ولا شرطها.

ومثال العائد إلى أمر خارج في المعاملة: النهي عن الغش، فلو باع شيئاً مع الغش لم يبطل البيع؛ لأن النهي لا يعود إلى ذات البيع ولا شرطه.

وقد يخرج النهي عن التحريم إلى معانٍ أخرى لدليل يقتضي ذلك، فمنها:

1 - الكراهة: ومثلوا لذلك بقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يمسنَّ أحدكم ذكره بيمينه وهو يبول» (1)، فقد قال الجمهور: إن النهي هنا

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري «153» كتاب الوضوء، 18 - باب النهي عن الاستنجاء باليمين.

ومسلم «267» كتاب الطهارة، 18 - باب التهي عن الاستنجاء باليمين.

واللفظ له.
ইবাদতের ক্ষেত্রে যা নিষিদ্ধ তার মূল সত্তার দিকে নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসার উদাহরণ: দুই ঈদের দিনে রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা।

লেনদেনের ক্ষেত্রে বিষয়ের সত্তার দিকে ফিরে আসার উদাহরণ: যার ওপর জুমার নামাজ ফরজ তার জন্য জুমার দ্বিতীয় আজানের পর ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

ইবাদতের ক্ষেত্রে শর্তের (شرط) দিকে ফিরে আসার উদাহরণ: পুরুষের জন্য রেশমি বস্ত্র পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা; কেননা সতর ঢাকা নামাজের শুদ্ধতার (صحة) জন্য একটি শর্ত (شرط)। সুতরাং যদি কেউ নিষিদ্ধ পোশাক দ্বারা সতর আবৃত করে নামাজ পড়ে, তবে নিষেধাজ্ঞাটি শর্তের (شرط) দিকে ফিরে আসার কারণে তার নামাজ শুদ্ধ (صحيح) হবে না।

লেনদেনের ক্ষেত্রে শর্তের (شرط) দিকে ফিরে আসার উদাহরণ: গর্ভস্থ ভ্রূণ বা বাচ্চা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা; কেননা বিক্রয়যোগ্য বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান থাকা বিক্রয় চুক্তির শুদ্ধতার (صحة) জন্য একটি শর্ত (شرط)। সুতরাং যদি কেউ গর্ভস্থ বাচ্চা বিক্রি করে, তবে নিষেধাজ্ঞাটি শর্তের (شرط) দিকে ফিরে আসার কারণে সেই বিক্রয় চুক্তি শুদ্ধ (صحيح) হবে না।

ইবাদতের ক্ষেত্রে বাহ্যিক বিষয়ের (أمر خارج) দিকে ফিরে আসা নিষেধাজ্ঞার উদাহরণ: পুরুষের জন্য রেশমি পাগড়ি পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা। যদি কেউ রেশমি পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় নামাজ আদায় করে, তবে তার নামাজ বাতিল (باطل) হবে না; কারণ এই নিষেধাজ্ঞাটি নামাজের সত্তা বা তার শর্তের (شرط) দিকে ফিরে আসে না।

লেনদেনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক বিষয়ের (أمر خارج) দিকে ফিরে আসা নিষেধাজ্ঞার উদাহরণ: প্রতারণা (غش) করার ওপর নিষেধাজ্ঞা। যদি কেউ প্রতারণা করে কোনো কিছু বিক্রি করে, তবে সেই লেনদেন বাতিল (باطل) হবে না; কারণ এই নিষেধাজ্ঞাটি লেনদেনের সত্তা বা তার শর্তের (شرط) দিকে ফিরে আসে না।

কখনও কখনও কোনো দলিলের (دليل) কারণে নিষেধাজ্ঞা হারাম (تحريم) হওয়ার অর্থ থেকে বের হয়ে অন্য অর্থের দিকে যায়। তার মধ্যে রয়েছে:

১ - অপছন্দনীয়তা বা মাকরূহ (كراهة): এর উদাহরণ হিসেবে ফকিহগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করা অবস্থায় ডান হাত দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ না করে।" (১) জমহুর (جمهور) উলামাগণ বলেছেন: এখানে নিষেধাজ্ঞাটি—

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন (১৫৩), কিতাবুল ওজু, ১৮- অনুচ্ছেদ: ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা।

মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৬৭), কিতাবুত তাহারাহ, ১৮- অনুচ্ছেদ: ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা।

হাদিসের শব্দাবলি তার (মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
للكراهة، لأن الذكر بضعة من الإنسان، والحكمة من النهي تنزيه اليمين.

2 - الإرشاد: مثل قوله صلى الله عليه وسلم لمعاذ: «لا تدعن أن تقول دبر كل صلاة: اللهم أعنّي على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك» (1).

من يدخل في الخطاب بالأمر والنهي:

الذي يدخل في الخطاب بالأمر والنهي «هو» المكلف، وهو البالغ العاقل.

فخرج بقولنا: «البالغ»؛ الصغير، فلا يكلف بالأمر والنهي تكليفاً مساوياً لتكليف البالغ، ولكنه يؤمر بالعبادات بعد التمييز تمريناً له على الطاعة، ويمنع من المعاصي؛ ليعتاد الكف عنها.

وخرج بقولنا: «العاقل»؛ المجنون فلا يكلف بالأمر والنهي، ولكنه يمنع مما يكون فيه تعد على غيره أو إفساد، ولو فعل المأمور به لم يصح منه الفعل لعدم قصد الامتثال منه.

ولا يرد على هذا إيجاب الزكاة والحقوق المالية في مال الصغير والمجنون، لأن إيجاب هذه مربوط بأسباب معينة متى وجدت ثبت الحكم فهي منظور فيها إلى السبب لا إلى الفاعل!.

 

‌‌والتكليف بالأمر والنهي شامل للمسلمين والكفار لكن الكافر لا يصح منه فعل المأمور به حال كفره؛ لقوله تعالى: {وَمَا

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد «5/ 244/ 22172» و «247/ 22179» وأبو داود «1522» كتاب الوتر، باب في الاستغفار.

والنسائي في «المجتبى» «1302» كتاب السهو، باب نوع اخر من الدعاء.

وصححه النووي، وجزم بثبوته الحافظ في «الفتح» «11/ 133».
অপছন্দনীয়তা (كراهة) প্রকাশের জন্য, কারণ লিঙ্গ মানুষের শরীরের একটি অংশ, আর এই নিষেধের পেছনের হিকমত বা রহস্য হলো ডান হাতকে পবিত্র রাখা।

২ - দিকনির্দেশনা (إرشاد): যেমন মুআয (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তুমি প্রত্যেক সালাতের পর এই দোয়াটি পাঠ করতে ছাড়বে না: হে আল্লাহ! আপনার যিকির, আপনার শোকর এবং আপনার উত্তম ইবাদত পালনে আমাকে সাহায্য করুন» (১)।

আদেশ ও নিষেধের সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ:

আদেশ ও নিষেধের সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি হলেন ‘মুকাল্লাফ’ (المكلف) বা শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি, আর তিনি হলেন প্রাপ্তবয়স্ক (البالغ) ও বুদ্ধিমান (العاقل)।

আমাদের ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ (البالغ) বলার মাধ্যমে শিশু বাদ পড়েছে। সুতরাং, তাকে একজন প্রাপ্তবয়স্কের সমপর্যায়ে আদেশ ও নিষেধের বিধান পালনে দায়বদ্ধ করা হবে না। তবে তাকে আনুগত্যের অনুশীলনের জন্য বোধশক্তি সম্পন্ন (تمييز) হওয়ার পর ইবাদতের আদেশ দেওয়া হবে এবং গুনাহ থেকে বারণ করা হবে; যাতে সে তা বর্জন করতে অভ্যস্ত হয়।

আমাদের ‘বুদ্ধিমান’ (العاقل) বলার মাধ্যমে পাগল ব্যক্তি বাদ পড়েছে। সুতরাং, তাকে আদেশ ও নিষেধের বিধান পালনে দায়বদ্ধ করা হবে না। তবে তাকে অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখা হবে। সে যদি কোনো আদিষ্ট কাজ সম্পাদন করে, তবে আনুগত্যের সংকল্প (قصد الامتثال) না থাকার কারণে তার সেই কাজ সহীহ (صحيح) হবে না।

শিশু ও পাগলের সম্পদে যাকাত এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা বাধ্যতামূলক হওয়া এই নিয়মের পরিপন্থী নয়। কারণ এগুলোর বাধ্যবাধকতা নির্দিষ্ট কিছু কারণের (أسباب) সাথে সম্পৃক্ত; যখনই সেই কারণ পাওয়া যাবে, তখনই বিধানটি সাব্যস্ত হবে। সুতরাং এক্ষেত্রে কারণের দিকে লক্ষ রাখা হয়েছে, কর্তার দিকে নয়!

 

‌‌আদেশ ও নিষেধের বিধান মুসলিম ও কাফের উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য তবে কাফের ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় আদিষ্ট কাজ সম্পাদন করলে তা সহীহ (صحيح) হবে না; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের...}

--------------------------------------------

(১) আহমদ বর্ণনা করেছেন (৫/ ২৪৪/ ২২১৭২) ও (২৪৭/ ২২১৭৯) এবং আবু দাউদ (১৫২২), কিতাবুল বিতর, পরিচ্ছেদ: ইস্তিগফার প্রসঙ্গে।

এবং নাসাঈ আল-মুজতবা গ্রন্থে (১৩০২), কিতাবুস সাহু, পরিচ্ছেদ: অন্য প্রকারের দোয়া।

এবং ইমাম নববী একে সহীহ (صحيح) বলেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ গ্রন্থে (১১/ ১৩৩) এর সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِه} [التوبة: من الآية 54]. ولا يؤمر بقضائه إذا أسلم؛ لقوله تعالى: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ} [لأنفال: من الآية 38] وقوله صلى الله عليه وسلم لعمرو بن العاص: «أما علمت يا عمرو أن الإسلام يهدم ما كان قبله» (1)، وإنما يعاقب على تركه إذا مات على الكفر؛ لقوله تعالى عن جواب المجرمين إذا سئلوا: {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ} [المدثر:42] {قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ} [المدثر:43] {وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ} [المدثر:44] {وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ} [المدثر:45] {وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ} [المدثر:46] {حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ} [المدثر:47]

 

‌‌موانع التكليف:

للتكليف موانع منها: الجهل والنسيان والإكراه؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله تجاوز عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه» (2). رواه ابن ماجه والبيهقي، وله شواهد من الكتاب والسنة تدل على صحته.

فالجهل: عدم العلم، فمتى فعل المكلف محرماً جاهلاً بتحريمه فلا شيء عليه، كمن تكلم في الصلاة جاهلاً بتحريم الكلام، ومتى ترك واجباً جاهلاً بوجوبه لم يلزمه قضاؤه إذا كان

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم «121» كتاب الإيمان، 54 - باب كون الإسلام يهدم ما كان قبله وكذا الهجرة والحج.

(2) رواه ابن ماجه «2043، 2045» كتاب الطلاق، 16 - باب طلاق المكره والناسي.

والبهقي «6/ 84» كتاب الإقرار، باب من لا يجوز إقراره. قال العجلوني في «كشف الخفاء» «1/ 523/ 1393»: حسنه النووي في «الروضة» و «الأربعين».

وجود إسناده ابن كثير في «تحفة الطالب» «1/ 271/ 158».
{তাদের থেকে তাদের দান গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি কুফরি করেছে} [আত-তাওবাহ: ৫৪ আয়াতের অংশ]। আর সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তাকে তা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {কাফিরদেরকে বলো, তারা যদি বিরত হয়, তবে তাদের অতীতে যা অতিবাহিত হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে} [আল-আনফাল: ৩৮ আয়াতের অংশ] এবং আমর ইবনুল আস-এর প্রতি নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: «হে আমর! তুমি কি জানো না যে, ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল কাজকে মিটিয়ে দেয়» (১)। তবে সে যদি কুফরি অবস্থায় মারা যায়, তবে তা বর্জন করার কারণে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে; অপরাধীদের উত্তর সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীর কারণে যখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে: {কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে (সাকার) নিক্ষেপ করেছে?} [আল-মুদ্দাসসির: ৪২] {তারা বলবে: আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না} [আল-মুদ্দাসসির: ৪৩] {এবং আমরা অভাবগ্রস্তদের অন্নদান করতাম না} [আল-মুদ্দাসসির: ৪৪] {এবং আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে আলোচনায় মগ্ন থাকতাম} [আল-মুদ্দাসসির: ৪৫] {এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম} [আল-মুদ্দাসসির: ৪৬] {পরিশেষে আমাদের নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হয়েছে} [আল-মুদ্দাসসির: ৪৭]

 

‌‌তাকলিফের (শারয়ী বিধান আরোপের) প্রতিবন্ধকসমূহ:

তাকলিফের কিছু প্রতিবন্ধক রয়েছে, যার মধ্যে আছে: অজ্ঞতা, বিস্মৃতি এবং জবরদস্তি; নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা কাজ, বিস্মৃতি এবং যে কাজের জন্য তারা বাধ্য হয়েছে তা ক্ষমা করেছেন» (২)। এটি ইবনে মাজাহ ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর অনেক সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যা এর শুদ্ধতা (صحة) নির্দেশ করে।

অজ্ঞতা হলো: জ্ঞানের অভাব। সুতরাং যখন কোনো মুকাল্লাফ (বিধান আরোপিত ব্যক্তি) কোনো হারাম কাজ তা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে অজ্ঞাত থেকে করে ফেলে, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই; যেমন কেউ নামাজের মধ্যে কথা বলা হারাম হওয়া সম্পর্কে না জেনে কথা বলল। আর যখন সে কোনো ওয়াজিব কাজ তা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে অজ্ঞাত থেকে বর্জন করে, তখন তা কাযা করা তার জন্য আবশ্যক হবে না যদি তা...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন «১২১», ঈমান অধ্যায়, ৫৪- অনুচ্ছেদ: ইসলাম তার পূর্ববর্তী গুনাহ ধ্বংস করে দেয় এবং তদ্রূপ হিজরত ও হজও।

(2) ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন «২০৪৩, ২০৪৫», তালাক অধ্যায়, ১৬- অনুচ্ছেদ: বাধ্য হওয়া ব্যক্তি ও বিস্মৃত ব্যক্তির তালাক।

এবং বায়হাকি «৬/৮৪», ইকরার (স্বীকৃতি) অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যার স্বীকৃতি বৈধ নয়। আজলুনি «কাশফুল খাফা» গ্রন্থে «১/৫২৩/১৩৯৩» বলেছেন: নববী একে ‘আর-রাওদাহ’ ও ‘আরবাঈন’ গ্রন্থে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন।

ইবনে কাসীর «তুহফাতুত তালিব» গ্রন্থে «১/২৭১/১৫৮» এর সনদকে (إسناد) উত্তম (جيد) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قد فات وقته، بدليل أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر المسيء في صلاته - وكان لا يطمئن فيها - لم يأمره بقضاء ما فات من الصلوات، وإنما أمره بفعل الصلاة الحاضرة على الوجه المشروع.

والنسيان: ذهول القلب عن شيء معلوم، فمتى فعل محرماً ناسياً فلا شيء عليه؛ كمن أكل في الصيام ناسياً. ومتى ترك واجباً ناسياً فلا شيء عليه حال نسيانه؛ ولكن عليه فعله إذا ذكره؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من نسي صلاة فليصلها إذا ذكرها» (1).

والإكراه: إلزام الشخص بما لا يريد، فمن أكره على شيء محرم فلا شيء عليه؛ كمن أكره على الكفر وقلبه مطمئن بالإيمان، ومن أكره على ترك واجب فلا شيء عليه حال الإكراه، وعليه قضاؤه إذا زال؛ كمن أكره على ترك الصلاة حتى خرج وقتها، فإنه يلزمه قضاؤها إذا زال الإكراه.

وتلك الموانع إنما هي في حق الله؛ لأنه مبني على العفو والرحمة، أما في حقوق المخلوقين فلا تمنع من ضمان ما يجب ضمانه، إذا لم يرض صاحب الحق بسقوطه، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري «597» كتاب مواقيت الصلاة، 37 - باب من نسي صلاة فليصليها إذا ذكرها ولا يعيد إلا تلك الصلاة.

ومسلم «684» كتاب المساجد، 55 - باب قضاء الصلاة الفائتة واستحباب تعجيل قضائها.
এর সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, যার প্রমাণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতে ত্রুটিকারী ব্যক্তিকে—যিনি সালাতে স্থিরতা (طمأنينة) বজায় রাখছিলেন না—বিগত সালাতসমূহ কাজা করার নির্দেশ দেননি; বরং তাকে কেবল উপস্থিত সালাতটি শরয়ি পদ্ধতি অনুযায়ী আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর বিস্মৃতি (نسيان) হলো: কোনো পরিচিত বিষয় সম্পর্কে হৃদয়ের অসতর্কতা। সুতরাং যখন কেউ বিস্মৃতিবশত কোনো নিষিদ্ধ (محرم) কাজ করে ফেলে, তখন তার ওপর কোনো গুনাহ নেই; যেমন রোজা অবস্থায় ভুলবশত আহারকারী। আর যখন কেউ বিস্মৃতিবশত কোনো ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করে, তখন বিস্মৃতিরত অবস্থায় তার ওপর কোনো দায় থাকে না; তবে স্মরণে আসার পর তা পালন করা তার জন্য আবশ্যক। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায়, সে যেন তা স্মরণ হওয়ামাত্রই আদায় করে নেয়» (১)।

আর জবরদস্তি (إكراه) হলো: কোনো ব্যক্তিকে তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও কোনো বিষয়ে বাধ্য করা। সুতরাং যাকে কোনো নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়ে বাধ্য করা হয়, তার ওপর কোনো দায় নেই; যেমন যাকে কুফরিতে বাধ্য করা হলো অথচ তার অন্তর ঈমানের ওপর অটল। আর যাকে কোনো ওয়াজিব (واجب) ত্যাগে বাধ্য করা হয়, জবরদস্তির অবস্থায় তার ওপর কোনো দায় নেই, তবে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হলে তাকে তা কাজা করতে হবে; যেমন কাউকে সালাত ত্যাগে বাধ্য করা হলো এমনকি সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, এমতাবস্থায় জবরদস্তি দূর হওয়ার পর তার ওপর সেই সালাত কাজা করা আবশ্যক হবে।

আর এই প্রতিবন্ধকতাগুলো (موانع) কেবল আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ তা ক্ষমা ও দয়ার ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে সৃষ্টির হকের ক্ষেত্রে যা ক্ষতিপূরণ (ضمان) দেওয়া আবশ্যক, তা থেকে এই কারণগুলো কোনো বাধা সৃষ্টি করে না, যদি না হকদার ব্যক্তি তা মওকুফ করতে সম্মত হন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, হাদিস নং ৫৯৭, সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায়, ৩৭ - পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সালাত ভুলে যায় সে যেন তা স্মরণ হওয়ামাত্রই আদায় করে এবং সেই সালাত ব্যতীত অন্য কিছুর পুনরাবৃত্তি করবে না।

এবং মুসলিম, হাদিস নং ৬৮৪, মসজিদসমূহ অধ্যায়, ৫৫ - পরিচ্ছেদ: ছুটে যাওয়া সালাত কাজা করা এবং দ্রুত কাজা করা মুস্তাহাব (مستحب)।
(খণ্ড: ১) আল-উসুলু মিন ইলমিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌العام

‌‌تعريفه:

العام لغة: الشامل.

واصطلاحاً: اللفظ المستغرق لجميع أفراده بلا حصر، مثل: {إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ} [الانفطار:13]

فخرج بقولنا: «المستغرق لجميع أفراده»؛ ما لا يتناول إلا واحداً كالعَلَم والنكرة في سياق الإثبات؛ كقوله تعالى: {فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} [المجادلة: 3] لأنها لا تتناول جميع الأفراد على وجه الشمول، وإنما تتناول واحداً غير معيَّن.

وخرج بقولنا: «بلا حصر»؛ ما يتناول جميع أفراده مع الحصر كأسماء العدد: مئة وألف ونحوهما.

صيغ العموم:

صيغ العموم سبع:

1 - ما دل على العموم بمادته مثل: كل، وجميع، وكافة، وقاطبة، وعامة؛ كقوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر:49]

2 - أسماء الشرط؛ كقوله تعالى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحاً فَلِنَفْسِه} [الجاثية: من الآية 15] {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} [البقرة: من الآية 115]
‌‌সাধারণ (العام)

‌‌এর সংজ্ঞা:

সাধারণ (العام) আভিধানিক অর্থে (لغة): ব্যাপক বা অন্তর্ভুক্তকারী (الشامل)।

আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً): এমন শব্দ যা তার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্যকে কোনো সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে (بلا حصر) পরিব্যাপ্ত করে (المستغرق), যেমন: {নিশ্চয়ই পুণ্যবানরা থাকবে পরম সুখে} [আল-ইনফিতার: ১৩]

আমাদের সংজ্ঞায় “তার সকল সদস্যকে পরিব্যাপ্তকারী (المستغرق لجميع أفراده)” বলার মাধ্যমে এমন শব্দগুলো বাদ পড়ে যায় যা কেবল একজনকে বোঝায়; যেমন: নামবাচক বিশেষ্য (العلم) এবং ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে (سياق الإثبات) ব্যবহৃত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে একজন দাস মুক্ত করা} [আল-মুজাদালাহ: ৩]; কারণ এটি ব্যাপকতার ভিত্তিতে সকল সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং কেবল অনির্ধারিত একজনকে বোঝায়।

আর “সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে (بلا حصر)” বলার মাধ্যমে এমন শব্দগুলো বাদ পড়ে যায় যা সীমাবদ্ধতার সাথে তার সকল সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন সংখ্যাবাচক শব্দসমূহ: একশ, এক হাজার এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

সাধারণত্বের শব্দরূপসমূহ (صيغ العموم):

সাধারণত্বের শব্দরূপসমূহ (صيغ العموم) সাতটি:

1 - যা তার মূল গঠনের মাধ্যমেই ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশ করে; যেমন: সব (كل), সকল (جميع), সমগ্র (كافة), পুরো (قاطبة), সাধারণ (عامة)। যেমন আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে} [আল-কামার: ৪৯]

2 - শর্তবাচক বিশেষ্যসমূহ (أسماء الشرط); যেমন আল্লাহর বাণী: {যে সৎকর্ম করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে} [আল-জাসিয়া: ১৫-এর অংশ], {তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর সত্তা বিদ্যমান} [আল-বাকারা: ১১৫-এর অংশ]