(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في حكم ثمن الكلاب القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رسالة في حكم ثمن الكلاب
المؤلف: أحمد بن عوض
راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوي
الناشر: دار اللؤلؤة للنشر والتوزيع، المنصورة - مصر
الطبعة: الأولى، 2018 م
عدد الصفحات: 90
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 محرم 1444
কুকুরের মূল্যের বিধান (حكم) সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: কুকুরের মূল্যের বিধান (حكم) সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা
লেখক: আহমদ বিন আওয়াদ
পর্যালোচনা ও উপস্থাপনায়: মুস্তফা বিন আল-আদাওয়ী
প্রকাশক: দারুল লুলুআহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মানসুরা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ মুহররম ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১)
رسالة في حكم ثمن الكلاب
(بيع الكلب-تغريم قاتل الكلب ثمنه-إجارة الكلب-
ثمن تدريب الكلب-ثمن علاج الكلب)
تأليف
أحمد بن عوض
راجعه وقدم له فضيلة الشيخ/ مصطفى بن العدوي
কুকুরের মূল্যের বিধান (حكم) সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা (رسالة)
(কুকুর বিক্রয় - কুকুরের হত্যাকারীর ওপর জরিমানা (تغريم) ও বিনিময় মূল্য ধার্যকরণ - কুকুর ইজারা (إجارة) প্রদান -
কুকুর প্রশিক্ষণের পারিশ্রমিক - কুকুরের চিকিৎসার ব্যয়)
রচনায়
আহমাদ ইবনে আওয়ায
পর্যালোচনা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন ফযীলাতুশ শায়খ মুস্তফা বিন আল-আদাউই
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعد:
فهذا بحث موجز في حكم بيع الكلاب، وبعض توابع ذلك،
أعدّه أخي في الله/ أحمد بن عوض-حفظه الله-
وقد اعتنى فيه بالناحيتين: الحديثية، والفقهية على السواء،
فخرّج الأحاديث، والآثار، وحكم على كل بما يستحق،
وأورد أقوال أئمة الفقه في هذا الصدد، فضلًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর। অতঃপর:
এটি কুকুর কেনা-বেচার হুকুম (حكم) এবং এ সংক্রান্ত কিছু আনুষঙ্গিক বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা,
এটি প্রস্তুত করেছেন আমার দ্বীনি ভাই আহমাদ বিন আওয়াদ—আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন—
এতে তিনি সমানভাবে হাদিসতাত্ত্বিক (الحديثية) এবং ফিকহী (الفقهية) উভয় বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হয়েছেন,
তিনি হাদিস ও আছারসমূহ (الآثار) এর তাখরিজ (تخريج) করেছেন এবং প্রত্যেকটির ওপর যথাযথ হুকুম (حكم) প্রদান করেছেন,
এবং এ বিষয়ে ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের ইমামগণের মতামত উল্লেখ করেছেন, তাছাড়া
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
عن إيراده الآثار عن الصحابة، والتابعين، وأتباع التابعين في هذا الصدد، وحكم عليها-كما أشرت سابقًا-بما تستحق مع تخريجها.
وقد راجعت معه عمله فألفيته-ولله الحمد-نافعًا،
فجزاه الله خيرًا على ما صنع وزاده الله توفيقًا،
وصل اللهمّ على نبينا محمد وسلم
والحمد لله رب العالمين.
كتبه/ أبو عبد الله مصطفى بن العدوي
সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) এবং তাবে-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত আছার (آثار) বা বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করার বিষয়ে এবং ইতিপূর্বে আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি—সেগুলোর উৎস যাচাইয়ের (تخريج) পাশাপাশি যথাযথ মান অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম (حكم) প্রদানের ক্ষেত্রে (তিনি সচেষ্ট ছিলেন)।
আমি তাঁর সাথে তাঁর এই কাজটি পর্যালোচনা করেছি এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি এটিকে উপকারী হিসেবে পেয়েছি।
অতএব, তিনি যা করেছেন তার জন্য আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আল্লাহ তাঁর তাওফিক বৃদ্ধি করুন।
হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন/ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ী
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المؤلف:الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:
فهذه رسالة، جمعت فيها ما ورد من الكتاب، والسنة في حكم بيع الكلاب، ثم أردفت ذلك بأقوال الصحابة، والتابعين، وأقوال أصحاب المذاهب الأربعة، وغيرهم، وبينت فيها كل قول، وبما استدل، ووجه الاستدلال، وكيف ردَّ على المخالف في استدلاله، وتكلمت فيها على الأحاديث، والآثار، صحة، وضعفًا، ونقلت كل قول من مصدره.
وقد عرضت ذلك على شيخنا مصطفى بن العدوي-حفظه الله، وبارك في علمه وعمله
লেখকের ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
এটি একটি পুস্তিকা, যাতে আমি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে কুকুর কেনাবেচার বিধান সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন করেছি। অতঃপর আমি এর সাথে সাহাবী, তাবিঈ, চার মাযহাবের ইমামগণ এবং অন্যদের মতামতসমূহ যুক্ত করেছি। এতে আমি প্রতিটি মত বর্ণনা করেছি এবং তারা কিসের ভিত্তিতে দলিল পেশ করেছেন, দলিলের ধরন কী এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের দলিলের খণ্ডন কীভাবে করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। আমি এতে হাদিস এবং আছারসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রতিটি বক্তব্য তার মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছি।
আমি এটি আমাদের শাইখ মুস্তফা ইবনুল আদাবী—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন এবং তার ইলম ও আমলে বরকত দান করুন—এর নিকট পেশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
وعمره وذريته-، فراجعه مشكورًا.
فجزاه الله عني وعن طلبة العلم خير الجزاء على ما يبذله من نصح، وجهد، ووقت.
هذا والحمد لله رب العالمين وسلام على المرسلين.
كتبه/
أحمد بن عوض
...এবং তাঁর জীবন ও বংশধরদের (কল্যাণ করুন)—তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে এটি পর্যালোচনা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর নসিহত, পরিশ্রম ও সময়ের বিনিময়ে আমার পক্ষ থেকে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
পরিশেষে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
লিখক/
আহমদ ইবনে আওয়াদ
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
أقوال العلماء في حكم بيع الكلاب إجمالًا.اختلف العلماء في هذه المسألة على خمسة أقوال:
القول الأول: لا يجوز بيع الكلب مطلقًا، مُعلمًا كان، أو غير مُعَّلَم.
القول الثاني: يجوز بيع الكلب مُطلقًا.
القول الثالث: يجوز شراء كلاب الصيد دون بيعها.
القول الرابع: يجوز شراء وبيع الكلاب المأذون في اتخاذها.
القول الخامس: يجوز بيع الكلب المعلم.
সাধারণভাবে কুকুর বিক্রয়ের বিধান সম্পর্কে আলেমগণের অভিমতসমূহ।এই মাসআলায় আলেমগণ পাঁচটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: কুকুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (معلم) হোক বা অপ্রশিক্ষিত, নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) তা বিক্রয় করা জায়েজ নেই।
দ্বিতীয় মত: নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) কুকুর বিক্রয় করা জায়েজ।
তৃতীয় মত: শিকারি কুকুর ক্রয় করা জায়েজ হলেও তা বিক্রয় করা যাবে না।
চতুর্থ মত: যে সকল কুকুর রাখার অনুমতি (مأذون) দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ক্রয় ও বিক্রয় করা জায়েজ।
পঞ্চম মত: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (معلم) কুকুর বিক্রয় করা জায়েজ।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويمكن أن تقسم إلى قولين رئيسين:
قول بجواز بيع الكلب، وقول بعدم الجواز.
ولكن فصلت القول فيها؛ كي أنسب إلى كل عالم قولَه، ولا نزيد على كلامِه، وإليك أقوالَهم بالتفصيل.
এটিকে প্রধান দুটি অভিমতে বিভক্ত করা যেতে পারে:
কুকুর বিক্রয় বৈধ (جواز) হওয়ার একটি মত এবং তা অবৈধ হওয়ার একটি মত।
তবে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি; যাতে আমি প্রত্যেক আলেমের বক্তব্য তাঁর দিকেই সুনির্দিষ্টভাবে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারি এবং আমরা তাঁর বক্তব্যের ওপর কোনো অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি না করি। নিচে তাঁদের বিস্তারিত মতামত তুলে ধরা হলো।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
القول الأول: لا يجوز بيع الكلاب مطلقًا، (مُعلمًا، أو غير مُعَّلَم).وهو قول: مالك في المشهور عنه وصححه ابن عبد البر، والشافعية، والحنابلة، وابن حزم، وغيرهم
(1).
أدلتهم:
1. عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الكَلْبِ، وَمَهْرِ البَغِيِّ، وَحُلْوَانِ الكَاهِنِ»
(2).
--------------------------------------------
প্রথম মত: কুকুর বিক্রয় করা সাধারণভাবে নাজায়েজ (চাই তা প্রশিক্ষিত হোক বা অপ্রশিক্ষিত)।এটি ইমাম মালিকের প্রসিদ্ধ মত এবং ইবনে আবদিল বার একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া এটি শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের আলিমগণ, ইবনে হাজম এবং অন্যান্যদেরও অভিমত
(1).
তাঁদের দলীলসমূহ:
1. আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর উপপার্জন এবং গণকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।"
(2).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
2. عن عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ رضي الله عنه، قَالَ: رَأَيْتُ أَبِي اشْتَرَى حَجَّامًا، فَأَمَرَ بِمَحَاجِمِهِ، فَكُسِرَتْ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ قَالَ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ، وَثَمَنِ الكَلْبِ، وَكَسْبِ الأَمَةِ، وَلَعَنَ الوَاشِمَةَ وَالمُسْتَوْشِمَةَ، وَآكِلَ الرِّبَا، وَمُوكِلَهُ، وَلَعَنَ المُصَوِّرَ»
(1).
3. عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «شَرُّ الْكَسْبِ مَهْرُ الْبَغِيِّ، وَثَمَنُ الْكَلْبِ، وَكَسْبُ الْحَجَّامِ»
(2).
4. عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ: سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَالسِّنَّوْرِ؟
… قَالَ: «زَجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ
--------------------------------------------
2. আউন ইবনে আবি জুহাইফাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে একজন রক্তমোক্ষণকারী (হাজ্জাম) ক্রয় করতে দেখেছি, অতঃপর তিনি তার রক্তমোক্ষণের সরঞ্জামগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) রক্তের বিনিময় মূল্য, কুকুরের বিনিময় মূল্য এবং দাসীর (অসৎ) উপার্জনকে নিষিদ্ধ করেছেন; আর তিনি অভিশাপ দিয়েছেন উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণীকে, সুদখোর ও সুদদাতাকে এবং অভিশাপ দিয়েছেন ছবি নির্মাতাকে»
(1).
3. রাফি ইবনে খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «নিকৃষ্টতম উপার্জন হলো ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক, কুকুরের বিনিময় মূল্য এবং রক্তমোক্ষণকারীর উপার্জন»
(2).
4. আবুয যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জাবিরকে কুকুর ও বিড়ালের বিনিময় মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম?
… তিনি বললেন: «নবী (সা.) তা থেকে বারণ করেছেন...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
ذَلِكَ»
(1).
5. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ، وَعَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، وَعَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ»
(2).
--------------------------------------------
সেই বিষয়ে।"
(১).
৫. আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিঙা দানকারীর উপার্জন, কুকুরের মূল্য এবং পশুর প্রজননের পারিশ্রমিক থেকে নিষেধ করেছেন।"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
6. عن ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمِ الشُّحُومُ، فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل إِذَا حَرَّمَ أَكْلَ شَيْءٍ، حَرَّمَ ثَمَنَهُ»
(1).
7. عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ»
(2).
8. عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، وَإِنْ جَاءَ يَطْلُبُ ثَمَنَ الْكَلْبِ، فَامْلَأْ كَفَّهُ تُرَابًا»
(3).
--------------------------------------------
6. ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ ইয়াহূদীদের ওপর লানত করেছেন; তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বিক্রি করেছে এবং তার বিনিময় মূল্য ভোগ করেছে। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যখন কোনো কিছু ভক্ষণ করা হারাম করেন, তখন তার বিনিময় মূল্যও হারাম করে দেন»
(1).
7. আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন»
(2).
8. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন; আর যদি কেউ কুকুরের মূল্য দাবি করে আসে, তবে তার দুই হাত মাটি দিয়ে পূর্ণ করে দাও»
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
9. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ ثَمَنُ الْكَلْبِ، وَلَا حُلْوَانُ الْكَاهِنِ، وَلَا مَهْرُ الْبَغِيِّ»
(1).
10. عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، وَإِنْ كَانَ ضَارِيًا»
(2).
--------------------------------------------
9. আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কুকুরের মূল্য, গণকের পারিশ্রমিক এবং ব্যভিচারিণীর বিনিময় বৈধ নয়»
(1)।
10. ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): «কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, যদিও তা শিকারি (কুকুর) হয়»
(2)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
•
وقال بذلك القول من الصحابة والتابعين:1. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قال: «ثَمَنُ الْكَلْبِ سُحْتٌ»
(1).
2. عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَكَمَ، وَحَمَّادًا «يَكْرَهَانِ ثَمَنَ الْكَلْبِ»
(2).
3. عن عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قال: «مَا أُبَالِي ثَمَنَ كَلْبٍ أَكَلْتُ، أَوْ ثَمَنَ خِنْزِيرٍ»
(3).
4. عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: «أَخْبَثُ
--------------------------------------------
•
সাহাবী এবং তাবিঈগণের মধ্য থেকে যারা এই মত পোষণ করেছেন:1. আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «কুকুরের মূল্য হচ্ছে হারাম বা অবৈধ উপার্জন (سحت)»
(1)।
2. শু'বাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হাকাম এবং হাম্মাদকে বলতে শুনেছি, তাঁরা «কুকুরের মূল্য অপছন্দ করতেন»
(2)।
3. আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি কুকুরের বিক্রয়লব্ধ মূল্য ভক্ষণ করলাম নাকি শূকরের বিক্রয়লব্ধ মূল্য, তাতে আমি কোনো পরোয়া করি না»
(3)।
4. আশ'আস থেকে বর্ণিত, ইবনে সীরীন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিকৃষ্টতম (أخبث)»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْكَسْبِ كَسْبُ الزَّمَّارَةِ، وَثَمَنُ الْكَلْبِ»
(1).
• واستدلوا بالقياس: على الخنْزير بجامع حرمة الاقتناء في غير حال الحاجة
(2).
• ووجه الاستدلال بالأحاديث السابقة:
أن النهى عن ثمن الكلب مطلق، يشمل المعلم، وغير المعلم، وما يجوز اقتناؤه، وما لا يجوز، فمن قيده بالكلب غير المعلم، أو الكلب الذي لا يجوز اقتناؤه، فعليه الدليل المخصص لهذا الإطلاق
(3).
--------------------------------------------
...উপার্জন হলো বাদ্যকার মহিলার উপার্জন এবং কুকুরের মূল্য»
(১).
• এবং তারা সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমানের (قياس) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: শুকরের ওপর কিয়াস করার মাধ্যমে, যা প্রয়োজন ব্যতিরেক পালনের অবৈধতার সাধারণ বৈশিষ্ট্যের (جامع) ভিত্তিতে
(২).
• পূর্ববর্তী হাদিসসমূহ থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:
কুকুরের মূল্যের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাটি নিঃশর্ত (مطلق), যা প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত এবং যা রাখা বৈধ ও যা রাখা অবৈধ—সবই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং, যে ব্যক্তি একে অপ্রশিক্ষিত কুকুর কিংবা রাখা অবৈধ এমন কুকুরের সাথে সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্ত করবে, তাকে এই সাধারণ ব্যাপকতার (إطلاق) বিপরীতে নির্দিষ্টকারী (مخصص) দলিল পেশ করতে হবে
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولأنه حيوان نجس، فلم يجز بيعه كالخنزير
(1).
ونوقشت هذه الأدلة بما يأتي:
أ - أن هذه الأحاديث منسوخة؛ فإنها كانت عند الأمر بقتل الكلاب؛ حيث لم تكن في الكلاب منفعة مباحة، ولما نسخ الأمر بقتل الكلاب، وجاء الأمر بإباحة الاقتناء لبعضها، ثبت أن أحاديث النهي منسوخة.
ب-أن قرن ثمن الكلب، مع مهر البغي، وحلوان الكاهن، لا يدل على أن حكمهما واحد، فهذه دلالة اقتران، وهي ضعيفة
(2).
--------------------------------------------
যেহেতু এটি একটি অপবিত্র প্রাণী, তাই শুকরের মতো এর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়
(1)।
এই দলীলগুলো নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা হয়েছে:
ক - এই হাদিসগুলো রহিত (منسوخ); কেননা এগুলো কুকুর নিধনের নির্দেশের সময়কার; যখন কুকুরের কোনো বৈধ উপকারিতা ছিল না। যখন কুকুর নিধনের নির্দেশ রহিত (منسوخ) করা হলো এবং নির্দিষ্ট কিছু কুকুর পালনের বৈধতার নির্দেশ প্রদান করা হলো, তখন প্রমাণিত হলো যে নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো রহিত (منسوخ)।
খ - কুকুরের মূল্যকে ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক ও গণকের উৎকোচের সাথে একত্রিত করা এটি প্রমাণ করে না যে এগুলোর বিধান একই; কারণ এটি হচ্ছে সহাবস্থানগত প্রমাণ (دلالة الاقتران), যা দুর্বল (ضعيف)
(2)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأجيب عليه:
1. أن الرخصة في كلب الصيد، والغنم، وقعت بعد الأمر بقتل الكلاب، فالكلب الذي أذن رسول الله صلى الله عليه وسلم في اقتنائه، هو الذي حرم ثمنه، وأخبر أنه خبيث، دون الكلب الذي أمر بقتله، فإن المأمور بقتله غير مستبقى، حتى تحتاج الأمة إلى بيان حكم ثمنه، ولم تجر العادة ببيعه، وشرائه، بخلاف الكلب المأذون في اقتنائه، فإن الحاجة داعية إلى بيان حكم ثمنه، أولى من حاجتهم إلى بيان ما لم تجر عادتهم ببيعه، بل قد أمروا بقتله كما في حديث ابْنِ عُمَرَ، «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ، إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ، أَوْ كَلْبَ غَنَمٍ، أَوْ مَاشِيَةٍ»، فَقِيلَ لِابْنِ عُمَرَ: إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: «أَوْ كَلْبَ زَرْعٍ»، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «إِنَّ لِأَبِي هُرَيْرَةَ
এর উত্তরে বলা হয়েছে:
১. শিকারি কুকুর এবং গবাদি পশুর (ছাগল-ভেড়া) ক্ষেত্রে কুকুর রাখার অনুমতি মূলত কুকুর হত্যার নির্দেশের পরে এসেছে। সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে কুকুর লালন-পালনের অনুমতি দিয়েছেন, সেটির বিনিময় মূল্যই হারাম করা হয়েছে এবং তিনি একে অপবিত্র বলে অবহিত করেছেন। এটি সেই কুকুর সম্পর্কে নয় যাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কেননা যাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা তো আর অবশিষ্ট রাখা হয় না যে উম্মতের জন্য তার মূল্যের বিধান জানার প্রয়োজন পড়বে। আর তা কেনাবেচার প্রথাও প্রচলিত নেই। পক্ষান্তরে, যে কুকুর লালন-পালনের অনুমতি রয়েছে, সেটির মূল্যের বিধান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ; কারণ যা কেনাবেচার প্রচলন ছিল না বরং যা হত্যার নির্দেশ তারা পেয়েছিল, তার বিধান জানার চেয়ে এটিই ছিল অগ্রগণ্য। যেমনটি ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিকারি কুকুর, বকরির পাহারাদার কুকুর অথবা গবাদি পশুর পাহারাদার কুকুর ব্যতীত সকল কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।" অতঃপর ইবনে উমর (রা.)-কে বলা হলো যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "অথবা ক্ষেতখামারের কুকুর।" তখন ইবনে উমর (রা.) বললেন: "নিশ্চয় আবু হুরায়রার..."
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
زَرْعًا»
(1)، وكما في حديث ابْنِ الْمُغَفَّلِ، قَالَ: أَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلِ الْكِلَابِ، ثُمَّ قَالَ: «مَا بَالُهُمْ وَبَالُ الْكِلَابِ؟»، ثُمَّ رَخَّصَ فِي كَلْبِ الصَّيْدِ، وَكَلْبِ الْغَنَمِ
(2)،
(3).
2. والاستدلال بالنهي أولى لأن الأصل في النهي التحريم، وأما دلالة الاقتران فهي دلالة ضعيفة، ولذلك قرن الرسول صلى الله عليه وسلم النهي عن ثمن الكلب بالنهي عن كسب الحجام، والأول حرام، والثاني مكروه
(4).
--------------------------------------------
...কৃষি জমি»
(১), এবং যেমনটি ইবনে মুগাফফাল-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর বললেন: «তাদের ও কুকুরের কী বিষয়?» এরপর তিনি শিকারি কুকুর এবং গবাদি পশুর (রক্ষক) কুকুরের ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেন
(২),
(৩).
২. নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দলিল পেশ করা অধিক যুক্তিযুক্ত কারণ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো নিষিদ্ধতা (التحريم), আর আনুষঙ্গিক নির্দেশক (دلالة الاقتران) হলো একটি দুর্বল (ضعيفة) নির্দেশক। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্যের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাকে ক্ষৌরকারের উপার্জনের উপর নিষেধাজ্ঞার সাথে যুক্ত করেছেন, যেখানে প্রথমটি হারাম (حرام) এবং দ্বিতীয়টি মাকরূহ (مكروه)
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أقوال أهل العلم بالتفصيل
أولًا: المالكية:قال مالك رحمه الله: "أكره ثمن الكلب الضاري، وغير الضاري؛ لنهي رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ثمن الكلب"
(1).
وقال سحنون لابن القاسم: "أرأيت الكلاب، هل يجيز مالك بيعها؟
قال مالك: لا يجوز بيعها"
(2).
وقال ابن رشد الجد رحمه الله: "المعلوم من قول
--------------------------------------------
আলেমগণের বিস্তারিত মতামত
প্রথমত: মালিকি মাজহাব:ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: "আমি শিকারি এবং শিকারি নয়—উভয় প্রকার কুকুরের বিনিময় মূল্য অপছন্দ করি; যেহেতু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্য গ্রহণে নিষেধ (نهي) করেছেন"
(১)।
এবং সাহনুন ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞাসা করলেন: "কুকুর সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, ইমাম মালিক কি এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ সাব্যস্ত করেন?
তিনি বললেন: ইমাম মালিক বলেছেন: এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয় (لا يجوز)"
(২)।
এবং ইবনে রুশদ আল-জাদ্দ (রহ.) বলেন: "ইমামের বক্তব্য থেকে যা সুবিদিত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
ابن القاسم، وروايته عن مالك: أنه لا يجوز بيع الكلب، وإن كان من الكلاب المأذون في اتخاذها للصيد، والضرع، والحرث، على ظاهر قول النبي صلى الله عليه وسلم في نهيه عن ثمن الكلب عمومًا، لم يخص فيه كلبا من كلب، ويقوي ذلك ما روي عن ابن عمر رضي الله عنه: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الكلب، وإن كان ضاريًا» "
(1).
وقال ابن عبد البر رحمه الله: "وكل ما جاز أكل لحمه جاز شراؤه، وبيعه، وما لا يجوز أكل لحمه ينقسم قسمين: أحدهما: مما ينتفع به، وهو حي، والآخر لا منفعة فيه، فكل ما فيه منفعة الركوب، والزينة، والصيد، وغير ذلك، مما ينتفع به
--------------------------------------------
ইবনে আল-কাসিম এবং মালিক থেকে তাঁর বর্ণনা (رواية): কুকুরের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়, যদিও তা শিকার, গবাদি পশু পালন কিংবা চাষাবাদের জন্য রাখার অনুমতিপ্রাপ্ত কুকুরের অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি কুকুরের মূল্যের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ নিষেধাজ্ঞার বাণীর বাহ্যিক (ظاهر) দিকের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে তিনি কোনো নির্দিষ্ট কুকুরকে পৃথক করেননি। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) একটি বিষয় একে আরও শক্তিশালী করে যে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, যদিও সেটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (ضاريًا) হয়»
(1).
ইবনে আব্দুল বারর (রহ.) বলেন: "যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া বৈধ, সেগুলোর ক্রয় ও বিক্রয় বৈধ। আর যেগুলোর গোশত খাওয়া বৈধ নয়, সেগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একটি হলো যা থেকে জীবিত অবস্থায় উপকার লাভ করা যায়, আর অন্যটি যাতে কোনো উপকার নেই। সুতরাং আরোহণ, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, শিকার এবং এই জাতীয় অন্যান্য যেসকল বিষয়ে উপকার লাভ করা যায়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
الآدميون، جاز بيعه وشراؤه إلا الكلب وحده؛ لنهي رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ثمن الكلب، وقد قيل في كلب الصيد، والماشية، انه جائز بيعه، وروي ذلك أيضًا عن مالك، والأول تحصيل مذهبه، وهو الصحيح إن شاء الله"
(1).
ثانيًا: الشافعية:قال الشافعي رحمه الله: "وبهذا نقول لا يحل للكلب ثمن بحال"
(2).
وقال النووي رحمه الله: "وأما النهي عن ثمن الكلب، وكونه من شر الكسب، وكونه خبيثًا، فيدل على
--------------------------------------------
মানুষদের জন্য, কুকুর ব্যতীত সবকিছুর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের বিনিময় মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তবে শিকারি কুকুর ও গবাদি পশুর পাহারাদার কুকুরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ। এটি ইমাম মালেক (র.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত মতটিই তাঁর মাযহাবের সারকথা এবং ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক (الصحيح)
(1).
দ্বিতীয়ত: শাফিঈ মাযহাব:ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেন: "আমরা এই মতই পোষণ করি যে, কোনো অবস্থাতেই কুকুরের বিনিময় মূল্য হালাল নয়"
(2).
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "আর কুকুরের মূল্য পরিশোধের নিষেধাজ্ঞা, একে নিকৃষ্টতম উপার্জন গণ্য করা এবং একে অপবিত্র (خبيثًا) সাব্যস্ত করা একথাই প্রমাণ করে যে—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
تحريم بيعه، وأنه لا يصح بيعه، ولا يحل ثمنه، ولا قيمة على متلفه، سواء كان مُعلمًا أم لا، وسواء كان مما يجوز اقتناؤه أم لا، وبهذا قال جماهير العلماء"
(1).
وقال ابن حجر رحمه الله: "وظاهر النهي تحريم بيعه، وهو عام في كل كلب، مُعلمًا كان أو غيره، مما يجوز اقتناؤه، أو لا يجوز، ومن لازم ذلك، أن لا قيمة على متلفه، وبذلك قال الجمهور"
(2).
ثالثًا: الحنابلة:قال أحمد بن حنبل رحمه الله: "بيع الكلاب باطل"
(3).
--------------------------------------------
"এটি বিক্রয় করা নিষিদ্ধ (تحريم), এবং এর বিক্রয় শুদ্ধ (صحيح) নয়, এর বিনিময় বা মূল্য বৈধ (حلال) নয় এবং কেউ এটি ধ্বংস করলে তার কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না; চাই কুকুরটি প্রশিক্ষিত (معلم) হোক বা না হোক এবং তা লালন-পালন করা বৈধ (جائز) হোক বা না হোক। অধিকাংশ (جمهور) আলেম এই মতই পোষণ করেছেন"
(১).
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিষেধাজ্ঞার বাহ্যিক দাবি হলো এটি বিক্রয় করা নিষিদ্ধ (تحريم), আর এটি সর্বপ্রকার কুকুরের ক্ষেত্রে ব্যাপক (عام); চাই তা প্রশিক্ষিত (معلم) হোক বা অন্যকিছু, যার লালন-পালন বৈধ (جائز) কিংবা অবৈধ। আর এর অনিবার্য দাবি হলো, এর বিনাশকারীর ওপর কোনো জরিমানা বা মূল্য বর্তাবে না। অধিকাংশ (جمهور) আলেম এই মতই ব্যক্ত করেছেন"
(২).
তৃতীয়ত: হাম্বলি মাজহাব:আহমদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কুকুর বিক্রয় করা বাতিল (باطل)"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال ابن قدامة رحمه الله: "لا يختلف المذهب في أن بيع الكلب باطل، أي كلبٍ كان"
(1).
وقال المرداوي رحمه الله: "قوله: (ولا يجوز بيع الكلب)، هذا المذهب مُطلقا، وعليه الأصحاب، وقطعوا به"
(2).
رابعًا: الظاهرية:قال ابن حزم رحمه الله: "ولا يحل بيع كلب أصلًا، لا المباح اتخاذه ولا غيره؛ لصحة نهي النبي صلى الله عليه وسلم عنه، وسنذكره في كتاب البيوع إن شاء الله تعالى
--------------------------------------------
ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মাযহাবের মধ্যে এতে কোনো মতভেদ নেই যে, কুকুর বিক্রি করা বাতিল (باطل), সেটি যে কোনো কুকুরই হোক না কেন"
(১).
মারদাউয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তার উক্তি: (আর কুকুর বিক্রি করা বৈধ নয়), এটিই সাধারণভাবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত, এর উপরেই ফকীহগণ (الأصحاب) রয়েছেন এবং তারা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন"
(২).
চতুর্থত: জাহিরি মাযহাব:ইবনে হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মূলত কোনো কুকুর বিক্রি করাই বৈধ নয়, তা লালন-পালন করা বৈধ (مباح) হোক বা না হোক; কেননা এ ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিষেধাজ্ঞা সহিহ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত, এবং ইনশাআল্লাহ আমরা এটি ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে উল্লেখ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فمن اضطر إليه فله أخذه ممن يستغني عنه بلا ثمن، وإن لم يتمكن له، فله ابتياعه، والثمن حرام على البائع، باق على ملك المشتري، وإنما هو كالرشوة في المظلمة، وفداء الأسير؛ لأنه أخذ مال بالباطل، وبالله تعالى التوفيق"
(1).
وممن قال بذلك القول أيضًا: ابن المنذر، وغيره:
فقال ابن المنذر رحمه الله: "لا يجوز بيع الكلاب، ولا يقسم إن وقع في الغنائم، ولكن الإمام يعطي ما كان منه مما يجوز الانتفاع به، من شاء من أصحاب المقاسم، وإنما منعنا من قيمته؛ نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن ثمن الكلب، فذلك على العموم"
(2).
--------------------------------------------
"সুতরাং যার এর একান্ত প্রয়োজন রয়েছে, সে এটি এমন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো বিনিময় ছাড়া গ্রহণ করতে পারবে যার কাছে এটি অতিরিক্ত রয়েছে। আর যদি সে (বিনামূল্যে) তা লাভে সক্ষম না হয়, তবে সে তা ক্রয় করতে পারবে; এক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য সেই মূল্য গ্রহণ করা হারাম (حرام), এবং তা ক্রেতার মালিকানাতেই অবশিষ্ট থাকবে। এটি কেবল জুলুমের প্রতিকারের জন্য প্রদত্ত ঘুষ এবং বন্দি মুক্তির জন্য দেওয়া মুক্তিপণের মতো; কারণ এটি অন্যায়ভাবে অর্থ গ্রহণ। আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।"
(১).
যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে ইবনুল মুনযির এবং অন্যান্যরাও রয়েছেন:
ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কুকুর বিক্রয় করা বৈধ নয় (لا يجوز), আর যদি তা গনীমতের মালের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তা বণ্টন করা হবে না। তবে গনীমত বণ্টনপ্রার্থীদের মধ্যে থেকে যাকে ইচ্ছা ইমাম ওইসব কুকুর দিয়ে দিতে পারেন যা দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ (يجوز)। আমরা এর মূল্য গ্রহণ থেকে একারণেই নিষেধ করেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের বিক্রয়লব্ধ মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন; আর এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ বা ব্যাপক (العموم) পর্যায়ের।"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال النووي رحمه الله: "ولا يحل ثمنه، ولا قيمة على متلفه، سواء كان مُعلمًا أم لا، وسواء كان مما يجوز اقتناؤه أم لا، وبهذا قال جماهير العلماء، .. والحسن البصري، وربيعة، والأوزاعي، والحكم، وحماد،
… وداود،
… وغيرهم"
(1).
وقال بذلك القول من المعاصرين جماعة:
فقال ابن عثيمين رحمه الله: "لا يصح بيع الكلب، حتى وإن كان كلب صيد، ولو كان مُعلمًا، مع أن فيه نفعا مباحًا؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الكلب"
(2).
وقال الشنقيطي حفظه الله: "إن الأصح من هذه الأقوال، هو القول بعدم جواز بيع الكلب مُطلقًا"
(3).
--------------------------------------------
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর (কুকুরের) মূল্য হালাল নয়, আর এটি বিনষ্টকারীর ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ নেই; চাই সেটি প্রশিক্ষিত হোক বা না হোক, এবং চাই সেটি লালন-পালন করা বৈধ হোক বা না হোক। জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন... আল-হাসান আল-বাসরি, রাবিআহ, আল-আওযায়ি, আল-হাকাম, হাম্মাদ,
… দাউদ,
… এবং অন্যান্য"
(১).
সমসাময়িক আলিমদের একটি দলও এই মত ব্যক্ত করেছেন:
ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কুকুর বিক্রি করা সহিহ (صحيح) নয়, এমনকি সেটি যদি শিকারি কুকুরও হয় এবং প্রশিক্ষিত হয়; যদিও তাতে বৈধ উপকারিতা রয়েছে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন"
(২).
আশ-শানকিতি (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই সকল মতামতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) হলো কুকুর বিক্রি করা ঢালাওভাবে অবৈধ হওয়ার মতটি"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وجاء في فتاوى اللجنة الدائمة: "لا يجوز بيع الكلاب، ولا يحل ثمنها، سواء كانت كلاب حراسة، أو صيد، أو غير ذلك"
(1).
وجاء في مجموع فتاوى ابن باز: " ثمن الكلب ماذا يعمل به يا شيخ؟
فأجاب رحمه الله: يرد على صاحبه، البيع باطل"
(2).
وجاء في موسوعة البيوع أصالة ومعاصرة: "لا يجوز بيع الكلب، ويجوز اقتناء كلب الصيد، ونحوه مما يحتاج إليه، ولو احتاج الإنسان إلى
--------------------------------------------
ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ-তে এসেছে: "কুকুর বিক্রয় করা জায়েজ নয় এবং এর মূল্য হালাল নয়; চাই তা পাহারাদার কুকুর হোক, শিকারি কুকুর হোক বা অন্য কিছু"
(১).
মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায-এ এসেছে: "কুকুরের মূল্য বাবদ প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে কী করা হবে, হে শায়খ?
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) উত্তর দিলেন: এটি তার মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে, কারণ এই বিক্রয় বাতিল (باطل)"
(২).
মাউসুআতুল বুয়ু আল-আসালাহ ওয়াল মুআসিরাহ-তে এসেছে: "কুকুর বিক্রয় করা জায়েজ নয়, তবে শিকারি কুকুর এবং এ জাতীয় প্রয়োজনীয় কুকুর রাখা জায়েজ। আর যদি মানুষের প্রয়োজন হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كلب حراسة، ونحوه، ولم يجد أحدًا يبذله له إلا بالبيع، فإنه يجوز شراؤه، بعد أن ينصح بائعه، والإثم على البائع، وإذا كان الإنسان لا يصل إلى حقه، إلا عن طريق الشراء، فالإثم على من ألجأه إلى ذلك، والله أعلم"
(1).
وجاء في موقع الإسلام سؤال وجواب بإشراف الشيخ محمد بن صالح المنجد: "وأما بيع الكلاب، فبيعها حرام، ولو كان الكلب مما يجوز اقتناؤه، وقد وردت عن النبي صلى الله عليه وسلم أحاديث كثيرة في النهي عن بيع الكلاب، وهي بعمومها، تشمل جميع الكلاب، ما يجوز اقتناؤه، وما لا يجوز"
(2).
--------------------------------------------
প্রহরী কুকুর বা এ জাতীয় কোনো কিছু, এবং সে এমন কাউকে পেল না যে তাকে এটি বিক্রয় করা ছাড়া প্রদান করবে, তবে তা ক্রয় করা বৈধ (جائز) হবে; তবে বিক্রেতাকে নসিহত করার পর। আর গুনাহ বিক্রেতার ওপর বর্তাবে। যদি কোনো ব্যক্তি ক্রয় করার মাধ্যম ছাড়া তার অধিকারে পৌঁছাতে না পারে, তবে যে তাকে এতে বাধ্য করেছে গুনাহ তার ওপর হবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ"
(১).
শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-মুনজিদ-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলাম সওয়াল ও জওয়াব ওয়েবসাইটে এসেছে: "আর কুকুর বিক্রয়ের বিষয়টি হলো, তা হারাম (حرام), যদিও কুকুরটি পালন করা বৈধ (جائز) এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুকুর বিক্রয় নিষিদ্ধ (نهي) হওয়া সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং তা এর ব্যাপকতা (عموم) অনুযায়ী সকল কুকুরকেই শামিল করে—চাই তা পালন করা বৈধ (جائز) হোক বা না হোক"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وجاء في مجلة البحوث الإسلامية بالرياض: "نظرا للنهي الثابت في الحديث الصحيح عن ثمن الكلب، فلا شك في رجحان قول الجمهور، بعدم جواز بيعه، وهذا النهي باق، لم يثبت دليل صحيح يصرفه عن ظاهره، بل كل ما تعلق به أصحاب الرأي الثاني؛ القائلون بصحة بيعه، آثار ضعيفة، وتعليلات مردودة، والله تعالى أعلم"
(1).
--------------------------------------------
রিয়াদের মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ-তে এসেছে: "কুকুরের বিনিময়মূল্য সম্পর্কে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত থাকার কারণে, এর ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েজ হওয়ার বিষয়ে জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের মতটিই অগ্রগণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই। এই নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে; এমন কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) দলিল প্রমাণিত হয়নি যা একে এর প্রকাশ্য অর্থ থেকে বিচ্যুত করে। বরং যারা এর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার কথা বলেন, সেই দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা যেগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন, তা মূলত দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনা (آثار) এবং প্রত্যাখ্যাত (مردودة) যুক্তিসমূহ; আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القول الثاني: يجوز بيع الكلاب مُطلقًا.وهو قول: الحنفية، وراوية عن مالك، وبهذا قال ابن العربي المالكي
(1).
أدلتهم:
1 - قوله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ (4)} [سورة المائدة: 4]
ووجه الاستدلال: أن لفظ الإحلال يقتضي إباحة
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মত: সাধারণভাবে (مطلقًا) কুকুর ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ।এটি হানাফিদের অভিমত এবং ইমাম মালিকের একটি বর্ণনা (رواية); আর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন
(১)।
তাঁদের দলিলসমূহ:
১ - মহান আল্লাহর বাণী: {লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে? আপনি বলুন, তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে এবং শিকারি পশুপাখি যাদেরকে তোমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছ—আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা সেগুলোকে শিক্ষা দিয়ে থাকো—সুতরাং তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে তা থেকে আহার করো এবং তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী (৪)} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৪]
দলিল প্রদানের পদ্ধতি: হালাল করা (إحلال) শব্দটির ব্যবহার বৈধতা (إباحة) দাবি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতু ফী হুকমি সামানিল কিলাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
سائر وجوه المنافع، والبيع أحدها، فوجب جوازه؛ لعموم اللفظ
(1).
قال القرطبي رحمه الله: "وقد ذكر بعض من صنف في أحكام القرآن، أن الآية تدل على أن الإباحة تتناول ما علمناه من الجوارح، وهو ينتظم الكلب، وسائر جوارح الطير، وذلك يوجب إباحة سائر وجوه الانتفاع، فدل على جواز بيع الكلب، والجوارح، والانتفاع بها بسائر وجوه المنافع، إلا ما خصه الدليل، وهو الأكل من الجوارح؛ أي الكواسب من الكلاب وسباع الطير"
(2).
--------------------------------------------
অন্যান্য সকল প্রকারের উপযোগিতা, এবং কেনাবেচা এর অন্যতম একটি; সুতরাং শব্দের সাধারণ অর্থের (عموم اللفظ) কারণে এর বৈধতা (جواز) আবশ্যক
(১).
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আহকামুল কুরআন বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে, বৈধতা (إباحة) আমাদের শেখানো শিকারী পশু-পাখিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা কুকুর এবং অন্যান্য শিকারী পাখিকেও শামিল করে। এটি এগুলোর মাধ্যমে অন্যান্য সকল প্রকারের উপকার গ্রহণের বৈধতাকে (إباحة) অপরিহার্য করে। সুতরাং এটি কুকুর ও শিকারী পশু-পাখির ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্যান্য সকল উপায়ে এগুলোর উপযোগ গ্রহণের বৈধতার নির্দেশক (دلالة); কেবল সেই বিষয়টুকু ব্যতীত যা দলিল (دليل) দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, আর তা হলো শিকারী প্রাণীর ভক্ষণ; অর্থাৎ কুকুর এবং হিংস্র পাখির শিকার করা জন্তু খাওয়া"
(২).
--------------------------------------------