(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: -)
من تاريخ النحو العربي   (سعيد الأفغاني)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: من تاريخ النحو العربي

المؤلف: سعيد بن محمد بن أحمد الأفغاني (ت 1417هـ)

الناشر: مكتبة الفلاح

عدد الصفحات: 214

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আরবি ব্যাকরণের ইতিহাস থেকে   (সাঈদ আল-আফগানি)

বিভাগ: নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: আরবি ব্যাকরণের ইতিহাস থেকে

লেখক: সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-আফগানি (মৃত্যু: ১৪১৭ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফালাহ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

إذا وجد المختصون في علم ما فائدة ومتعة حين يخلون بأنفسهم إلى تراجم من سبقهم في هذا العلم، فإن متعتهم بتاريخ العلم نفسه أحفل وأعظم.

إننا نثني عادة على من يؤلف كتابا في حياة عالم، إذ يتيح لنا أن نعايشه فنعاين جده ودأبه، ونلذ نضاله لكشف الغامض ودفع العلم إلى الأمام ولو خطوة، ونجد الأسوة في استهانته بالعراقيل والمعوقات، ووقوفه للزمان والحساد والخصوم والجاهلين، وإن في حياة كل عالم من هذا لنصيبا؛

لذلك نشكر لهذا المؤلف ما يسر لنا من لذائذ سامية.

لكن المسهم في تاريخ العلم لا يحصل على الشكر والثناء في وقت قصير، وقد يقتضيه سطر واحد يخطه في تاريخ العلم من الجهد وطول العمل ما لم يعانه المؤلف الأول في مجلد. ومن ظن أن حياة باحث تفي بتاريخ علم فقد ظن باطلا، إنما يتم ذلك بتضافر جهود الباحثين في أجيال متلاحقة: يتسلم كل جيل تراث من قبله ويعمل في دأب وروية ليتقدم به قليلا أو كثيرا. وموضوعنا في هذه الدراسة: من تاريخ النحو العربي.

وبعد، فماذا يراد من كلمة "مذهب" أو "مدرسة" حين يقال في علوم اللغة العربية: مذهب البصريين أو مدرسة الكوفيين؟
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

ভূমিকা:

যদি কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ সেই শাস্ত্রের পূর্বসূরিদের জীবনী (تراجم) পর্যালোচনার মাধ্যমে একান্তে সময় কাটিয়ে কোনো উপকার ও আনন্দ লাভ করেন, তবে সেই শাস্ত্রের ইতিহাসের মধ্যেই তাদের আনন্দ অধিকতর সমৃদ্ধ ও মহান হয়ে ওঠে।

আমরা সাধারণত এমন লেখকের প্রশংসা করি যিনি কোনো আলেম বা জ্ঞানীর জীবনীর ওপর গ্রন্থ রচনা করেন, কারণ এটি আমাদের সেই মনীষীর সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়; ফলে আমরা তার একাগ্রতা ও নিরলস সাধনা প্রত্যক্ষ করতে পারি। অস্পষ্ট বিষয়াবলি উন্মোচন করতে এবং জ্ঞানকে অন্তত এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পথে তার সংগ্রামের স্বাদ আমরা গ্রহণ করি। এছাড়া বিভিন্ন বাধা-বিপত্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং সমকাল, ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি, প্রতিপক্ষ ও অজ্ঞদের বিরুদ্ধে তার অটল অবস্থানের মাঝে আমরা উত্তম আদর্শ খুঁজে পাই; আর প্রত্যেক জ্ঞানীর জীবনেই এর একটি অংশ বিদ্যমান থাকে।

তাই এই লেখক আমাদের জন্য যে উচ্চতর জ্ঞানতাত্ত্বিক স্বাদ সহজলভ্য করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

কিন্তু বিজ্ঞানের ইতিহাসে অবদানকারী ব্যক্তি স্বল্প সময়ে প্রশংসা ও ধন্যবাদের পাত্র হন না। বিজ্ঞানের ইতিহাসে তার লেখা একটি মাত্র চরণের পেছনে হয়তো এমন শ্রম ও দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, যা মূল লেখককে একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ড রচনার ক্ষেত্রেও করতে হয় না। যারা মনে করেন যে কোনো একজন গবেষকের জীবন একটি শাস্ত্রের ইতিহাসের জন্য যথেষ্ট, তারা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন। বরং এটি সম্পন্ন হয় পরবর্তী প্রজন্মের গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে: যেখানে প্রতিটি প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরিদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য (تراث) গ্রহণ করে এবং তা অল্প কিংবা অধিক অগ্রসর করার জন্য নিরলস ও ধীরস্থিরভাবে কাজ করে। আমাদের এই গবেষণার বিষয়বস্তু হলো: আরবি ব্যাকরণের ইতিহাস থেকে।

অতঃপর, আরবি ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যখন 'বসরাবাসীদের মতাদর্শ (مذهب)' কিংবা 'কুফাবাসীদের ধারা (مدرسة)' বলা হয়, তখন এই 'মাজহাব (مذهب)' বা 'মাদ্রাসা (مدرسة)' শব্দ দুটি দ্বারা প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়?
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
إن نظرة فاحصة في دراسات المحدثين تقودنا إلى الشك في بعض ما عدوه من المسلمات انسحابا على أذيال بعض القدماء ممن تكلم في النحو والنحاة.

لقد أدار هؤلاء التصنيف على البلدان فقالوا: "نحاة الكوفة" و"نحاة البصرة" و"نحاة بغداد" حين ألفوا في الطبقات. فساق هذا -مع تساهل كبير- إلى أن قيل فيما بعد: "مذهب البصريين" و"مذهب الكوفيين" و"مذهب البغداديين".

وقد حان الوقت لتصحيح هذه التسمية، فالأقدمون ومن تأثر بنظرتهم من المحدثين جعلوا البصريين أهل القياس؛ لأن من ضبطه منهم كثيرون جدا ولهم فيه عناية بالغة، على حين عدوا الكوفيين أهل سماع؛ لأنهم سجلوا كل ما سمعوا، وأراغوا القياس عليه فلم يحكموه إحكام الأولين وإن أربوا عليهم في السماع مقدارا لا ضبطا وجودة.

هذه الصفحات محاولة في وضع الأمور في نصابها حيال ما يسمى بالمدارس أو بالمذاهب النحوية من جهة، ووقفة تاريخية فاحصة متروية عند نشأة هذا الفن من جهة أخرى.

والفن أو العلم كائن حي يخضع لما يخضع له الأحياء من سنن الحياة: يبدأ جنينا فرضيعا فطفلا فيافعا ففتى فشابا …

وحول نشأة النحو بعض غموض اجتهدت في جلائه بما لدي من أضواء، ممتحنا الأخبار والروايات، متحريا فيها ما يشبه الحق وطبيعة الأشياء؛ حتى إذا اطمأننت إلى نتيجة أثبتها بعد امتحانها، ضاربا صفحا عن سطحيات وعناوين وتهاويل كثيرة يسميها أصحابها دراسات، الموضوع منها والمترجم سواء.

ورأيت أن ألحق بهذه الدراسة نصوصا مختارة لستة مؤلفين عظام في هذا الفن، تقوم كتبهم معالم في طريقه الطويلة، مع موجز من تراجمهم كما
হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) গবেষণাসমূহের ওপর একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টি আমাদের এমন কিছু বিষয়কে সন্দেহ করতে বাধ্য করে যা তারা স্বতঃসিদ্ধ বলে গণ্য করেছেন, যা মূলত ব্যাকরণ এবং বৈয়াকরণদের সম্পর্কে আলোচনা করা কিছু প্রাচীনদের পদাঙ্ক অনুসরণের ফল।

তারা যখন জীবনীকারদের স্তর (الطبقات) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তখন এই শ্রেণীবিন্যাসকে শহরভিত্তিক করেছেন; ফলে তারা বলেছেন: "কুফার বৈয়াকরণ", "বসরার বৈয়াকরণ" এবং "বাগদাদের বৈয়াকরণ"। এটি - ব্যাপক শিথিলতার (تساهل) সাথে - পরবর্তীতে "বসরীয় মতবাদ", "কুফীয় মতবাদ" এবং "বাগদাদী মতবাদ" বলার দিকে ধাবিত করেছে।

এখন এই নামকরণের সংশোধনের সময় এসেছে। কেননা প্রাচীনগণ এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা প্রভাবিত পরবর্তী হাদিস বিশারদগণ (المحدثين) বসরীয়দের কিয়াসের (القياس) অনুসারী হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ তাদের মধ্যে যারা নির্ভুলতা বা শব্দগত যথার্থতা (ضبط) বজায় রাখতেন তারা সংখ্যায় অনেক এবং এ বিষয়ে তাদের গভীর মনোযোগ ছিল। অন্যদিকে তারা কুফীয়দের শ্রুতি বা শ্রুত বিষয়ের (سماع) অনুসারী হিসেবে বিবেচনা করেছেন; কারণ তারা যা শুনেছেন তার সবই লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (القياس) করতে চেয়েছেন, কিন্তু তারা প্রথমোক্তদের মতো তা সুসংহত করতে পারেননি, যদিও তারা শ্রুত বিষয়ের পরিমাণের দিক থেকে তাদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু নির্ভুলতা (ضبط) এবং উৎকর্ষের দিক থেকে নয়।

এই পৃষ্ঠাগুলো একদিকে তথাকথিত ব্যাকরণিক ধারা বা মাযহাবসমূহের বিষয়টিকে সঠিক কাঠামোর ওপর স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা, এবং অন্যদিকে এই শাস্ত্রের উৎপত্তির বিষয়ে একটি সূক্ষ্ম ও ধীরস্থির ঐতিহাসিক পর্যালোচনা।

শিল্প বা বিজ্ঞান একটি জীবন্ত সত্তার মতো যা জীবনের চিরাচরিত নিয়মসমূহের অধীন: এটি ভ্রুণ হিসেবে শুরু হয়, তারপর দুগ্ধপোষ্য শিশু, অতঃপর শৈশব, এরপর কিশোর, যুবক এবং পূর্ণ যুবক হিসেবে বিকশিত হয় …

ব্যাকরণের উৎপত্তি ঘিরে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে যা আমি আমার লব্ধ জ্ঞানের আলোকে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে আমি সংবাদসমূহ (الأخبار) এবং বর্ণনাগুলো (الروايات) পরীক্ষা করেছি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে যা সত্য ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি; এমনকি যখন আমি কোনো ফলাফলের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি, তা যাচাইয়ের পর সাব্যস্ত করেছি। আমি সেই সব অগভীর বিষয়, চটকদার শিরোনাম এবং অনেক বাগাড়ম্বর এড়িয়ে গেছি যেগুলোকে সংশ্লিষ্টরা গবেষণা বলে অভিহিত করেন, চাই সেগুলো মৌলিক হোক বা অনূদিত।

আমি এই গবেষণার সাথে এই শাস্ত্রের ছয়জন মহান লেখকের নির্বাচিত কিছু পাঠ যুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যাদের গ্রন্থসমূহ এই দীর্ঘ পথে মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে; সাথে তাদের জীবনীসমূহের (تراجم) সংক্ষিপ্ত সার উল্লেখ করেছি যেমন:
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
وردت في "بغية الوعاة" للسيوطي مع اختصار أحيانا، وتعريف يسير بكتبهم التي اخترنا منها نصا أو أكثر1، بحيث تتبين للمطالع ملامح واضحة من الطريق الذي شقه النحو على مدى العصور. وسيعجب القارئ حين يرى أنه بدأ بقمة شامخة هي كتاب سيبويه، ثم أخذ ينحدر مع الزمان …

ظاهرة غريبة لا أعرف لها مثيلا في تاريخ العلوم والفنون.

ولئن أسعف هذا الملحق من يبتغي النظرة العجلى، فإنه لن يغني بحال عن الدراسة الشخصية المتوسعة المتأنية التي يجب أن يقوم بها مستقلا الباحث أو الطالب الجامعى: إمعان في الآثار وتأن في استنباط النتائج، وصبر على ما يتطلبه البحث من جهد ووقت.

والله المسئول أن يأخذ بأيدينا ويسدد خطانا في خدمة العلم الخالص، متعلمين ومعلمين.

بيروت: الجامعة اللبنانية "قسم اللغة العربية"

سعيد الأفغاني

--------------------------------------------

1 مراعين في اختيارها حاجة الدارسين في شهادة "فقه اللغة العربية" في كلية الآداب بالجامعة اللبنانية.
সুয়ূতী বিরচিত "বুগয়াতুল উয়াত"-এ এটি কখনো সংক্ষেপণের সাথে এবং তাঁদের গ্রন্থাবলির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ বর্ণিত হয়েছে যেখান থেকে আমরা এক বা একাধিক পাঠ নির্বাচন করেছি ১; যাতে পাঠকের কাছে যুগের পর যুগ ধরে আরবী ব্যাকরণ (نحو) যে পথ পাড়ি দিয়েছে তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রতিভাত হয়। পাঠক বিস্ময়বোধ করবেন যখন তিনি দেখবেন যে, এটি সিবওয়াইহ-এর কিতাবের মতো একটি সুউচ্চ শিখর থেকে শুরু হয়েছিল, অতঃপর সময়ের আবর্তনে তা নিম্নগামী হতে থাকে …

এটি একটি অদ্ভুত বিষয় যার কোনো নজির বিজ্ঞান ও কলার ইতিহাসে আমার জানা নেই।

যদি এই পরিশিষ্টটি দ্রুত নজর বুলাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে সহায়তা করে, তবে এটি কোনোভাবেই সেই ব্যক্তিগত, বিস্তৃত ও নিবিড় অধ্যয়নের বিকল্প হবে না যা একজন গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্রভাবে করা আবশ্যক: আর তা হলো নিদর্শনসমূহের (آثار) ওপর গভীর মনোনিবেশ করা, ফলাফল উদ্ঘাটন (استنباط) করার ক্ষেত্রে ধীরস্থির হওয়া এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম ও সময়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা।

আর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের হাত ধরেন এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে একনিষ্ঠ ইলমের খিদমতে আমাদের পদযাত্রাকে সঠিক পথে পরিচালিত (تسديد) করেন।

বৈরুত: লেবানিজ ইউনিভার্সিটি "আরবি ভাষা বিভাগ"

সাঈদ আল-আফগানী

--------------------------------------------

১. এগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে লেবানিজ ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদের "আরবি ভাষাতত্ত্ব" (فقه اللغة العربية) সনদের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌توطئة تاريخية

‌‌مدخل

…

توطئة تاريخية:

جاء الإسلام واللغة العربية مستكملة أدوات التعبير، ولها تراث أدبي حافل مفصح عن شتى المشاعر الوجدانية والاجتماعية، قد اتفقت الكلمة على الاعتداد بهذا التراث والإعجاب به منذ عصر الجاهلية حتى اليوم.

والعرب أمة فصاحة وبلاغة تتأثر بالبيان الرفيع والجملة الوجيزة الموحية، وكانت أسواق العرب في جاهليتها قد قامت بالاصطفاء من لغات القبائل1، وأخذ الشعراء والبلغاء أنفسهم بما أجمعوا على استحسانه منها حتى تنافسوا في ذلك وأصبحت هذه اللغة المصطفاة هي المتفق على التعبير بها عما يخالج النفوس من أغراض وأحاسيس. وصرنا نسمع شبه هذا الإجماع على سلامة لغة قبائل الجزيرة والطعن بلغات أهل السواحل؛ لمخالطتهم الأجانب في الأسفار والتجارات.

--------------------------------------------

1 انظر في كتابنا "أسواق العرب في الجاهلية والإسلام" فصل سوق عكاظ.
‌ঐতিহাসিক ভূমিকা

‌‌প্রবেশিকা

…

ঐতিহাসিক ভূমিকা:

ইসলামের আগমন এমন এক সময়ে হয়েছিল যখন আরবি ভাষা তার ভাব প্রকাশের যাবতীয় উপকরণ পূর্ণ করে নিয়েছিল। এর ছিল এক সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য, যা বিবিধ আবেগীয় ও সামাজিক অনুভূতির সুনিপুণ বহিঃপ্রকাশ ঘটাত। জাহেলি যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই ঐতিহ্যের গুরুত্বারোপ ও এর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশের বিষয়ে সকলে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন।

আরবরা ছিল বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের এক জাতি, যারা উচ্চাঙ্গের বর্ণনা এবং সংক্ষিপ্ত অথচ ইঙ্গিতবহ বাক্যের দ্বারা প্রভাবিত হতো। জাহেলি যুগে আরবদের বাজারগুলো বিভিন্ন গোত্রের ভাষা থেকে শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করত। কবি ও বাগ্মীরা যা কিছু উত্তম বলে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করতেন, তা আয়ত্ত করতে সচেষ্ট হতেন এবং এ বিষয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। পরিশেষে এই মনোনীত ভাষাই মনের গহীনে উদিত হওয়া উদ্দেশ্য ও অনুভূতিগুলো প্রকাশের স্বীকৃত মাধ্যমে পরিণত হয়। আমরা জাযিরাতুল আরবের গোত্রগুলোর ভাষার বিশুদ্ধতার বিষয়ে এই ধরনের ঐকমত্যের (إجماع) কথা শুনতে পাই, বিপরীতে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের ভাষার ত্রুটি বর্ণনা করা হতো; কারণ ভ্রমণ ও বাণিজ্যের প্রয়োজনে তারা বিদেশিদের সাথে মেলামেশা করত।

--------------------------------------------

১. আমাদের রচিত "আসওয়াকুল আরব ফিল জাহিলিয়্যাতি ওয়াল ইসলাম" গ্রন্থের 'সুক উকাজ' অধ্যায়টি দেখুন।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
فلما كانت الفتوحات واختلاط العرب الفاتحين بالشعوب التي كانت تحت سيطرة الفرس والبيزنطيين والأحباش، ودخول كثير من هؤلاء في الإسلام، واضطرارهم إلى تعلم ما استطاعوا من العربية، وكان بين العرب الفاتحين وهؤلاء الشعوب اختلاط وأخذ وعطاء، تسرب الفساد إلى لغة كثير من العرب وبدأ يسمع لحن في التخاطب، قليلا في الأول ثم أخذ في الانتشار حتى لفت إليه أنظار المسئولين وغيرهم من أهل الحل والعقد.

يعتبر اللحن الباعث الأول على تدوين اللغة وجمعها وعلى استنباط قواعد النحو وتصنيفها؛ فقد كانت حوادثه المتتابعة نذير الخطر الذي هب على صوته أولو الغيرة على العربية والإسلام، ولا بأس من عرض تاريخي سريع لبعض أحداثه المتتابعة:
যখন বিজয়গুলো সম্পন্ন হলো এবং বিজয়ী আরবদের সাথে পারস্য, বাইজান্টাইন ও হাবশীদের শাসনাধীন জাতিগোষ্ঠীগুলোর সংমিশ্রণ ঘটল, আর তাদের অনেকে ইসলামে প্রবেশ করল এবং তারা সাধ্যমতো আরবি ভাষা শিখতে বাধ্য হলো; এবং যখন বিজয়ী আরব ও এই জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মেলামেশা ও আদান-প্রদান বৃদ্ধি পেল, তখন অনেক আরবের ভাষায় বিকৃতি প্রবেশ করল এবং কথোপকথনে ভাষাগত ভুল (لحن) শোনা যেতে লাগল। প্রথমে তা সামান্য থাকলেও পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, এমনকি এটি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ভাষাগত ভুল (لحن)-ই ভাষা সংকলন ও তা লিপিবদ্ধ করার এবং নাহু বা ব্যাকরণের নিয়মাবলি উদ্ভাবন ও তা বিন্যস্ত করার প্রাথমিক উদ্দীপক হিসেবে বিবেচিত। এর ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ ছিল বিপদের এক সতর্কবার্তা, যা শুনে আরবি ভাষা ও ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ সচকিত হয়েছিলেন। এর কিছু ধারাবাহিক ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক বিবরণ তুলে ধরা হলো:
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌بوادر اللحن:

بدأ اللحن قليلا خفيفا منذ أيام الرسول على ما يظهر، فقد لحن رجل بحضرته فقال: "أرشدوا أخاكم؛ فإنه قد ضل" 1 والظاهر أيضا أنه كان معروفا بهذا الاسم نفسه "اللحن" بدليل أن السيوطي روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قوله: "أنا من قريش ونشأت في بني سعد، فأنى لي اللحن"2 وقد كان أبو بكر

--------------------------------------------

1 الخصائص لابن جني 2/ 8 "مطبعة دار الكتب المصرية 1950". وروي في إرشاد الأريب عن عبد الله بن مسعود 1/ 82.

2 المزهر للسيوطي 2/ 397 طبعة "دار إحياء الكتب العربية، القاهرة "بعناية محمد أحمد جاد المولى ورفيقيه"، ورواه السيوطي في الجامع الصغير عن الطبراني، وقد ضعفه المحدثون.
ভুল উচ্চারণের (لحن) প্রকাশ:

বাহ্যত যেমনটি প্রতীয়মান হয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই ভুল উচ্চারণ (لحن) সামান্য ও মৃদুভাবে শুরু হয়েছিল। তাঁর উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি ভুল উচ্চারণ (لحن) করায় তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের ভাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করো; কারণ সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।" ১ এবং আরও স্পষ্ট হয় যে, এটি এই একই নাম "লাহন" (لحن) দ্বারা পরিচিত ছিল; যার প্রমাণ হিসেবে সুয়ূতী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি কুরাইশ বংশীয় এবং বনু সাদ গোত্রে লালিত-পালিত হয়েছি, সুতরাং আমার মধ্যে ভুল উচ্চারণ (لحن) আসবে কোত্থেকে?" ২ আর আবু বকর...

--------------------------------------------

১ ইবনে জিন্নী কৃত আল-খাসাইস ২/৮ "মাতবাআত দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ ১৯৫০"। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে ইরশাদুল আরিব ১/৮২-এ বর্ণিত হয়েছে।

২ সুয়ূতীর আল-মুযহির ২/৩৯৭, "দারু ইহয়াইল কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ, কায়রো" সংস্করণ "মুহাম্মদ আহমদ জাদুল মাওলা ও তাঁর সঙ্গীদের তত্ত্বাবধানে"। সুয়ূতী এটি তাবারানীর বরাতে আল-জামি আস-সগির-এ বর্ণনা করেছেন, তবে মুহাদ্দিসগণ একে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
الصديق يقول: "لأن أقرأ فأسقط أحب إلي من أن أقرأ فألحن".

فإذا بلغنا عهد عمر رأينا المصادر تثبت عددا من حوادث اللحن. فتذكر أن1 عمر مر على قوم يسيئون الرمي فقرعهم فقالوا: "إنا قوم متعلمين" فأعرض مغضبا وقال: "والله لخطؤكم في لسانكم أشد علي من خطئكم في رميكم" سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "رحم الله امرأ أصلح من لسانه" وورد إلى عمر كتاب أوله: "من أبو موسى الأشعري" فكتب عمر لأبي موسى بضرب الكاتب2 سوطا. والأنكى من ذلك تسرب اللحن إلى قراءة الناس للقرآن، فقد قدم أعرابي في خلافة عمر فقال: "من يقرئني شيئا مما أنزل على محمد؟ " فأقرأه رجل سورة براءة بهذا اللحن:

"وأذان من الله ورسوله إلى الناس يوم الحج الأكبر أن الله بريء من المشركين ورسولِهِ … "3 فقال الأعرابي: "إن يكن الله بريئا من رسوله، فأنا أبرأ منه" فبلغ عمر مقالة الأعرابي فدعاه فقال: يا أمير المؤمنين، إني قدمت المدينة … وقص القصة فقال عمر: "ليس هكذا يا أعرابي" فقال: "كيف هي يا أمير المؤمنين؟ " فقال: {أن اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} فقال الأعرابي: "وأنا أبرأ ممن برئ الله ورسوله

--------------------------------------------

1 إرشاد الأريب 1/ 67 مطبوعات دار المأمون، والأضداد لابن الأنباري ص244 طبع حكومة الكويت.

2 هو أبو الحصين بن أبي الحر العنبري كما في وفيات الأعيان "5/ 99"، وكان أبو موسى قد استكتبه بعد زياد.

3 سورة التوبة 9/ 3.
সিদ্দিক (আবু বকর) বলেন: "আমি পাঠ করি এবং কোনো শব্দ বাদ পড়ে যায়—এটি আমার কাছে পাঠ করার সময় ব্যাকরণিক ভুল (لحن) করার চেয়ে অধিক প্রিয়।"

অতঃপর যখন আমরা উমর (রা.)-এর যুগে উপনীত হই, তখন আমরা দেখি যে বিভিন্ন উৎসসমূহ বহু সংখ্যক ব্যাকরণিক ভুল (لحن)-এর ঘটনা প্রমাণ করছে। উল্লেখ করা হয়েছে যে, উমর (রা.) এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীর চালনায় পারদর্শী ছিল না, তাই তিনি তাদের তিরস্কার করলেন। তারা বলল: "আমরা তো শিক্ষার্থী সম্প্রদায়" (এখানে তারা ব্যাকরণিক ভুল করেছিল)। তিনি রাগান্বিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "আল্লাহর কসম, তোমাদের ভাষার ভুল আমার কাছে তোমাদের তীর চালনার ভুলের চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর।" আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন যে তার ভাষা সংশোধন করে।" উমর (রা.)-এর নিকট একটি পত্র আসল যার প্রারম্ভে লেখা ছিল: "আবু মুসা আল-আশআরি হইতে" (এখানে ভাষাগত ভুল ছিল)। তখন উমর (রা.) আবু মুসাকে লিখলেন যেন তিনি লিপিকারকে এক বেত্রাঘাত করেন। এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় ছিল মানুষের কুরআন তিলাওয়াতে ব্যাকরণিক ভুল (لحن)-এর অনুপ্রবেশ। উমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় এক বেদুইন আসলেন এবং বললেন: "মুহাম্মাদ-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে, তা থেকে আমাকে কে কিছু তিলাওয়াত করে শোনাবে?" তখন এক ব্যক্তি তাকে সূরা বারাআহ থেকে এই ব্যাকরণিক ভুল (لحن) সহ তিলাওয়াত করে শোনালো:

"আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে বড় হজের দিন মানুষের প্রতি এক ঘোষণা যে, আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূল থেকেও... … " তখন বেদুইন বললেন: "যদি আল্লাহ তাঁর রাসূল থেকে দায়মুক্ত হন, তবে আমিও তাঁর থেকে দায়মুক্ত।" বেদুইনের এই কথা উমর (রা.)-এর কানে পৌঁছালে তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন। সে বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, আমি মদিনায় এসেছি … এবং সে পুরো ঘটনা বর্ণনা করল। তখন উমর (রা.) বললেন: "হে বেদুইন, বিষয়টি এমন নয়।" সে জিজ্ঞাসা করল: "তাহলে এটি কেমন হবে, হে আমীরুল মুমিনীন?" তিনি বললেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও (দায়মুক্ত)}। তখন বেদুইন বললেন: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যাদের থেকে দায়মুক্ত, আমিও তাদের থেকে দায়মুক্ত।"

--------------------------------------------

১. ইরশাদুল আরীব ১/৬৭, দারুল মামুন প্রকাশনী; এবং ইবনুল আম্বারীর আল-আদদাদ, পৃষ্ঠা ২৪৪, কুয়েত সরকার কর্তৃক মুদ্রিত।

২. তিনি হলেন আবু আল-হুসাইন বিন আবিল হুর আল-আনবারী, যেমনটি ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৫/৯৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; যিয়াদের পর আবু মুসা তাকে লিপিকার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

৩. সূরা আত-তাওবাহ ৯: ৩।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
منهم". فأمر عمر ألا يقرئ القرآن إلا عالم باللغة1. ولعمر تنسب تلك المقولة المأثورة: "تعلموا العربية؛ فإنها تثبت العقل وتزيد في المروءة"2.

ومر عمر برجلين يرميان فقال أحدهما للآخر: "أسبت" فقال عمر: "سوء اللحن أشد من سوء الرمي"3 فجعل إبدال الصاد سينا من اللحن.

وتكاد قصة بنت أبي الأسود تكون المعْلم المشهور في تاريخ النحو: فقد دخل عليها أبوها في وقدة الحر بالبصرة فقالت له: "يا أبت، ما أشدُّ الحر! " رفعت "أشد" فظنها تسأله وتستفهم منه: أي زمان الحر أشد؟ فقال لها: "شهرا ناجر".

فقالت: "يا أبت إنما أخبرتك ولم أسألك"4.

--------------------------------------------

1 نزهة الألباء ص7، وتهذيب تاريخ دمشق لابن عساكر 7/ 110 مطبعة الترقي بدمشق 1351هـ، وانظر الخصائص لابن جني 2/ 8 وعيون الأخبار، وانظر مراتب النحويين ص18. هذا وروايات اللحن في هذه الآية لا تتفق على وتيرة، فمنها ما يجعل هذه القصة في زمن زياد، وأن زيادا هو الذي طلب من أبي الأسود وضع شيء يقيم عوج الألسنة اللاحنة، فأبى أبو الأسود، فبعث زياد رجلا يقعد له بطريقه، وأمره أن يقرأ شيئا من القرآن ويتعمد اللحن، فقرأ: ".. أن الله بريء من المشركين ورسولِهِ.." بالجر، فاستعظم ذلك أبو الأسود وقال: "عز وجه الله، إن الله لا يبرأ من رسوله" ثم رجع من فوره إلى زياد فقال: "يا هذا قد أجبتك إلى ما سألت". انظر كتاب "الف باء" للبلوي 1/ 46، ولا يبعد الجمع بين الروايات.

2 إرشاد الأريب 1/ 77 وفي ص"78" أن الزهري كان يقول: "ما أحدث الناس مروءة أحب إلي من تعلم النحو". هذا وقد زعموا أن عمر بن الخطاب كان يضرب أولاده على اللحن ولا يضربهم على الخطأ "ص79" وأن ابنه عبد الله كذلك "ص89".

3 البخاري في "الأدب المفرد" ص227.

4 وتتمة الخبر في الأغاني للأصفهاني "11/ 101": أنه دخل على أمير المؤمنين علي بن أبي طالب فقال: يا أمير المؤمنين ذهبت لغة العرب لما خالطت العجم، وأوشك أن تطاول عليها زمان أن تضمحل" وأخبره خبر ابنته … فأملى عليه: إن الكلام كله =
...তাদের মধ্য থেকে।" এরপর উমর (রা.) নির্দেশ প্রদান করলেন যে, ভাষাবিদ (عالم باللغة) ব্যতীত অন্য কেউ যেন কুরআন পাঠদান না করে।১ আর উমরের (রা.) প্রতিই এই প্রসিদ্ধ উক্তিটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়: "তোমরা আরবি ভাষা শিক্ষা করো; কেননা এটি বুদ্ধিবৃত্তিকে সুসংহত করে এবং মনুষ্যত্ব বৃদ্ধি করে।"২

উমর (রা.) তীর নিক্ষেপ অনুশীলনরত দুই ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের একজন অন্যজনকে লক্ষ্য করে বলল: "আসাবতা" (সে ভুল উচ্চারণে 'সীন' দিয়ে বলেছিল)। তখন উমর (রা.) বললেন: "তীর নিক্ষেপে ভুলের চেয়ে ভাষাগত অশুদ্ধি (لحن) অধিকতর গুরুতর।"৩ এখানে তিনি 'সাদ' অক্ষরের পরিবর্তে 'সীন' ব্যবহার করাকে ভাষাগত অশুদ্ধি (لحن) হিসেবে গণ্য করেছেন।

আর আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালির কন্যার ঘটনাটি ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের ইতিহাসে এক সুপ্রসিদ্ধ মাইলফলক হয়ে আছে: বসরায় প্রচণ্ড গ্রীষ্মের সময় তার পিতা তার কাছে প্রবেশ করলে সে বলল: "হে আব্বাজান, মা আশাদদু আল-হার্র!" সে "আশাদদু" শব্দটিকে রফ' (رفع) তথা পেশযুক্ত করে পাঠ করল। ফলে তার পিতা ধারণা করলেন যে সে তাকে প্রশ্ন করছে এবং জানতে চাচ্ছে: গ্রীষ্মের কোন সময়টি সবচেয়ে তীব্র? তখন তিনি তাকে উত্তর দিলেন: "নাজিরের মাসসমূহ (প্রচণ্ড গরমের মাস)।"

তখন সে বলল: "হে আব্বাজান, আমি তো আপনাকে সংবাদ দিচ্ছিলাম, আপনাকে প্রশ্ন করছিলাম না।"৪

--------------------------------------------

১ নুজহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ৭; এবং ইবনে আসাকিরের তাহজিব তারিখ দিমাশক, ৭/১১০, মাতবাআতুত তারাক্কি, দামেস্ক ১৩৫১ হিজরি; আরও দেখুন ইবনুল জিন্নি-র আল-খাসাইস, ২/৮ এবং উয়ুনুল আখবার; এবং মারাতুবুন নাহুউয়্যীন, পৃষ্ঠা ১৮। এই আয়াতে ভাষাগত অশুদ্ধি (لحن) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো (روايات) একই সূত্রে বর্ণিত নয়। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী এই ঘটনাটি যিয়াদের সময়ের; যিয়াদই আবু আল-আসওয়াদকে এমন কিছু প্রণয়ন করতে বলেছিলেন যা মানুষের বিকৃত রসনার ভাষাগত অশুদ্ধি (لحن) সংশোধন করবে। আবু আল-আসওয়াদ তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর যিয়াদ এক ব্যক্তিকে তাঁর পথে বসিয়ে রেখে তাকে নির্দেশ দিলেন যেন সে কুরআন পাঠের সময় ইচ্ছা করে ভাষাগত অশুদ্ধি (لحن) করে। সে পাঠ করল: "..أن الله بريء من المشركين ورسولِهِ.." অর্থাৎ রাসূল শব্দটিকে সে যের বা জার (جر) দিয়ে পাঠ করল। আবু আল-আসওয়াদ একে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন এবং বললেন: "আল্লাহর সত্তা সুমহান, আল্লাহ কখনোই তাঁর রাসূল থেকে দায়মুক্ত হতে পারেন না।" তৎক্ষণাৎ তিনি যিয়াদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন: "হে আমির, আপনি যা চেয়েছিলেন আমি তাতে সম্মত হয়েছি।" দেখুন আল-বালভীর কিতাব "আলিফ বা", ১/৪৬। বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব নয়।

২ ইরশাদুল আরিব ১/৭৭ এবং পৃষ্ঠা ৭৮-এ আছে যে, আয-যুহরি বলতেন: "মানুষের নতুন অর্জিত গুণের মাঝে ব্যাকরণ (نحو) শিক্ষার চেয়ে প্রিয় কোনো গুণ আমার কাছে নেই।" বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর সন্তানদের ভাষাগত অশুদ্ধির (لحن) জন্য প্রহার করতেন, কিন্তু সাধারণ ভুলের জন্য করতেন না (পৃষ্ঠা ৭৯) এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহও (রা.) অনুরূপ করতেন (পৃষ্ঠা ৮৯)।

৩ বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃষ্ঠা ২২৭।

৪ আল-আসফাহানির আল-আগানি (১১/১০১) গ্রন্থে সংবাদের অবশিষ্টাংশ এভাবে এসেছে: সে আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের (রা.) কাছে প্রবেশ করে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, অনারবদের সংমিশ্রণের ফলে আরবি ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে এবং আশঙ্কা হচ্ছে যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে এটি বিলীন হয়ে যাবে।" এরপর তিনি তাকে তার মেয়ের ঘটনা জানালেন... এরপর আলী (রা.) তাকে নিয়ম বলে দিলেন: নিশ্চয়ই সকল বাক্যই =
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
ونتقدم خطوة في الزمن فيقص علينا ابن قتيبة أن رجلا دخل على زياد فقال له: "إن أبينا هلك وإن أخينا غصبنا على ميراثنا من أبانا" فقال زياد: "ما ضيعت من نفسك أكثر مما ضاع من مالك"، وأن أعرابيا سمع مؤذنا يقول: "أشهد أن محمدا رسولُ الله" فقال: "ويحك، يفعل ماذا؟ "1.

وأن أعرابيا دخل السوق "فسمعهم يلحنون فقال: سبحان الله! يلحنون ويربحون، ونحن لا نلحن ولا نربح! "2.

وروى الجاحظ أن "أول لحن سمع بالبادية: هذه عصاتي "بدل عصاي" وأول لحن سمع بالعراق: حيِّ على الفلاح "بكسر الياء بدل فتحها""2.

ثم شاع في العصر الأموي حتى تطرق إلى البلغاء من الخلفاء والأمراء كعبد الملك والحجاج، والناس يومئذ تتعاير به، وكان مما يسقط الرجل في المجتمع أن يلحن، حتى قال عبد الملك وقد قيل له: "أسرع إليك الشيب": "شيبني ارتقاء المنابر مخافة اللحن"3. وكان يقول: "إن الرجل يسألني الحاجة فتستجيب

--------------------------------------------

= لا يخرج عن اسم وفعل وحرف جاء لمعنى، وهذا القول أول كتاب سيبويه. ثم رسم أصول النحو كلها فنقلها النحويون وفرعوها. ا. هـ قلت: هذه إحدى روايات مشهورة في أولية النحو، وبعد صفحة نجد أبا الفرج يروي عن ابن أبي الأسود قوله: "أول باب وضعته في النحو: التعجب".

وفي الحادث الذي حفز أبا الأسود على وضع ما وضع روايات عدة، قد يأتي بعضها في بحث الخلاف، وانظر واحدة يرويها الزبيدي في كتابه طبقات النحويين واللغويين ص15 وفي النفس شيء من نسبة الأولية في وضع النحو، وسائر العلوم لعلي بن أبي طالب.

1 عيون الأخبار 2/ 159، ومر أبو عمرو بن العلاء بالبصرة فإذا أعدال مطروحة مكتوب عليها: "لأبو فلان" فقال: "يا رب يلحنون، ويرزقون" إنباه الرواة 2/ 319.

2 البيان والتبيين 2/ 219.

3 مخطوطة الظاهرية من تاريخ دمشق لابن عساكر رقم 22 تاريخ ج5 الورقة 490/ 1.
আমরা সময়ের পরিক্রমায় এক ধাপ এগিয়ে যাই, যেখানে ইবনে কুতায়বা আমাদের বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি যিয়াদের নিকট প্রবেশ করে তাকে বলল: "নিশ্চয় আমাদের পিতা (أبينا) মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আমাদের ভাই (أخيনা) আমাদের পিতার (أبانا) উত্তরাধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছে।" তখন যিয়াদ বললেন: "তুমি তোমার ব্যক্তিত্বের যতটুকু ক্ষতি করেছ, তা তোমার হারানো সম্পদের চেয়েও অধিক।" আরও বর্ণিত আছে যে, এক বেদুইন এক মুয়াজ্জিনকে বলতে শুনল: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (رسولُ الله)"। তখন সে বলল: "তোমার দুর্ভোগ হোক, তিনি কী করেন?" ১।

জনৈক বেদুইন বাজারে প্রবেশ করে তাদেরকে ভুল ভাষায় কথা বলতে শুনলেন। তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! তারা ভাষাগত ভুল (لحن) করে অথচ লাভবান হয়, আর আমরা ভুল করি না কিন্তু লাভও করি না!" ২।

আল-জাহিজ বর্ণনা করেছেন যে, "মরুভূমিতে শোনা প্রথম ভাষাগত ভুল (لحن) হলো: 'হাযিহি আসাতী' (عصاتي) — 'আসায়া' (عصاي) শব্দের পরিবর্তে। আর ইরাকে শোনা প্রথম ভুল হলো: 'হাইয়্যা আলাল ফালাহি' (الفلاحِ) — ইয়া বর্ণে ফাতহার পরিবর্তে কাসরা ব্যবহারের মাধ্যমে।" ২।

অতঃপর উমাইয়া যুগে এই প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করে, এমনকি তা আব্দুল মালিক ও হাজ্জাজের মতো বাগ্মী খলিফা ও আমিরদের মাঝেও অনুপ্রবেশ করে। সেই সময়কার মানুষ একে অপরের এই ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করত। সমাজে একজন ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার জন্য তার ভাষাগত ভুল (لحن) করাই যথেষ্ট ছিল। আব্দুল মালিককে যখন বলা হলো: "আপনার চুল দ্রুত পেকে যাচ্ছে", তখন তিনি বলেছিলেন: "ভাষাগত ভুল (لحن) করার ভয়ে মিম্বরে আরোহণ করাই আমার চুল পাকিয়ে দিয়েছে।" ৩। তিনি বলতেন: "যখন কোনো ব্যক্তি আমার কাছে কোনো প্রয়োজনে আসে এবং সে সঠিকভাবে আবেদন করে..."

--------------------------------------------

= এটি নামপদ (اسم), ক্রিয়াপদ (فعل) এবং বিশেষ অর্থবোধক অব্যয় (حرف)-এর সংজ্ঞার বাইরে যায় না; আর এই উক্তিটি সিবাহওয়াইহ-এর কিতাবের শুরুতেই রয়েছে। অতঃপর তিনি নাহু (نحو) শাস্ত্রের যাবতীয় মূলনীতি (أصول) নির্ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে নাহুবিদগণ বর্ণনা ও শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত করেছেন। সমাপ্ত। আমি বলছি: এটি নাহু শাস্ত্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা (رواية)। এক পৃষ্ঠা পরেই আমরা দেখতে পাই যে, আবু আল-ফারাজ ইবনে আবি আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন যে: "নাহু শাস্ত্রে আমার রচিত প্রথম অধ্যায় হলো: বিস্ময়সূচক বাক্য (التعجب)"।

আবু আল-আসওয়াদকে যা কিছু এই শাস্ত্র সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল, সে বিষয়ে একাধিক বর্ণনা (رواية) রয়েছে, যার কিছু অংশ মতভেদের আলোচনায় আসবে। যুবাইদীর রচিত তাবাকাতুন নাহুয়্যিন ওয়াল লুগাউয়্যিন (পৃষ্ঠা ১৫) গ্রন্থে এর একটি বর্ণনা (رواية) দেখতে পারেন। তবে নাহু এবং অন্যান্য শাস্ত্রের সূচনার নিসবত আলী বিন আবি তালিবের দিকে করার ক্ষেত্রে মনে কিছুটা সংশয় রয়ে যায়।

১. উয়ুনুল আখবার ২/১৫৯। আবু আমর বিন আলা বসরায় যাওয়ার পথে দেখলেন কিছু বস্তা পড়ে আছে যার ওপর লেখা: "লা-আবু ফুলান" (لأبو فلان)। তিনি বললেন: "হে রব! তারা ভাষাগত ভুল (لحن) করে অথচ রিজিক পায়।" ইনবাহুর রুওয়াত ২/৩১৯।

২. আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন ২/২১৯।

৩. ইবনে আসাকিরের তারিখু দিমাশক-এর জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি, নম্বর ২২, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৯০/১।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
نفسي له بها، فإذا لحن انصرفت نفسي عنها"1 وكان يرى اللحن في الكلام أقبح من التفتيق في الثوب النفيس2.

والحجاج على أنه من الخطباء الأبيناء البلغاء، كان في طبعه تقزز من اللحن أن يقع منه أو من غيره، فإذا وقع منه حرص على ستره وإبعاد من اطلع عليه منه، ذكروا أنه سأل يحيى بن يعمر الليثي: "أتسمعني ألحن على المنبر؟ " فقال يحيى: "الأمير أفصح الناس إلا أنه لم يكن يروي الشعر" قال: "أتسمعني ألحن حرفا؟ " قال: "نعم، في آي القرآن" قال: "فذاك أشنع؛ وما هو؟ " قال تقول:

{قُلْ إِنْ كَانَ آَبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ … } 3 تقرؤها "أحبُّ" بالرفع، فأنف الحجاج أن يطلع له رجل على لحن، فبعث به إلى خراسان4. وكان الحجاح يعجب بفصاحة يحيى هذا فسأله يوما: "أخبرني عن عنبسة بن سعيد: أيلحن؟ " قال: "كثيرا" قال: "أفأنا ألحن؟ " قال: "لحنا خفيفا" قال: "كيف ذلك؟ " قال: تجعل "أن، إن" و"إن، أن" ونحو ذلك. قال: "لا تساكني ببلد، اخرج"4، وكان الرجل إذا أراد أن يفلت من عمل

--------------------------------------------

1 من رسالة للجاحظ في صناعة القواد، ص260 "رسائل الجاحظ" جمع السندوبي.

2 عيون الأخبار 2/ 158، ومن قول ابنه مسلمة: "اللحن في الكلام أقبح من الجدري في الوجه".

3 سورة التوبة 9/ 24.

4 تهذيب تاريخ دمشق لابن عساكر 4/ 65 "روضة الشام 1332هـ" وطبقات النحويين واللغويين ص5.

ذكر ابن قتيبة: أن الحجاج أمَّ قوما فقرأ {وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا} وقرأ في آخرها: =
...আমার অন্তর তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, কিন্তু যখন সে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করে, তখন আমার মন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।"১ তিনি কথাবার্তায় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) হওয়াকে মূল্যবান পোশাকে ছিদ্র হওয়ার চেয়েও কুৎসিত মনে করতেন।২

হাজ্জাজ যদিও অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সাবলীল বাগ্মীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবুও তাঁর স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) হওয়া—তা নিজের পক্ষ থেকে হোক বা অন্যের—ঘৃণ্য বিষয় ছিল। যখন তাঁর নিজের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হয়ে যেত, তিনি তা গোপন করার এবং যে তা জানতে পেরেছে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার আল-লাইছিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আপনি কি আমাকে মিম্বরে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতে শোনেন?" ইয়াহইয়া বললেন: "আমির তো মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বাকপটু, তবে তিনি কবিতা বর্ণনা করতেন না।" তিনি বললেন: "আপনি কি আমাকে একটি বর্ণও ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতে শোনেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, কুরআনের আয়াতে।" তিনি বললেন: "সেটি তো আরও জঘন্য; তা কী?" তিনি বললেন: আপনি তিলাওয়াত করেন:

{বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভ্রাতা, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা আশঙ্কা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাসো—আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের চেয়ে বেশি প্রিয় হয় ... } ৩ আপনি এটিকে পেশ (رفع) যোগে "আহাবু" (أحبُّ) পড়েন। হাজ্জাজ এটি সহ্য করতে পারলেন না যে কোনো লোক তাঁর ব্যাকরণগত ভুল (لحن) ধরে ফেলবে, ফলে তিনি তাকে খোরাসানে পাঠিয়ে দিলেন।৪ হাজ্জাজ এই ইয়াহইয়ার বাকপটুতায় মুগ্ধ ছিলেন, তাই একদিন তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আমাকে আনবাসাহ ইবনে সাঈদ সম্পর্কে বলুন: সে কি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করে?" তিনি বললেন: "প্রচুর।" তিনি বললেন: "তবে কি আমি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করি?" তিনি বললেন: "সামান্য ব্যাকরণগত ভুল (لحنا)।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "সেটি কীভাবে?" তিনি বললেন: আপনি 'আন্না'-কে 'ইন্না' এবং 'ইন্না'-কে 'আন্না' বানিয়ে ফেলেন এবং এই জাতীয় বিষয়। তিনি বললেন: "তুমি আমার সাথে এই শহরে বাস করবে না, বেরিয়ে যাও।"৪ আর কোনো লোক যখন কোনো দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চাইত

--------------------------------------------

১. জাহিযের রিসালাহ ফী সিনাআতিল কুওয়াদ থেকে, পৃষ্ঠা ২৬০, "রাসাইলুল জাহিয", সান্দুবি কর্তৃক সংগৃহীত।

২. উয়ুনুল আখবার ২/১৫৮, এবং তাঁর পুত্র মাসলামাহ-এর উক্তি: "কথাবার্তায় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) হওয়া চেহারায় বসন্তের দাগের চেয়েও কুৎসিত।"

৩. সূরা আত-তাওবাহ ৯/২৪।

৪. ইবনে আসাকিরের তহজীবু তারিখি দামিশক ৪/৬৫ (রওজাতুশ শাম ১৩৩২ হিজরি) এবং তাবাকাতুন নাহউয়্যীন ওয়াল লুগাউয়্যীন পৃষ্ঠা ৫।

ইবনে কুতাইবাহ উল্লেখ করেছেন: হাজ্জাজ এক কওমের ইমামতি করছিলেন, তিনি "ওয়াল-আদিয়াতি দ্ববহান" পাঠ করলেন এবং এর শেষে পাঠ করলেন: =
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
للحجاج عاذ باللحن فنجا1.

وهؤلاء تطرق إليهم قليل من اللحن لبعدهم عن قومهم في الجزيرة، مع أنهم نشئوا فيها وترعرعوا واكتهلوا، فلما كان من بعدهم عظم فشو اللحن فيهم حتى كان من أعظم المصائب في نفس عبد الملك أن ابنه الوليد لَحَّانة، وأنه أخذه بتعلم العربية فلم يفلح. ونقلوا عن عبد العزيز بن مروان الأمير الأموي المعروف وهو أخو عبد الملك لحنا، على أن عبد العزيز هذا وهو من أفصح الناس كان يعطي على العربية ويحرم على اللحن، حتى قدم عليه زوار من أهل المدينة وأهل مكة من قريش فجعل يقول للرجل منهم: "من أنت؟ " فيقول: "من بني فلان" فيقول للكاتب: "أعطه مائتي دينار" حتى جاءه رجل من بني عبد الدار فقال: "من أنت؟ " فقال: "من بنو عبد الدار" فقال: "تجدها من جائزتك" وقال لكاتبه: أعطه

--------------------------------------------

= "أن ربهم بهم يومئذ خبير" بفتح همزة "أن" ثم تنبه على اللام في {لَخَبِيرٌ} وأن "أن" قبلها لا تكون إلا مكسورة، فحذف اللام من {لَخَبِيرٌ} فقرأ: "أن ربهم بهم يومئذ خبير" عيون الأخبار 2/ 160. ومع هذا فقد روي عن الأصمعي قوله: أربعة لم يلحنوا في جد ولا هزل: الشعبي وعبد الملك والحجاج بن يوسف وابن القرية، والحجاج أفضلهم. أمالي الزجاجي ص15.

1 في إرشاد الأريب "1/ 87": بعث الحجاج إلى والي البصرة: أن اختر لي عشرة ممن عندك، فاختار رجالا منهم كثير بن أبي كثير وكان رجلا عربيا، قال كثير: فقلت في نفسي: "لا أفلت من الحجاج إلا باللحن". فلما أدخلنا عليه دعاني فقال: "ما اسمك؟ " قلت: "كثير" قال: "ابن من؟ " فقلت: "ابن أبا كثير" فقال: "عليك لعنة الله وعلى من بعث بك، جئوا في قفاه" فأخرجت.
হাজ্জাজের ঘটনায় এক ব্যক্তি ভাষাগত ভুলের (لحن) আশ্রয় নিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন।১.

এবং এসব ব্যক্তিদের মাঝে যৎসামান্য ভাষাগত ভুল (لحن) প্রবেশ করেছিল জাজিরাতুল আরবে তাদের স্বজাতি থেকে দূরে থাকার কারণে, যদিও তারা সেখানেই জন্ম ও লালন-পালনসহ বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পরবর্তী বংশধরদের মাঝে ভাষাগত ভুলের (لحن) প্রাদুর্ভাব এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল যে, আব্দুল মালিকের নিকট অন্যতম বড় মর্মন্তুদ বিষয় ছিল যে, তার পুত্র ওয়ালিদ ছিলেন অত্যন্ত ভাষাগত ভুলকারী (لحانة); তিনি তাকে আরবি ভাষা শেখানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। তারা প্রখ্যাত উমাইয়া আমির এবং আব্দুল মালিকের ভাই আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ান থেকেও ভাষাগত ভুলের (لحن) কথা বর্ণনা করেছেন। অথচ এই আব্দুল আজিজ অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি শুদ্ধ আরবির জন্য পুরস্কৃত করতেন এবং ভুল (لحن) করার কারণে বঞ্চিত করতেন। এমনকি মদিনা ও মক্কার কুরাইশ বংশের একদল দর্শনার্থী তার কাছে এলে তিনি তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন: "তুমি কে?" সে উত্তর দিল: "অমুক বংশের (বনি ফুলান) সন্তান।" তখন তিনি লেখককে বলতেন: "তাকে দুইশ দিনার দাও।" পরিশেষে বনু আবদুদ দার গোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কে?" সে উত্তরে বলল: "বনু (بنو) আবদুদ দার গোত্র থেকে।" তখন তিনি বললেন: "তোমার পুরস্কার থেকেই এর খেসারত দিতে হবে।" অতঃপর তিনি তার লেখককে বললেন: তাকে দাও...

--------------------------------------------

= "নিশ্চয়ই তাদের প্রতিপালক সেই দিন তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত" আয়াতে 'আন' (أن) শব্দের হামযাহ ফাতহাহ যোগে পাঠ করেছিলেন, এরপর {لَخَبِيرٌ} শব্দের 'লাম' অক্ষরের প্রতি খেয়াল করলেন যে এর আগের 'আন' (أن) অবশ্যই কাসরাহযুক্ত হতে হবে। ফলে তিনি {لَخَبِيرٌ} থেকে 'লাম' বিলুপ্ত করে পাঠ করলেন: "আন রাব্বাহুম বিহিম ইয়াওমাইযিন খাবীর"। উইয়ুনুল আখবার ২/১৬০। এতদসত্ত্বেও আসমায়ি থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: চারজন ব্যক্তি গুরুত্ব বা কৌতুক কোনো অবস্থাতেই ভাষাগত ভুল (لحن) করেননি: আশ-শাবি, আব্দুল মালিক, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ এবং ইবনুল কিররিয়াহ; আর হাজ্জাজ তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। আমালিল যাজ্জাজি, পৃষ্ঠা ১৫।

১ ইরশাদুল আরীব (১/৮৭) গ্রন্থে আছে: হাজ্জাজ বসরার গভর্নরের কাছে এই মর্মে বার্তা পাঠালেন যে: তোমার নিকট থেকে দশজন ব্যক্তিকে আমার জন্য নির্বাচন করো। তিনি বেশ কয়েকজনকে নির্বাচন করলেন যাদের মধ্যে কাছীর ইবনে আবি কাছীর ছিলেন, তিনি ছিলেন একজন আরব ব্যক্তি। কাছীর বলেন: আমি মনে মনে বললাম: "ভাষাগত ভুল (لحن) করা ছাড়া আমি হাজ্জাজের হাত থেকে রেহাই পাব না।" যখন আমাদের তার সামনে পেশ করা হলো, তিনি আমাকে ডেকে বললেন: "তোমার নাম কী?" আমি বললাম: "কাছীর"। তিনি বললেন: "কার পুত্র?" আমি বললাম: "ইবনে আবা (أبا) কাছীর"। তিনি বললেন: "তোমার ওপর এবং যে তোমাকে পাঠিয়েছে তার ওপর আল্লাহর লানত, একে ঘাড়ে ধরে বের করে দাও।" অতঃপর আমাকে বের করে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
مائة دينار"1.

وقال عمر بن عبد العزيز: "إن الرجل ليكلمني في الحاجة يستوجبها فيلحن فأرده عنها، وكأني أقضم حب الرمان الحامض لبغضي استماع اللحن، ويكملني آخر في الحاجة لا يستوجبها فيعرب فأجيبه إليها؛ التذاذا لما أسمع من كلامه". وكان يقول: "أكاد أضرس إذا سمعت اللحن".

"الأضداد لابن الأنباري ص245".

وهذا معاوية بن بجير والي البصرة تشغله لحنة الناعي عن مصيبته بأبيه، فيقدم إنكارها.

--------------------------------------------

1 تاريخ دمشق لابن عساكر "مخطوطة الظاهرية رقم 22 تاريخ ج5 الورقة 150/ 1".

هذا ومن المقيد ذكر الباعث على عناية عبد العزيز بن مروان بالعربية، فقد روى ابن عساكر قبل هذا الخبر أنه "دخل على عبد العزيز رجل يشكو صهرا له فقال: "إن ختني فعل بي كذا وكذا" فقال له عبد العزيز: "من ختنَك؟ " فقال له: "ختنني الختان الذي يختن الناس" فقال عبد العزيز لكاتبه: "ويحك، بم أجابني؟ " فقال له: "أيها الأمير، إنك لحنتَ وهو لا يعرف اللحن، كان ينبغي أن تقول له: "ومن ختنُك؟ " فقال عبد العزيز: أراني أتكلم بكلام لا يعرفه العرب، لا شاهدت الناس حتى أعرف اللحن، فأقام في البيت جمعة لا يظهر ومعه من يعلمه العربية، فصلى بالناس الجمعة وهو من أفصح الناس". ا. هـ. قلت: تروى هذه اللحنة للوليد بن عبد الملك. انظر ص143 من "نقد النثر" المنسوب لقدامة "مطبعة لجنة التأليف والترجمة والنشر، القاهرة 1359هـ". خزانة الأدب 3/ 583.

وانظر في لحنه أيضا البيان والتبيين للجاحظ "2/ 204" فما بعد "مطبعة لجنة التأليف والترجمة والنشر، القاهرة 1368".

أما أمر الوليد الذي مر آنفا فقد أهمّ عبد الملك، حتى أفضى بذات نفسه يوما إلى روح بن زنباع قائلا:

"يا أبا زرعة، قد غلبني الوليد باللحن، وسأظهر العشية كآبة فسلني عنها ودعني والوليد" فلما أذن العشاء أظهر كآبة وعنده لوليد وسليمان وروح، فقال له روح: "ما هذه الكآبة يا أمير المؤمنين، لا يسوءك "الله" ولا يريك مكروها؟! " قال: ذكرت ما في عنقي من أمر هذه الأمة، وإلى من أصير أمرها بعدي! قال له روح: يغفر الله لك يا أمير =
১.

ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি আমার কাছে এমন কোনো প্রয়োজনের কথা বলে যার সে যোগ্য, কিন্তু সে কথা বলতে গিয়ে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করে। ফলে আমি তাকে তা থেকে ফিরিয়ে দেই। ব্যাকরণগত ভুল (لحن) শোনার প্রতি ঘৃণার কারণে মনে হয় যেন আমি টক ডালিমের দানা চিবোচ্ছি। আবার অন্য একজন আমার কাছে এমন প্রয়োজনের কথা বলে যার সে যোগ্য নয়, কিন্তু সে ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ (إعراب) ভাষায় কথা বলে; ফলে আমি তার কথা শোনার তৃপ্তিতে তার আহ্বানে সাড়া দেই।" তিনি আরও বলতেন: "যখন আমি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) শুনি, তখন মনে হয় যেন আমার দাঁত টক হয়ে যাচ্ছে (শিরশির করছে)।"

"ইবনুল আনবারীর আল-আদদাদ, পৃষ্ঠা ২৪৫।"

আর এই যে বসরার গভর্নর মুআবিয়া ইবনে বুজাইর, শোক সংবাদদাতার ব্যাকরণগত ভুল (لحن) তাকে তার পিতার মৃত্যুজনিত শোক থেকেও বিচলিত করেছিল, ফলে তিনি (শোক পালনের আগেই) সেই ভুল সংশোধনে অগ্রণী হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে আসাকিরের তারিখ দিমাশক (জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি নম্বর ২২, ইতিহাস খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৫০/১)।

এখানে আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ানের আরবি ভাষার প্রতি মনোযোগী হওয়ার কারণটি উল্লেখ করা সমীচীন হবে। ইবনে আসাকির এই সংবাদের আগে বর্ণনা করেছেন (روى) যে, "এক ব্যক্তি আব্দুল আজিজের কাছে তার এক জামাতার ব্যাপারে অভিযোগ নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: 'আমার জামাতা আমার সাথে এই এই করেছে'। তখন আব্দুল আজিজ (ভুলবশত ই'রাব পরিবর্তন করে) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'কে তোমাকে খতনা করেছে?' লোকটি উত্তর দিল: 'আমাকে সেই খতনাকারী খতনা করেছে যে মানুষের খতনা করে'। আব্দুল আজিজ তার লেখককে বললেন: 'আফসোস তোমার জন্য! সে আমাকে কী উত্তর দিল?' লেখক বলল: 'হে আমির! আপনি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করেছেন, আর সে এই ভুলটি বুঝতে পারেনি। আপনার বলা উচিত ছিল: 'তোমার জামাতা কে?' আব্দুল আজিজ বললেন: 'আমি দেখছি যে আমি এমন ভাষায় কথা বলছি যা আরবরা চেনে না। আমি আর মানুষের সাথে দেখা করব না যতক্ষণ না আমি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) সম্পর্কে সচেতন হই।' এরপর তিনি এক সপ্তাহ ঘরে অবস্থান করলেন এবং বাইরে বের হলেন না; তার সাথে একজন শিক্ষক ছিলেন যিনি তাকে আরবি ভাষা শেখাতেন। এরপর তিনি যখন জুমার নামাজে মানুষের ইমামতি করলেন, তখন তিনি ছিলেন সবচেয়ে সাবলীল ভাষাভাষীদের অন্তর্ভুক্ত।" সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) ঘটনাটি ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের ব্যাপারেও বর্ণিত (تروى) হয়। দেখুন: কুদামার প্রতি নিসবতকৃত 'নাকদুন নাশর' এর পৃষ্ঠা ১৪৩ (লাইজাতুত তালিফ ওয়াত তারজামা ওয়ান নাশর প্রেস, কায়রো ১৩৫৯ হিজরি)। খিজানাতুল আদব ৩/৫৮৩।

এবং তার ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) ব্যাপারে জাহিযের 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন' (২/২০৪) এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন (লাইজাতুত তালিফ ওয়াত তারজামা ওয়ান নাশর প্রেস, কায়রো ১৩৬৮)।

ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের যে বিষয়টি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তা আব্দুল মালিককে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করেছিল। এমনকি একদিন তিনি তার মনের কথা রাউহ ইবনে জিনবা'র কাছে প্রকাশ করে বললেন:

"হে আবু জুরআ, ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) কারণে ওয়ালিদ আমার ওপর প্রবল হয়ে গেছে (অর্থাৎ তার ভুল আমাকে লজ্জিত করছে)। আমি আজ সন্ধ্যায় বিষণ্ণতা প্রকাশ করব, তখন তুমি আমাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করো এবং বিষয়টি আমার ও ওয়ালিদের মাঝে ছেড়ে দাও।" যখন এশার সময় হলো, তিনি বিষণ্ণতা প্রকাশ করলেন; তখন তার কাছে ওয়ালিদ, সুলায়মান এবং রাউহ উপস্থিত ছিলেন। রাউহ তাকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, এই বিষণ্ণতা কিসের? আল্লাহ আপনাকে দুঃখিত না করুন এবং আপনার কোনো অপ্রিয় কিছু না দেখান!" তিনি বললেন: "আমি এই উম্মতের দায়িত্বের কথা স্মরণ করেছি যা আমার ঘাড়ে অর্পিত, এবং আমার পরে কার হাতে এর দায়িত্ব অর্পণ করব (সেই চিন্তায় পড়েছি)!" রাউহ তাকে বললেন: "আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন হে আমির..."
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فأنت تجد مما تقدم أن الخوف على العربية له ما يفرضه من النُّذُر، وأنه تمكن في النفوس حتى تضافرت جهود العلماء وذوي السلطان على صيانة العربية، وأن الحرمان من المال أو العمل مما كان يصيب اللحانة، وأن فصاحة المرء قد ترفعه إلى الولايات والغنى، وتزيد شأنه عند أولي الأمر؛ وهذا من طرف السلطان كافٍ في الترغيب والترهيب. وسؤال الحجاج عن لحن بعض الناس ذوي الشأن مشعر باهتمام الحكومة والمجتمع بأمر اللحن، وذلك طبيعي من دولة قامت على العصبية العربية بعد أن رأت اللحن يفشو في الطبقات الرفيعة من الأمراء والحكام وأشراف الناس، وفي قصة بشكست النحوي تعبير واضح عن أمرين: فشو اللحن ونظرة المثقفين إليه، ولا بأس في إيرادها ففيها طرافة، وفيها ظرف:

--------------------------------------------

= المؤمنين، فأين أنت عن الوليد سيد شباب العرب! ، قال: "يا أبا زرعة، لا ينبغي أن يلي أمر العرب إلا من يتكلم بكلامها" فقام الوليد فدخل منزله فجمع إليه أصحاب النحو، فأقام ستة أشهر معهم، وخرج يوم خرج وهو أجهل بالنحو منه يوم دخل، فقال عبد الملك: "قد أجهد وأعذر" المصدر السابق، الورقة 421/ 1.

واحتج على عبد الملك بلحن الوليد هذا، فقد ذكر ابن عساكر أن عبد الملك قال لرجل من قريش: "إنك لرجل، لولا أنك تلحن" فقال: "وهذا ابنك الوليد يلحن! " قال عبد الملك: "لكن ابني سليمان لا يلحن" قال الرجل: "وأخي فلان لا يلحن! " الورقة 424/ 1.

بل كان لا يستطيع تجنب اللحن حتى على المنبر، ذكره أبو الزناد يوما فقال: "كان لحانا، كأني أسمعه على منبر النبي صلى الله عليه وسلم يقول: يا أهلُ المدينة! ".

بل كان لا يستطيع تجنبه حتى في آيات القرآن: قرأ يوما على المنبر: "يا ليتها كانت القاضيةُ" بضم التاء، فقال عمر بن عبد العزيز "وكان تحت المنبر": يا ليتها كانت "القاضية" عليك وأراحتنا منك! " الورقة 424/ جـ.

وكان عمر بن عبد العزيز هذا أشد الناس في اللحن على ولده وخاصته ورعيته، وربما أدَّب عليه. إرشاد الأريب 1/ 89.
আপনি উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখতে পাবেন যে, আরবি ভাষার প্রতি যে শঙ্কা ছিল, তার পেছনে যথেষ্ট সতর্কবার্তা বিদ্যমান ছিল। এটি মানুষের অন্তরে এমনভাবে গেঁড়ে বসেছিল যে, শেষ পর্যন্ত উলামায়ে কিরাম এবং শাসকগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরবি ভাষা সংরক্ষণে নিয়োজিত হয়েছিল। যারা ব্যাকরণগত ভুলকারী (لحانة) ছিল, তারা সম্পদ বা কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতো। পক্ষান্তরে, একজন ব্যক্তির ভাষাগত বিশুদ্ধতা (فصاحة) তাকে উচ্চ পদমর্যাদা ও সচ্ছলতার সোপানে উন্নীত করতে পারত এবং শাসকদের নিকট তার মর্যাদা বৃদ্ধি করত; যা শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য যথেষ্ট ছিল। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাকরণগত ভুল (لحن) সম্পর্কে হাজ্জাজের অনুসন্ধান এটিই ইঙ্গিত করে যে, সরকার এবং সমাজ ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) বিষয়ে কতটা সচেতন ছিল। এটি এমন একটি রাষ্ট্রের জন্য স্বাভাবিক ছিল যা আরবি জাতীয়তাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত, বিশেষ করে যখন দেখা গেল যে আমির, শাসক এবং অভিজাত শ্রেণির মাঝেও ব্যাকরণগত ভুল (لحن) ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যাকরণবিদ (نحوي) বিশকাসত-এর কাহিনীতে দুটি বিষয়ের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে: ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) ব্যাপকতা এবং বুদ্ধিজীবীদের নিকট তার দৃষ্টিভঙ্গি। কাহিনীটি এখানে উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই, কারণ এতে যেমন চমৎকারিত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে সূক্ষ্ম রসিকতা:

--------------------------------------------

= মুমিনগণ, তাহলে আরবের যুবকদের নেতা ওয়ালিদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী! তিনি বললেন: "হে আবু জুরআহ, আরবের শাসনভার পরিচালনা করা কেবল তার জন্যই শোভা পায়, যে তাদের ভাষায় (শুদ্ধভাবে) কথা বলতে পারে।" অতঃপর ওয়ালিদ উঠে তার গৃহে প্রবেশ করলেন এবং ব্যাকরণবিদদের (أصحاب النحو) একত্রিত করলেন। তিনি তাদের সাথে ছয় মাস অবস্থান করলেন এবং যেদিন সেখান থেকে বের হলেন, সেদিন তিনি ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রে প্রবেশের দিনের চেয়েও বেশি অজ্ঞ ছিলেন। আব্দুল মালিক বললেন: "সে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে এবং ওজর পেশ করেছে।" পূর্বোক্ত উৎস, পত্র ৪২১/১।

ওয়ালিদের এই ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) মাধ্যমে আব্দুল মালিকের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল। ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল মালিক কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: "তুমি সত্যিই একজন যোগ্য লোক হতে, যদি না তুমি ব্যাকরণগত ভুল (تلحن) করতে।" লোকটি বলল: "আর আপনার এই পুত্র ওয়ালিদও তো ব্যাকরণগত ভুল (يلحن) করে!" আব্দুল মালিক বললেন: "কিন্তু আমার পুত্র সুলাইমান ব্যাকরণগত ভুল (لا يلحن) করে না।" লোকটি বলল: "আর আমার ভাই অমুকও ব্যাকরণগত ভুল (لا يلحন) করে না!" পত্র ৪২৪/১।

এমনকি তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়েও ব্যাকরণগত ভুল (لحن) পরিহার করতে পারতেন না। আবুয যিনাদ একদিন এটি উল্লেখ করে বলেন: "তিনি প্রচুর ব্যাকরণগত ভুলকারী (لحانا) ছিলেন; আমার যেন মনে হচ্ছে আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনছি: ইয়া আহলুল মাদিনাহ (يا أهلُ المدينة)!"

এমনকি কুরআনের আয়াতের ক্ষেত্রেও তিনি তা বর্জন করতে পারতেন না। একদিন তিনি মিম্বরে পাঠ করলেন: "ইয়া লাইতাহা কানাতিল কদিয়াতু" (يا ليتها كانت القاضيةُ) 'তা' বর্ণে পেশ (ضم) যোগে; তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ—যিনি মিম্বরের নিচেই ছিলেন—বললেন: "হায়! যদি সেটি তোমার ওপর মৃত্যু (القاضية) হতো এবং আমাদের তোমার থেকে মুক্তি দিত!" পত্র ৪২৪/জ।

আর এই উমর ইবনে আব্দুল আজিজ নিজ সন্তান, ঘনিষ্ঠজন এবং প্রজাদের ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর ছিলেন এবং সম্ভবত এর জন্য শাসন (أدَّب) করতেন। ইরশাদুল আরিব ১/৮৯।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
"وفد بشكست النحوي على هشام بن عبد الملك، فلما حضر الغداء دعاه هشام، وقال لفتيان بني أمية: "تلاحنوا عليه" فجعل بعضهم يقول: "يا أمير المؤمنين، رأيت أبي فلان … " ويقول آخر: "مر بي أبي فلان … " ونحو هذا، فلما ضجوا أدخل يده في صحفة فغمسها، ثم طلى لحيته وقال لنفسه: "ذوقي، هذا جزاؤك في مجالسة الأنذال! "1.

إلى هذا المدى بلغ أمر اللحن في المائة الأولى للهجرة والدولة عربية محضة، والعصبية ذات سلطان، والقوم حديثو عهد بجزيرتهم ولا تزال مجتمعاتهم تتناقل القول المشهور: "ليس للاحن حرمة" وتتعامل به، هذا عبد الملك بن مروان استأذن عليه رجل من عِلْية أهل الشام وبين يديه قوم يلعبون بالشطرنج فقال: "يا غلام، غطها" فلما دخل الرجل فتكلم لحن، فقال عبد الملك: "يا غلام، اكشف عنها، ليس للاحن حرمة". "الأضداد لابن الأنباري ص245".

وبيت الخلافة أعرق بيوت قريش شرفا ومجدا وبلاغة وأقواها عصبية وعروبة2، والعرب -كما قرر ابن جني-

--------------------------------------------

1 تاريخ دمشق لابن عساكر "مخطوطة الظاهرية" الجزء السابق الورقة 454/ 1 ثم قال ابن عساكر فيه: "وكان نحويا أخذ عنه أهل المدينة، وكان يذهب مذهب الشراة ويكتم ذلك. فلما ظهر أبو حمزة الشاري بالمدينة "سنة 130هـ" خرج معه فقتل فيمن قتل بخلافة مروان بن محمد" واسمه عبد العزيز القارئ، وقيل في مقتله:

لقد كان بشكست عبد العزيز … من أهل القراءة والمسجد

فبعدا لبشكست عبد العزيز … وأما القرآن فلا يبعد

انظر النسخة الثانية من تاريخ دمشق لابن عساكر "رقم 9/ 3374 تاريخ" 10 الورقة 202، والأغاني 1/ 111 و20/ 108 و110، وإنباه الرواة 2/ 183.

2 هذا ومع ضعف السليقة العربية على الزمن لم يضعف استهجان الخاصة للحن، وحسبك هذه الحوادث الأربع رمزا إلى ذلك، وكلها في صدر الدولة العباسية: =
ব্যাকরণবিদ (النحوي) বিশকাস্ত হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হলেন। যখন দুপুরের খাবারের সময় হলো, হিশাম তাকে আমন্ত্রণ জানালেন এবং বনু উমাইয়া বংশের যুবকদের বললেন: "তোমরা তার সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করো।" তখন তাদের কেউ কেউ বলতে লাগল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আমার পিতা অমুককে (رأيت أبي فلان) দেখেছি …" এবং অন্যজন বলল: "আমার নিকট দিয়ে আমার পিতা অমুক (مر بي أبي فلان) অতিক্রম করেছেন …" এবং এই জাতীয় আরও ভুল। যখন তারা শোরগোল শুরু করল, তখন তিনি (বিশকাস্ত) খাবারের পাত্রে হাত ঢুকিয়ে তা রঞ্জিত করলেন, অতঃপর তা নিজের দাড়িতে মাখলেন এবং নিজেকে বললেন: "আস্বাদন করো! নিচু স্তরের লোকদের মজলিসে বসার এটাই তোমার প্রতিদান!" ১।

হিজরি প্রথম শতাব্দীতে ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) বিষয়টি এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যখন রাষ্ট্র ছিল বিশুদ্ধ আরবীয় এবং বংশীয় আভিজাত্যের পূর্ণ আধিপত্য বিদ্যমান ছিল। তাছাড়া জাতি হিসেবে তারা তখনো তাদের মরুদ্বীপের জীবন ও সংস্কৃতির খুব কাছাকাছি ছিল এবং তাদের সমাজে এই প্রসিদ্ধ উক্তিটি প্রচলিত ছিল ও তার প্রয়োগ হতো যে: "ব্যাকরণগত ভুলকারীর (لاحن) কোনো সম্মান নেই।" এই তো আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান, যাঁর নিকট সিরিয়ার উচ্চবিত্ত এক ব্যক্তি অনুমতি প্রার্থনা করলেন, আর তখন তাঁর সামনে একদল লোক দাবা খেলছিল। তিনি বললেন: "হে কিশোর, এটি ঢেকে দাও।" যখন লোকটি ভেতরে প্রবেশ করে কথা বলল এবং ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করল, তখন আব্দুল মালিক বললেন: "হে কিশোর, এটি উন্মুক্ত করে দাও, ব্যাকরণগত ভুলকারীর (لاحن) কোনো সম্মান নেই।" (ইবনুল আম্বারীর 'আল-আদদাদ', পৃষ্ঠা ২৪৫)।

খিলাফতের এই ঘরটি কুরাইশদের মধ্যে মর্যাদা, গৌরব ও বাগ্মিতার দিক থেকে সবচেয়ে প্রাচীন এবং আভিজাত্য ও আরবীয় চেতনায় ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ২, আর আরবরা - যেমনটি ইবনে জিন্নি বর্ণনা করেছেন -

--------------------------------------------

১. ইবনে আসাকিরের 'তারিখে দামেশক' (যাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি), পূর্ববর্তী খণ্ড, ৪৫৪/১ নম্বর পত্র। অতঃপর ইবনে আসাকির এতে বলেন: "তিনি একজন ব্যাকরণবিদ (النحوي) ছিলেন, মদিনার অধিবাসীগণ তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন। তিনি শুরাতিদের (الشراة) মতাদর্শ পোষণ করতেন কিন্তু তা গোপন রাখতেন। যখন আবু হামজা আশ-শারী মদিনায় আবির্ভূত হলেন (১৩০ হিজরিতে), তখন তিনি তার সাথে বের হলেন এবং মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদের খিলাফতকালে যারা নিহত হয়েছিল তাদের সাথে তিনিও নিহত হন।" তাঁর নাম ছিল আব্দুল আজিজ আল-ক্বারী। তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে:

বিশকাস্ত আব্দুল আজিজ ছিলেন … কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ (أهل القراءة) ও মসজিদের অন্তর্ভুক্ত।

অভিশপ্ত হোক বিশকাস্ত আব্দুল আজিজ … তবে কুরআনের কোনো বিনাশ নেই।

দেখুন: ইবনে আসাকিরের 'তারিখে দামেশক'-এর দ্বিতীয় সংস্করণ (নম্বর ৯/৩৩৭৪ তারিখ), ১০ম খণ্ড, ২০২ নম্বর পত্র; আল-আগানি ১/১১১ এবং ২০/১০৮ ও ১১০; ইনবাহুর রুওয়াত ২/১৮৩।

২. সময়ের আবর্তনে আরবদের সহজাত ভাষাগত দক্ষতা দুর্বল হয়ে পড়া সত্ত্বেও বিশিষ্টজনদের নিকট ব্যাকরণগত ভুল (لحن) অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি হ্রাস পায়নি। আপনার জন্য আব্বাসীয় খিলাফতের শুরুর দিকের এই চারটি ঘটনাই তার প্রতীক হিসেবে যথেষ্ট: =
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أشد استنكارا لزيغ الإعراب منهم لخلاف اللغة، فقد ينطق بعضهم بالدخيل والمولد، ولكنه لا ينطق باللحن.

ولذلك اشتد بلال بن أبي بردة على خالد بن صفوان لما رآه يلحن في حديثه العفوي معه فقال له: "أتحدثني أحاديث الخلفاء، وتلحن لحن السقاءات؟! " فلنحاول تبيان ما اختط أهل العربية من خطط يعالجون بها استفحال الداء، وهل كانوا إلى الشدة حين شرطوا للاحتجاج تلك الشروط التي أسقطت الاحتجاج بكلام كثير من العرب حتى في زمن الجاهلية؟

تصنيف العرب من حيث الوثوق بسلامة لغتها:

من يحتج به:

يراد بالاحتجاج هنا إثبات صحة قاعدة، أو استعمال كلمة أو تركيب، بدليل نقلي صح سنده إلى عربي فصيح سليم السليقة على ما سيأتي تفصيله في موضعه.

--------------------------------------------

= تكلم أبو جعفر المنصور في مجلس فيه أعرابي فلحن، فصر الأعرابي أذنيه "حددهما مصغيا باهتمام" فلحن مرة أخرى أعظم من الأولى، فقال الأعرابي: "أف لهذا، ما هذا؟! " ثم تكلم فلحن الثالثة فقال الأعرابي: "أشهد لقد وليت هذا الأمر بقضاء وقدر! ".

وقال سعيد بن سلم: "دخلت على الرشيد فبهرني هيبة وجمالا، فلما لحن خَفّ في عيني".

ودخل رسول والي الكوفة العباس بن محمد بن موسى على طاهر بن الحسين فقال له: "أخيك أبي موسى يقرأ عليك السلام" قال: "وما أنت منه؟! " قال: "كاتبه الذي يطعمه الخبز" فأمر توا بصرف العباس عن الكوفة؛ إذ لم يتخذ كاتبا يحسن الأداء عنه.

إرشاد الأريب 1/ 83، 84، 86 بتصرف يسير، بل إن المأمون كان يأخذ عماله باللوم إذا كان في كتبهم إليه لحن، ويعد ذلك تفريطا في جانب مقام الخلافة، وإليك حديث ابن قادم النحوي الكوفي:

"وجه إلي إسحاق بن إبراهيم المصعبي يوما فأحضرني، فلم أدر ما السبب، فلما قربت من مجلسه تلقاني ميمون بن إبراهيم كاتبه على الرسائل وهو على غاية من الهلع والجزع، =
তারা ভাষার বিচ্যুতির তুলনায় ব্যাকরণগত ভুল (لحن)-কে অধিক ঘৃণা করতেন। তাদের কেউ কেউ হয়তো বিদেশি শব্দ বা নব্যসৃষ্ট শব্দ উচ্চারণ করতেন, কিন্তু কখনও ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতেন না।

এ কারণেই বেলাল ইবনে আবি বুরদাহ যখন খালেদ ইবনে সাফওয়ানকে তাঁর সাথে স্বাভাবিক আলাপচারিতার সময় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতে দেখলেন, তখন তিনি অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করলেন। তিনি বললেন: "তুমি কি আমার নিকট খলিফাদের হাদিস বর্ণনা করছ, আর পানি বহনকারী দাসীদের মতো ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করছ?!" সুতরাং আসুন আমরা আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞগণ এই ব্যাধির প্রকোপ নিরাময়ে যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। তারা যখন দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (احتجاج) জন্য সেই শর্তাবলিারোপ করেছিলেন, যার ফলে জাহেলি যুগেরও অনেক আরবের কথা দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (احتجاج) অযোগ্য হয়ে পড়েছিল, তখন তারা কি অতিমাত্রায় কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন?

ভাষার বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতার (الوثوق) ভিত্তিতে আরবদের শ্রেণিবিভাগ:

যাদের কথা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (احتجاج) যায়:

এখানে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (احتجاج) বলতে কোনো ব্যাকরণগত নিয়ম প্রমাণ করা অথবা কোনো শব্দ বা বাক্য গঠনকে সঠিক সাব্যস্ত করা বোঝানো হয়েছে; যা এমন একটি বর্ণনামূলক দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত যার সনদ সহিহ (صح سنده) এবং যা একজন প্রাঞ্জল (فصيح) ও বিশুদ্ধ স্বভাবজাত আরবের নিকট পৌঁছেছে, যার বিস্তারিত বিবরণ যথাস্থানে আসবে।

--------------------------------------------

= আবু জাফর আল-মনসুর এমন এক মজলিসে কথা বলছিলেন যেখানে একজন বেদুইন উপস্থিত ছিল। তিনি কথা বলতে গিয়ে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করলেন, তখন বেদুইনটি তার কান খাড়া করল (খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল)। এরপর তিনি প্রথমটির চেয়েও বড় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করলেন। তখন বেদুইনটি বলে উঠল: "ধিক এর জন্য! এটি কী?!" এরপর তিনি তৃতীয়বার কথা বলতে গিয়ে আবার ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করলেন। তখন বেদুইনটি বলল: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর অমোঘ ফয়সালা ও তাকদীরের কারণেই এই খেলাফতের দায়িত্ব পেয়েছেন (অর্থাৎ আপনার যোগ্যতায় নয়)!"

সাঈদ ইবনে সালম বলেন: "আমি হারুনুর রশিদের দরবারে প্রবেশ করলাম। তাঁর গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করল। কিন্তু যখনই তিনি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করলেন, তখনই আমার দৃষ্টিতে তাঁর মর্যাদা কমে গেল।"

কুফার গভর্নর আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসার একজন দূত তাহের ইবনে আল-হুসাইনের কাছে আসলেন। দূতটি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "আখিকা (أخيك - ব্যাকরণগত ভুল) আবু মুসা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।" তাহের ইবনে আল-হুসাইন তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি তাঁর কে হও?" সে উত্তর দিল: "আমি তাঁর সেই কাতিব (লেখক), যে তাঁকে রুটি খাওয়ায় (অর্থাৎ অন্নদাতা)।" তাহের সাথে সাথেই আব্বাসকে কুফার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন; যেহেতু তিনি এমন একজন কাতিব নিয়োগ করেছেন যে সঠিকভাবে কথা বলতে পারে না।

ইরশাদুল আরিব ১/ ৮৩, ৮৪, ৮৬ (সামান্য পরিমার্জিত)। এমনকি আল-মামুন তাঁর কর্মচারীদের ভর্ৎসনা করতেন যদি তাদের চিঠিপত্রে কোনো ব্যাকরণগত ভুল (لحন) পাওয়া যেত। তিনি একে খেলাফতের মর্যাদার ক্ষেত্রে অবহেলা হিসেবে গণ্য করতেন। কুফার ব্যাকরণবিদ ইবনে কাদিমের হাদিসটি এখানে উল্লেখযোগ্য:

"একদিন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মুসয়াবি আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি এর কারণ জানতাম না। যখন আমি তাঁর মজলিসের কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন তাঁর পত্রালাপ বিভাগের কাতিব মাইমুন ইবনে ইব্রাহিমের সাথে আমার দেখা হলো। তিনি তখন চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। ="
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وإنما احتاج القوم إلى الاحتجاج لما خافوا على سلامة اللغة العربية بعد أن اختلط أهلها بالأعاجم إثر الفتوح، وسكنوا بلادهم وعايشوهم، فنشأ عن ذلك بسنة الطبيعة أخذ وعطاء في اللغة والأفكار والأخلاق والأعراف. وتنبه أولو البصر إلى أن الأمر آيل إلى إفساد اللغة وضياع العصبية من جهة، وإلى التفريط في

--------------------------------------------

= فقال لي بصوت خفي: "إنه إسحاق" ومر غير متلبث ولا متوقف حتى رجع إلى مجلس إسحاق، فراعني ذلك. فلما مثلت بين يديه قال لي: كيف يقال: "وهذا المال مالا" أو"وهذا المال مال"؟! فعلمت ما أراد ميمون، فقلت له: "الوجه "وهذا المال مال" ويجوز "وهذا المال مالا"" فأقبل إسحاق على ميمون بغلظة وفظاظة ثم قال: "الزم الوجه في كتبك، ودعنا من يجوز ويجوز" ورمى بكتاب في يده، فسألت عن الخبر فإذا ميمون قد كتب إلى المأمون وهو ببلاد الروم عن إسحاق وذكر ما لا حمله، فكتب: "وهذا المال مالا" فخط المأمون على الموضع من الكتاب ووقع بخطه في حاشيته: "تخاطبني بلحن!! " فقامت القيامة على إسحاق.

فكان ميمون بعد ذلك يقول: "ما أدري كيف أشكر ابن قادم، أبقى علي روحي ونعمتي!! " قال ثعلب راوي الحديث: "فكان هذا مقدار العلم وعلى حسب ذلك كانت الرغبة في طلبه والحذر من الزلل" قال: "وهذا المال مالا" ليس بشيء، ولكن أحسن ابن قادم في التأتي لخلاص ميمون. إنباه الرواة 3/ 157 وطبقات النحويين واللغويين للزبيدي ص153.

حتى إذا امتد الزمن خف الاستنكار شيئا ما، فصرنا نرى ثعلبا النحوي "لا يتكلف إقامة الإعراب في كلامه إذا لم يخش لبسا في العبارة" ونرى إبراهيم الحربي وقد ذكر له ذلك يقول: "أيش يكون إذا لحن في كلامه؟ كان هشام النحوي يلحن في كلامه، وكان أبو هريرة يكلم صبيانه بالنبطية". إنباه الرواة 1/ 140.

بل كان بعض الأمراء بالبصرة يقرأ "إن الله وملائكتُهُ" بالرفع، فمضى إليه الأخفش ناصحا له فانتهره وتوعده، وقال: "تلحنون أمراءكم!! " إنباه الرواة 2/ 43.

على أن من يعتد بهم في المجتمع مضوا على استهجان اللحن زمنا طويلا، فقد حدث حفص بن غياث قال:

"وجه إلينا عيسى بن موسى ليلا فصرنا إليه والجند سماطان، وقد امتلأنا رعبا منه فقال:

"ما دعوتكم إلا لخيرا" فزالت هيبته من قلوبنا لقبح لحنه". المصون للعسكري ص146 طبعة حكومة الكويت سنة 1960م.
বস্তুত লোকেরা দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল যখন তারা বিজয়াভিযানের পরবর্তী সময়ে অনারবদের সাথে আরবদের সংমিশ্রণের ফলে আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেছিল। তারা অনারবদের ভূখণ্ডে বসবাস শুরু করেছিল এবং তাদের সাথে জীবনযাপন করছিল; ফলে স্বভাবজাত নিয়মেই ভাষা, চিন্তা, নৈতিকতা ও প্রথার আদান-প্রদান ঘটেছিল। তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ তখন উপলব্ধি করলেন যে, বিষয়টি একদিকে যেমন ভাষার বিকৃতি ও স্বাজাত্যবোধ বিনাশের দিকে ধাবিত হচ্ছে, অন্যদিকে তা চরম অবহেলার...

--------------------------------------------

= অতঃপর সে নিচু স্বরে আমাকে বলল: "তিনি হলেন ইসহাক।" সে কোনো রকম বিলম্ব না করে এবং না থেমে দ্রুত চলে গেল, এমনকি ইসহাকের মজলিসে ফিরে এল; এতে আমি বিচলিত হয়ে পড়লাম। যখন আমি তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম, তিনি আমাকে বললেন: "وهذا المال مالا" (এই সম্পদটি সম্পদ হিসেবে) বলা হবে নাকি "وهذا المال مال" (এই সম্পদটি সম্পদ) বলা হবে?! আমি বুঝতে পারলাম মায়মুন কী চেয়েছেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: "সঠিক রূপটি হলো 'وهذا المال مال', তবে 'وهذا المال مالا' বলাও বৈধ (يجوز)।" এতে ইসহাক রূঢ়তা ও কঠোরতার সাথে মায়মুনের দিকে ফিরলেন এবং বললেন: "তোমার কিতাবসমূহে বিশুদ্ধ রূপটিই আঁকড়ে ধরো, আর আমাদের এই 'বৈধ (يجوز)' এবং 'বৈধ (يجوز)' বলা থেকে নিষ্কৃতি দাও।" এরপর তিনি তাঁর হাতে থাকা একটি কিতাব ছুড়ে মারলেন। আমি ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারলাম যে, মায়মুন যখন রোম দেশে ছিলেন তখন খলিফা মামুনের কাছে ইসহাকের পক্ষ থেকে একটি চিঠি লিখেছিলেন এবং তাতে এমন কিছু উল্লেখ করেছিলেন যা তিনি সহ্য করতে পারেননি; সেখানে তিনি লিখেছিলেন: "وهذا المال مالا"। তখন মামুন চিঠির সেই জায়গাটুকুতে দাগ দিয়ে দেন এবং নিজ হাতে পার্শ্বটিকায় লেখেন: "তুমি আমার সাথে লাহ্‌ন (لحن) বা ব্যাকরণগত ভুল করে কথা বলছ!!" এতে ইসহাকের উপর যেন কিয়ামত নেমে এল।

এর পর থেকে মায়মুন বলতেন: "আমি জানি না কীভাবে ইবনে কাদিমের শুকরিয়া আদায় করব, সে আমার প্রাণ ও নিয়ামত রক্ষা করেছে!!" এই হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي) ছা'লাব বলেন: "এটিই ছিল ইলমের মর্যাদা এবং সেই অনুযায়ীই ইলম অর্জনের আগ্রহ ও ভুল (الزلل) থেকে বেঁচে থাকার সতর্কতা ছিল।" তিনি আরও বলেন: "'وهذا المال مالا' বলার কোনো ভিত্তি নেই, তবে মায়মুনকে উদ্ধারের কৌশলে ইবনে কাদিমা অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।" ইনবআহুর রুওয়াত ৩/১৫৭ এবং জুবায়দীর তাবাকাতুন নাহুয়্যিন ওয়াল লুগায়্যিন, পৃষ্ঠা ১৫৩।

এমনকি যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, তখন এই আপত্তির তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেল। ফলে আমরা নাহবি বা ব্যাকরণবিদ ছা'লাবকে দেখতে পাই যে, তিনি "তার কথাবার্তায় ব্যাকরণগত নির্ভুলতা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট করতেন না যদি না তাতে অর্থ অস্পষ্ট হওয়ার ভয় থাকত।" এবং আমরা ইব্রাহিম হারবিকে দেখতে পাই যে, যখন তার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলো, তিনি বললেন: "কথায় লাহ্‌ন (لحن) বা ব্যাকরণগত ভুল হলে তাতে কী আসে যায়? হিশাম নাহবিও তার কথায় লাহ্‌ন (لحن) করতেন এবং আবু হুরায়রা তার সন্তানদের সাথে নবতী ভাষায় কথা বলতেন।" ইনবআহুর রুওয়াত ১/১৪০।

এমনকি বসরার কোনো কোনো আমির "إن الله وملائكتُهُ" আয়াতটি পেশ (الرفع) দিয়ে পড়তেন। তখন আখফাশ তাকে নসিহত করতে গেলে তিনি তাকে ধমক দেন ও ভয় দেখান এবং বলেন: "তোমরা কি তোমাদের আমিরদের ভুল (لحن) ধরছ!!" ইনবআহুর রুওয়াত ২/৪৩।

তবে সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গ দীর্ঘকাল লাহ্‌ন (لحن) বা ব্যাকরণগত ভুলকে অপছন্দ করার নীতিতে অটল ছিলেন। হাফস ইবনে গিয়াস বর্ণনা করেন:

"ঈসা ইবনে মুসা রাতের বেলা আমাদের তলব করলেন। আমরা তার কাছে পৌঁছলাম এমতাবস্থায় যে পাহারাদার সৈন্যরা দুই সারিতে দণ্ডায়মান ছিল এবং আমরা তার ভয়ে আতঙ্কে পরিপূর্ণ ছিলাম। তখন তিনি বললেন:

'আমি তোমাদেরকে কেবল কল্যাণের (لخيرا) জন্যই ডেকেছি'। তার কদর্য লাহ্‌ন (لحن) বা ভুল উচ্চারণের কারণে আমাদের অন্তর থেকে তার প্রতি থাকা ভয় ও সম্ভ্রম দূর হয়ে গেল।" আসকারির আল-মাসুন, পৃষ্ঠা ১৪৬, কুয়েত সরকার সংস্করণ, ১৯৬০ ইং।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
صيانة الدين من جهة ثانية، إذ كانت سلامة أحكامه موقوفة على حسن فهم المستنبط لنصوص القرآن الكريم والحديث الشريف، وكان في ضعف العربية تضييع لهذا الفهم.

بحث علماء العربية فيمن نقل الرواة عنهم من أهل المدر والوبر قدماء ومحدثين، وتقصوا أحوالهم ونقدوها، فاجتمعوا على الاحتجاج بقول من يوثق بفصاحته وسلامة عربيته، ونحن عارضون لأصناف هؤلاء زمانا ومكانا وأحوالا.

فأما الزمان، فقد قبلوا الاحتجاج بأقوال عرب الجاهلية وفصحاء الإسلام حتى منتصف القرن الثاني سواء أسكنوا الحضر أم البادية. أما الشعراء فقد صنفوا أصنافا أربعة: جاهليين لم يدركوا الإسلام، ومخضرمين أدركوا الجاهلية والإسلام، وإسلاميين لم يدركوا من الجاهلية شيئا، ومحدثين أولهم بشار بن برد1. وشبه الإجماع انعقد على صحة الاستشهاد بالطبقتين الأوليين واختلفوا في الطبقة الثالثة، وذهب عبد القادر البغدادي صاحب خزانة الأدب إلى جواز الاستشهاد بها2 أما الطبقة الرابعة فلا يستشهد بكلامها في علوم اللغة والنحو والصرف خاصة، وكان آخر من يحتج بشعره على هذا الأساس بالإجماع إبراهيم بن هرمة "70-150هـ" الذي ختم الأصمعي به الشعر3. أما

--------------------------------------------

1 الاقتراح ص32.

2 خزانة الأدب 1/ 20.

3 الاقتراح للسيوطي ص22 "مطبعة المعارف بحيدر آباد 1310هـ". هذا، وبعضهم يرى الاحتجاج بالطبقة الرابعة مستدلا باستشهاد سيبويه بشعر بشار بن برد في "الكتاب"، ويرد المعترضون بأنه إنما فعل ذلك خوفا من لسانه.
দ্বীন সংরক্ষণের এটি দ্বিতীয় দিক, যেহেতু এর বিধানসমূহের বিশুদ্ধতা পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরীফের ভাষ্যসমূহ থেকে বিধান আহরণকারীর (المستنبط) সঠিক বুঝের ওপর নির্ভরশীল। আর আরবি ভাষায় দুর্বলতা এই সঠিক বুঝ অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক।

আরবি ভাষাবিদগণ শহর ও মরুভূমিতে বসবাসকারী প্রাচীন ও পরবর্তী যুগের সেইসব ব্যক্তিদের সম্পর্কে গবেষণা করেছেন যাদের থেকে বর্ণনাকারীগণ (الرواة) বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা তাঁদের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন এবং পর্যালোচনা (نقدوها) করেছেন। অতঃপর তাঁরা এমন ব্যক্তির বক্তব্যকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যার বাকপটুতা (الفصاحة) ও আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা নির্ভরযোগ্য (يوثق)। আমরা এখন সময়, স্থান ও অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের শ্রেণিবিভাগ উপস্থাপন করছি।

সময়ের বিবেচনায়, তাঁরা প্রাক-ইসলামী জাহেলি যুগের আরব এবং দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ইসলামের সাবলীল ভাষাবাসীদের বক্তব্যকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা কবুল করেছেন, তারা শহরে বসবাসকারী হোক কিংবা মরুচারী। কবিদেরকে তাঁরা চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন: জাহেলি কবি—যারা ইসলামের যুগ পাননি; মুখাদরাম (مخضرمين)—যারা জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পেয়েছেন; ইসলামী কবি—যারা জাহেলিয়াতের কোনো কিছুই পাননি; এবং পরবর্তী যুগের কবি (المحدثين)—যাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন বাশশার ইবনে বুরদ। প্রথম দুই স্তরের কবিদের থেকে উদ্ধৃতি বা প্রমাণ হিসেবে পেশ (الاستشهاد) করার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে প্রায় ঐক্যমত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় স্তরের কবিদের ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ (اختلفوا) করেছেন, তবে খিজানাতুল আদব গ্রন্থের লেখক আব্দুল কাদির আল-বাগদাদি তাদের উদ্ধৃতি গ্রহণ করাকে বৈধ (جواز) মনে করেছেন। আর চতুর্থ স্তরের কবিদের কালাম বা বক্তব্যকে বিশেষ করে ভাষাবিজ্ঞান, নাহু (ব্যাকরণ) এবং সরফ (শব্দতত্ত্ব) শাস্ত্রে প্রমাণ হিসেবে পেশ (الاستشهاد) করা হয় না। এই মূলনীতির ভিত্তিতে সর্বসম্মতভাবে যার কবিতা দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করা হতো, তিনি হলেন ইব্রাহিম ইবনে হারমাহ (৭০-১৫০ হিজরি), যার মাধ্যমে আসমায়ি কবিতার উদ্ধৃতি প্রদান সমাপ্ত করেছেন।

--------------------------------------------

১. আল-ইকতিরাহ, পৃ. ৩২।

২. খিজানাতুল আদব ১/২০।

৩. সুয়ুতির আল-ইকতিরাহ, পৃ. ২২ (মাতবাআতুল মাআরিফ, হায়দ্রাবাদ, ১৩১০ হিজরি)। এছাড়া কেউ কেউ সিবাওয়াইহ কর্তৃক ‘আল-কিতাব’ গ্রন্থে বাশশার ইবনে বুরদের কবিতা উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহারের ভিত্তিতে চতুর্থ স্তরের কবিদের থেকে দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) সপক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বিরোধিতাকারীরা এর উত্তরে বলেন যে, তিনি মূলত তার জিহ্বার (বিদ্রূপের) ভয়ে এমনটি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
أهل البادية فقد استمر العلماء يدونون لغاتهم حتى فسدت سلائقهم في القرن الرابع الهجري1.

وعلى هذا "أجمعوا على أنه لا يحتج بكلام المولدين، والمحدثين في اللغة العربية"2.

وأما المكان أو بعبارة أخرى القبائل، فقد اختلفت درجاتها في الاحتجاج على اختلاف قربها أو بعدها من الاختلاط بالأمم المجاورة، فاعتمدوا كلام القبائل في قلب جزيرة العرب، وردوا كلام القبائل التي على السواحل أو في جوار الأعاجم، وإليك تصنيف أبي نصر الفارابي لهم في الاحتجاج:

أ- "كانت قريش أجود العرب انتقاء3 للأفصح من

--------------------------------------------

1 قرر ياقوت في معجم البلدان مادة "عكد" أن جبلي "عكاد" فوق مدينة الزرائب "وأهلها باقون على اللغة العربية من الجاهلية إلى اليوم لم تتغير لغتهم بحكم أنهم لم يختلطوا بغيرهم من الحاضرة في مناكحة، وهم أهل قرار لا يظعنون عنه ولا يخرجون منه".

"توفي ياقوت سنة 626هـ" ثم جاء صاحب القاموس المحيط المتوفى سنة "817هـ" فقرر أن "عكادا" جبل باليمن قرب مدينة زبيد، وأهله باقية على اللغة الفصيحة.

ثم زاد المرتضي الزبيدي المتوفى سنة "1205هـ" في شرحه للقاموس عند هذه المادة كلمة "إلى الآن" وقال: "لا يقيم الغريب عندهم أكثر من ثلاث ليالٍ خوفا على لسانهم! " ارجع إلى هذا المادة "عكد" في المراجع الثلاثة المذكورة. والزبيدي أقام في "زبيد" زمنا طويلا فهو بها عارف.

2 الاقتراح ص31 وقد مال الزمخشري إلى استثناء أئمة العربية من ذلك، داعيا إلى "جعل الوثوق بكلامهم كالوثوق برواياتهم" وليس بشيء.

3 قال ابن فارس: "وكانت قريش مع فصاحتها … إذا اتتهم الوفود من العرب تخيروا من كلامهم وأشعارهم أحسن لغاتهم وأصفى كلامهم، فاجتمع ما تخيروا من تلك اللغات إلى نحائزهم وسلائقهم التي طبعوا عليها، فصاروا بذلك أفصح العرب" الصاحبي ص23 "المطبعة السلفية بالقاهرة".
মরুচারীদের (أهل البادية) ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে তাদের ভাষাগত স্বভাব (سلائق) বিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত উলামায়ে কেরাম তাদের ভাষা সংকলন করে গেছেন।১

এবং এই ভিত্তিতে "তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, আরবি ভাষার ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের (المولدين) এবং আধুনিকদের (المحدثين) কথা দ্বারা দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করা যাবে না।"২

আর স্থানের ক্ষেত্রে, বা অন্য কথায় গোত্রসমূহের ক্ষেত্রে, পার্শ্ববর্তী জাতিসমূহের সাথে মেলামেশার নৈকট্য বা দূরত্বের ভিত্তিতে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) স্তরে ভিন্নতা রয়েছে। তাই তারা আরব উপদ্বীপের কেন্দ্রস্থলে বসবাসকারী গোত্রসমূহের কথার ওপর নির্ভর করেছেন এবং সমুদ্র উপকূলে বা অনারবদের (الأعاجم) সংলগ্ন গোত্রসমূহের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে আবু নাসর আল-ফারাবি কর্তৃক তাদের শ্রেণিবিন্যাস নিম্নরূপ:

ক- "কুরাইশরা সবচাইতে বিশুদ্ধ (الأفصح) ভাষা নির্বাচনের (انتقاء) ক্ষেত্রে আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিল৩

--------------------------------------------

১ ইয়াকুত হামাউয়ি মুজামুল বুলদান গ্রন্থের "আকাদ" ভুক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, যারাইবি শহরের ওপর অবস্থিত "আকাদ" পাহাড়দ্বয়ের অধিবাসীরা জাহেলি যুগ থেকে আজ অবধি আরবি ভাষার ওপর অটল রয়েছে। তারা লোকালয়ের অন্য মানুষের সাথে বৈবাহিক সূত্রে মেলামেশা না করার ফলে তাদের ভাষা পরিবর্তিত হয়নি। তারা স্থায়ী বাসিন্দা, সেখান থেকে অন্যত্র গমন করে না এবং সেখান থেকে বেরও হয় না।

"ইয়াকুত ৬২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।" এরপর আল-কামুস আল-মুহিত প্রণেতা (মৃত্যু ৮১৭ হি.) উল্লেখ করেছেন যে, "আকাদ" হলো ইয়েমেনের জাবিদ শহরের নিকটবর্তী একটি পাহাড় এবং সেখানকার অধিবাসীরা বিশুদ্ধ (الفصيحة) ভাষার ওপর অটল রয়েছে।

এরপর মুরতাজা আল-জাবিদি (মৃত্যু ১২০৫ হি.) কামুসের ব্যাখ্যাগ্রন্থে উক্ত ভুক্তিতে "এখন পর্যন্ত" কথাটি যোগ করেছেন এবং বলেছেন: "তাদের ভাষার বিকৃতির আশঙ্কায় কোনো আগন্তুক তাদের নিকট তিন রাতের বেশি অবস্থান করে না!" উল্লিখিত তিনটি উৎসে "আকাদ" ভুক্তিটি দেখুন। আল-জাবিদি দীর্ঘ সময় "জাবিদ"-এ অবস্থান করেছেন, তাই তিনি এ বিষয়ে সম্যক অবগত।

২ আল-ইকতিরাহ, পৃ. ৩১। আল-জামাশারি আরবি ভাষার ইমামদের এ থেকে ব্যতিক্রম করার দিকে ঝুঁকেছেন এবং তাদের কথার ওপর আস্থাকে তাদের বর্ণনাগুলোর (روايات) ওপর আস্থার মতো গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে এটি ধর্তব্য নয়।

৩ ইবনে ফারিস বলেছেন: "কুরাইশরা তাদের বাকপটুতার পাশাপাশি... যখন আরবদের প্রতিনিধি দলগুলো তাদের কাছে আসত, তখন তারা তাদের কথা ও কবিতা থেকে সুন্দরতম ভাষা ও স্বচ্ছতম অংশ নির্বাচন করে নিত। ফলে সেই নির্বাচিত ভাষাগুলো তাদের সহজাত প্রবৃত্তি ও স্বভাবের (سلائق) সাথে মিশে যেত যার ওপর তারা সৃষ্টিগতভাবেই ছিল। এভাবেই তারা আরবদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী (أفصح) হয়ে ওঠে।" আস-সাহাবি, পৃ. ২৩ (আল-মাতবা আস-সালাফিয়া, কায়রো)।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
الألفاظ وأسهلها على اللسان عند النطق، وأحسنها مسموعا وأبينها عما في النفس.

والذين عنهم نقلت اللغة العربية وبهم اقتدي وعنهم أخذ اللسان العربي من بين قبائل العرب هم:

قيس وتميم وأسد، فإن هؤلاء هم الذين أخذ عنهم أكثر ما أخذ ومعظمه، وعليهم اتكل في الغريب وفي الإعراب والتصريف.

ثم هذيل وبعض كنانة وبعض الطائيين، ولم يؤخذ عن غيرهم من سائر قبائلهم1.

ب- وبالجملة فإنه لم يؤخذ عن حضري ولا عن سكان البراري ممن كان يسكن أطراف بلادهم التي تجاور سائر الأمم الذين حولهم:

لم يؤخذ من لخم ولا من جذام؛ فإنهم كانوا مجاورين لأهل مصر والقبط.

ولا من قضاعة ولا من غسان ولا من إياد؛ فإنهم كانوا مجاورين لأهل الشام، وأكثرهم نصارى يقرءون بصلاتهم بغير العربية.

ولا من تغلب ولا النمر؛ فإنهم كانوا بالجزيرة مجاورين لليونانية.

ولا من بكر؛ لأنهم كانوا مجاورين للنبط والفرس.

--------------------------------------------

1 ومع هذا لم تكن لغات هؤلاء بالمرضية دائما، قال الحسن البصري يوما: "توضيت" فقيل له: "أتلحن يا أبا سعيد؟! " فقال: "إنها لغة هذيل، وفيها فساد". انظر كتاب "ألف باء" للبلوي 1/ 46.
শব্দসমূহ এবং উচ্চারণের সময় জিহ্বায় সবচেয়ে সহজ, শ্রবণে সবচেয়ে শ্রুতিমধুর এবং মনের ভাব প্রকাশে সবচেয়ে স্পষ্ট।

আরব গোত্রসমূহের মধ্যে যাদের থেকে আরবি ভাষা বর্ণিত হয়েছে, যাদেরকে অনুসরণ করা হয়েছে এবং যাদের নিকট থেকে আরবি ভাষারীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তারা হলেন:

কাইস, তামিমি এবং আসাদ। কেননা এদের নিকট থেকেই ভাষাগত অধিকাংশ বিষয় গ্রহণ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের ওপরই নির্ভর করা হয়েছে; বিশেষ করে অপরিচিত শব্দ (غريب), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) এবং শব্দরূপান্তরের (تصريف) ক্ষেত্রে।

এরপর হুযাইল, কেনানার একাংশ এবং তাইয়ি সম্প্রদায়ের একাংশ। তাদের অবশিষ্ট গোত্রগুলো থেকে অন্য কিছু গ্রহণ করা হয়নি।১

খ- সংক্ষেপে বলতে গেলে, কোনো শহরবাসী কিংবা মরুভূমির সেই সব বাসিন্দাদের নিকট থেকে ভাষা গ্রহণ করা হয়নি যারা তাদের ভূখণ্ডের এমন প্রান্তসীমায় বসবাস করত যা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জাতির সংলগ্ন ছিল:

লাখম কিংবা জুযাম থেকে কিছু গ্রহণ করা হয়নি; কারণ তারা মিশরের অধিবাসী এবং কিবতিদের প্রতিবেশী ছিল।

কুদাআহ, গাসসান কিংবা ইয়াদ থেকে গ্রহণ করা হয়নি; কারণ তারা ছিল শামের অধিবাসীদের প্রতিবেশী এবং তাদের অধিকাংশ ছিল খ্রিস্টান যারা তাদের প্রার্থনায় অনারবি ভাষা ব্যবহার করত।

তাগলিব কিংবা নামির থেকে গ্রহণ করা হয়নি; কারণ তারা জাজিরা অঞ্চলে গ্রিকদের প্রতিবেশী ছিল।

বকর থেকেও গ্রহণ করা হয়নি; কারণ তারা ছিল নাবতি এবং পারসিকদের প্রতিবেশী।

--------------------------------------------

১ তা সত্ত্বেও এই গোত্রগুলোর ভাষা সব সময় সন্তোষজনক (مرضي) ছিল না। হাসান বসরী একদিন বলেছিলেন: "তাউয়াদ্দাইতু"; তখন তাঁকে বলা হলো: "হে আবু সাঈদ, আপনি কি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করছেন?" তিনি বললেন: "এটি হুযাইল গোত্রের ভাষা, যদিও এতে বিচ্যুতি রয়েছে।" আল-বালউয়ি রচিত "আলিফ বা" কিতাবটি দেখুন, ১/৪৬।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
ولا من عبد القيس؛ لأنهم كانوا من سكان البحرين مخالطين للهند والفرس.

ولا من أزد عمان؛ لمخالطتهم للهند والفرس.

ولا من أهل اليمن أصلا؛ لمخالطتهم للهند والحبشة، ولولادة الحبشة فيهم.

ولا من بني حنيفة وسكان اليمامة ولا من ثقيف وسكان الطائف؛ لمخالطتهم تجار الأمم المقيمين عندهم.

ولا من حاضرة الحجاز؛ لأن الذين نقلوا اللغة صادفوهم حين ابتدءوا ينقلون لغة العرب، قد خالطوا غيرهم من الأمم وفسدت ألسنتهم1.

--------------------------------------------

1 الاقتراح للسيوطي ص32 نقلا عن كتاب الفارابي "الألفاظ والحروف".

هذا وقد أورد الجاحظ في كتابه "البيان والتبيين" مقابلة طريفة بين لغات أهل مكة والبصرة والكوفة، يفيد إيرادها في شرح الظاهرة المذكورة أعلاه، قال الجاحظ: "أهل الأمصار إنما يتكلمون على لغة النازلة فيهم من العرب؛ ولذلك نجد الاختلاف في ألفاظ أهل الكوفة والبصرة والشام ومصر.... وقال أهل مكة لمحمد بن مناذر الشاعر: "ليست لكم معاشر أهل البصرة لغة فصيحة، إنما الفصاحة "هنا أهل مكة"" فقال محمد بن مناذر: "أما ألفاظنا فأحكى الألفاظ للقرآن وأكثرها موافقة له، فضعوا القرآن بعد هذا حيث شئتم: أنتم تسمون القدر برمة وتجمعون البرمة على برام، ونحن نقول "قدر" ونجمعها على قدور، وقال الله عز وجل: {وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَاسِيَاتٍ} وأنتم تسمون البيت "علية" وتجمعون هذا الاسم على علالٍ ونحن نسميه "غرفة" ونجمعه على غرف وغرفات، وقال الله: {غُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ} وقال: {وَهُمْ فِي الْغُرُفَاتِ آَمِنُونَ} ، وأنتم تسمون الطلع "الكافور والإغريض" ونحن نسميه الطلع وقال الله: {وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ} فعد عشر كلمات لم أحفظ أنا منها غير هذا.

ألا ترى أن أهل المدينة لما نزل فيها ناس من الفرس في قديم الدهر، علقوا بألفاظ من ألفاظهم؛ ولذلك يسمون البطيخ "الخربز" ويسمون … إلخ.

وكذا أهل الكوفة يسمون المسحاة: "بال" وبال بالفارسية، ولو علق ذلك لغة أهل البصرة إذ نزلوا بأدنى بلاد فارس وأقصى بلاد العرب كان ذلك أشبه إذ كان أهل =
আর আব্দুল কায়েস গোত্র থেকেও নয়; কারণ তারা ছিল বাহরাইনের অধিবাসী যারা ভারত ও পারস্যের সাথে মেলামেশা করত।

ওমানের আযদ গোত্র থেকেও নয়; ভারত ও পারস্যের সাথে তাদের মেলামেশার কারণে।

মূলত ইয়ামেনবাসীদের থেকেও নয়; ভারত ও আবিসিনিয়ার (হাবশা) সাথে তাদের মেলামেশার কারণে এবং তাদের মধ্যে আবিসিনীয়দের জন্মের কারণে।

বনু হানিফা ও ইয়ামামার অধিবাসী এবং সাকিফ ও তায়েফের অধিবাসীদের থেকেও নয়; তাদের কাছে বসবাসরত বিভিন্ন জাতির ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের মেলামেশার কারণে।

হেজাজের নগরবাসীদের থেকেও নয়; কারণ যারা ভাষা বর্ণনা করেছেন, তারা যখন আরবী ভাষা সংগ্রহ শুরু করেন তখন তারা তাদের এমন অবস্থায় পেয়েছেন যে তারা অন্য জাতির সাথে মিশে গিয়েছিল এবং তাদের ভাষার বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ১।

--------------------------------------------

১ আল-সুয়ূতী রচিত আল-ইকতিরাহ, পৃষ্ঠা ৩২; আল-ফারাবীর 'আল-আলফাজ ওয়াল হুরুফ' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত।

আল-জাহিয তার 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন' গ্রন্থে মক্কা, বসরা ও কুফার অধিবাসীদের ভাষার মধ্যে একটি চমৎকার তুলনা উল্লেখ করেছেন, যা উপরোক্ত বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে সহায়ক। জাহিয বলেন: "শহরবাসীরা মূলত তাদের মাঝে বসবাসরত আরবদের উপভাষায় কথা বলে; একারণেই কুফা, বসরা, সিরিয়া (শাম) ও মিশরের অধিবাসীদের শব্দচয়নে আমরা পার্থক্য দেখতে পাই... মক্কাবাসীরা কবি মুহাম্মদ ইবনে মুনাজিরকে বলেছিল: 'হে বসরাবাসী, তোমাদের ভাষা প্রাঞ্জল (فصيحة) নয়, বরং প্রাঞ্জলতা (فصاحة) তো এখানে, মক্কাবাসীদের মাঝে।' তখন মুহাম্মদ ইবনে মুনাজির বললেন: 'আমাদের শব্দগুলো কুরআনের শব্দের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অনুকরণ এবং এর সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ; এরপরে আপনারা কুরআনকে যেখানে ইচ্ছা স্থান দিতে পারেন: আপনারা ডেকচিকে 'বুরমাহ' বলেন এবং এর বহুবচন করেন 'বিরাম', আর আমরা বলি 'কিদর' (قدر) এবং এর বহুবচন করি 'কুদুর' (قدور)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং বিশাল পাত্র যা হাওজের ন্যায় এবং সুদৃঢ় ডেকচি (قدور)}। আপনারা বাড়িকে 'ইল্লিয়্যাহ' বলেন এবং এর বহুবচন করেন 'আলালি', আর আমরা একে বলি 'গুরফাহ' (غرفة) এবং বহুবচন করি 'গুরাফ' (غرف) ও 'গুরফাত' (غرفات)। আল্লাহ বলেছেন: {প্রকোষ্ঠসমূহ (غرف), যার উপরে নির্মিত আছে আরও প্রকোষ্ঠ (غرف)} এবং বলেছেন: {আর তারা কক্ষসমূহে (غرفات) নিরাপদ থাকবে।} আপনারা খেজুরের মোচাকে 'কাফুর' ও 'ইগরিদ' বলেন, আর আমরা একে বলি 'তালউ' (طلع)। আল্লাহ বলেছেন: {এবং খেজুর গাছ যার মোচা (طلع) কোমল।}' এভাবে তিনি দশটি শব্দ গণনা করলেন যার মধ্যে আমি এগুলো ছাড়া অন্যগুলো স্মরণ রাখতে পারিনি।

আপনি কি দেখেন না যে, মদিনাবাসীদের মাঝে যখন প্রাচীনকালে পারস্যের কিছু লোক বসতি স্থাপন করল, তখন তারা তাদের কিছু শব্দ গ্রহণ করে নিয়েছিল; এজন্যই তারা তরমুজকে 'খারবায' বলে এবং … ইত্যাদি।

একইভাবে কুফাবাসীরা কোদালকে 'বাল' বলে, আর 'বাল' শব্দটি ফারসি। যদি বসরার অধিবাসীদের ভাষায় এমন কিছু ঘটত, যারা পারস্যের নিকটতম এবং আরব ভূখণ্ডের দূরবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপন করেছিল, তবে তা আরও স্বাভাবিক হতো... =
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وكأن هذا التصنيف حاز القبول وجرى عليه العمل وكان الخروج عليه مدعاة إلى النقد، ولما اعتمد ابن مالك على لغات لخم وجذام وغسان، تعقبه باللوم أبو حيان فقال في شرح التسهيل: "ليس ذلك من عادة أئمة هذا الشأن"1.

وكان أبو عمرو بن العلاء يقول: "لا أقول: "قالت العرب" إلا ما سمعت من عالية السافلة وسافلة العالية" يريد ما بين نجد وجبال الحجاز حيث قبائل أسد وتميم وبعض قبائل قيس2، بل كان عثمان يقول: "لا يملين في مصاحفنا إلا غلمان قريش وثقيف"2.

وأما أحوال هؤلاء العرب المحتج بهم فخيرها ما كان أعمق في التبدي وألصق بعيشة البادية؛ ولذا كان مما يفخر به البصريون على الكوفيين أخذهم عن الأعراب أهل الشيح والقيصوم وحرشة الضباب وأكلة اليرابيع، ويقولون للكوفيين: "أخذتم عن أكلة الشواريز وباعة الكواميخ"3. وقد نص

--------------------------------------------

= الكوفة نزلوا بأدنى بلاد النبط وأقصى بلاد العرب، ويسمي أهل الكوفة الحوك "البقلة الحمقاء" بازورج، والبازورج بالفارسية والحوك كلمة عربية. وأهل البصرة إذا التقت أربع طرق يسمونها "مربعة" وتسميها أهل الكوفة "جهارسو" والجهار بالفارسية. ويسمون السوق أو السويقة وازار والوازار بالفارسية، ويسمون القثاء خيارا والخيار فارسية، ويسمون المجذوم يذي بالفارسية. ا. هـ 1/ 18.

وبهذه الأمثلة التي طغى فيها الأثر الاجتماعي على الأثر الجغرافي تدرك الحافز لعلماء العربية على إسقاط من أسقطوا في الاحتجاج من العرب في الجاهلية والإسلام.

1 الاقتراح ص24.

2 انظر مجلة مجمع اللغة العربية "بالقاهرة" 8/ 141.

3 الشيراز: اللبن المصفى، والكامخ: إدام، انظر القاموس المحيط.
মনে হচ্ছে এই শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) গ্রহণযোগ্যতা (القبول) লাভ করেছিল এবং এর ওপরই আমল জারি ছিল, আর এর পরিপন্থী হওয়া ছিল সমালোচনার (نقد) নামান্তর। যখন ইবনে মালিক লাখম, জুধাম ও গাসসান গোত্রের উপভাষার ওপর নির্ভর করলেন, তখন আবু হাইয়ান তাকে তিরস্কারসহ সমালোচনা করে ‘শারহুত তাসহিল’-এ বলেন: "এই শাস্ত্রের ইমামদের (أئمة) নিকট এমনটি প্রচলিত নয়" ১।

আবু আমর ইবনুল আলা বলতেন: "আমি 'আরবরা বলেছে' কথাটি ততক্ষণ বলি না যতক্ষণ না আমি উচ্চভূমির নিম্নঞ্চল এবং নিম্নভূমির উচ্চাঞ্চল থেকে তা শুনি।" এর মাধ্যমে তিনি নজদ এবং হিজাজ পর্বতমালার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝাতেন যেখানে আসাদ, তামীম এবং কায়েস গোত্রের কিছু শাখা বসবাস করত ২। এমনকি উসমান (রা.) বলতেন: "আমাদের মুসহাফগুলোতে যেন কেবল কুরাইশ এবং সাকিফ গোত্রের যুবকরাই শ্রুতিলিপি প্রদান করে" ২।

আর ঐ সমস্ত আরবদের অবস্থা যাদের বক্তব্য দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (محتج بهم), তাদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা মরুচারিতায় অধিক গভীর এবং বেদুইন জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিল। এই কারণেই বসরার অধিবাসীরা কুফাবাসীদের ওপর এই বলে গর্ব করত যে, তারা এমন বেদুইনদের নিকট থেকে ভাষা গ্রহণ করেছে যারা শিহ ও কায়সুম (মরু উদ্ভিদ) এবং গুইসাপ ও মরু ইঁদুর ভক্ষণ করে জীবন কাটাত। তারা কুফাবাসীদের বলত: "তোমরা ভাষা গ্রহণ করেছ তাদের নিকট থেকে যারা শিওয়ারিজ (দুগ্ধজাত খাবার) ভক্ষণ করে এবং কাওয়ামিখ (চাটনি বা আচার) বিক্রি করে" ৩। এবং এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে

--------------------------------------------

= কুফাবাসীরা নবাতীয় ভূখণ্ডের নিকটতম এবং আরব ভূখণ্ডের দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করত। তারা 'হুক' (যা 'আল-বাকলাতুল হামকা' নামে পরিচিত)-কে 'বাজুরজ' বলত; বাজুরজ ফারসি শব্দ আর হুক একটি আরবি শব্দ। বসরার অধিবাসীরা চার রাস্তার মিলনস্থলকে 'মুরাব্বাআ' বলত, আর কুফাবাসীরা একে 'জাহরসু' বলত; 'জাহর' ফারসি শব্দ। তারা বাজার বা ছোট বাজারকে 'ওয়াজার' বলত, যা ফারসি শব্দ। তারা শসাকে 'খিয়ার' বলত, যা ফারসি। তারা কুষ্ঠরোগীকে ফারসিতে 'ইয়াদি' বলত। সমাপ্ত। ১/১৮।

সামাজিক প্রভাব ভৌগোলিক প্রভাবের ওপর প্রাধান্য পাওয়ার এই উদাহরণগুলোর মাধ্যমে আপনি সেই প্রেরণাটি উপলব্ধি করতে পারবেন যার কারণে আরবি ভাষাবিদগণ জাহিলিয়াত ও ইসলামি যুগে একদল আরবের বক্তব্যকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করার ক্ষেত্রে বর্জন করেছিলেন।

১. আল-ইকতিরাহ, পৃ. ২৪।

২. দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাতু মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (কায়রো), ৮/১৪১।

৩. আল-শিরাজ: পরিশ্রুত দুগ্ধ; আল-কামিখ: তরকারি বা চাটনি। দ্রষ্টব্য: আল-কামুস আল-মুহিত।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الفارابي بعد قوله المتقدم آنفا على صناعة هؤلاء الأعراب وصفاتهم فقال: "كانت صنائع هؤلاء التي بها يعيشون الرعاية والصيد واللصوصية، وكانوا أقواهم نفوسا وأقساهم قلوبا وأشدهم توحشا وأمنعهم جانبا وأشدهم حمية وأحبهم لأن يَغلبوا ولا يُغلبوا، وأعسرهم انقيادا للملوك، وأجفاهم أخلاقا وأقلهم احتمالا للضيم والذلة"1.

وتستطيع أن تجعل مرد الأمر كله -بعد ما تقدم لك- إلى الوثوق من سلامة لغة المحتج به وعدم تطرق الفساد إليها، وهذا هو الضابط في التصنيف الزماني والمكاني اللذين مرا بك، فأنت تعلم إسقاط العلماء الاحتجاج بشعر أمية بن أبي الصلت وعدي بن زيد العبادي2، وحتى الأعشى عند بعضهم؛ لمخالطتهم الأجانب وتأثر لغتهم بهذه المخالطة، حتى حمل شعرهم عددا غير قليل من ألفاظ ومصطلحات لا تعرفها العرب، وكل

--------------------------------------------

1 الاقتراح ص24.

2 إسقاط الاحتجاج في اللغة لا يؤثر في الشاعرية؛ وعلى هذا ينبغي أن يفهم إنكار القاضي الجرجاني زعم الأصمعي:

"زعم الأصمعي أن العرب لا تروي شعر أبي دؤاد وعدي بن زيد؛ لأن ألفاظهما ليست بنجدية"، وكيف يكون ذلك وهذا معاوية يفضل عديا على جماعة الشعراء، وهذا الحطيئة يسأل: من أشعر الناس؟ فيقول: الذي يقول -وأنشد لأبي دؤاد:

لا أعد الإقتار عدما ولكن … فقد من قد ززئته الإقتار

… إلخ الأبيات.

الوساطة ص 49.

هذا ومن العلماء من لا يحتج بغير الجاهليين، وقد قال الأصمعي: "جلست إلى أبي عمرو بن العلاء عشر حجج ما سمعته يحتج ببيت إسلامي".
আল-ফারাবি এই বেদুইনদের পেশা ও গুণাবলি সম্পর্কে তাঁর ইতিপূর্বে করা উক্তির পর বলেন: "এই লোকদের পেশা যার মাধ্যমে তারা জীবন অতিবাহিত করত তা ছিল পশুপালন, শিকার এবং দস্যুবৃত্তি। তারা ছিল মানসিক শক্তিতে প্রবলতম, হৃদয়ের দিক থেকে কঠোরতম, বন্যতায় তীব্রতম, আত্মরক্ষায় দুর্ভেদ্যতম, আত্মমর্যাদায় অত্যন্ত প্রখর এবং তারা বিজয়ী হতে পছন্দ করত, পরাজিত হওয়া নয়। তারা রাজাদের আনুগত্য করতে অত্যন্ত অসম্মত ছিল, আচার-আচরণে রূঢ়তম এবং অন্যায় ও লাঞ্ছনা সইতে সবচেয়ে কম সক্ষম।"১।

আপনি উপরের আলোচনার পর পুরো বিষয়টি এই নির্ভরযোগ্যতা (الوثوق)-র ওপর ফিরিয়ে দিতে পারেন যে, যার ভাষা দলীল হিসেবে গ্রহণ (المحتج به) করা হচ্ছে তার ভাষার বিশুদ্ধতা এবং তাতে কোনো বিকৃতি প্রবেশ না করা নিশ্চিত হওয়া। আপনার সামনে অতিক্রান্ত হওয়া কালানুক্রমিক ও ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে এটিই হলো মানদণ্ড (الضابط)। আপনি জানেন যে, আলেমগণ উমাইয়া ইবনে আবিস সালত এবং আদি ইবনে যায়িদ আল-ইবাদি২-এর কবিতাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج)-কে প্রত্যাখ্যান (إسقاط) করেছেন; এমনকি কারো কারো মতে আল-আশা-কেও। এর কারণ হলো অনারবদের সাথে তাদের মেলামেশা এবং এই সংমিশ্রণের কারণে তাদের ভাষায় প্রভাব পড়া, যার ফলে তাদের কবিতায় এমন অনেক শব্দ ও পরিভাষা স্থান পেয়েছে যা আরবরা জানত না।

--------------------------------------------

১ আল-ইকতিরাহ, পৃষ্ঠা ২৪。

২ ভাষার ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) থেকে প্রত্যাখ্যান (إسقاط) করা কবিত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না; আর এই ভিত্তিতেই আল-আসমাঈর দাবির প্রতি কাজী আল-জুরজানীর অস্বীকৃতি বুঝতে হবে:

"আল-আসমাঈ দাবি করেছেন যে, আরবরা আবু দুয়াদ এবং আদি ইবনে যায়িদের কবিতা বর্ণনা (تروي) করে না; কারণ তাদের শব্দাবলি নাজদি নয়।" এটি কীভাবে সম্ভব যখন মুয়াবিয়া একদল কবির ওপর আদি-কে প্রাধান্য দিতেন? আর আল-হুতাইয়াহকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো: মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কে? তখন তিনি বললেন: সেই ব্যক্তি যে বলে—অতঃপর তিনি আবু দুয়াদের পঙক্তি আবৃত্তি করলেন:

আমি অভাবকে নিঃস্ব হওয়া মনে করি না, কিন্তু … যাদের আমি হারিয়েছি তাদের হারানোই হলো প্রকৃত অভাব

… ইত্যাদি পঙক্তিমালা।

আল-ওয়াসাতাহ, পৃষ্ঠা ৪৯。

উল্লেখ্য যে, আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা জাহেলী (الجاهليين) কবি ছাড়া অন্য কাউকে দলীল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করেন না। আল-আসমাঈ বলেছেন: "আমি দশ বছর আবু আমর ইবনুল আলার কাছে বসেছি, আমি তাঁকে একটিও ইসলামী যুগের কবিতা দলীল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করতে শুনিনি।"
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
هؤلاء شعراء جاهليون1؛ بينما يذهب فريق إلى الاحتجاج بكلام الشافعي المتوفى في القرن الثالث للهجرة، حتى نص الإمام أحمد بن حنبل على أن "كلام الشافعي في اللغة حجة"2 لسلامة نشأته، وتقلبه في البيئات العربية السليمة. قيل لبشار: "ليس لأحد من شعراء العرب شعر إلا وقد قال فيه شيئا استنكرته العرب من ألفاظهم وشك فيه، وإنه ليس في شعرك ما يشك فيه! " قال: "ومن أين يأتيني الخطأ؟ ولدت ههنا ونشأت في حجور ثمانين شيخا من فصحاء بني عقيل ما فيهم أحد يعرف كلمة من الخطأ، وإن دخلت إلى نسائهم فنساؤهم أفصح منهم، وأيفعت فأبديت إلى أن أدركت؛ فمن أين يأتيني الخطأ؟ "3.

وكلمة بشار هذه دليل قاطع على وجود بيئات في المدن سليمة من اللحن لزمنه في المائة الثانية للهجرة.

ويعجبني كثيرا قول ابن جني في هذا الموضوع في باب "ترك

--------------------------------------------

1 مع هذا لا بد من بعض التسامح، فإن التدقيق والتقصي لا يسلم عليهما كثير من كلام المحتج بهم: هذا الكميت والطرماح روي أنهما كانا يسألان العجاج عن الغريب ثم يراه في شعرهما موضوعا في غير مواضعه، فقيل له: "ولم ذاك؟ " قال: "لأنهما قرويان يصفان ما لم يريا، فيضعانه في غير موضعه وأنا بدوي أصف ما رأيت فأضعه في مواضعه" الأغاني 2/ 17 بل إن الأصمعي كان يقول في الكميت: "جرمقاني من جراميق "عجم" الشام لا يحتج بشعره" وينكر مواضع من شعر الطرماح ويلحن ذا الرمة، انظر الوساطة للقاضي الجرجاني ص9. بل ذهب الجرجاني في باب "أغاليط الشعراء ص4 من الوساطة" إلى أنه لا توجد قصيدة واحدة من كل تلك الدواوين الجاهلية والإسلامية "تسلم من بيت أو أكثر لا يمكن لعائب القدح فيه" ا. هـ. وما أشبه هذا بالحق.

2 الاقتراح ص24.

3 الأغاني 3/ 26 طبعة الساسي.
এরা হলেন জাহেলি যুগের কবিগণ১; অন্যদিকে একদল আলেম হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম শাফিঈর কথাকে অকাট্য দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন, এমনকি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল স্পষ্ট করে বলেছেন যে, "ভাষার ক্ষেত্রে শাফিঈর বক্তব্য হলো অকাট্য দলিল (حجة)"২। এর কারণ ছিল তাঁর শৈশবের বিশুদ্ধতা এবং নির্মল আরবি পরিবেশসমূহে তাঁর বিচরণ। বাশশারকে বলা হলো: "আরব কবিদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কবিতায় আরবরা তাদের ভাষা অনুযায়ী আপত্তিকর কিছু বলেনি বা কোনো শব্দ নিয়ে সন্দেহ করেনি, অথচ আপনার কবিতায় সন্দেহ করার মতো কিছুই নেই!" তিনি বললেন: "আমার মাঝে ভুল আসবে কোত্থেকে? আমি এখানেই জন্মেছি এবং বনু উকাইলের আশিজন প্রাঞ্জলভাষী শায়খের (شيخ) কোলে লালিত-পালিত হয়েছি, যাদের মধ্যে কেউই ভুল শব্দের সাথে পরিচিত ছিল না। এমনকি আপনি যদি তাদের নারীদের কাছে যান, তবে দেখবেন তাদের নারীরা পুরুষদের চেয়েও বেশি প্রাঞ্জলভাষী। আমি কিশোর অবস্থায় পৌঁছে মরুভূমিতে চলে যাই এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করি; সুতরাং ভুল আমার মাঝে আসবে কোত্থেকে?"৩।

বাশশারের এই উক্তিটি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে শহরগুলোতে ভাষাগত ত্রুটিমুক্ত বিশুদ্ধ পরিবেশের অস্তিত্বের এক অকাট্য প্রমাণ।

এই বিষয়ে ইবন জিন্নির উক্তিটি আমার খুব পছন্দ হয় যা "বর্জন (ترك)

--------------------------------------------

১ এর সাথে কিছুটা শিথিলতা থাকা আবশ্যক, কারণ সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের কষ্টিপাথরে যাদের বক্তব্য অকাট্য দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা হয় তাদের অনেকের কথাই উত্তীর্ণ হয় না: এই যেমন কুমাইত ও তিরিম্মাহ সম্পর্কে বর্ণিত (روي) আছে যে, তাঁরা আল-আজজাজকে বিরল শব্দ (الغريب) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং পরবর্তীতে সেই শব্দগুলো তাঁদের কবিতায় অপ্রাসঙ্গিক স্থানে ব্যবহৃত হতে দেখা যেত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "এর কারণ কী?" তিনি বললেন: "কারণ তারা হলো শহরবাসী যারা যা দেখেনি তার বর্ণনা দেয়, তাই তা ভুল স্থানে বসায়। আর আমি হলাম বেদুইন, আমি যা দেখেছি তারই বর্ণনা দিই এবং তা সঠিক স্থানে প্রয়োগ করি।" আল-আগানি ২/১৭। বরং আসমায়ি কুমাইত সম্পর্কে বলতেন: "সে সিরিয়ার অনারব (عجم) বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি, যার কবিতা অকাট্য দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।" তিনি তিরিম্মাহর কবিতার কিছু অংশকে অস্বীকার করতেন এবং যুর রুম্মাহর কবিতায় ভাষাগত ত্রুটি ধরতেন। দেখুন: আল-ওয়াসাতাহ লীল কাযী আল-জুরজানী, পৃষ্ঠা ৯। এমনকি আল-জুরজানী আল-ওয়াসাতাহ গ্রন্থের 'কবিদের ভুলত্রুটি' পরিচ্ছেদের ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, জাহেলি এবং ইসলামি যুগের কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে এমন একটি কবিতাও নেই যা "এমন এক বা একাধিক পঙ্ক্তি থেকে মুক্ত, যেখানে কোনো সমালোচক দোষারোপ (القدح) করতে পারবেন না।" (উক্তি সমাপ্ত)। আর এটি সত্যের কতটা নিকটবর্তী!

২ আল-ইকতিরাহ পৃষ্ঠা ২৪।

৩ আল-আগানি ৩/২৬, সাসি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
الأخذ عن أهل المدر كما أخذ عن أهل الوبر":

"علة امتناع ذلك ما عرض للغات الحاضرة وأهل المدر من الاختلال والفساد والخطل، ولو علم أن أهل مدينة باقون على فصاحتهم ولم يعترض شيء من الفساد للغتهم لوجب الأخذ عنهم كما يؤخذ عن أهل الوبر. وكذلك أيضا لو فشا في أهل الوبر ما شاع في لغة أهل المدر من اضطراب الألسنة وخبالها وانتقاض عادة الفصاحة وانتشارها، لوجب رفض لغتها وترك تلقي ما يرد عنها، وعلى ذلك العمل في وقتنا هذا؛ لأنا لا نكاد نرى بدويا فصيحا، وإن نحن آنسنا منه فصاحة في كلامه لم نكد نعدم ما يفسد ذلك، ويقدح فيه.."1.

--------------------------------------------

1 الخصائص 2/ 5، ثم ذكر ابن جني أدلة على فساد سليقة الأعراب في زمنه فقال: "وقد كان طرأ علينا أحد من يدعي الفصاحة البدوية ويتباعد عن الضعفة الحضرية، فتلقينا أكثر كلامه بالقبول له، وميزناه تمييزا حسن في النفوس موقعه، إلى أن أنشدني يوما شعرا لنفسه يقول في بعض قوافيه: "أشأؤها، وأدأؤها" "بوزن أشععها وأدععها" فجمع بين الهمزتين كما ترى. واستأنف من ذلك ما لا أصل له، ولا قياس يسوغه، نعم وأبدل إلى الهمز حرفا لاحظ له في الهمز، بضد ما يجب؛ لأنه لو التقت همزتان عن وجوب صنعة للزم تغيير إحداهما. فكيف أن يقلب إلى الهمز قلبا ساذجا عن غير صنعة ما لا حظ له في الهمز، ثم يحقق الهمزتين جميعا! هذا ما لا يبيحه قياس ولا ورد بمثله سماع … إلخ.
"স্থায়ী জনপদের অধিবাসীদের নিকট থেকে (ভাষা) গ্রহণ করা, যেমনটি যাযাবর মরুচারীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়":

"এরূপ করা থেকে বিরত থাকার কারণ (علة) হলো বর্তমান সময়ের ভাষা এবং স্থায়ী জনপদের অধিবাসীদের ভাষায় যে বৈকল্য, বিকৃতি ও ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়েছে। যদি জানা যেত যে কোনো শহরের অধিবাসীগণ তাদের ভাষাগত বিশুদ্ধতার ওপর অটল রয়েছে এবং তাদের ভাষায় কোনো বিকৃতি ঘটেনি, তবে অবশ্যই তাদের নিকট থেকে (ভাষা) গ্রহণ করা ওয়াজিব হতো, যেমনটি মরুচারীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়। অনুরূপভাবে, যদি মরুচারীদের মাঝেও স্থায়ী জনপদের অধিবাসীদের ভাষার ন্যায় রসনার বিচ্যুতি ও বিশৃঙ্খলা এবং ভাষাগত সাবলীলতার অভ্যাসের বিনাশ ও বিচ্যুতি ছড়িয়ে পড়ত, তবে অবশ্যই তাদের ভাষা প্রত্যাখ্যান করা এবং তাদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা গ্রহণ বর্জন করা ওয়াজিব হতো। বর্তমান সময়ে এর ওপরই আমল চলছে; কারণ আমরা বর্তমানে সাবলীল ও বিশুদ্ধভাষী কোনো মরুবাসী দেখতে পাই না বললেই চলে। আর যদি আমরা কারো কথায় বিশুদ্ধতা অনুভবও করি, তবে তাতে এমন কিছু অবশ্যই পাওয়া যায় যা ভাষাকে কলুষিত করে এবং তাকে ত্রুটিপূর্ণ (قدح) করে।"১।

--------------------------------------------

১ আল-খাসাইস ২/ ৫; এরপর ইবনে জিন্নি তার সমসাময়িক মরুচারীদের সহজাত প্রবৃত্তির (سليقة) বিকৃতির কিছু প্রমাণ উল্লেখ করে বলেন: "আমাদের নিকট এমন এক ব্যক্তি এসেছিল যে মরু অঞ্চলের বিশুদ্ধ ভাষার দাবি করত এবং নাগরিক দুর্বলতা (ضعفة) থেকে নিজেকে দূরে রাখত। আমরা তার অধিকাংশ কথা গ্রহণের (قبول) সাথে গ্রহণ করলাম এবং অন্তরে এর একটি সুন্দর স্থান নির্দিষ্ট করলাম। এরপর একদিন সে আমাকে তার নিজের লেখা একটি কবিতা পড়ে শুনালো, যার একটি অন্ত্যমিলে সে বলেছিল: 'আশআউহা ওয়া আদআউহা' (أشأؤها، وأدأؤها), যা 'আশআআহা ওয়া আদআআহা' (أشععها وأدععها) এর ওজনে। সে এখানে দুটি হামজাকে একত্রিত করেছে যেমনটি আপনি দেখছেন। সে এমন কিছু উদ্ভাবন করেছে যার কোনো ভিত্তি নেই এবং কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কিয়াস (قياس) একে সমর্থন করে না। হ্যাঁ, সে হামজার ক্ষেত্রে এমন একটি বর্ণকে হামজা দ্বারা পরিবর্তন করেছে যার হামজা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, যা মূলত যা করা উচিত ছিল তার বিপরীত; কারণ নিয়মতান্ত্রিক কারণে যদি দুটি হামজা একত্রিত হয় তবে একটিকে পরিবর্তন করা আবশ্যক। তাহলে কোনো নিয়ম ছাড়াই একটি বর্ণকে কেবল হামজায় রূপান্তর করা কীভাবে বৈধ হতে পারে যার হামজা হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই, এবং এরপর উভয় হামজাকেই স্পষ্ট করে উচ্চারণ করা! এটি এমন বিষয় যা কোনো কিয়াস (قياس) অনুমতি দেয় না এবং এর সপক্ষে কোনো শ্রুতি (سماع) তথা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাও নেই... ইত্যাদি।"
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌نشأة النحو:

ما مضى لك بيانه من أحداث اللحن حمل القوم على الاجتهاد لحفظ العربية وتيسير تعلمها للأعاجم، فشرعوا يتكلمون في الإعراب وقواعده حتى تم لهم مع الزمن هذا الفن.

والذى تجمع عليه المصادر أن النحو نشأ بالبصرة، وبها نما واتسع وتكامل وتفلسف، وأن رءوسه بنزعتيه السماعية والقياسية كلهم بصريون.

أول من أرسل في النحو كلاما أبو الأسود الدؤلي المتوفى سنة 67هـ.

وقيل: إن علي بن أبي طالب ألقى على أبي الأسود شيئا من أصول هذا النحو، ثم قال له: "انح هذا النحو" فسمي الفن نحوا.

وقيل: إن أول من تكلم فيه: نصر بن عاصم المتوفى سنة 89هـ.

وقيل: عبد الرحمن بن هرمز المتوفى سنة 117هـ.

وقيل: لم يصل إلينا شيء عن أحد قبل يحيى بن يعمر المتوفى سنة 129هـ، وابن أبي إسحاق الحضرمي المتوفى سنة 117هـ.

وقيل، وقيل … إلخ.

ومن يقرأ بإمعان ترجمة أبي الأسود الدؤلي في "تاريخ دمشق لابن عساكر" مثلا، ثم يفكر في توارد أكثر المصادر على جعله واضع الأساس في بناء النحو لا يستبعد ذلك، فالرجل ذو ذكاء نادر وجواب حاضر، وبديهة نيرة، ثم هو بعدُ بليغ أريب مرن الذهن، وحسبك اختراعه "الشكل"1 الذي عرف

--------------------------------------------

1 اختار أبو الأسود كاتبا وأمره أن يأخذ المصحف وصبغا يخالف لون المداد وقال له: "إذا رأيتني قد فتحت فمي بالحرف فانقط نقطة فوقه على أعلاه، فإن ضممت فمي فانقط نقطة بين يدي الحرف، وإن كسرت فاجعل النقطة تحت الحرف، فإن أتبعت شيئا من ذلك غنة فاجعل مكان النقطة نقطتين" فهذا نقط أبي الأسود. أخبار النحويين البصريين لأبي سعيد السيرافي "ص16" "المطبعة الكاثوليكية في بيروت" وتهذيب تاريخ ابن عساكر 7/ 109، والفهرست لابن النديم ص60.

وهذا سبب إطلاق الفتح والكسر والضم على الحركات المعروفة فيما أرى، إذ كان أبو الأسود أول من استعملها. أما السكون في هذا المصحف فعلامته التجرد من العلامة.
‌‌ব্যাকরণ শাস্ত্রের উদ্ভব:

ভাষাগত বিকৃতি সংক্রান্ত যেসব বিষয় ইতিপূর্বে আপনার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে, তা এই জাতিকে আরবি ভাষা রক্ষা এবং অনারবদের জন্য তা শেখা সহজতর করার লক্ষ্যে গবেষণায় (اجتهاد) উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে তারা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ও এর নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন, এমনকি সময়ের ব্যবধানে এই শাস্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে।

উৎসগ্রন্থসমূহ এ বিষয়ে একমত যে, ব্যাকরণ শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে বসরায়। সেখানেই এটি বিকশিত হয়েছে, বিস্তৃতি লাভ করেছে, পূর্ণতা পেয়েছে এবং তাত্ত্বিক রূপ লাভ করেছে। আর শ্রুতিনির্ভর (سماعية) ও যুক্তিনির্ভর (قياسية) উভয় ধারার প্রধানগণই ছিলেন বসরার অধিবাসী।

ব্যাকরণ শাস্ত্র সম্পর্কে সর্বপ্রথম যিনি বিধিবদ্ধ আলোচনা করেছেন, তিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি, যিনি ৬৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

বর্ণিত আছে যে, আলি বিন আবি তালিব আবু আল-আসওয়াদকে এই ব্যাকরণ শাস্ত্রের কিছু মূলনীতি (أصول) শিখিয়ে দিয়েছিলেন এবং তারপর তাকে বলেছিলেন: "এই পথ অনুসরণ করো"; ফলে এই শাস্ত্রের নাম হয় 'নাহু' বা ব্যাকরণ শাস্ত্র।

আবার বলা হয় যে, এ বিষয়ে সর্বপ্রথম কথা বলেছেন নাসর বিন আসিম, যিনি ৮৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আরও বলা হয়, তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন হুরমুয, যিনি ১১৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

কারো কারো মতে, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুর (মৃত্যু ১২৯ হি.) এবং ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি (মৃত্যু ১১৭ হি.)-এর পূর্ববর্তী কারো সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য পৌঁছেনি।

আরও নানা কথা বর্ণিত আছে … ইত্যাদি।

যে ব্যক্তি মনোযোগের সাথে উদাহরণস্বরূপ ইবনে আসাকিরের 'তারিখু দিমাশক'-এ আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালির জীবনী (ترجمة) পাঠ করবেন, অতঃপর অধিকাংশ উৎসগ্রন্থে তাকে ব্যাকরণ শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন, তার কাছে এটি অসম্ভব মনে হবে না। কেননা এই ব্যক্তিটি ছিলেন বিরল মেধার অধিকারী, অত্যন্ত প্রত্যুৎপন্নমতি এবং প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন। তদুপরি তিনি ছিলেন একজন বাগ্মী, বুদ্ধিমান ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী মানুষ। আপনার জন্য তার উদ্ভাবিত 'স্বরচিহ্ন বিন্যাস' পদ্ধতিই যথেষ্ট, যা পরিচিত...

--------------------------------------------

১. আবু আল-আসওয়াদ একজন লেখককে নির্বাচন করেন এবং তাকে মুসহাফ গ্রহণ করতে ও কালির রঙের চেয়ে ভিন্ন একটি রঙের রঞ্জক নিতে নির্দেশ দেন। তিনি তাকে বললেন: "যখন তুমি দেখবে আমি কোনো বর্ণ উচ্চারণের সময় আমার মুখ খুলছি, তখন বর্ণের উপরে একটি ফোঁটা দেবে। যখন আমি আমার মুখ বন্ধ করছি, তখন বর্ণের সামনে একটি ফোঁটা দেবে। আর যখন আমি মুখ নিচু করছি, তখন বর্ণের নিচে একটি ফোঁটা দেবে। আর যদি এর সাথে কোনো গুন্নাহ বা অনুনাসিকতা যুক্ত করি, তবে এক ফোঁটার স্থলে দুটি ফোঁটা দেবে।" এটিই ছিল আবু আল-আসওয়াদ প্রবর্তিত ফোঁটা পদ্ধতি। আবু সাঈদ আস-সিরাফি রচিত 'আখবারুন নাহুয়্যিন আল-বসরিয়্যিন', পৃ. ১৬ (বৈরুতের ক্যাথলিক প্রেস); এবং 'তাহযিবু তারিখি ইবনি আসাকির', ৭/১০৯; এবং ইবনুন নাদিম রচিত 'আল-ফিহরিস্ত', পৃ. ৬০।

আমার মতে, পরিচিত স্বরধ্বনিগুলোকে ফাতহা, কাসরা ও যাম্মা নামে অভিহিত করার কারণ এটিই, যেহেতু আবু আল-আসওয়াদই প্রথম এগুলো ব্যবহার করেছিলেন। আর এই মুসহাফে সুকুন বা জযম-এর চিহ্ন হলো কোনো চিহ্ন না থাকা।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
بنقط أبي الأسود للدلالة على الرفع والنصب والجر والتنوين، وهو ما أجمعوا عليه قديما ولم يشك فيه حديثا أحد. و"الشكل" أعود على حفظ النصوص من حدود النحو؛ ولعله أعظم خدمة قدمت للعربية حتى الآن، وكان الخطوة الأولى إلى النحو كما ذهب إليه الأستاذ أحمد أمين1.

وينص أبو الطيب اللغوي على أن أبا الأسود وضع النحو ليتعلم بنو زياد2. "واختلف الناس إليه يتعلمون العربية، وفرع لهم ما كان أصله، فأخذ ذلك عنه جماعة".

وليس يعنينا هنا تحرير هذه الأولية بتفصيل3، لكننا لا نرى

--------------------------------------------

1 ضحى الإسلام 2/ 287، وانظر مراتب النحويين ص10.

2 مراتب النحويين 8، 10.

3 وما أقرب رواية أبي الفرج من الواقع والاعتدال حين سلسل لنا الخطوات في عبارة فيها كثير من الاقتصاد، قال راويا عن المدائني:

"أمر زياد أبا الأسود الدؤلي أن ينقط المصاحف فنقطها، ورسم من النحو رسوما ثم زاد فيها بعده عنبسة بن معدان ثم جاء عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي وأبو عمرو بن العلاء فزادا فيه، ثم جاء الخليل بن أحمد الأزدي وكان صليبة، ونجم علي بن حمزة الكسائي مولى بني كاهل من أسد فرسم للكوفيين رسوما فهم الآن يعملون عليها". الأغاني 11/ 101، وسيمر بك بعض تفصيل عن هؤلاء الأعلام، ولا بأس في تنبيهك إلى أن أبا الفرج نص في أول ترجمته لأبي الأسود على أنه "كان الأصل في بناء النحو وعقد أصوله".

وابن سلام يقول: أول من استن العربية وفتح بابها وانتهج سبيلها ووضع قياسها أبو الأسود" طبقات فحول الشعراء ص12، طبعة دار المعارف.

وللزبيدي الأندلسي المتوفى سنة 379هـ رواية مفيدة يسلسل فيها الخطوات الأولى في كتابه طبقات النحويين واللغويين ص215 قال:

"ابن أبي سعد قال: حدثنا علي بن محمد الهاشمي قال: سمعت أبي يذكر قال:

كان بدء ما وضع أبو الأسود النحو أنه مر به سعد وكان رجلا فارسيا قدم البصرة مع أهله، وكان يقود فرسه فقال: ما لك يا سعد! ألا تركب؟ فقال: "فرسي ضالع" فضحك به من حضره. قال أبو الأسود: هؤلاء الموالي قد رغبوا في الإسلام ودخلوا فيه وصاروا لنا إخوة، فلو علمناهم الكلام، فوضع باب الفاعل والمفعول لم يزد عليه قال أبي: فزاد في ذلك الكتاب رجل من بني ليث أبوابا، ثم نظر فإذا في كلام العرب ما لا يدخل فيه فأقصر عنه، فلما كان عيسى بن عمر قال: "أرى أن أضع الكتاب على الأكثر وأسمي الأخرى لغات، فهو أول من بلغ غايته في كتاب النحو".
আবু আল-আসওয়াদ কর্তৃক রফ (الرفع), নসব (النصب), জর (الجر) এবং তানউইন (التنوين)-কে নির্দেশ করার জন্য বিন্দু ব্যবহারের মাধ্যমে [নাহু শাস্ত্রের সূচনা হয়], যা প্রাচীনকাল থেকেই সর্বসম্মত এবং আধুনিক কালেও এ বিষয়ে কেউ সন্দেহ পোষণ করেনি। আর 'হরকত প্রদান' বা 'শকল' নাহুর সীমানার তুলনায় মূল পাঠ্য সংরক্ষণে অধিক সহায়ক; সম্ভবত এটিই এখন পর্যন্ত আরবি ভাষার প্রতি নিবেদিত সর্বশ্রেষ্ঠ সেবা। উস্তাদ আহমদ আমিনের অভিমত অনুযায়ী, এটিই ছিল নাহুর দিকে প্রথম পদক্ষেপ।১

আবু তাইয়িব আল-লুগাভী উল্লেখ করেছেন যে, আবু আল-আসওয়াদ যিয়াদের সন্তানদের শেখানোর জন্য নাহু প্রবর্তন করেছিলেন।২ "মানুষ আরবি শেখার জন্য তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করতে লাগল এবং তিনি তাদের জন্য মূল নীতিগুলো থেকে শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন করে দিলেন; ফলে একটি দল তাঁর কাছ থেকে তা গ্রহণ করল।"

এই আদি ইতিহাস বা প্রারম্ভিকতার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আমাদের এখানকার উদ্দেশ্য নয়৩, তবে আমরা মনে করি না

--------------------------------------------

১ দুহাল ইসলাম ২/২৮৭, এবং দেখুন মারাতীবুন নাহউইয়্যীন, পৃষ্ঠা ১০।

২ মারাতীবুন নাহউইয়্যীন ৮, ১০।

৩ আবু আল-ফরাজের বর্ণনাটি (رواية) বাস্তবতা ও ভারসাম্যের অত্যন্ত নিকটবর্তী, যেখানে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বাক্যে আমাদের জন্য ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-মাদাঈনী থেকে বর্ণনা (رواية) করে বলেন:

"যিয়াদ আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালীকে কুরআন শরিফের পাণ্ডুলিপিগুলোতে নুকতা বা বিন্দু প্রদান করতে নির্দেশ দিলেন, তিনি তা করলেন। এরপর তিনি নাহুর কিছু নিয়মাবলি তৈরি করলেন, তাঁর পরে আনবাসা ইবনে মা'দান এতে আরও কিছু যোগ করলেন। এরপর আসলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামী এবং আবু আমর ইবনুল আলা, তাঁরা এতে আরও পরিবর্ধন করলেন। অতঃপর আসলেন খলিল ইবনে আহমদ আল-আযদি, যিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও মৌলিক গবেষক। এরপর বনী কাহিলের মাওলা আলী ইবনে হামজাহ আল-কিসায়ী আবির্ভূত হলেন এবং কুফাবাসীদের জন্য কিছু নিয়ম নির্ধারণ করলেন, যার ওপর ভিত্তি করেই তারা বর্তমানে কাজ করছে।" আল-আগানী ১১/১০১; এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। তবে আপনাকে এ বিষয়ে অবগত করা প্রয়োজন যে, আবু আল-আসওয়াদের জীবনী আলোচনার শুরুতেই আবু আল-ফরাজ উল্লেখ করেছেন যে, "তিনিই ছিলেন নাহু শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন ও এর মূলনীতি নির্ধারণের উৎস।"

ইবনে সাল্লাম বলেন: "আরবি ভাষাকে সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে, এর দ্বার উন্মোচনে, এর পথ নির্ধারণে এবং এর কিয়াস বা নিয়মাবলি প্রণয়নে আবু আল-আসওয়াদই প্রথম ব্যক্তি।" তবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা, পৃষ্ঠা ১২, দারুল মাআরিফ সংস্করণ।

৩৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী যুবাইদী আল-আন্দালুসি তাঁর তবাকাতুন নাহউইয়্যীন ওয়াল লুগাভিয়্যীন কিতাবের ২১৫ পৃষ্ঠায় একটি উপকারী বর্ণনা (رواية) প্রদান করেছেন যেখানে তিনি প্রাথমিক ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন:

"ইবনে আবি সা'দ বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে উল্লেখ করতে শুনেছি...

আবু আল-আসওয়াদ কর্তৃক নাহু শাস্ত্র প্রবর্তনের শুরুর বিষয়টি ছিল এমন যে, সাদ নামে একজন পারস্যের লোক তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি সপরিবারে বসরায় এসেছিলেন। তিনি তাঁর ঘোড়া চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আবু আল-আসওয়াদ বললেন: 'হে সাদ, তোমার কী হয়েছে? তুমি সওয়ার হচ্ছ না কেন?' সে উত্তরে বলল: 'ফারাসি দালি' (আমার ঘোড়াটি খোঁড়া - ব্যাকরণগত ভুল করে সে শব্দের শেষে যের বা জর দিয়েছিল)। উপস্থিত লোকজন তাকে নিয়ে হাসাহাসি করল। তখন আবু আল-আসওয়াদ বললেন: 'এই অনারব মাওয়ালিরা ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়ে এতে প্রবেশ করেছে এবং আমাদের ভাই হয়ে গেছে। আমরা যদি তাদের কথা বলা বা ভাষা শেখাতাম!' এরপর তিনি ফায়েল (الفاعل) এবং মাফউল (المفعول) এর অধ্যায় তৈরি করলেন এবং এর বাইরে কিছু বাড়ালেন না। আমার পিতা বলেন: এরপর বনী লাইস গোত্রের এক ব্যক্তি সেই কিতাবে আরও কিছু অধ্যায় যুক্ত করলেন। অতঃপর তিনি লক্ষ্য করলেন যে, আরবদের কথার মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না, ফলে তিনি তা থেকে বিরত রইলেন। পরবর্তীতে যখন ঈসা ইবনে উমর এলেন, তিনি বললেন: 'আমি মনে করি কিতাবটি অধিকাংশের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে লিখব এবং বাকিগুলোকে উপভাষা হিসেবে অভিহিত করব।' তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহুর কিতাবকে এর পূর্ণতায় পৌঁছে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
بدا من أن نشير إلى أن اتفاقهم على أنه واضع "الشكل" وأن شبه الإجماع على أنه أول من تكلم بالنحو، وأنه كان يتصدر لإعراب القرآن1، وأن هؤلاء الذين تزعم لهم الأولية في بعض الأقوال: نصر بن عاصم، ويحيى بن يعمر، وعنبسة الفيل، وميمونا الأقرن، كلهم تلميذ أبي الأسود أو تلميذ تلميذه، عنه أخذوا العربية والقراءة بالبصرة؛ كل أولئك مع ما عرف عن أبي الأسود من ذكاء وقاد، وفكر متحرك، وعقل وروية، يجعلنا نقطع بأنه وضع أساسا بنى عليه من بعده. ولكن، ما هو هذا الأساس؟

لسنا نجد لهذا السؤال جوابا يشفي الغليل، فصحيفة أبي الأسود تعرف عند النحاة بـ "التعليقة"، فإذا أردنا معرفة محتوياتها لم نحظ بما يطمأن إليه2، بل فات معرفتها العلماء منذ المائة

--------------------------------------------

1 في ترجمة حر بن عبد الرحمن القارئ النحوي أنه: سمع أبا الأسود وعنه طلب إعراب القرآن أربعين سنة. بغية الوعاة ص215.

2 أما ابن الأنباري فقد اطمأن إلى خبر ذكره في أول كتابه "نزهة الألباء في طبقات الأدباء ص5" حين روى أن علي بن أبي طالب دفع إلى أبي الأسود رقعة فيها: "الكلام كله اسم وفعل وحرف، فالاسم ما أنبأ عن المسمى، والفعل ما أنبئ به، والحرف ما أفاد معني. واعلم أن الأسماء ثلاثة: ظاهر ومضمر واسم لا ظاهر ولا مضمر، وإنما يتفاضل الناس فيما ليس بظاهر ولا مضمر … " ثم يذكر ابن الأنباري أن أبا الأسود وضع أبواب "العطف، والنعت، والتعجب، والاستفهام" إلى أن وصل إلى باب إن واخواتها ما خلا لكن، فلما عرضها على علي أمره بضم "لكن" إليها، وكلما وضع بابا من أبواب النحو عرضه عليه. ا. هـ.

ولست أدري هل أبقت أمور الخلافة والحروب والفتن لعلي وقتا يفرغ فيه للتأليف في العلوم وتنقيحها واختراعها! ولعل الأستاذ أحمد أمين لم يكن بعيدا من الصواب حين روى هذا الخبر، فعلق عليه بما يأتي:

"وكل هذا حديث خرافة، فطبيعة زمن علي وأبي الأسود تأبى هذه التعاريف وهذه التقاسيم الفلسفية، والعلم الذي ورد إلينا من هذا العصر في كل فرع يتناسب مع الفطرة =
আমাদের অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, এ বিষয়ে তাদের ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে যে তিনিই 'স্বরচিহ্ন' (الشكل) প্রদানকারী এবং এ বিষয়ে প্রায় সর্বসম্মতি (شبه إجماع) রয়েছে যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহু (ব্যাকরণ) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তিনিই কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) জন্য আসীন হতেন।1 আর যাদেরকে কোনো কোনো বর্ণনায় (أقوال) এই বিষয়ে অগ্রণী হিসেবে দাবি করা হয়, যেমন: নাসর ইবনে আসিম, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর, আনবাসা আল-ফিল এবং মাইমুন আল-আকরান—তারা সকলেই ছিলেন আবুল আসওয়াদের ছাত্র অথবা তার ছাত্রের ছাত্র। তাদের নিকট থেকেই তারা বসরায় আরবি ভাষা এবং কিরাত শিক্ষা লাভ করেছেন। আবুল আসওয়াদের প্রখর মেধা, গতিশীল চিন্তাশক্তি এবং সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি ও দূরদর্শিতার সাথে এই সবকটি বিষয় আমাদের এই বিষয়ে নিশ্চিত করে যে, তিনিই সেই ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যার ওপর পরবর্তীগণ ইমারত নির্মাণ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই ভিত্তিটি কী?

আমরা এই প্রশ্নের এমন কোনো উত্তর খুঁজে পাই না যা জ্ঞানতৃষ্ণাকে নিবারণ করতে পারে। আবুল আসওয়াদের পাণ্ডুলিপিটি বৈয়াকরণদের নিকট 'আত-তালিকাহ' নামে পরিচিত। আমরা যদি এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাই, তবে এমন কিছু পাই না যার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায়। বরং ১০০ হিজরি থেকেই আলেমগণ এর পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন।

--------------------------------------------

1 ক্বারি ও বৈয়াকরণ হুর ইবনে আবদুর রহমানের জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করা হয়েছে যে: তিনি আবুল আসওয়াদের নিকট ইলম শ্রবণ করেছেন এবং তার কাছে চল্লিশ বছর ধরে কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) শিখেছেন। বুগইয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা: ২১৫।

2 ইবনুল আনবারি তার 'নুযহাতুল আলিব্বা ফি তাবাকাতিল উদিবা' (পৃষ্ঠা: ৫) গ্রন্থের শুরুতে বর্ণিত একটি সংবাদের (خبر) ওপর আস্থা রেখেছেন যেখানে তিনি বর্ণনা (روى) করেছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব আবুল আসওয়াদের নিকট একটি চিরকুট প্রদান করেছিলেন যাতে লেখা ছিল: "বাক্য (الكلام) হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। বিশেষ্য হলো যা কোনো নামকে নির্দেশ করে, ক্রিয়া হলো যার মাধ্যমে কোনো কিছুর সংবাদ প্রদান (أنبئ) করা হয় এবং অব্যয় হলো যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে। জেনে রাখো যে, বিশেষ্য তিন প্রকার: প্রকাশ্য (ظاهر), উহ্য বা সর্বনাম (مضمر) এবং এমন বিশেষ্য যা প্রকাশ্যও নয় আবার উহ্যও নয়। মানুষ কেবল সেই বিষয়েই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে যা প্রকাশ্যও নয় আবার উহ্যও নয় … " অতঃপর ইবনুল আনবারি উল্লেখ করেছেন যে, আবুল আসওয়াদ 'আতফ (সংযোজন), নাত (গুণবাচক), তাআজ্জুব (বিস্ময়সূচক) এবং ইস্তিফহাম (জিজ্ঞাসাবোধক)' পরিচ্ছেদসমূহ (أبواب) বিন্যাস করেছিলেন। এমনকি তিনি 'ইন্না ও তার সমজাতীয়' পরিচ্ছেদ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন কেবল 'লাকিন্না' ব্যতীত। অতঃপর যখন তিনি এটি আলীর নিকট পেশ করলেন, তখন আলী তাকে 'লাকিন্না'কে এর সাথে যুক্ত করার নির্দেশ দিলেন। তিনি নাহুর কোনো পরিচ্ছেদ (باب) তৈরি করলেই তা আলীর নিকট পেশ করতেন।

আমি জানি না যে খিলাফতের দায়িত্ব, যুদ্ধ এবং ফিতনা-বিবাদ আলীকে জ্ঞানবিজ্ঞান সংকলন, সংশোধন বা উদ্ভাবনের জন্য কোনো অবসর দিয়েছিল কি না! সম্ভবত উস্তাদ আহমদ আমিন সঠিক সিদ্ধান্তের খুব কাছেই ছিলেন যখন তিনি এই সংবাদটি (خبر) বর্ণনা (روى) করে এর ওপর নিম্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন:

"এইসবই হলো ভিত্তিহীন কাল্পনিক হাদিস; কেননা আলী এবং আবুল আসওয়াদের সময়কাল এই ধরণের সংজ্ঞা ও দার্শনিক শ্রেণিবিভাগ গ্রহণ করার অনুকূলে ছিল না। তাছাড়া সেই যুগ থেকে প্রতিটি শাস্ত্রের যে জ্ঞান আমাদের নিকট পৌঁছেছে তা মূলত মানুষের সহজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল ="
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الرابعة مع شدة حرصهم عليها، فيروي ابن النديم خبرا طريفا عن رجل جَمّاعة للكتب له خزانة لم ير لأحد مثلها بما جمعت من خطوط العلماء الأولين ونوادر الكتب والرقاع، فهي متحف كل ما فيه نادر وثمين، قال الذي شاهدها:

"ورأيت عنده أمانات وعهودا بخط أمير المؤمنين علي عليه السلام وبخط غيره من كتاب النبي صلى الله عليه وسلم، ومن خطوط العلماء في النحو واللغة مثل أبي عمرو بن العلاء وأبي عمرو الشيباني والأصمعي وابن الأعرابي وسيبويه والفراء والكسائي، ومن خطوط أصحاب الحديث مثل سفيان بن عيينة وسفيان الثوري والأوزاعي وغيرهم، ورأيت ما يدل على أن النحو

--------------------------------------------

= ليس فيه تعريف ولا تقسيم، إنما هو تفسير آية أو جمع لأحاديث ليس فيها ترتيب ولا تبويب، فأما تعريف وأما تقسيم منطقي فليس في شيء مما صح نقله إلينا عن عصر علي وأبي الأسود، وأخشى أن يكون ذلك من وضع بعض الشيعة الذين أرادوا أن ينسبوا كل شيء إلى علي، وأتباعه". ضحى الإسلام 2/ 285.

وأنا مع عدم استبعادي كثيرا صدور كلام مثل هذا عن أبي الأسود بعد موت علي بسنين حين اعتزل العمل الرسمي وفرغ لمثل هذه الشئون، لا أطمئن إلى ما روى ابن الأنباري.

حتى ابن فارس الذي ذهب إلى قدم النحو قبل زمن أبي الأسود بكثير لا ينكر إمامته وتجديده، فقد قال: "فإن قال قائل: لقد تواترت الروايات بأن أبا الأسود أول من وضع العربية، وأن الخليل أول من تكلم في العروض، قيل له: نحن لا ننكر ذلك، بل نقول: إن هذين العلمين قد كانا قديما وأتت عليهما الأيام وقلا في أيدي الناس، ثم جددهما هذان الإمامان" الصاحبي في فقه اللغة ص10 ونقله بنصه السيوطي في المزهر 2/ 345.

لكي أقف عند قولة المبرد "قرأت أوراقا من كتابي عيسى بن عمر فكان كالإشارة إلى الأصول" وأقول: إذا كانت كتب الطبقة الثالثة هذه كالإشارة إلى الأصول، فما حال نحو أبي الأسود! "توفي أبو الأسود سنة 67 وعيسى بن عمر سنة 149هـ". انظر نزهة الألباء.
চতুর্থ বিষয়টি হলো তাদের এগুলোর প্রতি প্রবল আগ্রহ। ইবনে আন-নাদিম বই সংগ্রাহক এক ব্যক্তি সম্পর্কে একটি চমৎকার সংবাদ বর্ণনা করেছেন, যার এমন একটি গ্রন্থাগার ছিল যা পূর্ববর্তী আলেমদের হস্তাক্ষর এবং বিরল বই ও চামড়ার টুকরোর সংকলনের দিক থেকে অতুলনীয় ছিল। এটি ছিল একটি জাদুঘরের মতো যেখানে প্রতিটি বস্তুই বিরল ও মূল্যবান। যিনি সেটি প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি বলেছেন:

"আমি তাঁর কাছে আমিরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম) এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য লেখকদের হস্তাক্ষরে লিখিত আমানতনামা ও অঙ্গীকারনামা দেখেছি। আরও দেখেছি নাহু ও লুগাত শাস্ত্রের আলেমদের হস্তাক্ষর যেমন আবু আমর বিন আল-আলা, আবু আমর আশ-শাইবানি, আল-আসমাঈ, ইবনুল আ’রাবি, সিবওয়াইহ, আল-ফাররা ও আল-কিসাঈ। আরও ছিল হাদিস বিশারদ (أصحاب الحديث)-দের হস্তাক্ষর যেমন সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, সুফিয়ান আস-সাওরি, আল-আওজাই ও অন্যান্যদের। আমি এমন কিছু দেখেছি যা নির্দেশ করে যে নাহু...

--------------------------------------------

= তাতে কোনো সংজ্ঞা বা বিন্যাস নেই, বরং তা ছিল কেবল আয়াতের তাফসির অথবা হাদিসসমূহের সংকলন যাতে কোনো ক্রম বা অধ্যায় বিন্যাস ছিল না। সংজ্ঞা বা যৌক্তিক বিন্যাসের কোনো অস্তিত্ব আলী ও আবু আল-আসওয়াদের যুগ থেকে আমাদের কাছে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত বিষয়সমূহের মধ্যে নেই। আমার আশঙ্কা হয় যে, এটি হয়তো কিছু শিয়াদের তৈরি করা যারা সবকিছু আলী এবং তাঁর অনুসারীদের দিকে নিসবত করতে চেয়েছিল।" দোহাল ইসলাম ২/২৮৫।

আলীর মৃত্যুর বহু বছর পর, যখন আবু আল-আসওয়াদ দাপ্তরিক কাজ থেকে অবসর নিয়েছিলেন এবং এ জাতীয় কাজে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন, তখন তাঁর পক্ষ থেকে এ ধরণের কথা আসাটা আমি খুব একটা অসম্ভব মনে না করলেও, ইবনে আল-আনবারি যা বর্ণনা করেছেন সে ব্যাপারে আমি আশ্বস্ত নই।

এমনকি ইবনে ফারিস, যিনি আবু আল-আসওয়াদের সময়ের অনেক আগে থেকেই নাহু শাস্ত্রের প্রাচীনত্বের প্রবক্তা ছিলেন, তিনিও তার ইমামতি এবং সংস্কারকে অস্বীকার করেন না। তিনি বলেছেন: "যদি কেউ প্রশ্ন করে: মুতাওয়াতির (تواتر) সূত্রে বর্ণনাসমূহ রয়েছে যে আবু আল-আসওয়াদ সর্বপ্রথম আরবি ব্যাকরণ সংকলন করেছেন এবং আল-খালিল সর্বপ্রথম ইলমে আরূজ নিয়ে কথা বলেছেন। তাকে বলা হবে: আমরা তা অস্বীকার করি না, বরং আমরা বলি: এই দুটি শাস্ত্র প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান ছিল কিন্তু কালপরিক্রমায় মানুষের আয়ত্ত থেকে কমে গিয়েছিল, এরপর এই দুই ইমাম তা পুনরায় সংস্কার করেছেন।" আস-সাহিবী ফি ফিকহিল লুগাহ, পৃ. ১০ এবং সুয়ূতী এটি আল-মুজহির ২/৩৪৫-এ হুবহু উদ্ধৃত করেছেন।

আমি আল-মুবররাদের উক্তির ওপর গুরুত্ব দিতে চাই যেখানে তিনি বলেছেন, "আমি ঈসা বিন ওমরের দুটি বইয়ের কিছু পাতা পড়েছি যা মূলনীতির (উসুল) ইশারাস্বরূপ ছিল"। আমি বলব: যদি তৃতীয় স্তরের (طبقة) এই বইগুলো মূলনীতির ইশারাস্বরূপ হয়, তবে আবু আল-আসওয়াদের নাহু শাস্ত্রের অবস্থা কী ছিল! "আবু আল-আসওয়াদ ৬৭ হিজরিতে এবং ঈসা বিন ওমর ১৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।" দ্রষ্টব্য: নুযহাতুল আলিব্বা।
(খণ্ড: ১) মিন তারিখিন নাহউয়িল আরাবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
وأبو نوفل بن أبي عقرب1، وعن هؤلاء أخذ علماء البصرة طبقة بعد طبقة، ثم نشأ بعد نحو مائة عام من تلاميذهم من ذهب إلى الكوفة فعلم بها، فكان منه ومن تلاميذه ما يسمى بمدرسة الكوفة2.

وهذا جدول3 يوضح لك تتابع هذه الطبقات إلى المائة الثالثة للهجرة، وترى فيه أن أعلام الكوفة كلهم أخذوا عن أئمة البصريين بأخرة:

--------------------------------------------

1 إنباه الرواة 2/ 382.

2 على أن هناك من ذهب إلى وجود مدرسة ثالثة هي مدرسة المدينة، وأن رأسها عبد الرحمن بن هرمز الذي مر بك "ص27" أنه أحد الذين نسبت إليهم أولية الكلام في النحو.

وهذا شيء لم يشتهر، لكن القفطي ذكر في هذا كلاما أنا مثبته لفائدته، فقد جاء في إنباه الرواة في ترجمته:

قال أهل العلم: إنه أول من وضع علم العربية، والسبب في هذا القول أنه أخذ عن أبي الأسود الدؤلي وأظهر هذا العلم بالمدينة، وهو أول من أظهره وتكلم فيه بالمدينة، وكان من أعلم الناس بالنحو وأنساب قريش، وما أخذ أهل المدينة النحو إلا منه ولا نقلوه إلا عنه، وإليه أشار ابن برهان النحوي في أول شرحه في "اللمع" بأن قال:

"النحاة جنس تحته أنواع: مدنيون، بصريون، كوفيون" ويروي أن مالك بن أنس إمام دار الهجرة تردد إليه لطلب النحو واللغة قبل إظهارهما، مات سنة 117. إنباه الرواة 2/ 172.

هذا واحد، وأما الثاني فبشكست الذي مر بك خبره ص13.

3 عن ضحى الإسلام 2/ 284، وتكرر الاسم معناه تعدد مشايخ صاحبه، أما الأعلام المدرجة أسماؤهم بخط رقعي فهم كوفيون، والباقون بصريون.
এবং আবু নওফাল বিন আবি আকরাব১; এই ব্যক্তিদের নিকট থেকেই বসরার আলেমগণ (علماء) একের পর এক স্তর (طبقة) অনুযায়ী জ্ঞান আহরণ করেছেন। অতঃপর প্রায় একশ বছর পর তাঁদের ছাত্রগণের মধ্য থেকে এমন একদল তৈরি হলো যারা কুফায় গমন করেন এবং সেখানে শিক্ষকতা করেন। এর মাধ্যমেই তিনি এবং তাঁর ছাত্রগণের সমন্বয়ে তথাকথিত কুফা মাদ্রাসা২ গড়ে ওঠে।

আর এটি একটি ছক৩ যা আপনার নিকট হিজরি তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত এই স্তরগুলোর (طبقة) অনুক্রম স্পষ্ট করবে। আপনি এতে দেখতে পাবেন যে, কুফার প্রখ্যাত আলেমগণ (أعلام) সকলেই পরবর্তীকালে বসরার ইমামগণের (أئمة) নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন:

--------------------------------------------

১ ইনবাহুর রুওয়াত ২/ ৩৮২।

২ যদিও কেউ কেউ তৃতীয় একটি ঘরানার অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো মদিনা মাদ্রাসা। আর এর প্রধান ছিলেন আবদুর রহমান বিন হুরমুজ, যাঁর কথা আপনি ২৭ পৃষ্ঠায় পাঠ করেছেন যে, তিনি সেই ব্যক্তিদের একজন যাঁদের দিকে ব্যাকরণশাস্ত্রের (نحو) সূচনা সম্পর্কিত আলোচনার নিসবত করা হয়।

বিষয়টি যদিও প্রসিদ্ধ নয়, তবে কিফতি এ বিষয়ে একটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যা আমি উপকারের কথা বিবেচনা করে এখানে উদ্ধৃত করছি। 'ইনবাহুর রুওয়াত' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে:

আলেমগণ (أهل العلم) বলেছেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম আরবি ভাষাতত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেন। এই উক্তির কারণ হলো, তিনি আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে ইলম অর্জন করেন এবং মদিনায় এই ইলম প্রকাশ করেন। তিনি সর্বপ্রথম মদিনায় এটি প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ব্যাকরণশাস্ত্র (نحو) ও কুরাইশ বংশপরম্পরা (أنساب) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। মদিনার অধিবাসীগণ ব্যাকরণশাস্ত্র কেবল তাঁর নিকট থেকেই গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণনা করেছেন। নাহুবিদ ইবনে বুরহান তাঁর 'আল-লুমআ' এর ব্যাখ্যার শুরুতে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

"নাহুবিদগণ (النحاة) এমন এক জাতি (جنس) যার অধীনে কয়েকটি প্রকার (أنواع) রয়েছে: মদিনাবাসী, বসরার অধিবাসী এবং কুফার অধিবাসী।" আরও বর্ণিত হয়েছে যে, দারুল হিজরাতের ইমাম (إمام) মালিক বিন আনাস, ব্যাকরণ (نحو) ও অভিধান শাস্ত্র (لغة) প্রসিদ্ধ হওয়ার পূর্বে তা শিখতে তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি ১১৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইনবাহুর রুওয়াত ২/ ১৭২।

এটি হলো প্রথম বিষয়, আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো বাশাকসত যার সংবাদ ১৩ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

৩ দুহাল ইসলাম ২/ ২৮৪ থেকে সংগৃহীত। একই নাম বারবার আসার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শায়খগণের (مشايخ) সংখ্যাধিক্য। আর যে সকল বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম রুকআ লিপিতে লেখা হয়েছে তাঁরা কুফার অধিবাসী এবং বাকিরা বসরার অধিবাসী।