(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: -)
قدم العالم وتسلسل الحوادث القسم: العقيدة
الكتاب: قدم العالم وتسلسل الحوادث بين شيخ الإسلام ابن تيمية والفلاسفة - مع بيان من أخطأ في المسألة من السابقين والمعاصرين
المؤلف: كاملة بنت محمد بن جاسم بن علي آل جهام الكواري
راجعه وقدم له: فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور سفر الحوالي
الناشر: دار أسامة للنشر والتوزيع، الأردن - عمان
الطبعة: الأولى، 2001 م
عدد الصفحات: 279
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জগতের অনাদিত্ব এবং ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং দার্শনিকদের মাঝে জগতের অনাদিত্ব ও ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা - পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িকদের মধ্যে যারা এই বিষয়ে ভুল করেছেন তাদের বর্ণনাসহ
লেখক: কামিলাহ বিনতে মুহাম্মদ বিন জসিম বিন আলী আল জিহাম আল-কুওয়ারি
পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপনায়: সম্মানিত শাইখ প্রফেসর ডক্টর সফর আল-হাওয়ালি
প্রকাশক: দার উসামাহ পাবলিকেশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন، জর্ডান - আম্মান
সংস্করণ: প্রথম، ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: -)
قدم العالم وتسلسل الحوادث
بين شيخ الإسلام ابن تيمية والفلاسفة
مع بيان من أخطأ في المسألة من السابقين والمعاصرين
راجعه وقدم له
فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور: سفر الحوالي
تأليف
كاملة الكواري
জগতের অনাদিত্ব এবং ঘটনাবলির পরম্পরা
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং দার্শনিকদের মাঝে
পূর্ববর্তী ও সমকালীনদের মধ্য থেকে যারা এই মাসআলায় ভুল করেছেন তাদের বর্ণনাসহ
পর্যালোচনা ও ভূমিকা লিখেছেন
ফযীলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর: সাফার আল-হাওয়ালি
রচনায়
কামিলা আল-কুওয়ারি
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقديم
فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور: سفر الحوالي
উপস্থাপনা
সম্মানিত শাইখ অধ্যাপক ডক্টর: সফর আল-হাওয়ালি
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي خلق السموات والأرض وجعل الظلمات والنور ثم الذين كفروا بربهم يعدلون، والصلاة والسلام على معلم البشرية كل خير وهدى نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
… . وبعد:
فإن الله تعالى برحمته التي وسعت كل شيء قد يسر القرآن للذكر، وأغنى بالوحي عن وساوس القلوب وأوهام الفكر، وجعل هذه الأمة أكمل الأمم عقولاً وأعمقها إيماناً، فهم الآخرون زماناً السابقون فضلاً وإحساناً، أمة أمية لم تكن تحسب ولا تكتب ولكنها أصح الأمم حساباً (1) وأحفظها كتاباً، تنال المطالب العالية بالوسائل العادية بل تمشي رويداً وتجيء في الأول، عجائزها في البادية تفقه من حقائق الوجود ما تقاصرت عنه أكابر العقول في الفلسفات كلها، الآيات الجلية في متناول يديها بلا عناء والبراهين العقلية تجري على ألسنتها بلا كلفة، منطقها في نفس لغتها، وتفكيرها بنفس قلوبها، فلا محادة بين القلب والفكر ولا مناكرة بين العقل والنقل.
هذا ما وهبها الله واختصها به، ولكن سبق القلم باقتفائها آثار من سبقها من الأمم فأبت طائفة منها إلا عبور المضايق الدقيقة وركوب اللجج العميقة بلا
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন, অতঃপর যারা কুফরি করেছে তারা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবজাতির সকল কল্যাণ ও হিদায়েতের শিক্ষক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর
... । অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর দয়ার মাধ্যমে, যা প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে, কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছেন এবং ওহীর মাধ্যমে অন্তরের কুমন্ত্রণা ও চিন্তার বিভ্রান্তি থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন। আর এই উম্মতকে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর উম্মত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সময়ের দিক থেকে তারা সর্বশেষ হলেও মর্যাদা ও ইহসানের দিক থেকে তারা অগ্রগামী। তারা এমন এক উম্মী জাতি যারা হিসাব করতে বা লিখতে জানত না, অথচ তারাই হিসাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক (১) এবং কিতাব সংরক্ষণে সবচেয়ে মজবুত। তারা সাধারণ উপায়-উপকরণের মাধ্যমেই উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ অর্জন করে, বরং তারা ধীরে চলেই সবার আগে পৌঁছায়। মরুভূমির বৃদ্ধা নারীরা অস্তিত্বের এমন সব বাস্তবতা অনুধাবন করেন যা বুঝতে সকল দর্শনের বড় বড় পণ্ডিতরা ব্যর্থ হয়েছে। সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ কোনো কষ্ট ছাড়াই তাদের হাতের নাগালে থাকে এবং যৌক্তিক প্রমাণসমূহ কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই তাদের জিহ্বায় জারি হয়। তাদের যুক্তি তাদের ভাষার মাঝেই নিহিত এবং তাদের চিন্তা তাদের অন্তরের সাথে মিশে আছে, ফলে অন্তর ও চিন্তার মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং আকল (বুদ্ধি) ও নকলের (ওহী) মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই।
এটিই আল্লাহ তাদের দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, কিন্তু কলম পূর্বেই সাব্যস্ত করেছে যে, তারা তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। ফলে তাদের একটি দল সূক্ষ্ম ও সংকীর্ণ পথ অতিক্রম করা এবং গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমানো ছাড়া আর কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে কোনো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৬)
دليل معصوم ولا اهتداء بالنجوم، وإنما اعتمدوا فيما يزعمون على عقولهم المجردة، فتاهوا وضاعوا ولم يجدوا هناك إلا حطام من تاه قبلهم وضاع من مغامري الأمم المحرومة من نور الوحي، وخيرهم من عاد إلى الشاطىء كسير الفؤاد حسير النظر ورضي بالتسول مع العجائز المعدمات على أبواب أهل اليقين والثبات.
إن هؤلاء - وبدون إتهام لمقاصدهم وتنقيص لعقولهم - لم يفقهوا أن النظر العقلي كالنظر البصري له حدوده التي لا يتجاوزها مهما تطورت وسائله واتسعت آفاقه.
الا ترى أن أكبر مرصد فلكي في العالم ينقلب خاسئاً وهو حسير إذا تعمق في أبعاد الكون، كما كان ينقلب طرف العربي قبل أربعة عشر قرناً حين يقلبه في السماء مجرداً من كل آلة.
ألا ترى أن حقائق الرياضيات التي تقطع الأمل في اجتياز حدود العقل البشري لم تتغير في جوهرها منذ " أرخميدس " حتى الآن، وإن تغيرت الوسائل وتطورت النظريات، والفرق أن " أرخميدس " كان يعد الأشياء بعدد ذرات الرمل أما العلم الحديث فيقيسها بذرات الكون بل بمحتوى الذرة، ويستخدم أرقاماً خيالية لا يمكن تسميتها ولا كتابتها فيقول مثلاً: إنك لو افترضت رقماً هو عبارة عن واحد وعلى يمينه من الأصفار ما لو جعلت الأرض ورقة واحدة لوصل خط الأصفار إلى نهايتها بل لو ضاعفت الورقة مليارات الأضعاف ثم قارنت هذا الرقم باللانهاية لكانت نسبته هو والرقم (واحد)
কোনো নির্ভুল দলিল বা নক্ষত্রের পথনির্দেশ ছাড়াই তারা অগ্রসর হয়েছে। বরং তারা যা দাবি করে সেই কেবল বিমূর্ত বিবেকের ওপর নির্ভর করেছে, ফলে তারা পথ হারিয়েছে এবং বিভ্রান্ত হয়েছে। সেখানে তারা ওহীর আলো থেকে বঞ্চিত জাতিসমূহের দুঃসাহসী পথভ্রষ্টদের ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পায়নি। তাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে ভগ্নহৃদয়ে এবং ক্লান্ত দৃষ্টিতে তীরে ফিরে এসেছে এবং দৃঢ়বিশ্বাস ও অটলতার অধিকারীদের দরজায় রিক্তহস্ত বৃদ্ধাদের সাথে ভিক্ষাবৃত্তিতে সন্তুষ্ট হয়েছে।
তারা—তাদের উদ্দেশ্যকে অভিযুক্ত না করে এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে খাটো না করেই বলা যায়—এটা বুঝতে পারেনি যে, বুদ্ধিভিত্তিক দৃষ্টি চাক্ষুষ দৃষ্টির মতোই এমন কিছু সীমানা রাখে যা তা অতিক্রম করতে পারে না, চাই তার উপকরণগুলো যত উন্নত হোক না কেন এবং এর দিগন্ত যত বিস্তৃতই হোক।
আপনি কি দেখেন না যে, বিশ্বের বৃহত্তম জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির যখন মহাবিশ্বের গভীরতায় প্রবেশ করে তখন তা ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে? ঠিক যেভাবে চৌদ্দশ বছর আগে একজন আরবের দৃষ্টি কোনো যন্ত্র ছাড়াই আকাশপানে নিবদ্ধ করলে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসত।
আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, গণিতের ধ্রুব সত্যগুলো যা মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির সীমা অতিক্রম করার আশাকে বিলীন করে দেয়, তা "আর্কিমিডিস" থেকে আজ পর্যন্ত সারবত্তার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়নি? যদিও উপায়-উপকরণ বদলেছে এবং তত্ত্বগুলোর উন্নয়ন ঘটেছে। পার্থক্য কেবল এটাই যে, "আর্কিমিডিস" বালুকণার সংখ্যা দিয়ে বস্তু গণনা করতেন, আর আধুনিক বিজ্ঞান তা মহাবিশ্বের অণু-পরমাণু বরং পরমাণুর অভ্যন্তরীণ উপাদান দিয়ে পরিমাপ করে। এটি এমন সব অকল্পনীয় সংখ্যা ব্যবহার করে যা মুখে বলা বা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: আপনি যদি এমন একটি সংখ্যা কল্পনা করেন যা এক এবং তার ডানে এতগুলো শূন্য রয়েছে যে, পুরো পৃথিবীকে যদি একটি কাগজে রূপান্তর করা হয় তবে শূন্যের সারি তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাবে—বরং সেই কাগজকে যদি কয়েক বিলিয়ন গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং এরপর সেই সংখ্যাটিকে অসীমের সাথে তুলনা করা হয়, তবে অসীমের তুলনায় সেই সংখ্যা এবং সংখ্যা (এক)-এর অনুপাত সমান হবে।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৭)
سواء (1) .
ويقول هذا العلم: إن الكون نشأ عن الانفجار العظيم وظل يتمدد ولا يزال، والسؤال: أين يتمدد بل أين وقع الانفجار؟ إن العقل البشري لا يستطيع أن يتخيل الانفجار والتمدد إلا في مكان وزمان، ولكن العلم يقول: إن هذا التخيل خطأ قطعاً! فالزمان والمكان إنما وجدا داخل العالم لا قبله ولا خارجه، وإذن فلا جواب على هذا السؤال أبداً! (2) .
وهكذا فالزمان والمكان وكل ما تدركه حواسنا من الموجودات هي من النسبية بحيث لا يحق لنا ادعاء تصور كنه حقائقها فضلاً عن التحدث عنها وصدق الله تعالى: {وما أوتيتم من العلم إلا قليلاً} وصدق جل شأنه حين قال: {ما أشهدتهم خلق السموات والأرض ولا خلق أنفسهم} وإذا ثبت هذا في المحسوسات فما بالك بما لا يدخل تحت الحواس، بل لا يمكن أن يدخل تحت خيالنا المحدود، فأي سخافة وحماقة ترتكبها أمة الوحي المعصوم حين ترجع في
--------------------------------------------
সমান (১)।
আর এই বিজ্ঞান বলে: মহাবিশ্ব মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং এটি প্রসারিত হতে থেকেছে এবং এখনো তা অব্যাহত আছে। প্রশ্ন হলো: এটি কোথায় প্রসারিত হচ্ছে, বরং বিস্ফোরণটিই বা কোথায় ঘটেছিল? মানুষের বিবেক স্থান ও কাল ছাড়া এই বিস্ফোরণ ও প্রসারণকে কল্পনা করতে সক্ষম নয়, কিন্তু বিজ্ঞান বলে: এই কল্পনা নিশ্চিতভাবে ভুল! কারণ কাল ও স্থান জগতের অভ্যন্তরেই বিদ্যমান রয়েছে, এর পূর্বেও নয় এবং এর বাইরেও নয়। অতএব, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর কখনোই নেই! (২)।
আর এভাবেই কাল ও স্থান এবং অস্তিত্বশীল যা কিছু আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহ অনুভব করে, তা আপেক্ষিকতার অন্তর্ভুক্ত; ফলে সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ কল্পনা করার দাবি করার অধিকার আমাদের নেই, সে সম্পর্কে কথা বলা তো দূরের কথা। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে}। এবং তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক, তিনি সত্য বলেছেন যখন তিনি বলেছেন: {আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময় আমি তাদেরকে উপস্থিত রাখিনি}। আর যদি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে এটি প্রমাণিত হয়, তবে সেই সত্তা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, বরং যা আমাদের সীমাবদ্ধ কল্পনার অধীনে আসাই সম্ভব নয়? সুতরাং নিষ্পাপ ওহীর উম্মত কতই না বড় নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি করছে যখন তারা প্রত্যাবর্তন করছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذه الحقائق إلى عقل طاليس وأرسطو وأفلاطون وغيرهم من خراصي الأزمان الغابرة، في حين أن علماء الكون من سلالة هؤلاء وجنسهم لا يعتدون لهم
برأي بل لا يذكرون آراءهم إلا على سبيل التمثيل للسذاجة العلمية والبدائية في التفكير، ولا يخدعنك وصف كبار المتكلمين لهم بأنهم جهابذة الحكماء أو هرامسة الدهور، فما أدخل الأمة في جحر الضب إلا هؤلاء وأشباههم
وعليه فحين يدافع شيخ الإسلام عن الحق في قضية دقيقة المنزع بعيدة الغور وهي قضية دوام الحوادث أزلاً وأبداً ويُعمل عقله الجبار وقلمه السيال فيها حتى يستنزف المجلدات وحتى ليكاد الجاهل يحسبه يتكلم بما لا يفهم ويخوض في محيط لا يقتحم فإنما يدافع عن النقل الصحيح والعقل الصريح معاً، وليس ترفاً من البحث كما قد يظن بعضهم! ولا ولوعاً بالحشو كما افترى أعداه! .
إنه يدافع عن المعرفة البشرية عامة لكي تظل حرة من قيود التقليد وأسر الجمود - دون مبالاة بقول من يقول إنه وافق الفلاسفة الدهرية أو شذ عن إجماع متكلمي الأمة!! - لأنها متى تحررت كانت قادرة على فهم الوحي وإنزاله منزلته فإما أن تؤمن به وإما أن تقوم الحجة الرسالية عليها، أما خلط حقائق الوحي بزبالات العقول الخراصة فإنه يزعزع إيمان المؤمنين ويكون فتنة للجاحدين وهذا - مع بالغ الأسى - ما فعله المتكلمون.
لقد أشرقت شمس الإسلام على العالم وهو يتخبط في ركام هائل من مخلفات الأمم الغابرة، ما بين أديان محرفة وفلسفات متناقضة وعبادات باطلة أهمها هنا الفلسفة اليونانية التي ورثت حثالة الفلسفات وأورثتها لمتفلسفي المسلمين، واشتهر لها مذهبان أو مدرستان: -
الأولى: الفلسفة التي تدعي أن وسيلة المعرفة الكشف والإيحاء، وتسمى
এই সত্যগুলো থেলিস, অ্যারিস্টটল, প্লেটো এবং অতীত যুগের অন্যান্য অনুমানকারীদের মস্তিষ্কে পৌঁছায়নি। অথচ তাদেরই উত্তরসূরি ও সমজাতীয় বর্তমান বিশ্বের বিজ্ঞানীরা তাদের কোনো মতবাদকে গুরুত্ব দেন না, বরং বৈজ্ঞানিক সারল্য এবং চিন্তার আদিম অবস্থার উদাহরণ হিসেবেই কেবল তাদের মতামতের উল্লেখ করেন। বড় বড় মুতাকাল্লিমরা (কালামশাস্ত্রবিদ) তাদের যে 'প্রাজ্ঞ হেকিম' বা 'যুগশ্রেষ্ঠ দার্শনিক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তা যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে। মূলত এরাই এবং এদের সমজাতীয়রাই উম্মাহকে গুইসাপের গর্তে (ধ্বংসের পথে) প্রবেশ করিয়েছে।
কাজেই শাইখুল ইসলাম যখন একটি অতি সূক্ষ্ম এবং গভীর বিষয়—অর্থাৎ অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত ঘটনার পরম্পরা (দাওয়ামুল হাওয়াদিস) সংক্রান্ত বিষয়ে সত্যের প্রতিরক্ষা করেন এবং তাঁর প্রখর বুদ্ধি ও ক্ষুরধার কলম প্রয়োগ করেন—এমনকি বিশাল বিশাল খণ্ড লিখে ফেলেন এবং মূর্খরা মনে করতে থাকে যে তিনি অবোধ্য কথা বলছেন এবং এমন এক গভীর সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন যা পাড়ি দেওয়া অসম্ভব—তখন মূলত তিনি সহীহ বর্ণনা (নকল) এবং স্পষ্ট বিবেকের (আকল) একসাথেই প্রতিরক্ষা করেন। এটি নিছক গবেষণার বিলাসিতা নয় যেমনটি কেউ কেউ মনে করেন, আর এটি জ্ঞানের অনর্থক বাহুল্যও নয় যেমনটি তাঁর শত্রুরা অপবাদ দিয়েছে!
তিনি সাধারণ মানবীয় জ্ঞানকে প্রতিরক্ষা করেন যাতে তা অন্ধ অনুকরণ এবং স্থবিরতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত থাকতে পারে—কে তাঁকে দাহরিয়্যাহ (বস্তুবাদী) দার্শনিকদের অনুসারী বলল কিংবা কে বলল যে তিনি উম্মাহর মুতাকাল্লিমদের ইজমার (ঐক্যমত) বিরোধিতা করেছেন, তাতে তিনি ভ্রুক্ষেপ করেন না। কারণ জ্ঞান যখন মুক্ত হয়, তখনই তা ওহীকে বুঝতে এবং তার যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে সক্ষম হয়; ফলে হয় সে ওহীর ওপর ঈমান আনবে অথবা তার সামনে রিসালাতের দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে। আর ওহীর সত্যের সাথে অনুমাননির্ভর মস্তিষ্কের আবর্জনা মিশ্রিত করা মুমিনদের ঈমানকে নড়বড়ে করে দেয় এবং অস্বীকারকারীদের জন্য ফিতনার কারণ হয়—আর চরম দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, মুতাকাল্লিমরা এটিই করেছে।
ইসলামের সূর্য যখন বিশ্বজুড়ে উদিত হয়, তখন পৃথিবী অতীত জাতিগুলোর রেখে যাওয়া এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের মাঝে হাতড়াচ্ছিল। যার মধ্যে ছিল বিকৃত ধর্মসমূহ, পরস্পরবিরোধী দর্শন এবং বাতিল উপাসনা পদ্ধতি। যার মধ্যে আমাদের আলোচনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রিক দর্শন, যা পূর্ববর্তী দর্শনগুলোর নিকৃষ্ট অবশিষ্টাংশ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল এবং তা মুসলিম দার্শনিকদের মাঝে সঞ্চারিত করেছিল। আর এর দুটি মাযহাব বা ধারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল:-
প্রথমটি: সেই দর্শন যা দাবি করে যে জ্ঞানের মাধ্যম হলো কাশফ (রহস্য উন্মোচন) এবং ইলহাম (অন্তঃপ্রেরণা), একে বলা হয়...
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإشراقية ويسميها متفلسفة المسلمين المشرقية وشيخها " أفلاطون ".
والأخرى: الفلسفة التي تدعي أن وسيلة المعرفة النظر والاستدلال وهؤلاء هم أصحاب المنطق وشيخهم " أرسطو ".
وكلا النوعين ورث عن بقايا النبوات شيئاً من الحق كما ورث عن قدماء المشركين - لا سيما الصابئة - الشرك بالله تعالى وعبادة الكواكب والسحر وتقديس الأضرحة، فلا يكاد يثبت لأي منهما في باب الإعتقاد والتأله ابتكار أو إبداع يهتدي به الضال أو يستيقن به الشاك، وغاية ما أحدثوه في الشكل لا المضمون كما في علم المنطق.
ومن أعظم القضايا التي خاض فيها هؤلاء بل كل الفلاسفة في قديم الدهر وحديثه قضيتان: -
(1) حدوث العالم أو قدمه.
(2) إثبات النبوة أو عدمه.
وفي القضية الأولى: ذهبت المدرسة الأولى إلى أن العالم محدث بعد أن لم يكن وإن لم تفقه قضية الخلق كما تفقهها الأمم الكتابية. في حين ذهبت الأخرى إلى أن الأفلاك قديمة لا أول لها، ونسجت عن نشأة الوجود خرافة لا نطيل بذكرها (1) ، وظهر هذا الاختلاف في أتباع كلا المدرستين من متفلسفة المسلمين
--------------------------------------------
ইশরাকিয়া (আলোকবাদিতা), যাকে মুসলিম দার্শনিকগণ 'মাশরিকিয়া' বা প্রাচ্যদর্শন বলে অভিহিত করেন এবং এর প্রধান গুরু হলেন 'প্লেটো'।
এবং অন্যটি হলো: সেই দর্শন যা দাবি করে যে, জ্ঞানের মাধ্যম হলো পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি-প্রমাণ; আর এরাই হলেন যুক্তিবিদ্যার অনুসারী এবং তাদের প্রধান গুরু হলেন 'অ্যারিস্টটল'।
এই উভয় প্রকারই নবীগণের অবশিষ্টাংশ থেকে কিছুটা সত্য উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে, যেমনটি তারা প্রাচীন মুশরিকদের থেকে—বিশেষ করে সাবেয়ীদের থেকে—আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করা, গ্রহ-নক্ষত্রের পূজা, জাদু এবং সমাধিস্থলকে পবিত্র জ্ঞান করার নীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তাই বিশ্বাস ও ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের কারো পক্ষ থেকেই এমন কোনো উদ্ভাবন বা নতুনত্ব প্রমাণিত হয় না, যার মাধ্যমে কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তি পথনির্দেশ পেতে পারে অথবা কোনো সংশয়ী ব্যক্তি নিশ্চিত হতে পারে। তারা বড়জোর যা কিছু উদ্ভাবন করেছে তা রূপ বা কাঠামোগত ক্ষেত্রে, বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে নয়, যেমনটি যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে দেখা যায়।
এই দার্শনিকগণ বরং প্রাচীন ও আধুনিক কালের সকল দার্শনিক যেসব মহৎ বিষয়ে আলোচনা করেছেন, তার মধ্যে দুটি বিষয় প্রধান: —
(১) জগতের সৃষ্টি নাকি এর অনাদিত্ব।
(২) নবুওয়াত প্রমাণ করা বা না করা।
প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে: প্রথম ধারাটি এই মত পোষণ করেছে যে, জগত অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্বে এসেছে (সৃষ্ট), যদিও তারা সৃষ্টির বিষয়টি আহলে কিতাব জাতিগুলোর মতো সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। অপরদিকে দ্বিতীয় ধারাটি মনে করে যে, আসমানি গোলকসমূহ অনাদি, যেগুলোর কোনো শুরু নেই; এবং তারা অস্তিত্বের উদ্ভব সম্পর্কে এমন এক রূপকথা রচনা করেছে যা উল্লেখ করে আমরা দীর্ঘসূত্রিতা করব না (১)। আর এই মতভেদ মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে উভয় ধারার অনুসারীদের মাঝেও প্রকাশ পেয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১০)
مثلما بين ابن رشد وابن سينا.
وحينما يتصدى المشتغلون بالكلام المذموم لهؤلاء وأرادوا إثبات حدوث العالم لكن بغير طريق الوحي وعلى غير منهج القرآن دخلوا في المتاهات التي أشرنا إليها وخاضوا فيما لا طاقة للعقول بالاستقلال به ولا قبل لها بالوصول إلى غايته.
فقد تعمق هؤلاء في الحديث عن أصل الموجودات - أو الحوادث كما سموها - وعلاقة ذلك بأولية الخالق تعالى وتفرده بالقدم، وارتكبوا خطأ قاتلاً حين قرروا أن العقل يحكم باستحالة حوادث لا أول لنوعها - أي غير مسبوقة بالعدم المطلق - وظنوا أن الرسل جاءوا بإثبات ذات معطلة عن الخلق زماناً ثم خلقت، وعليه فلا يصح عندهم وصف أفعال الله تعالى بأنها أزلية! ! .
والعجب أنهم يسلمون بدوان الحوادث - أو تسلسلها - في المستقبل لكن حصرت عقولهم عن تجويزه في الماضي توهماً منهم أن ذلك قول بقدم العالم وأصروا على هذا الأصل الفاسد الذي لا برهان عليه من عقل ولا نقل حتى أن منهم من شذ فالتزم القول بمنع ذلك في المستقبل أيضاً وقال بفناء الجنة والنار أو فناء حركاتهما!!.
ووفق الله أهل السنة والجماعة فأثبتوا أن أفعاله تعالى أزلية أبدية وأن ذلك مقتضى اتصافه جل شأنه بصفات الكمال فكانوا بذلك أعمق الناس إيماناً وأسدهم عقولاً وافقوا الحق ووفقوا بين العقل والنقل دون إيغال ولا تكلف ولم يتخلوا عن بعض الحق من أجل إثبات بعضه الآخر. وحسبك بأمثال الإمام أحمد وابن المبارك والبخاري والدارمي علماً وفهماً.
فهذا لب الصراع في القضية الأولى.
যেমনটি ইবনে রুশদ এবং ইবনে সিনার মধ্যে বিদ্যমান।
যখন নিন্দিত ইলমুল কালামে লিপ্ত ব্যক্তিরা এদের মোকাবেলা করতে চায় এবং ওহীর পথ ও কুরআনের মানহাজ ব্যতিরেকে জগতের নতুনত্বের প্রমাণ দিতে চায়, তখন তারা সেই গোলকধাঁধায় প্রবেশ করে যার দিকে আমরা ইঙ্গিত করেছি এবং তারা এমন বিষয়ে লিপ্ত হয় যা স্বাধীনভাবে অনুধাবনের ক্ষমতা বুদ্ধিবৃত্তির নেই এবং যার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
এরা অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহের উৎস সম্পর্কে—অথবা তারা একে যে নাম দিয়েছে ‘হাওয়াদিস’ (সৃষ্ট ঘটনাবলি)—এবং মহান স্রষ্টার অনাদিত্ব ও তাঁর অদ্বিতীয় অবিনশ্বর হওয়ার সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছে। তারা একটি মারাত্মক ভুল করে বসেছে যখন তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বুদ্ধি এমন ‘হাওয়াদিস’ বা নতুন ঘটনার ধারাবাহিকতাকে অসম্ভব মনে করে যার প্রকারের কোনো শুরু নেই—অর্থাৎ যা নিরঙ্কুশ অনস্তিত্ব দ্বারা অগ্রগামী নয়। তারা ধারণা করেছিল যে, রাসূলগণ এমন এক সত্তার প্রমাণ দিতে এসেছেন যিনি দীর্ঘকাল সৃষ্টির কাজ থেকে বিরত ছিলেন এবং তারপর সৃষ্টি করেছেন। সেই অনুযায়ী, তাদের নিকট মহান আল্লাহর কার্যাবলিকে অনাদি হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়! ! ।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা ভবিষ্যতে এই ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা স্বীকার করে, কিন্তু অতীতে এটি ঘটার সম্ভাবনার ব্যাপারে তাদের বুদ্ধি থমকে দাঁড়ায়। তাদের ভ্রান্ত ধারণা এই যে, এটি জগতকে অনাদি বলার সমতুল্য। তারা এই ভ্রষ্ট মূলনীতির ওপর অটল থাকে যার পক্ষে কোনো যুক্তি বা শরয়ী প্রমাণ নেই। এমনকি তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বিচ্যুত হয়ে ভবিষ্যতেও এর অসম্ভবতার কথা বলেছে এবং জান্নাত-জাহান্নাম বিলীন হওয়া অথবা সেগুলোর গতিবিধি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছে!!।
আল্লাহ তাআলা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে তাওফীক দিয়েছেন; ফলে তারা সাব্যস্ত করেছেন যে, মহান আল্লাহর কার্যাবলি অনাদি ও অনন্ত। আর এটিই তাঁর মহান সত্তার পরিপূর্ণতার গুণাবলির অনিবার্য দাবি। এর মাধ্যমে তারা ঈমানের দিক থেকে মানুষের মধ্যে গভীরতম এবং বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে সুদৃঢ়তম প্রমাণিত হয়েছেন। তারা সত্যের অনুসারী হয়েছেন এবং কোনো বাড়াবাড়ি বা কৃত্রিমতা ছাড়াই যুক্তি ও শরয়ী প্রমাণের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। তারা সত্যের এক অংশ প্রমাণের জন্য অন্য অংশ বর্জন করেননি। জ্ঞান ও সমঝের ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ, ইবনুল মুবারক, বুখারী এবং দারেমীর মতো মনীষীগণই আপনার জন্য যথেষ্ট।
এটিই প্রথম প্রসঙ্গের মূল দ্বন্দ্বের সারকথা।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأما القضية الأخرى " إثبات النبوة " التي بها يفتح باب السمعيات كافة فتواطأ على إنكارها أو تأويلها الفلاسفة كلهم وتبعهم الباطنية وغلاة الصوفية وخيرهم طريقة من قال: (إن الشريعة والفلسفة رصيفان والنبي والفيلسوف سيان) ولا يهمنا هنا من الحديث عنها إلا بيان الرابط بينها وبين الأولى فإن المتكلمين لما أخطأوا في تقرير مسألة حدوث العالم وأصلوا ذلك الأصل الفاسد جاءوا إلى هذه القضية وصاغوا برهان إثباتها بما يرجع إلى الأولى التي ضلوا فيها وتقهقروا فكانت الكارثة مضاعفة.
لقد صاغ هؤلاء القوم برهان إثبات النبوة وصدق الرسول الذي هو أصل الأصول في سلسلة من القضايا ما أنزل الله بها من سلطان ولا قام عليها من العقل الصحيح برهان، وهي: -
(أنه لا أحد يثق بصحة ما جاءت به الرسل إلا بعد المعرفة بصدقهم ولا تحصل المعرفة بصدقهم إلا بالمعجزات، ولا تدل المعجزات على صدقهم إلا إذا صدرت ممن لا يفعل القبيح - يعنون المرسل وهو الله تعالى - ولا يثبت أنه لا يفعل القبيح إلا إذا ثبت أنه عالم بقبحه عالم باستغنائه عنه ولا يكون مستغنياً إلا إذا كان غير جسم، ولا يكون غير جسم إلا إذا ثبت إنه قديم) (1) .
ومن الواضح أن هذه السلسة كلها تتساقط إذا نقضت قاعدتها أي آخر قضاياها، فمن زعم أو ادعى أن المرسل غير قديم، - أو أن العالم قديم - فقد أبطل تلك القضايا كلها ومنها إثبات النبوة، وكذلك عندهم من زعم أنه جسم! .
--------------------------------------------
আর অন্য বিষয়টি হলো "নবুওয়াত প্রমাণ করা", যার মাধ্যমে পরকালীন সকল শ্রুত বিষয়ের (সামইয়াত) দ্বার উন্মোচিত হয়। দার্শনিকরা সকলে এটি অস্বীকার করার বা এর অপব্যাখ্যা করার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং বাতিনিয়া ও চরমপন্থী সুফিরা তাদের অনুসরণ করেছে। তাদের মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত ভালো পথের অনুসারী, তারা বলেছে: (শরীয়ত ও দর্শন হলো একই মুদ্রার দুই পিঠের মতো এবং নবী ও দার্শনিক উভয়ই সমান)। আমাদের এখানে এই আলোচনাটি করার উদ্দেশ্য হলো কেবল প্রথম বিষয়ের সাথে এর যোগসূত্রটি স্পষ্ট করা। কারণ মুতাকাল্লিমগণ যখন মহাবিশ্বের নশ্বরতার (হুদুসে আলম) বিষয়টি প্রতিপন্ন করতে ভুল করেছে এবং সেই ভ্রান্ত মূলনীতিকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে, তখন তারা এই নবুওয়াতের বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই পথ অবলম্বন করেছে এবং একে প্রমাণের জন্য এমন যুক্তি সাজিয়েছে যা সেই প্রথম ভ্রান্ত বিষয়ের দিকেই ফিরে যায় যাতে তারা পথভ্রষ্ট ও পশ্চাদপদ হয়েছিল। ফলে বিপর্যয়টি দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই গোষ্ঠীটি নবুওয়াত প্রমাণ এবং রাসূলের সত্যতা—যা সকল মূলনীতির মূল—বিষয়ে এমন কতগুলো যুক্তির ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল নাজিল করেননি এবং সুস্থ বিবেকও তা সমর্থন করে না। সেগুলো হলো: -
(রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার সত্যতার ওপর কেউ ততক্ষণ আস্থা রাখতে পারে না যতক্ষণ না তাদের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়। আর তাদের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান মুজিজা ছাড়া অর্জিত হয় না। মুজিজা তাদের সত্যতার প্রমাণ দেয় না যতক্ষণ না তা এমন সত্তার পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয় যিনি কোনো মন্দ কাজ করেন না—এখানে তারা প্রেরণকারী অর্থাৎ মহান আল্লাহকে বুঝিয়েছেন। আর তিনি মন্দ কাজ করেন না—এটি ততক্ষণ প্রমাণিত হয় না যতক্ষণ না এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি মন্দের অশুভতা সম্পর্কে অবগত এবং তা থেকে তিনি অমুখাপেক্ষী। আর তিনি ততক্ষণ অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি দেহধারী হওয়া থেকে মুক্ত হন। আর তিনি ততক্ষণ দেহধারী হওয়া থেকে মুক্ত হতে পারেন না যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় যে তিনি অনাদি।) (১)।
এটি স্পষ্ট যে, এই পুরো যুক্তির শিকলটি ভেঙে পড়বে যদি এর ভিত্তি অর্থাৎ সর্বশেষ প্রস্তাবনাটি খণ্ডন করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে প্রেরণকারী (আল্লাহ) অনাদি নন—অথবা মহাবিশ্ব অনাদি—সে এই সকল বিষয়কেই বাতিল করে দিল, যার মধ্যে নবুওয়াত প্রমাণের বিষয়টিও রয়েছে। একইভাবে তাদের নিকট সেই ব্যক্তিও (একই পরিণতির শিকার) যে দাবি করে যে তিনি (আল্লাহ) দেহধারী!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وهكذا استمات هؤلاء واستبسلوا في إثبات أن الأجسام كلها حادثة، وأن المحدث لها ليس جسماً، وبالتالي لا يتصف بصفات الأجسام، ومن هنا وقعوا في التعطيل واتبعوا فلاسفة اليونان في وصف الله تعالى بالتجريد والإطلاق دون صفة ثبوتية، على تفاوت بينهم في ذلك لكن الأصل الذي اتفقوا عليه في حدوث العالم ومنع دوام الحوادث في الماضي ونفي حلول الحوادث بالله هو الذي دارت عليه مؤلفات القوم وعنه تشعبت أقوالهم.
فقد ورثوا عن اليونان أن الأجسام لا تخلو عن الأكوان الأربعة (1) [وهي الاجتماع والافتراق والحركة والسكون] وهذه الأكوان هي في الحقيقة أعراض (2) .
فمن هنا اعتمدت كل طائفة منهم طريقة في إثبات حدوث الأجسام: -
1- فالمعتزلة اعتمدوا طريقة الحركة والسكون وتبعهم إمام الأشعرية المتأخرين الرازي.
2- والأشعرية كالجويني والآمدي اعتمدوا طريقة الأعراض.
3- والأشعري نفسه والكرامية اعتمدوا طريقة الاجتماع والافتراق (3) .
--------------------------------------------
এভাবেই তারা সকল বস্তু নশ্বর বলে প্রমাণ করার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন। তারা আরও প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, এগুলোর নশ্বরকারী বা সৃষ্টিকর্তা কোনো বস্তু নন এবং ফলস্বরূপ তিনি বস্তুর গুণাবলীতে গুণান্বিত নন। এখান থেকেই তারা আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করার (তা'তীল) মধ্যে নিপতিত হন এবং কোনো ইতিবাচক গুণাবলী ছাড়াই আল্লাহ তাআলাকে বিমূর্ত ও পরম হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে গ্রিক দার্শনিকদের অনুসরণ করেন। এই বিষয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও, জগতের নশ্বরতা, অতীতে নতুন ঘটনার অবিনশ্বরতা অসম্ভব হওয়া এবং আল্লাহর সত্তায় নশ্বর কোনো বিষয়ের আবির্ভাব হওয়াকে অস্বীকার করার যে মূলনীতির ওপর তারা একমত হয়েছিলেন, সেটিই ছিল তাদের গ্রন্থরাজির মূল আবর্ত এবং তা থেকেই তাদের মতবাদগুলো শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে।
তারা গ্রিকদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে যে, বস্তুসমূহ চারটি অবস্থা (১) [অর্থাৎ মিলন, বিচ্ছেদ, গতি ও স্থিতি] থেকে মুক্ত নয়। আর এই অবস্থাগুলো প্রকৃতপক্ষে 'আ'রাজ' বা আকস্মিক বৈশিষ্ট্য (২)।
এখান থেকেই তাদের প্রতিটি দল বস্তুর নশ্বরতা প্রমাণের জন্য একেকটি পদ্ধতি গ্রহণ করেছে: -
১- মুতাজিলারা গতি ও স্থিতির পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং পরবর্তী যুগের আশআরি ইমাম আল-রাজি তাদের অনুসরণ করেছেন।
২- আল-জুওয়াইনি এবং আল-আমিদির মতো আশআরিরা 'আ'রাজ' বা বৈশিষ্ট্যের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
৩- স্বয়ং আল-আশআরি এবং কাররামিয়াগণ মিলন ও বিচ্ছেদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعد أن قررت كل طائفة حدوث الأجسام على طريقتها توصلوا إلى إثبات حدوث العالم وقدم الخالق بأساليب مختلفة: -
إما بالقول بـ (أن ما لم يسبق المحدث محدّث فتكون الحوادث كلها لها أول لأن كلاً منها له أول وما ثبت لآحادها ثبت لمجموعها لأنها ليست سوى آحادها) (1) وهذا أصل نفيهم دوام الحوادث والتشبث بأن لها أولاً مع ما يستلزمه ذلك من لوازم باطلة أظهرها تعطيل الخالق عز وجل عن الفعل أزلاً بل وعن الكلام والإرادة وغيرها. وإما بالقول بـ (أن ما لا يخلو من الحوادث فهو حادث) فوجب عندهم تنزيه الله تعالى عن أن يقوم به ما جعلوه حوادث كالكلام والإرادة والغضب والرضا، وجعلوا ذلك هو حقيقة الوحيد، واتهموا من أثبت تلك الصفات إما بانه مشرك لأنه أثبت تعدد القدماء، أو مجسم مشبه لأنه أثبت لله ما هو من خصائص المحدثات (2) .
ولم توفق أية طائفة منهم إلى التفريق بين نوع الحوادث وآحادها وأن حكم المجموع قد يخالف حكم الواحد عقلاً وشرعاً وحساً، وإلى فهم ان نفي اتصاف
--------------------------------------------
প্রতিটি দল যখন তাদের নিজস্ব পদ্ধতি অনুযায়ী বস্তুর নশ্বরতা (হুদুছুল আজসাম) সাব্যস্ত করল, তখন তারা বিভিন্ন উপায়ে জগতের নশ্বরতা এবং স্রষ্টার অনাদিত্ব (কাদিম হওয়া) প্রমাণ করার চেষ্টা করল: -
হয় এই কথার মাধ্যমে যে, (যা নশ্বর বস্তুর আগে নয় তা নিজেই নশ্বর, তাই সকল নশ্বর বিষয়ের একটি শুরু থাকতে হবে। কারণ তাদের প্রত্যেকটির যেহেতু শুরু রয়েছে, আর যা তার এককের জন্য সাব্যস্ত তা তার সমষ্টির জন্যও সাব্যস্ত হবে; কেননা সমষ্টি তো এককসমূহেরই রূপান্তর মাত্র) (১)। আর এটাই হলো নশ্বর বিষয়ের ধারাবাহিকতা (দাওয়ামুল হাওয়াদিস) অস্বীকার করার এবং সেগুলোর একটি সূচনা রয়েছে বলে আঁকড়ে ধরার মূল ভিত্তি। এর সাথে এমন কিছু বাতিল আবশ্যকতা যুক্ত হয় যার মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হলো—মহান আল্লাহকে অনাদিকাল থেকে কর্ম (ফিল), এমনকি কথা বলা (কালাম) ও ইচ্ছা (ইরাদা) এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত বা অকেজো (তা'তীল) মনে করা। অথবা এই কথার মাধ্যমে যে, (যা নশ্বর বিষয় থেকে মুক্ত নয়, তা নিজেও নশ্বর)। ফলে তাদের নিকট আল্লাহ তাআলাকে সেই সকল বিষয় থেকে পবিত্র (তানযীহ) রাখা ওয়াজিব হয়ে গেল যেগুলোকে তারা নশ্বর হিসেবে গণ্য করেছে, যেমন: কথা বলা, ইচ্ছা, ক্রোধ ও সন্তুষ্টি। তারা এটাকেই তাওহীদের প্রকৃত রূপ বলে গণ্য করল। আর যারা এই গুণাবলি সাব্যস্ত করে, তাদেরকে তারা হয় মুশরিক বলে অভিযুক্ত করল—কারণ সে একাধিক অনাদি সত্তা সাব্যস্ত করেছে; অথবা মুজাস্সিম (দেহবাদী) ও মুশাব্বিহ (সাদৃশ্য দানকারী) বলে আখ্যা দিল—কারণ সে আল্লাহর জন্য এমন বিষয় সাব্যস্ত করেছে যা নশ্বর সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য (২)।
তাদের কোনো দলই নশ্বর বিষয়ের প্রজাতি (নাউ') এবং তার এককগুলোর (আহাদ) মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়নি। আর জ্ঞান, শরিয়ত ও ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতির বিচারে যে সমষ্টির বিধান এককের বিধান থেকে ভিন্ন হতে পারে—সেই বোধোদয় তাদের হয়নি। এবং এই কথা বুঝতেও সক্ষম হয়নি যে গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়টি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرب بالأفعال الاختيارية هو تنقص لكماله شرعاً وعقلاً. بل التزمت كل طائفة لوازم باطلة كالقول بأنه موجب بالذات لا فاعل بالاختيار كما ذهبت المتفلسفة. أو القول بان الفعل هو عين المفعول وأن صفاته تعالى ومنها كلامه مخلوقات منفصلة عنه كما هو مذهب غلاة النفاة من الجهمية والمعتزلة، أو أنها قديمة لازمة لذاته لا تجدد فيها ولا تعلق لها بإرادته ومشيئته كما هو مذهب الأشعرية ومن وافقهم.
وهكذا نجد أن الطريق الذي بدأ من قضية واحدة وفرض خطأ وهو أن هذا العالم مسبوق بالعدم المطلق واستخدم ذاك البرهان المزعوم تشعب إلى متاهات لا قرار لها، فأصبحت هذه القضية ملتقى جملة من الأصول العقدية الكبرى التي تضاربت فيها الآراء قديماً وحديثاً - وكل قضية منها آخذة بعنق أختها فالحديث عن واحدة منها مستلزم الحديث عن الأخريات - وهي: -
(1) حدوث العالم وطريقة الاستدلال عليه وهل هو مخلوق بالإرادة والفعل الاختياري أم بطريقة الفيض والصدور واستلزام العلة للمعلول الخ.
(2) الحوادث وهل لها أول او لا أول لها وعلاقة ذلك بما بعده وهو:
(3) قيام الأفعال الاختيارية بالله تعالى.
(4) إثبات النبوة والطريق الحق إلى ذلك.
(5) مفهوم التوحيد أو التنزيه عند طوائف الأمة وغيرهم.
فالموضوع إذن على جانب عظيم من الأهمية ولابد لمن أراد الانتصار للحق من أمور: -
(1) … أن يرفض تلك السلسلة العقلية المزعومة من أصلها برفض أن يكون
রবের জন্য স্বেচ্ছাধীন কার্যাবলি সাব্যস্ত করা শরয়ি ও যুক্তিবৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই তাঁর পূর্ণতার জন্য ত্রুটিস্বরূপ (তাদের মতে)। বরং প্রতিটি দলই বিভিন্ন ভ্রান্ত অনিবার্য পরিণামকে গ্রহণ করেছে; যেমন দার্শনিকদের দাবি—তিনি সত্তাগতভাবে অনিবার্য কারক (মুজিবে বিয-যাত), স্বেচ্ছাধীন কর্তা নন। অথবা এমন কথা বলা যে, কর্ম ও কর্মফল অভিন্ন, এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি—যার অন্তর্ভুক্ত তাঁর কালামও—তাঁরা সত্তা থেকে পৃথক সৃষ্টি; যেমনটি জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের চরমপন্থী অস্বীকারকারীদের মাজহাব। অথবা এই গুণগুলো তাঁর সত্তার সাথে অনাদি ও অপরিহার্য, যাতে কোনো নতুনত্বের সৃষ্টি হয় না এবং তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই; যেমনটি আশআরিয়্যাহ ও তাদের অনুসারীদের মাজহাব।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, যে পথটি একটিমাত্র বিষয় এবং একটি ভুল ধারণা থেকে শুরু হয়েছিল—আর তা হলো এই জগত নিরঙ্কুশ অনস্তিত্বের পরবর্তী অবস্থা—এবং সেই তথাকথিত প্রমাণের ব্যবহার যা অন্তহীন গোলকধাঁধায় রূপ নিয়েছে। ফলে এই বিষয়টি এমন কতগুলো বৃহৎ আকিদাগত মূলনীতির মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিককালে মতামতের সংঘাত ঘটেছে। আর প্রতিটি বিষয় তার অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, ফলে একটির আলোচনা অন্যগুলোর আলোচনাকে অনিবার্য করে তোলে। সেগুলো হলো:—
(১) জগতের নতুনত্ব (হুদুস) এবং এর স্বপক্ষে দলীল প্রদানের পদ্ধতি; আর এটি কি ইচ্ছা ও স্বেচ্ছাধীন কর্মের মাধ্যমে সৃষ্ট, নাকি উৎসারণ ও নির্গমনের পদ্ধতিতে এবং কার্যকারণের অনিবার্যতার মাধ্যমে সৃষ্ট, ইত্যাদি।
(২) নতুন সৃষ্ট বিষয়াদি (হাওয়াদিস); এগুলোর কি কোনো সূচনা আছে নাকি কোনো সূচনা নেই, এবং পরবর্তী বিষয়ের সাথে এর সম্পর্ক কী, আর তা হলো:
(৩) আল্লাহ তাআলার সাথে স্বেচ্ছাধীন কার্যাবলির সংশ্লিষ্টতা।
(৪) নবুওয়াত প্রমাণ করা এবং এর সঠিক পথ।
(৫) উম্মতের বিভিন্ন দল ও অন্যদের নিকট তাওহীদ বা পবিত্রতা ঘোষণার ধারণা।
সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং যে ব্যক্তি সত্যকে বিজয়ী করতে চায়, তার জন্য কতগুলো বিষয় অপরিহার্য:—
(১) … সেই তথাকথিত যুক্তিবৈজ্ঞানিক পরম্পরাকে এর মূল থেকেই প্রত্যাখ্যান করা, এই বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে যে...
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إثبات النبوة متوقفاً على المعجزات كما فسروها (1) والتأسيس لذلك بأن المعرفة بالله بل وبصدق الرسول صلى الله عليه وسلم لا تنحصر في النقل وحده بل يتضافر عليها العقل والنقل.
(2) … نقض المقدمات التي قررها المخالفون ونقد المصطلحات التي تركبت منها (مثل الأزل، الزمان، الجسم، الحادث، الجوهر، العرض، التسلسل، التغير، الخ) .
(3) … إثبات قيام الأفعال الاختيارية بالله تعالى نقلاً وعقلاً واتصافه جل شأنه بكل صفات الكمال المطلق.
(4) … بيان التوحيد الذي جاءت به الرسل ونزلت به الكتب.
(5) … إظهار الفرق بين إثبات قدم نوع الحوادث وإثبات قدم أعيانها وبيان أن قدم نوع الحوادث هو مقتضى إثبات الفعل والإرادة والكلام لله تعالى أزلاً بل هو مقتضى الحياة لأن كل حي فاعل بحسب ما يليق به من أنواع الفعل والله تعالى حي قيوم لا أول لذلك باتفاق المسلمين فلزم إثبات فعله أزلاً.
وأهل السنة مجمعون على إثبات نوع كلامه أزلاً وإن كانت آحاد كلامه - مثل تكليمه لموسى عليه السلام حادثة ولهذا سهل عليهم إثبات نوع الحوادث أزلاً لأن فعله تعالى يكون بكلامه {إنما أمره إذا أراد شيئاً أن يقول له كن فيكون} فثبت له تعالى نوع الكلام ونوع الخلق أزلاً كما ثبت له الحياة أزلاً (2)
--------------------------------------------
নবুওয়াত প্রমাণ করা তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মুজিজাসমূহের ওপর নির্ভরশীল (১) এবং এর ভিত্তি হলো যে, আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতা কেবল নাকলের (বর্ণিত উৎস) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে আকল (বিবেচনা) এবং নাকল উভয়ই সম্মিলিতভাবে কাজ করে।
(২) … বিরোধীদের নির্ধারিত প্রস্তাবনাগুলো খণ্ডন করা এবং সেগুলো যে সকল পরিভাষা দ্বারা গঠিত তা সমালোচনা করা (যেমন: অনাদিকাল, সময়, দেহ, সৃষ্ট বস্তু, সারবস্তু, আকস্মিক গুণ, ধারাবাহিকতা, পরিবর্তন ইত্যাদি)।
(৩) … নাকল ও আকলের ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন কর্মসমূহ তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা প্রমাণ করা এবং তাঁর সুমহান সত্তা নিরঙ্কুশ সকল পূর্ণতা ও গুণের দ্বারা গুণান্বিত হওয়া সাব্যস্ত করা।
(৪) … সেই তাওহীদের বর্ণনা যা নিয়ে রাসূলগণ এসেছিলেন এবং যার মাধ্যমে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছিল।
(৫) … সৃষ্ট বিষয়ের জাতির (প্রকার) অনাদিত্ব সাব্যস্ত করা এবং এগুলোর একক ব্যক্তিসত্তার অনাদিত্ব সাব্যস্ত করার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা; এবং এটি বর্ণনা করা যে, সৃষ্ট বিষয়ের জাতির অনাদিত্ব হলো আল্লাহ তাআলার জন্য অনাদিকাল থেকে কর্ম, ইচ্ছা এবং কালাম (কথা) সাব্যস্ত করার দাবি মাত্র, বরং এটি জীবনেরই দাবি। কারণ প্রত্যেক জীবিত সত্তাই তার জন্য উপযোগী বিভিন্ন কর্ম সম্পাদনকারী। আর আল্লাহ তাআলা চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী তাঁর কোনো শুরু নেই; ফলে অনাদিকাল থেকেই তাঁর কর্ম সাব্যস্ত করা অপরিহার্য।
আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত অনাদিকাল থেকে তাঁর কালামের জাতি (প্রকার) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত, যদিও তাঁর কালামের একক অংশসমূহ—যেমন মূসা আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর কথা বলা—নতুন বা সময়ে সংঘটিত; এ কারণেই তাদের জন্য অনাদিকাল থেকে সৃষ্ট বিষয়ের জাতির অনাদিত্ব প্রমাণ করা সহজ হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাআলার কর্ম তাঁর কালামের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়: "নিশ্চয়ই তাঁর নির্দেশ হলো, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলেন 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।" অতএব আল্লাহ তাআলার জন্য অনাদিকাল থেকে কালামের প্রকার এবং সৃষ্টির প্রকার সাব্যস্ত হয়েছে, যেভাবে তাঁর জন্য অনাদিকাল থেকে জীবন সাব্যস্ত হয়েছে (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فهو تعالى لم يزل ولا يزال يخلق شيئاً بعد شيء أو عالماً بعد عالم بلا أول لذلك في الماضي ولا آخر للمستقبل فإن عسر عليك فهم هذا فاعتبره بما لا يزال يخلق في الجنة من أنواع النعيم الذي لا ينتهي أبداً وما قدرته مستقبلاً قدره ماضياً جاعلاً ذلك في النوع لا في الأفراد واستعن على تصور المسألة ومحاجة المخالفين بهذا البراهين المسمدة من كلام شيخ الإسلام رحمه الله: -
1- أن الحادث المعين والحوادث المتناهية - ولو قدرت ألف ألف ألف حادث - سواء في الحكم بالنسبة إلى ما لا يتناهى (1)
وهذا يذكرك بما سبق الحديث عنه في أول المقدمة.
2- أن افتقار مجموع الحوادث إلى محدث هو مثل افتقار الواحد منها بل أعظم " فليس في تقدير حوادث لا تتناهى ما يوجب استغناءها عن القديم (2) ومن ثم فلا مشابهة بين القول بهذا وقول الفلاسفة الدهرية.
3- أنه ما من زمن يفترضه العقل حداً لابتداء الخلق إلا أمكنه أن يتصور قبله زماناً ابتدأ فيه الخلق فيكون هذا الزمان الآخر أولاً له وما تصوره العقل في الثاني يصدق عليه ما صدق على الأول وهكذا إلى ما نهاية (3) .
--------------------------------------------
তিনি মহান আল্লাহ, অনাদি কাল থেকেই একের পর এক বস্তু অথবা একের পর এক জগত সৃষ্টি করে চলেছেন এবং অনন্তকাল ধরে সৃষ্টি করতে থাকবেন; যার অতীতের জন্য কোনো শুরু নেই এবং ভবিষ্যতের জন্য কোনো শেষ নেই। যদি আপনার জন্য এটি বোঝা কঠিন হয়, তবে জান্নাতে তিনি অবিরাম যেসব বিভিন্ন প্রকারের নিয়ামত সৃষ্টি করবেন যা কখনো শেষ হবে না, তার ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি বিবেচনা করুন। ভবিষ্যতে তাঁর যা করার ক্ষমতা রয়েছে, অতীতেও তাঁর সেই ক্ষমতা ছিল; তিনি বিষয়টিকে প্রকারের (species) ক্ষেত্রে সাব্যস্ত করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যষ্টির (individuals) ক্ষেত্রে নয়। এই বিষয়টি অনুধাবন করতে এবং বিরোধীদের সাথে বিতর্ক করতে শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত এই প্রমাণগুলোর সহায়তা নিন: -
১- নির্দিষ্ট কোনো সৃষ্ট বিষয় এবং সসীম সৃষ্ট বিষয়সমূহ - যদি আপনি লক্ষ লক্ষ সৃষ্ট বিষয়ও কল্পনা করেন - অসীমের তুলনায় বিধানের ক্ষেত্রে সমান (১)
এটি আপনাকে ভূমিকার শুরুতে আলোচিত বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিবে।
২- সকল সৃষ্ট বিষয়ের সমষ্টির একজন স্রষ্টার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া তার একটির মুখাপেক্ষী হওয়ার মতোই, বরং তার চেয়েও বেশি। "অসীম সংখ্যক সৃষ্ট বিষয়ের ধারণার মধ্যে এমন কিছু নেই যা তাকে অনাদি সত্তার অমুখাপেক্ষী করে তোলে (২)।" সুতরাং, এই বক্তব্য এবং বস্তুবাদী (দাহরিয়া) দার্শনিকদের বক্তব্যের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই।
৩- বিবেক সৃষ্টির সূচনার জন্য যে সময়ই সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করুক না কেন, তার আগে সৃষ্টির সূচনা হয়েছিল এমন অন্য একটি সময় কল্পনা করা বিবেকের পক্ষে সম্ভব। ফলে এই পরবর্তী সময়টিই হবে তার প্রথম এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বিবেক যা কল্পনা করবে তা প্রথমটির ক্ষেত্রেও সত্য হবে। এভাবেই অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فالعقل البشري عاجز عن تصور اللانهاية لكنه يجب أن يتعامل معها باعتبارها حقيقة فلا يتكلف تصورها ولا يتعسف بنفيها.
4- يمكن للعقل أن يتصور أنه ما من حادث إلا وقبله حادث كما يتصور أنه ما من حادث إلا وبعده حادث وما من عدد إلا وبعده عدد وهو يعلم أن كل حادث فله أول وكل منقضٍ فله آخر وكل عدد فله حد ومنتهى وإن لم يكن لجنس العدد حد ومنتهى (1) .
5- أن يقال لمن يقول إن الله تعالى خلق شيئاً هو أول مخلوقاته بإطلاق أيجوز أن يخلق الله قبله شيئاً أو يمتنع؟ فإن قال يجوز فهذه هي المسألة فقد أجاز حوادث لا أول لها، وإن قال لا يجوز فقد قال بغير علم وعطل الباري عن صفاته وسقط في هوة التجهم.
فالمسألة مع كونها من محارات العقول سهلة على من وفقه الله لفهمها، وفيها من إثبات عظمة الله تعالى وسعة ملكه وقدم سلطانه ما تعجز العقول عن إدراكه.
والمقصود: أن هذه الأمور العظيمة والأصول الكبرى إنما جلاها وفصلها وتعمق في معقولها ومنقولها ونقد وقارن وفصل بين الطوائف المختلفة فيها في كلياتها وجزئياتها العالم الفرد والعلم الفذ شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (2) الذي
--------------------------------------------
মানুষের বুদ্ধি অসীমের কল্পনা করতে অক্ষম, তবে একে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে এর সাথে মুয়ামালা করা আবশ্যক; সুতরাং তা কল্পনা করার অহেতুক কষ্ট করার প্রয়োজন নেই এবং তা অস্বীকার করার মতো বাড়াবাড়ি করাও উচিত নয়।
৪- বুদ্ধি এটি কল্পনা করতে পারে যে, প্রতিটি নশ্বর বিষয়ের পূর্বে একটি নশ্বর বিষয় রয়েছে, যেমনটি সে কল্পনা করে যে প্রতিটি নশ্বর বিষয়ের পরে একটি নশ্বর বিষয় রয়েছে এবং প্রতিটি সংখ্যার পরে একটি সংখ্যা রয়েছে। সে জানে যে প্রতিটি নশ্বর বিষয়ের শুরু আছে এবং প্রতিটি সমাপ্ত বিষয়ের শেষ আছে, এবং প্রতিটি সংখ্যার একটি সীমা ও প্রান্ত আছে, যদিও সংখ্যার প্রজাতির (genus) কোনো সীমা ও প্রান্ত নেই (১)।
৫- যারা বলে যে আল্লাহ তাআলা কোনো একটি বস্তুকে নিরঙ্কুশভাবে তাঁর প্রথম সৃষ্টি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, তাদের বলা হবে: আল্লাহ কি এর পূর্বে কিছু সৃষ্টি করা জায়েজ (সম্ভব), নাকি অসম্ভব? যদি সে বলে জায়েজ, তবে এটাই সেই মাসআলা, যেখানে সে অনাদি নশ্বর বিষয়াবলিকে (হাওয়াদিস লা আউওয়ালা লাহা) স্বীকার করে নিল। আর যদি সে বলে জায়েজ নয়, তবে সে জ্ঞানহীন কথা বলল এবং স্রষ্টাকে তাঁর গুণাবলি থেকে রিক্ত করল এবং জহমি মতবাদের গহ্বরে পতিত হলো।
সুতরাং বিষয়টি বুদ্ধির জন্য বিভ্রান্তিকর হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য সহজ যাকে আল্লাহ এটি বোঝার তাওফিক দান করেছেন। এর মধ্যে আল্লাহ তাআলার মহানত্ব, তাঁর রাজত্বের বিশালতা এবং তাঁর আধিপত্যের প্রাচীনত্বের এমন প্রমাণ রয়েছে যা উপলব্ধি করতে বুদ্ধি অক্ষম।
আর উদ্দেশ্য হলো: এই মহান বিষয়াবলি এবং বৃহৎ মূলনীতিসমূহকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন এবং এদের যুক্তিনির্ভর ও বর্ণনাভিত্তিক উভয় দিক নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন; সেই সাথে বিভিন্ন দল-উপদলের মধ্যে এদের সামগ্রিক ও আংশিক বিষয়গুলোর পার্থক্য নিরূপণ ও সমালোচনা করেছেন অনন্য আলেম ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ (২), যিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قيضه الله لهذه الأمة والناس في هذه الأصول ثلاث طرق: -
الأولى: المتكلمون الذين سلموا ببعض أصول الفلسفة، وأصلوا ذلك الأصل الأفسد في حدوث العالم، وأهملوا ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم حتى أنهم في مؤلفاتهم عن الأقوال والفرق لا يكادون يذكرون ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم أصلاً.
وعلى أيديهم حدثت الفتن الجسام كفتنة القول بخلق القرآن وفتنة القول بوجوب التأويل وغيرها.
وبقيتهم في المتأخرين الكوثري (1) وتلامذته.
والطائفة الثانية: الفلاسفة المثبتون لقدم العالم وعمدتهم هو نقض ما قرره أولئك إذ شغبوا على أهل الكلام قائلين: كيف تحول الأمر من الامتناع الذاتي إلى الإمكان أو الوجوب الذاتي؟ وكيف ترجح الفعل بلا مرجح؟ وغير ذلك من اللوازم فليس لهم على الحقيقة حجة إلا فساد قول أولئك!! .
والطائفة الثالثة: المنتسبون للسنة والحديث بلا خبرة في العقليات فكانوا فتنة للطائفتين السابقتين وغرضاً لسهام الفريقين، ومن تفريطهم دخلتا وعلى
--------------------------------------------
আল্লাহ তাকে এই উম্মতের জন্য প্রস্তুত করেছেন এবং এই মূলনীতিগুলোর ক্ষেত্রে মানুষ তিনটি পথে বিভক্ত: -
প্রথম পথ: ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ (মুতাকাল্লিমুন), যারা দর্শনের কিছু মূলনীতিকে গ্রহণ করে নিয়েছেন এবং জগতের সৃষ্টি (হুদুসে আলম) সংক্রান্ত সেই অত্যন্ত ভ্রান্ত মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা উপেক্ষা করেছেন, এমনকি বিভিন্ন মতবাদ ও দল সম্পর্কে তাদের রচিত গ্রন্থাবলিতে তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা মোটেও উল্লেখ করেন না বললেই চলে।
আর তাদের মাধ্যমেই বড় বড় ফেতনার উদ্ভব হয়েছে, যেমন কুরআন সৃষ্টি হওয়ার ফেতনা এবং সিফাতসমূহের ব্যাখ্যা (তাবিল) আবশ্যক হওয়ার ফেতনা ইত্যাদি।
আর পরবর্তীদের মধ্যে তাদের অবশিষ্ট অংশ হলো আল-কাওসারি (১) এবং তার ছাত্ররা।
দ্বিতীয় দল: দার্শনিকগণ, যারা জগতের অনাদিত্ব (কাদিম হওয়া) সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রধান অবলম্বন হলো ঐ প্রথম দলটির প্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলোকে খণ্ডন করা; কেননা তারা ইলমুল কালামের অনুসারীদের ওপর আক্রমণাত্মক যুক্তি দিয়ে বলেন: বিষয়টি কীভাবে সত্তাগত অসম্ভবতা থেকে সত্তাগত সম্ভবতা কিংবা সত্তাগত আবশ্যকতায় রূপান্তরিত হলো? এবং কোনো প্রভাবক ছাড়াই কীভাবে একটি কাজ অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার পেল? এ জাতীয় আরও অনেক আনুষঙ্গিক বিষয়। প্রকৃতপক্ষে তাদের কাছে সেই প্রথম দলের বক্তব্যের অসারতা ছাড়া আর কোনো জোরালো প্রমাণ নেই!!
তৃতীয় দল: সুন্নাহ ও হাদিসের অনুসারী হওয়ার দাবিদার কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক বা আকলি বিষয়ে যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ফলে তারা পূর্ববর্তী দুই দলের জন্য ফেতনার কারণ এবং উভয় পক্ষের তীরের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আর তাদের শিথিলতার কারণেই সেই দুই দল প্রবেশ করেছে এবং—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أكتافهم تسلقتا وهم الذين عبر عنهم شيخ الإسلام بقوله: " من انتحل مذهب السلف مع الجهل بمقالهم أو المخالفة لهم بزيادة أو نقصان
… .." (1) وبقاياهم في زماننا على ثلاثة أصناف: -
1- من أعرض عن هذه المسائل بالكلية - مع أنها لا تزال تقرر في كثير من معاهد العلم الشرعي في أنحاء المعمورة - وتعلل بالنهي عن الخوض في علم الكلام، وهذا حق ولكن مسألة على هذا القدر من الأهمية
بلوازمها واشتهار الكلام فيها لا ينبغي الجل بها ولا تجاهلها (2) وترك أهل البدع يثلمون عرض الشيخ ويفرون اديمه ويفتنون العامة بل طلبة العلم من أهل السنة.
2- من تجرأ فخطأ شيخ الإسلام وصرح برفض قوله وجعله مخالفاً لما اتفق عليه العلماء (3) .
--------------------------------------------
তাদের কাঁধে চড়ে বসেছে এবং তারাই সেই সব লোক যাদের সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম তাঁর এই বাণীতে ব্যক্ত করেছেন: "যে ব্যক্তি সালাফদের মতবাদকে নিজের বলে দাবি করে অথচ তাদের বক্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা তাতে কমবেশি করার মাধ্যমে তাদের বিরোধিতা করে... (১)"। আমাদের সময়ে তাদের অবশিষ্টাংশ তিন প্রকার: -
১- যারা এই বিষয়গুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে—যদিও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু শরয়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এগুলো এখনো পাঠদান করা হয়—এবং কালাম শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায়। এটি সত্য হলেও, এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং এ সম্পর্কে আলোচনার ব্যাপকতার কারণে এটি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা বা একে উপেক্ষা করা উচিত নয় (২)। এছাড়া বিদআতীদের সুযোগ দেওয়া উচিত নয় যাতে তারা শাইখের সম্মানহানি করে, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং সাধারণ মানুষ এমনকি আহলে সুন্নাহর ইলমের অন্বেষণকারীদেরও বিভ্রান্ত করে।
২- যারা ধৃষ্টতা দেখিয়ে শাইখুল ইসলামকে ভুল প্রতিপন্ন করেছে এবং স্পষ্টভাবে তাঁর মতকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে উলামাদের ঐকমত্যের পরিপন্থী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
3- من ادعى أن هذا ليس هذا مذهب شيخ الإسلام وجعل ذلك تبرئة لساحته ودفاعاً عنه فكابر عقول قراء الشيخ كلهم ولزمه تخطئة من خالف الشيخ ومن وافقه سواء، فابن القيم مثلاً مخطىء حين وافق الشيخ على ما ليس مذهبه والألباني مثلاً مخطىء حين خالف الشيخ فيما ليس مذهبه.
৩- যে ব্যক্তি দাবি করে যে এটি শাইখুল ইসলামের মাযহাব নয় এবং একে তাঁর নির্দোষতা প্রমাণ ও তাঁর পক্ষ সমর্থনের মাধ্যম বানায়, সে শাইখের সকল পাঠকের বুদ্ধিবৃত্তির সাথেই ধৃষ্টতা প্রদর্শন করল। এর ফলে তার জন্য শাইখের বিরোধিতাকারী এবং অনুসারী উভয়কেই সমানভাবে ভুল প্রতিপন্ন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ইবনুল কায়্যিম তখন ভুল করেছেন যখন তিনি শাইখের এমন একটি বিষয়ের সাথে একমত হয়েছেন যা তাঁর মাযহাব ছিল না, এবং আলবানীও তখন ভুল করেছেন যখন তিনি শাইখের এমন বিষয়ের বিরোধিতা করেছেন যা তাঁর মাযহাব ছিল না।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
وصدق من قال عدو عاقل خير من صديق جاهل (1) .
--------------------------------------------
সত্যই বলেছেন তিনি যিনি বলেছেন, একজন বুদ্ধিমান শত্রু একজন মূর্খ বন্ধুর চেয়ে উত্তম (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولا ريب أن المسألة بتفصيلاتها ولوازمها دقيقة المنزع وعرة المسلك بعيدة الغور إلا أننا نذكر خلاصة ما يجب على المسلم - لا سيما طالب العلم - معرفته في هذا الشأن وهو هذه الأمور: -
1- … أن الله تعالى هو الأول الذي ليس قبله شيء.
2- أن الله تعالى متصف بصفات الكمال أزلاً وأبدلاً ومنها كونه خالقاً لما يشاء متى شاء فعال لما يريد فلم يأت عليه زمن كان معطلاً فيه عن الخلق او الكلام أو غير ذلك من صفات كماله ونعوت جلاله.
3- أن كل ما سوى الله تعالى مخلوق له مربوب كائن بعد أن لم يكن.
وبعد هذا إن أمكنه أن يفهم الفرق بين النوع والآحاد وبين حكم الواحد وحكم المجموع فقد انكشف له أصل المسألة، وإن لم يفهمه فلا يضيره الوقوف بالساحل وإنما الضير في التخبط بلا هدى، وأسوأ منه الجهل المركب الذي اشترك فيه من كفروا الشيخ أو خطأوه ومن دافع عنه بنفي ما يعلم كل مطلع على كتبه أنه من مشهور أقواله.
وقد كان من دواعي دهشتي وإعجابي أن تتصدى الباحثة الفاضلة لهذا الموضوع الذي قصرت عنه همم كثير من المتخصصين وتقدم عليه حين أحجموا وتفهم ما عجز عن فهمه كثير من أهل السنة والبدعة على السواء، وتطلع بهذا المؤلف الذي يدل على عمق في التفكير وجلد على البحث العسير مما يبشر لها بمستقبل علمي زاهر بإذن الله تعالى وإنني إذ أسجل شكري لها وإعجابي بعملها لأوصيها بأن تفيد من ملاحظات العدو والصديق على السواء؛ وأن تجتهد في تحسين الأسلوب والصياغة ليتناسب مع ما لديها من عمق الفكرة وجودة الفهم
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিষয়টি এর বিস্তারিত বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিসহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম, এর পথ দুর্গম এবং এর গভীরতা অনেক বেশি। তবে আমরা একজন মুসলমানের জন্য—বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য—এই বিষয়ে যা জানা আবশ্যক, তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করছি, যা হলো নিম্নরূপ: -
১- … মহান আল্লাহ হলেন অনাদি, যাঁর পূর্বে কিছু ছিল না।
২- মহান আল্লাহ অনাদি ও অনন্তকাল ধরে পরিপূর্ণ গুণাবলিতে গুণান্বিত। এসব গুণের মধ্যে রয়েছে—তিনি যা ইচ্ছা করেন যখন ইচ্ছা করেন তার স্রষ্টা হওয়া এবং তিনি যা চান তা-ই সম্পাদনকারী। ফলে তাঁর ওপর এমন কোনো সময় আসেনি যখন তিনি সৃষ্টি করা, কথা বলা কিংবা তাঁর অন্যান্য পূর্ণতার গুণাবলি ও মহিমার বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে কর্মহীন ছিলেন।
৩- মহান আল্লাহ ব্যতীত যা কিছু আছে সবই তাঁর সৃষ্টি, তাঁর লালিত এবং তা পূর্বে অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্বে এসেছে।
এর পর যদি সে প্রকার (নউ‘) ও ব্যক্তি-এককের (আহাদ) মধ্যে এবং এককের বিধান ও সমষ্টির বিধানের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সক্ষম হয়, তবে তার নিকট মাসআলাটির মূল রহস্য উন্মোচিত হবে। আর যদি সে তা বুঝতে না পারে, তবে তীরে অবস্থান করা তার কোনো ক্ষতি করবে না; বরং ক্ষতি হলো হিদায়াত ছাড়া লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ানো। আর তার চেয়েও নিকৃষ্ট হলো সেই জটিল মূর্খতা (জাহলে মুরাক্কাব), যাতে তারা শরিক হয়েছে যারা শায়খকে কাফির ঘোষণা করেছে বা ভুল সাব্যস্ত করেছে, আর তারা যারা তাঁর কিতাব পাঠকারী মাত্রই অবগত এমন সব প্রসিদ্ধ মতকে অস্বীকার করে তাঁর পক্ষে সাফাই গেয়েছে।
এটি আমার জন্য বিস্ময় ও প্রশংসার বিষয় ছিল যে, বিদুষী গবেষক এমন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন যা অনেক বিশেষজ্ঞের সাহসেরও অতীত ছিল এবং তিনি সেখানে অগ্রসর হয়েছেন যেখানে অন্যরা পিছু হটেছে। তিনি এমন বিষয় বুঝতে পেরেছেন যা সুন্নাহর অনুসারী এবং বিদআতি—উভয় পক্ষের অনেকেই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এমন এক গ্রন্থ নিয়ে হাজির হয়েছেন যা চিন্তার গভীরতা এবং কঠিন গবেষণার ধৈর্য প্রমাণ করে, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তার একটি উজ্জ্বল জ্ঞানতাত্ত্বিক ভবিষ্যতের সুসংবাদ দেয়। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তার কাজের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার পাশাপাশি তাকে এই অসিয়ত করছি যেন সে বন্ধু ও শত্রু উভয়ের মন্তব্য থেকেই উপকৃত হয়; এবং তার লিখনশৈলী ও রচনারীতি উন্নত করার চেষ্টা করে, যাতে তা তার চিন্তার গভীরতা ও উত্তম বোধশক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ودقة الملاحظة ولا أحسب هذا عليها صعباً بإذن الله، والله الموفق للصواب المتكرم بالقبول والحمد لله رب العالمين أولاً وأخيراً،،،
سفر بن عبد الرحمن الحوالي
এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ; আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমি মনে করি না যে এটি তার জন্য কঠিন হবে। আল্লাহই সঠিক বিষয়ের তাওফিকদাতা এবং কবুল করার মাধ্যমে অনুগ্রহকারী। আর আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সফর বিন আব্দুর রহমান আল-হাওয়ালি
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مقدمة المؤلفة
লেখিকার ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين أما بعد،،
فإن من سنن الله أن يبتلى عباده المؤمنين وأكملهم الأنبياء ولهذا كانوا أكثر بلاء ـ وان من مظاهر ذلك أن خلق الله من يعاديهم فخلق لإبراهيم عليه السلام النمرود، ولموسى عليه السلام فرعون، ولمحمد صلى الله عليه وسلم أبا جهل وأبا لهب {وكذلك جعلنا لكل نبي عدواً من المجرمين وكفى بربك هادياً ونصيراً}
وبعد الأنبياء يبتلى الصالحون الأمثل فالأمثل وإن من بين هؤلاء شيخ الإسلام ابن تيمية الذي شهد التاريخ وسجل في صفحاته كم لاقى من صنوف البلاء وأنواع المحن إلا ان هناك محنة وقع فيها تكاد تكون مشتركة لأكثر الناس وهي محنة الافتراء والكذب والظلم للإنسان حسداً أو حقداً أو كرهاً، أو لغير ذلك من الأسباب، وقد يطعن الطاعن فيه جهلاً من غير قصد كأن لم يتحقق من كلامه بل من وشاية سمعت، أو ظاهر عبارة لم يقصد مرادها وله نص صريح يخالف هذا الظاهر ولم يقف عليه الطاعن، أو غير ذلك.
ولقد كثر الطعن في شيخ الإسلام بسبب ما نسب إليه من القول بقدم العالم وأنه وافق في ذلك الفلاسفة من أمثال ابن سينا والفارابي وابن رشد الحفيد وحكموا عليه بالضلال أو الكفر!!!!
وليست هذه الفرية من صنع أجيال اليوم وأقلام الحاضر بل هي من قرون قديمة من صنع معاصريه ثم استمرت إلى زماننا هذا حتى تورط بعض محبي شيخ الإسلام ومن هم على عقيدة السلف الكرام، بمقالة الطاعنين بل صرحوا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর,
নিশ্চয়ই আল্লাহর অন্যতম নিয়ম হলো তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের পরীক্ষা করেন, আর তাঁদের মধ্যে নবীগণ সবচেয়ে পূর্ণ হওয়ায় তাঁরাই সর্বাধিক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। এর অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো আল্লাহ এমন একদল সৃষ্টি করেছেন যারা তাঁদের শত্রুতা করে। তিনি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য নমরূদকে, মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ফেরাউনকে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য আবু জাহল ও আবু লাহাবকে সৃষ্টি করেছেন। {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু নির্ধারণ করেছি; আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট।}
নবীগণের পর নেককার বান্দাগণ তাদের যোগ্যতার ক্রমানুসারে পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইতিহাস যার সাক্ষী এবং এর পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে যে তিনি কত বিচিত্র ধরণের পরীক্ষা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এমন একটি পরীক্ষা রয়েছে যা অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় সাধারণ একটি বিষয়; আর তা হলো কোনো মানুষের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা বা অন্য কোনো কারণে অপবাদ, মিথ্যাচার ও জুলুমের শিকার হওয়া। কখনো কখনো আক্রমণকারী অজ্ঞতাবশত অনিচ্ছাকৃতভাবেও তাকে আক্রমণ করে বসে; যেমন হয়তো তার বক্তব্য যাচাই না করে স্রেফ শোনা কোনো কুৎসার ওপর নির্ভর করা, অথবা কোনো বাক্যের বাহ্যিক রূপ দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যা বক্তা উদ্দেশ্য করেননি, অথচ ঐ বক্তার এমন কিছু সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে যা এই বাহ্যিক অর্থের বিপরীত কিন্তু আক্রমণকারী তা অবগত হতে পারেনি, অথবা অন্য কোনো কারণ।
শাইখুল ইসলামের প্রতি আক্রমণের আধিক্য ঘটেছে তাঁর প্রতি 'জগতের অনাদিত্ব' (ক্বিদামুল আলম) হওয়ার মতবাদ আরোপ করার কারণে। দাবি করা হয় যে, এ বিষয়ে তিনি ইবনে সিনা, আল-ফারাবি এবং ইবনে রুশদ আল-হাফিদ-এর মতো দার্শনিকদের সাথে একমত হয়েছেন এবং তারা তাঁর ওপর পথভ্রষ্টতা ও কুফরির হুকুম জারি করেছে!!!!
এই অপবাদ বর্তমান প্রজন্মের বা সমকালীন লেখকদের উদ্ভাবন নয়, বরং এটি কয়েক শতাব্দী আগে তাঁর সমসাময়িকদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। অতঃপর তা আমাদের কাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, এমনকি শাইখুল ইসলামের একদল অনুরাগী এবং যারা সম্মানিত সালাফগণের আকিদার অনুসারী, তারাও আক্রমণকারীদের এই বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়েছেন, এমনকি তাঁরা স্পষ্টভাবে বলেছেন
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بمخالفة ما قاله شيخ الإسلام.
وكم كنت أتمنى أن يدافع عنه العلماء القادرون وبخاصة من أهل نجد أو الحجاز الذين اشتهروا بالدفاع عن عقيدة السلف وحمل لوائه ونشره.
ولم أر في عيوب الناس عيباً
… كنقص القادرين على التمام
وقد فكرت منذ زمن أن أكتب في هذا الموضوع إلا أني كنت أقدم رجلاً وأؤخر أخرى، أما سبب إقدامي فسأذكره في الباعث على الخوض في هذا الموضوع، وأما تأخيرها فخشية عدم الاتقان والتوفيق وقد قال شيخ الإسلام في درء التعارض (1/357) :
فكل من لم يناظر أهل الإلحاد والبدع مناظرة تقطع دابرهم لم يكن أعطى الإسلام حقه، ولا وفى بموجب العلم والإيمان، ولا حصل بكلامه شفاء الصدور وطمأنينة النفوس، ولا أفاد كلامه العلم واليقين ا 0 هـ.
ثم شرح الله صدري للكتابة مستعينة به ومتوكلة عليه {ومن يتوكل على الله فهو حسبه}
الباعث على الخوض في غمار هذا الموضوع:
الذي دعاني للكتابة في هذا الموضوع أمور:
1- علمي بالظلم الذي وقع على شيخ الإسلام في هذه المسألة حتى نسب إلى الكفر!!!
2- استمرار أهل الباطل في نشر هذا الطعن والاتهام بكل وسائل الدعوة المرئية والمكتوبة والمسموعة حتى صدق محبو شيخ الإسلام هذه الفرية بل وكانوا على استحياء منها وودوا ألا يلج ابن تيمية هذا المولج!!
শাইখুল ইসলামের বক্তব্যের বিরোধিতার মাধ্যমে।
আমি কতই না আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি সক্ষম আলেমগণ তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে প্রতিরক্ষা করতেন, বিশেষ করে নজদ বা হিজাযের সেই আলেমগণ যারা সালাফদের আকীদা রক্ষা এবং এর ঝাণ্ডা বহন ও প্রচারের জন্য সুপরিচিত।
আর আমি মানুষের দোষত্রুটির মধ্যে এমন কোনো দোষ দেখিনি
… যা সক্ষম ব্যক্তিদের পূর্ণতা অর্জনে পিছিয়ে থাকার মতো।
দীর্ঘকাল ধরে আমি এই বিষয়ে লেখার চিন্তা করছিলাম, কিন্তু আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। অগ্রসর হওয়ার কারণ আমি এই বিষয়ে আলোচনার অনুপ্রেরণা অংশে উল্লেখ করব। আর পিছিয়ে যাওয়ার কারণ ছিল নির্ভুলতা ও তাওফীক না পাওয়ার আশঙ্কা। শাইখুল ইসলাম দারউত তাআরুদ (১/৩৫৭) গ্রন্থে বলেছেন:
যে ব্যক্তি নাস্তিক্যবাদ ও বিদআতপন্থীদের সাথে এমনভাবে বিতর্ক করল না যা তাদের শেকড় উপড়ে ফেলে, সে ইসলামের হক আদায় করল না, ইলম ও ঈমানের দাবির প্রতিও অনুগত থাকল না। তার কথার মাধ্যমে না অন্তরের প্রশান্তি মিলল আর না নফসের স্থিরতা এলো, এমনকি তার কথা থেকে ইলম ও ইয়াকীনও অর্জিত হলো না। (সমাপ্ত)।
অতঃপর আল্লাহ তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে লেখার জন্য আমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিলেন; {আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট}।
এই বিষয়ের গভীরে অবগাহন করার মূল কারণসমূহ:
যে বিষয়গুলো আমাকে এই বিষয়ে লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো:
১- এই মাসআলায় শাইখুল ইসলামের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে তা সম্পর্কে আমার জ্ঞান, এমনকি তাঁকে কুফরির দিকেও নিসবত করা হয়েছে!!!
২- বাতিলপন্থীদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান, লিখিত ও শ্রাব্য সকল প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে এই অপবাদ ও অভিযোগ ছড়ানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; যার ফলে এমনকি শাইখুল ইসলামের অনুরাগীগণও এই মিথ্যা অপবাদ বিশ্বাস করে ফেলেছেন, বরং তারা এর কারণে লজ্জিতও হতেন এবং কামনা করতেন যে ইবনে তাইমিয়্যাহ যেন এই পথে প্রবেশ না করতেন!!
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3- أنني لم أجد من جلّى هذه المسألة ووضحها وإن كان لبعضهم جهد مشكور سأذكره.
4- وقوع كثير من طلبه العلم الذين هم على عقيدة السلف في اللبس، وعدم فهم مراد شيخ الإسلام مع انهم يعتقدون بأن الله لم يزل فعالاً وخالقاً ومتكلماً، وهذا هو مراد شيخ الإسلام كما سيتضح، وبعضهم يقول هو خالق بالقوة وهذا تجويز لحوادث لا أول لها كما سيأتي.
5- إحجام أهل الحق عن الكتابة خشية طعن الخصوم، وخشية عدم فهم كلام شيخ الإسلام.
الجهود السابقة في الموضوع:
هناك جهود وكتب في هذا الموضوع منها:
1- شرح الصدر في السؤال عن أول هذا الأمر لمنصور بن عبد العزيز السماري.
2- موقف ابن تيمية من الأشاعرة د 0 عبد الرحمن المحمود.
3- موسوعة أهل السنة لعبد الرحمن دمشقية.
4- دفع الشبه الغوية عن شيخ الإسلام ابن تيمية لمراد شكري.
5- الأصول التي بنى عليها المبتدعة مذهبهم في الصفات د 0 عبد القادر صوفي.
وهناك مؤلفات شيخ الإسلام وتلميذه ابن القيم في هذه المسألة.
৩- আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন, যদিও কারো কারো প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা রয়েছে যা আমি উল্লেখ করব।
৪- অনেক ইলম অন্বেষণকারী, যারা সালাফদের আকিদার অনুসারী, তাদের বিভ্রান্তিতে পড়া এবং শায়খুল ইসলামের উদ্দেশ্য বুঝতে না পারা; যদিও তারা বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ সর্বদা কর্মতৎপর, স্রষ্টা এবং কথা বলেন, আর এটিই শায়খুল ইসলামের উদ্দেশ্য যা পরে স্পষ্ট হবে। তাদের কেউ কেউ বলেন তিনি 'সুপ্ত ক্ষমতার' দিক থেকে স্রষ্টা, আর এটি অনাদি নশ্বর বিষয়াবলীর (হাওয়াদিস লা আউওয়ালা লাহা) সম্ভাবনা সাব্যস্ত করার নামান্তর যা সামনে আলোচিত হবে।
৫- বিরোধীদের অপবাদের ভয়ে এবং শায়খুল ইসলামের বক্তব্য বুঝতে না পারার আশঙ্কায় সত্যপন্থীদের লেখালেখি থেকে বিরত থাকা।
এই বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাসমূহ:
এই বিষয়ে কিছু প্রচেষ্টা ও গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- মানসুর বিন আব্দুল আজিজ আস-সামারি রচিত ‘শারহুস সাদর ফিস সুয়াল আন আউওয়ালি হাযাল আমর’।
২- ড. আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ রচিত ‘মাওকিফ ইবনে তাইমিয়া মিনাল আশাইরা’।
৩- আব্দুর রহমান দিমাশকিয়া রচিত ‘মাওসুয়াতু আহলিস সুন্নাহ’।
৪- মুরাদ শুকরি রচিত ‘দাফুশ শুবাহিল গাউয়িয়্যাহ আন শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া’।
৫- ড. আব্দুল কাদির সুফি রচিত ‘আল-উসুলুল্লাতি বানা আলাইহাল মুবতাদিআতু মাযহাবাহুম ফিস সিফাত’।
এছাড়াও এই বিষয়ে শায়খুল ইসলাম এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের বহু রচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
منهجي في البحث: -
سلكت في كتابة البحث المنهج الآتي: -
1- ذكرت الأدلة التي للمتكلمين على هذه المسألة.
2- وضحت أهم المصطلحات التي تعين على فهم المقصود.
3- بينت الفرق بين قول الفلاسفة وقول ابن تيمية.
4- جعلت مبحثاً خاصاً نقلت فيه أقوال شيخ الإسلام من الفتاوى، ومنهاج السنة، ودرء التعارض، ينكر فيه قدم العالم أو ان الله موجب بالذات، وقد أكثرت من هذه النقولات حتى يقول القارىء: لقد أيقنت أن شيخ الإسلام لا يقول بقول الفلاسفة!
5- أفردت مبحثاً خاصاً نقلت فيه أبيات ابن القيم في النونية في القدم النوعي وأثبتها سواء كانت في أول الكتاب، أم وسطه، أم في آخره مع شرح خليل هراس ليكون مراجعة للقارئ لها نظماً بعد ان قرأ الموضوع نثراً، وبخاصة أنني أحقق الكتاب وسيخرج قريباً إن شاء الله
خطة البحث:
قسمت البحث إلى تمهيد وموضوع وخاتمة.
أما التمهيد فقد ذكرت فيه فرعين:
الفرع الأول: بيان أساس المسألة والمدخل لتصورها.
الفرع الثاني: بيان الأصل الذي بنى عليه المبتدعة مذهبهم.
আমার গবেষণাপদ্ধতি: -
এই গবেষণা নিবন্ধটি রচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি: -
১- এই বিষয়ে মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদদের) উপস্থাপিত দলীলগুলো উল্লেখ করেছি।
২- উদ্দিষ্ট বিষয়টি বুঝতে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছি।
৩- দার্শনিকদের মত এবং ইবনে তাইমিয়্যার মতের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছি।
৪- আমি একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছি যাতে শায়খুল ইসলামের ‘ফাতাওয়া’, ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ এবং ‘দারউত তাআরুদ’ থেকে এমন উদ্ধৃতিসমূহ সংকলন করেছি, যেখানে তিনি জগতের অনাদিত্ব অথবা আল্লাহ ‘সত্তাগতভাবে আবশ্যিক কার্যকারক’ হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। আমি এই উদ্ধৃতিগুলো এত অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছি যাতে পাঠক বলতে পারেন: আমি নিশ্চিত হয়েছি যে শায়খুল ইসলাম দার্শনিকদের মত পোষণ করেন না!
৫- আমি একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি যাতে ‘কাদামুন নাওঈ’ (প্রকারগত অনাদিত্ব) বিষয়ে ইবনুল কায়্যিমের ‘নূনিয়া’ কাব্যগ্রন্থের পঙক্তিগুলো কিতাবের শুরু, মধ্য বা শেষ—যেখানেই থাকুক না কেন, তা খলীল হাররাসের ব্যাখ্যাসহ অন্তর্ভুক্ত করেছি; যাতে গদ্য আকারে বিষয়টি পড়ার পর পাঠক তা পদ্য আকারেও পর্যালোচনার সুযোগ পান। বিশেষত আমি এই কিতাবটি তাহকীক (সম্পাদনা) করছি এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই তা প্রকাশিত হবে।
গবেষণার রূপরেখা:
আমি গবেষণাপত্রটিকে ভূমিকা, মূল আলোচ্য বিষয় এবং উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
ভূমিকার ক্ষেত্রে আমি দুটি শাখা উল্লেখ করেছি:
প্রথম শাখা: বিষয়টির মূল ভিত্তি এবং তা অনুধাবনের প্রবেশিকা।
দ্বিতীয় শাখা: সেই মূলনীতির বর্ণনা যার ওপর ভিত্তি করে বিদআতিরা তাদের মতবাদ গড়ে তুলেছে।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أما الموضوع ففيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: بيان المصطلحات التي تعين على فهم الموضوع وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: القدم النوعي.
المطلب الثاني: الحوادث.
المطلب الثالث: التسلسل.
المبحث الثاني: أقوال الناس في المسألة وفيه مطلبان:
المطلب الأول: قول المتكلمين وفيه تمهيد وفرعان:
أما التمهيد ففيه بيان اختلاف المتكلمين في هذه المسألة.
وأما الفرعان فهما:
الأول: قول الجهمية والرد عليهم.
الثاني: قول الكلابية والأشعرية مع ذكر أدلتهم والرد عليها.
المطلب الثاني: قول السلف وأدلتهم على ذلك.
المبحث الثالث: المخالفون لابن تيمية ونقل كلامهم في ذلك.
المبحث الرابع: النقول المستفيضة عن ابن تيمية في إنكاره قدم العالم، والفرق بين قوله وقول الفلاسفة.
المبحث الخامس: ذكر أبيات نونية ابن القيم المتعلقة بالموضوع مع شرح خليل هراس.
الخاتمة: وفيها خلاصة البحث.
বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিষয়বস্তু বুঝতে সহায়ক পরিভাষাগুলোর বিবরণ এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শ্রেণীগত অনাদিত্ব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নতুন সৃষ্ট বিষয়াবলি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অবিচ্ছিন্ন পরম্পরা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় মানুষের মতামত এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কালাম শাস্ত্রবিদদের বক্তব্য এবং এতে একটি ভূমিকা ও দুটি শাখা রয়েছে:
ভূমিকাটিতে এই মাসআলায় কালাম শাস্ত্রবিদদের মতপার্থক্য বর্ণনা করা হয়েছে।
আর শাখা দুটি হলো:
প্রথম: জাহমিয়্যাহদের বক্তব্য এবং তাদের খণ্ডন।
দ্বিতীয়: কুল্লাবিয়্যাহ ও আশআরিয়্যাহদের বক্তব্য, তাদের দলীলসমূহ উল্লেখ এবং সেগুলোর খণ্ডন।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সালাফদের বক্তব্য এবং এ বিষয়ে তাদের দলীলসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরোধিতাকারীবৃন্দ এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃতকরণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জগতের অনাদিত্ব অস্বীকার করার ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে বর্ণিত বিস্তারিত উদ্ধৃতিসমূহ এবং তাঁর বক্তব্য ও দার্শনিকদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: খলিল হাররাসের ব্যাখ্যাসহ বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট ইবনুল কাইয়্যিমের নুনিয়্যাহ কাব্যের পঙক্তিমালা উল্লেখ।
উপসংহার: এতে গবেষণার সারসংক্ষেপ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
التمهيد وفيه فرعان:
الفرع الأول: بيان أساس المسألة والمدخل لتصورها.
الفرع الثاني: بيان الأصل الذي بنى عليه المبتدعة مذهبهم.
ভূমিকা এবং এতে দুটি উপশাখা রয়েছে:
প্রথম উপশাখা: মাসআলা বা প্রসঙ্গের ভিত্তি এবং তা অনুধাবনের প্রবেশদ্বারের বর্ণনা।
দ্বিতীয় উপশাখা: সেই মূলনীতির বর্ণনা যার ওপর ভিত্তি করে বিদআতিরা তাদের মতবাদ গড়ে তুলেছে।
(খণ্ড: ১)
ক্বিদামুল আলাম ওয়া তাসালসুলুল হাওয়াদিস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفرع الأول: بيان أساس المسألة والمدخل لتصورها:ينبغي أن يعلم أن أساس هذه المسألة والمدخل لتصورها وفهمها على حقيقتها وإدراك أهمية الخلاف فيها هو: هل يقال بدوام فاعلية الرب وأنه لم يزل فاعلاً؛ ولم يأت يوم وهو معطل عن الفعل أم لا؟
فمن قال بذلك كان قائلاً بالقدم النوعي أو وجوب تسلسل الحوادث أي أفعال الرب ومن ثم بجواز تسلسل الحوادث أي المخلوقات أو الآثار (1) .
ومن نفى دوام فاعلية الرب قال بعدم التسلسل إلا أنهم اختلفوا فمنهم من قال ان الفعل كان ممتنعاً عليه كالجهمية، ومنهم من قال ان الفعل كان ممتنعاً منه كالكلابية والأشعرية كما سيأتي.
والدليل على أن هذا هو أساس المسألة واضح من كلام شيخ الإسلام وكلام المخالفين.
وأنقل كلام اثنين ممن صرح بذلك وان كانوا كثيرين:
1- زاهد الكوثري رحمه الله في حاشيته على السيف الصقيل ص85 حيث قال: القول بدوام فعله في جانب الماضي قول بحوادث لا أول لها، وقد سبق تسخيف ذلك مرات ا 0 هـ
وقال في صلى الله عليه وسلم 81: ونسجل هنا على الناظم قيام الحوادث بذات الله سبحانه وتعالى، واعتقاده ان هذه الحوادث لا أول لها ا 0 هـ.
2- د 0 محمد عبد الستار نصار في كتابه العقيدة (1/228) حيث قال:
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: মাসআলার মূল ভিত্তি এবং এটি উপলব্ধির প্রবেশদ্বার বর্ণনা:এটি জানা থাকা আবশ্যক যে, এই মাসআলার মূল ভিত্তি এবং একে এর প্রকৃতরূপে অনুধাবন ও উপলব্ধি করার এবং এতে মতপার্থক্যের গুরুত্ব অনুধাবন করার প্রবেশদ্বার হলো: রবের কর্মতৎপরতা কি চিরন্তন এবং তিনি কি অনাদিকাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন; এমন কোনো সময় কি আসেনি যখন তিনি কাজ করা থেকে বিরত ছিলেন? নাকি বিষয়টি তা নয়?
যারা এটি সমর্থন করেন তারা 'প্রজাতিগত অনাদিত্ব' (আল-ক্বিদামুন নাও'য়ী) অথবা নতুন সৃষ্ট বিষয়াবলি তথা রবের কাজসমূহের পর্যায়ক্রমিক ধারার (তাসালসুল) অপরিহার্যতার পক্ষে মত দেন এবং এর ফলে নতুন সৃষ্ট বিষয়াবলি তথা মাখলুকাত বা এর প্রভাবের পর্যায়ক্রমিক ধারার বৈধতার প্রবক্তা হন (১)।
আর যারা রবের কর্মতৎপরতার এই চিরন্তনতাকে অস্বীকার করেন, তারা পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতাকে (তাসালসুল) অস্বীকার করেন। তবে তারা এক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, তাঁর জন্য কাজ করা অসম্ভব ছিল, যেমনটি জাহমিয়ারা বলে। আবার কেউ কেউ বলেন তাঁর পক্ষ থেকে কাজ হওয়া অসম্ভব ছিল, যেমন কুল্লাবিয়া ও আশআরীয়াগণ বলেন, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
এই মাসআলার মূল ভিত্তি যে এটিই, তা শাইখুল ইসলাম এবং বিরোধীদের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট।
আমি এখানে এমন দুইজনের বক্তব্য উদ্ধৃত করছি যারা এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যদিও এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানকারী অনেকেই রয়েছেন:
১- জাহিদ আল-কাওসারী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আস-সাইফুল সাকীল'-এর টীকাভাষ্যের ৮৫ পৃষ্ঠায় বলেন: অতীতকালে তাঁর কাজের স্থায়িত্বের কথা বলা মানে হলো এমন সব নতুন বিষয়ের অবতারণা করা যার কোনো শুরু নেই; এবং ইতিপূর্বে বহুবার এর অসারতা বর্ণনা করা হয়েছে। সমাপ্ত।
তিনি ৮১ পৃষ্ঠায় আরও বলেন: আমরা এখানে পংক্তিকারের বিরুদ্ধে আল্লাহর সত্তার সাথে নতুন বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা (কিয়ামুল হাওয়াদ্দিস) এবং এই নবসৃষ্ট বিষয়াবলির কোনো শুরু নেই বলে তাঁর বিশ্বাসের কথা লিপিবদ্ধ করছি। সমাপ্ত।
২- ড. মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার নাসসার তাঁর 'আল-আক্বিদা' (১/২২৮) গ্রন্থে বলেন:
--------------------------------------------