(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: -)
السنة والتشريع - موسى شاهين لاشين   (موسى شاهين لاشين)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: السنة والتشريع

المؤلف: موسى شاهين لاشين (ت 1430هـ)

قدم له وعنى بإعداده وإخراجه: رئيس التحرير، د. علي أحمد الخطيب.

الناشر: مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف (هدية شهر شعبان 1411 هـ - مجلة الأزهر)

عدد الصفحات: 79

أعدَّهُ للمكتبة الشاملة/ توفيق بن محمد القريشي - غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

সুন্নাহ ও আইন প্রণয়ন - মুসা শাহিন লাশিন   (মুসা শাহিন লাশিন)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: সুন্নাহ ও আইন প্রণয়ন

লেখক: মুসা শাহিন লাশিন (মৃ. ১৪৩০ হিজরি)

ভূমিকা প্রদান এবং বিন্যাস ও সম্পাদনার দায়িত্বে: প্রধান সম্পাদক, ড. আলী আহমদ আল-খাতিব.

প্রকাশক: আল-আযহার আল-শরিফের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি (শা'বান ১৪১১ হিজরির উপহার - মাজাল্লাতুল আযহার)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি - আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: -)
ـ‌‌[السنة والتشريع]ـ

المؤلف: موسى شاهين لاشين (المتوفى: 1430هـ)

قدم له وعنى بإعداده وإخراجه: رئيس التحرير، د. علي أحمد الخطيب.

الناشر: مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف (هدية شهر شعبان 1411 هـ - مجلة الأزهر)

عدد الأجزاء: 1

أعدَّهُ للمكتبة الشاملة/ توفيق بن محمد القريشي - غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
ـ‌‌[সুন্নাহ (السنة) ও বিধান প্রণয়ন (التشريع)]ـ

লেখক: মুসা শাহীন লাশিন (মৃত্যু: ১৪৩০ হিজরি)

ভূমিকা প্রদান এবং প্রস্তুতি ও উপস্থাপনায়: প্রধান সম্পাদক ড. আলী আহমদ আল-খতিব।

প্রকাশক: আল-আযহার আল-শরিফের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি (শাবান ১৪১১ হিজরির উপহার - আল-আযহার ম্যাগাজিন)

খণ্ড সংখ্যা: ১

মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি - আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[مقدمة]:

إن الظروف التي نعيشها اليوم تجعل لهذا الموضوع أهمية خاصة، فهناك نهضة دينية، أو صحوة إسلامية تهتم بالسُنَّة النبوية، وهناك مقالات صحفية، ومؤلفات حديثة، ومؤتمرات عالمية، ومراكز بحوث للسُنَّة النبوية في بلاد إسلامية.

 

وفي مقابل ذلك الجناح الآخر تشهير ومهاجمات، ومحاولات للنيل من قدسية النبوة، تعنِّفُ تارة وتلين أخرى، تأخذ شكل أمواج البحر، تعلو وتهبط، لكنها تتدافع في اتجاه واحد.

 

وقد اختلف حجم هذه المحاولات من بلد إلى آخر، ومن زمن إلى زمن، وكلما اشتد ضعف المسلمين اشتدت الحملة، وتوالى الهجوم، تماماً كميكروب الأمراض، كلما ضعفت المناعة والحصانة كلما اشتدَّ الهجوم والافتراس.

 

إنَّ السُنّة كانت هدفاً لأعداء الإسلام منذ زمن بعيد، لكنها قاومت وتقاوم، وحطمت وتحطم محاولات المُبشِّرين والمستشرقين، بما رسخ في قلوب المؤمنين من إيمان وتقديس وحب اقتداء.

 

لكن مشكلة العصر تشكيك بعض علماء المسلمين فيها بصفة عامة بهدف أو بآخر، ولا نبالغ إذا قلنا:

إنَّ أعداء الإسلام والمستشرقين والمُبشِّرين بل والاستعمار والغزو الثقافي وراء هذه المحاولات، او بالأحرى وراء بعض هذه المحاولات، ومما لا شك فيه أنَّ كثيراً ممن يرفع عقيرته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌[ভূমিকা]:

আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি তা এই বিষয়টিকে একটি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। বর্তমানে একটি ধর্মীয় জাগরণ বা ইসলামি সচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে যা সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল। এছাড়া মুসলিম দেশগুলোতে বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদপত্রের নিবন্ধ, আধুনিক রচনাবলি, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং সুন্নাহ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

 

এর বিপরীতে অপর পক্ষ থেকে রয়েছে কুৎসা রটনা ও আক্রমণ এবং নবুওয়াতের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করার নানাবিধ প্রচেষ্টা, যা কখনও কঠোর আবার কখনও নমনীয় রূপ ধারণ করে। এগুলো সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় যা উথলে ওঠে ও স্তিমিত হয়, কিন্তু তা সর্বদা একই অভিমুখে ধাবিত হচ্ছে।

 

দেশ ও কালভেদে এই অপপ্রয়াসের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মুসলমানদের দুর্বলতা যখনই বৃদ্ধি পেয়েছে, এই প্রচারণাও তত জোরদার হয়েছে এবং ক্রমাগত আক্রমণ ধেয়ে এসেছে; ঠিক যেমন রোগজীবাণুর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে—শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত দুর্বল হয়, আক্রমণ ও গ্রাস করার তীব্রতা তত বৃদ্ধি পায়।

 

সুন্নাহ দীর্ঘকাল ধরেই ইসলামের শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে। তবে মুমিনদের হৃদয়ে প্রোথিত ইমান, সুন্নাহর পবিত্রতা এবং অনুকরণের ভালোবাসার মাধ্যমে তা ধর্মপ্রচারক ও প্রাচ্যবিদদের সকল অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করেছে এবং করে যাচ্ছে।

 

কিন্তু বর্তমান যুগের সমস্যা হলো কোনো কোনো মুসলিম বিদ্বান কর্তৃক সাধারণভাবে সুন্নাহর বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করা—তা যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। আর এটি বললে অত্যুক্তি হবে না যে:

ইসলামের শত্রু, প্রাচ্যবিদ, ধর্মপ্রচারক, এমনকি উপনিবেশবাদ এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই এসব অপচেষ্টার নেপথ্যে রয়েছে, অথবা বলা যায় এসকল প্রচেষ্টার অন্তত কয়েকটির পেছনে সক্রিয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ তোলে তাদের অনেকেই...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৪)
في السُنَّة بغير علم قد رضع لبناً غير ألبانها، وفطم عن ثدي غير ثدي أمها، سواء أدرك ذلك أم لم يدرك، وسواء استهدف مطعماً دنيوياً من منصب أو جاه أو شهرة أم لم يستهدف.

 

إنَّ الحرية الشخصية في العقيدة وفي إبداء الرأي فهمت في عالمنا الإسلامي المعاصر فهماً غير صحيح، واستغلت بشكل واسع وملحوظ في التدخل في الدين وأحكام الشريعة، وفي الحديث النبوي بشكل واسع.

 

وقد يغتر مسلم بنفسه، ويظن أنه من أولى العلم لمجرد أنه قرأ كتاباً أو كُتُباً، أو أنه درس مسألة، أو أنه اشتهر بين الناس كعالم، أو أنه تولى منصباً، وقد تسوِّلُ له نفسه أنه لا يقل عن الصحابة في فهمهم، ولا عن مالك والشافعي وأبي حنيفة وابن حنبل وأصحابهم في علمهم وفقههم، وقد ينخدع به أناس يستجيبون له، ويُرَوِّجون باطله وزيفه.

 

هذه هي المشكلة التي تواجه التراث الإسلامي العريق والأحكام الشرعية الأصيلة في هذه الأيام.

شراذم من البشر تعطي رئيسها أو أميرها حق الاجتهاد، وتنقاد لما يقول غير عابئة بأقوال جهابذة الصحابة وفحول العلماء، وإنْ كان أميرهم محدود العلم قليل البضاعة.

وأفراد صفر اليدين من مبادئ العلوم الشرعية، يجهلون الأوليات منها يقولون: نأخذ أحكامنا رأساً من الكتاب والسُنّة.

وعلماء تخصَّصُوا في فنون أخرى غير الشريعة، ظنوا في أنفسهم القدرة على دراسة القرآن والسُنّة، واستنباط
সুন্নাহর বিষয়ে জ্ঞান ব্যতীত যে ব্যক্তি কথা বলে, সে যেন এমন দুধ পান করেছে যা তার (সুন্নাহর) নিজস্ব নয়, এবং সে যেন স্বীয় জননী ব্যতীত অন্য কারও স্তন্য হতে দুগ্ধপোষ্যকাল শেষ করেছে; সে বিষয়টি উপলব্ধি করুক বা না করুক, এবং সে এর মাধ্যমে পদমর্যাদা, প্রতিপত্তি বা খ্যাতির মতো কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাক বা না চাক।

 

বর্তমান মুসলিম বিশ্বে আকিদাহ ও মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং দ্বীন ও শরীয়তের বিধিবিধান তথা বিশেষ করে হাদিসের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য এটিকে ব্যাপকভাবে ও লক্ষণীয়ভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।

 

কোনো মুসলিম হয়তো নিজের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হতে পারে এবং মনে করতে পারে যে সে ইলমের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত, স্রেফ এই কারণে যে সে একটি বা একাধিক কিতাব পাঠ করেছে, কিংবা কোনো মাসয়ালা নিয়ে পড়াশোনা করেছে, অথবা সে জনগণের নিকট আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে কিংবা কোনো উচ্চপদে আসীন হয়েছে। তার প্রবৃত্তি তাকে প্ররোচিত করতে পারে এই বলে যে, সে সাহাবীগণের বুঝের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়, কিংবা ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আবু হানিফা, ইবনে হাম্বল এবং তাঁদের অনুসারীদের ইলম ও ফিকহের তুলনায় পিছিয়ে নেই। ফলে সাধারণ মানুষ তার দ্বারা প্রতারিত হতে পারে, তার ডাকে সাড়া দিতে পারে এবং তার বাতিল ও অসত্য বিষয়াদি প্রচার করতে পারে।

 

এটিই সেই সমস্যা যা বর্তমান যুগে সুপ্রাচীন ইসলামী ঐতিহ্য ও মৌলিক শরয়ী বিধিবিধানের সম্মুখীন হয়েছে।

একদল বিচ্ছিন্ন লোক যারা তাদের প্রধান বা আমিরকে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অধিকার প্রদান করে এবং সাহাবীগণের ন্যায় বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও প্রথিতযশা আলেমদের বাণীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে আমিরের কথার অনুসরণ করে, যদিও তাদের সেই আমির অতি সীমিত জ্ঞান ও নগণ্য পুঁজির অধিকারী হয়ে থাকে।

আবার শরীয়তের মৌলিক জ্ঞানহীন কিছু ব্যক্তি, যারা এর প্রাথমিক বিষয়গুলো সম্পর্কেও অজ্ঞ, তারা বলে থাকে: "আমরা আমাদের বিধান সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করি।"

আবার শরীয়ত ব্যতীত অন্য বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ আলেমগণ নিজেদের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করে সেখান থেকে বিধান আহরণ করার সক্ষমতা আছে বলে মনে করেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৫)
الأحكام منها، وهم يفتقدون وسائل الفهم الصحيح المبني على قواعد الشريعة وأصولها.

 

وأصحاب أهداف سياسية وأغراض مشبوهة يصيحون بين الحين والحين: إنَّ باب الاجتهاد مفتوح، وكل مفكر مسلم أهل للاجتهاد في الشريعة، ولا حجر على العقول، وبين أيدينا المصحف وكُتب الحديث، وهم لا حفظون القرآن ولا يحفظون خمسة أحاديث، ولا يُميِّزون بين صحيحها وضعيفها.

باب الاجتهاد مفتوح.

نعم.

هو مفتوح منذ رسالة محمد صلى الله عليه وسلم وإلى قيام الساعة، ولكن البحث فيمن يطرق هذا الباب ويلِجُهُ، في مؤهلاته له، وفي الثقة فيه، وفي الأخذ عنه.

 

الإسلام احترم العقل - نعم - ودعا إلى التفكير والبحث والاستنباط والترقي في المعارف إلى أقصى ما يطيق البشر، ولا حجر على العقول، ولكل أنْ يجتهد لنفسه، ويعمل بما يرى، وحسابه على الله، أما أنْ يُفتي للناس وهو غير أهل للفتوى، فإنه يخشى عليه ويخشى منه، يخشى أن يَضلَّ ويُضلَّ والعياذ بالله.

 

لقد سُئِلْتُ من جماعة منحرفة عمن له حق الفتوى في الدين؟ فسألت السائل - وكان طبيب أنف وأذن وحنجرة: «من له الحق في الطب؟» قال: «الطبيب». قلتُ: «فمن له حق التشخيص الصحيح في مرض القلب؟» قال: «طبيب القلب طبعاً». قلتُ: «وليس طبيب الأنف والأذن والحُنجرة؟» قال:
...তা থেকে বিধান আহরণ করে, অথচ তাদের কাছে শরীয়তের নিয়ম ও মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সঠিক অনুধাবনের উপায়সমূহের অভাব রয়েছে।

 

এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য ও সন্দেহজনক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিরা মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলে: 'নিশ্চয়ই ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার উন্মুক্ত, এবং প্রত্যেক মুসলিম চিন্তাবিদই শরীয়তের বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্য, আর বুদ্ধিবৃত্তির ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই; আমাদের সামনেই রয়েছে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কিতাবসমূহ।' অথচ তারা কুরআন হিফজ করে না এবং পাঁচটি হাদিসও মুখস্থ রাখে না, এমনকি তারা হাদিসের সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) প্রকৃতির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।

ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার উন্মুক্ত।

হ্যাঁ।

এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত থেকে শুরু করে কেয়ামত পর্যন্ত উন্মুক্ত, তবে অন্বেষণের বিষয় হলো—যারা এই দ্বারে করাঘাত করে এবং এতে প্রবেশ করে; তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে, তাদের নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) সম্পর্কে এবং তাদের থেকে (জ্ঞান) গ্রহণের বিষয়ে।

 

ইসলাম বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্মান করেছে - হ্যাঁ - এবং চিন্তা-গবেষণা, মাসআলা উদ্ভাবন (الاستنباط) এবং মানুষের সাধ্যানুযায়ী জ্ঞানের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণের আহ্বান জানিয়েছে। মেধার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই; প্রত্যেকেরই নিজের জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করার এবং নিজ অভিমত অনুযায়ী আমল করার সুযোগ রয়েছে, আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে। তবে যোগ্য না হয়েও মানুষের জন্য ফতোয়া (فتوى) দেওয়া অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয়; আশঙ্কা এই যে, সে নিজে পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে, আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

 

একটি বিচ্যুত দলের পক্ষ থেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, দ্বীনের বিষয়ে ফতোয়া (الفتوى) দেওয়ার অধিকার কার আছে? তখন আমি প্রশ্নকারীকে - যিনি ছিলেন একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক - জিজ্ঞাসা করলাম: «চিকিৎসা বিজ্ঞানে কার অধিকার আছে?» তিনি বললেন: «চিকিৎসকের»। আমি বললাম: «তাহলে হৃদরোগের সঠিক রোগ নির্ণয়ের অধিকার কার আছে?» তিনি বললেন: «অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের»। আমি বললাম: «নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের নয় কি?» তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৬)
" لا. أبداً». قلتُ: " فإنَّ طب الروح والدين لا يقل عن الجسد. فحق الفتوى في الدين لعلماء أفنوا حياتهم في علومه وفي دراسة دقائقه وأسراره.

 

المشكلة أنَّ الساحة الإسلامية كثر فيها المُدَّعُون للاجتهاد، المُتَصَدُّون للفتوى بغير علم، الحريصون على اقتحام حصون الشريعة بتهوُّرٍ ودون مهابة، وبتبجُّجٍ دون حياء، وبغير زاد ولا سلاح، وتورَّعَ العالمون، وخافوا الاجتهاد وأكبروه، واستصغروا أنفسهم وعلمهم أمامه، هيبة وإجلالاً لأهله، وخوفاً من الله إذا هم أخطأوا، {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} (1).

 

خافوا أنْ يَصْدُقَ عليهم قول رسول الله صلى الله عليه وسلم يَحْكِي عن آخر الزمان: «اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤُوساً جُهَّالاً، فَأفْتوا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأضَلُّوا» (2).

 

إن علماء الدين الذين يعرفون أنفسهم لا يتطاولون إلى الأئمة الذين خدموا الشريعة وأسَّسُوا فقهها وكانوا المنهل الذي اغترفوا منه، فهم لا بد أنْ يستنيروا بآرائهم وأنْ يقيسوا عليها ما يجد لهم في أطوار حياتهم.

 

إنَّ علماء القرون الأولى كانوا موسوعة علمية في التفسير والحديث وعلومهما وما يخدمهما من علم الأصول واللغة العربية ك نحوها وصرفها وبلاغتها وأصولها وأسرار عباراتها، أما نحن فقد شغلتنا أموالنا وأهلونا ومواقعنا في تيارات الحياة المتدافعة، فمع إيماننا بأنَّ هذه العلوم يخدم بعضها بعضاً قسمناها إلى تخصُّصات بل كليات مختلفة: كلية اللغة العربية وكلية الشريعة وكلية أصول الدين،

--------------------------------------------

(1) [فاطر: 28].

(2) رواه البخاري في: [كتاب العلم] و [كتاب الفتن].
«না। কখনোই নয়!» আমি বললাম: «নিশ্চয়ই আত্মা ও দ্বীনের চিকিৎসা দেহের চিকিৎসার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। তাই দ্বীনের বিষয়ে ফতোয়া (فتوى) প্রদানের অধিকার কেবল সেই আলেমদেরই প্রাপ্য, যারা এর বিভিন্ন জ্ঞানে এবং এর সূক্ষ্ম ও রহস্যময় বিষয়সমূহ গবেষণায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

 

সমস্যা হলো যে, ইসলামি অঙ্গনে বর্তমানে ইজতিহাদের (اجتهاد) দাবিদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা ইলম (علم) ছাড়াই ফতোয়া (فتوى) প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তারা কোনো প্রকার ভীতি ছাড়াই হঠকারিতার সাথে শরিয়তের দুর্গে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায় এবং কোনো প্রকার লজ্জা ছাড়াই দাম্ভিকতা প্রকাশ করে। তাদের কাছে না আছে কোনো পাথেয়, না আছে কোনো অস্ত্র। পক্ষান্তরে প্রকৃত আলেমগণ সতর্কতা বা পরহেজগারি (ورع) অবলম্বন করেছেন, তারা ইজতিহাদকে (اجتهاد) ভয় করেছেন এবং একে অতি মহৎ বিষয় মনে করেছেন। ইজতিহাদের যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা হেতু এবং ভুল হয়ে গেলে আল্লাহর পাকড়াওয়ের ভয়ে তারা ইজতিহাদের সামনে নিজেদের এবং নিজেদের জ্ঞানকে তুচ্ছ মনে করেছেন। {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে} (১)।

 

তারা ভয় পান পাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখেরি জামানা সম্পর্কে বর্ণিত এই বাণীটি তাদের ক্ষেত্রে সত্য প্রমাণিত হয়: «মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে, অতঃপর তারা ইলম (علم) ছাড়াই ফতোয়া (فتوى) দিবে, ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে» (২)।

 

নিশ্চয়ই যে সকল দ্বীনি আলেম নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন, তারা সেই সব ইমামদের (أئمة) সমকক্ষ হওয়ার দুঃসাহস করেন না যারা শরিয়তের খিদমত করেছেন এবং এর ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। তারা ছিলেন সেই প্রস্রবণ যেখান থেকে পরবর্তীগণ জ্ঞান আহরণ করেছেন। তাই আলেমদের জন্য অপরিহার্য হলো ইমামদের মতামতের আলো গ্রহণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলিকে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে কিয়াস (قياس) করা।

 

নিশ্চয়ই প্রথম কয়েক শতাব্দীর আলেমগণ ছিলেন তাফসির (تفسير), হাদিস এবং হাদিস শাস্ত্রের ইলম (علوم الحديث) এবং এগুলোর সহায়ক উসুল (أصول) শাস্ত্র এবং আরবি ভাষার নাহু (نحو), সরফ (صرف), বালাগাত (بلاغة), এর মূলনীতি ও ভাষাগত রহস্যের এক একটি জীবন্ত বিশ্বকোষ। অন্যদিকে, আমরা আমাদের ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন এবং জীবনের বৈচিত্র্যময় ব্যস্ততায় মগ্ন হয়ে পড়েছি। এই জ্ঞানসমূহ যে একটি অপরটির পরিপূরক—সেই বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও আমরা এগুলোকে বিভিন্ন বিশেষায়ন, এমনকি ভিন্ন ভিন্ন অনুষদে বিভক্ত করে ফেলেছি: যেমন আরবি ভাষা অনুষদ, শরিয়া অনুষদ এবং উসুলুদ দ্বীন (أصول الدين) অনুষদ।

--------------------------------------------

(১) [ফাত্বির: ২৮]।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন: [ইলম অধ্যায়] এবং [ফিতনা অধ্যায়] -এ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৭)
وأصبح التفسير وعلوم القرآن قسماً يتخصَّصُ فيه طالب غير الطالب الذي يتخصَّصُ في قسم الحديث وعلومه، وأصبحنا في كل تخصُّص نقرأ كتب الأوائل ونحاول استيعابها. وهيهات … وإنما يعرف الفضل من الناس ذوُوهُ.

 

لا تشغلنا هذه المشكلة المتسعة الأطراف عن مشكلتنا المحصورة في المُشكّكين أو المُتشكِّكين في السُنَّة النبوية وهي طرف من المشكلة الواسعة التي أشرنا إليها.

 

إنَّ الذين يحاولون النيل من السُنَّة تختلف مشاربهم وأهدافهم واتَّجاهاتهم، وإنَّ كثيراً منهم يفتح له مجال واسع في الإعلام الذي يجري وراء المادة الغريبة المستحدثة والشاذة التي تجذب الجماهير. فإذا أراد العلماء أن يكشفوا الزيف ويردُّوا الشبهات لم يجدوا المجال الكافي المتكافئ مع نشر السموم. ومن هنا يُتَّهَم العلماءُ والمُتخصِّصُون بالقصور أو التقصير ..

 

إنَّ أملنا في القاعدة الإسلامية الصلبة التي لا تؤثر فيها معاول الهدم.

 

إنَّ أملنا في القاعدة الإسلامية الراسخة التي لا تزعزعها العواصف، ولولا إيمانها في عقيدتها وشريعتها لكانت النتيجة خطيرة.

 

إنَّ علماء الأُمَّة الإسلامية منذ العصر الأول تصدَّوْا للدفاع عن السُنَّة وحمايتها من عبث العابثين بالأسلوب العملي والأسلوب العلمي.

 

أما العملي فحرصوا على الاقتداء، حتى بالغ بعضهم
তাফসির ও উলূমুল কুরআন এমন একটি বিশেষায়িত বিভাগে পরিণত হয়েছে যেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সেই শিক্ষার্থীর থেকে ভিন্ন যে হাদিস ও এর বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিভাগে বিশেষত্ব অর্জন করে। এখন আমরা প্রতিটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহ পাঠ করি এবং সেগুলো অনুধাবনের চেষ্টা করি। কিন্তু তা কতই না সুদূরপরাহত … মূলত গুণীজনরাই গুণের মর্যাদা অনুধাবন করেন।

 

এই সুবিস্তৃত সমস্যাটি যেন আমাদের সেই নির্দিষ্ট সমস্যা থেকে বিচ্যুত না করে, যা সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয়বাদী বা সন্দেহপোষণকারীদের মাঝে সীমাবদ্ধ; আর এটি আমাদের ইঙ্গিত করা সেই ব্যাপক সমস্যারই একটি অংশ।

 

যারা সুন্নাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে তাদের রুচি, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাদের অনেকের জন্যই গণমাধ্যমে এক বিশাল ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যা জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণকারী অদ্ভুত, নব উদ্ভাবিত এবং ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয়বস্তুর পেছনে ছোটে। এমতাবস্থায় আলেমরা যখন জালিয়াতি উন্মোচন করতে এবং সংশয় নিরসন করতে চান, তখন তারা বিষবাষ্প ছড়ানোর হারের তুলনায় পর্যাপ্ত বা সমপরিমাণ ক্ষেত্র পান না। আর এখান থেকেই আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সক্ষমতার অভাব বা অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

 

আমাদের আশা সেই সুদৃঢ় ইসলামি ভিত্তির ওপর, যা ধ্বংসাত্মক কোনো আঘাত দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

 

আমাদের আশা সেই সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলামি ভিত্তির ওপর, যাকে কোনো ঝড় বিচলিত করতে পারে না। যদি এর আকিদা ও শরিয়তের প্রতি ঈমান না থাকত, তবে এর ফলাফল হতো ভয়াবহ।

 

মুসলিম উম্মাহর আলেমগণ প্রথম যুগ থেকেই সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং একে বিকৃতকারীদের অপতৎপরতা থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহারিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক উভয় পদ্ধতিতে সচেষ্ট হয়েছেন।

 

ব্যবহারিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে তারা অনুসরণের প্রতি অতিশয় যত্নশীল ছিলেন, এমনকি তাদের কেউ কেউ এতে এতটাই নিষ্ঠাবান ছিলেন যে...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৮)
فيه، فكان يتحرَّى أنْ ينيخ ناقته في المكان الذي أناخ فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ناقته.

 

وأما الأسلوب العلمي فاهتموا بالإسناد، واشتغلوا بنقد الحديث، وجاهدوا في دفع الدخيل، وقَعَّدُوا القواعد، ووضعوا الضوابط، حتى أصبح علم الحديث علوماً متعدِّدة وليس علماً واحداً، فورثنا عنهم:

1 - علم مصطلح الحديث، وهو يهتم بتاريخ بالأسماء والمسميات، وأسباب الضعف ومواصفات صحة الحديث.

2 - وعلم رجال الحديث: ويهتم بتاريخ الرُواة من حيث مولدهم ووفاتهم وموطنهم ورحلاتهم وشيوخهم وتلامذتهم؛ ليتبيَّنَ من ذلك اتصال الإسناد أو عدم اتصاله.

3 - وعلم نقد الحديث أو علم الجرح والتعديل: ويهتم بوضع كل راوٍ في درجة معينة من حيث العدالة والضبط، ويكفي أن نشير إلى أنهم وضعوا التعديل خمس درجات، أعلاها [أثبت الناس] و [أوثق الناس]، وأدناها [صدوق]، ووضعوا للجرح اثنتي عشرة درجة أدناها [مختلق كذاب]، ووضعوا كل راوٍ في درجة معينة من هذه الدرجات.

4 - وعلم التخريج ويهتم بعزو الحديث إلى موضعه من المصادر الأصلية المعتبرة في الحديث.

5 - وعلم دراسة الأسانيد والحكم على الحديث، ويهتم بتطبيق القواعد والضوابط والموازين ليحكم على الحديث بالصحة أو بالحسن أو بالضعف.

6 - وعلم مختلف الحديث ويهتم برفع التناقض فيما ظاهره التناقض بين الأحاديث.
এর প্রতি; তিনি সজাগ থাকতেন যেন তাঁর উটটি সেখানেই বসান যেখানে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উট বসিয়েছিলেন।

 

আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাঁরা সূত্রের পরম্পরা (الإسناد) নিয়ে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, হাদিস সমালোচনা (نقد الحديث) নিয়ে কাজ করেছেন, অনুপ্রবেশ রোধে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং উসুল বা মূলনীতি (القواعد) প্রণয়ন করেছেন ও মানদণ্ড (الضوابط) নির্ধারণ করেছেন। এমনকি হাদিস শাস্ত্র একক কোনো জ্ঞান হিসেবে না থেকে বহুবিদ শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে, যার ফলে আমরা তাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি:

1 - হাদিসের পরিভাষা শাস্ত্র (علم مصطلح الحديث): এটি নাম ও নামধারী ব্যক্তিগণের ইতিহাস, দুর্বলতার (الضعف) কারণসমূহ এবং হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة الحديث) বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করে।

2 - হাদিস বর্ণনাকারী বিষয়ক শাস্ত্র (علم رجال الحديث): এটি বর্ণনাকারীদের (الرواة) জন্ম, মৃত্যু, আবাসস্থল, সফর, শিক্ষক এবং ছাত্রদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে; যেন এর মাধ্যমে সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد) বা বিচ্ছিন্নতা (عدم اتصاله) স্পষ্ট হয়ে যায়।

3 - হাদিস সমালোচনা শাস্ত্র বা জারহ ও তা'দিল (علم الجرح والتعديل) শাস্ত্র: এটি প্রতিটি বর্ণনাকারীকে (راوٍ) ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ধারণক্ষমতা বা স্মৃতিশক্তি (الضبط) অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট স্তরে বিন্যস্ত করার কাজ করে। এটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট যে, তাঁরা প্রশংসা বা ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণের (التعديل) জন্য পাঁচটি স্তর নির্ধারণ করেছেন, যার সর্বোচ্চ হলো [সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت الناس)] এবং [সবচেয়ে বিশ্বস্ত (أوثق الناس)], আর সর্বনিম্ন হলো [সত্যবাদী (صدوق)]। অন্যদিকে তাঁরা সমালোচনার (الجرح) জন্য বারোটি স্তর নির্ধারণ করেছেন, যার সর্বনিম্ন হলো [মিথ্যা উদ্ভাবনকারী চরম মিথ্যাবাদী (مختلق كذاب)]। তাঁরা প্রতিটি বর্ণনাকারীকে এই স্তরগুলোর কোনো না কোনো নির্দিষ্ট স্তরে স্থান দিয়েছেন।

4 - হাদিস উৎস অনুসন্ধান শাস্ত্র (علم التخريج): এটি হাদিসকে তার মূল নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের যথাযথ স্থানে নির্দেশ করার বিষয়ে কাজ করে।

5 - সনদ পর্যালোচনা এবং হাদিসের মান নির্ধারণ বিষয়ক শাস্ত্র (علم دراسة الأسانيد والحكم على الحديث): এটি মূলনীতি (القواعد), মানদণ্ড (الضوابط) ও পরিমাপকসমূহ প্রয়োগ করে কোনো হাদিসকে বিশুদ্ধ বা সহিহ (بالصحة), উত্তম বা হাসান (بالحسن) অথবা দুর্বল বা জয়িফ (بالضعف) হিসেবে বিচার করার বিষয়ে আলোচনা করে।

6 - আপাত-বিপরীতমুখী হাদিস বিষয়ক শাস্ত্র (علم مختلف الحديث): এটি হাদিসসমূহের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হওয়া বিরোধ বা বৈপরীত্য নিরসনে কাজ করে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৯)
7 - وعلم شرح الحديث تحليلياً أو موضوعياً ويهتم بشرح المفردات واستنباط الأحكام، أو بجمع أحاديث الموضوع الواحد وشرحها.

8 - وعلم مناهج المُحدِّثين ويهتم ببيان منهج كل مؤلف حديثي وما يحتويه كل كتاب من الموضوعات.

 

ونستطيع القول بأنَّ هذا البحر الزاخر من العلوم لا يسبح فيه إلَاّ ماهر متخَصِّصٌ بذل الليالي والشهور والسنين ثم قال: {رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} (1) وقال: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} (2).

 

وكلما دخل في الأعماق شعر بصغار نفسه، وكلما تبَحَّرَ عرف قلة علمه، وباب العلم أنْ تعرف نفسك، فما يزال المرء عالماً ما ظن أنه يجهل، فإنْ ظنَّ أنه قد علم فقد جهل. أي جهل نفسه، وهذا هو الجهل المركَّب كما يقولون.

 

ومن هنا نجد علماء الحديث وطلابه الراسخين في العلم يحتاطون عند الكلام وعند الفتوى في الحديث، ونجد غيرهم ممن يلبس مسوحهم ويتقمَّصُ شيخصيتهم أكثر جرأة على تناوله وعلى القول فيه بغير علم.

 

نعود إلى مشكلة هذا العصر، وإنها تكمن في حنجرة من يَدَّعِي علم الحديث والفقه والأصول وكل العلوم، ثم يهاجم الحديث النبوي، ويستبيح حرمه، وينتهك قدسيته، وقد اتخذت هذه المحاولات في أيامنا ثلاث شعب:

 

الشعبة الأولى: اتجهت إلى تحطيم الرُواة حَمَلَةَ الحديث من مصدره إلينا، وإذا تحطَّمت الوسيلة، وفسدت يُصبح الأصل معتمداً على لا شيء فيصبح لا شيء، ويمثل هذه

--------------------------------------------

(1) [طه: 114].

(2) [الإسراء: 85].
৭ - বিশ্লেষণধর্মী বা বিষয়ভিত্তিক হাদিস ব্যাখ্যাতত্ত্ব, যা শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান ও বিধান আহরণ (استنباط) অথবা একই বিষয়ের হাদিসসমূহ একত্রীকরণ ও সেগুলোর ব্যাখ্যার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।

৮ - হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) কর্মপদ্ধতি বিষয়ক শাস্ত্র, যা প্রত্যেক হাদিস সংকলকের কর্মপদ্ধতি এবং প্রত্যেক কিতাবের বিষয়বস্তু বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

 

আমরা বলতে পারি যে, জ্ঞানের এই বিশাল সমুদ্রে কেবল সেই অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞই সাঁতার কাটতে পারেন, যিনি অনেক রাত, মাস ও বছর ব্যয় করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন" (১) এবং বলেছেন: "তোমাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দান করা হয়েছে" (২)।

 

একজন ব্যক্তি যতই এর গভীরে প্রবেশ করেন, ততই নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করেন। তিনি যত বেশি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, ততই নিজের জ্ঞানের স্বল্পতা বুঝতে পারেন। আর জ্ঞানের দ্বার হলো নিজেকে চেনা। একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম (عالماً) থাকেন যতক্ষণ তিনি মনে করেন যে তিনি জানেন না; কিন্তু যখনই তিনি মনে করেন যে তিনি সব জেনে গেছেন, তখনই তিনি মূর্খ হয়ে যান। অর্থাৎ তিনি নিজেকে চিনতে ভুল করেন, আর একেই বলা হয় জটিল অজ্ঞতা (الجهل المركب)।

 

এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, হাদিস বিশারদগণ এবং জ্ঞানের গভীরতায় নিমগ্ন তাদের ছাত্ররা হাদিসের ব্যাপারে কথা বলার সময় বা ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন। অন্যদিকে আমরা এমন কিছু লোককেও দেখতে পাই যারা আলেমদের বেশ ধারণ করে এবং তাদের ব্যক্তিত্ব অনুকরণ করে, অথচ তারা কোনো জ্ঞান ছাড়াই হাদিস নিয়ে মন্তব্য করতে এবং এর ওপর কথা বলতে অনেক বেশি দুঃসাহস দেখায়।

 

আমরা বর্তমান যুগের সমস্যার দিকে ফিরে আসি। এই সমস্যাটি তাদের কণ্ঠনালীতে নিহিত যারা হাদিস শাস্ত্র, ফিকহ (الفقه), উসুল (الأصول) এবং সকল শাস্ত্রের জ্ঞানের দাবি করে, কিন্তু এরপর নববী হাদিসের ওপর আক্রমণ চালায়, এর মর্যাদা নষ্ট করে এবং এর পবিত্রতা লঙ্ঘন করে। বর্তমান সময়ে এই অপচেষ্টাগুলো তিনটি ধারায় বিভক্ত হয়েছে:

 

প্রথম ধারা: এটি হাদিসের বর্ণনাকারীদের (الرواة) ধ্বংস করার দিকে ধাবিত হয়েছে, যারা উৎস থেকে আমাদের কাছে হাদিস বহন করে এনেছেন। যদি মাধ্যমটিই ধ্বংস হয়ে যায় এবং কলুষিত হয়, তবে মূল ভিত্তিটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে এবং তা অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। আর এটি তুলে ধরে...

--------------------------------------------

(১) [ত্বহা: ১১৪]।

(২) [বনী ইসরাঈল: ৮৫]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১০)
الشعبة (أبو رية) في كتابه عن أبي هريرة رضي الله عنه فيتَّهمه بالكذب والاختلاق والافتراء على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو هريرة أكثر الصحابة رواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو ثاني المكثرين من الصحابة، وهو من أوثق المُحدِّثين عند أهل الحديث، فطعنه وإصابته في المقتل طعن لمن هو مثله أو دونه.

 

الشعبة الثانية: اتجهت إلى تحطيم كتاب من كتب الحديث الأصلية، وكما اختارت الشعبة الأولى أبرز الرُواة، فصوَّبتْ سهامها في صدره ليسقط غيره بسقوطه، اختارت الشعبة الثانية أبرز كتب الحديث وأصحها، وهو " صحيح البخاري "، إذْ سقوطه واهتزاز الثقة فيه تهتز الثقة بجيمع كتب الحديث من باب أولى.

 

ويمثل هذا الاتجاه ما كتبه (المولوي جراغ علي الهندي) في كتاب أسماه: «أعظم الكلام في ارتقاء الإسلام» قال: «إنَّ الحديث النبوي ليس قطعياً كما يظنه المسلمون، بل صحَّته وحُجيته محل نظر وشك، وهو لا يصلح لأنْ يعتمد عليه في معرفة الأحكام، وإنَّ " الجامع الصحيح للإمام البخاري " رحمه الله يتضمَّنُ أحاديث موضوعة كثيرة، ولكنَّ المسلمين يَظُنُّونَهُ أَصَحَّ الكتب بعد كتاب الله، بناءً على مغالاتهم في الاعتقاد وتقليدهم الأعمى». اهـ.

 

ومن هذه الشعبة، وعلى طريقة ما نشره عالم مصري، يحتل درجة أستاذ الحضارة الإسلامية، كتب في صحيفة " أخبار اليوم " المصرية في شهر مايو 1983 م ثلاث مقالات
প্রথম ধারাটি (আবু রাইয়্যাহ) আবু হুরায়রা (রা.) সম্পর্কে তার বইয়ে তার বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর মিথ্যাচার (الكذب), জালিয়াতি (الاختلاق) এবং অপবাদের (الافتراء) অভিযোগ এনেছে। অথচ আবু হুরায়রা (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বর্ণনাকারী অথবা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বর্ণনাকারী। মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাই তাকে আক্রমণ করা এবং তার ওপর মরণঘাতী আঘাত করা মানে তার সমপর্যায়ের বা তার নিম্নস্তরের বর্ণনাকারীদেরও আক্রমণ করা।

 

দ্বিতীয় ধারাটি: হাদিসের মূল গ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে ধ্বংস করার দিকে অগ্রসর হয়েছে। প্রথম ধারাটি যেমন সবচেয়ে বিশিষ্ট বর্ণনাকারীগণকে (الرواة) বেছে নিয়েছিল এবং তাদের বক্ষ লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিল যাতে তাদের পতনের মাধ্যমে অন্যদেরও পতন ঘটে, দ্বিতীয় ধারাটি তেমনি হাদিসের সবচেয়ে বিশিষ্ট ও সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) গ্রন্থটি বেছে নিয়েছে, আর তা হলো "সহীহ বুখারী"। কারণ এর পতন এবং এর প্রতি আস্থার বিচ্যুতি ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই হাদিসের অন্য সকল গ্রন্থের ওপর থেকেও আস্থা টলে যাবে।

 

এই চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করে (মৌলভী চেরাগ আলী আল-হিন্দি) তার লিখিত একটি বইয়ে যার নাম: ‘আযমুল কালাম ফি ইরতিকাইল ইসলাম’। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই নববী হাদিস অকাট্য (قطعيا) নয় যেমনটি মুসলমানরা মনে করে, বরং এর বিশুদ্ধতা (صحته) এবং প্রমাণযোগ্যতা (حجيته) প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহের বিষয়। বিধানসমূহ (الأحكام) জানার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়। ইমাম বুখারী (রহ.)-এর 'আল-জামিউস সহীহ' গ্রন্থে অনেক জাল (موضوعة) হাদিস রয়েছে, কিন্তু মুসলমানরা তাদের অতিভক্তি এবং অন্ধ অনুকরণের কারণে একে আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) গ্রন্থ বলে মনে করে।" সমাপ্ত।

 

এই ধারা থেকেই এবং জনৈক মিশরীয় পণ্ডিত কর্তৃক প্রকাশিত পন্থায়, যিনি ইসলামি সভ্যতার অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত, মিশরের "আখবার আল-ইউম" পত্রিকায় ১৯৮৩ সালের মে মাসে তিনটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১১)
بعنوان: " لا تصدّقوا ما في البخاري من أكاذيب الإسراء والمعراج " يستبعد أو يكذب ما جاء بشأن (البراق)، وصلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء، وعروجه إلى السماء، وتردُّده بين موسى عليه السلام وبين ربه، ويبني تكذيبه على الاستبعاد العقلي. وهذا القول منشور في كتاب من كتبه.

 

وإذا ثبتت الأكاذيب في " البخاري " فقد الثقة كمصدر كبير من مصادر السُنّة، وفقد من هو دونه هذه الثقة من باب أولى. وقد رَدَدْتُ عليه في الصحيفة نفسها بتاريخ 18/ 6 / 1983.

 

الشعبة الثالثة: وهي أخطر الشُعَب، هي المتوجِّهة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم رأساً. لم تتوجه إلى الرُواة كالشعبة الأولى، فالرُواة أدُّوا الأمانة، ولم تتوجه إلى الكتب، ولا إلى " البخاري ". فعبارة ممثل هذه الشعبة [لن نمس بذلك روايات " البخاري " وصحتها، فالبخاري وغيره مِمَّنْ روَوْا هذا الحديث - حديث الذباب - قد روَوْهُ بسند صحيح لا مطعن فيه، ونقلوا إلينا نقلاً صحيحاً ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم وأدُّوا بذلك الأمانة التي التزموا بها، ولا كلام لأحد في هذا]، إذن فَمِنْ أين العيب والمأخذ؟ في الرسول صلى الله عليه وسلم نفسه. يقول الرأي ويظهر الصواب في خلافه، ولا نقول: يخطئ، تأدُّباً.

 

بين يديَّ كُتيِّبٌ منشور بدار الكتاب المصري بالقاهرة منذ شهور قليلة بعنوان " السُنّة والتشريع " للدكتور الشيخ عبد المنعم النمر، حدَّد الباحث هدفه على هيئة سؤال في أوله، وانتهى بفتواه وقراره وحكمه، ففي صفحة «4» يقول: «هل يجوز لنا أن نجتهد في الأحكام فيها
"ইসরা ও মিরাজের মিথ্যা বর্ণনাসমূহ যা বুখারিতে রয়েছে তা বিশ্বাস করবেন না" শিরোনামের অধীনে—তিনি বুরাক সম্পর্কিত বর্ণনা, নবীদের নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত আদায়, তাঁর আকাশে আরোহণ এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর রবের মাঝে যাতায়াত সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অসম্ভব মনে করেন অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। তিনি তাঁর এই মিথ্যারোপের ভিত্তি গড়েছেন যৌক্তিক অসম্ভাব্যতা বা যুক্তিনির্ভর দূরবর্তিতার ওপর। এই বক্তব্যটি তাঁর রচিত একটি বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

 

আর যদি বুখারিতে মিথ্যা বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়, তবে সুন্নাহর অন্যতম বৃহৎ উৎস হিসেবে এর নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) নষ্ট হবে এবং বুখারির তুলনায় নিম্নস্তরের গ্রন্থগুলো স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি এই নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) হারাবে। আমি ১৮/০৬/১৯৮৩ তারিখে একই পত্রিকায় তাঁর এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছিলাম।

 

তৃতীয় বিভাগ: এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক বিভাগ, যা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি নির্দেশিত। এটি প্রথম বিভাগের ন্যায় বর্ণনাকারীদের (الرواة) দিকে নির্দেশিত নয়, কারণ বর্ণনাকারীরা (الرواة) তাদের আমানত রক্ষা করেছেন। এটি গ্রন্থসমূহ বা বুখারি-র দিকেও নির্দেশিত নয়। এই শ্রেণির প্রবক্তাদের বক্তব্য হলো: [আমরা বুখারির বর্ণনা এবং তার বিশুদ্ধতাকে (صحتها) প্রশ্নবিদ্ধ করব না; কেননা বুখারি এবং যারা এই হাদিস—মাছি সংক্রান্ত হাদিস—বর্ণনা করেছেন, তারা একে একটি সঠিক সূত্র (سند صحيح)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা প্রশ্নাতীত (لا مطعن فيه)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা তারা আমানতদারিতার সাথে আমাদের নিকট সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের প্রতি অর্পিত আমানত রক্ষা করেছেন। এ বিষয়ে কারো কোনো কথা নেই।] তাহলে ত্রুটি বা আপত্তির জায়গা কোথায়? স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্তার মাঝে। তিনি কোনো মত ব্যক্ত করেন অথচ সত্য তার বিপরীতে প্রকাশ পায়, আর আমরা আদব রক্ষার্থে বলি না যে—তিনি ভুল করেছেন।

 

আমার সামনে কায়রোর দারুল কিতাব আল-মিসরি থেকে কয়েক মাস আগে প্রকাশিত ড. শেখ আবদুল মুনয়িম আল-নিমর রচিত "আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরি" শিরোনামের একটি পুস্তিকা রয়েছে। গবেষক বইটির শুরুতে একটি প্রশ্নের আকারে তাঁর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর ফতোয়া, সিদ্ধান্ত ও রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করেছেন। পৃষ্ঠা ৪-এ তিনি বলেন: "আমাদের জন্য কি সেই বিধানগুলোতে গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করা বৈধ কি না..."
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১২)
الرسول صلى الله عليه وسلم ولو أدى إلى حكم غير الحكم الذي حكم به.

 

ثم خلص في صفحة «9» إلى قوله «لا يمكن أن نشد المسلمين الآن في معاملاتهم التي سادت في عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وبعده، ودونها الفقهاء، في كتب الفقه، فإما أن تكون كتلك المعاملات، وإما كانت مرفوضة. إنَّ ذلك في العقائد والعبادات، وفيما جاء في القرآن عن المعاملات أمر مُسَلَّمٌ به، لا نستطيع تغييره، وإنْ كان يمكن الاجتهاد في فهمه وطريقة تنفيذه كما حصل. أما المعاملات وأحكامها القائمة على الاجتهاد البشري وحده، ولم تكن من الوحي في شيء، سواء من الرسول صلى الله عليه وسلم، أو ممن جاء بعده من الصحابة والتابعين والأئمة والفقهاء فلا بد من النظر إليها من جديد، على أساس القواعد التي بنيت عليها من قبل، وعلى ضوء الظروف الجديدة، فما كان موافقاً للمصلحة في أيامنا أبقيناه، وما وجدناه غير ذلك كان علينا أن نجتهد فيه».

 

فهذا التصريح وهذا الرأي الجديد يمكن أنْ يوضع في فقرات محدَّدةٍ.

 

الأولى: أنه لا يمكن إخضاع المسلمين اليوم في معاملاتهم إلى إطار المعاملات في عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وبعده إلى اليوم.

 

الثانية: أنَّ ما جاء عن المعاملات في الأحاديث النبوية، ولم يرد في القرآن، يمكن إهماله وتغييره، بل لا بُدَّ من النظر فيه من جديد.
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি, যদিও তা তাঁর প্রদত্ত ফয়সালা থেকে ভিন্ন কোনো বিধানের দিকে ধাবিত করে।

 

অতঃপর ৯ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, "বর্তমানে মুসলিমদেরকে তাদের সেই সব মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে আবদ্ধ করা সম্ভব নয় যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে প্রচলিত ছিল এবং যা ফকিহগণ ফিকহের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন; এমতাবস্থায় বিষয়গুলো হয় সেই মুয়ামালাতের অনুরূপ হতে হবে, নতুবা তা প্রত্যাখ্যাত (مرفوض) বলে গণ্য হবে। আকিদা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে এবং পবিত্র কুরআনে মুয়ামালাত সম্পর্কে যা এসেছে তা একটি স্বীকৃত ও অবিসংবাদিত বিষয়, যা পরিবর্তন করার সাধ্য আমাদের নেই। তবে এর মর্ম উপলব্ধি এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতির ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা সম্ভব, যেমনটি ইতিপূর্বে ঘটেছে। কিন্তু যেসব মুয়ামালাত এবং এর বিধানসমূহ কেবল মানবিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং যা ওহির অন্তর্ভুক্ত নয়—চাই তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে হোক কিংবা তাঁর পরবর্তী সাহাবি, তাবেয়ি, ইমাম ও ফকিহদের পক্ষ থেকে—সেগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্যই নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে। এটি করতে হবে সেই সব মূলনীতির ভিত্তিতে যার ওপর পূর্বে এগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে। সুতরাং আমাদের বর্তমান সময়ে যা জনকল্যাণ (مصلحة)-এর অনুকূলে হবে তা আমরা বহাল রাখব, আর যা এর ব্যতিক্রম দেখব সে ক্ষেত্রে আমাদের নতুন করে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে হবে।"

 

এই সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং এই নতুন অভিমতটিকে নির্দিষ্ট কয়েকটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করা যেতে পারে।

 

প্রথমত: বর্তমান যুগের মুসলিমদেরকে তাদের মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ এবং তৎপরবর্তী সময়ের লেনদেনের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়।

 

দ্বিতীয়ত: মুয়ামালাত সম্পর্কে হাদিসসমূহে যা এসেছে এবং কুরআনে বর্ণিত হয়নি, তা বর্জন বা পরিবর্তন করা সম্ভব; বরং সে বিষয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
فالباحث لا يعتدُّ في المعاملات إلَاّ بالقرآن الكريم، ولا يعتدُّ بالأحاديث النبوية فيها، ويكثر من التصريح بذلك، وبدون أدنى غموض، فهو يقول في صفحة «35»: «إنَّ المكلفين يعرفون مصالحهم ويدبِّرونها فيما لم يأت به دليل خاص من الكتاب، وهم أعلم بشؤون دنياهم».

ويقول في صفحة «57»: «وهذا وحده يقضي علينا بالدوران مع المصلحة وقصدها أينما تكن ما دام ذلك لا يتعارض مع النصوص القرآنية ولا مع القواعد الشرعية».

 

الثالثة: يقرِّرُ الباحث أنَّ له أنْ يجتهد كما كان الرسول صلى الله عليه وسلم يجتهد، ويُبِيحُ لنفسه أنْ يخالف حكم الرسول صلى الله عليه وسلم وصريح لفظه ونص حديثه، فيقول في صفحة «47»: «ما دام الرسول كان يجتهد، وما دام هذا الاجتهاد قد شمل الكثير من أنواع المعاملات، أفلا يجوز لمن يأتي بعده من أيام الصحابة وحتى الآن أنْ يُدلي في الموضوع باجتهاده أيضاً، ولو أدَّى اجتهاده إلى غير ما قرَّرَهُ رسول الله باجتهاده ولا يصبح ما قرَّرَهُ الرسول باجتهاده حُكماً ثابتاً للأبد».

 

الرابعة: يُقَرِّرُ الباحث أنه لا يعتَدُّ في المعاملات بأقوال الصحابة والتابعين والأئمة والفقهاء، فله أنْ يضرب بها كلهاعرض الحائط، وبنص عبارته السابقة [سواء من الرسول صلى الله عليه وسلم أو مِمَّنْ جاء بعده من الصحابة والتابعين والأئمة والفقهاء] وبكل صراحة واعتداد يقول في صفحة «57»: «وإذا كنا نقول هذا من أقوال الرسول الاجتهادية فمِنْ باب أولى نقوله بالنسبة لأقوال الصحابة والتابعين والأئمة ومَنْ جاء بعدهم من فقهاء المذاهب».
গবেষক লেনদেনের (معاملات) ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করেন না এবং তিনি এতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে কোনো ধর্তব্য মনে করেন না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই এটি বারবার ব্যক্ত করেন। তিনি ৩৫ পৃষ্ঠায় বলেন: "যাদের ওপর শরিয়তের বিধান কার্যকর (مكلف), তারা তাদের নিজেদের কল্যাণ সম্পর্কে অবগত এবং যে বিষয়ে কিতাব (কুরআন) থেকে কোনো বিশেষ প্রমাণ বা দলীল (دليل) আসেনি, সে বিষয়ে তারা নিজেরাই ব্যবস্থা গ্রহণ করে; কারণ তারা তাদের জাগতিক বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।"

তিনি ৫৭ পৃষ্ঠায় বলেন: "কেবল এটিই আমাদের কল্যাণ বা মাসলাহার (مصلحة) অনুগামী হতে এবং তা অর্জনের লক্ষ্য রাখতে বাধ্য করে যেখানেই তা থাকুক না কেন, যতক্ষণ তা কুরআনের নস (نص) বা শরিয়তের মূলনীতি বা কাওয়াইদ (قواعد)-এর সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।"

 

তৃতীয়ত: গবেষক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন, তাঁরও সেভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অধিকার রয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা বা বিধান (حكم), তাঁর স্পষ্ট বাণী এবং হাদিসের নস (نص)-এর বিরোধিতা করাকে নিজের জন্য বৈধ মনে করেন। তিনি ৪৭ পৃষ্ঠায় বলেন: "যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন এবং যেহেতু এই ইজতিহাদ (اجتهاد) লেনদেনের (معاملات) অনেক প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তবে তাঁর পরবর্তী সাহাবিদের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যারা আসবেন, তারা কি এই বিষয়ে নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) পেশ করতে পারবেন না? যদিও তার ইজতিহাদ (اجتهاد) রাসূলুল্লাহর ইজতিহাদলব্ধ সিদ্ধান্তের বিপরীত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে যা নির্ধারণ করেছেন তা চিরস্থায়ী বিধান (حكم) হিসেবে গণ্য হবে না।"

 

চতুর্থত: গবেষক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, লেনদেনের (معاملات) ক্ষেত্রে তিনি সাহাবি, তাবেয়ি, ইমাম এবং ফকিহদের বক্তব্যের কোনো গুরুত্ব দেন না; বরং তিনি এই সবগুলোকে ছুড়ে ফেলার অধিকার রাখেন। তাঁর পূর্বোক্ত বক্তব্যের ভাষ্য অনুযায়ী [চাই তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হোক অথবা তাঁর পরবর্তী সাহাবি, তাবেয়ি, ইমাম ও ফকিহদের পক্ষ থেকে হোক]। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টতা ও দম্ভের সাথে ৫৭ পৃষ্ঠায় বলেন: "যদি আমরা রাসূলুল্লাহর ইজতিহাদি (اجتهاد) বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই কথা বলি, তবে সাহাবি, তাবেয়ি, ইমাম এবং তাদের পরবর্তী মাযহাবের ফকিহদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে তো এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বলা যায়।"
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
الخامسة: يُقَرِّرُ عدم وجوب اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم في المعاملات، لأنه قد يخطئ فيقول في صفحة «72»: «إنَّ الرسول قد يرى الرأي في أمور الدنيا والأمر بخلافه، فلا يجب اتباعه».

هذا هدف البحث الخطير. فماذا استخدم له الباحث من شبهات وأساليب؟

 

هذا ما سنعرض له ونرُدُّ عليه.

 

‌‌الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم -:

يقول الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (1).

 

فضل كتابة النبي صلى الله عليه وسلم:

 

يختلف العلماء في وجوب الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كلما ذكر، لكنهم لا يختلفون في استحباب ذلك، وأحاديث الترغيب كثيرة ومشهور منها:

«مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِِهَاعَشْرًا» (2). ومنها: «رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ» (3). ولفظ الحاكم: «بَعُدَ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ»، ولفظ الطبراني: «شَقِيَ عَبْدٌ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ» ولفظ عبد الرزاق: «مِنَ الجَفَاءِ أَنْ أُذْكَرَ عِنْدَ رَجُلِ فَلَا يُصَلِّي عَلَيَّ».

 

وعلماء الحديث يجعلون الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كلما ذكر كتابة من آداب طالب الحديث، ويلتزمون ذلك وإنْ تكرَّرَ ذكره

--------------------------------------------

(1) [الأحزاب: 56].

(2) رواه مسلم والنسائي والترمذي.

(3) أخرجه الترمذي.
পঞ্চম: তিনি লেনদেনের (معاملات) ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের আবশ্যকতা (وجوب) না থাকার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কারণ তিনি ভুল করতে পারেন। তাই তিনি ৭২ পৃষ্ঠায় বলেন: «নিশ্চয়ই রাসুল দুনিয়াবী বিষয়ে কোনো অভিমত দিতে পারেন এবং বিষয়টি তার বিপরীত হতে পারে, ফলে তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب) নয়»।

এটিই এই বিপজ্জনক গবেষণার লক্ষ্য। এখন গবেষক এর জন্য কী ধরনের সংশয় ও পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন?

 

এটিই আমরা উপস্থাপন করব এবং এর উত্তর প্রদান করব।

 

‌‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ -:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পড়ো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} (১)।

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর (নামের সাথে দরুদ) লেখার ফযিলত:

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়া নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে তারা এর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না। এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণমূলক হাদিস অনেক এবং তার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:

«যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন» (২)। আরও রয়েছে: «সেই ব্যক্তির নাসিকা ধূলিধূসরিত হোক, যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না» (৩)। হাকিমের বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: «সেই ব্যক্তি (রহমত থেকে) দূরে নিক্ষিপ্ত হোক, যার নিকট আমার আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না», তাবারানির বর্ণনায় এসেছে: «সেই বান্দা দুর্ভাগা (شقي), যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়ল না» এবং আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনায় এসেছে: «এটি চরম রুক্ষতা ও উদাসীনতা (الجفاء) যে, কোনো ব্যক্তির সামনে আমার আলোচনা করা হবে অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়বে না»।

 

আর হাদিস বিশারদগণ (علماء الحديث) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম লেখার সময় প্রতিবার দরুদ লেখাকে হাদিসের ছাত্রের (طالب الحديث) আদবসমূহের (آداب) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেন এবং তাঁরা এটি পালন করেন যদিও তাঁর নামের উল্লেখ বারবার আসে।

--------------------------------------------

(১) [আল-আহযাব: ৫৬]।

(২) মুসলিম, নাসায়ি ও তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) তিরমিযি এটি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
- صلى الله عليه وسلم في السطر الواحد، ولا تكاد تجد كتاب حديث أغفل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم مرة، وكيف يغفلها الكاتب وهو يحصل لنفسه بكتابتها عشر صلوات من الله، والصلاة من الله رحمة، ويحصل لنفسه أيضاً بقراءة القارئ لها عشر رحمات أخرى؟

 

‌‌إساءة المستشرقين:

لكن المستشرقين في كتاباتهم يتعمَّدون عدم الصلاة عليه أصلاً، وهذا منهم غير مستغرب، أما المستغرب حقاً أنْ يحاكيهم المسلمون بأيِّ قصد أو يبخلوا بكتابة جميع أحرف الصلاة والسلام عليه فيرمزوا لها بـ (ص) أو بـ (صلعم) وكأنَّ سطورهم التي حشوها بساقط القول ضاقت عن الصلاة والتسليم صراحة وحروفاً، فيخسرون بذلك حسنات ورحمات وخيراً كثيراً.

 

ولئن قبل ذلك وعذر فيه عامة المسلمين فلا يعذر عالم من علماء المسلمين في كتاباتهم فلا يعذر من يكتب عن حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنْ عذر من يكتب عن حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم يهو يُقدِّسُهُ ويُجِلُّهُ ويدعو لطاعته والعمل بقوله فلا يعذر عن عدم الصلاة والسلام عليه من يدعو إلى مخالفته، وإلى عدم وجوب اتباعه، وهذا ما لا حظناه على الباحث وقد أحصينا عدد المرات التي لم يُصلِّ ويُسَلِّمَ فيها على النبي صلى الله عليه وسلم في بحثه الصغير فوجدناها 196 (ستاً وتسعين ومائة مرة).
একই লাইনের মধ্যে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (صلى الله عليه وسلم) থাকে, আর আপনি এমন কোনো হাদিস গ্রন্থ পাবেন না যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ একবারের জন্যও বাদ দেওয়া হয়েছে। আর লেখক কেনই বা তা উপেক্ষা করবেন যখন তিনি এটি লেখার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিজের জন্য দশটি রহমত (صلاة) লাভ করছেন? আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সালাত’ হলো রহমত (رحمة); আবার পাঠকের এটি পাঠ করার কারণেও তিনি আরও দশটি রহমত লাভ করেন।

 

‌‌প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) ধৃষ্টতা:

কিন্তু প্রাচ্যবিদরা (المستشرقين) তাদের লেখায় নবীজির ওপর দরুদ পাঠ না করার ব্যাপারে একেবারেই বদ্ধপরিকর থাকে, যা তাদের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে সত্যিই বিস্ময়কর বিষয় হলো যখন মুসলিমরা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যেই হোক তাদের অনুকরণ করে অথবা দরুদ ও সালামের পূর্ণ শব্দগুলো লিখতে কার্পণ্য করে এবং (সা) বা (সালআম)-এর মতো সংকেত ব্যবহার করে। যেন তাদের আজেবাজে কথায় ঠাসা লাইনগুলো দরুদ ও সালাম স্পষ্টভাবে এবং পূর্ণ অক্ষরে লেখার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে; ফলে এর মাধ্যমে তারা অনেক নেকি (حسنات), রহমত (رحمات) এবং প্রভূত কল্যাণ হারায়।

 

যদি সাধারণ মুসলমানদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি মেনে নেওয়া হয় বা ওজর হিসেবে ধরা হয়, তবে মুসলিম পণ্ডিতদের (علماء) লেখায় এটি কোনোভাবেই মার্জনীয় নয়। বিশেষ করে যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস সম্পর্কে লিখছেন, তাঁর জন্য কোনো ওজর খাটে না। আর যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস সম্পর্কে সেই লেখককে ছাড় দেওয়াও হয়—যিনি তাঁকে পবিত্র ও মহান জ্ঞান করেন এবং তাঁর আনুগত্য ও বাণীর ওপর আমল করার আহ্বান জানান—তবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে দরুদ ও সালাম বর্জনের কোনো ওজর থাকতে পারে না, যে কি না তাঁর বিরোধিতা করার এবং তাঁর অনুসরণের আবশ্যকতা (وجوب) অস্বীকার করার আহ্বান জানায়। আর এটিই আমরা উক্ত গবেষকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি; আমরা তাঁর এই নাতিদীর্ঘ গবেষণাপত্রে কতবার তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করেননি তা গণনা করেছি এবং দেখা গেছে যে তিনি ১৯৬ (একশত ছিয়ানব্বই) বার তা বর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
نحن لا نُشكِّكُ في إيمان الباحث ولا في حُبِّهِ وتقديسه للنبي صلى الله عليه وسلم، ولا نظنه قصد ترك الصلاة والتسليم للتقليل من قدسية أوامره صلى الله عليه وسلم والاسترخاء في طاعته والاقتداء به، ولكن خطورة البحث وما يدعو إليه يجعل هذا السلوك محل نظر وتعقيب، ويجعل اعتذاره عن ذلك بأي عذر اعتذاراً غير مقبول.

 

هذه ملاحظة عاجلة نخلص منها إلى الشبهات.

 

وبالله التوفيق.
আমরা গবেষকের ঈমান (إيمان) অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তাঁর মহব্বত ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ করছি না; এবং আমরা এটাও মনে করি না যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশাবলির পবিত্রতা হ্রাসের উদ্দেশ্যে কিংবা তাঁর আনুগত্য ও অনুকরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনের জন্য দরুদ ও সালাম (الصلاة والتسليم) বর্জন করার সংকল্প করেছেন। কিন্তু গবেষণার গুরুত্ব এবং তা যা কিছুর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তা এই আচরণকে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনাসাপেক্ষ (محل نظر وتعقيب) করে তোলে এবং এর সপক্ষে তাঁর যেকোনো ওজর বা অজুহাতকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

 

এটি একটি তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, যার মাধ্যমে আমরা সংশয়সমূহের (شبهات) পর্যালোচনায় উপনীত হচ্ছি।

 

আল্লাহর নিকটই তাওফিক (توفيق) প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الشبهات:

ركز الباحث على تقرير ثلاث قواعد، ليخلص منها إلى القاعدة الرابعة التي يهدف إليها، أما القواعد الثلاث فهي:

 

الأولى: أنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم كان يجتهد وليس كل نطقه وحياً.

 

الثانية: أنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم كان يخطئ في اجتهاده، وكان الصحابة يُصَحِّحُون له الخطأ، وكان يُقرِّرُ الشيء ويرجع عنه في نفس الجلسة.

 

الثالثة: أنَّ حُكمه صلى الله عليه وسلم في كثير من المعاملات كان من اجتهاده مراعاة لمصالح يراها لأمَّته وليس حُكماً لله، ولا يسانده وحي. وليس حُكماً ثابتاً للأبد.

 

أما الرابعة: فهي أنَّ الأُمَّة أعلم بشؤون دنياها، فلا تعتمد أحكامه في المعاملات التي لم يرد فيها نص من القرآن الكريم، وتقرَّرَ ما تراه صالحاً لها، ولو خالفت نص أحاديثه صلى الله عليه وسلم.

 

الأمر حقاً خطير، ولكن يعزينا ويهدئ روعنا أنَّ الباحث - كما يقول - في نفسه شبهات، وينشد الوصول إلى الحق، ويُصَرِّحُ في كُتَيِّبِهِ أنَّ الحكمة ضالة المؤمن، وأنه مسارع - بعون الله - إلى الحق إنْ وجده في غير ما قرَّرَهُ، وأنه سَيُسَرُّ به كما يُسَرُّ صاحب الضالة بوجودها.

 

ومن هنا كان واجب العلماء المُتخَصِّصِين الغيورين أنْ يزيلوا هذه الشبهات وأنْ يُبرزوا الحق والحقيقة، وأنْ يكشفوا الغموض الذي حولها. والله الهادي سواء السبيل.
সংশয়সমূহ (شبهات):

গবেষক তিনটি মূলনীতি (قواعد) প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে করে তিনি তাঁর অভীষ্ট চতুর্থ মূলনীতিতে পৌঁছাতে পারেন। সেই তিনটি মূলনীতি হলো:

 

প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন এবং তাঁর প্রতিটি কথাই ওহি (وحي) ছিল না।

 

দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد)-এ ভুল করতেন এবং সাহাবীগণ তাঁর ভুল সংশোধন করে দিতেন; তিনি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং একই মজলিসে তা থেকে ফিরে আসতেন।

 

তৃতীয়ত: লেনদেন (معاملات) সংক্রান্ত অনেক বিষয়ে তাঁর ফয়সালা ছিল উম্মতের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রসূত, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিধান ছিল না এবং এর স্বপক্ষে কোনো ওহি (وحي)-ও ছিল না। আর এটি চিরস্থায়ী কোনো বিধানও নয়।

 

চতুর্থত: উম্মত তাদের পার্থিব বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত, তাই লেনদেনের (معاملات) ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে পবিত্র কুরআনের কোনো সুস্পষ্ট নস (نص) নেই, সেসব ক্ষেত্রে তাঁর ফয়সালার ওপর নির্ভর করা হবে না। বরং উম্মত নিজেদের জন্য যা কল্যাণকর মনে করবে তা-ই নির্ধারণ করবে, যদিও তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের নস (نص)-এর পরিপন্থী হয়।

 

বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে আমাদের জন্য সান্ত্বনা ও স্বস্তির বিষয় এই যে, গবেষক—যেমনটি তিনি নিজে বলেছেন—সংশয়ের (شبهات) আবর্তে রয়েছেন এবং সত্যে পৌঁছাতে ইচ্ছুক। তিনি তাঁর পুস্তিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, ‘প্রজ্ঞা হলো মুমিনের হারানো সম্পদ’, আর তিনি—আল্লাহর সাহায্যে—সত্যের দিকে দ্রুত ধাবিত হবেন যদি তা তাঁর প্রতিষ্ঠিত মতের বাইরেও খুঁজে পান। তিনি সত্য প্রাপ্তিতে তেমনই আনন্দিত হবেন, যেমনটি কোনো ব্যক্তি তার হারানো বস্তু খুঁজে পেলে হয়।

 

এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ও দ্বীনদার আলেমদের দায়িত্ব হলো এই সংশয়গুলো (شبهات) দূর করা, সত্য ও বাস্তবতা উন্মোচিত করা এবং এর চারপাশের অস্পষ্টতা দূর করা। আল্লাহই সঠিক পথে পরিচালিতকারী।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌اجتهاد الرسول صلى الله عليه وسلم -:

موضوع قديم، قتله العلماء بحثاً، ولم يترك الأوائل للأواخر بشأنه شيئاً، وخلاصته أنهم اختلفوا: فمنهم من لم يُجِزْ له صلى الله عليه وسلم الاجتهاد، واعتبر ما ورد من ذلك صورة اجتهاد، وليس اجتهاداً في الواقع والحقيقة؛ لأنَّ الله معه صلى الله عليه وسلم وهو مع الله؛ ولأنه في جُلِّ أوقاته صلى الله عليه وسلم يناجي مَنْ لا نُناجي، وإلهامه وحي ورؤيا منامه وحي، والقرآن يقول: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (1). ويفسِّرون ما ظاهره الرأي، وما ظاهره المشورة، وما ظاهره قبول رأي الآخرين، وما ظاهره الخطأ في الرأي والرجوع إلى قول الغير بأنَّ ذلك اجتهاد في الظاهر لتدريب الأمَّة على البحث والتفكير والاجتهاد في الأسباب والأخذ بالمشورة، وحقيقته: أنَّ الله يوحي إليه أنْ قُلْ كذا وسيقول لك فلان كذا فقُلْ له كذا وسنطبق هذا القول على الأمثلة التي ذكرها الباحث إنْ شاء الله.

 

وجمهور العلماء على أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم يجوز له أنْ يجتهد، وأنه اجتهد فعلاً، وأنَّ اجتهاده في بعض الأحيان القليلة كان خلاف حكم الله، فجاء الوحي بتصحيح الحُكم، والإرشاد إلى ما ينبغي، كما في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ، قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللَّهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} (2).

 

أو جاء الوحي بإمضاء حكم اجتهاده مع التنبيه بما

--------------------------------------------

(1) [النجم: 3، 4].

(2) [التحريم: 1، 2].
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদ (اجتهاد) -:

এটি একটি প্রাচীন বিষয়, যা নিয়ে আলেমগণ ব্যাপক গবেষণা করেছেন এবং এ বিষয়ে পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য তেমন কিছু বাকি রাখেননি। এর সারসংক্ষেপ হলো, এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন: তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করা জায়েজ মনে করেননি। এ সংক্রান্ত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে তাঁরা ইজতিহাদের বাহ্যিক রূপ বলে গণ্য করেছেন, যা বাস্তবে ও প্রকৃত অর্থে ইজতিহাদ (اجتهاد) নয়। কারণ, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আছেন এবং তিনি আল্লাহর সাথে আছেন। উপরন্তু, তিনি তাঁর অধিকাংশ সময়ে এমন সত্তার সাথে গোপনে কথা বলেন যা আমরা করি না। তাঁর ইলহাম (إلهام) হলো ওহি (وحي) এবং তাঁর স্বপ্নদর্শনও হলো ওহি (وحي)। আর কুরআন বলে: {তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} (১)। যে বিষয়গুলো বাহ্যিকভাবে নিজস্ব মতামত (رأي), পরামর্শ (مشورة), অন্যের মত গ্রহণ কিংবা নিজস্ব মতে ভুল হওয়া এবং অন্যের কথার দিকে ফিরে আসা বলে মনে হয়— সেগুলোকে তাঁরা উম্মতকে গবেষণা, চিন্তা-ভাবনা, জাগতিক কারণের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং পরামর্শ গ্রহণের বিষয়ে প্রশিক্ষিত করার জন্য কেবল বাহ্যিক ইজতিহাদ (اجتهاد) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এর প্রকৃত বিষয় হলো: আল্লাহ তাঁর নিকট ওহি (وحي) পাঠান যে, "আপনি এমন বলুন, আর অমুক ব্যক্তি আপনাকে এমন কথা বলবে, তখন আপনি তাকে এমন জবাব দিন।" গবেষক কর্তৃক উল্লিখিত উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে আমরা ইনশাআল্লাহ এই বক্তব্যটির প্রয়োগ দেখাব।

 

জমহুর (جمهور) আলেমদের মতে, নবীর জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করা জায়েজ এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন। কোনো কোনো বিরল ক্ষেত্রে তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী হয়েছিল, তখন ওহি (وحي) সেই বিধানকে সংশোধন করে এবং যা করা উচিত সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে বলা হয়েছে: {হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন আপনি কেন তা হারাম করছেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন; আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আল্লাহ তো তোমাদের জন্য শপথ থেকে মুক্তির বিধান দিয়েছেন এবং আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক; আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (২)।

 

অথবা ওহি (وحي) তাঁর ইজতিহাদের (اجتهاد) হুকুমকে বহাল রাখার মাধ্যমে এবং সতর্ক করার সাথে অবতীর্ণ হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) [আন-নাজম: ৩, ৪]।

(২) [আত-তাহরীম: ১, ২]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ينبغي. كما في قوله تعالى عن أسارى بدر: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (1).

 

نعم نقول: إن الرسول صلى الله عليه وسلم أذن له بالاجتهاد واجتهد ونعم نقول: إنَّ بعض اجتهاداته لم تصادف الصواب، لكن أين حكم الله تعالى في الأمر الذي اجتهد فيه محمد صلى الله عليه وسلم ولم يصب؟

 

الاحتمالات العقلية أربعة:

 

1 - أما ألَاّ يكون الله تعالى حكم فيه أصلاً. وهذا باطل، فكل شيء عنده بمقدار، و {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} (2).

2 - أنْ يكون لله تعالى فيه حكم مخالف لما حكم به محمد صلى الله عليه وسلم، فيترك - جَلَّ شَأْنُهُ - حكم محمد صلى الله عليه وسلم سارياً على الأُمَّة ويوقف حكم نفسه سبحانه وتعالى، وهذا واضح البطلان، لأنَّ محمداً صلى الله عليه وسلم في هذه الحالة يكون مُشَرِّعاً غير شرع الله.

3 - أنْ يكون لله تعالى حُكم مخالف لما حكم به محمد صلى الله عليه وسلم باجتهاده، فيعدل سبحانه حكم محمد صلى الله عليه وسلم ليوافق حكم الله.

4 - أنْ يكون لله تعالى حكم موافق لما حكم به محمد صلى الله عليه وسلم باجتهاده، أو بعبارة أدق: أنْ يكون حكم محمد صلى الله عليه وسلم موافقاً لحكم الله، ومثل ذلك قوله صلى الله عليه وسلم لسعد بن معاذ حين حُكِّمَ في بني قريظة فَحَكَمَ حُكمَهُ المشهور، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللهِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ» (3).

 

والحاصل الذي يجب الإيمان به أنَّ لله تعالى حُكماً في العباد، هو شريعته في أرضه.

--------------------------------------------

(1) [الأنفال: 67].

(2) [يوسف: 40].

(3) رواه البخاري.
উচিত। যেমন বদরের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী: {কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে, তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে, যতক্ষণ না তিনি যমীনে শত্রুকে পরাভূত করেন। তোমরা দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ কামনা করছ, আর আল্লাহ চাচ্ছেন আখিরাত। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (১)।

 

হ্যাঁ, আমরা বলি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের (اجتهاد) অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা করেছেন। আর হ্যাঁ, আমরা এও বলি যে, তাঁর কিছু গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهادات) সঠিক বিষয়ের সাথে মেলেনি। কিন্তু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ে গবেষণা (اجتهاد) করেছেন এবং তা সঠিক হয়নি, সেখানে আল্লাহ তাআলার বিধান কোথায়?

 

যৌক্তিক সম্ভাবনা চারটি:

 

১ - হয় তো এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার কোনো বিধানই নেই। আর এটি বাতিল (باطل); কারণ তাঁর কাছে সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট পরিমাপে এবং {বিধান তো কেবল আল্লাহরই} (২)।

২ - মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ফয়সালা করেছেন, সে বিষয়ে আল্লাহ তাআলার ভিন্ন কোনো বিধান থাকতে পারে; ফলে তিনি—তাঁর শান মহান—মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা উম্মতের জন্য বলবৎ থাকতে দিয়েছেন এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় বিধান স্থগিত রেখেছেন। আর এটি স্পষ্টভাবে বাতিল (باطل); কারণ এমনটি হলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর শরিয়ত বহির্ভূত একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে গণ্য হতেন।

৩ - মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গবেষণালব্ধ (اجتهاد) ফয়সালার বিপরীতে আল্লাহ তাআলার কোনো ভিন্ন বিধান থাকতে পারে; অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালাকে সংশোধন করে আল্লাহর বিধানের অনুকূলে নিয়ে এসেছেন।

৪ - মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গবেষণালব্ধ (اجتهاد) ফয়সালার অনুকূলে আল্লাহ তাআলার বিধান থাকতে পারে। অথবা আরও নির্ভুলভাবে বললে: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা আল্লাহর বিধানের অনুকূল হওয়া। এর উদাহরণ হলো—যখন সাদ বিন মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বনু কুরাইযার বিষয়ে ফয়সালা করার দায়িত্ব দেওয়া হলো এবং তিনি তাঁর সেই প্রসিদ্ধ ফয়সালাটি করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: «তুমি তাদের বিষয়ে সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করেছ» (৩)।

 

সারকথা যা বিশ্বাস করা আবশ্যক তা হলো—বান্দাদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, যা যমীনে তাঁর শরিয়ত।

--------------------------------------------

(১) [আল-আনফাল: ৬৭]।

(২) [ইউসুফ: ৪০]।

(৩) সহিহ বুখারী কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২০)
وأنَّ اجتهاد محمد صلى الله عليه وسلم إنْ وافق حُكم الله فهو حُكم الله على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم، وإنْ لم يوافق حُكم الله عدله إلى حكمه - جَلَّ شَأْنُهُ -. وإذن تصبح الأحكام الدينية التي حكم بها محمد صلى الله عليه وسلم أحكام الله في النهاية. وقبل لقائه الرفيق الأعلى صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌اللفظ والمراد منه:

نعم قد يكون النص الشرعي عاماً مراداً به الخصوص، وهناك قرائن حال، وقرائن ألفاظ تمنع من العموم وتحدِّدُ المراد من المخصوص:

ففي تخصيص عموم الأمكنة مثلاً قوله صلى الله عليه وسلم: «جُعِلَتْ لِيَ الأَرَضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا» (1) خصَّصَ هذا العموم بغير الأماكن النجسة.

وفي تخصيص عموم الأزمنة ما صحَّ في " البخاري " أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم في عام قحط وجدب قال لأصحابه: «مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلَا يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ» فأكل الصحابة وتصدَّقُوا بأضحيتهم قبل ثالث ليلة، وفي العام القابل - وكان عام رخاء - قهم الصحابة أنَّ الطلب السابق كان خاصاً بزمن، فسألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم: نفعل بأضحيتنا كما فعلنا العام الماضي؟ وكان ما توقَّعُوا. قال صلى الله عليه وسلم: «كُلُوا، وَأَطْعِمُوا، وَادَّخِرُوا، فَإِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهِ».

 

وفي تخصيص الأفراد قال صلى الله عليه وسلم: «لَا يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ الْعَصْرَ إِلَاّ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ» (2)، ولم يكن المقصود بالأحد عموم

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) رواه البخاري بمعناه.
এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইজতিহাদ (اجتهاد) যদি আল্লাহর বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা তাঁর নবীর যবানিতে আল্লাহরই বিধান। আর যদি আল্লাহর বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে তিনি (আল্লাহ)—তাঁর শান সুমহান—তা সংশোধন করে নিজের বিধানের অনুকূলে নিয়ে আসেন। ফলে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেসব ধর্মীয় বিধান প্রদান করেছেন, তা শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই বিধানে পরিণত হয়। আর তা সম্পন্ন হয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান বন্ধুর সাথে সাক্ষাতের পূর্বেই।

 

‌‌শব্দ এবং তার উদ্দেশ্য (مراد):

হ্যাঁ, কখনও কখনও শরয়ী নস (نص) সাধারণ (عام) হতে পারে যা দ্বারা বিশেষ (خصوص) উদ্দেশ্য করা হয়। সেখানে এমন কিছু পারিপার্শ্বিক আলামত (قرينة حال) এবং শাব্দিক আলামত (قرينة لفظ) থাকে যা ব্যাপকতাকে (عموم) বাধা দেয় এবং বিশেষায়িত বিষয়ের (مخصوص) উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করে:

যেমন স্থানের ব্যাপকতাকে বিশেষায়িতকরণ (تخصيص) করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «আমার জন্য জমিনকে সালাতের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে» (১); এখানে অপবিত্র স্থানসমূহ ব্যতিরেকে এই ব্যাপকতাকে (عموم) বিশেষায়িত করা হয়েছে।

আর সময়ের ব্যাপকতাকে বিশেষায়িত করার উদাহরণ হলো যা বুখারি-তে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির বছরে তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন: «তোমাদের মধ্যে যে কুরবানি করবে, সে যেন তৃতীয় দিনের পর এমন অবস্থায় ভোরে উপনীত না হয় যে তার ঘরে সেই পশুর গোশতের কিছু অবশিষ্ট আছে»। তখন সাহাবীগণ তৃতীয় রাতের আগেই তাদের কুরবানির গোশত খেয়েছিলেন এবং সদকা করেছিলেন। পরবর্তী বছর—যা সচ্ছলতার বছর ছিল—সাহাবীগণ বুঝতে পারলেন যে পূর্বের নির্দেশটি সময়ের সাথে বিশেষ (خاص) ছিল। তাই তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আমরা কি আমাদের কুরবানির পশুর সাথে তা-ই করব যা গত বছর করেছিলাম? এবং তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ীই উত্তর এল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো; কেননা সেই বছর মানুষের কষ্ট ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা তাতে সহায়তা করো»।

 

ব্যক্তিদের বিশেষায়িত করার ক্ষেত্রে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে» (২), এখানে 'কেউ' (أحد) শব্দ দ্বারা ব্যাপকতা (عموم) উদ্দেশ্য ছিল না

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি এটি সমার্থে (بمعناه) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২১)
المسلمين، حتى يشمل الضعفاء والمرضى والأطفال والنساء، وإنما كان المقصود خصوص المقاتلين الذين عادوا من غزو الخندق.

 

ومن هذا القبيل قوله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً فَلَهُ سَلْبُهُ» (1)، فعموم القتيل غير مراد، لئلا يشمل القتيل ظلماً من المسلمين، وإنما المراد به قتيل الكفار المحاربين. كذلك عموم «مَنْ قَتَلَ» ليس المقصود به كل من قاتل وقتل إلى آخر الزمان، وإنما المراد العصر الأول الذي تَطَلَّبَ تشجيع الغزو والجهاد، وكذا كل عصر يشبهه إذا رأى حاكم المسلمين ذلك.

 

أما الأحكام العامة في المعاملات وغيرها والتي لم يدخلها تخصيص بالأفراد ولا بالأماكن ولا بالأزمنة، فهي باقية على عمومها صالحة لكل زمان ومكان إلى يوم القيامة، والجهل بالمصلحة فيها، وظن المصلحة في غيرها، لا يمنع من الالتزام بها، فما أكثر ما يجهل الإنسان مصلحة نفسه، فضلاً عن مصلحة غيره.

 

وفي الشرع مصالح العباد بالتحقيق، فالمُشَرِّعُ هو الخالق الذي يعلم من خلق ويعلم ما يصلحه، وفي كل طلب للمصلحة من غير الشرع طلب للماء من السراب: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءً حَتَّى إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِنْدَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ، أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ سَحَابٌ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} (2).

 

يقول الإمام ابن القيم: «إنَّ شريعة الله مبناها وأساسها

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) [النور: 39، 40].
মুসলিমদের, এমনকি যাতে তা দুর্বল, অসুস্থ, শিশু ও নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে সেই যোদ্ধারা যারা খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছিলেন।

 

আর এই জাতীয় হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «যে ব্যক্তি কোনো (শত্রু) নিহতকে হত্যা করবে, তার জন্য তার আসবাবপত্র (সালব) নির্ধারিত» (১)। এখানে নিহতের ব্যাপকতা (عموم) উদ্দেশ্য নয়, পাছে তা মুসলিমদের মধ্য থেকে অন্যায়ভাবে নিহত কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করে; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধরত কাফিরদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে। তেমনিভাবে «যে ব্যক্তি হত্যা করবে»-এর ব্যাপকতা (عموم) দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধকারী ও হত্যাকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে বোঝানো হয়নি; বরং এর দ্বারা প্রথম যুগ উদ্দেশ্য ছিল যা যুদ্ধ ও জিহাদে উৎসাহ প্রদানের দাবি রাখত। অনুরূপভাবে এমন প্রতিটি যুগ এর অন্তর্ভুক্ত হবে যদি মুসলিম শাসক তা সমীচীন মনে করেন।

 

আর লেনদেন ও অন্যান্য বিষয়ের সাধারণ বিধানসমূহ (الأحكام العامة), যাতে ব্যক্তি, স্থান বা কালভেদে কোনো বিশেষায়ন (تخصيص) ঘটেনি, সেগুলো তাদের ব্যাপকতার (عموم) ওপরই বহাল থাকবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি কাল ও স্থানের জন্য প্রযোজ্য হবে। সেগুলোর মধ্যে নিহিত জনকল্যাণ (مصلحة) সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা অন্য কোনো কিছুতে কল্যাণ রয়েছে বলে ধারণা করা, সেগুলো পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে বিরত রাখে না। মানুষ নিজের কল্যাণ সম্পর্কেই কতটা অজ্ঞ, অন্য কারো কল্যাণের বিষয়ে তো বলাই বাহুল্য।

 

শরিয়তে বান্দাদের জনকল্যাণ (مصالح) সুনিশ্চিতভাবে বিদ্যমান। কারণ আইনপ্রণেতা (المشرع) হলেন স্বয়ং স্রষ্টা, যিনি জানেন তিনি কাকে সৃষ্টি করেছেন এবং কিসে তাদের কল্যাণ নিহিত। শরিয়ত ব্যতীত অন্য কোথাও কল্যাণ অনুসন্ধান করা মরীচিকায় পানি খোঁজার নামান্তর: {আর যারা কুফরি করে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার মতো, পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার কাছে যায়, তখন সে সেখানে কিছুই পায় না এবং সে সেখানে আল্লাহকে পায়, অতঃপর তিনি তার হিসাব পূর্ণ করে দেন; আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। অথবা (তাদের আমল) গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের মতো, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ, যার ওপর মেঘমালা; অন্ধকারের ওপর অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তা একেবারেই দেখতে পায় না। আর আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই} (২)।

 

ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর শরিয়তের ভিত্তি ও মূল হলো...

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন।

(২) [আন-নূর: ৩৯, ৪০]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২২)
على الحكم ومصالح العباد في المعاش والمعاد، وهي عدل كلها، ومصالح كلها، وحكمة كلها.

الشريعة عدل الله بين عباده، ورحمته بين خلقه، وظله في أرضه، وحكمته الدالة عليه وعلى صدق رسوله صلى الله عليه وسلم أتم دلالة وأصدقها، وهي نوره الذي أبصر به المُبصرون، وهُداهُ الذي به اهتدى المهتدون». اهـ (1).

 

‌‌السُنَّةُ: تَشْرِيعٌ وَغَيْرُ تَشْرِيعٍ:

غفر الله للقائلين بأنَّ السُنَّة تشريع وغير تشريع، والقائلين بالمصلحة. غفر الله لهم وسامحهم، لقد فتح هؤلاء وهؤلاء باباً لم يخطر لهم على بال.

 

القائلون بأنَّ السُنَّة تشريع وغير تشريع قصدوا بغير التشريع ما ورد منها خاصاً بالصناعات والخبرات كالزراعة والطب،، ولم يقصدوا أنَّ أحاديث المعاملات غير تشريعية، ولم يخطر ببالهم أنَّ باحثاً بعدهم سَيَسْتَدِلُّ بتقسيمهم ليدخل المعاملات وأحاديث البيع والشراء والإجارة وغيرها في السُنَّة غير التشريعية، وهُم من هذا القول برءاء، ولنا مع بعضهم وقفة قصيرة لإزالة لُبسٍ قد يفهم من كلامهم.

 

بعضهم أدخل في السُنَّة غير التشريعية، الأكل والشرب والنوم واللبس وهذا القول في حاجة إلى تحقيق.

 

الأكل والشرب مثلاً، كلام عام يشمل المأكول والمشروب، ويشمل الأواني، والهيئة أو الكيفية. فأخذ الكلام على عمومه مرفوض.

 

هل بيان المأكول والمشروب المُحَرَّم والمكروه والمباح من السُنَّة غير التشريعية؟

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين.
...বিধান এবং ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণসমূহের ওপর (প্রতিষ্ঠিত); এটি পুরোটাই ইনসাফ, পুরোটাই কল্যাণ এবং পুরোটাই হিকমত।

শরীয়ত হলো তাঁর বান্দাদের মাঝে আল্লাহর ইনসাফ, তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর রহমত, তাঁর জমিনে তাঁর ছায়া এবং তাঁর এমন এক হিকমত যা তাঁর নিজের প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার ওপর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সত্য প্রমাণ। এটিই সেই নূর যার মাধ্যমে দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ দেখতে পান এবং এটিই সেই হিদায়াত যার মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্তরা সঠিক পথ খুঁজে পান। সমাপ্ত (১)।

 

‌‌সুন্নাহ: বিধানমূলক (تشريع) এবং অ-বিধানমূলক (غير تشريع):

আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের ক্ষমা করুন যারা বলেন যে সুন্নাহ হলো বিধানমূলক (تشريع) এবং অ-বিধানমূলক (غير تشريع), এবং যারা কেবল জনকল্যাণের প্রবক্তা। আল্লাহ তাদের ক্ষমা ও মার্জনা করুন; তারা এমন এক দরজা উন্মোচন করেছেন যা তাদের কল্পনায়ও ছিল না।

 

যারা সুন্নাহকে বিধানমূলক (تشريع) এবং অ-বিধানমূলক (غير تشريع) ভাগে বিভক্ত করেন, তারা 'অ-বিধানমূলক' বলতে কেবল শিল্প এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়সমূহ বুঝিয়েছেন, যেমন কৃষি এবং চিকিৎসা। লেনদেন সংক্রান্ত হাদিসগুলো অ-বিধানমূলক—এমনটি তারা উদ্দেশ্য করেননি। তাদের কল্পনায়ও আসেনি যে, পরবর্তী কোনো গবেষক তাদের এই বিভাজনকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে লেনদেন, বেচাকেনা ও ইজারা সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে অ-বিধানমূলক (غير تشريع) সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত করবেন। তারা এই মত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের কারো কারো কথার দ্বারা সৃষ্ট সংশয় দূর করার জন্য আমরা এখানে সংক্ষেপে আলোকপাত করছি।

 

তাদের কেউ কেউ আহার, পানীয়, নিদ্রা এবং পোশাক-পরিচ্ছদকেও অ-বিধানমূলক (غير تشريع) সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে এই মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

 

উদাহরণস্বরূপ, আহার ও পান করা একটি ব্যাপক (عام) বিষয়, যা খাদ্য ও পানীয়, ব্যবহৃত পাত্র এবং এর পদ্ধতি বা ধরণকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং, কথাটিকে তার সাধারণ ব্যাপকতার (عموم) ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা অগ্রহণযোগ্য।

 

হারাম (محرم), মাকরূহ (مكروه) এবং বৈধ (مباح) খাদ্য ও পানীয়ের বর্ণনা কি অ-বিধানমূলক (غير تشريع) সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত?

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
هل حديث: «أُحِلَّتْ لَنَا مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ، السَّمَكُ وَالْجَرَادُ وَالْكَبِدُ وَالطِّحَالُ»، وحديث: «أُكِلَ الضَّبُّ عَلَى مِائِدَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم» سُنَّة غير تشريعة؟

اللهم. لا.

أحلَّ لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الطيبات وحرَّمَ علينا الخبائث، فالمأكول والمشروب سُنَّة تشريعية من حيث الحِلِّ والحرمة، أما أنه أكل نوعاً من الحلال وترك غيرها يأكل نوعاً آخر، فالتشريع فيها الإباحة، إباحة ما أُكِلَ وما لم يُأْكَلْ مما لم يَنْهَ عنه.

وأما الأواني فقد نهى صلى الله عليه وسلم عن الأكل والشرب في صحاف الذهب والفضة، ونهى عن الأكل في أواني الكفار إلا بعد غسلها. وهذا تشريع قطعاً.

 

أما أنه صلى الله عليه وسلم أكل في قصعة من الفخار ونحن نأكل في الأواني الفاخرة غير الذهبية والفضية فهذا من المُباحات. والإباحة تشريع.

 

وأما الهيئة:

فهناك هيئات مأمور بها وهيئات منهي عنها، وهيئات أخرى كثيرة مباحة، والكل تشريع. «يَا غُلَامُ سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ» هيئة أكل مشروعة، و «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ اخْتِنَاثِ الْأَسْقِيَةِ»، أي الشرب من أفواهها هيئة ممنوعة شرعاً، أما أنه صلى الله عليه وسلم أكل بأصابعه ويده ونحن نأكل بالملاعق والشوك والسكاكين فهو من المباحات المشروعة.

 

فماذا في الأكل والشرب من السُنَّة غير التشريعية؟

إن قصدوا بالسُنَّة غير التشريعية في ذلك السُنَّة غير الملزمة، وهي المباحات كان الخلاف بيننا لفظياً.
হাদিস: «আমাদের জন্য দুটি মৃত প্রাণী এবং দুটি রক্ত বৈধ করা হয়েছে: মাছ ও পঙ্গপাল এবং কলিজা ও প্লীহা» এবং হাদিস: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে গোসাপ আহার করা হয়েছে»—এগুলো কি অ-বিধানিক সুন্নাহ (سنة غير تشريعية)?

আল্লাহর কসম, না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে বৈধ (حلال) করেছেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহকে আমাদের জন্য নিষিদ্ধ (حرام) করেছেন। সুতরাং পানাহার সংক্রান্ত বিষয়গুলো বৈধতা এবং নিষিদ্ধতার দিক থেকে বিধানিক সুন্নাহ (سنة تشريعية)। আর তিনি কোনো এক প্রকারের বৈধ (حلال) বস্তু আহার করেছেন এবং অন্য কোনোটি বর্জন করেছেন যা অন্য কেউ আহার করছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিধান হলো বৈধতা (إباحة) - অর্থাৎ যা আহার করা হয়েছে এবং যা আহার করা হয়নি অথচ তিনি নিষেধ করেননি, তা বৈধ (مباح) হওয়ার বিধান (تشريع)।

আর পাত্রের ক্ষেত্রে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোনা ও রুপার পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং কাফিরদের পাত্র ধৌত করা ব্যতীত তাতে আহার করতে নিষেধ করেছেন। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বিধান (تشريع)।

 

আর তিনি মাটির পাত্রে আহার করেছেন এবং আমরা সোনা ও রুপা ব্যতীত অন্যান্য বিলাসবহুল পাত্রে আহার করি, তবে এটি বৈধ (مباح) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর বৈধতাও (إباحة) একটি বিধান (تشريع)।

 

আর পদ্ধতির ক্ষেত্রে:

সেখানে এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিছু পদ্ধতি রয়েছে যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং আরও অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা বৈধ (مباح), আর এর সবগুলোই বিধানের (تشريع) অন্তর্ভুক্ত। «হে বৎস! আল্লাহর নাম নাও, তোমার ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনের অংশ থেকে খাও» এটি আহারের একটি বিধিবদ্ধ (مشروعة) পদ্ধতি। আবার, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশক বা পানপাত্রের মুখ দিয়ে সরাসরি পান করতে নিষেধ করেছেন», অর্থাৎ এর মুখ থেকে পান করা শরয়িভাবে নিষিদ্ধ একটি পদ্ধতি। আর তিনি হাত ও আঙ্গুল দিয়ে আহার করেছেন এবং আমরা চামচ, কাঁটাচামচ ও ছুরি দিয়ে আহার করি, এটিও বিধিবদ্ধ (مشروعة) বৈধ (مباح) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

 

তাহলে পানাহারের ক্ষেত্রে অ-বিধানিক সুন্নাহ (سنة غير تشريعية) বলতে কী আছে?

যদি তারা এর দ্বারা এ ক্ষেত্রে অ-বিধানিক সুন্নাহ (سنة غير تشريعية) বলতে 'অ-অপরিহার্য সুন্নাহ' অর্থাৎ বৈধ (مباح) বিষয়সমূহকে উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে আমাদের মধ্যকার এই মতপার্থক্য কেবল শাব্দিক।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وإن قصدوا ما هو مطلوب على وجه الوجوب أو الندب، وما هو منهي عنه على وجه الحرمة أو الكراهة فهو غير مُسَلَّم. ومثل ذلك يقال في النوم واللبس وكل ما هو خاص بالحاجة والطبيعة البشرية كما يقولون، حتى قضاء الشهوة مع الزوجة له قواعده وأصوله وحدوده المشروعة.

 

ولست أرى سُنَّةً تشريعية بالمعنى الحقيقي اللهم إلَاّ ما ورد فيما طريقه الخبرة والصنعة والتخصص كالزراعة والصناعة، ويمكن أن يلحق بها الطب وقيادة الجيوش وفن الحرب. وستأتي زيادة إيضاح إنْ شاء الله.

 

أما القائلون بالمصلحة كمصدر من مصادر التشريع فقد اشترطوا لها ألَاّ تُصادم نصاً من الكتاب أو السُنَّة الصحيحة، فهم أخذوا بمراعاة المصالح فيما لم يرد فيه قرآن أو حديث صحيح، أما ما ورد فيه قرآن أو حديث صحيح فالمصلحة فيما جاء به النص.

 

****

 

لكن الباحث اندفع من هذا الباب مُحَطِّماً كل الحواجز، ينادي: لا يقف في طريقي ولا في طريق ما أراه مصلحة أي حديث.

 

يستدل بكلام الإمام نجم الدين الطوفي الحنبلي المتوفى سنة 710 هـ حيث يقول: «إنَّ مصلحة سياسة المُكَلَّفين في حقوقهم معلومة لهم بحكم العادة والعقل، فإذا رأينا دليل الشرع متقاعداً عن إفادتها علمنا أنا أُحِلْنا في تحصيلها على رعايتها، كما أنَّ النصوص لما كانت لا تفي بالأحكام علمنا أنا
আর যদি তারা সেই বিষয়গুলোকে উদ্দেশ্য করে থাকেন যা আবশ্যকতা (وجوب) বা মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে কাম্য, এবং যা হারাম (حرمة) বা অপছন্দনীয়তা (كراهة) হিসেবে নিষিদ্ধ, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। ঘুম, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং মানুষের প্রয়োজন ও প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট সবকিছুর ব্যাপারেই একই কথা প্রযোজ্য যেমনটি তারা বলে থাকেন। এমনকি স্ত্রীর সাথে যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণেরও সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি, মূলনীতি এবং শরয়ি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

 

আর আমি প্রকৃত অর্থে কোনো বিধানিক সুন্নাহ (سنة تشريعية) দেখি না, কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা অভিজ্ঞতা, কারিগরি এবং বিশেষ পারদর্শিতার মাধ্যমে অর্জিত, যেমন কৃষি ও শিল্প। এর সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞান, সেনাবাহিনী পরিচালনা এবং যুদ্ধকৌশলকেও যুক্ত করা যেতে পারে। ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।

 

তবে যারা জনকল্যাণকে (مصلحة) শরিয়তের অন্যতম উৎস হিসেবে গণ্য করেন, তারা এই শর্তারোপ করেছেন যে, তা যেন কুরআন বা সহিহ (صحيح) সুন্নাহর কোনো অকাট্য দলিলের (نص) সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। সুতরাং তারা কেবল সেই ক্ষেত্রগুলোতেই জনকল্যাণের (مصلحة) বিবেচনা গ্রহণ করেছেন যেখানে কোনো কুরআন বা সহিহ হাদিস বিদ্যমান নেই। আর যেখানে কুরআন বা সহিহ হাদিস বিদ্যমান, সেখানে দলিলের (نص) মাধ্যমেই প্রকৃত জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়।

 

****

 

কিন্তু গবেষক এই দিক থেকে সকল বাধা ভেঙে তীব্রভাবে ধাবিত হয়েছেন এবং ঘোষণা করছেন: 'আমি যাকে জনকল্যাণ (مصلحة) মনে করি, তার পথে এবং আমার পথে কোনো হাদিসই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।'

 

তিনি ৭১০ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইমাম নাজমুদ্দিন আত-তুফি আল-হানবালির বক্তব্য দ্বারা দলিল পেশ করেন, যেখানে তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের (مكلفين) অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির ব্যবস্থাপনাগত কল্যাণ (مصلحة) অভ্যাস ও বিবেকের মাধ্যমে তাদের নিকট সুপরিচিত। সুতরাং যখন আমরা দেখি যে শরিয়তের কোনো দলিল (دليل) তা প্রদানে বিরত রয়েছে, তখন আমরা বুঝতে পারি যে সেটি অর্জনের দায়িত্ব আমাদের ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে অকাট্য দলিলসমূহ (نصوص) যখন সকল বিধানের (أحكام) জন্য পর্যাপ্ত ছিল না, তখন আমরা জানতে পেরেছি যে আমরা...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
أُحِلْنَا بتمامها على القياس، وهو إلحاق المسكوت عنه بالمنصوص عليه لجامع بينهما».

هذا كلام نجم الدين الطوفي في المصلحة، فبماذا استدل به الباحث؟

 

حمل الباحث عبارتي الطوفي «دليل الشرع» و «النصوص» على القرآن فقط دون السُنَّة، فقال: صفحة «35»: «والشاهد هنا - كما هو ظاهر - أنَّ المُكَلَّفين يعرفون مصالحهم ويدبرونها فيما لم يأت به دليل خاص من الكتاب، وهم أعلم بشؤون دنياهم» أي من الرسول صلى الله عليه وسلم.

 

ثم يقول صفحة «46»: «فما دام الرسول كان يجتهد، وما دام هذا الاجتهاد قد شمل الكثير من أنواع المعاملات أفلا يجوز لمن يأتي بعده أنْ يُدلي في الموضوع باجتهاده أيضاً هادفاً إلى تحقيق المصلحة، ولو أدى اجتهاده إلى غير ما قرَّره الرسول باجتهاده».

 

إنَّ الباحث هنا يعطي نفسه الحق في الاجتهاد على قدم المساواة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم غير عابئ بالفرق بين الثَّرَى والثُريا. وإنَّ الباحث مُتخصِّصٌ في التاريخ، يستخدم منهج المؤرِّخِين عند بحث الحديث النبوي، ويتعامل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ويتحدَّثُ عنه كما يتحدَّثُ مُؤرِّخٌ عن ملك أو قائد زال عهده، فكلُّ بحثه يدور حول جمع أخطاء في اجتهاده صلى الله عليه وسلم، بل يُصَوِّرُ مَنْ حَوْلَهُ بأنهم أدرى بالمصلحة منه صلى الله عليه وسلم وأنه يتَّخذُ القرار فينقضه بعد لحظات برأي أحد أصحابه.

 

فهو صلى الله عليه وسلم ينهى عن قطع أشجار الحَرَمِ، فيقول له عمُّهُ العباس: إلَاّ الإذخِر، فيقول صلى الله عليه وسلم: «إِلَاّ الإِذْخِرَ».
«আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গভাবে কিয়াসের (القياس) ওপর সোপর্দ করা হয়েছে; আর তা হলো কোনো একটি সাধারণ কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে কোনো অনুক্ত বিষয়কে (المسكوت عنه) নির্দেশিত বা উক্ত বিষয়ের (المنصوص عليه) সাথে সংযুক্ত করা।»

এটি মাসলাহাহ (المصلحة) প্রসঙ্গে নাজম আল-দিন আল-তুফীর বক্তব্য; কিন্তু গবেষক এটি দ্বারা কী প্রমাণ করতে চেয়েছেন?

 

গবেষক আল-তুফীর ‘শরয়ি দলিল’ (دليل الشرع) এবং ‘নুসুস’ (النصوص) শব্দবন্ধ দুটিকে সুন্নাহ ব্যতীত কেবল কুরআনের ওপর প্রয়োগ করেছেন। তিনি ৩৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: «এখানে প্রমাণটি—যেমনটি দৃশ্যমান—হলো এই যে, মুকাল্লাফগণ (المكلفين) কিতাব (কুরআন) থেকে কোনো বিশেষ দলিল (دليل خاص) না আসা পর্যন্ত তাদের নিজেদের স্বার্থ ও কল্যাণ (مصالحهم) সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং তা পরিচালনা করেন; আর তারা তাদের পার্থিব বিষয়ে অধিক অভিজ্ঞ»—অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চেয়েও বেশি।

 

অতঃপর তিনি ৪৬ পৃষ্ঠায় বলেন: «যেহেতু রাসুল ইজতিহাদ (الاجتهاد) করতেন এবং যেহেতু এই ইজতিহাদ (الاجتهاد) লেনদেন বা মুয়ামালাতের (المعاملات) বহু প্রকারকে শামিল করেছিল, তবে কি তাঁর পরবর্তী কারো জন্য মাসলাহাহ (المصلحة) অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজস্ব ইজতিহাদ (الاجتهاد) পেশ করা বৈধ হবে না? যদিও তার ইজতিহাদ (الاجتهاد) রাসুলের ইজতিহাদ (الاجتهاد) লব্ধ সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হয়।»

 

গবেষক এখানে নিজেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সমপর্যায়ে ইজতিহাদের (الاجتهاد) অধিকার দিচ্ছেন, যেখানে তিনি মাটি ও সুরাইয়া নক্ষত্রের মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করছেন না। এই গবেষক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ; তিনি নববী হাদিস গবেষণার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের পদ্ধতি (منهج المؤرخين) ব্যবহার করছেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে এমন আচরণ করছেন এবং তাঁর সম্পর্কে এমনভাবে কথা বলছেন যেন একজন ঐতিহাসিক তাঁর শাসনকাল শেষ হয়ে যাওয়া কোনো রাজা বা সেনাপতি সম্পর্কে কথা বলছেন। ফলে তার সমস্ত গবেষণা আবর্তিত হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইজতিহাদের (اجتهاده) ভুলগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে; বরং তিনি তাঁর (রাসুল) চারপাশের লোকদের এমনভাবে চিত্রায়িত করছেন যে, তারা যেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চেয়েও মাসলাহাহ (المصلحة) বা জনকল্যাণ সম্পর্কে বেশি পারদর্শী, আর তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং মুহূর্তকাল পরেই তাঁর কোনো সাহাবীর মতের ভিত্তিতে তা নাকচ করে দেন।

 

যেমন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হারামের (الحرم) বৃক্ষ কর্তন করতে নিষেধ করেন, তখন তাঁর চাচা আব্বাস তাঁকে বলেন: ‘ইজখির (এক প্রকার ঘাস) ব্যতীত’, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «ইজখির ব্যতীত»।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهو صلى الله عليه وسلم يأمر أبا هريرة أن يُبَشِّرَ الناس أنَّ مَنْ قال: لا إله إلَاّ الله دخل الجنة، فيقول له عمر: لا. يا رسول الله. إذن يتَّكِلُوا. فلا يُبَشِّر أبو هريرة فيقول صلى الله عليه وسلم: لا يبشر.

 

وينزل صلى الله عليه وسلم بجيشه على صلح مع قبيلة غطفان، فيرفض أصحابه الصلح والاتفاق فيترك موضوع الصلح ويمضي قول أصحابه.

 

وينهى صلى الله عليه وسلم عن أكل لحوم الحمر الأهلية وكانوا قد طبخوها في قدورهم الفخارية، فأمر صلى الله عليه وسلم بكسرها، فقال عمر للرسول صلى الله عليه وسلم كاقتراح منه: أو نريقها ونغسلها؟ فوافق في الحال على اقتراح عمر.

 

ووجدهم صلى الله عليه وسلم يبيعون الرُطب على النخل بتمر جاف فقال: «لَا تَبِيعُوا». فاشتكوا إليه المشقة من عدم البيع، فغيَّرَ رأيه وأجازه لهم.

 

ونهاهم صلى الله عليه وسلم عن بيع المعدوم، فَشَكَوْا إليه أنهم في حاجة إليه، فرخَّص لهم في السلم.

 

ومنع صلى الله عليه وسلم التقاط ضالة الإبل وأباحها عثمان بن عفان رضي الله عنه.

 

ولم يضمن صلى الله عليه وسلم الصانع والأجير إذا تلف عنده الشيء وضمنهم عليٌّ رضي الله عنه.

 

ومنع تأبير النخل فجاء التمر شيصاً فاعتذر لأصحابه وقال: «أَنْتُمْ أَعْلَمُ بِأُمُورِ دُنْيَاكُمْ».

 

لماذا كل هذا؟
রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রা (রা.)-কে নির্দেশ দিচ্ছিলেন যেন তিনি মানুষকে এই সুসংবাদ দেন যে, যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন উমর (রা.) তাকে বললেন: না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে তো তারা এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে। ফলে আবু হুরায়রা (রা.) আর সুসংবাদ দিলেন না এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: সে যেন সুসংবাদ না দেয়।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) গাতাফান গোত্রের সাথে একটি সন্ধি করার উদ্দেশ্যে তার সেনাবাহিনী নিয়ে উপনীত হলেন, কিন্তু তার সাহাবীগণ সেই সন্ধি ও চুক্তিতে অসম্মতি জানালেন। ফলে তিনি সন্ধির বিষয়টি ত্যাগ করলেন এবং তার সাহাবীদের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখলেন।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করা থেকে নিষেধ করেছিলেন, তখন তারা তাদের মাটির পাত্রে সেগুলো রান্না করছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) পাত্রগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তখন উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট একটি প্রস্তাব দিয়ে বললেন: অথবা আমরা কি তা ঢেলে ফেলে দিয়ে পাত্রগুলো ধুয়ে নিতে পারি? তিনি তৎক্ষণাৎ উমর (রা.)-এর সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন।

 

তিনি (সা.) তাদেরকে দেখলেন যে তারা গাছের তাজা খেজুর শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করছে। তখন তিনি বললেন: «তোমরা তা বিক্রি করো না»। তারা ক্রয়-বিক্রয় করতে না পারার কারণে কষ্টের কথা তার কাছে অভিযোগ করলে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন এবং তাদের জন্য তা অনুমোদন (أجازه) করলেন।

 

তিনি (সা.) তাদেরকে অস্তিত্বহীন বস্তুর বিক্রয় (بيع المعدوم) করতে নিষেধ করেছিলেন। তারা তার কাছে অভিযোগ করল যে, তারা এর প্রয়োজন বোধ করছে। ফলে তিনি তাদের জন্য সালাম বা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় (السلم)-এর অনুমতি দিলেন।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) হারানো উট (ضالة الإبل) কুড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং উসমান বিন আফফান (রা.) তা বৈধ (أباحها) করেছিলেন।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) কারিগর বা শ্রমজীবীর দায় বা জিম্মাদার (لم يضمن) নির্ধারণ করেননি যদি কোনো বস্তু তাদের কাছে নষ্ট হয়ে যায়, তবে আলী (রা.) তাদেরকে দায়বদ্ধ (ضمنهم) করেছিলেন।

 

তিনি খেজুর গাছের পরাগায়ন (تأبير) করতে নিষেধ করেছিলেন, যার ফলে খেজুরগুলো নিম্নমানের (شيصاً) হয়েছিল। তখন তিনি সাহাবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন: «তোমরা তোমাদের পার্থিব বিষয়ে (أُمُورِ دُنْيَاكُمْ) অধিক অবগত»।

 

কেন এই সবকিছু?
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
ليقول: إنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم كان يجتهد، وكان يراعي مصلحة قومه، وكان يخطئ ويرُدُّهُ أصحابُهُ، فحكمُهُ في المعاملات والبيع والشراء والقراض وغيرهما غير ملزم، إذْ لم يكن عن وحي، ولم يكن يسانده وحي، فلنا أنْ نُراعي مصلحة شعبنا وأُمَّتِنا فنجتهد كما اجتهد، ونُراعِي مصلحة أُمَّتِنَا كما راعى مصلحة شعبه، ولو أدَّى ذلك إلى اتخاذ قرار غير قراره وحُكم غير حُكُمِهِ.

 

وعبارته الصريحة في ذلك صفحة «46» يقول: «فما دام الرسول كان يجتهد، وما دام اجتهاده كان قائماً على القواعد الموجودة حتى الآن، وهادفاً إلى تحقيق المصلحة التي يراها في واقع الناس حوله، وما دام هذا الاجتهاد قد شمل الكثير من أنواع المعاملات في زمنه على ضوء الظروف التي كانت سائدة في أيامه. أفلا يجوز لمن يأتي بعده أنْ يُدْلِي في الموضوع باجتهاده أيضاً هادفاً إلى تحقيق المصلحة؟ ولو أدَّى اجتهاده إلى غير ما قرَّرَهُ الرسول باجتهاده؟».

 

يا سبحان الله!!! كأنه ليس هناك شرع الله.

وكأنَّ الله ترك عباده يتعاملون دون قواعد أو ضوابط حتى يضعوا لأنفسهم في كل بلد ما يرون من ضوابط وقوانين حسبما يجتهدون في مصالحهم، وهم أعلم بشؤون دنياهم!!!

 

وكأنَّ الأُمَّة الإسلامية التي التزمت تشريع محمد صلى الله عليه وسلم أربعة عشر قرناً خاطئة في هذا الالتزام، أو وضعت نفسها في قيود ما كان أغناها عنها …

 

ولا حول ولا قوة إلَاّ بالله العلي العظيم.
যাতে তিনি বলেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন এবং তিনি তাঁর কওমের কল্যাণ বা মাসলাহাত বিবেচনা করতেন। তিনি ভুল করতেন এবং তাঁর সাহাবীগণ তা সংশোধন করে দিতেন। ফলে মুয়ামালাত (লেনদেন), ক্রয়-বিক্রয়, কিরায (বিনিয়োগ) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁর ফয়সালা বা হুকুম বাধ্যতামূলক নয়; কেননা তা ওহীর মাধ্যমে ছিল না এবং ওহী দ্বারা সমর্থিতও ছিল না। সুতরাং আমাদের জন্যও আমাদের জাতি ও উম্মাহর কল্যাণ বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। ফলে তিনি যেভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছিলেন, আমরাও সেভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করব। তিনি যেভাবে তাঁর কওমের কল্যাণ বিবেচনা করেছিলেন, আমরাও আমাদের উম্মাহর কল্যাণ বিবেচনা করব—যদিও তা তাঁর সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত এবং তাঁর হুকুমের পরিপন্থী কোনো হুকুম গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য ৪৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে; তিনি বলেন: "যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান মূলনীতিসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তাঁর চারপাশের মানুষের বাস্তব প্রেক্ষাপটে তাঁর দৃষ্টিতে যা কল্যাণকর মনে হতো তা অর্জনের লক্ষ্যেই ছিল, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এই ইজতিহাদ (اجتهاد) তৎকালীন বিরাজমান পরিস্থিতির আলোকে তাঁর সময়ের বহু প্রকারের লেনদেনকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল—তবে কি তাঁর পরে যারা আসবেন তাদের পক্ষেও কি জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে সেই বিষয়ে নিজ ইজতিহাদ (اجتهاد) পেশ করা জায়েজ (جائز) নয়? যদিওবা তাঁর সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) রাসূলুল্লাহর ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা নির্ধারিত বিষয়ের বিপরীত কিছু হয়?"

 

সুবহানাল্লাহ!!! মনে হচ্ছে যেন সেখানে আল্লাহর কোনো শরীয়ত নেই।

আর যেন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কোনো মূলনীতি বা বিধিবিধান (ضوابط) ছাড়াই লেনদেন করার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে তারা প্রতিটি দেশে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী নিজেদের পছন্দমতো বিধিবিধান (ضوابط) ও আইন তৈরি করে নিতে পারে; আর তারা নাকি তাদের দুনিয়াবী বিষয়ে বেশি অবগত!!!

 

আর যেন মুসলিম উম্মাহ যারা চৌদ্দশ বছর ধরে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রবর্তিত শরীয়তের প্রতি দায়বদ্ধ ছিল, তারা এই আনুগত্যের ক্ষেত্রে ভুলের মধ্যে ছিল, অথবা তারা নিজেদেরকে এমন সব শিকলে আবদ্ধ করেছিল যা থেকে তারা অনায়াসেই মুক্ত থাকতে পারত …

 

সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المعاملات حلال وحرام وتشريع من لله:

يقول الباحث صفحة «25»: «نسارع فنُقرِّرُ أنَّ كل ما يصدر عن الرسول من شؤون الدين في العقيدة والعبادة، والحلال والحرام والعقوبات والأخلاق والآداب لا شأن لنا به إلَاّ من ناحية فهمه .. فما جاء خاصاً بتوحيد الله .. وما جاء خاصاً بالتحريم أو التحليل .. كل هذا ممَّا لا دخل للإنسان فيه من حيث المبدأ، لأنَّ ذلك من اختصاص الرسول الموحَى إليه».

 

ويقول في صفحة «26»: «لكن هناك أحاديث كثيرة تتصل بمعاملات الناس في الحياة من بيع وشراء ورهن وإجارة وقراض ولقطة وسلم .. هل هذه الأمور تأخذ حكم الأولى في أنها موحى بها من الله .. سواء كان الوحي مباشراً أو سُكُوتياً أو إقرارياً؟ أو لها وصف آخر؟».

 

كأنَّ الباحث لا يجعل المعاملات من قبيل التحريم والتحليل، وهذا فهم عجيب.

هل النهي عن مُطْلِ الغَنِيِّ ليس التحريم؟

هل النهي عن النَّجَشِ (1) ليس التحريم؟ هل النهي عن بيع المصراة (2) ليس للتحريم؟ هل النهي عن البيع على البيع ليس للتحريم؟

 

هل من فعل شيئاً من ذلك لا يعاقب من الله؟

--------------------------------------------

(1) النجش: الزيادة في ثمن السلعة - أو في المهر - ليسمع بذلك فيزداد فيه.

(2) المصراة: هي الحلوب التي يترك لبَنُها في ضرعها فيعظم فتُعرض للبيع.
‌লেনদেন (معاملات) হালাল (حلال), হারাম (حرام) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিধান:

গবেষক ২৫ পৃষ্ঠায় বলেন: «আমরা দ্রুতই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, আকীদা (عقيدة), ইবাদত (عبادة), হালাল (حلال), হারাম (حرام), দণ্ডবিধি, আখলাক ও আদব সম্পর্কিত দ্বীনি বিষয়ে রাসুল (সা.) থেকে যা কিছু প্রকাশ পায়, তা অনুধাবন করা ব্যতীত আমাদের অন্য কোনো ভূমিকা নেই... সুতরাং আল্লাহর তাওহিদ সংক্রান্ত যা কিছু এসেছে... অথবা হারাম করা (تحريم) কিংবা হালাল করা (تحليل) সংক্রান্ত যা কিছু এসেছে... নীতিগতভাবে এই সবকিছুর মধ্যে মানুষের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই, কারণ এটি ওহিপ্রাপ্ত (موحى إليه) রাসুলের বিশেষ এখতিয়ারভুক্ত»।

 

তিনি ২৬ পৃষ্ঠায় বলেন: «কিন্তু জীবনযাত্রায় মানুষের লেনদেন (معاملات) যেমন: ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা, কিরাদ (قراض), কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (لقطة) ও সালাম (سلم) সম্পর্কিত অনেক হাদিস রয়েছে... এই বিষয়গুলো কি প্রথমোক্ত বিষয়গুলোর মতোই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) হিসেবে গণ্য হবে... চাই সেই ওহি সরাসরি হোক, কিংবা মৌন (سكوتي) বা সম্মতিসূচক (إقراري) হোক? নাকি এগুলোর অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে?»।

 

মনে হচ্ছে গবেষক লেনদেনকে (معاملات) হারাম (تحريم) ও হালাল (تحليل) করার অন্তর্ভুক্ত করছেন না, আর এটি একটি অদ্ভুত বুঝ।

সামর্থ্যবান ব্যক্তির পাওনা আদায়ে টালবাহানা করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা (نهي) এসেছে, তা কি হারাম (تحريم) নয়?

নাযাশ (نجش) (১) এর ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা (نهي) রয়েছে, তা কি হারাম (تحريم) নয়? মুসাররাহ (مصراة) (২) বিক্রয় করার নিষেধাজ্ঞা (نهي) কি হারামের (تحريم) জন্য নয়? অন্যের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা করার নিষেধাজ্ঞা (نهي) কি হারামের (تحريم) জন্য নয়?

 

যে ব্যক্তি এর কোনোটি করবে, সে কি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির সম্মুখীন হবে না?

--------------------------------------------

(১) নাযাশ (النجش): পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া—অথবা মোহরানা বাড়িয়ে দেওয়া—যাতে অন্যরা তা শুনে দাম বাড়িয়ে দেয়।

(২) মুসাররাহ (المصراة): এটি এমন দুগ্ধবতী পশু যার ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা হয় যাতে ওলান বড় দেখায় এবং বিক্রির জন্য পেশ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
أنا لا أفهم المعاملات إلَاّ أنها تحليل أو تحريم، واجبة أو مندوبة أو مباحة، أو مُحرَّمة أو مكروهة، ولها أو عليها ثواب أو عقاب حتى معاملة الرجل لزوجه وقضاء مأربه منها يحكمها الحلال والحرام: «وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، يَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَلَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟». الحديث أخرجه مسلم في كتاب الزكاة.

 

إنَّ الميزة الكبرى التي امتاز بها الإسلام عن غيره من الديانات تظهر بشكل واضح في تنظيمه المعاملات بين الناس من بيع وشراء ورهن وإجارة وقراض ومزارعة ومساقاة ولقطة وشركة ووكالة وشُفعة وحوالة واستقراض وربا وكفالة وهِبَة ونكاح وخصومات وشهادات وصُلح وشروط ووصايا وغير ذلك، حتى الخدمات العامة عنى بها الإسلام، فجعل إزالة الشوكة من الطريق شُعبة مِنْ شُعَبِ الإيمان.

 

إنَّ الإسلام ارتفع بالمعاملات إلى السماحة والرفق والإحسان، بعد أنْ ثبت أركان الحقوق وحذَّر من المظالم، تدبر معي هذه الحادثة:

خصمان ترتفع أصواتهما على بابه صلى الله عليه وسلم وهما في الطريق. دائن ومدين، دائن حلَّ ميعاد دَيْنِهِ، فأجَّلَ المَدِينُ غير القادر مرَّةً ومرَّةً، ومدين يعتذر للدائن ويسترفقه، ويطلب منه أنْ يَحُطَّ عنه بعض الدَيْنِ أو يؤجله مرة أخرى، والدائن يقسم ألَاّ يفعل.
আমি লেনদেনকে হালাল বা হারাম সাব্যস্তকরণ, কিংবা এটি ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মুবাহ, হারাম অথবা মাকরূহ হওয়া ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বুঝি না; যার সপক্ষে সওয়াব কিংবা বিপক্ষে শাস্তি রয়েছে। এমনকি স্ত্রীর সাথে কোনো ব্যক্তির আচরণ এবং তার মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন পূরণও হালাল ও হারামের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত: «তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনে সদকা রয়েছে।’ তারা বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কেউ কি নিজের প্রবৃত্তি পূরণ করবে আর তাতেও কি তার জন্য সওয়াব থাকবে?’ হাদিসটি মুসলিম তার যাকাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

 

ইসলাম অন্যান্য ধর্ম থেকে যে মহান বৈশিষ্ট্যে স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত হয়েছে, তা মানুষের পারস্পরিক লেনদেন যেমন—ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা, কিরাজ (অংশীদারি কারবার), মুযারাআত (বর্গা চাষ), মুসাকাত (সেচ চুক্তি), কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, অংশীদারিত্ব, প্রতিনিধিত্ব, অগ্রক্রয়াধিকার, ঋণ স্থানান্তর, ঋণ গ্রহণ, সুদ, জামিনদারিত্ব, দান, বিবাহ, বিবাদ-বিসংবাদ, সাক্ষ্য প্রদান, সন্ধি, শর্তাবলি, অসিয়ত ইত্যাদির সুশৃঙ্খল বিন্যাসে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এমনকি জনসেবামূলক কাজগুলোর প্রতিও ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে; ফলে রাস্তা থেকে কাঁটা সরানোকেও ঈমানের অন্যতম একটি শাখা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।

 

ইসলাম অধিকারের স্তম্ভসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং জুলুমের ব্যাপারে সতর্ক করার পর লেনদেনকে মহানুভবতা, কোমলতা ও ইহসানের স্তরে উন্নীত করেছে। আমার সাথে এই ঘটনাটি নিয়ে চিন্তা করুন: দুই বিবাদমান ব্যক্তির উচ্চকণ্ঠ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজার সামনে শোনা যাচ্ছিল। তারা ছিল পাওনাদার ও দেনাদার। পাওনাদারের ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছিল, কিন্তু সামর্থ্যহীন দেনাদার বারবার সময়ক্ষেপণ করছিল। দেনাদার পাওনাদারের কাছে ওজর পেশ করছিল এবং সদয় হওয়ার অনুরোধ করছিল; সে চাচ্ছিল যেন পাওনাদার ঋণের কিছু অংশ মওকুফ করে দেয় অথবা তাকে পুনরায় সময় দেয়। কিন্তু পাওনাদার শপথ করছিল যে, সে তা করবে না।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
يخرج صلى الله عليه وسلم ويقول: «أَيْنَ الْمُتَأَلِّى عَلَى اللَّهِ ألَاّ يَفْعَلُ الْمَعْرُوفَ؟». فيقول الدائن: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا فَلَهُ أَىُّ ذَلِكَ أَحَبَّ (1).

 

طاعة رائعة في المعاملات لمجرد الإشارة، لم يقل الدائن: حقي أتمسَّك به، ولم يرفض عرض التسامح، ولو أنه فعل - كما فعل أبو لبابة في الواقعة الآتية - لم يكن آثماً، وإنما استحباب للتنازل عن الحق للغير طلباً للأجر عند الله الذي وعد به رسول الله صلى الله عليه وسلم.

 

نعم كان بعض المسلمين يتمسك بحقه، فليس كل الناس يرقى، ولكنهم كانوا لا يظلمون، وهذا هو الحد الأدنى في المعاملات، ولئن وجد بعض المتمسِّكين بحقوقهم فإنه يوجد بجوارهم من يؤثر ويُضَحِّي ويشتري الآخرة بالأولى.

 

تخاصم يتيم وأبو لبابة في نخلة، ولم يكن مع اليتيم بيِّنَة، فحكم النبي صلى الله عليه وسلم بالنخلة لأبي لبابة، فبكى اليتيم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي لبابة: «أعطه النخلة ولك بها نخلة في الجنة». فقال أبو لبابة: لا. فسمع بذلك أبو الدحداح، فاشترى النخلة من أبي لبابة بعد أن أخذ يزيده في ثمنها حتى قبِلَ بدلها حديقة كاملة، ثم قال أبو الدحداح للنبي صلى الله عليه وسلم: ألِي نخلة في الجنة إنْ أعطيتها اليتيم؟ قال صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ». فأعطاها اليتيم .. فلما مات أبو الدحداح شيَّعَهُ صلى الله عليه وسلم إلى قبره، ثم قال للمُشَيِّعِين: «كَمْ مِنْ عِذْقٍ مُعَلَّقٍ فِي الْجَنَّةِ لأَبِي الدَّحْدَاحِ» (2).

 

هل يقال بعد ذلك:

إنَّ المعاملات ليست من الحلال والحرام؟ هل يقال بعد

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب الصلح.

(2) معنى حديث أخرجه مسلم.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে বলতেন: «কোথায় সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে সে কোনো নেক কাজ করবে না?». তখন পাওনাদার বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমিই সেই ব্যক্তি, সুতরাং পাওনাগ্রহীতা যা পছন্দ করে তার জন্য তাই হবে (১)।

 

লেনদেনের ক্ষেত্রে সামান্য ইশারায় কী চমৎকার আনুগত্য! পাওনাদার এ কথা বলেনি যে: আমি আমার অধিকার ছাড়ব না, কিংবা সে ক্ষমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়নি। আর যদি সে তা করত—যেমনটি পরবর্তী ঘটনায় আবু লুবাবা করেছেন—তবে সে পাপী হতো না। বরং এটি আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায় অন্যের জন্য নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়ার একটি মুস্তাহাব (استحباب) বিষয় ছিল, যার প্রতিশ্রুতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন।

 

হ্যাঁ, কিছু মুসলিম নিজের পাওনা বা অধিকারে অটল থাকতেন, কারণ সব মানুষ তো আর একই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু তারা অন্তত জুলুম করতেন না; আর লেনদেনের ক্ষেত্রে এটাই হলো সর্বনিম্ন স্তর। আর যদি নিজের অধিকার আঁকড়ে ধরা কিছু মানুষ থেকে থাকে, তবে তাদের পাশেই এমন সব লোক ছিলেন যারা অন্যকে অগ্রাধিকার দিতেন, ত্যাগ স্বীকার করতেন এবং দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাতকে কিনে নিতেন।

 

একটি খেজুর গাছ নিয়ে এক এতিম এবং আবু লুবাবার মধ্যে বিবাদ তৈরি হলো। এতিমের কাছে কোনো প্রমাণ (بيّنة) ছিল না, ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর গাছটির ফয়সালা আবু লুবাবার পক্ষে দিলেন। তখন এতিমটি কেঁদে ফেলল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু লুবাবাকে বললেন: «তাকে গাছটি দিয়ে দাও, এর বিনিময়ে জান্নাতে তোমার জন্য একটি খেজুর গাছ থাকবে।» আবু লুবাবা বললেন: না। আবু দাহদাহ এ কথা শুনতে পেয়ে আবু লুবাবার কাছ থেকে গাছটি কেনার চেষ্টা করলেন এবং দাম বাড়াতে বাড়াতে শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণ বাগানের বিনিময়ে সেটি কিনে নিলেন। এরপর আবু দাহদাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: আমি যদি গাছটি ওই এতিমকে দিয়ে দিই, তবে কি জান্নাতে আমার জন্য একটি খেজুর গাছ বরাদ্দ হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হ্যাঁ।» তখন তিনি সেটি এতিমকে দিয়ে দিলেন। এরপর যখন আবু দাহদাহ মারা গেলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাজায় শরিক হয়ে কবরের পথ পর্যন্ত তাকে বিদায় জানাতে গেলেন। অতঃপর তিনি অনুগামীদের বললেন: «আবু দাহদাহর জন্য জান্নাতে কতই না ঝুলন্ত খেজুরের ছড়া রয়েছে!» (২)।

 

এরপরও কি বলা যায় যে:

লেনদেন বা মুয়ামালাত হালাল ও হারামের অন্তর্ভুক্ত নয়? এরপরও কি বলা যায়...

--------------------------------------------

(১) বুখারি কিতাবুস সুলহ-এ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত (أخرجه) একটি হাদিসের অর্থ।