(খণ্ড: ১) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: -)
أسماء جبال تهامة وسكانها - ضمن نوادر المخطوطات   (عرام بن الأصبغ)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: أسماء جبال تهامة وسكانها وما فيها من القرى وما ينبت عليها من الأشجار وما فيها من المياه

[مطبوع ضمن كتاب «نوادر المخطوطات»]

المؤلف: عرام بن الأصبغ السلمى (عاش في القرن الثالث الهجري)

تحقيق: عبد السلام هارون

الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر

الطبعة: الثانية، 1393 هـ‍ - 1972 م

عدد الصفحات: 65

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 محرم 1444

তিহামার পাহাড়সমূহের নাম ও এর অধিবাসীবৃন্দ - বিরল পাণ্ডুলিপিসমূহ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত   (আররাম বিন আল-আসবাহ)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


কিতাব: তিহামার পাহাড়সমূহের নাম, এর অধিবাসীবৃন্দ, সেখানকার গ্রামসমূহ, সেখানে উৎপন্ন বৃক্ষরাজি এবং সেখানকার জলাশয়সমূহ

[«বিরল পাণ্ডুলিপিসমূহ» কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত]

লেখক: আররাম বিন আল-আসবাহ আস-সুলামী (তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন)

তাহকিক (সম্পাদনা): আবদুস সালাম হারুন

প্রকাশক: শিরকাতু মাকতাবাতি ওয়া মাতবাআতি মুস্তাফা আল-বাবিল হালাবি ওয়া আওলাদুহু, মিশর

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ মহররম ১৪৪৪

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
بسم اللّه الرّحمن الرّحيم

 

‌‌تقديم

هذه هي المجموعة الثامنة من (نوادر المخطوطات)، وقد تضمنت كتاب عرام بن الأصبغ السلمى في (أسماء جبال تهامة وسكانها، وما فيها من القرى، وما ينبت عليها من الأشجار وما فيها من المياه)، كما تضمنت (الفهارس العامة) للمجلد الثاني من نوادر المخطوطات، طبقا للنظام الذي اتبع في المجلد الأول.

وكنت قد وعدت بنشر هذا الكتاب في المجموعة الأولى من (نوادر المخطوطات) ولم تهيأ لي فرصة نشره إذ ذاك، واتفقت أحوال دعتني إلى إفراده بالنشر خارج نطاق نوادر المخطوطات، ثم رأيت أن أنجز الوعد الذي وعدت فأعيد نشره في نطاق النوادر نشرة أوفى وأضوأ من تلك النشرة الأولى.

وتمتاز هذه النشرة الثانية بإضافة عدة تصحيحات وتعليقات وقعت إلينا بعد أداء النشرة الأولى، وكذلك بضع تصحيحات وتعليقات للأستاذ الشيخ حمد الجاسر.

ومما تمتاز به عقد مقارنة تحقيقية بين نشرتى الأولى والثانية للكتاب وبين نشرة الصديق العلامة عبد العزيز الميمنى الراجكوتى الأستاذ بجامعة عليكرة بالهند.

وكذلك إضافة أرقام صفحات نسخة الأصل.

وقد استدعى نظام نوادر المخطوطات أن ألغى الفهارس الخاصة بهذه الرسالة لأدمجها في الفهرس العام لهذا المجلد الثاني من النوادر، وهو ملحق بهذه المجموعة، ولم أحتفظ من تلك الفهارس الخاصة إلا بفهرس النبات والحيوان، لأنهما لا نظير لهما في الفهارس العامة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

এটি হলো (দুর্লভ পাণ্ডুলিপি)-র অষ্টম সংকলন। এতে আরাম বিন আসবাগ আস-সুলামীর (তিহামার পাহাড়সমূহের নাম, সেখানকার অধিবাসী, গ্রামসমূহ, সেখানে জন্মানো বৃক্ষরাজি এবং সেখানকার জলাশয়সমূহ) বিষয়ক গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এতে (দুর্লভ পাণ্ডুলিপি)-র দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য প্রণীত (সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রথম খণ্ডে অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

আমি (দুর্লভ পাণ্ডুলিপি)-র প্রথম সংকলনেই এই বইটি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু তখন তা প্রকাশের সুযোগ আমার হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয় যার ফলে আমি এটি (দুর্লভ পাণ্ডুলিপি)-র গণ্ডির বাইরে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ হই। অতঃপর আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সংকল্প করি এবং পূর্বের সেই প্রথম সংস্করণের তুলনায় আরও পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্টভাবে একে পুনরায় ‘দুর্লভ পাণ্ডুলিপি’ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশ করছি।

এই দ্বিতীয় সংস্করণটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এতে বেশ কিছু সংশোধন ও টীকা সংযোজন করা হয়েছে, যা প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর আমাদের হস্তগত হয়েছে। সেই সঙ্গে এতে উস্তাদ শেখ হামাদ আল-জাসিরের বেশ কিছু সংশোধন ও টীকাও যুক্ত করা হয়েছে।

এই সংস্করণের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, বইটির আমার সম্পাদিত প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণের সাথে ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রাজ্ঞ বন্ধু আল্লামা আব্দুল আজিজ আল-মাইমানী আল-রাজকুতীর সম্পাদিত সংস্করণের একটি তাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক তুলনা পেশ করা হয়েছে।

তদুপরি, এতে মূল পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরসমূহও যুক্ত করা হয়েছে।

‘দুর্লভ পাণ্ডুলিপি’ সিরিজের নিয়ম অনুযায়ী এই রিসালার (ক্ষুদ্র গ্রন্থ) নির্দিষ্ট নির্ঘণ্টসমূহ বাদ দিয়ে সেগুলোকে এই দ্বিতীয় খণ্ডের সাধারণ নির্ঘণ্টের সাথে একীভূত করার প্রয়োজন দেখা দেয়, যা এই সংকলনের সাথে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত আছে। আমি সেই বিশেষ নির্ঘণ্টগুলো থেকে কেবল উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের নির্ঘণ্টটিই বহাল রেখেছি, কারণ সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহে এগুলোর কোনো সমরূপ তালিকা নেই।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৪)
‌‌مقدمة التحقيق للنشرة الأولى (1)

‌‌تهامة:

«تهامة» كلمة يختلف مدلولها اختلافا شديدا، فهي تمتد طولا ما بين عدن إلى تخوم الشام مسايرة شاطئ البحر، وهي تنكمش أحيانا من الشمال أو من الجنوب، ويختلف علماء البلدان الأقدمون في ذلك. ولعل أصدق دليل على هذا ما ذكره عرام في صدر كتابه هذا، أن أول جبال تهامة هو «رضوى»، وهو من ينبع على يوم.

ويبدو أن ذلك الانبساط والانكماش جاء في مختلف العصور نتيجة للسلطان السياسي أو القبلي الذي كان يسود تلك المنطقة أو يتقلص عنها.

على أن اللغة تعيننا عونا تاما في هذه القضية، إذ أن اشتقاق تهامة من «التهم»، وهو تغير الريح وركودها وشدة الحر. فالامتداد الساحلى من جنوب اليمن إلى تخوم الشام هو الذي تصدق عليه هذه التسمية.

وإن الراجع إلى أقوال العلماء القدماء ليفهم أن تقسيم الجزيرة العربية يخضع إلى حدّ ما للحجاز، وهو الجبل الممتد الذي حجز بين شطرين جغرافيين متباينين من الجزيرة، أحدهما مرتفع وهو نجد، والآخر منخفض عنه غائر وهو غور تهامة. وسراة هذا الجبل، أي أعاليه، هي ما يسمى بالسراة، ممتدة ما بين أقصى اليمن وأدنى الشام.

فبالطبيعة الجغرافية تكون تهامة هي الغور الضيق الذي يساير بحر القلزم،

--------------------------------------------

(1) أظهرت هذه النشرة في كتاب مستقل في تاريخ غرة جمادى الثانية سنة 1372.

‌প্রথম সংস্করণের সম্পাদকের ভূমিকা (১)

‌‌তিহামাহ:

«তিহামাহ» এমন একটি শব্দ যার অর্থের পরিধি নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। এটি লোহিত সাগরের উপকূল বরাবর দক্ষিণ দিকে এডেন থেকে শুরু করে উত্তর দিকে শামের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। কখনো কখনো উত্তর বা দক্ষিণ দিক থেকে এর সীমানা সংকুচিত করা হয় এবং প্রাচীন ভূগোলবিদগণ এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। সম্ভবত এর সবচেয়ে সঠিক প্রমাণ হলো আররাম তাঁর এই বইয়ের শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন—তিহামাহর প্রথম পাহাড় হলো «রাদওয়া», যা ইয়ানবু থেকে একদিনের পথ দূরত্বে অবস্থিত।

প্রতীয়মান হয় যে, বিভিন্ন যুগে এই সীমানার বিস্তৃতি বা সংকোচন সেই অঞ্চলে বিরাজমান রাজনৈতিক বা গোত্রীয় আধিপত্যের ফলস্বরূপ ছিল যা সেই অঞ্চলে বিস্তার লাভ করত কিংবা হ্রাস পেত।

তবে ভাষাতত্ত্ব আমাদের এই বিষয়ে পূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। কেননা «তিহামাহ» শব্দটি «আত-তাহাম» থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো বাতাসের পরিবর্তন ও স্থবিরতা এবং প্রচণ্ড গরম। ইয়েমেনের দক্ষিণ থেকে শামের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলটির ক্ষেত্রেই এই নামকরণটি যথার্থভাবে প্রযোজ্য।

প্রাচীন আলেমদের বক্তব্যের দিকে ফিরে তাকালে এটি অনুধাবন করা যায় যে, আরব উপদ্বীপের বিভাজন অনেকটা হিজাজের ওপর নির্ভরশীল। হিজাজ হলো সেই সুদীর্ঘ পর্বতমালা যা উপদ্বীপের দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক অংশের মধ্যে অন্তরায় বা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর একটি অংশ উঁচু যা হলো নজদ, আর অন্য অংশটি নিচু ও গভীর যা হলো গাওরে তিহামাহ। এই পর্বতমালার উপরিভাগ বা উচ্চভূমিকে «সারাআত» বলা হয়, যা সুদূর ইয়েমেন থেকে শামের নিকটবর্তী এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভৌগোলিক প্রকৃতি অনুযায়ী, তিহামাহ হলো সেই সংকীর্ণ নিম্নভূমি যা লোহিত সাগরের (বাহরে কুলজুম) সমান্তরালে অবস্থিত।

--------------------------------------------

(১) এই সংস্করণটি ১৩৭২ হিজরীর পহেলা জুমাদাস সানি তারিখে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
ضاربا من الجانب العربي لشبه جزيرة طور سينا إلى أقصى الجنوب من بلاد اليمن.

ويختلف عرضها اختلافا كبيرا، فهي بين الطور والسويس جزء ضيق من الساحل(1). وأوسع موضع في تهامة هو ساحل جدة. وهناك تهامة اليمن، وتهامة

 

‌‌الحجاز.

وكانت تهامة اليمن في بعض العهود ولاية قائمة بذاتها، ولا سيما في عهد الفتح الفارسي لليمن في نهاية القرن السادس الميلادي، ثم ولى تهامة هذه من بعد بنو زياد، وكانت حاضرتها «زبيد»، ثم أصبحت ولاية خاضعة لأئمة صنعاء.

وهناك تهامة أخرى في غير الجزيرة العربية، وهي على الشاطئ الغربى للبحر، وهي (تهامة الحبشة)، ذكرها ابن خرداذبه(2)، وهو يعنى بذلك ما يعرف اليوم بساحل «إرتيريا».

أما تهامة الذي يعنيها عرام في كتابه هذا فهي (تهامة الحجاز) لا ريب، يجعل أول جبالها الشمالية «رضوى» وهي من ينبع على يوم، ومن المدينة على سبع مراحل، وحدها الجنوبي الطائف وقراها.

ومع أن ظاهر هذا الكتاب أنه خاص بجبال تهامة وسكانها وما يتعلق بها، الواقع أنه يشمل الكلام على تهامة والحجاز. فنحن نجد أن ما يخص تهامة ينتهى عندما يقرب من ثلاثة أخماس الكتاب، أي في ص 49. ثم نجد فصلا معقودا لحد الحجاز، يتناول كثيرا من البلدان والقرى والجبال والمواقع الحجازية المجاورة للمدينة. وهي وإن يكن ذكرها جاء تبعا لذكر تهامة لملاصقتها لها ومصاقبتها، فإنها ظفرت بنصيب وافر من عناية عرام، واحتلت مكانا أصيلا من الكتاب.

وأنت حينما تنتهى إلى خاتمة الكتاب تلفى هذا النص، «تم كتاب أسماء جبال مكة والمدينة وما يتصل بها».

وقد يوحى هذا النص بأنهما كتابان أحدهما لتهامة والآخر لمكة والمدينة. وليس الأمر إلا ما ذكرت من استطراد عرام، وأن كلمة «كتاب» لا تعنى إلا ما كتبه

--------------------------------------------

(1) انظر دائرة المعارف الإسلامية (تهامة).

(2) المكتبة الجغرافية (6: 155).

এটি সিনা উপদ্বীপের আরব পার্শ্ব থেকে ইয়ামেন ভূখণ্ডের সুদূর দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত।

এর প্রশস্ততা ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়; তোর এবং সুয়েজের মধ্যবর্তী স্থানে এটি উপকূলের একটি সংকীর্ণ অংশ(১)। তিহামাহর প্রশস্ততম স্থান হলো জেদ্দার উপকূল। সেখানে তিহামাতুল ইয়ামেন এবং তিহামাতুল হিজাজ রয়েছে।

 

‌‌হিজাজ।

তিহামাতুল ইয়ামেন কোনো কোনো যুগে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ হিসেবে বিদ্যমান ছিল, বিশেষ করে ষষ্ঠ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শেষভাগে ইয়ামেন পারস্য বিজয়ের সময়কালে। অতঃপর বনু যিয়াদ এই তিহামাহ শাসন করেন এবং এর রাজধানী ছিল «যাবিদ»। পরবর্তীতে এটি সানার ইমামদের অধীনস্থ একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

আরব উপদ্বীপের বাইরেও আরও একটি তিহামাহ রয়েছে, যা সমুদ্রের পশ্চিম তীরে অবস্থিত, আর তা হলো (তিহামাতুল হাবাশা বা আবিসিনিয়ার তিহামাহ)। ইবনে খুরদাদবিহ(২) এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর দ্বারা তিনি বর্তমানের «ইরিত্রিয়া» উপকূলকে বুঝিয়েছেন।

তবে আররাম তার এই গ্রন্থে যে তিহামাহকে বুঝিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে (তিহামাতুল হিজাজ)। তিনি এর উত্তরের পাহাড়গুলোর শুরু হিসেবে «রাদওয়া» পাহাড়কে নির্ধারণ করেছেন, যা ইয়ানবু থেকে একদিনের দূরত্বে এবং মদিনা থেকে সাত মনজিল দূরে অবস্থিত। আর এর দক্ষিণ সীমা হলো তায়েফ এবং এর পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহ।

যদিও বাহ্যিকভাবে এই গ্রন্থটি তিহামাহর পাহাড়, এর অধিবাসী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির জন্য নির্দিষ্ট মনে হয়, তবে বাস্তবে এটি তিহামাহ এবং হিজাজ—উভয় প্রসঙ্গের আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা দেখতে পাই যে, তিহামাহ সংশ্লিষ্ট অংশটি বইটির প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ৪৯ পৃষ্ঠায় গিয়ে শেষ হয়েছে। অতঃপর আমরা হিজাজের সীমানা নির্ধারণে একটি অধ্যায় পাই, যেখানে মদিনার নিকটবর্তী হিজাজের অনেক জনপদ, গ্রাম, পাহাড় এবং স্থানের বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও এগুলোর উল্লেখ তিহামাহর বর্ণনার অনুবর্তী হিসেবে এসেছে—যেহেতু এগুলো তিহামাহর সাথে সংলগ্ন ও নিকটবর্তী—তবুও সেগুলো আররামের কাছ থেকে প্রচুর মনোযোগ লাভ করেছে এবং গ্রন্থে একটি মৌলিক স্থান দখল করে নিয়েছে।

আপনি যখন বইটির সমাপ্তিতে পৌঁছাবেন, তখন এই পাঠটি পাবেন: «মক্কা ও মদিনার পাহাড়সমূহের নাম এবং তৎসংশ্লিষ্ট বর্ণনার বই সমাপ্ত হলো»।

এই পাঠটি এমন ধারণা দিতে পারে যে এগুলো দুটি ভিন্ন বই—একটি তিহামাহর জন্য এবং অন্যটি মক্কা ও মদিনার জন্য। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, বরং আমি যা উল্লেখ করেছি তা আররামের বর্ণনার প্রাসঙ্গিক বিস্তৃতি মাত্র; আর «কিতাব» শব্দটি তিনি যা লিখেছেন কেবল তাকেই বুঝায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইসলামী বিশ্বকোষ (তিহামাহ)।

(২) আল-মাকতাবাতুল জুগরাফিয়্যাহ (৬: ১৫৫)।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
في هذه الناحية، فإن الأقدمين لم يذكروا لعرام إلا هذا الكتاب «كتاب أسماء جبال تهامة»، وعنه ينقل الناقلون والمؤلفون.

 

‌‌نسبة هذا الكتاب:

ينسب هذا الكتاب إلى «أبى الأشعث الكندي(1)»، وهو عبد الرحمن بن محمد بن عبد الملك، وهو الذي روى الكتاب مباشرة عن «عرام». ولم أجد لأبى الأشعث ترجمة، ولكن من المرجح أنه من رجال القرن الثالث، إذ أن شيخه «ابن أبي سعد» كانت وفاته سنة 174.

ومن عجب أن ياقوتا لم ينسب الكتاب إلى عرام في مقدمته، ولكن نسبه إليه في مواضع مختلفة من صلب الكتاب.

وينسب هذا الكتاب أيضا إلى «السكوني»، قال البكري: «وجميع ما أورده في هذا الكتاب عن السكوني فهو من كتاب أبى عبيد اللّه بن بشر السكوني(2) في جبال تهامة ومحالها، يحمل جميع ذلك عن أبي الأشعث عبد الرحمن بن محمد بن عبد الملك الكندي، عن عرام بن الأصبغ السلمى الأعرابي».

وقد رجعت إلى النصوص التي عزاها البكري في معجمه إلى السكوني فوجدت كثيرا منها زائدا على كتابنا هذا، مما يدل على أن «السكوني» جعل الكتاب أساسه في الرواية، ولكنه زاد عليه كثيرا من التعليقات والإضافات، شأن كثير من رواة الكتب الأقدمين.

ومن أمثلة ذلك ما ورد في ص 659 من معجم البكري: «وقال السكوني بإسناده عن موسى بن إسحاق بن عمارة قال: مررنا بالبغيبغة مع محمد بن عبد اللّه بن حسن وهي عامرة، فقال: أتعجبون لها، واللّه لتموتن حتى لا يبقى فيها خضراء ثم لتعيشن ثم لتموتن. وقال السكوني في ذكر مياه ضمرة: كانت البغيبغة وغيقة وأذناب الصفراء

--------------------------------------------

(1) مقدمة معجم البلدان لياقوت ص 8.

(2) السكوني هذا كندى أيضا مثل أبى الأشعث، فإن السكون، بفتح السين، بطن من كندة.

এই দিক থেকে, প্রাচীনগণ আররামের জন্য কেবল এই গ্রন্থটির কথাই উল্লেখ করেছেন—'কিতাব আসমা জিবাল তিহামাহ' (তিহামার পর্বতসমূহের নাম বিষয়ক গ্রন্থ), এবং এটি থেকেই বর্ণনাকারী ও লেখকগণ উদ্ধৃতি গ্রহণ করেন।

 

‌‌এই গ্রন্থের সম্বন্ধায়ন:

এই গ্রন্থটি 'আবু আল-আশআদ আল-কিন্দি'র(১) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক। তিনিই সরাসরি 'আররাম' থেকে গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন। আমি আবু আল-আশআদের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, তবে প্রবল ধারণা যে তিনি তৃতীয় শতাব্দীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন; কেননা তাঁর শিক্ষক 'ইবনে আবি সা'দ' ১৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, ইয়াকুত তাঁর মুখবন্ধে গ্রন্থটিকে আররামের প্রতি সম্বন্ধ করেননি, তবে গ্রন্থের মূল পাঠের বিভিন্ন স্থানে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন।

এই গ্রন্থটি 'আস-সুকুনি'র প্রতিও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আল-বাকরি বলেছেন: "এই গ্রন্থে আস-সুকুনি থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা তিহামার পর্বতমালা ও এর স্থানসমূহ সম্পর্কে আবু উবায়দুল্লাহ ইবনে বিশর আস-সুকুনির গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। তিনি এসব বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশআদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক আল-কিন্দি থেকে, আর তিনি আররাম ইবনে আল-আসবাগ আস-সুলামি আল-আরাবি থেকে।"

আল-বাকরি তাঁর অভিধানে আস-সুকুনির দিকে যেসব পাঠ সম্বন্ধ করেছেন, আমি সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছি যে তার অনেক কিছুই আমাদের এই গ্রন্থের অতিরিক্ত। এটি নির্দেশ করে যে, 'আস-সুকুনি' বর্ণনার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটিকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি এতে অনেক টীকা ও সংযোজন যুক্ত করেছেন, যা প্রাচীন গ্রন্থ বর্ণনাকারীদের অনেকেরই বৈশিষ্ট্য ছিল।

এর একটি উদাহরণ হলো আল-বাকরির অভিধানের ৬৫৯ পৃষ্ঠায় যা বর্ণিত হয়েছে: "আস-সুকুনি তাঁর সনদসহ মুসা ইবনে ইসহাক ইবনে উমারা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসানের সাথে বাগাইবাগা অতিক্রম করছিলাম যখন এটি জনাকীর্ণ ও সজীব ছিল। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি এটি দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে যতক্ষণ না এতে কোনো সবুজ অবশিষ্ট থাকবে, অতঃপর তোমরা পুনরায় জীবিত হবে, তারপর আবার মৃত্যুবরণ করবে। আস-সুকুনি 'দামরাহ'র জলাশয়গুলোর বর্ণনায় বলেছেন: বাগাইবাগা, গাইকা এবং আদনাবুস সাফরা ছিল...

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুতের 'মুজামুল বুলদান'-এর মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ৮।

(২) এই আস-সুকুনিও আবু আল-আশআদের মতো কিন্দি বংশোদ্ভূত; কেননা 'সুকুন' (সীন বর্ণে জবরসহ) হলো কিনদাহ গোত্রের একটি শাখা।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
مياها لبنى غفار من ضمرة. قال السكوني: كان العباس بن الحسن يكثر صفة ينبع للرشيد فقال له يوما: قرب لي صفتها. فقال:

يا وادى القصر نعم القصر والوادي … من منزل حاضر إن شئت أو بادي

تلقى قراقيره بالعقر واقفة … والضب والنون والملاح والجادى»

فهذا نص واضح أنه ليس من كتاب عرام، وليس مما رواه السكوني عن عرام.

وفي ص 811: «وروى السكوني عن رجاله عن طارق بن عبد الرحمن، قال لسعيد بن المسيب: مررنا على مسجد الشجرة فصلينا فيه. فقال: ومن أين يعلم ذلك؟ قال: سمعت الناس يقولونه .. » إلخ. فهذا تعليق على «الحديبية» ومسجدها.

وهو مسجد الشجرة، وليس هذا من كتاب عرام في شيء.

وهذا نص ثالث ليس من كتاب عرام ولا من منهجه في كتابه، قال السكوني(1): إذا أردت أن تصدق الأعراب إلى العجز - يريد عجز هوازن - ترتحل من المدينة فتنزل ذا الغصة وهي للسلطان، فتصدق بنى عوال من بنى ثعلبة بن سعد. ثم تنزل الأبرق أبرق الحمى وهي لبنى أبى طالب. ثم تنزل الربذة ثم عريج وهي لحرام بن عدي بن جشم بن معاوية. ثم تنزل الماعزة - ويقال الماعزية - وهي لبنى عامر، من بنى البكاء، ثم تنزل بطن تربة فتصدق هلال بن عامر والضباب.

ثم تنزل تريم وهي لبنى جشم. ثم تنزل السى فتصدق بنى هلال، ثم ناصفة وهي لبنى زمان بن عدي بن جشم، ثم الشيسة وهي لبنى زمان أيضا، ثم ترعى وهي لبنى جداعة، ثم تأتى بوانة.

فهذا دليل دامغ أن كتاب السكوني في جبال تهامة هو رواية حرة لكتاب عرام اعتمدت على التعليقات الكثيرة والإضافات الاستطرادية، ويكون البكري فضفاض العبارة في كلمته التي سقتها له.

ومهما يكن فإن نسختنا هذه كريمة الإسناد، يرويها السيرافى، الذي قيل إنه وضع كتابا في جزيرة العرب، عن أبي محمد السكرى، عن أبي سعد، عن عبد الرحمن بن محمد بن عبد الملك المعروف بأبى الأشعث الكندي، عن عرام.

--------------------------------------------

(1) معجم ما استعجم 1236.

দমরা গোত্রের বানু গিফারের জন্য জলাশয়। আস-সুকুনি বলেন: আল-আব্বাস ইবনুল হাসান আর-রশিদের কাছে ইয়ানবু-এর প্রচুর গুণগান করতেন। একদিন তিনি তাকে বললেন: "এর বর্ণনা আমার কাছে সংক্ষেপে উপস্থাপন করো।" তখন তিনি বললেন:

হে প্রাসাদের উপত্যকা, কতই না চমৎকার এই প্রাসাদ এবং উপত্যকা … নিবাসী বা মরুবাসী যে নিবাসই তুমি চাও না কেন

তুমি এর বৃহৎ জাহাজগুলোকে আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে … আর গুই সাপ, মাছ, নাবিক এবং জাফরান বিক্রেতাকেও

এটি একটি স্পষ্ট পাঠ্য যে, এটি আররামের গ্রন্থ থেকে নয় এবং আস-সুকুনি আররামের সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন তার অন্তর্ভুক্তও নয়।

এবং ৮১১ পৃষ্ঠায়: "আস-সুকুনি তার বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে তারিক ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বললেন: আমরা মাসজিদুশ শাজারাহর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং সেখানে সালাত আদায় করলাম। তিনি বললেন: তা কীভাবে জানা গেল? তিনি বললেন: আমি মানুষকে তা বলতে শুনেছি..." ইত্যাদি। এটি 'আল-হুদাইবিয়াহ' এবং এর মসজিদের ওপর একটি টীকা।

এটি মাসজিদুশ শাজারাহ, আর এটি কোনোভাবেই আররামের গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এটি তৃতীয় একটি পাঠ্য যা আররামের গ্রন্থ থেকে নয় এবং তার গ্রন্থের পদ্ধতির সাথেও সংগতিপূর্ণ নয়। আস-সুকুনি(১) বলেন: তুমি যদি আল-আজুজ —এর অর্থ হলো হাওয়াজিন গোত্রের পশ্চাদভাগ— পর্যন্ত বেদুঈনদের থেকে জাকাত সংগ্রহ করতে চাও, তবে মদিনা থেকে যাত্রা করে 'যুল গুসসাহ'-তে অবতরণ করবে, যা সুলতানের মালিকানাধীন; সেখানে তুমি বনু সালাবা ইবনে সা’দ-এর অন্তর্ভুক্ত বনু আওয়ালের থেকে জাকাত সংগ্রহ করবে। এরপর তুমি 'আল-আবরাক'-এ অবতরণ করবে যা 'আবরাকুল হিমা' নামে পরিচিত এবং তা বনু আবি তালিবের মালিকানাধীন। তারপর তুমি 'আর-রাবাযাহ'-তে এবং এরপর 'উরাইজ'-এ নামবে, যা হারাম ইবনে আদি ইবনে জুশাম ইবনে মুয়াবিয়ার মালিকানাধীন। এরপর তুমি 'আল-মায়িজাহ'—একে 'আল-মায়িজিয়া'ও বলা হয়—নামবে যা বনু আল-বাক্কা-এর অন্তর্ভুক্ত বনু আমিরের মালিকানাধীন। এরপর তুমি 'বাতনে তুরবাহ'-তে নামবে এবং হিলাল ইবনে আমির ও আদ-দিবাব-এর থেকে জাকাত সংগ্রহ করবে।

এরপর তুমি 'তারিম'-এ নামবে যা বনু জুশামের মালিকানাধীন। এরপর 'আস-সায়্যি'-তে নামবে এবং বনু হিলালের থেকে জাকাত সংগ্রহ করবে। এরপর 'নাসিফাহ' যা বনু যামান ইবনে আদি ইবনে জুশামের মালিকানাধীন। এরপর 'আশ-শাইসাহ' যা বনু যামানেরই মালিকানাধীন। এরপর 'তুরা' যা বনু জাদাআহ-এর মালিকানাধীন। তারপর তুমি 'বুওয়ানাহ'-তে পৌঁছাবে।

এটি একটি অকাট্য প্রমাণ যে, তিহামার পাহাড়সমূহ নিয়ে আস-সুকুনি’র বইটি মূলত আররামের বইয়ের একটি মুক্ত বর্ণনা যা প্রচুর টীকা এবং আনুষঙ্গিক সংযোজনের ওপর নির্ভরশীল। আর আল-বাকরি তার যে বক্তব্য আমি উদ্ধৃত করেছি তাতে বেশ শিথিল শব্দ চয়ন করেছেন।

যাই হোক না কেন, আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটির সনদ অত্যন্ত চমৎকার। এটি আস-সিরাফি বর্ণনা করেছেন—যাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি আরব উপদ্বীপ নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন—তিনি আবু মুহাম্মদ আস-সুক্কারি থেকে, তিনি আবু সা'দ থেকে, তিনি আবু আল-আশআদ আল-কিন্দি নামে পরিচিত আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক থেকে, আর তিনি আররাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুজাম মা ইস্তাজাম ১২৩৬।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৮)
‌‌عرام بن الأصبغ السلمى:

ولم نعثر لعرام على ترجمة، إلا ما ذكره ابن النديم(1) عرضا عند سرده لأسماء الأعراب الذين دخلوا الحاضرة، فذكره قرينا لأبى الهيثم الأعرابي، وأبى المجيب الربعي، وأبى الجراح العقيلي، وقد ذكره باسمه كاملا، «عرام بن الأصبغ السلمى».

ويبدو أنه كان أحد أعراب بنى سليم ممن كانوا يطوفون بالبلدان ويتعرفون مسالكها فيكتسبون بذلك خبرة صادقة. واشتقاق «عرام» من العرامة بمعنى الشدة والقوة والشراسة. ويقال: عرمنا الصبى وعرم علينا، أي أشر، وقيل فرح وبطر، وقيل فسد. و «الأصبغ» اسم أبيه مأخوذ من الأصبغ، وهو من الخيل ما ابيضت ناصيته كلها، ومن الطير ما ابيض ذنبه.

 

‌‌عرام النحوي:

وأما عرام الذي ذكره ابن النديم في الفهرست(1)، والقفطي(2) في إنباه الرواة، فهو لقب لأحد النحويين. وعرام ليس اسما لذلك النحوي بل هو لقب له، واسمه أبو الفضل العباس بن محمد، أو المفضل بن عباس بن محمد. وكان هذا النحوي فيما ذكروا ماجنا رقيعا خفيف العقل، وهو بلا ريب غير عرام بن الأصبغ الذي يعد كتابه هذا وثيقة من أهم الوثائق البلدانية، وأما من أمهات المراجع الأصيلة.

 

‌‌نسخة الأصل:

أصل هذه النسخة فريدة في مكتبات العالم، وهو محفوظ في دار الكتب السعيدية بحيدر أباد في مجموعة برقم (365 حديث) وتاريخها يرجع إلى سنة 876.

والنسخة في ست ورقات، أي اثنتي عشرة صفحة، بكل صفحة منها 25 سطرا.

ومقياس الصفحة 18 … 20. وهي عسرة القراءة مكتوبة بخط نسخى غامض رديء فيه كثير من إهمال النقط، كما أنها كثيرة التحريف والتصحيف. وقد تغلبت على ما

--------------------------------------------

(1) ابن النديم 127 مصر 86 ليبسك.

(2) إنباه الرواة القسم الرابع من المجلد الثاني ص 399 مصورة دار الكتب المصرية.

উররাম ইবনে আল-আসবাহ আস-সুলামী:

আমরা উররামের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, কেবল ইবনে আল-নাদিম(১) জনপদে প্রবেশকারী বেদুইনদের নামের তালিকা বর্ণনার সময় প্রাসঙ্গিকভাবে যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া। তিনি তাকে আবু আল-হাইসাম আল-আরাবি, আবু আল-মুজিব আল-রাবায়ি এবং আবু আল-জাররাহ আল-উকাইলির সমসাময়িক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি তার পূর্ণ নাম এভাবে উল্লেখ করেছেন, «উররাম ইবনে আল-আসবাহ আস-সুলামী»।

প্রতীয়মান হয় যে, তিনি বনু সুলাইম গোত্রের জনৈক বেদুইন ছিলেন যারা বিভিন্ন জনপদে ঘুরে বেড়াতেন এবং সেখানকার পথঘাট চিনতেন, ফলে এ বিষয়ে তাদের নিখুঁত অভিজ্ঞতা অর্জিত হতো। «উররাম» শব্দটি «উরামাহ» থেকে উদ্ভূত যার অর্থ তীব্রতা, শক্তি এবং কর্কশতা। বলা হয়: শিশুটি আমাদের প্রতি অবাধ্য হয়েছে বা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, অর্থাৎ সে দুষ্টুমি করেছে। আবার বলা হয় সে আনন্দিত ও দর্পিত হয়েছে, অথবা সে বখে গেছে। আর «আল-আসবাহ» হলো তার পিতার নাম যা «আসবাহ» থেকে নেওয়া হয়েছে; ঘোড়াদের মধ্যে যার কপালের সবটুকু চুল সাদা তাকে আসবাহ বলা হয়, আর পাখিদের মধ্যে যার লেজ সাদা তাকে আসবাহ বলা হয়।

 

‌উররাম ব্যাকরণবিদ:

আর ইবনে আল-নাদিম ‘আল-ফিহরিস্ত’(১) গ্রন্থে এবং আল-কিফতি(২) ‘ইনবাহ আল-রুওয়াত’ গ্রন্থে যে উররামের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি জনৈক ব্যাকরণবিদের উপাধি। উররাম সেই ব্যাকরণবিদের নাম নয় বরং তার উপাধি, আর তার নাম হলো আবু আল-ফজল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ, অথবা আল-মুফাযযাল ইবনে আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ। তাদের বর্ণনা মতে, এই ব্যাকরণবিদ ছিলেন নির্লজ্জ, নির্বোধ ও লঘুচিত্ত; তিনি নিঃসন্দেহে উররাম ইবনে আল-আসবাহ থেকে ভিন্ন ব্যক্তি, যাঁর এই বইটি ভৌগোলিক নথিসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত।

 

‌মূল পাণ্ডুলিপি:

এই পাণ্ডুলিপিটি বিশ্বের লাইব্রেরিগুলোর মধ্যে একটি অনন্য কপি, যা হায়দ্রাবাদের দারুল কুতুব আস-সাঈদিয়্যাহ-তে (৩৬৫ হাদিস) নম্বর সংকলনে সংরক্ষিত আছে এবং এর ইতিহাস ৮৭৬ হিজরি সাল পর্যন্ত পুরনো।

পাণ্ডুলিপিটি ছয়টি পত্রে অর্থাৎ বারো পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৫টি করে লাইন রয়েছে।

পৃষ্ঠার মাপ ১৮ ... ২০। এটি পাঠ করা অত্যন্ত কঠিন, যা অস্পষ্ট ও নিম্নমানের নাসখ লিপিতে লেখা এবং এতে নুকতাহ বা বিন্দুর অনেক অবহেলা রয়েছে। সেই সাথে এতে অনেক বিকৃতি ও পাঠভ্রান্তি বিদ্যমান। আমি সেগুলোর ওপর বিজয় লাভ করেছি যা...

--------------------------------------------

(১) ইবনে আল-নাদিম ১২৭ মিশর, ৮৬ লিপসিক।

(২) ইনবাহ আল-রুওয়াত, দ্বিতীয় খণ্ডের চতুর্থ অংশ, পৃষ্ঠা ৩৯৯, মিশরীয় দারুল কুতুবের ছায়াচিত্র।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
بها من عسر بالرجوع إلى كتب البلدان، وفي مقدمتها معجم ياقوت ومعجم البكري، وهما قد استوعبا معظم نصوص هذا الكتاب على ما بهما كذلك من تصحيف وتحريف. وكذلك استفتيت معاجم اللغة وغيرها من الكتب في جميع الفنون التي يتطلبها التحقيق، غير آل جهدا أن يظهر هذا الكتاب على أقرب ما يكون من السلامة.

 

‌‌تحقيق هذا الكتاب:

لم أكن أعرف شيئا عن وجود هذا الكتاب إلا ما كان يقع تحت نظري كثيرا عند مراجعتى لمعاجم البلدان من ذكر (عرام بن الأصبغ السلمى) حتى كان يوم لقيت فيه الصديق الكريم (الشيخ سليمان الصنيع)، وكنت قد شرعت في عمل علمي يرمى إلى نشر المخطوطات النادرة الصغيرة، وهو الذي أخرجت منه مجموعتين مشتملتين على تسعة كتب نادرة باسم «نوادر المخطوطات» فأخبرني حضرة الأخ أن لديه مخطوطة جديرة بالنشر، هي كتاب عرام هذا، ووعدني أن يرسله إلىّ من الحجاز لأقوم بتحقيقه ونشره، وكان أن برّ بما وعد به، وأرسل النسخة إلىّ فوجدتها مخطوطة سنة 1368 عن نسخة نقلها الشيخ إبراهيم حمدى مدير مكتبة شيخ الإسلام عارف حكمت بالمدينة عن نسخة الهند. ونسخة الأخ الشيخ سليمان هذه قد عنى بمراجعتها وتحقيق بعض مواضع منها.

ثم تفضل الشيخ الجليل (السيد محمد نصيف) فكتب إلىّ يشفع رغبة الشيخ سليمان برغبته الكريمة، وأرسل إلى نسخة أخرى نقلها الشيخ عبد الرحمن بن يحيى اليماني عن الأصل الهندي في دقة وإتقان ومطابقة للأصل.

ولكن ذلك كله لم يقنع ضميري العلمي، إذ أن أصل الكتاب موجود، وأن من الممكن الحصول عليه، فانتهزت فرصة رحلة الأخ البار (الأستاذ رشاد عبد المطلب) إلى الهند في بعثة جامعة الدول العربية لجلب صور مخطوطاتها النفيسة، فأوصيته أن يحضر معه صورة كتاب عرام. فكان له الفضل الطائل في أن تمكن من اجتلابها، فكانت هي الأصل الذي اعتمدت عليه في نشر هذا الكتاب.

فالشكر لحضرة الأخ (الشيخ سليمان الصنيع) على ما بذل من فضل بتعريفى بهذا
ভৌগোলিক অভিধানসমূহ, যার শীর্ষে রয়েছে ইয়াকুত ও আল-বকরীর অভিধান, সেগুলোর সাহায্য গ্রহণ করে সেই অস্পষ্টতাগুলো দূর করা হয়েছে। যদিও এই দুটি গ্রন্থে এই কিতাবের অধিকাংশ পাঠ্য বিদ্যমান রয়েছে, তা সত্ত্বেও সেগুলোতে কিছু শব্দগত বিভ্রাট ও বিকৃতি ছিল। তদ্রূপ, আমি ভাষাতত্ত্বের অভিধান এবং সম্পাদনার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ের গ্রন্থসমূহেরও সাহায্য নিয়েছি। আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে এই বইটি তার মূল ও নির্ভুল রূপের যতটা সম্ভব কাছাকাছি অবস্থায় প্রকাশিত হয়।

 

‌‌এই কিতাবটির সম্পাদনা:

এই কিতাবটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমি বিশেষ কিছুই জানতাম না; কেবল ভৌগোলিক অভিধানগুলো পর্যালোচনার সময় 'আররাম ইবনুল আসবাগ আস-সুলামী'-এর নামের উল্লেখই বারবার আমার দৃষ্টিগোচর হতো। অবশেষে একদিন আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু শেখ সুলাইমান আস-সানী-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তখন আমি দুর্লভ ছোট পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশের একটি বৈজ্ঞানিক কাজ শুরু করেছিলাম, যার মাধ্যমে 'নাওয়াদিরুল মাখতুतात' (দুর্লভ পাণ্ডুলিপিসমূহ) নামে নয়টি দুর্লভ কিতাব সম্বলিত দুটি সংকলন আমি ইতিপূর্বে প্রকাশ করেছি। তখন সেই ভাই আমাকে জানালেন যে, তার কাছে প্রকাশের যোগ্য একটি পাণ্ডুলিপি আছে, আর সেটি হলো আররামের এই কিতাবটি। তিনি আমাকে কথা দিলেন যে, তিনি হিজাজ থেকে এটি আমার কাছে পাঠাবেন যাতে আমি এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করতে পারি। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং কপিটি আমার কাছে পাঠিয়েছেন। আমি দেখলাম এটি ১৩৬৮ হিজরির একটি পাণ্ডুলিপি, যা মদিনার শায়খুল ইসলাম আরিফ হিকমত লাইব্রেরির পরিচালক শেখ ইব্রাহিম হামদী ভারতের একটি কপি থেকে নকল করেছিলেন। ভাই শেখ সুলাইমান এই কপিটির পর্যালোচনা এবং কিছু স্থানের সংশোধনের ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন।

এরপর মহীয়ান শেখ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ নাসিফ অনুগ্রহপূর্বক আমাকে চিঠি লিখলেন এবং শেখ সুলাইমানের ইচ্ছার সাথে নিজের মহৎ আগ্রহ প্রকাশ করলেন। তিনি আমার কাছে আরেকটি কপি পাঠালেন, যেটি শেখ আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-ইয়ামানি অত্যন্ত সূক্ষ্মতা, দক্ষতা এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যথাযথ মিল রেখে ভারতীয় মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছিলেন।

কিন্তু এই সবকিছুই আমার বৈজ্ঞানিক বিবেককে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারছিল না, কারণ কিতাবটির মূল পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল এবং সেটি সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। তাই আমি আমার গুণী ভাই উস্তাদ রাশাদ আব্দুল মুত্তালিবের ভারত সফরের সুযোগটি কাজে লাগালাম, যিনি আরব লীগের একটি মিশনের সদস্য হিসেবে সেখান থেকে মূল্যবান পাণ্ডুলিপিগুলোর ছবি আনতে গিয়েছিলেন। আমি তাকে আররামের কিতাবটির একটি অনুলিপি নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করলাম। তিনি সেটি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়ে এক বিরাট অনুগ্রহ করলেন; আর সেটিই ছিল সেই মূল পাণ্ডুলিপি যার ওপর ভিত্তি করে আমি এই কিতাবটি প্রকাশ করেছি।

তাই শ্রদ্ধেয় ভাই শেখ সুলাইমান আস-সানী-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এই কিতাবটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮০)
الكتاب وما قدم من خير، ولحضرة الأخ (الأستاذ رشاد عبد المطلب) الذي كان له فضل اجتلاب نسخة الأصل من الهند.

وليس يفوتني أن أجعل خاتمة كلمتي هذه شكر السيدين النبيلين (السيد محمد نصيف) و (السيد يوسف زينل)، لما أظهرا من اهتمام كريم بنشر هذا الكتاب، وما قاما به من الإنفاق على طبعه، إسهاما في نشر العلم وأداء الأمانة

القاهرة في غرة جمادى الثانية سنة 1372(1)

عبد السلام هارون

--------------------------------------------

(1) هذا هو تاريخ النشرة الأولى، وقد ظهر محرفا تحريفا مطبعيا فيما قبل فقرئ سنة 1373.

কিতাবটি এবং এর মাধ্যমে যে কল্যাণ পেশ করা হয়েছে তার জন্য; এবং শ্রদ্ধেয় ভাই (উস্তাদ রাশাদ আব্দুল মুত্তালিব)-এর প্রতি, ভারত থেকে মূল পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করে আনার ক্ষেত্রে যার অশেষ অবদান রয়েছে।

আর আমার বক্তব্যের শেষে দুই মহৎ ব্যক্তিত্ব (সাইয়্যেদ মুহাম্মদ নাসিফ) ও (সাইয়্যেদ ইউসুফ যাইনাল)-কে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না; এই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা যে মহান আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছেন এবং এর মুদ্রণ ব্যয়ে যা ব্যয় করেছেন, তা জ্ঞান প্রচার ও আমানত আদায়ের ক্ষেত্রে এক অনন্য অবদান।

কায়রো, পহেলা জুমাদাস সানি, ১৩৭২ হিজরি(১)

আব্দুস সালাম হারুন

--------------------------------------------

(১) এটি হলো প্রথম সংস্করণের তারিখ, যা ইতিপূর্বে মুদ্রণজনিত বিভ্রাটের কারণে বিকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৩৭৩ সাল হিসেবে পড়া হয়েছিল।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮১)
‌‌نقد النشرة الأولى

ذاك ما كتبته في صدر نشرتى الأولى لكتاب عرام. وقد سرني عظيم السرور أن يظهر بعد نحو ثلاثة أشهر من ظهور هذه النشرة نقد علمي لها بقلم الأخ العالم الشيخ حمد الجاسر عضو المجمع العلمي العربي بدمشق، في مجلة المجمع 28:

العدد الثالث ص 396 - 402 بتاريخ شوال سنة 1372، والعدد الرابع ص 592 - 599 بتاريخ المحرم سنة 1373.

وأنا ممن يعجبه النقد إعجابا، ويرى فيه إتماما لأداء الأمانة العلمية التي يحملها العلماء جميعا لا ينفرد أحد منهم بحملها وحده، ويرى كذلك أن من كتم الأمانة آثم في حقها وفي حق العلم.

فكان من الطبيعي عندي أن ألقى ذلك النقد في غبطة، وكان من الطبيعي أيضا أن أغض الطرف عما يندفع فيه الناقد أحيانا من لغة هي أشبه بنزوات الظافر في حومة القتال، فهي نزوات قل من عصم نفسه البشرية من أمثالها.

وقد كنت دعوت من قبل إلى أن يكون النقد بين الأدباء جاريا على سنن رفيع من أساليب التعبير، وأن يكون مبرأ من العوامل الشخصية، وكتبت قديما فيما كتبت في مجلة الثقافة العدد 647 مايو سنة 1951:

«لم يعد النقد الأدبي كما كان بالأمس تجريحا وتشهيرا بالمنقود، بل آن أن نصطنع الجد فيما يمس أقدار الأدباء وكرامتهم العلمية، فإن العثار أمر يعرض للأدباء جميعا، لا يرتاب في ذلك إلا مغتر، أو ذاهب العقل، أو متهافت النفس. وأمر النقد لا يعدو أن يكون معاونة ومجادلة في الرأي، أو مشاركة في التهدى إلى الصواب. والنقد أبدا خادم للعلم، وليس ضربا هينا من فنون الهجاء، وإنما هو فن رفيع يتأتى إليه الأديب في خلق سمح وخطاب كريم».

وبهذه الروح التي أعتز بها وأومن بوحيها إيمانا صادقا، أنشر صدر كلمة الأستاذ الجاسر، وهي كلمة كريمة كنت أرجو أن تكون مبرأة من بعض الهنات التي
প্রথম সংস্করণের সমালোচনা

আররামের কিতাবের আমার প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় আমি যা লিখেছিলাম তা ছিল এটি। এই সংস্করণটি প্রকাশের প্রায় তিন মাস পর দামেস্কের আরব সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য, ভ্রাতৃপ্রতিম আলেম শেখ হামাদ আল-জাসিরের কলমে এর একটি তাত্ত্বিক সমালোচনা একাডেমির জার্নাল ২৮-এ প্রকাশিত হতে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি:

সংখ্যা ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৬ - ৪০২, তারিখ: শাওয়াল ১৩৭২ হিজরি; এবং সংখ্যা ৪, পৃষ্ঠা ৫৯২ - ৫৯৯, তারিখ: মুহাররম ১৩৭৩ হিজরি।

আমি সেইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা সমালোচনাকে অত্যন্ত সমাদর করেন এবং এর মধ্যে সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানত আদায়ের পূর্ণতা দেখতে পান যা সকল আলেম সম্মিলিতভাবে বহন করেন—কেউই তা এককভাবে বহন করার অধিকারী নন। আমি এও মনে করি যে, যে ব্যক্তি আমানত গোপন করে সে সেই আমানত এবং জ্ঞান উভয়ের হকের প্রতি পাপাচার করে।

তাই আমার জন্য সেই সমালোচনাকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করা ছিল স্বাভাবিক, আর সমালোচক মাঝে মাঝে যে ধরনের ভাষা প্রয়োগের দিকে ধাবিত হয়েছেন—যা অনেকটা রণক্ষেত্রে বিজয়ীর আস্ফালনের মতো—তা উপেক্ষা করাও ছিল স্বাভাবিক; কারণ এগুলো এমন মানবিক আবেগ যা থেকে খুব কম মানুষই নিজের নফসকে রক্ষা করতে পারে।

আমি এর আগেও আহ্বান জানিয়েছিলাম যে, সাহিত্যিকদের মধ্যে সমালোচনা যেন উচ্চমানের প্রকাশভঙ্গিতে পরিচালিত হয় এবং ব্যক্তিগত প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। অতীতে ১৯৫১ সালের মে মাসে ‘মাজাল্লাতুত সাকাফাহ’-এর ৬৪৭তম সংখ্যায় আমি যা লিখেছিলাম তার মধ্যে ছিল:

«সাহিত্য সমালোচনা আর আগের মতো সমালোচিত ব্যক্তির চরিত্রহনন ও কুৎসা রটনা নয়; বরং সাহিত্যিকদের মর্যাদা এবং তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্মানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের গুরুত্ব প্রদানের সময় এসেছে। কেননা পদস্খলন এমন একটি বিষয় যা সকল সাহিত্যিকের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে, আত্মগর্বী, বিকারগ্রস্ত বা হীনমনা ব্যক্তি ছাড়া এ ব্যাপারে কেউ সন্দেহ পোষণ করে না। সমালোচনার বিষয়টি মতামতের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যুক্তিতর্ক অথবা সঠিক পথ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। সমালোচনা সর্বদা জ্ঞানের সেবক, এটি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কোনো সাধারণ শিল্প নয়; বরং এটি একটি উচ্চতর শিল্প যা একজন সাহিত্যিক উদার নৈতিকতা ও মার্জিত সম্বোধনের মাধ্যমে অর্জন করেন।»

এই চেতনায়—যাকে আমি গর্বের সাথে ধারণ করি এবং যার অনুপ্রেরণায় আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি—আমি অধ্যাপক আল-জাসিরের বক্তব্যের প্রারম্ভিক অংশটি প্রকাশ করছি। এটি একটি মহৎ বক্তব্য ছিল, যা আমি আশা করেছিলাম এমন কিছু ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকবে যা...
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮২)
شوهت شيئا من قسماتها. ولكن الكمال للّه وحده.

وأعود هنا فأقول: إن النسخة التي تأدت إلينا من كتاب عرام عريقة في التصحيف والتعريف عسرة القراءة، بحيث تجعل المحقق في صراع مع كل لفظ من ألفاظها، وأحيانا بين كل حرف من حروف ألفاظها. ومهما بذل محقق جهده ووكده فليس بمستطيع أن يحررها تحريرا كاملا.

لذلك أيضا أعلن غبطتى بما ظفرت به هذه الرسالة من تحقيقات وتصحيحات وتعليقات للأستاذ الناقد الكريم، بلغت جميعها نيفا وعشرين، وسيرى القارئ أثر ما صحّ عندي من هذه النقدات والتعليقات في مواضعها إن شاء اللّه.

وقد ظنّ بنا الأستاذ الحاسر أنا قد اطلعنا على نشرة الأستاذ الميمنى عند تحقيق النشرة الأولى، وأنا كتمنا ذلك على القراء!! وهي تهمة ساذجة نرجو له من أجلها غفرانا واسعا من اللّه، فإني لم أر هذه النسخة للمرة الأولى إلا ظهر يوم الخميس 11 شوال سنة 1374 في دار صديقه وصديقنا الأستاذ رشاد عبد المطلب.

وإليك ما كتب الشيخ الناقد في صدر كلامه مقرونا بشكرى الصادق وعتبى الصادق أيضا:
যা এর অবয়বের কিছু অংশ বিকৃত করেছে। তবে পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহরই জন্য।

আমি এখানে পুনরায় বলছি যে: 'আরাম'-এর কিতাবের যে পাণ্ডুলিপিটি আমাদের নিকট পৌঁছেছে তা ভুল লিখন ও বিকৃতির দিক থেকে অতি প্রাচীন এবং তা পাঠ করা অত্যন্ত দুরূহ; এটি একজন মুহাক্কিককে (গবেষক) এর প্রতিটি শব্দের সাথে এবং কখনো কখনো শব্দের প্রতিটি বর্ণের সাথে সংগ্রামে লিপ্ত করে। আর একজন মুহাক্কিক যতই চেষ্টা ও সাধনা করুন না কেন, তার পক্ষে একে সম্পূর্ণরূপে সংশোধন ও পরিমার্জন করা সম্ভব নয়।

একারণে আমি এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটিতে সম্মানিত সমালোচক উস্তাযের পক্ষ হতে যে সকল তাহকীক, সংশোধন ও টীকা যুক্ত হয়েছে তাতে নিজের আনন্দ প্রকাশ করছি, যেগুলোর সংখ্যা বিশের অধিক। পাঠক এই সমালোচনা ও টীকাগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোকে আমি সঠিক বলে গণ্য করেছি তার প্রভাব ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে দেখতে পাবেন।

সম্মানিত উস্তায ধারণা করেছেন যে, আমরা প্রথম সংস্করণ তাহকীকের সময় উস্তায মায়মানীর সংস্করণটি দেখেছি এবং পাঠকদের কাছে তা গোপন করেছি!! এটি একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ, যার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য ব্যাপক ক্ষমা প্রার্থনা করি। কারণ আমি এই সংস্করণটি ১৩৭৪ হিজরীর ১১ই শাওয়াল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর এবং আমাদের বন্ধু উস্তায রাশাদ আব্দুল মুত্তালিবের বাসভবনে প্রথমবার দেখেছি।

এখন সমালোচক শাইখ তাঁর আলোচনার শুরুতে যা লিখেছেন তা আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং একইসাথে অকৃত্রিম অভিমানের সাথে আপনার সমীপে পেশ করছি:
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
أسماء جبال تهامة تأليف: عرام بن الأصبغ السلمى تحقيق: عبد السلام هارون الأستاذ المساعد بجامعة القاهرة لنشر هذه الرسالة قصة نجملها بأن الشيخ إبراهيم الخربوطلى مدير مكتبة (شيخ الإسلام) في المدينة (المتوفى سنة 1371) زار الهند في عام 1357 فرأى العلامة المحقق الشيخ عبد العزيز الميمنى عضو المجمع العلمي العربي يقوم بنسخها، فساعده في مقابلة ما نسخه على الأصل، ونسخ هو نسخة أتى بها إلى الحجاز. ولما مر بجدة نزل في ضيافة السرى المفضال السيد محمد حسين نصيف وأطلعه على هذه النسخة، فاستنسخها الشيخ نصيف وأطلع عليها كثيرا من المعنيين بالعلم من علماء وغيرهم، فمنهم من نسخها ومنهم من استفاد منها، وكان ممن نسخها على نسخة الشيخ نصيف الشيخ سليمان الصنيع. وقد بذل جهدا مشكورا في تصحيحها بمقابلة ما جاء فيها على معجم البلدان ومعجم ما استعجم وغيرهما من الكتب، إذ نسخة الشيخ الخربوطلى كثيرة التحريف والغلط، زيادة على ما في الأصل من ذلك. ولما زار مصر أطلع الأستاذ عبد السلام محمد هارون على أمر هذه الرسالة لكي ينشرها في مجموعة من الرسائل النادرة(1)، وبعث إليه بعد أن عاد من مصر بنسخة، ولكنه لم ينشرها بل قال في مقدمة المجموعة الثانية من (نوادر المخطوطات) ص 116: «كنت قد اعتزمت أن أنشر في هذه المجموعة كتاب عرام بن الأصبغ السلمى في أسماء جبال تهامة .. ولكن علمت أن العلامة عبد العزيز الميمنى الراجكوتى قد قام بنشر هذا الكتاب، فآثرت أن أؤجل صنعه إلى أن أطلع على نسخته».

أما الشيخ الميمنى فقد نشر الرسالة - كما ذكر الأستاذ عبد السلام - نشرها في مجلة الكلية الشرقية التي تصدر في مدينة لاهور في الباكستان: Oriental)

--------------------------------------------

(1) يعنى نوادر المخطوطات.

তেহামার পাহাড়সমূহের নামসমূহ। রচনা: আররাম ইবনে আল-আসবাহ আল-সুলামী। সম্পাদনা: আবদুস সালাম হারুন, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। এই পুস্তিকাটি প্রকাশের একটি ইতিহাস রয়েছে যা আমরা সংক্ষেপে বর্ণনা করছি। মদিনার (শায়খুল ইসলাম) লাইব্রেরির পরিচালক শেখ ইব্রাহিম আল-খারবুতলী (মৃত্যু ১৩৭১ হিজরি) ১৩৫৭ হিজরিতে ভারত সফর করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত গবেষক আল্লামা শেখ আব্দুল আজিজ আল-মায়মানীকে—যিনি আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য—এটি অনুলিপি করতে দেখেন। তিনি তাকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার কাজে সাহায্য করেন এবং নিজেও একটি অনুলিপি তৈরি করেন যা তিনি হিজাজে নিয়ে আসেন। যখন তিনি জেদ্দা অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি দানশীল সজ্জন ব্যক্তি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ হুসাইন নাসিফের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন এবং তাকে এই অনুলিপিটি দেখান। শেখ নাসিফ এটি থেকে একটি অনুলিপি তৈরি করেন এবং আলেম ও অন্যান্য জ্ঞানানুরাগীদের এটি দেখান। তাদের কেউ কেউ এটি অনুলিপি করেন আবার কেউ কেউ এটি থেকে উপকৃত হন। শেখ নাসিফের অনুলিপি থেকে যারা এটি নকল করেছিলেন তাদের মধ্যে শেখ সুলাইমান আল-সানি অন্যতম। তিনি 'মুজামুল বুলদান' ও 'মুজামু মা ইস্তাজাম' সহ অন্যান্য বইয়ের সাথে এর বিষয়বস্তু মিলিয়ে সংশোধন করার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কারণ শেখ খারবুতলীর অনুলিপিতে মূল কপির ভুল-ভ্রান্তি ছাড়াও প্রচুর বিকৃতি ও ভুল ছিল। যখন তিনি মিসর সফর করেন, তখন তিনি অধ্যাপক আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুনকে এই পুস্তিকাটির বিষয়ে অবহিত করেন যাতে তিনি এটি বিরল পাণ্ডুলিপির সংকলনে(১) প্রকাশ করতে পারেন। মিসর থেকে ফেরার পর তিনি তার কাছে একটি অনুলিপি পাঠান। কিন্তু তিনি এটি প্রকাশ করেননি, বরং 'নাওয়াদিরুল মাখতুতাত' এর দ্বিতীয় খণ্ডের ১১৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: «আমি এই সংকলনে আররাম ইবনে আল-আসবাহ আল-সুলামীর রচিত 'তেহামার পাহাড়সমূহের নামসমূহ' বইটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম... কিন্তু আমি জানতে পারলাম যে আল্লামা আব্দুল আজিজ আল-মায়মানী আল-রাজকুটি এই বইটি প্রকাশ করেছেন। তাই আমি তার অনুলিপিটি না দেখা পর্যন্ত আমার কাজ স্থগিত রাখাই শ্রেয় মনে করলাম।»

শেখ মায়মানীর কথা বলতে গেলে, তিনি এই পুস্তিকাটি—যেমনটি অধ্যাপক আবদুস সালাম উল্লেখ করেছেন—পাকিস্তানের লাহোর শহর থেকে প্রকাশিত ওরিয়েন্টাল কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশ করেন: ওরিয়েন্টাল (Oriental)

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ নাওয়াদিরুল মাখতুতাত (বিরল পাণ্ডুলিপিসমূহ)।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
(College Magazine بعد أن وضع لها مقدمة وصف فيها الأصل، وتحدث عن مؤلف الرسالة. وأشار إلى شيء من خبر المكتبة السعيدية التي وجدت فيها.

وقد أراد الشيخ محمد نصيف نشر هذه الرسالة - لأنه لم يطلع على ما نشره الشيخ الميمنى فبعث بها إلى (المجمع العلمي العربي) فأرجعت إليه وقيل له:

ينبغي أن يقوم بتصحيحها فلان - كاتب هذا المقال - فبعث بها إلىّ، ولكنني رأيت تحقيقها تحقيقا مفيدا يتطلب الحصول على صورة عكسية من الأصل (فتوغرافية) وأبديت للشيخ نصيف عدم صلاحية نسخته للنشر قبل مقابلتها على الأصل مقابلة دقيقة، فبعث بها إلى الشيخ عبد الرحمن المعلمى اليماني - وكان إذ ذاك في الهند من القائمين على نشر الكتب التي تطبعها دائرة المعارف العثمانية في (حيدر أباد) فقابلها على الأصل مقابلة دقيقة، ونسخ نسخة أخرى عن الأصل بعث بها إلى الشيخ نصيف.

وبمقابلة تلك النسخة ظهر أن نسخة الشيخ الخربوطلى كثيرة التحريف والغلط.

ثم رأى الشيخ محمد نصيف أن يقوم بنشر الرسالة، وأن يتولى نشرها الأستاذ عبد السلام هارون. وكانت الإدارة الثقافية بجامعة الدول العربية قد بعثت إلى الهند السيد محمد رشاد عبد المطلب ليصور بعض المخطوطات العربية النادرة. فكان مما صور أصل هذه الرسالة.

وقد حرصت حينما كنت في القاهرة على الاطلاع على النسخة التي صورتها الإدارة الثقافية، ولكنني لم أتمكن من ذلك مع ما بيني وبين السيد محمد رشاد من الصلة - التي أعتبرها أنا قوية - وقد تكرم فأعارنى نسخة من النسخ التي طبعها الأستاذ الميمنى.

وقد اتصلت بالأستاذ الجليل الشيخ محب الدين الخطيب، وتحدثت معه في موضوع نشرها ولكنه قال: إن الأمر يتطلب وجود نسخة من الأصل.

ولعل اللّه أراد لهذه الرسالة خيرا - بإحيائها وتحقيقها من علامة محقق، ذي خبرة ودراية وطول معاناة، هو الأستاذ عبد السلام هارون.

وليس لنا من عتب نوجهه إلى إخواننا في مصر الذين قد تحول ظروفهم الخاصة دون اطلاعنا على ما نرغب الاطلاع عليه من الكتب التي لنا حق الاطلاع عليها -
(কলেজ ম্যাগাজিন) তিনি এর জন্য একটি ভূমিকা পেশ করার পর, যাতে তিনি মূল পাণ্ডুলিপির বর্ণনা দিয়েছেন এবং রিসালাহর লেখক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আর তিনি সায়িদিয়া লাইব্রেরির কিছু সংবাদও উল্লেখ করেছেন যেখানে এটি পাওয়া গিয়েছিল।

শাইখ মুহাম্মদ নাসিফ এই রিসালাহটি প্রকাশ করার ইচ্ছা করেছিলেন—কেননা শাইখ আল-মায়মানি যা প্রকাশ করেছিলেন তা তিনি অবগত ছিলেন না—তাই তিনি এটি ‘আল-মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি’ (আরব সায়েন্টিফিক একাডেমি)-তে প্রেরণ করেন। কিন্তু সেটি তাঁর কাছে ফেরত পাঠানো হয় এবং তাঁকে বলা হয়:

অমুক ব্যক্তির—যিনি এই নিবন্ধের লেখক—উচিত এটি সংশোধন করা। ফলে তিনি সেটি আমার কাছে পাঠান। তবে আমি দেখলাম যে, এটির একটি উপকারী তাহকীক (সম্পাদনা) করার জন্য মূল পাণ্ডুলিপির একটি ছায়ালিপি সংগ্রহ করা প্রয়োজন। আমি শাইখ নাসিফকে জানালাম যে, মূল কপির সাথে সূক্ষ্মভাবে মিলিয়ে দেখার আগে তাঁর কপিটি প্রকাশের অনুপযুক্ত। অতঃপর তিনি এটি শাইখ আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির নিকট প্রেরণ করেন—যিনি তখন ভারতে হায়দ্রাবাদের ‘দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া’ থেকে মুদ্রিত বইসমূহ প্রকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন—অতঃপর তিনি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি সূক্ষ্মভাবে মিলিয়ে দেখেন এবং মূল থেকে অন্য একটি অনুলিপি তৈরি করে শাইখ নাসিফের নিকট পাঠান।

সেই অনুলিপিটি মিলিয়ে দেখার পর স্পষ্ট হলো যে, শাইখ আল-খারবুতলির কপিতে প্রচুর বিকৃতি ও ভুল রয়েছে।

অতঃপর শাইখ মুহাম্মদ নাসিফ এই রিসালাহটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর প্রকাশনার দায়িত্ব উস্তাদ আব্দুস সালাম হারুনকে প্রদান করেন। এদিকে আরব লীগের সাংস্কৃতিক বিভাগ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রাশাদ আব্দুল মুত্তালিবকে কিছু দুর্লভ আরবি পাণ্ডুলিপির ছবি তোলার জন্য ভারতে পাঠিয়েছিল। তিনি যেসবের ছবি তুলেছিলেন তার মধ্যে এই রিসালাহর মূল পাণ্ডুলিপিটিও ছিল।

আমি যখন কায়রোতে ছিলাম, তখন সাংস্কৃতিক বিভাগ কর্তৃক তৈরিকৃত সেই ছবির কপিটি দেখার জন্য খুবই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রাশাদের সাথে আমার সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও—যাকে আমি বেশ গভীর মনে করি—আমি তা করতে সক্ষম হইনি। তবে তিনি অনুগ্রহ করে উস্তাদ আল-মায়মানি কর্তৃক মুদ্রিত কপিগুলোর একটি আমাকে ধার দিয়েছিলেন।

আমি সম্মানিত উস্তাদ শাইখ মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিবের সাথে যোগাযোগ করি এবং এটি প্রকাশের বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলি। কিন্তু তিনি বললেন: বিষয়টি মূল পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি থাকা দাবি করে।

সম্ভবত আল্লাহ তাআলা এই রিসালাহর জন্য কল্যাণ চেয়েছিলেন—এক অভিজ্ঞ, বিজ্ঞ ও দীর্ঘ পরিশ্রমী গবেষক আল্লামা উস্তাদ আব্দুস সালাম হারুনের মাধ্যমে একে পুনরুজ্জীবিত ও তাহকীক করার মাধ্যমে।

মিসরের আমাদের ভাইদের প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, যাদের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আমরা সেই বইগুলো দেখতে পারছি না যা দেখার ইচ্ছা আমরা রাখি এবং যা দেখার অধিকার আমাদের রয়েছে—
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
وخاصة مخطوطات الإدارة الثقافية - نعم ليس من حق في عتبهم، فلعل لهم من العذر ما نجهله. غير أننا نعلم - كما يعلمون - أن التعاضد والتساند والتآزر في سبيل العلم أمور يجب أن تقدم على كل اعتبار.

وأما كلمتنا عن الأستاذ عبد السلام - في تحقيقه لهذه الرسالة - فهي تحوى شيئا من الاختلاف معه في شأن التحقيق، وهو اختلاف ما كنت أوده، إذ الاختلاف شر في جميع وجوهه، غير أن واجب العلم يقضى به. لقد قلت في كلمات نشرت في (الرسالة، ومجلة المجمع العلمي، ومجلة الفتح، ومجلة الحج) إن بعض إخواننا الجامعيين كالأستاذ مصطفى .. والأستاذ الدكتور زكى .. قاموا بتحقيق بعض المؤلفات أو ترجمتها قياما لا يناسب مع ما لهم من منزلة علمية رفيعة، وخشيت أن يكون ما قيل من أن بعض العلماء المشهورين يكتفى بوضع اسمه على المؤلف الذي يراد منه تحقيقه، ويكل الأمر إلى بعض إخوانه ممن لا يبلغون منزلته - خشيت أن يكون هذا حقا. أما الأستاذ عبد السلام فأنا أبرئه من هذه الوصمة، لأنى شاهدت من آثار عمله في تحقيق بعض المؤلفات القديمة ما لم أشاهده من كثير ممن يعنون بذلك.

وكنت أود أن أجد في هذه الرسالة ما وجدته في غيرها من الكتب التي حققها أو أكثر مما وجدته، غير أنني - وإن رأيت فيها ما يسر ويفيد ويمتع - رأيت كل هذا قليلا بالنسبة لما كنت أتوقعه من الأستاذ، ولكي أدلك على قولي يحسن بي أن أذكر بعض ما رأيته في حاجة إلى مزيد من العناية.

لم يشر الأستاذ عبد السلام إلى أن العلامة الميمنى نشر هذه الرسالة(1)، والأمانة العلمية والاعتراف لكل ذي حق بحقه يقضيان بعدم إخفاء مجهود هذا المحقق(2)

--------------------------------------------

(1) كيف يتفق هذا مع ما نقله الأستاذ من قولي، في مقدمة هذا المقال ص 373 ص 19 - 20.

(2) كذا طوع للأستاذ الجاسر قلمه ولسانه أن يزل هذه الزلة التي لا تليق برجل يعلمني حق العلم، ويعلم حرصي على التنويه بفضل كل ذي فضل، ولا سيما العلامة الميمنى الذي لا يكاد يخلو كتاب من كتبي من التنويه بفضله، وقد كنت شريكا له في نشر خزانة الأدب مع المغفور له أحمد تيمور باشا. والصلة بيني وبينه وثيقة لا يضيرها مثل هذا الادعاء. -

বিশেষত সাংস্কৃতিক প্রশাসনের পাণ্ডুলিপিসমূহ—হ্যাঁ, তাদেরকে তিরস্কার করার অধিকার আমাদের নেই, সম্ভবত তাদের এমন কোনো ওজর রয়েছে যা আমরা জানি না। তবে আমরা জানি—যেমন তারাও জানেন—যে, ইলমের পথে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সংহতি এমন বিষয় যা অন্য যে কোনো বিবেচনার ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়া উচিত।

আর এই রিসালাতটি (পুস্তিকাটি) সম্পাদনার ক্ষেত্রে উস্তাদ আবদুস সালাম সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হলো, এতে সম্পাদনা সংক্রান্ত বিষয়ে তার সাথে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে। এটি এমন এক মতপার্থক্য যা আমি কামনা করিনি, কারণ মতভেদ তার সকল রূপেই মন্দ; তবে ইলমি দায়িত্ব এটি দাবি করে। আমি (আর-রিসালাহ, মাজাল্লাতুল মাজমাউল ইলমি, মাজাল্লাতুল ফাতহ এবং মাজাল্লাতুল হাজ্জ) পত্রিকায় প্রকাশিত লেখায় বলেছি যে, আমাদের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভাই—যেমন উস্তাদ মুস্তফা... এবং উস্তাদ ডক্টর জাকি...—কিছু গ্রন্থ সম্পাদনা বা অনুবাদের ক্ষেত্রে এমন কাজ করেছেন যা তাদের সুউচ্চ ইলমি মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমার ভয় হচ্ছিল যে, কোনো কোনো প্রসিদ্ধ আলেম যে কাজটি করতে চান তার ওপর কেবল নিজের নাম বসিয়ে দেন এবং মূল দায়িত্বটি এমন কিছু সহকর্মীর ওপর ন্যস্ত করেন যারা ইলমি মর্যাদায় তাদের সমপর্যায়ী নন—এ কথাটি না জানি সত্য হয়ে যায়। তবে উস্তাদ আবদুস সালামকে আমি এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত রাখছি; কারণ কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি তার কাজের এমন সব নিদর্শন দেখেছি, যা এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝেই দেখিনি।

আমি এই রিসালাতেও তেমন কিছুই পেতে চেয়েছিলাম যা তার সম্পাদিত অন্যান্য গ্রন্থে পেয়েছি, কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু। কিন্তু আমি এতে আনন্দদায়ক, উপকারী ও উপভোগ্য বিষয় দেখলেও উস্তাদের নিকট আমার যা প্রত্যাশা ছিল, সে তুলনায় এসবই ছিল যৎসামান্য। আমার কথার সপক্ষে দলিল পেশ করার জন্য আমি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি যা আরও অধিক যত্নের দাবি রাখে।

উস্তাদ আবদুস সালাম এটি উল্লেখ করেননি যে আল্লামা আল-মায়মানি এই রিসালাতটি প্রকাশ করেছিলেন(১); ইলমি আমানতদারি এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার স্বীকার করে নেওয়ার দাবি হলো এই সম্পাদকের প্রচেষ্টাকে গোপন না করা(২)

--------------------------------------------

(১) এটি কীভাবে উস্তাদ কর্তৃক উদ্ধৃত আমার বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে পারে, যা এই নিবন্ধের ভূমিকার ৩৭৩ পৃষ্ঠার ১৯-২০ লাইনে রয়েছে?

(২) এভাবেই উস্তাদ আল-জাসিরের কলম ও জিহ্বায় এমন বিচ্যুতি ঘটেছে যা তার মতো একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে শোভা পায় না, যিনি আমাকে যথাযথভাবে চেনেন এবং গুণী ব্যক্তির গুণকীর্তনে আমার আগ্রহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। বিশেষত আল্লামা আল-মায়মানির ক্ষেত্রে, যার অবদানের কথা আমার প্রায় প্রতিটি গ্রন্থেই উল্লিখিত হয়েছে। আমি মরহুম আহমদ তাইমুর পাশার সাথে 'খিজানাতুল আদব' প্রকাশের ক্ষেত্রে তার সহযোগী ছিলাম। তার সাথে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়, যা এই ধরনের কোনো দাবির দ্বারা ক্ষুণ্ণ হওয়ার নয়।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
الذي لا يجهل باحث في الأدب العربي ما له من أياد في سبيل تحقيق كثير من الكتب الأدبية، ولا ينكر ما له من فضل وعلم. ولا أكون مبالغا حينما أقول بأن جهده في تحقيق هذه الرسالة لا يقل عن جهد الأستاذ عبد السلام إن لم يفقه؛ فالميمنى مثلا أوضح من حالة عرام وبين عصره فذكر أنه من أهل القرن الثاني وأول الثالث(1) وأنه ممن دخل خراسان مع عبد اللّه بن طاهر سنة 217 وهذه من الأمور التي فاتت الأستاذ هارون، وهي أمور لا بدّ منها، إذ معرفة المؤلف أهم ما يعتنى به محقق الكتاب.

قد يقال بأن الأستاذ يجهل كون الميمنى قام بتحقيق هذه الرسالة. ولكن هذا يردّه أمور:

1 - أنه صرح بعلم بذلك قبل شروعه في تحقيق الرسالة.

2 - أن السيد محمد رشاد عبد المطلب الذي قال الأستاذ هارون بأنه أوصاه بإحضار نسخة مصورة من أصل الرسالة فأحضرها، قد أحضر في الوقت نفسه نسخة من تحقيق الميمنى(2).

3 - أنني نشرت في الرسالة في العام الماضي نبأ نشر الأستاذ الميمنى، أثناء نقدي لطبعة السقا لكتاب (معجم ما استعجم). وليس عبد السلام ممن يوصف بأنه لا يقرأ مجلة (الرسالة) وهو ممن يكتبون فيها(3).

--------------------------------------------

- أما السر في إخفائى مجهود هذا المحقق كما زعم الشيخ فهو أنى لم أكن رأيت هذا المجهود بعد، فكيف أظهر شيئا لا يزال عندي في ضمير الغيب؟!! وكيف يقال إني أخفيت ما لم يظهر لي بعد؟! وأما السر في عدم اطلاعى على نسخة الميمنى التي اجتلبها الأستاذ رشاد عبد المطلب من الهند فقد أفصح عنه الشيخ نفسه بقوله في هذا المقال: «وقد تكرم فأعارنى نسخة من النسخ التي طبعها الأستاذ الميمنى» لذلك لم تقع إلى هذه النسخة التي احتجزها الأستاذ الجاسر ويئست من الاطلاع عليها إلا يوم 11 شوال من سنتنا هذه، كما أسلفت القول.

(1) هذا يطابق تمام المطابقة ما ذكرته في نشرتى الأولى ص 6 س 5 - 6 من المقدمة ولكن يأبى الأستاذ إلا أن يتلمس سواقط التهم.

(2) قد استعنت بالمنطق واستعان جمع غفير من أصدقائي ليجدوا نتيجة حتمية لهذا تتعلق بشخصى، فأعيتهم هذه النتائج. والواقع أن النسخة المصورة وردت مع بعثة الهند في حقائبها بالطائرة، وأما الكتب ومنها كتب الأستاذ رشاد الخاصة فوردت بطريق البحر بعد شهرين.

(3) ولكنهم لا يقرءون فيها كل شيء، وقد تفوتهم قراءة عدد بأكمله، وهذا ما حدث لي، فإني مع شديد الأسف لم أقرأ للأستاذ هذا النقد، وسأحاول أن أستفيد بقراءته إن شاء اللّه.

আরবি সাহিত্যের কোনো গবেষকই বহু সাহিত্য গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রে তাঁর যে অবদান রয়েছে সে সম্পর্কে অজ্ঞ নন, এবং তাঁর যে শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞান রয়েছে তাও কেউ অস্বীকার করে না। আমি কোনো অতিরঞ্জন করব না যখন আমি বলি যে, এই রিসালাহ (পুস্তিকা) সম্পাদনার ক্ষেত্রে তাঁর শ্রম উস্তাদ আবদুস সালামের শ্রমের চেয়ে কম নয়, যদি তা অতিক্রম করে না গিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আল-মায়মানি 'আররাম'-এর অবস্থা এবং তাঁর সময়কাল সম্পর্কে উস্তাদ হারুনের চেয়েও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ এবং তৃতীয় শতাব্দীর প্রথমভাগের লোক(১) এবং তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ২১৭ হিজরি সালে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের সাথে খোরাসানে প্রবেশ করেছিলেন। এটি এমন একটি বিষয় যা উস্তাদ হারুন এড়িয়ে গেছেন, অথচ এগুলো এমন জরুরি বিষয় যা ছাড়া চলে না; কারণ গ্রন্থকারের পরিচয় জানা একজন সম্পাদক বা গবেষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যত্ন নেওয়ার বিষয়।

হয়তো বলা হতে পারে যে, উস্তাদ (হারুন) জানতেন না যে আল-মায়মানি এই রিসালাহটি সম্পাদনা করেছেন। কিন্তু এই দাবিটি কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়:

১ - তিনি রিসালাহটির সম্পাদনা শুরু করার আগেই এ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

২ - সায়্যিদ মুহাম্মদ রাশাদ আবদুল মুত্তালিব, যাঁর সম্পর্কে উস্তাদ হারুন বলেছেন যে তিনি তাঁকে মূল রিসালাহর একটি পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি আনার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি তা নিয়ে এসেছিলেন; তিনি একই সময়ে আল-মায়মানির সম্পাদনা করা সংস্করণের একটি কপিও নিয়ে এসেছিলেন(২)।

৩ - আমি গত বছর 'আল-রিসালাহ' পত্রিকায় সাক্কার 'মু'জাম মা ইস্তাজাম' বইটির সংস্করণের ওপর আমার পর্যালোচনার সময় উস্তাদ আল-মায়মানির প্রকাশনার সংবাদটি প্রচার করেছিলাম। আর আবদুস সালাম এমন কোনো ব্যক্তি নন যে তাঁকে বলা হবে তিনি 'আল-রিসালাহ' পত্রিকা পড়েন না, অথচ তিনি নিজেই এতে লেখালেখি করেন(৩)।

--------------------------------------------

- আর শায়খ যেমনটি দাবি করেছেন, এই সম্পাদকের পরিশ্রম গোপন করার পেছনের রহস্য হলো এই যে, আমি তখনো পর্যন্ত এই পরিশ্রম (সম্পাদনা) দেখিনি। সুতরাং আমি এমন কিছু কীভাবে প্রকাশ করব যা তখনো আমার কাছে অজানার আড়ালে ছিল?!! আর যা তখনো আমার সামনে প্রকাশ পায়নি, আমি তা গোপন করেছি এ কথা কীভাবে বলা যায়?! আর উস্তাদ রাশাদ আবদুল মুত্তালিব ভারত থেকে আল-মায়মানির যে কপিটি এনেছিলেন সেটি আমার নজরে না আসার রহস্যটি স্বয়ং শায়খই তাঁর এই প্রবন্ধে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এই বলে যে: «তিনি অনুগ্রহ করে আমাকে উস্তাদ মায়মানির ছাপানো কপিগুলো থেকে একটি কপি ধার দিয়েছিলেন» তাই উস্তাদ আল-জাসির যে কপিটি নিজের কাছে রেখেছিলেন তা আমার হাতে আসেনি এবং আমি এটি দেখার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে আমি এটি এই বছরের ১১ই শাওয়াল তারিখে হাতে পেয়েছি, যেমনটি আমি আগে বলেছি।

(১) এটি আমার প্রথম সংস্করণের ভূমিকার ৬ নং পৃষ্ঠার ৫-৬ লাইনে আমি যা উল্লেখ করেছি তার সাথে হুবহু মিলে যায়। কিন্তু উস্তাদ মিথ্যা অভিযোগ খুঁজে বের করা ছাড়া আর কিছুই করতে চাচ্ছেন না।

(২) আমি যুক্তির সাহায্য নিয়েছি এবং আমার অনেক বন্ধুও আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে এর একটি অনিবার্য ফলাফল খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেই ফলাফলগুলো তাঁদের পরিশ্রান্ত করে ফেলেছে। বাস্তবতা হলো, ছায়ালিপিটি ভারত থেকে একটি প্রতিনিধি দলের ব্যাগে করে বিমানে এসেছিল, আর বইগুলো—যার মধ্যে উস্তাদ রাশাদের ব্যক্তিগত বইগুলোও ছিল—সেগুলো দুই মাস পর সমুদ্রপথে পৌঁছেছিল।

(৩) কিন্তু তাঁরা এতে সবকিছু পড়েন না, কখনও কখনও পুরো একটি সংখ্যা পড়াও বাদ পড়ে যেতে পারে। আমার ক্ষেত্রেও এটিই ঘটেছিল, অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি যে আমি উস্তাদের এই সমালোচনাটি পড়িনি। ইনশাআল্লাহ, আমি এটি পড়ে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করব।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
هذا الأمر - تجاهل الناشر لما يقوم به من سبقه في سبيل تحقيق ما يقوم بنشره - مما أخذ على الأستاذ السقا وأخذ على بعض العلماء الجامعيين. وكنا نود أن يتنزه عنه الأستاذ عبد السلام هارون(1).

قال الأستاذ عبد السلام في مقدمة الرسالة: «أصل هذه النسخة فريدة في مكتبات العالم، وهو مخطوط في دار الكتب السعيدية بحيدر أباد في مجموعة برقم 355 حديث وتاريخها يرجع إلى سنة 876 والنسخة في ست ورقات، (أي في اثنتي عشرة صفحة)».

كذا قال الأستاذ ولكننا نجد الأستاذ الميمنى حينما وصف الرسالة قال: «يوجد في الخزانة السعيدية في حيدر أباد مجموعة فيها 27 رسالة في الأحاديث والرجال. أولها خلق أفعال العباد للبخاري، ووافق الفراغ من كتابتها 18 جمادى الأولى سنة 786 وثبت على طرة الخاتمة: بلغ مقابلة على الأصل المنقول منه في مجالس آخرها في ليلة يسفر صباحها عن يوم الخميس من ذي الحجة الحرام سنة 787 كاتبه محمد بن علي.

ولكنه مع هذه الدعوى الفارغة آية في التصحيف والتحريف. ورقم كتاب عرام فيها 16 فيما بين ص 151 - 159 أي إنه وقع في تسع صفحات فحسب».

هذا ما قاله الأستاذ الميمنى، وهو يخالف وصف الأستاذ عبد السلام في تاريخ النسخ، وفي عدد الصفحات، فأيهما أصح قولا؟ الظاهر أن الميمنى هو المصيب(2)، وأن الأستاذ عبد السلام نقل تاريخ النسخ عن نسخة سليمان الصنيع، وهو نقلها عن نسخة أصلها نسخة الخربوطلى التي جاء فيها التاريخ كما ذكر الأستاذ هارون، غير أن الشيخ نصيف لما بعثها إلى الهند لنقابل على الأصل كان مما صحح هذا الموضع، صححه

--------------------------------------------

(1) نطلب من اللّه للأستاذ الجاسر غفرانا فيما رمانا به من سوء، ونتلو في ذلك قوله جل وعز: «وأن تعفوا أقرب للتقوى».

(2) قد يكون ذلك فيما يتعلق بتاريخ النسخ، فإن مصورتى خلو منها، واعتمدت على ما تأدى إلى من نسخة الشيخ سليمان الصنيع. أما فيما يتعلق بعدد الصفحات، فهو تجن محض من الأستاذ، فإن النسخة بيدي أقلبها مرارا. وقد حرصت في هذه النشرة أن أبين أوائل هذه الصفحات (الاثنتى عشرة) لا التسع كما نقل الشيخ عن العلامة الميمنى.

এই বিষয়টি - অর্থাৎ প্রকাশক যা প্রকাশ করছেন তা সম্পাদনার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বসূরিদের কাজকে উপেক্ষা করা - এমন একটি বিষয় যা উস্তাদ আস-সাক্কা এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আলিমের ক্ষেত্রে সমালোচিত হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম উস্তাদ আবদুস সালাম হারুন(১) এই দোষ থেকে মুক্ত থাকবেন।

উস্তাদ আবদুস সালাম রিসালার ভূমিকায় বলেছেন: «এই পাণ্ডুলিপির মূল কপিটি বিশ্বের লাইব্রেরিগুলোর মধ্যে অনন্য। এটি হায়দ্রাবাদের দারুল কুতুব আস-সাঈদীইয়াহ-তে ৩৫৫ নম্বর হাদিস সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি পাণ্ডুলিপি। এর তারিখ ৮৭৬ হিজরি এবং পাণ্ডুলিপিটি ছয়টি পত্রে (অর্থাৎ বারো পৃষ্ঠায়) বিন্যস্ত।»

উস্তাদ এভাবেই বলেছেন, কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে উস্তাদ আল-মায়মানী যখন রিসালাটি বর্ণনা করেছেন তখন বলেছেন: «হায়দ্রাবাদের আস-সাঈদীইয়াহ গ্রন্থাগারে একটি সংকলন রয়েছে যাতে হাদিস ও রিজাল শাস্ত্রের ২৭টি রিসালা আছে। তার প্রথমটি হলো বুখারীর 'খালকু আফ'আলিল ইবাদ'। এটি লিখে শেষ করা হয়েছে ৭৮৬ হিজরির ১৮ই জুমাদাল উলা মাসে। পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার মার্জিনে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে: মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এর তুলনা ও যাচাই বেশ কয়েকটি মজলিসে সম্পন্ন হয়েছে, যার শেষটি ছিল ৭৮৭ হিজরির যিলহজ মাসের বৃহস্পতিবারের পূর্ববর্তী রাতে। এর লেখক মুহাম্মাদ বিন আলী।

কিন্তু এই অন্তঃসারশূন্য দাবির পাশাপাশি এটি ভুল পাঠ ও বিকৃতির একটি প্রকৃষ্ট নিদর্শন। এতে আররামের বইটির নম্বর হলো ১৬, যা ১৫১ থেকে ১৫৯ পৃষ্ঠার মধ্যে অবস্থিত। অর্থাৎ এটি মাত্র নয়টি পৃষ্ঠায় সম্পন্ন হয়েছে।»

এটিই উস্তাদ আল-মায়মানী বলেছেন, যা পাণ্ডুলিপির তারিখ এবং পৃষ্ঠাসংখ্যার বর্ণনায় উস্তাদ আবদুস সালামের বর্ণনার বিরোধী। তাহলে কার কথাটি বেশি সঠিক? দৃশ্যত মনে হয় আল-মায়মানীই সঠিক(২), এবং উস্তাদ আবদুস সালাম পাণ্ডুলিপির তারিখটি সুলাইমান আস-সানি'র কপি থেকে নকল করেছেন। আর তিনি (সুলাইমান) এটি এমন একটি কপি থেকে নকল করেছেন যার মূল হলো আল-খারবুতলীর কপি, যাতে উস্তাদ হারুনের উল্লেখ করা তারিখটিই বিদ্যমান ছিল। তবে শেখ নাসিফ যখন এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মেলানোর জন্য ভারতে পাঠান, তখন এই স্থানটি সংশোধন করা হয়েছিল। তিনি এটি সংশোধন করেছেন

--------------------------------------------

(১) উস্তাদ আল-জাসির আমাদের প্রতি যে মন্দ অভিযোগ করেছেন তার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর এ ব্যাপারে আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করছি: «আর তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়াই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।»

(২) পাণ্ডুলিপির তারিখের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন হতে পারে, কারণ আমার কাছে থাকা ফটোকপিতে তা নেই এবং আমি শেখ সুলাইমান আস-সানি'র কপির ওপর নির্ভর করেছি। তবে পৃষ্ঠাসংখ্যার ব্যাপারে এটি উস্তাদের পক্ষ থেকে নিছক একটি অন্যায্য অভিযোগ, কারণ পাণ্ডুলিপিটি আমার হাতে রয়েছে এবং আমি বারবার এটি উল্টেপাল্টে দেখেছি। আমি এই সংস্করণে এই পৃষ্ঠাগুলোর (বারোটি পৃষ্ঠার) শুরু চিহ্নিত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি, নয়টি পৃষ্ঠার নয়— যেমনটি শেখ আল্লামা আল-মায়মানী থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৮)
الأستاذ عبد الرحمن اليماني كما جاء في نسخة الأستاذ الميمنى، يضاف إلى ذلك أن الأنموذج الذي نقله الأستاذ مصورا في نسخته ليس فيه شيء من تاريخ النسخ مع أنه آخر الرسالة. فالظاهر أن الذين صوروها صوّروها وحدها وهي خالية من التاريخ فاعتمد الأستاذ عبد السلام على ما جاء في نسخة الأستاذ الصنيع، وهو غلط.

وبعد أن أورد الأستاذ أحمد الجاسر هذه النقدات في مقالين بمجلة المجمع قال في خاتمة قوله:

«هذا ما رأيت إيراده مما لاحظته على هذه الرسالة التي قام بتحقيقها السيد عبد السلام محمد هارون الأستاذ المساعد بجامعة القاهرة، ولا أريد أن أغمطه حقه أو أقلل من عمله، فهو أجل من أن ينكر فضله. وأنا أربأ بنفسي عن الاتصاف بصفة سيئة، ولكنني أردت المشاركة في إبراز هذه الرسالة إبرازا بجعل النفع بها تاما. وقد قام الأستاذ - في هذا السبيل - قياما مشكورا فرجع إلى 32 كتابا من المراجع العامة، ووضع للرسالة فهارس شاملة لأسماء المواضع وللأعلام وللقبائل، وللنبات، وللحيوان، وللقوافى، وللغة، وزينها بكثير من الحواشى المفيدة، وشكل أسماء المواضع، فجاء عمله في هذه الرسالة - كعمله في غيرها من الكتب الكثيرة التي حققها - مفيدا نافعا».

هذا وليس يفوتني أن أكرر الثناء والشكر للأستاذ العلامة الجليل، ألهمنا اللّه وإياه التوفيق والسداد.
উস্তাদ আব্দুর রহমান আল-ইয়ামানী, যেমনটি উস্তাদ আল-মায়মানীর অনুলিপিতে এসেছে; এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, উস্তাদ তার অনুলিপিতে যে নমুনাটি চিত্রায়িত করে বর্ণনা করেছেন, তাতে অনুলিপির কোনো তারিখ নেই, যদিও এটি পুস্তিকাটির শেষ অংশ। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, যারা এটি চিত্রায়িত করেছেন তারা একে এককভাবে চিত্রায়িত করেছেন এবং এটি তারিখহীন ছিল। ফলে উস্তাদ আব্দুস সালাম, উস্তাদ আস-সানী-এর অনুলিপিতে যা এসেছে তার ওপর নির্ভর করেছেন, যা একটি ভুল।

উস্তাদ আহমাদ আল-জাসির 'মাজমা' সাময়িকীর দুটি প্রবন্ধে এই সমালোচনাগুলো তুলে ধরার পর তার বক্তব্যের শেষে বলেন:

«কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জনাব আব্দুস সালাম মুহাম্মদ হারুন কর্তৃক সম্পাদিত এই পুস্তিকাটির বিষয়ে আমি যা পর্যবেক্ষণ করেছি, তা-ই এখানে উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি। আমি তার প্রাপ্য অধিকার খর্ব করতে বা তার কাজকে খাটো করতে চাই না, কারণ তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করার ঊর্ধ্বে। আমি নিজেকে কোনো মন্দ গুণের অধিকারী করা থেকে বিরত রাখি, তবে আমি এই পুস্তিকাটিকে এমনভাবে প্রকাশে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছি যাতে এর উপকারিতা পূর্ণাঙ্গ হয়। উস্তাদ এই পথে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন; তিনি ৩২টি সাধারণ তথ্যসূত্র গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছেন এবং এই পুস্তিকার জন্য স্থানের নাম, বিশিষ্ট ব্যক্তি, গোত্র, উদ্ভিদ, প্রাণী, অন্ত্যমিল এবং ভাষার একটি ব্যাপক নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন। তিনি এটিকে অনেক উপকারী টীকা দ্বারা সজ্জিত করেছেন এবং স্থানের নামগুলোতে হরকত প্রদান করেছেন। ফলে এই পুস্তিকাটিতে তার কাজ—তার সম্পাদিত অন্যান্য অনেক গ্রন্থের ন্যায়—উপকারী ও কল্যাণকর হয়েছে।»

পরিশেষে, এই মহান ও বিদগ্ধ উস্তাদের প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করতে আমি ভুলছি না; আল্লাহ আমাদের এবং তাকে সঠিক পথ ও সফলতার তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৮৯)
كتاب أسماء جبال تهامة وسكانها وما فيها من القرى وما ينبت عليها من الأشجار وما فيها من المياه رواية السيرافي بإسناده إلى

عرّام بن الأصبغ السّلمى
তিহামার পর্বতসমূহের নাম, এর অধিবাসী, তথাকার জনপদসমূহ, সেখানে জন্মানো বৃক্ষরাজি এবং তথাকার জলাধার সংক্রান্ত গ্রন্থ। আস-সিরাফির বর্ণনা, তাঁর সনদসহ

আররাম ইবনুল আসবাহ আস-সুলামী।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৯১)
صورة للأسطر الأولى من نسخة الأصل صورة للأسطر الأخيرة من نسخة الأصل
মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পঙ্ক্তিগুলোর চিত্র মূল পাণ্ডুলিপির শেষ পঙ্ক্তিগুলোর চিত্র
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৯৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر بخير آمين

قال أبو سعيد الحسن بن عبد الله السيرافي(1): أخبرنا أبو محمد عبيد الله ابن عبد الرحمن السكري(2) قراءة عليه حدثنا عبد الله بن عمرو بن عبد الرحمن الوراق المعروف بابن أبي سعد(3)، حدثنا عبد الرحمن بن محمد بن عبد الملك أبو الأشعث قال: أملي على عرام بن الأصبغ السلمى قال:

--------------------------------------------

(1) هو الحسن بن عبد اللّه بن المرزبان أبو سعيد القاضي السيرافى النحوي، أصله من سيراف، سكن الجانب الشرقي ببغداد وولى القضاء بها، وكان أبوه مجوسيا أسلم، واسمه بهزاذ، فسماه أبو سعيد عبد اللّه، وكان من أعلم الناس بنحو البصريين، وينتحل في الفقه مذهب أهل العراق، قرأ على أبى بكر بن مجاهد القرآن، وعلى أبى بكر بن دريد اللغة، ودرسا عليه جميعا النحو. وقرأ على أبى بكر بن السراج وعلى أبى بكر المبرمان النحو، وقرأ عليه أحدهما القراءات ودرس الآخر عليه الحساب. وكان زاهدا لا يأكل إلا من كسب يده ولا يخرج من بيته إلى مجلس الحكم والتدريس في كل يوم إلا بعد أن ينسخ عشر ورقات يأخذ أجرها عشرة دراهم. وله شرح كتاب سيبويه، وكتاب أخبار النحاة، وكتاب الإقناع في النحو، وكتاب جزيرة العرب. ولد قبل 290 وتوفى سنة 368. تاريخ بغداد (7: 341 - 342) وبغية الوعاة 221 ومعجم الأدباء (8: - 145 - 232) والبلدان (5: 193) ونزهة الألباء 379.

(2) هو عبيد اللّه بن عبد الرحمن بن محمد بن عيسى، أبو محمد السكرى. سمع زكريا بن يحيى المنقري صاحب الأصمعي، ومحمد بن الجارود الوراق، وإبراهيم بن الوليد الجشاش، و (عبد اللّه ابن أبي سعد الوراق)، وعبد اللّه بن مسلم بن قتيبة. وروى عنه الجعابي وأبو عمر بن حيويه.

وأحمد بن إبراهيم بن شاذان، وأبو الحسن الدارقطني. وكان ثقة جليلا. توفى سنة 323.

تاريخ بغداد 5499. وفي الأصل: «عبيد اللّه بن عبد اللّه»، تحريف.

(3) في الأصل: «أبي سعيد»، محرف. وهو عبد اللّه بن عمرو بن عبد الرحمن بن بشر بن هلال. أبو محمد الأنصاري الوراق، المعروف بابن أبي سعيد، بلخى الأصل، سكن بغداد وحدث بها عن الحسين بن محمد المروزي، وعفان بن مسلم، وسليمان بن حرب، وهوذة ابن خليفة. وسليمان بن داود الهاشمي وغيرهم، وروى عنه ابن أبي الدنيا، وعبد اللّه بن محمد البغوي، و (عبيد اللّه بن عبد الرحمن السكرى)، والحسين بن القاسم الكوكبى، والحسين بن إسماعيل المحاملي وغيرهم. وكان ثقة صاحب أخبار وآداب وملح. ولد سنة 197 وتوفى سنة 274. تاريخ بغداد 5144.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে প্রতিপালক, কল্যাণের সাথে সহজ করে দিন। আমীন।

আবু সাঈদ হাসান বিন আবদুল্লাহ আস-সিরাফী(১) বলেছেন: আবু মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সুক্কারী(২) আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন: আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আবদুর রহমান আল-ওয়াররাক, যিনি ইবনে আবু সা’দ(৩) নামে পরিচিত, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল মালিক আবু আশ’আস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আররাম বিন আসবাগ আস-সুলামী আমার নিকট শ্রুতলিপি (ইমলা) করিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন আল-মারযুবান আবু সাঈদ আল-কাজী আস-সিরাফী আন-নাহবী (ব্যাকরণবিদ)। তার আদি নিবাস সিরাফ থেকে, তিনি বাগদাদের পূর্ব অংশে বসবাস করতেন এবং সেখানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তার পিতা একজন মজুসী (অগ্নিউপাসক) ছিলেন যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন; তার নাম ছিল বেহযাদ, আবু সাঈদ তার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। তিনি বসরার ব্যাকরণবিদদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে ইরাকিদের (হানাফী) মাযহাব অনুসরণ করতেন। তিনি আবু বকর বিন মুজাহিদের কাছে কুরআন এবং আবু বকর বিন দুরেয়দের কাছে ভাষা শিক্ষা করেন এবং তারা উভয়ই তার কাছে ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেন। তিনি আবু বকর বিন আস-সাররাজ এবং আবু বকর আল-মুবরামানের কাছে ব্যাকরণ শিখেন; তাদের একজন তার কাছে কিরাআত পড়েন এবং অন্যজন তার কাছে গণিত অধ্যয়ন করেন। তিনি যাহিদ (সংসারবিরাগী) ছিলেন, নিজের হাতের উপার্জন ছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। প্রতিদিন দশ পৃষ্ঠা পাণ্ডুলিপি নকল করার আগ পর্যন্ত তিনি ঘর থেকে বিচারালয় বা শিক্ষাদান মজলিসে যেতেন না, যার পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি দশ দিরহাম পেতেন। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে সিবওয়াইহ-এর কিতাবের ব্যাখ্যা, আখবারুন নুহাত, আল-ইকনা ফিল নাহব এবং জাযিরাতুল আরব। তিনি ২৯০ হিজরীর আগে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৬৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখু বাগদাদ (৭: ৩৪১-৩৪২), বুগয়াতুল উআত ২২১, মুজামুল উদাবা (৮: ১৪৫-২৩২), আল-বুলদান (৫: ১৯৩) এবং নুযহাতুল আলিব্বা ৩৭৯।

(২) তিনি হলেন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা, আবু মুহাম্মদ আস-সুক্কারী। তিনি আসমাঈর ছাত্র যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-মানক্বারী, মুহাম্মদ বিন আল-জারূদ আল-ওয়াররাক, ইব্রাহিম বিন আল-ওয়ালিদ আল-জাশশাশ, (আবদুল্লাহ বিন আবু সা’দ আল-ওয়াররাক) এবং আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা থেকে হাদীস শুনেছেন। তার থেকে রিওয়ায়াত করেছেন আল-জু’আবী, আবু উমর বিন হাইয়ুবাহ, আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন শাযান এবং আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনী। তিনি বিশ্বস্ত ও মহান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৩২৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তারিখু বাগদাদ ৫৪৯৯। মূলে রয়েছে: «উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ», যা একটি লিপিক্রমিক ভুল।

(৩) মূলে রয়েছে: «আবু সাঈদ», যা ভুল। তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আবদুর রহমান বিন বিশর বিন হিলাল। আবু মুহাম্মদ আল-আনসারী আল-ওয়াররাক, যিনি ইবনে আবু সা’দ নামে পরিচিত। তার মূল নিবাস বলখ-এ, তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী, আফফান বিন মুসলিম, সুলাইমান বিন হারব, হাওযাহ বিন খলিফা, সুলাইমান বিন দাউদ আল-হাশিমী ও অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে রিওয়ায়াত করেছেন ইবনে আবিদ দুনইয়া, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, (উবায়দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সুক্কারী), হুসাইন বিন কাসিম আল-কাওকাবী, হুসাইন বিন ইসমাঈল আল-মাহামিলী ও অন্যান্যেরা। তিনি বিশ্বস্ত এবং ইতিহাস, আদব ও কৌতুকপূর্ণ বিষয়ের পারদর্শী ছিলেন। তিনি ১৯৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখু বাগদাদ ৫১৪৪।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৯৬)
أسماء جبال تهامة وسكانها وما فيها من القرى، وما ينبت عليها من الأشجار، وما فيها من المياه أولها (رضوى) من ينبع على يوم، ومن المدينة على سبع مراحل ميامنة طريق المدينة، ومياسره طريق البريراء(1) لمن كان مصعدا إلى مكة، وعلى ليلتين من البحر. وبحذائها(2) (عزور(3)) وبينه وبين رضوى طريق المعرقة(4) تختصره(5) العرب إلى الشام، وإلى مكة وإلى المدينة، بين الجبلين قدر شوط فرس. وهما جبلان شاهقان منيعان لا يرومهما أحد، نباتهما الشوحط والقرظ والرنف(6)، وهو شجر يشبه الضهياء.

والضهياء: شجر يشبه العناب تأكله الإبل والغنم، لا ثمر له. وللضهياء ثمر يشبه العفص لا يؤكل، وليس له طعم ولا ريح.

--------------------------------------------

(1) البكري 655: «البر»، تحريف.

(2) وقع في نسخة الميمنى: «بحذائه» محرفا عما في الأصل.

(3) بفتح أوله وسكون الزاي، وأصل معنى العزور السّيئ الخلق. وفيه يقول عمر بن أبي ربيعة:

أشارت بأن الحي قد حان منهم … هبوب ولكن موعد لك عزور

ويقول كثير:

تواهق بالحجاج من بطن نخلة … ومن عزور والخبت خبت طفيل

(4) ضبطها ياقوت بضم الميم وسكون العين وكسر الراء، ثم قال: وقد روى بالتشديد للراء والتخفيف، وهو الوجه، كأنه الطريق الذي يأخذ نحو العراق. أما البكري فقد ضبطها بفتح الميم والراء. وهذا الطريق سلكته غير قريش حين كانت وقعة بدر.

(5) اختصار الطريق: سلوك أقربه.

(6) بسكون النون. قال أبو حنيفة: «من شجر الجبال ينضم ورقه إلى قضبانه إذا جاء الليل، وينتشر بالنهار».
তিহামার পাহাড়গুলোর নাম, সেখানকার অধিবাসী, গ্রামসমূহ, সেখানে জন্মানো বৃক্ষরাজি এবং সেখানকার জলাধারসমূহ। এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো (রাযওয়া), যা ইয়ানবু থেকে একদিনের দূরত্বে এবং মদিনা থেকে সাত মঞ্জিল দূরে মদিনার রাস্তার ডান পাশে অবস্থিত। আর যারা মক্কার দিকে আরোহণ করে, তাদের জন্য বারাইরা রাস্তার বাম পাশে এটি অবস্থিত। সমুদ্র থেকে এর দূরত্ব দুই রাতের পথ। এর সমান্তরালে (আযওয়ার) অবস্থিত এবং এটি ও রাযওয়ার মাঝখানে মুআররাকাহ রাস্তা রয়েছে, যা আরবরা সিরিয়া, মক্কা ও মদিনায় যাওয়ার সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে ব্যবহার করে। পাহাড় দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব একটি ঘোড়ার দৌড়ের সমান। পাহাড় দুটি অত্যুচ্চ ও দুর্ভেদ্য, কেউ সেখানে আরোহণের ইচ্ছা করে না। সেখানে শাওহাত, কারায এবং রানাফ নামক উদ্ভিদ জন্মে; রানাফ হলো দাহইয়া সদৃশ একটি গাছ।

আর দাহইয়া হলো উননাব সদৃশ একটি গাছ যা উট ও ছাগল খায়, এর কোনো ফল নেই। তবে দাহইয়ার এমন ফল হয় যা আফাস সদৃশ, যা খাওয়া যায় না এবং এর কোনো স্বাদ বা ঘ্রাণ নেই।

--------------------------------------------

(১) আল-বাকরি ৬৫৫: «আল-বার», এটি একটি পাঠ্যবিকৃতি।

(২) আল-মাইমানি পাণ্ডুলিপিতে মূল পাঠের বিপরীতে বিকৃত হয়ে «বি-হিযায়িহি» শব্দটি এসেছে।

(৩) প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ এবং যা-তে সুকুন যোগে। আযওয়ার শব্দের মূল অর্থ হলো দুশ্চরিত্র। এ সম্পর্কে উমর ইবনে আবি রাবিআহ বলেন:

সে ইঙ্গিত দিল যে বসতি থেকে তাদের প্রস্থানের প্রহর ঘনিয়ে এসেছে … তবে তোমার সাথে সাক্ষাতের নির্ধারিত স্থান হলো আযওয়ার

কাষীর বলেন:

সে নাখলা উপত্যকার হাজিদের সাথে দ্রুত পা ফেলে এগিয়ে চলছে … আর আযওয়ার ও খুবত তুফাইল প্রান্তর দিয়ে

(৪) ইয়াকুত মিম-এ পেশ, আইন-এ সুকুন এবং রা-এ যের দিয়ে এটি নির্ধারণ করেছেন। তারপর তিনি বলেছেন: রা-এর তাশদিদ এবং তাখফিফ উভয়টিই বর্ণিত হয়েছে, আর এটিই সংগত; যেন এটি ইরাকের অভিমুখী কোনো পথ। তবে আল-বাকরি একে মিম ও রা-এর ফাতহাহ দিয়ে নির্ধারণ করেছেন। বদরের যুদ্ধের সময় কুরাইশ ব্যতীত অন্য গোত্রগুলো এই পথটি ব্যবহার করেছিল।

(৫) পথ সংক্ষেপ করা: নিকটবর্তী পথ অবলম্বন করা।

(৬) নুন-এ সুকুন যোগে। আবু হানিফা বলেছেন: «এটি পাহাড়ের গাছগুলোর অন্তর্ভুক্ত, রাত হলে এর পাতাগুলো ডালের সাথে সেঁটে যায় এবং দিনে প্রসারিত হয়»।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৯৭)
وفي الجبلين جميعاً مياه أوشال - والوشل: ماء يخرج من شاهقه لا يطورها أحد(1) ولا يعرف منفجرها. وليس شيء من تلك الأوشال يجاوز الشقة(2).

وأنشد في الرنف(3) يصف جبلا:

مرانعه رنف فملقى سياله … مدافع أوشال يدبّ معينها(4)

ويسكن ذراهما وأحوازهما(5) نهد وجهينة، في الوبر خاصة دون المدر، ولهم هناك يسار ظاهر. ويصب الجبلان في وادي (غيقة)، وغيقة يتصب(6) في البحر، ولها مسك(7) وهي مواضع(8) تمسك الماء، واحدها مساك.

ومن عن يمين رضوى لمن كان منحدراً من المدينة إلى البحر، على ليلة من رضوى(9) (ينبع)، وبها منبر وهي قرية كبيرة غنّاء، سكانها الأنصار وجهينة

--------------------------------------------

(1) لا يطورها: لا يحوم حولها ولا يدنو منها. ووقع في نسخة الميمنى «من شواهقه» محرقا عما في الأصل.

(2) البكري: «بكسر أوله وتشديد ثانيه»، وعنده 327: «فأما البثنة، بإسكان ثانيه وفتح النون، على وزن فعلة، فأرض تلقاء سويقة بالمدينة، اعتملها عبد اللّه بن حسن بن علي بن أبي طالب بمال امرأته هند بنت أبي عبيدة بن عبد اللّه بن زمعة وأجرى عيونها، وهي البثنات، وكان قبل أن ينكحها مقلاتا، فلما عمرت البثنات قال لها: ما خطرت من البثنة فهو لك.

فمشت طول الخيف في عرض ثلاثة أسطر من النخل. فهو حق ابنها موسى منه الذي يقال له الشقة».

(3) في الأصل: «أنشدني الرمث». وجعلها الميمنى في نسخته: «وأنشد في الرمث» وكلاهما تحريف. وقد سبق ذكر الرنف في ص 396.

(4) السيال كسحاب: شجر له شوك أبيض، وهو من العضاه. والمدافع: المجارى، واحدها مدفع بفتح الميم. وفي الأصل: «يدافع».

(5) الذرى بالفتح: الكن والظل. والأحواز: النواحي، جمع حوزة، ومثله هضبة وأهضاب وذوطة وأذواط. وفي الأصل: «أجوارهما». وانظر الهمداني 117، 120.

(6) كذا كتبت في الأصل لتقرأ بالتاء والياء معا.

(7) في الأصل: «مساك»، محرف.

(8) في الأصل: «وهو موضع».

(9) زاد ياقوت عن عرام: «من المدينة على سبع مراحل، وهي لبنى حسن بن علي».
উভয় পাহাড়েই 'আওশাল' (পাহাড়ের গা চুইয়ে পড়া সামান্য পানি) রয়েছে - আর 'ওয়াশাল' হলো এমন পানি যা পাহাড়ের চূড়া থেকে বের হয়, যার আশেপাশে কেউ ঘোরে না এবং তার উৎসমুখ কেউ জানে না। এই আওশালগুলোর কোনোটিই 'শিক্কাহ' অতিক্রম করে না।(১)

তিনি 'রানিফ' বৃক্ষ সম্পর্কে আবৃত্তি করেছেন যেখানে একটি পাহাড়ের বর্ণনা দেয়া হয়েছে:

তার চারণভূমিগুলো রানিফ বৃক্ষে পূর্ণ, আর যেখানে সিয়াল গাছগুলো পড়ে আছে … সেখানে আওশালের প্রবাহপথ রয়েছে যার স্বচ্ছ পানি ধীরে ধীরে বয়ে চলে(৪)

পাহাড় দুটির ছায়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে নাহদ ও জুহাইনা গোত্র বসবাস করে, তারা মূলত তাবু বা পশমের ঘরে (মরুবাসী হিসেবে) বাস করে, স্থায়ী ইটের ঘরে নয়। সেখানে তাদের প্রকাশ্য সচ্ছলতা রয়েছে। পাহাড় দুটি 'গাইকাহ' উপত্যকায় গিয়ে মিশেছে, আর গাইকাহ সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। সেখানে পানি ধরে রাখার আধার রয়েছে যা পানিকে আটকে রাখে, এর একবচন হলো 'মাসাক'।(৭)(৮)

আর যারা মদিনা থেকে সমুদ্রের দিকে ঢালু পথে নামে, তাদের জন্য 'রাদওয়া' পাহাড়ের ডান দিকে, রাদওয়া থেকে এক রাতের দূরত্বে 'ইয়ানবু' অবস্থিত।(৯) সেখানে মিম্বর (প্রশাসনিক কেন্দ্র) রয়েছে এবং এটি একটি বড় ও সমৃদ্ধ গ্রাম, যার অধিবাসী হলো আনসার ও জুহাইনা গোত্র।

--------------------------------------------

(১) 'লা ইয়াতুরুহা': এর চারপাশ দিয়ে কেউ ঘোরে না এবং এর নিকটবর্তী হয় না। আল-মাইমানী সংস্করণে মূল পাঠ্যের বিপরীতে বিকৃত হয়ে 'মিন শাওয়া-হিক্বিহি' (তার চূড়াগুলো থেকে) শব্দবন্ধটি এসেছে।

(২) আল-বাকরি: "প্রথম অক্ষরে কাসরা এবং দ্বিতীয় অক্ষরে তাশদীদ সহ।" তার ৩২৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে: "আর বুসনা-এর ক্ষেত্রে, দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন ও নুনের উপরে ফাতহা সহ, 'ফাউলাহ' ওজনে—এটি মদিনার 'সুয়াইকাহ' সংলগ্ন একটি ভূমি। আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব তার স্ত্রী হিন্দ বিনতে আবি উবাইদাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জামআহ-এর সম্পদ দিয়ে সেখানে চাষাবাদ করেছিলেন এবং এর ঝর্ণাগুলো প্রবাহিত করেছিলেন, এগুলোই হলো 'বুসনা-ত'। বিয়ের আগে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন, যখন বুসনা-ত আবাদ হলো তখন তিনি তাকে বললেন: 'বুসনা-এর যতটুকু অংশ ঘেরাও করা হবে তা তোমার।' তখন তিনি খাইফের দৈর্ঘ্য বরাবর তিন সারি খেজুর গাছের প্রস্থ পর্যন্ত হাঁটলেন। সেটিই তার পুত্র মুসার প্রাপ্য অংশ, যাকে 'শিক্কাহ' বলা হয়।"

(৩) মূল পাঠ্যে আছে: 'আনশাদানি আর-রামস'। আল-মাইমানী তার সংস্করণে এটিকে 'ওয়া আনশাদা ফির-রামস' করেছেন, দুটিই বিকৃতি। ৩৯৬ পৃষ্ঠায় 'রানিফ' এর উল্লেখ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) আস-সিয়াল (সحاب এর মতো ওজনে): সাদা কাঁটাযুক্ত গাছ, এটি 'আদাহ' (কাঁটাগাছ) জাতীয় বৃক্ষ। 'আল-মাদা-ফি' অর্থ হলো প্রবাহপথ বা নালা, এর একবচন 'মাদফা' (মীমে ফাতহা যোগে)। মূল পাঠ্যে 'ইউদা-ফি' রয়েছে।

(৫) 'আয-যারা' (ফাতহা যোগে): আশ্রয় ও ছায়া। 'আল-আহওয়াজ': পার্শ্ববর্তী এলাকা বা অঞ্চলসমূহ, এটি 'হাওযাহ' এর বহুবচন; যেমন 'হাদবাহ' থেকে 'আহদাব' এবং 'যাওতাহ' থেকে 'আযওয়াত'। মূল পাঠ্যে 'আজওয়ারিহিমা' রয়েছে। দেখুন: হামদানি ১১৭, ১২০।

(৬) মূল পাঠ্যে এভাবেই লেখা হয়েছে যাতে তা 'তা' এবং 'ইয়া' উভয় বর্ণেই পড়া যায়।

(৭) মূল পাঠ্যে 'মাসাক' রয়েছে, যা বিকৃত।

(৮) মূল পাঠ্যে রয়েছে 'ওয়া হুয়া মাওদিউন' (এটি একটি স্থান)।

(৯) ইয়াকুত, আররাম থেকে বর্ণনা করে অতিরিক্ত যোগ করেছেন: "মদিনা থেকে এটি সাতটি মঞ্জিল (যাত্রাপথ) দূরে, এবং এটি হাসান ইবনে আলীর বংশধরদের মালিকানাধীন।"
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৯৮)
وليث أيضاً، وفيها عيون عذاب غزيرة، وواديها (يليل) يصبّ في غيقة.

(والصّفراء(1)) قرية كثيرة النخل والمزارع وماؤها عيون كلها، و [هي] فوق ينبع مما يلي المدينة، وماؤها يجري إلى ينبع، وهي لجهينة والأنصار ولبني فهر ونهد، ورضوى منها من ناحية مغيب الشمس، وحواليها قنان - واحدها قنة - وضعاضع صغار - واحدها ضعضاع. والقنان والضعاضع جبال صغار لا تسمّى. وفي يليل هذه عين كبيرة تخرج من جوف رمل من أعذب ما يكون من العيون وأكثرها ماء، تجرى في رمل فلا تمكن الزّارعين عليها إلّا في مواضع يسيرة(2) من أحناء الرمل، فيها نخيل، وتتخذ البقول والبطيخ، وتسمى هذه العين (البحير(3)).

و (الجار(4)) على شاطئ البحر، ترفأ إليه السفن من أرض الحبشة ومصر، ومن البحرين والصّين. وبها منبر، وهي قرية كبيرة آهلة، شرب أهلها من البحير. وبالجار قصور كثيرة، ونصف الجار في جزيرة من البحر، [ونصفها على الساحل. وبحذاء الجار جزيرة في البحر(5)] تكون ميلاً في ميل، لا يعبر إليها

--------------------------------------------

(1) ويقال لها أيضا «الصفيراء». قال عاسل بن غزية:

ثم انصببنا جبال الصفر معرضة … عن اليسار وعن أيماننا جدد

أراد جبال الصفراء. فلم يستقم له الوزن فجمعها وما يليها. البكري 836.

(2) في الأصل: «كثيرة»، صوابه من البكري 836 وياقوت في رسم (البحير، يليل).

(3) وكذا في ياقوت. وعند البكري 826: «البحيرة».

(4) أصل «الجار» ما قرب من المنازل من الساحل، كما في اللسان، وقال ياقوت:

مدينة على ساحل بحر القلزم، بينها وبين المدينة يوم وليلة، وبينها وبين أيلة نحو من عشر مراحل، وإلى ساحل الجحفة نحو ثلاث مراحل. في الأصل: «والخباو».

(5) هذه التكملة الضرورية من ياقوت والبكري في رسم (الجار). ولم يتنبه العلامة الميمنى إلى هذه التكملة.
এবং লায়স-ও (একইভাবে), সেখানে প্রচুর সুমিষ্ট পানির ঝরনা রয়েছে, এবং এর উপত্যকা (ইয়ালিল) গয়কায় গিয়ে মিশেছে।

(সাফরা) প্রচুর খেজুর গাছ ও ফসলি জমি সমৃদ্ধ একটি গ্রাম এবং এর পানি সবটুকুই ঝরনা থেকে প্রাপ্ত; এটি ইয়ানবুর উপরে মদিনার দিকে অবস্থিত, এবং এর পানি ইয়ানবুর দিকে প্রবাহিত হয়। এটি জুহাইনা, আনসার, বনু ফিহর ও নাহদ গোত্রের মালিকানাধীন। এর পশ্চিম দিকে রাদওয়া পাহাড় অবস্থিত, আর এর চারপাশে রয়েছে কানান—একবচনে কান্নাহ—এবং ছোট ছোট দদাদ—একবচনে দদদা। কানান ও দদাদ হলো নামহীন ছোট ছোট পাহাড়। এই ইয়ালিল এলাকায় একটি বড় ঝরনা রয়েছে যা বালুকাস্তূপের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে; এটি ঝরনাগুলোর মধ্যে অত্যন্ত সুমিষ্ট এবং প্রচুর পানির অধিকারী। এটি বালুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাই বালুর বাঁকগুলোর কয়েকটি সীমিত স্থান ছাড়া এর তীরে চাষাবাদ করা কৃষকদের পক্ষে সম্ভব হয় না। সেখানে কিছু খেজুর গাছ রয়েছে এবং সেখানে শাকসবজি ও তরমুজ চাষ করা হয়। এই ঝরনাটিকে (বুহাইর) বলা হয়।

আর (জার) সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত, এখানে আবিসিনিয়া, মিসর, বাহরাইন ও চীন দেশ থেকে জাহাজ এসে ভিড়ে। সেখানে মিম্বর রয়েছে এবং এটি একটি জনবহুল বড় গ্রাম; এর অধিবাসীরা বুহাইর থেকে পানি পান করে। জারে অনেক প্রাসাদ রয়েছে। জারের অর্ধেক অংশ সমুদ্রের একটি দ্বীপে [এবং অর্ধেক অংশ উপকূলে অবস্থিত। জারের সমান্তরালে সমুদ্রে একটি দ্বীপ রয়েছে] যার আয়তন এক মাইল বাই এক মাইল, সেখানে পার হওয়া যায় না...

--------------------------------------------

(১) একে "সুফায়রা"-ও বলা হয়। আসিল বিন গাজিয়্যাহ বলেছেন:

অতঃপর আমরা সফরা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামলাম...

বাম দিক থেকে এবং আমাদের ডান দিক থেকে ছিল সমতল ভূমি।

তিনি সাফরা পাহাড় বুঝিয়েছেন। কিন্তু ছন্দের কারণে তিনি একে বহুবচনে এবং সংলগ্ন অঞ্চলসহ উল্লেখ করেছেন। আল-বাকরি ৮৩৬।

(২) মূলে রয়েছে: "প্রচুর", এর সঠিক রূপ আল-বাকরি ৮৩৬ এবং ইয়াকুতের (বুহাইর, ইয়ালিল) ভুক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে।

(৩) ইয়াকুতের বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। আল-বাকরির বর্ণনায় (৮২৬): "আল-বুহাইরাহ"।

(৪) "আল-জার" শব্দের মূল অর্থ হলো উপকূলের সেই অংশ যা লোকালয়ের কাছাকাছি থাকে, যেমনটি 'আল-লিসান' গ্রন্থে এসেছে। ইয়াকুত বলেছেন:

এটি কুলজুম সাগর তীরের একটি শহর, এর এবং মদিনার মধ্যবর্তী দূরত্ব একদিন ও এক রাতের পথ, আর আয়লা থেকে এর দূরত্ব প্রায় দশ মঞ্জিল এবং জুহফাহর উপকূল থেকে প্রায় তিন মঞ্জিল। মূলে রয়েছে: "আল-খাবাউ"।

(৫) এই প্রয়োজনীয় সংযোজনটি ইয়াকুত ও আল-বাকরির 'আল-জার' ভুক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে। আল্লামা আল-মায়মানি এই সংযোজনটির ব্যাপারে লক্ষ্য করেননি।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৩৯৯)
إلا(1) في سفن، وهي مرفأ(2) الحبشة خاصة، [يقال لها(3)] (غراف)، وسكانها تجار كنحو(4) أهل الجار، يؤتون بالماء من على فرسخين. ووادي يليل يصب في البحر(5) ثم من عدوة غيقة اليسرى مما يلي(6) المدينة عن يمين المصعد إلى مكة من المدينة، وعن يسار المصعد من الشام إلى مكة جبلان يقال لهما (ثافل الأكبر) و (ثافل الأصغر) وهما لضمرة(7) خاصة. وهم أصحاب حلال(8) ورعية(9) ويسار، وبينهما ثنية لا تكون رمية سهم، وبينهما وبين رضوى وعزور ليلتان. نباتهما العرعر، والقرظ، والظيان، والأيدع، والبشام. وللظيان ساق غليظة. وهو شاك - أي غليظ الشوك - ويحتطب. وله سنفة كسنفة العشرق والسّنفة: ما تدلّى من الثمر وخرج عن أغصانه. والعشرق: ورق يشبه الحندقوقا منتنة الرّيح.

--------------------------------------------

(1) هذه الكلمة ثابتة في الأصل، وظنها الميمنى ساقطة منه فأثبتها بين معقفين.

(2) في الأصل: «بريه» صوابه من البكري. وعند ياقوت: «مرسى».

(3) التكملة من ياقوت والبكري.

(4) في الأصل: «البحر» صوابه من ياقوت في (الجار، فرات). وعبارة البكري:

«وكذلك سكان الجار».

(5) قال البكري: «هذا قول السكوني، والصحيح أن يليل يصب في غيقة، وغيقة تصب في البحر».

(6) هذه الكلمة ساقطة من نسخة الميمنى.

(7) ضمرة بن بكر بن عبد مناف بن كنانة بن خزيمة بن مدركة، كما ذكر ياقوت في (ثافل). وقال في اشتقاقه: «والثفل في اللغة: ما ثفل من كل شيء». وضبطه البكري بكسر الفاء وفتحها.

(8) الحلال: جمع حلة، بالكسر، وهي جماعة بيوت الناس، لأنها تحل. قال كراع: هي مائة بيت.

(9) الرعية، بالكسر: اسم من الرعى، كما في اللسان عن اللحياني. وفي الأصل:

«ودعة» وعند ياقوت: «ورغبة» والبكري: «ورعى»، وأثبت ما تقتضيه مقابلة القراءات.
কেবলমাত্র(১) জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে, যা বিশেষভাবে আবিসিনিয়ার একটি বন্দর(২), [যাকে বলা হয়(৩)] (গারাফ), এবং এর অধিবাসীরা আল-জার এর অধিবাসীদের মতো(৪) ব্যবসায়ী, তারা দুই ফারসাখ (প্রায় ৯.৬ কি.মি.) দূরত্ব থেকে পানি আনয়ন করে। ইয়ালিল উপত্যকা সাগরে গিয়ে মিশেছে(৫), অতঃপর গয়িকার বাম তীরের সেই অংশ থেকে যা মদিনার নিকটবর্তী এবং যা মদিনা থেকে মক্কার দিকে আরোহণকারীর ডান দিকে অবস্থিত; আর সিরিয়া থেকে মক্কার দিকে আরোহণকারীর বাম দিকে দুটি পাহাড় রয়েছে যাদেরকে (থাফিল আল-আকবার) এবং (থাফিল আল-আসগার) বলা হয়। পাহাড় দুটি বিশেষভাবে দমরাহ(৭) গোত্রের মালিকানাধীন। তারা জনবসতি(৮), পশুপালন(৯) ও প্রাচুর্যের অধিকারী। পাহাড় দুটির মাঝে একটি গিরিপথ রয়েছে যা একটি তীর নিক্ষেপের দূরত্বের অধিক নয় এবং পাহাড় দুটি এবংরাদওয়া ও আযওয়ার মাঝে দুই রাতের পথ ব্যবধান। সেখানে আরআর, কারায, যিয়ান, আয়দা ও বাশাম উদ্ভিদ জন্মে। যিয়ান উদ্ভিদের কাণ্ড বেশ মোটা এবং এটি কণ্টকাকীর্ণ—অর্থাৎ এর কাঁটা অনেক স্থূল—যা জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফল আশরিকের ফলের খোসার ন্যায় খোসাযুক্ত; আর ‘সিনফাহ’ হলো: ফলের সেই অংশ যা ঝুলে থাকে এবং শাখা থেকে বেরিয়ে আসে। আর আশরিক হলো এমন এক ধরণের পাতা যা দুর্গন্ধযুক্ত হান্দাকুকা পাতার সদৃশ।

--------------------------------------------

(১) এই শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান রয়েছে, তবে আল-মায়মানি একে বিলুপ্ত মনে করে থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘বারিহ’, সঠিকটি আল-বাকরির বর্ণনা অনুযায়ী হবে। ইয়াকুতের নিকট এটি ‘মারসা’ (বন্দর) হিসেবে বর্ণিত।

(৩) এই সংযোজনটি ইয়াকুত ও আল-বাকরির উদ্ধৃতি থেকে নেওয়া হয়েছে।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘আল-বাহর’, সঠিকটি (আল-জার, ফুরাত) অধ্যায়ে ইয়াকুতের বর্ণনা অনুযায়ী হবে। আল-বাকরির বর্ণনা হলো: «তেমনিভাবে আল-জারের অধিবাসীরাও»।

(৫) আল-বাকরি বলেন: «এটি সুকুনির বক্তব্য, তবে সঠিক হলো ইয়ালিল গয়িকাতে গিয়ে মিশে এবং গয়িকা সাগরে গিয়ে মিশে»।

(৬) এই শব্দটি আল-মায়মানির পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।

(৭) দমরাহ বিন বকর বিন আবদ মানাফ বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মাদরিকাহ, যেমনটি ইয়াকুত ‘থাফিল’ শব্দে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন: «অভিধানে ‘থাফাল’ হলো: কোনো জিনিসের তলানি»। আল-বাকরি একে ‘ফা’ বর্ণে কাসরাহ ও ফাতহাহ যোগে বর্ণনা করেছেন।

(৮) আল-হালাল: এটি ‘হিল্লাহ’ শব্দের বহুবচন, যা কাসরাহ যোগে পঠিত হয়; এটি মানুষের ঘরবাড়ির সমষ্টিকে বোঝায় কারণ সেখানে তারা অবস্থান (হলুল) করে। কুরা’ বলেন: এটি একশত ঘরের সমষ্টি।

(৯) আর-রাইয়্যাহ (পশুপালন): এটি ‘আর-রা’য়’ থেকে উদ্ভূত একটি বিশেষ্য, যেমনটি আল-লিহয়ানির সূত্রে ‘আল-লিসান’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘ওয়াদআহ’, ইয়াকুতের নিকট ‘রাগবাহ’, এবং আল-বাকরির নিকট ‘রা’আ’ হিসেবে বর্ণিত; আমি পাঠান্তরের তুলনামূলক পর্যালোচনার ভিত্তিতে সঠিকটি সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৪০০)
والأيدع: شجر يشبه الدّلب(1). إلّا أنّ أغصانه أشد تقاربا من أغصان الدلب، لها وردة حمراء ليست تجد طيب الريح(2) وليس لها ثمر، نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كسر شيء من أغصانها وعن السدر والتنضب والشبهان(3) لأن هؤلاء جميعاً ذوات ظلال يسكن الناس فيها(4) من البرد والحر. وللتنضب(5) ثمر يقال له الهمقع، يشبه المشمش(6) يؤكل طيباً. وللسرح(7) ثمر يقال له الآء(8) يشبه الموز وأطيب منه، كثير الحمل جداً.

--------------------------------------------

(1) أبو حنيفة: الدلب: شجر يعظم ويتسع ولا نور له ولا ثمر، وهو مفرض الورق واسعه شبيه بورق الكرم، واحدته دلبة.

قال ياقوت: واللغويون غير عرام بن الأصبغ مختلفون في الأيدع، فمنهم من قال إنه الزعفران، محتجا بقول رؤبة:

 

• كما اتقى محرم حج أيدعا …

والبعض يقول: إنه دم الأخوين، ومنهم من قال إنه البقم، والصواب عندنا قول عرام، لأنه بدوي من تلك البلاد، وهو أعرف بشجر بلاده. ونعم الشاهد على قول عرام قول كثير حيث قال:

كأن حمول القوم حين تحملوا … صريمة نخل أو صريمة أيدع

(2) ياقوت: «ليس بطيب الريح».

(3) هذه الكلمة ساقطة من ياقوت. وهو بفتح الشين والباء وضمها: ضرب من العضاه.

(4) ياقوت: «دونها».

(5) في الأصل: «وللسدر»، تحريف. والمعروف في ثمر السدر أنه النبق، وأما «الهمقع» بضم الهاء وفتح الميم مخففة ومشددة أيضا فهو ثمر التنضب، الواحدة همقعة، كما في اللسان والمخصص (11: 188). بل قال كراع: إن الهمقع هو التنضب بعينه. ولم يذكر ياقوت هذه العبارة، وذكرها البكري في (أرثد).

(6) شك ابن دريد في صحة عربيته. وهو بكسر الميمين وفتحهما وضمهما، كما في تاج العروس. وذكر داود الأنطاكي المتوفى سنة 1008 أنه يعمل منه ما يسمى «قمر الدين».

(7) هذا استطراد منه، وإلا فإنه لم يسبق له ذكر. والسرح: جمع سرحة، وهو شجر كبار عظام يحل الناس تحتها في الصيف ويبتنون البيوت.

(8) في الأصل: «اللسكاى». والمعروف في ثمر السرح أنه «الآء»، الواحدة «آءة». وفي المخصص (11: 189): وللسرح عنب يسمى الآء واحدته آءة، يأكله الناس ويرتبون منه الرب. وله أول شيء برمة يخرج فيها هذا الآء، وهو يشبه الزيتون. ولا تناقض بين تشبيه عرام له بالزيتون وتشبيه ابن سيده له بالموز، فقد يكون أحد الشبهين للشكل، والآخر للطعم.
আর আইদাউ হলো এমন এক প্রকার গাছ যা চেনার (দালব) গাছের সদৃশ(১)। তবে এর ডালপালাগুলো চেনার গাছের ডালপালার তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও কাছাকাছি থাকে। এর লাল ফুল রয়েছে যা খুব একটা সুগন্ধিযুক্ত নয়(২) এবং এর কোনো ফল নেই। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই গাছের ডাল ভাঙতে এবং সিদর (কুল), তানদুব ও শাবহান গাছ কাটতে নিষেধ করেছেন(৩); কারণ এগুলোর সবই অত্যন্ত ছায়াদার বৃক্ষ, যেখানে মানুষ শীত ও গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় গ্রহণ করে(৪)। আর তানদুব গাছের(৫) এমন এক ফল আছে যাকে ‘হামকা’ বলা হয়, যা দেখতে খুবানির মতো(৬) এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। সারহ গাছের(৭) ফলের নাম হলো ‘আলা’(৮), যা দেখতে কলার মতো কিন্তু কলার চেয়েও বেশি সুস্বাদু এবং এই গাছ প্রচুর ফলদানকারী।

--------------------------------------------

(১) আবু হানিফা বলেন: চেনার (দালব) হলো এমন এক বিশাল ও বিস্তৃত গাছ যার কোনো ফুল বা ফল নেই। এর পাতাগুলো খাঁজকাটা ও প্রশস্ত, যা দেখতে অনেকটা আঙ্গুর গাছের পাতার মতো; এর একবচন হলো দালবাহ।

ইয়াকুত বলেন: আররাম ইবনুল আসবাগ ব্যতীত অন্যান্য ভাষাবিদগণ আইদাউ-এর পরিচয় নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন এটি জাফরান, এর স্বপক্ষে তারা রু’বাহ-এর এই উক্তিটি পেশ করেন:

 

• যেমন হজ্জ পালনকারী ইহরাম অবস্থায় আইদাউ (জাফরান) থেকে বেঁচে থাকেন...

আবার কেউ বলেন: এটি ‘দামে আখাওয়াইন’ (এক প্রকার লাল আঠা), আবার কেউ বলেন এটি বাক্বাম কাঠ। আমাদের নিকট আররামের বক্তব্যই সঠিক, কারণ তিনি ঐ অঞ্চলের একজন মরুবাসী এবং তিনি নিজ অঞ্চলের গাছপালা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। আররামের বক্তব্যের সপক্ষে কুসাইয়িরের এই কাব্যটি একটি উত্তম প্রমাণ:

কাফেলা যখন যাত্রা শুরু করল, তখন তাদের হাওদাগুলোকে মনে হচ্ছিল যেন খেজুর বাগান অথবা আইদাউ গাছের সারি...

(২) ইয়াকুত: “ঘ্রাণ সুগন্ধিযুক্ত নয়”।

(৩) এই শব্দটি ইয়াকুতের বর্ণনায় নেই। এটি শিন ও বা বর্ণের ফাতহা বা জাম্মা সহকারে ‘শাবহান’ বা ‘শুবহান’ পঠিত হয়: এটি এক প্রকার কণ্টকাকীর্ণ বৃক্ষ।

(৪) ইয়াকুত: “সেগুলোর নিচে”।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে “সিদরের জন্য” রয়েছে, যা একটি লিপিক্রমিক ভুল। সিদর গাছের ফল ‘নাবাক’ (কুল) হিসেবে পরিচিত। পক্ষান্তরে ‘হামকা’ (হা বর্ণের পেশ এবং মিম বর্ণের ফাতহা বা তাশদীদ সহকারে) হলো তানদুব গাছের ফল, যার একবচন হামক্বাহ; যেমনটি লিসানুল আরব ও আল-মুখাসসাস (১১: ১৮৮) গ্রন্থে রয়েছে। এমনকি কুরা’ বলেছেন: হামকা স্বয়ং তানদুব বৃক্ষকেই বলা হয়। ইয়াকুত এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেননি, তবে আল-বাকরি ‘আরশাদ’ অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৬) ইবনে দুরেয়িদ এটি বিশুদ্ধ আরবি শব্দ কি না তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। এটি মিম বর্ণের কাসরা, ফাতহা বা জাম্মা সহকারে (মিশমিশ, মাশমাশ বা মুশমুশ) পঠিত হয়, যেমনটি তাজুল আরুস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ১০০৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী দাউদ আনতাকি উল্লেখ করেছেন যে, এই ফল দিয়ে ‘কামারুদ্দীন’ নামক খাদ্য তৈরি করা হয়।

(৭) এটি লেখকের একটি প্রাসঙ্গিক আলোচনা, অন্যথায় এর পূর্বে কোনো উল্লেখ ছিল না। সারহ হলো সারহাহ-এর বহুবচন; এটি অত্যন্ত বড় ও বিশাল বৃক্ষ যার নিচে মানুষ গ্রীষ্মকালে অবস্থান করে এবং ঘরবাড়ি নির্মাণ করে।

(৮) মূল পাণ্ডুলিপিতে “আল-লাস্কা” রয়েছে। তবে সারহ গাছের ফল ‘আলা’ হিসেবেই পরিচিত, যার একবচন ‘আলাহ’। আল-মুখাসসাস (১১: ১৮৯) গ্রন্থে বলা হয়েছে: সারহ গাছের আঙ্গুর সদৃশ ফল আছে যাকে ‘আলা’ বলা হয়, মানুষ এটি ভক্ষণ করে এবং তা থেকে ফলের নির্যাস তৈরি করে। শুরুতে এর ডাল থেকে এক প্রকার মুকুল বের হয় যেখান থেকে এই ‘আলা’ উৎপন্ন হয়, যা দেখতে জলপাইয়ের মতো। আররামের জলপাইয়ের সাথে তুলনা এবং ইবনে সিদাহর কলার সাথে তুলনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ একটি হয়তো বাহ্যিক আকৃতির কারণে এবং অন্যটি স্বাদের সাদৃশ্যের কারণে হতে পারে।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৪০১)
وفي ثافل الأكبر عدة آبار في بطن واد يقال له (يرثد). يقال للأبار (الدباب)، وهو ماء عذب كثير غير منزوف، أناشيط(1) قدر قامة قامة.

وفي ثافل الأصغر ماء في دوار في جوفة يقال له (القاحة(2)) وهما بئران عذبتان غزيرتان. وهما جبلان كبيران شامخان، وكل جبال نهامة تنبت الغضور وبينها وبين رضوى وعزور سبع مراحل(3)، وبين هذه الجبال جبال صغار وقرادد(4) وينسب إلى كل جبل ما يليه.

ولمن صدر من المدينة مصعدا أوّل جبل يلقاء من عن يساره (ورقان(5)) وهو جبل أسود عظيم كأعظم ما يكون من الجبال، بنقاد من سيالة إلى المتعشى(6) بين العرج والرويثة، ويقال للمتعشّى: الجىّ(7)

وفي ورقان أنواع(8) الشجر المثمر كله [وغير المثمر(9)]، وفيه القرظ

--------------------------------------------

(1) جمع أنشاط. يقال بئر أنشاط، أي قريبة القعر، تخرج الدلو منها بجذبة واحدة.

(2) معنى القاحة والباحة واحد، وهما وسط الدار، قال ياقوت: «وقد ذكر فيه القاحة بالفاء والجيم». ولها ذكر في كتب السيرة في «حجة الوداع». انظر إمتاع الأسماع 512. كما ذكرت في طريق الهجرة. انظر السيرة 333 جوتنجن.

(3) جمع قردد، وهو ما ارتفع من الأرض وغلظ.

(4) وقع في نشرتى الأولى: «وعزور وينبع مراحل»، وهو خطا منى في قراءة النسخة، وقد قرأها الميمنى صحيحة كما أثبت هنا، وذكرها الشيخ حمد في تصحيحاته. وأشار إلى أنها كذلك في معجم البكري، رسم (ثافل).

(5) بفتح أوله وكسر ثانيه، كما ضبطه البكري وياقوت، قال ياقوت: ويروى بسكون الراء، وأنشد الجميل:

يا خليلي إن بثنة بانت … يوم ورقان بالفؤاد سليبا

قلت: ولا أحاله إلا من ضرائر الشعر.

(6) لم يرسم له ياقوت ولا البكري، ولكن ذكراه في رسم (ورقان).

(7) رسم له ياقوت، ولم يرسم له البكري، وإنما رسم لجي بفتح الجيم، وهي مدينة إصبهان.

(8) سقطت هذه الكلمة من نسخة الميمنى.

(9) التكملة من ياقوت والبكري والسمهودي 2: 390. ولم يثبتها العلامة الميمنى.
এবং বড় থাফিলে (থাফিল আল-আকবার) ‘ইয়ারছাদ’ নামক উপত্যকার অভ্যন্তরে বেশ কিছু কূপ রয়েছে। এ কূপগুলোকে ‘আদ-দাবাব’ বলা হয়। এটি সুপেয় ও প্রচুর পানিবিশিষ্ট যা কখনও নিঃশেষ হয় না। এগুলো হলো ‘আনাশিত’(১) যা উচ্চতায় প্রায় এক মানুষ সমান গভীর।

এবং ছোট থাফিলে (থাফিল আল-আসগার) এর মধ্যবর্তী এক চত্বরে পানি রয়েছে যাকে ‘আল-কাহাহ’(২) বলা হয়; আর এই দুটি সুপেয় ও ভরপুর কূপ। এগুলো অত্যন্ত বিশাল ও সুউচ্চ দুটি পাহাড়। তিহামাহ অঞ্চলের সকল পাহাড়ে ‘গাদূর’ বৃক্ষ জন্মে। এগুলোর এবং রাদওয়া ও আযওয়ারের মাঝে সাতটি পর্যায় (মারহালাহ)(৩) রয়েছে। এই পাহাড়গুলোর মাঝে ছোট ছোট পাহাড় ও বন্ধুর ভূমি (কারাদিদ)(৪) রয়েছে এবং প্রতিটি পাহাড়কে তার নিকটবর্তী পাহাড়ের দিকে সম্বন্ধ করা হয়।

মদীনা থেকে যারা উঁচু ভূমির দিকে রওনা হন, তাদের বাম পাশে প্রথম যে পাহাড়টি পড়ে তা হলো ‘ওয়ারকান’(৫)। এটি অত্যন্ত বিশাল এক কালো পাহাড়, পাহাড় যত বড় হতে পারে এটি তেমনই। এটি সিয়ালাহ থেকে আল-মুতাআশশা(৬) পর্যন্ত বিস্তৃত, যা আল-আরজ ও আর-রুয়াইছাহ এর মাঝে অবস্থিত। আল-মুতাআশশাকে ‘আল-জাই’(৭) বলা হয়।

ওয়ারকানে সব ধরণের(৮) ফলদ বৃক্ষ রয়েছে [এবং অফলদ বৃক্ষও(৯)], আর সেখানে ‘কারায’ বৃক্ষও রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ‘আনশাত’-এর বহুবচন। ‘বি’রুন আনশাত’ বলা হয়, অর্থাৎ অগভীের কূপ, যেখান থেকে এক টানেই বালতি উঠে আসে।

(২) ‘কাহাহ’ ও ‘বাহাহ’-এর অর্থ এক, যা হলো বাড়ির আঙিনার মধ্যভাগ। ইয়াকুত বলেন: “এতে ‘কাহাহ’ শব্দটি ফা এবং জিম দিয়েও বর্ণিত হয়েছে।” সীরাত গ্রন্থসমূহে ‘বিদায় হজ্জ’ বর্ণনায় এর উল্লেখ রয়েছে। দেখুন: ইমতাউল আসমা ৫১২। হিজরতের পথ বর্ণনাতেও এটি উল্লিখিত হয়েছে। দেখুন: সীরাত ৩৩৩, গটিংজেন।

(৩) ‘কারদাদ’-এর বহুবচন; আর তা হলো ভূমির সেই অংশ যা উঁচু ও শক্ত বা বন্ধুর।

(৪) আমার প্রথম সংস্করণে ছিল: “আযওয়ার এবং ইয়ানবু’র পর্যায়সমূহ”, যা পাণ্ডুলিপি পাঠে আমার ভুল ছিল। মায়মানী এটি সঠিকভাবে পড়েছেন যেমনটি আমি এখানে সাব্যস্ত করেছি, এবং শেখ হামাদও তার সংশোধনীতে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি নির্দেশ করেছেন যে, এটি আল-বাকরীর মু’জাম-এর ‘থাফিল’ ভুক্তিতে এভাবেই রয়েছে।

(৫) প্রথম অক্ষরে ফাতহা এবং দ্বিতীয় অক্ষরে কাসরা দিয়ে, যেমনটি আল-বাকরী ও ইয়াকুত নির্ধারণ করেছেন। ইয়াকুত বলেন: এটি রা-তে সুকুন দিয়েও বর্ণিত হয়। জামিল কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

হে আমার দুই বন্ধু! নিশ্চয়ই বুছনা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে … ওয়ারকানের দিনে হৃদয়কে ছিনিয়ে নিয়ে।

আমি বলি: এটি কেবল কবিতার ছন্দ রক্ষার প্রয়োজনে করা হয়েছে।

(৬) ইয়াকুত বা আল-বাকরী এর জন্য আলাদা ভুক্তি দেননি, তবে তারা ‘ওয়ারকান’ ভুক্তিতে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৭) ইয়াকুত এর জন্য ভুক্তি দিয়েছেন, কিন্তু আল-বাকরী দেননি। তিনি কেবল জিম-এর উপর ফাতহা দিয়ে ‘জায়’ লিখেছেন, যা হলো ইস্পাহান শহর।

(৮) আল-মায়মানীর সংস্করণ থেকে এই শব্দটি বাদ পড়েছে।

(৯) ইয়াকুত, আল-বাকরী এবং আস-সামহূদী ২: ৩৯০ থেকে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত। আল্লামা মায়মানী এটি সাব্যস্ত করেননি।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৪০২)
والسماق(1) والرمان والخزم(2). وأهل الحجاز يسمون السماق «الضمخ(3)» وأهل نجد(4) يسمونه «العرتن» واحدته عرتنة(5). والخزم: شجر يشبه ورقه ورق البرديّ، وله ساق كساق النّخلة يتّخذ منه الأرشية الجياد.

وفيه أوشال وعيون وقلات. سكانه أوس من مزينة، أهل عمود ويسار، وهم قوم صدق.

وبسفحه من عن يمين (سيالة(6)) ثم (الروحاء(7)) ثم (الرويثة(8)) ثم (الجىّ). وبعلو(9) بينه وبين قدس الأبيض ثنية بل عقبة(10) يقال لها (ركوبة)

--------------------------------------------

(1) قال داود: شجر يقارب الرمان طولا إلا أن ورقه مزغب لطيف. وقال أبو حنيفة:

له ثمر حامض عناقيد فيها حب صغار يطبخ، قال: ولا أعلمه ينبت بشئ من أرض العرب إلا ما كان بالشام. لكن نص عرام ينقض قول أبي حنيفة. ومن أعمال حلب جبل عظيم يسمى «جبل السماق» لكثرة ما ينبت فيه منه.

(2) أبو حنيفة: الخزم: شجر مثل شجر الدوم سواء، وله أفنان وبسر صغار، يسود إذا أينع، مر عفصى، لا يأكله الناس ولكن الغربان حريصة عليه تنتابه. وانظر ما سيأتي من تفسير عرام.

(3) في الأصل: «الضبح» تحريف، صوابه عند البكري.

(4) البكري: «وأهل الجند».

(5) في الأصل: «عرتونة»، وإنما تكون هذه واحدة للعرتون كزرجون، وهي إحدى لغات كثيرة في العرتن ذكرت في اللسان والقاموس.

(6) ومسجدها: أحد ثلاثة مساجد بنيت على عهد رسول اللّه صلى الله عليه وسلم، والثاني مسجد الحرة، والثالث مسجد الشجرة، وأما غيرها من المساجد فهي مواضع صلواته صلى الله عليه وسلم، اتخذت بعده مساجد.

(7) فيها يقول عروة بن حزام، (الأمالي 3: 158):

ألا فاحملانى بارك اللّه فيكما … إلى حاضر الروحاء ثم دعاني

(8) تصغير الروثة، وهي واحدة روث الدواب، أو روثة الأنف، وهي طرفه

(9) قرأها العلامة الميمنى «يفلق»، ورسمها في الأصل لا يساعد في ذلك. وعند السمهودي 2: 390: «يفصل».

(10) الثنية: طريق العقبة. قال أبو منصور: العقاب: جبال طوال بعرض الطريق فالطريق تأخذ فيها. وكل عقبة مسلوكة ثنية، وجمعها ثنايا.
এবং সুমাক(১), ডালিম এবং খাজাম(২)। হিজাজবাসীরা সুমাককে ‘আদ-দামাখ(৩)’ নামে অভিহিত করেন এবং নজদবাসীরা(৪) একে ‘আল-আরতান’ বলেন, যার একক হলো আরতানা(৫)। খাজাম হলো এমন এক বৃক্ষ যার পাতা নলখাগড়ার (প্যাপিরাস) পাতার মতো, আর এর কাণ্ড খেজুর গাছের কাণ্ডের মতো; এটি দিয়ে উৎকৃষ্ট মানের রশি তৈরি করা হয়।

এতে রয়েছে সামান্য পানিপ্রবাহ, ঝরনাধারা এবং পাথুরে গর্তের জলাধার। এর অধিবাসীরা হলো মুযায়না গোত্রের আওস শাখা, তারা যাযাবর ও সচ্ছল এবং তারা অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ কওম।

এর পাদদেশে ডান দিক থেকে রয়েছে (সায়ালা(৬)), এরপর (রওহা(৭)), এরপর (রুওয়াইসা(৮) ), এরপর (আল-জাইয়্যি)। এর উচ্চস্থানে(৯) এটি এবং কুদস আল-আবইয়াযের মধ্যস্থলে একটি গিরিপথ বা বরং একটি সংকীর্ণ চড়াই পথ(১০) রয়েছে যাকে ‘রাকুবা’ বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) দাউদ বলেছেন: এমন একটি গাছ যা উচ্চতায় ডালিমের কাছাকাছি, তবে এর পাতা নরম ও রোমশ। আবু হানিফা বলেছেন:

এর ফল টক, থোকায় থোকায় ছোট ছোট দানা থাকে যা রান্না করা হয়। তিনি বলেন: আমি জানি না এটি শামের এলাকা ছাড়া আরবের কোনো ভূমিতে জন্মে কি না। তবে আররামের বক্তব্য আবু হানিফার কথাকে খণ্ডন করে। হালব (আলেপ্পো) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশাল পাহাড় রয়েছে যাকে ‘জাবালুস সুমাক’ বলা হয়, সেখানে এটি প্রচুর পরিমাণে জন্মানোর কারণে।

(২) আবু হানিফা: খাজাম হলো হুবহু দুম (এক প্রকার খেজুর) গাছের মতো একটি গাছ, এর ডালপালা এবং ছোট কাঁচা খেজুরের মতো ফল রয়েছে। ফল পেকে গেলে কালো হয়ে যায়, যা তিক্ত ও কষযুক্ত; মানুষ এটি খায় না, তবে কাক এটি খাওয়ার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল থাকে এবং বারবার এর কাছে ফিরে আসে। আররামের সামনে আসা ব্যাখ্যাটি দেখুন।

(৩) মূল পাঠে: ‘আদ-দাবাহ’ রয়েছে যা লেখনীর বিকৃতি, আল-বাকরির মতে সঠিক শব্দ হবে ‘আদ-দামাখ’।

(৪) আল-বাকরি: ‘এবং আল-জুন্দবাসী’।

(৫) মূল পাঠে: ‘আরতুনা’ রয়েছে, যা কেবল ‘আরতুন’-এর একক হতে পারে যেমন ‘যারজুন’, আর এটি ‘আরতান’ শব্দের বহুবিধ রূপের একটি যা আল-লিসান ও আল-কামুস গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

(৬) এর মসজিদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে নির্মিত তিনটি মসজিদের একটি, দ্বিতীয়টি মাসজিদুল হাররা এবং তৃতীয়টি মাসজিদুশ শাজারাহ। আর অন্য মসজিদগুলো হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়ের স্থান, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে।

(৭) এর সম্পর্কে উরওয়াহ ইবনে হিযাম (আল-আমালি ৩: ১৫৮) বলেন:

ওহে, আল্লাহর বরকতে তোমরা আমাকে বহন করো … রওহার জনপদ পর্যন্ত, অতঃপর আমাকে ছেড়ে দিও।

(৮) এটি ‘রুসাহ’ শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ হলো পশুর বিষ্ঠা, অথবা ‘রুসাতুল আনফ’ বা নাকের অগ্রভাগ।

(৯) আল্লামা আল-মায়মানি একে ‘ইয়াফলুকু’ পড়েছেন, তবে মূল পাণ্ডুলিপির লিখনপদ্ধতি তা সমর্থন করে না। আস-সামহুদি (২: ৩৯০) এর মতে এটি ‘ইয়াফাসিলু’ (পৃথক করে)।

(১০) সানিয়্যাহ: পাহাড়ের চড়াই পথ। আবু মনসুর বলেন: ‘আল-উকাব’ হলো রাস্তার আড়াআড়িভাবে অবস্থিত দীর্ঘ পাহাড়, ফলে রাস্তা তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। প্রতিটি চলনোপযোগী সংকীর্ণ গিরিপথই সানিয়্যাহ, এর বহুবচন সানাআ।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৪০৩)
و (قدس(1)) هذا جبل شامخ ينقاد إلى المتعشّى بين العرج والسّقيا، ثم يقطع(2) بينه وبين قدس الأسود عقبة يقال لها (حمت). ونبات القدسين جميعاً العرعر والقرظ، والشوحط، والشقب(3): شجر له أساريع كأنها الشطب التي في السيف(4)، يتخذ منها القسى. والقدسان جميعاً لمزينة، وأموالهم ماشية من الشاة(5) والبعير، أهل عمود، وفيها أوشال كثيرة.

ويقابلهما(6) من غير(7) الطريق المصعد جبلان يقال لهما (نهبان): نهب الأسفل، ونهب الأعلى، وهما لمزينة، ولبنى ليث فيهما شقص، ونباتهما العرعر والإثرار(8). وقد يتخذ من الإثرار القطران كما يتخذ من العرعر؛ وفيهما القرظ.

وهما مرتفعان شاهقان كبيران. وفي نهب الأعلى ماء في دوار من الأرض، بئر واحدة كبيرة غزيرة الماء، عليها مباطخ(9) وبقول ونخيلات(10) يقال لها (ذو خيمى(11)) وفيه أوشال.

--------------------------------------------

(1) قال الأنباري: قدس مؤنثة لا تجرى - أي لا تصرف - اسم للجبل وما حوله.

لكن جرى عرام هنا على صرفه كما سيأتي. وجرى البكري أيضا على صرفه في رسم (آرة).

(2) في الأصل: «سعطع» بالإهمال.

(3) بالتحريك وبالكسر، وجعلها الميمنى «السكب»، وهو سهو منه.

(4) الأسروع: الشكير، وهو ما ينبت حول الشجرة من أصلها. والشطبة: عمود السيف الناشز في متنه.

(5) كذا في الأصل، وجعلها الميمنى «الشاء»

(6) في الأصل: «يقابلها».

(7) وكذا قرأها العلامة الميمنى مع إهمالها في الأصل. ويرى الشيخ حمد أن صوابها «يمين».

(8) سيأتي تفسيره في ص 408.

(9) جمع مبطخة، لموضع البطيخ.

(10) جعلها الميمنى «نخلات» ولا ضرورة لهذا التغيير.

(11) وكذا عند ياقوت في رسم «نهبان» والزمخشري في كتاب الجبال 166 - 167 وعند البكري في رسمه وفي (قدس 1052)، وكذا الهمداني في صفة جزيرة العرب 176 «ذو خيم». لكن عند البكري في رسم (العرج): «المنبجس».
এবং (কুদ্স) এটি একটি সুউচ্চ পাহাড় যা আল-আরজ এবং আস-সুকইয়ার মধ্যবর্তী আল-মুতায়াশশার দিকে চলে গেছে। এরপর এটি এবং কুদ্স আল-আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে একটি পাহাড়ি গিরিপথ পৃথক করেছে যাকে (হামাত) বলা হয়। উভয় কুদ্সের উদ্ভিদ হলো আরআর (জুনাইপার), কারায, শাওহাত এবং শাকাব: এটি এমন এক প্রকার গাছ যাতে তলোয়ারের খাঁজের মতো সরু শাখা বা অঙ্কুর থাকে, যা থেকে ধনুক তৈরি করা হয়। উভয় কুদ্স মুযায়নাহ গোত্রের মালিকানাধীন এবং তাদের সম্পদ হলো ছাগল ও উটের মতো গবাদি পশু; তারা তাঁবুতে বসবাসকারী যাযাবর এবং সেখানে অনেক চুইয়ে পড়া পানির উৎস রয়েছে।

আর আরোহণের পথের অন্য পাশ থেকে এই দুইয়ের বিপরীতে দুটি পাহাড় রয়েছে যেগুলোকে (নাহবান) বলা হয়: নিম্ন নাহব এবং উচ্চ নাহব। এই দুটি মুযায়নাহ গোত্রের এবং এতে বনু লাইস গোত্রেরও একটি অংশ রয়েছে। এদের উদ্ভিদ হলো আরআর এবং ইসরার। আরআর-এর মতো ইসরার থেকেও আলকাতরা তৈরি করা হয়; আর সেখানে কারায-ও রয়েছে।

পাহাড় দুটি অত্যন্ত উঁচু, সুউচ্চ এবং বিশাল। উচ্চ নাহবে ভূমির একটি গোলাকার স্থানে পানি রয়েছে; সেখানে প্রচুর পানি বিশিষ্ট একটি বড় একক কুয়া রয়েছে, যার চারপাশে তরমুজ ক্ষেত, শাকসবজি এবং ছোট ছোট খেজুর গাছ রয়েছে যাকে (যু খাইমা) বলা হয় এবং সেখানে চুইয়ে পড়া পানির উৎস রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-আনবারী বলেছেন: কুদ্স শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ এবং এটি অপরিবর্তনশীল (গাইর মুনসারিফ)—অর্থাৎ এটি পাহাড় ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নাম।

তবে আররাম এখানে একে পরিবর্তনশীল হিসেবে ব্যবহার করেছেন যা সামনে আসবে। আল-বাকরীও (আরাহ) এর বর্ণনায় একে পরিবর্তনশীল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীনভাবে এটি অস্পষ্ট ছিল।

(৩) শব্দটির দ্বিতীয় বর্ণ যবর বা যের যোগে; আর আল-মায়মানী একে ‘আস-সাকাব’ লিখেছেন যা তার পক্ষ থেকে একটি ভুল।

(৪) আসরূ’ (বহুবচনে আসারী’): গাছের গোড়ার চারপাশ দিয়ে গজিয়ে ওঠা নতুন অঙ্কুর বা শাখা। আর শাতবাহ হলো তলোয়ারের পৃষ্ঠের উপর উঁচিয়ে থাকা খাঁজ বা রেখা।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে আল-মায়মানী একে ‘আশ-শা’ লিখেছেন।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে ‘ইক্বাবিলুহা’ (একবচন) রয়েছে।

(৭) আল্লামা আল-মায়মানী মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও এভাবেই পড়েছেন। তবে শেখ হামাদ মনে করেন এর সঠিক শব্দ হবে ‘ইয়ামীন’ (ডানদিকে)।

(৮) এর ব্যাখ্যা ৪০৮ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৯) মাবতাখাহ-এর বহুবচন, যা তরমুজ চাষের স্থানকে বোঝায়।

(১০) আল-মায়মানী একে ‘নাখলাত’ (খেজুর গাছ) করেছেন, তবে এই পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই।

(১১) ইয়াকূতের ‘নাহবান’ ভুক্তিতে, আয-যামাখশারীর ‘কিতাবুল জিবাল’ (১৬৬-১৬৭), আল-বকরীর বর্ণনায় এবং ‘কুদ্স ১০৫২’ ভুক্তিতে, এবং আল-হামদানীর ‘সিফাতু জাযীরাতিল আরব ১৭৬’-এ ‘যু খাইম’ হিসেবে এভাবেই এসেছে। তবে আল-বকরীর (আল-আরজ) বর্ণনায় একে ‘আল-মুনবাজিস’ বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৪০৪)
وفي نهب الأسفل أوشان(1)، ويفرق بينهما وبين قدس وورقان الطريق، وفيه (العرج). ووادي العرج يقال له (مسيحة(2))، نباته المرخ والأراك والثّمام.

ومن عن يسار الطريق مقابلا قدسا(3) الأسود جبل من أشمخ ما يكون، يقال له (آرة)، وهو جبل أحمر تخر(4) من جوانبه عيون، على كلّ عين قرية.

فمنها قرية غناء كبيرة يقال لها (الفرع(5)) وهي لقريش والأنصار ومزينة. ومنها (أم العيال(6)) قرية صدقة فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم(7).

وعليها قرية يقال لها (المضيق(8)). ومنها قرية يقال لها (المحضة(9))، ومنها قرية يقال لها (الوبرة(10))، ومنها قرية يقال لها (خضرة(11))، ومنها قرية

--------------------------------------------

(1) ظنها الميمنى ساقطة من الأصل، وهي ثابتة فيه.

(2) وكذا عند البكري في «قدس» نقلا عن السكوني. وفي الأصل: «فسيحة» تحريف.

وذكر ياقوت في (سميحة) ثلاث لغات، تقال بالتصغير والتكبير، وبتقديم الميم كما هنا.

(3) وكذا ورد النقل عنه في ياقوت في رسم «آرة». وانظر ما سبق في ص 403.

(4) كذا في الأصل والسمهودي 2: 239. وعند ياقوت: «تخرج» والبكري:

«تنفجر». وكنت قرأتها في نشرتى الأولى «تخرج».

(5) يقال بضمة وبضمتين، كما ذكر ياقوت.

(6) البكري: «أرض بالفرع لجعفر بن طلحة بن عمرو بن عبيد اللّه بن عثمان بن كعب، وكان طلحة جميلا وسيما، فلزم علاج عين أم العيال ولها قدر عظيم، وأقام بها وأصابه الوباء، فقدم المدينة وقد تغير، فرآه أنس بن مالك فقال: هذا الذي عمر ماله وأخرب بدنه». وانظر ياقوت (1: 336).

(7) نحوه ما ورد عند البكري 1329 من أن «الجثجاثة: صدقة عبد اللّه بن حمزة».

وما ورد في 743 «وكثير منها - أي العيون - صدقات للحسن بن زيد». انظر صورة من صور التصدق بالضياع عند البكري 658.

(8) ذكر ياقوت أن بنى عامر ورئيسهم علقمة بن علاثة أغاروا على زيد الخيل، فالتقوا بالمضيق، فأسرهم زيد الخيل عن آخرهم، وكان فيهم الحطيئة، فشكا إليه الضائقة فمن عليه.

(9) من قولهم محض الشئ، أي خالصه، كما ذكر ياقوت.

(10) سميت باسم الحيوان، وهو دويبة غبراء على قدر السنور حسنة العينين شديدة الحياء، تكون بالغور.

(11) كذا ضبطت عند ياقوت والبكري في رسمها، وذكرها البكري أيضا في (قدس 1051) وفي الأصل: «حضرة» بالحاء المهملة، تحريف.
এবং নিম্ন নিহব অঞ্চলে আওশান(১) অবস্থিত। রাস্তাটি এই দুইটির (আওশান) এবং কুদস ও ওয়ারকানের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে এবং এখানেই (আল-আরজ) অবস্থিত। আর আল-আরজ উপত্যকাকে (মাসিহা(২)) বলা হয়, এর উদ্ভিদসমূহ হলো মারখ, আরাক এবং ছুমাম।

রাস্তার বাম দিক থেকে কালো কুদসের(৩) বিপরীতে অত্যন্ত সুউচ্চ একটি পাহাড় রয়েছে যাকে (আরাহ) বলা হয়। এটি একটি লাল বর্ণের পাহাড় যার চারপাশ থেকে ঝর্ণাসমূহ প্রবহমান(৪), এবং প্রতিটি ঝর্ণার পাশে একটি করে গ্রাম রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও বড় গ্রাম রয়েছে যাকে (আল-ফার(৫)) বলা হয়; এটি কুরাইশ, আনসার এবং মুজাইনা গোত্রের মালিকানাধীন ছিল। তার মধ্যে আরও আছে (উম্মুল ইয়াল(৬)), যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমার সদকা হিসেবে ওয়াকফকৃত গ্রাম(৭)।

এবং এর উপরে একটি গ্রাম আছে যাকে (আল-মাদিক(৮)) বলা হয়। আরও আছে (আল-মাহদাহ(৯)) নামক গ্রাম, এবং (আল-ওয়াবারাহ(১০)) নামক গ্রাম, আরও আছে (খাদরাহ(১১)) নামক গ্রাম, এবং আরও একটি গ্রাম...

--------------------------------------------

(১) আল-মায়মানী ধারণা করেছিলেন এটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, তবে এটি সেখানে সংরক্ষিত আছে।

(২) আস-সুকুনি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আল-বাকরি 'কুদস' বর্ণনায় অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। মূলে এটি 'ফাসিহা' ছিল যা একটি লিপিক্রমিক বিকৃতি।

ইয়াকুত 'সুমাইহা' শব্দে তিনটি উচ্চারণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ছোট এবং বড় উভয় ভাবেই পড়া যায় এবং এখানে যেভাবে আছে মিম বর্ণটি আগে দিয়েও পড়া যায়।

(৩) ইয়াকুত-এর কিতাবে 'আরাহ' বর্ণনায় তাঁর থেকে অনুরূপ উদ্ধৃতি এসেছে। পূর্বে ৪০৩ পৃষ্ঠায় যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা দেখুন।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপি এবং আস-সামহুদি (২: ২৩৯) তে এভাবেই আছে। ইয়াকুতের নিকট 'তাখরুজু' (বের হওয়া) এবং আল-বাকরির নিকট 'তানফাজিরু' (বিস্ফুরিত হয়ে বের হওয়া) শব্দ এসেছে। আমি আমার প্রথম প্রকাশনায় এটিকে 'তাখরুজু' হিসেবে পড়েছিলাম।

(৫) ইয়াকুত যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটি এক পেশ বা দুই পেশ (ফারউ বা ফুরুউ) দিয়ে পড়া হয়।

(৬) আল-বাকরি বলেছেন: "আল-ফারে জাফর ইবনে তালহা ইবনে আমর ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে কাব-এর জমি ছিল। তালহা অত্যন্ত সুশ্রী ও সুদর্শন ছিলেন। তিনি উম্মুল ইয়াল-এর ঝর্ণার পরিচর্যায় নিয়োজিত ছিলেন যার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তিনি সেখানে অবস্থান করেন এবং মহামারীতে আক্রান্ত হন। যখন তিনি মদিনায় ফিরে আসেন তখন তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। আনাস ইবনে মালিক তাঁকে দেখে বলেছিলেন: এ সেই ব্যক্তি যে তার সম্পদকে আবাদ করেছে আর নিজের শরীরকে ধ্বংস করেছে।" ইয়াকুত (১: ৩৩৬) দেখুন।

(৭) অনুরূপ তথ্য আল-বাকরি (১৩২৯) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে "আল-জাসজাসাহ হলো আবদুল্লাহ ইবনে হামজার সদকা"।

এবং ৭৪৩ পৃষ্ঠায় এসেছে "এসব ঝর্ণার অধিকাংশ হাসান ইবনে যাইদের সদকা"। ভূসম্পত্তি সদকা করার একটি দৃষ্টান্ত আল-বাকরি (৬৫৮) তে দেখুন।

(৮) ইয়াকুত উল্লেখ করেছেন যে বনু আমির এবং তাদের নেতা আলকামা ইবনে উলাছাহ যাইদ আল-খাইল-এর উপর আক্রমণ করেছিল, তারা আল-মাদিক নামক স্থানে মুখোমুখি হয়। যাইদ আল-খাইল তাদের সবাইকে বন্দী করেন, যাদের মধ্যে হুতাইয়াহ-ও ছিল। সে তার অভাবের অভিযোগ করলে তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন।

(৯) ইয়াকুত যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটি তাদের এই উক্তি থেকে এসেছে যে কোনো বস্তু 'মাহদা' হওয়া মানে তা খাঁটি হওয়া।

(১০) এটি একটি পশুর নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা ধূসর বর্ণের বিড়ালের আকৃতির একটি ছোট প্রাণী, যার চোখ দুটি সুন্দর এবং অত্যন্ত লাজুক, এটি নিচু ভূমিতে বাস করে।

(১১) ইয়াকুত এবং আল-বাকরি তাদের বর্ণনায় এভাবেই শব্দটির উচ্চারণ নির্ধারণ করেছেন। আল-বাকরি 'কুদস' (১০৫১) বর্ণনায়ও এটি উল্লেখ করেছেন। মূলে 'হাদরাহ' (হ বর্ণ দিয়ে) ছিল, যা একটি লিপিক্রমিক বিকৃতি।
(খণ্ড: ২) আসমাউ জিবারিল তিহামাহ ওয়া সুক্কানিহা - যিমনা নাওয়াদিরিল মাখতুদাত (পৃষ্ঠা: ৪০৫)
يقال لها (الفغوة(1)) تكتنف آرة من جميع جوانبه. وفي كل هذه القرى نخيل وزروع، وهي من السقيا على ثلاث مراحل من عن يسارها مطلع الشمس، وواديها يصب في (الأبواء)، ثم في (ودان) وهي قرية(2) من أمهات القرى لضمرة وكنانة وغفار وفهر قريش، ثم في (الطّريفة)، والطّريفة قرية ليست بالكبيرة على شاطئ البحر. واسم وادي آرة (حقل(3)) وقرية يقال لها (وبعان(4)). و (خلص آرة(5)) واد به قرى وأجزاع(6) ونخل، وقد قال فيه الشاعر(7):

--------------------------------------------

(1) هي من الفغوة، بمعنى الزهرة.

(2) سقطت هذه الكلمة من نشرة الميمنى، وهي ثابتة في الأصل.

(3) عند البكري في رسمه وفي (قدس 1052): «حقيل». وكنت أثبتها في نشرتى الأولى «حقيل» والتصحيح للشيخ حمد مطابقا ما في الأصل ومعجم البلدان 3: 306 والسمهودي في وفاء الوفا 2: 292 قال: «أما حقيل ففي نجد. وبون شاسع بين الموضعين».

(4) رسم لها ياقوت والبكري، وهو بفتح الواو وكسر الباء. وأخطأ البكري إذ رسم لها مرة أخرى (ونعان) بفتح الواو والنون، وأحال إلى مواضع ذكرت فيها على الصواب.

(5) يقول فيها النصيب، كما روى البكري:

وكانت إذ تحل أراك خلص … إلى أجزاع بيشة والرغام

(6) جمع جزع بالكسر، وهو جانب الوادي ومنقطعة، قيل لا يسمى جزعا حتى تكون له سعة تنبت الشجر وغيره.

(7) هو أبو المزاحم، كما ذكر البكري في 449 - 450. والأبيات عند ياقوت (خلص، وبعان) والبكري 450، 1052. وكتب الشيخ حمد هنا تعليقا نفيسا، وهذا نصه:

لعل مما يفيد القراء أن ننقل شيئا من خبر قائلها عن كتاب (التعليقات والنوادر لأبى على الهجري - نسخة دار الكتب المصرية) قال: وأنشدني لعزلان الثمامي، من ثمامة بن كعب بن جذيمة بن خفاف:

خليلىّ صبّانى ورحلي وناقتي … على ملح الريّان ثم دعانيا

فإن أنتما لم تفعلا ومررتما … على حائط الزّيدى فاستودعانيا

أسائل عن عمق وعن حسن حاله … ولولا ابنة الزيدي قلّ سؤاليا

عمق الزروع قرب الفرع، وعمق المضيق بيليل قرب بدر. وقال: الزيديون من بنى عمران -
এটিকে (ফাগওয়া(১)) বলা হয়, যা আরার সব দিককে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এই সমস্ত গ্রামগুলোতে খেজুর গাছ এবং শস্যক্ষেত রয়েছে, এবং এটি সুকয়া থেকে তিন মঞ্জিল দূরে এর বাম দিক থেকে সূর্যোদয়ের দিকে অবস্থিত। এর উপত্যকা (আবওয়া)-তে গিয়ে মিশেছে, তারপর (ওয়াদ্দান)-এ, যা দামরাহ, কিনানাহ, গিফার এবং ফিহর কুরাইশ গোত্রের প্রধান গ্রামগুলোর(২) অন্যতম। তারপর (তারিফাহ)-তে, আর তারিফাহ সমুদ্রতীরে অবস্থিত খুব একটা বড় গ্রাম নয়। আরা উপত্যকার নাম হলো (হাকল(৩)) এবং একটি গ্রামকে (ওয়াবআন(৪)) বলা হয়। আর (খালাস আরা(৫)) হলো এমন একটি উপত্যকা যাতে গ্রাম, আজজা'(৬) (উপত্যকার পার্শ্বদেশ) এবং খেজুর গাছ রয়েছে, যার সম্পর্কে জনৈক কবি(৭) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) এটি 'ফাগওয়া' থেকে এসেছে, যার অর্থ ফুল।

(২) এই শব্দটি আল-মায়মানি সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি বিদ্যমান।

(৩) আল-বাকরির বর্ণনায় এবং (কুদ্স ১০৫২)-তে এটি 'হুকাইল'। আমি আমার প্রথম সংস্করণে এটিকে 'হুকাইল' হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলাম, তবে শায়খ হামাদের সংশোধন মূল পাণ্ডুলিপি এবং মুজামুল বুলদান ৩: ৩০৬ ও আস-সামহুদির ওফাউল ওফা ২: ২৯২-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি বলেছেন: «হুকাইল তো নজদে অবস্থিত। আর এই দুই স্থানের মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে»।

(৪) ইয়াকুত এবং আল-বাকরি একে এভাবে বর্ণনা করেছেন—ওয়াও-তে ফাতহা এবং বা-তে কাসরা যোগে। আল-বাকরি ভুলবশত একে অন্য জায়গায় (ওয়ানআন) ওয়াও ও নূন-এর উপর ফাতহা দিয়ে লিখেছেন এবং সঠিক উল্লেখ রয়েছে এমন স্থানের হাওয়ালা দিয়েছেন।

(৫) কবি নুসাইব এর সম্পর্কে বলেছেন, যেমনটি আল-বাকরি বর্ণনা করেছেন:

যখন তিনি আরাকের খালাস-এ অবতরণ করতেন … বিশাহ এবং আল-রাগামের পার্শ্বদেশ পর্যন্ত।

(৬) এটি 'জিজ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ উপত্যকার পাশ এবং এর শেষ প্রান্ত। বলা হয় যে, একে ততক্ষণ 'জিজ' বলা হয় না যতক্ষণ না সেখানে গাছপালা জন্মানোর মতো প্রশস্ততা থাকে।

(৭) তিনি হলেন আবু আল-মুজাহিম, যেমনটি আল-বাকরি ৪৪৯-৪৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। আর শ্লোকগুলো ইয়াকুতের (খালাস, ওয়াবআন) এবং আল-বাকরির ৪৫০, ১০৫২ পৃষ্ঠায় পাওয়া যায়। শায়খ হামাদ এখানে একটি মূল্যবান টীকা লিখেছেন, যার পাঠ নিম্নরূপ:

পাঠকদের জন্য হয়তো উপকারে আসবে যদি আমরা আবু আলী আল-হিজরির 'আত-তালিকাত ওয়ান নাওয়াদির' (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া পাণ্ডুলিপি) থেকে এর কবির সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরি। তিনি বলেন: উজলান আস-সুমামি, যিনি সুমামাহ বিন কাব বিন জুজাইমাহ বিন খুফাফ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, তিনি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

হে আমার দুই বন্ধু! আমাকে, আমার আসবাবপত্র এবং উষ্ট্রীকে রাইয়ানের লবাক্ত ভূমিতে রেখে দাও এবং আমাকে ছেড়ে যাও

যদি তোমরা তা না করো এবং যাইদি-র প্রাচীরের পাশ দিয়ে যাও, তবে আমাকে সেখানে সোপর্দ করে দিও

আমি 'উমক' এবং এর সুসংবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, যদি যাইদি-র কন্যা না হতো তবে আমার জিজ্ঞাসা খুব কমই হতো

ফসলের উমক আল-ফারা'-এর কাছে অবস্থিত এবং সংকীর্ণ উমক বা ইয়ালইয়ালের উমক বদরের কাছে অবস্থিত। তিনি আরও বলেন: যাইদিরা হলো বনু ইমরান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত-