(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية لأبي الحسن الندوي القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السيرة النبوية لأبي الحسن الندوي
المؤلف: أبو الحسن علي الحسني الندوي (1333 - 1420 هـ)
تحقيق وتعليق: سيد عبد الماجد الغوري
الناشر: دار ابن كثير، (دمشق - بيروت)
الطبعة: الثانية عشرة، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 767
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবুল হাসান নদভীর সীরাতুন্নবী বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: আবুল হাসান নদভীর সীরাতুন্নবী
লেখক: আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আন-নদভী (১৩৩৩ - ১৪২০ হিজরি)
সম্পাদনা ও টীকা: সাইয়্যিদ আব্দুল মাজিদ আল-গৌরী
প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর, (দামেস্ক - বৈরুত)
সংস্করণ: দ্বাদশ, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬৭
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بين يديّ الكتابالحمد لله ربّ العالمين، والصّلاة والسّلام على محمّد خير من افتتحت بذكره الدّعوات، واستنجحت بالصّلاة عليه الطّلبات، وعلى آله الذين عظّمهم توقيرا، وطهّرهم تطهيرا.
وبعد: فإنّنا نسعد بتقديم هذا الكتاب القيّم النفيس إلى القرّاء الكرام، الذي نال قبولا عظيما، وحفاوة بالغة عند كبار الدارسين والأساتذة الجامعيّين منذ أوّل يوم لصدوره، والذين اهتمّوا به دراسة وتدريسا، فسرعان ما أصبح الكتاب من أهمّ المراجع في السيرة النبوية. ويقدّر بمدى القبول له والإعجاب به لدى الناس أنّه قد نقل حتى الآن إلى أكثر من عشر لغات عالمية، وأدخل كذلك في المقرّرات الدراسية في مختلف البلاد العربية والإسلامية.
وكيف لا.. فإنّه قد صدر من قلم رجل استقى عرقه من منبع النّبوّة، ورضعت شجرته من ثدي الرسالة، وفقست بيضته من سلالة الطهارة، وربّي منذ نعومة أظفاره على التعلّق بالسّيرة، وحبّ صاحبها- عليه ألف ألف سلام- والاهتداء بهديه في الأمور كلّها، فعاش في السيرة، وعاشت فيه السيرة «1» وشكّلت عنصرا أساسيا في ثقافته وحياته. جمع في قراءتها بين ما كتب قديما وحديثا بالعربية والفارسية والأردوية وبالإنكليزية كذلك، بحيث أصبحت (السّيرة) فيما بعد مادّة كتاباته ومحاضراته الأساس بصورة مباشرة أو غير مباشرة «2» ، وأصبح تفكيره متعلّقا بها، ومنطلقا منها في توجّهاته وتوجيهاته،
--------------------------------------------
বইয়ের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁর স্মরণের মাধ্যমে দোয়া শুরু করা সর্বোত্তম এবং যাঁর ওপর দরুদ পাঠের বরকতে যাবতীয় প্রার্থনা সফল হয়; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যাঁদেরকে তিনি বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং পূর্ণরূপে পবিত্র করেছেন।
অতঃপর: সম্মানিত পাঠকদের নিকট এই মূল্যবান ও অমূল্য গ্রন্থটি উপস্থাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি প্রকাশের প্রথম দিন থেকেই বিদগ্ধ গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের নিকট ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও বিপুল সমাদর লাভ করেছে। তাঁরা গ্রন্থটি অধ্যয়ন ও পাঠদানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে অতি দ্রুতই বইটি সীরাতুন নববীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। মানুষের নিকট এর গ্রহণযোগ্যতা এবং মুগ্ধতার পরিধি এতটাই যে, এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের দশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশের পাঠ্যসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর কেনই বা হবে না.. কেননা এটি এমন এক ব্যক্তির কলম থেকে নিঃসৃত হয়েছে, যাঁর সত্তা নবুয়তের উৎস থেকে সিক্ত হয়েছে, যাঁর অস্তিত্বের বৃক্ষ রিসালতের বক্ষ থেকে সুধা পান করেছে এবং যাঁর জন্ম হয়েছে এক পবিত্র বংশধারায়। শৈশব থেকেই তিনি সীরাতের প্রতি অনুরাগ, সীরাতের অধিকারীর (তাঁর প্রতি অগণিত সালাম) প্রতি ভালোবাসা এবং সকল বিষয়ে তাঁর আদর্শের অনুসরণের ওপর গড়ে উঠেছেন। ফলে তিনি সীরাতের মাঝে নিমগ্ন ছিলেন এবং সীরাত তাঁর সত্তায় মিশে গিয়েছিল (১); যা তাঁর সংস্কৃতি ও জীবনের এক অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছিল। তিনি সীরাত অধ্যয়নে আরবি, ফার্সি, উর্দু এবং ইংরেজির প্রাচীন ও আধুনিক সকল রচনার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। ফলে পরবর্তীতে 'সীরাত' প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর লিখনী ও বক্তৃতার মূল উপজীব্য হয়ে ওঠে (২)। তাঁর চিন্তা-চেতনা এর সাথেই জড়িয়ে যায় এবং তাঁর সকল কর্মপন্থা ও দিকনির্দেশনার উৎস হয়ে দাঁড়ায় এটি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأصبحت موضوعا محوريا في نتاجه الفكري، تشيع في أرجائه، وتنير مباحثه، وما يثيره من أفكار وقضايا.
فلا غرابة إذا بعد هذا
… أن يكون لهذا الكتاب من القبول والتأثير، والذيوع والانتشار ما لا يكون إلا لكتب كبار المخلصين، والعلماء العاملين، والدّعاة المجدّدين إذا كان مؤلّفه متّصفا بما ذكرناه.
قد صدر لهذا الكتاب عدّة طبعات، ولكن الطبعة الأخيرة التي صدرت من المجمع الإسلامي العلمي بلكهنؤ (عام 1416 هـ- 1995 م) ، تشتمل على إضافات قيمة للعلّامة المؤلّف، فصدرت بعد هذه الطبعة طبعات لم يتناول فيها الناشرون تلك الإضافات «1» ، فراجت وشاعت دونها بين يدي القرّاء.
لذا أردنا في هذه الطبعة أن نعتني أوّلا بإلحاق جميع تلك الإضافات بهذه الطبعة مع العناية بالأمور التالية:
1- مراجعة الكتاب وتصحيحه بشكل دقيق، وذلك بالرجوع إلى جميع تلك المصادر والمراجع التي استفاد منها العلّامة المؤلّف- رحمه الله.
2- استكمال تخريج الأحاديث، وتخريج ما لم يخرّج منها قبل- وهي كثيرة- بين المعقوفتين ( [] ) .
3- شرح الألفاظ الغريبة في حواشي الكتاب بين المعقوفتين- والذي رأيناه لزاما، خاصة بعد ما أصبح الكتاب اليوم مقرّرا في كثير من المعاهد
--------------------------------------------
এবং এটি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা এর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত এবং তাঁর আলোচিত বিষয়সমূহ ও তাঁর উত্থাপিত চিন্তা ও ইস্যুগুলোকে আলোকিত করে।
অতএব, এরপর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে
… এই বইটি এমন গ্রহণযোগ্যতা, প্রভাব, খ্যাতি ও প্রচার লাভ করবে যা কেবল একনিষ্ঠ ব্যক্তি, আমলকারী আলেম এবং সংস্কারক দাঈদের কালজয়ী বইগুলোর ভাগ্যেই জোটে, যদি তার লেখক আমাদের বর্ণিত গুণাবলীতে ভূষিত হন।
এই বইটির বেশ কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু লখনউয়ের মাজমাউল ইসলামি আল-ইলমি থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ সংস্করণটি (১৪১৬ হিজরী- ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ), আল্লামা লেখকের মূল্যবান কিছু সংযোজন অন্তর্ভুক্ত করে। এই সংস্করণের পরে এমন কিছু সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে যেখানে প্রকাশকরা সেই সংযোজনগুলো গ্রহণ করেননি «১», ফলে সেগুলো ছাড়াই পাঠকদের মধ্যে বইগুলো প্রচলিত ও প্রচারিত হয়েছে।
তাই আমরা এই সংস্করণে প্রথমত সেই সমস্ত সংযোজনকে এই সংস্করণের সাথে যুক্ত করার প্রতি যত্নবান হতে চেয়েছি, পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছি:
১- আল্লামা লেখক —আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন— যেসব উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে উপকৃত হয়েছেন, সেই সমস্ত মূল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বইটিকে সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা ও সংশোধন করা।
২- হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) সম্পন্ন করা এবং যেগুলোর তাখরীজ পূর্বে করা হয়নি —যা সংখ্যায় অনেক— সেগুলোকে বন্ধনী ( [] ) এর মধ্যে উল্লেখ করা।
৩- বইয়ের টীকায় বন্ধনীর মধ্যে কঠিন শব্দাবলীর ব্যাখ্যা প্রদান করা—যাকে আমরা অপরিহার্য মনে করেছি, বিশেষ করে বর্তমানে বইটি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিভুক্ত হওয়ার পর থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الثانوية الشرعية في البلاد العربية- ليسهل على القارىء فهم واستيعاب الموضوعات دون الرجوع إلى معجم ما.
4- إضافة (41) خريطة ملوّنة إلى الكتاب «1» ، توضّح للقارىء الكريم أحداث السيرة النبوية، وتعينه على تصوّر أحداثها أثناء القراءة.
5- ضبط الأسماء والأعلام قدر الضرورة، والتعليق على ما دعت الحاجة إليه، وهو كثير بين المعقوفتين.
6- إضافة مقدّمة الباحث الإسلامي الكبير: الدكتور عماد الدين خليل إلى الكتاب، التي كتبها للطبعة السابعة الخاصة بدار الشروق في جدّة (عام 1408 هـ- 1987 م) ، ولكنها لم تطبع فيها بسبب ظروف فنية حالت دون ذلك.
7- إضافة ترجمة مستوفاة للعلّامة المؤلّف إلى الكتاب تعرّف بشخصيته العبقرية، ومكانته العلمية ومؤلّفاته النفيسة.
8- إلحاق جداول للغزوات والسّرايا والأحداث التاريخية المتعلّقة بالسيرة، باخر الكتاب، مأخوذة من كتاب «رحمة للعالمين» للقاضي محمد سليمان سلمان المنصور فوري لتكون تسهيلا لمن أراد حفظها.
9- إعداد الفهارس العامّة في آخر الكتاب.
إنّ المتمعّن في تحقيقنا لهذا الكتاب- خاصة في تخريج أحاديثه-، والناظر في مجمل التعليقات التي علّقناها عليه يدرك الجهد المضني المبذول، والوقت الثمين المصروف في خدمته، ولا نشكّ أنّ العلّامة المؤلّف رحمه الله تعالى- كان سيسرّ بهذا العمل، والدّقّة التي حقّق بها كتابه النفيس
--------------------------------------------
আরব দেশগুলোর মাধ্যমিক শারিয়াহ মাদ্রাসাগুলো—যাতে কোনো অভিধানের সাহায্য ছাড়াই পাঠকের পক্ষে বিষয়গুলো বোঝা এবং আত্মস্থ করা সহজ হয়।
৪- বইটিতে ৪১টি রঙিন মানচিত্র সংযোজন করা হয়েছে (১), যা সম্মানিত পাঠককে সীরাতুন্নবীর ঘটনাবলি স্পষ্ট করে এবং পড়ার সময় সেই ঘটনাবলি কল্পনা করতে সাহায্য করে।
৫- প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নাম ও পরিচিতিগুলোর সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে টীকা প্রদান করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই থার্ড ব্র্যাকেট বা বর্গাকার বন্ধনীর ভেতরে দেওয়া হয়েছে।
৬- প্রখ্যাত ইসলামি গবেষক ডক্টর ইমাদউদ্দিন খলিল-এর ভূমিকা বইটিতে যুক্ত করা হয়েছে, যা তিনি জেদ্দার দারুশ শুরূক কর্তৃক প্রকাশিত সপ্তম সংস্করণের (১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) জন্য লিখেছিলেন, কিন্তু কারিগরি সমস্যার কারণে তখন তা মুদ্রিত হয়নি।
৭- বইটিতে আল্লামা লেখকের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী সংযোজন করা হয়েছে যা তাঁর প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবস্থান এবং তাঁর মূল্যবান রচনাবলি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়।
৮- যারা সীরাত সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ (গাজওয়া), ছোট অভিযান (সারিয়্যাহ) এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি মুখস্থ করতে চান তাদের সুবিধার্থে বইয়ের শেষে এ সম্পর্কিত কিছু তালিকা বা ছক যুক্ত করা হয়েছে, যা কাজী মুহাম্মদ সুলায়মান সালমান মনসুরপুরী রচিত 'রাহমাতুল্লিল আলামিন' বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
৯- বইয়ের শেষে সাধারণ নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই বইটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে—বিশেষ করে হাদিসের উৎস নির্ণয় বা তাখরিজ এবং সামগ্রিক যে টীকাগুলো আমরা যোগ করেছি—তার ওপর গভীর দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি অনুধাবন করতে পারবেন যে এর পেছনে কতটা হাড়ভাঙা খাটুনি দেওয়া হয়েছে এবং এর সেবায় কতটা মূল্যবান সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লামা লেখক (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন) এই কাজে এবং তাঁর মূল্যবান কিতাবটি যে সূক্ষ্মতার সাথে সম্পাদিত হয়েছে তাতে আনন্দিত হতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبارك هذا، كما سرّ- قبل أيام من وفاته- ببعض خدماتنا المتواضعة التي قمنا بها في إخراج كتبه ومؤلّفاته منقّحة، ونشرها في طباعة أنيقة بين يدي القرّاء.
نسأل الله تبارك وتعالى أن يتقبّل جهدنا المتواضع في خدمة هذا الكتاب خالصا لوجهه، إنّه سميع مجيب، وهو على كلّ شيء قدير.
دمشق 18/ جمادى الأولى 1424 هـ
17/ تموز (يوليو) 2003 م
كتبه
المعتزّ بالله تعالى
عبد الماجد الغوريّ
এই বরকতময় কাজটির মাধ্যমে; যেমনটি তিনি—তাঁর ইন্তেকালের কয়েক দিন আগে—আমাদের কিছু বিনম্র খিদমতে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, যা আমরা তাঁর কিতাবসমূহ ও রচনাবলী পরিমার্জিত আকারে প্রস্তুত করা এবং পাঠকদের নিকট চমৎকার মুদ্রণে প্রকাশের মাধ্যমে আঞ্জাম দিয়েছি।
আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবের খিদমতে আমাদের এই বিনম্র প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী এবং তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
দামেস্ক, ১৮ জুমাদাল উলা, ১৪২৪ হিজরি
১৭ জুলাই ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
এটি লিখেছেন
আল-মু‘তায বিল্লাহ তা‘আলা
আব্দুল মাজিদ আল-গাওরি
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الشّيخ ابو الحسن النّدوي و «السّيرة النّبويّة»بقلم الدّكتور عماد الدّين خليل
تشكّل المقدّمة التي كتبها الشيخ الندوي للطبعة الأولى من مؤلّفه القيّم عن (السيرة النبوية) مفتاحا، أو مدخلا، لا بدّ من التوقّف عنده قليلا لفهم ما الذي أراد أن يقوله أو يفعله وهو يؤلّف كتابه هذا؟!
ومن أجل ذلك فإنّ من الضّروري- كما يقول النّقّاد البنيويّون- «تفكيك النصّ» في محاولة للتأشير على العناصر الأساسية للمقدّمة باعتبارها مرتكزا للعمل، ومبرّرا لإخراجه في الوقت نفسه.
إنّ هذه العناصر تمنح القارىء، حتى قبل مطالعة فصول الكتاب، القناعة بمبرّر ظهور بحث جديد عن السيرة، بل بضرورته، فليس الأمر- كما قد يتوهّم البعض- مجرّد رغبة مخلصة لإضافة كتاب جديد إلى قائمة المؤلّفات الحديثة في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، وإن كانت هذه الرغبة في حدّ ذاتها تحمل على المستوى الديني، مبرّراتها ودوافعها المقنعة، إنما بالنسبة لباحث متمرّس كالأستاذ الندوي، فإنّ خطوة كهذه ما كان لها أن تكون لو لم يعرف مسبقا أنّها ستقدّم إضافة جديدة إلى مكتبة السّيرة، إن على مستوى المنهج أو الموضوع، ويكفي أن يقع الاختيار على كتاب (الندوي) من بين عشرات وربّما مئات من البحوث في السّيرة، لنقله إلى الإنكليزية، وعدد من اللغات الحيّة، ومخاطبة العقل الغربي، وغير المسلم عموما، بمفردات هذه السّيرة
শেখ আবুল হাসান নদভী ও «আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ»ডক্টর ইমাদ উদ্দিন খলিল-এর লেখনী
শেখ নদভী তাঁর (আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ) নামক মূল্যবান গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের জন্য যে ভূমিকাটি লিখেছেন, তা একটি চাবিকাঠি বা প্রবেশদ্বার স্বরূপ; এই কিতাবটি রচনার মাধ্যমে তিনি আসলে কী বলতে চেয়েছেন বা কী করতে চেয়েছেন, তা বোঝার জন্য এখানে খানিকক্ষণ থামা অপরিহার্য।
আর এই কারণেই—কাঠামোবাদী সমালোচকরা যেমনটি বলেন—ভূমিকার মৌলিক উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টায় «পাঠ বিনির্মাণ» করা আবশ্যক, কারণ এই ভূমিকাটি একই সাথে এই কর্মের মূল ভিত্তি এবং একই সাথে এটি প্রকাশের যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত।
এই উপাদানগুলো পাঠককে কিতাবের অধ্যায়গুলো পাঠ করার পূর্বেই সীরাত বিষয়ে একটি নতুন গবেষণার আবির্ভাবের যৌক্তিকতা, এমনকি এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পূর্ণ তৃপ্তি দান করে। বিষয়টি এমন নয়—যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করতে পারেন—যে এটি কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত বিষয়ে আধুনিক রচনার তালিকায় একটি নতুন কিতাব যুক্ত করার স্রেফ একটি আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা মাত্র; যদিও এই আকাঙ্ক্ষাটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিজস্ব স্তরে যথেষ্ট যৌক্তিকতা ও জোরালো অনুপ্রেরণা বহন করে। তবে উস্তাদ নদভীর মতো একজন অভিজ্ঞ গবেষকের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হতো না, যদি তিনি আগে থেকেই না জানতেন যে এটি সীরাত বিষয়ক গ্রন্থালয়ে পদ্ধতিগত বা বিষয়বস্তুর দিক থেকে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। সীরাত বিষয়ক দশ কিংবা সম্ভবত শত শত গবেষণাকর্মের মধ্য থেকে কেবল (নদভী)-র কিতাবটিকেই ইংরেজি ও বেশ কিছু জীবন্ত ভাষায় অনুবাদের জন্য এবং পাশ্চাত্য মানস ও সাধারণভাবে অমুসলিমদের কাছে এই সীরাতের বিষয়বস্তু তুলে ধরার জন্য নির্বাচিত করাই এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ودلالاتها، مهندسة وفق منهج الندوي وأسلوبه، لكي يتبيّن أنّ هذا من بين عوامل عديدة متشابكة كالتي سنؤشّر عليها، ما يجعل الكتاب إضافة جادّة وليس تقليدا أو تكرارا.
ومهما يكن من أمر فإنّنا لو قمنا بإعادة ترتيب العناصر الأساسية للمقدّمة، في سياقات رئيسية من أجل وضع اليد على قيمة الكتاب؛ فإنّنا سنجد محاولة (الندوي) هذه تقوم على المحاور التالية:
أولا: بيئة ثقافية ذات توجّه إسلاميّ، ينشأ فيها المؤلّف، فيجد نفسه، منذ تفتّح وعيه على الحياة، قبالة رسول الله صلى الله عليه وسلم قراءة ومعايشة وتعلّما..
وبمرور الوقت فإنه يسعى لتنمية خبراته عن السّيرة بمزيد من القراءة والدراسة في المصادر (القديمة) والمراجع (الحديثة) بالعربية وغيرها من اللغات، هذه المتابعة الفكرية التي لم تنفصل يوما عن بطانتها الوجدانية، بسبب من عقيدة الرجل وانتمائه البيئيّ، وبالتالي فإنّها بصيغتها الشمولية هذه والقائمة على ما يسمّى في العصر الحديث ب (المعايشة التاريخية) ، كانت أقدر على تحقيق المقاربة بين الندوي وبين عالم السيرة الخصب المؤثّر، المتجذّر في الغيب، والذي لن يقدر باحث من الخارج، أو من البعيد، على فهمه وإدراكه.
ويجب أن نشير هاهنا أنّ الندوي من أجل استكمال أبعاد تجربة المعايشة هذه، ذهب أكثر من مرّة إلى أرض النّبوّة واجتازها شبرا شبرا، وكان- وهو يعاين المعالم والمواقع ويدقّقها- يعيش في الوقت ذاته، المناخ الذي تخلّقت فيه مفردات السيرة، ونسجت خيوطها، ويكفي أن نرجع إلى كتاب (الطريق إلى المدينة) «1» لكي نتلمّس طبيعة المعاناة الوجدانية التي حملها الرجل بين جنبيه وهو يتقلّب هناك.
--------------------------------------------
এবং এর দ্যোতনাগুলো নদভীর মানহাজ (পদ্ধতি) ও শৈলী অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, এটি আমরা যেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব সে জাতীয় বহু পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উপাদানের অন্যতম। এটিই বইটিকে একটি গুরুত্বপুর্ণ সংযোজন হিসেবে পরিগণিত করে, যা কোনো অনুকরণ বা পুনরাবৃত্তি নয়।
বিষয়টি যাই হোক না কেন, বইটির গুরুত্ব অনুধাবনের উদ্দেশ্যে যদি আমরা ভূমিকার মৌলিক উপাদানগুলোকে প্রধান প্রেক্ষাপটগুলোতে নতুনভাবে বিন্যাস করি, তবে আমরা দেখব যে (নদভীর) এই প্রচেষ্টা নিম্নোক্ত অক্ষসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:
প্রথমত: ইসলামমুখী একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ, যেখানে লেখক বেড়ে উঠেছেন। ফলে জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি নিজেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পাঠ, যাপন ও শেখার মাধ্যমে খুঁজে পান।
সময়ের আবর্তনে তিনি আরবি ও অন্যান্য ভাষায় (প্রাচীন) উৎস এবং (আধুনিক) রেফারেন্সসমূহ অধিকতর পাঠ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে সীরাত বিষয়ক তাঁর অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এই বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা ব্যক্তিটির আকিদা এবং তাঁর পরিবেশগত সম্পর্কের কারণে কখনও তাঁর আবেগীয় গভীরতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। ফলশ্রুতিতে, আধুনিক যুগে যাকে ‘ঐতিহাসিক যাপন’ বলা হয়, তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সামগ্রিক রূপটি নদভী এবং সীরাতের সেই উর্বর ও প্রভাবশালী জগতের মাঝে নৈকট্য অর্জনে অধিক সক্ষম ছিল—যেই জগত অদৃশ্যের গভীরে প্রোথিত এবং যা বাইরের কোনো গবেষক বা দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির পক্ষে বোঝা ও উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
আমাদের এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যাপনের এই অভিজ্ঞতার মাত্রা পূর্ণ করার জন্য নদভী একাধিকবার নবুওয়াতের ভূমিতে গিয়েছেন এবং ইঞ্চি ইঞ্চি করে তা পরিভ্রমণ করেছেন। তিনি যখন বিভিন্ন নিদর্শন ও স্থানসমূহ পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করছিলেন, তখন তিনি একই সাথে সেই পরিবেশকেও অনুভব করছিলেন যেখানে সীরাতের প্রতিটি শব্দ রূপ পেয়েছিল এবং এর সুতো বোনা হয়েছিল। সেখানে অবস্থানের সময় তিনি হৃদয়ে যে আবেগীয় ব্যাকুলতা ধারণ করেছিলেন, তার স্বরূপ অনুভব করার জন্য ‘আত-তারীক ইলাল মাদীনাহ’ (মদীনার পথ) «১» নামক গ্রন্থটির দিকে দৃষ্টিপাত করাই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১১)
إنّ هذه الخطوات كافة منحت الندويّ، كما منحت قلّة محدودة من الباحثين المعاصرين، السلاح الذي مكّنهم من دخول الساحة، والقدرة على التعامل مع السيرة بأكبر قدر ممكن من النفاذ والصدق.
ثانيا: لم يقدم الندوي مباشرة على الكتابة في السّيرة، كمشروع شامل، قبل أن يمارس البحث في جوانب منها، كانت أشبه بخطوات على الطريق..
بتمرينات أولية، إذا صحّ التعبير، تمهيدا للعرض الجامع الأخير «1» وكان فضلا عن هذا يمارس التعامل مع السيرة باتجاه مواز آخر: الاستمداد من مادتها الخصبة وتعاليمها الغنية في الكثير من كتاباته ومحاضراته.
ثالثا: بمرور الوقت يتبلور لديه إحساس متزايد بضرورة كتابة مولّف شامل عن السيرة، وكانت تغريه بذلك، فضلا عن المؤثّرات الذاتية والثقافية والمنهجية آنفة الذكر، خصائص ومواصفات كان يرى، محقّا، أنّ أيّ دراسة في السيرة لا تستكمل أسبابها بدون حضورها جميعا، فكيف إن غاب عامل أو أكثر عن رؤية الباحثين؟ كما حدث ويحدث لدى العديد من الذين تناولوا الموضوع من المستشرقين، والمنتمين لعالم الإسلام نفسه؟ كيف إن غاب معظمها أحيانا؟ ألا يتحتّم في مقابل هذا أن تتعزّز المحاولات المنهجية التي تسعى جهدها لاستكمال الأسباب، وأن تزيد وتتكاثر، على الأقلّ لمجابهة هذا السّيل من الأعمال الناقصة وموازنتها؟
إذا «فالسّيرة» التي ينادي الندويّ بها، ويسعى إلى تنفيذها في مؤلّفه
--------------------------------------------
এই সমস্ত পদক্ষেপগুলো নদভীকে—যেমনটি সমসাময়িক সীমিত সংখ্যক গবেষককে দিয়েছে—সেই শক্তি প্রদান করেছে যা তাঁদের এই অঙ্গনে প্রবেশের সক্ষমতা দান করেছে এবং সীরাত নিয়ে সর্বোচ্চ গভীরতা ও সত্যনিষ্ঠার সাথে কাজ করার সামর্থ্য জুগিয়েছে।
দ্বিতীয়ত: নদভী একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প হিসেবে সরাসরি সীরাত রচনায় হাত দেননি, যতক্ষণ না তিনি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা চর্চা করেছেন, যা ছিল অনেকটা পথের ওপর রাখা ধাপসমূহের মতো...
যদি বলা সঠিক হয় তবে প্রাথমিক অনুশীলনের মাধ্যমে, যা ছিল চূড়ান্ত ও সংকলিত উপস্থাপনার ভূমিকা স্বরূপ। «১» এর পাশাপাশি তিনি সীরাতের সাথে অন্য একটি সমান্তরাল দিক থেকেও সম্পৃক্ত ছিলেন: তাঁর বহু লেখা ও বক্তৃতায় সীরাতের উর্বর উপাদান এবং সমৃদ্ধ শিক্ষা থেকে নির্যাস গ্রহণ করা।
তৃতীয়ত: সময়ের আবর্তনে তাঁর মধ্যে সীরাত বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তার বোধ ক্রমান্বয়ে দানা বাঁধতে থাকে। ইতিপূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক ও পদ্ধতিগত প্রভাব ছাড়াও কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি তাঁকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার ব্যাপারে তিনি সঠিকভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, এগুলোর উপস্থিতি ছাড়া সীরাত বিষয়ক কোনো গবেষণাই পূর্ণতা পায় না। গবেষকদের দৃষ্টি থেকে যদি একটি বা একাধিক উপাদান হারিয়ে যায় তবে তা কেমন হবে? যেমনটি প্রাচ্যবিদ এবং খোদ মুসলিম বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে এবং ঘটছে যারা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন। অনেক সময় যদি অধিকাংশ উপাদানই অনুপস্থিত থাকে তবে অবস্থা কী দাঁড়াবে? এর বিপরীতে কি এমন পদ্ধতিগত প্রচেষ্টাসমূহকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য নয়, যা সাধ্যমতো পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করে এবং যা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে, অন্তত এই অসম্পূর্ণ কাজের স্রোতকে প্রতিহত করতে এবং তার ভারসাম্য বজায় রাখতে?
অতএব, সেই 'সীরাত' যার আহ্বান নদভী জানিয়েছেন এবং তাঁর গ্রন্থে তা বাস্তবায়ন করার প্রয়াস পেয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الذي بين أيدينا، يتحتّم قيامها على الخصائص وصيغ العمل التالية:
1- أن تبنى بأسلوب عصريّ علميّ، فما من شكّ في أنّ مناهج البحث المعاصرة ومعطيات العلوم الحديثة تقدّم وسائل جيّدة للمؤرّخ ما كان يملكها الباحثون القدماء، وبالتالي فإنها تساعد على الاقتراب أكثر من طبيعة الحدث التاريخي وتركيبه وعرضه بالصّيغ الأكثر دقّة، ويبدو أنّ من فضول القول، أن نشير هاهنا إلى أنّ هذه المناهج، وتلك المعطيات العلمية؛ ترتد في أصولها وبدرجة كبيرة- إلى معطيات الحضارة الإسلامية في هذه المجالات، وهي مسألة أكّدها الباحثون الغربيون أنفسهم في العديد من مؤلّفاتهم.
وبمقدور المرء أن يلقي نظرة على السياق المنهجي للكتاب وعلى تهميشاته لكي ما يلبث أن يتبيّن له ما يتميّز به مؤلّف الندوي من تركيز، وتماسك، ومتابعة للحدث التاريخي الأساسي، دون خروج إلى تفاصيل جانبية، وما يلتزم به من توثيق للمعلومات من خلال تثبيت المصادر والمراجع بأجزائها وصفحاتها، وبشرح المفردات وتحديد الأعلام.
أمّا اللغة فهي سلسة واضحة تسعى إلى التوصيل بأكبر قدر من الوضوح، وتتجاوز التعقيد والإغماض حتى في تعاملها مع النصوص المستمدّة من المصادر القديمة.
وقد يختلف المرء مع المؤلّف في أمر واحد وهو أنّه لم يعتمد منهج التقسيم الموضوعي لأحداث السيرة ومفرداتها، وإنّما التزم خطّ التسلسل الزمني للأحداث رغم تقاطعها النوعي من حين لآخر، وهو منهج اعتمده معظم الباحثين المعاصرين في السّيرة.
2- أن تعتمد على خير ما كتب في القديم والحديث، ذلك أنّ البحث الجادّ هو- بشكل من الأشكال- عمل نقديّ انتقائيّ، لا يستسلم بسهولة
যা আমাদের সামনে রয়েছে, তা নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য এবং কর্মপদ্ধতির উপর ভিত্তি করে হওয়া অপরিহার্য:
১- আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এটি তৈরি হওয়া, কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সমসাময়িক গবেষণা পদ্ধতি এবং আধুনিক বিজ্ঞানের উপাত্তগুলো ঐতিহাসিকের কাছে এমন উত্তম মাধ্যমগুলো তুলে ধরে যা প্রাচীন গবেষকদের কাছে ছিল না। ফলে এটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রকৃতি ও বিন্যাসের অধিকতর কাছাকাছি হতে এবং তা আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপনে সহায়তা করে। এখানে উল্লেখ করা বাহুল্য মনে হতে পারে যে, এই পদ্ধতিগুলো এবং বৈজ্ঞানিক উপাত্তগুলো তাদের মূলে এবং অনেকাংশেই এই ক্ষেত্রগুলোতে ইসলামি সভ্যতার অবদানের দিকেই ফিরে যায়; এটি এমন একটি বিষয় যা পশ্চিমা গবেষকরা নিজেরাই তাদের অনেক গ্রন্থে নিশ্চিত করেছেন।
একজন ব্যক্তি বইটির পদ্ধতিগত প্রেক্ষাপট এবং এর পাদটীকাগুলোর উপর দৃষ্টিপাত করলেই অনতিবিলম্বে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, নদভীর রচনাটি একাগ্রতা, সংহতি এবং পার্শ্ববর্তী খুঁটিনাটি বিবরণে না গিয়ে মূল ঐতিহাসিক ঘটনা অনুসরণের ক্ষেত্রে কতটা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এছাড়া তিনি খণ্ড ও পৃষ্ঠাসহ উৎস ও রেফারেন্স উল্লেখ করার মাধ্যমে তথ্যের যে প্রামাণিকতা বজায় রেখেছেন এবং শব্দের ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিবর্গের পরিচয় নির্ধারণ করেছেন, তাও স্পষ্ট হবে।
ভাষার ক্ষেত্রে এটি সাবলীল ও স্পষ্ট, যা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং প্রাচীন উৎস থেকে সংগৃহীত পাঠ্যগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জটিলতা ও অস্পষ্টতা পরিহার করে।
কেউ লেখকের সাথে একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, আর তা হলো তিনি সীরাতের ঘটনাবলী এবং এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক বিভাজন পদ্ধতি অবলম্বন করেননি, বরং ঘটনার কালানুক্রমিক ধারা অনুসরণ করেছেন যদিও মাঝে মাঝে গুণগতভাবে এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ছেদ ঘটেছে; আর এটি এমন একটি পদ্ধতি যা সীরাত বিষয়ক অধিকাংশ সমসাময়িক গবেষক অনুসরণ করেছেন।
২- প্রাচীন ও আধুনিককালে যা কিছু শ্রেষ্ঠ লিখিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করা, কারণ ঐকান্তিক গবেষণা হলো কোনো না কোনোভাবে একটি সমালোচনামূলক ও বাছাইমূলক কাজ, যা সহজে নতি স্বীকার করে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لركام الروايات، ولا يغريه أحيانا التضخّم في المادة التاريخية، ومعروف أنّ السيرة قد عانت الكثير بمرور الزمن، من الإضافات في الخبر التاريخي، بموازاة ما كان يحدث في «الحديث» النبوي مما هو معروف، ومن ثم فإن أيّ محاولة لكتابة السيرة، أو إعادة كتابتها بشكل أدقّ، يتحتمّ أن تمارس اختيارا- مسؤولا بطبيعة الحال، وليس مجرّد هوى عشوائيّ- لخير ما قدمته المصادر القديمة عن السيرة من روايات موثقة أصلية، ولأحسن ما طرحته الدراسات الحديثة من تحاليل ومواقف واستنتاجات؛ قد تعين على إضاءة أشدّ تركيزا لموضوعات السيرة الخصبة المتشابكة، ولكن تبقى «المصادر الأولى الأصلية» الأساس الذي يقوم عليه البناء؛ لأنّ المادة الأولية التي يقام عليها الصرح موجودة هناك، ويكفي أن نلقي نظرة على قوائم المصادر التي اعتمدها المؤلف لكي يتبيّن لنا أنه لم يكد يترك مصدرا أساسيا إلّا ورجع إليه، وإن كان اعتماده المحوري كما هو واضح على «سيرة» ابن هشام و «زاد المعاد» لابن قيّم الجوزية، فضلا عن كتب «الصحاح» «1» .
3- أن تحقّق تطابقا مدروسا بين مفرداتها كافة، وبين ما جاء في القرآن الكريم والسنة الشريفة الموثقة، ذلك أنّ المصدرين الأخيرين يحملان الصدق المطلق في تعاملهما مع الواقعة التاريخية، سواء بالنسبة للمنظور الإسلامي، أو حتى بالنسبة للمنظور المنهجي العام الذي أخذ يدرك، أكثر فأكثر، مصداقية المعطى التاريخي للقرآن والسنة، وهذا يعني بالمقابل، رفض
--------------------------------------------
বিপুল সংখ্যক বর্ণনার স্তূপের মুখে বিভ্রান্ত হওয়া কিংবা ঐতিহাসিক উপকরণের অতিরঞ্জনের দ্বারা প্রলুব্ধ হওয়া লেখকের স্বভাব নয়। এটি সুপরিচিত যে, সময়ের পরিক্রমায় সীরাত গ্রন্থসমূহ ঐতিহাসিক তথ্যে অনেক প্রক্ষেপণ ও সংযোজনের শিকার হয়েছে, যা সমান্তরালভাবে নববী ‘হাদীস’ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল বলে জানা যায়। ফলস্বরূপ, সীরাত রচনা বা আরও নির্ভুলভাবে তা পুনঃলিখনের যেকোনো প্রচেষ্টায় প্রাচীন উৎসসমূহে বিদ্যমান সীরাত সংক্রান্ত সর্বোত্তম নির্ভরযোগ্য ও মূল বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে—অবশ্যই তা কোনো খামখেয়ালি ঝোঁক নয় বরং একটি দায়িত্বশীল—নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাসমূহ থেকে প্রাপ্ত বিশ্লেষণ, অবস্থান এবং সিদ্ধান্তগুলোর মধ্য থেকে যা সর্বোত্তম, তা গ্রহণ করাও জরুরি; যা সীরাতের উর্বর ও পরস্পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর অধিকতর নিবিড় আলোকপাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ‘মূল প্রাথমিক উৎসসমূহ’ সর্বদা সেই ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে যার ওপর পুরো কাঠামোটি দণ্ডায়মান; কারণ যে কাঁচামালের ওপর এই ইমারতটি নির্মিত, তা সেখানেই বিদ্যমান। লেখক কর্তৃক গৃহীত উৎসসমূহের তালিকার দিকে দৃষ্টিপাত করলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি কোনো মৌলিক উৎস বাদ না দিয়ে প্রায় সবগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন। যদিও তার প্রধান নির্ভরতা ছিল ইবনে হিশামের ‘সীরাত’ এবং ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর ‘যাদুল মাআদ’-এর ওপর, এর পাশাপাশি ‘সিহাহ’ গ্রন্থসমূহের ওপরও তার নির্ভরতা স্পষ্ট (১)।
৩- এর সকল উপাদানের মধ্যে এবং পবিত্র কুরআন ও নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর বর্ণনার মধ্যে একটি সুচিন্তিত সমন্বয় সাধন করা। কেননা এই শেষোক্ত উৎস দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় পরম সত্যতা বহন করে, তা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হোক কিংবা সাধারণ পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হোক, যা বর্তমান সময়ে কুরআন ও সুন্নাহর ঐতিহাসিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাকে ক্রমশ অধিকতর স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করছে। এর বিপরীতে এর অর্থ হলো বর্জন করা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
واستبعاد كل ما يتعارض مع هذين المصدرين من مفردات أقحمت على السيرة عبر الزمن فيما أصابها بالتضخّم، وأضاف إليها الكثير مما لم يكن فيها ابتداء.
ولهذا السبب يدعو الندويّ إلى تجاوز ما يسمّيه «الأسلوب الموسوعي الحاشد للمعلومات في غير نقد وتمحيص» ، فإنّ بعض مؤرّخينا القدماء، أسوة ببعض أدبائنا القدماء، كان مغرما في سياق نزعة موسوعية جمّاعة، إلى أن يضيف ويحشد وينوّع، مؤثرا الحصيلة الكمية على حساب التركيز الوعي، مفتقدا- أحيانا- المنهج النقدي، الانتقائي، الممحّص، وهذا المنهج يقتضي أول ما يقتضي الإحالة المنضبطة على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فضلا عن اعتماد معطيات المناهج الحديثة لما يمكن اعتباره إعادة للأمور إلى نصابها الحق فيما يتعلّق بنسيج السيرة، ويكفي أن يلقي المرء نظرة على هوامش الكتاب لكي تتبيّن له المساحات الواسعة التي اعتمد فيها المؤلّف على المعطيات التاريخية عن السيرة في كتاب الله وأحاديث رسوله عليه الصلاة والسلام.
ومن أجل ألّا يتصوّر أحد، أو يخطر على باله، بأنّ دعوة الندويّ هذه قد تقود العمل باتجاه الانسياق وراء الاتجاهات الغربية المعاصرة في دراسة السيرة، فإنه يدعو إلى رفض تقليد هذه الاتجاهات أو «الخضوع لكتابات المستشرقين وأقوال المشكّكين» ، وهاهنا بصدد النقطة الأخيرة فإنّ منهج البحث الغربي، في حقل السيرة بالذات، قد يتعامل بصيغ نقدية حادة ومبالغ فيها، تقود بالضرورة إلى التشكيك بالكثير من أهمّ وقائع السيرة ومرتكزاتها، خاصة إذا تذكرنا المنظور المادي للرؤية الغربية، أو العلماني على أحسن الأحوال، هذا المنظور الذي يرفض البعد الغيبي في تعامله مع
এবং এই দুই উৎসের সাথে সাংঘর্ষিক এমন সকল বিষয়কে বর্জন করা যা সময়ের পরিক্রমায় সীরাতের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে একে স্ফীত করে তুলেছে এবং এতে এমন অনেক কিছু যোগ করেছে যা আদিতে ছিল না।
এই কারণেই নদভী সেই বিষয়টিকে পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন যাকে তিনি ‘সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইহীন তথ্য-সংবলিত বিশ্বকোষীয় পদ্ধতি’ বলে অভিহিত করেছেন। কেননা আমাদের কিছু প্রাচীন ঐতিহাসিক, আমাদের কিছু প্রাচীন সাহিত্যিকের ন্যায় তথ্য সংগ্রহের এক বিশ্বকোষীয় প্রবণতায় আসক্ত ছিলেন, যেখানে তারা সচেতন নিবিষ্টতার পরিবর্তে পরিমাণগত ফলাফলকে প্রাধান্য দিয়ে তথ্য যোগ, স্তূপীকরণ ও বৈচিত্র্য আনয়নে মগ্ন থাকতেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক, চয়নমূলক ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইকরণ পদ্ধতির অভাব পরিলক্ষিত হতো। অথচ এই পদ্ধতির প্রথম ও প্রধান দাবি হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত প্রত্যাবর্তন। সেই সাথে সীরাতের কাঠামোর ক্ষেত্রে বিষয়গুলোকে তাদের সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য আধুনিক পদ্ধতিসমূহের গ্রহণযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ওপর নির্ভর করাও প্রয়োজন। বইটির পাদটীকাগুলোর ওপর একবার দৃষ্টিপাত করলেই এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, লেখক আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহে বর্ণিত সীরাত সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্যাবলীর ওপর কতটা বিস্তৃত পরিসরে নির্ভর করেছেন।
যাতে কেউ এমনটি কল্পনা না করেন বা কারো মনে যেন এই ধারণা না আসে যে, নদভীর এই আহ্বান সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সমকালীন পাশ্চাত্য ধারার অন্ধ অনুকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে; তাই তিনি এই সকল ধারার অনুকরণ করা অথবা ‘প্রাচ্যবিদদের রচনা ও সংশয়বাদীদের বক্তব্যের বশ্যতা স্বীকার’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। শেষোক্ত বিষয়টির প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিশেষ করে সীরাত গবেষণার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য গবেষণা পদ্ধতি অত্যন্ত কঠোর ও অতিরঞ্জিত সমালোচনামূলক রূপ পরিগ্রহ করতে পারে, যা অনিবার্যভাবে সীরাতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও এর মৌলিক ভিত্তিগুলো সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টির দিকে ধাবিত করে। বিশেষ করে যখন আমরা পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গির বস্তুবাদী অথবা বড়জোর ধর্মনিরপেক্ষ রূপটির কথা স্মরণ করি, যে দৃষ্টিভঙ্গি তার বিচার-বিশ্লেষণে অদৃশ্যের বিষয় বা গায়েবী দিকগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
التاريخ، أو يدفعه إلى الظل، الأمر الذي يلحق بالسيرة أذى كبيرا.
أمّا الموقف (الإسلامي) الأصيل من السيرة، «الموقف المتوحّد الذي تتغلغل في نسيجه مشاعر الاحترام والتقدير والإعجاب والمحبة واليقين، والذي يجد في السيرة تعبيرا متكاملا عن العقيدة التي ينتمي إليها، فإنه يجد في الدراسات الاستشراقية (الخارجية) عن السيرة، تغرّبا عن مسلّماته، وخروجا صريحا على بداهاته، وما يمكن اعتباره محاولات متعمّدة لإصابة هذه المسلّمات والبداهات بالجروح والكسور، وهي- لحسن الحظّ- لن تفعل فعلها في يقينه، إلّا في حالات معيّنة، بينما نجدها تدفعه في أغلب الحالات وأعمها إلى الاشمئزاز والنفور.
هذا مع أنّ معالجة واقعة تمتدّ جذورها إلى عالم الغيب، وترتبط أسبابها بالسماء، ويكون فيها (الوحي) همزة وصل مباشرة بين الله سبحانه ورسوله الكريم، ويتربّى في ظلالها المنتمون على عين الله ورسوله ليكونوا تعبيرا حيّا عن إيمانهم، وقدوة حسنة للقادمين من بعدهم.. واقعة كهذه لا يمكن بحال أن تعامل كما تعامل الجزئيات والذرات والعناصر في مختبر للكيمياء، أو كما تعامل الخطوط والزوايا والمنحنيات والمساحات والكتل على تصاميم المهندسين، بل ولا حتى كما تعامل الوقائع التاريخية التي لا ترتبط بأيّ بعد دينيّ أصيل، إنّنا هنا بمواجهة تجربة من نوع خاص، وشبكة من العوامل والمؤثرات تندّ عن حدود مملكة العقل الخالص، وتستعصي على التحليل المنطقي الاعتيادي المألوف، ومن ثمّ فإنّ محاولة قسرها على الخضوع لمقولات العقل الصرف ومعطيات المنطق المتوارثة لا يقود إلى نتائج خاطئة حينا، ولا تستعصي عليه بعض الظواهر حينا آخر فحسب، بل إنّه قد يقوم بما يمكن اعتباره جريمة قتل بشكل من الأشكال، أو محاولة لتفحّص الجسد
ইতিহাস, অথবা তাকে ছায়ার আড়ালে ঠেলে দেয়, যা সীরাতের (জীবনচরিতের) ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
সীরাতের ব্যাপারে মূল (ইসলামী) দৃষ্টিভঙ্গি হলো সেই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, যার পরতে পরতে সম্মান, মর্যাদা, প্রশংসা, ভালোবাসা ও দৃঢ় বিশ্বাসের অনুভূতি মিশে আছে। যে দৃষ্টিভঙ্গি সীরাতের মাঝে তার নিজ আকিদাহ বা বিশ্বাসের এক পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন খুঁজে পায়; তা সীরাত বিষয়ক প্রাচ্যবাদী (বহিরাগত) গবেষণাসমূহের মাঝে নিজের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিচ্যুতি এবং এর মৌলিক ধারণাগুলোর সরাসরি লঙ্ঘন দেখতে পায়। এছাড়া এগুলোকে সেই স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক ধারণাগুলোকে আঘাত করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত করার এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। তবে সৌভাগ্যবশত, কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া এগুলো তার দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো তাকে ঘৃণা ও বিতৃষ্ণার দিকে ঠেলে দেয়।
অথচ এমন এক বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যার মূল প্রোথিত গায়েবের (অদৃশ্যের) জগতে, যার কারণসমূহ আকাশের (ঊর্ধ্বজগত) সাথে সম্পৃক্ত, এবং যেখানে ‘অহি’ মহান আল্লাহ ও তাঁর সম্মানিত রাসূলের মাঝে সরাসরি সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে। এই সীরাতের ছায়াতলেই অনুসারীরা আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর রাসূলের সান্নিধ্যে গড়ে ওঠে, যাতে তারা তাদের ঈমানের এক জীবন্ত মূর্ত প্রতীক এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উত্তম আদর্শ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমন এক বাস্তবতাকে কোনোভাবেই রসায়নাগারের অণু-পরমাণু বা উপাদানের মতো বিবেচনা করা যায় না, কিংবা প্রকৌশলীদের নকশায় ব্যবহৃত রেখা, কোণ, বক্ররেখা, ক্ষেত্রফল বা ঘনবস্তুর মতো মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এমনকি একে এমন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার মতোও দেখা যায় না যার সাথে কোনো মৌলিক ধর্মীয় মাত্রা নেই। এখানে আমরা এক বিশেষ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন, যা এমন কতগুলো উপাদান ও প্রভাবের সমষ্টি যা নিছক যুক্তির সীমানা ছাড়িয়ে যায় এবং প্রচলিত সাধারণ যৌক্তিক বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে। অতএব, একে নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক মাপকাঠি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত যুক্তির অধীনে আনতে বাধ্য করার চেষ্টা কেবল মাঝে মাঝে ভুল ফলাফলের দিকেই নিয়ে যায় না, কিংবা কেবল কিছু বিষয় বুঝতে অক্ষম হয় এমন নয়; বরং এটি এমন এক কাজ যা এক প্রকার হত্যার সমতুল্য অপরাধ অথবা নিছক প্রাণহীন দেহের ব্যবচ্ছেদের চেষ্টার শামিল।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
البشريّ كما لو كان في حالة سكون مطلق بعيدا عن تأثيرات الروح وتعقيدات الحياة.
إنّ الدين، والغيب، والروح، لهي عصب السيرة وسداها ولحمتها، وليس بمقدور الحس أو العقل أن يدلي بكلمته فيها إلّا بمقدار، وتبقى المساحات الأكثر عمقا وامتدادا بعيدة عن حدود عمل الحواس وتحليلات العقل والمنطق، إننا- ونحن نتعامل مع هذا المستشرق أو ذاك في حقل السيرة النبوية- يجب أن ننتبه إلى هذه المسألة مهما كان المستشرق ملتزما بقواعد البحث التاريخي وأصوله، فإنّه من خلال رؤيته الخارجية، وتغرّبه، وعلمانيّته أو ماديته، يمارس نوعا من التكسير والتجريح في كيان السيرة ونسيجها، فيصدم الحس الديني ويرتطم بالبداهات الثابتة، وهو من خلال منظوريه العقلي والوضعي يسعى إلى فصل الروح عن جسد السيرة، على الجدل، وهو في كلتا الحالتين لا يمكن أن يخدم الموقف الإسلامي الجاد من سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم أو يحتل موقفا جادّا منها بوجه من الوجوه» «1» .
فلم يكن الندويّ مبالغا إذا باعتباره هؤلاء الباحثين «من المشكّكين» الذين يتحتّم أن نحذرهم، ونحن نسعى للإفادة من أعمالهم واستنتاجاتهم في هذا الموضوع أو ذاك من مواضيع السيرة، ونحاول- بدلا من ذلك- أن ننطلق من منهج إسلامي أصيل يضع النبوّة والغيب موضعهما الحق.
--------------------------------------------
মানবিক দিকটি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়, যেন তা রূহানি প্রভাব এবং জীবনের জটিলতা থেকে দূরে এক পরম স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
নিশ্চয়ই দ্বীন, গায়েব এবং রূহ হলো সীরাতের মূল স্নায়ু এবং এর বুনন। ইন্দ্রিয় বা বিবেকের পক্ষে এতে নিজস্ব অভিমত দেওয়ার সামর্থ্য কেবল একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই আছে। এর চেয়েও গভীর ও বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলো ইন্দ্রিয়লব্ধ কর্মতৎপরতা এবং বিবেক ও যুক্তির বিশ্লেষণের সীমানার বাইরেই থেকে যায়। আমরা যখন সীরাতুন্নবীর ক্ষেত্রে এই বা ওই প্রাচ্যবিদের সাথে লেনদেন করি, তখন আমাদের অবশ্যই এই বিষয়ের প্রতি সচেতন থাকতে হবে যে, সেই প্রাচ্যবিদ ঐতিহাসিক গবেষণার নিয়ম ও মূলনীতির প্রতি যতই অনুগত হোক না কেন, সে তার বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি, পাশ্চাত্যমুখিতা, ধর্মনিরপেক্ষতা বা বস্তুবাদী চিন্তার মাধ্যমে সীরাতের সত্তা ও কাঠামোর মধ্যে এক ধরণের ভাঙন ও ক্ষত সৃষ্টি করে। ফলে তা ধর্মীয় অনুভবে আঘাত করে এবং প্রতিষ্ঠিত স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রত্যক্ষবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সীরাতের দেহ থেকে রূহকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। আর উভয় ক্ষেত্রেই সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের প্রতি ইসলামের ঐকান্তিক অবস্থানের কোনো সেবা করতে পারে না অথবা কোনোভাবেই এর প্রতি কোনো যথাযথ অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না।
সুতরাং নদভী রহ. এই গবেষকদের 'সংশয়বাদী' হিসেবে গণ্য করে কোনো অতিরঞ্জন করেননি, যাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা অপরিহার্য। যখন আমরা সীরাতের এই বা ওই বিষয়ে তাদের কাজ ও সিদ্ধান্তগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করি, তখন আমাদের উচিত—এর পরিবর্তে—এমন এক মৌলিক ইসলামী পদ্ধতি থেকে যাত্রা শুরু করা যা নবুওয়াত এবং গায়েবকে তাদের সঠিক স্থানে প্রতিষ্ঠিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4- أن يكون النصّ أو الرواية التاريخية، هو الحكم، هو مادة البناء الأساسية.. أن يحرّر من أيّة محاولة لتقييده بحكم مسبق، أو إغراقه بالتعليل والتحليل على حساب الواقعة نفسها.. أن تترك له حرية التعبير عن ذاته لكي ينطق بما كان فعلا لا بما يراد له أن يكون، وبما أنّ النصوص التاريخية للسيرة على قدر كبير من الاستيعاب للدقائق والتفاصيل، فيما لم يتهيّأ بهذا الخصب والغنى لأيّ سيرة أخرى في تاريخ البشرية، وذلك بفضل الروافد العديدة التي قدمت هذه التفاصيل، وغذّتها، وحمتها من الضياع في الوقت نفسه (وبخاصة القرآن الكريم، ومجاميع الحديث، وكتب السير والشمائل، فضلا عن كتب المغازي والمدوّنات التاريخية) .. فإنّ النشاط المحوري في كتابة سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومهمّته الأساسية تنصبّ على العرض والترتيب والتركيز، واعتماد منهج سليم في العمل، ولغة مناسبة قديرة على التوصيل بشروطه المعاصرة.
وبالتّالي فإنّ التأليف في السيرة لا يجابه بالضرورة- وكما يؤكّد الندويّ- صعوبة وغموضا ولا يقتضي افتراضا ولا قياسا، كما هو الحال في التراجم الآخرى حيث تشحّ المادة، وتتضارب الروايات، وتنتشر الفجوات الزمنية، وتتناقض الشواهد التاريخية، ولعلّ هذا هو الذي يفسّر ما يلحظه القارىء في سياق الكتاب من اعتماد متزايد على النصوص (الحرفية) ، ذلك أنّ هذه النصوص إذ تستكمل شرطيها الأساسيين وهما الوضوح في العرض والغنى في التفاصيل، لا تحتاج في كثير من الأحيان إلى بيان أو إضافة أو تعليل.
ورغم ذلك كلّه فإنّ تقديم صورة مطابقة أمر مستحيل، لا سيّما وأنّنا نتعامل هاهنا مع ظاهرة النبوّة ذات الارتباطات الغيبية المتشابكة، فكلّ
৪- ঐতিহাসিক মূল পাঠ বা বর্ণনা হবে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী এবং এটিই হবে রচনার মূল উপাদান। একে কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টা থেকে স্বাধীন রাখতে হবে, অথবা ঘটনার বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে একে অতি-ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেয়া যাবে না। একে নিজের স্বরূপ প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে এটি বাস্তবে যা ঘটেছিল তা-ই ব্যক্ত করে, যা হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে তা নয়। যেহেতু সীরাতের ঐতিহাসিক পাঠসমূহ সূক্ষ্ম বিষয়াদি ও বিস্তারিত তথ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং মানব ইতিহাসে অন্য কোনো জীবনীর ক্ষেত্রেই এমন প্রাচুর্য ও ব্যাপকতা অর্জিত হয়নি, আর এটি সম্ভব হয়েছে সেই অসংখ্য উৎসের বদৌলতে যা এই বিস্তারিত তথ্যাবলি সরবরাহ করেছে, একে পুষ্ট করেছে এবং একই সাথে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে (বিশেষ করে আল-কুরআনুল কারীম, হাদীস সংকলনসমূহ, সীরাত ও শামায়িলের কিতাবসমূহ এবং মাগাযী ও ঐতিহাসিক নথিপত্র)। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত রচনার মূল তৎপরতা এবং এর প্রধান দায়িত্ব হলো উপস্থাপন, বিন্যাস ও বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা, এবং এই কাজে একটি সঠিক পদ্ধতি (মানহাজ) এবং সমকালীন চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ যোগাযোগে সক্ষম উপযুক্ত ভাষা ব্যবহার করা।
ফলস্বরূপ সীরাত রচনার ক্ষেত্রে—যেমনটি নদভী জোর দিয়ে বলেছেন—কোনো অনিবার্য জটিলতা বা অস্পষ্টতার সম্মুখীন হতে হয় না এবং এতে কোনো কাল্পনিক ধারণা বা অনুমানেরও প্রয়োজন পড়ে না, যা অন্যান্য জীবনী রচনার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; যেখানে উপকরণের অভাব থাকে, বর্ণনাসমূহের মাঝে সংঘাত পরিলক্ষিত হয়, সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান বিদ্যমান থাকে এবং ঐতিহাসিক প্রমাণাদির মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যায়। সম্ভবত এটিই সেই কারণ যা ব্যাখ্যা করে যে, কেন পাঠক এই গ্রন্থের প্রেক্ষাপটে মূল পাঠের (আক্ষরিক) ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা লক্ষ্য করবেন। কেননা এই পাঠসমূহ যখন তাদের দুটি প্রধান শর্ত—উপস্থাপনের স্বচ্ছতা এবং তথ্যের প্রাচুর্য—পূরণ করে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তা আর কোনো ব্যাখ্যা, সংযোজন বা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না।
এতদসত্ত্বেও, একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করা অসম্ভব ব্যাপার, বিশেষত যখন আমরা এখানে নবুওয়াতের এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি যার সাথে অদৃশ্য জগতের (গায়িব) জটিল ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ما كتب، وما سيكتب لا يعدو أن يكون محاولات للمقاربة في نهاية الأمر.
ولعلّ هذه المسألة الأساسية، إلى جانب عوامل ثانوية أخرى، هي التي جعلت المؤلّف يتردّد حينا من الزمن في الكتابة عن الموضوع، لولا أنّ إلحاح المخلصين، وإلحاح الحاجة إلى مؤلّف بالعربية يتعامل مع الأجيال الجديدة على مستوى المنهج واللغة دون وقوع في سلبيّات المحاولات المعاصرة، فضلا عن تمرّس الندوي في كتابة الترجمة التاريخية، هي التي تغلبت في نهاية الأمر وجعلت الرجل يقدم على تنفيذ المشروع.
5- هنالك أيضا محاولة لتحقيق توازنات بين ثنائيات شتى وبخاصة:
أ- الموضوعية والوجدان الدينيّ.
ب- العلمية والضرورات التربوية.
ج- التوجّه بالخطاب إلى المسلم وغير المسلم.
فلا يكفي، بالنسبة للمسألة الأولى أن يكون الباحث في السيرة (موضوعيا) ، أي أن يتعامل معها من الخارج، بل لا بدّ أن تكون هناك مساهمة على مستوى الذات.. مشاركة وجدانية تقرّب الباحث أكثر فأكثر من صميم حدث تاريخيّ ليس كالأحداث، وتجعله ينفعل به ويقدّر بالتالي طبيعته التكوينية.. نبضه وإيقاعه.. يلمس، قدر ما يستطيع، الخيوط التي نسجتها فيعرف مكوناتها.
وهذا بالنسبة للسيرة بالذات، ليس نقيض الموضوعية، بل هو مع الموضوعية ومن شروطها، فإنّ النبوّة ليست تجربة وضعية الاندماج والتأثّر، والمعايشة الوجدانية، بل هي من ضرورات الإدراك والمقاربة، ومن ثم كان المؤرّخ المسلم، المتسلّح- طبعا- بسلاح المنهج العلمي؛ أقدر من غير
যা কিছু লেখা হয়েছে এবং যা কিছু লেখা হবে, তা শেষ পর্যন্ত সত্যের নিকটবর্তী হওয়ার প্রচেষ্টামাত্র।
সম্ভবত এই মৌলিক বিষয়টি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণসমূহ লেখককে এই বিষয়ে লিখতে কিছুকাল দ্বিধাগ্রস্ত করে রেখেছিল; তবে যদি মুখলিস ব্যক্তিদের পীড়াপীড়ি এবং পদ্ধতি ও ভাষার স্তরে সমসাময়িক প্রচেষ্টার নেতিবাচক দিকগুলোতে না জড়িয়ে নতুন প্রজন্মের উপযোগী আরবি ভাষায় একটি রচনার গভীর প্রয়োজনীয়তা না থাকত, সেই সঙ্গে জীবনীমূলক ইতিহাস রচনায় নদভী সাহেবের অভিজ্ঞতা না থাকত, তবে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়গুলোই জয়ী হয়েছে এবং তাকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করেছে।
৫- এখানে বিভিন্ন দ্বৈততার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টাও রয়েছে, বিশেষ করে:
ক- বস্তুনিষ্ঠতা ও ধর্মীয় আবেগ।
খ- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও শিক্ষামূলক প্রয়োজনীয়তা।
গ- মুসলিম ও অমুসলিম উভয়কে সম্বোধন করা।
প্রথম বিষয়টির ক্ষেত্রে সীরাত গবেষকের জন্য কেবল 'বস্তুনিষ্ঠ' হওয়া, অর্থাৎ কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে দেখা যথেষ্ট নয়; বরং এর জন্য ব্যক্তিগত স্তরে একটি অংশগ্রহণ থাকা জরুরি। অর্থাৎ এমন এক আবেগঘন সম্পৃক্ততা যা গবেষককে এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনার মর্মমূলের খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে যা অন্য সাধারণ ঘটনার মতো নয়, এবং এটি তাকে সেই ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত করবে ও এর গঠনগত প্রকৃতি, এর স্পন্দন ও ছন্দকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে। তিনি যতটা সম্ভব সেই সুতোগুলো স্পর্শ করবেন যা দিয়ে এটি বোনা হয়েছে এবং এর উপাদানগুলো চিনতে পারবেন।
সীরাতের ক্ষেত্রে এটি বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী নয়, বরং এটি বস্তুনিষ্ঠতারই অংশ এবং এর অন্যতম শর্ত। কারণ নবুওয়াত কোনো জাগতিক অভিজ্ঞতা নয় যেখানে আবেগহীনতা ও প্রভাবমুক্ত থাকা সম্ভব, বরং আবেগীয় সম্পৃক্ততা ও একাত্মতা হলো উপলব্ধি ও নৈকট্য লাভের অন্যতম অনুষঙ্গ। ফলস্বরূপ, একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ—যিনি অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অস্ত্রে সজ্জিত—তিনি অন্যের তুলনায় অধিকতর সক্ষম...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المسلم على خوض غمار التجربة وتقديم بحث أكثر أصالة وأعمق تعبيرا عن هذه الواقعة التاريخية المتفردة.
«لنحاول أن نقرّب المسألة أكثر، إنّ العمل المعماري الكبير إذا أقيم على أسس خاطئة فإنّه سيفقد شرطين من شروطه الأساسية: التأثير الجمالي الذي يمكنه من أداء وظيفته الوجدانية، والمقوّمات العلمية التي تمكنه من أداء وظيفته العملية» .
«إنّ البحث في (السيرة) بوجه خاصّ، ليستلزم أكثر من أيّ مسألة أخرى في التاريخ البشري هذين الشرطين اللذين يمكن أن يوفّرهما منهج متماسك سليم، يقوم على أسس علمية موضوعية لا تخضع لتحزّب أو ميل أو هوى، ويمتلك عناصر جماليته الخاصة التي تليق بمكانة الرّسول المتفرّدة صلى الله عليه وسلم ودوره الخطير في إعادة صياغة العالم بما يردّ إليه الوفاق المفقود مع نواميس الكون والحياة، وقد كانت مناهج البحث الغربي (الاستشراقي) في السيرة تفتقر إلى أحد هذين الشرطين أو كليهما، وكانت النتيجة أبحاثا تحمل اسم السيرة وتتحدّث عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، وتحلّل حقائق الرسالة، ولكنها يقينا- تحمل وجها وملامح وقسمات مستمدّة من عجينة أخرى غير مادة السيرة، وروحا أخرى غير روح النبوّة، ومواصفات أخرى غير مواصفات الرسالة.
«إنّ نتائجها تنحرف عن العلم لأنّها تصدر عن الهوى، وتفقد القدرة على مسامتة عصر الرسالة وشخصية الرسول صلى الله عليه وسلم ونقل تأثيراتهما الجمالية بالمستوى العالي نفسه من التحقّق التاريخي؛ لأنّها تسعى لأن تخضع حقائق السيرة لمقاييس عصر تنسخ كل ما هو جميل، وتزيّف كلّ ما هو أصيل، وتميل
একজন মুসলিমকে অভিজ্ঞতার সাগরে অবগাহন করতে এবং এই অনন্য ঐতিহাসিক ঘটনার বিষয়ে আরও মৌলিক ও গভীর অভিব্যক্তিসম্পন্ন গবেষণা পেশ করতে সক্ষম করে তোলে।
«আসুন আমরা বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝার চেষ্টা করি। একটি বিশাল স্থাপত্যকর্ম যদি ভুল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেটি তার মৌলিক শর্তাবলির মধ্য থেকে দুটি শর্ত হারাবে: একটি হলো নান্দনিক প্রভাব, যা তাকে তার আবেগীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে; আর অন্যটি হলো বৈজ্ঞানিক উপাদানসমূহ, যা তাকে তার ব্যবহারিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে।» .
«বিশেষ করে 'সীরাত' বিষয়ক গবেষণায় মানব ইতিহাসের অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে এই দুটি শর্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। এই শর্ত দুটি একটি সুসংহত ও সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব, যা বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কোনো দলপ্রীতি, ঝোঁক বা খেয়ালখুশির বশীভূত নয়। একইসঙ্গে এটি নিজস্ব এমন নান্দনিক উপাদানের অধিকারী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনন্য মর্যাদা এবং বিশ্বকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপযোগী। তাঁর এই ভূমিকা বিশ্ব ও জীবনের শাশ্বত নিয়মের সাথে হারানো সামঞ্জস্য ফিরিয়ে আনে। সীরাত চর্চায় পশ্চিমা (প্রাচ্যবিদদের) গবেষণা পদ্ধতি এই শর্ত দুটির কোনো একটি অথবা উভয়টির অভাব বোধ করেছে। এর ফলে এমন সব গবেষণা সামনে এসেছে যা সীরাতের নাম বহন করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন নিয়ে আলোচনা করে ও রিসালাতের সত্যসমূহ বিশ্লেষণ করে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই সেগুলোতে এমন এক চেহারা, বৈশিষ্ট্য ও অবয়ব ফুটে ওঠে যা সীরাতের উপাদানের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো উপাদান থেকে উদ্ভূত। এতে নবুওয়াতের রুহ বা আত্মার পরিবর্তে অন্য কোনো রুহ এবং রিসালাতের গুণাবলির পরিবর্তে অন্য কোনো গুণাবলি প্রতিফলিত হয়।
«নিশ্চয়ই এর ফলাফলগুলো বিজ্ঞান থেকে বিচ্যুত হয়েছে, কারণ এগুলো খেয়ালখুশি থেকে উৎসারিত। এগুলো রিসালাতের যুগ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বের সমান্তরালে চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতার সেই উচ্চমান বজায় রেখে তাদের নান্দনিক প্রভাবগুলো ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এই পদ্ধতিগুলো সীরাতের সত্যগুলোকে এমন এক যুগের মাপকাঠিতে বিচার করতে চায়, যা সুন্দর সবকিছুকে নাকচ করে দেয়, মৌলিক সবকিছুকে জাল হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ঝুঁকে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالقيم المشعّة إلى أن تفقد إشعاعها وترتمي في الكلمة، وقد تؤول إلى البشاعة» «1» .
وتكاد المسألة الثانية التي يسعى الندويّ إلى تنفيذها، أن تكون امتدادا للأولى، ولكنّ المعنيّ بالتوازن هذه المرّة هو القارىء وليس الموضوع، فإلى جانب ضرورة التزام الجانب العلمي بالبحث في السيرة، فإنّ هناك ضرورة لا تقلّ أهمية هي الضرورة التربوية.. أن تقدم السيرة بصيغة عمل ذي رسالة تربوية تملك قدرتها على التأثير في القارىء وكهربته بتيّار الرسالة القادم من السماء، وهاهنا يمكن أن يكون اعتماد منهج حيوي مؤثّر يجانب الجمود والجفاف، ويتشكّل بالمؤثّرات التي مرّت بنا عبر الفقرات السابقة، مسألة ضرورية لتحقيق الهدف، وها هنا أيضا يرفض الندويّ ما يسمّيه «بالتجميل الخارجي أو التزيين الصناعي» لأنّ هذا في نهاية الأمر نقيض للجمال الباطني ولقوّة التأثير وصدقه.
يبقى التوازن الثالث وهو التوجّه بالخطاب إلى المسلم وغير المسلم، وهي مسألة محسومة بمجرّد أن نتذكّر إلحاح الندويّ على اعتماد مناهج البحث الحديث وأدوات التوصيل المعاصرة.. فإنّ هذا بحدّ ذاته يعقد جسرا بين مفردات السيرة وبين القارىء الحديث، مسلما كان أم غير مسلم، ولعلّ اختيار كتابه هذا لكي يترجم إلى الإنكليزية، وعدد آخر من اللغات الحية، إنما كان اقتناعا بقدرته على التواصل مع غير المسلمين «2» .
--------------------------------------------
উজ্জ্বল মূল্যবোধের মাধ্যমে যতক্ষণ না তারা তাদের তেজ হারায় এবং শব্দের মধ্যে নিপতিত হয়, এমনকি তা কদর্যতায় পর্যবসিত হতে পারে। (১)
দ্বিতীয় যে বিষয়টি নদভী বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হয়েছেন, তা প্রায় প্রথমটিরই একটি সম্প্রসারণ। তবে এবার ভারসাম্যের লক্ষ্যবস্তু হলো পাঠক, বিষয়বস্তু নয়। সীরাত গবেষণায় বৈজ্ঞানিক বা গবেষণালব্ধ দিকটির প্রতি দায়বদ্ধতার পাশাপাশি অপর একটি বিষয় যা গুরুত্বে কোনো অংশে কম নয়, তা হলো শিক্ষামূলক আবশ্যকতা। অর্থাৎ সীরাতকে এমন একটি শিক্ষামূলক বার্তা সংবলিত কর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা, যা পাঠকের ওপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে এবং আসমান থেকে আগত রিসালাতের প্রবাহ দ্বারা তাকে আন্দোলিত করে। এখানে লক্ষ্য অর্জনের জন্য জড়তা ও শুষ্কতা পরিহারকারী এবং পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে বর্ণিত প্রভাবকসমূহ দ্বারা গঠিত একটি প্রাণবন্ত ও প্রভাবশালী পদ্ধতি গ্রহণ করা একটি অপরিহার্য বিষয় হতে পারে। আর এখানেই নদভী তথাকথিত "বাহ্যিক সৌন্দর্যমন্ডিতকরণ বা কৃত্রিম অলংকরণ" প্রত্যাখ্যান করেন; কারণ এটি শেষ বিচারে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য এবং প্রভাবের শক্তি ও সততার বিপরীত।
তৃতীয় ভারসাম্যটি হলো মুসলিম ও অমুসলিম—উভয়ের প্রতি সম্বোধন। এটি একটি মীমাংসিত বিষয় যখনই আমরা আধুনিক গবেষণা পদ্ধতি এবং সমকালীন যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর নদভীর গুরুত্বারোপের কথা স্মরণ করি। কারণ এটি সীরাতের উপাদানসমূহ এবং আধুনিক পাঠকের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে, চাই তিনি মুসলিম হোন বা অমুসলিম। সম্ভবত ইংরেজি এবং আরও বেশ কিছু জীবন্ত ভাষায় অনুবাদের জন্য তাঁর এই গ্রন্থটি নির্বাচন করা হয়েছিল অমুসলিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে এর সক্ষমতার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের কারণেই। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২১)
6- يرى الندويّ ضرورة تسليط الضّوء عى البيئة التي ظهر فيها الرسول صلى الله عليه وسلم وتشكّلت سيرته على أرضيتها.. البيئة ببعديها التاريخي والجغرافي، وبامتداديها المحلّي والعام (ويمكن أن تكون الخرائط الدقيقة التي أرفقت بالكتاب امتدادا لهذه الضرورة) .
ويكاد يكون مؤلّف الندويّ، من بين قلّة من المؤلّفات الحديثة، التي تناولت السيرة، من أولى اهتماما ملحوظا بهذه المسألة، وخصّص لها مساحات واسعة في كتابه «1» .
ورغم أنّ معطيات السّيرة، في المنظور الإسلامي، تتجاوز في نهاية الأمر حدود الزمن المرحليّ والمكان المحدود، باتّجاه كلّ زمن وكلّ مكان، ورغم أنها- في هذا المنظور نفسه- تشكّلت في جانبها الخاص بظاهرة النبوّة، بعلم الله اللدني الشامل الذي يعلو على نسبيّات الجغرافية ومتغيرات الحركة التاريخية، فإنّها- أي السيرة- وفي المنظور الإسلامي كذلك، ابنة بيئتها، وليدة زمنها وجغرافيتها، إذ لا يمكن بحال فصل نسيجها عن ارتباطه المتشابك بالبيئة.. بل إنّنا لو تابعنا مفردات السيرة واحدة واحدة، لرأيناها لا تكاد تتحوّل إلى «العام» إلّا بعد اجتيازها (الخاص) وتعاملها معه، وسنكون غير علميّين بالمرّة لو أنّنا أغفلنا هذا الارتباط بحجّة عالمية الرسالة وديمومتها، وعدم تقيّدها بالنسبيّ أو المحدود، وسنقع كذلك في المظنّة
--------------------------------------------
৬- নদভী সেই পরিবেশের ওপর আলোকপাত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং যার ওপর ভিত্তি করে তাঁর সীরাত (জীবনচরিত) গঠিত হয়েছিল। পরিবেশটি তার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক উভয় মাত্রায় এবং স্থানীয় ও সাধারণ উভয় প্রসারে উপস্থাপিত হয়েছে (বইটির সাথে সংযুক্ত সুনিপুণ মানচিত্রগুলো এই প্রয়োজনীয়তারই একটি অংশ হতে পারে)।
সীরাত নিয়ে রচিত আধুনিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে নদভীর এই রচনাটি সেই গুটিকয়েক কাজের অন্যতম, যা এই বিষয়টির প্রতি উল্লেখযোগ্য গুরুত্বারোপ করেছে এবং তিনি তাঁর বইয়ে এর জন্য বিস্তৃত পরিসর বরাদ্দ করেছেন [১]।
যদিও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে সীরাতের তথ্যাবলি শেষ পর্যন্ত সাময়িক সময় ও সীমিত স্থানের সীমানা অতিক্রম করে সর্বকাল ও সর্বস্থানের দিকে ধাবিত হয়, এবং যদিও এই একই দৃষ্টিভঙ্গিতে—নবুওয়তের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে—এটি আল্লাহর সেই ব্যাপক ও গূঢ় (লাদুন্নি) জ্ঞানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে যা ভৌগোলিক আপেক্ষিকতা ও ঐতিহাসিক গতিধারার পরিবর্তনশীলতার ঊর্ধ্বে; তবুও এই সীরাত ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতেও তার পরিবেশের ফসল, তার সময় ও ভূগোলের জাতক। কেননা কোনোভাবেই এর বুনন ও পরিবেশের সাথে এর ওতপ্রোত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। বরং আমরা যদি সীরাতের প্রতিটি উপাদান পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখব যে এটি 'বিশেষ' অবস্থা অতিক্রম করা ও তার সাথে মুকাবিলা করা ছাড়া 'সাধারণ' বা বৈশ্বিক রূপে রূপান্তরিত হয় না। রিসালাতের বিশ্বজনীনতা ও স্থায়িত্বের দোহাই দিয়ে এবং এটি আপেক্ষিক বা সীমাবদ্ধতার অধীন নয়—এই যুক্তিতে যদি আমরা এই সংযোগকে উপেক্ষা করি, তবে আমরা মোটেও জ্ঞানতাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক হব না, বরং আমরা বিভ্রান্তির আশঙ্কায় নিপতিত হব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২২)
التي أسرت الفكر الغربي، وهذه النظرة أحادية الجانب تلك التي تتشنج على مساحة محدّدة من الظاهرة، وتتشبّث بها دون أن تقلبها على وجوهها لمتابعة الجوانب الآخرى، وهاهنا بصدد السّيرة، فإنّنا يجب أن نولي اهتماما للوجهين معا: العام والخاص، المطلق والبيئي، لأنّ إغفال الجانب الثاني سيجرّنا إلى المثالية بمفهومها التجريدي المنفصل عن الواقع والأرضية.
وإنّنا بمجرّد أن نلقي نظرة ولو سريعة على أسباب النزول في القرآن الكريم، فلسوف نرى بأمّ أعيننا كيف أنّ كثيرا من التعاليم والقيم القرآنية، تخلّقت من تفاصيل بيئية صرفة.. من حدث تاريخيّ عابر أو تحدّ جغرافيّ محدود.. من تجربة هذا الرجل أو ذاك، ومن محنة هذه الجماعة أو تلك.. من سؤال أو اقتراح قد يتقدّم به هذا الصحابيّ أو ذاك فيما يعايشونه يوما بيوم وخطوة بخطوة.. لكنّ هذه التعاليم والقيم لم تأسرها مواصفات البيئة ونسبياتها، ولا أريد لها أن تكون كذلك، إذ أنّها سرعان ما تجاوزت ظروف تشكّلها، الخاصة صوب العام.. صوب المطلق، بعيدا عن متغيرات الجغرافية والتاريخ لكي نتعامل مع الإنسان في كلّ زمن ومكان.
ولقد شاء علم الله- الذي هو سبحانه أعلم بمن خلق- ألّا يصوغ القيم والتعاليم في كتابه الكريم، وسنّة نبيّه عليه أفضل الصلاة والسلام، في الفراغ أو من الفراغ، إنما جعلها سبحانه تتشكل في البيئة، في الجغرافية والتاريخ، وبتبادل واقعيّ منظور بين الطّرفين لكي تكون أشدّ حضورا، وأعمق تأثيرا، وذلك مذهب مهمّ من مذاهب التربية العقيدية عبر التاريخ.
ونحن نعرف، على سبيل المثال فحسب، لماذا لم تتنزّل المقاطع
যা পশ্চিমা চিন্তাধারাকে আচ্ছন্ন করেছে; আর এই একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি যা কোনো বিষয়ের একটি নির্দিষ্ট পরিসরে স্থবির হয়ে থাকে এবং সেটিকে অন্য দিকগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য উল্টেপাল্টে না দেখেই আঁকড়ে ধরে থাকে। এখানে সীরাতের ক্ষেত্রে আমাদের উভয় দিকের প্রতি একত্রে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক: সাধারণ ও বিশেষ, নিরঙ্কুশ ও পরিবেশগত; কারণ দ্বিতীয় দিকটিকে উপেক্ষা করা আমাদের এমন এক বিমূর্ত আদর্শবাদের দিকে নিয়ে যাবে যা বাস্তব ও পটভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন।
আমরা যদি পবিত্র কুরআনের অবতরণের প্রেক্ষাপটগুলোর ওপর একটি দ্রুত দৃষ্টিপাতও করি, তবে আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাবো যে, কীভাবে কুরআনের অনেক শিক্ষা ও মূল্যবোধ নিছক পরিবেশগত খুঁটিনাটি থেকে উদ্ভূত হয়েছে—কোনো ক্ষণস্থায়ী ঐতিহাসিক ঘটনা বা কোনো সীমাবদ্ধ ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ থেকে, কোনো ব্যক্তির অভিজ্ঞতা বা কোনো গোষ্ঠীর পরীক্ষা থেকে, কোনো সাহাবীর উত্থাপিত প্রশ্ন বা প্রস্তাব থেকে যা তাঁরা দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে মোকাবিলা করছিলেন। কিন্তু এই শিক্ষা ও মূল্যবোধগুলো পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য ও আপেক্ষিকতার গণ্ডিতে আটকে থাকেনি এবং এগুলো তেমন হোক—তা চাওয়াও হয়নি। কারণ এগুলো খুব দ্রুতই তাদের বিশেষ উৎপত্তিকালীন পরিস্থিতি অতিক্রম করে সাধারণ ও নিরঙ্কুশতার দিকে ধাবিত হয়েছে, যা ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনশীলতা থেকে মুক্ত, যাতে করে সর্বকালের ও সর্বস্থানের মানুষের সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আল্লাহর জ্ঞান—যিনি তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত—চেয়েছেন যে, তিনি যেন তাঁর মহান কিতাব এবং তাঁর নবীর (যাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহতে মূল্যবোধ ও শিক্ষাগুলোকে শূন্যতার মাঝে বা শূন্যতা থেকে রূপদান না করেন। বরং তিনি সেগুলোকে পরিবেশ, ভূগোল ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে এক দৃশ্যমান বাস্তব আদান-প্রদানের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন, যাতে তা আরও বেশি প্রাণবন্ত এবং গভীরভাবে প্রভাব বিস্তারকারী হয়। আর এটি ইতিহাসের পরিক্রমায় আকিদাগত প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা।
আমরা উদাহরণস্বরূপ জানি, কেন অনুচ্ছেদগুলো অবতীর্ণ হয়নি...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القرآنية الخاصة بمعركة أحد.. المقاطع المترعة بالقيم والتعاليم، إلّا بعد هزيمة أحد مباشرة، وليس بعيدا عنها أو بدونها.. وقل مثل ذلك عن حشود كثيفة أخرى من مفردات السيرة.
إذا فإنّ سعي الندويّ لإضاءة البيئة التي تشكّلت فيها هذه المفردات، وتأكيده على تأثيراتها المتشابكة في الحدث النبويّ، أمر بالغ الأهمية، وهو يشكلّ في الواقع واحدة من أهمّ الإضافات التي تقدّمها دراسته إلى حقل السيرة، بل واحدة من أهمّ مبرّرات إخراجها إلى الوجود.
بقلم الدّكتور عماد الدّين خليل
ওহুদ যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতসমূহ... মূল্যবোধ ও শিক্ষামালায় ভরপুর এই অনুচ্ছেদগুলো ওহুদের পরাজয়ের ঠিক পরপরই অবতীর্ণ হয়েছে, তা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বা তা ছাড়া নয়... সীরাতের অন্যান্য বিপুল অনুষঙ্গ বা শব্দাবলীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
অতএব, এই উপাদানগুলো যে পরিবেশে গঠিত হয়েছে তাকে আলোকিত করার জন্য নদভীর প্রচেষ্টা এবং নবুওয়াতী ঘটনার ওপর এগুলোর পারস্পরিক প্রভাবের ওপর তাঁর গুরুত্বারোপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে সীরাত শাস্ত্রে যুক্ত হওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, বরং এটি এই কাজটিকে আলোর মুখ দেখানোর অন্যতম প্রধান যৌক্তিক কারণ।
ডক্টর ইমাদ উদ্দিন খলীল-এর কলমে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ترجمة العلّامة المؤلّف«رحمة الله تعالى»
هو المربّي العظيم، والداعية الحكيم، والمفكّر المجدّد، والأديب البارع، والكاتب القدير، وعلّامة الهند، وربّانيّ الأمّة، ونموذج السّلف، والعالم العامل، والحبر الكامل، والزّاهد المجاهد: الشيخ السيّد أبو الحسن علي الحسني الندوي، صاحب الكتب الفائقة، والرّسائل الرائقة، والمحاضرات النافعة، «والذي أجمع عليه السلفيّون والمتصوّفون، والمذهبيون واللّامذهبيون، والتقليديون والمعاصرون» «1» ، و «الذي أخلص وجهه لله تعالى، وسار في حياته سيرة المسلم المخلص لله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم، فدعا إلى الإسلام بالقدوة الحسنة، ودعا إلى الإسلام بكتبه النقية، ودعا إلى الإسلام بسياحته التي حاضر فيها، ووجّه وأرشد» «2» ، و «الذي [كان] ذخرا للإسلام ودعوته، وكتبه ومؤلّفاته تتميّز بالدّقة العلمية، وبالغوص العميق في تفهّم أسرار الشريعة، وبالتحليل الدقيق لمشاكل العالم الإسلامي ووسائل معالجتها» «3» ، و «الذي عرفته في
--------------------------------------------
গ্রন্থকার আল্লামার জীবনী«আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন»
তিনি হলেন মহান মুরব্বী, প্রজ্ঞাবান দাঈ, সংস্কারক চিন্তাবিদ, নিপুণ সাহিত্যিক, সুদক্ষ লেখক, ভারতের শ্রেষ্ঠ আলেম, উম্মাহর রব্বানী আলেম, পূর্বসূরিদের আদর্শ, আমলকারী আলেম, বিদগ্ধ মনীষী এবং সংসারবিরাগী মুজাহিদ: শাইখ সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আন-নাদভী। তিনি অনন্য সাধারণ গ্রন্থাবলী, চমৎকার পুস্তিকা এবং উপকারী বক্তৃতাসমূহের রচয়িতা। «যাঁর ব্যাপারে সালাফি ও সুফি, মাযহাবী ও লা-মাযহাবী এবং রক্ষণশীল ও আধুনিকমনা—সকলেই একমত হয়েছেন» «১», এবং «যিনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে আল্লাহ তাআলার প্রতি নিবেদিত করেছিলেন এবং তাঁর জীবনে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি একনিষ্ঠ মুসলিমের জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি উত্তম আদর্শের মাধ্যমে ইসলামের দিকে আহ্বান করেছেন, তাঁর পরিচ্ছন্ন লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন এবং তাঁর সফরসমূহের মাধ্যমে ইসলামের দিকে আহ্বান করেছেন, যেখানে তিনি ভাষণ দিয়েছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন» «২», এবং «যিনি ইসলাম ও তার দাওয়াতের জন্য এক মহা সম্পদ [ছিলেন]। তাঁর গ্রন্থ ও রচনাবলী বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতা, শরীয়তের রহস্যসমূহ অনুধাবনে গভীর অবগাহন এবং মুসলিম বিশ্বের সমস্যাবলি ও তার প্রতিকারের উপায়সমূহের নিখুঁত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত» «৩», এবং «যাঁকে আমি চিনেছি...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
شخصيته وفي قلمه، فعرفت فيه قلب المسلم، والعقل المسلم، وعرفت فيه الرجل الذي يعيش بالإسلام وللإسلام على فقه جيّد للإسلام.. هذه شهادة لله أودعها» «1» ، و «الذي [كان] مدرسة فكرية افتقدها العالم الإسلاميّ برحيله» «2» .
اسمه ونسبه وأسرته:هو عليّ أبو الحسن بن عبد الحي بن فخر الدين الحسني، ينتهي نسبه إلى عبد الله الأشتر بن محمّد ذي النّفس الزكية بن عبد الله المحض، بن الحسن (المثنّى) بن الإمام الحسن السبط الأكبر بن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنهم.
أوّل من استوطن الهند من هذه الأسرة في أوائل القرن السابع الهجري هو الأمير السيّد قطلب الدين المدني (776 هـ) .
والده مؤرّخ الهند الكبير العلّامة الطبيب السيّد عبد الحيّ الحسني، الذي استحقّ بجدارة لقب «ابن خلّكان الهند» لمؤلّفه القيم «نزهة الخواطر وبهجة المسامع والنواظر» في ثماني مجلّدات عن أعلام المسلمين في الهند وعمالقتهم، طبع أخيرا باسم «الإعلام بمن في تاريخ الهند من الأعلام» «3» .
أمّا والدته- رحمها الله- فكانت من السيّدات الفاضلات، المربيات النادرات، المؤلّفات المعدودات، والحافظات للقرآن الكريم، تقرض الشعر، وقد نظمت مجموعة من الأبيات في مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
তাঁর ব্যক্তিত্বে ও কলমে; তাই আমি তাঁর মাঝে একজন মুসলিমের হৃদয় ও একজন মুসলিমের আকল (বিবেক) চিনেছি। আমি তাঁকে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে চিনেছি যিনি ইসলামের সঠিক ফিকহ (বুঝ)-এর ওপর ভিত্তি করে ইসলামের জন্য ও ইসলামের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করেন। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পেশ করা আমার একটি সাক্ষ্য [১]। এবং "তিনি (ছিলেন) একটি চিন্তার বিদ্যাপীঠ যাকে তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব হারিয়েছে" [২]।
তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও পরিবার:তিনি হলেন আলী আবুল হাসান বিন আব্দুল হাই বিন ফখরুল দীন আল-হাসানি। তাঁর বংশধারা গিয়ে পৌঁছে আব্দুল্লাহ আল-আশতার বিন মুহাম্মদ যিন-নাফসুয যাকিয়্যাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাহয বিন আল-হাসান (আল-মুসান্না) বিন ইমাম হাসান আস-সিবতুল আকবর বিন আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিআল্লাহু আনহুম)-এর কাছে।
এই পরিবার থেকে হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে সর্বপ্রথম যিনি ভারতে বসতি স্থাপন করেন, তিনি হলেন আমির সাইয়্যিদ কুতুবুদ্দিন আল-মাদানি (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)।
তাঁর পিতা ভারতের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা চিকিৎসক সাইয়্যিদ আব্দুল হাই হাসানি, যিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি’ ওয়ান নাওয়াযির’-এর জন্য যথাযথভাবেই ‘ভারতের ইবনে খাল্লিকান’ উপাধির যোগ্য হয়েছেন। এটি ভারতের মুসলিম মনীষী ও পণ্ডিতদের জীবনী নিয়ে আট খণ্ডে রচিত, যা সম্প্রতি ‘আল-ইলাম বিমান ফি তারিখিল হিন্দ মিনাল আলাম’ নামে মুদ্রিত হয়েছে [৩]।
আর তাঁর মাতা—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—ছিলেন মহীয়সী ও বিদুষী নারীদের অন্তর্ভুক্ত, বিরল অভিভাবক-শিক্ষিকা, কৃতি লেখিকা এবং হাফেযে কুরআন। তিনি কবিতা রচনা করতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় কতিপয় পঙ্ক্তি রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ميلاده ونشأته:أبصر العلّامة أبو الحسن الندوي النور في 6 محرم 1333 هـ (الموافق عام 1914 م) بقرية «تكية كلان» الواقعة قرب مديرية «رائي بريلي» في الولاية الشمالية «أترابرديش» .
بدأ دراسته الابتدائية من القرآن الكريم في البيت، ثم دخل في الكتّاب حيث تعلّم مبادىء اللغتين (الأردوية والفارسية) شأن أبناء البيوتات الشريفة في الهند في ذلك العصر، وكان عمره يتراوح بين التاسعة والعاشرة إذ توفّي والده الجليل عام 1341 هـ (1923 م) . فتولّى تربيته أمّه الفاضلة، وأخوه الأكبر الدكتور عبد العلي الحسني «1» وإليه يرجع الفضل في توجيه وتربية العلامة الندوي.
بدأ دراسته العربية على الشيخ خليل بن محمّد الأنصاري اليماني «2» في أواخر عام 1924 م، وتخرّج عليه مستفيدا في الأدب العربي، ثمّ توسّع فيه وتخصّص على الأستاذ الدكتور تقي الدين الهلالي المرّاكشي «3» عند مقدمه إلى ندوة العلماء عام 1930 م.
--------------------------------------------
জন্ম ও লালন-পালন:আল্লামা আবুল হাসান নদভী ১৩৩৩ হিজরির ৬ মহররম (১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক) উত্তর প্রদেশের ‘রায়বেরেলি’ জেলার নিকটবর্তী ‘তাকিয়া কলান’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঘরে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন, এরপর মক্তবে প্রবেশ করেন যেখানে তিনি সেই সময়ের ভারতের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানদের রীতি অনুযায়ী উর্দু ও ফারসি এই দুই ভাষার মৌলিক শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর বয়স যখন নয় থেকে দশ বছরের মধ্যে, তখন ১৩৪১ হিজরিতে (১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর মহান পিতা ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তাঁর মহীয়সী মা এবং বড় ভাই ডক্টর আব্দুল আলী হাসানী (১)। আল্লামা নদভীর সঠিক দিকনির্দেশনা ও লালন-পালনের ক্ষেত্রে তাঁরই অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে শেখ খলিল বিন মুহাম্মদ আনসারী ইয়ামানী (২)-এর নিকট আরবি ভাষা অধ্যয়ন শুরু করেন এবং তাঁর নিকট আরবি সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এরপর ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে প্রফেসর ডক্টর তকিউদ্দীন আল-হিলালী আল-মাররাকিশি (৩) নদওয়াতুল উলামায় আগমনের পর তাঁর নিকট আরবি সাহিত্যে উচ্চতর জ্ঞান ও বিশেষত্ব অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
دراسته الجامعيّة:التحق بجامعة لكهنؤ فرع الأدب العربي عام 1927 م، ولم يتجاوز عمره آنذاك الأربعة عشر عاما، وكان أصغر طلبة الجامعة سنا، ونال منها شهادة الليسانس في اللغة العربية وآدابها، قرأ خلال أيام دراسته في الجامعة كتبا تعتبر في القمّة العربية والأردوية، ممّا أعانه على القيام بواجب الدعوة وشرح الفكرة الإسلامية الصحيحة، وإقناع الطبقة المثقّفة بالثقافة العصرية، وتعلّم الإنجليزية مما مكّنته من قراءة الكتب المؤلّفة بها في التاريخ والأدب والفكر.
ثمّ التحق بدار العلوم- ندوة العلماء عام 1929 م وقرأ الحديث الشريف (صحيح البخاري، ومسلم، وسنن أبي داود، وسنن الترمذي) حرفا حرفا مع شيء من تفسير البيضاوي على العلّامة المحدّث الشيخ حيدر حسن خان الطّونكي «1» ، ودرس التفسير لكامل القرآن الكريم على العلّامة المفسّر المشهور أحمد علي اللّاهوري في لاهور عام 1351 هـ/ 1932 م، وحضر دروس العلّامة المجاهد حسين أحمد المدني «2» في صحيح البخاري وسنن الترمذي خلال إقامته في دار العلوم ديوبند، واستفاد منه في التفسير وعلوم القرآن أيضا.
في سلك التدريس:انخرط في سلك التدريس عام 1934 م، وعيّن أستاذا في دار العلوم ندوة العلماء لمادّتي التفسير والأدب.
--------------------------------------------
তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা:তিনি ১৯২৭ সালে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হন, তখন তাঁর বয়স চৌদ্দ বছরের বেশি ছিল না এবং তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র। তিনি সেখান থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (লিসান্স) ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি এমন সব বই পাঠ করেন যা আরবি ও উর্দু সাহিত্যের শিখর হিসেবে বিবেচিত, যা তাঁকে দাওয়াতের দায়িত্ব পালন, সঠিক ইসলামি চিন্তাধারার ব্যাখ্যা প্রদান এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণিকে আশ্বস্ত করতে সহায়তা করেছিল। তিনি ইংরেজিও শেখেন, যা তাঁকে ইতিহাস, সাহিত্য ও চিন্তা সংক্রান্ত ইংরেজি বইগুলো পড়ার সক্ষমতা দান করে।
এরপর তিনি ১৯২৯ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন এবং আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ হায়দার হাসান খান টোঙ্কির কাছে সহিহ বুখারি, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে তিরমিজি অক্ষর ধরে ধরে (পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে) পাঠ করেন, সাথে তাফসিরে বায়যাবীর কিছু অংশও অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৩২ সালে (১৩৫১ হিজরি) লাহোরে প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আহমদ আলী লাহোরির কাছে সম্পূর্ণ কুরআনের তাফসির অধ্যয়ন করেন। দারুল উলুম দেওবন্দে অবস্থানকালে তিনি আল্লামা মুজাহিদ হুসাইন আহমদ মাদানীর সহিহ বুখারি ও সুনানে তিরমিজির পাঠদানে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর কাছ থেকে তাফসির ও উলুমুল কুরআনেও উপকৃত হন।
শিক্ষকতা পেশায়:তিনি ১৯৩৪ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় তাফসির ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واستفاد خلال تدريسه في دار العلوم من الصّحف والمجلّات العربية الصادرة في البلاد العربية، ممّا عرفه على البلاد العربية وأحوالها، وعلمائها وأدبائها ومفكّريها عن كثب، واستفاد أيضا من كتب المعاصرين من الدعاة والمفكّرين العرب وفضلاء الغرب والزعماء السياسيّين.
نشاطاته الدعويّة والإصلاحية:قام برحلة استطلاعية للمراكز الدينية في الهند عام 1939 م، تعرّف فيها على الشيخ المربّي العارف بالله عبد القادر الرّأي فوري «1» ، والداعية إلى الله الشيخ محمد إلياس الكاندهلوي «2» ، وكان هذا التعرّف نقطة تحوّل في حياته، وبقي على الصلة بهما حتى وافاهما الأجل المحتوم، وتلقّى التربية الروحية من الشيخ الرأي فوري واستفاد من صحبته ومجالسته، وتأسّى بالشيخ الكاندهلوي في القيام بواجب الدّعوة وإصلاح المجتمع، وقضى زمنا طويلا في رحلات وجولات دعوية متتابعة للتربية والإصلاح والتوجيه الديني في الهند وخارجها.
أسّس مركزا للتعليمات الإسلامية لتنظيم حلقات درس القرآن الكريم والسنّة النبوية عام 1943 م، وأسّس حركة رسالة الإنسانية بين المسلمين والهندوس عام 1951 م، والمجمع الإسلامي العلمي بدار العلوم- ندوة العلماء في لكهنؤ عام 1959 م.
شارك في تأسيس هيئة التعليم الديني للولاية الشمالية (أترابرديش) عام 1960 م، وفي تأسيس المجلس الاستشاري الإسلامي لعموم الهند
--------------------------------------------
দারুল উলুমে শিক্ষকতাকালীন তিনি আরব দেশগুলো থেকে প্রকাশিত আরবি সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলো থেকে উপকৃত হন, যা তাঁকে আরব দেশসমূহ ও তাদের অবস্থা এবং সেখানকার উলামা, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের সম্পর্কে নিবিড়ভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। তিনি সমসাময়িক আরব দাঈ ও চিন্তাবিদ, পাশ্চাত্যের গুণীজন এবং রাজনৈতিক নেতাদের রচিত গ্রন্থ থেকেও উপকৃত হন।
তাঁর দাওয়াতি ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম:১৯৩৯ সালে তিনি ভারতের ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে একটি অনুসন্ধানমূলক সফর করেন। সেখানে তিনি শায়খ, মুরব্বি, আরেফ বিল্লাহ আব্দুল কাদের রায়পুরী (১) এবং আল্লাহর পথে দাঈ শায়খ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী (২)-এর সাথে পরিচিত হন। এই পরিচিতি ছিল তাঁর জীবনের এক সন্ধিক্ষণ। তাঁদের মৃত্যু অবধি তিনি তাঁদের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখেন। তিনি শায়খ রায়পুরীর নিকট থেকে আধ্যাত্মিক তরবিয়ত বা দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর সান্নিধ্য ও মজলিস থেকে উপকৃত হন। দাওয়াতের দায়িত্ব পালন ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি শায়খ কান্ধলভীকে অনুসরণ করেন। তিনি ভারত ও ভারতের বাইরে আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি, সংস্কার এবং ধর্মীয় দিকনির্দেশনার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ও ধারাবাহিকভাবে দাওয়াতি সফরে ব্যয় করেন।
১৯৪৩ সালে তিনি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর দরস বা পাঠচক্র আয়োজনের লক্ষ্যে ‘মারকাযু তালিমাতিল ইসলামিয়া’ (ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫১ সালে তিনি মুসলিম ও হিন্দুদের মাঝে ‘পয়গামে ইনসানিয়াত’ (মানবতার বার্তা) আন্দোলন এবং ১৯৫৯ সালে লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ‘আল-মাজমাউল ইসলামি আল-ইলমি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ১৯৬০ সালে উত্তর প্রদেশ (ইউপি) রাজ্যের ‘দ্বীনি তালিমি কাউন্সিল’ এবং ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিসে মুশাওয়ারাত’ প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عام 1964 م، وفي تأسيس هيئة الأحوال الشخصية الإسلامية لعموم الهند عام 1972 م.
رحلته مع الكتابة والتأليف:كتب أوّل مقال بالعربية في مجلّة «المنار» للعلّامة السيّد رشيد رضا المصري عام 1931 م حول شخصية الإمام السيّد أحمد بن عرفان الشهيد، وكان عمره- آنذاك- أربعة عشر عاما، ثم نشره العلّامة رشيد رضا ككتاب مستقل لمّا رأى إعجاب كبار كتّاب العرب به.
ظهر له أوّل كتاب بالأردوية عام 1937 م يحمل اسمه «سيرة أحمد شهيد» ونال قبولا عاما في الأوساط الدينية والعلمية في الهند وباكستان، وصدر له طبعات عديدة فيما بعد.
بدأ سلسلة تأليف الكتب المدرسية بالعربية، وظهر أوّل كتاب فيها بعنوان «مختارات من أدب العرب» عام 1940 م، و «قصص النبيّين» للأطفال و «القراءة الراشدة» عام 1944 م، وقرّر جميع هذه الكتب في مقرّرات المعاهد والجامعات الإسلامية في بلاد العرب وشبه القارة الهندية.
ألّف كتابه المشهور «ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين؟» عام 1944 م، الذي عدّ من أفضل الكتب التي صدرت في هذا القرن «1» .
دعي أستاذا زائرا في كلية الشريعة بجامعة دمشق عام 1956 م، وألقى محاضرات بعنوان «التجديد والمجدّدون في تاريخ الفكر الإسلامي» نشرت بعد ذلك في شكل كتاب مستقلّ في أربع مجلّدات باسم «رجال الفكر والدعوة في الإسلام» .
--------------------------------------------
১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে নিখিল ভারত মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড প্রতিষ্ঠায়।
লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনার সফর:তিনি ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে আল্লামা সাইয়্যিদ রশিদ রিদা মিসরীয়-এর ‘আল-মানার’ সাময়িকীতে ইমাম সাইয়্যিদ আহমদ ইবনে ইরফান শহীদ-এর ব্যক্তিত্বের ওপর আরবি ভাষায় তাঁর প্রথম নিবন্ধ লিখেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ বছর। অতঃপর আরবের প্রথিতযশা লেখকদের নিকট এটি সমাদৃত হতে দেখে আল্লামা রশিদ রিদা এটিকে একটি স্বতন্ত্র বই হিসেবে প্রকাশ করেন।
১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নামে ‘সীরাতে আহমদ শহীদ’ শিরোনামে প্রথম উর্দু বইটি প্রকাশিত হয়। এটি ভারত ও পাকিস্তানের ধর্মীয় ও বিদগ্ধ মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং পরবর্তীতে এর বহু সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
তিনি আরবি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনার ধারা শুরু করেন। এ ধারার প্রথম বই ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে এবং শিশুদের জন্য ‘কাসাসুন নাবিয়্যীন’ ও ‘আল-কিরাআতুর রাশিদাহ’ ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। আরব বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে এই বইগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মা যা খাসিরাল আলামু বি-ইনহিতাতিল মুসলিমীন?’ (মুসলমানদের পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো?) রচনা করেন, যা এই শতাব্দীতে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ বইগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত (১)।
১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে আমন্ত্রিত হন। সেখানে তিনি ‘ইসলামি চিন্তার ইতিহাসে পুনর্জাগরণ ও পুনর্জাগরণকারীগণ’ শিরোনামে বক্তৃতা প্রদান করেন। পরবর্তীতে এটি ‘রিজালুল ফিকর ওয়াদ দাওয়াহ ফিল ইসলাম’ নামে চার খণ্ডে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ألّف كتابه حول القاديانية بعنوان «القادياني والقاديانية» عام 1958 م، وكتابه «الصراع بين الفكرة الإسلامية والغربية في الأقطار الإسلامية» عام 1965 م وكتابه «الأركان الأربعة» عام 1967 م، و «السيرة النبوية» عام 1976 م، و «العقيدة والعبادة والسلوك» عام 1980 م و «المرتضى» في سيرة أمير المؤمنين عليّ بن أبي طالب- رضي الله عنه عام 1988 م.
رئاسته لتحرير المجلّات والجرائد الإسلامية والإشراف عليها:شارك في تحرير مجلّة «الضياء» العربية الصادرة من دار العلوم- ندوة العلماء عام 1932 م ومجلّة «الندوة» الأردوية الصادرة منها أيضا عام 1940 م، وأصدر مجلّة باسم «تعمير حيات» بالأردوية عام 1948 م، وكتب مقالات في الأدب والدعوة والفكر في أمّهات المجلّات العربية الصادرة من مصر ودمشق ك: «الرّسالة» للأستاذ أحمد حسن الزيّات و «الفتح» للأستاذ محب الدين الخطيب و «حضارة الإسلام» للدكتور مصطفى السّباعي و «المسلمون» للدكتور سعيد رمضان المصري.
أشرف على إصدار جريدة «نداي ملّت» بالأردوية عام 1962 م، وأشرف كذلك على إصدار مجلّة «البعث الإسلامي» العربية الصادرة منذ عام 1955 م، وجريدة «الرائد» العربية الصادرة منذ عام 1959 م، ومجلة «تعمير حيات» الأردوية الصادرة منذ عام 1963 م، وكلّها تصدر من دار العلوم- ندوة العلماء في لكهنؤ، (الهند) .
رحلاته:سافر إلى الشرق والغرب داعية إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، عاملا على إعلاء كلمة الإسلام بالكلمة المسموعة والمقروءة، وبالعمل
তিনি ১৯৫৮ সালে কাদিয়ানিবাদ সম্পর্কে «আল-কাদিয়ানি ওয়াল-কাদিয়ানিয়া» শিরোনামে তাঁর গ্রন্থ রচনা করেন, এবং ১৯৬৫ সালে «আস-সিরা বাইনাল ফিকরাতিল ইসলামিয়া ওয়াল গারবিয়া ফিল আক্তারিল ইসলামিয়া» (ইসলামি দেশগুলোতে ইসলামি ও পশ্চিমা চিন্তাধারার মধ্যে দ্বন্দ্ব), ১৯৬৭ সালে «আল-আরকানুল আরবাআ» (চার রুকন), ১৯৭৬ সালে «আস-সিরাতুন নাবাবিয়া» (নবীজির জীবনী), ১৯৮০ সালে «আল-আকিদাহ ওয়াল ইবাদাহ ওয়াস সুলুক» এবং ১৯৮৮ সালে আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী গ্রন্থ «আল-মুরতাজা» রচনা করেন।
ইসলামি সাময়িকী ও সংবাদপত্রের সম্পাদনা এবং এর তত্ত্বাবধান:তিনি ১৯৩২ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত আরবি সাময়িকী «আদ-দিয়া» এবং ১৯৪০ সালে সেখান থেকেই প্রকাশিত উর্দু সাময়িকী «আন-নাদওয়া»-র সম্পাদনায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি উর্দু ভাষায় «তামিরে হায়াত» নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করেন। তিনি মিশর ও দামেস্ক থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান আরবি সাময়িকীগুলোতে সাহিত্য, দাওয়াহ এবং চিন্তা-গবেষণা বিষয়ক প্রবন্ধ লিখেছেন, যেমন: উস্তাদ আহমদ হাসান যাইয়াত সম্পাদিত «আর-রিসালাহ», উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব সম্পাদিত «আল-ফাতহ», ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ সম্পাদিত «হাদারাতুল ইসলাম» এবং ড. সাঈদ রমজান আল-মিসরি সম্পাদিত «আল-মুসলিমুন»।
তিনি ১৯৬২ সালে উর্দু সংবাদপত্র «নিদায়ে মিল্লাত» প্রকাশের তত্ত্বাবধান করেন। একইভাবে তিনি ১৯৫৫ সাল থেকে প্রকাশিত আরবি সাময়িকী «আল-বা’সুল ইসলামি», ১৯৫৯ সাল থেকে প্রকাশিত আরবি সংবাদপত্র «আর-রায়িদ» এবং ১৯৬৩ সাল থেকে প্রকাশিত উর্দু সাময়িকী «তামিরে হায়াত»-এর তত্ত্বাবধান করেন। এর সবগুলোই ভারতের লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত হয়।
তাঁর ভ্রমণসমূহ:তিনি হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানকারী হিসেবে এবং শ্রুত ও পঠিত বাণী ও কর্মের মাধ্যমে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার লক্ষে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশসমূহ সফর করেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الإيجابيّ البنّاء في كلّ مجال، جوّابا للآفاق في سبيل الله، محاضرا، ومحدّثا، ومحاورا، واعظا وهاديا، ومشاركا بالرأي والفكر في المجالس العلمية، والمجامع الجامعية والمؤسّسات الإسلامية، والمؤتمرات والندوات فيها «1» .
تقدير وتكريم:انتخبه مجمع اللغة العربية بدمشق والقاهرة والأردن عضوا مراسلا لما اتّصف به من العلم الجمّ، والبحث الدقيق في ميادين الثقافة العربية والإسلامية، ولمساعيه المكثّفة المشكورة في الأدب العربي الإسلامي.
اختير عضوا في المجلس الاستشاري الأعلى للجامعة الإسلامية بالمدينة المنوّرة منذ تأسيسها عام 1962 م.
اختير عضوا في رابطة الجامعات الإسلامية منذ تأسيسها عام 1971 م.
اختير لاستلام جائزة الملك فيصل العالمية عام 1980 م، لمؤلّفه القيّم «ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين؟» .
منح شهادة الدكتوراه الفخرية في الآداب من جامعة كشمير عام 1981 م.
اختير رئيسا لمركز أو كسفورد للدراسات الإسلامية بلندن عام 1983 م.
اختير عضوا في المجمع الملكيّ لبحوث الحضارة الإسلامية وللبحث والتأليف والتحقيق في عمّان (الأردن) .
اختير رئيسا عاما لرابطة الأدب الإسلامي العالمية (الرياض) عام 1984 م.
--------------------------------------------
প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক গঠনমূলক ভূমিকা পালনকারী, আল্লাহর পথে দিগন্ত ভ্রমণকারী, বক্তা, হাদিস বিশারদ, সংলাপকারী, নসিহতকারী ও পথপ্রদর্শক হিসেবে এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক মজলিস, বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামসমূহে গঠনমূলক চিন্তা ও পরামর্শের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ছিলেন «১»।
শ্রদ্ধা ও সম্মাননা:দামেস্ক, কায়রো এবং জর্ডানের আরবি ভাষা একাডেমি তাঁকে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য, আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতির ময়দানে সূক্ষ্ম গবেষণা এবং আরবি ইসলামি সাহিত্যে তাঁর নিবিড় ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে।
১৯৬২ সালে মদিনা মুনাওয়ারাহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি এর উচ্চতর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের লিগ (রাবিতা) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি এর সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?' এর স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তাঁকে আন্তর্জাতিক কিং ফয়সাল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।
১৯৮১ সালে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সাহিত্যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
১৯৮৩ সালে লন্ডনের অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত 'রয়্যাল একাডেমি ফর ইসলামিক সিভিলাইজেশন রিসার্চ' এবং গবেষণা, রচনা ও সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৮৪ সালে বিশ্ব ইসলামি সাহিত্য সংস্থার (রিয়াদ) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أقيمت ندوة أدبية كبيرة حول حياته، وجهوده الحثيثة ومساعيه المشكورة، ومفاخره العظيمة في مجال الدعوة والأدب في إستانبول «تركيا» عام 1999 م، حضرت فيها كبرى الشخصيات الدينية، والأدبية من أنحاء العالم العربي والإسلامي.
اختير لاستلام جائزة الشخصية الإسلامية لعام 1419 هـ لخدماته الجليلة وماثره العظيمة في مجال الدعوة الإسلامية، وقدّم إليه الجائزة وليّ العهد لحكومة الإمارات العربية المتحدة سموّ الشيخ محمد بن راشد المكتوم.
منح له سلطان برونائي جائزة لخدماته الإسلامية، عام 1998 م، وذلك اعترافا بمكانته العلمية والفكرية الإسلامية العظيمة، وتقديرا لخدماته المتميزة التي أنجزها في مجال الدعوة الإسلامية العظيمة، والفكر الإسلامي.
رئاسته وعضويته للجامعات والمجامع:تولّى العلامة الندوي الرئاسة والعضوية لعدّة جامعات إسلامية، ومجامع عربية، ومنظّمات دعوية، ومراكز دينية في العالم الإسلامي وخارجه، ومنها على سبيل المثال:
الأمين العام لدار العلوم- ندوة العلماء (الّتي أخذت صفة العالمية منذ ترأس أمانتها، وتفوّقت على معظم جامعات العالم الّتي تهتمّ بشؤون الدراسات الإسلامية والعربية) .
رئيس رابطة الأدب الإسلامي العالمية (الرياض) .
رئيس المجمع الإسلامي العلمي في لكهنؤ (الهند) .
رئيس مركز أوكسفورد للدراسات الإسلامية (إنجلترا) .
رئيس هيئة الأحوال الشخصية الإسلامية لعموم الهند.
১৯৯৯ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তাঁর জীবন, অক্লান্ত প্রচেষ্টা, প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং দাওয়াত ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর মহান গৌরবময় অবদানের ওপর একটি বৃহৎ সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ও সাহিত্যিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামি দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর মহান সেবা ও অসামান্য কীর্তির জন্য তাঁকে ১৪১৯ হিজরি সালের 'ইসলামিক পারসোনালিটি অ্যাওয়ার্ড'-এর জন্য মনোনীত করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ক্রাউন প্রিন্স মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
১৯৯৮ সালে ব্রুনাইয়ের সুলতান তাঁর মহান ইসলামি জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং ইসলামি দাওয়াত ও ইসলামি চিন্তাধারার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের মূল্যায়নে তাঁকে 'ইসলামি সেবা পুরস্কার' প্রদান করেন।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিতে তাঁর সভাপতিত্ব ও সদস্যপদ:আল্লামা নদভী মুসলিম বিশ্ব ও তার বাইরে বেশ কিছু ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি একাডেমি, দাওয়াতি সংগঠন এবং ধর্মীয় কেন্দ্রের সভাপতিত্ব ও সদস্যপদ অলংকৃত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ তার কয়েকটি নিচে দেওয়া হলো:
দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সাধারণ সম্পাদক (যা তাঁর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে এবং ইসলামি ও আরবি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাড়িয়ে যায়)।
বিশ্ব ইসলামি সাহিত্য সংস্থার সভাপতি (রিয়াদ)।
লখনউয়ের (ভারত) ইসলামি বৈজ্ঞানিক একাডেমির সভাপতি।
অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ-এর সভাপতি (ইংল্যান্ড)।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি আবিল হাসান আন-নাদভী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
رئيس هيئة التعليم الدّيني للولاية الشمالية (أترابرديش) .
عضو المجلس التأسيسي لرابطة العالم الإسلامي بمكة المكرمة.
عضو المجلس التأسيسي الأعلى العالمي للدعوة الإسلامية بالقاهرة.
عضو مجمع اللغة العربية بدمشق.
عضو مجمع اللغة العربية بالقاهرة.
عضو مجمع اللغة العربية الأردني.
عضو المجمع الملكيّ لبحوث الحضارة الإسلامية (مؤسّسة آل البيت) بالأردن.
عضو رابطة الجامعات الإسلامية بالرّباط (المغرب) .
عضو المجلس الاستشاري الأعلى للجامعة الإسلامية بالمدينة المنوّرة.
عضو المجلس الاستشاري الأعلى للجامعة الإسلامية العالمية بإسلام آباد (باكستان) .
عضو المجلس الاستشاري بدار العلوم ديوبند الإسلامية (الهند) .
وعدا ذلك تولّى العلامة الرئاسة والعضوية لكثير من الجامعات الإسلامية، والمراكز الدينية والمنظّمات الدعوية، ولجان التعليم والتربية في العالم الإسلامي وخارجه.
وفاته:توفّي- رحمه الله عقب نوبة قلبية مفاجئة عن السادسة والثمانين من عمره الحافل بالأعمال القيامة والماثر العظيمة، والخدمات الجليلة في مجال الفكر والدّعوة والأدب يوم الجمعة في 23 من شهر رمضان المبارك عام 1420 هـ
উত্তর প্রদেশের (উত্তরপ্রদেশ) ধর্মীয় শিক্ষা বোর্ডের প্রধান।
মক্কাতুল মুকাররমার রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য।
কায়রোর আন্তর্জাতিক ইসলামী দাওয়াহর সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য।
দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য।
কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য।
জর্ডানের আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য।
জর্ডানের রাজকীয় ইসলামি সভ্যতা গবেষণা কমপ্লেক্সের (আলে বাইত ফাউন্ডেশন) সদস্য।
মরক্কোর রাবাতে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় লীগের সদস্য।
মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ইসলামি মাদরাসার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
এছাড়া আল্লামা অনেক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতিত্ব ও সদস্যপদ, ধর্মীয় কেন্দ্র ও দাওয়াহ সংস্থা এবং ইসলামি বিশ্ব ও এর বাইরের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যু:তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ছিয়াশি বছর বয়সে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর এই দীর্ঘ জীবন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ, মহান কীর্তি এবং চিন্তা, দাওয়াত ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে অসামান্য সেবায় ভরপুর। তিনি ১৪২০ হিজরি সনের ২৩শে রমজান মোবারক জুমাবার ইন্তেকাল করেন।