(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: -)
شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك   (ابن عقيل)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك

المؤلف: ابن عقيل، عبد الله بن عبد الرحمن العقيلي الهمداني المصري (المتوفى: 769 هـ)

المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]

الناشر: دار التراث - القاهرة، دار مصر للطباعة، سعيد جودة السحار وشركاه

الطبعة: العشرون 1400 هـ - 1980 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وأول مجلدين، بحاشية: منحة الجليل، بتحقيق شرح ابن عقيل]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর উপর ইবনে আকিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ   (ইবনে আকিল)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


কিতাব: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর উপর ইবনে আকিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ

লেখক: ইবনে আকিল، আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-আকিলি আল-হামাদানি আল-মিসরি (মৃত্যু: ৭৬৯ হিজরি)

তাহকিক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]

প্রকাশক: দারুত তুরাছ - কায়রো، দারু মিসর লিত্তিবায়াহ، সাঈদ জাওদাহ আস-সাহহার ও অংশীদারগণ

সংস্করণ: বিংশতম ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ، এবং প্রথম দুই খণ্ড، টীকা সহ: মিনহাতুল জলিল، ইবনে আকিলের ব্যাখ্যার তাহকিক সম্বলিত]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك]ـ

 

المؤلف: ابن عقيل، عبد الله بن عبد الرحمن العقيلي الهمداني المصري (المتوفى: 769هـ)

المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد

الناشر: دار التراث - القاهرة، دار مصر للطباعة، سعيد جودة السحار وشركاه

الطبعة: العشرون 1400 هـ - 1980 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وأول مجلدين، مذيلان بحاشية: منحة الجليل، بتحقيق شرح ابن عقيل]
[ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে আকীলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ]

 

লেখক: ইবনে আকীল, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-আকীলী আল-হামদানী আল-মিসরী (মৃত্যু: ৭৬৯ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ

প্রকাশক: দারুত তুরাস - কায়রো, দারু মিসর লিত-তিবাআহ, সাঈদ জাওদাহ আস-সাহহার ও অংশীদারগণ

সংস্করণ: বিংশতম, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং প্রথম দুই খণ্ড ‘মিনহাতুল জলীল বি তাহকীক শরহি ইবনি আকীল’ নামক টীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله المنعوت بجميل الصفات، وصلى الله على سيدنا محمد أشرف الكائنات، المبعوث بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وعلى آله وصحبه الذين نصبوا أنفسهم للدفاع عن بيضة الدين حتى رفع الله بهم مناره، وأعلى كلمته،

وجعله دينه المرضي، وطريقه المستقيم.

وبعد، فقد كان مما جرى به القضاء أني كتبت منذ أربع سنوات كتاب تعليقات على كتاب الخلاصة (الألفية) الذي صنفه إمام النحاة، أبو عبد الله جمال الدين محمد ابن مالك المولود بجيان سنة ستمائة من الهجرة، والمتوفى في دمشق سنة اثنتين وسبعين وستمائة، وعلى شرحه الذي صنفه قاضي القضاة بهاء الدين عبد الله بن عقيل، المصري، الهاشمي، المولود في سنة ثمان وتسعين وستمائة، والمتوفى في سنة تسع وستين وسبعمائة من الهجرة، ولم يكن يدور بخلدي - علم الله - أن تعليقاتي هذه ستحوز قبول الناس ورضاهم، وأنها ستحل من أنفسهم المحل الذي حلته، بل كنت أقول في نفسي: " إنه أثر يذكرني به الإخوان والأبناء، ولعله يجلب لي دعوة رجل صالح فأكون بذلك من الفائزين ".

ثم جرت الأيام بغير ما كنت أرتقب، فإذا الكتاب يروق قراءه، وينال منهم الإعجاب كل الإعجاب، وإذا هم يطلبون إلي في إلحاح أن أعيد طبعه، ولم يكن قد مضى على ظهوره سنتان، ولم أشأ أن أجيب هذه الرغبة إلا بعد أن أعيد النظر فيه، فأصلح ما عسى أن يكون قد فرط مني، أو أتمم بحثا، أو أبدل عبارة بعبارة أسهل منها وأدنى إلى القصد، أو أضبط مثالا أو كلمة غفلت عن
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উত্তম গুণাবলীতে গুণান্বিত। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ এবং যাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাঁরা দ্বীনের হেফাজতের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন, এমনকি আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে দ্বীনের মিনারকে সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেছেন,

এবং একে তাঁর মনোনীত দ্বীন এবং সঠিক পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

অতঃপর, মহান আল্লাহর ফয়সালায় চার বছর আগে আমি 'আল-খুলাসা' (আলফিয়্যাহ) গ্রন্থের ওপর একটি টীকাগ্রন্থ রচনা করেছিলাম, যা ব্যাকরণবিদদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ জামালুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে মালিক (যিনি হিজরি ছয়শত সনে জিয়ানে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ছয়শত বাহাত্তর সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন) প্রণয়ন করেছিলেন। আর এটি ছিল কাযিল কুযাত বাহাউদ্দিন আব্দুল্লাহ ইবনে আকীল আল-মিসরি আল-হাশিমী (যিনি হিজরি ছয়শত আটানব্বই সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি সাতশত উনসত্তর সনে মৃত্যুবরণ করেন) কর্তৃক রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর। আল্লাহ জানেন, আমার মনে এই চিন্তা আসেনি যে, আমার এই টীকাগুলো মানুষের মাঝে এমন গ্রহণযোগ্যতা ও সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং তাদের অন্তরে এমন স্থান করে নেবে। বরং আমি মনে মনে বলতাম: "এটি এমন এক কাজ যা আমার ভাই ও সন্তানতুল্যদের নিকট আমার স্মৃতি জাগিয়ে রাখবে, আর সম্ভবত এর উসিলায় আমি কোনো নেককার ব্যক্তির দোয়া লাভ করব, যার মাধ্যমে আমি সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হব।"

তারপর দিনগুলো আমার প্রত্যাশার বাইরে অতিবাহিত হতে লাগল। হঠাৎ দেখা গেল যে, বইটি পাঠকদের নিকট পছন্দ হয়েছে এবং তারা এর ভূয়সী প্রশংসা করছেন। তারা জোরালোভাবে এর পুনঃমুদ্রণের অনুরোধ করতে থাকেন, অথচ এটি প্রকাশের পর দুই বছরও অতিবাহিত হয়নি। আমি এই অনুরোধে সাড়া দিতে চাইনি যতক্ষণ না আমি এতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি। ফলে আমি এতে যা কিছু বিচ্যুতি ঘটেছিল তা সংশোধন করেছি, কোনো আলোচনাকে পূর্ণতা দিয়েছি, অথবা কোনো বাক্যকে আরও সহজ ও প্রসঙ্গের নিকটবর্তী বাক্য দ্বারা পরিবর্তন করেছি, কিংবা কোনো উদাহরণ বা শব্দ যা আগে অসতর্কতাবশত এড়িয়ে গিয়েছিলাম তা সঠিকভাবে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৪)
ضبطها، أو ما أشبه ذلك من وجوه التحسين التي أستطيع أن أكافئ بها هؤلاء الذين رأوا في عملي هذا ما يستحق التشجيع والتنويه به والإشادة بذكره، وما زالت العوائق تدفعني عن القيام بهذه الأمنية الشريفة وتذودني عن العمل لتحقيقها، حتى أذن الله تعالى، فسنحت لي الفرصة، فلم أتأخر عن اهتبالها، وعمدت إلى الكتاب، فأعملت في تعليقاتي يد الإصلاح والزيادة والتهذيب، كما أعملت في أصله يد التصحيح والضبط والتحرير، وسيجد كل قارئ أثر ذلك واضحا، إن شاء الله.

والله سبحانه وتعالى! المسئول أن يوفقني إلى مرضاته، وأن يجعل عملي خالصا لوجهه، وأن يكتبني ويكتبه عنده من المقبولين، آمين.

 

كتبه المعتز بالله تعالى

محمد محيي الدين عبد الحميد
এটিকে সুবিন্যস্ত করা, অথবা অনুরূপ উৎকর্ষ সাধনের বিভিন্ন দিক, যার মাধ্যমে আমি সেই ব্যক্তিদের প্রতিদান দিতে পারি যারা আমার এই কাজে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন যা উৎসাহ প্রদান, প্রশংসা ও আলোচনার যোগ্য। দীর্ঘকাল নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা আমাকে এই মহৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হতে ফিরিয়ে রাখছিল এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা হতে বিরত রাখছিল, অবশেষে মহান আল্লাহ অনুমতি দান করলেন এবং আমার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হলো। অতঃপর আমি তা গ্রহণে বিলম্ব করিনি এবং কিতাবটির প্রতি মনোনিবেশ করলাম। আমি আমার টীকাগুলোতে সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের হাত প্রসারিত করলাম, যেমনটি আমি এর মূল পাঠে শুদ্ধিকরণ, বিন্যাস ও সম্পাদনার হাত প্রয়োগ করেছি। ইনশাআল্লাহ, প্রত্যেক পাঠক এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা! তাঁর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দান করেন, আমার এই কাজকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাকে ও এই কাজকে তাঁর নিকট কবুলকৃতদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমিন।

 

লিখেছেন মহান আল্লাহর মাধ্যমে সম্মান অন্বেষণকারী

মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولى

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على نعمائه، وصلاته وسلامه على خاتم أنبيائه، وعلى آله وأصحابه وأوليائه اللهم إني أحمدك أرضى الحمد لك، وأحب الحمد إليك، وأفضل الحمد عندك، حمدا لا ينقطع عدده، ولا يفنى مدده.

وأسألك المزيد من صلواتك وسلامك على مصدر الفضائل، الذي ظل ماضيا على نفاذ أمرك، حتى أضاء الطريق للخابط، وهدى الله به القلوب، وأقام به موضحات الأعلام: سيدنا محمد بن عبد الله أفضل خلق الله، وأكرمهم عليه، وأعلاهم منزلة

عنده، صلى الله عليه وعلى صحابته الأخيار، وآله الأبرار.

ثم أما بعد، فلعلك لا تجد مؤلفا - ممن صنفوا في قواعد العربية - قد نال من الحظوة عند الناس، والإقبال على تصانيفه: قراءة، وإقراء، وشرحا، وتعليقا، مثل أبي عبد الله محمد جمال الدين بن عبد الله بن مالك، صاحب التآليف المفيدة، والتصنيفات الممتعة، وأفضل من كتب في علوم العربية من أهل طبقته علما، وأوسعهم اطلاعا، وأقدرهم على الاستشهاد لما يرى من الآراء بكلام العرب، مع تصون، وعفة، ودين، وكمال خلق.

فلابن مالك مؤلفات في العربية كثيرة متعددة المشارب، مختلفة المناحي، وقل أن تجد من بينها كتابا لم يتناوله العلماء منذ زمنه إلى اليوم: بالقراءة، والبحث، وبيان معانيه: بوضع الشروح الوافية والتعليقات عليه.

ومن هذه المؤلفات كتابه " الخلاصة " الذي اشتهر بين الناس باسم " الألفية " (1)

--------------------------------------------

(1) تسمية " الألفية " مأخوذة من قوله في أولها: "وأستعين الله في ألفيه … مقاصد النحو بها محويه"

وتسمية " الخلاصة " مأخوذة من قوله في آخرها: حوى من الكافية الخلاصه … كما اقتضى رضا بلا خصاصه
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নিয়ামতসমূহের ওপর, এবং তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবীর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং ওলীগণের ওপর। হে আল্লাহ, আমি আপনার এমন প্রশংসা করছি যা আপনার নিকট সর্বাধিক সন্তোষজনক, আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং আপনার নিকট সর্বোত্তম; এমন প্রশংসা যার সংখ্যা কখনো শেষ হবে না এবং যার সাহায্য কখনো ফুরিয়ে যাবে না।

আর আমি আপনার নিকট আরও অধিক দরুদ ও সালাম প্রার্থনা করছি ফযিলতসমূহের উৎসের ওপর, যিনি আপনার নির্দেশ বাস্তবায়নে অটল ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি পথহারাদের জন্য পথ আলোকিত করেছেন এবং যার মাধ্যমে আল্লাহ অন্তরসমূহকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী প্রতিষ্ঠা করেছেন: আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম, তাঁর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত এবং তাঁর নিকট সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী

তাঁর নিকট; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর উত্তম সাহাবী ও পুণ্যবান পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলী বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে আপনি সম্ভবত এমন কোনো লেখককে পাবেন না, যিনি মানুষের কাছে এত বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন এবং যার রচনাবলী পাঠ করা, পড়ানো, ব্যাখ্যা করা ও টীকা লেখার ক্ষেত্রে এত বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যেমনটি পেয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জামালুদ্দিন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক। তিনি উপকারী ও চমৎকার গ্রন্থসমূহের রচয়িতা এবং আপন যুগের আরবি ভাষা বিজ্ঞানের পণ্ডিতদের মধ্যে ইলমের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী এবং নিজের মতামতের স্বপক্ষে আরবের কাব্য ও বক্তব্য থেকে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, ধার্মিক এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী।

আরবি ভাষায় ইবনে মালিকের বহুবিধ বিষয় ও বিচিত্র আঙ্গিকের অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে এমন কোনো কিতাব পাওয়া বিরল যা তাঁর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত আলেমগণ পাঠ করা, গবেষণা করা এবং বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও টীকা লিখে তার অর্থ স্পষ্ট করার কাজে হাত দেননি।

তাঁর এই রচনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর কিতাব "আল-খুলাসা", যা মানুষের কাছে "আল-আলফিয়্যাহ" (১) নামে সমধিক পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) "আল-আলফিয়্যাহ" নামকরণটি এর শুরুতে বলা তাঁর এই উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে: "আমি এক হাজার পঙ্ক্তির কবিতার (আলফিয়্যাহ) ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি … যাতে নাহুর (ব্যাকরণ) মূল লক্ষ্যসমূহ সংকলিত হয়েছে।"

আর "আল-খুলাসা" নামকরণটি এর শেষে বলা তাঁর এই উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে: এটি 'আল-কাফিয়াহ' এর সারসংক্ষেপ (খুলাসা) ধারণ করেছে … যেমনটি কোনো অভাব ছাড়াই সন্তুষ্টির দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৬)
والذي جمع فيه خلاصة علمي النحو والتصريف، في أرجوزة ظريفة، مع الإشارة إلى مذاهب العلماء، وبيان ما يختاره من الآراء، أحيانا.

وقد كثر إقبال العلماء على هذا الكتاب من بين كتبه بنوع خاص، حتى طويت مصنفات أئمة النحو من قبله، ولم ينتفع من جاء بعده بأن يحاكوه أو يدعوا أنهم يزيدون عليه وينتصفون منه، ولو لم يشر في خطبته إلى ألفية الإمام العلامة يحيى زين الدين بن عبد النور الزواوي الجزائري، المتوفى بمصر في يوم الاثنين آخر شهر ذي القعدة من سنة 627 هـ والمعروف بابن معط - لما ذكره الناس، ولا عرفوه.

وشروح هذا الكتاب أكثر من أن تتسع هذه الكلمة الموجزة لتعدادها، وبيان مزاياها، وما انفرد به كل شرح، وأكثرها لأكابر العلماء ومبرزيهم: كالإمام أبي محمد عبد الله جمال الدين بن يوسف بن أحمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري الشافعي الحنبلي، المتوفى ليلة الجمعة، الخامس من شهر ذي القعدة من سنة 761 هـ، والذي يقول عنه ابن خلدون: " مازلنا ونحن بالمغرب نسمع أنه ظهر بمصر عالم بالعربية - يقال له ابن هشام - أنحى من سيبويه " اهـ.

وقد شرح ابن هشام الخلاصة مرتين: إحداهما في كتابه " أوضح المسالك، إلى ألفية ابن مالك (1) (1) "، والثانية في كتاب سماه " دفع الخصاصة، عن قراء الخلاصة " ويقال: إنه أربع مجلدات، ويقول السيوطي بعد ذكر هذين الكتابين " وله عدة حواش على الألفية والتسهيل " اهـ.

وممن شرح الخلاصة العلامة محمد بدر الدين بن محمد بن عبد الله بن مالك، المتوفى بدمشق في يوم الأحد، الثامن من شهر المحرم، سنة 686 هـ، وهو ابن الناظم..

--------------------------------------------

(1) قد أخرجنا هذا الكتاب إخراجا جيدا، وشرحناه ثلاثة شروح أخرجنا منها الوجيز والوسيط، ونسأل الله أن يوفق لإخراج البسيط، فقد أودعناه مالا يحتاج طالب علم العربية إلى ما وراءه.
যাতে তিনি একটি মনোরম কবিতার (আরজুজা) মাধ্যমে নাহু ও সারফ শাস্ত্রের সারাংশ সংকলন করেছেন, সাথে মাঝে মাঝে আলেমদের মাযহাবসমূহের প্রতি ইঙ্গিত এবং তাঁর পছন্দনীয় মতামতের বর্ণনা দিয়েছেন।

তাঁর বইগুলোর মধ্যে বিশেষ করে এই বইটির প্রতি আলেমদের আগ্রহ এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, তাঁর পূর্ববর্তী নাহু শাস্ত্রের ইমামদের রচনাবলি অপ্রচলিত হয়ে পড়ে। তাঁর পরবর্তীগণ তাঁকে অনুকরণ করে বা তাঁর চেয়ে বেশি কিছু সংযোজন করার কিংবা তাঁর ভুল ধরার দাবি করে খুব একটা উপকৃত হতে পারেননি। তিনি যদি তাঁর ভূমিকার ভাষণে ইমাম আল্লামা ইয়াহইয়া যাইন উদ্দীন বিন আব্দুল নূর আয-যাওয়াওয়ী আল-জাযায়িরী (যিনি ৬২৭ হিজরির যিলকদ মাসের শেষ সোমবার মিশরে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে মু'তী নামে পরিচিত)—এর আলফিয়ার কথা উল্লেখ না করতেন, তবে মানুষ তাঁকে (ইবনে মু'তীকে) স্মরণ করত না এবং তাঁকে চিনতও না।

এই বইটির ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এত বেশি যে, এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা গণনা করা, সেগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা এবং প্রতিটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের বিশেষত্ব তুলে ধরা সম্ভব নয়। এগুলোর অধিকাংশ বড় বড় এবং অগ্রগণ্য আলেমদের রচিত: যেমন ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জামালুদ্দীন বিন ইউসুফ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারী আশ-শাফিয়ী আল-হাম্বলী, যিনি ৭৬১ হিজরির যিলকদ মাসের পাঁচ তারিখ জুমআর রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর সম্পর্কে ইবনে খালদুন বলেন: "আমরা যখন মাগরিবে ছিলাম, তখন থেকেই শুনতাম যে মিশরে আরবি ভাষায় এমন একজন পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে—যাকে ইবনে হিশাম বলা হয়—যিনি সিবওয়াইহ থেকেও বড় নাহুবিদ।" সমাপ্ত।

ইবনে হিশাম 'খুলাসা' (আলফিয়া)-র দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন: একটি তাঁর 'আওয়াহুল মাসালিক ইলা আলফিয়াতু ইবনে মালিক (১)' গ্রন্থে, এবং দ্বিতীয়টি 'দাফউল খাসাসাহ আন কুররাউল খুলাসা' নামক গ্রন্থে। বলা হয়ে থাকে যে এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত। সুয়ূতী এই দুটি বই উল্লেখ করার পর বলেন: "আলফিয়া ও তাসিহিলের ওপর তাঁর বেশ কিছু টীকাগ্রন্থও রয়েছে।" সমাপ্ত।

খুলাসার ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে আল্লামা মুহাম্মদ বদরুদ্দীন বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিকও রয়েছেন, যিনি ৬৮৬ হিজরির মুহাররম মাসের আট তারিখ রবিবার দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন মূল গ্রন্থকারের পুত্র (ইবনুন নাযিম)।

--------------------------------------------

(১) আমরা এই বইটি উত্তমরূপে প্রকাশ করেছি এবং এর তিনটি ব্যাখ্যা লিখেছি, যার মধ্যে 'আল-ওয়াজীয' ও 'আল-ওয়াসীত' প্রকাশ করেছি। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফীক প্রার্থনা করি যাতে 'আল-বাসীত' প্রকাশ করতে পারি; কারণ এতে আমরা এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছি যার পর আরবি ভাষার শিক্ষার্থীর আর অন্য কিছুর প্রয়োজন হবে না।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৭)
ومنهم العلامة الحسن بدر الدين بن قاسم بن عبد الله بن عمر، المرادي، المصري المتوفى في يوم عيد الفطر سنة 849 هـ.

ومنهم الشيخ عبد الرحمن زين الدين أبو بكر المعروف بابن العيني الحنفي المتوفى سنة 849 هـ ومنهم الشيخ عبد الرحمن بن علي بن صالح المكودي، المتوفى بمدينة فاس سنة 801 هـ

ومنهم أبو عبد الله محمد شمس الدين بن أحمد بن علي بن جابر، الهواري، الأندلسي، المرسيني، الضرير.

ومنهم أبو الحسن علي نور الدين بن محمد المصري، الأشموني، المتوفى في حدود سنة 900 هـ (1) .

ومنهم الشيخ إبراهيم برهان الدين بن موسى بن أيوب، الابناسي، الشافعي، المتوفى في شهر المحرم من سنة 802 هـ.

ومنهم الحافظ عبد الرحمن جلال الدين بن أبي بكر السيوطي، المتوفى سنة 911 هـ ومنهم الشيخ محمد بن قاسم الغزي، أحد علماء القرن التاسع الهجري.

ومنهم أبو الخير محمد شمس الدين بن محمد، الخطيب، المعروف بابن الجزري، المتوفى في سنة 833 هـ.

ومنهم قاضي القضاة عبد الله بهاء الدين بن عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد الله ابن عقيل، القرشي، الهاشمي، العقيلي - نسبة إلى عقيل بن أبي طالب - الهمداني الأصل، ثم البالسي، المصري، المولود في يوم الجمعة، التاسع من شهر المحرم من سنة 698، والمتوفى بالقاهرة في ليلة الأربعاء الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول 769 هـ، وشرحه هو الذي نعاني إخراجه للناس اليوم..

--------------------------------------------

(1) قد أخرجنا هذا الكتاب إخراجا دقيقا، وشرحناه شرحا شاملا جامعا لشتات الفن وأدلة مسائله، وظهر منه - منذ عهد بعيد - أربع مجلدات ضخام، والله المسئول أن يوفق لإكمال إظهاره بمنه وفضله.
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আল্লামা হাসান বদরুদ্দিন ইবন কাসিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর, আল-মুরাদি, আল-মিসরি, যিনি ৮৪৯ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের দিনে ইন্তেকাল করেন।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ আবদুর রহমান যাইনুদ্দিন আবু বকর, যিনি ইবনুল আইনি আল-হানাফি নামে পরিচিত, তিনি ৮৪৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এবং তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ আবদুর রহমান ইবন আলী ইবন সালেহ আল-মাকুদি, যিনি ৮০১ হিজরি সনে ফাস নগরীতে ইন্তেকাল করেন।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ শামসুদ্দিন ইবন আহমাদ ইবন আলী ইবন জাবির, আল-হাওয়ারি, আল-আন্দালুসি, আল-মুরসিনি, আদ-দারির (দৃষ্টিহীন)।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবুল হাসান আলী নুরুদ্দিন ইবন মুহাম্মদ আল-মিসরি, আল-আশমুনি, যিনি আনুমানিক ৯০০ হিজরি সনের দিকে ইন্তেকাল করেন (১)।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ ইবরাহিম বুরহানুদ্দিন ইবন মুসা ইবন আইয়ুব, আল-আবনাাসি, আশ-শাফিঈ, যিনি ৮০২ হিজরি সনের মহররম মাসে ইন্তেকাল করেন।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন হাফিজ আবদুর রহমান জালালুদ্দিন ইবন আবু বকর আস-সুয়ুতি, যিনি ৯১১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এবং তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ মুহাম্মদ ইবন কাসিম আল-গাজ্জি, যিনি হিজরি নবম শতাব্দীর অন্যতম আলিম ছিলেন।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ শামসুদ্দিন ইবন মুহাম্মদ, আল-খতিব, যিনি ইবনুল জাজারি নামে পরিচিত, তিনি ৮৩৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন কাযিউল কুযাত আবদুল্লাহ বাহাউদ্দিন ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আকিল, আল-কুরাশি, আল-হাশিমি, আল-আকিলি—আকিল ইবন আবি তালিবের বংশধর হিসেবে—মূলত হামদান বংশীয়, অতঃপর বালসি ও মিসরি, যিনি ৬৯৮ হিজরি সনের ৯ই মহররম শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬৯ হিজরি সনের ২৩শে রবিউল আউয়াল বুধবার রাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটিই (শারহ) আমরা আজ মানুষের সামনে উপস্থাপনের জন্য কাজ করছি।

--------------------------------------------

(১) আমরা এই গ্রন্থটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পাদন করেছি এবং এর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লিখেছি যা এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত অংশসমূহ এবং এর মাসআলাসমূহের প্রমাণাদিকে একত্রিত করেছে। অনেক আগে থেকেই এর চারটি বিশাল খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এটি পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশের তাওফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد شرح الكتاب - غير هؤلاء - الكثير من العلماء، ولست تجد شرحا من هذه الشروح لم يتناوله العلماء: بالكتابة عليه، وبيان ما فيه من إشارات، وإكمال ما عسى أن يشتمل عليه من نقص، وكل ذلك ببركة صاحب الأصل المشروح،

وبما ذاع له بين أساطين العلم من شهرة بالفقه في العربية وسعة الباع.

وهذه الشروح مختلفة، ففيها المختصر، وفيها المطول، فيها المتعقب صاحبه للناظم يتحامل عليه، ويتلمس له المزالق، وفيها المتحيز له، والمصحح لكل ما يجئ به، وفيها الذي اتخذ صاحبه طريقا وسطا بين الإيجاز والإطناب، والتحامل والتحيز.

ومن هؤلاء الذين سلكوا طريقا بين الطريقين بهاء الدين بن عقيل، فإنه لم يعمد إلى الإيجاز حتى يترك بعض القواعد الهامة، ولم يقصد إلى الإطناب، فيجمع من هنا ومن هنا، ويبين جميع مذاهب العلماء ووجوه استدلالهم، ولم يتعسف في نقد الناظم: بحق، وبغير حق، كما لم ينحز له بحيث يتقبل كل ما يجئ به: وافق الصواب، أو لم يوافقه.

ولصاحب هذا الشرح من الشهرة في الفن والبراعة فيه، ومن البركة والإخلاص ما دفع علماء العربية إلى قراءة كتابه والاكتفاء به عن أكثر شروح الخلاصة.

وقد أردت أن أقوم لهذا الكتاب بعمل أتقرب به إلى الله تعالى، فرأيت - في أول الأمر - أن أتمم ما قصر فيه من البحث: فأبين اختلاف النحويين واستدلالاتهم ثم نظرت فإذا ذلك يخرج بالكتاب عن أصل الغرض منه، وقد يكون الإطناب باعثا على الازورار عنه، ونحن في زمن أقل ما فيه من عاب أنك لا تجد راغبا في علوم العرب إلا في القليل النادر، لأنهم قوم ذهبت مدنيتهم، ودالت دولتهم، وأصبحت الغلبة لغيرهم.

فاكتفيت بما لا بد منه، من إعراب أبيات الألفية، وشرح الشواهد شرحا وسطا بين الاقتصار والإسهاب، وبيان بعض المباحث التي أشار إليها الشارح أو أغفلها بتة في عبارة واضحة وفي إيجاز دقيق، والتذييل بخلاصة مختصرة في تصريف الأفعال، فإن
এই কিতাবটির ব্যাখ্যা আরও অনেক আলেম করেছেন। আপনি এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে এমন কোনো ব্যাখ্যা পাবেন না যা নিয়ে আলেমগণ কাজ করেননি; সেগুলোর ওপর টীকা লিখে, তাতে থাকা ইঙ্গিতসমূহ বর্ণনা করে এবং সম্ভাব্য ত্রুটিসমূহ পূর্ণ করে তাঁরা সেগুলোর চর্চা করেছেন। আর এই সবই মূল গ্রন্থের লেখকের বরকতে সম্ভব হয়েছে,

এবং জ্ঞানজগতের দিকপালদের মাঝে আরবি ভাষার গভীর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের জন্য তাঁর যে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কারণে।

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের। এর মধ্যে কোনোটি সংক্ষিপ্ত, আবার কোনোটি দীর্ঘ। কোনোটিতে ব্যাখ্যাকার মূল রচয়িতার (নাজিম) ভুল ধরতে গিয়ে তাঁর প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁর বিচ্যুতিসমূহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। কোনোটিতে ব্যাখ্যাকার তাঁর প্রতি অতিমাত্রায় পক্ষপাতিত্ব করেছেন এবং তাঁর আনীত প্রতিটি বিষয়কেই শুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন। আবার কোনোটিতে ব্যাখ্যাকার সংক্ষেপণ ও দীর্ঘায়ন এবং কঠোরতা ও পক্ষপাতিত্বের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন।

যারা এই উভয় পথের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাহাউদ্দিন ইবনে আকিল। তিনি এমনভাবে সংক্ষেপ করেননি যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণগত নিয়ম বাদ পড়ে যায়, আবার এমন দীর্ঘায়নেরও ইচ্ছা করেননি যেখানে এদিক-ওদিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সকল আলেমের মাজহাব ও তাঁদের দলিলসমূহ বর্ণনা করতে হয়। তিনি নাজিমের সমালোচনায় অন্যায্য কঠোরতা দেখাননি—হোক তা যথাযথ কিংবা অযৌক্তিক—আবার তাঁর প্রতি এমন পক্ষপাতিত্বও করেননি যার ফলে তাঁর উপস্থাপিত সবকিছুকেই গ্রহণ করতে হয়, তা সঠিক হোক বা না হোক।

এই ব্যাখ্যাকার তাঁর বিষয়ের পারদর্শিতা ও নিপুণতায় যে খ্যাতি লাভ করেছেন এবং তাঁর মাঝে যে বরকত ও ইখলাস ছিল, তা-ই আরবি ভাষার আলেমদেরকে তাঁর কিতাবটি পড়তে এবং 'খুলাসা'র (আলফিয়্যাহ) অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থের বদলে এই একটির ওপরই নির্ভর করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আমি চেয়েছিলাম এই কিতাবটির জন্য এমন কিছু কাজ করতে যার মাধ্যমে আমি আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে পারি। শুরুতে ভেবেছিলাম গবেষণার ক্ষেত্রে এতে যা অপূর্ণতা রয়েছে তা পূর্ণ করে দেব; অর্থাৎ নাহুবিদদের মতপার্থক্য ও তাঁদের দলিলসমূহ বর্ণনা করব। কিন্তু পরে দেখলাম, এটি কিতাবটিকে তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেবে এবং দীর্ঘসূত্রিতা এর প্রতি বিমুখতার কারণ হতে পারে। আর আমরা এখন এমন এক যুগে আছি যার সাধারণ দোষ হলো এই যে, আপনি আরবি ভাষাবিজ্ঞানে আগ্রহী খুব কম লোকই পাবেন; কারণ তারা এমন এক জাতি যাদের সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে, তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা চ্যুত হয়েছে এবং অন্যদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তাই আমি কেবল অপরিহার্য বিষয়গুলোর ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি; যেমন আলফিয়্যাহর বাইতগুলোর ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ), অতি সংক্ষেপ ও অতি দীর্ঘের মাঝামাঝি পন্থায় উদাহরণের (শাওয়াহেদ) ব্যাখ্যা প্রদান, এবং ব্যাখ্যাকার যেসব বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন কিংবা যা পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন তা স্পষ্ট ভাষায় ও সুনির্দিষ্ট সংক্ষেপে বর্ণনা করা। এছাড়া ক্রিয়ার রূপান্তর (তাসরিফ) বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি। কারণ...
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৯)
ابن مالك قد أغفل ذلك في " ألفيته "، ووضع له لامية خاصة، سماها " لامية الأفعال ".

وأريد أن أنبهك إلى أنني وفقت في تصحيح هذه المطبوعة تصحيحا دقيقا، فإن نسخ الكتاب التي في أيدي الناس - رغم كثرتها، وتعدد طبعها - ليس فيها نسخة بلغت من الإتقان حدا ينفي عنك الريب والتوقف، فإنك لتجد في بعضها زيادة ليست في بعضهما الآخر، وتجد بينها تفاوتا في التعبير، وقد جمع الله تعالى لي بين اثنتي عشرة نسخة مختلفة، في زمان الطبع، ومكانه، ويسر لي - سبحانه! - معارضة بعضها ببعض، فاستخلصت لك من بينها أكملها بيانا، وأصحها تعبيرا، وأدناها إلى ما أحب لك، فجاءت فيما أعتقد خير ما أخرج للناس من مطبوعات هذا الكتاب.

وقد وضعنا زيادات بعض النسخ بين علامتين هكذا [] .

والله سبحانه! المسئول أن ينفع بهذا العمل على قدر العناء فيه، وأن يجعله في سبيل الإخلاص فيه لوجهه، إنه الرب المعين، وعليه التكلان

محمد محيي الدين عبد الحميد
ইবনে মালিক তাঁর "আলফিয়্যাহ" গ্রন্থে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং এর জন্য একটি স্বতন্ত্র "লামিয়াহ" রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "লামিয়াতুল আফ’আল"।

আমি আপনাকে এই বিষয়ে সচেতন করতে চাই যে, আমি এই মুদ্রিত সংস্করণটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সংশোধন করতে সমর্থ হয়েছি। কারণ মানুষের হাতে থাকা এই বইটির কপিগুলো—তথা এর প্রাচুর্য ও নানাবিধ সংস্করণ থাকা সত্ত্বেও—এমন কোনো কপি নেই যা এমন এক নিখুঁত পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আপনার সংশয় ও দ্বিধা দূর করতে পারে। কেননা আপনি কোনোটিতে এমন কিছু পরিবর্ধন পাবেন যা অন্যটিতে নেই এবং সেগুলোর বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। আল্লাহ তাআলা মুদ্রণের সময় ও স্থানে আমার জন্য বারোটি ভিন্ন ভিন্ন পাণ্ডুলিপি একত্রিত করে দিয়েছেন এবং তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—আমার জন্য একটির সাথে অপরটির তুলনা করা সহজ করে দিয়েছেন। ফলে আমি আপনার জন্য সেগুলোর মধ্য থেকে সর্বাধিক স্পষ্ট বর্ণনা, সবচেয়ে সঠিক অভিব্যক্তি এবং আমার বিবেচনায় আপনার জন্য যা সবচেয়ে উত্তম তার নিকটতমটি সংকলন করেছি। ফলে আমার বিশ্বাস মতে এটি মানুষের জন্য প্রকাশিত এই গ্রন্থের সংস্করণগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

আমরা কিছু পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত অংশগুলো এই প্রকারের [] দুটি চিহ্নের মাঝে রেখেছি।

পবিত্র আল্লাহই একমাত্র সত্তা যাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কাজের পরিশ্রম অনুযায়ী এর দ্বারা উপকার সাধন করেন এবং একে তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একনিষ্ঠতার পথে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সাহায্যকারী প্রতিপালক এবং তাঁর ওপরই ভরসা রইল।

মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌الكلام وما يتألف منه

قال محمد هو ابن مالك … أحمد ربي الله خير مالك (1)

مصليا على النبي المصطفى … وآله المستكملين الشرفا (2)

--------------------------------------------

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله وحده، وصلاته وسلامه على من لا نبي بعده.

(1) " قال " فعل ماض " محمد " فاعل " هو " مبتدأ " ابن " خبره " مالك " مضاف إليه، وكان حق " ابن " أن يكون نعتا لمحمد، ولكنه قطعه عنه، وجعله خبرا لضميره، والاصل أن ذلك إنما يجوز إذا كان المنعوت معلوما بدون النعت حقيقة أو ادعاء،

كما أن الأصل أنه إذا قطع النعت عن إتباعه لمنعوته في إعرابه ينظر، فإن كان النعت لمدح أو ذم وجب حذف العامل، وإن كان لغير ذلك جاز حذف العامل وذكره، والجملة هنا وهي قوله هو ابن مالك ليست للمدح ولا للذم، بل هي للبيان، فيجوز ذكر العامل وهو المبتدأ، وإذا فلا غبار على عبارة الناظم حيث ذكر العامل وهو المبتدأ، والجملة من المبتدأ والخبر لا محل لها من الاعراب معترضة بين القول وقوله " أحمد " فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه وجوبا تقديره أنا " ربي " رب منصوب على التعظيم، وعلامة نصبه فتحة مقدرة على ما قبل ياء المتكلم منع من ظهورها اشتغال آخر الكلمة بحركة المناسبة، ورب مضاف وياء المتكلم مضاف إليه مبني على السكون في محل جر " الله " عطف بيان لرب، أو بدل منه، منصوب بالفتحة الظاهرة " خير " منصوب بعامل محذوف وجوبا تقديره أمدح، وقيل: حال لازمة، وخير مضاف و" مالك " مضاف إليه، والجملة من أحمد وفاعله وما تعلق به من المعمولات في محل نصب مفعول به لقال ويقال لها: مقول القول.

(2) " مصليا " حال مقدرة، ومعنى كونها مقدرة أنها تحدث فيما بعد، وذلك لأنه لا يصلى على النبي صلوات الله عليه في وقت حمده لله، وإنما تقع منه الصلاة بعد الانتهاء من الحمد، وصاحبها الضمير المستتر وجوبا في أحمد " على النبي " جار ومجرور متعلق بالحال " المصطفى " نعت للنبي، وهو مجرور بكسرة مقدرة على الالف منع من ظهورها التعذر " وآله " الواو عاطفة، آل: معطوف على النبي، وآل مضاف، والهاء مضاف =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌কালাম এবং যা দ্বারা তা গঠিত হয়

মুহাম্মদ বললেন, যিনি ইবনে মালিক … আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক (১)

মনোনীত নবীর ওপর সালাত পাঠরত অবস্থায় … এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর যারা পূর্ণ সম্মানের অধিকারী (২)

--------------------------------------------

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে কোনো নবী নেই।

(১) "বললেন" একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, "মুহাম্মদ" তার কর্তা (ফায়িল), "তিনি" উদ্দেশ্য (মুবতাদা), "ইবনে" তার বিধেয় (খবর), "মালিক" সম্বন্ধপদ (মুযাফ ইলাইহি)। "ইবনে" শব্দটির নিয়ম ছিল মুহাম্মদের বিশেষণ (নাত) হওয়া, কিন্তু তিনি একে তা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং একে তাঁর সর্বনামের খবর বানিয়েছেন। মূলনীতি হলো, এটি তখনই বৈধ হয় যখন বিশেষণ ছাড়াই বর্ণিত ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে বা দাবি অনুযায়ী পরিচিত থাকে।

যেমন মূলনীতি হলো, যখন বিশেষণকে (নাত) তার বিশেষিত বিশেষ্য (মানউত) থেকে কারকের (ইরাব) অনুসরণে বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন লক্ষ্য করতে হয়; যদি বিশেষণটি প্রশংসা বা নিন্দার জন্য হয় তবে আমিল (ক্রিয়া) বিলুপ্ত করা আবশ্যক। আর যদি অন্য কিছুর জন্য হয় তবে আমিল বিলুপ্ত করা বা উল্লেখ করা উভয়ই বৈধ। এখানে বাক্যটি অর্থাৎ তাঁর উক্তি "তিনি ইবনে মালিক" প্রশংসা বা নিন্দার জন্য নয়, বরং এটি পরিচয়ের জন্য। তাই আমিল তথা মুবতাদা উল্লেখ করা বৈধ। সুতরাং গ্রন্থকারের প্রকাশভঙ্গিতে কোনো ত্রুটি নেই যেহেতু তিনি আমিল তথা মুবতাদাকে উল্লেখ করেছেন। মুবতাদা ও খবর নিয়ে গঠিত বাক্যটি ব্যাকরণগত অবস্থানের দিক থেকে কোনো স্থান রাখে না এবং এটি "বললেন" এবং তাঁর উক্তি "আমি প্রশংসা করছি" এর মাঝখানে মধ্যবর্তী বাক্য হিসেবে এসেছে। "আমি প্রশংসা করছি" বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, এর কর্তা এর মধ্যে আবশ্যিকভাবে উহ্য সর্বনাম যার প্রাক্কলিত রূপ হলো "আমি"। "আমার প্রতিপালক" (রব) শব্দটি সম্মানার্থে মানসূব (যবরযুক্ত), এর নসবের চিহ্ন হলো ইয়া-এ-মুতাকাল্লিমের পূর্বাক্ষরে উহ্য ফাতহা, যা শব্দের শেষে সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকতের উপস্থিতির কারণে প্রকাশ হতে বাধা পেয়েছে। "রব" মুযাফ এবং ইয়া-এ-মুতাকাল্লিম মুযাফ ইলাইহি যা 'যার' (জের) এর স্থানে সুকুন অবস্থায় মাবনী। "আল্লাহ" শব্দটি "রব" এর আতফে বায়ান অথবা বদল, যা প্রকাশ্য ফাতহা দ্বারা মানসূব। "সর্বোত্তম" (খায়রা) একটি আবশ্যিকভাবে উহ্য আমিলের কারণে মানসূব যার প্রাক্কলিত রূপ "আমি প্রশংসা করি", আবার বলা হয়েছে এটি একটি অপরিহার্য অবস্থা (হাল লাযিমাহ)। "খায়রা" মুযাফ এবং "মালিক" মুযাফ ইলাইহি। "আমি প্রশংসা করছি" এবং তার কর্তা ও সংশ্লিষ্ট পদসমূহ নিয়ে গঠিত বাক্যটি "বললেন" ক্রিয়ার কর্ম (মাফউল বিহি) হওয়ার কারণে নসবের স্থানে রয়েছে এবং একে 'মাক্বুলুল ক্বওল' বলা হয়।

(২) "সালাত পাঠরত অবস্থায়" এটি একটি প্রাক্কলিত অবস্থা (হাল মুক্বদ্দারাহ)। এর অর্থ হলো এটি পরবর্তীতে সংঘটিত হবে। কারণ আল্লাহর প্রশংসা করার সময় নবীর ওপর সালাত পাঠ করা হয় না, বরং প্রশংসা শেষ হওয়ার পরেই সালাত সংঘটিত হয়। এর কর্তা (সাহিবুল হাল) হলো "আমি প্রশংসা করছি" ক্রিয়ার মধ্যে আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা সর্বনাম। "নবীর ওপর" শব্দদ্বয় 'হাল' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। "মনোনীত" (আল-মুস্তফা) নবীর বিশেষণ, যা আলিফের ওপর উহ্য কাসরা দ্বারা মাজরুর, যা উচ্চারণের অক্ষমতার কারণে প্রকাশ হতে বাধা পেয়েছে। "তাঁর পরিবার" এখানে 'ওয়াও' অব্যয়, "পরিবার" শব্দটি "নবী" শব্দের ওপর আতফ করা হয়েছে। "পরিবার" মুযাফ এবং "হা" সর্বনামটি মুযাফ...
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১১)
وأستعين الله في ألفيه … مقاصد النحو بها محويه (1)

تقرب الأقصى بلفظ موجز … وتبسط البذل بوعد منجز (2)

وتقتضي رضا بغير سخط … فائقة ألفية ابن معط (3)

--------------------------------------------

= إليه، مبني على الكسر في محل جر " المستكملين " نعت لآل، مجرور بالياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها، لانه جمع مذكر سالم، وفيه ضمير مستتر هو فاعله " الشرفا "

بفتح الشين: مفعول به للمستكملين، منصوب بالفتحة الظاهرة، والالف للاطلاق، أو بضم الشين نعت ثان للآل، مجرور بكسرة مقدرة على الالف، إذ هو مقصور من الممدود - وأصله " الشرفاء " جمع شريف ككرماء وظرفاء وعلماء في جمع كريم وظريف وعليم - وعلى هذا الوجه يكون مفعول قوله المستكملين محذوفا، وكأنه قد قال: مصليا على الرسول المصطفى وعلى آله المستكملين أنواع الفضائل الشرفاء.

(1) " وأستعين " الواو حرف عطف، أستعين: فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه وجوبا تقديره أنا " الله " منصوب على التعظيم، والجملة من الفعل وفاعله وما تعلق به من المعمولات في محل نصب معطوفة على الجملة السابقة الواقعة مفعولا به لقال " في ألفيه " جار ومجرور متعلق بأستعين " مقاصد " مبتدأ، ومقاصد مضاف و" النحو " مضاف إليه " بها " جار ومجرور متعلق بمحوية " محويه " خبر المبتدأ، وجملة المبتدأ وخبره في محل جر نعت أول لالفية.

(2) " تقرب " فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هي يعود إلى ألفية " الاقصى " مفعول به لتقرب " بلفظ " جار ومجرور متعلق بتقرب " موجز " نعت للفظ " وتبسط " الواو حرف عطف، تبسط: فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هي يعود إلى ألفية أيضا " البذل " مفعول به لتبسط " بوعد " جار ومجرور متعلق بتبسط " منجز " نعت لوعد، وجملتا الفعلين المضارعين اللذين هما " تقرب " و" تبذل " مع فاعليهما الضميرين المستترين وما يتعلق بكل منهما في محل جر عطف على الجملة الواقعة نعتا لالفية، والجملتان نعتان ثان وثالث لالفية.

(3) " وتقتضي " الواو حرف عطف، تقتضي: فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هي يعود إلى ألفية " رضا " مفعول به لتقتضي " بغير " جار ومجرور متعلق بمحذوف نعت لرضا، وغير مضاف و" سخط " مضاف إليه " فائقة " =
আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন এক আলফিয়্যার (সহস্রপদী কাব্য) ক্ষেত্রে … যার মধ্যে নাহু (ব্যাকরণ)-বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্যসমূহ সংকলিত রয়েছে (১)

এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে দূরবর্তী (জটিল) বিষয়কে নিকটবর্তী করে দেয় … এবং তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জ্ঞান দানকে প্রশস্ত করে (২)

এটি এমন সন্তুষ্টি দাবি করে যার সাথে কোনো ক্রোধ নেই … যা ইবনে মু'তির আলফিয়্যার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভকারী (৩)

--------------------------------------------

= এর প্রতি, এটি ‘জের’ বা কাসরা-র ওপর ভিত্তি করে মাবনি এবং মাজরুর-এর স্থলাভিষিক্ত। "المستكملين" শব্দটি ‘আল’ (পরিবার)-এর বিশেষণ (সিফাত), এটি ‘ইয়া’ যোগে মাজরুর হয়েছে যার আগের অক্ষরে কাসরা এবং পরের অক্ষরে ফাতহা রয়েছে, কারণ এটি জমা মুজাক্কার সালেম। এর মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম রয়েছে যা এর ফায়েল। "الشرفا"

শিন অক্ষরে জবর যোগে: এটি ‘মুস্তাকমিলিন’-এর মাফউলে বিহি, যা স্পষ্ট ফাতহা দ্বারা মানসুব এবং শেষে আলিফটি ছন্দ মেলানোর জন্য যুক্ত হয়েছে। অথবা শিন অক্ষরে পেশ যোগে: এটি ‘আল’-এর দ্বিতীয় বিশেষণ (সিফাত), যা আলিফের ওপর উহ্য কাসরা দ্বারা মাজরুর। কেননা এটি ‘মামদুদ’ থেকে ‘মাকসুর’ করা হয়েছে—এর মূল রূপ ছিল "الشرفاء" (আশ-শুরাফা), যা ‘শারিফ’-এর বহুবচন যেমন কারিম, জারিফ এবং আলিম-এর বহুবচন যথাক্রমে কুরামা, যারাফা এবং উলামা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী "المستكملين" এর মাফউলটি উহ্য থাকবে, যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: মনোনীত রাসূল এবং তাঁর ঐ সকল পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক যারা সকল প্রকার মর্যাদাকে পূর্ণতা দান করেছেন।

(১) "وأستعين" এখানে ‘ওয়াও’ অক্ষরটি আতিফা, ‘আসতাইনু’ একটি ফেলে মুদারে, এর ফায়েল হলো এর মধ্যে আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা সর্বনাম ‘আনা’ (আমি)। "الله" শব্দটি সম্মানের খাতিরে মানসুব হয়েছে। এই ফেল, ফায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ নিয়ে গঠিত বাক্যটি পূর্ববর্তী বাক্যের ওপর আতফ হয়ে মানসুবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যা ‘ক্বালা’ ফেলের মাফউলে বিহি বা কর্ম। "في ألفيه" হলো জার ও মাজরুর যা ‘আসতাইনু’ ফেলের সাথে সংশ্লিষ্ট। "مقاصد" হলো মুবতাদা, এবং এটি মুদাফ। "النحو" হলো মুদাফ ইলাইহি। "بها" জার ও মাজরুর, যা ‘মাহবিয়্যাহ’ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। "محويه" হলো মুবতাদার খবর। এই মুবতাদা ও খবর মিলে গঠিত বাক্যটি ‘আলফিয়্যাহ’ শব্দের প্রথম বিশেষণ (সিফাত) হিসেবে মাজরুর-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

(২) "تقرب" হলো ফেলে মুদারে, এর ফায়েল হলো এর মধ্যে বৈধভাবে উহ্য থাকা সর্বনাম ‘হিয়া’ (এটি) যা আলফিয়্যার দিকে ফিরছে। "الاقصى" হলো ‘তুক্বাররিবু’ ফেলের মাফউলে বিহি। "بلفظ" জার ও মাজরুর, যা ‘তুক্বাররিবু’ ফেলের সাথে সংশ্লিষ্ট। "موجز" হলো ‘লাফজ’ শব্দের বিশেষণ (সিফাত)। "وتبسط" এখানে ‘ওয়াও’ অক্ষরটি আতিফা, ‘তাবসুতু’ একটি ফেলে মুদারে, এর ফায়েল হলো এর মধ্যে উহ্য থাকা সর্বনাম ‘হিয়া’ যা আলফিয়্যার দিকে ফিরছে। "البذل" হলো ‘তাবসুতু’ ফেলের মাফউলে বিহি। "بوعد" জার ও মাজরুর, যা ‘তাবসুতু’ ফেলের সাথে সংশ্লিষ্ট। "منجز" হলো ‘ওয়াদ’ শব্দের বিশেষণ। ‘তুক্বাররিবু’ এবং ‘তাবসুতু’ এই দুটি ফেলে মুদারে তাদের ফায়েল এবং সংশ্লিষ্ট অংশসহ পূর্ববর্তী সিফাত হওয়া বাক্যের ওপর আতফ হয়েছে, এবং এই বাক্য দুটি আলফিয়্যার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিশেষণ (সিফাত)।

(৩) "وتقتضي" এখানে ‘ওয়াও’ অক্ষরটি আতিফা, ‘তাকতাদি’ একটি ফেলে মুদারে, এর ফায়েল হলো এর মধ্যে উহ্য থাকা সর্বনাম ‘হিয়া’ যা আলফিয়্যার দিকে ফিরছে। "رضا" হলো ‘তাকতাদি’ ফেলের মাফউলে বিহি। "بغير" জার ও মাজরুর, যা ‘রিদান’ এর একটি উহ্য বিশেষণের (সিফাত) সাথে সংশ্লিষ্ট। ‘গাইর’ শব্দটি মুদাফ এবং "سخط" হলো মুদাফ ইলাইহি। "فائقة" =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১২)
وهو بسبق حائز تفضيلا … مستوجب ثنائي الجميلا (1)

والله يقضي بهبات وافره … لي وله في درجات الآخره (2)

--------------------------------------------

= حال من الضمير المستتر في تقتضي، وفاعل فائقة ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هي " ألفية " مفعول به لاسم الفاعل، وألفية مضاف و" ابن " مضاف إليه، وابن مضاف و" معط " مضاف إليه، وجملة " تقتضي " مع فاعله وما تعلق به من المعمولات في محل جر عطف على الجملة الواقعة نعتا لالفية أيضا.

(1) " وهو " الواو للاستئناف، وهو: ضمير منفصل مبتدأ " بسبق " جار ومجرور متعلق بحائز الآتي بعد، والباء للسببية " حائز " خبر المبتدأ " تفضيلا " مفعول به لحائز، وفاعله ضمير مستتر فيه " مستوجب " خبر ثان لهو، وفاعله ضمير مستتر فيه " ثنائي " ثناء: مفعول به لمستوجب، وثناء مضاف وياء المتكلم مضاف إليه " الجميلا " نعت لثناء، والالف للاطلاق.

(2) " والله " الواو للاستئناف، ولفظ الجلالة مبتدأ " يقضي " فعل مضارع مرفوع بضمة مقدرة على الياء، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود إلى الله، والجملة من الفعل الذي هو يقضي والفاعل في محل رفع خبر المبتدأ " بهبات " جار ومجرور متعلق بيقضي " وافره " نعت لهبات " لي، وله، في درجات " كل واحد منهن جار ومجرور وكلهن متعلقات بيقضي، ودرجات مضاف و" الاخرة مضاف إليه مجرور وعلامة جره الكسرة الظاهرة، وسكنه لاجل الوقوف، وكان من حق المسلمين عليه أن يعمهم بالدعاء، ليكون ذلك أقرب إلى الاجابة.

تنبيه: ابن معط هو الشيخ زين الدين، أبو الحسين، يحيى بن عبد المعطي بن عبد النور - الزواوي نسبة إلى زواوة، وهي قبيلة كبيرة كانت تسكن بظاهر بجاية من أعمال إفريقيا الشمالية - الفقيه الحنفي.

ولد في سنة 564، وأقرأ العربية مدة بمصر ودمشق، وروى عن القاسم بن عساكر وغيره، وهو أجل تلامذة الجزولي، وكان من المتفردين بعلم العربية، وهو صاحب الالفية المشهورة وغيرها من الكتب الممتعة، وقد طبعت ألفيته في أوربا،

وللعلماء عليها عدة شروح.

وتوفى في شهر ذي القعدة من سنة 628 بمصر، وقبره قريب من تربة الامام الشافعي رضي الله عنهم جميعا (انظر ترجمته في شذرات الذهب لابن العماد 5 / 129، وفي بغية الوعاة للسيوطي ص 416، وانظر النجوم الزاهرة 6 / 278.
এবং তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী … আমার সুন্দর প্রশংসার যোগ্য (১)

আর আল্লাহ যেন আমার ও তাঁর জন্য আখেরাতের সুউচ্চ মর্যাদায় … প্রচুর দান বরাদ্দ করেন (২)

--------------------------------------------

= এটি 'তাকতাদি' ক্রিয়ার মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনাম থেকে 'হাল' (অবস্থা), এবং 'ফাইকাহ' এর কর্তা হলো এর মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনাম যা جوازا (সম্ভাবনামূলকভাবে) 'হিয়া' (আলফিয়্যাহ) হিসেবে অনুমিত। 'আলফিয়্যাহ' শব্দটি এখানে কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (ইসম ফায়িল) কর্ম। 'আলফিয়্যাহ' মুদাফ এবং 'ইবন' মুদাফ ইলাইহি। 'ইবন' পুনরায় মুদাফ এবং 'মু'তী' মুদাফ ইলাইহি। 'তাকতাদি' বাক্যটি তার কর্তা ও সংশ্লিষ্ট পদসমূহসহ পূর্ববর্তী আলফিয়্যাহ-এর বিশেষণ (সিফাত) হওয়ার কারণে মাজরুর বা জেরযুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

(১) "ওয়া-হুয়া" (এবং তিনি): এখানে ওয়াও প্রারম্ভিক। 'হুয়া' একটি পৃথক সর্বনাম যা উদ্দেশ্য (মুবতাদা)। "বি-সাবকিন" (অগ্রগামী হওয়ার কারণে): এটি জার-মাজরুর যা পরবর্তী 'হাইয' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে 'বা' বর্ণটি কারণ বা হেতু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। "হাইয" (অধিকারী): এটি উদ্দেশ্যের বিধেয় (খবর)। "তাফদীলান" (শ্রেষ্ঠত্ব): এটি 'হাইয' এর কর্ম। এর কর্তা এর মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনাম। "মুসতাওজিব" (দাবিবদার/যোগ্য): এটি 'হুয়া' এর দ্বিতীয় বিধেয়। এর কর্তা এর মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনাম। "সানা-ঈ" (আমার প্রশংসা): 'সানা' শব্দটি 'মুসতাওজিব' এর কর্ম। 'সানা' মুদাফ এবং 'ইয়া' (বক্তা) মুদাফ ইলাইহি। "আল-জামীলা" (সুন্দর): এটি 'সানা'-এর বিশেষণ। এর শেষে আলিফটি ছন্দের পূর্ণতার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

(২) "ওয়াল্লাহু" (এবং আল্লাহ): এখানে ওয়াও প্রারম্ভিক। আল্লাহ শব্দটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা)। "ইয়াকদী" (বরাদ্দ করেন/ফয়সালা করেন): এটি মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কালীন) ক্রিয়া যা 'ইয়া' বর্ণের ওপর উহ্য পেশ (দাম্মাহ) দ্বারা মারফু। এর কর্তা এর মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনাম যা جوازا (সম্ভাবনামূলকভাবে) 'হুয়া' হিসেবে অনুমিত এবং আল্লাহ শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এই ক্রিয়া এবং কর্তা মিলে গঠিত বাক্যটি উদ্দেশ্যের বিধেয় (খবর)। "বি-হিবেতিন" (দানসমূহ): এটি জার-মাজরুর যা 'ইয়াকদী' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। "ওয়াফিরাহ" (প্রচুর): এটি 'হিবেতিন' এর বিশেষণ। "লী, ওয়া-লাহু, ফী দারাজাত" (আমার জন্য, তাঁর জন্য, মর্যাদাসমূহে): এগুলোর প্রত্যেকটি জার-মাজরুর এবং সবগুলোই 'ইয়াকদী' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। 'দারাজাত' মুদাফ এবং "আল-আখিরাহ" মুদাফ ইলাইহি যা কাসরা (জের) দ্বারা মাজরুর। বিরতির কারণে এর শেষে সাকিন হয়েছে। মুসলমানদের প্রতি লেখকের দায়িত্ব ছিল তাঁদের সবাইকে দোয়ার অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে দোয়া কবুল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী হয়।

সতর্কবার্তা: ইবনে মু'তী হলেন শেখ জয়নুদ্দীন, আবুল হুসাইন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল মু'তী বিন আব্দুল নূর। তাঁর বংশীয় পরিচয় 'যাওয়ায়ী', যা 'যাওয়াহ' গোত্রের সাথে সম্পর্কিত। এটি একটি বড় গোত্র যারা উত্তর আফ্রিকার বেজাইয়া অঞ্চলের উপকণ্ঠে বসবাস করত। তিনি একজন হানাফী ফকীহ ছিলেন।

তিনি ৫৬৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘকাল মিসর ও দামেস্কে আরবী ভাষা শিক্ষা দেন। তিনি কাসিম বিন আসাকির ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি জাযুলীর শ্রেষ্ঠ ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রে অনন্য পণ্ডিতদের একজন ছিলেন। তিনি বিখ্যাত 'আলফিয়্যাহ' এবং আরও অনেক মূল্যবান গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর আলফিয়্যাহ ইউরোপে মুদ্রিত হয়েছে।

বিদ্বানগণ এর ওপর একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।

তিনি ৬২৮ হিজরীর যিলকদ মাসে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কবর ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর কবরের নিকট অবস্থিত। (দেখুন: ইবনুল ইমাদ-কৃত শাযারাতুয যাহাব ৫/১২৯; সুয়ূতী-কৃত বুগয়াতুল উ’আত, পৃষ্ঠা ৪১৬; এবং আন-নুজুমুয যাহিরাহ ৬/২৭৮)
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
الكلام وما يتألف منه (1)

كلامنا لفظ مفيد كاستقم … واسم وفعل ثم حرف الكلم (2)

واحده كلمة والقول عم … وكلمة بها كلام قد يؤم (3)

--------------------------------------------

(1) " الكلام " خبر لمبتدأ محذوف على تقدير مضافين، وأصل نظم الكلام " هذا باب شرح الكلام وشرح ما يتألف الكلام منه " فحذف المبتدأ - وهو اسم الاشارة - ثم حذف الخبر وهو الباب، فأقيم " شرح " مقامه، فارتفع ارتفاعه، ثم حذف " شرح " أيضا وأقيم " الكلام " مقامه، فارتفع كما كان الذي قبله " وما " الواو عاطفة و" ما " اسم موصول معطوف على الكلام بتقدير مضاف: أي شرح ما يتألف، و" يتألف " فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود إلى الكلام، و" منه " جار ومجرور متعلق بيتألف، والجملة من الفعل الذي هو يتألف والفاعل لا محل لها من الاعراب صلة الموصول.

(2) " كلامنا " كلام: مبتدأ، وهو مضاف ونا مضاف إليه، مبني على السكون في محل جر " لفظ " خبر المبتدأ " مفيد " نعت للفظ، وليس خبرا ثانيا " كاستقم " إن كان مثالا فهو جار ومجرور متعلق بمحذوف خبر لمبتدأ محذوف، والتقدير: وذلك كاستقم وإن كان من تمام تعريف الكلام فهو جار ومجرور أيضا متعلق بمحذوف نعت لمفيد " واسم " خبر مقدم " وفعل، ثم حرف " معطوفان عليه الاول بالواو والثاني بثم " الكلم " مبتدأ مؤخر، وكأنه قال: كلام النحاة هو اللفظ الموصوف بوصفين أحدهما

الافادة والثاني التركيب المماثل لتركيب استقم، والكلم ثلاثة أنواع أحدها الاسم وثانيها الفعل وثالثها الحرف، وإنما عطف الفعل على الاسم بالواو لقرب منزلته منه حيث يدل كل منهما على معنى في نفسه، وعطف الحرف بثم لبعد رتبته.

(3) " واحده كلمة " مبتدأ وخبر، والجملة مستأنفة لا محل لها من الاعراب " والقول " مبتدأ " عم " يجوز أن يكون فعلا ماضيا، وعلى هذا يكون فاعله ضميرا مستترا فيه جوازا تقديره هو يعود إلى القول، والجملة من الفعل والفاعل في محل رفع خبر المبتدأ، ويجوز أن يكون " عم " اسم تفضيل - وأصله أعم - حذفت همزته كما =
কালাম এবং যা দ্বারা এটি গঠিত হয় (১)

আমাদের নিকট কালাম হলো এমন অর্থবোধক শব্দ যেমন ‘ইস্তাক্বিম’ (সোজা হয়ে দাঁড়াও) … আর ইসম, ফি’ল এবং হারফ হলো কালিম (২)

এর একক হলো কালিমা এবং ক্বওল শব্দটি ব্যাপক … আর কালিমা দ্বারা কখনও কালামকেও উদ্দেশ্য করা হয় (৩)

--------------------------------------------

(১) "কালাম" শব্দটি এখানে একটি উহ্য মুবতাদার খবর, যেখানে দুটি মুদাফ উহ্য রয়েছে বলে ধরা হয়েছে। বাক্যটির মূল গঠন ছিল "এটি কালামের ব্যাখ্যা এবং যা দ্বারা কালাম গঠিত হয় তার ব্যাখ্যার অধ্যায়"। এখানে প্রথমে মুবতাদা—যা হলো ইশারা সূচক সর্বনাম—বিলুপ্ত করা হয়েছে, এরপর খবর—যা হলো 'অধ্যায়'—বিলুপ্ত করা হয়েছে। অতঃপর "ব্যাখ্যা" শব্দটিকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে এবং এটি মারফু হয়েছে। পুনরায় "ব্যাখ্যা" শব্দটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং "কালাম" শব্দটিকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, ফলে এটিও পূর্ববর্তী শব্দের ন্যায় মারফু হয়েছে। "ওয়া মা" এর মধ্যে 'ওয়াও' হলো সংযোজক অব্যয় এবং 'মা' হলো সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য যা একটি উহ্য মুদাফের ভিত্তিতে 'কালাম' শব্দের ওপর সংযোজিত হয়েছে; অর্থাৎ: যা দ্বারা গঠিত হয় তার ব্যাখ্যা। "ইয়াতাআল্লাফু" বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, এর কর্তা একটি উহ্য সর্বনাম যা 'কালাম' শব্দের দিকে ফিরেছে। "মিনহু" হলো অব্যয় ও সম্বন্ধিত পদের সমষ্টি যা 'ইয়াতাআল্লাফু' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। ক্রিয়া ও কর্তার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি সম্বন্ধসূচক হওয়ার কারণে এর ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই।

(২) "কালামুনা" এর মধ্যে 'কালাম' হলো মুবতাদা, এটি মুদাফ এবং 'না' হলো মুদাফ ইলাইহি, যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে জার-এর অবস্থায় রয়েছে। "লাফযুন" হলো মুবতাদার খবর। "মুফিদুন" হলো 'লাফয' শব্দের বিশেষণ, এটি দ্বিতীয় খবর নয়। "কা-ইস্তাক্বিম" যদি উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়, তবে এটি অব্যয় ও সম্বন্ধিত পদের সমষ্টি হিসেবে একটি উহ্য মুবতাদার উহ্য খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে; বাক্যটির রূপ হবে: "আর তা হলো ইস্তাক্বিমের ন্যায়"। আর যদি এটি কালামের সংজ্ঞার পূর্ণতা দানকারী হয়, তবে এটিও অব্যয় ও সম্বন্ধিত পদের সমষ্টি হিসেবে 'মুফিদ' শব্দের একটি উহ্য বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। "ইসমুন" হলো অগ্রবর্তী খবর (খবরে মুকাদ্দাম)। "ওয়া ফি'লুন, সুম্মা হারফুন" হলো তার ওপর সংযোজিত পদ, প্রথমটি 'ওয়াও' দ্বারা এবং দ্বিতীয়টি 'সুম্মা' দ্বারা। "আল-কালিমু" হলো পরবর্তী মুবতাদা (মুবতাদায়ে মুয়াখখার)। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: নাহুবিদদের নিকট কালাম হলো এমন শব্দ যা দুটি বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; একটি হলো

অর্থবোধক হওয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো ইস্তাক্বিমের গঠনের ন্যায় হওয়া। কালিম তিন প্রকার: একটি হলো ইসম, দ্বিতীয়টি ফি’ল এবং তৃতীয়টি হারফ। ইসমের ওপর ফি’লের সংযোজন 'ওয়াও' দ্বারা করা হয়েছে কারণ উভয়ের মর্যাদা কাছাকাছি, যেহেতু উভয়েই নিজস্ব অর্থ প্রকাশে সক্ষম। আর হারফকে 'সুম্মা' দ্বারা সংযোজন করা হয়েছে এর মর্যাদা কিছুটা পরে হওয়ার কারণে।

(৩) "ওয়াহিদুহু কালিমাতুন" হলো মুবতাদা ও খবর, এবং বাক্যটি প্রারম্ভিক হওয়ার কারণে এর ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই। "আল-ক্বওলু" হলো মুবতাদা। "আম্মা" শব্দটি অতীতকালীন ক্রিয়া হওয়া সম্ভব, এমতাবস্থায় এর কর্তা হবে একটি উহ্য সর্বনাম যা 'ক্বওল' শব্দের দিকে ফিরেছে। ক্রিয়া ও কর্তার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি মুবতাদার খবর হিসেবে মারফু হবে। আবার "আম্মা" শব্দটি আধিক্যবাচক বিশেষ্য (ইসমে তাফযিল) হওয়াও সম্ভব—যার মূল রূপ ছিল 'আ-আম্মু'—এর হামযা বিলুপ্ত হয়েছে যেমনটি =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
الكلام المصطلح عليه عند النحاة: عبارة عن اللفظ المفيد فائدة يحسن السكوت عليها فاللفظ جنس يشمل الكلام والكلمة والكلم ويشمل المهمل ك ديز والمستعمل ك عمرو ومفيد أخرج المهمل وفائدة يحسن السكوت عليها أخرج الكلمة وبعض الكلم وهو ما تركب من ثلاث كلمات فأكثر ولم يحسن السكوت عليه نحو إن قام زيد ولا يتركب الكلام إلا من اسمين نحو زيد قائم أو من فعل واسم كـ" قام زيد" وكقول المصنف "استقم" فإنه كلام مركب من فعل أمر وفاعل مستتر والتقدير استقم أنت فاستغنى بالمثال عن أن يقول: "فائدة يحسن السكوت عليها فكأنه قال الكلام:هو اللفظ المفيد فائدة كفائدة استقم".

وإنما قال المصنف كلامنا ليعلم أن التعريف إنما هو للكلام في اصطلاح النحويين لا في اصطلاح اللغويين وهو في اللغة اسم لكل ما يتكلم به مفيدا كان أو غير مفيد.

--------------------------------------------

= حذفت من خير وشر لكثرة استعمالهما وأصلهما أخير وأشر، بدليل مجيئهما على الاصل أحيانا، كما في قول الراجز:

بلال خير الناس وابن الاخير وقد قرئ (سيعلمون غدا من الكذاب الاشر) بفتح الشين وتشديد الراء، وعلى هذا يكون أصل " عم " أعم كما قلنا، وهو على هذا الوجه خبر للمبتدأ " وكلمة " مبتدأ أول " بها " جار ومجرور متعلق بيؤم الآتي " كلام " مبتدأ ثان " قد " حرف تقليل " يؤم " فعل مضارع مبني للمجهول، ونائب الفاعل ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود على كلام، والجملة من الفعل ونائب الفاعل في محل رفع خبر المبتدأ الثاني، وجملة المبتدأ الثاني وخبره في محل رفع خبر المبتدأ الاول، ومعنى " يؤم " يقصد، وتقدير البيت: ولفظ كلمة معنى الكلام قد يقصد بها، يعني أن لفظ الكلمة قد يطلق ويقصد بها المعنى الذي يدل عليه لفظ الكلام، ومثال ذلك ما ذكر الشارح من =
ব্যাকরণবিদদের নিকট পারিভাষিক 'কালাম' (বাক্য) হলো: এমন অর্থপূর্ণ শব্দ যা শোনার পর শ্রোতার আর কোনো কিছু শোনার আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট থাকে না (অর্থাৎ যা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে)। এখানে 'শব্দ' (লাফয) হলো একটি সাধারণ পদ যা কালাম, কালিমা এবং কালিম—সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটি অর্থহীন শব্দ (যেমন 'দাইয') এবং অর্থবোধক বা ব্যবহৃত শব্দ (যেমন 'আমর') উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। 'অর্থপূর্ণ' (মুফীদ) শব্দটি অর্থহীন শব্দগুলোকে সংজ্ঞার বাইরে রাখে। আর 'এমন উপকারিতা যার ওপর নীরব থাকা সঠিক হয়' অংশটি 'কালিমা' এবং কিছু 'কালিম'-কে সংজ্ঞার বাইরে রাখে। 'কালিম' হলো যা তিন বা ততোধিক শব্দের সমষ্টি কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে না, যেমন: 'যদি যায়েদ দাঁড়ায়'। কালাম বা বাক্য কেবল দুটি 'ইসম' (বিশেষ্য) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: 'যায়েদ দণ্ডায়মান', অথবা একটি 'ফেল' (ক্রিয়া) ও একটি 'ইসম' (বিশেষ্য) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে'। ঠিক যেমন গ্রন্থকারের উদাহরণ 'সোজা হও' (ইস্তাকিম); এটি একটি বাক্য যা একটি আদেশসূচক ক্রিয়া এবং একটি উহ্য কর্তা (ফায়েল) দ্বারা গঠিত, যার বিশ্লেষণ হলো 'তুমি সোজা হও'। অতএব, তিনি উদাহরণের মাধ্যমেই 'এমন উপকারিতা যার ওপর নীরব থাকা সঠিক হয়' এ কথাটি বলার প্রয়োজনীয়তা দূর করেছেন। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: কালাম হলো এমন শব্দ যা 'সোজা হও'-এর মতো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে।

গ্রন্থকার 'আমাদের কালাম' (কালামুনা) বলেছেন যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই সংজ্ঞাটি কেবল ব্যাকরণবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী, ভাষাবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী নয়। কারণ আভিধানিক বা ভাষাগত অর্থে কালাম হলো সেই সবকিছুর নাম যা উচ্চারণ করা হয়, তা অর্থপূর্ণ হোক বা না হোক।

--------------------------------------------

= অধিক ব্যবহারের কারণে 'খাইর' এবং 'শার' শব্দ দুটি থেকে আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে, এগুলোর মূল রূপ ছিল 'আখইয়ার' এবং 'আশার'। এর প্রমাণ হলো মাঝে মাঝে এগুলোকে মূল রূপেই ব্যবহার করা হয়, যেমন জনৈক কবির কবিতায় এসেছে:

বেলাল মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির সন্তান। এক কিরাআতে পাঠ করা হয়েছে 'শীঘ্রই তারা আগামীকাল জানতে পারবে কে সেই চরম মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক' যেখানে 'শীন' বর্ণে ফাতহা এবং 'রা' বর্ণে তাশদীদ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী 'আম্ম' (সাধারণ) শব্দের মূল হলো 'আ-আম্ম', যেমনটি আমরা বলেছি। এই অবস্থায় এটি মুবতাদা-এর খবর হবে। আর 'কালিমাতুন' হলো প্রথম মুবতাদা। 'বিহা' যার-মাজরুর যা পরবর্তী 'ইউআম্মু' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। 'কালামুন' হলো দ্বিতীয় মুবতাদা। 'ক্বাদ' হলো স্বল্পতা বা নিশ্চয়তা জ্ঞাপক অব্যয়। 'ইউআম্মu' হলো ফেলে মুযারে মাজহুল (কর্মবাচ্য ক্রিয়া), এর নায়েবে ফায়েল হলো একটি উহ্য সর্বনাম (যমীর) যা কালামের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। এই ক্রিয়া এবং নায়েবে ফায়েল নিয়ে গঠিত বাক্যটি দ্বিতীয় মুবতাদার খবর হিসেবে রাফা-র স্থলাভিষিক্ত হবে। আর দ্বিতীয় মুবতাদা ও তার খবর মিলে প্রথম মুবতাদার খবর হিসেবে রাফা-র স্থলাভিষিক্ত হবে। 'ইউআম্মু' শব্দের অর্থ হলো 'উদ্দেশ্য করা হয়'। পদ্যটির মর্মার্থ হলো: 'কালিমা' শব্দের মাধ্যমে কখনো 'কালাম'-এর অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারে। অর্থাৎ, কালিমা শব্দটি কখনো কখনো এমন অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয় যা কালাম (পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য) শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়। এর উদাহরণ হলো যা ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
والكلم: اسم جنس (1) واحده كلمة وهي إما اسم وإما فعل وإما حرف لأنها إن دلت على معنى في نفسها غير مقترنة بزمان فهي الاسم وإن اقترنت بزمان فهي الفعل وإن لم تدل على معنى في نفسها بل في غيرها فهي الحرف.

والكلم: ما تركب من ثلاث كلمات فأكثر كقولك إن قام زيد.

والكلمة: هي اللفظ الموضوع لمعنى مفرد فقولنا الموضوع لمعنى أخرج المهمل كديز وقولنا مفرد أخرج الكلام فإنه موضوع لمعنى غير مفرد

--------------------------------------------

= أنهم قالوا " كلمة الاخلاص " وقالوا " كلمة التوحيد " وأرادوا بذينك قولنا: " لا إله إلا الله " وكذلك قال عليه الصلاة والسلام: " أفضل كلمة قالها شاعر كلمة لبيد " وهو يريد قصيدة لبيد بن ربيعة العامري التي أولها: ألا كل شئ ما خلا الله باطل وكل نعيم لا محالة زائل

(1) اسم الجنس على نوعين: أحدهما يقال له اسم جنس جمعي، والثاني يقال له اسم جنس إفرادي، فأما اسم الجنس الجمعي فهو " ما يدل على أكثر من اثنين،

ويفرق بينه وبين واحده بالتاء "، والتاء غالبا تكون في المفرد كبقرة وبقر وشجرة وشجر، ومنه كلم وكلمة، وربما كانت زيادة التاء في الدال على الجمع مثل كمء للواحد وكمأة للكثير، وهو نادر.

وقد يكون الفرق بين الواحد والكثير بالياء، كزنج وزنجي، وروم ورومي، فأما اسم الجنس الافرادي فهو " ما يصدق على الكثير والقليل واللفظ واحد " كماء وذهب وخل وزيت.

فإن قلت: فإني أجد كثيرا من جموع التكسير يفرق بينها وبين مفردها بالتاء كما يفرق بين اسم الجنس الجمعي وواحده، نحو قرى وواحدة قرية، ومدى وواحدة مدية، فبماذا أفرق بين اسم الجنس الجمعي وما كان على هذا الوجه من الجموع؟.

فالجواب على ذلك أن تعلم أن بين النوعين اختلافا من وجهين، الوجه الاول: أن الجمع لابد أن يكون على زنة معينة من زنات الجموع المحفوظة المعروفة، فأما اسم الجنس الجمعي فلا يلزم فيه ذلك، أفلا ترى أن بقرا وشجرا وثمرا لا يوافق زنة من زنات الجمع! والوجه الثاني: أن الاستعمال العربي جرى على أن الضمير وما أشبهه يرجع إلى اسم الجنس الجمعي مذكرا كقول الله تعالى: (إن البقر تشابه علينا) وقوله جل شأنه: (إليه =
কালিম: এটি একটি ইসমুল জিনস (১), এর একক হলো কালিমাহ। এটি হয় ইসম (বিশেষ্য), নতুবা ফেল (ক্রিয়া), নতুবা হরফ (অব্যয়)। কারণ, এটি যদি কালের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিজের অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা ইসম। আর যদি কালের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা ফেল। আর যদি স্বতন্ত্রভাবে নিজের অর্থ প্রকাশ না করে বরং অন্যের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা হরফ।

কালিম: যা তিনটি বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, যেমন আপনার কথা— ‘ইন ক্বামা যায়েদ’ (যদি যায়েদ দাঁড়ায়)।

কালিমাহ: এটি এমন একটি শব্দ যা একক অর্থের জন্য গঠিত হয়েছে। আমাদের কথা ‘অর্থের জন্য গঠিত’ বলার মাধ্যমে অর্থহীন শব্দ বাদ পড়ে গেছে, যেমন ‘দাইয’ (যায়েদ শব্দের উল্টো)। আর ‘একক’ বলার মাধ্যমে ‘কালাম’ (বাক্য) বাদ পড়ে গেছে, কারণ তা একক নয় বরং একাধিক শব্দের সমষ্টিগত অর্থের জন্য গঠিত।

--------------------------------------------

= তারা ‘কালিমাতুল ইখলাস’ (একনিষ্ঠতার বাণী) এবং ‘কালিমাতুত তাওহীদ’ (তাওহীদের বাণী) শব্দদ্বয় ব্যবহার করেছেন এবং এর দ্বারা তারা আমাদের এই কথাটিই বুঝিয়েছেন: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো কবির বলা সর্বশ্রেষ্ঠ কথা হলো লাবীদের কথা।” এর দ্বারা তিনি লাবীদ ইবন রাবিআহ আল-আমিরীর সেই কাসিদা বা কবিতাটি বুঝিয়েছেন যার প্রথম চরণ হলো: ‘জেনে রেখো! আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই অসার, এবং সকল নিয়ামত অবশ্যই নশ্বর’।

(১) ইসমুল জিনস দুই প্রকার: একটিকে বলা হয় সমষ্টিবাচক ইসমুল জিনস (ইসমুল জিনস জামঈ), আর দ্বিতীয়টিকে বলা হয় এককবাচক ইসমুল জিনস (ইসমুল জিনস ইফরাদী)। সমষ্টিবাচক ইসমুল জিনস হলো ‘যা দুইয়ের অধিক বুঝায়,

এবং এর ও এর এককের মধ্যে ‘তা’ (ة) যোগ করে পার্থক্য করা হয়’। এই ‘তা’ সাধারণত একবচনের শেষে থাকে, যেমন— বাকারাহ (একটি গাভী) ও বাকার (গাভীসমূহ), শাজারাহ (একটি গাছ) ও শাজার (গাছসমূহ); কালিম ও কালিমাহ এর অন্তর্ভুক্ত। তবে কখনও কখনও বহুবচনের শেষে অতিরিক্ত ‘তা’ যুক্ত হয়, যেমন একবচনের ক্ষেত্রে ‘কামউ’ এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে ‘কামআহ’, তবে এটি বিরল।

আবার কখনও কখনও একবচন ও বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য ‘ইয়া’ (ي) দ্বারাও হয়, যেমন— যানজ ও যানজী, রূম ও রূমী। আর এককবাচক ইসমুল জিনস হলো ‘যা অল্প ও অধিক উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় এবং শব্দ একই থাকে’, যেমন— পানি, সোনা, সিরকা ও তেল।

যদি আপনি বলেন: আমি অনেক ‘জামে তাকসীর’ বা ভঙ্গুর বহুবচন দেখতে পাই যেগুলোর একবচন ও বহুবচনের মধ্যে ‘তা’ দিয়ে পার্থক্য করা হয়, ঠিক যেমনটি সমষ্টিবাচক ইসমুল জিনস ও তার এককের মধ্যে করা হয়। যেমন— ক্বুরা এবং তার একবচন ক্বুরইয়াহ, মুদা এবং তার একবচন মুদইয়াহ। তবে আমি সমষ্টিবাচক ইসমুল জিনস এবং এই ধরনের বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য করব কীভাবে?

এর উত্তর হলো— আপনাকে জানতে হবে যে এই দুই প্রকারের মধ্যে দুই দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। প্রথম দিক: বহুবচনকে অবশ্যই সুপরিচিত ও সংরক্ষিত বহুবচনের কোনো একটি নির্দিষ্ট ওজনের (ছন্দ) ওপর হতে হয়। কিন্তু সমষ্টিবাচক ইসমুল জিনসের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক নয়। আপনি কি দেখছেন না যে বাকার, শাজার এবং সামার বহুবচনের কোনো ওজনের সাথে মিলছে না! দ্বিতীয় দিক: আরবী ভাষার ব্যবহাররীতি হলো যে, সমষ্টিবাচক ইসমুল জিনসের দিকে প্রত্যাবর্তিত সর্বনাম ও অনুরূপ শব্দসমূহ পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই গাভীগুলো আমাদের নিকট সদৃশ মনে হয়েছে) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (তাঁরই দিকে =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
ثم ذكر المصنف رحمه الله تعالى أن القول يعم الجميع والمراد أنه يقع على الكلام أنه قول ويقع أيضا على الكلم والكلمة أنه قول وزعم بعضهم أن الأصل استعماله في المفرد ثم ذكر المصنف أن الكلمة قد يقصد بها الكلام كقولهم في لا إله إلا الله كلمة الإخلاص وقد يجتمع الكلام والكلم في الصدق وقد ينفرد أحدهما فمثال اجتماعهما قد قام زيد فإنه كلام لإفادته معنى يحسن السكوت عليه وكلم لأنه مركب من ثلاث كلمات ومثال انفراد الكلم إن قام زيد (1) ومثال انفراد الكلام زيد قائم (2) .

بالجر والتنوين والندا وأل … ومسند للاسم تمييز حصل (3)

ذكر المصنف رحمه الله تعالى في هذا البيت علامات الاسم.

--------------------------------------------

= يصعد الكلم الطيب) فأما الجمع فإن الاستعمال العربي جرى على أن يعود الضمير إليه مؤنثا، كما تجد في قوله تعالى: (لهم غرف من فوقها غرف مبنية) وقوله سبحانه: (والذين آمنوا وعملوا الصالحات لنبوئنهم من الجنة غرفا تجري من تحتها الانهار) ، وكقول الشاعر: في غرف الجنة العليا التي وجبت لهم هناك بسعي كان مشكور (1) لم يكن هذا المثال ونحوه كلاما لانه لا يفيد معنى يحسن السكوت عليه.

(2) لم يكن هذا المثال ونحوه كلما لانه ليس مؤلفا من ثلاث كلمات.

(3) " بالجر " جار ومجرور متعلق بقوله " حصل " الآتي آخر البيت، ويجوز أن يكون متعلقا بمحذوف خبر مقدم مبتدؤه المؤخر هو قوله " تمييز " الآتي " والتنوين، والندا، وأل، ومسند " كلهن معطوفات على قوله الجر " للاسم " جار ومجرور متعلق بمحذوف خبر مقدم إن جعلت قوله بالجر متعلقا بحصل، فإن جعلت بالجر خبرا مقدما - وهو الوجه الثاني - كان هذا متعلقا بحصل " تمييز " مبتدأ مؤخر، وقد عرفت أن خبره واحد =
অতঃপর গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) উল্লেখ করেছেন যে, 'ক্বওল' (উক্তি) শব্দটি সবার জন্য সাধারণ। এর উদ্দেশ্য হলো, একে 'কালাম' (বাক্য) এর ক্ষেত্রেও 'ক্বওল' হিসেবে প্রয়োগ করা হয়, আবার 'কালিম' (তিন বা ততোধিক শব্দের সমষ্টি) এবং 'কালিমা' (শব্দ) এর ক্ষেত্রেও একে 'ক্বওল' বলা হয়। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এর মূল ব্যবহার হলো একবচনের ক্ষেত্রে। এরপর গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে, কখনও কখনও 'কালিমা' দ্বারা 'কালাম' উদ্দেশ্য হতে পারে, যেমন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য যে এটি 'কালিমাতুল ইখলাস' (একনিষ্ঠতার বাণী)। সত্য হওয়ার ক্ষেত্রে কখনও 'কালাম' এবং 'কালিম' একত্রে থাকতে পারে, আবার কখনও তাদের কোনো একটি এককভাবে থাকতে পারে। তাদের একত্রে থাকার উদাহরণ হলো- 'ক্বদ ক্ব-মা যাইদুন' (যাইদ অবশ্যই দাঁড়িয়েছে)। কেননা এটি একটি 'কালাম', কারণ এটি এমন অর্থ প্রদান করে যার উপর থামা সঙ্গত। আবার এটি 'কালিম'ও বটে, যেহেতু এটি তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আর শুধু 'কালিম'-এর উদাহরণ হলো- 'ইন ক্ব-মা যাইদুন' (১) এবং শুধু 'কালাম'-এর উদাহরণ হলো- 'যাইদুন ক্ব-ইমুন' (২)।

জের (বিভক্তি), তানউইন, নিদা (আহ্বান), আলিফ-লাম এবং মুসনাদ (কর্তৃত্ব/গুণ) প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ্যের (ইসিম) স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয়েছে (৩)।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এই চরণে ইসিমের (বিশেষ্যের) আলামত বা চিহ্নসমূহ উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

= উত্তম কথাসমূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে) তবে বহুবচনের ক্ষেত্রে আরবী ব্যবহারের রীতি হলো যে, এর দিকে প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি স্ত্রীলিঙ্গ হয়, যেমনটি আপনি আল্লাহ তায়ালার বাণীতে পাবেন: (তাদের জন্য রয়েছে কক্ষসমূহ, যার উপর নির্মিত রয়েছে আরও কক্ষসমূহ) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি অবশ্যই জান্নাতে তাদের জন্য এমন কক্ষসমূহ প্রদান করব যেগুলোর নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়), এবং কবির পঙক্তির মতো: জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে যা তাদের জন্য সেখানে সেই প্রচেষ্টার কারণে অবধারিত হয়েছে যা ছিল প্রশংসিত। (১) এই উদাহরণ এবং এর অনুরূপ বাক্যসমূহ 'কালাম' নয়, কারণ এটি এমন অর্থ প্রদান করে না যার উপর থামা সঙ্গত।

(২) এই উদাহরণ এবং এর অনুরূপ বাক্যগুলো 'কালিম' নয়, কারণ এগুলো তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত নয়।

(৩) "বিল জাররি" শব্দটি জার ও মাজরুর, যা চরণের শেষে আসা "হাসালা" ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। এটি একটি উহ্য খবরে মুকাদ্দাম (অগ্রবর্তী সংবাদ) এর সাথেও সম্পৃক্ত হতে পারে যার মুবতাদায়ে মুয়াখখার (পরবর্তী মুক্তাদা) হলো পরবর্তী শব্দ "তাময়ীয়ুন"। আর "তানউইন", "নিদা", "আল" এবং "মুসনাদ" এই সবগুলিই "আল-জাররি" শব্দের ওপর আত্বফ (সংযুক্ত)। "লিল-ইসমি" শব্দটি জার ও মাজরুর যা একটি উহ্য খবরে মুকাদ্দামের সাথে সম্পৃক্ত যদি আপনি "বিল জাররি" শব্দটিকে "হাসালা" এর সাথে সম্পৃক্ত করেন। আর যদি আপনি "বিল জাররি" শব্দটিকে খবরে মুকাদ্দাম হিসেবে ধরেন—যা দ্বিতীয় পদ্ধতি—তবে এটি "হাসালা" এর সাথে সম্পৃক্ত হবে। "তাময়ীয়ুন" হলো মুবতাদায়ে মুয়াখখার। আপনি ইতোমধ্যেই জেনেছেন যে এর খবর একটিই। =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
فمنها الجر: وهو يشمل الجر بالحرف والإضافة والتبعية نحو مررت بغلام زيد الفاضل فالغلام مجرور بالحرف وزيد مجرور بالإضافة والفاضل مجرور بالتبعية وهو أشمل من قول غيره بحرف الجر لأن هذا لايتناول الجر بالإضافة ولا الجر بالتبعية.

ومنهما التنوين: وهو (1) على أربعة أقسام: (1)

تنوين التمكين: وهو اللاحق للأسماء المعربة كزيد ورجل إلا جمع المؤنث السالم نحو مسلمات وإلا نحو جوار وغواش وسيأتي حكمهما (2)

وتنوين التنكير: وهو اللاحق للأسماء المبنية فرقا بين معرفتها ونكرتها نحو مررت بسيبويه وبسيبويه آخر (3) وتنوين المقابلة وهو اللاحق لجمع المؤنث السالم نحو مسلمات فإنه في مقابلة النون في جمع المذكر السالم كمسلمين. (4)

وتنوين العوض وهو على ثلاثة أقسام:

عوض عن جملة: وهو الذي يلحق إذ عوضا عن جملة تكون بعدها كقوله تعالى: {وأنْتُمْ حِينَئذٍ تَنْظُرُونَ} أي حين إذ بلغت الروح الحلقوم فحذف بلغت الروح الحلقوم وأتى بالتنوين عوضا عنه

وقسم يكون عوضا عن اسم وهو اللاحق لكل عوضا عما تضاف إليه نحو كل قائم أي كل إنسان قائم فحذف إنسان وأتى بالتنوين عوضا عنه. (1)

--------------------------------------------

= من اثنين " حصل " فعل ماض، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود إلى تمييز، والجملة في محل رفع نعت لتمييز، وتقدير البيت: التمييز الحاصل بالجر والتنوين والندا وأل والاسناد كائن للاسم، أو التمييز الحاصل للاسم عن أخويه الفعل والحرف كائن بالجر والتنوين والنداء وأل والاسناد: أي كائن بكل واحد من هذه الخمسة.

(1) في نسخة " وهو أقسام " بدون ذكر العدد، والمراد - على ذكر العدد - أن المختص بالاسم أربعة أقسام.

(2) ومنه قول الله تعالى: (قل كل يعمل على شاكلته) وقوله جل شأنه: (كل له قانتون) وقوله تباركت كلماته: (كلا نمد هؤلاء وهؤلاء من عطاء ربك) ، ومثل = (2 - شرح ابن عقيل 1)
সেগুলোর একটি হলো জার: এটি হরফের মাধ্যমে জার, ইদাফাতের মাধ্যমে জার এবং অনুগত্যের (তাবে'ইয়্যাত) মাধ্যমে জার—সবকটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: 'আমি যাইদের গুণবান দাসের পাশ দিয়ে গেলাম'। এখানে 'দাস' শব্দটি হরফের মাধ্যমে মাজরুর, 'যাইদ' শব্দটি ইদাফাতের মাধ্যমে মাজরুর এবং 'গুণবান' শব্দটি অনুগত্যের মাধ্যমে মাজরুর। এটি অন্যদের বলা 'হরফে জারের মাধ্যমে' পরিভাষাটি অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ তা ইদাফাতের মাধ্যমে জার এবং অনুগত্যের জারকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

এবং সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো তানউইন: এটি (১) চার প্রকার: (১)

তানউইনে তামকিন: এটি সেই তানউইন যা মু'রাব ইসমসমূহের শেষে যুক্ত হয়, যেমন: যাইদ ও রাজুল। তবে জমা মুয়ান্নাস সালেম (যেমন: মুসলিমাত) এবং 'জাওয়ারি' ও 'গাওয়াশি' এর মতো শব্দগুলো এর ব্যতিক্রম; এগুলোর বিধান সামনে আসবে। (২)

তানউইনে তানকির: এটি সেই তানউইন যা মাবনি ইসমের শেষে তার নির্দিষ্ট (মারেফা) ও অনির্দিষ্ট (নাকেরা) অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য যুক্ত হয়। যেমন: 'আমি সিবাইহি এবং অন্য একজন সিবাইহির পাশ দিয়ে গেলাম'। (৩) এবং তানউইনে মুকাবালা: এটি জমা মুয়ান্নাস সালেমের শেষে যুক্ত হয়, যেমন: 'মুসলিমাত'। কেননা এটি জমা মুজাক্কার সালেমের (যেমন: মুসলিমিনা) নূন-এর বিপরীতে আসে। (৪)

তানউইনে ইওয়াদ (বিনিময়): এটি তিন প্রকার:

বাক্যের (জুমলা) বিনিময়: এটি সেই তানউইন যা 'ইয' শব্দের শেষে তার পরবর্তী একটি বাক্যের বিনিময় হিসেবে যুক্ত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা তখন প্রত্যক্ষ করছিলে}। অর্থাৎ যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল। এখানে 'প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল' বাক্যটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার বিনিময়ে তানউইন আনা হয়েছে।

এবং একটি প্রকার হলো ইসমের (শব্দের) বিনিময়: এটি 'কুল্লুন' শব্দের শেষে তার মুদাফ ইলাইহ-এর বিনিময় হিসেবে যুক্ত হয়। যেমন: 'প্রত্যেকেই দণ্ডায়মান' অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষ দণ্ডায়মান। এখানে 'মানুষ' শব্দটি বিলুপ্ত করে তার বিনিময়ে তানউইন আনা হয়েছে। (১)

--------------------------------------------

= দুই থেকে 'হাসালা' শব্দটি ফেল-এ-মাযি, এর ফায়েল বা কর্তা হলো এর ভেতরকার উহ্য সর্বনাম 'হুয়া', যা 'তাময়ীয' এর দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। এবং বাক্যটি 'তাময়ীয' এর জন্য রাফা-র স্থলে সিফাত বা গুণ হয়েছে। কবিতাটির মর্মার্থ হলো: জার, তানউইন, নিদা, আলিফ-লাম এবং ইসনাদ-এর মাধ্যমে অর্জিত বৈশিষ্ট্য ইসমের জন্য সাব্যস্ত। অথবা: ইসমের জন্য তার দুই ভাই—ফেল ও হারফ থেকে পৃথককারী বৈশিষ্ট্যসমূহ জার, তানউইন, নিদা, আলিফ-লাম এবং ইসনাদ-এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই পাঁচটির প্রত্যেকটির মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়।

(১) একটি পাণ্ডুলিপিতে সংখ্যা উল্লেখ ছাড়াই "এটি কয়েক প্রকার" রয়েছে। আর সংখ্যার উল্লেখ অনুযায়ী উদ্দেশ্য হলো—ইসমের জন্য নির্দিষ্ট তানউইন চার প্রকার।

(২) এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে), এবং তাঁর মহান সত্তার বাণী: (সকলেই তাঁর অনুগত), এবং তাঁর বরকতময় বাণী: (আমি এদেরকে এবং ওদেরকে আপনার রবের দান থেকে সাহায্য করি)। এবং অনুরূপ = (২ - শারহু ইবনে আকিল ১)
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقسم يكون عوضا عن حرف: وهو اللاحق لجوار وغواش ونحوهما رفعا وجرا نحو هؤلاء جوار ومررت بجوار فحذفت الياء وأتي بالتنوين عوضا عنها.

وتنوين الترنم (1) : وهو الذي يلحق القوافي المطلقة بحرف علة كقوله:

1 - أقلى اللوم عاذل والعتابن … وقولي إن أصبت لقد أصابن

فجيء

--------------------------------------------

= كل في هذا الموضوع كلمة " بعض " ومن شواهد خذف المفرد الذي من حق " بعض " أن يضاف إليه والاتيان بالتنوين عوضا عنه قول رؤية بن العجاج في مطلع أرجوزة طويلة يمدح فيها تميما: داينت أروى والديون تقضى فمطلت بعضا وأدت بعضا يريد فمطلت بعض الدين وأدت بعضه الآخر.

(1) هذا النوع خامس وقد ذكره وما بعده استطرادا.

1 - هذا بيت من الطويل، لجرير بن عطية بن الخطفى، أحد الشعراء المجيدين، وثالث ثلاثة ألقيت إليهم مقادة الشعراء في عصر بني أمية، وأولهم الفرزدق، وثانيهم الاخطل.

اللغة: " أقلي " أراد منه في هذا البيت معنى اتركي، والعرب تستعمل القلة في معنى النفي بتة، يقولون: قل أن يفعل فلان كذا، وهم يريدون أنه لا يفعله أصلا " اللوم " العذل والتعنيف " عاذل " اسم فاعل مؤنث بالتاء المحذوفة للترخيم، وأصله عاذلة، من العذل وهو اللوم في تسخط، و" العتاب " التقريع على فعل شئ أو تركه.

المعنى: اتركي أيتها العاذلة هذا اللوم والتعنيف، فإني لن أستمع لما تطلبين: من الكف عما آتى من الامور، والفعل لما أذر منها، وخير لك أن تعترفي بصواب ما أفعل الاعراب: " أقلي " فعل أمر - من الاقلال - مسند للياء التي لمخاطبة الواحدة مبني على حذف النون، وياء المؤنثة المخاطبة فاعل، مبني على السكون في محل رفع " اللوم " مفعول به لاقلي " عاذل " منادى مرخم حذفت منه ياء النداء، مبني على ضم

الحرف المحذوف في محل نصب، وأصله يا عاذلة " والعتابا " الواو عاطفة، العتابا: معطوف على اللوم " وقولي " فعل أمر، والياء فاعله " إن " حرف شرط " أصبت "
আর এক প্রকার রয়েছে যা অক্ষরের পরিবর্তে আসে: এটি 'জাওয়ারিন' (جوار) এবং 'গাওয়াশিন' (غواش) এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোর শেষে রফ' (পেশ) এবং জার (জের) অবস্থায় যুক্ত হয়। যেমন- 'হাউলা-ই জাওয়ারিন' (এরা বালিকা) এবং 'মারারতু বি-জাওয়ারিন' (আমি বালিকাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। এখানে 'ইয়া' অক্ষরটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে তানভীন আনা হয়েছে।

এবং তানভীনুত তারান্নুম (১): এটি সেই তানভীন যা স্বরবর্ণযুক্ত মুক্ত ছন্দের শেষে যুক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি:

১ - হে তিরস্কারকারিণী! তুমি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা পরিহার করো... এবং বলো যে, আমি যদি সঠিক কাজ করে থাকি তবে আমি অবশ্যই সঠিক কাজ করেছি।

অতঃপর আনা হয়েছে

--------------------------------------------

= এই বিষয়ে 'বা'দ' (بعض) শব্দটিও অন্তর্ভুক্ত। একবচন পদ বিলুপ্ত করার একটি উদাহরণ হলো—যা 'বা'দ'-এর দিকে মুদাফ ইলাইহি হওয়ার কথা ছিল—এবং তার পরিবর্তে তানভীন নিয়ে আসা। যেমন রুইয়াহ ইবনুল আজ্জাজ-এর উক্তি, যা একটি দীর্ঘ কবিতার শুরুতে তামীম গোত্রের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছিলেন: 'আমি আরওয়ার সাথে লেনদেন করেছি এবং ঋণ পরিশোধ করা হয়; কিন্তু সে কিছু অংশ পরিশোধে বিলম্ব করল এবং কিছু অংশ আদায় করল।' তিনি বুঝিয়েছেন 'কিছু ঋণ' এবং 'তার অন্য কিছু অংশ'।

(১) এটি পঞ্চম প্রকার, তিনি এটি এবং এর পরবর্তী অংশটি প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করেছেন।

১ - এটি 'তওয়ীল' ছন্দের একটি পঙক্তি, যার রচয়িতা হলেন জারীর ইবনে আতিয়্যাহ ইবনুল খাত্বফা। তিনি অত্যন্ত দক্ষ কবিদের একজন এবং উমাইয়া যুগের সেই তিন প্রধান কবির তৃতীয় জন যাদের হাতে কবিদের নেতৃত্ব ছিল। তাদের প্রথম জন হলেন ফারাযদাক এবং দ্বিতীয় জন হলেন আখতাল।

শব্দার্থ: 'আক্বিল্লী' দ্বারা এই পঙক্তিতে 'পরিহার করো' বা 'ছেড়ে দাও' অর্থ উদ্দেশ্য। আর আরবরা 'কিল্লাত' (অল্পতা) শব্দটিকে সম্পূর্ণ না-বোধক অর্থে ব্যবহার করে। তারা বলে: 'অমুক ব্যক্তি এমন কাজ খুব কমই করে', এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য থাকে যে সে আদপেই তা করে না। 'আল-লাউম' অর্থ তিরস্কার ও ভর্ৎসনা। 'আদিল' হলো মুয়ান্নাস ইসম ফায়েল যার শেষে 'তা' অক্ষরটি 'তারখীম'-এর কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে, এর মূল শব্দ ছিল 'আদিলাহ'। এটি 'আজল' থেকে এসেছে যার অর্থ অসন্তুষ্টির সাথে তিরস্কার করা। 'আল-ইতাব' অর্থ কোনো কিছু করা বা না করার জন্য ভর্ৎসনা করা।

ভাবার্থ: হে তিরস্কারকারিণী! তুমি এই তিরস্কার ও ভর্ৎসনা ত্যাগ করো, কেননা তুমি যা দাবি করছ আমি তা শুনব না। অর্থাৎ আমি যেসব কাজ করছি তা ছেড়ে দিতে এবং যা ছেড়ে দিচ্ছি তা করতে তুমি যে দাবি করছ তা আমি মানব না। বরং আমি যা করছি তার সঠিকতা স্বীকার করে নেওয়াটাই তোমার জন্য উত্তম। ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ): 'আক্বিল্লী' শব্দটি 'ইক্বলাল' থেকে নির্গত ফে'লে আমর, যা একবচন স্ত্রীবাচক সম্বোধনের 'ইয়া' এর দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে। এটি 'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। সম্বোধনের স্ত্রীবাচক 'ইয়া' হলো ফায়েল (কর্তা), যা সুকুন অবস্থায় মহল্লে রাফ'-এ রয়েছে। 'আল-লাউম' শব্দটি 'আক্বিল্লী' এর মাফউলু বিহি (কর্ম)। 'আদিল' হলো মুনাদা তারখীম, যেখান থেকে নিদাহর (আহ্বানের) অক্ষরটি বিলুপ্ত হয়েছে। এটি বিলুপ্ত অক্ষরের যম্মার (পেশ) উপর ভিত্তি করে মহল্লে নাসব-এ রয়েছে, এর মূল রূপ ছিল 'ইয়া আদিলাতু'। 'ওয়াল-ইতাবা' এখানে 'ওয়াও' হলো আতিফাহ, 'আল-ইতাবা' শব্দটি 'আল-লাউম' এর ওপর মাতুফ। 'কু-লী' ফে'লে আমর এবং এর সাথে যুক্ত 'ইয়া' হলো ফায়েল। 'ইন' শর্তবাচক অব্যয়। 'আসাবতি' হলো...
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
بالتنوين بدلا من الألف لأجل الترنم وكقوله:

2 - أزف الترحل غير أن ركابنا … لما تزل برحالنا وكأن قدن

--------------------------------------------

= فعل ماض فعل الشرط، وتاء المتكلم أو المخاطبة فاعله.

وهذا اللفظ يروى بضم الياء على أنها للمتكلم، وبكسرها على أنها للمخاطبة " لقد أصابا " جملة في محل نصب مقول القول، وجواب الشرط محذوف يدل عليه ما قبله، والتقدير: إن أصبت فقولي لقد أصابا، وجملة الشرط وجوابه لا محل لها معترضة بين القول ومقوله.

الشاهد فيه: قوله: " والعتابن، وأصابن " حيث دخلهما، في الانشاد، تنوين الترنم، وآخرهما حرف العلة، وهو هنا ألف الاطلاق، والقافية التي آخرها حرف علة تسمى مطلقة.

2 - هذا البيت للنابغة الذبياني، أحد فحول شعراء الجاهلية، وثالث شعراء الطبقة الاولى منهم، والحكم في سوق عكاظ، من قصيدة له يصف فيها المنجردة زوج النعمان ابن المنذر، ومطلعها: من آل مية رائح أو مغتدي عجلان ذا زاد وغير مزود؟ اللغة: " رائح " اسم فاعل من راح يروح رواحا، إذا سار في وقت العشى " مغتدى " اسم فاعل من اغتدى الرجل يغتدى، إذا سار في وقت الغداة، وهي من الصبح إلى طلوع الشمس، وأراد بالزاد في قوله " عجلان ذا زاد " ما كان من تسليم مية عليه أوردها تحيته " أزف " دنا وقرب، وبابه طرب، ويروى " أفد " وهو بوزنه ومعناه " الترحل " الارتحال " تزل " - مضموم الزاي - مضارع زال، وأصله - تزول، فحذفت الواو - عند الجزم للتخلص من التقاء الساكنين.

المعنى: يقول في البيت الذي هو المطلع: أتمضي أيها العاشق مفارقا أحبابك اليوم

مع العشى أو غدا مع الغداة؟ وهل يكون ذلك منك وأنت عجلان، تزودت منهم أو لم تنزود، ثم يقول في البيت الشاهد: لقد قرب موعد الرحيل، إلا أن الركاب لم تغادر مكان أحبابنا بما عليها من الرحال، وكأنها قد زالت لقرب موعد الفراق.

الاعراب: " أزف " فعل ماض " الترحل " فاعل " غير " نصب على الاستثناء " أن " حرف توكيد ونصب " ركابنا " ركاب: اسم أن، والضمير المتصل مضاف إليه " لما " حرف نفي وجزم " تزل " فعل مضارع مجزوم بلما " برحالنا " برحال: جار =
আলিফের পরিবর্তে তানউইন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বরাননুম (সুরেলা ছন্দ) সৃষ্টি করার জন্য, যেমন কবির উক্তি:

২ - প্রস্থানের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তবে আমাদের সওয়ারিগুলো... এখনও আমাদের আবাসের নিকট অবস্থান করছে, যেন তারা ইতিমধ্যেই চলে গেছে।

--------------------------------------------

= এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা শর্তের ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং উত্তম পুরুষ বা মধ্যম পুরুষের ‘তা’ বর্ণটি এর কর্তা।

আর এই শব্দটি ইয়া-তে পেশ সহকারে বর্ণিত হয়েছে উত্তম পুরুষের জন্য, এবং যের সহকারে মধ্যম পুরুষের জন্য। ‘তারা দুজন সঠিক কাজ করেছে’ বাক্যটি এখানে বক্তব্যের বক্তব্য (মাকুলুল কাওল) হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। শর্তের জওয়াব এখানে উহ্য রয়েছে যা পূর্ববর্তী অংশ দ্বারা বোঝা যায়; এর পূর্ণরূপ হলো: ‘যদি তুমি সঠিক হয়ে থাকো তবে বলো যে তারা দুজন সঠিক করেছে’। শর্ত ও জওয়াবের বাক্যটি বক্তব্য ও তার বিবৃতির মাঝে প্রাসঙ্গিক বাক্য (জুমলা মু’তারিযা) হিসেবে আসার কারণে এর কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই।

এতে কাব্যিক দলিল (শাহিদ) হলো: কবির উক্তি: ‘আল-ইতাবান’ এবং ‘আসাবান’, যেখানে আবৃত্তির সময় এগুলোতে ত্বরাননুমের তানউইন যুক্ত হয়েছে। এগুলোর শেষে হরফে ইল্লাত (দুর্বল বর্ণ) রয়েছে, যা এখানে ‘আলিফে ইতলাক’ (মুক্ত আলিফ)। যে অন্ত্যমিলের শেষে হরফে ইল্লাত থাকে তাকে ‘মুতলাক’ বা মুক্ত অন্ত্যমিল বলা হয়।

২ - এই কবিতাটি জাহেলি যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম স্তরের কবিদের মধ্যে তৃতীয় স্থানাধিকারী কবি নাবিগা আল-জুবইয়ানির। তিনি উকাজ বাজারের বিচারক ছিলেন। এটি তার একটি দীর্ঘ কবিতা (কসিদা) থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি নুমান ইবনে মুনযিরের স্ত্রী আল-মুঞ্জারাদাহ-র রূপ বর্ণনা করেছেন। কবিতার প্রারম্ভিক চরণটি হলো: মায়ার বংশের কেউ কি আজ সন্ধ্যায় অথবা কাল ভোরে দ্রুত চলে যাবে, পাথেয় সংগ্রহ করে নাকি পাথেয়হীন অবস্থায়? শব্দার্থ: ‘রাইহ’ শব্দটি ‘রাওয়াহ’ ধাতু থেকে নির্গত কর্তৃবাচক বিশেষ্য, যা সন্ধ্যাবেলায় পথ চলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ‘মুগতাদি’ শব্দটি ‘ইগতিদা’ থেকে নির্গত কর্তৃবাচক বিশেষ্য, যা ভোরবেলা অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ে পথ চলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ‘দ্রুতগামী পাথেয়ধারী’ বলতে কবি মায়ার পক্ষ থেকে তাকে সালাম দেওয়া বা তার অভিবাদনের উত্তর দেওয়াকে বুঝিয়েছেন। ‘আজিফা’ অর্থ নিকটবর্তী হয়েছে, যা ‘ত্বারিবা’ পরিচ্ছেদের অনুসারী। এটি ‘আফিদা’ শব্দেও বর্ণিত হয়েছে যা সমার্থবোধক। ‘আত-তারাহহুল’ অর্থ প্রস্থান করা। ‘তাযুল’ (যা-তে পেশসহ) শব্দটি ‘যালা’ এর বর্তমান রূপ, যার মূল ছিল ‘তাযুলু’, জজম অবস্থায় দুই স্থির বর্ণ (সাকিন) পাশাপাশি আসার কারণে ‘ওয়াও’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে।

ভাবার্থ: প্রারম্ভিক চরণে কবি বলছেন: হে প্রেমিক, তুমি কি আজ সন্ধ্যায় বা কাল সকালে তোমার প্রিয়জনদের ছেড়ে চলে যাবে? আর তোমার এই যাত্রা কি এতই দ্রুত হবে যে তুমি তাদের থেকে কোনো বিদায়ী পাথেয় নিলে কি নিলে না সেদিকেও খেয়াল থাকবে না? অতঃপর কাব্যিক দলিলের চরণে তিনি বলছেন: প্রস্থানের সময় নিকটবর্তী হয়েছে, কিন্তু সওয়ারিগুলো তাদের মালপত্র নিয়ে এখনও আমাদের প্রিয়জনদের অবস্থানস্থল ত্যাগ করেনি, যদিও বিচ্ছেদের সময় ঘনিয়ে আসায় মনে হচ্ছে তারা যেন এখনই চলে যেতে প্রস্তুত।

পদবিশ্লেষণ: ‘আজিফা’ অতীতকালীন ক্রিয়া, ‘আত-তারাহহুল’ তার কর্তা, ‘গাইরা’ শব্দটির নসব হয়েছে ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) হওয়ার কারণে, ‘আন্না’ নিশ্চয়তা জ্ঞাপক অব্যয়, ‘রিকাবুনা’ এর ‘রিকাব’ হলো আন্না-র বিশেষ্য এবং ‘না’ সর্বনামটি মুদাফ ইলাইহি, ‘লাম্মা’ না-বোধক ও জজম প্রদানকারী অব্যয়, ‘তাযুল’ বর্তমানকালীন ক্রিয়া যা লাম্মা-র কারণে জজমপ্রাপ্ত, ‘বি-রিহালিনা’ এর ‘বি-রিহাল’ হলো অব্যয় ও বিশেষ্য (জার-মাজরুর) =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২০)
والتنوين الغالي: وأثبته الأخفش وهو الذي يلحق القوافي المقيدة كقوله:

3 - وقاتم الأعماق خاوي المخترقن

--------------------------------------------

= ومجرور متعلق بتزول، ورحال مضاف و" نا " مضاف إليه " كأن " حرف تشبيه ونصب، واسمها ضمير الشأن، وخبرها جملة محذوفة تقديرها " وكأن قد زالت " فحذف الفعل وفاعله المستتر فيه، وأبقى الحرف الذي هو قد.

الشاهد فيه: في هذا البيت شاهدان للنحاة، أولهما دخول التنوين الذي للترنم على الحرف، وهو قد، فذلك يدل على أن تنوين الترنم لا يختص بالاسم، لان الشئ إذا اختص بشئ لم يجئ مع غيره، والثاني في تخفيف " كأن " التي للتشبيه، ومجئ اسمها ضمير الشأن، والفصل بينها وبين خبرها بقد، لان الكلام إثبات.

ولو كان نفيا لكان الفصل بلم، كما في قوله تعالى: (كأن لم يغنوا فيها) ومثل هذا البيت في الاستشهاد على ذلك قول الشاعر: لا يهولنك اصطلاء لظى الحرب، فمحذورها كأن قد ألما وسيأتي شرح ذلك في باب إن وأخواتها.

3 - هذا البيت لرؤبة بن العجاج، أحد الرجاز المشهورين، وأمضغهم للشيح

والقيصوم، والذي أخذ عنه العلماء أكثر غريب اللغة، وكان في عصر بني أمية، وبعده: مشتبه الاعلام لماع الخفقن اللغة: " القاتم " كالاقتم: الذي تعلوه القتمة، وهي لون فيه غبرة وحمرة، و" أعماق " جمع عمق - بفتح العين، وتضم - وهو: ما بعد من أطراف الصحراء.

و" الخاوى " الخالى، و" المخترق " مهب الرياح، وهو اسم مكان من قولهم: خرق المفازة واخترقها، إذا قطعها ومر فيها، و" الاعلام " علامات كانوا يضعونها في الطريق للاهتداء بها، واحدها علم بفتح العين واللام جميعا، و" الخفق " اضطراب السراب، وهو الذي تراه نصف النهار كأنه ماء، وأصله بسكون الفاء، فحركها بالفتح ضرورة.

المعنى: كثير من الامكنة التي لا يهتدى أحد إلى السير فيها لشدة التباسها وخفأئها قد أعملت فيها ناقتي وسرت فيها، يريد أنه شجاع شديد الاحتمال، أو أنه عظيم الخبرة بمسالك الصحراء.

=
তনভীন আল-গালি: আখফাশ এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং এটি সেই তনভীন যা মুকায়্যাদ (আবদ্ধ) পদ্যের অন্ত্যমিলের সাথে যুক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি:

৩ - অন্ধকার গভীর অঞ্চল বিশিষ্ট, যার পথ চলা বা বাতাসের গতিপথ জনশূন্য।

--------------------------------------------

= এবং মাজরুরটি 'তাযুলু' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, 'রিহাল' শব্দটি মুদাফ এবং "না" শব্দটি মুদাফ ইলাইহি। "কা-আন্না" হলো সাদৃশ্য প্রদানকারী ও নাসব প্রদানকারী অব্যয়, এর ইসম হলো দমিরে শান, এবং এর খবর হলো একটি উহ্য বাক্য যার সম্ভাব্য রূপ হলো "এবং যেন তা ইতোমধ্যেই অপসারিত হয়েছে"; ফলে ক্রিয়া এবং এর মধ্যকার প্রচ্ছন্ন ফায়েলকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'ক্বাদ' অব্যয়টিকে বহাল রাখা হয়েছে।

এতে শিক্ষণীয় বিষয় (শাহিদ): এই চরণে ব্যাকরণবিদদের জন্য দুটি প্রমাণ রয়েছে। প্রথমটি হলো হারফের (অব্যয়) ওপর তানুউইনুত তারান্নুম (সুরলহরী তনভীন) এর অনুপ্রবেশ, আর তা হলো 'ক্বাদ' শব্দের ওপর। এটি প্রমাণ করে যে, তানুউইনুত তারান্নুম কেবল ইসমের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়। কারণ কোনো কিছু যখন কোনো একটির সাথে সুনির্দিষ্ট হয়, তখন তা অন্যটির সাথে আসে না। দ্বিতীয়টি হলো "কা-আন্না" কে হালকা করা যা সাদৃশ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, এবং এর ইসম হিসেবে দমিরে শান আসা, এবং এর খবর ও এর মাঝে 'ক্বাদ' দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করা, কারণ বাক্যটি ইতিবাচক।

আর যদি তা নেতিবাচক হতো, তবে 'লাম' দ্বারা ব্যবধান করা হতো, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (যেন তারা সেখানে বসবাসই করেনি)। এ বিষয়ে প্রমাণের ক্ষেত্রে এই পঙক্তির সদৃশ হলো কবির উক্তি: যুদ্ধের আগুনের দহন তোমাকে যেন ভীত না করে, কেননা এর ভীতি যেন ইতিমধ্যেই স্পর্শ করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা 'ইন্না' ও তার সমজাতীয় অব্যয়সমূহের অধ্যায়ে আসবে।

৩ - এই চরণটি বিখ্যাত রাজায কবিদের অন্যতম রু'বাহ বিন আল-আজ্জাজ-এর, যিনি মরুভূমির উদ্ভিদরাজির বর্ণনায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন।

আলেমগণ তার কাছ থেকে ভাষার অনেক দুর্লভ শব্দ গ্রহণ করেছেন। তিনি উমাইয়া যুগে ছিলেন। এর পরবর্তী অংশ হলো: দিগন্তের চিহ্নসমূহ অস্পষ্ট, মরীচিকার ঝিলিক যেখানে কম্পমান। শব্দার্থ: "আল-ক্বাতিম" হলো আল-আকতাম এর মতো: যাতে অন্ধকারের প্রলেপ পড়েছে, আর এটি এমন এক বর্ণ যাতে ধুলো ও লালিমার মিশ্রণ থাকে। "আ'মাক্ব" হলো উমক্ব এর বহুবচন—আইন বর্ণে ফাতহা বা দাম্মা উভয়ই হয়—যার অর্থ হলো মরুভূমির দূরবর্তী প্রান্তসমূহ।

এবং "আল-খাউয়ি" অর্থ শূন্য বা জনমানবহীন। "আল-মুখতারাক্ব" অর্থ বাতাসের গতিপথ; এটি একটি স্থানবাচক বিশেষ্য যা তাদের উক্তি: "তিনি মরুভূমি পাড়ি দিয়েছেন এবং তা অতিক্রম করেছেন" থেকে এসেছে, যখন কেউ তা অতিক্রম করে এবং এর মধ্য দিয়ে চলে যায়। "আল-আ'লাম" হলো সেই চিহ্নসমূহ যা তারা পথ চেনার জন্য রাস্তায় স্থাপন করত, এর একবচন হলো আলাম (আইন ও লাম উভয় বর্ণে ফাতহা যোগে)। "আল-খাফক্ব" হলো মরীচিকার কম্পন, যা দ্বিপ্রহরে পানির মতো দেখা যায়; মূলত এটি ফা বর্ণের সুকুন সহযোগে ছিল, কিন্তু ছন্দের প্রয়োজনে এতে ফাতহা প্রদান করা হয়েছে।

ভাবার্থ: অনেক জায়গা যেখানে পথটি অত্যন্ত অস্পষ্ট ও লুকায়িত হওয়ার কারণে কেউ সেখানে চলার পথ খুঁজে পায় না, আমি সেখানে আমার উষ্ট্রীকে পরিচালিত করেছি এবং পরিভ্রমণ করেছি। এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি অত্যন্ত সাহসী ও ধৈর্যশীল, অথবা তিনি মরুভূমির পথঘাট সম্পর্কে প্রগাঢ় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

=
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২১)
وظاهر كلام المصنف أن التنوين كله من خواص الاسم وليس كذلك بل الذي يختص به الاسم إنما هو تنوين التمكين والتنكير والمقابلة والعوض وأما تنوين الترنم والغالي فيكونان في الاسم والفعل والحرف (1) .

ومن خواص الاسم: النداء نحو يا زيد والألف واللام نحو الرجل والإسناد إليه نحو زيد قائم.

فمعنى البيت حصل للاسم تمييز عن الفعل والحرف بالجر والتنوين والنداء والألف واللام والإسناد إليه أي الإخبار عنه.

واستعمل المصنف أل مكان الألف واللام وقد وقع ذلك في عبارة بعض المتقدمين وهو الخليل واستعمل المصنف مسند مكان الإسناد له.

--------------------------------------------

= الاعراب: " وقاتم " الواو واو رب، قاتم: مبتدأ مرفوع بضمة مقدرة على آخره منع من ظهورها اشتغال المحل بحركة حرف الجر الزائد، وقاتم مضاف و" الاعماق " مضاف إليه " خاوى " صفة لقاتم، وخاوى مضاف و" المخترق " مضاف إليه، مجرور بالكسرة الظاهرة، وسكنه لاجل الوقف، وخبر المبتدأ جملة من فعل ماض وفاعل في محل رفع، وذلك في قوله بعد أبيات: تنشطته كل مغلاة الوهق الشاهد فيه: قوله " المخترقن " و" الخفقن " حيث أدخل عليهما التنوين مع اقتران كل واحد منهما بأل، ولو كان هذا التنوين مما يختص بالاسم لم يلحق الاسم المقترن بأل، وإذا كان آخر الكلمة التي في آخر البيت حرفا صحيحا ساكنا كما هنا تسمى القافية حينئذ " قافية مقيدة ".

(1) هذا الاعتراض لا يرد على الناظم، لان تسمية نون الترنم والنون التي تلحق القوافي المطلقة تنوينا إنما هي تسمية مجازية، وليست من الحقيقة التي وضع لها لفظ التنوين، فأنت لو أطلقت لفظ التنوين على المعنى الحقيقي الذي وضع له لم يشملهما، والاصل أن يحمل اللفظ على معناه الحقيقي، ولذلك نرى أنه لا غبار على كلام الناظم.
গ্রন্থকারের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো এই যে, তানউইন-এর সবটুকুই বিশেষ্যের (ইসম) অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে তেমন নয়; বরং যা বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট তা হলো— তানউইনুত তামকিন, তানউইনুত তানকির, তানউইনুল মুক্বাবালা এবং তানউইনুল ইওয়াদ। আর তানউইনুত তারান্নুম এবং তানউইনুল গালি বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হরফ)—এই তিন প্রকার শব্দের মধ্যেই দেখা যায় (১)।

বিশেষ্যের (ইসম) আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: নিদা (আহ্বান) যেমন— 'ইয়া যায়েদ' (হে যায়েদ), আলিফ ও লাম যেমন— 'আর-রাজুল' (লোকটি), এবং ইসনাদ ইলাইহি (যার দিকে কোনো কিছু সম্বন্ধ করা হয়) যেমন— 'যায়েদুন ক্বায়িমুন' (যায়েদ দণ্ডায়মান)।

সুতরাং কবিতাটির মর্মার্থ দাঁড়ালো এই যে, জার (জের), তানউইন, নিদা, আলিফ-লাম এবং ইসনাদ অর্থাৎ যার সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রদান করা হয়—এসবের মাধ্যমে বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয় (হরফ) থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।

গ্রন্থকার 'আলিফ ও লাম' এর স্থলে 'আল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং পূর্ববর্তীদের অনেকের বক্তব্যেও এমনটি দেখা যায়, যেমন খলীল। এছাড়া গ্রন্থকার 'ইসনাদ ইলাইহি' এর স্থলে 'মুসনাদ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

--------------------------------------------

= ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ): "ওয়া ক্বাতিম" এখানে ওয়াও হলো 'রুব্বা'-এর ওয়াও, 'ক্বাতিম' হলো মুবতাদা যা এর শেষে উহ্য পেশ (যম্মাহ) দ্বারা রফ্ প্রাপ্ত হয়েছে। এর প্রকাশে বাধা দিয়েছে অতিরিক্ত হরফে জার-এর আমল জনিত ব্যস্ততা। 'ক্বাতিম' শব্দটি মুযাফ এবং "আল-আমাক্ব" মুযাফ ইলাইহি। "খাউয়ি" হলো ক্বাতিম-এর সিফাত। "খাউয়ি" মুযাফ এবং "আল-মুখতারাক্ব" মুযাফ ইলাইহি যা প্রকাশ্য যের (কাসরা) দ্বারা মাজরুর এবং ওয়াকফ করার কারণে সাকিন হয়েছে। মুবতাদার খবর হলো একটি ক্রিয়া ও কর্তা সম্বলিত বাক্য (জুমলা) যা পরবর্তী কিছু পঙক্তির পর "তানাশশাতাতহু কুল্লু মুগলাতিল ওয়াহাক্ব" অংশে এসেছে। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো: কবির উক্তি "আল-মুখতারাক্বান" এবং "আল-খাফাক্বান", যেখানে 'আল' যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর শেষে তানউইন ব্যবহার করা হয়েছে। যদি এই তানউইন কেবল বিশেষ্যেরই বৈশিষ্ট্য হতো, তবে 'আল' যুক্ত বিশেষ্যে তা যুক্ত হতো না। আর কবিতার পঙক্তির শেষে যদি বর্ণটি ব্যঞ্জনবর্ণ এবং সাকিন (স্থির) হয়, যেমনটি এখানে হয়েছে, তবে সেই অন্ত্যমিলকে 'ক্বাফিয়া মুক্বাইয়্যাদাহ' বলা হয়।

(১) এই আপত্তি গ্রন্থকারের (নাযিম) ওপর বর্তায় না। কারণ নুনুত তারান্নুম এবং সেই নুন যা ক্বাফিয়া মুতলাক্বাহ-এর শেষে যুক্ত হয়, তাকে 'তানউইন' বলা একটি রূপক নামকরণ মাত্র। এটি সেই প্রকৃত অর্থের অন্তর্ভুক্ত নয় যার জন্য তানউইন শব্দটি গঠন করা হয়েছে। সুতরাং আপনি যদি তানউইন শব্দটিকে তার প্রকৃত অর্থে ব্যবহার করেন, তবে তা এই দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করবে না। আর মূল নীতি হলো শব্দকে তার প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা। অতএব, দেখা যাচ্ছে যে গ্রন্থকারের বক্তব্যে কোনো ত্রুটি নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২২)
بتا فعلت وأتت ويا أفعلي … ونون أقبلن فعل ينجلي (1)

ثم ذكر المصنف أن الفعل يمتاز عن الاسم والحرف بتاء فعلت والمراد بها تاء الفاعل وهي المضمومة للمتكلم نحو فعلت والمفتوحة للمخاطب نحو تباركت والمكسورة للمخاطبة نحو فعلت ويمتاز أيضا بتاء أتت والمراد بها تاء التأنيث الساكنة نحو نعمت وبئست فاحترزنا بالساكنة عن اللاحقة للأسماء فإنها تكون متحركة بحركة الإعراب نحو هذه مسلمة ورأيت مسلمة ومررت بمسلمة ومن اللاحقة للحرف نحو لات وربت وثمت (2) وأما تسكينها مع رب وثم فقليل نحو: ربت وثمت.

--------------------------------------------

(1) " بتا " جار ومجرور متعلق بينجلى الواقع هو وفاعله الضمير المستتر فيه في محل رفع خبرا عن المبتدأ، فإن قلت: يلزم تقديم معمول الخبر الفعلي على المبتدأ وهو لا يجوز، قلت: إن ضرورة الشعر هي التي ألجأته إلى ذلك، وإن المعمول لكونه جارا ومجرورا يحتمل فيه ذلك التقدم الذي لا يسوغ في غيره، وتا مضاف و" فعلت " قصد لفظه: مضاف إليه " وأتت " الواو حرف عطف، أتت: قصد لفظه أيضا: معطوف على فعلت " ويا " معطوف على تاء، ويا مضاف و" افعلي " مضاف إليه، وهو مقصود لفظه أيضا " ونون " الواو حرف عطف، نون: معطوف على تاء، وهو مضاف و" أقبلن " قصد لفظه: مضاف إليه " فعل " مبتدأ " ينجلى " فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود إلى فعل، والجملة في محل رفع خبر المبتدأ.

(2) أما دخول التاء على " لا " فأشهر من أن يستدل عليه، بل قد استعملت " لات " حرف نفي بكثرة، وورد استعماله في فصيح الكلام، ومن ذلك قوله تعالى: (ولات حين مناص) وأما دخولها على رب ففي نحو قول الشاعر: وربت سائل عني حفي أعارت عينه أم لم تعارا ونحو قول الآخر: ماوي يا ربتما غارة شعواء كاللذعة بالميسم =
'ফাআলতু' এর তা, 'আতাত' এর তা, 'ইফআলি' এর ইয়া … এবং 'আকবিলান্না' এর নূন-এর মাধ্যমে ক্রিয়া সুস্পষ্ট হয় (১)

এরপর গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে, ক্রিয়া বিশেষ্য (ইসম) ও অব্যয় (হরফ) থেকে 'ফাআলতু' এর তা-এর মাধ্যমে পৃথক হয়। এখানে 'তা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফায়িল বা কর্তার তা; যা উত্তম পুরুষের জন্য পেশযুক্ত হয়, যেমন 'ফাআলতু' (আমি করলাম); সম্মুখস্থ পুরুষ লিঙ্গের জন্য জবরযুক্ত হয়, যেমন 'তাবারাকতা' (আপনি বরকতময় হলেন); এবং সম্মুখস্থ স্ত্রী লিঙ্গের জন্য যেরযুক্ত হয়, যেমন 'ফাআলতি' (তুমি করলে)। ক্রিয়া 'আতাত' এর তা-এর মাধ্যমেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা, যেমন 'নি’মাত' এবং 'বি’সাত'। 'সাকিনযুক্ত' বলার মাধ্যমে আমরা বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হওয়া তা-কে বাদ দিয়েছি, কারণ সেটি ইরাবের (বিভক্তির) কারণে হারাকাতযুক্ত বা স্বরচিহ্নযুক্ত হয়, যেমন: 'হাযিহি মুসলিমাতুন' (ইনি একজন মুসলিম নারী), 'রাআয়তু মুসলিমাতান' (আমি একজন মুসলিম নারীকে দেখেছি) এবং 'মারারতু বি-মুসলিমাতিন' (আমি একজন মুসলিম নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। তদ্রূপ অব্যয়ের সাথে যুক্ত তা-কেও বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন 'লাত', 'রাব্বাত' এবং 'সুম্মাত' (২)। আর 'রাব্বা' ও 'সুম্মা' এর সাথে এই তা-টি সাকিন হওয়া বিরল, যেমন: 'রাব্বাত' এবং 'সুম্মাত'।

--------------------------------------------

(১) 'বি-তা' শব্দদ্বয় জার ও মাজরুর, যা 'ইয়ানজালি' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। 'ইয়ানজালি' ক্রিয়াটি তার উহ্য ফায়িলসহ মুবতাদার খবর হিসেবে রাফা এর স্থানে রয়েছে। আপনি যদি বলেন: খবরের আমিল মুবতাদার আগে চলে আসা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যা জায়েজ নয়; তবে আমি বলব: কাব্যিক ছন্দ রক্ষার তাগিদেই লেখক এমনটি করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া জার-মাজরুর হওয়ার কারণে এটি এমন অগ্রবর্তিতা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে যা অন্য ক্ষেত্রে জায়েজ নয়। 'তা' শব্দটি মুদাফ এবং 'ফাআলতু' শব্দটি এর মুদাফ ইলাইহি। 'আতাত' শব্দটি 'ফাআলতু' এর ওপর আতফ হয়েছে। 'ইয়া' শব্দটি 'তা' এর ওপর আতফ এবং এটি মুদাফ, আর 'ইফআলি' শব্দটি এর মুদাফ ইলাইহি। 'নূন' শব্দটি 'তা' এর ওপর আতফ এবং এটি মুদাফ, আর 'আকবিলান্না' এর মুদাফ ইলাইহি। 'ফেল' শব্দটি মুবতাদা এবং 'ইয়ানজালি' মুদারে ক্রিয়া, যার ফায়িল হলো উহ্য সর্বনাম 'হুয়া' যা 'ফেল' এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এই জুমলাটি মুবতাদার খবর।

(২) 'লা' এর ওপর 'তা' যুক্ত হওয়া এতই প্রসিদ্ধ যে এর প্রমাণের প্রয়োজন নেই। বরং 'লাত' শব্দটি না-বোধক অব্যয় হিসেবে প্রচুর ব্যবহৃত হয়েছে এবং বিশুদ্ধ ভাষ্যেও এর প্রয়োগ পাওয়া যায়। মহান আল্লাহর বাণী এর উদাহরণ: "আর তখন পলায়নের কোনো সময় ছিল না।" আর 'রাব্বা' এর ওপর এর প্রবেশের উদাহরণ কবির এই উক্তি: "কতই না প্রশ্নকারী আমার সম্পর্কে অতি আগ্রহী ছিল, তার চোখ কি অশ্রুসিক্ত হয়েছিল নাকি হয়নি?" এবং অন্য এক কবির উক্তি: "হে মাউয়ি! অনেক ভয়াবহ আক্রমণ লোহা তপ্ত করার চিহ্নের মতো দহনকারী ছিল..."
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويمتاز أيضا بياء أفعلي والمراد بها ياء الفاعلة وتلحق فعل الأمر نحو اضربي والفعل المضارع نحو تضربين ولا تلحق الماضي.

وإنما قال المصنف يا أفعلي ولم يقل ياء الضمير لأن هذه تدخل فيها ياء المتكلم وهي لا تختص بالفعل بل تكون فيه نحو أكرمني وفى الاسم نحو غلامي وفى الحرف نحو إني بخلاف ياء افعلي فإن المراد بها ياء الفاعلة على ما تقدم وهي لا تكون إلا في الفعل ومما يميز الفعل نون أقبلن والمراد بها نون التوكيد خفيفة كانت أو ثقيلة فالخفيفة نحو قوله تعالى: {لَنَسْفَعاً بِالنَّاصِيَةِ} والثقيلة نحو قوله تعالى: {لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ}

فمعنى البيت ينجلي الفعل بتاء الفاعل وتاء التأنيث الساكنة وياء الفاعلة ونون التوكيد.

سواهما الحرف كهل وفي ولم … فعل مضارع يلي لم كيشم (2)

--------------------------------------------

= وأما دخولها على ثم ففي نحو قول الشاعر: ولقد أمر على اللئيم يسبني فمضيت ثمت قلت لا يعنيني (1) " سواهما " سوى: خبر مقدم مرفوع بضمة مقدرة على الالف منع من ظهورها التعذر، وسوى مضاف والضمير مضاف إليه " الحرف " مبتدأ مؤخر، ويجوز العكس، لكن الاولى ما قدمناه " كهل " جار ومجرور متعلق بمحذوف خبر لمبتدأ محذوف، والتقدير " وذلك كهل " " وفي ولم " معطوفان على هل " فعل " مبتدأ " مضارع " نعت له " يلي " فعل مضارع، وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود على فعل مضارع، والجملة خبر المبتدأ " لم " مفعول به ليلى، وقد قصد لفظه " كيشم " جار ومجرور متعلق بمحذوف يقع خبرا لمبتدأ محذوف، والتقدير: وذلك كيشم، وتقدير البيت كله: الحرف سوى الاسم والفعل، وذلك كهل وفي ولم، والفعل المضارع يلي لم، وذلك كائن =
এটি 'ইয়া আফআলি' দ্বারাও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়, যার দ্বারা কর্তৃবাচক ইয়া উদ্দেশ্য। এটি আদেশসূচক ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, যেমন: 'ইদরিবি' এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, যেমন: 'তাদরিবিনা', তবে এটি অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় না।

গ্রন্থকার কেবল 'ইয়া আফআলি' বলেছেন এবং 'সর্বনামীয় ইয়া' বলেননি, কারণ এর মধ্যে উত্তম পুরুষের ইয়া-ও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যা কেবল ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং তা ক্রিয়ার মধ্যে থাকে যেমন 'আকরামানি', বিশেষ্যের মধ্যে থাকে যেমন 'গুলামি' এবং অব্যয়ের মধ্যে থাকে যেমন 'ইন্নানি'। পক্ষান্তরে 'ইয়া আফআলি'-এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এর দ্বারা পূর্বে উল্লিখিত কর্তৃবাচক ইয়া উদ্দেশ্য, যা কেবল ক্রিয়ার মধ্যেই হয়ে থাকে। আর ক্রিয়াকে স্বতন্ত্রকারী চিহ্নসমূহের মধ্যে রয়েছে 'নুন আকবিলান', যার দ্বারা দৃঢ়তাবাচক নুন উদ্দেশ্য, তা লঘু হোক কিংবা গুরু। লঘু নুনের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "অবশ্যই আমরা তাকে মস্তকসংলগ্ন অলকগুচ্ছ ধরে হেঁচড়ে নিয়ে যাব" এবং গুরু নুনের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "হে শুআইব, অবশ্যই আমরা তোমাকে বের করে দেব।"

সুতরাং পঙ্ক্তিটির অর্থ হলো: কর্তার 'তা', স্থির স্ত্রীবাচক 'তা', কর্তৃবাচক 'ইয়া' এবং দৃঢ়তাবাচক 'নুন' দ্বারা ক্রিয়া সুস্পষ্টভাবে চেনা যায়।

এ দুটি ব্যতীত অন্যগুলো হলো অব্যয়, যেমন 'হাল', 'ফি' এবং 'লাম'... মুদারি ক্রিয়া 'লাম'-এর পরে আসে, যেমন 'ইয়াশাম্মু' (২)

--------------------------------------------

= আর 'সুম্মা' শব্দের উপর এর (স্ত্রীবাচক তা) প্রবেশের বিষয়টি কবির এই উক্তির ন্যায়: "আমি হীন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হই যখন সে আমাকে গালি দেয়, অতঃপর আমি চলে যাই এবং বলি যে সে আমাকে উদ্দেশ্য করেনি।" (১) "সিওয়াহুমা" শব্দে 'সিওয়া' হলো খবর মুকাদ্দাম যা আলিফের ওপর প্রচ্ছন্ন দম্মা দ্বারা মারফু; যা প্রকাশে অক্ষমতা বাধা দিয়েছে। আর 'সিওয়া' হলো মুদাফ এবং সর্বনামটি মুদাফ ইলাইহি। "আল-হারফু" হলো মুবতাদা মুয়াখখার। এর বিপরীতটিও জায়েয আছে, তবে আমরা যা আগে উল্লেখ করেছি সেটিই উত্তম। "কাহাল" হলো জার ও মাজরুর যা একটি উহ্য মুবতাদার উহ্য খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার মূল রূপ: "আর তা হলো হাল-এর ন্যায়।" "ওয়া ফি ওয়া লাম" শব্দ দুটি 'হাল'-এর ওপর সমম্বিত। "ফিয়ালুন" হলো মুবতাদা এবং "মুদারিউন" হলো তার গুণ। "ইয়ালি" হলো বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, এর কর্তা হলো এর মধ্যে উহ্য থাকা সর্বনাম 'হুয়া' যা 'ফিয়ালুন মুদারিউন'-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। আর এই বাক্যটি হলো মুবতাদার খবর। "লাম" হলো 'ইয়ালি' ক্রিয়ার কর্ম, এখানে এর শাব্দিক রূপটিই উদ্দেশ্য। "কাইশাম্মা" হলো জার ও মাজরুর যা একটি উহ্য মুবতাদার উহ্য খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট, এর মূল রূপ: "আর তা হলো ইয়াশাম্মা-এর ন্যায়।" সমগ্র পঙ্ক্তিটির বিশ্লেষণ হবে: অব্যয় হলো বিশেষ্য ও ক্রিয়া ব্যতীত অন্য কিছু, আর তা হলো 'হাল', 'ফি' এবং 'লাম'-এর ন্যায়; এবং মুদারি ক্রিয়া 'লাম'-এর পরে আসে, আর তা (উদাহরণস্বরূপ) বিদ্যমান। =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
وماضي الأفعال بالتا مز وسم … بالنون فعل الأمر إن أمر فهم (1)

يشير إلى أن الحرف يمتاز عن الاسم والفعل بخلوه عن علامات الأسماء وعلامات الأفعال ثم مثل بهل وفي ولم منبها على أن الحرف ينقسم إلى قسمين مختص وغير مختص فأشار بهل إلى غير المختص وهو الذي يدخل على الأسماء والأفعال نحو هل زيد قائم وهل قام زيد وأشار بفي ولم إلى المختص وهو قسمان مختص بالأسماء كفي نحو زيد في الدار ومختص بالأفعال كلم نحو لم يقم زيد ثم شرع في تبيين أن الفعل ينقسم إلى ماض ومضارع وأمر فجعل علامة

--------------------------------------------

= كيشم، ويشم فعل مضارع ماضيه قولك: شممت الطيب ونحوه - من باب فرح - إذا نشقته، وفيه لغة أخرى من باب نصر ينصر حكاها الفراء.

(1) " وماضي " الواو للاستئناف، ماضي: مفعول به مقدم لقوله مز الآتي، وماضي مضاف و" الافعال " مضاف إليه " بالتا " جار ومجرور متعلق بمز " مز " فعل أمر، وفاعله ضمير مستتر فيه وجوبا تقديره أنت " وسم " الواو عاطفة أو للاستئناف سم: فعل أمر، وفاعله ضمير مستتر فيه وجوبا تقديره أنت " بالنون " جار ومجرور متعلق بسم " فعل " مفعول به لسم، وفعل مضاف و" الامر " مضاف إليه " إن " حرف شرط " أمر " نائب فاعل لفعل محذوف يفسره المذكور بعده، وتقديره: إن فهم أمر " فهم " فعل ماض مبني للمجهول، ونائب الفاعل ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود على أمر، والجملة من الفعل ونائب فاعله لا محل لها من الاعراب تفسيرية، وجواب الشرط محذوف يدل عليه المذكور.

وتقديره " إن فهم أمر فسم بالنون إلخ ".

وتقدير البيت: ميز الماضي من الافعال بقبول التاء التي ذكرنا أنها من علامات كون الكلمة فعلا، وعلم فعل الامر بقبول النون إن فهم منه الطلب.

ومز: أمر من ماز الشئ يميزه ميزا مثل باع يبيع بيعا إذا ميزه، وسم: أمر من وسم الشئ يسمه وسما مثل وصفه يصفه وصفا إذا جعل له علامة يعرفه بها، والامر قوله " إن أمر فهم " هو الامر اللغوي، ومعناه الطلب الجازم على وجه الاستعلاء.
ক্রিয়ার অতীত কালকে ‘তা’ (ت) দ্বারা পৃথক করুন এবং নির্দেশ বা আজ্ঞা বুঝালে ‘নুন’ (ن) দ্বারা নির্দেশসূচক ক্রিয়াকে চিহ্নিত করুন (১)।

এটি ইঙ্গিত করছে যে, অব্যয় (হরফ) বিশেষ্য (ইসম) এবং ক্রিয়া (ফেল) থেকে পৃথক হয় বিশেষ্য ও ক্রিয়ার চিহ্নসমূহ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি 'হাল', 'ফি' এবং 'লাম' এর মাধ্যমে উদাহরণ দিয়েছেন এটি সতর্ক করার জন্য যে, অব্যয় দুই প্রকার: অ-বিশেষায়িত এবং বিশেষায়িত। ‘হাল’ দ্বারা তিনি অ-বিশেষায়িত অব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা বিশেষ্য এবং ক্রিয়া উভয়ের পূর্বে আসে; যেমন: 'হাল যায়দুন কায়িমুন' (যায়দ কি দণ্ডায়মান?) এবং 'হাল কমা যায়দুন' (যায়দ কি দাঁড়িয়েছে?)। আর 'ফি' ও 'লাম' দ্বারা তিনি বিশেষায়িত অব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটি আবার দুই প্রকার: বিশেষ্যের সাথে বিশেষায়িত যেমন 'ফি', যথা: 'যায়দুন ফিদ দারি' (যায়দ ঘরের মধ্যে আছে); এবং ক্রিয়ার সাথে বিশেষায়িত যেমন 'লাম', যথা: 'লাম ইয়াকুম যায়দুন' (যায়দ দাঁড়ায়নি)। অতঃপর তিনি ক্রিয়া যে অতীত, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং নির্দেশসূচক—এই তিন ভাগে বিভক্ত, তার বর্ণনা শুরু করেন। তিনি চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন...

--------------------------------------------

= যেমন ‘ইয়াশিম্মু’ (يشم); আর ‘ইয়াশাম্মু’ (يشم) হলো বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যার অতীতকাল হলো আপনার উক্তি: ‘শামামতুত্তীব’ (আমি সুগন্ধি শুঁকেছি) এবং অনুরূপ—এটি ‘ফারিহা’ পরিচ্ছেদ (বাব) থেকে—যখন আপনি তা ঘ্রাণ নেন। ফারা এর পক্ষ থেকে এটি ‘নাসারা-ইয়ানসুরু’ পরিচ্ছেদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

(১) "ওয়ামাদি": 'ওয়া' প্রারম্ভিকতার জন্য, ‘মাদি’ হলো পরবর্তী 'মুজ' ক্রিয়ার অগ্রবর্তী কর্মপদ (মাফউলে বিহি মুকাদ্দাম)। 'মাদি' শব্দটি সম্বন্ধপদ (মুদাফ) এবং "আল-আফআল" শব্দটি সম্বন্ধীয় পদ (মুদাফ ইলাইহি)। "বিত্তায়ি": অব্যয় ও বিশেষ্য যা 'মুজ' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। "মুজ": নির্দেশসূচক ক্রিয়া (ফেলে আমর), এবং এর কর্তা এতে আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা ‘আনতা’ (তুমি) সর্বনাম। "ওয়াসিম": 'ওয়া' সংযোজক বা প্রারম্ভিক অব্যয়, ‘সিম’ হলো নির্দেশসূচক ক্রিয়া এবং এর কর্তা এতে আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা ‘আনতা’ (তুমি) সর্বনাম। "বিননুনি": অব্যয় ও বিশেষ্য যা 'সিম' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। "ফিলা": 'সিম' ক্রিয়ার কর্মপদ, এবং এটি সম্বন্ধপদ ও "আল-আমরি" সম্বন্ধীয় পদ। "ইন": শর্তবাচক অব্যয়। "আমরুন": উহ্য ক্রিয়ার নায়েবে ফায়েল (কর্তৃপদীয় কর্ম) যা পরবর্তী শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যায়িত; যার পূর্ণরূপ: 'ইন ফুহিমা আমরুন'। "ফুহিমা": কর্মবাচ্যের অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেলে মাদি মাজহুল), এবং এর নায়েবে ফায়েল হলো উহ্য সর্বনাম ‘হুয়া’ যা ‘আমর’ এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। ক্রিয়া ও নায়েবে ফায়েল মিলে গঠিত বাক্যটি ব্যাখ্যামূলক বাক্য যার ব্যাকরণিক কোনো অবস্থান নেই। আর শর্তের উত্তরটি উহ্য রয়েছে যা পূর্ববর্তী অংশ দ্বারা নির্দেশিত।

এর পূর্ণরূপ হলো: "যদি নির্দেশ বুঝায় তবে নুন দ্বারা চিহ্নিত করো ইত্যাদি।"

কবিতাংশের ভাবার্থ হলো: ক্রিয়াসমূহের মধ্য থেকে অতীত কালকে 'তা' গ্রহণের মাধ্যমে পৃথক করো, যা আমরা ক্রিয়ার চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছি। আর নির্দেশসূচক ক্রিয়াকে 'নুন' গ্রহণের মাধ্যমে চিহ্নিত করো যদি তা দ্বারা কোনো কিছুর দাবি করা বুঝায়।

'মুজ': এটি 'মাজা-ইয়ামিজু-মাইজান' থেকে নির্গত নির্দেশসূচক ক্রিয়া, যেমন 'বা'আ-ইয়াবি'উ-বাই'আন' (পৃথক করা)। 'সিম': এটি 'ওয়াসামা-ইয়াসিমু-ওয়াসমান' থেকে নির্গত নির্দেশসূচক ক্রিয়া, যেমন 'ওয়াসাফা-ইয়াসিফু-ওয়াসফান' (চিহ্নিত করা), যখন আপনি কোনো কিছুর জন্য এমন চিহ্ন নির্ধারণ করেন যার মাধ্যমে তা চেনা যায়। "যদি নির্দেশ বুঝায়" বাক্যে নির্দেশ বা 'আমর' বলতে আভিধানিক নির্দেশ বুঝানো হয়েছে, যার অর্থ হলো শ্রেষ্ঠত্ব বা কর্তৃত্বের ভিত্তিতে কোনো কাজের জন্য দৃঢ়ভাবে তলব বা দাবি করা।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
المضارع صحة دخول لم عليه كقولك في يشم لم يشم وفي يضرب لم يضرب وإليه أشار بقوله فعل مضارع يلي لم كيشم

ثم أشار إلى ما يميز الفعل الماضي بقوله وماضي الأفعال بالتا مز أي ميز ماضي الأفعال بالتاء والمراد بها تاء الفاعل وتاء التأنيث الساكنة وكل منهما لا يدخل إلا على ماضي اللفظ نحو تباركت يا ذا الجلال والإكرام ونعمت المرأة هند وبئست المرأة دعد.

ثم ذكر في بقية البيت أن علامة فعل الأمر قبول نون التوكيد والدلالة على الأمر بصيغته نحو اضربن واخرجن فإن دلت الكلمة على الأمر ولم تقبل نون التوكيد فهي اسم فعل (1) وإلى ذلك أشار بقوله:

والأمر إن لم يك للنون محل … فيه هو اسم نحو صه وحيهل (2)

--------------------------------------------

(1) وكذا إذا دلت الكلمة على معنى الفعل المضارع ولم تقبل علامته وهي لم فإنها تكون اسم فعل مضارع، نحو أوه وأف، بمعنى أتوجع وأتضجر، وإن دلت الكلمة على معنى الفعل الماضي وامتنع قبولها علامته امتناعا راجعا إلى ذات الكلمة فإنها تكون اسم فعل ماض، نحو هيهات وشتان، بمعنى بعد وافترق، فإن كان امتناع قبول الكلمة الدالة على الماضي لا يرجع إلى ذات الكلمة، كما في فعل التعجب نحو: " ما أحسن السماء " وكما في " حبذا الاجتهاد " فإن ذلك لا يمنع من كون الكلمة فعلا.

(2) " والامر " الواو عاطفة أو للاستئناف، الامر: مبتدأ " إن " حرف شرط " لم " حرف نفي وجزم " يك " فعل مضارع ناقص مجزوم بلم، وعلامة جزمه سكون النون المحذوفة للتخفيف، وأصله يكن " للنون " جار ومجرور متعلق بمحذوف خبر يك مقدما " محل " اسمها مرفوع بالضمة الظاهرة، وسكن لاجل الوقف " فيه " جار

ومجرور متعلق بمحذوف نعت لمحل " هو اسم " مبتدأ وخبر، والجملة منهما في محل جزم جواب الشرط، وإنما لم يجئ بالفاء للضرورة.

والجملة من الشرط وجوابه في محل رفع خبر المبتدأ، أو تجعل جملة " هو اسم " في محل رفع خبر المبتدأ الذي هو قوله =
মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন) ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো তার পূর্বে 'লাম' (لم) যুক্ত হওয়া শুদ্ধ হওয়া। যেমন- 'ইয়াশাম্মু' শব্দের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন 'লাম ইয়াশাম' এবং 'ইয়াদরিবু' শব্দের ক্ষেত্রে 'লাম ইয়াদরিব'। এরই প্রতি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "মুদারে ক্রিয়া তা-ই যা 'লাম'-এর পরে আসে, যেমন- ইয়াশাম।"

অতঃপর তিনি মাজি (অতীতকালীন) ক্রিয়াকে পৃথক করার চিহ্নের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, "আর মাজি ক্রিয়াকে 'তা' দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করো।" অর্থাৎ, মাজি ক্রিয়াকে 'তা' এর মাধ্যমে পার্থক্য করো। এখানে 'তা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'তা-য়ে ফায়েল' (কর্তৃবাচক তা) এবং সুকুনযুক্ত 'তা-য়ে তানিছ' (স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা)। এ দুটির কোনটিই মাজি বা অতীতকালীন রূপ ছাড়া অন্য কোথাও প্রবেশ করে না। যেমন: "হে মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী, আপনি বরকতময় হয়েছেন", "হিন্দ কতই না উত্তম নারী" এবং "দা'দ কতই না মন্দ নারী" ।

এরপর তিনি পঙ্ক্তির অবশিষ্টাংশে উল্লেখ করেছেন যে, আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়ার চিহ্ন হলো 'নুনে তাকিদ' (দৃঢ়তাসূচক নুন) গ্রহণ করা এবং তার রূপ বা গঠনের মাধ্যমেই আদেশের অর্থ প্রদান করা। যেমন: "অবশ্যই প্রহার করো" এবং "অবশ্যই বের হও"। যদি কোনো শব্দ আদেশের অর্থ প্রদান করে কিন্তু 'নুনে তাকিদ' গ্রহণ না করে, তবে তা 'ইসমে ফেয়েল' (ক্রিয়াসদৃশ বিশেষ্য) (১) হিসেবে গণ্য হবে। এরই প্রতি তিনি ইঙ্গিত করে বলেছেন:

আর আমর (আদেশসূচক অর্থ) প্রকাশকারী শব্দে যদি নুন-এর স্থান না থাকে … তবে সেটি হলো ইসম, যেমন- সাহ এবং হায়্যাহাল (২)

--------------------------------------------

(১) অনুরূপভাবে, যদি কোনো শব্দ মুদারে ক্রিয়ার অর্থ প্রদান করে কিন্তু তার চিহ্ন অর্থাৎ 'লাম' গ্রহণ না করে, তবে তা 'ইসমে ফেয়েল মুদারে' হবে। যেমন- 'আউয়াহ' এবং 'উফ', যা যথাক্রমে 'আমি ব্যথিত হচ্ছি' এবং 'আমি বিরক্ত হচ্ছি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর যদি শব্দটি মাজি ক্রিয়ার অর্থ প্রদান করে এবং মাজি ক্রিয়ার চিহ্ন গ্রহণ করতে অসমর্থ হয়—আর এই অসমর্থতা যদি শব্দটির নিজস্ব সত্তাগত কারণে হয়—তবে সেটি 'ইসমে ফেয়েল মাজি' হবে। যেমন- 'হায়হাতা' এবং 'শাত্তানা', যা যথাক্রমে 'অনেক দূরে' এবং 'পৃথক হয়েছে' অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মাজি অর্থ প্রদানকারী শব্দের চিহ্ন গ্রহণে অস্বীকৃতি যদি শব্দটির নিজস্ব সত্তার কারণে না হয়, যেমনটি বিস্ময়সূচক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়: "আকাশ কতই না সুন্দর!" এবং "পরিশ্রম কতই না চমৎকার!", তবে সেটি শব্দটির ক্রিয়া (ফেয়েল) হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হবে না।

(২) "ওয়াল আমরু": এখানে ওয়াও অব্যয়টি সংযোজক অথবা প্রারম্ভিক। 'আল-আমর' শব্দটি মুক্তাদা। 'ইন' একটি শর্তবাচক অব্যয়। 'লাম' হলো না-বোধক ও জযম দানকারী অব্যয়। 'ইয়াকু' শব্দটি 'লাম' এর কারণে জযমপ্রাপ্ত একটি অসম্পূর্ণ মুদারে ক্রিয়া, এর জযমের চিহ্ন হলো সহজীকরণের উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত নুনের সুকুন; এর মূল রূপ ছিল 'ইয়াকুনু'। 'লিন-নুন' হলো যার-মাজরুর যা 'ইয়াকু'-এর উহ্য অগ্রবর্তী খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'মাহাল্লুন' শব্দটি 'ইয়াকু'-এর ইসিম, যা স্পষ্ট পেশ দ্বারা রফাপ্রাপ্ত এবং ছন্দের বিরতির কারণে সুকুনযুক্ত হয়েছে। 'ফিহি' যার

মাজরুর যা 'মাহাল্লুন' এর উহ্য গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট। "হুয়া ইসামুন" হলো মুক্তাদা ও খবর, আর এদের সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি শর্তের জওয়াব হিসেবে জযমের স্থানে রয়েছে। মূলত ছন্দের প্রয়োজনেই এখানে 'ফা' যুক্ত করা হয়নি।

আর শর্ত ও জওয়াব মিলে গঠিত বাক্যটি মুক্তাদা-র খবর হিসেবে রফা-র স্থানে রয়েছে, অথবা "হুয়া ইসামুন" বাক্যটিকে সেই মুক্তাদা-র খবর হিসেবে ধরা হবে যা হলো তাঁর বক্তব্য =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
فصه وحيهل اسمان وإن دلا على الأمر لعدم قبولهما نون التوكيد فلا تقول صهن ولا حيهلن وإن كانت صه بمعنى اسكت وحيهل بمعنى أقبل فالفارق (1) بينهما قبول نون التوكيد وعدمه نحو اسكتن وأقبلن ولا يجوز ذلك في صه وحيهل.

--------------------------------------------

= الامر في أول البيت، وتكون جملد جواب الشرط محذوفة دلت عليها جملة المبتدأ وخبره، والتقدير على هذا: والدال على الامر هو اسم إن لم يكن فيه محل للنون فهو اسم، وحذف جواب الشرط عندما لا يكون فعل الشرط ماضيا ضرورة أيضا، فالبيت لا يخلو من الضرورة " نحو " خبر لمبتدأ محذوف، والتقدير: وذلك نحو، ونحو مضاف و" صه " مضاف إليه، وقد قصد لفظه " وحيهل " معطوف على صه.

(1) ثلاثة فوائد - الاولى: أسماء الافعال على ثلاثة أنواع، النوع الاول: ما هو واجب التنكير، وذلك نحو ويها وواها، والنوع الثاني: ما هو واجب التعريف، وذلك نحو نزال وتراك وبابهما، والثالث: ما هو جائز التنكير والتعريف، وذلك نحو صه ومه، فما نون وجوبا أو جوازا فهو نكرة، وما لم ينون فهو معرفة.

والفائدة الثانية: توافق أسماء الافعال الافعال في ثلاثة أمور، أولها: الدلالة على المعنى، وثانيها: أن كل واحد من أسماء الافعال يوافق الفعل الذي يكون بمعناه في التعدي واللزوم غالبا، وثالثها: أنه يوافق الفعل الذي بمعناه في إظهار الفاعل وإضماره، ومن غير الغالب في التعدي نحو " آمين " فإنه لم يحفظ في كلام العرب تعديه لمفعول، مع أنه

بمعنى استجب وهو فعل متعد، وكذا " إيه " فإنه لازم مع أن الفعل الذي بمعناه وهو زدني متعد، وتخالفها في سبعة أمور، الاول: أنه لا يبرز معها ضمير، بل تقول " صه " بلفظ واحد للمفرد والمثنى والجمع المذكر والمؤنث، بخلاف " اسكت " فإنك تقول: اسكتي، واسكتا، واسكتوا، واسكتن، والثاني أنها لا يتقدم معمولها عليها، فلا تقول: " زيدا عليك " كما تقول: " محمدا الزم " والثالث أنه يجوز توكيد الفعل توكيدا لفظيا باسم الفعل، تقول: انزل نزال، وتقول: اسكت صه، كما تقول: انزل انزل، واسكت اسكت، ولا يجوز توكيد اسم الفعل بالفعل، والرابع: أن الفعل إذا دل على الطلب جاز نصب =
সুতরাং সাহ এবং হায়হালা হলো দুটি ইসম (বিশেষ্য), যদিও সেগুলো নির্দেশের অর্থ প্রকাশ করে, কারণ সেগুলো নূন-এ তাকিদ (দৃঢ়তাবাচক নূন) গ্রহণ করে না। তাই আপনি সাহান্না বা হায়হালান্না বলতে পারবেন না। যদিও সাহ শব্দটি উস্কুত (চুপ করো) এবং হায়হালা শব্দটি আকবিল (এগিয়ে এসো) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য (১) হলো নূন-এ তাকিদ গ্রহণ করা বা না করা; যেমন উস্কুতান্না এবং আকবিলান্না, আর সাহ ও হায়হালা-এর ক্ষেত্রে এটি জায়েয নেই।

--------------------------------------------

= আমর শব্দটি বৈতটির শুরুতে রয়েছে, এবং শর্তের জওয়াব-এর বাক্যটি উহ্য রয়েছে যা মুক্তাদা এবং খবরের বাক্য দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এই হিসেবে তকদির (মূল রূপ) হবে: যা আমরের নির্দেশ দেয় তা হলো ইসম, যদি তাতে নূন-এর কোনো স্থান না থাকে তবে তা ইসম। শর্তের জওয়াব বিলুপ্ত করাও একটি কাব্যিক প্রয়োজন (যরুরত) যখন শর্তের ক্রিয়াটি অতীতকালীন না হয়। সুতরাং বৈতটি কাব্যিক প্রয়োজন হতে মুক্ত নয়। 'নাহউ' হলো একটি উহ্য মুক্তাদার খবর, এর তকদির হলো: 'এবং তা হলো এর ন্যায়'। নাহউ শব্দটি মুদাফ এবং 'সাহ' শব্দটি মুদাফ ইলাইহি, আর এখানে শব্দটির বাহ্যিক রূপই উদ্দেশ্য। 'হায়হালা' শব্দটি 'সাহ'-এর ওপর আতফ করা হয়েছে।

(১) তিনটি ফায়দা - প্রথমটি: আসমাউল আফআল (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য) তিন প্রকার। প্রথম প্রকার: যা সর্বদা নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হওয়া আবশ্যক, যেমন 'ওয়াইহান' এবং 'ওয়াহান'। দ্বিতীয় প্রকার: যা সর্বদা মারেফা (নির্দিষ্ট) হওয়া আবশ্যক, যেমন 'নাযালি' ও 'তারাকি' এবং এই জাতীয় শব্দ। তৃতীয় প্রকার: যেগুলোতে নাকেরা এবং মারেফা উভয়ই হওয়া জায়েয, যেমন 'সাহ' ও 'মাহ'। সুতরাং যা আবশ্যিকভাবে বা বিকল্পভাবে তানভীনযুক্ত হয় তা নাকেরা, আর যা তানভীনযুক্ত হয় না তা মারেফা।

দ্বিতীয় ফায়দা: আসমাউল আফআল তিনটি বিষয়ে ফিলের (ক্রিয়ার) সাথে সাদৃশ্য রাখে। প্রথমটি: অর্থের বর্ণনায়। দ্বিতীয়টি: প্রতিটি আসমাউল আফআল সাধারণত সেই ফিলের অনুগামী হয় যার অর্থ সে প্রকাশ করে, মোতা’আদ্দী (সকর্মক) এবং লাযিম (অকর্মক) হওয়ার ক্ষেত্রে। তৃতীয়টি: ফায়িল (কর্তা) প্রকাশমান হওয়া এবং উহ্য থাকার ক্ষেত্রেও এটি সেই ফিলের অনুরূপ হয় যার অর্থ সে প্রদান করে। মোতা’আদ্দী হওয়ার ক্ষেত্রে যা সচরাচর দেখা যায় না তার উদাহরণ হলো 'আমীন', কারণ এটি মাফউলকে নসব প্রদান করে এমন ব্যবহার আরবদের কথায় সংরক্ষিত নেই, যদিও এটি

'ইস্তাজিব' (কবুল করুন) অর্থে ব্যবহৃত হয় যা একটি মোতা’আদ্দী ফিল। অনুরূপভাবে 'ইহ' শব্দটি লাযিম, অথচ এর সমার্থক ফিল 'যিদনী' (আমাকে আরও দিন) একটি মোতা’আদ্দী ফিল। এবং এটি ফিলের সাথে সাতটি বিষয়ে ভিন্নতা রাখে। প্রথমত: এগুলোর সাথে কোনো যমীর (সর্বনাম) প্রকাশ পায় না, বরং আপনি একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন এবং স্ত্রী ও পুরুষবাচক—সকলের জন্য একই শব্দ 'সাহ' বলবেন। এর বিপরীতে 'উস্কুত' (চুপ করো), কারণ আপনি বলবেন: উস্কুতী, উস্কুতা, উস্কুতু, উস্কুতনা। দ্বিতীয়ত: এগুলোর মামূল এগুলোর আগে আসতে পারে না, সুতরাং আপনি বলতে পারবেন না 'যাইদান আলাইকা' যেভাবে আপনি বলতে পারেন 'মুহাম্মাদান ইলযাম'। তৃতীয়ত: ফিলের তাকিদে লাফযী হিসেবে আসমাউল আফআল ব্যবহার করা জায়েয। আপনি বলবেন: 'ইনযিল নাযালি' এবং 'উস্কুত সাহ', যেভাবে আপনি বলেন: 'ইনযিল ইনযিল' এবং 'উস্কুত উস্কুত'। তবে ফিল দিয়ে আসমাউল আফআল-এর তাকিদ দেওয়া জায়েয নয়। চতুর্থত: যখন ফিল الطلب (অনুরোধ বা নির্দেশ) নির্দেশ করে তখন নসব প্রদান করা জায়েয =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৭)
_________

= المضارع في جوابه، فتقول: انزل فأحدثك، ولا يجوز نصب المضارع في جواب اسم الفعل ولو كان دالا على الطلب كصه ونزال، والخامس: أن أسماء الافعال لا تعمل مضمرة، بحيث تحذف ويبقى معمولها، ولا متأخرة عن معمولها، بل متى وجدت معمولا تقدم على اسم فعل تعين عليك تقدير فعل عامل فيه، فنحو قول الشاعر: يأيها المائح دلوي دونكا إني رأيت الناس يحمدونكا يقدر: خذ دلوى، ولا يجعل قوله: " دلوي " معمولا لدونكا الموجود، ولا لآخر مثله مقدر، على الاصح.

والسادس: أن أسماء الافعال غير متصرفة، فلا تختلف أبنيتها لاختلاف الزمان، بخلاف الافعال.

والسابع: أنها لا تقبل علامات الافعال كالنواصب والجوازم ونون التوكيد وياء المخاطبة وتاء الفاعل، وهو ما ذكره الشارح في هذا الموضع، فاحفظ هذا كله، وكن منه على ثبت، والله يتولاك.

الفائدة الثالثة، اختلف النحاة في أسماء الافعال، فقال جمهور البصريين: هي أسما قامت مقام الافعال في العمل، ولا تتصرف تصرف الافعال بحيث تختلف أبنيتها لاختلاف الزمان، ولا تصرف الاسماء بحيث يسند إليها إسنادا معنويا فتقع مبتدأ وفاعلا، وبهذا فارقت الصفات كأسماء الفاعلين والمفعولين، وقال جمهور الكوفيين: إنها أفعال، لانها

تدل على الحدث والزمان، كل ما في الباب أنها جامدة لا تتصرف، فهي كليس وعسى ونحوهما، وقال أبو جعفر بن صابر: هي نوع خاص من أنواع الكلمة، فليست أفعالا وليست أسماء، لانها لا تتصرف تصرف الافعال ولا تصرف الاسماء، ولانها لا تقبل علامة الاسماء ولا علامة الافعال، وأعطاها أبو جعفر اسما خاصا بها حيث سماها " خالفة ".

এর জবাবে মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনি বলবেন: ‘নিচে নামো, তাহলে আমি তোমার সাথে কথা বলব’। তবে ইসমে ফে’লের জবাবে মুদারে মানসুব (নসবযুক্ত) হওয়া জায়েজ নেই, যদিও তা ‘সাহ’ (চুপ করো) এবং ‘নাযালি’ (নামো)-এর মতো তলব বা অনুরোধ নির্দেশ করে। পঞ্চম: ইসমে ফে’লসমূহ উহ্য অবস্থায় আমল (ক্রিয়া সম্পাদন) করে না, অর্থাৎ এমনটি হয় না যে ইসমে ফে’লটি বিলুপ্ত হবে অথচ তার মা’মূল (যাকে প্রভাবিত করা হয়েছে) অবশিষ্ট থাকবে। আবার এগুলো তার মা’মূলের পরেও আসে না। বরং যখনই আপনি দেখবেন যে কোনো মা’মূল ইসমে ফে’লের আগে চলে এসেছে, তখন আপনার জন্য সেখানে একটি আমেল ফে’ল (ক্রিয়াপদ) উহ্য ধরা আবশ্যক হয়ে পড়বে। যেমন কবির পঙক্তি: ‘হে কূপ থেকে পানি উত্তোলনকারী, আমার বালতিটি ধরুন, নিশ্চয়ই আমি দেখেছি মানুষ আপনার প্রশংসা করছে’। এখানে ‘আমার বালতিটি ধরুন’ উহ্য ধরা হবে। বিশুদ্ধতম মতানুসারে, ‘আমার বালতি’ শব্দটিকে উপস্থিত ‘দুনাকা’ শব্দের মা’মূল হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং এর মতো অন্য কোনো উহ্য শব্দের মা’মূলও ধরা হবে না।

ষষ্ঠ: ইসমে ফে’লসমূহ অ-রূপান্তরযোগ্য (অব্যয় সদৃশ)। ফলে কালের পরিবর্তনের কারণে এগুলোর গঠনে কোনো পরিবর্তন হয় না, যা সাধারণ ক্রিয়াপদের (ফে’ল) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

সপ্তম: এগুলো ফে’লের আলামত বা চিহ্নসমূহ গ্রহণ করে না, যেমন—নসব প্রদানকারী অব্যয়, জজম প্রদানকারী অব্যয়, নুনে তাকিদ, ইয়ায়ে মুখাতাব এবং তায়ে ফায়েল। এটিই ব্যাখ্যাকার এখানে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই সব বিষয় মুখস্থ রাখুন এবং এ ব্যাপারে সুদৃঢ় হোন। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।

তৃতীয় ফায়দা: ইসমে ফে’ল নিয়ে ব্যাকরণবিদগণ মতভেদ করেছেন। বসরার জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম বলেন: এগুলো এমন ইসম বা বিশেষ্য যা আমল করার ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এগুলো ক্রিয়াপদের মতো রূপান্তরযোগ্য নয় যে সময়ের ব্যবধানে এর গঠন পরিবর্তিত হবে, আবার এগুলো বিশেষ্যের মতোও রূপান্তরযোগ্য নয় যে এর দিকে অর্থগতভাবে কোনো কিছুকে সম্বন্ধ করা যাবে (ইসনাদ) এবং তা মুবতাদা বা ফায়েল হতে পারবে। এই দিক থেকেই এগুলো ইসমে ফায়েল এবং ইসমে মাফউলের মতো গুণবাচক শব্দগুলো থেকে পৃথক। কুফার জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম বলেন: এগুলো মূলত ফে’ল বা ক্রিয়াপদ;

কারণ এগুলো কাজ এবং কাল উভয়টিই নির্দেশ করে। এই বিষয়ের মূল কথা হলো, এগুলো জামিদ (অপরিবর্তনীয়), যা রূপান্তর করা যায় না। ফলে এগুলো ‘লাইসা’ এবং ‘আসা’ বা এই জাতীয় শব্দের মতো। আবু জাফর ইবনে সাবের বলেন: এগুলো শব্দের প্রকারভেদের মধ্যে একটি বিশেষ প্রকার। এগুলো ফে’ল নয় এবং ইসমও নয়। কারণ এগুলো ফে’লের মতো রূপান্তর হয় না এবং ইসমের মতোও রূপান্তর হয় না। অধিকন্তু এগুলো ইসমের আলামতও গ্রহণ করে না এবং ফে’লের আলামতও গ্রহণ করে না। আবু জাফর এগুলোকে একটি বিশেষ নাম দিয়েছেন এবং একে ‘খালিফাহ’ বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المعرب والمبني (1)

والاسم منه معرب ومبني … لشبه من الحروف مدني (2)

يشير إلى أن الاسم ينقسم إلى قسمين:

أحدهما: المعرب وهو ما سلم من شبه الحروف.

والثاني: المبني وهو ما أشبه الحروف وهو المعني بقوله لشبه من الحروف مدني أي لشبه مقرب من الحروف فعلة البناء منحصرة عند المصنف رحمه الله تعالى في شبه الحرف.

ثم نوع المصنف وجوه الشبه في البيتين الذين بعد هذا البيت وهذا قريب من مذهب أبي علي الفارسي حيث جعل البناء منحصرا في شبه الحرف أو ما تضمن معناه وقد نص سيبويه رحمه الله على أن علة البناء كلها ترجع إلى شبه الحرف

--------------------------------------------

(1) أي: هذا باب المعرب والمبني، وإعرابه ظاهر.

(2) " والاسم " الواو للاستئناف، الاسم: مبتدأ أول " منه " جار ومجرور متعلق بمحذوف خبر مقدم " معرب " مبتدأ مؤخر، والجملة منه ومن خبره خبر المبتدأ الاول، " ومبني " مبتدأ، وخبره محذوف، والتقدير " ومنه مبني " ولا يجوز أن تعطف قوله مبني على معرب، لانه يستلزم أن يكون المعنى أن بعض الاسم معرب ومبني في آن واحد، أو يستلزم أن بعض الاسم معرب ومبني وبعضه الآخر ليس بمعرب ولا مبني، وهو قول ضعيف أباه جمهور المحققين من النحاة " لشبه " جار ومجرور متعلق

بمبني، أو متعلق بخبر محذوف مع مبتدئه والتقدير: " وبناؤه ثابت لشبه " " من الحروف " جار ومجرور متعلق بشبه أو بمدني " مدني " نعت لشبه، وتقدير البيت: والاسم بعضه معرب وبعضه الآخر مبني، وبناء ذلك المبني ثابت لشبه مدن له من الحرف ومدني: اسم فاعل فعله أدنى، تقول: أدنيت الشئ من الشئ، إذا قربته منه، والياء فيه هنا ياء زائدة للاشباع، وليست لام الكلمة، لان ياء المنقوص المنكر غير المنصوب تحذف وجوبا.
মু'রাব (পরিবর্তনশীল) এবং মাবনি (অপরিবর্তনীয়) (১)

বিশেষ্য বা ইসমের মধ্যে কিছু মু'রাব এবং কিছু মাবনি … অব্যয় বা হরফের সাথে নৈকট্যপূর্ণ সাদৃশ্যের কারণে (২)

এটি নির্দেশ করছে যে, ইসম বা বিশেষ্য দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথমটি: মু'রাব, যা অব্যয়ের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত।

দ্বিতীয়টি: মাবনি, যা অব্যয়ের সদৃশ। আর তাঁর উক্তি "অব্যয়ের সাথে নৈকট্যপূর্ণ সাদৃশ্যের কারণে" দ্বারা এটিই বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ অব্যয়ের সাথে এমন সাদৃশ্য যা তাকে তার নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং গ্রন্থকার (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট শব্দ অপরিবর্তনীয় (বিনা) হওয়ার কারণ কেবল অব্যয়ের সাদৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এরপর গ্রন্থকার এই পংক্তির পরবর্তী দুটি পংক্তিতে সাদৃশ্যের প্রকারগুলো বর্ণনা করেছেন। এটি আবু আলী আল-ফারিসীর মতবাদের কাছাকাছি, কারণ তিনি শব্দ অপরিবর্তনীয় হওয়াকে অব্যয়ের সাদৃশ্য অথবা অব্যয়ের অর্থ ধারণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। সিবওয়াইহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শব্দ অপরিবর্তনীয় হওয়ার সমস্ত কারণ অব্যয়ের সাদৃশ্যেই পর্যবসিত হয়।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: এটি মু'রাব ও মাবনি বিষয়ক অধ্যায়, আর এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ স্পষ্ট।

(২) "ওয়াল ইসমু" এখানে 'ওয়াও' প্রারম্ভিক ব্যবহারের জন্য, 'ইসমু' হলো প্রথম উদ্দেশ্য (মুবতাদা)। "মিনহু" যার ও মাজরুর যা একটি উহ্য ও অগ্রবর্তী বিধেয় (খবর)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। "মু'রাব" হলো পরবর্তী উদ্দেশ্য (মুবতাদা)। এই বাক্যটি এবং এর বিধেয় মিলে প্রথম উদ্দেশ্যের বিধেয় হয়েছে। "ওয়া মাবনি" এটি একটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা), যার বিধেয় (খবর) উহ্য রয়েছে। এর পূর্ণরূপ হলো "এবং তার মধ্যে কিছু মাবনি"। এখানে 'মাবনি' শব্দটিকে 'মু'রাব' শব্দের ওপর সংযোজক (আতফ) করা বৈধ নয়; কারণ এর ফলে অর্থ দাঁড়াবে যে, কোনো কোনো বিশেষ্য একই সাথে মু'রাব এবং মাবনি, অথবা এর অর্থ দাঁড়াবে যে কোনো কোনো বিশেষ্য মু'রাব ও মাবনি এবং অন্য কিছু অংশ মু'রাব বা মাবনি কোনোটিই নয়—যা একটি দুর্বল মত এবং অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ গবেষক এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। "লি শাবাহিন" যার ও মাজরুর যা 'মাবনি' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট,

অথবা এটি একটি উহ্য বিধেয় ও উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট যার পূর্ণরূপ হলো: "এবং এর অপরিবর্তনীয়তা সাদৃশ্যের কারণে সুসাব্যস্ত"। "মিনাল হুরুফি" যার ও মাজরুর যা 'শাবাহ' বা 'মুদনী' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। "মুদনী" হলো সাদৃশ্যের (শাবাহ) বিশেষণ। এই পংক্তির সারমর্ম হলো: বিশেষ্যের কিছু অংশ মু'রাব এবং অন্য অংশ মাবনি; আর সেই মাবনি হওয়ার কারণ হলো অব্যয়ের সাথে তার নৈকট্যপূর্ণ সাদৃশ্য। 'মুদনী' শব্দটি একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফায়িল) যার ক্রিয়ামূল হলো 'আদনা'। আপনি যখন কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর কাছে নিয়ে যান, তখন বলা হয় 'আমি বস্তুটিকে নিকটবর্তী করেছি'। এখানে 'ইয়া' অক্ষরটি ছন্দের পূর্ণতা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে, এটি শব্দের মূল বর্ণ নয়; কারণ ইসমুন মানকুস যখন অনির্দিষ্ট এবং পেশ বা জের অবস্থায় থাকে, তখন তার 'ইয়া' বিলুপ্ত হওয়া ব্যাকরণগতভাবে আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
وممن ذكره ابن أبي الربيع. (1)

--------------------------------------------

(1) اعلم أنهم اختلفوا في سبب بناء بعض الاسماء: أهو شئ واحد يوجد في كل مبني منها أو أشياء متعددة يوجد واحد منها في بعض أنواع المبنيات وبعض آخر في نوع آخر، وهكذا؟ فذهب جماعة إلى أن السبب متعدد، وأن من الاسباب مشابهة الاسم في المعنى للفعل المبني، ومثاله - عند هؤلاء - من الاسم: " نزال وهيهات " فإنهما لما أشبها " انزل وبعد " في المعنى بنيا، وهذا السبب غير صحيح، لانه لو صح للزم بناء نحو " سقيا لك " و" ضربا زيدا " فإنهما بمعنى فعل الامر وهو مبني.

وأيضا يلزمه إعراب نحو " أف " و" أوه " ونحوهما من الاسماء التي تدل على معنى الفعل المضارع المعرب، ولم يقل بذلك أحد، وإنما العلة التي من أجلها بني " نزال " و" شتان " و" أوه " وغيرها من أسماء الافعال هي مشابهتها الحرف في كونها عاملة في غيرها غير معمولة لشئ، ألا ترى أنك إذا قلت نزال كان اسم فعل مبنيا على الكسر لا محل له من الاعراب، وكان له فاعل هو ضمير مستتر فيه وجوبا تقديره أنت، وهذا الفاعل هو المعمول لاسم الفعل، ولا يكون اسم الفعل أبدا متأثرا بعامل يعمل فيه، لا في لفظه ولا في محله.

وقال قوم منهم ابن الحاجب: إن من أسباب البناء عدم التركيب، وعليه تكون الاسماء قبل تركيبها في الجمل مبنية، وهو ظاهر الفساد، والصواب أن الاسماء قبل تركيبها في الجمل ليست معربة ولا مبنية، لان الاعراب والبناء حكمان من أحكام التراكيب، ألا ترى أنهم يعرفون الاعراب بأنه: أثر ظاهر أو مقدر يجلبه العامل، أو يعرفونه بأنه: تغير أواخر الكلمات لاختلاف العوامل الداخلة عليها، والبناء ضده، فما لم يكن تركيب لا يجوز الحكم بإعراب الكلمة ولا ببنائها.

وقال آخرون: إن من أسباب البناء أن يجتمع في الاسم ثلاثة أسباب من موانع الصرف، وعللوه بأن السببين يمنعان من صرف الاسم، وليس بعد منع الصرف إلا ترك الاعراب بالمرة، ومثلوا لذلك ب " حذام، وقطام " ونحوهما، وادعوا أن سبب بناء هذا الباب اجتماع العلمية، والتأنيث، والعدل عن حاذمة وقاطمة، وهو فاسد، فإنا وجدنا من الاسماء ما اجتمع فيه خمسة أسباب من موانع الصرف، وهو مع ذلك معرب، ومثاله " آذربيجان " فإن فيه العلمية والتأنيث والعجمة والتركيب وزيادة الالف والنون، =
যাঁরা এটি উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে ইবন আবিল রবিও রয়েছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) জেনে রাখুন যে, কিছু বিশেষ্যের (ইসম) 'মাবনি' হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁরা দ্বিমত পোষণ করেছেন: এটি কি এমন একটি একক বিষয় যা প্রতিটি মাবনি শব্দে বিদ্যমান, নাকি এটি একাধিক বিষয় যার একটি কোনো কোনো প্রকারের মাবনি শব্দে পাওয়া যায় এবং অন্যটি অন্য প্রকারের শব্দে পাওয়া যায়, এভাবেই কি চলে? একদল অভিমত দিয়েছেন যে, কারণটি একাধিক। তাঁদের মতে একটি কারণ হলো, অর্থের দিক থেকে বিশেষ্যের (ইসম) সাথে 'মাবনি' ক্রিয়ার (ফেল) সাদৃশ্য থাকা। তাঁদের নিকট এর উদাহরণ হলো 'নাযালি' এবং 'হায়হাতা' এর মতো বিশেষ্যগুলো। কেননা এই শব্দ দুটি যখন 'ইনযিল' এবং 'বাউদা' এর সাথে অর্থের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তখন সেগুলো 'মাবনি' হয়ে যায়। তবে এই কারণটি সঠিক নয়। কারণ এটি সঠিক হলে 'সাকইয়ান লাকা' এবং 'দারবান যাইদান' এর মতো শব্দগুলোকেও 'মাবনি' হওয়া আবশ্যক হতো, কেননা এগুলোও 'ফেল আমর' (আদেশসূচক ক্রিয়া) এর অর্থে ব্যবহৃত হয় যা মাবনি।

এছাড়াও এর দ্বারা 'উফ' ও 'আউয়াহ' এবং এ জাতীয় শব্দগুলোর 'ইরাব' গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা মূলত 'মোরাব ফেল মুযারি' (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) এর অর্থ প্রদান করে। অথচ কেউ এমন কথা বলেননি। মূলত 'নাযালি', 'শাত্তানা', 'আউয়াহ' এবং অন্যান্য 'ইসমে ফেল' যে কারণে মাবনি হয়েছে তা হলো হরফের সাথে এগুলোর সাদৃশ্য—যেহেতু এগুলো অন্য শব্দের ওপর আমল (প্রভাব বিস্তার) করে কিন্তু অন্য কোনো কিছু দ্বারা এগুলো প্রভাবিত হয় না (মামুল হয় না)। আপনি কি দেখেন না যে, যখন আপনি 'নাযালি' বলেন, তখন এটি কাছরার (জের) ওপর মাবনি একটি ইসমে ফেল হিসেবে গণ্য হয়, যার কোনো ইরাবগত অবস্থান নেই। এর মধ্যে 'আনতা' (তুমি) উহ্য সর্বনামটি হলো এর 'ফায়িল' (কর্তা)। আর এই ফায়িলটিই হলো ইসমে ফেলের 'মামুল'। আর ইসমে ফেল কখনো তার ওপর আমলকারী কোনো আমেল দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তার উচ্চারণেও নয় এবং তার অবস্থানেও নয়।

ইবনুল হাজিবসহ একদল আলিম বলেছেন: মাবনি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাক্য গঠন না হওয়া (আদমুত তারকিব)। সেই অনুযায়ী, বাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার আগে সকল বিশেষ্য (ইসম) মাবনি হবে। অথচ এটি স্পষ্টতই ভুল। সঠিক মত হলো, বাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার আগে বিশেষ্যগুলো মোরাব বা মাবনি কোনোটিই নয়। কেননা ইরাব এবং বিনাহ (মাবনি হওয়া) হলো বাক্য গঠনের পরের বিধান। আপনি কি দেখেন না যে, তাঁরা ইরাবের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: 'এটি হলো দৃশ্যমান বা উহ্য কোনো প্রভাব যা আমেল দ্বারা সৃষ্টি হয়।' অথবা তাঁরা এভাবে সংজ্ঞা দেন: 'শব্দের ওপর প্রবেশকারী বিভিন্ন আমেলের ভিন্নতার কারণে শব্দের শেষভাগের পরিবর্তন হওয়া।' আর মাবনি হওয়া হলো এর বিপরীত। সুতরাং যতক্ষণ বাক্য গঠন না হবে, ততক্ষণ কোনো শব্দের ব্যাপারে মোরাব বা মাবনি হওয়ার হুকুম দেওয়া বৈধ নয়।

অন্যেরা বলেছেন: মাবনি হওয়ার একটি কারণ হলো কোনো বিশেষ্যের মধ্যে 'মাওয়ানিউস সারফ' (গায়রে মুনসারিফ হওয়ার কারণ) এর তিনটি কারণ একত্রিত হওয়া। তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে, দুটি কারণ থাকলে শব্দটি গায়রে মুনসারিফ হয়, আর এরপর ইরাব পুরোপুরি ত্যাগ করা (অর্থাৎ মাবনি হওয়া) ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। তাঁরা এর উদাহরণ হিসেবে 'হাযামি', 'কাতামি' ও এ জাতীয় শব্দের কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা দাবি করেন যে, এই শব্দগুলোর মাবনি হওয়ার কারণ হলো এতে আলমিয়াহ (নাম হওয়া), তানিছ (স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া) এবং 'হাযিমাহ' ও 'কাতিমাহ' থেকে আদল (রূপান্তর) হওয়া—এই তিনটি কারণ একত্রিত হয়েছে। তবে এটি ভুল। কারণ আমরা এমন কিছু বিশেষ্য পেয়েছি যাতে গায়রে মুনসারিফ হওয়ার পাঁচটি কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সেগুলো 'মোরাব'। এর উদাহরণ হলো 'আজারবাইজান', কেননা এতে আলমিয়াহ (নাম হওয়া), তানিছ (স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া), উজমা (অনারব শব্দ), তারকিব (সংযুক্তি) এবং শেষে আলিফ ও নুন অতিরিক্ত থাকা—এই সবকটি কারণ বিদ্যমান। =
(খণ্ড: ১) শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩০)
كالشبه الوضعي في اسمي جئتنا … والمعنوي في متى وفي هنا (1)

وكنيابة عن الفعل بلا … تأثر وكافتقار أصلا (2)

ذكر في هذين البيتين وجوه شبه الاسم بالحرف في أربعة مواضع:

فالأول: شبهه له في الوضع كأن يكون الاسم موضوعا على حرف.

--------------------------------------------

= وليس بناء حذام ونحوه لما ذكروه، بل لمضارعته في الهيئة نزال ونحوه مما بنى لشبهه بالحرف في نيابته عن الفعل وعدم تأثره بالعامل.

وقال قوم منهم الذين ذكرهم الشارح: إنه لا علة للبناء إلا مشابهة الحرف، وهو رأي الحذاق من النحويين، كل ما في الامر أن شبه الحرف على أنواع.

(1) " كالشبه " جار ومجرور متعلق بمحذوف خبر لمبتدأ محذوف، والتقدير: وذلك

كائن كالشبه " الوضعي " نعت للشبه " في اسمى " جار ومجرور متعلق بمحذوف صفة للوضعي، واسمى مضاف و" جئتنا " قصد لفظه: مضاف إليه " والمعنوي " معطوف على الوضعي " في متى، وفي هنا " جاران ومجروران متعلقان بمحذوف نعت للمعنوي، وتقدير البيت: والشبه المدني من الحروف مثل الشبه الوضعي الكائن في الاسمين الموجودين في قولك " جئتنا " وهما تاء المخاطب و" نا " ومثل الشبه المعنوي الكائن في " متى " الاستفهامية والشرطية وفي " هنا " الاشارية.

(2) " وكنيابة " الواو عاطفة، والجار والمجرور معطوف على كالشبه " عن الفعل " جار ومجرور متعلق بنيابة " بلا تأثر " الباء حرف جر، ولا: اسم بمعنى غير مجرور بالباء، وظهر إعرابه على ما بعده بطريق العارية، والجار والمجرور متعلق بمحذوف نعت لنيابة، ولا مضاف، وتأثر: مضاف إليه، مجرور بكسرة مقدرة على آخره منع من ظهورها اشتغال المحل بحركة العارية التي يقتضيها ما قبله " وكافتقار " الواو حرف عطف والجار والمجرور معطوف على كنيابة " أصلا " فعل ماض مبني للمجهول، والالف للاطلاق، ونائب الفاعل ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو يعود على افتقار، والجملة من الفعل ونائب الفاعل في محل جر نعت لافتقار، وتقدير البيت: ومثل النيابة عن الفعل في العمل مع أنه لا يتأثر بالعامل، ومثل الافتقار المتأصل، والافتقار المتأصل: هو الافتقار اللازم له الذي لا يفرقه في حالة من حالاته.
যেমন 'জইতানা' (তুমি আমাদের নিকট এসেছ) ক্রিয়ার অন্তর্গত দুটি বিশেষ্যের গাঠনিক সাদৃশ্য … এবং 'মাতা' ও 'হুনা' শব্দের মধ্যকার অর্থগত সাদৃশ্য (১)

এবং ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে কারক দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া … এবং মজ্জাগত মুখাপেক্ষিতা (২)

এই দুই চরণে বিশেষ্য ও অব্যয়ের সাদৃশ্যের চারটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে:

প্রথমটি হলো: গঠনে অব্যয়ের সাথে এর সাদৃশ্য, যেমন বিশেষ্যটি একটি বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া।

--------------------------------------------

= হাযামি এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর অপরিবর্তনীয়তা (মাবনি হওয়া) তারা যা উল্লেখ করেছেন তার কারণে নয়, বরং আকৃতিগতভাবে 'নাযালি' ও অনুরূপ শব্দের সদৃশ হওয়ার কারণে, যা ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং কারক-নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার মাধ্যমে অব্যয়ের সাদৃশ্য লাভ করার কারণে অপরিবর্তনীয় হয়েছে।

শারাহকার (ব্যাখ্যাকারী) যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের একদল বলেছেন: অব্যয়ের সাদৃশ্য ছাড়া মাবনি হওয়ার অন্য কোনো কারণ নেই। আর এটিই প্রাজ্ঞ ব্যাকরণবিদদের মত। বিষয়টি কেবল এই যে, অব্যয়ের সাদৃশ্য বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।

(১) "কাশ-শিবহি": জার এবং মাজরুর একটি উহ্য মুবতাদার খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার মূল রূপ হলো: এটি সাদৃশ্যের ন্যায়। "আল-ওয়াদয়ী": সাদৃশ্যের বিশেষণ। "ফি ইসমি": জার এবং মাজরুর "আল-ওয়াদয়ী"-এর উহ্য গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট। "ইসমি" মুদাফ এবং "জইতানা" শব্দটি এর শব্দগত রূপ উদ্দেশ্য করে মুদাফ ইলাইহি হয়েছে। "আল-মানাউয়ী": "আল-ওয়াদয়ী"-এর ওপর সংযোজিত (আতফ)। "ফি মাতা, ওয়া ফি হুনা": জার ও মাজরুরদ্বয় "আল-মানাউয়ী"-এর উহ্য বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট। চরণের সারসংক্ষেপ: অব্যয়ের নিকটবর্তী সাদৃশ্য হলো সেই গাঠনিক সাদৃশ্যের ন্যায় যা তোমার কথা "জইতানা"-এর অন্তর্ভুক্ত দুটি বিশেষ্যের মধ্যে বিদ্যমান—আর তা হলো সম্বোধনের 'তা' এবং 'না'। এবং সেই অর্থগত সাদৃশ্যের ন্যায় যা প্রশ্নবোধক ও শর্তবাচক "মাতা" এবং নির্দেশক "হুনা" শব্দের মধ্যে বিদ্যমান।

(২) "ওয়া কানিয়াবাতিন": ওয়াও হরফে আতফ, জার ও মাজরুরটি "কাশ-শিবহি"-এর ওপর আতফ হয়েছে। "আনিল ফিয়লি": জার ও মাজরুর "নিয়াবাতিন"-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। "বিলা তাআসসুরিন": 'বা' হরফে জার, 'লা' শব্দটি 'গাইর' (ব্যতীত) অর্থে ব্যবহৃত হয়ে 'বা' দ্বারা মাজরুর হয়েছে এবং এর বিভক্তি পরবর্তী শব্দের ওপর অর্পিত হয়েছে। জার ও মাজরুরটি "নিয়াবাতিন"-এর উহ্য বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'লা' মুদাফ এবং "তাআসসুরিন" হলো মুদাফ ইলাইহি, যা এর শেষে উহ্য কাসরা দ্বারা মাজরুর, কারণ স্থানটি পূর্ববর্তী শব্দের অর্পিত হরকত দ্বারা ব্যস্ত। "ওয়া কাফতিকারিন": ওয়াও হরফে আতফ, জার ও মাজরুর "কানিয়াবাতিন"-এর ওপর আতফ। "আসসালা": কর্মবাচ্যের অতীতকালীন ক্রিয়া, আলিফটি ছন্দ মিলানোর জন্য। এর উহ্য নায়েবে ফায়েল হলো 'হুয়া' যা "ইফতিকার" শব্দের দিকে ফিরে যায়। ক্রিয়া ও নায়েবে ফায়েল মিলে বাক্যটি "ইফতিকার"-এর বিশেষণ। চরণের সারসংক্ষেপ: কারক-নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত না হয়েও ক্রিয়ার ন্যায় আমল করার মাধ্যমে স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং মজ্জাগত মুখাপেক্ষিতা। মজ্জাগত মুখাপেক্ষিতা হলো এমন অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা যা কোনো অবস্থাতেই শব্দটিকে ছেড়ে যায় না।