(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك
المؤلف: ابن عقيل، عبد الله بن عبد الرحمن العقيلي الهمداني المصري (المتوفى: 769 هـ)
المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]
الناشر: دار التراث - القاهرة، دار مصر للطباعة، سعيد جودة السحار وشركاه
الطبعة: العشرون 1400 هـ - 1980 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وأول مجلدين، بحاشية: منحة الجليل، بتحقيق شرح ابن عقيل]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর উপর ইবনে আকিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর উপর ইবনে আকিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
লেখক: ইবনে আকিল، আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-আকিলি আল-হামাদানি আল-মিসরি (মৃত্যু: ৭৬৯ হিজরি)
তাহকিক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]
প্রকাশক: দারুত তুরাছ - কায়রো، দারু মিসর লিত্তিবায়াহ، সাঈদ জাওদাহ আস-সাহহার ও অংশীদারগণ
সংস্করণ: বিংশতম ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ، এবং প্রথম দুই খণ্ড، টীকা সহ: মিনহাতুল জলিল، ইবনে আকিলের ব্যাখ্যার তাহকিক সম্বলিত]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك]ـ
المؤلف: ابن عقيل، عبد الله بن عبد الرحمن العقيلي الهمداني المصري (المتوفى: 769هـ)
المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد
الناشر: دار التراث - القاهرة، دار مصر للطباعة، سعيد جودة السحار وشركاه
الطبعة: العشرون 1400 هـ - 1980 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وأول مجلدين، مذيلان بحاشية: منحة الجليل، بتحقيق شرح ابن عقيل]
[ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে আকীলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ]
লেখক: ইবনে আকীল, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-আকীলী আল-হামদানী আল-মিসরী (মৃত্যু: ৭৬৯ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ
প্রকাশক: দারুত তুরাস - কায়রো, দারু মিসর লিত-তিবাআহ, সাঈদ জাওদাহ আস-সাহহার ও অংশীদারগণ
সংস্করণ: বিংশতম, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং প্রথম দুই খণ্ড ‘মিনহাতুল জলীল বি তাহকীক শরহি ইবনি আকীল’ নামক টীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الطبعة الثانيةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله المنعوت بجميل الصفات، وصلى الله على سيدنا محمد أشرف الكائنات، المبعوث بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وعلى آله وصحبه الذين نصبوا أنفسهم للدفاع عن بيضة الدين حتى رفع الله بهم مناره، وأعلى كلمته،
وجعله دينه المرضي، وطريقه المستقيم.
وبعد، فقد كان مما جرى به القضاء أني كتبت منذ أربع سنوات كتاب تعليقات على كتاب الخلاصة (الألفية) الذي صنفه إمام النحاة، أبو عبد الله جمال الدين محمد ابن مالك المولود بجيان سنة ستمائة من الهجرة، والمتوفى في دمشق سنة اثنتين وسبعين وستمائة، وعلى شرحه الذي صنفه قاضي القضاة بهاء الدين عبد الله بن عقيل، المصري، الهاشمي، المولود في سنة ثمان وتسعين وستمائة، والمتوفى في سنة تسع وستين وسبعمائة من الهجرة، ولم يكن يدور بخلدي - علم الله - أن تعليقاتي هذه ستحوز قبول الناس ورضاهم، وأنها ستحل من أنفسهم المحل الذي حلته، بل كنت أقول في نفسي: " إنه أثر يذكرني به الإخوان والأبناء، ولعله يجلب لي دعوة رجل صالح فأكون بذلك من الفائزين ".
ثم جرت الأيام بغير ما كنت أرتقب، فإذا الكتاب يروق قراءه، وينال منهم الإعجاب كل الإعجاب، وإذا هم يطلبون إلي في إلحاح أن أعيد طبعه، ولم يكن قد مضى على ظهوره سنتان، ولم أشأ أن أجيب هذه الرغبة إلا بعد أن أعيد النظر فيه، فأصلح ما عسى أن يكون قد فرط مني، أو أتمم بحثا، أو أبدل عبارة بعبارة أسهل منها وأدنى إلى القصد، أو أضبط مثالا أو كلمة غفلت عن
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উত্তম গুণাবলীতে গুণান্বিত। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ এবং যাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাঁরা দ্বীনের হেফাজতের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন, এমনকি আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে দ্বীনের মিনারকে সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেছেন,
এবং একে তাঁর মনোনীত দ্বীন এবং সঠিক পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
অতঃপর, মহান আল্লাহর ফয়সালায় চার বছর আগে আমি 'আল-খুলাসা' (আলফিয়্যাহ) গ্রন্থের ওপর একটি টীকাগ্রন্থ রচনা করেছিলাম, যা ব্যাকরণবিদদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ জামালুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে মালিক (যিনি হিজরি ছয়শত সনে জিয়ানে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ছয়শত বাহাত্তর সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন) প্রণয়ন করেছিলেন। আর এটি ছিল কাযিল কুযাত বাহাউদ্দিন আব্দুল্লাহ ইবনে আকীল আল-মিসরি আল-হাশিমী (যিনি হিজরি ছয়শত আটানব্বই সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি সাতশত উনসত্তর সনে মৃত্যুবরণ করেন) কর্তৃক রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর। আল্লাহ জানেন, আমার মনে এই চিন্তা আসেনি যে, আমার এই টীকাগুলো মানুষের মাঝে এমন গ্রহণযোগ্যতা ও সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং তাদের অন্তরে এমন স্থান করে নেবে। বরং আমি মনে মনে বলতাম: "এটি এমন এক কাজ যা আমার ভাই ও সন্তানতুল্যদের নিকট আমার স্মৃতি জাগিয়ে রাখবে, আর সম্ভবত এর উসিলায় আমি কোনো নেককার ব্যক্তির দোয়া লাভ করব, যার মাধ্যমে আমি সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হব।"
তারপর দিনগুলো আমার প্রত্যাশার বাইরে অতিবাহিত হতে লাগল। হঠাৎ দেখা গেল যে, বইটি পাঠকদের নিকট পছন্দ হয়েছে এবং তারা এর ভূয়সী প্রশংসা করছেন। তারা জোরালোভাবে এর পুনঃমুদ্রণের অনুরোধ করতে থাকেন, অথচ এটি প্রকাশের পর দুই বছরও অতিবাহিত হয়নি। আমি এই অনুরোধে সাড়া দিতে চাইনি যতক্ষণ না আমি এতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি। ফলে আমি এতে যা কিছু বিচ্যুতি ঘটেছিল তা সংশোধন করেছি, কোনো আলোচনাকে পূর্ণতা দিয়েছি, অথবা কোনো বাক্যকে আরও সহজ ও প্রসঙ্গের নিকটবর্তী বাক্য দ্বারা পরিবর্তন করেছি, কিংবা কোনো উদাহরণ বা শব্দ যা আগে অসতর্কতাবশত এড়িয়ে গিয়েছিলাম তা সঠিকভাবে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪)
ضبطها، أو ما أشبه ذلك من وجوه التحسين التي أستطيع أن أكافئ بها هؤلاء الذين رأوا في عملي هذا ما يستحق التشجيع والتنويه به والإشادة بذكره، وما زالت العوائق تدفعني عن القيام بهذه الأمنية الشريفة وتذودني عن العمل لتحقيقها، حتى أذن الله تعالى، فسنحت لي الفرصة، فلم أتأخر عن اهتبالها، وعمدت إلى الكتاب، فأعملت في تعليقاتي يد الإصلاح والزيادة والتهذيب، كما أعملت في أصله يد التصحيح والضبط والتحرير، وسيجد كل قارئ أثر ذلك واضحا، إن شاء الله.
والله سبحانه وتعالى! المسئول أن يوفقني إلى مرضاته، وأن يجعل عملي خالصا لوجهه، وأن يكتبني ويكتبه عنده من المقبولين، آمين.
كتبه المعتز بالله تعالى
محمد محيي الدين عبد الحميد
এটিকে সুবিন্যস্ত করা, অথবা অনুরূপ উৎকর্ষ সাধনের বিভিন্ন দিক, যার মাধ্যমে আমি সেই ব্যক্তিদের প্রতিদান দিতে পারি যারা আমার এই কাজে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন যা উৎসাহ প্রদান, প্রশংসা ও আলোচনার যোগ্য। দীর্ঘকাল নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা আমাকে এই মহৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হতে ফিরিয়ে রাখছিল এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা হতে বিরত রাখছিল, অবশেষে মহান আল্লাহ অনুমতি দান করলেন এবং আমার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হলো। অতঃপর আমি তা গ্রহণে বিলম্ব করিনি এবং কিতাবটির প্রতি মনোনিবেশ করলাম। আমি আমার টীকাগুলোতে সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের হাত প্রসারিত করলাম, যেমনটি আমি এর মূল পাঠে শুদ্ধিকরণ, বিন্যাস ও সম্পাদনার হাত প্রয়োগ করেছি। ইনশাআল্লাহ, প্রত্যেক পাঠক এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা! তাঁর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দান করেন, আমার এই কাজকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাকে ও এই কাজকে তাঁর নিকট কবুলকৃতদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমিন।
লিখেছেন মহান আল্লাহর মাধ্যমে সম্মান অন্বেষণকারী
মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولى
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله على نعمائه، وصلاته وسلامه على خاتم أنبيائه، وعلى آله وأصحابه وأوليائه اللهم إني أحمدك أرضى الحمد لك، وأحب الحمد إليك، وأفضل الحمد عندك، حمدا لا ينقطع عدده، ولا يفنى مدده.
وأسألك المزيد من صلواتك وسلامك على مصدر الفضائل، الذي ظل ماضيا على نفاذ أمرك، حتى أضاء الطريق للخابط، وهدى الله به القلوب، وأقام به موضحات الأعلام: سيدنا محمد بن عبد الله أفضل خلق الله، وأكرمهم عليه، وأعلاهم منزلة
عنده، صلى الله عليه وعلى صحابته الأخيار، وآله الأبرار.
ثم أما بعد، فلعلك لا تجد مؤلفا - ممن صنفوا في قواعد العربية - قد نال من الحظوة عند الناس، والإقبال على تصانيفه: قراءة، وإقراء، وشرحا، وتعليقا، مثل أبي عبد الله محمد جمال الدين بن عبد الله بن مالك، صاحب التآليف المفيدة، والتصنيفات الممتعة، وأفضل من كتب في علوم العربية من أهل طبقته علما، وأوسعهم اطلاعا، وأقدرهم على الاستشهاد لما يرى من الآراء بكلام العرب، مع تصون، وعفة، ودين، وكمال خلق.
فلابن مالك مؤلفات في العربية كثيرة متعددة المشارب، مختلفة المناحي، وقل أن تجد من بينها كتابا لم يتناوله العلماء منذ زمنه إلى اليوم: بالقراءة، والبحث، وبيان معانيه: بوضع الشروح الوافية والتعليقات عليه.
ومن هذه المؤلفات كتابه " الخلاصة " الذي اشتهر بين الناس باسم " الألفية " (1)
--------------------------------------------
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নিয়ামতসমূহের ওপর, এবং তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবীর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং ওলীগণের ওপর। হে আল্লাহ, আমি আপনার এমন প্রশংসা করছি যা আপনার নিকট সর্বাধিক সন্তোষজনক, আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং আপনার নিকট সর্বোত্তম; এমন প্রশংসা যার সংখ্যা কখনো শেষ হবে না এবং যার সাহায্য কখনো ফুরিয়ে যাবে না।
আর আমি আপনার নিকট আরও অধিক দরুদ ও সালাম প্রার্থনা করছি ফযিলতসমূহের উৎসের ওপর, যিনি আপনার নির্দেশ বাস্তবায়নে অটল ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি পথহারাদের জন্য পথ আলোকিত করেছেন এবং যার মাধ্যমে আল্লাহ অন্তরসমূহকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী প্রতিষ্ঠা করেছেন: আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম, তাঁর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত এবং তাঁর নিকট সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী
তাঁর নিকট; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর উত্তম সাহাবী ও পুণ্যবান পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলী বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে আপনি সম্ভবত এমন কোনো লেখককে পাবেন না, যিনি মানুষের কাছে এত বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন এবং যার রচনাবলী পাঠ করা, পড়ানো, ব্যাখ্যা করা ও টীকা লেখার ক্ষেত্রে এত বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যেমনটি পেয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জামালুদ্দিন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক। তিনি উপকারী ও চমৎকার গ্রন্থসমূহের রচয়িতা এবং আপন যুগের আরবি ভাষা বিজ্ঞানের পণ্ডিতদের মধ্যে ইলমের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী এবং নিজের মতামতের স্বপক্ষে আরবের কাব্য ও বক্তব্য থেকে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, ধার্মিক এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী।
আরবি ভাষায় ইবনে মালিকের বহুবিধ বিষয় ও বিচিত্র আঙ্গিকের অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে এমন কোনো কিতাব পাওয়া বিরল যা তাঁর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত আলেমগণ পাঠ করা, গবেষণা করা এবং বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও টীকা লিখে তার অর্থ স্পষ্ট করার কাজে হাত দেননি।
তাঁর এই রচনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর কিতাব "আল-খুলাসা", যা মানুষের কাছে "আল-আলফিয়্যাহ" (১) নামে সমধিক পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৬)
والذي جمع فيه خلاصة علمي النحو والتصريف، في أرجوزة ظريفة، مع الإشارة إلى مذاهب العلماء، وبيان ما يختاره من الآراء، أحيانا.
وقد كثر إقبال العلماء على هذا الكتاب من بين كتبه بنوع خاص، حتى طويت مصنفات أئمة النحو من قبله، ولم ينتفع من جاء بعده بأن يحاكوه أو يدعوا أنهم يزيدون عليه وينتصفون منه، ولو لم يشر في خطبته إلى ألفية الإمام العلامة يحيى زين الدين بن عبد النور الزواوي الجزائري، المتوفى بمصر في يوم الاثنين آخر شهر ذي القعدة من سنة 627 هـ والمعروف بابن معط - لما ذكره الناس، ولا عرفوه.
وشروح هذا الكتاب أكثر من أن تتسع هذه الكلمة الموجزة لتعدادها، وبيان مزاياها، وما انفرد به كل شرح، وأكثرها لأكابر العلماء ومبرزيهم: كالإمام أبي محمد عبد الله جمال الدين بن يوسف بن أحمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري الشافعي الحنبلي، المتوفى ليلة الجمعة، الخامس من شهر ذي القعدة من سنة 761 هـ، والذي يقول عنه ابن خلدون: " مازلنا ونحن بالمغرب نسمع أنه ظهر بمصر عالم بالعربية - يقال له ابن هشام - أنحى من سيبويه " اهـ.
وقد شرح ابن هشام الخلاصة مرتين: إحداهما في كتابه " أوضح المسالك، إلى ألفية ابن مالك (1) (1) "، والثانية في كتاب سماه " دفع الخصاصة، عن قراء الخلاصة " ويقال: إنه أربع مجلدات، ويقول السيوطي بعد ذكر هذين الكتابين " وله عدة حواش على الألفية والتسهيل " اهـ.
وممن شرح الخلاصة العلامة محمد بدر الدين بن محمد بن عبد الله بن مالك، المتوفى بدمشق في يوم الأحد، الثامن من شهر المحرم، سنة 686 هـ، وهو ابن الناظم..
--------------------------------------------
যাতে তিনি একটি মনোরম কবিতার (আরজুজা) মাধ্যমে নাহু ও সারফ শাস্ত্রের সারাংশ সংকলন করেছেন, সাথে মাঝে মাঝে আলেমদের মাযহাবসমূহের প্রতি ইঙ্গিত এবং তাঁর পছন্দনীয় মতামতের বর্ণনা দিয়েছেন।
তাঁর বইগুলোর মধ্যে বিশেষ করে এই বইটির প্রতি আলেমদের আগ্রহ এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, তাঁর পূর্ববর্তী নাহু শাস্ত্রের ইমামদের রচনাবলি অপ্রচলিত হয়ে পড়ে। তাঁর পরবর্তীগণ তাঁকে অনুকরণ করে বা তাঁর চেয়ে বেশি কিছু সংযোজন করার কিংবা তাঁর ভুল ধরার দাবি করে খুব একটা উপকৃত হতে পারেননি। তিনি যদি তাঁর ভূমিকার ভাষণে ইমাম আল্লামা ইয়াহইয়া যাইন উদ্দীন বিন আব্দুল নূর আয-যাওয়াওয়ী আল-জাযায়িরী (যিনি ৬২৭ হিজরির যিলকদ মাসের শেষ সোমবার মিশরে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে মু'তী নামে পরিচিত)—এর আলফিয়ার কথা উল্লেখ না করতেন, তবে মানুষ তাঁকে (ইবনে মু'তীকে) স্মরণ করত না এবং তাঁকে চিনতও না।
এই বইটির ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এত বেশি যে, এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা গণনা করা, সেগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা এবং প্রতিটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের বিশেষত্ব তুলে ধরা সম্ভব নয়। এগুলোর অধিকাংশ বড় বড় এবং অগ্রগণ্য আলেমদের রচিত: যেমন ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জামালুদ্দীন বিন ইউসুফ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারী আশ-শাফিয়ী আল-হাম্বলী, যিনি ৭৬১ হিজরির যিলকদ মাসের পাঁচ তারিখ জুমআর রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর সম্পর্কে ইবনে খালদুন বলেন: "আমরা যখন মাগরিবে ছিলাম, তখন থেকেই শুনতাম যে মিশরে আরবি ভাষায় এমন একজন পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে—যাকে ইবনে হিশাম বলা হয়—যিনি সিবওয়াইহ থেকেও বড় নাহুবিদ।" সমাপ্ত।
ইবনে হিশাম 'খুলাসা' (আলফিয়া)-র দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন: একটি তাঁর 'আওয়াহুল মাসালিক ইলা আলফিয়াতু ইবনে মালিক (১)' গ্রন্থে, এবং দ্বিতীয়টি 'দাফউল খাসাসাহ আন কুররাউল খুলাসা' নামক গ্রন্থে। বলা হয়ে থাকে যে এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত। সুয়ূতী এই দুটি বই উল্লেখ করার পর বলেন: "আলফিয়া ও তাসিহিলের ওপর তাঁর বেশ কিছু টীকাগ্রন্থও রয়েছে।" সমাপ্ত।
খুলাসার ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে আল্লামা মুহাম্মদ বদরুদ্দীন বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিকও রয়েছেন, যিনি ৬৮৬ হিজরির মুহাররম মাসের আট তারিখ রবিবার দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন মূল গ্রন্থকারের পুত্র (ইবনুন নাযিম)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومنهم العلامة الحسن بدر الدين بن قاسم بن عبد الله بن عمر، المرادي، المصري المتوفى في يوم عيد الفطر سنة 849 هـ.
ومنهم الشيخ عبد الرحمن زين الدين أبو بكر المعروف بابن العيني الحنفي المتوفى سنة 849 هـ ومنهم الشيخ عبد الرحمن بن علي بن صالح المكودي، المتوفى بمدينة فاس سنة 801 هـ
ومنهم أبو عبد الله محمد شمس الدين بن أحمد بن علي بن جابر، الهواري، الأندلسي، المرسيني، الضرير.
ومنهم أبو الحسن علي نور الدين بن محمد المصري، الأشموني، المتوفى في حدود سنة 900 هـ (1) .
ومنهم الشيخ إبراهيم برهان الدين بن موسى بن أيوب، الابناسي، الشافعي، المتوفى في شهر المحرم من سنة 802 هـ.
ومنهم الحافظ عبد الرحمن جلال الدين بن أبي بكر السيوطي، المتوفى سنة 911 هـ ومنهم الشيخ محمد بن قاسم الغزي، أحد علماء القرن التاسع الهجري.
ومنهم أبو الخير محمد شمس الدين بن محمد، الخطيب، المعروف بابن الجزري، المتوفى في سنة 833 هـ.
ومنهم قاضي القضاة عبد الله بهاء الدين بن عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد الله ابن عقيل، القرشي، الهاشمي، العقيلي - نسبة إلى عقيل بن أبي طالب - الهمداني الأصل، ثم البالسي، المصري، المولود في يوم الجمعة، التاسع من شهر المحرم من سنة 698، والمتوفى بالقاهرة في ليلة الأربعاء الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول 769 هـ، وشرحه هو الذي نعاني إخراجه للناس اليوم..
--------------------------------------------
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আল্লামা হাসান বদরুদ্দিন ইবন কাসিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর, আল-মুরাদি, আল-মিসরি, যিনি ৮৪৯ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের দিনে ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ আবদুর রহমান যাইনুদ্দিন আবু বকর, যিনি ইবনুল আইনি আল-হানাফি নামে পরিচিত, তিনি ৮৪৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এবং তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ আবদুর রহমান ইবন আলী ইবন সালেহ আল-মাকুদি, যিনি ৮০১ হিজরি সনে ফাস নগরীতে ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ শামসুদ্দিন ইবন আহমাদ ইবন আলী ইবন জাবির, আল-হাওয়ারি, আল-আন্দালুসি, আল-মুরসিনি, আদ-দারির (দৃষ্টিহীন)।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবুল হাসান আলী নুরুদ্দিন ইবন মুহাম্মদ আল-মিসরি, আল-আশমুনি, যিনি আনুমানিক ৯০০ হিজরি সনের দিকে ইন্তেকাল করেন (১)।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ ইবরাহিম বুরহানুদ্দিন ইবন মুসা ইবন আইয়ুব, আল-আবনাাসি, আশ-শাফিঈ, যিনি ৮০২ হিজরি সনের মহররম মাসে ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন হাফিজ আবদুর রহমান জালালুদ্দিন ইবন আবু বকর আস-সুয়ুতি, যিনি ৯১১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এবং তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন শাইখ মুহাম্মদ ইবন কাসিম আল-গাজ্জি, যিনি হিজরি নবম শতাব্দীর অন্যতম আলিম ছিলেন।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ শামসুদ্দিন ইবন মুহাম্মদ, আল-খতিব, যিনি ইবনুল জাজারি নামে পরিচিত, তিনি ৮৩৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন কাযিউল কুযাত আবদুল্লাহ বাহাউদ্দিন ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আকিল, আল-কুরাশি, আল-হাশিমি, আল-আকিলি—আকিল ইবন আবি তালিবের বংশধর হিসেবে—মূলত হামদান বংশীয়, অতঃপর বালসি ও মিসরি, যিনি ৬৯৮ হিজরি সনের ৯ই মহররম শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬৯ হিজরি সনের ২৩শে রবিউল আউয়াল বুধবার রাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটিই (শারহ) আমরা আজ মানুষের সামনে উপস্থাপনের জন্য কাজ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد شرح الكتاب - غير هؤلاء - الكثير من العلماء، ولست تجد شرحا من هذه الشروح لم يتناوله العلماء: بالكتابة عليه، وبيان ما فيه من إشارات، وإكمال ما عسى أن يشتمل عليه من نقص، وكل ذلك ببركة صاحب الأصل المشروح،
وبما ذاع له بين أساطين العلم من شهرة بالفقه في العربية وسعة الباع.
وهذه الشروح مختلفة، ففيها المختصر، وفيها المطول، فيها المتعقب صاحبه للناظم يتحامل عليه، ويتلمس له المزالق، وفيها المتحيز له، والمصحح لكل ما يجئ به، وفيها الذي اتخذ صاحبه طريقا وسطا بين الإيجاز والإطناب، والتحامل والتحيز.
ومن هؤلاء الذين سلكوا طريقا بين الطريقين بهاء الدين بن عقيل، فإنه لم يعمد إلى الإيجاز حتى يترك بعض القواعد الهامة، ولم يقصد إلى الإطناب، فيجمع من هنا ومن هنا، ويبين جميع مذاهب العلماء ووجوه استدلالهم، ولم يتعسف في نقد الناظم: بحق، وبغير حق، كما لم ينحز له بحيث يتقبل كل ما يجئ به: وافق الصواب، أو لم يوافقه.
ولصاحب هذا الشرح من الشهرة في الفن والبراعة فيه، ومن البركة والإخلاص ما دفع علماء العربية إلى قراءة كتابه والاكتفاء به عن أكثر شروح الخلاصة.
وقد أردت أن أقوم لهذا الكتاب بعمل أتقرب به إلى الله تعالى، فرأيت - في أول الأمر - أن أتمم ما قصر فيه من البحث: فأبين اختلاف النحويين واستدلالاتهم ثم نظرت فإذا ذلك يخرج بالكتاب عن أصل الغرض منه، وقد يكون الإطناب باعثا على الازورار عنه، ونحن في زمن أقل ما فيه من عاب أنك لا تجد راغبا في علوم العرب إلا في القليل النادر، لأنهم قوم ذهبت مدنيتهم، ودالت دولتهم، وأصبحت الغلبة لغيرهم.
فاكتفيت بما لا بد منه، من إعراب أبيات الألفية، وشرح الشواهد شرحا وسطا بين الاقتصار والإسهاب، وبيان بعض المباحث التي أشار إليها الشارح أو أغفلها بتة في عبارة واضحة وفي إيجاز دقيق، والتذييل بخلاصة مختصرة في تصريف الأفعال، فإن
এই কিতাবটির ব্যাখ্যা আরও অনেক আলেম করেছেন। আপনি এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে এমন কোনো ব্যাখ্যা পাবেন না যা নিয়ে আলেমগণ কাজ করেননি; সেগুলোর ওপর টীকা লিখে, তাতে থাকা ইঙ্গিতসমূহ বর্ণনা করে এবং সম্ভাব্য ত্রুটিসমূহ পূর্ণ করে তাঁরা সেগুলোর চর্চা করেছেন। আর এই সবই মূল গ্রন্থের লেখকের বরকতে সম্ভব হয়েছে,
এবং জ্ঞানজগতের দিকপালদের মাঝে আরবি ভাষার গভীর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের জন্য তাঁর যে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কারণে।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের। এর মধ্যে কোনোটি সংক্ষিপ্ত, আবার কোনোটি দীর্ঘ। কোনোটিতে ব্যাখ্যাকার মূল রচয়িতার (নাজিম) ভুল ধরতে গিয়ে তাঁর প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁর বিচ্যুতিসমূহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। কোনোটিতে ব্যাখ্যাকার তাঁর প্রতি অতিমাত্রায় পক্ষপাতিত্ব করেছেন এবং তাঁর আনীত প্রতিটি বিষয়কেই শুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন। আবার কোনোটিতে ব্যাখ্যাকার সংক্ষেপণ ও দীর্ঘায়ন এবং কঠোরতা ও পক্ষপাতিত্বের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন।
যারা এই উভয় পথের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাহাউদ্দিন ইবনে আকিল। তিনি এমনভাবে সংক্ষেপ করেননি যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণগত নিয়ম বাদ পড়ে যায়, আবার এমন দীর্ঘায়নেরও ইচ্ছা করেননি যেখানে এদিক-ওদিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সকল আলেমের মাজহাব ও তাঁদের দলিলসমূহ বর্ণনা করতে হয়। তিনি নাজিমের সমালোচনায় অন্যায্য কঠোরতা দেখাননি—হোক তা যথাযথ কিংবা অযৌক্তিক—আবার তাঁর প্রতি এমন পক্ষপাতিত্বও করেননি যার ফলে তাঁর উপস্থাপিত সবকিছুকেই গ্রহণ করতে হয়, তা সঠিক হোক বা না হোক।
এই ব্যাখ্যাকার তাঁর বিষয়ের পারদর্শিতা ও নিপুণতায় যে খ্যাতি লাভ করেছেন এবং তাঁর মাঝে যে বরকত ও ইখলাস ছিল, তা-ই আরবি ভাষার আলেমদেরকে তাঁর কিতাবটি পড়তে এবং 'খুলাসা'র (আলফিয়্যাহ) অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থের বদলে এই একটির ওপরই নির্ভর করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আমি চেয়েছিলাম এই কিতাবটির জন্য এমন কিছু কাজ করতে যার মাধ্যমে আমি আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে পারি। শুরুতে ভেবেছিলাম গবেষণার ক্ষেত্রে এতে যা অপূর্ণতা রয়েছে তা পূর্ণ করে দেব; অর্থাৎ নাহুবিদদের মতপার্থক্য ও তাঁদের দলিলসমূহ বর্ণনা করব। কিন্তু পরে দেখলাম, এটি কিতাবটিকে তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেবে এবং দীর্ঘসূত্রিতা এর প্রতি বিমুখতার কারণ হতে পারে। আর আমরা এখন এমন এক যুগে আছি যার সাধারণ দোষ হলো এই যে, আপনি আরবি ভাষাবিজ্ঞানে আগ্রহী খুব কম লোকই পাবেন; কারণ তারা এমন এক জাতি যাদের সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে, তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা চ্যুত হয়েছে এবং অন্যদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তাই আমি কেবল অপরিহার্য বিষয়গুলোর ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি; যেমন আলফিয়্যাহর বাইতগুলোর ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ), অতি সংক্ষেপ ও অতি দীর্ঘের মাঝামাঝি পন্থায় উদাহরণের (শাওয়াহেদ) ব্যাখ্যা প্রদান, এবং ব্যাখ্যাকার যেসব বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন কিংবা যা পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন তা স্পষ্ট ভাষায় ও সুনির্দিষ্ট সংক্ষেপে বর্ণনা করা। এছাড়া ক্রিয়ার রূপান্তর (তাসরিফ) বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি। কারণ...
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
ابن مالك قد أغفل ذلك في " ألفيته "، ووضع له لامية خاصة، سماها " لامية الأفعال ".
وأريد أن أنبهك إلى أنني وفقت في تصحيح هذه المطبوعة تصحيحا دقيقا، فإن نسخ الكتاب التي في أيدي الناس - رغم كثرتها، وتعدد طبعها - ليس فيها نسخة بلغت من الإتقان حدا ينفي عنك الريب والتوقف، فإنك لتجد في بعضها زيادة ليست في بعضهما الآخر، وتجد بينها تفاوتا في التعبير، وقد جمع الله تعالى لي بين اثنتي عشرة نسخة مختلفة، في زمان الطبع، ومكانه، ويسر لي - سبحانه! - معارضة بعضها ببعض، فاستخلصت لك من بينها أكملها بيانا، وأصحها تعبيرا، وأدناها إلى ما أحب لك، فجاءت فيما أعتقد خير ما أخرج للناس من مطبوعات هذا الكتاب.
وقد وضعنا زيادات بعض النسخ بين علامتين هكذا [] .
والله سبحانه! المسئول أن ينفع بهذا العمل على قدر العناء فيه، وأن يجعله في سبيل الإخلاص فيه لوجهه، إنه الرب المعين، وعليه التكلان
محمد محيي الدين عبد الحميد
ইবনে মালিক তাঁর "আলফিয়্যাহ" গ্রন্থে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং এর জন্য একটি স্বতন্ত্র "লামিয়াহ" রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "লামিয়াতুল আফ’আল"।
আমি আপনাকে এই বিষয়ে সচেতন করতে চাই যে, আমি এই মুদ্রিত সংস্করণটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সংশোধন করতে সমর্থ হয়েছি। কারণ মানুষের হাতে থাকা এই বইটির কপিগুলো—তথা এর প্রাচুর্য ও নানাবিধ সংস্করণ থাকা সত্ত্বেও—এমন কোনো কপি নেই যা এমন এক নিখুঁত পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আপনার সংশয় ও দ্বিধা দূর করতে পারে। কেননা আপনি কোনোটিতে এমন কিছু পরিবর্ধন পাবেন যা অন্যটিতে নেই এবং সেগুলোর বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। আল্লাহ তাআলা মুদ্রণের সময় ও স্থানে আমার জন্য বারোটি ভিন্ন ভিন্ন পাণ্ডুলিপি একত্রিত করে দিয়েছেন এবং তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—আমার জন্য একটির সাথে অপরটির তুলনা করা সহজ করে দিয়েছেন। ফলে আমি আপনার জন্য সেগুলোর মধ্য থেকে সর্বাধিক স্পষ্ট বর্ণনা, সবচেয়ে সঠিক অভিব্যক্তি এবং আমার বিবেচনায় আপনার জন্য যা সবচেয়ে উত্তম তার নিকটতমটি সংকলন করেছি। ফলে আমার বিশ্বাস মতে এটি মানুষের জন্য প্রকাশিত এই গ্রন্থের সংস্করণগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
আমরা কিছু পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত অংশগুলো এই প্রকারের [] দুটি চিহ্নের মাঝে রেখেছি।
পবিত্র আল্লাহই একমাত্র সত্তা যাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কাজের পরিশ্রম অনুযায়ী এর দ্বারা উপকার সাধন করেন এবং একে তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একনিষ্ঠতার পথে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সাহায্যকারী প্রতিপালক এবং তাঁর ওপরই ভরসা রইল।
মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكلام وما يتألف منهقال محمد هو ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك (1)
مصليا على النبي المصطفى
… وآله المستكملين الشرفا (2)
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
কালাম এবং যা দ্বারা তা গঠিত হয়মুহাম্মদ বললেন, যিনি ইবনে মালিক
… আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক (১)
মনোনীত নবীর ওপর সালাত পাঠরত অবস্থায়
… এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর যারা পূর্ণ সম্মানের অধিকারী (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأستعين الله في ألفيه
… مقاصد النحو بها محويه (1)
تقرب الأقصى بلفظ موجز
… وتبسط البذل بوعد منجز (2)
وتقتضي رضا بغير سخط
… فائقة ألفية ابن معط (3)
--------------------------------------------
আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন এক আলফিয়্যার (সহস্রপদী কাব্য) ক্ষেত্রে … যার মধ্যে নাহু (ব্যাকরণ)-বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্যসমূহ সংকলিত রয়েছে (১)
এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে দূরবর্তী (জটিল) বিষয়কে নিকটবর্তী করে দেয় … এবং তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জ্ঞান দানকে প্রশস্ত করে (২)
এটি এমন সন্তুষ্টি দাবি করে যার সাথে কোনো ক্রোধ নেই … যা ইবনে মু'তির আলফিয়্যার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভকারী (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১২)
وهو بسبق حائز تفضيلا
… مستوجب ثنائي الجميلا (1)
والله يقضي بهبات وافره
… لي وله في درجات الآخره (2)
--------------------------------------------
এবং তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী … আমার সুন্দর প্রশংসার যোগ্য (১)
আর আল্লাহ যেন আমার ও তাঁর জন্য আখেরাতের সুউচ্চ মর্যাদায় … প্রচুর দান বরাদ্দ করেন (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكلام وما يتألف منه (1)
كلامنا لفظ مفيد كاستقم
… واسم وفعل ثم حرف الكلم (2)
واحده كلمة والقول عم
… وكلمة بها كلام قد يؤم (3)
--------------------------------------------
কালাম এবং যা দ্বারা এটি গঠিত হয় (১)
আমাদের নিকট কালাম হলো এমন অর্থবোধক শব্দ যেমন ‘ইস্তাক্বিম’ (সোজা হয়ে দাঁড়াও) … আর ইসম, ফি’ল এবং হারফ হলো কালিম (২)
এর একক হলো কালিমা এবং ক্বওল শব্দটি ব্যাপক … আর কালিমা দ্বারা কখনও কালামকেও উদ্দেশ্য করা হয় (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الكلام المصطلح عليه عند النحاة: عبارة عن اللفظ المفيد فائدة يحسن السكوت عليها فاللفظ جنس يشمل الكلام والكلمة والكلم ويشمل المهمل ك ديز والمستعمل ك عمرو ومفيد أخرج المهمل وفائدة يحسن السكوت عليها أخرج الكلمة وبعض الكلم وهو ما تركب من ثلاث كلمات فأكثر ولم يحسن السكوت عليه نحو إن قام زيد ولا يتركب الكلام إلا من اسمين نحو زيد قائم أو من فعل واسم كـ" قام زيد" وكقول المصنف "استقم" فإنه كلام مركب من فعل أمر وفاعل مستتر والتقدير استقم أنت فاستغنى بالمثال عن أن يقول: "فائدة يحسن السكوت عليها فكأنه قال الكلام:هو اللفظ المفيد فائدة كفائدة استقم".
وإنما قال المصنف كلامنا ليعلم أن التعريف إنما هو للكلام في اصطلاح النحويين لا في اصطلاح اللغويين وهو في اللغة اسم لكل ما يتكلم به مفيدا كان أو غير مفيد.
--------------------------------------------
ব্যাকরণবিদদের নিকট পারিভাষিক 'কালাম' (বাক্য) হলো: এমন অর্থপূর্ণ শব্দ যা শোনার পর শ্রোতার আর কোনো কিছু শোনার আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট থাকে না (অর্থাৎ যা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে)। এখানে 'শব্দ' (লাফয) হলো একটি সাধারণ পদ যা কালাম, কালিমা এবং কালিম—সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটি অর্থহীন শব্দ (যেমন 'দাইয') এবং অর্থবোধক বা ব্যবহৃত শব্দ (যেমন 'আমর') উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। 'অর্থপূর্ণ' (মুফীদ) শব্দটি অর্থহীন শব্দগুলোকে সংজ্ঞার বাইরে রাখে। আর 'এমন উপকারিতা যার ওপর নীরব থাকা সঠিক হয়' অংশটি 'কালিমা' এবং কিছু 'কালিম'-কে সংজ্ঞার বাইরে রাখে। 'কালিম' হলো যা তিন বা ততোধিক শব্দের সমষ্টি কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে না, যেমন: 'যদি যায়েদ দাঁড়ায়'। কালাম বা বাক্য কেবল দুটি 'ইসম' (বিশেষ্য) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: 'যায়েদ দণ্ডায়মান', অথবা একটি 'ফেল' (ক্রিয়া) ও একটি 'ইসম' (বিশেষ্য) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে'। ঠিক যেমন গ্রন্থকারের উদাহরণ 'সোজা হও' (ইস্তাকিম); এটি একটি বাক্য যা একটি আদেশসূচক ক্রিয়া এবং একটি উহ্য কর্তা (ফায়েল) দ্বারা গঠিত, যার বিশ্লেষণ হলো 'তুমি সোজা হও'। অতএব, তিনি উদাহরণের মাধ্যমেই 'এমন উপকারিতা যার ওপর নীরব থাকা সঠিক হয়' এ কথাটি বলার প্রয়োজনীয়তা দূর করেছেন। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: কালাম হলো এমন শব্দ যা 'সোজা হও'-এর মতো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে।
গ্রন্থকার 'আমাদের কালাম' (কালামুনা) বলেছেন যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই সংজ্ঞাটি কেবল ব্যাকরণবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী, ভাষাবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী নয়। কারণ আভিধানিক বা ভাষাগত অর্থে কালাম হলো সেই সবকিছুর নাম যা উচ্চারণ করা হয়, তা অর্থপূর্ণ হোক বা না হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والكلم: اسم جنس (1) واحده كلمة وهي إما اسم وإما فعل وإما حرف لأنها إن دلت على معنى في نفسها غير مقترنة بزمان فهي الاسم وإن اقترنت بزمان فهي الفعل وإن لم تدل على معنى في نفسها بل في غيرها فهي الحرف.
والكلم: ما تركب من ثلاث كلمات فأكثر كقولك إن قام زيد.
والكلمة: هي اللفظ الموضوع لمعنى مفرد فقولنا الموضوع لمعنى أخرج المهمل كديز وقولنا مفرد أخرج الكلام فإنه موضوع لمعنى غير مفرد
--------------------------------------------
কালিম: এটি একটি ইসমুল জিনস (১), এর একক হলো কালিমাহ। এটি হয় ইসম (বিশেষ্য), নতুবা ফেল (ক্রিয়া), নতুবা হরফ (অব্যয়)। কারণ, এটি যদি কালের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিজের অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা ইসম। আর যদি কালের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা ফেল। আর যদি স্বতন্ত্রভাবে নিজের অর্থ প্রকাশ না করে বরং অন্যের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা হরফ।
কালিম: যা তিনটি বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, যেমন আপনার কথা— ‘ইন ক্বামা যায়েদ’ (যদি যায়েদ দাঁড়ায়)।
কালিমাহ: এটি এমন একটি শব্দ যা একক অর্থের জন্য গঠিত হয়েছে। আমাদের কথা ‘অর্থের জন্য গঠিত’ বলার মাধ্যমে অর্থহীন শব্দ বাদ পড়ে গেছে, যেমন ‘দাইয’ (যায়েদ শব্দের উল্টো)। আর ‘একক’ বলার মাধ্যমে ‘কালাম’ (বাক্য) বাদ পড়ে গেছে, কারণ তা একক নয় বরং একাধিক শব্দের সমষ্টিগত অর্থের জন্য গঠিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثم ذكر المصنف رحمه الله تعالى أن القول يعم الجميع والمراد أنه يقع على الكلام أنه قول ويقع أيضا على الكلم والكلمة أنه قول وزعم بعضهم أن الأصل استعماله في المفرد ثم ذكر المصنف أن الكلمة قد يقصد بها الكلام كقولهم في لا إله إلا الله كلمة الإخلاص وقد يجتمع الكلام والكلم في الصدق وقد ينفرد أحدهما فمثال اجتماعهما قد قام زيد فإنه كلام لإفادته معنى يحسن السكوت عليه وكلم لأنه مركب من ثلاث كلمات ومثال انفراد الكلم إن قام زيد (1) ومثال انفراد الكلام زيد قائم (2) .
بالجر والتنوين والندا وأل
… ومسند للاسم تمييز حصل (3)
ذكر المصنف رحمه الله تعالى في هذا البيت علامات الاسم.
--------------------------------------------
অতঃপর গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) উল্লেখ করেছেন যে, 'ক্বওল' (উক্তি) শব্দটি সবার জন্য সাধারণ। এর উদ্দেশ্য হলো, একে 'কালাম' (বাক্য) এর ক্ষেত্রেও 'ক্বওল' হিসেবে প্রয়োগ করা হয়, আবার 'কালিম' (তিন বা ততোধিক শব্দের সমষ্টি) এবং 'কালিমা' (শব্দ) এর ক্ষেত্রেও একে 'ক্বওল' বলা হয়। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এর মূল ব্যবহার হলো একবচনের ক্ষেত্রে। এরপর গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে, কখনও কখনও 'কালিমা' দ্বারা 'কালাম' উদ্দেশ্য হতে পারে, যেমন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য যে এটি 'কালিমাতুল ইখলাস' (একনিষ্ঠতার বাণী)। সত্য হওয়ার ক্ষেত্রে কখনও 'কালাম' এবং 'কালিম' একত্রে থাকতে পারে, আবার কখনও তাদের কোনো একটি এককভাবে থাকতে পারে। তাদের একত্রে থাকার উদাহরণ হলো- 'ক্বদ ক্ব-মা যাইদুন' (যাইদ অবশ্যই দাঁড়িয়েছে)। কেননা এটি একটি 'কালাম', কারণ এটি এমন অর্থ প্রদান করে যার উপর থামা সঙ্গত। আবার এটি 'কালিম'ও বটে, যেহেতু এটি তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আর শুধু 'কালিম'-এর উদাহরণ হলো- 'ইন ক্ব-মা যাইদুন' (১) এবং শুধু 'কালাম'-এর উদাহরণ হলো- 'যাইদুন ক্ব-ইমুন' (২)।
জের (বিভক্তি), তানউইন, নিদা (আহ্বান), আলিফ-লাম এবং মুসনাদ (কর্তৃত্ব/গুণ) প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ্যের (ইসিম) স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয়েছে (৩)।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এই চরণে ইসিমের (বিশেষ্যের) আলামত বা চিহ্নসমূহ উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فمنها الجر: وهو يشمل الجر بالحرف والإضافة والتبعية نحو مررت بغلام زيد الفاضل فالغلام مجرور بالحرف وزيد مجرور بالإضافة والفاضل مجرور بالتبعية وهو أشمل من قول غيره بحرف الجر لأن هذا لايتناول الجر بالإضافة ولا الجر بالتبعية.
ومنهما التنوين: وهو (1) على أربعة أقسام: (1)
تنوين التمكين: وهو اللاحق للأسماء المعربة كزيد ورجل إلا جمع المؤنث السالم نحو مسلمات وإلا نحو جوار وغواش وسيأتي حكمهما (2)
وتنوين التنكير: وهو اللاحق للأسماء المبنية فرقا بين معرفتها ونكرتها نحو مررت بسيبويه وبسيبويه آخر (3) وتنوين المقابلة وهو اللاحق لجمع المؤنث السالم نحو مسلمات فإنه في مقابلة النون في جمع المذكر السالم كمسلمين. (4)
وتنوين العوض وهو على ثلاثة أقسام:
عوض عن جملة: وهو الذي يلحق إذ عوضا عن جملة تكون بعدها كقوله تعالى: {وأنْتُمْ حِينَئذٍ تَنْظُرُونَ} أي حين إذ بلغت الروح الحلقوم فحذف بلغت الروح الحلقوم وأتى بالتنوين عوضا عنه
وقسم يكون عوضا عن اسم وهو اللاحق لكل عوضا عما تضاف إليه نحو كل قائم أي كل إنسان قائم فحذف إنسان وأتى بالتنوين عوضا عنه. (1)
--------------------------------------------
সেগুলোর একটি হলো জার: এটি হরফের মাধ্যমে জার, ইদাফাতের মাধ্যমে জার এবং অনুগত্যের (তাবে'ইয়্যাত) মাধ্যমে জার—সবকটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: 'আমি যাইদের গুণবান দাসের পাশ দিয়ে গেলাম'। এখানে 'দাস' শব্দটি হরফের মাধ্যমে মাজরুর, 'যাইদ' শব্দটি ইদাফাতের মাধ্যমে মাজরুর এবং 'গুণবান' শব্দটি অনুগত্যের মাধ্যমে মাজরুর। এটি অন্যদের বলা 'হরফে জারের মাধ্যমে' পরিভাষাটি অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ তা ইদাফাতের মাধ্যমে জার এবং অনুগত্যের জারকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
এবং সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো তানউইন: এটি (১) চার প্রকার: (১)
তানউইনে তামকিন: এটি সেই তানউইন যা মু'রাব ইসমসমূহের শেষে যুক্ত হয়, যেমন: যাইদ ও রাজুল। তবে জমা মুয়ান্নাস সালেম (যেমন: মুসলিমাত) এবং 'জাওয়ারি' ও 'গাওয়াশি' এর মতো শব্দগুলো এর ব্যতিক্রম; এগুলোর বিধান সামনে আসবে। (২)
তানউইনে তানকির: এটি সেই তানউইন যা মাবনি ইসমের শেষে তার নির্দিষ্ট (মারেফা) ও অনির্দিষ্ট (নাকেরা) অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য যুক্ত হয়। যেমন: 'আমি সিবাইহি এবং অন্য একজন সিবাইহির পাশ দিয়ে গেলাম'। (৩) এবং তানউইনে মুকাবালা: এটি জমা মুয়ান্নাস সালেমের শেষে যুক্ত হয়, যেমন: 'মুসলিমাত'। কেননা এটি জমা মুজাক্কার সালেমের (যেমন: মুসলিমিনা) নূন-এর বিপরীতে আসে। (৪)
তানউইনে ইওয়াদ (বিনিময়): এটি তিন প্রকার:
বাক্যের (জুমলা) বিনিময়: এটি সেই তানউইন যা 'ইয' শব্দের শেষে তার পরবর্তী একটি বাক্যের বিনিময় হিসেবে যুক্ত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা তখন প্রত্যক্ষ করছিলে}। অর্থাৎ যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল। এখানে 'প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল' বাক্যটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার বিনিময়ে তানউইন আনা হয়েছে।
এবং একটি প্রকার হলো ইসমের (শব্দের) বিনিময়: এটি 'কুল্লুন' শব্দের শেষে তার মুদাফ ইলাইহ-এর বিনিময় হিসেবে যুক্ত হয়। যেমন: 'প্রত্যেকেই দণ্ডায়মান' অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষ দণ্ডায়মান। এখানে 'মানুষ' শব্দটি বিলুপ্ত করে তার বিনিময়ে তানউইন আনা হয়েছে। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقسم يكون عوضا عن حرف: وهو اللاحق لجوار وغواش ونحوهما رفعا وجرا نحو هؤلاء جوار ومررت بجوار فحذفت الياء وأتي بالتنوين عوضا عنها.
وتنوين الترنم (1) : وهو الذي يلحق القوافي المطلقة بحرف علة كقوله:
1 - أقلى اللوم عاذل والعتابن
… وقولي إن أصبت لقد أصابن
فجيء
--------------------------------------------
আর এক প্রকার রয়েছে যা অক্ষরের পরিবর্তে আসে: এটি 'জাওয়ারিন' (جوار) এবং 'গাওয়াশিন' (غواش) এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোর শেষে রফ' (পেশ) এবং জার (জের) অবস্থায় যুক্ত হয়। যেমন- 'হাউলা-ই জাওয়ারিন' (এরা বালিকা) এবং 'মারারতু বি-জাওয়ারিন' (আমি বালিকাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। এখানে 'ইয়া' অক্ষরটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে তানভীন আনা হয়েছে।
এবং তানভীনুত তারান্নুম (১): এটি সেই তানভীন যা স্বরবর্ণযুক্ত মুক্ত ছন্দের শেষে যুক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি:
১ - হে তিরস্কারকারিণী! তুমি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা পরিহার করো... এবং বলো যে, আমি যদি সঠিক কাজ করে থাকি তবে আমি অবশ্যই সঠিক কাজ করেছি।
অতঃপর আনা হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بالتنوين بدلا من الألف لأجل الترنم وكقوله:
2 - أزف الترحل غير أن ركابنا
… لما تزل برحالنا وكأن قدن
--------------------------------------------
আলিফের পরিবর্তে তানউইন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বরাননুম (সুরেলা ছন্দ) সৃষ্টি করার জন্য, যেমন কবির উক্তি:
২ - প্রস্থানের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তবে আমাদের সওয়ারিগুলো... এখনও আমাদের আবাসের নিকট অবস্থান করছে, যেন তারা ইতিমধ্যেই চলে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
والتنوين الغالي: وأثبته الأخفش وهو الذي يلحق القوافي المقيدة كقوله:
3 - وقاتم الأعماق خاوي المخترقن
--------------------------------------------
তনভীন আল-গালি: আখফাশ এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং এটি সেই তনভীন যা মুকায়্যাদ (আবদ্ধ) পদ্যের অন্ত্যমিলের সাথে যুক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি:
৩ - অন্ধকার গভীর অঞ্চল বিশিষ্ট, যার পথ চলা বা বাতাসের গতিপথ জনশূন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
وظاهر كلام المصنف أن التنوين كله من خواص الاسم وليس كذلك بل الذي يختص به الاسم إنما هو تنوين التمكين والتنكير والمقابلة والعوض وأما تنوين الترنم والغالي فيكونان في الاسم والفعل والحرف (1) .
ومن خواص الاسم: النداء نحو يا زيد والألف واللام نحو الرجل والإسناد إليه نحو زيد قائم.
فمعنى البيت حصل للاسم تمييز عن الفعل والحرف بالجر والتنوين والنداء والألف واللام والإسناد إليه أي الإخبار عنه.
واستعمل المصنف أل مكان الألف واللام وقد وقع ذلك في عبارة بعض المتقدمين وهو الخليل واستعمل المصنف مسند مكان الإسناد له.
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো এই যে, তানউইন-এর সবটুকুই বিশেষ্যের (ইসম) অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে তেমন নয়; বরং যা বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট তা হলো— তানউইনুত তামকিন, তানউইনুত তানকির, তানউইনুল মুক্বাবালা এবং তানউইনুল ইওয়াদ। আর তানউইনুত তারান্নুম এবং তানউইনুল গালি বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হরফ)—এই তিন প্রকার শব্দের মধ্যেই দেখা যায় (১)।
বিশেষ্যের (ইসম) আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: নিদা (আহ্বান) যেমন— 'ইয়া যায়েদ' (হে যায়েদ), আলিফ ও লাম যেমন— 'আর-রাজুল' (লোকটি), এবং ইসনাদ ইলাইহি (যার দিকে কোনো কিছু সম্বন্ধ করা হয়) যেমন— 'যায়েদুন ক্বায়িমুন' (যায়েদ দণ্ডায়মান)।
সুতরাং কবিতাটির মর্মার্থ দাঁড়ালো এই যে, জার (জের), তানউইন, নিদা, আলিফ-লাম এবং ইসনাদ অর্থাৎ যার সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রদান করা হয়—এসবের মাধ্যমে বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয় (হরফ) থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।
গ্রন্থকার 'আলিফ ও লাম' এর স্থলে 'আল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং পূর্ববর্তীদের অনেকের বক্তব্যেও এমনটি দেখা যায়, যেমন খলীল। এছাড়া গ্রন্থকার 'ইসনাদ ইলাইহি' এর স্থলে 'মুসনাদ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২২)
بتا فعلت وأتت ويا أفعلي
… ونون أقبلن فعل ينجلي (1)
ثم ذكر المصنف أن الفعل يمتاز عن الاسم والحرف بتاء فعلت والمراد بها تاء الفاعل وهي المضمومة للمتكلم نحو فعلت والمفتوحة للمخاطب نحو تباركت والمكسورة للمخاطبة نحو فعلت ويمتاز أيضا بتاء أتت والمراد بها تاء التأنيث الساكنة نحو نعمت وبئست فاحترزنا بالساكنة عن اللاحقة للأسماء فإنها تكون متحركة بحركة الإعراب نحو هذه مسلمة ورأيت مسلمة ومررت بمسلمة ومن اللاحقة للحرف نحو لات وربت وثمت (2) وأما تسكينها مع رب وثم فقليل نحو: ربت وثمت.
--------------------------------------------
'ফাআলতু' এর তা, 'আতাত' এর তা, 'ইফআলি' এর ইয়া
… এবং 'আকবিলান্না' এর নূন-এর মাধ্যমে ক্রিয়া সুস্পষ্ট হয় (১)
এরপর গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে, ক্রিয়া বিশেষ্য (ইসম) ও অব্যয় (হরফ) থেকে 'ফাআলতু' এর তা-এর মাধ্যমে পৃথক হয়। এখানে 'তা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফায়িল বা কর্তার তা; যা উত্তম পুরুষের জন্য পেশযুক্ত হয়, যেমন 'ফাআলতু' (আমি করলাম); সম্মুখস্থ পুরুষ লিঙ্গের জন্য জবরযুক্ত হয়, যেমন 'তাবারাকতা' (আপনি বরকতময় হলেন); এবং সম্মুখস্থ স্ত্রী লিঙ্গের জন্য যেরযুক্ত হয়, যেমন 'ফাআলতি' (তুমি করলে)। ক্রিয়া 'আতাত' এর তা-এর মাধ্যমেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা, যেমন 'নি’মাত' এবং 'বি’সাত'। 'সাকিনযুক্ত' বলার মাধ্যমে আমরা বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হওয়া তা-কে বাদ দিয়েছি, কারণ সেটি ইরাবের (বিভক্তির) কারণে হারাকাতযুক্ত বা স্বরচিহ্নযুক্ত হয়, যেমন: 'হাযিহি মুসলিমাতুন' (ইনি একজন মুসলিম নারী), 'রাআয়তু মুসলিমাতান' (আমি একজন মুসলিম নারীকে দেখেছি) এবং 'মারারতু বি-মুসলিমাতিন' (আমি একজন মুসলিম নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। তদ্রূপ অব্যয়ের সাথে যুক্ত তা-কেও বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন 'লাত', 'রাব্বাত' এবং 'সুম্মাত' (২)। আর 'রাব্বা' ও 'সুম্মা' এর সাথে এই তা-টি সাকিন হওয়া বিরল, যেমন: 'রাব্বাত' এবং 'সুম্মাত'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ويمتاز أيضا بياء أفعلي والمراد بها ياء الفاعلة وتلحق فعل الأمر نحو اضربي والفعل المضارع نحو تضربين ولا تلحق الماضي.
وإنما قال المصنف يا أفعلي ولم يقل ياء الضمير لأن هذه تدخل فيها ياء المتكلم وهي لا تختص بالفعل بل تكون فيه نحو أكرمني وفى الاسم نحو غلامي وفى الحرف نحو إني بخلاف ياء افعلي فإن المراد بها ياء الفاعلة على ما تقدم وهي لا تكون إلا في الفعل ومما يميز الفعل نون أقبلن والمراد بها نون التوكيد خفيفة كانت أو ثقيلة فالخفيفة نحو قوله تعالى: {لَنَسْفَعاً بِالنَّاصِيَةِ} والثقيلة نحو قوله تعالى: {لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ}
فمعنى البيت ينجلي الفعل بتاء الفاعل وتاء التأنيث الساكنة وياء الفاعلة ونون التوكيد.
سواهما الحرف كهل وفي ولم
… فعل مضارع يلي لم كيشم (2)
--------------------------------------------
এটি 'ইয়া আফআলি' দ্বারাও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়, যার দ্বারা কর্তৃবাচক ইয়া উদ্দেশ্য। এটি আদেশসূচক ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, যেমন: 'ইদরিবি' এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, যেমন: 'তাদরিবিনা', তবে এটি অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় না।
গ্রন্থকার কেবল 'ইয়া আফআলি' বলেছেন এবং 'সর্বনামীয় ইয়া' বলেননি, কারণ এর মধ্যে উত্তম পুরুষের ইয়া-ও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যা কেবল ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং তা ক্রিয়ার মধ্যে থাকে যেমন 'আকরামানি', বিশেষ্যের মধ্যে থাকে যেমন 'গুলামি' এবং অব্যয়ের মধ্যে থাকে যেমন 'ইন্নানি'। পক্ষান্তরে 'ইয়া আফআলি'-এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এর দ্বারা পূর্বে উল্লিখিত কর্তৃবাচক ইয়া উদ্দেশ্য, যা কেবল ক্রিয়ার মধ্যেই হয়ে থাকে। আর ক্রিয়াকে স্বতন্ত্রকারী চিহ্নসমূহের মধ্যে রয়েছে 'নুন আকবিলান', যার দ্বারা দৃঢ়তাবাচক নুন উদ্দেশ্য, তা লঘু হোক কিংবা গুরু। লঘু নুনের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "অবশ্যই আমরা তাকে মস্তকসংলগ্ন অলকগুচ্ছ ধরে হেঁচড়ে নিয়ে যাব" এবং গুরু নুনের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "হে শুআইব, অবশ্যই আমরা তোমাকে বের করে দেব।"
সুতরাং পঙ্ক্তিটির অর্থ হলো: কর্তার 'তা', স্থির স্ত্রীবাচক 'তা', কর্তৃবাচক 'ইয়া' এবং দৃঢ়তাবাচক 'নুন' দ্বারা ক্রিয়া সুস্পষ্টভাবে চেনা যায়।
এ দুটি ব্যতীত অন্যগুলো হলো অব্যয়, যেমন 'হাল', 'ফি' এবং 'লাম'... মুদারি ক্রিয়া 'লাম'-এর পরে আসে, যেমন 'ইয়াশাম্মু' (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وماضي الأفعال بالتا مز وسم
… بالنون فعل الأمر إن أمر فهم (1)
يشير إلى أن الحرف يمتاز عن الاسم والفعل بخلوه عن علامات الأسماء وعلامات الأفعال ثم مثل بهل وفي ولم منبها على أن الحرف ينقسم إلى قسمين مختص وغير مختص فأشار بهل إلى غير المختص وهو الذي يدخل على الأسماء والأفعال نحو هل زيد قائم وهل قام زيد وأشار بفي ولم إلى المختص وهو قسمان مختص بالأسماء كفي نحو زيد في الدار ومختص بالأفعال كلم نحو لم يقم زيد ثم شرع في تبيين أن الفعل ينقسم إلى ماض ومضارع وأمر فجعل علامة
--------------------------------------------
ক্রিয়ার অতীত কালকে ‘তা’ (ت) দ্বারা পৃথক করুন এবং নির্দেশ বা আজ্ঞা বুঝালে ‘নুন’ (ن) দ্বারা নির্দেশসূচক ক্রিয়াকে চিহ্নিত করুন (১)।
এটি ইঙ্গিত করছে যে, অব্যয় (হরফ) বিশেষ্য (ইসম) এবং ক্রিয়া (ফেল) থেকে পৃথক হয় বিশেষ্য ও ক্রিয়ার চিহ্নসমূহ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি 'হাল', 'ফি' এবং 'লাম' এর মাধ্যমে উদাহরণ দিয়েছেন এটি সতর্ক করার জন্য যে, অব্যয় দুই প্রকার: অ-বিশেষায়িত এবং বিশেষায়িত। ‘হাল’ দ্বারা তিনি অ-বিশেষায়িত অব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা বিশেষ্য এবং ক্রিয়া উভয়ের পূর্বে আসে; যেমন: 'হাল যায়দুন কায়িমুন' (যায়দ কি দণ্ডায়মান?) এবং 'হাল কমা যায়দুন' (যায়দ কি দাঁড়িয়েছে?)। আর 'ফি' ও 'লাম' দ্বারা তিনি বিশেষায়িত অব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটি আবার দুই প্রকার: বিশেষ্যের সাথে বিশেষায়িত যেমন 'ফি', যথা: 'যায়দুন ফিদ দারি' (যায়দ ঘরের মধ্যে আছে); এবং ক্রিয়ার সাথে বিশেষায়িত যেমন 'লাম', যথা: 'লাম ইয়াকুম যায়দুন' (যায়দ দাঁড়ায়নি)। অতঃপর তিনি ক্রিয়া যে অতীত, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং নির্দেশসূচক—এই তিন ভাগে বিভক্ত, তার বর্ণনা শুরু করেন। তিনি চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المضارع صحة دخول لم عليه كقولك في يشم لم يشم وفي يضرب لم يضرب وإليه أشار بقوله فعل مضارع يلي لم كيشم
ثم أشار إلى ما يميز الفعل الماضي بقوله وماضي الأفعال بالتا مز أي ميز ماضي الأفعال بالتاء والمراد بها تاء الفاعل وتاء التأنيث الساكنة وكل منهما لا يدخل إلا على ماضي اللفظ نحو تباركت يا ذا الجلال والإكرام ونعمت المرأة هند وبئست المرأة دعد.
ثم ذكر في بقية البيت أن علامة فعل الأمر قبول نون التوكيد والدلالة على الأمر بصيغته نحو اضربن واخرجن فإن دلت الكلمة على الأمر ولم تقبل نون التوكيد فهي اسم فعل (1) وإلى ذلك أشار بقوله:
والأمر إن لم يك للنون محل
… فيه هو اسم نحو صه وحيهل (2)
--------------------------------------------
মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন) ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো তার পূর্বে 'লাম' (لم) যুক্ত হওয়া শুদ্ধ হওয়া। যেমন- 'ইয়াশাম্মু' শব্দের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন 'লাম ইয়াশাম' এবং 'ইয়াদরিবু' শব্দের ক্ষেত্রে 'লাম ইয়াদরিব'। এরই প্রতি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "মুদারে ক্রিয়া তা-ই যা 'লাম'-এর পরে আসে, যেমন- ইয়াশাম।"
অতঃপর তিনি মাজি (অতীতকালীন) ক্রিয়াকে পৃথক করার চিহ্নের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, "আর মাজি ক্রিয়াকে 'তা' দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করো।" অর্থাৎ, মাজি ক্রিয়াকে 'তা' এর মাধ্যমে পার্থক্য করো। এখানে 'তা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'তা-য়ে ফায়েল' (কর্তৃবাচক তা) এবং সুকুনযুক্ত 'তা-য়ে তানিছ' (স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা)। এ দুটির কোনটিই মাজি বা অতীতকালীন রূপ ছাড়া অন্য কোথাও প্রবেশ করে না। যেমন: "হে মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী, আপনি বরকতময় হয়েছেন", "হিন্দ কতই না উত্তম নারী" এবং "দা'দ কতই না মন্দ নারী" ।
এরপর তিনি পঙ্ক্তির অবশিষ্টাংশে উল্লেখ করেছেন যে, আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়ার চিহ্ন হলো 'নুনে তাকিদ' (দৃঢ়তাসূচক নুন) গ্রহণ করা এবং তার রূপ বা গঠনের মাধ্যমেই আদেশের অর্থ প্রদান করা। যেমন: "অবশ্যই প্রহার করো" এবং "অবশ্যই বের হও"। যদি কোনো শব্দ আদেশের অর্থ প্রদান করে কিন্তু 'নুনে তাকিদ' গ্রহণ না করে, তবে তা 'ইসমে ফেয়েল' (ক্রিয়াসদৃশ বিশেষ্য) (১) হিসেবে গণ্য হবে। এরই প্রতি তিনি ইঙ্গিত করে বলেছেন:
আর আমর (আদেশসূচক অর্থ) প্রকাশকারী শব্দে যদি নুন-এর স্থান না থাকে
… তবে সেটি হলো ইসম, যেমন- সাহ এবং হায়্যাহাল (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فصه وحيهل اسمان وإن دلا على الأمر لعدم قبولهما نون التوكيد فلا تقول صهن ولا حيهلن وإن كانت صه بمعنى اسكت وحيهل بمعنى أقبل فالفارق (1) بينهما قبول نون التوكيد وعدمه نحو اسكتن وأقبلن ولا يجوز ذلك في صه وحيهل.
--------------------------------------------
সুতরাং সাহ এবং হায়হালা হলো দুটি ইসম (বিশেষ্য), যদিও সেগুলো নির্দেশের অর্থ প্রকাশ করে, কারণ সেগুলো নূন-এ তাকিদ (দৃঢ়তাবাচক নূন) গ্রহণ করে না। তাই আপনি সাহান্না বা হায়হালান্না বলতে পারবেন না। যদিও সাহ শব্দটি উস্কুত (চুপ করো) এবং হায়হালা শব্দটি আকবিল (এগিয়ে এসো) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য (১) হলো নূন-এ তাকিদ গ্রহণ করা বা না করা; যেমন উস্কুতান্না এবং আকবিলান্না, আর সাহ ও হায়হালা-এর ক্ষেত্রে এটি জায়েয নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
_________
= المضارع في جوابه، فتقول: انزل فأحدثك، ولا يجوز نصب المضارع في جواب اسم الفعل ولو كان دالا على الطلب كصه ونزال، والخامس: أن أسماء الافعال لا تعمل مضمرة، بحيث تحذف ويبقى معمولها، ولا متأخرة عن معمولها، بل متى وجدت معمولا تقدم على اسم فعل تعين عليك تقدير فعل عامل فيه، فنحو قول الشاعر: يأيها المائح دلوي دونكا إني رأيت الناس يحمدونكا يقدر: خذ دلوى، ولا يجعل قوله: " دلوي " معمولا لدونكا الموجود، ولا لآخر مثله مقدر، على الاصح.
والسادس: أن أسماء الافعال غير متصرفة، فلا تختلف أبنيتها لاختلاف الزمان، بخلاف الافعال.
والسابع: أنها لا تقبل علامات الافعال كالنواصب والجوازم ونون التوكيد وياء المخاطبة وتاء الفاعل، وهو ما ذكره الشارح في هذا الموضع، فاحفظ هذا كله، وكن منه على ثبت، والله يتولاك.
الفائدة الثالثة، اختلف النحاة في أسماء الافعال، فقال جمهور البصريين: هي أسما قامت مقام الافعال في العمل، ولا تتصرف تصرف الافعال بحيث تختلف أبنيتها لاختلاف الزمان، ولا تصرف الاسماء بحيث يسند إليها إسنادا معنويا فتقع مبتدأ وفاعلا، وبهذا فارقت الصفات كأسماء الفاعلين والمفعولين، وقال جمهور الكوفيين: إنها أفعال، لانها
تدل على الحدث والزمان، كل ما في الباب أنها جامدة لا تتصرف، فهي كليس وعسى ونحوهما، وقال أبو جعفر بن صابر: هي نوع خاص من أنواع الكلمة، فليست أفعالا وليست أسماء، لانها لا تتصرف تصرف الافعال ولا تصرف الاسماء، ولانها لا تقبل علامة الاسماء ولا علامة الافعال، وأعطاها أبو جعفر اسما خاصا بها حيث سماها " خالفة ".
এর জবাবে মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনি বলবেন: ‘নিচে নামো, তাহলে আমি তোমার সাথে কথা বলব’। তবে ইসমে ফে’লের জবাবে মুদারে মানসুব (নসবযুক্ত) হওয়া জায়েজ নেই, যদিও তা ‘সাহ’ (চুপ করো) এবং ‘নাযালি’ (নামো)-এর মতো তলব বা অনুরোধ নির্দেশ করে। পঞ্চম: ইসমে ফে’লসমূহ উহ্য অবস্থায় আমল (ক্রিয়া সম্পাদন) করে না, অর্থাৎ এমনটি হয় না যে ইসমে ফে’লটি বিলুপ্ত হবে অথচ তার মা’মূল (যাকে প্রভাবিত করা হয়েছে) অবশিষ্ট থাকবে। আবার এগুলো তার মা’মূলের পরেও আসে না। বরং যখনই আপনি দেখবেন যে কোনো মা’মূল ইসমে ফে’লের আগে চলে এসেছে, তখন আপনার জন্য সেখানে একটি আমেল ফে’ল (ক্রিয়াপদ) উহ্য ধরা আবশ্যক হয়ে পড়বে। যেমন কবির পঙক্তি: ‘হে কূপ থেকে পানি উত্তোলনকারী, আমার বালতিটি ধরুন, নিশ্চয়ই আমি দেখেছি মানুষ আপনার প্রশংসা করছে’। এখানে ‘আমার বালতিটি ধরুন’ উহ্য ধরা হবে। বিশুদ্ধতম মতানুসারে, ‘আমার বালতি’ শব্দটিকে উপস্থিত ‘দুনাকা’ শব্দের মা’মূল হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং এর মতো অন্য কোনো উহ্য শব্দের মা’মূলও ধরা হবে না।
ষষ্ঠ: ইসমে ফে’লসমূহ অ-রূপান্তরযোগ্য (অব্যয় সদৃশ)। ফলে কালের পরিবর্তনের কারণে এগুলোর গঠনে কোনো পরিবর্তন হয় না, যা সাধারণ ক্রিয়াপদের (ফে’ল) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
সপ্তম: এগুলো ফে’লের আলামত বা চিহ্নসমূহ গ্রহণ করে না, যেমন—নসব প্রদানকারী অব্যয়, জজম প্রদানকারী অব্যয়, নুনে তাকিদ, ইয়ায়ে মুখাতাব এবং তায়ে ফায়েল। এটিই ব্যাখ্যাকার এখানে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই সব বিষয় মুখস্থ রাখুন এবং এ ব্যাপারে সুদৃঢ় হোন। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
তৃতীয় ফায়দা: ইসমে ফে’ল নিয়ে ব্যাকরণবিদগণ মতভেদ করেছেন। বসরার জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম বলেন: এগুলো এমন ইসম বা বিশেষ্য যা আমল করার ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এগুলো ক্রিয়াপদের মতো রূপান্তরযোগ্য নয় যে সময়ের ব্যবধানে এর গঠন পরিবর্তিত হবে, আবার এগুলো বিশেষ্যের মতোও রূপান্তরযোগ্য নয় যে এর দিকে অর্থগতভাবে কোনো কিছুকে সম্বন্ধ করা যাবে (ইসনাদ) এবং তা মুবতাদা বা ফায়েল হতে পারবে। এই দিক থেকেই এগুলো ইসমে ফায়েল এবং ইসমে মাফউলের মতো গুণবাচক শব্দগুলো থেকে পৃথক। কুফার জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম বলেন: এগুলো মূলত ফে’ল বা ক্রিয়াপদ;
কারণ এগুলো কাজ এবং কাল উভয়টিই নির্দেশ করে। এই বিষয়ের মূল কথা হলো, এগুলো জামিদ (অপরিবর্তনীয়), যা রূপান্তর করা যায় না। ফলে এগুলো ‘লাইসা’ এবং ‘আসা’ বা এই জাতীয় শব্দের মতো। আবু জাফর ইবনে সাবের বলেন: এগুলো শব্দের প্রকারভেদের মধ্যে একটি বিশেষ প্রকার। এগুলো ফে’ল নয় এবং ইসমও নয়। কারণ এগুলো ফে’লের মতো রূপান্তর হয় না এবং ইসমের মতোও রূপান্তর হয় না। অধিকন্তু এগুলো ইসমের আলামতও গ্রহণ করে না এবং ফে’লের আলামতও গ্রহণ করে না। আবু জাফর এগুলোকে একটি বিশেষ নাম দিয়েছেন এবং একে ‘খালিফাহ’ বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المعرب والمبني (1)
والاسم منه معرب ومبني
… لشبه من الحروف مدني (2)
يشير إلى أن الاسم ينقسم إلى قسمين:
أحدهما: المعرب وهو ما سلم من شبه الحروف.
والثاني: المبني وهو ما أشبه الحروف وهو المعني بقوله لشبه من الحروف مدني أي لشبه مقرب من الحروف فعلة البناء منحصرة عند المصنف رحمه الله تعالى في شبه الحرف.
ثم نوع المصنف وجوه الشبه في البيتين الذين بعد هذا البيت وهذا قريب من مذهب أبي علي الفارسي حيث جعل البناء منحصرا في شبه الحرف أو ما تضمن معناه وقد نص سيبويه رحمه الله على أن علة البناء كلها ترجع إلى شبه الحرف
--------------------------------------------
মু'রাব (পরিবর্তনশীল) এবং মাবনি (অপরিবর্তনীয়) (১)
বিশেষ্য বা ইসমের মধ্যে কিছু মু'রাব এবং কিছু মাবনি
… অব্যয় বা হরফের সাথে নৈকট্যপূর্ণ সাদৃশ্যের কারণে (২)
এটি নির্দেশ করছে যে, ইসম বা বিশেষ্য দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: মু'রাব, যা অব্যয়ের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত।
দ্বিতীয়টি: মাবনি, যা অব্যয়ের সদৃশ। আর তাঁর উক্তি "অব্যয়ের সাথে নৈকট্যপূর্ণ সাদৃশ্যের কারণে" দ্বারা এটিই বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ অব্যয়ের সাথে এমন সাদৃশ্য যা তাকে তার নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং গ্রন্থকার (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট শব্দ অপরিবর্তনীয় (বিনা) হওয়ার কারণ কেবল অব্যয়ের সাদৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এরপর গ্রন্থকার এই পংক্তির পরবর্তী দুটি পংক্তিতে সাদৃশ্যের প্রকারগুলো বর্ণনা করেছেন। এটি আবু আলী আল-ফারিসীর মতবাদের কাছাকাছি, কারণ তিনি শব্দ অপরিবর্তনীয় হওয়াকে অব্যয়ের সাদৃশ্য অথবা অব্যয়ের অর্থ ধারণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। সিবওয়াইহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শব্দ অপরিবর্তনীয় হওয়ার সমস্ত কারণ অব্যয়ের সাদৃশ্যেই পর্যবসিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وممن ذكره ابن أبي الربيع. (1)
--------------------------------------------
যাঁরা এটি উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে ইবন আবিল রবিও রয়েছেন। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু ইবনি আকিল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كالشبه الوضعي في اسمي جئتنا
… والمعنوي في متى وفي هنا (1)
وكنيابة عن الفعل بلا
… تأثر وكافتقار أصلا (2)
ذكر في هذين البيتين وجوه شبه الاسم بالحرف في أربعة مواضع:
فالأول: شبهه له في الوضع كأن يكون الاسم موضوعا على حرف.
--------------------------------------------
যেমন 'জইতানা' (তুমি আমাদের নিকট এসেছ) ক্রিয়ার অন্তর্গত দুটি বিশেষ্যের গাঠনিক সাদৃশ্য
… এবং 'মাতা' ও 'হুনা' শব্দের মধ্যকার অর্থগত সাদৃশ্য (১)
এবং ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে কারক দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া
… এবং মজ্জাগত মুখাপেক্ষিতা (২)
এই দুই চরণে বিশেষ্য ও অব্যয়ের সাদৃশ্যের চারটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে:
প্রথমটি হলো: গঠনে অব্যয়ের সাথে এর সাদৃশ্য, যেমন বিশেষ্যটি একটি বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া।
--------------------------------------------