(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: -)
الرحيق المختوم مع زيادات   (صفي الرحمن المباركفوري)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية (الرحيق المختوم للمباركفوري)

أشرف عليها، وأضاف عليها العبر والدروس، ووضع المصورات: د. علاء الدين محمود زعتري، أ. غسان محمد رشيد الحموي

[مؤلف الأصل: صفي الرحمن المباركفوري، ت 1427 هـ]

الناشر: دار العصماء، دمشق - سوريا

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 440

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রাহীকুল মাখতূম (পরিশিষ্টসহ)   (সফিউর রহমান মুবারকপুরী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: সীরাতুন নবী (মুবারকপুরী রচিত আর-রাহীকুল মাখতূম)

তত্ত্বাবধান করেছেন, এতে শিক্ষা ও উপদেশ যোগ করেছেন, এবং চিত্রাবলি সন্নিবেশ করেছেন: ড. আলাউদ্দীন মাহমুদ যাতারি, উস্তাদ. গাসসান মুহাম্মদ রশীদ আল-হামাউয়ী

[মূল লেখক: সফিউর রহমান মুবারকপুরী, মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল আসমা, দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة وأكمل التسليم على سيد الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه الغر الميامين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد:

فإن سيرة النبي المصطفى محمد صلى الله عليه وسلم هي الأساس الكامل والمرجع الرئيس لكل داعية يرجو لعمله النجاح، وللدعوة الإسلامية الاستمرار.

فالرسالة المحمدية والسيرة العطرة لا تزال متصلة يحملها العدول من كل زمان، من العلماء العاملين، والدعاة المخلصين، وقد تناقلت الأجيال سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم جيلا بعد جيل، حفظا في الصدور، وكتابة في السطور، وسجلت في كتب يضيق بها الحصر والتعداد، وسوف تظل الكتابة فيها متواصلة ما بين مختصر وشارح، أو مفند وكاتب للعبر والدلالات، ويبقى الحديث عن السيرة قائما إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها.

ومن فضل الله علي أن وفقني لتدريس مادة السيرة النبوية وقد اختارت لجنة المناهج كتابا قيما فكان الكتاب نواة لمنهج السيرة النبوية.

وقد وجدت أن من المفيد إضافة بعض التأملات والعبر والدروس لحوادث السيرة مما يجعل قراءتها أكثر أهمية وأجلّ نفعا.

وشفعتها بمصورات إيضاحية تبين الأماكن والآثار والمواقع ليسهل على الدارس معرفة الحوادث ودراستها.

والله أسأل أن ينفع بهذا العلم طلاب العلم وجميع المسلمين.

كما أسأله عز وجل أن يجعل عملي خالصا لوجهه الكريم.

د. علاء الدين زعتري
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলগণের সরদার এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও অত্যন্ত বরকতময় সম্মানিত সাহাবীদের ওপর, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। এরপর:

নিশ্চয়ই মনোনীত নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত হলো সেই পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি এবং প্রধান উৎস প্রতিটি ঐ দা'ঈর জন্য, যে তার কাজে সফলতা এবং ইসলামী দাওয়াতের ধারাবাহিকতা কামনা করে।

মুহাম্মদী রিসালাত ও সুগন্ধময় সীরাত আজও অবিচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে, যা প্রতিটি যুগের ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরা—আমলকারী আলিম ও নিষ্ঠাবান দা'ঈগণ বহন করে চলেছেন। বংশপরম্পরায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত অন্তরে হিফজ করার মাধ্যমে এবং পাতায় লিখিত আকারে স্থানান্তরিত হয়েছে। এটি এমন সব কিতাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে যা গণনা ও সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা কঠিন। একে কেন্দ্র করে লেখালেখি চলতেই থাকবে—তা সংক্ষিপ্তসার হোক কিংবা ব্যাখ্যাগ্রন্থ, অথবা বিশ্লেষণ এবং শিক্ষা ও নিদর্শন বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে। সীরাত নিয়ে আলোচনা ততক্ষণ পর্যন্ত জারি থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হবেন।

আমার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে, তিনি আমাকে সীরাতুন্নবী বিষয়টি পাঠদানের তাওফিক দান করেছেন। কারিকুলাম কমিটি একটি মূল্যবান কিতাব নির্বাচন করেছেন, ফলে কিতাবটি সীরাতুন্নবীর পাঠ্যক্রমের মূলে পরিণত হয়েছে।

আমি সীরাতের ঘটনাগুলোর সাথে কিছু চিন্তা-ভাবনা, শিক্ষা ও উপদেশ যোগ করা ফলপ্রসূ মনে করেছি, যা এর অধ্যয়নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিকতর উপকারী করে তুলবে।

আমি এর সাথে কিছু ব্যাখ্যামূলক চিত্র যুক্ত করেছি যা স্থান, নিদর্শন এবং অবস্থানসমূহ স্পষ্ট করে, যাতে শিক্ষার্থীর পক্ষে ঘটনাগুলো জানা ও অধ্যয়ন করা সহজ হয়।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি এই ইলমের মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারী এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন।

সেইসাথে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য কবুল করেন।

ড. আলাউদ্দীন জা'তারী
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৪)
(بسم الله الرحمن الرحيم)

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الخلق سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:

تعتبر مادة السيرة النبوية من أهم المواد الشرعية لأنها ترسم منهاج حياة النبي صلى الله عليه وسلم، وتكمن أهمية تدريس مادة السيرة في تقديمها بشكل شيق يجعلها منهاج حياة السامعين.

وأردد دائما مقولة أن السيرة النبوية صيدلية عظيمة وما علينا إلا استخدام الدواء المناسب للمرض المناسب. ففهمنا لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم تجعلنا نحسن استخدام أدويتها لحل مشاكلنا.

ولقد منّ الله تعالى عليّ بتدريس هذه المادة في كلية أصول الدين منذ بضع سنوات، جزى الله القائمين عليها كل خير، وجعلني أهلا لهذا.

ويعتبر هذا الكتاب في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم من خيرة وأحدث ما كتب في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم. فجهد المؤلف فيه عظيم ومشكور. ومع وجود الكثير من الأخطاء المطبعية فقد أكرمني الله سبحانه وتعالى بالتعاون مع أخي الدكتور علاء الدين زعتري بوضع بعض التصويبات وإضافة بعض التعديلات والملاحظات التي تزيد الكتاب وضوحا وسهولة.

كما وتم إضافة الكثير من المصورات التي تساعد في فهم الغزوات والمعارك المختلفة وتوضح أماكن وقوع الحوادث التاريخية العظيمة وفي هذا خير عظيم للقارئ والدارس.

مما يجعل هذا الكتاب بوضعه الجديد مناسبا تماما للدراسة في كلية أصول الدين لطلاب السنة الأولى والسنة الثانية.

نرجو من الله تعالى تمام التوفيق وأن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم (وقل اعملوا فسيرى الله عملكم ورسوله والمؤمنون) والحمد لله رب العالمين

غسان محمد رشيد الحموي مدرس مادة السيرة النبوية.
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

সীরাতুন নবী বা নবীজীর জীবনী শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়; কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনপদ্ধতিকে চিত্রায়িত করে। সীরাত পাঠদানের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে একে চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপনের মধ্যে, যা একে শ্রোতাদের জীবন পরিচালনার পাথেয় হিসেবে গড়ে তোলে।

আমি সর্বদা এই কথাটি বলি যে, সীরাতুন নবী হলো একটি বিশাল ঔষধালয়, আর আমাদের কাজ হলো কেবল সঠিক রোগের জন্য সঠিক ঔষধটি ব্যবহার করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে আমাদের সঠিক বুঝ আমাদের সমস্যা সমাধানে এর শিক্ষাসমূহকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম করে তোলে।

আল্লাহ তাআলা গত কয়েক বছর ধরে উসুলুদ্দীন কলেজে এই বিষয়টি পাঠদানের মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং আমাকে এর যোগ্য হিসেবে কবুল করুন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ে এই গ্রন্থটি এ বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আধুনিক কাজ। এতে লেখকের প্রচেষ্টা অত্যন্ত মহান ও প্রশংসার যোগ্য। বইটিতে বেশ কিছু মুদ্রণজনিত ভুল থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার ভাই ডক্টর আলাউদ্দীন যাতারি-এর সহযোগিতায় আমাকে কিছু সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিমার্জন এবং কিছু টীকা যুক্ত করার তৌফিক দিয়ে সম্মানিত করেছেন, যা বইটির স্পষ্টতা ও সহজবোধ্যতা বৃদ্ধি করেছে।

পাশাপাশি এতে প্রচুর চিত্র ও মানচিত্র সংযোজন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন যুদ্ধ ও অভিযান বুঝতে সহায়ক এবং মহান ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংঘটনের স্থানসমূহকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। পাঠক ও শিক্ষার্থীর জন্য এতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

এসব বৈশিষ্ট্য বইটিকে বর্তমান আঙ্গিকে উসুলুদ্দীন কলেজের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যয়নের সম্পূর্ণ উপযোগী করে তুলেছে।

আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে পূর্ণ তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং কামনা করি তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একান্তভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। (আর আপনি বলুন: তোমরা কাজ করে যাও, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের কাজ দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও দেখবেন)। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

গাসসান মুহাম্মদ রশীদ আল-হামবী, সীরাতুন নবী বিষয়ের শিক্ষক।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৫)
نسب النبي- صلى الله عليه وسلم وأسرته نسب النبي- صلى الله عليه وسلم:

لنسب النبي صلى الله عليه وسلم ثلاثة أجزاء: جزء اتفق على صحته أهل السير والأنساب وهو إلى عدنان، وجزء اختلفوا فيه ما بين متوقف فيه وقائل به، وهو ما فوق عدنان إلى إبراهيم عليه السلام، وجزء لا نشك أن فيه أمورا غير صحيحة، وهو ما فوق إبراهيم إلى آدم عليهما السلام، وقد أسلفنا الإشارة إلى بعض هذا، وهاك تفصيل تلك الأجزاء الثلاثة:

الجزء الأول: محمد بن عبد الله بن عبد المطلب- واسمه شيبة- بن هاشم- واسمه عمرو- بن عبد مناف- واسمه المغيرة- بن قصي- واسمه زيد- بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر- وهو الملقب بقريش وإليه تنتسب القبيلة- بن مالك بن النضر- واسمه قيس- بن كنانة بن خزيمة بن مدركة- واسمه عامر- بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان «1» .

الجزء الثاني: ما فوق عدنان، وعدنان هو ابن أد بن هميسع بن سلامان ابن عوص بن بوز بن قموال بن أبي بن عوام بن ناشد بن حزا بن بلداس بن يدلاف بن طابخ بن جاحم بن ناحش بن ماخي بن عيض بن عبقر بن عبيد بن الدعا بن حمدان بن سنبر بن يثربي بن يحزن بن يلحن بن أرعوي بن عيض بن ديشان بن عيصر بن أفناد بن أيهام بن مقصر بن ناحث بن زارح بن سمي بن مزي بن عوضة بن عرام بن قيدار بن إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام «2» .

الجزء الثالث: ما فوق إبراهيم عليه السلام، وهو ابن تارح- واسمه آزر- بن ناحور بن ساروع- أو ساروغ- بن راعو بن فالخ بن عابر بن شالخ ابن أرفخشد بن سام بن نوح- عليه السلام بن لامك بن متوشلخ بن أخنوخ- يقال هو إدريس عليه السلام ابن يرد بن مهلائيل بن قينان بن آنوشة بن شيث بن آدم عليهما السلام «3»

--------------------------------------------

(1) ابن هشام 1/ 1، 2. تلقيح فهوم أهل الأثر 5، 6، رحمة للعالمين 2/ 11، 12، 13، 14، 52.

(2) قد جمع العلامة محمد سليمان المنصور فوري هذا الجزء من النسب برواية الكلبي، وابن سعد بعد تحقيق دقيق. انظر رحمة للعالمين 2/ 14، 15، 16، 17 وفيه اختلاف كبير بين المصادر التاريخية.

(3) ابن هشام 1/ 2، 3، 4 تلقيح فهوم أهل الأثر ص 6، خلاصة السير للطبري ص 6، ورحمة للعالمين 2/ 18 واختلفت هذه المصادر في تلفظ بعض هذه الأسماء وكذا سقط من بعض المصادر بعض الأسماء.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরম্পরা এবং তাঁর পরিবার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরম্পরা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশতালিকার তিনটি অংশ রয়েছে: একটি অংশ যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সীরাত বিশেষজ্ঞ ও বংশলিপিবিদগণ একমত, আর তা হলো আদনান পর্যন্ত। দ্বিতীয় অংশটি এমন যার ব্যাপারে তাঁদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; কেউ এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেছেন আবার কেউ বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো আদনানের ঊর্ধ্বে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত। আর তৃতীয় অংশটি এমন যেটির মধ্যে কিছু ভুল তথ্য থাকার ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই, আর তা হলো ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ঊর্ধ্বে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত। আমরা ইতিমধ্যে এর কিছু অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, আর এখানে সেই তিনটি অংশের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

প্রথম অংশ: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব—তাঁর নাম শায়বাহ—ইবনে হাশিম—তাঁর নাম আমর—ইবনে আবদে মানাফ—তাঁর নাম মুগীরাহ—ইবনে কুসাই—তাঁর নাম যায়েদ—ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর—যিনি কুরাইশ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন এবং তাঁর দিকেই এই গোত্রের সম্বন্ধ করা হয়—ইবনে মালিক ইবনে নজর—তাঁর নাম কায়েস—ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ—তাঁর নাম আমির—ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুযার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান। (১)

দ্বিতীয় অংশ: আদনানের ঊর্ধ্বের অংশ। আদনান হলেন আদ ইবনে হুমাইসা ইবনে সালামন ইবনে আওস ইবনে বুয ইবনে কামওয়াল ইবনে আবি ইবনে আওয়াম ইবনে নাশিদ ইবনে হাযা ইবনে বিলদাস ইবনে ইয়াদলাফ ইবনে তাবিহ ইবনে জাহিম ইবনে নাহিশ ইবনে মাখি ইবনে আইয ইবনে আবকার ইবনে উবাইদ ইবনে আদ-দুআ ইবনে হামদান ইবনে সানবার ইবনে ইয়াসরিবি ইবনে ইয়াহযুন ইবনে ইয়ালহান ইবনে আর'আওয়ী ইবনে আইয ইবনে দীশান ইবনে আইসার ইবনে আফনাদ ইবনে আইহাম ইবনে মুকাসসির ইবনে নাহিস ইবনে যারায ইবনে সামি ইবনে মাযি ইবনে আওয়াদাহ ইবনে ইরাম ইবনে কায়দার ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আলাইহিমাস সালাম। (২)

তৃতীয় অংশ: ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ঊর্ধ্বের অংশ। তিনি হলেন ইবনে তারিখ—তাঁর নাম আযার—ইবনে নাহুর ইবনে সারুহ—অথবা সারুগ—ইবনে রাউ ইবনে ফালিহ ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ আলাইহিস সালাম ইবনে লামিক ইবনে মাতুশলাখ ইবনে আখনুখ—বলা হয় তিনি হলেন ইদ্রিস আলাইহিস সালাম—ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল ইবনে কাইনান ইবনে আনূশাহ ইবনে শীস ইবনে আদম আলাইহিমাস সালাম। (৩)

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম ১/১, ২। তালকীহ ফাহুম আহলিল আসার ৫, ৬। রাহমাতুল্লিল আলামীন ২/১১, ১২, ১৩, ১৪, ৫২।

(২) আল্লামা মুহাম্মদ সুলাইমান আল-মানসুরপুরী বংশলিপির এই অংশটি কালবী এবং ইবনে সা’দ-এর বর্ণনা অনুযায়ী সূক্ষ্ম তাহকীক বা গবেষণার পর সংকলন করেছেন। দেখুন রাহমাতুল্লিল আলামীন ২/১৪, ১৫, ১৬, ১৭। আর এ বিষয়ে ঐতিহাসিক উৎসগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।

(৩) ইবনে হিশাম ১/২, ৩, ৪। তালকীহ ফাহুম আহলিল আসার পৃ. ৬। খুলাসাতুস সিয়ার লিত-তাবারী পৃ. ৬। রাহমাতুল্লিল আলামীন ২/১৮। এই উৎসগুলো এই নামগুলোর কোনো কোনোটির উচ্চারণে ভিন্নমত পোষণ করেছে এবং কোনো কোনো উৎসে কিছু নাম বাদও পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৬)
طيب نسبه صلى الله عليه وسلم

روى الترمذي أنه صلى الله عليه وسلم قام على المنبر، فقال: من أنا؟ فقالوا: أنت رسول الله عليك السلام، فقال: أنا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب، إن الله خلق الخلق، ثم جعلهم فرقتين، فجعلني في خيرهم فرقة، ثم جعلهم قبائل فجعلني في خيرهم قبيلة، ثم جعلهم بيوتهم، فجعلني في خيرهم بيتا، وخيرهم نفسا.

وروى مسلم من حديث وائلة بن الأسقع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نفسه:

«إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم» .
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশধারার শ্রেষ্ঠত্ব

তিরমিযী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের ওপর দাঁড়ালেন এবং বললেন: আমি কে? তাঁরা বললেন: আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদেরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভাগে রেখেছেন। এরপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গোত্রে রেখেছেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পরিবারে ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিসত্তা হিসেবে রেখেছেন।

আর মুসলিম ওয়াতিলা বিন আল-আসকা‘র বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সম্পর্কে বলেছেন:

«নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌‌‌المولد وأربعون عاما قبل النبوة

 

المولد:

ولد سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم بشعب بني هاشم بمكة في صبيحة يوم الإثنين التاسع من شهر ربيع الأول، لأول عام من حادثة الفيل، ولأربعين سنة خلت من ملك كسرى أنوشروان، ويوافق ذلك العشرين أو الثاني وعشرين من شهر أبريل سنة 571 م حسبما حققه العالم الكبير محمد سليمان المنصور فوري والمحقق الفلكي محمود باشا «1» .

وروى ابن سعد أن أم رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت: لما ولدته خرج مني نور أضاءت له قصور الشام، وروى أحمد عن العرباض بن سارية ما يقارب ذلك «2» .

وقد روي أن إرهاصات بالبعثة وقعت عند الميلاد، فسقطت أربع عشرة شرفة من إيوان كسرى، وخمدت النار التي يعبدها المجوس، وانهدمت الكنائس حول بحيرة ساوة بعد أن غاضت، روى ذلك البيهقي «3» ولا يقره محمد الغزالي «4» .

ولما ولدته أمه أرسلت إلى جده عبد المطلب تبشره بحفيده، فجاء مستبشرا ودخل به الكعبة، ودعا الله وشكر له، واختار له اسم محمد- وهذا الاسم لم يكن معروفا في العرب- وختنه يوم سابعه كما كان العرب يفعلون «5» .

--------------------------------------------

(1) محاضرات تاريخ الأمم الإسلامية للخضري 1/ 62، رحمة للعالمين 1/ 38، 39 واختلافهم في تعيين تاريخ أبريل فرع للاختلاف في التقويمات الميلادية.

(2) انظر مختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم للشيخ عبد الله النجدي ص 12 وابن سعد 1/ 63.

(3) نفس المصدر الأول.

(4) انظر فقه السيرة لمحمد الغزالي ص 46.

(5) ابن هشام 1/ 159، 160، ومحاضرات تاريخ الأمم الإسلامية للخضري 1/ 62 وقيل إنه ولد مختونا، انظر-
‌‌জন্ম এবং নবুওয়াতের পূর্বের চল্লিশ বছর

 

জন্ম:

রাসূলদের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বনু হাশিম পল্লীতে হস্তী বাহিনীর ঘটনার প্রথম বছরে ৯ই রবিউল আউয়াল সোমবার সকালে জন্মগ্রহণ করেন। এটি পারস্য সম্রাট কিসরা আনুশিরওয়ানের রাজত্বের চল্লিশতম বছর ছিল। প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মদ সুলাইমান মনসুরপুরী এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষক মাহমুদ পাশার গবেষণা অনুযায়ী, এই তারিখটি ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের ২০শে অথবা ২২শে এপ্রিলের সাথে মিলে যায়।

ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মা বলেছেন: যখন আমি তাঁকে জন্ম দিলাম, তখন আমার থেকে এমন একটি নূর নির্গত হলো যার আলোতে শামের (সিরিয়া) প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আহমদ ইরবাজ ইবনে সারিয়াহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বর্ণিত আছে যে, জন্মের সময় নবুওয়াতের আগাম কিছু নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল। যেমন—কিসরার রাজপ্রাসাদের চৌদ্দটি গম্বুজ ভেঙে পড়েছিল, অগ্নিপূজকদের (মাজুস) প্রজ্বলিত আগুন নিভে গিয়েছিল এবং সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাওয়ার পর এর চারপাশের গির্জাগুলো ধসে পড়েছিল। বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন, তবে মুহাম্মদ আল-গাজালী এটি সমর্থন করেননি।

যখন তাঁর মা তাঁকে জন্ম দিলেন, তখন তিনি তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে পৌত্রের সুসংবাদ দিয়ে লোক পাঠালেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে আসলেন এবং তাঁকে নিয়ে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। তিনি আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন ও তাঁর শুকরিয়া আদায় করলেন। তিনি তাঁর নাম রাখলেন মুহাম্মদ—এই নামটি তখন আরবদের মধ্যে পরিচিত ছিল না। আরবরা যেভাবে করত, সে অনুযায়ী জন্মের সপ্তম দিনে তিনি তাঁর খতনা করালেন।

--------------------------------------------

(১) খুদরী রচিত মুহাদ্বারাত তারিখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ ১/৬২, রাহমাতুল্লিল আলামীন ১/৩৮, ৩৯; এপ্রিলের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের মতপার্থক্যটি মূলত ঈসায়ী ক্যালেন্ডারের গণনার পার্থক্যের কারণে।

(২) শাইখ আব্দুল্লাহ নাজদী রচিত মুখতাসার সীরাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃষ্ঠা ১২ এবং ইবনে সাদ ১/৬৩ দেখুন।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) মুহাম্মদ আল-গাজালী রচিত ফিকহুস সীরাহ পৃষ্ঠা ৪৬ দেখুন।

(৫) ইবনে হিশাম ১/১৫৯, ১৬০ এবং খুদরী রচিত মুহাদ্বারাত তারিখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ ১/৬২; বলা হয়ে থাকে যে তিনি জন্মগতভাবে খতনাকৃত ছিলেন, দেখুন-
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৮)
وأول من أرضعته من المراضع- بعد أمه صلى الله عليه وسلم ثويبة مولاة أبي لهب بلبن ابن لها يقال له مسروح، وكانت قد أرضعت قبله حمزة بن عبد المطلب، وأرضعت بعده أبا سلمة بن عبد الأسد المخزومي «1» .

 

‌‌في بني سعد:

وكانت العادة عند الحاضرين من العرب أن يلتمسوا المراضع لأولادهم، ابتعادا لهم عن أمراض الحواضر؛ لتقوى أجسامهم، وتشتد أعصابهم، ويتقنوا اللسان العربي في مهدهم، فالتمس عبد المطلب لرسول الله صلى الله عليه وسلم الرضعاء، واسترضع له امرأة من بني سعد بن بكر- وهي حليمة بنت أبي ذؤيب- وزوجها الحارث بن عبد العزى المكنى بأبي كبشة، من نفس القبيلة.

وإخوته صلى الله عليه وسلم هناك من الرضاعة عبد الله بن الحارث، وأنيسة بنت الحارث، وحذافة أو جذامة بنت الحارث (وهي الشيماء- لقب غلب على اسمها-) وكانت تحضن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو سفيان بن الحارث بن عبد المطلب، ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكان عمه حمزة بن عبد المطلب مسترضعا في بني سعد بن بكر، فأرضعت أمه رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما وهو عند أمه حليمة، فكان حمزة رضيع رسول الله صلى الله عليه وسلم من وجهين، من جهة ثويبة ومن جهة السعدية «2» .

ورأت حليمة من بركته صلى الله عليه وسلم ما قصّت منه العجب، ولنتركها تروي ذلك مفصلا:

قال ابن إسحق: كانت حليمة تحدث: أنها خرجت من بلدها مع زوجها وابن لها صغير ترضعه، في نسوة من بني سعد بن بكر، تلتمس الرضعاء قالت: وذلك في سنة شهباء لم تبق لنا شيئا، قالت: فخرجت على أتان لي قمراء «3» ، معنا شارف لنا «4» ، والله ما تبض بقطرة، وما ننام ليلنا أجمع من صبينا الذي معنا، من بكائه من الجوع، ما في ثديي ما يغنيه، وما في شارفنا ما يغذيه، ولكن كنا نرجو الغيث والفرج، فخرجت على أتاني تلك فلقد أدمت بالركب حتى شق ذلك عليهم ضعفا وعجفا، حتى قدمنا مكة نلتمس الرضعاء، فما منا امرأة إلا وقد عرض

--------------------------------------------

- تلقيح فهوم أهل الأثر ص 4 وقال ابن القيم: ليس فيه حديث ثابت. انظر زاد المعاد 1/ 18.

(1) تلقيح فهوم الأثر ص 4، مختصر سيرة الرسول للشيخ عبد الله النجدي ص 13.

(2) زاد المعاد 1/ 19.

(3) أي ضعيفة.

(4) أي ناقة.
তাঁর মাতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে ধাত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁকে দুধ পান করিয়েছেন আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবাহ। তিনি তাঁর মাসরুহ নামক এক পুত্রের দুধ তাঁকে পান করান। এর আগে তিনি হামযাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে দুধ পান করিয়েছিলেন এবং তাঁর পরে আবু সালামাহ ইবনে আবদুল আসাদ আল-মাখযুমীকে দুধ পান করান।

 

‌‌বনু সাদ গোত্রে:

আরবের শহরবাসীদের প্রথা ছিল যে, তারা তাদের সন্তানদের জন্য ধাত্রী খুঁজতেন যাতে তারা শহুরে রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকতে পারে; ফলে তাদের শরীর শক্তিশালী হয়, স্নায়ু সুদৃঢ় হয় এবং দোলনা থেকেই তারা বিশুদ্ধ আরবি ভাষা আয়ত্ত করতে পারে। তাই আবদুল মুত্তালিব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ধাত্রী খুঁজলেন এবং বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রের এক মহিলার কাছে তাঁকে দুধ পানের জন্য অর্পণ করলেন—তিনি হলেন হালিমা বিনতে আবু যুয়াইব। তাঁর স্বামী ছিলেন হারিস ইবনে আবদুল উযযা, যাঁর উপনাম ছিল আবু কাবশাহ, তিনি একই গোত্রের লোক ছিলেন।

সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধ ভাই-বোনেরা ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে হারিস, আনীসাহ বিনতে হারিস এবং হুযাফাহ অথবা জুযামাহ বিনতে হারিস (যিনি শায়মা নামে পরিচিত ছিলেন এবং এই উপাধিটিই তাঁর নামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছিল)। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লালন-পালন করতেন। আরও ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব।

তাঁর চাচা হামযাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবও বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রে দুগ্ধপান করছিলেন। একদা হামযাহর মা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধ পান করিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁর ধাত্রী মাতা হালিমার কাছে ছিলেন। ফলে হামযাহ দুই দিক থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধ ভাই ছিলেন—সুওয়াইবাহর পক্ষ থেকে এবং সাদিয়া (হালিমা)-র পক্ষ থেকে।

হালিমা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতের এমন সব বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন যা তিনি বিস্ময়ের সাথে বর্ণনা করেছেন। আসুন আমরা তাঁর মুখ থেকেই বিস্তারিতভাবে সেই বিবরণ শুনি:

ইবনে ইসহাক বলেন: হালিমা বর্ণনা করতেন যে, তিনি তাঁর স্বামী এবং দুগ্ধপোষ্য এক ছোট পুত্রকে নিয়ে বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রের আরও কিছু মহিলার সাথে ধাত্রী হওয়ার আশায় নিজ দেশ থেকে বের হয়েছিলেন। তিনি বলেন: সেটি ছিল এক চরম দুর্ভিক্ষের বছর, যা আমাদের কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। তিনি বলেন: আমি আমার একটি সাদাটে গাধীর ওপর চড়ে বের হলাম। আমাদের সাথে আমাদের একটি বৃদ্ধা উষ্ট্রী ছিল, আল্লাহর কসম, সেটি থেকে এক ফোঁটা দুধও বের হতো না। ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমাদের সাথে থাকা শিশুর কান্নার কারণে আমরা সারা রাত ঘুমাতে পারতাম না। আমার স্তনেও তাকে তৃপ্ত করার মতো দুধ ছিল না, আর আমাদের বৃদ্ধা উষ্ট্রীর কাছেও তাকে পুষ্টি দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। কিন্তু আমরা বৃষ্টি এবং সচ্ছলতার আশা করছিলাম। আমি আমার সেই গাধীটির ওপর চড়ে বের হলাম, কিন্তু দুর্বলতা ও কৃশতার কারণে সেটি কাফেলার গতির সাথে তাল মেলাতে না পেরে পিছিয়ে পড়ছিল, যা অন্যদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে আমরা দুগ্ধপোষ্য শিশুর সন্ধানে মক্কায় পৌঁছলাম। আমাদের এমন কোনো মহিলা ছিল না যার কাছেই পেশ করা হয়েছে

--------------------------------------------

- তালকিহ ফুহুম আহলিল আসার, পৃষ্ঠা ৪। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এ বিষয়ে কোনো প্রমাণিত হাদিস নেই। দেখুন যাদুল মাআদ ১/১৮।

(১) তালকিহ ফুহুমিল আসার পৃষ্ঠা ৪, শায়খ আবদুল্লাহ আন-নাজদির মুখতাসার সিরাতুর রাসুল পৃষ্ঠা ১৩।

(২) যাদুল মাআদ ১/১৯।

(৩) অর্থাৎ দুর্বল।

(৪) অর্থাৎ উষ্ট্রী।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৯)
عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فتأباه، إذا قيل لها إنه يتيم، وذلك أنا كنا نرجو المعروف من أبي الصبي، فكنا نقول: يتيم! وما عسى أن تصنع أمه وجده! فكنا نكرهه لذلك فما بقيت امرأة قدمت معي إلا أخذت رضيعا غيري، فلما أجمعنا الانطلاق قلت لصاحبي: والله إني لأكره أن أرجع من بين صواحبي ولم آخذ رضيعا، والله لأذهبن إلى ذلك اليتيم فلآخذنه. قال: لا عليك أن تفعلي، عسى الله أن يجعل لنا فيه بركة. قالت: فذهبت إليه، فأخذته، وما حملني على أخذه إلا أني لم أجد غيره، قالت: فلما أخذته رجعت به إلى رحلي، فلما وضعته في حجري أقبل عليه ثدياي بما شاء من لبن، فشرب حتى روي، وشرب معه أخوه حتى روي، ثم ناما، وما كنا ننام معه قبل ذلك، وقام زوجي إلى شارفنا تلك، فإذا هي حافل، فحلب منها ما شرب وشربت معه حتى انتهينا ريا وشبعا، فبتنا بخير ليلة، قالت: يقول صاحبي حين أصبحنا: تعلمي والله يا حليمة! لقد أخدت نسمة مباركة، قالت: فقلت: والله إني لأرجو ذلك، قالت: ثم خرجنا وركبت أنا أتاني، وحملته عليها معي، فوالله لقطعت بالركب ما لا يقدر عليه شيء من حمرهم، حتى إن صواحبي ليقلن لي: يا ابنة أبي ذؤيب، ويحك! اربعي علينا، أليست هذه أتانك التي كنت خرجت عليها؟ فأقول لهن: بلى والله! إنها لهي هي، فيقلن: والله إن لها شأنا، قالت: ثم قدمنا منازلنا من بلاد بني سعد وما أعلم أرضا من أرض الله أجدب منها، فكانت غنمي تروح علَّي حين قدمنا به معنا شباعا لبّنا، فنحلب ونشرب، وما يحلب إنسان قطرة لبن، ولا يجدها في ضرع حتى كان الحاضرون من قومنا يقولون لرعيانهم: ويلكم اسرحوا حيث يسرح راعي بنت أبي ذؤيب، فتروح أغنامهم جياعا ما تبض بقطرة لبن، وتروح غنمي شباعا لبّنا، فلم نزل نتعرف من الله الزيادة والخير حتى مضت سنتاه وفصلته وكان يشب شبايا لا يشبه الغلمان، فلم يبلغ سنتيه حتى كان غلاما جفرا، قالت: فقدمنا به على أمه ونحن أحرص على مكثه فينا، لما كنا نرى من بركته، فكلمنا أمه، وقلت لها: لو تركت ابني عندي حتى يغلظ، فإني أخشى عليه وباء مكة، قالت: فلم نزل بها حتى ردته معنا «1» .

وهكذا بقي رسول الله صلى الله عليه وسلم في بني سعد، حتى إذا كانت السنة الرابعة أو الخامسة «2» من

--------------------------------------------

(1) ابن هشام 1/ 162، 163، 164.

(2) هذا ما ذهب إليه عامة أهل السير، ويقتضي سياق رواية ابن إسحاق أنه وقع في السنة الثالثة، انظر ابن هشام 1/ 164، 165.

-
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের (দাইদের) সামনে পেশ করা হলে তারা তাঁকে নিতে অস্বীকার করত, যখনই তাদের বলা হতো যে তিনি একজন এতিম। আর তা এজন্য যে, আমরা শিশুর পিতার নিকট থেকে অনুগ্রহের আশা করতাম। তাই আমরা বলতাম: "সে তো এতিম! তার মা এবং দাদাই বা আর কী করতে পারবে!" আমরা এ কারণেই তাঁকে অপছন্দ করতাম। ফলে আমার সাথে আসা প্রতিটি মহিলাই আমি ছাড়া অন্য কোনো শিশুকে গ্রহণ করল। যখন আমরা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন আমি আমার স্বামীকে বললাম: "আল্লাহর কসম! আমার সঙ্গিনীদের সাথে কোনো শিশু ছাড়াই ফিরে যাওয়াটা আমি অপছন্দ করছি। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই সেই এতিম শিশুটির কাছে যাব এবং তাকেই নিয়ে আসব।" তিনি বললেন: "তাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই। হতে পারে আল্লাহ এর মাধ্যমে আমাদের জন্য বরকত দান করবেন।" হালিমা বলেন: অতঃপর আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং তাঁকে নিয়ে নিলাম। তাঁকে নেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না, কারণ আমি অন্য কাউকে খুঁজে পাইনি। তিনি বলেন: যখন আমি তাঁকে নিয়ে আমার সওয়ারির কাছে ফিরলাম এবং তাঁকে আমার কোলে বসালাম, তখন আমার স্তনদ্বয় তাঁর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধে ভরে গেল। তিনি তৃপ্তি সহকারে পান করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর ভাইও (হালিমার পুত্র) তৃপ্তি সহকারে পান করল। তারপর তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ল, অথচ ইতিপূর্বে তাঁর (ক্ষুধার) কারণে আমরা ঘুমাতেই পারতাম না। আমার স্বামী আমাদের সেই বৃদ্ধ উটটির কাছে গেলেন এবং দেখলেন যে সেটি দুধে পরিপূর্ণ। তিনি তা থেকে দুধ দোহন করলেন এবং তিনি ও আমি উভয়েই তৃপ্ত হয়ে পান করলাম। আমরা এক অতি উত্তম রাত অতিবাহিত করলাম। তিনি বলেন: যখন সকাল হলো, তখন আমার স্বামী বললেন, "হে হালিমা! আল্লাহর কসম, জেনে রেখো, তুমি এক বরকতময় শিশু গ্রহণ করেছ।" আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমিও তাই আশা করি।" এরপর আমরা বের হলাম এবং আমি আমার গাধাটির পিঠে চড়লাম এবং তাঁকে আমার সাথে নিয়ে সওয়ার হলাম। আল্লাহর কসম! সেটি কাফেলার আগে এমন দ্রুতগতিতে চলতে লাগল যা তাদের অন্য কোনো গাধার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এমনকি আমার সঙ্গিনীরা আমাকে বলতে লাগল: "হে আবু জুয়াইবের কন্যা! তোমার প্রতি আফসোস! আমাদের জন্য একটু থামো। এটি কি সেই গাধা নয় যার ওপর সওয়ার হয়ে তুমি এসেছিলে?" আমি তাদের বলতাম: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এটি সেই গাধাই।" তখন তারা বলত: "আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই এর বিশেষ কোনো রহস্য আছে।" তিনি বলেন: অতঃপর আমরা বনু সাদ অঞ্চলে আমাদের আবাসে পৌঁছালাম। আল্লাহর জমিনের মধ্যে এর চেয়ে ঊষর কোনো ভূমি আমার জানা ছিল না। কিন্তু আমরা তাঁকে নিয়ে আসার পর আমার বকরিগুলো যখন চারণভূমি থেকে ফিরত, তখন সেগুলো তৃপ্ত এবং দুধে পূর্ণ থাকত। আমরা দুধ দোহন করতাম এবং পান করতাম, অথচ অন্য কেউ এক ফোঁটা দুধও দোহন করতে পারত না এবং পশুর ওলানেও তা পাওয়া যেত না। এমনকি আমাদের সম্প্রদায়ের উপস্থিত লোকেরা তাদের রাখালদের বলত: "তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা সেখানে চরাও যেখানে আবু জুয়াইবের কন্যার রাখাল চরায়।" কিন্তু তাদের বকরিগুলো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরত এবং এক ফোঁটা দুধও দিত না, আর আমার বকরিগুলো তৃপ্ত এবং দুধে পূর্ণ হয়ে ফিরত। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমরা ক্রমাগত এই অতিরিক্ত কল্যাণ ও বরকত লাভ করতে থাকলাম, এমনকি তাঁর দুই বছর পূর্ণ হলো এবং আমি তাঁর দুধ ছাড়িয়ে দিলাম। তিনি এমনভাবে বেড়ে উঠছিলেন যা অন্য বালকদের মতো ছিল না। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি এক সুঠাম বালকে পরিণত হলেন। তিনি বলেন: এরপর আমরা তাঁকে নিয়ে তাঁর মায়ের কাছে গেলাম, অথচ তাঁর বরকত দেখে আমরা তাঁকে আমাদের কাছে রেখে দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। আমরা তাঁর মায়ের সাথে কথা বললাম এবং আমি তাঁকে বললাম: "যদি আপনি আমার পুত্রকে আরও কিছুকাল আমার কাছে থাকতে দিতেন যাতে সে আরও শক্তিশালী হতে পারে, কারণ আমি তাঁর ওপর মক্কার মহামারীর আশঙ্কা করছি।" তিনি বলেন: আমরা তাঁর মায়ের কাছে অনুরোধ করতেই থাকলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁকে আমাদের সাথে ফেরত পাঠালেন।

এভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সাদ গোত্রে অবস্থান করতে থাকলেন, এমনকি যখন চতুর্থ বা পঞ্চম বছর এলো...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম ১/ ১৬২, ১৬৩, ১৬৪।

(২) অধিকাংশ সীরাত রচয়িতা এই মত পোষণ করেছেন। ইবনে ইসহাকের বর্ণনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এটি তৃতীয় বছরে ঘটেছিল, দেখুন ইবনে হিশাম ১/ ১৬৪, ১৬৫।

-
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১০)
مولده وقع حادث شق صدره، روى مسلم عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل، وهو يلعب مع الغلمان، فأخذه فصرعه، فشق عن قلبه، فاستخرج القلب، فاستخرج منه علقة، فقال: هذا حظ الشيطان منك، ثم غسله في طست من ذهب بماء زمزم، ثم لأمه، ثم أعاده إلى مكانه، وجاء الغلمان يسعون إلى أمه- يعني ظئره- فقالوا: إن محمدا قد قتل، فاستقبلوه وهو منتقع اللون «1» .

 

‌‌إلى أمه الحنون:

وخشيت عليه حليمة بعد هذه الوقعة حتى ردته إلى أمه، فكان عند أمه إلى أن بلغ ست سنين «2» .

ورأت آمنة وفاء لذكرى زوجها الراحل أن تزور قبره بيثرب، فخرجت من مكة قاطعة رحلة تبلغ خمسمائة كيلو مترا، ومعها ولدها اليتيم- محمد صلى الله عليه وسلم وخادمتها أم أيمن، وقيمها عبد المطلب، فمكثت شهرا، ثم قفلت، وبينما هي راجعة إذ يلاحقها المرض، ويلح عليها في أوائل الطريق، فماتت بالأبواء بين مكة والمدينة «3» .

 

‌‌إلى جده العطوف:

وعاد به عبد المطلب إلى مكة، وكانت مشاعر الحنو في فؤاده تربو نحو حفيده اليتيم، الذي أصيب بمصاب جديد نكأ الجروح القديمة، فرق عليه رقة لم يرقها على أحد من أولاده، فكان لا يدعه لوحدته المفروضة، بل يؤثره على أولاده، قال ابن هشام: كان يوضع لعبد المطلب فراش في ظل الكعبة، فكان بنوه يجلسون حول فراشه ذلك حتى يخرج إليه، لا يجلس عليه أحد من بنيه إجلالا له، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي وهو غلام جفر حتى يجلس عليه، فيأخذه أعمامه ليؤخروه عنه، فيقول عبد المطلب إذا رأى ذلك منهم: دعوا ابني هذا فوالله إن له لشأنا،

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، باب الإسراء 1/ 92.

(2) تلقيح فهوم أهل الأثر ص 7، ابن هشام 1/ 168.

(3) ابن هشام 1/ 168، تلقيح فهوم أهل الأثر ص 7، محاضرات تاريخ الأمم الإسلامية للخضري 1/ 63، فقه السيرة للغزالي ص 50.
তাঁর শৈশবকালেই বক্ষ বিদারণের ঘটনাটি ঘটেছিল। ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বালকদের সাথে খেলছিলেন, তখন জিবরীল (আ.) তাঁর কাছে আসলেন। তিনি তাঁকে ধরলেন এবং মাটিতে শুইয়ে দিয়ে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি হৃৎপিণ্ডটি বের করলেন এবং তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বললেন, "এটি তোমার মাঝে শয়তানের অংশ।" এরপর তিনি একটি সোনার তশতরি বা পাত্রে যমযমের পানি দিয়ে তা ধৌত করলেন। তারপর তা পুনরায় জুড়ে দিয়ে আগের স্থানে ফিরিয়ে দিলেন। এদিকে বালকরা দৌড়ে তাঁর ধাত্রী মায়ের কাছে গেল এবং বলল, "মুহাম্মাদকে হত্যা করা হয়েছে।" তখন তারা তাঁর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং দেখলেন যে তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে আছে।

 

‌‌তাঁর মমতাময়ী মায়ের কাছে:

এই ঘটনার পর হালিমা তাঁকে নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং অবশেষে তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর মায়ের কাছেই ছিলেন যতক্ষণ না তাঁর বয়স ছয় বছর পূর্ণ হয়।

আমিনা তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্মৃতির প্রতি অনুগত থেকে ইয়াছরিবে তাঁর কবর যিয়ারত করার সংকল্প করলেন। তিনি মক্কা থেকে পাঁচশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রা করলেন। তাঁর সাথে ছিল তাঁর এতিম সন্তান মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিচারিকা উম্মে আয়মান এবং তাঁর অভিভাবক আব্দুল মুত্তালিব। তিনি সেখানে এক মাস অবস্থান করলেন, তারপর ফেরার পথে যাত্রার শুরুতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁর অসুস্থতা ক্রমশ বাড়তে থাকল এবং পরিশেষে তিনি মক্কা ও মদীনার মাঝামাঝি অবস্থিত 'আবওয়া' নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌তাঁর দয়ালু পিতামহের কাছে:

আব্দুল মুত্তালিব তাঁকে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসলেন। তাঁর অন্তরে তাঁর এই এতিম নাতির প্রতি মমত্ববোধ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকল, যে নতুন এক শোকের সম্মুখীন হয়েছে যা তার পুরনো ক্ষতকে সতেজ করে দিয়েছে। তিনি তাঁর প্রতি এমন দয়া ও মমতা প্রদর্শন করতেন যা তিনি তাঁর নিজের অন্য কোনো সন্তানের প্রতিও করেননি। তিনি তাঁকে তাঁর একাকীত্বের মাঝে ছেড়ে দিতেন না, বরং নিজের সন্তানদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিতেন। ইবনে হিশাম বলেন: কাবা ঘরের ছায়ায় আব্দুল মুত্তালিবের জন্য একটি বিছানা পাতা হতো। তাঁর ছেলেরা তাঁর আসার আগ পর্যন্ত সেই বিছানার চারপাশে বসে থাকত। তাঁর সম্মানে তাদের কেউই সেই বিছানায় বসত না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক কিশোর বালক, তিনি আসতেন এবং সরাসরি সেই বিছানার ওপর বসে পড়তেন। তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে আব্দুল মুত্তালিব তা দেখে বলতেন: "আমার এই সন্তানকে ছেড়ে দাও, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই তার এক মহান মর্যাদা রয়েছে।"

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম, মিরাজ অধ্যায় ১/ ৯২।

(২) তালকীহ ফুহুম আহলিল আসার, পৃষ্ঠা ৭; ইবনে হিশাম ১/ ১৬৮।

(৩) ইবনে হিশাম ১/ ১৬৮; তালকীহ ফুহুম আহলিল আসার, পৃষ্ঠা ৭; খুদরী রচিত মুহাদারাত তারিখ আল-উমাম আল-ইসলামিয়্যাহ ১/ ৬৩; গাযালী রচিত ফিকহুস সিরাহ, পৃষ্ঠা ৫০।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১১)
ثم يجلس معه على فراشه، ويمسح ظهره بيده ويسره ما يراه يصنع «1» .

ولثماني سنوات وشهرين وعشرة أيام من عمره صلى الله عليه وسلم توفي جده عبد المطلب بمكة، ورأى قبل وفاته أن يعهد بكفالة حفيده إلى عمه أبي طالب شقيق أبيه «2» .

 

‌‌إلى عمه الشفيق:

ونهض أبو طالب بحق ابن أخيه على أكمل وجه، وضمه إلى ولده، وقدمه عليهم، واختصه بفضل احترام وتقدير، وظل فوق أربعين سنة يعز جانبه. ويبسط عليه حمايته، ويصادق ويخاصم من أجله، وستأتي نبذ من ذلك في مواضعها.

 

‌‌بحيرا الراهب:

ولما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم اثنتي عشرة سنة- قيل وشهرين وعشرة أيام «3» - ارتحل به أبو طالب تاجرا إلى الشام، حتى وصل إلى بصرى «4» - وهي معدودة من الشام وقصبة لحوران، وكانت في ذلك الوقت قصبة للبلاد العربية التي كانت تحت حكم الرومان- وكان في هذه البلد راهب عرف ببحيرا واسمه جرجيس فلما نزل الركب خرج إليهم، وأكرمهم بالضيافة، وكان لا يخرج إليهم قبل ذلك وعرف رسول الله صلى الله عليه وسلم بصفته، فقال وهو آخذ بيده: هذا سيد العالمين، هذا يبعثه الله رحمة للعالمين. فقال أبو طالب: وما علمك بذلك؟ فقال: إنكم حين أشرفتم من العقبة لم يبق حجر ولا شجر إلا وخرّ ساجدا، ولا تسجد إلا لنبي، وإني أعرفه بخاتم النبوة في أسفل غضروف كتفه مثل التفاحة، وإنا نجده في كتبنا، وسأل أبا طالب أن يرده، ولا يقدم به إلى الشام، خوفا عليه من اليهود، فبعثه عمه مع بعض غلمانه إلى مكة «5» .

--------------------------------------------

(1) ابن هشام 1/ 168.

(2) تلقيح فهوم أهل الأثر ص 7، ابن هشام 1/ 169.

(3) قاله ابن الجوزي في تلقيح فهوم أهل الأثر ص 7.

(4) تبعد 20 كم شرق درعا.

(5) مختصر سيرة الرسول للشيخ عبد الله النجدي ص 16، وابن هشام 1/ 180، 181، 182، 183، ووقع في كتاب الترمذي وغيره أنه بعث معه بلالا (تحفة الأحوذي) وهو من الغلط الواضح، فإن بلالا إذ ذاك لعله لم يكن موجودا، وإن كان موجودا فلم يكن مع عمه ولا مع أبي بكر. زاد المعاد 1/ 17.
এরপর তিনি তাকে তাঁর বিছানায় নিজের সাথে বসাতেন, তাঁর হাত দিয়ে তাঁর পিঠ মুছে দিতেন এবং তিনি তাকে যা করতে দেখতেন তাতে আনন্দিত হতেন।

এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বয়সের আট বছর দুই মাস দশ দিন পূর্ণ হলে মক্কায় তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে সিদ্ধান্ত নেন যে, তাঁর নাতির লালন-পালনের দায়িত্ব তাঁর চাচা আবু তালিবের ওপর অর্পণ করবেন, যিনি ছিলেন তাঁর পিতার আপন ভাই।

 

‌‌তাঁর স্নেহময় চাচার কাছে:

আবু তালিব তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের হক অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করেন। তিনি তাঁকে তাঁর সন্তানদের সাথে যুক্ত করেন এবং তাঁদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেন। তিনি তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা ও সম্মানের আসনে বসান। দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাঁকে শক্তিশালী করেন, তাঁর ওপর নিজের সুরক্ষার ছায়া বিস্তৃত করেন এবং তাঁর খাতিরে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা করেন। এর কিছু বিবরণ যথাস্থানে সামনে আসবে।

 

‌‌পাদ্রি বুহাইরা:

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারো বছর বয়সে পদার্পণ করেন—বলা হয়েছে যে বারো বছর দুই মাস দশ দিন—তখন আবু তালিব তাঁকে নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন, অবশেষে তিনি বুসরা পর্যন্ত পৌঁছান। বুসরা সিরিয়ার অংশ এবং হাওরানের একটি প্রধান শহর হিসেবে গণ্য ছিল, এবং সে সময় এটি রোমান শাসনের অধীনে থাকা আরব অঞ্চলগুলোর প্রধান কেন্দ্র ছিল। এই শহরে বুহাইরা নামে পরিচিত একজন পাদ্রি ছিলেন, যার নাম ছিল জারজিস। যখন কাফেলা অবতরণ করল, তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং আতিথেয়তার মাধ্যমে তাঁদের সম্মান জানালেন। ইতিপূর্বে তিনি কখনও তাদের কাছে আসতেন না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর গুণাবলি দ্বারা চিনে ফেললেন এবং তাঁর হাত ধরে বললেন: "ইনি বিশ্বজগতের সর্দার, আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠাবেন।" আবু তালিব বললেন: "আপনি এটি কীভাবে জানলেন?" তিনি বললেন: "আপনারা যখন গিরিপথ থেকে দৃষ্টিগোচর হচ্ছিলেন, তখন প্রতিটি পাথর ও গাছ সিজদায় লুটিয়ে পড়ছিল, আর এগুলো নবী ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করে না। আমি তাঁকে তাঁর কাঁধের নিচের হাড়ের কাছে আপেলের মতো নবুওয়াতের মোহর দেখে চিনতে পেরেছি। আমরা আমাদের কিতাবসমূহে তাঁর উল্লেখ পাই।" এরপর তিনি আবু তালিবকে অনুরোধ করলেন যেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং ইহুদিদের ভয়ে সিরিয়ায় না নিয়ে যান। তাই তাঁর চাচা তাঁকে তাঁর কয়েকজন ভৃত্যের সাথে মক্কায় পাঠিয়ে দিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম ১/ ১৬৮।

(২) তালকীহ ফুহুম আহলিল আসার, পৃষ্ঠা ৭; ইবনে হিশাম ১/ ১৬৯।

(৩) ইবনুল জাওযী 'তালকীহ ফুহুম আহলিল আসার' (পৃষ্ঠা ৭)-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) দারা থেকে ২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত।

(৫) শায়খ আব্দুল্লাহ নজদীর 'মুখতাসার সীরাতুর রাসূল', পৃষ্ঠা ১৬; ইবনে হিশাম ১/ ১৮০, ১৮১, ১৮২, ১৮৩। তিরমিযীর কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর সাথে বিলালকে পাঠিয়েছিলেন (তুহফাতুল আহওয়াযী), যা একটি স্পষ্ট ভুল; কেননা বিলাল তখন সম্ভবত জন্মই নেননি, আর যদি জন্ম নিয়েও থাকেন তবে তিনি তাঁর চাচার সাথে বা আবু বকরের সাথে ছিলেন না। যাদুল মা'আদ ১/ ১৭।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌حرب الفجار:

ولخمس عشرة من عمره صلى الله عليه وسلم كانت حرب الفجار بين قريش ومن معهم من كنانة وبين قيس عيلان، وكان قائد قريش وكنانة كلها حرب بن أمية لمكانته فيهم سنا وشرفا، وكان الظفر في أول النهار لقيس على كنانة، حتى إذا كان وسط النهار كان الظفر لكنانة على قيس. وسميت بحرب الفجار لانتهاك حرمات الحرم والأشهر الحرم فيها، وقد حضر هذه الحرب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان ينبل على عمومته، أي يجهز لهم النبل للرمي «1» .

 

‌‌حلف الفضول:

وعلى أثر هذه الحرب وقع حلف الفضول في ذي القعدة في شهر حرام، تداعت إليه قبائل من قريش: بنو هاشم، وبنو المطلب، وأسد بن عبد العزى، وزهرة بن كلاب، وتيم بن مرة، فاجتمعوا في دار عبد الله بن جدعان التيمي لسنه وشرفه، فتعاقدوا وتعاهدوا على أن لا يجدوا بمكة مظلوما من أهلها وغيرهم من سائر الناس إلا قاموا معه، وكانوا على من ظلمه حتى ترد عليه مظلمته، وشهد هذا الحلف رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقال بعد أن أكرمه الله بالرسالة: لقد شهدت في دار عبد الله بن جدعان حلفا ما أحب أن لي به حمر النعم، ولو أدعى به في الإسلام لأجبت «2»

وهذا الحلف روحه تنافي الحمية الجاهلية التي كانت العصبية تثيرها، ويقال في سبب هذا الحلف إن رجلا من زبيد قدم مكة ببضاعة، واشتراها منه العاص بن وائل السهمي، وحبس عنه حقه، فاستعدى عليه الأحلاف عبد الدار، ومخزوما، وجمحا، وسهما، وعديا، فلم يكترثوا له، فعلا جبل أبي قبيس، ونادى بأشعار يصف فيها ظلامته رافعا صوته، فمشى في ذلك الزبير بن عبد المطلب، وقال: ما لهذا مترك؟ حتى اجتمع الذين مضى ذكرهم في حلف الفضول، فقاموا إلى العاص بن وائل فانتزعوا منه حق الزبيدي بعد ما أبرموا الحلف «3»

--------------------------------------------

(1) ابن هشام 1/ 184، 185، 186، 187، قلب جزيرة العرب ص 260، محاضرات تاريخ الأمم الإسلامية للخضري 1/ 63.

(2) ابن هشام 1/ 113، 135، مختصر سيرة الرسول للشيخ عبد الله النجدي ص 30، 31.

(3) نفس المصدر الأخير ص 30، 31.
ফিজারের যুদ্ধ:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পনেরো বছর বয়সে কুরাইশ ও তাদের মিত্র কিনানা এবং কাইস আইলানের মধ্যে ফিজারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কুরাইশ ও কিনানা গোত্রের সর্বাধিনায়ক ছিলেন হারব ইবনে উমাইয়া, তাঁর বয়স ও মর্যাদার কারণে। দিনের শুরুতে কিনানার ওপর কাইস গোত্র বিজয়ী ছিল, কিন্তু দ্বিপ্রহরের পর কাইসের ওপর কিনানা বিজয়ী হয়। হারম এলাকার পবিত্রতা এবং পবিত্র মাসগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘিত হওয়ার কারণে এই যুদ্ধের নামকরণ করা হয়েছে 'ফিজারের যুদ্ধ'। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি তাঁর চাচাদের তীর এগিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করতেন, অর্থাৎ তিনি তাঁদের নিক্ষেপের জন্য তীর প্রস্তুত করে দিতেন।

 

হিলফুল ফুদুল:

এই যুদ্ধের রেশ ধরে জিলকদ নামক একটি পবিত্র মাসে হিলফুল ফুদুল (সম্মানিতদের শপথ) সংঘটিত হয়। কুরাইশের বেশ কিছু গোত্র এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়: বনু হাশিম, বনু মুত্তালিব, আসাদ ইবনে আবদিল উযযা, জুহরা ইবনে কিলাব এবং তাইম ইবনে মুররা। তাঁরা আব্দুল্লাহ ইবনে জুদআন আত-তাইমির বাড়িতে সমবেত হন তাঁর বয়স ও মর্যাদার কারণে। তাঁরা এই মর্মে অঙ্গীকার ও চুক্তি করেন যে, মক্কায় কোনো অধিবাসী বা বাইরের কোনো লোকের ওপর জুলুম হতে দেখলে তাঁরা সবাই মজলুমের পক্ষে দাঁড়াবেন এবং জালেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, যতক্ষণ না তার পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত প্রদানের পর তিনি বলেছিলেন: "আমি আব্দুল্লাহ ইবনে জুদআনের বাড়িতে এমন এক চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম, যার বিনিময়ে আমি মূল্যবান লাল উট পাওয়াকেও পছন্দ করব না। ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এমন চুক্তির জন্য আহ্বান করা হতো, তবে অবশ্যই আমি তাতে সাড়া দিতাম।"

এই চুক্তির মূল চেতনা জাহেলি যুগের সেই গোত্রীয় গোঁড়ামির পরিপন্থী ছিল যা অন্ধ পক্ষপাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হতো। এই চুক্তির কারণ হিসেবে বলা হয় যে, জুবাইদ গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু পণ্য নিয়ে মক্কায় আসেন এবং আস ইবনে ওয়ায়েল আস-সাহমি তা তাঁর কাছ থেকে ক্রয় করেন, কিন্তু তাঁর পাওনা পরিশোধ না করে আটকে রাখেন। সেই ব্যক্তি তখন আবদুদ দার, মাখজুম, জুমাহ, সাহম এবং আদি গোত্রের নিকট সাহায্য চান, কিন্তু তারা তাঁর প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয়নি। অতঃপর তিনি আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করেন এবং উচ্চস্বরে কবিতার মাধ্যমে তাঁর প্রতি কৃত অন্যায়ের বর্ণনা দেন। তখন জুবাইর ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এই বিষয়ে তৎপর হন এবং বলেন: "এভাবে কি একে ছেড়ে দেওয়া যায়?" অতঃপর হিলফুল ফুদুলের জন্য ইতিপূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হন এবং চুক্তি সম্পাদনের পর তাঁরা আস ইবনে ওয়ায়েলের নিকট থেকে জুবাইদি ব্যক্তির পাওনা আদায় করে দেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম ১/ ১৮৪, ১৮৫, ১৮৬, ১৮৭; কালব জাজিরাতিল আরব, পৃষ্ঠা ২৬০; খুদরি রচিত মুহাদারাতে তারিখিল উমামিল ইসলামিয়্যাহ ১/ ৬৩।

(২) ইবনে হিশাম ১/ ১১৩, ১৩৫; শেখ আব্দুল্লাহ আন-নাজদি রচিত মুখতাসার সিরাতুর রাসূল, পৃষ্ঠা ৩০, ৩১।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩০, ৩১।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌حياة الكدح:

ولم يكن له صلى الله عليه وسلم عمل معين في أول شبابه، إلا أن الروايات توالت أنه كان يرعى غنما، رعاها في بني سعد «1» ، وفي مكة لأهلها على قراريط «2» وفي الخامسة والعشرين من سنه خرج تاجرا إلى الشام في مال خديجة رضي الله عنها، قال ابن إسحق: كانت خديجة بنت خويلد امرأة تاجرة ذات شرف ومال، تستأجر الرجال في مالها، وتضاربهم إياه بشيء تجعله لهم، وكانت قريش قوما تجارا فلما بلغها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بلغها من صدق حديثه، وعظم أمانته وكرم أخلاقه بعثت إليه، فعرضت عليه أن يخرج في مال لها إلى الشام تاجرا، وتعطيه أفضل ما كانت تعطي غيره من التجار، مع غلام لها يقال له ميسرة، فقبله رسول الله صلى الله عليه وسلم منها، وخرج في مالها ذلك، وخرج معه غلامها ميسرة حتى قدم الشام «3» .

 

‌‌زواجه خديجة:

ولما رجع إلى مكة، ورأت خديجة في مالها من الأمانة والبركة ما لم تر قبل هذا، وأخبرها غلامها ميسرة بما رأى فيه صلى الله عليه وسلم من خلال عذبة، وشمائل كريمة، وفكر راجح، ومنطق صادق، ونهج أمين. وجدت ضالتها المنشودة- وكان السادات والرؤساء يحرصون على زواجها، فتأبى عليهم ذلك- فتحدثت بما في نفسها إلى صديقتها نفيسة بنت منية، وهذه ذهبت إليه صلى الله عليه وسلم تفاتحه أن يتزوج خديجة، فرضي بذلك، وكلم أعمامه، فذهبوا إلى عم خديجة، وخطبوها إليه، وعلى إثر ذلك تم الزواج، وحضر العقد بنو هاشم ورؤساء مضر، وذلك بعد رجوعه من الشام بشهرين، وأصدقها عشرين بكرة، وكانت سنها إذ ذاك أربعين سنة، وكانت يومئذ أفضل نساء قومها نسبا وثروة وعقلا، وهي أول امرأة تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يتزوج عليها غيرها حتى ماتت «4» .

--------------------------------------------

(1) ابن هشام 1/ 166.

(2) فقه السيرة لمحمد الغزالي ص 52.

(3) ابن هشام 1/ 187، 188.

(4) ابن هشام 1/ 189، 190، فقه السيرة لمحمد الغزالي ص 59، تلقيح فهوم أهل الأثر ص 7.
‌‌পরিশ্রমী জীবন:

যৌবনের শুরুতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো নির্দিষ্ট পেশা ছিল না, তবে একের পর এক বর্ণনা থেকে জানা যায় যে তিনি ছাগল চরাতেন। তিনি বনু সাদ গোত্রে এবং মক্কায় মক্কাবাসীদের জন্য কয়েক কিরাতের বিনিময়ে ছাগল চরিয়েছেন। পঁচিশ বছর বয়সে তিনি খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সম্পদ নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। ইবনে ইসহাক বলেন: খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ছিলেন একজন মর্যাদাবান ও সম্পদশালী ব্যবসায়ী নারী। তিনি পুরুষদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাঁর ব্যবসার কাজে নিয়োজিত করতেন এবং লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে তাদের সাথে কারবার করতেন। কুরাইশরা ছিল ব্যবসায়ী জাতি। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যবাদিতা, মহান আমানতদারিতা এবং চরিত্রের মাধুর্য সম্পর্কে তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠালেন। তিনি প্রস্তাব দিলেন যে, তিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়া যাবেন এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের তিনি যা দিতেন, তাঁকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দেবেন। তাঁর সাথে মাইসারা নামক তাঁর এক গোলামও ছিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সম্পদ নিয়ে বের হলেন। তাঁর সাথে তাঁর গোলাম মাইসারাও গেল এবং তারা সিরিয়া পর্যন্ত পৌঁছাল।

 

‌‌খাদিজার সাথে বিবাহ:

মক্কায় ফিরে আসার পর খাদিজা তাঁর সম্পদে এমন আমানতদারিতা ও বরকত দেখতে পেলেন যা তিনি আগে কখনো দেখেননি। তাঁর গোলাম মাইসারা যখন তাঁকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অমায়িক ব্যবহার, মহান চরিত্র, প্রখর বুদ্ধি, সত্যনিষ্ঠ কথাবার্তা এবং বিশ্বস্ত কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত করল, তখন তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত মানুষের সন্ধান পেলেন। অথচ বড় বড় নেতা ও সর্দাররা তাঁকে বিয়ে করতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতেন। খাদিজা তাঁর মনের কথা তাঁর বান্ধবী নাফিসা বিনতে মুনয়াহর কাছে ব্যক্ত করলেন। নাফিসা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে খাদিজাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিলেন। তিনি তাতে সম্মত হলেন এবং তাঁর চাচাদের সাথে কথা বললেন। তাঁরা খাদিজার চাচার কাছে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং এর পর বিবাহ সম্পন্ন হলো। সিরিয়া থেকে ফেরার দুই মাস পর এই বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং বনু হাশিম ও মুদার গোত্রের প্রধানগণ এই বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মোহরানা হিসেবে তিনি তাঁকে বিশটি মাদী উট প্রদান করেন। সে সময় খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তিনি তখন বংশমর্যাদা, সম্পদ ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তাঁর জাতির শ্রেষ্ঠ নারী ছিলেন। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রথম স্ত্রী। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ দ্বিতীয় কোনো বিবাহ করেননি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম ১/১৬৬।

(২) ফিকহুস সিরাহ, মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী, পৃ. ৫২।

(৩) ইবনে হিশাম ১/১৮৭, ১৮৮।

(৪) ইবনে হিশাম ১/১৮৯, ১৯০; ফিকহুস সিরাহ, মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী, পৃ. ৫৯; তালকীহ ফুহুম আহলিল আসার, পৃ. ৭।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكل أولاده صلى الله عليه وسلم منها سوى إبراهيم، ولدت له أولا القاسم- وبه كان يكنى- ثم زينب ورقية، وأم كلثوم وفاطمة وعبد الله، وكان عبد الله يلقب بالطيب والطاهر، ومات بنوه كلهم في صغرهم، أما البنات فكلهن أدركن الإسلام فأسلمن وهاجرن، إلا أنهن أدركتهن الوفاة في حياته صلى الله عليه وسلم، سوى فاطمة رضي الله عنها فقد تأخرت بعده ستة أشهر، ثم لحقت به «1»

 

‌‌فضل خديجة ومنزلتها في حياة النبي صلى الله عليه وسلم

ثبت في الصحيين أنها خير نساء زمانها على الإطلاق.

روى البخاري ومسلم عن عائشة أنها قالت: ما غرت على نساء النبي صلى الله عليه وسلم إلا على خديجة، وإني لم أدركها، قالت: كان رسول لله صلى الله عليه وسلم إذا ذبح الشاة، فيقول:

أرسلوا بها إلى أصدقاء خديجة، قالت: فأغضبته يوما، فقلت: خديجة!! فقال صلى الله عليه وسلم «إني قد رزقت حبها» .

وروى الطبراني وأحمد عن عائشة قالت: كان رسول لله صلى الله عليه وسلم لا يكاد يخرج من البيت حتى يذكر خديجة فيحسن الثناء عليها، فذكرها يوما من الأيام، فأخذتني الغيرة، فقلت: هل كانت إلا عجوزا، قد أبدلك الله خيرا منها؟ فغضب ثم قال: «لا، والله ما أبدلني الله خيرا منها، آمنت إذ كفر الناس، وصدقتني إذ كذبني الناس، وواستني بمالها إذ حرمني الناس، ورزقني الله منها الولد دون غيرها من النساء» .

--------------------------------------------

(1) نفس المصدر الأول 1/ 190، 191، والثاني ص 60، وفتح الباري 7/ 507 وبين المصادر اختلاف يسير أخذنا ما هو الراجح عندنا.
ইবরাহিম ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সন্তান তাঁর (খাদিজার) গর্ভজাত। প্রথমে তাঁর কাসেম জন্মগ্রহণ করেন—যাঁর নামানুসারে তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম রাখা হয়েছিল—এরপর জায়নাব, রুকাইয়্যাহ, উম্মু কুলসুম, ফাতিমা এবং আবদুল্লাহ। আবদুল্লাহকে আত-তয়্যিব এবং আত-তাহির উপাধিতে ভূষিত করা হতো। তাঁর পুত্র সন্তানদের সকলেই শৈশবে মৃত্যুবরণ করেন। আর কন্যাসন্তানদের সকলেই ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন, ফলে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজরত করেন। তবে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত তাঁরা সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন। ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর ইন্তেকালের ছয় মাস পর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন, অতঃপর তাঁর সাথে মিলিত হন। «১»

 

‌‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে খাদিজার মর্যাদা ও অবস্থান

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি নিরঙ্কুশভাবে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ নারী ছিলেন।

বুখারী ও মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে খাদিজার প্রতি যতটা ঈর্ষা পোষণ করেছি, অন্য কারো প্রতি ততটা করিনি; অথচ আমি তাঁকে দেখিনি। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো বকরি জবাই করতেন, তখন বলতেন:

এটি খাদিজার বান্ধবীদের কাছে পাঠিয়ে দাও। আয়েশা বলেন: একদিন আমি তাঁকে রাগান্বিত করে ফেললাম এবং বললাম: খাদিজা!! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আমাকে তাঁর ভালোবাসা দান করা হয়েছে।"

তাবারানি ও আহমাদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হওয়ার সময় খাদিজার কথা স্মরণ না করে এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা না করে প্রায়ই বের হতেন না। একদিন তিনি তাঁর কথা স্মরণ করলে আমার মধ্যে ঈর্ষা জেগে উঠল, আমি বললাম: তিনি তো একজন বৃদ্ধা ছাড়া আর কিছু ছিলেন না, আল্লাহ কি আপনাকে তাঁর পরিবর্তে উত্তম বিনিময় দান করেননি? তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: "না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো বিনিময় দান করেননি। তিনি আমার প্রতি ঈমান এনেছিলেন যখন মানুষ কুফরি করছিল, তিনি আমাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছিল, তিনি তাঁর সম্পদ দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে বঞ্চিত করেছিল এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দান করেছেন, যা অন্য কোনো স্ত্রীর মাধ্যমে দেননি।"

--------------------------------------------

(১) একই প্রথম উৎস ১/ ১৯০, ১৯১; এবং দ্বিতীয় উৎস পৃষ্ঠা ৬০; এবং ফাতহুল বারী ৭/ ৫০৭। উৎসগুলোর মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে, আমরা আমাদের নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌خطبة أبي طالب في خطبة خديجة من النبي صلى الله عليه وسلم

الحمد لله الذي جعلنا من زرع إبراهيم، وذرية إسماعيل، وضئضيء معدّ، وعنصر مضر، وجعلنا حضنة بيته، وسوّاس حرمه، وجعله لنا بيتا محجوجا، وحرما آمنا، وجعلنا حكام الناس.

ثم إن ابن أخي هذا محمد بن عبد الله لا يوزن به رجل من قريش إلا رجح عليه برا، وفضلا، وكرما، وعقلا، ومجدا، ونبلا، وإن كان في المال قلّ، فإن المال ظل زائل، وأمر حائل، وعارية مسترجعة، وهو والله بعد هذا له نبأ عظيم، وخطر جليل! وله في خديجة بنت خويلد رغبة، ولها فيه مثل ذلك، وما أحببتم من الصداق فعليّ.

 

‌‌بناء الكعبة وقضية التحكيم:

ولخمس وثلاثين سنة من مولده صلى الله عليه وسلم قامت قريش ببناء الكعبة، وذلك لأن الكعبة كانت رضما فوق القامة، ارتفاعها تسعة أذرع من عهد إسماعيل، ولم يكن لها سقف، فسرق نفر من اللصوص كنزها الذي كان في جوفها، وكانت مع ذلك قد تعرضت- باعتبارها أثرا قديما- للعوادي التي أوهت بنيانها، وصدعت جدرانها، وقبل بعثته صلى الله عليه وسلم بخمس سنين جرف مكة سيل عرم، انحدر إلى البيت الحرام، فأوشكت الكعبة منه على الانهيار، فاضطرت قريش إلى تجديد بنائها حرصا على مكانتها، واتفقوا على أن لا يدخلوا في بنائها إلا طيبا، فلا يدخلوا فيها مهر بغي، ولا بيع ربا، ولا مظلمة أحد من الناس، وكانوا يهابون هدمها، فابتدأ بها الوليد ابن المغيرة المخزومي، وتبعه الناس لما رأوا أنه لم يصبه شيء، ولم يزالوا في الهدم حتى وصلوا إلى قواعد
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট বিয়ের প্রস্তাবকালে আবু তালিবের ভাষণ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইবরাহিমের বংশধর, ইসমাইলের সন্তান, মা'আদ-এর বংশ এবং মুদারের মূল ধারা থেকে উদ্ভূত করেছেন। তিনি আমাদের তাঁর ঘরের রক্ষক এবং তাঁর হারামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছেন। তিনি এই ঘরকে মানুষের হজের স্থান ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন এবং আমাদের মানুষের ওপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছেন।

অতঃপর, আমার এই ভাতিজা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর সাথে কুরাইশের যে কোনো লোকের তুলনা করা হোক না কেন, সে সদাচার, শ্রেষ্ঠত্ব, মহানুভবতা, প্রজ্ঞা, মর্যাদা ও আভিজাত্যের দিক থেকে সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত হবে। যদিও তার সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে, তবে সম্পদ তো এক ক্ষণস্থায়ী ছায়া ও পরিবর্তনশীল বিষয় এবং এমন এক ধার যা ফেরত দিতে হয়। আল্লাহর কসম, এর পর তার এক মহান সংবাদ এবং সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে! খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে এবং খাদিজারও তার প্রতি একই রূপ আগ্রহ আছে। তোমরা যে মোহরানা পছন্দ করবে, তা আদায়ের দায়িত্ব আমার।

 

কাবা নির্মাণ এবং সালিশি সমস্যা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পঁয়ত্রিশতম বছরে কুরাইশরা কাবা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে। কারণ, কাবা ছিল মানুষের উচ্চতার চেয়ে সামান্য বেশি উচ্চতাসম্পন্ন পাথরের স্তূপ। ইসমাইল আলাইহিস সালামের সময় থেকে এর উচ্চতা ছিল নয় হাত এবং এর কোনো ছাদ ছিল না। একদল চোর এর অভ্যন্তরে থাকা ধন-সম্পদ চুরি করে নিয়েছিল। তাছাড়া প্রাচীন স্থাপত্য হওয়ার কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে মক্কায় এক প্রচণ্ড বন্যা হয়, যা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে কাবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। কুরাইশরা নিজেদের মর্যাদা রক্ষার্থে কাবা পুনর্নির্মাণ করতে বাধ্য হয়। তারা একমত হয় যে, কাবা নির্মাণে কেবল পবিত্র অর্থই ব্যয় করবে; এতে কোনো ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক, সুদি কারবারের অর্থ কিংবা কারও প্রতি জুলুম করে অর্জিত অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তারা কাবা ভাঙতে ভয় পাচ্ছিল, তখন ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা মাখজুমি ভাঙার কাজ শুরু করেন। যখন মানুষ দেখল যে তার কোনো ক্ষতি হয়নি, তখন তারাও তাকে অনুসরণ করল। তারা ভাঙার কাজ চালিয়ে যেতে থাকল যতক্ষণ না তারা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের স্থাপিত ভিত্তিমূল পর্যন্ত পৌঁছাল।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
إبراهيم، ثم أرادوا الأخذ في البناء، فجزأوا الكعبة، وخصصوا لكل قبيلة جزءا منها، فجمعت كل قبيلة حجارة على حدة، وأخذوا يبنونها، وتولى البناء بنّاء رومي اسمه باقوم، ولما بلغ البنيان موضع الحجر الأسود اختلفوا فيمن يمتاز بشرف وضعه في مكانه، واستمر النزاع أربع ليال أو خمسا، واشتد حتى كاد يتحول إلى حرب ضروس في أرض الحرم، إلا أن أبا أمية بن المغيرة المخزومي عرض عليهم أن يحكموا فيما شجر بينهم أول داخل عليهم من باب المسجد فارتضوه، وشاء الله أن يكون ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما رأوه هتفوا: هذا الأمين، رضيناه، هذا محمد. فلما انتهى إليهم، وأخبروه الخبر طلب رداء، فوضع الحجر وسطه، وطلب من رؤساء القبائل المتنازعين أن يمسكوا جميعا بأطراف الرداء، وأمرهم أن يرفعوه، حتى إذا أوصلوه إلى موضعه أخذه بيده، فوضعه في مكانه، وهذا حل حصيف رضي به القوم.

وقصرت بقريش النفقة الطيبة فأخرجوا من الجهة الشمالية نحوا من ستة أذرع، وهي التي تسمى بالحجر والحطيم، ورفعوا بابها من الأرض؛ لئلا يدخلها إلا من أرادوا، ولما بلغ البناء خمسة عشر ذراعا سقفوه على ستة أعمدة.

وصارت الكعبة بعد انتهائها ذات شكل مربع تقريبا يبلغ ارتفاعه 15 مترا، وطول ضلعه الذي في الحجر الأسود والمقابل له 10، 10 م، والحجر موضوع على ارتفاع 50، 1 م من أرضية المطاف. والضلع الذي في الباب والمقابل له 12 م وبابها على ارتفاع مترين على الأرض، ويحيط بها من الخارج قصبة من البناء أسفلها، متوسط ارتفاعها 25، 0 م ومتوسط عرضها 30، 0 م وتسمى بالشاذروان، وهي من أصل البيت لكن قريشا تركتها «1» .

--------------------------------------------

(1) انظر في تفصيل بناء الكعبة ابن هشام 12/ 192 إلى 197، وفقه السيرة لمحمد الغزالي ص 62، 63، وصحيح البخاري باب فضل مكة وبنيانها 1/ 215، ومحاضرات تاريخ الأمم الإسلامية للخضري 1/ 64، 65.
ইব্রাহিম, এরপর তারা নির্মাণ কাজ শুরু করতে চাইলেন। তারা কাবাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করলেন এবং প্রতিটি গোত্রের জন্য তার একটি অংশ নির্দিষ্ট করে দিলেন। ফলে প্রতিটি গোত্র পৃথকভাবে পাথর সংগ্রহ করল এবং তারা তা নির্মাণ করতে শুরু করল। বাকুম নামক একজন রোমান রাজমিস্ত্রি নির্মাণ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যখন নির্মাণ কাজ হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথর) স্থান পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন এটি তার নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করার শ্রেষ্ঠত্ব কে লাভ করবে তা নিয়ে তারা মতভেদে লিপ্ত হলো। এই বিবাদ চার বা পাঁচ রাত পর্যন্ত স্থায়ী হলো এবং তা এতোই তীব্র রূপ নিল যে, হারাম শরীফের পবিত্র ভূমিতে একটি বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে আবু উমাইয়াহ ইবনে আল-মুগীরা আল-মাখজুমি তাদের কাছে প্রস্তাব দিলেন যে, তাদের মধ্যকার এই বিবাদে সেই ব্যক্তি ফয়সালা করবে যে মসজিদের দরজা দিয়ে প্রথম প্রবেশ করবে। তারা এতে সম্মত হলো। আর আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে, সেই ব্যক্তিটি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যখন তারা তাঁকে দেখল, তারা চিৎকার করে উঠল: "এই তো আল-আমিন (বিশ্বস্ত), আমরা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, এই তো মুহাম্মদ।" যখন তিনি তাদের কাছে পৌঁছালেন এবং তারা তাঁকে বিষয়টি অবগত করল, তখন তিনি একটি চাদর চাইলেন। তিনি পাথরটি চাদরের মাঝখানে রাখলেন এবং বিবাদমান গোত্রপতিদের চাদরের চারপাশ ধরতে বললেন। তিনি তাদের তা উপরে উঠাতে নির্দেশ দিলেন। যখন তারা একে তার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে পৌঁছাল, তখন তিনি নিজ হাতে সেটি গ্রহণ করলেন এবং তা তার স্থানে স্থাপন করলেন। এটি ছিল একটি বিচক্ষণ সমাধান যাতে সবাই সন্তুষ্ট হলো।

কুরাইশদের হালাল অর্থের সংস্থান কমে যাওয়ায় তারা উত্তর দিক থেকে প্রায় ছয় হাত জায়গা বের করে দিলেন, যা 'হিজর' এবং 'হাতীম' নামে পরিচিত। তারা এর দরজা মাটি থেকে উপরে স্থাপন করলেন যাতে তারা যাদের ইচ্ছা করে কেবল তারাই সেখানে প্রবেশ করতে পারে। যখন নির্মাণ কাজ পনের হাত উচ্চতায় পৌঁছাল, তারা ছয়টি স্তম্ভের ওপর এর ছাদ নির্মাণ করলেন।

সমাপ্ত হওয়ার পর কাবা ঘরটি প্রায় বর্গাকার রূপ ধারণ করল যার উচ্চতা ১৫ মিটার। হাজরে আসওয়াদ বিশিষ্ট দেওয়াল এবং তার বিপরীত দেওয়ালের দৈর্ঘ্য ১০.১০ মিটার। পাথরটি মাতাফের মেঝে থেকে ১.৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। দরজার দিকের দেওয়াল এবং তার বিপরীত দেওয়ালের দৈর্ঘ্য ১২ মিটার এবং এর দরজা ভূমি থেকে দুই মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এর বাইরের দিকে নিচ দিয়ে একটি ভিত্তি দেয়াল ঘেরা রয়েছে যার গড় উচ্চতা ০.২৫ মিটার এবং গড় প্রস্থ ০.৩০ মিটার, একে 'শাযারওয়ান' বলা হয়। এটি মূলত কাবারই অংশ ছিল, কিন্তু কুরাইশরা তা বাইরে রেখে দিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) কাবা নির্মাণের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: ইবনে হিশাম ১২/১৯২ থেকে ১৯৭; মুহাম্মদ আল-গাজালীর ফিকহুস সিরাত, পৃষ্ঠা ৬২, ৬৩; সহীহ বুখারী, মক্কার মর্যাদা ও তার নির্মাণ অধ্যায় ১/২১৫; আল-খুদরী-র মুহাদারাত তারীখ আল-উমাম আল-ইসলামিয়্যাহ ১/৬৪, ৬৫।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أهم ما تعاقب على الكعبة من الهدم والبناء

بنيت الكعبة خلال الدهر كله، أربع مرات بيقين، ووقع الخلاف والشك فيما قبل هذه المرات الأربع وبعدها.

أما المرة الأولى منها: فهي التي قام بأمر البناء فيها نبي الله إبراهيم عليه الصلاة والسلام يعينه ابنه إسماعيل عليه الصلاة والسلام، وذلك استجابة لأمر الله، وقد ثبت ذلك بصريح القرآن والسنة.

قال الله تعالى: وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْراهِيمُ الْقَواعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْماعِيلُ رَبَّنا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (البقرة: 127)

وفي الحديث: « … ثم قال- أي إبراهيم-: يا إسماعيل، إن الله أمرني بأمر، قال: فاصنع ما أمرك ربك، قال: وتعينني؟ قال: وأعينك، قال: فإن الله أمرني أن أبني هاهنا بيتا، وأشار إلى أكمة مرتفعة على ما حولها، قال: فعند ذلك رفعا القواعد من البيت، فجعل إسماعيل يأتي بالحجارة وإبراهيم يبني، حتى إذا ارتفع البناء، جاء بهذا الحجر فوضعه له فقام عليه، وهو يبني وإسماعيل يناوله الحجارة، وهما يقولان: «ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم» قال: فجعلا يبنيان حتى يدورا حول البيت، وهما يقولان: «ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم» . رواه البخاري في كتاب الأنبياء (64) باب (يزفون) / الصافات 94/ النسلان في المشي (12) حديث رقم (3184) ، عن ابن عباس، ج 3، ص 1230.

وأما المرة الثانية: فهي تلك التي بنتها قريش قبل الإسلام، واشترك النبي صلى الله عليه وسلم في بنائها، وقصّرت النفقة بقريش فلم يتمموا البناء على قواعد إبراهيم عليه السلام.

وفي ذلك يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «يا عائشة، لولا أن قومك حديثو عهد بجاهلية، لأمرت بالبيت فهدم، فأدخلت فيه ما أخرج منه، وألزقته بالأرض، وجعلت له بابين بابا شرقيا وبابا غربيا، فبلغت به أساس إبراهيم» .
কাবা ধ্বংস ও নির্মাণের পর্যায়ক্রমিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি

সমগ্র ইতিহাসের পরিক্রমায় কাবা নিশ্চিতভাবে চারবার নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এই চারবারের পূর্বে এবং পরে যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে মতভেদ ও সংশয় বিদ্যমান রয়েছে।

এর মধ্যে প্রথমবার: এটি সেই সময় যখন আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সহায়তায় আল্লাহর আদেশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। কুরআন ও সুন্নাহর দ্ব্যর্থহীন ভাষ্যের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল বাইতুল্লাহর ভিত্তি উত্তোলন করছিলেন এবং বলছিলেন, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ'।" (আল-বাকারা: ১২৭)

এবং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: « ... এরপর তিনি—অর্থাৎ ইবরাহিম—বললেন: হে ইসমাইল, আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাইল বললেন: আপনার প্রতিপালক আপনাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করুন। ইবরাহিম বললেন: তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? তিনি বললেন: আমি আপনাকে সাহায্য করব। ইবরাহিম বললেন: আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন—এবং তিনি চারপাশের ভূমি থেকে উঁচু একটি ঢিবির দিকে ইঙ্গিত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাঁরা উভয়ে বাইতুল্লাহর ভিত্তি উত্তোলন করলেন। ইসমাইল পাথর নিয়ে আসতেন এবং ইবরাহিম নির্মাণ করতেন। যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন তিনি এই পাথরটি নিয়ে এসে তাঁর জন্য স্থাপন করলেন এবং তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ করতে লাগলেন। ইসমাইল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিচ্ছিলেন এবং তাঁরা উভয়ে বলছিলেন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’। বর্ণনাকারী বলেন: তাঁরা নির্মাণ করতে থাকলেন এবং ঘরের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে নির্মাণ সম্পন্ন করলেন, আর বলছিলেন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’»। এটি বুখারি ‘কিতাবুল আম্বিয়া’ (৬৪), পরিচ্ছেদ: ‘যাফুন’ / আস-সাফফাত ৯৪ / ‘আন-নাসলান ফিশ-মাশি’ (১২), হাদিস নং ৩১৮৪-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৩০।

আর দ্বিতীয়বার: এটি হলো সেই নির্মাণ যা ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে কুরাইশরা করেছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই নির্মাণ কাজে শরিক হয়েছিলেন। তবে কুরাইশদের কাছে অর্থের ঘাটতি পড়ায় তারা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মূল ভিত্তির ওপর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।

এই প্রসঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «হে আয়েশা! তোমার কওম যদি জাহেলি যুগ থেকে নতুন (ইসলামে) না আসত, তবে আমি বাইতুল্লাহ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতাম। এরপর এর যে অংশ বের করে দেওয়া হয়েছে তা এর ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং একে মাটির সমান্তরাল করে দিতাম। আর এর জন্য দুটি দরজা স্থাপন করতাম—একটি পূর্ব দিকে এবং একটি পশ্চিম দিকে। এভাবে আমি একে ইবরাহিমের ভিত্তির সমান করে দিতাম»।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
فذلك الذي حمل ابن الزبير رضي الله عنهما على هدمه، قال يزيد- ابن رومان-: وشهدت ابن الزبير حين هدمه وبناه، وأدخل فيه الحجر، وقد رأيت أساس إبراهيم حجارة كأسنمة الإبل، قال جرير- ابن حازم- فقلت له: أين موضعه؟ قال: أريكه الآن، فدخلت معه الحجر، فأشار إلى مكان، فقال: هاهنا، قال جرير: فحزرت من الحجر ستة أذرع أو نحوها. رواه البخاري في كتاب الحج (32) ، باب فضل مكة وبنيانها (41) ، حديث رقم (1509) ، ج، ص 574.

ومن الدروس المستفادة ما رواه جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان ينقل معهم الحجارة للكعبة، وعليه إزارة، فقال له العباس عمه: يا ابن أخي، لو حللت إزارك فجعلته على منكبيك دون الحجارة، قال: فحلّه فجعله على منكبيه، فسقط مغشيا عليه، فما رئي بعد ذلك عريانا صلى الله عليه وسلم. رواه البخاري في كتاب الصلاة في الثياب (9) باب كراهية التعري في الصلاة وغيرها (7) ، حديث رقم (357) ، ج 1، ص 143، وتكرر تحت رقم 1505 و 3617.

وأما المرة الثالثة: فقد كانت عند ما احترق البيت زمن يزيد بن معاوية حين غزتها جيوشه من أهل الشام، عند ما حاصروا عبد الله بن الزبير بقيادة الحصين بن نمير في آخر سنة ست وأربعين للهجرة، ورموا البيت بالمنجنيق، فتهدم واحترق.

فانتظر ابن الزبير حتى قدم الناس الموسم، فاستشارهم قائلا: أيها الناس، أشيروا عليّ في الكعبة، أنقضها ثم أبني بناءها، أو أصلح ما وهى منها؟ فقال له ابن عباس: أرى أن تصلح ما وهى وتدع بيتا أسلم الناس عليه، وأحجارا أسلم الناس عليها، فقال ابن الزبير: لو كان أحدكم احترق بيته ما رضي حتى يجدّه، فكيف بيت ربكم؟ إني مستخير ربي ثلاثا ثم عازم على أمري.

ثم باشر نقضه بعد ثلاثة أيام حتى بلغوا به الأرض، فأقام ابن الزبير أعمدة من حوله، وأرخى عليها الستور، ثم باشروا في رفع بنائه، وزاد فيه ما أخرجت قريش منه.

وزاد في ارتفاعه إلى السماء عشرة أذرع، وجعل له بابين، اتباعا لحديث عائشة.

وأما المرة الرابعة: فقد كانت بعد مقتل ابن الزبير.

روى مسلم عن عطاء أنه لما قتل ابن الزبير، كتب الحجاج إلى عبد الملك بن مروان يخبره بذلك، ويخبره أن ابن الزبير قد وضع البناء على أسّ نظر إليه العدول
সেটিই ইবনুল যুবায়েরকে (রা.) তা ভেঙে নতুন করে গড়ার ব্যাপারে উদ্ধুদ্ধ করেছিল। ইয়াযীদ ইবনে রুমান বলেন: আমি ইবনুল যুবায়েরকে দেখেছি যখন তিনি এটি ভাঙছিলেন এবং নতুন করে নির্মাণ করছিলেন, আর তাতে হাতীমকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আমি ইব্রাহিম (আ.)-এর ভিত্তিপ্রস্তর উটের কুঁজের মতো বড় বড় পাথর হিসেবে দেখেছি। জারীর ইবনে হাযিম বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তার স্থানটি কোথায়? তিনি বললেন: আমি আপনাকে এখনই দেখাচ্ছি। অতঃপর আমি তাঁর সাথে হাতীমে প্রবেশ করলাম এবং তিনি একটি স্থানের দিকে ইশারা করে বললেন: এখানে। জারীর বলেন: আমি হাতীম থেকে ছয় হাত বা তার কাছাকাছি পরিমাণ আন্দাজ করলাম। এটি বুখারি তাঁর হজ্জ অধ্যায়ে (৩২), মক্কার মর্যাদা ও এর নির্মাণ পরিচ্ছেদে (৪১), হাদিস নং ১৫০৯, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭৪-এ বর্ণনা করেছেন।

শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে একটি হলো যা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের সাথে কা’বার পাথর বহন করছিলেন এবং তাঁর পরনে একটি লুঙ্গি ছিল। তখন তাঁর চাচা আব্বাস তাঁকে বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি যদি তোমার লুঙ্গি খুলে পাথরের নিচে কাঁধের ওপর রাখতে (তবে ভালো হতো)। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তিনি সেটি খুলে তাঁর কাঁধের ওপর রাখলেন এবং সাথে সাথে সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে গেলেন। এরপর থেকে তাঁকে (সা.) আর কখনও অনাবৃত অবস্থায় দেখা যায়নি। এটি বুখারি সালাতে পোশাক অধ্যায়ে (৯), সালাতে ও অন্য অবস্থায় অনাবৃত হওয়ার অপছন্দনীয়তা পরিচ্ছেদে (৭), হাদিস নং ৩৫৭, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৩-এ বর্ণনা করেছেন, এবং এটি ১৫০৫ ও ৩৬১৭ নং হাদিসের অধীনেও পুনরাবৃত্ত হয়েছে।

তৃতীয়বার: এটি ছিল ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়ার যুগে যখন কাবাগৃহ ভস্মীভূত হয়েছিল, যখন সিরিয়াবাসী তাঁর সেনাবাহিনী হুসাইন ইবনে নুমাইরের নেতৃত্বে হিজরি ছেচল্লিশ সালের শেষে আব্দুল্লাহ ইবনুল যুবায়েরকে ঘেরাও করে আক্রমণ করেছিল এবং তারা মানজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) দিয়ে কাবায় আঘাত করেছিল, ফলে তা ভেঙে গিয়েছিল এবং পুড়ে গিয়েছিল।

অতঃপর ইবনুল যুবায়ের মানুষেরা হজ্জের মৌসুমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করে বললেন: হে লোকসকল, কা’বা সম্পর্কে আমাকে পরামর্শ দাও। আমি কি এটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করব, নাকি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব? ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: আমার মতে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করুন এবং ঘরটিকে এমন অবস্থায় রেখে দিন যার ওপর মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং পাথরগুলোকেও সেই অবস্থায় থাকতে দিন যার ওপর মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইবনুল যুবায়ের বললেন: তোমাদের কারো ঘরে যদি আগুন লাগত, তবে সে তা নতুন করে নির্মাণ না করা পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতো না। তাহলে তোমাদের রবের ঘরের ক্ষেত্রে কী হবে? আমি তিনবার আমার রবের কাছে ইস্তিখারা করব, তারপর আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকব।

অতঃপর তিন দিন পর তিনি তা ভাঙতে শুরু করলেন যতক্ষণ না তারা মাটির স্তর পর্যন্ত পৌঁছলেন। অতঃপর ইবনুল যুবায়ের এর চারপাশে স্তম্ভ স্থাপন করলেন এবং তাতে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। এরপর তারা এর দেয়াল উত্তোলন শুরু করলেন এবং কুরাইশরা কাবা থেকে যে অংশটুকু বের করে দিয়েছিল, তিনি তা পুনরায় তাতে অন্তর্ভুক্ত করলেন।

আয়েশা (রা.)-এর হাদিস অনুসরণ করে তিনি এর উচ্চতা দশ হাত বৃদ্ধি করলেন এবং এতে দুটি দরজা স্থাপন করলেন।

চতুর্থবার: এটি ছিল ইবনুল যুবায়েরের শাহাদাতের পর।

মুসলিম আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন ইবনুল যুবায়ের নিহত হলেন, তখন হাজ্জাজ আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে এ বিষয়ে অবহিত করে চিঠি লিখলেন এবং তাঁকে জানালেন যে, ইবনুল যুবায়ের এমন এক ভিত্তির ওপর নির্মাণ কাজ করেছেন যা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ দেখেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
من أهل مكة، فكتب إليه عبد الملك: إنا لسنا من تلطيخ ابن الزبير في شيء. أما ما زاد في طوله- ارتفاعه- فأقرّه، وأما ما زاد فيه من الحجر فردّه إلى بنائه، وسدّ الباب الذي فتحه، فنقضه وأعاده إلى بنائه.

أما ما وقع الشك والخلاف فيه فهو بناء الكعبة قبل بناء نبي الله إبراهيم عليه الصلاة والسلام، روى البيهقي في دلائل النبوة من حديث عبد الله بن عمرو قال:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعث الله عز وجل جبريل عليه السلام إلى آدم وحواء، فقال لهما: ابنيا لي بيتا، فخط لهما جبريل عليه الصلاة والسلام، فجعل آدم يحفر، وحواء تنقل حتى أصابه الماء، فنودي من تحته: حسبك يا آدم، فلما بنياه أوحى الله إليه أن يطوف به، وقيل له: أنت أول الناس، وهذا أول بيت، ثم تناسخت القرون حتى حجه نوح عليه السلام، ثم تناسخت القرون حتى رفع إبراهيم عليه الصلاة والسلام القواعد منه» .

وهناك روايات وآثار أخرى قريبة في المعنى الذي رواه البيهقي، إلا أن جميعها لا يخلوا من ضعف أو نكارة.

فالأولى اعتماد ما ثبت يقينا، وأما ما وراء ذلك فنكل علمه إلى الله.
মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি; অতঃপর আব্দুল মালিক তাকে লিখে পাঠালেন: "ইবনে যুবাইর যা রদবদল করেছেন তার কোনো কিছুর সাথে আমাদের সম্পর্ক নেই। তবে তিনি এর উচ্চতা যতটুকু বৃদ্ধি করেছেন তা বহাল রাখো; আর তিনি হিজর (হাতিম)-এর যতটুকু অংশ বৃদ্ধি করে কাবার অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা পুনরায় কাবার আদি ভিত্তির ওপর ফিরিয়ে দাও এবং তিনি যে দরজাটি খুলেছিলেন তা বন্ধ করে দাও।" অতঃপর তিনি তা ভেঙে ফেললেন এবং পূর্বের নির্মাণের ন্যায় পুনরায় নির্মাণ করলেন।

আর যে বিষয়ে সংশয় ও মতভেদ রয়েছে, তা হলো আল্লাহর নবী ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের নির্মাণের পূর্বে কাবার নির্মাণ। বায়হাকি তাঁর 'দালায়িলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা জিবরাইল আলাইহিস সালামকে আদম ও হাওয়ার নিকট পাঠালেন এবং তাদের বললেন: 'আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো।' অতঃপর জিবরাইল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাদের জন্য স্থান চিহ্নিত করে দিলেন। এরপর আদম খনন করতে লাগলেন এবং হাওয়া মাটি সরাতে লাগলেন, যতক্ষণ না পানির দেখা মিলল। তখন নিচ থেকে আওয়াজ আসলো: 'হে আদম! আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট।' যখন তারা তা নির্মাণ সম্পন্ন করলেন, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন যেন তিনি তা তাওয়াফ করেন। তাকে বলা হলো: 'আপনি মানবজাতির মধ্যে প্রথম ব্যক্তি এবং এটিই প্রথম ঘর।' তারপর যুগের পর যুগ অতিবাহিত হলো এমনকি নূহ আলাইহিস সালাম এতে হজ পালন করলেন। এরপর আরও অনেক কাল গত হলো যতক্ষণ না ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এর ভিত্তি উত্তোলন করলেন।"

বায়হাকি বর্ণিত এই অর্থের কাছাকাছি আরও অনেক বর্ণনা ও আছার বিদ্যমান রয়েছে, তবে সেগুলোর কোনোটিই দুর্বলতা কিংবা অসমর্থনযোগ্যতা (নাকারাহ) থেকে মুক্ত নয়।

সুতরাং যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করাই উত্তম, আর এর বাইরের বিষয়গুলোর জ্ঞান আমরা আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌في ظلال النبوة والرسالة

 

‌‌في غار حراء:

ولما تقاربت سنه صلى الله عليه وسلم الأربعين، وكانت تأملاته الماضية قد وسعت الشقة العقلية بينه وبين قومه، حبب إليه الخلاء، فكان يأخذ السويق والماء ويذهب إلى غار حراء في جبل النور، على مبعدة نحو ميلين من مكة- وهو غار لطيف طوله أربعة أذرع، وعرضه ذراع وثلاثة أرباع ذراع من ذراع الحديد- ومعه أهله قريبا منه، فيقيم فيه شهر رمضان، يطعم من جاءه من المساكين، ويقضي وقته في العبادة والتفكير فيما حوله من مشاهد الكون، وفيما وراءها من قدرة مبدعة، وهو غير مطمئن لما عليه قومه من عقائد الشرك المهلهلة، وتصوراتها الواهية، ولكن ليس بين يديه طريق واضح، ولا منهج محدد، ولا طريق قاصد يطمئن إليه ويرضاه «1» .

وكان اختياره صلى الله عليه وسلم لهذه العزلة طرفا من تدبير الله له، وليعده لما ينتظره من الأمر العظيم.

ولا بد لأي روح يراد لها أن تؤثر في واقع الحياة البشرية فتحولها وجهة أخرى.. لا بد لهذه الروح من خلوة وعزلة بعض الوقت، وانقطاع عن شواغل الأرض وضجة الحياة، وهموم الناس الصغيرة التي تشغل الحياة.

وهكذا دبر الله لمحمد صلى الله عليه وسلم وهو يعده لحمل الأمانة الكبرى، وتغيير وجه الأرض، وتعديل خط التاريخ.. دبر له هذه العزلة قبل تكليفه بالرسالة بثلاث سنوات، ينطلق في هذه العزلة شهرا من الزمان، مع روح الوجود الطليقة، ويتدبر ما وراء الوجود من غيب مكنون، حتى يحين موعد التعامل مع هذا الغيب عند ما يأذن الله «2» .

--------------------------------------------

(1) رحمة للعالمين 1/ 47، وابن هشام 1/ 235، 236، في ظلال القرآن الجزء 29/ 166.

(2) نفس المصدر الأخير 29/ 166، 167.
নবুওয়াত ও রিসালাতের ছায়াতলে

 

হেরা গুহায়:

যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বয়স চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছাল এবং তাঁর পূর্বের চিন্তাভাবনা তাঁর ও তাঁর কওমের মধ্যে মানসিক দূরত্বকে প্রশস্ত করে দিয়েছিল, তখন নির্জনতা তাঁর নিকট প্রিয় করে দেওয়া হলো। ফলে তিনি ছাতু ও পানি সাথে নিতেন এবং মক্কা থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে জাবালে নূরের হেরা গুহায় চলে যেতেন—এটি একটি ছোট গুহা যার দৈর্ঘ্য চার হাত এবং প্রস্থ লোহার হাতের মাপে পৌনে দুই হাত—এবং তাঁর পরিবার তাঁর নিকটেই থাকতেন। সেখানে তিনি রমজান মাস অবস্থান করতেন, তাঁর কাছে আসা অভাবীদের খাবার খাওয়াতেন এবং ইবাদত ও তাঁর চারপাশের মহাজাগতিক নিদর্শনাদি এবং এর নেপথ্যে থাকা সৃজনশীল ক্ষমতার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে সময় অতিবাহিত করতেন। তাঁর কওমের জীর্ণ শিরকি আকিদা ও তাদের অন্তঃসারশূন্য ধারণার বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত ছিলেন না; কিন্তু তাঁর সামনে কোনো স্পষ্ট পথ, সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা এমন কোনো সরল পথ ছিল না যাতে তিনি আশ্বস্ত হতে পারতেন এবং যা তিনি পছন্দ করতেন।

এই নির্জনতা অবলম্বন ছিল তাঁর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পরিকল্পনা, যাতে তাঁকে সেই মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করা যায় যা তাঁর অপেক্ষায় ছিল।

যে আত্মাকে মানবজীবনের বাস্তবতাকে প্রভাবিত করে অন্য দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়, তার জন্য নির্জনতা ও কিছু সময়ের একাকীত্ব অনিবার্য। পার্থিব ব্যস্ততা, জীবনের কোলাহল এবং জীবনকে আচ্ছন্ন করে রাখা মানুষের তুচ্ছ দুশ্চিন্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই আত্মার জন্য প্রয়োজন।

এভাবেই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন যখন তিনি তাঁকে মহা আমানত বহনের জন্য, পৃথিবীর চেহারা পরিবর্তনের জন্য এবং ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করছিলেন। রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণের তিন বছর পূর্ব থেকে তাঁর জন্য এই নির্জনবাসের ব্যবস্থা করেন, যেখানে তিনি মুক্ত অস্তিত্বের আত্মার সাথে এক মাস সময় অতিবাহিত করতেন এবং মহাবিশ্বের অন্তরালে বিদ্যমান অদৃশ্য জগত নিয়ে চিন্তা করতেন, যতক্ষণ না আল্লাহর অনুমতিতে সেই অদৃশ্যের সাথে যোগাযোগের সময়টি উপস্থিত হয়।

--------------------------------------------

(১) রাহমাতুল্লিল আলামিন ১/৪৭, ইবনে হিশাম ১/২৩৫, ২৩৬, ফি জিলালিল কুরআন খণ্ড ২৯/১৬৬।

(২) একই শেষোক্ত উৎস ২৯/১৬৬, ১৬৭।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌جبريل ينزل بالوحي:

ولما تكامل له أربعون سنة- وهي رأس الكمال، وقيل: ولها تبعث الرسل- بدأت آثار النبوة تتلوح وتتلمع له من وراء آفاق الحياة، وتلك الآثار هي الرؤيا الصادقة، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، حتى مضت على ذلك ستة أشهر- ومدة النبوة ثلاث وعشرون سنة، فهذه الرؤيا جزء من ستة وأربعين جزءا من النبوة- فلما كان رمضان من السنة الثالثة من عزلته صلى الله عليه وسلم بحراء شاء الله أن يفيض من رحمته على أهل الأرض، فأكرمه بالنبوة، وأنزل إليه جبريل بآيات من القرآن «1» .

وبعد النظر والتأمل في القرائن والدلائل يمكن لنا أن نحدد ذلك اليوم بأنه كان يوم الإثنين لإحدى وعشرين مضت من شهر رمضان ليلا، ويوافق 10 أغسطس سنة 610 م، وكان عمره صلى الله عليه وسلم إذ ذاك بالضبط أربعين سنة قمرية، وستة أشهر، و 12 يوما، وذلك نحو 39 سنة شمسية وثلاثة أشهر و 22 يوما «2» .

--------------------------------------------

(1) قال ابن حجر: وحكى البيهقي أن مدة الرؤيا كانت ستة أشهر، وعلى هذا فابتداء النبوة بالرؤيا وقع في شهر مولده وهو ربيع الأول، بعد إكماله أربعين سنة، وابتداء وحي اليقظة في رمضان (فتح الباري 1/ 27) .

(2) اختلف المؤرخون اختلافا كبيرا في أول شهر أكرمه الله فيه بالنبوة، وإنزال الوحي، فذهبت طائفة كبيرة إلى أنه شهر ربيع الأول، وذهبت طائفة أخرى إلى أنه رمضان، وقيل هو شهر رجب (انظر مختصر سيرة الرسول للشيخ عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب النجدي ص 75) ورجحنا الثاني- أي أنه شهر رمضان- لقوله تعالى: شَهْرُ رَمَضانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ (2: 185) ولقوله تعالى: إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (97: 1) ومعلوم أن ليلة القدر في رمضان، وهي المرادة بقول تعالى: إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةٍ مُبارَكَةٍ، إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ (44: 3) ولأن جواره صلى الله عليه وسلم بحراء كان في رمضان، وكانت وقعة نزول جبريل فيها كما هو معروف. ثم اختلف القائلون ببدء نزول الوحي في رمضان في تحديد ذلك اليوم، فقيل: هو اليوم السابع، وقيل السابع عشر، وقيل الثامن عشر (انظر مختصر سيرة الرسول المذكور ص 75، ورحمة للعالمين 1/ 49) وقد أصر الخضري في محاضراته على أنه اليوم السابع عشر (محاضرات تاريخ الأمم الإسلامية للخضري 1/ 69) . وإنما رجحنا أنه اليوم الحادي والعشرون مع أنا لم نر من قال به لأن أهل السيرة كلهم أو أكثرهم متفقون على أن مبعثه صلى الله عليه وسلم كان يوم الإثنين، ويؤيدهم ما رواه أئمة الحديث عن أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الإثنين، فقال: فيه ولدت فيه أنزل علي، وفي لفظ: ذاك يوم ولدت فيه ويوم بعثت أو أنزل علي فيه (صحيح مسلم 1/ 368، أحمد 5/ 297، 299، البيهقي 4/ 286، 300، -
জিবরাঈল ওহী নিয়ে অবতরণ করছেন:

যখন তাঁর চল্লিশ বছর পূর্ণ হলো—আর এটিই হলো পূর্ণতার শিখর, এবং বলা হয় যে, এই বয়সেই রাসূলগণ প্রেরিত হন—তখন জীবনের দিগন্তের আড়াল থেকে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ তাঁর জন্য প্রতিভাত ও উদ্ভাসিত হতে শুরু করল। আর সেই নিদর্শনসমূহ ছিল সত্য স্বপ্ন; তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা সুবহে সাদিকের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো না। এভাবে ছয় মাস অতিবাহিত হলো—আর নবুওয়াতের সময়কাল ছিল তেইশ বছর, সুতরাং এই স্বপ্ন হলো নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ—যখন হেরা গুহায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্জনবাসের তৃতীয় বছরের রমজান মাস এল, তখন আল্লাহ চাইলেন পৃথিবীবাসীর ওপর তাঁর রহমত বর্ষণ করতে, ফলে তিনি তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে সম্মানিত করলেন এবং তাঁর নিকট জিবরাঈলকে কুরআনের আয়াতসহ অবতীর্ণ করলেন (১)।

পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও প্রমাণাদি পর্যালোচনার পর আমরা নির্দিষ্ট করতে পারি যে, সেই দিনটি ছিল রমজান মাসের একুশ তারিখ দিবাগত সোমবার রাত, যা ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই আগস্টের সমসাময়িক। তখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স ছিল ঠিক চল্লিশ চন্দ্র বছর, ছয় মাস এবং ১২ দিন, যা প্রায় ৩৯ সৌর বছর, ৩ মাস ও ২২ দিন (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার বলেন: বাইহাকী বর্ণনা করেছেন যে, স্বপ্নের সময়কাল ছিল ছয় মাস; এই হিসেবে স্বপ্নের মাধ্যমে নবুওয়াতের সূচনা তাঁর জন্মমাস অর্থাৎ রবিউল আউয়াল মাসে হয়েছিল, যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হয়েছিল, আর জাগ্রত অবস্থায় ওহীর সূচনা হয়েছিল রমজান মাসে (ফাতহুল বারী ১/২৭)।

(২) আল্লাহ তাআলা কোন মাসে তাঁকে প্রথম নবুওয়াত দিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং ওহী নাযিল করেছেন, সে ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। এক বিশাল গোষ্ঠী মনে করেন এটি ছিল রবিউল আউয়াল মাস, অন্য এক দল মনে করেন এটি ছিল রমজান মাস, আবার কেউ কেউ বলেন এটি ছিল রজব মাস (দ্রষ্টব্য: শেখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আন-নাজদী রচিত মুখতাসার সيرة الرسول, পৃ. ৭৫)। আমরা দ্বিতীয় মতটিকে—অর্থাৎ এটি রমজান মাস ছিল—প্রাধান্য দিয়েছি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে" (২:১৮৫) এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয় আমি তা নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে" (৯৭:১), আর এটি সুপরিচিত যে লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। আর আল্লাহ তাআলার এই বাণীর দ্বারাও সেটিই উদ্দেশ্য: "নিশ্চয় আমি তা এক বরকতময় রাতে নাযিল করেছি, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী" (৪৪:৩)। এছাড়া হেরা গুহায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবস্থান ছিল রমজান মাসে এবং জিবরাঈলের অবতরণের ঘটনাটি সেখানেই ঘটেছিল যেমনটি সবার জানা। অতঃপর যারা রমজান মাসে ওহী নাযিল শুরুর প্রবক্তা, তাঁরা সেই দিনটি নির্ধারণে মতভেদ করেছেন; কেউ বলেছেন এটি সপ্তম দিন ছিল, কেউ বলেছেন ১৭ই রমজান, আবার কেউ বলেছেন ১৮ই রমজান (দ্রষ্টব্য: উল্লিখিত মুখতাসার সীরাতুর রাসূল পৃ. ৭৫ এবং রাহমাতুল্লিল আলামীন ১/৪৯)। খুদরী তাঁর লেকচারসমূহে জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি ছিল ১৭ই রমজান (খুদরী রচিত মুহাদারাত তারিখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ ১/৬৯)। তবে আমরা ২১শে রমজানকে প্রাধান্য দিয়েছি যদিও আমরা কাউকে এটি স্পষ্ট করে বলতে দেখিনি, কিন্তু সীরাত বিশেষজ্ঞদের সকলেই বা অধিকাংশ এ ব্যাপারে একমত যে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত প্রাপ্তি ছিল সোমবার দিনে। আর হাদীস বিশারদগণ আবু কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন: "এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমার ওপর ওহী নাযিল হয়েছে।" অন্য শব্দে এসেছে: "সেটি এমন এক দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমি নবুওয়াত পেয়েছি বা আমার ওপর ওহী নাযিল হয়েছে" (সহীহ মুসলিম ১/৩৬৮, আহমাদ ৫/২৯৭, ২৯৯, বাইহাকী ৪/২৮৬, ৩০০)।-
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولنستمع إلى عائشة الصديقة رضي الله تعالى عنها تروي لنا قصة هذه الوقعة التي كانت شعلة من نور الله، أخذت تفتح دياجير ظلمات الكفر والضلال، حتى غيرت مجرى الحياة، وعدلت خط التاريخ. قالت عائشة رضي الله عنها:

أول ما بدىء به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء، فيتحنث فيه- وهو التعبد- الليالي ذوات العدد قبل أن ينزع إلى أهله، ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود لمثلها، حتى جاءه الحق وهو في غار حراء، فجاءه الملك فقال: اقرأ: فقلت: ما أنا بقارىء، قال: فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، فقلت: ما أنا بقارىء، فأخذني فغطني الثالثة، ثم أرسلني فقال: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ «1» فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد فقال: زملوني زملوني، فزملوه حتى ذهب عنه الورع، فقال لخديجة، مالي، وأخبرها الخبر، لقد خشيت على نفسي، فقالت خديجة: كلا، والله ما يخزيك الله أبدا، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق، فانطلقت به خديجة حتى أتت به ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزي ابن عم خديجة- وكان امرءا تنصر في الجاهلية، وكان يكتب الكتاب العبراني، فيكتب من الإنجيل بالعبرانية ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخا كبيرا قد عمي- فقالت له خديجة: يا ابن عم! اسمع من ابن أخيك، فقال له ورقة: يا ابن أخي ماذا ترى؟ فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى، فقال له ورقة: هذا الناموس الذي نزله الله على موسى، يا ليتني فيها جذعا، ليتني أكون حيا إذ يخرجك قومك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أو مخرجيّ هم؟ قال: نعم، لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلا عودي،

--------------------------------------------

- الحاكم 02/ 602) ويوم الإثنين في رمضان من تلك السنة لا يوافق إلا اليوم السابع، والرابع عشر، والحادي والعشرين، والثامن والعشرين، وقد دلت الروايات الصحيحة أن ليلة القدر لا تقع إلا في وتر من ليالي العشر الأواخر من رمضان وأنها تنتقل فيما بين هذه الليالي، فإذا قارنا بين قوله تعالى: إِنَّا أَنْزَلْناهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وبين رواية أبي قتادة أن مبعثه صلى الله عليه وسلم كان يوم الإثنين وبين حساب التقويم العلمي في وقوع يوم الإثنين في رمضان من تلك السنة تعين لنا أن مبعثه صلى الله عليه وسلم كان في اليوم الحادي والعشرين من رمضان ليلا.

(1) كان نزول الآيات إلى قوله تعالى: عَلَّمَ الْإِنْسانَ ما لَمْ يَعْلَمْ.
আসুন আমরা আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার কথা শুনি, যিনি আমাদের কাছে সেই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন যা ছিল আল্লাহর নূরের এক শিখা, যা কুফর ও গোমরাহীর ঘোর অন্ধকার ভেদ করতে শুরু করেছিল, এমনকি জীবনের প্রবাহ বদলে দিয়েছিল এবং ইতিহাসের ধারাকে সংশোধন করেছিল। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশের সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা প্রভাতের আলোর মতো প্রকাশ পেত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে বেশ কিছু রাত 'তাহান্নুছ' অর্থাৎ ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। এজন্য তিনি পাথেয় সাথে নিতেন। এরপর তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে সত্য আসলো। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন: 'পাঠ করুন'। আমি বললাম: 'আমি তো পাঠ করতে জানি না'। তিনি বললেন: এরপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রবলভাবে চাপ দিলেন, এমনকি আমার কষ্ট চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পাঠ করুন'। আমি বললাম: 'আমি তো পাঠ করতে জানি না'। তিনি তৃতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন, তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার রব অতিশয় দয়ালু।' অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ওহী নিয়ে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে প্রবেশ করে বললেন: 'তোমরা আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো'। তারা তাঁকে চাদর দিয়ে আবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। তিনি খাদিজাকে তাঁর অবস্থার কথা জানালেন এবং বললেন: 'আমার কী হলো?', তিনি তাকে সব খবর জানালেন এবং বললেন, 'আমি নিজের জীবনের আশঙ্কা করছি।' খাদিজা বললেন: 'কখনোই নয়, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, রিক্তহস্তদের কর্মসংস্থান করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে আপদ-বিপদে সাহায্য করেন।' এরপর খাদিজা তাঁকে সাথে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার কাছে গেলেন। তিনি জাহেলী যুগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় কিতাব লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ইঞ্জিল থেকে ইবরানী ভাষায় যতটুকু আল্লাহ চাইতেন লিখে নিতেন। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ এবং দৃষ্টিহীন। খাদিজা তাঁকে বললেন: 'হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।' ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: 'হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি কী দেখছো?' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। ওয়ারাকা তাঁকে বললেন: 'ইনি তো সেই 'নামূস' (গোপন বার্তার বাহক ফেরেশতা) যাঁকে আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামের নিকট পাঠিয়েছিলেন। হায়! আমি যদি সেই সময় যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি সেই সময় জীবিত থাকতাম যখন তোমার জাতি তোমাকে বের করে দেবে!' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তারা কি আমাকে বের করে দেবে?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছ তা নিয়ে ইতিপূর্বে যে ব্যক্তিই এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে।'

--------------------------------------------

- (আল-হাকিম ২/৬০২) সেই বছরের রমজান মাসে সোমবার দিনটি কেবল ৭, ১৪, ২১ এবং ২৮ তারিখেই পড়েছিল। সহীহ বর্ণনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, লাইলাতুল কদর কেবল রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে হয়ে থাকে এবং এই রাতগুলোর মধ্যেই তা আবর্তিত হয়। সুতরাং যদি আমরা আল্লাহর বাণী: 'নিশ্চয়ই আমি তা কদরের রাতে নাযিল করেছি' এবং আবু কাতাদা বর্ণিত হাদীস যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি ছিল সোমবার দিনে—এই দুইয়ের সাথে সেই বছরের রমজানে সোমবার হওয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত হিসাব মিলিয়ে দেখি, তবে এটি স্পষ্ট হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি হয়েছিল রমজানের ২১ তারিখ রাতে।

(১) আয়াতগুলো নাযিল হয়েছিল মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: 'মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না।'
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزرا، ثم لم ينشب ورقة أن توفي وفتر الوحي «1» .

وروى الطبري وابن هشام ما يفيد أنه خرج من غار حراء بعد ما فوجىء بالوحي ثم رجع وأتم جواره، وبعد ذلك رجع إلى مكة، ورواية الطبري تلقي ضوءا على سبب خروجه وهاك نصها:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذكر مجيء الوحي: ولم يكن من خلق الله أبغض عليّ من شاعر أو مجنون، كنت لا أطيق أن أنظر إليهما، قال: قلت إن الأبعد. - يعني نفسه- شاعر أو مجنون إلا تحدث بها عني قريش أبدا! لأعمدن إلى حالق من الجبل فلأطرحن نفسي منه فلأقتلنها، فلأستريحن! قال: فخرجت أريد ذلك، حتى إذا كنت في وسط الجبل سمعت صوتا من السماء يقول: يا محمد!! أنت رسول الله، وأنا جبريل. قال: فرفعت رأسي إلى السماء، فإذا جبريل في صورة رجل صافّ قدميه في أفق السماء يقول: يا محمد! أنت رسول الله وأنا جبريل. قال:

فوقفت أنظر إليه، وشغلني ذلك عما أردت، فما أتقدم وما أتأخر، وجعلت أصرف وجهي عنه في آفاق السماء فلا أنظر في ناحية منها إلا رأيته كذلك، فما زلت واقفا ما أتقدم أمامي، ولا أرجع ورائي، حتى بعثت خديجة رسلها في طلبي، حتى بلغوا مكة ورجعوا إليها وأنا واقف في مقامي، ثم انصرف عني وانصرفت راجعا إلى أهلي «2» حتى أتيت خديجة فجلست إلى فخذها مضيفا إليها (ملتصقا بها مائلا إليها) فقالت: يا أبا القاسم! أين كنت؟ فوالله لقد بعثت في طلبك حتى بلغوا مكة ورجعوا إلي، ثم حدثتها بالذي رأيت، فقالت: أبشر يا ابن عم، واثبت، فو الذي نفس خديجة بيده إني لأرجو أن تكون نبي هذه الأمة «3» ، ثم قامت فانطلقت إلى ورقة وأخبرته. فقال: قدوس قدوس، والذي نفس ورقة بيده لقد جاءه الناموس الأكبر الذي كان يأتي موسى، وإنه لنبي هذه الأمة، فقولي له: فليثبت، فرجعت خديجة وأخبرته بقول ورقة، فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم جواره وانصرف (إلى مكة) لقيه ورقة، وقال بعد أن سمع منه خبره:

والذي نفسي بيده، إنك لنبي هذه الأمة، ولقد جاءك الناموس الأكبر الذي جاء موسى «4» .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري 1/ 2، 3، وقد أخرجه البخاري مع اختلاف يسير في اللفظ في كتابي التفسير وتعبير الرؤيا.

(2) نص الطبري 2/ 207.

(3) نص ابن هشام 1/ 237- 238.

(4) ملخص من ابن هشام 1/ 238.
"যদি আমি তোমার সেই দিনটি পাই, তবে আমি তোমাকে শক্তিশালীভাবে সাহায্য করব।" এরপর অল্পকাল পরেই ওরাকা মৃত্যুবরণ করেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে যায়। (১)

তাবারী এবং ইবনে হিশাম এমন বর্ণনা করেছেন যা নির্দেশ করে যে, আকস্মিকভাবে ওহী আসার পর তিনি হেরা গুহা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, অতঃপর পুনরায় ফিরে এসে তাঁর অবস্থান পূর্ণ করেন এবং এরপর মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। তাবারীর বর্ণনাটি তাঁর বেরিয়ে যাওয়ার কারণের ওপর আলোকপাত করে এবং তা হলো নিম্নরূপ:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী আগমনের কথা উল্লেখ করার পর বললেন: "আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কবি বা পাগল অপেক্ষা বেশি ঘৃণিত আমার কাছে আর কেউ ছিল না। আমি তাঁদের দিকে তাকাতেও সহ্য করতে পারতাম না।" তিনি বললেন: "আমি মনে মনে বললাম, নিশ্চয়ই এই অভাগা ব্যক্তিটি—অর্থাৎ নিজেকে বুঝিয়ে—হয়তো একজন কবি বা পাগল হয়ে গেল! কুরাইশরা কখনোই আমার সম্পর্কে এ নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবে না। আমি অবশ্যই পাহাড়ের কোনো উঁচু চূড়ায় উঠব এবং সেখান থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যা করব, যাতে আমি শান্তি লাভ করি!" তিনি বললেন: "অতঃপর আমি সেই উদ্দেশ্যে বের হলাম। যখন আমি পাহাড়ের মধ্যস্থলে পৌঁছলাম, তখন আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম যা বলছিল: 'হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসূল আর আমি জিবরীল'।" তিনি বললেন: "আমি আকাশের দিকে আমার মাথা তুললাম, তখন দেখলাম জিবরীল একজন পুরুষের আকৃতিতে আকাশের দিগন্তে তাঁর দুই পা সমান্তরালভাবে রেখে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন: 'হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসূল আর আমি জিবরীল'।" তিনি বললেন:

"আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এই দৃশ্যটি আমাকে আমার সংকল্প থেকে ফিরিয়ে রাখল। আমি সামনে এগোতে পারছিলাম না এবং পেছনেও সরতে পারছিলাম না। আমি আকাশের দিগন্ত জুড়ে আমার মুখ ঘুরাতে লাগলাম, কিন্তু আকাশের যে প্রান্তেই তাকাতাম, তাঁকে ঠিক একইভাবে দেখতে পেতাম। আমি এভাবেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকলাম, সামনেও পা বাড়ালাম না এবং পেছনেও ফিরলাম না। অবশেষে খাদিজা তাঁর লোকজনকে আমার খোঁজে পাঠালেন। তারা মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে আবার তাঁর কাছে ফিরে গেল, আর আমি আমার স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম। অতঃপর তিনি আমার নিকট থেকে প্রস্থান করলেন এবং আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে আসলাম।" (২) অবশেষে আমি খাদিজার কাছে আসলাম এবং তাঁর উরুর পাশে ঘেঁষে (তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে হেলান দিয়ে) বসলাম। তিনি বললেন: "হে আবুল কাসিম! আপনি কোথায় ছিলেন? আল্লাহর শপথ, আমি আপনার খোঁজে লোক পাঠিয়েছিলাম, এমনকি তারা মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে আমার কাছে ফিরে এসেছে।" এরপর আমি তাঁর কাছে যা দেখেছিলাম তা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন: "হে চাচাতো ভাই, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং অবিচল থাকুন। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে খাদিজার প্রাণ, আমি অবশ্যই আশা করি যে আপনিই হবেন এই উম্মতের নবী।" (৩) এরপর তিনি উঠে ওরাকার কাছে গেলেন এবং তাঁকে সব জানালেন। তিনি (ওরাকা) বললেন: "পবিত্র, অতি পবিত্র! যাঁর হাতে ওরাকার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, তাঁর কাছে সেই মহা ফেরেশতা (নামূস আল-আকবার) এসেছেন যিনি মূসার কাছে আসতেন। নিশ্চয়ই তিনি এই উম্মতের নবী। অতএব তাঁকে বলুন যেন তিনি দৃঢ় থাকেন।" অতঃপর খাদিজা ফিরে আসলেন এবং তাঁকে ওরাকার কথা জানালেন। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অবস্থান শেষ করে মক্কায় ফিরে আসলেন, তখন ওরাকার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো এবং তাঁর কাছ থেকে সব শোনার পর তিনি (ওরাকা) বললেন:

"যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের নবী। আর আপনার কাছে সেই মহা ফেরেশতা এসেছেন যিনি মূসার কাছে এসেছিলেন।" (৪)

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী ১/২, ৩। বুখারী এটি সামান্য শাব্দিক পার্থক্যের সাথে কিতাবুত তাফসীর এবং কিতাবুত তাবীর-এ বর্ণনা করেছেন।

(২) তাবারীর মূল পাঠ ২/২০৭।

(৩) ইবনে হিশামের মূল পাঠ ১/২৩৭-২৩৮।

(৪) ইবনে হিশাম ১/২৩৮ থেকে সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌فترة الوحي:

أما مدة فترة الوحي فروى ابن سعد عن ابن عباس ما يفيد أنها كانت أياما «1» وهذا الذي يترجح بل يتعين بعد إدارة النظر في جميع الجوانب. وأما ما اشتهر من أنها دامت طيلة ثلاث سنين أو سنتين ونصف فلا يصح بحال، وليس هذا موضع التفصيل في رده.

وقد بقي رسول الله صلى الله عليه وسلم في أيام الفترة كئيبا محزونا، تعتريه الحيرة والدهشة، فقد روى البخاري في كتاب التعبير ما نصه:

وفتر الوحي فترة حتى حزن النبي صلى الله عليه وسلم فيما بلغنا حزنا عدا «2» منه مرارا كي يتردى من رؤوس شواهق الجبال، فكلما أوفى بذروة جبل لكي يلقي نفسه منه تبدى له جبريل فقال: يا محمد إنك رسول الله حقا، فيسكن لذلك جأشه، وتقر نفسه، فيرجع، فإذا طالت عليه فترة الوحي غدا لمثل ذلك، فإذا أوفى بذروة الجبل تبدى له جبريل فقال له مثل ذلك «3» .

 

‌‌جبريل ينزل بالوحي مرة ثانية:

قال ابن حجر: وكان ذلك (أن انقطاع الوحي أياما) ، ليذهب ما كان صلى الله عليه وسلم وجده من الروع، وليحصل له التشوف إلى العود «4» ، فلما تقلصت ظلال الحيرة، وثبتت أعلام الحقيقة، وعرف صلى الله عليه وسلم معرفة اليقين أنه أضحى نبيا لله الكبير المتعال، وأن ما جاءه سفير الوحي ينقل إليه خبر السماء وصار تشوفه وارتقابه لمجيء الوحي سببا في ثباته واحتماله عندما يعود، جاءه جبريل للمرة الثانية. روى البخاري عن جابر بن عبد الله أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدث عن فترة الوحي، قال:

فبينا أنا أمشي إذ سمعت صوتا من السماء، فرفعت بصري قبل السماء، فإذا الملك الذي جاءني بحراء قاعد على كرسي بين السماء والأرض، فجئثت منه حتى هويت إلى الأرض، فجئت أهلي فقلت: زملوني زملوني، فزملوني، فأنزل الله تعالى: يا أيها المدثر إلى قوله: فاهجر، ثم حمي الوحي وتتابع «5» .

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 1/ 27، 12/ 360.

(2) بالعين المهملة من العدو، وهو الذهاب بسرعة، وفي بعض النسخ «غدا» بالغين المعجمة.

(3) صحيح البخاري كتاب التعبير باب أول ما بدىء به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة 2/ 10340.

(4) فتح الباري 1/ 27.

(5) صحيح البخاري كتاب التفسير باب والرجز فاهجر 4/ 1876.
ওহীর বিরতিকাল:

ওহীর বিরতির সময়সীমা সম্পর্কে ইবনে সা'দ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যা নির্দেশ করে যে এটি ছিল কয়েক দিনের। সকল দিক বিবেচনা করার পর এটিই অধিকতর সঠিক বরং সুনির্ধারিত বলে প্রতীয়মান হয়। আর এই যে প্রসিদ্ধি রয়েছে যে তা পূর্ণ তিন বছর বা আড়াই বছর স্থায়ী হয়েছিল, তা কোনোভাবেই সহীহ নয়; আর এটি এখানে বিস্তারিত খণ্ডনের স্থান নয়।

ওহীর বিরতির দিনগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষণ্ণ ও শোকাতুর ছিলেন, তাকে অস্থিরতা ও বিস্ময় আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। ইমাম বুখারী 'কিতাবুত তাবীর'-এ যা বর্ণনা করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:

ওহীর বিরতি এক সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, এমনকি আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি শোকাতুর হয়েছিলেন যে, তিনি বারবার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে পড়ার উপক্রম হতেন। যখনই তিনি নিজেকে ফেলে দেওয়ার জন্য কোনো পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন, তখনই জিবরাঈল তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়ে বলতেন: 'হে মুহাম্মদ, আপনি সত্যিই আল্লাহর রাসূল।' এতে তাঁর অস্থিরতা শান্ত হতো এবং মনে প্রশান্তি আসত, ফলে তিনি ফিরে আসতেন। যখন ওহীর বিরতি দীর্ঘ হতো, তিনি আবারও একই কাজ করতে উদ্যত হতেন; আর যখনই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন, জিবরাঈল তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়ে তাঁকে একই কথা বলতেন।

 

‌‌জিবরাঈল দ্বিতীয়বার ওহী নিয়ে অবতরণ করেন:

ইবনে হাজার বলেন: এটি (অর্থাৎ কয়েক দিনের জন্য ওহী বন্ধ থাকা) এজন্য ছিল যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুভূত আতঙ্ক দূর হয়ে যায় এবং ওহী পুনরায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে তৈরি হয়। অতঃপর যখন অস্থিরতার ছায়া দূরীভূত হলো, সত্যের নিশানসমূহ দৃঢ় হলো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিতভাবে জানতে পারলেন যে তিনি মহান সুউচ্চ আল্লাহর নবী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, আর ওহীর দূত আসমানের সংবাদ নিয়ে তাঁর কাছে এসেছেন—তখন ওহীর জন্য তাঁর ব্যাকুলতা ও প্রতীক্ষা ওহী পুনরায় আসার সময় তাঁর দৃঢ়তা ও সহনক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়াল। এরপর জিবরাঈল দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে এলেন। ইমাম বুখারী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহীর বিরতিকাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন:

আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আসমান থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করলাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন, আসমান ও জমিনের মাঝখানে একটি কুরসির ওপর উপবিষ্ট। এতে আমি আতঙ্কিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম। এরপর আমি নিজ পরিবারের কাছে ফিরে এসে বললাম: আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও। তারা আমাকে চাদর জড়িয়ে দিল। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: 'হে বস্ত্রাচ্ছাদনকারী' থেকে 'অপবিত্রতা বর্জন করুন' পর্যন্ত। এরপর ওহী নিয়মিত ও দ্রুতগতিতে আসতে শুরু করল।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ১/২৭, ১২/৩৬০।

(২) আইন অক্ষরের সাথে 'আদউ' শব্দ থেকে আগত, যার অর্থ দ্রুত গতিতে চলা। কোনো কোনো নুসখায় গাইন অক্ষরের সাথে 'গাদা' শব্দ এসেছে।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাবীর, অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহীর সূচনা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে হওয়ার বর্ণনা ২/১০৩৪০।

(৪) ফাতহুল বারী ১/২৭।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, অনুচ্ছেদ: 'ওয়াল রুজযা ফাহজুর' ৪/১৮৭৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الوحي وموقف المسشرقين منه

إن حديث الوحي هو الأساس الذي يترتب عليه جميع حقائق الدين، وإن فهم الوحي والإيمان به، هو المدخل إلى الإيمان بسائر ما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم.

من أجل هذا، يهتم محترفو التشكيك بالإسلام بمعالجة موضوع الوحي، من أجل التلبيس في حقيقته، والخلط بينه وبين الإلهام، أو حديث النفس، أو الصرع.

وقد تبارى المسشرقون، وتنافسوا في إطلاق الكلمات، وسرح بهم الخيال في بيان ما زعموا أنه توضيح للحالة التي جرت مع محمد [صلى الله عليه وسلم] .

فمن متصور أن محمدا لم يزل يفكر، إلى أن تكونت في نفسه بطريقة الكشف عقيدة، كان يراها الكفيلة بالقضاد على الوثنية.

ومن قائل أن محمدا إنما تعلم القرآن ومبادئ الإسلام من بحيرا الراهب.

ومن قائل بأن محمدا كان رجلا عصبيا أو مصابا بداء الصرع.

ونحن- المسلمين المؤمنين- حينما نسمع مثل هذه الترهات ندرك في جلاء ووضوح الحكمة الإلهية من بدء نزول الوحي عليه صلى الله عليه وسلم بهذه الطريقة التي ذكرتها كتب السنة، ثم فتر الوحي، ثم تتابعه.

لماذا رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل بعيني رأسه لأول مرة؟ وقد كان بالإمكان أن يكون الوحي من وراء حجاب.

لماذا قذف الله في قلبه صلى الله عليه وسلم الرعب من الملك والحيرة في فهم حقيقته؟ مع أن مقتضى محبة الله لنبيه أن يلقي السكينة في قلبه، ويربط على فؤاده، فلا يخاف.

لماذا خشي النبي صلى الله عليه وسلم على نفسه أن يكون هذا الشيء الذي تمثل له في الغار أتيا من الجن، ولم يرجح أن يكون ملكا من عند الله؟.

لماذا فتر الوحي، ثم نزل مرة ثانية، وكان من مقتضى الوحي أن يستمر دون انقطاع؟.

كل ذلك حكمة باهرة لصاحب الفكر الحر للوصول إلى الحقيقة الواقية عن الوقوع في شرك المسشرقين واتباعهم.

لقد فوجىء رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في غار حراء بجبريل أمامه يراه بعينه، قائلا له: اقرأ، حتى نتبين أن ظاهرة الوحي ليست أمرا ذاتيا داخليا، مردّه إلى حديث النفس، وإنما هي استقبال وتلقي لحقيقة خارجية.

ولقد داخله الخوف مع الرعب مما سمع ورأى، لكي يتضح أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم
ওহী এবং এর প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থান

ওহী সম্পর্কিত আলোচনা হলো সেই ভিত্তি যার ওপর দ্বীনের সমস্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত। আর ওহী অনুধাবন করা এবং এর প্রতি ঈমান আনা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুর প্রতি ঈমান আনার প্রবেশপথ।

একারণেই ইসলাম সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টিকারীরা ওহীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়, যাতে এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় এবং একে ইলহাম (প্রত্যাদেশ), মনের কথা বা মৃগীরোগের সাথে গুলিয়ে ফেলা যায়।

প্রাচ্যবিদরা বিভিন্ন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছে এবং তাদের কল্পনাপ্রসূত ধারণা দিয়ে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যা ঘটেছিল তার ব্যাখ্যার নামে যা দাবি করেছে তাতে তারা সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ কল্পনা করে যে, মুহাম্মদ অনবরত চিন্তা করতে থাকতেন, যতক্ষণ না তাঁর মনের ভেতর আধ্যাত্মিক উন্মোচনের পদ্ধতিতে এমন একটি আকিদা বা বিশ্বাস তৈরি হয় যা মূর্তিপূজা নির্মূল করতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেছিলেন।

আবার কেউ কেউ বলে যে, মুহাম্মদ মূলত বাহিরা নামক পাদ্রীর কাছ থেকে কুরআন এবং ইসলামের মূলনীতিগুলো শিখেছিলেন।

আবার কেউ বলে যে, মুহাম্মদ একজন স্নায়ুরোগী ছিলেন অথবা মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

আর আমরা—মুমিন মুসলমানরা—যখন এই জাতীয় অসার কথাবার্তা শুনি, তখন সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত পদ্ধতিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সূচনা, অতঃপর ওহী বন্ধ থাকা এবং পুনরায় ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে যে খোদায়ী প্রজ্ঞা রয়েছে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারি।

কেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথমবার জিবরাঈলকে নিজের চোখে দেখলেন? অথচ ওহী পর্দার অন্তরাল থেকেও হওয়া সম্ভব ছিল।

কেন আল্লাহ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তরে ফেরেশতা সম্পর্কে ভীতি এবং তাঁর স্বরূপ বোঝার ক্ষেত্রে অস্থিরতা ঢেলে দিলেন? অথচ নবীর প্রতি আল্লাহর মহব্বতের দাবি ছিল তাঁর অন্তরে প্রশান্তি দান করা এবং তাঁর হৃদয়কে দৃঢ় করা যাতে তিনি ভীত না হন।

কেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করেছিলেন যে, হেরা গুহায় তাঁর সামনে যা প্রকাশ পেয়েছে তা কোনো জিনের পক্ষ থেকে হতে পারে, এবং কেন তিনি একে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো ফেরেশতা হওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেননি?

কেন ওহী বন্ধ ছিল এবং তারপর দ্বিতীয়বার অবতীর্ণ হলো, যেখানে ওহীর দাবি ছিল তা কোনো বিরতি ছাড়াই চলতে থাকা?

এ সবকিছুর মধ্যেই মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য এমন এক উজ্জ্বল প্রজ্ঞা রয়েছে যা সত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে তাকে প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের জালে আটকা পড়া থেকে রক্ষা করবে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হেরা গুহায় ছিলেন, তখন হঠাৎ জিবরাঈলকে তাঁর সামনে দেখতে পেলেন এবং নিজ চোখে তাঁকে দেখলেন, যিনি তাঁকে বলছিলেন: পড়নু; এর উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, ওহীর বিষয়টি কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিগত বিষয় নয় যার উৎস হলো নিজের মনের কথা, বরং এটি হলো বাইরের কোনো সত্যকে গ্রহণ করা এবং লাভ করা।

যা তিনি শুনেছিলেন এবং দেখেছিলেন তার ফলে তাঁর মধ্যে প্রচণ্ড ভয় ও ভীতি প্রবেশ করেছিল, যাতে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ...
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
يكن متشوفا للرسالة التي سيدعى إلى حملها وبثها في العالم، بل الأمر اصطفاء، قال الله تعالى: اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ [الحج: 75] .

ثم إن الإلهام، أو حديث النفس، أو الإشراق الروحي لا تستدعي الخوف والرعب. إذا فحديث بدء الوحي على النحو المذكور ينطوي على تهديم كل ما يحاول المشككون تخييله إلى الناس في أمر الوحي والنبوة.
তিনি সেই বার্তার জন্য প্রতীক্ষমাণ ছিলেন না যা বহন করার এবং বিশ্বে প্রচার করার জন্য তাঁকে আহ্বান জানানো হবে, বরং বিষয়টি হলো মহান আল্লাহর মনোনয়ন। আল্লাহ তাআলা বলেন: আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন [হজ: ৭৫]।

তাছাড়া ইলহাম, বা মনের কথা, কিংবা আধ্যাত্মিক আলোকচ্ছটা ভয় ও আতঙ্কের উদ্রেক করে না। সুতরাং ওহি সূচনার বর্ণনাটি উল্লিখিত পদ্ধতিতে সেই সমস্ত ধারণাকে ধূলিসাৎ করে দেয় যা সংশয়বাদীরা ওহি ও নবুওয়াতের বিষয়ে মানুষের মনে সঞ্চার করার চেষ্টা করে।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
أدوار الدعوة ومراحلها

يمكن أن نقسم عهد الدعوة المحمدية- على صاحبها الصلاة والسلام والتحية- إلى دورين يمتاز أحدهما عن الآخر تمام الامتياز وهما:

(1) الدور المكي، ثلاث عشرة سنة تقريبا.

(2) الدور المدني، عشر سنوات كاملة.

ثم يشتمل كل من الدورين على مراحل لكل منها خصائص تمتاز بها عن غيرها، ويظهر ذلك جليا بعد النظر الدقيق في الظروف التي مرت بها الدعوة خلال الدورين.

ويمكن تقسيم الدور المكي إلى ثلاث مراحل:

1- مرحلة الدعوة السرية، ثلاث سنين.

2- مرحلة إعلان الدعوة في أهل مكة، من بداية السنة الرابعة من النبوة إلى أواخر السنة العاشرة.

3- مرحلة الدعوة خارج مكة، وفشوها فيهم، من أواخر السنة العاشرة من النبوة إلى هجرته صلى الله عليه وسلم إلى المدينة.

أما مراحل الدور المدني فسيجيء تفصيلها في موضعه.
দাওয়াতের পর্যায়সমূহ ও এর স্তরসমূহ

মুহাম্মাদী দাওয়াতের যুগকে—তার প্রবর্তকের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—আমরা দুটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত করতে পারি, যার একটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। সেগুলো হলো:

(১) মক্কী পর্যায়, প্রায় তেরো বছর।

(২) মাদানী পর্যায়, পূর্ণ দশ বছর।

অতঃপর এই উভয় পর্যায়ের প্রত্যেকটি আবার এমন কিছু স্তরে বিভক্ত, যার প্রতিটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাকে অন্যের থেকে পৃথক করে। উভয় পর্যায়ের দাওয়াত যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, তা গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মক্কী পর্যায়কে তিনটি স্তরে ভাগ করা যেতে পারে:

১- গোপন দাওয়াতের স্তর, তিন বছর।

২- মক্কাবাসীদের মাঝে প্রকাশ্য দাওয়াতের স্তর, নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের শুরু থেকে দশম বছরের শেষ পর্যন্ত।

৩- মক্কার বাইরে দাওয়াতের স্তর এবং তাদের মাঝে এর প্রসার, নবুওয়াতের দশম বছরের শেষ থেকে মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত পর্যন্ত।

আর মাদানী পর্যায়ের স্তরগুলোর বিস্তারিত বিবরণ যথাস্থানে আসবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المرحلة الأولى جهاد الدعوة

 

‌‌ثلاث سنوات من الدعوة السرية:

معلوم أن مكة كانت مركز دين العرب، وكان بها سدنة الكعبة، والقوام على الأوثان والأصنام المقدسة عند سائر العرب، فالوصول إلى المقصود من الإصلاح فيها يزداد عسرا وشدة عما لو كان بعيدا عنها. فالأمر يحتاج إلى عزيمة لا تزلزلها المصائب والكوارث، كان من الحكمة تلقاء ذلك أن تكون الدعوة في بدء أمرها سرية، لئلا يفاجأ أهل مكة بما يهيجهم.

 

‌‌الرعيل الأول:

وكان من الطبيعي أن يعرض الرسول صلى الله عليه وسلم الإسلام أولا على ألصق الناس به وآل بيته، وأصدقائه، فدعاهم إلى الإسلام، ودعا إليه كل من توسم فيه خيرا ممن يعرفهم ويعرفونه، يعرفهم بحب الله الحق والخير، ويعرفونه بتحري الصدق والصلاح، فأجابه من هؤلاء- الذين لم تخالجهم ريبة قط في عظمة الرسول صلى الله عليه وسلم وجلالة نفسه وصدق خبره- جمع عرفوا في التاريخ الإسلامي بالسابقين الأولين، وفي مقدمتهم زوجة النبي صلى الله عليه وسلم أم المؤمنين خديجة بنت خويلد، ومولاه زيد بن حارثة بن شرحبيل الكلبي «1» وابن عمه علي بن أبي طالب- وكان صبيا يعيش في كفالة الرسول- وصديقه الحميم أبو بكر الصديق. أسلم هؤلاء في أول يوم من أيام الدعوة «2» .

--------------------------------------------

(1) كان قد أسر ورق، فملكته خديجة، ووهبته لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وجاءه أبوه وعمه ليذهبا به إلى قومه وعشيرته، فاختار عليهما رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتبناه حسب قواعد العرب، وكان لذلك يقال: زيد بن محمد، حتى جاء الإسلام فأبطل التبنّي.

(2) رحمة للعالمين 1/ 50.
প্রথম পর্যায়: দাওয়াতের জিহাদ

 

গোপন দাওয়াতের তিন বছর:

এটা সুবিদিত যে, মক্কা ছিল আরবদের ধর্মীয় কেন্দ্র। সেখানে কাবার রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সমগ্র আরবের নিকট পবিত্র হিসেবে বিবেচিত প্রতিমা ও মূর্তিসমূহের তত্ত্বাবধায়কগণ অবস্থান করত। সুতরাং সেখানে সংস্কারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো অন্য যে কোনো দূরের স্থানের তুলনায় অধিকতর কঠিন ও দুঃসাধ্য ছিল। তাই এমন এক দৃঢ় সংকল্পের প্রয়োজন ছিল যা কোনো বিপদ-আপদ ও দুর্যোগে বিচলিত হবে না। এমতাবস্থায় হিকমত বা বুদ্ধিমত্তার দাবি ছিল এই যে, দাওয়াতের কাজ শুরুর দিকে গোপনে পরিচালিত হবে, যাতে মক্কাবাসীরা আকস্মিক এমন কিছুর সম্মুখীন না হয় যা তাদেরকে উত্তেজিত করে তুলবে।

 

প্রথম অগ্রবর্তী দল:

এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর বন্ধুদের নিকট ইসলাম পেশ করবেন। তাই তিনি তাঁদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং যাঁদের মধ্যে তিনি কল্যাণের লক্ষণ দেখতে পেলেন—যাঁদেরকে তিনি চিনতেন এবং তাঁরাও তাঁকে চিনতেন—তাঁদেরকেও দাওয়াত দিলেন। তিনি তাঁদেরকে আল্লাহর প্রকৃত ভালোবাসা ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করতেন এবং তাঁরাও তাঁকে সত্যনিষ্ঠা ও সততার মূর্ত প্রতীক হিসেবে জানতেন। ফলে তাঁদের মধ্য থেকে এমন একদল মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন—যাঁদের মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহানুভবতা, তাঁর সুউচ্চ ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে কখনও কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়নি। ইসলামি ইতিহাসে তাঁরা 'আস-সাবিকুনাল আওয়ালুন' (প্রথম অগ্রবর্তী দল) হিসেবে পরিচিত। তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ, তাঁর মুক্তদাস যায়েদ বিন হারিসা বিন শারাহবীল আল-কালবি (১), তাঁর চাচাতো ভাই আলী বিন আবি তালিব—যিনি তখন বালক ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হচ্ছিলেন—এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু বকর সিদ্দিক। তাঁরা দাওয়াতের প্রথম দিনেই ইসলাম গ্রহণ করেন (২)।

--------------------------------------------

(১) তিনি যুদ্ধবন্দী হিসেবে দাসে পরিণত হয়েছিলেন। খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে ক্রয় করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপহার দেন। পরবর্তীতে তাঁর পিতা ও চাচা তাঁকে তাঁর কওম ও গোত্রের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন, কিন্তু তিনি তাঁদের পরিবর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেছে নেন। অতঃপর আরবের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ তাঁকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। একারণে তাঁকে ‘যায়েদ বিন মুহাম্মাদ’ বলা হতো, যতক্ষণ না ইসলাম এসে পালক পুত্র গ্রহণের প্রথা বিলুপ্ত করে।

(২) রাহমাতুল্লিল আলামীন ১/৫০।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثم نشط أبو بكر في الدعوة إلى الإسلام، وكان رجلا مألفا محببا سهلا، ذا خلق ومعروف، وكان رجال قومه يأتونه ويألفونه، لعلمه وتجارته، وحسن مجالسته، فجعل يدعو من يثق به من قومه ممن يغشاه ويجلس إليه، فأسلم بدعائه عثمان بن عفان الأموي، والزبير بن العوام الأسدي، وعبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقاص الزهريان، وطلحة بن عبيد الله التيمي. فكان هؤلاء النفر الثمانية الذين سبقوا الناس هم الرعيل الأول وطليعة الإسلام.

ومن أوائل المسلمين بلال بن رباح الحبشي، ثم تلاهم أمين هذه الأمة «1» أبو عبيدة عامر بن الجراح من بني الحارث بن فهر، وأبو سلمة بن عبد الأسد، والأرقم بن أبي الأرقم المخزوميان، وعثمان بن مظعون وأخواه قدامة وعبد الله، وعبيدة بن الحارث بن المطلب بن عبد مناف، وسعيد بن زيد العدوي، وامرأته فاطمة بنت الخطاب العدوية أخت عمر بن الخطاب، وخباب بن الأرت وعبد الله بن مسعود الهذلي وخلق سواهم، وأولئك هم السابقون الأولون، وهم من جميع بطون قريش وعدهم ابن هشام أكثر من أربعين نفرا «2» . وفي ذكر بعضهم في السابقين الأولين نظر.

قال ابن إسحاق: ثم دخل الناس في الإسلام أرسالا من الرجال والنساء حتى فشا ذكر الإسلام بمكة، وتحدث به «3» .

أسلم هؤلاء سرا، وكان الرسول صلى الله عليه وسلم يجتمع بهم ويرشدهم إلى الدين متخفيا؛ لأن الدعوة كانت لا تزال فردية وسرية، وكان الوحي قد تتابع وحمي نزوله بعد نزول أوائل المدثر. وكانت الآيات وقطع السور التي تنزل في هذا الزمان آيات قصيرة، ذات فواصل رائعة منيعة، وإيقاعات هادئة خلابة تتناسق مع ذلك الجو الهامس الرقيق، تشتمل على تحسين تزكية النفوس، وتقبيح تلويثها برغائم الدنيا، تصف الجنة والنار كأنهما رأي عين، تسير بالمؤمنين في جو آخر غير الذي فيه المجتمع البشري آنذاك.

--------------------------------------------

(1) انظر لتسميته بهذا اللقب صحيح البخاري مناقب أبي عبيدة بن الجراح 1/ 530.

(2) انظر سيرة ابن هشام 1/ 245 إلى 262.

(3) نفس المصدر 1/ 262.
এরপর আবু বকর ইসলামের দাওয়াত প্রদানের কাজে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠলেন। তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয়, অমায়িক এবং কোমল হৃদয়ের মানুষ, যাঁর চরিত্র ও সদাচার ছিল সুপরিচিত। তাঁর জ্ঞান, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং উত্তম সাহচর্যের কারণে তাঁর গোত্রের লোকেরা তাঁর কাছে আসত এবং তাঁর সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখত। তিনি তাঁর নিকটস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের বিশ্বাস করতেন এবং যাঁরা তাঁর নিকট যাতায়াত ও ওঠাবসা করত, তাঁদের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন উসমান বিন আফফান উমাবী, যুবাইর বিন আওয়াম আসাদী, আবদুর রহমান বিন আউফ, সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস যুহরী এবং তালহা বিন উবাইদুল্লাহ তায়মী। এই আটজন ব্যক্তি, যাঁরা অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন, তাঁরাই ছিলেন ইসলামের প্রথম সেনাদল এবং অগ্রবাহিনী।

আর প্রথম সারির মুসলিমদের মধ্যে ছিলেন বিলাল বিন রাবাহ হাবশী। এরপর তাঁদের অনুসরণ করেন এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা আমীন (১) আবু উবাইদাহ আমির বিন আল-জাররাহ (বনু হারিস বিন ফিহর গোত্রের), আবু সালামাহ বিন আব্দুল আসাদ, আরকাম বিন আবিল আরকাম মাখযুমী দ্বয়, উসমান বিন মাজউন এবং তাঁর দুই ভাই কুদামাহ ও আব্দুল্লাহ, উবাইদাহ বিন আল-হারিস বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদু মানাফ, সাঈদ বিন যায়েদ আদাবী এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বিনতে আল-খাত্তাব আদাবিয়্যাহ (যিনি উমর বিন আল-খাত্তাবের বোন ছিলেন), খাব্বাব বিন আল-আরাত, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ হুযালী এবং তাঁদের ছাড়া আরও অনেকে। তাঁরাই হলেন প্রথম দিককার অগ্রগামী দল (আস-সাবিকুনাল আউয়ালুন), এবং তাঁরা কুরাইশদের সকল শাখা গোত্র থেকে আগত। ইবনে হিশাম তাঁদের সংখ্যা চল্লিশের বেশি বলে গণনা করেছেন (২)। তবে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রথম দিককার অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

ইবনে ইসহাক বলেন: এরপর মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে শুরু করে, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই ছিল। এভাবে মক্কায় ইসলামের নাম ছড়িয়ে পড়ে এবং তা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয় (৩)।

তাঁরা গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সাথে একত্রিত হতেন এবং গোপনে তাঁদেরকে দ্বীনের দিকনির্দেশনা দিতেন; কারণ তখন দাওয়াত ছিল ব্যক্তিগত ও গোপনীয়। সূরা আল-মুদ্দাসসিরের প্রথম দিকের অংশগুলো নাযিল হওয়ার পর ওহী নিরবচ্ছিন্নভাবে আসা শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে যে আয়াত ও সূরার অংশগুলো নাযিল হচ্ছিল, সেগুলো ছিল হ্রস্ব আয়াত, যা চমৎকার ও সুদৃঢ় অন্তমিল এবং ধীর ও আকর্ষণীয় ছন্দে গাঁথা ছিল। এগুলো সেই সময়ের নিভৃত ও কোমল পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এগুলোতে আত্মার পরিশুদ্ধির গুরুত্ব এবং দুনিয়াবী লালসায় আত্মাকে কলুষিত করার নিন্দার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলোতে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা এমনভাবে দেওয়া হতো যেন তা চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে। এগুলো মুমিনদের তৎকালীন মানব সমাজের পরিবেশ থেকে এক ভিন্নতর উচ্চমার্গীয় পরিবেশে নিয়ে যেত।

--------------------------------------------

(১) তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করার বিষয়ে দেখুন: সহীহ বুখারী, আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহর মর্যাদা অধ্যায় ১/৫৩০।

(২) দেখুন: সীরাতে ইবনে হিশাম ১/২৪৫ থেকে ২৬২।

(৩) একই উৎস ১/২৬২।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌وجه السرية في بدء دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم

لم تكن سرية الدعوة في أول أمرها، خوفا من رسول الله صلى الله عليه وسلم على نفسه، ولكنه إلهام من الله، لتعليم الدعاة من بعده، وإرشادهم إلى مشروعية الأخذ بالحيطة والأسباب الظاهرة.

وفي هذا المجال، يحسن تلخيص كلام ابن القيم في كتابه إعلام الموقعين عند رب العالمين، إذ جاء فيه:

إن النبي صلى الله عليه وسلم شرع لأمته إيجاب إنكار المنكر ليحصل بإنكاره من المعروف ما يحبه الله ورسوله، فإذا كان إنكار المنكر يستلزم ما هو أنكر منه وأبغض إلى الله ورسوله فإنه لا يسوغ إنكاره، وإن كان الله يبغضه ويمقت أهله، وهذا كالإنكار على الملوك والولاة بالخروج عليهم، فإنه أساس كل شر وفتنة إلى آخر الدهر.

وقد استأذن الصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم في قتال الأمراء الذين يؤخرون الصلاة عن وقتها، وقالوا: أفلا نقاتلهم؟ فقال: «لا، ما أقاموا الصلاة» وقال: «من رأى من أميره ما يكرهه فليصبر ولا ينزعن يدا من طاعته» . ومن تأمل ما جرى على الإسلام من الفتن الكبار والصغار آهامن إضاعة هذا الأصل وعدم الصبر على منكر، فطلب إزالته فتولد منه ما هو أكبر منه، فقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرى بمكة أكبر المنكرات ولا يستطيع تغييرها، بل لما فتح الله مكة وصارت دار سلام، عزم على تغيير البيت وردّه على قواعد إبراهيم، ومنعه من ذلك- مع قدرته عليه- خشية وقوع ما هو أعظم منه، من عدم احتمال قريش لذلك، لقرب عهدهم بالإسلام وكونهم حديثي عهد بكفر، ولهذا لم يأذن في الإنكار على الأمراء باليد، لما يترتب عليه من وقوع ما هو أعظم منه كما وجد سواء.

فإنكار المنكر أربع درجات:

الأولى: أن يزول ويخلفّه ضده.

الثانية: أن يقلّ وإن لم يزل بجملته.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের সূচনালগ্নে গোপনীয়তার রহস্য

দাওয়াতের প্রথম পর্যায়ে এই গোপনীয়তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের প্রাণের ভয়ের কারণে ছিল না। বরং এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি ইলহাম, যাতে তাঁর পরবর্তী দাঈদের শিক্ষা দেওয়া যায় এবং বাহ্যিক কারণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বৈধতার দিকে তাঁদের দিকনির্দেশনা প্রদান করা যায়।

এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন’ গ্রন্থে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা সঙ্গত হবে। সেখানে এসেছে:

নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য অন্যায় বা মন্দ কাজের প্রতিবাদ করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন, যাতে সেই প্রতিবাদের মাধ্যমে এমন নেক আমল অর্জিত হয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন। তবে যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার চেয়েও বড় কোনো অন্যায় সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট অধিকতর ঘৃণিত, তবে সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বৈধ নয়—যদিও আল্লাহ উক্ত অন্যায়কে ঘৃণা করেন এবং অন্যায়কারীকে অপছন্দ করেন। যেমন শাসক ও জননেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মাধ্যমে প্রতিবাদ করা; কেননা এটি মহাকাল পর্যন্ত সকল অনিষ্ট ও ফিতনার মূল ভিত্তি।

সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ঐসব শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি চেয়েছিলেন যারা সালাতকে তার সময় থেকে বিলম্বিত করে। তাঁরা বলেছিলেন: "আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না?" তিনি বললেন: "না, যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম রাখবে।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার শাসকের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর কিছু দেখবে, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং তার আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে না নেয়।" ইসলামের ইতিহাসে ছোট-বড় যেসব ফিতনা সংঘটিত হয়েছে, কেউ যদি তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তবে দেখতে পাবে যে, এই মূলনীতিটি উপেক্ষা করার কারণেই তা ঘটেছে। অর্থাৎ অন্যায়ের ওপর ধৈর্য ধারণ না করে তা দূর করতে চাওয়া, যার ফলে তার চেয়েও বড় অন্যায়ের জন্ম হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকাকালীন বড় বড় সব অন্যায় লক্ষ্য করতেন কিন্তু সেগুলো পরিবর্তন করার সক্ষমতা তাঁর ছিল না। এমনকি যখন আল্লাহ মক্কা বিজয় দান করলেন এবং তা ইসলামি জনপদে পরিণত হলো, তখন তিনি কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর ভিত্তির ওপর ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তা করতে যা বাধা দিয়েছিল তা হলো—তার চেয়েও বড় অনিষ্টের আশঙ্কা; অর্থাৎ কুরাইশদের পক্ষ থেকে তা সহ্য করতে না পারা, যেহেতু তারা তখন নতুন নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তাদের কুফরীর সময়কাল খুব বেশি দূরে ছিল না। এই কারণেই তিনি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শাসকদের প্রতিবাদের অনুমতি দেননি, কারণ এতে আরও বড় বিপত্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যা পরবর্তীতে বাস্তব প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যায়ের প্রতিবাদের চারটি স্তর রয়েছে:

প্রথম: অন্যায়টি সমূলে দূরীভূত হবে এবং তার বিপরীতে নেক কাজ বা কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয়: অন্যায়টি সম্পূর্ণ দূরীভূত না হলেও তা হ্রাস পাবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাহিকুল মাখতুম মাআ জিয়াদাত (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الثالثة: أن يخلفه ما هو مثله.

الرابعة: أن يخلفه ما هو شر منه.

فالدرجتان الأوليان مشروعتان.

والثالثة موضع اجتهاد.

والرابعة محرمة.

فإذا رأيت أهل الفجور والفسوق يلعبون بالمنكرات كان إنكارك عليهم من عدم الفقه والبصيرة إلا إذا نقلتهم منه إلى ما هو أحب إلى الله ورسوله كرمي النّشاب وسباق الخيل ونحو ذلك.

وإذا رأيت الفساق قد اجتمعوا على لهو ولعب أو سماع مكاء وتصدية فإن نقلتهم عنه إلى طاعة الله فهو المراد، وإلا كان تركهم على ذلك خيرا من أن تفرّغهم لما هو أعظم من ذلك، فكان ما هم فيه شاغلا لهم عن ذلك.

وكما إذا كان الرجل مشتغلا بكتب المجون ونحوها وخفت من نقله عنها انتقاله إلى كتب البدع والضلال والسحر، فدعه وكتبه الأولى، وهذا باب واسع.

وسمعت شيخ الإسلام ابن تيمية يقول: مررت أنا وبعض أصحابي في زمن التتار بقوم منهم يشربون الخمر، فأنكر عليهم من كان معي، فأنكرت عليه، وقلت له: إنما حرم الله الخمر لأنها تصد عن ذكر الله وعن الصلاة، وهؤلاء يصدهم الخمر عن قتل النفوس وسبي الذرية وأخذ الأموال فدعهم. [إعلام الموقعين، 3/ 15] .
তৃতীয়: তা এমন কিছু দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হওয়া যা তার অনুরূপ।

চতুর্থ: তা এমন কিছু দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হওয়া যা তার চেয়েও নিকৃষ্ট।

প্রথম দুই স্তর শরিয়তসম্মত।

তৃতীয়টি ইজতিহাদের ক্ষেত্র।

চতুর্থটি নিষিদ্ধ।

কাজেই, আপনি যখন পাপাচারী ও দুরাচারী ব্যক্তিদের গর্হিত কাজে লিপ্ত দেখেন, তখন তাদের বাধা দেওয়া আপনার ফিকহ ও প্রজ্ঞার অভাবের পরিচায়ক হতে পারে, যদি না আপনি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে অধিকতর প্রিয় কোনো বিষয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারেন, যেমন তীরন্দাজি, ঘোড়দৌড় এবং এই জাতীয় কিছু।

আর আপনি যখন পাপাচারীদের খেল-তামাশা কিংবা শিস দেওয়া ও তালি বাজানো শোনার মতো কাজে একত্রিত দেখেন, তখন যদি আপনি তাদের সেখান থেকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে নিতে পারেন, তবে সেটাই কাম্য। অন্যথায়, তাদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া তাদের সেখান থেকে মুক্ত করে এর চেয়েও বড় কোনো পাপে লিপ্ত হতে দেওয়ার চেয়ে উত্তম; কারণ তারা বর্তমানে যে কাজে লিপ্ত আছে তা তাদের সেই বৃহত্তর পাপ থেকে বিরত রাখছে।

অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তি যদি অশ্লীল সাহিত্য বা এই জাতীয় বইয়ে মগ্ন থাকে এবং আপনি যদি আশঙ্কা করেন যে তাকে তা থেকে সরিয়ে নিলে সে বিদআত, গোমরাহি বা জাদুর বইয়ের দিকে ধাবিত হবে, তবে তাকে তার আগের বইগুলোতেই থাকতে দিন। এটি একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র।

আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে বলতে শুনেছি: তাতারদের যুগে আমি ও আমার কিছু সঙ্গী তাদের এক দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা মদ পান করছিল। আমার সাথে থাকা একজন তাদের বাধা দিতে চাইলে আমি তাকে বাধা দিলাম এবং বললাম: 'আল্লাহ মদ হারাম করেছেন কারণ তা আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ রাখে। আর এই মদ এদেরকে নরহত্যা, পরিবার-পরিজনকে বন্দী করা এবং সম্পদ লুণ্ঠন থেকে বিরত রাখছে, কাজেই এদের ছেড়ে দাও।' [ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ৩/১৫]।