(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية في ضوء القرآن والسنة   (محمد أبو شهبة)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية في ضوء القرآن والسنة

(دراسة محررة جمعت بين أصالة القديم وجِدَّة الحديث)

المؤلف: محمد بن محمد شُهبة [ت 1403 هـ]

الناشر: دار القلم - (دمشق، بيروت)

الطبعة: الثانية (لدار القلم)، 1412 هـ - 1992 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সيرة نبوية (সীরাতুন নবী)   (মুহাম্মদ আবু শাহবাহ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সীরাতুন নবী

(একটি সম্পাদিত গবেষণা যা প্রাচীনত্বের বিশুদ্ধতা ও আধুনিকতার নতুনত্বের সমন্বয় ঘটিয়েছে)

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ শাহবাহ [মৃ. ১৪০৩ হি.]

প্রকাশক: দারুল কলম - (দামেস্ক, বৈরুত)

সংস্করণ: দ্বিতীয় (দারুল কলম সংস্করণ), ১৪১২ হি. - ১৯৯২ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[السيرة النبوية على ضوء القرآن والسنة]ـ

المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (المتوفى: 1403هـ)

الناشر: دار القلم - دمشق

الطبعة: الثامنة - 1427 هـ

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সীরাতুন নবী (সা.)]ـ

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুওয়াইলাম আবু শুহবাহ (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কলম - দামেস্ক

সংস্করণ: অষ্টম - ১৪২৭ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدّمة الكتاب

الحمد لله الذي عمر الأرض ببني الإنسان، ومن عليهم بنعمتي العقل والبيان، ليميزوا بين الحق والباطل، والهدى والضلال، وأرسل إليهم رسلا مبشرين ومنذرين، وهادين إلى الحق وإلى الصراط المستقيم، لتقوم على الناس الحجة، وتنقطع المعذرة.

والصلاة والسلام على سيدنا محمد النبي الأمي العربي، الذي أرسله الله سبحانه على حين فترة من الرسل، والناس في ضلالة عمياء، وجهالة جهلاء، ففتح الله به أعينا عميا، واذانا صمّا، وقلوبا غلفا، فكانت حياته خيرا وبركة على الدنيا كلها، وبعثته رحمة للعالمين.

أما بعد:

فإن خير ما يتدارسه المسلمون، ولا سيما الناشئون والمتعلمون، ويعنى به الباحثون والكاتبون دراسة السيرة المحمدية؛ إذ هي خير معلّم ومثقّف، ومهذب ومؤدب، واصل مدرسة تخرّج فيها الرعيل الأول من المسلمين والمسلمات، الذين قلّما تجود الدنيا بأمثالهم.

ففيها ما ينشده المسلم، وطالب الكمال من دين، ودنيا، وإيمان واعتقاد، وعلم، وعمل، واداب وأخلاق، وسياسة وكياسة، وإمامة وقيادة، وعدل ورحمة، وبطولة وكفاح، وجهاد واستشهاد، في سبيل العقيدة والشريعة، والمثل الإنسانية الرفيعة، والقيم الخلقية الفاضلة.

ولقد كانت السيرة النبوية مدرسة تخرج فيها أمثل النماذج البشرية، وهم
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 

গ্রন্থের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানবজাতির মাধ্যমে পৃথিবীকে আবাদ করেছেন এবং তাঁদেরকে বুদ্ধি ও বাগ্মীতার নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন, যাতে তারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে এবং হেদায়েত ও গোমরাহির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। তিনি তাঁদের নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, যাতে মানুষের ওপর আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোনো ওজর অবশিষ্ট না থাকে।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি উম্মী আরবীয় নবী, যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতির পর এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন মানুষ অন্ধ বিভ্রান্তি ও চরম মূর্খতায় নিমজ্জিত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ খুলে দিলেন। তাঁর জীবন ছিল সমগ্র পৃথিবীর জন্য কল্যাণ ও বরকতস্বরূপ এবং তাঁর নবুওয়াত ছিল বিশ্ববাসীর জন্য রহমত।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মুসলমানদের জন্য, বিশেষ করে নবীন ও শিক্ষার্থীদের জন্য এবং গবেষক ও লেখকদের জন্য অধ্যয়ন ও আলোচনার সর্বোত্তম বিষয় হলো সীরাতে মুহাম্মদী (সা.)-এর অধ্যয়ন; কেননা এটিই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সংস্কৃতি-নির্মাতা এবং সংস্কারক ও শিষ্টাচার প্রদানকারী। এটিই সেই মূল বিদ্যাপীঠ যেখান থেকে প্রথম প্রজন্মের মুসলিম নর-নারীরা উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, যাদের সমতুল্য মানুষ পৃথিবী খুব কমই প্রত্যক্ষ করেছে।

এর মধ্যেই রয়েছে সেই সব কিছু যা একজন মুসলিম এবং পূর্ণতা সন্ধানী ব্যক্তি ধর্ম, দুনিয়া, ঈমান ও আকিদা, জ্ঞান ও আমল, আদব ও আখলাক, রাজনীতি ও বিচক্ষণতা, ইমামত ও নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও দয়া, বীরত্ব ও সংগ্রাম এবং আকিদা, শরীয়ত, উচ্চতর মানবীয় আদর্শ ও মহৎ চারিত্রিক মূল্যবোধের পথে জিহাদ ও শাহাদাতের ক্ষেত্রে আকাঙ্ক্ষা করে।

আর সীরাতে নববী ছিল এমন এক বিদ্যাপীঠ, যেখান থেকে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ আদর্শসমূহ উত্তীর্ণ হয়েছিল, আর তাঁরা হলেন—
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الصحابة- رضوان الله عليهم- فكان منهم الخليفة الراشد، والقائد المحنك، والبطل المغوار، والسياسي الداهية، والعبقري الملهم، والعالم العامل، والفقيه البارع، والعاقل الحازم، والحكيم الذي تتفجر من قلبه ينابيع العلم والحكمة، والتاجر الذي يحول رمال الصحراء ذهبا، والزارع والصانع اللذان يريان في العمل عبادة، والكادح الذي يرى في الاحتطاب «1» عملا شريفا يترفع به عن التكفف والتسول، والغني الشاكر الذي يرى نفسه مستخلفا في هذا المال ينفقه في الخير والمصلحة العامة، والفقير الصابر الذي يحسبه من لا يعلم حاله غنيا من التعفف، وكل ذلك كان من ثمرات الإيمان بالله، وبرسول الله، وبهذا كانوا الأمة الوسط، وكانوا خير أمة أخرجت للناس!!

لقد كان السلف الصالح من هذه الأمة الإسلامية يدركون ما لسيرة خاتم الأنبياء، وسير الصحابة النبلاء، من اثار حسنة في تربية النشء، وتنشئة جيل صالح لحمل رسالة الإسلام، والتضحية في سبيلها بالنفس والمال، فمن ثمّ كانوا يتدارسون السيرة، ويحفظونها، ويلقنونها للغلمان كما يلقنونهم السور من القران، روي عن زين العابدين علي بن الحسين- رضي الله تعالى عنهما- قال: «كنا نعلّم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما نعلّم السورة من القران» «2» .

وهذا هو الإمام الزهري عالم الحجاز والشام وهو من قدماء من عنوا بجمع السيرة، بل قيل إن سيرته أول سيرة ألفت في الإسلام «3» ، يقول: «في علم السيرة علم الدنيا والاخرة» «4» ، وإنها لكلمة صدق وحق، وروي عن إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص- رضي الله عنه قال: «كان أبي يعلمنا المغازي والسرايا ويقول: يا بني هذه شرف ابائكم، فلا تضيعوا ذكرها» «5» نعم- والله- إنها لشرف الاباء، والمدرسة التي يتربى فيها الأبناء!!

--------------------------------------------

(1) الاحتطاب جمع الحطب الذي توقد به النار، من الصحاري ورؤوس الجبال.

(2) رواه الخطيب وابن عساكر.

(3) السيرة الحلبية، ج 1 ص 2.

(4) رواه الخطيب وابن عساكر.

(5) شرح المواهب، ج 1 ص 473.
সাহাবীগণ - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - তাঁদের মাঝে ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ খলীফা, অভিজ্ঞ সেনাপতি, অকুতোভয় বীর, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত প্রতিভাধর, আমলকারী আলিম, দক্ষ ফকীহ, দৃঢ়চেতা বুদ্ধিমান এবং এমন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যাঁর অন্তর থেকে জ্ঞান ও হিকমতের ঝরনাধারা প্রবাহিত হতো। আরও ছিলেন এমন ব্যবসায়ী যিনি মরুভূমির বালুকে স্বর্ণে পরিণত করতেন; এমন কৃষক ও কারিগর যাঁরা কর্মকে ইবাদত মনে করতেন; এমন কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি যিনি কাঠ সংগ্রহ করাকে একটি সম্মানজনক পেশা মনে করতেন যার মাধ্যমে তিনি অন্যের কাছে হাত পাতা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিমুখ থাকতেন; এমন কৃতজ্ঞ ধনী যিনি নিজেকে এই সম্পদের আমানতদার মনে করতেন এবং তা কল্যাণ ও জনস্বার্থে ব্যয় করতেন; এবং এমন ধৈর্যশীল দরিদ্র যাঁকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয় এমন ব্যক্তি তাঁর আত্মমর্যাদাবোধের কারণে সম্পদশালী মনে করত। এই সবই ছিল আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি ঈমানের ফসল। আর এ কারণেই তাঁরা ছিলেন মধ্যপন্থী জাতি এবং মানুষের কল্যাণে আবির্ভূত সর্বোত্তম জাতি!!

এই মুসলিম উম্মাহর সালাফে সালেহীন বা সৎপূর্বসূরীগণ উপলব্ধি করেছিলেন যে, শেষ নবীর সীরাত এবং মহৎ সাহাবীগণের জীবনীর নবীনদের লালন-পালন এবং ইসলামের দাওয়াত বহন ও এর পথে জান-মাল কুরবানী করার মতো একটি যোগ্য প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কত উত্তম প্রভাব রয়েছে। তাই তাঁরা সীরাত অধ্যয়ন করতেন, তা মুখস্থ করতেন এবং শিশুদের তা শেখাতেন যেভাবে তাঁদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দেওয়া হতো। যয়নুল আবেদীন আলী ইবনুল হুসাইন - আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ শিক্ষা দেওয়া হতো, যেভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দেওয়া হতো।"

আর এই হলেন হিজায ও শামের আলিম ইমাম যুহরী, যিনি সীরাত সংকলনে মনোযোগ দানকারী প্রাচীনদের অন্যতম। এমনকি বলা হয় যে, তাঁর রচিত সীরাত গ্রন্থটিই ইসলামে রচিত প্রথম সীরাত। তিনি বলেন: "সীরাত শাস্ত্রের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের জ্ঞান নিহিত রয়েছে।" এটি সত্যিই একটি সত্য ও যথার্থ কথা। ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস - আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন - থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার পিতা আমাদের মাগাযী ও সারিয়্যা (যুদ্ধাভিযানসমূহ) শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন: হে বৎস! এগুলো তোমাদের পূর্বপুরুষদের মর্যাদা, সুতরাং তোমরা এগুলোর স্মরণকে হারিয়ে ফেলো না।" হ্যাঁ - আল্লাহর শপথ - এটি তো পূর্বপুরুষদের গৌরব এবং সেই বিদ্যালয় যেখানে সন্তানরা গড়ে ওঠে!!

--------------------------------------------

(১) আল-ইহতিসাব হলো মরুভূমি ও পাহাড়ের চূড়া থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করা।

(২) খতীব ও ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) আস-সীরাতুল হালাবিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ২য় পৃষ্ঠা।

(৪) খতীব ও ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) শারহুল মাওয়াহিব, ১ম খণ্ড, ৪৭৩ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
فما أجدر المسلمين في حاضرهم: رجالا ونساء، وشبابا وشيبا أن يتعلموها ويعلموها غيرهم، ويتخذوا منها نبراسا يسيرون على ضوئه في تربية الأبناء، والبنات، وتنشئة جيل يؤمن بالله ورسوله، ويؤمن بالإسلام، وصلاحيته لكل زمان ومكان، والتضحية بكل شيء في سبيل سيادته وانتشاره، لا يثنيهم عن هذه الغاية الشريفة بلاء وإيذاء، أو إطماع وإغراء.

لسنا نريد من دراسة السيرة العطرة: سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وسير الرعيل الأول وهم الصحابة الكرام، أن تكون مادة علمية يجوز بها طلاب العلم في المعاهد، والمدارس، والجامعات الامتحان أو الحصول على الإجازات العلمية أو أن تكون حصيلة علمية نتفيهق بها، ونتشدّق في المحافل والنوادي، وقاعات البحث والدرس، وفي المساجد، والمجامع، كي نحظى بالذكر والثناء، وننتزع من السامعين مظاهر الرضا والإعجاب.

ولكنا نريد من هذه الدراسة أن تكون مدرسة نتخرج فيها، كما تخرج السادة الأولون، وأن نكون مثلا صادقة لصاحب الرسالة صلى الله عليه وسلم، وصحابته الكرام عليهم الرضوان- في إيمانهم وعقيدتهم، وفي علمهم وعملهم، وأخلاقهم وسلوكهم، وسياستهم وقيادتهم حتى يعتز بنا الإسلام، كما اعتز بهم، ونكون في حاضرنا- كما كانوا- خير أمة أخرجت للناس.

وقد شاء الله سبحانه- وله الخيرة- أن أخرج سفرا في القسم الثاني من السيرة، وهو من بعد الهجرة إلى الوفاة النبوية منذ سنين، وقد نفد، وها أنذا أكمل ما بدأت، وهو الكتابة في القسم الأول من قبل الميلاد إلى الهجرة.

وقد شاء الله أيضا- ولله الحمد والمنة- أن أراجع بعض ما كتبت في القسم الأول في المدينة المنورة، وفي الروضة الشريفة، التي هي من رياض الجنة «1» ، وأنا على قيد أذرع من البقعة المشرفة التي ضمت أفضل مخلوق على

--------------------------------------------

(1) روى مسلم في صحيحه بسنده عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما بين بيتي ومنبري، روضة من رياض الجنة» .
বর্তমান সময়ের মুসলিমদের জন্য—সে পুরুষ হোক বা নারী, তরুণ হোক বা বৃদ্ধ—কতই না সমীচীন যে তারা এটি শিখবে এবং অন্যকে শেখাবে। তারা একে একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করবে, যার আলোতে তারা তাদের পুত্র ও কন্যাদের লালন-পালন করবে এবং এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলবে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখবে। তারা ইসলামের প্রতি এবং সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য এর উপযোগিতার প্রতি বিশ্বাস রাখবে এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রসারের পথে সবকিছু উৎসর্গ করবে। কোনো বিপদ-আপদ, নির্যাতন কিংবা কোনো লোভ-লালসা ও প্রলোভন যেন তাদের এই মহৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।

সুগন্ধিময় সীরাত—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং প্রথম প্রজন্মের কাফেলা তথা সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের সীরাত—অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা এটি চাই না যে, তা কেবল এমন এক পাঠ্য বিষয় হোক যার মাধ্যমে মাদরাসা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে কিংবা শিক্ষাগত সনদ লাভ করবে। অথবা এটি এমন কোনো অর্জিত জ্ঞান হোক যা নিয়ে আমরা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করব এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, ক্লাব, গবেষণা ও পাঠদান কক্ষ, মসজিদ ও সেমিনারগুলোতে বাগপটুতা দেখাব, যাতে আমরা সুখ্যাতি ও প্রশংসা কুড়াতে পারি এবং শ্রোতাদের কাছ থেকে সন্তুষ্টি ও মুগ্ধতা কেড়ে নিতে পারি।

বরং আমরা চাই এই অধ্যয়ন যেন এমন এক বিদ্যাপীঠ হয় যেখান থেকে আমরা যোগ্য হয়ে বের হব, যেমনটি পূর্ববর্তী মহান ব্যক্তিবর্গ হয়েছিলেন। আর আমরা যেন রিসালাতের অধিকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম—তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক—তাঁদের ঈমান ও আকিদা, ইলম ও আমল, আখলাক ও আচরণ এবং রাজনীতি ও নেতৃত্বের একনিষ্ঠ দৃষ্টান্ত হতে পারি। ফলে ইসলাম যেন আমাদের নিয়ে গর্ববোধ করে, যেমনটি তাদের নিয়ে করেছিল। আর আমরা যেন বর্তমানে তেমন হতে পারি—যেমন তারা ছিলেন—মানবজাতির কল্যাণে উত্থিত শ্রেষ্ঠ জাতি।

আল্লাহ সুবহানাহু—এবং সকল পছন্দ ও এখতিয়ার তাঁরই—চেয়েছিলেন যে, আমি কয়েক বছর আগে সীরাতের দ্বিতীয় অংশ নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করি, যা হিজরত থেকে শুরু করে নববী ইন্তেকাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সেটি ফুরিয়ে গেছে, আর এখন আমি যা শুরু করেছিলাম তা পূর্ণ করছি, আর তা হলো প্রথম অংশ—জন্মের পূর্ব থেকে হিজরত পর্যন্ত—লিখন সম্পন্ন করা।

আল্লাহ আরও চেয়েছেন—সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই—যেন আমি প্রথম অংশে লেখা বিষয়গুলোর কিছু অংশ মদীনা মুনাওয়ারায় এবং রওজা শরীফে বসে সংশোধন ও পরিমার্জন করতে পারি, যা জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান (১)। তখন আমি সেই সম্মানিত স্থান থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরত্বে ছিলাম, যা সৃষ্টির সেরা সত্তাকে ধারণ করে আছে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে নিজ সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।"
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الله، وأطهر جسد عرفته الدنيا: جسد النبي صلى الله عليه وسلم، وأن أبدأ بتبييض هذا الجزء في «طيبة» طابت وطاب المقام فيها.

ومن الله أستمد العون والتوفيق، فاللهم أعن وسدّد، امين.

وكتبه أبو السادات «1» محمّد بن محمّد أبو شهبته

من علماء الأزهر الشريف والمتخصص في القران وعلومه، والسنة وعلومها

--------------------------------------------

(1) لقد منّ الله عليّ بثلاثة ذكور، هم: محمد رضا، وأبو بكر، وعمر، فلم يكن أحب إلى نفسي من هذه الكنية.
আল্লাহ, এবং পৃথিবী কর্তৃক জ্ঞাত পবিত্রতম দেহ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেহ; আর আমি এই অংশটির পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করা শুরু করছি ‘তাইবা’ (মদিনা)-তে, যা পবিত্র এবং যেখানে অবস্থানও বরকতময়।

আর আমি আল্লাহর নিকটই সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি; হে আল্লাহ, সাহায্য করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমিন।

এটি লিখেছেন আবুস সাদাত (১) মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ

আল-আযহার আল-শরিফের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং কুরআন ও এর জ্ঞানসমূহ এবং সুন্নাহ ও এর জ্ঞানসমূহে বিশেষজ্ঞ

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ আমাকে তিনটি পুত্র সন্তান দান করেছেন, তারা হলেন: মুহাম্মদ রেযা, আবু বকর এবং উমর। তাই আমার কাছে এই উপনামটির চেয়ে প্রিয় আর কিছুই ছিল না।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدّمات تمهيديّة لدراسة السّيرة

1- منهجي في هذه الدراسة.

2- تاريخ التأليف في السيرة وأشهر كتبها.

3- التأليف في السيرة في العصر الحاضر.
সীরাত অধ্যয়নের প্রাথমিক ভূমিকা

১- এই গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি।

২- সীরাত রচনার ইতিহাস এবং এর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ।

৩- বর্তমান যুগে সীরাত রচনা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
-‌‌ 1- منهجي في هذه الدراسة

 

‌‌1-: [ذكر الايات القرانية المتعلقة بحوادث السيرة]

لما كانت هذه الدراسة في ضوء القران والسنّة، فسأعنى بذكر الايات القرانية المتعلقة بحوادث السيرة ووقائعها، وشرح ما غمض منها، وإزالة ما عسى أن يكون بين ظواهر هذه الايات من توهم الاختلاف أو التعارض، وتنزيل هذه الايات على حسب الوقائع والحوادث.

بل رأيت كما رأى ابن إسحاق، ومن بعده ابن هشام، شرح الايات في الموضوع الواحد شرحا موجزا ولا سيما في الغزوات: كالأحزاب، والحديبية، وبني النضير، وكما صنعت في ايات الإفك. وإنّ من نافلة القول أن نقول: إن المرجع الأول في دراسة السيرة النبوية هو القران الكريم، لأنه الكتاب المتواتر الذي يفيد القطع واليقين، ولا يتطرق إليه الشك والارتياب، فهو أوثق المصادر، وأولاها بالقبول.

 

‌‌2-: [ذكر الأحاديث المتصلة بموضوعات البحث]

وسأعنى أيضا بذكر الأحاديث المتصلة بالموضوعات التي سأعرض لها. ولن أذكر منها إلا ما هو صالح للاحتجاج من حديث صحيح، أو حسن، أو مقبول، ولن أذكر شيئا من الأحاديث الموضوعة أو الإسرائيليات المكذوبة، أو الروايات الشديدة الضعف، إذ في الأحاديث الثابتة ما يغني عنها، ومما ينبغي أن يعلم أن كتب السير والموالد فيها الصحيح والضعيف، بل والمكذوب المختلق، وذلك مثل ما زعمه بعض الكاتبين في الإسراء والمعراج من أن النبي صلى الله عليه وسلم وطىء العرش بنعليه، وأن الله- جل جلاله قال: لقد شرف
১- এই গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি

 

‌‌১-: [সীরাতের ঘটনাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতসমূহ উল্লেখ করা]

যেহেতু এই গবেষণাটি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত, তাই আমি সীরাতের ঘটনা ও ঘটনাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতগুলো উল্লেখ করার প্রতি যত্নবান হব। সেগুলোর মধ্য থেকে অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করব এবং এই আয়াতগুলোর বাহ্যিক অর্থের মধ্যে যদি কোনো বৈচিত্র্য বা বৈপরীত্যের ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা দূর করার চেষ্টা করব। অধিকন্তু, সংঘটিত ঘটনা ও ঘটনাবলি অনুযায়ী এই আয়াতগুলোকে প্রয়োগ করব।

বরং ইবনে ইসহাক এবং তাঁর পরবর্তী ইবনে হিশাম যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন, আমিও একই রূপ মনে করি যে, একই প্রসঙ্গের আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা প্রয়োজন, বিশেষ করে যুদ্ধগুলোর (গাযওয়াত) ক্ষেত্রে; যেমন: আহযাব, হুদায়বিয়া, বনু নাযীর এবং যেভাবে আমি অপবাদ (ইফক) সংক্রান্ত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে করেছি। এটি বলা বাহুল্য যে, সীরাতুন্নবী (সা.) অধ্যয়নের প্রধান উৎস হলো মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। কেননা এটি একটি মুতাওয়াতির কিতাব, যা অকাট্য প্রমাণ ও নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে এবং যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ নেই। অতএব, এটি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে বিবেচ্য।

 

‌‌২-: [গবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত হাদীসসমূহ উল্লেখ করা]

আমি যে সমস্ত বিষয়বস্তু উপস্থাপন করব, সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ উল্লেখ করার ক্ষেত্রেও মনোযোগী হব। এগুলোর মধ্য থেকে আমি কেবল দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য সহীহ, হাসান অথবা মাকবুল (قابل قبول) হাদীসসমূহ উল্লেখ করব। আমি কোনো জাল (মাওদু) হাদীস, মিথ্যা ইসরাঈলি বর্ণনা বা অত্যন্ত দুর্বল রিওয়ায়াত উল্লেখ করব না। কারণ প্রমাণিত ও সাব্যস্ত হাদীসসমূহের মধ্যেই এর পর্যাপ্ত বিকল্প রয়েছে। আর এটি জানা থাকা প্রয়োজন যে, সীরাত ও মাওলুদ বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার পাশাপাশি মিথ্যা ও বানোয়াট বর্ণনাও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরা ও মেরাজ সম্পর্কে কিছু লেখকের দাবি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরিহিত অবস্থায় আরশে পা রেখেছিলেন এবং আল্লাহ জাল্লা জালালুহু বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই সম্মানিত..."
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
العرش بنعلك يا محمد، وهو كلام باطل، وقد سئل الإمام رضيّ الدين القزويني عن ذلك فقال: «أما حديث وطء النبي صلى الله عليه وسلم العرش بنعله، فليس بصحيح، ولا ثابت، بل وصوله إلى ذروة العرش لم يثبت في خبر صحيح، ولا حسن، ولا ثابت أصلا، وإنما ثبت في الأخبار انتهاؤه إلى سدرة المنتهى فحسب» .

ومن ذلك الروايات التي تزعم تمسّح النبي صلوات الله وسلامه عليه بالأصنام، فكلها باطلة عقلا ونقلا، والروايات التي رويت عن ابن عباس وغيره من الصحابة التي ذكروا فيها عمر الدنيا، وأنها سبعة الاف سنة فهي إسرائيليات مكذوبة، ولا تمت إلى الإسلام بصلة، وعمر الدنيا أضعاف أضعاف ذلك، فلا نلتفت إلى شيء من ذلك مما قد نجده في بعض كتب التفسير، والحديث، والتاريخ والسير ونحوها.

 

‌‌3-: [الاعتماد على كتب التاريخ والسير]

إن اعتمادي بعد القران والأحاديث الثابتة في الصحاح والسنن والمسانيد على كتب التاريخ والسير قديمها وحديثها، بعد البحث والتمحيص والتحقيق، والموازنة بين الروايات، والأخذ بما يصلح للاحتجاج منها، وترك ما عداه. ولن اخذ برواية راو، أو قول قائل يصادم عقلا، أو يخالف نقلا متواترا أو صحيحا، أو يمس عصمة النبي صلى الله عليه وسلم، إلا إذا كان للرواية مخرج محتمل معقول، أو تأويل قريب مقبول، من غير تكلّف ولا تمحّل. وفي مقدمة كتب السّير كتاب شيخ كتّاب السير، وإمام أهل المغازي: محمد بن إسحاق، إلا إذا عارض روايته ما هو أصح منها كرواية صاحبي الصحيحين، فإني أرجّح ما في الصحيح، وابن إسحاق على جلالته في السيرة له بعض أوهام عرضت لها أثناء الكتاب، وبينت وجه الحق فيها.

 

‌‌4-: [تحامل المبشرين والمستشرقين على النبي ص]

إن كثيرين من المبشرين، والمستشرقين، الذين يتأكّلون بالباطل قد تحاملوا على النبي صلى الله عليه وسلم استجابة لنداء الصليبية التي ورثوها من ابائهم،
"আপনার জুতোসহ আরশে (উঠুন)" - এটি একটি বাতিল কথা। ইমাম রাযীউদ্দীন আল-কাযভীনীকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতো মোবারক দিয়ে আরশ মাড়ানো সংক্রান্ত হাদিসটি সহীহ নয় এবং প্রমাণিতও নয়। বরং তাঁর আরশের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর বিষয়টি কোনো সহীহ, হাসান কিংবা আদৌ কোনো প্রমাণিত বর্ণনায় আসেনি। বরং সংবাদসমূহে কেবল সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত তাঁর পৌঁছানোর বিষয়টিই প্রমাণিত হয়েছে।"

এর অন্তর্ভুক্ত সেই সব বর্ণনাও রয়েছে যাতে দাবি করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূর্তির গায়ে হাত বুলিয়েছিলেন, এসব বর্ণনা যুক্তি এবং শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি—উভয় দিক থেকেই বাতিল। একইভাবে ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত সেই সব বর্ণনাও বাতিল, যেখানে তারা পৃথিবীর বয়স সাত হাজার বছর বলে উল্লেখ করেছেন। এগুলো সব মিথ্যা ইসরাঈলী বর্ণনা, যার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। পৃথিবীর বয়স এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। সুতরাং তাফসীর, হাদীস, ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে আমরা এ জাতীয় যা কিছুই পাবো, তার প্রতি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করবো না।

 

‌‌৩-: [ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভরতা]

কুরআন এবং সিহাহ (সহীহ গ্রন্থসমূহ), সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থে বর্ণিত প্রমাণিত হাদীসসমূহের পর ইতিহাস ও সীরাতের প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থসমূহের ওপর আমার নির্ভরতা রয়েছে। তবে তা হতে হবে বিস্তারিত অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের পর। এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলো দলীল হিসেবে পেশ করার যোগ্য আমি কেবল সেগুলোই গ্রহণ করেছি এবং অবশিষ্টগুলো বর্জন করেছি। আমি এমন কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা বা কোনো বক্তার কথা গ্রহণ করবো না যা যুক্তিবিরোধী, কিংবা যা কোনো মুতাওয়াতির বা সহীহ বর্ণনার বিপরীত, অথবা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিষ্পাপত্বের পরিপন্থী—যদি না সেই বর্ণনার কোনো সম্ভাব্য যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে কিংবা কোনো কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা ছাড়াই গ্রহণযোগ্য নিকটবর্তী কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সীরাত গ্রন্থসমূহের অগ্রভাগে রয়েছে সীরাত লেখকদের প্রধান এবং মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসহাক-এর কিতাব। তবে যদি তাঁর কোনো বর্ণনা অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনার সাথে (যেমন বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা) সাংঘর্ষিক হয়, তবে আমি সহীহাইন বা বুখারী-মুসলিমের বর্ণনাকেই প্রাধান্য দেই। সীরাত শাস্ত্রে ইবনে ইসহাক-এর উচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁর কিছু কিছু ভুল ও সংশয় রয়েছে, যা আমি এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তুলে ধরেছি এবং সেগুলোর সঠিক দিকটি স্পষ্ট করেছি।

 

‌‌৪-: [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিশনারি ও প্রাচ্যবিদদের বিদ্বেষ]

অনেক মিশনারি এবং প্রাচ্যবিদ, যারা মিথ্যার ওপর জীবিকা নির্বাহ করে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে। এটি মূলত সেই ক্রুসেডার মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ, যা তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ورضعوها في لبان أمهاتهم، ورموه بأشنع الصفات التي يتنزه القلم عن ذكرها، وأسفّوا في ذلك غاية الإسفاف «1» ، ولكن المنصفين منهم- وقليل ما هم- ردّوا عليهم، وأنصفوا النبي صلى الله عليه وسلم بعض الإنصاف، وإن لم تخل كتبهم من الغمز واللمز.

وقد استندوا في طعونهم وسفاهاتهم إما على روايات باطلة اعتبروها صحيحة، وإما على روايات صحيحة حرّفوها عن مواضعها، وإما على أوهام تخيّلوها.

ومن الأباطيل التي تمسك بها بعض الكاتبين في السيرة من الغربيين، وأبواقهم المقلّدون لهم قصة الغرانيق، وزعمهم قيام الإسلام على السيف والإكراه، وطعنهم في النبي بسبب تعدد زوجاته صلى الله عليه وسلم، وقصة زواجه بالسيدة زينب بنت جحش على ما يذكرها من لا علم عندهم، ولا تحقيق ولا تمييز بين الغث والسمين.

ومن مزاعمهم إنكارهم الوحي بالمعنى الشرعي، وتفسيرهم له بالوحي النفسي، بل أسفّ بعضهم فجعل الحالة التي كانت تعتري النبي صلوات الله وسلامه عليه عند الوحي نوعا من الصّرع، إلى غير ذلك مما أشبعت القول فيه في هذه السيرة المحققة.

ومن عجيب أمر المبشرين والمستشرقين أنهم في سبيل إرضاء أهوائهم، ونزواتهم الجامحة، وأحقادهم الموروثة يصحّحون الروايات المكذوبة، والإسرائيليات المدسوسة، ما دامت تسعفهم وتساعدهم على باطلهم، على حين نجدهم يحكمون على روايات صحيحة، بل في أعلى درجات الصحة بالوضع والاختلاق؛ لأنها لا تؤيدهم فيما يجترحون من طعون، وتجن أثيم على مقام النبي وال بيته.

ولست أدّعي أني في ردّي أباطيل المستشرقين والمبشرين ابن بجدتها،

--------------------------------------------

(1) حياة محمد، لإميل در منغم، ترجمة عادل زعيتر ص 11؛ وحياة محمد، لهيكل ص 10، 11.
তারা এটি তাদের মায়েদের দুধের সাথে পান করেছে এবং তাঁকে এমন জঘন্য বিশেষণে ভূষিত করেছে যা উল্লেখ করতে কলমও কুণ্ঠাবোধ করে। তারা এই ক্ষেত্রে ধৃষ্টতার চরম সীমায় পৌঁছেছে «১», তবে তাদের মধ্যকার ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা—যাদের সংখ্যা অতি নগণ্য—তাদের প্রতিবাদ করেছেন এবং নবীর (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি কিছুটা ন্যায়বিচার করেছেন, যদিও তাদের গ্রন্থগুলো ইঙ্গিত ও বিদ্রূপ থেকে মুক্ত নয়।

তারা তাদের এই কটাক্ষ ও মূর্খতাসূলভ বক্তব্যে হয়তো এমন বাতিল বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছে যেগুলোকে তারা সহীহ বলে গণ্য করেছে, অথবা এমন সহীহ বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছে যেগুলোকে তারা তাদের প্রাসঙ্গিক স্থান থেকে বিকৃত করেছে, অথবা তাদের কল্পিত ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করেছে।

পাশ্চাত্যের কিছু সীরাত লেখক এবং তাদের অন্ধ অনুসারী প্রচারকদের আঁকড়ে ধরা বাতিল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে 'গারানিক'-এর গল্প, তলোয়ার ও জবরদস্তির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবি, নবীর (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বহুবিবাহ নিয়ে কটাক্ষ এবং সায়্যিদা যয়নাব বিনতে জাহশের সাথে তাঁর বিবাহের ঘটনা—যেটি এমন সব লোক উল্লেখ করে যাদের কোনো জ্ঞান নেই, নেই কোনো গবেষণা কিংবা সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা।

তাদের আরও কিছু দাবি হলো শারঈ অর্থে ওহীকে অস্বীকার করা এবং এটিকে কেবল মনস্তাত্ত্বিক ওহী হিসেবে ব্যাখ্যা করা। এমনকি তাদের কেউ কেউ আরও হীনতা প্রকাশ করে ওহী অবতরণের সময় নবীর (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যে শারীরিক অবস্থা হতো, তাকে এক ধরণের মৃগীরোগ বলে অভিহিত করেছে। এ জাতীয় আরও অনেক বিষয়ে আমি এই গবেষণালব্ধ সীরাত গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

ধর্মপ্রচারক এবং প্রাচ্যবিদদের আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, তারা তাদের খেয়াল-খুশি, লাগামহীন প্রবৃত্তি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিদ্বেষ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মিথ্যা বর্ণনা এবং অনুপ্রবেশকৃত ইসরাঈলী বর্ণনাগুলোকে সহীহ বলে মেনে নেয়, যতক্ষণ সেগুলো তাদের বাতিল মতবাদকে সহায়তা করে। অথচ অন্যদিকে দেখা যায় যে, তারা সহীহ বর্ণনাগুলোকে—এমনকি যেগুলো বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে—বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়; কারণ সেগুলো নবী এবং তাঁর পরিবারের মর্যাদার বিরুদ্ধে তাদের করা কটাক্ষ ও অন্যায় অপবাদে সমর্থন যোগায় না।

আমি দাবি করছি না যে প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারকদের এই বাতিল মতবাদ খণ্ডন করার ক্ষেত্রে আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ,

--------------------------------------------

(১) হায়াতে মুহাম্মদ, এমিল ডারমেনঘেম কৃত, আদিল জুআইতির অনূদিত, পৃষ্ঠা ১১; এবং হায়াতে মুহাম্মদ, হাইকাল কৃত, পৃষ্ঠা ১০, ১১।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأبو عذرتها «1» ، فقد سبق إلى تزييف ذلك في القديم والحديث علماء أجلاء جازاهم الله خيرا- ولكني- ولله الحمد والمنّة- قد أمكنني أن أضيف كثيرا إلى ما سبقت إليه، حتى غدا كأنه جديد.

كما أعانني تخصصي في الأصلين الشريفين: القران وعلومه، والسنّة وعلومها، وصحبتي لهما ما يقرب من نصف قرن؛ أن أنقد المرويات وأمحصها وأن أميّز بين صحيحها وضعيفها، وغثّها وسمينها، وأن أضيف إلى ما قاله السابقون بعض ما فاتهم، وذلك كما صنعت في إبطال قصة الغرانيق، وفرية قيام الإسلام على السيف، وبيان الحكم لتعدد زوجاته صلى الله عليه وسلم، فقد استقصيت فيها القول، وأمطت اللثام عن وجه الحق.

 

‌‌5-: [الجمع بين الهيكل التاريخي للسيرة النبوية التعليق على المواقف]

لن أقصر دراستي في السيرة النبوية على السرد التاريخي فحسب، كما صنع معظم المتقدمين، وبعض المتأخرين، ولا على التعليق على مواقف السيرة، أو جلها، مع إغفال الهيكل الأصلي، أو الجانب التاريخي كما صنع بعض المحدثين، وإنما جمعت بين الحسنيين: الهيكل التاريخي مع تحرّي الحقيقة، والتعليق على المواقف، ولا سيما الحاسمة في تاريخ الدعوة، وانتزاع العبر النافعة، والدروس المفيدة منها.

وما أذكر أنى تركت حدثا مهما، أو موقعة فاصلة، أو سرية مهمة، أو عملا بارعا، أو سياسة راشدة، أو قيادة حكيمة، أو أي تصرف كريم للنبي صلى الله عليه وسلم، أو لأحد أصحابه، إلا وقفت عنده، أو عندها وقفة أو وقفات، ليتبين للقارىء فرق ما بين الأخلاق المحمدية، وسياساته الحكيمة الرشيدة في السلم، والحرب، ومع الأصدقاء، ومع الأعداء، وما بين أخلاق غيره، وسياسته ومعاملته لأصحابه، ولأعدائه، مهما بلغ ذلك الغير من العقل، والعلم، والكياسة، والسياسة، والقيادة، والعدل، والرحمة؛ لكي أخلص من ذلك إلى الفرق البعيد ما بين النبوة، وغير النبوة، والبشر الرسول، وغير الرسول.

--------------------------------------------

(1) يقال فلان ابن بجدتها، للعالم بالشيء، وأبو عذرتها إذا أتى بما لم يسبق إليه.
এবং এর পথপ্রদর্শক। পূর্বের ও পরের অনেক মহান আলেম—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন—ইতিমধ্যেই এগুলো বাতিল করার কাজ করেছেন। কিন্তু—আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ—আমি ইতিপূর্বে যা করা হয়েছে তাতে অনেক কিছু যোগ করতে সক্ষম হয়েছি, এমনকি এটি যেন নতুনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেমনিভাবে দুই মহান মূল উৎস: কুরআন ও তার জ্ঞান এবং সুন্নাহ ও তার জ্ঞানে আমার বিশেষজ্ঞতা এবং প্রায় অর্ধশতাব্দী যাবত এ দুটির সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা আমাকে বর্ণনাগুলো সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই করতে সাহায্য করেছে। এর মাধ্যমে আমি সহিহ ও যয়িফ এবং তুচ্ছ ও মূল্যবান বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পেরেছি। পূর্ববর্তীগণ যা বলেছেন তার সাথে আমি এমন কিছু যোগ করেছি যা তাদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল। যেমনটি আমি করেছি 'গারানিক' কাহিনী বাতিল করার ক্ষেত্রে, তরবারির মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের মিথ্যা অপবাদ খণ্ডনের ক্ষেত্রে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাধিক বিবাহের হিকমত বর্ণনার ক্ষেত্রে। আমি এ বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং সত্যের চেহারা থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি।

 

‌‌৫-: [সীরাতে নববীর ঐতিহাসিক কাঠামোর সাথে ঘটনার পর্যালোচনার সমন্বয়]

সীরাতে নববী বিষয়ক আমার অধ্যয়নকে আমি কেবল ঐতিহাসিক বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব না, যেমনটি অধিকাংশ পূর্ববর্তী এবং কিছু পরবর্তী আলেম করেছেন। আবার মূল কাঠামো বা ঐতিহাসিক দিকটি উপেক্ষা করে কেবল সীরাতের বিভিন্ন ঘটনার পর্যালোচনা বা তার অধিকাংশের ওপর আলোচনার মধ্যেও সীমাবদ্ধ রাখব না, যেমনটি আধুনিক লেখকদের কেউ কেউ করেছেন। বরং আমি উভয় কল্যাণের সমন্বয় ঘটিয়েছি: সত্য অনুসন্ধানের সাথে ঐতিহাসিক কাঠামো এবং ঘটনার ওপর পর্যালোচনা, বিশেষ করে দাওয়াতের ইতিহাসের সিদ্ধান্তমূলক পরিস্থিতিগুলো নিয়ে আলোচনা এবং তা থেকে উপকারী উপদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আহরণ।

আমার মনে পড়ে না যে, আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, মীমাংসাকারী যুদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ সারিয়্যাহ (অভিযান), নিপুণ কাজ, সঠিক রাজনীতি, প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তাঁর সাহাবীগণের কোনো মহৎ আচরণ বাদ দিয়েছি যার ওপর আমি একবার বা একাধিকবার আলোকপাত করিনি। যাতে পাঠকের কাছে মুহাম্মদী চরিত্র এবং শান্তি ও যুদ্ধে, বন্ধু ও শত্রুর সাথে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ সঠিক কর্মপদ্ধতি এবং অন্যদের চরিত্র, রাজনীতি ও তাদের সঙ্গী ও শত্রুদের সাথে আচরণের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই অন্যজন বুদ্ধি, জ্ঞান, চাতুর্য, রাজনীতি, নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও দয়ায় যতই উচ্চপর্যায়ে থাকুক না কেন; যাতে এর মাধ্যমে আমি নবুওয়াত ও নবুওয়াতহীনতা এবং রসূল-মানুষ ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার বিশাল পার্থক্যে উপনীত হতে পারি।

--------------------------------------------

(১) কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে 'ইবনু বাজদাতিহা' বলা হয়, আর যে ব্যক্তি এমন কিছু নিয়ে আসে যার আগে কেউ করেনি তাকে 'আবু উযরাতিহা' (পথপ্রদর্শক) বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي الحق أن المحدثين في باب التحليل، والتعليق، والموازنة بين المواقف قد أربوا في ذلك على المتقدمين، وأكسبوا السيرة جدّة ورواء، وقد تفاوتوا في ذلك على حسب تفاوتهم في المواهب، وسعة العلم والأفق، والاطلاع على سير الاخرين.

 

‌‌6- النبوة شيء، والعبقرية شيء اخر.

وقد حرصت حينما فكرت في عنوان لهذا الكتاب ألاأتكلّف، فسميته «بالسيرة» «1» ، وهو اللفظ الذي اختاره قدماء المؤلفين في السير، وقدماء الفقهاء حتى صار عرفا إذا ذكر اسم السيرة ألاينصرف إلا إلى سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، أو سير أصحابه الكرام رضوان الله عليهم. وقد أضفت «في ضوء القران والسنّة» لأن طبيعة البحث والمنحى تقتضي ذلك، ولم أرتض أن أجعل العنوان «العبقرية» «2» وكذلك حرصت حينما كتبت في هذه السيرة، وحلّلت المواقف، وعلّقت عليها على ألاأصف النبي بالعبقرية، كما صنع مؤلفو «العبقريات» أو الزعامة السياسية، أو القيادة الحربية كما صنع الذين ألّفوا في الزعامات والقيادات، أو أعدّ النبي بطلا فحسب كما صنع «كارليل» في كتابه «الأبطال» أو «رسول الحرية» ، كما فعل بعض الكاتبين، إلى غير ذلك مما افتنّ فيه المؤلفون؛ لأني أؤمن عن يقين وعلم أنه صلى الله عليه وسلم فوق هؤلاء جميعا، إنه النبي والرسول، وكفى!!

--------------------------------------------

(1) قال في المصباح المنير: «والسيرة: الطريقة، وسار في الناس سيرة حسنة أو قبيحة. والجمع سير مثل سدرة وسدر، وغلب اسم السير في ألسنة الفقهاء، على المغازي، والسيرة أيضا، الهيئة والحالة» .

(2) العبقرية نسبة إلى عبقر، أرض تزعم العرب أنها تسكنها الجن، ضرب بها العرب المثل لكل شيء عجيب عظيم، وقيل: قرية تصنع بها الثياب والبسط الفاخرة، فنسبوا إليها كل أمر عجيب، وكل شيء فاخر. وفي الكتاب الكريم: مُتَّكِئِينَ عَلى رَفْرَفٍ خُضْرٍ، وَعَبْقَرِيٍّ حِسانٍ جيد البسط وفاخرها، ويطلق العبقري أيضا على سيد القوم، وقيمهم، وأعقلهم.
প্রকৃতপক্ষে, বিশ্লেষণ, মন্তব্য এবং বিভিন্ন অবস্থানের তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে আধুনিক লেখকগণ পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং তারা সীরাতকে নতুনত্ব ও লাবণ্য দান করেছেন। এক্ষেত্রে তারা তাদের মেধা, জ্ঞানের গভীরতা, দৃষ্টিভঙ্গির প্রশস্ততা এবং অন্যদের সীরাত পর্যালোচনার ভিন্নতা অনুযায়ী একে অপরের থেকে আলাদা হয়েছেন।

 

‌‌৬- নবুওয়াত এক জিনিস, আর প্রতিভা অন্য জিনিস.

এই বইটির শিরোনাম নির্বাচনের সময় আমি কোনো কৃত্রিমতা বা আড়ম্বর না করার বিষয়ে সচেষ্ট ছিলাম। তাই আমি এর নাম দিয়েছি «সীরাত», যা সীরাত বিষয়ক প্রাচীন লেখক এবং পূর্ববর্তী ফকীহগণ পছন্দ করেছেন। এমনকি এটি একটি পরিভাষায় পরিণত হয়েছে যে, «সীরাত» শব্দটি উচ্চারিত হলে তা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত অথবা তাঁর সম্মানিত সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম-দের সীরাতকেই বোঝায়। আমি এর সাথে «কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে» অংশটি যোগ করেছি কারণ গবেষণার ধরণ ও গতিপ্রকৃতি এরই দাবি রাখে। আমি এর শিরোনাম «প্রতিভা» রাখা পছন্দ করিনি। একইভাবে এই সীরাত লেখার সময়, বিভিন্ন পরিস্থিতির বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রতিভাবান হিসেবে বর্ণনা না করতে সচেষ্ট থেকেছি, যেমনটি «আল-আবাক্কারিয়াত» (প্রতিভাসমূহ) এর লেখকগণ করেছেন। কিংবা তাঁকে রাজনৈতিক নেতা বা সামরিক অধিনায়ক হিসেবেও বর্ণনা করিনি, যেমনটি করেছেন তারা যারা নেতৃত্ব ও অধিনায়কত্ব নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। অথবা তাঁকে কেবল একজন বীর হিসেবে গণ্য করিনি, যেমনটি কার্লাইল তাঁর «হিরোস» (বীরগণ) গ্রন্থে করেছেন, কিংবা «স্বাধীনতার দূত» হিসেবেও নয়, যেমনটি কোনো কোনো লেখক করেছেন, এবং এ জাতীয় আরও অনেক বিশেষণে যা লেখকরা নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন। কারণ আমি নিশ্চিত বিশ্বাস ও ইলমের সাথে ঈমান রাখি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সকলের ঊর্ধ্বে। তিনি তো নবী ও রাসূল, আর এটিই যথেষ্ট!!

--------------------------------------------

(১) মিসবাহুল মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে: «সীরাত অর্থ হলো পথ বা পদ্ধতি। সে মানুষের মাঝে উত্তম বা মন্দ সীরাত অনুযায়ী চলল। এর বহুবচন হলো সিয়ার, যেমন সিদরাহ এর বহুবচন সিদার। ফকীহগণের পরিভাষায় সিয়ার শব্দটি সাধারণত মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অর্থে প্রচলিত হয়েছে। এ ছাড়াও সীরাত বলতে বাহ্যিক অবয়ব বা অবস্থাও বোঝায়»।

(২) আবাক্কারিয়্যা (প্রতিভা) শব্দটি আবাক্কার-এর সাথে সম্পর্কিত। এটি এমন এক ভূমি যার সম্পর্কে আরবরা ধারণা করত যে সেখানে জিনরা বাস করে। আরবরা প্রতিটি বিস্ময়কর ও মহান জিনিসের ক্ষেত্রে এটি উপমা হিসেবে ব্যবহার করত। কেউ বলেছেন: এটি একটি গ্রাম যেখানে মূল্যবান কাপড় ও গালিচা তৈরি করা হতো, ফলে তারা প্রতিটি বিস্ময়কর ও মূল্যবান বিষয়কে এর সাথে সম্পর্কিত করত। পবিত্র কুরআনে এসেছে: «তারা সবুজ তাকিয়া ও সুন্দর আবাক্কারিয়্যি (গালিচা)-র উপর হেলান দিয়ে বসবে», যার অর্থ হলো উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান গালিচা। এ ছাড়াও আবাক্কারি শব্দটি গোত্রের নেতা, তাদের পরিচালক এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والعبقري: هو الأصيل الرأي، البعيد النظر، الذي لا يفوقه أحد في حل المشكلات، من غير تعمّل، ولا تكلّف، وقد وصف به النبي صلى الله عليه وسلم سيدنا عمر رضي الله تعالى عنه- ففي الحديث الذي رواه البخاري في صحيحه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أريت في المنام أني أنزع بدلو بكرة على قليب، فجاء أبو بكر، فنزع ذنوبا أو ذنوبين نزعا ضعيفا «1» ، والله يغفر له، ثم جاء عمر بن الخطاب فاستحالت- أي الدلو- غربا «2» ، فلم أر عبقريا يفري فريه، حتى روى الناس، وضربوا بعطن» «3» . ولم أعلم أحدا غير عمر وصفه النبي صلى الله عليه وسلم بالعبقري، وهو ما عبّر عنه النبي صلوات الله وسلامه عليه في حديث اخر «بالمحدّث» .

ففي الحديث الصحيح الذي رواه الشيخان البخاري ومسلم في صحيحيهما بسندهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لقد كان فيما قبلكم من الأمم محدّثون، فإن يكن في أمتي أحد فإنه عمر بن الخطاب» والمحدّثون: هم الملهمون في إصابة الحق والصواب، وفي حل المعضلات وابتداع ما لم يسبقوا إليه. قال الإمام الخطابي: «يلقى الشيء في روعه، فكأنه قد حدّث به، يظن فيصيب، ويخطر الشيء بباله فيكون» . وقال أبو أحمد العسكري وغيره: «هو من ألقي في روعه شيء من قبل الملأ الأعلى، فيكون كالذي حدثه غيره» «4» . ووقع في بعض الروايات تفسير المحدّث بأنه «الملهم بالصواب الذي يلقى على فيه» ، ووقع في

--------------------------------------------

(1) القليب: البئر، الذنوب: الدلو الملأى بالماء، وهو كناية عن قصر مدة خلافته- رضي الله عنه وقلة الفتوحات لاشتغاله بحروب الردة وتثبيت دعائم الإسلام وبحسبه فضلا هذا.

(2) الغرب: الدلو الكبير.

(3) يفري فريه: يعمل عمله، ويقدر الأمور مثله، والعطن: مبارك الإبل حول الابار والمياه، والكلام كناية عن طول خلافته، وكثرة الفتوحات في عهده، وانتفاع الناس بثمرات الفتوح، وتدوينه الدواوين، وتمصيره الأمصار.

(4) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، ج 7 ص 39، 40.
'আবকারি' (প্রতিভাবান) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মৌলিক মতের অধিকারী ও দূরদর্শী, সমস্যা সমাধানে যাঁর ঊর্ধ্বে কেউ নেই, আর তা কোনো কৃত্রিমতা বা কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা ছাড়াই অর্জিত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নেতা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এই গুণে বিশেষায়িত করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "স্বপ্নে আমাকে দেখানো হলো যে আমি একটি কূপের ওপর কপিকল বিশিষ্ট বালতি দিয়ে পানি তুলছি। এরপর আবু বকর এলেন এবং তিনি এক বা দুই বালতি পানি তুললেন, তবে তাঁর সেই পানি তোলায় কিছুটা দুর্বলতা ছিল, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। এরপর ওমর ইবনুল খাত্তাব এলেন, তখন সেই বালতিটি একটি বিশাল বালতিতে পরিণত হলো। আমি ওমর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোনো প্রতিভাবানকে (আবকারি) তাঁর মতো এমন নিপুণভাবে কাজ করতে দেখিনি, শেষ পর্যন্ত মানুষ তাদের উটগুলোকে পানি পান করিয়ে তৃপ্ত করল এবং আস্তাবলে ফিরিয়ে নিয়ে গেল।" ওমর (রা.) ছাড়া অন্য কাউকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আবকারি' হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে আমার জানা নেই। আর একেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে 'মুহাদ্দাস' (যাঁর অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যের ইলহাম হয়) শব্দে ব্যক্ত করেছেন।

শায়খাইন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে স্বীয় সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মাঝে এমন কিছু মানুষ ছিলেন যাঁরা 'মুহাদ্দাস' ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি তেমন কেউ থেকে থাকেন, তবে তিনি হলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব।" আর মুহাদ্দাসুন হলেন তাঁরা, যাঁরা সত্য ও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এবং জটিল সমস্যার সমাধানে ও অভূতপূর্ব বিষয় উদ্ভাবনে ইলহামপ্রাপ্ত হন। ইমাম খাত্তাবি বলেন: "তাঁদের অন্তরে কোনো বিষয় নিক্ষেপ করা হয়, ফলে মনে হয় যেন কেউ তাঁদের তা বলে দিচ্ছে। তাঁরা কোনো বিষয়ে ধারণা করলে তা সঠিক হয় এবং তাঁদের মনে কোনো বিষয় উদয় হলে বাস্তবে তা-ই ঘটে।" আবু আহমদ আল-আসকারি এবং অন্যরা বলেন: "তিনি এমন ব্যক্তি যাঁর অন্তরে ঊর্ধ্বজগত থেকে কোনো বিষয় ঢেলে দেওয়া হয়, ফলে তিনি এমন হয়ে যান যেন অন্য কেউ তাঁর সাথে কথা বলছে।" কিছু বর্ণনায় 'মুহাদ্দাস'-এর ব্যাখ্যায় এসেছে যে, "তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সত্যের ক্ষেত্রে ইলহামপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর মুখে সত্য কথা উচ্চারিত হয়।" আর এ বিষয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) কালিব: কূপ। যানুব: পানিতে পূর্ণ বালতি। এটি তাঁর (রা.) খেলাফতের স্বল্প মেয়াদ এবং অধিক বিজয়ের সুযোগ না হওয়ার রূপক; কারণ তিনি তখন মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইসলামের স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ়করণে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।

(২) গারব: বিশাল বালতি।

(৩) ইয়াফরি ফারইয়াহু: তাঁর মতো নিপুণ কাজ করা এবং তাঁর মতো বিষয়াদি সুচারুরূপে আঞ্জাম দেওয়া। আতান: কূপ ও জলাশয়ের পাশে উটের বিশ্রামের স্থান। এই বক্তব্যটি তাঁর খেলাফতের দীর্ঘ সময়, তাঁর যুগে অধিক বিজয়, বিজয়ের সুফল ভোগে জনগণের কল্যাণ, রাষ্ট্রীয় দপ্তরসমূহ প্রতিষ্ঠা এবং নতুন নতুন শহর পত্তনের রূপক।

(৪) ফাতহুল বারি বি-শারহি সহিহিল বুখারি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৯, ৪০।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
صحيح مسلم من رواية ابن وهب «ملهمون» ، وهي «الإصابة بغير نبوة» ، ووقع في رواية للبخاري زيادة «من غير أن يكونوا أنبياء» «1» .

فمن ثمّ نرى أن المعاني كلها تلتقي عند معنى الإلهام، وأن في بعض الروايات التنصيص على أنه إلهام بغير نبوة، فدل على فرق ما بين إلهام الأنبياء وإلهام المحدّثين غير الأنبياء، وهذا الإلهام بغير نبوة هو ما يعرف بالعبقرية، فهي لا ترجع إلى الذكاء، والفطنة، والتجربة، وإنما مرجعها إلى الإلهام وإلقاء الصواب في النفس من غير تعمّل وتكلّف، فالعبقرية إذا تليق بملهم محدّث من أصحابه كعمر، والزعامة إنما تليق بسياسي محنك كمعاوية مثلا، والقيادة الحربية إنما تليق بأمثال سيف الله خالد، وسعد، وأبي عبيدة، والبطولة إنما تليق بالكثيرين من أصحابه كعلي، وأبي دجانة، وأبي طلحة، والمقداد بن عمرو، وطلحة بن عبيد الله- رضي الله عنهم أجمعين- على ما اتصفوا به من قوة الإيمان، وحسن السيرة، وسمو الأخلاق.

إنه صلى الله عليه وسلم فوق أي عبقري، وأجلّ من أي زعيم، وأعظم من أي قائد، وأشجع من أي بطل، وأسمى من أي مصلح، لقد جمع له من صفات هؤلاء خيرها، وأفضلها، وأعدلها، وأرحمها. ولكنه فوق هؤلاء جميعا، إنه نبي يوحى إليه، ورسول يبلّغ عن ربه، وهذا ما لا يدرك ولا ينال.

فجعل العبقرية، أو الزعامة، أو القيادة، أو البطولة، أو الإصلاح، أو أو … عنوانا له صلى الله عليه وسلم فيه تحيّف عليه، وهضم لحقه صلّى الله عليه وعلى اله وسلم.

والذين كتبوا في حياة النبي وسيرته من غير المسلمين لا يؤمنون به على أنه نبي ورسول، فمن ثمّ كتبوا عنه على أنه عظيم، أو بطل، أو مصلح، أو زعيم أو نحو ذلك، وإن كان بعضهم كتب عنه تحت عنوان «حياة محمد» ولا يجوز لنا معاشر المسلمين المؤمنين، ولا سيما أهل العلم، والدين، أن نجاريهم فيما عنونوا

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري- كتاب فضائل الصحابة- باب مناقب عمر، وصحيح مسلم- كتاب فضائل الصحابة- باب فضائل عمر.
ইবনে ওয়াহবের বর্ণনায় সহীহ মুসলিমে 'ইলহামপ্রাপ্ত' শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো 'নবুওয়ত ব্যতিরেকেই সত্য প্রাপ্ত হওয়া'। বুখারীর একটি বর্ণনায় 'তারা নবী না হয়েও' কথাটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে (১)।

এ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, সকল অর্থই 'ইলহাম' বা ঐশী অনুপ্রেরণার অর্থের সাথে মিলে যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় এটি যে নবুওয়তহীন ইলহাম, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নবীদের ইলহাম এবং নবী নন এমন অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ইলহামের মধ্যকার পার্থক্য নির্দেশ করে। নবুওয়তহীন এই ইলহামকেই 'প্রতিভা' (আবকারিয়্যাত) বলা হয়। এটি কেবল মেধা, বিচক্ষণতা বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এর মূল উৎস হলো ইলহাম এবং কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ও কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা ছাড়াই অন্তরে সঠিক বিষয়টি নিক্ষিপ্ত হওয়া। সুতরাং, এই 'প্রতিভা' তাঁর সাহাবীদের মধ্যে উমরের মতো অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর 'নেতৃত্ব' উপযুক্ত হয় মুয়াবিয়ার মতো একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে। সমর নেতৃত্ব মানায় 'আল্লাহর তলোয়ার' খালিদ, সাদ এবং আবু উবাইদাহর মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। আর বীরত্ব মানায় তাঁর অনেক সাহাবীর ক্ষেত্রে, যেমন আলী, আবু দুজানা, আবু তালহা, মিকদাদ ইবনুল আমর এবং তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)—তাঁদের ঈমানের দৃঢ়তা, সুন্দর জীবনচরিত এবং মহান চরিত্রের গুণাবলি অনুযায়ী।

নিশ্চয়ই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেকোনো প্রতিভাধর ব্যক্তির ঊর্ধ্বে, যেকোনো নেতার চেয়েও মর্যাদাবান, যেকোনো সেনাপতির চেয়েও মহান, যেকোনো বীরের চেয়েও সাহসী এবং যেকোনো সংস্কারকের চেয়েও উন্নত। তাঁদের সকলের গুণের মধ্যে যা কিছু কল্যাণকর, শ্রেষ্ঠ, ন্যায়সঙ্গত এবং করুণাশীল, তার সবটুকুই তাঁর মাঝে পুঞ্জীভূত হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই সবার ঊর্ধ্বে; তিনি একজন নবী যাঁর কাছে ওহী আসে এবং একজন রাসূল যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেন। এটি এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা যা অন্য কারো পক্ষে লাভ করা বা স্পর্শ করা সম্ভব নয়।

তাই 'প্রতিভা', 'নেতৃত্ব', 'সেনাপতিত্ব', 'বীরত্ব' কিংবা 'সংস্কার'—এগুলোকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিচয়ের প্রধান শিরোনাম করা তাঁর প্রতি এক প্রকার অবিচার এবং তাঁর সুমহান হকের অবমূল্যায়ন।

অমুসলিমদের মধ্যে যারা নবীর জীবনী ও সীরাত নিয়ে লিখেছেন, তারা তাঁকে নবী ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করেন না। ফলে তাঁরা তাঁকে একজন মহান ব্যক্তি, বীর, সংস্কারক, নেতা বা এই জাতীয় পরিচয়ে উপস্থাপন করেছেন। যদিও তাঁদের কেউ কেউ 'মুহাম্মদের জীবন' শিরোনামে লিখেছেন। আমাদের মতো মুমিন মুসলমানদের জন্য, বিশেষ করে আলেম ও দ্বীনদারদের জন্য, তাঁদের দেওয়া এসব শিরোনামের অনুসরণ করা সমীচীন নয়।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, সাহাবীদের ফযীলত অধ্যায়, উমরের মর্যাদা পরিচ্ছেদ; এবং সহীহ মুসলিম, সাহাবীদের ফযীলত অধ্যায়, উমরের ফযীলত পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
به وفيما وصفوه مما يخلّ بالنبوة، أو يخدشها؛ لأننا نعتقد أنه نبي ورسول، وكل الصيد في جوف الفرا.

ومما يزيد الضوء والتوضيح لما أريد أن الفاروق الملهم العبقري، وصاحب الموافقات «1» ، والذي قال فيه النبي «إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه» «2» كان كثيرا ما يبدي رأيا، ويبدي رسول الله رأيا، فإذا به يعود إلى رأي رسول الله مذعنا مقتنعا، فمن ذلك أنه لما عرض على النبي أن يقتل رأس النفاق ابن أبيّ بعد ما كاد يثير فتنة بين المهاجرين والأنصار قال له النبي: «وكيف يتحدّث الناس- يا عمر- أن محمدا يقتل أصحابه» ؟!! ثم كان من المؤمن الصادق عبد الله بن عبد الله بن أبيّ أن جاء إلى النبي يعرض عليه قتل أبيه فقال له: «لا بل نترفّق به، ونحسن صحبته ما دام بيننا» !! وصار من أمر رأس النفاق أنه كلما أبدى لونا من ألوان النفاق لامه قومه وعنفوه، فأراد أن يبين الرسول لسيدنا عمر بعد نظره، وأصالة رأيه لمّا أبى على عمر قتله فقال: «كيف ترى يا عمر؟ أما والله لو قتلته يوم قلت لي لأرعدت له انف، لو أمرتها اليوم بقتله لقتلته» !! فقال عمر: قد- والله- علمت لأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم بركة من أمري!!.

وفي قصة حاطب بن أبي بلتعة قال الفاروق عمر: دعني يا رسول الله أضرب عنق هذا المنافق، وما كان- علم الله- منافقا، فقال له النبي:

«وما يدريك يا عمر لعل الله اطّلع على أهل بدر، فقال لهم: افعلوا ما شئتم فقد غفرت لكم ذنوبكم» !!

فإذا عمر يبكي بعد أن تبين له الحق، فيقول: «الله ورسوله أعلم» !! وسيدنا عمر هو القمة في العبقرية، ولكن أين العبقرية من النبوة؟! ومن العجيب حقا أن هذا المعنى الدقيق سبق إلى العلم به العباس عم

--------------------------------------------

(1) كان الفاروق عمر يرى الرأي ويتمناه فينزل الوحي بموافقته.

(2) رواه أحمد وغيره.
এতে এবং তারা তাঁকে যা দ্বারা বর্ণনা করেছে যা নবুওয়াতের অবমাননা করে বা একে ক্ষুণ্ণ করে; কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি একজন নবী এবং রাসূল, আর সকল শিকার বুনো গাধার পেটে (অর্থাৎ নবুওয়াতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত)।

আমি যা বুঝাতে চাই তার ওপর আলোকপাত ও অধিকতর স্পষ্টীকরণ হলো এই যে, দূরদর্শী মেধাবী অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত ফারুক এবং মুয়াফাকাত (ঐশী সমর্থিত মত)-এর অধিকারী «১», যাঁর সম্পর্কে নবী বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্যকে উমরের জিহ্বা ও হৃদয়ে স্থাপন করেছেন" «২», তিনি প্রায়শই কোনো মত প্রকাশ করতেন এবং রাসূলুল্লাহও কোনো মত প্রকাশ করতেন; অত:পর দেখা যেত তিনি রাসূলুল্লাহর মতের দিকে অনুগত ও সন্তুষ্ট চিত্তে ফিরে আসতেন। এর একটি উদাহরণ হলো এই যে, যখন তিনি নবীর কাছে মুনাফিকদের সর্দার ইবনে উবাইকে হত্যা করার প্রস্তাব দেন, যখন সে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করার উপক্রম করেছিল; তখন নবী তাঁকে বলেন: "হে উমর, মানুষ কী বলবে—যে মুহাম্মদ তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করে?"!! এরপর সত্যনিষ্ঠ মুমিন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই নবীর কাছে এসে নিজের পিতাকে হত্যা করার প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "না, বরং আমরা তার সাথে নম্র আচরণ করব এবং যতদিন সে আমাদের মাঝে থাকবে তার সাথে সদ্ব্যবহার করব"!! মুনাফিকদের সর্দারের অবস্থা এই দাঁড়ালো যে, সে যখনই নিফাকের কোনো রূপ প্রকাশ করত, তখনই তার সম্প্রদায় তাকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করত। রাসূলুল্লাহ যখন উমরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাকে হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন, তখন তিনি তাঁর দূরদর্শিতা ও মতামতের বলিষ্ঠতা উমরের কাছে স্পষ্ট করতে চাইলেন। তিনি বললেন: "হে উমর, এখন কী মনে করো? আল্লাহর কসম! তুমি যেদিন আমাকে প্রস্তাব করেছিলে সেদিন যদি আমি তাকে হত্যা করতাম, তবে বহু মানুষ ক্ষুব্ধ হতো (নাক স্ফীত হতো)। অথচ আজ যদি আমি তাদের তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিই, তবে তারা তাকে অবশ্যই হত্যা করবে"!! তখন উমর বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি জেনেছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের বরকত আমার সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি"!!.

হাতিব ইবনে আবি বালতাআর ঘটনায় ফারুক উমর বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে ছেড়ে দিন আমি এই মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই"—অথচ আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী সে মুনাফিক ছিল না। তখন নবী তাঁকে বললেন:

"হে উমর, তুমি কী জানো? হতে পারে আল্লাহ বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছি"!!

এরপর উমরের কাছে সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত"!! আমাদের নেতা উমর মেধার শীর্ষবিন্দুতে ছিলেন, কিন্তু নবুওয়াতের সামনে মেধার তুলনা কোথায়?! এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে, এই সূক্ষ্ম অর্থটি উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে নবীজির চাচা আব্বাস...

--------------------------------------------

(১) ফারুক উমর কোনো মত পোষণ করতেন এবং তা কামনা করতেন, অত:পর তাঁর মতের সমর্থনে ওহী নাযিল হতো।

(২) এটি আহমদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
النبي صلى الله عليه وسلم، على حين غفل عن إدراكه كبار الكتاب، وحذّاق المؤلفين المعاصرين الذين ضربوا في كل علم وفن بسهم، وليس أدل على هذا من هذه القصة:

ذلك أنه لما أسلم أبو سفيان بن حرب ليلة الفتح- وكان العباس رضي الله عنه قد سبقه إلى الإسلام- قال النبي للعباس: «خذ أبا سفيان، وقف به عند خطم «1» الجبل» وذلك ليرى جيش الفتح، فمرت به كتائب الله، وفيها «الكتيبة الخضراء» كتيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلم يملك أبو سفيان نفسه أن قال: لقد أصبح ملك ابن أخيك عظيما!! فقال له العباس رضي الله عنه: إنها النبوة يا أبا سفيان!! فقال: نعم- والله- إنها النبوة!!

لقد وقفت عند هذه الكلمة طويلا، وهي التي أوحت إلي بما كتبت، وأكّدت في نفسي ما كنت علمت «2» .

 

‌‌7- المعجزات الحسية:

الذي أؤمن به أن القران هو المعجزة العظمى للنبي صلى الله عليه وسلم، والاية العقلية الباقية على وجه الدهر، وأنه اية الايات، ومعجزة المعجزات، ولكني أؤمن أيضا أن النبي صلى الله عليه وسلم أوتي من المعجزات الحسية مثل ما أوتي الأنبياء السابقون، بل وأعظم، وهذه المعجزات الحسية بعضها ثابت بالقران الكريم نصا: كالإسراء، وانشقاق القمر، أو بالإشارة إليه كالمعراج، وبعضها ثابت بالأحاديث المتواترة، والكثير منها ثابت بالأحاديث الصحيحة المروية في الصحيحين وغيرهما من كتب

--------------------------------------------

(1) هو ما برز منه في الطريق.

(2) أذكر أنه طلب إلي من منذ بضعة عشر عاما أن أكتب مقالا لمجلة الأزهر بمناسبة الميلاد النبوي، فكتبت مقالا تحت عنوان «عبقرية النبي السياسية» وقد عرض المقال على أستاذنا الأكبر الشيخ محمد الخضر حسين رحمه الله رحمة واسعة، وكان شيخ الأزهر انذاك، فقرأ المقال وارتضاه، إلا أنه وقف عند العنوان، وصار يبتسم ابتسامته الوقورة المعبّرة، ففهمت ما أراد، واستشرته، فأشار علي أن أغيّر «عبقرية» «بموهبة» فأذعنت بعد أن اقتنعت، وكتبت تحت هذا العنوان بضع مقالات موسمية في مجلة «الأزهر» ، ومن يومها وأنا أبالغ في التحرّي حينما أكتب عن الرسول صلى الله عليه وسلم.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিষয়টি এমন যা উপলব্ধি করতে সমসাময়িক বড় বড় লেখক ও দক্ষ গ্রন্থকারগণ গাফেল ছিলেন, যারা প্রতিটি জ্ঞান ও শিল্পে নিজেদের পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আর এই বাস্তবতার ওপর এই ঘটনার চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই:

বিষয়টি হলো, যখন মক্কা বিজয়ের রাতে আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ইসলাম গ্রহণ করলেন—আর আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু তার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসকে বললেন: «আবু সুফিয়ানকে নিয়ে যাও এবং তাকে পাহাড়ের সম্মুখভাগে «১» দাঁড় করাও»। এটি করা হয়েছিল যাতে তিনি বিজয়ী বাহিনীকে দেখতে পান। এরপর আল্লাহর সেনাদলগুলো তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করল, যার মধ্যে ছিল «সবুজ বাহিনী» যা ছিল স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজস্ব বাহিনী। তখন আবু সুফিয়ান নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বলে উঠলেন: তোমার ভাতিজার রাজত্ব তো আজ বিশাল হয়ে গেছে!! তখন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন: হে আবু সুফিয়ান, এটি তো নবুওয়াত!! তখন তিনি বললেন: হ্যাঁ—আল্লাহর কসম—এটি নবুওয়াতই!!

আমি এই কথাটির ওপর দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করেছি, আর এটিই আমি যা লিখেছি তার অনুপ্রেরণা দিয়েছে এবং আমি যা জানতাম «২» তা আমার মনে আরও দৃঢ় করেছে।

 

‌‌৭- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহ:

আমি যা বিশ্বাস করি তা হলো, কুরআন হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা এবং মহাকালের বুকে চিরস্থায়ী এক বুদ্ধিবৃত্তিক নিদর্শন। এটি সকল নিদর্শনের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং সকল মুজিজার শ্রেষ্ঠ মুজিজা। তবে আমি এটিও বিশ্বাস করি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ববর্তী নবীদের মতো, বরং তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা দান করা হয়েছিল। এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহের কিছু অংশ পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট পাঠ দ্বারা প্রমাণিত: যেমন ইসরা এবং চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া; অথবা ইশারার মাধ্যমে প্রমাণিত যেমন মিরাজ। আবার কিছু মুতাওয়াতির হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত, এবং এর অনেকগুলো সহীহাইন ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত সহীহ হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত

--------------------------------------------

(১) এটি হলো পাহাড়ের সেই অংশ যা রাস্তার দিকে প্রসারিত বা বের হয়ে থাকে।

(২) আমার মনে পড়ছে যে, প্রায় দশ-বারো বছর আগে আমার কাছে আল-আযহার ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে নবীজীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি নিবন্ধ লেখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তখন আমি «নবীজীর রাজনৈতিক প্রতিভা» শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম। প্রবন্ধটি আমাদের মহান উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ আল-খিদর হুসাইন (আল্লাহ তাঁর ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন)-এর নিকট পেশ করা হয়েছিল, যিনি তৎকালীন আল-আযহারের প্রধান শাইখ ছিলেন। তিনি প্রবন্ধটি পড়লেন এবং পছন্দ করলেন, তবে তিনি শিরোনামটির কাছে এসে থামলেন এবং তাঁর চিরচেনা গাম্ভীর্যপূর্ণ ও অর্থবহ হাসি হাসলেন। আমি তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম এবং তাঁর পরামর্শ চাইলাম। তিনি আমাকে «প্রতিভা» শব্দটির পরিবর্তে «প্রদত্ত গুণ» শব্দটি ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন। আমি তাঁর যুক্তি বুঝতে পেরে তা মেনে নিলাম এবং এরপর থেকে আল-আযহার ম্যাগাজিনে এই শিরোনামে বেশ কিছু সাময়িক নিবন্ধ লিখেছিলাম। সেই দিন থেকে যখনই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কিছু লিখি, তখন অতিমাত্রায় সতর্কতা ও অনুসন্ধান বজায় রাখি।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
السنن والمسانيد. ولا يطعن في كونها معجزات أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يتحدّ الناس بها كما تحدّاهم بالقران الكريم؛ لأن فريقا من العلماء لا يشترط في المعجزة أن تكون مقترنة بالتحدي، ثم إن بعضها وإن لم يقع التحدّي به صراحة، لكنه في قوة المتحدّى به، ففي الصحيحين وغيرهما عن عدة من الصحابة أن المشركين من أهل مكة «سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يريهم اية، فأراهم القمر شقّين حتى رأوا حراء بينهما» .

ولا أدري ما الداعي إلى إنكار المعجزات الحسية؟! والشيء إذا تواردت عليه الأدلة والبراهين ازداد قوة وثبوتا، وفي كتب الأحاديث من الصحاح والسنن والمسانيد الكثير من المعجزات الحسية، والإمامان البخاري ومسلم وهما من هما، دقة وتحريا عن الرجال، وتشدّدا في الحكم بالتصحيح- قد خرّجا في صحيحيهما قطعة كبيرة منها، وعقد الإمام البخاري لذلك بابا كبيرا «1» ، ومن أراد زيادة في بحث «المعجزات الحسية» فليرجع إلى الفصل الذي كتبته في الرسالة التي ألفتها في «الإسراء والمعراج» «2» .

والأقدمون من المؤلفين في السير والتاريخ ذكروا الكثير من المعجزات الحسية، وإن اختلفوا في ذكرها قلّة وكثرة، وابن إسحاق- شيخ كتاب السّير وعمدتهم- ذكر منها جملة مع قرب عصره من عصر النبوة، وقد لقي الكثيرين ممن أخذوا العلم والحديث عن الصحابة العدول، وروى عنهم.

وقد ابتدع هذه البدعة السيئة- وهي الاكتفاء بالقران- المستشرقون، ثم سرت عدوى هذه البدعة إلى كتابنا المعاصرين كالدكتور محمد حسين هيكل رحمه الله في كتابه «حياة محمد» ، وكذلك صنع المستشرق الفرنسي الذي أسلم (اتيين دينيه) وزميله السيد سليمان إبراهيم الجزائري، في كتابيهما «حياة محمد» ، وقلما تجد أحدا من المؤلفين المتأخرين في «السيرة النبوية» يذكر شيئا من المعجزات الحسية.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري- باب علامات النبوة.

(2) ص 20- 27.
সুনান ও মাসানিদ গ্রন্থসমূহ। এই বিষয়গুলো মুজিজা হওয়ার ব্যাপারে এই আপত্তি তোলা যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনুল কারীমের ন্যায় এগুলো দিয়ে মানুষকে চ্যালেঞ্জ করেননি; কারণ আলেমদের একটি দল মুজিজা হওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জের সাথে যুক্ত হওয়াকে শর্ত মনে করেন না। এছাড়া এগুলোর কিছু যদি স্পষ্টভাবে চ্যালেঞ্জের সাথে নাও আসে, তবুও তা চ্যালেঞ্জের সমতুল্য শক্তিশালী। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কার মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি নিদর্শন দেখতে চাইল, তখন তিনি তাদের চাঁদকে দুই টুকরো করে দেখালেন, এমনকি তারা সে দুটোর মাঝখানে হেরা পর্বতকে দেখতে পেয়েছিল।

আমি জানি না ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাগুলো (অলৌকিক ঘটনা) অস্বীকার করার কারণ কী?! কোনো বিষয়ে যখন একের পর এক দলিল-প্রমাণ আসতে থাকে, তখন তা আরও শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। সিহাহ, সুনান ও মাসানিদ হাদীসগ্রন্থসমূহে প্রচুর পরিমাণে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজার বর্ণনা রয়েছে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম—যাঁরা বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চরম সূক্ষ্মতা ও বিশুদ্ধতার বিচারে কঠোরতার জন্য সুপরিচিত—তাঁরা নিজ নিজ সহীহ গ্রন্থে এ ধরনের মুজিজার বিশাল এক অংশ সংকলন করেছেন। ইমাম বুখারী তো এজন্য একটি বড় অধ্যায়ই রচনা করেছেন (১)। যারা "ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা" নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করতে চান, তারা আমার রচিত "ইসরা ও মিরাজ" বিষয়ক রিসালার সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদটি দেখে নিতে পারেন (২)।

সীরাত ও ইতিহাসের প্রাচীন লেখকগণ অনেক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজার কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও বর্ণনার কম-বেশির ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। সীরাত লেখকদের গুরু ও প্রধান স্তম্ভ ইবনে ইসহাক—যাঁর যুগ নবুওয়াতের যুগের কাছাকাছি ছিল—তিনি এগুলোর এক বিশাল অংশ বর্ণনা করেছেন। তিনি এমন অনেক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেয়েছেন যারা ন্যায়পরায়ণ সাহাবীদের থেকে ইলম ও হাদীস গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

এই মন্দ বিদআত—অর্থাৎ কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা—প্রাচ্যবিদরাই উদ্ভাবন করেছে। পরবর্তীতে এই বিদআতের সংক্রামক প্রভাব আমাদের সমসাময়িক লেখকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন ডক্টর মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'হায়াতে মুহাম্মদ' গ্রন্থে এমনটি করেছেন। একইভাবে ইসলাম গ্রহণকারী ফরাসি প্রাচ্যবিদ ইতিয়েন দিনিয়ে এবং তাঁর সহকর্মী সায়্যেদ সুলাইমান ইবরাহিম আল-জাজাইরি তাঁদের 'হায়াতে মুহাম্মদ' গ্রন্থে একই কাজ করেছেন। বর্তমানকালের 'সীরাতে নববী' লেখকদের মধ্যে এমন কাউকে খুব কমই পাওয়া যায় যারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাগুলো উল্লেখ করেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী - নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ অধ্যায়।

(২) পৃষ্ঠা ২০-২৭।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن هؤلاء من يتلطف فيقول: إنه ما دام القران اية دالة على صدق النبي صلى الله عليه وسلم، فنحن في غنية عن غيره من الايات، ولا سيما والكثير منها لم يثبت إلا بالطرق الاحادية التي لا تفيد اليقين، ومنهم من يجاهر فينكر المعجزات الحسية جملة!!.

وأحب أن أقول لهؤلاء وأولئك: إن موقفهم من المعجزات الحسية وإنكارها، حدا ببعض المبشرين والمستشرقين إلى الطعن في النبي، وتفضيل غيره من الأنبياء عليه، بحجة أن النبي محمدا عليه الصلاة والسلام ليس له من المعجزات الحسية المتكاثرة ما لموسى وعيسى عليهما الصلاة والسلام، وهكذا نراهم قد أعطوا لأعداء النبي- وإن لم يقصدوا- متكأ لهمزه ولمزه.

وأما أنا- اتباعا للمنهج العلمي الصحيح- فلن أجاريهم في هذا، فالشيء ما دام من الممكنات العقلية، ثم أخبر بوقوعه الرواة الموثوق بهم عدالة، وضبطا، وأمانة، فلا يجوز أن ننكره استنادا إلى استبعاده في العادة، وهل المعجزات إلا أمور خارقة للعادة.

وقد يكون من العوامل التي جعلتني أقف هذا الموقف بعد البحث والروية أني من المتخصصين في الحديث الشريف وعلومه، الذين سبحوا في بحاره، وغاصوا في أعماقه، حتى وصلوا إلى شيء من لالئه ودرره، واقتنعوا بعد الدراسة الطويلة المضنية بدقة ووفاء القواعد التي وضعها أئمة الحديث، وصيارفته وأطباؤه، لمعرفة الصحيح، من الحسن، من الضعيف، والمقبول من المردود «1» ، وليس من البحث العلمي السليم إنكار المرويات جملة، وإنما الطريقة العلمية الصحيحة نقدها من ناحية السند والمتن، فإن لم نجد فيها مطعنا قبلناها، وإلا تركناها، فإذا لم نتبع هذه الطريقة صار الإنكار هوى وشهوة.

وإليك ما ذكره الإمام الحافظ الكبير ابن حجر في هذا، قال: «وأما ما عدا القران من نبع الماء من بين أصابعه وتكثير الطعام، وانشقاق القمر، ونطق

--------------------------------------------

(1) أعلام المحدثين للمؤلف ص 35- 42.
আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা নম্রতার সাথে বলে যে: যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতার পরিচায়ক নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে, ততক্ষণ আমাদের অন্য কোনো নিদর্শনের প্রয়োজন নেই; বিশেষ করে যখন সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই শুধুমাত্র আহাদ (একক) সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। আবার তাদের মধ্যে এমনও কেউ আছে যারা প্রকাশ্যেই সমস্ত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাকে (অলৌকিক ঘটনা) সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করে বসে।

আমি তাদের উভয় পক্ষকেই বলতে চাই: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহের ব্যাপারে তাদের এই অবস্থান এবং সেগুলো অস্বীকার করার বিষয়টি অনেক ধর্মপ্রচারক ও প্রাচ্যবিদকে নবীর ওপর অপবাদ দিতে এবং তাঁর ওপর অন্য নবীদের প্রাধান্য দিতে প্ররোচিত করেছে। তারা এই অজুহাত পেশ করে যে, মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের মতো নবী মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের এত বিপুল সংখ্যক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা নেই। এভাবে আমরা দেখি যে, তারা নবীর শত্রুদের জন্য—যদিও তা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক—তাঁকে বিদ্রূপ ও কটাক্ষ করার একটি অজুহাত তৈরি করে দিয়েছে।

আর আমি—সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের খাতিরে—এ বিষয়ে তাদের সাথে একমত হতে পারছি না। কারণ কোনো বিষয় যতক্ষণ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম্ভবপর থাকে, এবং এরপর বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ তাদের ন্যায়পরায়ণতা, নির্ভুলতা ও আমানতদারিতার সাথে সেটি সংঘটিত হওয়ার খবর দেন, তখন অভ্যাসগতভাবে তা অসম্ভব মনে হওয়ার ভিত্তিতে আমাদের পক্ষে তা অস্বীকার করা জায়েজ নেই। আর মুজিজা কি অভ্যাস বহির্ভূত কোনো বিষয় ছাড়া অন্য কিছু?

গবেষণা ও গভীর চিন্তার পর যে কারণগুলো আমাকে এই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, তার মধ্যে একটি হতে পারে যে আমি হাদিস শরিফ ও এর বিজ্ঞানের একজন বিশেষজ্ঞ, যারা এর সমুদ্রগুলোতে সাঁতার কেটেছেন এবং এর গভীরে ডুব দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা এর কিছু মুক্তা ও মণিমাণিক্যের সন্ধান পেয়েছেন। দীর্ঘ ও হাড়ভাঙা গবেষণার পর তারা হাদিসের ইমাম, এর দক্ষ পর্যালোচক এবং বিজ্ঞ পণ্ডিতদের প্রণীত নিয়মাবলির নির্ভুলতা ও পূর্ণাঙ্গতার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছেন; যে নিয়মগুলো সহিহ, হাসান, জয়িফ এবং গ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সমস্ত বর্ণনাকে পাইকারিভাবে অস্বীকার করা কোনো সুস্থ বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজ নয়। বরং সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ)-এর দিক থেকে সেগুলো সমালোচনা বা বিচার-বিশ্লেষণ করা। যদি আমরা সেগুলোতে কোনো ত্রুটি না পাই তবে তা গ্রহণ করব, অন্যথায় তা বর্জন করব। আমরা যদি এই পদ্ধতি অনুসরণ না করি, তবে কোনো কিছু অস্বীকার করা কেবল প্রবৃত্তির অনুসরণ হিসেবে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে মহান ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন তা আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করছি। তিনি বলেন: "কুরআন ব্যতিরেকে অন্যান্য মুজিজা যেমন আঙ্গুলের মাঝখান থেকে পানি নির্গত হওয়া, খাদ্যের প্রাচুর্য ঘটা, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং কথা বলা..."

--------------------------------------------

(১) লেখকের রচিত 'আলামুল মুহাদ্দিসিন', পৃষ্ঠা ৩৫-৪২।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الجماد، فمنه ما وقع التحدّي به، ومنه ما وقع دالا على صدقه من غير سبق تحدّ، ومجموع ذلك يفيد القطع بأنه ظهر على يده صلى الله عليه وسلم من خوارق العادات شيء كثير، كما يقطع بوجود جود حاتم، وشجاعة علي، وإن كانت أفراد ذلك ظنية وردت مورد الاحاد، مع أن كثيرا من المعجزات النبوية قد اشتهر، وانتشر، ورواه العدد الكبير، والجم الغفير، وأفاد الكثير منه القطع عند أهل العلم بالاثار، والعناية بالسير والأخبار، وإن لم يصل عند غيرهم إلى هذه الرتبة لعدم عنايتهم بذلك، بل لو ادّعى مدّع أن غالب هذه الوقائع مفيدة للقطع بطريق نظري لما كان مستبعدا، وهو أنه لا مرية أن رواة الأخبار في كل طبقة قد حدّثوا بهذه الأخبار في الجملة، ولا يحفظ عن أحد من الصحابة، ولا من بعدهم مخالفة الراوي فيما حكاه من ذلك، ولا الإنكار عليه فيما هنالك، فيكون الساكت منهم كالناطق، لأن مجموعهم محفوظ من الإغضاء على الباطل» «1» .

ومعذرة إذا كنت أطلت في هذا، فالأمر يتعلق بمنهجين، وطريقتين، فكان لا بد من بيان الطريقة المثلى، والمنهج الحق المبين.

 

‌‌8-: [الاعتناء بذكر التشريعات الإسلامية وتاريخها]

قد عنيت- ما استطعت- بذكر التشريعات الإسلامية وتاريخها، ولا سيما في القسم الثاني المدني الذي حفل بها، لأنها وثيقة الصلة بالسيرة النبوية، كما أخذت نفسي بذكر نبذ موجزة- ولكنها مفيدة- عن هذه التشريعات، حتى أعطي للقارئ صورة صادقة للإسلام الصحيح، وذلك كما صنعت في تشريع الصلاة، والأذان، وتحويل القبلة إلى الكعبة، والصوم، والزكاة، والعيدين، والحجاب، ونكاح المتعة ونحوها، وكذلك الأحداث المتعلقة بالسيرة كبناء مسجد قباء، والمسجد النبوي، وفضلهما، ومنزلة المساجد في الإسلام، ومسجد الضرار، وزواج النبي من أزواجه، مع بيان الحكمة في هذا الزواج، وذكر تعريف بكل زوجة، ومواليد المشاهير من الصحابة،

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، ج 7 ص 392- 393 ط الحلبي.
জড়বস্তু; যার কিছু অলৌকিক ঘটনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে পেশ করা হয়েছিল, আর কিছু নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে কোনো পূর্ববর্তী চ্যালেঞ্জ ছাড়াই সংঘটিত হয়েছিল। এসবের সমষ্টিগত রূপ এই বিষয়ে সুনিশ্চিত জ্ঞান দান করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে অসংখ্য অলৌকিক বিষয় (খাওয়ারিকে আদত) প্রকাশ পেয়েছে; যেমনটি হাতিম তাঈর দানশীলতা এবং আলীর বীরত্বের অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়, যদিও এগুলোর একক বর্ণনাগুলো ক্ষেত্রবিশেষে ধারণাপ্রসূত বা একক সংবাদ (আহাদ) হিসেবে বর্ণিত। তা সত্ত্বেও বহু নববী মুজিযা এমন রয়েছে যা প্রসিদ্ধি ও প্রচার লাভ করেছে এবং এক বিশাল জনসমষ্টি তা বর্ণনা করেছেন। আছার (ঐতিহাসিক নিদর্শন) শাস্ত্রের পণ্ডিত এবং সীরাত ও সংবাদের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তিদের নিকট এসবের অনেকগুলোই সুনিশ্চিত জ্ঞানের (কাত্য়ি) মর্যাদা লাভ করেছে, যদিও অন্যদের নিকট এ বিষয়ে মনোযোগের অভাবে তা এই স্তরে পৌঁছেনি। বরং যদি কোনো দাবিদার দাবি করে যে, এই ঘটনাগুলোর অধিকাংশই তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে সুনিশ্চিত জ্ঞান প্রদানের উপযোগী, তবে তা অসম্ভব কিছু হবে না। আর বিষয়টি হলো এই যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে প্রত্যেক স্তরের বর্ণনাকারীরা সামগ্রিকভাবে এই সংবাদগুলো বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবী বা তাদের পরবর্তী কারো পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণিত বিষয়ের বিপরীতে কোনো ভিন্নমত অথবা কোনো আপত্তি সংরক্ষিত নেই। সুতরাং তাদের নীরবতা বর্ণনাকারীর বক্তব্যের সমর্থক হিসেবেই গণ্য হবে, কারণ তাঁদের সামগ্রিক জামাত বাতিলের ওপর একমত হওয়া বা নীরব থাকা থেকে সুরক্ষিত। (১)

এই বিষয়ে আলোচনার দীর্ঘায়নের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী; বিষয়টি আসলে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই সঠিক পথ এবং স্পষ্ট সত্য পদ্ধতিটি বয়ান করা আবশ্যক ছিল।

 

‌‌৮-: [ইসলামি বিধিবিধান এবং এর ইতিহাস বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ]

আমি সাধ্যমতো ইসলামি বিধিবিধান এবং এর ইতিহাস উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি, বিশেষ করে দ্বিতীয় ভাগ অর্থাৎ মাদানী জীবনে, যা এসবে পরিপূর্ণ। কারণ সীরাতে নববীর সাথে এগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমি এই বিধানগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকর আলোচনা উপস্থাপনের নীতি গ্রহণ করেছি, যাতে পাঠকের সামনে ইসলামের সঠিক ও বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। যেমনটি আমি করেছি সালাত, আজান, কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন, রোজা, জাকাত, দুই ঈদ, হিজাব, মুতআ বিবাহ ও এই জাতীয় বিধানগুলোর বর্ণনায়। একইভাবে সীরাত সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী যেমন কুবা মসজিদ ও মসজিদে নববী নির্মাণ, তাদের ফজিলত, ইসলামে মসজিদের মর্যাদা, মাসজিদে দিরার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবাহসমূহ ও তার হিকমত (প্রজ্ঞা) বর্ণনার পাশাপাশি প্রত্যেক স্ত্রীর পরিচয় এবং প্রসিদ্ধ সাহাবীদের জন্ম-বৃত্তান্তও উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৯২-৩৯৩, হালাবী সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ووفياتهم، والتعريف بفضلهم ومنزلتهم بإيجاز، حتى لا يصل الكتاب إلى بضعة أسفار، إلى غير ذلك مما لا يستغني عن معرفته مسلم، فضلا عن طالب علم.

ولذلك التزمت التسلسل الزمني في السيرة بذكر السنوات وما حدث فيها كما صنع كثير من المؤلفين، ليسهل على القارىء لهذه السيرة معرفة تاريخ هذه التشريعات حتى بمجرد النظر إلى الفهرس، وقد اثرت هذه الطريقة على الطريقة الموضوعية في البحث، وإن كنت في بعض الأحيان التزمت الطريقة الموضوعية في البحث كما صنعت في هذا الجزء حينما عرضت لسياسة «الاضطهاد والإيذاء» وسياسة «الإطماع والإغراء» وعدم جدوى السياستين مع النبي صلى الله عليه وسلم والمؤمنين المخلصين.

وفي الجزء الثاني حينما عرضت لبيان «موقف الإسلام من اليهود، وموقف اليهود من الإسلام» فقد جمعت الموضوع في مكان واحد، وكذلك فاتني، أو إن شئت الدقة فقل: أعجلت عن أن أكتب فصلا اخر عن «موقف الإسلام من المنافقين وموقف المنافقين من الإسلام» وسأتدارك ذلك- إن شاء الله- في الطبعة الثانية للجزء الثاني، كما فاتني أن أذكر في الفصول الموجزة التي ختمت بها الجزء الثاني عن المثل الكامل صلى الله عليه وسلم، وجوانب حياته المشرقة بعض الفصول مثل «النبي المشرّع» و «النبي القاضي» و «النبي المفتي» ونحوها وسأتدارك ذلك بمشيئة الله تبارك وتعالى.

وقد التزمت هذا المنهج بذكر التشريعات، وأخلاق الرسول في نفسه، ومع ربه تبارك وتعالى، ومع أهله وزوجه وولده، ومع أصحابه، ومع أعدائه، وفي سره، وعلنه، ويسره، وعسره، ومنشطه، ومكرهه، حتى يخرج القارىء لهذه السيرة العطرة بصورة مشرقة معبرة عن الرسالة، وعن الرسول.

 

‌‌9-: [ذكر النقول بنصها]

قد حرصت ما استطعت على ذكر النقول بنصها ولا سيما فيما يتعلق بما ذكره ابن إسحاق في سيرته، إلا أن يكون هناك نص أصح منه، أو أوثق أو أوفى مروي في غير السيرة فإني أؤثره عليه، وذلك لما يمتاز به التأليف في
এবং তাঁদের মৃত্যুসন, এবং সংক্ষেপে তাঁদের মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান করা হয়েছে, যাতে গ্রন্থটি কয়েক খণ্ডে পর্যবসিত না হয়। এছাড়া আরও এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা একজন মুসলমানের জন্য জানা অপরিহার্য, আর একজন তালিবে ইলমের জন্য তো তা আরও বেশি জরুরি।

একারণে আমি সীরাত বর্ণনায় কালানুক্রমিক ধারা অনুসরণ করেছি এবং বছর ও তাতে সংঘটিত ঘটনাবলি উল্লেখ করেছি, যেমনটি অনেক লেখকই করেছেন। যাতে এই সীরাতের পাঠকের জন্য এসব বিধান প্রবর্তনের ইতিহাস জানা সহজ হয়, এমনকি সূচিপত্রের দিকে এক নজর তাকালেই যেন তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমি গবেষণার ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক পদ্ধতির চেয়ে এই পদ্ধতিটিকেই প্রাধান্য দিয়েছি; যদিও কখনও কখনও আমি গবেষণার বিষয়ভিত্তিক পদ্ধতিও অনুসরণ করেছি, যেমনটি আমি এই অংশে করেছি—যখন আমি ‘নির্যাতন ও নিপীড়ন’ নীতি এবং ‘প্রলোভন ও প্ররোচনা’ নীতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও একনিষ্ঠ মুমিনদের ক্ষেত্রে এই উভয় নীতির ব্যর্থতা তুলে ধরেছি।

দ্বিতীয় খণ্ডে ‘ইহুদীদের প্রতি ইসলামের অবস্থান এবং ইসলামের প্রতি ইহুদীদের অবস্থান’ বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি বিষয়টিকে এক স্থানে পুঞ্জীভূত করেছি। একইভাবে আমার নজর এড়িয়ে গেছে, অথবা সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে—তাড়াহুড়োর কারণে ‘মুনাফিকদের প্রতি ইসলামের অবস্থান এবং ইসলামের প্রতি মুনাফিকদের অবস্থান’ সম্পর্কে আরেকটি অধ্যায় লিখতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ, আমি দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় মুদ্রণে এর প্রতিকার করব। এছাড়া দ্বিতীয় খণ্ডের শেষে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ চরিত্র ও তাঁর জীবনের উজ্জ্বল দিকগুলো নিয়ে যে সংক্ষিপ্ত অধ্যায়গুলো সমাপ্ত করেছি, সেখানে ‘আইনপ্রণেতা নবী’, ‘বিচারক নবী’ ও ‘মুফতি নবী’ এবং এই জাতীয় কিছু অধ্যায় উল্লেখ করা থেকে আমি বঞ্চিত হয়েছি। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার ইচ্ছায় আমি অচিরেই এগুলোর প্রতিকার করব।

আমি শরয়ি বিধানসমূহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিগত আখলাক, তাঁর রব তাবারাকা ওয়া তাআলার সাথে তাঁর সম্পর্ক, তাঁর পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে তাঁর আচরণ, তাঁর সাহাবীদের সাথে এবং তাঁর শত্রুদের সাথে তাঁর ব্যবহার—সবকিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। তাঁর গোপন ও প্রকাশ্য জীবন, সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা এবং আনন্দ ও অপছন্দের মুহূর্তগুলোর বর্ণনাও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাতে এই সুবাসিত সীরাতের পাঠক রিসালাত ও রাসূল সম্পর্কে এক উজ্জ্বল ও অর্থবহ চিত্র লাভ করতে পারেন।

 

‌‌৯-: [উদ্ধৃতিসমূহ মূল পাঠ অনুযায়ী উল্লেখ করা]

আমি সাধ্যমতো উদ্ধৃতিসমূহ মূল পাঠ অনুযায়ী হুবহু উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি, বিশেষ করে ইবনে ইসহাক তাঁর সীরাত গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন সে ক্ষেত্রে। তবে যদি সীরাত গ্রন্থের বাইরে অন্য কোথাও এর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য বা পূর্ণাঙ্গ কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে আমি সেটাকেই সেটির ওপর প্রাধান্য দিয়েছি। কেননা এই ক্ষেত্রে রচনার যে বৈশিষ্ট্য...
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
العصور الأولى من قوة الأسلوب، وفحولة المعاني، وجزالة الألفاظ، وإشراق الديباجة، والتزام أساليب العرب، ومذاهبهم في البيان.

وإنك لتقرأ في كتب الحديث، أو في سيرة ابن هشام، أو إن شئت الإنصاف سيرة ابن إسحاق، فتحس بأنك تعيش في جو عربي أصيل، وأنك بين قوم عرب أصلاء، فلا ميوعة في الألفاظ، ولا ضحولة في المعاني، ولا مسخ لمناهج العرب في التعبير، ولهذا اثرت المحافظة على النصوص حتى تكون السيرة إلى فائدتها العلمية أداة من أدوات تقويم اللسان، واستقامة البيان، وتعلم الأساليب العربية الفحلة، ولن يستقيم للأمة العربية اليوم أساليبها البيانية، وتتقوم ألسنتها على القواعد العربية، حتى ترجع إلى منابع العربية الفصحى السليمة وهي القران، والحديث، وما أثر عن العرب الخلّص في الجاهلية والإسلام.
প্রথম যুগের শৈলীর শক্তি, অর্থের বলিষ্ঠতা, শব্দের প্রাঞ্জলতা, প্রস্তাবনার দীপ্তি এবং আরবদের শৈলী ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পদ্ধতির দৃঢ়তা।

আপনি যখন হাদিসের গ্রন্থসমূহ, অথবা ইবনে হিশামের সিরাত, কিংবা আপনি যদি ইনসাফ চান তবে ইবনে ইসহাকের সিরাত পাঠ করবেন, তখন আপনি অনুভব করবেন যে আপনি এক অকৃত্রিম আরব পরিবেশে বসবাস করছেন এবং আপনি খাঁটি আরবদের মাঝে রয়েছেন। সেখানে শব্দের কোনো শিথিলতা নেই, অর্থের কোনো অগভীরতা নেই এবং ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে আরবদের পদ্ধতির কোনো বিকৃতি নেই। আর এই কারণেই আমি মূল পাঠসমূহ সংরক্ষণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যাতে সিরাত তার তাত্ত্বিক উপযোগিতার পাশাপাশি ভাষা সংশোধন, বাচনভঙ্গির ঋজুতা এবং বলিষ্ঠ আরবি শৈলী শেখার একটি অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়। বর্তমান যুগে আরব জাতির অলঙ্কারিক শৈলী ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না এবং তাদের ভাষা ততক্ষণ পর্যন্ত আরবি ব্যাকরণের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না তারা বিশুদ্ধ আরবির আদি ও অকৃত্রিম উৎসসমূহের দিকে ফিরে যাবে; আর তা হলো কুরআন, হাদিস এবং জাহিলিয়াত ও ইসলামি যুগের খাঁটি আরবদের থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
-‌‌ 2- تاريخ التأليف في السيرة وأشهر كتبها

لقد عني المسلمون عناية فائقة بأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسننه، وأيامه، ومغازيه، وقبل أن تدوّن الأحاديث تدوينا عاما في اخر القرن الأول الهجري، كانت مقيدة في الحوافظ، مدوّنة في الصدور عند جمهرة الصحابة، والتابعين، وكان القارئون الكاتبون منهم يدونون منها ما استطاعوا من لدن النبي صلى الله عليه وسلم إلى عهد التدوين، ومن ذلك ما يتعلق بسيرة النبي ومغازيه.

 

‌‌السيرة جزء من الحديث

وقد شغلت السيرة النبوية حيزا غير قليل من الأحاديث، والذين ألفوا في الأحاديث لم تخل كتبهم غالبا عن ذكر ما يتعلق بحياة النبي ومغازيه، وخصائصه، ومناقبه، ومناقب صحابته، وقد استمر هذا المنهج حتى بعد انفصال السيرة عن الحديث في التأليف، وجعلها علما مستقلا، وأقدم كتاب وصل إلينا في الأحاديث، وهو «موطأ» الإمام مالك- رحمه الله (المتوفى 179) ، لم يخل من ذكر جملة من الأحاديث فيما يتعلق بسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وأوصافه، وأسمائه، وذكر ما يتعلق بالجهاد.

وصحيح الإمام أبي عبد الله البخاري (المتوفى 256) ذكر فيه قطعة كبيرة مما يتعلق بحياة النبي صلى الله عليه وسلم قبل البعثة وبعدها، كما ذكر كتاب «المغازي» وما يتعلق بخصائصه وفضائله عليه الصلاة والسلام، وفضائل أصحابه ومناقبهم، وذلك كله لا يقل عن عشر الكتاب «1» ، وكذلك صحيح الإمام

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري: كتاب الجهاد، وكتاب المغازي، وكتاب الفضائل، وأبواب المناقب.
২- সীরাত রচনার ইতিহাস ও এর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ

মুসলমানগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস, তাঁর সুন্নাত, তাঁর জীবনকাল এবং তাঁর যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রতি গভীর মনোযোগ প্রদান করেছেন। হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে হাদীসের সাধারণ সংকলন ও গ্রন্থায়নের পূর্বে এগুলো সাহাবী ও তাবেয়ীগণের এক বিশাল জামাতের স্মৃতিতে ও অন্তরে সংরক্ষিত ছিল। তাদের মধ্যে যারা লিখতে ও পড়তে জানতেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে সংকলনকাল পর্যন্ত সাধ্যমতো তা লিপিবদ্ধ করতেন। এর মধ্যেই নবীজির সীরাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়াদিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

সীরাত হাদীসেরই একটি অংশ

সীরাতে নববী হাদীসসমূহের একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে। যারা হাদীস গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কিতাবগুলো সাধারণত নবীজির জীবন, যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিশেষ বৈশিষ্ট্য, গুণাবলী এবং তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা আলোচনা থেকে খালি ছিল না। গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সীরাত হাদীস থেকে পৃথক হয়ে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে পরিগণিত হওয়ার পরও এই ধারা অব্যাহত ছিল। হাদীসশাস্ত্রের যে প্রাচীনতম কিতাবটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা হলো ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু ১৭৯ হিজরী)-এর ‘মুয়াত্তা’। এই কিতাবটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত, তাঁর বৈশিষ্ট্য, তাঁর নামসমূহ এবং জিহাদ সংক্রান্ত হাদীসের আলোচনা থেকে মুক্ত নয়।

আর ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী)-এর সহীহ বুখারীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত পূর্ব ও নবুওয়াত পরবর্তী জীবনের একটি বড় অংশ বর্ণিত হয়েছে। যেমন তিনি ‘কিতাবুল মাগাযী’ এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত এবং তাঁর সাহাবীগণের ফযীলত ও মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন। এই সব মিলিয়ে পুরো কিতাবের অন্তত দশভাগের একভাগ হবে। ঠিক একইভাবে ইমাম

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী: কিতাবুল জিহাদ, কিতাবুল মাগাযী, কিতাবুল ফাদায়িল এবং মানাকিব অধ্যায়সমূহ।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي الحسين مسلم بن الحجاج (المتوفى 261) اشتمل على جزء كبير من سيرة النبي، وفضائله، وفضائل أصحابه، والجهاد والسير «1» .

وكذلك صنع الإمام أحمد (المتوفى 241) في مسنده الكبير، وأبو داود، والنسائي، والترمذي، وابن ماجه، لم تخل كتبهم من كتاب الجهاد، وذكر طرف مما يتعلق بالسير، وهذا يدل على الصلة الوثيقة بين الأحاديث والسير، فهي جزء منها.

 

‌‌التأليف في السير على سبيل الاستقلال

وكذلك ألّفت في السيرة النبوية كتب خاصة بها، وقد بدأ التدوين فيها على سبيل الاستقلال في النصف الثاني من القرن الأول الهجري، وأول من عرف بالمغازي والسير جماعة منهم:

1- أبان بن عثمان بن عفّان: ابن الخليفة الثالث- رضي الله عنه وكان أبان واليا على المدينة لعبد الملك بن مروان سبع سنين، وعرف بالحديث والفقه، والظاهر أن سيرته التي جمعت لم تكن إلا صحفا فيها أحاديث عن حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأيامه، ومغازيه، وقد فقدت فيما فقد من كتب المسلمين وكانت وفاته سنة خمس ومائة.

2- عروة بن الزبير بن العوام: أبوه الزبير حواريّ رسول الله صلى الله عليه وسلم، أسلم قديما، وشهد الغزوات، والمشاهد كلها، وأمه السيدة أسماء بنت الصديق التي شهدت الكثير من أحداث السيرة، وكان لها عمل مشهور مذكور في الهجرة، وكان عروة ثقة كثير الحديث، وقد خرّج له أصحاب الصحاح، وغيرهم، وقد روى الحديث عن خالته السيدة عائشة- رضي الله عنها وعن غيرها من الصحابة، وكان معروفا بتدوين العلم والحديث، روى ابنه هشام قال: «أحرق أبي يوم الحرّة كتبا قد كانت له» ، فكان يقول: «لأن تكون عندي أحب إلي من أن يكون لي مثل أهلي وولدي» ، ولم يصل لنا شيء من كتبه.

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم بشرح النووي، ج 12، 13، 15، 16.
আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ (মৃত্যু ২৬১ হি.)-এর গ্রন্থটি নবীজির সীরাত (জীবনী), তাঁর ফযীলত, তাঁর সাহাবীদের ফযীলত এবং জিহাদ ও সীরাতের একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছে [১]।

একইভাবে ইমাম আহমাদ (মৃত্যু ২৪১ হি.) তাঁর বিশাল মুসনাদ গ্রন্থে এমনটি করেছেন; এবং আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-এর গ্রন্থসমূহও জিহাদ অধ্যায় এবং সীরাত সংশ্লিষ্ট বর্ণনার অংশবিশেষ থেকে মুক্ত নয়। এটি হাদীস ও সীরাতের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের প্রমাণ দেয়, কারণ সীরাত হাদীসেরই একটি অংশ।

 

‌‌স্বতন্ত্রভাবে সীরাত বিষয়ক গ্রন্থ রচনা

একইভাবে সীরাতে নববী বিষয়ে বিশেষায়িত গ্রন্থাবলী রচিত হয়েছে। হিজরী প্রথম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধেই স্বতন্ত্রভাবে সীরাত সংকলন শুরু হয়। মাগাযী ও সীরাত বিষয়ে যারা সর্বপ্রথম পরিচিতি লাভ করেছেন, তাদের একটি দল নিম্নরূপ:

১- আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান: তৃতীয় খলীফার (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পুত্র। আবান সাত বছর পর্যন্ত আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের পক্ষ থেকে মদীনার গভর্নর ছিলেন। তিনি হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন। এটি প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর সংকলিত সীরাত গ্রন্থটি মূলত কিছু পাণ্ডুলিপি বা সহীফা ছিল, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন, তাঁর দিনলিপি ও তাঁর যুদ্ধাভিযান সম্পর্কিত হাদীসসমূহ ছিল। মুসলমানদের হারিয়ে যাওয়া কিতাবসমূহের মধ্যে এটিও হারিয়ে গেছে। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০৫ হিজরীতে।

২- উরওয়াহ ইবনে আয-যুবাইর ইবনুল আওয়াম: তাঁর পিতা যুবাইর ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ সহযোগী, যিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং সকল যুদ্ধ ও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মাতা আসমা বিনতে আস-সিদ্দীক সীরাতের অনেক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন এবং হিজরতের সময় তাঁর একটি সুপরিচিত অবদান রয়েছে। উরওয়াহ ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও বহু হাদীস বর্ণনাকারী; ‘সিহাহ’ ও অন্যান্য গ্রন্থের সংকলকগণ তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর খালা আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) এবং অন্যান্য সাহাবীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইলম ও হাদীস লিপিবদ্ধ করার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর পুত্র হিশাম বর্ণনা করেন: “আমার পিতা হাররার যুদ্ধের দিন তাঁর কাছে থাকা কিছু কিতাব পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।” তিনি বলতেন: “সেই কিতাবগুলো আমার কাছে থাকা আমার পরিবার ও সন্তানের চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল।” তাঁর কোনো কিতাব আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম, খণ্ড ১২, ১৩, ১৫, ১৬।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولكن وصل إلينا الكثير من روايته في كتب الحديث والسير وتوفي سنة اثنتين أو ثلاث أو خمس وتسعين للهجرة.

3- الإمام محمد بن شهاب الزهري: عالم الحجاز، والشام، وهو من الثقات في الرواية، أجمع العلماء على جلالته، أخرج له أصحاب الصحاح، والسنن، والمسانيد، وهو من أوائل من دوّنوا الحديث بأمر الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز- رضي الله عنه (المتوفى 101) بل قيل: إنه أول من دوّن الحديث مطلقا، وكذلك قيل: إنه أول من دوّن في السيرة، وسيرته أول سيرة ألفت في الإسلام «1» ، وهي من أوثق السير وأصحها، ويعتمد عليه ابن إسحاق كثيرا في السيرة توفي سنة 120 هـ.

 

‌‌طبقة أخرى

ثم جاء بعد هؤلاء طبقة «2» أخرى، من مشاهيرهم:

1- عاصم بن عمر بن قتادة بن النعمان الأنصاري: كان جده قتادة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، شهد بدرا وأحدا والمشاهد، وأصيبت عينه يوم أحد، فسقطت على وجنته، فردها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فعادت أحسن عينيه وأحدّهما، وابنه عمر روى المغازي والأخبار عن أبيه، ورواها عن عمر ابنه عاصم، قال فيه ابن سعد: كان راوية للعلم، وله علم بالمغازي والسير، أمره عمر بن عبد العزيز أن يجلس في مسجد دمشق، ويحدث الناس بالمغازي ومناقب الصحابة، ففعل، وكان من المصادر المهمة التي اعتمد عليها ابن إسحاق، والواقدي، توفي سنة عشرين ومائة، وقيل: تسع وعشرين ومائة.

2- عبد الله بن أبي بكر، بن محمد، بن عمرو، بن حزم الأنصاري:

جده الأعلى عمرو صحابي، بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن، ليفقههم في الدين، ويعلمهم القران والسنة، وجده محمد قيل: له رؤية، مات يوم الحرة،

--------------------------------------------

(1) الروض الأنف، ج 1 ص 122؛ السيرة الحلبية، ج 1 ص 2.

(2) الطبقة في اصطلاح المحدثين: جماعة تقاربوا في السن، واجتمعوا في لقاء المشايخ، والأخذ عنهم.
কিন্তু হাদিস ও সিরাতের কিতাবসমূহে তাঁর অনেক বর্ণনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং তিনি হিজরি বিরানব্বই, তিরানব্বই বা পঁচানব্বই সালে ইন্তেকাল করেন।

৩- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আল-জুহরি: হিজাজ ও শামের আলেম। তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সিহাহ সিত্তাহ, সুনান এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। খলিফায়ে রাশেদ উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাজিয়াল্লাহু আনহু) (মৃত্যু ১০১ হি.)-এর নির্দেশে যাঁরা সর্বপ্রথম হাদিস লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। বরং বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সর্বতোভাবে সর্বপ্রথম হাদিস সংকলনকারী। একইভাবে বলা হয় যে, তিনি সিরাত বিষয়ে প্রথম লেখক এবং তাঁর সিরাত গ্রন্থটি ইসলামে রচিত প্রথম সিরাত «১», যা সিরাতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে ইসহাক সিরাতের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন। তিনি ১২০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌অন্য একটি স্তর (তবকা)

এরপর তাঁদের পরে অন্য একটি স্তরের আগমন ঘটে, যাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:

১- আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ ইবনে নুমান আল-আনসারি: তাঁর দাদা কাতাদাহ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বদর, উহুদ এবং অন্যান্য যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তা গালের ওপর ঝুলে পড়ে, এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পুনরায় যথাস্থানে বসিয়ে দেন, ফলে সেটি তাঁর সবচেয়ে সুন্দর ও তীক্ষ্ণ চোখে পরিণত হয়। তাঁর পুত্র উমর তাঁর পিতা থেকে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) ও সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং উমরের পুত্র আসিম তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছেন। ইবনে সাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ইলমের বর্ণনাকারী ছিলেন এবং মাগাজি ও সিরাত বিষয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁকে দামেস্কের মসজিদে বসে মানুষকে মাগাজি এবং সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করার নির্দেশ দেন। তিনি তাই করেছিলেন। তিনি ইবনে ইসহাক ও আল-ওয়াকিদির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিলেন। তিনি ১২০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ১২৯ হিজরিতে।

২- আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম আল-আনসারি:

তাঁর ঊর্ধ্বতম দাদা আমর একজন সাহাবি ছিলেন, যাঁকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামেনবাসীদের দ্বীনি সমঝ দান করতে এবং তাঁদের কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাঁর দাদা মুহাম্মদ সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি নবীজিকে দেখেছেন (রুইয়াহ), তিনি হাররার যুদ্ধের দিন শাহাদাত বরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) আর-রওদুল উনুফ, ১ম খণ্ড, ১২২ পৃষ্ঠা; আস-সিরাতুল হালাবিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ২ পৃষ্ঠা।

(২) মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'তবকা' (স্তর) বলতে এমন একদল লোককে বোঝায়, যাঁরা বয়সে কাছাকাছি এবং শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনে একত্রিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأبوه أبو بكر كان قاضي المدينة، وواليها، وهو أول من دوّن الحديث بأمر عمر بن عبد العزيز أو من أوائلهم، فقد نشأ إذا في بيت علم ورواية، وقد نقلت عن عبد الله أخبار كثيرة ذكرها ابن إسحاق، والواقدي، وابن سعد، والطبري توفي سنة خمس وثلاثين ومائة.

 

‌‌طبقة أخرى

ثم جاء بعد هذه الطبقة طبقة أخرى عاشت في العصر العباسي الأول، من أشهرهم:

1- موسى بن عقبة: مولى الزبيريين، والظاهر أنه استفاد من هذه الصلة، قال فيه الإمام مالك: «عليكم بمغازي ابن عقبة، فهي أصح المغازي» . وكانت سيرته التي كتبها مختصرة موجزة وصل إلينا منها بعض مقتطفات، ينقل عنه ابن سعد والطبري بعض أخبار السيرة، وقد روى له البخاري في الصحيح «1» ، وكانت وفاته سنة إحدى وأربعين ومائة.

2- محمد بن إسحاق بن يسار المطلبي: وهو من أصل فارسي، كان جده يسار من سبي «عين التمر» سباه خالد بن الوليد، وكان ولاؤه لقيس بن مخرمة بن المطلب بن عبد مناف، فلذلك قيل له: المطّلبي ولد نحو سنة خمس وثمانين، لقي كثيرا من علماء المدينة وأخذ عنهم، قال فيه الإمام الشافعي: «من أراد أن يتبحر في المغازي فهو عيال على محمد بن إسحاق» وهو يعتبر ثقة في المغازي، لكنه مضعّف في رواية الحديث، وجرحه بعض المحدثين، وأثنى عليه اخرون، ألف ابن إسحاق كتابه المغازي، وهو أقدم كتاب وصل إلينا في السيرة، ألّفه للمهدي بأمر أبيه المنصور، جمع فيه تاريخ العالم منذ خلق الله ادم إلى زمنه، وقد طوّل فيه فلم يرضه المنصور، وأمره باختصاره فاختصره، ولكن الكتاب جاء بعد هذا يفيض بالكثير مما لا يتصل بسيرة الرسول، ويعرض الكثير مما لا يؤيده دليل، ويفشو فيه الشعر المنحول «2» ، والخبر المفحش، والرواية

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري- كتاب المغازي- باب الخندق، وباب غزوة بني المصطلق، تعليقا في التراجم، وروى له في أصول الكتاب.

(2) المنسوب لغير قائله.
এবং তাঁর পিতা আবু বকর ছিলেন মদিনার বিচারক ও এর গভর্নর। তিনি উমর বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশে হাদিস সংকলনকারী প্রথম ব্যক্তি বা প্রথম পর্যায়ের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সুতরাং তিনি একটি জ্ঞান ও বর্ণনার পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। আব্দুল্লাহ থেকে প্রচুর সংবাদ বর্ণিত হয়েছে যা ইবনে ইসহাক, ওয়াকিদি, ইবনে সাদ এবং তাবারী উল্লেখ করেছেন। তিনি একশ পঁয়ত্রিশ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌অন্য একটি স্তর

অতঃপর এই স্তরের পরে অন্য একটি স্তর এলো যারা প্রথম আব্বাসীয় যুগে বসবাস করতেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন:

1- মুসা বিন উকবা: যুবাইর পরিবারের মুক্ত দাস। স্পষ্টতই তিনি এই সম্পর্ক থেকে উপকৃত হয়েছিলেন। ইমাম মালিক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তোমরা ইবনে উকবার মাগাজি আঁকড়ে ধরো, কেননা তা সবচেয়ে বিশুদ্ধ মাগাজি»। তাঁর রচিত সিরাত গ্রন্থটি ছিল সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ, যেখান থেকে কিছু উদ্ধৃতি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। ইবনে সাদ ও তাবারী সিরাতের কিছু তথ্য তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন «১», এবং তাঁর মৃত্যু হয়েছিল একশ একচল্লিশ হিজরি সালে।

2- মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবি: তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত। তাঁর দাদা ইয়াসার ছিলেন «আইনুত তামর» যুদ্ধের যুদ্ধবন্দীদের একজন, যাঁকে খালিদ বিন ওয়ালিদ বন্দী করেছিলেন। তাঁর আনুগত্য ছিল কাইস বিন মাখরামা বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদু মানাফের প্রতি, তাই তাঁকে মুত্তালিবি বলা হয়। তিনি আনুমানিক পঁচাশি হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদিনার বহু আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফেয়ী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «যে ব্যক্তি মাগাজি শাস্ত্রে পারদর্শী হতে চায়, সে মুহাম্মদ বিন ইসহাকের মুখাপেক্ষী»। মাগাজির ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হন, তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্বল করা হয়েছে। কিছু মুহাদ্দিস তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং অন্যরা তাঁর প্রশংসা করেছেন। ইবনে ইসহাক তাঁর মাগাজি গ্রন্থটি রচনা করেন, যা সিরাত শাস্ত্রে আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম গ্রন্থ। তিনি এটি খলিফা মানসুরের নির্দেশে তাঁর পুত্র মাহদীর জন্য রচনা করেছিলেন। এতে তিনি আল্লাহর আদম সৃষ্টির সময় থেকে তাঁর নিজ সময় পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাস সংকলন করেছিলেন। তিনি এতে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন যা মানসুরের পছন্দ হয়নি, ফলে তিনি একে সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন এবং তিনি তা সংক্ষেপ করেন। কিন্তু এরপরও গ্রন্থটিতে এমন অনেক কিছু স্থান পেয়েছে যা রাসুলুল্লাহর সিরাতের সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং এমন অনেক বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে যা কোনো দলিল দ্বারা সমর্থিত নয়। এতে জাল কবিতা «২», অশালীন সংবাদ এবং এমন সব বর্ণনা ছড়িয়ে আছে যা...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী- কিতাবুল মাগাজি- পরিচ্ছেদ: খন্দক এবং পরিচ্ছেদ: বনু মুস্তালিক যুদ্ধ, জীবনী অংশের টীকা হিসেবে এবং মূল কিতাবেও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) যা তার প্রকৃত রচয়িতা ছাড়া অন্য কারও দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
المنكرة، هذا إلى سوقه على نهج لا يؤلف بين أجزائه نظام «1» ، وأيضا فله أوهام أغلاط- فيه كما سنبين بعض ذلك فيما يأتي، توفي ببغداد سنة إحدى وخمسين ومائة، وقيل اثنتين وخمسين.

3- الواقدي محمد بن عمر بن واقد مولى بني هاشم: كان الثاني بعد ابن إسحاق في العلم بالمغازي والسير والتواريخ، وكان معاصره مع صغر سنه عنه، وقد لقي الكثيرين من الشيوخ، وروى عنهم، وكان كثير العلم بالتاريخ والحديث، وقد اختلف في تقديره المحدّثون ما بين معدل ومجرّح له، ويروى أنه اختلط «2» في اخر عمره، قال فيه البخاري: «منكر الحديث» ولكنهم لا يطعنون في سعة علمه بالمغازي قال فيه الإمام أحمد بن حنبل: «إنه بصير بالمغازي» على حين قال فيه أيضا «الواقدي يركب الأسانيد» «3» . عني الواقدي بالمغازي والسير بخاصة، والتاريخ الإسلامي بعامة، وكان لا يعرف كثيرا من أمور الجاهلية.

وقد كانت كتبه عمدة للمؤرخين من بعده، ونقلوا منها واقتبسوا، وللواقدي كتاب «التاريخ الكبير» مرتب على السنين، اقتبس منه الطبري في تاريخه كثيرا، وكتاب «الطبقات» ذكر فيه الصحابة والتابعين حسب طبقاتهم، ويظن أن كاتبه ابن سعد قد تأثر به في «طبقاته» ، ولم يبق لنا من كتبه إلا كتاب «المغازي» وكان من أكبر المصادر التي اعتمد عليها الطبري في تاريخه، توفي ببغداد سنة سبع ومائتين وقيل تسع.

 

‌‌طبقة أخرى

ثم جاء بعد ذلك طبقة أخرى، من مشاهيرهم:

1- أبو محمد عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المعافري «4» : من

--------------------------------------------

(1) مقدمة مختصر سيرة ابن هشام، ص 3.

(2) أصابته غفلة وسوء حفظ.

(3) أي يضع للمرويات أسانيد قوية بدل الضعيفة.

(4) بفتح الميم والعين المهملة، وبعد الألف فاء مكسورة، نسبة إلى المعافر بن يعفر قبيل كبير، ينسب إليه بشر كثير عامتهم بمصر.
পরিত্যক্ত বিষয়াবলি, এর সাথে এমন এক পদ্ধতিতে এর উপস্থাপনা করা হয়েছে যা এর অংশসমূহের মধ্যে কোনো সুশৃঙ্খল বিন্যাস রক্ষা করে না «১»। এছাড়া এতে তার কিছু কল্পনাপ্রসূত ভুলভ্রান্তিও রয়েছে যা আমরা সামনে কিছুটা ব্যাখ্যা করব। তিনি ১৫১ হিজরি সালে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ১৫২ হিজরি।

৩- ওয়াকিদি, মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে ওয়াকিদ, বনু হাশেমের মুক্তদাস: তিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), সিরাত ও ইতিহাস শাস্ত্রে ইবনে ইসহাকের পরে দ্বিতীয় পর্যায়ের পণ্ডিত ছিলেন। তিনি তার সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও বয়সে তার চেয়ে ছোট ছিলেন। তিনি বহু শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইতিহাস ও হাদিস শাস্ত্রে প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। মুহাদ্দিসগণ তার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন—কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (তাদিল) বলেছেন, আবার কেউ তাকে ত্রুটিযুক্ত (জারাহ) করেছেন। বর্ণিত আছে যে, জীবনের শেষ ভাগে তার স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল «২»। ইমাম বুখারি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মুনকারুল হাদিস" (অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী); তবে মাগাজি শাস্ত্রে তার অগাধ পাণ্ডিত্যের বিষয়ে তারা কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি মাগাজি শাস্ত্রে পারদর্শী", যদিও তিনি এও বলেছেন যে, "ওয়াকিদি সনদগুলো জোড়া দিতেন" «৩»। ওয়াকিদি বিশেষভাবে মাগাজি ও সিরাত এবং সাধারণভাবে ইসলামি ইতিহাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। জাহেলি যুগের অনেক বিষয়ে তিনি বিশেষ অবগত ছিলেন না।

তার গ্রন্থসমূহ পরবর্তী ঐতিহাসিকদের জন্য প্রধান অবলম্বন ছিল এবং তারা সেখান থেকে প্রচুর বর্ণনা ও উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। ওয়াকিদির ‘আত-তারিখুল কাবির’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা বছর অনুযায়ী বিন্যস্ত, ইমাম তাবারি তার ইতিহাসে এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি নিয়েছেন। এছাড়া তার ‘আত-তাবাকাত’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি সাহাবি ও তাবেয়িদের তাদের স্তরানুসারে উল্লেখ করেছেন। ধারণা করা হয় যে, তার লেখক ইবনে সাদ তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তার গ্রন্থাবলির মধ্য থেকে কেবল ‘আল-মাগাজি’ গ্রন্থটিই আমাদের কাছে অবশিষ্ট আছে এবং এটি ছিল অন্যতম প্রধান উৎস যার ওপর তাবারি তার ইতিহাসে নির্ভর করেছেন। তিনি ২০৭ হিজরি সালে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ২০৯ হিজরি।

 

‌‌আরেকটি স্তর

এরপর পরবর্তী আরেকটি স্তরের আবির্ভাব ঘটে, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:

১- আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম ইবনে আইয়ুব আল-হিময়ারি আল-মাআফিরি «৪»: থেকে

--------------------------------------------

(১) মুখতাসার সিরাতে ইবনে হিশামের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩।

(২) তিনি অসাবধানতা ও স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

(৩) অর্থাৎ তিনি দুর্বল সনদের পরিবর্তে বর্ণনাসমূহের জন্য শক্তিশালী সনদ ব্যবহার করতেন।

(৪) মিম ও আইন বর্ণে ফাতহা (যবর) সহকারে এবং আলিফের পর কাসরা (যের) যুক্ত ফা সহকারে; এটি মাআফির ইবনে ইয়াফুর নামক একটি বড় গোত্রের দিকে নিসবত, যাদের সাথে বহু লোক সম্পৃক্ত এবং তাদের অধিকাংশই মিশরে বসবাসকারী।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
مصر، وأصله من البصرة، وله كتاب في «أنساب حمير وملوكها» وكتاب في «شرح ما وقع في أشعار السيرة من الغريب» وله الكتاب الذي اشتهر به «السيرة» وهو مختصر لسيرة ابن إسحاق، مع بعض الزيادات، أو التعقبات والتصحيحات، ولئن كانت سيرة ابن إسحاق لم تصلنا بعينها فقد وصلتنا مهذبة على يد ابن هشام.

وقد تلقّاها عن زياد بن عبد الله البكّائي «1» (المتوفى سنة 182) عن ابن إسحاق وقد بين ابن هشام في المقدمة منهجه حيال سيرة ابن إسحاق فقال:

«وأنا- إن شاء الله- مبتدىء هذا الكتاب بذكر إسماعيل بن إبراهيم، ومن ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم من ولده، وأولادهم لأصلابهم: الأول فالأول من إسماعيل إلى رسول الله، وما يعرض من حديثهم، وتارك ذكر غيرهم من ولد إسماعيل على هذه الجهة- للاختصار، إلى حديث سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتارك بعض ما ذكره ابن إسحاق مما ليس لرسول الله فيه ذكر، ولا نزل فيه من القران شيء، وليس سببا لشيء من هذا الكتاب، ولا تفسيرا له، ولا شاهدا عليه- لما ذكرت من الاختصار-، وأشعارا ذكرها لم أر أحدا من أهل العلم بالشعر يعرفها، وأشياء بعضها يشنع الحديث به، وبعض يسوء بعض الناس ذكره، وبعضه لم يقر لنا البكائي بروايته، ومستقص- إن شاء الله تعالى- ما سوى ذلك منه بمبلغ الرواية له، والعلم به» «2» .

من أجل هذا نسي ابن إسحاق، وذكر ابن هشام، فلم يعد يذكر هذا الكتاب في السيرة إلا مقرونا باسم ابن هشام، لا يكاد يذكر ابن إسحاق إلى

--------------------------------------------

(1) هو أبو محمد زياد بن عبد الله البكائي شيخ ابن هشام، روى عنه البخاري في كتاب الجهاد، وخرّج له مسلم في مواضع من كتابه، وكفى بهما مزكّيين، وموثّقين، وذكر البخاري في «التاريخ» عن وكيع قال: «زياد أشرف من أن يكذب في الحديث» ، وقد وهم الترمذي، فنقل عن البخاري أنه قال: «قال وكيع: زياد على شرفه يكذب في الحديث» ولو صح ما نقله عنه الترمذي لما خرّج له حديثا، ولا خرّج له مسلم (الروض الأنف، ص 5) .

(2) سيرة ابن هشام، ج 1 ص 3.
মিসর, তাঁর আদি নিবাস ছিল বসরা। তাঁর 'আনসাব হিমইয়ার ওয়া মুলুকুহা' (হিমইয়ারের বংশপরম্পরা ও তাদের রাজন্যবর্গ) এবং 'শারহু মা ওয়াকাআ ফি আশআরিস সিরাতি মিনাল গারিব' (সীরাতের কবিতাসমূহের দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যা) নামক গ্রন্থ রয়েছে। তবে তিনি সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাঁর 'সিরাত' গ্রন্থের মাধ্যমে, যা মূলত ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত সার। এতে কিছু সংযোজন এবং কিছু ক্ষেত্রে পর্যালোচনা ও সংশোধনও রয়েছে। যদিও ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থটি হুবহু আমাদের কাছে পৌঁছেনি, তবে ইবনে হিশামের হাতে তা পরিমার্জিত রূপে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

তিনি এটি যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী (মৃত্যু ১৮২ হিজরি) এর মাধ্যমে ইবনে ইসহাক থেকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে হিশাম তাঁর ভূমিকার মধ্যে ইবনে ইসহাকের সীরাতের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:

«আমি—ইনশাআল্লাহ—এই কিতাবটি ইবরাহিমের পুত্র ইসমাইলের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি এবং ইসমাইলের বংশধরদের মধ্য থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বপুরুষদের বর্ণনা দিচ্ছি। তাদের বংশানুক্রম অনুযায়ী একে একে ইসমাইল থেকে আল্লাহর রাসূল পর্যন্ত উল্লেখ করব। তাদের সম্পর্কে যে বর্ণনা আসবে তাও উল্লেখ করব। তবে সংক্ষেপ করার লক্ষ্যে ইসমাইলের অন্যান্য সন্তানদের বর্ণনা এই ধারায় বর্জন করছি—যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের বর্ণনায় পৌঁছাই। ইবনে ইসহাক যেসব বিষয়ের উল্লেখ করেছেন অথচ যাতে আল্লাহর রাসূলের কোনো আলোচনা নেই, যে ব্যাপারে কোরআনের কোনো আয়াত নাযিল হয়নি, যা এই কিতাবের কোনো বিষয়ের কারণ নয়, এর কোনো ব্যাখ্যা নয় এবং এর ওপর কোনো সাক্ষীও নয়—সংক্ষেপ করার খাতিরে আমি তেমন কিছু বিষয় বর্জন করেছি। এছাড়া এমন কিছু কবিতা যা তিনি উল্লেখ করেছেন অথচ আমি কাব্য বিশারদদের কাউকে তা চিনতে দেখিনি, এবং কিছু বিষয় যার বর্ণনা দেওয়া অশোভন মনে হয়, কিংবা যার বর্ণনা কিছু মানুষকে অসন্তুষ্ট করতে পারে, আর কিছু বর্ণনা যা আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে তাঁর বর্ণনা হিসেবে স্বীকার করেননি—সেগুলোও বাদ দিয়েছি। এর বাইরে বাকি অংশটুকু বর্ণনা এবং জ্ঞান অনুযায়ী ইনশাআল্লাহু তাআলা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করব»।

একারণেই ইবনে ইসহাকের নাম অনেকটা আড়ালে চলে গেছে এবং ইবনে হিশামের নাম প্রসিদ্ধ হয়েছে। ফলে সীরাতের এই কিতাবটি ইবনে হিশামের নামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া আর উল্লেখ করা হয় না। ইবনে ইসহাকের নাম এখন আর সেভাবে উচ্চারিত হয় না...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী, ইবনে হিশামের উস্তাদ। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে 'কিতাবুল জিহাদ'-এ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁদের উভয়ের মাধ্যমে বর্ণনাকারী হিসেবে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণিত হওয়াটাই যথেষ্ট। বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে ওয়াকি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যিয়াদ হাদিসে মিথ্যা বলার চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাশীল।" ইমাম তিরমিজি একটি ভুল করেছেন, তিনি বুখারির বরাতে উল্লেখ করেছেন যে তিনি (বুখারি) বলেছেন: "ওয়াকি বলেছেন: যিয়াদ তাঁর মর্যাদা সত্ত্বেও হাদিসে মিথ্যা বলেন।" ইমাম তিরমিজি যা বর্ণনা করেছেন তা যদি সঠিক হতো, তবে ইমাম বুখারি তাঁর থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না এবং ইমাম মুসলিমও করতেন না। (আর-রাওদুল উনুফ, পৃষ্ঠা ৫)।

(২) সীরাতে ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
جانبه، وهذا بالنسبة للمتأخرين، أما المتقدمون فلا يذكرون إلا ابن إسحاق، وكانت وفاة ابن هشام سنة ثماني عشرة ومائتين.

وقد شرح هذه السيرة شرحا يدل على تبحّر في العلم، وتضلّع في علم اللغة والأدب والأخبار، الإمام أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله السهيلي «1» الأندلسي، المولود سنة ثمان وخمسمائة والمتوفى سنة إحدى وثمانين وخمسمائة، في كتابه القيم «الروض الأنف» وكان- رحمه الله إلى جانب علمه معروفا بالصلاح، والتقوى، والورع.

3- محمد بن سعد تلميذ الواقدي وكاتبه: يدوّن له كتبه وأخباره، ومن أجل هذا لقب «بكاتب الواقدي» ولد بالبصرة سنة ثمان وستين ومائة، واباؤه موال للحسن بن عبد الله بن عبيد الله بن العباس، وأجلّ كتبه «الطبقات الكبير» في ثمانية أجزاء، وقد خصّص الجزء الأول والثاني من كتابه لسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومغازيه، وخصّص الأجزاء الستة الاخرى لأخبار الصحابة والتابعين مرتبا لهم على حسب الأمصار، ثم رتّب علماء كل مصر حسب شهرتهم وزمنهم، وقد حظي ابن سعد بثناء بعض المحدثين، قال فيه الخطيب البغدادي: «محمد بن سعد عندنا من أهل العدالة، وحديثه يدل على صدقه، فإنه يتحرّى في كثير من روآياته» وهو أحد شيوخ المؤرخ الكبير البلاذري، وتوفي ببغداد سنة ثلاثين ومائتين «2» .

وممن عرف في التأليف في المغازي من طبقة تلي هؤلاء:

سعيد بن يحيى، بن سعيد، بن أبان، بن سعيد، بن العاص، بن أبي أحيحة، أبو عثمان البغدادي: ثقة ربما أخطأ، من العاشرة، روى له البخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي. وقد قال الحافظ الذهبي في ترجمة أبيه يحيى بن سعيد بن أبان: «المحدّث الثقة، وحدّث عنه ابنه سعيد بن يحيى

--------------------------------------------

(1) سهيل الذي ينسب إليه واد بالأندلس من كورة «مالقا» ، وفيه قرى، وفي إحدى هذه القرى ولد السهيلي.

(2) ضحى الإسلام، ج 2 ص 320- 338.
তাঁর পার্শ্বে; আর এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে পূর্ববর্তীগণ ইবনে ইসহাক ব্যতীত অন্য কাউকে উল্লেখ করতেন না। আর ইবনে হিশামের মৃত্যু হয়েছিল ২১৮ হিজরি সনে।

আর এই সীরাতকে এমন এক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন যা ইলমের গভীরতা এবং ভাষা, সাহিত্য ও ইতিহাস শাস্ত্রে পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়, ইমাম আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-সুহাইলি (১) আল-আন্দালুসি। তিনি ৫০৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই মূল্যবান গ্রন্থটি হলো ‘আল-রাওদুল উনুফ’। তিনি—রহিমাহুল্লাহ—তাঁর জ্ঞানের পাশাপাশি নেক আমল, তাকওয়া ও পরহেজগারির জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

৩- মুহাম্মদ বিন সাদ, যিনি আল-ওয়াকিদির ছাত্র এবং তাঁর লেখক (কাতিব): তিনি তাঁর কিতাবসমূহ এবং ইতিহাসলব্ধ তথ্যসমূহ লিপিবদ্ধ করতেন। এই কারণেই তিনি ‘কাতিব আল-ওয়াকিদি’ উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ১৬৮ হিজরি সনে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ বিন আল-আব্বাসের আযাদকৃত দাস বা মাওয়ালি ছিলেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো আট খণ্ডে রচিত ‘আত-তাবাকাত আল-কুবরা’। তিনি তাঁর গ্রন্থের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও মাগাযির (যুদ্ধবিগ্রহ) জন্য উৎসর্গ করেছেন। অন্য ছয়টি খণ্ড তিনি সাহাবী ও তাবিঈগণের জীবনী বর্ণনায় উৎসর্গ করেছেন এবং শহরভিত্তিক ক্রমানুসারে তাদের বিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর প্রতিটি শহরের আলেমদের তাদের খ্যাতি ও সময়কাল অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। ইবনে সাদ কতিপয় মুহাদ্দিসের প্রশংসা লাভ করেছেন। তাঁর সম্পর্কে খতিব আল-বাগদাদী বলেন: “মুহাম্মদ বিন সাদ আমাদের নিকট নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর বর্ণিত হাদীস তাঁর সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয়, কেননা তিনি তাঁর অনেক বর্ণনায় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন।” তিনি প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল-বালাযুরীর অন্যতম উস্তাদ ছিলেন এবং ২৩০ হিজরি সনে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

আর তাদের পরবর্তী স্তরের মাগাযি বিষয়ক রচনায় প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:

সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন আবান বিন সাঈদ বিন আল-আস বিন আবি উহাইহা, আবু উসমান আল-বাগদাদী: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) তবে কখনো কখনো ভুল করতেন, তিনি দশম স্তরের রাবী। ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাফিজ আয-যাহাবী তাঁর পিতা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন আবানের জীবনীতে বলেছেন: “নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস, এবং তাঁর থেকে তাঁর পুত্র সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন।”

--------------------------------------------

(১) সুহাইল হলো আন্দালুসের একটি উপত্যকা যার নামানুসারে তাঁর নিসবত করা হয়েছে, এটি ‘মালাকা’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে কয়েকটি গ্রাম আছে এবং সেই গ্রামগুলোর একটিতে আল-সুহাইলি জন্মগ্রহণ করেন।

(২) দুহাল ইসলাম, ২য় খণ্ড, ৩২০-৩৩৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
صاحب المغازي، وأحمد بن حنبل» وكانت وفاته سنة تسع وأربعين ومائتين، ولعله هو الذي يعنيه الحافظ المؤرخ ابن كثير في بدايته بقوله: قال الأموي.

 

‌‌منهج هؤلاء المؤلفين

وقد نهج مؤلفو هذه الكتاب منهج المحدّثين في الرواية: من ذكر الأسانيد، والنظر في الرواة، وإن لم يلتزموا ما التزمه المحدّثون من التشدد في التعديل والتجريح، وقبول الرواية، وربّ رجل مجرّح عند أهل الحديث وهو ثقة عند أهل السير، وهذا يرجع إلى اختلاف الغرضين، فغرض المحدث ذكر الأحاديث التي هي مناط معرفة الحلال والحرام، ومن ثمّ كان لا بد من التشدد في الرواية، وغرض المؤلف في السير والتواريخ ذكر أخبار ليست مناط الحلال والحرام غالبا، فمن ثمّ تساهلوا، ووجدت في كتبهم الروايات المرسلة، والمنقطعة، والمعضلة، والشاذة، والمنكرة، بل الموضوعة المختلقة على قلة «1» بل المحدثون أنفسهم يتشدّدون ويبالغون في التحرّي عن الرواة حينما يروون أحاديث الأحكام، ويتساهلون بعض الشيء في رواية الفضائل، روي عن الإمام أحمد أنه قال:

«نحن إذا روينا في الحلال والحرام شدّدنا، وإذا روينا في الفضائل تساهلنا» ، وفي معنى الفضائل المغازي، والسير، وروي عنه أيضا أنه قال: «ثلاثة ليس لها أصل: التفسير، والملاحم، والمغازي» ، ومراده أنه يغلب فيها رواية المراسيل، والمنقطعات، والبلاغات «2» ، ونحوها، وإلّا فقد صحّ فيها أحاديث كثيرة.

 

‌‌كتب ألّفت في السير بعد

ثم جاء بعد هؤلاء علماء كثيرون ألّفوا في السير، ما بين مطنب، وما بين موجز، وما بين متوسط، ومنهم من اعتنى بذكر الأسانيد، ومنهم من حذفها

--------------------------------------------

(1) المرسل: ما حذف منه الصحابي. المنقطع: ما حذف منه واحد من الرواة في موضع أو مواضع. المعضل: ما حذف منه اثنان من الرواة على التوالي. الشاذ: ما خالف فيه الراوي الثقة من هو أوثق منه. المنكر: ما خالف فيه الراوي الضعيف من هو أقوى منه. الموضوع: هو المختلق المكذوب على رسول الله أو من بعده من الصحابة والتابعين.

(2) ما يقال فيها بلغني عن فلان كذا، ولم يكن لقيه قطعا.
মাগাযী রচয়িতা এবং আহমদ ইবনে হাম্বল। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল দুইশত উনপঞ্চাশ হিজরি সনে। সম্ভবত হাফেজ ও ঐতিহাসিক ইবনে কাসীর তাঁর 'আল-বিদায়া' গ্রন্থে "উমাবী বলেছেন" বলতে তাঁকেই বুঝিয়েছেন।

 

‌‌এই লেখকদের কর্মপন্থা

এই কিতাবসমূহের লেখকগণ বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা অনুসরণ করেছেন: যেমন সনদ উল্লেখ করা এবং বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই করা; যদিও তাঁরা 'তাদীল' (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান) এবং 'জারহ' (ত্রুটি চিহ্নিতকরণ) ও বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মতো কঠোরতা অবলম্বন করেননি। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাঁকে হাদীস বিশারদগণ ত্রুটিযুক্ত মনে করেন, অথচ তিনি সীরাত বিশেষজ্ঞদের নিকট নির্ভরযোগ্য। এটি মূলত উভয় পক্ষের উদ্দেশ্যের পার্থক্যের কারণে। মুহাদ্দিসগণের উদ্দেশ্য হলো সেই সব হাদীস উল্লেখ করা যা হালাল-হারাম জানার ভিত্তি, তাই বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা তাঁদের জন্য আবশ্যক ছিল। অন্যদিকে সীরাত ও ইতিহাস রচয়িতাদের উদ্দেশ্য হলো এমন সংবাদ উল্লেখ করা যা সাধারণত হালাল-হারামের ভিত্তি নয়। এই কারণেই তাঁরা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। ফলে তাঁদের কিতাবসমূহে মুরসাল, মুনকাতি, মু'দাল, শায ও মুনকার বর্ণনা পাওয়া যায়, এমনকি অল্প সংখ্যায় জাল ও বানোয়াট বর্ণনাও বিদ্যমান «১»। বরং মুহাদ্দিসগণ নিজেরাও যখন আহকাম বা বিধিবিধান সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেন তখন বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে অতি সতর্কতা অবলম্বন ও কঠোরতা প্রদর্শন করেন, আর ফাযায়েল (মর্যাদা) বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করেন। ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন:

«আমরা যখন হালাল-হারাম বিষয়ে বর্ণনা করি তখন কঠোরতা অবলম্বন করি, আর যখন ফাযায়েল বিষয়ে বর্ণনা করি তখন শিথিলতা প্রদর্শন করি», ফাযায়েলের অর্থগত পরিধিতে মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) ও সীরাত (জীবনী) অন্তর্ভুক্ত। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: «তিনটি বিষয়ের কোনো ভিত্তি নেই: তাফসীর, মালাহিম (মহাযুদ্ধ) এবং মাগাযী», এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো, এসব ক্ষেত্রে মুরসাল, মুনকাতি ও বালাগাত «২» ইত্যাদির প্রাধান্য থাকে। অন্যথায় এসব বিষয়ে অনেক সহীহ হাদীসও বিদ্যমান রয়েছে।

 

‌‌পরবর্তীতে সীরাত বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ

এরপর তাঁদের পরে অনেক আলেম এসেছেন যাঁরা সীরাত বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বিস্তারিত লিখেছেন, কেউ সংক্ষিপ্ত, আবার কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ সনদ উল্লেখ করার প্রতি যত্নশীল ছিলেন, আবার কেউ কেউ তা বাদ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) মুরসাল: যা থেকে সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে। মুনকাতি: যার সনদ থেকে কোনো এক বা একাধিক স্থানে একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। মু'দাল: যার সনদে ধারাবাহিকভাবে দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। শায: যে বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন। মুনকার: যে বর্ণনায় দুর্বল বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে শক্তিশালী বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন। মাওযু (জাল): যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তাঁর পরবর্তী সাহাবী ও তাবেয়ীগণের ওপর মিথ্যা আরোপ করে তৈরি করা হয়েছে।

(২) যে বর্ণনায় বলা হয় যে, 'অমুক থেকে আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে', অথচ বর্ণনাকারী নিশ্চিতভাবেই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেননি।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফি দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
خشية التطويل وهم الكثير، ومنهم من ألف فيها نظما: من هؤلاء من تقيد بنظم السيرة لابن هشام، ومنهم من لم يتقيد بذلك، ومن أشهر هذه الكتاب:

1- «جوامع السيرة» للإمام الحافظ أبي محمد علي بن أحمد بن حزم، الأندلسي الظاهري المتوفّى سنة ست وخمسين وأربعمائة.

2- «السيرة» للحافظ الكبير عبد المؤمن بن خلف الدمياطي المصري المتوفّى سنة خمس وسبعمائة.

3- «عيون الأثر في فنون المغازي والشمائل والسير» مجلدان، للإمام أبي الفتح محمد بن محمد المعروف بابن سيد الناس الأندلسي، المتوفّى سنة أربع وثلاثين وسبعمائة، ثم اختصره وسماه «العيون في تلخيص سيرة الأمين المأمون» وقد شرحه الشيخ برهان الدين إبراهيم بن محمد الحلبي المتوفّى سنة إحدى وأربعين وثمانمائة، ونظمه الشمس محمد بن يونس الشافعي المتوفّى سنة خمس وأربعين وثمانمائة.

4- «مختصر السيرة» للإمام الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني المتوفى سنة اثنتين وخمسين وثمانمائة، وقد اقتصر فيه على أصح الأقوال، وأقواها.

5- «المواهب اللدنية بالمنح المحمدية» للشيخ العلّامة شهاب الدين أبي العباس أحمد بن محمد القسطلاني الشافعي المصري، المتوفّى سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة، وهو كتاب جليل القدر، كثير النفع، لا نظير له في الاستيفاء، وذكر الأقوال والاراء والحجج، اعتمد فيها على سيرة الحافظ ابن سيد الناس، وسيرة الشمس الشامي وغيرها. وقد شرحها كثيرون، ومن أجل الشروح شرح الإمام الحافظ محمد بن عبد الباقي بن يوسف الزرقاني المصري المالكي، المتوفّى سنة اثنتين وعشرين ومائة بعد الألف، وهو شرح جليل تعرض فيه لنقد المرويات، وبيان صحيحها من ضعيفها، وبيان الراجح من الأقوال، وهو يدل على سعة علم الإمام الزرقاني وتبحره.

6- «سبل الهدى والرشاد، في سيرة خير العباد» المعروفة بالسيرة
দীর্ঘায়িত হওয়ার এবং পাঠকদের বিরক্তির ভয়ে অনেকে সংক্ষেপে লিখেছেন, আবার তাদের কেউ কেউ পদ্যাকারেও রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে এমন লোক ছিলেন যারা ইবনে হিশামের সীরাতের বিন্যাস অনুসরণ করেছেন, আবার অনেকে তা করেননি। এই ধারার প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে হাযম আন্দালুসি জাহিরি (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি) রচিত 'জাওয়ামিউস সীরাহ'।

২- হাফিজুল কাবির আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ দিমইয়াতি মিসরি (মৃত্যু ৭০৫ হিজরি) রচিত 'আস-সীরাহ'।

৩- ইমাম আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি ইবনে সাইয়্যিদিন নাস আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত দুই খণ্ডের 'উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাজি ওয়াশ শামাইল ওয়াস সিয়ার'। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একে সংক্ষেপ করেন এবং এর নাম দেন 'আল-উয়ুন ফি তালখিসি সিরাতিল আমিনিল মামুন'। এটি ব্যাখ্যা করেছেন শেখ বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ হালাবি (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি) এবং একে পদ্যাকারে বিন্যস্ত করেছেন শামস মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস শাফেয়ী (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি)।

৪- ইমাম হাফিজ আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত 'মুখতাসারুস সীরাহ'। এতে তিনি শুধুমাত্র বিশুদ্ধতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ণনাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

৫- শেখ আল্লামা শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ কাসতালানি শাফেয়ী মিসরি (মৃত্যু ৯২৩ হিজরি) রচিত 'আল-মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়া বিল মানাহিল মুহাম্মাদিয়া'। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ। তথ্যের পূর্ণতা প্রদান এবং বিভিন্ন মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি ও দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর কোনো তুলনা নেই। এতে তিনি হাফিজ ইবনে সাইয়্যিদিন নাস-এর সীরাত, শামস শামি-র সীরাত এবং অন্যান্য গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। অনেকেই এই গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন। তন্মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ইমাম হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে ইউসুফ যুরকানি মিসরি মালিকি (মৃত্যু ১১২২ হিজরি) রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি একটি অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যেখানে তিনি বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনা করেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে সহিহ ও যয়িফ বর্ণনাগুলো স্পষ্ট করেছেন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম যুরকানির জ্ঞানের ব্যাপকতা ও পাণ্ডিত্যের প্রমাণ বহন করে।

৬- 'সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতি খাইরিল ইবাদ', যা সাধারণত আস-সীরাহ নামে পরিচিত...