(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: -)
مذكرة أصول الفقه على روضة الناظر- ط مكتبة العلوم والحكم (محمد الأمين الشنقيطي)
القسم: أصول الفقه
الكتاب: مذكرة في أصول الفقه
المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار بن عبد القادر الجكني الشنقيطي (ت 1393هـ)
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة
الطبعة: الخامسة، 2001 م
عدد الصفحات: 427
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রওদাতুন নাযিরের ওপর উসুলুল ফিকহ-এর নোট - মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম সংস্করণ (মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী)
বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি)
বই: উসুলুল ফিকহ-এর ওপর একটি নোট
লেখক: মুহাম্মাদ আল-আমিন ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুখতার ইবনে আবদিল কাদির আল-জাকানি আশ-শানকিতী (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: পঞ্চম, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيممقدمةالحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجا {ذلك الكتاب لا ريب فيه هدي للمتقين} ، يهدي للتي هي أقوم، أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور وهداهم إلى صراط مستقيم.والصلاة والسلام على سيد المرسلين وامام المتقين بلغ الرسالة وأدى الامانة وبين للناس ما نزل إليهم وترك الناس على المحجة البيضاء ليلها كنهارها، وقد أرسي قواعدها وقعد أصولها، ورضي الله تعالى عن أصحابه الأطهار الذين اقتدوا به وسمعوا منه وبلغوا عنه، ورضي الله عن التابعين الذين سلكوا منهجهم واهتدوا بهديهم ونقلوا هذا الدين عمن قبلهم لمن بعدهم.وقد تلقت الامة كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم علما وعملا وسار الناس في ظل هذين الأصلين في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم وفي عهد الخلفاء الراشدين وفي عصر الصحابة والتابعين حتى توالت الفتوحات وتمصرت الأمصار ودخل في الإسلام أمم وجماعات واتسعت ميادين الحياة ووجدت أمور لم تكن من قبل دفعت العلماء للاجتهاد في ايجاد أحكام لها ومعرفة أحكامها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি; {এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক}, যা এমন এক পথের দিকে পরিচালিত করে যা সবচেয়ে সুদৃঢ়। আল্লাহ এর মাধ্যমে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন।সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার এবং মুত্তাকীদের ইমামের প্রতি, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মানুষকে এমন এক সুস্পষ্ট উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাত দিনের মতোই আলোকিত। তিনি এর ভিত্তিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এর মূলনীতিগুলো নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর ঐ সকল পবিত্র সাহাবীগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন, তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাবিঈগণের প্রতি যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত হয়েছেন এবং এই দ্বীনকে তাঁদের পূর্ববর্তীদের থেকে পরবর্তীদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।এই উম্মত জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহকে গ্রহণ করেছে। রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জীবদ্দশায়, খুলাফায়ে রাশিদীনের আমলে এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের যুগে মানুষ এই দুই মূল উৎসের ছায়াতলে পরিচালিত হয়েছে। অতঃপর যখন একের পর এক বিজয় সূচিত হলো, দেশ ও নগর বিস্তৃত হলো এবং দলে দলে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠী ইসলামে দাখিল হলো, তখন জীবনের ক্ষেত্রসমূহ প্রসারিত হলো। ফলে এমন সব নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটল যা আগে ছিল না, যা আলিমগণকে সেগুলোর বিধান উদ্ভাবন ও বিধানসমূহ উদ্ঘাটনের জন্য ইজতিহাদে প্রবৃত্ত হতে উদ্বুদ্ধ করল।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومعلوم أن النصوص لن تلاحق الأحداث فكان على المجتهدين أن يبحثوا عن عمومات وكليات تندرج فيها تلك الجزيئات، وكان ذلك مبني على الإجتهاد والإستنباط ومعتمد على ذلك على الملكة والفكر والتحصيل ومعرفة مدارك النصوص.ولما كانت النصوص فيها العام والخاص، والمطلق والمقيد، والناسخ والمنسوخ، والمجمل والمبين، وما إلى ذلك كان لا بد من قواعد ومنهج ينظم هذا الإجتهاد، ويصنف مباحثه في أبواب وفصول فكان من ذلك علم الأصول.وكان أول من سارع إليه وكتب فيه الإمام الشافعي رحمه الله، ثم توالت على هذا الفن أقلام، وتناولته عقول حتى تطور واكتمل واستقل، ولكن دخلته اصطلاحات المتكلمين ليثبتوا بعض ما تناولوه بطريق العقل على زعمهم أن العقل مقدم على غيره. كما خالطته طرق الفقهاء ليؤيدوا به فروع مذاهبهم إذا تعارضت مع غيرها.وهكذا أصبح لكل مذهب قواعد ومنهج، وتعددت كتب الأصول بتعدد المذاهب. وأصبح من اللازم لكل ناظر في مذهب من مذاهب الأئمة أن يعرف قواعده وأصوله، وعلى كل دارس للكتاب والسنة أن يقرأ أصول هذا الفن وقواعده وخاصة إذا أراد معرفة استنباط الأحكام السابقة، أو تقديم بعض النصوص المتعارضة أو نحو ذلك، مما لا يتأتي الا عن طريق قواعد وأصول هذا الفن.
এটি সুপরিচিত যে, বিধিবদ্ধ পাঠসমূহ (নসূস) সমকালীন নতুন ঘটনাবলির পূর্ণ নাগাল পাবে না, তাই মুজতাহিদদের দায়িত্ব ছিল এমন কিছু ব্যাপক ও সামষ্টিক মূলনীতি অনুসন্ধান করা যার অধীনে ওইসব খুটিনাটি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটি ছিল ইজতিহাদ ও ইস্তিনবাতের (গবেষণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ) ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি মেধা, চিন্তাশক্তি, জ্ঞানার্জন ও পাঠের মর্ম উপলব্ধি করার ওপর নির্ভরশীল ছিল।যেহেতু বিধিবদ্ধ পাঠসমূহের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ, শর্তহীন ও শর্তযুক্ত, রহিতকারী ও রহিতকৃত এবং সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাত ইত্যাদি বিষয় বিদ্যমান ছিল, তাই এমন কিছু নিয়ম ও পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল যা এই ইজতিহাদ প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করবে এবং এর আলোচ্য বিষয়গুলোকে বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করবে; আর এ থেকেই 'ইলমুল উসুল' বা মূলনীতি শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটে।ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) সর্বপ্রথম এ বিষয়ে অগ্রসর হন এবং গ্রন্থ রচনা করেন। অতঃপর ধারাবাহিকভাবে এই শাস্ত্রের ওপর বহু লেখনী চলতে থাকে এবং বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ একে নিয়ে কাজ করেন, যতক্ষণ না এটি উন্নত, পূর্ণাঙ্গ ও একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে রূপ লাভ করে। তবে এতে মুতাকাল্লিমীন বা কালাম শাস্ত্রবিদদের পরিভাষাগুলো প্রবেশ করে যাতে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলোকে প্রমাণ করতে পারে—তাদের এই দাবির ভিত্তিতে যে, আকল বা যুক্তি অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। একইভাবে এতে ফকীহগণের কর্মপদ্ধতিও সংমিশ্রিত হয় যাতে তারা তাদের মাযহাবের শাখা-প্রশাখাগুলোকে সমর্থন করতে পারে যখন সেগুলো অন্যদের সাথে বিরোধপূর্ণ হয়।এভাবে প্রত্যেক মাযহাবের জন্য নিজস্ব নিয়ম ও পদ্ধতি তৈরি হয় এবং মাযহাবসমূহের পার্থক্যের কারণে উসুলের কিতাবাদিও বহুবিধ রূপ লাভ করে। ফলে ইমামগণের কোনো মাযহাব নিয়ে গবেষণাকারীর জন্য সেই মাযহাবের নিয়ম ও মূলনীতিগুলো জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তেমনি কুরআন ও সুন্নাহর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এই শাস্ত্রের মূলনীতি ও নিয়মাবলি পাঠ করা অপরিহার্য; বিশেষ করে যদি সে পূর্ববর্তী বিধানসমূহের অবরোহ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চায়, অথবা পরস্পরবিরোধী প্রতীয়মান পাঠসমূহের মধ্যে কোনোটিকে অগ্রাধিকার দিতে চায় কিংবা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় বুঝতে চায়, যা এই শাস্ত্রের নিয়ম ও মূলনীতি ব্যতিরেকে অর্জন করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
فكان أصول الفقه تبعا لذلك في مقدمة الفنون التي عني به العلماء في كل زمان ومكان، ولقد كانت هذه البلاد حافلة بهذا الفن آهلة بعلمائه طيلة وجود النهضة العلمية بها، ومنذ زمن غير قليل إنصرفت عنه الهمم لصعوبته، وتقاصر الناس عنه وقل المشتغلون به، وتقلصت دراسته، حتى خيف ان داسه، فيما عدا الحرمين الشريفين على قلة إلى أن قيض الله لهذه البلاد من يقوم بهذه النهضة العلمية الدينية الحديثة وأرسيت قواعدها في مدينة الرياض في تأسيس المعاهد العلمية سنة 1371هـ برعاية سماحة المفتي الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخرحمه الله، واختير لهذه المؤسسة الجليلة أجلة العلماء من داخل البلاد وخارجها، وشملت مناهجها أهم العلوم الدينية والعربية وفى طليعتها علم الأصول، وسارت الدراسة النظامية في تلك المؤسسة وبجانبها دراسة الحلق في المساجد على العهد الأول بخيره وبركته، ولمسيس الحاجة لعلم الأصول رأي سماحة المفتى نشر هذا العلم على طلاب الحلق فى المساجد فقرر كتاب قواعد الأصول ومعاقد الفصول في مسجد الشيخ (بدخنة) يدرسه فضيلة السيخ محمد الأمين حفظه الله فنفع الله به وكان بدء إحياء هذا العلم، وبدء عهد جديد له من سماحةالمفتى رحمه الله على يد فضيلة المؤلف حفظه الله.ثم فتحت الكليات سبة 1374 هـ بدأت بكلية الشريعة وقرر فيها كتاب روضة الناظر للعلامة إبن قدامة من أشهر أئمة الحنابلة اختير لسعته وملاءمته وعنايته بقواعد مذهب الإمام أحمد رحمه الله مع بيانه لأصول بقية المذاهب فيما فيه الخلاف.
ফলে উসুলুল ফিকহ সেই শাস্ত্রসমূহের অগ্রভাগে ছিল যেগুলোর প্রতি সকল যুগ ও স্থানের উলামায়ে কেরাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এই ভূখণ্ডে ইলমি জাগরণ থাকাকালীন এটি এই শাস্ত্রে সমৃদ্ধ ছিল এবং এর আলিমদের মাধ্যমে আবাদ ছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এর কাঠিন্যের কারণে মানুষের হিম্মত এখান থেকে সরে গিয়েছিল, মানুষ এতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছিল এবং এর চর্চাকারীদের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এর শিক্ষা সংকুচিত হয়ে এসেছিল, এমনকি এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল; পবিত্র দুই হারাম ব্যতীত (সেখানেও সামান্যই ছিল)। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এই ভূখণ্ডের জন্য এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত করলেন যারা এই আধুনিক ইলমি ও দ্বীনি জাগরণকে পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং ১৩৭১ হিজরীতে রিয়াদ শহরে মুফতি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আলুশ শায়খআল্লাহ তাকে রহম করুন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ইলমি ইনস্টিটিউটগুলো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়। এই মহান প্রতিষ্ঠানের জন্য দেশের ভেতর ও বাহির থেকে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামকে নির্বাচন করা হয়েছিল। এর পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি ও আরবি বিজ্ঞানসমূহ, যার অগ্রভাগে ছিল উসুল শাস্ত্র। সেই প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং তার পাশাপাশি মসজিদের ইলমি হালকার শিক্ষা প্রাথমিক যুগের কল্যাণ ও বরকতের সাথে পরিচালিত হতে থাকে। উসুল শাস্ত্রের চরম প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মুফতি সাহেব মসজিদের হালকার ছাত্রদের মাঝে এই ইলম ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তিনি শায়খের মসজিদে (দাখনা-তে) 'কাওয়ায়িদুল উসুল ওয়া মাআকিদুল ফুসুল' কিতাবটি পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন, যা বিজ্ঞ শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) পড়াতেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ দান করেন এবং এটি ছিল এই ইলম পুনর্জীবনের সূচনা এবং সম্মানিতমুফতি সাহেবের (আল্লাহ তাকে রহম করুন) পক্ষ থেকে বিজ্ঞ লেখকের (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) মাধ্যমে এক নতুন যুগের প্রারম্ভ।এরপর ১৩৭৪ হিজরীতে ফ্যাকাল্টিসমূহ খোলা হয়, যা শুরু হয় শরীআহ ফ্যাকাল্টির মাধ্যমে। সেখানে হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা ইবনে কুদামার 'রওজাতুন নাযির' কিতাবটি পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এটি এর ব্যাপকতা, উপযোগিতা এবং ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-এর মাযহাবের মূলনীতির প্রতি গুরুত্বারোপের পাশাপাশি মতভেদের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাযহাবের উসুল বর্ণনার কারণে নির্বাচন করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولما كانت دراسة هذا الفن آنذاك جديدة كان الطلاب يجدونه غريبا وصعبا، ولا سيما والكتاب المقرر بأسلوبه المتقدم، وتفريعاته الواسعة، كان لا بد للطلاب من مذكرة علمية تحل أشكاله وتكشف غموضه وتجمع شتاته، وتفصل مجمله.وكان الذى تولى تدريسه هو فضيلة المؤلف حفظه الله، فأملى هذه المذكرة التي نقدم لها وذلك فى السنوات الأولى من تدريسه في الرياض وظل الطلاب يتناقلونها فيما بينهم دون أن تطبع لهم إلى أن تخرجت الدفعة الأولى والثانية والثالثة والرابعة.وفي عام 1380 هـ افتتحت الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة تحت رئاسة سماحة المفتى بنيابة فضيلة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز وانتقل فضيلة المؤلف إلى الجامعة منذ عامها الأول وتولى تدريس المادة في نفس الكتاب "روضة الناظر"وتناقل الطلبة هذه المذكرة.فكانت هذه المذكرة المباركة هي الأساس لجميع المتخرجين من كليات الإدارة العامة للمعاهد والكليات لآل الشيخ، وقد عم نفعها ولله الحمد حتى تصبح لطلابها المتخرجين عليها مؤلفات في هذا الفن ضمن مقررات المعاهد العلمية التي درسوا فيها ومعهد الجامعة الإسلامية ومعاهد اخرى ثانوية خارج هذه البلاد.وقد شملت هذه المذكرة روضة الناظر كلها ما عدا المقدمة المنطقية التي افتتح بها المؤلف كتابه وضمنها ما لا بد منه من إصطلاحات المتكلمين المداخلة لهذا الفن تسهيلا لفهمها، ومسايرة
যেহেতু সেই সময়ে এই শাস্ত্রের অধ্যয়ন নতুন ছিল, তাই ছাত্ররা একে অপরিচিত ও কঠিন মনে করত; বিশেষত নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকটির উন্নত শৈলী এবং এর বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার কারণে। ফলে ছাত্রদের জন্য এমন একটি ইলমি নোট অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, যা এর জটিলতা নিরসন করবে, অস্পষ্টতা উন্মোচন করবে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করবে এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবে।যিনি এর পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনি হলেন সম্মানিত লেখক (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)। তিনি এই নোটটি শ্রুতলিপি করান যা আমরা বর্তমানে পেশ করছি। এটি ছিল রিয়াদে তাঁর শিক্ষকতার প্রথম দিকের বছরগুলোতে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যাচের ছাত্ররা উত্তীর্ণ হওয়া পর্যন্ত তারা এটি নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করত, কিন্তু তখনও এটি মুদ্রিত হয়নি।১৩৮০ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারায় মহামান্য মুফতির সভাপতিত্বে এবং সম্মানিত শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের উপ-সভাপতিত্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। লেখক এর প্রথম বছর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন এবং একই গ্রন্থ "রওজাতুন নাযির"-এর মাধ্যমে এই বিষয়টি পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।ছাত্ররা এই নোটটি একে অপরের নিকট থেকে সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করতে থাকে।ফলে এই বরকতময় নোটটিই 'আলে শাইখ' পরিচালিত ইন্সটিটিউট ও কলেজসমূহের সাধারণ প্রশাসনের সকল স্নাতকদের জন্য মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়। আল্লাহর প্রশংসায় এর উপকারিতা ব্যাপকতা লাভ করে, এমনকি এই নোটের সাহায্যে পাঠ গ্রহণকারী ছাত্রদেরও এই শাস্ত্রের ওপর নিজস্ব রচনা তৈরি হয়, যা তারা যে সকল বৈজ্ঞানিক ইন্সটিটিউট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট এবং দেশের বাইরের অন্যান্য মাধ্যমিক ইন্সটিটিউটসমূহে অধ্যয়ন করেছেন, সেগুলোর পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।এই নোটটি "রওজাতুন নাযির" গ্রন্থের সম্পূর্ণ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, কেবল সেই যৌক্তিক ভূমিকা ব্যতীত যা দিয়ে মূল লেখক তাঁর গ্রন্থটি শুরু করেছিলেন। তিনি বিষয়টিকে সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে এবং মূলের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট মুতাকাল্লিমদের প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
لمنهج دراسة هذا الفن وقد شملت مباحث الحد والبرهان، وأنواع الدلالة، وأقسام القضايا ونحو ذلك، فلم تتعرض هذه المذكرة لها.وقد ألف فضيلة الشيخ حفظه الله رسالة مستقلة فى هذا الغرض أوسع وأشمل وأبسط وأسهل جعلها مقدمة لآداب البحث والمناظرة المقرر فى الجامعة الإسلامية.وقد كانت تلك المذكرة متناثرة الأطراف لدى الطلاب لا تكاد توجد مجتمعة عند أحدهم. وقد لمست فيها من مهام هذا الفن، وتوجيهات قضاياه ما حملنى على جمعها كلها والعناية بها.وقد رغبت الجامعة الإسلامية في طبعها مكتملة بعد تحقيقها، وتدقيقها وتصحيحها على فضيلة المؤلف حفظه الله لتكون أثرا من آثارها المجيدة. فكان ذلك نعمة متجددة لى بدراستها واتقانها.وها هى بين يدى الطلاب آمل أن يجدوا فيها أكثر ما تصبوا إليه نفوسهم وتتطلع إليه أفكارهم فى هذا الفن مما يمكن أن تغنيهم عن غيرها ولا يكاد يغنى غيرها عنها، ولا سيما في مواطن الترجيح والمباحث العقلية حيث يجدونها بعيدة عن تعقيد الفلسفة وخالصة من شوائب السفسطة، ناصعة بنور الحق على هدى الكتاب والسنة وعقيدة سلف الأمة يدرسونها مطمئنين ويتلقونها بيقين لما لفضيلة مؤلفها حفظه الله من يد طولى وأثر حميد في هذا الفن وما يتصل به من عقائد ونصوص وأحكام وعلوم اللسان والمنطق والبيان مما يجعل مباحثها وافية شاملة.
এই শাস্ত্র অধ্যয়নের পাঠ্যক্রমের জন্য, যা সংজ্ঞা ও প্রমাণ, নির্দেশনার প্রকারভেদ, এবং যুক্তিবাক্যের শ্রেণীবিভাগ ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে; তবে এই নোটটিতে তা আলোচনা করা হয়নি।আর শ্রদ্ধেয় শায়খ (আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন) এই উদ্দেশ্যে একটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন যা অধিকতর বিস্তৃত, ব্যাপক, বিস্তারিত ও সহজবোধ্য; যা তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত 'গবেষণা ও বিতর্কের আদব' (আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা) শাস্ত্রের ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।আর সেই নোটটি শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল, যা কারোর কাছেই পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যেত না। আমি এতে এই শাস্ত্রের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর মাসআলাসমূহের এমন কিছু দিকনির্দেশনা পেয়েছি যা আমাকে এটি সংগ্রহ করতে এবং এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এটি সম্পাদনা, যাচাই-বাছাই এবং শ্রদ্ধেয় লেখকের (আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন) মাধ্যমে সংশোধনের পর পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছে, যাতে এটি তাদের গৌরবময় কীর্তিসমূহের একটি নিদর্শন হয়ে থাকে। আর এটি আমার জন্য এই গ্রন্থটি অধ্যয়ন এবং আয়ত্ত করার মাধ্যমে এক নতুন নিয়ামত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।এখন এটি শিক্ষার্থীদের হাতে রয়েছে। আমি আশা করি তারা এই শাস্ত্রে তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা এবং চিন্তার প্রত্যাশা অনুযায়ী এমন অনেক কিছু এতে খুঁজে পাবে যা তাদের অন্য বই থেকে অমুখাপেক্ষী করবে, অথচ অন্য কোন বই এর বিকল্প হতে পারবে না। বিশেষ করে অগ্রাধিকার প্রদানের স্থানগুলোতে এবং বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনায়, যেখানে তারা একে দর্শনের জটিলতা থেকে মুক্ত এবং কূটতর্কের কলুষতা থেকে পবিত্র পাবে। এটি কিতাব ও সুন্নাহর হেদায়েত এবং উম্মতের সালাফদের আকিদার আলোকে সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত। তারা এটি প্রশান্ত চিত্তে অধ্যয়ন করবে এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করবে। কারণ এর শ্রদ্ধেয় লেখকের (আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন) এই শাস্ত্র এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আকিদা, দলিল, বিধান, ভাষা বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও অলংকারশাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য এবং প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে, যা এর আলোচনাগুলোকে সমৃদ্ধ ও ব্যাপক করে তুলেছে।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
والجدير بالذكر أن الكتاب المقرر "روضة الناظر " متأثر كثيرا بكتاب المستصفى للغزالى فى أصول الشافعية وهذه المذكرة متاثرة ايضا بمراقى السعود فى أصول المالكية وبهذا التأثر المزدوج تكون المذكرة مفيدة أصالة فى المذاهب الثلاثة الحنبلى، والشافعى، والمالكى.وفى المذهب الحنفى فى مواطن الخلاف حينما تتعرض له.وأحب أن أوصي الطلاب الراغبين في هذا الفن أن يولوه عنايتهم وأن يكون إقدامهم عليه بقوة وعزيمة وأن يعيدوا فيه النظر ويعملوا فيه الفكرة وأن تكون دراستهم إياه بتدبر وتعقل.والله أسال أن يعم نفعها ويجزى بأحسن الجزاء مؤلفها ويفيد بوافر الثواب كل من سعى في طبعها ونشرها.وأن تاريخ العلم ليسجل للجامعة الإسلامية فضل هذا العمل على يد رئيسها العالم الفاضل محب العلم وأهله سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله ابن باز حفظه الله كما سيحتفظ للمؤلف بيد بيضاء في هذا الأثر الدائم نفعه المتواصل أجره. وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.كتبها تلميذ المؤلف:عطية محمد سالم12-5-1391 هـ
উল্লেখযোগ্য যে, নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তক "রাওদাতুন নাজির" শাফেয়ী উসুল শাস্ত্রের গাজালির "আল-মুসতাসফা" গ্রন্থ দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত এবং এই নোটটিও মালিকী উসুল শাস্ত্রের "মারাকিউস সুউদ" দ্বারা প্রভাবিত। এই দ্বিমুখী প্রভাবের কারণে এই নোটটি মূলত হাম্বলী, শাফেয়ী ও মালিকী—এই তিন মাযহাবের ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে উপকারী।এবং হানাফী মাযহাবের ক্ষেত্রেও সেই সব মতভেদের স্থানগুলোতে যেখানে এটি আলোচিত হয়েছে।আমি এই শাস্ত্রের প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উপদেশ দিচ্ছি যে, তারা যেন এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে এবং দৃঢ় সংকল্প ও হিম্মতের সাথে এতে অগ্রসর হয়। তারা যেন এটি বারবার পর্যালোচনা করে ও গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে এবং তাদের অধ্যয়ন যেন গভীর মনোযোগ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার সাথে হয়।আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর উপকারিতাকে ব্যাপক করে দেন, এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং যারা এর মুদ্রণ ও প্রকাশের চেষ্টা করেছেন তাদের সকলকে প্রচুর সওয়াব দান করেন।জ্ঞানের ইতিহাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই কর্মের শ্রেষ্ঠত্ব লিপিবদ্ধ করে রাখবে, যা এর প্রধান—বিদ্বান, জ্ঞান ও জ্ঞানীদের অনুরাগী শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে এটি লেখকের একটি অনন্য ও উজ্জ্বল অবদান হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, যার উপকারিতা স্থায়ী এবং সওয়াব নিরবচ্ছিন্ন। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।লেখকের ছাত্র এটি লিখেছেন:আতিয়্যা মুহাম্মদ সালিম১২-৫-১৩৯১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيمحقيقة الحكم وأقسامهاعلم أنه رحمه الله ترجم هذه الترجمة التي لفظها (حقيقة الحكم وأقسامه) ولم يبين حقيقة الحكم ولا أقسامه، وانما ذكر منها الأقسام الشرعية فقط، ونحن نبين كل ذلك إن شاء الله تعالى.اعلم أن الحكم في اللغة هو المنع ومنه قيل للقضاء حكم لأنه يمنع من غير المقضي تقول حكمه كنصره وأحكمه كاكرمه وحكمه بالتضعيف بمعنى منعه.ومنه قول جرير:أبنى حنيفة احكموا سفهاءكم … انى أخاف عليكمو أن أغضباأبنى حنيفة إننى إن أهجكم … أدع اليمامة لا توارى أرنباوقول حسان بن ثابت رضى الله عنه:لنا في كل يوم من معد … سباب أو قتال أو هجاءفنحكم بالقوافى من هجانا … ونضرب حين تختلط الدماءومن الحكم بمعنى المنع حكمة اللجام وهى ما أحاط بحنكى الدابة سميت بذلك لأنها تمنعها من الجرى الشديد والحكمة أيضا حديدة فى اللجام تكون على أنف الفرس وحنكة تمنعه من مخالفة راكبه، وكانت العرب تتخذها من القد وهو الأبق وهو القنب ومنه قول زهير:القائد الخيل منكوباً دوابرها … قد أحكمت حكمات القد والأبقا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।হুকুমের হাকীকত ও এর প্রকারভেদজেনে রাখুন যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই শিরোনামটি ব্যবহার করেছেন যার শব্দবিন্যাস হলো (হুকুমের হাকীকত ও এর প্রকারভেদ), কিন্তু তিনি হুকুমের হাকীকত কিংবা এর প্রকারভেদসমূহ এখানে বর্ণনা করেননি। বরং তিনি এর থেকে কেবল শরয়ি প্রকারভেদগুলোই উল্লেখ করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা এ সব বিষয় সবিস্তারে বর্ণনা করব।জেনে রাখুন যে, আভিধানিক অর্থে 'হুকুম' অর্থ হলো বিরত রাখা বা বাধা প্রদান করা। এ থেকেই বিচারিক ফয়সালাকে 'হুকুম' বলা হয়, কারণ তা ফয়সালাকৃত বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু হতে বাধা প্রদান করে। আপনি বলবেন 'হাকামাহু' যেমন 'নাসারা' এর ওজনে, 'আহকামাহু' যেমন 'আকরামাহু' এর ওজনে এবং দ্বিত্ব বর্ণ (তাশদীদ) সহযোগে 'হাক্কামাহু'—এ সবেরই অর্থ হলো তাকে বিরত রাখা।আর এ অর্থেই জারীরের উক্তি:হে বনী হানিফা! তোমরা তোমাদের নির্বোধদের নিবৃত্ত করো … কারণ আমি তোমাদের ওপর রাগান্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছি।হে বনী হানিফা! আমি যদি তোমাদের নিন্দা করি … তবে আমি ইয়ামামাকে এমন অবস্থায় ছাড়ব যে সেখানে একটি খরগোশও আড়াল হতে পারবে না।এবং হাসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি:মুআদ গোত্রের পক্ষ থেকে প্রতিদিন আমাদের জন্য গালিগালাজ, যুদ্ধ অথবা বিদ্রূপাত্মক কবিতা থাকে। …সুতরাং যারা আমাদের নিন্দা করে আমরা কবিতার অন্ত্যমিল দিয়ে তাদের প্রতিহত করি … আর আমরা তখন আঘাত করি যখন রক্ত একে অপরের সাথে মিশে যায়।বাধা প্রদান বা নিবৃত্ত করার অর্থে 'হুকুম' শব্দের ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ হলো 'হিকমাতুল লিজাম' (লাগামের মুখবন্ধনী); যা চতুষ্পদ জন্তুর দুই চোয়ালকে বেষ্টন করে থাকে। একে এ নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি জন্তুটিকে অতি দ্রুতবেগে দৌড়ানো থেকে বিরত রাখে। আর 'হিকমাহ' হলো লাগামের সেই লৌহখণ্ড যা ঘোড়ার নাক ও চোয়ালের ওপর অবস্থান করে এবং তাকে আরোহীর বিরুদ্ধাচরণ থেকে বাধা দেয়। আর আরবরা এটি পাকা চামড়া দ্বারা তৈরি করত যা 'আবাক' বা শণ জাতীয় উদ্ভিদ থেকে প্রস্তুত করা হতো। এ অর্থেই যুহাইরের উক্তি:ঘোড়াদের সেই পরিচালক যার ঘোড়াগুলোর পায়ের পেছনের অংশ জখমপ্রাপ্ত হয়েছে … চামড়া ও শণের তৈরি লাগাম দিয়ে সেগুলোকে সুসংহত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
والحكم فى الاصطلاح هو (اثبات أمر لأمر أو نفيه عنه) نحو زياد قائم وعمرو ليس بقائم وهو ينقسم بدليل الاستقراء إلى ثلاثة أقسام:حكم عقلى وهو ما يعرف فيه (العقل) النسبة ايجاباً أو سلباً نحو الكل أكبر من الجزء ايجاباً.الجزء ليس أكبر من الكل سلباً.حكم عادى: وهو ما عرفت فيه النسبة بالعادة نحو السيقمونيا مسهل للصفراء والسكنجبين مسكن لها.حكم شرعى: وهو المقصود وحده جماعة من أهل الأصول بأنه (خطاب الله المتعلق بفعل المكلف من حيث انه مكلف به) .فخرج بقوله (خطاب الله) خطاب غيره لأنه لا حكم شرعيا الا لله وحده جل وعلا فكل تشريع من غيره باطل، قال تعالى:(ان الحكم الا لله) (وما اختلفتم فيه من شيء فحكمه إلى الله) (فان تنازعتم فى شيء فردوه إلى الله والرسول) الآية.وخرج بقوله (المتعلق بفعل المكلف ما تعلق بذات الله تعالى نحو "لا اله الا الله" وما تعلق بفعله نحو قوله تعالى: "خالق كل شيء " وما يتعلق بذوات المكلفين نحو "ولقد خلقناكم ثم صورناكم " الآية. وما تعلق بالجمادات نحو "ويوم نسير الجبال وترى الأرض بارزة".وخرج بقوله (المتعلق بفعل المكلف) خطاب الله تعالى المتعلق بفعل المكلف لا من حيث انه مكلف به كقوله تعالى "يعلمون ما تفعلون" فأنه خطاب من الله متعلق بفعل المكلف من حيث ان
পারিভাষিক অর্থে হুকুম হলো (এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে কোনো বিষয়কে নাকচ করা), যেমন: যিয়াদ দণ্ডায়মান এবং আমর দণ্ডায়মান নয়। আরোহ পদ্ধতির প্রমাণ অনুযায়ী এটি তিন ভাগে বিভক্ত:বুদ্ধিভিত্তিক বিধান: যাতে (বুদ্ধি) ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে সম্পর্ক নির্ণয় করে, যেমন: ইতিবাচকভাবে 'সমষ্টি অংশের চেয়ে বড়'।অংশ সমষ্টির চেয়ে বড় নয়—নেতিবাচকভাবে।অভ্যাসগত বিধান: যাতে অভ্যাসের মাধ্যমে সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়েছে, যেমন: 'সিকমুনিয়া পিত্ত নিঃসারক' এবং 'সকাঞ্জাবীন পিত্ত প্রশমনকারী'।শরয়ী বিধান: উসুলশাস্ত্রবিদদের একটি দলের নিকট এটিই একমাত্র উদ্দেশ্য, আর তা হলো: (মুকাল্লাফের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সেই বাণী, যা তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের দিক থেকে বিবেচিত)।তার (আল্লাহর বাণী) কথাটি দ্বারা অন্য কারো বাণী বাদ পড়ে গেছে, কারণ মহান ও উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কোনো শরয়ী বিধান দেওয়ার অধিকার নেই, তাই অন্য কারো পক্ষ থেকে আসা যে কোনো আইন প্রণয়ন বাতিল। মহান আল্লাহ বলেন:(বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই) (যে বিষয়েই তোমরা মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা তো আল্লাহরই নিকট) (যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও) - আয়াত।তার (মুকাল্লাফের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট) কথাটি দ্বারা আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাদ পড়ে গেছে, যেমন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"; এবং যা তাঁর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট তাও বাদ পড়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা"; এবং যা মুকাল্লাফদের সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট তাও বাদ পড়েছে, যেমন: "অবশ্যই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, এরপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি" - আয়াত; এবং যা জড় পদার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট তাও বাদ পড়েছে, যেমন: "যেদিন আমি পাহাড়সমূহকে চালিত করব এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি উন্মুক্ত প্রান্তর হিসেবে"।তার (মুকাল্লাফের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট) কথাটি দ্বারা আল্লাহর সেই বাণীও বাদ পড়ে গেছে যা মুকাল্লাফের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও তা তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের দিক থেকে নয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তারা জানে তোমরা যা করো"। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি সম্বোধন যা মুকাল্লাফের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কিন্তু তা যে দিক থেকে...
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحفظة يعلمونه لا من حيث انه مكلف به، واعلم أن عبارات الأصوليين اضطربت في تعريف الحكم الشرعى. وسبب اضطرابها أمران: أحدهما أنبعض المكلفين غير موجود وقت الخطاب والمعدوم ليس بشيء حتى يخاطب:ثانيهما زعمهم أن الخطاب هو نفس المعنى الازلى القائم بالذات المجرد عن الصيغة وسنين ان شاء الله تعالى غلطهم الذى سبب لهم تلك الاشكالات فى مبحث الأمر.واعلم أن الحكم الشرعى قسمان: أولهما تكليفى وهو خمسة أقسام - (الواجب والمندوب والمباح والحرام) .والثانى خطاب الوضع وهو أربعة أقسام (العلل والأسباب والشروط والموانع) وأدخل بعضهم فيه الصحة والفساد والرخصة والعزيمة وبعضهم بجعل الصحة والفساد من خطاب التكليف اذا علمت ذلك فهذه تفاصيل لأحكام الشرعية.قال المؤلف رحمه الله:أقسام أحكام التكليف خمسة (واجب ومندوب ومباح ومكروه ومحظور) .التكليف لغة هو الزام ما فيه كلفة أي مشقة.ومنه قول الخنساء:يكلفه القوم ما نابهم … وان كان أصغرهم مولداوقول علقمة بن عبدة التميمى:تكلفنى ليلى وقد شط وليها … وعادت عواد بيننا وخطوبوحده فى الاصطلاح قيل (الزام ما فيه مشقة) وقيل طلب ما فيه مشقة فعلى الاول لا يدخل فى حده الا الواجب والحرام اذ لا الزام بغيرهما وعلى
সংরক্ষণকারী ফেরেশতারা তা জানেন, তবে এই দিক থেকে নয় যে তারা এর দ্বারা আদিষ্ট। জেনে রাখুন যে, উসুলবিদদের পরিভাষায় শরয়ী বিধানের (হুকুম শরয়ী) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অস্থিরতা বা মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে। এই অস্থিরতার কারণ দুটি: প্রথমটি হলো, সম্বোধনের (খিতাব) সময় কতিপয় শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (মুকাল্লাফ) বিদ্যমান থাকেন না, আর যা অস্তিত্বহীন তাকে সম্বোধন করা সম্ভব নয়।দ্বিতীয়টি হলো তাদের এই ধারণা যে, 'খিতাব' বা সম্বোধন হলো আল্লাহর সত্তার সাথে চিরন্তনভাবে বিদ্যমান সেই অর্থ যা কোনো শব্দ বা বাক্য থেকে মুক্ত। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আদেশের (আমর) আলোচনায় আমরা তাদের সেই ভুলটি স্পষ্ট করব যা তাদের এই জটিলতায় ফেলেছে।জেনে রাখুন যে, শরয়ী বিধান দুই প্রকার: প্রথমটি হলো তাকলিফী (দায়িত্বারোপকারী বিধান), যা পাঁচ প্রকার— (ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ এবং হারাম)।দ্বিতীয়টি হলো খিতাবুল ওয়াদ (প্রাসঙ্গিক বিধান), যা চার প্রকার: (ইল্লাত বা কারণসমূহ, আসবাব বা হেতুসমূহ, শর্তসমূহ এবং মানি বা প্রতিবন্ধকসমূহ)। কেউ কেউ এর মধ্যে সেহহাত (শুদ্ধতা), ফাসাদ (অশুদ্ধতা), রুখসাত (সহজতা) ও আযীমত (দৃঢ়তা)-কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতাকে তাকলিফী বিধানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন এই হলো শরয়ী বিধানসমূহের বিস্তারিত বিবরণ।লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:তাকলিফী বিধানের প্রকারভেদ পাঁচটি (ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাকরূহ এবং মাহযুর বা হারাম)।আভিধানিকভাবে তাকলিফ হলো এমন কিছু আবশ্যক করা যাতে কষ্ট বা শ্রম রয়েছে।আর এ থেকেই কবি খানসার উক্তি:কওম তাকে সেই দায়িত্ব অর্পণ করে যা তাদের ওপর আপতিত হয় … যদিও সে বয়সে তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।এবং আলকামা ইবনে আবাদা আত-তামিমীর উক্তি:লাইলা আমাকে এমন কষ্টের দায়িত্ব দিচ্ছে অথচ তার সান্নিধ্য দূরে সরে গেছে … আর আমাদের মাঝে বাধা ও বিপত্তি ফিরে এসেছে।পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: (কষ্টসাধ্য কোনো বিষয় আবশ্যিক করা); আবার বলা হয়েছে: কষ্টসাধ্য কোনো বিষয় তলব করা। প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী, এর সংজ্ঞায় ওয়াজিব এবং হারাম ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ এই দুটি ব্যতীত অন্য কোনোটিতে আবশ্যিকতা নেই। আর...
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثانى يدخل معهما المندوب والمكروه لان الاربعة مطلوبة، وأما الجائز فلا يدخل فى تعريف من تعاريف التكليف اذ لا طلب به أصلا،فعلا ولا تركان وانما أدخلوه في أقسام التكليف مسامحة وتكميلا للقسمة المشار إليها بقول المؤلف (وجه هذه القسمة أن خطاب الشرع اما أن برد باقتضاء الفعل أو الترك أو التخير بينهما فالذى سرد باقتضاء الفعل أمر فأن اقترن به اشعار بعدم العقاب على الترك فهو ندب والا فيكون ايجابا والذى يرد باقتتضاء الترك نهى فان أشعر بعدم العقاب على الفعل فكراهة والا فحظر) كلامه واضح.ثم قال وحد الواجب (ما توعد بالعقاب على تركه) وقيل (ما يعاقب تاركه) وقيل ما (يلزم تاركه شرعا العقاب) اعلم أولا أن الوجوب فى اللغة هو سقوط الشيء لازما محله كسقوط الشخص ميتا فأنه يسقط لازما محله لانقطاع حركته بالموت، ومنه قوله تعالى: "فاذا وجبت جنوبها" أي سقطت ميتة لازمة محلها، وقوله فى الميت: (فاذا وجب فلا تبكين باكية) .وقول قيس بن الخطيب:أطاعت بنو عوف أميراً نهاهم … عن السلم حتى كان أول واجبويطلق الوجوب على اللزوم وفى الاصطلاح عرفه المؤلف بأنه (ما توعد بالعقاب على تركه) والوعيد بالعقاب على تركه لا ينافى المغفرة كما بينه تعالى بقوله:"ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء" وان شئت قلت فى حد الواجب (ما أمر به أمرا حازما) وضابطه أن فاعله موعود بالثواب وتاركه متوعد بالعقاب كالصلاة والزكاة والصوم.قال المؤلف رحمه الله (والفرض هو الواجب على احدى الروايتين) .فحاصل كلامه أن الفرض هو الواجب على احدى الروايتين وهو قول
দ্বিতীয়ত, এই দুটির সাথে মানদুব (পছন্দনীয়) এবং মাকরূহ (অপছন্দনীয়) অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ এই চারটিই তলবকৃত (চাহিদা সম্পন্ন)। আর জায়েযের ক্ষেত্রে কথা হলো, এটি তাকলিফের (শরয়ী বিধানের দায়িত্বারোপ) কোনো সংজ্ঞাতেই অন্তর্ভুক্ত হয় না, যেহেতু এতে মূলত কোনো তলব বা চাহিদা নেই,না আছে করার চাহিদা, না আছে বর্জনের চাহিদা। তবে তারা এটিকে তাকলিফের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেবল উদারতার খাতিরে এবং লেখক যে বিভাজনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা পূর্ণ করার জন্য। (এই বিভাজনের ধরন হলো, শারীয়াতের সম্বোধন হয় কোনো কাজ করার চাহিদা নিয়ে আসবে, নতুবা বর্জনের চাহিদা নিয়ে আসবে, অথবা উভয়টির মধ্যে পছন্দ করার স্বাধীনতা নিয়ে আসবে। যা কাজ করার চাহিদাসহ উপস্থাপিত হয়েছে তা হলো নির্দেশ (আমর)। এখন যদি এর সাথে বর্জনের কারণে শাস্তি না হওয়ার ইঙ্গিত যুক্ত থাকে, তবে তা পছন্দনীয় (নদব)। অন্যথায় তা আবশ্যককরণ (ঈজাব)। আর যা বর্জনের চাহিদাসহ উপস্থাপিত হয় তা হলো নিষেধ (নাহী)। যদি এর সাথে কাজটি করার কারণে শাস্তি না হওয়ার ইঙ্গিত থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় (কারাহাত)। অন্যথায় তা নিষিদ্ধকরণ (হাযর))। তাঁর কথা স্পষ্ট।অতঃপর তিনি বলেন, ওয়াজিবের সংজ্ঞা হলো: (যার বর্জনে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে)। আবার বলা হয়েছে: (যার বর্জনকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে)। আরও বলা হয়েছে: (যার বর্জনকারীর ওপর শরীয়তগতভাবে শাস্তি বর্তাবে)। প্রথমে জেনে রাখুন যে, আভিধানিক অর্থে 'উজুব' (ওয়াজিব হওয়া) হলো কোনো বস্তুর স্বস্থানে স্থির হয়ে পড়ে যাওয়া, যেমন কোনো ব্যক্তির মৃত অবস্থায় পড়ে যাওয়া; কেননা সে তার মৃত্যুর কারণে নড়াচড়া বন্ধ হয়ে স্বস্থানে স্থির হয়ে পড়ে যায়। এর থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর যখন তাদের পাজর পড়ে যায়" অর্থাৎ যখন সেগুলো মৃত অবস্থায় স্বস্থানে স্থির হয়ে পড়ে যায়। এবং মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: (যখন সে পড়ে যায়/মারা যায়, তখন যেন কোনো বিলাপকারী বিলাপ না করে)।এবং কায়েস ইবনে খতিবের উক্তি:বনু আউফ এমন এক আমিরের আনুগত্য করেছিল যে তাদের সন্ধি করতে নিষেধ করেছিল … যতক্ষণ না প্রথম পতন (মৃত্যু) অবধারিত হলো।আবার ওয়াজিব শব্দটি 'লজুম' বা আবশ্যকতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। পরিভাষায় লেখক এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, (যার বর্জনে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে)। আর বর্জনের ওপর শাস্তির হুমকি ক্ষমা করার পরিপন্থী নয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেছেন: "আর তিনি এর চেয়ে নিম্নপর্যায়ের গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" আপনি যদি চান তবে ওয়াজিবের সংজ্ঞায় বলতে পারেন: (যা দৃঢ়ভাবে আদেশ করা হয়েছে)। এর মাপকাঠি হলো, এর সম্পাদনকারী সওয়াবের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত এবং এর বর্জনকারী শাস্তির হুমকির সম্মুখীন, যেমন—নামাজ, জাকাত এবং রোজা। লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: (দুই বর্ণনার মধ্যে একটি অনুযায়ী ফরজই হলো ওয়াজিব)।সুতরাং তাঁর কথার সারসংক্ষেপ হলো, দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী ফরজই হলো ওয়াজিব, এবং এটিই হলো মত—
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الشافعى ومالك.وعلى الرواية الأخرى فالفرض آكد من الواجب فالفرض ما ثبت بدليل قطعى كالصلاة، والواجب ما ثبت بدليل ظنى كالعمرة عند من أوجبها، وهو قول أبى حنيفة وقيل: (الفرض ما لا يسامح بتركه عمداً ولا سهواً) كاركان الصلاة، والواجب ما يسامح فيه ان وقع من غير عمد كالصلاة بالنجاسة عند من يقول بالمسامحة في ذلك واصطلح كثير من العلماء من مالكية وشافعية وحنابلة على اطلاق الواجب على السنة المؤكدة تأكيدا قويا.(فصل)قال المؤلف رحمه الله:(الواجب ينقسم إلى معين وإلى مبهم فى أقسام محصورة..) .اعلم أن الواحب ينقسم ثلاثة تقسيمات: ينقسم باعتبار ذاته إلى واجب معين لا يقوم غيره مقامه كالصوم والصلاة، وإلى مبهم فى أقسام محصورة فهو واجب لا بعينه كواحدة من خصال الكفارة فى قوله تعالى: "فكفارته اطعام عشرة مساكين". الآية.فالواجب واحد منها لا بعينه فأي واحد فعله الحانث أجزأه وزعم المعتزلة أن التخيير مطلقا ينافى ذلك الوجوب باطل، لانه لم يخير بين الفعل والترك تخييرا مطلقا حتى ينافى ذلك الوجوب، بل لا يجوز ترك بعضها الا مشروطا بفعل بعض آخر منها، فلو ترك جميعها لكان آثما ولا خيار له فى تركالجميع، ولا يجب عليه فعل جميعها اجماعا فتبين أن الواجب واحد منها لا بعينه لان كل واحد منها يفى بالمقصود الشرعى ولا يحصل
শাফেঈ ও মালেক।অন্য বর্ণনা অনুযায়ী, ফরজ হলো ওয়াজিবের চেয়ে অধিক তাকীদপূর্ণ। সুতরাং ফরজ হলো তা-ই যা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত, যেমন: সালাত। আর ওয়াজিব হলো তা-ই যা ধারণাপ্রসূত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত, যেমন: তাদের মতে উমরাহ যারা এটিকে ওয়াজিব মনে করেন। এটিই আবু হানিফার অভিমত। কেউ কেউ বলেছেন: (ফরজ হলো এমন বিষয় যা ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত বর্জন করা ক্ষমাযোগ্য নয়), যেমন: সালাতের রোকনসমূহ। আর ওয়াজিব হলো যা অনিচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হলে ক্ষমাযোগ্য, যেমন: নাপাকি নিয়ে সালাত আদায় করা তাদের মতে যারা এক্ষেত্রে ক্ষমার কথা বলেন। মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী আলেমদের মধ্যে অনেক ফকীহ অত্যন্ত শক্তিশালী সুন্নাতে মুয়াক্কাদাকে ওয়াজিব হিসেবে অভিহিত করার পরিভাষা গ্রহণ করেছেন।(পরিচ্ছেদ)লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:(ওয়াজিব নির্দিষ্ট এবং সীমিত কতিপয় বিষয়ের মধ্যে অনির্দিষ্ট—এ দুই ভাগে বিভক্ত হয়...) ।জেনে রাখুন যে, ওয়াজিব তিনটি ভাগে বিভক্ত: স্বীয় সত্তার বিবেচনায় এটি নির্দিষ্ট ওয়াজিব (যার স্থলে অন্য কিছু স্থলাভিষিক্ত হয় না), যেমন: সিয়াম ও সালাত; এবং সীমিত কতিপয় বিষয়ের মধ্যে অনির্দিষ্ট ওয়াজিব। সুতরাং তা অনির্দিষ্টভাবে ওয়াজিব, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তার কাফফারা হলো দশজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো" আয়াতে বর্ণিত কাফফারার বিধানসমূহের কোনো একটি।এক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো এগুলোর মধ্য থেকে অনির্দিষ্ট কোনো একটি। সুতরাং শপথ ভঙ্গকারী ব্যক্তি এর যেকোনো একটি পালন করলে তা যথেষ্ট হবে। মুতাযিলাদের এই দাবি বাতিল যে, ঢালাওভাবে পছন্দের সুযোগ থাকা ওয়াজিব হওয়ার পরিপন্থী। কারণ তাকে কাজ করা এবং না করার মধ্যে ঢালাওভাবে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি যা ওয়াজিব হওয়ার পরিপন্থী হতে পারে; বরং এগুলোর কোনো একটি ছেড়ে দেওয়া কেবল তখনই বৈধ হবে যখন সে অন্য কোনো একটি পালন করবে। সুতরাং যদি সে সবকটিই বর্জন করে তবে সে গুনাহগার হবে, এবং সবকটি বর্জন করার ক্ষেত্রে তার কোনো পছন্দ করার সুযোগ নেই। আবার ঐকমত্য অনুযায়ী তার ওপর সবকটি পালন করাও ওয়াজিব নয়। তাই স্পষ্ট হলো যে, ওয়াজিব হলো এগুলোর মধ্য থেকে অনির্দিষ্ট কোনো একটি। কারণ এগুলোর প্রতিটিই শরয়ি উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং অর্জিত হয় না...
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
دون واحد منها وكذلك غير المحصورة كاعتاق رقبة فى الظهار أو اليمين فان تزويج المرأة الطالبة للنكاح من أحد الكفأين الخاطبين وعقد الامامة لأحد الرجلين الصالحين فان كان ذلك يجب فيه واحد لا بعينه، ولا يمكن أن يقال فيه بايجاب الجميع ولا بسقوط ايجاب الجميع كما ترى.وينقسم الواجب أيضا باعتبار وقته إلى مضيق وموسع، فالواجب المضيق هو ما وقته مضيق وضابط ما وقاه مضيق واجبا كان أو غيره هو ما لا يسع وقته أكثر من فعله كصوم رمضان فى الواجب، وستة من شوال عند من يقول بأنها لا بد أن تكون متتابعة تلى يوم الفطر، وهو ظاهر حديث أبى أيوب، وحديث ثوبان، والأيام البيض فى غير الواجب، والواجب الموسع هو ما يسع وقته أكثر من فعله كالصلواة الخمس، ومثاله فى غير الواجب الوتر وركعتا الفجر والعيدان والضحى.والوقت في الاصطلاح هو الزمن الذى قدره الشارع للعبادة وما زعمه بعضهم من أن الواجب الموسع مستحيل زاعما أن التخيير فى فعل العبادة ذات الوقت الموسع فى أول الوقت ووسطه ينافى الوجوب اذ الواجب حتم لا تخيير فيه ولا يجوز تركه فهو باطل ـ أي الزعم بأن الواجب الموسع مستحيل ـ لان الواجب الموسع من قبيل الواجب المبهم فى واحد لا بعينه كالصلاة يجب أن تؤدى فى حصة من حصص الوقت من أوله أو وسطه أو آخره فعل فيها الصلاة أجزأته كما أن أي واحدة من خصال الكفارة فعلها أجزأته.وقد أجمع العلماء على أم من أدى الصلاة فى أول وقتها أنه يثاب ثواب الفرض وتلزمه نية الفرض ـ محل الاستدلال لزوم نية الفرض مع جواز
এগুলোর মধ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট নয়; একইভাবে অনির্দিষ্ট ওয়াজিবের ক্ষেত্রেও, যেমন যিহার বা কসমের কাফফারা হিসেবে দাস মুক্ত করা। বিবাহপ্রার্থিনী নারীকে দুই উপযুক্ত প্রস্তাবকারীর মধ্য থেকে কোনো একজনের সাথে বিবাহ দেওয়া এবং দুই যোগ্য ব্যক্তির মধ্য থেকে কোনো একজনকে ইমামতের চুক্তিতে আবদ্ধ করা। যদি এমন হয় যে এগুলোর মধ্য থেকে অনির্দিষ্টভাবে কোনো একটি ওয়াজিব, তবে আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, সবগুলোকে ওয়াজিব বলা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সবার ওয়াজিব হওয়া রহিত হয়ে গেছে বলাও সম্ভব নয়।ওয়াজিব তার সময়ের বিবেচনায় 'মুদাইয়্যাক' (সংকীর্ণ) এবং 'মুওয়াসসা' (প্রশস্ত) এই দুই ভাগে বিভক্ত। 'ওয়াজিব মুদাইয়্যাক' হলো যার সময় সংকীর্ণ। ওয়াজিব হোক বা অন্য কিছু, মুদাইয়্যাকের মানদণ্ড হলো যার সময় ওই কাজটি করা ছাড়া অতিরিক্ত অন্য কিছু করার অবকাশ দেয় না। ওয়াজিবের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো রমজানের রোজা; আর যারা শাওয়ালের ছয় রোজা ঈদুল ফিতরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাখা আবশ্যক মনে করেন—যা আবু আইয়ুব ও সাওবানের (রা.) হাদিসের বাহ্যিক অর্থ—তাদের নিকট এটি এবং ওয়াজিব নয় এমন আমলের মধ্যে 'আইয়ামে বিদ'-এর রোজা এর উদাহরণ। আর 'ওয়াজিব মুওয়াসসা' হলো যার সময় ওই কাজটি সম্পাদন করার পর আরও অতিরিক্ত কাজ করার অবকাশ রাখে, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। ওয়াজিব নয় এমন আমলের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো বিতর, ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত), দুই ঈদ এবং চাশতের নামাজ।পারিভাষিক অর্থে 'ওয়াক্ত' বা সময় হলো সেই কাল যা শরিয়ত প্রণেতা কোনো ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। কেউ কেউ যে দাবি করেছেন যে 'ওয়াজিব মুওয়াসসা' অসম্ভব—এই যুক্তিতে যে, প্রশস্ত সময়ের ইবাদতটি সময়ের শুরুতে, মাঝখানে বা শেষে আদায় করার ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা থাকা ওয়াজিব হওয়ার পরিপন্থী, কারণ ওয়াজিব হলো অবধারিত যাতে কোনো ইখতিয়ার নেই এবং যা ত্যাগ করা জায়েজ নয়—তাদের এই দাবি (অর্থাৎ ওয়াজিব মুওয়াসসা অসম্ভব হওয়া) বাতিল। কারণ ওয়াজিব মুওয়াসসা হলো অনির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়ের মতো ওয়াজিব। যেমন নামাজ; এটি সময়ের যেকোনো একটি অংশে আদায় করা ওয়াজিব, চাই তা শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে। যে অংশেই নামাজ আদায় করা হবে তা যথেষ্ট হবে, ঠিক যেমন কাফফারার বিধানগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি পালন করলে তা যথেষ্ট হয়।উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ আদায় করবে সে ফরজ আদায়ের সওয়াব পাবে এবং তার ওপর ফরজের নিয়ত করা আবশ্যক—এখানে দলিল হলো ফরজের নিয়ত আবশ্যক হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করা জায়েজ হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
التأخير ـ فدل ذلك على بطلا قول من قال انها لو وجبت فى أول الوقت لما جاز ترك أدائها إلى وسط الوقت، لان التخيير فى ذلك الوقت إلى ما بعده ينافى الوجوب، ولا شك أن ذلك كله باطل كما بينا.وينقسم الواجب أيضا باعتبار فاعله إلى واجب عينى وواجب على الكفاية فالواجب العينى هو ما ينظر فيه الشارع إلى ذات الفاعل كالصلاة والزكاة والصوم، لان كل شخص تلزمه بعينه طاعة الله عز وجل لقوله تعالى: (وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون)وأما الواجب على الكفاية فضابطه أنه ينظر فيه الشارع إلى نفس الفعل، بقطع النظر عن فاعله، كدفن الميت، وانقاذ الغريق ونحو ذلك، فان الشارع لم ينظر إلى عين الشخص الذى يدفن الميت أو ينقذ الغريق، اذ لا فرق عنده فى ذلك بين زيد وعمرو، وانما ينظر إلى نفس الفعل الذى هوالدفن والانقاذ مثلا وستأتى مسألة فرض الكفاية فى مباحث الامر ان شاء الله تعالى.(فصل)قال المؤلف: اذا أخر الواجب الموسع فمات فى أثناء وقته قبل ضيقه لم يمت عاصيا.. الخ. خلاصة ما ذكره المؤلف فى هذا الفصل أن المكلف اذا مات فى أول الوقت أو وسطه والحال أنه لم يؤد الصلاة لم يمت عاصيا لان الوقت الموسع يجوز للانسان أن يأتى بالصلاة فى أية حصة شاءها
বিলম্বকরণ — আর এটি সেই ব্যক্তির বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে যে বলেছিল যে, যদি তা সময়ের শুরুতে ওয়াজিব হতো তবে সময়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত এর আদায় বর্জন করা জায়েজ হতো না; কারণ ওই সময়ে পরবর্তী সময়ের জন্য অবকাশ থাকা ওয়াজিবের পরিপন্থী। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এসবই বাতিল যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।ওয়াজিব তার সম্পাদনকারীর বিবেচনায় ওয়াজিব আইনি এবং ওয়াজিব কিফায়ি হিসেবেও বিভক্ত হয়। ওয়াজিব আইনি হলো এমন বিষয় যাতে শরিয়ত প্রণেতা সম্পাদনকারীর সত্তার প্রতি লক্ষ্য করেন, যেমন নামাজ, জাকাত ও রোজা। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর নির্দিষ্টভাবে মহান আল্লাহর আনুগত্য করা আবশ্যক, আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।"আর ওয়াজিব কিফায়ি-এর মূলনীতি হলো, এতে শরিয়ত প্রণেতা সম্পাদনকারীর প্রতি লক্ষ্য না করে সরাসরি কাজের প্রতি লক্ষ্য করেন, যেমন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা, ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা ইত্যাদি। কেননা শরিয়ত প্রণেতা সেই ব্যক্তির সত্তার দিকে তাকান না যে মৃতকে দাফন করছে বা ডুবন্তকে উদ্ধার করছে। কারণ তাঁর কাছে এক্ষেত্রে জায়েদ ও আমরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, বরং তিনি কেবল ওই কাজটির প্রতি লক্ষ্য করেন যা হলো—উদাহরণস্বরূপ দাফন ও উদ্ধার করা। আর ফরজ কিফায়ার মাসআলাটি নির্দেশ সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে, আল্লাহ তাআলা চাইলে।(পরিচ্ছেদ)লেখক বলেছেন: যদি কেউ প্রশস্ত ওয়াজিব বিলম্বিত করে এবং সময় সংকীর্ণ হওয়ার আগে ওয়াক্তের মাঝেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে গুনাহগার হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে না... ইত্যাদি। লেখক এই পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করেছেন তার সারকথা হলো, কোনো মুকাল্লাফ যদি সময়ের শুরুতে বা মাঝখানে মৃত্যুবরণ করে আর অবস্থা এমন হয় যে সে নামাজ আদায় করেনি, তবে সে গুনাহগার হয়ে মরবে না। কারণ প্রশস্ত সময়ের ক্ষেত্রে মানুষের জন্য জায়েজ যে সে ওই সময়ের যেকোনো অংশে নামাজ আদায় করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من حصصه سواء كانت من أوله أو وسطه، كالمحكوم عليه بالقتل مع تعيين وقت التنفيذ، لأن الوقت يضيق فى حقه بسبب ظن الموت، فلو تخلف الظن وسلم من الموت وأدىالصلاة فى آخر الوقت فهل تكون صلاته أداء وهو الظاهر لوقوعها فى الوقت، ضاق فى حقه بسبب ظن الموت، بدليل أنه لو مات فى الوقت مع ظن الموت ولم يبادر بالصلاة مات عاصيا.(فصل)قال المؤلف:ما لا يتم الواجب الا به ينقسم إلى ما ليس داخل تحت قدرة المكلف كالقدرة واليد فى الكتابة وحضور الامام والعدد فى الجمعة فلا يوصف بوجوب. وإلى ما هو داخل تحت قدرة العبد فيما يتعلق باختيار العبد كالطهارة للصلاة، والسعى للجمعة، وغسل جزء من الرأس وامساك جزء من الليل مع النهار فى الصوم فهو واجب.. الخ..حاصل معنى كلامه رحمه الله أن ما لا يتم الواجب الا به قسمان:قسم ليس تحت قدرة العبد كزوال الشمس لوجوب الظهر وككون من تعينت عليه الكتابة مقطوع اليدين، وكحضور الامام والعدد الذى لا تصح الجمعة بدونه، فلا قدرة للمكلف على قهر الامام على الحضور إلى المساجد، فهذا النوع لا يوصف بوجوب الا على قول من جوز التكليف بما لا يطاق وهو مذهب باطل مردود.
তার নির্ধারিত অংশসমূহ থেকে, চাই তা শুরুর দিকে হোক বা মাঝখানে, যেমন যার ওপর মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে এবং কার্যকর করার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে; কারণ মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কার কারণে তার ক্ষেত্রে সময়টি সংকীর্ণ হয়ে যায়। অতঃপর যদি সেই আশঙ্কা বাস্তবায়িত না হয় এবং সে মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় এবং ওয়াক্তের শেষাংশে সালাত আদায় করে, তবে কি তার সালাত 'আদা' (যথাসময়ে আদায়) হিসেবে গণ্য হবে? জাহির বা প্রকাশ্য মত অনুযায়ী তা 'আদা' হবে যেহেতু তা ওয়াক্তের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে, যদিও মৃত্যুর আশঙ্কার কারণে তার জন্য সময়টি সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এর প্রমাণ হলো, যদি সে মৃত্যুর আশঙ্কারত অবস্থায় ওয়াক্ত থাকাকালীন মারা যায় এবং সালাত আদায়ে দ্রুততা অবলম্বন না করে, তবে সে অবাধ্য বা গুনাহগার হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে।(পরিচ্ছেদ)লেখক বলেন:যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা এমন ভাগে বিভক্ত যা মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির সক্ষমতার বহির্ভূত; যেমন লিখনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা ও হাত থাকা, এবং জুমুআর ক্ষেত্রে ইমামের উপস্থিতি ও মুসল্লির সংখ্যা। সুতরাং একে ওয়াজিব বলে অভিহিত করা হবে না। আর যা বান্দার সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত এবং তার ইচ্ছাধীন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা, জুমুআর দিকে ধাবিত হওয়া, মাথার কিছু অংশ ধৌত করা এবং সিয়ামের ক্ষেত্রে দিনের সাথে রাতের কিছু অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা; তবে তা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে... ইত্যাদি।তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) আলোচনার সারমর্ম এই যে, যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা দুই প্রকার:এক প্রকার হলো যা বান্দার সক্ষমতার অধীনে নয়, যেমন যুহর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া, কিংবা যার ওপর লেখা অবধারিত হয়েছে তার হাত দ্বয় কর্তিত হওয়া, এবং ইমামের উপস্থিতি ও মুসল্লির সংখ্যা যার ব্যতীত জুমুআ শুদ্ধ হয় না। কেননা ইমামকে মসজিদে উপস্থিত হতে বাধ্য করার ক্ষমতা মুকাল্লাফের নেই। সুতরাং এই প্রকারটিকে ওয়াজিব বলা যাবে না, কেবল তাদের মতানুসারে যারা অসাধ্য বিষয়ের দায়ভার চাপানোকে বৈধ মনে করেন, আর এটি একটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত মত।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقسم تحت قدرة العبد، كالطهارة، والسعى للجمعة، وغسل جزء من الرأس، اذ لا يتحقق تعميم غسل الوجه الا بغسل جزء يسير من الرأس، وامساك جزء من الليل مع النهار اذ لا يتحقق الامساك فى جميع نهار رمضان الا بأمساك جزء يسير من الليل، بناء على أن الغاية فى قوله تعالى: (حتى يتبين لكم الخيط الابيض) . الآية. خارجة وهو الصحيح، لأن من أخر الامساك عن جميع أجزاء الليل بتمامها فهو متناول للفطر قطعا فى نهار رمضان، اذ لا واسطة بين الليل والنهار.وما جاء من الأحاديث موهما جواز تناول المفطر بعد الصبح فهو محمول على أن المراد به أنه فى آخر جزء من الليل لشدة قربه من النهار. وهذا القسم الاخير أعنى ما هو تحت قدرة المكلف قال المؤلف انه واجب هذا حاصل معنى كلامه رحمه الله، قال مقيده عفا الله عنه وهذا التقسيم غير جيد وحاصل تحرير المقام أن يقال: ما لا يتم الواجب الا به ثلاثة أقسام:قسم ليس تحت قدرة العبد كما مثلنا له آنفا.وقسم تحت قدرة العبد عادة الا أنه لم يؤمر بتحصيله كالنصاب ـ لوجوب الزكاة والاستطاعة لوجوب الحج والاقامة لوجوب الصوم، وهذان القسمان لا يجبان اجماعا.القسم الثالث ما هو تحت قدرة العبد مع أنه مأمور به كالطهارة للصلاة والسعى للجمعة.. الخ.. وهذا واجب على التحقيق وان شئت قلت: (ما لا يتم الواجب المطلق الا به فهو واجب) كالطهارة للصلاة و (ما لا يتم الواجب المعلق ـ على شرط كالزكاة معلقة على ملك النصاب، والحج على الاستطاعة ـ الا به فليس
একটি অংশ বান্দার সক্ষমতার অধীনে, যেমন পবিত্রতা অর্জন, জুমার নামাজের জন্য দ্রুত গমন এবং মাথার কিছু অংশ ধৌত করা; যেহেতু মাথার সামান্য অংশ ধৌত করা ব্যতীত মুখমণ্ডল ধৌত করার বিষয়টি পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় না। তেমনি দিনের সাথে রাতের কিছু অংশে পানাহার থেকে বিরত থাকা; যেহেতু রাতের সামান্য অংশে বিরত থাকা ব্যতীত রমজানের পূর্ণ দিবসে বিরত থাকা বাস্তবায়িত হয় না। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে: (যতক্ষণ না তোমাদের নিকট সাদা সুতা স্পষ্ট হয়)। আয়াত। এটি যে সীমার বহির্ভূত, সেটিই সঠিক মত। কারণ, যে ব্যক্তি রাতের সকল অংশ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকাকে বিলম্বিত করল, সে নিশ্চিতভাবেই রমজানের দিনের মধ্যে রোজা ভঙ্গকারী কোনো কিছু গ্রহণকারী হিসেবে গণ্য হবে; কেননা রাত ও দিনের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা নেই।আর যেসব হাদিস থেকে সুবহে সাদিকের পর রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণ করা বৈধ হওয়ার ধারণা জন্মায়, সেগুলোকে এই অর্থে গ্রহণ করা হবে যে, দিনের অতি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এর দ্বারা রাতের শেষ অংশ উদ্দেশ্য। আর এই শেষোক্ত বিভাগ অর্থাৎ যা মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির) সক্ষমতার অধীনে, সে সম্পর্কে লেখক বলেছেন যে তা ওয়াজিব। এটিই তাঁর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বক্তব্যের সারকথা। এর টীকাকার (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেছেন যে, এই বিভাজনটি যথাযথ নয়। এই প্রসঙ্গের সঠিক বিশ্লেষণ হলো এই যে, বলা হবে: যার মাধ্যম ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, তা তিন প্রকার:এক প্রকার হলো যা বান্দার সক্ষমতার অধীনে নয়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উদাহরণ দিয়েছি।অন্য প্রকার হলো যা সাধারণভাবে বান্দার সক্ষমতার অধীনে থাকা সত্ত্বেও তা অর্জন করার জন্য তাকে আদেশ করা হয়নি। যেমন: জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া, হজ ওয়াজিব হওয়ার জন্য সক্ষমতা অর্জন করা এবং রোজা ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিজ বাসস্থানে অবস্থান করা। এই দুই প্রকার সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব নয়।তৃতীয় প্রকার হলো যা বান্দার সক্ষমতার অধীনে এবং একই সাথে তাকে তা সম্পাদনের আদেশ দেওয়া হয়েছে; যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন এবং জুমার জন্য গমন করা ইত্যাদি। এটি গবেষণালব্ধ বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ওয়াজিব। আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: (যে মাধ্যম ছাড়া নিরঙ্কুশ ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব) যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন। আর (যে মাধ্যম ছাড়া শর্তযুক্ত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না—যেমন জাকাত যা নিসাব মালিকানার ওপর এবং হজ যা সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল—তা ওয়াজিব নয়...
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بواجب) كالنصاب للزكاة والاستطاعة للحج، وأوضح من هذا كله أن نقول: (ما لا يتم الواجب الا به فهو واجب كالطهارة للصلاة) وما لا يتم الوجوب الا به فليس بواجب كالنصاب للزكاة.(تنبيه)اعلم أن الطهارة للصلاة واجبة اجماعا كما لا يخفى، وحينئذ فعلى أن ما لا يتم الواجب المطلق الا به واجب، فجميع النصوص الموجبة للصلاة توجب الطهارة لأنها لا تتم الا بها. وما لا يتم الواجب الا به واجب، وان كانت الطهارة واجبة بأدلة أخرى اذ لا مانع من تعدد الأدلة، وعلى العكس فالطهارة واجبة بالنصوص الأخرى فقط دون النصوص الموجبة للصلاة.(فصل)قال المؤلف رحمه الله:(واذا اختلطت أخته بأجنبية أو ميتة بمذكاة حرمنا الميتة بعلة الموت والأخرى بعلة الاشتباه) . هذه المسألة يترجم لها علماء الأصول بقولهم: (ما لا يتم ترك الحرام الا بتركه فتركه واجب) فان اختلطت ميتة بمذكاة أو أخته بأجنبية فلا يتم ترك الحرام الذى هو أكل الميتة فى الاول ونكاح الأخت فى الثانى الا بترك الجميع، فترك الجميع واجب.وقول المؤلف رحمه الله حرمنا الميتة بعلة الموت والأخرى بعلة الاشتباه فيه نظر لأن الميتة غير معروفة بعينها، فالجميع محرم لأنه لا يتم ترك الحرام الا بترك الجميع، فكل واحدة أكل منها احتمل أن تكون هى الميتة، وقول من قال ان المذكاة حلال لكن يجب الكف عنها ظاهر التناقض كما بينه المؤلف.
(অপরিহার্য নয়) যেমন জাকাতের জন্য নিসাব এবং হজের জন্য সামর্থ্য। আর এই সবকিছুর চেয়ে স্পষ্টতর হলো আমাদের এই কথা বলা যে: (যে বিষয় ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেই বিষয়টিও ওয়াজিব; যেমন সালাতের জন্য পবিত্রতা)। আর যে বিষয় ছাড়া ওয়াজিব হওয়া (সাব্যস্ত হওয়া) পূর্ণ হয় না, তা ওয়াজিব নয়; যেমন জাকাতের জন্য নিসাব।(সতর্কীকরণ)জেনে রাখুন যে, সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব, যা অস্পষ্ট নয়। এমতাবস্থায়, যেহেতু যা ছাড়া নিরঙ্কুশ ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তাও ওয়াজিব, সেহেতু সালাত ওয়াজিবকারী সমস্ত দলীল পবিত্রতাকেও ওয়াজিব করে; কারণ পবিত্রতা ছাড়া সালাত সম্পন্ন হয় না। আর যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তাও ওয়াজিব; যদিও পবিত্রতা অন্য দলীলের মাধ্যমেও ওয়াজিব হয়েছে, কেননা দলীল একাধিক হতে কোনো বাধা নেই। এর বিপরীতে, পবিত্রতা কেবল অন্যান্য দলীলের মাধ্যমেই ওয়াজিব হয়, সালাত ওয়াজিবকারী দলীলসমূহের মাধ্যমে নয়।(পরিচ্ছেদ)লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:(যদি কারও বোন অন্য কোনো অপরিচিত মহিলার সাথে অথবা মৃত পশু জবেহকৃত পশুর সাথে মিশে যায়, তবে আমরা মৃত পশুকে মৃত্যুর কারণে হারাম গণ্য করব এবং অন্যটিকে সন্দেহের কারণে হারাম গণ্য করব।) এই মাসআলাটি উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে শিরোনামভুক্ত করেন: (যেটি বর্জন করা ছাড়া হারাম বর্জন করা সম্ভব হয় না, সেটি বর্জন করাও ওয়াজিব)। সুতরাং যদি মৃত পশু জবেহকৃত পশুর সাথে অথবা নিজের বোন কোনো পরনারীর সাথে মিশে যায়, তবে প্রথম ক্ষেত্রে মৃত পশু ভক্ষণ এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বোনের সাথে বিবাহরূপ হারাম বর্জন করা সবকটি ত্যাগ করা ব্যতীত সম্ভব নয়। অতএব, সবকটি বর্জন করা ওয়াজিব।আর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য "আমরা মৃত পশুকে মৃত্যুর কারণে হারাম গণ্য করব এবং অন্যটিকে সন্দেহের কারণে হারাম গণ্য করব"—এটি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে; কারণ মৃত পশুটি সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তাই সবকটিই হারাম হবে, কারণ সবকটি বর্জন করা ছাড়া হারাম বর্জন করা সম্ভব নয়। ফলে সেগুলোর মধ্য থেকে যা-ই খাওয়া হবে, তা-ই মৃত পশু হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আর যারা বলেন যে জবেহকৃত পশুটি হালাল কিন্তু সেটি থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব, তাদের এই বক্তব্যটি সুস্পষ্ট স্ববিরোধী, যেমনটি লেখক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(فصل)قال المؤلف:الواجب الذى لا يتقيد بحد محدود كالطمأنينة فى الركوع والسجود، الخ، اعلم أولا أن الزيادة على الواجب لها حالتان:(الاولى) : أن تكون الزيادة على الواجب متميزة عنه كصلاة النافلة بالنسبة إلى الصلوات الخمس، وهذه الزيادة غير واجبة كما هو واضح.(الثانية) : أن تكون الزيادة غير متميزة عن الواجب كالزائد على قدر الفرض من الطمأنينة فى الركوع والسجود ونحو ذلك، فقال قوم الزيادة هنا واجبة لأن الجميع امتثال للأمر الواجب ولم يتميز فيه واجب عن غيره فالكل واجب لانه امتثال للواجب والحق أن الزائد غير واجب، والدليل على ذلك جواز تركه والاقتصار على ما يحصل به الفرض فقط من الطمأنينة من غير شرط ولا بدل.قال المؤلف الثانى (المندوب) خلاصة ما ذكره المؤلف فى هذا المبحث أن المندوب هو ما فعله الثواب وليس فى تركه عقاب وهذا أجود التعريفين اللذين ذكرهما المؤلف، وان شئت قلت: (ما أمر به أمراً غير جازم والتحقيق أن المندوب مأمور به لان الأمر قسمان) :أمر جازم أي فى تركه العقاب وهو الواجب.وأمر غير جازم، أي لا عقاب فى تركه وهو المندوب.والدليل على شمول الأمر للمندوب قوله تعالى: "وافعلوا الخير"
(পরিচ্ছেদ)লেখক বলেছেন:সেই ওয়াজিব যা কোনো নির্দিষ্ট সীমার দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, যেমন রুকু ও সিজদায় স্থিরতা (তামানীনাহ), ইত্যাদি। প্রথমেই জেনে রাখুন যে, ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশের দুটি অবস্থা রয়েছে:(প্রথম) : ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশটি যদি তা থেকে পৃথক হয়, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের তুলনায় নফল সালাত; এবং এই অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব নয়, যেমনটি স্পষ্ট।(দ্বিতীয়) : অতিরিক্ত অংশটি যদি ওয়াজিব থেকে পৃথক না হয়, যেমন রুকু ও সিজদায় ফরজের অতিরিক্ত স্থিরতা (তামানীনাহ) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এমতাবস্থায় একদল আলিম বলেছেন যে, এখানে অতিরিক্ত অংশটিও ওয়াজিব; কারণ পুরো কাজটুকুই ওয়াজিব নির্দেশ পালনের অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে ওয়াজিবকে অন্য অংশ থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়। তাই পুরোটিই ওয়াজিব যেহেতু এটি ওয়াজিবের আনুগত্য। কিন্তু সঠিক মত হলো অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব নয়। এর প্রমাণ হলো, অতিরিক্ত অংশটুকু বর্জন করা এবং কেবল স্থিরতার (তামানীনাহ) সেই ফরয পরিমাণটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ, যার দ্বারা কোনো শর্ত বা বিকল্প ছাড়াই ফরয আদায় হয়ে যায়।লেখক দ্বিতীয়ত বলেছেন: (মানদুব বা পছন্দনীয়) এই আলোচনায় লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো, মানদুব হলো এমন কাজ যা করলে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু বর্জন করলে কোনো শাস্তি নেই। এটি লেখকের উল্লিখিত দুটি সংজ্ঞার মধ্যে অধিকতর উত্তম। আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: (যা করার জন্য অদৃঢ়ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো মানদুবও আদিষ্ট বা নির্দেশিত বিষয়, কারণ নির্দেশ বা 'আমর' দুই প্রকার) :দৃঢ় বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ, অর্থাৎ যার বর্জনে শাস্তি রয়েছে, আর তা হলো ওয়াজিব।এবং অদৃঢ় বা অ-বাধ্যতামূলক নির্দেশ, অর্থাৎ যার বর্জনে কোনো শাস্তি নেই, আর তা হলো মানদুব।আর 'নির্দেশ' শব্দের অধীনে যে মানদুবও অন্তর্ভুক্ত, তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা কল্যাণকর কাজ করো।"
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
أي ومنه المندوب وامر بالمعروف، أي ومنه المندوب: "ان الله يأمر بالعدل والاحسان وايتاء ذى القربى "، أي ومن الاحسان وايتاء ذى القربى ما هو مندوب، واحتج من قال ان الندب غير مأمور به بقوله: " فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب إليهم " قالوا فى الآية التوعد على مخالفة الأمر بالفتنة والعذاب الأليم، والندب لا يستلزم تركه شيئا من ذلك، والحديث: (لولا أن أشق على أمتى لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة) مع أنه ندبهم إلىالسواك قالوا فدل ذلك على أن الندب غبر مأمور به والجواب أن الأمر فى الآية والحديث المذكورين يراد به الأمر الواجب، فلا ينافى أن يطلق الامر أيضا على غير الواجب، فلا ينافى أن يطلق الامر أيضا على غير الواجب، وقد قدمنا أن الامر يطلق على هذا وهذا وزعم من قال ان الندب تخيير بدليل جواز تركه والامر استدعاء وطلب. والتخيير والطلب متنافيان، زعم غير صحيح، لان الندب ليس تخييرا مطلقا بدليل أن الفعل فيه أرجح من الترك للثواب فى فعله وعدم الثواب فى تركه،ولان المندوب أيضا مطلوب الا أن طلبه غير جازم والندب فى اللغة الدعاء إلى الفعل، ومنه قوله:لا يسألون أخاهم حين يندبهم … فى النائبات على ما قال برهاناوالثواب فى اللغة الجزاء مطلقا ومنه قوله:لكل أخى مدح ثواب علمته … وليس لمدح الباهلى ثوابأي جزاء، وزعم أن الثواب يختص بجزاء الخير بالخير غير صحيح، بل يطلق الثواب أيضا على جزاء الشر بالشر فى اللغة، ومنه قوله تعالى:(قل هل انبؤكم بشر من ذلك مثوبة عند الله من لعنه الله وغضب عليه وجعل منهم القردة والخنازير) . الآية.
অর্থাৎ এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানদুব এবং সৎকাজের আদেশ; অর্থাৎ এর একটি হলো মানদুব: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন।" অর্থাৎ সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা মানদুব। যারা বলেন যে মানদুব আদিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, তারা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে।" তারা বলেন, এই আয়াতে আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে বিপর্যয় এবং যন্ত্রণাদায়ক আজাবের হুমকি দেওয়া হয়েছে; অথচ মানদুব বর্জন করলে এর কোনোটিই আবশ্যক হয় না। এছাড়া হাদিস: (যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম), অথচ তিনি তাদের মেসওয়াক করার প্রতি উৎসাহিত (মানদুব) করেছেন।তারা বলেন, এটি প্রমাণ করে যে মানদুব আদিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর উত্তর হলো, উক্ত আয়াত এবং হাদিসে 'আদেশ' দ্বারা ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক আদেশ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি আদেশ শব্দটিকে অ-ওয়াজিব বা অনাবশ্যক বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করার পরিপন্থী নয়। আর আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, আদেশ শব্দটি উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর যারা দাবি করেন যে মানদুব হলো ঐচ্ছিক বিষয়—যেহেতু এটি বর্জন করা জায়েজ এবং আদেশ হলো আহ্বান ও তলব—আর ঐচ্ছিকতা ও তলব পরস্পর বিরোধী; তাদের এই দাবি সঠিক নয়। কারণ মানদুব নিছক ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়, কেননা এতে বর্জন করার চেয়ে সম্পাদন করা উত্তম; যেহেতু এটি করলে সাওয়াব পাওয়া যায় আর বর্জন করলে সাওয়াব পাওয়া যায় না।তাছাড়া মানদুবও তলবকৃত বা নির্দেশিত বিষয়, তবে এই নির্দেশটি অকাট্য নয়। আর আভিধানিক অর্থে 'নাদব' (الندب) মানে হলো কোনো কাজের প্রতি আহ্বান জানানো। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:বিপদের সময় তাদের ভাই যখন তাদের আহ্বান করে, তখন তারা তাকে প্রশ্ন করে না … তিনি যা বলেছেন তার প্রমাণ হিসেবে।আর আভিধানিক অর্থে 'সাওয়াব' মানে হলো সাধারণভাবে যে কোনো প্রতিদান। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:প্রত্যেক প্রশংসাকারীর জন্য তোমার জানা প্রতিদান রয়েছে … কিন্তু বাহিলীর প্রশংসার কোনো প্রতিদান নেই।অর্থাৎ কোনো বিনিময় নেই। আর এই দাবি যে, সাওয়াব কেবল ভালোর বিনিময়ে ভালো প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ—তা সঠিক নয়। বরং ভাষাগতভাবে মন্দের বিনিময়ে মন্দ প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও সাওয়াব শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:(বলুন, আমি কি তোমাদের আল্লাহর কাছে এর চেয়েও মন্দ প্রতিদান সম্পর্কে সংবাদ দেব? যাদের আল্লাহ লানত করেছেন এবং যাদের ওপর তিনি রাগান্বিত হয়েছেন এবং যাদের মধ্য থেকে বানর ও শুকর বানিয়েছেন)। আয়াত।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقوله تعالى (هل ثوب الكفار ما كانوا يفعلون) ، والعقاب فى اللغة التنكيل على المعصية، ومنه قول النابغة الذبيانى:ومن عصاك فعاقبة معاقبة … تنهى الظلوم ولا تقعد على ضمد(المباح)قال المؤلف رحمه الله:القسم الثالث (المباح) وحده، ما أذن الله فى فعله وتركه غير مقترن بدم فاعله وتاركه ولا مدحه وهو من الشرع.. الخ.. كلامه.اعلم أن الاباحة عند أهل الأصول قسمان:الاولى: اباحة شرعية أي عرفت من قبل الشرع كانباحة الجماع فى ليإلى رمضان المنصوص عليها بقوله: " أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم " ونسمى هذه الاباحة الاباحة الشرعية.الثانية: اباحة عقلية وهى تسمى فى الاصطلاح البراءة الأصلية والاباحة العقلية وهى بعينها (استصحاب العدم الأصلى حتى يرد دليل ناقل عنه) ومن فوائد الفرق بين الاباحتين المذكورتين أن رفع الاباحة الشرعية يسمى نسخا كرفع اباحة الفطر فى رمضان، وجعل الاطعام بدلا عن الصوم المنصوص فى قوله: (وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين) فانه منسوخ بقوله: "فمن شهد منكم الشهر فليصمه". وأما الاباحة العقلية فليس رفعها نسخا لأنها ليست حكما شرعيا بل عقليا، ولذا لم يكن تحريم الربا ناسخا لاباحته فى أول الاسلام لأنها اباحة عقلية، وأمصال ذلك كثيره جدا.
এবং মহান আল্লাহর বাণী (কাফেররা যা করত তার প্রতিফল তারা কি পেয়েছে?), আর অভিধানে 'উকুবাত' বা শাস্তির অর্থ হলো অবাধ্যতার কারণে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড। আর নাবিগাহ আল-জুবইয়ানির এই উক্তিটি এর অন্তর্ভুক্ত:"যে আপনার অবাধ্য হয় তাকে এমন শাস্তি দিন যা জালিমকে নিবৃত্ত করে এবং আপনি বিদ্বেষের ওপর স্থির থাকবেন না।"(মুুবাহ)লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:তৃতীয় প্রকার হলো (মুুবাহ); আর এর সংজ্ঞা হলো—আল্লাহ যা করা এবং বর্জন করার অনুমতি দিয়েছেন এমনভাবে যে, এর কর্তার বা বর্জনকারীর কোনো নিন্দা করা হয় না এবং প্রশংসাও করা হয় না, আর এটি শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত... ইত্যাদি তাঁর বক্তব্য।জেনে রাখুন যে, উসুলবিদগণের নিকট ইবাহাত (বৈধতা) দুই প্রকার:প্রথমত: শরয়ি ইবাহাত (শরীয়তসম্মত বৈধতা), অর্থাৎ যা শরীয়তের পক্ষ থেকে জানা গেছে। যেমন রমজানের রাতে সহবাসের বৈধতা, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে: "রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।" আমরা এই ইবাহাতকে শরয়ি ইবাহাত বলে নামকরণ করি।দ্বিতীয়ত: আকলি ইবাহাত (বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা)। পরিভাষায় একে 'বারায়াত আল-আসলিয়া' বা মৌলিক দায়মুক্তি বলা হয়। আর এটি মূলত (মৌলিক অনুপস্থিতিকে ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল রাখা যতক্ষণ না তা পরিবর্তনের কোনো দলিল উপস্থিত হয়)। উল্লিখিত দুই প্রকার ইবাহাতের পার্থক্যের একটি উপকারিতা হলো—শরয়ি ইবাহাত তুলে নেওয়াকে 'নাসখ' (রহিতকরণ) বলা হয়। যেমন রমজানে রোজা ভঙ্গের বৈধতা তুলে নেওয়া এবং রোজার পরিবর্তে খাদ্যদানকে সাব্যস্ত করা, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত ছিল: (যাদের জন্য রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে অন্নদান করা)। কারণ এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর দ্বারা রহিত হয়ে গেছে: "সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।" পক্ষান্তরে আকলি ইবাহাত তুলে নেওয়াকে নাসখ বলা হয় না; কারণ এটি কোনো শরয়ি হুকুম নয়, বরং আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক। এই কারণেই ইসলামের শুরুর দিকে সুদের যে বৈধতা ছিল, পরবর্তীতে তার নিষিদ্ধতা তাকে রহিতকারী (নাসিখ) হিসেবে গণ্য হয়নি; কারণ সেটি ছিল আকলি ইবাহাত। আর এই ধরণের উদাহরণ অনেক।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
والمباح فى اللغة: هو ما ليس دونه مانع يمنعه، ومنه قول عبيد بن الأبرص:ولقد أبحنا ما حميت … ولا مبيح لما حمينا(تنبيه)قد دلت آيات من كتاب الله على أن استصحاب العدم الاصلي حجة على عدم المؤاخذة بالفعل حتى يرد دليل ناقل عن العدم الاصلى، من ذلك أنهم كانوا يتعاملون بالربا. فلما نزل تحريم الربا خافوا من أكل الاموال الحاصلة منه بأيديهم قبل تحريم الربا، فأنزل الله فى ذلك: "فمن جاءه موعظة من ربه فانتهى فله من سلف وأمره إلى الله " فقوله تعالى: "فله ما سلف" يدل على أن ما تعاملوا به من الربا على حكم البراءة الاصلية قبل نزول التحريم لا مؤاخذة عليهم به، ونظير ذلك قوله: " وأن تجمعوا بين الأختين الا ما قد سلف " فان قولهتعالى "الا ما قد سلف" فى الموضعين استثناء منقطع، أي لكن ما سلف قبل التحريم على حكم البراءة الاصلية فهو عفو.ونظائر هذا فى القرآن الكريم كثيرة ومن أصرح الآيات فى ذلك قوله تعالى: (وما كان الله ليضل قوماً بعد اذ هداهم حتى يبين لهم ما يتقون) .فانهم لما استغفروا لموتاهم المشركين فنزل قوله تعالى:(ما كان للنبى والذين آمنوا أن يستغفروا للمشركين ولو كانوا أولى قربى) .
আভিধানিক অর্থে মুবাহ হলো: যার সামনে কোনো বাধা দানকারী প্রতিবন্ধকতা নেই। উবাইদ ইবনুল আবরাসের উক্তিও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত:
আমরা তা বৈধ করে নিয়েছি যা তুমি রক্ষা করেছিলে ... আর আমরা যা রক্ষা করেছি তা কেউ বৈধকারী নেই
(সতর্কীকরণ)আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ প্রমাণ করে যে, আদিম অভাবের অবস্থা বজায় রাখা (ইস্তিসহাবে আদাম আসলি) কোনো কার্যের জন্য পাকড়াও না হওয়ার পক্ষে একটি দলিল, যতক্ষণ না আদিম অভাব থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়। এর একটি উদাহরণ হলো, তারা সুদের লেনদেন করত। যখন সুদের হারামী হওয়ার বিধান নাযিল হলো, তখন তারা সুদের বিধান নাযিলের পূর্বে তাদের হাতে আসা সম্পদ ভক্ষণ করা সম্পর্কে ভীত হলো। তখন আল্লাহ এ বিষয়ে নাযিল করলেন: "অতঃপর যার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ পৌঁছাল এবং সে বিরত থাকল, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তার এবং তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ।" সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: "তবে অতীতে যা হয়েছে তা তার" প্রমাণ করে যে, সুদের যেসব লেনদেন তারা হারামের বিধান নাযিল হওয়ার আগে আদি দায়মুক্তির (বারাআতে আসলিয়াহ) বিধান অনুযায়ী করেছে, সে জন্য তাদের কোনো পাকড়াও করা হবে না। এবং এর সমরূপ হলো তাঁর বাণী: "এবং তোমরা দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করো না, তবে অতীতে যা হয়েছে তা ব্যতীত।" সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী"তবে অতীতে যা হয়েছে তা ব্যতীত" উভয় স্থানেই এটি একটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (ইস্তিসনায়ে মুনকাতি), অর্থাৎ: তবে হারামী বিধান আসার আগে যা আদি দায়মুক্তির বিধানে অতীতে ঘটেছে, তা ক্ষমাযোগ্য।পবিত্র কুরআনে এর বহু নজির রয়েছে এবং এ বিষয়ে সবচেয়ে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ কোনো কওমকে হিদায়াত প্রদানের পর ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট করেন না, যতক্ষণ না তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করেন যা থেকে তাদের বেঁচে থাকতে হবে)।কারণ তারা যখন তাদের মৃত মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করল, তখন মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিল হলো:(নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়)।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ندموا على استغفارهم للمشركين، فأنزل الله الآية مبينة أن ما فعلوه من الاستغفار لهم على حكم البراءه الأصلية قبل نزول التحريم، لا مؤاخذة عليهم به حتى يحصل بيان ما ينهى عنه.(فصل)قال المؤلف رحمه الله تعالى:واختلف فى الأفعال وفى الاعيان المنتفع بها قبل ورود الشرع بحكمها.. الخ..اعلم أن خلاصة ما ذكره المؤلف رحمه الله تعالى فى هذا المبحث، أن حكم الأفعال والأعيان أي الذوات المنتفع بها قبل أن يرد فيهل حكم من الشرع فيها ثلاثة مذاهب:الاول: أنها على الاباحة وهو الذى يميل إليه المؤلف واستدل بقوله تعالى: " هو الذى خلق لكم ما فى الأرض جميعا" فانه تعالى امتن على خلقه بما فى الارض جميعا ولا يمتن الا بمباح، اذ لا منة فى محرم واستدل لاباحتها أيضا بصيغ الحصر فى الآيات كقوله:(قل انما حرم ربى الفواحش ما ظهر منها ومابطن)وقوله تعالى: (قل لا أجد فيما أوحى إلى محرماً على طاعم يطعمه الا أن يكون ميتة أو دماً مسفوحاً أو لحم خنزير..) الآية.
তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কারণে অনুতপ্ত হলেন। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করে বর্ণনা করলেন যে, তারা তাদের জন্য যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তা হারামের বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বের মূল নির্দোষিতার (বারাআতে আসলিয়াহ) বিধানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যতক্ষণ না যার থেকে নিষেধ করা হয়েছে তার স্পষ্ট বর্ণনা আসবে, ততক্ষণ তাদের এ কাজের জন্য কোনো পাকড়াও বা জবাবদিহিতা নেই।(পরিচ্ছেদ)গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:শরীয়তের বিধান আসার পূর্বে কর্মসমূহ এবং উপকৃত হওয়া যায় এমন বস্তুসমূহের হুকুমের ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে... ইত্যাদি...জেনে রাখুন যে, গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো, শরীয়তের পক্ষ থেকে কোনো বিধান আসার আগে কর্মসমূহ এবং 'আইন' অর্থাৎ যেসব বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া যায় সেগুলোর হুকুমের ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে:প্রথম: এগুলো বৈধতার (ইবাহাত) ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর গ্রন্থকার এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন। তিনি মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল দিয়েছেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।" কেননা আল্লাহ তাআলা জমিনের সবকিছু দিয়ে তাঁর সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আর কোনো বৈধ বিষয় ছাড়া অনুগ্রহ প্রকাশ করা হয় না; কারণ নিষিদ্ধ বা হারাম বিষয়ে কোনো অনুগ্রহ থাকে না। তিনি এগুলোর বৈধতার স্বপক্ষে আয়াতসমূহের সীমাবদ্ধতা জ্ঞাপক শব্দাবলি দিয়েও দলিল পেশ করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:(বলুন, আমার রব তো কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন, চাই তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।)এবং মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তার মধ্যে আমি এমন কিছু হারাম পাই না যা কোনো আহারকারী আহার করে, তবে যদি তা মৃত জানোয়ার হয় অথবা প্রবাহিত রক্ত হয় কিংবা শূকরের গোশত হয়...) আয়াত।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(قل تعالوا أتل ما حرم ربكم عليكم..) الآية.واستدل لذلك أيضا بحديث (الحلال ما أحله الله فى كتابه والحرام ما حرمه الله فى كتابه وما سكت عنه فهو مما عفا عنه) .المذهب الثانى: أن ذلك على التحريم حتى يرد دليل الاباحة واستدل لهذا بأن الأصل منع التصرف فى ملك الغير بغير اذنه وجميع الاشياء ملك لله جل وعلا، فلا يجوز التصرف فيها الا بعد اذنه، ونوقش هذا الاستدلال بأن منع التصرف فى ملك الغير، انما يقبح عادة فى حق من يتضرر بالتصرف في ملكه، وأنه يقبح عادة المنع ممالا ضرر فيه كان لاستظلال بظل حائط انسان والانتفاع بضوء ناره والله جل وعلا لا يلحقهضرر من انتفاع مخلوقاته بالتصرف فى ملكه.المذهب الثالث: التوقف عنه حتى يرد دليل مبين للحكم فيه.واعلم أن لعلماء الأصول فى هذا المبحث تفصيلا لم يذكره المؤلف ولكنه أشار إليه اشاره خفية وهو أنهم يقولون: الأعيان مثلا، لها ثلاث حالات:1_ اما أن يكون فيها ضرر محض ولا نفع فيها البتة كان كل الأعشاب السامة القاتلة.2_ واما أن يكون فيها نفع محض ولا ضرر فيها أصلا.3_ واما أن يكون فيها نفع من جهة وضرر من جهة، فان كان فيها الضرر وحده، ولانفع فيها أو مساويا له فهى حرام لقوله: (لا ضرر ولا ضرار) ، وان كان نفعها خالصا لا ضرر معه أو معه ضرر خفيف والنفع أرجح منه، فأظهر الأقوال الجواز، وقد أشار المؤلف إلى هذا التفصيل بقوله (المنتفع بها) فمفهومه أن ما لا نفع فيه لا يدخل فى كلامه.
(বলুন: এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি তিলাওয়াত করি...) আয়াতটি।এর সপক্ষে এই হাদিসটি দ্বারাও দলিল পেশ করা হয়েছে: (হালাল তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন, এবং হারাম তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হারাম করেছেন; আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন, তা তিনি ক্ষমা বা মার্জনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।)দ্বিতীয় অভিমত: বৈধতার দলিল না পাওয়া পর্যন্ত তা হারামের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর পক্ষে এই যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, মূলনীতি হলো অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে তাঁর অনুমতি ব্যতীত হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ, আর সমস্ত বস্তু মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর মালিকানাধীন; সুতরাং তাঁর অনুমতি ব্যতীত সেগুলোতে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। এই দলিলের বিপরীতে আলোচনা করা হয়েছে যে, অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা সাধারণত তখনই আবশ্যক হয় যখন সেই মালিকানাধীন বস্তুতে হস্তক্ষেপের ফলে মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। আর সাধারণত এমন বিষয় থেকে বাধা দেওয়া অনুচিত বলে গণ্য হয় যাতে কোনো ক্ষতি নেই; যেমন কোনো ব্যক্তির দেয়ালের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া অথবা তার আগুনের আলো থেকে উপকৃত হওয়া। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত কর্তৃক তাঁর মালিকানাধীন বস্তু ব্যবহারের ফলে কোনোভাবেইক্ষতিগ্রস্ত হন না।তৃতীয় অভিমত: এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান সম্বলিত দলিল না আসা পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীন থাকা।জেনে রাখুন যে, উসুলবিদ আলেমগণের এই আলোচনায় এমন কিছু বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা লেখক উল্লেখ করেননি, তবে তিনি সেদিকে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। তা হলো তারা বলেন: উদাহরণস্বরূপ, কোনো বস্তু বা সত্তার তিনটি অবস্থা হতে পারে:১_ হয় তাতে কেবল ক্ষতিই থাকবে এবং মোটেও কোনো উপকার থাকবে না; যেমন সকল প্রাণঘাতী বিষাক্ত লতাপাতা।২_ অথবা তাতে কেবল উপকারই থাকবে এবং আদতে কোনো ক্ষতি থাকবে না।৩_ অথবা তাতে কোনো এক দিক থেকে উপকার এবং অন্য দিক থেকে ক্ষতি থাকতে পারে। যদি তাতে শুধু ক্ষতি থাকে এবং কোনো উপকার না থাকে কিংবা উপকার ও ক্ষতি সমান হয়, তবে তা হারাম; তাঁর এই বাণীর কারণে: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না)। আর যদি তার উপকার নিছক হয় যাতে কোনো ক্ষতি নেই, অথবা সামান্য ক্ষতি থাকলেও উপকারই যদি প্রবল হয়, তবে সর্বাধিক স্পষ্ট অভিমত হলো এটি বৈধ। লেখক এই বিস্তারিত বর্ণনার দিকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়); সুতরাং এর মর্মার্থ হলো, যাতে কোনো উপকার নেই তা তাঁর আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال المؤلف رحمه الله:(المباح غير مأمور به..الخ..)من المعلوم أن المباح لم يؤمر به لا تركان ولا فعلا وقد قدمنا أنه لا يدخل فى تعريف التكليف بوجه من الوجوه وانما عدوه من أقسام الحكم التكليفى مسامحة وتكميلا للقسمة كما تقدم.(المكروه)قال المؤلف _ رحمه الله:القسم الرابع المكروه وهو (ما تركه خير من فعله وقد يطلق ذلك على المحظور، وعلى ما نهى تنزيه فلا يتعلق بفعله عقاب.. الخ..) كلامه واضح.والمكروه فى اللغة اسم مفعول كرهه اذا أبغضه ولم يحبه، فكل بغيض إلى النفوس فهو مكروه فى اللغة، ومنه قوله تعالى: "كل ذلك كان سيئة عند ربك مكروها" وقول عمرو بن الأطانبة:واقدامى على المكروه نفسى … وضربى هامة البطل المشيحواعلم أن المكروه قد يطلق على الحرام لانه بغيض إلى النفوس العارفة وذلك هو معنى قول المؤلف: وقد يطلق ذلك على المحظور والحرام، ومراده أن الكراهة قد تطلق على كراهة التنزيه كما هو معروف فى كلام العلماء.وعرف المكروه فى الاصطلاح بأنه هو ما تركه خير من فعله، وان شئت قلت هو ما نهى عنه نهياً غير جازم.
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:(মুবাহ আদিষ্ট বিষয় নয়... ইত্যাদি)এটি সুবিদিত যে, মুবাহ (বৈধ) কাজ করার বা বর্জন করার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি যে, এটি কোনোভাবেই তাকলিফ বা আইনি বাধ্যবাধকতার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা (উসুলবিদগণ) একে তাকলিফি বিধানের প্রকারভেদের মধ্যে কেবল শিথিলতার খাতিরে এবং বিভাজনকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই গণনা করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।(মাকরূহ)লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:চতুর্থ প্রকার হলো মাকরূহ, আর তা হলো (এমন বিষয় যার বর্জন তার করার চেয়ে উত্তম; আর কখনও তা নিষিদ্ধের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার কখনও এমন নিষেধাড্ডার ক্ষেত্রে যা তানজিহি বা অপছন্দনীয়, যার ফলে সেটি করার কারণে কোনো শাস্তি সংশ্লিষ্ট হয় না... ইত্যাদি)। তাঁর কথা স্পষ্ট।আভিধানিক অর্থে মাকরূহ হলো 'ইসমে মাফউল', যা কারাহা (অপছন্দ করা) ধাতু থেকে উদ্ভূত; যখন কেউ কোনো কিছুকে ঘৃণা করে বা অপছন্দ করে। সুতরাং মানুষের কাছে যা কিছু ঘৃণ্য, আভিধানিক ভাষায় তাই মাকরূহ। এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "এই সবকিছুর মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট মাকরূহ (অপছন্দনীয়)" এবং আমর ইবনুল আতানাবার উক্তি: অপছন্দনীয় (কঠিন) কাজের প্রতি আমার নফসের দুঃসাহস ... এবং সম্মুখপানে অগ্রসরমান বীরের মস্তকে আমার আঘাত।জেনে রাখুন যে, মাকরূহ শব্দটি হারামের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ তা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের নফসের কাছে ঘৃণ্য। আর এটিই লেখকের এই উক্তির অর্থ: "আর কখনও তা নিষিদ্ধ বা হারামের ওপর প্রয়োগ করা হয়।" তাঁর উদ্দেশ্য হলো যে, কারাহাত বা অপছন্দনীয়তা শব্দটি 'কারাহাতে তানজিহি' (সামান্য অপছন্দনীয়তা) অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমনটি আলেমদের পরিভাষায় সুপরিচিত।পরিভাষায় মাকরূহের সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া হয়েছে যে—তা হলো এমন বিষয় যার বর্জন করা তা করার চেয়ে উত্তম। আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন—যা থেকে অদৃঢ়ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(فصل)قال المؤلف رحمه الله:(والأمر المطلق لا يتناول المكروه لان الامر استدعاء وطلب، والمكروه غير مستدعاً ولا مطلوب ولان الامر ضد النهى فيستحيل أن يكون الشيء مأموراً به ومنهياً عنه، واذا قلنا ان المباح ليس بمأمور فالنهى عنه أولى) .ايضاح معنى كلامه رحمه الله:أن المأمور به اذا كان بعض جزئياته منهياً عنه نهى تنزيه أو تحريم لا يدخل ذلك المنهى عنه منها فى المأمور به لأن النهى ضد الامر والشيء لا يدخل فى ضده خلافاً لبعض الحنفية القائلين بدخوله فيه، فتحية المسجد مثلا مأمور بها، فاذا دخل المسجد وقت نهى فتلك الصلاة المنهى عنها لوقت النهى لم تدخل فى الأمر للمضادة التي بين الأمر والنهى وهكذا.وقال الشافعى _ رحمه الله _ ان الصلوات ذوات الأسباب الخاصة لم يتناولها النهى فهى داخلة فى الامر لانها لم تدخل فى النهى.(الحرام)قال المؤلف _ رحمه الله _:القسم الخامس (الحرام ضد الواجب)اعلم أن الحرام صفة مشبهة باسم الفاعل لانه الوصف من حرم الشيء فهو حرام والحرام فى اللغة هو الممنوع ومنه قول امرئ القيس:
(পরিচ্ছেদ)লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:(এবং সাধারণ নির্দেশ মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ নির্দেশ হলো কোনো কিছুর আহ্বান ও তলব করা, আর মাকরূহ হচ্ছে যা আহ্বান করা হয়নি এবং যা তলব করা হয়নি। তাছাড়া নির্দেশ হলো নিষেধের বিপরীত, সুতরাং একই বস্তু একইসাথে নির্দেশিত এবং নিষিদ্ধ হওয়া অসম্ভব। আর যদি আমরা বলি যে মুবাহ বা বৈধ বিষয় নির্দেশিত নয়, তবে নিষিদ্ধ বিষয় তো নির্দেশের বাইরে থাকা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত)।তাঁর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বক্তব্যের ব্যাখ্যা:নির্দেশিত বিষয়ের কোনো বিশেষ অংশ যদি 'মাকরূহে তানজিহি' বা 'হারাম' হিসেবে নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তবে সেই নিষিদ্ধ অংশটি নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ নিষেধ হলো নির্দেশের বিপরীত, আর কোনো বস্তু তার বিপরীতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। এটি সেই সকল হানাফী আলিমদের মতের পরিপন্থী যারা মনে করেন যে এটি তার অন্তর্ভুক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায়ের নির্দেশ রয়েছে। এখন কেউ যদি নিষিদ্ধ সময়ে মসজিদে প্রবেশ করে, তবে নিষিদ্ধ সময়ের কারণে সেই সালাতটি নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ নির্দেশ ও নিষেধের মধ্যে পরস্পর বৈরিতা বিদ্যমান। অন্যান্য বিষয়গুলোও এমন।ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন যে, সুনির্দিষ্ট কারণবিশিষ্ট সালাতসমূহ নিষেধের আওতায় পড়ে না। তাই সেগুলো নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কারণ সেগুলো নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।(হারাম)লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:পঞ্চম প্রকার (হারাম হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়ের বিপরীত)।জেনে রাখুন যে, 'হারাম' শব্দটি সিফাতে মুশাব্বাহা (বিশেষণ), যা কর্তৃবাচক বিশেষ্যের অর্থ প্রদান করে। কারণ এটি কোনো বস্তু নিষিদ্ধ হওয়া থেকে উদ্ভূত গুণ, তাই তা হারাম। আর আভিধানিক অর্থে হারাম হলো 'নিষিদ্ধ'। ইমরুল কায়েসের উক্তিতেও এর ব্যবহার পাওয়া যায়:
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
جالت لتضرعى فقلت لها اقصرى انى امرؤ صرعى عليك حراموقول الآخر:حرام على عينى أن تطعما الكرى وأن ترقئا حتى ألاقيك يا هندوقوله تعالى: "وحرمنا عليه المراضع من قبل " وقوله تعالى: "فانها محرمة عليهم أربعين سنة" وقوله تعالى: "وحرام على قرية أهلكناها ". الآيات.وقوله ضد الواجب يعنى أن الحرام فى الاصطلاح هم (ما فى تركه الثواب وفى فعله العقاب) وان شئت قلت ما نهى عنه نهياً جازما.وقول المؤلف رحمه الله (فيستحيل أن يكون الشيء الواحد واجبا حراما طاعة ومعصية من وجه واحد الا أن الواحد بالجنس ينقسم إلى واحد بالنوع وإلى واحد بالعين أي بالعدد.. الخ..) ايضاح معنى كلامه _ رحمه الله _ أن الوحدة ثلاثة أقسام:وحدة بالجنس.وحدة بالنوع.وحدة بالعين.أما الوحدة بالجنس أو النوع فلا مانع من كون بعض أفراد الواحد بهما حراما وبعضها حلالا بخلاف الوحدة بالعين فلا يمكن أن يكون فيها بعض الافراد حراما وبعضها حلالا.مثال الوحدة بالجنس: وحدة البعير والخنزير لأنهما يشملهما جنس واحد هو الحيوان فكلاهما حيوان فهما متحدان جنساً ولا اشكال فى حرمة
সে আমার কাকুতি-মিনতির কারণে বিচলিত হলো, তখন আমি তাকে বললাম, থামো, আমি এমন এক পুরুষ যার জন্য তোমার প্রেমে ধরাশায়ী হওয়া নিষিদ্ধ।এবং অন্য একজনের উক্তি:হে হিন্দ, তোমার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখের জন্য ঘুমের আস্বাদ গ্রহণ করা এবং অশ্রু সংবরণ করা নিষিদ্ধ।এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি পূর্বেই তার জন্য ধাত্রীদের (স্তন্যপান) নিষিদ্ধ করেছিলাম।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তা চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি যে জনপদ ধ্বংস করেছি তার বাসিন্দাদের ফিরে আসা নিষিদ্ধ।" আয়াতসমূহ।এবং তাঁর উক্তি "ওয়াজিবের বিপরীত" এর অর্থ হলো, পরিভাষায় হারাম বলতে বোঝায় (এমন বিষয় যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা করলে শাস্তি পেতে হয়)। আর আপনি চাইলে বলতে পারেন, যা থেকে চূড়ান্তভাবে নিষেধ করা হয়েছে।এবং লেখকের উক্তি—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—(একই বস্তু একই দিক থেকে ওয়াজিব ও হারাম, এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতা হওয়া অসম্ভব, তবে জাতিগত একক বিষয়টি প্রকারগত একক এবং ব্যক্তিগত তথা সংখ্যাগত এককে বিভক্ত হয়... ইত্যাদি)। তাঁর—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—বক্তব্যের মর্মার্থের ব্যাখ্যা হলো, একত্ব তিন প্রকার:জাতিগত একত্ব।প্রকারগত একত্ব।ব্যক্তিগত একত্ব।জাতিগত বা প্রকারগত একত্বের ক্ষেত্রে উক্ত একত্বের অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো সদস্য হারাম এবং কোনো কোনো সদস্য হালাল হতে কোনো বাধা নেই; কিন্তু ব্যক্তিগত একত্বের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ সেখানে কিছু সদস্য হারাম এবং কিছু হালাল হওয়া সম্ভব নয়।জাতিগত একত্বের উদাহরণ: উট এবং শূকরের একত্ব, কারণ এই উভয়ই একটি অভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো 'প্রাণী'। সুতরাং উভয়েই প্রাণী হিসেবে জাতিগতভাবে এক, আর হারামের ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই...
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الخنزير واباحة البعيرة ومثال الوحدة بالنوع السجود فانه نوع واحد فالسجود لله والسجود للصنم يدخلان فى نوع واحد هو اسم السجود ولا اشكال فى أن السجود للصنم كفر ولله قربة، كما قال تعالى:(لا تسجدوا للشمس ولا للقمر واسجدوا لله الذى خلقهن ان كنتم اياه تعبدون) .ومثال الوحدة بالعين عند المؤلف _ رحمه الله _: الصلاة فى الارض المغصوبة فلا يمكن عنده أن يكون بعض أفرادها حراما وبعضها مباحا. وايضاح مراده أن المصلى فى الدار المغصوبة اذا قام إلى الصلاة شغل بجسمه الفراغ الذى هو كانئن فيه وشغله الفراغ المملوك لغيره بجسمه تعدياً غصب فهو حرام، فهذا الركن الذى هو كائن فيه فى ركوعه، واذا سجد شغل الفراغ الذى هو كائن فيه فى سجوده وهكذا، وشغل الفراغ المملوك لغيره تعدياً غصب، فلا يمكن أن يكونقربة لامتناع كون الواحد بالعين واجبا حراما قربة معصية لاستحالة اجتماع الضدين فى سيء واحد من جهة واحده فيلزم بطلان الصلاة المذكورة ومنع هذا القائلون بصحة الصلاة فى الأرض المغصوبة وهم الجمهور، قالوا: الصلاة فى الارض المغصوبة فعل له جهتان، والواحد بالشخص يكون له جهتان هو طاعة من احداهما ومعصية من احداهما، فالصلاة فى الارض المغصوبة من حيث هي صلاة (قربة) ومن حيث هى غصب معصية، فله صلاته وعليه غصبه، فيقول من قال ببطلانها: الصلاة فى المكان المغصوب ليست من أمرنا فهى رد، للحديث الصحيح: (من أحدثفى أمرنا ما ليس منه فهو رد) فيقول خصمه الصلاة فى نفسها من أمرنا فلست برد وانما الغصب هو الذى ليس من أمرنا فهو رد.
শূকর এবং উটের বৈধতা। আর প্রজাতিগত ঐক্যের উদাহরণ হলো সাজদাহ। কারণ এটি একটি একক প্রজাতি। সুতরাং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদাহ এবং মূর্তির উদ্দেশ্যে সাজদাহ উভয়ই একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যা হলো 'সাজদাহ' নামীয় কাজ। এতে কোনো সংশয় নেই যে, মূর্তির উদ্দেশ্যে সাজদাহ করা কুফরি আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা সাজদাহ হলো নৈকট্য লাভের মাধ্যম, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:(তোমরা সূর্যকে সাজদাহ করো না এবং চাঁদকেও নয়; বরং আল্লাহকে সাজদাহ করো যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো)।আর গ্রন্থকার —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— এর নিকট নির্দিষ্ট সত্তাগত ঐক্যের উদাহরণ হলো জবরদখলকৃত জমিতে সালাত আদায় করা। তাঁর মতে এটি সম্ভব নয় যে, এর কোনো ব্যক্তিবিশেষ অংশ হারাম হবে আর কোনোটি মুবাহ হবে। তাঁর উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা হলো এই যে, জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি যখন সালাতের জন্য দাঁড়ায়, তখন সে তার শরীর দিয়ে সেই শূন্যস্থানটি দখল করে যাতে সে অবস্থান করছে। আর অন্যের মালিকানাধীন শূন্যস্থান অনধিকারভাবে নিজ শরীর দ্বারা দখল করা হলো জবরদখল, যা হারাম। সুতরাং এই রুকন পালনের সময় সে যে স্থানে অবস্থান করছে, আবার যখন সে রুকূ করছে, কিংবা যখন সে সাজদাহ করছে তখন সে যে শূন্যস্থান দখল করছে—এভাবেই চলতে থাকে। অন্যের মালিকানাধীন শূন্যস্থান অনধিকারভাবে দখল করা হলো জবরদখল। সুতরাং এটি হতে পারে নানৈকট্য লাভের মাধ্যম; কারণ নির্দিষ্ট সত্তাগতভাবে একক কোনো বিষয় একইসাথে ওয়াজিব ও হারাম এবং নৈকট্য ও পাপাচার হওয়া অসম্ভব। যেহেতু একই দিক থেকে একই বস্তুর মধ্যে দুটি বিপরীত বিষয়ের সমাবেশ ঘটা অসম্ভব, তাই উল্লিখিত সালাত বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। জবরদখলকৃত জমিতে সালাত সহীহ হওয়ার প্রবক্তারা এটি অস্বীকার করেছেন এবং তাঁরা হলেন জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা। তাঁরা বলেছেন: জবরদখলকৃত জমিতে সালাত এমন একটি কাজ যার দুটি দিক রয়েছে। আর ব্যক্তিগতভাবে একক কোনো বিষয়ের দুটি দিক থাকতে পারে, যা এক দিক থেকে আনুগত্য এবং অন্য দিক থেকে পাপাচার। সুতরাং জবরদখলকৃত জমিতে সালাত, সালাত হিসেবে 'নৈকট্য লাভ' এবং জবরদখল হিসেবে 'পাপাচার'। ফলে সে তার সালাত সম্পাদন করল এবং জবরদখলের গুনাহ তার ওপর বর্তাল। এমতাবস্থায় সালাত বাতিল হওয়ার প্রবক্তারা বলেন: জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আমাদের শরয়ি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি প্রত্যাখ্যাত। কারণ সহীহ হাদীসে এসেছে: (যে ব্যক্তি আমাদের এইশরয়ি বিষয়ে এমন নতুন কিছুর উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত)। এর বিপরীতে তাঁর প্রতিপক্ষ বলেন, সালাত মূলত আমাদের শরয়ি বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত, তাই তা প্রত্যাখ্যাত নয়। বরং কেবল জবরদখল করা বিষয়টি আমাদের শরয়ি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, সুতরাং সেটিই প্রত্যাখ্যাত।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واعلم أن حاصل أقوال العلماء فى الصلاة فى المكان المغصوب أربعة مذاهب.الأول: أنها باطلة يجب قضاؤها وهو أصح الروايتين عن الأمام أحمد _ رحمه الله _.الثانى: أنها باطلة ولا يجب قضاؤها لان النهى يقتضى البطلان ولان السلف لن بكونوا يأمرون بقضاء الصلاة فى المكان المغصوب وممن قال به الباقلانى والرازى ولا يخفى بعده.الثالث: أنها صحيحة وهى رواية أخرى عن أخرى عن أحمد وعليه الجمهور منهم مالك والشافعى وأكثر أهل العلم وأكثرهم على أنها صحيحة لا أجر فيها كالزكاة اذا أخذت منه قهراً.الرابع: أنها صحيحة وله أجر صلاته وعليه اثم غصبه وهذا أقيس.(فصل)قال المؤلف رحمه الله تعالى:مصححوا الصلاة فى الدار المغصوبة قسموا النهى ثلاثة أقسام إلى آخره، اعلم أن حاصل كلام أهل الاصول فى هذه المسألة أن المنهى عنه اما أن تكون جهة النهى فيه منفردة، أعنى أنه لم تكن له جهة أخرى مأمور به منها كالشرك بالله والزنا، فان النهىعنهما لم يخالطه أمر من جهة أخرى، وهذا النوع واضح لا اشكال فى أنه باطل على كل حال، واما أن يكون له جهتان: جهة مأمور به منها وجهة منهى عنه منها، وهم يقولون ى مثل هذا ان انفكت جهة الامر عن جهة النهى، فالفعل صحيح وان لم تنفك عنها الفعل باطل لكنهم عند التطبيق يختلفون.
জেনে রাখুন যে, জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায়ের বিষয়ে আলেমগণের মতামতের সারসংক্ষেপ হলো চারটি মাযহাব।প্রথম: সালাত বাতিল এবং এর কাজা করা ওয়াজিব। এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ।দ্বিতীয়: সালাত বাতিল কিন্তু কাজা করা ওয়াজিব নয়। কারণ নিষেধাজ্ঞা বিষয়টির অসারতা বা বাতিল হওয়ার দাবি রাখে এবং সালাফগণ জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায়ের পর তা পুনরায় আদায়ের (কাজা করার) নির্দেশ দিতেন না। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে আল-বাকিলানি এবং আর-রাজি অন্যতম, তবে এর দুর্বলতা গোপন নয়।তৃতীয়: সালাত সঠিক (সহিহ)। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনা এবং জুমহুর আলেমগণের অভিমত, যাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মালিক, শাফেয়ী ও অধিকাংশ ইলম অন্বেষী ব্যক্তি। তাদের অধিকাংশের মতে সালাত সঠিক হলেও এতে কোনো সওয়াব নেই, যেমন সেই জাকাত যা কারো কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া হলে আদায় হয়ে যায় কিন্তু কোনো সওয়াব থাকে না।চতুর্থ: সালাত সঠিক এবং সে তার সালাতের সওয়াব পাবে, তবে জবরদখল করার কারণে সে পাপিষ্ঠ হবে। আর এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।(পরিচ্ছেদ)লেখক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন:জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত সহিহ হওয়ার প্রবক্তারা নিষেধাজ্ঞাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন (শেষ পর্যন্ত)। জেনে রাখুন যে, এই মাসআলায় উসুলবিদগণের আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো—নিষিদ্ধ বিষয়টি হয় এমন হবে যেখানে নিষেধাজ্ঞার দিকটি একক, অর্থাৎ তার এমন কোনো দিক নেই যে দিক থেকে তা আদিষ্ট হতে পারে, যেমন আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং জিনা করা। কারণ এই দুই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সাথে অন্য কোনো দিক থেকে আদেশের সংমিশ্রণ ঘটেনি। এই প্রকারটি স্পষ্ট এবং এতে কোনো সংশয় নেই যে এটি সর্বাবস্থায় বাতিল। অথবা বিষয়টির দুটি দিক থাকতে পারে: একটি দিক থেকে তা আদিষ্ট এবং অন্য দিক থেকে নিষিদ্ধ। তারা এ জাতীয় ক্ষেত্রে বলেন যে, যদি আদেশের দিকটি নিষেধাজ্ঞার দিক থেকে পৃথক থাকে, তবে আমলটি সহিহ হবে। আর যদি তা পৃথক না হয়, তবে আমলটি বাতিল হবে। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فيقول الحنبلى: الصلاة فى الارض المغصوبة منهى عنها من جهة الغصب مأمور بها من جهة الصلاة الا أن الجهة هنا غير منفكة لان نفس الحركة فى أركان الصلاة عين شغل الفراغ المملوك لغيره تعدياً، وذلك عين الغصب، فأفعال الصلاة لا تنفك عنكونها غصباً.والصلاة يشترط فيها نية التقرب وتلك الأفعال التي هى شغل الفراغ المملوك لغيره غصب لا يمكن فية نية التقرب اذ لا يمكن أن يكون متقربا بما هو عاص به، أما اذا انفكت الجهة فالفعل صحيح كالصلاة بالحرير فان الجهة منفكة لا لبس الحرير منهى عنه مطلقا فى الصلاة وغيرها، فالمصلى بالحرير صلاته صحيحة وعليه اثم لبسه الحرير، فيقول المالكى والشافعى مثلا: لا فرق البتة بين الصلاة فى المكان المغصوب وبين الصلاة بالحرير، فالغصب أيضا حرام فى الصلاة وفى غيرها، فصلاته صحيحة وعليه اثم غصبه.ويقول المالكى مثلا: مثال الجهة غير المنفكة، صوم يوم العيد أو الفطر لأن الصائم فيهما معرض عن ضيافة الله، لأن الأعراض عنهما هو الامتناع عن الأكل والشرب فلا يمكن انفكاك الجهة، فيقول الحنفى: الجهة منفكة أيضا لأن الصوم من حيث أنه صوم قربة ومن حيث كونه فى يوم العيد منهى عنه فالجهة منفكة ولذا لو نذر أحد أن يصوم يوم العيد فنذره عنده صحيح منعقد ويلزمه صيام يوم آخر غير يوم العيد ينائ على انفكاك الجهة عنده.وقول المؤلف رحمه الله فى هذا المبحث: قسموا النهى إلى ثلاثة أقسام:ايضاح معناه أن المنهى عنه اما أن يكون النهى عنه لذاته أو لوصفه القائم به أو لخارج عنه، زاد بعض المحققين قسما رابعا وهو أن المنهى عنه لخارج عنه قد تكون فيه جهة النهى غير منفكة عن جهة الأمر وقد تكون منفكة عنها
হাম্বলী (ফকীহ) বলেন: জবরদখলকৃত জমিতে সালাত আদায় করা জবরদখলের দিক থেকে নিষিদ্ধ এবং সালাতের দিক থেকে আদিষ্ট; তবে এখানে এই দুই দিক অবিচ্ছেদ্য। কারণ সালাতের রুকনসমূহের নড়াচড়া মূলত অন্যায়ভাবে অপরের মালিকানাধীন জায়গা দখল করে রাখারই নামান্তর, আর এটিই হলো জবরদখল। সুতরাং সালাতের কার্যাবলি এই বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না যে, তাএকটি জবরদখল।আর সালাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা শর্ত, অথচ সেই কাজগুলো যা অন্যের মালিকানাধীন জায়গা দখল করা বুঝায় তা মূলত জবরদখল, যেখানে নৈকট্য লাভের নিয়ত করা সম্ভব নয়। কারণ যা দ্বারা কেউ অবাধ্যতা করছে, তা দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা অসম্ভব। তবে যদি দিকগুলো ভিন্ন হয় তবে কাজটি শুদ্ধ হবে, যেমন রেশম পরিধান করে সালাত আদায় করা। এক্ষেত্রে দিকগুলো পৃথক, কারণ রেশম পরিধান করা সালাতের ভেতরে ও বাইরে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। সুতরাং রেশম পরিধানকারীর সালাত শুদ্ধ হবে এবং রেশম পরিধানের কারণে সে গুনাহগার হবে। উদাহরণস্বরূপ মালেকী ও শাফেয়ীগণ বলেন: জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায় এবং রেশমী পোশাকে সালাত আদায়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জবরদখলও সালাতের ভেতর ও বাইরে সমানভাবে হারাম। অতএব তার সালাত শুদ্ধ হবে এবং জবরদখল করার কারণে সে গুনাহগার হবে।উদাহরণস্বরূপ মালেকী (ফকীহ) বলেন: অবিচ্ছেদ্য দিকের উদাহরণ হলো ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের রোজা। কারণ এই দুই দিনে রোজা পালনকারী আল্লাহর মেহমানদারি থেকে বিমুখ হয়; আর এই বিমুখতা হলো পানাহার থেকে বিরত থাকা, তাই এখানে দিকগুলো পৃথক করা সম্ভব নয়। হানাফী (ফকীহ) বলেন: এখানেও দিকগুলো পৃথক। কারণ রোজা হওয়ার দিক থেকে তা একটি ইবাদত এবং ঈদের দিনে হওয়ার দিক থেকে তা নিষিদ্ধ; সুতরাং দিকগুলো পৃথক। এই কারণেই যদি কেউ ঈদের দিনে রোজা রাখার মানত করে, তবে তার নিকট সেই মানত সহীহ ও কার্যকর হবে এবং তার ওপর ঈদের দিন ব্যতীত অন্য দিনে রোজা রাখা আবশ্যক হবে, যা তার নিকট দিকের ভিন্নতা বা পৃথকীকরণের নীতির ওপর ভিত্তি করে।এই আলোচনায় লেখকের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উক্তি: "তারা নিষেধকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন":এর অর্থের ব্যাখ্যা হলো: যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা হয় তার সত্তাগত কারণে নিষিদ্ধ হবে, অথবা তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো গুণের কারণে, অথবা কোনো বাহ্যিক কারণে। কোনো কোনো গবেষক চতুর্থ একটি প্রকার যুক্ত করেছেন, তা হলো: কোনো বাহ্যিক কারণে নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়টির ক্ষেত্রে কখনও নিষেধাজ্ঞার দিকটি আদেশের দিক থেকে অবিচ্ছেদ্য হতে পারে, আবার কখনও তা থেকে পৃথক হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ আলা রওদাতিন নাজির - ত মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فتكون الاقسام أربعة مثال المنهى عنه لذاته الشرك والزنا ومثال المنهى عنه لوصفه القائم به الخمر بالنسبة إلى الاسكار ومثل له المؤلف بالصلاة فى حالة السكر لانها منهى عنها لوصف السكر القائم بالمصلى، ومثال المنهى عنه لخارج غير لازم، الصلاة بالحرير، ومثال المنهى عنه لخارج لازم عند المؤلف،الصلاة فى المكان المغصوب والنهى يقتضى البطلان فى ثلاثة منها وهى ما نهى عنه لذاته أو لوصفه القائم به أو لخارج عنه لازم له لزوما غير منفك. أما الرابع فلا يقتضى البطلان وهو ما كان النهى عنه لخارج غير لازم وقد قدمنا اختلافهم فى انفكاك الجهة وقد بين صاحب مراقى السعود بعض المسائل التي اختلفوا فى انفكاك الجهة فيها وعدمه بقوله:مثل الصلاة بالحرير والذهب أو فى مكان الغصب والوضوء انقلبومعطن ومنهج ومقبره كنيسة وذى حميم مجزرهوالمؤلف رحمه الله يرى أن الصلاة فى الأمكنة المنهى عنها باطلة والخلاف فيها مشهور.(فصل)قال المؤلف _رحمه الله _:الأمر بالشىء نهى عن ضده من حيث المعنى فأما الصيغة فلا، فان
সুতরাং প্রকারগুলো হবে চারটি। সত্তাগত কারণে নিষিদ্ধের উদাহরণ হলো শিরক ও ব্যভিচার। সংশ্লিষ্ট গুণের কারণে নিষিদ্ধের উদাহরণ হলো মাদকতার বিবেচনায় মদ। লেখক এর উদাহরণ দিয়েছেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাত আদায়ের মাধ্যমে, কারণ এটি মুসল্লির মধ্যে বিদ্যমান মাদকতার গুণের কারণে নিষিদ্ধ। আর বিচ্ছেদ্য বাহ্যিক বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধের উদাহরণ হলো রেশমি কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করা। লেখকের নিকট অবিচ্ছেদ্য বাহ্যিক বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধের উদাহরণ হলো,জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায় করা। এই চারটির মধ্যে তিনটির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়াকে সাব্যস্ত করে; সেগুলো হলো যা তার সত্তাগত কারণে নিষিদ্ধ, অথবা সংশ্লিষ্ট গুণের কারণে নিষিদ্ধ, অথবা এমন কোনো বাহ্যিক বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ যা তার থেকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তবে চতুর্থ প্রকারটি বাতিল হওয়াকে সাব্যস্ত করে না, আর তা হলো যা বিচ্ছেদ্য বাহ্যিক কোনো বিষয়ের কারণে নিষিদ্ধ। দিক পৃথক হওয়ার বিষয়ে তাদের মতভেদ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। 'মারাতিউস সুউদ' গ্রন্থের রচয়িতা এমন কিছু মাসআলা বর্ণনা করেছেন যেগুলোতে আলেমগণ দিক পৃথক হওয়া ও না হওয়ার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তিনি বলেন:যেমন রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করে সালাত আদায়, কিংবা জবরদখলকৃত স্থানে সালাত এবং অযুর পরিবর্তন হওয়াউট বসার স্থান, রাস্তা, কবরস্থান, গির্জা, গোসলখানা ও জবাইখানালেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মনে করেন যে, নিষিদ্ধ স্থানসমূহে সালাত আদায় করা বাতিল, আর এ বিষয়ে মতভেদ সুপ্রসিদ্ধ।(পরিচ্ছেদ)লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:কোনো বিষয়ের আদেশ প্রদান করা তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করার নামান্তর অর্থের দিক থেকে, তবে শাব্দিক কাঠামোর দিক থেকে নয়। কারণ,