(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
جواهر القرآن القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: جواهر القرآن
المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505هـ)
المحقق: الدكتور الشيخ محمد رشيد رضا القباني
الناشر: دار إحياء العلوم، بيروت
الطبعة: الثانية، 1406 هـ - 1986 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাওয়াহিরুল কুরআন বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: জাওয়াহিরুল কুরআন
লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি আত-তুসি (মৃত্যু: ৫০৫ হিজরি)
গবেষক: ডক্টর শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা আল-কাব্বানি
প্রকাশক: দার ইহয়া আল-উলুম، বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدِّمَة المحَقِقالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمدٍ خاتَمِ الأنبياء والمرسلين وبعد:
فهذا كتاب "جواهر القرآن" للإمام الغزالي رضي الله عنه، أبرز فيه رحمه الله تعالى جواهر القرآن، ونبَّهَ على الغَوْصِ في مُحيطه، والإفادة من جواهرِهِ، والالتقاط من دُرَرِه، والظَّفَرِ بنفائِسه، للفوز بِخَيْرِ الدُنيا والآخرة، فهو كتاب يدل عنوانُهُ على نفاسَةِ موضوعه وشرف مضمونه ورِفْعَةِ غايَتِهِ.
عملي في هذا الكتاب
عندما وقعت بين يدي نسخة هذا الكتاب وجدتُ غالبها متصل الأسطر، غير مُجَزَّأ الفَقَرات، فعمدت إلى تجزئَةِ الكتاب في فَقَرات، وضبَطتُ الشَّكل فيها، ورتبت سَرْدَ آياتِ القرآن، خصوصاًَ عند بيان الغزالي لِنَمَطِ جواهرِ القرآن ونَمَطِ دُرَرِه، فذكرت في أول السطر في كل نَمَط عدد آيات الجواهر من كل سورة، ثم أتبعتُ ذلك بالآيات نفسها، مُبْتَدِئاً بكل مجموعة منها في السورة من أول السطر أيضاً.
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, নবী ও রাসূলগণের মোহর হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর। অতঃপর:
এটি ইমাম গাজালী (রা.)-এর গ্রন্থ "জাওয়াহিরুল কুরআন"। এতে তিনি (রহ.) কুরআনের রত্নরাজিকে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং এর গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে সেই রত্নভাণ্ডার থেকে উপকৃত হওয়া, মুক্তা কুড়িয়ে নেওয়া এবং এর অমূল্য সম্পদ অর্জনের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন; যাতে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করা যায়। এটি এমন এক গ্রন্থ যার শিরোনামই এর বিষয়ের অনন্যতা, বিষয়বস্তুর মর্যাদা এবং লক্ষ্যের উচ্চতাকে নির্দেশ করে।
এই গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজ
যখন এই গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি আমার হস্তগত হলো, তখন দেখলাম এর অধিকাংশ পঙ্ক্তিমালা নিরবচ্ছিন্ন এবং অনুচ্ছেদগুলো বিন্যস্ত নয়। তাই আমি গ্রন্থটিকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করার সংকল্প করি, এতে প্রয়োজনীয় হরকত প্রদান করি এবং কুরআনের আয়াতগুলোর ধারা বিন্যস্ত করি। বিশেষত, ইমাম গাজালী যখন কুরআনের 'জাওয়াহির' (রত্নরাজি) এবং 'দুরার' (মুক্তাসমূহ) এর ধরণ বর্ণনা করেছেন, তখন আমি প্রতিটি পদ্ধতির শুরুতে সংশ্লিষ্ট সূরার 'জাওয়াহির' আয়াতসমূহের সংখ্যা উল্লেখ করেছি। অতঃপর সেই আয়াতগুলো ক্রমানুসারে যুক্ত করেছি এবং সূরার প্রতিটি আয়াত-সমষ্টিও নতুন পঙ্ক্তির শুরু থেকে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم عمدت إلى الأحاديث النبوية التي ذكرها الغزالي في مقدمة كتابه فَأشَرْتُ في هامش هذه الطبعة إلى موضع روايتها في كتب الحديث؛ كما عمدت إلى الآيات القرآنية فأشرت إلى رقم كل آية ومَوْضِعها من السورة؛ كما عمدتُ أيضاً إلى الكلمات الصعبة في الكتاب فشرحتُ معناها من كتب اللغة.
ولا أدعي الكمال في عملي ذلك كله، إنما هي محاولة لتقديم هذا الكتاب في صورة تُسَهِّل على القارئ مطالعة الكتاب والإفادة من موضوعه.
وقد اعتمدتُ في ضبط هذا الكتاب وإخراجه على النسخة المطبوعة بالمكتبة التجارية الكبرى لصاحبها مصطفى محمد، بأول شارع محمد علي بمصر - القاهرة، الطبعة الثانية 1352 هـ = 1933 م. والله وليُّ التوفيق.
بيروت أول رجب الخير 1404 هجرية.
محمد رشيد رضا القباني
الموافق للأول من نيسان 1984م.
অতঃপর আমি সেই নববী হাদিসসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করেছি যা ইমাম গাজালী তাঁর কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন; ফলে আমি এই সংস্করণের পাদটীকায় হাদিসের কিতাবসমূহে সেগুলোর বর্ণনা (رواية)-এর স্থান নির্দেশ করেছি। একইভাবে আমি কুরআনের আয়াতসমূহের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছি এবং প্রতিটি আয়াতের নম্বর ও সূরায় সেটির অবস্থান নির্দেশ করেছি। এছাড়া আমি কিতাবের দুরূহ শব্দগুলোর প্রতিও বিশেষ মনোযোগ দিয়েছি এবং ভাষাতত্ত্বের কিতাবসমূহ থেকে সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছি।
আমি আমার এই সকল কার্যে পূর্ণতার দাবি করছি না, বরং এটি কিতাবটিকে এমন এক অবয়বে উপস্থাপনের প্রয়াস মাত্র যা পাঠকের জন্য কিতাবটি অধ্যয়ন এবং এর বিষয়বস্তু থেকে বিবিধ উপকার গ্রহণ সহজতর করবে।
এই কিতাবটির নিখুঁতভাবে সম্পাদন (ضبط) ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি মিশরের কায়রোর মুহাম্মদ আলী স্ট্রিটের শুরুতে অবস্থিত মোস্তফা মুহাম্মদের মালিকানাধীন আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাতুল কুবরা থেকে প্রকাশিত মুদ্রিত কপির ওপর নির্ভর করেছি, যা ১৩৫২ হিজরী = ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় সংস্করণ। আর আল্লাহ তাআলাই একমাত্র তৌফিক দাতা।
বৈরুত, ১লা রজবুল খায়ের ১৪০৪ হিজরী।
মুহাম্মদ রশিদ রেজা আল-কাব্বানি
১লা এপ্রিল ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة حياة الإمام الغزالي رحمه الله تعالىالإمام الغزالي هو أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الملقب حجة الإسلام، زين الدين الطوسي، الفقيه الشافعي، ولد بطوس، سنة خمسين وأربعمائة.
ويحكى أن والده كان صالحاً، لا يأكل إلا من كسب يده، يعمل في غزل الصوف ويبيعه في دكانه؛ ولما حضرته الوفاة أوصى به وبأخيه أحمد إلى صديق له متصوف ومن أهل الخير وقال له: إن لي لتأسُّفاً عظيماً على تعلم الخط، وأشتهي استدراك ما فاتني في ولديَّ هذين، فعلِّمهما، ولا عليك أن تُنفِذَ في ذلك جميع ما أخلفه لهما. فلما مات أقبل الصوفي على تعليمهما إلى أن فنيَ ذلك النزر اليسير الذي خلّفه لهما أبوهما، فقال لهما: إعلما أني قد أنفقت عليكما ما كان لكما، وأنا رجل من الفقر، لا مال لي أواسيكما به، فأرى أن تلجأا إلى مدرسة، فإنكما من طلبة العلم، فيحصل لكما قوت يعْينكما على وقتكما، ففعلا ذلك، وكان هو السبب في سعادتهما وعلو درجتهما. وكان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইমাম গাজালি (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর জীবনীইমাম গাজালি হলেন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি, যিনি হুজ্জাতুল ইসলাম ও যাইনুদ্দিন আত-তুসি উপাধিতে ভূষিত। তিনি শাফিঈ মাযহাবের একজন ফকিহ (فقيه) ছিলেন এবং ৪৫০ হিজরি সনে তুস নগরে জন্মগ্রহণ করেন।
বর্ণিত আছে যে, তাঁর পিতা একজন নেককার (صالح) ব্যক্তি ছিলেন। তিনি স্বহস্তে উপার্জিত রিজিক ছাড়া অন্য কিছু ভক্ষণ করতেন না। তিনি পশম কাটতেন এবং নিজের দোকানে তা বিক্রি করতেন। যখন তাঁর মৃত্যু নিকটবর্তী হলো, তখন তিনি তাঁর এই পুত্র এবং তাঁর অপর ভাই আহমদের ব্যাপারে তাঁর এক সূফি ও সৎকর্মশীল বন্ধুকে অসিয়ত করলেন। তিনি বললেন: 'লেখাপড়া শিখতে না পারার জন্য আমার মনে অনেক বড় আফসোস রয়ে গেছে। আমি আমার এই দুই সন্তানের মাধ্যমে সেই অপূর্ণতাটুকু কাটিয়ে উঠতে চাই। আপনি তাদের শিক্ষা দান করুন; আর তাদের জন্য আমি যা কিছু রেখে যাচ্ছি, তা সব খরচ করতে আপনি কোনো দ্বিধা করবেন না।' অতঃপর যখন তিনি মারা গেলেন, তখন সেই সূফি ব্যক্তি তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। একপর্যায়ে তাঁদের পিতার রেখে যাওয়া যৎসামান্য সম্পদ ফুরিয়ে গেল। তখন তিনি তাঁদের বললেন: 'জেনে রেখো, তোমাদের যা সম্পদ ছিল তা আমি তোমাদের পেছনে ব্যয় করেছি। আমি একজন দরিদ্র মানুষ, তোমাদের সাহায্য করার মতো অর্থ আমার কাছে নেই। তাই আমি সঙ্গত মনে করি যে, তোমরা কোনো মাদরাসায় চলে যাও। যেহেতু তোমরা ইলম অন্বেষণকারী (طلبة العلم), তাই সেখানে তোমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা হবে যা তোমাদের জ্ঞানার্জনের এই সময়ে সহায়ক হবে।' তাঁরা তা-ই করলেন এবং এটিই ছিল তাঁদের সৌভাগ্য ও সুউচ্চ মর্যাদা লাভের মূল কারণ। আর তিনি...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الغزالي يحكي ذلك ويقول: طلبنا العلم لغير الله فأبى أن يكون إلا لله.
وقد كان والد الغزالي رحمه الله يطوف على المتفقِّهة، ويجالسهم، ويتوفرَّ على خدمتهم، ويَجِدُّ في الإحسان إليهم، والنفقة بما يمكنه عليهم، وكان إذا سمع كلامهم بكى وتضرَّع، وسأل الله أن يرزقه ابناً واعظاً، ويجعله فقيهاً، فاستجاب الله دعْوَتَيه، أما أبو حامد فكان أفقه أقرانه، وإمام أهل زمانه؛ وأما أحمد فكان واعظاً، تلينُ الصُمُّ الصخور عند سماع تحذيره، وترتعد فرائِصُ الحاضرين في مجالس تذكيره.
قرأ الغزالي في صباه طرفاً من الفقه على أحمد محمد الراذكاني، ثم قدم بعد ذلك إلى نيسابور، ولازم إمام الحرَمَيْن أبي المعالي الجُوَيني، وجدَّ واجتهد حتى برع في المذهب، والخلاف، والجدل، والمنطق، وقرأ الحكمة، والفلسفة، وأحكَمَ كل ذلك، وفهم كلام أهل هذه العلوم، وتصدى للردّ عليهم وإبطال دعاويهم، وصنَّفَ في كل فن من هذه العلوم كُتباً أحسنَ تأليفها، وأجاد وضعها.
وكان الغزالي رضي الله عنه شديد الذكاء، سديد النظر، قويَّ الحافظة، بعيد الغَوْر، غوَّاصاً على المعاني، مُناظِراً مِحْجاجاً.
ولما مات إمام الحرَمَيْن "الجُوَيْني" خرج الغزالي قاصداً الوزير "نظام الملك". وكان مجلسه مجمع أهل العلم، فناظر الأئمة العلماء في مجلسه، وظهر كلامه عليهم، واعترفوا بفضله، وتلقَّاه الصاحب بالتعظيم والتبجيل، وولاه تدريس مدرسته "النظّامية" ببغداد سنة أربعٍ وثمانين وأربعمائة، فقدمها
আল-গাজালি এটি বর্ণনা করে বলেন: "আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণ করেছিলাম, কিন্তু তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হতে চাইল।"
আল-গাজালির পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতেন, তাঁদের সাথে বসতেন, তাঁদের সেবায় নিজেকে নিবেদন করতেন এবং সাধ্যমতো তাঁদের প্রতি ইহসান ও অর্থব্যয়ে সচেষ্ট হতেন। যখনই তিনি তাঁদের আলোচনা শুনতেন, তখনই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং অত্যন্ত বিনয়াবনত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন আল্লাহ তাঁকে একজন নসিহতকারী এবং ফকিহ (فقيه) পুত্র দান করেন। আল্লাহ তাঁর উভয় দুআ কবুল করেছিলেন। ফলে আবু হামিদ তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ (فقيه) এবং তাঁর যুগের ইমাম (إمام) হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন; আর আহমদ ছিলেন একজন নসিহতকারী, যাঁর সতর্কবাণী শুনলে সুদৃঢ় পাথরও বিগলিত হতো এবং যাঁর নসিহতের মজলিসে উপস্থিতদের শরীর ভয়ে প্রকম্পিত হতো।
আল-গাজালি তাঁর শৈশবে আহমদ মুহাম্মদ আর-রাজকানির কাছে ফিকহ শাস্ত্রের কিছু অংশ অধ্যয়ন করেন। অতঃপর তিনি নিশাপুরে গমন করেন এবং ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আল-জুয়াইনির সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। তিনি সেখানে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেন, ফলে মাযহাব, খিলাফ (মতামতের ভিন্নতা), জাদাল (বিতর্কবিদ্যা), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), হিকমাহ ও দর্শনশাস্ত্রে পূর্ণ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি এই সকল শাস্ত্র আয়ত্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রবিদদের বক্তব্যের মর্ম অনুধাবন করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁদের মতবাদের খণ্ডন এবং তাঁদের দাবিগুলোর অসারতা প্রমাণে ব্রতী হন। তিনি এই শাস্ত্রগুলোর প্রতিটি শাখায় অত্যন্ত চমৎকার ও সুবিন্যস্ত গ্রন্থাবলী রচনা করেন।
আল-গাজালি (রাজিআল্লাহু আনহু) অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধা, সঠিক অন্তর্দৃষ্টি এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি গভীর তত্ত্বের অন্বেষী এবং অর্থের গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটনে পারদর্শী ছিলেন। তদুপরি তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী ও প্রমাণনির্ভর তার্কিক।
ইমামুল হারামাইন আল-জুয়াইনির ইন্তেকালের পর আল-গাজালি উজির নিজামুল মুলকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর মজলিস ছিল বিদগ্ধ আলেমদের মিলনস্থল। সেখানে তিনি মজলিসে উপস্থিত ইমাম (إمام) ও আলেমদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং তাঁদের মাঝে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। ফলে তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকার করে নেন। উজির তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করেন এবং চারশত চুরাশি হিজরি সনে তাঁকে বাগদাদের 'নিজামিয়া' মাদ্রাসার শিক্ষকতার পদে নিযুক্ত করেন। অতঃপর তিনি সেখানে পৌঁছান।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
في تجمُّل كبير، وتلقَّاهُ الناس، ونفذت كلمته، وعظمت حشمته حتى غلبت على حشمة الأمراء والوزراء، وأعجب الخلقَ حسنُ كلامه، وكمالُ فضله، وفصاحةُ لسانه، ونُكَتُه الدقيقة، وإشاراته اللطيفة، وأحبوه. وأقام على تدريس العلم ونشره بالتعليم والفُتيا والتصنيف مُدةً. كان عظيم الجاه، عالي الرتبة، مسموع الكلمة، مشهور الاسم، تضرب به الأمثال، وتُشد إليه الرحال، حتى شَرُفَت نفسه عن كل جاه، وترك ذلك كله وراء ظهره ورحل إلى بيت الله الحرام في مكة المكرمة، فخرج إلى الحج في شهر ذي الحجة سنة ثمانٍ وثمانين وأربعمائة (488 هجرية) واستناب أخاه في التدريس ببغداد.
ودخل دمشق بعد عودته من الحج في سنة تسعٍ وثمانين وأربعمائة (489 هجرية) ، فلبث فيها أياماً يسيرة، ثم توجه إلى بيت المقدس، فجاور ربه مدةً، ثم عاد إلى دمشق، واعتكف بالمنارة الغربية من الجامع، وبها كانت إقامته.
وقد صادف دخوله يوماً المدرسة الأمينة فوجد المدرس يقول: قال الغزالي وهو يدرس كلامه فخشي الغزالي على نفسه العجَبَ ففارق دمشق، وأخذ يجول في البلاد، فدخل مصر، وتوجه إلى الإسكندرية، فأقام بها مدة، وقيل إنه عزم على المضي إلى السلطان يوسف بن تاشفين سلطان المغرب لِما بلغه من عدله، فبلغه موته، واستمر يجول في البلدان حتى عاد إلى خراسان ودرَّس بالمدرسة النظامية بنيسابور مدة يسيرة، ثم رجع إلى طوس، واتخذ إلى جانب داره مدرسة للفقهاء، وخانقاه للصوفية، ووزع أوقاته على وظائف من ختم القرآن، ومجالسة أرباب القلوب، والتدريس لطلبة العلم، وإدامة الصلاة والصيام وسائر العبادات، إلى أن انتقل إلى رحمة الله تعالى ورضوانه. وكانت
অত্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অবস্থায় তিনি অবস্থান করছিলেন, মানুষ তাঁকে বিপুলভাবে গ্রহণ করেছিল, তাঁর বাক্য ছিল প্রভাবশালী এবং তাঁর প্রতিপত্তি এতোটাই মহিমান্বিত হয়েছিল যে তা আমির ও উজিরদের প্রতিপত্তিকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ তাঁর চমৎকার বাচনভঙ্গি, তাঁর পূর্ণাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর জিহ্বার প্রাঞ্জলতা, তাঁর সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক রহস্য (نكتة) এবং তাঁর সূক্ষ্ম ইঙ্গিতসমূহে মুগ্ধ হয়েছিল এবং তারা তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছিল। তিনি দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রদান, পাঠদান, ফতোয়া (فتيا) প্রদান এবং গ্রন্থ রচনা (تصنيف) করার মাধ্যমে ইলম প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সুমহান প্রতিপত্তি ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তাঁর কথা গুরুত্বের সাথে শোনা হতো এবং তাঁর খ্যাতি ছিল জগৎজুড়ে। তাঁকে উপমা হিসেবে পেশ করা হতো এবং ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তাঁর পানে সফর করা হতো। পরিশেষে তাঁর আত্মা সকল জাগতিক মর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে গেল এবং তিনি এসব কিছু পেছনে ফেলে মক্কা মুকাররমার পবিত্র বায়তুল্লাহ অভিমুখে যাত্রা করলেন। তিনি চারশত আটাশি (৪৮৮ হিজরি) সনের জিলহজ মাসে হজের উদ্দেশ্যে বের হন এবং বাগদাদে শিক্ষকতার কার্যে তাঁর ভাইকে স্থলাভিষিক্ত করেন।
হজ থেকে ফেরার পর চারশত উননব্বই (৪৮৯ হিজরি) সনে তিনি দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং সেখানে অল্প কয়েক দিন অবস্থান করেন। এরপর তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে রওনা হন এবং সেখানে নির্জনে রবের ইবাদতে কিছুকাল অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি পুনরায় দামেস্কে ফিরে আসেন এবং জামে মসজিদের পশ্চিম মিনারে ইতিকাফ (اعتكاف) করেন; সেখানেই ছিল তাঁর আবাসস্থল।
একদিন তিনি ঘটনাক্রমে মাদরাসা আমিনিয়াতে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন যে সেখানকার শিক্ষক পাঠদানকালে বলছেন, "গাজালি বলেছেন"; তিনি মূলত ইমাম গাজালিরই বক্তব্য পড়াচ্ছিলেন। এতে গাজালি নিজের মনে আত্মঅহংকার (عجب) সৃষ্টির ভয় করলেন এবং দামেস্ক ত্যাগ করলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি মিশরে প্রবেশ করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন। বলা হয় যে, তিনি মাগরিবের (মরক্কো) সুলতান ইউসুফ ইবনে তাশফিনের ন্যায়পরায়ণতার কথা শুনে তাঁর সাথে সাক্ষাতের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে সুলতানের ইন্তেকালের সংবাদ পান। তিনি বিভিন্ন জনপদ ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না তিনি খোরাসানে ফিরে আসেন এবং নিশাপুরের নেজামীয়া মাদরাসায় স্বল্প সময়ের জন্য পাঠদান করেন। এরপর তিনি তুস নগরে ফিরে যান এবং নিজের বাসভবনের পাশে ফকিহদের (فقهاء) জন্য একটি মাদরাসা এবং সুফিদের (صوفية) জন্য একটি খানকাহ (خانقاه) নির্মাণ করেন। তিনি তাঁর সময়গুলোকে কুরআন খতম, আধ্যাত্মিক সাধকদের সংশ্রব, ইলম অন্বেষণকারীদের পাঠদান এবং নিয়মিত নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদতের রুটিনে বিন্যস্ত করেন, যে পর্যন্ত না তিনি মহান আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির পানে পাড়ি জমান। আর এটি ছিল...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفاته بطوس، في يوم الاثنين رابع عشر جمادى الآخرة، سنة خمسٍ وخمسمائة (505 هجرية) ؛ وعمره خمس وخمسون سنة.
قال أبو الفرج بن الجوزي في كتاب "الثبات عند الممات": "قال أحمد أخو الإمام الغزالي: لما كان يوم الاثنين وقت الصبح، توضأ أخي أبو حامد وصلى وقال: عليَّ بالكفن، فأخذه وقبَّله، ووضعه على عينيه، وقال: سمعاً وطاعة للدخول على الملك، ثم مدَّ رجليه، واستقبل القبلة، ومات قبل الإسفار، قدَّس الله روحه".
هذا وقد رثاه الأديب أبو المظفر محمد الأبيوردي، الشاعر المشهور، بأبيات فائية منها:
مضى وأعظمُ مفقودٍ فُجِعْتُ بِه
… من لا نظيرَ لهُ في الناسِ يخلُفُه
وتمثَّل الإمام إسماعيل الحاكمي بعد وفاته بقول أبي تمام من جملة قصيدة مشهورة له:
عجبتُ لصبري بعدَهُ وهوَ ميتٌ
… وكنتُ امرءاً أبكي دماً وهوَ غائبُ
على أنها الأيامُ قد صِرْنَ كلُّها
… عجائبَ، حتى ليس فيها عجائبُ
وقد دُفن الغزالي رحمه الله بظاهر الطابرّان، وهي قصبة طوس، رحمه الله تعالى.
তাঁর ইন্তেকাল হয় তুস নগরে, সোমবার, ১৪ই জমাদিউল আখিরা, ৫০৫ হিজরি সনে; সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঞ্চান্ন বছর।
আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি তাঁর ‘আস-সাবাত ইনদাল মামাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "ইমাম গাজালির ভাই আহমদ বলেছেন: যখন সোমবার সুবহে সাদেকের সময় হলো, আমার ভাই আবু হামিদ অজু করলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন: ‘আমার কাফনটি দাও।’ তিনি সেটি নিলেন এবং তাতে চুমু খেলেন, তা নিজের চোখের ওপর রাখলেন এবং বললেন: ‘মালিকের (মহান প্রভুর) দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমি পূর্ণ শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথে প্রস্তুত।’ অতঃপর তিনি তাঁর পা প্রসারিত করলেন এবং কিবলার দিকে মুখ করলেন। ঊষার আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন।"
প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক ও কবি আবু আল-মুজাফফর মুহাম্মদ আল-আবিওয়ার্দি তাঁর মৃত্যুতে একটি শোকগাথা রচনা করেছেন, যার পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তিনি বিদায় নিয়েছেন, আর যাঁকে হারিয়ে আমি সর্বাধিক শোকার্ত হয়েছি—তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো দ্বিতীয় কেউ মানুষের মাঝে অবশিষ্ট নেই।
… ইমাম ইসমাইল আল-হাকিমি তাঁর ইন্তেকালের পর আবু তাম্মামের একটি বিখ্যাত কাসিদার পঙক্তি উদ্ধৃত করেন:
তাঁর মৃত্যুর পর আমার ধৈর্যের কথা চিন্তা করে আমি নিজেই আশ্চর্য হই, অথচ ইতিপূর্বে কেবল তাঁর অদর্শনেও আমি রক্তাশ্রু বিসর্জন দিতাম।
… আসলে এই দিনগুলো সবই এখন আশ্চর্যের বিষয়ে পরিণত হয়েছে, এমনকি এতে এখন আর নতুন করে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।
… ইমাম গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) তাবরানের বহির্ভাগে সমাহিত হন, যা তুস নগরের প্রধান কেন্দ্র ছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
باقة من كلماته
ومن كلماته المنثورة البديعة رحمه الله ما نقله الزبيدي الشهير بمرتضى من طبقات المناوي في كتابه "إتحاف السادة المتقين بشرح إحياء علوم الدين". وهي كلمات تعبر عن سعة علمه وإدراكه وفهمه:
- "أنوار العلوم لم تُحجب من القلوب لبُخلٍ ومنعٍ من جهة المُنعِمِ تعالى عن ذلك، بل لِخَبَثٍ وكدورةٍ وشغلٍ من جهة القلوب، فإنها كالأواني ما دامت مملوءة بالماء لا يدخلها الهواء، والقلب المشغول بغير الله لا تدخله المعرفة بجلاله".
- "جلاء القلوب والأبصار يحصل بالذكر، ولا يتمكن منه إلا الذين اتّقَوا، فالتقوى باب الذكر، والذكر باب الكشف، والكشف باب الفوز الأكبر".
- "قلب المؤمن لا يموت، وعلمه عند الموت لا ينمحي، وصفاؤه لا يتكدّر، وإليه أشار الحسن بقوله: التراب لا يأكل محل الإيمان".
- "مهما رأيت العلماء يتغايرون، ويتحاسدون، ولا يتآنسون، فاعلم أنهم اشتروا الحياة الدنيا بالآخرة فهم خاسرون".
- "أشدُّ الناس حماقة أقواهم اعتقاداً في فضل نفسه، وأثبتُ الناس عقلاً أشدهم اتهاماً لنفسه".
- "مهما رأيتَ إنساناً سيِّء الظن بالله، طالباً للعيوب، فاعلم أنه خبيث في الباطن، والمؤمن سليم الصدر في حق كافة الخلق".
- "حقيقة الذكر لا تتمكن من القلب إلا بعد عمارته بالتقوى، وتطهيره من الصفات المذمومة، وإلا فيكون الذكر حديث نفس، ولا سلطان له على القلب، ولا يدفع الشيطان".
তাঁর বচনগুচ্ছের একটি সংকলন
তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) চমৎকার কিছু বিক্ষিপ্ত বচন হলো সেগুলো, যা মুর্তজা নামে সুপরিচিত আল-জাবিদি আল-মুনাবি-র 'তাবাকাত' থেকে তাঁর "ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন বি-শারহি ইহইয়ায়ি উলুমিদ্দিন" গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। এ কথাগুলো তাঁর ইলমের প্রশস্ততা, প্রজ্ঞা ও গভীর উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ:
- "ইলমের নূরসমূহ (أنوار العلوم) কৃপণতা বা মহান দাতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো বাধার কারণে অন্তর থেকে পর্দার অন্তরালে থাকে না; বরং অন্তরের কলুষতা, পঙ্কিলতা এবং অন্য বিষয়ে নিমগ্ন থাকার কারণে তা ঘটে থাকে। কেননা অন্তর হলো পাত্রের ন্যায়; যতক্ষণ তা পানিতে পূর্ণ থাকে ততক্ষণ তাতে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। তেমনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুতে লিপ্ত অন্তরে তাঁর মহিমা ও বড়ত্বের পরিচয় বা মারেফাত (المعرفة) প্রবেশ করতে পারে না।"
- "অন্তর ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা জিকিরের (الذكر) মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর এটি কেবল তারা অর্জন করতে পারে যারা তাকওয়া (التقوى) অবলম্বন করেছে। সুতরাং তাকওয়া (التقوى) হলো জিকিরের (الذكر) প্রবেশদ্বার, জিকির (الذكر) হলো কাশফের (الكشف) প্রবেশদ্বার এবং কাশফ (الكشف) হলো মহা সফলতার (الفوز الأكبر) সোপান।"
- "মুমিনের অন্তর মরে না এবং মৃত্যুর সময় তার ইলম মুছে যায় না, তার স্বচ্ছতাও ঘোলাটে হয় না। হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইশারা করেছেন: মাটি ইমানের (الإيمان) স্থানকে ভক্ষণ করে না।"
- "যখনই আপনি আলেমদের (العلماء) একে অপরের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ, হিংসুক এবং পরশ্রীকাতর হিসেবে দেখবেন, তখন জেনে নিন যে তারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে ক্রয় করে নিয়েছে; সুতরাং তারা ক্ষতিগ্রস্ত।"
- "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্বোধ হলো সে-ই, যে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে অতিমাত্রায় বিশ্বাসী। আর সবচেয়ে সুদৃঢ় বিবেকের অধিকারী হলো সে-ই, যে নিজের নফসকে সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত করে।"
- "যখনই আপনি কোনো মানুষকে আল্লাহর প্রতি কুধারণাসম্পন্ন এবং অন্যের দোষ তালাশকারী হিসেবে দেখবেন, তখন জেনে নিন যে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা কলুষিত। অথচ মুমিন সমস্ত সৃষ্টির ব্যাপারে স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী হয়।"
- "জিকিরের (الذكر) হাকিকত বা বাস্তবতা ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে সুদৃঢ় হয় না, যতক্ষণ না তা তাকওয়া (التقوى) দ্বারা আবাদ করা হয় এবং নিন্দনীয় গুণাবলী (الصفات المذمومة) থেকে পবিত্র করা হয়। অন্যথায় সেই জিকির (الذكر) কেবল মনের প্রলাপ হবে; অন্তরের ওপর তার কোনো প্রভাব থাকবে না এবং তা শয়তানকেও প্রতিহত করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
- "كما أنك تدعو ولا يُستجاب لك لفقد شرط الدعاء، فكذلك تذكر الله ولا يهرب الشيطان لفقد شروط الذكر".
- "النفس إذا لم تُمنَع بعضَ المباحات طمعت في المحظورات".
- "السعادة كلها في أن يملك الرجل نفسه، والشقاوة في أن تملكه نفسه".
- "من عوَّد نفسه الفكرَ في جلال الله وعظمته، وملكوتِ أرضه وسمائه، صار ذلك عنده ألذّ من كل نعيم، فلذةُ هذا في عجائب الملكوت على الدوام، أعظم من لذة من ينظر إلى أثمار الجنة وبساتينها بالعين الظاهرة، وهذا حالهم في الدنيا، فما الظن بهم عند انكشاف الغطاء في العقبى؟ ".
- "لا يبقى مع العبد عند الموت إلا ثلاث صفات: صفاء القلب أعني طهارته من أدناس الدنيا؛ وأُنسه بذكر الله؛ وحبه لله. وطهارة القلب لا تحصل إلا بالكف عن شهوات الدنيا؛ والأُنس لا يحصل إلا بكثرة الذكر؛ والحُب لا يحصل إلا بالمعرفة، ولا تحصل معرفة الله إلا بدوام الفكر".
- "علماء الآخرة يُعرفون بسيماهم من السكينة والذلة والتواضع، أما التمشدق والاستغراق في الضحك، والحدّة في الحركة والنطق فمن آثار البطر والغفلة، وذلك من دأب أبناء الدنيا".
وله رحمه الله دعاء عجيب جرَّبه أهل العرفان عند حلول الفاقة وهو:
- "اللهم يا غني، يا حميد، يا مبدئ، يا معيد، يا رحيم، يا ودود، أغنني بحلالك عن حرامك، وبطاعتك عن معصيتك، وبفضلك عمَّن سِواك قال: من ذكره بعد صلاة الجمعة وداومَ عليه أغناه الله عن خلقه، ورزقه من حيث لا يحتسب".
* * *
وللإمام الغزالي مصنفات كثيرة منها:
- "যেমন আপনি দোয়া করেন কিন্তু দোয়ার শর্ত অনুপস্থিত থাকার কারণে তা কবুল হয় না, তেমনি আপনি আল্লাহর জিকির করেন কিন্তু জিকিরের শর্ত অনুপস্থিত থাকার কারণে শয়তান পলায়ন করে না।"
- "নফসকে (প্রবৃত্তিকে) যদি কিছু বৈধ বিষয় থেকে বিরত রাখা না হয়, তবে তা নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে।"
- "সৌভাগ্য নিহিত রয়েছে মানুষের নিজের নফসের ওপর কর্তৃত্ব করার মধ্যে, আর দুর্ভাগ্য হলো নফস মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করা।"
- "যে ব্যক্তি আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং আসমান ও জমিনের রাজত্ব নিয়ে চিন্তা করতে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলে, তার কাছে এটি সকল নেয়ামতের চেয়ে অধিক স্বাদযুক্ত হয়ে যায়। রাজত্বের বিস্ময়াবলীর মধ্যে সর্বদা যে আনন্দ নিহিত থাকে, তা চাক্ষুষভাবে জান্নাতের ফলমূল ও বাগান দর্শনের আনন্দের চেয়েও মহত্তর। দুনিয়াতে তাদের অবস্থা যদি এমন হয়, তবে আখেরাতে যখন পর্দা উন্মোচিত হবে তখন তাদের অবস্থা কেমন হতে পারে?"
- "মৃত্যুর সময় বান্দার সাথে তিনটি বৈশিষ্ট্য ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না: হৃদয়ের স্বচ্ছতা—অর্থাৎ দুনিয়ার পঙ্কিলতা থেকে তার পবিত্রতা; আল্লাহর জিকিরে তার সান্নিধ্যবোধ; এবং আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা। আর হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জিত হয় না দুনিয়ার কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকা ছাড়া; সান্নিধ্যবোধ অর্জিত হয় না অধিক জিকির করা ছাড়া; এবং ভালোবাসা অর্জিত হয় না পরিচয় (মা’রিফাত) লাভ করা ছাড়া, আর আল্লাহর পরিচয় অর্জিত হয় না সর্বদা চিন্তায় নিমগ্ন থাকা ছাড়া।"
- "আখেরাতের আলিমগণ তাদের গাম্ভীর্য, দৈন্য ও নম্রতার চিহ্ন দ্বারা পরিচিত হন। পক্ষান্তরে বাকচাতুর্য, অট্টহাসিতে নিমগ্ন থাকা এবং চলনে ও বলনে উগ্রতা হলো দম্ভ ও গাফেলতির লক্ষণ, যা দুনিয়াদারদের স্বভাব।"
অভাব-অনটন দেখা দিলে আধ্যাত্মিক সাধকগণ তাঁর একটি বিস্ময়কর দোয়া পরীক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো:
- "হে আল্লাহ! হে অভাবমুক্ত, হে প্রশংসিত, হে অনাদি স্রষ্টা, হে পুনরুত্থানকারী, হে পরম দয়ালু, হে অতি প্রেমময়! আপনার হালাল রিজিকের মাধ্যমে আমাকে হারাম থেকে অমুখাপেক্ষী করুন, আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে আপনার অবাধ্যতা থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করুন।" তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জুমার সালাতের পর এটি পাঠ করবে এবং এর ওপর নিয়মিত আমল করবে, আল্লাহ তাকে সৃষ্টির মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি দেবেন এবং তাকে এমনভাবে রিজিক দান করবেন যা তার ধারণাতীত।
* * *
ইমাম গাজালীর অসংখ্য রচনাবলি রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كتاب "الوسيط" و "البسيط" و "الوجيز" في الفقه. و "إحياء علوم الدين". و "المُسْتَصْفَى" في أصول الفقه. و "تهافت الفلاسفة". و "المقصد الأسنى في شرح أسماء الله الحُسنى". و "مشكاة الأنوار". و "الاقتصاد في الاعتقاد". و "معارج القدس في أحوال النفس" و "مقاصد الفلاسفة". و "تنزيه القرآن عن المطاعن". و "المعارف العقلية". و "فضائح الباطنية". و "التبر المسبوك في نصيحة الملوك". و "منهاج العابدين". و "ياقوت التأويل في تفسير التنزيل" وهو تفسير يقع في نحو أربعين مجلداً. و "الحكمة في مخلوقات الله". و "مكاشفة القلوب المقرب إلى علَاّم الغيوب". و "جواهر القرآن" وهو الكتاب الذي بين أيدينا.
محمد رشيد رضا القباني
ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের "আল-ওয়াসিত", "আল-বাসিত" এবং "আল-ওয়াজিজ" গ্রন্থসমূহ। এবং "ইহয়াউ উলুমিদ্দিন"। এবং উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের "আল-মুসতাসফা"। এবং "তাহাফুতুল ফালাসিফা"। এবং "আল-মাকসাদুল আসনা ফি শারহি আসমাইল্লাহিল হুসনা"। এবং "মিশকাতুল আনোয়ার"। এবং "আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ"। এবং "মায়ারিজুল কুদস ফি আহওয়ালিন নাফস" ও "মাকাসিদুল ফালাসিফা"। এবং "তানজিহুল কুরআন আনিল মাতাইন"। এবং "আল-মাআরিফ আল-আকলিয়্যাহ"। এবং "ফাদাইহুল বাতিনিয়্যাহ"। এবং "আত-তিবরুল মাসবুক ফি নাসিহাতিল মুলুক"। এবং "মিনহাজুল আবিদিন"। এবং "ইয়াকুতুত তাবিল ফি তাফসিরিত তানজিল", এটি প্রায় চল্লিশ খণ্ডে রচিত একটি তাফসির (تفسير)। এবং "আল-হিকমাহ ফি মাখলুকাতিল্লাহ"। এবং "মুকাশাফাতুল কুলুব আল-মুকাররিব ইলা আল্লামিল গুয়ুব"। এবং "জাওয়াহিরুল কুরআন", যা বর্তমানে আমাদের সামনে বিদ্যমান গ্রন্থ।
মুহাম্মদ রশিদ রেজা আল-কাব্বানি
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مُقَدّمَة الْمُؤلف
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله رب الْعَالمين، وَصلَاته وَسَلَامه على نبيه مُحَمَّد وَآله وَأَصْحَابه أَجْمَعِينَ [وَبعد] :
فصل فِي فهرست الْكتاب الَّذِي سميناه جَوَاهِر الْقُرْآن
اعْلَم هداك الله، أَنا رتبنا هَذَا الْكتاب على ثَلَاثَة أَقسَام:
1 - قسم فِي الْمُقدمَات والسوابق.
2 - وَقسم فِي الْمَقَاصِد.
3 - وَقسم فِي اللواحق.
লেখকের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। [অতঃপর]:
আমরা যে কিতাবটির নাম 'জাওয়াহিরুল কুরআন' রেখেছি, সেটির সূচিপত্র (فهرست) বিষয়ক পরিচ্ছেদ
আল্লাহ আপনাকে হিদায়াত দান করুন, জেনে রাখুন যে, আমরা এই কিতাবটিকে তিনটি ভাগে (أقسام) বিন্যস্ত করেছি:
১ - ভূমিকা (المقدمات) এবং প্রারম্ভিক বিষয়াবলি (السوابق) সংক্রান্ত একটি ভাগ।
২ - মূল লক্ষ্যসমূহ (المقاصد) সংক্রান্ত একটি ভাগ।
৩ - পরিশিষ্টসমূহ (اللواحق) সংক্রান্ত একটি ভাগ।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْقسم الأول: فِي الْمُقدمَات والسوابق
ويشتمل هَذَا الْقسم على تِسْعَة عشر فصلا:
الْفَصْل الأول: فِي أَن الْقُرْآن هُوَ الْبَحْر الْمُحِيط، وينطوي على أَصْنَاف الْجَوَاهِر والنفائس.
الْفَصْل الثَّانِي: فِي حصر مقاصده ونفائسه وَأَنَّهَا ترجع إِلَى سِتَّة أَقسَام: ثَلَاثَة مِنْهَا أصُول مهمة، وَثَلَاثَة تَوَابِع متمة.
الْفَصْل الثَّالِث: فِي شرح آحَاد الْأَقْسَام السِّتَّة، وَأَنَّهَا تتشعب فَتَصِير عشرَة.
الْفَصْل الرَّابِع: فِي كَيْفيَّة انشعاب الْعُلُوم كلهَا من الْأَقْسَام الْعشْرَة، وَأَن عُلُوم الْقُرْآن تَنْقَسِم إِلَى علم الصدف، وَإِلَى علم الْجَوَاهِر، وَبَيَان مَرَاتِب الْعُلُوم.
الْفَصْل الْخَامِس: فِي كَيْفيَّة انشغاب علم الْأَوَّلين مِنْهُ والآخرين.
الْفَصْل السَّادِس: فِي معنى اشْتِمَال القرآم على الكبريت الْأَحْمَر، والرياق الْأَكْبَر، والمسك الأذفر، وَسَائِر النفائس والدرر، وَأَن ذَلِك لَا يعرفهُ إِلَّا من عرف كَيْفيَّة الموازنة بَين عَالم الشَّهَادَة وعالم الملكوت.
الْفَصْل السَّابِع: فِي أَنه لم عبر عَن مَعَاني عَالم الملكوت فِي الْقُرْآن بأمثلة مَأْخُوذَة من عَالم الشَّهَادَة.
الْفَصْل الثَّامِن: فِيمَا يدْرك بِهِ وَجه العلاقة بَين عَالم الملكوت وعالم الشَّهَادَة.
الْفَصْل التَّاسِع: فِي حل الرموز الَّتِي تَحت الكبريت الْأَحْمَر والترياق الْأَكْبَر،
প্রথম অংশ: ভূমিকা ও প্রারম্ভিকা প্রসঙ্গে
এই অংশটি উনিশটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন যে একটি পরিবেষ্টনকারী মহাসমুদ্র এবং এটি বিভিন্ন প্রকারের মণি-মুক্তা ও মূল্যবান রত্নরাজিকে ধারণ করে আছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের উদ্দেশ্য ও অমূল্য সম্পদসমূহের সীমাবদ্ধতা এবং এগুলো ছয়টি ভাগে বিভক্ত: এর মধ্যে তিনটি হলো গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (أصول) এবং তিনটি হলো পরিপূরক আনুষঙ্গিক বিষয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ছয়টি ভাগের প্রত্যেকটি একক (آحاد) অংশের ব্যাখ্যা এবং এগুলোর শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মাধ্যমে দশটিতে পরিণত হওয়া।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দশটি ভাগ থেকে সমস্ত জ্ঞানের শাখা নির্গত হওয়ার পদ্ধতি এবং কুরআনের জ্ঞানসমূহ ঝিনুকের জ্ঞান ও মণি-মুক্তার জ্ঞানে বিভক্ত হওয়া এবং জ্ঞানের স্তরসমূহের বর্ণনা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কুরআন থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞানসমূহ উৎসারিত হওয়ার পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআনের মধ্যে 'লাল গন্ধক', 'মহা প্রতিষেধক', 'সুগন্ধি কস্তুরী' এবং অন্যান্য মূল্যবান রত্ন ও মণি-মুক্তা অন্তর্ভুক্ত থাকার তাৎপর্য; আর এটি কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারে যারা দৃশ্যমান জগত ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: কেন কুরআনে আধ্যাত্মিক জগতের অর্থসমূহকে দৃশ্যমান জগত থেকে গৃহীত উদাহরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জগত ও দৃশ্যমান জগতের মধ্যকার সম্পর্কের দিকটি অনুধাবন করা যায়।
নবম পরিচ্ছেদ: 'লাল গন্ধক' ও 'মহা প্রতিষেধক'-এর অন্তরালে থাকা রহস্যসমূহ উন্মোচন প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والمسك الأذفر، وَالْعود واليواقيت والدرر وَغَيرهَا.
الْفَصْل الْعَاشِر: فِي الْفَائِدَة الَّتِي تَحت هَذِه الرموز.
الْفَصْل الْحَادِي عشر: فِي أَنه كَيفَ يفضل بعض آيَات الْقُرْآن على بعض وَكله كَلَام الله تَعَالَى.
الْفَصْل الثَّانِي عشر: فِي أسرار الْفَاتِحَة، واشتمالها على ثَمَانِيَة أَصْنَاف من جملَة الْأَصْنَاف الْعشْرَة من نفائس الْقُرْآن، وَذكر طرف من مَعَاني الرَّحْمَن الرَّحِيم بِالْإِضَافَة إِلَى خلقَة الْحَيَوَانَات.
الْفَصْل الثَّالِث عشر: فِي أَن الْأَبْوَاب الثَّمَانِية للجنة مَفْتُوحَة بِالْفَاتِحَةِ، وَأَنَّهَا مِفْتَاح جَمِيعهَا.
الْفَصْل الرَّابِع عشر: فِي آيَة الْكُرْسِيّ، وَأَنَّهَا لم كَانَت سيدة آي الْقُرْآن، وَلم كَانَت أشرف من {شهد الله} و {قل هُوَ الله أحد} وَأول الْحَدِيد، وَآخر الْحَشْر، وَسَائِر الْآيَات.
الْفَصْل الْخَامِس عشر: فِي تَحْقِيق أَن سُورَة الْإِخْلَاص لم تعدل ثلث الْقُرْآن.
الْفَصْل السَّادِس عشر: فِي أَن {يس} لم كَانَت قلب الْقُرْآن.
الْفَصْل السَّابِع عشر: فِي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم خصص الْفَاتِحَة بِأَنَّهَا فضل الْقُرْآن، وَآيَة الْكُرْسِيّ بِأَنَّهَا سيدة آي الْقُرْآن، وَأَن ذَلِك لم صَار أولى من عَكسه
এবং সুগন্ধি কস্তুরী, চন্দন কাঠ, রুবি, মুক্তা ও অন্যান্য বিষয়।
দশম অধ্যায়: এই সংকেতগুলোর অন্তর্নিহিত রহস্য ও উপকারিতা প্রসঙ্গে।
একাদশ অধ্যায়: কুরআনের কিছু আয়াত অন্য আয়াতের ওপর কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, অথচ এর সবটুকুই মহান আল্লাহর কালাম।
দ্বাদশ অধ্যায়: সূরা ফাতিহার রহস্যসমূহ, কুরআনের দশ প্রকার মূল্যবান বিষয়ের মধ্যে আটটি বিষয়ের ওপর এর অন্তর্ভুক্তি এবং প্রাণিকুলের সৃষ্টির নিরিখে 'আর-রহমান' ও 'আর-রাহীম'-এর অর্থসমূহের কিঞ্চিৎ বর্ণনা।
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জান্নাতের আটটি দরজাই সূরা ফাতিহার মাধ্যমে উন্মুক্ত হওয়া এবং এটিই যে সেগুলোর চাবিকাঠি—সে প্রসঙ্গে।
চতুর্দশ অধ্যায়: আয়াতুল কুরসি প্রসঙ্গে; কেন এটি কুরআনের আয়াতসমূহের নেত্রী হলো এবং কেন এটি ‘শহাদাল্লাহু’, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’, সূরা হাদীদের প্রথমাংশ, সূরা হাশরের শেষাংশ এবং অন্যান্য সকল আয়াতের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণ।
পঞ্চদশ অধ্যায়: সূরা ইখলাস কেন কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য—তার স্বরূপ বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে।
ষোড়শ অধ্যায়: সূরা ইয়াসিন কেন কুরআনের হৃদয় হিসেবে বিবেচিত—সে প্রসঙ্গে।
সপ্তদশ অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেন সূরা ফাতিহাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং আয়াতুল কুরসিকে কুরআনের আয়াতসমূহের নেত্রী হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন এবং কেন তা এর বিপরীত হওয়ার চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত—সে প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الْفَصْل الثَّامِن عشر: فِي حَال العارفين، وَأَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا فِي جنَّة عرضهَا أكبر من السَّمَوَات وَالْأَرْض، وَأَن جنتهم الْحَاضِرَة قطوفها دانية، وَلَيْسَت بمقطوعة وَلَا مَمْنُوعَة.
الْفَصْل التَّاسِع عشر: فِي سر السَّبَب الدَّاعِي إِلَى نظم جَوَاهِر الْقُرْآن فِي سلك وَاحِد، ونظم درره فِي سلك آخر، فَهَذِهِ تِسْعَة عشر فصلا.
الْقسم الثَّانِي: فِي الْمَقَاصِد
ويشتمل على لباب آيَات الْقُرْآن، وَهِي نمطان:
النمط الأول فِي الْجَوَاهِر: وَهِي الَّتِي وَردت فِي ذَات الله عز وجل، وَصِفَاته وأفعاله خَاصَّة، وَهُوَ الْقسم العلمي.
النمط الثَّانِي فِي الدُّرَر: وَهُوَ مَا ورد فِيهِ بَيَان الصِّرَاط الْمُسْتَقيم، والحث عَلَيْهِ، وَهُوَ الْقسم العلمي.
فصل فِي خَاتِمَة النمطين: فِي بَيَان الْعذر فِي الِاقْتِصَار فِي آيَات الْقُرْآن على هَذِه الْجُمْلَة.
الْقسم الثَّالِث: فِي اللواحق
ومقصودة حصر جمل الْمَقَاصِد الْحَاصِلَة من هَذِه الْآيَات، وَهُوَ منعطف على جملَة الْآيَات، وَهُوَ كتاب مُسْتَقل لمن أَرَادَ أَن يَكْتُبهُ مُفردا، وَقد سميناه
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: আরিফগণের (العارفين) অবস্থা প্রসঙ্গে; তাঁরা এই দুনিয়াতে এমন এক জান্নাতে রয়েছেন যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের চেয়েও অধিক এবং তাঁদের সেই বিদ্যমান জান্নাতের ফলসমূহ অবনমিত ও সহজলভ্য, যা কখনও শেষ হওয়ার নয় এবং যা নিষিদ্ধও নয়।
ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: কুরআনের মণি-মাণিক্যসমূহকে (جواهر القرآن) এক সূত্রে এবং এর মুক্তাসমূহকে অন্য সূত্রে গ্রথিত করার নিগূঢ় কারণ প্রসঙ্গে। এই হলো ঊনিশটি পরিচ্ছেদ।
দ্বিতীয় অংশ: উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) প্রসঙ্গে
এটি কুরআনের আয়াতসমূহের সারমর্ম ধারণ করে, যা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার হলো মণি-মাণিক্য (الجواهر): এগুলো সেই আয়াত যা বিশেষভাবে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র সত্তা, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, আর এটি হলো তাত্ত্বিক (العلمي) অংশ।
দ্বিতীয় প্রকার হলো মুক্তাসমূহ (الدرر): এটি সেই সব আয়াত যাতে সিরাতুল মুস্তাকিম (الصراط المستقيم) এর বর্ণনা এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, আর এটি হলো তাত্ত্বিক (العلمي) অংশ।
উভয় প্রকারের সমাপ্তি সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ: কুরআনের আয়াতসমূহকে এই সমষ্টির ওপর সীমাবদ্ধ রাখার ওজর বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অংশ: পরিশিষ্ট (اللواحق) প্রসঙ্গে
এর উদ্দেশ্য হলো এই আয়াতসমূহ থেকে অর্জিত উদ্দেশ্যসমূহের সমষ্টিকে বেষ্টন করা এবং এটি আয়াতসমূহের সামগ্রিক বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এটি সেই ব্যক্তির জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব হতে পারে যে তা পৃথকভাবে লিখতে চায়, আর আমরা এর নামকরণ করেছি...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
" كتاب الْأَرْبَعين فِي أصُول الدُّنْيَا " فَإِنَّهُ يَنْقَسِم إِلَى عُلُوم يرجع حاصلها إِلَى عشرَة أصُول وَإِلَى أَعمال، وَهِي تَنْقَسِم إِلَى أَعمال ظَاهِرَة، وَإِلَى أَعمال باطنة.
فالأعمال الظَّاهِرَة: ترجع جُمْلَتهَا إِلَى أصُول أَيْضا.
والأعمال الْبَاطِنَة: تَنْقَسِم إِلَى مَا يجب تَزْكِيَة الْقلب مِنْهُ من الصِّفَات المذمومة؛ وَترجع مذمومات الْأَخْلَاق أَيْضا إِلَى عشرَة أصُول، وَإِلَى مَا يجب تخلية الْقلب مِنْهُ من الصِّفَات والأخلاق، وَأَن محمودات الْأَخْلَاق ترجع إِلَى عشرَة أصُول [أَيْضا] .
فيشتمل قسم اللواحق على أَرْبَعَة أَقسَام:
1 - المعارف
2 - والأعمال الظَّاهِرَة.
3 - والأخلاق المذمومة.
4 - والأخلاق المحمودة.
الْقسم الأول: فِي المعارف، وَهِي عشرَة أصُول:
1 - أصل فِي ذَات الله تَعَالَى.
2 - وأصل فِي تقدسي الذَّات.
3 - وأصل فِي الْقُدْرَة.
4 - وأصل فِي الْعلم.
5 - وأصل فِي الْإِرَادَة.
6 - وأصل فِي السّمع وَالْبَصَر.
7 - وأصل فِي الْكَلَام.
8 - وأصل فِي الْأَفْعَال.
"কিতাবুল আরবাঈন ফি উসুলিদ দুনিয়া"; এটি এমন কিছু জ্ঞান (علوم) -এর সমষ্টি যা দশটি মূলনীতি (أصول) এবং আমল (أعمال) -এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর আমল (أعمال) সমূহ বাহ্যিক আমল (أعمال) এবং অভ্যন্তরীণ আমল (أعمال) - এই দুই ভাগে বিভক্ত।
বাহ্যিক আমল (أعمال) সমূহ: এর সামগ্রিক বিষয়গুলোও কিছু মূলনীতির (أصول) দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
আর অভ্যন্তরীণ আমল (أعمال) সমূহ: এটি এমন ভাগে বিভক্ত যা থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ (تزكية) করা ওয়াজিব অর্থাৎ নিন্দনীয় গুণাবলি (صفات); আর নিন্দনীয় চরিত্রসমূহও দশটি মূলনীতির (أصول) দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এছাড়া যা থেকে অন্তরকে মুক্ত (تخلية) রাখা ওয়াজিব এমন গুণাবলি (صفات) ও চরিত্রসমূহ; আর প্রশংসনীয় চরিত্রসমূহও [পুনরায়] দশটি মূলনীতির (أصول) দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
পরিশিষ্ট অংশটি চারটি ভাগে বিভক্ত:
1 - তত্ত্বজ্ঞান (معارف)
2 - বাহ্যিক আমল (أعمال)
3 - নিন্দনীয় চরিত্র (أخلاق)
4 - প্রশংসনীয় চরিত্র (أخلاق)
প্রথম পরিচ্ছেদ: তত্ত্বজ্ঞান (معارف) প্রসঙ্গে, যা দশটি মূলনীতির (أصول) ওপর প্রতিষ্ঠিত:
1 - আল্লাহ তা'আলার সত্তা (ذات) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
2 - সত্তার পবিত্রতা (تقديس) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
3 - কুদরত বা ক্ষমতা (قدرة) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
4 - ইলম বা জ্ঞান (علم) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
5 - ইরাদাহ বা ইচ্ছা (إرادة) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
6 - শ্রবণ ও দর্শন (سمع وبصر) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
7 - কালাম বা বাক্য (كلام) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
8 - আফ'আল বা কর্মসমূহ (أفعال) সম্পর্কিত একটি মূলনীতি (أصل)।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
9 - وأصل فِي الْيَوْم الآخر.
10 - وأصل فِي النُّبُوَّة.
وخاتمة فِي التَّنْبِيه على الْكتب الَّتِي يطْلب مِنْهَا حقائق هَذِه الْأُمُور.
الْقسم الثَّانِي: فِي الْأَعْمَال الظَّاهِرَة، وَهِي عشرَة أصُول:
1 - أصل فِي الصَّلَاة
2 - وأصل فِي الزَّكَاة
3 - وأصل فِي الصَّوْم
4 - وأصل فِي الْحَج
5 - وأصل فِي قِرَاءَة الْقُرْآن
6 - وأصل فِي الْأَذْكَار
7 - وأصل فِي طلب الْحَلَال.
8 - وأصل فِي حسن الْخلق.
9 - وأصل فِي الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر.
10 - وأصل فِي اتِّبَاع السّنة.
وخاتمة: تنعطف على الْجَمِيع فِي تَرْتِيب الأوراد.
الْقسم الثَّالِث: فِي أصُول الْأَخْلَاق المذمومة، وَهِي الَّتِي يجب تَزْكِيَة النَّفس مِنْهَا وَهِي عشرَة أصُول:
1 - أصل فِي شَره الطَّعَام
2 - وأصل فِي شَره الْكَلَام
3 - وأصل فِي الْغَضَب
4 - وأصل فِي الْحَسَد
9 - এবং পরকাল বিষয়ক একটি মূলনীতি।
10 - এবং নবুয়ত বিষয়ক একটি মূলনীতি।
উপসংহার: সেই সকল কিতাব সম্পর্কে সতর্কতা প্রদান, যা থেকে এই বিষয়গুলোর হাকিকত বা প্রকৃত তত্ত্ব অন্বেষণ করা যায়।
দ্বিতীয় বিভাগ: বাহ্যিক আমলসমূহ প্রসঙ্গে, যা দশটি মূলনীতির সমষ্টি:
1 - নামাজ বিষয়ক একটি মূলনীতি
2 - এবং জাকাত বিষয়ক একটি মূলনীতি
3 - এবং রোজা বিষয়ক একটি মূলনীতি
4 - এবং হজ বিষয়ক একটি মূলনীতি
5 - এবং কুরআন তেলাওয়াত বিষয়ক একটি মূলনীতি
6 - এবং জিকিরসমূহ বিষয়ক একটি মূলনীতি
7 - এবং হালাল উপার্জনের অনুসন্ধান বিষয়ক একটি মূলনীতি।
8 - এবং উত্তম চরিত্র বিষয়ক একটি মূলনীতি।
9 - এবং সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ (المنكر) হতে নিষেধ বিষয়ক একটি মূলনীতি।
10 - এবং সুন্নাহ অনুসরণের একটি মূলনীতি।
উপসংহার: যা দৈনন্দিন আমলসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রে সবকিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট।
তৃতীয় বিভাগ: নিন্দনীয় স্বভাবের মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে, যা থেকে নফস বা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা আবশ্যক; আর এটি দশটি মূলনীতির সমষ্টি:
1 - ভোজনের লালসা বিষয়ক একটি মূলনীতি
2 - এবং বাকপটুতা বা কথার লালসা বিষয়ক একটি মূলনীতি
3 - এবং ক্রোধ বিষয়ক একটি মূলনীতি
4 - এবং হিংসা বিষয়ক একটি মূলনীতি
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 - وأصل فِي حب المَال
6 - وأصل فِي حب الجاه
7 - وأصل فِي حب الدُّنْيَا
8 - وأصل فِي الْكبر
9 - وأصل فِي الْعجب
10 - وأصل فِي الرِّيَاء
وخاتمة: تنعطف على جملَة فِي جَوَامِع الْأَخْلَاق ومواقع الْغرُور مِنْهَا.
الْقسم الرَّابِع: فِي أصُول الْأَخْلَاق المحمودة، وَهِي عشرَة أصُول:
1 - أصل فِي التَّوْبَة
2 - وأصل فِي الْخَوْف والرجا
3 - وأصل فِي الزّهْد
4 - وصل فِي الصَّبْر
5 - وأصل فِي الشُّكْر
6 - وأصل فِي الْإِخْلَاص والصدق
7 - وأصل فِي التَّوَكُّل
8 - وأصل فِي الْمحبَّة
9 - وأصل فِي الرِّضَا بِالْقضَاءِ
10 - وأصل فِي الْمَوْت وَحَقِيقَته، وأصناف الْعقَاب الروحانية، وَبَيَان نَار الله الموقدة، الَّتِي تطلع على الأفئدة.
وخاتمة: تنعطف على الْجَمِيع فِي التفكر والمحاسبة. ثمَّ أبتدئ وَأَقُول:
৫ - এবং ধনসম্পদ প্রীতি বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৬ - এবং পদের মোহ বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৭ - এবং দুনিয়াপ্রীতি বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৮ - এবং অহংকার বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৯ - এবং আত্মমুগ্ধতা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
১০ - এবং লোকদেখানো ইবাদত বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
উপসংহার: যা চরিত্রের সামগ্রিক দিক এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রবঞ্চনার ক্ষেত্রসমূহকে বেষ্টন করবে।
চতুর্থ বিভাগ: প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণাবলির মূলনীতিসমূহ (أصول) প্রসঙ্গে, আর তা হলো দশটি মূলনীতি (أصول):
১ - তওবা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
২ - এবং ভয় ও আশা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৩ - এবং দুনিয়াবিমুখতা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৪ - এবং ধৈর্য বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৫ - এবং কৃতজ্ঞতা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৬ - এবং ইখলাস ও সত্যবাদিতা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৭ - এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৮ - এবং মহব্বত বা ভালোবাসা বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
৯ - এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্টি বিষয়ক একটি মূলনীতি (أصل)
১০ - এবং মৃত্যু ও তার হাকিকত, আধ্যাত্মিক শাস্তির প্রকারভেদ এবং আল্লাহর সেই প্রজ্বলিত আগুনের বর্ণনা যা অন্তরসমূহকে গ্রাস করবে—এ সংক্রান্ত একটি মূলনীতি (أصل)।
উপসংহার: যা চিন্তা-গবেষণা ও আত্মপর্যালোচনা বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর ইতি টানবে। এরপর আমি শুরু করছি এবং বলছি:
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
القسم الأول / في المقدمات والسوابقبسم الله الرحمن الرحيم
الفصل الأولفي أن القرآن هو البحر المحيط وينطوي على أصناف الجواهر والنفائسأما بعدَ حَمْدِ اللهِ الذي هو فاتحةُ كُلِّ كتاب، والصلاةِ على رُسُلِهِ التي هي خاتمةُ كل خطاب. فإِني أُنَبِّهك على رَقْدَتك، أيُّها المُستَرسِلُ في تِلاوَتِك، المُتَّخِذُ دراسة القرآن عملاً، المُتَلقِّفُ من معانيه ظواهر وجُمَلاً، إلى كم تطوف على ساحل البحر مُغَمَّضاً عينيك عن غرائبها؟ أَوَمَا كان لك أن تركب مَتْنَ لُجَّتِها لِتُبْصِرَ عجائبَها؟ وتسافَر إلى جزائرها لآِجتِنَاء أطَايِبِها؟ وتغوصَ في عمقها فتستغني بِنَيْلِ جواهِرها؟ أوَما تُعَيِّر نفسكَ في الحرمان عن دُرَرِها وجواهرها بإدمان النظر إلى سواحلها وظواهرها؟ أوَما بَلغك أن القرآن هو البحر المحيط؟ ومنه يتشعَّب علمُ الأَوَّلينَ والآخرِينَ كما يتشعب عن سواحل
প্রথম অংশ / ভূমিকা ও প্রাক-আলোচনা প্রসঙ্গেপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
প্রথম পরিচ্ছেদকুরআন যে একটি পরিবেষ্টনকারী মহাসমুদ্র এবং এটি বিবিধ প্রকারের মণি-মুক্তা ও মূল্যবান রত্নরাজি ধারণ করে আছে, সেই প্রসঙ্গেঅতঃপর, সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি প্রতিটি কিতাবের প্রারম্ভিকা, এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যা প্রতিটি বক্তব্যের পরিসমাপ্তি। হে তিলাওয়াতে মগ্ন ব্যক্তি, যিনি কুরআন অধ্যয়নকে স্বীয় ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর মর্মার্থের কেবল বাহ্যিক ও ভাসাভাসা রূপটুকু গ্রহণ করছেন; আমি আপনাকে আপনার তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা অসচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক করছি। আর কতকাল আপনি সমুদ্রতীরে এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো হতে চক্ষু নিমীলিত রেখে পরিভ্রমণ করবেন? আপনার কি সময় হয়নি এর গভীর উত্তাল সমুদ্রে আরোহণ করার, যাতে আপনি এর আশ্চর্যজনক বিষয়সমূহ অবলোকন করতে পারেন? এবং এর দ্বীপগুলোতে সফর করার, যাতে এর উপাদেয় বস্তুসমূহ আহরণ করতে পারেন? আর এর গহিনে ডুব দেওয়ার, যাতে এর রত্নরাজি প্রাপ্তির মাধ্যমে আপনি ঐশ্বর্যমণ্ডিত হতে পারেন? এর উপকূল ও বাহ্যিক দিকের প্রতি নিমগ্ন থেকে এর অমূল্য মণি-মুক্তা হতে বঞ্চিত হওয়ার কারণে আপনি কি নিজেকে ভর্ৎসনা করবেন না? আপনার নিকট কি এই সংবাদ পৌঁছেনি যে, কুরআন হলো এক পরিবেষ্টনকারী মহাসমুদ্র? এবং এখান থেকেই পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সকল জ্ঞান শাখায়িত হয়েছে, যেমনটি উপকূল হতে...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
البحر المحيط أنهارُها وجداوِلُها؟ أوَما تَغْبِطُ أقواماً خاضوا في غَمرة أمواجها فظفروا بالكبريت الأحمر؟ وغاصوا في أعماقها فاستخرجوا الياقوتَ الأحمرَ، والدُرَّ الأزهَرَ، والزَّبَرْجَدَ الأخضر؟ وسَاحوا في سواحلها، فَالتَقَطُوا العَنبرَ الأشهَب، والعودَ الرَّطب الأَنضرَ؟ وتعلقوا إلى جزائرها واستَدَرُّوا من حيواناتها التِّرياقَ الأكبر، والمسك الأذْفَر؟ وها أنا أُرشدك قاضِياً حقَّ إخائِك، ومُرتَجياً بَرَكة دعائك إلى كيفية سياحتهم وغَوْصهم وسباحتهم.
সেই পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর, যার রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী ও ঝরণাধারা। আপনি কি সেই সকল ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষাবোধ করেন না, যারা এর উত্তাল তরঙ্গে অবগাহন করেছেন এবং মহামূল্যবান ‘লাল গন্ধক’ লাভে ধন্য হয়েছেন? যারা এর অতল গহ্বরে ডুব দিয়েছেন এবং সেখান থেকে আহরণ করেছেন রক্তিম ইয়াকুত, উজ্জ্বল মুক্তা ও সবুজ পান্না? যারা এর উপকূলে বিচরণ করেছেন এবং কুড়িয়ে নিয়েছেন ধূসর আম্বর ও সজীব সুগন্ধি উদ? তারা এর দ্বীপসমূহে উপনীত হয়েছেন এবং সেখানকার প্রাণিকুল থেকে বের করে এনেছেন মহৌষধ ও তীব্র সুবাসিত কস্তুরী। এমতাবস্থায়, আমি আপনার ভ্রাতৃত্বের হক আদায়কল্পে এবং আপনার নেক দোয়ার বরকত কামনায় তাদের পর্যটন, নিমজ্জন ও সন্তরণ পদ্ধতির বিষয়ে আপনাকে দিকনির্দেশনা প্রদান করছি।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثانيفي حصر مقاصد القرآن ونفائسهسِرُّ القرآن، ولُبَابُه الأصفى، ومقصدُهُ الأقصى، دعوَةُ العباد إلى الجَبَّار الأعلى، ربِّ الآخرةِ والأولى، خالق السماوات العُلَى، والأرَضين السُلفى، وما بينهما وما تحت الثَّرَى، فلذلك انحصرت سُوَرُ القرآن وآياتُه في ستة أنواع:
- ثلاثة منها: هي السوابق والأصول المُهِمِّة.
- وثلاثة: هي الرَّوادف والتوابع المُغنِيَة المُتِمَّة.
أما الثلاثة المُهِمَّة فهي:
(1) تعريف المدعو إليه.
(2) وتعريف الصراط المستقيم الذي تجب ملازمته في السلوك إليه.
(3) وتعريف الحال عند الوصول إليه.
وأما الثلاثة المُغْنِيَة المُتِمَّة:
- فأحدها: تعريف أحوال المُجيبين للدعوة ولطائف صُنع الله
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদকুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ ও এর রত্নরাজি নিরূপণ প্রসঙ্গেকুরআনের রহস্য, এর বিশুদ্ধতম নির্যাস এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বান্দাদেরকে সেই সুউচ্চ পরাক্রমশালী সত্তার দিকে আহ্বান করা; যিনি পরকাল ও ইহকালের প্রতিপালক, সুউচ্চ আসমানসমূহ ও নিম্নস্থ ভূমণ্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী ও মৃত্তিকার নিচে যা কিছু আছে তার সবকিছুর স্রষ্টা। একারণেই কুরআনের সূরা ও আয়াতসমূহ ছয়টি প্রকারে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
- এর মধ্যে তিনটি হলো: অগ্রগণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ।
- আর তিনটি হলো: অনুগামী ও সম্পূরক বিষয়, যা পর্যাপ্ত ও পূর্ণতাদানকারী।
গুরুত্বপূর্ণ তিনটি হলো:
(১) যাঁর দিকে আহ্বান করা হচ্ছে তাঁর পরিচয় প্রদান।
(২) সেই সরল পথের পরিচয় প্রদান, যা তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথে চলাকালীন আঁকড়ে ধরা আবশ্যক।
(৩) তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর সময়কার অবস্থার পরিচয় প্রদান।
আর পর্যাপ্ত ও পূর্ণতাদানকারী তিনটি হলো:
- তার একটি হলো: যারা আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন তাদের অবস্থার বর্ণনা এবং তাদের প্রতি আল্লাহর নিপুণ অনুগ্রহরাজি।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فيهم؛ وسِرُّهُ ومقصودُه التشويقُ والترغيبُ، وتعريفُ أحوال النَّاكبين والنَّاكلين عن الإجابة وكيفيةُ قمعِ الله لهم وتنكيلِهِ لهم؛ وسِرُّهُ ومقصوده الاعتبار والترهيب.
وثانيها: حكاية أحوال الجاحدين، وكَشْفُ فضائحهم وجهلهم بالمجادلة والمُحاجَّة على الحق، وسِرُّه ومقصوده في جنب الباطل الإِفضاحُ والتَّنْفير، وفي جَنب الحق الإيضاحُ والتَّثْبيتُ والتَّقهير.
وثالثها: تعريف عمارة منازل الطريق، وكيفية أخذ الزاد والأُهبة والاستعداد.
فهذه ستة أقسام.
তাদের বিষয়ে; এর রহস্য ও উদ্দেশ্য হলো আগ্রহ সৃষ্টি (تشويق) ও উৎসাহ দান (ترغيب), এবং যারা সত্য বিমুখ ও বিচ্যুত তাদের অবস্থা এবং আল্লাহ কীভাবে তাদের দমন ও লাঞ্ছিত করেছেন তা পরিচয় করিয়ে দেওয়া; এর রহস্য ও উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা গ্রহণ (اعتبار) ও ভীতি প্রদর্শন (ترهيب)।
দ্বিতীয়টি হলো: সত্য অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করা এবং সত্যের বিরুদ্ধে বিতর্ক ও কুযুক্তির মাধ্যমে তাদের কলঙ্ক ও মূর্খতা উন্মোচন করা; মিথ্যার (باطل) ক্ষেত্রে এর রহস্য ও উদ্দেশ্য হলো স্বরূপ উন্মোচন ও ঘৃণা সৃষ্টি করা, আর সত্যের (حق) ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য হলো বিশদ ব্যাখ্যা, সুদৃঢ়করণ এবং পরাভূতকরণ।
তৃতীয়টি হলো: পথের মনজিলসমূহ আবাদ করার পরিচয় এবং পাথেয় সংগ্রহ, সরঞ্জাম ও প্রস্তুতির পদ্ধতি বর্ণনা করা।
এই হলো ছয়টি প্রকার (أقسام)।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الثالث: في شرح مقاصد القرآن
القسم الأولفي تعريف المدعو إليهوهو شرح معرفة الله تعالى، وذلك هو الكبريت الأحمر. وتشتمل هذه المعرفة على:
(1) معرفة ذات الحق تبارك وتعالى.
(2) ومعرفة الصفات.
(3) ومعرفة الأفعال.
وهذه الثلاثة: هي الياقوت الأحمر، فإِنها أخصُّ فوائد الكبريت الأحمر، وكما أن لليواقيت درجات، فمنها الأحمر والأَكْهَبُ والأصفر، وبعضُها أنفس من بعض، فكذلك هذه المعارف الثلاثة ليست على رتبة واحدة، بل أَنْفَسُها:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কোরআনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গেপ্রথম অংশযাঁর দিকে আহ্বান জানানো হয়েছে তাঁর পরিচয় প্রসঙ্গেআর তা হলো মহান আল্লাহর পরিচয় (معرفة الله) সংক্রান্ত আলোচনা, যা মূলত পরশপাথর (الكبريت الأحمر) স্বরূপ। আর এই জ্ঞান (المعرفة) নিম্নোক্ত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
(১) বরকতময় ও সুউচ্চ সত্য সত্তার (ذات الحق) পরিচয়।
(২) এবং গুণাবলির (الصفات) পরিচয়।
(৩) এবং কার্যাবলির (الأفعال) পরিচয়।
আর এই তিনটি বিষয় হলো লাল ইয়াকুত মণি (الياقوت الأحمر); কেননা এগুলো পরশপাথরের (الكبريت الأحمر) বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপকারিতা। আর ইয়াকুত মণির যেমন বিভিন্ন স্তর রয়েছে—যার কোনটি লাল, কোনটি ধূসর এবং কোনটি হলুদ, এবং এগুলোর কোনটি অন্যটির চেয়ে অধিক মূল্যবান; তদ্রূপ এই তিন প্রকার জ্ঞানও (المعارف) একই স্তরের নয়, বরং এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হলো:
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(1) معرفة الذات: فهو الياقوت الأحمر؛ ثم يليه معرفة الصفات وهو الياقوت الأَكْهَب؛ ويليه معرفة الأفعال، وهو الياقوت الأصفر. وكما أن أنْفَسَ هذه اليواقيت أجلُّ وأعزُّ وجوداً، ولا تظفر منه الملوك لِعِزَّته إلا باليسير، وقد تظفر مما دونَه بالكثير، فكذلك معرفة الذَّات أضيَقُها مجالاً وأعسَرُها منالاً وأعصَاها على الفكر، وأبعَدُها عن قبول الذِّكر؛ ولذلك لا يشتمل القرآن منها إلا على تلويحاتٍ وإشارات، ويرجع ذِكْرُها إلى ذكر التَّقديس المطلق كقوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} وسورة الإخلاص وإلى التعظيم المطلق كقوله تعالى {سُبْحَانَهُ وتعالى عَمَّا يَصِفُونَ بَدِيعُ السماوات والأرض} .
(2) وأما الصفات: فالمجال فيها أفسح، ونطاق النُّطق فيها أوسع، ولذلك كَثُرَت الآيات المشتملة على ذكر العلم والقدرة والحياة، والكلام والحكمة، والسمع والبصر وغيرها.
(3) وأما الأفعال: فبحرٌ مُتَّسِعَةٌ أَكنافُه، ولا تُنَال بالاستقصاء أطرافُه، بل ليس في الوجود إلا اللهُ وأفعالهُ، وكل ما سواه فِعْلهُ، لكن القرآن يشتمل على الجليِّ منها الواقع في عالم الشهادة، كَذِكْر السماوات والكواكب، والأرض والجبال، والشجر والحيوان، والبحار والنبات، وإنزال الماء الفُرات، وسائر أسباب النبات والحياة، وهي التي ظهرت للحِسّ. وأشرفُ أفعاله وأعجَبُها وأدلُّها على جلالة صانعها
(1) সত্তা-পরিচিতি (معرفة الذات): এটি হলো লাল ইয়াকুত; এরপর রয়েছে গুণাবলি-পরিচিতি (معرفة الصفات), যা হলো গাঢ় বর্ণের ইয়াকুত; এবং এরপরে রয়েছে কর্ম-পরিচিতি (معرفة الأفعال), যা হলো হলুদ ইয়াকুত। এই ইয়াকুতগুলোর মধ্যে যেটি সবচেয়ে মূল্যবান, সেটি যেমন সবচেয়ে মহিমান্বিত এবং যার অস্তিত্ব অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য, আর রাজাবাদশারা এর দুর্লভতার কারণে সামান্যই লাভ করতে পারেন, যদিও তারা এর নিচের স্তরের বস্তুগুলো প্রচুর পরিমাণে পেয়ে থাকেন; ঠিক তেমনি সত্তা-পরিচিতি (معرفة الذات) এর ক্ষেত্রটি অত্যন্ত সংকীর্ণ, এর অর্জন অত্যন্ত কঠিন, এটি চিন্তাশক্তির নিকট অত্যন্ত অবাধ্য এবং বর্ণনার গণ্ডি থেকে অনেক দূরে। আর এই কারণেই কুরআন এতে কেবল কিছু ইশারা ও ইঙ্গিত প্রদান করেছে। এগুলোর উল্লেখ মূলত পরম পবিত্রতা ঘোষণা (التقديس المطلق) এর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} এবং সূরা আল-ইখলাস; অথবা পরম মহিমা কীর্তন (التعظيم المطلق) এর দিকে ফিরে যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {তিনি পবিত্র ও মহান তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে, তিনি আসমান ও জমিনের অভূতপূর্ব স্রষ্টা}।
(2) আর গুণাবলি (الصفات) প্রসঙ্গে: এর ক্ষেত্র অনেক প্রশস্ত এবং এ বিষয়ে আলোচনার পরিধিও অনেক বেশি বিস্তৃত। আর এই কারণেই জ্ঞান (العلم), ক্ষমতা (القدرة), জীবন (الحياة), কথা (الكلام), প্রজ্ঞা (الحكمة), শ্রবণ (السمع), দর্শন (البصر) এবং অন্যান্য গুণাবলি সম্বলিত আয়াতের সংখ্যা অনেক বেশি।
(3) আর কর্মসমূহ (الأفعাল) প্রসঙ্গে: এটি এক বিশাল সমুদ্র যার কিনারা অত্যন্ত বিস্তৃত, আর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এর শেষ সীমায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। বরং অস্তিত্ব জগতে আল্লাহ এবং তাঁর কর্মসমূহ (أفعاله) ছাড়া আর কিছুই নেই; তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা তাঁরই কর্ম (فعله)। তবে কুরআন এগুলোর মধ্যে কেবল সেই প্রকাশ্য বিষয়গুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে যা দৃশ্যমান জগতের (عالم الشهادة) অন্তর্ভুক্ত, যেমন আসমান ও নক্ষত্ররাজি, জমিন ও পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষ ও জীবজন্তু, সমুদ্র ও উদ্ভিদরাজি, সুপেয় পানি বর্ষণ এবং উদ্ভিদ ও জীবন ধারণের যাবতীয় উপকরণের বর্ণনা, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। আর তাঁর কর্মসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বিস্ময়কর এবং যা তাঁর কারিগরি নৈপুণ্যের মহত্ত্বের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রমাণ বহন করে...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ما لم يظهر للحِسّ، بل هو من عَالمَ المَلَكُوت، وهي الملائكةُ والرُّوحانِيَّات، والروحُ والقلب أعني العارف بالله تعالى من جملة أجزاء الآدَمِيّ، فإنهما أيضاً من جملة عَالَم الغَيْب والملكوت، وخارجٌ عن عالم المُلْكِ والشهادة، ومنها الملائكة الأرضية المُوَكَّلَة بجنس الإنس، وهي التي سجدت لآِدمَ عليه السلام، ومنها الشياطينُ المُسَلَّطة على جنس الإنس، وهي التي امتنعت عن السجود له، ومنها الملائكة السَماوِيَّة، وأعلاهم الكُروبِيُّون، وهم العاكفون في حَظيرة القُدُس، لا التِفاتَ لهم إلى الآدَمِيين، بل لا التِفاتَ لهم إلى غير الله تعالى، لاِستِغْراقهم بجمال الحضرةِ الرُّبوبِيَّةِ وجلَالها، فهم قاصرون عليه لِحَاظَهم، يُسَبِّحون الليلَ والنهارَ لا يفترون، ولا تستبعد أن يكون في عباد الله من يشغله جَلالُ الله عن الالتفات إلى آدَمَ وذُرِيَّته، ولا يَسْتَعْظِم الآدَمِيُّ إلى هذا الحد، فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن للهِ أرضاً بيضاء، مسيرةُ الشمس فيها ثلاثون يوماً، مِثلُ أيام الدنيا ثلاثين مرة، مشحونةٌ خلقاً لا يعلمون أن الله تعالى يُعْصَى في الأرض، ولا يعلمون أن الله تعالى خلق آدَمَ وإبليس". رواه ابن عباس رضي الله عنه وَاسْتَوْسَعَ مملكةَ الله تعالى.
واعلم أن أكثر أفعال الله وأشرفها لا يعرفها أكثر الخلق، بل إدراكُهم مقصور على عالَم الحِسِّ والتَّخْيِيل، وأنهما النتيجة الأخيرة من نتائج عالَم المَلكوت وهو القشر الأقصَى عن اللُّب الأصفَى، ومَن لم يجاوز هذه الدرجة فكأنه لم يشاهد من الرُّمان إلا قِشرَته، ومن عجائب الإنسان إلا بَشَرَته، فهذه جملة القسم الأول، وفيها أصناف
যা ইন্দ্রিয়ের নিকট প্রকাশ পায় না, বরং তা মালাকুত জগতের (عالم الملكوت) অন্তর্ভুক্ত; আর তা হলো ফেরেশতাকুল ও আধ্যাত্মিক সত্তাসমূহ। আত্মা এবং অন্তর—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত (العارف بالله) সত্তা—মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেরই অংশ, তবে এগুলোও অদৃশ্য জগত (عالم الغيب) ও মালাকুত (الملكوت) জগতের অন্তর্ভুক্ত এবং তা দৃশ্যমান জগত (عالم الملك والشهادة) এর বহির্ভূত। এর মধ্যে রয়েছে মানবজাতির জন্য নিয়োজিত (الموكلة) পার্থিব ফেরেশতাগণ, যারা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সিজদা করেছিলেন। আরও রয়েছে মানবজাতির ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী শয়তানসমূহ, যারা তাকে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল। এর মধ্যে আরও রয়েছে আসমানি ফেরেশতাগণ, যাদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের হলেন কারুবিয়্যুন (الكروبيون)। তারা পবিত্র সান্নিধ্যে (حظيرة القدس) রত থাকেন; তারা আদম সন্তানদের দিকে ভ্রূক্ষেপ করেন না, বরং আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো প্রতিই তাদের দৃষ্টি নেই। রুবুবিয়্যতের (الربوبية) উপস্থিতির সৌন্দর্য ও মহিমায় নিমগ্ন থাকার কারণে তাদের দৃষ্টি কেবল তাঁর ওপরই সীমাবদ্ধ। তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করেন এবং এতে ক্লান্ত হন না। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারেন যাদেরকে আল্লাহর মহিমা আদম ও তার সন্তানদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া থেকে বিরত রাখে—একে অসম্ভব মনে করবেন না। আর মানুষকে এই পর্যায়ে অতি মহিমান্বিত মনে করবেন না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর একটি শ্বেত ভূমি রয়েছে, যেখানে সূর্যের পরিভ্রমণ পথ ত্রিশ দিনের দূরত্বের সমান, যা দুনিয়ার দিনের তুলনায় ত্রিশ গুণ। তা এমন সৃষ্টি দ্বারা পূর্ণ যারা জানে না যে জমিনে আল্লাহর অবাধ্যতা করা হয় এবং তারা এও জানে না যে আল্লাহ তাআলা আদম ও ইবলিসকে সৃষ্টি করেছেন।" এটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং আল্লাহর রাজত্ব অত্যন্ত সুবিশাল।
জেনে রাখুন, আল্লাহর অধিকাংশ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কর্মসমূহ অধিকাংশ সৃষ্টিই জানে না; বরং তাদের উপলব্ধি কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও কল্পনাপ্রসূত জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ এ দুটি হলো মালাকুত জগতের (عالم الملكوت) চূড়ান্ত ফলাফলগুলোর সর্বশেষ স্তর, যা মূল নির্যাস থেকে দূরতম বহিরাবরণ মাত্র। যে ব্যক্তি এই স্তর অতিক্রম করতে পারেনি, সে যেন ডালিমের খোসা ছাড়া আর কিছুই দেখেনি এবং মানুষের বিস্ময়কর বিষয়ের মধ্যে কেবল তার বহিরাবরণই প্রত্যক্ষ করেছে। এটিই প্রথম পরিচ্ছেদের সারকথা, যার মধ্যে বিভিন্ন প্রকারভেদ (أصناف) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
اليواقيت، وسنتلو عليك الآيات الواردة فيهاعلى الخصوص جملةً واحدة، فإنها زُبْدَةُ القرآن وقلبُهُ ولُبَابُه وسِرُّه.
القسم الثانيفي تعريف طريق السلوك إلى الله تعالىوذلك بِالتَّبَتُّل كما قال الله تعالى {وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلاً} أي انقَطِعْ إليه، والانْقِطاع إليه يكون بالإقبال عليه، والاعراضِ عن غيره، وتَرجمَتُهُ قوله {لَا إله إِلَاّ هُوَ فاتخذه وَكِيلاً} . والإقبالُ عليه إنما يكون بملازمة الذِّكر، والإِعراضُ عن غيره يكون بمخالفة الهَوَى والتَّنَقِّي عن كدورات الدنيا وتزكيةِ القلب عنها، والفلاحُ نتيجتها كما قال الله تعالى {قَدْ أَفْلَحَ مَن تزكى وَذَكَرَ اسم رَبِّهِ فصلى} .
فعُمدَةُ الطريق أمران: الملازمة، والمخالفة؛ الملازمة لِذِكْرِ الله تعالى، والمخالفة لما يشغل عن الله، وهذا هو السفرُ إلى الله، وليس في هذا السفر حركة، لا من جانب المُسافِر، ولا من جانب المُسافَرِ إليه، فإنهما معاً، أَوَمَا سمعتَ قوله تعالى وهو أصدق القائلين {وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الوريد} ؟
আল-ইয়াওয়াকিত; আর আমি আপনার সামনে এতে বর্ণিত আয়াতগুলো বিশেষভাবে একত্রে তিলাওয়াত করব, কেননা সেগুলো হলো কুরআনের নির্যাস, এর হৃৎপিণ্ড, এর মূল সারবস্তু এবং এর রহস্য।
দ্বিতীয় বিভাগআল্লাহ তাআলার দিকে আধ্যাত্মিক যাত্রার (سلوك) পথ পরিচিতি প্রসঙ্গেআর তা হলো একনিষ্ঠতা (تبتل) বা সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে আল্লাহর অভিমুখী হওয়ার মাধ্যমে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি তাঁর প্রতি একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করুন}। অর্থাৎ, সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁর অভিমুখী হওয়া। আর তাঁর প্রতি এই একনিষ্ঠতা হলো তাঁর দিকে অগ্রসর হওয়া এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হওয়া। এর ব্যাখ্যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, অতএব আপনি তাঁকেই কর্মবিধায়ক (وكيل) হিসেবে গ্রহণ করুন}। আর তাঁর দিকে অগ্রসর হওয়া কেবল নিরবচ্ছিন্ন জিকিরের (ذكر) মাধ্যমেই সম্ভব, আর অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব কুপ্রবৃত্তির (هوى) বিরোধিতা করা, দুনিয়ার পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে নির্মল রাখা এবং অন্তরকে তা থেকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে। আর এর ফলাফল হলো সফলতা (فلاح), যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে, আর তার রবের নাম স্মরণ করেছে এবং সালাত আদায় করেছে}।
এই পথের মূল ভিত্তি হলো দুটি বিষয়: অবিচলতা এবং বিরোধিতা। আল্লাহ তাআলার জিকিরে (ذكر) অবিচল থাকা এবং যা কিছু আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয় তার বিরোধিতা করা। আর এটিই হলো আল্লাহর দিকে সফর (سفر)। তবে এই সফরে কোনো দৈহিক গতি নেই, মুসাফিরের (مسافر) পক্ষ থেকেও নয় এবং যাঁর দিকে সফর করা হচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকেও নয়। কেননা তাঁরা উভয়ে একসাথেই আছেন। আপনি কি সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী মহান আল্লাহর বাণী শোনেননি: {আর আমি তার শাহরগ (حبل الوريد) অপেক্ষাও অধিক নিকটবর্তী}?
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بل مثلْ الطالب والمطلوب مثل صورة حاضرة مع مرآة، ولكن ليست تَتَجَلَّى في المرآة لِصَدأ في وجه المرآة، فمتى صَقَلْتَها تجلَّت فيه الصورة، لا بِارتِحَال الصورة إلى المرآة، ولا بحركة المرآة إلى الصورة، ولكن بزوال الحِجَاب، فإن الله تعالى مُتَجَلٍّ بذاته لا يحتفي، إذْ يستحيل اختفاء النور، وبالنور يظهر كلُّ خفاء، والله نور السماوات والأرض، وإنما خفاء النور عن الحَدَقَةِ لأحد أمرَيْنِ: إما لِكُدورَةٍ في الحَدَقَة، وإما لِضَعفٍ فيها، إذْ لا تُطيق احتمالَ النورِ العظيمِ الباهر، كما لا يطُيق نورَ الشمس أبصارُ الخفَافيش، فما عليك إلا أن تُنَقِّي عن عين القلب كُدورَتَه، وتقوِّي حَدَقَته، فإذا هو فيه كالصورة في المِرآة، حتى إذا غَافَصَكَ في تجلِّيه فيها بادرتَ وقلتَ إنه فيه، وقد تَدَرَّع باللَاّهوت ناسوتي، إلى أن يُثَبِّتَكَ الله بالقول الثابت، فتعرفَ أن الصورة ليست في المرآة بل تجلَّت لها، ولو حلَّت فيها لما تُصُوِّرَ أن تتجلى صورة واحدةٌ بِمرَايا كثيرةٍ في حالة واحدة، بل كانت إذا حلَّت في مرآة ارْتَحَلَتْ عن غيرها، وهَيْهَاتَ فإنه يتجلَّى لجملة من العارفين دفعة واحدة، نعم يتجلى في بعض المَرايا أصحَّ وأظهرَ وأَقْوَمَ وأَوضح، وفي بعضها أخفَى وأمْيَلَ إلى الاعوجاج عن الاستقامة، وذلك بحسب صفاء المرآة وصَقالَتِها وصحة استدارتها، واستقامة بَسْطِ وجهها، فلذلك قال صلى الله عليه وسلم: "إن الله تعالى يتجلَّى للناس عامة ولأبي بكر خاصة".
বস্তুত অন্বেষণকারী এবং অন্বেষিত সত্তার উদাহরণ হলো আয়নার সম্মুখে বিদ্যমান একটি ছবির ন্যায়, কিন্তু আয়নার উপরিভাগে মরিচা পড়ার কারণে তাতে প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয় না। সুতরাং যখনই আপনি তা ঘষে পরিষ্কার করবেন, তখনই তাতে প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে; তা ছবির আয়নার দিকে স্থানান্তরের কারণে নয়, কিংবা আয়নার ছবির দিকে গমনের কারণেও নয়, বরং কেবল পর্দার অপসারণের মাধ্যমে। কেননা মহান আল্লাহ স্বীয় সত্তায় সমুজ্জ্বল, তিনি কখনও গোপন হন না; যেহেতু জ্যোতির আত্মগোপন করা অসম্ভব। আর জ্যোতির মাধ্যমেই সকল গুপ্ত বিষয় প্রকাশিত হয়; আর আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের জ্যোতি।
দৃষ্টির নিকট জ্যোতির অদৃশ্য থাকার কারণ দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি হতে পারে: হয় চোখের মণির কলুষতা, না হয় তার দুর্বলতা। কেননা তা মহান ও প্রখর জ্যোতি সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না, যেমন বাদুড়ের দৃষ্টি সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। অতএব আপনার কেবল এটুকুই করণীয় যে, আপনি অন্তরের দৃষ্টি থেকে এর কলুষতা দূর করবেন এবং তার মণির শক্তি বৃদ্ধি করবেন। ফলে সেটি তাতে আয়নার প্রতিচ্ছবির মতো হয়ে যাবে; এমনকি যখন তাঁর জ্যোতি বিকিরণ আপনাকে আকস্মিকভাবে আবিষ্ট করবে, তখন আপনি ত্বরিত বলে উঠবেন যে তিনি এর মধ্যেই আছেন—এবং আমার মানবীয় সত্তা ঐশ্বরিক সত্তার আবরণে আবৃত হয়েছে—যতক্ষণ না আল্লাহ আপনাকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে অবিচল রাখেন।
তখন আপনি জানতে পারবেন যে, প্রতিচ্ছবিটি আয়নার অভ্যন্তরে নেই, বরং তা তাতে প্রতিফলিত হয়েছে মাত্র। আর যদি তা আয়নায় প্রবিষ্ট হতো, তবে একই অবস্থায় অনেকগুলো আয়নায় একটিমাত্র ছবির প্রতিফলন ঘটা সম্ভব হতো না; বরং তা কোনো একটি আয়নায় প্রবিষ্ট হলে অন্যগুলো থেকে বিদায় নিত। অথচ তা অসম্ভব, কেননা তিনি সকল আরিফের নিকট একযোগেই প্রকাশিত হন। হ্যাঁ, কোনো কোনো আয়নায় তা অধিক সহিহ (أصح), অধিক প্রকাশ্য, অধিক সুদৃঢ় ও অধিক সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়; আবার কোনোটিতে তা অধিক অস্পষ্ট এবং ঋজুতা থেকে বক্রতার দিকে অধিক ঝুঁকে থাকে। আর তা হয়ে থাকে আয়নার স্বচ্ছতা, মসৃণতা, এর নির্ভুল গোলাকৃতি এবং এর উপরিভাগের বিস্তৃতির সঠিকতা অনুযায়ী। এই কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সকল মানুষের নিকট সাধারণভাবে এবং আবু বকরের নিকট বিশেষভাবে প্রকাশিত হন।"
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومعرفة السلوك والوصول أيضاً بحر عميق من بحار القرآن، وسنجمع لك الآيات المرشدةَ إلى طريق السلوك، لِتَتَفَكَّرَ فيها جملةً، فَعَساك ينفتح لك ما ينبغي أن ينفتح، فهذا القسم هو الدُرُّ الأَزهر.
القسم الثالثفي تعريف الحال عند ميعاد الوِصَالوهو يشتمل على ذِكر الرَّوْحِ والنعيم الذي يلقاه الواصِلون، والعبارة الجامعة لأنواع رَوْحِها الجنة، وأعلاها لذةُ النظر إلى الله تعالى، ويشتمل [أيضاً] على ذكر الخِزْيِ والعذاب الذي يلقاه المَحْجوبونَ عنه بإِهمال السلوك، والعبارة الجامعة لأصناف آلامِها الجَحيم، وأشدُّها ألماً أَلمُ الحجاب والإبعاد، أعاذَنا الله منه، ولذلك قَدَّمه في قَوله تعالى {كَلَاّ إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّمَحْجُوبُونَ * ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُواْ الجحيم} . وَيشتمل أيضاً على ذكر مقدمات أحوال الفريقين وعنها يعبر بالحَشر والنَّشر والحساب والميزان والصِّراط، ولها ظواهر جليَّة تجري مجرَى الغذاء لعموم الخلق، ولها أسرارٌ عامضة تجري مجرى الحياة لخصوص الخَلق، وثُلُثُ آيات القرآن وسُوَرِه يرجع إلى تفصيل ذلك، ولَسْنا نَهُمُّ بجمعها فهي أكثر من أن تُلْتَقط وتُحْصَى، ولكن للفكر فيه مجال وبحث، وهذا القسم هو الزُّمُرُّدُ الأخضر.
আধ্যাত্মিক পথচলা এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জ্ঞানও কুরআনের সমুদ্রসমূহের মধ্য থেকে একটি গভীর সমুদ্র। আমি আপনার জন্য আধ্যাত্মিক পথের নির্দেশক আয়াতসমূহ একত্রিত করব, যাতে আপনি সেগুলোর ওপর সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে পারেন; সম্ভবত এর ফলে আপনার জন্য সত্যের সেই দ্বার উন্মোচিত হবে যা উন্মোচিত হওয়া আবশ্যক। এই বিভাগটি হলো উজ্জ্বল মুক্তা।
তৃতীয় বিভাগমহামিলনের সময়কার অবস্থার বর্ণনায়এটি সেই প্রশান্তি এবং নেয়ামতের বর্ণনার ওপর নিবদ্ধ যা আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণ লাভ করবেন। সেই প্রশান্তির যাবতীয় প্রকারের সারকথা হলো জান্নাত, আর এর সর্বোচ্চ স্তর হলো মহান আল্লাহর দিদারের স্বাদ লাভ করা। এটি [আরও] সেই লাঞ্ছনা ও আযাবের বর্ণনার ওপর নিবদ্ধ যা আধ্যাত্মিক পথচলায় অবহেলার কারণে যারা তাঁর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা ভোগ করবে। সেই যন্ত্রণার সকল প্রকারের সারকথা হলো জাহান্নাম, আর তার মধ্যে সবচেয়ে তীব্র যন্ত্রণা হলো আল্লাহর দিদার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং তাঁর থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন: "কখনোই নয়, নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের প্রতিপালকের থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে। অতঃপর তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" এটি দুই দলের প্রাথমিক অবস্থাগুলোর বর্ণনার ওপরও নিবদ্ধ, যেগুলোকে হাশর, নাশর (পুনরুত্থান), হিসাব, মিযান এবং সিরাত দ্বারা ব্যক্ত করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য এগুলোর সুষ্পষ্ট প্রকাশ্য দিক রয়েছে যা খাদ্যের ন্যায় (অপরিহার্য), আর বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য এগুলোর কিছু নিগূঢ় রহস্য রয়েছে যা জীবনের ন্যায়। কুরআনের আয়াত এবং সূরাসমূহের এক-তৃতীয়াংশ এই বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনার দিকেই ফিরে যায়। আমি এগুলো সংকলন করার সংকল্প করছি না, কারণ এগুলো সংগ্রহ ও গণনা করার সাধ্যের অতীত। তবে চিন্তাশীলদের জন্য এতে রয়েছে চিন্তা ও গবেষণার অবাধ ক্ষেত্র। আর এই বিভাগটি হলো সবুজ পান্না।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
القسم الرابعفي أحوالِ السَّالكين والنَّاكبينأما أحوال السَّالكين: فهي قَصَصُ الأنبياء والأَوْلياء، كقصة آدمَ ونوح، وإبراهيمَ وموسى وهَارون، وزكريا ويحيى، وعيسى ومريَم، وداودَ وسُليمان، ويونُسَ ولوط، وإدريسَ والخَضِر، وشُعَيْبَ وإِلياس، ومحمدٍ صلى الله عليه وسلم، وجبريلَ وميكائيلَ والملائكةِِِ وغيرِهم.
وأما أحوالُ الجاحدين والنَّاكبين: فهي كقَصَصِ نمرودَ وفرعون، وعادٍ وقَومِ لوط، وقَومِ تُبَّع، وأصحابِ الأَيْكَة، وكفارِ مَكَّة، وعَبَدَةِ الأوثان، وإبليسَ والشياطينَ وغَيرِهم؛ وفائدةُ هذا القسم التَّرهيب والتنبيه والاعتبار، ويشتمل أيضاً على أسرارٍ ورُموزٍ وإشارات مُحْوِجَة إلى التفكرُّ الطويل، وفيهما يوجد العَنبر الأَشهَب، والعودُ الرَّطْبُ الأَنْضَر، والآيات الواردة فيهما كثيرة لا يُحتاجُ إلى طلبها وجمعها.
القسم الخامسفي مُحاجَّةِ الكفار ومجادَلَتِهم وإيضاحِ مَخازيهم بالبُرهان الواضح وكَشْفِ تَخَايِيلِهِم وأباطيلهم[وذلك] ثلاثة أنواع:
أَحَدُهَا: ذِكْرُ الله تعالى بما لا يليق به، مِن أنَّ الملائكة بناتُه وأنَّ له ولداً وشريكاً، وأنه ثالث ثلاثة.
চতুর্থ বিভাগসঠিক পথের অনুসারী এবং পথভ্রষ্টদের অবস্থা সম্পর্কেসঠিক পথের অনুসারীদের অবস্থার ক্ষেত্রে: তা হলো নবী ও আউলিয়াগণের ঘটনাবলি; যেমন আদম, নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও হারুন, যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া, ঈসা ও মারইয়াম, দাউদ ও সুলায়মান, ইউনুস ও লুত, ইদরিস ও খিজির, শুয়াইব ও ইলিয়াস এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাহিনী এবং জিবরাঈল, মিকাঈল, ফেরেশতাকুল ও অন্যদের বৃত্তান্ত।
আর অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের অবস্থার ক্ষেত্রে: তা হলো নমরুদ ও ফেরাউন, আদ ও লুতের কওম, তুব্বা’-র কওম, আইকার অধিবাসী, মক্কার কাফির, মূর্তিপূজক, ইবলিস ও শয়তান এবং অন্যদের কাহিনী। এই বিভাগের উপকারিতা হলো ভীতি প্রদর্শন, সতর্কতা প্রদান এবং শিক্ষা গ্রহণ। এটি এমন কিছু রহস্য, সংকেত ও ইশারাও অন্তর্ভুক্ত করে যা দীর্ঘ চিন্তাভাবনার দাবি রাখে। এগুলোর মধ্যে অতি মূল্যবান ধূসর আম্বর এবং উজ্জ্বলতম সিক্ত অগুরু বিদ্যমান। এ সম্পর্কিত অবতীর্ণ আয়াতসমূহ এতো বেশি যে সেগুলো নতুন করে অন্বেষণ ও সংকলন করার প্রয়োজন নেই।
পঞ্চম বিভাগকাফিরদের সাথে যুক্তি-তর্ক ও বিতর্ক করা, স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে তাদের লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা সুস্পষ্ট করা এবং তাদের কল্পনাপ্রসূত ধারণা ও অসারতা উন্মোচন করা সম্পর্কে[আর তা] তিন প্রকার:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলাকে এমন বিষয়ে স্মরণ করা যা তাঁর শানের সাথে সংগত নয়; যেমন ফেরেশতারা তাঁর কন্যা, তাঁর সন্তান ও অংশীদার রয়েছে এবং তিনি তিন সত্তার অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والثاني: ذِكْرُ رسول الله صلى الله عليه وسلم بأنه ساحرٌ وكاهِنٌ وكذَّاب، وإنكارُ نبوَّته، وأنه بشرٌ كسائر الخلق فلا يستحق أن يُتَّبع.
وثالثها: إِنكارُ اليوم الآخِر، وجَحْدُ البَعْثِ والنُّشور، والجنةِ والنار، وإنكارُ عاقبة الطاعة والمعصية. وفي مُحاجَّةِ الله تعالى إياهم بالحُجَج لطائفُ وحَقائق، ويوجد فيها التِّرْياقُ الأكبر، وآياتُه أيضاً كثيرة ظاهرة.
القسم السادسفي تعريف عمارة منازل الطريق وكيفية التَّأهُّب لِلزَّاد، والاستعداد بإِعداد السلاح الذي يَدفعُ سُرَّاقَ المنازل وقُطَّاعَهاوبيانُه: أن الدنيا منزل من منازل السائرين إلى الله تعالى، والبَدَنُ مَرْكَب، فمن ذَهَل عن تدبير المنزل والمَرْكَب لم يَتِمَّ سفرهُ، وما لم ينتظم أمرُ المعاش في الدنيا لا يَتِمُّ أمرُ التَّبَتُّلُ والانقطاع إلى الله تعالى الذي هو السلوك، ولا يتمُّ ذلك حتى يبقى بدنُه سالماً ونسلُه دائماً، ويَتِمُّ كلاهما بأسباب الحفظ لوجودهما وأسباب الدفع لِمُفسِداتِهما ومُهلِكاتِهما.
وأما أسباب الحفظ لوجودهما: فالأكل والشرب وذلك لبقاء
দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাদুকর, গণক ও চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) হিসেবে উল্লেখ করা, তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করা এবং তিনি অন্যান্য মানুষের মতো একজন মানুষ মাত্র, তাই তিনি অনুসরণের যোগ্য নন বলে দাবি করা।
এবং তৃতীয়ত: পরকালকে অস্বীকার করা, পুনরুত্থান ও হাশর, জান্নাত ও জাহান্নামকে প্রত্যাখ্যান করা এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতার পরিণামকে অস্বীকার করা। আল্লাহ তাআলা তাদের বিরুদ্ধে যে সকল দলিল-প্রমাণ পেশ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও পরম সত্য; এতে রয়েছে মহৌষধ এবং এর নিদর্শনগুলোও অনেক ও সুস্পষ্ট।
ষষ্ঠ অধ্যায়পথের মঞ্জিলসমূহ আবাদ করার পরিচয় এবং সফরের পাথেয় সংগ্রহের প্রস্তুতি গ্রহণ প্রসঙ্গে; আর সেই সব অস্ত্র প্রস্তুত করার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করা যা মঞ্জিলের চোর ও ডাকাতদের প্রতিরোধ করেএর ব্যাখ্যা হলো: দুনিয়া হলো আল্লাহ তাআলার দিকে ধাবমান পথচারীদের মঞ্জিলসমূহের মধ্যে একটি মঞ্জিল মাত্র এবং শরীর হলো সওয়ারি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মঞ্জিল ও সওয়ারির ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি করবে, তার সফর পূর্ণ হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়াবী জীবনযাত্রার বিষয়টি সুশৃঙ্খল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা ও নিমগ্নতা পূর্ণ হবে না যা মূলত আধ্যাত্মিক পথচলা বা সুলুক। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পন্ন হবে না যতক্ষণ না তার শরীর সুস্থ থাকে এবং তার বংশধারা অব্যাহত থাকে। আর এই উভয় বিষয় সম্পন্ন হয় তাদের অস্তিত্ব সংরক্ষণের উপায় এবং তাদের ধ্বংসকারী ও বিনাশকারী বিষয়সমূহ প্রতিরোধের মাধ্যমে।
আর তাদের অস্তিত্ব সংরক্ষণের উপায়গুলো হলো: পানাহার করা, আর তা হলো স্থায়িত্বের জন্য...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াহিরুল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
البدن، والمُنَاكَحَةُ. وذلك لبقاء النسل، فقد خُلِقَ الغذاءُ سبباً للحياة، وخُلق الإِناث محلاً للحراثة، إلا أنه ليس يختص المأكول والمنكوح ببعض الآكلين بحكم الفطرة، ولو تُرِكَ الأمر فيه مُهْمَلاً من غير تعريفِ قانونٍ في الاختصاصات لتَهاوَنوا وتقاتلوا، وشَغَلَهُم ذلك عن سلوك الطريق، بل أفضَى بهم إلى الهلاك. فَشَرَحَ القرآنُ قانونَ الاختصاص بالأموال في آياتِ المُبَايَعات والرِّبوِيَّات، والمُدايَنات، وقَسْمِ المواريث، ومَواجِب النفقات، وقسمةِ الغنائمِ والصدقات، والمُنَاكَحات، والعِتْقِ والكتابةِ والاسْتِرقَاقِ والسَّبي. وعرَّفَ كيفيةَ ذلك التخصيص عند الاتِّهام بالإقرارِيَّات وبالأيمان والشهادات. وأما الاختصاص بالإناث فقد بَيَّنَتْه آياتُ النكاح والطلاق والرجعة والعدة، والخُلعِ والصداقِ والإيلاءِ والظهارِ واللِّعان، وآياتُ مُحَرَّماتِ النَّسَبِ والرَّضاع والمُصَاهَرات.
وأما أسبابُ الدفع لمُفسِداتهما: فهي العقوبات الزاجرة عنها، كقتالِ الكفار وأهل البَغْي والحثِّ عليه، والحدودُ والغراماتُ والتَّعزيرات، والكفاراتُ والدِّيَاتُ والقِصاص.
أما القصاصُ والدِّيَات فدفعاً للسَّعي في إهلاك الأنفس والأطراف؛ وأما حَدُّ السرقة وقطع الطريق فدفعاً لما يَستهلِكُ الأموالَ التي هي أسباب المعاش؛ وأما حَدُّ الزِّنا واللِّواطِ والقَذْفِ فدفعاً لما يُشَوِّش أمرَ النسل والأنساب، ويُفسد طريق التَّحارُث والتَّناسل؛ وأما جهاد الكفار وقِتالهم فدفعاً لما يَعرِض من الجاحدين للحق من تشويش أسباب المعيشة والدِّيانة اللتين بهما الوصول إلى الله تعالى؛ وأما قتال
শরীর এবং বৈবাহিক সম্পর্ক। আর এটি বংশধারা রক্ষার জন্য; কেননা খাদ্যকে জীবনের মাধ্যম হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নারীদেরকে শস্যক্ষেত্র (সন্তান উৎপাদনের স্থান) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে স্বভাবজাত বিধান অনুযায়ী ভক্ষণযোগ্য বস্তু এবং বিবাহযোগ্যা নারী কেবল নির্দিষ্ট কিছু ভক্ষণকারী বা বিবাহকারীর জন্য নির্দিষ্ট নয়। যদি এই বিশেষাধিকারের ক্ষেত্রে কোনো আইনি নীতিমালা সংজ্ঞায়িত না করে বিষয়টি অবহেলিত রাখা হতো, তবে মানুষ একে অপরের অধিকারের প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন করত এবং যুদ্ধে লিপ্ত হতো। এটি তাদেরকে (পরকালীন) পথে চলা থেকে বিচ্যুত করত, বরং তাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেত। তাই কুরআন সম্পদের বিশেষাধিকারের নীতিমালা বর্ণনা করেছে ক্রয়-বিক্রয়, সুদ সংশ্লিষ্ট লেনদেন, ঋণ আদান-প্রদান, মিরাস বণ্টন, ভরণপোষণের অপরিহার্য বিধান, গনিমত ও সদকা বণ্টন, বিবাহ, দাসমুক্তি, কিতাবাত (চুক্তিবদ্ধ দাসমুক্তি), দাসত্ব এবং যুদ্ধবন্দিত্ব সংক্রান্ত আয়াতসমূহ। আর কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি, শপথ এবং সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে সেই অধিকার নির্ধারণের পদ্ধতি স্পষ্ট করেছে। আর নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষাধিকারের বিষয়টি বিবাহ, তালাক, রাজআত (প্রত্যাবর্তন), ইদ্দত, খুলা, মোহরানা, ঈলা, যিহার এবং লি'আন সংক্রান্ত আয়াতসমূহ এবং বংশীয় সম্পর্ক, দুগ্ধপান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ক আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছে।
আর এই দুটির অনিষ্টকারী বিষয়গুলো প্রতিরোধের উপায় হলো এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যা তা থেকে বিরত রাখে; যেমন কাফির ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং এর প্রতি উৎসাহিত করা, এবং হুদুদ (নির্ধারিত দণ্ড), জরিমানা, তা'যির (বিবেচনামূলক শাস্তি), কাফফারা, দিয়্যাত (রক্তপণ) এবং কিসাস (প্রতিশোধ)।
কিসাস ও দিয়্যাত প্রবর্তন করা হয়েছে জীবন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধ্বংস করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য। চুরির দণ্ড এবং রাহাজানির দণ্ড প্রবর্তন করা হয়েছে সেই সম্পদ বিনষ্টকারী বিষয়গুলোকে প্রতিহত করার জন্য যা জীবনধারণের মাধ্যম। ব্যভিচার, সমকামিতা এবং অপবাদের দণ্ড প্রবর্তন করা হয়েছে এমন বিষয়কে প্রতিহত করার জন্য যা বংশধারা ও বংশপরিচয়কে বিশৃঙ্খল করে দেয় এবং প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির পথকে কলুষিত করে। আর সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পক্ষ থেকে জীবনোপকরণ ও দ্বীনদারির পথে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, তা প্রতিহত করার জন্যই কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও লড়াইয়ের বিধান দেওয়া হয়েছে; যে দুটির মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। আর লড়াই...