(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: -)
جزء من شرح تنقيح الفصول في علم الأصول - رسالة ماجستير القسم: أصول الفقه
الكتاب: جزء من شرح تنقيح الفصول في علم الأصول
المؤلف: أبو العباس شهاب الدين أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن المالكي الشهير بالقرافي (ت 684هـ)
إعداد الطالب: ناصر بن علي بن ناصر الغامدي (رسالة ماجستير)
إشراف: فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور/ حمزة بن حسين الفعر
الناشر: رسالة علمية، كلية الشريعة - جامعة أم القرى
عام النشر: 1421 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الرسالة العلمية) ]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের তানকিহুল ফুসুল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের অংশবিশেষ - মাস্টার্স থিসিস বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের তানকিহুল ফুসুল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের অংশবিশেষ
লেখক: আবু আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুর রহমান আল-মালিকি, যিনি আল-কারাফি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি)
প্রস্তুতকারী শিক্ষার্থী: নাসের বিন আলি বিন নাসের আল-গামিদি (মাস্টার্স থিসিস)
তত্ত্বাবধান: সম্মানিত শাইখ প্রফেসর ডক্টর/ হামজা বিন হুসাইন আল-ফার
প্রকাশক: একাডেমিক থিসিস، শরিয়া অনুষদ - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশকাল: ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির (একাডেমিক থিসিস) অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: -)
شرح تنقيح الفصول في علم الأصول
من بداية الباب الثالث عشر: في فعله صلى الله عليه وسلم إلى نهاية الكتاب
تأليف العالم المحقق / شهاب الدين أحمد بن إدريس الصنهاجي القرافي
(ت 684 هـ)
(دراسة وتحقيق)
رسالة مقدمة لنيل درجة الماجستير في الدراسات الإسلامية
إعداد الطالب
ناصر بن علي بن ناصر الغامدي
إشراف
فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور / حمزة بن حسين الفعر
(القسم الدراسي) 1421 هـ / 2000 م
উসুল শাস্ত্রের ‘তানকীহুল ফুসুল’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ
ত্রয়োদশ অধ্যায়ের শুরু থেকে: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্ম প্রসঙ্গে, গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত
রচনায়: বিজ্ঞ গবেষক আলেম শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে ইদ্রিস আস-সানহাজি আল-কারাফি
(মৃত্যু ৬৮৪ হি.)
(গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি যাচাই)
ইসলামি শিক্ষা বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশকৃত গবেষণাপত্র
প্রস্তুতকারক শিক্ষার্থী
নাসির বিন আলি বিন নাসির আল-গামদি
তত্ত্বাবধানে
মর্যাদাবান শায়খ প্রফেসর ডক্টর হামযা বিন হুসাইন আল-ফার
(গবেষণা অংশ) ১৪২১ হিজরি / ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمةأحمد الله تعالى حمداً أستفتح به أبواب الدخول إلى دراسة علم الأصول، وأستمنح أسباب الحصول لتحقيق كتاب " شرح تنقيح الفصول "، وأستوضح به منهاج الوصول إلى مستصفى الحاصل ومنتخبِ المحصول، ومنتقى التحصيل ولبابِ المنخول، واستنجح به مقاصد بِرِّه الوَصولِ إلى منتهى السُّول وغاية المأمول، وأستوهب منه توفيقاً يكتب به الرضا والقبول، وأستصحب منه تسديداً يصون عن الخطأ والذهول في سلوك سبيلَيْ المنقول والمعقول.
وأُصلِّي وأُسلِّم على نبيه ورسوله محمدٍ أكرمِ نبيٍّ وأشرفِ رسول، المبعوثِ بأرفع دليلٍ وأنفعِ مدلول، المخصوصِ حكمُ شريعته بشمول العموم وعمومِ الشمول، المنصوص عِلْمُ نبوَّتِهِ بأقلام المعجزات وبنانِ المنقول في سطور الصدور وطروس (1)
النقول.
وعلى آله وأصحابه السَّادةِ البررة العدُوُل، الذين عليهم المِعْولُ في الهداية وإليهم العُدُول، ما حُرِّر منقولٌ وحُبِّر مقول (2) .
ورحم الله أئمتنا وعلماءنا الفحول، الذين أدركوا بالاجتهاد مناط العلة والمعلول، وأزالوا بسَبْر الأدلة قوادح الشُّبَه عن الدليل والمدلول، وأفتوا كلَّ مُسْتَفْتٍ وسؤول، ويسَّروا الوصول إلى فقه الأصول، فشكر الله لهم ما حَقَّقَ المفهومَ قلبٌ عقول، وما لَهَج بالمنطوق لسانٌ قؤول.
أما بعد:
((فأفضل ما اكتسبه الإنسان عِلمٌ يسعد به في عاجل معاشه وآجل معاده، ومن أفضل ذلك " علم أصول الفقه " لاشتماله على المعقول والمنقول، فهو جامع أشتات الفضائل، والواسطة في تحصيل لباب الرسائل، ليس هو من العلوم التي هي رواية صِرْفة لا حظَّ لشرف النفوس فيه، ولا من المعقول الصِّرْف الذي لم يَحُضَّ الشرعُ على
--------------------------------------------
ভূমিকাআমি মহান আল্লাহর এমন প্রশংসা করছি যার মাধ্যমে আমি উসূল শাস্ত্রের অধ্যয়নে প্রবেশের দ্বারসমূহ উন্মোচন করছি, এবং "শারহু তানকিহিল ফুসুল" গ্রন্থটির গবেষণা ও সম্পাদনা সম্পন্ন করার উপায়সমূহ যাচনা করছি। এর মাধ্যমে আমি "আল-মুস্তাসফা", "আল-হাসিল", "মুনতাখাবুল মাহসুল", "মুনতাকাত তাহসিল" এবং "লুবাবুল মানখুল" এর মতো গ্রন্থসমূহে পৌঁছানোর পথ স্পষ্ট করার প্রয়াস পাচ্ছি। আমি এর মাধ্যমে তাঁর অফুরন্ত কৃপার উদ্দেশ্যসমূহ সফল করতে চাই, যা সকল আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমা এবং প্রত্যাশার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আমি তাঁর নিকট এমন তাওফিক প্রার্থনা করছি যার মাধ্যমে সন্তুষ্টি ও কবুলিয়ত নির্ধারিত হবে, এবং তাঁর নিকট এমন সঠিক দিকনির্দেশনা কামনা করছি যা মানকুল (রেওয়ায়েত) ও মাকুল (যুক্তি) - উভয় পথে চলার সময় ভুল ও বিস্মৃতি থেকে রক্ষা করবে।
এবং আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি তাঁর নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ-এর প্রতি, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বাধিক সম্মানিত রাসূল। তিনি প্রেরিত হয়েছেন সুউচ্চ দলিল ও সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর দলীলভুক্ত বিষয়াদিসহ। তাঁর শরীয়তের বিধানসমূহ ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাঁর নবুওয়াতের ইলম অলৌকিকত্বের কলম এবং বর্ণনার আঙ্গুল দ্বারা অন্তরের পঙক্তিতে এবং বর্ণনার পাতাসমূহে (১)
লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও পুণ্যবান ন্যায়পরায়ণ সাহাবীগণের ওপর, হিদায়াতের পথে যাঁদের ওপরই নির্ভর করা হয় এবং যাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয়; যতক্ষণ কোনো বর্ণনা লিপিবদ্ধ হবে এবং কোনো উক্তি অলংকৃত হবে (২)।
এবং আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও আলিমগণের প্রতি, যাঁরা ইজতিহাদের মাধ্যমে কারণ ও কার্যের (ইল্লত ও মালুল) নিগূঢ় রহস্য অনুধাবন করেছেন এবং দলীলসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দলীল ও দলীলভুক্ত বিষয়ের ওপর আপতিত সংশয়ের সকল ত্রুটি দূর করেছেন। তাঁরা প্রত্যেক ফতোয়া প্রার্থী ও জিজ্ঞাসুর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং উসূল শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনের পথ সুগম করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সেই কর্মের উত্তম প্রতিদান দিন, যা কোনো চিন্তাশীল অন্তর অনুধাবন করেছে এবং কোনো বাগ্মী জিহ্বা উচ্চারণ করেছে।
অতঃপর:
((মানুষ যা কিছু অর্জন করে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এমন জ্ঞান, যার মাধ্যমে সে তার ইহকালীন জীবন ও পরকালীন ভবিষ্যতে সৌভাগ্য লাভ করে। আর এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো "উসূলে ফিকহ" শাস্ত্র, কারণ এটি মাকুল (যুক্তি) এবং মানকুল (রেওয়ায়েত) — উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি শ্রেষ্ঠত্বের সকল শাখাকে একত্রকারী এবং কিতাবসমূহের সারমর্ম অর্জনের মাধ্যম। এটি এমন কোনো জ্ঞান নয় যা কেবল নিছক বর্ণনানির্ভর যাতে উন্নত আত্মার কোনো অংশ নেই, আবার এটি নিছক এমন কোনো যুক্তিও নয় যার প্রতি শরীয়ত উৎসাহ প্রদান করেনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৩)
معانيه، بل جمع بين الشرفين، واستولى على الطرفين، يُحْتاج فيه إلى الرواية والدراية، ويجتمع فيه معاقدُ النظر، ومسالكُ العِبَر، مَنْ جَهِلَه من الفقهاء فتحصيله أُجَاج، ومن سُلِب ضوابطُه عَدِم عند دعاويه الحِجَاج، فهو جدير بأن يُنَافس فيه، وأن يُشْتغل بأفضل الكتب في تلخيصاته ومبانيه)) (1) .
ولمَّا رأيتُ أنَّ تعلُّم مسائل الأصول معقودٌ بدراسة كتب الأوائل الفحول، تطفَّلتُ على موائدهم، واكتفيتُ بالكشف عن فرائدهم، وخِلْتُ أنَّ تحقيق كتبهم أيسرُ الدروبِ وأسهلُ الخطوبِ، وما درى المسكينُ أنَّ دون ذلك رُكوبَ الصِّعاب، والضرْبَ في وَعِر الوِهَاد والهِضَاب، حتى لقد أشفقْتُ بعد أن قُدِّر عليَّ ما يكون، أن أصِيْر فيه حَصْراً ممن لا يستطيعون مُضيّاً ولا يرجعون.
لكن بعد استحضار ما للعلم من مآثر، وتشجيعِ أهل الفضل والمفاخر، شمَّرتُ عن ساعد الجدِّ لتحقيق كتاب " شرح تنقيح الفصول " لعَلَمٍ شامخٍ من علماء الأصول، الإمامِ الهمامِ أبي العباس شهاب الدين أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن بن يَلِّين، الشهير بالقرافي، ذي الشرَف الوافي، والعقل الصافي، علماً بأن قِسْطي من تحقيق الكتاب هو القسم الثالث منه، ابتداءً من الباب الثالث عشر: في أفعاله صلى الله عليه وسلم، وانتهاءً بالباب العشرين في جميع أدلة المجتهدين وتصرفات المكلفين، وهو آخر الكتاب (2) .
دواعي اختيار تحقيق الكتابلقد نَهَزَني (3) إلى اختيار كتاب شرح تنقيح الشهاب عِدَّةُ أسباب، منها:
أولاً: القيمة العلمية الرفيعة للكتاب، فإن مادته عميقة غزيرة، ومصادره أصيلة وفيرة، حوى نقولاتٍ نادرةً كثيرة، بعضها في غياهب (4) النسيان، لتعرُّض مظانِّها للفقدان: ككتاب الإفادة وكتاب الملخّص كليهما للقاضي عبد الوهاب البغدادي، وكتاب الأوسط لابن بَرْهان، وشرح البرهان للمازري، والجدل للحصكفي وغيرها (5) .
كما أن الكتاب امتاز بحسن التبويب والترتيب، والتقسيم والتنظيم، والتفنن في
--------------------------------------------
এর অর্থসমূহ; বরং এটি উভয় শ্রেষ্ঠত্বকে একত্রিত করেছে এবং উভয় প্রান্তকে আয়ত্ত করেছে। এতে বর্ণনা ও প্রজ্ঞা উভয়ের প্রয়োজন পড়ে এবং এতে চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু ও শিক্ষার পথসমূহ সম্মিলিত হয়েছে। ফকিহদের মধ্যে যারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের অর্জন বিস্বাদ। আর যে ব্যক্তি এর মূলনীতিসমূহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে তার দাবির স্বপক্ষে প্রমাণহীন হয়ে পড়েছে। তাই এটি এর জন্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া এবং এর সারসংক্ষেপ ও কাঠামো নিয়ে সর্বোত্তম কিতাবসমূহের সাথে ব্যস্ত হওয়ার যোগ্য। (১)
যখন আমি দেখলাম যে, উসুলের মাসআলাসমূহ শিক্ষা করা পূর্ববর্তী বিদগ্ধ পণ্ডিতদের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট, তখন আমি তাদের দস্তরখানে মেহমান হলাম এবং তাদের দুর্লভ রত্নসমূহ উন্মোচনেই ক্ষান্ত থাকলাম। আমি ভেবেছিলাম যে তাদের কিতাবসমূহের তাহকিক করা হয়তো সহজতম পথ ও সাবলীল কাজ হবে। কিন্তু এই বেচারা জানত না যে এর পেছনে রয়েছে কঠিন চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়া এবং বন্ধুর উপত্যকা ও পাহাড়ে বিচরণ করা। এমনকি যখন আমার ভাগ্যে যা হওয়ার তা নির্ধারিত হলো, তখন আমি আশঙ্কা করলাম যে আমি হয়তো এমন এক সংকটে পড়ে যাব যেখান থেকে না পারা যাবে সামনে এগিয়ে যেতে, আর না যাবে ফিরে আসতে।
কিন্তু ইলমের গৌরবময় অবদানসমূহ স্মরণ করার পর এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের অধিকারী ব্যক্তিদের উৎসাহ পাওয়ার পর, আমি উসুল শাস্ত্রের একজন সুউচ্চ মিনার—ইমাম, বিচক্ষণ আবু আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াল্লিন, যিনি আল-কারাফি নামে পরিচিত, পূর্ণ সম্মানের অধিকারী এবং নির্মল বুদ্ধিমত্তার মালিক—তার "শারহু তানকিহিল ফুসুল" কিতাবটি তাহকিক করার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়লাম। উল্লেখ্য যে, এই কিতাবের তাহকিকে আমার অংশ হলো এর তৃতীয় ভাগ; যা শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কার্যাবলি প্রসঙ্গে, এবং শেষ হয়েছে বিংশ অধ্যায়: মুজতাহিদগণের সমস্ত দলিল ও মুকাল্লাফদের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে, যা কিতাবটির সমাপ্তি অংশ (২)।
কিতাবটির তাহকিক নির্বাচনের কারণসমূহশিহাবুদ্দিনের শারহু তানকিহ কিতাবটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাকে বেশ কিছু কারণ উদ্বুদ্ধ করেছে (৩), যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: কিতাবটির সুউচ্চ তাত্ত্বিক মূল্য। কারণ এর বিষয়বস্তু অত্যন্ত গভীর ও সমৃদ্ধ এবং এর উৎসসমূহ মৌলিক ও পর্যাপ্ত। এটি অনেক বিরল উদ্ধৃতি ধারণ করেছে, যার কিছু বিস্মৃতির অতল গহ্বরে (৪) হারিয়ে গিয়েছিল কারণ সেগুলোর মূল উৎসগুলো নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল: যেমন কাজী আব্দুল ওয়াহাব আল-বাগদাদীর "আল-ইফাদাহ" ও "আল-মুলখাস" কিতাব দুটি, ইবনে বুরহানের "আল-আওসাত", মাযেরীর "শারহুল বুরহান", হুসকাফির "আল-জাদাল" এবং অন্যান্য (৫)।
পাশাপাশি কিতাবটি সুন্দর অধ্যায় বিন্যাস, সুশৃঙ্খল বিন্যাস, বিভাজন ও ব্যবস্থাপনা এবং বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৪)
إيراد السؤال والإشكال، والجوابِ عنه في أحسن مقال، فإن لم يُسْعِفْه الجوابُ بقي ماثلاً في انتظار حلِّ أولي الألباب. كما حشد القرافي كتابَه بالفروق بين المسائل، والتمييز بين المتشابه والمتماثل، هذا مع تَوْشِيَة (1) الكتاب بفوائد مهمة، وتحليته بزوائد جمَّة، وتوشيحه بنكتٍ جميلة، وتَدْبيجه بقواعد جليلة.
فلا جَرَم أن أضحى الكتابُ مَعِيْناً ارتوتْ منه كتبٌ عديدة، وينبوعاً نَهِل منه أصوليون نابهون مادةً فريدة، كالطوفي في شرح مختصر الروضة، والسبكي وابنه في الإبهاج في شرح المنهاج، والعلائي في كتبه، والإسنوي في منهاج السول، وابن جزي في تقريب الوصول، والزركشي في البحر المحيط وتشنيف المسامع، وحلولو المالكي في الضياء اللامع، وابن أمير الحاج في التقرير والتحبير، وابن النجار في شرح الكوكب المنير، وغيرهم جَمٌّ غفير (2) .
ثانياً: شهرة مؤلِّف الكتاب، ونبوغُهُ في علم الأصول، حتى عُدَّ أحدَ ثلاثة علماء عصره الذين انعقد الإجماع علة أفضليّتهم قاطبةً في الديار المصرية (3) .
ولمَّا مات القرافي عليه رحمة الله قال فيه ابن دقيق العيد رحمه الله: ((مات من يُرجع إليه في علم الأصول)) (4) ، ولهذا سجَّله الإمام السيوطي رحمه الله ضمن طبقة من كان بمصر من الأئمة المجتهدين (5) .
فالإمام القرافي بحقٍّ تميَّز بانفراداتٍ في مسائل أصوليةٍ بارزةٍ، وبتحريراتٍ نفيسةٍ راسخةٍ راكزةٍ، فيها جِدَّةٌ وحداثة، نبعتْ من جِهْبذٍ بَحَّاثة، تمتَّعتْ شخصيته بذكاءٍ خارق، وعبقرية فذَّة، تشهد له اختياراته ومناقشاته، وترجيحاته وتصحيحاته، ونقوده وردوده، ونظراته الثاقبة، وتقريراته الصائبة.
ولقد رأيتُني وأنا حَفيٌ بالبحث في الكتاب، كَلِفٌ بحَزْنه وسَهْله، شَغِفٌ بقراءته ودراسته أزداد قناعةً بعد قناعة ساعةً بعد ساعة ببراعة الشهاب القرافي وشموخِهِ، وتألُّقِ نجمِهِ وسطوعِهِ.
ثالثاً: الرغبة في الاطلاع على أصول فقهاء المدينة، دولةِ الإسلامِ، ومنبعِ العلم
--------------------------------------------
প্রশ্ন ও সংশয় উপস্থাপন এবং সর্বোত্তম পন্থায় তার উত্তর প্রদান করা হয়েছে। যদি উত্তর পর্যাপ্ত না হতো, তবে তা প্রজ্ঞাবানদের সমাধানের অপেক্ষায় বিদ্যমান থাকত। ঠিক যেমন কারাফি তাঁর কিতাবকে মাসআলাসমূহের মধ্যকার পার্থক্য এবং সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়গুলোর মাঝে বৈষম্য নিরূপণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। এর পাশাপাশি কিতাবটিকে গুরুত্বপূর্ণ ফায়েদা দ্বারা অলঙ্কৃত (১) করেছেন, প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত তথ্য দ্বারা সুশোভিত করেছেন, সুন্দর সূক্ষ্ম তত্ত্ব দ্বারা সজ্জিত করেছেন এবং মহান মূলনীতিসমূহ দ্বারা সুবিন্যস্ত করেছেন।
ফলে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিতাবটি এমন একটি ঝর্ণাধারায় পরিণত হয়েছে যেখান থেকে বহু কিতাব পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং এটি এমন একটি উৎস যেখান থেকে প্রথিতযশা উসুলবিদগণ অনন্য উপাদান আহরণ করেছেন; যেমন— 'মুখতাসারুর রওদাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের লেখক তূফী, 'আল-মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ইবহা'-এ সুবকী ও তাঁর পুত্র, আল-আলাঈ তাঁর গ্রন্থসমূহে, 'মিনহাজুস সুল'-এ ইসনাভী, 'তাকরীবুল উসুল'-এ ইবনে জুযাই, 'আল-বাহরুল মুহীত' ও 'তাশনীফুল মাসামি'-এ যারকাশী, 'আদ-দিয়াউল লামি'-এ মালিকী মাযহাবের হালুলু, 'আত-তাকরীর ওয়াত তাহবীর'-এ ইবনুল আমীর হাজ্জ, 'শারহুল কাওকাবিল মুনীর'-এ ইবনু নাজ্জার এবং তাঁদের ব্যতীত আরও এক বিশাল জামাত (২)।
দ্বিতীয়ত: কিতাবের লেখকের প্রসিদ্ধি এবং উসুল শাস্ত্রে তাঁর মেধা ও পারদর্শিতা, এমনকি তিনি তাঁর যুগের এমন তিনজন আলিমের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সমগ্র মিশরে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল (৩)।
যখন ইমাম কারাফি (রাহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুবরণ করেন, তখন ইবনে দাকীকুল ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: "উসুল শাস্ত্রে যাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হতো (নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি), তিনি আজ ইন্তেকাল করেছেন" (৪)। এই কারণেই ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে মিশরে অবস্থানকারী মুজতাহিদ ইমামদের স্তরে তালিকাভুক্ত করেছেন (৫)।
ইমাম কারাফি প্রকৃতপক্ষে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ উসুলী মাসআলায় একক ও অনন্য বৈশিষ্ট্য, মূল্যবান ও সুদৃঢ় বিশ্লেষণ দ্বারা বিশিষ্টতা লাভ করেছিলেন; যাতে ছিল নতুনত্ব ও আধুনিকতা, যা এক অভিজ্ঞ গবেষক সত্তা হতে উৎসারিত। তাঁর ব্যক্তিত্ব এক অলৌকিক মেধা ও অনন্য প্রতিভার অধিকারী ছিল, যার সাক্ষ্য দেয় তাঁর পছন্দসমূহ, আলোচনা-পর্যালোচনা, অগ্রাধিকার প্রদান ও সংশোধনসমূহ, সমালোচনা ও খণ্ডনসমূহ এবং তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক সিদ্ধান্তসমূহ।
আমি যখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কিতাবটি নিয়ে গবেষণা করছিলাম এবং এর কঠিন ও সহজ উভয় প্রকার আলোচনায় মগ্ন ছিলাম, তখন এর পঠন-পাঠনে আমি প্রচণ্ড অনুরাগী হয়ে পড়ি। সময়ের সাথে সাথে শিহাবুদ্দীন কারাফির পারদর্শিতা, তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর প্রতিভার প্রখরতা ও দীপ্তির ব্যাপারে আমার দৃঢ় বিশ্বাস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তৃতীয়ত: ইসলামের কেন্দ্রভূমি ও জ্ঞানের উৎস মদীনার ফকীহগণের উসুল বা মূলনীতি সম্পর্কে অবগতির আকাঙ্ক্ষা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৫)
النبوي، ولم تزل هذه الرغبة في ازدياد خصوصاً عند قراءتي شهادة شيخ الإسلام ابن تيمية (1) لأصول الإمام مالك رحمه الله، إذْ قال: ((ثم من تدبَّر أصول الإسلام وقواعد الشريعة وجد أصولَ مالك وأهلَ المدينة أصحَّ الأصول والقواعد، وقد ذكر ذلك الشافعي وأحمد وغيرهما. . .)) (2) .
والإمام الشهاب القرافي من المجتهدين في المذهب المالكي، النافذين إلى لُبِّه، الساعين في إرساء دعائمه وقواعده. فقد حرص في كتابه على إبراز أصول المالكية ليعلوُ شرفُهم في الأصول كما سمتْ مكانتهم في الفروع (3) . وفي سبيل ذلك رَصَد آراء المذهب وأقوالَه، وحرَّرها وقرَّرها، ونافح عنها ضدّ المُشنِّعين والشاغبين عليها، دون تعصُّبٍ أو تقليد، بل بوعيٍ رشيد، ومسلكٍ حميد، وإنصافٍ أكيد.
لهذه الأسباب وغيرها اشتدّ عزمي، وتأكَّد تصميمي على تحقيق الكتاب ودراسته مع قلَّة البضاعة، وقصور الباع في الصناعة.
المجهودات السابقة في إخراج الكتابلقد تمَّ طبع الكتاب - قديماً وحديثاً - عِدَّة طبعات، منها:
1 - طبعة المطبعة الخيرية بمصر سنة 1306 هـ، وبهامشها شرح ابن قاسم العبادي على ورقات إمام الحرمين.
2 - طبعة المطبعة التونسية بتونس سنة 1328 هـ / 1910 م، وبهامشها التوضيح شرح التنقيح لأبي العباس أحمد بن عبد الرحمن اليزليطني الشهير بـ" حلولو ".
3 - طبعة مطبعة النهضة بتونس سنة 1340 هـ / 1921 م الجزء الأول منه، على هامش حاشية الشيخ محمد جعيط المسمَّاة بـ: منهج التحقيق والتوضيح لحلِّ غوامض التنقيح.
ثم طبع الجزء الثاني منه سنة 1345 هـ / 1926 م.
--------------------------------------------
নবীবি, এবং বিশেষ করে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার (১) ইমাম মালিক (রহ.)-এর উসুলের প্রতি প্রশংসামূলক বক্তব্য পড়ার পর এই আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি বলেন: ((অতঃপর যে ব্যক্তি ইসলামের মূলনীতি ও শরিয়তের নিয়মকানুন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে ইমাম মালিক ও মদীনাবাসীদের মূলনীতি ও নিয়মাবলিকে সবচেয়ে সঠিক মূলনীতি ও নিয়ম হিসেবে দেখতে পাবে। শাফেয়ী, আহমাদ এবং অন্যান্যরাও এই কথা উল্লেখ করেছেন...)) (২)।
আর ইমাম শিহাব আল-কারাফি হলেন মালিকি মাযহাবের সেই মুজতাহিদগণের অন্তর্ভুক্ত, যারা এর সারমর্ম অনুধাবন করেছেন এবং এর ভিত্তি ও মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি তাঁর এই গ্রন্থে মালিকি মাযহাবের উসুলসমূহ ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে ফুরু তথা শাখাগত মাসআলাগুলোতে যেমন তাঁদের উচ্চ মর্যাদা রয়েছে, উসুলের ক্ষেত্রেও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত থাকে (৩)। এই উদ্দেশ্যেই তিনি মাযহাবের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং অন্ধ অনুসরণ কিংবা গোঁড়ামি ছাড়াই অত্যন্ত বিচক্ষণতা, প্রশংসনীয় পদ্ধতি ও নিখুঁত ইনসাফের সাথে সেগুলো বিশ্লেষণ ও প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সমালোচক ও বিতর্ককারীদের বিরুদ্ধে তা রক্ষণ করেছেন।
এসব ও আরও অন্যান্য কারণে, আমার সীমিত জ্ঞান এবং এ বিদ্যায় অনভিজ্ঞতা সত্ত্বেও গ্রন্থটির তাহকিক ও অধ্যয়নের সংকল্প প্রবল ও সুদৃঢ় হয়েছে।
গ্রন্থটি প্রকাশের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাসমূহঅতীত ও বর্তমানে গ্রন্থটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
১ - ১৩০৬ হিজরিতে মিশরের মাতবাআতুল খাইরিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত সংস্করণ, যার হাশিয়ায় ইমামুল হারামাইনের 'ওয়ারাকাত' গ্রন্থের ওপর ইবনে কাসিম আল-আব্বাদির শারহ বা ব্যাখ্যা রয়েছে।
২ - ১৩২৮ হিজরি / ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ার মাতবাআতুন তিউনিসিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত সংস্করণ, যার হাশিয়ায় 'হুলুলু' নামে পরিচিত আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-ইয়াযলিতনির 'আত-তাওযীহ শারহুত তানকীহ' রয়েছে।
৩ - ১৩৪০ হিজরি / ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ার মাতবাআতুন নাহযাহ থেকে প্রকাশিত এর প্রথম খণ্ড, যা শেখ মুহাম্মদ জুআইতের 'মানহাজুত তাহকিক ওয়াত তাওযীহ লি হাল্লি গাওয়াযিহিত তানকীহ' নামক হাশিয়ার সাথে মুদ্রিত।
অতঃপর ১৩৪৫ হিজরি / ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে এর দ্বিতীয় খণ্ড মুদ্রিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৬)
4 - طبعة مطبعة النهضة بتونس سنة 1341 هـ / 1922 م، على هامش حاشية الشيخ محمد الطاهر بن عاشور المسمَّاة: حاشية التوضيح والتصحيح لمشكلات كتاب التنقيح.
5 - طبعة مكتبة الكليات الأزهرية بمصر، ودار الفكر بمصر، الطبعة الأولى سنة 1393 هـ / 1973 م، بتحقيق / طه عبد الرؤوف سعد. وكتب عليها: طبعة جديدة مضبوطة منقَّحة.
6 - طبعة المكتبة الأزهرية للتراث بمصر. الطبعة الثانية سنة 1414 هـ / 1993 م بتحقيق / طه عبد الرؤوف سعد. وكتب عليها: طبعة جديدة مضبوطة منقَّحة.
7 - طبعة دار الفكر بلبنان. الطبعة الأولى سنة 1418 هـ / 1997 م،
باعتناء / مكتب البحوث والدراسات في دار الفكر. كُتب عليها: طبعة جديدة منقَّحة مصحّحة.
هذه الإصدارات من طبعات الكتاب مشكورة مأجورة إن شاء الله تعالى، ولو لم يكن لها من الفضل سوى بزوغِ الكتاب ليرى النور، ويروج بين أيدي القُرَّاء لكفى.
وهو بِسَبْقٍ حَائزٌ تَفْضيلا مُسْتوجِبٌ ثَنَائِيَ الجميلا (1)
ومع اعترافي لهذه الطبعات بالفَضَل إلا أنَّها تشترك جميعاً في عروِّها عن القواعد العلمية المنهجية في التحقيق، تخلو من توثيق النقول، والتعليق على مسائل الأصول، مع ما اشتملتْ عليه من السقط والتحريف، والأغلاط الطباعية، مما جعلها تَفْقِد قيمتَها العلمية، ويُحتِّم إعادة تحقيقِه وتصحيحِه وفق المنهج العلمي المتبَّعِ في الرسائل الجامعية.
ولقد كانت النسخُ الأربعُ الأوائلُ - مع كونها عزيزة المنال، نادرة الشيوع - أحسنَ حالاً أو أهونَ سوءاً من النسخ الثلاثِ الأواخرِ، مع أن الأواخر رُقمتْ بأنها: مضبوطةٌ منقَّحةٌ مصحَّحةٌ، وحقيقة الحال أنَّها كانت مجرد دعوى، ينقضها التشويهُ والتحريفُ حتى غدا الكتابُ عديمَ الجدوى.
قال محقِّق طبعة الكليات الأزهرية والمكتبة الأزهرية: ((وكان حصولي على أصلٍ
--------------------------------------------
৪ - তিউনিসিয়ার নাহদাহ্ মুদ্রণালয়ের সংস্করণ, ১৩৪১ হিজরি / ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ, শেখ মুহাম্মদ আল-তাহির ইবনে আশুরের 'হাশিয়াতুত তাওদীহ ওয়াত তাসহিহ লি-মুশকিলাতি কিতাবিত তানকিহ' নামক টীকাগ্রন্থের পার্শ্বটীকা হিসেবে প্রকাশিত।
৫ - মিশরের মাকতাবাতুল কুল্লিয়্যাতিল আজহারিয়্যাহ এবং মিশরের দারুল ফিকর সংস্করণ, প্রথম প্রকাশ ১৩৯৩ হিজরি / ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ, ত্বহা আব্দুর রউফ সা'দ-এর সম্পাদনায়। এতে লেখা আছে: নতুন বিন্যস্ত ও পরিমার্জিত সংস্করণ।
৬ - মিশরের আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়্যাহ লিত-তুরাস সংস্করণ। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৪ হিজরি / ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ, ত্বহা আব্দুর রউফ সা'দ-এর সম্পাদনায়। এতে লেখা আছে: নতুন বিন্যস্ত ও পরিমার্জিত সংস্করণ।
৭ - লেবাননের দারুল ফিকর সংস্করণ। প্রথম প্রকাশ ১৪১৮ হিজরি / ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ,
দারুল ফিকরের গবেষণা ও অধ্যয়ন ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে। এতে লেখা আছে: নতুন পরিমার্জিত ও সংশোধিত সংস্করণ।
গ্রন্থের এই সংস্করণগুলোর প্রচেষ্টা আল্লাহর কাছে প্রশংসিত ও পুরস্কারযোগ্য হোক ইনশাআল্লাহ। যদি এই সংস্করণগুলোর কোনো বিশেষত্ব না-ও থাকত, শুধু গ্রন্থটিকে আলোর মুখ দেখানো এবং পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা ছাড়া, তবে সেটিই যথেষ্ট হতো।
তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, আমার সুন্দর প্রশংসার যোগ্য (১)
এই সংস্করণগুলোর অবদান স্বীকার করা সত্ত্বেও, এগুলো সম্পাদনার বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগত নিয়মাবলি বর্জনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এগুলোতে উদ্ধৃতিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং উসূলের মাসআলাগুলোর ওপর কোনো টীকা নেই। তদুপরি এতে রয়েছে অনেক অংশ বাদ পড়া, বিকৃতি এবং মুদ্রণজনিত ভুল; যার ফলে এগুলো তাদের বৈজ্ঞানিক মান হারিয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণাপত্রে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী গ্রন্থটি পুনরায় সম্পাদনা ও সংশোধন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
প্রথম চারটি সংস্করণ—যদিও তা পাওয়া কঠিন এবং সচরাচর মেলে না—শেষের তিনটি সংস্করণের তুলনায় ভালো অবস্থায় ছিল অথবা তুলনামূলক কম ত্রুটিপূর্ণ ছিল। অথচ শেষের গুলোর ওপর লেখা ছিল: বিন্যস্ত, পরিমার্জিত ও সংশোধিত। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা হলো এটি ছিল নিছক একটি দাবি মাত্র, যা বিকৃতি ও পরিবর্তনের কারণে অসার প্রমাণিত হয়, এমনকি গ্রন্থটি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল।
কুল্লিয়্যাতুল আজহারিয়্যাহ এবং আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়্যাহ সংস্করণের সম্পাদক বলেছেন: ((এবং আমার একটি মূল পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৭)
أطبع عليه الكتاب من أشق الأمور، حتى تفضل الشيخ حنفي عبد الجليل آدم من تشاد حفظه الله، فأهداني نسخةً جزاه الله خيراً. . . إلخ)) (1) فالمحقق - جزاه الله خيراً - لم يُفصِح عن هذا الأصل الذي اعتمده في التحقيق، ولم يبيِّن مصدره الأصلي المعتمد، بل لم يُرْفق صوراً له مع الكتاب المطبوع، فضْلاً عن كونه اعتمد على نسخةٍ واحدةٍ فقط مع كونها مبهمةً. ولقد بحثتُ عن شيءٍ يدلُّني على أصله الذي اعتمده، وأخذتُ أقارن بين نسخ المخطوطات التسعِ المتوفرةِ لديَّ وكتابِهِ المحقَّقِ المصحَّحِ!! فترجَّح لي أن صنيعه كان بمثابة التلفيق، وبمعزلٍ عن التصحيح والتحقيق.
وسأسلِّط الضوء على الطبعتين حديثتي السنِّ، الأولى: طبعة المكتبة الأزهرية للتراث، سنة 1414 هـ بتحقيق / طه عبد الرؤوف سعد. والثانية: طبعة دار الفكر ببيروت، باعتناء / مكتب البحوث والدراسات، سنة 1418 هـ، وهما المتداولتان في الأسواق، علماً بأن الثانية مطابقةٌ للأولى في أغلب أخطائها، جاريةٌ وفق سَنَنِها، بل أمعنتْ في الرداءة حينما خلطتْ المتن بالشرح دون التمييز بينهما بخطٍّ أو تسويدٍ أو كلمةِ " الشرح " أو ما شابه ذلك. كما أنَّ الأولى أفحش من الثانية في الأخطاء.
ويمكن إجمال الملاحظات عليهما فيما يلي:
أ - كثرة الأغلاط الطباعيِّة، والتحريفات والتصحيفات.
ب - وجود أسقاطٍ لكلماتٍ وعباراتٍ أخلَّت بمعنى عبارة الكتاب.
جـ - إقحام كلماتٍ وعباراتٍ خلتْ منها جميع النسخ الخطية التسعة.
د - التغيير في كلماتٍ لم ترد فيما وقفتُ عليه من المخطوطات، وهو تصرف
غير سائغ.
هـ - عدم التمييز بين عبارة المتن وعبارة الشرح من الناحية الطباعية في
بعض المواطن بالنسبة لطبعة المكتبة الأزهرية، وفي جميع الكتاب بالنسبة
لطبعة دار الفكر.
ولنضرب أمثلة على ذلك، كما في الجدول التالي:
--------------------------------------------
বইটি মুদ্রণ করা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি, যতক্ষণ না চাদের শায়খ হানাফী আব্দুল জলীল আদম (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন) অনুগ্রহ করে আমাকে একটি কপি উপহার দেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন... ইত্যাদি। (১) সুতরাং মুহাক্কিক — আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন — তাহকীক বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে তিনি যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন তা প্রকাশ করেননি এবং তার মূল নির্ভরযোগ্য উৎসটি স্পষ্ট করেননি। এমনকি তিনি মুদ্রিত বইটির সাথে এর কোনো ছবিও সংযুক্ত করেননি। অধিকন্তু, তিনি অস্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কেবল একটি কপির ওপর নির্ভর করেছেন। আমি তার ব্যবহৃত মূল পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে কোনো সূত্রের অনুসন্ধান করেছি এবং আমার কাছে থাকা নয়টি পাণ্ডুলিপি কপির সাথে তার সম্পাদিত ও সংশোধিত বইটির তুলনা শুরু করেছি!! ফলশ্রুতিতে আমার কাছে এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, তার কাজ ছিল জোড়াতালিস্বরূপ এবং তা সংশোধন ও সম্পাদনার মানদণ্ড থেকে দূরে ছিল।
আমি সাম্প্রতিককালের দুটি মুদ্রণের ওপর আলোকপাত করব: প্রথমটি হলো আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়া লিত-তুরাস সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, সম্পাদনায়: ত্বহা আব্দুর রউফ সাদ। দ্বিতীয়টি হলো বৈরুতের দারুল ফিকর সংস্করণ, প্রস্তুতিতে: মাকতাবুল বুহুস ওয়াদ দিরারাসাত, ১৪১৮ হিজরি। বাজারে এই দুটি সংস্করণই প্রচলিত। লক্ষণীয় যে, দ্বিতীয় সংস্করণটি এর অধিকাংশ ভুলের ক্ষেত্রে প্রথমটির অনুরূপ এবং একই পথ অনুসরণ করেছে। বরং এটি নিকৃষ্টতার ক্ষেত্রে আরও অগ্রসর হয়েছে যখন এটি মূল পাঠ (মাতান) ও ব্যাখ্যাকে (শারহ) কোনো আলাদা ফন্ট, বোল্ড টেক্সট বা 'শারহ' শব্দের মাধ্যমে পার্থক্য না করে একত্রে মিশিয়ে ফেলেছে। তবে ভুলের দিক থেকে প্রথম সংস্করণটি দ্বিতীয়টির চেয়েও অধিক জঘন্য।
সেগুলোর ওপর পর্যবেক্ষণগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
ক - প্রচুর পরিমাণে মুদ্রণজনিত ভুল, শব্দের বিকৃতি এবং বর্ণগত বিচ্যুতি।
খ - শব্দ ও বাক্য বাদ পড়া, যা বইয়ের ভাষ্যের অর্থকে ব্যাহত করেছে।
গ - এমন সব শব্দ ও বাক্য জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা বিদ্যমান নয়টি পাণ্ডুলিপির কোনোটিতেই নেই।
ঘ - এমন সব শব্দের পরিবর্তন যা আমার দেখা পাণ্ডুলিপিগুলোতে আসেনি, এবং এই ধরনের হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।
ঙ - মুদ্রণের দিক থেকে মূল পাঠ ও ব্যাখ্যার বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য না করা; যা মাকতাবাতুল আজহারিয়া সংস্করণের কিছু স্থানে এবং দারুল ফিকর সংস্করণের পুরো বইতে বিদ্যমান।
নিচের টেবিলে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৮)
النص
… الملاحظة والتصويب
… ط. المكتبة الأزهرية
… ط. دار الفكر
… القسم التحقيقي
(كما جاء في الطبعتين)
ص
… سطر
… ص
… سطر
… ص
… سطر
1
… فالناسخ مزيل للدوام في اعتقادنا لا في نفس الأمر
… في جميع النسخ الخطية " من " بدل من " في "
… 303
… 2
… 237
… 15
… 48
… 6
2
… قول موسى عليه السلام: تمكنوا بالسبت أبداً
… الصواب: تمسكوا
… 304
… 20
… 238
… 23
… 55
… 7
3
… في تأخير البيان عن وقت الحاجة
… الصواب: الخطاب
… 304
… 26
… 238
… 28
… 55
… 13
4
… قرِّبوا إليَّ كل يوم خروفين. . وهم لا يفعلون ذلك
… زيادة ليست في كل النسخ
… 305
… 13
… 239
… 13
… 58
… 2
5
… بصورٍ: إحداها. . ثانيتها. . ثالثتها. . رابعتها. .
… في كل النسخ: ثانيها ثالثها. . رابعها
… 305
… 15
… 239
… 15
… 58
… 5
6
… أن أرثها نَسْله
… الصواب: أورثها
… 305
7
… في صورة المنقول عنه
… الصواب: عنهم
… 307
8
… والبداء هو إحدى الطرق التي استدلت بها اليهود
… الصواب: أحد. .
… 310
… 11، 12
… 243
… 8
… 79
… 4
به. .
9
… وإذا جوَّزنا الإجماع السكوتي وكثير ممن اعتبر
… خطأ نحوي، الصواب: فكثير
… 332
… 10
… 260
… 14
… 148
… 4
10
… ومن الأصحاب من قال: إجماعهم حجة إن كان في عملٍ لا في نقلٍ نقلوه
… إجماعهم مطلقاً حجة وإن كان في عمل عملوه أو في نقل. .
… 334
… 7
… 262
… 5
… 154
… 5
11
… فكان ذلك دليل على. .
… خطأ نحوي، الصواب: دليلاً
… 334
… 14
… 262
… 12
… 155
… 5
12
… والخبر عن خلافاً الضرورة
… خطأ نحوي، الصواب: على خلاف
… 338
… 13
… 265
… 15
… 189
… 7
13
… فجعله كاذباً إذا حدَّث بكل ما سمع
… زيادة " كل " ليست في كل النسخ
… 347
… 16
… 272
… 6
… 192
… 9
মূল পাঠ
… পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন
… আল-মাকতাবাহ আল-আযহারিয়াহ সংস্করণ
… দার আল-ফিকর সংস্করণ
… তাহকীকী বিভাগ
(উভয় সংস্করণে যেমন এসেছে)
পৃষ্ঠা
… লাইন
… পৃষ্ঠা
… লাইন
… পৃষ্ঠা
… লাইন
১
… সুতরাং রহিতকারী আমাদের বিশ্বাসে স্থায়িত্বকে অপসারিতকারী, প্রকৃত বিচারে নয়
… সকল পাণ্ডুলিপিতে "ফি" এর স্থলে "মিন" রয়েছে
… ৩০৩
… ২
… ২৩৭
… ১৫
… ৪৮
… ৬
২
… মুসা আলাইহিস সালামের কথা: তোমরা চিরকাল শনিবারে স্থির থাক
… সঠিক: আঁকড়ে ধর
… ৩০৪
… ২০
… ২৩৮
… ২৩
… ৫৫
… ৭
৩
… প্রয়োজনের সময় থেকে বর্ণনা বিলম্বিত করার বিষয়ে
… সঠিক: সম্বোধন
… ৩০৪
… ২৬
… ২৩৮
… ২৮
… ৫৫
… ১৩
৪
… প্রতিদিন আমার নিকট দুটি ভেড়া উৎসর্গ করো... অথচ তারা তা করে না
… অতিরিক্ত অংশ যা সকল পাণ্ডুলিপিতে নেই
… ৩০৫
… ১৩
… ২৩৯
… ১৩
… ৫৮
… ২
৫
… সুরতসমূহে: প্রথমটি... দ্বিতীয়টি... তৃতীয়টি... চতুর্থটি...
… সকল পাণ্ডুলিপিতে: দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ (পুংলিঙ্গবাচক শব্দ)
… ৩০৫
… ১৫
… ২৩৯
… ১৫
… ৫৮
… ৫
৬
… যাতে আমি তার বংশধরদের এর উত্তরাধিকারী করি
… সঠিক: উত্তরাধিকারী করেছি
… ৩০৫
৭
… যাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে তাঁর সুরতে
… সঠিক: তাঁদের থেকে
… ৩০৭
৮
… আর 'বাদা' (নতুন সিদ্ধান্তের উদয়) হলো সেই মাধ্যমগুলোর একটি যার দ্বারা ইহুদিরা দলিল পেশ করেছে
… সঠিক: একটি
… ৩১০
… ১১, ১২
… ২৪৩
… ৮
… ৭৯
… ৪
এর দ্বারা...
৯
… এবং আমরা যদি মৌন ঐকমত্যকে বৈধ মনে করি এবং যারা বিবেচনা করেছেন তাদের অনেকে
… ব্যাকরণগত ভুল, সঠিক: সুতরাং অনেকে
… ৩৩২
… ১০
… ২৬০
… ১৪
… ১৪৮
… ৪
১০
… আর সহচরদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাদের ঐকমত্য প্রমাণ যদি তা কোনো আমলের ক্ষেত্রে হয়, তারা যা বর্ণনা করেছেন সেই বর্ণনার ক্ষেত্রে নয়
… তাদের ঐকমত্য নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণ, চাই তা তাদের সম্পাদিত কোনো আমলের ক্ষেত্রে হোক বা বর্ণনার ক্ষেত্রে
… ৩৩৪
… ৭
… ২৬২
… ৫
… ১৫৪
… ৫
১১
… ফলে তা ছিল এর প্রমাণ...
… ব্যাকরণগত ভুল, সঠিক: প্রমাণ স্বরূপ
… ৩৩৪
… ১৪
… ২৬২
… ১২
… ১৫৫
… ৫
১২
… এবং সংবাদটি আবশ্যকতার বিপরীতে
… ব্যাকরণগত ভুল, সঠিক: বিপরীতে
… ৩৩৮
… ১৩
… ২৬৫
… ১৫
… ১৮৯
… ৭
১৩
… সুতরাং তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন যখন সে যা শুনেছে তার সবই বর্ণনা করে
… "সব" শব্দের সংযোজনটি সকল পাণ্ডুলিপিতে নেই
… ৩৪৭
… ১৬
… ২৭২
… ৬
… ১৯২
… ৯
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ৯)
14
… كما تقول: زيد فقيه. . . . لوجود الفرق
… زيادة سطرين ليست في كل النسخ
… 351
… 6، 7
… 274
… 20
… 201
… 2
15
… فقبلها مالك وأشهب. . .
… الصواب: فمنعها، كما في أكثر النسخ
… 378
… 15
… 294
… 14
… 285
… 2
16
… والقياس في الشريعة: مساواة الفرع للأصل
… الذي في النسخ: مسوٍّ مساوٍ، تسوية
… 384
… 17
… 299
… 6
… 303
… 9
17
… فإن عُلِم المتأخر نَسَخ المتقدم والأرجح إلى الترجيح
… الصواب: وإلَاّ رُجِعَ
… 421
… 11
… 329
… 19
… 413
… 11
18
… يترجح أحد القياسين على الآخر بالنص على علَّته أو لأنه يعود على أصله بالتخصص
… الصواب: أو
… 425
… 13
… 332
… 28
… 427
… 3
لا يعود. .
19
… فإنه حيٌّ يستحقها
… الصواب: حيٌّ
… 427
… 1
… 334
… 6، 7
… 431
… 3
لا يستحقها
20
… لا يجوز عنده أن يقلد عاميٌّ عامّياً في رؤية الهلال
… الصواب: إلَاّ في رؤية الهلال
… 434
… 5
… 340
… 16
… 452
… 5
21
… فإن شمولها يمنع من التمسك بها
… الصواب: لم يمنع من التمسك بها
… 447
… 11
… 352
… 1
… 500
… 2
22
… انتفاء الطهارة الكبرى بعذر من الابتداء
… الصواب: بَعْد زمن الابتداء
… 451
… 17
… 355
… 12، 13
… 512
… 4
إلى غير ذلك من الأخطاء الفادحة الكثيرة، وليس الغرض هو الحصر، وإنما مجرَّد التمثيل.
فعلى هذا إن الكتاب بطبعاته الحالية لا يُطَمْئِن النفوس إلى الاعتماد على
نصوصه، والاحتجاج بها، والعَزْو إليها. ولعلَّ هذا يضاف إلى دواعي اختيار تحقيق الكتاب.
14
… যেমন আপনি বলেন: জায়েদ একজন ফকিহ। . . . পার্থক্যের উপস্থিতির কারণে
… দুই লাইনের সংযোজন যা সব পাণ্ডুলিপিতে নেই
… 351
… 6, 7
… 274
… 20
… 201
… 2
15
… মালিক ও আশহাব তা গ্রহণ করেছেন। . .
… সঠিক হলো: তিনি তা নিষেধ করেছেন, যেমনটি অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে
… 378
… 15
… 294
… 14
… 285
… 2
16
… আর শরিয়তে কিয়াস হলো: মূলের (আসল) সাথে শাখার (ফর') সমতা বিধান করা
… পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা রয়েছে: সমতাকারী, সমান, সমতা বিধান
… 384
… 17
… 299
… 6
… 303
… 9
17
… যদি পরবর্তী বিষয়টি জানা যায় তবে তা পূর্ববর্তীটিকে রহিত করবে এবং অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়টি অগ্রাধিকারের দিকে যাবে
… সঠিক হলো: অন্যথায় প্রত্যাবর্তিত হবে
… 421
… 11
… 329
… 19
… 413
… 11
18
… দুই কিয়াসের একটি অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার পায় তার ইল্লত (কারণ) এর ওপর নস (সুস্পষ্ট বর্ণনা) থাকার কারণে অথবা এজন্য যে তা বিশেষীকরণের মাধ্যমে তার আসলের (মূল) দিকে ফিরে যায়
… সঠিক হলো: অথবা
… 425
… 13
… 332
… 28
… 427
… 3
ফিরে যায় না। .
19
… কারণ তিনি জীবিত, এর যোগ্য
… সঠিক হলো: জীবিত
… 427
… 1
… 334
… 6, 7
… 431
… 3
এর যোগ্য নন
20
… তাঁর মতে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে চাঁদ দেখার বিষয়ে অন্য একজন সাধারণ মানুষের তাকলিদ করা জায়েজ নয়
… সঠিক হলো: চাঁদ দেখা ব্যতীত
… 434
… 5
… 340
… 16
… 452
… 5
21
… কেননা সেটির ব্যাপকতা তা আঁকড়ে ধরা থেকে বিরত রাখে
… সঠিক হলো: তা আঁকড়ে ধরা থেকে বিরত রাখেনি
… 447
… 11
… 352
… 1
… 500
… 2
22
… ওজরবশত শুরু থেকেই বড় পবিত্রতা (পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকতা) দূর হওয়া
… সঠিক হলো: শুরুর সময়ের পরে
… 451
… 17
… 355
… 12, 13
… 512
… 4
এরূপ আরও অনেক মারাত্মক ভুল রয়েছে, এবং উদ্দেশ্য সবগুলোকে সীমাবদ্ধ করা নয়, বরং তা কেবল উদাহরণস্বরূপ।
সুতরাং, এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, বইটির বর্তমান সংস্করণগুলো এর পাঠ্যের ওপর নির্ভর করতে, তা দ্বারা দলিল পেশ করতে এবং এর দিকে উদ্ধৃতি দেওয়ার বিষয়ে মনকে আশ্বস্ত করে না। সম্ভবত এটিই বইটির তাহকিক (সম্পাদনা) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১০)
خطة البحث في الرسالةللقيام بمهمَّة تحقيق الكتاب جعلتُ الرسالة في قسمين:
(1) القسم الدراسي (2) القسم التحقيقي.
القسم الأول: قسم الدراسة
وقد نظمته في ثلاثة فصولٍ تسبقها مقدمة.
المقدمة: تناولت فيها أهمية أصول الفقه، ودواعي تحقيق الكتاب، والمجهودات السابقة في تحقيقه، وخطة البحث، والمنهج المتبع في القسم الدراسي.
الفصل الأول: عصر المؤلف.
وفيه تمهيد وثلاثة مباحث.
المبحث الأول: الحالة السياسية.
المبحث الثاني: الحالة الاجتماعية.
المبحث الثالث: الحالة العلمية.
وقد عالجت هذا الفصل باختصار؛ لأنه ليس مقصوداً بالذات بل بالتبع، ولأن من تولَّى تحقيق القسم الأول تكفَّل بإشباع الدارسة. وقد بيَّنتُ أثر هذا العصر بأحواله على شخصية القرافي.
الفصل الثاني: حياة المؤلف.
وقد تضمَّن ثمانية مباحث.
المبحث الأول: اسمه وكنيته ولقبه وشهرته وأصله.
المبحث الثاني: مولده ونشأته.
المبحث الثالث: عقيدته ومذهبه الفقهي.
المبحث الرابع: شيوخه.
المبحث الخامس: تلاميذه.
المبحث السادس: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.
المبحث السابع: مصنفاته.
المبحث الثامن: وفاته رحمه الله.
গবেষণাপত্রের গবেষণার পরিকল্পনাগ্রন্থটি সম্পাদনার (তাহকিক) দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আমি গবেষণাপত্রটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:
(১) পর্যালোচনা বিভাগ (২) সম্পাদনা বিভাগ।
প্রথম অংশ: পর্যালোচনা বিভাগ
আমি একে তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি, যার শুরুতে একটি ভূমিকা রয়েছে।
ভূমিকা: এতে আমি উসুলুল ফিকহের গুরুত্ব, গ্রন্থটি সম্পাদনার কারণসমূহ, এটি সম্পাদনায় পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাসমূহ, গবেষণার পরিকল্পনা এবং পর্যালোচনা বিভাগে অনুসৃত পদ্ধতি আলোচনা করেছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ।
এতে একটি উপক্রমণিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা।
আমি এই পরিচ্ছেদটি সংক্ষেপে আলোচনা করেছি; কারণ এটি মূল লক্ষ্য নয় বরং প্রাসঙ্গিক বিষয়, এবং যেহেতু যিনি প্রথম অংশের সম্পাদনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি এ সংক্রান্ত পর্যালোচনার যথেষ্ট হক আদায় করেছেন। আমি কারাফীর ব্যক্তিত্বের ওপর এই যুগের ও এর পরিস্থিতির প্রভাব ব্যাখ্যা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবন।
এতে আটটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, কুনিয়াত, উপাধি, খ্যাতি এবং বংশপরিচয়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর আকীদা ও ফিকহী মাযহাব।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১১)
جاءت دراسة هذا الفصل سريعة في معظم مباحثها، إلَاّ أني توسَّعت قليلاً في مبحث مصنفاته؛ لأنها الآثار الباقية بعد وفاة القرافي، ورجاءً أن يقف عليها من يروم تحقيقها.
الفصل الثالث: دراسة عن كتاب " شرح تنقيح الفصول "
وقد انتظم هذا الفصل في عشرة مباحث، كالتالي:
المبحث الأول: التعريف بمتن الكتاب " تنقيح الفصول ".
المبحث الثاني: عنوان الكتاب ونسبته إلى مؤلفه.
المبحث الثالث: الباعث على تأليف الكتاب وزمن تأليفه.
المبحث الرابع: موضوعات الكتاب ومضامينه ونظام ترتيبه.
المبحث الخامس: موارد الكتاب ومصادره.
المبحث السادس: منهج المؤلف في الكتاب وأسلوبه.
المبحث السابع: قيمة الكتاب العلمية ومحاسنه.
المبحث الثامن: المآخذ على الكتاب.
المبحث التاسع: مقارنة الكتاب بكتب الشروح الأخرى.
المبحث العاشر: وصف نسخ الكتاب ومنهج التحقيق.
وقد توسَّعتُ في هذا الفصل كثيراً، وضربت مزيداً من الأمثلة، لأنه المقصود بالدراسة أصالةً، ورجاءً في إعطاء صورة صادقة حقيقة - قدر المستطاع - عن منهج الكتاب وأسلوبه وموارده ومضامينه وقيمته والمآخذ عليه، وما يتبع هذه الدراسة مما له تعلُّق به.
القسم الثاني: القسم التحقيقي
وقد أوردتُ فيه نصَّ الكتاب محققاً موثقاً، محرَّر الأقوال، مُدعَّم الأمثال، مخرَّج الأحاديث معزوّ الآيات، مع التعريف بالمصطلحات، وتوضيح المشكلات والمشتبهات، وبيان محزِّ الخلاف والخصومات، كلُّ ذلك بحسب الجهد والطاقة، مع اعترافي بالعجز والفاقة.
এই পরিচ্ছেদের আলোচনা এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে, তবে আমি লেখকের রচনাবলির আলোচনায় কিছুটা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি; কারণ এগুলো আল-কারাফির মৃত্যুর পর অবশিষ্ট থাকা তাঁর নিদর্শনসমূহ, এবং এই আশায় যে, যারা এগুলো সম্পাদনা করতে ইচ্ছুক তারা যেন এ সম্পর্কে অবগত হতে পারে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'শারহু তানকিহিল ফুসুল' গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা।
এই পরিচ্ছেদটি নিম্নোক্ত দশটি উপ-পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের মূল পাঠ 'তানকিহুল ফুসুল'-এর পরিচিতি।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের শিরোনাম এবং লেখকের প্রতি এর নিসবত বা সম্বন্ধ।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট এবং এর রচনাকাল।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু, সারসংক্ষেপ এবং এর বিন্যাস পদ্ধতি।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের তথ্যউৎস এবং মউরিদসমূহ।
ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি এবং তাঁর শৈলী।
সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের ইলমি মর্যাদা ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ।
অষ্টম উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের ওপর কৃত সমালোচনা বা পর্যবেক্ষণসমূহ।
নবম উপ-পরিচ্ছেদ: অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে এই গ্রন্থের তুলনা।
দশম উপ-পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং সম্পাদনা পদ্ধতি।
আমি এই পরিচ্ছেদে যথেষ্ট বিস্তৃতি ঘটিয়েছি এবং অধিক পরিমাণে উদাহরণ উপস্থাপন করেছি; কারণ মূলত এটিই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে আমি সাধ্যানুযায়ী গ্রন্থের পদ্ধতি, রচনাশৈলী, উৎস, বিষয়বস্তু, গুরুত্ব, সমালোচনা এবং এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো সম্পর্কে একটি সঠিক ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি।
দ্বিতীয় বিভাগ: সম্পাদনা সংক্রান্ত অংশ
আমি এতে গ্রন্থের মূল পাঠকে সম্পাদিত ও প্রামাণিকভাবে উপস্থাপন করেছি, যেখানে মতভেদপূর্ণ বক্তব্যসমূহকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, উদাহরণ দ্বারা সেগুলোকে সুদৃঢ় করা হয়েছে, হাদিসসমূহের তাখরিজ বা উৎস নির্দেশ করা হয়েছে এবং আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে পরিভাষাসমূহের পরিচিতি প্রদান, জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা এবং মতপার্থক্য ও বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুসমূহ স্পষ্ট করা হয়েছে। এই সবকিছুই আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী সম্পন্ন করেছি, পাশাপাশি নিজের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করছি।
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১২)
منهج البحث في الرسالةأرجأتُ الكلام عن منهج تحقيق الكتاب إلى المبحث العاشر من الفصل الثالث (1) ؛ وذلك لأني رأيت بأن موقعه اللائق به هناك لأمرين:
الأول: بعد توصيف ما حُزْتُه من النسخ الخطية مع عرض نماذج منها، صار من المناسب إتباع ذلك بمنهج التحقيق، والقواعد المنهجية المتبعة؛ لشدَّة اتصال المنهج بوصف النسخ.
الثاني: ليكون آخر ما يعلق بذهن القاريء من موضوعات الدراسة منهج التحقيق وهو أول ما يدخل به مباشرة عند قراءة نص الكتاب، وبهذا يكون مستصحباً هذا المنهج ومستحضراً له في أثناء تقليب صفحات الكتاب.
أما المنهج الذي اتبعته في القسم الدراسي فإني:
- عزوت الآيات إلى سورها.
- تركتُ تخريج الأحاديث إذا كانت مذكورةً في القسم التحقيقي، وخرَّجت
ما لم يرد فيه.
- ترجمت للأعلام الذين جاء ذكرهم في القسم الدراسي، مع الإحالة على موطن الترجمة لمن تُرجم له في القسم التحقيقي.
- شرحت الألفاظ الغريبة التي تبدو كذلك من وجهة نظري.
- عرفت بالمصطلحات والمدن والطوائف التي رأيت الحاجة داعيةً إلى ذلك.
- صنعت فهارس للقسم الدراسي.
هذا، ولقد حاولت في التحقيق الاقتصار على لفظٍ موجز ومعنىً مكتنز، حتى أجعل المكتوب بمقياس المطلوب تمشياً مع المرغوب، لكنَّه أملٌ حال دونه سوء التقدير وسقم التفكير. وأحبُّ أن أعلن بصوتٍ يبلغ الغاية، بأنني لم ولن أبلغ في تحقيق الكتاب النهاية، بل إذا حسَّنتُ الظنَّ قلتُ: خطوةٌ في البداية، فلا أشكُّ أن العمل في هذه الرسالة في حاجةٍ إلى التنقيح والتهذيب، والتصحيح والتشذيب، وهكذا شأن المرء فيما يكتبه، لا يكتب شيئاً في يومه إلا ويرى فيه خللاً في غده، وهذا من أعظم العبر على استيلاء النقص على جملة البشر.
--------------------------------------------
গবেষণাপত্রের গবেষণা পদ্ধতিআমি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার পদ্ধতি সংক্রান্ত আলোচনাটি তৃতীয় অধ্যায়ের দশম পরিচ্ছেদ (১) পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছি; কারণ আমি মনে করেছি যে দুটি কারণে সেখানেই এর উপযুক্ত স্থান:
প্রথমত: সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ ও সেগুলোর নমুনা প্রদর্শনের পর, সেটির ধারাবাহিকতায় সম্পাদনা পদ্ধতি এবং অনুসৃত পদ্ধতিগত নীতিমালা বর্ণনা করা যথোপযুক্ত হয়েছে; কেননা সম্পাদনা পদ্ধতির সাথে পাণ্ডুলিপির বিবরণের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: যাতে গবেষণার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্য থেকে সম্পাদনা পদ্ধতিই পাঠকের স্মৃতিতে সর্বশেষ গেঁথে থাকে এবং এটিই হয় গ্রন্থের মূল পাঠ পড়ার সময় তার সরাসরি প্রবেশের প্রথম মাধ্যম। এর ফলে গ্রন্থের পৃষ্ঠাগুলো উল্টানোর সময় তিনি এই পদ্ধতিটি সাথে রাখতে পারবেন এবং এটি তার স্মরণে থাকবে।
গবেষণা অংশে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা হলো:
- আয়াতগুলোকে তাদের সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্পৃক্ত করেছি।
- হাদিসগুলো যদি সম্পাদনা অংশে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়ে থাকে তবে সেগুলোর উৎস বর্ণনা (তাহরিজ) বর্জন করেছি, আর যা সেখানে আসেনি তা এখানে বর্ণনা করেছি।
- গবেষণা অংশে উল্লেখিত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করেছি এবং যাদের জীবনী সম্পাদনা অংশে আলোচিত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সেই স্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
- আমার দৃষ্টিতে যে শব্দগুলো দুর্বোধ্য মনে হয়েছে সেগুলো ব্যাখ্যা করেছি।
- যেসকল পরিভাষা, শহর ও সম্প্রদায়ের পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন মনে করেছি, সেগুলোর পরিচয় তুলে ধরেছি।
- গবেষণা অংশের জন্য নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) তৈরি করেছি।
এই হলো বিষয়। আমি সম্পাদনার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত শব্দ ও সারগর্ভ অর্থ চয়ন করার চেষ্টা করেছি, যাতে লিখিত বিষয়টি কাঙ্ক্ষিত মান অনুযায়ী হয়; কিন্তু ভুল অনুমান ও চিন্তার দুর্বলতার কারণে সেই আশা পূর্ণ হওয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাই যে, আমি এই গ্রন্থ সম্পাদনায় চূড়ান্ত পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারিনি এবং পৌঁছাবও না; বরং আমি যদি সুধারণা পোষণ করি তবে বলতে পারি: এটি সূচনার একটি পদক্ষেপ মাত্র। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, এই গবেষণাপত্রটির কাজ আরও পরিমার্জন, সংস্কার, সংশোধন ও কাটছাঁটের মুখাপেক্ষী। মানুষের রচনার বৈশিষ্ট্যই এমন যে, সে আজ যা লেখে আগামীকালই তাতে ত্রুটি খুঁজে পায়; আর এটিই সমগ্র মানবজাতির ওপর অসম্পূর্ণতার আধিপত্যের অন্যতম বড় নিদর্শন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإذا كان هذا شأن المرء مع ما يكتبه وشأنهُ التقصير، فما بال ناقده والناقدُ بصير، فليتلطَّف الناظرُ فيه مع غضِّ النظر، وليُوسِع العُذْرَ إن اللبيب من عَذَر. ولستُ أُزْجيه للناس بشرط البراءة من العيب، فإن الإنسان محلُّ النقصان بلا ريب، ويأبى الله العصمة لكتابٍ غير كتابه، والمنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه.
سامحْ أخاك إذا خَلَطْ
… منه الإِصَابةَ بالغَلَطْ
وتَجَافَ عن تَعْنِيفِهِ
… إنْ زاغ يوماً أو قَسَطْ
واعْلَمْ بأنَّك إن طَلَبْـ
… ـتَ مُهذَّباً رُمْتَ الشَّطَطْ
ولو انْتَقَدْتَ بني الزَّمَا
… نِ وَجَدْتَ أكْثَرَهُمْ سَقَط
مَنْ ذَا الذي ما سَاءَ قَطْ
… ومَنْ له الحُسْنَى فَقَطْ
غيرَ نبيِّنا الذي
… عليه جبريلُ هَبَط (1)
وفي نهاية المطاف أودُّ البَوْح بكلماتٍ طالما اكتظَّ بها صدري وفاءً وعرفاناً:
? أولى هذه الكلمات دعوات ضارعات إلى ربِّ البريات أن يجعل عملي هذا امتداداً لغراس والديَّ اللَّذَين ما فَتِئَا صابرَيْن داعِيَيْن الله أن يكتب التوفيق للباحث وبحثه.
? ثاني هذه الكلمات دعوات وفيَّات من عالم الأسرار والخفيَّات أن يوفِّق فضيلة شيخي وأستاذي الدكتور / حمزة الفعر المشرف على الرسالة إلى كلِّ ما يحبه الله تعالى ويرضاه، وأن يبارك له في أعماله وأحواله، وأولاده وأمواله، ومآبه ومآله، إنه تعالى قريب مجيب الدعاء، وإن أنس فلن أنس إجزاء شكري وتقديري لفضيلة شيخي وأستاذي الدكتور / مختار بابا آدو الذي تولَّى الإشراف على هذه الرسالة في بداياتها ثم اعتذر لظروفه الصحية أسأل الله تعالى أن يعافيه ويشافيه وأن يمتعه بالصحة والسلامة ويحسن لنا وله الختام. إنه تعالى ولي ذلك والقادر عليه.
? ثم دعوات صالحات مخلصات من إله الجمادات والكائنات لكل من قاسمني معاناة هذا البحث، ولكلِّ من كان له عليَّ فضل ومساعدة، فكم كانت لهم من فضائلَ بالغةٍ وأيادٍ سابغةٍ، وهم خَلْقٌ كثير، لا يضرُّهم أن جهلتموهم، فالله يعلمهم، والله يرحمهم، ويزجل لهم العطايا والهبات، فلهم منه عز وجل طوبى وحسنُ مآب.
--------------------------------------------
অতএব কোনো ব্যক্তি যা লিখে তার অবস্থা যদি ত্রুটিপূর্ণই হয়, তবে সমালোচকের অবস্থা তো আরো বেশি তীক্ষ্ণ। তাই পাঠক যেন এতে অনুগ্রহের দৃষ্টি দেন এবং ভুলত্রুটি এড়িয়ে যান; আর ওজরের পরিধি প্রশস্ত করেন, কারণ বুদ্ধিমান ব্যক্তিই ওজর কবুল করে। আমি এটি মানুষের কাছে ত্রুটিমুক্ত হওয়ার শর্তে পেশ করছি না, কারণ মানুষ নিঃসন্দেহে অপূর্ণতার আধার। আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের জন্য অভ্রান্ততা বজায় রাখতে অস্বীকার করেছেন। আর ইনসাফকারী ব্যক্তি তো তিনিই, যিনি কারো প্রচুর শুদ্ধের মাঝে সামান্য ভুল ক্ষমা করে দেন।
তোমার ভাইকে ক্ষমা করো যদি সে সঠিকের সাথে
… ভুলের সংমিশ্রণ ঘটায়
তাকে তিরস্কার করা থেকে বিরত থাকো
… যদি কোনোদিন সে বিচ্যুত হয় বা অন্যায় করে ফেলে
জেনে রেখো, তুমি যদি এমন কাউকে খুঁজো যে পুরোপুরি মার্জিত
… তবে তুমি দুঃসাধ্য কিছু কামনা করছ
আর যদি তুমি এই যমানার মানুষের সমালোচনা করো
… তবে তাদের অধিকাংশকেই ত্রুটিপূর্ণ পাবে
এমন কে আছে যে কখনো মন্দ কিছু করেনি
… আর কার কেবলই কল্যাণ রয়েছে?
আমাদের নবী ব্যতীত, যাঁর কাছে
… জিবরাঈল অবতীর্ণ হতেন (১)
পরিশেষে আমি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির তাগিদে এমন কিছু কথা ব্যক্ত করতে চাই যা দীর্ঘকাল ধরে আমার বক্ষকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছে:
? প্রথমত, সৃষ্টিকুলের রবের কাছে বিনীত প্রার্থনা যেন তিনি আমার এই কাজটিকে আমার পিতামাতার রোপিত বৃক্ষের সম্প্রসারণ হিসেবে কবুল করেন, যারা সর্বদা ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং এই গবেষক ও তার গবেষণার সাফল্যের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
? দ্বিতীয়ত, গোপন ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতার কাছে ঐকান্তিক দোয়া যেন তিনি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ ও উস্তাদ ডক্টর হামযা আল-ফাউর—যিনি এই গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধান করেছেন—তাকে সেই সব কাজে তাওফিক দান করেন যা আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন। আল্লাহ তাঁর কাজ, অবস্থা, সন্তান-সন্ততি, সম্পদ এবং তাঁর গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনে বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী এবং দোয়া কবুলকারী। আর আমি যদি অন্য কারো কথা ভুলেও যাই, তবে আমার পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ ও উস্তাদ ডক্টর মুখতার বাবা আদো-র প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও সমাদর প্রকাশ করতে ভুলব না, যিনি এই গবেষণার শুরুতে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে আরোগ্য ও সুস্থতা দান করেন, তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিয়ে ধন্য করেন এবং আমাদের ও তাঁর শেষ পরিণাম সুন্দর করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
? এরপর জড়পদার্থ ও সমস্ত প্রাণীর ইলাহের নিকট সেই সব মানুষের জন্য একনিষ্ঠ নেক দোয়া যারা এই গবেষণার কষ্ট ও পরিশ্রমে আমার সাথে শরিক ছিলেন এবং যাদের অবদান ও সাহায্য আমার ওপর রয়েছে। তাদের কতই না মহান অনুগ্রহ এবং অবারিত দান রয়েছে! তারা এক বিশাল জনগোষ্ঠী, আপনারা তাদের না চিনলে তাদের কোনো ক্ষতি নেই, কারণ আল্লাহ তাদের জানেন এবং আল্লাহ তাদের ওপর রহম করেন। তিনি যেন তাদের অঢেল দান ও উপহার প্রদান করেন। তাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে কল্যাণ এবং উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ربِّ هبْ لي حُكْماً وألحقني بالصالحين، واجعلْ لي لسان صِدْقٍ في الآخرين، واجعلني من ورثة جنَّةِ النعيم. ربِّ أوزعني أن أشكرَ نعمتَك التي أنعمت عليَّ وعلى والديَّ وأن أعمل صالحاً ترضاه وأدخلني برحمتك في عبادك الصالحين.
وآخر دعوانا أن الحمد لله ربِّ العالمين، وصلَّى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
হে আমার প্রতিপালক, আমাকে হিকমত দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর পরবর্তীদের মাঝে আমার জন্য সুখ্যাতি বজায় রাখুন। আর আমাকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আমার প্রতিপালক, আমাকে সামর্থ্য দিন যেন আমি আপনার সেই অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন এবং আমি যেন এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনার রহমতে আমাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
আর আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأولعصر المؤلفوفيه تمهيد وثلاثة مباحث:
প্রথম পরিচ্ছেদলেখকের যুগএতে একটি উপক্রমণিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৬)
التمهيد:مما لا يسع أحداً إنكارهُ الأثر الكبير للوضع السياسي والفكري والاجتماعي ونحو ذلك على حياة الأفراد العلمية، فالإنسان مدنيٌّ بطبعه (1) ، يتفاعل مع محيطه، فيتأثر به، ويؤثر فيه.
وإن ما يطرأ على الساحة السياسية من أحداث لابد أن يظهر أثره في سير علماء العصر، كما أن التغيرات الفكرية، والحياة الاجتماعية لا يَقِلُّ تأثيرهما على هذه الشخصيات عن الحياة السياسية.
إن البحث في شخصية الإمام شهاب الدين القرافي يستدعي دراسة أحوال عصره وبيئته التي عاش فيها، لذا كان من المناسب إلقاء بعض الضوء على عصره، ولو بعجالة سريعة، بعيدة عن استطرادات المؤرِّخين التي ليست موضعها هنا.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা:রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক এবং এ জাতীয় পরিস্থিতির ব্যক্তিদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ওপর যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। কারণ মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক (১), সে তার পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে, যার ফলে সে পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং পরিবেশের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব ঘটনাপ্রবাহ পরিলক্ষিত হয়, সমকালীন আলিমগণের জীবনপরিক্রমায় তার প্রভাব প্রকাশ পাওয়া অনিবার্য। তদ্রূপ বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তন এবং সামাজিক জীবনের প্রভাবও এসব ব্যক্তিত্বের ওপর রাজনৈতিক জীবনের প্রভাবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
ইমাম শিহাবুদ্দিন আল-কারাফির ব্যক্তিত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁর সমকালীন অবস্থা এবং তিনি যে পরিবেশে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তা পর্যালোচনা করা আবশ্যক। তাই ঐতিহাসিকদের দীর্ঘ অপ্রাসঙ্গিক বর্ণনা এড়িয়ে—যা এখানে অপ্রয়োজনীয়—সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর যুগের ওপর আলোকপাত করা সমীচীন মনে করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأولالحالة السياسية…عاش القرافي المولود سنة 626هـ باكورة حياته - بما يزيد عن العشرين عاماً - في ظل الدولة الأيوبية (1) (564 - 648هـ) ، ثم عاش بقية حياته في عهد الدولة المملوكية (2) .
وقد اكتنف الدولتين أحداثٌ متلاحقة، وحروبٌ متعاقبة، واضطراباتٌ متفرقة. لكن يمكن أن يتركَّز الحديث عن أهم ما سجَّله التاريخ في هذه الحقبة الزمنية وفق المحاور التالية:
1 - الحروب الصليبية الشرسة:لقد خاض سلاطين الأيوبيين والمماليك جهاداً باسلاً ضد الإفْرَنْج (3) الذين كانوا يدأبون ليل نهار على غزو بلاد المسلمين، ومحو آثار الإسلام، ونشر عقيدتهم الصليبية.
ولقد امتدتْ جذور هذه الحروب الصليبية قبل ولادة القرافي بزمن كبير، فقد بدأت حملتهم الأولى عام 492هـ، حيث توجهوا إلى بيت المقدس، واستولوا عليه، وقتلوا ما يزيد عن ستين ألف مسلم (4) . واستمرت الحروب سِجَالاً بينهم وبين المسلمين، وقصدوا الديار المصرية، فتمكنوا منها عام 564هـ (5) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদরাজনৈতিক পরিস্থিতি…৬২৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণকারী আল-কারাফি তাঁর জীবনের শুরুর দিকের বিশ বছরেরও বেশি সময় আইয়ুবী সালতানাতের (১) (৫৬৪ - ৬৪৮ হি.) ছায়াতলে অতিবাহিত করেন, এরপর তিনি তাঁর জীবনের বাকি অংশ মামলুক সালতানাতের (২) আমলে কাটান।
এই দুই রাষ্ট্র একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ, ক্রমাগত যুদ্ধ এবং বিভিন্ন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। তবে এই সময়ের ইতিহাসে নথিবদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নোক্ত অক্ষগুলোর আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করা যেতে পারে:
১ - ভয়াবহ ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ:আইয়ুবী ও মামলুক সুলতানগণ ফ্রাঙ্কদের (৩) বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ জিহাদ পরিচালনা করেছিলেন, যারা দিনরাত মুসলিম দেশগুলো আক্রমণ করতে, ইসলামের চিহ্ন মুছে দিতে এবং তাদের ক্রুসেডীয় আকিদা প্রচার করতে সচেষ্ট ছিল।
এই ক্রুসেড যুদ্ধের শিকড় আল-কারাফির জন্মের অনেক আগে থেকেই বিস্তৃত ছিল। তাদের প্রথম অভিযান শুরু হয়েছিল ৪৯২ হিজরিতে, যখন তারা বাইতুল মাকদিসের দিকে অগ্রসর হয়ে তা দখল করে নেয় এবং ষাট হাজারেরও বেশি মুসলিমকে হত্যা করে (৪)। তাদের এবং মুসলমানদের মধ্যে যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের পালা চলতেই থাকে। এক পর্যায়ে তারা মিসর ভূখণ্ডের দিকে লক্ষ্য স্থির করে এবং ৫৬৪ হিজরিতে সেখানে আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم هيأ الله للأمة قائداً مظفَّراً هو " صلاح الدين الأيوبي " (1) الذي دحرهم، وتتبَّع فُلُولهم، ودكَّ جحافلهم، وحرَّرَ بيت المقدس من نَيْر احتلالهم سنة 583هـ (2) . وبعد صراعات داخلية بين أبناء صلاح الدين وإخوته حول الحكم ونحوه، انتهز الصليبيون هذه الفرصة فانقضُّوا مرة أخرى على بلاد المسلمين (3) .
وفي عام 646هـ جهَّز الصليبيون حملة عظيمة كان القصد منها الاستيلاء على القاهرة، فلما علم بها الملك الصالح نجم الدين أيوب (4) - وهو على فراش الموت - أمر بقتالهم. واستولى الصليبيون على دِمْياط (5) ، ومات الملك الصالح، فأخفت زوجته خبر وفاته لئلا يَفُتَّ ذلك في عَضُد الجنود. ثم تولى من بعده ابنه توران شاه (6) سنة 647هـ، فقاتل الإفرنج حتى هزمهم هزيمة ساحقة، غير أنه قُتِل سنة 648هـ، وبموته انْقَضَتْ دولة بني أيوب في مصر (7) .
ولما تسلم المماليك الحكم في مصر والشام كان ما يزال احتلال الصليبيين قائماً لبعض ديار الإسلام، فأَنْهك قواهم السلطان الظاهر بِيْبَرْس (8) الذي حكم من سنة
--------------------------------------------
অতঃপর আল্লাহ এই উম্মতের জন্য একজন বিজয়ী সেনাপতিকে প্রস্তুত করলেন, তিনি হলেন "সালাহউদ্দীন আইয়ুবী" (১), যিনি তাদেরকে পরাজিত করেন, তাদের অবশিষ্টাংশকে তাড়িয়ে দেন, তাদের বাহিনীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন এবং ৫৮৩ হিজরি সালে তাদের দখলের জোয়াল থেকে বায়তুল মাকদিসকে মুক্ত করেন (২)। সালাহউদ্দীনের সন্তান ও ভাইদের মধ্যে শাসনক্ষমতা ও এই জাতীয় বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পর ক্রুসেডাররা এই সুযোগ গ্রহণ করে এবং পুনরায় মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে (৩)।
আর ৬৪৬ হিজরি সালে ক্রুসেডাররা একটি বিশাল অভিযানের প্রস্তুতি নেয় যার উদ্দেশ্য ছিল কায়রো দখল করা। যখন আল-মালিকুস সালিহ নাজমুদ্দীন আইয়ুব (৪) এই সংবাদ পেলেন—ততক্ষণে তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন—তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নির্দেশ দেন। ক্রুসেডাররা দিময়াত (৫) দখল করে নেয় এবং আল-মালিকুস সালিহ মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর মৃত্যুর সংবাদ গোপন রাখেন যাতে তা সৈন্যদের মনোবল ভেঙে না দেয়। অতঃপর ৬৪৭ হিজরি সালে তাঁর পুত্র তুরান শাহ (৬) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ফ্রাঙ্কদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। তবে ৬৪৮ হিজরি সালে তিনি নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই মিশরে আইয়ুবী শাসনের অবসান ঘটে (৭)।
যখন মামলুকরা মিসর ও সিরিয়ার শাসনভার গ্রহণ করে, তখনও ইসলামের কিছু ভূখণ্ডে ক্রুসেডারদের দখলদারিত্ব বজায় ছিল। ফলে সুলতান যাহির বিবার্স (৮) তাদের শক্তিকে দুর্বল করে দেন, যিনি শাসন করেছিলেন... থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
658هـ إلى 676هـ، ثم جاء من بعده السلطان المنصور قَلَاوُوْن (1) الذي حكم ما بين (678 - 689هـ) ، وجاهد في أثناء حكمه، وانتزع ما بأيدي الصليبيين من الحصون والمدن (2) .
2- الزحف المغولي الهمجي:في مستهل القرن السابع الهجري أغار التتار (3) الهمجيين على الأقاليم الإسلامية ابتداءً من المشرق الإسلامي حتى الشام، فأحاطوا بالمدن، الواحدة تلو الأخرى، مثل: بخارى، وخرسان، وأذربيجان، وبعض مدن فارس سنة 618هـ، فعمَّت المصائب، وعظم القتل والتخريب والسلب والنهب، وحرَّقوا المساجد والمدارس والمنازل (4) .
وفي عام 656هـ هاجم هولاكو التتري (5) بجيشه الجرَّار مدينة بغداد، واستولى عليها، وقَتَل الخليفة العباسي آنذاك المستعصم بالله (6) وهو آخر خلفاء بني العباس، وبلغ عدد القتلى في هذه الواقعة المفجعة مليوناً وثمانمائة ألف (7) .
وزحف هولاكو إلى الشام، فأسقط مدنها، وعاث فيها فساداً، وانحاشَتْ عساكر المسلمين إلى مصر هرباً، ثم استجمعوا قواهم، وانتظمت أحوالهم، وخرجوا بقيادة الملك المظفر سيف الدين قُطْز (8) ، وهزم التتار هزيمة نكراء عام 658هـ، وكانت أول هزيمة مُنِيَ بها التتار منذ خروجهم من بلادهم، وتفرقوا بعد ذلك في الأرجاء (9) .
--------------------------------------------
৬৫৫৮ হিজরি থেকে ৬৭৬ হিজরি পর্যন্ত, এরপর তাঁর পরে আসলেন সুলতান মনসুর কালাউন (১), যিনি (৬৭৮ - ৬৮৯ হিজরি) পর্যন্ত শাসন করেন এবং তাঁর শাসনকালে জিহাদ করেন, আর ক্রুসেডারদের হাত থেকে দুর্গ ও শহরগুলো পুনরুদ্ধার করেন (২)।
২- বর্বরোচিত মঙ্গোলীয় অভিযান:সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শুরুতে বর্বর তাতাররা (৩) ইসলামী প্রাচ্য থেকে শুরু করে শাম পর্যন্ত ইসলামী অঞ্চলগুলোতে আক্রমণ চালায়। তারা একে একে বিভিন্ন শহর ঘেরাও করে, যেমন: ৬১৮ হিজরিতে বুখারা, খোরাসান, আজারবাইজান এবং পারস্যের কিছু শহর। ফলে বিপদ-আপদ ছড়িয়ে পড়ে, হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও ছিনতাই চরম আকার ধারণ করে এবং তারা মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় (৪)।
আর ৬৫৬ হিজরিতে তাতারী হালাকু (৫) তার বিশাল বাহিনী নিয়ে বাগদাদ শহর আক্রমণ করে এবং তা দখল করে নেয়। সে তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা মুস্তাসিম বিল্লাহকে (৬) হত্যা করে, যিনি ছিলেন বনু আব্বাসের শেষ খলিফা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আঠারো লক্ষে পৌঁছায় (৭)।
হালাকু শামের দিকে অগ্রসর হয় এবং সেখানকার শহরগুলোর পতন ঘটায় ও সেখানে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। মুসলিম সেনারা পলায়ন করে মিশরের দিকে সরে যায়। অতঃপর তারা তাদের শক্তি সঞ্চয় করে এবং তাদের অবস্থার সংস্কার করে। তারা সুলতান মালিকুল মুজাফফর সাইফউদ্দীন কুতুজের (৮) নেতৃত্বে বের হয় এবং ৬৫৮ হিজরিতে তাতারদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। এটি ছিল তাতারদের নিজেদের দেশ থেকে বের হওয়ার পর প্রথম পরাজয়। এরপর তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২০)
3- الاضطراب السياسي في المغرب والأندلس:بعد انهيار صَرْح الخلافة الأموية في الأندلس، قامت دولة الطوائف المفككة، هذا الأمر مهَّد للعدو المتربص بافتراس قلاع مدن هذه الدولة، وسقطت قرطبة سنة 636هـ (1) ، وتلتها المدن الأخرى، ولم يبق سوى غرناطة وأعمالها إلى منتصف القرن السابع الهجري.
أما بلاد المغرب فقد آل أمر الحكم فيها إلى زعماء دولة الموحِّدين (2)
وفي أوائل القرن السابع استولى أبوزكريا الحَفْصي (3) على تونس، وأنشأ دولته الحفصيَّة، وظلت دولة الموحدين في باقي المغرب والأندلس. ولمَّا اتسع نطاق دولته وافقه ملوك شرق الأندلس وغربيّها بالبيعة (4) . وبعد وفاته آل الأمر لبنيه من بعده.
أثر الحالة السياسية على حياة القرافي:يمكن تلمُّس تأثر القرافي بأحداث عصره فيما يلى:
(1) عايش القرافي أطماع الصليبيين في بلاد المسلمين، فكان لابد أن يتصدى المسلمون لهم بالسيف والسنان، وبالقلم والبنان. ولم تسجل لنا كتب التاريخ مشاركةً ميدانية للقرافي في الحروب والمعارك، بَيْد أنه أبلى بلاءً حسناً في تزييف عقائد اليهود والنصارى من خلال كتابه النفيس " الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة " (5) فلقد فَنَّد في هذا الكتاب شبهات اليهود والنصارى وأبطل معتقداتهم.
كما يمكننا أن نلمح من خلال كتابه دعوة المسلمين للجهاد والقتال، لما تفرضه طبيعة المرحلة التي كان يعيشها، فهو يخصم النصارى بأنهم تمرَّدوا على دعوة الإنجيل
--------------------------------------------
৩- মাগরেব ও আন্দালুসে রাজনৈতিক অস্থিরতা:আন্দালুসে উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর সেখানে বিচ্ছিন্ন 'তায়েফা' রাষ্ট্রসমূহের উদ্ভব ঘটে। এই পরিস্থিতি ওত পেতে থাকা শত্রুর জন্য এই রাষ্ট্রের শহরগুলোর দুর্গগুলো গ্রাস করার পথ সুগম করে দেয়। ৬৩৬ হিজরিতে কর্ডোভার পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শহরগুলোরও পতন হয়। সপ্তম হিজরি শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কেবল গ্রানাডা ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোই অবশিষ্ট ছিল।
আর মাগরেব ভূখণ্ডের শাসনের কর্তৃত্ব মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের নেতাদের হাতে চলে যায়।
সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে আবু যাকারিয়া আল-হাফসি তিউনিসিয়া দখল করেন এবং হাফসি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। মাগরেবের অবশিষ্ট অংশ ও আন্দালুসে মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্র বহাল ছিল। যখন তাঁর রাষ্ট্রের পরিধি বিস্তৃত হলো, তখন পূর্ব ও পশ্চিম আন্দালুসের রাজারা আনুগত্যের শপথের (বাইয়াত) মাধ্যমে তাঁর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শাসনভার তাঁর সন্তানদের হাতে চলে যায়।
কারাফির জীবনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব:কারাফির ওপর সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রভাব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়:
(১) কারাফি মুসলিম ভূখণ্ডে ক্রুসেডারদের লালসা ও আগ্রাসন প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ফলে মুসলমানদের জন্য তলোয়ার ও বর্শার পাশাপাশি কলম ও লেখনীর মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে যুদ্ধের ময়দানে কারাফির সশরীরে অংশগ্রহণের কোনো তথ্য সংরক্ষিত নেই, তবে তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "আল-আজউবাতুল ফাখিরা আনিল আসইলাতিল ফাজিরা" (পাপাচারী প্রশ্নাবলির চমৎকার উত্তর)-এর মাধ্যমে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মবিশ্বাসের অসারতা প্রমাণের ক্ষেত্রে চমৎকার ভূমিকা পালন করেন। এই গ্রন্থে তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সংশয়গুলো খণ্ডন করেছেন এবং তাদের বিশ্বাসগুলোকে অসার সাব্যস্ত করেছেন।
তেমনিভাবে আমরা তাঁর গ্রন্থের মাধ্যমে মুসলমানদের জিহাদ ও যুদ্ধের প্রতি আহ্বান লক্ষ্য করতে পারি, যা তাঁর সমসাময়িক পরিস্থিতির দাবি ছিল। তিনি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে এই মর্মে যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, তারা ইঞ্জিলের দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২১)
الناطق بالمسالمة والمذلَّة، ومحبة الأعداء، ومباركة اللَاّعِنِين، والصلاة على من يطرد أتباع المسيح (1) ، ثم هم بعد هذا يستبيحون القتل والتخريب ومحرمات الإنجيل، فهم أشد الناس كفراً بالله وملائكته وأحكامه. بينما نحن المسلمين أُمرنا بالقتال والجهاد، وجعله تعالى من أعظم القربات، وأسباب السعادات (2) ، فما بالنا لا نقاتل أعداء الله أياً كان جنسهم، وقتالهم عندنا واجب مقدَّس بنص الآيات المحكمات من كتاب الله تعالى.
(2) إن سقوط الخلافة العباسية في بغداد، وإقامة خلافة عباسية جديدة (صوريّة) في القاهرة، هذا الأمر جعل مصر محطَّ أنظار العلماء، وبؤرة استقطابٍ لهم، ولا شك بأن هذا له الأثر الكبير على حياة القرافي العلمية. زِدْ على ذلك أن الشيخين البارزين والعلمين الشهيرين: العز بن عبد السلام (3) ، وابن الحاجب (4) قد تركا الشام إلى مصر عام 639هـ، وذلك بسبب إنكارهما الشديد على حاكم دمشق تعاونَهُ مع الإفرنج وبذْلَه لهم بعض ديار المسلمين (5) .
وما خروجهما إلا صَدَىً للحالة السياسية السائدة في ذلك العصر، وقد استفاد القرافي من علميهما أيما استفادة.
--------------------------------------------
যা শান্তি ও বিনয়, শত্রুদের প্রতি ভালোবাসা, অভিশাপ প্রদানকারীদের জন্য শুভকামনা এবং যারা মাসীহের অনুসারীদের বহিষ্কার করে তাদের জন্য দোয়ার কথা বলে (১), অথচ এরপর তারাই হত্যা, ধ্বংসলীলা এবং ইঞ্জিলের নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে নেয়। ফলে তারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং তাঁর বিধানাবলির প্রতি মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ঘোরতর অবিশ্বাসী। অপরদিকে আমরা মুসলিমরা লড়াই ও জিহাদের জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আল্লাহ তাআলা একে মহানৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম ও সৌভাগ্যের কারণ (২) সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং আমাদের কী হলো যে আমরা আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি না, তারা যে জাতিরই হোক না কেন? মহান আল্লাহর কিতাবের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের নিকট একটি পবিত্র দায়িত্ব।
(২) বাগদাদে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন এবং কায়রোতে একটি নতুন (প্রতীকী) আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা—এই বিষয়টি মিসরকে আলিমদের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু এবং তাঁদের আকর্ষণের প্রধান স্থলে পরিণত করেছিল। নিঃসন্দেহে আল-কারাফির জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে এই যে, দুই বিশিষ্ট শাইখ ও সুপ্রসিদ্ধ মনীষী: আল-ইযয বিন আব্দুস সালাম (৩) এবং ইবনুল হাজিব (৪) ৬৩৯ হিজরি সনে শাম ত্যাগ করে মিসরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এর কারণ ছিল দামেস্কের শাসকের বিরুদ্ধে তাঁদের তীব্র প্রতিবাদ, যেহেতু সে ক্রুসেডারদের সাথে সহযোগিতা করেছিল এবং মুসলিমদের কিছু ভূখণ্ড তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল (৫)।
আর তাঁদের এই প্রস্থান ছিল সেই যুগে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই একটি প্রতিধ্বনি, এবং আল-কারাফি তাঁদের জ্ঞান থেকে প্রভূত উপকার লাভ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثانيالحالة الاجتماعيةعاش القرافي في بيئةٍ يتألف سكانها من قوميات متبانية، وأجناس متفاوته، فيهم:
العرب والأكراد والأتراك والرومان والأقباط وغيرهم، كما ضمَّ المجتمع بين جانبيه طوائف ومللاً شتى، من سنة وشيعة ونصارى ويهود وصوفية
… إلخ.
وكان لدين الإسلام فضلٌ كبير في إذابة هذه العرقيات، وصهرها في بوتقة الأمة الإسلامية الواحدة.
وكانت الحياة الاجتماعية تتغير أنماطها تبعاً لنهج الحكم وسياسة الحاكم، هذا الاختلاف انعكس أثره في حياة الناس.
-
الحالة الاجتماعية في حياة الملك الصالح نجم الدين الأيوبي (637 - 647هـ)
كان العدل فيها مبسوطاً بين الرعية، وقد عين نُوَّاباً بدار العدل؛ لإزالة المظالم، والنظر في شئون الرعية، وكان يعمل ليلاً نهاراً على درء الخطر الخارجي؛ لتبقى أوضاع بلاده مستقرة آمنة (1) .
وكان قد اشترى عدداً كبيراً من الأتراك (المماليك) ، وصاروا معظم عسكره، ورجحهم على الأكراد، وأمَّر منهم، وجعلهم بطانته المحيطين به (2) . وكانت توجد في عهده مفاسد ومنكرات أنكرها العز بن عبد السلام عليه مع كونه مهاباً جباراً لا يستطيع أحد أن يتكلم بين يديه (3) .
-
الحالة الاجتماعية في حياة السلطان الظاهر بيبرس المملوكي (658 - 676هـ)
كان الرجل في غاية الاهتمام بأمر المسلمين، له مقصد صالح في نصرة الإسلام ومحبة العلماء. فتح فتوحات كثيرة كانت تحت أيدي الإفرنج، وبنى المساجد والمدارس ودور
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসামাজিক অবস্থাকারাফি এমন এক পরিবেশে বসবাস করতেন যার অধিবাসীরা বিভিন্ন জাতীয়তা এবং বৈচিত্র্যময় বংশোদ্ভূত ছিল, তাদের মধ্যে ছিল:
আরব, কুর্দি, তুর্কি, রোমান, কিবতি এবং অন্যান্য। অনুরূপভাবে সমাজটি তার অভ্যন্তরে বিভিন্ন দল ও ধর্মমতকে ধারণ করেছিল, যেমন: সুন্নি, শিয়া, খ্রিস্টান, ইহুদি, সুফি
… ইত্যাদি।
এসব নৃগোষ্ঠীকে বিলীন করতে এবং তাদের একক ইসলামি উম্মাহর মহাপাত্রে একীভূত করতে ইসলাম ধর্মের মহান অবদান ছিল।
শাসনব্যবস্থার পদ্ধতি এবং শাসকের নীতির ওপর ভিত্তি করে সামাজিক জীবনের ধরন পরিবর্তিত হতো। এই ভিন্নতার প্রভাব মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হতো।
-
আল-মালিক আস-সালিহ নাজমুদ্দিন আল-আইয়ুবীর (৬৩৭ - ৬৪৭ হিজরি) জীবনকালে সামাজিক অবস্থাসে সময় প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচার বিস্তৃত ছিল এবং তিনি 'দারুল আদল' বা ন্যায়বিচারালয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন; যাতে জুলুম দূর করা যায় এবং প্রজাদের বিষয়াবলি তদারকি করা যায়। তিনি দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখার জন্য বহিঃশত্রুর বিপদ প্রতিহত করতে দিনরাত কাজ করতেন (১)।
তিনি বিপুল সংখ্যক তুর্কি (মামলুক) ক্রয় করেছিলেন এবং তারা তাঁর অধিকাংশ সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তিনি তাদেরকে কুর্দিদের ওপর প্রাধান্য দিতেন, তাদের নেতৃত্ব প্রদান করতেন এবং তাদেরকে নিজের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন (২)। তাঁর শাসনামলে কিছু মন্দ ও গর্হিত কাজ বিদ্যমান ছিল, যা আল-ইজ্জ ইবনে আবদুস সালাম তাঁর সামনেই প্রতিবাদ করেছিলেন; অথচ তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও প্রতাপশালী ছিলেন যে, তাঁর সামনে কথা বলার সাহস কারও ছিল না (৩)।
-
সুলতান আল-জাহির বাইবার্স আল-মামলুকির (৬৫৮ - ৬৭৬ হিজরি) জীবনকালে সামাজিক অবস্থাএই ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়াবলির প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, ইসলামকে সাহায্য করা এবং আলেমদের ভালোবাসার ব্যাপারে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সৎ। তিনি অনেক বিজয় অর্জন করেছিলেন যা ইতিপূর্বে ক্রুসেডারদের অধীনে ছিল এবং তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأوقاف، وحاسب بشدة من ينتهك حرمات الله كشرب الخمر واقتراف الزنا. وشدَّد على النصارى والرافضة، ولم تكن لهم صولة ولا جولة، والبلاد في عهده كانت محميَّة من الخطر الخارجي، مما جعل الأوضاع تستقر والناس ينعمون بالأمن (1) .
? ومن حسنات الدولتين الأيوبية والمملوكية: محاربة المذهب الشيعي الذي عشَّش وفرَّخ في مصر مدة طويلة أيام الحكم الفاطمي (العبيدي) (2) . وسعت الدولتان إلى سحق آثار المذهب الشيعي، ومنعهم من الخطابة والتدريس، بل ردَّ الظاهر بيبرس شهادتهم، ولما ثاروا عليه واجههم بحزم وصَلَبهم (3) .
ولكن من المآخذ على الدولتين: انتشار التصوف في عهديهما، وتعظيم مشايخ الصوفية، وبناء الرُّبط والزوايا لهم (4) .
وأما العلماء في هذا العصر فقد كانوا على فريقين:
- فريق آثر ما عند الله، فأخذ يصدع بالحق، وينصح الحكام، ويحذرهم من البعد عن شرع الله كالعز بن عبد السلام، وابن الحاجب وغيرهما.
- والفريق الآخر غلب عليهم الطمع، والمكانة عند السلطان، فوافقوهم، وأجروا لهم الفتاوى حسب الأهواء، وهؤلاء لم يكن لهم وزن عند الناس.
أثر الحالة الاجتماعية على حياة القرافي:هذه الأجواء الاجتماعية كان لها أثر على شخصية القرافي، ويمكن تلمُّس هذه الآثار فيما يلي:
(1) نظراً لتعايش المجتمع الإسلامي مع أهل الذمة، وحمايةً لأبناء المسلمين من الانزلاق وراء شبهات اليهود والنصارى انبرى القرافي لتأليف كتابه " الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة "، وقد سبق الكلام عن هذا في الأثر السياسي على القرافي (5) .
--------------------------------------------
ওয়াকফ সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন এবং যারা মদ্যপান ও ব্যভিচারের মতো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করত, তাদের কঠোরভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেন। তিনি খ্রিষ্টান ও রাফেজিদের ওপর কঠোরতা আরোপ করেন, ফলে তাদের কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি বা দাপট ছিল না। তাঁর শাসনামলে দেশ বহিঃশত্রুর বিপদ থেকে সুরক্ষিত ছিল, যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করেছিল এবং মানুষ নিরাপত্তা উপভোগ করছিল (১)।
আইয়ুবীয় ও মামলুক রাজবংশের অন্যতম পুণ্যময় কাজ হলো: শিয়া মতবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা, যা ফাতিমীয় (উবায়দী) শাসনামলে দীর্ঘকাল ধরে মিশরে বাসা বেঁধেছিল এবং বিস্তার লাভ করেছিল (২)। উভয় রাজবংশই শিয়া মতবাদের চিহ্ন মুছে ফেলতে সচেষ্ট ছিল এবং তাদেরকে বক্তব্য প্রদান ও পাঠদান থেকে বিরত রাখে; এমনকি জাহির বাইবার্স তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। যখন তারা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তিনি দৃঢ়তার সাথে তাদের মোকাবেলা করেন এবং তাদের ক্রুশবিদ্ধ করেন (৩)।
তবে এই দুই রাজবংশের একটি ত্রুটি ছিল: তাদের শাসনামলে তাসাউফ বা সুফিবাদ ছড়িয়ে পড়া, সুফি মাশায়েখদের অতি-সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের জন্য 'রিবাত' ও 'যাওয়িয়া' (খানকাহ) নির্মাণ করা (৪)।
আর এই যুগের আলেমগণ দুই দলে বিভক্ত ছিলেন:
- একদল আল্লাহর কাছে যা আছে (আখিরাত) তাকে অগ্রাধিকার দিতেন; ফলে তারা সত্য প্রকাশে সোচ্চার ছিলেন, শাসকদের উপদেশ দিতেন এবং আল্লাহর শরিয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে তাদের সতর্ক করতেন, যেমন ইজ্জ ইবনে আবদুস সালাম, ইবনুল হাজিব এবং অন্যান্যগণ।
- অন্যদলের ওপর লোভ এবং সুলতানের কাছে মর্যাদাপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা প্রবল ছিল; ফলে তারা তাদের সাথে একমত হতেন এবং তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতেন। জনগণের কাছে এদের কোনো গুরুত্ব ছিল না।
কারাফির জীবনে সামাজিক অবস্থার প্রভাব:এই সামাজিক পরিবেশ কারাফির ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং এই প্রভাবগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে লক্ষ্য করা যায়:
(১) যিম্মিদের সাথে মুসলিম সমাজের সহাবস্থানের প্রেক্ষিতে এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের সংশয়ের জালে মুসলিম সন্তানদের পা পিছলে পড়া থেকে রক্ষা করার জন্য কারাফি তাঁর গ্রন্থ "আল-আজিউবাতুল ফাখিরা আনিল আসইলাতিল ফাজিরা" (পাপাচারী প্রশ্নসমূহের চমৎকার উত্তর) রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। কারাফির ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের আলোচনায় এ বিষয়ে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(2) ملازمة القرافي لشيخه العز بن عبد السلام ربما أكسبته نُفرةً من السلاطين، مع أن القرافي كانت لديه قدرة عجيبة على صنع التماثيل والمراصد الفلكية (1) التي كان السلاطين مولعين بها، ومع ذلك لم يكن له ذِكْرٌ على بلاطهم، ولم يتولَّ لهم شيئاً من مناصبهم.
(3) كان القرافي يلهج بأشعار، ويتمثل بها كثيراً مما يدل على تأثره بالحالة السائدة في عصره. فهويقول:
وإذا جَلَسْتَ إلى الرِّجِالِ وأشْرَقَتْ في جَوِّ باطِنِكَ العُلومُ الشُّرَّدُ
فاحْذَرْ مُناظرةَ الحَسْودِ فإنَّما تَغْتاظُ أنتَ ويستفيد ويَحْرَدُ (2)
يمكننا أن نستخلص من هذين البيتين بأن عادة سيئة كانت منتشرة بين العلماء مما حدا بالقرافي أن يقول ما قال.
وكان يُردَّد:
عَتَبْتُ على الدنيا لِتَقْديمِ جَاهِلٍ
… وتأخيرِ ذِيْ عِلْمٍ فقالتْ: خُذِ العُذْرا
بَنُو الجَهْل أبنائي وكلُّ فضيلةٍ فأبناؤها أبناءُ ضَرَّتي الأُخْرى (3)
فهذان البيتان يدلَاّن على مدى سخط القرافي على تولَّي بعض الحكام سلطة البلاد والحكم بين العباد، وتقديم العلماء غير المؤهَّلين أو الجديرين إلى مناصب الإفتاء والقضاء. والله أعلم.
(4) ينبغي ألَاّ ننسى أن كثرة التآليف من الإمام القرافي التي نالت إعجاب العلماء، لعله إفرازٌ لما نَعِمتْ به البلاد من أَمْن واستقرار، وتشجيع للعلم وأهله في بعض الحِقَب الزمنية. ولهذا شَهِد بعض علماء عصره بأن القرافي حرَّر أحد عشر عِلْماً في ثمانية أشهر، أو قال: ثمانية علومٍ في أحد عشر شهراً (4) .
--------------------------------------------
(২) তাঁর উস্তাদ ইজ্জ বিন আবদুস সালামের সাথে ইমাম কারাফীর ঘনিষ্ঠতা সম্ভবত তাকে সুলতানদের থেকে বিমুখ করে তুলেছিল, যদিও কারাফীর যান্ত্রিক প্রতিমূর্তি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত মানমন্দির (১) তৈরির ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক দক্ষতা ছিল যেগুলোর প্রতি সুলতানদের প্রবল আকর্ষণ ছিল। তা সত্ত্বেও রাজদরবারে তাঁর কোনো উল্লেখ ছিল না এবং তিনি তাঁদের কোনো পদমর্যাদাও গ্রহণ করেননি।
(৩) কারাফী প্রায়শই কিছু কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং সেগুলোকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতেন, যা তাঁর সমকালীন পরিস্থিতির প্রভাব প্রকাশ করে। তিনি বলতেন:
যখন তুমি মানুষের মজলিসে বসবে এবং তোমার অন্তরাকাশে দুর্লভ জ্ঞানসমূহ উদ্ভাসিত হবে,
তখন হিংসুকদের সাথে বিতর্ক করা থেকে সতর্ক থেকো; কারণ এতে তুমি কেবল রাগান্বিতই হবে, আর সে লাভবান হবে ও তোমার সাথে ধৃষ্টতা দেখাবে। (২)
এই দুই পঙক্তি থেকে আমরা এই সারসংক্ষেপ করতে পারি যে, সেই সময় আলেমদের মধ্যে একটি মন্দ স্বভাব ছড়িয়ে পড়েছিল যা কারাফীকে এই কথাগুলো বলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
তিনি আরও আবৃত্তি করতেন:
আমি দুনিয়ার ওপর অভিমান করলাম যে সে মূর্খকে এগিয়ে দিল এবং জ্ঞানী ব্যক্তিকে পিছিয়ে দিল। তখন দুনিয়া বলল: আমার ওজর গ্রহণ করো।
মূর্খরা হলো আমার আপন সন্তান, আর সকল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারীরা হলো আমার সতীনের সন্তান। (৩)
এই দুই পঙক্তি দেশের শাসনভার ও মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কিছু শাসকের ক্ষমতা গ্রহণ এবং ফতোয়া ও বিচারকার্যের পদে অযোগ্য ও অদক্ষদের নিয়োগের প্রতি ইমাম কারাফীর তীব্র অসন্তুষ্টির প্রমাণ দেয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(৪) আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ইমাম কারাফীর বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ যা আলেমদের প্রশংসা কুড়িয়েছে, তা সম্ভবত সেই সময়ের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এবং কোনো কোনো যুগে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি উৎসাহ প্রদানেরই বহিঃপ্রকাশ। এই কারণেই তাঁর সমকালীন কিছু আলেম সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, কারাফী আট মাসে এগারোটি শাস্ত্র অথবা এগারো মাসে আটটি শাস্ত্র সুবিন্যস্ত করেছিলেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثالثالحالة العلميةتَزْدان الحياة العلمية في أيِّ عصرٍ وتزدهر بمقدار كثرة المدارس المنتشرة، والخِزَانات العامرة بالكتب الوفيرة، وبزيادة الحوافز المبذولة لطالبي العلم والراغبين فيه.
… والحالة العلمية لم تُحَاكِ الحالةَ السياسية المضطربة، بل ظلَّتْ ناميةً مزدهرةً، فبعد أن كانت بغداد ـ عاصمة الخلافة العباسية ـ مَحَطَّ العلماء من كل حَدَبٍ وصَوْبٍ إلا أن إمامتها للعلماء انحسرت بعد سقوطها على أيدي التتار.
… وأخذت دمشق والقاهرة تتنازعان الرئاسة العلمية، وصارتا موئل العلماء، غير أن كفَّة مصر رجحت حين تكاثر وفود العلماء إليها نتيجةً لتعرض الشام إلى الغزو الصليبي والتتري.
وكان من أسباب النهضة العلمية في مصر أيضاً أن الدولة الفاطمية (العبيدية) سعتْ حثيثاً إلى بناء المدارس، وتعليم المذهب الرافضي وفَرْضِه على الناس، ثم جاء صلاح الدين الأيوبي من بعدهم، فأنشأ المدارس السُّنِّية، وسعى إلى اجتثاث جذور المذهب الباطني الذي زرعته الدولة الفاطمية (العبيدية) ، وهكذا تتابع الملوك من بعده، ولاقى العلماء كل تشجيعٍ وإكرامٍ، وهكذا كان الأمر في عهد الدولة المملوكية.
ويلاحظ هنا أن بعض الكاتبين في تاريخ التشريع الإسلامي يصفون هذه الفترة الزمنية، والطور التاريخي بأنها فترة الجمود والتقليد، والهرم والشيخوخة (1) .
وفي تقديري إن هذا الحكم فيه مجافاة للواقع، وبُعْد عن الإنصاف، فلم يَخْلُ زمان من مجدِّدين يُحْيُون ما اندرس من علوم الشريعة، ويستنهضون همم الناس نحوها، وإن صَحَّتْ هذه المقولة في علم الفقه فلا تصحُّ في علم أصول الفقه، قال الشيخ محمد أبو زهرة (2) : ((هذا العلم الذي غرس غرسه الإمام الشافعي رحمه الله لم يَضْعف من بعده،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদজ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থাযে কোনো যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন বিভূষিত ও সমৃদ্ধ হয় প্রসারিত মাদরাসার আধিক্য, পর্যাপ্ত কিতাবসমৃদ্ধ কুতুবখানা এবং ইলম অন্বেষণকারী ও আগ্রহীদের জন্য প্রদত্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধির মাধ্যমে।
… জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার অনুগামী ছিল না, বরং তা ক্রমবর্ধমান ও সমৃদ্ধ ছিল। আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ যখন সকল প্রান্তের আলেমদের মিলনস্থল ছিল, তখন তাতারদের হাতে পতনের পর আলেমদের জন্য এর ইমামত বা নেতৃত্ব সংকুচিত হয়ে আসে।
… অতঃপর দামেস্ক ও কায়রো জ্ঞানতাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করে এবং উভয় শহর আলেমদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। তবে সিরিয়া ক্রুসেডার ও তাতার আক্রমণের শিকার হওয়ার ফলে আলেমদের স্রোত মিশরের দিকে বৃদ্ধি পাওয়ায় মিশরের পাল্লা ভারী হয়।
মিশরে জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের অন্যতম কারণ ছিল ফাতেমি (উবাইদি) রাষ্ট্র মাদরাসা নির্মাণ এবং রাফেজি মাযহাব শিক্ষা দেওয়া ও জনগণের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এরপর সালাহউদ্দীন আইয়ুবি তাদের পরে আসেন এবং সুন্নি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ফাতেমি (উবাইদি) রাষ্ট্রের রোপণ করা বাতেনি মাযহাবের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এভাবে তাঁর পরবর্তী রাজাগণ এই ধারা অব্যাহত রাখেন এবং আলেমগণ সর্বাত্মক উৎসাহ ও সম্মান লাভ করেন। মামলুক সালতানাতের আমকেও বিষয়টি এমনই ছিল।
এখানে লক্ষণীয় যে, ইসলামী শরীয়তের ইতিহাসের কিছু লেখক এই সময়কাল এবং ঐতিহাসিক পর্যায়কে স্থবিরতা, অন্ধ অনুকরণ, জরাজীর্ণতা ও বার্ধক্যের সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১)।
আমার মূল্যায়নে এই রায় বাস্তববিমুখ এবং ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। কারণ কোনো যুগই এমন মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক শূন্য ছিল না যারা শরয়ী বিজ্ঞানের বিলুপ্তপ্রায় জ্ঞানসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং মানুষের হিম্মতকে সেদিকে ধাবিত করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই উক্তিটি যদি সঠিকও হয়, তবে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এটি সঠিক নয়। শায়খ মুহাম্মদ আবু জাহরা (২) বলেন: "যে শাস্ত্রের চারা রোপণ করেছেন ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তা তাঁর পরে দুর্বল হয়নি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حتى في عصور التقليد التي أَغْلقتْ فيها باب الاجتهاد، بل نما وترعرع. . . وكأن الفقهاء إذْ قيَّدوا أنفسهم في الفروع، قد اطلقوا لها الحرية في الأصول
… )) (1) .
وقد نبغ في هذا العصر - السابع الهجري - أساطين من العلماء، الذين
طَبَّقتْ شهرتهم الآفاق، وأَثرَوا بتصانيفهم الفريدة المكتبات، حتى غَدَتْ مَفْزعاً
لنَاهِليِ علوم الشريعة وغيرها، فمنهم: الإمام فخر الدين الرازي (2) ، وموفق الدين
ابن قُدَامة المقدسي (3) ، وسيف الدين الآمدي (4) ، وتقي الدين أبو عمرو
ابن الصَّلاح (5) ، وأبو عمرو ابن الحاجب المالكي، والحافظ المنذري (6) ، والعز بن عبد السلام، وابن مالك النحوي الأندلسي (7) ، والإمام النووي (8) والقاضي البيضاوي (9) ،
--------------------------------------------
এমনকি তাকলিদের (অন্ধ অনুকরণ) যুগেও, যাতে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, বরং তা বৃদ্ধি পেয়েছিল ও বিকশিত হয়েছিল... যেন ফকিহগণ যখন নিজেদেরকে শাখা-প্রশাখার (ফুরু) মাসয়ালাগুলোতে সীমাবদ্ধ করেছিলেন, তখন তারা মূলনীতিগুলোতে (উসুল) নিজেদের জন্য স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন...
... )) (১) ।
আর এই যুগে—সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে—এমন কিছু প্রথিতযশা আলেম আবির্ভূত হয়েছিলেন, যাদের খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা তাদের অনন্য রচনাবলির মাধ্যমে পাঠাগারগুলোকে সমৃদ্ধ করেছিলেন, যা শরিয়ত ও অন্যান্য ইলম পিপাসুদের জন্য আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজি (২), মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (৩), সাইফুদ্দিন আল-আমিদি (৪), তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ (৫), আবু আমর ইবনুল হাজিব আল-মালিকি, হাফেজ আল-মুনজিরি (৬), ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম, আন্দালুসিয় ব্যাকরণবিদ ইবনে মালিক (৭), ইমাম আন-নববী (৮) এবং কাজি আল-বায়জাবি (৯),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ابن دقيق العيد (1) ، وغيرهم كثير.
ومن مؤيدات نهضة الحالة العلمية في هذا العصر: أن حركة التأليف والتدريس كانت نشطة، ووقع التنافس في بناء دور المدارس العلمية، ولعل من المفيد أن نعرِّج على أهم المدارس التي كان للقرافي اتصالٌ بها، فمنها:
1- المدرسة الصَّاحِبية:سميت بذلك نسبة لمنشئها الصاحب بن شُكْر (2) سنة 618هـ، جعلها وقْفاً على المالكية، وأجرى عليهم الأرزاق، وضم إليها مئات الكتب (3) . وقد نهل منها القرافي وغيره. قال عنها في كتابه " نفائس الفصول " (1/499) ((وهذه الفصول وجدتها في كتاب في الخزانة الصاحبية
… أسبع الله ظلالها)) .
2- المدرسة القَمْحِية:
شيدها صلاح الدين الأيوبي سنة 566هـ، وسميت بهذا لما كان يقسم على مدرسيها وطلابها من القمح الموقوف عليها.
وهي بجوار الجامع العتيق (جامع عمرو بن العاص) بمصر، وقد تولى القرافي التدريس بها حقبةً من الزمن (4) .
3- المدرسة الصالحية:
تنسب إلى مؤسسها الملك الصالح نجم الدين أيوب سنة 641هـ. وقد تبوأت هذه المدرسة مكانة عالية في مصر، فقد كانت تُدرَّس فيها المذاهب الأربعة، واختير لها أفضل المشايخ، من بينهم الشهاب القرافي الذي تولَّى التدريس بها سنة 663هـ، ثم عزل، ثم أعيد، ثم ظلَّ يدرس فيها حتى مات رحمه الله (5) .
--------------------------------------------
ইবনে দাকীকুল ঈদ (১) এবং তাঁদের মতো আরও অনেকে।
এই যুগে ইলমী জাগরণের অন্যতম সহায়ক বিষয় ছিল: গ্রন্থ রচনা ও শিক্ষাদানের কার্যক্রম অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং ইলমী মাদরাসাগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছিল। সম্ভবত আল-কারাফীর সাথে সম্পৃক্ত ছিল এমন গুরুত্বপূর্ণ মাদরাসাগুলোর উপর আলোকপাত করা উপকারী হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১- আল-মাদরাসা আস-সাহিবিয়্যাহ:এর প্রতিষ্ঠাতা আস-সাহিব বিন শুকর (২)-এর নামানুসারে ৬১৮ হিজরীতে এটি নামকরণ করা হয়। তিনি একে মালিকী মাযহাবের অনুসারীদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন এবং তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন এবং এতে শত শত কিতাব (৩) যুক্ত করেছিলেন। আল-কারাফী এবং অন্যরাও এখান থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন। তিনি তাঁর কিতাব "নাফাইস আল-ফুসুল" (১/৪৯৯)-এ এটি সম্পর্কে বলেছেন: ((এবং এই পরিচ্ছেদগুলো আমি সাহিবিয়্যাহ গ্রন্থাগারের একটি কিতাবে পেয়েছি... আল্লাহ এর ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন))।
২- আল-মাদরাসা আল-কামহিয়্যাহ:
৫৬৬ হিজরীতে সালাহউদ্দীন আইয়ুবী এটি নির্মাণ করেন। এর জন্য ওয়াকফকৃত গম (কামহ) এর শিক্ষক ও ছাত্রদের মাঝে বণ্টন করা হতো বলে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
এটি মিশরের প্রাচীন জামে মসজিদ (জামে আমর ইবনুল আস)-এর পাশেই অবস্থিত। আল-কারাফী দীর্ঘকাল এখানে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন (৪)।
৩- আল-মাদরাসা আস-সালিহিয়্যাহ:
এটি এর প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আস-সালিহ নাজমুদ্দীন আইয়ুবের সাথে সম্পর্কিত, যিনি ৬৪১ হিজরীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। মিশরে এই মাদরাসাটি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিল। কারণ এখানে চারটি মাযহাবের শিক্ষা দেওয়া হতো এবং এর জন্য শ্রেষ্ঠ শাইখদের নির্বাচন করা হতো। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিহাব আল-কারাফী, যিনি ৬৬৩ হিজরীতে এখানে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, পুনরায় নিযুক্ত করা হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা চালিয়ে যান, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
4- المدرسة الطَّيْبَرْسِيَّة:تقع بالقرب من الجامع الأزهر، تُنْسب إلى مؤسسها علاء الدين طَيْبَرس الخَازنْداري (1) وهيأها للدارسين سنة 680هـ، وتضم المدرسة قسماً للشافعية، وآخر للمالكية. وكان القرافي أول من درس فيها من المالكية (2) .
… وهناك مدارس أخرى كثيرة في حياة القرافي، لكن لم يذكر التاريخ لنا أنه باشر الدرس أو التدريس فيها. من هذه المدارس: المدرسة الظاهرية، والفارقانية، والسيوفية، والفائزية، والمنصورية، ومدرسة العادل، ومدرسة ابن رشيق. . إلخ (3)
… وبجانب هذه المدارس توجد الجوامع، كجامع عمرو بن العاص، وقد درَّس فيه القرافي، وأخذ عنه خلقٌ كثير (4) .
--------------------------------------------
৪- আল-মাদরাসা আত-তাইবারসিয়্যাহ:এটি জামে আল-আযহারের নিকটে অবস্থিত। এটি এর প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দীন তাইবারস আল-খাযিনদারির (১) নামে পরিচিত, যিনি ৬৮০ হিজরি সনে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করেন। মাদরাসাটিতে শাফেয়ি মাযহাবের জন্য একটি বিভাগ এবং মালেকি মাযহাবের জন্য অন্য একটি বিভাগ ছিল। আল-কারাফিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এখানে মালেকিদের পক্ষ থেকে পাঠদান করেছেন (২)।
... আল-কারাফির জীবদ্দশায় আরও অনেক মাদরাসা ছিল, কিন্তু ইতিহাস আমাদের কাছে এটি উল্লেখ করেনি যে, তিনি সেগুলোতে পড়া বা পড়ানোর কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই মাদরাসাগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল-মাদরাসা আজ-জাহিরিয়্যাহ, আল-ফারকানিয়্যাহ, আস-সুয়ুফিয়্যাহ, আল-ফায়িজিয়্যাহ, আল-মানসুরিয়্যাহ, মাদরাসাতুল আদিল এবং মাদরাসা ইবনে রাশিক... ইত্যাদি (৩)
... এই মাদরাসাগুলোর পাশাপাশি অনেক বড় মসজিদ (জামে) ছিল, যেমন জামে আমর ইবনুল আস। আল-কারাফি সেখানে পাঠদান করেছেন এবং অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউম মিন শারহি তানকীহিল ফুসূল ফী ইলমিল উসূল - রিসালাতু মাজিসতির
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثانيحياة المؤلف
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদলেখকের জীবনী