(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: -)
برنامج التجيبي   (القاسم بن يوسف التجيبي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: برنامج التجيبي

المؤلف: القاسم بن يوسف بن محمد بن علي التجيبي البلنسي السبتي (ت 730هـ)

تحقيق وإعداد: عبد الحفيظ منصور

الناشر: الدار العربية للكتاب، ليبيا - تونس

عام النشر: 1981 م

عدد الصفحات: 290

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বারনামাজ আত-তুজিবি   (আল-কাসিম বিন ইউসুফ আত-তুজিবি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: বারনামাজ আত-তুজিবি

লেখক: আল-কাসিম বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আত-তুজিবি আল-বালানসি আস-সাবতি (মৃত্যু ৭৩০ হিজরি)

তাহকিক ও সম্পাদনা: আব্দুল হাফিজ মানসুর

প্রকাশক: আদ-দারুল আরাবিয়্যাহ লিল কিতাব، লিবিয়া - তিউনিসিয়া

প্রকাশের বছর: ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯০

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٧)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الْمُقْرِئُ الْفَاضِلُ أَبُو جَعْفَرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدٍ ابْنُ الشَّيْخِ الْمُسْنَدِ الْمُعَمَّرِ الثِّقَةِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيِّ، مُسْتِوْطِنُ دِمَشْقَ حَرَسَهَا اللَّهُ تَعَالَى، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمُقَيَّرِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِالْجَامِعِ الْأُمَوِيِّ مِنْ دِمَشْقَ عَمَّرَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِذِكْرِهِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ يَحْيَى بْنُ أَبِي السُّعُودِ بْنِ الْعُمَيْرَةِ، سَمَاعًا بِبَغْدَادَ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَتْنَا شُهْدَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الْكَاتِبَةُ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَاقِلَّانِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاذَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السِّمَاكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَلَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ قُرَّةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ أَقْطَعُ»

فالحمد لله قبل كل مقال، وعلى كل حال، وصلي الله
على سيدنا محمد
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ, ফাযিল কারী আবু জাফর আব্দুর রহমান বিন আবদ, যিনি প্রবীণ বিশ্বস্ত মুসনিদ শায়খ আবুল হাসান আলী বিন আবি আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবি আবুল হাসান আলী বিন মানসুর আল-বাগদাদীর পুত্র, যিনি দামেশকের বাসিন্দা—আল্লাহ তাআলা একে হেফাযত করুন—এবং ইবনুল মুকাইয়ির নামে পরিচিত; তাঁর নিকট পাঠকালে, আর আমি দামেশকের জামে উমায়্যিতে বসে শুনছিলাম—আল্লাহ তাআলা একে তাঁর যিকিরের মাধ্যমে আবাদ রাখুন। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন আবিস সউদ বিন আল-উমাইরাহ, ৬৪৭ হিজরি সনে বাগদাদে শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লেখিকা শুহদাহ বিনতে আহমাদ বিন আল-ফারাজ। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-বাকিল্লানি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন শাযান। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান বিন আহমাদ বিন আস-সিম্মাক। তিনি বললেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হাসান বিন সাল্লাম। তিনি বললেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন মুসা। তিনি বললেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-আওযায়ী, কুররাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ (বরকতহীন)।»

সুতরাং সকল বক্তব্যের পূর্বে এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক
আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٨)
المصطفى منقذنا من الضلال، وعلى آله خير آل، وصحابته الباذلين مهجهم في محبته ونصرته، المبلغين لما سمعوه وشاهدوه من سنته من أقوال وأفعال، وسلم كثيرًا أما بعد فإنه لما كان جلتنا معشر فئة الحديث ، وقدوتنا في القديم والحديث قد بينوا إلينا أن الرواية سبب في الدراية، وقرروا لدينا أن الدراية منقذة من الجهل والغواية، مفرقة بين الضلال والهداية ، وكان أيضا كل واحد منهم أو جلهم قد ألف برنامجًا، جمع فيه ما من مروياته ، افترق، وَبَيَّنَ فيه ما له في دواوين العلم من الطرق، رأيت أن أتعلق بأهدابهم، وأتمسك بأذيالهم، وأستضيء بأنوارهم، وأقتدي بآثارهم، وأجمع برنامجًا يضم ما حضرني الآن ذكره، مما قرأته أو سمعته، أو تلفق لي من النوعين جميعًا أو من أحدهما، مع مناولة لسائر ذلك المقروء أو المسموع، أو إجازة معهما أيضًا، أو مع أحدهما، وربما ذكرت ما ليس لي فيه إلا مناولة فقط، على أن

মনোনীত (মুস্তফা), যিনি বিভ্রান্তি থেকে আমাদের ত্রাণকর্তা, এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি যারা সর্বোত্তম পরিবার, এবং তাঁর সাহাবীগণের প্রতি যারা তাঁর ভালোবাসা ও সাহায্যে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, যারা তাঁর সুন্নাহর কথা ও কাজ হতে যা শুনেছেন ও প্রত্যক্ষ করেছেন তা পৌঁছে দিয়েছেন; এবং অনেক অনেক সালাম। অতঃপর, যেহেতু হাদীসবেত্তা জামাআতের আমাদের মহান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের আমাদের আদর্শ পুরুষগণ আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, বর্ণনা (রিওয়ায়াত) হলো গভীর অনুধাবনের (দিরায়াত) মাধ্যম, এবং তারা আমাদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, গভীর অনুধাবন অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা থেকে নিষ্কৃতি দানকারী এবং গোমরাহি ও হেদায়েতের মধ্যে পার্থক্যকারী; আর তাদের প্রত্যেকে অথবা অধিকাংশজনই একেকটি ‘বারনামাজ’ (বর্ণনা-সূচি) সংকলন করেছেন, যাতে তিনি তাঁর বিক্ষিপ্ত বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং ইলমের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে তাঁর যে সকল সূত্র (তুরুক) রয়েছে তা স্পষ্ট করেছেন—তাই আমি সংকল্প করলাম যে, তাঁদের সান্নিধ্য গ্রহণ করি, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি, তাঁদের নূর দ্বারা আলোকিত হই এবং তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শের ইত্তিবা করি। আর আমি এমন একটি ‘বারনামাজ’ সংকলন করি যাতে এখন যা আমার স্মৃতিতে উপস্থিত আছে তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে—যা আমি পাঠ করেছি কিংবা শ্রবণ করেছি, অথবা উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে কিংবা যেকোনো একটির মাধ্যমে আমার নিকট সংগৃহীত হয়েছে, সেই সাথে সেই সমস্ত পঠিত বা শ্রুত বিষয়ের ‘মুনাওয়ালা’ (হস্তান্তর) সহ, অথবা সেই দুটির সাথে ‘ইজাজাত’ (অনুমতি) সহ, অথবা কোনো একটির সাথে; আর কখনো আমি এমন বিষয়ও উল্লেখ করেছি যাতে আমার নিকট কেবল ‘মুনাওয়ালা’ ব্যতীত অন্য কিছু নেই, এই শর্তে যে...

(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٩)
ما وقع لي من ذلك نزر قليل، والله تعالى يهدينا إلى سواء السبيل، وأما ما ليس لي فيه من المجموعات إلا مجرد الإجازة، فلم أعرج عليه، ولا ثنيت عناني إليه، وأن كان إسنادي في ذلك المجموع في غاية القرب والوجازة.

إذ في ذكر المأخوذ بها كثرة وطول، وكل طائل مملول، غير أني قد أتبع بعض المقروء أو المسموع بإسناد آخر عال إن وقع لي بالإجازة، لكن العمدة على الطريق الأول في هذا المجموع.

ولما نجز وسمته تتميمًا له ، وَتَكْمِيلا ، وتشريفًا له ، وتبجيلًا، باسم من انتهت إليه السيادة والجلالة، والرئاسة والأصالة، بغية كل طالب وعالم، وعمدة كل صاحب قناة وصارم، الوزير الأجل الأرفع العالم العلم الصدر الكبير الأسعد الأصعد الأوحد أبو المكارم سلالة الرؤساء الصدور الأمجاد المكرمين الجلة المعظمين السادة الكنانيين الوارثين كابرًا عن كابر، شرف الدنيا والدين، عصمه الله تعالى بما عصم به أولياءه المؤمنين وعباده المحسنين، وأدام لنا سعوده ووالى لأعلى درجات العز صعوده بمنه،
এ থেকে আমার কাছে যা পৌঁছেছে তা অতি সামান্য। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আর যে সকল সংকলনের ক্ষেত্রে আমার কেবল ইজাজত (অনুমতি) রয়েছে, সেগুলোর প্রতি আমি ভ্রুক্ষেপ করিনি এবং সেদিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করিনি, যদিও সেই সংকলনে আমার সনদ অত্যন্ত নিকটবর্তী ও সংক্ষিপ্ত ছিল।

কারণ, যা গ্রহণ করা হয়েছে তার বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা ও আধিক্য রয়েছে, আর দীর্ঘ কথা বিরক্তি সৃষ্টি করে। তবে আমি পঠিত বা শ্রুত কিছু অংশের শেষে উচ্চতর অন্য একটি সনদ যুক্ত করতে পারি, যদি তা ইজাজতের মাধ্যমে আমার নিকট এসে থাকে। কিন্তু এই সংকলনের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রথম পদ্ধতি।

যখন এটি সম্পন্ন হলো, তখন একে পূর্ণতা ও মর্যাদা প্রদানের লক্ষ্যে আমি এর নামকরণ করলাম সেই মহান ব্যক্তির নামে, যার কাছে নেতৃত্ব, মহিমা, প্রধান্য ও আভিজাত্য এসে শেষ হয়েছে; যিনি প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষী ও আলিমের লক্ষ্যস্থল এবং প্রত্যেক যোদ্ধা ও বীরের নির্ভরতা। তিনি হলেন মহান ও সুউচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন উজির, আলিম, সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব, সুমহান বক্ষ, অত্যন্ত ভাগ্যবান ও উন্নীত, অদ্বিতীয় আবুল মাকারিম। তিনি সম্মানিত, মহিমান্বিত ও মহান কিনানী নেতা ও সর্দারদের বংশধর, যারা একের পর এক উত্তরাধিকারসূত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি দুনিয়া ও দীনের গৌরব। মহান আল্লাহ তাঁকে সেভাবেই রক্ষা করুন যেভাবে তিনি তাঁর মুমিন বন্ধু ও নেককার বান্দাদের রক্ষা করেন। তিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদের জন্য তাঁর সৌভাগ্য দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে তাঁর আরোহণকে অব্যাহত রাখুন।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٠)
ومما يقع ذكره فيه من الدواوين العلمية الأصليه والفرعية، وغيرها من أنواع العلوم الشرعية، أخلص الله تعالى في ذكرها النية، فإني أذكر فيها أسانيدي التي بيني وبين مؤلفيها الأعلام، ملتمسًا في جميع ذلك بركة دعاء النبي عليه أفضل صلاة ، وأطيب سلام، لما أخبرنا به الشيخ الفقيه المفتي الصالح العابد رضي الدين أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن أبي بكر بن محمد بن إبراهيم الطبري، ثم المكي، إمام المقام الشريف، نفع الله تعالى به، قراءة عليه، وأنا أسمع بحرم الله تعالى الشريف تجاه الكعبة المعظمة قبالة الحجر وميزاب الرحمة بإزاء باب الندوة ، قال: أخبرنا الشيخ الفقيه الإمام المفتي بهاء الدين أبو الحسن علي ابن هبة الشافعي المعروف بابن ابنة الجميزي، سماعًا بالحرم الشريف، الحديث.

وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الإِمَامُ الْعَلَّامَةُ النَّسَّابَةُ أُعْجُوبَةُ زَمَانِهِ فِي ذَلِكَ، كَهْفُ الْمُحَدِّثِينَ وَزَيْنُ الْمُصَنِّفِينَ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ وَأَبُو أَحْمَدَ، كُنْيَتَانِ، عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ الْوَفِيِّ أَبِي الْقَاسِمِ خَلَفِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْعَفِيفِ شَرَفِ بْنِ الْخَضِرِ بْنِ مُوسَى التُّونِيُّ ، ثُمَّ الدِّمْيَاطِيُّ الْحَافِظُ رضي الله عنه، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْقَاهِرَةِ الْمُعِزِّيَّةِ ، وَابْنُ رَوَاحَةَ هُوَ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَمُّودِيُّ، وَابْنُ رَوَاجٍ يَعْنِي أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ الْوَهَّابِ بْنَ ظَافِرٍ، وَغَيْرُهُمْ، قَالُوا كُلُّهُمْ: أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَكِيمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ وَارَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ عَلَى مِنْبَرِ الْكُوفَةِ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللَّهُ وَجْهَ عَبْدٍ سَمِعَ فِقْهًا فَتَعَلَّمَهُ، حَتَّى يُعَلِّمَهُ غَيْرَهُ، فَرُبَّ
এখানে যেসব মূল ও শাখা ইলমি গ্রন্থ এবং অন্যান্য শরয়ি জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তা বর্ণনায় নিয়তকে বিশুদ্ধ করুন। আমি এখানে সেসব বিখ্যাত লেখকদের সাথে আমার যে সনদ বা সূত্র রয়েছে তা উল্লেখ করছি, এ সবকিছুর মাধ্যমে নবিজির (যাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক) দোয়ার বরকত কামনা করছি। যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকিহ, মুফতি, নেককার ও আবিদ রযিউদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম তবারি, অতপর মক্কি, যিনি মাকামে ইবরাহিমের ইমাম, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে উপকার দান করুন। তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম আল্লাহর পবিত্র হারামে, মহান কাবার দিকে মুখ করে হাজরে আসওয়াদ এবং মিজাবে রহমতের বিপরীতে, বাবুন্নদওয়ার সমান্তরালে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকিহ, ইমাম ও মুফতি বাহাউদ্দীন আবু হাসান আলি ইবনে হিবাহ শাফেয়ি, যিনি ইবনে ইবনাতুল জুমাইযি নামে পরিচিত, পবিত্র হারামে শ্রবণের মাধ্যমে, (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকিহ, ইমাম, আল্লামা, বংশবিদ এবং সমসাময়িক কালের এক বিস্ময়, মুহাদ্দিসগণের আশ্রয়স্থল ও গ্রন্থকারগণের অলঙ্কার শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ ও আবু আহমদ (উভয়টি তাঁর উপনাম), আবদুল মুমিন ইবনুল ওয়াফি আবুল কাসিম খালাফ ইবনে আবুল হাসান ইবনুল আফিফ শারাফ ইবনুল খিজির ইবনে মুসা তুনি, অতপর দিমইয়াতি আল-হাফিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। কায়রোতে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়েছে। আর ইবনে রাওয়াহা হলেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-হামমুদি, এবং ইবনে রাওয়াজ অর্থাৎ আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে জাফির এবং আরও অনেকে। তাঁরা সকলে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ সিলাফি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফজল সাকাফি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ফকিহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাকিম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারা। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে সিনান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আতা ইবনে আজলান, নুআইম ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমান ইবনে বশিরকে কুফার মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ সেই বান্দার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন যে কোনো ইলমি কথা শুনল এবং তা শিখল, যতক্ষণ না সে তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিল। কেননা অনেক...»
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١١)
حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ وَهُوَ غَيْرُ فَقِيهٍ» ، الْحَدِيثَ

وَبِجَمِيعِ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنَ الْإِسْنَادِ سَوَاءً إِلَى أَبِي عَمْرٍو أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَدِينِيِّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْخَيْفِ مِنْ مِنًى ، فَقَالَ: ‌‌«نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا، ثُمَّ أَسْلَمَهَا إِلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَا فِقْهَ لَهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ» ، الْحَدِيثَ

وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ الثِّقَتَانِ الْمُسْنَدَانِ الْمُعَمِّرَانِ عِزُّ الدِّينِ أَبُو الْفِدَاءِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُوسَى بْنِ عُمَيْرِ بْنِ الْفَرَّاءِ الصَّالِحِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمُنَادِي، وَشَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَضْلٍ الْوَاسِطِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا مُجْتَمِعَيْنِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِالصَّالِحِيَّةِ، سَفْحَ جَبَلِ قَاسِيُونَ ظَاهِرَ مَدِينَةِ دِمَشْقَ الْمَحْرُوسَةِ ، قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحُسَيْنُ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ صَصَرَى سَمَاعًا سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وَسِتِّ مِائَةٍ، وَزَادَنَا شَمْسُ الدِّينِ الْمَذْكُورُ أَيْضًا، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ غَسَّانَ، قَالَ ثَلَاثَتُهُمْ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَكَارِمِ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْلِمِ بْنِ الْحَسَنِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْمُؤَمَّلِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ الْعُذْرِيُّ بِبَيْرُوتَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ مَوْلَى
...ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে (তা পৌঁছে দেয়) যে তার চেয়ে অধিক ফকীহ, আর কতই না ফকীহ নয় এমন ব্যক্তি ফিকহ বহন করে থাকে।" আল-হাদিস।

এবং আবু আমর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-মাদিনী পর্যন্ত আমরা ইতিপূর্বে সনদের যা কিছু উল্লেখ করেছি সেই একই সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়াহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুসলিম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা বিন উবাইদ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনার খিফ নামক স্থানে দাঁড়ালেন এবং বললেন: «আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনল ও তা ধারণ করল, অতঃপর তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিল যে তা শোনেনি। কেননা অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছে যার নিজস্ব কোনো ফিকহ (গভীর জ্ঞান) নেই, আর অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছে যে তা তার চেয়ে অধিক ফকীহ ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়।» আল-হাদিস।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুজন নির্ভরযোগ্য, মুসনিদ ও দীর্ঘজীবী শাইখ: ইজ্জুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান বিন আমর বিন মুসা বিন উমাইর বিন আল-ফাররা আস-সালিহী, যিনি ইবনুল মুনাদী নামে পরিচিত এবং শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন ফজল আল-ওয়াসিতী। সুরক্ষিত শহর দمشক (দামেস্ক)-এর উপকণ্ঠে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে আস-সালিহিয়া নামক স্থানে আমি তাঁদের উভয়ের নিকট একত্রে পাঠ করা অবস্থায় শ্রবণ করেছি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-হুসাইন বিন হিবাতুল্লাহ বিন সসরা ৬১৭ হিজরী সনে শ্রবণের মাধ্যমে। উল্লিখিত শামসুদ্দীন এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন গাসসান আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা তিনজনই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাকারিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুসলিম বিন আল-হাসান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফজল আব্দুল কারীম বিন আল-মুআম্মাল। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন উসমান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান খাইসামাহ বিন সুলাইমান বিন হাইদারা। তিনি বলেন: বৈরুতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন মাজইয়াদ আল-উযরী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন শুআইব বিন শাবুর। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন যাইদ বিন আসলাম, তিনি তাঁর পিতা যাইদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেন, যিনি আযাদকৃত দাস...
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٢)
عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي هَذِهِ، ثُمَّ وَعَاهَا وَحَمَلَهَا، رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ» ، الْحَدِيثَ

وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ الْمُسْنِدُ الْمُعَمَّرُ الْحَسِيبُ الأَصِيلُ الْمُجْزِلُ حَظَّ ذَوِيهِ مِنْ خِدْمَةِ الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِ، شَرَفُ الدِّينِ أَحْمَدُ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ أَبُو الْفَضْلِ بْنُ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَلِيٍّ الدِّمَشْقِيُّ الشَّافِعِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ عَسَاكِرَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِالْجَامِعِ الأُمَوِيِّ، مِنْ مَحْرُوسَةِ دِمَشْقَ عَمَّرَهُ اللَّهُ بِذِكْرِهِ، بِالْحَائِطِ الشَّمَالِيِّ مِنْهُ، بِإِزَاءِ بَابِ النَّاطْفَانِيِّينَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو رَوْحٍ عَبْدُ الْمُعِزِّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَرَوِيُّ، فِي شُهُورِ سَنَةِ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَسِتِّ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الأُسْتَاذُ زَيْنُ الإِسْلَامِ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ هَوَازِنَ الْقُشَيْرِيُّ، فِي النِّصْفِ مِنْ رَمَضَانَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ رحمه الله، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْقَاسِمِ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ السُّوسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْرِ بْنُ النَّحَّاسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا تَرَكَ شَيْئًا دُونَ السَّاعَةِ إِلا أَخْبَرَنَا بِهِ، حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ، وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ، ثُمَّ قَالَ: ‌‌«نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا، رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ»
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ‌‌«আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার এই কথা শুনেছে, অতঃপর তা স্মরণ রেখেছে এবং তা বহন করে পৌঁছে দিয়েছে। অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকীহ নয়, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও বেশি প্রাজ্ঞ» , হাদিস।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ, মুসনিদ (সনদ বর্ণনাকারী), দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত, সম্মানিত ও আভিজাত্যের অধিকারী, যিনি হাদিস ও হাদিসবেত্তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজ পরিজনদের ভাগ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, শরফুদ্দীন আহমাদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন আবু আল-ফাদল ইবনে আবি আল-হুসাইন ইবনে আবি আল-ফাদল ইবনে আবি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুহাম্মাদ ইবনে আবি আল-হুসাইন ইবনে আবি মুহাম্মাদ ইবনে আবি আলী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত—তাঁকে পাঠ করে শুনানোর মাধ্যমে, আর আমি তা শুনছিলাম দামেশক নগরীর (আল্লাহ একে তাঁর জিকিরের মাধ্যমে আবাদ রাখুন) জামে উমউয়ীর উত্তর পাশের দেয়ালে নাতফানিয়্যীন দরজার বিপরীতে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাওহ আব্দুল মুইজ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হারাবী, ছয়শত চৌদ্দ হিজরি সালের মাসসমূহে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম যাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মাদ, তাঁকে পাঠ করে শুনানোর মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম পাঁচশত সাতাশ হিজরির জিলকদ মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উস্তাদ যাইনুল ইসলাম আবুল কাসিম আব্দুল কারীম ইবনে হাওয়াজিন আল-কুশাইরী, চারশত চুয়ান্ন হিজরির রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিয (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস-সুসী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-হানজালী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইর ইবনে আন-নাহহাস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দামরাহ, ইবনে শাওযাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, এতে তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য কোনো বিষয়ই বাদ দেননি যার সংবাদ তিনি আমাদের দেননি; যে তা মুখস্থ রাখার সে রেখেছে, আর যে ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেছে। অতঃপর তিনি বললেন: ‌‌«আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা স্মরণ রেখেছে। অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকীহ নয়, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও বেশি প্রাজ্ঞ তার থেকে»।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَأَخْبَرَنَا رِحْلَةُ الشَّامِ وَمُسْنَدُهُ الْمُعَمَّرُ الصَّدُوقُ نَاصِرُ الدِّينِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَدِيرٍ الطَّائِيُّ الدِّمَشْقِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْقَوَّاسِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِدِمَشْقَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَيْخُ الْقُضَاةِ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ الأَنْصَارِيُّ الْحَرَسْتَانِيُّ قُرِئَ عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ فِي الرَّابِعَةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَسِتِّ مِائَةٍ بِجَامِعِ دِمَشْقَ بِمَقْصُورَةِ الْخَضِرِ عليه السلام، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُسْلِمِ السُّلَمِيُّ، يَعْنِي بِقِرَاءَةِ الْحَافِظِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ عَسَاكِرَ مُؤَرِّخِ دِمَشْقَ فِي ذِي الْقَعْدَةِ مِنْ سَنَةِ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو نَصْرٍ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُمَيْعٍ الْغَسَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْعُمَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي هَذِهِ فَوَعَاهَا وَحَفِظَهَا وَعَقَلَهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ»

وَأَخْبَرَنَاهُ أَتَمَّ مِنْ هَذَا الْعَلَّامَةُ النَّسَّابَةُ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ التُّونِيُّ الْحَافِظُ ، وَنُورُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ التَّغْلِبِيُّ الدِّمَشْقِيُّ الصَّالِحُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِمَا مُجْتَمِعِينَ بِالْقَاهِرَةِ الْمُعِزِّيَّةِ ، قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْمنجا بْنُ اللَّتِّيِّ، قَالَ الْأَوَّلُ: إِجَازَةً، وَقَالَ الثَّانِي: سَمَاعًا، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَقْتِ ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْفُضَيْلِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الصَّاعِدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْعَدَوِيُّ هُوَ الْمَذْكُورُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا ، وَحَفِظَهَا ، وَبَلَّغَهَا ، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ» ، الْحَدِيثَ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শামের পর্যটক এবং সেই অঞ্চলের নির্ভরযোগ্য প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, পরম সত্যবাদী নাসিরুদ্দীন আবু হাফস উমর আব্দুল মুনয়িম বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন গাদীর আত-তায়ি আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনুল কাওয়াস নামে পরিচিত; তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি দামেস্কে তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারকদের প্রধান (শায়খুল কুজাত) আবুল কাসিম আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবিল ফজল আল-আনসারী আল-হারাসতানী; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি ৬০৯ হিজরী সালে দামেস্কের জামে মসজিদে খিজির আলাইহিস সালামের প্রকোষ্ঠে চতুর্থ মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আল-মুসলিম আস-সুলামী, অর্থাৎ ৫২৮ হিজরী সালের জিলকদ মাসে দামেস্কের ঐতিহাসিক হাফিজ আবুল কাসিম বিন আসাকিরের পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু নাসর আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জুমাই আল-গাসসানী। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন ইসহাক। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-উমারি। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সজীব করুন, যে আমার এই কথা শ্রবণ করল, অতঃপর তা অনুধাবন করল, সংরক্ষণ করল এবং হৃদয়ঙ্গম করল। কেননা অনেক ইলম (ফিকহ) বহনকারী এমন রয়েছে যে (নিজে) ফকীহ নয়।”

এবং আমাদের নিকট এটি এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন প্রখ্যাত বংশবিদ আলেম শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আত-তূনী আল-হাফিজ এবং নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন হারুন বিন মুহাম্মদ বিন আলী আত-তাগলিবী আদ-দিমাশকি আস-সালিহ; কায়রোর আল-মুইজ্জিয়্যাহতে তাঁদের উভয়ের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুনজা বিন আল-লাত্তি; প্রথমজন বলেন—অনুমতি (ইজাজত) সূত্রে, আর দ্বিতীয়জন বলেন—সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আসিম আল-ফুদাইলি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু আবি শুরাইহ। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আস-সায়েদী। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আলী বিন হারব আত-তায়ি। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-আদাওয়ী—যিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে। তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহকে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ সেই বান্দাকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শ্রবণ করল, অতঃপর তা অনুধাবন করল, সংরক্ষণ করল এবং তা পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ইলম বহনকারী এমন রয়েছে যে নিজে ফকীহ নয়, আবার অনেক ইলম বহনকারী তা এমন ব্যক্তির নিকট নিয়ে যায় যে তার চেয়েও অধিক ফকীহ (গভীর জ্ঞানসম্পন্ন)।”—হাদীস।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٤)
فجميع أهل الرواية ، والإسناد يرجون الدخول في هذه الدعوة المباركة السنية، جعلنا الله تعالى ممن دخل فيها بصدق وحسن نية، وبلغنا من ذلك الأمنية، والإسناد خصيصة فاضلة من خصائص هذه الأمة، وقد عدة من الدين صدر من صدور الأئمة.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الْعَدْلُ الْمُسْنِدُ بَدْرُ الدِّينِ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ يُونُسَ بْنِ يُوسُفَ الدِّمَشْقِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْخَلالِ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْمَدْرَسَةِ الْعَادِلِيَّةِ، مِنْ دِمَشْقَ الْمَحْرُوسَةِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْمنجا ابْنُ اللَّتِّيِّ سَمَاعًا فِي سَنَةِ ثَلاثٍ وَثَلاثِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الْأَوَّلِ بْنُ عِيسَى السِّجْزِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُنَا، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ: الْإِسْنَادُ عِنْدِي مِنَ الدِّينِ، لَوْلَا الْإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ ، وَلَكِنْ إِذَا قِيلَ لَهُ مَنْ حَدَّثَك بَقِيَ ، وَقَدْ‌‌ ضَمِنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْجَنَّةَ لِمَنْ أَدَّى حَدِيثًا تُرَدُّ بِهِ بِدْعَةٌ ، وَتُقَامُ بِهِ سُنَّةٌ، وَجَعَلَ رُوَاةَ الْحَدِيثِ خُلَفَاءَهُ إِلَى أُمَّتِهِ، وَدَعَا لَهُمْ بِالرَّحْمَةِ "

أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ الصَّاحِبِ الْأَجَلِّ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ تَاجِ الْأُمَنَاءِ أَبِي الْفَضْلِ الْعَسَاكِرِيِّ، سَمَاعًا بِجَامِعِ دِمَشْقَ الْأَعْظَمِ، عَنْ عَبْدِ الْمُعِزِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سَمَاعًا ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ هَوَازِنَ، قَالَ:
সুতরাং সকল বর্ণনা এবং ইসনাদ বিশেষজ্ঞগণ এই বরকতময় সুন্নাহভিত্তিক দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা রাখেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা সত্যনিষ্ঠা ও উত্তম নিয়তের সাথে এতে প্রবেশ করেছে এবং আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে দিন। আর ইসনাদ এই উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য। এটি ইমামগণের পক্ষ থেকে দ্বীনের অংশ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার, ন্যায়পরায়ণ শাইখ, মুসনিদ বদরুদ্দীন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি বকর ইবনে ইউনুস ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনুল খাল্লাল নামে পরিচিত। সংরক্ষিত দামেশক নগরীর মাদ্রাসা আল-আদিলিয়াতে তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মানজা ইবনুল লাত্তি ৬৩৩ হিজরী সনে শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হাসান। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদান। তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: ইসনাদ আমার নিকট দ্বীনের অংশ। যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত। কিন্তু যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, "তোমাকে কে হাদীসটি শুনিয়েছে?", তখন সে থমকে যায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, যে এমন কোনো হাদীস পৌঁছে দেয় যার দ্বারা বিদআত প্রতিহত হয় এবং সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। আর তিনি হাদীস বর্ণনাকারীদের তাঁর উম্মতের নিকট নিজের প্রতিনিধি করেছেন এবং তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরীফ আবু আল-ফযল আহমদ ইবনে আস-সাহিব আল-আজাল্ল আবি আল-হুসাইন ইবনে তাজ আল-উমানা আবি আল-ফযল আল-আসাকিরি, দামেশকের প্রধান মসজিদে শ্রবণের মাধ্যমে আব্দুল মুইয ইবনে মুহাম্মদ আল-বায্যাযের সূত্রে। তিনি বলেন: আবুল কাসিম আমাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আব্দুল করীম ইবনে হাওয়াযিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٥)
أَخْبَرَنَا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّنْعَانِيُّ بِمَرْوَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ مُحَمَّدُ بْنُ حَمْدُوَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى التَّيْمِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ لَيْثٍ ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَدَّى إِلَى أُمَّتِي حَدِيثًا وَاحِدًا تُقِيمُ بِهِ سُنَّةً ، وَتَرُدُّ بِهِ بِدْعَةً، فَلَهُ الْجَنَّةُ»

وَأَخْبَرَنَا الْمُسْنِدُ الثِّقَةُ النَّاصِرُ أَبُو حَفْصٍ الطَّائِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمَسْجِدِ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ رضي الله عنه مِنْ دَرْبِ مُحْرِزٍ دَاخِلَ مَدِينَةِ دِمَشْقَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا السَّيِّدُ الشَّرِيفُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو الْفُتُوحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي سَعْدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْبَكْرِيُّ سَنَةَ ثَمَانٍ وَسِتِّ مِائَةٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الشَّيْخُ ظَهْرُ الدِّينِ أَبُو الأَسْعَدِ هِبَةُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ هَوَازِنَ الْقُشَيْرِيُّ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ.

قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو السَّيِّدِ الْحَسَنُ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ الْحُسَيْنِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبِي ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَامِرٍ الطَّائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الرَّضِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي مُوسَى بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنهم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ اللَّهُمَّ ارْحَمْ خُلَفَائِي ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ خُلَفَاؤُكَ؟ قَالَ: الَّذِينَ يَأْتُونَ مِنْ بَعْدِي، وَيَرْوُونَ أَحَادِيثِي ، وَسُنَّتِي، وَيُعَلِّمُونَهَا النَّاسَ "

ولو تتبعت ما ورد في هذا الباب لخرجت إلى ما كرهته من الطول، والاقتصار على ما أتيت به في كفاية وغنية وسؤل.
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আস-সানআনী মার্ভে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রাজা মুহাম্মদ বিন হামদুওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা বিন মাসলামাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া আত-তায়মী, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উম্মতের নিকট এমন একটি হাদীস পৌঁছে দেবে যার মাধ্যমে একটি সুন্নাত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি বিদআত অপসারিত হবে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে»

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশ্বস্ত মুসনিদ আন-নাসির আবু হাফস আত-তাঈ, দামেস্ক শহরের ভেতরে দারব মুহরিজে ওয়াসিলাহ বিন আল-আসকা (রা.)-এর মসজিদে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যেদ শরীফ ফখর উদ্দীন আবু আল-ফুতুহ মুহাম্মদ বিন আবি সাদ বিন আবি সাঈদ আল-বাকরী ৬০৮ হিজরীতে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ জহীর উদ্দীন আবু আল-আসআদ হিবাতুর রহমান বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল করীম বিন হাওয়াজিন আল-কুশায়রী ৫৪৫ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে।

তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আস-সাইয়্যেদ আল-হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন যায়দ আল-হুসাইনী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আমির আত-তাঈ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন মুসা আর-রিদা, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা মুসা বিন জাফর, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা জাফর বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা মুহাম্মদ বিন আলী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আলী বিন আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আল-হুসাইন বিন আলী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: " হে আল্লাহ! আমার উত্তরসূরিদের ওপর রহম করুন, (একথা তিনি) তিনবার (বললেন)। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উত্তরসূরি কারা? তিনি বললেন: যারা আমার পরে আসবে, এবং আমার হাদীস ও সুন্নাহ বর্ণনা করবে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দেবে।"

আমি যদি এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতাম, তবে তা আমার নিকট অপছন্দনীয় দীর্ঘসূত্রিতার দিকে চলে যেত। আমি যা উপস্থাপন করেছি তা-ই যথেষ্ট, অভাবপূরণকারী ও কাম্য হিসেবে পরিগণিত হওয়ার জন্য।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٦)
وها أنا أقدّم كتاب الله تعالى ، وأقول: اعلم أني قرأت كتاب الله تعالي الذي {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 42] ، على سيدي ، ومعلمي خير المكتبين، وضابط المؤدبين ، وزين العابدين الشيخ الفقيه القارئ الفاضل الخطيب الولي الصالح الزاهد التقي أعجوبة زمانه في الورع ، والانقباض عن الناس، والسمت الحسن، أبي زيد عبد الرحمن ابن الشيخ المرحوم أبي الأصبغ عيسي بن أحمد بن فتح الورياغلي القصري، من قصر كتامة، نزيل سبته حرسها الله تعالى، ورحمه، المعروف بابن صاب رزقه، ودرسته بين يديه باللوح، وعرضته عليه من فاتحته إلى خاتمته، المرة بعد المرة، بحيث لا أحصي ذلك كثرة، بحرف نافع ، رحمه الله، وهو أول من فتق لساني بكتاب الله تعالى، وكان رحمه الله تعالى ، ونفع به، وأثابنا وإياه الجنة برحمته، قد تلا بالسبع تيسير أبي عمرو، على خاتمة المقرئين أبي الحسن علي بن محمد الكتامي رحمه الله تعالى، وقرأ الحروف من طريق أبي عمرو المذكور على المسند أبي بكر محمد بن محمد بن أحمد بن مشليون الأنصاري ، وكان حسن الأداء، جيد التعليم، رحمة الله عليه وعليهم أجمعين.

ثم قرأت جميع الكتاب العزيز بالأربع عشر رواية المألوفة المشهورة المعروفة، عن القراء السبعة المشهورين أئمة المسلمين رحمهم الله ورضي عنهم أجمعين، في ثماني عرضات على شيخ الأستاذين ، وإمام المقرئين ، وخاتمة المعريين العلامة الأوحد الحافظ النحوي اللغوي الفرضي الحسابي المتفنن أبي الحسين عبيد الله ابن
আর আমি মহান আল্লাহর কিতাব পেশ করছি এবং বলছি: জেনে রাখুন যে, আমি মহান আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, যার নিকট সম্মুখ থেকে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না, এটি প্রজ্ঞাময় ও সর্বপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ [ফুসসিলাত: ৪২]। আমি এটি পাঠ করেছি আমার সাইয়্যিদ ও শিক্ষক, কিতাব পাঠদানকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আদব শিক্ষা দানকারীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল, ইবাদতকারীদের শোভা, ফকিহ শেখ, বিদগ্ধ ক্বারি, খতিব, পুণ্যবান ওলি, জাহিদ ও পরহেজগার, খোদাভীতিতে নিজ সময়ের বিস্ময়, লোকালয় থেকে বিমুখতা এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী আবু জাইদ আবদুর রহমান ইবনে মরহুম শেখ আবু আল-আসবাহ ঈসা ইবনে আহমদ ইবনে ফাতহ আল-ওয়ুরিয়াগলি আল-কাসরি-এর নিকট; যিনি কাসরে কুতামার অধিবাসী এবং সেউতার (আল্লাহ তাআলা শহরটিকে রক্ষা করুন এবং তাঁর ওপর রহম করুন) বাসিন্দা ছিলেন, এবং তিনি ইবনে সাব রিজকুহু নামে পরিচিত ছিলেন। আমি তাঁর সম্মুখে কাষ্ঠফলকের মাধ্যমে এটি পাঠ করেছি এবং তাঁর নিকট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারবার পেশ করেছি, যার আধিক্য আমি গণনা করতে পারব না। আমি এটি নাফি-এর কিরাত অনুযায়ী পাঠ করেছি, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মহান আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে আমার জিহ্বা উন্মুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর দ্বারা বরকত দান করুন এবং তাঁর রহমতে আমাদের ও তাঁকে জান্নাত দান করুন। তিনি আবু আমর-এর ‘তাইসির’ অনুযায়ী সাত কিরাতে ক্বারিদের সমাপক আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-কুতামির (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) নিকট তিলাওয়াত করেছেন। আর তিনি উল্লেখিত আবু আমরের সূত্রে মুসনিদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাশলুন আল-আনসারির নিকট বিভিন্ন তিলাওয়াত পদ্ধতি পাঠ করেছেন। তিনি ছিলেন সুন্দর তিলাওয়াতকারী এবং উত্তম শিক্ষক। তাঁর ওপর এবং তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

এরপর আমি মুসলিম উম্মাহর ইমামদের অন্তর্ভুক্ত সাতজন প্রসিদ্ধ ক্বারির কাছ থেকে সুপরিচিত ও প্রচলিত চৌদ্দটি রেওয়ায়াতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পবিত্র কিতাব পাঠ করেছি। এটি আমি আটবার পেশ করেছি উস্তাদদের উস্তাদ, ক্বারিদের ইমাম, আল-মুআরিদের সমাপক, অনন্য আল্লামা, হাফেজ, নাহুবিদ, ভাষাবিদ, ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ, গণিতবিদ ও বহু শাস্ত্রে পণ্ডিত আবু আল-হুসাইন উবায়দুল্লাহ ইবনে
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٧)
الشيخ الأجل أبي جعفر أحمد بن عبيد الله بن محمد بن عبيد الله بن أبي الربيع القرشي الأموي، ثم العثماني من ولد أمير المؤمنين ذي النورين أبي عمرو عثمان بن عفان رضي الله عنه، الأندلسي ثم الإشبيلي، مستوطن سبته حرسها الله تعالى ورحمة وبرد ضريحه وقدس روحه، منها عرضه بقراءة أبي رويم ، ويقال: أبو عبد الرحمن ، ويقال: أبو الحسن نافع بن عبد الرحمن ابن أبي نعيم مولي جعونة بن شعيب حليف بني هاشم على الإطلاق.

ومن رواية أبي سعيد عثمان بن سعيد المصري الملقب بورش رحمة الله، ولقب بذلك لشدة بياضه، وورش عندهم شيء يصنع من اللبن، فسمي به من طريق أبي يعقوب يوسف بن عمرو الأزرق المدني عنه.

وعرضة بقراءة نافع المذكور أيضا من رواية ربيبة أبي موسي عيسي بن ميناء الزرقي المدني الملقب بقالون ، رحمه الله تعالى، ولقب بذلك لجودة قراءته، وقالون بلسان الروم جيد، هكذا روينا عن الإمام أبي عمرو المقرئ رحمه الله تعالى، وقال الحافظ أبو الفرج ابن الجوزي رحمه الله تعالى في كتابة المرسوم بكشف النقاب عن الأسماء والألقاب: " وقالون في بعض اللغات يعني قارة، قال رجل من بني
মহামহিম শায়খ আবু জাফর আহমাদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবির রাবী আল-কুরাশি আল-উমাওয়ি, অতঃপর আল-উসমানি, যিনি আমিরুল মুমিনিন যিন নুরাইন আবু আমর উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর, আন্দালুসি অতঃপর ইশবিলি, সাবতাহ’র অধিবাসী—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন, তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁর কবরকে শীতল করুন এবং তাঁর রুহকে পবিত্র করুন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আবু রুয়াইমের কিরাত অনুযায়ী তাঁর উপস্থাপনা—যাঁকে আবু আবদুর রহমানও বলা হয়, আবার আবু হাসান নাফি বিন আবদুর রহমান ইবনে আবি নুআইমও বলা হয়, যিনি বনু হাশিমের নিরঙ্কুশ মিত্র জাউনা বিন শুয়াইবের মুক্তদাস ছিলেন।

এবং আবু সাঈদ উসমান বিন সাঈদ আল-মিসরি হতে বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ী, যাঁর উপাধি ‘ওয়ারশ’ (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)। তাঁর গায়ের রঙ অত্যধিক শুভ্র হওয়ার কারণে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল; আর তাঁদের পরিভাষায় ‘ওয়ারশ’ হলো দুধ থেকে তৈরি একটি জিনিস। তাঁর সূত্রে আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আমর আল-আজরাক আল-মাদানির তরিক থেকে এটি বর্ণিত।

এবং উল্লিখিত নাফি’র কিরাত অনুযায়ী উপস্থাপনা, যা আবু মুসা ঈসা বিন মিনা আল-জুরকি আল-মাদানি হতে বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ী, যাঁর উপাধি ‘কালুন’ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তাঁর কিরাতের উৎকর্ষতার কারণে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল। রোমান ভাষায় ‘কালুন’ অর্থ হলো উত্তম। ইমাম আবু আমর আল-মুকরি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে আমরা এভাবেই বর্ণনা করেছি। হাফিজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘কাশফুন নিকাব আনিল আসমা ওয়াল আলকাব’ নামক কিতাবে লিখেছেন: "এবং কোনো কোনো ভাষায় কালুন অর্থ হলো দক্ষ, বনু জনৈক এক ব্যক্তি বলেছেন..."
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٨)
الهون بن خزيمة لما فرق الشداخ، قبائل كنانة:

دعونا قارة لا تنفرونا … فنجعل مثل أجفال الظليم

فسموا القارة "، انتهى كلام أبي الفرج، من طريق أبي نشيط محمد بن هارون المروزي عنه ، وعرضة ثالثة بقراءة أبي معبد عبد الله بن كثير بن المطلب التابعي الداري المكي، مولي عمرو بن علقمة الكناني، والداري العطار عند العرب، من رواية أبي عمر محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن خالد بن سعيد المخزومي المعروف بقنبل رحمة الله، قال الخليل: القنبلة طائفة من الناس ، ومن الخيل أيضًا، ويقال: أن أبا عمر هذا كان من أهل بيت بمكة يعرفون بالقنابله، ويقال: أن اسمه قنبل، وليس بلقب له، والله أعلم، من طريق أبي بكر أحمد بن موسي بن العباس بن مجاهد البغدادي عنه، ومن رواية أبي الحسن أحمد بن محمد بن عبد الله بن القاسم بن نافع بن أبي بزة رضي الله عنه البزي المخزومي مولاهم، من طريق أبي معمر سعيد بن عبد الرحمن الجمحي البصري، ومن طريق أبي جعفر محمد بن عبد الله اللهبي المكي، كليهما عنه.

وعرضة رابعة بقراءة أبي عمرو بن العلاء بن عمار بن عبد الله بن الحصين بن
আল-হুন ইবনে খুজাইমাহ যখন আশ-শাদ্দাখ কিনানাহর গোত্রগুলোকে পৃথক করেছিলেন:

আমাদের কারাহ হতে দাও, আমাদের তাড়িয়ে দিও না … যাতে আমরা পলায়নপর উটপাখির মতো হয়ে যাই

অতঃপর তাদের নাম 'কারাহ' রাখা হলো। আবু আল-ফারাজের বক্তব্য এখানেই শেষ, যা তার সূত্রে আবু নাশিত মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন। আর তৃতীয় উপস্থাপনা হচ্ছে তাবিঈ আবু মাবাদ আবদুল্লাহ ইবনে কাসীর ইবনে আল-মুত্তালিব আদ-দারী আল-মাক্কীর কিরাত অনুযায়ী, যিনি আমর ইবনে আলক্বামাহ আল-কিনানীর আযাদকৃত দাস ছিলেন। আর আরবদের নিকট 'আদ-দারী' অর্থ হলো সুগন্ধি বিক্রেতা। এটি আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে সাঈদ আল-মাখযুমীর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত, যিনি কুম্বুল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নামে পরিচিত। খলিল বলেছেন: 'আল-কুম্বুলাহ' অর্থ মানুষের একটি দল, আবার এটি ঘোড়ার দলের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, এই আবু উমর মক্কার এমন এক পরিবারের সদস্য ছিলেন যারা 'কানাবিলাহ' নামে পরিচিত ছিলেন। আরও বলা হয় যে, তার নামই ছিল কুম্বুল, এটি তার উপাধি ছিল না; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এটি তার সূত্রে আবু বকর আহমদ ইবনে মুসা ইবনে আব্বাস ইবনে মুজাহিদ আল-বাগদাদীর মাধ্যমে বর্ণিত। এবং আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-কাসিম ইবনে নাফি ইবনে আবি বাজযাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আল-বাযযী আল-মাখযুমীর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত, যিনি তাদের আযাদকৃত দাস ছিলেন, যা আবু মা'মার সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জুমাহী আল-বাসরী এবং আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-লাহবী আল-মাক্কী—উভয়ের মাধ্যমেই তাঁর থেকে বর্ণিত।

আর চতুর্থ উপস্থাপনা আবু আমর ইবনে আল-আলা ইবনে আম্মার ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে... এর কিরাত অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ١٩)
الحارس بن جلهم بن خزاعي بن مازن بن مالك بن عمرو بن تميم المازني، واختلف في اسمه، فقيل: جنيد، وقيل: عثمان، وقيل: عريان، وقيل زيان، وقيل: محبوب، وقيل: يحيى، وقيل: اسمه كنيته، والله تعالى أعلم، من رواية أبي عمر حفص بن عمر بن عبد العزيز ابن صهبان الأزدي الدوري النحوي ينسب إلى الدور موضع ببغداد من جهة شرقيها، وبسر رأي موضع آخر سماه المعتصم الدور، والله أعلم، من طريق أبي الزعراء عبد الرحمان بن عبدوس البغدادي، وهي قراءة أهل العراق، وأبي الحسن محمد بن الباهلي، ويقال: أن الباهلي هذا أخذ القراءة عن الدوري سماعًا من غير عرض، وأن القراءة لم تكن تحمل عنه تلاوة، وإنما كان صاحب حديث، وأغفل ابن شريح التنبيه على هذا، ولعله لم يبلغه ذلك، والله تعالى أعلم، ومن طريق أبي جعفر أحمد ابن فرج المفسر، ثلاثتهم عنه، على ما بيناه.

ومن رواية أبي شعيب صالح بن زياد بن عبد الله الرقي السوسي، من طريق أبي عمران بن جرير المقرئ الضرير النحوي الرقي عنه، وهي قراءة أهل الرقة، والدوري والسوسي المذكوران، واسطتهما أبو محمد يحيى بن المبارك، بن المغيرة النحوي المعروف باليزيدي البصري، وكان رحمة
আল-হারিস বিন জুলহুম বিন খুযায়ি বিন মাযেন বিন মালিক বিন আমর বিন তামীম আল-মাজেনি; তার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: জুনায়েদ, বলা হয়েছে: উসমান, বলা হয়েছে: উরইয়ান, বলা হয়েছে: যিয়ান, বলা হয়েছে: মাহবুব, আবার বলা হয়েছে: ইয়াহইয়া। কেউ কেউ বলেছেন: তার উপনামই (কুননিয়াহ) ছিল তার নাম; আর আল্লাহ তাআলা অধিক জ্ঞাত। এটি আবু উমর হাফস বিন উমর বিন আব্দুল আযীয ইবনে সাহবান আল-আযদি আদ-দুরী আন-নাহউয়ীর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত। তাকে 'আদ-দুরী' বলা হয় বাগদাদের পূর্ব দিকের 'দূর' নামক স্থানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে। এছাড়া ‘বুররা রা’ঈ’ নামক অন্য একটি স্থানকেও আল-মু'তাসিম 'দূর' নামকরণ করেছিলেন; আল্লাহ অধিক জ্ঞাত। এটি আবুয যা’রা আব্দুর রহমান বিন আব্দুস আল-বাগদাদীর মাধ্যমে বর্ণিত, যা ইরাকবাসীদের কিরাত (পাঠরীতি)। আরও বর্ণিত হয়েছে আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-বাহিলীর মাধ্যমে। বলা হয় যে, এই বাহিলী আদ-দুরী থেকে কিরাত গ্রহণ করেছেন কেবল শ্রবণের (সামা') মাধ্যমে, কোনো সরাসরি পাঠ উপস্থাপনের (আরদ) মাধ্যমে নয়। তার নিকট থেকে কিরাত তিলাওয়াতের মাধ্যমে গ্রহণ করা হতো না, বরং তিনি মূলত একজন হাদিসবেত্তা ছিলেন। ইবনে শুরায়হ বিষয়টি সতর্কতার সাথে উল্লেখ করতে পারেননি, সম্ভবত সংবাদটি তার নিকট পৌঁছায়নি; আর আল্লাহ তাআলা অধিক জ্ঞাত। এছাড়া আবু জাফর আহমদ ইবনে ফারাজ আল-মুফাসসিরের মাধ্যমেও বর্ণিত হয়েছে। আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী তারা তিনজনই তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আবু শুআইব সালিহ বিন যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাক্কি আস-সুসীর বর্ণনা থেকে; যা আবু ইমরান বিন জারীর আল-মুকরি আদ-দারীর আন-নাহউয়ী আর-রাক্কির মাধ্যমে তার থেকে বর্ণিত। এটি রাক্কাবাসীদের কিরাত। উল্লিখিত দুরী এবং সুসী—এই উভয়ের মাধ্যম হলেন আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন আল-মুবারক বিন আল-মুগীরা আন-নাহউয়ী, যিনি আল-ইয়াযিদী আল-বাসরী নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন রহমত...
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الله عدويًا لا يزيديًا، وإنما قيل له اليزيدي لصحبته ليزيد بن منصور خال المهدي ، وقيل: لأنه أدب ولد يزيد بن منصور الحميري، والله تعالى أعلم.

وعرضة خامسة بقراءة أبي عمران عبد الله بن عامر اليحصبي قاضي دمشق في ولاية الوليد بن عبد الملك، وكان رحمه الله تعالى من التابعين، ولم يكن في القراء السبعة من هو من العرب غيره، وغير أبي عمرو، والباقون من الموالي، والله تعالى أعلم، من رواية أبي عمرو عبد الله، بن أحمد بن بشير بن ذكوان القرشي الدمشقي، عن طريق أبي عبد الله هارون بن موسي العتكي النحوي، الأخفش عنه.

ومن رواية أبي الوليد هشام، بن عمار بن نصير بن أبان بن ميسرة السلمي القاضي الدمشقي، عن طريق أبي العباس أحمد بن محمد بن بكر البغدادي، وأبي الحسن أحمد بن بابويه، كليهما عنه.

وعرضة سادسة بقراءة أبي بكر عاصم، بن أبي النجود، ويقال: ابن بهدلة، ويقال: اسم أبي النجود عبد، وبهدلة اسم أمه، التابعي رحمه الله تعالى، من رواية أبي عمر حفص، بن سليمان بن المغيرة الضرير البزاز المعروف بحفيص الكوفي رحمه الله، عن طريق عمرو بن الصباح عنه.
আল্লাহ আদাবিইয়্যাহ, ইয়াজিদি নয়। তাকে ইয়াজিদি বলা হতো আল-মাহদীর মামা ইয়াজিদ ইবনে মনসুরের সাথে তার সাহচর্যের কারণে। আবার বলা হয়: কারণ তিনি ইয়াজিদ ইবনে মনসুর আল-হিমইয়ারির সন্তানকে আদব (শিষ্টাচার) শিক্ষা দিতেন। আর মহান আল্লাহ অধিক অবগত।

এবং ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে দামেস্কের বিচারক আবু ইমরান আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-ইয়াহসুবির কিরাত (পাঠরীতি) অনুযায়ী পঞ্চম পাঠ উপস্থাপন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সাতজন ক্বারীর মধ্যে তিনি এবং আবু আমর ব্যতীত আর কেউ আরব ছিলেন না, বাকিরা ছিলেন মাওয়ালী (মুক্তদাস বা অনারব)। আর মহান আল্লাহ অধিক অবগত। এটি আবু আমর আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে বশির ইবনে জাকওয়ান আল-কুরাইশি আদ-দিমাশকির বর্ণনা থেকে, যা আবু আবদুল্লাহ হারুন ইবনে মুসা আল-আতাকি আন-নাহবি আল-আখফাশের মাধ্যমে তার থেকে বর্ণিত।

এবং আবু আল-ওয়ালিদ হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নাসির ইবনে আবান ইবনে মায়সারা আস-সুলামি আল-কাদি আদ-দিমাশকির বর্ণনা থেকে, যা আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকর আল-বাগদাদি এবং আবুল হাসান আহমদ ইবনে বাবুওয়াইহ—উভয়ের মাধ্যমে তার থেকে বর্ণিত।

এবং আবু বকর আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদের কিরাত অনুযায়ী ষষ্ঠ পাঠ উপস্থাপন। তাকে ইবনে বাহদালাও বলা হয়। বলা হয়: আবু আন-নাজুদের নাম হলো আবদ এবং বাহদালা তার মায়ের নাম। তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) একজন তাবিঈ ছিলেন। এটি আবু উমর হাফস ইবনে সুলাইমান ইবনে আল-মুগিরা আদ-দারির আল-বাজজাজ—যিনি হাফিস আল-কুফি নামে পরিচিত (রাহিমাহুল্লাহ)—তার বর্ণনা থেকে, যা আমর ইবনে আস-সাব্বাহর মাধ্যমে তার থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢١)
ومن رواية أبي بكر شعبه، بن عياش بن سالم الأسدي الحناط الكوفي، من طريق أبي زكرياء يحيى بن آدم بن سليمان الكوفي، عنه.

وعرضة سابعة بقراءة أبي الحسن علي، بن حمزة النحوي، مولى بني أسد المعروف بالكسائي، وعرف بذلك لأنه أحرم في كساء، وقيل: لأنه جلس إلى حمزة الزيات في كساء، فقال حمزة: من يقرأ؟ فقيل: الكسائي، والله تعالى أعلم، من رواية أبي عمر حفص بن عمر بن عبد العزيز بن صهبان الدوري، عن طريق أبي الحسن محمد بن الباهلي، وأبي نصر القاسم بن عبد الوارث، وأبي الزعراء عبد الرحمن بن عبدوس، وأبي جعفر أحمد بن فرج المفسر، وأبي عثمان سعيد بن عبد الرحمن المقري، خمستهم عنه، وقد قدمنا أن الباهلي لم يعرض على الدوري، وإنما سمع من غير عرض، والله تعالى أعلم.

ومن رواية أبي الحارس الليث بن خالد البغدادي، من طريق أبي عبد الله محمد بن يحيى المعروف بالكسائي، الصغير البغدادي عنه، وهذا الكسائي الصغير أغفله الحافظ أبو الفرج ابن الجوزي فلم يذكره في كشف النقاب، وقد غلط في هذا الكسائي رجلان، رفعه أحدهما، ووضعه الآخر، فأما الذي رفعه فعبد المنعم، الذي ذكر أنه قرأ على الكسائي الكبير، وإنما قرأ على أبي الحارث عنه،
এবং আবু বকর শু'বাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে সালিম আল-আসাদি আল-হান্নাত আল-কুফির বর্ণনা থেকে, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আদম ইবনে সুলায়মান আল-কুফির সূত্রে, তাঁর পক্ষ থেকে।

এবং সপ্তম উপস্থাপনা আবুল হাসান আলী ইবনে হামজা আন-নাহবি এর কিরাত অনুযায়ী, যিনি বনু আসাদ গোত্রের মুক্ত দাস এবং আল-কিসায়ি নামে পরিচিত। তাঁকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো তিনি একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছিলেন; আবার বলা হয় যে, তিনি একটি চাদর জড়িয়ে হামজা আস-যাইয়াতের কাছে বসেছিলেন, তখন হামজা জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "কে পাঠ করছে?" উত্তর দেওয়া হয়েছিল: "আল-কিসায়ি (চাদরওয়ালা)"। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। এটি আবু ওমর হাফস ইবনে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে সাহবান আদ-দুরি-এর বর্ণনা থেকে, আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল বাহিলি, আবু নাসর আল-কাসিম ইবনে আব্দুল ওয়ারিস, আবুয যা'রা আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুস, আবু জাফর আহমাদ ইবনে ফারাজ আল-মুফাসসির এবং আবু উসমান সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুকরি—এই পাঁচজন তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, বাহিলি আদ-দুরি-এর কাছে পাঠ উপস্থাপন করেননি, বরং তিনি কোনো উপস্থাপনা ছাড়াই কেবল শুনেছেন। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

এবং আবুল হারিস লাইস ইবনে খালিদ আল-বাগদাদির বর্ণনা থেকে, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া—যিনি ছোট কিসায়ি আল-বাগদাদি হিসেবে পরিচিত—তাঁর সূত্রে। হাফেজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি এই ছোট কিসায়ির বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন এবং তাঁর 'কাশফুল নিকাব' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেননি। এই কিসায়ি সম্পর্কে দুইজন ব্যক্তি ভুল করেছেন; তাঁদের একজন তাঁকে অনেক উঁচুতে তুলেছেন এবং অন্যজন তাঁকে নিচে নামিয়েছেন। যিনি তাঁকে উঁচুতে তুলেছেন তিনি হলেন আব্দুল মুনইম, যিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি বড় কিসায়ির কাছে পাঠ করেছেন, অথচ তিনি মূলত তাঁর সূত্রে আবুল হারিসের নিকট পাঠ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وأما الذي وضعه فعبد الله بن الحسين السامري الذي ذكر أنه قرأ عليه، وموته قبل مولده بثمانية أعوام أو تسعة على الشك في ذلك، وقد أغفل التنبيه على الإمام أبو عبد الله بن شريح أيضًا، والله تعالى أعلم، وهو ولي التوفيق.

وعرضة ثامنة بقراءة أبي عمارة حمزة، بن حبيب بن عمارة بن إسماعيل الفرضي الزيات، من رواية أبي محمد خلف، بن هشام بن ثعلب بن طالب البزاز الصلحي، من أهل فم الصلح، بلدة على دجله قريبة من واسط، من طريق أبي الحسن إدريس بن عبد الكريم الحداد البغدادي عنه، ومن رواية أبي عيسي خلاد بن خالد الصيرفي الكوفي، من طريق أبي بكر محمد بن شاذان الجوهري عنه، وخلف بن هشام، وخلاد بن خالد المذكوران واسطتهما أبو عيسي، ويقال أبو محمد سليم بن عيسي الحنفي الكوفي عنه، رحمة الله عليهم أجمعين.

وهذه القراءات السبع المذكورة، والأربع عشر رواية المشهورة المسطورة هي التي تضمنها كافي الإمام أبي عبد الله محمد بن شريح بن أحمد بن محمد بن شريح بن يوسف بن عبد الله بن شريح الرعيني، المقرئ الأندلسي ، ثم الإشبيلي رحمه الله تعالى، وكمل لي بحمد الله تعالى وهدايته وتوفيقه جميع العرضات المذكورة في مدة آخرها شهر ربيع الآخر من سنه ست وثمانين وست مائة، وكتب لي الأستاذ الأجل أبو الحسين المذكور رحمه الله تعالى صحة ذلك بخط يده المباركة، وأشهد لي به في التاريخ فقهاء سبته ، وفضلائها ، وأمرائها ، وكبرائها، وبالله التوفيق، بحق تلاوته رحمة الله ورضي عنه بالقراءات السبع المذكورة بمضمن الكافي المذكور، على الشيخ
আর যিনি এটি সংকলন করেছেন তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আস-সামিরি, যার সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি তাঁর কাছে পাঠ করেছেন; অথচ তাঁর মৃত্যু তাঁর (সামিরির) জন্মের আট বা নয় বছর আগে হয়েছিল—এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। আর ইমাম আবু আবদুল্লাহ বিন শুরাইহ-এর বিষয়েও সতর্ক করতে অবহেলা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ, আর তিনিই তাওফিকদাতা।

এবং অষ্টম উপস্থাপন ছিল আবু আমারা হামজাহ বিন হাবিব বিন আমারা বিন ইসমাইল আল-ফারদি আজ-জাইয়্যাত-এর কিরাত অনুযায়ী; যা আবু মুহাম্মদ খালাফ বিন হিশাম বিন সালাব বিন তালিব আল-বাজ্জাজ আস-সুলহি-এর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত, যিনি ফামুস সুলহ-এর অধিবাসী ছিলেন (যা দজলা নদীর তীরের একটি শহর এবং ওয়াসিত-এর নিকটবর্তী), তাঁর সূত্রে আবু আল-হাসান ইদ্রিস বিন আব্দুল কারিম আল-হাদ্দাদ আল-বাগদাদি-এর মাধ্যমে। এবং আবু ঈসা খাল্লাদ বিন খালিদ আস-সাইরাফি আল-কুফি-এর বর্ণনা থেকে, তাঁর সূত্রে আবু বকর মুহাম্মদ বিন শাযান আল-জাওহারি-এর মাধ্যমে। উক্ত খালাফ বিন হিশাম এবং খাল্লাদ বিন খালিদ—এই উভয়ের মধ্যস্থতাকারী হলেন আবু ঈসা, যাঁকে আবু মুহাম্মদ সুলাইম বিন ঈসা আল-হানাফি আল-কুফিও বলা হয়, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

আর উল্লেখিত এই সাত কিরাত এবং লিপিবদ্ধ চৌদ্দটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা সেই বিষয়াবলি যা ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শুরাইহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন শুরাইহ বিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন শুরাইহ আল-রুআইনি আল-মুকরি আল-আন্দালুসি, অতঃপর আল-ইশবিলি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর 'কাফি' গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। আল্লাহ তাআলার প্রশংসা, হিদায়াত ও তাওফিকের মাধ্যমে উল্লেখিত সকল উপস্থাপন আমার জন্য সম্পন্ন হয়েছে এমন এক সময়ে যার সমাপ্তি ছিল ৬৬৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে। মহান উস্তাদ উল্লেখিত আবু আল-হুসাইন (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর বরকতময় নিজ হাতে এর সঠিকতা লিখে দিয়েছেন। আর সেই তারিখে সেবতাহ-এর ফকিহগণ, বিদ্বানগণ, আমিরগণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমার সপক্ষে এর সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা আসে। উল্লেখিত 'কাফি' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত সাতটি কিরাতের মাধ্যমে তিলাওয়াতের হক অনুযায়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), শাইখের নিকট।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الفقيه الأستاذ المقري النحوي الأديب أبي عمر محمد بن الشيخ الفقيه الأديب اللغوي أبي القاسم، وكان شيخنا أبو الحسين يكنيه أبا العباس أحمد بن محمد بن أحمد ابن أبي هارون التميمي الإشبيلي، بحق تلاوته على أبيه أبي القاسم المذكور، بمضمن الكتاب المذكور، بحق تلاوته على جماعة منهم الأستاذ الفرضي أبو الحسين عبيد الله بن محمد اللخمي المعروف بابن اللحياني، والحافظ أبو بكر محمد بن خير بن عمر بن خليفة المقري الأموي، والخطيب أبو الحكم عمرو بن حجاج اللخمي، والأستاذ أبو الحكم عمرو بن زكرياء بن بطال البهراني، بمضمن الكتاب المذكور، بحق تلاوتهم كلهم على المقرئ الجليل الخطيب أبي الحسن شريح بن محمد المذكور، وكان شريح هذا قد أجاز لأبي القاسم المذكور جميع تأليفه ، وتأليف أبيه ، وأجاز أيضًا جميع ذلك لأبي القاسم ابن بقي، شيخ شيخنا أبي الحسين القرشي المذكور، ويأتي ذكر ذلك إن شاء الله تعالى.

وتلا أبو الحسن شريح بالقراءات السبع على أبيه أبي عبد الله بطرقه المعلومة المذكورة في الكافي المذكورة عن طريق جليل، ورجاله مشاهير أئمة قراء، ويعلو أبو عبد الله هذا في رواية قالون علوًا بيِّنًا، هو فيها بمنزله أحد شيوخ الإمام الفاضل أبي عمرو الداني رحمهما الله تعالى بالتلاوة والعرض، كما أيضا ينزل في رواية البزي، وابن ذكوان، نزولًا ظاهرًا، هو فيهما بالتلاوة بمنزلة من أخذهما عن أبي عمرو المقرئ، وسائر القراءات هو فيها بمنزلة أبي عمرو من الطرق الصحاح التي لا مقال فيها، وبالله التوفيق.

وقد أخذت الحروف من طريق الإمام أبي عمرو المذكور، عن جماعة بعلو، ولله الحمد والمنة، وهو ولي التوفيق.

ومن عالي ما وقع لي من الطريق في القراءات السبع ما أخبرنا به الشيخان الجليلان الفاضلان الحسيب شرف الدين أبو الحسن يحيى ابن الشيخ الفقيه
ফকিহ, উস্তাদ, মুকরি, ব্যাকরণবিদ ও সাহিত্যিক আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে শাইখ, ফকিহ, সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ আবু আল-কাসিম; আমাদের শাইখ আবুল হুসাইন তাকে আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি হারুন আত-তামিমি আল-ইশবিলি উপনামে ডাকতেন। তিনি উল্লেখিত কিতাবের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি তার পিতা উল্লেখিত আবু আল-কাসিমের নিকট তিলাওয়াতের মাধ্যমে অর্জন করেছেন। আর তিনি একদল উস্তাদের নিকট তিলাওয়াত করেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ আল-ফারদি আবুল হুসাইন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-লাখমি, যিনি ইবনুল লাহয়ানি নামে পরিচিত; হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে খাইর ইবনে উমর ইবনে খলিফা আল-মুকরি আল-উমায়ি; খতিব আবু আল-হাকাম আমর ইবনে হাজ্জাজ আল-লাখমি; এবং উস্তাদ আবু আল-হাকাম আমর ইবনে জাকারিয়া ইবনে বাত্তাল আল-বাহরানি। উল্লেখিত কিতাবের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদির ক্ষেত্রে তারা সকলেই মহান মুকরি ও খতিব আবু আল-হাসান শুরাইহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মজকুরের নিকট তিলাওয়াত করেছেন। এই শুরাইহ উল্লেখিত আবু আল-কাসিমকে তার নিজের এবং তার পিতার সকল রচনার ইজাজত প্রদান করেছিলেন। এছাড়া তিনি আমাদের শাইখ উল্লেখিত আবুল হুসাইন আল-কুরাশির শাইখ আবু আল-কাসিম ইবনে বাকিকেও এই সমস্ত বিষয়ের ইজাজত প্রদান করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা চাইলে সামনে এ বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

আবু আল-হাসান শুরাইহ তার পিতা আবু আব্দুল্লাহর নিকট সাবআ কিরাআত (সাত প্রকার পাঠরীতি) তার পরিচিত তরিকাসমূহের মাধ্যমে পাঠ করেছেন, যা মহান তরিকায় উল্লেখিত "আল-কাফি" কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। এর বর্ণনাকারীগণ কিরাআতের প্রসিদ্ধ ইমাম। কালুনের রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে এই আবু আব্দুল্লাহর সনদ অত্যন্ত উচ্চমানের; তিলাওয়াত এবং পেশ করার ক্ষেত্রে তিনি এতে ফাজিল ইমাম আবু আমর আদ-দানি (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) এর জনৈক শাইখের মর্যাদায় আসীন। আবার বাজ্জি ও ইবনে জাকোয়ানের রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে তার সনদ স্পষ্টভাবেই নিচু পর্যায়ের; তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তিনি ওই ব্যক্তির স্তরের যিনি এই দুই রেওয়ায়েত আবু আমর আল-মুকরির নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আর অন্যান্য কিরাআতের ক্ষেত্রে তিনি সহিহ তরিকাসমূহের বিচারে আবু আমরের মর্যাদায় রয়েছেন যেগুলোর ব্যাপারে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

আমি একদল উস্তাদের নিকট হতে উচ্চ সনদের মাধ্যমে উল্লেখিত ইমাম আবু আমরের তরিকায় হরফসমূহ গ্রহণ করেছি। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই। তিনিই তাওফিকের মালিক।

সাবআ কিরাআতের ক্ষেত্রে আমার নিকট যে সকল উচ্চ পর্যায়ের সনদ পৌঁছেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো যা আমাকে জানিয়েছেন দুই মহান, ফাজিল ও সম্মানিত শাইখ— শরফুদ্দিন আবু আল-হাসান ইয়াহিয়া ইবনে শাইখ আল-ফকিহ...
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الإمام الفاضل نجيب الدين أحمد ابن الفاضل المحدث عز الدين بن عبد العزيز بن الصواف، وكمال الدين أبو الذكر أحمد بن عبد القادر بن رافع بن أحمد بن الدمراوي اللخمي المالكي كتابة غير مرة من الإسكندرية قبل رحلتي إليها، قال كل واحد منها: «تلوت كتاب الله تعالى بالسبع على الإمام أبي القاسم بن الصفراوي، هو المقري الشهير في وقته شيخ الفقهاء ، والقراء ، والمحدثين جمال الدين أبو القاسم عبد الرحمن ابن الشيخ أبي الفضل عبد المجيد إسماعيل ابن عثمان بن يوسف بن الحسين بن حفص أحد المعمرين، جاوز التسعين، وتلا بالسبع عاليًا، على الشيخ الأجل المقري أبي القاسم عبد الرحمن، بن خلف الله المقري، وتلا هو أبي القاسم عبد الرحمن بن أبي بكر بي أبي سعيد بن الفحام الصقلي مؤلف كتاب التجريد، وتلا على أبي العباس أحمد بن سعيد أحمد بن نفيس المقرئ شيخ أبي عبد الله بن شريح المذكور في القراءات السبع خلا رواية قالون، فقد بان لك علو هذه الطريق، ولكأني أخذت القراءات المذكورة عن أبي القاسم أحمد بن محمد شيخ شيخنا، وبالله التوفيق» ومن تسوغ لنا الرواية عنه في إذنه العام الفخر أبو الحسن علي بن أحمد ابن عبد الواحد ، قال: أخبرنا أبو طاهر بركان بن إبراهيم، عن أبي القاسم الصقلي المذكور وهو ابن الفحام، عن أبي عبد الله محمد بن أحمد بن إبراهيم الرازي.

বিশিষ্ট ইমাম নাজীবুদ্দীন আহমাদ ইবনুল ফাযিল আল-মুহাদ্দিস ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দুল আযীয বিন আস-সাওয়াফ এবং কামালুদ্দীন আবুয যিকর আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন রাফে বিন আহমাদ বিন আদ-দামরাওয়ী আল-লাখমী আল-মালিকী আলেকজান্দ্রিয়াতে আমার সফরের পূর্বে একাধিকবার আমাকে পত্র লিখেছেন। তাদের প্রত্যেকেই বলেছেন: ‘আমি ইমাম আবুল কাসিম বিন আস-সাফরাওয়ীর নিকট সাত ক্বিরাতে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করেছি। তিনি ছিলেন স্বীয় সময়ের প্রসিদ্ধ মুকরি (ক্বিরাত বিশেষজ্ঞ), ফকীহ, ক্বারী ও মুহাদ্দিসগণের শাইখ জামালুদ্দীন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনুল শাইখ আবিল ফাযল আবদুল মাজীদ ইসমাইল বিন উসমান বিন ইউসুফ বিন আল-হুসাইন বিন হাফস। তিনি ছিলেন দীর্ঘজীবীদের একজন এবং নব্বই বছর অতিক্রম করেছিলেন। তিনি উচ্চ সনদে সাত ক্বিরাতে তিলাওয়াত করেছেন মহান শাইখ মুকরি আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন খালাফউল্লাহ আল-মুকরির নিকট। আর তিনি (আবদুর রহমান বিন খালাফউল্লাহ) তিলাওয়াত করেছেন "কিতাবুত তাজরীদ"-এর রচয়িতা আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবু বকর ইবনে আবু সাঈদ ইবনুল ফাহহাম আস-সিকিল্লীর নিকট। তিনি (ইবনুল ফাহহাম) তিলাওয়াত করেছেন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন সাঈদ আহমাদ বিন নাফীস আল-মুকরির নিকট, যিনি কালূনের বর্ণনা ব্যতীত বাকি সাত ক্বিরাতের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহ বিন শুরাইহ-এর উস্তাদ ছিলেন। সুতরাং এই সনদের উচ্চ মর্যাদা (উলূও) আপনার নিকট স্পষ্ট হলো; আর আমার মনে হচ্ছে যেন আমি উল্লিখিত ক্বিরাতসমূহ আমাদের শাইখের শাইখ আবুল কাসিম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ থেকে গ্রহণ করেছি। আল্লাহর তাওফীকেই সবকিছু সম্ভব।’ আর যাদের সাধারণ অনুমতির মাধ্যমে আমাদের জন্য বর্ণনা করা বৈধ হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-ফখর আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির বারকান বিন ইব্রাহিম, তিনি উল্লিখিত আবুল কাসিম আস-সিকিল্লী থেকে—যিনি ইবনুল ফাহহাম নামে পরিচিত—তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইব্রাহিম আর-রাযী থেকে।

(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كلاهما عن ابن النفيس، الدائرة عليه الأسانيد المتقدمة، وبالله التوفيق ، وأخبرنا أيضًا بالقراءات السبع وبجميع رواياتهما إجازة الشيخان المفتي الفاضل رشيد الدين أبو محمد إسماعيل بن أبي عبد الله عثمان بن محمد القرشي الحنفي الفقيه النحوي الصالح، والرئيس الصدر المحترم رئيس الكتاب زين الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن محمود بن محمد بن محمد العقيلي الدمشقي ، المعروف بابن القلانسي، وقد سمعت الحديث على كل واحد منها، قالا جميعًا: «تلونا بالسبع على الشيح المقري العلامة الإمام الأوحد علم الدين أبي الحسن علي بن محمد ابن عبد الصمد السخاوي ، رحمه الله تعالى، بطرقه المعلومة المشهورة» .

فهذه طرقي في القراءات السبع نفعنا الله تعالى بها، وجعلنا من أهلها، وممن يحملها حق حملها بمنة وكرامة وعرضت أيضًا على الإمام العلامة أبي الحسين بن أبي الربيع رحمه الله تعالى من فاتحة الكتاب العزيز إلى سورة المؤمنين، وذلك أزيد من أربعة أسباعه، بقراءة أبي محمد يعقوب بن إسحاق بن عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي، مولي العلاء بن الحضرمي رضي الله عنه، من رواية محمد بن المتوكل اللؤلؤي المعروف برويس، من طريق أبي بكر محمد بن هارون الحنفي المقري التمار عنه.

ومن رواية أبي الحسن روح بن عباد المؤمن الهذلي مولاهم، من طريق
তাঁরা উভয়েই ইবনুন নাফীস থেকে বর্ণনা করেছেন, পূর্বোক্ত সনদসমূহ যাঁর ওপর আবর্তিত হয়েছে, আর আল্লাহর সাহায্যেই তাওফীক অর্জিত হয়। এবং দুই শায়খ—ফাযিল মুফতী রশীদুদ্দীন আবু মুহাম্মদ ইসমাঈল বিন আবি আবদিল্লাহ উসমান বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশী আল-হানাফী, যিনি একজন ফকীহ, নাহুবিদ ও নেককার মানুষ ছিলেন এবং সম্মানিত প্রধান, লেখকদের প্রধান যাইনুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-উক্বাইলী আদ-দিমাশকী, যিনি ইবনুল কালানিসী নামে পরিচিত—আমাদের সাত ক্বিরাআত ও তাদের সকল রিওয়ায়েত ইজাযত হিসেবে প্রদান করেছেন। আর আমি তাঁদের প্রত্যেকের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছি। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: "আমরা শায়খ মুক্বরি, আল্লামা, অদ্বিতীয় ইমাম আলামুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামাদ আস-সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তাঁর সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ মাধ্যমসমূহের সাহায্যে সাত ক্বিরাআতে তিলাওয়াত করেছি।"

সাত ক্বিরাআতে এগুলোই হলো আমার মাধ্যম, আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের এর অন্তর্ভুক্ত করুন, আর তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহে যথাযথভাবে তা বহন করে। আমি ইমাম আল্লামা আবুল হুসাইন বিন আবিল রাবী' (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পবিত্র কিতাবের শুরু থেকে সূরা আল-মুমিনুন পর্যন্ত তিলাওয়াত পেশ করেছি, যা কুরআনের চার-সপ্তমাংশেরও বেশি; এটি ছিল আল-আলা বিন আল-হাদরামীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুক্তদাস আবু মুহাম্মদ ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ইসহাক আল-হাদরামীর ক্বিরাআত অনুযায়ী, মুহাম্মদ বিন আল-মুতাওয়াক্কিল আল-লু’লু’য়ী (যিনি রুওয়াইস নামে পরিচিত) এর রিওয়ায়েতে, তাঁর থেকে আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন আল-হানাফী আল-মুক্বরি আত-তাম্মারের সূত্রে।

এবং আবুল হাসান রাওহ বিন আব্বাদ আল-মুমিন আল-হুযালী (তাঁদের মুক্তদাস) এর রিওয়ায়েতে, তাঁর সূত্রে...
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أبي الطيب بن حمدان القاضي عنه رحم الله جميعهم، ولم يتفق لي إكمال هذا الحرف.

وأجازنيه الشيخ رحمه الله تعالى بحق تلاوته به لجميع الكتاب العزيز على أبي عمر المذكور بسنده المذكور في القراءات المتقدمة إلى أبي عبد الله محمد بن شريح المذكور رحمة الله بالسند المذكور، وألف أبو الحسن شريح بن محمد المذكور كتابًا في توجيه الحروف التي انفرد بها يعقوب المذكور ، ولم يقرأ بها أحد من الأئمة السبعة المشهورين، هو عندنا إجازة عن أبي الحسين المذكور، عن أبي القاسم بن بقي ، عن شريح رحم الله جميعهم.

وَسَمِعْتُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ الْفَاضِلِ الْمُحَدِّثِ الْمُسْنَدِ الْعَدْلِ شَرَفِ الدِّينِ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ خَوَاجَا إِمَامِ الْفَارِسِ الْمُذْهِبِ رضي الله عنه، جَمِيعَ سُورَةِ الصَّفِّ، قَرَأَهَا عَلَيْنَا مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى خَتَمَهَا ، بَعْدَ أَنْ أَخْبَرَنَا أَنَّ أَبَا الْمنجا بْنِ اللَّتِّيِّ ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ أَبِي الْوَقْتِ سَمَاعًا، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ الدَّاوُدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ الْخُشُوعِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عِمْرَانَ السَّمَرْقَنْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الدَّارِمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ، قَالَ: قَعَدْنَا نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَذَاكَرْنَا، فَقُلْنَا: " لَوْ نَعْلَمُ أَيَّ الْأَعْمَالِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى لَعَمِلْنَاهُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ سبحانه وتعالى ‌‌{سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ {1} يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ} [الصف: 1-2] ، حَتَّى خَتَمَهَا، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى خَتَمَهَا، قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا ابْنُ الْإِسْلَامِ، قَالَ يَحْيَى: فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا أَبُو سَلَمَةَ، قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ: فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا يَحْيَى، قَالَ مُحَمَّدٌ: فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ الدَّارِمِيُّ: فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا أَبُو عِمْرَانَ عِيسَى السَّمَرْقَنْدِيُّ، فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْخُشُوعِيُّ، فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا الدَّاوُدِيُّ، فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا عَبْدُ الْأَوَّلِ، فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا أَبُو الْمنجا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ اللَّتِّيِّ "، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ،
আবু তাইয়্যেব বিন হামদান আল-কাদি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন। এই বর্ণের পূর্ণতা অর্জন করা আমার জন্য সম্ভব হয়নি।

শায়খ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) আমাকে এর অনুমতি প্রদান করেছেন উল্লিখিত আবু ওমরের কাছে তাঁর সমগ্র পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সনদে, যা পূর্বোক্ত কিরাতসমূহে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শুরাইহ (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) পর্যন্ত পৌঁছেছে উল্লিখিত সনদের মাধ্যমে। উল্লিখিত আবুল হাসান শুরাইহ বিন মুহাম্মদ একটি কিতাব রচনা করেছেন সেই সব বর্ণ বা কিরাত পদ্ধতির ব্যাখ্যায় যা কেবল উল্লিখিত ইয়াকুবের জন্য এককভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যা প্রসিদ্ধ সাত ইমামের কেউ পাঠ করেননি। এটি আমাদের কাছে উল্লিখিত আবু আল-হুসাইন থেকে, তিনি আবুল কাসিম বিন বাকি থেকে এবং তিনি শুরাইহ থেকে প্রাপ্ত অনুমতি হিসেবে বিদ্যমান; আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।

এবং আমি ফজিলতপূর্ণ শায়খ, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, ন্যায়পরায়ণ শারাফুদ্দীন আবু হাফস ওমর বিন মুহাম্মদ বিন ওমর বিন খাওয়াজা ইমাম আল-ফারিস আল-মুজহিব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর মুখনিসৃত বাণী থেকে পূর্ণ সূরা আস-সাফ শুনেছি। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি আমাদের কাছে পাঠ করেছেন, এর আগে তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, আবুল মানজা বিন আল-লাততি তাঁদের জানিয়েছেন আবু আল-ওয়াকত থেকে শ্রবণ করে, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবুল হাসান আদ-দাওয়ুদি, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ আল-খুশুয়ি, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু ইমরান আস-সামারকান্দি, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আদ-দারিমি, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ বিন কাসির, আওজায়ি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবি একসাথে বসে আলোচনা করছিলাম। আমরা বললাম: 'আমরা যদি জানতাম আল্লাহ তাআলার কাছে কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়, তবে আমরা তা করতাম।' তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নাযিল করলেন: ‌{আসমানে যা কিছু আছে এবং যমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} [আস-সাফ: ১-২], শেষ পর্যন্ত। আব্দুল্লাহ বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছেন। আবু সালামাহ বললেন: ইবনুল ইসলাম আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। ইয়াহইয়া বললেন: আবু সালামাহ আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। আওজায়ি বললেন: ইয়াহইয়া আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। মুহাম্মদ বললেন: আওজায়ি আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। দারিমি বললেন: আবু ইমরান ঈসা আস-সামারকান্দি আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। অতঃপর আবু মুহাম্মদ আল-খুশুয়ি আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। অতঃপর আদ-দাওয়ুদি আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। অতঃপর আব্দুল আউয়াল আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন। অতঃপর আবুল মানজা আব্দুল্লাহ বিন আল-লাততি আমাদের কাছে এটি পাঠ করেছেন।" আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قُلْتُ: وَسَمِعْتُ أَيْضًا جَمِيعَ هَذِهِ السُّورَةِ مِنْ لَفْظِ الْمُقْرِئِ الْحَافِظِ أَبِي الْعَبَّاسِ الْبَطْرَنِيِّ

، مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى خَتَمَهَا، وَتَسَلْسَلَ لَنَا أَيْضًا جَمِيعُهَا مَعَهُ، بِإِسْنَادٍ أَطْوَلَ مِنْ هَذَا، تَرَكْنَاهُ اخْتِصَارًا، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ

وَقَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ الْمُقْرِئِ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَي بْنِ عِيسَي الأَنْصَارِيِّ الْبَطْرَنِيِّ الْمَذْكُورِ خَمْسَ آيَاتٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى فَقَالَ: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ الْفَقِيهِ الْقَاضِي زَيْنِ الْمُحَدِّثِينَ شَرَفِ الدِّينِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُفَضَّلِ الْمَقْدِسِيِّ، خَمْسَ آيَاتٍ ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السَّلَفِيِّ الأَصْبَهَانِيِّ الْحَافِظِ خَمْسَ آيَاتٍ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْغَنَائِمِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ النَّرْسِيِّ الْكُوفِيِّ الْحَافِظِ، خَمْسَ آيَاتٍ ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَلَوِيِّ الْحَسَنِيِّ خَمْسَ آيَاتٍ ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ الطَّبَرِيِّ الْمُقْرِي خَمْسَ آيَاتٍ ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْفَضْلِ الْعِجْلِيِّ الْمُقْرِي خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ صَاحِبِ الْكِسَائِيِّ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ النُّورِ الْخَزَّازِ الْكُوفِيِّ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى حُسَيْنِ الْجُعْفِيِّ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ خَمْسًا فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى الأَعْمَشِ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْعَالِيةِ الرِّيَاحِيِّ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا أُنْزِلَ، فَإِنِّي قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّي اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْسًا ، فَقَالَ لِي: حَسْبُكَ؟ هَكَذَا‌‌ أُنْزِلَ عَلَيَّ خَمْسًا، خَمْسًا.

وَيَنْبَغِي لِمَنْ خَتَمَ الْقُرْآنَ الْعَزِيزَ أَنْ يَدْعُوَ عِنْدَ الْخَتْمِ، لأَنَّهُ يُرْوَى أَنَّ مَعَ كُلِّ خَتْمَةٍ دَعْوَةً مُسْتَجَابَةً

أَخْبَرَنَا الْخَطِيبُ الصَّالِحُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ أَحْمَدَ
আমি বলেছি: আমি হাফেজ ক্বারি আবু আল-আব্বাস আল-বাত্রানি-এর কণ্ঠ থেকেও এই সম্পূর্ণ সূরাটি এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুনেছি।

আর এটি তাঁর মাধ্যমে আমাদের কাছে একইভাবে ধারাবাহিকভাবে পৌঁছেছে, এর চেয়ে দীর্ঘতর এক সনদের মাধ্যমে, যা আমি সংক্ষেপ করার জন্য বাদ দিয়েছি। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফীক অর্জিত হয়।

আর আমি উল্লিখিত শাইখ ক্বারি আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুসা ইবনে ঈসা আল-আনসারী আল-বাত্রানি-এর কাছে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে পাঁচটি আয়াত পাঠ করলাম। তখন তিনি বললেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি শাইখ ফকীহ কাযী যাইনুল মুহাদ্দিসীন শরফ উদ্দীন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-মুফায্যাল আল-মাকদিসী-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি আল-হাফেজ-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আবু আল-গানায়িম মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মাইমুন আন-নারসী আল-কুফি আল-হাফেজ-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুর রহমান আল-আলাভি আল-হাসানি-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ আত-তাবারী আল-ক্বারি-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আবু বকর আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আল-ফাযল আল-ইজলি আল-ক্বারি-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি কিসায়ী-এর সাথী আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল নূর আল-খায্যায আল-কুফি-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি হুসাইন আল-জুফি-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি হামযাহ আয-যাইয়াত-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আল-আ’মাশ-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি আবু আল-আলিয়াহ আর-রিয়াহি-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি ইবনে আব্বাস-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঁচটি আয়াত পাঠ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন: তোমার জন্য কি যথেষ্ট? এভাবেই আমার ওপর পাঁচটি পাঁচটি করে অবতীর্ণ হয়েছে।

আর যার মহান কুরআন খতম বা সমাপ্ত করা হয়, তার জন্য সমাপ্তির সময় দোয়া করা উচিত। কেননা বর্ণিত আছে যে, প্রত্যেক কুরআন খতমের সাথে একটি কবুলযোগ্য দোয়া রয়েছে।

আমাদেরকে নেককার খতীব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ ইবনে আহমাদ সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْكِنَانِيُّ رحمه الله مُنَاوَلَةً، وَقَرَأْتُهُ عَلَى الْعَدْلِ أَبِي الْقَاسِمِ السُّلَمِيِّ كِلَيْهِمَا ، عَنْ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ السَّرَّاجِ، قَالَ الْخَطِيبُ: مُنَاوَلَةً، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ سَمَاعًا قَالَ: وَأَخْبَرَنَا عَنْهُ الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ بْنُ عِيَاضٍ يَعْنِي، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الرَّبَعِيِّ الْمَقْدِسِيِّ الشَّافِعِيِّ، وَهُوَ أَفَادَنِيهِ بِخَطِّهِ، وَقَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ هَذَا عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْخَطِيبِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ هُوَ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ الْعَبْدَرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْإِسْمَاعِيلِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَاسِينَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمْدُونُ بْنُ أَبِي عَبَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ هِشَامٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَعَ كُلِّ خَتْمَةٍ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ»

وَمِنْ مُسْتَحْسَنِ مَا يُدْعَى بِهِ عِنْدَ الْخَتْمِ مَا أَخْبَرَنَا بِهِ مُنَاوَلَةً الشَّيْخُ الْفَقِيهُ
السَّيِّدُ الشَّرِيفُ تَاجُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْإِمَامِ نُورُ الدِّينِ أَبِي الْعَبَّاسِ الْحُسَيْنِيُّ الْغَرَّافِيُّ، رضي الله عنه ، وَعَنْ سَلَفِهِ الصَّالِحِ، عَنْ شَيْخِهِ الْعَلَّامَةِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ السَّخَاوِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، قَالَ: وَمَا مَضَى عَلَيْهِ السَّلَفُ الصَّالِحُ مِنْ أَئِمَّةِ الْقُرْآنِ الدُّعَاءَ عِنْدَ الْخَتْمِ.

قَالَ: وَكَانَ شَيْخُنَا أَبُو الْقَاسِمِ رحمه الله، يَقُولُ عِنْدَ الْخَتْمِ «اللَّهُمَّ إِنَّا عَبِيدُكَ وَأَبْنَاءُ عَبِيدِكَ وَإِمَائِكَ، نَوَاصِينَا بِيَدِكَ، مَاضٍ فِينَا حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِينَا قَضَاؤُكَ، نَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، وَأَنْزَلْتَهُ فِي شَيْءٍ مِنْ كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، وَاسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدِكَ ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قُلُوبِنَا، وَشِفَاءَ صُدُورِنَا، وَجَلَاءَ أَحْزَانِنَا وَهُمُومِنَا، وَسَائِقَنَا وَقَائِدَنَا إِلَيْكَ وَإِلَى جَنَّاتِكَ جَنَّاتِ النَّعِيمِ، مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ» .

قَالَ السَّخَاوِيُّ الْمَذْكُورُ: فَهُوَ دُعَاءٌ مَرْوِيٌّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِتَفْرِيجِ الْهَمِّ، وَأَنَا أَدْعُو بِهِ وَأَزِيدُ عَلَيْهِ: اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا شِفَاءً وَهُدًى وَإِمَامًا
ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-কিনানি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে এবং আমি এটি পাঠ করেছি ন্যায়পরায়ণ আবু আল-কাসিম আস-সুলামির নিকট। তাঁরা উভয়েই আবু আল-হুসাইন ইবনে আস-সাররাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব বলেছেন: হস্তান্তরের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের কাছে শ্রবণের মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আল-ফজল ইবনে ইয়াজ, অর্থাৎ আলী ইবনে আহমদ ইবনে আলী আর-রাবাঈ আল-মাকদিসি আশ-শাফিয়ি থেকে, এবং তিনি তাঁর স্বহস্তে লিখিত অনুলিপির মাধ্যমে আমাকে এটি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আমাদের নিকট এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-খতিব থেকে, তিনি আবু হাযিম (যিনি উমর ইবনে আহমদ আল-আবদারি) থেকে, তিনি আবু বকর আল-ইসমাইলি থেকে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসিন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামদুন ইবনে আবি আব্বাদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হিশাম, মিসআর থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ‌‌«কুরআন খতমের প্রতিটি সমাপ্তিতে একটি কবুলযোগ্য দুআ রয়েছে»

এবং খতমের সময় যা দিয়ে দুআ করা উত্তম, সে সম্পর্কে হস্তান্তরের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন শাইখ ফকিহ
সাইয়্যিদ শরীফ তাজউদ্দীন আবু আল-হাসান আলী ইবনে ইমাম নূরুদ্দীন আবু আল-আব্বাস আল-হুসাইনি আল-গাররাফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর নেককার পূর্বসূরিদের পক্ষ থেকে), তিনি তাঁর শাইখ আল্লামা আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ আস-সাখাভি (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) থেকে। তিনি বলেন: কুরআনের ইমামগণের মধ্যে সালাফে সালেহীন খতমের সময় যে দুআটি অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন: আমাদের শাইখ আবু আল-কাসিম (রহিমাহুল্লাহ) খতমের সময় বলতেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমরা আপনার বান্দা এবং আপনার দাস ও দাসীদের সন্তান। আমাদের ললাট আপনার হাতে। আমাদের ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমাদের ওপর আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার প্রতিটি নামের উসিলায়—যে নাম আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার নিকট অদৃশ্যের জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন—আপনি কুরআনকে আমাদের হৃদয়ের বসন্ত, আমাদের বক্ষের আরোগ্য, আমাদের দুঃখ-চিন্তার অবসানকারী এবং আপনার দিকে ও আপনার জান্নাত তথা নেয়ামতভরা জান্নাতের দিকে আমাদের পরিচালক ও পথপ্রদর্শক বানিয়ে দিন; তাদের সাথে যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ ও নেককারগণ; আপনার দয়ার উসিলায় হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!»

উল্লিখিত আস-সাখাভি বলেছেন: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি দুআ যা দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য। আমি এটি পাঠ করি এবং এতে আরও বৃদ্ধি করি: হে আল্লাহ! আপনি একে আমাদের জন্য আরোগ্য, হেদায়েত এবং ইমাম বানিয়ে দিন।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَرَحْمَةً، وَارْزُقْنَا تِلَاوَتَهُ عَلَى النَّحْوِ يُرْضِيكَ عَنَّا، وَلَا تَجْعَلْ لَنَا بِهِ ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ، وَلَا دَيْنًا إِلَّا قَضَيْتَهُ، وَلَا مَرِيضًا إِلَّا شَفَيْتَهُ، وَلَا عَدُوًّا إِلَّا كَفَيْتَهُ، وَلَا غَائِبًا إِلَّا رَدَدْتَهُ، وَلَا عَاصِيًا إِلَّا عَصَمْتَهُ، وَلَا فَاسِدًا إِلَّا أَصْلَحْتَهُ، وَلَا مَيِّتًا إِلَّا رَحِمْتَهُ، وَلَا عَيْبًا إِلَّا سَتَرْتَهُ، وَلَا عَسِيرًا إِلَّا يَسَّرْتَهُ، وَلَا حَاجَةً مِنْ حَوَائِجِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَكَ فِيهَا رِضًا وَلَنَا فِيهَا صَلَاحٌ إِلَّا أَعَنْتَنَا عَلَى قَضَائِهَا فِي يَسِيرٍ مِنْكَ فِي عَافِيَةٍ، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ.

اللَّهُمَّ اجْمَعْ عَلَى الْهُدَى أَمْرَنَا، وَاجْعَلِ التَّقْوَى زَادَنَا، وَاجْعَلِ الْجَنَّةَ مَآبَنَا، وَزِدْنَا وَلَا تُنْقِصْنَا ، وَأَعْطِنَا وَلَا تَحْرِمْنَا ، وَأَكْرِمْنَا وَلَا تُهِنَّا ، وَآثِرْنَا وَلَا تُؤْثِرْ عَلَيْنَا ، وَارْضَ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَلِوَالِدَيْنَا وَلِأئِمَّتِنَا وَلِمُعَلِّمِينَا وَمَنْ سَبَقَنَا بِالْإِيمَانِ مَغْفِرَةً وَعَزْمًا، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ، صَلِّي اللَّهُ عَلَى خَاتَمِ النَّبِيِّينَ، وَعَلَى آلِهِ الطَّيِّبِينَ الطَّاهِرِينَ، وَالْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

قَالَ عَلَمُ الدِّينِ السَّخَاوِيُّ الْمَذْكُورُ: وَرُوِيَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ رحمه الله، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: " قَرَأْتُ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ بِالْكُوفَةِ عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام، فَلَمَّا بَلَغْتُ الْحَوَامِيمَ ، قَالَ: يَا زِرُّ بْنَ حُبَيْشٍ، بَلَغْتَ عَرَائِسَ الْقُرْآنِ، فَلَمَّا بَلَغْتُ رَأْسَ الْعِشْرِينَ مِنْ حم عسق: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ} [الشورى: 22] ، بَكَى حَتَّى ارْتَفَعَ نَحِيبُهُ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَ: يَا زِرُّ، أَمِّنْ عَلَى دُعَائِي، ثُمَّ قَالَ:‌‌ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِخْبَاتَ الْمُخْبِتِينَ، وَإِخْلَاصَ الْمُؤْمِنِينَ، وَمُرَافَقَةَ الْأَبْرَارِ، وَاسْتِحْقَاقَ حَقَائِقِ الْإِيمَانِ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَوُجُوبَ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ، ثُمَّ قَالَ: يَا زِرُّ، إِذَا خَتَمْتَ فَادْعُ بِهَذِهِ الدَّعَوَاتِ، فَإِنَّ حَبِيبِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِذَا خَتَمَ أَحَدُكُمُ الْقُرْآنَ، فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ آنِسْ بِهِ وَحْشَتِي فِي قَبْرِي " ، انْتَهَى مَا قَالَهُ أبَوُ الْحَسَنِ السَّخَاوِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ
এবং রহমত হিসেবে; আমাদের এটি এমনভাবে তিলাওয়াত করার তাওফিক দান করুন যা আপনাকে আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট করে। আমাদের কোনো গুনাহ বাকি রাখবেন না যা আপনি ক্ষমা করেননি, কোনো দুশ্চিন্তা বাকি রাখবেন না যার উপশম করেননি, কোনো ঋণ বাকি রাখবেন না যা পরিশোধের ব্যবস্থা করেননি, কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে বাকি রাখবেন না যাকে আপনি সুস্থ করেননি, কোনো শত্রুকে বাকি রাখবেন না যার অনিষ্ট থেকে আপনি রক্ষা করেননি, কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তিকে বাকি রাখবেন না যাকে আপনি ফিরিয়ে আনেননি, কোনো অবাধ্য ব্যক্তিকে বাকি রাখবেন না যাকে আপনি রক্ষা করেননি, কোনো কলুষিত ব্যক্তিকে বাকি রাখবেন না যাকে আপনি সংশোধন করেননি, কোনো মৃত ব্যক্তিকে বাকি রাখবেন না যার ওপর আপনি রহম করেননি, কোনো দোষ বাকি রাখবেন না যা আপনি গোপন করেননি, কোনো কঠিন কাজ বাকি রাখবেন না যা আপনি সহজ করে দেননি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের এমন কোনো প্রয়োজন যার মধ্যে আপনার সন্তুষ্টি এবং আমাদের কল্যাণ রয়েছে, তা আপনার পক্ষ থেকে সহজতা ও সুস্থতার সাথে পূরণ করতে আমাদের সাহায্য না করে ছেড়ে দেবেন না; আপনার রহমতের মাধ্যমে, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

হে আল্লাহ! আমাদের সকল বিষয়কে হেদায়েতের ওপর একত্রিত করুন, তাকওয়াকে আমাদের পাথেয় করুন এবং জান্নাতকে আমাদের আবাসস্থল করুন। আমাদের বাড়িয়ে দিন, কমিয়ে দেবেন না; আমাদের দান করুন, বঞ্চিত করবেন না; আমাদের সম্মানিত করুন, অপদস্থ করবেন না; আমাদের অগ্রাধিকার দিন, আমাদের ওপর কাউকে অগ্রাধিকার দেবেন না; আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং আমাদের, আমাদের পিতামাতাকে, আমাদের ইমামদের, আমাদের শিক্ষকগণকে এবং যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে গত হয়েছেন, তাদের সকলকে আপনার রহমতের মাধ্যমে ক্ষমা ও সুদৃঢ় সংকল্প দান করুন; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। সর্বশেষ নবীর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিজনদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

উল্লিখিত আলামুদ্দিন আস-সাখাওয়ী বলেছেন: আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি জির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমি কুফার জামে মসজিদে আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করেছি। যখন আমি হা-মীম সম্বলিত সূরাগুলোতে পৌঁছালাম, তিনি বললেন: হে জির ইবনে হুবাইশ, তুমি কুরআনের নববধূর কাছে পৌঁছেছ। এরপর যখন আমি সূরা শুরা-এর বিশতম আয়াতের শুরুতে পৌঁছালাম: {যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তারা জান্নাতের বাগিচায় থাকবে; তারা যা চাইবে তাদের রবের নিকট তাই পাবে, এটাই হলো মহা অনুগ্রহ।} [শুরা: ২২], তখন তিনি এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ শোনা গেল। এরপর তিনি আসমানের দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: হে জির, আমার দোয়ায় আমিন বলো। এরপর তিনি বললেন:‌‌ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট বিনয়ীদের বিনয়, মুমিনদের ইখলাস, পুণ্যবানদের সান্নিধ্য, ঈমানের প্রকৃত হাকিকত অর্জন, প্রত্যেক নেক কাজ থেকে সওয়াব লাভ, প্রত্যেক পাপ থেকে নিরাপত্তা, আপনার রহমতের আবশ্যকতা, আপনার ক্ষমার সুদৃঢ় সংকল্প, জান্নাত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনা করছি। এরপর তিনি বললেন: হে জির, যখন তুমি কুরআন খতম করবে তখন এই দোয়াগুলো পড়বে। কারণ আমার প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন কুরআন খতম করে, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! কবরে আমার একাকিত্বে এর মাধ্যমে আমাকে শান্তি দান করুন।" আবুল হাসান আস-সাখাওয়ী (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা এখানেই শেষ।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ومن فضائل أهل القرآن جعلنا الله تعالى منهم ما

أخبرنا به الشيخ الخطيب الصالح أبو عبد الله ابن صالح الشاطبي ، المذكور بقراءتي عليه بجامع بجاية الأعظم عمره الله بذكره ورحمه، قال: أخبرنا الشيخ الفقيه الأستاذ المقري أبو عثمان سعد ابن علي بن محمد بن عبد الرحمن ابن زاهر الأنصاري البلنسي رحمة الله، قال: أخبرنا الشيوخ الجلة الفقهاء أبو عبد الله محمد بن أيوب بن نوح الغافقي، والأستاذ أبو جعفر أحمد بن علي بن يحيى بن عون الله الأنصاري المعروف بالحصار، والمقري أبو علي الحسين بن يوسف بن أحمد الأنصاري المعروف بابن زلال، وأبو الحسن محمد بن أحمد بن سلمون، وأبو عبد الله محمد بن أحمد بن مسعود، كلهم عن ابن هذيل هو علي بن محمد، عن أبي داود، عن أبي عمرو المقري، قال: حدثنا أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن خالد الوهراني، وعبيد الله بن سلمة المكتب قراءة عليه، وأبو بكر وسيم بن أحمد قراءة مني أيضا عليه واللفظ لأبي بكر، قالوا: أخبرنا أبو الطيب ابن غلبون المقري رضي الله عنه، قال: أخبرنا أبو بكر السامري ، قراءة عليه، قال: حدثنا أبو بكر القاضي محمد بن خلف المعروف بوكيع، قال: حدثنا داود بن رشيد، قال: حدثنا مجاعة بن الزبير، قال: دخلت على حمزة رضي الله عنه ، يعني ابن حبيب الزيات ، وهو يبكي، فقلت له: ما يبكيك؟ فقال لي: وكيف لا أبكي،‌‌ أريت في منامي كأني قد عرضت على الله عز وجل، فقال لي: يا حمزة، اقرأ القرآن كما علمتك، فوثبت قائمًا، فقال لي: اجلس، فإني أحب أهل القرآن، فقرأت حتى بلغت { [طه، فقلت: طوي وأخترتك، فقال لي: بين، فبينت طوي وإنا اخترناك، ثم قرأت، حتى بلغت سورة يس، فأردت أن أغطي ، فقلت:] تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ} [سورة يس: 5] ، فقال لي: قل {تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ} [يس: 5] ، يا حمزة كذا قرأت، وكذا أقرأت حملة العرش، وكذا يقرأ المقربون، ثم دعا بسوار فسورني به، فقال لي: هذا بقراءتك القرآن، ثم دعا بمنطقة فمنطقني، فقال: هذا بصومك
কুরআনওয়ালাদের মর্যাদাসমূহ থেকে—আল্লাহ তাআলা আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন—যা আমাদের নিকট

সংবাদ দিয়েছেন সৎ খতিব শায়খ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে সলিহ আশ-শাতিবি, যাঁর নিকট বেজাইয়ার প্রধান মসজিদে আমার কিরাআত পাঠের মাধ্যমে এটি উল্লিখিত হয়েছে—আল্লাহ তাআলা একে তাঁর জিকিরের মাধ্যমে আবাদ রাখুন এবং তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ শায়খ, উস্তাদ ও কারি আবু উসমান সাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে জাহির আল-আনসারি আল-বালানসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন); তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মর্যাদাবান ফকিহ শায়খগণ—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে নুহ আল-গাফেকি, উস্তাদ আবু জাফর আহমদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আউনিল্লাহ আল-আনসারি (যিনি আল-হাসসার নামে পরিচিত), কারি আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ আল-আনসারি (যিনি ইবনে জুলাইল নামে পরিচিত), আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সালমুন এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাসউদ; তাঁরা সকলেই ইবনে হুদাইল থেকে—যিনি হলেন আলী ইবনে মুহাম্মদ—তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি আবু আমর আল-মুকারি থেকে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহরানি এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-মুকাত্তিব (তাঁর নিকট কিরাআত পাঠের মাধ্যমে), এবং আবু বকর ওয়াসিম ইবনে আহমদ (তাঁর নিকটও আমার পাঠের মাধ্যমে), আর শব্দগুলো আবু বকরের; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কারি আবু তাইয়িব ইবনে গালবুন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন); তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আস-সামেরি (তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে); তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-কাদি মুহাম্মদ ইবনে খালাফ (যিনি ওয়াকি নামে পরিচিত); তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে রাশিদ; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুজাআহ ইবনে জুবায়ের; তিনি বলেন: আমি হামজা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)—অর্থাৎ ইবনে হাবিব আজ-জাইয়াত—এর নিকট প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় তিনি কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে বললাম: আপনার কান্নার কারণ কী? তিনি আমাকে বললেন: কেন আমি কাঁদব না? আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আমাকে বললেন: হে হামজা, কুরআন পাঠ করো যেভাবে আমি তোমাকে শিখিয়েছি। তখন আমি লাফিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন: বসো, কারণ আমি কুরআনওয়ালাদের ভালোবাসি। এরপর আমি তিলাওয়াত করলাম যতক্ষণ না এ পর্যন্ত পৌঁছলাম: { [ত্ব-হা, তখন আমি বললাম: ‘তুওয়া’ এবং ‘আখতারতুকা’, তিনি আমাকে বললেন: স্পষ্ট করো, তখন আমি স্পষ্ট করলাম ‘তুওয়া’ এবং ‘ইন্না আখতারনাকা’। এরপর আমি তিলাওয়াত করলাম যতক্ষণ না সুরা ইয়া-সিন পর্যন্ত পৌঁছলাম, তখন আমি নিচু স্বরে পড়তে চাইলাম এবং বললাম:] ‘তানজিলা আল-আজিজি আর-রাহিম’} [সুরা ইয়া-সিন: ৫]। তখন তিনি আমাকে বললেন: বলো, ‘তানজিলা আল-আজিজি আর-রাহিম’ [ইয়া-সিন: ৫]। হে হামজা, এভাবেই আমি পাঠ করেছি, এভাবেই আমি আরশ বহনকারীদের পাঠ করিয়েছি এবং এভাবেই নৈকট্যশীলরা পাঠ করে। এরপর তিনি একটি কঙ্কন আনালেন এবং তা দিয়ে আমাকে অলংকৃত করলেন। এরপর তিনি বললেন: এটি তোমার কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে। এরপর তিনি একটি কোমরবন্ধনী আনালেন এবং তা আমাকে পরিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: এটি তোমার রোজা রাখার বিনিময়ে।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٣١)
بالنهار، ثم دعا بتاج فتوجني ، فقال لي: هذا بإقرائك الناس القرآن، يا حمزة لا تدع تنزيلًا، فإني نزلته تنزيلًا

قال أبو عمرو وحدثوني قالوا: أخبرنا أبو الطيب، قال: حدثنا أبو بكر السامري قراءة عليه، قال: حدثنا سليمان بن جبلة، قال: حدثنا إدريس الحداد، قال: حدثنا خلف بن هشام البزاز، قال: قال لي سليم بن عيسي: دخلت على حمزة ابن حبيب الزيات فوجدته يمرغ خديه في الأرض ويبكي، فقلت: أعيذك بالله، فقال لي: ومم استعذت يا هذا؟ فقلت مما بك، فقال. . . . . . .‌‌ أريت البارحة في منامي كأن القيامة قد قامت، وقي دعي بقراء القرآن، فكنت فيمن حضر، فسمعت قائلًا يقول بكلام عذب لا يدخل على إلا من عمل بالقرآن، فرجعت القهقري، وهتف باسمي، أين حمزة بن حبيب الزيات؟ فقلت: لبيك داعي الله لبيك، فبدرني ملك ، فقال قل لبيك اللهم لبيك، فقلت كما قال لي، فأدخلني دارًا سمعت فيها ضجيج القرآن، فوقفت أرعد، فسمعت قائلًا يقول: ولا بأس عليك، ارق واقرأ ، فأدرت وجهي ، فإذا أنا بمنبر من در أبيض دفتاه من ياقوت أصفر مراقية زبرجد، أخضر، فقال لي: ارق واقرأ، فرقيت، فقيل لي: اقرأ { [الأنعام، فقرأت وأنا لا أدري على من أقرأ، حتى بلغت الستين آيه، فلما بلغت،] وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} [سورة الأنعام: 18] ، قال: فقلت: بلي، قال: صدقت، قال: اقرأ، فقرأتها حتى أتممتها، ثم قال: اقرأ، فقرأت الأعراف حتى بلغت آخرها، فأومات بالسجود، فقال لي: حسبك ما مضى، ولا تسجد يا حمزة، من أقرأك هذه القراءة؟ فقلت سليمان، قال: صدقت، من أقرأ سليمان؟ قلت: يحيى ،
দিনের বেলায়, এরপর তিনি একটি মুকুট আনালেন এবং আমাকে তা পরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: এটি তোমার মানুষকে কুরআন পড়ানোর কারণে। হে হামযাহ, তুমি কুরআন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে (তথা কিরাত) তা ছেড়ো না, কারণ আমি এটি সুনির্দিষ্টভাবে অবতীর্ণ করেছি।

আবু আমর বললেন এবং তারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাইয়্যেব, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আস-সামেরী তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে জাবালাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইদরিস আল-হাদ্দাদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে হিশাম আল-বাযযার, তিনি বলেছেন: আমাকে সুলাইম ইবনে ঈসা বলেছেন: আমি হামযাহ ইবনে হাবিব আজ-যাইয়্যাতের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে তাঁর দুই গাল মাটিতে ঘষতে ও কাঁদতে দেখলাম। তখন আমি বললাম: আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন তিনি আমাকে বললেন: হে লোক, তুমি কী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলে? আমি বললাম: আপনার অবস্থার কারণে। এরপর তিনি বললেন... আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম যেন কিয়ামত সংঘটিত হয়েছে এবং কুরআনের কারীদের ডাকা হয়েছে। যারা উপস্থিত হয়েছিল আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তখন আমি শুনলাম একজন ঘোষণাকারীকে অত্যন্ত মিষ্ট স্বরে কথা বলতে যে, যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী আমল করেছে সে ছাড়া কেউ আমার নিকট প্রবেশ করবে না। তখন আমি পিছু হটে আসলাম। অমনি আমার নাম ধরে উচ্চস্বরে ডাকা হলো, হামযাহ ইবনে হাবিব আজ-যাইয়্যাত কোথায়? আমি বললাম: আমি হাজির, হে আল্লাহর আহ্বানকারী, আমি হাজির। তখন একজন ফেরেশতা আমার দিকে দ্রুত এগিয়ে এলেন এবং বললেন: বলো, 'লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক'। তিনি আমাকে যেমনটি বললেন আমি তেমনটিই বললাম। এরপর তিনি আমাকে এমন এক ঘরে প্রবেশ করালেন যেখানে আমি কুরআনের তিলাওয়াতের গুনগুন শব্দ শুনতে পেলাম। আমি কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়িয়ে রইলাম। তখন আমি একজনকে বলতে শুনলাম: তোমার কোনো ভয় নেই, উপরে ওঠো এবং পাঠ করো। আমি আমার মুখ ফিরালাম এবং দেখলাম একটি শ্বেত মুক্তার মিম্বর, যার দুই পাশ হলুদ ইয়াকুতের এবং এর সিঁড়িগুলো সবুজ যবরজদের। আমাকে বলা হলো: উপরে ওঠো এবং পাঠ করো। আমি উপরে উঠলাম। এরপর আমাকে বলা হলো: পাঠ করো { [সূরা আল-আনআম; আমি পাঠ করলাম অথচ আমি জানতাম না আমি কার সামনে পাঠ করছি। অবশেষে যখন আমি ষাটতম আয়াতে পৌঁছলাম, যখন পৌঁছলাম:] আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী} [সূরা আল-আনআম: ১৮]। তিনি বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ। তিনি বললেন: পাঠ করো। আমি তা তিলাওয়াত করলাম এমনকি তা সম্পন্ন করলাম। এরপর তিনি বললেন: পাঠ করো। আমি সূরা আল-আরাফ পাঠ করলাম এর শেষ পর্যন্ত। আমি সিজদাহ করার ইশারা করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: যা অতিবাহিত হয়েছে তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট, হে হামযাহ, সিজদাহ করো না। কে তোমাকে এই কিরাত শিখিয়েছে? আমি বললাম: সুলাইমান। তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ। সুলাইমানকে কে শিখিয়েছে? আমি বললাম: ইয়াহইয়া।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
قال: صدق يحيى، على من قرأ يحيى؟ فقلت: على أبي عبد الرحمن السلمي ، فقال: صدق أبو عبد الرحمن السلمي، من أقرأ أبا عبد الرحمن؟ فقلت: ابن عم نبيك عليه السلام، قال: صدق علي، فمن أقرأ نبي؟ قال: قلت: جبريل عليه السلام، قال: ومن أقرأ جبريل؟ قال: فسكت، فقال لي: يا حمزة، قل: أنت، قال: فقلت: ما أحسن أن أقول أنت، فقال لي: قل أنت، فقلت: أنت، قال لي: صدقت يا حمزة، وحق القرآن لأكرمن أهل القرآن، ولا سيما إذا عملوا بالقرآن، يا حمزة، القرآن كلامي وما أحببت أحد كحبي لأهل القرآن، ادن يا حمزة، فدنوت، فغمس يده في الغالية ثم ضمخني بها وقال: ليس أفعل هذا بك وحدك، قد فعلت هذا بنظرائك، ومن فوقك ومن دونك، ومن قراء القرآن كما أقرأته لم يرد به غيري، وما خبأت لك يا حمزة عندي أكثر، فأعلم أصحابك بمكاني من حبي لأهل القرآن وفعلي بهم، فهم المصطفون الأخيار، يا حمزة، وعزتي وجلالي لا أعذب لسانًا تلا القرآن بالنار، ولا قلبا وعاه، ولا أذنا سمعته، ولا عينًا نظرته، فقلت: سبحانك سبحانك أني يري، فقال: يا حمزة، أين نظار المصاحف؟ فقلت: يا رب، فحفاظهم؟ قال: لا، ولكني أحفظ لهم حتى يوم القيامة، فإذا لقوني رفعت لهم بكل آية درجة، أفتلومونني أن أبكي وأتمرغ في التراب؟ جعلنا الله ممن عمر بكتابة العزيز جوانحه، واستعمل به في طاعة الله جوارحه، وتقبل به اليسير مما علمنا، وبلغنا به الكثير مما أملنا بفضله وكرمه إنه ولي التوفيق والهادي إليه، وهو حسبنا ونعم الوكيل
তিনি বললেন: ইয়াহইয়া সত্য বলেছে। ইয়াহইয়া কার কাছে পাঠ করেছে? আমি বললাম: আবু আবদুর রহমান আস-সুলামীর কাছে। তিনি বললেন: আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী সত্য বলেছে। আবু আবদুর রহমানকে কে পাঠ করিয়েছেন? আমি বললাম: আপনার নবীর (আলাইহিস সালাম) চাচাতো ভাই। তিনি বললেন: আলী সত্য বলেছে। তবে নবীকে কে পাঠ করিয়েছেন? আমি বললাম: জিবরীল (আলাইহিস সালাম)। তিনি বললেন: জিবরীলকে কে পাঠ করিয়েছেন? তিনি (হামজা) বললেন: এরপর আমি নীরব হয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে হামজা, বলো: ‘আপনি’। তিনি বললেন: আমি বললাম: ‘আপনি’ বলা কতই না উত্তম! তিনি আমাকে বললেন: বলো ‘আপনি’। আমি বললাম: ‘আপনি’। তিনি আমাকে বললেন: তুমি সত্য বলেছ হে হামজা। কুরআনের শপথ, আমি অবশ্যই কুরআনওয়ালাদের সম্মানিত করব, বিশেষ করে যখন তারা কুরআন অনুযায়ী আমল করে। হে হামজা, কুরআন আমার কালাম, আর কুরআনওয়ালাদের আমি যেমন ভালোবাসি, তেমন আর কাউকে ভালোবাসি না। হে হামজা, কাছে এসো। আমি কাছে গেলাম। অতঃপর তিনি সুগন্ধিযুক্ত তেলের পাত্রে আল্লাহর হাত ডুবালেন এবং তা দিয়ে আমাকে মাখিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: আমি কেবল তোমার সাথেই এমনটি করছি না, বরং আমি তোমার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে এবং যারা তোমার উপরে ও নিচে আছে তাদের সাথেও এমনটি করেছি; অর্থাৎ ওই সকল কুরআন পাঠকারীদের সাথে যারা কুরআনকে সেভাবেই পাঠ করেছে যেভাবে আমি তা পাঠ করিয়েছি এবং এর মাধ্যমে আমি ব্যতীত অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেনি। হে হামজা, তোমার জন্য আমার কাছে যা গচ্ছিত আছে তা আরও অধিক। সুতরাং কুরআনওয়ালাদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও তাদের সাথে আমার আচরণের বিষয়ে তোমার সাথীদের জানিয়ে দাও। তারা হলো মনোনীত ও শ্রেষ্ঠ বান্দা। হে হামজা, আমার মর্যাদা ও মহিমার শপথ, আমি এমন কোনো জিহ্বাকে আগুনে শাস্তি দেব না যা কুরআন তিলাওয়াত করেছে, না এমন অন্তরকে যা তা ধারণ করেছে, না এমন কানকে যা তা শুনেছে, না এমন চোখকে যা তা দর্শন করেছে। আমি বললাম: আপনি অতি পবিত্র, আপনি অতি পবিত্র! এটা কীভাবে সম্ভব? তিনি বললেন: হে হামজা, মাসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) দর্শনকারীরা কোথায়? আমি বললাম: হে প্রতিপালক, তারা কি এর হাফেজগণ? তিনি বললেন: না, বরং আমি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের জন্য তা সংরক্ষণ করি। অতঃপর তারা যখন আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে, আমি প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তাদের একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেব। (হামজা বললেন) তবে কি তোমরা আমাকে এজন্য তিরস্কার করবে যে, আমি ক্রন্দন করি এবং মাটিতে গড়াগড়ি খাই? আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের অন্তর তাঁর সম্মানিত কিতাব দ্বারা আবাদ হয়েছে এবং যার মাধ্যমে তিনি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করেছেন; আর আমরা যা শিখেছি তার মধ্য থেকে সামান্যটুকু তিনি কবুল করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের প্রত্যাশিত অধিক প্রাপ্তিতে পৌঁছে দিন। নিশ্চয়ই তিনি তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথপ্রদর্শক, আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وهذا ذكر ما حضرني ذكره من مروياتي، عن مشائخي الثقات المسندين، مع إلماع بفائدة إن عرضت في بعض ذلك مستعينًا بالله تعالى العلى العظيم، فهو خير معين، وأنا مع ضيق هذا الزمان معترف بالقصور في هذا الشأن

الكتاب الكافي في القراءات السبع عن القراء السبعة المشهورين رضي الله عنه ورحمهم، من تأليف الإمام المقري أبي عبد الله بن شريح بن أحمد ابن محمد بن شريح بن يوسف بن عبد الله بن شريح الرعيني الإشبيلي رحمه الله قرأت جميعه كاملًا على العلامة الفاضل أبي الحسين أبن أبي الربيع القرشي رحمه الله، وصح لي ذلك وثبت، وكمل في سنة ست وثمانين وست مائة بمدينة سبته المحروسة، بحق سماعه لبعضه على قاضي الجماعة ، وكاتب الخلافة ، وخطيب الحضرة أبي القاسم أحمد بن يزيد بن عبد الرحمن بن أحمد بن محمد بن أحمد بن مخلد ابن عبد الرحمن أحمد بن بقي بن مخلد بن يزيد القرطبي البقوي، وإجازته لسائره منه، وذلك بمدينة إشبيلية جبرها الله تعالى، قدمها عليهم، بحق إجازته من أبي الحسن شريح بن حمد المذكور، وهو آخر من روي عنه في الدنيا شرقًا وغربًا، بحق سماعه من أبيه مؤلفه، رحم الله جميعهم.

وحدثنا أيضًا شيخنا أبو الحسين المذكور رحمه الله ونضر وجهه، عن المقري أبي عمر التميمي سماعًا بالإسناد المقدم في القراءات، سواء إلى أبي عبد الله ابن شريح مؤلفه، وكله باتصال بعضهم من بعض وبالله التوفيق، والطريق الأولى طريق عالية، وبقرب الإسناد حالية.

وأخبرنا أيضًا بهذا الكتاب فيما شافهنا به من إذنه ، وأقر لنا بروايته الشيخ المقري الفاضل الثبت القاضي الأجل المعمر أبو الحسن عبيد الله بن عبد العزيز بن عبيد الله ابن عبد الملك بن عبيد الله بن محمد بن غالب بن المغيرة بن عبد الرحمن الناصر بن محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الرحمن بن الحكم بن هشام بن عبد الرحمن ابن معاوية بن هشام بن عبد الملك بن مروان بن الحكم بن أبي العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف القرشي الأموي ، ثم المرواني المغيري الأندلسي ، ثم
এটি আমার নির্ভরযোগ্য ও সনদধারী শায়খদের নিকট থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহের বিবরণ যা এই মুহূর্তে আমার স্মৃতিতে এসেছে, সাথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ফায়দাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য কামনার মাধ্যমে। তিনিই সর্বোত্তম সাহায্যকারী। সময়ের সংকীর্ণতা সত্ত্বেও আমি এ বিষয়ে আমার অপূর্ণতার কথা স্বীকার করছি।

বিখ্যাত সাতজন ক্বারীর সূত্রে বর্ণিত সাত ক্বিরাআত বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-কিতাবুল কাফি’, যার রচয়িতা হলেন ইমাম মুকরি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে শুরাইহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শুরাইহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শুরাইহ আর-রুয়াইনি আল-ইশবিলি (রাহিমাহুল্লাহ)। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের ওপর দয়া করুন। আমি এই কিতাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লামা ফাদিল আবুল হুসাইন ইবনে আবুর রাবি আল-কুরাশি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পাঠ করেছি। এটি আমার বর্ণনার জন্য সহিহ ও সুসাব্যস্ত হয়েছে এবং ৬৮৬ হিজরি সনে সুরক্ষিত সেউতা শহরে এটি সমাপ্ত হয়েছে। এটি (আবুল হুসাইনের বর্ণনা) কাজিউল জামাআহ, খিলাফতের লেখক এবং রাজদরবারের খতিব আবুল কাসিম আহমদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাখলাদ ইবনে আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে বাকি ইবনে মাখলাদ ইবনে ইয়াযিদ আল-কুরতুবি আল-বাক্বউয়ি-এর নিকট কিতাবটির কিছু অংশ শ্রবণ এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজত প্রাপ্তির সূত্রে। এটি ইশবিলিয়া শহরে সম্পন্ন হয়েছিল—আল্লাহ তাআলা একে পুনর্গঠিত করুন—যখন তিনি সেখানে পদার্পণ করেছিলেন। এটি উল্লিখিত আবুল হাসান শুরাইহ ইবনে হামাদ-এর নিকট থেকে তাঁর ইজাজত লাভের সূত্রে প্রাপ্ত। তিনি ছিলেন দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমে তাঁর (শুরাইহ) থেকে বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। আর এটি তাঁর পিতা অর্থাৎ গ্রন্থকারের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে প্রাপ্ত। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন।

আমাদের নিকট আমাদের শায়খ পূর্বোক্ত আবুল হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন—মুকরি আবু ওমর আত-তামিমির নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে, যা ক্বিরাআতের ক্ষেত্রে উল্লিখিত সনদে সরাসরি গ্রন্থকার আবু আব্দুল্লাহ ইবনে শুরাইহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর পুরোটাই একে অপরের সাথে অবিচ্ছিন্ন সংযোগের মাধ্যমে বর্ণিত এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি। প্রথম সনদটি উচ্চমর্যাদার এবং এটি সনদের নিকটবর্তিতার কারণে সুশোভিত।

আমাদের এই কিতাব সম্পর্কে আরও অবহিত করেছেন সরাসরি মৌখিক আলোচনার মাধ্যমে তাঁর অনুমতিক্রমে এবং আমাদের জন্য এর বর্ণনাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রবীণ শায়খ, মুকরি, ফাদিল, নির্ভরযোগ্য ও মহান কাজি আবু হাসান উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গালিব ইবনে মুগিরা ইবনে আব্দুর রহমান আন-নাসির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাকাম ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম ইবনে আবুল আস ইবনে উমাইয়া ইবনে আব্দে শামস ইবনে আব্দে মানাফ আল-কুরাশি আল-উমায়ি, এরপর আল-মারওয়ানি আল-মুগিরি আল-আন্দালুসি, এরপর...
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الإشبيلي، نزيل سبته المعروف بابن القارئ، رحمه الله تعالى، قال: تناولت جميعه من يد القاضي أبي القاسم ابن بقي ، يعني المذكور ، رحمه الله تعالى.

وسمعت أيضًا جميع هذا الكتاب من أوله إلى آخره على الشيخ الفقيه العدل الجليل الحسيب الأصيل الضابط الثبت اليقظ الصالح أبي الحكم يحيى ابن الشيخ الفقيه، القاضي الأجل أبي جعفر أحمد بن أبي زكرياء يحيى بن إمام الفريضة بالجامع العدبسي أبي الحسين عبيد الله بن أبي العرب يحيى بن الشيخ الفقيه القاضي الأجل أبي القاسم أحمد بن الشيخ الفقيه القاضي الفاضل أبي بكر محمد بن أحمد بن محمد بن منظور بن عبد الله بن منظور القيسي الأندلسي الإشبيلي نزيل سبته رحمه الله تعالى، وصح لنا ذلك وثبت في ذي حجة من سنة اثنين وتسعين وست مائة، بمسجد إقرائه، بأسفل زقاق ابن عيسى، من سبته المحروسة.

وسمعته كاملًا على خاتمة المقرئين أبي بكر محمد بن عبد الله بن محمد بن عبيدة الأنصاري العبدي الأندلسي الإشبيلي النحوي الأديب مستوطن سبته رحمه الله تعالى بداره منها، وهو شاك، صحيح الذهن، قوي الميز والفهم، قالا جميعًا أخبرنا المقري أبو الحسن علي بن جابر اللخمي الدباج، قال الأول بقراءتي عليه، وقال الثاني قراءة عليه وأنا أسمع، قال: أخبرنا نجبه بن يحيى ، قال: أبو الحسن شريح بن محمد، وأبو العباس ابن عيشون ، قالا: أخبرنا أبو عبد الله المصنف، قال الدباج، وأخبرنا أيضًا به أبو بكر بن صاف، عن شريح المذكور.

وقرأت أيضًا طائفة من هذا الكتاب على الشيخين الجليلين الفاضلين سيدي ، وبركتي ، وإمامي رفيقي كان في الرحلة المباركة أجزل الله النفع بها، وحقق الأمل في
আল-ইশবিলি, সেউতা নিবাসী, যিনি ইবনুল ক্বারি হিসেবে পরিচিত, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বলেছেন: আমি এই সম্পূর্ণ অংশটি ক্বাযী আবুল কাসিম ইবনে বাকী (অর্থাৎ ইতিপূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তি), আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর হাত থেকে গ্রহণ করেছি।

আমি এই কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শাইখ, ফকীহ, ন্যায়পরায়ণ, মহান, উচ্চবংশীয়, আভিজাত্যময়, সুশৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য, সতর্ক ও নেককার আবু হাকাম ইয়াহইয়া ইবনে শাইখ আল-ফকীহ, শ্রেষ্ঠ ক্বাযী আবু জাফর আহমাদ ইবনে আবি যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া ইবনে জামে আদাবসি-এর ফরয নামাজের ইমাম আবুল হুসাইন উবায়দুল্লাহ ইবনে আবিল আরব ইয়াহইয়া ইবনে শাইখ আল-ফকীহ শ্রেষ্ঠ ক্বাযী আবুল কাসিম আহমাদ ইবনে শাইখ আল-ফকীহ বিজ্ঞ ক্বাযী আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মানযুর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মানযুর আল-কাইসি আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি সেউতা নিবাসী—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—এর নিকট শ্রবণ করেছি। আমাদের নিকট এটি সহীহ ও সাব্যস্ত হয়েছে ৬৯২ হিজরীর যিলহজ মাসে, সুরক্ষিত সেউতার ইবনে ঈসা গলির পাদদেশে অবস্থিত তাঁর পাঠদানের মসজিদে।

আমি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে ক্বারিগণের শেষ প্রতিনিধি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদাহ আল-আনসারি আল-আবদি আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি নাহুবিদ ও সাহিত্যিক, সেউতার অধিবাসী—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর বাসভবনে শ্রবণ করেছি। তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন, তবে তাঁর মস্তিস্ক সুস্থ ছিল এবং তাঁর বিচারবুদ্ধি ও বোধশক্তি ছিল প্রবল। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ক্বারি আবু হাসান আলী ইবনে জাবির আল-লাখমি আদ-দাব্বাজ। প্রথমজন বলেছেন: তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, এবং দ্বিতীয়জন বলেছেন: তাঁর নিকট পাঠ করার সময় আমি তা শুনছিলাম। তিনি (আদ-দাব্বাজ) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নুজবাহ ইবনে ইয়াহইয়া। তিনি বলেছেন: আবুল হাসান শুরাইহ ইবনে মুহাম্মাদ এবং আবুল আব্বাস ইবনে আইশুন। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ গ্রন্থকার। আদ-দাব্বাজ বলেন: আমাদের নিকট আরও সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে সাফ, উল্লিখিত শুরাইহ-এর সূত্রে।

আমি এই কিতাবের একটি অংশ আরও দুইজন মহান ও গুণী শাইখ—আমার নেতা, আমার বরকত এবং আমার ইমাম—এর নিকট পাঠ করেছি, যিনি এই বরকতময় সফরের সাথী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকারকে ব্যাপক করুন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সত্যে পরিণত করুন...
(খণ্ড: ১) বারনামাজুত তুজীবী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
قبولها، وشفعها بأمثالها، العلامة الأوحد الحافل الأدب القديم الطلب، جار صلى الله عليه وسلم ونزل حرمه الأمين، الزاهد العابد المنقطع إلى الله تعالى التلاء لكتابه العزيز، أبي القاسم خلف بن الشيخ الصالح الحافظ أبي الأصبغ عبد العزيز بن محمد بن خلف بن عبد العزيز بن محمد الغافقي الإشبيلي ، ثم القبتوري ، جزاء الله عني خير الجزاء، وجمع بيني وبينه في جنه عدن إن لم يقد في هذه الدنيا بالالتقاء، والمقري الخطيب الصالح أبي عبد الله صالح، وتناولت جميعه من يد كل واحد منهما، وحدثني به أبو القاسم عن، وعن أبي بكر بن مسدي، أبي الحسن الدباج المذكور وعن أبي بكر بن مسدي، عن ابن بقي المذكور بسنديهما، وحدثني به ابن صالح، عن سعد بن زاهر، قراءة عليه لجميعه بسماعه من أبي الربيع ابن سالم، بسماعه من أبي عبد الله بن حميد، عن شريح بن محمد المذكور، وقد أجازنا غير واحد ، عن أبي الربيع المذكور.

وحدثنا أيضًا به ابن صالح المذكور عن أبي الحسين ابن السراج قراءة عليه لبعضه، ومناولة لسائره عن أبي القاسم الشراط وغيره، عن المقري أبي الحسن شريح المذكور، وحدثنا أَيْضًا به عن الفاضلين الحافظين أبي عبد الله محمد بن عبد الله القضاعي ابن الأبار، وأبي بكر بن أحمد اليعمري ابن سيد الناس مناولة من يد كل واحد منهما، عن بعض أصحاب شريح المذكور، عن شريح، عن أبيه مصنفه، رحم الله جميعهم.

كتاب المفردات: المحتوي على روايتي عبد الله بن كثير، وروايتي أبي عمرو، وروايتي الكسائي، كل ذلك من تأليف أبي عبد الله محمد بن شريح، وعلى روايتي ابن عامر، وروايتي عاصم، وروايتي حمزة، كل ذلك من تأليف أبي الحسن شريح ابن محمد المذكور، رحمهما الله تعالى.

قرأت جميع هذا الكتاب كاملًا على العلامة
এর কবুলিয়াত এবং একে এর সমজাতীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত করা; অদ্বিতীয় প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, প্রাচীন সাহিত্য ও জ্ঞান অন্বেষণে সমৃদ্ধ, যিনি (রাসূল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিবেশী এবং তাঁর নিরাপদ হারামে অবস্থানকারী, যাহিদ (তপস্বী), আবিদ (ইবাদতকারী), আল্লাহ তাআলার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং তাঁর মহাগ্রন্থের সদা তিলওয়াতকারী; আবু আল-কাসিম খালাফ ইবন আশ-শাইখ আস-সালিহ আল-হাফিয আবু আল-আসবাহ আব্দুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ ইবন খালাফ ইবন আব্দুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ আল-গাফকি আল-ইশবিলি, অতঃপর আল-কুবতুরি; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং যদি এই দুনিয়াতে সাক্ষাতের সুযোগ না ঘটে থাকে তবে জান্নাতে আদনে আমাকে ও তাঁকে একত্রিত করুন। আর ক্বারী, নেককার খতীব আবু আব্দুল্লাহ সালিহ; আমি তাঁদের প্রত্যেকের হাত থেকে এর সম্পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছি। আবু আল-কাসিম আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন মুসদী থেকে, তিনি উল্লিখিত আবু আল-হাসান আদ-দাব্বাজ থেকে এবং তিনি আবু বকর ইবন মুসদী থেকে, তিনি উল্লিখিত ইবন বাক্বী থেকে তাঁদের উভয়ের সনদসহ। আর ইবন সালিহ আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন সা'দ ইবন যাহির থেকে, তাঁর নিকট সম্পূর্ণ কিতাবটি পাঠ করার মাধ্যমে এবং আবু আল-রবী' ইবন সালিম থেকে তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ ইবন হুমাইদ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি উল্লিখিত শুরাইহ ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর একাধিক ব্যক্তি আমাদের কাছে উল্লিখিত আবু আল-রবী' থেকে বর্ণনা করার অনুমতি (ইজাযত) প্রদান করেছেন।

এবং উল্লিখিত ইবন সালিহও আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন ইবন আস-সাররাজ থেকে, তাঁর নিকট এর কিছু অংশ পাঠ করার মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ হস্তান্তরের মাধ্যমে; তিনি আবু আল-কাসিম আশ-শাররাত ও অন্যান্যদের থেকে, তাঁরা উল্লিখিত ক্বারী আবু আল-হাসান শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আমাদের কাছে এটি আরও বর্ণনা করেছেন দুই ফাযেল ও হাফিয—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-কুদায়ী ইবনুল আব্বার এবং আবু বকর ইবন আহমাদ আল-ইয়া'মুরি ইবন সাইয়্যিদুন নাস; তাঁদের প্রত্যেকের হাত থেকে সরাসরি হস্তান্তরের মাধ্যমে, তাঁরা উল্লিখিত শুরাইহের কিছু সঙ্গীদের থেকে, তিনি শুরাইহ থেকে, আর তিনি তাঁর পিতা তথা এই গ্রন্থের গ্রন্থকারের থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

কিতাবুল মুফরাদাত: যা আব্দুল্লাহ ইবন কাসিরের দুটি রেওয়াত, আবু আমরের দুটি রেওয়াত এবং আল-কিসায়ীর দুটি রেওয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে; এ সবই আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন শুরাইহের রচনা। এবং এতে ইবন আমির, আসিম ও হামযাহর দুটি করে রেওয়াত রয়েছে, যা উল্লিখিত আবু আল-হাসান শুরাইহ ইবন মুহাম্মাদের রচনা, আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আমি এই সম্পূর্ণ কিতাবটি আদ্যোপান্ত প্রাজ্ঞ আল্লামার নিকট পাঠ করেছি