(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: -)
سيرة ابن اسحاق = السير والمغازي   (محمد بن إسحاق)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: سيرة ابن إسحاق (كتاب السير والمغازي)

المؤلف: محمد بن إسحاق المطلبي الشهير بـ ابن إسحاق (ت 151 هـ)

تحقيق: سهيل زكار

الناشر: دار الفكر، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1398 هـ - 1978 م

عدد الصفحات: 381

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাত ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ার ওয়াল-মাগাযী   (মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


কিতাব: সীরাত ইবনে ইসহাক (আস-সিয়ার ওয়াল-মাগাযী কিতাব)

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবী, যিনি ইবনে ইসহাক নামে পরিচিত (মৃ. ১৫১ হিজরি)

সম্পাদনা ও তাহকীক: সুহাইল জাক্কার

প্রকাশক: দারুল ফিকর، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৯৮ হিজরি - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৫)
[القطعة الأولى من كتاب المغازي.]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

عندما ظهر الإسلام كان عرب شماليون كثيرون من قطّان المدن كمكة ويثرب والطائف يقرأون ويكتبون؛ ذلك أنّ شمال الجزيرة كان يشهد منذ النصف الثاني من القرن الخامس الميلادي حقبة ازدهار اقتصادي وسياسي متصل.

كانت الدويلات التي أقامها الفرس والبيزنطيون على أطراف الجزيرة أو في داخلها قد ضعفت أو سقطت، وكانت اليمن قد فقدت حكومتها المركزية القوية ثم سقطت في قبضة الأحباش ثم الفرس؛ فرافق ذلك صعود شمال الجزيرة بزعامة مكة التي تحولت إلى ما يشبه جمهورية ارستقراطية سيطرت على طرق التجارة وأسواقها في الجزيرة، وأقامت نظام «الإيلاف» الذي نظّم العلاقات بين الحضر والبدو في الداخل من جهة ومع الدول المجاورة من جهة أخرى «1» .

وطبيعيّ أن تتعرض مكة ويتعرض محيطها وقد أصبحت مركزا تجاريا رئيسيا إلى جانب مكانتها الدينية عند العرب منذ القديم؛ طبيعي أن تتعرض لتأثيرات خارجية دينية وثقافية وسياسية. وهكذا فقد عرفت مكة كما عرف شمال

--------------------------------------------

(1) قارن: نقائض جرير والفرزدق 2/ 581، 638، ديوان جرير 1/ 261- 262،

:Islam:in Before Unity Arabe of Natur The:Grunebaum.3691 X Arabica- Caskel:Entdeckungen in Arabien 72- 23..P 5691 IIIV Jesho in Tamim and Mecca:Kister-. 611- 311.
[কিতাবুল মাগাজীর প্রথম অংশ।]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

যখন ইসলামের আবির্ভাব ঘটে, তখন মক্কা, ইয়াসরিব এবং তায়েফের মতো শহরগুলোর অধিবাসী উত্তর আরবের অনেক মানুষই লিখতে ও পড়তে জানতেন; এর কারণ ছিল এই যে, পঞ্চম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আরব উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চল একটি নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমৃদ্ধির যুগ প্রত্যক্ষ করছিল।

পারস্য ও বাইজেন্টাইনরা উপদ্বীপের প্রান্তে বা অভ্যন্তরে যে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল অথবা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ইয়েমেন তার শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন হারিয়েছিল এবং প্রথমে আবিসিনীয় ও পরে পারস্যের দখলে চলে গিয়েছিল; এর সমান্তরালে মক্কার নেতৃত্বে উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলের উত্থান ঘটে, যা একটি অভিজাততান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো রূপ লাভ করে এবং উপদ্বীপের বাণিজ্য পথ ও বাজারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তারা ‘ইলাফ’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা একদিকে অভ্যন্তরীণভাবে নগরবাসী ও যাযাবরদের মধ্যে এবং অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক সুসংগঠিত করেছিল (১)।

মক্কা প্রাচীনকাল থেকেই আরবদের কাছে ধর্মীয়ভাবে মর্যাদাপূর্ণ ছিল, তার ওপর এটি একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এটি মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বহিরাগত ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছিল। এভাবেই মক্কা ও উত্তর আরব পরিচিত হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) তুলনা করুন: নাকাইদ জারির ওয়াল ফারাযদাক ২/৫৮১, ৬৩৮, দিওয়ান জারির ১/২৬১-২৬২,

গ্রুনবাউম: দ্য নেচার অফ অ্যারাব ইউনিটি বিফোর ইসলাম; ক্যাসকেল: এন্টডেকুনগেন ইন আরাবিয়েন ২৩-৭২; কিস্টার: মক্কা অ্যান্ড তামিম ইন জাহেলিয়া, আরাবিকা ১০, ১৯৬৩, পৃ. ১১৩-১৬১।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৬)
الجزيرة الديانتين اليهودية والنصرانية، كما عرفت أخبارا من أخبار الفرس والروم وعرفت أيضا بعض التقاليد الثقافية التي كانت سائدة في منطقة ما يسمّى بمنطقة «الثقافية الهيللينية» «1» . إلى جانب هذه التقاليد الحضارية الخارجية التي وصلت إلى مكة؛ تكوّنت في مكة نفسها تقاليد ثقافية خاصة بها وبشمال الجزيرة بشكل عام. كان من ضمن هذه التقاليد الخطّ العربي المستعار في الأصل من الأنباط «2» . هذا الخطّ الذي وصلت إلينا نماذج من تطوراته الأولى تعود إلى مطلع القرن الرابع الميلادي ما لبث أن انتشر وسيطر في الأصقاع التي انتشرت فيها تجارة مكة وأسواقها في شمالي الجزيرة وجنوبيها «3» .

ولا شك أن شباب قريش الذين كانوا في أكثرهم تجارا، وكانوا يعقدون المعاهدات، ويسجّلون العقود ويحتاجون إلى كتابة الرسائل كانوا يعرفون في أكثرهم الكتابة العربية، والقرآن الذي ترد فيه إشارات كثيرة إلى الكتب والكتابة والعقود والنظم التجارية شاهد صريح على كون هذه الأمور كلها معروفة وممارسة لديهم «4» . وكتب السيرة والتاريخ والطبقات تؤكّد ذلك بذكر أسماء أشخاص بعينهم في مكة والمدينة كانوا يحسنون الكتابة والقراءة، كما تذكر تقليدا آخر- ربما كان خاصا بالمدينة المنورة- مفاده أنّ أولئك الذين كانوا يحسنون الكتابة والسباحة والرمي كانوا يسمّون «الكمله» ، وكان منهم بين الأنصار عدد ليس بالقليل «5» .

--------------------------------------------

(1) قارن..ff 8 Islam im Autike der Fortleben Das:Rosenthal.E:

(2) قارن..9391 Chicago.Script Arabic North The of Rise The:.N Abbot:

(3) قارن:

46 Arabes des Penetration La:Dussaud-.ff 313 II Araber Die:Stiehl- Altheim-

جواد علي: المفصل 3/ 191 وما بعدها.

(4) القرآن 23/ 282، وقارن ناصر الدين الاسد: مصادر الشعر الجاهلي 41- 133.

(5) طبقات ابن سعد 3/ 136، فتوح البلدان 473- 477.
উপদ্বীপটি ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের সাথে পরিচিত ছিল, যেমনটি এটি পারস্য ও রোমানদের সংবাদ সম্পর্কে জানত এবং তথাকথিত «হেলেনিস্টিক সাংস্কৃতিক» অঞ্চলে প্রচলিত কিছু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কেও অবহিত ছিল «১»। মক্কায় পৌঁছানো এসব বাহ্যিক সভ্যতাগত ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বয়ং মক্কাতেই নিজস্ব কিছু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল যা মক্কা এবং সাধারণভাবে উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। এই ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে ছিল আরবি লিপি, যা মূলত আম্বাতদের (নাবাতীয়) থেকে ধার করা হয়েছিল «২»। এই লিপির প্রাথমিক বিবর্তনের কিছু নমুনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে যা চতুর্থ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকের। এই লিপিটি শীঘ্রই সেইসব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাধান্য বিস্তার করে যেখানে মক্কার বাণিজ্য ও বাজারগুলো উপদ্বীপের উত্তর ও দক্ষিণে বিস্তৃত ছিল «৩»।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে কুরাইশ যুবকদের অধিকাংশ, যারা মূলত ব্যবসায়ী ছিলেন এবং বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন করতেন, দলিল নথিবদ্ধ করতেন এবং পত্র বিনিময়ের প্রয়োজন অনুভব করতেন, তাদের অধিকাংশই আরবি লিখন পদ্ধতি জানতেন। আর কুরআন, যাতে কিতাব, লিখন, চুক্তি এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থার প্রতি অসংখ্য ইঙ্গিত রয়েছে, তা এই বিষয়গুলো তাদের নিকট সুপরিচিত এবং চর্চিত হওয়ার এক স্পষ্ট প্রমাণ «৪»। সিরাত, ইতিহাস এবং তাবাকাতের গ্রন্থসমূহ মক্কা ও মদিনার নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এটি নিশ্চিত করে যারা লিখন ও পঠনে পারদর্শী ছিলেন। তদুপরি, এটি আরেকটি ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে—যা সম্ভবত মদিনা মুনাওয়ারার সাথে নির্দিষ্ট ছিল—যে যারা লিখন, সাঁতার এবং তীরন্দাজিতে পারদর্শী হতেন তাদের «আল-কামালাহ» (পূর্ণাঙ্গ) বলা হতো। আনসারদের মধ্যে এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম ছিল না «৫»।

--------------------------------------------

(১) তুলনা করুন: Rosenthal.E: Das Fortleben der Antike im Islam ৮ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।

(২) তুলনা করুন: Abbot.N: The Rise of the North Arabic Script. Chicago. ১৯৩৯।

(৩) তুলনা করুন:

Altheim-Stiehl: Die Araber II ৩১৩ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ; Dussaud: La Penetration des Arabes ৪৬।

জাওয়াদ আলী: আল-মুফাসসাল ৩/১৯১ এবং পরবর্তী অংশ।

(৪) কুরআন ২৩/২৮২, এবং তুলনা করুন নাসের উদ্দিন আল-আসাদ: মাসাদিরুশ শি'র আল-জাহিলি ৪১-১৩৩।

(৫) তাবাকাত ইবনে সাদ ৩/১৩৬, ফুতুহুল বুলদান ৪৭৩-৪৭৭।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৭)
كان لا بدّ من هذه المقدمة الموجزة للوصول إلى التساؤل الملحّ فيما يتصل «بالوعي التاريخي» عند العرب وجودا وأساسا وتطوّرا. نحن نعرف الآن من خلال النقوش العربية الجنوبية أنّ الجنوبيين كانوا يؤرخون لكل شيء «1» ، كما أن الكتابات العربية الشمالية الأولى مؤرّخة. ثم إننا نعرف أن المكيين كانوا يتداولون قصصا وأسمارا فيما بينهم بعضها يتصل بماضي الجزيرة والآخر بالدول والحضارات المجاورة. وعندما توفي النبي وبدأ تكوين الأساس الإداري للدولة العربية- الإسلامية الجديدة سارع الخليفة الثاني عمر بن الخطاب إلى اعتبار الهجرة النبوية من مكة إلى المدينة بداية تاريخية للدولة الجديدة والدعوة الجديدة.

الوعي التاريخي العربي الأوّلي الذي نشأ نتيجة إحساس مكة والشماليين بأنفسهم تدعّم بالدعوة الجديدة ونشأة مفهوم «الأمة» والدولة. يضاف إلى ذلك أن الصراعات القبلية بدأت مع الفتوحات وإنشاء الأمصار، كما بدأ صراع بين السلطة المركزية من جهة ورجال القبائل من جهة أخرى. وطبيعي أن تحاول كل قبيلة إنشاء «صورة تاريخية» خاصة بها دفاعا عن الذات، في الوقت الذي كانت فيه السلطة تحاول القيام بالأمر نفسه. هذا كله يدفعنا إلى القول بأنّ الوعي التاريخي العربي كما بدا في كتابات مؤرخي القرن الثاني الهجري هو وعي أصيل نشأ في البيئة العربية، وإن يكن قد تعرّض لتأثيرات خارجية فلا شك أن هذه التأثيرات بقيت عرضية «2» .

أولى الاهتمامات التاريخية في القرن الأول الهجري كانت بالسيرة النبوية،

--------------------------------------------

(1) قارن بروزنتال: علم التاريخ عند المسلمين 21- 22 (ترجمة د. العلي) .

(2)

Islam Before Unity Arab of Nature The Grunebom-. 3691 X Arabica:in

روزنتال: علم التاريخ عند المسلمين 33 وما بعدها.

34- 83 Islam in Consciousness Historical.W Braune- von.E.G.de (Islam in Law and Theology:in.9691 II) Grunebaum
আরবদের মধ্যে 'ঐতিহাসিক সচেতনতা'-র অস্তিত্ব, ভিত্তি এবং বিবর্তনের ব্যাপারে যে জোরালো প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর জন্য এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার প্রয়োজন ছিল। আমরা এখন দক্ষিণ আরবীয় শিলালিপির মাধ্যমে জানি যে, দক্ষিণ আরবের অধিবাসীরা প্রতিটি জিনিসেরই ইতিহাস লিপিবদ্ধ করত «১» , ঠিক যেমন উত্তরের প্রাথমিক আরবীয় লিপিগুলোও তারিখ সংবলিত। এছাড়া আমরা জানি যে, মক্কাবাসীরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন কিচ্ছা ও কাহিনী আলোচনা করত, যার কিছু ছিল আরব উপদ্বীপের অতীত সম্পর্কিত এবং কিছু ছিল পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ও সভ্যতা সম্পর্কিত। যখন নবী ইন্তেকাল করলেন এবং নতুন আরব-ইসলামি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভিত্তি গঠন শুরু হলো, তখন দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব মক্কা থেকে মদিনায় নবীর হিজরতকে নতুন রাষ্ট্র ও নতুন দাওয়াতের ঐতিহাসিক সূচনা হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন।

মক্কাবাসী এবং উত্তর আরবীয়দের আত্মপরিচয়ের বোধ থেকে যে প্রাথমিক আরব ঐতিহাসিক সচেতনতা তৈরি হয়েছিল, তা নতুন দাওয়াত এবং 'উম্মাহ' ও রাষ্ট্রের ধারণার উন্মেষের ফলে আরও শক্তিশালী হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল এই যে, বিজয় অভিযান এবং নতুন শহর নির্মাণের সাথে সাথে গোত্রীয় সংঘাত শুরু হয়, এবং একদিকে কেন্দ্রীয় শক্তি ও অন্যদিকে গোত্রীয় প্রধানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি গোত্র আত্মরক্ষার তাগিদে নিজেদের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক রূপ’ তৈরি করার চেষ্টা করছিল, যে সময়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষও একই কাজ করার চেষ্টা করছিল। এই সব কিছুই আমাদের এই কথা বলতে উদ্ধুদ্ধ করে যে, হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর ঐতিহাসিকদের লেখনিতে আরব ঐতিহাসিক সচেতনতা যেভাবে ফুটে উঠেছে, তা আরব পরিবেশেই জন্ম নেওয়া একটি মৌলিক চেতনা; যদিও এটি বাইরের কিছু প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছিল, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সেই প্রভাবগুলো ছিল নেহাতই গৌণ «২» ।

হিজরি প্রথম শতাব্দীতে ঐতিহাসিক আগ্রহের প্রধান বিষয় ছিল সিরাতুন্নবী (নবীর জীবনী),

--------------------------------------------

(১) তুলনা করুন রোজেনথাল: মুসলিমদের ইতিহাসতত্ত্ব ২১- ২২ (ড. আল-আলীর অনুবাদ)।

(২)

জি. ই. ফন গ্রুনবাউম— দ্য নেচার অফ অ্যারাব ইউনিটি বিফোর ইসলাম। অ্যারাবিকা: ১০ (১৯৬৩)।

রোজেনথাল: মুসলিমদের ইতিহাসতত্ত্ব ৩৩ এবং পরবর্তী।

৩৪- ৮৩ ইসলামে ঐতিহাসিক সচেতনতা। ডব্লিউ. ব্রাউন- ই. জি. ফন গ্রুনবাউম (ইসলামে আইন ও ধর্মতত্ত্ব: ১৯৬৯ ২) মধ্যে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৮)
بالتاريخ القريب للأمة الناشئة. كان المجتمع يتطلع إلى محاولة «إعادة امتلاك» تلك التجربة التاريخية الفريدة، تجربة النبوة والمجتمع المثالي الأول. كان لا بدّ من «صورة تاريخية»

تدعم فكرة الأمة والمجتمع الناشىء، ثم إنّ الفتوحات والاتصال بالأمم الأخرى، كل ذلك أبرز مشاكل جديدة رجوا حلّها باستعادة تجربة الوحي والإدارة والغزوات أيام الرسول، سيرة النبي، كتبت ضمن منظور تاريخي واسع يجعلها خاتمة تجارب الأمم التي عاشت أنبياء ونبوات أو كانت لها صلة من أي نوع بفكرة التوحيد. هذا المنظور التاريخي العالمي استمد مصادره من القرآن ومعارف العرب التقليدية وما عرفوه من خلال معايشتهم لأهل الكتاب في الأقطار المفتوحة، ومن خلال معايشتهم للشعوب غير الكتابية. تلا الاهتمام بالسيرة وخلفيتها اهتمام مماثل بأخبار العرب في جاهليتهم فيما يسمّى بأيام العرب نتيجة الصراعات القبلية، هذا بالإضافة إلى «الصور التاريخية» التي بدأت تنشأ عن التاريخ السياسي للدولة الإسلامية خلال الصراع بين السلطة الحاكمة والأحزاب السياسية الدينية التي تصدّت للسلطة الأموية وقاومتها «1» .

اهتمّ بالسيرة النبوية وبخلفيتها التاريخية أشخاص عديدون في القرنين الأول والثاني الهجريين، منهم وهب بن منبه وأبان بن عثمان بن عفان وعروة بن الزبير وشرحبيل بن سعد، وعبد الله بن أبي بكر بن حزم وعاصم بن عمر بن قتادة ومحمد بن مسلم بن شهاب الزهري وموسى بن عقبة وهشام بن عروة بن الزبير ومحمد بن إسحاق. ولقد وصلتنا قطع من كتاب وهب بن منبه (34- 114 هـ/ 654- 732 م) في المغازي «2» ، كما وصلتنا أجزاء من كتابات محمد بن مسلم

--------------------------------------------

(1) عبد العزيز الدوري: علم التاريخ عند العرب 17- 20.

(2) نشرها ج. ر. خوري بهايدلبرغ.
নবগঠিত উম্মাহর নিকটবর্তী ইতিহাস সম্পর্কে। সমাজ সেই অনন্য ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, অর্থাৎ নবুওয়াত এবং প্রথম আদর্শ সমাজের অভিজ্ঞতাকে 'পুনরায় অধিকার' করার প্রচেষ্টার দিকে তাকিয়ে ছিল। উম্মাহ এবং নবজাত সমাজের ধারণাকে সমর্থন করার জন্য একটি 'ঐতিহাসিক রূপরেখা' অপরিহার্য ছিল। অতঃপর বিজয়সমূহ এবং অন্যান্য জাতির সাথে যোগাযোগ, এই সবকিছুই নতুন সমস্যার জন্ম দেয় যা তারা রাসুলের আমলের ওহী, শাসনব্যবস্থা এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সমাধান করার আশা করেছিল। নবীর সীরাত এমন এক বিস্তৃত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছিল যা একে সেইসব জাতির অভিজ্ঞতার পরিসমাপ্তি হিসেবে উপস্থাপন করে, যারা নবী ও নবুওয়াতের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল বা তাওহীদের ধারণার সাথে যাদের কোনো প্রকার সংযোগ ছিল। এই বিশ্বজনীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তার উৎসসমূহ কুরআন, আরবদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং বিজিত অঞ্চলসমূহে আহলে কিতাবদের সাথে তাদের সহাবস্থানের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান এবং কিতাবধারী নয় এমন জাতিগুলোর সাথে তাদের সহাবস্থানের অভিজ্ঞতা থেকে গ্রহণ করেছিল। সীরাত এবং এর প্রেক্ষাপটের প্রতি আগ্রহের পর আইয়ামুল আরব নামে পরিচিত জাহেলি যুগের আরবদের সংবাদ এবং গোত্রীয় সংঘাতের ফলাফলের প্রতি অনুরূপ আগ্রহ দেখা দেয়। এর পাশাপাশি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে উদ্ভূত সেইসব 'ঐতিহাসিক চিত্র' যুক্ত হয়েছিল, যা শাসকগোষ্ঠী এবং উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বের সময় সৃষ্টি হতে শুরু করেছিল «১»।

হিজরি প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে অনেক ব্যক্তি সীরাত এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ, আবান বিন উসমান বিন আফফান, উরওয়াহ বিন যুবাইর, শুরাহবিল বিন সাদ, আবদুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম, আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ, মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আল-যুহরি, মুসা বিন উকবাহ, হিশাম বিন উরওয়াহ বিন যুবাইর এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাক। মাগাযি বিষয়ক ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ (৩৪- ১১৪ হিজরি/ ৬৫৪- ৭৩২ খ্রিস্টাব্দ) এর বইয়ের কিছু অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে «২», যেমনটি পৌঁছেছে মুহাম্মদ বিন মুসলিমের লেখার কিছু অংশ।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল আজিজ আদ-দুরি: আরবদের ইতিহাস তত্ত্ব ১৭- ২০।

(২) এটি হাইডেলবার্গে জি. আর. খুরি কর্তৃক প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৯)
ابن شهاب الزهري (124 هـ/ 741 م) في السيرة في كتاب المصنّف لعبد الرزاق ابن همام الصنعاني (211 هـ/ 826 م) ، ويعتبر كل من موسى بن عقبة (141 هـ/ 758 م) ومحمد بن إسحاق (85- 151 هـ/ 705- 768 م) أهمّ ممثّلي المرحلة الثانية من مراحل كتابة السيرة، وأقدم من كتب في ظل العباسيين، وقد وصلت إلينا قطعة صغيرة من كتاب موسى بن عقبة في المغازي نشرت سنة 1904 م. ومن دراسة هذه القطعة يتبين اهتمام موسى بالترتيب الزمني وبذكر تواريخ الحوادث، وباستعماله للأسانيد بدقة، ثم باعتماده شبه الكلي على شيخه الزهري «1» .

مهما تكن أهمية أعمال أمثال الزهري وموسى بن عقبة، فإن عمل ابن إسحاق يبقى الأساسيّ فيما يتصل بالسيرة وإلى حدّ ما بالتاريخ. وتكمن أهميته كمؤرّخ في استيعابه لتجارب شيوخه، وفي تطويرها وإعادة تنظيمها من خلال فهمه الجديد للتاريخ، ومن خلال نظرته الشاملة النابعة من ثقافته الواسعة وإدراكه للمغزى السياسي «للصورة التاريخية» . من هنا صار ابن إسحاق شيخ كتّاب السيرة، وصار من كتبوا بعده عيالا عليه. وقد شعر كاتب سيرة كابن سيّد الناس بعد ذلك بقرون أنّ سيرة النبي نفسها وقيمتها التاريخية تتعرضان للخطر إن تعرضت الثقة بابن إسحاق المؤرّخ للتساؤل، لذا فقد رأى واجبا عليه أن يعقد في مطلع سيرته فصلا للدفاع عن ابن إسحاق في وجه ناقديه «2» .

--------------------------------------------

(1) عن كتاب السيرة الأوائل، قارن مقالات هوروفتر في II I Culture Islamic وقد ترجمها د. حسين نصار بعنوان «المغازي الأول ومولفوها» 1949. وقارن، عبد العزيز الدوري: علم التاريخ عند العرب 20- 27.

(2) عيون الأثر 1/ 10- 17.
ইবনে শিহাব আল-জুহরি (১২৪ হিজরি/ ৭৪১ খ্রিস্টাব্দ) আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আস-সানআনি (২১১ হিজরি/ ৮২৬ খ্রিস্টাব্দ)-এর 'কিতাবুল মুসান্নাফ'-এ সিরাত বিষয়ে আলোচিত হয়েছেন। এবং মুসা ইবনে উকবা (১৪১ হিজরি/ ৭৫৮ খ্রিস্টাব্দ) ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (৮৫-১৫১ হিজরি/ ৭০৫-৭৬৮ খ্রিস্টাব্দ) উভয়কেই সিরাত রচনার ধারাসমূহের দ্বিতীয় পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং আব্বাসীয় শাসনামলে লেখকদের মধ্যে প্রাচীনতম হিসেবে গণ্য করা হয়। মুসা ইবনে উকবার 'মাগাজি' বিষয়ের কিতাবের একটি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে যা ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে। এই অংশটি পর্যালোচনার মাধ্যমে কালানুক্রমিক বিন্যাস, ঘটনার তারিখ উল্লেখ এবং নির্ভুলভাবে সনদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুসার বিশেষ গুরুত্বারোপ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, এছাড়া তিনি প্রায় সম্পূর্ণভাবে তার উস্তাদ জুহরির ওপর নির্ভর করেছেন «১»।

জুহরি ও মুসা ইবনে উকবার ন্যায় ব্যক্তিবর্গের কর্মের গুরুত্ব যাই হোক না কেন, সিরাত এবং অনেকাংশে ইতিহাসের ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের কর্মই মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়। ঐতিহাসিক হিসেবে তার গুরুত্ব নিহিত রয়েছে তার উস্তাদদের অভিজ্ঞতাসমূহ আত্মস্থ করার মাঝে এবং ইতিহাসের প্রতি তার নতুন অনুধাবনের মাধ্যমে সেগুলোর বিকাশ ও পুনর্গঠনের মাঝে; যা তার ব্যাপক পাণ্ডিত্য ও 'ঐতিহাসিক চিত্র'-এর রাজনৈতিক তাৎপর্য উপলব্ধি থেকে উৎসারিত এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ফসল। এ কারণেই ইবনে ইসহাক সিরাত লেখকদের প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং পরবর্তীতে যারা লিখেছেন তারা তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এমনকি কয়েক শতাব্দী পরে ইবনে সাইয়্যেদুন নাসের মতো একজন সিরাত লেখক অনুভব করেছিলেন যে, যদি ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাকের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে স্বয়ং নবীজির সিরাত এবং এর ঐতিহাসিক মূল্য হুমকির মুখে পড়বে; তাই তিনি তার সিরাত গ্রন্থের শুরুতে সমালোচকদের বিপরীতে ইবনে ইসহাককে রক্ষার জন্য একটি অধ্যায় বিন্যাস করা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেছেন «২»।

--------------------------------------------

(১) প্রাথমিক সিরাত গ্রন্থ সম্পর্কে দেখুন, 'ইসলামিক কালচার' (Islamic Culture) ১ম ও ২য় খণ্ডে হোরোভিটজের প্রবন্ধসমূহ, যা ড. হুসাইন নাসসার ১৯৪৯ সালে 'আল-মাগাযিল আওয়াল ওয়া মুয়াল্লিফুহা' (প্রথম মাগাজি ও তার লেখকগণ) শিরোনামে অনুবাদ করেছেন। এবং তুলনা করুন, আব্দুল আজিজ আদ-দুরি: ইলমুত তারিখ ইনদাল আরব (আরবদের নিকট ইতিহাস চর্চা) পৃষ্ঠা ২০-২৭।

(২) উয়ুনুল আসার ১/ ১০-১৭।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১০)
ومع أنّ الدراسات عن ابن إسحاق تعددت منذ مطلع هذا القرن «1» ، لكنّ هناك صعوبات لا يمكن تخطّيها تحول دون الوصول إلى نتائج يطمأنّ إليها في هذا المجال. إن المادة التي اعتمدت عليها هذه الدراسات قليلة وغير أصيلة تماما، ذلك أن ما كتبه ابن إسحاق لم يصل إلينا بشكله الأول، بل وصلنا بعد تهذيبه وتعديله من قبل آخرين أشهرهم وأهمهم ابن هشام. وكنت قد حصلت منذ سنوات على مصوّرة لقطعة من سيرة ابن إسحاق موجودة بالمغرب، ضممتها إلى أوراق من قسم المغازي موجودة بالمكتبة الظاهرية بدمشق، ثم قمت بمقارنة الموادّ والأخبار الموجودة في هاتين القطعتين بما عند ابن هشام مما يقابلهما فاتضحت لي أهمية نشرهما.

ولد محمد بن إسحاق بالمدينة حوالي عام 85 هـ/ 705 م «2» ، وبها نشأ وأدرك بعض الصحابة، لكنّ أكثر سماعه كان من أبناء الصحابة. وقد سمع من أبيه وكبار التابعين بالمدينة، ثم رحل في طلب العلم إلى مصر، ونحن نعلم أنه كان بالإسكندرية عام 119 هـ/ 738 م، ثم عاد إلي المدينة وبدأت شهرته بسعة الرواية تنتشر. وإلى هذه الفترة تعود منازعاته مع عالمي المدينة المشهورين آنذاك: هشام بن عروة بن الزبير (- 146 هـ) ، ومالك بن أنس (- 179 هـ) . أما هشام بن عروة فقد اتهمه بالكذب لأنه كان يروي عن زوجته فاطمة بنت المنذر بن الزبير، وكان هشام بن عروة ينكر سماع

--------------------------------------------

(1) كتب يوهان فك دراسة عنه (عام 1925) ، كما نشر فيشر أسماء الرجال الذين رووا عنه. ودرس هوروفتز عمله في مقالاته السالفة الذكر، وقارن الدوري 27- 32.

(2) أهم ترجماته في المصادر، طبقات فحول الشعراء لابن سلام 8، 11، 206، طبقات ابن سعد 6/ 396، المعارف 491، الفهرست 92، تاريخ بغداد 1/ 214، معجم الأدباء 18/ 5 وما بعدها، وفيات الأعيان 4/ 276- 277، تاريخ الاسلام 6/ 375- 378، ميزان الاعتدال 3/ 468، تذكرة الحفاظ 2/ 172، تهذيب التهذيب 9/ 38، عيون الأثر 1/ 10- 17.
যদিত্ত এই শতাব্দীর শুরু থেকেই ইবনে ইসহাকের ওপর গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে «১», কিন্তু এই ক্ষেত্রে এমন কিছু অতিক্রম অযোগ্য প্রতিকূলতা রয়েছে যা নিশ্চিত ফলাফলে পৌঁছানোর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই গবেষণাসমূহ যে উপকরণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে তা যৎসামান্য এবং পুরোপুরি মৌলিক নয়। কারণ, ইবনে ইসহাক যা লিখেছিলেন তা তাঁর আদি রূপে আমাদের কাছে পৌঁছেনি; বরং অন্যদের কর্তৃক পরিমার্জন ও পরিবর্তনের পর তা আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হলেন ইবনে হিশাম। কয়েক বছর আগে আমি মরক্কোতে সংরক্ষিত ইবনে ইসহাকের সীরাতের একটি পাণ্ডুলিপির অংশের একটি প্রতিলিপি পেয়েছিলাম, যা আমি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে বিদ্যমান মাগাজি বিভাগের কিছু পাতার সাথে যুক্ত করেছি। এরপর আমি এই দুটি অংশে বিদ্যমান উপকরণ এবং সংবাদসমূহকে ইবনে হিশামের কাছে থাকা সমজাতীয় বিষয়বস্তুর সাথে তুলনা করেছি, ফলে এই দুটি অংশ প্রকাশের গুরুত্ব আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আনুমানিক ৮৫ হিজরি/৭০৫ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন «২»। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং কয়েকজন সাহাবীকে প্রত্যক্ষ করেন, তবে তাঁর অধিকাংশ শ্রবণ (হাদিস গ্রহণ) ছিল সাহাবী-সন্তানদের থেকে। তিনি মদিনায় তাঁর পিতা এবং প্রবীণ তাবেয়ীদের নিকট থেকে শুনেছেন। অতঃপর তিনি জ্ঞান অন্বেষণে মিশরের উদ্দেশ্যে সফর করেন। আমরা জানি যে, তিনি ১১৯ হিজরি/৭৩৮ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্দ্রিয়ায় ছিলেন। এরপর তিনি মদিনায় ফিরে আসেন এবং বর্ণনার ব্যাপকতার কারণে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই সময়ের মধ্যেই তৎকালীন মদিনার দুই প্রখ্যাত আলেম—হিশাম ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (মৃত্যু: ১৪৬ হি.) এবং মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু: ১৭৯ হি.)—এর সাথে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করেছিলেন, কারণ তিনি তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিনতে মুনযির ইবনে যুবায়েরের পক্ষ থেকে বর্ণনা করতেন, অথচ হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর শ্রবণের বিষয়টি অস্বীকার করতেন...

--------------------------------------------

(১) জোহান ফুক তাঁর সম্পর্কে একটি গবেষণা লিখেছেন (১৯২৫ সালে), এবং ফিশার তাঁর থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেছেন। হোরোভিৎজ তাঁর পূর্বোক্ত নিবন্ধগুলিতে তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আদ-দাওরী ২৭-৩২ এর সাথে তুলনা করেছেন।

(২) উৎসগ্রন্থসমূহে তাঁর প্রধান জীবনীসমূহ: ইবনে সাল্লামের 'তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা' ৮, ১১, ২০৬; 'তাবাকাতু ইবনে সাদ' ৬/৩৯৬; 'আল-মাআরিফ' ৪৯১; 'আল-ফিহরিস্ত' ৯২; 'তারিখু বাগদাদ' ১/২১৪; 'মুজামুল উদাবা' ১৮/৫ এবং পরবর্তী অংশ; 'ওয়াফায়াতুল আ-য়ান' ৪/২৭৬-২৭৭; 'তারিখুল ইসলাম' ৬/৩৭৫-৩৭৮; 'মিযানুল ইতিদাল' ৩/৪৬৮; 'তাযকিরাতুল হুফফায' ২/১৭২; 'তাহযীবুত তাহযীব' ৯/৩৮; 'উয়ুনুল আসার' ১/১০-১৭।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১১)
ابن إسحاق لها ويقول: أهو كان يدخل على امرأتي «1» ؟. وربما رمى هشام بن عروة من وراء ذلك إلى الحطّ من منزلة ابن إسحاق لأنه كان مولى، فقد احتل خالد بن الوليد عام 12 هـ/ 633 م مدينة عين التمر بالعراق وأسر فتيانا كانوا يدرسون في دير هناك، وكان من هؤلاء سيرين أبو محمد بن سيرين ويسار جدّ محمد بن إسحاق الذي كان مولى قيس بن مخرمة. ويروي الخطيب البغدادي خبرا مفاده أن خيارا والد يسار هو الذي أسر وكان مولى لقيس بن مخرمة بن المطلب ابن عبد مناف. ويبدو أنّ لأصول ابن إسحاق الكتابية أثرا في كتاباته كما يبدو ذلك من قصصه ورواياته عن عصور ما قبل النبي. ويبدو أنه كان يعرف السريانية فربما ظلت تلك اللغة متوارثة في أسرته. على أنه ربما عرف كل ذلك أثناء إقامته بمصر التي امتدت إلى بضع سنوات.

ويمكن فهم نزاعه مع مالك من زاوية أخرى، فقد بلغ مالكا عنه أنه يقول: إعرضوا عليّ حديث مالك فأنا بيطاره! فقال مالك: وما ابن إسحاق؟! إنما هو دجّال من الدجاجلة! نحن أخرجناه من المدينة «2» . لا مانع من فهم هذا النزاع على أنه نزاع بين أبناء الحرفة الواحدة، وقد كان العلماء قديما يقولون: المعاصرة حجاب! لكننا نحسب أن الأمر يتعدّى ذلك، إذ أنّ طبيعة الكتابة التاريخية التي عمل ابن إسحاق في مجالها أرغمته على التحلّل بعض الشيء من طرائق المحدّثين الشديدة التدقيق، والحرفية المنحى، والبالغة الإيجاز، وطبيعيّ أن ينظر مالك إلى ذلك كله- وهو المحدّث المتحرّج- نظرة كلها شكّ وريبة. والإشارة الأخرى في حديث مالك عن ابن إسحاق بالغة الأهمية، إنه يزعم أنه هو وأمثاله أخرجوا ابن إسحاق من المدينة. لقد كان للنزاع إذن وجه آخر لا يمكن اعتباره علميا محضا بل له جانبه السياسي.

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 1/ 216، وفيات الأعيان 4/ 277.

(2) معجم الأدباء 18/ 7- 8، وقارن: تاريخ الاسلام 6/ 378، طبقات خليفه 1/ 402، النجوم الزاهرة 2/ 165، مرآة الجنان 1/ 460.
ইবনে ইসহাকের প্রতি এবং বলেন: "সে কি আমার স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করত?"। সম্ভবত হিশাম ইবনে উরওয়াহ এর মাধ্যমে ইবনে ইসহাকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন একজন মাওলা (মুক্ত দাস)। হিজরি ১২/৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ইরাকের আইন আল-তামর শহর জয় করেন এবং সেখানে একটি গির্জায় অধ্যয়নরত কিছু কিশোরকে বন্দী করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সিরিন—যিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের পিতা—এবং ইয়াসার, যিনি ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের দাদা এবং কায়েস ইবনে মাখরামার মাওলা। খতিব আল-বাগদাদি একটি বর্ণনা উল্লেখ করেন যার সারমর্ম হলো, ইয়াসারের পিতা খিয়ারই মূলত বন্দী হয়েছিলেন এবং তিনি কায়েস ইবনে মাখরামা ইবনে আল-মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের মাওলা ছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে ইসহাকের কিতাবি (আহলে কিতাব সংলগ্ন) পটভূমি তার লেখনীতে প্রভাব ফেলেছিল, যেমনটি নবী (সা.)-এর পূর্ববর্তী যুগের কিচ্ছা ও বর্ণনাগুলোতে দেখা যায়। মনে হয় তিনি সুরিয়ানি (সিরিয়াক) ভাষা জানতেন, সম্ভবত সেই ভাষাটি তার পরিবারে বংশপরম্পরায় টিকে ছিল। তবে মিশরে কয়েক বছর অবস্থানের সময়ও তিনি এসব জানতে পেরে থাকতে পারেন।

ইমাম মালিকের সাথে তার বিবাদকে অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকেও বোঝা যেতে পারে। ইমাম মালিকের কাছে খবর পৌঁছাল যে ইবনে ইসহাক বলছেন: "মালিকের হাদিসগুলো আমার কাছে পেশ কর, কেননা আমি সেগুলোর বিশেষজ্ঞ (বিশারদ)!" তখন মালিক বললেন: "ইবনে ইসহাক আবার কে?! সে তো দাজ্জালদের মধ্যে একজন দাজ্জাল! আমরাই তাকে মদিনা থেকে বের করে দিয়েছি।" এই বিবাদকে একই পেশার দুই ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ হিসেবে দেখতে বাধা নেই; প্রাচীনকাল থেকেই আলেমরা বলে আসতেন: "সমসাময়িকতা হলো একটি পর্দা (বা অন্তরায়)!" কিন্তু আমরা মনে করি বিষয়টি এর চেয়েও গভীর; কারণ ঐতিহাসিক লেখনীর প্রকৃতি—যেখানে ইবনে ইসহাক কাজ করতেন—তাকে মুহাদ্দিসদের অতি সূক্ষ্ম, আক্ষরিক ও অতি সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি থেকে কিছুটা বিচ্যুত হতে বাধ্য করেছিল। আর ইমাম মালিক—যিনি একজন অত্যন্ত সতর্ক মুহাদ্দিস ছিলেন—তার এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে সন্দেহ ও সংশয়ের চোখে দেখবেন এটাই স্বাভাবিক। ইবনে ইসহাক সম্পর্কে মালিকের বক্তব্যে অন্য একটি ইঙ্গিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তিনি দাবি করছেন যে তিনি এবং তার সঙ্গীরা ইবনে ইসহাককে মদিনা থেকে বের করে দিয়েছিলেন। সুতরাং এই বিবাদের অন্য একটি দিকও ছিল যা কেবল বিশুদ্ধ জ্ঞানতাত্ত্বিক ছিল না, বরং তার একটি রাজনৈতিক দিকও ছিল।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১/২১৬, ওয়াফায়াতুল আ’য়ান ৪/২৭৭।

(২) মু'জামুল উদাবা ১৮/৭-৮, এবং তুলনা করুন: তারিখুল ইসলাম ৬/৩৭৮, তাবাকাতু খলিফা ১/৪০২, আন-নুজুমুজ জাহেরা ২/১৬৫, মিরাতিল জিনান ১/৪৬০।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১২)
والمصادر تؤيّد دعوى مالك، فقد اشتهر عن ابن إسحاق بعد عودته من مصر القول بالقدر وجلد على ذلك بالمدينة، ويبدو أن ابن إسحاق لم ينكر التهمة، فقد دافع عن نفسه عندما اتهمه هشام بن عروة بالكذب على امرأته، لكنه لم يقل شيئاً عندما بلغه اتهام مالك له بالزندقة، ولا يعني ذلك أنه كان زنديقا، ولكن تلك كانت التهمة التي يوجهها محافظو الرواة إلى القائلين بالقدر من علماء البصرة وغيرها «1» . بالإضافة إلى ذلك سرى اتهامه بالتشيّع، وكانت تلك تهمة تنال أكثر الذين يعملون في مجال سيرة النبي «2» ، وقديما ودّ عبد الملك بن مروان لو لم ينشغل أحد بالسيرة لما فيها من تقديم لبني هاشم وللأنصار! «3» .

دفع هذا كله ابن إسحاق إلى مغادرة المدينة وكان «قد ضاق واشتدّت حاله» وتوجه من هناك إلى الكوفة، ولا بد أن يكون ذلك قبل بناء بغداد، لكن بعد ولاية المنصور للخلافة أي بين 136 هـ و 144 هـ، لأننا نقرأ في المصادر أنه أتى أبا جعفر المنصور بالحيرة «فكتب له المغازي، فسمع منه أهل الكوفة بذلك السبب «4» . وتوجّهه إلى أبي جعفر المنصور لم يتم مصادفة، فقد كان يعرفه في الغالب قبل وصول العباسيين إلى السلطة، كما أنه كانت للعباسيين صلات طيبة بالقدرية في أول الأمر كما تظهره المصادر التي تلحّ على محاولات أبي جعفر للتقرب من عمرو بن عبيد وغيره من قدرية البصرة في مطالع خلافته «5» ، وكان القدرية قد دخلوا في صفوف المعارضين للأمويين منذ ثورة ابن الأشعث 82- 84 هـ واستمر عداؤهم لهم حتى سقوط دولتهم عام 132 هـ؛ «6»

--------------------------------------------

(1) قارن، تاريخ الاسلام 6/ 377، معجم الأدباء 18/ 7.

(2) معجم الأدباء 18/ 7- 8.

(3) الموفقيات 332.

(4) معجم الأدباء 18/ 6، وفيات الأعيان 4/ 277.

(5) قارن: البيان والتبيين 4/ 64- 65، العقد الفريد 3/ 164، عيون الأخبار 2/ 337.

(6) قارن

:die und Asat- al lbn des Revolte Die:Saiyid.R.ff 092-/ 21.P) 7791 Freiburg (Koranless.
উৎসসমূহ মালিকের দাবিকে সমর্থন করে। মিশর থেকে ফিরে আসার পর ইবনে ইসহাক 'কদর' (তকদির) সংক্রান্ত মতবাদ প্রচারের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং এ কারণে মদিনায় তাকে চাবুক মারা হয়। মনে হয় ইবনে ইসহাক এই অভিযোগ অস্বীকার করেননি; কারণ হিশাম ইবনে উরওয়াহ যখন তার স্ত্রীর নামে মিথ্যা বলার অভিযোগ আনেন তখন তিনি নিজের প্রতিরক্ষা করেছিলেন, কিন্তু মালিকের পক্ষ থেকে তার প্রতি 'যিন্দিক' বা ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগ পৌঁছালে তিনি কিছুই বলেননি। এর মানে এই নয় যে তিনি যিন্দিক ছিলেন, বরং এটি ছিল এমন একটি অভিযোগ যা রক্ষণশীল বর্ণনাকারীগণ বসরা ও অন্যান্য অঞ্চলের কদরপন্থীদের লক্ষ্য করে ছুঁড়তেন «১»। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে শিয়া মতবাদের অভিযোগও ছড়িয়ে পড়েছিল, আর এটি এমন একটি অভিযোগ ছিল যা সীরাত শাস্ত্র নিয়ে কাজ করা অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঘটত «২»। প্রাচীনকালে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান কামনা করতেন যে কেউ যেন সীরাত চর্চায় লিপ্ত না হয়, কারণ এতে বনু হাশিম ও আনসারদের মর্যাদা ও অগ্রগণ্যতা প্রকাশ পায়! «৩»।

এই সমস্ত পরিস্থিতি ইবনে ইসহাককে মদিনা ত্যাগে বাধ্য করে এবং তিনি «সংকীর্ণতা ও চরম সংকটে» নিপতিত হয়ে সেখান থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এটি অবশ্যই বাগদাদ নির্মাণের আগে হতে হবে, তবে আল-মানসুরের খিলাফত লাভের পরে—অর্থাৎ ১৩৬ হিজরি থেকে ১৪৪ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে। কারণ আমরা উৎসগ্রন্থগুলোতে পাই যে, তিনি আল-হিরাহ নামক স্থানে আবু জাফর আল-মানসুরের কাছে আসেন এবং «তার জন্য আল-মাগাযি (যুদ্ধাভিযানসমূহ) সংকলন করেন, যার ফলে কুফাবাসীরা তার নিকট থেকে তা শ্রবণ করে» «৪»। আবু জাফর আল-মানসুরের কাছে তার গমনটি আকস্মিক ছিল না; আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসার আগেই সম্ভবত তিনি তাকে চিনতেন। তাছাড়া প্রথমদিকে আব্বাসীয়দের সাথে কদরপন্থীদের সুসম্পর্ক ছিল, যা সেই উৎসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যেখানে আল-মানসুরের খিলাফতের শুরুতে আমর ইবনে উবাইদ এবং বসরার অন্যান্য কদরপন্থীদের সাথে সখ্যতা স্থাপনের প্রচেষ্টার কথা বর্ণিত হয়েছে «৫»। ৮২-৮৪ হিজরিতে ইবনে আশআসের বিদ্রোহের সময় থেকেই কদরপন্থীরা উমাইয়া বিরোধীদের কাতারে যোগ দিয়েছিল এবং ১৩২ হিজরিতে উমাইয়া শাসনের পতন পর্যন্ত তাদের এই শত্রুতা অব্যাহত ছিল; «৬»

--------------------------------------------

(১) তুলনা করুন, তারিখুল ইসলাম ৬/৩৭৭, মু'জামুল উদাবা ১৮/৭।

(২) মু'জামুল উদাবা ১৮/৭- ৮।

(৩) আল-মুওয়াফফাকিয়াত ৩৩২।

(৪) মু'জামুল উদাবা ১৮/৬, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/২৭৭।

(৫) তুলনা করুন: আল-বায়ান ওয়াত তাবিইয়ীন ৪/৬৪-৬৫, আল-ইকদুল ফারিদ ৩/১৬৪, উইয়ুনুল আখবার ২/৩৩৭।

(৬) তুলনা করুন

: সাইয়্যেদ আর., ইবনে আল-আশআসের বিদ্রোহ এবং কুরআন পাঠকগণ: ফ্রাইবার্গ ১৯৭৭ (পৃষ্ঠা ২১০-২৯০)।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৩)
فيما عدا الشهور التي تولى فيها يزيد بن الوليد بن عبد الملك السلطة بعد انقلاب قاده قدرية الشام، ولا شيء يمنع من تصوّر كون العباسيين قد حاولوا استغلال معارضة الحركة القدرية للأمويين لصالحهم، وربما أوضح ذلك بعض الغوامض في قيام الدعوة العباسية.

مهما يكن من أمر يبدو أن ابن إسحاق كان قد صنّف السيرة أو جزءا منها قبل مغادرة المدينة، وعند ما نزل بالكوفة حدّث عنه كوفيون كثيرون، ثم انتقل إلى بغداد في ركاب المنصور بعد بناء المدينة فحدّث عنه بها آخرون.

ويهمّنا هنا أن نذكر ثلاثة من هؤلاء الذين حدّثوا عنه لصلتهم بسيرته، إنهم: زياد بن عبد الله البكّائي (183 هـ/ 799 م) ، ومحمد بن سلمة الحرّاني (191 هـ/ 807 م) ، ويونس بن بكير (199 هـ/ 814 م) . وقد كلّف المنصور ابن إسحاق بملازمة ابنه المهدي، فصحبه طويلا وسافر معه إلى خراسان حيث حدّث هناك بالري وأملى. وبأمر من المنصور صنّف ابن إسحاق السيرة للمهدي فلما اطّلع عليها المنصور طلب إليه القيام ببعض التعديلات فيها.

وهكذا تكوّنت ثلاث «نسخ من السيرة» ، تلك الأولى من العهد المدني، والثانية من العهد الكوفي، والثالثة من العهد البغدادي، وقد بقيت أجزاء من النسختين الأولى والثانية تسمحان لنا بالذهاب إلى أنّ المنصور أراد من ابن إسحاق التركيز بشكل أوضح على دور العباس بن عبد المطلب وأخباره مع النبي وخدماته الجلّى للإسلام، وربما رافق ذلك طمس بعض ما يتصل بنواحي صعف العباس وأعماله المعادية للرسول قبل إسلامه. ونرى أن رواية يونس بن بكير تمثّل الشكل الأول غالبا بينا تمثّل رواية البكّائي «1» الشكل الثاني ورواية محمد بن سلمة الحرّاني الشكل الثالث. ونستند في ذلك إلى الطابع الشيعي الشديد الذي يبدو في بعض روايات يونس بن بكير، ففي رواية لسلمان الفارسي

--------------------------------------------

(1) عن رواية البكائي، قارن: الروض الانف 3/ 106.
সিরিয়ার কাদরিয়াদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভ্যুত্থানের পর ইয়াজিদ ইবনে ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলের সেই কয়েক মাস ব্যতীত; আর আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের বিরুদ্ধে কাদরিয়া আন্দোলনের বিরোধিতাকে নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করতে কোনো বাধা নেই, এবং সম্ভবত এটি আব্বাসীয় দাওয়াত বা আন্দোলনের উত্থানের কিছু রহস্যকে স্পষ্ট করে তোলে।

বিষয়টি যাই হোক না কেন, এটি স্পষ্ট যে ইবনে ইসহাক মদিনা ত্যাগের পূর্বেই 'সিরাত' বা এর একাংশ সংকলন করেছিলেন। যখন তিনি কুফায় অবস্থান করেন, তখন অনেক কুফাবাসী তার থেকে বর্ণনা করেন। এরপর শহরটি (বাগদাদ) নির্মাণের পর তিনি মানসুরের সহযাত্রী হিসেবে বাগদাদে চলে যান এবং সেখানে অন্যরাও তার থেকে বর্ণনা করেন।

এখানে আমাদের জন্য তাদের মধ্য থেকে তিনজনের কথা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যারা তার সিরাত গ্রন্থের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন: যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ী (১৮৩ হিজরি/ ৭৯৯ খ্রি.), মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-হাররানি (১৯১ হিজরি/ ৮০৭ খ্রি.) এবং ইউনুস ইবনে বুকাইর (১৯৯ হিজরি/ ৮১৪ খ্রি.)। মানসুর ইবনে ইসহাককে তার পুত্র মাহদীর সাথে থাকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, ফলে তিনি দীর্ঘকাল তার সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তার সাথে খোরাসান ভ্রমণ করেন। সেখানে রায় শহরে তিনি হাদিস বর্ণনা করেন এবং শ্রুতিলিখন (ইমলা) করান। মানসুরের নির্দেশে ইবনে ইসহাক মাহদীর জন্য 'সিরাত' সংকলন করেন। যখন মানসুর এটি পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তিনি এতে কিছু পরিবর্তনের জন্য তাকে অনুরোধ করেন।

এভাবেই সিরাতের তিনটি «সংস্করণ» গঠিত হয়: প্রথমটি মদিনার যুগের, দ্বিতীয়টি কুফার যুগের এবং তৃতীয়টি বাগদাদের যুগের। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণের কিছু অংশ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে যা আমাদের এই ধারণার অবকাশ দেয় যে, মানসুর চেয়েছিলেন ইবনে ইসহাক যেন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের ভূমিকা, নবীর সাথে তার সংবাদসমূহ এবং ইসলামের প্রতি তার মহান সেবাসমূহের ওপর আরও স্পষ্টভাবে আলোকপাত করেন। সম্ভবত এর সাথে আব্বাসের দুর্বল দিক এবং ইসলাম গ্রহণের আগে রাসূলের প্রতি তার শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত কিছু বিষয় মুছে ফেলার ব্যাপারটিও যুক্ত ছিল। আমরা মনে করি যে, ইউনুস ইবনে বুকাইরের বর্ণনাটি সাধারণত প্রথম রূপকে প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে বাক্কায়ীর বর্ণনা «১» দ্বিতীয় রূপ এবং মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-হাররানির বর্ণনাটি তৃতীয় রূপকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা এর ভিত্তি হিসেবে ইউনুস ইবনে বুকাইরের কিছু বর্ণনায় ফুটে ওঠা প্রবল শিয়া বৈশিষ্ট্যকে গ্রহণ করি, যেমন সালমান ফারসির এক বর্ণনায়...

--------------------------------------------

(১) বাক্কায়ীর বর্ণনা সম্পর্কে তুলনা করুন: আর-রওযুল উনুফ ৩/ ১০৬।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৪)
يقول الرسول صلى الله عليه وسلم إن عليا خير الوصيين، كما أنّ سبطيه خير الأسباط، بينا يذهب ابن إسحاق في رواية في نسخة محمد بن سلمة الحرّاني إلى أن قوله تعالى في سورة الأنفال (رقم 69) «يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِمَنْ فِي أَيْدِيكُمْ مِنَ الْأَسْرى إِنْ يَعْلَمِ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمْ خَيْراً يُؤْتِكُمْ خَيْراً مِمَّا أُخِذَ مِنْكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ» ، نزل في العباس الذي كان يقول: في نزلت حين ذكرت لرسول الله صلى الله عليه وسلم إسلامي وسألته أن يقاصّني بالعشرين أوقية التي أخذ مني.. الخ. ويدل هذا على ميول عباسية للمؤلف لم تكن في نسخته الأولى. أما رواية البكائي فلم تصل إلينا للأسف في شكلها الأول بل نالها تعديل ابن هشام واختصاره.

على أنّ رأينا هذا يبقى على كل حال عرضة للنقاش لأننا لا نملك حتى الآن نسخة كاملة لإحدى الروايات الثلاث بحيث تمكن المقارنة، ويمكن التحقق التام.

معلوماتنا عن ابن هشام الذي هذّب رواية البكّائي قليلة، وقد ذكر السهيلي في «الروض الأنف» أنه كان يدعى عبد الملك بن هشام، وأنه كان مشهورا بحمل العلم، متقدما في علم النسب والنحو. وهو حميريّ معافريّ بصريّ الأصل، مصري المنشأ والوفاة. وزاد ابن خلكان نقلا عن ابن يونس صاحب «تاريخ مصر» أنه توفي لثلاث عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الآخر سنة ثماني عشر ومائتين، بينا أكّد السهيلي وفاته عام 213 هـ «1» . ويبدو أن عبد الملك بن هشام صادف أمامه عند ما أراد تهذيب سيرة ابن إسحاق نصّ رواية البكّائي لها مكتوبا، ولا ندري كيف أخذه عن البكّائي، هل بطريق السماع والرواية أم بطريق «الوجادة» و «الإجازة» . إنه لا يصرّح على أي حال بشيء من ذلك في مطلع تهذيبه، يبدأ هكذا: «قال أبو محمد عبد الملك ابن هشام: هذا كتاب سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم محمد بن عبد الله بن عبد المطلب، واسم عبد المطلب شيبة بن هاشم، واسم هاشم عمرو..» ، ثم يقول بعد انتهاء

--------------------------------------------

(1) وفيات الأعيان 1/ 290، الروض الانف 1/ 7.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন যে, আলী হলেন শ্রেষ্ঠ অসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যেমনভাবে তাঁর দুই দৌহিত্র হলেন শ্রেষ্ঠ নাতি। পক্ষান্তরে ইবনে ইসহাক মুহাম্মদ ইবনে সালামা আল-হাররানির পাণ্ডুলিপির একটি বর্ণনায় অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, সূরা আনফালের (আয়াত নং ৬৯) আল্লাহর এই বাণী: «হে নবী! তোমাদের হাতে যে সকল যুদ্ধবন্দী রয়েছে তাদের বলো, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কোনো কল্যাণ দেখেন তবে তোমাদের থেকে যা নেওয়া হয়েছে তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি তোমাদের দান করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু», এটি আব্বাসের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যিনি বলতেন: এটি আমার ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছিল যখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আমার ইসলাম গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছিলাম এবং তাঁর নিকট আবেদন করেছিলাম যেন তিনি আমার থেকে নেওয়া বিশ উকিয়ার বিনিময়ে আমাকে দায়মুক্ত করেন... ইত্যাদি। এটি লেখকের আব্বাসীয়দের প্রতি এমন এক প্রবণতা নির্দেশ করে যা তাঁর প্রথম পাণ্ডুলিপিতে ছিল না। আর আল-বুকায়ির বর্ণনাটি দুর্ভাগ্যবশত তার আদি রূপে আমাদের নিকট পৌঁছেনি, বরং এটি ইবনে হিশামের পরিমার্জন ও সংক্ষেপণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে।

যাই হোক, আমাদের এই অভিমতটি সব অবস্থাতেই আলোচনার অবকাশ রাখে, কারণ আমাদের নিকট এখন পর্যন্ত এই তিনটি বর্ণনার কোনোটিরই এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি নেই যা দ্বারা তুলনা করা সম্ভব এবং পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়।

আল-বুকায়ির বর্ণনাটি যিনি পরিমার্জন করেছেন, সেই ইবনে হিশাম সম্পর্কে আমাদের তথ্য খুবই সামান্য। সুহাইলি 'আর-রাওদুল উনুফ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে আবদুল মালিক ইবনে হিশাম বলা হতো এবং তিনি ইলম অর্জনে প্রসিদ্ধ ও বংশলতিকা এবং ব্যাকরণশাস্ত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি ছিলেন হিময়ারি ও মাআফিরি গোত্রীয়, আদিতে বসরাবাসী, কিন্তু মিশরে তাঁর বেড়ে ওঠা এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু। ইবনে খাল্লিকান 'তারিখে মিসর'-এর লেখক ইবনে ইউনুসের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২১৮ হিজরির রবিউস সানি মাসের তেরো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন, পক্ষান্তরে সুহাইলি ২১৩ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন। মনে হয় আবদুল মালিক ইবনে হিশাম যখন ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থটি পরিমার্জনের ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন তিনি আল-বুকায়ির বর্ণনার একটি লিখিত পাঠ সামনে পেয়েছিলেন। আমরা জানি না তিনি এটি আল-বুকায়ির নিকট থেকে কীভাবে গ্রহণ করেছিলেন; সরাসরি শ্রবণ ও বর্ণনার মাধ্যমে নাকি 'উিজাদা' (লিখিত পাণ্ডুলিপি পাওয়া) এবং 'ইজাযত' (অনুমতি)-এর মাধ্যমে। তিনি তাঁর পরিমার্জিত গ্রন্থের শুরুতে এ বিষয়ে কোনো কিছুই স্পষ্ট করেননি, বরং এভাবে শুরু করেছেন: «আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম বলেন: এটি আল্লাহ্‌র রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত গ্রন্থ, আর আবদুল মুত্তালিবের নাম ছিল শাইবা ইবনে হাশিম এবং হাশিমের নাম ছিল আমর...», এরপর তিনি সমাপ্তির পর বলেন...

--------------------------------------------

(১) ওফায়াতুল আইয়ান ১/২৯০, আর-রাওদুল উনুফ ১/৭।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৫)
سرده للنسب الشريف: «قال أبو محمد عبد الملك بن هشام: حدثنا زياد بن عبد الله البكّائي عن محمد بن إسحاق المطلبي بهذا الذي ذكرت من نسب محمد رسول الله- صلى الله عليه وسلم إلى آدم عليه السلام» . وهنا يبين ابن هشام خطته في الكتاب كله فيقول: «.. تارك بعض ما ذكره ابن إسحاق في هذا الكتاب مما ليس لرسول الله صلى الله عليه وسلم فيه ذكر، ولا نزل فيه من القرآن شيء، وليس سببا لشيء من هذا الكتاب ولا تفسيرا له ولا شاهدا عليه لما ذكرت من الاختصار، وأشعارا ذكرها لم أر أحدا من أهل العلم بالشعر يعرفها، وأشياء بعضها يشنع الحديث به وبعض يسوء بعض الناس ذكره، وبعض لم يقرّ لنا البكّائي بروايته، ومستقص- إن شاء الله تعالى- ما سوى ذلك منه بمبلغ الرواية له، والعلم به..» ، وقوله «.. وبعض لم يقرّ لنا البكّائي بروايته» يدل على أنه كان على صلة ما بالبكائي لكن نوع الصلة هذا لا يمكن تحديده بدقة كما ذكرنا سابقا. والحرية التي يظهرها ابن هشام بعدم ذكره للأسانيد ربما لم تعد إليه، بل مما خلّفه ابن إسحاق في النص، وقد أكدنا سابقا على أن طبيعة المادة المكتوبة كانت تقتضي طرائق جديدة تخرج بعض الشيء على طرائق المحدّثين، ثم إن علم الإسناد لم تكن أسسه قد استقرت تماما في عصر ابن إسحاق. إهمال ابن هشام للإسناد لا يشكّل إذن والحالة هذه إشكالا لا يمكن تخطّيه، لكن مما يؤسف له لجوؤه إلى حذف الكثير من مادّة ابن إسحاق التي اعتبرها غير ضرورية، ثم صيرورته إلى تعديل بعض الأخبار أو تعديل ألفاظها حسبما فهمها ليكسبها قبولا أو وضوحا رأى أنها تفتقر إليهما. ولا شك أن تعديلاته وشروحه هذه تأثرت ببيئته الثقافية وطبيعة العصر الذي عاش فيه، هذا وإن يكن جيله هو الجيل التالي لجيل ابن إسحاق. كانت اهتمامات ابن هشام اهتمامات لغوية وقد أثّر ذلك تأثيرا كبيرا على طريقته في اختيار الأخبار وفي إيرادها.

وقد ذهبت بعض اهتمامات ابن إسحاق التاريخية والإخبارية ضحية دقة ابن هشام اللغوية. ولعله من المفيد أن نقارن عمل ابن هشام ليس فقط بالقطع الباقية من
তাঁর সম্মানীয় বংশপরম্পরা বর্ণনা: "আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-মুত্তালিবী থেকে যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত যে বংশপরম্পরা আমি উল্লেখ করেছি তা সম্পর্কে।" এখানে ইবনে হিশাম পুরো কিতাবটিতে তাঁর গৃহীত পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: "..আমি ইবনে ইসহাকের উল্লেখ করা এমন কিছু বিষয় এই কিতাবে বর্জন করেছি যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উল্লেখ নেই, যে সম্পর্কে কুরআনের কোনো আয়াত নাজিল হয়নি, যা এই কিতাবের কোনো বিষয়ের কারণ নয়, এর কোনো ব্যাখ্যা নয় এবং এর কোনো সাক্ষীও নয়—মূলত সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে আমি এমনটা করেছি। এমন কিছু কবিতা যা তিনি উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু কাব্যবিশারদদের কাউকে আমি সেগুলো চিনতে দেখিনি, এবং এমন কিছু বিষয় যার বর্ণনা হাদীসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, আবার কিছু বিষয় যা উল্লেখ করা কিছু মানুষের জন্য কষ্টকর হতে পারে এবং এমন কিছু বিষয় যা আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেননি—আল্লাহ তাআলা চাইলে এর বাইরে বর্ণিত ও জ্ঞাত সব বিষয় আমি যথাযথভাবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংকলন করব।" এবং তাঁর উক্তি "..এবং এমন কিছু বিষয় যা আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেননি" এটি প্রমাণ করে যে, বাক্কায়ীর সাথে তাঁর এক ধরনের যোগাযোগ ছিল, তবে ইতিপূর্বে আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, এই যোগাযোগের ধরন সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ইবনে হিশাম সনদ উল্লেখ না করার ক্ষেত্রে যে স্বাধীনতা দেখিয়েছেন, তা সম্ভবত তাঁর নিজের উদ্ভাবন নয়, বরং ইবনে ইসহাক মূল পাঠে যা রেখে গেছেন তার অংশ। আমরা ইতিপূর্বে জোর দিয়ে বলেছি যে, লিখিত উপকরণের প্রকৃতি এমন কিছু নতুন পদ্ধতির দাবি রাখে যা মুহাদ্দিসদের পদ্ধতি থেকে কিছুটা ভিন্ন। অধিকন্তু, ইবনে ইসহাকের যুগে সনদ শাস্ত্রের ভিত্তিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমতাবস্থায় ইবনে হিশামের সনদ বর্জন করা এমন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না যা অতিক্রম করা অসম্ভব। তবে পরিতাপের বিষয় এই যে, তিনি ইবনে ইসহাকের অনেক উপাদানকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে তা বাদ দিয়েছেন এবং কিছু সংবাদ অথবা সেগুলোর শব্দাবলি নিজের বুঝ অনুযায়ী পরিবর্তন করেছেন, যাতে তিনি এগুলোকে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা বা স্পষ্টতা দান করতে পারেন, যেগুলোর অভাব তিনি বোধ করেছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর এই পরিবর্তন ও ব্যাখ্যাগুলো তাঁর সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং যে যুগে তিনি বাস করতেন তার বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যদিও তাঁর প্রজন্ম ছিল ইবনে ইসহাকের ঠিক পরবর্তী প্রজন্ম। ইবনে হিশামের আগ্রহের ক্ষেত্র ছিল মূলত ভাষাতাত্ত্বিক এবং সংবাদ নির্বাচন ও উপস্থাপনের পদ্ধতির ওপর এর ব্যাপক প্রভাব ছিল।

ইবনে ইসহাকের কিছু ঐতিহাসিক ও তথ্যচিত্র ভিত্তিক আগ্রহ ইবনে হিশামের ভাষাগত সূক্ষ্মতার বলি হয়েছে। সম্ভবত ইবনে হিশামের কাজকে শুধুমাত্র অবশিষ্ট অংশের সাথে তুলনা করাই ফলপ্রসূ হবে...
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الروايتين الأخريين لابن إسحاق، لكن أيضا بالمصادر التي نقلت عن ابن إسحاق بطريق ابن هشام أو بطريق آخر. وفي «تاريخ مكة» للفاكهي (280 هـ) نصوص كثيرة مقتبسة من ابن إسحاق إما من طريق ابن هشام- البكّائي أو من طرق أخرى. والأمر كذلك في الأغاني. وقد ذكر ابن هشام أسبابا لحذفه لبعض الأخبار، من هذه الأسباب أن يكون النصّ غير ضروري للسيرة، ولا شكّ أنه عنى بذلك قسم السيرة الأول «1» الذي سمّاه ابن إسحاق بالمبتدأ، ومقارنة الجزء الباقي من هذا المطلع بمطلع الطبري مثلا تظهر أن هذا القسم المحذوف كبير نسبيا. هذا ولا يقلّل من قيمة المحذوف استناده إلى الأساطير والإسرائيليات. ومن أسباب ابن هشام في الحذف أن يكون الشعر غير معروف عند أهل العلم، ومع أنّ معرفة ابن إسحاق بالشعر لم تكن على ما يرام «2» إلا أنه كان بوسع ابن هشام أن يدع ذلك لعلماء الشعر ولا يستبقهم بحذف وتعديل كهذا بداعي الاختصار. على أن هذا كله يبقى له وجه واعتبار إذا ما قورن بأسباب ابن هشام الأخرى للحذف «.. وبعض يسوء بعض الناس ذكره..» ،

«وأشياء بعضها يشنع الحديث به..» ، إن لهذا النوع من الحذف ولا شكّ أسبابا سياسية وأخرى تتصل بالصورة التاريخية لعصر ابن هشام عن النبي وصحابته.

إن الفائدة ستكون كبيرة لو عثرنا في المستقبل على نسخة كاملة أصيلة من إحدى روايات سيرة ابن إسحاق، ولكن حتى يتحقق ذلك فإنه لا بد من الاستناد إلى القليل الذي بين أيدينا لتكوين صورة تقريبية عن الإنجاز الرائع الذي حققه ابن إسحاق في مجال تطوير الكتابة التاريخية العربية. إنّ طريقة ابن إسحاق في الكتابة والبحث، ومصادره، والخلفيات السياسية والاجتماعية

--------------------------------------------

(1) عن أقسام سيرة ابن إسحاق، قارن الدوري: علم التاريخ عند العرب 27- 28.

(2) ابن سلام: طبقات فحول الشعراء 8، 11.
ইবনে ইসহাকের অন্য দুটি বর্ণনা, তবে সেই সকল উৎসের মাধ্যমেও যা ইবনে হিশামের সূত্রে বা অন্য কোনো সূত্রে ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে। আল-ফাকিহীর (২৮০ হি.) ‘তারিখে মক্কা’-তে ইবনে ইসহাক থেকে উদ্ধৃত অনেক পাঠ রয়েছে, যা হয় ইবনে হিশাম-আল-বাক্কায়ী সূত্রে অথবা অন্য কোনো সূত্রে বর্ণিত। ‘আল-আগানি’-র ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। ইবনে হিশাম কিছু বিবরণ বাদ দেওয়ার পেছনে কারণ উল্লেখ করেছেন। এসব কারণের মধ্যে একটি হলো পাঠটি সীরাতের জন্য অপরিহার্য না হওয়া। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর দ্বারা তিনি সীরাতের প্রথম অংশকে «১» বুঝিয়েছেন, যাকে ইবনে ইসহাক ‘আল-মুবতাদা’ নামে অভিহিত করেছিলেন। এই প্রারম্ভিক অংশের অবশিষ্ট অংশের সাথে উদাহরণস্বরূপ তাবারীর প্রারম্ভিক অংশের তুলনা করলে দেখা যায় যে, এই বর্জিত অংশটি তুলনামূলকভাবে বেশ বড়। কিংবদন্তি এবং ইসরাঈলি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করা সত্ত্বেও এটি বর্জিত অংশের গুরুত্বকে কমিয়ে দেয় না। ইবনে হিশামের বর্জনের আরেকটি কারণ ছিল কবিতাগুলো বিজ্ঞজনদের নিকট পরিচিত না হওয়া। যদিও কবিতার বিষয়ে ইবনে ইসহাকের জ্ঞান সন্তোষজনক ছিল না «২», তবুও ইবনে হিশাম চাইলে সংক্ষেপ করার অজুহাতে এ ধরনের বর্জন ও পরিমার্জন না করে বিষয়টি কাব্য বিশারদদের ওপর ছেড়ে দিতে পারতেন। তবে ইবনে হিশামের বর্জনের অন্যান্য কারণের তুলনায় এই সবকিছুর একটি যৌক্তিক দিক ও গ্রহণযোগ্যতা থাকে, যেমন- «...এবং এমন কিছু যা উল্লেখ করা কিছু মানুষের নিকট অপ্রীতিকর...»,

«এবং এমন সব বিষয় যার বর্ণনা কুরুচিপূর্ণ...»। এই ধরনের বর্জনের পেছনে নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক কারণ ছিল এবং ইবনে হিশামের যুগে নবী ও তাঁর সাহাবীদের সম্পর্কে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ভাবমূর্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারণও ছিল।

ভবিষ্যতে যদি আমরা ইবনে ইসহাকের সীরাতের কোনো বর্ণনার একটি পূর্ণাঙ্গ মূল পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই তবে তা অত্যন্ত কল্যাণকর হবে। কিন্তু যতক্ষণ তা না ঘটছে, ততক্ষণ আরবীয় ইতিহাস রচনার বিবর্তনে ইবনে ইসহাক যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তার একটি আনুমানিক চিত্র ফুটিয়ে তুলতে আমাদের হাতে থাকা সামান্য উপকরণের ওপরই নির্ভর করতে হবে। ইবনে ইসহাকের লিখন ও গবেষণা পদ্ধতি, তাঁর উৎসসমূহ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট...

--------------------------------------------

(১) ইবনে ইসহাকের সীরাতের অংশসমূহ সম্পর্কে তুলনা করুন আদ-দুরী: ইলমুত তারিখ ইনদাল আরব ২৭-২৮।

(২) ইবনে সাল্লাম: তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা ৮, ১১।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৭)
لأخباره ومروياته، كل ذلك يحتاج إلى دراسة مفردة لا يتسع لها المجال هنا، وهمّنا الآن ينحصر في إخراج نصّ سليم.

تناول ابن إسحاق في كتابه ثلاث موضوعات اعتبرها مترابطة: أخبار الخليقة من آدم وحتى إسماعيل، ثم من إسماعيل حتى النبي محمد، ثم حياة النبي محمد وأعماله قبل البعثة وبعدها، واعتمد في القسم الأول على مادة الإسرائيليات التي تجمعت عند العرب قبله، والتي أكملها هو خاصة أثناء تحصيله في مصر.

واعتمد في القسم الثاني على مادة عربية شبه أسطورية تتحدث عن أخبار العرب قبل الإسلام وأنسابهم، وقد صيغت أخبار هذين القسمين بشكل جيد الأداء والعرض أوصل إلى الغرض، وهو صحة أصول نبوة محمد وارتباطها بغيرها من النبوات التي جاءت خاتمة لها بعد ما كانت كل نبوة تبشر سلفا بهذه النهاية الحتمية التقدير.

وبعد الفراغ من هذين القسمين اللذين جاءا كمقدمة أخذ ابن إسحاق بالحديث عن النبي محمد، ولم يسق هذا الحديث كقصة متسلسلة بل ساقه كوقائع بعضها وقع للنبي محمد بالذات، وبعض آخر لغيره وله مساس قريب أو بعيد به، وحينما تحدث ابن إسحاق عن النبي محمد أثبت تقريبا جميع المادة الاخبارية التي كان المسلمون قد جمعوها عنه خلال القرن الأول الذي جاء بعد وفاته، ويبدو أن ابن إسحاق أولى الفترة المكية من حياة النبي اهتماما أكبر من الفترة المدنية، وقدم لهذا القسم بمقدمة ذكر فيها علامات النبوة عند النبي محمد، وروى جميع قصص البشائر التي بشرت بقرب نبوته وصحتها.

وتتجلى عبقرية ابن إسحاق وتفوقه على الذين سبقوه في ترتيبه لكتابه بشكل فيه منطق ونظام، وترتيبه هذا وإن جاء غير مثالي تماما، يكفي صاحبه فخرا الإبداع والدنو من درجة الكمال.

ومادة ابن إسحاق غنية للغاية تكاد تكون حاوية لجميع ما تجمع لدى العرب
তাঁর সংবাদ ও বর্ণনাসমূহ; এ সবকিছুর জন্য একটি পৃথক গবেষণার প্রয়োজন যার অবকাশ এখানে নেই। বর্তমানে আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল একটি নির্ভুল পাঠ প্রস্তুত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

ইবনে ইসহাক তাঁর গ্রন্থে তিনটি বিষয় আলোচনা করেছেন যেগুলোকে তিনি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত মনে করতেন: আদম থেকে ইসমাইল পর্যন্ত সৃষ্টির ইতিহাস, এরপর ইসমাইল থেকে নবী মুহাম্মদ পর্যন্ত, এবং সবশেষে নবী মুহাম্মদের জীবন ও নবুওয়াত পূর্ব ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড। প্রথম অংশে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী আরবদের কাছে সংগৃহীত ইসরাইলি বর্ণনাগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন, যা তিনি বিশেষত মিশরে অবস্থানকালে পূর্ণতা দান করেন।

দ্বিতীয় অংশে তিনি আরব্য উপকথাতুল্য কিছু উপাদানের ওপর নির্ভর করেছেন যা ইসলাম-পূর্ব আরবদের ইতিহাস ও বংশপরম্পরা সম্পর্কে আলোচনা করে। এই দুই অংশের সংবাদসমূহ এমন উত্তম উপস্থাপনা ও প্রদর্শনের মাধ্যমে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা মূল উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হয়েছে; আর তা হলো মুহাম্মদের নবুওয়াতের মূলভিত্তির সত্যতা এবং অন্যান্য নবুওয়াতের সাথে এর যোগসূত্র প্রমাণ করা। মুহাম্মদের নবুওয়াত অন্যান্য নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি হিসেবে এসেছে, কারণ প্রতিটি নবুওয়াত আগে থেকেই এই অনিবার্য ও নির্ধারিত সমাপ্তির সুসংবাদ দিয়ে আসছিল।

ভূমিকা স্বরূপ এই দুই অংশ শেষ করার পর ইবনে ইসহাক নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন। তিনি এই আলোচনাকে কেবল একটি ধারাবাহিক গল্প হিসেবে উপস্থাপন করেননি, বরং একে বিভিন্ন ঘটনার আকারে তুলে ধরেছেন। যার কিছু স্বয়ং নবী মুহাম্মদের জীবনে ঘটেছে এবং কিছু অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটেছে যার সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক ছিল। যখন ইবনে ইসহাক নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন তিনি তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী প্রথম শতাব্দীতে মুসলমানদের সংগ্রহ করা প্রায় সমস্ত সংবাদ-উপাদানই তাতে সন্নিবেশিত করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে ইসহাক নবীর জীবনের মাদানি যুগের তুলনায় মাক্কি যুগের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি এই অংশের শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন যেখানে নবী মুহাম্মদের নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর নবুওয়াতের নিকটবর্তী হওয়া ও সত্যতা সম্পর্কে দেওয়া সুসংবাদের সমস্ত কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

ইবনে ইসহাকের প্রতিভা এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে তাঁর গ্রন্থের যৌক্তিক ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মাধ্যমে। তাঁর এই বিন্যাস যদিও পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়, তথাপি সৃজনশীলতা এবং পূর্ণতার স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানোর কারণে এটি লেখকের জন্য যথেষ্ট গৌরবের বিষয়।

ইবনে ইসহাকের সংগৃহীত উপাদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা আরবদের কাছে জমা হওয়া প্রায় সকল তথ্যেরই আধার।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৮)
المسلمين من أخبار، وهذه «فضيلة لابن إسحاق سبق بها» وقد صنف من بعده قوم آخرون في نفس الموضوع فلم يبلغوا مبلغه، ومادة ابن إسحاق، رغم المآخذ، كبيرة الفائدة اعتمدها غالبية الذين كتبوا أو اهتموا بسيرة النبي بعده، وكانت دائما موضع دراسة وعناية.

يقول في هذا الصدد ابن عدي في كتابه «الكامل» : ولو لم يكن لابن إسحاق من الفضل إلا أنه صرف الملوك عن كتب لا يحصل منها علم، وصرف أشغالهم حتى اشتغلوا بمغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومبتدأ الخلق، ومبعث النبي صلى الله عليه وسلم، فهذه فضيلة لابن إسحاق سبق بها، ثم بعده صنف قوم آخرون، ولم يبلغوا مبلغ ابن إسحق ولا علمه، وقد فتشت أحاديثه الكثيرة، فلم أجد في أحاديثه ما يتهيأ أن يقطع عليه بالضعف، وربما أخطأ، أو وهم في الشيء بعد الشيء، كما يخطىء غيره، ولم يتخلف عنه في الرواية عند الثقات والأئمة، وهو لا بأس به» .

هذا وتعود القطعتان اللتان أقدم لهما إلى القسم الثالث من سيرة ابن إسحاق، ولما كان هذا القسم يغطي الفترتين المكية والمدنية من حياة النبي فقد كان من حسن الحظ أن أولى القطعتين تتعلق بالفترة المكية وهي تكاد تغطيها جميعا، بينما تتعلق القطعة الثانية بالفترة المدنية وهي تروي أخبار الحوادث التي وقعت مع نهاية معركة بدر الكبرى وحتى نهاية معركة أحد.

ويوجد من القطعة الأولى مخطوطتان واحدة قديمة تعود في تقديري إلى القرن الخامس للهجرة، وهي موجودة في مكتبة القرويين في فاس، وتحوي مائة واثنتان وخمسون صفحة، كتبت بعدة خطوط حسب القاعدة المغربية، ولقد لحقت أوراق هذه المخطوطة رطوبة شديدة أدت إلى طمس بعضها طمسا كليا والبعض الآخر طمسا جزئيا، كما سببت خروما لحقت ببعض الأوراق، وقد جعلت هذه الحالة قراءة المخطوط أمرا في غاية الصعوبة، ولذلك فقد استغرق نسخ هذا المخطوط قرابة العام.
মুসলিমদের সংবাদসমূহ সংক্রান্ত এবং এটি ছিল "ইবনে ইসহাকের একটি শ্রেষ্ঠত্ব যাতে তিনি অগ্রগামী ছিলেন"। তাঁর পরে আরও অনেকে একই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। ইবনে ইসহাকের সংগৃহীত তথ্যাদি নানা সমালোচনা সত্ত্বেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উপকারী, যা তাঁর পরবর্তীকালে মহানবীর সীরাত বা জীবনী রচয়িতা ও এ বিষয়ে আগ্রহী অধিকাংশ পণ্ডিতের কাছে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়েছে। এটি সর্বদা গবেষণা ও বিশেষ মনোযোগের বিষয় ছিল।

ইবনে আদী তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে বলেন: "ইবনে ইসহাকের যদি আর কোনো কৃতিত্ব না-ও থাকত, কেবল এটুকুই যথেষ্ট ছিল যে, তিনি রাজন্যবর্গকে জ্ঞানহীন অসার বইপুস্তক থেকে সরিয়ে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ, সৃষ্টির সূচনা এবং নবীর নবুওয়াত প্রাপ্তির ইতিহাস পাঠে নিবিষ্ট করেছেন। এটি ইবনে ইসহাকের এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব যাতে তিনি অগ্রগামী ছিলেন। এরপর অন্য অনেকে গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁরা ইবনে ইসহাকের পর্যায় কিংবা তাঁর জ্ঞানের স্তরে উন্নীত হতে পারেননি। আমি তাঁর অসংখ্য হাদীস অনুসন্ধান করেছি এবং তাতে এমন কিছু পাইনি যার ভিত্তিতে অকাট্যভাবে সেগুলোকে দুর্বল বলা যায়। অন্যান্যদের মতোই তাঁর ক্ষেত্রেও হয়তো মাঝেমধ্যে ভুল বা বিভ্রান্তি ঘটেছে, তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও ইমামগণ তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণে বিরত থাকেননি। তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।"

আমি যে দুটি অংশ এখানে উপস্থাপন করছি, তা ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থের তৃতীয় অংশের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এই অংশটি মহানবীর জীবনের মক্কী ও মাদানী—উভয় যুগকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এটি সৌভাগ্যের বিষয় যে, প্রথম অংশটি মক্কী জীবনের সাথে সম্পর্কিত এবং এটি প্রায় পুরো সময়কালকে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় অংশটি মাদানী জীবনের সাথে সম্পর্কিত, যা বদরের মহাযুদ্ধের শেষ পর্যায় থেকে উহুদের যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাবলি বর্ণনা করে।

প্রথম অংশটির দুটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। আমার অনুমান অনুযায়ী একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি হিজরী পঞ্চম শতাব্দীর, যা মরক্কোর ফাস শহরের কারাওইয়্যিন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি ১৫২ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং মাগরিবী রীতির বিভিন্ন লিপিতে লিখিত। এই পাণ্ডুলিপির পাতাগুলো প্রচণ্ড আর্দ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে কোথাও পুরোপুরি আবার কোথাও আংশিকভাবে লেখা মুছে গেছে। এছাড়া কিছু পাতায় ছিদ্র হয়ে গেছে। পাণ্ডুলিপির এই অবস্থার কারণে এটি পাঠ করা অত্যন্ত দুরুহ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে এটি অনুলিপি করতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وبعد ما أنجزت عملية النسخ وكدت أنجز التحقيق تمكنت من الحصول على مصورة لنسخة ثانية من المخطوط موجودة في الخزانة العامة في الرباط، وهذه النسخة حديثة تعود إلى هذا القرن أو القرن الماضي على أبعد الحدود، وخطها مغربي جميل، إنما فيه من الأخطاء والتصحيفات ما لا يحصى، ويبدو أن هذه النسخة قد اعتمدت على النسخة الأولى، وهي تتألف من مائة وست وستين صفحة، ورغم ما فيها من أخطاء وتصحيفات فقد أفادتني فائدة كبيرة وأنقذتني من الوقوع في بعض الأخطاء.

أما القطعة الثانية فهي عبارة عن أوراق فيها جزء واحد صغير من أجزاء المغازي، كان الأستاذ ناصر الدين الألباني قد عثر عليها في المكتبة الظاهرية بدمشق، وكنت عام (1964) قد كلفت أحد النساخ بنسخ هذا الجزء ففعل، ويبدو أن المخطوط الأصلي منه يعود إلى القرن الخامس للهجرة، وكان صاحبه طاهر بن بركات الخشوعي (ت: 482 هـ/ 1090 م) من رجال الحديث، وقد سمعه في دمشق مع كامل السيرة، بحضور جملة من علماء عصره، من الخطيب البغدادي سنة «أربع وخمسين وأربعمائة» وكان البغدادي قد جاء إلى دمشق قبل قرابة أربع سنوات، تاركا بغداد إثر فتنة البساسيري، وقد ترك لنا بعض تلامذته قائمة بالكتب التي حملها معه إلى دمشق ومنها سيرة ابن إسحاق.

وفي تحقيقي لهاتين القطعتين صرفت جهدي نحو إخراج نص صحيح، وسعيت نحو الإقلال من الحواشي ما أمكن، وكان ضبط الشعر الموجود فيهما، خاصة في القطعة الأولى أمرا ليس بالهين، لركاكة هذا الشعر المنظوم، ولعدم وروده في مصادر أخرى، وقد استعنت بعدد من ذوي الاختصاص باللغة العربية كما استخدمت المعاجم خاصة لسان العرب ومخصص ابن سيدة والقاموس المحيط وسواهم، كما استعنت بعدد كبير من مصادر السيرة وكتب أخبارها، وفي تحديد الأماكن كان مصدري الأساسي معجم البلدان لياقوت، وبالاضافة له
অনুলিখনের কাজ শেষ করার পর এবং সম্পাদনার কাজ প্রায় সম্পন্ন করে আনার সময়ে আমি মরক্কোর রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটির দ্বিতীয় একটি অনুলিপির ফটোকপি পেতে সক্ষম হই। এই কপিটি আধুনিক কালের; বড়জোর এটি বর্তমান শতাব্দী বা গত শতাব্দীর হবে। এর লিপি সুন্দর মাগরেবী শৈলীর, তবে এতে অগণিত ভুল এবং পাঠ্যগত বিকৃতি রয়েছে। মনে হয় যে, এই কপিটি প্রথম কপির ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। এটি একশ ছেষট্টি পৃষ্ঠা সম্বলিত। এতে ভুলভ্রান্তি ও পাঠ্যগত বিকৃতি থাকা সত্ত্বেও এটি আমাকে প্রভূত উপকৃত করেছে এবং কিছু ভুল করার হাত থেকে রক্ষা করেছে।

আর দ্বিতীয় অংশটি হলো কিছু কাগজের সমষ্টি, যাতে মাগাযীর ছোট একটি অংশ রয়েছে। উস্তাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে এটি খুঁজে পেয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে আমি একজন লিপিকারকে এই অংশটি অনুলিপি করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম এবং তিনি তা সম্পন্ন করেছিলেন। মনে হয় এর মূল পাণ্ডুলিপিটি হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর। এর মালিক ছিলেন হাদীস বিশারদ তাহের বিন বারাকাত আল-খুশুঈ (মৃত্যু: ৪৮২ হি./ ১০৯০ খ্রি.)। তিনি দামেস্কে তৎকালীন একদল আলেমের উপস্থিতিতে খতীব আল-বাগদাদীর নিকট থেকে ৪৫৪ হিজরি সনে পূর্ণাঙ্গ সীরাতসহ এটি শ্রবণ করেছিলেন। বাগদাদী এর প্রায় চার বছর আগে বাসাসীরির ফিতনার কারণে বাগদাদ ত্যাগ করে দামেস্কে এসেছিলেন। তাঁর কিছু ছাত্র আমাদের জন্য সেই সব কিতাবের একটি তালিকা রেখে গেছেন যা তিনি তাঁর সাথে দামেস্কে নিয়ে এসেছিলেন এবং সেগুলোর মধ্যে ইবনে ইসহাকের সীরাতও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই দুটি অংশের সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি একটি বিশুদ্ধ পাঠ প্রস্তুত করার পেছনে শ্রম ব্যয় করেছি এবং যথাসম্ভব টীকা বা পাদটিকা কম রাখার চেষ্টা করেছি। এগুলোতে বিদ্যমান কবিতার পাঠ সঠিক করা—বিশেষ করে প্রথম অংশে—সহজ বিষয় ছিল না। কারণ এই পদ্যগুলো ছিল গঠনগতভাবে দুর্বল এবং অন্য কোনো উৎসে এগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ বিষয়ে আমি আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞগণের সহায়তা নিয়েছি এবং লিসানুল আরব, ইবনে সীদাহর মুখাসসাস, আল-কামুসুল মুহীতসহ বিভিন্ন অভিধানের সাহায্য গ্রহণ করেছি। এছাড়া আমি সীরাতের বিপুল সংখ্যক উৎস ও ইতিহাস গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছি। স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমার প্রধান উৎস ছিল ইয়াকুতের মু'জামুল বুলদান এবং এর পাশাপাশি...
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২০)
استخدمت كتب المكتبة الجغرافية العربية وخاصة صفة الجزيرة للهمداني.

إن أملي كبير بأن أكون قد أعطيت الموجود من سيرة ابن إسحاق ما يستحقه من جهد واهتمام، والله تعالى هو الموفق وهو من وراء القصد فله الحمد والمنة والصلاة والسلام على الإنسان الكامل والنبي المعصوم محمد بن عبد الله.

دمشق 15/ 8/ 1976 سهيل زكار
আমি আরবি ভৌগোলিক গ্রন্থাগারের গ্রন্থসমূহ, বিশেষত হামদানির 'সিফাতুল জাজিরা' ব্যবহার করেছি।

আমার প্রবল আশা যে, ইবনে ইসহাকের সীরাতের যতটুকু বিদ্যমান রয়েছে, আমি সেটিকে তার প্রাপ্য পরিশ্রম ও গুরুত্ব প্রদান করতে পেরেছি। আর আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা এবং তিনিই সকল উদ্দেশ্যের পশ্চাতে প্রকৃত সাহায্যকারী; সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পরিপূর্ণ মানুষ ও নিষ্পাপ নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর।

দামেস্ক ১৫/ ০৮/ ১৯৭৬ সুহাইল জাক্কার
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الجزء الأول من كتاب المغازي رواية يونس بن بكير عن محمد بن إسحق
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে ইউনুস ইবনে বুহাইরের বর্ণনায় কিতাবুল মাগাযীর প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৩)
«1» حدثنا أحمد بن عبد الجبار، قال: نا يونس بن بكير قال: كل شيء من حديث ابن إسحق مسند، فهو أملاه علي، أو قرأه علي، أو حدثني به، وما لم يكن مسنداً، فهو قراءة؛ قرىء على ابن إسحق.

 

‌‌حفر زمزم من قبل عبد المطلب ابن هاشم.

حدثنا أحمد قال: نا يونس، عن محمد بن إسحق، قال: بينا عبد المطلب ابن هاشم بن عبد مناف نائماً في الحجر، عند الكعبة، أتى، فأمر بحفر زمزم.

ويقال إنها لم تزل دفيناً بعد ولاية بني إسماعيل الأكبر وجرهم «2» ، حتى أمر بها عبد المطلب، فخرج عبد المطلب إلى قريش، فقال: يا معشر قريش، إني قد أمرت أن أحفر زمزم، فقالوا له: أبين لك أين هي؟ فقال: لا، قالوا:

فارجع إلى مضجعك الذي أريت فيه ما أريت، فإن كان حقاً من الله عز وجل بين لك، وإن كان من الشيطان لم يعد إليك، فرجع فنام في مضجعه، فأتى فقيل له: احفر زمزم، إنك إن حفرتها لم تندم، هي تراث من أبيك الأقدم، لا تنزف الدهر ولا تذم، تسقي الحجيج الأعظم مثل نعام حافل لم يقسم، ينذر فيها ناذر لمنعم «3» ، فهي ميراث وعقد محكم، ليست كبعض ما قد يعلم، وهي بين الفرث والدم.

فقال حين قيل له ذلك: أين هي؟ فقيل له: عند قرية النمل، حيث ينقر الغراب غداً، فغدا عبد المطلب ومعه الحارث ابنه، ليس له ولد غيره، فوجد

--------------------------------------------

(1) من المؤكد إن هذا ليس أول الجزء بل فقد منه ما لا ندري كميته، ذلك أن تقسيم كل كتاب الى أجزاء مسألة ارتبطت أحيانا برغبة النساخ وسواهم أكثر منها برغبة المؤلف وصنيعه.

(2) أي منذ سيطرة خزاعة على مكة.

(3) وقع طمس في الأصل استعين على توضيحه بما ورد عند ابن هشام.
«১» আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ইসহাকের হাদীসের যা কিছু মুসনাদ (সূত্রযুক্ত), তা তিনি আমাকে লিখিয়েছেন, অথবা আমার নিকট পাঠ করেছেন, অথবা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আর যা মুসনাদ নয়, তা হলো কিরাত (পাঠ); যা ইবনে ইসহাকের সামনে পাঠ করা হয়েছে।

 

‌‌আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম কর্তৃক যমযম খনন।

আমাদের নিকট আহমাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ যখন কাবার নিকট হিজর-এ ঘুমানোরত ছিলেন, তখন তাঁর নিকট এক আগন্তুক আসলেন এবং তাঁকে যমযম খননের আদেশ দিলেন।

বলা হয়ে থাকে যে, বড় ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর এবং জুরহুম গোত্রের শাসন আমলের পর থেকে এটি প্রোথিত ছিল «২», যতক্ষণ না আব্দুল মুত্তালিবকে এটি খননের আদেশ দেওয়া হয়। আব্দুল মুত্তালিব কুরাইশদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আমাকে যমযম খননের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা তাঁকে বলল: এটি কোথায় তা কি আপনার কাছে স্পষ্ট করা হয়েছে? তিনি বললেন: না। তারা বলল:

তবে আপনি আপনার সেই শয্যাস্থলে ফিরে যান যেখানে আপনি যা দেখার তা দেখেছেন। যদি এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য হয়ে থাকে তবে তিনি আপনার কাছে এটি স্পষ্ট করে দেবেন, আর যদি এটি শয়তানের পক্ষ থেকে হয় তবে সে আপনার কাছে আর ফিরে আসবে না। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং তাঁর শয্যাস্থলে ঘুমালেন। তখন তাঁর কাছে আসা হলো এবং তাঁকে বলা হলো: যমযম খনন করো। তুমি যদি এটি খনন করো তবে লজ্জিত হবে না। এটি তোমার প্রাচীন পিতার উত্তরাধিকার। এটি চিরকাল নিঃশেষ হবে না এবং এর নিন্দা করা হবে না। এটি মহান হাজীদের পান করাবে যেমন পূর্ণ ও অবিভক্ত উটপাখি (পানি পান করায়)। এখানে মানতকারী মহান দাতার উদ্দেশ্যে মানত করবে «৩»। এটি একটি উত্তরাধিকার ও সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি, এটি পরিচিত অন্য কিছুর মতো নয়। আর এটি গোবর ও রক্তের মধ্যস্থলে অবস্থিত।

যখন তাঁকে এই কথা বলা হলো, তখন তিনি বললেন: এটি কোথায়? তাঁকে বলা হলো: পিপীলিকার জনবসতির কাছে, যেখানে আগামীকাল কাক ঠোকর দেবে। অতঃপর আব্দুল মুত্তালিব সকালে বের হলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পুত্র আল-হারিস ছিলেন, তিনি ছাড়া তাঁর আর কোনো সন্তান ছিল না। তখন তিনি পেলেন

--------------------------------------------

(১) এটি নিশ্চিত যে এটি খণ্ডের শুরু নয়, বরং এখান থেকে কিছু অংশ হারিয়ে গেছে যার পরিমাণ আমরা জানি না। প্রতিটি কিতাবকে খণ্ডে বিভক্ত করার বিষয়টি অনেক সময় লেখকের ইচ্ছা বা কর্মের চেয়ে বরং লিপিকার বা অন্যদের ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।

(২) অর্থাৎ মক্কার উপর খুযাআ গোত্রের আধিপত্য বিস্তারের সময় থেকে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে অস্পষ্টতা ছিল, যা স্পষ্ট করার জন্য ইবনে হিশামের বর্ণনা থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৪)
قرية النمل، ووجد الغراب ينقر عندها، بين الوثنين: إساف ونائلة، اللذين كانت قريش تنحر عندهما «1» .

حدثنا أحمد قال: نا يونس بن بكير، عن ابن إسحق قال: حدثني عبد الله ابن أبي بكر بن حزم، عن عمرة ابنة عبد الرحمن بن أسعد بن زرارة، عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت: ما زلنا نسمع أن إسافا ونائلة رجل وامرأة من جرهم زنيا في الكعبة، فمسخا حجرين.

حدثنا أحمد، نا يونس عن ابن إسحق قال: فجاء عبد المطلب بالمعول، فقام ليحفر، فقالت له قريش حين رأوا جده: والله لا ندعك تحفر بين صنمينا هذين اللذين ننحر عندهما، فقال عبد المطلب لابنه الحارث: دعني- أو: ذد عني- حتى أحفر، فو الله لأمضين لما أمرت به، فلما رأوا منه الجد، خلوا بينه وبين الحفر، فكفوا عنه، فلم يمكث إلا قليلاً حتى بدا له الطوي، فكبر «2» ، فعرفت قريش أنه قد صدق وأدرك حاجته، فقاموا إليه، فقالوا: إنها بئر أبينا إسماعيل، وإن لنا فيها حقاً، فأشركنا معك فيها.

قال: ما أنا بفاعل، وإن هذا لأمر قد خصصت به دونكم، وأعطيته من بينكم، قالوا: فأنصفنا، فإنا غير تاركيك حتى نخاصمك فيها، قال: فاجعلوا بيني وبينكم من شئتم أخاصمكم إليه، فقالوا: كاهنة بني سعد بن هذيم، قال:

نعم، وكانت بأشراف الشام.

حدثنا أحمد بن عبد الجبار، قال: نا يونس عن ابن إسحق قال: حدثني يزيد بن أبي حبيب المصري عن مرثد بن عبد الله اليزني عن عبد الله بن زرير الغافقي قال: سمعت علي بن أبي طالب، وهو يحدث حديث زمزم فقال: بينا عبد المطلب نائم في الحجر، أتى، فقيل له: احفر برة، فقال: وما برّة؟

--------------------------------------------

(1) يروى أنهما كانا رجلا وامرأة فسقا في الكعبة فمسخا، فأقامهما أهل مكة للعبرة ثم مع مرور الأيام غدوا من أوثان أهل مكة المقدسة.

(2) كذا، والتكبير من محدثات الاسلام.
পিঁপড়ার বসতি, এবং তিনি সেখানে একটি দাঁড়কাককে ঠোকর দিতে দেখতে পেলেন, যা ইসাফ ও নায়েলা নামক দুটি মূর্তির মাঝখানে অবস্থিত ছিল, যাদের কাছে কুরাইশরা পশু কোরবানি করত।

আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে বুকাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে হাযম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমরা বিনতে আবদুর রহমান ইবনে আস'আদ ইবনে যুরারাহ থেকে, তিনি নবী আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা সর্বদা এটাই শুনে আসছি যে, ইসাফ ও নায়েলা ছিল জুরহুম গোত্রের এক পুরুষ ও এক নারী যারা কাবার অভ্যন্তরে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল, ফলে তারা পাথরে রূপান্তরিত হয়ে যায়।

আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: অতঃপর আবদুল মুত্তালিব একটি কোদাল নিয়ে এলেন এবং খনন করার জন্য দাঁড়ালেন। যখন কুরাইশরা তাঁর সংকল্প দেখতে পেল, তখন তারা তাঁকে বলল: আল্লাহর কসম, আমরা আপনাকে আমাদের এই দুই মূর্তির মাঝে খনন করতে দেব না যাদের কাছে আমরা পশু কোরবানি করি। তখন আবদুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র হারিসকে বললেন: আমাকে ছেড়ে দাও—অথবা: আমাকে রক্ষা করো—যতক্ষণ না আমি খনন করি। আল্লাহর কসম, আমাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমি অবশ্যই তা সম্পন্ন করব। যখন তারা তাঁর মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পেল, তখন তারা তাঁর ও খননকার্যের পথ ছেড়ে দিল এবং তাঁর থেকে নিবৃত্ত হলো। তিনি সামান্য সময় অতিবাহিত করতেই কুয়ার চিহ্ন প্রকাশ পেল, তখন তিনি তাকবির দিলেন। ফলে কুরাইশরা বুঝতে পারল যে তিনি সত্য বলেছেন এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন। তখন তারা তাঁর দিকে এগিয়ে এল এবং বলল: এটি আমাদের পিতা ইসমাইলের কুয়া, এতে আমাদেরও অধিকার রয়েছে, সুতরাং আমাদেরকেও এতে অংশীদার করুন।

তিনি বললেন: আমি তা করব না, কারণ এটি এমন এক বিষয় যা তোমাদের বাদ দিয়ে কেবল আমাকেই প্রদান করা হয়েছে এবং তোমাদের মধ্য থেকে আমাকেই এটি দান করা হয়েছে। তারা বলল: তবে আমাদের সাথে ইনসাফ করুন, কারণ আমরা আপনাকে ছাড়ব না যতক্ষণ না আমরা এ বিষয়ে আপনার সাথে বিবাদে লিপ্ত হই। তিনি বললেন: তাহলে আমার ও তোমাদের মধ্যে ফয়সালার জন্য যাকে ইচ্ছা নির্ধারণ করো, আমি তার কাছেই বিচার নিয়ে যাব। তারা বলল: বনু সাদ বিন হুযাইমের মহিলা গণক। তিনি বললেন:

ঠিক আছে। তিনি শামের উচ্চভূমি এলাকায় অবস্থান করতেন।

আহমাদ ইবনে আবদুল জাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব আল-মিসরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়াযানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুরইর আল-গাফেকি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে যমযমের ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আবদুল মুত্তালিব যখন হিজর-এ ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তাঁর কাছে কেউ একজন এলেন এবং তাঁকে বলা হলো: আপনি বাররাহ খনন করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: বাররাহ কী?

--------------------------------------------

(১) বর্ণিত আছে যে, তারা ছিল এক পুরুষ ও এক নারী যারা কাবার অভ্যন্তরে পাপাচার করেছিল, ফলে তারা পাথরে রূপান্তরিত হয়ে যায়। মক্কাবাসীরা তাদের শিক্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে স্থাপন করেছিল, তারপর দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তারা মক্কাবাসীদের পবিত্র মূর্তিতে পরিণত হয়।

(২) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে তাকবির ইসলামের প্রবর্তিত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم ذهب عنه، حتى إذا كان الغد نام في مضجعه ذلك، فأتى، فقيل له:

احفر المضنونة، فقال: وما المضنونة؟ ثم ذهب عنه، حتى إذا كان الغد عاد فنام في مضجعه، فأتى، فقيل له: احفر طيبة، فقال: وما طيبة؟ ثم ذهب عنه، فلما كان الغد عاد لمضجعه فنام فيه، فأتى فقيل له: احفر زمزم، فقال:

وما زمزم؟ فقال: لا تنزف ولا تذم، ثم نعت له موضعها.

فقام فحفر حيث نعت له، فقالت له قريش: ما هذا يا عبد المطلب؟ فقال:

أمرت بحفر زمزم، فلما كشف عنه، وأبصروا الطوي، قالوا: يا عبد المطلب إن لنا لحقاً فيها معك، إنها لبئر أبينا إسماعيل، فقال: ما هي لكم، لقد خصصت بها دونكم، قالوا: فحاكمنا، فقال: نعم، فقالوا: بيننا وبينك كاهنة بني سعد بن هذيم، وكانت بأشراف الشام.

فركب عبد المطلب في نفر من بني أبيه، وركب من كل بطن من أفناء قريش نفر، وكانت الأرض إذ ذاك مفاوز فيما بين الشام والحجاز، حتى إذا كانوا بمفازة من تلك البلاد، فنى ماء عبد المطلب وأصحابه حتى أيقنوا الهلكة، فاستسقوا القوم، قالوا ما نستطيع أن نسقيكم، وإنا لنخاف مثل الذي أصابكم، فقال عبد المطلب لأصحابه: ماذا ترون؟ قالوا: ما رأينا إلا تبع لرأيك، قال: فإني أرى أن يحفر كل رجل منكم حفرته بما بقي من قوته، فكلما مات رجل منكم، دفعه أصحابه في حفرته، حتى يكون آخركم يدفعه صاحبه، فضيعه رجل أهون من ضيعة جميعكم، ففعلوا.

ثم قال: والله إن إلقاءنا بأيدينا للموت، لا نضرب في الأرض ونبتغي، عجز. فقال لأصحابه: ارتحلوا، فارتحلوا، وارتحل، فلما جلس على ناقته، وانبعثت به، انفجرت عين من تحت خفها بماء عذب، فأناخ وأناخ أصحابه، فشربوا، واستقوا وسقوا، ثم دعوا أصحابهم: هلموا إلى الماء، فقد سقانا الله عز وجل، فجاؤوا فاستقوا وسقوا، ثم قالوا: يا عبد المطلب، قد والله قضى لك، إن الذي سقاك هذا الماء بهذه الفلاة، لهو الذي سقاك زمزم، انطلق، فهي لك، فما نحن بمخاصميك.
এরপর তিনি চলে গেলেন, এমনকি যখন পরবর্তী দিন হলো, তিনি তার সেই শয়নস্থলে ঘুমান, তখন তাঁর নিকট (কেউ) আসলেন এবং তাঁকে বলা হলো:

আপনি 'মাদনুনাহ' খনন করুন। তিনি বললেন: মাদনুনাহ কী? এরপর তিনি চলে গেলেন, এমনকি যখন পরবর্তী দিন হলো, তিনি পুনরায় তাঁর শয়নস্থলে ফিরে গিয়ে ঘুমান, তখন তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে বলা হলো: আপনি 'তাইয়িবাহ' খনন করুন। তিনি বললেন: তাইয়িবাহ কী? এরপর তিনি চলে গেলেন, যখন পরবর্তী দিন হলো, তিনি পুনরায় তাঁর শয়নস্থলে ফিরে গিয়ে সেখানে ঘুমান, তখন তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে বলা হলো: আপনি জমজম খনন করুন। তিনি বললেন:

জমজম কী? তিনি বললেন: তা কখনো ফুরিয়ে যাবে না এবং তাকে নিন্দিতও করা যাবে না। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে এর স্থান বর্ণনা করলেন।

এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁকে যেখানে বর্ণনা করে দেওয়া হয়েছিল সেখানে খনন করলেন। তখন কুরাইশরা তাঁকে বলল: হে আব্দুল মুত্তালিব, এটা কী? তিনি বললেন:

আমাকে জমজম খনন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। যখন তিনি তা উন্মোচন করলেন এবং তারা কূপের প্রাচীর দেখতে পেল, তখন তারা বলল: হে আব্দুল মুত্তালিব, এতে আপনার সাথে আমাদেরও অধিকার রয়েছে, নিশ্চয়ই এটি আমাদের পিতা ইসমাইলের কূপ। তিনি বললেন: এটি তোমাদের জন্য নয়, তোমাদের বাদ দিয়ে আমাকেই এর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তারা বলল: তাহলে আমাদের মধ্যে বিচারক নির্ধারণ করুন। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তারা বলল: আমাদের ও আপনার মাঝে বনু সাদ বিন হুযাইমের মহিলা গণক বিচারক হবে। আর সে শামের উচ্চভূমিতে অবস্থান করত।

অতঃপর আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পৈতৃক বংশের একদল লোক নিয়ে সওয়ার হলেন এবং কুরাইশদের প্রত্যেক শাখা গোত্র থেকে একদল লোক সওয়ার হলো। সে সময় শাম ও হিজাজের মধ্যবর্তী ভূখণ্ড ছিল জনমানবহীন মরুভূমি। একপর্যায়ে যখন তারা সেই অঞ্চলের এক মরুভূমিতে পৌঁছালেন, তখন আব্দুল মুত্তালিব ও তাঁর সঙ্গীদের পানি ফুরিয়ে গেল, এমনকি তারা ধ্বংসের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেলেন। তারা সেই লোকদের কাছে পানি চাইলেন। তারা বলল: আমরা তোমাদের পানি পান করাতে সক্ষম নই, কেননা তোমাদের যে বিপদ হয়েছে আমাদেরও সেই একই বিপদের ভয় রয়েছে। তখন আব্দুল মুত্তালিব তাঁর সঙ্গীদের বললেন: তোমাদের অভিমত কী? তারা বলল: আমাদের অভিমত আপনার মতামতেরই অনুসারী। তিনি বললেন: আমার অভিমত হলো, তোমাদের প্রত্যেকে যার যার অবশিষ্ট শক্তি অনুযায়ী নিজের জন্য একটি গর্ত খনন করবে। যখনই তোমাদের মধ্যে কোনো লোক মারা যাবে, তার সঙ্গীরা তাকে তার গর্তে ঠেলে দেবে। এভাবে শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছাবে যাকে তার সঙ্গী দাফন করবে। কারণ তোমাদের সকলের ধ্বংস হওয়ার চেয়ে একজনের ধ্বংস হওয়া অনেক সহজ। অতঃপর তারা তাই করল।

অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, হাত গুটিয়ে বসে থেকে মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়া এবং জমিনে বিচরণ করে সন্ধান না করা চরম অক্ষমতা। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন: তোমরা যাত্রা করো। সুতরাং তারাও যাত্রা শুরু করল এবং তিনিও যাত্রা করলেন। যখন তিনি তাঁর উটনীর পিঠে বসলেন এবং সেটি তাঁকে নিয়ে চলতে শুরু করল, তখন তার খুরের নিচ থেকে মিষ্টি পানির একটি ঝরনা প্রবাহিত হলো। তিনি উটনী বসালেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও তাদের উট বসাল। তারা পান করল, নিজেরা পানি নিল এবং অন্যদেরও পান করালো। এরপর তারা তাদের সঙ্গীদের ডাকল: তোমরা পানির দিকে এসো, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের পানি পান করিয়েছেন। তারা আসলো এবং নিজেরা পানি নিল ও পান করল। অতঃপর তারা বলল: হে আব্দুল মুত্তালিব, আল্লাহর কসম, আপনার পক্ষেই ফয়সালা হয়ে গেছে। যিনি আপনাকে এই মরুভূমিতে পানি পান করিয়েছেন, তিনিই আপনাকে জমজম দান করেছেন। চলুন, এটি আপনারই। আমরা আর আপনার সাথে বিবাদ করব না।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৬)
حدثنا أحمد بن عبد الجبار: نا يونس بن بكير عن ابن إسحق، قال:

فانصرفوا ومضى عبد المطلب فحفر، فلما تمادى به الحفر، وجد غزالين من ذهب، وهما الغزالان اللذان كانت جرهم دفنت فيها حين أخرجت من مكة «1» ، وهي بئر إسماعيل بن إبراهيم، التي سقاه الله عز وجل حين ظمىء، وهو صغير.

حدثنا أحمد: نا يونس عن ابن إسحق، قال: حدثني عبد الله بن أبي نجيح، عن مجاهد، قال: ما زلنا نسمع أن زمزم همزة جبريل بعقبه لإسماعيل حين ظمىء.

حدثنا أحمد: نا يونس، عن سعيد بن ميسرة البكري، قال: حدثنا أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لما طردت هاجر أم إسماعيل القبطية سارة، ووضعها إبراهيم بمكة، عطشت هاجر، فنزل عليها جبريل، فقال لها:

من أنت؟ فقالت: هذا ولد إبراهيم، فقال: أعطشانة أنت؟ قالت: نعم، فبحث بجناحه الأرض، فخرج الماء، فأكبت عليه هاجر تشربه، فلولا ذلك لكانت أنهاراً جارية.

نا أحمد: حدثنا يونس، عن ابن إسحق، قال: فلما حفر عبد المطلب زمزم، ودله الله عز وجل عليها، وخصه بها، زاده الله عز وجل شرفاً وخطراً في قومه، وعطلت كل سقاية كانت بمكة حين ظهرت، فأقبل الناس عليها التماس بركتها ومعرفة فضلها، لمكانها من البيت، وأنها سقيا الله عز وجل اسماعيل.

حدثنا أحمد، قال: ثنا يونس عن طلحة بن يحيى، عن عائشة بنت

--------------------------------------------

(1) تبعا للروايات كانت جرهم، وهي من قبائل العرب البائدة، أول من سكن مكة أيام إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام، وظلت فيها حتى حدث سيل العرم، وقامت هجرة الأزد الكبرى من اليمن نحو الشمال، واستولت فئة من المهاجرين عرفت باسم خزاعة على مكة وأخرجت جرهم منها، وظلت خزاعة في مكة حتى أخرجها قصي بن كلاب وأسكن قومه من قريش فيها.
আহমদ ইবনে আবদিল জব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইউনুস ইবনে বুকাইর ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

অতঃপর তারা চলে গেল এবং আবদুল মুত্তালিব এগিয়ে গেলেন ও খনন করতে লাগলেন। যখন তিনি খনন কাজে অনেকটা অগ্রসর হলেন, তখন তিনি স্বর্ণের তৈরি দুটি হরিণ পেলেন। এগুলো সেই দুটি হরিণ যা জুরহুম গোত্র মক্কা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময় সেখানে পুঁতে রেখেছিল (১)। আর এটি হলো ইব্রাহিম পুত্র ইসমাইলের কূপ, যা মহান আল্লাহ তাকে পান করিয়েছিলেন যখন তিনি শিশু অবস্থায় তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন।

আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি নাজিহ মুজাহিদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা সব সময় শুনে আসছি যে, যমযম হলো জিবরাঈল কর্তৃক তার পায়ের গোড়ালি দিয়ে ইসমাইলের জন্য দেওয়া একটি আঘাত, যখন তিনি তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন।

আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইউনুস সাঈদ ইবনে মাইসারা আল-বাকরি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ইসমাইলের মা কিবতী হাজেরা যখন সারাহ কর্তৃক বিতাড়িত হলেন এবং ইব্রাহিম তাকে মক্কায় রেখে আসলেন, তখন হাজেরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। অতঃপর জিবরাঈল তার নিকট অবতরণ করলেন এবং তাকে বললেন:

তুমি কে? তিনি বললেন: এটি ইব্রাহিমের সন্তান। তিনি বললেন: তুমি কি তৃষ্ণার্ত? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তার ডানা দিয়ে মাটি খুঁড়লেন, ফলে পানি বেরিয়ে এল। তখন হাজেরা সেটির উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তা পান করতে লাগলেন। যদি এমনটি না হতো, তবে তা প্রবাহমান নদীতে পরিণত হতো।

আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আবদুল মুত্তালিব যমযম খনন করলেন এবং মহান আল্লাহ তাকে এর পথ দেখালেন ও তাকে এর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করলেন, তখন মহান আল্লাহ তার সম্প্রদায়ের মধ্যে তার মর্যাদা ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দিলেন। যখন এটি প্রকাশ পেল, তখন মক্কায় প্রচলিত অন্যান্য সকল পানি সরবরাহের ব্যবস্থা স্থগিত হয়ে গেল। বাইতুল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এবং এটি ইসমাইলকে মহান আল্লাহর পান করানো পানি হওয়ার কারণে মানুষ এর বরকত অন্বেষণ ও এর শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের জন্য এর দিকে ধাবিত হতে লাগল।

আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস তালহা ইবনে ইয়াহইয়া থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আয়েশা বিনতে...

--------------------------------------------

(১) বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, জুরহুম ছিল বিলুপ্ত আরব গোত্রগুলোর একটি, যারা ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর যুগে সর্বপ্রথম মক্কায় বসবাস করেছিল। সায়লুল আরিম (বিশাল বন্যা) সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেছিল। এরপর ইয়েমেন থেকে উত্তরের দিকে আজদ গোত্রের বড় হিজরত শুরু হয় এবং খুজাআ নামে পরিচিত একদল মুহাজির মক্কা দখল করে জুরহুমদের সেখান থেকে বের করে দেয়। কুসাই ইবনে কিলাব খুজাআদের বের করে দিয়ে সেখানে তার স্বগোত্র কুরাইশদের আবাসন নিশ্চিত করা পর্যন্ত তারা মক্কায় অবস্থান করেছিল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৭)
طلحة، عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم إنها قالت: ماء زمزم طعام طعم، وشفاء سقم.

حدثنا أحمد قال: ثنا يونس، عن ابن إسحق قال: ووجد عبد المطلب أسيافاً مع الغزالين، فقالت قريش: لنا معك يا عبد المطلب في هذا شرك وحق، فقال: لا، ولكن هلموا إلى أمر نصف بيني وبينكم، نضرب عليها بالقداح «1» ، فقالوا: فكيف تصنع؟ قال: أجعل للكعبة قدحين، ولكم قدحين، ولي قدحين، فمن خرج له شيء كان له، فقالوا: قد أنصفت، وقد رضينا، فجعل قدحين أصفرين للكعبة، وقدحين أسودين لعبد المطلب، وقدحين أبيضين لقريش، ثم أعطوها الذي يضرب بالقداح، وقام عبد المطلب يدعو الله ويقول:

اللهم أنت الملك المحمود … ربي وأنت المبدىء المعيد

وممسك الراسية الجلمود … من عندك الطارف والتليد

إن شئت ألهمت ما تريد … لموضع الحلية والحديد

فبين اليوم لما تريد … إني نذرت عاهد العهود

أجعله ربي فلا أعود

وضرب صاحب القداح، فخرج الأصفران على الغزالين للكعبة، فضربهما عبد المطلب في باب الكعبة، فكانا أول ذهب حليته، وخرج الأسودان على السيوف والأدراع «2» لعبد المطلب فأخذها.

--------------------------------------------

(1) القداح أسهم خشبية كان يكتب على بعضها، أو يتم تلوينها وتطمر في الرمل ثم تستخرج واحدا تلو الآخر فما جاء فيها أخذ به، ومن أجل مزيد من الشرح أنظر سيرة ابن هشام: 1/ 345.

(2) لم يرد ذكر الأدراع في مطلع الخبر.
তালহা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়িশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যমযমের পানি হলো পরিতৃপ্তিদায়ক খাদ্য এবং ব্যাধির আরোগ্য।

আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মুত্তালিব (কাবা ঘরের যমযম কূপ খননের সময়) দুটি (স্বর্ণের) হরিণের সাথে কয়েকটি তলোয়ার খুঁজে পেলেন। কুরাইশরা বলল: হে আবদুল মুত্তালিব, এতে আমাদেরও অংশ ও অধিকার রয়েছে। তিনি বললেন: না, তবে এসো আমরা একটি ইনসাফপূর্ণ বিষয়ের দিকে আসি যা আমার ও তোমাদের মাঝে ফায়সালা করবে; আমরা এগুলোর জন্য তীরের সাহায্যে লটারি নিক্ষেপ করব। তারা বলল: আপনি কীভাবে তা করবেন? তিনি বললেন: আমি কাবার জন্য দুটি তীর, তোমাদের জন্য দুটি তীর এবং নিজের জন্য দুটি তীর নির্ধারণ করব। যার ভাগে যা বের হবে, তা তারই হবে। তারা বলল: আপনি ইনসাফ করেছেন এবং আমরা এতে সন্তুষ্ট। অতঃপর তিনি কাবার জন্য দুটি হলুদ রঙের তীর, আবদুল মুত্তালিবের জন্য দুটি কালো রঙের তীর এবং কুরাইশদের জন্য দুটি সাদা রঙের তীর নির্ধারণ করলেন। তারপর সেগুলো লটারি নিক্ষেপকারীর নিকট দিলেন এবং আবদুল মুত্তালিব আল্লাহর নিকট দুয়া করতে দাঁড়িয়ে বললেন:

হে আল্লাহ, আপনিই প্রশংসিত বাদশাহ … হে আমার রব, আপনিই সৃষ্টির সূচনাকারী ও পুনরাবৃত্তিকারী

সুউচ্চ সুদৃঢ় পর্বতমালাকে স্থির ধারণকারী … আপনার পক্ষ থেকেই নতুন ও পুরাতন সকল সম্পদ

আপনি চাইলে যা ইচ্ছা তা ইলহাম (অন্তরে উদয়) করে দেন … অলঙ্কার ও লৌহের স্থানের ব্যাপারে

আজ আপনি যা ইচ্ছা তা স্পষ্ট করে দিন … নিশ্চয়ই আমি মানতকারী ও অঙ্গীকার রক্ষাকারী

হে আমার রব, আমি তা পূর্ণ করব এবং আমি (অঙ্গীকার থেকে) ফিরে আসব না

অতঃপর লটারি নিক্ষেপকারী তীর নিক্ষেপ করল। কাবার জন্য নির্ধারিত হলুদ রঙের তীর দুটি সেই হরিণ দুটির ভাগে বের হলো। আবদুল মুত্তালিব সেগুলো কাবার দরজায় স্থাপন করলেন, আর এটাই ছিল কাবার সজ্জায় ব্যবহৃত প্রথম স্বর্ণ। আর আবদুল মুত্তালিবের নামে কালো রঙের তীর দুটি তলোয়ার ও বর্মগুলোর ভাগে বের হলো, ফলে তিনি সেগুলো গ্রহণ করলেন।

--------------------------------------------

(১) 'ক্বিদাহ' হলো কাঠের তীর, যার কোনো কোনোটির ওপর লেখা থাকত অথবা সেগুলোকে রঙ করা হতো এবং বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হতো। এরপর একের পর এক সেগুলো বের করা হতো, যাতে যা আসত সে অনুযায়ী আমল করা হতো। অধিকতর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সিরাতে ইবনে হিশাম: ১/৩৪৫।

(২) সংবাদের শুরুতে বর্মের কোনো উল্লেখ ছিল না।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكانت قريش ومن سواهم من العرب إذا اجتهدوا في الدعاء، سجعوا وألفوا الكلام، وكانت فيما يزعمون قلما ترد إذا دعا بها داع.

 

‌‌استعاذة الغلام البكري بالكعبة.

حدثنا أحمد قال: نا يونس عن ابن إسحق، قال: حدثني عبد الله بن أبي نجيح، عن عبد الله بن عبيد بن عمير عن عبد الله بن خريت- وكان قد أدرك الجاهلية- قال: لم يكن من قريش فخذ إلا ولهم ناد معلوم في المسجد الحرام يجلسونه، فكان لبني بكر مجلس تجلسه، فبينا نحن جلوس في المسجد، إذ أقبل غلام، فدخل من باب المسجد مسرعاً حتى تعلق بأستار الكعبة، فجاء بعده شيخ يريده، حتى انتهى إليه، فلما ذهب ليتناوله يبست يداه، فقلنا ما أخلق هذا أن يكون من بني بكر، فتحقبناه العرب مع ما تحدث به عنا، فقمنا إليه، فقلنا: ممن أنت؟ فقال: من بني بكر، فقلنا: لا مرحبا بك، ما لك ولهذا الغلام؟ فقال الغلام: لا والله «1» ، إلا أن أبي مات ونحن صبيان صغار، وأمنا مؤتمة لا أحد لها، فعاذت بهذا البيت، فنقلتنا إليه وأوصت فقالت: إن ذهبت وبقيتم بعدي فظلم أحد منكم، أو ركب بكم أمر، فمن رأى هذا البيت فليأته فيتعوذ به فإنه سيمنعه، وإن هذا أخذني واستخدمني سنين، واسترعاني إبله، فجلب من إبله قطيعاً، فجاء بي معه، فلما رأيت البيت ذكرت وصاة أمي، فقلنا: قد والله أرى منعك، فانطلقنا بالرجل، وإن يديه لمثل العصوين قد يبستا، فأحقبناه على بعير من إبله، وشددناه بالحبال، ووجهنا إبله، وقلنا: انطلق لعنك الله.

 

‌‌خبر الصديق مع رجل أنيبته حية.

حدثنا أحمد قال: نا يونس عن ابن إسحق قال: حدثني عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه القاسم بن محمد عن أبي بكر أنه قال: كنت امرءاً تاجراً، فسلكت ثنيه في سفر لي، فإذا رجل منها يقول: أتؤمني أؤمنك؟ فقلت: نعم، فقال:

أدنه، فأتيته، فإذا هو نهيش قد أنيبته حيه أصابته، فقال: يا عبد الله هل

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ويبدو أن جواب الشيخ البكري سقط كما سقط بعض من جواب الغلام.
কুরাইশ এবং অন্যান্য আরবরা যখন দোয়া করার ক্ষেত্রে গভীর একাগ্রতা প্রদর্শন করত, তখন তারা ছন্দোবদ্ধ বাক্য ও সুবিন্যস্ত ভাষা ব্যবহার করত। তাদের দাবি অনুযায়ী, কোনো আহ্বানকারী এগুলোর মাধ্যমে দোয়া করলে তা খুব কমই প্রত্যাখ্যান করা হতো।

 

‌কাবার নিকট বাকরি বালকের আশ্রয় প্রার্থনা.

আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি নাজিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে খুরাইত থেকে—যিনি জাহিলিয়াত যুগ পেয়েছিলেন—তিনি বলেন: কুরাইশদের এমন কোনো গোত্র ছিল না যাদের জন্য মাসজিদুল হারামে কোনো সুনির্দিষ্ট মজলিস ছিল না যেখানে তারা বসত। বনু বকরেরও একটি মজলিস ছিল যেখানে তারা বসত। এমতাবস্থায় যে আমরা মসজিদে বসেছিলাম, তখন এক বালক দ্রুতগতিতে মসজিদের ফটক দিয়ে প্রবেশ করল এবং কাবার গিলাফ জড়িয়ে ধরল। এরপর তার পিছু পিছু একজন বৃদ্ধ এল তাকে ধরার উদ্দেশ্যে। যখন সে তাকে ধরার জন্য হাত বাড়াল, তখন তার দুই হাত অবশ হয়ে শুকিয়ে গেল। আমরা বললাম, একে তো বনু বকরের লোক বলেই মনে হচ্ছে। আরবরা আমাদের সম্পর্কে যা আলোচনা করে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত হলাম। তাই আমরা তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি কে?" সে বলল, "আমি বনু বকর গোত্রের।" আমরা বললাম, "তোমার জন্য কোনো স্বাগতম নেই। তোমার আর এই বালকের মাঝে কী হয়েছে?" বালকটি বলল: "না, আল্লাহর শপথ [১], আমার বাবা যখন মারা যান তখন আমরা অল্পবয়সী বালক ছিলাম। আমাদের মা ছিলেন বিধবা, তার দেখাশোনা করার কেউ ছিল না। তাই তিনি এই ঘরের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি আমাদের এখানে নিয়ে এসেছিলেন এবং অসিয়ত করে বলেছিলেন: 'আমি যদি মারা যাই আর তোমরা বেঁচে থাকো, আর তোমাদের কেউ যদি জুলুম করে বা কোনো বিপদে পড়ো, তবে যে ব্যক্তি এই ঘরটি দেখবে সে যেন এখানে এসে এর আশ্রয় নেয়, নিশ্চয়ই এটি তাকে রক্ষা করবে।' আর এই ব্যক্তি আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল এবং দীর্ঘ বছর যাবৎ আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছে এবং তার উট চরাতো। সে তার উটের পাল থেকে একটি পাল নিয়ে আসার সময় আমাকেও সাথে নিয়ে এল। যখন আমি ঘরটি (কাবা) দেখতে পেলাম, তখন আমার মায়ের অসিয়তের কথা মনে পড়ে গেল।" আমরা বললাম: "আল্লাহর শপথ, আমরা দেখছি যে তুমি সুরক্ষা পেয়েছ।" অতঃপর আমরা লোকটিকে নিয়ে গেলাম, তখন তার হাত দুটি লাঠির মতো শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। আমরা তাকে তার একটি উটের পিঠে তুলে শক্ত করে রশি দিয়ে বেঁধে দিলাম এবং তার উটের পালের মুখ ফিরিয়ে দিয়ে বললাম: "দূর হও, আল্লাহর লানত তোমার ওপর।"

 

‌সাপের দংশনে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সাথে সিদ্দীক (রা.)-এর সংবাদ.

আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম তাঁর পিতা কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে এবং তিনি আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। এক সফরে আমি একটি পাহাড়িপথ অতিক্রম করছিলাম, তখন এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে বলছিল: "তুমি কি আমাকে নিরাপত্তা দেবে? তবে আমিও তোমাকে নিরাপত্তা দেব।" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" সে বলল: "কাছে এসো।" আমি তার কাছে গেলাম এবং দেখলাম যে তাকে সাপে দংশন করেছে। সে বলল: "হে আল্লাহর বান্দা, তোমার কাছে কি..."

--------------------------------------------

[১] মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। মনে হচ্ছে বকরি গোত্রের সেই বৃদ্ধের উত্তরটি বাদ পড়ে গেছে, যেমনটি বালকের উত্তরের কিছু অংশও বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أنت مبلغي إلي أهلي ها هنا، تحت هذه الثنية؟ فقلت: نعم، فاحتملته على بعيري، فأتيت به على أهله، فقال لي رجل من القوم: يا عبد الله ممن أنت؟

فقلت: رجل من قريش، فقال: والله إني لأظنك مصنوعاً لك، والله ما كان لص أعدى منه.

قال: وأضلتني ناقة لي قد كنت أعلفها العجين، فلما أيست منها، اضطجعت عند رحلي، وتقنعت بثوبي، فو الله ما أهبني إلا حس مشفرها تحرك به قدمي، فقمت إليها، فركبتها.

 

‌‌خبر عمر بن الخطاب مع شيخ كبير أعمى.

حدثنا أحمد قال: نا يونس عن ابن إسحق، قال: حدثني من سمع عكرمة يذكر عن ابن عباس قال: بينا أنا جالس عند عمر بن الخطاب، وهو يعرض الناس على ديوانهم، إذ مر شيخ كبير أعمى يجبذ قائده جبذاً شديداً، فقال عمر:

ما رأيت كاليوم منظراً أسوأ.

قال: فقال له رجل: يا أمير المؤمنين هذا ابن صبغاء البهزي، ثم السلمي، بهيك بريق، فقال عمر: قد أعلم أن بريقاً لقب، فما اسم الرجل «1» ؟ قالوا:

عياض، قال عمر: ادعوا لي عياضاً، فدعى، فقال: أخبرني خبرك وخبر بني صبغاء- وكانوا عشرة نفر-.

فقال عياض: شيء كان في الجاهلية قد جا الله بالإسلام، فقال عمر: اللهم غفرا، ما كنا أحرانا نتحدث عن أمر الجاهلية منا حين هدانا الله عز وجل للإسلام، وأنعم علينا به! فقال: يا أمير المؤمنين كنت امرءاً قد نفاني أهلي، وكان بنو صبغاء عشرة، وكانت بيني وبينهم قرابة وجوار، فتنقصوني ما بي وتذللوني، فسألتهم بالله والرحم والجوار إلا ما كفوا عني، فلم يفعلوا، ولم يمنعني ذلك منهم، فأمهلتهم حتى دخل الشهر الحرام، ثم رفعت يدي إلى الله عز وجل فقلت:

اللهم أدعوك دعاء جاهداً … اقتل بني الصبغاء إلا واحدا

ثم اضرب الرجل فذره قاعداً … أعمى إذا ما قيد عنّى القائدا

--------------------------------------------

(1) أي اسم القائد.
তুমি কি আমাকে এখানে এই গিরিপথের নিচে আমার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে? আমি বললাম: হ্যাঁ। এরপর আমি তাকে আমার উটের পিঠে বহন করলাম এবং তাকে তার পরিবারের কাছে নিয়ে এলাম। তখন কওমের এক ব্যক্তি আমাকে বলল: হে আল্লাহর বান্দা, তুমি কোন গোত্রের?

আমি বললাম: কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি। সে বলল: আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি তোমার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করা হয়েছে; আল্লাহর শপথ, তার চেয়ে বড় কোনো চোর আর ছিল না।

তিনি বললেন: আমার একটি উষ্ট্রী হারিয়ে গিয়েছিল, যাকে আমি মণ্ড খাওয়াতাম। যখন আমি এটি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলাম, তখন আমি আমার আসবাবপত্রের কাছে শুয়ে পড়লাম এবং আমার কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে নিলাম। আল্লাহর শপথ, তার ঠোঁটের স্পর্শে আমার পা নড়ে উঠলে তবেই আমার ঘুম ভাঙল। তারপর আমি তার দিকে উঠে গেলাম এবং সেটির পিঠে আরোহণ করলাম।

 

‌‌উমর ইবনুল খাত্তাব এবং এক বৃদ্ধ অন্ধ ব্যক্তির কাহিনী.

আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে এমন একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি ইকরিমাকে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে উল্লেখ করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে বসা ছিলাম, আর তিনি দিওয়ানে (তালিকায়) মানুষের নাম পেশ করছিলেন। হঠাৎ এক বৃদ্ধ অন্ধ ব্যক্তি তার পথপ্রদর্শককে জোরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন উমর বললেন:

আজকের মতো এতো করুণ দৃশ্য আমি আর দেখিনি।

তিনি বলেন: তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! ইনি হলেন সিবগার পুত্র বাহযী, এরপর সুলামী গোত্রের; জনৈক বাহীক বারীক। উমর বললেন: আমি জানি যে ‘বারীক’ হলো একটি উপাধি, কিন্তু লোকটির নাম কী? তারা বলল:

আয়াজ। উমর বললেন: আয়াজকে আমার কাছে ডেকে আনো। তাকে ডাকা হলো। তিনি বললেন: তোমার এবং সিবগার ছেলেদের খবর আমাকে বলো—আর তারা ছিল দশ জন লোক।

তখন আয়াজ বললেন: এটি জাহেলি যুগের একটি বিষয় ছিল, আল্লাহ ইসলাম নিয়ে এসেছেন। উমর বললেন: হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন! যখন মহান আল্লাহ আমাদের ইসলামের হিদায়াত দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তখন জাহেলি যুগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা আমাদের জন্য কতটা সমীচীন! তখন তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি এমন একজন লোক ছিলাম যাকে তার পরিবার তাড়িয়ে দিয়েছিল। আর সিবগার ছেলেরা ছিল দশ জন। আমার ও তাদের মধ্যে আত্মীয়তা ও প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তারা আমার যা ছিল তা কেড়ে নিত এবং আমাকে লাঞ্ছিত করত। আমি তাদের কাছে আল্লাহর দোহাই দিয়ে এবং আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর দোহাই দিয়ে মিনতি করলাম যেন তারা আমার ওপর অত্যাচার বন্ধ করে, কিন্তু তারা তা করেনি। আমি তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারিনি। তাই আমি ধৈর্য ধরলাম যতক্ষণ না হারাম মাস এল। এরপর আমি মহান আল্লাহর দিকে আমার হাত তুললাম এবং বললাম:

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অত্যন্ত আকুলভাবে প্রার্থনা করছি … সিবগার সন্তানদের হত্যা করো শুধু একজন ব্যতীত

অতঃপর সেই ব্যক্তিকে আঘাত করো এবং তাকে পঙ্গু করে বসিয়ে দাও … অন্ধ অবস্থায়, যখন সে তার পথপ্রদর্শককে জোরে টেনে নিয়ে যাবে

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ পথপ্রদর্শকের নাম।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৩০)
فتتابع منهم تسعة في عام واحد، وضرب الله عز وجل هذا، وأعمى بصره، فقائده يلقي منه ما رأيت، فقال عمر: إن هذا لعجب.

 

‌‌أبو تقاصف الخناعي وأخوته.

فقال رجل من القوم: يا أمير المؤمنين شأن أبي تقاصف الخناعي، ثم الهذلي، وأخوته أعجب من هذا، فقال عمر: وكيف كان شأن أبي تقاصف وإخوته؟

فقال: كان لهم جار هو منهم بمنزلة عياض من بني صبغاء، فتنقصوه وتذللوه، فذكرهم الله والرحم والجوار، فلم يعطفهم ذلك عليه، فأمهلهم حتى إذا دخل الشهر الحرام، رفع يديه ثم قال:

اللهم رب كل آمن وخائف … وسامع هتاف كل هاتف

ان الخناعي أبا تقاصف … لم يعطني الحق ولم يناصف

فاجمع له الأحبة الألاطف … بين قران ثم والتواصف

قال فنزلوا في قليب لهم يحفرونه حيث وصف، فتهور عليهم، فإنه لقبرهم إلى يومهم هذا.

 

‌‌بنو مؤمل وابن عمهم.

فقال رجل من القوم: شأن بني مؤمل من بني نصر أعجب من هذا، كان بطن من بني مؤمل، وكان لهم ابن عم قد استولى على أموال بطن منهم وراثة «1» فألجأ نفسه وماله إلى ذلك البطن، فتنقصوا ماله وتذللوه وتضعفوه، فقال: يا بني مؤمل، إني قد ألجأت نفسي ومالي إليكم لتمنعوني وتكفوا عني، فقطعتم رحمي، وأكلتم مالي وتذللتموني، فقام رجل منهم يقال له رياح، فقال:

يا بني مؤمل صدق، فاتقوا الله فيه وكفوا عنه، فلم يمنعهم ذلك منه، ولم يكفوا عنه، فأمهلهم حتى إذا دخل الشهر الحرام وخرجوا عمارا «2» ، رفع يديه فقال:

اللهم زلهم عن بني مؤمل … وارم على أقفائهم بمنكل

بصخرة أو بعض جيش جحفل … إلا رياحاً إنه لم يفعل

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، وفي النفس من ذلك شيء!

(2) أي لأداء العمرة.
তাদের মধ্য থেকে নয়জন এক বছরেই একের পর এক মারা গেল, আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই ব্যক্তিকে প্রহার করলেন এবং তার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলেন; ফলে তার পথপ্রদর্শক তার থেকে এমন কিছুর সম্মুখীন হচ্ছে যা আপনি দেখছেন। তখন ওমর (রা.) বললেন: এটি সত্যিই বিস্ময়কর।

 

‌‌আবু তাকাতিফ আল-খুনায়ী এবং তার ভাইয়েরা.

দলের এক ব্যক্তি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আবু তাকাতিফ আল-খুনায়ী, অতঃপর আল-হুযালী এবং তার ভাইদের কাহিনী এর চেয়েও বিস্ময়কর। ওমর (রা.) বললেন: আবু তাকাতিফ এবং তার ভাইদের কাহিনী কী ছিল?

তিনি বললেন: তাদের একজন প্রতিবেশী ছিল, যে তাদের কাছে বনু সাবগার ইয়াজের সমমর্যাদার ছিল। কিন্তু তারা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করত এবং লাঞ্ছিত করত। সে তাদের আল্লাহর কথা, আত্মীয়তার বন্ধন এবং প্রতিবেশীর হকের কথা স্মরণ করিয়ে দিল, কিন্তু তা তাদের মনে কোনো অনুকম্পা সৃষ্টি করল না। সে তাদের অবকাশ দিল, অবশেষে যখন পবিত্র মাস এল, সে তার হাত তুলল এবং বলল:

হে আল্লাহ, সকল নিরাপদ ও ভীতদের রব … এবং প্রত্যেক আহ্বানকারীর উচ্চৈঃস্বরে ডাক শ্রবণকারী।

নিশ্চয়ই খুনায়ী আবু তাকাতিফ … আমাকে আমার প্রাপ্য দেয়নি এবং সুবিচার করেনি।

সুতরাং তার জন্য সেই প্রিয়জনদের একত্রিত করুন … যারা কুরান এবং ওয়াসফ-এর মাঝে রয়েছে।

বর্ণনাকারী বললেন, এরপর তারা তাদের একটি কূপে নামল যা তারা খনন করছিল যেখানে সে বর্ণনা করেছিল। হঠাৎ তা তাদের ওপর ধসে পড়ল এবং আজ পর্যন্ত সেটিই তাদের কবর হয়ে আছে।

 

‌‌বনু মুআম্মিল এবং তাদের চাচাতো ভাই.

দলের এক ব্যক্তি বললেন: বনু নাসর গোত্রের বনু মুআম্মিলের কাহিনী এর চেয়েও বিস্ময়কর। বনু মুআম্মিলের একটি শাখা ছিল, তাদের এক চাচাতো ভাই তাদের এক শাখার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছিল (১)। সে নিজেকে এবং তার সম্পদকে সেই শাখার আশ্রয়ে সঁপে দিয়েছিল। কিন্তু তারা তার সম্পদ আত্মসাৎ করতে শুরু করল, তাকে লাঞ্ছিত ও দুর্বল করে দিল। সে বলল: হে বনু মুআম্মিল, আমি নিজেকে এবং আমার সম্পদকে তোমাদের আশ্রয়ে দিয়েছিলাম যাতে তোমরা আমাকে রক্ষা করো এবং আমার প্রতি অন্যায় বন্ধ করো। কিন্তু তোমরা আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করলে, আমার সম্পদ গ্রাস করলে এবং আমাকে লাঞ্ছিত করলে। তখন তাদের মধ্য থেকে রিয়াহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন:

হে বনু মুআম্মিল, সে সত্য বলেছে, সুতরাং তোমরা তাকে ভয় করো এবং তার ওপর থেকে হাত গুটিয়ে নাও। কিন্তু এটি তাদের নিবৃত্ত করল না এবং তারা বিরত থাকল না। সে তাদের অবকাশ দিল, অবশেষে যখন পবিত্র মাস এল এবং তারা উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলো (২), সে তার হাত উত্তোলন করে বলল:

হে আল্লাহ, বনু মুআম্মিল থেকে তাদের পদচ্যুত করুন … এবং তাদের ঘাড়ের ওপর কঠোর শাস্তি নিক্ষেপ করুন।

বিশাল পাথর বা কোনো শক্তিশালী বাহিনীর মাধ্যমে … তবে রিয়াহ ছাড়া, কারণ সে এমনটি করেনি।

--------------------------------------------

(১) মূলে এভাবেই আছে, তবে এ বিষয়ে মনে কিছুটা সংশয় রয়ে যায়!

(২) অর্থাৎ উমরাহ আদায়ের জন্য।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৩১)
فخرجوا حتى إذا كانوا ببعض الطريق نزلوا إلى جبل فأرسل الله عز وجل من رأس الجبل صخرة تجر ما مرت به من حجر أو شجر، حتى دكتهم به دكة واحدة، إلا رياحاً وأهل خبائه، لأنه لم يفعل.

فقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أن هذا للعجب، لم ترون هذا كان؟

فقالوا: يا أمير المؤمنين أنت أعلم، فقال: أما إني قد علمت ذاك، كان الناس أهل الجاهلية لا يعرفون رباً ولا بعثاً، ولا قيامة ولا جنة ولا ناراً، فكان الله عز وجل يستجيب لبعضهم على بعض، للمظلوم على الظالم، ليكف بذلك بعضهم عن بعض، فلما بعث الله عز وجل هذا الرسول، وعرفوا الله عز وجل والبعث والقيامة، والجنة والنار، وقال الله عز وجل: «بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهى وَأَمَرُّ «1» » فكانت المدد والاملاء.

--------------------------------------------

(1) سورة القمر: 46.
অতঃপর তারা বের হলেন এবং পথের এক স্থানে পৌঁছালে তারা একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবতরণ করলেন। তখন মহান আল্লাহ পাহাড়ের চূড়া থেকে একটি বিশাল পাথর প্রেরণ করলেন, যা তার গতিপথে পড়া পাথর বা বৃক্ষরাজিকে টেনে নিয়ে আসছিল, এমনকি তা তাদের সকলকে পিষ্ট করে একাকার করে দিল; কেবল রিয়াহ এবং তার তাঁবুর লোকজন ব্যতীত, কারণ সে সেই মন্দ কাজে লিপ্ত ছিল না।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার, তোমরা কেন মনে করো যে এমনটি ঘটেছে?"

তারা বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনিই অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "শোনো, আমি অবশ্যই তা জানি। জাহেলিয়াত যুগের মানুষ কোনো প্রতিপালক, পুনরুত্থান, কিয়ামত, জান্নাত বা জাহান্নাম সম্পর্কে জানত না। তাই মহান আল্লাহ তাদের একজনের প্রার্থনায় অন্যজনের ওপর সাড়া দিতেন—যালিমের বিরুদ্ধে মাযলুমের আহ্বানে—যাতে এর মাধ্যমে তারা একে অপরকে অন্যায় থেকে নিবৃত্ত রাখে। কিন্তু যখন মহান আল্লাহ এই রাসূলকে পাঠালেন এবং তারা মহান আল্লাহ, পুনরুত্থান, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করল, আর মহান আল্লাহ বললেন: 'বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত হবে অধিক ভয়াবহ ও তিক্ত (১)', তখন থেকে অবকাশ ও সময় প্রদান শুরু হলো।"

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কামার: ৪৬।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌نذر عبد المطلب

حدثنا أحمد بن عبد الجبار قال: نا يونس بن بكير عن ابن إسحق قال:

وكان عبد المطلب بن هاشم فيما يذكرون، قد نذر حين لقي من قريش- عند حفر زمزم- ما لقي: لئن ولد له عشرة نفر، ثم بلغوا معه حتى يمنعوه، لينحرن أحدهم لله عز وجل عند الكعبة.

 

‌‌الاستقسام بالقداح عند الكعبة.

فلما توافى بنوه عشرة: الحارث، والزبير، وحجل، وضرار، والمقوم، وأبو لهب، والعباس، وحمزة، وأبو طالب، وعبد الله، وعرف أنهم سيمنعونه، جمعهم ثم أخبرهم بنذره الذي نذر، ودعاهم إلى الوفاء لله بذلك، فأطاعوا له، وقالوا له: كيف تصنع؟ فقال: يأخذ كل رجل منكم قدحاً، فيكتب فيه اسمه، ثم تأتوني، ففعلوا، ثم أتوه، فدخل بهم على هبل في جوف الكعبة، وكان هبل عظيم أصنام قريش بمكة، وكان على بئر في جوف الكعبة، وكانت تلك البئر التي يجمع فيها ما يهدي للكعبة، وكان عند هبل سبعة أقداح، في كل قدح منها كتاب، قدح فيه «العقل» «1» ، إذا اختلفوا في العقل من يحمله منهم ضربوا بالقداح السبعة، فعلى من خرج حمله، وفيها قدح «الغفل» «2» ، وقدح فيه «نعم» للأمر إذا أرادوه ضرب به في القداح، فإن خرج قدح «نعم» ، عملوا به، وقدح فيه «لا» فإذا أرادوا أمراً ضربوا به في القداح، فإذا خرج ذلك القدح، لم يفعلوا ذلك الأمر، وقدح فيه «منكم» وقدح فيه «من غيركم» وقدح فيه «ملصق» وقدح فيه «المياه» فإذا ارادوا أن يحفروا للماء ضربوا بالقداح، وفيها ذلك، فحيثما خرج عملوا به،

--------------------------------------------

(1) أي الدية.

(2) أي بدون كتابة.
আবদুল মুত্তালিবের মানত

আহমদ ইবনে আবদুল জাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম যেমনটি তারা উল্লেখ করেন, জমজম খননের সময় কুরাইশদের পক্ষ থেকে যে বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন তখন তিনি মানত করেছিলেন যে: যদি তাঁর দশজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে এবং তারা তাঁর সাথে বড় হয়ে তাঁকে রক্ষা করার সামর্থ্য অর্জন করে, তবে তিনি তাদের একজনকে কাবার নিকটে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করবেন।

 

‌কাবার নিকট তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা.

যখন তাঁর দশজন পুত্র পূর্ণ হলো: আল-হারিস, আজ-জুবাইর, হাজল, দিরার, আল-মুকুওয়াম, আবু লাহাব, আল-আব্বাস, হামজাহ, আবু তালিব এবং আবদুল্লাহ; এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে তারা তাঁকে রক্ষা করবে, তখন তিনি তাদের একত্র করলেন এবং তাঁর করা মানতের কথা তাদের জানালেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর প্রতি সেই মানত পূর্ণ করার আহ্বান জানালেন। তারা তাঁর আনুগত্য করল এবং তাঁকে বলল: আপনি কী করতে চান? তিনি বললেন: তোমাদের প্রত্যেকে একটি করে তীর গ্রহণ করো এবং তাতে নিজের নাম লেখো, তারপর আমার কাছে নিয়ে এসো। তারা তা-ই করল এবং তাঁর কাছে নিয়ে এল। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে কাবার ভেতরে হুবালের কাছে প্রবেশ করলেন। হুবাল ছিল মক্কায় কুরাইশদের সবচেয়ে বড় মূর্তি। সেটি কাবার ভেতরে একটি কূয়ার ওপর অবস্থিত ছিল। সেই কূয়ায় কাবার জন্য দেওয়া উপহারসমূহ জমা করা হতো। হুবালের কাছে সাতটি তীর ছিল, যার প্রতিটি তীরের গায়ে কিছু লেখা ছিল। একটি তীরে লেখা ছিল 'আকিল' (রক্তপণ), যখন তারা রক্তপণ কে বহন করবে তা নিয়ে দ্বিমত করত, তখন এই সাতটি তীর দিয়ে লটারি করত; যার নামে তীরটি বের হতো, তাকেই তা বহন করতে হতো। আর সেখানে একটি তীর ছিল 'গাফ্ল' (চিহ্নহীন), এবং একটি তীরে 'হ্যাঁ' লেখা ছিল; কোনো কাজ করার ইচ্ছা করলে তারা তীর নিক্ষেপ করত, যদি 'হ্যাঁ' লেখা তীরটি বের হতো তবে তারা সেই কাজ করত। আর একটি তীরে 'না' লেখা ছিল; যদি তারা কোনো কাজ করতে চাইত এবং লটারি করত, আর সেই তীরটি বের হতো, তবে তারা সেই কাজ করত না। আর একটি তীরে ছিল 'তোমাদের মধ্য থেকে', একটিতে ছিল 'তোমাদের বাইরে থেকে', একটিতে ছিল 'সংযুক্ত' এবং একটিতে ছিল 'পানি'। যখন তারা পানির জন্য খনন করতে চাইত তখন তারা তীর নিক্ষেপ করত এবং তাতে সেই তীরটি থাকত। যে স্থানে তীরটি নির্দেশ করত, তারা সেখানে কাজ করত।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ রক্তপণ (দিয়াত)।

(২) অর্থাৎ কোনো লেখা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكانوا إذا ارادوا أن يختنوا غلاما، أو ينكحوا منكحاً، أو يدفنوا ميتاً، أو شكوا في نسب أحد منهم، ذهبوا به إلى هبل، وذهبوا معهم يحزور ومائة درهم إلى صاحبه (صاحب القداح) التي يضرب بها، فأعطوها إياه، ثم قربوا صاحبهم الذي يريدون به ما يريدون، وقالوا: اضرب، اللهم أخرج على يديه اليوم الحق، ثم استقبلوا هبل، فقالوا: يا إلهنا، هذا فلان بن فلان كما زعم أهله، يريدون كذا وكذا، فإن كان كذلك فأخرج فيه «الغفل» ، أو «نعم» أو «منكم» واقبل هديته فإن خرج من هؤلاء الثلاثة كتب في قومه وسيطاً، وإن خرج عليه «من غيركم» كان حليفاً، وإن خرج عليه «ملصق» كانت منزلته فيهم لا نسب ولا حلف، وإن خرج فيه شيء مما سوى هذا مما يعملون به «نعم» عملوا به، وإن خرج «لا» أخروه عامه ذلك حتى يأتوا به مرة أخرى، ينتهون من أمورهم إلى ذلك مما خرجت به القداح.

فقال عبد المطلب: اضرب على بني هؤلاء بقداحهم هذه، وأخبره بنذره، وأعطاه كل رجل منهم قدحه الذي فيه اسمه، وكان عبد الله بن عبد المطلب، أبو رسول الله صلى الله عليه وسلم أصغر بني أبيه «1» ، كان هو والزبير «2» وأبو طالب لفاطمة بنت عمرو بن عائذ بن عبد الله بن عمران بن مخزوم، وكان- فيما يزعمون- أحب ولد عبد المطلب إليه، وكان عبد المطلب يرى أن السهم إذا أخطأه فقد أشوى، فلما أخذ صاحب القداح القداح ليضرب بها، قام عبد المطلب عند هبل يدعو ويقول:

اللهم لا يخرج عليه القدح … إني أخاف أن يكون فدح

إن كان صاحبي للذبح … إني اراه اليوم خير قدح

--------------------------------------------

(1) كذا، ولعل المقصود آنئذ، وبعده ولد لعبد المطلب العباس وحمزة، أو «أصغر بني أبيه لأمه» ، ذلك أن سياق الحديث يلي بذكر أمه واخوته منها.

(2) المشهور بضبط اسم الزبير هو بضم الزاي المعجمة، لكن هناك من يروي ضبطها بفتح الزاي المعجمة بعدها باء مجرورة.
তারা যখন কোনো বালকের খতনা করতে চাইত, অথবা কাউকে বিয়ে দিতে চাইত, অথবা কোনো মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে চাইত, কিংবা তাদের মধ্য থেকে কারো বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ পোষণ করত, তখন তারা তাকে হুবাল মূর্তির কাছে নিয়ে যেত। তারা তার সাথে একটি পশু এবং একশ দিরহাম সেই তীর নিক্ষেপকারীর কাছে নিয়ে যেত যে তীর চালনা করত। তারা তাকে তা প্রদান করত, অতঃপর তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে কাছে নিয়ে আসত যার ব্যাপারে তারা কিছু করতে চাইত। এরপর তারা বলত: ‘আপনি নিক্ষেপ করুন। হে আল্লাহ, আজ তার হাতের মাধ্যমে সত্য বের করে দিন।’ অতঃপর তারা হুবালের দিকে মুখ করে বলত: ‘হে আমাদের উপাস্য, এ অমুকের পুত্র অমুক যেমনটি তার পরিবার দাবি করে, তারা এমন এমনটি চায়। যদি তাই হয়, তবে তার জন্য ‘চিহ্নহীন’ অথবা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘তোমাদের পক্ষ থেকে’ বের করুন এবং তার হাদিয়া কবুল করুন।’ যদি এই তিনটির কোনো একটি বের হতো, তবে তাকে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বলে গণ্য করা হতো। আর যদি তার বিপরীতে ‘তোমাদের ছাড়া অন্য কেউ’ বের হতো, তবে সে হতো মিত্র। আর যদি তার বিপরীতে ‘সংযুক্ত’ বের হতো, তবে তাদের কাছে তার মর্যাদা এমন হতো যে, তার কোনো বংশ পরিচয় থাকত না এবং কোনো মৈত্রী চুক্তিও থাকত না। আর যদি এর বাইরে অন্য কিছু বের হতো যা তারা ‘হ্যাঁ’ হিসেবে গণ্য করত, তবে তারা সে অনুযায়ী কাজ করত। আর যদি ‘না’ বের হতো, তবে তারা সে বছরের জন্য তা পিছিয়ে দিত যতক্ষণ না তারা পুনরায় আসত। তারা তাদের কার্যাবলি তীরের মাধ্যমে যা প্রকাশ পেত তার ওপর ভিত্তি করেই সম্পন্ন করত।

অতঃপর আবদুল মুত্তালিব বললেন: ‘আমার এই সন্তানদের নামে তাদের এই তীরগুলো দিয়ে নিক্ষেপ করুন।’ তিনি তাকে তাঁর মানত সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের নিজ নিজ নামযুক্ত তীর তাকে দিলেন। আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব, যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা, তিনি ছিলেন তাঁর পিতার সন্তানদের মধ্যে কনিষ্ঠতম (১)। তিনি, জুবাইর (২) এবং আবু তালিব ছিলেন ফাতেমা বিনতে আমর বিন আইদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইমরান বিন মাখজুমের গর্ভজাত সন্তান। তাদের বর্ণনামতে, আবদুল্লাহ ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের কাছে তাঁর সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। আবদুল মুত্তালিব মনে করতেন যে, তীর যদি তাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে তবে তা যেন সামান্যই বিদ্ধ হয়। যখন তীর নিক্ষেপকারী তীরগুলো নিল নিক্ষেপ করার জন্য, তখন আবদুল মুত্তালিব হুবালের কাছে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন:

হে আল্লাহ, তার বিরুদ্ধে যেন তীর বের না হয় … আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি কোনো ভারী বিপদ হবে

যদি আমার এই প্রিয়জনটি জবাইয়ের জন্য মনোনীত হয় … তবে আজ আমি তাকেই সর্বোত্তম তীরের ফলাফল হিসেবে দেখছি

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে। সম্ভবত এর দ্বারা তৎকালীন সময়কে বোঝানো হয়েছে, কারণ এরপর আবদুল মুত্তালিবের আব্বাস ও হামজা নামে পুত্র সন্তান হয়েছিল। অথবা এর অর্থ হলো ‘তার মায়ের গর্ভজাত ভাইদের মধ্যে কনিষ্ঠতম’, কারণ আলোচনার প্রেক্ষাপটে তার মা এবং সহোদরদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) জুবাইর নামের প্রসিদ্ধ উচ্চারণ হলো ‘জা’ বর্ণের ওপর পেশ দিয়ে। তবে কারো কারো মতে এটি ‘জা’ বর্ণের ওপর জবর দিয়ে এবং তার পরের বর্ণে কাসরা বা জের দিয়ে উচ্চারিত হবে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনে ইসহাক = আস-সিয়ারু ওয়াল মাগাযী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
حتى يكون صاحبي للمنح … يغني عني اليوم كل سرح

فخرج القدح على عبد الله، فاخذ عبد المطلب بيده، وأخذ الشفرة، ثم أقبل به إلى إساف ونائلة، الوثنين اللذين تنحر عندهما قريش ذبائحها، ليذبحه، فقامت إليه قريش من أنديتها، فقالوا: ماذا تريد يا عبد المطلب؟ فقال:

أذبحه، وأنشأ يقول:

عاهدت ربي وأنا موف عهده … أيام أحفر وبني وحده

والله لا أحمد شيئاً حمده … كيف أعاديه وأنا عبده

إني أخاف أن أخرت وعده … أن أضل إن تركت عهده

ما كنت أخشي أن يكون وحده … مثل الذي لا قيت يوماً عنده

أوجع قلبي عند حفري رده … والله ربي لا أعيش بعده

حدثنا أحمد قال: نا يونس عن ابن إسحق قال: ذكروا أن العباس بن عبد المطلب اجتره من تحت رجل أبيه حتى خدش وجه عبد الله خدشاً، لم يزل في وجهه حتى مات.

قال ابن إسحق: فقالت قريش وبنوه: والله لا تذبحه أبداً ونحن أحياء حتى نعذر فيه، لئن فعلت هذا لا يزال رجل يأتي بابنه حتى يذبحه، فما بقاء الناس على ذلك.

قال ابن إسحق: وقال المغيرة بن عبد الله بن عمرو بن مخزوم- وكان عبد الله ابن عبد المطلب ابن أخت القوم-: والله لا تذبحه أبداً حتى نعذر فيه، فإن كان فداء، فديناه بأموالنا، وقال فيما يزعمون في ذلك شعراً حين أجمع عبد المطلب في ذبح عبد الله بما أجمع:

واعجبي من قتل عبد المطلب … وذبحه خرقاً كتمثال الذهب

يا شيب لا تعجل علينا بالعجب … فما ابننا بشرط القوم النجب
যাতে সে দানের জন্য আমার সাথী হয় … যা আজ সকল চারণকারী পশু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করবে।

অতঃপর তীরের লটারি আব্দুল্লাহর নামে এল। তখন আব্দুল মুত্তালিব তার হাত ধরলেন এবং একটি ছুরি নিলেন। এরপর তাকে ইসাফ ও নায়েলার কাছে নিয়ে এলেন, যে দুটি মূর্তির কাছে কুরাইশরা তাদের পশু কোরবানি করত। তাকে জবাই করার উদ্দেশ্যে তিনি যখন অগ্রসর হলেন, তখন কুরাইশরা তাদের মজলিসগুলো থেকে উঠে তার দিকে এল। তারা বলল: হে আব্দুল মুত্তালিব, আপনি কী করতে চান? তিনি বললেন:

আমি তাকে জবাই করব। এরপর তিনি আবৃত্তি করতে লাগলেন:

আমি আমার রবের সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম এবং আমি তাঁর অঙ্গীকার পূরণকারী … যখন আমি খননকার্য করছিলাম আর আমার পুত্র ছিল একাকী।

আল্লাহর কসম, আমি এমন কিছুর প্রশংসা করি না যার প্রশংসা তিনি করেন নি … আমি কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করব যখন আমি তাঁরই দাস?

আমি ভয় পাচ্ছি যে যদি আমি তাঁর ওয়াদা বিলম্বিত করি … তবে তাঁর অঙ্গীকার ত্যাগ করলে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।

আমি কখনও আশঙ্কা করিনি যে সে এমন একাকী হবে … যেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আমি একদিন তাঁর কাছে হয়েছি।

আমার খননকার্যকালে তাকে ফিরিয়ে দেয়া আমার হৃদয়কে ব্যথিত করেছে … আল্লাহর কসম, যিনি আমার রব, তার পরে আমি আর বেঁচে থাকব না।

আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা উল্লেখ করেছেন যে, আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাকে তার পিতার পায়ের নিচ থেকে টেনে সরিয়ে নেন, যার ফলে আব্দুল্লাহর চেহারায় একটি ক্ষত সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষতটি তার মৃত্যু পর্যন্ত তার চেহারায় বিদ্যমান ছিল।

ইবনে ইসহাক বলেন: তখন কুরাইশ এবং তার পুত্ররা বলল: আল্লাহর কসম, আমরা জীবিত থাকতে আপনি তাকে কখনও জবাই করবেন না যতক্ষণ না আমরা এ বিষয়ে কোনো বিকল্প পথ খুঁজে পাই। আপনি যদি এটি করেন, তবে মানুষ ক্রমাগত তাদের সন্তানদের নিয়ে আসবে এবং তাদের জবাই করতে থাকবে; এভাবে কি মানুষ টিকে থাকতে পারবে?

ইবনে ইসহাক বলেন: মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মাখজুম—আর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন ওই গোত্রের ভাগ্নে—বললেন: আল্লাহর কসম, আপনি তাকে কখনও জবাই করবেন না যতক্ষণ না আমরা এ বিষয়ে কোনো বিকল্প পথ খুঁজে পাই। যদি এর কোনো মুক্তিপণ থাকে, তবে আমরা আমাদের সম্পদ দিয়ে তার মুক্তিপণ দেব। আর লোকেরা যা বর্ণনা করে সে অনুযায়ী, তিনি তখন কবিতা পাঠ করেছিলেন যখন আব্দুল মুত্তালিব আব্দুল্লাহকে জবাই করার সিদ্ধান্তে অটল হয়েছিলেন:

আব্দুল মুত্তালিবের হত্যার সিদ্ধান্তে আমি আশ্চর্যান্বিত … এবং স্বর্ণের প্রতিমার ন্যায় সুঠাম যুবককে নির্বুদ্ধিতাবশত জবাই করার সংকল্পে।

হে শাইবা, আমাদের ওপর আশ্চর্যের বোঝা চাপিয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না … কারণ আমাদের এই পুত্র কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং সে তো অভিজাত সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান।