(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: -)
التصحيح والترجيح على مختصر القدوري القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: التصحيح والترجيح على مختصر القدوري
المؤلف: قاسم بن قطلوبغا المصري الحنفي (ت 879 هـ)
دراسة وتحقيق: ضياء يونس
أصل التحقيق: رسالة ماجستير من المعهد العالي للدراسات الإسلامية بإشراف الشيخ خليل المَيْس 1422 هـ
قدم له: خليل الميس
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2003 م
تنبيه: قال المحقق: جعلت مختصر القدوري في أعلى الصفحات، ووضعت علامة في آخر كل مسألة اختارها المصنف للتعليق عليها
عدد الصفحات: 486
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 محرم 1444
মুখতাসারুল কুদুরী-র উপর আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ বিভাগ: হানাফি ফিকহ
গ্রন্থ: মুখতাসারুল কুদুরী-র উপর আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ
লেখক: কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-মিসরি আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: জিয়া ইউনুস
সম্পাদনার উৎস: ১৪২২ হিজরিতে শায়খ খলিল আল-মাইস-এর তত্ত্বাবধানে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত একটি মাস্টার্স থিসিস
ভূমিকা প্রদান করেছেন: খলিল আল-মাইস
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
সতর্কবার্তা: সম্পাদক বলেছেন: আমি পৃষ্ঠার উপরিভাগে মুখতাসারুল কুদুরী রেখেছি এবং লেখক যে মাসয়ালাগুলোর ওপর টীকা প্রদানের জন্য নির্বাচন করেছেন তার প্রতিটি মাসয়ালার শেষে একটি চিহ্ন প্রদান করেছি।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৬
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ মহররম ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
أصل هذا الكتاب رسالة علميّة بعنوان: "التصحيح والترجيح لابن قطلوبغا، دراسة وتحقيق"، نال بها الباحث درجة الماجستير في الدراسات الإسلامية، وأجيزت بتقدير: جيّد جدًّا مع التنويه، وقد نُوقشت بتاريخ 14/ ربيع الأول/ 1422 هـ، الموافق: 6/ 6/ 2001 م.
وكانت لجنة المناقشة والحكم على الرسالة مكونة من:
• سماحة المفتي الشيخ خليل المَيْس/ مشرفًا.
• الأستاذ الدكتور رضوان السَّيِّد/ مشرفًا.
• الشيخ الدكتور أحمد اللَّدَن/ عضوًا.
• الشيخ الدكتور أنس طَبّارَة/ عضوًا.
এই গ্রন্থটি মূলত একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ (থিসিস) যার শিরোনাম: "ইবন কুতলুবুগার আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ: একটি গবেষণা ও তাহকিক", এর মাধ্যমে গবেষক ইসলামি শিক্ষায় স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি লাভ করেছেন। এটি 'প্রশংসাসহ অত্যন্ত উত্তম' গ্রেডে অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি ১৪ই রবিউল আউয়াল ১৪২২ হিজরি, মোতাবেক ৬ই জুন ২০০১ খ্রিস্টাব্দে উপস্থাপিত হয়েছে।
অভিসন্দর্ভটি মূল্যায়ন ও বিচারক কমিটি নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত ছিল:
• মহামান্য মুফতি শায়খ খলিল আল-মাইস / তত্ত্বাবধায়ক।
• প্রফেসর ডক্টর রিদওয়ান আস-সাইয়িদ / তত্ত্বাবধায়ক।
• শায়খ ডক্টর আহমদ আল-লাদান / সদস্য।
• শায়খ ডক্টর আনাস তাব্বারা / সদস্য।
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بِسمِ اللَّهِ الرَحّمَن الرّحِيمِ
شكر وتقديرالحمد لله وكفى، والصلاة والسلام على النبي المصطفى، وعلى آله وصحبه ومن وفى، وبعد:
فإني أشكر شكرًا جزيلًا كل من أسدى إليّ عونًا أو معروفًا خلال رحلة تحقيق هذا الكتاب، من توجيه أو نصح، أو زيارة لمكتبة أو إعارة لكتاب.
وأخص بالشكر والتقدير أستاذي الكريم سماحة المفتي الشيخ خليل المَيْس حفظه الله، الذي أشرف على هذا العمل العلمي.
والعرفان الجميل والشكر الجزيل إلى من كان لي عونًا على الطريق الذي ألتمس فيه علمًا: والديّ الكريمين، اللهم بارك فيهما، وارحمهما كما ربياني صغيرًا.
وأشكر إدارة مكتبة المعهد العالي للدراسات الإسلامية، التابع لجمعية المقاصد الخيرية الإسلامية في بيروت، بما كان لها من يدٍ في تأمين بعض النسخ المخطوطة لهذا الكتاب.
كما أشكر إدارة المكتبة العامة في أزهر البقاع لتشجيعها على التفرغ للبحث، عبر تسهيل الإقامة في مبنى المكتبة.
ولا أنسى أن أخصّ بالشكر والدعاء أساتذتي ومشايخي الفضلاء، الذين تتلمذت على أيديهم في أزهر البقاع، وفي كلية الشريعة التابعة لدار الفتوى في بيروت، وفي بعض مساجد دمشق، وأخيرًا في المعهد العالي للدراسات الإسلامية، حيث كان هذا الجهد.
أسأل الله العظيم القبول والتوفيق، والعفو عن الذنوب والتقصير.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
ضياء
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনিই যথেষ্ট। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবী, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাথীবর্গ এবং যারা আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন তাদের প্রতি। অতঃপর:
আমি সেই সমস্ত ব্যক্তিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা এই কিতাবটি সম্পাদনার (তাহকীক) দীর্ঘ সফরে আমাকে দিকনির্দেশনা, উপদেশ, লাইব্রেরি পরিদর্শন কিংবা কিতাব ধার দেওয়ার মাধ্যমে কোনো প্রকার সাহায্য বা অনুগ্রহ করেছেন।
আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমার সম্মানিত উস্তাদ মহামান্য মুফতি শেখ খলিল আল-মাইস (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) এর প্রতি, যিনি এই ইলমি কাজের তত্ত্বাবধান করেছেন।
আর ইলম অন্বেষণের পথে যারা আমার সহায়ক ছিলেন তাদের প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও অশেষ ধন্যবাদ: তাঁরা হলেন আমার সম্মানিত পিতামাতা। হে আল্লাহ, আপনি তাঁদের ওপর বরকত দান করুন এবং তাঁদের প্রতি তেমনিভাবে দয়া করুন যেভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছিলেন।
আমি বৈরুতের জামঈয়াতুল মাকাসিদ আল-খায়রিয়াহ আল-ইসলামিয়ার অন্তর্ভুক্ত ‘আল-মা’হাদ আল-আলি লিদ-দিরাসাত আল-ইসলামিয়া’র লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এই কিতাবটির কিছু পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে তাদের যে সহযোগিতা ছিল তার জন্য।
একইভাবে আমি আজহারুল বিকার পাবলিক লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই গবেষণায় একাগ্রতা বজায় রাখতে উৎসাহ প্রদানের জন্য, বিশেষ করে লাইব্রেরি ভবনে অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে।
আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ও মাশায়েখদের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি ও তাঁদের জন্য দোয়া করছি, যাঁদের নিকট আমি আজহারুল বাকা, বৈরুতের দারুল ফতোয়া সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ অনুষদ, দামেস্কের কিছু মসজিদ এবং সর্বশেষ আল-মা’হাদ আল-আলি লিদ-দিরাসাত আল-ইসলামিয়া-তে শিক্ষা লাভ করেছি, যেখানে এই প্রচেষ্টাটি সম্পন্ন হয়েছে।
আমি সুমহান আল্লাহর কাছে এই কাজের কবুলিয়াত ও তাওফিক কামনা করছি এবং আমার সকল গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
জিয়া
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بِسمِ اللَّهِ الرَحّمَن الرّحِيمِ
مقدمة سماحة المفتي الشيخ خليل المَيْسالحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبيّ بعده محمد، وعلى آله وصحبه، وبعد:
فإن الواجب على من أراد أن يعمل لنفسه أو يفتي غيره أن يتبع القول الذي رجّحه علماء مذهبه، ولا يجوز له اختيار أحد القولين أو الوجهين من غير نظر، وهذا مما لا خلاف فيه بين أهل العلم، وأيضًا فإن كلًّا من القاضي والمجتهد لا يحل لهما الحكم أو الإفتاء بغير الراجح؛ لأنَّه اتباع للهوى وهو حرام شرعًا ..
وقد نُقل عن ابن كمال باشا قوله: "لابدّ للمفتي أن يعلم حال من يفتي بقوله. . من حيث مرتبته في الرواية، ودرجته في الدراية، وطبقته من بين طبقات الفقهاء، ليكون على بصيرة وافية في التمييز بين القائلين المتخالفين، وقدرة كافية في الترجيح بين القولين المتعارضين. . .".
هذا، وللتمييز بين الروايات عن صاحب المذهب، والمفاضلة بين أقوال فقهائه، لا بدّ من تحصيل درجة فقهية تعرف عند أهل الاختصاص بطبقة أصحاب الترجيح من المقلّدين كأبي الحسين القُدُوري (- 428 هـ) وصاحب الهداية (- 593 هـ) وأمثالهما، وشأنهم تفضيل بعض الروايات على بعض آخر، بقولهم: هذا أولى، وهذا أصح رواية، وهذا أوضح دراية، وهذا أوفق للقياس، وهذا أرْفق للناس. . .
وقد التزم هؤلاء في مصنفاتهم وضع القول الصحيح من المذهب، الذي هو ظاهر الرواية، فيكون ما في غيرها مقابل الصحيح، ما لم يصرَّح بتصحيحه، فيقدم عليها لأنها تصحيح صريح فيقدم على التصحيح الالتزامي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মান্যবর মুফতি শেখ খলিল আল-মাইস-এর ভূমিকাসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই—মুহাম্মদ, এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর। অতপর:
নিশ্চয় যে ব্যক্তি নিজের জন্য আমল করতে চায় অথবা অন্যকে ফতোয়া দিতে চায়, তার ওপর ওয়াজিব হলো তার মাযহাবের আলেমগণ যে বক্তব্যটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তা অনুসরণ করা। কোনো প্রকার বিচার-বিবেচনা ছাড়া দুটি মত বা দিকের কোনো একটিকে বেছে নেওয়া তার জন্য জায়েজ নয়। এটি এমন একটি বিষয় যাতে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। একইভাবে, বিচারক এবং মুজতাহিদ—কারও জন্যই রাজহ বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত ব্যতিরেকে বিচারকার্য পরিচালনা করা বা ফতোয়া প্রদান করা হালাল নয়; কারণ এটি খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তির অনুসরণ, যা শরয়িভাবে হারাম...
ইবনে কামাল পাশা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "মুফতির জন্য অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে তিনি যার বক্তব্য অনুযায়ী ফতোয়া দিচ্ছেন তার অবস্থা কেমন... বর্ণনার ক্ষেত্রে তার মর্যাদা, উপলব্ধির গভীরতায় তার স্তর এবং ফকিহদের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে তার অবস্থান সম্পর্কে, যাতে তিনি পরস্পর বিরোধী প্রবক্তাদের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারেন এবং পরস্পর বিরোধী দুটি বক্তব্যের মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণে যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।"
তাছাড়া, মাযহাবের ইমাম থেকে বর্ণিত রেওয়ায়তসমূহের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ এবং ফকিহদের বক্তব্যের মধ্যে তারতম্য করার জন্য ফিকহ শাস্ত্রের এমন এক স্তর অর্জন করা অপরিহার্য, যা বিশেষজ্ঞদের নিকট 'আসহাবুত তারজিহ' (তাকলিদকারীদের মধ্য থেকে প্রাধান্য দেওয়ার যোগ্য স্তর) হিসেবে পরিচিত; যেমন আবুল হুসাইন আল-কুদুরি (মৃত্যু ৪২৮ হি.) এবং হিদায়া গ্রন্থের রচয়িতা (মৃত্যু ৫৯৩ হি.) ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ। তাঁদের কাজ হলো কিছু রেওয়ায়তকে অন্যগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া, এই বলে যে: এটি অধিক উত্তম, এটি বর্ণনার দিক থেকে অধিক বিশুদ্ধ, এটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে অধিক স্পষ্ট, এটি কিয়াসের সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ এবং এটি মানুষের জন্য অধিক সহজদায়ক...
তাঁরা তাঁদের সংকলনসমূহে মাযহাবের সঠিক মতটি সংস্থাপনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন, যা 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' (প্রকাশ্য বর্ণনা) হিসেবে পরিচিত। সুতরাং অন্য যা কিছু থাকবে তা 'সহিহ' বা বিশুদ্ধের বিপরীতে গণ্য হবে, যদি না সেটি বিশুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকে। এমতাবস্থায় তা অন্যদের ওপর অগ্রগণ্য হবে, কারণ এটি হচ্ছে স্পষ্ট বা দ্ব্যর্থহীন বিশুদ্ধায়ন, যা পরোক্ষ বা আবশ্যিক বিশুদ্ধায়নের ওপর প্রাধান্য পায়।
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذا وإن اختلاف الروايتين ليس من باب اختلاف القولين؛ لأن القولين نصّ المجتهد عليهما، بخلاف الروايتين، فالاختلاف في القولين من جهة المنقول عنه لا الناقل، بينما الاختلاف في الروايتين من جهة الناقل لا المنقول عنه.
ولا بد من الإشارة إلى أن كثيرًا من الأحكام التي نصّ عليها المجتهد صاحب المذهب، بناء على ما كان في عرفه وزمانه، قد تغيرت بسبب تغير الزمان، أو فساد أهله، أو عموم الضرورة. . من ذلك إفتاء المتأخرين بجواز الاستئجار لتعليم القرآن. . وعدم الاكتفاء بظاهر العدالة. . وتضمين الأجير المشترك، وإفتاؤهم بتضمين الغاصب عقار الوقف واليتيم. . وغيرها من المسائل المبنية على العرف، لا على الحجّة والبرهان. .
وإن عبارتي (التصحيح) و (الترجيح) مصطلحان فقهيان، يقصد بالأولى منهما ما صح نسبته من الأقوال إلى الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه، برواية كبار تلاميذه كأبي يوسف ومحمد بن الحسن.
وأما (الترجيح) فيكون ما بين أقوال أصحابه الذين كانت لهم القدم الراسخة في الفقه، حيث تميّز المذهب الحنفي عن سائر المذاهب الفقهية الثلاثة بأنه مذهب جماعي، وإن القضاء أو الإفتاء بمقتضى مذهب الإمام يتعيّن أن يكون بالقول الراجح في المذهب، لذلك كله اقتضى إفراد هذين المصطلحين بمصنف يكون عمدة في هذا الباب.
وقد توجهت عناية العلامة قاسم بن قطلوبغا الحنفي، المتوفى سنة 879 هـ، إلى وضع مصنفه "الترجيح والتصحيح" على مختصر القدوري، - الذي يعتبر في مقدمة المتوفى المعتبرة في نقل المذهب - حيث عمد إلى ما ورد فيه من مسائل الخلاف بين أبي حنيفة وصاحبيه، وبيّن القول الصحيح، المعتمد في المذهب.
وظلّ هذا الكنز مطويًّا في خزائن المخطوطات حوالي خمسة قرون، حتى قيّض الله تعالى له الباحث الفاضل الشيخ ضياء يونس فاختاره ليكون موضوع أطروحته العلمية لنيل درجة الماجستير من المعهد العالي للدراسات الإسلامية
এই যে দুটি বর্ণনার (রিওয়াত) মধ্যকার মতভেদ দুটি বক্তব্যের (কাওল) মতভেদের পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ দুটি বক্তব্যের ক্ষেত্রে মুজতাহিদ নিজেই সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যা দুটি বর্ণনার বিপরীত। ফলে দুটি বক্তব্যের মতভেদ হয় যার নিকট হতে বর্ণনা করা হয়েছে (মুজতাহিদ) তার দিক থেকে, বর্ণনাকারীর দিক থেকে নয়। পক্ষান্তরে দুটি বর্ণনার মতভেদ হয় বর্ণনাকারীর দিক থেকে, যার নিকট হতে বর্ণনা করা হয়েছে তার দিক থেকে নয়।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, মাযহাবের ইমাম ও মুজতাহিদ তাঁর সমসাময়িক প্রথা ও যুগের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যে সকল বিধান প্রদান করেছিলেন, তার অনেকগুলোই সময়ের পরিবর্তন, মানুষের নৈতিক অবক্ষয় কিংবা সাধারণ প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়েছে। এর উদাহরণ হলো পরবর্তীকালের ফকীহগণের কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার ফতোয়া প্রদান, কেবল বাহ্যিক ন্যায়নিষ্ঠার ওপর নির্ভর না করা, সাধারণ কর্মজীবীর (আজিরে মুশতারাক) ওপর ক্ষতির দায়বদ্ধতা আরোপ এবং ওয়াকফ ও এতিমের স্থাবর সম্পত্তি জবরদখলকারীর ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপের ফতোয়া। এ জাতীয় অন্যান্য মাসআলাসমূহ প্রথার ওপর ভিত্তি করে রচিত, দলিল বা প্রমাণের ওপর নয়।
আর 'তাসহিহ' এবং 'তারজিহ' শব্দ দুটি হলো দুটি ফিকহী পরিভাষা। প্রথমটির মাধ্যমে সেই সব বক্তব্যকে বোঝানো হয় যা ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা তাঁর প্রধান ছাত্র যেমন আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন।
আর 'তারজিহ' হয় তাঁর সেই সব সাথীদের বক্তব্যের মধ্যে যাদের ফিকহ শাস্ত্রে দৃঢ় পদচারণা ছিল। হানাফী মাযহাব অন্যান্য তিনটি ফিকহী মাযহাব থেকে স্বতন্ত্র কারণ এটি একটি সামষ্টিক মাযহাব। ইমামের মাযহাব অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা বা ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মাযহাবের অগ্রগণ্য (রাজহ) বক্তব্যটি গ্রহণ করা আবশ্যক। এই সকল কারণেই এই দুটি পরিভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় যা এই বিষয়ে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লামা কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফী (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরী) 'মুখতাসার আল-কুদুরী'র ওপর তাঁর 'আত-তারজিহ ওয়াত-তাসহিহ' গ্রন্থটি রচনার দিকে মনোযোগ দেন। মুখতাসার আল-কুদুরী মাযহাবের বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি সেখানে ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর দুই সাথীর মধ্যকার মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলো গ্রহণ করেছেন এবং মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ও সঠিক বক্তব্যটি স্পষ্ট করেছেন।
এই জ্ঞানভাণ্ডার প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত ছিল, অবশেষে মহান আল্লাহ এর জন্য যোগ্য গবেষক শাইখ জিয়া ইউনুসকে নির্ধারণ করেন। তিনি এটিকে উচ্চতর ইসলামি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে তাঁর মাস্টার্স ডিগ্রির গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
/المقاصد/ .. وعكف عليه بشغفٍ وصدق عزيمة، وأعطاه من الجهد ما يستحق، بحثًا وتنقيبًا واستقصاء وتحقيقًا، حتى أخرجه في حلة قشيبة زادت في قيمة هذا الكنز المضنون به على أهله، واستحق تقديرًا لجهده العلمي المميز، التنويه من اللجنة المناقشة حيث أوصت بطباعته، ليكون في متناول الباحثين، ويعمّ نفعه بين طلبة العلم الشرعي، علمًا بأن هذا البحث هو باكورة عمله العلمي، كما أن الباحث هو في مقدمة من حصّل رتبة الماجستير من خريجي أزهر البقاع، وإننا لنرجو الله تعالى أن يحسن مثوبته، ويجعل هذا العمل مقبولًا ومباركًا، كما بورك في الكتاب الأصل (متن القدوري) والذي وُفِّق من قبل ابن قطلوبغا لخدمته، بحيث صار عمدة لكل من جاء بعده من الفقهاء وفي مقدمتهم ابن عابدين رحمه الله. . والذي اتخذ من "التصحيح والترجيح" مرجعًا لا يكاد يتجاوزه في رسالته (رسم المفتي)، ومادة علمية غزيرة لحاشيته (ردّ المحتار).
ونأمل أن يكون هذا الجهد من الباحث الفاضل منطلقًا له في مسيرة البحث العلمي، تحقيقًا وتصنيفًا وإبداعًا مميّزًا بإذنه تعالى وتوفيقه. . والله ولي التوفيق.
غزة ذي القعدة سنة 1422 هـ
المقابل 15 كانون الثاني سنة 2002 م
وكتبه
مفتي زحلة والبقاع الغربي
مدير أزهر لبنان وأزهر البقاع
الشيخ خليل الميس
/আল-মাকাসিদ/ .. এবং তিনি এর প্রতি গভীর আগ্রহ ও দৃঢ় সংকল্পের সাথে মনোনিবেশ করেছেন এবং একে প্রাপ্য শ্রম দিয়েছেন—অনুসন্ধান, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও তাহকীকের মাধ্যমে, যতক্ষণ না তিনি একে একটি চমৎকার অবয়বে উপস্থাপন করেছেন যা এর সমঝদারদের নিকট এই অমূল্য রত্নভাণ্ডারের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি তার এই বিশিষ্ট ইলমী প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ পরীক্ষক কমিটির পক্ষ থেকে প্রশংসা ও সমাদর লাভের যোগ্য হয়েছেন, যেখানে কমিটি এটি মুদ্রণের সুপারিশ করেছে; যাতে এটি গবেষকদের নাগালে থাকে এবং শরয়ী ইলমের শিক্ষার্থীদের মাঝে এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য যে, এই গবেষণাটি তার ইলমী কর্মজীবনের প্রথম ফসল। পাশাপাশি, এই গবেষক আজহারুল বেকা-এর স্নাতকদের মধ্যে সর্বপ্রথম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারীদের অগ্রগণ্য। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং এই আমলটিকে কবুল ও বরকতময় করেন, যেমনটি মূল কিতাব (মাতনুল কুদুরী)-এর ক্ষেত্রে বরকত দান করা হয়েছিল, যা ইবনে কুতলুবুগা-এর মাধ্যমে খেদমত করার তাওফীক লাভ করেছিল; ফলে এটি পরবর্তী সকল ফকীহদের নিকট প্রধান অবলম্বন হিসেবে গণ্য হয়েছে, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইবনে আবিদীন (রহ.)। . যিনি তার রিসালাহ (রাসমুল মুফতী)-তে "আত-তাশহীহ ওয়াত-তারজীহ"-কে এমন এক উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন যা তিনি প্রায় অতিক্রমই করেন না এবং তার হাশিয়া (রাদ্দুল মুহতার)-এর জন্য একে একটি সমৃদ্ধ ইলমী উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
আমরা আশা করি ফাযেল গবেষকের এই প্রচেষ্টা তার ইলমী গবেষণার পথচলায়—তাহকীক, গ্রন্থনা ও অনন্য সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে—মহান আল্লাহর অনুমতি ও তাওফীকের মাধ্যমে একটি সূচনা বিন্দু হবে। . আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
গাজা, যিলকদ, ১৪২২ হিজরী
মোতাবেক ১৫ জানুয়ারি, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
ইতি (লিখেছেন)
যাহলা ও পশ্চিম বেকা-এর মুফতী
আজহার লেবানন ও আজহারুল বেকা-এর পরিচালক
শায়খ খলীল আল-মাইস
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
بِسمِ اللَّهِ الرَحّمَن الرّحِيمِ
مقدّمة التحقيقالحمد لله، وفّق للفِقه في الدّين من أراد به خيرًا من عباده المؤمنين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله، وعلى آله وأصحابه أجمعين، ورضي اللّه عن الخلفاء الأربعة الراشدين، ورَحِمَ الأئمة الأربعة المجتهدين، وكل من سار على نهجهم إلى يوم الدين.
وبعد؛ فلقد اتفقت الأمة في عصورها المتعاقبة، على الرجوع إلى أحد المذاهب الفقهية الأربعة المتّبَعة، إذ إنّ هذه المذاهب ورغم اختلافها في كثير من المسائل العمليّة، لم تخرج على ما كان عليه الصحابة الكرام، ولم تحِد عن مناهجهم في استنباط الأحكام، وقد اعتبر العلماء الخلافَ الفقهي خَصِيصةً لهذه الأمة، وتوسعة في شريعتها السَّمْحة.
وإنه لمن حكمة الله ورحمته أن أودع في أصول هذه الشريعة قواعد كلية ومبادئ عامة، كفيلة بتنظيم حياة الناس في الأزمنة والأمكنة كافة، "ولو التزمنا ألّا نحكم [بحكم] إلّا حتى نجد فيه نصًّا، لتعطّلت الشريعة، فإن النّصوص فيها قليلة. . وإنما هي الظواهر والعمُومات والأقيسة"
(1). ولمّا تعدّدت الاجتهادات
(2) في القواعد والمسائل الأصولية المستنبطة، كان لا بدّ من تعدد الأقوال في تعيين الأحكام. . فتنوّعت المذاهب الفقهية، فاجتهد علماء المسلمين من بعد، في دراسة تلك المذاهب وتنقيحها وبيان أصولها وفروعها. .
ولقد حظي مذهب الإمام أبي حنيفة رحمه الله بعناية خاصة منذ مراحل
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্যে যার কল্যাণ চেয়েছেন তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেছেন। এবং দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন চার খুলাফায়ে রাশেদীনের ওপর এবং চার মুজতাহিদ ইমামের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের পথ অনুসরণ করবে তাদের সকলের ওপর।
অতঃপর; উম্মাহ তাদের ধারাবাহিক যুগগুলোতে অনুসরণীয় চারটি ফিকহী মাযহাবের যেকোনো একটির দিকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে একমত হয়েছে। কেননা এই মাযহাবগুলো অনেক আমলী মাসআলায় মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম যে পথের ওপর ছিলেন তা থেকে বের হয়ে যায়নি এবং বিধান আহরণের ক্ষেত্রে তাদের মানহাজ (পদ্ধতি) থেকে বিচ্যুত হয়নি। আলেমগণ ফিকহী মতপার্থক্যকে এই উম্মতের একটি বৈশিষ্ট্য এবং এর সহজ-সরল শরীয়তে প্রশস্ততা হিসেবে গণ্য করেছেন।
এটি আল্লাহর হিকমত ও রহমতের অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি এই শরীয়তের মূলনীতির মধ্যে এমন কিছু সামগ্রিক নিয়ম এবং সাধারণ নীতি রেখেছেন, যা সকল কাল ও স্থানের মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। "আমরা যদি এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করতাম যে, কোনো নস (সুস্পষ্ট দলীল) না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো বিধান দেব না, তবে শরীয়ত অচল হয়ে যেত। কেননা এতে নস-এর সংখ্যা সীমিত... বরং এগুলো হলো প্রকাশ্য অর্থ (যাহির), সাধারণ অর্থ (উমুম) এবং কিয়াস (অনুমান বা তুলনা)।"
(১) আর যখন আহরিত মূলনীতি এবং উসূলী মাসআলাসমূহে ইজতিহাদ বহুমুখী হয়েছে, তখন বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বক্তব্যের বৈচিত্র্য অবধারিত হয়ে পড়েছে... ফলে ফিকহী মাযহাবগুলো বৈচিত্র্যময় হয়েছে। অতঃপর মুসলিম আলেমগণ সেই মাযহাবগুলো অধ্যয়ন, সংস্কার এবং সেগুলোর মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা বর্ণনায় সচেষ্ট হয়েছেন।
ইমাম আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব সূচনালগ্ন থেকেই বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
تدوينه الأولى، حيث أيّد الله تعالى الإمام بأصحابِ أئمة مجتهدين، بحثوا معه المسائل ودوّنوا معه الكتب، إذ "كان أصحاب أبي حنيفة الذين دوّنوا معه الكتب أربعين رجلًا كبراء الكبراء"
(1).
ثم صنَّف الإمام محمد بن الحسن الشيباني كتبًا تلقّاها علماء الأمصار من بعده بالرضا والقَبول، وكانت عمدة المذهب الحنفي، ومرجعًا لمن ألّف في الفقه من بعده، وهي الكتب التي سمّيت بظاهر الرواية، وقد قيل في شأنها: "إن القاضي المقلِّد لا يجوز له أن يحكم إلا بما هو ظاهر الرواية، لا بالرواية الشاذة، إلّا أن ينصّوا على أن الفتوى عليها"
(2). وكتب ظاهر الرواية ستة: "المبسوط، والزيادات، والجامع الصغير، والسِّيَر الصغير، والجامع الكبير، والسير الكبير"؛ وقد يسمونها مسائل الأصول، وهي مروية عن الإمام محمد بالأسانيد الصحيحة الثابتة، وهي إمّا متواترة أو مشهورة عنه
(3).
ثم جمع الحاكم الشهيد (- 334 هـ) كتب محمّد الستة في كتاب "الكافي" ولقي كتابُه هذا الكثير من التقدير تبعًا لأصوله، قال العلامة إبراهيم البيري (- 1599 هـ) في "شرح الأشباه"
(4): "أعلم أن كتب مسائل الأصول: كتاب الكافي للحاكم الشهيد، وهو كتاب معتمد في نقل المذهب". وقد شرحه جماعة من العلماء منهم شمس الأئمة السرخسي (- 483 هـ) وهو الشرح الذي اشتهر بـ: "مبسوط السرخسي"، وقد نال كذلك الثّقة والاعتماد في المذهب، حيث "لا يُعمل بما يخالفه، ولا يُركَن إلّا إليه، ولا يفتى ولا يعوّل إلا عليه"
(5).
ولقد حرص الأئمة الفقهاء قديمًا كالإمام أبي جعفر الطّحَاوي (- 321 هـ)، والإمام أبي الحسن الكَرْخي (- 340 هـ)، والإمام أبي الحسين القُدُوْرِي (- 428 هـ)، على وضع مختصرات تجمع مسائل الفقه المعتمدة، وتضبط أقوال الفقهاء المعتبرة في المذهب، مع الدقّة في العبارة والتمحيص في الصياغة، فجاءت كتبهم موجزة
--------------------------------------------
এর প্রাথমিক সংকলন, যেখানে মহান আল্লাহ ইমামকে এমন মুজতাহিদ ইমাম সঙ্গীদের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন, যারা তাঁর সাথে মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সাথে কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন; কেননা "আবু হানিফার সাথীগণ যারা তাঁর সাথে কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন, তাঁরা ছিলেন চল্লিশজন ব্যক্তি যারা শ্রেষ্ঠদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন"
(১)।
অতঃপর ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শায়বানি এমন কিছু কিতাব রচনা করেন যা তাঁর পরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের আলিমগণ সন্তুষ্টি ও কবুলিয়তের সাথে গ্রহণ করেন। সেগুলো ছিল হানাফি মাজহাবের মূল ভিত্তি এবং তাঁর পরবর্তী ফিকহ রচয়িতাদের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস। এগুলোই সেই কিতাবসমূহ যেগুলোকে 'জাহির আল-রিওয়ায়াহ' নামে অভিহিত করা হয়। এগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই মুকাল্লিদ কাজির জন্য 'জাহির আল-রিওয়ায়াহ' অনুযায়ী ফয়সালা করা ছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়, শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা অনুযায়ী নয়; তবে যদি তাঁরা (ফকিহগণ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে ফতোয়া সেটির ওপর হবে, তবে ভিন্ন কথা"
(২)। জাহির আল-রিওয়ায়াহর কিতাব ছয়টি: "আল-মাবসুত, আল-যিয়াদাত, আল-জামি আল-সগির, আস-সিয়ার আল-সগির, আল-জামি আল-কাবির এবং আস-সিয়ার আল-কাবির"। এগুলোকে কখনো তাঁরা 'মাসাইলুল উসুল' নামে অভিহিত করেন। এগুলো ইমাম মুহাম্মদ থেকে সহিহ ও সুপ্রমাণিত সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলো তাঁর থেকে মুতাওয়াতির অথবা মশহুর পর্যায়ের
(৩)।
অতঃপর হাকিম আল-শাহিদ (মৃত্যু ৩৩৪ হিজরি) মুহাম্মদের ছয়টি কিতাবকে "আল-কাফি" কিতাবে একত্রিত করেন এবং তাঁর এই কিতাবটি এর মূল উৎসগুলোর অনুসরণে ব্যাপক সমাদৃতি লাভ করে। আল্লামা ইবরাহিম আল-বিরি (মৃত্যু ১৫৯৯ হিজরি) "শারহুল আশবাহ"-এ বলেন
(৪): "জেনে রেখো যে, মাসাইলুল উসুলের কিতাব হলো হাকিম আল-শাহিদের 'আল-কাফি' কিতাব, যা মাজহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য কিতাব।" একদল আলিম এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন, যাদের মধ্যে শামসুল আইম্মা আস-সারাখসি (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি) অন্যতম। এটি সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা "মাবসুতে সারাখসি" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এটিও মাজহাবে আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা অর্জন করেছে, যেখানে বলা হয়: "এর পরিপন্থী বিষয়ের ওপর আমল করা যাবে না, এটি ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করা যাবে না এবং এটি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর ফতোয়া দেওয়া বা ভরসা করা যাবে না"
(৫)।
প্রাচীন ফকিহ ইমামগণ, যেমন ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবি (মৃত্যু ৩২১ হিজরি), ইমাম আবু হাসান আল-কারখি (মৃত্যু ৩৪০ হিজরি) এবং ইমাম আবু হুসাইন আল-কুদুরি (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি) ফিকহের নির্ভরযোগ্য মাসআলাগুলো একত্রিত করতে এবং মাজহাবের গ্রহণযোগ্য ফকিহদের উক্তিগুলো সুশৃঙ্খল করতে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তাঁরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম শব্দচয়ন ও পরিশীলিত রচনার মাধ্যমে তাঁদের কিতাবগুলোকে সংক্ষিপ্ত আকারে পেশ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
العبارة جامعة الإشارة، حتى يسهل على طالب العلم أن يستظهرها بأيسر طريق، وفي أقل زمن.
ولما كان مصنفو هذه المختصرات من كبار الفقهاء وحذّاق الأئمة، وقد التزموا فيها إيراد الراجح والمقبول في المذهب، صارت متونهم "موضوعة لنقل المذهب مما هو ظاهر الرواية"
(1)، فمسائلها ملحقة بمسائل الأصول في صحتها وعدالة رواتها، "وقد تواترت عن مصنفيها كما لا يخفى. ."
(2).
واهتمّ عامّة علماء المسلمين قديمًا وحديثًا بتلقين النشء وتحفيظهم تلك المتون المختصرة الجامعة، لتكون نواةً صالحة، أو رُكنًا ثابتًا لما يمكن أن يبنى عليها من فقه وعلم. يقول الإمام فخر الإسلام قاضي خان (- 592 هـ): "ينبغي للمتفقه أن يحفظ كتابًا واحدًا من كتب الفقه دائمًا، ليَتيسّر له بعد ذلك حفظ ما يسمع من الفقه"
(3).
ثم اتسع اهتمام العلماء بالمختصرات، وصنفوا لها شروحًا كثيرة، بل إن أسلوب كتابة "الشروح" و"الحواشي" في التصنيف الفقهي، كان هو الأسلوب المعتمد الغالب عبر قرون عديدة.
ومع انتشار حركة الشروح هذه، ومع جهود العلماء الكبيرة في تنظيم الأبواب الفقهية وجمع شتات المسائل وتعليلها وتخريج الحوادث والنوازل على الأصول، يتبيّن للناظر مدى اختلاف الروايات وأقوال الأئمة في أغلب المسائل، وتشعّبِ آراء المجتهدين في المذهب، والمخرّجين عليه حول ما استجدّ من الوقائع.
لهذا، دعت الحاجة إلى ظهور أسلوب جديد في التأليف والكتابة، ونمط غير مسبوق في التعليق على المختصرات، من شأنه تقريب تلك المسائل - المختلف فيها - للطلاب، ببيان القول الصحيح المعتمد في المذهب سواء إذا تعدّدت أقوال الإمام في مسألة، أو عند اختلاف الأئمة - أبي حنيفة وأصحابه -، أو عند اختلاف الرواية عنهم في مسألة من المسائل، وإظهار الرأي الراجح من بين الآراء الاجتهادية المختلفة، فيكون ذلك المصنَّف ضابطًا لفتاوى المفتين، وموحِّدًا لأقضية القضاة
--------------------------------------------
বাক্যগুলো ইঙ্গিতবাহী ও সংক্ষিপ্ত, যাতে ইলম অন্বেষণকারীর পক্ষে তা অত্যন্ত সহজ উপায়ে এবং স্বল্পতম সময়ে মুখস্থ করা সহজ হয়।
যেহেতু এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপগুলোর সংকলকগণ ছিলেন বড় মাপের ফকীহ এবং দক্ষ ইমামবৃন্দ, এবং তাঁরা এতে মাযহাবের অগ্রগণ্য ও গ্রহণযোগ্য মতগুলো উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, তাই তাঁদের মতনগুলো "জাহিরুর রিওয়ায়াত থেকে মাযহাব বর্ণনার জন্য নির্ধারিত"
(১) হিসেবে গণ্য হয়েছে। ফলে এর মাসয়ালাগুলো বিশুদ্ধতা এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে মূল নীতিমালার মাসয়ালাগুলোর পর্যায়ভুক্ত। "আর গোপন নয় যে, এগুলো তাঁদের সংকলকদের পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির বা অকাট্য পরম্পরায় বর্ণিত হয়ে আসছে..."
(২)।
প্রাচীন ও আধুনিক কালের সকল মুসলিম আলেমই তরুণ প্রজন্মকে এই সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক অর্থবোধক মতনগুলো শেখানো এবং মুখস্থ করানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে এগুলো একটি সঠিক ভিত্তি বা সুদৃঢ় স্তম্ভ হতে পারে যার ওপর ফিকহ ও ইলম নির্মাণ করা সম্ভব। ইমাম ফখরুল ইসলাম কাজি খান (মৃত্যু ৫৯২ হি.) বলেন: "ফিকহ শিক্ষার্থীর জন্য উচিত হলো সর্বদা ফিকহের গ্রন্থসমূহের মধ্য থেকে একটি কিতাব মুখস্থ রাখা, যাতে এরপর তার জন্য যা শুনবে তা মুখস্থ করা সহজ হয়"
(৩)।
অতঃপর এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপগুলোর প্রতি আলেমদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা এগুলোর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংকলন করেন। বরং ফিকহী সংকলনের ক্ষেত্রে "শরহ" এবং "হাশিয়া" লেখার পদ্ধতিটিই বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত ও প্রধানতম পদ্ধতি ছিল।
ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার এই ধারার বিস্তার এবং ফিকহী অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করা, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাসয়ালাগুলো একত্রিত করা, সেগুলোর কারণ বর্ণনা করা এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ঘটনাবলিকে মূলনীতির আলোকে বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে আলেমদের ব্যাপক প্রচেষ্টার ফলে একজন পর্যবেক্ষকের কাছে অধিকাংশ মাসয়ালায় বর্ণনার ভিন্নতা এবং ইমামদের বক্তব্যের বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। সেই সাথে মাযহাবের মুজতাহিদগণ এবং মাযহাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রদানকারীদের মতামতের শাখা-প্রশাখা ও নতুন ঘটনাবলির ক্ষেত্রে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ কারণে রচনার ক্ষেত্রে একটি নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপগুলোর ওপর টীকা রচনার ক্ষেত্রে এমন এক নজিরবিহীন ধারার উদ্ভব ঘটে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে মতভেদপূর্ণ মাসয়ালাগুলোকে সহজবোধ্য করে তোলে। এটি মাযহাবের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য মতটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে—তা কোনো মাসয়ালায় ইমামের একাধিক বক্তব্য থাকুক, অথবা ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের মধ্যে মতভেদ থাকুক, কিংবা তাঁদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার ভিন্নতা থাকুক। বিভিন্ন ইজতিহাদী মতের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য মতটি প্রকাশের মাধ্যমে এই ধরণের সংকলন মুফতিদের ফতোয়ার জন্য মানদণ্ড এবং বিচারকদের রায়ের ক্ষেত্রে সমতা বিধানকারী হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحاكمين، فلا يُعمل بالمرجوح في مقابلة الراجح اتباعًا لرأي قد يقوده الهوى.
وكان على من استشرف في نفسه الملكة الفقهية، والقدرة على الاجتهاد أو استحضار أقوال المجتهدين وأصحاب الترجيح، أن يفرد كتابًا بالتصنيف يبرز فيه هذا النوع من المسائل تيسيرًا للطلاب المبتدئين، وتقريبًا للعلماء المتفقّهين "وإنْ كان ذلك موجودًا في الشروح والمطوْلات، إلا أنهم أسعفوا بذلك من لم يصل إلى تلك"
(1).
وبالفعل؛ كان أوّل من سبق إلى هذا النوع من الدراسة المتخصّصة في المذهب الحنفي
(2) هو العلامة الفقيه المحدّث الشيخ قاسم بن قُطْلُوبُغا رحمه الله تعالى، حيث ألّف كتابه هذا: "التصحيح والترجيح"، وجمع فيه مختلف الأبواب الفقهية تبعًا لمسائل "مختصر القدوري"، مصحّحًا القولَ المعتمد، وذلك وَفْق منهج ذكره في تقدمته للكتاب، مع زيادات وتعليقات وتحقيقات. .
ولقد رأيت من واجبي - وأنا أخدم كتابًا في الفقه على مذهب الإمام أبي حنيفة، رضي الله عنه - أن أصدِّره بدراسة أذكر فيها بعض مناقب الإمام أبي حنيفة النعمان، وكيف دُوّن مذهبه. . وطبقاتِ الفقهاء في المذهب الحنفي، وأنواع المسائل فيه، ثم الكلام على مختصر القدوري إذ هو الأصل الذي اعتمد عليه مصنف "التصحيح والترجيح" للتعليق على مسائله الخلافية، وهو ما شكّل المدخل للكتاب.
ثم أتبعت هذا المدخل بدراسة حول الكتاب وقسمتها إلى ثلاثة فصول:
الفصل الأول؛ ترجمت فيه للشيخ قاسم بن قطلوبغا ترجمة موسعة، وذكرت مكانته بين العلماء، كما فصّلت القول في بيان كتبه ورسائله.
ثم الفصل الثاني، وهو دراسة علميّة لكتاب "التصحيح والترجيح"، وفيه ثلاثة مباحث؛ المبحث الأول: أهمية كتاب التصحيح، والمبحث الثاني: حول مسألة الترجيح في المذهب الحنفي، والمبحث الثالث: منهج المؤلف في كتابه.
--------------------------------------------
বিচারকগণের নিকট; সুতরাং প্রবৃত্তি চালিত কোনো মতের অনুসরণে শক্তিশালী মতের বিপরীতে দুর্বল মতের ওপর আমল করা যাবে না।
যার মাঝে ফিকহি প্রজ্ঞা এবং ইজতিহাদের সক্ষমতা ছিল অথবা যিনি মুজতাহিদগণ ও তারজিহ (প্রাধান্য দানকারী) ওলামায়ে কেরামের উক্তিগুলো উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন, তাঁর ওপর কর্তব্য ছিল এমন এক স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা যাতে এ জাতীয় মাসআলাগুলো ফুটে ওঠে। এটি করা হতো শিক্ষানবিশ ছাত্রদের জন্য বিষয়টি সহজ করতে এবং ফিকহবিশারদ আলেমদের নিকটবর্তী করতে। "যদ্যপি তা বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং বিশাল রচনাবলির মধ্যে বিদ্যমান ছিল, তবে তাঁরা এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের সহায়তা করেছেন যারা সেই সব বিশাল গ্রন্থ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি"
(১)।
প্রকৃতপক্ষে, হানাফি মাজহাবে এই ধরণের বিশেষায়িত অধ্যয়নে যিনি সর্বপ্রথম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন
(২), তিনি হলেন আল্লামা ফকিহ মুহাদ্দিস শায়খ কাসিম ইবন কুতলুবুগা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। তিনি তাঁর এই কিতাব ‘আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ’ রচনা করেছেন এবং এতে ‘মুখতাসারুল কুদুরি’-এর মাসআলা অনুযায়ী ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায় একত্রিত করেছেন। সেখানে তিনি কিতাবটির ভূমিকায় উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্ভরযোগ্য মতটি শুদ্ধ বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সাথে যোগ করেছেন কিছু অতিরিক্ত তথ্য, টীকা ও সূক্ষ্ম গবেষণা।
আমি যখন ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজহাব অনুযায়ী রচিত একটি ফিকহ গ্রন্থের খেদমত করছি, তখন আমি নিজের কর্তব্য মনে করেছি যে, এর শুরুতে একটি গবেষণামূলক ভূমিকা যুক্ত করব। সেখানে আমি ইমাম আবু হানিফা নুমান-এর কিছু ফযিলত এবং কীভাবে তাঁর মাজহাব সংকলিত হয়েছে তা উল্লেখ করব। সেই সাথে হানাফি মাজহাবের ফকিহগণের স্তরবিন্যাস (তবকাত), মাসআলার প্রকারভেদ এবং ‘মুখতাসারুল কুদুরি’ সম্পর্কে আলোচনা থাকবে। কেননা এটিই সেই মূল ভিত্তি যার ওপর নির্ভর করে ‘আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ’-এর লেখক এর ইখতিলাফি (মতভেদপূর্ণ) মাসআলাগুলোর ওপর টীকা প্রদান করেছেন, যা কিতাবটির প্রবেশদ্বার স্বরূপ।
অতঃপর আমি এই ভূমিকার পর কিতাবটি নিয়ে একটি অধ্যয়ন যুক্ত করেছি এবং একে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি শায়খ কাসিম ইবন কুতলুবুগার একটি বিস্তৃত জীবনী তুলে ধরেছি এবং ওলামায়ে কেরামের মাঝে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান উল্লেখ করেছি। পাশাপাশি তাঁর রচিত গ্রন্থ ও পুস্তিকাসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।
অতঃপর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি ‘আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ’ কিতাবের একটি ইলমি বা তাত্ত্বিক পর্যালোচনা। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে; প্রথম অনুচ্ছেদ: ‘তাসহিহ’ কিতাবটির গুরুত্ব, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হানাফি মাজহাবে ‘তারজিহ’ (প্রাধান্য দান)-এর মাসআলা প্রসঙ্গে, এবং তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর কিতাবে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أما الفصل الثالث فهو دراسة وصفيّة لكتاب "التصحيح والترجيح"، وقد بحثت فيه الأمور التالية: تسمية الكتاب، تاريخ تأليفه، وصف النسخ المخطوطة المعتمدة في التحقيق، وأخيرًا، عملي في التحقيق. .
أسأل الله تبارك وتعالى القَبول والتوفيق والسّداد، والحمد لله أوّلًا وآخرًا.
وكتبه:
ضياء يونس يونس
لالا - البقاع - لبنان
dyyb@maktoob.com
1422 هـ / 2001 م
তৃতীয় পরিচ্ছেদটি হলো "আত-তাসহিহ ওয়াত-তারজিহ" গ্রন্থের একটি বর্ণনামূলক অধ্যয়ন, এতে আমি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করেছি: গ্রন্থের নামকরণ, এর রচনার ইতিহাস, তাহকিকে (সম্পাদনায়) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং পরিশেষে, তাহকিকে আমার কর্মপদ্ধতি। .
আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট কবুলিয়াত, তৌফিক এবং সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি; আর আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন:
জিয়া ইউনুস ইউনুস
লালা - আল-বিকা - লেবানন
dyyb@maktoob.com
১৪২২ হিজরি / ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المدخل-
الإمام أبو حنيفة، وسنده في العلم:يقول التابعي الجليل مسروق بن الأجدع رحمه الله: "شاممت أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدت علمهم انتهى إلى سِتّة: عمر وعليّ وعبد الله ومعاذ وأبي الدرداء وزيد بن ثابت، ثم شاممت السّتّة فوجدت علمهم انتهى إلى علي وعبد الله. ."
(1).
وعبد الله، هو ابن مسعود رضي الله عنه الذي قال فيه عمر بن الخطاب رضي الله عنه عندما أرسله إلى الكوفة: "إني قد بعثت إليكم بعمار بن ياسر أميرًا، وعبد الله بن مسعود معلِّمًا ووزيرًا. . فاقتدوا بهما واسمعوا قولهما، وقد آثرتكم بعبد الله على نفسي"
(2).
ولقد عني ابن مسعود بتفقيه أهل الكوفة وتعليمهم القرآن منذ أن بُنيت تلك المدينة سنة: (17 هـ)، إلى أواخر خلافة عثمان رضي الله عنه، عناية لا مزيد عليها، إلى أن امتلأت الكوفة بالقرّاء والفقهاء والمحدّثين، بحيث أبلغ بعض ثقات أهل العلم
(3) عدد من تتلمذ على يديه نحو أربعة آلاف عالم وتلميذ. . حتى إن علي بن أبي طالب رضي الله عنه لما انتقل إلى الكوفة سُرّ من كثرة فقهائها وقال: "رحم الله ابن أمِّ عبد، قد ملأ هذه القرية علمًا
(4) ".
وكان من أبرز فقهاء الكوفة من التابعين: علقمة بن قيس النَّخَعي المتوفى سنة 62 هـ، قال عنه ابن مسعود رضي الله عنه: "لا أعلم شيئًا إلّا وعلقمة يعلمه"
(5)، وإن مِن أبرز مَن تفقه على علقمة: إبراهيم بن يزيد النخعي، العالم التابعي الإمام،
--------------------------------------------
ভূমিকা-
ইমাম আবু হানিফা এবং ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সনদ:মহান তাবিঈ মাসরূক ইবনুল আজদা' (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের সংস্পর্শে এসেছি এবং তাঁদের ইলমকে ছয়জন ব্যক্তির নিকট সমাপ্ত হতে দেখেছি: উমর, আলী, আব্দুল্লাহ, মুআয, আবু দারদা এবং যায়দ ইবনে সাবিত। অতঃপর আমি এই ছয়জনের সান্নিধ্য লাভ করেছি এবং তাঁদের ইলমকে আলী ও আব্দুল্লাহর নিকট সমাপ্ত হতে দেখেছি।"
(১)।
আর আব্দুল্লাহ হলেন ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যাঁর সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে কুফায় পাঠানোর সময় বলেছিলেন: "আমি আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে আমির হিসেবে এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে শিক্ষক ও উজির হিসেবে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি। সুতরাং তোমরা তাঁদের অনুসরণ করো এবং তাঁদের কথা শোনো। আর আমি আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে নিজের ওপর তোমাদের অগ্রাধিকার দিয়েছি"
(২)।
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ১৭ হিজরি সনে সেই শহর নির্মাণের সময় থেকে শুরু করে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের শেষ সময় পর্যন্ত কুফাবাসীদের ফিকহ শিক্ষা দেওয়া এবং কুরআন শিক্ষা দেওয়ার প্রতি চরম যত্নশীল ছিলেন, যার কোনো তুলনা হয় না। এমনকি কুফা কারী, ফকিহ এবং মুহাদ্দিসদের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে নির্ভরযোগ্য এক বিশেষজ্ঞ
(৩) তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রায় চার হাজার আলেম ও ছাত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন কুফায় স্থানান্তরিত হলেন, তখন সেখানকার ফকিহদের আধিক্য দেখে আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "আল্লাহ ইবনে উম্মে আবদ (ইবনে মাসউদ)-এর ওপর রহম করুন, তিনি এই জনপদকে ইলম দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন
(৪)"।
তাবিঈদের মধ্যে কুফার অন্যতম প্রধান ফকিহ ছিলেন আলকামা ইবনে কায়স আন-নাখায়ি (মৃত্যু: ৬২ হিজরি), যাঁর সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমি এমন কিছু জানি না যা আলকামা জানে না"
(৫)। আর আলকামার নিকট ফিকহ অর্জনকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলেন: ইব্রাহিম ইবনে ইয়াযিদ আন-নাখায়ি, যিনি একজন আলেম, তাবিঈ এবং ইমাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المتوفى سنة 96 هـ، الذي قيل فيه
(1): "إنه ما ترك أحدًا أعلم أو أفقه منه". وكان الفقيه المجتهد حماد بن مسلم بن يزيد (- 120 هـ) من أخص تلامذة إبراهيم النخعي، بل هو أنبلهم وأفقههم وأقيسهم وأبصرهم بالمناظرة والرأي
(2). ولقد لازم الإمام أبو حنيفة رحمه الله تعالى، هذا الإمام الجليل - حمادًا - ثماني عشرة سنة
(3) فاستفاد من علمه وأدبه الكثير.
قال الذهبي في "سير أعلام النبلاء"
(4): "فأفقه أهل الكوفة: علي وابن مسعود، وأفقه أصحابهما: علقمة، وأفقه أصحابه: إبراهيم، وأفقه أصحاب إبراهيم: حمّاد، وأفقه أصحاب حماد: أبو حنيفة"!.
وفي تاريخ بغداد
(5) للخطيب البغدادي، بسنده إلى أبي حنيفة قال: "دخلت على أبي جعفر أمير المؤمنين، فقال لي: يا أبا حنيفة، عمّن أخذت العلم؟ قال: قلت عن حماد عن إبراهيم عن عمر بن الخطّاب، وعليّ بن أبي طالب، وعبد الله بن مسعود، وعبد الله بن عباس، قال: فقال أبو جعفر: بخ بخ، استوثقت ما شئت يا أبا حنيفة. .".
وأبو حنيفة هو: النُّعْمان بن ثابت بن المرزُبان، الإمام الأعظم والعلامة الأشهر، أحد كبار المجتهدين في عصر التابعين، ولد في الكوفة سنة: ثمانين، وتوفي في بغداد سنة: مئة وخمسين، مناقبه كثيرة وفضائله جليلة، وأقوال العلماء في مدحه وبيان مكانته وحسن سيرته. بما يصعب حصره جدًّا، بل إنّ الكتب والدراسات التي عنيت بشأنه لا زالت تتوالى حتى اليوم.
يقول عبد الله بن داود الخُرَيْبي رحمه الله: "يجب على أهل الإسلام أن يدعوا الله لأبي حنيفة في صلاتهم! وذَكَر حفظه عليهم السنن والفقه"
(6).
--------------------------------------------
৯৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী, যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে
(১): "নিশ্চয়ই তিনি নিজের পেছনে এমন কাউকে রেখে যাননি যে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী বা অধিক ফকীহ।" ফকীহ মুজতাহিদ হাম্মাদ বিন মুসলিম বিন ইয়াজিদ (মৃত্যু ১২০ হিজরি) ছিলেন ইব্রাহিম আন-নাখায়ীর বিশেষ ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, বরং তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অধিক উচ্চমর্যাদার অধিকারী, অধিক ফকীহ, কিয়াসে অধিক দক্ষ এবং বিতর্ক ও গবেষণালব্ধ রায়ের ক্ষেত্রে সর্বাধিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন
(২)। ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) এই মহান ইমাম—হাম্মাদের—সান্নিধ্যে আঠারো বছর অতিবাহিত করেছেন
(৩) এবং তাঁর ইলম ও আদব থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন।
আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেন
(৪): "কুফাবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক ফকীহ হলেন: আলী এবং ইবনে মাসউদ; তাঁদের উভয়ের সাথীদের মধ্যে সর্বাধিক ফকীহ: আলকামা; তাঁর সাথীদের মধ্যে সর্বাধিক ফকীহ: ইব্রাহিম; ইব্রাহিমের সাথীদের মধ্যে সর্বাধিক ফকীহ: হাম্মাদ; আর হাম্মাদের সাথীদের মধ্যে সর্বাধিক ফকীহ হলেন: আবু হানিফা!"।
খতিব বাগদাদীর ‘তারিখে বাগদাদ’ গ্রন্থে
(٥) তাঁর নিজস্ব সনদে আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি আমিরুল মুমিনীন আবু জাফরের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবু হানিফা, আপনি কার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন? তিনি বললেন: আমি বললাম—হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব, আলী বিন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে। তিনি (আবু হানিফা) বলেন: তখন আবু জাফর বললেন: সাবাশ সাবাশ! হে আবু হানিফা, আপনি অত্যন্ত মজবুত ও নির্ভরযোগ্য উৎস আঁকড়ে ধরেছেন।"
আর আবু হানিফা হলেন: নুমান বিন সাবিত বিন মারজুবান, ইমামে আযম এবং সুপ্রসিদ্ধ আল্লামা, তাবেয়ীদের যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ। তিনি আশি হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং একশত পঞ্চাশ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বহুবিধ গুণাবলী ও মহান মর্যাদা রয়েছে। তাঁর প্রশংসা, সুউচ্চ অবস্থান এবং সুন্দর জীবনচরিত বর্ণনায় উলামায়ে কেরামের উক্তি এত অধিক যে তা গণনা করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। বরং তাঁর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ ও গবেষণামূলক কাজ আজও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে।
আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মুসলিমদের জন্য উচিত হলো তাদের সালাতে আবু হানিফার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা! আর তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য তাঁর সুন্নাহ ও ফিকহ সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করেন"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
-
تلاميذ الإمام أبي حنيفة:قال الإمام أبو المؤيد الخُوَارزمي، في مقدمة كتابه "جامع المسانيد"
(1) بسنده إلى قاضي القضاة أبي بكر عتيق بن داود اليماني رحمه الله تعالى أنه قال - وهو يذكر مناقب أبي حنيفة -: "هو إمام الأئمة وسراج الأمة ضخم الدَّسِيعَة
(2)، السابق إلى تدوين الشريعة، ثم أيده الله بالتوفيق والعصمة فجمع له من الأصحاب والأئمة عصمة منه تعالى لهذه الأمة ما لم يجتمع في عصر من الأعصار في الأطراف والأقطار.
منهم ذو الفقه والدراية المعتَرف له بعلم الحديث والرواية، إمام المسلمين وقاضي قضاة المؤمنين: أبو يوسف يعقوب بن إبراهيم الأنصاري، رحمه الله تعالى.
ومنهم ذو الفهم والبيان، الماهر في علمَي الفقه واللسان، العالم الرباني: محمّد بن الحسن الشيباني، رحمه الله تعالى.
ومنهم ذو الذكاء الباهر والعلم الزاهر: زُفَر بن الهذيل التميمي العَنْبري.
ومنهم الفاضل النزيه والكامل الفقيه: الحسن بن زياد اللؤلؤي، رحمه الله.
ومنهم الفقيه البصير، المقرّ له بالتفسير، الورع الفصاح: وكيع بن الجرّاح.
ومنهم الفقيه الكامل، الماجد الورع الزاهد: عبد الله بن المبارك المروزي.
ومنهم أزهد الأئمة، وراهب هذه الأمة: داود بن نصير الطائي رحمه الله.
ومنهم إمام أئمة حديث النبي: حفص بن غياث النخعي، رحمه الله تعالى.
ومنهم الإمام المعظم: والعالم المقدم: محمد بن زكريا بن أبي زائدة.
ومنهم: الإمام ابن الإمام حمّادُ بن أبي حنيفة، ويوسف بن خالد السمتي، وعافية بن يزيد الأودي، وحبان، ومندل، ابنا علي، وعلي بن مسهر، والقاسم بن معن بن عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود، وأسد بن عمرو البجلي قاضي واسط، ونوح بن أبي مريم الجامع، وغيرهم ممن يطول ذكرهم، رضي الله عنهم ".
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফার ছাত্রগণ:ইমাম আবুল মুয়ায়্যাদ আল-খাওয়ারিজমি তাঁর "জামেউল মাসানিদ" গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর সনদে কাজিউল কুজাত আবু বকর আতীক ইবনে দাউদ আল-ইয়ামানি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইমাম আবু হানিফার গুণাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি ইমামদের ইমাম এবং উম্মতের আলোকবর্তিকা, অত্যন্ত দানশীল, শরীয়ত সংকলনে অগ্রগামী। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাওফিক ও সুরক্ষা দ্বারা সাহায্য করেছেন এবং তাঁর কাছে এমন একদল সাথী ও ইমামকে একত্রিত করেছেন, যা এই উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ সুরক্ষা স্বরূপ, যা পৃথিবীর কোনো প্রান্তে বা কোনো যুগে সচরাচর দেখা যায়নি।
তাঁদের মধ্যে প্রজ্ঞা ও সূক্ষ্মদর্শিতার অধিকারী, হাদীস ও বর্ণনার জ্ঞানে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব, মুসলিমদের ইমাম এবং মুমিনদের প্রধান বিচারপতি হলেন: আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ)।
তাঁদের মধ্যে প্রখর বোধশক্তি ও বাগ্মিতার অধিকারী, ফিকহ ও ভাষাতত্ত্ব উভয় শাস্ত্রেই নিপুণ, রব্বানি আলেম হলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানি (রাহিমাহুল্লাহ)।
তাঁদের মধ্যে বিস্ময়কর মেধা ও প্রদীপ্ত জ্ঞানের অধিকারী হলেন: জুফার ইবনুল হুযায়েল আল-তামিমি আল-আনবারি।
তাঁদের মধ্যে অতি গুণী, নিষ্কলুষ ও পূর্ণাঙ্গ ফকিহ হলেন: হাসান ইবনে যিয়াদ আল-লু’লুয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)।
তাঁদের মধ্যে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ, তাফসিরশাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত, পরহেযগার ও সুবক্তা হলেন: ওয়াকি ইবনুল জাররাহ।
তাঁদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফকিহ, মহানুভব, পরহেযগার ও দুনিয়াবিমুখ হলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযি।
তাঁদের মধ্যে ইমামদের মাঝে সবচেয়ে বেশি দুনিয়াবিমুখ এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ আবিদ হলেন: দাউদ ইবনে নুসায়ের আত-তয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)।
তাঁদের মধ্যে নববী হাদীসের ইমামদের ইমাম হলেন: হাফস ইবনে গিয়াস আন-নাখয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)।
তাঁদের মধ্যে সম্মানিত ইমাম এবং অগ্রগণ্য আলেম হলেন: মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যাইদাহ।
তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: ইমামের পুত্র ইমাম হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা, ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি, আফিয়া ইবনে ইয়াজিদ আল-আওদি, হিব্বান ও মান্দাল (আলীর দুই পুত্র), আলী ইবনে মুসহির, কাসেম ইবনে মা’ন ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ওয়াসিতের বিচারপতি আসাদ ইবনে আমর আল-বাজালি, নূহ ইবনে আবি মারইয়াম আল-জামি এবং আরও অনেকে যাঁদের নাম উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
-
تدوين مذهب أبي حنيفة:حدّث الإمام الطَّحاوي بسنده إلى أسد بن الفرات أنه قال: "كان أصحاب أبي حنيفة الذين دوّنوا الكتب أربعين رجلًا، فكان في العشرة المتقدمين: أبو يوسف، وزفر بن الهذيل، وداود الطائي، وأسد بن عمرو، ويوسف بن خالد السمتي، ويحيى بن زكريا بن أبي زائدة، وهو الذي كان يكتبها لهم ثلاثين سنة"
(1).
وعن المغيرة بن حمزة: "كان أصحاب أبي حنيفة الذين دونوا معه الكتب: أربعين رجلًا كبراء الكبراء"
(2).
وقال الموفق المكي
(3): "وضع أبو حنيفة - رحمه الله تعالى - مذهبه شورى بينهم، لم يستبد فيه بنفسه دونهم، اجتهادًا منه في الدين، ومبالغةً في النصيحة لله ورسوله والمؤمنين، فكان يلقي مسألة مسألة، يقلّبهم ويسمع ما عندهم ويقول ما عنده، ويناظرهم شهرًا أو أكثر من ذلك حتى يستقرّ أحد الأقوال فيها، ثم يثبتها القاضي أبو يوسف في الأصول"
(4).
وقال أسد بن عمرو: "كانوا يختلفون عند أبي حنيفة في جواب المسألة، فيأتي هذا بجواب وهذا بجواب، ثم يرفعونها إليه ويسألونه عنها، فيأتي الجواب من كثب - أي من قرب -، وكانوا يقيمون في المسألة ثلاثة أيام ثم يكتبونها في الديوان"
(5).
وقال يحيى بن معين، عن الفضل بن دكين، سمعت زفر يقول: "كنا نختلف إلى أبي حنيفة ومعنا أبو يوسف ومحمد بن الحسن، فكنا نكتب عنه، قال زفر: فقال يومًا أبو حنيفة لأبي يوسف: ويحك يا يعقوب لا تكتب كل ما تسمع مني فإني قد
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফার মাযহাব সংকলন:ইমাম তাহাবি তাঁর সনদে আসাদ ইবনে ফুরাত থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আবু হানিফার যে সকল সঙ্গী কিতাবসমূহ সংকলন করেছিলেন তারা সংখ্যায় ছিলেন চল্লিশজন। তাদের মধ্যে অগ্রবর্তী দশজনের মধ্যে ছিলেন: আবু ইউসুফ, যুফার ইবনুল হুযাইল, দাউদ আত-তাঈ, আসাদ ইবনে আমর, ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি এবং ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যাইদাহ, যিনি তিরিশ বছর ধরে তাদের হয়ে সেগুলো লিখতেন"
(১)।
মুগীরা ইবনে হামযাহ থেকে বর্ণিত: "আবু হানিফার যে সকল সঙ্গী তাঁর সাথে কিতাবসমূহ সংকলন করেছিলেন তারা ছিলেন চল্লিশজন শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব"
(২)।
মুওয়াফ্ফাক আল-মাক্কী
(৩) বলেছেন: "আবু হানিফা -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর মাযহাবকে নিজেদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিলেন। দ্বীনের ব্যাপারে ইজতিহাদ হিসেবে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের উপদেশের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার পরাকাষ্ঠা হিসেবে তিনি অন্যদের বাদ দিয়ে একাই সিদ্ধান্ত নিতেন না। তিনি একটি একটি করে মাসআলা পেশ করতেন, তাদের মতামত নিতেন, তাদের কাছে যা আছে তা শুনতেন এবং তাঁর কাছে যা আছে তাও ব্যক্ত করতেন। তিনি তাদের সাথে এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে বিতর্ক করতেন যতক্ষণ না সে বিষয়ে কোনো একটি অভিমত সুপ্রতিষ্ঠিত হতো। এরপর বিচারক আবু ইউসুফ তা মূলনীতিসমূহে (উসূল) লিপিবদ্ধ করতেন"
(৪)।
আসাদ ইবনে আমর বলেন: "তারা আবু হানিফার নিকট মাসআলার উত্তরের বিষয়ে মতভেদ করতেন। এই ব্যক্তি এক উত্তর নিয়ে আসতেন এবং অন্যজন অন্য উত্তর নিয়ে আসতেন। এরপর তারা তা তাঁর কাছে পেশ করতেন এবং এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন। তখন তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উত্তর প্রদান করতেন। তারা একটি মাসআলার ওপর তিন দিন পর্যন্ত অবস্থান করতেন, এরপর তারা তা সংকলনে লিপিবদ্ধ করতেন"
(৫)।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ফাদল ইবনে দুকাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি যুফারকে বলতে শুনেছি: "আমরা আবু হানিফার কাছে যাতায়াত করতাম এবং আমাদের সাথে আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থাকতেন। আমরা তাঁর থেকে লিখে নিতাম। যুফার বলেন: একদিন আবু হানিফা আবু ইউসুফকে বললেন: হে ইয়াকুব, তোমার জন্য আক্ষেপ! আমি যা বলি তার সবই লিখো না, কারণ আমি হয়তো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أرى الرأي اليوم وأتركه غدًا، وأرى الرأي غدًا وأتركه في غده"
(1) اهـ. قال الكوثري بعد هذا النقل: "انظر كيف كان ينهى أصحابه عن تدوين المسائل إذا تعجّل أحدهم بكتابتها قبل تمحيصها كما يجب، فإذا أحطتَ خبرًا بما سبق، علمتَ وجاهة ما يقوله الموفق المكي أنه وضع أبو حنيفة مذهبه شورى بينهم. ."، إلخ كما سبق.
وهكذا، يمكن لنا أن نستوحي من هذه النقول أن الاجتهاد في المذهب الحنفي لم يكن اجتهادًا فرديًّا لإمام المذهب، إنما كان اجتهادًا جماعيًّا، كثرت فيه الأقوال، ودونت فيه الآراء عن الأصحاب إلى جانب آراء إمامهم، وهو ما يؤكد فكرة "الشورى" في تدوين المذهب. يقول الشيخ وهبي سليمان غاوجي
(2): "وإنها - لَعَمر الله - دراسة منهجية حرّة شريفة، يظهر فيها احترام الآراء، ويشتغل فيها عقل الحاضرين من التلامذة، ليُدْلي كلٌّ بدلوه، ويذكر ما يرى لرأيه من حجّة، ثم يعقّب هو على آرائهم بما يدفعها بالنقل أو الرأي، ويصوب صواب أهل الصواب ويؤيده بما عنده من أدلة. . فإذا تقررت مسألة من مسائل الفقه على تلك الطريقة كان من العسير نقدها فضلًا عن نقضها، والله الهادي الموفق إلى الخير".
ولقد كان أحسن أصحاب أبي حنيفة تدوينًا لأقواله واجتهاداته من بعده: محمد بن الحسن الشيباني رحمه الله تعالى، حيث صنف ما عرف بكتب ظاهر الرواية، وقد ذكر فيها رأيه، ورأي أبي يوسف، بعد قول أبي حنيفة
(3)، ثم توجّه المشايخ إلى تلك التصانيف تلخيصًا وتقريبًا، وتخريجًا وتأسيسًا. .
-
طبقات الفقهاء في المذهب الحنفي:لا بد للمفتي المقلِّد أن يعلم حال من يفتي بقوله، حتى يكون على بصيرة وافية تمكنه من التمييز بين القائلَين المتخالفين، وقدرة كافية في الترجيح بين القولين المتعارضين، "ولحاجته إلى معرفة من اعتبر قوله في انعقاد الإجماع في محل الاتفاق والاجتماع، ويعتد به في الخلاف في محل الافتراق والاختلاف، وافتقاره إليه في الترجيح والإعمال عند تعارض الأقوال بقول أعلَمِهم وأورعهم في
--------------------------------------------
"আমি আজ একটি মত পোষণ করি এবং আগামীকাল তা ত্যাগ করি, আবার আগামীকাল একটি মত পোষণ করি এবং তার পরের দিন তা ত্যাগ করি"
(১)। এই উদ্ধৃতির পর আল-কাওসারী বলেন: "লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি তাঁর সঙ্গীদের মাসআলাসমূহ লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করতেন যদি কেউ যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের আগেই সেগুলো লিখতে তাড়াহুড়ো করত। আপনি যখন পূর্বোক্ত বিষয়গুলো পূর্ণরূপে অবগত হবেন, তখন আল-মুয়াফফাক আল-মাক্কির কথার যৌক্তিকতা বুঝতে পারবেন যে, আবু হানিফা তাঁর মাযহাবকে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন...", ইত্যাদি যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে।
এভাবে এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে আমরা এই ধারণা লাভ করতে পারি যে, হানাফী মাযহাবে ইজতিহাদ কেবল মাযহাবের ইমামের একক ইজতিহাদ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সম্মিলিত ইজতিহাদ। এতে মতামতের প্রাচুর্য ছিল এবং ইমামের মতের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গীদের মতামতও লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। এটি মাযহাব লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে "পরামর্শ" বা শুরার ধারণাকেই সুদৃঢ় করে। শেখ ওয়াহবি সুলায়মান গাওজি বলেন
(২): "আল্লাহর কসম, এটি ছিল একটি সুশৃঙ্খল, মুক্ত এবং মহৎ শিক্ষা পদ্ধতি, যেখানে মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেত এবং উপস্থিত ছাত্রদের মেধার বিকাশ ঘটত, যাতে প্রত্যেকেই তার নিজস্ব মতামত তুলে ধরতে পারে এবং নিজের মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করতে পারে। এরপর তিনি (ইমাম) তাঁদের মতামতের ওপর মন্তব্য করতেন এবং দলিল বা যুক্তির মাধ্যমে তা খণ্ডন করতেন, অথবা সত্যপন্থীদের সঠিক মতকে সত্যায়ন ও সমর্থন করতেন এবং তাঁর নিকট থাকা দলিল দিয়ে তা সুদৃঢ় করতেন। যখন এই পদ্ধতিতে ফিকহের কোনো মাসআলা স্থির করা হতো, তখন তার সমালোচনা করা তো বটেই, বরং তা খণ্ডন করাও অত্যন্ত কঠিন ছিল। আল্লাহই হিদায়াত দানকারী এবং কল্যাণের তৌফিক দাতা।"
আবু হানিফার পরে তাঁর বক্তব্য ও ইজতিহাদসমূহ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন: মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শায়বানী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)। তিনি সেই কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন যা 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' নামে পরিচিত। সেখানে তিনি আবু হানিফার মত উল্লেখ করার পর নিজের মত এবং আবু ইউসুফের মত উল্লেখ করেছেন
(৩)। পরবর্তীতে মাশায়েখগণ (আলেমগণ) সেই সংকলনগুলোর সংক্ষিপ্তসার তৈরি, সহজবোধ্য করা, মাসআলার উদ্ভাবন এবং মূলনীতি নির্ধারণের দিকে মনোনিবেশ করেন।
-
হানাফী মাযহাবে ফকিহগণের স্তরবিন্যাস:একজন মুকাল্লিদ মুফতির জন্য আবশ্যক হলো তিনি যাঁর মতানুসারে ফতোয়া দিচ্ছেন তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানা, যাতে তিনি বিবাদমান দুই প্রবক্তার মধ্যে পার্থক্য করার পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন এবং দুটি পরস্পরবিরোধী মতের মধ্যে প্রাধান্য দেওয়ার যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেন। "ঐক্যমত্যের ক্ষেত্রে কার বক্তব্য ইজমা হিসেবে গণ্য হবে এবং মতভেদের ক্ষেত্রে কার বক্তব্য বিবেচ্য হবে তা জানার প্রয়োজনে এবং মতামতের বিরোধের সময় তাঁদের মধ্যে যিনি অধিক জ্ঞানী ও পরহেজগার তাঁর মত গ্রহণ ও আমল করার মাধ্যমে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأحوال"
(1)، إلا أنه لم يُنقل عن المتقدمين تقسيم الفقهاء إلى مراتب وطبقات، وإن كان البعض قد وُصف بالاجتهاد في المذهب، أو بأن له تخريجات أو ترجيحات. .
والتقسيم الذي شاع وتداولته كتب الحنفية هو الذي وضعه أحمد بن سليمان الشهير بابن كمال باشا
(2) في القرن العاشر الهجري، وتبعه الحَنّائي علي بن أمر الله
(3) في كتابه "طبقات الحنفية" وقال فيه
(4): "كذا حقّقه بعض الفضلاء من المتأخرين"، ثم اعتمده غير واحد من بعد، من أبرزهم العلامة ابن عابدين
(5) رحمه الله في رسالته في رسم المفتي
(6). .
إلا أن هذا التقسيم لم يسلم من النقد فقد اعتُرض عليه من وجوه، وسنذكر أولًا كلام ابن كمال باشا بحروفه، ثم نورد بعض ما تُعقِّب به عليه.
قال رحمه الله:
(7) "الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين. أعلم أن الفقهاء على سبع طبقات:
الطبقة الأولى: طبقة المجتهدين في الشرع، كالأئمة الأربعة ومن سلك مسلكهم في تأسيس قواعد الأصول واستنباط أحكام الفروع من الأدلة الأربعة الكتاب والسنة والإجماع والقياس، على حسب تلك القواعد من غير تقليد أحد في الفروع والأصول.
الثانية: طبقة المجتهدين في المذهب، كأبي يوسف ومحمد وسائر أصحاب أبي حنيفة رحمهم الله القادرين على استخراج الأحكام عن الأدلة المذكورة على حسب القواعد التي قررها أستاذهم أبو حنيفة رحمة الله عليه وعيَّنها، فإنهم وإن خالفوه في بعض الأحكام الفرعية لكنهم يقلدونه في قواعد الأصول، وبه يمتازون
--------------------------------------------
অবস্থা"
(১), তবে পূর্বসূরীদের থেকে ফকিহদের বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণিতে বিভক্ত করার বিষয়টি বর্ণিত হয়নি, যদিও কেউ কেউ মাযহাবের মধ্যে ইজতিহাদ করার গুণাবলী সম্পন্ন বা যাদের স্বতন্ত্র তাখরিজ (উপসংহার) বা তারজিহ (প্রাধান্য দান) রয়েছে বলে বর্ণিত হয়েছেন। .
হানাফি কিতাবসমূহে যে বিভাজনটি প্রসিদ্ধ হয়েছে এবং প্রচলিত রয়েছে, তা হিজরি দশম শতাব্দীতে ইবনে কামাল পাশা
(২) হিসেবে পরিচিত আহমদ ইবনে সুলাইমান কর্তৃক প্রণীত। এবং হান্নায়ী আলী বিন আমরাহ
(৩) তাঁর "তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ" গ্রন্থে তাঁকে অনুসরণ করেছেন এবং সেখানে বলেছেন
(৪): "এভাবেই পরবর্তী যুগের কিছু বিশিষ্ট আলেম এটিকে যাচাই করেছেন"। অতঃপর পরবর্তীকালে একাধিক আলেম এর ওপর নির্ভর করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা ইবনে আবিদিন
(৫) (রহ.) তাঁর "রাসমুল মুফতি"
(৬) নামক রিসালায়। .
তবে এই বিভাজনটি সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়, বিভিন্ন দিক থেকে এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। আমরা প্রথমে ইবনে কামাল পাশার বক্তব্যটি হুবহু উল্লেখ করব, অতঃপর এর ওপর যে সকল পর্যালোচনা করা হয়েছে তার কিছু বর্ণনা করব।
তিনি (রহ.) বলেছেন:
(৭) "সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। জেনে রাখুন, ফকিহগণ সাতটি স্তরে বিভক্ত:
প্রথম স্তর: শরিয়তের মুজতাহিদগণের স্তর। যেমন চার ইমাম এবং যাঁরা উসূলের (মূলনীতি) নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করা এবং চারটি দলিল—কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস—থেকে সেই নিয়মাবলি অনুযায়ী শাখা-প্রশাখার আহকাম (বিধান) উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, উসূল বা ফুরু' (শাখা) কোনো ক্ষেত্রেই কারো অন্ধ অনুকরণ (তাকলিদ) না করে।
দ্বিতীয়: মাযহাবের অভ্যন্তরে মুজতাহিদগণের স্তর। যেমন আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং আবু হানিফা (রহ.)-এর অন্যান্য সহচরগণ, যাঁরা তাঁদের উস্তাদ আবু হানিফা (রহ.) কর্তৃক নির্ধারিত ও সুনির্দিষ্টকৃত নিয়মাবলির আলোকে উল্লিখিত দলিলসমূহ থেকে বিধান বের করতে সক্ষম। যদিও তাঁরা শাখা-প্রশাখার কিছু বিধানে তাঁর ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কিন্তু উসূলের নিয়মাবলির ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর অনুকরণ করেন, আর এ কারণেই তাঁরা স্বতন্ত্র
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عن المعارضين في المذهب ويفارقونهم كالشافعي ونظرائه المخالفين لأبي حنيفة رحمة الله عليه في الأحكام غير المقلدين له في الأصول.
الثالثة: طبقة المجتهدين في المسائل التي لا رواية فيها عن صاحب المذهب كالخصاف وأبي جعفر الطحاوي وأبي الحسن الكرخي وشمس الأئمة الحلوائي وشمس الأئمة السرخسي وفخر الإسلام البزدوي وفخر الدين قاضي خان وغيرهم، فإنهم لا يقدرون على المخالفة للشيخ لا في الفروع ولا في الأصول، لكنهم يستنبطون الأحكام في المسائل التي لا نص فيها عنه، على حسب أصول قررها ومقتضى قواعد بسطها.
الرابعة: طبقة أصحاب التخريج من المقلدين كالرازي وأصحابه، فإنهم لا يقدرون على الاجتهاد أصلًا، لكنهم لإحاطتهم بالأصول وضبطهم المآخذ يقدرون على تفصيل مجمل ذي وجهين وحكم مبهم محتمل لأمرين، منقول عن صاحب المذهب أو واحد من أصحابه المجتهدين، برأيهم ونظرهم في الأصول والمقايسة على أمثاله ونظائره من الفروع، وما وقع في بعض المواضع من الهداية من قوله: كذا في تخريج الكرخي وتخريج الرازي، من هذا القبيل.
الخامسة: طبقة أصحاب الترجيح من المقلِّدين، كأبي الحسين القُدُوري وصاحب الهداية وأمثالهما، وشأنهم تفضيل بعض الروايات على بعض آخر بقولهم: هذا أولى، وهذا أصح دراية، وهذا أصح رواية، وهذا أوفق للقياس، وهذا أرفق للناس.
السادسة: طبقة المقلدين القادرين على التمييز بين الأقوى والقوي والضعيف وظاهر المذهب وظاهر الرواية، والروايات النادرة كأصحاب المتون المعتبرة من المتأخرين كصاحب "الكنز" وصاحب "المختار" وصاحب "الوقاية" وصاحب "المجمع"، وشأنهم أن لا ينقلوا في كتبهم الأقوال المردودة والروايات الضعيفة.
السابعة: طبقة المقلدين الذين لا يقدرون على ما ذُكر، ولا يفرقون بين العجاف والسمين والشمال من اليمين، بل يجمعون ما يجدون، وهم كحاطب ليل فالويل لهم ولمن قلدهم كل الويل. والحمد لله أوّلًا وآخرًا" اهـ.
قال الإمام الكوثري رحمه الله
(1): ولم يصب ابن الكمال الوزير في ترتيب
--------------------------------------------
মাযহাবের বিরোধীদের থেকে এবং তাঁরা তাঁদের থেকে পৃথক, যেমন ইমাম শাফিয়ী এবং তাঁর সমমনাগণ, যাঁরা আহকামের (বিধানের) ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর বিরোধিতা করেন কিন্তু উসূলের (মূলনীতির) ক্ষেত্রে তাঁর মুকাল্লিদ নন।
তৃতীয়: সেই সব মাসআলাসমূহে মুজতাহিদগণের স্তর যেগুলোতে মাযহাবের ইমাম থেকে কোনো বর্ণনা নেই। যেমন খাসসাফ, আবু জাফর আত-তাহাবী, আবু হাসান আল-কারখী, শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানী, শামসুল আইম্মাহ আস-সারখসী, ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাবী, ফখরুদ দ্বীন কাজি খান এবং অন্যান্যরা। তাঁরা উসূল (মূলনীতি) কিংবা ফুরু (শাখা) কোনো ক্ষেত্রেই ইমামের বিরোধিতা করতে সক্ষম নন, কিন্তু তাঁরা সেই সব মাসআলাসমূহে বিধান উদ্ভাবন করেন যেগুলোতে ইমামের পক্ষ থেকে কোনো নস (সুস্পষ্ট বক্তব্য) নেই; আর তা করেন ইমামের নির্ধারিত উসূল এবং তাঁর বর্ণিত নিয়মনীতি অনুযায়ী।
চতুর্থ: মুকাল্লিদদের মধ্য থেকে আসহাবে তাখরীজ-এর স্তর, যেমন আল-রাযী এবং তাঁর সহচরগণ। তাঁরা মোটেও ইজতিহাদ করতে সক্ষম নন, কিন্তু উসূলের ওপর পূর্ণ দখল এবং মাখাযের (উৎস) যথাযথ ইলম থাকার কারণে তাঁরা ইমাম বা তাঁর মুজতাহিদ সাথীদের থেকে বর্ণিত কোনো অস্পষ্ট বা দ্বিমুখী মাসআলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন। তাঁরা এটি করেন উসূলের ওপর তাঁদের গবেষণা ও ফুরুজাতের সমজাতীয় মাসআলার ওপর কিয়াসের মাধ্যমে। হিদায়াহ গ্রন্থের কোনো কোনো স্থানে যে বলা হয়: 'কারখীর তাখরীজে এমন রয়েছে' বা 'রাযীর তাখরীজে এমন রয়েছে', তা এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত।
পঞ্চম: মুকাল্লিদদের মধ্য থেকে আসহাবে তারজীহ-এর স্তর, যেমন আবুল হুসাইন আল-কুদূরী এবং হিদায়াহ গ্রন্থের লেখক ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা। তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো এক বর্ণনাকে অন্য বর্ণনার ওপর প্রাধান্য প্রদান করা; যেমন তাঁদের এই উক্তিগুলো: 'এটি অধিক উত্তম', 'এটি দেরায়েত (যুক্তির) বিচারে অধিক সহীহ', 'এটি বর্ণনার বিচারে অধিক সহীহ', 'এটি কিয়াসের অধিক অনুকূল' কিংবা 'এটি মানুষের জন্য অধিক সহজতর'।
ষষ্ঠ: সেই সব মুকাল্লিদদের স্তর যাঁরা অধিক শক্তিশালী, শক্তিশালী ও দুর্বল বর্ণনার মাঝে এবং যাহিরে মাযহাব, যাহিরে রেওয়ায়েত ও বিরল বর্ণনার মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম। যেমন পরবর্তী যুগের নির্ভরযোগ্য 'মুতুন' (মূল গ্রন্থ) সম্বলিত কিতাবসমূহের লেখকগণ; যথা 'কানয', 'মুখতার', 'উইকায়াহ' এবং 'মাজমা' গ্রন্থের লেখকগণ। তাঁদের পদ্ধতি হলো তাঁরা তাঁদের কিতাবে প্রত্যাখ্যাত মত বা দুর্বল রেওয়ায়েতসমূহ উল্লেখ করেন না।
সপ্তম: সেই সব মুকাল্লিদদের স্তর যাঁরা উল্লেখিত কোনো বিষয়েই সক্ষম নন এবং তাঁরা দুর্বল ও সবল কিংবা ডানে ও বামের মাঝে পার্থক্য করতে পারেন না। বরং তাঁরা যা পান তা-ই সংগ্রহ করেন; তাঁরা রাতের বেলা কাঠ সংগ্রহকারীর মতো। সুতরাং ধ্বংস তাঁদের জন্য এবং চরম ধ্বংস তাঁদের জন্য যারা তাঁদের অনুসরণ করে। শুরু ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সমাপ্ত।
ইমাম আল-কাওসারী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন
(১): ইবনুল কামাল উযির এই বিন্যাসে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الطبقات ولا في توزيع الفقهاء عليها، وإن لقي استحسانًا من المقلِّدة بعده، وقد تعقبه الناقد العصامي الشهاب المَرْجاني
(1) في كتابه: "ناظورة الحق"، بهدم الأمرين - الترتيب والتوزيع معًا - فعاد الأمر إلى نصابه بتحقيقه، فجزاه الله عن العلم خيرًا".
ومما قاله الشيخ شهاب الدين المرجاني في رده رحمه الله: ". . ومهما تسامحنا معهم - ابن كمال ومن تبعه - في عدّ الفقهاء والمتفقهة على هذه المراتب السبع - وهو غير مسلم لهم - فلا يتخلصون من فحش الغلط والوقوع في الخطأ المفرط في تعيين رجال الطبقات وترتيبهم على هذه الدرجات"
(2). ثم أخذ يبيّن درجة العلماء الثلاثة أبي يوسف ومحمد وزفر في الاجتهاد وأنهم قد يخالفون أبا حنيفة في قواعد الأصول، وأن حالهم في الفقه إن لم يكن أرفع من مالك والشافعي وأمثالهما فليسوا بدونهما، وقال: غير أنهم لحسن تعظيمهم للأستاذ وفرط إجلالهم لمحله ورعايتهم لحقه، تشمروا على تنويه شأنه، وتوغلوا في انتصاره والاحتجاج لأقواله وروايتها للناس. . لاعتقادهم أنه أعلم وأورع وأحق للاقتداء به والأخذ بقوله، وأوثق للمفتي وأرفق للمستفتي. . ومن ذلك الوجه امتازوا عن المخالفين كالأئمة الثلاثة والأوزاعي وسفيان وأمثالهم، لا لأنهم لم يبلغوا رتبة الاجتهاد المطلق في الشرع، ولو أنهم أولعوا بنشر آرائهم بين الخلق وبثها في الناس والاحتجاج لها بالنص والقياس لكان كل ذلك مذهبا منفردا عن مذهب الإمام أبي حنيفة، مخالفًا له"
(3).
ثم انتقل المرجاني لمناقشة ابن كمال في تعيين رجال الطبقات على هذه الدرجات فقال: ثم إن قوله في الخصاف والطحاوي والكرخي إنهم لا يقدرون على مخالفة أبي حنيفة لا في الأصول ولا في الفروع ليس بشيء، فإن ما خالفوه فيه من المسائل لا يعد ولا يحصى، ولهم اختيارات في الأصول والفروع، وأقوال مستنبطة بالقياس والمسموع، واحتجاجات بالمنقول والمعقول، على ما لا يخفى على من تتبّع كتب الفقه والخلافيات والأصول. .
ثم إنه عدّ أبا بكر الرازي الجصّاص من المقلدين الذين لا يقدرون على
--------------------------------------------
স্তরসমূহ (তাবাকাত) বিন্যাসে বা এর অধীনে ফকিহদের বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ভিত্তি নেই, যদিও তাঁর পরবর্তী মুকাল্লিদদের কাছে এটি প্রশংসিত হয়েছিল। তবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সমালোচক শিহাব আল-মারজানি
(১) তাঁর কিতাব: "নাজুরাতুল হক"-এ এই উভয় বিষয়কে—অর্থাৎ বিন্যাস ও বণ্টন উভয়কেই—খন্ডন করে এর পিছু নিয়েছেন। ফলে তাঁর গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টি সঠিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। আল্লাহ তাঁকে ইলমের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
শেখ শিহাবউদ্দীন আল-মারজানি (রহ.) তাঁর খন্ডনমূলক বক্তব্যে যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "...আমরা যদি তাদের প্রতি—অর্থাৎ ইবন কামাল ও তাঁর অনুসারীদের প্রতি—উদারতা প্রদর্শন করে ফকিহ ও ফিকহচর্চাকারীদের এই সাতটি স্তরে গণনা করার বিষয়টি মেনেও নিই—যদিও এটি তাদের কাছে স্বীকৃত নয়—তবুও তারা এই স্তরগুলোর ব্যক্তিদের নির্ধারণ এবং এই ধাপগুলোতে তাদের বিন্যাস করার ক্ষেত্রে জঘন্য ভুল ও চরম ভ্রান্তি থেকে নিষ্কৃতি পাবে না"
(২)। এরপর তিনি তিন আলেম আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং যুফার (রহ.)-এর ইজতিহাদের মর্যাদা বর্ণনা করতে শুরু করেন এবং উল্লেখ করেন যে, তাঁরা মূলনীতিসমূহের (কাওয়ায়েদুল উসুল) ক্ষেত্রেও আবু হানিফা (রহ.)-এর বিরোধিতা করেছেন। ফিকহের ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থা যদি মালিক, শাফেয়ি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের চেয়ে উচ্চতর নাও হয়, তবে তাঁদের চেয়ে কমও নয়। তিনি বলেন: "তবে তাঁরা তাঁদের উস্তাদের প্রতি সুন্দর সম্মান প্রদর্শন, তাঁর মর্যাদার প্রতি অতিশয় শ্রদ্ধা এবং তাঁর হকের প্রতি লক্ষ্য রাখার কারণে তাঁর শান ও মান সমুন্নত করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন এবং তাঁর মতের সাহায্য করতে, তাঁর উক্তির সপক্ষে দলিল পেশ করতে এবং মানুষের কাছে তা বর্ণনা করতে গভীরভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ... কারণ তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, তিনি (আবু হানিফা) অধিক জ্ঞানী, অধিক পরহেযগার এবং অনুসরণের ও তাঁর কথা গ্রহণের জন্য অধিক হকদার; মুফতির জন্য অধিক নির্ভরযোগ্য এবং ফতোয়া অন্বেষণকারীর জন্য অধিক সহজতর। ... এই দিক থেকেই তাঁরা বিরোধিতাকারীদের থেকে—যেমন তিন ইমাম, আওজায়ি, সুফিয়ান এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে—স্বতন্ত্র হয়েছেন। এর কারণ এটা নয় যে, তাঁরা শরয়ি ইজতিহাদে মুতলাক (স্বতন্ত্র ইজতিহাদ)-এর স্তরে পৌঁছেননি। তাঁরা যদি সৃষ্টির মাঝে নিজেদের মতামত প্রচার ও প্রসারে এবং কুরআন-সুন্নাহর নস ও কিয়াসের মাধ্যমে সেগুলোর সপক্ষে দলিল পেশ করতে সচেষ্ট হতেন, তবে তা ইমাম আবু হানিফার মাযহাব থেকে পৃথক ও ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র মাযহাব হতো"
(৩)।
এরপর আল-মারজানি এই ধাপগুলোতে স্তরবিন্যাসের ব্যক্তি নির্ধারণের বিষয়ে ইবন কামালের পর্যালোচনায় অগ্রসর হন এবং বলেন: "এরপর খাসসাফ, তাহাবি এবং কারখি সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি যে—তাঁরা উসুল (মূলনীতি) বা ফুরু (শাখা মাসআলা) কোনো ক্ষেত্রেই আবু হানিফার বিরোধিতা করার ক্ষমতা রাখেন না—তা অসার কথা। কারণ তাঁরা যেসব মাসআলায় তাঁর বিরোধিতা করেছেন তা গণনা করে শেষ করা যাবে না। উসুল ও ফুরুতে তাঁদের নিজস্ব নির্বাচন (ইখতিয়ার) রয়েছে, কিয়াস ও শ্রুতির মাধ্যমে উদ্ভাবিত নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে এবং উদ্ধৃত ও যৌক্তিক দলিলের মাধ্যমে নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। যারা ফিকহ, ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) এবং উসুলের কিতাবগুলো অনুসন্ধান করেন, তাঁদের কাছে এটি গোপন নয়..."
এরপর তিনি আবু বকর আর-রাজি আল-জাসসাসকে এমন মুকাল্লিদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা সক্ষম নন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الاجتهاد أصلًا، وهو ظلم عظيم في حقه وتنزيل له عن رفيع محله وغض منه وجهل بيّن بجلالة شأنه في العلم. . ومن تتبع تصانيفه والأقوال المنقولة عنه عَلِم أن الذين عدهم من المجتهدين من شمس الأئمة ومن بعده كلهم عيال لأبي بكر الرازي. .
ثم إنه جعل القُدُوري وصاحب الهداية من أصحاب الترجيح، وقاضي خان من المجتهدين، مع تقدم القدوري على شمس الأئمة زمانًا وكونه أعلى منه كعبًا وأطول باعا. . وأما صاحب الهداية فكيف ينزل شأنه عن قاضي خان بمراتب؟ بل هو أحق منه بالاجتهاد وأثبت في أسبابه وألزم لأبوابه.
هذا ولم يحصل من بيانه فرق بين أهل الطبقة الخامسة والسادسة، وليت شعري بأي قياس قاسهم ووجد هذا التفاوت بينهم؟.
والحال أن العلم بهذه الكلية كالمتعذر بالنسبة إلى أجلّة الفقهاء وأئمة العلماء، فإنهم كالحلقة المفرغة لا يدرى أين طرفاها"
(1).
ونقل الإمام اللكنوي في مقدمة شرحه على الجامع الصغير تقسيم ابن كمال باشا وأعقبه بقوله: "وكذا ذكره ابن عمر الأزهري المصري المتوفى سنة تسع وسبعين وألف، في آخر كتابه: "الجواهر النفيسة شرح الدرة المنيفة في مذهب أبي حنيفة"، وكذا ذكره من جاء بعده مقلدًا له، إلا أن فيه أنظارًا شتّى من جهة إدخال من في الطبقة الأعلى والأدنى"، ثم نقل بعض كلام المرجاني في الرّدّ عليه
(2).
وناقش الشيخ محمد أبو زهرة رحمه الله تقسيم ابن كمال لفقهاء الحنفية واعترض عليه في عدد من النقاط، وقرر ما يلي:
"إن أبا يوسف ومحمدًا والأصحاب من طبقة المجتهد المطلق، وعليه فليس لهذه الطبقة التي مثّلت بهم من وجود في المذهب الحنفي.
إن الفرق بين الطبقتين الثالثة والرابعة فرق دقيق لا يكاد يستبين، ومن عدهما طبقة واحدة لا يعدو الحقيقة.
إن التفرقة بين الطبقة الخامسة (طبقة المرجّحين) وسابقتها، ليست واضحة، وإنه لكي تكون الأقسام متميزة غير متداخلة يجب حذف طبقة من هذه الطبقات
--------------------------------------------
এজতিহাদ থেকে তাকে বঞ্চিত করা মূলত তার হকের প্রতি এক বিরাট জুলুম, তার উচ্চ মর্যাদা থেকে তাকে নিচে নামানো, তাকে ছোট করা এবং ইলমের ময়দানে তার মহান শান সম্পর্কে স্পষ্ট অজ্ঞতা। যে ব্যক্তি তার গ্রন্থসমূহ এবং তার থেকে বর্ণিত বক্তব্যসমূহ অনুসন্ধান করবে সে জানতে পারবে যে, শামসুল আইম্মাহ এবং তার পরবর্তী যাদেরকে তিনি মুজতাহিদ হিসেবে গণ্য করেছেন, তারা সকলেই আবু বকর আল-রাযীর মুখাপেক্ষী।
অতঃপর তিনি কুদুরী ও হিদায়া গ্রন্থকারকে তারজীহকারীদের (আসহাবুত তারজীহ) স্তরে রেখেছেন এবং কাযী খান-কে মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথচ কুদুরী সময়ের বিচারে শামসুল আইম্মাহর অগ্রবর্তী ছিলেন এবং তার মর্যাদা ও দক্ষতা ছিল অনেক বেশি উন্নত ও দীর্ঘ। আর হিদায়া গ্রন্থকারের মর্যাদা কীভাবে কাযী খানের চেয়ে কয়েক স্তর নিচে নামিয়ে দেওয়া হলো? বরং তিনি কাযী খানের চেয়ে এজতিহাদের অধিক হকদার, এর উপকরণগুলোতে অধিক সুদৃঢ় এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলোতে অধিক সংলগ্ন।
এছাড়াও পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তরের ফকিহদের মাঝে তার বর্ণনায় কোনো পার্থক্য ফুটে ওঠেনি। আমার বুঝে আসে না, তিনি কোন মাপকাঠিতে তাদের পরিমাপ করেছেন এবং তাদের মাঝে এই ব্যবধান খুঁজে পেয়েছেন?
অথচ বাস্তবতা হলো, শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং ইমামগণের ক্ষেত্রে এই ধরনের সামগ্রিক শ্রেণীবিন্যাস জানা প্রায় অসম্ভব; কেননা তারা একটি অবিচ্ছিন্ন বৃত্তের মতো, যার প্রান্তদ্বয় কোথায় তা জানা যায় না"
(১)।
ইমাম লাখনভী তাঁর জামেউস সাগীর-এর শরহের ভূমিকায় ইবনে কামাল পাশার শ্রেণীবিন্যাস উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "অনুরূপভাবে ইবনে উমর আল-আযহারী আল-মিসরী (মৃত্যু ১০৭৯ হিজরি) তাঁর 'আল-জাওয়াহিরুন নাফিসা শরহুদ দুররাতিল মুনিফাহ ফী মাযহাবি আবী হানিফাহ' গ্রন্থের শেষে এটি উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তাঁর পরবর্তী যারা এসেছেন তারা তাঁর অনুসরণেই এটি উল্লেখ করেছেন। তবে উচ্চতর স্তরের ব্যক্তিকে নিম্ন স্তরে এবং নিম্ন স্তরের ব্যক্তিকে উচ্চ স্তরে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে এতে বিভিন্ন আপত্তির অবকাশ রয়েছে।" এরপর তিনি এর খণ্ডন হিসেবে মারজানির কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন
(২)।
শেখ মুহাম্মদ আবু যাহরা (রহিমাহুল্লাহ) হানাফি ফকিহদের বিষয়ে ইবনে কামালের শ্রেণীবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বেশ কিছু পয়েন্টে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সাব্যস্ত করেছেন:
"নিশ্চয়ই আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং ইমামের অন্যান্য সাথীগণ মুজতাহিদে মুতলাক স্তরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তারা যাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, হানাফি মাযহাবে সেই স্তরের কোনো অস্তিত্ব নেই।
তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম যা প্রায় অস্পষ্ট। যারা এই দুই স্তরকে এক স্তর হিসেবে গণ্য করেন, তারা সত্য থেকে দূরে নন।
পঞ্চম স্তর (তারজীহ দানকারী বা মুরজ্জিহিনদের স্তর) এবং এর পূর্ববর্তী স্তরের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট নয়। বিভাগগুলোকে স্বতন্ত্র এবং পরস্পর বিরোধী অবস্থা থেকে মুক্ত রাখতে হলে এই স্তরগুলোর মধ্য থেকে একটি স্তর বাদ দেওয়া আবশ্যক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الثلاث: الثالثة والرابعة والخامسة، واعتبارهما طبقتين اثنتين: إحداهما طبقة المخرجين الذين يستخرجون أحكامًا لمسائل لم تؤثر أحكام لها عن أصحاب المذهب الأولين بالبناء على قواعد المذهب. والثانية: طبقة المرجحين الذين يرجحون بين الروايات المختلفة والأقوال المختلفة.
إن عمل الطبقة السادسة ليس الترجيح، ولكن معرفة ما رُجِّح، وترتيب درجات الترجيح، وقد يؤدي ذلك إلى الحكم بين المرجحين فيختار من أقوالهم أقواها ترجيحًا، وأكثرها اعتمادًا في الترجيح على أصول المذهب، أو ما يكون أكثر عددًا وأعزّ ناصرًا. . ."
ويتساءل أبو زهرة أخيرًا: "أما الطبقة السابعة، فكيف يُعدون من الفقهاء؟ إنهم نَقَلة، إن أردنا أن نرفق بهم في الاسم"
(1).
إن التقسيم الذي اشتهر عن ابن كمال باشا رحمه الله تعالى في جعل فقهاء المذهب الحنفي على سبع طبقات، وإن لقي رواجًا وقبولًا عند بعض العلماء، إذ قد يكون هو أوّل من حاول وضع قاعدة في هذا الشأن، إلا أنه انتقد عليه بإجابات مقنعة، سواء في أصل القسمة وجعلها سبع طبقات، أو في توزيع الفقهاء على هذه الطبقات، كما يتبين من كلام المرجاني واللكنوي والكوثري وأبي زهرة عليهم رحمة الله تعالى.
-
طبقات الكتب والمسائل في المذهب الحنفي:وكما قسموا العلماء على طبقات، كذلك قسموا المسائل على درجات. . إذ لا بد للمفتي المقلد أن يعلم الكتب المعتمدة في نقل المذهب، ليختار عند التعارض ما هو من الدرجة الأعلى ولا يرجح الأدنى
(2)، ولا ثقة بما يفتى به بمجرد مراجعة كتاب من الكتب المتأخرة، خصوصًا غير المحررة
(3)، قال العلامة ابن عابدين رحمه الله تعالى: "وقد يتفق نقل قول في نحو عشرين كتابًا من كتب المتأخرين ويكون القول خطأً أخطأ به أول واضع له، فيأتي مَن بعده وينقله عنه، وهكذا ينقل بعضهم
--------------------------------------------
তিন স্তর: তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম; এবং এগুলোকে দুটি স্তর হিসেবে বিবেচনা করা: একটি হলো সমাধান নির্গতকারী (মুতাহরিজীন) স্তর যারা এমন সব মাসআলার সমাধান বের করেন যার বিধান মাযহাবের পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়নি, তারা তা করেন মাযহাবের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। দ্বিতীয়টি হলো প্রাধান্য নির্ধারণকারী (মুরজিহীন) স্তর যারা বিভিন্ন বর্ণনা এবং মতামতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণ করেন।
ষষ্ঠ স্তরের কাজ প্রাধান্য নির্ধারণ করা নয়, বরং কী প্রাধান্য পেয়েছে তা জানা এবং প্রাধান্য নির্ধারণের স্তরগুলো বিন্যস্ত করা। এটি কখনও কখনও প্রাধান্যদানকারীদের মধ্যে বিচার করার দিকে নিয়ে যায়, ফলে তাদের মতামতের মধ্য থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাধান্যপ্রাপ্তটি এবং মাযহাবের মূলনীতির ওপর অধিক নির্ভরশীল কিংবা যা সংখ্যায় বেশি এবং অধিক জোরালো দলিলপুষ্ট তা বেছে নেওয়া হয়। . .
সবশেষে আবু জাহরা প্রশ্ন তুলেছেন: "সপ্তম স্তরের ব্যাপারে কথা হলো, তাদেরকে কীভাবে ফকিহ গণ্য করা হয়? তারা তো কেবল বর্ণনাকারী, যদি আমরা তাদের নামের প্রতি বিনয় বা কোমলতা প্রদর্শন করতে চাই"
(১)।
হানাফী মাযহাবের ফকিহদের সাতটি স্তরে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইবনে কামাল পাশা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর যে বিভাজনটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যদিও তা কিছু আলেমদের নিকট সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছে—যেহেতু তিনিই প্রথম এই বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন—তথাপি এটি বলিষ্ঠ উত্তরের মাধ্যমে সমালোচিত হয়েছে। এই সমালোচনা মূল বিভাজন ও সাতটি স্তর নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, তেমনি ফকিহদের এই স্তরগুলোতে বণ্টনের ক্ষেত্রেও হয়েছে; যেমনটি মারজানি, লাখনবী, কাওসারী এবং আবু জাহরা (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়।
-
হানাফী মাযহাবে কিতাব ও মাসআলাসমূহের স্তরবিন্যাস:আলেমরা যেভাবে আলেমদের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন, তেমনি তারা মাসআলাগুলোকেও বিভিন্ন মর্যাদাক্রমে ভাগ করেছেন। কেননা একজন মুকাল্লিদ মুফতির জন্য মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলো সম্পর্কে জানা আবশ্যক, যাতে বৈপরীত্য দেখা দিলে তিনি উচ্চতর স্তরের কিতাবটি বেছে নিতে পারেন এবং নিম্নস্তরের কিতাবকে প্রাধান্য না দেন
(২)। পরবর্তী যুগের কিতাবসমূহ, বিশেষ করে যেগুলো সম্পাদিত বা পরিমার্জিত নয়, সেগুলো কেবল দেখার মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের ওপর আস্থা রাখা যায় না
(৩)। আল্লামা ইবনে আবিদীন (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "কখনও কখনও পরবর্তী যুগের প্রায় বিশটি কিতাবে কোনো একটি উক্তি উদ্ধৃত হতে পারে অথচ সেই উক্তিটি ভুল থাকে, যা তার প্রথম লেখক ভুল করেছিলেন। এরপর পরবর্তী কেউ এসে তা তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন এবং এভাবেই একজন অন্যজন থেকে বর্ণনা করতে থাকেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عن بعض. .
(1) "
قال العلماء: مسائل المذهب على ثلاث طبقات
(2):
الأولى: الكتب التي رويت عن محمد بن الحسن رواية ظاهرة، وتسمى مسائل الأصول، وهي مسائل مروية عن أصحاب المذهب، وهم أبو حنيفة وأبو يوسف ومحمد رحمهم الله تعالى، ويقال لهم العلماء الثلاثة، وقد يلحق بهم زفر والحسن وغيرهما ممن أخذ الفقه عن أبي حنيفة، لكن الغالب الشائع في ظاهر الرواية أن يكون قول الثلاثة أو قول بعضهم.
ثم هذه المسائل هي ما وجد في كتب محمد التي هي: "المبسوط والزيادات والجامع الصغير والسِّيَر الصغير والجامع الكبير والسير الكبير"
(3)، وإنما سميت بظاهر الرواية لأنها رويت عن محمد برواية الثقات، فهي ثابتة عنه إما متواترة أو مشهورة عنه. والفتوى عليها في المذهب وإن لم يصرحوا بالتصحيح، نعم لو صححوا رواية أخرى من غير كتب ظاهر الرواية يتبع ما صححوه، قال العلامة الطرسوسي في "أنفع الوسائل" في مسألة الكفالة إلى شهر: إن القاضي المقلد لا يجوز له أن يحكم إلا بما هو ظاهر الرواية لا بالرواية الشاذة، إلا أن ينصوا على أن الفتوى عليها
(4).
الثانية: مسائل النوادر أو مسائل غير ظاهر الرواية، وهي مسائل مروية عن أصحاب المذهب المذكورين لكن لا في الكتب المذكورة، بل إما في كتب أخر
--------------------------------------------
عন কারো কারো থেকে বর্ণিত। .
(১) আলেমগণ বলেছেন: মাযহাবের মাসআলাসমূহ তিন স্তরের
(২):
প্রথম: সেই কিতাবসমূহ যা মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে জাহির রেওয়ায়েত (সুস্পষ্ট বর্ণনা) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোকে মাসাইলে উসুল বলা হয়। এগুলো মাযহাবের ইমামগণের নিকট থেকে বর্ণিত মাসআলা। তাঁরা হলেন আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তাঁদেরকে 'তিন আলেম' বলা হয়। কখনো কখনো তাঁদের সাথে জুফার, হাসান এবং অন্যান্যদেরও যুক্ত করা হয় যারা আবু হানিফার নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন। তবে জাহির রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে সাধারণত এই তিনজনের বক্তব্য বা তাঁদের কারো কারো বক্তব্যই বেশি প্রচলিত।
অতঃপর এই মাসআলাগুলো মুহাম্মদের সেই কিতাবসমূহে পাওয়া যায় যা হলো: "মাবসুত, যিয়াদাত, জামে আস-সগীর, সিয়ার আস-সগীর, জামে আল-কাবীর এবং সিয়ার আল-কাবীর"
(৩)। এগুলোকে জাহির রেওয়ায়েত বলা হয় কারণ এগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এগুলো তাঁর থেকে প্রমাণিত, চাই তা মুতাওয়াতির হোক বা মাশহুর হোক। মাযহাবে এর ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয়, যদিও তাঁরা স্পষ্টভাবে শুদ্ধিকরণের (তাসহিহ) কথা না বলেন। হ্যাঁ, যদি তাঁরা জাহির রেওয়ায়েতের কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনাকে শুদ্ধ বলেন, তবে যা তাঁরা শুদ্ধ বলেছেন তা-ই অনুসরণ করা হবে। আল্লামা তারসুসী "আনফাউল ওয়াসায়েল"-এ এক মাসের জিম্মাদারি (কাফালা) সংক্রান্ত মাসআলায় বলেছেন: মুকাল্লিদ বিচারকের (কাজী) জন্য জাহির রেওয়ায়েত ব্যতীত অন্য কোনো শায (বিরল) বর্ণনা অনুযায়ী ফয়সালা করা জায়েজ নয়, যদি না তাঁরা সেই বর্ণনার ওপর ফতোয়া হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন
(৪)।
দ্বিতীয়: মাসাইলে নাওয়াদির বা গায়রে জাহির রেওয়ায়েতের মাসআলা। এগুলো উল্লিখিত মাযহাবের ইমামগণ থেকে বর্ণিত মাসআলা, কিন্তু উল্লিখিত কিতাবসমূহে নয় বরং অন্য কোনো কিতাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لمحمد بن الحسن كالكَيْسانيّات
(1) والهارُونيّات
(2)، والجُرْجانيات
(3)، والرَّقيات
(4). . وإنما قيل لها غير ظاهر الرواية لأنها لم تروَ عن محمد بروايات ظاهرة ثابتة صحيحة كالكتب الأولى. وإما في كتب غير محمد ككتاب "المجرّد" للحسن بن زياد وغيرها، ومنها كتب الأمالي لأبي يوسف
(5). وإما برواية مفردة مثل رواية ابن سماعة، ومعلّى بن منصور وغيرهما في مسائل معينة.
الثالثة: الفتاوى، وتسمى أيضًا: الواقعات، وهي مسائل استنبطها المجتهدون المتأخرون لما سئلوا عن ذلك ولم يجدوا فيها رواية عن أهل المذهب المتقدمين وهم أصحاب أبي يوسف ومحمد، وأصحاب أصحابهما وهَلُمّ جَرَّا، وهم كثيرون. . وقد يتفق لهم أن يخالفوا أصحاب المذهب لدلائل وأسباب ظهرت لهم.
يقول العلامة ابن عابدين
(6): "وأول كتاب جمع في فتواهم فيما بلغنا كتاب "النوازل" للفقيه أبي اللَّيث السمرقندي ثم جمع المشايخ بعده كتبًا أخر. . ثم ذكر المتأخرون هذه المسائل مختلطة غير متميزة كما في فتاوى قاضي خان و"الخلاصة" وغيرهما، وميز بعضهم كما في كتاب "المحيط" لرضيّ الدين السرخسي، فإنه ذكر أوّلًا مسائل الأصول ثم النوادر ثم الفتاوى، ونِعْم ما فعل".
وذكر ولي بن عبد الرحيم الدهلوي في رسالته: "عِقْد الجِيد في أحكام الاجتهاد والتقليد"، تقسيم المسائل بوجه آخر فقال
(7): "أعلم أن القاعدة عند محققي الفقهاء أن المسائل على أربعة أقسام: قسم تقرر في ظاهر المذهب، وحكمه أنهم يقبلونه
--------------------------------------------
মুহম্মদ ইবনুল হাসানের (রচিত) কায়সানিয়্যাত
(১), হারুনিয়্যাত
(২), জুরজানিয়্যাত
(৩) এবং রাক্কিয়্যাত
(৪) এর মতো কিতাবসমূহ। এগুলোকে ‘গাইরে যাহিরুর রিওয়ায়াহ’ (অপ্রসিদ্ধ বর্ণনা) বলা হয় কারণ এগুলি প্রথমোক্ত কিতাবগুলোর মতো সুস্পষ্ট, প্রতিষ্ঠিত ও বিশুদ্ধ বর্ণনায় মুহম্মদ থেকে বর্ণিত হয়নি। অথবা এগুলো মুহম্মদ (ইবনুল হাসান) ব্যতীত অন্যদের কিতাব, যেমন হাসান ইবনে যিয়াদের ‘আল-মুজাররাদ’ এবং অন্যান্য; আবার এগুলোর মধ্যে আবু ইউসুফের ‘আমালী’ কিতাবসমূহও
(৫) অন্তর্ভুক্ত। অথবা এগুলো একক বর্ণনা হিসেবে এসেছে, যেমন নির্দিষ্ট মাসআলাসমূহে ইবনে সামাআহ, মুআল্লা ইবনে মনসুর এবং অন্যদের বর্ণনা।
তৃতীয় (স্তর): ফাতাওয়া, যাকে ‘ওয়াকিয়াত’-ও বলা হয়। এগুলি এমন সব মাসআলা যা পরবর্তী যুগের মুজতাহিদগণ উদ্ভাবন করেছেন যখন তাঁদের নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তাঁরা মাযহাবের পূর্ববর্তী ইমামগণের নিকট থেকে এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা পাননি। আর তারা (পূর্ববর্তীগণ) হলেন আবু ইউসুফ ও মুহম্মদের ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁদের ছাত্রদের ছাত্রবৃন্দ এবং এভাবে পরবর্তীগণ, যাঁরা সংখ্যায় অনেক। কখনও এমন হয় যে, তাঁরা তাঁদের নিকট প্রকাশিত বিভিন্ন দলিল ও কারণের ভিত্তিতে মাযহাবের মূল ইমামগণের মতের বিরোধিতা করেন।
আল্লামা ইবনে আবিদিন
(৬) বলেন: “আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তদনুযায়ী তাঁদের ফাতাওয়া সংকলিত প্রথম কিতাব হলো ফকিহ আবুল লাইস আস-সামারকান্দীর ‘আন-নাওয়াযিল’ কিতাবটি। এরপর মাশায়েখগণ অন্যান্য কিতাব সংকলন করেছেন। এরপর পরবর্তী ফকিহগণ এই মাসআলাগুলোকে পৃথক না করে একত্রে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি দেখা যায় ফাতাওয়া কাযী খান এবং ‘আল-খুলাসা’ ও অন্যান্য কিতাবে। আবার কেউ কেউ এগুলিকে পৃথকভাবে তুলে ধরেছেন, যেমন রাযিউদ্দীন আস-সারাকসীর ‘আল-মুহিত’ কিতাবে। তিনি প্রথমে উসুলের মাসআলাসমূহ (যাহিরুর রিওয়ায়াহ), তারপর নাওয়াদির এবং তারপর ফাতাওয়া উল্লেখ করেছেন; আর তিনি যা করেছেন তা কতই না উত্তম!”
ওয়ালী ইবনে আবদুর রহিম আদ-দেহলভী তাঁর ‘ইকদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলীদ’ নামক রিসালায় মাসআলাসমূহের বিভাজন অন্যভাবে উল্লেখ করে বলেন
(৭): “জেনে রাখুন যে, গবেষক ফকিহদের নিকট নীতি হলো—মাসআলাসমূহ চার প্রকার: এক প্রকার হলো যা যাহিরুল মাযহাবে সুপ্রতিষ্ঠিত, আর এর বিধান হলো তাঁরা তা গ্রহণ করেন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في كل حال، وافقت الأصول أو خالفت. وقسم هو رواية شاذة عن أبي حنيفة وصاحبيه، وحكمه أنهم لا يقبلونه إلا إذا وافق الأصول. وقسم هو تخريج المتأخرين اتفق عليه جمهور الأصحاب، وحكمه أنهم يفتون به على كل حال؛ وقسم هو تخريج منهم لم يتفق عليه جمهور الأصحاب، وحكمه أن يعرضه المفتي على الأصول والنظائر من كلام السلف، فإن وجده موافقًا لها أخذ به وإلا تركه".
ومن الكتب الملحقة بمسائل الأصول، والمعتمدة في نقل المذهب: كتاب "الكافي" للحاكم الشهيد، و"المبسوط" للإمام السرخسي، قال ابن عابدين
(1) رحمه الله: "قال في فتح القدير وغيره: إن كتاب الكافي هو جمع كلام محمد في كتبه الست التي هي كتب ظاهر الرواية اهـ، وفي شرح الأشباه للعلامة البيري: أعلم أن من كتب مسائل الأصول كتاب الكافي للحاكم الشهيد، وهو كتاب معتمد في نقل المذهب، شرحه جماعة من المشايخ منهم: شمس الأئمة السرخسي وهو المشهور بمبسوط السرخسي اهـ، قال الشيخ إسماعيل النابلسي قال العلامة الطرسوسي: مبسوط السرخسي لا يعمل بما يخالفه ولا يركن إلا إليه ولا يفتى ولا يعول إلا عليه".
ويلحق بكتب الأصول أيضًا مختصرات المشايخ الكبار، جاء في مقدمة كتاب "المتانة"
(2): "وأما المختصرات التي صنفها حذاق الأئمة وكبار الفقهاء المعروفين بالعلم والزهد والفقاهة والعدالة في الرواية كالإمام أبي جعفر الطحاوي وأبي الحسن الكرخي والحاكم الشهيد المروزي وأبي الحسين القدوري، ومن في هذه الطبقة من علمائنا الكبار فهي موضوعة لضبط أقوال صاحب المذهب وجمع فتاواه المروية عنه، فمسائلها ملحقة بمسائل الأصول وظواهر الروايات في صحتها وعدالة رواتها، وما فيها دائر بين متواتر ومشهور وآحاد صحيحة الإسناد، وقد تواترت هذه المختصرات عن مصنفيها
(3) وتلقاها علماء المذهب بالقبول منهم".
وهذه المختصرات أو المتون التي ذكرها صاحب المتانة كانت معتمد
--------------------------------------------
সর্বাবস্থায়, চাই তা মূলনীতির (উসুল) অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে। আরেকটি অংশ হলো ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর দুই সাথীর নিকট থেকে বর্ণিত শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা, যার বিধান হলো—তাঁরা এটি গ্রহণ করেন না যদি না তা মূলনীতির অনুকূলে হয়। আরেকটি অংশ হলো পরবর্তী যুগের ফকীহদের উদ্ভাবিত মাসআলা (তাখরিজ) যার ওপর অধিকাংশ ফকীহ একমত হয়েছেন; এর বিধান হলো তাঁরা সর্বাবস্থায় এর ওপর ফতোয়া প্রদান করেন। আর একটি অংশ হলো তাঁদের এমন উদ্ভাবন যার ওপর অধিকাংশ ফকীহ একমত হননি; এর বিধান হলো মুফতি একে সালাফদের বাণীর মূলনীতি ও নজিরসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখবেন, যদি তিনি একে সেগুলোর অনুকূলে পান তবে গ্রহণ করবেন, অন্যথায় বর্জন করবেন।
মূলনীতির মাসআলাসমূহের (মাসায়িলুল উসুল) সাথে সংযুক্ত এবং মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: হাকীম আশ-শাহীদ-এর কিতাব "আল-কাফি" এবং ইমাম আস-সারাকসী-র "আল-مাবসুত"। ইবনে আবিদীন
(১) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "ফাতহুল কাদির এবং অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে: কিতাবুল কাফি হলো ইমাম মুহাম্মাদ-এর সেই ছয়টি কিতাবের সংকলন যা যাহিরুর রিওয়ায়াতের কিতাব—সংক্ষেপিত। আল্লামা আল-বিরি-র শারহুল আশবাহ-তে বলা হয়েছে: জেনে রাখুন, মূলনীতির মাসআলাসমূহের অন্যতম কিতাব হলো হাকীম আশ-শাহীদ-এর কিতাবুল কাফি। এটি মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য কিতাব। একদল মাশায়েখ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে শামসুল আইম্মা আস-সারাকসী অন্যতম, যা মাবসুতে সারাকসী নামে পরিচিত—সংক্ষেপিত। শায়খ ইসমাইল আন-নাবলুসি বলেন, আল্লামা আত-তারসুসি বলেছেন: মাবসুতে সারাকসীর বিরোধী কোনো কিছুর ওপর আমল করা হয় না, এটি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করা হয় না, এবং এটি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর ফতোয়া প্রদান বা ভরসা করা হয় না।"
উসুলের কিতাবসমূহের সাথে বড় বড় মাশায়েখদের মুখতাসার বা সংক্ষিপ্তসার কিতাবগুলোও অন্তর্ভুক্ত। "আল-মাতানাহ"
(২) কিতাবের ভূমিকায় এসেছে: "আর সেই সব মুখতাসার যা বিজ্ঞ ইমামগণ এবং বড় বড় ফকীহগণ সংকলন করেছেন—যাঁরা ইলম, যুহদ (তপস্যা), ফিকহী জ্ঞান এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার জন্য সুপরিচিত, যেমন ইমাম আবু জাফর আত-তহাবী, আবু হাসান আল-কারখী, হাকীম আশ-শাহীদ আল-মারওয়াযী এবং আবুল হুসাইন আল-কুদুরী এবং আমাদের বড় আলিমদের মধ্যে এই স্তরের যাঁরা রয়েছেন। এই কিতাবগুলো মাযহাবের ইমামের বক্তব্যসমূহ সংরক্ষণ এবং তাঁর থেকে বর্ণিত ফতোয়াসমূহ সংকলন করার জন্য রচিত হয়েছে। সুতরাং এই কিতাবগুলোর মাসআলাসমূহ বিশুদ্ধতা এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার বিচারে উসুলের মাসআলা এবং যাহিরুর রিওয়ায়াতের অন্তর্ভুক্ত। এর বিষয়বস্তু মুতাওয়াতির, মাশহুর এবং সহীহ সনদে বর্ণিত আহাদ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। এই মুখতাসার কিতাবগুলো তাঁদের সংকলকদের থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত
(৩) এবং মাযহাবের উলামায়ে কেরাম তাঁদের থেকে এগুলো গ্রহণের মাধ্যমে কবুল করে নিয়েছেন।"
আল-মাতানাহ গ্রন্থের লেখক যে সকল মুখতাসার বা মতন উল্লেখ করেছেন তা ছিল নির্ভরযোগ্য
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المتقدمين. . وهناك متون أخرى اعتمدها المتأخرون، التزم أصحابها ذكر الراجح والمقبول والقوي كذلك. يقول الإمام اللكنوي
(1) رحمه الله تعالى: "واعلم أن المتأخرين قد اعتمدوا على المتون الثلاثة: "الوقاية" و"مختصر القدوري" و"الكنز"، ومنهم من اعتمد على الأربعة: "الوقاية" و"الكنز" و"المختار" و"مجمع البحرين"، وقالوا: العبرة لما فيها عند تعارض ما فيها وما في غيرها، لما عرفوا من جلالة قدر مؤلفيها، والتزامهم إيراد مسائل ظاهر الرواية، والمسائل التي اعتمد عليها المشايخ".
وقال العلامة ابن عابدين رحمه الله بعدما ذكر قول المصنف في "تصحيحه" (إن ما في المتون مصحح تصحيحًا التزاميًّا)
(2) قال: "لا يخفى أن المراد بالمتون، المتون المعتبرة كـ "البداية"، و"مختصر القدوري"، و"المختار"، و"النُّقاية"، و"الوقاية"، و"الكنز"، و"الملتقى"، فإنها الموضوعة لنقل المذهب مما هو ظاهر الرواية"
(3).
-
أهميّة مختصر القُدُوري:بعد أن استقر عند الحنفية أن المعتمد في المذهب هو ما أورده الإمام محمد بن الحسن في الروايات الظاهرة، رأى بعض حذّاق الأئمة المعروفين بالفقاهة والزهد والثقة في الرواية، كأبي جعفر الطَّحاوي وأبي الحسن الكَرْخي والحاكم الشهيد المَرْوَزي وأبي الحسين القُدُوري، أن يصنفوا كتبًا مختصرة
(4) تجمع أهم المسائل
--------------------------------------------
পূর্ববর্তীগণ। এবং এমন অন্যান্য মূলগ্রন্থও রয়েছে যেগুলোর ওপর পরবর্তীগণ নির্ভর করেছেন, যাদের রচয়িতাগণ একইভাবে অগ্রগণ্য, গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী মতগুলো উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ইমাম আল-লাখনভী
(১) রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "জেনে রাখুন যে, পরবর্তীগণ তিনটি মূলগ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন: 'আল-উইকায়াহ', 'মুখতাসার আল-কুদুরি' এবং 'আল-কানয'। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চারটির ওপর নির্ভর করেছেন: 'আল-উইকায়াহ', 'আল-কানয', 'আল-মুখতার' এবং 'মাজমাউল বাহরাইন'। তারা বলেছেন: যখন এই গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান কোনো বিষয়ের সাথে অন্য কোনো গ্রন্থের বিষয়ের বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন এই গ্রন্থগুলোর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ তারা এই গ্রন্থকারগণের মর্যাদার উচ্চতা এবং তাদের জাহিরুর রিওয়ায়াহ-র মাসআলাসমূহ ও মাশায়েখগণ যেসব মাসআলার ওপর নির্ভর করেছেন তা উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জানতেন।"
আল্লামা ইবনে আবিদিন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'তাসহিহ' গ্রন্থে গ্রন্থকারের এই উক্তিটি (নিশ্চয়ই মূলগ্রন্থগুলোতে যা রয়েছে তা আবশ্যিকভাবেই বিশুদ্ধ হিসেবে গৃহীত)
(২) উল্লেখ করার পর বলেন: "এটি অস্পষ্ট নয় যে, মূলগ্রন্থ (মুতুন) বলতে সেই নির্ভরযোগ্য মূলগ্রন্থগুলোকেই বোঝানো হয়েছে যেমন- 'আল-বিদায়াহ', 'মুখতাসার আল-কুদুরি', 'আল-মুখতার', 'আন-নুকাইয়াহ', 'আল-উইকায়াহ', 'আল-কানয' এবং 'আল-মুলতাকা'। কেননা এগুলো মাযহাবের জাহিরুর রিওয়ায়াহ-র মাসআলাগুলো স্থানান্তরের জন্যই সংকলিত হয়েছে"
(৩)।
-
মুখতাসার আল-কুদুরি-র গুরুত্ব:হানাফিদের নিকট যখন এটি স্থির হলো যে, মাযহাবের নির্ভরযোগ্য বিষয় হচ্ছে তাই যা ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান জাহিরুর রিওয়ায়াহ-তে বর্ণনা করেছেন, তখন ফিকহী প্রজ্ঞা, যুহদ এবং রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত কিছু দক্ষ ইমাম, যেমন- আবু জাফর আত-তাহাবি, আবু আল-হাসান আল-কারখি, আল-হাকিম আশ-শাহিদ আল-মারওয়াযি এবং আবু আল-হুসাইন আল-কুদুরি; গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ একত্রিত করে কিছু সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ
(৪) রচনা করা সমীচীন মনে করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفقهية الملحّة، مع الدّقّة في صوغ العبارة، والتمحيص لكل قول يرى أنه الأصح المعتمد، حتى صارت تلك المتون موضوعة لنقل المذهب مما هو ظاهر الرواية
(1)، إذْ "ميزّ مصنفوها بين الراجح والمرجوح، والمقبول والمردود، والقوي والضعيف، فلا يوردون في متونهم إلا الراجح المقبول القوي"
(2).
وكان من أبرز تلك المختصرات المعتمدة والتي كُتب لها القبول بإذن الله، مختصرُ الإمام القدوري، وهو الذي يطلق عليه اسم "الكتاب" عند الحنفية، وذلك لاستفاضة ذكره عندهم، ولكثرة من تفقّه واعتمد عليه.
قال في "كشف الظنون"
(3): "وهو متن متين معتبر متداول بين الأئمة الأعيان، وشهرته تغني عن البيان. قال صاحب مصباح أنوار الأدعية: إن الحنفية يتبرّكون بقراءته في أيام الوباء، وهو كتاب مبارك، من حفظه يكون أمينًا من الفقر، حتى قيل إن من قرأه على أستاذ صالح ودعا له عند ختم الكتاب بالبركة فإنه يكون مالكًا لدراهم على عدد مسائله. وفي بعض شروح المجمع أنه مشتمل على اثني عشر ألف مسألة اهـ، وشروحه كثيرة جدًّا. . ." اهـ من "الكشف". "وفي مختصر ربيع الأبرار: أنه لمّا صنّف [الإمام القدوري] هذا الكتاب، حمله مع نفسه إلى بيت الله الحرام وعلّقه من أستاره، وسأل الله تعالى أن يبارك له فيه، فاستجيب له، وجعله مباركًا لذلك"
(4).
ويُثني الإمام علاء الدين السمرقندي على مختصر القدوري بقوله: "أعلم أن المختصر المنسوب إلى الشيخ أبي الحسين القدوري رحمه الله، جامع جملًا من الفقه مستعملة بحيث لا تراها مدى الدهر مهملة، يهدي بها الرائض في أكثر الحوادث والنوازل، ويرتقي بها المرتضى إلى أعلى المراقي والمنازل"
(5)، أما صاحب الهداية فيقول: "وجدت المختصر المنسوب إلى القدوري أجمل كتاب في أحسن إيجاز وإعجاب"
(6).
--------------------------------------------
জরুরি ফিকহী মাসআলাসমূহ, সাথে রয়েছে শব্দ চয়নে সূক্ষ্মতা এবং প্রতিটি মতামতের চুলচেরা বিশ্লেষণ যা অধিকতর বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। এমনকি এই মূল পাঠ্যগুলো (মুতুন) মাযহাবের বক্তব্য বর্ণনার জন্য 'যাহিরুর রিওয়ায়াহ' থেকে গৃহীত হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে
(১), কারণ "এর সংকলকগণ অগ্রাধিকারযোগ্য ও অ-অগ্রাধিকারযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয়, এবং শক্তিশালী ও দুর্বল মতামতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। ফলে তারা তাদের মূল পাঠ্যগুলোতে কেবলমাত্র অগ্রাধিকারযোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী মতামতই উল্লেখ করেছেন"
(২)।
সেসব নির্ভরযোগ্য সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম এবং আল্লাহর ইচ্ছায় যা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, তা হলো ইমাম কুদুরি-র 'মুখতাসার'। হানাফী আলেমদের নিকট এটি "আল-কিতাব" নামে পরিচিত। এর কারণ হলো তাদের মাঝে এর ব্যাপক চর্চা এবং অসংখ্য ফকীহ কর্তৃক এর উপর গভীর জ্ঞান অর্জন ও নির্ভরতা।
'কাশফুয যুনুন'
(৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি একটি মজবুত ও নির্ভরযোগ্য মূল পাঠ্য যা বিশিষ্ট ইমামদের মধ্যে বহুল প্রচলিত, আর এর প্রসিদ্ধি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়। 'মিসবাহু আনওয়ারিল আদইয়াহ' এর লেখক বলেছেন: হানাফীগণ মহামারীর দিনগুলোতে এটি পাঠ করে বরকত লাভ করেন। এটি একটি বরকতময় কিতাব; যে ব্যক্তি এটি মুখস্থ করবে সে দারিদ্র্য থেকে নিরাপদ থাকবে। এমনকি বলা হয়েছে যে, যদি কেউ কোনো সৎ উস্তাদের কাছে এটি পাঠ করে এবং কিতাবটি খতমের সময় উস্তাদ তার বরকতের জন্য দোয়া করেন, তবে সে এই কিতাবের মাসআলার সংখ্যা অনুযায়ী দিরহামের মালিক হবে। 'মাজমা'-এর কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে রয়েছে যে, এতে বারো হাজার মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—সমাপ্ত, এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ অসংখ্য..."—'কাশফ' থেকে সমাপ্ত। "এবং মুখতাসারু রবিউল আবরার-এ উল্লেখ আছে: যখন [ইমাম কুদুরি] এই কিতাবটি রচনা করেন, তিনি এটি নিজের সাথে নিয়ে আল্লাহর পবিত্র ঘরে (কাবা শরীফ) গমন করেন এবং কাবার গিলাফের সাথে ঝুলিয়ে দেন। তিনি আল্লাহর কাছে এতে বরকত দানের প্রার্থনা করেন। তাঁর দোয়া কবুল হয় এবং সে কারণেই আল্লাহ এটিকে বরকতময় করে দেন"
(৪)।
ইমাম আলাউদ্দীন সমরকান্দী মুখতাসারে কুদুরি-র প্রশংসা করে বলেন: "জেনে রাখুন যে, শায়খ আবুল হুসাইন কুদুরি (রহ.)-এর প্রতি নিসবতকৃত এই মুখতাসার গ্রন্থটি ফিকহ শাস্ত্রের এমন কিছু প্রয়োজনীয় মাসআলার সংকলন যা কখনো অবহেলিত হতে দেখবেন না। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী অধিকাংশ ঘটনা ও উদ্ভূত সমস্যার সমাধান পায় এবং এর দ্বারা একজন সাধক উচ্চ শিখরে ও মর্যাদায় আরোহণ করেন"
(৫)। অন্যদিকে 'হিদায়া' গ্রন্থের লেখক বলেন: "আমি কুদুরি-র প্রতি নিসবতকৃত এই মুখতাসার গ্রন্থটিকে সর্বোত্তম সংক্ষিপ্ততা ও চমৎকারিত্বের বিচারে সবচেয়ে সুন্দর কিতাব হিসেবে পেয়েছি"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأخيرًا، يقول صاحب "الجواهر المضية" رحمه الله تعالى
(1): "صنّف [أي الإمام القدوري] من الكتب: المختصر المشهور، فنفع الله به خلقًا
(2) لا يُحصَون". .
(3).
-
ترجمة الإمام القُدُوري (4):
هو الإمام أبو الحسين أحمد بن محمد بن أحمد بن جعفر بن حَمْدان البغدادي، شيخ الحنفية بالعراق، الإمام المشهور المعروف بالقُدوري
(5)، المولود سنة 362 هـ.
قال الخطيب البغدادي في ترجمته: "كتبت عنه وكان صدوقًا، وكان ممّن أنجب في الفقه لذكائه، وانتهتْ إليه بالعراق رئاسة أصحاب أبي حنيفة، وعظم عندهم قدره، وارتفع جاهه، وكان حسن العبارة في النظر، جريء اللسان، مديمًا
--------------------------------------------
অশেষে 'আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন
(১): "তিনি [অর্থাৎ ইমাম কুদুরী] কিতাবসমূহের মধ্যে প্রসিদ্ধ 'আল-মুখতাসার' রচনা করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অগণিত সৃষ্টিকে উপকৃত করেছেন।"
(৩).
-
ইমাম আল-কুদুরীর জীবনী (৪):
তিনি হলেন ইমাম আবুল হুসাইন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন জাফর ইবন হামদান আল-বাগদাদী, ইরাকের হানাফী আলেমদের শায়খ, কুদুরী নামে সুপরিচিত বিখ্যাত ইমাম, যিনি ৩৬২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
আল-খাতীব আল-বাগদাদী তাঁর জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর থেকে (হাদীস) লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন। মেধার কারণে ফিকহ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান। ইরাকে আবু হানিফার অনুসারীদের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে সমাপ্ত হয়। তাঁদের নিকট তাঁর মর্যাদা অত্যন্ত বড় ছিল এবং তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল উচ্চ। তিনি সূক্ষ্ম বিচারে চমৎকার বাগ্মী ও স্পষ্টভাষী ছিলেন এবং সর্বদা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لتلاوة القرآن". وقال المؤرخ ابن تغري بَرَدي الأتابكي بعدما نقل قول الخطيب المذكور: "والفضل ما شهدت به الأعداء، ولولا أن شأن هذا الرجل كان قد تجاوز الحدّ في العلم والزهد ما سلم من لسان الخطيب، بل مدحه مع عِظم تعصّبه على السادة الحنفية وغيرهم. ."
-
مشايخه:أخذ الفقه عن أبي عبد الله الفقيه، محمد بن يحيى الجُرجاني عن أحمد الجصّاص عن عبيد الله أبي الحسن الكرخي، عن أبي سعيد البردعي، عن موسى الرازي، عن محمد بن الحسن.
وروى الحديث عن محمد بن علي بن سُوَيد المؤدِّب، وعبيد الله بن محمد الحَوْشبي.
-
تلاميذه:كان ممّن تفقّه عليه: أبو نصر أحمد بن محمد بن محمد الفقيه المعروف بالأَقْطَع، وقد شَرح مختصره.
وممّن روى عنه: أبو بكر الخطيب البغدادي، وقاضي القضاة أبو عبد الله الدامَغَاني.
وكان يناظر
(1) الشيخ أبا حامد الإسفرايني الفقيه الشافعي، ويعَظّمه ويفضّله على كل أحد.
قال الإمام اللكنوي: "ذكره ابن كمال باشا الرومي ومن تبعه، في أصحاب الترجيح من المقلِّدين الذين شأنهم تفضيل بعض الروايات على بعض، من دون قدرة على الاجتهاد، وتعقَّبه بعض الفضلاء بأن القدوري متقدم على شمس الأئمة الحَلْواني زمانًا وأعلى منه كعبًا وأطول باعًا، فما باله نقص مرتبته عن مرتبته"
(2)؟!
--------------------------------------------
কুরআন তিলাওয়াতের জন্য। এবং ঐতিহাসিক ইবনে তাগরি বারদি আল-আতাবেকি উল্লিখিত খতিবের উক্তি উদ্ধৃত করার পর বলেন: "প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তাই, যার সাক্ষ্য শত্রুরা দেয়। যদি এই ব্যক্তির মর্যাদা জ্ঞান ও যুহদ (তপস্যা) এর ক্ষেত্রে সীমা ছাড়িয়ে না যেত, তবে তিনি খতিবের জিহ্বা থেকে রক্ষা পেতেন না; বরং খতিব হানাফী সাদারাত (মাশায়েখ) ও অন্যদের প্রতি প্রচণ্ড গোঁড়ামি থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রশংসা করেছেন। ."
-
তাঁর উস্তাদবৃন্দ:তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-ফকিহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-জুরজানি থেকে ফিকহ অর্জন করেন, তিনি আহমদ আল-জাসসাস থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ আবুল হাসান আল-কারখি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-বারদাই থেকে, তিনি মুসা আল-রাজি থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে।
আর তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে সুওয়াইদ আল-মুয়াদ্দিব এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাওশাবি থেকে।
-
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:যাঁরা তাঁর কাছে ফিকহ শিখেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু নাসর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফকিহ, যিনি 'আল-আকতা' নামে পরিচিত, এবং তিনি তাঁর মুখতাসার (সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ)-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি এবং কাযিউল কুযাত আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামাগানি।
তিনি শাফেয়ী ফকিহ শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফরাইনির সাথে মুনাজারা করতেন এবং তাঁকে সম্মান করতেন ও অন্য সবার ওপর প্রাধান্য দিতেন।
ইমাম লখনভী বলেন: "ইবনে কামাল পাশা রুমি এবং তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মুকাল্লিদদের মধ্যে আসহাবুত তারজিহ (অগ্রাধিকার প্রদানকারী স্তর)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাঁদের কাজ হলো ইজতিহাদের সক্ষমতা ছাড়াই কিছু বর্ণনাকে অন্য বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেওয়া। এর প্রেক্ষিতে কিছু বিদ্বান আপত্তি তুলেছেন যে, কুদুরী সময়ের দিক থেকে শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানির অগ্রজ এবং মর্যাদার দিক থেকে তাঁর চেয়ে উচ্চতর ও অধিক পারদর্শী ছিলেন; তাহলে কেন তিনি তাঁর মর্যাদাকে হালওয়ানির মর্যাদার নিচে নামিয়ে দিলেন?!"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قال في الجواهر المضيّة: "وذكره أبو محمد الفامِي في طبقات الفقهاء، فأثنى عليه وقال: كان له ابن فلم يعلّمه الفقه، وكان يقول: دعوه يعيش لروحه، قال فمات وهو شاب".
-
مصنّفاته:صنّف المختصر المعروف باسمه "مختصر القُدُوري" وهو الكتاب المبارك المشهور المتداول، الذي عُني به كثير من الفقهاء.
وشرَح "مختصر الكرخي" في عدة مجلدات.
وله كتاب "التجريد" في سبعة أجزاء، يشتمل على الخلاف بين الشافعي وأبي حنيفة وأصحابه
(1)، شرع في إملائه سنة 405، وأبان فيه عن حفظه لما عند الدارقطني من أحاديث الأحكام وعللها.
وكتاب "التقريب"، في مسائل الخلاف بين أبي حنيفة أصحابه، مجردًا عن الدلائل، في مجلد. ثم صنف "التقريب الثاني" في عدّة مجلدات، فذكر المسائل بأدلّتها.
وله "جزء حديثي"؛ قال الشيخ قاسم في "تاج التراجم": "وله جزء حديثي رويناه عنه"
(2).
وشرَح
(3) "أدب القاضي" للخصّاف، أحمد بن عمرو، المتوفى سنة 261.
--------------------------------------------
'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আবু মুহাম্মাদ আল-ফামি 'তাবাকাতুল ফুকাহা' গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার প্রশংসা করে বলেছেন: তার একটি ছেলে ছিল যাকে তিনি ফিকহ শেখাননি। তিনি বলতেন: 'তাকে তার নিজের মতো (তার আত্মার প্রশান্তিতে) বাঁচতে দাও।' বর্ণনাকারী বলেন, ছেলেটি যুবক অবস্থায় মারা যান।"
-
তার রচনাবলি:তিনি তার নামে পরিচিত সংকলন "মুখতাসার আল-কুদূরী" রচনা করেন। এটি একটি বরকতময়, সুপ্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচলিত কিতাব, যার প্রতি বহু ফকীহ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি কয়েক খণ্ডে "মুখতাসার আল-কারখী" এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) লিখেছেন।
তার সাত খণ্ডে "আত-তাজরীদ" নামক একটি কিতাব রয়েছে, যা ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আবু হানিফা ও তার সাথীদের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি ৪০৫ হিজরিতে এটি ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) করা শুরু করেন এবং এতে আদ-দারাকুতনীর নিকট থাকা আহকাম সংক্রান্ত হাদিসসমূহ ও সেগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে নিজের মুখস্থবিদ্যার পারদর্শিতা প্রকাশ করেছেন।
এবং এক খণ্ডে "আত-তাক্বরীব" নামক কিতাব, যা দলিল ছাড়াই ইমাম আবু হানিফা ও তার সাথীদের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ নিয়ে রচিত। এরপর তিনি কয়েক খণ্ডে "আত-তাক্বরীব আস-সানি" (দ্বিতীয় তাক্বরীব) রচনা করেন, যেখানে তিনি মাসআলাগুলো দলিলের সাথে উল্লেখ করেছেন।
তার একটি "হাদিসের সংকলন" (জুয) রয়েছে; শায়খ কাসিম 'তাজুত তারাজিম' গ্রন্থে বলেছেন: "তার একটি হাদিসের সংকলন রয়েছে যা আমরা তার সূত্রে বর্ণনা করেছি।"
এবং তিনি ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আহমাদ ইবনে আমর আল-খাসসাফের "আদাবুল কাযী" কিতাবটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
-
وفاته:كانت وفاته يوم الأحد، منتصف رجب أو خامس رجب، سنة (428) ثمان وعشرين وأربع مئة
(1)، ببغداد، ودفن من يومه بداره في دَرْب أبي خَلَف، ثم نقل إلى تربة في شارع المنصور، ودفن هناك بجنب أبي بكر الخُوارزمي الفقيه الحنفي، رحمهما الله تعالى.
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:তাঁর মৃত্যু হয়েছিল রবিবার, রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে অথবা পাঁচই রজব, চারশত আটাশ (৪২৮) হিজরি সালে, বাগদাদে। সেই দিনই তাঁকে তাঁর নিজ বাড়িতে 'দর্বে আবি খালাফ'-এ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে মানসুর রোডের একটি কবরস্থানে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে হানাফি ফকিহ আবু বকর আল-খাওয়ারিজমির পাশে দাফন করা হয়; আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।
--------------------------------------------