(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح أشراط الساعة القسم: العقيدة
الكتاب: صحيح أشراط الساعة
المؤلف: عصام موسى هادي
الناشر: الدار العثمانية، دار ابن حزم للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 150
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কিয়ামতের সহীহ আলামতসমূহ বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: কিয়ামতের সহীহ আলামতসমূহ
লেখক: ইসাম মুসা হাদি
প্রকাশক: আদ-দারুল উসমানিয়্যাহ, দার ইবনে হাযম মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح أشراط الساعة
بقلم
عصام موسى هادي
بسم الله الرحمن الرحيم
কিয়ামতের সহীহ আলামতসমূহ
কলমে
ঈসাম মুসা হাদী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةإنَّ الحمد لله؛ نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله؛ فلا مضلَّ له، ومن يضلل؛ فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} .
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً} {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً} .
أما بعد: فإن النبي صلى الله عليه وسلم ما علم لنا من خير يقرِّبنا
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করল।}
অতঃপর: নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য এমন কোনো কল্যাণের কথা জানতে পারেননি যা আমাদের নিকটবর্তী করে
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
من الجنة إلا وحدثنا به. وما علم لنا من شرٍّ يقربنا من النار إلا وحذرنا منه. ومن جملة ما حدثنا به النبي صلى الله عليه وسلم: أشراط الساعة وعلاماتها، والفتن والمهلكات التي تكون بين يديها.
وقد أكثر الناس في زماننا من الحديث عنها؛ لكثرة الفتن والمحن التي وقعت على المسلمين، مما جَرَّ بعض من لا خلاق له إلى وضع أحاديث مكذوبة ولا أصل لها. وبعضهم لجأ إلى كتب قديمة جمعت الغث والسمين، ومن أشهرها كتاب ((الفتن)) لنعيم بن حماد (1) ، وهو كتاب مليء بالمنكرات والأحاديث الموضوعة، والآثار الباطلة سنداً ومتناً.
أقول: لذلك أحببت أن أجمع ما صَحَّ من أحاديث في علامات الساعة وأشراطها وخصوصاً مما صححه شيخنا العلامة المحدث ناصر الدين الألباني - رحمه الله تعالى -، مقسماً العلامات إلى صغرى، ووسطى، وكبرى (2) ، فالصغرى ما حدثنا عنه النبي صلى الله عليه وسلم ووقع وانقضى، والوسطى ما حدثنا عنه وقد وقع وهو
--------------------------------------------
জান্নাত সংশ্লিষ্ট এমন কিছুই নেই যা তিনি আমাদের জানাননি। আর এমন কোনো অনিষ্টের কথাও নেই যা আমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করে অথচ তিনি আমাদের তা থেকে সতর্ক করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা যা জানিয়েছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো: কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ ও এর লক্ষণগুলো, এবং কিয়ামতের পূর্বের ফিতনা ও ধ্বংসাত্মক বিষয়সমূহ।
আমাদের বর্তমান সময়ে মানুষ এগুলো নিয়ে প্রচুর আলোচনা করছে; কারণ মুসলিমদের ওপর অনেক ফিতনা ও বিপদ-আপদ আপতিত হয়েছে, যা কিছু নীতিহীন মানুষকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা হাদিস রচনায় প্ররোচিত করেছে। আর তাদের কেউ কেউ এমন সব প্রাচীন কিতাবের আশ্রয় নিয়েছে যাতে ভালো-মন্দ সব ধরণের বর্ণনাই একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো নুআইম বিন হাম্মাদ (১)-এর ‘আল-ফিতান’ কিতাবটি। এটি এমন একটি কিতাব যা মুনকার ও জাল হাদিসে এবং সনদ ও মতন উভয় দিক থেকে বাতিল আছারে পরিপূর্ণ।
আমি বলছি: তাই আমি কিয়ামতের আলামত ও নিদর্শনসমূহ থেকে যা সহিহ তা সংকলন করতে চেয়েছি, বিশেষ করে আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আলবানী—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যা সহিহ সাব্যস্ত করেছেন। আমি এই নিদর্শনগুলোকে ছোট, মধ্যম ও বড়—এই তিন ভাগে বিভক্ত করেছি (২)। ছোট নিদর্শন হলো সেসব বিষয় যা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন এবং যা ইতিপূর্বে ঘটে শেষ হয়ে গেছে। আর মধ্যম নিদর্শন হলো যা সম্পর্কে তিনি আমাদের জানিয়েছেন এবং যা সংঘটিত হয়েছে এবং তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مع الأيام في ازدياد، والكبرى العلامات الكبار كالمهدي والدجال ونحو ذلك.
وقد حرصت كل الحرص على تقريبها وتسهيلها للعامة مبتعداً عن الإطالة في التخريج وتضخيم الكتاب بما لا حاجة ماسة فيه للقارئ.
والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه وأن يضع له القبول.
وصل اللهم على محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
وكتبه
عصام موسى هادي
****************
দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর বড় নিদর্শনসমূহ যেমন মাহদী, দাজ্জাল এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
আমি সাধারণ মানুষের নিকট এগুলোকে সহজবোধ্য ও নিকটবর্তী করার জন্য পূর্ণ সচেষ্ট হয়েছি এবং হাদীস যাচাই-বাছাইয়ের (তাখরীজ) ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করেছি এবং যা পাঠকের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় নয় এমন বিষয় দিয়ে গ্রন্থটিকে কলেবরে বড় করা থেকে বিরত থেকেছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই আমলটিকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর জন্য কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা দান করেন।
হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর দরুদ ও রহমত বর্ষণ করুন।
লিখেছেন
ইসাম মুসা হাদী
****************
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مبعثه صلى الله عليه وسلم -
1- عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((بعثت أنا والساعة كهاتين (1)) ) (2) .
2- عن أبي جبيرة عن أشياخ من الأنصار قالوا: سمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((بعثت في نَسَم (3) الساعة)) (4) .
3- عن سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((مثلي ومثل الساعة كفرسي رهان،
--------------------------------------------
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত প্রাপ্তি ও প্রেরণ-
১- আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি (১))) (২)।
২- আবু জুবায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি আনসারদের কতিপয় প্রবীণদের সূত্রে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেছেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((আমি কিয়ামতের সূচনাপর্বে (৩) প্রেরিত হয়েছি)) (৪)।
৩- সাহল ইবনে সাদ আস-সাঈদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমার এবং কিয়ামতের উদাহরণ হলো প্রতিযোগিতার দুটি ঘোড়ার মতো,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مثلي ومثل الساعة كمثل رجل بعثه قومٌ طليعة، فلما خشي أن يسبق ألاح بثوبه: أتيتم أتيتم، أنا ذاك، أنا ذاك)) (1) .
موته صلى الله عليه وسلم -
1- عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك وهو في قبة من أدم (2) ، فقال: ((اعْدُدْ سِتَّاً بين يدي الساعة: موتي، ثم فتحُ بيت المقدس، ثم مُوْتَانٌ (3) يأخذ فيكم كقُعَاصِ الغنم (4) ، ثم استفاضةُ المال حتى يعطى الرجلُ مائةَ دينار فيظلُّ ساخطاً، ثم فتنةٌ لا يبقى بيتٌ من العرب إلا دخلته، ثم هدنة تكون بينكم وبين بني الأصفر، فيغدرون فيأتونكم تحت ثمانين غايةً (5) تحت كل غاية اثنا عشر ألفاً)) (6) .
--------------------------------------------
আমার এবং কিয়ামতের উদাহরণ হচ্ছে সেই ব্যক্তির ন্যায়, যাকে তার সম্প্রদায় অগ্রগামী সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছিল। যখন সে আশঙ্কা করল যে (শত্রু) তাকে ছাড়িয়ে যাবে, তখন সে তার কাপড় নেড়ে সংকেত দিল: তোমাদের নিকট (শত্রু) এসে গেছে, তোমাদের নিকট (শত্রু) এসে গেছে; আমিই সেই (সতর্ককারী), আমিই সেই (সতর্ককারী)। (১) ।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যু -
১- আওফ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি তাবুক যুদ্ধের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি চামড়ার তৈরি একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। তিনি বললেন: "কিয়ামতের প্রাক্কালের ছয়টি নিদর্শন গণনা করো: আমার মৃত্যু, এরপর বায়তুল মাকদিস বিজয়, এরপর ব্যাপক মহামারি যা তোমাদের মাঝে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যেমন বকরির পালের মধ্যে 'কুআস' (এক প্রকার মড়ক) ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সম্পদের প্রাচুর্য ঘটবে, এমনকি একজন ব্যক্তিকে একশ দিনার দেওয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। এরপর এমন এক ফিতনা আসবে যা আরবদের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। এরপর তোমাদের এবং বনু আসফার (রোমক)-দের মধ্যে একটি সন্ধি হবে, কিন্তু তারা বিশ্বাসভঙ্গ করবে এবং আশিটি পতাকার নিচে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে; প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে বারো হাজার সৈন্য।" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فتنة العصمة منها بالسيف1- عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير، وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني، فقلت: يا رسول الله! إنا كنا في جاهلية وشر (1) ، فجاءنا الله بهذا الخير (2) [فنحن فيه] [وجاء بك] فهل بعد هذا الخير من شر [كما كان قبله] ؟ [قال: يا حذيفة تعلم كتاب الله واتبع ما فيه، (ثلاث مرات) ] قال: قلت: يا رسول الله! أبعد هذا الخير من شر؟ قال: نعم، [قلت: فما العصمة منه (3) ؟ قال: السيف (4) ] [قلت: وهل بعد ذلك الشر من خير؟] (وفي رواية: وهل بعد السيف من بقية؟) قال: نعم، (وفي رواية: تكون إمارة - وفي لفظ -
--------------------------------------------
তলোয়ারের মাধ্যমে যে ফিতনা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়১- হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মানুষ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, কিন্তু আমি তাঁকে অকল্যাণ বা মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, পাছে তা আমাকে পেয়ে বসে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলিয়াত ও মন্দের মধ্যে ছিলাম (১), অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিকট এই কল্যাণ (২) নিয়ে আসলেন [এখন আমরা এর মধ্যে রয়েছি] [এবং আপনাকে পাঠিয়েছেন], তো এই কল্যাণের পরে কি আবার কোনো মন্দ আসবে [যেমনটি এর পূর্বে ছিল]? [তিনি বললেন: হে হুজাইফা, আল্লাহর কিতাব শিক্ষা করো এবং তাতে যা আছে তা অনুসরণ করো (তিনবার)]। তিনি (হুজাইফা) বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এই কল্যাণের পরেও কি অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। [আমি বললাম: তবে তা থেকে বাঁচার উপায় (৩) কী? তিনি বললেন: তলোয়ার (৪)]। [আমি বললাম: সেই মন্দের পরে কি আবার কোনো কল্যাণ আছে?] (অন্য বর্ণনায়: তলোয়ারের পরে কি কোনো অবশিষ্টাংশ থাকবে?) তিনি বললেন: হ্যাঁ। (অন্য বর্ণনায়: একটি ইমারত বা নেতৃত্ব হবে - অন্য শব্দে -
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
جماعة على أقذاء (1) وهدنة على دَخَن (2) ، قلت: وما دخنه؟ قال: قوم وفي رواية: [يكون بعدي أئمة يستنون بغير سنتي] ويهدون بغير هديي، تعرف منهم وتنكر، [وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين في جثمان إنس] ، وفي رواية: الهدنة على دخن ما هي؟ قال: لا ترجع قلوب أقوام على الذي كانت عليه، قلت: فهل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: نعم، [فتنة عمياء صماء عليها] دعاة على أبواب جهنم، من أجابهم إليها قذفوه فيها، قلت: يا رسول الله! صفهم لنا. قال: هم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا، قلت: يا رسول الله فما
تأمرني إن أدركني ذلك؟ قال: تلزم جماعة المسلمين وإمامهم؛ [تسمع وتطيع الأمير، وإن ضرب ظهرك، وأخذ مالك فاسمع وأطع] ، قلت: فإن لم يكن لهم جماعة ولا إمام؟ قال: فاعتزل تلك الفرق كلها، ولو
--------------------------------------------
ময়লা-আবর্জনার ওপর ঐক্যবদ্ধ দল (১) এবং ধোঁয়ার ওপর সন্ধি (২)। আমি বললাম: তার ধোঁয়া কী? তিনি বললেন: এক সম্প্রদায়; এবং অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: [আমার পর এমন কিছু নেতা আসবে যারা আমার সুন্নাত অনুসরণ করবে না] এবং আমার হেদায়াত অনুযায়ী পরিচালিত হবে না। তোমরা তাদের কিছু কাজকে চিনবে এবং কিছু কাজকে প্রত্যাখ্যান করবে। [এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকের উদ্ভব হবে যাদের অন্তর হবে মানুষের দেহে শয়তানের অন্তর]। অন্য এক বর্ণনায় আছে: ধোঁয়ার ওপর সন্ধি কী? তিনি বললেন: এক সম্প্রদায়ের অন্তর সেই পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে না যার ওপর তারা ছিল। আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, [এক অন্ধ ও বধির ফিতনা যাতে থাকবে] জাহান্নামের দরজাসমূহের দিকে আহ্বানকারী। যে কেউ তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: তারা আমাদেরই স্বজাতি এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই পরিস্থিতির
সম্মুখীন হই তবে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন: তুমি মুসলিমদের জামাত ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। [তুমি আমীরের কথা শুনবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে, যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে ও আনুগত্য করবে]। আমি বললাম: যদি তাদের কোনো জামাত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন: তবে তুমি সেই সকল দল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকো, যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تعض بأصل شجرة (1) حتى يدرك الموت وأنت على ذلك، وفي رواية: فإن تمت يا حذيفة وأنت عاض على جِذلٍ خير لك من أن تتبع أحداً منهم، وفي رواية: فإن رأيت يومئذٍ لله عز وجل في الأرض خليفة، فالزمه وإن ضرب ظهرك وأخذ مالك، فإن لم تر خليفة؛ فاهرب في الأرض حتى يدركك الموت وأنت عاض على جذل شجرة، قال: قلت: ثم ماذا؟ قال: يخرج الدجال، قال: قلت: فبم يجيء؟ قال: بنهر - أو قال: ماء ونار -، فمن دخل نهره حَطَّ أجره ووجب وزره (2) ، ومن دخل ناره وجب أجره وحط وزره، قلت: يا رسول الله! فما بعد الدجال؟ قال: عيسى بن مريم، قال: قلت: ثم ماذا؟ قال: لو أنتجت (3) فرساً لم تركب فُلُوَّها (4) حتى تقوم الساعة.
--------------------------------------------
গাছের মূলে কামড়ে পড়ে থাকা (১) যতক্ষণ না এই অবস্থায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে: হে হুজায়ফা! যদি তুমি গাছের কাণ্ডে কামড়ে থাকা অবস্থায় মারা যাও, তবে তা তাদের কারো অনুসরণ করার চেয়ে তোমার জন্য উত্তম। অন্য এক বর্ণনায়: যদি সেদিন তুমি জমিনে মহান আল্লাহর কোনো খলিফাকে দেখতে পাও, তবে তাঁকে আঁকড়ে ধরবে, যদিও তিনি তোমার পিঠে প্রহার করেন এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেন। আর যদি তুমি কোনো খলিফা না পাও, তবে জমিনে পালিয়ে বেড়াবে যতক্ষণ না গাছের কাণ্ডে কামড়ে থাকা অবস্থায় তোমার মৃত্যু এসে পড়ে। তিনি বলেন: আমি বললাম, এরপর কী হবে? তিনি বললেন: দাজ্জাল বের হবে। আমি বললাম: সে কী নিয়ে আসবে? তিনি বললেন: একটি নদী নিয়ে—অথবা তিনি বললেন: পানি ও আগুন নিয়ে—অতঃপর যে ব্যক্তি তার নদীতে প্রবেশ করবে, তার নেকি ঝরে যাবে এবং তার ওপর গুনাহ অবধারিত হবে (২), আর যে তার আগুনে প্রবেশ করবে, তার নেকি অবধারিত হবে এবং গুনাহ ঝরে যাবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! দাজ্জালের পর কী হবে? তিনি বললেন: ঈসা ইবনে মারিয়াম। তিনি বলেন: আমি বললাম, তারপর কী? তিনি বললেন: যদি একটি ঘোড়া বাচ্চা দেয় (৩), তবে তুমি সেই ঘোড়ার শাবকের (৪) পিঠে সওয়ার হওয়ার আগেই কিয়ামত কায়েম হয়ে যাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
خَرَّجَهُ شيخنا الألباني رحمه الله في الصحيحة (2739) جامعاً زياداته وطرقه وألفاظه (1) .
ظهور قوم يدعون النبوة بعده صلى الله عليه وسلم -
1- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((بين يدي الساعة قريب من ثلاثين دجالين كذابين، كلهم يقول: أنا نبي، أنا نبي (2) !)) (3) .
2- عن حذيفة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((في أمتي كذابون، ودجالون، سبعة وعشرون، منهم أربعة نسوة، وإني خاتم النبيين، لا نبي بعدي (4)) ) (5) .
--------------------------------------------
এটি আমাদের শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আস-সহীহাহ' (২৭৩৯) গ্রন্থে এর অতিরিক্ত অংশসমূহ, সূত্রসমূহ এবং শব্দাবলি একত্রিত করে সংকলন করেছেন (১)।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে নবুওয়াতের দাবিদার একদল সম্প্রদায়ের আবির্ভাব -
১- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের প্রাক্কালে প্রায় ত্রিশজন চরম মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, তাদের প্রত্যেকেই বলবে: আমি নবী, আমি নবী (২)!" (৩)।
২- হুযায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সাতাশজন চরম মিথ্যাবাদী ও দাজ্জাল আসবে, তাদের মধ্যে চারজন নারী। আর আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী নেই (৪)" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ظهور الفتن بموت عمر بن الخطاب رضي الله عنه -
1- عن حذيفة رضي الله عنه قال: بينا نحن جلوس عند عمر رضي الله عنه إذ قال: أيكم يحفظ قول النبي صلى الله عليه وسلم في الفتنة؟ قال: فتنة الرجل في أهله وماله وولده وجاره تكفرها الصلاة والصدقة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، قال: ليس عن هذا أسألك، ولكن التي تموج كموج البحر، قال: ليس عليك منها بأس يا أمير المؤمنين، إن بينك وبينها باباً مغلقاً، قال عمر: أيكسر الباب أم يفتح؟ قال: لا بل يكسر، قال عمر: إذاً لا يغلق أبداً، قلت: أجل، قلنا لحذيفة: أكان عمر يعلم الباب؟ قال: نعم كما يعلم أن دون غد ليلة، وذلك أني حدثته حديثاً ليس بالأغاليط، فهبنا أن نسأله من الباب؟ فأمرنا مسروقاً فسأله، فقال: من الباب؟ قال: عمر (1) .
2- عن حذيفة رضي الله عنه قال: ما بينكم وبين أن يرسل عليكم الشر فراسخ؛ إلا موتة في عنق رجل يموتها وهو عمر (2) .
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর মাধ্যমে ফিতনাসমূহের আবির্ভাব -
১- হুযাইফা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "আপনাদের মধ্যে কে ফিতনা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী মুখস্থ রেখেছেন?" তিনি (হুযাইফা) বললেন: "পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও প্রতিবেশী নিয়ে মানুষের ফিতনা (পরীক্ষা বা গুনাহ) সালাত, সাদাকাহ, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের মাধ্যমে মোচন হয়ে যায়।" তিনি (উমর) বললেন: "আমি আপনাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি না, বরং আমি ওই ফিতনা সম্পর্কে বলছি যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে।" তিনি (হুযাইফা) বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, তাতে আপনার কোনো ভয় নেই। কারণ আপনার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে।" উমর বললেন: "দরজাটি কি ভেঙে ফেলা হবে নাকি খোলা হবে?" তিনি বললেন: "না, বরং ভেঙে ফেলা হবে।" উমর বললেন: "তাহলে তো সেটি আর কখনোই বন্ধ করা যাবে না।" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" আমরা হুযাইফাকে বললাম: "উমর কি জানতেন সেই দরজাটি কে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যেমন তিনি জানেন যে আগামীকালের আগে রাত আসবে। কারণ আমি তাঁকে এমন এক হাদিস শুনিয়েছিলাম যা কোনো অসার কথা ছিল না।" অতঃপর আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাচ্ছিলাম যে, সেই দরজাটি কে? তাই আমরা মাসরুককে অনুরোধ করলাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "সেই দরজাটি কে?" তিনি বললেন: "উমর" (১) ।
২- হুযাইফা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমাদের ওপর অনিষ্ট বা ফিতনা ছেড়ে দেওয়ার মাঝে আর কোনো দূরত্ব অবশিষ্ট নেই; কেবল একজন ব্যক্তির অনিবার্য মৃত্যু ছাড়া, আর তিনি হলেন উমর" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قتل أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه ظلماً1- عن عائشة رضي الله عنها قالت: جاء عثمان رضي الله عنه، فأقبل عليه - يعني النبي صلى الله عليه وسلم بوجهه، فسمعته يقول: ((يا عثمان إنَّ الله تعالى لعله أن يقمصك (1) قميصاً (2) ، فإن أرادوك على خلعه فلا تخلعه)) (3) .
2- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال - وعثمان محصور في الدار -: ((ستكون فتنة واختلاف، قلنا فما تأمرنا يا رسول الله؟ قال: عليكم بالأمير وأصحابه - وأشار إلى عثمان -)) (4) .
3- عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه: ((وددت أن عندي بعض أصحابي)) قلنا: يا رسول الله ألا ندعوا لك أبا بكر؟ فسكت. قلنا: ألا ندعوا لك عمر؟ فسكت. قلنا ألا ندعوا لك عثمان؟ قال: ((نعم)) فجاء، فخلا به، فجعل
--------------------------------------------
আমিরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড১- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: ((হে উসমান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সম্ভবত তোমাকে একটি জামা (১) পরাবেন (২), অতঃপর যদি তারা সেটি তোমাকে খুলে ফেলতে চায়, তবে তুমি তা খুলবে না)) (৩)।
২- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—যখন উসমান তাঁর বাড়িতে অবরুদ্ধ ছিলেন—: ((অচিরেই ফিতনা ও মতপার্থক্য দেখা দেবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আপনি আমাদের কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তোমরা আমিরের সাথে থাকবে এবং তাঁর সঙ্গীদের সাথে থাকবে —এবং তিনি উসমানের দিকে ইশারা করলেন—)) (৪)।
৩- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতার সময় বললেন: ((আমার আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে যে, আমার নিকট আমার কিছু সাহাবী আসতেন)) আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য আবু বকরকে ডাকব? তিনি চুপ থাকলেন। আমরা বললাম: আমরা কি আপনার জন্য উমরকে ডাকব? তিনি চুপ থাকলেন। আমরা বললাম: আমরা কি আপনার জন্য উসমানকে ডাকব? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ))। অতঃপর তিনি আসলেন এবং তিনি তাঁর সাথে একান্তে নিভৃতে কথা বললেন, এরপর তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
النبي صلى الله عليه وسلم يكلمه ووجه عثمان يتغير.
قال قيس: فحدثني أبو سهلة مولى عثمان: أن عثمان قال يوم الدار: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم عهد إليَّ عهداً فأنا صائر إليه. قال قيس: فكانوا يرونه ذلك اليوم (1) .
4- عن كعب بن عجرة رضي الله عنه قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم فتنة فقربها، فمر رجل مقنع رأسه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هذا يومئذ على الهدى)) . فوثبت فأخذت بضبعي (2) عثمان، ثم استقبلت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: هذا؟ قال: ((هذا)) (3) .
إذا وضع السيف في الأمة لم يرفع1- عن ثوبان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا وضع السيف (4) في أمتي لم يرفع عنها إلى يوم القيامة (5)) ) (6) .
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কথা বলছিলেন এবং উসমানের চেহারা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছিল।
কায়েস বলেন: উসমানের মুক্তদাসা আবু সাহলাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উসমান 'ইয়াওমুল দার' (অবরুদ্ধ থাকার দিন) বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট একটি অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, তাই আমি সেই পথেই অবিচল আছি।" কায়েস বলেন: তারা মনে করতেন সেই দিনটিই ছিল এটি। (১)।
৪- কাব বিন উজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন এবং সেটিকে নিকটবর্তী বললেন। এমতাবস্থায় মাথা ঢাকা এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সেদিন এই ব্যক্তি হিদায়াতের ওপর থাকবে।" তখন আমি দ্রুত উঠে উসমানের দুই বাহুর মধ্যভাগ (২) ধরলাম, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরে বললাম: "এই ব্যক্তি কি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এই ব্যক্তি।" (৩)।
যখন উম্মতের মধ্যে তলোয়ার চালনা শুরু হবে, তখন আর তা তুলে নেওয়া হবে না১- সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আমার উম্মতের মধ্যে তলোয়ার রাখা হবে (৪), তখন কিয়ামত পর্যন্ত আর তা তাদের থেকে তুলে নেওয়া হবে না (৫)।" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقعة الجمل1- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لتقاتلنه وأنت ظالم له. - يعني الزبير وعلياً رضي الله عنهما) (1) .
2- عن قيس بن أبي حازم قال: لما أقبلت عائشة؛ بلغت مياه بني عامر ليلاً، نبحت الكلاب. قالت: أي ماء هذا؟ قالوا: ماء الحوأب. قالت: ما أظنني إلا أني راجعة. فقال بعض من كان معها: بل تقدمين، فيراك المسلمون، فيصلح الله عز وجل بينهم. قالت: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لها ذات يوم: ((كيف بإحداكن تنبح عليها كلاب الحوأب)) (2) .
3- عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لنسائه: ((أيتكن صاحبة الجمل الأدبب (3) يقتل حولها قتلى كثيرة تنجو بعد ما كادت؟!)) (4) .
4- عن خيثمة بن عبد الرحمن قال: كنا عند
--------------------------------------------
জামাল যুদ্ধ১- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি অবশ্যই তার সাথে যুদ্ধ করবে অথচ তুমি হবে তার প্রতি অন্যায়কারী।” —অর্থাৎ যুবাইর ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা প্রসঙ্গে। (১) .
২- কায়েস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা যখন অগ্রসর হলেন এবং রাতে বনী আমিরের জলাশয়ের নিকট পৌঁছালেন, তখন কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে উঠল। তিনি বললেন: এটি কোন জলাশয়? তারা বলল: হাওয়াবের জলাশয়। তিনি বললেন: আমার মনে হচ্ছে আমাকে ফিরে যেতে হবে। তখন তাঁর সাথে থাকা কিছু লোক বলল: বরং আপনি অগ্রসর হোন, যাতে মুসলিমরা আপনাকে দেখে এবং এর ফলে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেন। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর স্ত্রীদের বলেছিলেন: “তোমাদের একজনের অবস্থা কেমন হবে যখন তার ওপর হাওয়াবের কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করবে!” (২) .
৩- ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই লোমশ উটের (৩) অধিকারিনী কে, যার চারপাশে অনেক মানুষ নিহত হবে এবং সে প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হওয়ার পর বেঁচে যাবে?!” (৪) .
৪- খাইসামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা উপস্থিত ছিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حذيفة رضي الله عنه، فقال بعضنا: حدثنا يا أبا عبد الله ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: لو فعلت لرجمتموني، قال: قلنا: سبحان الله أنحن نفعل ذلك؟! قال: أرأيتكم لو حدثتكم أن بعض أمهاتكم تأتيكم في كتيبة كثير عددها شديد بأسها صدقتم به؟! قالوا: سبحان الله ومن يصدق بهذا؟! ثم قال حذيفة: أتتكم الحميراء (1) في كتيبة يسوقها أعلاجها (2) حيث تسوء وجوهكم، ثم قام فدخل مخدعاً (3) .
وقعة صفين1- قال النبي صلى الله عليه وسلم لعمار بن ياسر: ((تقتلك الفئة الباغية)) (4) .
2- عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تقوم الساعة حتى تقتتل فئتان عظيمتان يكون بينهما مقتلة عظيمة دعوتهما واحدة)) (5) .
--------------------------------------------
হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমাদের মধ্যে কেউ বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে যা শুনেছেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: যদি আমি তা করি, তবে আপনারা আমাকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: সুবহানাল্লাহ! আমরা কি এমন করব?! তিনি বললেন: আপনারা কি মনে করেন, যদি আমি আপনাদের নিকট বর্ণনা করি যে, আপনাদের জননীদের কেউ এক বিশাল ও অত্যন্ত শক্তিশালী বাহিনীর সাথে আপনাদের নিকট আসবেন, তবে কি আপনারা তা বিশ্বাস করবেন?! তারা বললেন: সুবহানাল্লাহ! এমন কথা কে বিশ্বাস করবে?! অতঃপর হুজাইফা বললেন: তোমাদের নিকট হুমাইরা (১) এক বাহিনীর সাথে আসবে যাদের পরিচালনা করবে শক্ত-সামর্থ্য অনারবরা (২), যা তোমাদের চেহারাকে মলিন করে দেবে। এরপর তিনি উঠে একটি ছোট কামরায় (৩) প্রবেশ করলেন।
সিফফিনের যুদ্ধ১- নবী (সা.) আম্মার বিন ইয়াসিরকে বলেছিলেন: ((তোমাকে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হত্যা করবে।)) (৪) ।
২- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: ((কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দুটি বিশাল দল পরস্পরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তাদের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ হবে, অথচ তাদের উভয়ের দাবি হবে এক।)) (৫) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ظهور الخوارج (1)
1- عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تمرق مارقة عند فرقة من المسلمين، يقتلها أولى الطائفتين بالحق)) (2) .
2- عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ينشأ نشءٌ يقرؤون القرآن، لا يجاوز تراقيهم، كلما خرج فرق قطع حتى يخرج في أعراضهم الدجال)) (3) .
3- عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن منكم من يقاتل على تأويل هذا القرآن، كما قاتلتُ على تنزيله)) ، فاستشرفنا وفينا أبو بكر وعمر، فقال: ((لا، ولكنه خاصف النعل. يعني علياً رضي الله عنه)) (4) .
4- عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال يوم
--------------------------------------------
খারেজীদের আত্মপ্রকাশ (১)
১- আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ার সময় একটি দলের বহির্গমন ঘটবে, সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী দলটি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।)) (২) ।
২- ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((এমন একটি প্রজন্মের উদ্ভব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। যখনই তাদের কোনো দল আত্মপ্রকাশ করবে তখনই তাদের নির্মূল করা হবে, এভাবে চলতে চলতে অবশেষে তাদের শেষাংশে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে।)) (৩) ।
৩- আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে এই কুরআনের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যেমন আমি এর অবতীর্ণকরণের পক্ষে যুদ্ধ করেছি।)) তখন আমরা উন্মুখ হয়ে তাকালাম এবং আমাদের মাঝে আবু বকর ও উমর (রা.) ছিলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন: ((না, বরং তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি জুতো সেলাই করছেন। অর্থাৎ আলী (রা.)।)) (৪) ।
৪- আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি সেই দিন বলেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
النهروان: ((أمرت بقتال المارقين وهؤلاء المارقون (1)) ) (2) .
5- عن أبي سعيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن من ضئضئ هذا - أو في عقب هذا - قوم يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية، يقتلون أهل الإسلام ويدعون أهل الأوثان، لئن أنا أدركتهم؛ لأقتلنهم قتل عاد)) (3) .
6- وفي رواية: ((يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم، وصيامه مع صيامهم، يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية، ينظر إلى نصله (4) فلا يوجد فيه شيء، ثم ينظر إلى رصافه (5) فما يوجد فيه شيء، ثم ينظر إلى نضيه -وهو قدحه- فلا يوجد فيه شيء، ثم ينظر إلى قذذه (6) فلا يوجد فيه شيء، قد سبق الفرث والدم، آيتهم (7) رجل
--------------------------------------------
নাহরাওয়ান: ((আমাকে মারিকীনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা হলো এই মারিকীন (১))) (২)।
৫- আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির বংশধর থেকে - অথবা এর পরবর্তী বংশ থেকে - এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলাম অনুসারীদের হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দেবে। আমি যদি তাদের পাই, তবে অবশ্যই তাদের আদ জাতির মতো সমূলে হত্যা করব)) (৩)।
৬- এবং অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ((তোমাদের কেউ তাদের সালাতের তুলনায় নিজের সালাতকে এবং তাদের সিয়ামের তুলনায় নিজের সিয়ামকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকারের দেহ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এরপর কেউ তার তীরের ফলায় (৪) দৃষ্টি দিলে তাতে (রক্তের) কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না, তারপর তার তীরের ফলার গোড়ায় (৫) দৃষ্টি দিলে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, তারপর তার তীরের কাঠের দণ্ডে দৃষ্টি দিলে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, তারপর তার তীরের পালকে (৬) দৃষ্টি দিলে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না। শিকারের মলমূত্র ও রক্তকে ডিঙিয়ে তীরটি বেরিয়ে গেছে। তাদের নিদর্শন (৭) হলো এমন এক ব্যক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أسود إحدى عضديه مثل ثدي المرأة، أو مثل البضعة (1) تَدَرْدَر (2) ، ويخرجون على حين فرقة من الناس)) .
قال أبو سعيد: فأشهد أني سمعت هذا الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأشهد أن علي بن أبي طالب قاتلهم وأنا معه، فأمر بذلك الرجل فالتمس، فأتي به، حتى نظرت إليه على نعت النبي صلى الله عليه وسلم الذي نعته (3) .
وفي رواية: قيل يا رسول الله ما سيماهم؟ قال: ((سيماهم التحليق. أو قال: التسبيد (4)) ) (5) .
7- عن علي رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((يأتي في آخر الزمان قوم حدثاء الأسنان، سفهاء الأحلام، يقولون من خير قول البرية، يمرقون من الإسلام كما يمرق السهم من الرمية، لا يجاوز إيمانهم حناجرهم، فأينما لقيتموهم فاقتلوهم، فإن قتلهم أجر لمن قتلهم يوم القيامة)) (6) .
--------------------------------------------
সে হবে কালো বর্ণের, তার এক বাহু হবে নারীর স্তনের ন্যায় অথবা মাংসপিণ্ডের ন্যায় (১), যা নড়াচড়া (২) করছে; আর তারা মানুষের মধ্যে বিভেদের সময় বের হবে।
আবু সাঈদ (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এই হাদিসটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী বিন আবি তালিব তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি সেই লোকটিকে খোঁজার নির্দেশ দিলেন, তাকে খুঁজে পাওয়া গেল এবং আনা হলো। এমনকি আমি তাকে দেখলাম এবং তার বৈশিষ্ট্যগুলো ঠিক তেমনই ছিল যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বর্ণনা করেছিলেন (৩)।
অন্য এক বর্ণনায় আছে: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের নিদর্শন কী? তিনি বললেন: ((তাদের নিদর্শন হলো মাথা মুণ্ডন করা। অথবা তিনি বললেন: তাসবিদ (৪))) (৫)।
৭- আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((শেষ যামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে অল্পবয়সী এবং নির্বোধ। তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম কথা বলবে। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। সুতরাং তোমরা যেখানেই তাদের পাবে হত্যা করবে, কারণ তাদের হত্যা করা কিয়ামতের দিন হত্যাকারীর জন্য সওয়াবের কাজ)) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
8- عن سهل بن حنيف رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يتيه (1) قوم قبل المشرق محلقة رءوسهم)) (2) .
9- عن أبي سعيد وأنس بن مالك رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((سيكون في أمتي اختلاف وفرقة قوم يحسنون القيل ويسيئون الفعل)) (3) .
10- عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يخرج فيكم أو يكون فيكم قوم يتعبدون ويتدينون حتى يعجبوكم وتعجبهم أنفسهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية)) (4) .
إصلاح الحسن بن علي بين المؤمنين1- عن أبي بكرة رضي الله عنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر والحسن بن علي إلى جنبه وهو يقبل على الناس مرة وعليه أخرى،
--------------------------------------------
৮- সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পূর্ব দিক থেকে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা পথভ্রষ্ট হবে (১), যাদের মাথা মুণ্ডিত থাকবে।" (২) .
৯- আবু সাঈদ ও আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে অচিরেই মতভেদ ও দলাদলির সৃষ্টি হবে; তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কথায় পটু কিন্তু কাজে মন্দ।" (৩) .
১০- আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে অথবা অবস্থান করবে যারা ইবাদত ও দ্বীনদারিতে এমন কঠোর হবে যে তারা তোমাদের তাক লাগিয়ে দেবে এবং তারা নিজেরাও নিজেদের নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভুগবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।" (৪) .
মুমিনদের মধ্যে হাসান ইবনে আলীর আপোষ-মীমাংসা১- আবু বাকরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিম্বারের উপরে দেখলাম এবং হাসান ইবনে আলী তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার মানুষের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং আরেকবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ويقول: ((إن ابني هذا سيد، ولعل الله أن يصلح به بين فئتين عظيمتين من المسلمين)) (1) .
مدة الخلافة بعده صلى الله عليه وسلم -
1- عن سفينة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الخلافة بعدي ثلاثون سنة، ثم تكون ملكاً)) (2) .
ظهور الشيعة (3) والنواصب (4)
1- عن علي رضي الله عنه قال: ليحبني قوم حتى
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমার এই সন্তান একজন সরদার, আর অচিরেই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে মীমাংসা করিয়ে দেবেন।" (১) ।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরবর্তী খিলাফতের সময়কাল -
১- সাফিনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরবর্তী খিলাফত ত্রিশ বছর স্থায়ী হবে, এরপর তা রাজতন্ত্রে পরিণত হবে।" (২) ।
শিয়া (৩) এবং নাওয়াসিবদের (৪) আত্মপ্রকাশ
১- আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদল লোক আমাকে এতটাই ভালোবাসবে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يدخلوا النار فيَّ، وليبغضني قوم حتى يدخلوا النار في بغضي (1) .
مقتل الحسين بن علي1- عن أم الفضل بنت الحارث قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أتاني جبريل عليه الصلاة والسلام، فأخبرني أن أمتي ستقتل ابني هذا - يعني: الحسين -)) . فقلت: هذا؟ فقال: ((نعم؛ وأتاني بتربة من تربته حمراء)) (2) .
2- عن عائشة أو أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لإحداهما: ((لقد دخل عليَّ البيت ملك لم يدخل عليَّ قبلها، فقال لي: إنَّ ابنك هذا: حسين مقتول، وإن شئت أريتك من تربة الأرض التي يقتل بها. قال: فأخرج تربة حمراء)) (3) .
--------------------------------------------
...তারা আমার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, এবং একদল লোক আমাকে ঘৃণা করবে এমনকি তারা আমার প্রতি ঘৃণার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবে (১)।
হুসাইন বিন আলীর শাহাদাত১- উম্মুল ফজল বিনতে আল-হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমার কাছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আসলেন, অতঃপর তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মত অচিরেই আমার এই পুত্রকে—অর্থাৎ হুসাইনকে—হত্যা করবে।)) আমি বললাম: একে? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ; এবং তিনি তার শাহাদাতের স্থানের কিছু লাল মাটি আমার কাছে নিয়ে আসলেন)) (২)।
২- আয়িশা অথবা উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একজনের কাছে বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আজ ঘরে আমার নিকট এমন একজন ফেরেশতা প্রবেশ করেছেন যিনি এর আগে কখনো আমার নিকট আসেননি। তিনি আমাকে বললেন: আপনার এই পুত্র হুসাইন নিহত হবে; আর আপনি চাইলে আমি আপনাকে সেই জমিনের কিছু মাটি দেখাতে পারি যেখানে তাকে হত্যা করা হবে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর তিনি লাল মাটি বের করলেন)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ظهور القدرية (1) والمرجئة (2)
1- عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صنفان من أمتي لا يردان الحوض ولا يدخلون الجنة: القدرية والمرجئة)) (3) .
2- عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((القدرية مجوس هذه الأمة، إن مرضوا فلا تعودوهم، وإن ماتوا فلا تشهدوهم)) (4) .
3- عن زرارة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نزلت في أناس من أمتي في آخر الزمان يكذبون بقدر الله عز وجل) يعني قوله تعالى: ذوقوا مسَّ سقر. إنا كل شيء خلقناه بقدر (5) .
--------------------------------------------
কাদারিয়া (১) ও মুরজিয়াদের (২) উদ্ভব।
১- আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের দুই শ্রেণীর লোক হাউজে (কাওসারে) আসবে না এবং জান্নাতেও প্রবেশ করবে না: কাদারিয়া এবং মুরজিয়া।" (৩)।
২- ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কাদারিয়া সম্প্রদায় এই উম্মতের অগ্নিউপাসক (মাজুস)। তারা অসুস্থ হলে তাদের দেখতে যেও না, আর তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না।" (৪)।
৩- যুরারাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শেষ যুগে আমার উম্মতের এমন কিছু মানুষের ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল হয়েছে যারা আল্লাহর তাকদীরকে অস্বীকার করবে।" অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা জাহান্নামের স্পর্শ আস্বাদন করো। নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করেছি) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4- عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أُخِّرَ الكلام في القدر لشرار أمتي في آخر الزمان)) (1) .
5- عن حذيفة رضي الله عنه قال: إني لأعلم أهل دينين من أمة محمد صلى الله عليه وسلم في النار: قوم يقولون: إن كان أولنا ضلالاً؛ ما بال خمس صلوات في اليوم والليلة، إنما هو صلاتان؛ العصر والفجر، وقوم يقولون: إنما الإيمان كلام وإن زنى وإن قتل (2) .
6- عن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يزال أمر هذه الأمة مواتياً أو مقارباً ما لم يتكلموا في الوِلْدان (3) والقدر)) (4) .
--------------------------------------------
৪- আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "শেষ যামানায় তাকদীর সম্পর্কে বিতর্ক বা আলোচনা আমার উম্মতের নিকৃষ্ট লোকদের জন্য তুলে রাখা হয়েছে" (১)।
৫- হুযাইফা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের এমন দুই মতাদর্শের অনুসারীদের সম্পর্কে জানি যারা জাহান্নামে যাবে: একদল যারা বলে—যদি আমাদের পূর্বপুরুষরা বিভ্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কী প্রয়োজন? সালাত তো মাত্র দুই ওয়াক্ত; আসর ও ফজর। এবং অন্য দল যারা বলে—ঈমান তো কেবল মৌখিক স্বীকৃতির নাম, যদিও সে যিনা করে কিংবা হত্যা করে" (২)।
৬- ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এই উম্মতের বিষয়াবলী অনুকূল অথবা সঠিক পথের কাছাকাছি থাকবে যতক্ষণ না তারা শিশু সন্তানদের (৩) পরিণাম এবং তাকদীর নিয়ে তর্কে লিপ্ত হবে" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقعة الحَرَّة (1)
1- عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا أبا ذر)) ، قلت: لبيك يا رسول الله وسعديك، قال: ((كيف أنت إذا أصاب الناس موت يكون البيت فيه بالوصيف - يعني القبر -؟)) (2) قلت: الله ورسوله أعلم أو قال: ما خار الله لي ورسوله قال: ((عليك بالصبر أو قال: تصبر)) ثم قال لي: ((يا أبا ذر)) قلت: لبيك وسعديك قال: ((كيف أنت إذا رأيت أحجار الزيت (3) قد غرقت بالدم؟)) (4) قلت: ما خار الله لي ورسوله قال:
--------------------------------------------
হাররার যুদ্ধ (১)
১- আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: ((হে আবু যার!)), আমি বললাম: আমি আপনার খিদমতে হাজির হে আল্লাহর রাসূল এবং আপনার আনুগত্যে ধন্য। তিনি বললেন: ((তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন মানুষের মাঝে এমন মৃত্যু নেমে আসবে যে, একটি কবরের বিনিময়ে একজন দাসের (বা তার মূল্যের) প্রয়োজন হবে?)) (২) আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন, অথবা তিনি বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমার জন্য যা পছন্দ করেন। তিনি বললেন: ((তোমার ওপর ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক, অথবা বললেন: তুমি ধৈর্য ধারণ করবে))। তারপর তিনি আমাকে বললেন: ((হে আবু যার!)) আমি বললাম: আমি আপনার খিদমতে হাজির এবং আপনার আনুগত্যে ধন্য। তিনি বললেন: ((তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন তুমি দেখবে যে আহজারুয যায়ত (৩) রক্তে ডুবে গেছে?)) (৪) আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমার জন্য যা পছন্দ করেন। তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
((عليك بمن أنت منه)) قلت: يا رسول الله أفلا آخذ سيفي وأضعه على عاتقي؟ قال: ((شاركت القوم إذن)) قلت: فما تأمرني؟ قال: ((تلزم بيتك)) قلت: فإن دخل علي بيتي؟ قال: ((فإن خشيت أن يبهرك شعاع السيف فألق ثوبك على وجهك يبوء بإثمك وإثمه)) (1) .
افتراق الأمة على ثلاث وسبعين فرقة1- عن معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه أنه قال: ألا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قام فينا فقال: ((ألا إن من قبلكم من أهل الكتاب افترقوا على ثنتين وسبعين ملة، وإن هذه الملة ستفترق على ثلاث وسبعين، ثنتان وسبعون في النار، وواحدة في الجنة؛ وهي الجماعة - زاد ابن يحيى وعمرو في حديثيهما - وإنه سيخرج من أمتي أقوام تجارى بهم تلك الأهواء (2) كما يتجارى الكَلَب (3) لصاحبه، - وقال عمرو: الكلب بصاحبه - لا يبقى منه عِرْق ولا مَفْصِل إلا دخله)) (4) .
--------------------------------------------
((তুমি তাদের সঙ্গেই থাকো যাদের অন্তর্ভুক্ত তুমি।)) আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আমার তলোয়ার তুলে নিয়ে তা নিজের কাঁধে রাখব না? তিনি বললেন: ((তাহলে তো তুমিও ওই লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে।)) আমি বললাম: তবে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করেন? তিনি বললেন: ((তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করো।)) আমি বললাম: যদি কেউ আমার ঘরে ঢুকে পড়ে? তিনি বললেন: ((যদি তুমি ভয় করো যে তলোয়ারের ঝিলিক তোমাকে বিচলিত করবে, তবে তোমার কাপড় দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নাও; সে তোমার পাপ এবং তার নিজের পাপের বোঝা নিয়ে ফিরবে।)) (১) .
উম্মাহর তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হওয়া১- মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: সাবধান! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন: ((জেনে রাখো, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। বাহাত্তর দল জাহান্নামে যাবে এবং একটি দল জান্নাতে যাবে; আর সেটি হলো আল-জামাআত। —ইবনে ইয়াহইয়া এবং আমর তাদের বর্ণিত হাদিসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে— আর অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে এমন কিছু দলের উদ্ভব ঘটবে যাদের মধ্যে সেই সব প্রবৃত্তি (২) এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যেমন জলাতঙ্ক (৩) রোগীর দেহে ছড়িয়ে পড়ে। —আমর বলেছেন: রোগীর মধ্যে জলাতঙ্ক— তার কোনো রগ বা জোড়া বাকি থাকবে না যেখানে তা প্রবেশ করবে না।)) (৪) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2- عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ليأتين على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل، حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك، وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة، وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة، كلهم في النار إلا ملة واحدة)) ، قالوا: ومن هي يا رسول الله؟ قال: ((ما أنا عليه وأصحابي)) (1) .
خروج كذاب ومبير في ثقيف1- عن أسماء بنت أبي بكر قالت: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثنا: أن في ثقيف كذاباً ومبيراً. فأما الكذاب فرأيناه (2) ، وأما المبير (3) فلا أخالك إلا إياه - تعني الحجاج قال فقام عنها - يعني الحجاج ولم يراجعها (4) .
--------------------------------------------
২- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমার উম্মতের উপর অবশ্যই তেমন সময় আসবে যেমন বনী ইসরাঈলের উপর এসেছিল, এক জোড়া জুতার একটির সাথে অপরটি যেমন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় (ঠিক সেভাবে)। এমনকি তাদের মধ্যে যদি কেউ প্রকাশ্যে নিজের মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ থাকবে যে তা করবে। আর বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, তাদের সবাই জাহান্নামে যাবে একটি দল ছাড়া))। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: ((আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত)) (১)।
সাকীফ গোত্রে একজন চরম মিথ্যাবাদী ও একজন ধ্বংসকারীর আত্মপ্রকাশ১- আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে: সাকীফ গোত্রে একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং একজন ধ্বংসকারীর আগমন ঘটবে। অতঃপর মিথ্যাবাদীকে তো আমরা দেখেছি (২), আর ধ্বংসকারীর (৩) ব্যাপারে আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মনে করি না - অর্থাৎ হাজ্জাজকে। বর্ণনাকারী বলেন, হাজ্জাজ তার নিকট থেকে উঠে চলে গেল এবং তাকে আর কোনো প্রত্যুত্তর দিল না (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
اتساع المدينة1- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تبلغ المساكن إهاب أو يهاب (1)) ) (2) .
فتح بلاد فارس1- عن جابر بن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يزال الدين قائماً حتى تقوم الساعة، أو يكون عليكم اثنا عشر خليفة كلهم من قريش، وسمعته يقول: عصيبة من المسلمين يفتتحون البيت الأبيض (3) بيت كسرى أو آل كسرى، وسمعته يقول: إن بين يدي الساعة كذابين فاحذروهم (4)) ) .
--------------------------------------------
মদীনার বিস্তৃতি১- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বসতিসমূহ ইহাব বা ইয়াহাব (১) পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।” (২)।
পারস্য বিজয়১- জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত অথবা তোমাদের উপর বারোজন খলিফা থাকবে যাদের সবাই হবে কুরাইশ বংশের, এই দ্বীন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: মুসলমানদের একটি ছোট দল শ্বেত প্রাসাদ (৩), অর্থাৎ কিসরার প্রাসাদ বা কিসরার বংশধরদের প্রাসাদ বিজয় করবে। আর আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি: কিয়ামতের প্রাক্কালে অনেক মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থেকো (৪)।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فتح مصر1- عن أبي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنكم ستفتحون أرضاً يذكر فيها القيراط (1) ، فاستوصوا بأهلها خيراً؛ فإن لهم ذمة (2) ورحماً (3) ، فإذا رأيتم رجلين يقتتلان في موضع لبنة فاخرج منها)) قال: فمر بربيعة وعبد الرحمن ابني شرحبيل بن حسنة يتنازعان في موضع لبنة فخرج منها (4) .
نار تخرج من الحجاز1- عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من أرض الحجاز تضيء
--------------------------------------------
মিসর বিজয়১- আবু যার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা অচিরেই এমন একটি ভূমি জয় করবে যেখানে কিরাত (মুদ্রার একক) ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তোমরা সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ করো; কেননা তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা চুক্তি ও আত্মীয়তার বন্ধন। অতঃপর তোমরা যখন দেখবে যে, দুজন লোক একটি ইটের জায়গা নিয়ে ঝগড়া করছে, তখন সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো।” বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি (আবু যার) শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ-এর দুই পুত্র রাবিয়াহ ও আব্দুর রহমানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা একটি ইটের জায়গা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত ছিল, তখন তিনি সেখান থেকে চলে যান।
হিজায থেকে নির্গত অগ্নি১- আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না হিজাযের ভূমি থেকে এমন এক আগুন নির্গত হবে যা আলোকিত করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ আশরাতিস সাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أعناق الإبل بِبُصرى)) (1) .
رفع الأمانة1- عن حذيفة رضي الله عنه قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثين، رأيت أحدهما، وأنا أنتظر الآخر، حدثنا: ((أن الأمانة نزلت في جذر قلوب الرجال (2) ، ثم علموا من القرآن، ثم علموا من السنة، وحدثنا عن رفعها (3) ، قال: ينام الرجل النومة فتقبض الأمانة من قلبه، فيظل أثرها مثل أثر الوكت (4) ، ثم ينام النومة فتقبض، فيبقى أثرها مثل المجل (5) ؛ كجمر دحرجته على رجلك فنفط فتراه منتبراً (6) وليس فيه شيء، فيصبح الناس يتبايعون؛
--------------------------------------------
বুসরার উটগুলোর ঘাড় [দেখা যাবে]] (১)।
আমানত তুলে নেওয়া১- হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন; আমি তার একটি দেখেছি এবং অন্যটির অপেক্ষা করছি। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আমানত মানুষের অন্তরের মূলে অবতীর্ণ হয়েছিল, এরপর তারা কুরআন থেকে শিক্ষা লাভ করেছে এবং সুন্নাহ থেকে শিক্ষা লাভ করেছে।" আর তিনি আমাদের কাছে তা তুলে নেওয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মানুষ একবার ঘুমাবে, তখন তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে, ফলে তার চিহ্ন একটি ক্ষুদ্র বিন্দুর চিহ্নের মতো রয়ে যাবে। এরপর সে আবারও ঘুমাবে, তখন তা তুলে নেওয়া হবে, ফলে তার চিহ্ন একটি ফোস্কার চিহ্নের মতো রয়ে যাবে; যেমন তুমি একটি জ্বলন্ত কয়লা তোমার পায়ের ওপর গড়িয়ে দিলে এবং তা ফুলে উঠল, অতঃপর তুমি তা স্ফীত দেখলে অথচ তাতে কিছুই নেই। এরপর মানুষ কেনাবেচা করতে থাকবে;"
--------------------------------------------