(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مجموعة الفوائد البهية على منظومة القواعد الفقهية   (صالح الأسمري)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: مجموعة الفوائد البهية على منظومة القواعد الفقهية

المؤلف: أبو مُحمَّدٍ، صالحُ بنُ مُحمَّدٍ بنِ حسنٍ آلُ عُمَيِّرٍ، الأسمريُّ، القحْطانيُّ

اعتنى بإخراجها: متعب بن مسعود الجعيد

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 122

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাজমুআতুল ফাওয়াইদ আল-বাহিয়্যাহ আলা মানযুমাতিল কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ   (সালেহ আল-আসমারি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: মাজমুআতুল ফাওয়াইদ আল-বাহিয়্যাহ আলা মানযুমাতিল কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ, সালেহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল উমাইর, আল-আসমারি, আল-কাহতানি

সম্পাদনায়: মুতয়িব ইবনে মাসউদ আল-জুয়াইদ

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي مهد قواعد الدين بكتابه المحكم، وشيد معاقد العلم بخطابه وأحكم، وفَقَّه في دينه من أراد به خيرا من عباده وفهّم، وأوقف من شاء على ما شاء من أسرار مراده وألهم، فسبحان من حكّم فأحكم، وحَلَّل وحرّم، وعرّف وعلّم، علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تهدي إلى الطريق الأقوم، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، المخصوص بجوامع الكلم وبدائع الحكم، وودائع العلم والحلم والكرم، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم (1) .

أما بعد:

فإن علم القواعد الفقهية من أجَلِّ العلوم الشرعية قدرا، وأسماها فخرا، وأعلاها شرفا وذكرا؛ ولذا أعلى الأئمة من شأنه، وأشادوا بمكانته وأهميته، وبينوا حاجة الفقيه الماسة إلى الإلمام به وتعلمه. قال الإمام القرافي يرحمه الله: (وهذه القواعد مهمة في الفقه، عظيمة النفع، وبقدر الإحاطة بها يَعُظُم قدر الفقيه ويَشْرُف، ويظهر رونق الفقه ويُعْرف، وتتضح مناهج الفتوى وتُكْشَف) (2) .

--------------------------------------------

(1) من: مقدمة ابن رجب في: "القواعد".

(2) "الفروق:1/3".
‌[উপক্রমণিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুস্পষ্ট (المحكم) কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (القواعد) সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইলমের ভিত্তিগুলোকে সুদৃঢ় ও মজবুত করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (الفقه) দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তাঁর অভিপ্রায়ের গূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবহিত করেন ও ইলহাম দান করেন। অতএব পবিত্রতা তাঁরই, যিনি বিধান দান করেছেন ও তা সুসংহত করেছেন, হালাল করেছেন ও হারাম করেছেন, পরিচিত করেছেন ও শিক্ষা দিয়েছেন; যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে এমন কিছু শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা সঠিকতম পথের দিশা দেয়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (جوامع الكلم), বিস্ময়কর হিকমত এবং ইলম, সহনশীলতা ও মহানুভবতার আমানত দিয়ে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন (১)।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية) সংক্রান্ত ইলম শরয়ি জ্ঞানসমূহের মধ্যে মর্যাদাগত দিক থেকে অত্যন্ত মহিমান্বিত, গৌরবে সর্বোচ্চ এবং সম্মান ও স্মরণে সুউচ্চ। এ কারণেই ইমামগণ এর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন, এর গুরুত্ব ও অবস্থানের প্রশংসা করেছেন এবং একজন ফকিহর (الفقيه) জন্য এটি আয়ত্ত করা ও শেখার তীব্র প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আর এই মূলনীতিগুলো (القواعد) ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে কল্যাণকর। এগুলো যত বেশি আয়ত্ত করা যাবে, একজন ফকিহর (الفقيه) মর্যাদা তত বৃদ্ধি পাবে ও তা সম্মান লাভ করবে। ফিকহের (الفقه) সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত ও পরিচিত হবে এবং ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের পদ্ধতিসমূহ স্পষ্ট ও উন্মোচিত হবে) (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব প্রণীত 'আল-কাওয়ায়িদ'-এর ভূমিকা থেকে।

(২) "আল-ফুরুক: ১/৩"।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال الحافظ ابن رجب يرحمه الله: (فهذه قواعد مهمة، وفوائد جمة، تضبط للفقيه أصول المذهب، وتُطْلعه من مآخذ الفقه على ما كان عنه قد تَغَيَّب) (1) .

وقال الإمام السيوطي يرحمه الله: (اعلم أن فن الأشباه والنظائر فن عظيم، به يُطَّلَع على حقائق الفقه ومداركه، ومآخذه وأسراره) (2) .

وتكمن أهمية هذا العلم في أمور عدة (3) ، منها:

أولا: أنها تضبط الأمور المنتشرة المتعددة، وتنظمها في سلك واحد مما يمكن من إدراك الروابط والصفات الجامعة بين الجزيئات المتفرقة، فهي كما قال ابن رجب: (تنظم له منثور المسائل في سلك واحد، وتقيد له الشوارد، وتقرب عليه كل متباعد) (4) .

ثانيا: أن ضبطها يُيَسر على الفقيه ضبط الفقه بأحكامه، ويغنيه عن حفظ أكثر الجزئيات؛ إذ إن حفظ جزئيات الفقه وفروعه يستحيل أن يقدر عليه إنسان خلافا للقواعد فإن حفظها وإن كَثُرَت داخلٌ تحت الإمكان؛ ولذا قال القرافي يرحمه الله: (من ضبط الفقه بقواعده

--------------------------------------------

(1) "القواعد:1/4".

(2) "الأشباه والنظائر:6".

(3) انظر: "القواعد الفقهية:114"ليعقوب الباحسين.

(4) "القواعد:1/4".
হাফেজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এগুলো গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (قواعد) ও প্রভূত ফায়দা, যা ফকিহের জন্য মাযহাবের মূল ভিত্তিগুলোকে (أصول) সুশৃঙ্খল করে এবং তাকে ফিকহের উৎসসমূহ সম্পর্কে এমন বিষয়ে অবগত করে যা তার নিকট অস্পষ্ট ছিল) (১) ।

ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (জেনে রাখুন যে, 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' শাস্ত্রটি একটি মহান শাস্ত্র, যার মাধ্যমে ফিকহের বাস্তবতা, এর উপলব্ধিস্থল, উৎস এবং রহস্যগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়) (২) ।

এই ইলমের গুরুত্ব বেশ কিছু বিষয়ের মধ্যে নিহিত (৩), যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: এটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহুবিধ বিষয়কে সুশৃঙ্খল করে এবং সেগুলোকে একটি সূত্রে গেঁথে দেয়, যা বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন আংশিক বিষয়গুলোর (الجزيئات) মধ্যে যোগসূত্র ও সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো উপলব্ধি করতে সক্ষম করে। এটি ইবনে রজব যেমনটি বলেছেন: (এটি তার জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাসআলাগুলোকে একটি সুতোয় গেঁথে দেয়, অনিয়ন্ত্রিত বিষয়গুলোকে আবদ্ধ করে এবং প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে তার নিকটবর্তী করে দেয়) (৪) ।

দ্বিতীয়ত: এটি আয়ত্ত করা ফকিহের জন্য ফিকহের বিধানসমূহ (أحكام) সুশৃঙ্খলভাবে আয়ত্ত করা সহজ করে দেয় এবং তাকে অধিকাংশ আংশিক বিষয় (الجزيئات) মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়; যেহেতু ফিকহের আংশিক বিষয়সমূহ (الجزيئات) এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলো (فروع) মুখস্থ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব, পক্ষান্তরে মূলনীতিগুলো (قواعد) মুখস্থ করা যদিও তা সংখ্যায় অধিক হয়, তবুও তা আয়ত্তের সাধ্যায়ত্ত; একারণেই আল-কারাফী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (যে ব্যক্তি ফিকহকে তার মূলনীতিগুলোর (قواعد) মাধ্যমে আয়ত্ত করল...

--------------------------------------------

(১) "আল-কাওয়াইদ: ১/৪"।

(২) "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর: ৬"।

(৩) দ্রষ্টব্য: ইয়াকুব আল-বাহুসাইন রচিত "আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ: ১১৪"।

(৪) "আল-কাওয়াইদ: ১/৪"।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات؛ لاندراجها في الكليات) (1) .

ثالثا: أن دراستها تُكَوِّن عند المرء ملكة فقهية تنير أمامه الطريق لدراسة أبواب الفقه الواسعة والمتعددة، ومعرفة الأحكام الشرعية، واستنباط الحلول للوقائع المتجددة والمسائل النازلة؛ ولذا أصبحت القواعد معينا ثَرّاً للفقهاء، ومبعث حركة دائمة ونشاط متجدد، يُبعد الفقه عن أن تتحجر مسائله وتتجمد قضاياه.

قال الإمام السيوطي يرحمه الله: (أعلم أن فن الأشباه والنظائر فن عظيم، به يُطَّلع على حقائق الفقه ومداركه، ومآحذه وأسراره، ويتمهّد في فهمه واستحضاره، ويقتدر على الإلحاق والتخريج، ومعرفة أحكام المسائل التي ليست بمسطورة، والحوادث والوقائع التي لاتنقضي على مَرّ الزمان) (2) .

رابعا: أنها تمكن الفقيه من تخريج الفروع بطريقة سَوِيَّة، وتبعده عن التخبط والتناقض الذي قد يترتب على التخريج من المناسبات الجزئية، وقد نقل تاج الدين السبكي عن والده قوله: (وكم من آخر مستكثر في الفروع ومداركها قد أفرغ جمام ذهنه فيها، غفل عن قاعدة كلية، فتخبطت عليه تلك المدارك وصار حيران، ومن وفقه الله بمزيد من العناية جمع بين الأمرين، فيرى الأمر رأي

--------------------------------------------

(1) "الفروق:1/3".

(2) "الأشباه والنظائر:6".
...এর ফলে অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা থাকে না; কেননা সেগুলো সামগ্রিক বিষয়ের (الكليات) অন্তর্ভুক্ত।) (১)।

তৃতীয়ত: এগুলোর অধ্যয়ন ব্যক্তির মধ্যে এমন একটি ফিকহি প্রজ্ঞা (ملكة فقهية) তৈরি করে, যা ফিকহ শাস্ত্রের বিশাল ও বহুমুখী অধ্যায়গুলো অধ্যয়নের পথকে আলোকিত করে। এছাড়া এর মাধ্যমে শরিয়তের বিধানাবলি জানা এবং নতুন নতুন উদ্ভূত ঘটনা ও সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব হয়; একারণেই মূলনীতিসমূহ (القواعد) ফকিহদের জন্য এক সমৃদ্ধ উৎস এবং নিরন্তর গতিশীলতা ও নব উদ্যমের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়গুলোকে স্থবির ও জড় হওয়া থেকে রক্ষা করে।

ইমাম সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জেনে রেখো যে, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির বিষয়টি একটি মহান শিল্প। এর মাধ্যমে ফিকহের প্রকৃত রহস্য, ভিত্তি, উৎস এবং গূঢ় বিষয়সমূহ অবগত হওয়া যায়। এটি ফিকহ উপলব্ধি ও স্মরণে রাখার পথকে সুগম করে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য বিধান (الإلحاق) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণে (التخريج) সক্ষম করে তোলে। এছাড়া কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই এমন মাসআলা এবং কালক্রমে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের বিধান জানার ক্ষেত্রেও এটি সাহায্য করে।" (২)।

চতুর্থত: এটি ফকিহকে সঠিক পদ্ধতিতে শাখা-প্রশাখাগুলোর মাসআলা উদ্ভাবন (تخريج الفروع) করতে সক্ষম করে এবং তাকে অসংলগ্নতা ও বৈপরীত্য থেকে রক্ষা করে, যা অনেক সময় কেবল আংশিক কারণের ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবনের ফলে তৈরি হতে পারে। তাজউদ্দীন আল-সুবকি তার পিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন: "শাখা-প্রশাখা ও সেগুলোর উৎস সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা এতেই তাদের মেধার সবটুকু ব্যয় করেছেন; কিন্তু কোনো একটি সামগ্রিক মূলনীতি (قاعدة كلية) সম্পর্কে গাফেল হওয়ার কারণে ওই উৎসগুলো তাদের কাছে অসংলগ্ন হয়ে পড়েছে এবং তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে বিশেষ অনুগ্রহ দানে তাওফিক দিয়েছেন, তিনি উভয় বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। ফলে তিনি বিষয়টিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার ন্যায় দেখতে পান..."

--------------------------------------------

(১) "আল-ফুরুক: ১/৩"।

(২) "আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির: ৬"।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
العين) (1) .

وحتى يتضح معنى القاعدة الفقهية وأهميتها واستقلالها لابد من بيان الفرق بين القاعدة الفقهية والقاعدة الأصولية، والفرق بينهما من وجوه (2) ، منها:

أولا: من جهة الموضوع؛ إذ إن موضوع القاعدة الفقهية أفعال المكلفين، وموضوع القاعدة الأصولية الأدلة الشرعية. فالقاعدة الأصولية "النهي يقتضي الفساد"موضوعها: كل دليل في الشريعة ورد فيه نهي بينما القاعدة الفقهية "المشقة تجلب التيسير" موضوعها: كل فعل من أفعال المكلَّف يجد فيه مشقة معتبرة شرعا.

ثانيا: من جهة كون كل منهما كلية أم لا، فالقواعد الأصولية كلية مطردة خلافا للقواعد الفقهية فليست كلية، بل هي أغلبية أكثرية؛ لأن لها استثناءات بالإضافة إلى فروق أخرى ليس هذا محل بسطها.

ولما كان لهذا العلم أهمية عظمى وفائدة جُلَّى أخذ العلماء في التأليف فيه والتصنيف، فمنهم من أطنب وأسهب، ومنهم من اختصر وهذب، ومنهم من كان تأليفه نظما.

ولقد كان للسادة الحنابلة -لازالت عليهم سحائب الرحمة

--------------------------------------------

(1) "الأشباه والنظائر: 1/309"

(2) انظر: "القواعد الفقهية: 135" ليعقوب الباحسين.
আল-আইন) (১)।

ফিকহী মূলনীতির (القاعدة الفقهية) অর্থ, এর গুরুত্ব এবং এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করার জন্য ফিকহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) এবং উসূলী মূলনীতির (القاعدة الأصولية) মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করা আবশ্যক। এ দুটির মধ্যে বেশ কিছু দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে (২), যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

প্রথমত: আলোচ্য বিষয়ের দিক থেকে; কেননা ফিকহী মূলনীতির (القاعدة الفقهية) আলোচ্য বিষয় হলো শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কার্যাবলি, আর উসূলী মূলনীতির (القاعدة الأصولية) আলোচ্য বিষয় হলো শরয়ী দলিলসমূহ (الأدلة الشرعية)। উসূলী মূলনীতি "নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়ার দাবি রাখে" (النهي يقتضي الفساد)-এর আলোচ্য বিষয় হলো: শরীয়তের প্রতিটি দলিল যাতে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে ফিকহী মূলনীতি "কষ্ট সহজসাধ্যতাকে টেনে আনে" (المشقة تجلب التيسير)-এর আলোচ্য বিষয় হলো: দায়বদ্ধ ব্যক্তির এমন প্রতিটি কাজ যাতে সে শরীয়তসম্মত নির্ভরযোগ্য কষ্টের সম্মুখীন হয়।

দ্বিতীয়ত: প্রতিটি মূলনীতি সামগ্রিক (كلية) কি না সেই দিক থেকে; উসূলী মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية) হলো সামগ্রিক ও নিরবচ্ছিন্ন (كلية مطردة), ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) বিপরীত, কারণ ফিকহী মূলনীতিগুলো পুরোপুরি সামগ্রিক (كلية) নয়, বরং এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (أغلبية أكثرية); কেননা এগুলোর ব্যতিক্রমসমূহ (استثناءات) রয়েছে। এছাড়া আরও অন্যান্য পার্থক্য রয়েছে যা বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়।

যেহেতু এই শাস্ত্রের সুমহান গুরুত্ব এবং ব্যাপক উপকারিতা রয়েছে, তাই উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা ও সংকলন শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ সবিস্তারে আলোচনা করেছেন, কেউ সংক্ষেপে ও পরিমার্জিতভাবে লিখেছেন, আবার কারও রচনা ছিল কাব্যিক ছন্দে (نظما)।

আর হাম্বলী মাযহাবের বিজ্ঞ ইমামগণের—তাদের ওপর সর্বদা রহমতের মেঘমালা বর্ষিত হোক—

--------------------------------------------

(১) "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর: ১/৩০৯"

(২) দেখুন: ইয়াকুব আল-বাহুসাইন রচিত "আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ: ১৩৫"।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وابلة- في هذا الفن جهود مُتْقَنة مُحَرَّرة (1) ، وإن كانت متأخرة في الجمع، حتى فاق بعضها من سبقها، ولم يدرك شأوها من بعدها، لاسيما "تقرير القواعد وتحرير الفوائد" لابن رجب، حتى قال عنه ابن الهادي يرحمه الله: (وهو كتاب نافع من عجائب الدهر) (2) .

وكان لشيخ الإسلام ابن تيمية يرحمه الله فضل الإفراد لها في نحو /220مؤلفا، مابين: فتوى، وكتاب، ورسالة، جميعها تصدر باسم: "قاعدة في … " أو: "قواعد … "، وكان من بين مؤلفاته كتاب: "القواعد النورانية الفقهية".

وقفاه تلامذته فمن بعدهم، منهم تلميذه الطوفي في كتابه: "القواعد الكبرى" و"الصغرى" و"الأشباه والنظائر".

ثم جاء من بعدهم شرف الدين المقدسي الشهير بابن قاضي الجبل فألف كتابه: "القواعد الفقهية"، ثم تبعه ابن رجب فألف كتابه آنف الذكر، ثم تتابعت مصنفات الحنابلة في القواعد جيلا بعد جيل، ورعيلا يعقبه رعيل، فألفوا في ذلك كتبا شريفة، وصحفا أنيقة، ودفاتر مبسوطة، ومختصرات مضبوطة، وكان من آخر ما ألف في ذلك: "منظومة القواعد الفقهية" للشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي يرحمه الله ضمنها طائفة من مختاراته في القواعد

--------------------------------------------

(1) انظر: "المدخل المفصل:2/930، "القواعد الفقهية:326، 330".

(2) "الجوهر المنضد:489".
ওয়াবিলাহ—এই শিল্পে (শাস্ত্রে) সুনিপুণ ও পরিশোধিত বহু প্রয়াস বিদ্যমান (১), যদিও সংকলনের দিক থেকে তা পরবর্তী সময়ের; এমনকি এর কিছু অংশ পূর্ববর্তীদেরও ছাড়িয়ে গেছে এবং পরবর্তীরা তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে ইবনে রজব-এর "তাকরীরুল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরীরুল ফাওয়ায়িদ", যে সম্পর্কে ইবনুল হাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এটি একটি উপকারী গ্রন্থ এবং মহাকালের বিস্ময়সমূহের অন্যতম) (২)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব হলো তিনি ফতোয়া, কিতাব এবং রিসালাহ মিলিয়ে প্রায় ২২০টি রচনায় বিষয়টিকে স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছেন। যার সবগুলিই "অমুক বিষয়ে মূলনীতি" অথবা "মূলনীতিসমূহ" নামে অভিহিত। তাঁর রচনাবলির মধ্যে "আল-কাওয়ায়িদ আন-নূরানিয়্যাহ আল-ফিকহিয়্যাহ" গ্রন্থটি অন্যতম।

তাঁর ছাত্রগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ছাত্র আত-তুফী, তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: "আল-কাওয়ায়িদ আল-কুবরা", "আস-সুগরা" এবং "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর"।

অতঃপর তাঁদের পরে শরফুদ্দীন আল-মাকদিসী—যিনি ইবনে কাদী আল-জাবাল নামে সমধিক পরিচিত—আবির্ভূত হন এবং তাঁর গ্রন্থ "আল-কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ" রচনা করেন। এরপর ইবনে রজব তাঁর অনুসরণ করেন এবং তাঁর পূর্বোক্ত কিতাবটি রচনা করেন। অতঃপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাম্বলী ফকীহদের মূলনীতি বিষয়ক রচনার ধারা অব্যাহত থাকে এবং একের পর এক কাফেলা এতে অবদান রাখে। তাঁরা এই বিষয়ে মহিমান্বিত গ্রন্থ, মার্জিত সংকলন, বিস্তারিত নথিপত্র এবং সুসংবদ্ধ সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন। এই ধারায় সর্বশেষ রচিত গ্রন্থগুলোর অন্যতম হলো শাইখ আবদুর রহমান বিন নাসের আস-সা'দী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "মানযুমাতুল কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ", যেখানে তিনি তাঁর নির্বাচিত একগুচ্ছ মূলনীতি সন্নিবেশিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-মাদখাল আল-মুফাসসাল: ২/৯৩০, "আল-কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ: ৩২৬, ৩৩০"।

(২) "আল-জাওহারুল মুনান্দাদ: ৪৮৯"।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والضوابط، وقد احتوت على مهمات القواعد كماذكره الناظم في الشرح بقوله: (وبعد، فإني وضعت لي ولإخواني منظومة مشتملة على مهمات قواعد الدين، وهي وإن كانت قليلة الألفاظ، فهي كثيرة المعاني لمن تأملها) . ومن ثَمَّ كانت عناية المتأخرين بهذا النظم دراسة وحفظا، وتفهُّما وضبطا.

ولما كان هذا النظم يحتاج إلى إيضاح وتبيين، وشرح وتفصيل قام شيخنا المفضال: صالح بن محمد الأسمري يحفظه الله بشرح هذه المنظومة، شرحا يذلل الصعاب، ويميز القشر عن اللباب، ومتجنبا الإسهاب وغث الإطناب، وقد تميز الشرح بما يلي:

أولاً: شرح الكلمات، وحل الألفاظ والعبارات.

ثانيا: فتح المقفل، وتفصيل الجمل بعبارة تستعذب، وإشارة لا تستصعب.

ثالثا: ذِكْر مصادر القاعدة والأصول التي أُخذت منها، وضَرْب بعض الأمثلة عليها ليسهل فهمها.

رابعا: توثيق معلوماته بذكر مصادره من كتبه الفقه والقواعد وما إلى ذلك.

خامسا: ذكر فوائد عزيزة، ولطائف نفيسة، وتقسيمات بديعة.

وكان أصل هذا الشرح دروسا ابتُدئ فيها بجامع أبي بكر
এবং নীতিমালা (الضوابط); এতে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ (القواعد) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমনটি রচয়িতা (الناظم) ব্যাখ্যাগ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: (অতঃপর, নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের এবং আমার ভাইদের জন্য একটি কাব্যগ্রন্থ (منظومة) রচনা করেছি যা দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ (القواعد) ধারণ করে আছে। যদিও এর শব্দসংখ্যা অল্প, কিন্তু যে ব্যক্তি এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে তার কাছে এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক।) সে কারণেই পরবর্তী প্রজন্মের পণ্ডিতদের নিকট এই ছন্দবদ্ধ রচনার (النظم) প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ছিল—অধ্যয়ন, মুখস্থকরণ, অনুধাবন এবং আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে।

যেহেতু এই ছন্দবদ্ধ রচনার (النظم) বিশদ ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ এবং বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন ছিল, তাই আমাদের গুণী শাইখ সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-আসমারি (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন) এই কাব্যগ্রন্থটির (المنظومة) এমন একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা কঠিন বিষয়গুলোকে সহজসাধ্য করে দেয়, অসার অংশ থেকে মূল সারবস্তুকে পৃথক করে এবং অতিরিক্ত দীর্ঘসূত্রিতা ও অপ্রয়োজনীয় বাগাড়ম্বর পরিহার করে। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: শব্দগুলোর ব্যাখ্যা এবং বাক্য ও শব্দমালার জটিলতা নিরসন।

দ্বিতীয়ত: রুদ্ধ বা অস্পষ্ট বিষয়গুলোর উন্মোচন এবং সংক্ষিপ্ত বাক্যগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা এমন প্রাঞ্জল ভাষায় যা সুখপাঠ্য এবং এমন ইঙ্গিতে যা দুর্বোধ্য নয়।

তৃতীয়ত: নীতি (القاعدة) এবং যে উসুল বা মূলনীতিসমূহ (الأصول) থেকে এটি গৃহীত হয়েছে সেগুলোর মূল সূত্রের উল্লেখ এবং বোঝার সুবিধার্থে কিছু উদাহরণ প্রদান।

চতুর্থত: ফিকহ (الفقه), মূলনীতি (القواعد) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গ্রন্থ থেকে তথ্যসূত্র উল্লেখের মাধ্যমে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

পঞ্চমত: দুর্লভ তাত্ত্বিক উপকারিতা (فوائد), সূক্ষ্ম জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং চমৎকার শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করা।

মূলত এই ব্যাখ্যাটি ছিল কতগুলো পাঠের সংকলন, যা আবু বকর জামে মসজিদে শুরু হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الصديق رضي الله عنه بمدينة الطائف عام ثمانية عشر وأربعمائة وألف، وفُرِغَ منها ليلة الثالث عشر من شهر رمضان المبارك من العام نفسه، وقد وُسِم هذا الشرح بـ (مجموعة الفوائد البهية على منظومة القواعد الفقهية) .

وقد من الله علي بأن أعانني على إخراج هذا الشرح المبارك، وكان عملي فيه وفق ما يلي:

أولا: قمت بكتابة الشرح ونسخه مراعيا قواعد الإملاء والترقيم في ذلك.

ثانيا: وضعت مقدمة للشرح تشتمل على: أهمية القواعد الفقهية، والفرق بين القاعدة الفقهية والقاعدة الأصولية، وجهود الحنابلة في هذا الفن، ومزايا الشرح، وغير ذلك.

ثالثا: صنعت فهرسا كاشفا لموضوعات الشرح وفوائده.

رابعا: جعلت عناوين رئيسة لكل قاعدة ذُكِرت ضمن أبيات المنظومة، مراعيا ذكرها بلفظها عند الفقهاء غالبا.

خامسا: اعتنيت بالإخراج الفني العام للشرح متوخيا منهج البحث العلمي في الكتابة.

هذا وقد عرضت هذا الشرح على الشيخ حفظه الله بُغية نشره، وانتفاع طلبة العلم به، فاستحسنه، ومن ثَمَّ أَذِن بإخراجه وطباعته، فجزاه الله خير الجزاء، ومنحه كل مسرة وهناء.
আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) [নামীয় স্থানে], তায়েফ নগরীতে চৌদ্দশ আঠারো হিজরি সালে; এবং উক্ত বছরেরই পবিত্র রমজান মাসের তেরো তারিখ রাতে এটি সমাপ্ত হয়েছে। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজুমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ’ নামে।

আল্লাহ তাআলা আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাকে এই বরকতময় ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশে সহায়তা করেছেন। এতে আমার কর্মপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:

প্রথমত: আমি বানানরীতি ও বিরামচিহ্নের নিয়মাবলি অনুসরণ করে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি লিখন ও অনুলিপি করার কাজ সম্পন্ন করেছি।

দ্বিতীয়ত: আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থটির জন্য একটি ভূমিকা তৈরি করেছি যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) গুরুত্ব, ফিকহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) ও উসূলে ফিকহের মূলনীতির (القاعدة الأصولية) মধ্যে পার্থক্য, এই শাস্ত্রে হাম্বলি ফকিহদের অবদান, ব্যাখ্যাগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়।

তৃতীয়ত: আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থের আলোচ্য বিষয় ও উপকারিতাগুলো বর্ণনাকারী একটি নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি।

চতুর্থত: কাব্যগ্রন্থের পঙক্তিমালায় উল্লিখিত প্রতিটি মূলনীতির জন্য প্রধান শিরোনাম নির্ধারণ করেছি, এক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফকিহদের নিকট প্রচলিত শব্দাবলি ব্যবহার নিশ্চিত করেছি।

পঞ্চমত: রচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থটির সামগ্রিক বিন্যাসের প্রতি সবিশেষ যত্ন নিয়েছি।

অতঃপর আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি শাইখ (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নিকট পেশ করি, যাতে এটি প্রকাশিত হয় এবং ইলম অন্বেষণকারীরা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। তিনি এটি পছন্দ করেন এবং অতঃপর এটি প্রকাশ ও মুদ্রণের অনুমতি প্রদান করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে অনাবিল সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য দান করুন।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقبل أن أطوي أوراق هذه المقدمة أسدي جزيل الشكر وعظيم الامتنان إلى كل من أعانني على إخراج هذا الشرح المبارك، أسأل المولى جل وعلا أن يجعل ما قدموه في موازين حسناتهم إنه جواد كريم.

وختاما أسال الله العظيم رب العرش اكريم أن يوفقنا لما يحب ويرضى، وأن يكافئنا بالحسنى، وأن يغفر لي وللمسلمين، وصلا الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وكتبه: متعب بن مسعود الجعيد

(الدراسات العليا

بجامعة أم القرى

كلية الشريعة

قسم الفقه)

الطائف

13/9/1418 هـ
এই ভূমিকার পাতাগুলো গুটিয়ে নেওয়ার পূর্বে, যারা এই বরকতময় ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রকাশে আমাকে সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক শুকরিয়া ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের এই অবদানকে তাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও মহানুভব।

পরিশেষে, আমি মহান আরশের অধিপতি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সেই সকল কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি যেন আমাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাকে ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

লেখক: মুতিব বিন মাসউদ আল-জুয়াইদ

(উচ্চতর গবেষণা বিভাগ

উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়

শরীয়াহ অনুষদ

ফিকহ বিভাগ)

তায়েফ

১৩/০৯/১৪১৮ হিজরি
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحمدُ للهِ العليِّ الأَرْفَقِ … وجامعِ الأشياءِ والمفرِّقِ

ذي النِّعمِ الواسعةِ الغزيرةْ … والحِكمِ الباهرةِ الكثيرةْ

ثم الصلاةُ معْ سلامٍ دائمِ … على الرسولِ القرشيِّ الخاتَمِ

وآله وصحبِه الأبرارِ … الحائزي مراتبَ الفِخَارِ

اعلمْ هُديتَ أن أفضلَ الْمِنَنْ … علمٌ يُزيلُ الشكَّ عنك والدَّرَنْ

ويَكشِفُ الحقَّ لذي القلوبِ … ويُوصِلُ العبدَ إلى المطلوبِ

فاحرِصْ على فهمِكَ للقواعدِ … جامعةِ المسائلِ الشَّواردِ

فتَرْتَقِي في العلم خيرَ مُرتَقَى … وتَقْتَفِي سُبْلَ الذي قد وُفِِّقَا

هذه قواعد نَظَمْتُها … مِنْ كُتْبِ أهل العلم قد حَصَّلْتُها

جزاهم المولى عظيمَ الأجرِ … والعفوَ مَعْ غُفرانِه وَالْبِرِّ

النيةُ شرطٌ لسائِر العملْ … بها الصلاحُ والفسادُ للعملْ

الدينُ مَبْنِيٌّ على المصالِحِ … في جَلْبِها والدَّرْءِ للقبائِحِ

فإن تَزَاحَمْ عدَدُ المصالحِ … يُقَدَّمُ الأعلى من المصالحِ

وضده تَزاحُمُ المفاسدِ … يُرْتَكَبُ الأدنى من المفاسدِ

ومِنْ قواعدِ الشَّريعةِ التَّيسيرُ … في كُلِّ أمر نَابَهُ تَعْسِيرُ

وليس واجبٌ بلا اقْتدار … ولا مُحَرَّمٌ مع اضطرارِ

وكل محظورٍ مع الضرورةْ … بقَدْرِ ما تحتاجه الضرورةْ

وتَرجِع الأحكامُ لليقينِ … فلا يُزيلُ الشكُّ لليقينِ

والأصلُ في مياهنا الطهارةْ … والأرضِ والثيابِ والحِجارةْ

والأصلُ في الأبضاعِِ واللحومِ … والنفسِ والأموالِ للمعصومِ

تحريمُها حتى يجيءَ الحِلُّ … فافهَمْ هداك اللهُ ما يُمَلَّ
সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ, পরম দয়ালু আল্লাহর জন্য … যিনি সকল বস্তুর একত্রকারী ও পৃথককারী।

যিনি সুপ্রশস্ত ও প্রচুর নিয়ামতের অধিকারী … এবং প্রদীপ্ত ও অসংখ্য হিকমতের মালিক।

অতঃপর চিরন্তন দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক … কুরাইশী বংশীয় সর্বশেষ রাসূলের ওপর।

এবং তাঁর পরিবার ও পুণ্যবান সাহাবীদের ওপর … যাঁরা উচ্চমর্যাদা ও গৌরবের অধিকারী।

জেনে রেখো (তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হও), নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ হলো … এমন জ্ঞান যা তোমার থেকে সংশয় (شك) ও কলুষতা দূর করে।

তা হৃদয়বানদের নিকট সত্যকে উন্মোচিত করে … এবং বান্দাকে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

অতএব তুমি মূলনীতিসমূহ (قواعد) বোঝার প্রতি যত্নশীল হও … যা বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহকে একত্র করে।

এর ফলে তুমি ইলমের উচ্চ শিখরে আরোহণ করবে … এবং সফলকাম ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করতে পারবে।

এই সেই মূলনীতিমালা যা আমি কাব্যিক ছন্দে গেঁথেছি … এবং ইলম অন্বেষণকারীদের কিতাবসমূহ হতে সংগ্রহ করেছি।

মালিক তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন … এবং তাঁর ক্ষমা ও করুণার সাথে মার্জনা ও কল্যাণ দান করুন।

নিয়ত (نية) হলো সকল আমলের জন্য শর্ত (شرط) … আমলের শুদ্ধতা ও অসারতা এর ওপরই নির্ভরশীল।

দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনকল্যাণ বা মাসলাহাতসমূহের (مصالح) ওপর … তা অর্জনের ক্ষেত্রে এবং মন্দ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে।

যদি একাধিক কল্যাণ বা মাসলাহাতের (مصالح) মধ্যে ভিড় বা সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় … তবে উচ্চতর কল্যাণকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

আর এর বিপরীত হলো অপকারিতা বা মাফাসাদসমূহের (مفاسد) সংঘর্ষ … সেক্ষেত্রে নিম্নতর অপকারিতা বা ক্ষতিকে বেছে নেওয়া হবে।

শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি হলো সহজীকরণ (تيسير) … এমন প্রতিটি বিষয়ে যেখানে কাঠিন্য দেখা দেয়।

সক্ষমতা ব্যতীত কোনো বিধান ওয়াজিব (واجب) হয় না … এবং নিরুপায় অবস্থায় কোনো কিছুই হারাম (محرم) থাকে না।

অপরিহার্য প্রয়োজনে প্রতিটি নিষিদ্ধ (محظور) বিষয় বৈধ হয় … তবে তা প্রয়োজনের পরিমাণ অনুযায়ী সীমিত থাকবে।

বিধানসমূহ নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর নির্ভরশীল … সুতরাং সংশয় (شك) কখনো নিশ্চিত বিশ্বাসকে (يقين) দূরীভূত করতে পারে না।

আমাদের পানি, মাটি, বস্ত্র ও পাথরের ক্ষেত্রে মূল (أصل) বিধান হলো পবিত্রতা (طهارة)।

নারীদের লজ্জাস্থান, গোশত, প্রাণ এবং সংরক্ষিত ব্যক্তির সম্পদের ক্ষেত্রে মূল (أصل) বিধান হলো—

সেগুলোর নিষিদ্ধতা (تحريم), যতক্ষণ না বৈধতার প্রমাণ উপস্থিত হয় … আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দিন, যা বর্ণিত হলো তা অনুধাবন করো।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
والأصلُ في عاداتنا الإباحةْ … حتى يجيءَ صارفُ الإباحةْ

وليس مشروعاً من الأمورْ … غيرَ الذي في شرعنا مذكورْ

وسائلُ الأمورِ كالمقاصدِ … واحكمْ بهذا الْحُكمِ للزوائدِ

والخطأُ والإكراهُ والنسيانُ … أسقطه معبودُنا الرحمانُ

لكن معَ الإتلافِ يَثْبُتُ البدلْ … ويَنْتَفِي التأثيمُ عنه والزَّلَلْ

ومن مسائلِ الأحكامِ في اتَّبَعْ … يَثْبُتُ لا إذا استقلَّ فوقعْ

والعرفُ معمولٌ به إذا وَرَدْ … حُكْمٌ من الشرعِ الشريفِ لم يُحَدّْ

مُعاجِلُ المحظورِ قبل آنِهْ … قد باء بالخسران مَعْ حِرمانهْ

وإن أتى التحريمُ في نفسِ العملْ … أو شرطِهِ، فذو فسادٍ وخَللْ

ومُتْلِفُ مؤذيه ليس يَضمنُ … بعد الدفاعِ بالتي هي أحسنُ

وَأَلْ تُفيدُ الكلَّ في العمومِ … في الجمعِ والإفرادِ كالعَليمِ

والنكراتُ في سِياقِ النفي … تُعطي العموم - أوسياق النهي

كذاك "مَنْ" و "ما" تُفيدان مَعَا … كل العموم يا أخي فاسمعا

ومثله المفرد إذ يضاف … فافهم هُدِيتَ الرشد ما يضاف

ولا يتم الحكمُ حتى تجتمعْ … كلُّ الشروط والموانع تُرْتَفَعْ

ومن أتى بما عليه من عمل … وهي التي قد استحق ماله على العمل

وكلُّ حُكمٍ دائر مع علتهْ … وهي التي قد أوجبتْ لشرعيَّتِهْ

وكل شرط لازمٍ للعاقد … في البيع والنكاح والمقاصدِ

إلا شروطاً حَلَّلَتْ مُحَرَّماً … أو عكسِه فباطلاتٌ فاعْلَمَا

تُستعمَل القرعةُ عند الْمُبْهَمِ … من الحقوقِ أو لدى التَّزَاحُمِ

وإن تساوى العملان اجتمعا … وفُعِل إحداهما فاستَمِعا

وكلُّ مشغولٍ فلا يُشَغَّلُ … مثالُه المرهونُ والْمُسَبَّلُ
আমাদের অভ্যাসগত বিষয়গুলোর মূল নীতি হলো বৈধতা (إباحة) … যতক্ষণ না সেই বৈধতা পরিবর্তনকারী কোনো দলিল আসে।

কোনো বিষয়ই শরয়ি বিধানসম্মত (مشروع) নয় … আমাদের শরিয়তে যা বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া।

কার্যাবলির মাধ্যমগুলো তার উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) ন্যায় বিধান রাখে … আর অতিরিক্ত বা আনুষঙ্গিক বিষয়ের ক্ষেত্রেও এই একই বিধান দাও।

ভুল, জবরদস্তি এবং বিস্মৃতি … আমাদের ইবাদত পাওয়ার যোগ্য দয়াময় আল্লাহ মার্জনা করেছেন।

তবে সম্পদ বিনষ্টকরণের (إتلاف) ক্ষেত্রে বিনিময় (بدل) প্রদান সাব্যস্ত হবে … যদিও তা থেকে গুনাহ ও বিচ্যুতি দূরীভূত হয়।

অনুসরণমূলক বিধানের মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো … তা অনুগামী হিসেবেই সাব্যস্ত হয়, স্বতন্ত্রভাবে সংঘটিত হলে নয়।

প্রচলিত প্রথা (عرف) অনুযায়ী আমল করা হবে যখন এমন কোনো … শরিয়তি বিধান আসে যার সীমা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি।

নিষিদ্ধ কোনো বিষয় তার সময়ের আগে অর্জনে ত্বরান্বিতকারী … তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যদি নিষেধাজ্ঞা আমলের মূল সত্তার মধ্যে আসে … অথবা তার শর্তের মধ্যে, তবে তা অকার্যকর (فساد) ও ত্রুটিযুক্ত।

ক্ষতিকর প্রাণীকে প্রতিহত করতে গিয়ে বিনষ্টকারী কোনো ক্ষতিপূরণ দিবে না … যথাসম্ভব উত্তম উপায়ে প্রতিরোধের চেষ্টার পর।

'আল' (ال) বর্ণটি ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশের অর্থ দেয় … বহুবচন ও একবচন উভয় ক্ষেত্রে, যেমন "আল-আলিম" শব্দে।

না-বোধক (نفي) বা নিষেধবাচক (نهي) বাক্যের পরিপ্রেক্ষিতে … অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ব্যাপকতা (عموم) প্রদান করে।

অনুরূপভাবে "মান" এবং "মা" উভয় শব্দই … হে ভাই! শোনো, পূর্ণ ব্যাপকতা (عموم) প্রদান করে।

অনুরূপভাবে একবচন শব্দ যখন সম্বন্ধযুক্ত হয় … তবে সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়ে তুমি তা বুঝে নাও যা সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।

কোনো বিধান পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ না তার সকল … শর্তাবলি (شروط) একত্রিত হয় এবং প্রতিবন্ধকসমূহ (موانع) দূরীভূত হয়।

যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত কাজ সম্পাদন করবে … সে সেই কাজের জন্য বিনিময় পাওয়ার যোগ্য হবে।

প্রতিটি বিধান তার কার্যকর কারণের (علة) সাথে আবর্তিত হয় … আর সেই কারণই তার বিধান সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তি।

প্রতিটি শর্ত চুক্তি সম্পাদনকারীর জন্য পালন করা আবশ্যক … ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং যাবতীয় লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে।

তবে সেসব শর্ত ছাড়া যা কোনো হারামকে হালাল করে … অথবা তার বিপরীত হয়, তবে সেগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে জেনে রেখো।

অস্পষ্ট বা অনির্ধারিত অধিকারের ক্ষেত্রে লটারি (قرعة) ব্যবহার করা হবে … অথবা অধিকারের ক্ষেত্রে ভিড় বা প্রতিযোগিতা দেখা দিলে।

যদি দুটি আমল সমপর্যায়ের হয় তবে সেগুলো একত্রিত হবে … এবং তাদের একটি সম্পাদন করা হবে, সুতরাং তুমি শ্রবণ করো।

যা ইতিমধ্যে কোনো কাজে নিয়োজিত বা অধিকৃত তা অন্য কাজে নিয়োজিত করা যাবে না … এর উদাহরণ হলো বন্ধক রাখা বস্তু (مرهون) এবং আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গীকৃত (مسبل) সম্পদ।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن يُؤدِّ عن أخيه واجبا … له الرجوع: إن نوى يُطالِبَا

والوازع الطَّبَعِيُّ عن العصيانِ … كالوازع الشرعيِّ بلا نُكرانِ

والحمد لله على التَّمامِ … في البَدء والختام والدوامِ

ثم الصلاة معْ سلامٍ شائعِ … على النبي وصحبِه والتابعِ
যিনি তাঁর ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো আবশ্যিক (واجب) দায় পরিশোধ করেন … তাঁর তা ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে: যদি তিনি তা দাবি করার নিয়ত করেন।

আর পাপাচারের ক্ষেত্রে স্বভাবজাত প্রতিবন্ধক … কোনো প্রকার দ্বিমত ছাড়াই শরিয়ত নির্ধারিত (شرعي) প্রতিবন্ধকের সমতুল্য।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এই পূর্ণতার ওপর … শুরুতে, শেষে এবং চিরকাল।

অতঃপর সুপ্রসারিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক … নবী, তাঁর সঙ্গী এবং অনুসারীদের (تابعي) ওপর।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله الأمين، وعلى آله وأصحابه والتابعين.

أما بعد:

فهذا شرح مختصر لطيف، على نَظْمٍ للقواعد الفقهية منيف، يحل ألفاظه ومبانيه، ويبين قواعده ومعانيه. أبتدئه بمقدمة لا بد منها، ولا مَنْدُوحة للطالب عنها، وهذا أوان الشروع، وبالله التوفيق، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণের (التابعين) ওপর।

অতঃপর:

এটি ফিকহী মূলনীতির (القواعد الفقهية) একটি সুউচ্চ পদ্যের ওপর সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল ব্যাখ্যা, যা এর শব্দাবলি ও গঠন-কাঠামোকে বিশ্লেষণ করে এবং এর মূলনীতি ও অর্থসমূহ স্পষ্ট করে। আমি এটি এমন একটি অপরিহার্য ভূমিকা দিয়ে শুরু করছি যা শিক্ষার্থীর জন্য বর্জন করার কোনো অবকাশ নেই। আর এখনই এটি শুরু করার উপযুক্ত সময়; আল্লাহর তাওফীকেই (সফলতা আসে) এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
المقدمة وفيها فصلان:

الفصل الأول: في التعريف بـ (علم القواعد الفقهية) .

وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: في تعريف (القاعدة الفقهية) .

المبحث الثاني: في التفريق بين: (القاعدةالفقهية) و (الضابط الفقهي) .

المبحث الثالث: في (أقسام القواعد الفقهية) .

المبحث الرابع: في (تدوين القواعد الفقهية) .

الفصل الثاني: في تعريف موجز بالمنظومة ومؤلفها وفيه مبحثان:

المبحث الأول: في التعريف بمؤلف النظم.

المبحث الثاني: في التعريف بالنظم.
ভূমিকা, যাতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহি মূলনীতি শাস্ত্রের (علم القواعد الفقهية) পরিচয় প্রসঙ্গে।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফিকহি মূলনীতির (القاعدة الفقهية) সংজ্ঞায়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফিকহি মূলনীতি (القاعدة الفقهية) এবং ফিকহি উপ-মূলনীতির (الضابط الفقهي) মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ফিকহি মূলনীতির প্রকারভেদ (أقسام القواعد الفقهية) প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ফিকহি মূলনীতি সংকলন (تدوين القواعد الفقهية) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাব্যগ্রন্থ ও তার লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রসঙ্গে, যাতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কাব্যের লেখকের পরিচয় প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কাব্যটির পরিচয় প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول: في التعريف بـ (علم القواعد الفقهية)

وفيه أربعة مباحث:

 

‌‌المبحث الأول: في تعريف: (القاعدة الفقهية)

فهي: حكم أغلبي، يأتي تحته مسائل فقهية فرعية، يُتَعَرَّف من خلاله على أحكام تلك المسائل.

وتوضيح ذلك بالمثال التالي:

من القواعد الفقهية: (الضرر لا يُزال بالضرر) ، أو (الضرر لا يُزال بمثله) ؛ حيث يدخل تحت هذه القاعدة مسائل فقهية فرعية كثيرة، منها: إكراه معصومِ دمٍ بالقتل، على قتل معصوم الدم. ومنها، دفع الهلاك عن النفس جوعا بأخذ مال من يدفع عن نفسه هلاك الجوع.

ففي هاتين المسألتين إزالة ضرر بمثله، وهذا لا يجوز؛ لأن القاعدة الفقهية تقول: (الضرر لا يزال بمثله) .

إلا أن هذه القاعدة ليست كلية، بحيث يندرج تحتها جميع المسائل الفقهية الفرعية المنطبقة عليها القاعدة، بل هي أغلبية؛ لأن لها استثناءات، من ذلك: رمي الكفار إذا تَتَرَّسُوا بأسرى المسلمين.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ফকীহী মূলনীতি শাস্ত্র (علم القواعد الفقهية) এর পরিচয়ে

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ফকীহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) এর সংজ্ঞায়

এটি হলো: অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি বিধান (حكم أغلبي), যার অধীনে অনেকগুলো গৌণ ফকীহী মাসআলা (مسائل فقهية فرعية) আসে, যার মাধ্যমে সেই মাসআলাগুলোর বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

নিচের উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো:

ফকীহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) একটি হলো: (ক্ষতিকে ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না), অথবা (ক্ষতিকে তার অনুরূপ ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না); কেননা এই মূলনীতির অধীনে অনেকগুলো গৌণ ফকীহী মাসআলা (مسائل فقهية فرعية) অন্তর্ভুক্ত হয়। যার মধ্যে রয়েছে: প্রাণের নিরাপত্তা প্রাপ্ত (معصوم الدم) কোনো ব্যক্তিকে হত্যার ভয় দেখিয়ে অন্য কোনো প্রাণের নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তিকে হত্যা করতে বাধ্য করা। আরও রয়েছে, নিজের ক্ষুধার তাড়নায় মৃত্যু ঠেকাতে এমন ব্যক্তির নিকট থেকে সম্পদ কেড়ে নেওয়া যে নিজেও ক্ষুধার কারণে মৃত্যুঝুঁকি মোকাবিলা করছে।

এই দুটি মাসআলাতেই একটি ক্ষতিকে তার অনুরূপ ক্ষতি দ্বারা দূর করা হচ্ছে, আর এটি বৈধ নয়; কারণ ফকীহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) বলছে: (ক্ষতিকে তার অনুরূপ ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না)।

তবে এই মূলনীতিটি সর্বজনীন (كلية) নয় যে এর অধীনে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল গৌণ ফকীহী মাসআলা (مسائل فقهية فرعية) অন্তর্ভুক্ত হবে, বরং এটি অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (أغلبية); কারণ এর কিছু ব্যতিক্রম (استثناءات) রয়েছে। যেমন: কাফেররা যদি মুসলিম বন্দীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তবে তাদের লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করা।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثاني: في التفريق بين: (القاعدة الفقهية) و (الضابط الفقهي)

لالتباس القاعدة الفقهية بالضابط؛ لزم بيان الفرق بينهما؛ إذ بينهما عموم وخصوص مطلق، فالقاعدة أعمُّ مطلقا، والضابط أخصُّ مطلقا.

وإيضاح ذلك: أن القاعدة تضم تحتها مسائلَ فقهية من أبواب شتى، خلافا للضابط فهو يضم مسائلَ فقهية من باب واحد.

فمثال القاعدة: (اليقين لا يزول بالشك) أو (الشك يُدْرَأ باليقين) ؛ حيث تدخل هذه القاعدة في كل مسألة فقهية اجتمع فيها شك ويقين، فتدخل في أبواب فقهية شتى، كالطهارة، والصلاة، والزكاة، وغير ذلك.

ومثال الضابط: (كل ما يُعْتَبَر في سجود الصلاة؛ يُعْتَبَر في سجود التلاوة) قاله بعض أصحاب مالك -رحمه الله تعالى- فهذا الضابط يضم مسائل تخص ذينك السجودين، وكلاهما خاص بباب الصلاة، لا يتعداها إلى أبواب أخرى.

واعلم -رحمك الله- أن التفريقَ السابق هو المُقَرَّر عند الفقهاء، ولكن قد يتسامحون في هذا التفريق، فيطلقون على الضابط قاعدة والعكس.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) ও ফিকহী নীতিমালা (الضابط الفقهي)-এর মধ্যে পার্থক্যের বর্ণনা

ফিকহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) এবং ফিকহী নীতিমালার (الضابط) মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ার কারণে এদের মধ্যাকার পার্থক্য স্পষ্ট করা আবশ্যক; কারণ এ দুটির মধ্যে সম্পর্ক হলো সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক (عموم وخصوص مطلق)। সুতরাং ফিকহী মূলনীতি (القاعدة) সামগ্রিকভাবে অধিক ব্যাপক (أعم) এবং ফিকহী নীতিমালা (الضابط) সামগ্রিকভাবে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص)।

বিষয়টির ব্যাখ্যা হলো: ফিকহী মূলনীতি (القاعدة) তার অধীনে বিভিন্ন অধ্যায়ের ফিকহী মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, পক্ষান্তরে ফিকহী নীতিমালা (الضابط) কেবলমাত্র একটি অধ্যায়ের ফিকহী মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

ফিকহী মূলনীতির (القاعدة) উদাহরণ হলো: ‘নিশ্চয়তা সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না’ অথবা ‘নিশ্চয়তার মাধ্যমে সন্দেহ দূর করা হয়’; যেখানেই সন্দেহ ও নিশ্চয়তা একত্রে পাওয়া যায় এমন প্রতিটি ফিকহী মাসআলাতেই এই মূলনীতিটি প্রযোজ্য হয়। ফলে এটি পবিত্রতা, সালাত, জাকাত এবং এ জাতীয় বিভিন্ন ফিকহী অধ্যায়ে ব্যবহৃত হয়।

ফিকহী নীতিমালার (الضابط) উদাহরণ হলো: ‘সালাতের সাজদাহর ক্ষেত্রে যা কিছু ধর্তব্য, তিলাওয়াতের সাজদাহর ক্ষেত্রেও তা ধর্তব্য হবে।’ এটি ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কিছু অনুসারী বলেছেন। এই নীতিমালাটি (الضابط) উক্ত দুই সাজদাহর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এ দুটিই কেবল সালাত অধ্যায়ের সাথে নির্দিষ্ট, যা অন্য কোনো অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয় না।

হে আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, জেনে রাখুন যে, উপরোক্ত পার্থক্যটিই ফকিহগণের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত (المُقَرَّر)। তবে তারা কখনো কখনো এই পার্থক্যের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন; ফলে তারা ফিকহী নীতিমালাকে (الضابط) মূলনীতি (القاعدة) হিসেবে অভিহিত করেন এবং এর উল্টোটিও ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثالث: في (أقسام القواعد الفقهية)

تُقَسَّم القاعدة الفقهية من حيثيتين:

الأولى: من حيث مصدرُها؛ إذ إنها تأتي عن طريق أحد مصدرين:

الأول: النص الشرعي. والثاني: الاستنباط الاجتهادي، إلا أن أكثر القواعد مأخوذة عن المصدر الثاني.

فمثال المصدر الأول قاعدة: (لا ضرر ولا ضرار) ؛ حيث إن مصدرها حديث: (لا ضرر ولا ضرار) رواه ابن ماجه عن ابن عباس رضي الله عنهما.

ومثال المصدر الثاني قاعدة: (من تعجل الشيء قبل أوانه عوقب بحرمانه) وذلك كقتل وارثٍ موَرِّثََه قتلاً يوجب قصاصاً، فإنه يُحرم من الميراث؛ لأنه أساء في قصده، فرد الشارع قصده -عقاباً- عليه.

 

ومن ثَََمَّ تعلم -رحمك الله- أن القاعدة الفقهية تَكتسِبُ حجيتها بمصدرها إما نصّاً وإما استنباطاً.

الثانية: من حيث اتفاق العلماء عليها وعدمه، إذ من القواعد ما اتفقت المذاهب الفقهية عليها، وتُسمى بالقواعد الكلية. ومنها ما حصل الاختلاف فيها -أعني القواعد الفقهية-.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

ফিকহী মূলনীতিকে (القاعدة الفقهية) দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়:

প্রথমত: এর উৎসের (مصدر) দিক থেকে; কেননা এটি দুটি উৎসের যেকোনো একটির মাধ্যমে আসে:

প্রথমটি হলো: শরয়ি নস (النص الشرعي)। দ্বিতীয়টি হলো: ইজতিহাদি গবেষণা (الاستنباط الاجتهادي), তবে অধিকাংশ মূলনীতিই দ্বিতীয় উৎসটি থেকে গৃহীত হয়েছে।

প্রথম উৎসের উদাহরণ হলো এই মূলনীতিটি: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না); যেহেতু এর উৎস হলো হাদিস: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না), যা ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় উৎসের উদাহরণ হলো এই মূলনীতিটি: (যে ব্যক্তি কোনো বস্তু তার নির্দিষ্ট সময়ের আগে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হবে)। যেমন—উত্তরাধিকারী কর্তৃক তার মূল অধিকারীকে (যার থেকে সম্পদ প্রাপ্তি ঘটবে) এমনভাবে হত্যা করা যা কিসাস (قصاص) আবশ্যক করে। এক্ষেত্রে তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে; কারণ সে তার উদ্দেশ্যে অসততা করেছে, তাই শরয়ি বিধান প্রণেতা (الشارع) শাস্তি হিসেবে তার উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন।

 

অতএব আপনি জানতে পারলেন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—যে, ফিকহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) তার উৎসের মাধ্যমেই প্রামাণ্যতা (حجية) লাভ করে, চাই তা নস (نص) থেকে হোক অথবা গবেষণালব্ধ (استنباط) হোক।

দ্বিতীয়ত: এর ওপর ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য থাকা বা না থাকার দিক থেকে; কেননা মূলনীতিসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার ওপর ফিকহী মাযহাবসমূহ ঐকমত্য পোষণ করেছে এবং এগুলোকে সর্বজনীন মূলনীতি (القواعد الكلية) বলা হয়। আবার এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف) পরিলক্ষিত হয়—অর্থাৎ ফিকহী মূলনীতিসমূহ।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مثال القواعد الكلية قاعدة: (اليقين لا يزول بالشك) ، وقد أوصلها- أعني: القواعد الكلية- الإمام السيوطي في كتابه: "الأشباه والنظائر" إلى خمس وأربعين قاعدة، وأوصلها ابن المَبْرد يوسف بن عبد الهادي في كتابه: "مغني ذوي الأفهام" إلى ست وستين قاعدة؛ إلا أن القواعد الكلية الكبرى قصرها الأكثر على خمس قواعد، وهي: (الأمور بمقاصدها) ، و (اليقين لا يزول بالشك) و (المشقة تجلب التيسير) ، و (لا ضرر ولا ضرار) ، و (العادة مُحَكَّمة) .

ومثال القواعد المُخْتَلَف فيها قاعدة: (المُسْتَقْذَر شرعا كالمُسْتَقْذَر حِسّاً) ، كبسط الذراعين انبساط الكلب؛ فإنه مُسْتَقْبَح حِسّاً عند الناس، وكذلك هو مستقبح لدى الشرع لما رواه الشيخان عن أنس- رضي الله عنه مرفوعا: "لا يبسط أحدكم ذراعيه انبساط الكلب".
ব্যপক মূলনীতির (القواعد الكلية) একটি উদাহরণ হলো: (নিশ্চয়তা সংশয় দ্বারা দূরীভূত হয় না)। আর ইমাম সুয়ূতী তাঁর "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর" গ্রন্থে এই ব্যপক মূলনীতিগুলোকে (القواعد الكلية) পঁয়তাল্লিশটি পর্যন্ত উন্নীত করেছেন এবং ইবনুল মিবরাদ ইউসুফ বিন আব্দুল হাদী তাঁর "মুগনী যাউইল আফহাম" গ্রন্থে এগুলোকে ছেষট্টিটি মূলনীতি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ আলিম প্রধান প্রধান ব্যাপক মূলনীতিসমূহকে (القواعد الكلية الكبرى) পাঁচটি মূলনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, আর সেগুলো হলো: (কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিবেচিত হয়), (নিশ্চয়তা সংশয় দ্বারা দূরীভূত হয় না), (কষ্ট সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে), (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না) এবং (প্রথা বা সংস্কৃতি ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য)।

এবং মতভেদপূর্ণ মূলনীতিগুলোর (القواعد المُخْتَلَف فيها) একটি উদাহরণ হলো এই মূলনীতি: (শরিয়তের দৃষ্টিতে যা ঘৃণ্য তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবেও ঘৃণ্য বস্তুর মতো), যেমন কুকুরের মতো দুই হাত বিছিয়ে দেওয়া; কারণ এটি মানুষের নিকট ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে কুৎসিত, তেমনি শরিয়তের নিকটও এটি কুৎসিত। কেননা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আনাস (রা.) থেকে মারফূ (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মতো তার দুই হাত বিছিয়ে না দেয়।"
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الرابع: في تدوين القواعد الفقهية

نشأت القواعد الفقهية مع الفقه، لتعلق كلٍّ منهما بالآخر، وكان الصدر الأول ينطقون ببعض تلك القواعد، فقد روى الإمام عبد الرزاق في: "مصنفه" بسنده إلى عبد الله بن عباس-رضي الله عنهما أنه قال: (كل شيء في القرآن (أو، أو) ؛ فهو مخيّر، وكل شيء (فإن لم تجدوا) فهو الأول فالأول". إلى غير ذلك من الأمثلة.

 

ولكن القواعد الفقهية لم يُبْدَأ في حصرها، وتقنين علمها؛ إلا بعد استقرار المذاهب الفقهية المُتَّبَعَة، وظهور التقليد وتفشِّيه. وقد ألمح إلى ذلك ابن خلدون- رحمه الله تعالى- في: "مقدمته" حيث قال: (ولما صار مذهب كل إمام عِلماً مخصوصاً عند أهل مذهبه، ولم يكن لهم سبيل إلى الاجتهاد والقياس، فاحتاجوا إلى تنظير المسائل في الإلحاق، وتفريقها عند الاشتباه، بعد الاستناد إلى الأصول المقررة من مذاهب إمامهم) انتهى المراد.

فكانت أولى محاولات الحصر لقواعد مذهب فقهي؛ هي ما حكاه الإمام العلائي- رحمه الله تعالى- في كتابه: "المجموع المذهب، في قواعد المذهب" حيث ذكر أن الإمام أبا طاهر بن محمد بن الدباس الحنفي الضرير، أحد فقهاء القرن
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতি (قواعد فقهية) সংকলন প্রসঙ্গে

ফিকহী মূলনীতিসমূহ (قواعد فقهية) ফিকহ শাস্ত্রের সাথেই উৎপত্তি লাভ করেছে, যেহেতু একটির সাথে অপরটি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইসলামের প্রথম প্রজন্মের মনীষীগণ এই ধরনের কিছু মূলনীতি উচ্চারণ করতেন। যেমন, ইমাম আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে তাঁর সূত্র (سند) সহকারে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কুরআনে যেখানেই 'অথবা, অথবা' (أو، أو) শব্দ এসেছে, সেটি ঐচ্ছিক নির্দেশ বুঝাবে। আর যেখানেই 'যদি না পাও' (فإن لم تجدوا) শব্দ এসেছে, সেখানে সেটি ধারাবাহিকভাবে প্রথম থেকে পরবর্তী নির্দেশ বুঝাবে।" এই ধরনের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

 

তবে ফিকহী মূলনীতিগুলোকে (قواعد فقهية) সীমাবদ্ধ করা এবং এর জ্ঞানকে সুশৃঙ্খলভাবে সংকলন করার কাজ অনুসৃত মাযহাব (مذهب) সমূহের স্থিতিশীলতা এবং তাকলিদ (تقليد)-এর উদ্ভব ও বিস্তারের আগে শুরু হয়নি। ইবনে খালদুন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুকাদ্দিমা গ্রন্থে এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: "যখন প্রত্যেক ইমামের মাযহাব (مذهب) তাঁদের অনুসারীদের নিকট একটি বিশেষ জ্ঞানে পরিণত হলো এবং তাঁদের জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) ও কিয়াস (قياس)-এর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, তখন তাঁদের ইমামদের মাযহাবের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি (أصول)-এর ওপর ভিত্তি করে সদৃশ মাসআলাসমূহের বিন্যাস এবং অস্পষ্ট মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

কোনো একটি ফিকহী মাযহাবের (مذهب) মূলনীতিসমূহ সংকলনের প্রথম প্রচেষ্টা ছিল সেটি, যা ইমাম আলাইয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-মাজমু আল-মুদহাক ফিল কাওয়ায়েদ আল-মাযহাব' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চতুর্থ হিজরি শতকের অন্যতম ফকীহ (فقيه) ইমাম আবু তাহের ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আদ-দাব্বাস আল-হানাফী আদ-দরীর...
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الثالث والرابع الهجري: أنه أرجع مذهب أبي حنيفة إلى سبع عشرة قاعدة كلية، وأنه كان يكرِّر كل ليلة تلك القواعد بمسجده بعد مُنْصَرَف الناس.

وكان أول من دَوَّن القواعد وأفردها في كتاب؛ أبو الحسن عبيد الله بن الحسن الكَرْخي الحنفي، المتوفى سنة أربعين وثلاثمائة، وقد ضمن هذه الرسالة تسعة وثلاثين أصلاً. وقد وضع الإمام أبو حفص عمر بن محمد النسفي (ت:573هـ) شرحا على تلك الأصول؛ بين فيها ما يندرج تحت كل أصل من المسائل.

فائدة:

اعلم -أرشدك الله- أن أصحاب المذاهب الفقهية المُتَّبَعة لهم بعد الكرخي مسيرة في تدوين القواعد الفقهية، إلا أن دواوينهم فيها تتباين وتتفارق.

فمن أحسن ما كُتِب في المذهب الحنفي؛ كتاب؛ "الأشباه والنظائر" لابن نُجَيم المصري (ت:970هـ) ، قال الحموي الحنفي في: "غمز عيون البصائر، شرح الأشباه والنظائر": (لم يوجد في كتب الحنفية ماله -يعني: الأشباه لابن نجيم- يوازي أو يداني) انتهى؛ لذا اعتنى الأحناف: بـ "الأشباه" فعملوا عليه أكثر من عشرين عملا، مابين شرح ونظم وترتيب.

ومن أجود ما دون في المذهب المالكي؛ كتاب: "أنوار البروق في أنواء الفروق" لأحمد بن إدريس القرافي (ت:684هـ)
তৃতীয় ও চতুর্থ হিজরি শতাব্দী: তিনি আবু হানিফার মাজহাবকে (مذهب) সতেরোটি সর্বজনীন মূলনীতিতে (قاعدة كلية) প্রত্যাবর্তন করিয়েছিলেন এবং তিনি প্রতিদিন রাতে লোক চলে যাওয়ার পর তাঁর মসজিদে সেই মূলনীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন।

আর যিনি সর্বপ্রথম এই মূলনীতিগুলো সংকলন (تدوين) করেছিলেন এবং সেগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তিনি হলেন আবু আল-হাসান উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-কারখি আল-হানাফি, যিনি ৩৪০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এই পুস্তিকায় উনচল্লিশটি মূলনীতি (أصل) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইমাম আবু হাফস ওমর বিন মুহাম্মদ আন-নাসাফি (মৃত: ৫৭৩ হি.) সেই মূলনীতিগুলোর (أصول) ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রচনা করেছেন; যেখানে তিনি প্রতিটি মূলনীতির অধীনে কোন বিষয়গুলো (مسائل) অন্তর্ভুক্ত হয় তা স্পষ্ট করেছেন।

বিশেষ জ্ঞাতব্য:

আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—জেনে রাখুন যে, আল-কারখির পরবর্তী সময়ে ফিকহী মাজহাবসমূহের (المذاهب الفقهية) অনুসারীদের মাঝে ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) সংকলনের একটি দীর্ঘ পথচলা ছিল, তবে তাঁদের সংকলনগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

হানাফি মাজহাবে (المذهب الحنفي) লিখিত সর্বোত্তম গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইবনে নুজাইম আল-মিসরি (মৃত: ৯৭০ হি.) রচিত "আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর"। আল-হামাউয়ি আল-হানাফি তাঁর "গামজু উয়ুনিল বাসাইর শরহু আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর" গ্রন্থে বলেছেন: (হানাফিদের কিতাবসমূহের মধ্যে ইবনে নুজাইমের "আল-আশবাহ"-এর সমকক্ষ বা কাছাকাছি কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায় না) উদ্ধৃতি সমাপ্ত; এই কারণে হানাফি আলেমগণ "আল-আশবাহ"-এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং এর ওপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), কাব্যিক রূপ (نظم) ও বিন্যাস (ترتيب) সংক্রান্ত বিশটিরও বেশি কাজ করেছেন।

আর মালিকি মাজহাবে (المذهب المالكي) সংকলিত সবচেয়ে চমৎকার গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আহমদ বিন ইদ্রিস আল-কারাফি (মৃত: ৬৮৪ হি.) রচিত "আনোয়ারুল বুরুক ফি আনওয়াইল ফুরুক"।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
المشهور بـ: "فروق القرافي"، وقد عكف عليه المالكية تهذيبا، وترتيبا، وتعقيبا وغيرذلك.

ومن أحسن ما رُقِم في المذهب الشافعي؛ كتاب: "الأشباه والنظائر" للسيوطي (ت: 911هـ) ، وقد شرحه السبزاوري، وفصيح الدين البغدادي، ونظمه الأهدل.

ومن أفضل ما صُنِّف في المذهب الحنبلي؛ كتاب: "تقرير القواعد، وتحرير الفوائد" المشهوربـ "القواعد" أَلَّفه ابن رجب (ت:795هـ) ، قال حاجي خليفة عنه: "هوكتاب نافع، من عجائب الدهر"، وقال البرهان ابن مفلح في: "المقصد الأرشد": (والقواعد الفقهية تدل على معرفة تامة بالمذهب) .
যা "ফুরুক আল-কারাফি" নামে পরিচিত; মালিকি মাজহাবের আলেমগণ এর পরিমার্জন (تهذيب), বিন্যাস (ترتيب) এবং পর্যালোচনা (تعقيب) ইত্যাদি কাজে নিবিষ্ট ছিলেন।

শাফেয়ী মাজহাবে রচিত সর্বোত্তম গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) রচিত "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর"; যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন সাবযাওয়ারি ও ফসিহ উদ্দিন আল-বাগদাদী এবং একে ছন্দবদ্ধ করেছেন আল-আহদাল।

হাম্বলী মাজহাবে প্রণীত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর একটি হলো ইবনে রাজাব (মৃ. ৭৯৫ হি.) রচিত "তাকরীরুল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরীরুল ফাওয়াইদ", যা "আল-কাওয়ায়িদ" নামে প্রসিদ্ধ। হাজী খলিফা এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি উপকারী গ্রন্থ এবং এটি মহাকালের বিস্ময়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।" বুরহান ইবনে মুফলিহ "আল-মাকসাদুল আরশাদ" গ্রন্থে বলেছেন: "ফেকাহশাস্ত্রীয় মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) মাজহাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেয়।"
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الفصل الثاني:

في (تعريف موجز بالنظم المراد إيضاحه) .

وفيه مبحثان:

 

‌‌المبحث الأول في التعريف بـ: (مؤلف النظم) :

هو الشيخ العلامة أبو عبد الله عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله بن ناصر بن أحمد آل سِعدي، من نواصر بني تميم، نزح جدهم من (قفار) قرب حائل، وسكن عنيزة.

ولد الشيخ السِّعدي-رحمه الله سنة سبع وثلاثمائة وألف للهجرة، وتوفي سنة ست وسبعين وثلاثمائة وألف، عن عمر بلغ تسعاً وستين.

وكان رحمه الله صحيح المعتقد، متين الديانة، كريم الخلق، فقيها محَقِّقاً قال عنه الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله: "لقد عرفت الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي من أكثر من عشرين سنة؛ فعرفت فيه العالم السلفي، المدُقِّق المحقق، الذي يبحث عن الدليل الصادق، ويُنَقِّب عن البرهان الوثيق، فيمشي وراءه لايلوي على شيء"انتهى.
দ্বিতীয় অধ্যায়:

ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কাব্যটির (النظم) সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রসঙ্গে।

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: কাব্যের রচয়িতার (مؤلف النظم) পরিচয়:

তিনি হলেন শায়খ আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান বিন নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসির বিন আহমাদ আল-সা’দী, বনু তামীম গোত্রের নাওয়াসির শাখাভুক্ত। তাঁর পূর্বপুরুষ হাইল সংলগ্ন (কিফার) অঞ্চল থেকে হিজরত করে উনাইজায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।

শায়খ আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) হিজরি ১৩০৭ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৭৬ সনে ঊনসত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বিশুদ্ধ আকিদা (صحيح المعتقد), সুদৃঢ় দ্বীনদারি, উন্নত চরিত্র এবং একজন গবেষক ফকিহ ছিলেন। শায়খ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমি বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সা’দীকে চিনি; আমি তাঁকে একজন সালাফি আলেম এবং সূক্ষ্মদর্শী গবেষক হিসেবে পেয়েছি, যিনি সত্য দলিলের (الدليل) অনুসন্ধান করেন এবং শক্তিশালী প্রমাণের (البرهان) খোঁজ করেন, অতঃপর কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই তার পেছনে চলেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الثاني: في التعريف بـ (النظم)

حيث نظم الشيخ السعدي رحمه الله سبعة وأربعين بيتا، ضَمَّنَها أمهات القواعد الفقهية، يقول رحمه الله في مقدمة شرحه لذلك النظم: "فإني وضعت لي ولإخواني منظومة مشتملة على أمهات قواعد الدين، وهي إن كانت قليلة الألفاظ، فهي كثيرة المعاني لمن تأمَّلها"انتهى.

وقد حوى النظم ثلاثا وثلاثين قاعدة على وجه الإجمال، ونحو خمسين قاعدة على وجه التفصيل والتفريع أوأكثر.

لطيفة:

وضع الشيخ السعدي -رحمه الله تعالى- على نظمه السابق شرحا لطيفا، فرغ منه في الثامن عشر من ذي القعدة سنة إحدى وثلاثين وثلاثمائة وألف، وعمره حينئذ لم يتجاوز الرابعة والعشرين.

* * *
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নযম (النظم) বা কাব্য-পরিচয় প্রসঙ্গে

শায়খ আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) সাতচল্লিশটি কাব্য-পঙ্ক্তি রচনা করেছেন, যেখানে তিনি ফিকহী মূলনীতির (القواعد الفقهية) মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত কাব্যের ব্যাখ্যাগ্রন্থের (شرح) ভূমিকায় বলেন: "আমি আমার নিজের জন্য এবং আমার দ্বীনি ভাইদের জন্য দ্বীনের মৌলিক মূলনীতিগুলোর ওপর সংবলিত একটি কাব্য (منظومة) রচনা করেছি; এটি শব্দে সংক্ষিপ্ত হলেও যে ব্যক্তি তা নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করবে তার নিকট এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক।" সমাপ্ত।

এই কাব্যটি (النظم) সামগ্রিক বিচারে তেত্রিশটি মূলনীতি (قاعدة) এবং বিস্তারিত ও শাখা-প্রশাখার নিরিখে প্রায় পঞ্চাশটি বা তারও বেশি মূলনীতি (قاعدة) অন্তর্ভুক্ত করেছে।

একটি সূক্ষ্ম বিষয় (لطيفة):

শায়খ আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পূর্বোক্ত কাব্যের ওপর একটি চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রচনা করেছেন, যা তিনি ১৩৩১ হিজরি সনের ১৮ই জিলকদ তারিখে সমাপ্ত করেন। সে সময় তাঁর বয়স চব্বিশ বছরও অতিক্রম করেনি।

* * *
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الناظم- رحمه الله تعالى-:

1- الحمد لله العلي الأرفق … وجامع الأشياء والمفرق

2- ذي النعم الواسعة الغزيرة … والحكم الباهرة الكثيرة

3- ثم الصلاة مع سلام دائم … على الرسول القرشي الخاتم

4- وآله وصحبه الأبرار … الحائزي مراتب الفخار

"الشرح"

بدأ الناظم- رحمه الله تعالى- منظومته النافعة بالثناء على الله وحمده، وثَنَّى بالصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد صلى الله عليه وسلم، وثَلَّث بذكر الآل والأصحاب ضمن الصلاة والسلام على الرسول محمد صلى الله عليه، ولعله قَدَّم البسملة نطقا أو خطا كما في بعض النسخ، وذلك من المصنف- رحمه الله اتباع لطريقة أهل العلم في أوائل مصنفاتهم، قال الإمام العيني- رحمه الله في: " البناية": (ذكروا- يعني أهل العلم- أنه مما لابد منه في أوائل المصَنَّفَات: الابتداء بالبسملة، ثم بالحمدلة، ثم بالصلاة على النبي صلى الله عليه بصريح اسمه) انتهى.

قوله: [الأرفق] :

قال الناظم- رحمه الله في: " الشرح": (الأرفق: أي الرفيق في أفعاله، فأفعاله كلها رفق، على غاية المصالح والحكمة) انتهى.
নাظم (الناظم) —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— বলেছেন:

১- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ (العلي) ও পরম দয়াময় (الأرفق)... সকল বস্তুর একত্রকারী ও পৃথককারী।

২- তিনি ব্যাপক ও প্রচুর নিআমতের অধিকারী... এবং অসংখ্য সুস্পষ্ট হিকমতের (الحکم) মালিক।

৩- অতঃপর কুরাইশ বংশীয় শেষ রাসূলের ওপর... নিরন্তর দরুদ ও সালাম।

৪- এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান (الأبرار) সাহাবীদের ওপর... যারা গৌরবের সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ অর্জন করেছেন।

"ব্যাখ্যা (الشرح)"

নাظم (الناظم) —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— তাঁর এই উপকারী কাব্যটি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমে শুরু করেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করেছেন। তৃতীয়ত, রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর প্রেরিত দরুদ ও সালামের অনুগামী হিসেবে তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত তিনি উচ্চারণে অথবা লিখনে 'বিসমিল্লাহ'কে পূর্বে রেখেছেন, যেমনটি কিছু পাণ্ডুলিপিতে (النسخ) পাওয়া যায়। এটি গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে তাঁর রচনার শুরুতে আলেমগণের অনুসৃত পদ্ধতির অনুসরণ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। ইমাম আইনি —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— 'আল-বিনায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: (আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, গ্রন্থসমূহের শুরুতে যা অপরিহার্য তা হলো: 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে শুরু করা, এরপর আল্লাহর প্রশংসা (الحمدلة), তারপর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর তাঁর স্পষ্ট নামসহ দরুদ পাঠ করা)। সমাপ্ত।

তাঁর উক্তি: [আল-আরফাক (الأرفق)]:

নাظم (الناظم) —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— 'শারহ' গ্রন্থে বলেছেন: (আল-আরফাক (الأرفق): অর্থাৎ যিনি তাঁর কার্যাবলিতে অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল (الرفيق); তাঁর সকল কাজই পরম কল্যাণ ও হিকমতের (الحكمة) ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত কোমলতা ও দয়ার সাথে সম্পন্ন হয়)। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والرفيق والرفق صفة ثابتة لله عز وجل، فقد روى مسلم في " صحيحه" عن عائشة-رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه: (إن الله تعالى رفيق يحب الرفق، ويعطى على الرفق مالا يعطي على العنف، وما لا يعطي على ما سواه) .

قوله: [وآله] :

يعني: أتباعه على دينه 'لى يوم القيامة، قال الناظم في: "الشرح". وهذا هو المعنى البعيد العام لكلمة (آل) . وثَمَّ معنى قريب خاص؛ وهو: من حَرُمَت عليهم الصدقة. ومن الأول قول بعضهم:

آلُ النبيِّ هُمُ أتباعُ مِلَّتِهِ … مِنَ الأعاجمِ والسُّودانِ والعَربِ

لو لم يكن آلُه إلا أقاربَهَ.. صَلَّى المُصَلِّي على الطاغي أبي لَهَبِ

قوله: [الحائزي مراتب الفخار] :

أي: الرفعة والفضل، والموصوف هم الصحابة رضي الله عنهم، وهم أتباع محمد صلى الله عليه وسلم؛ جاء في: "الصحيحين" مرفوعا: (لا تَسُبُّوا أصحابي فو الذي نفسي بيده لو أنفق أحدكم مثل أحد ذهبا، ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه) .
'আর-রফিক' (কোমল) এবং 'রিফক' (কোমলতা) মহান আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত একটি গুণ। ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতা পছন্দ করেন। তিনি কোমলতার বিনিময়ে যা দান করেন তা কঠোরতার বিনিময়ে দান করেন না এবং অন্য কিছুর বিনিময়েও তা দান করেন না)।

তাঁর উক্তি: [এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি]:

অর্থাৎ: কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীগণ। 'আশ-শারহ' গ্রন্থে গ্রন্থকার বলেছেন: এটিই 'আল' (পরিবার) শব্দের দূরবর্তী ও সাধারণ অর্থ। আর একটি নিকটবর্তী ও বিশেষ অর্থ রয়েছে; আর তা হলো: যাদের ওপর সদকা গ্রহণ হারাম। প্রথমোক্ত অর্থের স্বপক্ষে জনৈক কবির উক্তি:

নবীর পরিবার তো তাঁরাই যারা তাঁর আদর্শের অনুসারী … চাই তারা অনারব হোক, কৃষ্ণাঙ্গ হোক বা আরব।

যদি তাঁর পরিবার কেবল তাঁর নিকটাত্মীয়রাই হতো, তবে সালাত পাঠকারী সেই পাপাচারী আবু লাহাবের ওপরও সালাত (দরুদ) পাঠ করত।

তাঁর উক্তি: [যিনি শ্রেষ্ঠত্বের সুউচ্চ মর্যাদা অর্জনকারী]:

অর্থাৎ: উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব। এখানে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, তাঁরাই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারী। "সহীহাইন" গ্রন্থে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: (তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তা তাঁদের এক 'মুদ' বা তার অর্ধেকের সমতুল্য হবে না)।
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال في (الدُّرَّة) :

وليس في الأمة كالصحابةْ … في الفضل والمعروف والإصابةْ

فإنهم شاهدوا المختارا … وعاينوا الأسرار والأنوارا

وجاهدوا في الله حتى بانا … دينُ الهدى وقد سَمَا الأديانا

* * *
'আদ-দুররা' গ্রন্থে বলা হয়েছে:

এই উম্মাহর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব, কল্যাণ এবং সঠিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের (الصحابة) তুলনীয় আর কেউ নেই …

কেননা তাঁরা মনোনীত নবীকে প্রত্যক্ষ করেছেন … এবং (নবুওয়াতের) নিগূঢ় রহস্য ও নূরসমূহ অবলোকন করেছেন।

আর তাঁরা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না হিদায়াতের দীন সুস্পষ্ট হয়েছে … যা অন্য সকল ধর্মের ওপর সমুন্নত হয়েছে।

* * *
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
5- اعلم هديت أن أفضل المنن … علم يزيا الشك عنك والدرن

6- ويكشف الحق لذي القلوب … ويوصل العبد إلى المطلوب

"الشرح"

حاصل معنى هذين البيتين: أن العلم النافع ما أزال عن القلب شيئين هما: الشبهات، والشهوات، وأشار الناظم إلى الأول بقوله: (الشك) ، وإلى الثاني بقوله (الدرن) .

قال ابن القيم -رحمه الله تعالى- ما حاصله: (إن القلب يعترضه مرضان يتواردان عليه، إذا استحكما فيه كان هلاكه وموته، وهما مرض الشهوات، ومرض الشبهات، والثاني أقتل للقلب وأصعب، وهما- الشهوات والشبهات- أصل داء الخلق، ودوائهما العلم؛ لأن ضد ذينك المرضين الإيمان واليقين، وكلاهما متعلق بالعل موجودا وازديادا) .

قوله: [المنن] :

واحدها مِنَّة، كسِدْرَة وسِدَر، والمِنَّة: النعمة.

قوله: [الدرن] :

من دَرَن درنا، كوسخ وسخا؛ وزنا ومعنى.

* * *
৫- জেনে রাখুন (আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন) যে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো … এমন জ্ঞান যা আপনার থেকে সন্দেহ (الشك) এবং কলুষতা (الدرন) দূর করে দেয়।

৬- এবং তা হৃদয়বানদের নিকট সত্যকে উন্মোচন করে … এবং বান্দাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

"ব্যাখ্যা"

এই দুই পঙক্তির মর্মার্থ হলো: উপকারী জ্ঞান হচ্ছে তা, যা অন্তর থেকে দুটি বিষয় দূর করে, আর তা হলো: সংশয় (الشبهات) এবং প্রবৃত্তি (الشهوات)। লেখক প্রথমটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর ‘সন্দেহ’ (الشك) উক্তির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়টির দিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর ‘কলুষতা’ (الدرন) উক্তির মাধ্যমে।

ইবনুল কায়্যিম —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— এর বক্তব্যের সারাংশ হলো: (নিশ্চয়ই অন্তরে দুটি রোগের উদয় ঘটে যা একে একে তার উপর আপতিত হয়; যখন এ দুটি সেখানে দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসে, তখন তার ধ্বংস ও মৃত্যু ঘটে। আর সে দুটি হলো প্রবৃত্তির (الشهوات) রোগ এবং সংশয়ের (الشبهات) রোগ। দ্বিতীয়টি অন্তরের জন্য অধিক মারাত্মক ও কঠিন। আর এই প্রবৃত্তি (الشهوات) ও সংশয়ই (الشبهات) হলো সৃষ্টির ব্যাধির মূল উৎস। আর এ দুটির প্রতিকার হলো জ্ঞান; কারণ এই দুই রোগের বিপরীত হলো ঈমান (الإيمان) এবং ধ্রুববিশ্বাস (اليقين), আর এ উভয়ই অস্তিত্ব ও বৃদ্ধির দিক থেকে জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট।)

তাঁর উক্তি: [المنن] :

এর একবচন মিন্নাহ (مِنَّة), যেমন সিদরাহ (سِدْرَة) ও সিদার (سِدَر); আর মিন্নাহ (المِنَّة) হলো নেয়ামত (النعمة)।

তাঁর উক্তি: [الدرن] :

এটি দারাউন (دَرَن) হতে দারাআন (درنا), যেমন ওয়াসাখ (وسخ) হতে ওয়াসাখান (وسخا); ওজনে ও অর্থে এটি একই রূপ।

* * *
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
7- فاحرص على فهمك للقواعد … جامعة المسائل الشوارد

8- فترتقي في العلم خير مرتقى … وتقتفي سبل الذي قد وفقا

"الشرح"

يشير الناظم رحمه الله في هذين البيتين إلى عظيم فائدة معرفة القواعد، وأن من ذلك: جمع القاعدة مسائل شوارد متفرقة، معرفتها تُغْني عن حفظ كثير من المسائل والفروع، قال القرافي في: "الفروق": (ومن ضَبَط الفقه بقواعده استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات؛ لاندراجها في الكليات) انتهى. ولذا قيل: (الفقه معرفة النظائر) .

واعلم -وفقك الله تعالى- أن هناك فوائد أخرى لمعرفة القواعد، أشار إلى طائفة منها الحافظ ابن رجب الحنبلي رحمه الله في كتابه: "القواعد"؛ حيث قال: (فهذه قواعد مهمة، وفوائد جمة، تضبط للفقيه أصول المذهب، وتُطْلعه من مآخذ الفقه على ما كان عنه قد تَغَيَّب، وتَنْظُم له منثور المسائل في سلك واحد، وتُقَيِّد له الشوارد، وتقرِّب عليه كل متباعد"انتهى.

قوله: [الشوارد] :

أي: المتباعدة المتفرقة؛ لأن أصل مادة (شَرَدَ) يدل على تنافر وتباعد، قاله ابن فارس-رحمه الله.

* * *
7- সুতরাং আপনি মূলনীতিসমূহ (القواعد) বোঝার ব্যাপারে আগ্রহী হোন … যা বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহকে একত্রিতকারী।

8- ফলে আপনি ইলমের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম উচ্চতায় আরোহণ করবেন … এবং সেই ব্যক্তির পথ অনুসরণ করবেন যাকে তাওফিক দান করা হয়েছে।

"ব্যাখ্যা"

নাজিম (কবিতা রচয়িতা) -রাহিমাহুল্লাহ- এই দুই চরণে মূলনীতিসমূহ (القواعد) জানার মহান উপকারিতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো: একটি মূলনীতি (القاعدة) বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন মাসআলাসমূহকে একত্রিত করে, যা জানা থাকলে অনেক মাসআলা ও শাখা-প্রশাখা (الفروع) মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা দূর হয়। আল-কারাফি তাঁর "আল-ফুরুক" গ্রন্থে বলেছেন: (যে ব্যক্তি ফেকাহকে এর মূলনীতিসমূহ (القواعد) দ্বারা আয়ত্ত করবে, সে অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় (الجزئيات) মুখস্থ করা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাবে; কারণ সেগুলো সামগ্রিক বিষয়ের (الكليات) অন্তর্ভুক্ত) সমাপ্ত। এজন্যই বলা হয়েছে: (ফেকাহ হলো সদৃশ বিষয়াবলি (النظائر) চেনা)।

আর জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফিক দান করুন—মূলনীতিসমূহ (القواعد) জানার আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি -রাহিমাহুল্লাহ- তাঁর "আল-কাওয়ায়িদ" গ্রন্থে এর একটি অংশের দিকে ইঙ্গিত করেছেন; সেখানে তিনি বলেছেন: (এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (قواعد) এবং প্রচুর ফায়দা বা উপকারিতা সম্পন্ন, যা ফকিহর জন্য মাযহাবের মূলনীতিসমূহকে (أصول) সুশৃঙ্খল করে দেয় এবং ফেকাহর উৎসসমূহ থেকে এমন বিষয় তাকে অবগত করে যা তার কাছে অস্পষ্ট ছিল। আর এটি তার জন্য বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহকে একটি সুতোয় গেঁথে দেয়, পলায়নপর বিষয়গুলোকে আবদ্ধ করে এবং প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে তার নিকটবর্তী করে দেয়) সমাপ্ত।

তাঁর বক্তব্য: [الشوارد] :

অর্থাৎ: দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন; কারণ (شَرَدَ) শব্দের মূল ধাতু বিচ্ছিন্ন হওয়া ও দূরে সরে যাওয়াকে বুঝায়। এটি ইবনে ফারিস -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন।

* * *
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
9- هذه قواعد نظمتها … من كتب أهل العلم قد حصلتها

10- جزاهم المولى عظيم الأجر … والعفو مع غفرانه والبر

"الشرح"

أفاد رحمه الله أن القواعد الفقهية المنظومة جمعها من كتب أهل العلم؛ فهي مأثورة معروفة، وإنما له من ذلك النظم والتأليف، والضم والتصريف؛ ليسهل تداولها.

ثم ثنى رحمه الله بالدعاء لأهل العلم الذين أخذ عنهم تلك القواعد، وهي سنة مُتَّبَعَة تواضعت عليها الطباع السليمة، قال بعضهم:

إذا أفادك إنسان بفائدة … من العلوم فأكثِرْ شكره أبد

وقل فلان جزاه الله صالحة … أفادنيها وخل اللؤم والحسد

* * *
9- এগুলো এমন কিছু মূলনীতি (قواعد) যা আমি ছন্দোবদ্ধ করেছি … আলিমগণের কিতাবসমূহ থেকে আমি এগুলো সংগ্রহ করেছি।

10- মহান প্রতিপালক তাঁদেরকে মহান প্রতিদান দান করুন … এবং তাঁর মার্জনা ও দয়ার সাথে তাঁদেরকে ক্ষমা করুন।

"ব্যাখ্যা"

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, পদ্যাকারে বিন্যস্ত ফিকহশাস্ত্রীয় মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) তিনি আলিমগণের কিতাব থেকে সংগ্রহ করেছেন; সুতরাং এগুলো ঐতিহাসিকভাবে বর্ণিত ও সুপরিচিত। এখানে তাঁর কাজ হলো কেবল সেগুলোকে কাব্যরূপ দেওয়া, সংকলন করা, একত্রীকরণ ও বিন্যাস করা; যাতে এগুলোর চর্চা সহজ হয়।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সেই আলিমগণের জন্য দোয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছেন যাঁদের থেকে তিনি এই মূলনীতিসমূহ গ্রহণ করেছেন। আর এটি একটি অনুসৃত সুন্নত (سنة) যার ওপর সুস্থ স্বভাবের মানুষগণ একমত হয়েছেন। জনৈক কবি বলেছেন:

যদি কোনো ব্যক্তি তোমাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে উপকৃত করে … তবে সর্বদা তাঁর প্রতি অধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

এবং বলো যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে কল্যাণকর প্রতিদান দিন … তিনি আমাকে এই বিষয়টি শিখিয়েছেন, আর তুমি নীচতা ও হিংসা বর্জন করো।

* * *
(খণ্ড: ১) মাজমুআতুল ফাওয়াইদিল বাহিয়্যাহ আলা মানজূমাতিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الأمور بمقاصدها

11- النية شرط لسائر العمل … بها الصلاح والفساد للعمل

"الشرح"

بهذا النظم استهل الناظم -رحمه الله تعالى- القواعد الفقهية التي ضَمَّنها منظومة هذه؛ لأن هذه القاعدة هي أعم وأوسع القواعد، وهي معدودة -كما سبقت الإشارة إلى ذلك- ضمن كبرى القواعد الكلية العامة.

قوله: [النية] :

قال الجوهري في "الصحاح": نويت نية ونواة إذا عزمت، فالنية في اللغة العربية هي العزم على الشيء، وهذا الذي يقصده جمهور الفقهاء الذين تكلمو في مسائل النية.

وأما في الاصطلاح: فهي مرادفة للإخلاص؛ إذ بينهما عموم وخصوص مطلق، فالنية أعم مطلقاً من الإخلاص، فتشمل نية الرياء والشرك والإخلاص وغيرذالك. والإخلاص أخص من النية؛ لأن معناها إخلاص النية من شوائب الشرك والرياء، وإفراد الله بالقصد والإرادة.

واعلم -رحمك الله- أن الفقهاء ذكروا للنية شروط صحة، لا
কর্মসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল

১১- নিয়ত (النية) সকল আমলের (العمل) জন্য শর্ত (شرط) … এর মাধ্যমেই আমলের সংশোধন বা কলুষতা নির্ধারিত হয়

"ব্যাখ্যা"

এই পঙক্তির মাধ্যমে রচয়িতা—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—সেই ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) অবতারণা করেছেন যা তিনি তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ এই মূলনীতিটি (القاعدة) হলো সর্বাধিক সাধারণ ও বিস্তৃত মূলনীতি, এবং ইতিপূর্বে যেমনটি ইঙ্গিত করা হয়েছে, এটি প্রধান সাধারণ মৌলিক নীতিসমূহের (القواعد الكلية العامة) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য।

তাঁর উক্তি: [নিয়ত (النية)] :

আল-জাওহারী তাঁর 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলেছেন: যখন আমি সংকল্প করি তখন বলা হয় 'আমি নিয়ত (نية) ও নাওয়াত (نواة) করেছি'। সুতরাং আরবি ভাষায় নিয়ত (النية) হলো কোনো বিষয়ের ওপর সংকল্প (العزم) করা; আর নিয়তের মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনাকারী অধিকাংশ ফকিহ (الفقهاء) এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

আর পরিভাষায় (الاصطلاح): এটি ইখলাসের (الإخلاص) সমার্থক; যেহেতু এদের উভয়ের মধ্যে 'আম-খাস মুতলাক' বা নিরঙ্কুশ সাধারণ ও বিশেষের (عموم وخصوص مطلق) সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং নিয়ত (النية) ইখলাসের (الإخلاص) চেয়ে নিরঙ্কুশভাবে অধিক ব্যাপক, ফলে এটি রিয়া (الرياء), শিরক (الشرك), ইখলাস (الإخلاص) এবং অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। অন্যদিকে ইখলাস (الإخلاص) হলো নিয়তের (النية) চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট; কারণ এর অর্থ হলো নিয়তকে শিরক (الشرك) ও রিয়ার (الرياء) কলুষতা থেকে মুক্ত করা এবং সংকল্প ও ইচ্ছার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহকে নির্দিষ্ট করা।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—ফকিহগণ (الفقهاء) নিয়ত সঠিক হওয়ার জন্য কিছু শর্ত (شروط صحة) উল্লেখ করেছেন, যা...