(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: -)
حكم التمثيل   (بكر أبو زيد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حكم التمثيل

المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (ت 1429هـ)

الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1411 هـ

عدد الصفحات: 60

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

অভিনয়ের বিধান   (বকর আবু যায়দ)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: অভিনয়ের বিধান

লেখক: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গাইহাব বিন মুহাম্মাদ (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুর রায়াহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি، রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: -)
التمثيل

حقيقته، تاريخه، حُكمه

 

إعداد

بكر بن عبد الله أبو زيد

 

دار الراية للنشر والتوزيع - الطبعة الأولى 1411هـ
অভিনয়

এর স্বরূপ, ইতিহাস ও বিধান (حكم)

 

গ্রন্থনায়

বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যাইদ

 

দারুর রাইয়াহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - প্রথম সংস্করণ ১৪১১ হিজরি
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه.

أما بعد:

فإن التمثيل أصبح في الحياة المعاصرة (فناً) له رواده، ومدارسه، وطرائقه، بمسلسلاته، ومسرحياته، على اختلاف وسائل نشره في: الإذاعة، والتلفاز، وعلى خشبات المسارح، وردهات النوادي. فصار بهذا يشغل حيّزاً كبيراً في حياة المسلمين: حرفة، أداءاً، وسماعاً، ومشاهدة. فكل مدرسة من مدارس التمثيل تجلب من التمثيليات والمسلسلات ما يُروجها ويُكسبها سمعة وانتشاراً. إذ هي جواد رابح ُتحاز من ورائه الأموال.

ويندر أن ترى الفرق بين أن تكون الممارسات والعرض في دار إسلام، أو دار كفر.

وقد استشرى هذا في البيوتات، والأماكن العامة، فملأ أفئدة عوام الأمة: رجالاً ونساءاً وولدانا. حتى أن من يمجها ولا يهرع إليها، يُوصف بأنه (فاقد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।

অতঃপর:

সমকালীন জীবনে অভিনয় একটি 'শিল্প' হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, যার রয়েছে নিজস্ব অগ্রপথিক, বিদ্যাপীঠ ও কর্মপদ্ধতি; এর সাথে যুক্ত রয়েছে ধারাবাহিক নাটক ও মঞ্চনাটক। এগুলো বেতার, টেলিভিশন, নাট্যমঞ্চ এবং ক্লাবের মিলনায়তনের মতো প্রচারের নানাবিধ মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়। এর মাধ্যমে এটি মুসলমানদের জীবনে এক বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে—পেশা, পরিবেশনা, শ্রবণ এবং দর্শন হিসেবে। অভিনয়ের প্রতিটি ধারাই এমন সব নাটিকা ও ধারাবাহিক নাটক উপস্থাপন করে যা তাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে এবং খ্যাতি ও প্রসার এনে দেয়। মূলত এটি একটি লাভজনক মাধ্যম যার দ্বারা অঢেল অর্থ উপার্জিত হয়।

ইসলামি ভূখণ্ড কিংবা কুফরি ভূখণ্ডে এই চর্চা ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পার্থক্য খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।

এটি ঘরবাড়ি ও জনসমাগমস্থলগুলোতে এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, তা উম্মাহর সাধারণ মানুষের—পুরুষ, নারী ও শিশুদের—হৃদয় আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এমনকি যে ব্যক্তি একে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর দিকে ধাবিত হয় না, তাকে এমনভাবে বিশেষিত করা হয় যে সে (বঞ্চিত...
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৪)
الخيال) .

 

لهذا: رأيت أن أبّين للمسلمين منزلة هذا (التمثيل) من العلم والدين، لأن تصرفات المسلم لا بد أن تكون محفوفة برسم الشرع، في دائرة نصوصه وقواعده، وآدابه.

ولنرى بعد: هل من يستمزجها؟ (له خيال) أم فيه (خبال) ؟ .

 

وينتظم ذلك سبعة أبحاث هي:

 

المبحث الأول: ذكر ما كُتب في هذه النازلة تبعاً أو استقلالاً.

 

المبحث الثاني: في حقيقة التمثيل وأسمائه.

 

المبحث الثالث: تاريخه وأصله في الاعتياد والتعبد.

 

المبحث الرابع: أنواعه.

 

المبحث الخامس: غايته وأهدافه.

 

المبحث السادس: المدرك الفقهي الشرعي لحكمه.

 

المبحث السابع: شبه وجوابها.

ومن هذه الأبحاث سيعلم الناظر مما جلبته فيها: أنها ليست نازلة مستجدة من كل الوجوه، لتقادم العهد بوجود وقائع لها، ومقابلتها من العلماء بالإنكار منذ القرن الثالث.
(কল্পনা) ।

 

একারণে: আমি মুসলিমদের নিকট ইলম ও দ্বীনের দৃষ্টিতে এই অভিনয় (التمثيل)-এর অবস্থান স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করেছি। কারণ একজন মুসলিমের কর্মকাণ্ড অবশ্যই শরয়ি রূপরেখার বেষ্টনীতে এবং এর নস (نصوص), নীতিমালা (قواعد) ও আদবের গণ্ডির মধ্যে হতে হবে।

এবং আমরা পরে দেখব: যে ব্যক্তি এর প্রতি আগ্রহী হয়, তার কি কল্পনা (خيال) রয়েছে নাকি তার মাঝে বিকারগ্রস্ততা (خبال) বিদ্যমান? ।

 

বিষয়টি সাতটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত, যা হলো:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই নব্য উদ্ভূত সমস্যা (نازلة) সম্পর্কে আনুষঙ্গিক বা স্বতন্ত্রভাবে যা কিছু লেখা হয়েছে তার উল্লেখ।

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অভিনয়ের (التمثيل) প্রকৃত স্বরূপ ও এর নামসমূহ প্রসঙ্গে।

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অভ্যাসগত ও ইবাদতগত দিক থেকে এর ইতিহাস ও উৎস।

 

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদসমূহ।

 

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।

 

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এর বিধানের (حكم) ফিকহী ও শরয়ি ভিত্তি।

 

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সংশয় ও তার উত্তর।

এই পরিচ্ছেদসমূহ থেকে পাঠক আমার উপস্থাপিত আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারবেন যে: এটি সবদিক থেকে কোনো নব্য উদ্ভূত বিষয় (نازلة مستجدة) নয়; কারণ দীর্ঘকাল আগে থেকেই এর বিভিন্ন দৃষ্টান্ত বিদ্যমান এবং তৃতীয় শতাব্দী থেকেই ওলামায়ে কেরাম একে প্রত্যাখ্যান (الإنكار) করে আসছেন।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৫)
وإن الإمام النووي المتوفي سنة 676هـ - رحمه الله تعالى - ذكر تمثيل الوعاظ، وتمثيل المعلمين، في كتابه (الروضة) ، وعنه ابن حجر الهيثمي في (الإعلام) .

و (قصة التمثيل) للوعظ، ذكرها ابن عبد ربه في (العقد الفريد) وعنه البكري في (الوفاقات) كما في (صهاريج اللؤلؤ) .

و (خيال الظل) ضرب من ضروب التمثيل، وإلى ابن الجوزي - رحمه الله تعالى - يُنسب البيتان المشهوران. وقد جمع العلامة أحمد تيمور فيه ما وقع له من قصص وحكايات وموقف العلماء والحكام منها مما سيمر نظرك عليه في هذا الكتاب - إن شاء الله تعالى -.

 

لكن صار اعتباره (نازلة) عصرنا، لأنه أصبح (فناً) له رواده، ومدارسه، ويشكل ظاهرة منتشرة في الأمة.

فمن الواجب إذاً البيان للناس عن حكم هذه الظاهرة، لنعلم هل هي اعتلال في حياتها، أم داعية استقامة على صراطها. والله الموفق.

 

بكر أبو زيد
নিশ্চয়ই ৬৭৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম নববী - রাহিমাহুল্লাহ তাআলা - তাঁর ‘আর-রওদাহ’ গ্রন্থে ওয়াজকারীদের অভিনয় এবং শিক্ষকদের অভিনয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তাঁর সূত্র ধরে ইবনে হাজার আল-হাইতামি এটি তাঁর ‘আল-ইলাম’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এবং উপদেশের উদ্দেশ্যে ‘অভিনয়ের কাহিনী’র কথা ইবনে আবদে রাব্বিহি তাঁর ‘আল-ইকদ আল-ফারিদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বরাতে আল-বাকরি ‘আল-ওফাকাত’ গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ‘সাহারিজে আল-লুলু’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

আর ‘ছায়া অভিনয়’ হলো অভিনয়ের একটি প্রকার; এবং ইবনুল জাওযী - রাহিমাহুল্লাহ তাআলা - এর প্রতি বিখ্যাত দুটি পংক্তি আরোপ করা হয়। আল্লামা আহমদ তাইমুর এ বিষয়ে তাঁর সংগৃহীত বিভিন্ন কাহিনী, উপাখ্যান এবং এ বিষয়ে আলেম ও শাসকদের অবস্থান সংকলন করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা এই কিতাবে আপনার দৃষ্টিগোচর হবে।

 

তবে বর্তমানে এটি আমাদের সময়ের একটি ‘নতুন উদ্ভূত সমস্যা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি এখন এমন একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে যার নিজস্ব পথিকৃৎ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং যা উম্মাহর মাঝে এক ব্যাপক প্রপঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সুতরাং এই বিষয়টি সম্পর্কে মানুষের নিকট এর বিধান স্পষ্ট করা এখন আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে আমরা জানতে পারি এটি জীবনের পথে কোনো ব্যাধি নাকি সঠিক পথে অটল থাকার কোনো আহ্বানকারী। আল্লাহই তৌফিকদাতা।

 

বকর আবু যাইদ
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الأول: ما كتب في هذه النازلة

 

في أخريات القرن الرابع عشر الهجري صار التمثيل فناً يمارس بشكل يتبارى فيه المخرجون له، والكتب الغثائية التي تشرح هذا وتبينه متكاثرة جداً، وذكرها هنا لا يعنينا. والذي يقصد هو بيان الحكم الشرعي للتمثيل، والتي تكشف عن تاريخه وأصله في الأمم. وقد تم الوقوف على جملة من الرسائل، والأبحاث، والفتاوى، هذا بيانها:

 

أولاً: الرسائل والمؤلفات استقلالاً في التمثيل:

 

1- طيف الخيال. لابن دانيال الموصلي. م سنة 760هـ مطبوع في آخر كتاب إبراهيم حمادة الآتي.

 

2- خيال الظل، واللعب والتماثيل المصورة عند العرب، تأليف / أحمد تيمور باشا. طبع دار الكتاب العربي بمصر عام 1376هـ.

3- خيال الظل وتمثيليات ابن دانيال: تأليف / إبراهيم
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই নব্য উদ্ভূত সমস্যা (النازلة) সম্পর্কে যা কিছু রচিত হয়েছে

 

চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে অভিনয় একটি শিল্পকলায় পরিণত হয়েছে যা এমনভাবে চর্চিত হচ্ছে যেখানে পরিচালকরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। অসার ও মূল্যহীন বই যা এর ব্যাখ্যা ও বর্ণনা প্রদান করে তা সংখ্যায় প্রচুর, এবং এখানে সেগুলো উল্লেখ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং যা উদ্দেশ্য তা হলো অভিনয়ের শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي) বর্ণনা করা, যা বিভিন্ন জাতির মধ্যে এর ইতিহাস ও মূল উৎস উন্মোচন করে। এ বিষয়ে বেশ কিছু অভিসন্দর্ভ, গবেষণা এবং ফতোয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

 

প্রথমত: অভিনয় বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে রচিত অভিসন্দর্ভ ও রচনাবলি:

 

১- তাইফুল খিয়াল। ইবনে দানিয়াল আল-মাওসিলি কর্তৃক রচিত। মৃত্যু ৭৬০ হিজরি। এটি পরবর্তীতে উল্লিখিত ইব্রাহিম হামাদার বইয়ের শেষে মুদ্রিত হয়েছে।

 

২- খিয়ালুজ জিল, ওয়াল লা’ইব ওয়াত তামাসিলুল মুসাওয়ারাহ ইনদাল আরব। রচনায়: আহমদ তাইমুর পাশা। ১৩৭৬ হিজরিতে মিশরের দারুল কিতাব আল-আরাবি থেকে মুদ্রিত।

৩- খিয়ালুজ জিল ওয়া তামসিলিয়াত ইবনে দানিয়াল: রচনায়: ইব্রাহিম
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৮)
حمادة، طبع وزارة الثقافة بمصرعام 1961م. ويقع في 246 صفحة.

 

4- الوفاقات في العادات. تأليف / محمد توفيق البكري. رسالة طبعت بحاشية كتابه (صهاريج اللؤلؤ) ، ص / 258 - 262. طبع بمصر بلا تاريخ.

شرحه أحمد بن الأمين الشنقيطي.

 

5- إقامة الدليل على حرمة التمثيل. تأليف/ أحمد بن الصديق الغماري.

رسالة تقع في / 35 صفحة. طبع دار مرجان يمصر. قبل عام 1356هـ.

 

6- إزالة الإلتباس عما أخطأ فيه كثير من الناس. تأليف / عبد الله بن الصديق الغماري. طبع في آخر رسالة أخيه المتقدمة، من ص / 38 إلى ص 43.

 

7- فن التمثيل عند العرب. تأليف / محمد حسين الأعرجي.
হামাদা, ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মুদ্রিত। এটি ২৪৬ পৃষ্ঠা সম্বলিত।

 

৪- আল-ওয়াফাকাত ফিল আদাত। রচনা / মুহাম্মদ তাওফিক আল-বাকরি। এটি একটি পুস্তিকা যা তাঁর ‘সাহারিযুল লু’লু’ গ্রন্থের পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত হয়েছে, পৃষ্ঠা / ২৫৮ - ২৬২। কোনো প্রকাশকাল ছাড়াই মিশরে মুদ্রিত।

এর ব্যাখ্যা করেছেন আহমাদ বিন আল-আমিন আশ-শিনকিতি।

 

৫- ইক্বামাতুদ দালিল আলা হুরমাতিত তামসিল। রচনা / আহমাদ বিন আস-সিদ্দিক আল-গুমারি।

পুস্তিকাটি ৩৫ পৃষ্ঠা সম্বলিত। ১৩৫৬ হিজরি সালের পূর্বে মিশরের দার মারজান থেকে মুদ্রিত।

 

৬- ইযালাতুল ইলতিবাস আম্মা আখতা'আ ফিহি কাসিরুম মিনান নাস। রচনা / আব্দুল্লাহ বিন আস-সিদ্দিক আল-গুমারি। এটি তাঁর পূর্বোল্লিখিত ভাইয়ের পুস্তিকার শেষে, ৩৮ থেকে ৪৩ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত।

 

৭- ফাননুত তামসিল ইনদাল আরব। রচনা / মুহাম্মদ হুসাইন আল-আ’রাজি।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৯)
ثانياً البحوث تبعاً أو استقلالاً:

 

8 - مبحث مهم في (دائرة معارف القرن العشرين) لفريد وجدي 2/ 716- 720. وفي (شفاء الغليل) للخفاجي ص / 44 ذكر من اخترع خيال الظل. وأنه رجل اسمه جعفر. لكنه قول مضعف لنا ستراه في آخر المبحث الثاني.

 

9- مقال للشيخ عبد الله بن الصديق الغماري، طبع في آخر الرسالتين المذكورتين ص / 44 - 48 بعنوان: (ماذا في طنجة) .

 

10 - الشريعة الإسلامية والفنون. تأليف / الشيخ أحمد بن مصطفى القضاة. طبع عام 1408هـ. نشر دار عمار في عمان الأردن.

وفيه عقد الباب الثالث عن التمثيل ص / 316 - 367.

 

11 - الإيضاح والتبيين لما وقع فيه الأكثرون من مشابهة المشركين. للشيخ حمود التويجري. طبع عام 1405 هـ بالرياض. ص / 244 - 245.
দ্বিতীয়ত: আনুষঙ্গিক বা স্বতন্ত্র গবেষণাগুলো:

 

৮ - ফরিদ ওয়াজদির 'দাইরাতু মাআরিফিল কারনিল ইশরিন' (বিংশ শতাব্দীর বিশ্বকোষ) ২/৭১৬-৭২০ পৃষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। এবং খাফাজির 'শিফাউল গালীল' এর ৪৪ পৃষ্ঠায় ছায়াছবির (খিয়ালুজ জিল) আবিষ্কারকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; সেখানে বলা হয়েছে যে তিনি জাফর নামক এক ব্যক্তি। তবে এটি একটি দুর্বল সাব্যস্তকৃত (مضعف) মত, যা আপনি দ্বিতীয় আলোচনার শেষে দেখতে পাবেন।

 

৯- শায়খ আবদুল্লাহ বিন আস-সিদ্দিক আল-গুমারি-র একটি প্রবন্ধ, যা উল্লিখিত পুস্তিকা দুটির শেষে ৪৪-৪৮ পৃষ্ঠায় 'মাজা ফি তনজাহ' শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে।

 

১০ - 'আশ-শারীয়াতুল ইসলামিয়্যা ওয়াল ফুনুন' (ইসলামি শরিয়ত ও শিল্পকলা)। রচনা: শায়খ আহমদ বিন মুস্তফা আল-কুদাত। ১৪০৮ হিজরিতে জর্ডানের আম্মানের দারু আম্মার থেকে প্রকাশিত।

এতে ৩১৬-৩৬৭ পৃষ্ঠায় অভিনয় সংক্রান্ত তৃতীয় অধ্যায়টি সংযোজিত হয়েছে।

 

১১ - 'আল-ইজাহ ওয়াত তিবইয়ান লিমা ওয়াকাআ ফিহিল আকসারুনা মিন মুশাহাবাহাতিল মুশরিকীন'। শায়খ হামুদ আত-তুয়াইজারি রচিত। ১৪০৫ হিজরিতে রিয়াদে মুদ্রিত। পৃষ্ঠা ২৪৪-২৪৫।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১০)
12 - بحث في حكم تمثيل الصحابة رضي الله عنهم. مطبوع على الآلة الراقمة في عشرين صفحة، إعداد الرئاسة العامة للإفتاء بالرياض.

 

13 - وفي كتاب (الرحلة الحجازية) ص / 53 - 54، للسنوسي: بحث تاريخي في ذلك.

 

14 - وفي كتاب (المخرج من الفتنة) للوادعي، بحث في التمثيل الديني لدى الجماعات الإسلامية.

15 - تعليق للشيخ محمد كنعان، على تفسير الجلالين، طبع المكتب الإسلامي، عند قول الله تعالى في سورة لقمان} ومن الناس من يشتري لهو الحديث {الآية 9. ص / 539.

 

16 - ظاهرة فن التمثيل. مطبوع على الآلة الراقمة في / 32 صفحة. بقلم محمد عبد اللطيف بن صالح الفرفور، من بحوث / مجمع الفقه الإسلامي بجدة.

 

17 - فن التمثيل. مطبوع على الآلة الراقمة في 14 صفحة. بقلم / الحاج شيت محمد الثاني من بحوث / مجمع الفقه الإسلامي بجدة.

 

18 - فن التمثيل. عبد العزيز الخياط. مطبوع على
12 - সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) চিত্রায়নের বিধান সম্পর্কিত গবেষণা। টাইপরাইটারে মুদ্রিত বিশ পৃষ্ঠা সংবলিত, রিয়াদের জেনারেল প্রেসিডেন্সি অব ইফতা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত।

 

13 - এবং সেনুসীর (আর-রিহলাতুল হিজাজিয়্যাহ) কিতাবের ৫৩ - ৫৪ পৃষ্ঠায়: এ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক গবেষণা।

 

14 - এবং ওয়াদিয়ি-র (আল-মাখরাজু মিনাল ফিতনা) কিতাবে ইসলামি দলগুলোর মাঝে ধর্মীয় অভিনয় বিষয়ক আলোচনা।

15 - তাফসিরে জালালাইনের ওপর শায়খ মুহাম্মাদ কানআনের টীকা, আল-মাকতাবুল ইসলামি সংস্করণ, সূরা লুকমানের ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অসার কথা (হাদিস) ক্রয় করে}-এর ব্যাখ্যায়। পৃষ্ঠা ৫৩৯।

 

16 - অভিনয় শিল্পের প্রপঞ্চ। টাইপরাইটারে ৩২ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত। লেখক: মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ বিন সালিহ আল-ফারফুর। জেদ্দাস্থ ইসলামি ফিকহ একাডেমির গবেষণাসমূহ থেকে।

 

17 - অভিনয় শিল্প। টাইপরাইটারে ১৪ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত। লেখক: আল-হজ শীত মুহাম্মাদ আস-সানি। জেদ্দাস্থ ইসলামি ফিকহ একাডেমির গবেষণাসমূহ থেকে।

 

18 - অভিনয় শিল্প। আব্দুল আজিজ আল-খায়্যত। মুদ্রিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১১)
الآلة الراقمة في / 16 صفحة. من بحوث / مجمع الفقه الإسلامي بجدة.

 

19 - فن التمثيل في الإسلام. التيجاني صابون محمد. في / 12 صفحة. من بحوث / مجمع الفقه الإسلامي بجدة.

 

20- حكم الإسلام في وسائل الإعلام. لعبد الله ناصح علوان. ص / 40 - 51.

 

21 - البيان المفيد عن حكم التمثيل والأناشيد. فتاوى ومناقشات لعدد من العلماء وطلاب العلم. جمعها عبد الله السليماني.

 

ثالثاُ: وفي المجلات:

 

22 - الرد على مصطفى الزرقاء في إباحته التمثيل.

للشيخ وهبي سليمان الغاوجي. نشر في مجلة (منار الإسلام) .

 

23 - تاريخ المسرح عند العرب. نشر في مجلة الدارة، العدد الأول عام 1980م.

 

24 - الترويح في الإسلام.
টাইপরাইটারে মুদ্রিত / ১৬ পৃষ্ঠায়। জেদ্দাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমির গবেষণাপত্র থেকে।

 

১৯ - ইসলামে অভিনয় শিল্প। তিজানি সাবুন মুহাম্মদ। ১২ পৃষ্ঠায়। জেদ্দাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমির গবেষণাপত্র থেকে।

 

২০- গণমাধ্যমে ইসলামের বিধান। আবদুল্লাহ নাসিহ উলওয়ান কর্তৃক। পৃষ্ঠা / ৪০ - ৫১।

 

২১ - অভিনয় এবং সংগীতের বিধান সম্পর্কে উপকারী বর্ণনা। বেশ কয়েকজন আলেম ও ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীর ফতোয়া ও আলোচনা। এটি সংকলন করেছেন আবদুল্লাহ আল-সুলাইমানি।

 

তৃতীয়ত: সাময়িকীসমূহে:

 

২২ - অভিনয় বৈধ করার বিষয়ে মোস্তফা আল-জারকার খণ্ডন।

শেখ ওয়াহবি সুলাইমান আল-গাউজি কর্তৃক। ‘মানারুল ইসলাম’ সাময়িকীতে প্রকাশিত।

 

২৩ - আরবদের মাঝে নাট্যমঞ্চের ইতিহাস। আদ-দারাহ সাময়িকীতে প্রকাশিত, প্রথম সংখ্যা, ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ।

 

২৪ - ইসলামে চিত্তবিনোদন।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১২)
نشر في مجلة (الوعي الإسلامي) بالكويت، العدد 246.758

 

25 - التمثيلية ودورها في خدمة الإسلام.

نشر في مجلة (الوعي الإسلامي) بالكويت، العدد / 251.

 

26 - مشكلة فيلم إسلامي. لفهمي هويدي.

نشر في جريدة (الدستور) الأردنية. في 9 / 8 / 1988 م.

 

27 - 32 في مجلة الأزهر الأبحاث التالية:

التمثيل والأنبياء م / 26 ص / 960، 701.

المسرح الإسلامي.

نقل لفيلم الرسالة.

العرب والمسرح.

تمثيل الرسول صلى الله عليه وسلم .

عرض القصص القرآني عن طريق السينما والمسرح.

حكم تمثيل الشخصيات الإسلامية.

أنظر من المجلة الأعداد الآتية /

م / 26 ص/ 960، 701

م / 50 ص/ 758
কুয়েতের (আল-ওয়ায়ি আল-ইসলামি) ম্যাগাজিনে প্রকাশিত, সংখ্যা ২৪৬.৭৫৮

 

২৫ - নাট্যকলা এবং ইসলামি খিদমতে এর ভূমিকা।

কুয়েতের (আল-ওয়ায়ি আল-ইসলামি) ম্যাগাজিনে প্রকাশিত, সংখ্যা / ২৫১।

 

২৬ - ইসলামি চলচ্চিত্রের সমস্যা। ফাহমি হুওয়ায়দি রচিত।

জর্ডানের (আদ-দুস্তুর) সংবাদপত্রে প্রকাশিত। ৯ / ৮ / ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।

 

২৭ - ৩২ আল-আজহার ম্যাগাজিনে নিম্নোক্ত গবেষণাপত্রসমূহ:

নাট্যকলা ও নবীগণ খণ্ড / ২৬ পৃষ্ঠা / ৯৬০, ৭০১।

ইসলামি থিয়েটার।

আর-রিসালাহ চলচ্চিত্রের পর্যালোচনা।

আরব ও থিয়েটার।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্রে অভিনয়।

সিনেমা ও থিয়েটারের মাধ্যমে কুরআনিক ঘটনাবলি প্রদর্শন।

ইসলামি ব্যক্তিত্বদের চরিত্রে অভিনয়ের বিধান।

ম্যাগাজিনের নিম্নোক্ত সংখ্যাগুলো দেখুন /

খণ্ড / ২৬ পৃষ্ঠা/ ৯৬০, ৭০১

খণ্ড / ৫০ পৃষ্ঠা/ ৭৫৮
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৩)
م /46 ص/ 105، 227

م/ 44 ص / 572

م / 48 ص 584، 42، 381، 785، 372

م / 34 ص 119

وقصص الأنبياء في السينما بقلم / محمد على ناصف عام 1382هـ.

 

32 - 36 وفي مجلة (العربي) :

خيال الظل مسرح عربي قبل أن تكون المسارح. العدد / 19.

من الممثل العربي: العدد / 166

الكوميديا في مسرحنا العربي. العدد / 178.

المسرحية العابثة وظهور المسرح العابث. العدد / 190.

من هو الفنان. العدد / 142.

 

37 - وفي مجلة (مواقف) اللبنانية. العدد رقم / 46 لعام 1983م، شهر ربيع الأول، مقال بعنوان مسألة فن التمثيل في المجتمع الإسلامي. عساف.

 

رابعاً: الفتاوى:

 

38 - قرار رابطة العالم الإسلامي في مكة " حرسها الله
খণ্ড / ৪৬, পৃষ্ঠা/ ১০৫, ২২৭

খণ্ড/ ৪৪, পৃষ্ঠা/ ৫৭২

খণ্ড / ৪৮, পৃষ্ঠা/ ৫৮৪, ৪২, ৩৮১, ৭৮৫, ৩৭২

খণ্ড / ৩৪, পৃষ্ঠা/ ১১৯

এবং সিনেমায় নবীদের কাহিনী, লেখক / মুহাম্মদ আলী নাসিফ, বছর ১৩৮২ হিজরি।

 

৩২ - ৩৬ এবং (আল-আরাবি) সাময়িকীতে:

থিয়েটার বা নাট্যমঞ্চের উৎপত্তির পূর্বে ছায়া নাটক ছিল একটি আরবীয় নাট্যকলা। সংখ্যা / ১৯।

আরব অভিনেতা প্রসঙ্গে: সংখ্যা / ১৬৬

আমাদের আরবীয় নাট্যমঞ্চে কমেডি। সংখ্যা / ১৭৮।

উদ্ভট নাটক এবং অ্যাবসার্ড থিয়েটারের আবির্ভাব। সংখ্যা / ১৯০।

শিল্পী কে? সংখ্যা / ১৪২।

 

৩৭ - এবং লেবাননী সাময়িকী (মাওয়াকিফ)-এ। সংখ্যা নং / ৪৬, ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ, রবিউল আউয়াল মাস, নিবন্ধের শিরোনাম: ইসলামি সমাজে অভিনয় শিল্পের সমস্যা। আসসাফ।

 

চতুর্থত: ফতোয়াসমূহ (فتاوى):

 

৩৮ - মক্কায় (আল্লাহ একে রক্ষা করুন) অবস্থিত মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সিদ্ধান্ত (قرار)
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৪)
تعالى " في تحريم النبي صلى الله عليه وسلم .

 

39 - قرار صدر من المنظمات الإسلامية أثناء دورتها المنعقدة في مكة " حرسها الله تعالى " عام 1390هـ.

 

40 - 43 ثلاث فتاوى للشيخ محمد رشيد رضا في (الفتاوى) ، 3 / 1090، 4 / 1418، 6 / 2348 برقم 504، 548. وفي (مجلة المنار) 14 / 1911 / 827 - 830.

 

44 - فتاوى شلتوت.

 

45 - فتوى اللجنة المختصة في مجلة الأزهر. عام 1374 هـ في تحريم تمثيل الأنبياء عليهم السلام.

 

46 - فتوى لجنة الفتوى بالأزهر، في: حكم تمثيل الشخصيات الإسلامية. عام 1379هـ. نشرت في مجلة الأزهر. عام 1379 هـ.

 

47 - الفتاوى الإسلامية من دار الإفتاء المصرية 4 / 1297، بعنوان: عدم التعرض لشخصية الرسول صلى الله عليه وسلم في الأفلام.
তাআলা "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিত্রায়িত করার হারাম হওয়া প্রসঙ্গে।

 

৩৯ - ১৩৯০ হিজরিতে মক্কায় "আল্লাহ তাআলা একে হিফাযত করুন" অনুষ্ঠিত অধিবেশন চলাকালীন ইসলামি সংস্থাসমূহ থেকে জারিকৃত একটি সিদ্ধান্ত।

 

৪০ - ৪৩ (আল-ফাতাওয়া) গ্রন্থে শায়খ মুহাম্মদ রশিদ রিদার তিনটি ফতোয়া, ৩/১০৯০, ৪/১৪১৮, ৬/২৩৪৮, নম্বর ৫০৪, ৫৪৮। এবং (মাজাল্লাতুল মানার) সাময়িকীতে ১৪/১৯১১/৮২৭ - ৮৩০।

 

৪৪ - ফাতাওয়া শালতুত।

 

৪৫ - ১৩৭৪ হিজরিতে মাজাল্লাতুল আজহার-এ আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম-দের চিত্রায়ন বা অভিনয় হারাম হওয়া প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির ফতোয়া।

 

৪৬ - ইসলামি ব্যক্তিবর্গের অভিনয়ের বিধান সম্পর্কে আল-আজহারের ফতোয়া কমিটির ফতোয়া। ১৩৭৯ হিজরি। যা ১৩৭৯ হিজরিতে মাজাল্লাতুল আজহার-এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

৪৭ - মিশরের দারুল ইফতা থেকে প্রকাশিত আল-ফাতাওয়াল ইসলামিয়া ৪/১২৯৭, শিরোনাম: চলচ্চিত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বের চিত্রায়ন থেকে বিরত থাকা।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثاني: في حقيقة التمثيل وأسمائه

 

المثل، والشبيه، كلاهما بمعنى واحد، تقول العرب:

مثل الشيئ بالشيئ: إذا سوى به، وقدر تقديره، قال الزمخشري: (1) .

" وفي حديث آخر: لا تمثلوا بنامية الله ".

أي: بخلقه.

وقيل: المراد التصوير، والتمثيل بخلق الله، من قولهم:

مثل الشيئ بالشيئ، ومثل به: إذا سوى به..

والمحاكاة: هي و (التمثيل) بمعنى، يقال:

حكيت، وأحكيه حكاية، إذا أتيت بمثله على الصفة التي أتى بها غيرك فأنت كالناقل عنه، فالمثلية معنى جامع بين مادتي: حكى، ومثل. وفي اصطلاح العصر.

(عرض حي لقصة وأصحابها، واقعة أو متخيلة)

 

الأسماء:

 

1 - التمثيل: هو الإسم الغالب عليه حتى لا يكاد يُعرف إلا به.

--------------------------------------------

(1) الفائق 3 / 345.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অভিনয়ের (التمثيل) প্রকৃত স্বরূপ ও এর নামসমূহ

 

'আল-মাসাল' (المثل) এবং 'আশ-শাবিহ' (الشبيه), উভয়ই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আরবরা বলে থাকে:

একটি বস্তুকে অন্য বস্তুর সদৃশ করা (مثل الشيء بالشيء): যখন সেটিকে তার সমান সাব্যস্ত করা হয় এবং তার সমপরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। আজ-জামখাশারি বলেছেন: (১) ।

"এবং অন্য একটি হাদিসে এসেছে: তোমরা আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিকৃতি (تمثلوا) তৈরি করো না।"

অর্থাৎ: তাঁর সৃষ্টির।

বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো চিত্রায়ন (التصوير) এবং আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য গ্রহণ (التمثيل), যা তাদের এই উক্তি থেকে গৃহীত:

একটি বস্তুকে অন্য বস্তুর সদৃশ করা (مثل الشيء بالشيء) এবং সাদৃশ্য সাব্যস্ত করা (مثل به): যখন সেটিকে তার সমান করা হয়...

অনুকরণ (المحاكاة) এবং অভিনয় (التمثيل) একই অর্থবোধক। বলা হয়ে থাকে:

আমি অনুকরণ করেছি (حكيت), আমি অনুকরণ করছি (أحكيه), অনুকরণ বা বর্ণনা (حكاية); যখন আপনি অন্য ব্যক্তির কৃত কর্মের অনুরূপ কোনো কিছু তার গুনাগুণসহ উপস্থাপন করেন, তখন আপনি তার পক্ষ থেকে বর্ণনাকারীর (الناقل) মতো হন। সুতরাং সাদৃশ্যতা (المثلية) হলো 'হাকা' (حكى) এবং 'মাসাল' (مثل) এই উভয় মূলধাতুর একটি সমন্বিত অর্থ। আধুনিক পরিভাষায় এর সংজ্ঞা হলো:

(কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক কাহিনী এবং তার চরিত্রগুলোর একটি জীবন্ত উপস্থাপন)

 

নামসমূহ:

 

১ - অভিনয় (التمثيل): এটিই এর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী নাম, এমনকি এটি ছাড়া অন্য কোনো নামে এটি পরিচিত নয় বললেই চলে।

--------------------------------------------

(১) আল-ফায়েক ৩ / ৩৪৫।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - التقليد.

3- المحاكاة.

4- التشخيص (1) .

5- المسلسلات.

6- المسرحيات. واحدتها مسرحية.

وأصلها من مادة (سرح) ، والسارحة الماشية، ولذا قيل للمرعى (مسرح) . وفي حديث الثلاثة المشهور (يغدوا عليهما بسارحة له) .

وقد تفاصح بعضهم، فقال: صوابها (مرسح) بتقديم الميم، وهذه لا يساعد أصلها اللغوي عليها، فإنها من (رسح) بمعنى (قل لحمه) فالعلاقة منتفية بين المعنيين اللغوي والإصطلاحي.

 

10 - يُقال للتمثيلية (بابة) ومنه في أبيات وجيه الدين ضياء بن عبد الكريم، وقيل: لابن الجوزي:

تجيئ وتمضي بابة بعد بابة … وتَفْنى جميعاً والمحرك باقي

--------------------------------------------

(1) - أنظر أم القرى للكواكبي.
2 - অনুকরণ (التقليد)।

3- অনুবৃত্তি (المحاكاة)।

4- রূপদান (التشخيص) (১)।

5- ধারাবাহিক পরম্পরাসমূহ (المسلسلات)।

6- নাটকসমূহ (المسرحيات)। এর একবচন হলো নাটক (مسرحية)।

আর এর মূল ধাতু হলো (سرح), আর ‘সারহাহ’ (السارحة) হলো চারণকারী গবাদি পশু; একারণেই চারণভূমিকে ‘মাসরাহ’ (مسرح) বলা হয়। তিন ব্যক্তির প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে, “(সে তার একটি চারণকারী পশু (سارحة) নিয়ে তাদের নিকট সকালবেলা যেত)।”

কেউ কেউ পাণ্ডিত্য প্রকাশ করে বলেছেন যে, এর সঠিক রূপ হলো ‘মুরসাহ’ (مرسح)—‘মীম’ বর্ণকে আগে এনে; কিন্তু ভাষাগত মূল ধাতু একে সমর্থন করে না, কেননা এটি ‘রাসাহা’ (رسح) থেকে আগত যার অর্থ ‘মাংস কমে যাওয়া’। ফলে শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যে যোগসূত্রটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

 

10 - অভিনয় বা নাটিকাকে (التمثيلية) ‘বাবাহ’ (بابة) বলা হয়। ওয়াজিহ উদ্দিন জিয়া বিন আব্দুল কারীমের কবিতায় এটি এসেছে—কারো মতে এটি ইবনুল জাওযীর কবিতা:

এক দৃশ্যের (بابة) পর অন্য দৃশ্য আসে এবং চলে যায়... সব বিলীন হয়ে যায় কিন্তু চালিকাশক্তি অবশিষ্ট থাকে।

--------------------------------------------

(১) - আল-কাওয়াকিবি রচিত উম্মুল কুরা দেখুন।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولعل هذه التسمية مأخوذة من تقسيم التمثيلية على الأبواب (1) .

 

11 - ويُقال لخيال الظل أيضاً: (القراقوز) في اللغة التركية (كرة - كوز) ، وكأنها تعني التنظير بالوزير الأيوبي (قراقوش) .

 

12 - ومنه أيضاً: (الآراجوز) : وهو لهجة عامية تركية للاسم قبله (كرا - كوز) لكنه هنا أشبه بالسينما.

 

13 - الملهاة. جمعها: ملاهي.

 

14 - 15- وأما عند المتقدمين فيقرب منه ما يسى لديهم باسم (خيال الظل) .

وإضافته مقلوبة عن (ظل الخيال) . وفي المبحث الثالث نقْل مطول مهم عنه فلينظر.

 

16- 21- وأما في الاصطلاح الدخيل فله من الأسماء:

الدراما، أو الميلودراما.

--------------------------------------------

(1) - أنظر: خيال الظل لحمادة ص / 56- 58.
সম্ভবত এই নামকরণটি অভিনয়ের বিন্যাসকে বিভিন্ন অধ্যায় (أبواب) অনুযায়ী বিভক্ত করা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে (১)।

 

১১ - ছায়াছন্দ (خيال الظل)-কে তুর্কি ভাষায় ‘কারাগোজ’ (كرة - كوز)-ও বলা হয়, যার অর্থ সম্ভবত আইয়ুবী উজির ‘কারাকুশ’-এর সাথে তুলনা করাকে বুঝায়।

 

১২ - এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: ‘আরাজুজ’, যা পূর্বোক্ত নামের একটি তুর্কি আঞ্চলিক উপভাষা (كرة - كوز), তবে এখানে এটি অনেকটা সিনেমার সদৃশ।

 

১৩ - কৌতুকনাট্য (الملهاة)। এর বহুবচন হলো: প্রমোদসামগ্রী (ملاهي)।

 

১৪ - ১৫- আর পূর্বসূরিদের (المتقدمون) নিকট এর কাছাকাছি হলো যা তাদের কাছে ‘ছায়াছন্দ’ (خيال الظل) নামে পরিচিত।

এর সম্বন্ধপদটি মূলত ‘ছায়ার প্রতিচ্ছবি’ (ظل الخيال) থেকে উল্টানো হয়েছে। তৃতীয় পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ উদ্ধৃতি রয়েছে, সুতরাং তা দেখে নেয়া উচিত।

 

১৬- ২১- আর বিদেশি পরিভাষায় (الاصطلاح الدخيل) এর নামগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ড্রামা বা মেলোড্রামা।

--------------------------------------------

(১) - দেখুন: হামাদার ‘খায়াল আল-জিল’, পৃষ্ঠা: ৫৬-৫৮।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৮)
التقليد.

التراجيديا.

المأساة.

التياترو.

الكوميديا.

ويأتي بيانها في المبحث الرابع: (أنواع التمثيل) .

 

‌‌المبحث الثالث: تاريخه، وأصله في الاعتياد والتعبد

 

أصل حدوثه عند غير المسلمين: ابتداع في العبادات، ثم انتقل إلى العادات للتسلية والترفيه..

ثم تسرب التمثيل بنوعيه إلى المسلمين فشكل ظاهرتين في قالبين:

1- التمثيل الديني.

2- التمثيل الترفيهي.

 

وعن حدوثه في التعبد لدى غير المسلمين، فقد رجح بعض الباحثين أن نواة التمثيل من شعائر العبادات الوثنية لدى اليونان. ففي (المعجم المفصل 2 / 1149 - 1150) بحث دقيق ومهم فلينظر. والله أعلم.

وذكر شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى - في
অনুকরণ।

ট্র্যাজেডি।

বিয়োগান্তক নাটক।

থিয়েটার।

কমেডি।

এবং চতুর্থ পরিচ্ছেদে এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আসবে: (অভিনয়ের প্রকারভেদ)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর ইতিহাস, এবং অভ্যাস ও ইবাদতের ক্ষেত্রে এর মূল ভিত্তি

 

অমুসলিমদের মধ্যে এর উৎপত্তির মূল হলো: ইবাদতের ক্ষেত্রে নব-উদ্ভাবন (ابتداع), অতঃপর তা বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের জন্য সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়।

অতঃপর উভয় প্রকারের অভিনয় মুসলমানদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে এবং দুটি কাঠামোতে দুটি প্রপঞ্চের রূপ ধারণ করে:

১- ধর্মীয় অভিনয়।

২- বিনোদনমূলক অভিনয়।

 

অমুসলিমদের ইবাদতে এর উদ্ভব সম্পর্কে কিছু গবেষক প্রাধান্য দিয়েছেন যে, অভিনয়ের মূল উৎস হলো গ্রিকদের পৌত্তলিক উপাসনার আচার-অনুষ্ঠান। এ বিষয়ে (আল-মু'জাম আল-মুফাসসাল ২ / ১১৪৯ - ১১৫০) গ্রন্থে একটি সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে, যা দ্রষ্টব্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—উল্লেখ করেছেন—
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ১৯)
(اقتضاء الصراط المستقيم 1/ 478) ما يفعله النصارى في عيدهم المسمى (عيد الشعانين) من أنهم يخرجون بورق الزيتون ونحوه بزعم المشابهة لما جرى للمسيح عليه السلام حين دخل بيت المقدس - في هيئة يطول ذكرها - وهم يقلدونه عليه السلام في ذلك يوم عيدهم المذكور.

ثم امتدت هذه البدعة لدى العرب إلى تهادي الزهور أيام المواسم والأعياد. وشاهده قول النابغة:

رقاق النعال طيب حجزاتهم … يحيون بالريحان يوم السباسب

وهو لدى الفرنجة اليوم كذلك.

وفي هذه السنين أخذ تهادي الزهور شكلاً آخر من إهدائة للمرضى، وما كاد الكفار يفعلونه إلا وتقوم له الدعاية على قدم وساق، حتى انتشر لدى المسلمين.

وما كنت أظن أن العرب داراً ونسباً ولساناً - ستبلغ بهم التبعية الماسخة إلى فعلته، ومن أثقل المظاهر أن ترى المريض في عقله يحمل الزهور - مستقل ومستكثر - إلى المريض في بدنه وكان العكس أولى؟ فالله أكبر إنها السنن (لتتبعن سنن من كان قبلكم) .
(ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ১/ ৪৭৮) খ্রিস্টানরা তাদের 'ঈদ-উশ-শাআনীন' (পাম সানডে) নামক উৎসবে যা করে থাকে—অর্থাৎ তারা যয়তুন পাতা ও অনুরূপ কিছু নিয়ে বের হয় এই দাবিতে যে, এটি মসীহ আলাইহিস সালাম যখন বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করেছিলেন তখনকার ঘটনার সাদৃশ্য অবলম্বন (যার বর্ণনা দীর্ঘ)—এবং তারা তাদের উক্ত উৎসবের দিনে এ বিষয়ে তাঁর (আলাইহিস সালাম) অনুকরণ করে থাকে।

অতঃপর এই বিদআত (بدعة) আরবদের মাঝে বিভিন্ন মৌসুম ও উৎসবের দিনগুলোতে ফুল আদান-প্রদান পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এর প্রমাণ হলো কবি নাবিকার উক্তি:

তাদের পাদুকা পাতলা এবং পরিধেয় বস্ত্র সুগন্ধিময় … 'সাবাসিব' উৎসবের দিনে তারা রায়হান (সুগন্ধি ফুল) দিয়ে অভিবাদন জানায়।

বর্তমানে ইউরোপীয়দের মাঝেও এটি একইভাবে বিদ্যমান।

আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসুস্থ ব্যক্তিদের ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে এটি ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে। অমুসলিমরা এটি করতে না করতেই এর সপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়ে যায়, এমনকি তা মুসলমানদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে।

আমি কখনও ভাবিনি যে আবাসভূমি, বংশ ও ভাষার দিক থেকে যারা আরব—বিজাতীয় অনুকরণ তাদেরকে এই বিকৃত পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাবে। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু দৃশ্য হলো, আপনি দেখবেন একজন বিবেকবুদ্ধিহীন লোক ফুল বহন করে নিয়ে যাচ্ছে—তা অল্প হোক বা বেশি—একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির কাছে, অথচ এর বিপরীতটি হওয়াই ছিল অধিকতর শ্রেয়। আল্লাহু আকবার! এটিই হলো সেই রীতি বা পদ্ধতি (السنن) (অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি অনুসরণ করবে)।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২০)
ثم انتشر التمثيل في المعابد الكنسية، يمثل جزءاً من تعبداتهم الكنسية، ويحمل إسم:

(التراجيديا) ، و (المأساة) ، و (التياترو) .

وفي العقود الأخيرة من القرن الرابع عشر الهجري تسربت التمثيليات الدينية، والهزلية إلى المدارس النظامية، والدينية منها إلى الجماعات الإسلامية، فتألفت فيها فرقة (التمثيل الديني) ، ثم أخذت تتطور إلى تمثيل أشخاص بعينهم، ثم إلى العظماء في الإسلام، ثم إلى طبقة الصحابة رضي الله عنهم، ثم إلى أنبياء الله ورسله عليهم الصلاة والسلام، ثم إلى العوالم الغيبية كملائكة الرحمن، وهكذا.

وقد وجد لدى بعض الإخباريين ذكر السوابق في تاريخ العرب الترفيهية، والدينية، وكان يسمى لديهم (خيال الظل) فقيلت فيه أشعار، ونقلت عنه أخبار. وكان الولاة بين المنع والجواز. وهنا بيتان يُنسبان إلى ابن الجوزي رحمه الله تعالى، في (خيال الظل) كما في (النجوم الزاهرة) : (6 / 176)

رأيت خيال الظل أكبر عبرة … لمن هو في علم الحقيقة راقي
এরপর গির্জার উপাসনালয়গুলোতে অভিনয়ের বিস্তার ঘটে, যা তাদের গির্জাভিত্তিক উপাসনার অংশ হিসেবে পরিগণিত হতো এবং এটি নিম্নোক্ত নাম ধারণ করত:

(ট্র্যাজেডি), (বিয়োগান্তক নাটক) এবং (থিয়েটার)।

আর চতুর্দশ হিজরি শতকের শেষ দশকগুলোতে ধর্মীয় ও হাস্যরসাত্মক নাটকগুলো সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে এবং ধর্মীয় নাটকগুলো ইসলামি দলগুলোর মধ্যে অনুপ্রবেশ করে। ফলে সেখানে ‘ধর্মীয় নাট্যদল’ গঠিত হয়। এরপর তা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্রে অভিনয়, পরবর্তীতে ইসলামের মহান ব্যক্তিদের চরিত্রে অভিনয়, এরপর সাহাবি (الصحابة)-দের স্তর (طبقة) পর্যন্ত, অতঃপর আল্লাহর নবি ও রাসুলগণের (আ.) চরিত্রে অভিনয় এবং পরবর্তীতে পরম দয়াময় আল্লাহর ফেরেশতাদের মতো অদৃশ্য জগতের অভিনয়ের দিকে বিবর্তিত হতে থাকে; এভাবেই চলতে থাকে।

কোনো কোনো ইখবারি বা ইতিহাসবিদের (الإخباريين) নিকট আরবদের বিনোদন ও ধর্মীয় ইতিহাসে এর নজির পাওয়া যায়, যাকে তাদের নিকট ‘ছায়া অভিনয়’ বলা হতো। এ সম্পর্কে বিভিন্ন কবিতা বলা হয়েছে এবং এ সম্পর্কে সংবাদ (أخبار) বর্ণিত হয়েছে। তৎকালীন শাসকগণ এর নিষেধাজ্ঞা ও বৈধতার মাঝে দোদুল্যমান ছিলেন। এখানে ইবনুল জাওযি (রহ.)-এর প্রতি নিসবতকৃত ‘ছায়া অভিনয়’ সম্পর্কিত দুটি কাব্য পঙ্ক্তি উল্লেখ করা হলো, যেমনটি ‘আন-নুজুম আয-যাহিরা’ (৬/১৭৬) গ্রন্থে রয়েছে:

আমি ছায়া অভিনয়কে এক মহান শিক্ষা হিসেবে দেখেছি … সেই ব্যক্তির জন্য যে পরম সত্যের জ্ঞানে উচ্চমার্গের অধিকারী।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২১)
شخوص وأشباح تمر وتنقضي … وتفني جميعاً والمحرك باقي

 

وفي (كناشة النوادر) للأستاذ عبد السلام هارون (1/9) قال:

 

(خيال الظل: وهو الأصل الأول للسينماء المعاصرة، إذ تتحرك الأشخاص والأشكال خلف ستر، وقد سلط عليها الضوء، فتبدو صورها متحركة من خلف الستر. . ومن أقدم النصوص التي سجلت فيها هذه الظاهرة، قول ابن الجوزي، المتوفى سنة 597 هـ أي منذ ثمانية قرون، فذكرهما عن (النجوم الزاهرة 6/176) انتهى.

وهما بنحوهما مع غيرهما - منسوبة في (المستطرف) للأبشيهي إلى وجيه الدين ضياء بن عبد الكريم والمتأخرون يتناقلون نسبتهما إلى الإمام الشافعي -رحمه الله تعالى - ولم أقف في هذا العزو على مصدر قديم، والله أعلم.

 

ولتيمور في (خيال الظل) ص/19- 23 مبحث ممتع في ذلك، وإنكار العلماء له فلينظر. والله أعلم.

وفي (العقد الفريد) لابن عبدربه، وعنه بدون عزو في (الوفاقات) للبكري، كما في حاشية (صهاريج اللؤلؤ)
ব্যক্তি ও ছায়ামূর্তিগুলো অতিক্রান্ত ও বিলীন হয়ে যায় … এবং সবাই নিঃশেষ হয়ে যায়, কেবল চালিকাশক্তিই অবশিষ্ট থাকে।

 

এবং উস্তাদ আবদুস সালাম হারুন রচিত (কুনাশতুল নাওয়াদির) গ্রন্থে (১/৯) বলা হয়েছে:

 

(খায়ালুজ জিল: এটি সমসাময়িক চলচ্চিত্রের আদি উৎস; কারণ এতে পর্দার আড়ালে ব্যক্তি ও প্রতিকৃতিগুলো নড়াচড়া করে এবং তাদের ওপর আলোকসম্পাত করা হয়, ফলে পর্দার পেছন থেকে তাদের ছবিগুলো সচল প্রতীয়মান হয়। . এবং এই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ হয়েছে এমন প্রাচীনতম পাঠ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইবনুল জাওযীর বক্তব্য, যিনি ৫৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন অর্থাৎ আজ থেকে আট শতাব্দী পূর্বে। তিনি এ দুটি পঙ্ক্তি (আল-নুজুম আল-জাহিরা ৬/১৭৬) থেকে উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।

এই পঙ্ক্তি দুটি এবং এর সদৃশ অন্যান্য পঙ্ক্তি— আবশিহী রচিত (আল-মুস্তাতরাফ) গ্রন্থে ওয়াজিউদ্দিন জিয়া বিন আব্দুল কারীমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (منسوبة) করা হয়েছে। আর পরবর্তী যুগের আলেমগণ (المتأخرون) এ দুটিকে ইমাম শাফেয়ী —রহিমাহুল্লাহু তা’য়ালা— এর দিকে সম্বন্ধ করার বিষয়টি একে অপরের থেকে বর্ণনা করে থাকেন। তবে আমি এই সম্বন্ধের (عزو) ক্ষেত্রে কোনো প্রাচীন উৎস খুঁজে পাইনি। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

তয়মুরের (খায়ালুজ জিল) গ্রন্থের ১৯-২৩ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে একটি চমৎকার আলোচনা এবং এর প্রতি আলেমদের আপত্তির কথা উল্লেখ আছে, যা দেখা যেতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং ইবনে আবদি রাব্বিহি রচিত (আল-ইকদুল ফারিদ) গ্রন্থে এটি বর্ণিত হয়েছে, এবং তার সূত্র ধরে কোনো প্রকার সম্বন্ধ (عزو) উল্লেখ ছাড়াই আল-বকরী রচিত (আল-ওফাকাত) গ্রন্থে এটি এসেছে, যেমনটি (সাহারিজে লু’লু’) এর টীকাগ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২২)
له ص/ 258- 259 ذكر قصة طويلة لبعض الوعاظ، حيث كان يقف على تل مرتفع فيقول قم: يا أبا بكر فيقوم شخص بمثابة أبي بكر رضي الله عنه وهكذا.

 

ومن الذين اشتهروا بذلك، إبن دانيال الموصلي: شمس الدين محمد بن دانيال بن يوسف الخزاعي المولود سنة 646هـ والمتوفى سنة 711هـ، ثم المصري والذي عاش على أنقاض العدوان الهولاكي التتري، وفي حياته الإنتقالية إلى مصر احترف الطب وامتهن الكحالة. وكانت له مواقف وأشعار وحكايات وقصص ماجنة، وحياته مملوءة بهذا. ثم ترقت به الحال إلى (خيال الظل) وقد ألف كتابه (طيف الخيال) (1) .

وأمام هذه البدوات، فقد قابله الفقهاء بالمنع والتحريم كما رأيت نقلا عن (خيال الظال) ، وما يأتي عن النووي، وابن حجر الهيثمي.

هذا ما أمكن الوقف عليه عن (تاريخ التمثيل وأصل حدوثه) .

 

وأما بشكله التنظيمي المعاصر، وتطوره الراهن فإن

--------------------------------------------

(1) - أنظر خيال الظل وتمثيليات ابن دانيال ص 80- 104.
তার (গ্রন্থের) ২৫৮-২৫৯ পৃষ্ঠায় জনৈক উপদেশদাতা (وعاظ)-এর এক দীর্ঘ কাহিনী উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি একটি উঁচু ঢিবির ওপর দাঁড়িয়ে বলতেন: "হে আবু বকর, দাঁড়াও", তখন জনৈক ব্যক্তি আবু বকর (রা.)-এর ভূমিকায় দাঁড়িয়ে যেতেন এবং এভাবেই চলতে থাকত।

 

আর যারা এ বিষয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবন দানিয়াল আল-মাওসিলি: শামসউদ্দীন মুহাম্মদ বিন দানিয়াল বিন ইউসুফ আল-খুজাই। তিনি ৬৪৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তিনি মিসরীয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাতারদের হালাকু খানের আগ্রাসনের ধ্বংসাবশেষের ওপর জীবন অতিবাহিত করেন। মিসরে হিজরত পরবর্তী জীবনে তিনি চিকিৎসাবিদ্যা ও চক্ষু চিকিৎসার পেশা গ্রহণ করেন। তাঁর বেশ কিছু অবস্থান, কবিতা, উপাখ্যান ও কৌতুকপূর্ণ গল্প ছিল এবং তাঁর জীবন এসবে পরিপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে তাঁর এ অবস্থা 'ছায়া নাটকের' (খায়াল উজ-জিল) দিকে ধাবিত হয় এবং তিনি তাঁর গ্রন্থ তাইফুল খায়াল (১) রচনা করেন।

এই সব নব উদ্ভাবিত বিষয়ের (بدوات) বিপরীতে ফকিহগণ (فقهاء) একে নিষেধ ও হারাম (تحريم) ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে এর মোকাবেলা করেছেন, যেমনটি আপনি খায়াল উজ-জিল থেকে উদ্ধৃতিতে দেখেছেন এবং যা ইমাম নববী ও ইবনে হাজার আল-হাইতামি থেকে সামনে আসবে।

'অভিনয়ের ইতিহাস এবং এর উৎপত্তির মূল' সম্পর্কে এ পর্যন্তই অবগত হওয়া সম্ভব হয়েছে।

 

আর এর সমকালীন সাংগঠনিক রূপ এবং বর্তমান বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে...

--------------------------------------------

(১) - দেখুন: খায়াল উজ-জিল ওয়া তামসিলিয়াত ইবন দানিয়াল, পৃষ্ঠা ৮০-১০৪।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৩)
هذه النواة نمت بحكم اتصال المشارق بالمغارب، وكان أول حدوثه في ديار الإسلام - بوصفه الحاضر- على يد نصراني هو: مارون النقاش اللبناني، إذ عمل أول تمثيلية عام 1840م أي قبل 150 عاماً، كما في (تاريخ الأدب) ص/427- للزيات، ثم في بلاد الشام، فمصر، على يد أحد الممثلين الدماشقة المتوفي 1320هـ، وهو:

أبو خليل القباني: أحمد بن محمد آغا آقيق.

قال الزركلي في (الأعلام 1 /235) في ترجمته له:

(من أوائل منشئي المسرح التمثيلي العربي في الشام ومصر … أنشأ مسرحاً للتمثيل بدمشق عرض فيه بضع روايات غنائية من وضعه وتلحينه، وأنكر عليه بعض الشيوخ إتيانه بهذه البدعة، فشكوه إلى حكومة الأستانة، ومنع من الاستمرار، فاحترف التجارة بما يسمى (مال القبان) وعرف بالقباني.

وولي دمشق أحد رجال الإصلاح المشهورين من الترك (مدحت باشا) ، فدعاه إليه، وأذن له بالعودة إلى ماكان قد بدأ به. وأقصى مدحت عن دمشق، فرحل أبو خليل إلى مصر سنة 1884م، ومعه (جوقه) من الممثلين والمنشدين، فبدأ بتمثيل (أنبس الجليس) ، وعلت
এই বীজটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পারস্পরিক সংযোগের ফলে বিকশিত হয়েছে। ইসলামি ভূখণ্ডে—এর বর্তমান রূপরেখায়—এর প্রথম উন্মেষ ঘটেছিল একজন খ্রিস্টান ব্যক্তির হাত ধরে, যিনি হলেন লেবানিজ মারুন আল-নাককাশ। তিনি ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ আজ থেকে ১৫০ বছর পূর্বে প্রথম নাটিকা মঞ্চস্থ করেন, যেমনটি আল-যাইয়াত রচিত 'তারিখুল আদাব' গ্রন্থের ৪২৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। এরপর সিরিয়া ও মিশরে দামেস্কের জনৈক অভিনেতার মাধ্যমে এটি বিস্তার লাভ করে, যিনি ১৩২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হলেন:

আবু খলিল আল-কাব্বানি: আহমদ বিন মুহাম্মদ আগা আকিক।

আল-যিরিকলি তাঁর 'আল-আ'লাম' (১/২৩৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন:

(তিনি সিরিয়া ও মিশরে আরবি মঞ্চ নাটকের আদি নির্মাতাদের একজন … তিনি দামেস্কে অভিনয়ের জন্য একটি নাট্যমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি স্বরচিত ও সুরারোপিত বেশ কিছু গীতি-আখ্যান প্রদর্শন করেন। তবে কিছু আলেম তাঁর এই নতুন উদ্ভাবন (بدعة)-কে প্রত্যাখ্যান করেন এবং আস্তানা (ইস্তাম্বুল) সরকারের নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ফলে তাঁকে এই কাজ চালিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়। এরপর তিনি 'মালুল কাব্বান' (তুলাদণ্ডের ব্যবসা) নামক পেশায় আত্মনিয়োগ করেন এবং 'কাব্বানি' নামে পরিচিতি লাভ করেন।

পরবর্তীতে তুরস্কের জনৈক বিখ্যাত সংস্কারক মিদহাত পাশা দামেস্কের শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়ে তাঁকে তলব করেন এবং তাঁকে তাঁর সূচিত কাজে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের অনুমতি প্রদান করেন। এরপর মিদহাত পাশাকে দামেস্ক থেকে অপসারিত করা হলে আবু খলিল ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে একদল অভিনেতা ও গায়কের সমন্বয়ে গঠিত তাঁর নাট্যদলসহ মিশরে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি 'আম্বাস আল-জালিস' নাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৪)
شهرته، وكثر الآخذون عنه، واقتبس من الأدب الغربي قصصاً عن كورونيه الفرنسي وغيره. وسافر إلى العاصمة العثمانية (الأستانة) وأمريكا، ولقي نجاحاً ثم عاد إلى دمشق..) انتهى.

 

وأما حدوثه في (العادات) فهو في بلاد الكفر من أوروبا، وأمريكا، وغيرهما لأغراض متعددة وتحت ألقاب متنوعة، وهذا ما يأتيك خبره في المبحث بعده وهو (المبحث الرابع) .

 

‌‌المبحث الرابع: أنواع التمثيل

 

تبين من المبحث قبله أن التمثيل في أصل حدوثه ديني لدى وثنية اليونان، ولدى النصارى، واعتيادي كما في فرنسا وأوربا وأمريكا وغيرها، ويمكن تصنيف نوعيه إلى ما يلي:

الأول: التمثيل الديني: وهو قسمان:

أالتراجيديا، أو (المأساة) وهما للمحزن منها.

ب التياترو، وأصل معناه: النظر بإعجاب.

 

الثاني: في محيط العادات واللعب، وهما قسمان:

أالكوميديا، أو (الملهاة) للمضحك منها.
তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান আহরণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিনি ফরাসি সাহিত্যিক করোনি এবং অন্যান্যদের থেকে পশ্চিমা সাহিত্যের গল্পগুলো গ্রহণ করেন। তিনি উসমানীয় রাজধানী (আস্তানা) ও আমেরিকায় ভ্রমণ করেন এবং সেখানে সাফল্য লাভ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে প্রত্যাবর্তন করেন...) সমাপ্ত।

 

আর (প্রথা-আচরণের) ক্ষেত্রে এর উদ্ভব হয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা এবং অন্যান্য কুফরি দেশগুলোতে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এবং বৈচিত্র্যময় শিরোনামের অধীনে, যার সংবাদ আপনি পরবর্তী অনুচ্ছেদে অর্থাৎ (চতুর্থ অনুচ্ছেদ)-এ জানতে পারবেন।

 

‌‌চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অভিনয়ের (التمثيل) প্রকারভেদ

 

পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, অভিনয় (التمثيل) এর আদি উৎপত্তি মূলত গ্রিক মূর্তিপূজারী ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় ঐতিহ্যে এবং ফ্রান্স, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো দেশগুলোর প্রথাগত অভ্যাসে নিহিত। একে নিম্নোক্ত দুই প্রকারে বিন্যস্ত করা যেতে পারে:

প্রথম: ধর্মীয় অভিনয় (التمثيل): এটি দুই প্রকার:

ক. ট্র্যাজেডি বা বিয়োগান্তক (المأساة), যা দুঃখজনক বিষয়ের জন্য নির্ধারিত।

খ. থিয়েটার, যার মূল অর্থ হলো: বিস্ময়ের সাথে অবলোকন করা।

 

দ্বিতীয়: প্রথা ও ক্রীড়া-কৌতুকের পরিমণ্ডলে, এটি দুই প্রকার:

ক. কমেডি বা মিলনান্তক (الملهاة), যা হাস্যরসাত্মক বিষয়ের জন্য নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৫)
ب الميلودراما، و (دراما) للمزعج منها.

 

وأنواعه بحسب الواقع من عدمه:

1- طبعية: أي واقعية تحكي واقعاً فعلياً.

2- متخيلة: أي من نسج الخيال.

3- رمزية: تعتمد التعبير المثير.

 

ثم أنواعه بحكم أدائه بالوسائل الحديثة هي:

إذاعية، تلفزة، سينما، مسرحية.

ثم هي: نثرية، أو شعرية، أو مرتجلة، أو معدة.

 

المبحث الخامس: الغاية من التمثيل

 

هي باختصار يجمعها (قصد التأثير بإصلاح أو إفساد)

وينبغي التنبيه إلى أن (الفاسد منها) يظهر بقصد:

شغل الفراغ.

الترفيه.

وتصاغ له الأساليب:

ترفيه هادف.

ترفيه برئ، وهكذا.
মেলোড্রামা এবং বিরক্তিকর বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে (ড্রামা)।

 

বাস্তবতা ও অবাস্তবতার নিরিখে এর প্রকারভেদ:

১- স্বাভাবিক: অর্থাৎ বাস্তবধর্মী যা প্রকৃত বাস্তবতাকে চিত্রায়িত করে।

২- কাল্পনিক: অর্থাৎ যা কল্পনার বুননে তৈরি।

৩- রূপক: যা সংবেদনশীল অভিব্যক্তির ওপর নির্ভর করে।

 

আধুনিক মাধ্যমসমূহে প্রদর্শনের ভিত্তিতে এর প্রকারগুলো হলো:

বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, নাটিকা।

অতঃপর এগুলো হতে পারে: গদ্যনির্ভর, কাব্যনির্ভর, তাৎক্ষণিক বা পূর্বপ্রস্তুতিমূলক।

 

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অভিনয়ের উদ্দেশ্য

 

সংক্ষেপে এর মূল উদ্দেশ্য হলো (সংশোধন বা কলুষতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা)।

সতর্ক করা প্রয়োজন যে, (এর মন্দ দিকগুলো) মূলত যে উদ্দেশ্যে প্রকাশ পায়:

অবসর সময় কাটানো।

বিনোদন।

এবং এর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়:

উদ্দেশ্যমূলক বিনোদন।

নির্মল বিনোদন, ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث السادس: المدرك الفقهي لبيان حكم نازلة التمثيل

لما لم نر فيها كلاماً لمتقدمي العلماء، نظراً لأنها لم تدخل محيط العبادات، ولم تنتشر في العادات، صار تقليب النظر في تنزيلها على أي من أحكام التكليف على النحو الآتي:

 

1- هل التمثيل: محرم لذاته تحريم غاية فيشمل جميع أقسامه وأنواعه سواء في العبادات أو العادات؟

2- أم أن أصله الإباحة، والحكم عليه بحسب موضوعه، فيتنزل الحكم التكليفي عليه بحسب موضوعه؟

3- أم الإباحة لأصله وموضوعه، والنهي لما يحف به من بعض المحرمات، فيكون من باب تحريم الوسائل؟

هذه هي القسمة التي يمكن تصورها للمدرك الفقهي، حتى يتسنى بيان موجبات الحكم الشرعي في (التمثيل) .

 

واعلم أن القسم الثالث لا أعلم به قائلاً ولا أحسب له قائلاً من علماء الملة، بل إن موجبات التحريم العارضة فيه هي زيادة لحكم الحضر، سواء قيل لذاته أو
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অভিনয়ের নবদ্ভূত সমস্যার (نازلة) বিধান বর্ণনার ফিকহি ভিত্তি

যেহেতু আমরা এ বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমদের কোনো বক্তব্য দেখতে পাই না—কারণ এটি ইবাদতের পরিমণ্ডলে প্রবেশ করেনি এবং প্রচলিত অভ্যাসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েনি—তাই এর ওপর শরয়ি বিধান (أحكام التكليف) প্রয়োগের বিষয়টি নিম্নরূপ পর্যালোচনার দাবি রাখে:

 

১- অভিনয় কি তার সত্তাগত কারণেই নিষিদ্ধ (محرم لذاته), যা চূড়ান্ত পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা? ফলে তা কি ইবাদত বা অভ্যাস—সবক্ষেত্রেই এর সকল প্রকার ও শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করবে?

২- নাকি এর মূল বিধান হলো বৈধতা (إباحة), এবং এর হুকুম নির্ধারিত হবে এর বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে? ফলে এর বিষয়বস্তু অনুযায়ী এর ওপর শরয়ি বিধান (الحكم التكليفي) আরোপিত হবে?

৩- নাকি এর মূল এবং বিষয়বস্তু উভয়ই বৈধ (إباحة), আর একে নিষেধ করা হয়েছে এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু হারামের কারণে? সেক্ষেত্রে এটি হবে উপায়ের নিষেধাজ্ঞা (تحريم الوسائل) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত?

ফিকহি ভিত্তির ক্ষেত্রে এই হলো সম্ভাব্য বিন্যাস, যাতে অভিনয় (التمثيل) সংক্রান্ত শরয়ি বিধানের কারণসমূহ স্পষ্ট করা সম্ভব হয়।

 

জেনে রাখা প্রয়োজন যে, তৃতীয় প্রকারের পক্ষে কোনো প্রবক্তার কথা আমার জানা নেই এবং মিল্লাতের আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন বলেও আমি মনে করি না। বরং এতে বিদ্যমান প্রাসঙ্গিক হারামের কারণগুলো নিষেধাজ্ঞার বিধানকে আরও জোরালো করে, চাই একে সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ (لذاته) বলা হোক অথবা...
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৭)
لموضوعه. إلا أن القسم الثاني ينتظم الأقسام الثلاثة على التفصيل الآتي:

فيكون التمثيل في موضوع محرماً لذات الموضوع.

ويكون التمثيل في موضوع جائزاً، ويحرم بحكم ما يحف به من أمور أخرى.

ويكون التمثيل في موضوع جائزاً، ولا يحف به ما يرقيه إلى رتبه النهي.

 

وإذا كان الأمر كذلك، فإلى سياق الأدلة الحكمية في قوالب ثلاثة:

 

الأول: أدلة تحريم التمثيل لذاته.

الثاني: أدلة تحريم التمثيل لموضوعه.

الثالث: أدلة تحريم التمثيل لما يفضي إليه.

 

توجيه تحريم التمثيل لذاته:

 

إذا علمت أن التمثيل منقطع الصلة بتاريخ المسلمين في خير القرون، وأن وفادته إليهم كانت طارئة في فترات، وأنه في القرن الرابع عشر الهجري استقبلته دور اللهو، وردهات المسارح، ثم تسلل من معابد النصارى، إلى فريق (التمثيل الديني) في المدارس، وبعض الجماعات
এর বিষয়বস্তুর জন্য। তবে দ্বিতীয় বিভাগটি নিম্নে বর্ণিত বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী তিনটি উপবিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করে:

সে অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিনয় (التمثيل) করা খোদ বিষয়বস্তুর কারণেই নিষিদ্ধ (محرم) হতে পারে।

আবার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিনয় (التمثيل) করা বৈধ (جائز) হতে পারে, এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের কারণে তা নিষিদ্ধ (يحرم) হতে পারে।

আবার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিনয় (التمثيل) করা বৈধ (جائز) হতে পারে, যেখানে এমন কিছু সংশ্লিষ্ট নেই যা একে নিষেধাজ্ঞার (النهي) পর্যায়ে নিয়ে যায়।

 

বিষয়টি যখন এমনই, তখন বিধান সংক্রান্ত দলিলসমূহকে তিনটি কাঠামোতে বিন্যস্ত করা হলো:

 

প্রথমত: অভিনয়ের (التمثيل) সত্তাগত কারণে নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার দলিলসমূহ।

দ্বিতীয়ত: বিষয়বস্তুর কারণে অভিনয় (التمثيل) নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার দলিলসমূহ।

তৃতীয়ত: পরিণতির কারণে অভিনয় (التمثيل) নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার দলিলসমূহ।

 

সত্তাগত কারণে অভিনয় (التمثيل) নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার ব্যাখ্যা:

 

আপনি যখন জানলেন যে, উত্তম যুগসমূহের (খাইরুল কুরুন) মুসলমানদের ইতিহাসের সাথে অভিনয়ের (التمثيل) কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং বিভিন্ন সময়ে মুসলিম সমাজে এর আগমন ছিল আকস্মিক; আর চৌদ্দশ হিজরি শতাব্দীতে আমোদ-প্রমোদের কেন্দ্র ও নাট্যশালাগুলো একে গ্রহণ করে নেয়, অতঃপর এটি খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় থেকে মাদরাসা ও কিছু সংগঠনের ‘ধর্মীয় অভিনয়’ (التمثيل الديني) হিসেবে অনুপ্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإسلامية. إذا علمت ذلك فاعلم أن قواعد الشريعة وأصولها، وترقيها بأهلها إلى مدارج الشرف والكمال تقضي برفضه، ورده من حيث أتى، وهذا بيانها:

أولا ً: معلوم أن الأعمال، إما عبادات أو عادات.

فالأصل في العبادات لا يشرع منها إلا ما شرعه الله، والأصل في العادات لا يحظر منها إلا حظره الله (1) .

 

وعليه: فلا يخلو التمثيل، أن يكون على سبيل التعبد (التمثيل الديني) ، أو من باب الاعتياد، على سبيل (اللهو والترفيه) .

فإن كان على سبيل التبعد، فإن العبادات موقوفة على النص ومورده، و (التمثيل الديني) لاعهد للشريعة به، فهو سبيل محدث، ومن مجامع ملة الإسلام قول النبي صلى الله عليه وسلم: (من أحدث في أمرنا هذا ماليس منه فهو رد) .

 

ولهذا فما تراه في بعض المدارس والجامعات من فرق ٍ للتمثيل الديني، فإن في حقيقته (التمثيل البدعي) لما علمت من أصله، وحدوثه لدى المسلمين خارجاً عن دائرة المنصوص عليه بدليل شرعي، وأنه من سبيل التعبد لدى أهل الأوثان من اليونان، ومبتدعة النصارى، فلا أصل

--------------------------------------------

(1) - الفتاوي 4/ 196.
ইসলামী। যদি আপনি এটি জেনে থাকেন, তবে জেনে রাখুন যে, শরীয়তের নীতিমালা ও এর মূলনীতিসমূহ এবং যা এর অনুসারীদের সম্মান ও পূর্ণতার উচ্চ শিখরে উন্নীত করে, তা একে প্রত্যাখ্যান করা এবং যেখান থেকে এটি এসেছে সেখানে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি রাখে। এর বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেয়া হলো:

প্রথমত: এটা সর্বজনবিদিত যে, মানুষের কর্মকাণ্ড হয় ইবাদত (عبادات) অথবা সাধারণ অভ্যাস বা রীতি (عادات)।

ইবাদতের (عبادات) ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, আল্লাহ যা বিধান হিসেবে দিয়েছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু প্রবর্তন করা যাবে না; আর অভ্যাসের (عادات) ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু নিষিদ্ধ নয় (১)।

 

সেই অনুযায়ী: অভিনয় (التمثيل) হয় ইবাদতের (التعبد) উদ্দেশ্যে (ধর্মীয় অভিনয় - التمثيل الديني), অথবা অভ্যাসের জায়গা থেকে (বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে - اللهو والترفيه), এর বাইরে নয়।

যদি তা ইবাদতের (التعبد) উদ্দেশ্যে হয়, তবে জেনে রাখা উচিত যে ইবাদতসমূহ (عبادات) দলিল বা টেক্সটের (النص) ওপর নির্ভরশীল; অথচ 'ধর্মীয় অভিনয়ের' (التمثيل الديني) কোনো ভিত্তি শরীয়তে নেই। সুতরাং এটি একটি নব উদ্ভাবিত (محدث) পথ। আর ইসলামি মিল্লাতের একটি সারকথা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মাঝে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।"

 

এই কারণে, কিছু স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি ধর্মীয় অভিনয়ের যেসব দল দেখতে পান, তার হাকিকত বা প্রকৃত রূপ হলো 'বিদআতি অভিনয়' (التمثيل البدعي); কারণ আপনি এর উৎস সম্পর্কে জেনেছেন এবং মুসলিমদের মাঝে এর প্রচলন শরয়ী দলিলের (بدليل شرعي) মাধ্যমে নির্দেশিত গণ্ডির বাইরে থেকে ঘটেছে। এছাড়া এটি গ্রিসের মূর্তিপূজারী এবং খ্রিস্টানদের মাঝে যারা বিদআতি তাদের উপাসনার একটি পন্থা ছিল, তাই এর কোনো ভিত্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) - আল-ফাতাওয়া ৪/ ১৯৬।
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ২৯)
له في الإسلام بإطلاق، فهو إذا ً محدث، وكل أمر محدث في الدين فهو بدعة، تضاهي الشريعة، فصدق عليه حسب أصول الشرع المطهر: إسم (التمثيل البدعي) .

وأسوق إليك هنا أمرين مهمين:

 

أحدهما: هذا النوع من التمثيل (التمثيل الديني) إنما وجد في أمم الكفر، لأنهم خواء ليس لهم شرع قائم يرجعون إليه، أما أهل الإسلام فلديهم الشرع المعصوم من التبديل (الكتاب، والسنة) فهم في غناء عن هذه الواردات، قال الله تعالى:} وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً {الفرقان / 33

 

ثانيهما: إنما يحصل العدول عن هدي الكتاب والسنة إلى أمثال هذه الوفادات، إذا ضعف أهل الإسلام عن تحمل العلم الشرعي، وأعياهم تحمله، والفقه فيه، فيذهب بهم العجز والخواء كل مذهب، وحينئذ تصادف هذه الواردات قلباً خالياً من نور العلم الشرعي الموروث عن النبي صلى الله عليه وسلم فيتشرب هذه المحدثات.

وقد بلغ الحال بالمسلمين من التمثيل لعظماء الإسلام على خشبات المسارح، من رجال القرون المتأخرة إلى
ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই, তাই এটি একটি নবউদ্ভাবিত (محدث) বিষয়। আর দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি নবউদ্ভাবিত (محدث) বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), যা শরীয়তের সদৃশ হতে চায়। ফলে পবিত্র শরীয়তের উসুল অনুযায়ী এর ওপর 'বিদআতি অভিনয়' (التمثيل البدعي) নামটিই সঠিকভাবে প্রযোজ্য হয়।

আমি এখানে আপনার নিকট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছি:

 

প্রথমত: এই ধরনের অভিনয় (ধর্মীয় অভিনয়) কেবল কুফরি জাতিগুলোর মধ্যেই পাওয়া গেছে, কারণ তারা আদর্শিকভাবে রিক্ত এবং তাদের কাছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত শরীয়ত নেই যার দিকে তারা ফিরে যেতে পারে। পক্ষান্তরে আহলুল ইসলামের কাছে রয়েছে পরিবর্তন-পরিবর্ধন থেকে সুরক্ষিত শরীয়ত (কুরআন ও সুন্নাহ)। তাই তারা এই জাতীয় আমদানিকৃত বিষয়ের মুখাপেক্ষী নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা আপনার কাছে কোনো উপমা নিয়ে আসে না, যার সঠিক উত্তর ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি আপনাকে দান করি না।" (সুরা আল-ফুরকান: ৩৩)

 

দ্বিতীয়ত: কুরআন ও সুন্নাহর হেদায়েত ত্যাগ করে এই ধরণের বিজাতীয় আমদানিকৃত বিষয়ের দিকে ধাবিত হওয়া তখনই ঘটে, যখন মুসলমানরা শরয়ী ইলম বহন করতে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এর সঠিক অনুধাবন ও ফিকহ অর্জনে অক্ষম হয়ে যায়। তখন এই অক্ষমতা ও রিক্ততা তাদের বিভিন্ন ভ্রান্ত পথের দিকে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় এই আমদানিকৃত বিষয়গুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শরয়ী ইলমের নূর থেকে শূন্য হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, ফলে হৃদয় এই নবউদ্ভাবিত (محدثات) বিষয়গুলোকে গ্রহণ করে নেয়।

বর্তমানে মুসলমানদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পরবর্তী শতাব্দীগুলোর ব্যক্তিদের থেকে শুরু করে ইসলামের মহান ব্যক্তিত্বদের নিয়েও থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় করা হচ্ছে...
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৩০)
القرون المفضلة، إلى أنبياء الله ورسله، إلى عوالم الغيب.

وقد ثبت بالمشاهدة في معقل من معاقل العلم الشرعي، قيام تمثيلية دينية - زعموا - يمثل فيها مسلم دور مشرك بالله، فيسجد لشجرة من دون الله … لبيان فضل التوحيد … وهكذا كما هو معلوم ومشاهد.

فنعوذ بالله من الحور بعد الكور، ومن العماية بعد الهداية، ومن الضلالة بعد الرشد.

وإن نشر الفضائل، وإظهار عظمة الإسلام، تلتقي فيها الوسائل مع الغايات، بوقفها على منهاج النبوة، وهذا منابذ لها، أجنبي عنها.

وأما إن كان التمثيل في (العادات) ، فهذا تشبه بأعداء الله الكافرين، وقد نهينا عن التشبه بهم. إذ لم يعرف إلا عن طريقهم، والنهي عن التشبه بهم (أمر بمخالفتهم) ، وقد نهى الله سبحانه عن الخوض فيما يخوضون فيه، فقال تعالى:} كَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ كَانُواْ أَشَدَّ مِنكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالاً وَأَوْلَاداً فَاسْتَمْتَعُواْ بِخَلاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُم بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ بِخَلَاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُواْ أُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ
শ্রেষ্ঠ যুগসমূহ (القرون المفضلة), আল্লাহর নবী ও রাসুলগণের প্রতি, এবং অদৃশ্যের জগতসমূহের প্রতি।

শরয়ি ইলমের একটি দুর্গে প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, সেখানে একটি ধর্মীয় নাটক—তাদের দাবি অনুযায়ী—অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে একজন মুসলিম আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্তকারী (مشرك) ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করে এবং সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য একটি গাছের সামনে সিজদাবনত হয় … তাওহিদের (التوحيد) শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার উদ্দেশ্যে … এভাবেই যেমনটি সুপরিচিত ও প্রত্যক্ষকৃত।

সুতরাং আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি উন্নতির পর অবনতি থেকে, হেদায়েতের (الهداية) পর অন্ধত্ব থেকে এবং সঠিক পথ প্রাপ্তির পর পথভ্রষ্টতা (الضلالة) থেকে।

নিশ্চয়ই সদ্গুণাবলীর প্রচার এবং ইসলামের মহিমা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মাধ্যমসমূহ উদ্দেশ্যের সাথে তখনই মিলিত হয়, যখন তা নবুওয়তের পদ্ধতির (منهاج النبوة) ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। আর এটি (নাটক) তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং তা থেকে বিজাতীয় বিষয়।

আর যদি অভিনয় লোকাচারের (العادات) ক্ষেত্রে হয়, তবে তা আল্লাহর শত্রু কাফিরদের (الكافرين) সাদৃশ্য গ্রহণ (تشبه), অথচ আমাদের তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যেহেতু এটি তাদের পথ ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে পরিচিতি পায়নি। আর তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণে নিষেধ করা মূলত (তাদের বিরোধিতা করার আদেশ)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তারা যে অনর্থক বিষয়ে লিপ্ত থাকে তাতে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায়; তারা তোমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ছিল এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও ছিল অধিক। অতঃপর তারা তাদের নির্ধারিত অংশ ভোগ করে নিয়েছে, আর তোমরাও তোমাদের অংশ ভোগ করলে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অংশ ভোগ করেছিল। এবং তোমরাও তাদের মতো অনর্থক আলোচনায় মগ্ন হয়েছ যেমন তারা মগ্ন হয়েছিল। এরাই তারা যাদের আমলসমূহ নিস্ফল হয়ে গেছে...}
(খণ্ড: ১) হুকমুত তামছীল (পৃষ্ঠা: ৩১)
فِي الُّدنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ {التوبة / 69.

والله تعالى قال لنبيه صلى الله عليه وسلم} إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمْ وَكَانُواْ شِيَعاً لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ {الأنعام / 59 فقوله سبحانه} لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ {يقتضي البرآءة منهم في جميع الأشياء. والمتابعة في بعض الأشياء يكون التابع له من المتبوع في ذلك الشيئ.

وإذا كان الله قد برأ نبيه صلى الله عليه وسلم من جميع أمورهم، فمن كان متبعاً لنبيه صلى الله عليه وسلم حقيقة كان متبرئاُ منهم كتبرؤه صلى الله عليه وسلم منهم، ومن كان موافقاً لهم كان مخالفاً لرسول الله صلى الله عليه وسلم بقدر موافقته لهم (1) .

قال ابن حجر الهيثمي م. سنة 974هـ - رحمه الله تعالى - في رسالته: (الإعلام بقواطع الإسلام) ص / 362 المطبوعة في آخر (الزواجر) :

(ومنها - أي من المكفرات - لو حضر جماعة، وجلس أحدهم على مكان رفيع تشبيهاً بالمذكرين، فسألوا المسائل وهم يضحكون، ثم يضربونه بالمجراف.

--------------------------------------------

(1) اقتضاء الصراط المستقيم ص/ 46.
দুনিয়া ও আখেরাতে এবং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। {আত-তাওবা / ৬৯।

আর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো কাজের দায়িত্ব আপনার ওপর নেই। তাদের বিষয় তো আল্লাহর হাতে। অতঃপর তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সংবাদ দেবেন} (আল-আনআম / ৫৯)। অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের কোনো কাজের দায়িত্ব আপনার ওপর নেই} তাদের সকল বিষয় হতে সম্পর্কচ্ছেদের দাবি রাখে। আর কোনো বিষয়ে অনুসরণ করার অর্থ হলো সেই বিষয়ে অনুসারী ব্যক্তি অনুসরণকৃত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া।

আর আল্লাহ যখন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের সকল বিষয় থেকে দায়মুক্ত করেছেন, তখন যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুসারী হবে, সে তাদের থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতোই সম্পর্কচ্ছেদকারী হবে। আর যে তাদের সাথে একমত হবে, সে তাদের সাথে যতটা একমত হবে, ঠিক ততটাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণকারী হবে (১)।

ইবনে হাজার আল-হাইতামি (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি) - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন - তাঁর রিসালা 'আল-ইলাম বি কাওয়াতি আল-ইসলাম'-এর ৩৬২ পৃষ্ঠায়, যা 'আজ-জাওয়াযির'-এর শেষে মুদ্রিত হয়েছে, বলেন:

(এবং কুফুরি সাব্যস্তকারী বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—যদি একদল লোক সমবেত হয় এবং তাদের কেউ একজন নসীহতকারীদের অনুকরণে কোনো উঁচু স্থানে বসে, অতঃপর তারা হাসাহাসি করে তাকে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করে এবং পরবর্তীতে তাকে বেলচা দিয়ে আঘাত করে।

--------------------------------------------

(১) ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, পৃষ্ঠা: ৪৬।