(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: -)
روايات ونسخ الجامع الصحيح القسم: علوم الحديث
الكتاب: روايات ونسخ الجامع الصحيح للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري «دراسة وتحليل»
المؤلف: د محمد بن عبد الكريم بن عبيد
الناشر: دار إمام الدعوة للنشر والتوزيع، الرياض
الطبعة: الأولى، 1426 هـ
عدد الصفحات: 106
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-জামি আল-সহিহ-এর বর্ণনা (روايات) ও সংস্করণসমূহ (نسخ) বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর আল-জামি আল-সহিহ-এর বর্ণনা (روايات) ও সংস্করণসমূহ (نسخ) «গবেষণা ও বিশ্লেষণ»
লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন উবাইদ
প্রকাশক: দার ইমাম আদ-দাওয়াহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৬
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: -)
روايات ونسخ الجامع الصحيح
للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري
194-256هـ
دراسة وتحليل
د. محمد بن عبد الكريم بن عبيد
أستاذ السنة النبوية وعلومها المشارك بجامعة أم القرى بمكة المكرمة
আল-জামি আল-সহিহ-এর বর্ণনাসমূহ (روايات) ও পাণ্ডুলিপিসমূহ (نسخ)
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি-এর
১৯৪-২৫৬ হিজরি
একটি পর্যালোচনামূলক ও বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন
ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম বিন উবাইদ
সহযোগী অধ্যাপক, সুন্নাহ ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, পবিত্র মক্কা
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
يُعد اختلاف روايات كتاب ((الجامع الصحيح)) للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (ت256هـ) أحد المسائل العلمية التي شغلت بال المحدثين منذ وقت مبكر، وقد أشار إلى هذا الأمر الإمام الحافظ أبو سليمان حمد بن محمد بن إبراهيم الخطابي البُستي، المتوفى سنة (388هـ) في كتابه ((أعلام الحديث)) الذي يعد أول شرح للجامع الصحيح، إلى اختلاف الروايات، فقال: وقد سمعنا معظم هذا الكتاب من رواية إبراهيم بن مَعْقِل النَّسَفِيِّ، حدثناه خلف بن محمد الخيَّام، قال: حدثنا إبراهيم بن مَعْقِلٍ، عنه.
سمعنا سائر الكتاب إلا أحاديث من آخره من طريق: محمد بن يوسف الفَرَبْريِّ، حدَّثنيه محمد بن خالد بن الحسن، قال: حدَّثنا الفَرَبْريِّ، عنه.
ونحن نبين مواضع اختلاف الرواية في تلك الأحاديث إذا انتهينا إليها إن شاء الله (1) .
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হি.) রচিত ‘আল-জামি আল-সহিহ’ গ্রন্থের বর্ণনাগুলোর (روايات) ভিন্নতা এমন একটি ইলমি বিষয় যা প্রাচীনকাল থেকেই মুহাদ্দিসদের (محدثين) চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে। ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু সুলাইমান হামদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-খাত্তাবি আল-বুস্তি (মৃত্যু ৩৮৮ হি.) তাঁর ‘আ’লাম আল-হাদিস’ গ্রন্থে—যা আল-জামি আল-সহিহ-এর প্রথম ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) হিসেবে গণ্য—বর্ণনার (روايات) এই ভিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: “আমরা এই কিতাবের অধিকাংশ অংশ ইব্রাহিম বিন মাকিল আল-নাসাফি-এর বর্ণনা (رواية) থেকে শ্রবণ করেছি। আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন মুহাম্মদ আল-খাইয়াম; তিনি বলেন: আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মাকিল, ইমাম বুখারি থেকে।”
“আমরা কিতাবের বাকি অংশ শ্রবণ করেছি—শেষের দিকের কিছু হাদিস ব্যতীত—মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরির সূত্র (طريق) ধরে। আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন আল-হাসান; তিনি বলেন: আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আল-ফিরাবরি, ইমাম বুখারি থেকে।”
“ইনশাআল্লাহ, যখন আমরা সেই হাদিসগুলোতে পৌঁছাব, তখন আমরা সেসব বর্ণনার (رواية) ভিন্নতার স্থানগুলো স্পষ্ট করে দেব।” (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد صنف الإمام الحافظ الناقد أبو علي الحسين بن محمد الغسانيُّ الجَيَّاني (ت498هـ) ، كتابه الشهير ((تقييد المهمل وتمييز المُشْكل)) ، وجعل الجزء الخامس والسادس منه ((التنبيه على الأوهام الواقعة في الصحيحين من قِبَل الرُّواة)) ((قسم البخاري)) ، ثم اختصره الإمام جمال الدين يوسف بن عبد الهادي (ت909هـ) في كتابه ((الاختلاف بين رواة البخاري عن الفربري، وروايات عن إبراهيم بن مَعْقِلٍ النْسفي)) ، وكذا تطرقت معظم كتب الفهارس، والبرامج، والكثير من معاجم الشيوخ والمشيخات والفهارس إلى روايات البخاري المختلفة، وروت تلك الروايات، وبيّن أصحابها طرقهم إلى تلك الروايات، وتحدثت كتب التراجم وتواريخ الرجال، وكتب الطبقات المختلفة، وكتب الجرح والتعديل عن رواة البخاري، وقدمت لنا معطيات ليست بالقليلة عن أبعاد هذه الروايات ومدى عناية أصحابها بمروياتهم تلك عن الإمام البخاري، وكذا اعتنت كتب التراجم بالتعريف برواة السنن والمسانيد خاصة فقد صنّف الإمام أبو بكر محمد بن عبد الغني البغدادي الحنبلي المعروف بابن نُقْطَةَ (ت629هـ) ، كتابه: ((التقييد لمعرفة رواة السنن والمسانيد)) وألفَ الإمام محب الدين أبو عبد الله محمد بن عمر بن محمد ابن رُشَيد الفهريُّ السبتيُّ الأندلسي (ت726هـ) ، كتاب ((إفادة النصيح في التعريف بسند الجامع الصحيح)) ، وكتب الإمام تقي الدين أبو الطيب محمد ابن أحمد الفاسي المكي (ت832هـ) كتاب ((ذيل التقييد في رواة السنن والمسانيد)) ، وهكذا فإن الحديث عن روايات ورواة ((الجامع الصحيح)) للبخاري، وغيره من المصنفات الحديثية المهمة لن ينقطع ما تعاقب الليل والنهار. . . وهذا يشير إلى أهمية الموضوع وشرفه الكبير.
ইমাম, হাফিজ এবং প্রাজ্ঞ সমালোচক (الناقد) আবু আলি আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-গাসসানি আল-জায়্যানি (মৃত্যু ৪৯৮ হিজরি) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ "তাকয়িদুল মুহমাল ওয়া তাময়িযুল মুশকিল" রচনা করেছেন। তিনি এই গ্রন্থের পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ডকে "আত-তানবিহ আলা আল-আওহাম আল-ওয়াকি'আ ফিল সহিহাইন মিন কিবালি আল-রুওয়াত" (বুখারি অংশ) হিসেবে সাজিয়েছেন। পরবর্তীতে ইমাম জামালুদ্দিন ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি (মৃত্যু ৯০৯ হিজরি) তাঁর "আল-ইখতিলাফ বাইনা রুওয়াতিল বুখারি আনিল ফারাবরি, ওয়া রিওয়ায়াত আন ইবরাহিম বিন মাকিল আল-নাসাফি" নামক গ্রন্থে এটি সংক্ষেপ করেছেন। একইভাবে অধিকাংশ নির্ঘণ্ট, কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের বহু অভিধান, মাশইয়াখাত ও সূচিপত্র বুখারির বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) সম্পর্কে আলোকপাত করেছে; তারা সেই বর্ণনাগুলো (روايات) বর্ণনা করেছে এবং গ্রন্থকারগণ সেই বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের নিজস্ব সূত্রসমূহ (طرق) স্পষ্ট করেছেন। তদুপরি, জীবনী গ্রন্থসমূহ, বর্ণনাকারীদের ইতিহাস, বিভিন্ন স্তর (طبقات) বিষয়ক কিতাব এবং সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ বুখারির বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে আলোচনা করেছে। এই গ্রন্থগুলো আমাদের নিকট এই বর্ণনাসমূহ (روايات) এবং ইমাম বুখারি থেকে প্রাপ্ত তাঁদের সেই বর্ণিত বিষয়গুলোর (مرويات) ব্যাপ্তি এবং সেগুলোর প্রতি সংকলকদের গভীর মনোযোগ সম্পর্কে প্রচুর তথ্য প্রদান করেছে। একইভাবে জীবনী গ্রন্থসমূহ বিশেষভাবে সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের (الرواة) পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে যত্নবান হয়েছে। যেমন ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে নুকতাহ (মৃত্যু ৬২৯ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর গ্রন্থ: "আত-তাকয়িদ লি-মারিফাতি রুওয়াতিল সুনান ওয়াল মাসানিদ" রচনা করেছেন। ইমাম মুহিব্বুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ ইবনে রুশাইদ আল-ফিহরি আস-সাবতি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭২৬ হিজরি) "ইফাদাতুন নাসিহ ফিত-তারিফি বি-সানাদিল জামিইস সহিহ" গ্রন্থটি সংকলন করেছেন। এবং ইমাম তাকিউদ্দিন আবু তাইয়িব মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ফাসি আল-মাক্কি (মৃত্যু ৮৩২ হিজরি) "যাইলুত তাকয়িদ ফি রুওয়াতিল সুনান ওয়াল মাসানিদ" গ্রন্থটি লিখেছেন। এভাবেই বুখারির "জামি সহিহ" এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হাদিস সংকলনের বর্ণনা (روايات) ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে আলোচনা দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় অব্যাহত থাকবে। এটি এই বিষয়ের গুরুত্ব ও সুমহান মর্যাদাকেই নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد أبدى الإمام الحافظ احمد بن عليِّ بن حجر العسقلانيُّ (ت852هـ) ، نشاطاً عظيماً وفهماً ثاقباً دقيقاً في بيان اختلاف روايات البخاري، وبذل مجهوداً صادقاً في هذا الصدد، وأماط اللثام عن معظم المستعصيات التي لم تجد حلاً لدى الكثير من شُراح ((الجامع الصحيح)) ، والتي كان سببها اختلاف الروايات، واستطاع بما وهبهُ الله من علم وذكاء ومهارة فائقتين ثم بوقوفه على كثير من نسخ الصحيح توظيف اختلاف الروايات لصالح ((الجامع الصحيح)) .
وبحثنا هذا حاول تفسير ظاهرة اختلاف الروايات لصحيح البخاري، ودراسة أسبابها، وبيان دواعيها، والوقوف على العوامل المشتركة بينها، وكيفية الاستفادة منها، إضافة إلى التعريف برواة ((الجامع الصحيح)) ، وأشهر نسخه.
ويمكنني أن ألخص أهم عناصر البحث بالنقاط الآتية:
المقدمة: تحدثت فيها عن أهمية الموضوع، ومدى عناية المحدثين، والنقاد به، وأشهر المصنفات التي يمكن الرجوع إليها لمعرفة اختلاف روايات البخاري.
الباب الأول: الإمام البخاري وعنايته بمصنفاته، واشتمل على فصلين:
الفصل الأول: التعريف بالإمام الحافظ أبي عبد الله البخاري وتَحدَّث باقتضاب عن الإمام أبي عبد الله البخاري، وذكر بعض أقوال العلماء فيه، ثم محنته ووفاته، وذلك كمدخل موجز بين يدي البحث.
الفصل الثاني: عناية الإمام البخاري بـ ((الجامع الصحيح)) ومصنفاته الأخرى.
ইমাম আল-হাফিজ (الحافظ) আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হি.) সহিহ বুখারীর বর্ণনাসমূহের (روايات) ভিন্নতা বর্ণনার ক্ষেত্রে মহান তৎপরতা এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। তিনি এই বিষয়ে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং আল-জামি আল-সহিহ-এর বহু ব্যাখ্যাকার যে সকল জটিল বিষয়ের সমাধান খুঁজে পাননি, তিনি সেগুলোর রহস্য উন্মোচন করেছেন; যার মূল কারণ ছিল বর্ণনাসমূহের (روايات) ভিন্নতা। আল্লাহ প্রদত্ত ইলম, মেধা ও অসামান্য দক্ষতার মাধ্যমে এবং সহিহ-এর বহু পাণ্ডুলিপি (نسخ) পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিনি বর্ণনার (روايات) এই ভিন্নতাকে আল-জামি আল-সহিহ-এর অনুকূলে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছেন।
আমাদের এই গবেষণায় সহিহ বুখারীর বর্ণনাসমূহের (روايات) ভিন্নতার স্বরূপ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেইসাথে এর কারণসমূহ ও পটভূমি অধ্যয়ন এবং এদের মধ্যকার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আল-জামি আল-সহিহ-এর বর্ণনাকারী (رواة) এবং এর প্রসিদ্ধ পাণ্ডুলিপিসমূহের (نسخ) পরিচয় প্রদান করা হয়েছে।
আমি গবেষণার প্রধান বিষয়বস্তুসমূহ নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
ভূমিকা: এতে আমি বিষয়ের গুরুত্ব, এই বিষয়ে হাদিস বিশারদ (المحدثين) ও সমালোচকগণের (النقاد) গুরুত্ব প্রদানের মাত্রা এবং বুখারীর বর্ণনাসমূহের (روايات) ভিন্নতা সম্পর্কে জানার জন্য যে সকল প্রসিদ্ধ গ্রন্থের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
প্রথম অধ্যায়: ইমাম বুখারী এবং তাঁর সংকলিত গ্রন্থসমূহের প্রতি তাঁর যত্ন ও সতর্কতা; যা দুইটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-হাফিজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারীর পরিচয়। এখানে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের কিছু উক্তি এবং পরবর্তীতে তাঁর পরীক্ষা (محنة) ও মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা গবেষণার একটি সংক্ষিপ্ত প্রবেশিকা হিসেবে গণ্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-জামি আল-সহিহ এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থাবলির প্রতি ইমাম বুখারীর যত্ন ও সতর্কতা।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الباب الثاني: روايات الجامع الصحيح، ونسخه، واشتمل على فصلين:
الفصل الأول: روايات الجامع الصحيح للإمام البخاري.
الفصل الثاني: أشهر طبعات صحيح البخاري ونسخه المخطوطة.
الباب الثالث: الاختلاف في روايات الجامع الصحيح، وتوجيهات الإمامين أبي عليّ الجياني، وابن حجر رحمهما الله، واشتمل على فصلين:
الفصل الأول: أنواع الاختلاف في روايات الجامع الصحيح.
الفصل الثاني: أهمية توجيهات الإمامين أبي عليّ الجياني وابن حجر رحمهما الله.
وأخيراً نتائج البحث وتوصياته العلمية.
والله الكريم أسال التوفيق والسداد، وأن يمنَّ عليَّ بالعون بمنه وكرمه، وأن يهديني لما اختلف فيه من الحق بإذنه، وأن يكون هذا البحث قد ألقى الضوء على اختلاف روايات ((الجامع الصحيح ونسخه)) ، وأن ينفع بهذه السطور دنيا وآخرة، وأن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، إنه خير مسؤول، وأعظم مأمول، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
দ্বিতীয় অধ্যায়: জামিউস সহীহ-এর বর্ণনাসমূহ (روايات) ও এর পাণ্ডুলিপিসমূহ (نسخ); এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর জামিউস সহীহ-এর বর্ণনাসমূহ (روايات)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহীহ বুখারীর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মুদ্রিত সংস্করণ এবং এর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহ (نسخ مخطوطة)।
তৃতীয় অধ্যায়: জামিউস সহীহ-এর বর্ণনাসমূহের (روايات) মধ্যকার ভিন্নতা (اختلاف) এবং ইমাম আবু আলী আল-জায়ানি ও ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর ব্যাখ্যাসমূহ (توجيهات); এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: জামিউস সহীহ-এর বর্ণনাসমূহের (روايات) মধ্যকার ভিন্নতার (اختلاف) প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আবু আলী আল-জায়ানি ও ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর ব্যাখ্যাসমূহের (توجيهات) গুরুত্ব।
এবং সবশেষে গবেষণার ফলাফল ও এর অ্যাকাডেমিক সুপারিশমালা।
আমি মহানুভব আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি, এবং তিনি যেন তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ও করুণার মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করেন এবং সত্যের বিষয়ে যেখানে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে যেন তিনি আমাকে তাঁর অনুমতিক্রমে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। এই গবেষণাটি যেন জামিউস সহীহ-এর বর্ণনাসমূহ (روايات) ও এর পাণ্ডুলিপিসমূহের (نسخ) ভিন্নতার (اختلاف) ওপর আলোকপাত করতে সক্ষম হয়। এই কথাগুলো যেন দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারে আসে এবং আমাদের আমলসমূহকে যেন তিনি কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আবেদন গ্রহণকারী এবং মহান আশার কেন্দ্রস্থল। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আর আমাদের শেষ নিবেদন হলো: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الأول: الإمام البخاري وعنايته بمصنفاته
الفصل الأول: التعريف بالإمام الحافظ أبي عبد الله البخاريليس الهدف من هذه السطور محاولة صياغة ترجمة موسعه للإمام أبي عبد الله البخاري، فقد صُنفت حول هذا الإمام المصنفات المطولة منذ وقت مبكر، كما كُتب عنه العديد من الرسائل الجامعية، وإنما الغاية من هذه الترجمة إبراز المنزلة المرموقة التي كان يحتلها هذا الإمام بين الأئمة والحفاظ، كي تكون تذكرة للقارئ، ومدخلاً لبحثنا هذا.
اسمه ونسبه:هو إمام المسلمين، وشيخ المحدثين، وأمير المؤمنين في الحديث، أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبة (1) ، وقيل: ابن الأحنف، الجُعْفِيُّ مولاهم، أبو عبد الله ابن أبي الحسن.
وكان جدّه المغيرة مجوسياً، ثم أسلم على يدي اليمان الجعفيّ والي بخارى، فنسب إليه ولاء.
مولده ونشأته:كان والده أبو الحسن إسماعيل بن إبراهيم من العلماء الورعين،
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইমাম বুখারি এবং তাঁর সংকলনসমূহের প্রতি তাঁর যত্ন ও সতর্কতাপ্রথম পরিচ্ছেদ: হাফিজ (الحافظ) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারির পরিচয়এই পংক্তিগুলোর উদ্দেশ্য ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারির কোনো বিস্তারিত জীবনী (ترجمة) রচনার চেষ্টা করা নয়। কারণ এই ইমামকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকাল থেকেই দীর্ঘ গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে এবং তাঁকে নিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাপত্রও লেখা হয়েছে। বরং এই জীবনীর লক্ষ্য হলো ইমাম ও হাফিজদের (الحفاظ) মাঝে এই মহান ইমাম যে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন তা ফুটিয়ে তোলা, যাতে তা পাঠকের জন্য একটি স্মারক এবং আমাদের এই গবেষণার জন্য একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য হয়।
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন মুসলিমদের ইমাম, মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) শাইখ এবং হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুগিরা ইবনে বারদিজবাহ (১)। আরও বলা হয়েছে: ইবনুল আহনাফ, আল-জু'ফি তাদের আযাদকৃত দাস (مولاهم), আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হাসান।
তাঁর দাদা মুগিরা অগ্নিপূজক ছিলেন, পরবর্তীতে বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু'ফির হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে বন্ধুত্বের চুক্তিসূত্রে (ولاء) তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধ তাঁর দিকে করা হয়।
তাঁর জন্ম ও শৈশব:তাঁর পিতা আবু হাসান ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ছিলেন পরহেযগার (الورعين) আলেমদের (العلماء) অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
سمع مالك بن أنس، وصافح ابن المبارك بكلتا يديه.
روى عنه أحمد بن حفص، وقال: دخلت عليه عند موته، فقال: لا أعلم في جميع مالي درهماً من شُبهة.
قال أحمد بن حفص: فتصاغرت إليَّ نفسي عند ذلك (1) .
ولد أبو عبد الله يوم الجمعة بعد صلاة الجمعة لثلاث عشرة ليلة خلت من شوال سنة أربع وتسعين ومائة ببخاري (2) ، وتوفى أبوه وهو صغير، فنشأ يتيماً في حجر أمه.
وكان الإمام البخاري نحيفاً ليس بالطويل ولا بالقصير، وذهبت عيناه في صغره، فرأت والدته في المنام إبراهيم الخليل عليه السلام، فقال لها: يا هذه قد ردَّ الله على ابنك بصره لكثرة بكائك، أو كثرة دعائك (3) .
طلبه للعلم ورحلاته:قال رحمه الله تعالى: ألهمتُ حفظ الحديث وأنا في الكُتَّابِ ولي عشر سنين، أو أقل، ثم خرجت من الكتَّاب بعد العشر، فجعلت اختلف إلى الداخلي وغيره، فلما طعنت في ست عشرة سنة، كنت قد حفظت كتب ابن المبارك، ووكيع، وعرفت كلام هؤلاء - يعني أصحاب الرأي - ثم خرجت مع أمي وأخي أحمد إلى مكة، فلما حججت رجع أخي
--------------------------------------------
তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন এবং ইবনুল মুবারকের সাথে উভয় হাতে মুসাফাহা করেছেন।
তাঁর থেকে আহমদ ইবনে হাফস বর্ণনা (روى) করেছেন এবং তিনি বলেন: আমি তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন: আমার সমস্ত সম্পদের মধ্যে একটি দিরহামও সন্দেহজনক (شبهة) আছে বলে আমার জানা নেই।
আহমদ ইবনে হাফস বলেন: তখন আমার নিজের কাছে নিজেকে অত্যন্ত তুচ্ছ মনে হলো (১)।
আবু আবদুল্লাহ ১৯৪ হিজরি সনের ১৩ই শাওয়াল জুমার নামাজের পর জুমার দিনে বুখারায় (২) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শৈশবেই মারা যান, ফলে তিনি তাঁর মায়ের তত্ত্বাবধানে এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন।
ইমাম বুখারি ছিলেন ছিপছিপে গড়নের, খুব দীর্ঘও নন আবার খুব খাটোও নন। শৈশবে তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তখন তাঁর মা স্বপ্নে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামকে দেখলেন; তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে নারী, আপনার প্রচুর ক্রন্দন অথবা প্রচুর দোয়ার কারণে আল্লাহ আপনার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন (৩)।
তাঁর ইলম অন্বেষণ ও সফরসমূহ:তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: মক্তবে থাকাকালীন অবস্থাতেই যখন আমার বয়স দশ বছর বা তার কম ছিল, তখন আমার অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার ইলহাম বা প্রেরণা ঢেলে দেওয়া হয়। দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বের হয়ে আসি এবং আদ-দাখিলি ও অন্যদের নিকট যাতায়াত শুরু করি। যখন আমার বয়স ষোল বছরে পৌঁছাল, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকির কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেলি এবং রায়পন্থীদের (أصحاب الرأي) বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হই। এরপর আমি আমার মা ও ভাই আহমদের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হই। যখন আমি হজ সম্পন্ন করলাম, তখন আমার ভাই ফিরে গেলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتخلفت في طلب الحديث، فلما طعنت في ثماني عشرة جعلت أصنف فضائل الصحابة والتابعين وأقاويلهم، وصنفت كتاب ((التاريخ)) إذ ذاك عند قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة، وقال: قلّ اسم في ((التاريخ)) إلا وله قصة إلا أني كرهت تطويل الكتاب (1) .
سمع ببخارى قبل أن يرتحل، ثم سمع ببلخ، وبنيسابور، وبالرَّيّ، وببغداد، وبالبصرة، وبالكوفة، وبمكة، وبالمدينة، وبمصر، وبالشام، وبواسط
… وقال: دخلتُ بلخ، فسألوني أن أُملي عليهم لكل من كتبت عنه حديثاً، فأمليت ألف حديث لألف رجل ممن كتبت عنهم، وقال قبل موته بشهر: كتبت عن ألف وثمانين رجلاً، ليس فيهم إلا صاحب حديثٍ، كانوا يقولون: الإيمان قولٌ وعملٌ، يزيد وينقص (2) .
وقال: لقيت أكثر من ألف رجل من أهل الحجاز، والعراق، والشام، ومصر، لقيتهم كَرّات، أهل الشام ومصر والجزيرة مرتين، وأهل البصرة أربع مرات، وبالحجاز ستة أعوام، ولا أحصي كم دخلت الكوفة وبغداد مع محدثي خراسان (3) .
وحدَّتَ بالحجاز، والعراق وخراسان، وما وراء النهر.
أقوال العلماء وثناؤهم عليه:قال البخاري رحمه الله تعالى: ما قدمت على أحد إلا كان انتفاعه بي أكثر من انتفاعي به.
--------------------------------------------
আমি হাদিস অন্বেষণে কিছুটা দেরিতে মনোনিবেশ করি। যখন আমার বয়স আঠারো বছর হলো, তখন আমি সাহাবী ও তাবিঈগণের মর্যাদা এবং তাঁদের বক্তব্যসমূহ সংকলন করতে শুরু করি। সেই সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের পাশে জোছনা রাতে 'আত-তারিখ' কিতাবটি সংকলন করি। তিনি বলেন: 'আত-তারিখ' গ্রন্থে এমন নাম খুব কমই আছে যার পেছনে কোনো ঘটনা নেই, তবে আমি গ্রন্থটি দীর্ঘায়িত করা অপছন্দ করেছি (১)।
তিনি দেশান্তরের পূর্বে বুখারায় হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি বলখ, নিশাপুর, রায়, বাগদাদ, বসরা, কুফা, মক্কা, মদিনা, মিসর, শাম এবং ওয়াসিতে হাদিস শ্রবণ করেন
… তিনি বলেন: আমি বলখে প্রবেশ করলে তারা আমাকে অনুরোধ করেন যেন আমি যাদের থেকে হাদিস লিখেছি তাদের প্রত্যেকের থেকে একটি করে হাদিস বর্ণনা করি। অতঃপর আমি যাদের কাছ থেকে লিখেছিলাম এমন এক হাজার ব্যক্তির থেকে এক হাজার হাদিস তাদের কাছে বর্ণনা করি। তিনি তাঁর মৃত্যুর এক মাস আগে বলেছিলেন: আমি এক হাজার আশিজন ব্যক্তির নিকট থেকে লিখেছি, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ (صاحب حديث)। তাঁরা বলতেন: ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় (২)।
তিনি বলেন: আমি হিজাজ, ইরাক, শাম ও মিসরের এক হাজারেরও বেশি লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাঁদের সাথে বারবার সাক্ষাৎ করেছি; শাম, মিসর ও জাজিরাবাসীদের সাথে দুইবার, বসরাবাসীদের সাথে চারবার এবং হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি। আর খুরাসানের হাদিস বিশারদদের (محدثي) সাথে আমি কতবার কুফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি তার ইয়ত্তা নেই (৩)।
তিনি হিজাজ, ইরাক, খুরাসান এবং মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
মনীষীদের উক্তি ও তাঁর প্রতি তাঁদের প্রশংসা:ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি এমন কারো কাছে যাইনি যার আমার দ্বারা উপকৃত হওয়ার হার আমার তার দ্বারা উপকৃত হওয়ার হারের চেয়ে বেশি ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال أبو الأزهر: كان بسمرقند أربع مائة ممن يطلبون الحديث، فاجتمعوا سبعة أيام، وأحبوا مغالطة محمد بن إسماعيل، فأدخلوا إسناد الشام في إسناد العراق، وإسناد اليمن في إسناد الحرمين، فما تعلقوا منه بسقطةٍ لا في الإسناد، ولا في المتن.
وقال رحمه الله تعالى: ما استصغرت نفسي عند أحدٍ إلا عند عليّ ابن المديني، وربما كنت أغْرِبُ عليه.
وقال: أحفظ مائة ألف حديث صحيح، وأحفظ مائتي ألف حديث غير صحيح.
وقال: إني أرجو أن ألقى الله ولا يحاسبني أني اغتبت أحداً.
وقال مشايخ البصرة: كان لا يتقدمه أحدٌ، وكان أهل المعرفة من البصريين يَعْدون خلفه في طلب الحديث وهو شاب حتى يغلبوه على نفسه، ويجلسوه في بعض الطريق، فيجتمع عليه ألوف، أكثرهم ممن يكتب عنه، وكان شاباً لم يخرج وجهه (1) ، ولما دخل البصرة قال محمد بن بشار: دخل اليوم سيد الفقهاء، وقال: حفاظ الدنيا أربعة: أبو زرعة بالرَّيَّ، ومسلم بن الحجاج بنيسابور، وعبد الله بن عبد الرحمن الدَّارمي بسمر قند، ومحمد بن إسماعيل البخاري ببخارى.
وكان ابن صاعدٍ إذا ذكره يقول: الكبش النّطاح.
وقال محمود بن النضر الشافعي: دخلت البصرة والشام والحجاز والكوفة ورأيت علماءها فكلما جرى ذكر محمد بن إسماعيل فضلوه على أنفسهم.
--------------------------------------------
আবু আল-আজহার বলেন: সমরকন্দে চারশত হাদিস অন্বেষণকারী ছিলেন। তাঁরা সাত দিন যাবৎ একত্রিত হলেন এবং মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে বিভ্রান্ত করতে চাইলেন। তাঁরা শামের সনদকে (إسناد) ইরাকের সনদের (إسناد) সাথে এবং ইয়েমেনের সনদকে (إسناد) হারামাইনের সনদের (إسناد) সাথে মিশিয়ে দিলেন। কিন্তু তাঁরা সনদে (إسناد) বা মতনে (المتن) তাঁর কোনো একটি ত্রুটিও ধরতে পারলেন না।
তিনি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: আলী ইবনুল মাদিনী ব্যতীত আর কারও সামনে আমি নিজেকে ছোট মনে করিনি। তবে কখনও কখনও আমি তাঁর নিকট এমন হাদিস পেশ করতাম যা তাঁর কাছে একক বা বিরল (أغرب) ছিল।
তিনি বলেন: আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস মুখস্থ রেখেছি এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ রেখেছি।
তিনি বলেন: আমি আশা করি যে, আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করব যে, তিনি আমাকে কারও গীবত করার জন্য হিসাব গ্রহণ করবেন না।
বসরার শায়খগণ বলেন: তাঁর অগ্রে কেউ ছিল না। বসরার অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ তাঁর যুবক বয়সেই হাদিস অন্বেষণে তাঁর পেছনে ছুটতেন, এমনকি তাঁরা তাঁকে বাধ্য করে পথের এক স্থানে বসাতেন। তখন তাঁর নিকট হাজার হাজার মানুষ সমবেত হতো, যাদের অধিকাংশই ছিল তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিখে গ্রহণকারী। তখন তিনি এমন এক যুবক ছিলেন যার মুখে দাড়িও গজায়নি। যখন তিনি বসরায় প্রবেশ করেন, তখন মুহাম্মদ বিন বাশার বলেন: আজ ফকিহদের সর্দার প্রবেশ করেছেন। তিনি আরও বলেন: পৃথিবীর হাফেজ (حفاظ) চারজন: রয় শহরে আবু জুরআহ, নিশাপুরে মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সমরকন্দে আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমী এবং বুখারায় মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি।
ইবনে সাঈদ যখন তাঁর কথা উল্লেখ করতেন, তখন বলতেন: 'সংগ্রামী মেষ' (অর্থাৎ ইলমের ময়দানে অপরাজেয় ব্যক্তি)।
মাহমুদ বিন আন-নদর আশ-শাফিঈ বলেন: আমি বসরা, শাম, হিজাজ ও কুফায় প্রবেশ করেছি এবং সেখানকার আলেমদের দেখেছি। যখনই মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের কথা আলোচিত হতো, তাঁরা তাঁকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال عمرو بن عليّ الفلاّس: حديثٌ لا يعرفه محمد بن إسماعيل ليس بحديث.
وقال محمد بن سلَاّم البيكَنْدِيُّ للبخاري: انظر في كتبي، فما وجدت فيها من خطأ فاضرب عليه، فقال له أصحابه: من هذا الفتى؟ فقال: هذا الذي ليس مثله.
وقال قتيبة بن سعيد: جالست الفقهاء والزهاد والعُبَّاد، فما رأيت منذ عقلت مثل محمد بن إسماعيل، وهو في زمانه كعمر في الصحابة، وقال أيضاً: لو كان محمد بن إسماعيل في الصحابة، لكان آية.
وقال رجاء بن رجاء: فَضْلُ محمد بن إسماعيل على العلماء، كفضل الرجال على النساء.
وقال عبد الله بن عبد الرحمن الدَّرامي: قد رأيتُ العلماء بالحرمين والحجاز والشام والعراق، فما رأيت منهم أجمع من محمد بن إسماعيل، وقال: هو أعلمنا وأفقهنا وأكثرنا طلباً.
وقال عبد الله بن سعيد بن جعفر: سمعت العلماء بمصر يقولون: ما في الدنيا مثل محمد بن إسماعيل في المعرفة والصلاح، ثم قال عبد الله: وأنا أقول قولهم.
وقال موسى بن هارون الحافظ: عندي لو أن أهل الإسلام اجتمعوا على أن يصيبوا آخر مثل محمد بن إسماعيل لما قدروا عليه.
وقال أحمد بن حنبل: لم يجئنا من خراسان مثل محمد بن إسماعيل.
وقال له مسلم بن الحجاج: أشهد أنه ليس في الدنيا مثلك، وجاء إليه فقبله بين عينيه، وقال: دعني حتى أُقبل رجليك يا أستاذ الأستاذين وسيد المحدثين ويا طبيب الحديث في علله.
আমর ইবন আলী আল-ফাল্লাস বলেছেন: যে হাদিস মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল জানেন না, তা কোনো হাদিস নয়।
মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম আল-বিকান্দি বুখারিকে বললেন: আমার কিতাবগুলো দেখুন, আপনি সেখানে যা কিছু ভুল (خطأ) পাবেন তা বর্জন করুন। তখন তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: এই যুবকটি কে? তিনি উত্তরে বললেন: এ এমন এক ব্যক্তি যার কোনো সমতুল্য নেই।
কুতাইবা ইবন সাঈদ বলেছেন: আমি ফকিহ (فقهاء), দুনিয়াবিমুখ (زهاد) এবং ইবাদতগুজারদের (عباد) সান্নিধ্য লাভ করেছি, কিন্তু যখন থেকে আমার বিচারবুদ্ধি হয়েছে, তখন থেকে মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈলের মতো কাউকে দেখিনি; তিনি তাঁর যুগে সাহাবীদের মধ্যে উমরের সদৃশ। তিনি আরও বলেছেন: যদি মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল সাহাবীদের যুগে থাকতেন, তবে তিনি এক বিষ্ময়কর নিদর্শন হতেন।
রাজা ইবন রাজা বলেছেন: আলেমদের ওপর মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈলের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব।
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আদ-দারিমি বলেছেন: আমি হারামাইন, হিজাজ, সিরিয়া ও ইরাকের আলেমদের দেখেছি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈলের চেয়ে অধিক জ্ঞানসম্ভারের অধিকারী আর কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেছেন: তিনি আমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী, শ্রেষ্ঠ ফকিহ (أفقه) এবং জ্ঞান অন্বেষণে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী।
আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন জাফর বলেন: আমি মিশরের আলেমদের বলতে শুনেছি যে, জ্ঞান ও সততায় পৃথিবীতে মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈলের কোনো নজির নেই। অতপর আবদুল্লাহ বললেন: আমিও তাঁদের বক্তব্যের সাথে একমত।
হাফেজ (حافظ) মুসা ইবন হারুন বলেন: আমার মতে, যদি সমস্ত মুসলিম উম্মাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈলের মতো দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে বের করতে একত্রিত হয়, তবে তারা তাতে সক্ষম হবে না।
আহমদ ইবন হাম্বল বলেছেন: খুরাসান থেকে মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈলের মতো দ্বিতীয় কেউ আমাদের কাছে আসেনি।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পৃথিবীতে আপনার মতো আর কেউ নেই। অতপর তিনি তাঁর কাছে এগিয়ে গিয়ে তাঁর কপালে চুম্বন করলেন এবং বললেন: হে উস্তাদদের উস্তাদ, হাদিস বিশারদগণের (محدثين) শিরোমণি এবং হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি (علل) নির্ণয়ে নিপুণ চিকিৎসক! আমাকে আপনার পা দুটিতে চুম্বন করার অনুমতি দিন।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي: لم أرَ أعلم بالعلل والأسانيد من محمد بن إسماعيل البخاري.
وقال أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة: ما تحت أديم السماء أعلم بالحديث من محمد بن إسماعيل البخاري (1) .
هذا وإن ثناء الأئمة الحفاظ على الإمام البخاري يطول سرده وصنَّف الأئمة والحفاظ في سيرته ومناقبه مصنفات متنوعة، لذا اكتفيت بهذه المقتطفات من بحر فضله.
محنته ووفاته:بعد رحلة شاقة وطويلة قضاها الإمام أبو عبد الله في الرواية والسماع، قرر أن يعود إلى بلده لتسكن نفسه، وتهدأ روحه، فلما وصل إلى بخارى نصبت له القباب على فرسخ من البلد واستقبله عامة أهلها حتى لم يبق مذكور، ونثرت عليه الدراهم والدنانير، وبقي مدَّة يُحدِّثُهم، فبعث إليه الأمير خالد بن أحمد الذهلي والى بخاري أن أحمل إليَّ كتاب ((الجامع)) و ((التاريخ)) وغيرهما لأسمع منك، فامتنع أبو عبد الله عن الحضور عنده، فراسله أن يعقد مجلساً لأولاده لا يحضره غيرهم، فامتنع عن ذلك أيضاً، وقال: لا يسعني أن أخص بالسماع قوماً دون قوم، فاستعان خالد بن احمد بحريث بن أبي الورقاء وغيره من أهل العلم ببخارى عليه حتى تكلموا في مذهبه، ونفاه عن البلد، فدعا عليهم أبو عبد الله فقال: اللهم أرهم ما قصدوني به في أنفسهم وأولادهم وأهاليهم، فأما خالد فلم يأت
--------------------------------------------
আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী বলেছেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর চেয়ে হাদিসের ত্রুটি (العلل) এবং সনদ (الأسانيد) সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ বলেছেন: আসমানের নিচে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর চেয়ে হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কেউ নেই (১)।
ইমাম বুখারীর প্রতি হাফেজ (الحفاظ) ইমামগণের প্রশংসার বিবরণ অত্যন্ত দীর্ঘ এবং ইমাম ও হাফেজগণ (الحفاظ) তাঁর জীবনী ও গুণাবলী সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ রচনা করেছেন; তাই আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সমুদ্র থেকে এই সামান্য উদ্ধৃতি পেশ করেই ক্ষান্ত হলাম।
তাঁর পরীক্ষা ও ইন্তেকাল:বর্ণনা (الرواية) এবং শ্রবণ (السماع)-এর দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এক সফর অতিবাহিত করার পর ইমাম আবু আব্দুল্লাহ স্বদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন যেন তাঁর মন প্রশান্ত হয় এবং আত্মা স্থিরতা পায়। যখন তিনি বুখারায় পৌঁছালেন, তখন শহর থেকে এক ফারসাখ দূরেই তাঁর জন্য তাবু স্থাপন করা হলো এবং শহরের সাধারণ মানুষ তাঁকে এমনভাবে অভ্যর্থনা জানালো যে কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তিই সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন না। তাঁর ওপর দিরহাম ও দিনার ছিটানো হলো। কিছুদিন তিনি তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতে থাকলেন। এরপর বুখারার গভর্নর আমির খালিদ ইবনে আহমদ আদ-জুহলী তাঁর কাছে বার্তা পাঠালেন যে, আমার কাছে 'আল-জামি' এবং 'আত-তারিখ'সহ অন্যান্য গ্রন্থগুলো নিয়ে আসুন যাতে আমি আপনার নিকট থেকে শ্রবণ করতে পারি। আবু আব্দুল্লাহ তাঁর নিকট উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানালেন। তখন গভর্নর পুনরায় বার্তা পাঠালেন যেন তিনি কেবল তাঁর সন্তানদের জন্য একটি মজলিসের ব্যবস্থা করেন যেখানে অন্য কেউ উপস্থিত থাকবে না। তিনি এতেও অসম্মতি জানালেন এবং বললেন: আমি শ্রবণের (السماع) মজলিসকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট করে অন্যদের বঞ্চিত করতে পারি না। তখন খালিদ ইবনে আহমদ হুরিত ইবনে আবিল ওয়ারকা এবং বুখারার অন্যান্য আলেমদের সাহায্য নিলেন, এমনকি তাঁরা ইমাম বুখারীর মাজহাব (مذهبه) নিয়ে সমালোচনা শুরু করলেন এবং গভর্নর তাঁকে শহর থেকে বহিষ্কার করলেন। তখন আবু আব্দুল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করলেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহ! তারা আমার ব্যাপারে যে উদ্দেশ্য পোষণ করেছে, আপনি তাদের নিজেদের, তাদের সন্তানদের এবং তাদের পরিবারের ওপর তা দেখিয়ে দিন।' খালিদ ইবনে আহমদের ক্ষেত্রে খুব শীঘ্রই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
عليه إلا أقل من شهر حتى ورد أمر الخلافة بأن ينادي عليه، فنوديَ عليه، وهو على أتان، وأشخص على أكاف، وحبس إلى أن مات، ولم يبق أحد ممن ساعده إلا ابتلي بأولاده، وأراه الله تعالى فيهم البلايا (1) .
قال البخاري: دخلت بغداد آخر ثمان مرات، كل ذلك أُجالس أحمد بن حنبل، فقال لي في آخر ما ودعته: يا أبا عبد الله، تترك العلم، وتصير إلى خراسان؟ قال البخاري: فأنا الآن أذكر قوله (2) .
وخرج البخارى من بخارى إلى خَرتَنْكَ، على فرسخين من سمرقند.
قال عبد القدوس بن عبد الجبار السمرقندي: جاء محمد بن إسماعيل إلى خَرْنَتْكَ، وكان له بها أقرباء، فنزل عندهم، فسمعته ليلة يدعو، وقد فرغ من صلاة الليل: اللهم إنه قد ضاقت عليَّ الأرض بما رَحُبَتْ، فاقبضني إليك، فما تم الشهر حتى مات بخَرْنَتْكَ.
وقال أبو منصور غالب بن جبريل، وهو الذي نزل عليه أبو عبد الله: إنه أقام عندنا أياماً، فمرض، واشتد به المرض حتى جاء رسولٌ إلى سمرقند في إخراج محمد، فلما وافى تهيأ للركوب، فلبس خُفَّيهِ، وتعمَّمَ، فلما مشى قدر عشرين خطوةً أو نحوها، وأنا آخذ بعضده ورجل آخذ معي يقوده إلى الدَّابة ليركبها، فقال رحمه الله: أرسلوني فقد ضعفت، فدعا بدعواتٍ، ثم اضطجع، فقضى رحمه الله، فسال منه العرق شيء لا يوصف، فما سكن منه العرق إلى أن أدرجناه في ثيابه
--------------------------------------------
তার ওপর এক মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই খিলাফত থেকে তাকে জনসমক্ষে অপদস্থ করার আদেশ জারি হলো। তাকে একটি গাধীর ওপর সওয়ার করে ঘোষণা দেওয়া হলো, অতঃপর একটি জীর্ণ জিনের ওপর আরোহণ করিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হলো। যারা তাকে সাহায্য করেছিল, তাদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট রইল না যে তার সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষায় পতিত হয়নি; মহান আল্লাহ তাদের সন্তানদের মাধ্যমেই তাকে বিভিন্ন বিপদাপদ প্রদর্শন করলেন (১)।
ইমাম বুখারি বলেন: আমি শেষবার বাগদাদে মোট আটবার প্রবেশ করেছি এবং প্রত্যেকবারই আমি আহমদ ইবনে হাম্বলের সান্নিধ্যে বসেছি। বিদায়ের প্রাক্কালে তিনি আমাকে বলেছিলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি কি জ্ঞান চর্চা ছেড়ে খোরাসানে চলে যাচ্ছেন? ইমাম বুখারি বলেন: আমি এখনো তাঁর সেই কথাটি স্মরণ করছি (২)।
ইমাম বুখারি বুখারা থেকে সমরকন্দের দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত খরতঙ্ক নামক জনপদে চলে গেলেন।
আব্দুল কুদ্দুস ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সামারকান্দি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল খরতঙ্কে এলেন, সেখানে তাঁর কিছু আত্মীয় ছিল এবং তিনি তাঁদের নিকট অবস্থান করলেন। এক রাতে আমি তাঁকে তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করে দোয়া করতে শুনলাম: "হে আল্লাহ! পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তা আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিন।" অতঃপর মাস শেষ হওয়ার আগেই তিনি খরতঙ্কে ইন্তেকাল করেন।
আবু মনসুর গালিব ইবনে জিবরিল—যাঁহার নিকট আবু আব্দুল্লাহ অবস্থান করেছিলেন—তিনি বলেন: তিনি আমাদের এখানে কয়েক দিন অবস্থান করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অসুস্থতা অত্যন্ত প্রবল হয়, এমনকি মুহাম্মদ (ইমাম বুখারি)-কে সেখান থেকে বের করে দেওয়ার জন্য সমরকন্দ থেকে একজন দূত আগমন করে। যখন সে পৌঁছালো, তিনি যাত্রার প্রস্তুতি নিলেন, মোজা পরিধান করলেন এবং পাগড়ি বাঁধলেন। তিনি যখন বিশ কদমের মতো হাঁটলেন—এমতাবস্থায় আমি তাঁর এক হাত ধরেছিলাম এবং অন্য এক ব্যক্তি অপর হাত ধরে তাঁকে সওয়ারির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল—তখন তিনি বললেন: "আমাকে ছেড়ে দাও, আমি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছি।" এরপর তিনি কিছু দোয়া পাঠ করলেন এবং শুয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলেন। তাঁর শরীর থেকে এমন ঘাম ঝরছিল যা বর্ণনা করা সম্ভব নয়; আমরা তাঁকে কাফনের কাপড়ে আবৃত না করা পর্যন্ত সেই ঘাম থামেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وكان فيما قال لنا وأوصى: أن كفنوني في ثلاثة أثواب ليس فيها قميصٌ ولا عمامة ففعلنا ذلك.
وقال الحسن بن الحسين البزاز البخاري: توفى البخاري ليلة السبت ليلة الفطر عند صلاة العشاء، ودفن يوم الفطر بعد صلاة الظهر سنة ست وخمسين ومائتين، وعاش اثنتين وستين سنة إلا ثلاثة عشرة يوماً (1) ، رحمه الله وأسكنه فسيح جناته.
الفصل الثاني: عناية الإمام البُخَاريِّ بالجامع الصَّحيح ومُصنّفاته الأخرىإن الحديث عن الأوهام الواقعة في ((الجامع الصحيح)) بسبب اختلاف الرواة، يجب أن لا تُعَدُّ من السلبيات التي يظن البعض إنها من المآخذ على ((الجامع الصحيح)) وإنما هي أمر طبيعي يعطينا فكرة عن مدى الدقة والأمانة العلمية التي كان يتميز بها المحدثون في تأليفهم للمصنفات، ومدى رعايتهم لعلم الرواية، وحرصهم على مراجعة ما يكتبونه، واستمرارهم في تنقيح ما يأخذونه عن شيوخهم، ومراجعة مصادرهم للوصول إلى أدق الروايات، وأتقنها، وهذا الأمر ليس موقوفاً على كتاب ((الجامع الصحيح)) فإن كتاب ((الموطأ)) للإمام مالك رحمه الله تعالى هو الاخر قد كثرت رواياته وتباينت بسبب مراجعته المستمرة لكتابه، وتعدد رواة ((الموطأ)) ، وغير ذلك من المصنفات الحديثية، والتي كثرت روايتها وتعددت
… دليل واضح على المدى الذي وصل إليه المسلمون في ضبط النصوص وتوثيقها.
ولقد كانت عناية الإمام البخاري بمصنفاته كبيرة، وروى عنه أنه
--------------------------------------------
তিনি আমাদের যা বলেছিলেন এবং অসিয়ত করেছিলেন তার মধ্যে ছিল: তোমরা আমাকে তিনটি কাপড়ে কাফন দিও, যার মধ্যে কোনো কামিজ বা পাগড়ি থাকবে না; এরপর আমরা তাই করলাম।
হাসান ইবনুল হুসাইন আল-বাজজাজ আল-বুখারি বলেন: ইমাম বুখারি শনিবার রাতে ঈদুল ফিতরের রাতে এশার নামাজের সময় ইন্তেকাল করেন এবং ঈদুল ফিতরের দিন জোহরের নামাজের পর ২৫৬ হিজরি সনে তাকে দাফন করা হয়। তিনি তেরো দিন কম বাষট্টি বছর জীবিত ছিলেন (১), আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-জামি আস-সহিহ এবং অন্যান্য রচনার প্রতি ইমাম বুখারির বিশেষ যত্নবর্ণনাকারীদের (رواة) মতভেদের কারণে আল-জামি আস-সহিহ-এর মধ্যে ঘটে যাওয়া ভ্রম বা বিচ্যুতি (أوهام) সম্পর্কে আলোচনাকে এমন কোনো নেতিবাচক বিষয় হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়, যা অনেকে মনে করেন যে এটি আল-জামি আস-সহিহ-এর ওপর কোনো আপত্তি বা ত্রুটি (مآخذ)। বরং এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় যা আমাদের ধারণা দেয় যে, মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) তাঁদের গ্রন্থ সংকলনের ক্ষেত্রে কতটা সূক্ষ্মতা ও বৈজ্ঞানিক আমানতদারির সাথে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। এছাড়াও এটি বর্ণনাশাস্ত্রের (رواية) প্রতি তাঁদের যত্ন, তাঁরা যা লিখতেন তা পর্যালোচনার প্রতি তাঁদের আগ্রহ এবং উস্তাদদের থেকে যা গ্রহণ করতেন তা নিরন্তর পরিমার্জন ও তাঁদের উৎসগুলো পর্যালোচনার প্রতি গুরুত্ব প্রদানের প্রমাণ দেয়, যাতে করে তাঁরা সূক্ষ্মতম ও সুসংহত বর্ণনা (روايات) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। আর এই বিষয়টি শুধু আল-জামি আস-সহিহ গ্রন্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ইমাম মালিক (রহ.)-এর মুয়াত্তা গ্রন্থটিও এমন যার বর্ণনা (روايات) অধিক এবং বৈচিত্র্যময়। এর কারণ হলো তাঁর কিতাবটি তিনি নিরন্তর পর্যালোচনা করতেন এবং মুয়াত্তা-এর বর্ণনাকারীর (رواة) সংখ্যাও অনেক। একইভাবে অন্যান্য হাদিস গ্রন্থসমূহ, যেগুলোর বর্ণনা (روايات) অধিক ও বহুমুখী... তা মুসলিমদের মূলপাঠ সংরক্ষণ (ضبط) ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) ক্ষেত্রে যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন তার এক স্পষ্ট প্রমাণ।
ইমাম বুখারি তাঁর রচনাবলির প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال: صنفت جميع كتبي ثلاث مرات (1) ، أي أنه ما زال ينقحها ويراجعها أكثر من مرة.
وقال: ما وضعت في كتاب الصحيح حديثاً إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين، وعنه أنه قال: صنفت ((الجامع)) من ستمائة ألف حديث في ست عشرة سنة، وجعلته حجّة فيما بيني وبين الله، وقال: صنفت كتابي ((الجامع)) في المسجد الحرام، وما أدخلت فيه حديثاً حتى استخرت الله تعالى، وصليت ركعتين وتيقنت صحته.
قال الحافظ ابن حجر: الجمع بين هذا وبين ما تقدم أنه كان يصنفه في البلاد: أنه ابتدأ تصنيفه وترتيبه وأبوابه في المسجد الحرام، ثم كان يخرج الأحاديث بعد ذلك في بلده وغيرها، ويدلّ عليه قوله: إنه أقام فيه ست عشرة سنة، فإنه لم يجاور بمكة هذه المدة كلها، وقد روى ابن عديًّ عن جماعة من المشايخ أن البخاري حوّل تراجم جامعه بين قبر النبي صلى الله عليه وسلم ومنبره، وكان يصلي لكل ترجمة ركعتين.
قال الحافظ: ولا ينافي هذا أيضاً ما تقدم لأنه يحمل على أنه كتبه في المسودّة وهنا حوّله من المسودّة إلى المُبيضة (2) .
وقال أبو جعفر العُقيلي: لما صنف البخاري كتابه ((الصحيح)) عرضه على ابن المديني، وأحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وغيرهم فاستحسنوه وشهدوا له بالصحة إلا أربعة أحاديث، قال العقيلي: والقول فيها قول البخاري، وهي صحيحة (3) .
وكان الإمام البخاري رحمه الله يعقد مجالس علمية لإملاء الحديث
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আমি আমার সকল কিতাব তিনবার সংকলন করেছি (১), অর্থাৎ তিনি সেগুলোকে একাধিকবার পরিমার্জন ও পুনর্বিবেচনা অব্যাহত রেখেছিলেন।
তিনি বলেন: আমি সহিহ গ্রন্থে কোনো হাদিস অন্তর্ভুক্ত করিনি যার পূর্বে আমি গোসল করিনি এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করিনি। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: আমি ছয় লক্ষ হাদিস থেকে ষোল বছরে 'আল-জামে' সংকলন করেছি এবং এটিকে আমার ও আল্লাহর মাঝে দলিল হিসেবে গণ্য করেছি। তিনি বলেন: আমি আমার 'আল-জামে' কিতাবটি মসজিদুল হারামে সংকলন করেছি। আমি এতে কোনো হাদিস অন্তর্ভুক্ত করিনি যতক্ষণ না মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি, দুই রাকাত নামাজ পড়েছি এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: এই বক্তব্য এবং পূর্ববর্তী বক্তব্যের—যেটি নির্দেশ করে যে তিনি বিভিন্ন দেশে এটি সংকলন করছিলেন—মধ্যে সমন্বয় হলো: তিনি মসজিদুল হারামে এর সংকলন, বিন্যাস ও অনুচ্ছেদ বিন্যাস শুরু করেছিলেন, অতঃপর বিভিন্ন শহর ও অন্য স্থানে হাদিসগুলো চয়ন করেছেন। তাঁর এই কথাটিই এর প্রমাণ দেয় যে, তিনি এতে ষোল বছর অতিবাহিত করেছেন; কারণ তিনি মক্কায় এই পুরো সময় অবস্থান করেননি। ইবনে আদি একদল মাশায়েখের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, বুখারি তাঁর 'জামে' গ্রন্থের শিরোনামগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা ও মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানে বসে চূড়ান্ত করেছিলেন এবং প্রতিটি শিরোনামের জন্য দুই রাকাত নামাজ পড়তেন।
হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: এটিও পূর্ববর্তী বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যে তিনি এটি প্রথমে খসড়া হিসেবে লিখেছিলেন এবং এখানে তিনি খসড়া থেকে চূড়ান্ত অনুলিপিতে রূপান্তর করেছেন (২)।
আবু জাফর আল-উখাইলি বলেন: যখন বুখারি তাঁর সহিহ কিতাবটি সংকলন করলেন, তখন তিনি তা ইবনুল মাদিনি, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যদের নিকট পেশ করেন। তাঁরা এটিকে চমৎকার হিসেবে গ্রহণ করেন এবং চারটি হাদিস ব্যতীত সবগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة)-এর সাক্ষ্য দেন। উখাইলি বলেন: সেই চারটি হাদিসের ক্ষেত্রেও বুখারির বক্তব্যই অগ্রগণ্য এবং সেগুলো বিশুদ্ধ (صحيحة) (৩)।
ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদিস ইমলা (শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে পাঠদান) করার জন্য ইলমি মজলিস আয়োজন করতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكتابة ((الصحيح)) وقد ذكر الفربري انه قد سمع منه - يعني البخاري - تسعون ألف رجل، وآخر من سمع منه ببغداد القاضي حسين المحاملي (1) .
قال ابن رُشيد: ثم تواتر الكتاب من الفربري، فتطوق به المسلمون، وانعقد الإجماع عليه (2) .
--------------------------------------------
'সহীহ' লিখন প্রসঙ্গে। আল-ফারাবরী উল্লেখ করেছেন যে, নব্বই হাজার লোক তাঁর নিকট থেকে—অর্থাৎ ইমাম বুখারী থেকে—এটি শ্রবণ করেছেন। বাগদাদে তাঁর নিকট থেকে সর্বশেষ শ্রবণকারী ব্যক্তি হলেন কাযী হুসাইন আল-মাহামিলী (১)।
ইবনে রুশাইদ বলেন: অতঃপর গ্রন্থটি আল-ফারাবরী থেকে জনশ্রুত (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং মুসলিমগণ এটিকে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الباب الثاني: روايات الجامع الصحيح، ونسخه
الفصل الأول: روايات الجامع الصحيح للإمام البخاري (1)
لقد اهتم المحدثون بكتاب ((الجامع الصحيح)) للإمام البخاري، وأولوه عناية خاصة تليق بمكانته الكبيرة في نفوسهم، وقد تجلت أولى مظاهر هذا الاهتمام في كثرة المتلقين لهذا الكتاب المبارك عن مصنفه، يقول تلميذه الفربري: سمع كتاب ((الصحيح)) لمحمد بن إسماعيل تسعون ألف رجل، وفي رواية سبعون ألف رجل (2)
…ثم كانت العناية به وضبطه وفق قواعد المحدثين والحرص على تبليغه جيلاً بعد جيل، وقد تمثل ذلك في روايات هذا الكتاب.
ورواة الصحيح هم:أولاً: المُحَدِّثُ الثِّقَةُ، أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر بن صالح بن بشر، الفَرَبْرِيُّ (3) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-জামি আল-সহিহ-এর বর্ণনাসমূহ (روايات) এবং এর পাণ্ডুলিপিগুলোপ্রথম অধ্যায়: ইমাম বুখারির আল-জামি আল-সহিহ-এর বর্ণনাসমূহ (روايات) (১)
হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) ইমাম বুখারির 'আল-জামি আল-সহিহ' গ্রন্থের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাদের অন্তরে এর সুমহান মর্যাদার উপযুক্ত বিশেষ যত্ন প্রদান করেছেন। এই গুরুত্ব প্রদানের প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এর সংকলকের নিকট থেকে এই বরকতময় গ্রন্থটি গ্রহণকারীদের (المتلقون) আধিক্যের মাধ্যমে। তাঁর ছাত্র আল-ফারাবরি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের 'সহিহ' গ্রন্থটি নব্বই হাজার লোক শ্রবণ করেছেন, এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-য় সত্তর হাজার লোকের কথা এসেছে (২)
…অতঃপর হাদিস বিশারদদের (المحدثون) নিয়ম অনুযায়ী এর যত্ন নেওয়া ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করার এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা হয়েছে, যা এই গ্রন্থের বর্ণনাসমূহের (روايات) মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
আর সহিহ-এর বর্ণনাকারীগণ (رواة) হলেন:প্রথমত: নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাদিস বিশারদ (المحدث), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাতার বিন সালিহ বিন বিশর আল-ফারাবরি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ورواة الصحيح عن الفَرَبْرِيِّ هم:
1 - الإمام المحدث أبو إسحاق، إبراهيم بن احمد بن إبراهيم بن احمد بن داود البلخي، المستمليّ (ت376هـ) (1) .
كان سماعه للصحيح في سنة أربع عشرة وثلاثمائة.
قال المستمليّ: انتسخت كتاب البخاري من أصله، كما عند ابن يوسف فرأيته لم يتم بعد، وقد بقيت عليه مواضع مبيَّضة كثيرة، منها تراجم لم يثبت بعدها شيئاً، ومنها أحاديث لم يترجم عليها، فأضفنا بعض ذلك إلى بعضٍ.
قال الباجي: ومما يدل على صحة هذا القول أن رواية أبي إسحاق، ورواية أبي محمد، ورواية أبي الهيثم، ورواية أبي زيد - وقد نسخوا من أصل واحد - فيها التقديم والتأخير، وإنما ذلك بحسب ما قدّر كل واحد منهم فيما كان في طرَّةٍ، أو رقعةٍ مضافة أنه من موضع ما فأضافه إليه، وبيان ذلك أنك تجد ترجمتين وأكثر من ذلك متصلة ليس بينهما أحاديث (2) .
2 - الإمام المحدث الصدوق المسند، أبو محمد، عبد الله بن احمد بن حمُّويه بن يوسف بن أعين، الحمُّويي خطيب سرخس (ت381هـ) (3) .
--------------------------------------------
আল-ফারাব্রি থেকে সহিহ-এর বর্ণনাকারীগণ (رواة) হলেন:
১ - ইমাম, মুহাদ্দিস (المحدث) আবু ইসহাক, ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে দাউদ আল-বালখি, আল-মুস্তামলি (মৃত্যু: ৩৭৬ হিজরি) (১)।
৩১৪ হিজরিতে তিনি সহিহ শ্রবণ (سماع) করেন।
আল-মুস্তামলি বলেন: আমি বুখারির পাণ্ডুলিপিটি তার মূল কপি থেকে অনুলিপি করেছি, ঠিক যেমনটি ইবনে ইউসুফের নিকট ছিল। আমি দেখলাম যে এটি তখনও পূর্ণতা লাভ করেনি; এতে অনেকগুলো অলিখিত সাদা স্থান রয়ে গিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু শিরোনাম (تراجم) ছিল যার পরে কিছুই সাব্যস্ত করা হয়নি, আবার এমন কিছু হাদিস ছিল যেগুলোর শিরোনাম (يترجم) দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা এগুলোর কিছু অংশকে অন্য অংশের সাথে যুক্ত করে দিয়েছি।
আল-বাজি বলেন: এই বক্তব্যের বিশুদ্ধতার (صحة) প্রমাণ হলো—আবু ইসহাক, আবু মুহাম্মদ, আবু আল-হাইসাম এবং আবু জাইদ-এর বর্ণনা (رواية) সমূহের মধ্যে (অংশের) অগ্র-পশ্চাৎ বিদ্যমান, যদিও তারা একই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন। এটি আসলে তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অনুমানের ভিত্তিতে হয়েছে; পাণ্ডুলিপির প্রান্তটীকায় (طرَّة) বা সংযুক্ত কোনো চিরকুটে যা কিছু পাওয়া গিয়েছিল, তারা যেটিকে যে স্থানের উপযুক্ত মনে করেছেন সেখানেই তা যুক্ত করে দিয়েছেন। এর সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো আপনি এমন অনেক স্থান পাবেন যেখানে দুই বা ততোধিক শিরোনাম (ترجمتين) ধারাবাহিকভাবে রয়েছে অথচ তাদের মাঝে কোনো হাদিস নেই (২)।
২ - ইমাম, মুহাদ্দিস (المحدث), সত্যবাদী (الصدوق), মুসনিদ (المسند) আবু মুহাম্মদ, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মুয়াহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আ’ইয়ুন আল-হাম্মুয়ি, সারাকসের খতিব (মৃত্যু: ৩৮১ হিজরি) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - المحدث الثقة، أبو الهيثم، محمد بن مكي بن محمد بن مكي بن زُراع الكشميهني (ت389هـ) (1) .
4 - الشيخ الثقة الفاضل، أبو علي، محمد بن عمر بن شَبُّويه الشَّبويُّ، المروزيُّ (2) .
5 - الإمام الحافظ المجوِّد الكبير، أبو علي، سعيد بن عثمان بن سعيد ابن السِّكن المصري البزِّاز، البغدادي الأصل (ت353هـ) (3) .
6 - الشيخ الإمام المفتي، القدوة الزاهد، شيخ الشافعية، أبو زيد محمد بن احمد بن عبد الله بن محمد المروزي (ت371هـ) (4) .
7 - الإمام أبو أحمد، محمد بن محمد بن يوسف بن مكي، الجرجاني (ت373 أو 374هـ) (5) .
ثانيا: ومن رواة الصحيح، عن البخاري الإمام الحافظ الفقيه، القاضي، أبو إسحاق، إبراهيم بن مَعْقِل بن الحجاج، النسفي، قاضي نسف (ت295هـ) (6) .
ثالثا: الإمام المحدث الصدوق، أبو محمد، حماد بن شاكر بن سوِّية، النسفي (ت311هـ) (7) .
--------------------------------------------
3 - মুহাদ্দিস (المحدث) ও নির্ভরযোগ্য (الثقة), আবু আল-হাইসাম, মুহাম্মদ বিন মাক্কি বিন মুহাম্মদ বিন মাক্কি বিন যুররা আল-কুশমায়হানি (মৃত্যু ৩৮৯ হিজরি) (১) ।
4 - নির্ভরযোগ্য (الثقة) ও বিদগ্ধ (الفاضل) শায়খ (الشيخ), আবু আলী, মুহাম্মদ বিন উমর বিন শাব্বুয়াহ আল-শাব্বাউয়ি, আল-মারওয়াযি (২) ।
5 - ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ) ও মহান মুজাওয়্যিদ (المجوِّد), আবু আলী, সাঈদ বিন উসমান বিন সাঈদ ইবনুস সাকান আল-মিসরি আল-বাযযায, মূলত বাগদাদের অধিবাসী (মৃত্যু ৩৫৩ হিজরি) (৩) ।
6 - শায়খ (الشيخ), ইমাম (الإمام) ও মুফতি (المفتي), আদর্শ (القدوة) ও দুনিয়াবিমুখ (الزاهد), শাফেয়ী মাজহাবের প্রধান শায়খ (شيخ الشافعية), আবু যায়েদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি (মৃত্যু ৩৭১ হিজরি) (৪) ।
7 - ইমাম (الإمام) আবু আহমদ, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাক্কি, আল-জুরজানি (মৃত্যু ৩৭৩ বা ৩৭৪ হিজরি) (৫) ।
দ্বিতীয়ত: এবং বুখারী থেকে সহিহ-এর বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে রয়েছেন ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه) ও বিচারক (القاضي), আবু ইসহাক, ইব্রাহিম বিন মাকিল বিন আল-হাজ্জাজ, নাসাফি, নাসাফের বিচারক (القاضي) (মৃত্যু ২৯৫ হিজরি) (৬) ।
তৃতীয়ত: ইমাম (الإمام), মুহাদ্দিস (المحدث) ও সত্যবাদী (الصدوق), আবু মুহাম্মদ, হাম্মাদ বিন শাকির বিন সাউয়্যাহ, নাসাফি (মৃত্যু ৩১১ হিজরি) (৭) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
رابعا: الشيخ المسند، أبو طلحة، منصور (1) بن محمد بن علي بن قرينة ابن سوية البزديُّ، ويقال: البزدويُّ، النسفي (ت319هـ) .
خامسا: الإمام القاضي أبو عبد الله الحسين بن إسماعيل المحاملي (ت330هـ) (2) .
رواية علماء المغرب لكتاب ((الجامع الصحيح)) :لعل أشهر روايات المغاربة لـ ((الجامع الصحيح)) هي التي ذكرها الإمام أبو بكر محمد بن خير بن عمر بن خليفة الأموي الإشبيلي (ت575هـ) ، في كتابه ((الفهرست)) ، فقال: مصنف الإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، وهو ((الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه)) .
أما رواية أبي ذر عبد بن أحمد بن محمد بن عبد الله الهروي الحافظ، رحمه الله، فحدثني بها شيخنا الخطيب أبو الحسن شريح بن محمد بن شريح المقرئ رحمه الله، قراءةً عليه بلفظي مراراً وسماعاً مراراً، قال: حدثني به أبي رحمه الله، سماعاً من لفظه، وأبو عبد الله محمد بن احمد بن عيسى بن منظور القيسيُّ، رحمه الله تعالى، سماعاُ عليه، قالا: حدثنا بها أبو ذر عبد ابن أحمد بن محمد الهروي، سماعاً عليه، قال: محمد بن شريح: سمعته عليه في المسجد الحرام عند باب الندوة سنة 404، وقال ابن منظور: سمعته عليه في المسجد الحرام عند باب الندوة، سنة 431، وقرئ عليه مرة ثانية وأنا أسمع والشيخ أبو ذر ينظر في أصله وأنا أصلح في كتابي هذا في المسجد الحرام عند باب
--------------------------------------------
চতুর্থত: শায়খ আল-মুসনাদ (المسند), আবু তালহা, মানসুর (১) বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন কারিনা ইবনে সাউইয়্যাহ আল-বাজদি, যাকে আল-বাজদাউয়ি এবং আন-নাসাফিও বলা হয় (মৃত্যু ৩১৯ হিজরি)।
পঞ্চমত: ইমাম আল-কাদি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি (মৃত্যু ৩৩০ হিজরি) (২)।
মাগরিবের আলেমদের মাঝে 'আল-জামি আস-সহিহ' গ্রন্থের বর্ণনাধারা (رواية):সম্ভবত মাগরিববাসীদের মাঝে 'আল-জামি আস-সহিহ'-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বর্ণনাধারা (رواية) হলো সেটি, যা ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন খাইর বিন উমর বিন খলিফা আল-উমাবি আল-ইশবিলি (মৃত্যু ৫৭৫ হিজরি) তাঁর 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারির সংকলিত গ্রন্থ, যা হলো 'আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুনতাখাব মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি'।
আর হাফেজ (الحافظ) আবু যার আবদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনাধারার (رواية) ব্যাপারে আমাদের শায়খ আল-খতিব (الخطيب) আবুল হাসান শুরাইহ বিন মুহাম্মদ বিন শুরাইহ আল-মুকরি (المقرئ) (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে তা বর্ণনা করেছেন; তাঁর নিকট কয়েকবার মৌখিক পাঠ (قراءة) করার মাধ্যমে এবং কয়েকবার শ্রবণ (سماع) করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মৌখিক উচ্চারণ থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে আমাকে তা বর্ণনা করেছেন; এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ঈসা বিন মানযুর আল-কায়সি (রাহিমাহুল্লাহ)-ও তাঁর নিকট শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু যার আবদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হারাবি সরাসরি তাঁর নিকট শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে। মুহাম্মদ বিন শুরাইহ বলেন: আমি ৪০৪ হিজরিতে মসজিদুল হারামের 'বাবুন নাদওয়াহ'-এর নিকট এটি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি (سمعته)। ইবনে মানযুর বলেন: আমি ৪৩১ হিজরিতে মসজিদুল হারামের 'বাবুন নাদওয়াহ'-এর নিকট এটি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি (سمعته); এবং তাঁর কাছে এটি দ্বিতীয়বার পাঠ করা হয়েছিল তখন আমি শ্রবণ করছিলাম, আর শায়খ আবু যার তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির (أصل) দিকে নজর রাখছিলেন এবং আমি আমার এই কিতাবটি সংশোধন করছিলাম। এটি মসজিদুল হারামের সেই দরজার কাছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الندوة، في شوال من سنة 431، قالا: وأخبرنا أبو محمد عبد الله بن احمد بن حمُّويه السرخسي بهراة سنة 373، وأبو إسحاق إبراهيم بن احمد بن إبراهيم المستملي، ببلخ سنة 374، وأبو الهيثم محمد بن المكي بن زراع الكشميهني، بها سنة 387، قالوا كلهم: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر بن صالح بن بشر الفربري، قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري الجعفي، رحمه الله.
وأما رواية ابن السكن فحدثني بها شيخنا أبو الحسن يونس بن محمد بن مغيث رحمه الله، قراءة مني عليه، قال: حدثني بها القاضي أبو عمر احمد بن محمد بن الحذَّاء التميمي، سماعاً عليه بقراءة أبي علي الجياني، قال: نا بها أبو محمد عبد الله بن محمد بن أسد الجهني، قراءة عليه سنة 394، قال: نا أبو علي سعيد بن عثمان بن السكن الحافظ في منزله بمصر سنة 343، قال: نا محمد بن يوسف بن مطر بن صالح بن بشر بفربر، من ناحية بخارى، قال: نا أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم الجعفي البخاري سنة 253.
وأما رواية الأصيلي، فحدثني بها الشيخ الفقيه أبو القاسم احمد بن محمد ابن بقي رحمه الله، قراءة مني عليه، والشيخ الفقيه أبو الحسن يونس بن محمد بن مغيث، رحمه الله، سماعاً لجملة منه، ومناولة لي لجميعه، قالا: حدثنا بها الفقيه أبو عبد الله محمد بن فرج، مولى محمد بن يحيى البكري المعروف بابن الطلاع، أما ابن بقي فقال: سمعت جميعه عليه، وأما ابن مغيث فقال: حدثنا به قراءة منه علينا لأكثر الكتاب، وإجازة لسائره، قال: سمعت جميعه على الفقيه أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن سعيد بن عابد المعافري، في سنة 423، بقراءة أبي محمد عبد الله بن إبراهيم الأصيلي سنة 383، قال: قرأتها
আন-নাদওয়ায়, ৪৩১ হিজরির শাওয়াল মাসে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মুওয়াইহ আস-সারখাসি হেরাতে ৩৭৩ হিজরিতে, এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-মুস্তামলি বালখে ৩৭৪ হিজরিতে, এবং আবু আল-হাইসাম মুহাম্মদ ইবনুল মক্কি ইবনে যুরআ আল-কুশমিহানি সেখানে ৩৮৭ হিজরিতে; তাঁরা সকলেই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ ইবনে বিশর আল-ফিরারি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-বুখারি আল-জুফি (রহিমাহুল্লাহ)।
আর ইবনে আস-সাকানের বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে, আমার নিকট তা বর্ণনা করেছেন (حدثني) আমাদের শায়খ আবু আল-হাসান ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুগিস (রহিমাহুল্লাহ), তাঁর নিকট আমার পাঠের (قراءة) মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমার নিকট তা বর্ণনা করেছেন (حدثني) আল-কাদি আবু উমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জা আত-তামিমি, আবু আলি আল-জাইয়ানির পাঠকালে তাঁর নিকট শ্রবণের (سماعاً) মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন (نا/حدثنا) আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসাদ আল-জুহানি, ৩৯৪ হিজরিতে তাঁর নিকট পাঠের (قراءة) মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন (نا/حدثنا) হাফিজ (الحافظ) আবু আলি সাঈদ ইবনে উসমান ইবনে আস-সাকান ৩৪৩ হিজরিতে মিশরে তাঁর নিজ বাসভবনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন (نا/حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ ইবনে বিশর বুখারার উপকণ্ঠ ফিরারিতে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন (نا/حدثنا) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-জুফি আল-বুখারি ২৫৩ হিজরিতে।
আর আল-আসিলির বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে, আমার নিকট তা বর্ণনা করেছেন (حدثني) শায়খ ফকিহ (الفقيه) আবু আল-কাসিম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাকি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট আমার পাঠের (قراءة) মাধ্যমে, এবং শায়খ ফকিহ (الفقيه) আবু আল-হাসান ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুগিস (রহিমাহুল্লাহ) এর মাধ্যমে, যার একটি অংশ শ্রবণ (سماعاً) ও পূর্ণ অংশটি তাঁর থেকে হস্তান্তরের (مناولة) মাধ্যমে। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ফকিহ (الفقيه) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফরাজ, যিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বাকরি এর মুক্তদাস এবং ইবনুল তলা' নামে পরিচিত। ইবনে বাকি বলেন: আমি তাঁর নিকট সম্পূর্ণটি শ্রবণ করেছি। আর ইবনে মুগিস বলেন: তিনি আমাদের নিকট গ্রন্থের অধিকাংশ তাঁর পাঠের (قراءة) মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ ইজাজতের (إجازة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)। তিনি বলেন: আমি সম্পূর্ণটি ফকিহ (الفقيه) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আবিদ আল-মাআফিরির নিকট ৪২৩ হিজরিতে শ্রবণ করেছি, ৩৮৩ হিজরিতে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-আসিলির পাঠের (قراءة) ভিত্তিতে। তিনি বলেন: আমি তা পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
على أبي زيد محمد بن احمد المروزي بمكة سنة 353، قال أبو محمد الأصيلي: وسمعتها على أبي زيد أيضاً ببغداد في شهر صفر سنة 359، قرأ أبو زيد بعضها، وقرأت أنا بعضها حتى كمل جميع المصنف، قال أبو عبد الله محمد بن يوسف الفربري بفربر سنة 318، قال: أنا أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري سنة 253.
قال الأصيلي: وقرأتها على أبي أحمد محمد بن محمد بن يوسف الجرجاني، قال: نا محمد بن يوسف الفربري، قال: نا محمد بن إسماعيل البخاري.
وحدثني أيضا بهذه الرواية الشيخ أبو محمد ابن عتاب رحمه الله، إجازةً فيما كتب به إليّ، قال: حدثني بها الفقيه أبو عبد الله محمد بن عابد المذكور إجازة، فيما كتبه لي بخط يده، قال: أبو محمد الأصيلي بالإسناد المتقدم.
وحدثني أيضاً براوية أبي زيد المروزي المذكور شيخنا القاضي أبو مروان عبد الملك بن عبد العزيز اللخمي الباجي، رحمه الله، سماعاً عليه لأكثرها ومناولةً لجميعها، قال: حدثني بها أبي، وعمَّاي أبو عمر احمد، وأبو عبد الله محمد، وابن عمي صاحب الصلاة أبو محمد عبد الله بن عليّ بن محمد بن احمد بن عبد الله، قالوا كلهم: حدثنا بها الفقيه أبو عبد الله محمد بن احمد بن عبد الله، قال: كتب أبي أبو عمر احمد بن عبد الله كتاب البخاري، عن بعض ثقات أصحابه المصريين، وسمعته بقراءته عليه، حدثنا به عن أبي زيد محمد بن احمد المروزي، عن محمد بن يوسف الفربري، عن محمد بن إسماعيل البخاري.
أما رواية القابسي، فحدثني بها الشيخ أبو محمد ابن عتاب رحمه الله، إجازة، قال: حدثني بها أبو القاسم حاتم بن محمد الطرابلسي، قراءةً
৩৫৩ হিজরিতে মক্কায় আবু যায়েদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারওয়াযীর নিকট (বর্ণনাটি পাঠ করা হয়); আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি বলেন: আমি ৩৫৯ হিজরির সফর মাসে বাগদাদেও এটি আবু যায়েদের নিকট শুনেছি। আবু যায়েদ এর কিছু অংশ পাঠ করেছেন এবং আমি কিছু অংশ পাঠ করেছি, যতক্ষণ না সম্পূর্ণ সংকলনটি সমাপ্ত হয়েছে। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিবরি ৩১৮ হিজরিতে ফিরিবরে বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি ২৫৩ হিজরিতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
আল-আসিলি বলেন: আমি এটি আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-জুরজানির নিকট পাঠ করেছি। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিবরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
এবং শায়খ আবু মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে এই বর্ণনাটি তার লিখিত ইজাজতের (إجازة) মাধ্যমে প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবিদ উল্লিখিত বর্ণনাটি আমাকে তার নিজ হাতের লেখায় ইজাজতের (إجازة) মাধ্যমে প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-আসিলি পূর্বোক্ত সনদের (الإسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
এবং আমাদের শায়খ কাজি আবু মারওয়ান আবদুল মালিক বিন আবদুল আজিজ আল-লাখমি আল-বাজি (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে উল্লিখিত আবু যায়েদ আল-মারওয়াযীর বর্ণনাটি প্রদান করেছেন। এর অধিকাংশ আমি তার নিকট শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণটি হস্তান্তরের (مناولة) মাধ্যমে লাভ করেছি। তিনি বলেন: আমার পিতা, আমার দুই চাচা আবু উমর আহমদ ও আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ এবং আমার চাচাতো ভাই সাহিবুস সালাত আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন। তারা সবাই বলেন: ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আবু উমর আহমদ বিন আবদুল্লাহ তার জনৈক নির্ভরযোগ্য (ثقة) মিশরীয় সহচরের মাধ্যমে বুখারির কিতাবটি লিখেছেন এবং আমি এটি তার নিকট পাঠ করার সময় শ্রবণ করেছি। তিনি আমাদের নিকট আবু যায়েদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারওয়াযীর সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিবরির সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারির সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আল-কাবেসির বর্ণনার ক্ষেত্রে, শায়খ আবু মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে ইজাজতের (إجازة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম হাতিম বিন মুহাম্মদ আত-তরাবুলুসি এটি আমাকে পাঠের (قراءة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عليه، قال: أنا أبو الحسن علي بن محمد بن خلف القابسي الفقيه، قال: نا أبو زيد محمد بن احمد المروزي، بالسند المتقدم.
وحدثني بها أيضا الشيخ أبو بكر محمد بن أحمد بن طاهر القيسي، وأبو جعفر أحمد بن محمد بن عبد العزيز اللخمي، وغيرهما من شيوخي، رحمهم الله، قالوا: حدثنا بها أبو علي حسين بن محمد بن أحمد الغساني ثم الجياني، رحمه الله، قال: قرأتها على أبي القاسم حاتم بن محمد الطرابلسي، رحمه الله، مرات، وحدثني بها عن أبي الحسن علي بن محمد بن خلف القابسي الفقيه، عن أبي زيد محمد بن احمد المروزي، عن أبي عبد الله الفربري، عن البخاري رحمه الله.
أما رواية النسفي، فحدثني بها الشيخ أبو بكر محمد بن احمد بن طاهر القيسي، قال: نا أبو علي حسين بن محمد بن احمد الغساني، قال: حدثني بها القاضي حكم بن محمد بن حكم الجذامي، إجازة، قال: نا أبو الفضل احمد بن أبي عمران الهروي بمكة سنة 382، سمعت بعضه وأجاز لي سائره، قال: نا أبو صالح خلف بن محمد بن إسماعيل الخيام البخاري، نا إبراهيم بن معقل ابن الحجاج النسفي، قال: نا البخاري.
قال أبو علي: وروينا عن أبي الفضل صالح بن محمد بن شاذان الأصبهاني، عن أبي إسحاق إبراهيم بن معقل النسفي، أن البخاري أجاز له آخر الديوان، لأن في رواية محمد بن يوسف الفربري، زيادة على الموضع من كتابي نحواً من تسع أوراق من نسختي، وقد أعلمت على الموضع من كتابي، قال أبو علي: وهذه الروايات كلها متقاربة، وأقرب الروايات إلى رواية أبي ذر رواية أبي الحسن القابسي، عن أبي زيد المروزي (1) .
--------------------------------------------
তাঁর সূত্রে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু আল-হাসান আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন খালাফ আল-কাবিসি আল-ফকিহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু জায়েদ মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-মারওয়াজি, পূর্বোক্ত সনদ (سند) অনুযায়ী।
এবং এটি আমার নিকট আরও বর্ণনা করেছেন (حدثني) শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন তাহির আল-কাইসি এবং আবু জাফর আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আজিজ আল-লাখমি ও আমার অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ (شيوخ), আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আলি হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-গাসসানি অতঃপর আল-জাইয়ানি, আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন। তিনি বলেন: আমি এটি আবু আল-কাসিম হাতিম ইবন মুহাম্মদ আত-তারাবলুসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর নিকট একাধিকবার পাঠ করেছি। তিনি এটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আবু আল-হাসান আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন খালাফ আল-কাবিসি আল-ফকিহ-এর সূত্রে, তিনি আবু জায়েদ মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-মারওয়াজির সূত্রে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-ফিরবরির সূত্রে, তিনি ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর সূত্রে।
আর নাসাফির বর্ণনা (رواية)-এর ব্যাপারে আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني) শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন তাহির আল-কাইসি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু আলি হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-গাসসানি। তিনি বলেন: আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন (حدثني) কাজি হাকাম ইবন মুহাম্মদ ইবন হাকাম আল-জুসামি অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু আল-ফজল আহমদ ইবন আবি ইমরান আল-হারাউয়ি ৩৮২ হিজরি সালে মক্কায়। তিনি বলেন: আমি এর কিছু অংশ শ্রবণ করেছি এবং তিনি অবশিষ্ট অংশের অনুমতি (إجازة) দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু সালেহ খালাফ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-খায়্যাম আল-বুখারি। তিনি বর্ণনা করেছেন (نا) ইব্রাহিম ইবন মাকিল ইবন আল-হাজ্জাজ আন-নাসাফি। তিনি বর্ণনা করেছেন (نا) ইমাম বুখারি।
আবু আলি বলেন: আমরা বর্ণনা করেছি (روينا) আবু আল-ফজল সালেহ ইবন মুহাম্মদ ইবন শাযান আল-আসফাহানির সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন মাকিল আন-নাসাফির সূত্রে যে, ইমাম বুখারি তাঁকে এই সংকলনের শেষাংশের অনুমতি (إجازة) দিয়েছিলেন। কারণ মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরবরির বর্ণনা (رواية)-তে আমার কিতাবের উক্ত স্থানে আমার পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী প্রায় নয়টি পৃষ্ঠার অতিরিক্ত (زيادة) রয়েছে। আমি আমার কিতাবের সেই স্থানটি চিহ্নিত করে রেখেছি। আবু আলি বলেন: এই সকল বর্ণনা (روايات) একে অপরের অতি নিকটবর্তী। আর আবু জার-এর বর্ণনা (رواية)-এর সবচেয়ে নিকটতর বর্ণনা (رواية) হলো আবু জায়েদ আল-মারওয়াজির সূত্রে আবু আল-হাসান আল-কাবিসির বর্ণনা (رواية)। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفصل الثاني: أشهر طبعات صحيح البُخَاريِّإن الصلة بين نسخ البخاري، وبين رواياته صلة وثيقة، والذي يبدو لنا أن البخاري رحمه الله تعالى كانت له نسخه ترك فيها بعض البياضات، ولعل مرد ذلك أنه كان يؤلف كتبه أكثر من مرة، وهذا من عنايته ودقته في التصنيف، فإنه ما زال ينقح ويراجع ما يكتبه ويرويه حتى يطمئن قلبه إلى الوضع الأخير لكتبه
… ونظراً للظروف التي ألمت به، فجعلته ينتقل في البلدان، حتى أدركته المنية، وهو بعيدٌ عن مكتبته ومصادره، لم يتسع له المجال لإتمام هذه البياضات.
لذا فإن الصلة بين نُسخة الإمام البخاري لكتابه ((الجامع الصحيح)) ، وبين رواياته المختلفة بقيت صلة متلازمة لا يمكن الفصل بينهما.
قال المستملي: انتسخت كتاب البخاري من أصله، كما عند ابن يوسف، فرأيته لم يتم بعد، وقد بقيت عليه مواضع مبيّضة كثيرة، منها: تراجم لم يثبت بعدها شيئاً، ومنها: أحاديث لم يترجم عليها، فأضفنا بعض ذلك إلى بعض (1) .
وقال الإمام أبو سليمان الخطابي: وقد سمعنا معظم هذا الكتاب من رواية إبراهيم بن معقل النسفي، حدثناه خَلفُ بن محمد الخيام، قال: حدثنا إبراهيم بن معقل، عنه.
سمعنا سائر الكتاب إلا احاديث من آخره من طريق: محمد بن يوسف الفربري، حدثنيه محمد بن خالد بن الحسن، قال: حدثنا الفربري، عنه.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহিহ বুখারির প্রসিদ্ধতম সংস্করণসমূহইমাম বুখারির পাণ্ডুলিপি (نسخ) এবং এর বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম বুখারি (রহ.)-এর কাছে এমন কিছু পাণ্ডুলিপি (نسخ) ছিল যাতে তিনি কিছু জায়গা খালি রেখেছিলেন। এর কারণ সম্ভবত এই যে, তিনি তাঁর গ্রন্থগুলো একাধিকবার রচনা করতেন। এটি সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ যত্ন ও সূক্ষ্মতার পরিচায়ক; কারণ তিনি তাঁর লেখা ও বর্ণিত বিষয়গুলো নিয়ে বারবার পরিমার্জন ও পর্যালোচনা করতেন যতক্ষণ না গ্রন্থগুলোর চূড়ান্ত রূপ নিয়ে তাঁর মন প্রশান্ত হতো
… তাঁর ওপর আপতিত পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয়েছিল, এমনকি যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে তখন তিনি তাঁর পাঠাগার ও মূল উৎস থেকে দূরে ছিলেন। ফলে সেই খালি জায়গাগুলো পূর্ণ করার পর্যাপ্ত সুযোগ তিনি পাননি।
তাই ইমাম বুখারির রচিত ‘আল-জামিউস সহিহ’ এর পাণ্ডুলিপি (نسخة) এবং এর বিভিন্ন বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে এমন অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়ে গেছে যা বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
আল-মুস্তামলি বলেন: “আমি ইবনে ইউসুফের নিকট রক্ষিত বুখারির মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি তৈরি করেছি। তখন আমি দেখলাম যে তা তখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাতে অনেক জায়গা খালি রয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে এমন কিছু শিরোনাম (تراجم) যার পরে তিনি কোনো কিছু লিখে যাননি এবং এমন কিছু হাদিস যার কোনো শিরোনাম (ترجمة) তিনি দেননি। তাই আমরা এগুলোর কিছু অংশ অন্য অংশের সাথে যুক্ত করে দিয়েছি (১)।”
ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেন: “আমরা এই গ্রন্থের অধিকাংশ ইবরাহিম ইবনে মাকিল আন-নাসাফির বর্ণনা (رواية) থেকে শুনেছি; খালাফ ইবনে মুহাম্মদ আল-খায়য়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবরাহিম ইবনে মাকিল আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।”
“আমরা গ্রন্থের বাকি অংশ -শেষের দিকের কিছু হাদিস ছাড়া- মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরির সূত্রে শুনেছি; মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে হাসান আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-ফিরাবরি আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ونحن نبين مواضع اختلاف الرواية في تلك الأحاديث إذا انتهينا إليها إن شاء الله (1) .
وقال الشيخ محمد أنور الكشميري، صاحب كتاب ((فيض الباري على صحيح البخاري)) ، وهو يتحدث عن نُسخ ((صحيح البخاري)) :
ونسخه تسعة عشر: إحداها لكريمة بنت أحمد، وهي امرأة محدثة، وثلاثة من أصحاب النُسخ حنفيون: إبراهيم بن معقل النسفي، وهو تلميذ البخاري بلا واسطة، وحماد بن شاكر، والحافظ شمس الدين الصَّغانّي، أصله من خراسان. وأولاها بالاعتبار عندي نسخة الصَّغانّي، لأنه يقول: أنه نقلها من النسخة التي قُرأت على المصنف رحمه الله تعالى، لكن الحافظ - ابن حجر رحمه الله تعالى - لا يرى فيها مزية، ويعامل معها مع سائر النُّسخ، وأما الآن فينبغي أن يعتمد على نسخة القسطلاني لأنه اعتمد على نسخه الحافظ شرف الدين اليونينيِّ جهبذة زمانه، وحافظ أوانه (2) ، لأن السلطان أراد أن يعرب البخاري، وجمع له أفاضل عصره فجاء اليونيني فصحح متون الأحاديث، وابن مالك صاحب الألفية فأعربها.
قال القسطلاني: فوجدت النصف الأول من نُسخه اليونيني، فاعتمدت عليها في شرحي، ولم أجد النصف الآخر حتى وجدته أيضاً بعد ثلاثين سنة فاعتمدت عليها في النصف الآخر.
ثم أعلم أنه قد يتغير المراد باختلاف النسخ ولعلّ وجهه ان
--------------------------------------------
এবং আমরা সেই হাদিসগুলোতে বর্ণনার (الرواية) পার্থক্যের স্থানগুলো স্পষ্ট করব যখন আমরা সেখানে পৌঁছাব, ইনশাআল্লাহ (১)।
এবং 'ফয়জুল বারী আলা সহীহ বুখারী' গ্রন্থের লেখক শায়খ মুহাম্মদ আনোয়ার কাশ্মীরি 'সহীহ বুখারী'র পাণ্ডুলিপিগুলো (نسخ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন:
এর পাণ্ডুলিপি (نسخه) উনিশটি: এর একটি করিমা বিনতে আহমদের, তিনি ছিলেন একজন নারী হাদিস বিশারদ (محدثة)। পাণ্ডুলিপিকারদের মধ্যে তিনজন ছিলেন হানাফী: ইব্রাহিম ইবনে মাকিল আল-নাসাফি—যিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই (بلا واسطة) সরাসরি বুখারীর ছাত্র ছিলেন, হাম্মাদ ইবনে শাকির এবং হাফিজ (الحافظ) শামসুদ্দিন আল-সাগানি, যার আদি নিবাস খোরাসান। আমার কাছে বিবেচনার দিক থেকে আল-সাগানির পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) সবচেয়ে অগ্রগণ্য, কারণ তিনি বলেন যে, তিনি এটি সেই পাণ্ডুলিপি (النسخة) থেকে অনুলিপি করেছেন যা মূল গ্রন্থকারের (المصنف) সামনে পাঠ করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। কিন্তু হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এতে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য দেখেননি এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির (النُّسخ) মতোই এর সাথে আচরণ করেছেন। তবে বর্তমানে কাসতালানির পাণ্ডুলিপির (نسخة) ওপর নির্ভর করা উচিত, কারণ তিনি তার সময়ের বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ (جهبذة) এবং স্বীয় যুগের হাফিজ (حافظ) শরাফুদ্দিন আল-ইউনিনির পাণ্ডুলিপির (نسخه) ওপর নির্ভর করেছেন (২)। কেননা সুলতান চেয়েছিলেন বুখারীতে ব্যাকরণিক স্বরচিহ্ন প্রদান করতে এবং তিনি তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলিমদের সমবেত করেছিলেন। অতঃপর আল-ইউনিনি এসে হাদিসের মূল পাঠগুলো (متون) সংশোধন করেন এবং 'আলফিয়া'র রচয়িতা ইবনে মালিক সেগুলোতে ব্যাকরণিক চিহ্ন প্রদান করেন।
কাসতালানি বলেন: আমি আল-ইউনিনির পাণ্ডুলিপির (نسخه) প্রথম অর্ধেক অংশ পেয়েছি এবং আমার ব্যাখ্যাগ্রন্থে (شرحي) তার ওপর নির্ভর করেছি। বাকি অর্ধেক আমি পাইনি, অবশেষে ত্রিশ বছর পর সেটিও খুঁজে পাই এবং পরবর্তী অর্ধেকের ক্ষেত্রেও সেটির ওপর নির্ভর করি।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, পাণ্ডুলিপির (النسخ) ভিন্নতার কারণে কখনো কখনো উদ্দিষ্ট অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে এবং সম্ভবত এর কারণ হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الناس لما أخذوا عن المصنف رحمه الله تعالى أخذوا أصل الحديث، وجعلوا الخصوصيات هدراً، وحسبوه كالواجب المخيِّر، فرووه كيفما رأوا، والله تعالى أعلم (1) .
نُسخة الإمام شرف الدين اليونينيّ الحنبلي:تعد نسخة الإمام الحافظ، محدث الشام شرف الدين أبي الحسين عليّ بن أحمد بن عبد الله بن عيسى اليونيني المعروف بالبعليّ، الحنبلي (ت701هـ) (2) ، من أحسن النسخ وأدقها، قال الذهبي، استنسخ ((صحيح البخاري)) وحرره، حدثني أنه قابله في سنة واحدة واسمعه إحدى عشرة مرة، وقد ضبط رواية الجامع الصحيح، وقابل أصله الموقوف بمدرسة آقبغا آص بسويقة العزيّ خارج باب زويلة من القاهرة المعزية، بأصل مسموع على الحافظ أبي ذرِّ الهروي، وبأصل مسموع على الأصيلي، وبأصل الحافظ مؤرخ الشام أبي القاسم ابن عساكر، وبأصل مسموع عن أبي الوقت، وذلك بحضرة الإمام اللغوي النحوي جمال الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن عبد الله ابن مالك الطِّائيِّ الجيِّانيِّ الشِّافعيِّ (ت672هـ) ، صاحب الألفية في النحو (3) ، وقد حرر الإمام اليونيني نسخته أحسن تحرير، وكان ابن مالك حضر المقابلة، وكان إذا مرِّ بلفظ يتراءى له أنه مخالف لقوانين العربية، قال لليونيني: هل الرواية فيه كذلك؟ فإن أجاب بأنه منها شرع ابن مالك في توجيهها حسب إمكانه، وقد طبعت هذه الطبعة في مصر.
ويلاحظ أن هذه النسخة على الرغم من جودتها، فإنها لم
--------------------------------------------
মানুষ যখন গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নিকট থেকে গ্রহণ করেছিল, তখন তারা হাদিসের মূল অংশটুকুই গ্রহণ করেছিল এবং এর সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যসমূহকে উপেক্ষা করেছিল। তারা একে ঐচ্ছিক কর্তব্যের ন্যায় মনে করেছিল, ফলে তারা যেভাবে সমীচীন মনে করেছে সেভাবেই তা বর্ণনা করেছিল। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ (১)।
ইমাম শরফুদ্দিন আল-ইউনিনি আল-হাম্বলীর পাণ্ডুলিপি:ইমাম হাফিজ (الحافظ) ও শামের হাদিস বিশারদ (محدث) শরফুদ্দিন আবু আল-হুসাইন আলি বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ঈসা আল-ইউনিনি, যিনি আল-বালি আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭০১ হিজরি) (২) নামে পরিচিত, তাঁর পাণ্ডুলিপিটি সর্বোত্তম ও অধিক নির্ভুল পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। ইমাম যাহাবি বলেন, তিনি সহীহ বুখারী অনুলিপি করেছিলেন এবং তা পরিমার্জন করেছিলেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক বছরে এটি মুকাবিলা (মূল পাঠের সাথে তুলনা) করেছিলেন এবং এগারো বার এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন। তিনি আল-জামি আস-সহীহ-এর বর্ণনা (رواية) যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করেছেন। তিনি কায়রোর মুয়িজ্জিয়া এলাকার বাব জুওয়ায়লার বাইরে সুওয়াইকাতুল ইজ্জিতে অবস্থিত মুদরাসাতু আকবুগা আস-এ ওয়াকফকৃত তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিটিকে হাফিজ (الحافظ) আবু যর আল-হারাভির নিকট শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপি, আল-আশিলির নিকট শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপি, শামের ইতিহাসবিদ হাফিজ (الحافظ) ইবনে আসাকিরের মূল পাণ্ডুলিপি এবং আবু আল-ওয়াক্তের নিকট হতে শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মুকাবিলা করেছিলেন। এটি বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদ জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়ানি আল-শাফেয়ি (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি), যিনি ব্যাকরণশাস্ত্রের আলফিয়া-এর রচয়িতা (৩), তাঁর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছিল। ইমাম ইউনিনি তাঁর পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত নিপুণভাবে পরিমার্জন করেছিলেন। ইবনে মালিক সেই মুকাবিলা বা পাঠ-যাচাইয়ের সময় উপস্থিত থাকতেন। যখনই তিনি এমন কোনো শব্দের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতেন যা তাঁর কাছে আরবি ব্যাকরণের নিয়মের পরিপন্থী বলে মনে হতো, তখন তিনি ইউনিনিকে জিজ্ঞাসা করতেন: "বর্ণনাটি (رواية) কি সেখানে এভাবেই আছে?" যদি তিনি উত্তর দিতেন যে এটি বর্ণনা (رواية) থেকেই এসেছে, তখন ইবনে মালিক তাঁর সাধ্যমতো সেটির ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করার প্রয়াস চালাতেন। এই সংস্করণটি মিশরে মুদ্রিত হয়েছে।
লক্ষ্য করা যায় যে, এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত উন্নতমানের হওয়া সত্ত্বেও এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تستوعب بقية الروايات الأخرى، وبالتالي فإنها لا يمكن أن تُغني عن ملاحظات وتوجيهات الإمام ابن حجر في ((فتح الباري)) ، والتي تطرقت إلى الروايات المختلفة، وأوهام الرواة (1) .
نُسخ الجامع الصحيح المطبوعة (2) :
قال الأستاذ عبد الغني عبد الخالق - رحمه الله تعالى -:
1 - طبع في 3 أجزاء بليدن: سنة 1862م، باعتناء المستشرق كرهل (3) ، وطبع جزء منه في بطرسبرج، سنة 1876م.
2 - وطبع بالهند في 8 أجزاء: في بومباي، وفي جزأين بدلهي سنة 1270هـ.
3- وطبع في 8 أجزاء (بالشكل) في الآستانة - سنة 1325هـ - على النسخة التي اعتمدها القسطلاني.
4- وطبع بالقاهرة في 10 أجزاء (بهامشه شرح العدوي) ، وببولاق في 3 أجزاء: سنة 1280 و 1289، وفي جزأين: 1289هـ (على ما في معجم سركيس 535) ، وفي 3 مجلدات: 1310 (على ما في فهرس الأزهر) ، وفي 4 أجزاء بالأزهرية (حجر) : 1282، وبولاق: 1286، 1289 (بعض الهوامش) ، وبهامشه حاشية السندي مع تقريرات القسطلاني وشيخ الإسلام: بالمليجية 1286، والأزهرية 1299هـ، والبهية، والخيرية، والشرقية، والتقدم العلمية 1304، وغيرها، والميمنية 1306، وغيرها، والعثمانية 1312 و 1318،
--------------------------------------------
অন্যান্য অবশিষ্ট বর্ণনাগুলোকে (روايات) এটি অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এটি ইমাম ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারি'-তে বর্ণিত পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাবলির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না, যাতে বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) বিভ্রম (أوهام) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে (১)।
আল-জামি আস-সহীহ-এর মুদ্রিত সংস্করণসমূহ (نسخ) (২):উস্তাদ আব্দুল গনি আব্দুল খালিক -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- বলেছেন:
১ - ১৮৬২ সালে লিডেনে ৩ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, প্রাচ্যবিদ ক্রেলের তত্ত্বাবধানে (৩), এবং এর একাংশ ১৮৭৬ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে মুদ্রিত হয়েছে।
২ - এবং ভারতে ৮ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে: বোম্বেতে, এবং ১২৭০ হিজরিতে দিল্লিতে ২ খণ্ডে।
৩- এবং ১৩২৫ হিজরিতে ইস্তাম্বুলে ৮ খণ্ডে (হরকতসহ) মুদ্রিত হয়েছে—কাসতালানি যে পাণ্ডুলিপির (نسخة) ওপর নির্ভর করেছেন তার ভিত্তিতে।
৪- এবং কায়রোতে ১০ খণ্ডে (এর পার্শ্বটীকায় আদাওয়ীর ব্যাখ্যাসহ) মুদ্রিত হয়েছে; এবং বুলাকে ৩ খণ্ডে: ১২৮০ ও ১২৮৯ সালে; এবং ২ খণ্ডে: ১২৮৯ হিজরিতে (সারকিসের মুজাম, পৃষ্ঠা ৫৩৫-এর তথ্যমতে); এবং ৩ খণ্ডে: ১৩১০ সালে (আজহারের তালিকার তথ্যমতে); এবং আল-আজহারিয়া থেকে ৪ খণ্ডে (লিথোগ্রাফ): ১২৮২ সালে; এবং বুলাকে: ১২৮৬ ও ১২৮৯ সালে (কিছু পার্শ্বটীকাসহ); আর এর হাশিয়ায় বা পার্শ্বটীকায় (حاشية) কাসতালানি ও শায়খুল ইসলামের সিদ্ধান্তসহ সিন্ধির টীকা (حاشية) সংযুক্ত হয়েছে: মালিজিয়াতে ১২৮৬ সালে, আল-আজহারিয়াতে ১২৯৯ হিজরিতে, এবং বাহিয়্যাহ, খাইরিয়্যাহ, শারকিয়্যাহ, তাক্কাদুম আল-ইলমিয়্যাহ ১৩০৪ সালে এবং অন্যান্য স্থানে; আর মায়মানিয়্যাহতে ১৩০৬ সালে ও অন্যান্য সময়ে এবং উসমানিয়্যাহতে ১৩১২ ও ১৩১৮ সালে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومطبعة مصطفى الحلبيّ 1327هـ، وغيرها، وفي 8 أجزاء (مشكولة) : ببولاق سنة 1296، والأزهرية 1299، والخيرية 1322.
5- وفي سنة 1311هـ، أصدر السلطان عبد الحميد الثاني رحمه الله تعالى أمره بطبع صحيح البخاري، على أن يعتمد في تصحيحه على النسخة اليونينية - المعول عليها عند المتأخرين في جميع رواياته - وعلى نُسخ أخرى: عرفت بالصحة، واشتهرت بالضبط.
فطبع في بولاق (1311-1312هـ) بالشكل الكامل، وبهامشه تقييدات بفروق تلك النسخ، وقد قام بتصحيحها الشيخ علي المكاوي مع كبار مصححي المطبعة الأميرية، وبعد الفراغ من طبعها، صدر أمر بعرضها على الشيخ حسونة النواوي شيخ الأزهر، للنظر في صحتها، والتثبت من سلامتها، فجمع 16 أو 18 من العلماء المحققين، فقرءوها في عدة مجالس، وقيدوا - في جدول منظم - ما عثروا عليه: من التصحيف والغلط، وطبع هذا الجدول وأُلحق بالنسخ (1) .
غير أنه قد فاتتهم أشياء. عَثَرَ عليها من بعد الشيخ محمد المكاوي في قراءات خاصة به مستقلة، فقيدها وبين أغاليط كلّ جزء على حدة، ثم هذّب بنفسه مستدركه ونقحه، وطبعت منه نسخ زهاء نسخ الكتاب المطبوعة.
ولم نقف على المطبوع من هذا المستدرك، بل وقفنا على صورة شمسية أخذت عن النسخة الخطية المحفوظة بدار الكتب المصرية، برقم: 1532 حديث، وتحت عنوان ((جدول الخطأ والصواب)) ، فوجدناه مشتملاً على 289 مأخذاً، أكثرها مكرر، ومعظمها - إن لم يكن كلها - راجع إلى اختلافات في الشكل أو في الرسم الذي توبع فيه
--------------------------------------------
এবং মুস্তফা আল-হালাবি মুদ্রণালয় ১৩২৭ হিজরি ও অন্যান্য, এবং ৮ খণ্ডে (স্বরচিহ্নযুক্ত/مشكولة): বুলাক ১২৯৬ সালে, আজহারিয়া ১২৯৯ সালে এবং খাইরিয়া ১৩২২ সালে।
৫- এবং ১৩১১ হিজরিতে সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ (রহিমাহুল্লাহ তা'আলা) সহীহ বুখারী মুদ্রণের নির্দেশ জারি করেন, এই শর্তে যে এর পাঠ সংশোধনের (تصحيح) ক্ষেত্রে ইউনিনিয়া পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করতে হবে—যা পরবর্তীকালের (متأخرون) পণ্ডিতদের নিকট এর সকল বর্ণনার (روايات) জন্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি—এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির ওপর: যা এর বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য পরিচিত এবং যথাযথ সংরক্ষণের (ضبط) জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।
ফলে এটি বুলাক থেকে (১৩১১-১৩১২ হিজরি) পূর্ণাঙ্গ স্বরচিহ্নসহ মুদ্রিত হয় এবং এর টীকায় উক্ত পাণ্ডুলিপিসমূহের পাঠভেদের নোট প্রদান করা হয়। শাইখ আলী আল-মাক্কাওয়ী আমিরিয়া মুদ্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় সংশোধকদের সাথে এটি সংশোধন (تصحيح) করেন। মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর, এর বিশুদ্ধতা (صحة) পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য এটি শাইখুল আজহার শাইখ হাসুনা আন-নাওয়াওয়ীর নিকট উপস্থাপনের আদেশ দেওয়া হয়। অতঃপর তিনি ১৬ বা ১৮ জন গবেষক (محققون) আলেমকে একত্রিত করেন, যারা বিভিন্ন মজলিসে এটি পাঠ করেন এবং একটি সুশৃঙ্খল তালিকায় তাদের প্রাপ্ত ভুলগুলো লিপিবদ্ধ করেন: বর্ণগত বিভ্রাট (تصحيف) এবং ভুল-ভ্রান্তি (غلط) থেকে। এই তালিকাটি মুদ্রিত হয়েছিল এবং কপির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল (১)।
তবে কিছু বিষয় তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে শাইখ মুহাম্মদ আল-মাক্কাওয়ী তাঁর নিজস্ব স্বতন্ত্র পাঠের মাধ্যমে তা খুঁজে পান। তিনি তা লিপিবদ্ধ করেন এবং প্রতিটি খণ্ডের ভুলগুলো পৃথকভাবে বর্ণনা করেন। এরপর তিনি নিজেই তাঁর সংযোজনীটি (مستدرك) পরিমার্জন ও সংশোধন করেন। এর কপিগুলো মূল গ্রন্থের মুদ্রিত কপির সমপরিমাণেই ছাপা হয়েছিল।
আমরা এই সংযোজনীর (مستدرك) মুদ্রিত কপিটি পাইনি, বরং মিশরের দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) থেকে তোলা একটি ফটোকপি পেয়েছি, যার নম্বর: ১৫৩২ হাদিস, এবং শিরোনাম হলো "শুদ্ধ ও অশুদ্ধের তালিকা" (জাদওয়ালুল খাতা ওয়াস সাওয়াব)। আমরা এতে ২৮৯টি পর্যবেক্ষণ (مآخذ) পেয়েছি, যার বেশিরভাগই পুনরাবৃত্তি এবং অধিকাংশ—সবগুলো না হলেও—স্বরচিহ্ন (شكل) বা লিখনরীতির (رسم) পার্থক্যের সাথে সম্পর্কিত যা সেখানে অনুসরণ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رسم المصحف، أو في تسهيل بعض الهمزات أو قطعها ووصلها، أو في بعض أسماء اختلف في ضبطها أو صرفها، أو في بعض أرقام صفحات المطبوعة: - مما لا يخلو كتاب أصلاً منه، وعلى كلّ فهو مفيد في الجملة.
وقد صدرت أجزاء الطبعة المذكورة، بالنص التالي: ((قد وجدنا في النسخ الصحيحة المعتمدة - التي صححنا عليها هذا المطبوع - رموزاً لأسماء الرواة، منها (5) لأبي ذرِّ، و (ص) للأصيلي، و (س) أو (ش) لابن عساكر، و (ط) لأبي الوقت، و (هـ) للكشميهنيّ، و (حـ) للحمويّ، و (سـ) للمستمليّ، و (ك) لكريمة، و (حهـ) لاجتماع الحموي والكشميهني، و (حسـ) للحموي والمستملي
… الخ (1) .
وقد
أعاد طباعة النسخة ((السلطانية)) الشيخ أحمد شاكر رحمه الله (2) ، وكتب مقدمة عرَّف بها بالنسخة اليونينية، وبما فيها من مزايا وعرَّف بالحافظ ((اليونيني)) الذي اشتهرت النسخة بنسبتها إليه.
ويتحدث الشيخ أحمد شاكر عن ملاحظاته على النسخة السلطانية فيقول: ثم بعد ذلك بسنين في صفر سنة 1316هـ وقع لي النصف الثاني من نسخة من فروع ((اليونينية)) في مجلد واحد متوسط الحجم، وهو قريب العهد ليس بعتيق، تمت كتابته سنة 1215هـ كتبه السيد الحاج محمد الملقب بالصابر العنتابي، ويظهر لي من كتابته أنه كان رجلاً أميناً متقناً متحرياً، لم يدع شيئاً - فيما يبدو لي - مما في أصل اليونينية إلا أثبته بدقة تامة، من ضبط واختلاف نسخ وهوامش علمية،
--------------------------------------------
মুসহাফের লিপিশৈলী (رسم المصحف), কিংবা কিছু হামজাকে সহজ করা (تسهيل), পৃথক করা (قطع) বা যুক্ত করা (وصل), অথবা এমন কিছু নামের ক্ষেত্রে যার সঠিক উচ্চারণ (ضبط) বা ব্যাকরণিক রূপান্তর (صرف) নিয়ে মতভেদ রয়েছে, অথবা মুদ্রিত কপির কিছু পৃষ্ঠা নম্বরের ক্ষেত্রে—এমন কোনো কিতাব নেই যা মূলত এগুলো থেকে মুক্ত থাকে; তবে মোটের ওপর এটি অত্যন্ত উপকারী।
উল্লেখিত মুদ্রণের খণ্ডগুলো নিম্নোক্ত পাঠসহ প্রকাশিত হয়েছে: "আমরা নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) ও বিশুদ্ধ (الصحيحة) পাণ্ডুলিপিগুলোতে—যার ভিত্তিতে আমরা এই মুদ্রিত কপিটি সংশোধন করেছি—বর্ণনাকারীদের (الرواة) নামের কিছু প্রতীক পেয়েছি। যেমন: আবু যর-এর জন্য (৫), আসীলির জন্য (ص), ইবনে আসাকিরের জন্য (س) বা (ش), আবু ওয়াকতের জন্য (ط), কুশমিহানির জন্য (هـ), হামউয়ির জন্য (حـ), মুস্তামলির জন্য (سـ), কারিমার জন্য (ك), হামউয়ি ও কুশমিহানির একত্রে উপস্থিতির জন্য (حهـ), এবং হামউয়ি ও মুস্তামলির জন্য (حسـ)
... ইত্যাদি (১)।
শেখ আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) 'সুলতানিয়্যাহ' সংস্করণটি পুনরায় মুদ্রণ করেছেন (২), এবং তিনি একটি ভূমিকা লিখেছেন যাতে 'ইউনিনিয়্যাহ' সংস্করণ ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি হাফিজ (الحافظ) 'ইউনিনি' সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন, যার সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণেই সংস্করণটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
শেখ আহমদ শাকির সুলতানিয়্যাহ সংস্করণ সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন: এর কয়েক বছর পর ১৩১৬ হিজরির সফর মাসে আমার হস্তগত হয় 'ইউনিনিয়্যাহ'র একটি শাখার পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয়ার্ধ, যা মাঝারি আকারের একটি খণ্ডে ছিল। এটি খুব বেশি প্রাচীন নয়, বরং নিকটবর্তী সময়ের; ১২১৫ হিজরিতে এটি লেখা সম্পন্ন হয়। এটি লিখেছেন সাইয়্যেদ হাজি মুহাম্মদ, যিনি আস-সাবির আল-আন্তাবি নামে পরিচিত। তাঁর লেখা দেখে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি একজন আমানতদার (أميناً), সুনিপুণ (متقناً) এবং সতর্ক অনুসন্ধানী (متحرياً) ব্যক্তি ছিলেন। আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, তিনি ইউনিনিয়্যাহর মূল কপিতে থাকা শব্দবিন্যাস (ضبط), পাণ্ডুলিপিভেদে পার্থক্য এবং ইলমি টীকাগুলোর কোনো কিছুই বাদ দেননি, বরং পূর্ণ সূক্ষ্মতার সাথে তা লিপিবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াত ওয়া নুসাখুল জামিয়িল সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد أظهر لي هذا المجلد على أن النسخة السلطانية لم يثبت طابعوها كل ما أثبت من التعليقات على هامش ((اليونينية)) ، بل تركوا أكثرها، ولم يذكروا إلا أقلها، بل وجدت فيه أشياء أثبتها لم يذكرها القسطلاني في شرحه (1) .
قلت: ولم يذكر الشيخ أحمد شاكر رحمه الله أنه استفاد من هذه ((النسخة)) في طبعته!
أما
الطبعة التي كتب مقدمتها العلمية الشيخ عبد الغني رحمه الله وكُتِب عليها أنها من تحقيق محمود النواوي، ومحمد أبو الفضل إبراهيم، ومحمد خفاجي وذكر أنها أحدث طبعات ((الجامع الصحيح)) وأحسنها تنسيقاً، فقد تحدث رحمه الله عن مجمل عمل الجماعة المذكورين فيها، وبتأمل كلامه نلاحظ مواطن الخلل في هذه الطبعة، وتصرف المحققين خلاف ما يقتضيه المنهج العلمي السديد، يقول رحمه الله:
1 - عولوا في نشر نصها وتحقيقه على النسخة ((السلطانية)) ، ونسخة السادة مصطفى الحلبي المأخوذة عنها، والنسخة المنيرية.
2 - أنهم لم يلتزموا في نشر هذه النسخة موافقة صفحات ((السلطانية)) ولا إثبات كل الفروق المذكورة بهامشها.
3 - وقد لاحظوا أن بعض العناوين العامة الأساسية وردت بلفظ (باب كذا
… ) في بعض النسخ، وفي غيرها بلفظ (كتاب كذا
… ) ، فأخذوا بالرأي الذي وافق بعض الروايات أولاً واتفق مع ترجمة ((صاحب الفتح)) ، أو ((العيني)) ، أو كُتب بعض الفقهاء ثانياً.
--------------------------------------------
এই খণ্ডটি আমার নিকট স্পষ্ট করেছে যে, সুলতানিয়া সংস্করণের (النسخة السلطانية) মুদ্রণকারীগণ ইউনিনিয়্যাহ (اليونينية) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় লিপিবদ্ধ সকল মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং তারা এর অধিকাংশ বর্জন করেছেন এবং অতি সামান্যই উল্লেখ করেছেন। এমনকি আমি এতে এমন কিছু বিষয় পেয়েছি যা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন কিন্তু কাসতালানি তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেননি (১)।
আমি বলছি: শেখ আহমাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেননি যে তিনি তার মুদ্রণে এই পাণ্ডুলিপি (النسخة) থেকে উপকৃত হয়েছেন!
আর যে
সংস্করণটির তাত্ত্বিক ভূমিকা শেখ আব্দুল গনি (রাহিমাহুল্লাহ) লিখেছেন এবং যার ওপর লিখিত হয়েছে যে এটি মাহমুদ আন-নাওয়াবি, মুহাম্মদ আবু আল-ফজল ইবরাহিম ও মুহাম্মদ খাফাজির তাহকিককৃত (تحقيق), এবং যেটিকে 'আল-জামি আস-সহিহ' এর আধুনিকতম ও বিন্যাসের দিক থেকে সর্বোত্তম সংস্করণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; সেখানে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত ব্যক্তিবর্গের কাজের সারসংক্ষেপ আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্যসমূহ গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা এই সংস্করণের ত্রুটিপূর্ণ স্থানসমূহ এবং সঠিক ইলমি মানদণ্ডের পরিপন্থী মুহাক্কিকগণের হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
১ - তারা এর মূল পাঠ (نص) প্রকাশ ও তাহকিকের (تحقيق) ক্ষেত্রে সুলতানিয়া সংস্করণ (السلطانية), তা থেকে গৃহীত মুস্তফা আল-হালাবি সংস্করণ এবং মুনিরিয়্যাহ সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছেন।
২ - তারা এই সংস্করণটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সুলতানিয়া সংস্করণের (السلطانية) পৃষ্ঠা বিন্যাস অনুসরণ করার কিংবা এর পার্শ্বটীকায় উল্লিখিত সকল পাঠভেদ (فروق) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেননি।
৩ - তারা লক্ষ্য করেছেন যে, কিছু মৌলিক সাধারণ শিরোনাম কিছু সংস্করণে 'অমুক বাব' (অধ্যায়) শব্দে এসেছে এবং অন্যান্য সংস্করণে 'অমুক কিতাব' শব্দে এসেছে। ফলে তারা প্রথমে এমন মত গ্রহণ করেছেন যা কিছু বর্ণনার (روايات) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্বিতীয়ত যা ফাতহুল বারীর লেখক অথবা আইনি-র অধ্যায় শিরোনামের (ترجمة) সাথে কিংবা কিছু ফকিহগণের কিতাবের সাথে মিল রয়েছে।
--------------------------------------------