(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: -)
مفيد الأنام ونور الظلام في تحرير الأحكام لحج بيت الله الحرام   (عبد الله بن جاسر)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مفيد الأنام ونور الظلام في تحرير الأحكام لحج بيت الله الحرام

المؤلف: عبد الله بن عبد الرحمن بن جاسر النجدي التميمي الوهيبي الأشيقري ثم المكي السلفي (ت 1401هـ)

الناشر: مكتبة النهضة المصرية، القاهرة

الطبعة: الثانية، 1389 هـ - 1969 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মানবজাতির জন্য উপকারী এবং অন্ধকারের আলো আল্লাহর ঘরের হজের বিধানাবলি নির্ধারণে   (আব্দুল্লাহ ইবনে জাসির)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


কিতাব: মানবজাতির জন্য উপকারী এবং অন্ধকারের আলো আল্লাহর ঘরের হজের বিধানাবলি নির্ধারণে

লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসির আন-নাজদি আত-তামিমি আল-উহাইবি আল-উশাইকিরি অতঃপর আল-মাক্কি আস-সালাফি (মৃত্যু ১৪০১ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাত আন-নাহদাহ আল-মিসরিয়্যাহ، কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৮৯ হিজরি - ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

اسم الكتاب:

مفيد الأنام ونور الظلام في تحرير الأحكام لحج بيت الله الحرام.

تأليف الشيخ: عبد الله بن عبد الرحمن بن جاسر النجدي التميمي الوهيبي الأشيقري ثم المكي السلفي عفا الله عنه ونفع بعلومه آمين.

الجزء الأول، الطبعة الثالثة.

الرياض 1412 هـ، الموافق 1992 م.

طبع على نفقة صاحب السمو الملكي الأمير عبد الله بن عبد العزيز آل سعود، أجزل الله مثوبته.

ْْْْْْْْْْْ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গ্রন্থের নাম:

আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ্জের বিধানাবলী সুনির্ধারণে সৃষ্টিজগতের কল্যাণ এবং অন্ধকারের জ্যোতি।

সংকলন করেছেন শায়খ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসির আন-নাজদী আত-তামিমী আল-উহাইবী আল-উশাইকিরী অতঃপর আল-মাক্কী আস-সালাফী, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা উপকৃত করুন, আমীন।

প্রথম খণ্ড, তৃতীয় সংস্করণ।

রিয়াদ ১৪১২ হিজরী, মোতাবেক ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ।

হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের অর্থায়নে মুদ্রিত, আল্লাহ তাঁর প্রতিদান বৃদ্ধি করুন।

(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

-‌‌ ترجمة المؤلف:

- نسبه:

هو الشيخ العلامة عبد الله بن عبد الرحمن بن جاسر بن محمد بن عثمان بن عبد الله بن محمد بن أحمد بن بجاد ينتهي نسبه إلى بسام بن عقبة من آل راجح من أوهبة تميم.

- مولده:

ولد هذا العالم الجليل في بلد أشيقر (من أعمال الوشم) في شهر محرم سنة 1323 هـ، ورباه والده أحسن تربية ولما بلغ من العمر سبع سنين جعله عند مقرئ يسمى عبد الرحمن بن موسى يعلمه القرآن الكريم ولما بلغ من العمر أربع عشرة سنة حفظ القرآن المجيد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

-‌‌ লেখকের জীবনী:

- তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শাইখ আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে জাসির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে বিজাদ। তাঁর বংশপরম্পরা তামীম গোত্রের আওহাবা শাখার আল রাজেহ পরিবারের বাসসাম ইবনে উকবাহ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।

- তাঁর জন্ম:

এই মহান আলেম ১৩২৩ হিজরি সনের মহররম মাসে উশাইকির (ওয়াশম অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁকে সর্বোত্তমভাবে লালন-পালন করেন। যখন তাঁর বয়স সাত বছর হলো, তখন তাঁর পিতা তাঁকে আব্দুর রহমান ইবনে মুসা নামক একজন ক্বারীর নিকট পবিত্র কুরআন শেখার জন্য পাঠান। চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: -)
- مشايخه:

ثم اشتغل بطلب العلم لدى شيخه إبراهيم بن صالح بن عيسى من بلد أشيقر ولازمه ملازمة تامة وكان ابتداء طلبه العلم لدى شيخه إبراهيم المذكور سنة 1336 هـ، ولا زال يقرأ عليه في كثير من الفنون قراءة بحث وتحقيق إلى سنة 1342 هـ، ومن الكتب التي قرأها على شيخه في أول الطلب (مجموعة التوحيد) ثم بعد إكمالها قرأ عليه فتح المجيد ثم شرح الدليل وشرح الزاد وشرح الشينشوري مع حاشية إبراهيم الباجوري في الفرائض كرره قراءة على شيخه عشر مرات تقريباً وفي اللغة العربية شرح الشيخ خالد على الأجرومية ثم متممة الأجروية وشرحيهما للأهدل والفاكهي، ثم شرح القطر ثم قرأ عليه شرح المنتهى للشيخ منصور البهوتي قراءة بحث وتحقيق وتفهم وتدقيق وأكمل دراسته عليه مرتين وعلق رحمه الله على شرح المنتهى على نسخته الخطية أثناء الدرس والمطالعة حاشية حافلة تحتوي على فوائد نفسية ومباحث غزيرة وهي باقية حتى الآن لم تجرد ولو جردت لجاءت في مجلدين وليتها تجرد لأن الكتابة قد استغرقت جميع مواضع البياض ويخشى من انقطاع أطراف الورق فتذهب الفائدة بفقدان بعض الكلمات.

وقرأ على شيخه في العروض كتاب الجدول الصافي في علمي العروض والقوافي وقرأ عليه الجزرية وشروحها لابن المصنف والشيخ زكريا الأنصاري وغيرهما وقرأ عليه أطرفاً من الكتب الستة وتفسير القرآن العظيم وغير ذلك من الفنون وقد أجازه بسنده للرواية عنه وبعد رحيل شيخه إبراهيم إلى عنيزة رحل إلى مكة فاستوطنها سكناً له وقرأ على علماء الحرم المكي ولازمهم وتضلع في العلم فكان فقيهاً لا يجاري وقد وهبه الله فهما ثاقباً وقوة في الحفظ وفراسة في الأحكام، ومن العلماء الذين درسوه الشيخ سعد وقاص البخاري من علماء مكة المكرمة.
তাঁর শিক্ষকগণ:

অতঃপর তিনি তাঁর শায়খ ইবরাহীম বিন সলিহ বিন ঈসার নিকট ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন, যিনি উশায়কির শহরের অধিবাসী ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট পূর্ণভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করেন। উক্ত শায়খ ইবরাহীমের নিকট তাঁর ইলম অন্বেষণের সূচনা হয়েছিল ১৩৩৬ হিজরী সালে এবং ১৩৪২ হিজরী সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর নিকট অনেক শাস্ত্রে গবেষণা ও তাহকীকী পদ্ধতিতে পাঠ গ্রহণ চালিয়ে যান। ছাত্রজীবনের শুরুতে শায়খের নিকট তিনি যে কিতাবগুলো পড়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো 'মাজমুআতুত তাওহীদ'। তা সম্পন্ন করার পর তিনি তাঁর নিকট 'ফাতহুল মাজীদ', অতঃপর 'শারহুদ দালীল', 'শারহুয যাদ' এবং ফারায়িয শাস্ত্রে ইবরাহীম আল-বাজুরীর হাশিয়াসহ 'শারহুশ শিনশূরী' পাঠ করেন; এটি তিনি তাঁর শায়খের নিকট প্রায় দশবার পুনরাবৃত্তি করে পাঠ করেছিলেন। আর আরবি ভাষা শাস্ত্রে তিনি আযরূমিয়্যাহর ওপর শায়খ খালিদের শারহ, অতঃপর মুতাম্মিমাতুল আযরূমিয়্যাহ এবং আল-আহদাল ও আল-ফাকীহী রচিত এগুলোর দুটি শারহ এবং শারহুল ক্বতর পাঠ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট শায়খ মানসুর আল-বাহূতী রচিত 'শারহুল মুনতাহা' গবেষণা, তাহকীক, উপলব্ধি ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার সাথে পাঠ করেন এবং তাঁর নিকট দুবার এর অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। রহিমাহুল্লাহ দরস ও মুতালাআ চলাকালীন শারহুল মুনতাহার নিজ পাণ্ডুলিপিতে একটি সমৃদ্ধ হাশিয়া (টীকা) যুক্ত করেন, যা মূল্যবান ফায়দা এবং প্রচুর তাত্ত্বিক আলোচনায় পরিপূর্ণ। এটি এখন পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে, পৃথকভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি। যদি এটি বিন্যস্ত করা হতো, তবে তা দুই খণ্ডে সমাপ্ত হতো। হায়, যদি এটি বিন্যস্ত করা যেত! কারণ লেখাগুলো পৃষ্ঠার সমস্ত সাদা অংশ জুড়ে রয়েছে এবং কাগজের কিনারাগুলো ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে কিছু শব্দ হারিয়ে গিয়ে এর ফায়দা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তিনি তাঁর শায়খের নিকট ছন্দশাস্ত্রে 'আল-জাদওয়াল আস-সাফী ফী ইলমাই আল-আরূয ওয়াল-কাওয়াফী' কিতাবটি পাঠ করেন এবং তাঁর নিকট জাযারিয়্যাহ এবং ইবনুল মুসান্নিফ ও শায়খ যাকারিয়া আল-আনসারী প্রমুখের রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর নিকট কুতুবে সিত্তাহর কিছু অংশ, তাফসীরে কুরআনুল আযীম এবং অন্যান্য শাস্ত্র পাঠ করেন। শায়খ তাঁকে নিজের সনদে তাঁর থেকে বর্ণনার ইজাযত প্রদান করেন। তাঁর শায়খ ইবরাহীম উনায়যাতে চলে যাওয়ার পর তিনি মক্কায় সফর করেন এবং সেখানে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। তিনি মক্কার হারাম শরীফের আলেমদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন ও তাঁদের সান্নিধ্যে থাকেন এবং ইলমে গভীরতা অর্জন করেন। ফলে তিনি এমন এক ফকীহতে পরিণত হন যাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। আল্লাহ তাঁকে প্রখর মেধা, শক্তিশালী মুখস্থ শক্তি এবং বিধানাবলির ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা দান করেছিলেন। মক্কার আলেমদের মধ্যে যাঁরা তাঁকে শিক্ষাদান করেছেন তাঁদের অন্যতম হলেন মক্কার আলেম শায়খ সা'দ ওয়াক্কাস আল-বুখারী।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: -)
ومن مشايخه العالم العلامة البحر الفهامة السلفي الشيخ محمد الطيب الأنصاري المدني رحمه الله فقرأ عليه قراءة بحث وتحقيق وقد خصص له مجلساً للقراءة عليه وقد استفاد منه علماً كثيراً وقد أجازه جماعة من العلماء الأعلام والأجلاء الكرام منهم العلامة الشيخ أحمد بن إبراهيم بن حمد العيسى.

- أعماله:

في صفر سنة 1350 هـ، تولى القضاء في المستعجلة بمكة ثم تعين في الطائف وذلك في سنة 1355 هـ، ثم تعين في قضاء المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام وذلك سنة 1356 هـ، وأقام فيها قاضياً سبع سنين ثم صدر أمر الملك عبد العزيز رحمه الله بنقله إلى مكة في أول عام 1363 هـ، وأن يكون برئاسة القضاء عضواً وسكرتيراً ثم صدر أمر الملك عبد العزيز رحمه الله بأن يكون معاوناً لرئيس القضاة بمكة ثم مساعداً لرئيس القضاء في مكة ولما أنشئت هيئة التمييز للأحكام تعين عضواً فيها ثم رئيساً لها حتى أحيل على التقاعد لإكماله السن النظامية في 1-7-93 هـ، بموجب القرار رقم 2697 في 25-6-93 هـ، فتجرد للعبادة ونفع الخلق الكثير وكان آية في مكارم الأخلاق، توفى رحمه الله في 10-2-1401 هـ، له من الأبناء عبد العزيز وإبراهيم.
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন প্রথিতযশা আলেম, জ্ঞানের অতল সমুদ্র, বিচক্ষণ ও সালাফি শায়খ মুহাম্মদ আত-তাইয়িব আল-আনসারী আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর নিকট অত্যন্ত গভীর গবেষণা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করেছেন। শায়খ তাঁর জন্য পাঠদানের একটি বিশেষ মজলিস নির্দিষ্ট করেছিলেন এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও প্রখ্যাত ও সম্মানিত একদল আলেম তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল্লামা শায়খ আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হামাদ আল-ঈসা।

- তাঁর কর্মজীবন:

১৩৫০ হিজরি সনের সফর মাসে তিনি মক্কার মুসতাজিলা (সংক্ষিপ্ত বিচার বিভাগীয়) আদালতে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ১৩৫৫ হিজরিতে তিনি তায়েফে নিযুক্ত হন। অতঃপর ১৩৫৬ হিজরিতে তিনি মদিনাতুল মুনাওয়ারায়—যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সেখানে তিনি সাত বছর বিচারক হিসেবে অবস্থান করেন। এরপর ১৩৬৩ হিজরি সনের শুরুতে বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে তাঁকে মক্কায় স্থানান্তরের আদেশ জারি করা হয় এবং তাঁকে বিচার বিভাগীয় প্রধান কার্যালয়ের সদস্য ও সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরপর বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে তাঁকে মক্কার প্রধান বিচারপতির সহকারী এবং পরবর্তীতে মক্কার বিচার বিভাগীয় প্রধানের সহযোগী হিসেবে নিয়োগের আদেশ জারি হয়। যখন রায় পর্যালোচনার জন্য 'হাইআতুত তামিয' (আপিল বোর্ড) গঠিত হয়, তখন তিনি এর সদস্য এবং পরবর্তীতে এর প্রধান নিযুক্ত হন। অবশেষে নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ায় ১৩৯৩ হিজরি সনের ২৫-৬-৯৩ তারিখে জারিকৃত ২৬৯৭ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১-৭-৯৩ হিজরি তারিখে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ইবাদত-বন্দেগি এবং মানুষের প্রভূত উপকারে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি সচ্চরিত্রের এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন। তিনি ১৪০১ হিজরি সনের ১০-২ তারিখে ইন্তেকাল করেন (রাহিমাহুল্লাহ)। তাঁর সন্তানদের মধ্যে আব্দুল আজিজ ও ইবরাহিম রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: -)
- مؤلفاته:

لشيخنا من المؤلفات (كتاب مفيد الأنام ونور الظلام في تحرير الأحكام لحج بيت الله الحرام، وهو هذا، وحاشيته على المنتهى وشرحها علقها أثناء الدرس وفي أوقات المطالعة وهي باقية على الهامش لم تجرد وقد تقدم ذكرها، وله فوائد في الفقه الحنبلي لا تقل عن ستة كراريس وله رسالة سماها تنبيه النبيه والغبي فيما التبس على الشيخ المغربي ألفها في المدينة المنورة في آخر شعبان سنة 1358 هـ، رد فيها على شيخ مغربي أنكر تكليم الله لموسى وزعم أن جبريل أظهر لموسى كلام الله من اللوح المحفوظ وهذا اعتقاد مبدع خلاف ما عليه أهل السنة والجماعة من أن الله جل وعلا كلم موسى حقيقة بكلام سمعه موسى من الله تقدس وعلا وتتضمن الرسالة سماع جبريل عليه السلام القرآن الكريم من رب العزة والجلال والإكرام وأن الله يتكلم إذا شاء بصوت. ولشيخنا رسالة في وجوب السمع والطاعة لولي أمر المسلمين وإن جار ما لم يأمر بمعصية ألفها في بلد شقراء في 25-8-1347 هـ، وألفت لمناسبة حصلت حين ذاك وهي رسالة مفيدة، وله غير ذلك من الرسائل والمسائل وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
তাঁর রচনাবলি:

আমাদের শাইখের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে (মুফিদ আল-আনাম ওয়া নূর আজ-জালাম ফি তাহরির আল-আহকাম লি-হাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম, যা এই কিতাবটি; এবং আল-মুনতাহা ও তার শারহের উপর তাঁর টীকা যা তিনি পাঠদানকালে ও অধ্যয়নের সময় লিখেছিলেন, যা কিতাবের মার্জিনে রয়ে গেছে এবং আলাদা করা হয়নি যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে; এবং হাম্বলি ফিকহ বিষয়ে তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে যা অন্তত ছয়টি পুস্তিকার সমপরিমাণ; তাঁর আরও একটি রিসালাহ রয়েছে যার নাম তিনি রেখেছেন তানবিহ আন-নাবিহ ওয়াল গাবি ফিমা উলতুবিসা আলাশ শাইখ আল-মাগরিবী, যা তিনি ১৩৫৮ হিজরীর শাবান মাসের শেষের দিকে মদিনা মুনাওয়ারায় রচনা করেন। এতে তিনি জনৈক মরক্কান শাইখের প্রতিবাদ করেছেন যিনি আল্লাহর সাথে মুসার কথা বলাকে অস্বীকার করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে জিবরীল লাওহে মাহফুজ থেকে আল্লাহর কালাম মুসাকে দেখিয়েছিলেন। এটি একটি বিদআতী আকিদাহ যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদাহর পরিপন্থী। আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ হলো, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা প্রকৃতপক্ষে মুসার সাথে কথা বলেছেন যা মুসা সরাসরি আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে শুনেছেন। এই রিসালাহটিতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম মহান রব্বুল ইজ্জতের কাছ থেকে পবিত্র কুরআন শুনেছেন এবং আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তখন আওয়াযের সাথে কথা বলেন। আমাদের শাইখের আরও একটি রিসালাহ রয়েছে মুসলিম শাসকের কথা শোনা এবং তাঁর আনুগত্য করার আবশ্যকতা সম্পর্কে, যদিও তিনি জুলুম করেন, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেন; এটি তিনি ১৩৪৭ হিজরীর ২৫-০৮ তারিখে শাকরা নামক জনপদে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে রচনা করেন এবং এটি অত্যন্ত উপকারী একটি রিসালাহ। এছাড়াও তাঁর আরও বিভিন্ন রিসালাহ ও মাসায়েল রয়েছে। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

-‌‌ خطبة الكتاب:

قال المؤلف عبد الله بن عبد الرحمن بن جاسر عفا الله عنه، الحمد لله الحي القيوم ذي الجلال والإكرام، والشكر له ذي الفضل والجود والكرم والمنن العظام، الذي هدانا للإسلام، وأسبغ علينا نعمه وألطافه الجسام، وشرع لنا فضلاً منه وتكرماً حج بيته الحرام، وجعله محلاً لتنزلات الرحمة ومحو الآثام. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الذي خص الحج بوقت محدود، وأطلق وقت العمرة في جميع العام، وفرض الحج والعمرة على كل حر مسلم مكلف مستطيع من الأنام. وأشهد أن سيدنا ونبينا محمداً عبده ورسوله وخليله وحبيبه أفضل من أحرم من ميقات ولبى ووقف بعرفة نهاراً إلى الغروب وبات بمزدلفة ومنى ورمى ونحر وحلق وطاف بالبيت الحرام، وصلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه الذين تمسكوا بسنته وسعوا كما سعى بين الصفا والمروة، ووقفوا بتلك المشاعر العظام.

أما بعد: فإن الحج من أفضل الطاعات عند رب العالمين، وأجل الأعمال الصالحة لمحو ذنوب المذنبين، وقد استعنت الله سبحانه وتعالى وألفت فيه هذا الكتاب، وسميته: (مفيد الأنام ونور الظلام في تحرير الأحكام لحج بيت الله الحرام) .

وهو يشتمل على بيان أحكام الحج وإيضاح مشكلاته، وذكر مصححاته ومفسداته وأركانه وواجباته ومسنوناته، وغير ذلك من متعلقاته، وسقت فيه بحوثاً مفيدة وفوائد فريدة لا تجدها في غيره، لا سيما في المسائل التي كثر فيها السؤال
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

-‌‌ গ্রন্থের ভূমিকা:

লেখক আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জাসির (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। এবং কৃতজ্ঞতা তাঁরই জন্য, যিনি অনুগ্রহ, দানশীলতা, বদান্যতা ও মহান নেয়ামতসমূহের মালিক। যিনি আমাদের ইসলামের দিকে পরিচালিত করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর মহান অনুগ্রহ ও দানসমূহ পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সম্মানস্বরূপ আমাদের জন্য তাঁর পবিত্র ঘরের হজকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং ইহাকে রহমত নাজিলের ও পাপসমূহ মোচনের স্থান বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি হজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন, পুরো বছরের জন্য উমরার সময়কে উন্মুক্ত রেখেছেন এবং সৃষ্টির মধ্য থেকে প্রত্যেক স্বাধীন, মুসলিম, শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ও সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর হজ ও উমরাকে ফরজ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ তাঁর বান্দা, রাসুল, বন্ধু ও প্রিয়পাত্র; যিনি মিকাত থেকে ইহরাম গ্রহণকারী, তালবিয়া পাঠকারী এবং দিনের বেলা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থানকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এবং যিনি মুজদালিফা ও মিনায় রাত যাপন করেছেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন, কোরবানি করেছেন, মাথা মুণ্ডন করেছেন এবং পবিত্র ঘর তাওয়াফ করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যারা তাঁর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করেছেন যেমন তিনি সায়ী করেছিলেন এবং সেই মহান পবিত্র স্থানগুলোতে অবস্থান করেছেন।

অতঃপর: নিশ্চয় হজ রাব্বুল আলামীনের নিকট অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং গোনাহগারদের পাপ মোচনের জন্য সর্বাপেক্ষা মহান নেক আমল। আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এ বিষয়ে এই বইটি রচনা করেছি, যার নাম দিয়েছি: (মুফিদুল আনাম ওয়া নুরুজ জালাম ফি তাহরীরিল আহকাম লি হাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম)।

এটি হজের বিধানসমূহের বর্ণনা, এর জটিল বিষয়গুলোর স্পষ্টীকরণ এবং হজ সহিহ হওয়ার বিষয়াবলি, নষ্ট হওয়ার কারণসমূহ, এর রোকনসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, সুন্নতসমূহ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলি উল্লেখ করার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এতে এমন কিছু উপকারী আলোচনা ও অনন্য তথ্য সন্নিবেশিত করেছি যা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না, বিশেষ করে সেইসব মাসআলার ক্ষেত্রে যেগুলোর ব্যাপারে অধিক হারে প্রশ্ন করা হয়।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ২)
والاستشكال في مواسم الحج، مثل مسألة ما إذا طاف المتمتع وسعى لعمرته ثم أحرم بالحج قبل الحلق أو التقصير هل يصح حجه أم لا؟ ومثل مسألة المتمتع هل يكفيه لعمرته وحجه سعى واحد بين الصفا والمروة أم لا بد من سعين واحد للعمرة والآخر للحج؟ وسقت الأحاديث الصحيحة في ذلك، ومثل مسألة رمى الجمار الثلاث لنفسه ومستنيبه أو موليه، ومثل مسألة منع أخذ الشعر والظفر عند الإحرام إذا كان في عشر ذي الحجة ومن نيته أن يضحي أو يضحى عنه، ووجوب أخذ ذلك عند إتمام عمرته، وبيان الفرق بينهما، وغير ذلك من البحوث المفيدة، وتكلمت في الغالب على بعض الأحاديث التي أوردها الفقهاء في المناسك والزيارة وهي غير صحيحة ولا حسنة، كما أني أرجح من الروايات والأقوال ما يوافق الدليل وإن خالف الصحيح من المذهب، مثل قول صاحب المنتهى والإقناع وغيرهما: إنه إذا أتى على رمي جمرة العقبة يستقبل القبلة مع أن الصحيح الذي تدل عليه السنة أنه يجعل مكة عن يساره ومنى عن يمينه وغير ذلك، وقد تعرضت في بعض المسائل لذكر الخلاف بين الأئمة لاسيما في فصل: ولا يجوز لمن أراد دخول مكة أو الحرم أو نسكاً تجاوز الميقات بغير إحرام؛ وفي باب الإحرام ومحظوراته، وباب الفدية، فإني قد سقت في ذلك مذاهب الأئمة أكثر مما سقته في غيره.

هذا، وإني قد أسوق العبارة الصريحة في بيان المسألة ثم أعقبها بعبارة تؤيدها من المنتهى أو الإقناع أو غيرهما، ولم أتلفت إلى أن هذا يعد تكراراً لأن منه ما يحلو لزيادة الإيضاح.

وقد دعاني إلى جمع هذا الكتاب قوله صلى الله عليه وسلم: (إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد
হজ মৌসুমের বিভিন্ন অস্পষ্টতা ও জটিলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন: একজন তামাত্তু হজ পালনকারী ব্যক্তি যদি উমরাহর তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার আগেই হজের ইহরাম বেঁধে ফেলে, তবে কি তার হজ সহীহ হবে কি না? আরও একটি মাসআলা হলো: তামাত্তu হজ পালনকারীর জন্য কি উমরাহ ও হজের জন্য সাফা ও মারওয়ার মাঝে একবার সাঈ করাই যথেষ্ট, নাকি উমরাহর জন্য একটি এবং হজের জন্য অন্য একটি—এভাবে দুটি সাঈ করা আবশ্যক? এই বিষয়ে আমি সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি। আরও রয়েছে নিজের পক্ষ থেকে এবং যার পক্ষ থেকে স্থলাভিষিক্ত হওয়া হয়েছে বা যার অভিভাবকত্ব করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকে তিনটি জামারায় পাথর নিক্ষেপ করার মাসআলা। এছাড়া ইহরাম গ্রহণকালীন চুল ও নখ কাটা নিষেধ হওয়া সম্পর্কিত মাসআলা—যখন যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন চলে এবং ঐ ব্যক্তির কুরবানি করার বা তার পক্ষ থেকে কুরবানি করার নিয়ত থাকে; এবং উমরাহ সম্পন্ন করার সময় চুল-নখ কাটার আবশ্যকতা ও এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনা এবং এ জাতীয় অন্যান্য উপকারী গবেষণা। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে হজের আহকাম ও যিয়ারত সম্পর্কে ফকীহগণ কর্তৃক বর্ণিত এমন কিছু হাদীসের উপর আলোচনা করেছি যা সহীহ বা হাসান পর্যায়ের নয়। একইভাবে আমি বর্ণনা ও মতামতের মধ্য থেকে সেটিকে প্রাধান্য দিয়েছি যা দলিলের অনুকূলে, যদিও তা মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের পরিপন্থী হয়। যেমন 'মুনতাহা' ও 'ইকনা' গ্রন্থের লেখকদ্বয় এবং অন্যান্যদের মত হলো: যখন কেউ জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করতে আসবে, তখন সে কিবলার দিকে মুখ করবে; অথচ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সঠিক পদ্ধতি হলো মক্কাকে বাম দিকে এবং মিনাকে ডান দিকে রাখা এবং আরও অন্যান্য বিষয়। আমি কিছু মাসআলায় ইমামদের মধ্যকার মতভেদ উল্লেখ করেছি, বিশেষ করে সেই পরিচ্ছেদে যেখানে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি মক্কায় বা হারামে প্রবেশ করতে চায় অথবা কোনো ইবাদত পালন করতে চায়, তার জন্য ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নয়। এছাড়া ইহরামের অধ্যায়, এর নিষিদ্ধ কার্যাবলি এবং ফিদয়াহ অধ্যায়ে আমি ইমামদের মাযহাবসমূহ অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অধিক পরিমাণে বর্ণনা করেছি।

আর আমি কোনো মাসআলা বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রথমে সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করেছি, অতঃপর তার সমর্থনে 'মুনতাহা' বা 'ইকনা' অথবা অন্য কোনো কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। আমি একে পুনরাবৃত্তি মনে করে উপেক্ষা করিনি, কারণ অতিরিক্ত ব্যাখ্যা অধিকতর স্পষ্টতার জন্য ফলপ্রসূ হয়।

এই কিতাবটি সংকলন করার পেছনে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি জিনিস ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন সন্তান..."
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৩)
صالح يدعو له) ، وإن لم أكن أهلاً للإكرام فقد يكرم الطفيلي في محل الكرام.

هذا، وإني أرجو من الواقف عليه والناظر فيه إن وجد فيه ما يوافق الحق والصواب فليبادر بالقبول ويتذكر يوم الحساب عند رب الأرباب، وإن عثر على شيء زلت فيه القدم أو سبق به القلم فليستحضر بقلبه أنه لم يسلم من الخطأ إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم سيد العرب والعجم، كما قيل:

ومن ذا الذي ترضى سجاياها كلها … كفى المرء نبلاً أن تعد معايبه.

وكما قيل:

من يلتمس للناس عيباً يجد لهم … عيوباً ولكن الذي فيه أكثر.

وأسأل الله العظيم رب العرش الكريم أن يعصمنا من الخطأ والزلل، ويحفظنا من التصنع بالقول والعمل، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم وسبباً للفوز بجنات النعيم (يوم لا ينفع مالٌ ولا بنونَ إلا من أتى الله بقلبٍ سليمٍ) (وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيبُ) .

وهذا أوان الشروع في المقصود بعون الله الملك المعبود، فأقول وبالله الاعتماد وهو الموفق للصواب والسداد.
সৎকর্মশীল ব্যক্তি তার জন্য দোয়া করবে), আর যদিও আমি সম্মান পাওয়ার যোগ্য না হই, তবে অনেক সময় সম্মানিতদের আসরে অনাহূত ব্যক্তিও সম্মানিত হয়ে যায়।

পর সমাচার, আমি এই কিতাবটি পাঠকারী ও পর্যালোচনাকারীর নিকট আশা করি যে, যদি তিনি এতে সত্য ও সঠিক কিছু পান তবে যেন তা গ্রহণে সচেষ্ট হন এবং রব্বুল আলামীনের দরবারে হিসাব দিবসের কথা স্মরণ করেন। আর যদি এমন কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হন যাতে পদস্খলন ঘটেছে কিংবা কলম লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে, তবে তিনি যেন হৃদয়ে জাগ্রত রাখেন যে, আরব ও অনারবের সরদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত আর কেউই ভুল থেকে মুক্ত নন; যেমনটি বলা হয়েছে:

কে আছে এমন যার সকল চরিত্রই পছন্দনীয়? … কোনো ব্যক্তির মহত্ত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায়।

এবং যেমনটি বলা হয়েছে:

যে ব্যক্তি মানুষের মাঝে দোষ তালাশ করে সে তাদের মাঝে দোষ খুঁজে পায় … অথচ তার নিজের মাঝেই দোষ অধিক বিদ্যমান।

আমি মহান আরশের অধিপতি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ভুল ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন, এবং কথা ও কাজে লৌকিকতা থেকে হিফাযত করেন। আর তিনি যেন একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভের অছিলা বানান (যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে) (আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি)।

আর এটাই ইবাদতের যোগ্য অধিপতি আল্লাহর সাহায্যে মূল উদ্দেশ্য শুরু করার সময়; অতএব আমি বলছি এবং আল্লাহর ওপরই ভরসা করছি, আর তিনিই সঠিক ও নির্ভুল পথপ্রদর্শনের তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৪)
--‌‌ كتاب المناسك:

جمع منسك بفتح السين وكسرها، وهو التعبد، يقال تنسك: إذا تعبد وغلب إطلاقها على متعبدات الحج، والمنسك في الأصل: من النسيكة، وهي الذبيحة، قال تعالى: (إن صلاتي ونسكي) : أي ذبيحتي (ومحياي ومماتي لله رب العالمين لا شريك له) . قال الجوهري: النسك بالإسكان: العبادة، وبالضم: الذبيحة، انتهى.

واعلم أن الحج والعمرة يجبان بشروط خمسة يأتي ذكرها إن شاء الله تعالى والحج لغة: القصد إلى من تعظمه، وشرعاً: قصد مكة وعرفة لعمل مخصوص في زمن مخصوص والعمرة لغة: الزيارة، ويقال أعمره: إذا زاره. وشرعاً: زيارة البيت الحرام على وجه مخصوص، ووجوبهما بالكتاب والسنة.

فأما الكتاب فقوله عز وجل: (ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلاً ومن كفر فإن الله غني عن العالمين) ، وقوله: (وأتموا الحج والعمرة لله) . وأما السنة فمنها ما في الصحيحين عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج بيت الله الحرام من استطاع إليه سبيلا) ، ومنها حديث عائشة رضي الله عنها قالت: (يا رسول الله هل على النساء من جهاد؟ قال: نعم عليهن جهاد لا قتال فيه الحج والعمرة) . رواه أحمد وابن ماجة بإسناد صحيح، وإذا ثبت ذلك في حق النساء فالرجال أولى. والأخبار الواردة في فضله كثيرة مشهورة: فمنها ما في الصحيحين عن
মানাসিক (হজ্জের নিয়মাবলি) অধ্যায়:

এটি ‘মানসাক’ শব্দের বহুবচন, যা সীনের ফাতহা (যবর) ও কাসরা (যের) উভয় যোগেই পঠিত হয়। এর অর্থ হলো ইবাদত করা। বলা হয়ে থাকে ‘তানাসসাকা’, অর্থাৎ সে ইবাদত করেছে। সাধারণত হজ্জের ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে এ শব্দের ব্যবহার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। আর ‘মানসাক’ শব্দটি মূলত ‘নাসিকাহ’ থেকে আগত, যার অর্থ হলো জবেহকৃত পশু। মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার নুসুক—অর্থাৎ আমার জবেহকৃত পশু—আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো শরিক নেই)। আল-জাওহারি বলেন: সীন বর্ণে সুকুন যোগে ‘নুসক’ শব্দের অর্থ ইবাদত, আর সীন বর্ণে পেশ যোগে ‘নুসুক’ শব্দের অর্থ জবেহকৃত পশু। সমাপ্ত।

জেনে রাখুন যে, হজ্জ এবং ওমরাহ পাঁচটি শর্তের ভিত্তিতে ওয়াজিব হয়, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে। আভিধানিকভাবে হজ্জ হলো: কোনো সম্মানিত সত্তার উদ্দেশ্যে যাত্রা বা সংকল্প করা। আর শরয়ি পরিভাষায়: নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মক্কা ও আরাফার সংকল্প করা। আভিধানিকভাবে ওমরাহ হলো: যিয়ারত বা পরিভ্রমণ করা। বলা হয়ে থাকে ‘আ’মারাহু’, অর্থাৎ সে তাকে যিয়ারত করেছে। আর শরয়ি পরিভাষায়: বিশেষ পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ হারাম (আল্লাহর পবিত্র ঘর) যিয়ারত করা। এ দুটির আবশ্যকতা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

কুরআনের দলিল হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তার ওপর ওই ঘরের হজ্জ করা আবশ্যক। আর যে কুফরি করবে, তবে আল্লাহ জগতসমূহের ওপর অমুখাপেক্ষী)। আরও এরশাদ হয়েছে: (আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণ করো)। আর সুন্নাহর দলিলের মধ্যে রয়েছে যা সহীহাইনে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর রাখা হয়েছে: এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং যার সামর্থ্য আছে তার জন্য আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ্জ করা)। আরও রয়েছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: (হে আল্লাহর রাসূল! নারীদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাদের ওপর এমন জিহাদ রয়েছে যাতে কোনো লড়াই নেই; আর তা হলো হজ্জ ও ওমরাহ)। ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। যখন নারীদের ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত হলো, তখন পুরুষদের জন্য তা আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত ও অগ্রাধিকারযোগ্য। হজ্জের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ অনেক এবং প্রসিদ্ধ। তার মধ্যে সহীহাইনে বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৫)
أبي هريرة عبد الرحمن بن صخر رضي الله عنه قال: (سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ قال: إيمان بالله ورسوله، قيل: ثم ماذا؟ قال: الجهاد في سبيل الله، قيل: ثم ماذا؟ قال: حج مبرور) .

وعنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من حج هذا البيت فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه) رواه البخاري ومسلم والنسائي وابن ماجة والترمذي إلا أنه قال: (غفر له ما تقدم من ذنبه) . وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لعمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة) . رواه مالك والبخاري ومسلم والترمذي والنسائي وابن ماجة، وعن عائشة رضي الله عنها قالت: (قلت يا رسول الله نرى الجهاد أفضل الأعمال أفلا نجاهد؟ فقال: لكن أفضل الجهاد حج مبرور) . رواه البخاري وغيره. وابن خزيمة في صحيحه. ولفظه قالت: (قلت يا رسول الله هل على النساء من جهاد؟ قال: عليهن جهاد لا قتال فيه الحج والعمرة) . وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (تابعوا بين الحج والعمر فإنهما ينفيان الفقر والذنوب كما ينفي الكير خبث الحديد والذهب والفضة وليس للحجة المبرورة ثواب إلا الجنة) . رواه الترمذي وابن خزيمة وابن حبان في صحيحهما، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح. وقال أبو هريرة: حجة مبرورة تكفر خطايا سنة وغير ذلك من الأحاديث والآثار، وتجب العمرة على المكي أيضا، ونص الغمام أحمد على أنها لا تجب على المكي بخلاف غيره، قال الإمام أحمد: (كان ابن عباس يرى العمر واجبة ويقول: يا أهل مكة ليس عليكم عمرة إنما عمرتكم الطواف بالبيت) وهو من رواية إسماعيل بن مسلم المكي وهو ضعيف.

قال شيخ الإسلام: والقول بوجوب العمرة على أهل مكة
আবু হুরায়রা আবদুর রহমান বিন সাখর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন্ আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান। বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ। বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: হজ্জে মাবরুর।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ্জ করল এবং অশ্লীল আচরণ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকল, সে তার গুনাহসমূহ থেকে সেই দিনের মতো ফিরে আসবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং তিরমিযী; তবে তিরমিযী বলেছেন: তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এক ওমরাহ থেকে অন্য ওমরাহ—এ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ। আর হজ্জে মাবরুরের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি বর্ণনা করেছেন মালিক, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জিহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করি, তবে কি আমরা জিহাদ করব না? তিনি বললেন: কিন্তু সর্বোত্তম জিহাদ হলো হজ্জে মাবরুর। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও অন্যান্যরা। এবং ইবনে খুযাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনার শব্দ হলো, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: তাদের ওপর এমন জিহাদ রয়েছে যাতে কোনো লড়াই নেই; আর তা হলো হজ্জ ও ওমরাহ। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা হজ্জ ও ওমরাহ পরপর আদায় করো, কেননা এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাঁপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর হজ্জে মাবরুরের সওয়াব জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়। এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী এবং ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে; আর তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু হুরায়রা বলেছেন: হজ্জে মাবরুর এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেয়। এছাড়াও আরও অনেক হাদীস ও আসারের বর্ণনা রয়েছে। মক্কাবাসীর ওপরও ওমরাহ ওয়াজিব। তবে ইমাম আহমাদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অন্যদের মতো মক্কাবাসীদের ওপর ওমরাহ ওয়াজিব নয়। ইমাম আহমাদ বলেন: ইবনে আব্বাস ওমরাহকে ওয়াজিব মনে করতেন এবং বলতেন: হে মক্কাবাসী! তোমাদের ওপর কোনো ওমরাহ নেই, তোমাদের ওমরাহ হলো কেবল বায়তুল্লাহর তওয়াফ। এটি ইসমাইল বিন মুসলিম আল-মাক্কী থেকে বর্ণিত, আর সে দুর্বল।

শাইখুল ইসলাম বলেন: মক্কাবাসীদের ওপর ওমরাহ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি—
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৬)
قول ضعيف جداً مخالف للسنة الثابتة، ولهذا كان أصح الطريقين عن أحمد أن أهل مكة لا عمرة عليهم رواية واحدة، وفي غيرهم روايتان وهي طريقة أبي محمد المقدسي، وطريقة المجد أبي البركات في العمرة ثلاث روايات، ثالثها تجب على غير أهل مكة انتهى كلامه رحمه الله تعالى.

وعن الإمام أحمد رحمه الله أن العمرة سنة وليست واجبة، روى ذلك عن ابن مسعود، وبه قالت المالكية والحنفية وشيخ الإسلام، فعلى هذه الرواية يجب إتمامها إذا شرع فيها، والمذهب وجوبها كما تقدم؛ ويروى ذلك عن عمر وابن عباس وزيد بن ثابت وابن عمر وسعيد بن المسيب وسعيد بن جبير وغيره وهو أحد قولي الشافعي.

وفرض الحج سنة تسع من الهجرة عند أكثر العلماء وقيل سنة عشر، وقيل ست، وقيل خمس، ولم يحج النبي صلى الله عليه وسلم بعد هجرته إلى المدينة سوى حجة واحدة وهي حجة الوداع، قال القاضي أبو يعلى: سميت بذلك لأنه صلى الله عليه وسلم ودع الناس فيها، وقال: (ليبلغ الشاهد الغائب) ، أو لأنه لم يعد على مكة بعد انتهى؛ ولا خلاف بين العلماء أن حجة الوداع كانت سنة عشر من الهجرة وكان قارناً فيها.

قال الإمام أحمد رحمه الله: لا أشك أنه صلى الله عليه وسلم كان قارناً والمتعة أحب إليّ انتهى، واستدل بما روى أنس: (سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يلبي بالحج والعمرة جميعاً يقول لبيك عمر وحجاً) . متفق عليه، وقول الإمام أحمد والمتعة أحب إليّ، وذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم تأسف فقال: (لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما سقت الهدى ولحللت معكم) ، ويأتي الكلام على ذلك في موضعه إن شاء الله تعالى.

والحج فرض كفاية كل عام على من لم يجب عليه عينا، نقله في الآداب الكبرى لابن مفلح عن الرعاية لابن حمدان.

وقال هو خلاف ظاهر قول الأصحاب انتهى. قال الشيخ عثمان بن قائد النجدي: ويمكن
এটি অত্যন্ত দুর্বল একটি মত যা সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর পরিপন্থী। এই কারণে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি পদ্ধতির মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধটি হলো যে, মক্কাবাসীদের ওপর উমরা ওয়াজিব নয়—এটি একটি বর্ণনা। আর অন্যদের ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এটি আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসির পদ্ধতি। আর আল-মাজদ আবুল বারাকাতের পদ্ধতিতে উমরার বিষয়ে তিনটি বর্ণনা রয়েছে, যার তৃতীয়টি হলো এটি মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যদের ওপর ওয়াজিব। তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উমরা সুন্নাহ, ওয়াজিব নয়। এটি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং মালেকি, হানাফি ও শাইখুল ইসলাম এই মতই পোষণ করেছেন। এই বর্ণনা অনুযায়ী, যদি কেউ উমরা শুরু করে তবে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। তবে মাযহাবের (প্রসিদ্ধ) মত হলো উমরা ওয়াজিব, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই মতটি উমর, ইবনে আব্বাস, যায়েদ ইবনে সাবিত, ইবনে উমর, সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব, সাঈদ ইবনে জুবায়ের ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি ইমাম শাফেয়ির দুটি মতের একটি।

অধিকাংশ আলিমের মতে হিজরতের নবম বর্ষে হজ ফরজ হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন দশম বর্ষে, কেউ ষষ্ঠ বর্ষে, আবার কেউ পঞ্চম বর্ষে। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় হিজরতের পর বিদায় হজ ব্যতিরেকে অন্য কোনো হজ করেননি। কাজি আবু ইয়ালা বলেন: একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে মানুষকে বিদায় জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: (উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়), অথবা এই কারণে যে এরপর তিনি আর মক্কায় ফিরে আসেননি। আলিমগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে বিদায় হজ হিজরি দশম বর্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তিনি এতে 'কারিন' ছিলেন।

ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'কারিন' ছিলেন, তবে 'তামাত্তু' হজ আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হজ ও উমরা উভয়ের জন্য একত্রে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: লাব্বাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান)। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। ইমাম আহমদের বক্তব্য 'তামাত্তু আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়' হওয়ার কারণ হলো নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আক্ষেপ করে বলেছিলেন: (আমি যদি আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে আমি কুরবানির পশু সাথে নিয়ে আসতাম না এবং তোমাদের সাথে হালাল হয়ে যেতাম)। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আসবে।

যাদের ওপর হজ ফরজে আইন নয়, তাদের পক্ষ থেকে প্রতি বছর হজ সম্পাদন করা ফরজে কিফায়া। ইবনে মুফলিহ তাঁর 'আল-আদাব আল-কুবরা' গ্রন্থে ইবনে হামদানের 'আর-রিয়ায়াহ' থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

তিনি বলেন, এটি ইমামগণের প্রকাশ্য মতের পরিপন্থী। শাইখ উসমান বিন কায়িদ আন-নাজদি বলেন: এবং এটি সম্ভব যে...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৭)
أن يقال: من لا يجب عليه الحج عيناً بأن يكون أدى حجة الإسلام فالحج في حقه بعد ذلك فرض كفاية باعتبار اندراجه في عموم المخاطبين بفرض الكافية فيعزم كل عام على الحج مع القدرة لو لم يحج غيره، وهو نفل في حقه أيضاً باعتبار خصوصه فيسن له العزم على الحج كل عام مع القدرة، فزيد مثلاً إذا كان أدى حجة الإسلام ثم رأى الناس تهيئوا للخروج إلى الحج فعزم على الخروج معهم كان عزمه وأخذه في الأسباب على سبيل النفلية ظاهراً، ثم إذا حج الجميع فمن كان منهم حجته حجة الإسلام فثوابه ثواب فرض العين، وغيره إن كان ممن دخل في عموم المخاطبين بفرض الكفاية أثيب كل فرد منهم ثواب فرض الكفاية لاستوائهم في مطلق أداء فرض الكفاية.

وملخص هذا الحج في حق هذا القسم عند التوجه إليه فرض كفاية على العموم، نفل على الخصوص، وبعد فعل الحج يتبين أنهم قاموا بفرض الكفاية فيثابون على الخصوص ثواب فرض الكفاية، ومثل هذا يأتي في الصلاة على الميت ونحوها، فلا منافاة بين كلام الرعاية وغيرها لما علمت من ثبوت الاعتبارين المذكورين، وبهذا أيضاً يندفع ما أورده الشيخ خالد الأزهري في جمع الجوامع، والظاهر أيضاً سقوط فرض الكفاية بفرض العين لحصول المقصود مع كونه أعلى، هذا ما ظهر لي ولم أره مسطوراً انتهى. ولا يجب الحج والعمرة في العمر إلا مرة واحدة إلا لعارض نذر أو قضاء نسك، لما روى أبو هريرة قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (يا أيها الناس قد فرض عليكم الحج فحجوا، فقال رجال: أكل عام يا رسول الله؟ فسكت حتى قالها ثلاثاً، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لو قلت نعم لوجبت ولما استطعتم) . رواه أحمد ومسلم والنسائي. وعن ابن عباس قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال:
বলা যেতে পারে যে, যার ওপর ব্যক্তিগতভাবে (আইনুন) হজ ফরজ নয়—অর্থাৎ সে ইতিপূর্বেই ইসলামের মূল ফরজ হজ আদায় করেছে—তার ক্ষেত্রে পরবর্তী হজগুলো ফরজে কিফায়ার সাধারণ সম্বোধিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিবেচনায় ফরজে কিফায়া হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং সামর্থ্য থাকা অবস্থায় সে প্রতি বছর হজের সংকল্প করবে এই বিবেচনায় যে, যদি অন্য কেউ হজ না করে (তবে তাকেই করতে হবে)। আবার ব্যক্তিগতভাবে তার হজের বিষয়টি নফল হিসেবেও গণ্য। তাই সামর্থ্য থাকলে প্রতি বছর হজের সংকল্প করা তার জন্য সুন্নত। উদাহরণস্বরূপ, জায়েদ যদি তার ইসলামের মূল ফরজ হজ আদায় করে থাকে এবং পরবর্তীতে দেখে যে মানুষ হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সে যদি তাদের সাথে বের হওয়ার সংকল্প করে, তবে বাহ্যত তার এই সংকল্প এবং প্রস্তুতি গ্রহণ নফল হিসেবে গণ্য হবে। এরপর যখন সকলে হজ সম্পাদন করবে, তখন তাদের মধ্যে যার হজটি হবে ইসলামের মূল ফরজ হজ, সে ফরজে আইনের সওয়াব লাভ করবে। আর বাকিরা, যারা ফরজে কিফায়ার সাধারণ সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেকেই ফরজে কিফায়ার সওয়াব লাভ করবে; কারণ ফরজে কিফায়া আদায়ের সাধারণ হুকুম পালনের ক্ষেত্রে তারা সমান।

এই শ্রেণীর হজের সারকথা হলো, হজের সংকল্প করার সময় এটি সাধারণভাবে ফরজে কিফায়া এবং ব্যক্তিগতভাবে নফল। আর হজ সম্পাদনের পর স্পষ্ট হয় যে, তারা ফরজে কিফায়া আদায় করেছে, ফলে তারা বিশেষভাবে ফরজে কিফায়ার সওয়াব লাভ করবে। জানাজার নামাজ এবং এই জাতীয় ইবাদতের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং 'রিয়ায়াহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থের বক্তব্যের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ আপনি জানলেন যে এখানে উল্লিখিত উভয় দিকই বিদ্যমান। এর মাধ্যমে শায়খ খালিদ আল-আজহারি 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে যে আপত্তি তুলেছেন তারও নিরসন হয়। আরও প্রতীয়মান হয় যে, ফরজে আইন আদায়ের মাধ্যমে ফরজে কিফায়া রহিত হয়ে যায়, কারণ এতে মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয় এবং এটি মর্যাদাগতভাবে উচ্চতর। এটিই আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে এবং আমি এটি কোথাও লিখিত দেখিনি। সমাপ্ত। জীবনে একবারের বেশি হজ ও ওমরাহ ফরজ নয়, তবে মানত কিংবা নষ্ট হওয়া ইবাদত কাজা করার মতো কোনো কারণ ঘটলে ভিন্ন কথা। যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: (হে লোকসকল! তোমাদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা হজ করো। তখন এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি? তিনি চুপ থাকলেন, এমনকি লোকটি তিনবার একই প্রশ্ন করল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি যদি 'হ্যাঁ' বলতাম তবে তা ওয়াজিব হয়ে যেত এবং তোমরা তা করতে সক্ষম হতে না)। এটি আহমদ, মুসলিম এবং নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৮)
(يا أيها الناس كتب عليكم الحج، فقال الأقرع بن حابس فقال: أفي كل عام يا رسول الله؟ فقال: لو قلتها لوجبت. ولو وجبت لم تعملوا بها ولم تستطيعوا أن تعملوا بها، الحج مرة، فمن زاد فهو تطوع. رواه أحمد والنسائي بمعناه. ووجوبهما على الفور نص عليه أحمد، فيأثم إن أخرهما بلا عذر بناء على أن الأمر المطلق عند الأصوليين للفور، ويؤيد خبر ابن عباس مرفوعاً قال: (تعجلوا إلى الحج - يعني الفريضة - فإن أحدكم لا دري ما يعرض له) . رواه أحمد. قال شيخ الإسلام: الحج واجب على الفور عند أكثر العلماء انتهى.

فإن قيل: لو كان واجباً على الفور لم يؤخره صلى الله عليه وسلم، قيل: أما تأخيره صلى الله عليه وسلم هو وأصحابه الحج بناء على أن الحج فرض سنة تسع فيحتمل أنه كان في آخرها، أو لأنه أطلع نبيه صلى الله عليه وسلم على أنه لا يموت حتى يحج فيكون على يقين من الإدراك.

قال أبو زيد الحنفي، أو لاحتمال عدم الاستطاعة، أو حاجة خوف في حقه منعه من الخروج ومنع أكثر أصحابه خوفاً عليه.

والصحيح أن الحج فرض سنة تسع كما تقدم وأن فرضه كان في آخرها، وأن آية فرضه هي قوله تعالى: (ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلاً) وهي نزلت عام الوفود آخر سنة تسع وأنه صلى الله عليه وسلم لم يؤخر الحج بعد فرضه عاماً واحداً، وهذا هو اللائق بهديه وحاله صلى الله عليه وسلم.

ويشترط للحج والعمرة خمسة شروط: أحدها الإسلام. الثاني العقل، وهما شرطان للوجوب والصحة، فلا يجب حج ولا عمرة على كافر ولو مرتداً لأنه ممنوع من دخول الحرم، وهو مناف له، ويعاقب الكافر على الحج والعمرة وعلى سائر فروع الإسلام كالصلاة والزكاة والصوم كالتوحيد إجماعاً، قال الشيخ عثمان بن قائد: أي لا يجب الحج والعمرة على الكافر وجوب أداء، وأما وجوب
"হে লোকসকল, তোমাদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে।" তখন আকরা ইবনে হাবিস বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, প্রতি বছর কি?" তিনি বললেন, "আমি যদি বলতাম (হ্যাঁ), তবে তা ওয়াজিব হয়ে যেত। আর যদি ওয়াজিব হয়ে যেত, তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না এবং পালন করার সামর্থ্যও রাখতে না। হজ একবারই (ফরজ), আর যে ব্যক্তি অতিরিক্ত করবে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে।" আহমাদ ও নাসায়ি অর্থগতভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। হজ এবং উমরাহ অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব—ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং কোনো ওজর ছাড়া তা বিলম্বিত করলে সে গুনাহগার হবে। এটি উসুলবিদদের এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে, নিঃশর্ত আদেশ অবিলম্বে পালনের নির্দেশ দেয়। এর সপক্ষে ইবনে আব্বাসের মারফূ হাদিসটি রয়েছে, তিনি বলেন: "তোমরা হজের দিকে দ্রুত ধাবিত হও—অর্থাৎ ফরজ হজ—কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার সামনে কী বিপদ বা প্রতিবন্ধকতা আসবে।" (আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন)। শাইখুল ইসলাম বলেন: অধিকাংশ আলিমের মতে হজ অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব। সমাপ্ত।

যদি প্রশ্ন করা হয়: যদি তা অবিলম্বে ওয়াজিব হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বিলম্বিত করতেন না? উত্তর হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের হজ বিলম্বিত করার বিষয়টি এ ভিত্তির ওপর যে, হজ নবম হিজরিতে ফরজ হয়েছিল। সম্ভাবনা রয়েছে যে তা উক্ত বছরের শেষের দিকে ফরজ হয়েছিল। অথবা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে অবহিত করেছিলেন যে তিনি হজ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেন না, ফলে তিনি তা পালনের সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন।

আবু জায়েদ আল-হানাফী বলেন, অথবা সামর্থ্য না থাকা বা ভীতির কোনো কারণ থাকার সম্ভাবনায় যা তাঁকে বের হতে বাধা দিয়েছিল এবং তাঁর নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁর অধিকাংশ সাহাবীকেও বাধা দিয়েছিল।

আর সঠিক মত হলো—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—হজ নবম হিজরিতে ফরজ হয়েছে এবং তা বছরের শেষ দিকে ফরজ হয়েছিল। এর ফরজ হওয়ার আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য আবশ্যিক কর্তব্য।" এটি প্রতিনিধি দলের আগমনের বছর (আমুল উফুদ) নবম হিজরির শেষে নাজিল হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ ফরজ হওয়ার পর এক বছরও দেরি করেননি। তাঁর আদর্শ ও অবস্থার জন্য এটিই মানানসই।

হজ ও উমরার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে: প্রথমটি হলো ইসলাম। দ্বিতীয়টি হলো আকল (বুদ্ধি)। এই দুটি শর্ত ওয়াজিব হওয়া এবং বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং কোনো কাফিরের ওপর হজ বা উমরাহ ওয়াজিব নয়, এমনকি সে মুরতাদ হলেও; কেননা তার জন্য হারামে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং এটি ইবাদতের পরিপন্থী। আর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাফির ব্যক্তি হজ ও উমরাহ এবং ইসলামের অন্যান্য শাখা যেমন সালাত, জাকাত ও সওম পালনের বাধ্যবাধকতার বিষয়েও শাস্তির সম্মুখীন হবে, যেমনটি তাওহীদের ক্ষেত্রে হয়। শাইখ উসমান ইবনে কায়িদ বলেন: অর্থাৎ কাফিরের ওপর হজ ও উমরাহ পালনের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ৯)
الخطاب فثابت، وهذا مبني على الصحيح عند الأصوليين من خطاب الكفار بالفروع انتهى.

ولا يجب الحج والعمرة عليه باستطاعته في حال ردته فقط بأن استطاع زمن الردة دون زمن الإسلام لأنه ليس من أهل الوجوب زمن الردة، ولا تبطل استطاعته في إسلامه بردته، بل يثبت الحج في ذمته إذا عاد للإسلام، وإن حج واعتمر ثم ارتد ثم أسلم وهو مستطيع لم يلزمه حج ولا عمرة لأنهما إنما يجبان في العمر مرة واحدة وقد أتى بهما في حين إسلامه، وردته بعد الإتيان بهما لا تبطلهما إذا عاد إلى الإسلام كسائر عباداته.

ولا يصح الحج والعمرة من الكافر ولو مرتداً، لأن كلا من الحج والعمرة عبادة من شرطها الإسلام، وإذا انتفى الشرط انتفى المشروط، ويبطل إحرامه ويخرج منه بردته فيه لقوله تعالى: (لئن أشركت ليحبطن عملك) .

ولا يجب الحج والعمرة على المجنون لحديث (رفع القلم عن ثلاثة) الحديث، ولا يصحان منه إن عقده بنفسه أو عقده له وليه كالصوم، وإنما صح من الصغير دون التمييز إذا عده له وليه للنص الوارد في ذلك، ولا تبطل استطاعته بجنونه فيحج عنه، ولا يبطل إحرامه بالجنون إذا أحرم وهو عاقل ثم جن بعد إحرامه كالصوم لا يبطل بالجنون، ولا يبطل الإحرام بالإغماء والموت، والسكر كالنوم.

الشرط الثالث البلوغ. الرابع كمال الحرية، وهما شرطان للوجوب والإجزاء فقط دون الصحة، فلا يجب الحج ولا العمرة على الصغير لأنه غير مكلف، ولا على قن لأن مدتهما تطول فلم يجبا عليه؛ لما فيه من إبطال حق السيد، وكذا مكاتب ومدبر، وأم ولد ومعتق بعضه ومعلق عتقه بصفة، ويصح الحج والعمرة منهم لحديث ابن عباس (أن امرأة رفعت إلى النبي صلى الله عليه وسلم صبياً فقالت: يا رسول الله ألهذا حج؟ قال: نعم ولك أجر) . رواه مسلم.

والقن من أهل العبادة فصح
সম্বোধন সাব্যস্ত রয়েছে, এবং এটি মূলনীতিবিদদের (উসুলবিদদের) নিকট সঠিক মতের ওপর ভিত্তি করে যে, কাফেরদেরকে শরীয়তের শাখাগত বিধানসমূহের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে। সমাপ্ত।

মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগকারী) থাকা অবস্থায় তার সামর্থ্য থাকার কারণে তার ওপর হজ ও উমরাহ ওয়াজিব হবে না, যদি সে শুধু মুরতাদ থাকা অবস্থায়ই সামর্থ্যবান হয় কিন্তু ইসলাম গ্রহণকালে ছিল না; কারণ মুরতাদ থাকা অবস্থায় সে ওয়াজিব হওয়ার যোগ্য নয়। আর ইসলাম গ্রহণের সময় তার যে সামর্থ্য ছিল তা মুরতাদ হওয়ার কারণে বাতিল হয়ে যাবে না, বরং সে যদি পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে তবে হজ তার জিম্মায় সাব্যস্ত থাকবে। আর যদি সে হজ ও উমরাহ করার পর মুরতাদ হয়ে যায় এবং পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে এমতাবস্থায় যে সে সামর্থ্যবান, তবে তার ওপর পুনরায় হজ ও উমরাহ করা আবশ্যক হবে না। কারণ এ দুটি জীবনে মাত্র একবারই ওয়াজিব হয় এবং সে তা ইসলামে থাকা অবস্থায় আদায় করেছে। আর তা আদায়ের পর তার মুরতাদ হওয়া সে দুটিকে বাতিল করবে না যদি সে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে, যেমনটি তার অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

কাফের ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ ও উমরাহ সহীহ বা শুদ্ধ হবে না, এমনকি সে যদি মুরতাদও হয়। কারণ হজ ও উমরাহ এমন ইবাদত যার অন্যতম শর্ত হলো ইসলাম। আর যখন শর্ত অনুপস্থিত থাকে তখন শর্তাধীন বিষয়টিও অনুপস্থিত হয়ে যায়। আর ইহরাম অবস্থায় মুরতাদ হয়ে গেলে তার ইহরাম বাতিল হয়ে যাবে এবং সে তা থেকে বের হয়ে যাবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (তুমি যদি শিরক করো তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে)।

পাগলের ওপর হজ ও উমরাহ ওয়াজিব নয়, হাদিসের কারণে: (তিন প্রকার ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে...) পুরো হাদিস। আর পাগল ব্যক্তি যদি নিজে ইহরামের নিয়ত করে অথবা তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক নিয়ত করে দেন তবে তা সহীহ হবে না, যেমনটি রোজার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে বোধশক্তিহীন শিশুর পক্ষ থেকে হজ ও উমরাহ সহীহ হবে যদি তার অভিভাবক তার জন্য তা সম্পাদন করেন, কারণ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা (নাস) রয়েছে। আর পাগলামির কারণে তার সামর্থ্য বাতিল হবে না, বরং তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করা হবে। যদি কেউ সুস্থ অবস্থায় ইহরাম বাঁধে এবং এরপর পাগল হয়ে যায় তবে তার ইহরাম বাতিল হবে না, যেমন রোজা পাগলামির কারণে বাতিল হয় না। তদ্রূপ অচেতন হওয়া বা মৃত্যুর কারণেও ইহরাম বাতিল হয় না, আর মাতাল হওয়ার বিষয়টি ঘুমের মতো।

তৃতীয় শর্ত হলো সাবালক হওয়া। চতুর্থ শর্ত হলো পূর্ণ স্বাধীনতা। এ দুটি শর্ত শুধুমাত্র ওয়াজিব হওয়া এবং ফরয আদায়ের (ইজযা) জন্য, সহীহ হওয়ার জন্য নয়। সুতরাং শিশুর ওপর হজ ও উমরাহ ওয়াজিব নয় কারণ সে শরয়ী বিধান পালনে আদিষ্ট (মুকাল্লাফ) নয়। তদ্রূপ ক্রীতদাসের ওপরও ওয়াজিব নয় কারণ এ দুটি দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ, তাই তার ওপর ওয়াজিব করা হয়নি; যাতে তার মালিকের অধিকার নষ্ট না হয়। একই হুকুম মুকাতাব, মুদাব্বার, উম্মে ওয়ালাদ, আংশিক স্বাধীন এবং শর্তসাপেক্ষে স্বাধীন হওয়া ক্রীতদাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে তাদের পক্ষ থেকে হজ ও উমরাহ সম্পাদন করলে তা সহীহ হবে, ইবনে আব্বাসের (রা.) হাদিসের কারণে: (এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি শিশুকে তুলে ধরলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এর জন্যও কি হজ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তোমার জন্যও নেকি রয়েছে)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আর ক্রীতদাস যেহেতু ইবাদত করার যোগ্য, তাই তার ইবাদত সহীহ হবে।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১০)
منه الحج والعمرة كالحر، وقد نظم الشيخ عثمان بن قائد النجدي شروط وجوب الحج والعمرة في بيتين فقال رحمه الله تعالى:

الحج والعمرة واجبان … في العمر مرة بلا تواني

بشرط إسلام كذا حرية … عقل بلوغ قدرة جلية.

فقوله في البيت بلا توانٍ إشارة إلى أن وجوبهما بالشروط المذكورة على الفور، فيأثم إن أخرهما بلا عذر، وقوله قدرة جلية إشارة إلى الاستطاعة، والله أعلم. ويجزئ الحج والعمرة كافراً أسلم وهو حر مكلف ثم أحرم بحج قبل دفع من عرفه أو بعده إن عاد فوقف في وقته، أو أحرم بعمرة ثم طاف وسعى لها، أو أفاق من جنون وهو حر مكلف بالغ ثم أحرم بحج أو عمرة وفعل ما تقدم. ولا يجزئ حج الصغير والقن والمكاتب والمدبر وأم الولد والمعتق بعضه والمعلق عتقه بصفة عن حجة الإسلام، إلا أن يبلغ الصغير وهو حر مسلم عاقل محرماً، أو يعتق القن المكلف ونحوه محرماً قبل الدفع من عرفة أو بعده قبل فوات وقت الوقوف إن عاد إلى عرفة فوقف قبل طلوع فجر يوم النحر، ويلزمه العود إلى عرفة في وقت الوقوف إن أمكنه العود لوجوب الحج على الفور ما لم يكن أحرم مفرداً أو قارناً وسعى فيه بعد طواف القدوم فلا يجزئه على الأصح، قال في الإقناع وشرحه: ولو سعى قن أو صغير بعد طواف القدوم وقبل الوقوف والعتق والبلوغ وقلنا السعي ركن وهو المذهب لم يجزئه الحج عن حجة الإسلام لوقوع الركن في غير وقت الوجوب، أشبه ما لو كبر للإحرام ثم بلغ، فعلى هذا لا يجزئه ولو أعاد السعي بعد البلوغ والعتق لأنه لا يشرع مجاوزة عدده ولا تكراره وخالف الوقوف من حيث إنه إذا بلغ أو أعتق بعده وأعاده في وقته يجزئه، إذ استدامته مشروعة ولا قدر له محدود ما دام وقت الوقوف باقيا، وقيل يجزئه إذا أعاد السعي
তার পক্ষ থেকেও স্বাধীন ব্যক্তির ন্যায় হজ ও উমরা ওয়াজিব। শায়খ উসমান ইবনে কায়েদ আন-নাজদী হজ ও উমরা ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী দুটি পংক্তিতে ছন্দবদ্ধ করেছেন এবং তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

হজ ও উমরা উভয়ই ওয়াজিব … জীবনে একবার কোনো বিলম্ব ছাড়াই।

ইসলামের শর্তে এবং একইভাবে স্বাধীনতার … বুদ্ধি, বালেগ হওয়া ও সুস্পষ্ট সক্ষমতার সাথে।

কবিতার চরণে তাঁর উক্তি ‘বিলম্ব ছাড়াই’ একথার ইঙ্গিত দেয় যে, উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে হজ ও উমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব হয়। সুতরাং কোনো ওজর ব্যতীত তা দেরি করলে সে গুনাহগার হবে। আর তাঁর উক্তি ‘সুস্পষ্ট সক্ষমতা’ দ্বারা সামর্থ্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, আল্লাহই সর্বজ্ঞ। হজ ও উমরা এমন কাফিরের জন্য যথেষ্ট হবে যে স্বাধীন ও মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে যোগ্য) অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছে, অতঃপর আরাফা থেকে প্রস্থানের পূর্বে হজের ইহরাম বেঁধেছে, অথবা প্রস্থানের পরেও যদি সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত সময়ে সেখানে অবস্থান (ওকুফ) করে; কিংবা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে অতঃপর তার তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করেছে; অথবা পাগলামি থেকে সুস্থ হয়েছে এমতাবস্থায় সে স্বাধীন, মুকাল্লাফ ও বালেগ, তারপর হজ বা উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা পালন করেছে। তবে শিশু, পূর্ণ গোলাম, মুকাতাব, মুদাব্বার, উম্মুল ওয়ালাদ, আংশিক আযাদ দাস এবং শর্তসাপেক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত দাসের হজ ‘হজ্জাতুল ইসলাম’ (ফরয হজ) হিসেবে যথেষ্ট হবে না। তবে যদি শিশুটি ইহরাম অবস্থায় থাকা অবস্থায় স্বাধীন, মুসলিম ও বুদ্ধিমান হিসেবে বালেগ হয়; অথবা মুকাল্লাফ গোলাম ও অনুরূপ ব্যক্তিরা ইহরাম অবস্থায় আরাফা থেকে প্রস্থানের পূর্বে আযাদ হয়, অথবা প্রস্থানের পর অবস্থানের সময় শেষ হওয়ার আগে যদি আরাফাতে ফিরে আসে এবং কুরবানির দিনের ফজর উদিত হওয়ার পূর্বে সেখানে অবস্থান করে, তবে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি তার পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব হয় তবে অবস্থানের সময়ের মধ্যে আরাফায় ফিরে আসা তার জন্য আবশ্যক, যেহেতু হজ অবিলম্বে ওয়াজিব হয়; যতক্ষণ না সে মুফরিদ বা কারিন হিসেবে ইহরাম বাঁধে এবং তাওয়াফে কুদুমের পর সাঈ করে ফেলে, এমতাবস্থায় বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে না। ‘আল-ইকনা’ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি কোনো গোলাম বা শিশু তাওয়াফে কুদুমের পর এবং অবস্থান, আযাদী ও বালেগ হওয়ার আগে সাঈ করে ফেলে এবং আমরা যদি বলি যে সাঈ একটি রুকন—আর এটিই মাযহাব—তবে তার এই হজ ‘হজ্জাতুল ইসলাম’ হিসেবে যথেষ্ট হবে না, কারণ রুকনটি ওয়াজিব হওয়ার সময়ের বাইরে সম্পাদিত হয়েছে। এটি অনেকটা ইহরামের তাকবীর দেওয়ার পর বালেগ হওয়ার মতো। অতএব, এই মতানুসারে বালেগ হওয়া বা আযাদ হওয়ার পর সাঈ পুনরায় করলেও তা যথেষ্ট হবে না, কারণ এর নির্ধারিত সংখ্যা অতিক্রম করা বা পুনরাবৃত্তি করা শরীয়তসম্মত নয়। এটি আরাফায় অবস্থানের (ওকুফ) বিপরীত, কেননা যদি কেউ অবস্থানের পর বালেগ হয় বা আযাদ হয় এবং অবস্থানের সময়ের মধ্যে তা পুনরায় করে তবে তা যথেষ্ট হয়, কারণ অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী করা শরীয়তসম্মত এবং যতক্ষণ অবস্থানের সময় বাকি থাকে ততক্ষণ এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। বলা হয়েছে যে, সাঈ পুনরায় করলে তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১১)
لحصول الركن الأعظم وهو الوقوف وتبعية غيره له، ولا تجزئ العمرة من بلغ أو عتق في طوافها وإن أعاده وفاقاً انتهى.

ومعنى قوله ولا قدر له محدود أن الوقوف بعرفة يكفي ولو لحظة فلا يقدر بساعة أو ساعتين ونحو ذلك، قال الشيخ مرعي في الغاية: ويتجه الصحة ولو بعد سعي إن فسخ حجة إلى عمرة ولم يسق هديا أو يقف بعرفة كما يأتي انتهى.

قلت ما ذكره صاحب الغاية من الاتجاه واضح لا غبار عليه كما يأتي أنه يسن للمفرد والقارن الفسخ إذا لم يسوقا هديا أو يقفا بعرفة، وحينئذ إذا فسخ حجة إلى عمرة صح ذلك بل الفسخ سنة ولكن لو لم يفسخ حجة إليها، فالذي ينبغي أن يقال به هو القول بالإجزاء إذا أعاد السعي، وإن حكى بصيغة التمريض وخالف الصحيح من المذهب، لحديث (الحج عرفة) والله أعلم.

ومتى أمكنه العود إلى عرفة في وقت الوقوف فلم يفعل استقر الوجوب عليه سواء كان مؤسراً أو معسراً، لأن ذلك وجب عليه بإمكانه في موضعه فلم يسقط بفوات القدرة بعده. ولا تجزئ عمرة الصغير والقن والمكاتب والمدبر وأم الولد والمبعض والمعلق عتقه بصفة عن عمرة الإسلام إلا أن يبلغ الصغير أو يعتق القن ونحوه في العمرة محرماً قبل الشروع في طوافها فتجزئهم عن عمرة الإسلام إذا طاف وسعى لها.

قال ابن رجب في القاعدة السادسة عشرة: ومنها إذا بلغ الصبي أو عتق العبد وهما محرمان قبل فوات وقت الوقوف فهل يجزئهما عن حجة الإسلام؟ على روايتين أشهرهما الإجزاء، فقيل لأن إحرامهما انعقد مراعي لأنه قابل للنقل والانقلاب. وقيل بل يقدر ما مضى منه كالمعدوم ويكتفي بالموجد منه. وقيل إن قلنا الإحرام شرط محض كالطهارة للصلاة اكتفى بالموجود منه، وإن قيل هو ركن لم يكتف به انتهى.

قال في المنتهى وشرحه: ويكون من بلغ محرماً وقن عتق محرماً
প্রধান রুকন তথা আরাফায় অবস্থানের গুরুত্ব এবং অন্য সব আমল এর অনুগামী হওয়ার কারণে। আর যে ব্যক্তি ওমরাহর তাওয়াফের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে বা দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে, তার সেই ওমরাহ ইসলামের (ফরজ) ওমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে না, যদিও সে তা পুনরায় করে, আর এটিই সংগতিপূর্ণ মত। সমাপ্ত।

এবং তাঁর কথা "এর কোনো নির্ধারিত পরিমাণ নেই"-এর অর্থ হলো, আরাফায় অবস্থান এক মুহূর্তের জন্য হলেও যথেষ্ট হবে, তাই এটি এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা বা এই জাতীয় কোনো সময়ের দ্বারা নির্ধারিত নয়। শেখ মারঈ 'আল-গায়া' গ্রন্থে বলেছেন: আর হজ্জ বাতিল করে ওমরাহতে রূপান্তর করা শুদ্ধ হওয়া যুক্তিযুক্ত হবে, এমনকি সায়ীর পরেও যদি সে হাদি (কুরবানির পশু) সাথে না নিয়ে থাকে অথবা আরাফায় অবস্থান না করে থাকে, যেমনটি সামনে আসবে। সমাপ্ত।

আমি বলি, আল-গায়া গ্রন্থের লেখক যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা স্পষ্ট এবং এতে কোনো সংশয় নেই, যেমনটি সামনে আসবে যে, মুফরিদ এবং ক্বিরান হজকারীর জন্য ইহরাম বাতিল করে ওমরাহতে রূপান্তর করা সুন্নাত যদি তারা হাদি সাথে না নিয়ে থাকে অথবা আরাফায় অবস্থান না করে থাকে। এমতাবস্থায় যদি সে হজ্জ বাতিল করে ওমরাহতে রূপান্তর করে তবে তা শুদ্ধ হবে, বরং এই রূপান্তর করা সুন্নাত। তবে যদি সে হজ্জ ওমরাহতে রূপান্তর না করে, তবে এক্ষেত্রে যা বলা উচিত তা হলো, যদি সে সায়ী পুনরায় করে তবে তা যথেষ্ট হওয়ার মতটিই গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি দুর্বলতা সূচক শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে এবং মাযহাবের বিশুদ্ধ মতের পরিপন্থী, কারণ হাদিসে এসেছে (হজ্জ হলো আরাফায় অবস্থান)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর যখনই অবস্থানের সময়ের মধ্যে তার পক্ষে আরাফায় ফিরে আসা সম্ভব হবে কিন্তু সে তা করবে না, তবে তার ওপর হজ্জের আবশ্যকতা সাব্যস্ত হয়ে যাবে, সে সচ্ছল হোক বা অসচ্ছল। কারণ সেই স্থানে অবস্থান করা তার জন্য সম্ভব হওয়ার কারণে তা ওয়াজিব হয়েছে, তাই পরবর্তীতে সক্ষমতা হারিয়ে ফেললে তা রহিত হবে না। আর শিশু, পূর্ণ দাস, মুকাতাব, মুদাব্বার, উম্মে ওয়ালাদ, আংশিক মুক্ত দাস এবং কোনো নির্দিষ্ট গুণের বা শর্তের ওপর মুক্তি স্থগিত রাখা দাসের ওমরাহ ইসলামের ওমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। তবে যদি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয় অথবা দাস ও অনুরুপ ব্যক্তিরা ইহরাম অবস্থায় ওমরাহর তাওয়াফ শুরু করার আগে মুক্ত হয়, তবে তা তাদের জন্য ইসলামের ওমরাহ হিসেবে যথেষ্ট হবে যদি তারা সেই ওমরাহর জন্য তাওয়াফ ও সায়ী সম্পন্ন করে।

ইবনে রজব ষোড়শ মূলনীতিতে বলেছেন: এর অন্তর্ভুক্ত হলো, যদি কোনো বালক প্রাপ্তবয়স্ক হয় অথবা কোনো দাস মুক্ত হয় এমতাবস্থায় যে তারা উভয়ে ইহরাম অবস্থায় আছে এবং অবস্থানের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে, তবে তা কি তাদের জন্য ইসলামের হজ্জ হিসেবে যথেষ্ট হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধটি হলো যথেষ্ট হওয়া। বলা হয়েছে কারণ তাদের ইহরামটি শর্তসাপেক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল যেহেতু তা রূপান্তর ও পরিবর্তনের যোগ্য। আবার বলা হয়েছে বরং যা অতিবাহিত হয়েছে তাকে অবিদ্যমান ধরা হবে এবং যা বিদ্যমান আছে তা-ই যথেষ্ট গণ্য হবে। আরও বলা হয়েছে যদি আমরা বলি ইহরাম সলাতের পবিত্রতার ন্যায় নিছক একটি শর্ত, তবে বিদ্যমান অংশটুকুই যথেষ্ট হবে, আর যদি বলা হয় এটি একটি রুকন, তবে তা যথেষ্ট হবে না। সমাপ্ত।

আল-মুনতাহা এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: এবং যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে এবং যে দাস ইহরাম অবস্থায় মুক্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১২)
كمن أحرم إذاً: أي بعد بلوغه وعتقه لأنها حال تصح لتعيين الإحرام كحال ابتداء الإحرام وإنما يعتد بإحرام ووقوف موجودين، إذا: أي حال البلوغ والعتق وما قبله تطوع لم ينقلب فرضا. قاله الموفق ومن تابعه وقدمه في التنقيح. وقال جماعة منهم صاحب الخلاف والانتصار والمجد وغيرهم: ينعقد إحرام الصغير والقن موقوفا، فإذا تغيرت حاله إلى بلوغ أو حرية تبين فرضيته: أي الإحرام كزكاة معجلة انتهى.

قلت لعل من فائدة الخلاف زيادة أجر الفرض على النقل، والله أعلم.

قال الشيخ مرعي في الغاية: ويتجه لو حج وفي ظنه أنه صبي أو قن فبان بالغاً أو حرا أنه يجزئه انتهى.

--‌‌ فصل:

ويصح الحج والعمرة من صغير ذكر أو أنثى ولو ولد لحظة، فإن كان مميزاً أحرم بإذن وليه، وإن لم يكن مميزاً أحرم عنه وليه فيصير الصغير محرماً بذلك، وهو مذهب المالكية والشافعية.

وقالت الحنفية: لا ينعقد إحرام الصبي ولا يصير محرماً بإحرام وليه، لأن الإحرام سبب يلزم به حكم فلم يصح من الصبي كالنذر، ودليل من قال بالصحة حديث ابن عباس: (أن امرأة رفعت إلى النبي صلى الله عليه وسلم صبياً فقالت: ألهذا حج؟ قال: نعم ولك أجر) . رواه مسلم.

قال في المنتهى وشرحه: ويُحرم ولي في مال عمن لم يميز لتعذر النية منه، وولي المال الأب أو وصيه أو الحاكم، وظاهره لا يصح من غيرهم بلا إذنهم. قلت إن لم يكن ولي فمن يلي الصغير يعقد له كما ذكره في الإقناع وغيره في قبول زكاة وهبة انتهى.

قال الشيخ محمد الخلوتي: وهذا ظاهر قوله صلى الله عليه وسلم: (نعم ولك أجر) حيث لم يستفصل فيسأل هل له أب حاضر أو لا؟ انتهى.

قال الموفق في المغني: فإن أحرمت عنه أمه صح لقول النبي
যেন সে তখনই ইহরাম বাঁধল: অর্থাৎ তার বালেগ হওয়া এবং স্বাধীন হওয়ার পর। কেননা এটি ইহরাম নির্দিষ্ট করার জন্য একটি শুদ্ধ অবস্থা, যেমনটি ইহরাম শুরুর অবস্থা। আর বালেগ হওয়া ও স্বাধীন হওয়ার সময় বিদ্যমান ইহরাম ও অবস্থানকেই (ওকুফ) গণ্য করা হবে। অর্থাৎ বালেগ হওয়া ও স্বাধীন হওয়ার সময়; আর এর আগেরটুকু নফল হিসেবে গণ্য হবে, যা ফরজে রূপান্তরিত হবে না। আল-মুয়াফফাক (ইবনে কুদামা) এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন তারা এ কথা বলেছেন এবং 'আত-তানকীহ' গ্রন্থে একে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আল-খিলাফ, আল-ইনতিসার ও আল-মাজদ গ্রন্থের লেখকগণসহ একদল আলিম বলেছেন: শিশু এবং দাসের ইহরাম স্থগিত (মাওকুফ) হিসেবে সাব্যস্ত হবে। যখন তার অবস্থা বালেগ হওয়া বা স্বাধীন হওয়ার দিকে পরিবর্তিত হবে, তখন তার ফরজিয়ত বা আবশ্যকতা স্পষ্ট হবে: অর্থাৎ ইহরামটি অগ্রিম প্রদানকৃত জাকাতের ন্যায়। সমাপ্ত।

আমি বলছি, সম্ভবত এই মতপার্থক্যের ফায়দা হলো নফলের তুলনায় ফরজের সওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

শায়খ মারঈ 'আল-গায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: অভিমত হলো, যদি কেউ এই মনে করে হজ করে যে সে শিশু অথবা দাস, অতঃপর প্রকাশ পায় যে সে বালেগ বা স্বাধীন ছিল, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। সমাপ্ত।

--‌‌ পরিচ্ছেদ:

শিশু চাই সে ছেলে হোক বা মেয়ে, এমনকি এক মুহূর্ত আগে জন্মগ্রহণ করলেও তার হজ ও উমরাহ সহিহ হবে। যদি সে সমঝদার (মুমাইয়্যিয) হয়, তবে তার অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে ইহরাম বাঁধবে। আর যদি সে সমঝদার না হয়, তবে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধবেন, এর মাধ্যমে শিশুটি ইহরামকারী (মুহরিম) হয়ে যাবে। এটি মালিকি ও শাফিঈ মাযহাবের অভিমত।

হানাফিগণ বলেন: শিশুর ইহরাম সংঘটিত হয় না এবং অভিভাবকের ইহরামের মাধ্যমে সে ইহরামকারী হয় না। কারণ ইহরাম হলো এমন একটি কারণ যার মাধ্যমে বিধান আবশ্যক হয়, তাই শিশুর পক্ষ থেকে এটি শুদ্ধ নয়, যেমন মানত (নযর)। যারা শুদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তাদের দলিল হলো ইবনে আব্বাসের হাদিস: (এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক শিশুকে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করলেন: এর কি হজ হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তোমার জন্য রয়েছে সওয়াব)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

'আল-মুনতাহা' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: সম্পদের অভিভাবক ওই শিশুর পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধবেন যে ভালো-মন্দ পার্থক্য করতে পারে না, কারণ তার পক্ষ থেকে নিয়ত করা অসম্ভব। আর সম্পদের অভিভাবক হলেন পিতা অথবা তার অসি (মনোনীত ব্যক্তি) অথবা বিচারক। এর বাহ্যিক অর্থ হলো, তাদের অনুমতি ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে তা শুদ্ধ হবে না। আমি বলছি, যদি কোনো অভিভাবক না থাকে, তবে যে ব্যক্তি শিশুর তত্ত্বাবধান করে সে-ই তার পক্ষ থেকে ইহরামের চুক্তি সম্পাদন করবে, যেমনটি 'আল-ইকনা' ও অন্যান্য কিতাবে জাকাত ও হেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাপ্ত।

শায়খ মুহাম্মাদ আল-খালওয়াতী বলেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর বাহ্যিক দিক: (হ্যাঁ, আর তোমার জন্য রয়েছে সওয়াব); যেখানে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি যে, তার পিতা উপস্থিত আছে কি না? সমাপ্ত।

আল-মুয়াফফাক 'আল-মুগনি' গ্রন্থে বলেন: যদি তার মা তার পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধেন, তবে তা শুদ্ধ হবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
صلى الله عليه وسلم: (ولك أجر) ولا يضاف الأجر إليها إلا لونه تبعاً لا في الإحرام، قال الإمام أحمد في رواية حنبل: يحرم عنه أبوه أو وليه واختاره ابن عقيل، وقال القاضي: ظاهر كلام أحمد أنه لا يحرم عنه إلا وليه، لأنه لا ولاية للأم على ماله، والإحرام يتعلق به إلزام مال فلا يصح من غير ذي ولاية كشراء شيء له، فأما غير الأم والولي من الأقارب كالأخ والعم وابنه فيخرَّج فيهم وجهان بناء على القول في الأم. أما الأجانب فلا يصح إحرامهم عنه وجهاً واحداً انتهى ملخصاً؛ ومعنى إحرام الولي عنه، نيته لإحرام له فيجرده كما يجرد الكبير نفسه، ويعقد له الإحرام، ويصير الصغير محرماً سواء كان الولي محرماً أو حلالاً ممن عليه حجة الإسلام، أو ممن كان قد حج عن نفسه، ولأن الولي يعقد له النكاح ولو كان مع الولي أربع نسوة، ويقع إحرام الصغير لازما، وحكمه كالمكلف نصاً، قال في الغاية وشرحها: ويتجه احتمال قوي الصحة لو أحرم الولي عن نفسه وعن موليه الغير المميز معاً، كما لو جعل لكل إحراماً على حدته وهو متجه انتهى.

وعليه فيقول: أدخلت نفسي وهذا الصغير في نسك كذا ونحو ذلك، ويعايا بها فيقال: شخص يصح أن يحرم عن غيره بالحج في حال إحرامه عن نفسه، ويجاب عنها فيقال هذا في الولي فإنه يصح أن يحرم عن الطفل المولى عليه ولو كان الولي محرماً، والله أعلم.

ويحرم مميز بإذن الولي عن نفسه لأنه يصح وضوءه فيصح إحرامه كالبالغ، وليس لولي المميز تحليله إذا أحرم كالبالغ.

ولا يصح إحرام المميز بغير إذن وليه لأنه يؤدي إلى لزوم ما لم يلزم فلم ينعقد بنفسه كالبيع؛ ولا يحرم الولي عن المميز لعدم الدليل على ذلك وكل ما أمكن الصغير، مميزاً كان أو دونه، فعله بنفسه كالوقوف بعرفة والمبيت
সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (তোমার জন্যও সওয়াব রয়েছে)। এখানে সওয়াবকে তার (মায়ের) দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে কেবল অনুগামী হিসেবে, ইহরামের ক্ষেত্রে নয়। ইমাম আহমাদ হাম্বল-এর বর্ণনায় বলেছেন: তার (শিশুর) পক্ষ থেকে তার বাবা অথবা অভিভাবক ইহরাম বাঁধবে; ইবন আকীল এটিই গ্রহণ করেছেন। কাজী বলেন: আহমাদের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ হলো, তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধবে না; কারণ তার সম্পদের উপর মায়ের কোনো অভিভাবকত্ব নেই, আর ইহরামের সাথে আর্থিক বাধ্যবাধকতা জড়িত, তাই অভিভাবকত্ব নেই এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটি সঠিক হবে না, যেমন তার জন্য কোনো কিছু ক্রয় করা। আর মা এবং অভিভাবক ছাড়া অন্যান্য নিকটাত্মীয় যেমন ভাই, চাচা এবং চাচার ছেলের ক্ষেত্রে মায়ের ব্যাপারে মতামতের ভিত্তিতে দুটি অভিমত পাওয়া যায়। তবে অপরিচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের ইহরাম তার পক্ষ থেকে সঠিক হবে না—এটিই একমাত্র মত; এখানে সারসংক্ষেপ শেষ হলো। অভিভাবকের পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধার অর্থ হলো, শিশুর পক্ষ থেকে ইহরামের নিয়ত করা, তাকে কাপড়মুক্ত করা যেভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেকে করে এবং তার জন্য ইহরামের চুক্তি সম্পন্ন করা। এতে শিশু মুহরিম হয়ে যাবে, অভিভাবক নিজে ইহরাম অবস্থায় থাকুক বা না থাকুক, চাই তার ওপর ইসলামের ফরজ হজ বাকি থাকুক অথবা সে নিজের পক্ষ থেকে হজ সম্পন্ন করে থাকুক। যেহেতু অভিভাবক তার জন্য বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে যদিও অভিভাবকের সাথে চারজন স্ত্রী থাকে। আর শিশুর ইহরাম আবশ্যকীয় হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং তার বিধান সরাসরি দলিল অনুযায়ী দায়িত্বশীল বা মুকাল্লাফের মতোই। 'আল-গায়াহ' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি অভিভাবক নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অভিভাবকত্বে থাকা বোধশক্তিহীন শিশুর পক্ষ থেকে একত্রে ইহরাম বাঁধে, তবে তা সঠিক হওয়ার শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে, যেমনটি সে যদি প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা ইহরাম নির্ধারণ করত; এবং এটিই যুক্তিযুক্ত—এখানে শেষ হলো।

অতএব সে বলবে: আমি নিজেকে এবং এই শিশুকে অমুক ইবাদতে প্রবেশ করালাম এবং এই জাতীয় কিছু। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষা বা ধাঁ ধাঁ হিসেবে পেশ করা হয় যে: এমন এক ব্যক্তি যার জন্য নিজের ইহরাম অবস্থায় অন্যের পক্ষ থেকে হজের ইহরাম বাঁধা বৈধ। এর উত্তরে বলা হয়, এটি অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ তার জন্য তার অভিভাবকত্বে থাকা শিশুর পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধা বৈধ, যদিও অভিভাবক নিজেও ইহরাম অবস্থায় থাকে। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

আর সমঝদার শিশু তার অভিভাবকের অনুমতিক্রমে নিজের পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধবে; কারণ তার অযু যেমন সহীহ হয়, তেমনি তার ইহরামও প্রাপ্তবয়স্কের মতো সহীহ হবে। সমঝদার শিশু ইহরাম বাঁধলে অভিভাবকের জন্য তাকে ইহরাম থেকে মুক্ত করার অধিকার নেই, ঠিক যেমন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে হয় না।

আর অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত সমঝদার শিশুর ইহরাম সঠিক হবে না; কারণ এটি এমন কিছু আবশ্যক করার দিকে নিয়ে যায় যা আবশ্যক ছিল না, ফলে এটি বিক্রয় চুক্তির মতোই নিজে নিজে কার্যকর হবে না। আর অভিভাবক সমঝদার শিশুর পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধবে না, কারণ এর পক্ষে কোনো দলিল নেই। আর শিশু—সে সমঝদার হোক বা তার নিচের বয়সের হোক—যা কিছু সে নিজে করতে সক্ষম হবে, যেমন আরাফায় অবস্থান এবং রাতযাপন, তা সে নিজেই করবে।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
بمزدلفة وليالي منى لزمه فعله؛ بمعنى أنه لا يصح أن يفعل عنه لعدم الحاجة إليه، لا بمعنى أنه يأثم بتركه لأنه غير مكلف سواء أحضره الولي فيهما، أعني الوقوف والمبيت أو غير الولي أو لم يحضره أحد، ويفعل ولي بنفسه أو نائبه عن مميز وغيره ما يعجزهما من أفعال حج وعمرة، لكن لا يبدأ ولي أو نائبه في رمي جمرات إلا بنفسه كنيابة حج، فإن بدأ برمي عن موليه وقع عن نفسه إن كان محرماً بفرضه، كمن أحرم عن غيره وعليه حجة الإسلام، قال في المغني: ولا يجوز أن يرمي عنه إلا من قد رمى عن نفسه لأنه لا يجوز أن ينوب عن الغير وعليه فرض نفسه، قال في المنتهى وشرحه: لكن لا يبدأ ولي في رمي جمرات إلا بنفسه كنيابة حج، فإن رمى عن موليه وقع عن نفسه إن كان محرماً بفرضه انتهى.

قال الشيخ محمد الخلوتي على قول صاحب المنتهى لكن لا يبدأ في رمي إلا بنفسه: أي فيما إذا كان حج فرض كما قيد به في شرحه، قال في الإقناع وشرحه: وما عجز عنه الصغير فعله عنه الولي لكن لا يجوز أن يرمي عنه: أي عن الصغير إلا من رمى عن نفسه كما في النيابة في الحج إن كان الولي محرماً بفرضه، قاله في المبدع وشرح المنتهى، وإن رمى عن الصغير أولا وقع الرمي عن نفسه كمن أحرم عن غيره وعليه حجة الإسلام، انتهى ملخصاً.

قلت: يفهم من كلامهم أنه إذا كان الولي محرماً بنفل الحج أنه يجوز له أن يرمي عن موليه قبل رميه عن نفسه، ويقاس عليه النائب في رمي الجمار إذا رمى عن مستنيبه قبل نفسه إذا كان النائب محرماً بنفل الحج، ويأتي البحث في ذلك مستوفى عند ذكر رمي الجمار، والله الموفق للصواب.

قال الشيخ مرعي في الغاية: ويتجه أنه لا يصح رمي عن صغير من غير موليه كما لا يصح الإحرام من غيره عنه وتقدم وهو متجه، قال شارح الغاية أو من أذن له الولي كبقية أفعال الحج انتهى.

وهو
মুযদালিফায় অবস্থান এবং মিনার রাতগুলোতে অবস্থান করা তার জন্য আবশ্যক; এর অর্থ হলো যে, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ তা করা সঠিক হবে না কারণ সেটির প্রয়োজন নেই। এটি এই অর্থে নয় যে, সে তা বর্জন করলে পাপী হবে, কারণ সে শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য (মুকাল্লাফ) নয়; চাই অভিভাবক তাকে ওই উভয় স্থানে অর্থাৎ উকুফ ও রাত যাপনের জন্য উপস্থিত করুক বা অভিভাবক ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত করুক কিংবা কেউ তাকে উপস্থিত না করুক। আর অভিভাবক নিজে অথবা তার প্রতিনিধি কোনো মুমাইয়্যিয বা গায়রে-মুমাইয়্যিয শিশুর পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরার ওইসব কাজ সম্পাদন করবেন যা করতে তারা অক্ষম। তবে অভিভাবক বা তার প্রতিনিধি জামারাতে পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে নিজের পাথর নিক্ষেপ সমাপ্ত না করে শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ শুরু করবেন না, যেমনটি হজ্জের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যদি তিনি তার অধীনস্থ শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন, তবে তা তার নিজের পক্ষ থেকেই গণ্য হবে—যদি তিনি নিজের ফরজ হজ্জের ইহরামে থাকেন; যেমন ওই ব্যক্তি যে নিজের ওপর ইসলামের ফরজ হজ্জ বাকি থাকা সত্ত্বেও অন্যের পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধে। 'আল-মুগনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি নিজের পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করেছে সে ব্যতীত অন্য কারো জন্য শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করা জায়েজ নয়। কারণ নিজের ওপর ফরজ বাকি থাকা অবস্থায় অন্যের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করা জায়েজ নয়। 'আল-মুনতাহা' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: তবে অভিভাবক জামারাতে পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে নিজের পাথর নিক্ষেপ আগে না করে শুরু করবেন না, যেমনটি হজ্জের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে হয়। যদি তিনি তার অধীনস্থ শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করেন তবে তা তার নিজের পক্ষ থেকেই গণ্য হবে—যদি তিনি নিজের ফরজ হজ্জের ইহরামে থাকেন। সমাপ্ত।

শেখ মুহাম্মদ আল-খালওয়াতি 'আল-মুনতাহা' প্রণেতার উক্তি—"তবে পাথর নিক্ষেপ নিজের আগে শুরু করবেন না"—এর ওপর বলেন: অর্থাৎ এটি তখন হবে যখন হজ্জটি ফরজ হয়, যেমনটি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে শর্ত দেওয়া হয়েছে। 'আল-ইকনা' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: ছোট শিশু যা করতে অক্ষম হবে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে তা করবেন, তবে ছোট শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করা ওই ব্যক্তি ছাড়া জায়েজ নয় যে নিজের পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করেছে—যেমনটি হজ্জের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যদি অভিভাবক নিজের ফরজ হজ্জের ইহরামে থাকেন। এ কথাটি 'আল-মুবদি' এবং 'মুনতাহা'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে। আর যদি তিনি প্রথমে শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করেন, তবে সেই নিক্ষেপ তার নিজের পক্ষ থেকেই গণ্য হবে—যেমন ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয় যে নিজের ওপর ইসলামের ফরজ হজ্জ বাকি থাকা সত্ত্বেও অন্যের পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধে। সংক্ষেপিত সমাপ্ত।

আমি বলছি: তাদের বক্তব্য থেকে এটি বোঝা যায় যে, অভিভাবক যদি নফল হজ্জের ইহরামে থাকেন, তবে নিজের পাথর নিক্ষেপের আগে তার অধীনস্থ শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করা তার জন্য জায়েজ। আর জামারাতে পাথর নিক্ষেপের প্রতিনিধির বিষয়টিও এর ওপর কিয়াস করা হবে যখন সে নিজের আগে তার নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করে, যদি প্রতিনিধি নফল হজ্জের ইহরামে থাকে। জামারাতে পাথর নিক্ষেপের বিবরণের সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

শেখ মারঈ 'আল-গায়া' গ্রন্থে বলেন: এটিই সমীচীন যে, অভিভাবক ছাড়া অন্য কেউ শিশুর পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করলে তা শুদ্ধ হবে না, যেমনটি অভিভাবক ছাড়া অন্য কেউ শিশুর পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধলে তা শুদ্ধ হয় না—যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে এবং এটিই শক্তিশালী অভিমত। 'গায়া'-র ব্যাখ্যাকার বলেন: অথবা যাকে অভিভাবক অনুমতি দিয়েছেন, হজ্জের অন্যান্য কার্যাবলির মতো। সমাপ্ত।

আর তা হলো...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
صريح في كلامهم حيث قالوا ويفعل ولي صغير ومميز بنفسه أو نائبه ما يعجزهما من أفعال الحج، قال الموفق في المغني: قال الإمام أحم يرمي عن الصبي أبواه أو وليه انتهى.

وكان ابن عمر رضي الله عنهما يحج بصبيانه وهم صغار فمن استطاع منهم أن يرمي رمى، ومن لم يستطع أن يرمي، رمى عنه، وإن كان الولي حلالاً لم يعتد برميه لأنه لا يصح منه لنفسه رمى، فلا يصح عن غيره، ومعنى هذا أنه لا يعتد برمي الحلال وهو من لم يحج في هذه السنة التي رمى فيها لأنه غير متلبس بعبادة الحج في هذه السنة فلم يكن صالحاً لأدائها ولا شيء منها ولذا لم يصح منه الرمي عن نفسه لكونه لم يحج، وإذا لم يصح منه عن نفسه فعن غيره من باب أولى، هذا ما ظهر لي، والله أعلم.

ولا يرد عليه إحرام الولي عمن لم يميز حيث كان يصح إحرامه عنه ولو كان حلالاً، لأنا نقول إذا عقد الولي الإحرام للصغير صار الصغير محرماً كما تقدم قريباً، وإن أمكن الصبي أن يناول النائب الحصا ناوله إياه وإلا استحب أن توضع الحصاة في كفه ثم تؤخذ فترمى عنه، فإن وضعها النائب في يده ورمى بها عنه فجعل يده كالآلة فحسن ليوجد منه نوع عمل، وإن أمكن الصغير أن يطوف ماشياً فعله كالكبير وإلا طيف به محمولاً أو راكباً كالمريض، ويجوز وإن لم يكن الطفل طاهراً لأن طهارته ليست شرطاً لصحة طوافه، فيعايا بها فيقال: شخص صح طوافه بلا طهارة ولا تيمم من غير عجز عن استعمال ذلك ولا عدم، ولا فرق بين أن يكون الحامل له حلالا أو حراماً ممن أسقط الفرض عن نفسه أولاً جعلاً للحامل له بمنزلة المركوب ولوجود الطواف من الصبي كمحمول مريض، ولم يوجد من الحامل إلا النية كحالة الإحرام بخلاف الرمي.

وتعتبر النية من الطائف به، فإن لم ينو الطواف عن الصبي لم يجزئه، قال في الإقناع: وتعتبر النية
তাদের বক্তব্যের মধ্যে এটি স্পষ্ট যেখানে তারা বলেছেন যে, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বুঝমান (মুমাইয়্যিজ) শিশুর অভিভাবক নিজে অথবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে হজের এমন সব কার্যাবলি সম্পাদন করবেন যা করতে তারা অক্ষম। মুওয়াফফাক আল-মুগনী গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন, শিশুর পক্ষ থেকে তার পিতামাতা বা তার অভিভাবক কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। সমাপ্ত।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর সন্তানদের নিয়ে হজ করতেন যখন তারা ছোট ছিল। তাদের মধ্যে যারা কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারত তারা নিক্ষেপ করত, আর যারা পারত না, তাদের পক্ষ থেকে তিনি নিক্ষেপ করে দিতেন। আর অভিভাবক যদি ইহরাম অবস্থায় না থাকেন (হালাল হন), তবে তাঁর নিক্ষেপ গণ্য হবে না; কারণ তাঁর নিজের পক্ষ থেকেই কঙ্কর নিক্ষেপ সহিহ নয়, তাই অন্যের পক্ষ থেকেও তা সহিহ হবে না। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি হালাল (অর্থাৎ যে বছর সে কঙ্কর নিক্ষেপ করছে সে বছর হজে নেই) তার নিক্ষেপ ধর্তব্য হবে না। কারণ সেই বছর সে হজের ইবাদতে লিপ্ত নয়, ফলে সে হজের কোনো আমল আদায়ের উপযুক্ত নয়। এই কারণেই তার নিজের পক্ষ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ সহিহ হয়নি যেহেতু সে হজ করেনি। আর যখন তার নিজের পক্ষ থেকেই সহিহ হয় না, তখন অন্যের পক্ষ থেকে না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটিই আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এর বিপরীতে অবুঝ শিশুর পক্ষ থেকে অভিভাবকের ইহরাম বাঁধার বিষয়টি আসবে না, যেখানে অভিভাবক হালাল হলেও তার পক্ষ থেকে ইহরাম বাঁধা সহিহ হয়। কারণ আমরা বলি যে, অভিভাবক যখন শিশুর পক্ষ থেকে ইহরামের নিয়ত করেন, তখন শিশু মুহরিম হয়ে যায়, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। যদি শিশুর পক্ষে প্রতিনিধিকে কঙ্কর হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে সে তা দিবে। অন্যথায় মুস্তাহাব হলো শিশুর তালুতে কঙ্কর রাখা এবং এরপর তা নিয়ে তার পক্ষ থেকে নিক্ষেপ করা। আর যদি প্রতিনিধি কঙ্করটি শিশুর হাতে রাখে এবং তা দিয়ে তার পক্ষ থেকে নিক্ষেপ করায়, ফলে তার হাতটিকে একটি যন্ত্রের মতো ব্যবহার করা হয়, তবে তা উত্তম হবে যাতে তার পক্ষ থেকে এক প্রকার আমল পাওয়া যায়। আর যদি শিশুর পক্ষে হেঁটে তওয়াফ করা সম্ভব হয়, তবে সে বড়দের মতো তা-ই করবে। অন্যথায় তাকে বহন করে বা সওয়ারিতে চড়িয়ে তওয়াফ করানো হবে যেমনটি অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে করা হয়। শিশু পবিত্র অবস্থায় না থাকলেও তা জায়েজ, কারণ তার তওয়াফ সহিহ হওয়ার জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়। এই মাসআলাটি নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্ন করা যায় এভাবে: এমন এক ব্যক্তি যার তওয়াফ পবিত্রতা বা তায়াম্মুম ছাড়াই সহিহ হয়েছে, অথচ সে তা করতে অক্ষম ছিল না এবং পানির অভাবও ছিল না। যে ব্যক্তি তাকে বহন করছে সে হালাল হোক বা ইহরাম অবস্থায় থাকুক, কিংবা সে নিজের ফরজ আদায় করে থাকুক বা না থাকুক—এতে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ বহনকারীকে এখানে সওয়ারির সমতুল্য ধরা হয়েছে এবং শিশুর পক্ষ থেকে তওয়াফ সংঘটিত হয়েছে যেমনটি অসুস্থ ব্যক্তিকে বহন করলে হয়। বহনকারীর পক্ষ থেকে শুধু নিয়ত ব্যতীত আর কিছু পাওয়া যায়নি, যেমনটি ইহরামের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তবে কঙ্কর নিক্ষেপের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।

যাকে নিয়ে তওয়াফ করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকে নিয়ত ধর্তব্য হবে। সুতরাং যদি শিশুর পক্ষ থেকে তওয়াফের নিয়ত না করা হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না। আল-ইকনা গ্রন্থে বলা হয়েছে: নিয়ত ধর্তব্য হবে।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
من الطائف به، قال الشيخ منصور: ولعله إذا كان دون التمييز وإلا فلا بد من النية منه كالإحرام انتهى.

قال في المنتهى: ويعتبر نية طائف به انتهى، قال الشيخ محمد الخلوتي: لعله في غير المميز على قياس الإحرام، وعلى قياسه أيضاً أنه إذا كان مميزاً يأتي به لنفسه بنيته بإذن وليه انتهى.

ويعتبر كونه ممن يصح أن يعقد له الإحرام بأن يكون وليه أو نائبه لأن الطواف تعتبر له النية فلما تعذرت من الصغير اعتبرت ممن له النيابة عنه بالشرع، بخلاف الوقوف بعرفة والمبيت بمزدلفة ومنى، فإن نوى الطائف بالصغير الطواف عن نفسه وعن الصبي وقع الطواف عن الصبي كالكبير يطاف به محمولاً لعذر، لأن الطواف فعل واحد لا يصح وقوعه عن اثنين، ونفقه الحج التي تزيد على نفقة الحضر وكفارته في مال وليه إن كان وليه أنشأ السفر به تمريناً على الطاعة لأنه السبب فيه وكما لو أتلف مال غيره بأمره قال ابن عقيل، ولا حاجة إلى التمرن على الحج لأنه لا يجب في العمر إلا مرة واحدة وقد لا يجب إذا فقدت شروطه أو أحدهما.

وأما نفقة الحضر، ففي مال الصبي بكل حال لأنه لا بد له منها مقيماً كان أو مسافراً، وأما سفر الصبي مع الولي للتجارة أو الخدمة أو إلى مكة ليستوطنها أو ليقيم بها لعلم أو غيره مما يباح للولي السفر بالصبي في وقت الحج وغيره ومع الإحرام وعدمه، فلا نفقة على الولي بل هي على الصبي قال في المبدع رواية واحدة، وعمد صغير وعمد مجنون لمحظور خطأ لا يجب فيه إلا ما يجب في خطأ المكلف أو في نسيانه لعدم اعتبار قصدهما فلا يجب بفعلهما شيء إلا فيما يجب على المكلف في خطأ ونسيان كإزالة الشعر وتقليم الظفر وقتل الصيد والوطء، بخلاف الطيب ولبس المخيط وتغطية الرأس.

قال الشيخ الخلوتي: أي إذا طرأ جنونه بعد إحرامه وإلا فسيأتي أن الإحرام لا ينعقد مع الجنون ولا الإغماء
তওয়াফকারীর পক্ষ থেকে (উক্ত নিয়ত হতে হবে), শেখ মনসুর বলেছেন: এবং সম্ভবত এটি তখনই প্রযোজ্য যখন সে বোধশক্তি সম্পন্ন হওয়ার বয়সের নিচে থাকে, অন্যথায় ইহরামের ন্যায় তার পক্ষ থেকেই নিয়ত করা আবশ্যক। সমাপ্ত।

'মুনতাহা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তওয়াফকারীর নিয়ত ধর্তব্য হবে। সমাপ্ত। শেখ মুহাম্মদ আল-খালওয়াতি বলেছেন: সম্ভবত এটি বোধশক্তিহীন শিশুর ক্ষেত্রে ইহরামের সাথে তুলনা করে বলা হয়েছে। আর সেই তুলনা অনুযায়ী এটিও সাব্যস্ত হয় যে, শিশু যদি বোধশক্তি সম্পন্ন হয় তবে সে তার অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে নিজের নিয়তে নিজেই তওয়াফ করবে। সমাপ্ত।

এবং তওয়াফকারী এমন ব্যক্তি হওয়া শর্ত যার পক্ষ থেকে ইহরামের চুক্তি সম্পাদন করা সঠিক হয়, অর্থাৎ সে যেন শিশুর অভিভাবক বা তার প্রতিনিধি হয়। কারণ তওয়াফের জন্য নিয়ত করা শর্ত; যেহেতু শিশুর পক্ষ থেকে নিয়ত করা অসম্ভব, তাই শরীয়ত অনুযায়ী যার প্রতিনিধিত্বের অধিকার আছে তার নিয়ত ধর্তব্য হবে। তবে আরাফায় অবস্থান এবং মুযদালিফা ও মিনায় রাত যাপনের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। যদি তওয়াফকারী শিশুকে নিয়ে নিজের এবং শিশুর—উভয়ের পক্ষ থেকে তওয়াফের নিয়ত করে, তবে সেই তওয়াফটি শিশুর পক্ষ থেকেই গণ্য হবে; যেমন কোনো ওজরের কারণে কোনো বয়স্ক ব্যক্তিকে বহন করে তওয়াফ করানো হলে তা বহনকৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকেই গণ্য হয়। কারণ তওয়াফ একটি একক কাজ যা একইসাথে দুই ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় হওয়া সঠিক নয়। আর হজের সেই ব্যয় যা স্বাভাবিক অবস্থার ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত হয় এবং হজের কাফফারা—তা অভিভাবকের সম্পদ থেকে দিতে হবে, যদি অভিভাবক শিশুকে ইবাদতে অভ্যস্ত করার উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে সফর শুরু করে থাকেন। কারণ অভিভাবকই এর কারণ এবং এটি ঠিক তেমনই যেমন কারো নির্দেশে অন্যের সম্পদ নষ্ট করা হলে নির্দেশদাতাকে দায়ভার নিতে হয়। ইবনে আকিল বলেছেন, হজ পালনে অভ্যস্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ জীবনে এটি মাত্র একবারই আবশ্যক হয় এবং শর্তসমূহ বা তার কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তা আবশ্যকও হয় না।

আর স্বাভাবিক অবস্থার ব্যয় সকল ক্ষেত্রেই শিশুর সম্পদ থেকেই নির্বাহ হবে, কারণ সে বাড়িতে অবস্থানরত হোক বা মুসাফির—উভয় অবস্থাতেই এই ব্যয় তার জন্য অপরিহার্য। আর ব্যবসা, সেবা বা মক্কায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার উদ্দেশ্যে অথবা জ্ঞানার্জন বা অন্য কোনো কারণে অভিভাবকের সাথে শিশুর সফর করা—যে সকল ক্ষেত্রে অভিভাবকের জন্য হজের সময় বা অন্য সময়ে, ইহরামসহ বা ইহরাম ব্যতীত শিশুকে নিয়ে সফর করা বৈধ—সেসব ক্ষেত্রে ব্যয়ের দায়িত্ব অভিভাবকের ওপর নয় বরং শিশুর ওপরই বর্তাবে। 'মুবদি' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে এটিই একমাত্র বর্ণনা। আর কোনো নিষিদ্ধ কাজের ক্ষেত্রে শিশুর ইচ্ছাকৃত কাজ এবং পাগলের ইচ্ছাকৃত কাজ ভুলবশত করা কাজ হিসেবে গণ্য হবে। এতে কেবল তা-ই আবশ্যক হবে যা একজন শরীয়তের বিধান পালনযোগ্য ব্যক্তির ভুলবশত বা বিস্মৃতিবশত কাজের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়; কারণ তাদের সংকল্প বা ইচ্ছার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সুতরাং তাদের কাজের কারণে কোনো কিছুই আবশ্যক হবে না, কেবল সেসব ক্ষেত্র ছাড়া যা একজন শরীয়তের বিধান পালনযোগ্য ব্যক্তির ভুলবশত ও বিস্মৃতিবশত কাজের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়; যেমন চুল কাটা, নখ কাটা, শিকার করা এবং সহবাস করা। সুগন্ধি ব্যবহার, সেলাই করা পোশাক পরিধান এবং মাথা ঢাকার বিষয়টি এর বিপরীত।

শেখ আল-খালওয়াতি বলেছেন: অর্থাৎ যদি ইহরাম বাঁধার পর তার উন্মাদনা দেখা দেয়; অন্যথায় সামনে আলোচিত হবে যে, উন্মাদনা বা অচেতন অবস্থায় ইহরাম সংঘটিত হয় না।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا السكر انتهى.

قلت: يأتي ذلك في باب الإحرام وتقدم شيء منه، وإن فعل الولي بهما فعلاً لمصلحة كتغطية رأس الصغير أو المجنون المحرم لبرد أو حر أو تطيبه لمرض أو حلق رأسه لأذى، فكفارته على الولي إذا كان الولي أنشأ السفر به تمرينا على الطاعة، أما لو سافر به لتجارة ونحوها فهي في مال الصبي كما لو فعله الصبي نفسه، هذا مقتضى ما نقله في الفروع والمبدع، وشرح المنتهى لمؤلفه الفتوحي عن المجد واقتصروا عليه، فأما إن فعله الولي لا لعذر فكفارته عليه بكل حال كمن حلق رأس محرم بغير إذنه، قال في المنتهى وشرحه: وإن وجب في كفارة على ولي بأن أنشأ السفر به تمرينا على الطاعة صوم صام الولي عنه لوجوبها عليه ابتداء كصوم عن نفسه، وعلم منه أن الكفارة لو لم تجب على الولي ودخلها صوم لم يصم الولي، لأن الواجب بأصل الشرع لا تدخله النيابة انتهى.

قال الشيخ منصور في حاشيته على المنتهى: قوله وإن وجب في كفارة على ولي إلى آخره، يعني إذا وجبت الكفارة على الولي لكونه أنشأ السفر به تمرينا على الطاعة وكان فيها صوم فللولي الصوم لوجوبها عليه ابتداء كصومه عن نفسه، وعلم منه أنه لا يصوم في كفارة عن الصبي حيث وجبت عليه لأن الواجب بأصل الشرع لا تدخله النيابة كما مر، هذا مفهوم كلامه في الفروع.

وعبارة التنقيح وتبعه في الإقناع: وإن وجب في كفارة صوم صام الولي فعمومه يتناول ما إذا كانت الكفارة على الولي أو الصبي، وهل هو مراد لكون الصوم إذاً من توابع الحج فتدخله النيابة تبعاً كركعتي الطواف، ويكون مخالفاً لكلام الفروع كما هو مقتضى قوله، يعني صاحب التنقيح في أول خطبته: وإن وجدت فيه شيئاً مخالفاً لأصله أو غيره فاعتمده فإنه وضع عن تحرير أوْ لا لكونه جزم في الإنصاف بما قاله في الفروع غير حاكٍ فيه خلافاً، ولعل
এবং নেশাও নয়। সমাপ্ত।

আমি বলছি: এটি ইহরামের অধ্যায়ে আসবে এবং এর কিছু অংশ আগে অতিবাহিত হয়েছে। যদি অভিভাবক তাদের (শিশু বা পাগল) সাথে তাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন—যেমন শীত বা গরমের কারণে ইহরামরত শিশু বা পাগলের মাথা ঢেকে দেওয়া, অথবা অসুস্থতার কারণে সুগন্ধি ব্যবহার করা, অথবা কষ্টের কারণে তার মাথা মুণ্ডন করা—তবে তার কাফফারা অভিভাবকের ওপর বর্তাবে, যদি অভিভাবক তাকে ইবাদতের অভ্যাসের উদ্দেশ্যে সফরে নিয়ে বের হয়ে থাকেন। কিন্তু যদি তিনি তাকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বা এই জাতীয় কোনো কারণে সফরে নিয়ে বের হন, তবে কাফফারা শিশুর সম্পদ থেকেই আদায় করা হবে, যেমনটি শিশু নিজে করলে হতো। এটিই আল-ফুরু, আল-মুবদি এবং শারহুল মুনতাহা-এর লেখক আল-ফুতুহি আল-মাজদ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার নির্যাস এবং তারা এর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। পক্ষান্তরে, যদি অভিভাবক কোনো ওজর ছাড়াই তা করেন, তবে সর্বাবস্থায় কাফফারা তাঁর ওপরই বর্তাবে, ঠিক যেমন কেউ অনুমতি ছাড়াই কোনো ইহরামকারী ব্যক্তির মাথা মুণ্ডন করে দিলে হয়। আল-মুনতাহা ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি অভিভাবকের ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয় এই কারণে যে তিনি তাকে ইবাদতের অভ্যাসের উদ্দেশ্যে সফরে নিয়ে বের হয়েছেন এবং সেই কাফফারায় যদি রোজা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবেন। কারণ এটি প্রাথমিকভাবে তাঁর নিজের ওপরই ওয়াজিব হয়েছে, যেমনটি তিনি নিজের জন্য রোজা রাখেন। এখান থেকে জানা যায় যে, কাফফারা যদি অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব না হতো এবং সেখানে রোজা থাকত, তবে অভিভাবক রোজা রাখতেন না। কেননা শরিয়তের মূল বিধান অনুযায়ী ওয়াজিব ইবাদতে কোনো প্রতিনিধিত্ব চলে না। সমাপ্ত।

শায়খ মানসুর আল-মুনতাহা-এর টীকায় বলেছেন: তাঁর উক্তি 'যদি অভিভাবকের ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়' শেষ পর্যন্ত—এর অর্থ হলো যখন অভিভাবকের ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে একারণে যে তিনি তাকে ইবাদতের অভ্যাসের উদ্দেশ্যে সফরে নিয়ে বের হয়েছেন এবং তাতে রোজা থাকে, তবে অভিভাবকের জন্য রোজা রাখা জরুরি; যেহেতু তা প্রাথমিকভাবে তাঁর ওপরই ওয়াজিব হয়েছে যেমনটি তিনি নিজের পক্ষ থেকে রোজা রাখেন। এখান থেকে এও জানা যায় যে, তিনি শিশুর পক্ষ থেকে কাফফারার রোজা রাখবেন না যেখানে তা শিশুর ওপর ওয়াজিব হয়েছে। কারণ শরিয়তের মূল বিধান অনুযায়ী ওয়াজিব ইবাদতে কোনো প্রতিনিধিত্ব চলে না, যেমনটি আগে বলা হয়েছে। আল-ফুরু গ্রন্থে তাঁর কথার মর্মার্থ এটিই।

আত-তানকিহ-এর ইবারত এবং আল-ইকনা গ্রন্থে যার অনুসরণ করা হয়েছে তা হলো: 'যদি কাফফারায় রোজা ওয়াজিব হয় তবে অভিভাবক রোজা রাখবেন।' এর ব্যাপকতা সেই ক্ষেত্রকেও শামিল করে যেখানে কাফফারা অভিভাবকের ওপর কিংবা শিশুর ওপর ওয়াজিব হয়। আর এটিই কি উদ্দিষ্ট বিষয়? কারণ রোজা তখন হজের অনুগামী বিষয় হিসেবে গণ্য হবে, ফলে তাতে অনুগামী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব প্রবেশ করবে যেমনটি তওয়াফের দুই রাকাত নামাজের ক্ষেত্রে হয়। এটি আল-ফুরু এর বক্তব্যের পরিপন্থী হবে, যেমনটি আত-তানকিহ প্রণেতার তাঁর ভূমিকার শুরুতে করা বক্তব্যের দাবি: 'যদি আপনি এতে মূল উৎস বা অন্য কিছুর পরিপন্থী কিছু পান তবে সেটিই গ্রহণ করবেন, কারণ এটি সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পর লেখা হয়েছে।' অথবা এটি পরিপন্থী নয় একারণে যে তিনি আল-ইনসাফ গ্রন্থে কোনো মতভেদ উল্লেখ না করেই আল-ফুরু তে যা বলা হয়েছে সে বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন। আর সম্ভবত
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا هو حكمة عدول المصنف، يعني الشيخ محمد بن أحمد الفتوحي في المنتهى عما في التنقيح مع كونه التزمه أولاً انتهى.

قال الشيخ محمد الخلوتي في حاشية المنتهى: قوله وإن وجب في كفارة إلى آخره هذه العبارة تبع المصنف فيها ظاهر كلام الفروع وهو مخالف لظاهر عبارة التنقيح، وعبارته في التنقيح: وإن وجب في كفارة صوم صام الولي وتبعه في الإقناع في التعبير، وكل من العبارتين مشكل، أما الأولى فلما فيها من التناقض بحسب الظاهر لأن صدرها يقتضي أن الكفارة استقرت على الولي، وقوله عنه يقتضي أنها وجبت على مَوليه، وأما الثانية فلأن إطلاقها يقتضي أنه متى وجب في الكفارة صوم سواء كانت وجبت على الولي أو الصغير لزم الولي الصوم، فيقتضي أن ما وجب في الصوم بأصل الشرع تدخله النيابة. فإن قلت: أي العبارتين أولى؟ قلت: الأولى. ويجاب عن التناقض اللازم عليها بأن قوله صام عنه ليس لكون الكفارة استقرت على الصبي بل لكون الوجوب جاء من جهته لأن أصل الفعل عنه، وبأن الضمير في عنه راجع للواجب لا للصغير وإن كان هذا خلال حل شيخنا، يعني خاله الشيخ منصوراً في شرحه. وعبارة المبدع، فإذا وجبت على الولي ودخل فيها الصوم فصومها عن نفسه انتهى.

وهي معينة للمراد من عبارة المصنف، يعني صاحب المنتهى، ولو أسقط يعني صاحب المنتهى لفظ عن لكان أظهر للمراد انتهى كلام الخلوتي.

قال الشيخ عثمان بن قائد في حاشية المنتهى: قوله صام عنه؛ المتبادر من عبارته أن الصوم عن الصغير، وهو مناقض لقوله وجب على ولي. والحاصل أن صوم كفارة واجبة على ولي واجب على الولي، وصوم كفارة في مال الصبي واجب على الصبي إذا بلغ كما ذكره منصور. وفي المبدع: متى دخل في الكفارة اللازمة للولي صوم صام عن نفسه، وهي ظاهرة لا غبار
এটাই হলো মুসান্নিফ—অর্থাৎ আল-মুনতাহা গ্রন্থে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-ফুতুহী—কর্তৃক আত-তানকীহ-এর বক্তব্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার হিকমত, যদিও তিনি শুরুতে সেটির অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সমাপ্ত।

শাইখ মুহাম্মাদ আল-খালওয়াতী আল-মুনতাহা-এর হাশিয়াতে বলেন: তাঁর কথা "আর যদি কাফফারায় ওয়াজিব হয়..." শেষ পর্যন্ত; এই ইবারতে মুসান্নিফ আল-ফুরু'-এর প্রকাশ্য বক্তব্যের অনুসরণ করেছেন, যা আত-তানকীহ-এর প্রকাশ্য ইবারতের পরিপন্থী। আত-তানকীহ-এর ইবারত হলো: "আর যদি রোজা রাখার কাফফারা ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবক রোজা রাখবেন"; আল-ইকনা' গ্রন্থেও এই পরিভাষা অনুসরণ করা হয়েছে। উভয় ইবারতেই জটিলতা রয়েছে। প্রথমটির ক্ষেত্রে, কারণ বাহ্যিকভাবে এতে বৈপরীত্য রয়েছে; কেননা এর প্রথমাংশ দাবি করে যে কাফফারা অভিভাবকের ওপর ধার্য হয়েছে, আর "তার পক্ষ থেকে" কথাটি দাবি করে যে এটি তার অধীনে থাকা ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হয়েছে। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে, কারণ এর সাধারণ অর্থ দাবি করে যে, কাফফারায় যখনই রোজা ওয়াজিব হবে—চাই তা অভিভাবকের ওপর হোক বা নাবালেগের ওপর—অভিভাবকের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক হবে। এটি এই অর্থ প্রদান করে যে, শরয়ি বিধান অনুযায়ী যে রোজা মূল উৎস থেকে সাব্যস্ত হয়েছে তাতে প্রতিনিধিত্ব প্রবেশ করবে। আপনি যদি বলেন: কোন ইবারতটি অধিক উত্তম? আমি বলব: প্রথমটি। আর এর ফলে যে বৈপরীত্য সৃষ্টি হচ্ছে তার উত্তর হলো, "তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবে" কথাটির অর্থ এই নয় যে কাফফারা নাবালেগের ওপর ধার্য হয়েছে, বরং ওয়াজিবটি তার দিক থেকেই এসেছে কারণ মূল কাজটি তার পক্ষ থেকে হয়েছিল। এবং "তার পক্ষ থেকে" বাক্যে সর্বনামটি ওয়াজিবের দিকে ফিরেছে, নাবালেগের দিকে নয়—যদিও এটি আমাদের শাইখ অর্থাৎ তাঁর মামা শাইখ মানসূরের তাঁর শারহ-এ করা ব্যাখ্যার বিপরীত। আল-মুবদি'-এর ইবারত হলো: "যখন অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব হবে এবং তাতে রোজা অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন তিনি নিজের পক্ষ থেকেই রোজা রাখবেন।" সমাপ্ত।

এটি মুসান্নিফ অর্থাৎ মুনতাহা প্রণেতার ইবারতের উদ্দেশ্যকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়। আর মুনতাহা প্রণেতা যদি "পক্ষ থেকে" শব্দটি বাদ দিতেন, তবে উদ্দেশ্যটি আরও স্পষ্ট হতো। আল-খালওয়াতীর বক্তব্য সমাপ্ত।

শাইখ উসমান ইবনে কায়িদ আল-মুনতাহা-এর হাশিয়াতে বলেন: তাঁর কথা "তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবে"; তাঁর ইবারত থেকে প্রাথমিকভাবে যা বুঝে আসে তা হলো রোজাটি নাবালেগের পক্ষ থেকে, অথচ এটি তাঁর কথা "অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব" হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক। সারকথা হলো, অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব হওয়া কাফফারার রোজা অভিভাবকের ওপরই ওয়াজিব। আর নাবালেগের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত কাফফারার রোজা নাবালেগ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার ওপর ওয়াজিব, যেমনটি শাইখ মানসূর উল্লেখ করেছেন। আল-মুবদি' গ্রন্থে রয়েছে: "যখন অভিভাবকের জন্য আবশ্যকীয় কাফফারায় রোজা অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন তিনি নিজের পক্ষ থেকেই রোজা রাখবেন।" এটি সুস্পষ্ট, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
عليها فيتعين حمل ما نهى على ذلك بأن يراد بقوله عنه: أي عن ذلك الواجب، اللهم إلا أن يقال معنى كونه عن الصغير أن الوجوب إنما جاء من جهته فنسب إليه، وفي التنقيح والإقناع وإن وجب في كفارة صوم صام الولي وفيها عموم غير مراد بقرينة أنه جزم في الإنصاف بما قاله في الفروع الذي جزم به المصنف، يعني صاحب المنتهى هنا غير حاك فيه خلافاً، قال منصور: ولعل هذا حكمة عدول المصنف عما في التنقيح مع كونه التزمه أولاً فما هنا أولى من عبارتهما على ما فيه فتأمل انتهى كلام عثمان.

قال الشيخ منصور في شرح الإقناع بعد كلام سبق: وعلى هذا لو كانت الكفارة على الصبي ووجب فيها صوم لم يصم الولي عنه بل يبقى في ذمته حتى يبلغ. فإن مات أطعم عنه كقضاء رمضان وهذا مقتضى كلامه أيضاً في المبدع وشرح المنتهى لمؤلفه.

انتهى كلام الشيخ منصور وفي الغاية للشيخ مرعي: وإن وجب في كفارة مطلقاً صوم صام ولي خلافا للمنتهي في تفصيله، إذ الصوم لا يصح ممن لم يميز ومن مميز نفل انتهى.

قال الشيخ سليمان بن علي في منسكه: وإن وجب في كفارة صوم صام ولي إذ الصوم من الطفل لا يصح ومن المميز نفل انتهى.

تبنيه: تبين من العبارات المتقدمة حصول الخلاف في هذه المسألة فصاحب الفروع والإنصاف فيه والمبدع والمنتهى وشرحيه للمؤلف ومنصور. وحاشية الشيخ منصور على المنتهى وشرحه على الإقناع، والشيخ محمد الخلوتي في حاشيته على المنتهى، والشيخ عثمان بن قائد النجدي في حاشيته على المنتهى يرون أنه إذا وجبت الكفارة على الولي ودخلها صوم صام الولي، وإن وجبت الكفارة على الصبي فلا يصوم الولي عنه؛ وأما صاحب التنقيح فيه وصاحب الإقناع والغاية وسليمان بن علي فيرون أنه إذا وجب في كفارة صوم صام الولي
এর ওপর ভিত্তি করে, যা নিষেধ করা হয়েছে তাকে সেদিকেই ধাবিত করা আবশ্যক হবে যে, তার পক্ষ থেকে বলতে সেই ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিষয়টিই উদ্দেশ্য। তবে যদি বলা হয় যে, ছোট শিশুর পক্ষ থেকে হওয়ার অর্থ হলো ওয়াজিবটি তার পক্ষ থেকেই এসেছে বিধায় তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। 'আত-তানকীহ' ও 'আল-ইকনা' গ্রন্থে রয়েছে: যদি কাফফারার মধ্যে রোজা ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবক রোজা রাখবেন। এতে এমন ব্যাপকতা রয়েছে যা কাঙ্ক্ষিত নয় এই দলিলের ভিত্তিতে যে, 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে সেই বিষয়টির ওপরই দৃঢ়তা প্রকাশ করা হয়েছে যা 'আল-ফুরু' গ্রন্থে বলা হয়েছে এবং যা এখানে গ্রন্থকার—অর্থাৎ 'আল-মুনতাহা'র লেখক—নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এতে কোনো মতভেদ বর্ণনা করেননি। মানসুর বলেন: সম্ভবত এটিই হলো 'আত-তানকীহ' গ্রন্থে বর্ণিত মত থেকে গ্রন্থকারের ফিরে আসার হিকমত বা রহস্য, যদিও তিনি প্রথমে তা অনুসরণ করেছিলেন। সুতরাং এখানে যা আছে তা-ই তাদের উভয়ের বক্তব্যের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য, এতে যা রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করুন। উসমানের বক্তব্যের সমাপ্তি।

শেখ মানসুর 'শারহুল ইকনা' গ্রন্থে পূর্ববর্তী আলোচনার পর বলেছেন: এর ওপর ভিত্তি করে, যদি কাফফারা শিশুর ওপর বর্তায় এবং তাতে রোজা ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবেন না, বরং তা তার জিম্মায় থেকে যাবে যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। যদি সে মারা যায়, তবে রমজানের কাজা রোজার ন্যায় তার পক্ষ থেকে খাদ্য দান করা হবে। এটি 'আল-মুবদি' এবং গ্রন্থকারের 'শারহুল মুনতাহা'র বক্তব্যেরও দাবি।

শেখ মানসুরের বক্তব্যের সমাপ্তি। শেখ মারয়ি 'আল-গায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: যদি কোনো কাফফারাতে সাধারণভাবে রোজা ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবক রোজা রাখবেন। এটি 'আল-মুনতাহা'র বিস্তারিত বর্ণনার বিপরীত। কেননা অবুঝ শিশুর পক্ষ থেকে রোজা শুদ্ধ হয় না, আর সমঝদার শিশুর ক্ষেত্রে তা নফল হিসেবে গণ্য হয়। সমাপ্ত।

শেখ সুলায়মান ইবনে আলী তার 'মানাসিক' গ্রন্থে বলেছেন: যদি কাফফারার ক্ষেত্রে রোজা ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবক রোজা রাখবেন। কারণ শিশুর পক্ষ থেকে রোজা শুদ্ধ নয় এবং সমঝদার শিশুর ক্ষেত্রে তা নফল। সমাপ্ত।

সতর্কতা: উপর্যুক্ত উদ্ধৃতিসমূহ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই মাসআলায় মতভেদ রয়েছে। 'আল-ফুরু', 'আল-ইনসাফ', 'আল-মুবদি', 'আল-মুনতাহা' এবং এর ওপর গ্রন্থকার ও মানসুরের দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের লেখকগণ; এছাড়া 'আল-মুনতাহা'র ওপর শেখ মানসুরের টীকা, 'আল-ইকনা'র ওপর তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শেখ মুহাম্মদ আল-খালওয়াতীর 'আল-মুনতাহা'র টীকা এবং শেখ উসমান বিন কায়েদ আন-নাজদীর 'আল-মুনতাহা'র টীকাতে তারা এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, যদি কাফফারা অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব হয় এবং তাতে রোজা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে অভিভাবক রোজা রাখবেন; কিন্তু যদি কাফফারা শিশুর ওপর ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবেন না। অন্যদিকে, 'আত-তানকীহ' ও 'আল-ইকনা'র লেখকদ্বয় এবং 'আল-গায়াহ' ও সুলায়মান ইবনে আলী মনে করেন যে, যদি কাফফারায় রোজা ওয়াজিব হয়, তবে অভিভাবকই রোজা রাখবেন।
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ২০)
سواء كانت الكفارة على الولي أو الصبي.

فإن قيل: أي القولين أولى؟ قلت الأول. ويكون حكم المسألة في هذا كما قاله الشيخ منصور حيث قال: وعلى هذا لو كانت الكفارة على الصبي ووجب فيها صوم لم يصم الولي عنه بل يبقى في ذمته حتى يبلغ، فإن مات أطعم عنه كقضاء رمضان انتهى كلام منصور، والله أعلم.

ووطء الصبي كوطء البالغ ناسياً، فإن كان قبل التحلل الأول أفسد حجه وإلا فلا ويمضي في فاسده ويلزمه القضاء بعد البلوغ نصاً، ويعايا بها فيقال: صبي مميز كلفناه بالحج في صباه مع أنه لا يصح إلا بعد البلوغ ويجاب عنها فيقال: هذا فيما إذا أحرم بالحج بإذن وليه ثم أفسده بالجماع فإنه يلزمه القضاء لكن لا يصح إلا بعد البلوغ في المنصوص، فلو قضاه قبل بلوغه لم يصح نص عليه لأنه إفساد لإحرام لازم وذلك يقتضي وجوب القضاء، ونية الصبي تمنع التكليف بفعل العبادات البدنية لضعفه عنها، ونظير ذلك وجود الاحتلام أو الوطء من المجنون، فإنه يوجب الغسل عليه لوجود سببه ولا يصح منه إلا بعد الإفاقة لفقد أهليته للغسل في الحال.

وكذا الحكم إذا تحلل الصبي من إحرامه لفوات وقت الوقوف فإن يقتضيه إذا بلغ، وفي الهدي التفصيل السابق أو تحلل الصبي لإحصار، وقلنا يجب القضاء يقضيه إذا بلغ والفدية على ما سبق، ويأتي أن المحصر لا يلزمه قضاء، لكن إذا أراد الصبي القضاء، بعد البلوغ لزمه أن يقدم حجة الإسلام على المقضية كالمنذورة، فلو خالف وقدم المقضية على حجة الإسلام فهو كالحر البالغ يحرم قبل الفرض بغيره فينصرف نفله إلى حجة الإسلام ثم يقضي بعد ذلك، ومتى بلغ الصبي في الحجة الفاسدة التي وطيء فيها في حال يجزئه عن حجة الفرض لو كانت صحيحة بأن بلغ وهو بعرفة أو بعده وعاد فوقف في وقته ولم يكن سعى
কাফফারা ওলী বা অভিভাবকের ওপর হোক অথবা শিশুর ওপর।

যদি বলা হয়: দুটি মতের মধ্যে কোনটি অধিক উত্তম? আমি বলব, প্রথমটি। আর এ বিষয়ে মাসআলার হুকুম হবে শায়খ মনসুর যা বলেছেন সেই অনুযায়ী। তিনি বলেছেন: এর ওপর ভিত্তি করে, যদি কাফফারা শিশুর ওপর বর্তায় এবং তাতে রোজা রাখা ওয়াজিব হয়, তবে ওলী বা অভিভাবক তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবেন না, বরং তা শিশুর জিম্মায় থেকে যাবে যতক্ষণ না সে বালেগ হয়। আর যদি সে মারা যায়, তবে তার পক্ষ থেকে মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো হবে যেমনটি রমজানের কাজা রোজার ক্ষেত্রে করা হয়। মনসুরের কথা এখানেই শেষ, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আর শিশুর সহবাস প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ভুলে সহবাস করার মতো। সুতরাং তা যদি প্রথম তাহাল্লুলের আগে হয়, তবে তার হজ বাতিল হয়ে যাবে, অন্যথায় হবে না। তাকে সেই বাতিল হজের কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে এবং বালেগ হওয়ার পর তার ওপর এর কাজা করা ওয়াজিব হওয়া সুস্পষ্ট বর্ণনা (নস) দ্বারা প্রমাণিত। এ নিয়ে একটি জটিল মাসআলা উত্থাপন করে বলা হয়: একজন মুমায়্যিজ শিশু, যাকে আমরা তার শৈশবে হজের দায়িত্ব দিয়েছি অথচ তা বালেগ হওয়ার আগে শুদ্ধ হয় না? এর উত্তর দেওয়া হয় এভাবে: এটি ওই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন সে তার অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে হজের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর সহবাসের মাধ্যমে তা নষ্ট করে ফেলে। এমতাবস্থায় তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব, তবে সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী তা বালেগ হওয়ার আগে শুদ্ধ হবে না। সুতরাং যদি সে বালেগ হওয়ার আগেই তা কাজা করে, তবে তা শুদ্ধ হবে না বলে নস বা বর্ণনা বিদ্যমান; কারণ এটি একটি আবশ্যকীয় ইহরামকে নষ্ট করা এবং এটি কাজা করাকে আবশ্যক করে। আর শিশুর নিয়ত তাকে শারীরিক ইবাদত পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে বিরত রাখে তার অক্ষমতার কারণে। এর সদৃশ বিষয় হলো পাগলের স্বপ্নদোষ বা সহবাস হওয়া; কারণ এর কারণ বিদ্যমান থাকার ফলে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হয়, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে গোসল করার যোগ্যতা না থাকায় সুস্থ হওয়ার আগে তা তার পক্ষ থেকে শুদ্ধ হয় না।

অনুরূপ হুকুম হবে যদি শিশু উকুফের সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে তার ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যায়; সেক্ষেত্রে বালেগ হওয়ার পর সে তা কাজা করবে। আর হাদির (কুরবানির পশুর) ব্যাপারে পূর্বের বিস্তারিত বিবরণ প্রযোজ্য হবে। অথবা যদি শিশু ইহসার (বাধাগ্রস্ত হওয়া) কারণে হালাল হয়ে যায় এবং আমরা বলি যে কাজা করা ওয়াজিব, তবে সে বালেগ হওয়ার পর তা কাজা করবে এবং ফিদইয়া পূর্বের বর্ণনা অনুযায়ী হবে। সামনে আলোচনা আসবে যে, মুহাসার বা বাধাগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কাজা ওয়াজিব নয়। তবে শিশু যদি বালেগ হওয়ার পর কাজা করতে চায়, তবে তার জন্য মানতের হজের মতোই কাজা হজের আগে হাজ্জাতুল ইসলাম (ফরজ হজ) আদায় করা আবশ্যক। যদি সে এর ব্যতিক্রম করে এবং হাজ্জাতুল ইসলামের আগে কাজা হজ সম্পাদন করে, তবে সে সেই স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মতো হবে যে ফরজ হজের আগে অন্য কোনো হজের ইহরাম বাঁধে; ফলে তার সেই নফল হজটি হাজ্জাতুল ইসলাম হিসেবে গণ্য হবে, অতঃপর সে এরপর কাজা আদায় করবে। আর যে ফাসিদ হজে শিশু সহবাস করেছিল, সেই হজের মধ্যে সে যদি এমন অবস্থায় বালেগ হয় যা তার ফরজ হজের জন্য যথেষ্ট হতো যদি হজটি সহীহ হতো—যেমন সে আরাফায় থাকা অবস্থায় বালেগ হলো অথবা এরপর বালেগ হয়ে ফিরে এসে নির্ধারিত সময়ে উকুফ করল এবং তখনও সাঈ করেনি...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ২১)
بعد طواف القدوم لحجة أو قرانه فإنه يمضي في تلك الحجة التي بلغ في أثنائها ثم يقضيها فوراً ويجزئه ذلك الحج القضاء عن حجة الإسلام والقضاء كما يأتي نظيره في العبد، أما إن كان قد سعى بعد طواف القدوم، فقد تقدم في الشرط الثالث من شروط الحج الكلام في ذلك فراجعه إن أردت، وذكر الموفق في المغني وجهاً أن الصبي لا يجب عليه القضاء إذا أفسد حجه لئلا تجب عبادة بدنية على من ليس من أهل التكليف، وهذا الوجه وجيه، والله أعلم.

--‌‌ فصل:

ويصح الحج والعمرة من قن ذكر أو أنثى صغير أو كبير على ما تقدم في الصغير الحر لعدم المانع، ويلزمان القن البالغ بنذره لهما، أما الصغير فلا ينعقد نذره، ولا يجوز أن يحرم قن بنذر ولا نفل، ومثله مدبر وأم ولد، ولا أن تحرم زوجة بنفل حج أو عمرة إلا بإذن سيد وزوج لتفويت حقهما بالإحرام، فإن عقد القن والمرأة الإحرام بنفل بلا إذن سيد وزوج، فللزوج والسيد تحليلهما ويكونان كمحصر، ويأثم من لم يمتثل من قن وزوجه، وله وطء زوجته وأمته إذا أحرمتا بلا إذنه إذا أمرهما بالتحلل وخالفتا، ولا يجوز لزوج وسيد تحليلهما مع إذن لهما في إحرام لوجوبه بالشروع، ويصح من زوج وسيد رجوع في إذن بإحرام قبل إحرامهما، ومتى علما برجوع امتنع عليهما الإحرام كما لو لم يأذن الزوج والسيد وإلا فالخلاف في عزل الوكيل قبل علمه بعزل موكله له: والمذهب أنه ينعزل فيكون الحكم هنا كما لو لم يأذنا، قال الشيخ عثمان النجدي: فله التحليل إذاً وإن لم يعلم من أحرم بالرجوع انتهى.

ولا يصح رجوع في إحرام بعد إذن فيه وبعد إحرام للزومه، ولا يجوز لزوج وسيد تحليل زوجة وقن أحرما بنذر أذن
হজ্জ বা কিরানের তাওয়াফ আল-কুদূমের পর যদি কেউ হজ্জের মাঝপথে বালেগ হয়, তবে সে সেই হজ্জ সম্পন্ন করবে এবং পরবর্তীতে অবিলম্বে তা কাযা করবে। ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে যেমনটি আলোচনা আসবে, এই কাযা হজ্জটি তার ইসলামের ফরয হজ্জ এবং কাযা উভয়টির পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। তবে যদি সে তাওয়াফ আল-কুদূমের পর সায়ী করে থাকে, তবে হজ্জের শর্তাবলির তৃতীয় শর্তে এ বিষয়ে আলোচনা গত হয়েছে, আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। আল-মুয়াফফাক 'আল-মুগনী' গ্রন্থে একটি মত উল্লেখ করেছেন যে, শিশু যদি তার হজ্জ নষ্ট করে ফেলে তবে তার ওপর কাযা ওয়াজিব হবে না, যাতে এমন ব্যক্তির ওপর শারীরিক ইবাদত আবশ্যক না হয় যে শরয়ি দায়িত্ব পালনের (তাকলীফ) উপযুক্ত নয়। এই মতটি যুক্তিযুক্ত, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--‌‌ পরিচ্ছেদ:

কোনো বাধা না থাকায় স্বাধীন শিশুর ক্ষেত্রে যা গত হয়েছে সে অনুযায়ী পুরুষ বা নারী, ছোট বা বড় ক্রীতদাসের হজ্জ ও উমরাহ সহীহ হবে। বালেগ ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে হজ্জ ও উমরাহ মানত করলে তা পালন করা তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে যায়। তবে শিশুর মানত কার্যকর হয় না। কোনো ক্রীতদাসের জন্য মনিবের অনুমতি ছাড়া মানত বা নফল হজ্জের ইহরাম বাঁধা জায়েয নেই; মুদাব্বার এবং উম্মুল ওয়ালাদও একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে, স্বামী বা মনিবের অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য নফল হজ্জ বা উমরার ইহরাম বাঁধা জায়েয নয়, কারণ ইহরামের কারণে তাদের অধিকার খর্ব হয়। যদি ক্রীতদাস বা নারী স্বামী বা মনিবের অনুমতি ছাড়াই নফলের ইহরাম বাঁধে, তবে স্বামী ও মনিবের অধিকার আছে তাদের ইহরাম ভঙ্গ করানোর, এবং এমতাবস্থায় তারা 'মুহসার' (অবরুদ্ধ) ব্যক্তির ন্যায় গণ্য হবে। যে ক্রীতদাস বা স্ত্রী এই নির্দেশ পালন করবে না সে গুনাহগার হবে। স্বামী বা মনিব যদি তাদের ইহরাম ভঙ্গ করার নির্দেশ দেন এবং তারা তা অমান্য করে, তবে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে এবং মনিব তার দাসীর সাথে সহবাস করতে পারবে। ইহরাম বাঁধার অনুমতি দেওয়ার পর তা শুরু করার মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যাওয়ার কারণে স্বামী বা মনিবের জন্য তা ভঙ্গ করানো আর জায়েয থাকে না। ইহরাম বাঁধার আগে স্বামী বা মনিবের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রত্যাহার করা সহীহ। যখন তারা অনুমতি প্রত্যাহারের কথা জানবে, তখন তাদের জন্য ইহরাম বাঁধা নিষিদ্ধ হবে, যেমনটি অনুমতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়। অন্যথায়, বিষয়টি প্রতিনিধিকে (উকিল) তার বরখাস্ত হওয়ার খবর পৌঁছানোর আগে বরখাস্ত করার মতভেদের ন্যায় হবে: মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত হলো সে বরখাস্ত হয়ে যাবে, ফলে এখানকার হুকুমটি অনুমতি না দেওয়ার মতোই হবে। শায়খ উসমান আল-নাজদী বলেন: এমতাবস্থায় সে ইহরাম ভঙ্গ করানোর অধিকার রাখে, যদিও ইহরামকারী ব্যক্তি অনুমতি প্রত্যাহারের বিষয়টি না জানে। সমাপ্ত।

অনুমতি প্রদানের পর এবং ইহরাম শুরু করার পর তা আবশ্যক হয়ে যাওয়ার কারণে অনুমতি প্রত্যাহার করা সহীহ নয়। আর স্বামী বা মনিবের জন্য এমন স্ত্রী বা ক্রীতদাসকে হালাল করা জায়েয নয় যারা অনুমোদিত মানতের ইহরাম বেঁধেছে...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ২২)
فيه زوج وسيد للقن والزوجة، فإن لم يأذنا في الإحرام بالنذر فللسيد تحليل قنه مننه، وليس للزوج تحليل زوجته منه لوجوبه عليها كالواجب بأصل الشرع، ولا يمنع زوج زوجته من فرض كملت شروطه ونفقتها عليه كقدر نفقة الحضر وما زاد فمن مالها، ويستحب لها استئذانه فإن أذن وإلا حجت بمحرم، فلو لم تكمل شروطه فله منعها من الخروج إليه ومن الإحرام به لتفويتها حقه فيما ليس بواجب عليها. قال الشيخ عثمان: فلو لم تكمل شروط الوجوب بل شروط الإجزاء أعني سوى الاستطاعة بدليل أنه لو كان نفلا في حق غير المستطيعة لملك تحليلها، والحاصل أنه متى أحرم الحر المسلم المكلف غير المستطيع فإنه يلزمه المضي فيه ويجزئه ذلك عن حجة الفرض بحيث أنه لو استطاع بعد ذلك لم تلزمه إعادته، رجلاً كان أو امرأة انتهى. ويأتي أن الاستطاعة شرط للوجوب فقط لا للصحة والإجزاء، وإن أحرمت بحج الفرض الذي لم تكمل شروطه بلا إذنه لم يملك تحليلها لوجوب إتمامه بشروعها فيه، وليس للزوج منعها من العمرة الواجبة إذا كملت شروطها ولا تحليلها منها إذا أحرمت بها وإن لم تكمل شروطها لوجوبها بالشروع فيها كالحج.

ومن أحرمت بواجب حج أو عمرة بأصل الشرع أو النذر فحلف زوجها ولو بالطلاق الثلاث لا تحج العام لم يجز أن تحل من إحرامها للزومه ويقع عليه الطلاق، وتصير في هذه الحال بلا محرم، إن لم يكن معها غيره ممن يصلح أن يكون محرماً لها، وإن أفسد قن حجه بوطء فيه قبل التحلل الأول مضى في فاسده وقضاه كحر، ويصح القضاء من قن مكلف في رقه لأنه وجب فيه فصح كالصلاة والصيام بخلاف حجة الإسلام، وليس لسيده منعه من قضاء إن كان شرع فيما أفسده من حج أو عمرة بإذنه، لأن إذن السيد فيه إذن في موجبه، ومن موجبه قضاء ما أفسده على الفور، فإن لم يكن
এতে দাসের জন্য মনিব এবং স্ত্রীর জন্য স্বামী রয়েছে; সুতরাং তারা যদি মানতকৃত ইহরামে অনুমতি না দেয়, তবে মনিব তার দাসকে তা থেকে হালাল (মুক্ত) করতে পারবে। কিন্তু স্বামীর জন্য তার স্ত্রীকে তা থেকে হালাল করার সুযোগ নেই, কারণ মূল শরিয়তের ওয়াজিবের মতোই এটি তার ওপর ওয়াজিব। আর স্বামী তার স্ত্রীকে এমন ফরজ হজ থেকে বাধা দেবে না যার শর্তাবলী পূর্ণ হয়েছে। আর স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর ওপর থাকবে মুকিম অবস্থার ভরণপোষণের পরিমাণ অনুযায়ী, এবং এর অতিরিক্ত যা হবে তা স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ থেকে হবে। স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি প্রার্থনা করা মুস্তাহাব; যদি তিনি অনুমতি দেন তবে ভালো, অন্যথায় সে একজন মাহরামের সাথে হজ করবে। যদি হজের শর্তাবলী পূর্ণ না হয়, তবে স্বামী তাকে হজে যেতে এবং ইহরাম বাঁধতে বাধা দিতে পারেন, কারণ এটি স্ত্রীর ওপর ওয়াজিব নয় এমন বিষয়ে স্বামীর হক নষ্ট করে। শায়খ উসমান বলেন: যদি ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি পূর্ণ না হয়, বরং আদায়ের শর্তাবলি পূর্ণ হয়—অর্থাৎ সক্ষমতা ব্যতীত—এর দলিল হলো, যদি এটি অক্ষম মহিলার ক্ষেত্রে নফল হতো, তবে স্বামী তাকে হালাল করার অধিকার রাখতেন। সারকথা হলো, যখন একজন স্বাধীন, মুসলিম, মুকাল্লাফ ব্যক্তি সক্ষমতা ছাড়াই ইহরাম বাঁধে, তখন তার জন্য তা সম্পন্ন করা আবশ্যক হয়ে যায় এবং এটি ফরজ হজ হিসেবে গণ্য হবে, যাতে করে পরবর্তীতে সে সক্ষম হলেও তাকে আর পুনরায় হজ করতে না হয়; চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। (সমাপ্ত)। আর সামনে আসছে যে, সক্ষমতা কেবল ওয়াজিব হওয়ার শর্ত, শুদ্ধ হওয়া বা আদায়ের শর্ত নয়। যদি স্ত্রী এমন ফরজ হজের ইহরাম বাঁধে যার শর্তাবলি পূর্ণ হয়নি এবং তা স্বামীর অনুমতি ছাড়াই হয়, তবে স্বামী তাকে হালাল করার অধিকার রাখবেন না, কারণ ইহরাম শুরু করার মাধ্যমে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর স্বামীর জন্য তার স্ত্রীকে ওয়াজিব উমরা থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই যখন তার শর্তাবলি পূর্ণ হয়, আর সে ইহরাম বেঁধে ফেললে তাকে হালাল করার অধিকারও নেই—এমনকি শর্তাবলি পূর্ণ না হলেও; কেননা হজের মতোই শুরু করার মাধ্যমে উমরা ওয়াজিব হয়ে যায়।

যে নারী শরিয়তের মূল বিধান অনুযায়ী বা মানতের কারণে ওয়াজিব হজ বা উমরার ইহরাম বেঁধেছে, আর তার স্বামী যদি কসম করে—এমনকি তিন তালাকের কসমও—যে সে এই বছর হজ করবে না, তবে তার পক্ষে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া জায়েজ হবে না, যেহেতু এটি তার ওপর আবশ্যক। এমতাবস্থায় স্বামীর তালাক পতিত হয়ে যাবে এবং এই অবস্থায় তার সাথে মাহরাম হওয়ার মতো অন্য কেউ না থাকলে সে মাহরামহীন হয়ে পড়বে। যদি কোনো দাস প্রথম তাহাল্লুলের পূর্বে সহবাসের মাধ্যমে তার হজ নষ্ট করে ফেলে, তবে সে সেই নষ্ট হজটিই সম্পন্ন করবে এবং স্বাধীন ব্যক্তির মতো এর কাজা করবে। একজন মুকাল্লাফ দাসের পক্ষে দাসত্ব অবস্থায় থাকাকালীনই কাজা করা সহিহ হবে; যেহেতু এটি তার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, তাই নামাজ ও রোজার মতোই এটি সহিহ হবে—যা হজ্জাতুল ইসলামের ব্যতিক্রম। আর মনিবের জন্য তার দাসকে কাজা আদায় থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই, যদি সে মনিবের অনুমতি নিয়েই সেই হজ বা উমরা শুরু করে থাকে যা সে নষ্ট করেছে। কারণ কোনো বিষয়ে মনিবের অনুমতি দেওয়ার অর্থ হলো সেই বিষয়ের আবশ্যকীয় পরিণতির ক্ষেত্রেও অনুমতি দেওয়া। আর এর অন্যতম আবশ্যকীয় বিষয় হলো, যা নষ্ট হয়েছে তা অবিলম্বে কাজা করা। যদি না হয়...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
بإذن السيد فله منعه منه كالنذر، وإن عتق القن قبل أن يأتي بالقضاء لزمه أن يبتدئ بحجة الإسلام لأنها آكد، فإن خالف فبدأ بالقضاء فحكمه كالحر يبدأ بنذر أو غيره قبل حجة الإسلام فيقع عن حجة الإسلام ثم يقضي في القابل، قال في المنتهى وشرحه: وإن عتق قن في الحجة الفاسدة أو بلغ الحر في الحجة الفاسدة وكان عتقه أو بلوغه في حال تجزئه عن حجة الفرض لو كانت الحجة الفاسدة صحيحة مضى فيها كالحر وقضاها وأجزأته حجة القضاء عن حجة الإسلام وحجة القضاء لأن القضاء يحكي الأداء انتهى. فقوله في حال تجزئه عن الفرض: أي بأن كان ذلك قبل الدفع من عرفة أو بعده وعاد ووقف في وقت الوقوف ولم يكن سعى بعد طواف القدوم لحجه أو قرانه كما مر، أما إن بلغ بعد الوقوف ولم يقف ثانياً فإنه لا تجزئه حجة القضاء عن حجة الإسلام والقضاء؛ قال المحب بن نصر الله البغدادي: وإذا لم تجزئه فليس له فعل حجة القضاء قبل حجة الإسلام فإن أحرم بالقضاء انصرف إلى حجة الإسلام ويبقى القضاء في ذمته كالعبد إذا أفسد حجته ثم عتق فإنهم ذكروا ذلك فيهما، انتهى كلام ابن نصر الله.

وقن في جنايته بفعل محظور في إحرامه كحر معسر في الفدية بالصوم، فإن مات العبد ولم يصم ما وجب عليه فيسن لسيده أن يطعم عنه كما ذكروه في قضاء رمضان ولا يصوم عنه، وإن تحلل القن لحصر عدو منعه من الحرم أو حلله سيده لعدم إذنه له لم يتحلل قبل الصوم كحر أحصر وأعسر فيصوم عشرة أيام بنية التحلل ثم يتحلل، وليس للسيد منع القن من الصوم نص عليه لوجوبه بأصل الشرع فهو كرمضان، وإن أفسد قن حجة بأن وطيء فيه قبل التحلل الأول صام عن البدنة عشرة أيام كالحر المعسر، وكذا إن تمتع قن أو قرن أو أفسد عمرته صام عن الدم عشرة أيام: ثلاثة في الحج وسبعة إذا رجع لأنه لا مال له، وحكم
মনিবের অনুমতিক্রমে, তবে মানতের মতোই মনিব তাকে তা থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখেন। যদি দাসটি কাজা আদায় করার আগে স্বাধীন হয়, তবে তার ওপর হজ্জাতুল ইসলাম (ফরজ হজ্জ) শুরু করা আবশ্যক, কারণ এটি অধিক গুরুত্ববহ। কিন্তু যদি সে এর বিপরীত করে এবং কাজা দ্বারা শুরু করে, তবে তার বিধান সেই স্বাধীন ব্যক্তির মতো হবে যে হজ্জাতুল ইসলামের আগে মানত বা অন্য কিছু শুরু করে। ফলে তা হজ্জাতুল ইসলাম হিসেবে গণ্য হবে এবং পরবর্তী বছর সে কাজা আদায় করবে। 'আল-মুনতাহা' এবং এর শারাহ-তে বলা হয়েছে: যদি কোনো দাস ফাসেদ (ত্রুটিপূর্ণ) হজ্জ চলাকালে স্বাধীন হয় অথবা কোনো স্বাধীন ব্যক্তি ফাসেদ হজ্জ চলাকালে বালেগ হয় এবং তার স্বাধীনতা লাভ বা বালেগ হওয়া এমন অবস্থায় ঘটে যা ফরজ হজ্জের জন্য যথেষ্ট হতো যদি সেই ফাসেদ হজ্জটি সহীহ হতো, তবে সে স্বাধীন ব্যক্তির মতোই তা সম্পন্ন করবে এবং পরে তা কাজা করবে। আর এই কাজা হজ্জটি তার হজ্জাতুল ইসলাম এবং কাজা হজ্জ—উভয়ের জন্য যথেষ্ট হবে, কারণ কাজা আদায়ের অনুরূপ হয়। (সমাপ্ত)। তার বক্তব্য—'ফরজের জন্য যথেষ্ট হওয়ার অবস্থায়': অর্থাৎ এটি আরাফাহ থেকে প্রস্থানের আগে হতে হবে, অথবা প্রস্থানের পরে ফিরে এসে উকূফের সময়ের মধ্যে সেখানে অবস্থান করতে হবে, এবং সে তার হজ্জ বা কিরান হজ্জের জন্য তাওয়াফে কুদুমের পরে সাঈ করেনি, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যদি সে উকূফের পর বালেগ হয় এবং দ্বিতীয়বার উকূফ না করে, তবে তার কাজা হজ্জটি হজ্জাতুল ইসলাম ও কাজা উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না। আল-মুহিব বিন নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদী বলেছেন: যখন এটি যথেষ্ট হবে না, তখন হজ্জাতুল ইসলামের আগে কাজা হজ্জ পালন করা তার জন্য বৈধ নয়। সুতরাং সে যদি কাজার ইহরাম বাঁধে, তবে তা হজ্জাতুল ইসলামের দিকে পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং কাজা তার জিম্মায় থেকে যাবে; যেমন দাসের ক্ষেত্রে হয় যখন সে তার হজ্জ নষ্ট করে ফেলে এবং পরে স্বাধীন হয়, কারণ তারা (উলামায়ে কেরাম) উভয় ক্ষেত্রে এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে নাসরুল্লাহর বক্তব্য এখানেই শেষ।

আর হজ্জের ইহরাম অবস্থায় কোনো নিষিদ্ধ কাজ করার কারণে দাসের অপরাধের বিধান রোজা রাখার মাধ্যমে ফিদিয়া প্রদানের ক্ষেত্রে অসচ্ছল স্বাধীন ব্যক্তির মতোই। যদি দাসটি মারা যায় এবং তার ওপর ওয়াজিব হওয়া রোজা না রাখে, তবে মনিবের জন্য তার পক্ষ থেকে খাবার খাওয়ানো সুন্নাত, যেমনটি তারা রমজানের কাজার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন; তার পক্ষ থেকে রোজা রাখা হবে না। যদি দাস শত্রুর বাধার কারণে ইহরাম মুক্ত হতে চায় যে তাকে হারামে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, অথবা মনিব তার অনুমতির অভাবে তাকে ইহরাম মুক্ত করে দেয়, তবে রোজা রাখার আগে সে ইহরাম মুক্ত হতে পারবে না; যেমনটি সেই স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয় যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং সে অসচ্ছল। এমতাবস্থায় সে ইহরাম মুক্ত হওয়ার নিয়তে দশটি রোজা রাখবে, তারপর ইহরাম মুক্ত হবে। আর মনিবের জন্য দাসকে এই রোজা থেকে বিরত রাখার অধিকার নেই—এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে—কারণ এটি শরীয়তের মূল বিধান অনুযায়ী ওয়াজিব হয়েছে, তাই এটি রমজানের মতোই। যদি কোনো দাস প্রথম হালালের আগে সহবাসের মাধ্যমে তার হজ্জ নষ্ট করে ফেলে, তবে সে উটের (বাদানা) পরিবর্তে দশটি রোজা রাখবে, যেমনটি অসচ্ছল স্বাধীন ব্যক্তি করে থাকে। একইভাবে যদি দাস তামাত্তু বা কিরান হজ্জ করে অথবা তার উমরা নষ্ট করে ফেলে, তবে সে কোরবানির পশুর পরিবর্তে দশটি রোজা রাখবে: তিনটি হজ্জের সময় এবং সাতটি যখন সে ফিরে আসবে, কারণ তার কোনো সম্পদ নেই। আর বিধান...
(খণ্ড: ১) মুফীদুল আনাম ওয়া নূরুজ জোলাম ফী তাহরীরিল আহকাম লিহাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
المدبر والمكاتب والمعلق عتقه بصفة والمبعض حكم القن فيما ذكره، ومشترى القن المحرم كبائعه في تحليله إن كان أحرم بلا إذن بائعه وفي عدمه إن كان أحرم بإذنه، وللمشتري فسخ البيع إن لم يعلم بإحرام القن لما فيه من تفويت منافعه عليه مدة الحج ولم يملك المشتري تحليله إن كان إحرامه بإذن البائع، فإن ملك مشتر تحليله بأن كان أحرم بلا إذن البائع فلا فسخ لأن إبقاءه في الإحرام كإذنه له فيه ابتداء وكذا لا فسخ للمشتري إن علم أنه محرم.

--‌‌ فصل:

وليس للوالدين منع ولدهما من حج الفرض والنذر ولا تحليله منه، ولا يجوز للولد طاعتهما في ترك الحج الواجب أو التحلل منه، وكذا كل ما وجب كصلاة الجماعة والجمع والسفر للعلم الواجب لأنها فرض عين فلا يعتبر إذن الأبوين فيها كالصلاة، ولكل من أبوي حر بالغ حرين منع ولدهما البالغ من إحرام بنفل حج أو عمرة كمنعه من نفل جهاد للإخبار، وأما ما يفعله في الحضر من نفل نحو صلاة وصوم فلا يعتبر فيه إذن وتجب طاعتهما في غير معصية.

قال في المستوعب وغيره ولو كانا فاسقين وهو ظاهر إطلاق أحمد.

قال في الإنصاف وظاهر رواية المرودي لا طاعة لهما في مكروه وظاهر رواية جماعة لا طاعة لهما في ترك مستحب.

وقال المجد وتبعه ابن تميم: لا يجوز منع ولده من سنة راتبة.

قال شيخ الإسلام: تجب طاعتهما فيما فيه نفع لهما ولا ضرر عليه ولو شق.

قال الشيخ مرعي في الغاية: ووقع خُلف في المباح، فقيل يلزمه طاعتهما ولو كانا فاسقين فلا يسافر إلا بإذنهما، ويتجه صحة هذا في سفر وفي كل ما يخافان عليه منه انتهى.

ولا يحللان ولدهما البالغ إذا أحرم بحج التطوع لوجوبه
মুদাব্বার, মুকাতাব, শর্তযুক্ত আযাদীর ঘোষণাপ্রাপ্ত দাস এবং আংশিক আযাদ দাসের বিধান উল্লিখিত বিষয়ে পূর্ণ দাসের মতোই। আর ইহরাম অবস্থায় থাকা দাসের ক্রেতা তাকে ইহরাম থেকে হালাল করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিক্রেতার মতোই বিবেচিত হবে যদি সে বিক্রেতার অনুমতি ছাড়া ইহরাম বেঁধে থাকে। আর যদি বিক্রেতার অনুমতি নিয়ে ইহরাম বেঁধে থাকে, তবে সে তাকে হালাল করতে পারবে না। দাসের ইহরাম সম্পর্কে যদি ক্রেতা অবগত না থাকে, তবে ক্রেতার জন্য বিক্রয় চুক্তি বাতিল করার অধিকার রয়েছে; কারণ এতে হজ্জের সময়কালে দাসের সেবা ও উপকার ভোগ করা থেকে সে বঞ্চিত হবে। আর যদি ইহরাম বিক্রেতার অনুমতি সাপেক্ষে হয়ে থাকে, তবে ক্রেতা তাকে হালাল করার মালিক হবে না। যদি ক্রেতার হালাল করার অধিকার থাকে (অর্থাৎ দাস যদি বিক্রেতার অনুমতি ছাড়া ইহরাম বেঁধে থাকে), তবে চুক্তি বাতিল করার সুযোগ নেই। কারণ তাকে ইহরামে বহাল রাখাটা নতুন করে অনুমতি দেওয়ার মতোই গণ্য হবে। অনুরূপভাবে, ক্রেতা যদি দাসটি ইহরাম অবস্থায় আছে বলে জেনে ক্রয় করে, তবেও তার জন্য চুক্তি বাতিল করার অধিকার থাকবে না।

--‌‌ পরিচ্ছেদ:

মাতা-পিতার জন্য তাদের সন্তানকে ফরয হজ্জ ও মানতের হজ্জ থেকে বাধা দেওয়ার কিংবা তা থেকে হালাল করার অধিকার নেই। আর সন্তানের জন্যও ওয়াজিব হজ্জ ত্যাগ করার ক্ষেত্রে বা তা থেকে হালাল হওয়ার বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে প্রত্যেক ওয়াজিব কাজ, যেমন জামাতে সালাত আদায় করা, জুমার সালাত এবং আবশ্যকীয় ইলম অর্জনের জন্য সফর করা—এসবের ক্ষেত্রেও একই বিধান। কারণ এগুলো ফরযে আইন, তাই সালাতের মতোই এতে মাতা-পিতার অনুমতির প্রয়োজন নেই। আর স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মাতা-পিতার প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে নফল হজ্জ বা উমরার ইহরাম বাঁধা থেকে বাধা দেওয়ার, যেমন হাদীসের বর্ণনার কারণে নফল জিহাদ থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার রয়েছে। আর মুকীম অবস্থায় সালাত ও সওমের মতো যে নফল ইবাদতসমূহ সে করে থাকে, সেগুলোতে মাতা-পিতার অনুমতির প্রয়োজন নেই; তবে গুনাহের কাজ নয় এমন প্রতিটি বিষয়ে মাতা-পিতার আনুগত্য করা ওয়াজিব।

আল-মুস্তাউবি এবং অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, মাতা-পিতা ফাসেক হলেও (আনুগত্য ওয়াজিব); ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর সাধারণ উক্তি থেকেও এটিই প্রকাশ পায়।

আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আল-মাররূযীর বর্ণনা অনুযায়ী মাকরূহ কাজের ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য নেই এবং একদল আলিমের বর্ণনা অনুযায়ী মুস্তাহাব কাজ ত্যাগের বিষয়েও তাদের আনুগত্য নেই।

আল-মাজদ বলেন এবং ইবনে তামীম তার অনুসরণ করেছেন যে: সন্তানকে সুন্নাতে রাতেবা থেকে বাধা দেওয়া জায়েয নয়।

শায়খুল ইসলাম বলেন: যাতে মাতা-পিতার উপকার রয়েছে এবং সন্তানের কোনো ক্ষতি নেই, এমন বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব, যদিও তা কষ্টকর হয়।

শায়খ মারঈ আল-গায়াহ গ্রন্থে বলেন: মুবাহ বিষয়ের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে, মাতা-পিতা ফাসেক হলেও তাদের আনুগত্য করা আবশ্যক; তাই তাদের অনুমতি ছাড়া সে সফর করবে না। সফর এবং সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন প্রতিটি বিষয়ে এই মতটিই সঙ্গত। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি নফল হজ্জের ইহরাম বেঁধে ফেলে, তবে মাতা-পিতা তাকে তা থেকে হালাল করতে পারবে না, কারণ তা সম্পন্ন করা ওয়াজিব হয়ে যায়।