(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإيمان حقيقته، خوارمه، نواقضه عند أهل السنة والجماعة القسم: العقيدة
الكتاب: الإيمان حقيقته، خوارمه، نواقضه عند أهل السنة والجماعة
المؤلف: عبد الله بن عبد الحميد الأثري
مراجعة وتقديم: فضيلة الشيخ الدكتور عبد الرحمن بن صالح
الناشر: مدار الوطن للنشر، الرياض
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 328
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ঈমান: এর প্রকৃত স্বরূপ, বিনাশকারী ও ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট বিভাগ: আকীদা
বই: ঈমান: এর প্রকৃত স্বরূপ، বিনাশকারী، ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট
লেখক: আবদুল্লাহ বিন আবদুল হামিদ আল-আসারি
পর্যালোচনা ও উপস্থাপনা: সম্মানিত শাইখ ডক্টর আবদুর রহমান বিন সালেহ
প্রকাশক: মাদারুল ওয়াতান লিন-নাশর، রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإيمان
حقيقته، خوارمه، نواقضه عند أهل السنة والجماعة
مراجعة وتقديم
فضيلة الشيخ الدكتور
عبد الرحمن بن صالح المحمود
إعداد
عبد الله بن عبد الحميد الأثري
ঈমান
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট এর হাকিকত, পরিপন্থী বিষয়সমূহ ও ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
পর্যালোচনা ও ভূমিকা
সম্মানিত শায়খ ডক্টর
আবদুর রহমান ইবনে সালেহ আল-মাহমুদ
সংকলন
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল হামিদ আল-আসারি
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديمالحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.
وبعد: فهذا كتاب مختصر في الإيمان ومسائله؛ أعده أخونا الفاضل الشيخ عبد الله بن عبد الحميد الأثري.
وقد جاء الكتاب على غرار كتابيه؛ الموجزين النافعين:
(الوجيز في عقيدة السلف الصالح) و (أحكام وأنواع التوسل المشروع والممنوع) ، واللذين سبق طبعهما.
وقد قرأت كتابه هذا: (الإيمان حقيقته، خوارمه، نواقضه عند أهل السنة والجماعة) ؛ فألفيته مختصراً جامعاً، مدعما بالأدلة من الكتاب والسنة، والنقول عن أئمة أهل السنة المعتبرين؛ ثم إنه ابتعد فيه عن تفاصيل المسائل والخلاف فيها، والردود والمناقشات التي يعتني بها المتخصصون ونحوهم.
উপস্থাপনাসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে কোনো নবী নেই।
অতঃপর: এটি ঈমান এবং এর মাসআলাসমূহ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ; যা আমাদের সম্মানিত ভাই শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামিদ আল-আসারি প্রস্তুত করেছেন।
এই বইটি তাঁর পূর্ববর্তী দুইটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী গ্রন্থের আদলেই রচিত হয়েছে:
(আস-সালাফ আস-সালিহগণের আকিদার সংক্ষিপ্ত সার) এবং (বৈধ ও নিষিদ্ধ অসীলা গ্রহণের বিধান ও প্রকারভেদ), যে দুটি ইতিপূর্বে মুদ্রিত হয়েছে।
আমি তাঁর এই গ্রন্থটি: (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমানের হাকীকত, এর হানিকারক বিষয়সমূহ ও এর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ) পড়েছি; আমি একে সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যবহুল হিসেবে পেয়েছি, যা কুরআন ও সুন্নাহর দলীল এবং আহলুস সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য ইমামগণের উদ্ধৃতি দ্বারা সমৃদ্ধ। তাছাড়া, তিনি এতে মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিবরণ ও মতভেদ এবং সেই সকল খণ্ডন ও আলোচনা থেকে দূরে থেকেছেন যা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومن ثم جاء كتابه:
1- نافعاً لعموم المسلمين على مختلف مستوياتهم؛ فهو موجز وشامل ومدلل.
2- لا يستغني عن مثله طالب العلم؛ إذا أراد جمع شتات هذا الموضوع، وتدريسه وتعليمه للآخرين.
3- كما أنه مناسب جداً لغير الناطقين بالعربية؛ إذا تُرجم إلى لغاتهم؛ لأنهم سيجدون فيه من السهولة والوضوح ما يغني عن المطولات، وصعوبة المناقشات للمخالفين.
فجزى الله المؤلف خير الجزاء، ونفع به وبعلمه، ورزقنا وإياه العلم النافع والعمل الصالح.
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
كتبه
عبد الرحمن الصالح المحمود
9 شوال 1423هـ
أستاذ قسم العقيدة
كلية أصول الدين جامعة الإمام محمد بن سعود
ফলে তাঁর এই কিতাবটি হয়েছে:
১- বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত উপকারী; কারণ এটি সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত এবং দলীলসমৃদ্ধ।
২- জ্ঞানান্বেষী ছাত্ররা এই ধরণের কিতাবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করে পারে না; যদি তারা এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলোকে একত্রিত করতে চায় এবং অন্যদের পাঠদান করতে ও শেখাতে চায়।
৩- অনারবদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী; যদি এটি তাদের নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করা হয়। কারণ তারা এতে এমন সহজবোধ্যতা ও স্পষ্টতা খুঁজে পাবে যা দীর্ঘ কলেবরের কিতাব পাঠ এবং বিরোধীদের সাথে জটিল বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিবে।
আল্লাহ লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে উপকার দান করুন এবং আমাদের ও তাঁকে উপকারী ইলম ও সৎ আমল নসীব করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
আবদুর রহমান আস-সালেহ আল-মাহমুদ
৯ শাওয়াল ১৪২৩ হিজরী
অধ্যাপক, আকীদাহ বিভাগ
উসুলুদ্দীন অনুষদ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة
الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، إله الأولين والآخرين، المتفرد بالجلال والكمال، والمتنزه عن الشركاء والأنداد والأمثال؛ الذي حبب إلى المؤمنين الإيمان، وزينه في قلوبهم، وكره إليهم الكفر والفسوق والعصيان، وجعلهم من الراشدين.
وأفضل الصلاة وأتم التسليم على رسوله الأمين، إمام المؤمنين المتقين الصادقين الموحدين، وسيد الثقلين المبعوث رحمة للعالمين؛ الذي حقق التوحيد، وصدق مع ربه، وعاش حقائق الإيمان والدين، وعلم أصحابه حقيقة الإيمان.
وعلى آله الطيبين الطاهرين، وصحبه الغر المحجلين، الكرام الميامين؛ الذين نتقرب إلى ربنا بحبهم أجمعين، والتابعين العظام من بعدهم، والذين اتبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا.
اللهم إنا نعوذ بك من علم لا ينفع، وقلب لا يخشع؛ آمين.
ভূমিকা
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ; যিনি মর্যাদা ও পূর্ণতায় এক ও অদ্বিতীয় এবং অংশীদার, সমকক্ষ ও সদৃশ থেকে পবিত্র; যিনি মুমিনদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাদের অন্তরে তা সুশোভিত করেছেন, আর তাদের নিকট কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করেছেন এবং তাদের সত্যপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আর সর্বশ্রেষ্ঠ সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, যিনি মুমিন, মুত্তাকী, সত্যবাদী ও একত্ববাদীদের ইমাম এবং মানব ও জিনের সরদার, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে; যিনি তাওহীদকে বাস্তবায়িত করেছেন, তাঁর রবের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন, ঈমান ও দ্বীনের হাকীকত অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর সাহাবীগণকে ঈমানের হাকীকত শিক্ষা দিয়েছেন।
আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজন এবং তাঁর অত্যন্ত সম্মানিত ও বরকতময় উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট সাহাবীগণের ওপর; যাদের সকলকে ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা আমাদের রবের নৈকট্য অন্বেষণ করি। আর তাঁদের পরবর্তী মহান তাবেয়ীদের ওপর এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এমন বিষয় শিক্ষা দিন যা আমাদের জন্য কল্যাণকর এবং আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন।
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না এবং এমন অন্তর থেকে যা বিনীত হয় না; আমীন।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما بعد: فإن العقيدة الإسلامية الصحيحة، هي الأساس في هذا الدين، وهي المنطلق الذي ينطلق منه إسلام المرء، وعليها تبنى جميع المعارف؛ فمن صحت عقيدته صح عمله، ومن فسدت عقيدته فسد جميع عمله، ولا يصح الدين، ولا يقبل العمل عند الله تعالى إلا بالإيمان الصحيح الذي تبنى عليه العقيدة الصالحة السالمة من الشرك.
وإن الإيمان بالله سبحانه وتعالى له أهمية بالغة في حياة المسلم؛ لأن سعادته في الدارين مبنية على قوة إيمانه بربه عز وجل وقربه منه؛ فمن أطاع الله تعالى في ما أمره، وآمن به إيماناً صادقاً، واجتنب ما نهي عنه، وقال: سمعنا وأطعنا، آمنا وصدقنا؛ فقد فاز فوزاً عظيماً.
كما أن نجاة العبد من عذاب الله، ومن شديد عقابه تكون بالإيمان الصحيح الذي علمنا إياه رسوله الأمين صلى الله عليه وسلم، قال تعالى:
{كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَما الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَاّ مَتَاعُ الْغُرُور} (1) .
--------------------------------------------
অতঃপর: নিশ্চয়ই সঠিক ইসলামী আকিদাই হলো এই দ্বীনের ভিত্তি এবং এটিই সেই প্রারম্ভবিন্দু যেখান থেকে একজন ব্যক্তির ইসলাম শুরু হয়। এর ওপরই সমস্ত জ্ঞান গড়ে ওঠে; সুতরাং যার আকিদা সঠিক হবে তার আমলও সঠিক হবে, আর যার আকিদা নষ্ট হবে তার সমস্ত আমলই নষ্ট হয়ে যাবে। সঠিক ঈমান ব্যতিরেকে মহান আল্লাহর নিকট দ্বীন সঠিক হবে না এবং কোনো আমলও কবুল হবে না, যে ঈমানের ওপর শিরকমুক্ত নেক আকিদা প্রতিষ্ঠিত।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান মুমিনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা ইহকাল ও পরকালে তার সৌভাগ্য নির্ভর করে তার মহান রবের প্রতি তার ঈমানের দৃঢ়তা এবং তাঁর নৈকট্যের ওপর। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ তাকে যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করল, তাঁর প্রতি যথাযথভাবে ঈমান আনল, যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা বর্জন করল এবং বলল: ‘আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম, আমরা ঈমান আনলাম ও বিশ্বাস করলাম’; তবে সে এক মহা সফলতা অর্জন করল।
তদ্রূপ আল্লাহর আযাব ও তাঁর কঠোর শাস্তি থেকে বান্দার মুক্তি লাভ সেই সঠিক ঈমানের মাধ্যমেই সম্ভব, যা আমাদের তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম হলো। আর পার্থিব জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।} (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والإيمان بالغيب هو أساس التسليم التام لله تعالى في أمره ونهيه، وعندما يثبت هذا الإيمان في قلب المؤمن؛ لا تجده يعترض على أي شيء من الشرع المنزل، ولا يصد عنه؛ بل هو في غاية الانقياد، وتمام الانشراح لشرع الله تعالى.
والإيمان الصحيح الصادق الراسخ؛ هو المحرك الذي يقرب من الله تعالى، ويجلب ولايته، ويتحصن به المؤمن من كيد أعدائه من شياطين الإنس والجن، ومن معتقداتهم الفاسدة وأفعالهم القبيحة، وأسس هذا الإيمان هي: العلم الصحيح المستقى من الوحيين الشريفين، والإيمان بالغيب، والكفر بالطاغوت، والقيام بمقتضى التكليف الشرعي، والإخلاص لله تعالى في العبادة، والصدق في متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وبهذه الأسس تترسخ شجرة الإيمان في القلب المؤمن؛ ثم يجد حلاوته ولذته، قال الله تبارك وتعالى:
{أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللهُ مَثَلاً كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاء {24} تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا وَيَضْرِبُ اللهُ الأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ} (1) .
--------------------------------------------
অদৃশ্যে বিশ্বাস হলো মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের মূল ভিত্তি। আর যখন এই ঈমান মুমিনের হৃদয়ে সুদৃঢ় হয়, তখন তাকে অবতীর্ণ শরীয়তের কোনো বিষয়ে আপত্তি করতে বা তা থেকে বিমুখ হতে দেখা যায় না; বরং সে আল্লাহর শরীয়তের প্রতি চরম আনুগত্য ও পূর্ণ প্রশান্তিতে নিমগ্ন থাকে।
আর সঠিক, সত্যনিষ্ঠ ও সুদৃঢ় ঈমানই হলো সেই চালিকাশক্তি যা মহান আল্লাহর নৈকট্য দান করে এবং তাঁর অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমেই মুমিন মানুষ ও জিন শয়তানরূপী শত্রুদের চক্রান্ত এবং তাদের ভ্রান্ত আকিদা ও কুৎসিত কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই ঈমানের ভিত্তিগুলো হলো: দুই মহান ওহী থেকে প্রাপ্ত সঠিক জ্ঞান, অদৃশ্যে বিশ্বাস, তাগুতকে অস্বীকার করা, শরয়ী বিধানের দাবি অনুযায়ী আমল করা, ইবাদতে মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে সত্যবাদিতা।
আর এই ভিত্তিগুলোর মাধ্যমেই মুমিনের হৃদয়ে ঈমানের বৃক্ষ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়; অতঃপর সে এর মিষ্টতা ও স্বাদ আস্বাদন করে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন:
{তুমি কি লক্ষ্য করোনি আল্লাহ কীভাবে উপমা পেশ করেছেন? পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত। তা তার প্রতিপালকের নির্দেশে সব সময় ফল দান করে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা পেশ করেন যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে।} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فجذور شجرة الإيمان هي أركانها الستة، وساقها الإخلاص لله تعالى ومتابعة الرسول صلى الله عليه وسلم، وفروعها الأعمال الصالحة من أعمال القلوب والجوارح، وثمرتها اليانعة هي الأمن والاطمئنان والحياة الطيبة، وسعادة الدنيا والآخرة، وولاية الله تعالى.
ولقد كانت الأمة على هذا الإيمان الصحيح والعقيدة الحقة التي جاء بها النبي صلى الله عليه وسلم عن ربه - جل وعلا - وبلغها لصحابته الكرام رضي الله عنهم أجمعين - فكانوا أكمل الناس إيماناً، ويقيناً، وفهماً، وتبليغاً لهذه العقيدة.
وقد اعتصموا بهذه العقيدة، وارتبط الإيمان عندهم بالعمل بديهيا، وكانوا يكرهون الابتداع في الدين، والجدال والخصومات والمراء، وكان هديهم التسليم التام لشرع الله تعالى.
وعندما فتح باب الفتنة بمقتل ثاني الخلفاء الراشدين؛ تتابعت الفتن من بعده، وظهرت فرق الابتداع الذين خالفوا منهج الرسول صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام، وتمزق شمل الأمة بعدها، وأصبحت شيعاً وأحزاباً؛ وكان الأمر كما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم.
فعن الصحابي الجليل عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
সুতরাং ঈমান বৃক্ষের মূল হলো এর ছয়টি রুকন বা স্তম্ভ, এর কাণ্ড হলো মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ, এর শাখা-প্রশাখা হলো অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নেক আমলসমূহ, আর এর সুপক্ক ফল হলো নিরাপত্তা, প্রশান্তি, পবিত্র জীবন, দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য এবং মহান আল্লাহর অভিভাবকত্ব।
আর এই উম্মত সেই সঠিক ঈমান ও সত্য আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক - যিনি মহান ও সুউচ্চ - এর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁরা ছিলেন ঈমান, ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস), অনুধাবন ও এই আকিদা প্রচারের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ।
তাঁরা এই আকিদাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং তাঁদের নিকট ঈমান ও আমলের সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য ও স্বতঃসিদ্ধ। তাঁরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন বা বিদআত, ঝগড়া-বিবাদ, বিসংবাদ ও কুতর্ক অপছন্দ করতেন। তাঁদের আদর্শ ছিল মহান আল্লাহর শরিয়তের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
যখন দ্বিতীয় খলিফায়ে রাশেদের শাহাদাতের মাধ্যমে ফিতনার দ্বার উন্মুক্ত হলো, তখন তাঁর পর একের পর এক ফিতনা আসতে শুরু করল। এমন সব বিদআতি দলের আত্মপ্রকাশ ঘটল যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ বা পদ্ধতির বিরোধিতা করল। এর ফলে উম্মতের ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এবং তারা বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। বিষয়টি ঠিক তেমনই ঘটল যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন।
মহান সাহাবী আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ليأتين على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل؛ حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك، وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة، وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة؛ كلهم في النار إلا ملة واحدة. قال: من هي يا رسول الله؟ قال:
ما أنا عليه وأصحابي (1) .
وعندما حدثت هذه الفرق في الأمة - كما أخبرنا النبي صلى الله عليه وسلم لم يعدم ولن يعدم الخير فيها، إذ ظلت فئة منها متمسكة بالهدى والحق، وهم ظاهرون إلى قيام الساعة، لا يضرهم من خذلهم، أو خالفهم؛ مصداقاً لبشرى النبي صلى الله عليه وسلم فيهم، حيث قال:
(لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خذلهم؛ حتى يأتي أمر الله، وهم كذلك) (2) .
ولا شك أن أهل السنة والجماعة المتقنين أثر الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان؛ هم الطائفة المنصورة القائمة على دين الله الحق، وهم الذين عناهم النبي صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই আমার উম্মতের ওপর তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল, এক জোড়া জুতা যেমন অন্যটির সমান হয় ঠিক তেমনি; এমনকি তাদের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে যে তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কদর্য কাজে লিপ্ত হয়েছে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ থাকবে যে তা করবে। আর বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত তেয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে; তাদের সকলেই জাহান্নামে যাবে একটি দল ছাড়া। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন:
আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর রয়েছি তার ওপর যারা থাকবে (১)।
আর যখন উম্মতের মধ্যে এই দলগুলোর উদ্ভব ঘটল—যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তখন এ উম্মতের মধ্য থেকে কল্যাণ নিঃশেষ হয়ে যায়নি এবং কখনও হবেও না। কেননা এর একটি দল হিদায়াত ও সত্যের ওপর অটল রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তারা বিজয়ীরূপে টিকে থাকবে। যারা তাদেরকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে অথবা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; তাদের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুসংবাদের সত্যতা স্বরূপ, যেখানে তিনি বলেছেন:
(আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ীরূপে অটল থাকবে, যারা তাদেরকে পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; যতক্ষণ না আল্লাহর আদেশ আসবে তারা এ অবস্থাতেই থাকবে) (২)।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতই—যারা সাহাবী, তাবেঈ এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের পদাঙ্ক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণকারী—তারাই হলো আল্লাহর সত্য দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত সাহায্যপ্রাপ্ত দল, এবং তাদের উদ্দেশ্যেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن هنا وجب على المسلم أن يتعرف على عقيدة هذه الطائفة المباركة التي تلتزم الإسلام الصحيح.
وعليه - أيضاً - أن يعرف الإيمان الذي آمنوا وعملوا به معاً، ويعرف حقيقة هذا الإيمان، ومسماه، ومراتبه، وخوارمه، ونواقضه، وموانعه، وأركانه التي هي: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره.
ولأن الإيمان بهذه المغيبات أساس هذا الدين، فإن الله تعالى لا يقبل إيمان الذي يجحد أحدها؛ حتى يؤمن بها جميعا.
ولما كثر كلام الناس عن حد الإسلام والإيمان، ونتج عن ذلك الجدال والخصومات الكثيرة؛ قديماً وحديثاً، وزلت به الأقدام؛ فضلوا وأضلوا؛ ثم ذهب الرجال وبقي الجدال، ولا يزال باقياً يهدد وحدة الأمة، ويهز كيانها، والله المستعان.
ومن هذا المنطلق نظرت إلى المسلم المعاصر اليوم - مع قلة الهمم وبعد الناس عن علوم الدين - فإذا هو يحتاج أن يتيسر له العلوم الإسلامية؛ لأن مخاطبة العوام بلغة عصرهم (1) ، وعلى مستوى فهمهم، وإنزال عقولهم منازلها، والتعرف على مداخل
--------------------------------------------
এখান থেকেই একজন মুসলিমের জন্য এই বরকতময় দলটির আকিদাহ সম্পর্কে জানা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যারা সঠিক ইসলাম অনুসরণ করে।
তদুপরি তাকে সেই ঈমান সম্পর্কেও জানতে হবে যা তারা পোষণ করতেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করতেন; তাকে জানতে হবে এই ঈমানের প্রকৃত রূপ, এর নামকরণ, এর স্তরসমূহ, এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ, এর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ, এর প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং এর রুকন বা স্তম্ভসমূহ। আর সেই স্তম্ভগুলো হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা।
যেহেতু এই অদৃশ্যের বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনাই এই দ্বীনের মূল ভিত্তি, তাই আল্লাহ তায়ালা এমন ব্যক্তির ঈমান কবুল করবেন না যে এগুলোর কোনো একটিকে অস্বীকার করে; যতক্ষণ না সে এগুলোর সবকটির ওপর ঈমান আনয়ন করে।
আর যখন ইসলাম ও ঈমানের সংজ্ঞার সীমানা নিয়ে মানুষের আলোচনা বৃদ্ধি পেল এবং এর ফলে প্রাচীন ও আধুনিক কালে বহু বিতর্ক ও বিবাদের সৃষ্টি হলো, যাতে অনেকের পদস্খলন ঘটল; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হলো এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করল; অতঃপর সেই ব্যক্তিরা গত হলেন কিন্তু বিতর্ক রয়ে গেল, যা এখনো উম্মাহর ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং এর ভিত্তিকে কম্পিত করে দিচ্ছে; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।
এই প্রেক্ষাপট থেকেই আমি বর্তমান যুগের মুসলিমদের অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করলাম—মানুষের সংকল্পের স্বল্পতা এবং দ্বীনি ইলম থেকে তাদের দূরত্বের এই সময়ে—তখন প্রতীয়মান হলো যে, তার জন্য ইসলামি জ্ঞানকে সহজসাধ্য করা প্রয়োজন; কারণ সাধারণ মানুষের সাথে তাদের যুগের ভাষায় (১) কথা বলা, তাদের বোধগম্যতার স্তর অনুযায়ী সম্বোধন করা, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্যকে সম্মান করা এবং প্রবেশের পথগুলো চেনা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
نفوسهم من الوسائل والأسباب المهمة لهدايتهم بإذن الله تعالى، وهذا ما يقره الدعاة العاملون في الساحة الإسلامية، وذلك من خلال دعوة العوام، وقربهم منهم، ومخاطبتهم إياهم عن كثب، ولنا في سيرة إمام الدعاة صلى الله عليه وسلم شواهد كثيرة على ذلك.
فهم يحتاجون إلى تعريف ميسر ومفهوم للإيمان - مع المحافظة التامة على عقيدة أئمة أهل السنة والجماعة - ومتى يطلق الإيمان، ومتى يمنع إطلاقه، ومتى يتطابق لفظه مع الإسلام، ومتى يفترقان، وأيهما أشمل؟ وما هي أركانه، ودرجاته، ومراتبه، وصفات أهله، وثمراته، وخوارمه، ونواقضه ومبطلاته التي تزيل حكمه وتبطل أثره؟ فقد يرتد أحدهم عن الدين من حيث لا يشعر! وما هي أسباب ترك الإيمان والإعراض عنه؟
فاستعنت بالله عز وجل وجمعت ما أمكن جمعه من المسائل التي تتعلق بالإيمان، وذلك من كتاب الله العزيز، وسنة نبيه الأمين صلى الله عليه وسلم، وأقوال أئمة أهل السنة والجماعة.
واجتهدت في عرض المسائل على المادة العلمية، وعرضها بإختصار مع سلاسة الأسلوب والعبارة، واختيار التبويب المناسب، لكي تكون قريبة من مدارك عامة الناس، ولا يصعب فهمها عليهم؛ وحتى تكون سبباً لقراءتهم، ثم لهدايتهم بإذن الله تعالى.
আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের হেদায়াতের জন্য তাদের অন্তরসমূহ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় ও মাধ্যম। ইসলামি অঙ্গনে কর্মরত দাঈগণ এটি স্বীকার করেন। এটি সম্ভব হয় সাধারণ মানুষের নিকট দাওয়াত পৌঁছানো, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং তাদের সাথে নিবিড়ভাবে কথা বলার মাধ্যমে। দাঈদের ইমাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতে এর অনেক প্রমাণ রয়েছে।
তাদের জন্য ঈমানের একটি সহজ ও বোধগম্য সংজ্ঞার প্রয়োজন—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণের আকীদার পূর্ণ হিফাজত নিশ্চিত করে। কখন 'ঈমান' শব্দটির প্রয়োগ করা হয় এবং কখন এর প্রয়োগ নিষেধ? কখন এর অর্থ 'ইসলাম'-এর সাথে মিলে যায় এবং কখন তারা পৃথক হয়? কোনটি অধিক ব্যাপক? ঈমানের রুকনসমূহ, স্তরসমূহ, পর্যায়সমূহ, ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্যসমূহ, এর ফলাফলসমূহ, ঈমানের পরিপন্থী বিষয়সমূহ এবং এর ভঙ্গকারী ও বাতিলকারী বিষয়সমূহ কী কী, যা এর বিধানকে রহিত করে এবং এর প্রভাবকে বিলুপ্ত করে দেয়? কারণ, অনেক সময় কেউ উপলব্ধি না করেই দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যেতে পারে! ঈমান ত্যাগ করা এবং তা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণগুলোই বা কী?
তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং ঈমান সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ থেকে যা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তা আল্লাহর কিতাব, তাঁর বিশ্বস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণের উক্তি থেকে সংকলন করেছি।
আমি মাসআলাগুলোকে ইলমি বিষয়বস্তুর আলোকে উপস্থাপন করার এবং সাবলীল ভাষা ও শৈলীতে সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি যথাযথ অধ্যায় বিন্যাস নির্বাচন করেছি যাতে তা সাধারণ মানুষের বোধগম্যের নিকটবর্তী হয় এবং তাদের নিকট বুঝতে কষ্টসাধ্য না হয়; আর যেন এটি তাদের পাঠ করার এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের হেদায়াতের কারণ হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والتزمت الألفاظ الشرعية المأثورة عن أئمة أهل السنة والجماعة قدر الإمكان.
وحرصت أن تكون هذه الرسالة دليلاً للمسلم المستقيم، أو المهتدي حديثاً إلى طريق الحق؛ وعوناً له لتحصيل مجمل عقيدة أهل السنة والجماعة في مسألة الإيمان.
وتركت جميع أقوال الفرق الضالة؛ حتى لا تكدر وتلبس على العامة، ثم يضطرب عندهم الفهم الصحيح لمسألة الإيمان، وذلك لكثرة شبهاتهم التي هي من خطوات الشيطان لرد طالب الحق عن الحق، ولكي ينهلوا - أيضاً - العلم من منبعه الصحيح؛ كما كان الأمر في الصدر الأول من هذه الأمة المعصومة، وقبل الافتراق.
رغم أنني أعلم أن التطرق لموضوع الإيمان ليس بأمر سهل وهين، وخصوصاً مع قلة الباع - والله المستعان - ولكني توكلت على الله تعالى؛ آملاً منه عز وجل أن لي مخرجاً؛ كما دلنا على ذلك كتاب الله تبارك وتعالى، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
ثم بذلت ما في وسعي لتكن هذه الرسالة قد استوعبت ما يحتاجه المسلم من عقيدته في هذا الموضوع، ولا أدعي أني وصلت بهذا العمل إلى المطلوب، ولا سيما أنني مسبوق بأئمة كبار قد
আমি যথাসম্ভব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামগণের নিকট থেকে বর্ণিত শরয়ী পরিভাষাগুলো অনুসরণ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।
আমি এই পুস্তিকাটিকে অবিচল মুসলিম অথবা সত্যের পথে নতুন হেদায়েতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য একটি নির্দেশিকা এবং ঈমানের মাসআলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সামগ্রিক আকিদা অর্জনে সহায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছি।
আমি বিভ্রান্ত দলসমূহের সকল বক্তব্য বর্জন করেছি; যাতে তা সাধারণ মানুষের নিকট বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা তৈরি না করে এবং তাদের নিকট ঈমান সংক্রান্ত সঠিক বুঝ বিঘ্নিত না হয়। এটি তাদের অসংখ্য সংশয়ের কারণে, যা মূলত সত্য অন্বেষণকারীকে সত্য থেকে বিমুখ করার জন্য শয়তানের পদাঙ্ক মাত্র। আর যাতে তারা জ্ঞানকে তার সঠিক উৎস থেকে গ্রহণ করতে পারে; যেমনটি এই সংরক্ষিত উম্মাহর প্রাথমিক যুগে এবং বিভক্তির পূর্বে বিদ্যমান ছিল।
যদিও আমি জানি যে ঈমানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা কোনো সহজ ও সাধারণ কাজ নয়, বিশেষ করে আমার সীমিত জ্ঞানের কারণে — আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি — তবুও আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করেছি; তাঁর নিকট এই আশা রেখে যে তিনি আমাকে একটি পথ বের করে দেবেন; যেমনটি বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহ আমাদের পথ দেখিয়েছে।
অতঃপর আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যাতে এই পুস্তিকাটি এই বিষয়ে একজন মুসলিমের তার আকিদার জন্য যা প্রয়োজন তা পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করে। আমি দাবি করি না যে আমি এই কর্মের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছি, বিশেষ করে যখন আমার পূর্বে বহু মহান ইমামগণ রয়েছেন যারা ইতোমধ্যেই...
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كتبوا في باب الإيمان فأجادوا وأفادوا وجزاهم الله عن المسلمين خيرا.
ولكني أؤمل أن أكون قد وفقت إلى ما سعيت إليه، وقربت الموضوع، وسهلت عبارته في هذه الرسالة التي سميتها:
الإيمان؛ حقيقته، خوارمه، نواقضه
عند أهل السنة والجماعة
هذا هو جهد المقل؛ فإن وفقت وأصبت، فمن الله تبارك وتعالى وحده لا شريك له، وهو الموفق سبحانه. وإن أخفقت وأخطأت؛ فمن نفسي، وعجزي، وقلة حيلتي.
وأعوذ بالرحمن - سبحانه - من الشيطان والخذلان.
وأحسن الله تعالى لمن دلني على نقص، ولم يبخل علي، ونبهني إليه مشكوراً مأجوراً.
كما أشكر كل من كان له فضل علي من إبداء رأي، أو مراجعةٍ، أو نصيحةٍ، أو دعاء؛ فجزاهم الله خيراً (1) .
--------------------------------------------
তারা ঈমানের অধ্যায়ে লিখেছেন, তাতে তারা অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারী কাজ করেছেন এবং আল্লাহ যেন মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।
তবে আমি আশা পোষণ করি যে, আমি যা অন্বেষণ করেছি তাতে তাওফীক লাভ করেছি, বিষয়বস্তুটিকে সহজবোধ্য করেছি এবং এই পুস্তিকায় এর বর্ণনাকে সহজ করেছি, যার নাম আমি দিয়েছি:
ঈমান; এর প্রকৃত স্বরূপ, এর হানিকর বিষয়সমূহ ও এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট
এটি একজন সামান্য সামর্থ্যবানের প্রচেষ্টা; যদি আমি তাওফীক লাভ করি এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই, তবে তা কেবল বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে যার কোনো শরিক নেই, আর তিনিই তাওফীকদাতা। আর যদি আমি ব্যর্থ হই এবং ভুল করি, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে, আমার অক্ষমতা ও উপায়হীনতার কারণে।
আমি পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট শয়তান এবং লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই।
আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির কল্যাণ করুন যিনি আমাকে আমার কোনো ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন, আমার প্রতি কৃপণতা করবেন না এবং আমাকে সে বিষয়ে সতর্ক করবেন; তিনি প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হওয়ার যোগ্য।
সেই সাথে আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাদের কোনো মতামত প্রকাশ, পর্যালোচনা, নসিহত বা দুআর মাধ্যমে আমার প্রতি অবদান রয়েছে; আল্লাহ যেন তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأسأل الله تعالى؛ أن يثبتنا على الإيمان، ويحببه إلينا، ويزين قلوبنا به، وأن يغرس فيها شجرته؛ لنذوق حلاوة الإيمان، ونجد فيها طعم الحياة بالإيمان، ويكرمنا بالعيش في ظلاله.
وأسأله - جلت قدرته - أن يعصمنا من الشيطان الرجيم، وأن يعيننا عليه، وعلى مكره، وكيده، وشبهاته، وخطواته وخطراته؛ بحوله وقوته.
وصلى الله وسلم على الهادي البشير والسراج المنير نبينا وقائدنا وإمامنا ومرشدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه راجي رحمة ربه الغفور
أبو محمد
عبد الله بن عبد الحميد بن عبد المجيد آل إسماعيل الأثري
نزيل اصطنبول
عفا الله عنه
16 ذو الحجة 1422هـ
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ঈমানের ওপর অবিচল রাখেন, একে আমাদের কাছে প্রিয় করে দেন এবং আমাদের অন্তরসমূহকে এর দ্বারা সুশোভিত করেন; আর তিনি যেন সেখানে ঈমানের বৃক্ষ রোপণ করেন, যাতে আমরা ঈমানের মিষ্টতা আস্বাদন করতে পারি এবং এতে ঈমানদীপ্ত জীবনের স্বাদ খুঁজে পাই, আর এর ছায়াতলে বসবাসের মাধ্যমে তিনি আমাদের সম্মানিত করেন।
আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি—যাঁর ক্ষমতা সুমহান—তিনি যেন তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে আমাদের বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করেন এবং শয়তানের বিরুদ্ধে ও এর চক্রান্ত, কূটকৌশল, সংশয়, পদক্ষেপ ও কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করেন।
আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতের দিশারি, সুসংবাদদাতা এবং প্রদীপ্ত চেরাগ—আমাদের নবি, আমাদের নেতা, আমাদের ইমাম ও আমাদের পথপ্রদর্শক মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
এটি লিখেছেন তাঁর ক্ষমাশীল রবের রহমতের প্রত্যাশী
আবু মুহাম্মাদ
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামীদ বিন আব্দুল মাজীদ আল-ইসমাঈল আল-আসারি
ইস্তাম্বুল নিবাসী
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন
১৬ যিলহজ ১৪২২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حقيقة الإيمانعندأهل السنة والجماعة
ঈমানের হাকীকতআহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতেরনিকট
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تعريف الإيمان
الإيمان في اللغة: الإيمان لغة له معنيان:
أولاً - (الأمن) : أي: إعطاء الأمن والأمان والطمأنينة؛ الذي هو ضد الخوف. وآمنته ضد أخفته.
قال الله تعالى: {وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ} (1) .
فآمن، أي: أصبح داخلاً في الأمن.
واستأمن إليه، أي: دخل في أمانه.
والأمنة والأمانة: نقيض الخيانة.
ومنه اسم الله تبارك وتعالى (المؤمن) ؛ لأنه - سبحانه - أمن عباده أن يظلمهم.
ثانياً - (التصديق) : أي الذي يصدق قوله بالعمل.
والتصديق: ضد التكذيب.
وإذا قال العبد: آمنت بالله تعالى رباً؛ أي: صدقت به.
والمؤمن مبطن من التصديق مثل ما يظهر.
--------------------------------------------
ঈমানের সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থে ঈমান: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমানের দুটি অর্থ রয়েছে:
প্রথমত - (নিরাপত্তা): অর্থাৎ, নিরাপত্তা, অভয় এবং প্রশান্তি প্রদান করা; যা ভয়ের বিপরীত। কাউকে নিরাপদ করা হলো তাকে ভীত করার বিপরীত বিষয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তিনি তাদেরকে ভয় থেকে নিরাপদ করেছেন।" (১)।
সুতরাং নিরাপদ হওয়া মানে হলো নিরাপত্তার বলয়ে প্রবেশ করা।
কারো কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা মানে হলো তার নিরাপত্তার অধীনে প্রবেশ করা।
আর নিরাপত্তা ও আমানত হলো খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গের বিপরীত।
আর এ থেকেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার একটি পবিত্র নাম হলো 'আল-মুমিন'; কারণ তিনি—সুবহানাহু—তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে যুলুমের শিকার হওয়া থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত - (সত্যয়ন করা): অর্থাৎ, যে ব্যক্তি কাজের মাধ্যমে তার কথাকে সত্য বলে প্রমাণ করে।
আর সত্যয়ন করা হলো মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বা অস্বীকার করার বিপরীত বিষয়।
আর যখন কোনো বান্দা বলে: "আমি আল্লাহ তাআলাকে রব হিসেবে বিশ্বাস করলাম"; তার অর্থ হলো: আমি তাঁকে সত্য বলে মেনে নিলাম।
আর মুমিন ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তেমনটিই পোষণ করে যেমনটি সে প্রকাশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال الله تعالى: {قُولُواْ آمَنَّا بِاللهِ} (1) .
وقال: {أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُواْ لَكُمْ} (2) .
والتصديق يتضمن الأمن والأمان.
ولهذا قال إخوة يوسف عليه السلام لأبيهم:
{وَمَا أَنتَ بِمُؤْمِنٍ لِّنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} (3) .
أي: لا تقر بخبرنا، ولا تثق به، ولا تطمئن إليه، ولو كنا صادقين.
إذن الإيمان لغة: له معنيان حسب الاستعمال؛ الأمن والتصديق، والمعنيان متداخلان (4) .
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি} (১)।
এবং তিনি বলেন: {তোমরা কি এ আশা পোষণ করো যে, তারা তোমাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে?} (২)।
আর সত্যায়ন (তাসদীক) বিষয়টি নিরাপত্তা ও নির্ভয়তাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এ কারণেই ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা তাদের পিতাকে বলেছিল:
{আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই} (৩)।
অর্থাৎ: আপনি আমাদের সংবাদ স্বীকার করবেন না, এর ওপর আস্থা রাখবেন না এবং এতে আশ্বস্ত হবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই।
অতএব আভিধানিক অর্থে ঈমানের ব্যবহার অনুযায়ী দুটি অর্থ রয়েছে; নিরাপত্তা প্রদান এবং সত্যায়ন করা; আর এই অর্থদ্বয় পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
- ولكن لشيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى - رأي آخر في معنى الإيمان اللغوي، وهو من آرائه السديدة، واختياراته الموفقة؛ حيث اختار معنى (الإقرار) للإيمان.
لأنه رأى أن لفظة (أقر) أصدق في الدلالة والبيان على معنى الإيمان الشرعي من غيرها؛ لأمور وأسباب ذكرها ثم ناقشها بالمعقول، ورد بتحقيق علمي رصين قول من ادعى: أن الإيمان مرادف للتصديق، وذكر فروقاً بينهما؛ تمنع دعوى الترادف.
قال رحمه الله: (فكان تفسيره - أي الإيمان - بلفظ الإقرار؛ أقرب من تفسيره بلفظ التصديق، مع أن بينهما فرقا) (1) .
وقال أيضاً: (ومعلوم أن الإيمان هو الإقرار؛ لا مجرد التصديق، والإقرار ضمن قول القلب الذي هو التصديق، وعمل القلب الذي هو الانقياد) (2) .
وقال رحمه الله في رده على من ادعى الترادف بين الإيمان والتصديق:
(إنه - أي الإيمان - ليس مرادفاً للتصديق في المعنى؛ فإن كل مخبر عن مشاهدة، أو غيب، يقال له في اللغة: صدقت، كما يقال:
--------------------------------------------
কিন্তু শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া - আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি রহম করুন - এর নিকট ঈমানের আভিধানিক অর্থের ব্যাপারে ভিন্ন একটি মত রয়েছে, যা তাঁর সঠিক অভিমত এবং যথার্থ পছন্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তিনি ঈমানের অর্থ হিসেবে 'ইকরার' (স্বীকৃতি প্রদান)-কে বেছে নিয়েছেন।
কেননা তিনি মনে করতেন যে, 'ইকরার' (স্বীকৃতি প্রদান) শব্দটি শরয়ী ঈমানের অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্য যে কোনো শব্দের চেয়ে অধিকতর নির্ভুল ও সুস্পষ্ট; এর স্বপক্ষে তিনি কিছু কারণ ও হেতু উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো যুক্তির আলোকে আলোচনা করেছেন। ঈমান এবং তাসদীক (সত্যয়ন)-কে যারা সমার্থক বলে দাবি করে, তিনি শক্তিশালী তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য খণ্ডন করেছেন এবং উভয়ের মধ্যে এমন কিছু পার্থক্য উল্লেখ করেছেন যা সমার্থক হওয়ার দাবিকে নাকচ করে দেয়।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (অতএব ঈমানের ব্যাখ্যা 'ইকরার' (স্বীকৃতি প্রদান) শব্দ দ্বারা করা 'তাসদীক' (সত্যয়ন) শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করার চেয়ে অধিকতর নিকটবর্তী, যদিও উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।) (১) ।
তিনি আরও বলেন: (এবং এটি সুবিদিত যে ঈমান হলো 'ইকরার' (স্বীকৃতি প্রদান); কেবল 'তাসদীক' (সত্যয়ন) নয়। আর 'ইকরার' হৃদয়ের কথা—যা হলো তাসদীক—এবং হৃদয়ের আমল—যা হলো আনুগত্য—উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।) (২) ।
ঈমান ও তাসদীক-এর মধ্যে সমার্থকতা দাবিদারদের খণ্ডন করতে গিয়ে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(নিশ্চয়ই এটি—অর্থাৎ ঈমান—অর্থের দিক থেকে তাসদীকের সমার্থক নয়; কেননা প্রত্যক্ষ করা বা অদৃশ্যের সংবাদ দানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভাষায় বলা হয়: 'সাদাক্বতা' (তুমি সত্য বলেছ), যেমন বলা হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
كذبت؛ فمن قال: السماء فوقنا، قيل له: صدق، كما يقال: كذب.
وأما لفظ الإيمان؛ فلا يستعمل إلا في الخبر عن غائب، لم يوجد في الكلام أن من أخبر عن مشاهدة، كقول: طلعت الشمس وغربت، أنه يقال: آمناه، كما يقال: صدقناه.
ولهذا؛ المحدثون والشهود ونحوهم، يقال: صدقناهم، وما يقال: آمنا لهم؛ فإن الإيمان مشتق من الأمن، فإنما يستعمل في خبر يؤتمن عليه المخبر؛ كالأمر الغائب الذي يؤمن عليه المخبر، ولهذا لم يوجد قط في القرآن وغيره لفظ: آمن له؛ إلا في هذا النوع) (1) .
وقال أيضاً: (إن لفظ الإيمان في اللغة لم يقابل بالتكذيب؛ كلفظ التصديق؛ فإنه من المعلوم في اللغة أن كل مخبر يقال له: صدقت، أو كذبت، ويقال: صدقناه، أو كذبناه، ولا يقال: لكل مخبر: آمنا له، أو كذبناه.
ولا يقال: أنت مؤمن له، أو مكذب له؛ بل المعروف في مقابلة الإيمان لفظ الكفر، يقال: هو مؤمن أو كافر، والكفر لا يختص بالتكذيب) (2) .
--------------------------------------------
আপনি মিথ্যা বলেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি বলে: আকাশ আমাদের উপরে, তাকে বলা হয়: সে সত্য বলেছে, যেমনটি বলা হয়: সে মিথ্যা বলেছে।
আর ঈমান শব্দটির বিষয় হলো; এটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। ভাষায় এটি পাওয়া যায় না যে, কেউ যদি কোনো প্রত্যক্ষ বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেয়—যেমন বলা: সূর্য উদিত হয়েছে এবং অস্ত গিয়েছে—তবে বলা হয়: আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি, যেমনটি বলা হয়: আমরা তাকে সত্যয়ন করেছি।
একারণেই হাদিস বর্ণনাকারী, সাক্ষী এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বলা হয়: আমরা তাদের সত্যয়ন করেছি, কিন্তু বলা হয় না: আমরা তাদের প্রতি ঈমান এনেছি; কেননা ঈমান শব্দটি নিরাপত্তা বা বিশ্বস্ততা (আমন) থেকে উদ্ভূত। এটি কেবল এমন সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাতে সংবাদদাতার ওপর আস্থা রাখা হয়; যেমন কোনো অদৃশ্য বিষয় যে ক্ষেত্রে সংবাদদাতার ওপর আস্থা রাখা হয়। একারণেই কুরআন এবং অন্য কোথাও 'তার প্রতি ঈমান এনেছে' শব্দবন্ধটি এই প্রকার ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া যায় না) (১) ।
তিনি আরও বলেন: (ভাষাগতভাবে ঈমান শব্দটি মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিপরীতে ব্যবহৃত হয় না; যেমনটি সত্যয়ন শব্দের ক্ষেত্রে হয়; কেননা ভাষায় এটি সুপরিচিত যে, প্রত্যেক সংবাদদাতাকে বলা হয়: তুমি সত্য বলেছ, অথবা তুমি মিথ্যা বলেছ, এবং বলা হয়: আমরা তাকে সত্যয়ন করেছি, অথবা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি। কিন্তু প্রত্যেক সংবাদদাতার ক্ষেত্রে বলা হয় না: আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি, অথবা আমরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি।
আর এটিও বলা হয় না যে: তুমি তার প্রতি ঈমান পোষণকারী, অথবা তুমি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী; বরং ঈমানের বিপরীতে সুপরিচিত শব্দ হলো কুফর। বলা হয়: সে মুমিন অথবা কাফির, আর কুফর কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়) (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله:
(أكثر أهل العلم يقولون: إن الإيمان في اللغة: التصديق، ولكن في هذا نظر! لأن الكلمة إذا كانت بمعنى الكلمة؛ فإنها تتعدى بتعديها، ومعلوم أن التصديق يتعدى بنفسه، والإيمان لا يتعدى بنفسه؛ فنقول مثلاً: صدقته، ولا تقول آمنته! بل تقول: آمنت به، أو آمنت له.
فلا يمكن أن نفسر فعلاً لازماً لا يتعدى إلا بحرف الجر بفعل متعد ينصب المفعول به بنفسه، ثم إن كلمة (صدقت) لا تعطي معنى كلمة (آمنت) فإن (آمنت) تدل على طمأنينة بخبره أكثر من (صدقت) .
ولهذا؛ لو فسر (الإيمان) بـ (الإقرار) لكان أجود؛ فنقول: الإيمان: الإقرار، ولا إقرار إلا بتصديق، فتقول أقر به، كما تقول: آمن به، وأقر له كما تقول: آمن له) (1) .
واعلم أخي المسلم علمنا الله وإياك طريقة السلف الصالح:
أن الحقائق قد تعرف بالشرع كالإيمان، وقد تعرف باللغة كالشمس، وقد تعرف بالعرف كالقبض.
--------------------------------------------
শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:
(অধিকাংশ ইলম অন্বেষী বা আলিমগণ বলেন: ভাষাগতভাবে ঈমান হলো সত্যায়ন করা; কিন্তু এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণের অবকাশ রয়েছে! কারণ একটি শব্দ যখন অন্য একটি শব্দের সমার্থক হয়, তখন সেটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও (অকর্মক বা সকর্মক হিসেবে) একই নিয়ম অনুসরণ করে। এটি জানা কথা যে, ‘সত্যায়ন করা’ শব্দটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, কিন্তু ‘ঈমান’ সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে না; তাই উদাহরণস্বরূপ আমরা বলি: ‘আমি তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি’, কিন্তু আমরা বলি না ‘আমি তাকে ঈমান এনেছি’! বরং আমরা বলি: ‘আমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি’ অথবা ‘আমি তাঁর কথা মেনে নিয়েছি’।
কাজেই এমন একটি অকর্মক ক্রিয়াকে—যা অব্যয় বা হরফে জার ছাড়া ব্যবহৃত হয় না—এমন একটি সকর্মক ক্রিয়া দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় যা সরাসরি কর্মকে নসব (বা কর্মকারক) প্রদান করে। তদুপরি, ‘আমি সত্য বলে মেনে নিয়েছি’ শব্দটি ‘আমি ঈমান এনেছি’ শব্দের পূর্ণ অর্থ প্রদান করে না; কেননা ‘আমি ঈমান এনেছি’ কথাটি সংবাদদাতার সংবাদের ওপর ‘আমি সত্য বলে মেনে নিয়েছি’ কথাটির তুলনায় অধিকতর প্রশান্তি ও নিশ্চিন্ততা নির্দেশ করে।
এই কারণে, যদি ‘ঈমান’-কে ‘স্বীকৃতি প্রদান’ (ইকরার) দ্বারা ব্যাখ্যা করা হতো, তবে তা অধিকতর উত্তম হতো। অতএব আমরা বলি: ঈমান হলো স্বীকৃতি প্রদান। আর সত্যায়ন ছাড়া কোনো স্বীকৃতি হয় না। সুতরাং আপনি বলবেন ‘সেটি স্বীকার করেছে’, যেমনটি আপনি বলেন ‘সেটির প্রতি ঈমান এনেছে’; এবং আপনি বলবেন ‘তার নিকট স্বীকৃতি দিয়েছে’, যেমনটি আপনি বলেন ‘তার প্রতি ঈমান এনেছে’) (১)।
হে আমার মুসলিম ভাই, জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে সালাফে সালেহীনের পথ শিক্ষা দিন:
নিশ্চয়ই কোনো বিষয়ের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ কখনও শরীয়তের মাধ্যমে জানা যায় যেমন ‘ঈমান’, কখনও ভাষার মাধ্যমে জানা যায় যেমন ‘সূর্য’, আবার কখনও প্রচলিত প্রথার মাধ্যমে জানা যায় যেমন ‘দখল নেওয়া’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأن التعريف الشرعي قد يتفق مع التعريف اللغوي، وقد يختلف؛ بحيث يكون بالمعاني الشرعي أشمل من اللغوي، ولكن العبرة بالمعني الشرعية الذي نتعبد الله تعالى به.
وهكذا في مسمى الإيمان؛ إذ التصديق أحد أجزاء المعنى الشرعي على الصحيح المشهور عند أئمة أهل السنة والجماعة، وعلى ذلك دلت نصوص الكتاب والسنة.
فالمعنى المختار للإيمان لغة: هو الإقرار القلبي:
ويكون الإقرار:
- باعتقاد القلب: أي تصديقه بالأخبار.
- عمل القلب: أي إذعانه وانقياده للأوامر.
আর শরয়ী সংজ্ঞা ভাষাগত সংজ্ঞার সাথে কখনো সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, আবার কখনো ভিন্ন হতে পারে; যাতে শরয়ী অর্থ ভাষাগত অর্থের চেয়ে অধিক ব্যাপক হয়, তবে মূল ধর্তব্য হলো সেই শরয়ী অর্থ যার মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত করি।
ঈমানের নামকরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ; কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণের নিকট প্রসিদ্ধ ও সঠিক মত অনুযায়ী ‘তাসদীক’ (সত্যায়ন) হলো শরয়ী অর্থের অংশসমূহের একটি, আর কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহ একথাই প্রমাণ করে।
সুতরাং আভিধানিক অর্থে ঈমানের পছন্দনীয় অর্থ হলো: অন্তরের স্বীকৃতি:
আর এই স্বীকৃতি সংঘটিত হয়:
- অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে: অর্থাৎ সংবাদসমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়া।
- অন্তরের আমলের মাধ্যমে: অর্থাৎ নির্দেশনাবলির প্রতি বশ্যতা স্বীকার করা ও অনুগত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الإيمان في الاصطلاح الشرعي:الإيمان عند السلف الصالح - أهل السنة والجماعة - هو:
التصديق الجازم، والإقرار الكامل، والاعتراف التام؛ بوجود الله تعالى وربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته، واستحقاقه وحده العبادة، واطمئنان القلب بذلك اطمئناناً تُرى آثاره في سلوك الإنسان، والتزامه بأوامر الله تعالى، واجتناب نواهيه.
وأن محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم رسول الله، وخاتم النبيين، وقبول جميع ما أخبر به صلى الله عليه وسلم عن ربه - جل وعلا - وعن دين الإسلام؛ من الأمور الغيبية، والأحكام الشرعية، وبجميع مفردات الدين، والانقياد له صلى الله عليه وسلم بالطاعة المطلقة فيما أمر به، والكف عما نهى عنه صلى الله عليه وسلم وزجر؛ ظاهراً وباطناً، وإظهار الخضوع والطمأنينة لكل ذلك.
وملخصه: (هو جميع الطاعات الباطنة والظاهرة) .
- الباطنة: كأعمال القلب، وهي تصديق القلب وإقراره.
- الظاهرة: أفعال البدن من الواجبات والمندوبات.
ويجب أن يتبع ذلك كله: قول اللسان، وعمل الجوارح والأركان، ولا يجزيء واحد من الثلاث إلا بالآخر؛ لأن أعمال الجوارح داخلة في مسمى الإيمان، وجزء منه.
শরীয়তের পরিভাষায় ঈমান:সালাফে সালেহীন—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নিকট ঈমান হলো:
আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব), উলুহিয়াত (উপাস্যত্ব), নামসমূহ ও গুণাবলির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি ও সামগ্রিক স্বীকারোক্তি প্রদান করা; এবং একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য—এ কথার ওপর অন্তরের এমন প্রশান্তি লাভ করা যার প্রভাব মানুষের আচরণে, আল্লাহর আদেশ পালনে এবং তাঁর নিষেধ বর্জনের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।
আর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী—এ কথার স্বীকৃতি দেওয়া; এবং তিনি তাঁর রব—যিনি মহান ও উচ্চ—তাঁর পক্ষ থেকে এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন—হোক তা গায়েব বা অদৃশ্যের বিষয়াবলি, শরীয়তের বিধানসমূহ কিংবা দ্বীনের অন্য যেকোনো খুঁটিনাটি বিষয়—তা গ্রহণ করা; এবং তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ করা এবং যা থেকে তিনি নিষেধ ও বারণ করেছেন তা থেকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে বিরত থাকা; এবং এসবের প্রতি বিনয় ও প্রশান্তি প্রদর্শন করা।
এর সারকথা হলো: (ঈমান হলো সকল অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক আনুগত্যের সমষ্টি)।
- অভ্যন্তরীণ: যেমন অন্তরের আমলসমূহ; আর তা হলো অন্তরের বিশ্বাস ও স্বীকৃতি।
- বাহ্যিক: যেমন শরীরের কর্মকাণ্ডসমূহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াজিব ও মুস্তাহাব কাজগুলো।
আর এ সবকিছুর সাথে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে: মুখে বলা এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা। এই তিনটির (বিশ্বাস, কথা ও কাজ) কোনো একটি অন্যটি ছাড়া যথেষ্ট নয়; কারণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল ঈমান নামক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এবং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فمسمى الإيمان عند أهل السنة والجماعة؛ كما أجمع عليه أئمتهم وعلماؤهم، هو:
(تصديق بالجنان، وقول باللسان، وعمل بالجوارح والأركان؛ يزيد بالطاعة، وينقص بالمعصية) .
ومن أصولهم التي اتفقوا عليها في مسمى الإيمان على اختلاف عباراتهم في التعبير - إجمالاً وتفصيلاً - وذلك خوفاً من الاشتباه، أو الالتباس؛ أن الإيمان مركب من:
(قول، وعمل) . أو (قول، وعمل، ونية) . أو (قول، وعمل، ونية، واتباع السنة) .
أي: أن مسمى الإيمان يطلق عند أهل السنة والجماعة على ثلاث خصال مجتمعة، لا يجزيء أحدهما عن الآخر، وهذه الأمور الثلاثة جامعة لدين الإسلام:
(اعتقاد القلب، إقرار اللسان، عمل الجوارح) .
وبعبارة أخرى عندهم:
- قول القلب، وقول اللسان.
- عمل القلب، وعمل الجوارح.
ويمكن توضيح ذلك؛ بالتفصيل التالي:
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমানের পরিচয়; যে বিষয়ে তাদের ইমাম ও উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা হলো:
(অন্তরের বিশ্বাস, জিহবার উচ্চারণ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও রুকনসমূহের আমল; এটি আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে হ্রাস পায়)।
আর ঈমানের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে - সংক্ষেপে এবং বিস্তারিতভাবে - পরিভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও যে মূলনীতির ওপর তারা একমত হয়েছেন, যেন কোনো অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি না ঘটে; তা হলো এই যে, ঈমান নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত:
(কথা ও কাজ)। অথবা (কথা, কাজ ও নিয়ত)। অথবা (কথা, কাজ, নিয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ)।
অর্থাৎ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমান শব্দটি তিনটি বিষয়ের সমষ্টির ওপর প্রয়োগ করা হয়, যার একটি অন্যটি ছাড়া যথেষ্ট নয়। আর এই তিনটি বিষয়ই ইসলাম ধর্মকে পরিবেষ্টন করে আছে:
(অন্তরের বিশ্বাস, জিহবার স্বীকৃতি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল)।
তাদের পরিভাষায় অন্যভাবে:
- অন্তরের কথা এবং জিহবার কথা।
- অন্তরের কাজ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ।
আর নিম্নোক্ত বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে এটি আরও স্পষ্ট করা যেতে পারে:
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أولاً - قول القلب: هو معرفته للحق، واعتقاده، وتصديقه، وإقراره، وإيقانه به؛ وهو ما عقد عليه القلب، وتمسك به، ولم يتردد فيه، قال الله تبارك وتعالى:
{وَالَّذِي جَاء بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ {33} لَهُم مَّا يَشَاءونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاء الْمُحْسِنِينَ} (1) .
وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ} (2) .
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (يخرج من النار من قال لا إله إلا الله، وفي قلبه وزن شعيرة من خير) (3) .
قول اللسان: إقراره والتزامه.
أي: النطق بالشهادتين، والإقرار بلوازمها.
قال تعالى: {قُولُواْ آمَنَّا بِاللهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ
--------------------------------------------
প্রথমত - অন্তরের কথা: এটি হলো সত্যের প্রতি তার জ্ঞান, বিশ্বাস, সত্যায়ন, স্বীকৃতি এবং দৃঢ় প্রত্যয়; এটি তা-ই যার ওপর অন্তর সংকল্পবদ্ধ হয়েছে, যা সে আঁকড়ে ধরেছে এবং যে বিষয়ে সে কোনো দ্বিধাবোধ করেনি, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন:
{আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্যায়ন করেছে, তারাই তো মুত্তাকী। তাদের রবের নিকট তাদের জন্য তাই রয়েছে যা তারা চাইবে; এটিই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান} (১)।
এবং তিনি বলেন: {আর এভাবেই আমি ইবরাহীমকে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব দেখাই, যাতে সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে} (২)।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’, আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও কল্যাণ রয়েছে) (৩)।
জিহ্বার কথা: এর স্বীকৃতি ও অঙ্গীকার।
অর্থাৎ: শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) উচ্চারণ করা এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর স্বীকৃতি প্রদান করা।
তিনি বলেন: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি এবং যা প্রদান করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (1) .
وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} (2) .
وقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: (أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، ويقيموا الصلاة، ويؤتوا الزكاة
… ) (3) .
ثانياً: عمل القلب: نيته، وتسليمه، وإخلاصه، وإذعانه، وخضوعه، وإنقياده، والتزامه، وإقباله إلى الله تعالى، وتوكله عليه - سبحانه - ورجاؤه، وخشيته، وتعظيمه، وحبه وإرادته.
قال الله تعالى: {وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ} (4) .
وقال تعالى: {وَمَا لأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَى {19} إِلَاّ ابْتِغَاء وَجْهِ رَبِّهِ الأَعْلَى {20} وَلَسَوْفَ يَرْضَى} (5) .
--------------------------------------------
মুসা ও ঈসা এবং তাঁদের রবের পক্ষ থেকে অন্যান্য নবীগণকে যা প্রদান করা হয়েছে (তার ওপর আমরা ঈমান এনেছি)। আমরা তাঁদের কারও মধ্যে পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত।} (১) ।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা বলে, 'আমাদের রব আল্লাহ', অতঃপর এর ওপর অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} (২) ।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে
... ) (৩) ।
দ্বিতীয়ত: অন্তরের আমল: তার নিয়ত, আত্মসমর্পণ, ইখলাস (একনিষ্ঠতা), আনুগত্য স্বীকার, বিনয়, অনুগমন, প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা, আল্লাহ তাআলার অভিমুখী হওয়া, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা—তিনি পবিত্র—এবং তাঁর প্রতি আশা রাখা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর মহিমা ঘোষণা করা, তাঁকে ভালোবাসা ও তাঁর ইচ্ছা পোষণ করা।
মহান আল্লাহ বলেন: {যারা তাদের রবকে সকাল-সন্ধ্যায় আহ্বান করে এবং তাঁর চেহারার (সন্তুষ্টির) প্রত্যাশা করে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না।} (৪) ।
এবং তিনি আরও বলেন: {কারও পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এমন কোনো অনুগ্রহ অবশিষ্ট নেই যার প্রতিদান দিতে হবে, {১৯} কেবল তাঁর মহান রবের চেহারার (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্য ছাড়া। {২০} আর অচিরেই তিনি সন্তুষ্ট হবেন।} (৫) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: (يا معشر من آمن بلسانه، ولم يدخل الإيمان قلبه) (1) .
عمل الجوارح:
أي فعل المأمورات والواجبات، وترك المنهيات والمحرمات.
فعمل اللسان: ما لا يؤدى إلا به؛ كتلاوة القرآن، وسائر الأذكار؛ من التسبيح، والتحميد، والتهليل، والتكبير، والدعاء، والاستغفار، والدعوة إلى الله تعالى، وتعليم الناس الخير، وغير ذلك من الأعمال التي تؤدى باللسان؛ فهذا كله من الإيمان.
قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَّن تَبُورَ} (2) .
وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا} (3) .
وعمل الجوارح: مثل الصلاة، والقيام، والركوع، والسجود، والصيام، والصدقات، والمشي في مرضاة الله تعالى؛ كنقل الخطا
--------------------------------------------
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (হে ঐ সকল লোক যারা মুখে ঈমান এনেছ, অথচ ঈমান তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি) (১)।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল:
অর্থাৎ আদেশসমূহ ও ওয়াজিব বিষয়গুলো পালন করা এবং নিষিদ্ধ ও হারাম বিষয়গুলো বর্জন করা।
জিহ্বার আমল হলো: যা কেবল জিহ্বা দ্বারাই সম্পাদিত হয়; যেমন কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য সকল জিকির; যথা— তাসবিহ, তাহমিদ, তাহলিল, তাকবির, দুআ, ইস্তিগফার, আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য আমল যা জিহ্বার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়; এ সবই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না} (২)।
এবং তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো} (৩)।
আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল: যেমন নামাজ, কিয়াম, রুকু, সিজদা, রোজা, সাদাকাহ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে হাঁটা; যেমন পদচারণা করা (পা বাড়ানো)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إلى المساجد، والحج، والجهاد في سبيل الله، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وغير ذلك من أعمال شعب الإيمان.
قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ {77} {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ} (1) .
وقال تعالى: {وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلامًا {63} وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} (2) .
فهذه الخصال الثلاث:
(اعتقاد القلب، إقرار اللسان، عمل الجوارح) .
اشتمل عليها مسمى الإيمان عند أهل السنة والجماعة؛ فمن أتى بجميعها؛ فقد اكتمل إيمانه.
--------------------------------------------
মসজিদসমূহের অভিমুখে গমন, হজ, আল্লাহর পথে জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং ঈমানের শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য আমলসমূহ।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো, সিজদা করো, তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং কল্যাণকর কাজ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। {৭৭} আর আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত; তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন।" (১)।
তিনি আরও বলেন: "আর পরম দয়াময়ের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে 'সালাম'। {৬৩} আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে।" (২)।
সুতরাং এই তিনটি বৈশিষ্ট্য:
(অন্তরের বিশ্বাস, মুখে স্বীকারোক্তি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল)।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমান শব্দটি এই বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে; সুতরাং যে ব্যক্তি এর সবগুলো নিয়ে আসবে, তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأدلة من القرآنعلى أن الأعمال جزء من الإيمانومما يدل على أنه لا بد من اعتقاد القلب من إقرار اللسان وعمل الجوارح؛ وصف الله تعالى للمؤمنين الصادقين في كثير من الآيات؛ بصفات زائدة على التصديق؛ إذ وصفهم بالخصال الثلاثة المذكورة؛ كما أطلق سبحانه وتعالى صفة المؤمنين الكاملين - حقاً وصدقاً - على الذين آمنوا بالله تعالى، وصدقوا رسوله صلى الله عليه وسلم ولم يشكوا في ذلك، ولم يرتابوا، وانقادوا لأمره، ثم عملوا بما آمنوا به؛ من أصول الدين وفروعه، وظاهره وباطنه، وظهرت آثار هذا الإيمان في عقائدهم، وأقوالهم، وأعمالهم الظاهرة والباطنة؛ وبهذه الأعمال حققوا الإيمان الكامل؛ فاستحقوا هذا الوصف من ربهم - جل وعلا - فدل كل هذا على أن الإيمان يعم هذه الخصال الثلاث؛ لأن الله تعالى أدخل أعمالهم في مسمى الإيمان في الآيات القرآنية، وجعلها شرطاً في قبول إيمانهم؛ إذن فلا يكون المؤمن مؤمناً حقاً إلا بتلك الأعمال الصالحة، كما قال الله تبارك وتعالى:
কুরআন থেকে দলিলসমূহআমল যে ঈমানের অংশ তার প্রমাণঅন্তরের বিশ্বাসের সাথে সাথে মৌখিক স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল যে অপরিহার্য, তার অন্যতম প্রমাণ হলো—মহান আল্লাহ অনেক আয়াতে সত্যবাদী মুমিনদের কেবল অন্তরের বিশ্বাসের অতিরিক্ত কিছু গুণাবলি দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন। যেহেতু তিনি তাদের ইতিপূর্বে উল্লিখিত তিনটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; মহান আল্লাহ যথার্থ ও সত্যরূপে ‘পূর্ণাঙ্গ মুমিন’ অভিধাটি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন—যারা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য বলে বিশ্বাস করেছে এবং তাতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয় পোষণ করেনি, তাঁর আদেশের অনুগত হয়েছে এবং যা বিশ্বাস করেছে সেই অনুযায়ী আমল করেছে—চাই তা দ্বীনের মূলনীতি কিংবা শাখা-প্রশাখা হোক, অথবা প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য। এই ঈমানের প্রভাব তাদের আকিদাহ, কথা এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আমলসমূহে ফুটে উঠেছে। এসব আমলের মাধ্যমেই তারা পূর্ণাঙ্গ ঈমান বাস্তবায়ন করেছে; ফলে তারা তাদের মহান রবের নিকট থেকে এই বিশেষণের যোগ্য হয়েছে। এ সবকিছুই নির্দেশ করে যে, ঈমান এই তিনটি বৈশিষ্ট্যকেই শামিল করে; কারণ মহান আল্লাহ কুরআনের আয়াতসমূহে তাদের আমলসমূহকে ‘ঈমান’ নামকরণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সেগুলোকে তাদের ঈমান কবুল হওয়ার শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং সেই সকল নেক আমল ব্যতীত কোনো মুমিন প্রকৃত মুমিন হতে পারে না, যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ {2} الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ {3} أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} (1) .
وقال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} (2) .
وقال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللهُ إِنَّ اللهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (3) .
وقال تعالى: {التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدونَ الآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} (4) .
--------------------------------------------
{মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর জিকির করা হয়, তখন তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়। আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। {২} যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। {৩} তারাই প্রকৃত মুমিন; তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রিযিক।} (১) ।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মুমিন তো কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তাতে কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করেছে; তারাই সত্যবাদী।} (২) ।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে; এই সমস্ত লোকের ওপরই আল্লাহ শীঘ্রই রহমত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (৩) ।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সাজদাকারী, সৎকাজের আদেশদানকারী, মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারী এবং আল্লাহর সীমারেখা হিফাযতকারী; আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন।} (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈমান হাকীকাতুহু, খাওয়াহরিমুহু, নাওয়াকিদুহু ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال: {لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّآئِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُواْ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاء والضَّرَّاء وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ} (1) .
وقال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} (2) .
وقال تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ {1} الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ {2} وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ {3} وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ {4} وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ {5} إِلَاّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ {6} فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ {7} وَالَّذِينَ هُمْ لأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ {8} وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেন: {পূণ্য কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে নয়; বরং সওয়াব বা পূণ্য তার, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব এবং নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁর প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, যাঞ্চাকারী এবং দাসমুক্তির জন্য সম্পদ দান করেছে, আর সালাত কায়েম করেছে ও জাকাত প্রদান করেছে; এবং যারা নিজেদের কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী, আর যারা অভাবে, কষ্টে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যশীল। এরাই তারা যারা সত্য বলেছে এবং এরাই মুত্তাকি।} (১)।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক না মানে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না পায় এবং তারা তা সর্বান্তকরণে মেনে নেয়।} (২)।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে। {১} যারা তাদের সালাতে বিনয়ী। {২} যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিমুখ। {৩} যারা জাকাত প্রদানে সক্রিয়। {৪} যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। {৫} তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্র ব্যতীত, কেননা এতে তারা নিন্দিত হবে না। {৬} সুতরাং যারা এর বাইরে কিছু চাইবে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। {৭} আর যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। {৮} এবং যারা তাদের সালাতসমূহের...
--------------------------------------------