(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: -)
موقف الإمامين البخاري ومسلم من اشتراط اللقيا والسماع في السند المعنعن بين المتعاصرين القسم: علوم الحديث
الكتاب: موقف الإمامين البخاري ومسلم من اشتراط اللقيا والسماع في السند المعنعن بين المتعاصرين
المؤلف: خالد بن منصور بن عبد الله الدريس
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض، شركة الرياض للنشر والتوزيع
عدد الصفحات: 498
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুআনআন (معنعن) সনদে (سند) সাক্ষাৎ (لقيا) এবং শ্রবণের (سماع) শর্তারোপ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের অবস্থান বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুআনআন (معنعن) সনদে (سند) সাক্ষাৎ (لقيا) এবং শ্রবণের (سماع) শর্তারোপ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের অবস্থান
লেখক: খালেদ বিন মনসুর বিন আব্দুল্লাহ আল-দোরইশ
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, রিয়াদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৮
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: -)
موقف الإمامين البخاري ومُسلم
من اشتراط اللّقيّا والسّمَاع
في السّند المعنعن بَين المتعَاصِرين
خَالِد مَنصُور عَبد الله الدريس
ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের অবস্থান
সাক্ষাৎ (لقيا) এবং শ্রবণ (سماع) শর্তযুক্ত করার বিষয়ে
সমসাময়িকদের (متعاصرين) মধ্যবর্তী মুআনআন (معنعن) সনদের (سند) ক্ষেত্রে
খালিদ মনসুর আব্দুল্লাহ আদ-দুরীস
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهداء
إلى أغلى وأعز من لقيت
إلى والديّ الكريمين حفظهما الله.
هذا الكتاب لكما فيه مثل الذي لي وأكثر
فإن لصبركما الطويل ومساعداتكما المستمرة
أكبر الأثر ـ بعد الله ـ في هذا الإنجاز.
ابنكما
خالد
উৎসর্গ
আমার দেখা সর্বাপেক্ষা প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি
আমার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতার প্রতি, আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন।
এই কিতাবে আমার যতটুকু অংশ রয়েছে, আপনাদের পাওনা তার চেয়েও বেশি
কেননা আপনাদের দীর্ঘ ধৈর্য ও নিরন্তর সহযোগিতা
এই অর্জনে—আল্লাহর পরে—সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আপনাদের সন্তান
খালেদ
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
أصل هذا الكتاب رسالة علمية قدمت استكمالاً لمتطلبات درجة الماجستير في قسم الثقاة الإسلامية (تخصص التفسير والحديث) كلية التربية جامعة الملك سعود.
এই গ্রন্থটির মূল হলো একটি গবেষণাপত্র, যা কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদের ইসলামি নির্ভরযোগ্য (الثقاة) বর্ণনাকারী বিভাগে (তাফসির ও হাদিস বিশেষজ্ঞতা) মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে পেশ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا.
من يهده الله فهو المهتدي، ومن يضلل فلا هادي له.
وصلى الله وسلم على خير عباده وخاتم أنبيائه قدوتنا وحبيبنا المصطفى عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم.
أما بعد
فإن علم الحديث من أشراف العلوم وأجلها، والاشتغال به لمن صدقت نيته من أفضل القربات وأحسن الطاعات، وكيف لا يكون كذلك؟! وهو مشتمل على بيان أحوال وأخبار الرسول صلى الله عليه وسلم الذي أمرنا ربنا بطاعته واتباعه في قوله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهو} [الحشر:7] فبيَّن لنا الحلال والحرام، والخير والشر، ومايقربنا إلى ربنا وما يبعدنا عنه.
فأساس الدين كتاب وسُنة، والسُّنة منها صحيح وضعيف، والسبيل إلى معرفة ذلك النظر في الإسناد الذي خصَّ المولى سبحانه وتعالى به هذه الأمة. لذا قال العلماء: " الإسناد من الدين" وقالوا أيضاً: " الإسناد سلاح المؤمن" وأهم ما يُبحث عنه في الإسناد بعد ثقة الرواة اتصال السند، ومن أهم مسائل اتصال السند مسألة " الاحتجاج بالسند المعنعن" وشروط الأئمة في ذلك.
ومن المقرر عند العلماء أنه لا يُحتج من السُّنة إلا بالحديث الصحيح، ولا تطلق الصحة على حديث حتى يجمع شروطاً هي:
1 ـ اتصال السند في جميع طبقاته.
2 ـ ثقة الرواة وعدالتهم.
3 ـ عدم الشذوذ.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
আল্লাহর সর্বোত্তম বান্দা, শেষ নবী, আমাদের আদর্শ ও প্রিয়তম নবি মুহাম্মদ (সা)-এর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও পবিত্রতম শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর,
নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র হচ্ছে অতি মর্যাদাবান ও সুমহান বিদ্যা। যার নিয়ত সঠিক, তার জন্য এই বিদ্যায় ব্যাপৃত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভ ও উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আর কেনই বা তা হবে না?! কারণ এতে আল্লাহর রাসূল (সা)-এর অবস্থা ও সংবাদের বর্ণনা রয়েছে, যাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করার নির্দেশ আমাদের প্রতিপালক দিয়েছেন এই বাণীতে: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" [হাশর: ৭]। তিনি আমাদের জন্য হালাল ও হারাম, কল্যাণ ও অকল্যাণ এবং যা আমাদের রবের নিকটবর্তী করে বা তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তা বর্ণনা করেছেন।
দ্বীনের ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহ। আর সুন্নাহর মধ্যে রয়েছে সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف)। আর এটি জানার মাধ্যম হলো সূত্র (إسناد) পর্যালোচনা করা, যা মহান আল্লাহ বিশেষভাবে এই উম্মতকে দান করেছেন। এজন্য উলামায়ে কেরাম বলেছেন: "সূত্র (إسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত" এবং তাঁরা আরও বলেছেন: "সূত্র (إسناد) মুমিনের হাতিয়ার"। বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) পর সূত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখা হয় তা হলো সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند)। আর সনদের নিরবচ্ছিন্নতার মাসআলাসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো "আনআনাযুক্ত সনদের (السند المعنعن) মাধ্যমে দলিল পেশ করা" এবং এ বিষয়ে ইমামগণের শর্তাবলি।
উলামায়ে কেরামের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, সুন্নাহর মধ্য থেকে শুধুমাত্র সহিহ (صحيح) হাদিস ব্যতীত অন্য কিছু দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না। আর কোনো হাদিসকে ততক্ষণ পর্যন্ত সহিহ (صحيحة) বলা যায় না, যতক্ষণ না তাতে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পাওয়া যায়:
১ ـ সকল স্তরে সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند) থাকা।
২ ـ বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থাকা।
৩ ـ শায (شذوذ) না হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
4 ـ عدم العلة.
وموضوع هذا البحث في الحقيقة مرتبط بشرط مهم من شروط الحديث الصحيح وهو أن يكون السند متصلاً.
وسأعرض فيما يلي: أهمية هذا البحث، وأهم مشكلاته، وأسباب اختياري له، ومنهجي الذي سرتُ عليه.
1 ـ أهمية البحث:
تتجلى أهمية هذا البحث في النقاط التالية:
1 ـ أنه شديد العلاقة بشرط مهم من شروط الحديث الصحيح وهو "اتصال السند" فالإمام البخاري يرى أن السند المعنعن غير متصل حتى يثبت اللقاء أو السماع بين التلميذ وشيخه، وأما الإمام مسلم فيرى أن السند المعنعن متصل إذا وجد ما يدل على المعاصرة، والبراءة من التدليس، ومالم ترد أدلة بينة على عدم سماع التلميذ من الشيخ.
2 ـ أن لفظة " عن " صيغة أداء تحتمل السماع وعدم السماع، فقد استخدمت في أسانيد متصلة كما أنها استخدمت في غير المتصلة كالأسانيد المدلسة، والمرسلة، والمنقطعة.
وقلما يخلو سند في كتب الحديث من صيغة الأداء" عن " وهي في حد ذاتها لا تدل على انقطاع، ولا على اتصال في السند، لذا كان من الأهمية بمكان معرفة الشروط التي تجعل الأسانيد المعنعنة متصلة عند إمامين هما أهم من صنف وجمع الأحاديث الصحيحة في تاريخ الإسلام.
3 ـ وقع خلاف بين المحدثين حول هذه المسألة " هل يكون الحديث متصلاً اكتفاء بالمعاصرة في السند المعنعن أم لابد من ثبوت السماع فيه؟ ".
فاختار جمع من المحققين مذهب الإمام البخاري ومن هؤلاء الذهبي وابن رجب وابن رشيد والعلائي وابن حجر.
وذهب آخرون إلى اختيار مذهب الإمام مسلم ومن هؤلاء المزي وابن كثير، وجمهور أساتذة الصناعة الحديثية في القرن الرابع عشر والخامس عشر كالشيخ أحمد شاكر رحمه الله والشيخ المعلمي اليماني رحمه الله والشيخ
৪ ـ ত্রুটি (علة) মুক্ত হওয়া।
প্রকৃতপক্ষে এই গবেষণার বিষয়টি সহিহ হাদিসের শর্তসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের সাথে সম্পৃক্ত, আর তা হলো সূত্রটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হওয়া।
নিম্নে আমি এই গবেষণার গুরুত্ব, এর প্রধান সমস্যাবলি, এটি নির্বাচনের কারণ এবং আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা তুলে ধরব।
১ ـ গবেষণার গুরুত্ব:
এই গবেষণার গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে:
১ ـ এটি সহিহ হাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তথা "সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند)"-র সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইমাম বুখারি মনে করেন যে, 'আন' শব্দযুক্ত সূত্র (سند معنعن) ততক্ষণ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل) নয় যতক্ষণ না ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে সাক্ষাৎ বা শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে ইমাম মুসলিম মনে করেন যে, 'আন' শব্দযুক্ত সূত্র (سند معنعن) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) বলে গণ্য হবে যদি সমকালীনতা (معاصرة) এবং প্রতারণা (تدليس) থেকে মুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, আর যতক্ষণ না ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকের নিকট থেকে না শোনার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
২ ـ "আন" (عن) শব্দটি বর্ণনার এমন একটি শব্দ (صيغة أداء) যা শ্রবণ (سماع) এবং শ্রবণের অনুপস্থিতি উভয় সম্ভাবনা রাখে। এটি যেমন নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সূত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনি তা অ-নিরবচ্ছিন্ন সূত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে যেমন: প্রতারণামূলক (مدلس), বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع) সূত্রাবলি।
হাদিসের গ্রন্থসমূহে খুব কম সূত্রই এমন পাওয়া যাবে যেখানে বর্ণনার শব্দ (صيغة أداء) হিসেবে "আন" (عن) শব্দটি নেই। এই শব্দটি নিজে থেকে সূত্রের বিচ্ছিন্নতা কিংবা নিরবচ্ছিন্নতা কোনোটিরই প্রমাণ দেয় না। তাই ইসলামি ইতিহাসে সহিহ হাদিস সংকলনকারী দুজন শ্রেষ্ঠ ইমামের নিকট কোন শর্তাবলির ভিত্তিতে 'আন' শব্দযুক্ত সূত্রসমূহ (أسانيد معنعنة) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য হয়, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩ ـ এই মাসআলাটি নিয়ে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে যে, " 'আন' শব্দযুক্ত সূত্রে কি কেবল সমকালীনতা (معاصرة)-র ভিত্তিতেই হাদিস নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হবে, নাকি তাতে শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক?"।
একদল গবেষক ইমাম বুখারির মত বেছে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন জাহাবি, ইবনে রজব, ইবনে রশিদ, আলায়ি এবং ইবনে হাজার।
অন্য অনেকে ইমাম মুসলিমের মতটি গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মিযযি ও ইবনে কাসির। এছাড়াও চৌদ্দ ও পনেরো হিজরি শতাব্দীর হাদিস শাস্ত্রের অধিকাংশ পণ্ডিত এই মত গ্রহণ করেছেন, যেমন শায়খ আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ), শায়খ মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (রহিমাহুল্লাহ) এবং শায়খ
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
محمد ناصر الدين الألباني والشيخ عبد الفتاح أبو غدة وغيرهم.
وقوة الخلاف حول هذه المسألة ذات الأثر العملي في علم الحديث يجعل بحثها مع التحرير والتدقيق من المهمات.
4 ـ إن المتابع لإنتاج المشتغلين بعلم الحديث من المعاصرين يلحظ شيئاً من الاضطراب لدى البعض منهم في فهم هذه المسألة وذلك لغموض بعض جوانبها ـ وسيأتي مزيد بيان لهذا خلال الحديث عن أسباب اختياري لهذا البحث.
5 ـ إن هذه المسألة من المسائل العملية التي يحتاج الباحث في علم الحديث إلى تطبيقها في حكمه على الأحاديث التي يتصدى لنقدها خارج الصحيحين.
6 ـ إن بحث هذه المسألة عند الإمامين البخاري ومسلم يأخذ أهميته من كون الإمام مسلم أول من أثار هذه المسألة وناقشها في "مقدمة صحيح" ومن كون الإمام البخاري أكثر في كتبه النقدية " كالتاريخ الكبير"، و" التاريخ الصغير"، وغيرهما، من الكلام على الأسانيد بعدم ثبوت السماع فيها.
ثم إن الإمامين البخاري ومسلماً هما أجلّ وأعلم من صنّف في الأحاديث الصحيحة، وهذه المسألة ـ كما أسلفت ـ قوية العلاقة بشرط مهم من شروط الحديث الصحيح ألا وهو " اتصال السند" فكان من المناسب أن تعرف شروط الحديث الصحيح وتفريعاتها من كلامها وصنيعهما رحمهما الله تعالى.
2 ـ مصطلحات البحث:
سأعرض فيما يلي تعريفاً ـ موجزاً ـ لمصطلحات عنوان:
أـ اشتراط اللقيا والسماع: يقصد باللقيا: ثبوت لقاء التلميذ لشيخه الذي يروي عنه ولو لمرة واحدة.
والغرض من عطف كلمة (لقيا) على (سماع) لأن ثبوت الاجتماع والمشافهة بين التلميذ وشيخه قد يرد من خلال خبر أو قصة فيها إثبات للالتقاء نصاً وللسماع ضمناً، وقد يعرف الاجتماع بينهما والمشافهة عن طريق ورود لفظة مثل " سمعت" أو " حدثني" في السند.
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী, শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ এবং অন্যান্যরা।
হাদিস বিজ্ঞানে বাস্তব প্রভাব সম্পন্ন এই মাসআলার ওপর মতভেদের তীব্রতা একে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (التحرير والتدقيق) সাথে গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের অন্তর্ভুক্ত করে।
৪- সমকালীন হাদিস চর্চাকারীদের গবেষণাকর্ম যারা পর্যবেক্ষণ করবেন, তারা তাদের কারও কারও মাঝে এই মাসআলাটি বোঝার ক্ষেত্রে কিছুটা অসামঞ্জস্যতা (اضطراب) লক্ষ্য করবেন, যার কারণ এর কিছু দিকের অস্পষ্টতা। এই গবেষণাটি বেছে নেওয়ার কারণসমূহ আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।
৫- এটি এমন একটি ব্যবহারিক মাসআলা যা হাদিস বিজ্ঞানের একজন গবেষকের প্রয়োজন হয় সেই সকল হাদিসের ওপর হুকুম বা বিধান (حكم) প্রদানের সময়, যেগুলোর পর্যালোচনা (نقد) তিনি সহীহাইন-এর বাইরে করে থাকেন।
৬- ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের নিকট এই মাসআলার গবেষণাটি গুরুত্ব লাভ করার কারণ হলো—ইমাম মুসলিমই সর্বপ্রথম এই মাসআলাটি উত্থাপন করেছেন এবং তাঁর 'সহিহ'-এর মুকাদ্দিমায় এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে ইমাম বুখারি তাঁর পর্যালোচনামূলক গ্রন্থসমূহ যেমন: 'আত-তারিখুল কাবীর', 'আত-তারিখুস সাগীর' এবং অন্যান্য কিতাবে এমন বহু সনদ (أسانيد) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যেগুলোতে শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয়।
তদুপরি, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলনকারীদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান ও বিজ্ঞ। আর এই মাসআলাটি—যেমনটি আমি আগে উল্লেখ করেছি—সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত 'সনদের অবিচ্ছিন্নতা' (اتصال السند)-এর সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই সহিহ (صحيح) হাদিসের শর্তাবলি ও এর আনুষঙ্গিক শাখাগুলো তাঁদের বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতি থেকে জানাটাই সমীচীন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।
২- গবেষণার পরিভাষাসমূহ:
শিরোনামের পরিভাষাসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
ক. সাক্ষাৎ (لقيا) ও শ্রবণের (سماع) শর্তারোপ করা: সাক্ষাৎ (لقيا) বলতে উদ্দেশ্য হলো—ছাত্র তার শায়খের সাথে, যাঁর থেকে সে বর্ণনা করছে, অন্তত একবার দেখা হওয়া প্রমাণিত হওয়া।
আর 'শ্রবণ' (سماع)-এর সাথে 'সাক্ষাৎ' (لقيا) শব্দটি যুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো—ছাত্র ও শায়খের মাঝে একত্র হওয়া এবং সরাসরি কথোপকথন হওয়া কখনও কোনো সংবাদ বা ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হতে পারে যাতে সাক্ষাতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে এবং শ্রবণের বিষয়টি পরোক্ষভাবে বিদ্যমান থাকে। আবার কখনও তাঁদের মাঝে একত্র হওয়া ও সরাসরি কথোপকথন হওয়ার বিষয়টি সনদে (سند) 'আমি শুনেছি' বা 'তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন'—এ জাতীয় শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে জানা যায়।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ب ـ السند المعنعن: يقصد بذلك السند الذي ترد فيه لفظة " عن " كقولنا: روى عبد الرحمن بن مهدي عن شعبة عن قتادة عن أنس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ويدخل في حكم السند المعنعن عند الجمهور ما يسمى "بالمؤنن" وهو الذي يقال فيه: فلان أن فلاناً قال.. الحديث، كما يدخل أيضاً في حكم العنعنة عند الجمهور كل لفظ لا يدل على ثبوت السماع، ولا يدل على الانقطاع، فلفظة "حدثنا" و "أخبرنا" مثلاً تدلان على ثبوت السماع ولفظة "بلغني" أو " حدثت عن فلان" تدلان على الانقطاع (1) .
وإنما خصص ذكر العنعنة في هذا البحث لأنها أكثر استعمالاً في الأسانيد من غيرها.
ج ـ المعاصرة: هي العيش في زمن واحد، ومن ذلك إدراك التلميذ من حياة شيخه ما يؤهله للسماع منه.
3 ـ مشكلة البحث:
تتلخص قضية البحث الأساسية في موقف الإمام البخاري وموقف الإمام مسلم إذا ورد حديث بسند فيه فلان عن فلان، فلا يحكم البخاري باتصال سند هذا الحديث حتى يعثر على ما ينص صراحة من أن التلميذ لقي شيخه وسمع منه، ولا يشترط البخاري ثبوت لفظ " حدثنا" أو " سمعت " بعد ذلك، في كل حديث يرويه التلميذ عن شيخه بل يكتفي بإثبات السماع واللقاء ولو لمرة واحدة.
وأما الإمام مسلم فلا يشترط ما يشترطه البخاري في الإسناد المعنعن بل يكفي عنده لجعل السند المعنعن متصلاً معرفة المعاصرة والسلامة من التدليس، مع التسليم بأن ثبوت اللقاء والسماع بين المتعاصرين أبلغ في تأكيد اتصال السند.
هذه هي قاعدة البحث الأساسية أو أصله، فما هي أهم المشكلات التي ترتب عليها والتي يعني البحث بمناقشتها؟ .
وأوجز أهم مشكلات البحث في النقاط الآتية.
1 ـ هل توجد مواطن اتفاق بين رأي الإمام البخاري ورأي الإمام مسلم في
--------------------------------------------
খ — মুআ'ন'আন সনদ (السند المعنعن): এর দ্বারা এমন সনদকে (السند) বোঝানো হয় যেখানে "আন" (عن) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন আমাদের কথা: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামাদের মতে "মুআন্নান" (المؤنن) ও মুআ'ন'আন সনদের (السند المعنعন) হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি হলো যেখানে বলা হয়: অমুক থেকে যে (أن), অমুক বলেছেন... হাদিস। একইভাবে জমহুর ওলামাদের নিকট আন'আনাহ-র (العنعنة) হুকুমের মধ্যে এমন প্রতিটি শব্দ অন্তর্ভুক্ত যা শ্রবণ সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت السماع) নির্দেশ করে না, আবার বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) নির্দেশ করে না। উদাহরণস্বরূপ, "হাদ্দাসানা" এবং "আখবারানা" শব্দ দুটি শ্রবণ সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت السماع) নির্দেশ করে, এবং "বালাগানি" বা "হাদ্দাসতু আন ফুলান" শব্দ দুটি বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) নির্দেশ করে (১)।
এই গবেষণায় আন'আনাহ-র (العنعنة) উল্লেখ বিশেষভাবে করা হয়েছে কারণ এটি অন্যান্য শব্দের তুলনায় সনদসমূহে (الأسانيد) অধিক ব্যবহৃত হয়।
গ — সমসাময়িকতা (المعاصرة): এটি হলো একই সময়ে বেঁচে থাকা, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো ছাত্রের পক্ষে তার শায়খের জীবনকালের এমন সময় পাওয়া যা তার থেকে শ্রবণ (السماع) করার যোগ্যতা প্রদান করে।
৩ — গবেষণার সমস্যা:
গবেষণার মূল বিষয়টি ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিমের অবস্থানের সারসংক্ষেপ, যখন এমন কোনো হাদিস বর্ণিত হয় যার সনদে (سند) "অমুক থেকে (عن) অমুক" থাকে। বুখারি এই হাদিসের সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত ফয়সালা দেন না, যতক্ষণ না তিনি এমন কোনো স্পষ্ট বর্ণনা পান যে ছাত্রটি তার শায়খের সাথে সাক্ষাৎ (اللقاء) করেছে এবং তার থেকে শ্রবণ (السماع) করেছে। ছাত্র তার শায়খ থেকে বর্ণনা করা প্রতিটি হাদিসে বুখারি "হাদ্দাসানা" বা "সামিতু" শব্দ থাকা শর্ত করেন না, বরং তিনি অন্তত একবার শ্রবণ (السماع) এবং সাক্ষাৎ (اللقاء) সাব্যস্ত হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেন।
অন্যদিকে ইমাম মুসলিম মুআ'ন'আন সনদের (الإسناد المعنعن) ক্ষেত্রে বুখারি যা শর্ত করেছেন তা শর্ত করেন না। বরং তার নিকট মুআ'ন'আন সনদকে (السند المعنعن) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) গণ্য করার জন্য সমসাময়িকতা (المعاصرة) এবং তাদলিস (التدليس) থেকে মুক্ত থাকাই যথেষ্ট। যদিও তিনি এটি স্বীকার করেন যে, সমসাময়িকদের মধ্যে সাক্ষাৎ (اللقاء) এবং শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত হওয়া সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী।
এটিই হলো গবেষণার মূল ভিত্তি বা মূলনীতি। তাহলে এর ফলে উদ্ভূত প্রধান সমস্যাগুলো কী কী যা এই গবেষণায় আলোচনার দাবি রাখে?
আমি গবেষণার প্রধান সমস্যাগুলো নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরছি।
১ — ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিমের মতামতের মধ্যে কি ঐকমত্যের কোনো ক্ষেত্র আছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
هذه المسألة؟
والذي حملني على وضع هذا السؤال ضمن أهم مشكلات البحث وجود بعض النصوص التي يظهر منها احتمال وجود نقاط بين الإمامين، ومن ذلك مثلاً:
أـ قال الإمام مسلم:
(ومحمد بن علي لا يعلم له سماع من ابن عباس، ولا أنه لقيه، أو رآه) (1) وهذه العبارة هي نفسها التي يستخدمها البخاري في تطبيق المسألة في "كتابه الكبير" وغيره من الكتب.
وقد أدرك محمد بن علي عبد الله بن عباس من حياة جده عبد الله بن عباس ما يقارب عشر سنوات أو ثمان، فقد ورد في "تاريخ دمشق " لابن عساكر (ولد محمد بن علي سنة ثمان وخمسين ومات سنة خمس وعشرين ومائة) (2) .
وفيه قول آخر أنه ولد سنة (ستين) (3) ، ومن المعلوم أن عبد الله بن عباس مات سنة 68هـ.
فهل خالف مسلم مذهبه في الاكتفاء بالمعاصرة؟!
ب ـ وقد سأل الإمام مسلم الإمام البخاري عن علة حديث " كفارة المجلس " الذي يرويه: ابن جريج عن موسى بن عقبة عن سهيل عن أبيه عن أبي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر البخاري علته ومنها: (لا يذكر لموسى بن عقبة سماع من سهيل ((4) وقد أقر مسلم ما قاله البخاري.
ج ـ وقفت على بعض النصوص المتعلقة بهذه المسألة في "التاريخ الكبير" للبخاري يقول فيها (لا أدري سمع فلان من فلان أم لا؟) ، ومتى ما طبقت الشروط التي ذكرها الإمام مسلم في "الاكتفاء بالمعاصرة" على نصوص البخاري تلك، لا تجد هذه النصوص قد استوفت شروط اتصال السند المعنعن على مذهب مسلم، مما يجعل احتمال وجود اتفاق بين الإمامين على بعض صور هذه المسألة قائم ومحتمل فمثلاً:
--------------------------------------------
এই মাসআলাটি?
যে বিষয়টি আমাকে এই প্রশ্নটিকে গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তা হলো এমন কিছু উদ্ধৃতির উপস্থিতি যেখান থেকে দুই ইমামের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য থাকার সম্ভাবনা প্রকাশ পায়। যেমন:
ক— ইমাম মুসলিম বলেছেন:
(এবং মুহাম্মাদ বিন আলীর ইবনে আব্বাস থেকে শ্রবণ (سماع) করার বিষয়টি জানা নেই, এবং তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ (لقيه) করেছেন বা তাঁকে দেখেছেন বলেও জানা নেই) (১) আর এই একই অভিব্যক্তি ইমাম বুখারি তাঁর "আত-তারিখুল কাবীর" এবং অন্যান্য গ্রন্থে এই মাসআলাটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন।
অথচ মুহাম্মাদ বিন আলী তাঁর দাদা আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের জীবনকাল থেকে প্রায় আট বা দশ বছর পেয়েছিলেন। ইবনে আসাকিরের "তারিখু দামেশক" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, (মুহাম্মাদ বিন আলী আটান্ন হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একশ পঁচিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন) (২)।
এতে অন্য একটি মতও রয়েছে যে, তিনি (ষাট) হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন (৩)। আর এটি সুপরিচিত যে, আবদুল্লাহ বিন আব্বাস ৬৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
তাহলে ইমাম মুসলিম কি কেবল সমসাময়িকতা (المعاصرة)-র ওপর নির্ভর করার বিষয়ে তাঁর নিজের মতের পরিপন্থী কাজ করেছেন?!
খ — ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারিকে "কাফফারাতুল মজলিস" হাদিসের ত্রুটি (علة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যা ইবনে জুরাইজ — মুসা বিন উকবা — সুহাইল — তাঁর পিতা — আবু হুরায়রা সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। ইমাম বুখারি এর ত্রুটি (علة) উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ছিল: (সুহাইল থেকে মুসা বিন উকবার কোনো শ্রবণ (سماع) বর্ণিত নেই) (৪)। বুখারি যা বলেছিলেন ইমাম মুসলিম তা স্বীকার করে নিয়েছেন।
গ — আমি বুখারির "আত-তারিখুল কাবীর"-এ এই মাসআলা সংক্রান্ত কিছু উদ্ধৃতি পেয়েছি যেখানে তিনি বলেছেন: (আমি জানি না অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে শুনেছেন কি না?)। যখনই ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত "সমসাময়িকতার ওপর নির্ভরতা (الاكتفاء بالمعاصرة)" সংক্রান্ত শর্তাবলি বুখারির সেই উদ্ধৃতিগুলোর ওপর প্রয়োগ করা হবে, তখন দেখা যাবে যে এই উদ্ধৃতিগুলো মুসলিমের মাযহাব অনুযায়ী মু'আন'আন (المعنعন) সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند)-এর শর্তাবলি পূরণ করেনি। এটি এই মাসআলার কিছু ক্ষেত্রে দুই ইমামের মধ্যে ঐকমত্য থাকার সম্ভাবনাকে জোরালো করে। উদাহরণস্বরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال الإمام البخاري في ترجمة الحسن بن سهيل بن عبد الرحمن بن عوف الزهري (لا أدري سمع من ابن عمر أم لا؟) (1) .
وعند مراجعة ترجمة الحسن بن سهيل في "التهذيب" (2) لا تجد ما يدل على معاصرة الحسن لابن عمر، ومعرفة المعاصرة أهم شروط اتصال السند المعنعن عند مسلم.
لهذا سيكون من أهم المشكلات التي يناقشها هذا البحث التفتيش عن جواب لهذا السؤال:
ماهي مواطن الاتفاق والاختلاف بين الإمامين في هذه المسألة؟
2 ـ هل " ثبوت اللقاء" كشرط لاتصال السند المعنعن مؤثر في أصل صحة الحديث عند البخاري أم أنه لم يشترط ذلك إلا في الأحاديث التي خرجها في صحيحه فقط؟
3 ـ ماهي الحجج التي يمكن أن يكون البخاري استند إليها عندما اختار مذهبه في هذه الدراسة؟.
ومن المعلوم أن الإمام البخاري لم يناقش خصومه ويعرض مذهبه بحججه وأدلته كما صنع الإمام مسلم في "مقدمة صحيحه" مما أحوج الباحث إلى التنقيب عما يحتج به للبخاري في هذه المسألة.
4 ـ ماهي معالم المنهج النقدي الذي مارسه البخاري عند تطبيقه العملي للمسألة؟
رغم توفر معالم نصوص تطبيقية للإمام البخاري لهذه المسالة إلا أننا لا نقف له على نصوص تشخص موقفه النظري من هذه المسألة وكيف استخدم هذه المسألة في نقده للأسانيد؟ وأصبح الكثير من الباحثين لا يعرفون مذهب البخاري إلا من خلال ما قاله مسلم في "مقدمة صحيحه" وبما أن لدينا ثروة من نصوص البخاري التطبيقية فليس من المتعذر ـ إن شاء الله ـ دراسة هذه النصوص بعد جمعها لاستخلاص مفاتيح هامة من خلالها نتعرف على معالم المنهج النقدي الذي
ইমাম বুখারি হাসান বিন সুহাইল বিন আবদুর রহমান বিন আউফ আল-জুহরি-এর জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) আলোচনায় বলেছেন: "(আমি জানি না তিনি ইবনে ওমর থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন কি না?)" (১)।
এবং "তাহজিব" গ্রন্থে হাসান বিন সুহাইলের জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) পর্যালোচনা করলে হাসান এবং ইবনে ওমরের সমসাময়িকতা (معاصرة) প্রমাণ করে এমন কিছু পাওয়া যায় না। আর ইমাম মুসলিমের নিকট ‘আন’আনা’ (معنعن) সনদের অবিচ্ছিন্নতার (اتصال السند) জন্য সমসাময়িকতা (معاصرة) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অন্যতম প্রধান শর্ত।
এ কারণেই এই গবেষণায় আলোচিত প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে:
১. এই মাসআলায় (বিষয়) দুই ইমামের মধ্যে ঐক্যমত ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রগুলো কী কী?
২. ‘আন’আনা’ (معنعن) সনদের অবিচ্ছিন্নতার (اتصال السند) শর্ত হিসেবে ‘সাক্ষাতের প্রমাণ’ (ثبوت اللقاء) কি ইমাম বুখারির নিকট হাদিসের মূল বিশুদ্ধতার (صحة الحديث) ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী, নাকি তিনি কেবল তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসগুলোর জন্যই এটি শর্ত হিসেবোরোপ করেছেন?
৩. ইমাম বুখারি এই গবেষণায় তার যে অভিমত (مذهب) গ্রহণ করেছেন, তার সমর্থনে তিনি কী কী দলিল (حجج) উপস্থাপন করে থাকতে পারেন?
এটি সর্বজনবিদিত যে, ইমাম বুখারি তার প্রতিপক্ষদের সাথে কোনো বিতর্ক করেননি এবং ইমাম মুসলিম যেভাবে তার "সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমা"-য় নিজ মাযহাবকে দলিল ও প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছেন, ইমাম বুখারি সেভাবে করেননি; যা গবেষককে এই মাসআলায় বুখারির সপক্ষে দলিলের সন্ধানে বিস্তারিত অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তুলেছে।
৪. এই মাসআলার ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি যে সমালোচনামূলক পদ্ধতি (المنهج النقدي) অনুসরণ করেছেন তার বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
ইমাম বুখারির এই মাসআলা সংক্রান্ত ব্যবহারিক প্রয়োগের বিভিন্ন নিদর্শন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, আমরা এমন কোনো স্পষ্ট উদ্ধৃতি পাই না যা এই মাসআলায় তার তাত্ত্বিক অবস্থানকে সুনির্দিষ্ট করে এবং তিনি কীভাবে সনদ (سند) সমালোচনার ক্ষেত্রে এই মাসআলাটি ব্যবহার করেছেন তা ব্যাখ্যা করে। অনেক গবেষক ইমাম বুখারির মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে কেবল ইমাম মুসলিম তার "সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমা"-য় যা বলেছেন তার মাধ্যমেই জানতে পারেন। যেহেতু আমাদের কাছে ইমাম বুখারির প্রয়োগমূলক উদ্ধৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, তাই ইনশাআল্লাহ—এই উদ্ধৃতিগুলো সংগ্রহ করার পর তা পর্যালোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র বের করা অসম্ভব নয়, যার মাধ্যমে আমরা সেই সমালোচনামূলক পদ্ধতির (المنهج النقدي) বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানতে পারব যা...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مارسه البخاري عند تطبيقه العملي للمسألة، مما يؤدي إلى تاصيل الجانب النظري من المسألة عند البخاري.
وحتى يتأتى الإجابة على هذا السؤال الهام يتوجب ابتداء وضع عدة أسئلة افتراضية تخضع للاختبار حتى يميز الفرض القوي الذي يرتقي إلى منزلة الحقيقة من غيره ومن هذه الأسئلة:
- هل يراعي البخاري بلدان الرواة فيتشدد في البحث عن السماع في الأسانيد الكوفية والشامية أكثر من الأسانيد المدنية؟
- هل المدلس وغير المدلس عند البخاري بمنزلة واحدة من حيث اشتراط السماع في السند المعنعن؟ .
- هل يفحص البخاري عن سماعات المجاهيل من الرواة عن شيوخهم أكثر من غيرهم؟
- هل يقتصر البخاري في تطبيقاته للمسألة على التنقيب عن سماعات التابعين من الصحابة؟
- لماذا يعبر البخاري في تطبيقاته للمسألة بلفظ السماع بدل الإدراك واللقاء؟
- هل يقرن البخاري في كلامه على الأسانيد بين عدم ثبوت السماع وأمور أخرى كالتفرد، والجهالة.. إلخ؟
- هل يطبق البخاري اشتراط السماع على أحاديث الأحكام فقط؟
5 ـ الاكتفاء بالمعاصرة ماهي ضوابطه عند الإمام؟
* هل الأصل عند الإمام مسلم في السند المعنعن الاتصال حتى يثبت الانقطاع كما فهم ذلك بعض المعاصرين؟ .
* هل الراوي المجهول والضعيف يكفي في اتصال معنعنه احتمال اللقاء والمعاصرة عند مسلم؟
* هل يكتفي الإمام مسلم باحتمال المعاصرة أم لابد من العلم اليقيني بالمعاصرة؟
* ما هي وسائل إثبات المعاصرة عند الإمام مسلم؟ .
ইমাম বুখারি বিষয়টি তাঁর প্রায়োগিক ক্ষেত্রে চর্চা করেছেন, যা বুখারির নিকট বিষয়টির তাত্ত্বিক দিকটিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার দিকে নিয়ে যায়।
এবং এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু কাল্পনিক প্রশ্ন উত্থাপন করা প্রয়োজন যা পরীক্ষার অধীন হবে, যাতে করে সত্যের স্তরে উন্নীত শক্তিশালী ধারণাটিকে অন্যদের থেকে পৃথক করা যায়। এ জাতীয় কিছু প্রশ্ন হলো:
- বুখারি কি বর্ণনাকারীদের অঞ্চলের প্রতি লক্ষ্য রাখেন? তিনি কি মদিনার সনদসমূহ (أسانيد)-এর তুলনায় কুফা ও শামের সনদসমূহে শ্রবণ (سماع)-এর ব্যাপারে অনুসন্ধানে অধিক কঠোরতা অবলম্বন করেন?
- 'আন'আনকৃত (معنعن) সনদের (سند) ক্ষেত্রে শ্রবণ (سماع)-এর শর্তারোপের দিক থেকে বুখারির নিকট তদ্বীসকারী (مدلس) এবং তদ্বীসকারী নয় এমন বর্ণনাকারী কি একই পর্যায়ের?
- বুখারি কি অজ্ঞাত (مجهول) বর্ণনাকারীদের তাদের শায়খদের নিকট থেকে শ্রবণের (سماع) বিষয়টি অন্যদের তুলনায় অধিক যাচাই করেন?
- বুখারি কি এই বিষয়টির প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেবল সাহাবিদের (صحابة) নিকট থেকে তাবেয়িদের (تابعين) শ্রবণের (سماع) বিষয়টি অনুসন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন?
- বুখারি কেন এই বিষয়টির প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমসাময়িক হওয়া (إدراك) এবং সাক্ষাৎ (لقاء)-এর পরিবর্তে শ্রবণ (سماع) শব্দটির মাধ্যমে ব্যক্ত করেন?
- বুখারি কি সনদসমূহ (أسانيد) সম্পর্কে আলোচনার সময় শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত না হওয়ার সাথে অন্যান্য বিষয় যেমন একক বর্ণনা (تفرد) এবং অজ্ঞাত হওয়া (جهالة) ইত্যাদিকে যুক্ত করেন?
- বুখারি কি কেবল বিধি-বিধানের হাদিসসমূহের ওপরই শ্রবণ (سماع)-এর শর্তটি প্রয়োগ করেন?
৫ ـ কেবল সমসাময়িকতা (معاصرة)-এর ওপর নির্ভর করার নীতিমালা ইমামের নিকট কী কী?
* ইমাম মুসলিমের নিকট 'আন'আনকৃত (معنعن) সনদের (سند) মূল নীতি কি অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), যতক্ষণ না বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) প্রমাণিত হয়, যেমনটি কোনো কোনো সমসাময়িক গবেষক বুঝেছেন?
* ইমাম মুসলিমের নিকট অজ্ঞাত (مجهول) এবং দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর 'আন'আনকৃত (معنعن) বর্ণনার অবিচ্ছিন্ন (اتصال) হওয়ার ক্ষেত্রে কি সাক্ষাৎ (لقاء) ও সমসাময়িকতা (معاصرة)-এর সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট?
* ইমাম মুসলিম কি কেবল সমসাময়িকতা (معاصرة)-এর সম্ভাবনার ওপরই নির্ভর করেন, নাকি সমসাময়িকতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা জরুরি?
* ইমাম মুসলিমের নিকট সমসাময়িকতা (معاصرة) প্রমাণের মাধ্যমগুলো কী কী?
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
* ذكر الإمام مسلم " أن يكون اللقاء والسماع ممكناً وجائزاً" بين التلميذ والشيخ فما هو المقصود بإمكانية اللقاء؟
* اشتراط الإمام مسلم في الاكتفاء بالمعاصرة ألا يكون الراوي مدلساً، فماذا عن الراوي كثير الإرسال هل يعامل معاملة المدلس؟ .
* إذا روى التلميذ حديثاً عن شيخ عاصره، ولم يثبت ما يدل على اللقاء والسماع بينهما، ثم روى عن ذلك الشيخ حديثاً آخر ولكن أدخل في سنده بينه وبين شيخه رجلاً أو رجلين فأكثر، فهل يكتفي في هذه الحالة بالمعاصرة عند الإمام مسلم أم لابد من دليل على ثبوت السماع أو اللقاء؟ .
6 ـ ذكر الإمام مسلم في "مقدمة صحيحه" أدلة رد بها على خصومه فما هو موقف العلماء الذين ناقشوه من هذه الأدلة؟ .
وماهي مؤاخذاتهم عليه؟
وهل كانت الأدلة التي ذكرها الإمام مسلم قوية وكافية في الرد على خصومه؟
وهل الإلزامات التي ذكرها في "مقدمة صحيح" تلزم خصومه حقاً؟
وماهي الأدلة التي يمكن إضافتها إلى جانب الأدلة التي ذكرها مسلم في تأييد مذهبه؟ .
7 ـ هل أخرج الإمام مسلم في كتابه "الصحيح" اسانيد تكلم البخاري في سماع بعض رجال تلك الأسانيد من شيوخهم؟ .
فمثلاً قال البخاري في ترجمة سليمان بن أبي سليمان: (لم يذكر سماعاً من أبي سعيد) (1) فننظر هل أخرج مسلم هذا السند في صحيحه؟
8 ـ تحديد مواطن القوة في مذهب البخاري، وفي مذهب مسلم أيضاً وذلك حتى يتسنى للباحث أن يرجح ما يراه المسلك الأقرب للصواب الذي يحسن اتخاذه تجاه السند المعنعن بين المتعاصرين.
4 ـ أسباب اختياري لهذا البحث:
1 ـ أهمية المسألة عملياً للمشتغل بعلم الحديث كلما تصدى للحكم على حديث في سنده عنعنة خارج الصحيحين، واحتياجه المستمر إلى معرفة شروط
--------------------------------------------
* ইমাম মুসলিম উল্লেখ করেছেন যে, ছাত্র ও শায়খের মধ্যে "সাক্ষাৎ (اللقاء) এবং শ্রবণ (السماع) সম্ভব ও বৈধ হওয়া" আবশ্যক; এখানে সাক্ষাতের সম্ভাবনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
* ইমাম মুসলিমের সমসাময়িকতা (المعاصرة)-র ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে শর্ত হলো বর্ণনাকারী (الراوي) যেন মুদাল্লাস বা তথ্য গোপনকারী (مدلساً) না হন। তাহলে অধিক ইরসাল বা বিচ্ছিন্ন বর্ণনাকারী (الإرسال)-র ক্ষেত্রে হুকুম কী হবে? তার সাথেও কি মুদাল্লাস (المدلس)-এর ন্যায় আচরণ করা হবে? .
* যদি কোনো ছাত্র তার সমসাময়িক (عاصره) কোনো শায়খের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, অথচ তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ (اللقاء) বা শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ না থাকে; অতঃপর তিনি সেই শায়খ থেকেই অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেন যেখানে তিনি নিজের এবং তাঁর শায়খের মাঝখানে সনদ (سنده)-এ একজন, দুইজন বা ততোধিক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত করেন—এমতাবস্থায় ইমাম মুসলিমের নিকট কি কেবল সমসাময়িকতা (المعاصرة)-ই যথেষ্ট হবে, নাকি শ্রবণ (السماع) বা সাক্ষাৎ (اللقاء) সাব্যস্ত হওয়ার দলিলের প্রয়োজন হবে? .
6 ـ ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ-এর মুকাদ্দিমা"-য় এমন কিছু দলিল উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বিরোধীদের জবাব দিয়েছেন; সেই আলেমদের অবস্থান কী যারা এই দলিলগুলোর ব্যাপারে তাঁর সাথে আলোচনা বা পর্যালোচনা করেছেন? .
এবং তাঁর প্রতি তাঁদের আপত্তিসমূহ কী কী?
ইমাম মুসলিম যেসব দলিল উল্লেখ করেছেন, সেগুলো কি তাঁর বিরোধীদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও যথেষ্ট ছিল?
তিনি তাঁর "সহিহ-এর মুকাদ্দিমা"-য় যে বিষয়গুলো আবশ্যক করেছেন, সেগুলো কি তাঁর বিরোধীদের ওপর প্রকৃতপক্ষেই বর্তায়?
ইমাম মুসলিমের মতবাদের সমর্থনে তাঁর উল্লিখিত দলিলগুলোর পাশাপাশি আর কী কী দলিল যোগ করা সম্ভব? .
7 ـ ইমাম মুসলিম কি তাঁর গ্রন্থ "সহিহ"-এ এমন কোনো সনদ (أسانيد) বর্ণনা করেছেন যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো বর্ণনাকারী (رجال)-র তাঁদের শায়খদের থেকে শ্রবণের (سماع) ব্যাপারে ইমাম বুখারি আপত্তি তুলেছেন? .
উদাহরণস্বরূপ, ইমাম বুখারি সুলাইমান বিন আবি সুলাইমানের জীবনবৃত্তান্তে বলেছেন: "(আবু সাঈদ থেকে তাঁর শ্রবণের (سماعاً) কথা উল্লেখ করা হয়নি)" (১); এখন আমরা দেখব ইমাম মুসলিম কি এই সনদ (السند) তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন?
8 ـ ইমাম বুখারির মাযহাব এবং ইমাম মুসলিমের মাযহাবের সবল দিকগুলো চিহ্নিত করা, যাতে গবেষকের পক্ষে সেই পথটিকে অগ্রগণ্য (يرجح) করা সহজ হয় যাকে তিনি সমসাময়িক (المتعاصرين) বর্ণনাকারীদের মুআনআন সনদ (السند المعنعن)-এর ক্ষেত্রে সত্যের নিকটবর্তী ও সঠিক কর্মপন্থা মনে করেন।
4 ـ এই গবেষণাটি নির্বাচনের কারণসমূহ:
1 ـ হাদিস শাস্ত্র নিয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য এই মাসআলাটির ব্যবহারিক গুরুত্ব, যখনই তিনি সহিহাইন-এর বাইরে এমন কোনো হাদিসের হুকুম প্রদান করতে যান যার সনদ (سنده)-এ আনআনা (عنعنة) রয়েছে; এবং শর্তাবলি (شروط) সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে তাঁর নিরন্তর প্রয়োজনীয়তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اتصال السند المعنعن في مذهب الإمامين البخاري ومسلم.
2 ـ ومما حفزني إلى اختيار هذا البحث أنه موضوع لم يبحث من قبل بصورة محررة وشاملة.
3 ـ ومما دعاني إلى اختيار هذا البحث ما رأيته من تسرع بعض المعاصرين إلى رد مذهب الإمام البخاري في هذه المسألة بدعوى أنه خلاف قول جمهور علماء الحديث، ومن ذلك صنيع الأستاذ محمد ناصر الدين الألباني في معرض رده على الإمام البخاري لما قال: لا أدري أسمع محمد بن عبد الله بن حسن من أبي الزناد أم لا؟ فقد قال الشيخ الألباني: (هذه ليست بعلة إلا عند البخاري بناء على أصله المعروف وهو اشتراط معرفة اللقاء، وليس بذلك شرط عند جمهور المحدثين) (1) .
بينما نرى الإمام ابن رجب يقول (وأما جمهور المتقدمين فعلى ما قاله ابن المديني والبخاري، وهو القول الذي أنكره مسلم على من قاله) (2) .
فرأيت أن تجلية مذهب الإمامين البخاري في هذه المسألة ومعرفة من قال بمثل قوله وأيده من أهم الأسباب التي تدعوني لاختيار هذا البحث.
4 ـ رأيت من بعض المعاصرين تقويتهم لأسانيد فيها انقطاع أو يشك في اتصالها، مع تبنيهم نظرياً لمذهب الإمام مسلم، حتى يتساءل الباحث هل فهم هؤلاء مذهب مسلم على أن السند المعنعن الأصل فيه الاتصال حتى يثبت الانقطاع البين؟ .
وهل هذا الفهم صحيح أم لا؟
فمثلاً: حكم الألباني على حديث يرويه شريح بن عبيد عن أبي مالك الأشعري عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله (وهذا إسناد صحيح) (3) .
وبالرجوع إلى ترجمة شريح بن عبيد في "تهذيب التهذيب" (4) نجد أن
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের মাজহাব অনুযায়ী মুআনআন সনদের (السند المعنعن) সংযুক্ততা (اتصال)।
২- এই গবেষণাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এটি এমন একটি বিষয় যা এর আগে কোনো পরিশুদ্ধ ও সামগ্রিক পদ্ধতিতে আলোচিত হয়নি।
৩- এই গবেষণাটি বেছে নেওয়ার আরও একটি কারণ হলো, সমসাময়িক কিছু ব্যক্তির এই মাসআলায় ইমাম বুখারির মাজহাবকে প্রত্যাখ্যান (رد) করার ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা; তাদের দাবি হলো এটি হাদিস বিশারদদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) মতের পরিপন্থী। এর একটি উদাহরণ হলো উস্তাদ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি যখন ইমাম বুখারির এই কথার প্রতিবাদ করছিলেন যে: "আমি জানি না মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান আবু জিনাদ থেকে শুনেছেন কি না?" এ প্রসঙ্গে শায়খ আলবানি বলেছেন: (এটি ইমাম বুখারি ছাড়া অন্য কারো কাছে কোনো ত্রুটি (علة) নয়; কারণ এটি তাঁর সেই পরিচিত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যেখানে সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার শর্ত (شرط)ারোপ করা হয়েছে, আর এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) মুহাদ্দিসের নিকট কোনো শর্ত (شرط) নয়) (১)।
অপরদিকে আমরা দেখতে পাই ইমাম ইবনে রজব বলছেন: (আর পূর্বসূরিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (جمهور المتقدمين) মূলত ইবনে মাদিনি ও বুখারি যা বলেছেন তারই ওপর রয়েছেন, আর এটিই সেই মত যা ইমাম মুসলিম তাঁর প্রতিবাদে অস্বীকার করেছেন) (২)।
তাই আমি মনে করেছি যে, এই মাসআলায় ইমাম বুখারির মাজহাব স্পষ্ট করা এবং যারা তাঁর মতো কথা বলেছেন ও তাঁকে সমর্থন করেছেন তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো এই গবেষণাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
৪- আমি কিছু সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি যে, তারা এমন কিছু সনদসমূহকে (أسانيد) শক্তিশালী (تقوية) করেন যাতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে অথবা যেগুলোর সংযুক্ততা (اتصال) নিয়ে সন্দেহ আছে; যদিও তারা তাত্ত্বিকভাবে ইমাম মুসলিমের মাজহাবের অনুসারী। ফলে একজন গবেষকের মনে এই প্রশ্ন জাগে যে, তারা কি ইমাম মুসলিমের মাজহাবকে এভাবে বুঝেছেন যে মুআনআন সনদের (السند المعنعন) মূল হলো তার সংযুক্ততা (اتصال), যতক্ষণ না পর্যন্ত তার মধ্যে স্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) প্রমাণিত হয়?
এবং এই বুঝটি সঠিক কি না?
উদাহরণস্বরূপ: শুরাইহ বিন উবায়েদ কর্তৃক আবু মালিক আল-আশআরি থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসের ওপর আলবানি এই বলে হুকুম দিয়েছেন যে, (এবং এটি একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح)) (৩)।
অথচ "তাহজিবুত তাহজিব" (৪) গ্রন্থে শুরাইহ বিন উবায়েদের জীবনীতে আমরা দেখতে পাই যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحافظ ابن حجر ينص على أن شريحاً لم يدرك أبا مالك الأشعري.
كذلك حكم على حديث يرويه محمد بن المنكدر عن خزيمة بن ثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: (إسناد حسن) (1) .
وخزيمة بن ثابت رضي الله عنه مات سنة 37هـ، ومحمد بن المنكدر ولد قبل سنة 60هـ بقليل.
وحكم الشيخ أحمد شاكر على حديث يرويه عطاء بن فروخ عن عثمان بن عفان رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله (إسناد صحيح. عطاء فروخ: ثقة، وليس له في الكتب الستة غير هذا الحديث، ولكن نقل الحافظ في التهذيب عن العلل لعلي بن المديني أنه لم يلق عثمان، ولم أجد ما يؤيد هذا؟) (2) .
وفي مسند البزار قول البزار: (وعطاء بن فروخ رجل من أهل البصرة حدث عنه يونس بن عبيد وعلي بن زيد، ولا نعلمه سمع من عثمان) (3) وفي هذا تأييد لكلام ابن المديني ولم أعثر في ترجمة عطاء بن فروخ ما يدل على معاصرته لعثمان بن عفان.
فهذه الأمثلة وغيرها كثير جعلتني أتساءل هل فَهمُ مذهب مسلم لدى بعض كبار أساتذة علم الحديث في عصرنا صواب أم يحتاج إلى إعادة نظر؟ لا سيما وأن هناك عدد من القضايا التي ذكرتها في مشكلات البحث تحت البند رقم (5) لا تجد عند أكثر المعاصرين بياناً واضحاً لموقفهم منها مما جعل البحث في هذا الموضوع من الأهمية بمكان في نظري.
5 ـ ومما حفزني إلى هذا البحث أن موضوعه من ضمن الموضوعات التي كنت شديد التعلق والاهتمام بها من قبل التحاقي بالدراسات العليا حتى أنني لما عزمتُ على اختياره وبدأت أكتب خطة البحث وجدُ عناوين الفصول تنثال على ذهني انثيالاً كأنها نقشت في نفسي من زمن.
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শুরাইহ আবু মালিক আল-আশআরীর সাক্ষাৎ পাননি (لم يدرك)।
অনুরূপভাবে তিনি মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির কর্তৃক খুজাইমা ইবনে সাবিত থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন এমন একটি হাদিসের ব্যাপারে এই হুকুম দিয়েছেন: (হাসান সনদ (إسناد حسن)) (১)।
আর খুজাইমা ইবনে সাবিত (রা.) ৩৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির ৬০ হিজরির সামান্য কিছুকাল আগে জন্মগ্রহণ করেন।
এবং শায়খ আহমাদ শাকির আতা ইবনে ফাররুখ কর্তৃক উসমান ইবনে আফফান থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের ব্যাপারে এই হুকুম দিয়েছেন: (সহিহ সনদ (إسناد صحيح)। আতা ফাররুখ: নির্ভরযোগ্য (ثقة), আর কুতুবে সিত্তাহ-তে এই হাদিসটি ছাড়া তাঁর অন্য কোনো হাদিস নেই, তবে হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে আলী ইবনুল মাদিনীর 'আল-ইলাল' থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উসমানের সাক্ষাৎ পাননি (لم يلق), কিন্তু আমি এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাইনি?) (২)।
এবং মুসনাদে বাজ্জারে ইমাম বাজ্জারের বক্তব্য হলো: (আতা ইবনে ফাররুখ বসরার অধিবাসী একজন ব্যক্তি, তাঁর থেকে ইউনুস ইবনে উবাইদ এবং আলী ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন, আর আমাদের জানামতে তিনি উসমান থেকে শ্রবণ করেননি (سمع)) (৩)। এতে ইবনুল মাদিনীর বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় এবং আতা ইবনে ফাররুখের জীবনী (ترجمة) পর্যালোচনায় আমি এমন কিছু পাইনি যা উসমান ইবনে আফফানের সাথে তাঁর সমসাময়িকতা (معاصرة) প্রমাণ করে।
এই উদাহরণগুলো এবং আরও অনেক উদাহরণ আমাকে এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে যে, আমাদের যুগের হাদিস বিজ্ঞানের কিছু শীর্ষস্থানীয় অধ্যাপকদের নিকট ইমাম মুসলিমের মাজহাব (مذهب) সংক্রান্ত বুঝ কি সঠিক, নাকি এতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন আছে? বিশেষ করে গবেষণার সমস্যার ৫ নম্বর ধারার অধীনে আমি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি, তার অধিকাংশের ক্ষেত্রেই সমসাময়িক গবেষকদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না, যা আমার দৃষ্টিতে এই বিষয়ে গবেষণার গুরুত্বকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
৫ — আমাকে এই গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম কারণ হলো, এই বিষয়টি এমন সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল যার প্রতি উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই আমি অত্যন্ত অনুরাগী ও মনোযোগী ছিলাম। এমনকি যখন আমি এই বিষয়টি নির্বাচনের সংকল্প করলাম এবং গবেষণার রূপরেখা লিখতে শুরু করলাম, তখন অধ্যায়গুলোর শিরোনাম আমার মস্তিষ্কে এমনভাবে আসতে শুরু করল যেন সেগুলো অনেক আগে থেকেই আমার অন্তরে অঙ্কিত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
5 ـ الدراسات السابقة:
لم يبحث هذا الموضوع ـ في حدود علمي ـ بحثاً شمولياً يحرر فيه مذهب كل إمام على حدة ويجلى فيه مواطن الاتفاق والاختلاف بين المذهبين، فبقيت مسائل عدة من هذا الموضوع محل إشكال وغموض.
وقد تناول عدد من العلماء مسألة " السند المعنعن هل يشترط لاتصاله ثبوت السماع أم تكفي المعاصرة؟ " بالبحث الجزئي حيناً، وحيناً باقتضاب.
فقد كتب الإمام ابن رشيد (1) الفهري رسالة سماها: " السنن الأبين في المحاكمة بين الإمامين البخاري ومسلم في السند المعنعن" وقد طبعت محققة في تونس، ومضمون هذا الكتاب هو رد على أدلة الإمام مسلم وانتصار لمذهب البخاري، وفي رده في بعض المواضع إجمال، كما أنه ترك قضايا عدة في هذه المسألة لم يعرج عليها مما جعل فائدة الكتاب مقصورة على مناقشة أدلة الإمام مسلم.
وكذلك كتب الإمام العلائي (2)
في كتابه "جامع التحصيل في أحكام
--------------------------------------------
৫ ـ পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:
আমার জানা মতে, এই বিষয়টি এমন কোনো সামগ্রিক গবেষণায় আলোচিত হয়নি যেখানে প্রতিটি ইমামের মাযহাব (مذهب) স্বতন্ত্রভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং দুই মাযহাবের (المذهبين) মধ্যে ঐক্যমত ও পার্থক্যের জায়গাগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে এই বিষয়ের বেশ কিছু মাসআলা অস্পষ্টতা ও জটিলতার মধ্যেই রয়ে গেছে।
বেশ কিছু আলেম '‘আনআনা’যুক্ত সনদ (السند المعنعن)-এর অবিচ্ছিন্নতার (اتصاله) জন্য কি শ্রুতি সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت السماع) শর্ত, নাকি কেবল সমকালীন হওয়া (المعاصرة) যথেষ্ট?'—এই মাসআলাটি নিয়ে কখনো আংশিকভাবে, আবার কখনো সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেছেন।
ইমাম ইবনে রুশাইদ (১) আল-ফিহরি একটি রিসালা লিখেছেন যার নাম: 'আস-সুনান আল-আবইয়ান ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি আল-বুখারি ওয়া মুসলিম ফিস সানাদিল মুআনআন'। এটি তিউনিসিয়ায় সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। এই বইটির মূল বিষয়বস্তু হলো ইমাম মুসলিমের দলীলসমূহের খণ্ডন এবং ইমাম বুখারির মাযহাবের (مذهب) সমর্থন। তবে কিছু কিছু স্থানে তাঁর খণ্ডন সংক্ষিপ্ত এবং তিনি এই মাসআলার অনেকগুলো দিক নিয়ে আলোচনা করেননি, যার ফলে এই কিতাবের উপযোগিতা কেবল ইমাম মুসলিমের দলীলসমূহের পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
একইভাবে ইমাম আল-আলায়ী (২) লিখেছেন তাঁর কিতাব 'জামেউত তাহসীল ফী আহকাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المراسيل " عن هذه المسألة، وكذا صنع الحافظ ابن رجب (1) الحنبلي في كتابه " شرح علل الترمذي" وكذا أيضاً العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي البماني كتب حول هذه المسألة في "التنكيل لما ورد في تأنيب الكوثري من الأباطيل" وله أيضاً بحث حول هذه المسألة في كتابه "عمارة القبور"، وله أيضاً رسالة صغيرة في "الأحاديث التي استشهد بها مسلم على مخالفة " وكذا أيضاً الشيخ عبد الفتاح أبو غدة له رسالة أسماها "التتمة الثالثة في بيان مذهب الإمام مسلم في الحديث المعنعن بشرطه وبيان المعنى بالنقد والرد في كلامه" ضمن تتمات خمس ألحقها بتحقيقه على كتاب "الموقظة" للذهبي.
وقد عرضت هذه الكتب لبعض الجوانب من المسألة، فكان على الباحث أن يجمع ما قيل في المسألة ليكوّن صورة عامة ثم يتمم ما يراه نقصاً حتى يظهر الموضوع بما يليق بأهميته وخطورته.
6 ـ أهداف البحث:
يهدف هذا البحث إلى أمور:
1 ـ تحديد معالم المسألة عند الإمام البخاري بدقة.
2 ـ معرفة حدود المسألة عند الإمام مسلم بدقة.
3 استخلاص أقوم الطرق في معالجة هذا الموضوع عند الحكم على
--------------------------------------------
"বিচ্ছিন্ন (مرسل)" বর্ণনা সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহ এই মাসয়ালাটি নিয়ে আলোচনা করেছে, একইভাবে হাফিজ ইবনে রজব (১) আল-হাম্বলি তার "শরহু ইলালিত তিরমিযি" গ্রন্থে এটি করেছেন। তদ্রূপ আল্লামাহ আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানিও "আত-তানকিল লিমা ওয়ারাদা ফী তানিবি আল-কাওসারি মিনাল আবাতির" গ্রন্থে এই মাসয়ালা সম্পর্কে লিখেছেন। এছাড়া তার "ইমারাতুল কুবুর" কিতাবেও এ বিষয়ে একটি গবেষণা রয়েছে। ইমাম মুসলিম তার বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে যেসব হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন সে বিষয়েও তার একটি ছোট পুস্তিকা রয়েছে। একইভাবে শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ "আত-তাতিম্মাতুস সালাসাহ ফী বায়ানি মাযহাবিল ইমাম মুসলিম ফিল আনআনাযুক্ত (المعنعن) হাদিস বিশারতিহি ওয়া বায়ানিল মানা বিন-নাকদি ওয়ার-রাদ্দি ফী কালামিহি" নামক একটি পুস্তিকা লিখেছেন, যা তিনি ইমাম যাহাবির "আল-মুকিজাহ" কিতাবের তাহকিকের সাথে যুক্ত পাঁচটি পরিশিষ্টের তৃতীয়টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এই বইগুলো উক্ত বিষয়ের কিছু দিক উপস্থাপন করেছে, তাই গবেষকের দায়িত্ব ছিল এই মাসয়ালায় যা কিছু বলা হয়েছে তা একত্রিত করে একটি সাধারণ চিত্র তৈরি করা এবং এরপর যা কিছু অসম্পূর্ণ মনে হয় তা পূর্ণ করা, যাতে বিষয়টি তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ফুটে ওঠে।
৬ ـ গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:
এই গবেষণার লক্ষ্য হলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
১ ـ ইমাম বুখারির নিকট এই মাসয়ালার বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা।
২ ـ ইমাম মুসলিমের নিকট এই মাসয়ালার সীমারেখা নির্ভুলভাবে জানা।
৩ ـ এই বিষয়টির সমাধানে এবং হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতিগুলো আহরণ করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأحاديث خارج الصحيحين.
4 ـ إضافة ما أحسبه نافعاً وجديداً إلى تراث أمتي.
7 ـ منهجي في البحث:
1 ـ سأذكر ـ إن شاء الله ـ أقوال العلماء في كل قضية من قضايا هذا البحث وذلك بالرجوع إلى كتب علم الحديث المعتمدة.
2 ـ سأقوم ـ إن شاء الله ـ باستقراء وتتبع لنصوص البخاري التطبيقية المتعلقة بالمسألة، وذلك من كتبه المطبوعة ـ وكتبه المهمة بحمد الله مطبوعة ـ
3 ـ سأقوم إن شاء الله ـ بمقارنة نصوص البخاري التطبيقية بما في صحيح مسلم من أسانيد لمعرفة هل أخرج مسلم في صحيحه أحاديث سبقه البخاري في الكلام عليها من حيث ثبوت السماع فيها؟
مراعياً ما لصحيح مسلم من مكانة جليلة عند بحث هذه القضية.
5 ـ سأقوم ـ إن شاء الله ـ بعرض نصوص البخاري التطبيقية على " شروط الاكتفاء بالمعاصرة" التي حددها مسلم، وستشمل هذه المقارنة كل نصوص البخاري التطبيقية.
6 ـ بما أن الإمام مسلماً قد حدد مذهبه وعرضه نظرياً، ولأن معظم كتب الإمام مسلم النقدية مفقودة إلا قطعة صغيرة من كتاب " التمييز" مما حرمنا من نصوص تطبيقية قد توجد في تراث هذا الإمام لو وصلتنا بعض من كتبه المفقودة لذا فأن من أهم ما سأعتني به تحديد "شروط الاكتفاء بالمعاصرة" تحديداً دقيقاً.
7 ـ سأقوم ـ إن شاء الله ـ بعرض أدلة الإمام مسلم وأُناقشها مناقشة علمية موضوعية مستعيناً بكلام العلماء الذين ناقشوا تلك الأدلة.
والأبواب والفصول التي تضمنتها خطة البحث هي:
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বাইরের হাদিসসমূহ।
৪ — আমি যা উপকারী এবং নতুন মনে করি তা আমার উম্মাহর ঐতিহ্যে (تراث) যুক্ত করা।
৭ — আমার গবেষণা পদ্ধতি:
১ — ইনশাআল্লাহ, আমি এই গবেষণার প্রতিটি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) মূল গ্রন্থসমূহের বরাতে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করব।
২ — ইনশাআল্লাহ, আমি এই মাসআলা সংক্রান্ত ইমাম বুখারীর প্রায়োগিক ভাষ্যসমূহ তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থগুলো থেকে অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করব — আল্লাহর শুকরিয়া যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে —
৩ — ইনশাআল্লাহ, আমি ইমাম বুখারীর প্রায়োগিক ভাষ্যসমূহকে সহীহ মুসলিমের সূত্রের (أسانيد) সাথে তুলনা করব, যাতে জানা যায় যে, ইমাম মুসলিম কি তাঁর সহীহ গ্রন্থে এমন হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর শ্রবণের নিশ্চয়তা (ثبوت السماع) নিয়ে ইমাম বুখারী আগেই আলোচনা করেছিলেন?
এই বিষয়টি পর্যালোচনার সময় সহীহ মুসলিমের যে সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে তা বিবেচনা করা হবে।
৫ — ইনশাআল্লাহ, ইমাম মুসলিম কর্তৃক নির্ধারিত "কেবল সমসাময়িকতা যথেষ্ট হওয়ার শর্তসমূহ" (شروط الاكتفاء بالمعاصرة)-এর আলোকে আমি ইমাম বুখারীর প্রায়োগিক ভাষ্যসমূহ উপস্থাপন করব এবং এই তুলনা ইমাম বুখারীর সকল প্রায়োগিক ভাষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
৬ — যেহেতু ইমাম মুসলিম তাঁর অভিমত (مذهب) তাত্ত্বিকভাবে নির্ধারণ ও উপস্থাপন করেছেন, এবং যেহেতু ইমাম মুসলিমের অধিকাংশ সমালোচনাধর্মী (نقدية) গ্রন্থ হারিয়ে গিয়েছে—ব্যতিক্রম কেবল "কিতাবুত তাময়ীজ"-এর সামান্য অংশ—যার ফলে আমরা সেই প্রায়োগিক ভাষ্যগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছি যা এই ইমামের ঐতিহ্যে (تراث) বিদ্যমান থাকতে পারত যদি তাঁর হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলো আমাদের নিকট পৌঁছাত; তাই আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হবে "কেবল সমসাময়িকতা যথেষ্ট হওয়ার শর্তসমূহ" (شروط الاكتفاء بالمعاصرة) অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নির্ধারণ করা।
৭ — ইনশাআল্লাহ, আমি ইমাম মুসলিমের দলীলসমূহ (أدلة) উপস্থাপন করব এবং যারা এই দলীলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন সেই আলেমদের বক্তব্যের সাহায্যে সেগুলোর একটি জ্ঞানগর্ভ ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করব।
গবেষণা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত অধ্যায় ও অনুচ্ছেদসমূহ হলো:
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
خطة البحث
1 ـ المقدمة.
2 ـ الباب الأول: تعريف بالإمامين والمسألة.
الفصل الأول: تعريف موجز بالبخاري ومسلم.
المبحث الأول: تعريف بالإمام البخاري.
المبحث الثاني: تعريف بالإمام مسلم.
الفصل الثاني: الإسناد المعنعن والاختلاف في الاحتجاج به.
المبحث الأول: تعريف العنعنة.
المبحث الثاني: العنعنة وعلاقتها بالتدليس والانقطاع.
المبحث الثالث: الاختلاف في الاجتجاج بالعنعنة.
المبحث الرابع: حكم الألفاظ التي بمنزلة " عن ".
المبحث الخامس: العنعنة في السند هل هي من الشيخ أم من تصرف التلميذ ومن دونه؟
الفصل الثالث: تمييز هذه المسألة من المسائل المشابهة.
المبحث الأول: تمييزها من مسائل عدم الاتصال في السند.
المبحث الثاني: تمييزها من مسألة شرط البخاري ومسلم.
3 ـ الباب الثاني: موقف الإمام البخاري:
الفصل الأول: عناية البخاري الفائقة بهذه المسألة.
المبحث الأول: تأثر البخاري في هذه المسألة بمن سبقه.
المبحث الثاني: اهتمام البخاري بالمسألة في مصنفاته.
الفصل الثاني: وسائل إثبات اللقاء والسماع عند الإمام البخاري.
المبحث الأول: هل يكتفي البخاري بثبوت اللقاء أم يشترط التصريح بالسماع؟
গবেষণার রূপরেখা
১ ـ ভূমিকা।
২ ـ প্রথম বিভাগ: ইমামদ্বয় এবং মাসআলাটি (আলোচ্য বিষয়) সম্পর্কে পরিচিতি।
প্রথম অধ্যায়: বুখারি ও মুসলিম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারির পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম মুসলিমের পরিচিতি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আনআনা যুক্ত সনদ (الإسناد المعنعن) এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করার ক্ষেত্রে মতভেদ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: আনআনা (العنعنة)-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আনআনা (العنعنة) এবং এর সাথে তাদলিস (التدليس) ও বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع)-এর সম্পর্ক।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আনআনা (العنعنة) দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করার ক্ষেত্রে মতভেদ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: "আন" (عن) শব্দের সমপর্যায়ের শব্দসমূহের হুকুম (حكم)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সনদে (السند) আনআনা (العنعنة) কি শাইখের পক্ষ থেকে, নাকি ছাত্র বা তার পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের হস্তক্ষেপের ফল?
তৃতীয় অধ্যায়: সদৃশ মাসআলাসমূহ থেকে এই মাসআলার পার্থক্য নিরূপণ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: সনদে (السند) বিচ্ছিন্নতা (عدم الاتصال) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ থেকে এর পার্থক্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বুখারি ও মুসলিমের শর্ত (شرط) সংক্রান্ত মাসআলা থেকে এর পার্থক্য।
৩ ـ দ্বিতীয় বিভাগ: ইমাম বুখারির অবস্থান:
প্রথম অধ্যায়: এই মাসআলার প্রতি বুখারির বিশেষ গুরুত্বারোপ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় বুখারির ওপর তাঁর পূর্বসূরিদের প্রভাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বুখারির সংকলনসমূহে এই মাসআলার প্রতি গুরুত্ব।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম বুখারির নিকট সাক্ষাৎ (اللقاء) এবং শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমসমূহ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারি কি কেবল সাক্ষাৎ (اللقاء) সাব্যস্ত হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেন, নাকি সরাসরি শ্রবণের (السماع) সুস্পষ্ট বর্ণনার শর্ত (شرط) আরোপ করেন?
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
المحبث الثاني: وسائل إثبات اللقاء.
المبحث الثالث: شروط الاحتجاج بوسائل اللقاء.
المبحث الرابع: كم يكفي لإثبات اللقاء؟
المبحث الخامس: ما يقوم مقام اللقاء.
الفصل الثالث: هل عدم ثبوت اللقاء مؤثر في صحة الحديث عند الإمام البخاري؟
المبحث الأول: هل ثبوت اللقاء شرط في أعلى الصحة أم في أصل الصحة؟
المبحث الثاني: قل قوَّى البخاري أحاديث لم يثبت فيها اللقاء؟
الفصل الرابع: ما يُحتج به للبخاري على اشتراط اللقاء.
الفصل الخامس: منهج البخاري في نصوصه النقدية المتعلقة باشتراط اللقاء.
المبحث الأول: وصف لطريقة نقد البخاري لسماع الرواة.
المبحث الثاني: فرز النصوص النقدية.
المبحث الثالث: معالم في النصوص النقدية.
الفصل السادس: العلماء الذين أيدوا البخاري في هذه المسألة.
الفصل السابع: المآخذ على الإمام البخاري في هذه المسألة.
4 ـ الباب الثالث: موقف الإمام مسلم.
الفصل الأول: تحرير الإمام مسلم لمحل النزاع مع مخالفه.
المبحث الأول: من الذي عناه مسلم بالرد عليه؟
المبحث الثاني: عرض الإمام مسلم لرأيه ورأي مخالفه.
الفصل الثاني: ضوابط الاكتفاء بالمعاصرة عند الإمام مسلم.
المبحث الأول: ثقة الرواة.
المبحث الثاني: العلم بالمعاصرة.
المبحث الثاث: تحديد المقصود بإمكانية اللقاء.
المبحث الرابع: السلامة من التدليس.
المبحث الخامس: عدم وجود ما يدل على نفي السماع أو اللقاء.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত করার মাধ্যমসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত করার মাধ্যমগুলো দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) শর্তাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত করার জন্য কতটুকু যথেষ্ট?
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যা সাক্ষাতের (لقاء) স্থলাভিষিক্ত হয়।
তৃতীয় অধ্যায়: ইমাম বুখারীর নিকট সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত না হওয়া কি হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর প্রভাব ফেলে?
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত হওয়া কি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত নাকি মূল বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত?
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারি কি এমন হাদিসসমূহকে শক্তিশালী সাব্যস্ত (قوى) করেছেন যাতে সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত হয়নি?
চতুর্থ অধ্যায়: সাক্ষাৎ (لقاء) শর্ত হওয়ার ব্যাপারে ইমাম বুখারীর সপক্ষে যা দলিল হিসেবে পেশ (احتجاج) করা হয়।
পঞ্চম অধ্যায়: সাক্ষাৎ (لقاء) শর্ত হওয়া সংক্রান্ত সমালোচনামূলক ভাষ্যসমূহে ইমাম বুখারীর অনুসৃত পদ্ধতি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের শ্রবণ (سماع) যাচাইয়ে ইমাম বুখারীর সমালোচনা পদ্ধতির বিবরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সমালোচনামূলক ভাষ্যসমূহের শ্রেণিবিভাগ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সমালোচনামূলক ভাষ্যসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
ষষ্ঠ অধ্যায়: যে সকল আলেম এই মাসআলায় ইমাম বুখারীকে সমর্থন করেছেন।
সপ্তম অধ্যায়: এই মাসআলায় ইমাম বুখারীর ওপর উত্থাপিত আপত্তি বা সীমাবদ্ধতাসমূহ।
৪ - তৃতীয় খণ্ড: ইমাম মুসলিমের অবস্থান।
প্রথম অধ্যায়: বিরোধীদের সাথে মতভেদের মূল বিষয়টি ইমাম মুসলিম কর্তৃক সুনির্দিষ্টকরণ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম মুসলিম তাঁর খণ্ডনের (الرد) মাধ্যমে কাকে উদ্দেশ্য করেছেন?
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম মুসলিম কর্তৃক স্বীয় মত এবং তাঁর বিরোধীর মত উপস্থাপন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম মুসলিমের নিকট কেবল সমসাময়িকতা (معاصرة) যথেষ্ট হওয়ার নীতিমালা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সমসাময়িকতা (معاصرة) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাক্ষাতের (لقاء) সম্ভাব্যতা দ্বারা যা উদ্দেশ্য তার নির্ধারণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদলিস (تدليس) থেকে মুক্ত থাকা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শ্রবণ (سماع) বা সাক্ষাৎ (لقاء) অস্বীকারের কোনো প্রমাণ না থাকা।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثالث: أدلة الاكتفاء بالمعاصرة عند مسلم وغيره من العلماء ومناقشتها.
المبحث الأول: ذكر الأدلة.
المبحث الثاني: مناقشة الأدلة.
الفصل الرابع: هل أخرج مسلم في صحيحه أسانيد معنعنة بمجرد الاكتفاء بالمعاصرة؟
الفصل الخامس: هل أخرج مسلم في صحيحه أسانيد تكلم البخاري فيها بعدم ثبوت السماع؟
الفصل السادس: العلماء الذين أيدوا مسلماً في هذه المسألة.
الفصل السابع: المآخذ على الإمام مسلم في هذه المسألة.
5 ـ الباب الرابع: الموازنة بين الرأيين والترجيح.
الفصل الأول: مواطن الاتفاق والاختلاف بين الرأيين.
الفصل الثاني: الترجيح وأسبابه.
6 ـ الخاتمة.
ا7 ـ الفهارس.
وغني عن القول ما اكتف هذا البحث من مصاعب ومشاق بسبب طبيعة الموضوع البالغة الدقة وقصر الوقت المخصص لمثل هذا الموضوع الشائك.
ولقد واجهتني مصاعب جَمَّة أثناء جمع المعلومات، وأثناء دراسة النصوص وتحقيقها من أجل الاستنباط، وكذلك أثناء فرز وانتقاء المادة العلمية بغرض كتابة البحث وتحريره. مما جعلني هممت بتغيير الموضوع لكثرة المتاعب التي واجهتني، ولولا توفيق المولى سبحانه وتعالى ثم شعوري بالواجب لما استطعت تجاوز تلك الصعاب.
وحديثي عن المصاعب مقدمة للاعتذار عما سيوجد في البحث من جوانب الخلل والقصور، فإن النقص وصف ملازم للذات البشرية لا ينفك عنها.
ومع علمي بأن هذا البحث قد يثير ضدي انتقادات إلا أنني أرى أن من أهم الواجبات على الباحثين في علم الحديث تحرير المسائل الخلافية في علم المصطلح مع ضرورة التركيز في ذلك على الجوانب التطبيقية عند كبار أئمة
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্য আলেমদের নিকট সমসাময়িকতা (المعاصرة)-কে যথেষ্ট মনে করার দলীলসমূহ এবং সেগুলোর পর্যালোচনা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: দলীলসমূহের বর্ণনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দলীলসমূহের পর্যালোচনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম মুসলিম কি তার সহিহ গ্রন্থে কেবল সমসাময়িকতা (المعاصرة)-কে যথেষ্ট মনে করে ‘মুয়ানআন’ (معنعنة) সনদসমূহ (أسانيد) বর্ণনা করেছেন?
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইমাম মুসলিম কি তার সহিহ গ্রন্থে এমন সব সনদ (أسانيد) বর্ণনা করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে ইমাম বুখারি শ্রবণ প্রমাণিত না হওয়ার (عدم ثبوت السماع) কথা বলেছেন?
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় যে সকল আলেম ইমাম মুসলিমকে সমর্থন করেছেন।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় ইমাম মুসলিমের প্রতি উত্থাপিত আপত্তিগুলো।
৫. চতুর্থ অধ্যায়: উভয় মতের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা এবং প্রাধান্য নিরূপণ (الترجيح)।
প্রথম পরিচ্ছেদ: উভয় মতের মধ্যে ঐক্যমত ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাধান্য নিরূপণ (الترجيح) এবং এর কারণসমূহ।
৬. উপসংহার।
৭. নির্ঘণ্ট।
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই গবেষণার বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়া এবং এ ধরনের জটিল বিষয়ে বরাদ্দকৃত সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে আমাকে অনেক প্রতিকূলতা ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের (الاستنباط) উদ্দেশ্যে মূল পাঠসমূহ অধ্যয়ন ও তাহকিক (تحقيق) করা এবং গবেষণাপত্রটি রচনা ও সম্পাদনার জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বাছাই ও নির্বাচনের সময় আমি বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। সমস্যার আধিক্যের কারণে আমি বিষয়টি পরিবর্তনেরও সংকল্প করেছিলাম। কিন্তু মহান রবের তাওফিক (توفيق) এবং আমার দায়িত্ববোধ না থাকলে আমি এসকল বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হতাম না।
আমার এই কষ্টের কথাগুলো গবেষণায় বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সীমাবদ্ধতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার একটি ভূমিকা মাত্র। কারণ অপূর্ণতা হলো মানবসত্তার এমন এক অবিচ্ছেদ্য গুণ যা কখনো তা থেকে পৃথক হয় না।
যদিও আমি জানি যে এই গবেষণাটি আমার বিরুদ্ধে সমালোচনার সূত্রপাত করতে পারে, তবুও আমি মনে করি হাদিস শাস্ত্রের গবেষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণ করা এবং এক্ষেত্রে বরেণ্য ইমামগণের প্রায়োগিক দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করা।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحديث من المتقدمين، ويجب ألا يصرفنا الخوف من الوقوع في الخطأ عند البدء في ذلك فإنه من الطبيعي أن البدايات يرافقها عادة النقص والضعف وتجيء بعدها مراحل التجويد والتهذيب والتحسين.
فعسى أن يكون هذا البحث خطوة أولى على ذلك الطريق الطويل فإن مسائل المصطلح التي تحتاج إلى تحرير وتحقيق ليست بقليلة.
ويطيب لي أن أتقدم بالشكر والعرفان على فضيلة المشرف أستاذي القدير الدكتور شاكر فياض، فكما وأشكر القائمين على مكتبة الرشد لعنايتهم بنشر هذا الكتاب، وأتوجه كذلك بالشكر إلى كل الزملاء الذين ساعدوني في الحصول على بعض المراجع النادرة وهم: الأخ خالد السبيت، والأخ عبد الله دمفو، والأخ عصام السناني، والأخ علي بن نافع المخلفي، والأخ منصور السماري.
وختاماً أسأل المولى سبحانه وتعالى أن يرزقني الإخلاص، وأن يجزيني خيراً ويختم لي بالحسنى، كما وأسأله سبحانه أن يكتب لهذا العمل القبول وأن ينفع به.
{سبحان ربك رب العزة عما يصفون وسلام على المرسلين والحمد لله رب العالمين} (الصافات: الآيات 180 ـ 182) .
خالد بن منصور بن عبد الله الدريس
পূর্বসূরিদের (متقدمين) নিকট থেকে হাদিস বিশ্লেষণের পদ্ধতি; এই কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে ভুল করার ভয় যেন আমাদের নিবৃত্ত না করে, কারণ এটা স্বাভাবিক যে যেকোনো সূচনার সাথে সাধারণত অপূর্ণতা ও দুর্বলতা (ضعف) লেপ্টে থাকে এবং এর পরেই গুণগত মানোন্নয়ন, সংশোধন ও উন্নতির পর্যায়গুলো আসে।
আশা করা যায় যে এই গবেষণাটি সেই দীর্ঘ পথের প্রথম পদক্ষেপ হবে; কেননা পরিভাষার (مصطلح) এমন অনেক মাসয়ালা রয়েছে যা বিশ্লেষণ (تحرير) ও যাচাই-বাছাইয়ের (تحقيق) দাবি রাখে এবং তা সংখ্যায় কম নয়।
আমি আমার শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক (مشرف), আমার দক্ষ উস্তাদ ডক্টর শাকির ফায়াদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সেই সাথে মাকতাবাতুর রুশদ-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এই বইটি প্রকাশের বিষয়ে তাদের যত্নের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই সকল সহকর্মীদের যারা আমাকে কিছু দুর্লভ তথ্যসূত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন, তারা হলেন: ভাই খালিদ আস-সুবাইত, ভাই আবদুল্লাহ দামফু, ভাই ইসাম আস-সিনানি, ভাই আলি বিন নাফে আল-মুখলিফি এবং ভাই মানসুর আস-সামারি।
পরিশেষে, আমি মহান রব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে ইখলাস (إخلاص) দান করেন, আমাকে উত্তম প্রতিদান দেন এবং কল্যাণের সাথে আমার জীবনের সমাপ্তি ঘটান। তদুপরি মহান আল্লাহর কাছে আরজি যে, তিনি যেন এই কাজটিকে কবুল করেন এবং এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন।
“আপনার প্রতিপালক, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তিনি তা থেকে পবিত্র। আর সালাম বর্ষিত হোক রাসুলদের প্রতি। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” (আস-সাফফাত: ১৮০-১৮২)।
খালিদ বিন মানসুর বিন আবদুল্লাহ আদ-দুরাইস
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الباب الأولتعريف بالإمامين والمسألة
প্রথম অধ্যায়ইমামদ্বয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে পরিচিতি
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الأولتعريف موجز بالبخاري ومسلمالمبحث الأول: تعريف بالإمامين البخاري.
المبحث الثاني: تعريف بالإمامين مسلم.
المبحث الأولتعريف بالأمام البخاريأولاً: اسمه ونسبه:
هو أبو عبد الله محمد بن اسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبَه الجعفي البخاري (1) .
ومعنى " بَرْدِزْبَه" (2) بالعربية؛ الزراع (3) .
وإنما قيل في نسبه الجعفي لأن أبا جده المغيرة أسلم على يد اليمان الجعفي. قال الحافظ ابن حجر: (فنسب إليه نسبة ولاء عملاً بمذهب من يرى أن من أسلم على يده شخص كان ولاؤه له، وإنما قيل له الجعفي لذلك) (4) .
ثانياً أسرته:
قال الحافظ ابن حجر متحدثاً عن أسرة الإمام البخاري: (بَرْدِزَبْه فارسياً
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিপ্রথম আলোচনা: ইমাম বুখারীর পরিচিতি।
দ্বিতীয় আলোচনা: ইমাম মুসলিমের পরিচিতি।
প্রথম আলোচনাইমাম বুখারীর পরিচিতিপ্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জু'ফী আল-বুখারী (১)।
আর আরবিতে "বারদিযবাহ" (২) শব্দের অর্থ হলো কৃষক (৩)।
তাঁর বংশীয় নিসবতে "আল-জু'ফী" বলা হয় কারণ তাঁর প্রপিতামহ আল-মুগীরা, ইয়ামান আল-জু'ফীর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার বলেন: "অতঃপর আনুগত্যের সম্পর্কের (ولاء) ভিত্তিতে তাঁর দিকে নিসবত করা হয়েছে। এটি সেই মাযহাব অনুযায়ী করা হয়েছে যারা মনে করেন যে, যার হাতে কেউ ইসলাম গ্রহণ করবে, তার আনুগত্যের সম্পর্ক (ولاء) তার সাথেই হবে; আর এ কারণেই তাঁকে আল-জু'ফী বলা হয়" (৪)।
দ্বিতীয়ত: তাঁর পরিবার:
হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার ইমাম বুখারীর পরিবার সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "বারদিযবাহ হলো ফারসি শব্দ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
على دين قومه، ثم أسلم ولده المغيرة على يد اليمان الجعفي
… وأما ولده إبراهيم بن المغيرة فلم نقف على شيء من أخباره، وأما والد محمد فقد ذكرت له ترجمة في كتاب "الثقات" (1) لابن حبان فقال في الطبقة الرابعة: "إسماعيل بن إبراهيم والد البخاري يروي عن حماد بن زيد ومالك، وروى عنه العارقيون"، وذكره ولده في التاريخ الكبير (2) فقال: "إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة سمع من مالك وحماد بن زيد، وصافح ابن المبارك"، وسيأتي بعد قليل قول إسماعيل عند موته أنه لا يعلم في ماله حراماً ولا شبهة، ومات إسماعيل ومحمد صغير؛ فنشأ في حجر أمه) (3) .
وللبخاري أخ اسمه أحمد ورد ذكره في قول البخاري: (خرجت مع أمي وأخي أحمد إلى مكة، فلما حججت رجع أخي بها) (4) ويحتمل أن يكون له أخ يُسمى الحسن لأن كنية والده "أبو الحسن" (5) ولكن لم يرد له أي ذكر في المصادر.
ثالثاً: ولادته:
قال أبو حسان مهيب بن سليم: (سمعتُ محمد بن إسماعيل البخاري يقول: ولدتُ يوم الجمعة بعد الصلاة لثنتي عشر ليلة خلت من شوال سنة أربع وتسعين ومائة) (6) .
وقد ذُكر خلاف في يوم مولده فقيل: إنه كان لثلاث عشرة ليلة خلت من
--------------------------------------------
...নিজের সম্প্রদায়ের ধর্মের ওপর ছিলেন, অতঃপর তাঁর পুত্র আল-মুগিরাহ আল-য়্যামান আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন
… আর তাঁর পুত্র ইব্রাহিম ইবনুল মুগিরাহ সম্পর্কে আমরা কোনো তথ্য পাইনি। তবে মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারি)-এর পিতার একটি জীবনী (ترجمة) ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" (১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি চতুর্থ স্তরে (الطبقة) বলেন: "ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম, বুখারির পিতা, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ ও মালিক থেকে বর্ণনা করেন এবং ইরাকবাসীরা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।" এবং তাঁর পুত্র আত-তারিখ আল-কাবীর (২) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল মুগিরাহ মালিক ও হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে শুনেছেন এবং ইবনুল মুবারকের সাথে করমর্দন করেছেন।" শীঘ্রই ইসমাঈলের মৃত্যুর সময়ের উক্তিটি আসবে যে, তিনি তাঁর সম্পদে কোনো হারাম বা সন্দেহজনক (شبهة) কিছু আছে বলে জানতেন না। ইসমাঈল মারা যান যখন মুহাম্মাদ শিশু ছিলেন; ফলে তিনি তাঁর মায়ের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। (৩)
বুখারির আহমাদ নামে এক ভাই ছিল, যার উল্লেখ বুখারির এই উক্তিতে এসেছে: (আমি আমার মা ও ভাই আহমাদের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম, অতঃপর যখন আমি হজ সম্পন্ন করলাম, তখন আমার ভাই তাঁকে নিয়ে ফিরে গেলেন।) (৪) এবং এটিও সম্ভব যে তাঁর আল-হাসান নামে এক ভাই ছিল, কারণ তাঁর পিতার কুনিয়াত (উপনাম) ছিল "আবু আল-হাসান" (৫), কিন্তু উৎসগ্রন্থগুলোতে তাঁর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
তৃতীয়ত: তাঁর জন্ম:
আবু হাসান মুহিব ইবনে সুলিম বলেন: (আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি: আমি ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন নামাজের পর জন্মগ্রহণ করেছি।) (৬) ।
তাঁর জন্মের দিন নিয়ে মতভেদ উল্লেখ করা হয়েছে; বলা হয়েছে: এটি ছিল তেরো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
شوال (1) وما عدا ذلك فلا خلاف في تاريخ مولده. وكان مسقط رأسه مدينة " بخاري" (2) .
رابعاً: بداية طلب العلم:
قال أبو جعفر محمد بن أبي حاتم الوراق النحوي "وراق البخاري": (قلتُ لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري: كيف كان بدء أمرك في طلب الحديث؟ قال: ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكتاب.
قال: وكم أتى عليك إذ ذاك؟ قال: عشر سنين أو أقل، ثم خرجتُ من الكتاب بعد العشر، فجعلتُ أختلف إلى الداخلي وغيره، وقال يوماً فيما كان يقرأ على الناس: سفيان عن أبي الزبير عن إبراهيم، فقلت له: يا أبا فلان إن أبا الزبير لم يرو عن إبراهيم. فانتهرني، فقلت له: ارجع إلى الأصل إن كان عندك، فدخل ونظر فيه ثم خرج فقال لي: كيف هو ياغلام؟ قلت: هو الزبير بن عدي عن إبراهيم، فأخذ القلم مني وأحكم كتابه فقال: صدقت. فقال له بعض أصحابه: ابن كم كنت إذ رددت عليه؟ فقال: ابن إحدى عشرة. فلما طعنت في ست عشرة سنة حفظت كتب ابن المبارك ووكيع، وعرفت كلام هؤلاء (3) .
ثم خرجت مع أمي وأخي أحمد إلى مك ة، فلما حججت رجع أخي بها، وتخلفت في طلب الحديث) (4) .
ومن هذا النص يظهر أن البخاري بدأ بطلب العلم وهو صغير، وبدأ حبه واهتمامه بعلم العلل في مرحلة مبكرة من عمره، كذلك كان للفقه والمعرفة بكلام المذاهب الفقهية نصيب من اهتمامه في بداياته العلمية.
خامساً: مشايخه:
لقد كان البخاري شغوفاً بالعلم، محباً له كأشد ما يكون الحب. فحرص على طلب العلم، وتتبع مصادره، وسعى إلى أئمته، حتى كثر عدد مشايخه فبلغ ما
--------------------------------------------
শাওয়াল (১) এবং এ ব্যতিরেকে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে আর কোনো দ্বিমত নেই। তাঁর জন্মস্থান ছিল "বুখারা" শহর (২)।
চতুর্থত: জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা:
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম আল-ওয়াররাক আন-নাহবী "ওয়াররাক আল-বুখারি" বলেন: (আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারিকে বললাম: হাদিস অন্বেষণে আপনার যাত্রার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল? তিনি বললেন: আমি যখন মক্তবে ছিলাম, তখনই আমার অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা জাগ্রত হয়।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: দশ বছর বা তারও কম। এরপর দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বেরিয়ে আসলাম এবং আদ-দাখিলি ও অন্যদের নিকট যাতায়াত শুরু করলাম। একদিন তিনি (দাখিলি) লোকজনের সামনে পড়ার সময় বললেন: ‘সুফিয়ান, আবু আয-যুবায়ের থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন’। আমি তাকে বললাম: হে আবু অমুক! আবু আয-যুবায়ের তো ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেননি। তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনার কাছে যদি মূল কপি (الأصل) থাকে তবে তা মিলিয়ে দেখুন। তিনি ভেতরে গেলেন এবং তা দেখলেন, তারপর বেরিয়ে এসে আমাকে বললেন: হে বালক! তাহলে সঠিক কী হবে? আমি বললাম: সেটি হবে ‘যুবায়ের ইবনে আদি, ইব্রাহিম থেকে’। তখন তিনি আমার কাছ থেকে কলম নিয়ে তাঁর কিতাবটি সংশোধন করে নিলেন এবং বললেন: তুমি সত্য বলেছ। তাঁর কোনো এক সঙ্গী তাঁকে জিজ্ঞেস করল: আপনি যখন তাকে ভুল শুধরে দিয়েছিলেন তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: এগারো বছর। যখন আমার বয়স ষোল বছর হলো, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকির কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেলি এবং তাদের বক্তব্যসমূহ অবগত হই (৩)।
এরপর আমি আমার মা এবং ভাই আহমদের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হই। যখন আমি হজ সম্পন্ন করলাম, তখন আমার ভাই তাঁকে (মাকে) নিয়ে ফিরে যান এবং আমি হাদিস অন্বেষণের জন্য সেখানে রয়ে যাই) (৪)।
এই পাঠ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইমাম বুখারি শৈশব থেকেই ইলম অর্জনে ব্রতী হয়েছিলেন এবং ইলমুল ইলাল (علم العلل)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও আগ্রহ জীবনের প্রারম্ভেই শুরু হয়েছিল। তেমনিভাবে তাঁর জ্ঞানচর্চার শুরুর দিকে ফিকহ এবং ফিকহি মাযহাবগুলোর মতামতের বিষয়েও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।
পঞ্চমত: তাঁর শিক্ষকগণ:
ইমাম বুখারি জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং একে অসম্ভব ভালোবাসতেন। তিনি ইলম অন্বেষণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, এর উৎসগুলো খুঁজে বেড়াতেন এবং ইমামদের সান্নিধ্যে যেতেন। এভাবে তাঁর উস্তাদ বা মাশায়েখদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায় এবং তা এই পর্যায়ে পৌঁছায় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يزيد على الألف شيخ. فلقد قال رحمه الله: (كتبت عن ألفِ شيخ أو أكثر) (1) .
ومع ذلك فقد كان يتحرى في شيوخه أن يجتمع فيهم صحة المعتقد، والاتقان في طلب الحديث، كما قال: (كتبت عن ألف وثمانين نفساً، ليس فيهم إلا صاحب حديث) (2) وقال: (لم أكتب إلا عمن قال: الإيمان قول وعمل) (3) .
وشيوخ البخاري ينحصرون في خمس طبقات كما ذكر الحافظ ابن حجر:
الطبقة الأولى: من حدثه عن التابعين مثل محمد بن عبد الله الأنصاري، حدثه عن حميد، ومثل مكي بن إبراهيم حدثه عن يزيد بن أبي عبيد، ومثل أبي نعيم حدثه عن الأعمش، ومثل خلاد بن يحيى حدثه عن عيسى بن طهمان، ومثل علي بن عياش وعصام بن خالد حدثاه عن حريز بن عثمان، وشيوخ هؤلاء كلهم من التابعين.
الطبقة الثانية: من كان في عصر هؤلاء لكن لم يسمع من ثقات التابعين، كآدم بن أبي إياس، وأبي مسهر عبد الأعلى بن مسهر، وسعيد بن أبي مريم، وأيوب بن سليمان بن بلال، وأمثالهم.
الطبقة الثالثة: هي الوسطى من مشايخه وهم: من لم يلق التابعين بل أخذ عن كبار تبع الأتباع، كسليمان بن حرب، وقتيبة بن سعيد، ونعيم بن حماد، وعلي بن المديني، ويحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وأبي بكر وعثمان ابني أبي شيبة، وأمثال هؤلاء. وهذه الطبقة قد شاركه مسلم في الأخذ عنهم.
الطبقة الرابعة: رفقاءه في الطلب، ومن سمع قبله قليلاً كمحمد بن يحيى الذهلي، وأبي حاتم الرازي، ومحمد بن عبد الرحمن "صاعقة" وعبد بن حميد، وأحمد بن النضر، وجماعة من نظرائهم، وإنما يخرج عن هؤلاء مافاته عن مشايخه أو مالم يجده عند غيرهم.
الطبقة الخامسة: قوم في عداد طلبته في السن والإسناد. سمع منهم الفائدة، كعبد الله بن حماد الآملي، وعبد الله بن أبي العاص الخوارزمي، وحسين بن محمد
--------------------------------------------
তাঁর শায়খের সংখ্যা এক হাজারেরও অধিক। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি এক হাজার বা তারও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি" (১)।
তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর শায়খ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা অবলম্বন করতেন যেন তাঁদের মধ্যে বিশুদ্ধ আকিদা এবং হাদিস অন্বেষণে নিপুণতা বিদ্যমান থাকে। যেমনটি তিনি বলেছেন: "আমি এক হাজার আশি জন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, যাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ" (২)। তিনি আরও বলেছেন: "আমি কেবল তাঁদের নিকট থেকেই হাদিস লিখেছি যাঁরা বলেন: ঈমান হলো কথা ও কাজের সমন্বয়" (৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার যেমনটি উল্লেখ করেছেন, বুখারীর শায়খগণ পাঁচটি স্তরে (طبقات) সীমাবদ্ধ:
প্রথম স্তর (طبقة): যাঁরা তাবেয়ীদের (التابعين) নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। যেমন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী (তিনি হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন), মাক্কী ইবনে ইবরাহিম (তিনি ইয়াযিদ ইবনে আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন), আবু নুয়াইম (তিনি আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন), খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া (তিনি ঈসা ইবনে তাহমান থেকে বর্ণনা করেছেন), এবং আলী ইবনে আইয়াশ ও ইসাম ইবনে খালিদ (তাঁরা উভয়ে হারীয ইবনে উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন)। এই শিক্ষকদের সকলেই ছিলেন তাবেয়ীদের (التابعين) ছাত্র।
দ্বিতীয় স্তর (طبقة): যাঁরা উপরোক্ত ব্যক্তিদের সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু নির্ভরযোগ্য (ثقات) তাবেয়ীদের (التابعين) নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি। যেমন: আদম ইবনে আবু ইয়াস, আবু মুসহির আবদুল আ'লা ইবনে মুসহির, সাঈদ ইবনে আবু মারিয়াম, আইয়ুব ইবনে সুলাইমান ইবনে বিলাল এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
তৃতীয় স্তর (طبقة): এটি তাঁর শায়খদের মধ্যবর্তী স্তর। তাঁরা হলেন সেই সব ব্যক্তি যাঁরা তাবেয়ীদের (التابعين) সাক্ষাৎ পাননি, বরং জ্যেষ্ঠ তাবে-তাবেয়ীদের (تبع الأتباع) নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। যেমন: সুলাইমান ইবনে হারব, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, নুআইম ইবনে হাম্মাদ, আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আবু বকর ও উসমান ইবনে আবু শাইবা এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। এই স্তরের শিক্ষকদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিম তাঁর অংশীদার ছিলেন।
চতুর্থ স্তর (طبقة): হাদিস অন্বেষণে তাঁর সহপাঠীবৃন্দ এবং যাঁরা তাঁর সামান্য আগে হাদিস শ্রবণ করেছেন। যেমন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলী, আবু হাতিম আর-রাযী, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান "সা’ইকা", আবদ ইবনে হুমাইদ, আহমাদ ইবনু আন-নাদর এবং তাঁদের সমপর্যায়ের একদল ব্যক্তি। তিনি মূলত তাঁদের নিকট থেকে সেই সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যা তিনি তাঁর শায়খদের নিকট থেকে পাননি অথবা যা অন্য কারও নিকট পাওয়া যায়নি।
পঞ্চম স্তর (طبقة): এমন একদল লোক যাঁরা বয়স ও সনদের (الإسناد) দিক থেকে তাঁর ছাত্রদের পর্যায়ে গণ্য। তিনি তাঁদের নিকট থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য হাদিস শ্রবণ করেছেন। যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদ আল-আমুলী, আবদুল্লাহ ইবনে আবু আল-আস আল-খাওয়ারিজমী এবং হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
القباني، وغيرهم، وقد روى عنهم أشياء يسيرة (1) .
سادساً: تلاميذه:
يصعب جداً حصر تلاميذ الإمام البخاري لكثرة عددهم، ولانتشارهم وتفرقهم في البلاد، وقد حُمِل العلم عن البخاري وهو لم يزل شاباً حديث السن، قال أبو بكر بن الأعين: (كتبنا عن محمد بن إسماعيل وهو أمرد على باب محمد بن يوسف الفريابي) (2) وعقب ابن حجر بقوله (كان موت الفريابي سنة اثنتي عشرة ومائتين، وكان سن البخاري إذ ذاك نحواً من ثمانية عشر عاماً أو دونها ((3)
… ولم يزل يؤخذ عن البخاري ويُسمع منه حتى وفاته.
ويتضح مدى كثرة تلاميذ البخاري إذا نظرنا إلى قول محمد بن يوسف الفربري: (سمع الجامع من محمد بن إسماعيل تسعون ألفاً) (4) .
ومن أشهر تلاميذ البخاري ـ رحمه الله تعالى ـ:
1 ـ إبراهيم بن معقل النسفي.
2 ـ الحسين بن إسماعيل المحاملي.
3 ـ حماد بن شاكر.
4 ـ صالح بن محمد الملقب " جزرة".
5 ـ محمد بن إسحاق بن خزيمة.
6 ـ أبو جعفر محمد بن أبي حاتم ورَّاق البخاري.
7 ـ محمد بن سليمان بن فارس.
8 ـ أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي.
9 ـ محمد بن يوسف الفربري.
--------------------------------------------
আল-কাব্বানি এবং অন্যান্যরা, এবং তিনি তাঁদের নিকট থেকে অল্প কিছু বিষয় বর্ণনা (روى) করেছেন (১) ।
ষষ্ঠত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
ইমাম বুখারীর ছাত্রগণের সংখ্যাধিক্য এবং বিভিন্ন জনপদে তাঁদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে তাঁদের তালিকাভুক্ত করা অত্যন্ত দুরুহ। বুখারী যখন নিতান্তই তরুণ ছিলেন, তখন থেকেই তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ শুরু হয়েছিল। আবু বকর ইবনুল আইয়ুন বলেন: (আমরা মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট থেকে লিখেছি যখন তিনি কেবল এক কিশোর যুবক ছিলেন, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবীর দরজায় দাঁড়িয়ে) (২)। ইবনে হাজার এর পরিপ্রেক্ষিতে বলেন: (আল-ফিরইয়াবীর মৃত্যু হয়েছিল ২১২ হিজরি সনে, আর তখন বুখারীর বয়স ছিল প্রায় আঠারো বছর বা তারও কম) (৩)
… এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বুখারীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন ও শ্রবণ (سمع) করা অব্যাহত ছিল।
বুখারীর ছাত্রদের আধিক্যের পরিমাণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরবরীর উক্তিটি দেখি: (নব্বই হাজার ব্যক্তি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট থেকে আল-জামি' শ্রবণ (سمع) করেছেন) (৪) ।
ইমাম বুখারী —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— এর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
১ — ইব্রাহিম বিন মাকিল আন-নাসাফি।
২ — আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি।
৩ — হাম্মাদ বিন শাকির।
৪ — সালিহ বিন মুহাম্মদ, যাঁর উপাধি ছিল "জাজরাহ"।
৫ — মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ।
৬ — আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আবি হাতিম, যিনি বুখারীর পাণ্ডুলিপি লেখক (ورّاق) ছিলেন।
৭ — মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস।
8 — আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তিরমিযী।
৯ — মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরবরী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
10 مسلم بن الحجاج (1) .
سابعاص: رحلاته:
كانت الرحلة في طلب الحديث من أهم الأمور التي يُعنى بها طلبة الحديث في العصور الذهبية لعلوم الحديث، ولقد كان للبخاري منها أوفر الحظ والنصيب، قال الخطيب البغدادي: (رحل في طلب العلم إلى سائر محدثي الأمصار) (2) ، وقال البخاري: (لقيتُ أكثر من ألف رجل من أهل الحجاز والعراق والشام ومصر، لقيتهم كرات، أهل الشام ومصر والجزيرة مرتين، وأهل البصرة أربع مرات، وبالحجاز ستة أعوام، ولا أُحصي كم دخلت الكوفة وبغداد) (3) .
ثامناً: ثناء العلماء عليه:
لقد تواتر ثناء أهل العلم على الإمام البخاري، واشتُهر أمر حفظه وعلمه وبراعته في علم الحديث حتى علمه القاصي والد اني، ويكفي البخاري فخراً أن مئات الملايين من المسلمين على مدار تاريخ الإسلام يتعبدون الله بتصحيحه، ويكفيه ثقةً وأمانةً أن يكون كتابه الصحيح أصح كتاب بعد كتاب الله عز وجل.
ولقد جاء الثناء على البخاري من شتى علماء الأمصار، وأثنت الأمة بأسرها على هذا الإمام الفحل وسأقتصر هنا على بعض ما ورد في مدحه ممن أدركه من شيوخه وأقرانه وتلاميذه.
فممن أثنى عليه من شيوخه قتيبة بن سعيد الذي قال: (لو كان محمد بن إسماعيل في لاصحابة لكان آية) (4) .
--------------------------------------------
10 মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ (১) .
সপ্তম: তাঁর সফরসমূহ:
হাদিস অন্বেষণে দেশভ্রমণ ছিল হাদিস বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগে হাদিসের শিক্ষার্থীদের নিকট গুরুত্বারোপকৃত অন্যতম প্রধান বিষয়। ইমাম বুখারী এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত সৌভাগ্য ও বিশাল অংশের অধিকারী ছিলেন। খতিব আল-বাগদাদী বলেন: (তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের সকল হাদিস বিশারদগণের (محدثين) নিকট সফর করেছেন) (২)। ইমাম বুখারী বলেন: (আমি হিজাজ, ইরাক, সিরিয়া ও মিশরের এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাঁদের সাথে বারবার দেখা করেছি; সিরিয়া, মিশর ও জাজিরাবাসীদের সাথে দুবার, বসরাবাসীদের সাথে চারবার, হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি এবং কুফা ও বাগদাদে কতবার প্রবেশ করেছি তা আমি গণনা করতে পারব না) (৩)।
অষ্টম: তাঁর প্রতি উলামায়ে কেরামের প্রশংসা:
ইমাম বুখারীর প্রতি জ্ঞানীদের প্রশংসা অবিচ্ছিন্নভাবে (تواتر) বর্ণিত হয়েছে। তাঁর মুখস্থ শক্তি, ইলম এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতার বিষয়টি এতটাই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, তা নিকট ও দূরবর্তী সকলের কাছেই সুপরিচিত। ইমাম বুখারীর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, ইসলামের ইতিহাসের পরিক্রমায় কোটি কোটি মুসলিম তাঁর বিশুদ্ধায়ন (تصحيح)-এর ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর ইবাদত করেন। তাঁর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও আমানতদারিতা (أمانة) প্রমাণের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তাঁর ‘সহীহ’ কিতাবটি আল্লাহর কিতাব মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হিসেবে স্বীকৃত।
বিভিন্ন অঞ্চলের উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে ইমাম বুখারীর ভূয়সী প্রশংসা এসেছে এবং সমগ্র উম্মত এই মহান ইমামের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আমি এখানে তাঁর শিক্ষক, সমসাময়িক এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসায় বর্ণিত কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে কুতাইবা বিন সাঈদ তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: (মুহাম্মদ বিন ইসমাইল যদি সাহাবীদের যুগে থাকতেন, তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এক বিস্ময়কর নিদর্শন হতেন) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكذلك أحمد بن حنبل قال: (ما أخرجت خراسان مثل محمد بن إسماعيل) (1) .
وقال علي بن المديني في الثناء على البخاري: (ما رأى مثل نفسه) (2) .
وممن أثنى عليه من أقرانه أبو حاتم الرازي الذي قال: (لم تخرج خراسان قط أحفظ من محمد بن إسماعيل) (3) .
وقال عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي: (قد رأيت العلماء بالحرمين، والحجاز، والشام، والعراق، فما رأيت فيهم أجمع من محمد بن إسماعيل، وهو أعلمنا وأفقهنا وأكثرنا طلباً) (4) .
وقال حاتم بن منصور: (محمد بن إسماعيل آية من آيات الله في بصره ونفاذه في العلم (5) .
وممن أثنى عليه من تلاميذه محمد بن إسحاق بن خزيمة الذي قال: (ما رأيت تحت أديم السماء أعلم بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وأحفظ له من محمد بن إسماعيل) (6) .
وقال مسلم بن الحجاج: (دعني أقبل رجليك ياأستاذ الأستاذين، وسيد المحدثين، وطبيب الحديث في علله) (7) .
وقال أبو عيسى الترمذي: (لم أر أحداً بالعراق ولا بخراسان في معنى العلل والتاريخ ومعرفة الأسانيد كثير أحدٍ أعلم من محمد بن إسماعيل) (8) .
--------------------------------------------
একইভাবে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "খুরাসান মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে বের করেনি (তৈরি করেনি)" (১)।
আলী ইবনুল মাদিনী ইমাম বুখারীর প্রশংসায় বলেছেন: "তিনি নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি" (২)।
তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে যারা তাঁর প্রশংসা করেছেন তাদের মধ্যে আবু হাতিম আর-রাজি অন্যতম, তিনি বলেছেন: "খুরাসান কখনো মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে বড় অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) কাউকে বের করেনি" (৩)।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি বলেছেন: "আমি হারামাইন, হিজাজ, সিরিয়া এবং ইরাকের আলেমদের দেখেছি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব কাউকে দেখিনি। তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, সবচেয়ে বেশি প্রজ্ঞাবান (أفقه) এবং আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান অন্বেষণকারী" (৪)।
হাতীম ইবনে মানসুর বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল তাঁর দূরদৃষ্টি এবং জ্ঞানের গভীরতায় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন" (৫)।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে যারা তাঁর প্রশংসা করেছেন তাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা অন্যতম, তিনি বলেছেন: "আকাশের নিচে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) কাউকে আমি দেখিনি" (৬)।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেছেন: "হে উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) সরদার এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علله) নির্ণয়ে হাদিসের চিকিৎসক, আমাকে আপনার পা চুম্বন করতে দিন" (৭)।
আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেছেন: "আমি ইরাক কিংবা খুরাসানে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل), ইতিহাস এবং সনদসমূহ (الأسانيد) চেনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি" (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল ইমামাইনিল বুখারী ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামাঈ ফিস সানাদিল মুআনআন বাইনাল মুতাআসিরীন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
تاسعاً: مصنفاته:
ترك الإمام البخاري من خلفه ثروة عظيمة القدر من الكتب النفيسة التي أذهلت العلماء حتى قال أبو أحمد الحاكم: (لو قلتُ: إني لم أر تصنيف أحدٍ يشبه تصنيفه في الحسن والمبالغة رجوتُ أن أكون صادقاً في قوله) (1) .
وقال أيضاً: (رحم الله الإمام محمد بن إسماعيل، فإنه الذي ألف الأصول وبين للناس) (2) .
وقد جمع أسماء هذه المؤلفات الحافظ ابن حجر (3) وهي:
1- الأدب المفرد (مطبوع) .
2- أسامي الصحابة.
3- الأشربة.
4- التاريخ الكبير (مطبوع)
5- التاريخ الأوسط.
6- التاريخ الصغير (مطبوع) (4)
7- التفسير الكبير.
8- الجامع الصحيح (مطبوع)
9- الجامع الكبير.
10- خلق أفعال العباد (مطبوع) .
11- رفع اليدين في الصلاة (مطبوع) .
12- الضعفاء (مطبوع)
13- العلل.
14- الفوائد.
15- القراءة خلف الإمام (مطبوع) .
16- الكنى.
17- المبسوط.
18- المسند الكبير.
19- كتاب الهبة.
20- الوحدان.
--------------------------------------------
নবম: তাঁর রচনাবলি:
ইমাম বুখারী তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য অমূল্য সব কিতাবের এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন যা উলামায়ে কেরামকে বিস্মিত করেছে। এমনকি আবু আহমদ আল-হাকিম বলেছেন: (যদি আমি বলি যে, সৌন্দর্য এবং নিপুণতায় তাঁর রচনার সদৃশ অন্য কারও রচনা আমি দেখিনি, তবে আশা করি এ কথায় আমি সত্যবাদী হব) (১)।
তিনি আরও বলেন: (আল্লাহ তাআলা ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের ওপর রহম করুন, কেননা তিনিই মূলনীতিসমূহ (الأصول) সংকলন করেছেন এবং মানুষের জন্য তা বর্ণনা করেছেন) (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার (৩) এই গ্রন্থগুলোর নাম সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো হলো:
১- আল-আদাবুল মুফরাদ (মুদ্রিত)।
২- আসামী আস-সাহাবাহ।
৩- আল-আশরিবাহ।
৪- আত-তারিখুল কাবীর (মুদ্রিত)।
৫- আত-তারিখুল আওসাত।
৬- আত-তারিখুস সাগীর (মুদ্রিত) (৪)।
৭- আত-তাফসিরুল কাবীর।
৮- আল-জামি’ আস-সহীহ (মুদ্রিত)।
৯- আল-জামি’ আল-কাবীর।
১০- খালকু আফ’আলিল ইবাদ (মুদ্রিত)।
১১- রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাহ (মুদ্রিত)।
১২- আদ-দুয়াফা (মুদ্রিত)।
১৩- আল-ইলাল।
১৪- আল-ফাওয়াইদ।
১৫- আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম (মুদ্রিত)।
১৬- আল-কুনা।
১৭- আল-মাবসুত।
১৮- আল-মুসনাদ আল-কাবীর।
১৯- কিতাবুল হিবাহ।
২০- আল-ওয়াহদান।
--------------------------------------------