(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: -)
صلاة الاستسقاء   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة الاستسقاء - مفهوم، وأسباب، وأنواع، وآداب، وآيات، وحِكَمٌ، وأحكامٌ في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

সালাতুল ইস্তিসকা   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: সালাতুল ইস্তিসকা - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধারণা، কারণসমূহ، প্রকারভেদ، আদবসমূহ، নিদর্শনসমূহ، প্রজ্ঞাসমূহ، এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস، রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরায়সী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং، রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: -)
39

 

سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

_

صلاة الاستسقاء

مفهوم، وأسباب، وأنواع، وآداب، وآيات، وحِكَمٌ، وأحكامٌ

في ضوء الكتاب والسنة
39

 

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি-এর রচনাবলি সিরিজ

_

সালাতুল ইস্তিসকা

সংজ্ঞা, কারণসমূহ, প্রকারভেদ, আদবসমূহ, আয়াতসমূহ, হিকমতসমূহ ও বিধানসমূহ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في: ((صلاة الاستسقاء)) وما يتعلق بها من أحكام، بيَّنت فيها بفضل الله تعالى: مفهوم الاستسقاء، وحكمه، وأسباب القحط وحبس المطر، وأنواع الاستسقاء، وآدابه التي ينبغي للمسلمين أن يلتزموا بها في الاستسقاء، وبيّنت كيفية صلاة الاستسقاء، وموضع خطبة الاستسقاء، وأن السنة في الدعاء المبالغة في رفع اليدين، ثم ذكرت أدعية نبوية ثبتت في الاستسقاء، وأن السنة تحويل الرداء في آخر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘সালাতুল ইস্তিসকা’ (বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত) এবং এর সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ইস্তিসকার ধারণা, এর বিধান, অনাবৃষ্টি ও বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কারণসমূহ, ইস্তিসকার প্রকারভেদ এবং ইস্তিসকার ক্ষেত্রে মুসলমানদের যে সকল শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত তা বর্ণনা করেছি। এছাড়া আমি সালাতুল ইস্তিসকার পদ্ধতি, ইস্তিসকার খুতবা প্রদানের স্থান এবং দোয়ার সময় হাত উত্তোলনে অত্যধিক উচ্চতা অবলম্বন করা যে সুন্নাত, তা স্পষ্ট করেছি। অতঃপর আমি ইস্তিসকা সম্পর্কে এমন কিছু নববী দোয়া উল্লেখ করেছি যা সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে এবং আলোচনার শেষে চাদর উল্টানো যে সুন্নাত, তাও উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৪)
خطبة الاستسقاء واستقبال القبلة، وبيَّنت أن الاستسقاء بالكواكب والأنواء من أمور الجاهلية، ثم ذكرت الآداب المختصة بالمطر، وختمت بذكر آيات من آيات الله تعالى: الرعد، والبرق، والصواعق، والزلازل، فذكرت كلام أهل العلم على ذلك.

وقد استفدت كثيرًا من تقريرات، وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، رحمه الله تعالى.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل: مباركًا، نافعًا، خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، نبينا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر في ضحى يوم السبت 20/ 3/1423هـ
বৃষ্টির প্রার্থনার খুতবা এবং কিবলামুখী হওয়া প্রসঙ্গে; আর আমি বর্ণনা করেছি যে, নক্ষত্র ও ঋতুর পরিবর্তনের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা জাহেলি যুগের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। এরপর বৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট আদবসমূহ উল্লেখ করেছি এবং মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে কিছু নিদর্শনের আলোচনার মাধ্যমে ইতি টেনেছি: যেমন—বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ, বজ্রপাত ও ভূমিকম্প; আর এ বিষয়ে বিদগ্ধ আলেমগণের আলোচনাও আমি উল্লেখ করেছি।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও প্রাধান্যযোগ্য মতসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সামান্য আমলটুকুকে বরকতময়, ফলপ্রসূ এবং কেবল তাঁরই মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পর উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল হোক তাঁর প্রিয় বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মনোনীত ব্যক্তিত্ব আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর।

আবু আব্দুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি

২০/০৩/১৪২৩ হিজরি, শনিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أولاً: مفهوم الاستسقاء:

الاستسقاء طلب السقيا، كالاستصحاء: طلب الصحو، وهو استفعال من أسقيت (1)، قال ابن منظور - رحمه الله تعالى -: ((ذكر الاستسقاء في الحديث، وهو استفعال من طلب السقيا: أي إنزال الغيث على البلاد والعباد، يقال: استسقى، وسقى الله عباده الغيث، وأسقاهم، والاسم: السُّقيا بالضم، واستسقيت فلانًا: إذا طلبت منه أن يسقيك)) (2).

ولكن في عرف الفقهاء إذا قالوا: صلاة الاستسقاء إنما يعنون استسقاء الرب عز وجل لا استسقاء المخلوق (3).

قال الجرجاني - رحمه الله تعالى -: ((الاستسقاء: هو طلب المطر عند طول انقطاعه)) (4)، أي: من الله عز وجل.

 

‌‌ثانيًا: حكم الاستسقاء: الاستسقاء سنة مؤكدة إذا

--------------------------------------------

(1) الإعلام بفوائد عمدة الأحكام لابن الملقن، 4/ 317.

(2) لسان العرب، لابن منظور، فصل السين، باب الياء، 14/ 393.

(3) الشرح الممتع، لابن عثيمين، 5/ 361.

(4) التعريفات، للجرجاني، فصل السين، ص39.
প্রথমত: ইস্তিসকা (الاستسقاء)-এর ধারণা:

ইস্তিসকা (الاستسقاء) হলো পানি প্রার্থনা করা, যেমন 'ইসতিসহা' হলো মেঘমুক্ত আকাশ প্রার্থনা করা। এটি 'আসকাইতু' শব্দ থেকে ইস্তিফ'আল (استفعال) ছাঁচে গঠিত (১), ইবনে মানযুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হাদিসে ইস্তিসকা (الاستسقاء)-এর উল্লেখ এসেছে, যা পানি প্রার্থনার (استفعال) অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ: জনপদ ও বান্দাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণের প্রার্থনা করা। বলা হয়: সে পানি প্রার্থনা করেছে (استسقى), এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বৃষ্টি দান করেছেন (سقى) ও তাদের সিক্ত করেছেন (أسقاهم)। এর বিশেষ্য (اسم) হলো: 'সুকইয়া' (السُّقيا) [পেশ যোগে]। আর 'ইস্তাসকাইতু ফুলানান' অর্থ হলো: যখন তুমি কারো কাছে পানি পান করানোর অনুরোধ করো" (২)।

তবে ফকীহগণের পরিভাষায় যখন তারা সালাতুল ইস্তিসকা বলেন, তখন তারা মহান রব্বুল আলামীনের কাছে পানি প্রার্থনা করাকেই বুঝিয়ে থাকেন, সৃষ্টির কাছে প্রার্থনা করাকে নয় (৩)।

আল-জুরজানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইস্তিসকা (الاستسقاء) হলো দীর্ঘ অনাবৃষ্টির সময় বৃষ্টি প্রার্থনা করা" (৪), অর্থাৎ: মহান আল্লাহর কাছে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ইস্তিসকা (الاستسقاء)-এর বিধান: ইস্তিসকা (الاستسقاء) একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة), যখন

--------------------------------------------

(১) আল-ই'লাম বি ফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম, ইবনুল মুলাক্কিন, ৪/৩১৭।

(২) লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর, ফাসলুস সিন, বাবুল ইয়া, ১৪/৩৯৩।

(৩) আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন, ৫/৩৬১।

(৪) আত-তা'রিফাত, আল-জুরজানি, ফাসলুস সিন, পৃ. ৩৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৬)
أجدبت الأرض وقحط المَطَر (1).

قال الإمام ابن قدامة - رحمه الله تعالى -: ((صلاة الاستسقاء سنة مؤكدة ثابتة بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وخلفائه رضي الله عنهم)) (2).

وقال الإمام ابن عبد البر رحمه الله: ((وأجمع العلماء على أن الخروج إلى الاستسقاء، والبروز، والاجتماع إلى الله عز وجل خارج المصر: بالدعاء، والضراعة إلى الله تبارك اسمه في نزول الغيث عند احتباس ماء السماء وتمادي القحط: سنة مسنونة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا خلاف بين علماء المسلمين في ذلك (3)) (4).

--------------------------------------------

(1) قحط: يقال: قُحِط وقَحَطَ: إذا احتبس وانقطع، وأقحط الناس: إذا لم يمطروا، والقحط: الجدب؛ لأنه من أثره، [النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير،4/ 17].

(2) المغني، لابن قدامة،3/ 334،وانظر: الإحكام شرح أصول الأحكام، لابن قاسم،1/ 508.

(3) التمهيد، لابن عبد البر، 17/ 172.

(4) وهل يشترط لصلاة الاستسقاء إذن الإمام؛ اختُلِفَ في ذلك فقال في زاد المستقنع: ((وليس من شرطها إذن الإمام))، وقال ابن قدامة على روايتين: إحداهما لا يستحب إلا بخروج الإمام، وعنه أنهم يصلون لأنفسهم ويخطب بهم أحدهم، فعلى هذه الرواية يكون الاستسقاء مشروعًا في حق كل أحد: مقيم، ومسافر، وأهل القرى، والأعراب؛ لأنها صلاة نافلة)). المغني لابن قدامة، 3/ 346، والإنصاف مع المقنع والشرح الكبير، 5/ 435، لكن قال ابن عثيمين: ((لكن حسب العرف عندنا لا تقام صلاة الاستسقاء إلا بالإمام)).الشرح الممتع،5/ 291،وقَرَّرَ شيخنا ابن باز أنها تصلى في السفر وفي البادية وإذا لم يأمر بها الإمام، مجموع الفتاوى لابن باز،13/ 66، 85.
ভূমি শুষ্ক হয়ে গেল এবং বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল (১)।

ইমাম ইবনে কুদামা -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেছেন: ((বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ (صلاة الاستسقاء) হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খলিফাগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত)) (২)।

ইমাম ইবনে আব্দিল বার রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ((উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যখন আকাশের পানি আটকে যায় এবং অনাবৃষ্টি প্রলম্বিত হয়, তখন বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে জনপদের বাইরে বের হওয়া, খোলা ময়দানে উপস্থিত হওয়া এবং আল্লাহর দরবারে বিনীত কাকুতি-মিনতির মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য দোয়া করা একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (سنة مسنونة), যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবর্তন করেছেন; মুসলিম উলামাগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই (৩))) (৪)।

--------------------------------------------

(১) কাহত: বলা হয় 'কুহিতা' বা 'কাহাতা' যখন বৃষ্টি আটকে যায় এবং বন্ধ হয়ে যায়। আর 'আকহাতান নাস' বলা হয় যখন মানুষের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় না। আর 'কাহত' অর্থ হলো খরা; কারণ এটি বৃষ্টির অভাবের ফল। [আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ইবনুল আসির, ৪/১৭]।

(২) আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৩/৩৩৪; আরও দেখুন: আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম, ইবনে কাসিম, ১/৫০৮।

(৩) আত-তামহিদ, ইবনে আব্দিল বার, ১৭/১৭২।

(৪) বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজের (صلاة الاستسقاء) জন্য কি শাসকের অনুমতির শর্ত রয়েছে? এ বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে। 'যাদুল মুস্তাকনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ((শাসকের অনুমতি এর জন্য শর্ত নয়))। ইবনে কুদামা দুটি বর্ণনার (رواية) কথা উল্লেখ করেছেন: একটি হলো—শাসকের বের হওয়া ছাড়া এটি পছন্দনীয় (مستحب) নয়। অপর বর্ণনাটি হলো—লোকেরা নিজেরা নামাজ পড়বে এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ খুতবা দেবে। এই বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী বৃষ্টি প্রার্থনা (الاستسقاء) প্রত্যেকের জন্য শরিয়তসম্মত (مشروع)—চাই তিনি স্থায়ী নিবাসী (مقيم) হোন বা মুসাফির (مسافر), গ্রামবাসী হোন বা মরুচারী; কারণ এটি একটি নফল (نافلة) নামাজ। আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৩/৩৪৬; আল-ইনসাফ মাআল মুকনি ওয়াস শারহিল কাবির, ৫/৪৩৫। তবে ইবনে উসাইমিন বলেছেন: ((কিন্তু আমাদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শাসকের উপস্থিতি ছাড়া বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না))। আশ-শারহুল মুমতি, ৫/২৯১। আমাদের শায়খ ইবনে বাজ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এটি সফরে এবং মরু অঞ্চলেও পড়া যাবে, এমনকি শাসক যদি নির্দেশ নাও দেন। মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৩/৬৬, ৮৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ثالثًا: أسباب القحط وحبس المطر: معصية الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم؛ لحديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: أقبل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا معشر المهاجرين: خمس إذا ابتليتم بهن وأعوذ بالله أن تدركوهن:

لم تظهر الفاحشة في قوم قطُّ حتى يعلنوا بها إلَاّ فشا فيهم الطاعونُ والأوجاعُ التي لم تكن مضت في أسلافهم الذين مَضَوا.

ولم ينقصوا المكيال والميزان إلا أُخذوا بالسنين وشدة المؤونة وجَوْر السلطان عليهم.

ولم يَمْنعوا زكاة أموالهم إلا مُنعوا القطرَ من السماء، ولولا البهائمُ لم يُمطروا.

ولم ينقضوا عهد الله وعهد رسوله إلا سلّط الله عليهم
তৃতীয়ত: অনাবৃষ্টি ও বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কারণসমূহ: মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবাধ্যতা। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অভিমুখী হলেন এবং বললেন: "হে মুহাজির সম্প্রদায়! পাঁচটি বিষয় এমন রয়েছে, যখন তোমরা সেগুলোতে লিপ্ত হবে—আর আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা সেই অবস্থার সম্মুখীন না হও:

যখনই কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায় এবং তারা প্রকাশ্যে তা করতে শুরু করে, তখন তাদের মধ্যে মহামারি ও এমন সব রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের অতীত হয়ে যাওয়া পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না।

আর যখনই তারা মাপে ও ওজনে কারচুপি করে, তখনই তারা দুর্ভিক্ষ, জীবনযাত্রার কঠিন কষ্ট এবং শাসকের অন্যায়ের শিকার হয়।

আর যখনই তারা তাদের সম্পদের জাকাত প্রদান বন্ধ করে দেয়, তখনই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়; যদি চতুষ্পদ জন্তু না থাকত, তবে তাদের ওপর কখনোই বৃষ্টি বর্ষিত হতো না।

আর যখনই তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখনই আল্লাহ তাদের ওপর...
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৮)
عدوًّا من غيرهم فأخذوا بعض ما في أيديهم.

وما لم تحكم أئمتهم بكتاب الله ويتخيروا مما أنزل الله إلا جعل الله بأسهم بينهم)) (1).

وهذا الحديث فيه من الفوائد: أن نقص المكيال والميزان سبب للجدب وشدة المؤونة وجور السلاطين، وفيه أن منع الزكاة من الأسباب الموجبة لمنع قطر السماء، وأن نزول الغيث مع وجود المعاصي إنما هو رحمة من الله تعالى للبهائم (2).

وقد قال الإمام البخاري – رحمه الله – في صحيحه: ((بابُ انتقام الرب عز وجل من خلقه بالقحط إذا انتُهِكَتْ محارمُه)) (3).

وقد جاء عن مجاهد – رحمه الله تعالى – أن البهائم تلعن عصاة بني آدم إذا أجدبت الأرض، ذكر ذلك الإمام ابن

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه، كتاب الفتن، باب العقوبات، برقم 4019، والحاكم وصححه، ووافقه الذهبي، 4/ 540، وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 2/ 270، وسلسلة الأحاديث الصحيحة، 1/ 7، برقم 106.

(2) نيل الأوطار، للشوكاني، 2/ 649 – 650.

(3) البخاري، كتاب الاستسقاء، قبل الحديث رقم 1013.
...অন্য কোনো বহিরাগত শত্রু, যারা তাদের নিকট থাকা সম্পদের কিয়দাংশ কেড়ে নেবে।

আর যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নেতৃবর্গ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা না করবে এবং আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা থেকে (বিধান) গ্রহণ না করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ ও লড়াই জিইয়ে রাখবেন)) (১)।

এই হাদিসটির মধ্যে যেসব শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে: মাপে ও ওজনে কম দেওয়া দুর্ভিক্ষ, জীবনযাত্রার কঠোরতা এবং শাসকদের জুলুমের কারণ। এতে আরও রয়েছে যে, জাকাত প্রদান বন্ধ করা আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ। আর পাপাচার বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তা মূলত গবাদি পশুর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়া স্বরূপ (২)।

ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: ((পরিচ্ছেদ: যখন আল্লাহর পবিত্র বিধানসমূহ লঙ্ঘন করা হয়, তখন সৃষ্টির ওপর দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে মহান রবের প্রতিশোধ গ্রহণ)) (৩)।

মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন জমিন অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়, তখন চতুষ্পদ জন্তুরা আদম সন্তানদের পাপাচারীদের অভিশাপ দেয়; এটি উল্লেখ করেছেন ইমাম ইবনে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, বাবুুল উকুবাত, হাদিস নং ৪০১৯; হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, ৪/৫৪০; আল্লামা আলবানি একে সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ২/২৭০ এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ, ১/৭, হাদিস নং ১০৬-এ সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন।

(২) নায়লুল আওতার, শাওকানি কৃত, ২/৬৪৯ – ৬৫০।

(৩) বুখারি, কিতাবুল ইস্তিসকা, হাদিস নং ১০১৩-এর পূর্বে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৯)
كثير – رحمه الله تعالى – في تفسير قول الله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلعَنُهُمُ الله وَيَلْعَنُهُمُ الَّلاعِنُونَ} (1).

فقوله تعالى: {أُولَئِكَ يَلعَنُهُمُ الله وَيَلْعَنُهُمُ الَّلاعِنُونَ} قال ابن كثير: ((يعني دواب الأرض .. وقال عطاء بن أبي رباح: كل دابة، والجن، والإنس، وقال مجاهد: إذا أجدبت الأرض قالت البهائم: هذا من أجل عُصاة بني آدم، لعن الله عُصاة بني آدم. وقال أبو العالية والربيع بن أنس وقتادة: ((ويلعنهم اللاعنون)) يعني: تلعنهم الملائكة والمؤمنون، وقد جاء في الحديث أن العالم يستغفر له كل شيء حتى الحيتان في البحر (2)،وجاء في هذه الآية: أن كاتم العلم يلعنه الله، والملائكة، والناس أجمعون، واللاعنون أيضًا: وهو كل فصيح، وأعجمي، إما بلسان المقال، أو الحال، أن لو

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 159.

(2) الحديث أخرجه الترمذي، كتاب العلم، باب في فضل الفقه على العبادة، برقم 2825، وقال: ((هذا حديث حسن غريب صحيح)) وصححه العلامة الألباني في صحيح سنن الترمذي، 2/ 343.
ইবনে কাসীর—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন—মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে বলেছেন: {নিশ্চয় যারা গোপন করে সেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়াত যা আমি অবতীর্ণ করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা বিস্তারিত বর্ণনা করার পর; তাদেরকেই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও তাদের অভিসম্পাত করে} (১)।

মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকেই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও তাদের অভিসম্পাত করে} প্রসঙ্গে ইবনে কাসীর বলেন: ((অর্থাৎ জমিনের বিচরণশীল প্রাণীকুল...। আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেন: প্রতিটি প্রাণী, জিন এবং মানুষ। মুজাহিদ বলেন: যখন জমিন দুর্ভিক্ষকবলিত হয় তখন চতুষ্পদ জন্তুরা বলে: এটি বনী আদমের পাপিষ্ঠদের কারণে হয়েছে; আল্লাহ বনী আদমের পাপিষ্ঠদের লানত করুন। আবুল আলিয়া, রবী ইবনে আনাস এবং কাতাদাহ বলেন: ((অভিসম্পাতকারীরাও তাদের অভিসম্পাত করে)) অর্থাৎ: ফেরেশতাগণ এবং মুমিনগণ তাদের অভিসম্পাত করেন। হাদিসে এসেছে যে, বিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য প্রতিটি বস্তু ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত (২)। আর এই আয়াতে এসেছে যে: জ্ঞান গোপনকারীকে আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষ লানত করে, এবং অভিসম্পাতকারীরাও—যারা হলো প্রতিটি বাকপটু এবং বাকহীন প্রাণী, তা চাই সরাসরি ভাষার মাধ্যমে হোক কিংবা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হোক...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৯।

(২) হাদিসটি তিরমিযি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইলম, ইবাদতের ওপর ফিকহ-এর শ্রেষ্ঠত্ব অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৮২৫। তিনি বলেছেন: ((এটি হাসান (حسن) বিরল (غريب) বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস))। আল্লামা আলবানি একে সহিহ সুনান আত-তিরমিযি, ২/৩৪৩-এ বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১০)
كان له عقل ويوم القيامة والله أعلم)) (1).

وقد بيّن الله عز وجل أن الابتعاد عن المعاصي والقيام بالواجبات من أعظم أسباب إنزال البركات، فقال تعالى: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُواْ وَاتَّقَواْ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَلَكِن كَذَّبُواْ فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُواْ يَكْسِبُونَ * أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتاً وَهُمْ نَآئِمُونَ * أَوَ أَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ * أَفَأَمِنُواْ مَكْرَ الله فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ الله إِلَاّ الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ} (2). ذكر الله عز وجل أن أهل القرى لو آمنوا بقلوبهم إيمانًا صادقًا صدَّقَتْه الأعمال، واستعملوا تقوى الله تعالى ظاهرًا وباطنًا، بترك جميع ما حرَّم الله؛ لفتح عليهم بركات السماء والأرض، فأرسل السماء عليهم مدرارًا، وأنبت لهم من الأرض ما به يعيشون وتعيش بهائمهم في أخصب عيش وأغزر رزق، من غير عناء ولا

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم، لابن كثير، ص137، وتفسير البغوي، 1/ 134.

(2) سورة الأعراف، الآيات: 96 – 99.
((তার বুদ্ধি ছিল এবং কিয়ামতের দিন... আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ)) (১)।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, পাপাচার থেকে দূরে থাকা এবং আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ (واجبات) পালন করা বরকত নাযিল হওয়ার অন্যতম মহত্তম কারণ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করত, তবে আমি অবশ্যই তাদের ওপর আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, ফলে তাদের কৃতকর্মের কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তবে কি জনপদবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, আমার আযাব তাদের কাছে রাতে আসবে যখন তারা নিদ্রাচ্ছন্ন? নাকি জনপদবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, আমার আযাব তাদের কাছে দিনের পূর্বাহ্নে আসবে যখন তারা খেলাধুলায় মত্ত? তবে কি তারা আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে নির্ভয় হয় না} (২)। মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, জনপদবাসীরা যদি তাদের অন্তরে এমন সত্য ঈমান আনত যা কর্ম দ্বারা সত্যায়িত হয় এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ (حرام) সকল বিষয় বর্জনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করত, তবে তিনি তাদের ওপর আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতেন। ফলে তিনি আকাশ থেকে তাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করতেন এবং জমিন থেকে তাদের জন্য এমন কিছু উৎপন্ন করতেন যা দ্বারা তারা এবং তাদের গবাদিপশু অত্যন্ত সচ্ছল জীবন ও প্রচুর রিযিকের মাঝে জীবন অতিবাহিত করতে পারত, কোনো ক্লান্তি কিংবা...

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর, পৃ. ১৩৭ এবং তাফসীরে বাগভী, ১/১৩৪।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬ – ৯৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১১)
تعب، ولا كدٍّ ولا نَصَب، ولكنهم لم يؤمنوا ولم يتقوا،

{فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُواْ يَكْسِبُونَ} بالعقوبات والبلايا، ونزع البركات، وكثرة الآفات، وهي بعض جزاء أعمالهم، وإلا فلو أخذهم بجميع ما كسبوا ما ترك عليها من دابة (1). كما قال سبحانه وتعالى: {وَلَوْ يُؤَاخِذُ الله النَّاسَ بِظُلْمِهِم مَّا تَرَكَ عَلَيْهَا مِن دَآبَّةٍ وَلَكِن يُؤَخِّرُهُمْ إلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ} (2). وكما قال سبحانه وتعالى: {وَلَوْ يُؤَاخِذُ الله النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِن دَابَّةٍ وَلَكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ الله كَانَ بِعِبَادِهِ بَصِيرًا} (3).وكما قال عز وجل: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} (4).

وقد أوضح الله عز وجل أن أهل الكتاب لو قاموا بأوامر

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، للسعدي، ص298، 238.

(2) سورة النحل، الآية: 61.

(3) سورة فاطر، الآية: 45.

(4) سورة الروم، الآية: 41.
ক্লান্তি, পরিশ্রম কিংবা ক্লেশ ছাড়াই; কিন্তু তারা ঈমান আনেনি এবং তাকওয়া অবলম্বন করেনি,

{ফলে আমি তাদের পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের কারণে} বিভিন্ন শাস্তি ও বিপদ-আপদ, বরকত অপসরণ এবং দুর্যোগের আধিক্যের মাধ্যমে। আর এগুলো তাদের কর্মের প্রতিফলের কিঞ্চিৎ অংশ মাত্র; অন্যথায় তিনি যদি তাদের সকল কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে এর (পৃথিবীর) বুকে কোনো বিচরণশীল প্রাণীকে অবশিষ্ট রাখতেন না (১)। যেমন সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের অন্যায়ের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে এর ওপর কোনো বিচরণশীল প্রাণীকে ছাড়তেন না; কিন্তু তিনি তাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাদের সেই নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং অগ্রগামীও হতে পারে না} (২)। এবং যেমন সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে জমিনের পিঠে কোনো বিচরণশীল প্রাণীকে অবশিষ্ট রাখতেন না; কিন্তু তিনি তাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাদের সেই নির্ধারিত সময় এসে পড়বে, তখন (তারা জানবে যে) আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি সম্যক দ্রষ্টা} (৩)। যেমন পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {মানুষের হাত যা কামাই করেছে তার কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে, যাতে তিনি তাদের তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে} (৪)।

মহান আল্লাহ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আহলে কিতাবগণ যদি নির্দেশনাসমূহ পালন করত...

--------------------------------------------

(১) তাইসিরুল কারিমুর রহমান, আস-সাদী রচিত, পৃ. ২৯৮, ২৩৮।

(২) সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬১।

(৩) সূরা ফাতির, আয়াত: ৪৫।

(৪) সূরা আর-রুম, আয়াত: ৪১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১২)
التوراة والإنجيل وابتعدوا عن نواهيهما، لأدرّ الله عليهم الرزق، ولأمطر عليهم السماء وأنبت لهم الأرض (1)، فقال تعالى: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُواْ وَاتَّقَوْاْ لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلأدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ * وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُواْ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيهِم مِّن رَّبِّهِمْ لأكَلُواْ مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم مِّنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ} (2).

ولا شك أن الناس قد يحرمون الأرزاق بالذنوب يصيبونها؛ لأن من لم يتق الله لا يجعل الله له مخرجًا ولا يرزقه من حيث لا يحتسب، وما استجلب رزق بمثل ترك المعاصي (3)؛ لمفهوم قول الله تعالى: {وَمَن يَتَّقِ الله يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى الله فَهُوَ حَسْبُهُ} (4).

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن للسعدي، ص238.

(2) سورة المائدة، الآيتان: 65، 66.

(3) الجواب الكافي، لابن القيم، ص104.

(4) سورة الطلاق، الآيتان: 2، 3.
তাওরাত ও ইঞ্জিল (অনুসরণ করত) এবং তাদের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকত, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের ওপর প্রচুর রিজিক বর্ষণ করতেন, আকাশ থেকে তাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করতেন এবং জমিন থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন করতেন (১)। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যদি আহলে কিতাবগণ ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদের নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাতাম। আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করত, তবে তারা অবশ্যই তাদের ওপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আহার করত। তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে; আর তাদের অনেকেরই কর্মকাণ্ড অত্যন্ত মন্দ" (২)।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষ তাদের কৃত পাপের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হতে পারে; কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না, আল্লাহ তার জন্য কোনো নিষ্কৃতির পথ তৈরি করেন না এবং এমন উৎস থেকে তাকে রিজিক দান করেন না যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর গুনাহ বর্জনের মতো অন্য কোনো উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করা যায় না (৩); মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ অনুযায়ী: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট" (৪)।

--------------------------------------------

(১) আস-সাদির তাইসিরুল কারিমির রহমান, পৃষ্ঠা ২৩৮।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৫, ৬৬।

(৩) ইবনুল কাইয়্যিমের আল-জাওয়াবুল কাফি, পৃষ্ঠা ১০৪।

(৪) সূরা আত-তালাক, আয়াত: ২, ৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومعلوم أن المعاصي تُزيل النعم وتُحِلُّ النقم، فما زالت عن العبد نعمة إلا بذنب، ولا حلَّت به نقمة إلا بذنب، كما ذُكِرَ عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: ((ما نزل بلاء إلا بذنب، ولا رُفع إلا بتوبة)) (1)،قال الله عز وجل: {وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ} (2)، وقال عز وجل: {ذَلِكَ بِأَنَّ الله لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِّعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَى قَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمْ وَأَنَّ الله سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (3)، فلا يغيِّر الله تعالى نعمته التي أنعم بها على أحد حتى يكون هو الذي يُغَيِّرُ ما بنفسه، فيغير طاعة الله بمعصيته، وشكره بكفره، وأسباب رضاه بأسباب سخطه، فإذا غيَّر غُيِّر عليه جزاءً وفاقًا، وما ربُّك بظلام للعبيد.

فإن غيَّر المعصية بالطاعة غيَّر الله عليه العقوبة بالعافية، والذلّ بالعزّ، قال الله تعالى: {إِنَّ الله لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى

--------------------------------------------

(1) الجواب الكافي لابن القيم، ص142.

(2) سورة الشورى، الآية: 30.

(3) سورة الأنفال، الآية: 53.
এটা সর্বজনবিদিত যে, পাপাচার নেয়ামতসমূহকে অপসারিত করে এবং বিপদ-আপদকে টেনে আনে। বান্দার কোনো নেয়ামত কেবল পাপের কারণেই অপসারিত হয় না এবং কোনো বিপদ কেবল পাপের কারণেই আপতিত হয় না। যেমনটি আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “কোনো বিপদ কেবল পাপের কারণেই নাজিল হয় না এবং তা তাওবা ব্যতীত দূর হয় না।” (১), আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত এরশাদ করেছেন: {তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের নিজেদের হাতেরই কামাই এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন} (২), এবং তিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আরও এরশাদ করেছেন: {তা এ কারণে যে, আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে যে নেয়ামত দান করেন, তিনি তা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} (৩)। সুতরাং আল্লাহ তাআলা কাউকে প্রদত্ত নেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না সে নিজেই নিজের অভ্যন্তরীণ অবস্থা পরিবর্তন করে; অর্থাৎ সে আল্লাহর আনুগত্যের পরিবর্তে নাফরমানি, কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে অকৃতজ্ঞতা এবং তাঁর সন্তুষ্টির কারণগুলোর পরিবর্তে তাঁর অসন্তুষ্টির কারণগুলো গ্রহণ করে। যখন সে নিজেকে পরিবর্তন করে, তখন উপযুক্ত প্রতিফল হিসেবে তার অবস্থাও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। আর তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুমকারী নন।

অতঃপর যদি সে পাপাচারের পরিবর্তে আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করে, তবে আল্লাহ তার শাস্তিকে নিরাময় ও নিরাপত্তা দ্বারা এবং লাঞ্ছনাকে সম্মান দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না...}

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম রচিত আল-জাওয়াবুল কাফি, পৃ. ১৪২।

(২) সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০।

(৩) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৫৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৪)
يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ الله بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ} (1).

ولقد أحسن القائل:

إذا كنت في نعمة فارعها … فإن المعاصي تزيل النعم

وحطها بطاعة رب العباد … فربُّ العباد سريع النقم (2)

 

‌‌رابعًا: أنواع الاستسقاء: الاستسقاء أنواع على النحو الآتي:

‌‌النوع الأول: الاستسقاء بصلاة جماعة أو فرادى (3) على ما يأتي تفصيله، وهو أكملها، وصلاته صلى الله عليه وسلم مستفيضة في الصحاح وغيرها، واتفق فقهاء الأمصار على هذا النوع (4).

‌‌النوع الثاني: استسقاء الإمام يوم الجمعة في خطبتها،

--------------------------------------------

(1) سورة الرعد، الآية: 11.

(2) الجواب الكافي، لابن القيم، ص142.

(3) قال الإمام ابن الملقن في الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، 4/ 317: ((واعلم أن الاستسقاء أنواع: الأول: الدعاء بلا صلاة ولا خلف صلاة، وأوسطها الدعاء خلف الصلوات وفي خطبة الجمعة، والاستسقاء بركعتين وخطبتين، والثاني أفضل من الأول، والثالث أكمل الكل وخالف فيه أبو حنيفة … )).

(4) الإحكام شرح أصول الأحكام، لابن قاسم، 1/ 504، والاستسقاء: سننه وآدابه، للشيخ عبد الوهاب بن عبد العزيز الزيد، ص31.
{...তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত। আর আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়ের অকল্যাণ চান, তখন তা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই} (১)।

আর কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

যদি তুমি নিআমতের মধ্যে থাকো, তবে তা হেফাজত করো … কেননা পাপাচার নিআমতসমূহকে বিলীন করে দেয়।

বান্দাদের প্রতিপালকের আনুগত্যের মাধ্যমে একে পরিবেষ্টিত করে রাখো … কারণ বান্দাদের প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দানকারী (২)

 

‌‌চতুর্থত: ইস্তিসকার (বৃষ্টি প্রার্থনার) প্রকারভেদ: ইস্তিসকা নিম্নোক্তভাবে কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে:

‌‌প্রথম প্রকার: জামাতবদ্ধভাবে বা একাকী সালাতের মাধ্যমে ইস্তিসকা করা (৩), যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে। এটিই এই পদ্ধতির মধ্যে পূর্ণাঙ্গতম। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই সালাত আদায়ের বিষয়টি সহীহ গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য কিতাবে বহুল প্রচলিত (مستفيضة) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহগণ এই প্রকারের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন (৪)।

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: জুমার দিন খুতবার মধ্যে ইমামের ইস্তিসকা করা

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রাদ, আয়াত: ১১।

(২) আল-জওয়াবুল কাফী, ইবনুল কাইয়্যিম, পৃ. ১৪২।

(৩) ইমাম ইবনে আল-মুল্লাকিন 'আল-ই'লাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম' গ্রন্থে (৪/৩১৭) বলেছেন: ((জেনে রেখো যে, ইস্তিসকা কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে: প্রথমত: সালাত ব্যতীত এবং সালাতের পরেও নয়—এমন দুআ। দ্বিতীয়টি হলো সালাতের পর এবং জুমার খুতবার মধ্যে দুআ করা। আর তৃতীয় প্রকার হলো দুই রাকাত সালাত ও দুই খুতবার মাধ্যমে ইস্তিসকা করা। দ্বিতীয় প্রকারটি প্রথমটির চেয়ে উত্তম এবং তৃতীয় প্রকারটি সবগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গতম, যাতে ইমাম আবু হানিফা রহ. ভিন্নমত পোষণ করেছেন... ))।

(৪) আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম, ইবনে কাসিম, ১/৫০৪; এবং আল-ইস্তিসকা: সুনানুহু ওয়া আদাবুহু, শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল আজিজ আল-জায়িদ, পৃ. ৩১।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৫)
كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم، واستفاض عنه من غير وجه، وهذا النوع مستحب اتفاقًا، واستمر عمل المسلمين عليه (1)؛ لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: أصابت الناس سنة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، فبينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب في يوم جمعة فقام أعرابي فقال: يا رسول الله، هلك المال، وجاع العيال فادع الله لنا، فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ثم قال: ((اللهم أغثنا، اللهم أغثنا، اللهم أغثنا))، وفي لفظ للبخاري: ((اللهم اسقنا، اللهم اسقنا، اللهم اسقنا))، قال أنس: ولا والله ما نرى في السماء من سحاب، ولا قزعة (2) ولا شيئًا، وما بيننا وبين سَلْع (3) من بيتٍ ولا دار، قال: فطلعت من ورائه سحابة مثل الترس (4)، فلما توسطت السماء انتشرت ثم أمطرت، قال: والله ما رأينا الشمس سبتًا (5) … ((وفي

--------------------------------------------

(1) الإحكام شرح أصول الأحكام، لابن قاسم، 1/ 504.

(2) قزعة: قطعة من سحاب. المفهم لِمَا أشكل من تلخيص كتاب مسلم للقرطبي،2/ 543.

(3) سَلْع: جبل بالمدينة.

(4) الترس: أي تشبه السحابة الترس في كثافتها واستدارتها. المرجع السابق، 2/ 543.

(5) سبتًا: أي من سبت إلى سبت، المرجع السابق، 2/ 543.
যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছিলেন এবং তাঁর থেকে এটি বিভিন্ন সূত্রে ব্যাপকভাবে বর্ণিত (مستفيض) হয়েছে। এই প্রকারটি সর্বসম্মতভাবে পছন্দনীয় (مستحب) এবং মুসলমানদের আমল এর ওপর অব্যাহত রয়েছে (১); আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিন খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার-পরিজন অনাহারে আছে, তাই আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উভয় হাত তুললেন এবং বললেন: ((হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন)), আর বুখারি-র এক বর্ণনায় রয়েছে: ((হে আল্লাহ! আমাদের পানি দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের পানি দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের পানি দান করুন))। আনাস (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম! আমরা আকাশে কোনো মেঘ দেখছিলাম না, এমনকি কোনো ক্ষুদ্র মেঘখণ্ড (قزعة) (২) বা অন্য কিছুও দেখছিলাম না। অথচ আমাদের এবং 'সাল' (৩) পাহাড়ের মাঝখানে কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি বলেন: তারপর পাহাড়ের ওপাশ থেকে ঢালের (ترس) (৪) মতো একটি মেঘ উদিত হলো। যখন তা আকাশের মাঝখানে পৌঁছাল, তখন তা ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি বর্ষণ করতে লাগল। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম! আমরা এক সপ্তাহ (سبتًا) (৫) পর্যন্ত সূর্য দেখিনি … ((এবং

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম, ইবন কাসিম কৃত, ১/ ৫০৪।

(২) মেঘখণ্ড (قزعة): মেঘের টুকরো। আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম, আল-কুরতুবি কৃত, ২/ ৫৪৩।

(৩) সাল (سلع): মদিনার একটি পাহাড়।

(৪) ঢাল (الترس): অর্থাৎ মেঘটি তার ঘনত্ব ও বৃত্তাকার আকৃতিতে ঢালের সদৃশ ছিল। পূর্বোক্ত উৎস, ২/ ৫৪৩।

(৫) সাবতান (سبتًا): অর্থাৎ এক শনিবার থেকে পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত। পূর্বোক্ত উৎস, ২/ ৫৪৩।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৬)
لفظ للبخاري: ((أصابت الناس سنة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، فبينما النبي صلى الله عليه وسلم يخطب في يوم الجمعة فقام أعرابي فقال: يا رسول الله هلك المال، وجاع العيال، فادع الله لنا، فرفع يديه وما نرى في السماء قزعة، فوالذي نفسي بيده ما وضعهما حتى ثار السحاب أمثال الجبال، ثم لم ينزل عن منبره حتى رأيت المطر يتحدر على لحيته فمطرنا يومنا ذلك ومن الغد، ومن بعد الغد والذي يليه حتى الجمعة الأخرى، وقام ذلك الأعرابي أو قال غيره فقال: يا رسول الله! تهدَّم البناء، وغرق المال، فادع الله لنا، فرفع يديه فقال: ((اللهمَّ حَوَالَينا ولا علينا))، فما يشير بيده إلى ناحية من السحاب إلا انفرجت، وصارت المدينة مِثْلَ الجَوْبة (1)، وسال الوادي قناة شهرًا (2) ولم يجئ أحد من ناحية إلا حدَّث بالجود))، وفي لفظ: ((ثم دخل رجل من ذلك الباب في الجمعة المقبلة ورسول الله صلى الله عليه وسلم قائم يخطب

--------------------------------------------

(1) الجوبة: الفجوة بين البيوت، المفهم للقرطبي، 2/ 545.

(2) قناة: اسم واد من أودية المدينة، وكأنه سُمي مكانه: قناة وقد جاء في غير كتاب مسلم: ((وسال وادي قناة شهرًا)) على الإضافة، المرجع السابق، 2/ 545.
বুখারি-র শব্দে (لفظ): ((নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিন খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং পরিবার-পরিজন ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, সুতরাং আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন তিনি তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করলেন; অথচ আমরা আকাশে মেঘের সামান্য টুকরোও দেখতে পাচ্ছিলাম না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তিনি হাত নামানোর পূর্বেই পাহাড়ের ন্যায় মেঘ পুঞ্জীভূত হলো। অতঃপর তিনি তাঁর মিম্বর থেকে অবতরণ করার পূর্বেই আমি দেখলাম তাঁর দাড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। সেদিন, তার পরের দিন, তারও পরের দিন এবং পরবর্তী জুমা পর্যন্ত আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। এরপর সেই গ্রাম্য ব্যক্তি অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে এবং সম্পদ ডুবে যাচ্ছে, সুতরাং আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন তিনি তাঁর উভয় হাত তুলে বললেন: ‘হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়’। তিনি হাতের ইশারায় মেঘের যে প্রান্তের দিকেই ইঙ্গিত করছিলেন, তা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছিল এবং মদিনা গহ্বরের (১) ন্যায় হয়ে গেল (অর্থাৎ মদিনার আকাশ মেঘমুক্ত হয়ে গেল)। কানাত নামক উপত্যকাটি (২) এক মাস যাবত প্রবাহিত হলো এবং যেকোনো দিক থেকে আগত ব্যক্তিই প্রচুর বৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছিল।)) এবং অন্য শব্দে (لفظ) রয়েছে: ((অতঃপর পরবর্তী জুমায় সেই দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন

--------------------------------------------

(১) আল-জাওবাহ: ঘরবাড়ির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান, কুরতুবীর আল-মুফহিম, ২/ ৫৪৫।

(২) কানাত: মদিনার উপত্যকাসমূহের মধ্যে একটির নাম। সম্ভবত এর স্থানের নামানুসারে একে কানাত বলা হয়েছে। মুসলিম-এর কিতাব ব্যতীত অন্য গ্রন্থে এটি ইদাফাত বা সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় ‘কানাত উপত্যকা এক মাস প্রবাহিত হয়েছে’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, পূর্বোক্ত উৎস, ২/ ৫৪৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৭)
فاستقبله قائمًا فقال: يا رسول الله، هلكت الأموال وانقطعت السبل فادع الله يمسكها عنا، فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم، [وفي لفظ فضحك] قال: فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ثم قال: ((اللهم حوالينا ولا علينا، اللهم على الآكام (1)، والجبال، والظِّراب (2) وبطون الأودية، ومنابت الشجر)) قال: فانقطعت وخرجنا نمشي في الشمس)) (3).

 

‌‌النوع الثالث: الدعاء عقب الصلوات وفي الخلوات، ولا نزاع في جواز الاستسقاء بالدعاء بلا صلاة)) (4).

--------------------------------------------

(1) الآكام: جمع أكمة: وهي دون الجبال، وقال الخليل: الأكمة: هي تلٌّ، المفهم للقرطبي، 2/ 544.

(2) الظراب: الروابي، واحدتها ظرب، قال الخليل: الأكمة أعلى من الرابية، المفهم للقرطبي، 2/ 544،والظراب: صغار الجبال والتلال، جامع الأصول لابن الأثير، 6/ 203.

(3) متفق عليه: البخاري، كتاب الجمعة، باب الاستسقاء في الخطبة يوم الجمعة، برقم 933، وكتاب الاستسقاء، باب الاستسقاء في المسجد الجامع، برقم 1013، وباب الدعاء إذا كثر المطر: حوالينا ولا علينا، برقم 1021، وكتاب الأدب، باب التبسم والضحك، برقم 6093، ومسلم، كتاب الاستسقاء، باب الدعاء في الاستسقاء، برقم 897.

(4) انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 6/ 439، والإنصاف مع الشرح الكبير،

5/ 436،والمغني لابن قدامة، 3/ 348، والإحكام شرح أصول الأحكام 8/ 505.
অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান অবস্থায় তাঁর মুখোমুখি হলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সুতরাং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের থেকে তা (বৃষ্টি) থামিয়ে দেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসলেন, [অন্য বর্ণনায় এসেছে: তিনি হাসলেন] বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই হাত তুললেন এবং বললেন: ((হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে, আমাদের ওপর নয়; হে আল্লাহ, টিলা (১), পাহাড়, ছোট পাহাড় (২), উপত্যকার তলদেশ এবং বৃক্ষ জন্মানোর স্থানে (বৃষ্টি বর্ষণ করুন)))। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর বৃষ্টি থেমে গেল এবং আমরা রোদে হাঁটতে হাঁটতে বের হলাম (৩)।

 

‌‌তৃতীয় প্রকার: নামাজের পর এবং নির্জনে দোয়া করা; আর নামাজ ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা (ইস্তিসকা) করার বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই (৪)।

--------------------------------------------

(১) আ-কাম: আ-কামাহ শব্দের বহুবচন: আর তা পাহাড়ের চেয়ে নিচু ভূমি। আল-খলিল বলেন: আ-কামাহ হলো টিলা। আল-মুফহিম লি-কুরতুবি, ২/৫৪৪।

(২) জিরব: উঁচু ভূমি, এর একবচন হলো জারব। আল-খলিল বলেন: আ-কামাহ হলো রাবিয়ার (উঁচু ভূমি) চেয়েও উচ্চতর স্থান। আল-মুফহিম লি-কুরতুবি, ২/৫৪৪। আর জিরব হলো ছোট পাহাড় ও টিলা। জামি আল-উসুল লি ইবনিল আসির, ৬/২০৩।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, জুমুআ অধ্যায়, জুমুআর খুতবায় বৃষ্টির প্রার্থনার অনুচ্ছেদ, নম্বর ৯৩৩; এবং বৃষ্টির প্রার্থনা অধ্যায়, জামে মসজিদে বৃষ্টির প্রার্থনার অনুচ্ছেদ, নম্বর ১০১৩; এবং বৃষ্টি অধিক হলে দোয়ার অনুচ্ছেদ: আমাদের আশপাশে আমাদের ওপর নয়, নম্বর ১০২১; এবং আদব অধ্যায়, মুচকি হাসি ও অট্টহাসির অনুচ্ছেদ, নম্বর ৬০৯৩; এবং মুসলিম, বৃষ্টির প্রার্থনা অধ্যায়, বৃষ্টির প্রার্থনায় দোয়ার অনুচ্ছেদ, নম্বর ৮৯৭।

(৪) দেখুন: সহিহ মুসলিমের ওপর শারহে নববী, ৬/৪৩৯; এবং আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবির, ৫/৪৩৬; এবং ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৩/৩৪৮; এবং আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম ৮/৫০৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد ذكر الإمام ابن القيم - رحمه الله تعالى - أن‌‌ النبي صلى الله عليه وسلم استسقى على وجوه:

‌‌الوجه الأول: يوم الجمعة على المنبر (1).

‌‌الوجه الثاني: أنه صلى الله عليه وسلم وعد الناس يومًا يخرجون فيه إلى المصلى، فخرج إلى المصلى فاستسقى فاستقبل القبلة، وحوَّل رداءه، وصلى ركعتين (2).

‌‌الوجه الثالث: أنه استسقى على منبر المدينة استسقاء مجردًا في غير يوم جمعة، ولم يحفظ عنه في هذا اليوم صلاة (3).

‌‌الوجه الرابع: أنه استسقى وهو جالس في المسجد فرفع يديه ودعا الله عز وجل، فَحُفِظَ من دعائه: ((اللهم اسقنا

--------------------------------------------

(1) لحديث أنس، عند البخاري برقم 933، ومسلم برقم 897، وتقدم تخريجه.

(2) البخاري، كتاب الاستسقاء، باب الاستسقاء وخروج النبي صلى الله عليه وسلم في الاستسقاء، برقم 1005،ولفظه في باب سؤال الناس الإمام الاستسقاء إذا قحطوا: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج إلى المصلى فاستسقى، فاستقبل القبلة، وحول رداءه، وصلى ركعتين)) برقم 1012.

(3) انظر: سنن ابن ماجه، كتاب إقامة الصلاة، باب ما جاء في الدعاء في الاستسقاء، برقم 1270، وضعفه الألباني في ضعيف سنن ابن ماجه، برقم 1286، وإرواء الغليل، 1/ 145.
ইমাম ইবনুল কায়্যিম - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন - উল্লেখ করেছেন যে, ‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন পদ্ধতিতে বৃষ্টির প্রার্থনা (ইসতিসকা) করেছেন:

‌‌প্রথম পদ্ধতি: জুমার দিন মিম্বারের ওপর (১)।

‌‌দ্বিতীয় পদ্ধতি: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সাথে একটি দিনের ওয়াদা করেছিলেন যেদিন তারা ঈদগাহের (মুসাল্লা) দিকে বের হবে। অতঃপর তিনি ঈদগাহের দিকে বের হলেন এবং বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলেন, কিবলামুখী হলেন, তাঁর চাদর উল্টালেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন (২)।

‌‌তৃতীয় পদ্ধতি: তিনি মদিনার মিম্বারের ওপর জুমার দিন ব্যতীত সাধারণভাবে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছেন, আর এই দিনে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নামাজের কথা সংরক্ষিত নেই (৩)।

‌‌চতুর্থ পদ্ধতি: তিনি মসজিদে উপবিষ্ট অবস্থায় বৃষ্টির প্রার্থনা করেছেন এবং তাঁর হাত উত্তোলন করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। তাঁর দোয়া থেকে যা সংরক্ষিত হয়েছে তা হলো: "হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন..."

--------------------------------------------

(১) আনাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যা বুখারি-তে ৯৩৩ নম্বর এবং মুসলিম-এ ৮৯৭ নম্বরে বর্ণিত হয়েছে এবং এর তাখরিজ (সূত্রায়ন) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) বুখারি, কিতাবুল ইসতিসকা, বৃষ্টির প্রার্থনার অধ্যায় এবং বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বের হওয়া, নম্বর ১০০৫। আর 'দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে মানুষের ইমামের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করা' পরিচ্ছেদে এর শব্দাবলি হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে বের হলেন এবং বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলেন, কিবলামুখী হলেন, তাঁর চাদর উল্টালেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন", নম্বর ১০১২।

(৩) দেখুন: সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাব ইকামাতিস সালাত, বৃষ্টির প্রার্থনায় দোয়ার অধ্যায়, নম্বর ১২৭০। আলবানি এটিকে যইফ সুনান ইবনে মাজাহ-তে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, নম্বর ১২৮৬; এবং ইরওয়াউল গালিল, ১/১৪৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ১৯)
غيثًا مغيثًا مريئًا (1)، مريعًا (2)، طبقًا (3)، عاجلاً غير رائث (4)، نافعًا غي ضار)) (5).

 

‌‌الوجه الخامس: أنه استسقى عند أحجار الزيت قريبًا من الزوراء، وهي خارج باب المسجد الذي يُدعى اليوم باب السلام، نحو قذفة حجر، ينعطف عن يمين الخارج من المسجد (6).

‌‌الوجه السادس: أنه صلى الله عليه وسلم استسقى في بعض غزواته، لَمَّا سبقه

--------------------------------------------

(1) مريئًا: المري الذي يمرئ، يقال: مرأني الطعام وأمرأني، قال الفراء: يقال: هنأني الطعام، ومرأني، فإذا أتبعوها: ((هنأني)) قالوا: مرأني بغير ألف، فإذا أفردوها قالوا: أمرأني. جامع الأصول، لابن الأثير، 6/ 211.

(2) مريعًا: يروى على وجهين: بالباء والياء، فمن رواه بالياء جعله من المراعة وهي الخصب، يقال منه: مرع المكان: إذا أخصب فهو مريع، بوزن قتيل، ومن رواه بالباء، فمعناه: منبتًا للربيع، يقال: أربع الغيث يُربع فهو مربع بوزن مُكرم. جامع الأصول، لابن الأثير، 6/ 211.

(3) طبقًا: أي مائلاً إلى الأرض مغطيًا، يقال: غيث طبق: أي عام واسع.

(4) رائث: أي غير بطيء متأخر. جامع الأصول لابن الأثير، 1/ 211.

(5) أبو داود، كتاب الصلاة، باب رفع اليدين في الاستسقاء، برقم 1169، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، برقم 1169.

(6) أبو داود، كتاب الصلاة، باب رفع اليدين في الاستسقاء، برقم 1168، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، برقم 1168.
(এমন) বৃষ্টি যা উদ্ধারকারী, স্বস্তিদায়ক (مريئًا) (১), উর্বরতা দানকারী (مريعًا) (২), সর্বব্যাপী (طبقًا) (৩), দ্রুত আগমনকারী যা বিলম্বিত (رائث) নয় (৪), যা উপকারী—ক্ষতিকারক নয় (৫)।

 

‌‌পঞ্চম দিক: তিনি ‘আহজারুল জাইত’ নামক স্থানে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন যা ‘জাওরা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী, আর এটি বর্তমানে ‘বাবুস সালাম’ নামে পরিচিত মসজিদের দরজার বাইরে অবস্থিত, যা প্রায় এক ঢিল ছোড়া দূরত্বে এবং মসজিদ থেকে বের হওয়া ব্যক্তির ডান দিকে অবস্থিত (৬)।

‌‌ষষ্ঠ দিক: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোনো এক যুদ্ধে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন, যখন তাঁর অগ্রগামী ছিল...

--------------------------------------------

(১) স্বস্তিদায়ক (مريئًا): ‘আল-মরি’ হলো তা যা স্বস্তি প্রদান করে। বলা হয়: ‘খাদ্যটি আমাকে তৃপ্তি ও স্বস্তি দিয়েছে’। ফারা বলেন: বলা হয়: ‘খাদ্যটি আমার জন্য আনন্দদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক হয়েছে’। যদি তারা ‘হানিয়ানি’ শব্দের অনুগামী হিসেবে এটি ব্যবহার করেন, তবে তারা আলিফ ছাড়া ‘মারাআনি’ বলেন, আর যখন এককভাবে ব্যবহার করেন তখন ‘আমারাআনি’ বলেন। জামি আল-উসুল, ইবনুল আসির, ৬/২১১।

(২) উর্বরতা দানকারী (مريعًا): এটি দু’টি রূপে বর্ণিত হয়েছে: ‘বা’ এবং ‘ইয়া’ বর্ণযোগে। যারা ‘ইয়া’ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তারা একে ‘আল-মুরাআহ’ অর্থাৎ উর্বরতা থেকে গ্রহণ করেছেন। বলা হয়: ‘স্থানটি উর্বর হয়েছে’, তাই এটি ‘মরিউন’ (قتيل-এর ওজনে)। আর যারা ‘বা’ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো: বসন্তের ঘাস উৎপাদনকারী। বলা হয়: ‘বৃষ্টি ভূমিকে বসন্তময় করেছে’, তাই এটি ‘মুবরিউন’ (মুশরিফ-এর ওজনে)। জামি আল-উসুল, ইবনুল আসির, ৬/২১১।

(৩) সর্বব্যাপী (طبقًا): অর্থাৎ যা জমিনের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং একে আচ্ছাদিত করে ফেলে। বলা হয়: ‘ব্যাপক বৃষ্টি’, অর্থাৎ যা সাধারণ ও বিস্তৃত।

(৪) বিলম্বিত (رائث): অর্থাৎ যা ধীরগতিসম্পন্ন বা দেরি করে আসা নয়। জামি আল-উসুল, ইবনুল আসির, ১/২১১।

(৫) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, বৃষ্টির প্রার্থনায় হাত তোলার অধ্যায়, হাদিস নং ১১৬৯ এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে সহিহ সুনান আবু দাউদ-এ উল্লেখ করেছেন, হাদিস নং ১১৬৯।

(৬) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, বৃষ্টির প্রার্থনায় হাত তোলার অধ্যায়, হাদিস নং ১১৬৮ এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে সহিহ সুনান আবু দাউদ-এ উল্লেখ করেছেন, হাদিস নং ১১৬৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২০)
المشركون إلى الماء (1)،وأُغيث صلى الله عليه وسلم في كل مرَّة استسقى فيها (2).

 

‌‌خامسًا: آداب الاستسقاء كثيرة ومهمة، ومنها:

‌‌1 - إذا أصاب الناس قحط لجؤوا إلى الله تعالى وصلوا صلاة الاستسقاء؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: شكا الناس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قحوط المطر، فأمر بمنبر فَوُضِعَ له في المصلى ووعد الناس يومًا يخرجون فيه، قالت عائشة: فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بدا حاجب الشمس فقعد على المنبر، فكبَّر صلى الله عليه وسلم، وحمد الله عز وجل ثم قال: ((إنكم شكوتم جدب دياركم، واستئخار المطر عن إبَّان (3) زمانه عنكم، وقد أمركم الله عز وجل أن تدعوه ووعدكم أن يستجيب لكم)) ثم قال: ((الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، ملك يوم الدين، لا إله إلا الله يفعل ما يريد، اللهم أنت الله لا إله إلا أنت الغني ونحن الفقراء، أنزل

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد، لابن القيم، 1/ 458.

(2) المرجع السابق، 1/ 459.

(3) إبَّان: إبان الشيء: وقته وأوانه. جامع الأصول لابن الأثير، 6/ 205.
মুশরিকরা পানির দিকে (১), এবং যখনই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৃষ্টির প্রার্থনা (استسقاء) করেছেন, প্রতিবারই তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে (২)।

 

‌‌পঞ্চম: বৃষ্টির প্রার্থনা (استسقاء)-এর আদবসমূহ অনেক এবং গুরুত্বপূর্ণ, তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - যখন মানুষ অনাবৃষ্টি (قحط)-র কবলে পড়বে, তারা মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় নেবে এবং বৃষ্টির নামাজ (صلاة الاستسقاء) আদায় করবে; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বৃষ্টির অভাবের (قحوط) অভিযোগ করল, তখন তিনি একটি মিম্বরের নির্দেশ দিলেন এবং তা ঈদগাহে (مصلى) স্থাপন করা হলো। তিনি লোকদের একটি নির্দিষ্ট দিনে বের হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: যখন সূর্যের উপরিভাগ প্রকাশ পেল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং মিম্বরের উপর বসলেন। অতপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকবীর দিলেন এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন: ((নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের জনপদগুলোর শুষ্কতা এবং নির্দিষ্ট সময় (إبان) থেকে বৃষ্টির বিলম্ব সম্পর্কে অভিযোগ করেছ, অথচ মহান আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে ডাকার জন্য এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন)) তারপর বললেন: ((সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। হে আল্লাহ, আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আপনি অভাবমুক্ত (الغني) এবং আমরা অভাবী (الفقراء), আপনি বর্ষণ করুন...

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়্যিম, ১/ ৪৫৮।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র, ১/ ৪৫৯।

(৩) ইব্বান (إبَّان): কোনো জিনিসের ইব্বান বলতে তার সময় (وقت) ও উপযুক্ত কাল (أوان) বোঝায়। জামিউল উসুল লি-ইবনিল আসীর, ৬/ ২০৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২১)
علينا الغيث، واجعل ما أنزلت لنا قوةً وبلاغًا (1) إلى حين))،ثم رفع يديه فلم يزل في الرفع حتى بدا بياض إبطيه، ثم حَوَّلَ إلى الناس ظهره، وقلب – أو حوَّلَ – رداءه وهو رافع يديه، ثم أقبل على الناس ونزل فصلى ركعتين، فأنشأ الله سحابة، فرعدت وبرقت، ثم أمطرت بإذن الله، فلم يأت مسجده حتى سالت السيول، فلما رأى سرعتهم إلى الكِنِّ (2) ضحك صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه، فقال: ((أشهد أن الله على كل شيء قدير، وأني عبد الله ورسوله)) (3).

 

‌‌2 - موعظة الإمام الناس، وأمرهم بتقوى الله تعالى، والخروج عن المظالم، والتوبة من المعاصي، وتحليل بعضهم بعضًا، والصيام والصدقة، وترك التشاحن؛ لأن المعاصي سبب القحط، والتقوى سبب البركات (4)، وقد

--------------------------------------------

(1) بلاغًا: البلاغ: ما يتبلغ به ويتوصل به إلى الشيء المطلوب. جامع الأصول،6/ 205.

(2) الكنُّ: ما يرد الحر والبرد من الأبنية والمساكن. جامع الأصول، 6/ 205.

(3) أبو داود، كتاب الاستسقاء، باب رفع اليدين في الاستسقاء، برقم 1173، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود، برقم 1173.

(4) المغني، لابن قدامة، 3/ 335، والكافي، لابن قدامة أيضًا، 1/ 535.
আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন এবং আপনি যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে আমাদের জন্য শক্তির উৎস ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাথেয় (بلاغًا) (১) হিসেবে নির্ধারণ করুন)), অতঃপর তিনি হাত তুললেন এবং হাত তোলাই থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা গেল। এরপর তিনি মানুষের দিকে তাঁর পিঠ ঘুরিয়ে দিলেন এবং হাত তোলা অবস্থাতেই তাঁর চাদর উল্টে নিলেন—কিংবা পরিবর্তন করলেন—। তারপর তিনি মানুষের দিকে মুখ করলেন এবং মিম্বর থেকে নেমে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তখন আল্লাহ মেঘ সৃষ্টি করলেন, যা গর্জন করল ও বিজলী চমকাল। এরপর আল্লাহর অনুমতিতে বৃষ্টি বর্ষিত হলো। তিনি তাঁর মসজিদে পৌঁছানোর আগেই বৃষ্টির ঢল নেমে গেল। যখন তিনি আশ্রয়ের (الكِنِّ) (২) দিকে তাদের দ্রুত ছুটে চলা দেখলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হলো। অতঃপর তিনি বললেন: ((আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল)) (৩)।

 

‌‌২ - ইমামের পক্ষ থেকে মানুষকে নসিহত করা, তাদের আল্লাহভীতির (تقوى) নির্দেশ দান, জুলুম থেকে ফিরে আসা, পাপ থেকে তওবা করা, একে অপরের থেকে ক্ষমা নেওয়া, রোজা রাখা ও দান-সদকা করা এবং পারস্পরিক বিবাদ বর্জন করা; কেননা পাপাচার অনাবৃষ্টির কারণ এবং তাকওয়া (تقوى) বরকতের কারণ (৪), আর নিশ্চয়ই...

--------------------------------------------

(১) বালাগ (بلاغًا): বালাগ হলো তা-ই যার মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। জামিউল উসুল, ৬/২০৫।

(২) কিন (الكِنُّ): ঘরবাড়ি বা আবাসস্থলের এমন অংশ যা গরম ও ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। জামিউল উসুল, ৬/২০৫।

(৩) আবু দাউদ, কিতাবুল ইসতিসকা, বাবু রাফয়িল ইয়াদাইনি ফিল ইসতিসকা, হাদিস নং ১১৭৩; আলবানি একে হাসান (حسنه) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে, হাদিস নং ১১৭৩।

(৪) আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৩/৩৩৫, এবং আল-কাফি, এটিও ইবনে কুদামার রচিত, ১/৫ test ৩৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২২)
كتب عمر بن عبد العزيز إلى ميمون بن مهران: ((إني كتبت إلى أهل الأمصار أن يخرجوا يوم كذا من شهر كذا؛ ليستسقوا، ومن استطاع أن يصوم ويتصدق؛ فليفعل؛ فإن الله يقول: {قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّى * وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} (1)، وقولوا كما قال أبواكم: {قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (2)، وقولوا كما قال نوح: {وَإِلَاّ تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ} (3)، وقولوا كما قال موسى: {إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} (4)، وقولوا كما قال يونس: {لا إِلَهَ إِلا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} (5).

 

‌‌3 - يَعِدُ الإمام الناس يومًا يخرجون فيه؛ لحديث عائشة رضي الله عنها: ((شكا الناس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قحوط

--------------------------------------------

(1) سورة الأعلى، الآيتان: 14، 15.

(2) سورة الأعراف، الآية: 23.

(3) سورة هود، الآية: 47.

(4) سورة القصص، الآية: 16.

(5) أخرجه عبد الرزاق عن ابن عيينة، عن جعفر بن برقان،3/ 87،قال الشيخ عبدالوهاب بن عبد العزيز الزيد في رسالته: الاستسقاء: سننه وآدابه: ((وإسناده صحيح))، ص40.
উমর ইবনে আবদুল আজিজ মাইমুন ইবনে মিহরানের নিকট লিখেছিলেন: ((আমি বড় শহরগুলোর অধিবাসীদের নিকট লিখেছি যেন তারা অমুক মাসের অমুক দিনে বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য বের হয়; আর যে ব্যক্তি রোজা রাখতে ও দান-সদকা করতে সক্ষম, সে যেন তা করে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই সে সফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পবিত্র করেছে * এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও নামাজ আদায় করেছে} (১), আর তোমরা তা-ই বলো যা তোমাদের পিতা-মাতা বলেছিলেন: {হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি, আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} (২), আর তোমরা বলো যা নূহ বলেছিলেন: {আর আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} (৩), আর তোমরা বলো যা মুসা বলেছিলেন: {হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি নিজের নফসের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৪), আর তোমরা বলো যা ইউনুস বলেছিলেন: {আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি অতি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম} (৫)।

 

‌‌৩ - ইমাম জনগণের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করবেন যে দিনে তারা (নামাজের জন্য) বের হবে; আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস এর কারণে: ((লোকেরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট অনাবৃষ্টির অভিযোগ করল...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আলা, আয়াত: ১৪, ১৫।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২৩।

(3) সূরা হুদ, আয়াত: ৪৭।

(4) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ১৬।

(5) এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি জাফর ইবনে বুরকান থেকে, ৩/৮৭, শায়খ আবদুল ওয়াহাব বিন আবদুল আজিজ আল-জাইদ তার রিসালাহ: 'আল-ইসতিসকা: সুনানুহু ওয়া আদাবুহু'-তে বলেছেন: ((এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح))), পৃষ্ঠা ৪০।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৩)
المطر، فأمر بمنبر فَوُضعَ له في المصلى ووعد الناس يومًا يخرجوا فيه … )) (1)، والله عز وجل الموفق والمعين (2).

 

‌‌4 - وقت خروج الناس إلى الاستسقاء: الأفضل أن تُصلَّى صلاة الاستسقاء في وقت صلاة العيد؛ لحديث عائشة رضي الله عنها وفيه: (( … فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بدا حاجب الشمس فقعد على المنبر .. )) (3)، هذا هو الأفضل، وليس لصلاة الاستسقاء وقت معين لا تصح إلا فيه، إلا أنها لا تُصلَّى في وقت النهي بغير خلاف؛ لأن وقتها متسع فلا حاجة إلى فعلها في وقت النهي، والأولى فعلها في وقت العيد؛ لحديث عائشة رضي الله عنها المذكور آنفًا؛ ولأنها تشبهها في الموضع والصفة فكذلك في الوقت، إلا أن وقتها لا يفوت بزوال الشمس؛ لأنها ليس لها يوم معين فلا يكون لها وقت معين (4)،وقال ابن عبد البر –رحمه الله: ((والخروج إلى

--------------------------------------------

(1) أبو داود، برقم 1173، وتقدم تخريجه في آداب الاستسقاء.

(2) انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 335.

(3) أبو داود، برقم 1173، وتقدم تخريجه في آداب الاستسقاء.

(4) المغني لابن قدامة، 3/ 327 – 328.
বৃষ্টির (জন্য), এরপর তিনি একটি মিম্বরের নির্দেশ দিলেন এবং তা তাঁর জন্য ঈদগাহে (المصلى) স্থাপন করা হলো। তিনি লোকজনকে একটি দিনের প্রতিশ্রুতি দিলেন যেদিন তারা বের হবে … )) (১), আর মহান আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী (২)।

 

‌‌৪ - ইস্তিসকার (الاستسقاء) জন্য মানুষের বের হওয়ার সময়: উত্তম হলো ইস্তিসকার নামাজ ঈদের নামাজের সময়ে পড়া; আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: (( … এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যের উপরিভাগ প্রকাশ পাওয়ার সময় বের হলেন এবং মিম্বরের উপর বসলেন... )) (৩), এটিই হলো সর্বোত্তম। আর ইস্তিসকার নামাজের জন্য এমন কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই যা ছাড়া তা শুদ্ধ (صحيح) হবে না। তবে এটি সর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ (النهي) সময়ে পড়া যাবে না; কারণ এর সময় প্রশস্ত, তাই নিষিদ্ধ (النهي) সময়ে তা করার প্রয়োজন নেই। আর আয়েশা (রা.)-এর ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসের প্রেক্ষিতে ঈদের সময়ে তা আদায় করাই অগ্রগণ্য; যেহেতু এটি স্থান ও পদ্ধতির দিক থেকে এর (ঈদের নামাজের) সদৃশ, তাই সময়ের ক্ষেত্রেও তা-ই। তবে সূর্য ঢলে যাওয়ার (زوال) মাধ্যমে এর সময় শেষ হয়ে যায় না; কারণ এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই, ফলে এর কোনো নির্দিষ্ট সময়ও নেই (৪), আর ইবনুল আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এবং বের হওয়া...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, নম্বর ১১৭৩, এবং এর উৎস নির্দেশ (تخريجه) ইস্তিসকার আদব অধ্যায়ে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(২) দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি, ৩/৩৩৫।

(৩) আবু দাউদ, নম্বর ১১৭৩, এবং এর উৎস নির্দেশ (تخريجه) ইস্তিসকার আদব অধ্যায়ে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৪) ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি, ৩/৩২৭ – ৩২৮।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৪)
الاستسقاء في وقت خروج الناس إلى العيد عند جماعة العلماء، إلا أبا بكر بن محمد بن عمرو بن حزم؛ فإنه قال: الخروج إليها عند زوال الشمس)) (1).

 

‌‌5 - تُصلى صلاة الاستسقاء في الصحراء، وهذا هو الأفضل؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم صلاها في الصحراء كصلاة العيد (2)؛لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: ((شكا الناس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قحوط المطر، فأمر بمنبر فوضع له في المصلى ووعد الناس يومًا يخرجون فيه … )) (3)؛ولحديث عبد الله بن زيد المازني رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المصلى فاستسقى فاستقبل القبلة، [فجعل إلى الناس ظهره يدعو الله]، وحوّل رداءه حين استقبل القبلة ثم صلى ركعتين يجهر فيهما بالقراءة)) (4).

--------------------------------------------

(1) التمهيد لابن عبد البر، 17/ 175.

(2) المغني، لابن قدامة، 3/ 334، والكافي له، 1/ 533، والروض المربع، 2/ 541.

(3) أبو داود، برقم 1173، وتقدم تخريجه في آداب الاستسقاء.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الاستسقاء، باب الاستسقاء، وخروج النبي صلى الله عليه وسلم في الاستسقاء، برقم 1005، وباب تحويل الرداء في الاستسقاء، برقم 1011، ورقم 1012، وباب الدعاء في الاستسقاء قائمًا، برقم 1023، وباب الجهر بالقراءة في الاستسقاء، برقم 1024، وباب كيف حوّل النبي صلى الله عليه وسلم ظهره إلى الناس، برقم 1025، وباب صلاة الاستسقاء ركعتين، برقم 1026، وباب الاستسقاء في المصلى، برقم 1027،وباب استقبال القبلة في الاستسقاء، برقم 1028،ومسلم، كتاب الاستسقاء، باب كتاب صلاة الاستسقاء، برقم 894.
বিদ্বানগণের জামাতের নিকট ইসতিসকা বা বৃষ্টির প্রার্থনার সময় হলো যখন মানুষ ঈদের জন্য বের হয়, তবে আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাযম ব্যতীত; কেননা তিনি বলেছেন: সূর্য ঢলে পড়ার সময় এর জন্য বের হতে হবে (১)।

 

‌‌৫ - ইসতিসকার নামাজ উন্মুক্ত প্রান্তরে আদায় করা হয়, এবং এটিই উত্তম; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি ঈদের নামাজের ন্যায় উন্মুক্ত প্রান্তরে আদায় করেছেন (২); আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "লোকেরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনাবৃষ্টির অভিযোগ করল, তখন তিনি একটি মিম্বরের নির্দেশ দিলেন এবং তা ঈদগাহে স্থাপন করা হলো। তিনি লোকদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করলেন যেদিন তারা বের হবে..." (৩); এবং আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল-মাযিনী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহের দিকে বের হলেন এবং বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হলেন, [মানুষের দিকে পিঠ ফিরিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন] এবং কিবলামুখী হওয়ার সময় নিজের চাদর উল্টালেন। এরপর তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন যাতে সশব্দে কিরাত পাঠ করলেন" (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্দুল বার রচিত আত-তামহিদ, ১৭/১৭৫।

(২) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/৩৩৪, এবং তার রচিত আল-কাফি, ১/৫৩৩, এবং আর-رওদুল মুরবি, ২/৫৪১।

(৩) আবু দাউদ, হাদিস নং ১১৭৩, এবং এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ইসতিসকার আদবসমূহ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

(৪) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল ইসতিসকা, ইসতিসকা অনুচ্ছেদ, এবং ইসতিসকার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বের হওয়া অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০০৫, এবং ইসতিসকায় চাদর উল্টানো অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০১১, ১০১২, এবং দাঁড়িয়ে ইসতিসকার দোয়া করা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০২৩, এবং ইসতিসকায় উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০২৪, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে মানুষের দিকে পিঠ ফিরালেন অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০২৫, এবং দুই রাকাত ইসতিসকার নামাজ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০২৬, এবং ঈদগাহে ইসতিসকা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০২৭, এবং ইসতিসকায় কিবলামুখী হওয়া অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১০২৮, এবং মুসলিম, কিতাবুল ইসতিসকা, ইসতিসকার নামাজ অধ্যায়, হাদিস নং ৮৯৪।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌6 - يخرج الإمام والناس في تواضعٍ، وتبذّلٍ وتخشّعٍ، وتضرّعٍ؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما – فعن إسحاق بن عبد الله بن كِنانة قال: أرسلني الوليد بن عقبة – وكان أمير المدينة – إلى ابن عباس أسأله عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في الاستسقاء، فقال ابن عباس رضي الله عنهما: ما منعه أن يسألني؟ [ثم قال ابن عباس رضي الله عنهما]: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم مُتبذِّلا (1)، متواضعًا، متضرِّعًا (2)، [متخشِّعًا، مترسِّلاً] (3) حتى أتى المصلى، ولم يخطب كخطبتكم هذه، ولكن لم يزل في الدعاء، والتضرع، والتكبير، ثم صلى ركعتين كما

--------------------------------------------

(1) متبذلاً: التبذل: ترك التزين والتهيؤ بالهيئة الحسنة الجميلة. جامع الأصول، لابن الأثير، 6/ 192.

(2) متضرعًا: التضرع: المبالغة في السؤال والرغبة. جامع الأصول، 6/ 192.

(3) مترسلاً: يقال: ترسل الرجل في كلامه ومشيه إذا لم يعجل.
‌‌৬ - ইমাম এবং লোকজন বিনয়, অনাড়ম্বর বেশভূষা নম্রতা ও কাকুতি-মিনতির সাথে বের হবেন; ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের কারণে—ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কিনানাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে উকবাহ—যিনি মদিনার আমির ছিলেন—আমাকে ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসতিসকার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন। তখন ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) বললেন: তিনি কেন সরাসরি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন না? [অতঃপর ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) বললেন]: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতি সাধারণ বেশভূষায় (১), বিনয়ের সাথে, কাকুতি-মিনতি (২) করে, [নম্রতা ও ধীরস্থিরভাবে] (৩) বের হলেন যতক্ষণ না তিনি ঈদগাহে পৌঁছালেন। তিনি তোমাদের বর্তমানের এই খুতবার মতো খুতবা দেননি, বরং তিনি দোয়া, প্রার্থনা ও তাকবির পাঠ অব্যাহত রেখেছিলেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যেমনটি

--------------------------------------------

(১) মুতাবাহযিলান: আত-তাবাযযুল হলো সৌন্দর্য চর্চা ও সুসজ্জিত হওয়া পরিহার করা। জামিউল উসুল, ইবনুল আসির, ৬/ ১৯২।

(২) মুতাদাররিআন: আত-তাদাররু হলো প্রার্থনায় ঐকান্তিকতা ও গভীর আগ্রহ প্রকাশ করা। জামিউল উসুল, ৬/ ১৯২।

(৩) মুতারাসসিলান: বলা হয়, ব্যক্তি তার কথা ও চলায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করল যখন সে তাড়াহুড়ো করে না।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৬)
كان يصلي في العيد)) (1).

 

‌‌7 - خروج الصبيان والنساء في الاستسقاء لا بأس به بشروطه، قال الإمام ابن قدامة – رحمه الله تعالى -: ((ويستحب الخروج لكافة الناس، وخروج من كان ذا دين، وستر وصلاح، والشيوخ أشد استحبابًا؛ لأنه أسرع للإجابة، فأما النساء فلا بأس بخروج العجائز ومن لا هيئة لها، فأما الشواب وذوات الهيئة فلا يستحب لهن الخروج؛ لأن الضرر في خروجهن أكثر من النفع، ولا يستحب إخراج البهائم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعله)) (2).

‌‌8 - لا أذان ولا إقامة لصلاة الاستسقاء؛ لحديث عبد الله بن يزيد الأنصاري، قال أبو إسحاق: خرج عبد الله بن يزيد

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الصلاة، باب جُمّاع أبواب صلاة الاستسقاء، وتفريعها، برقم 1165، والترمذي، كتاب الجمعة، باب ما جاء في صلاة الاستسقاء، برقم 558، والنسائي، كتاب الاستسقاء، باب الحال التي يستحب للإمام أن يكون عليها إذا خرج، برقم 1505، وباب جلوس الإمام على المنبر للاستسقاء، برقم 1507، وابن ماجه، كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها، باب ما جاء في صلاة الاستسقاء، برقم 1281، وحسنه الألباني في صحيح سنن النسائي، 1/ 486، وفي غيره.

(2) المغني، لابن قدامة، 3/ 335، والكافي له، 1/ 535.
((তিনি ঈদের দিনে সালাত আদায় করতেন)) (১)।

 

‌‌৭ - বৃষ্টির দোয়ার সালাতে (ইস্তিসকা) শিশু ও মহিলাদের বের হওয়া শর্তসাপেক্ষে এতে কোনো বাধা নেই। ইমাম ইবনে কুদামা —রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা— বলেছেন: ((সকল মানুষের জন্য বের হওয়া পছন্দনীয় (مستحب), এবং যারা ধার্মিক, পর্দানশীন ও নেককার তাদের বের হওয়া, আর বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি পছন্দনীয় (مستحب); কারণ এটি দ্রুত দোয়া কবুলের সহায়ক। পক্ষান্তরে নারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধা এবং যাদের প্রতি সাধারণত আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না তাদের বের হওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যুবতী এবং সুন্দরী নারীদের জন্য বের হওয়া পছন্দনীয় (مস্তাহাব) নয়; কারণ তাদের বের হওয়ার মধ্যে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। আর গবাদিপশু বের করা পছন্দনীয় (مستحب) নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি)) (২)।

‌‌৮ - বৃষ্টির দোয়ার সালাতের (ইস্তিসকা) জন্য কোনো আজান ও ইকামাত নেই; কারণ আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-আনসারী বর্ণিত হাদিস, আবু ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ বের হলেন

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, বৃষ্টির দোয়ার সালাত সংক্রান্ত বিবিধ পরিচ্ছেদের সমষ্টি, হাদিস নং ১১৬৫; তিরমিজি, কিতাবুল জুমুআ, ইস্তিসকার সালাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৫৮; নাসাঈ, কিতাবুল ইস্তিসকা, ইমাম বের হওয়ার সময় যে অবস্থায় থাকা পছন্দনীয় (مستحب) পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৫০৫, এবং বৃষ্টির দোয়ার জন্য ইমামের মিম্বরে বসা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৫০৭; ইবনে মাজাহ, কিতাব ইকামাতুস সালাত ওয়াস সুন্নাহ ফীহা, ইস্তিসকার সালাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১২৮১; আলবানী একে সহিহ সুনান আন-নাসাঈ, ১/৪৮৬ এবং অন্যান্য গ্রন্থে হাসান (حسن) বলেছেন।

(২) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/৩৩৫ এবং তাঁর রচিত আল-কাফি, ১/৫৩৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأنصاري، وخرج معه البراء بن عازب، وزيد بن أرقم رضي الله عنهم فاستسقى فقام بهم على رجليه، على غير منبر، فاستسقى فقام بهم على رجليه، على غير منبر، فاستسقى ثم صلى ركعتين يجهر بالقراءة ولم يؤذن ولم يقم، قال أبو إسحاق: ورأى عبد الله بن يزيد النبي صلى الله عليه وسلم)) (1)، وقال حارثة بن مضرب العبدي: ((خرجنا مع أبي موسى نستسقي فصلى بنا ركعتين من غير أذان ولا إقامة)) (2)، قال الإمام ابن قدامة – رحمه الله: ((ولا يسن لها أذان ولا إقامة، ولا نعلم فيه خلافًا)) (3).

 

‌‌9 - الاستسقاء بدعاء الصالحين سُنَّة؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: ((ربما ذكرت قول الشاعر وأنا أنظر إلى وجه النبي صلى الله عليه وسلم يستسقي فما ينزل حتى يجيش كل ميزاب:

وأبيض يُستسقى الغمام بوجهه … ثِمالُ (4) اليتامى عصمةً للأرامل

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الاستسقاء، باب الدعاء في الاستسقاء قائمًا، برقم 1022.

(2) ابن أبي شيبة، 2/ 221.

(3) المغني لابن قدامة، 3/ 337.

(4) ((ثِمالُ)) أي: غياث.
আল-আনসারি, এবং তাঁর সাথে বারা ইবনে আযিব ও যায়েদ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বের হলেন। অতঃপর তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং তাদের নিয়ে দণ্ডায়মান হলেন, মিম্বর ব্যতিরেকে। তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং তাদের নিয়ে দণ্ডায়মান হলেন, মিম্বর ব্যতিরেকে। তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন, অতঃপর দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যাতে তিনি সশব্দে কিরাত পাঠ করলেন, আর তাতে আযান দেওয়া হয়নি এবং ইকামতও দেওয়া হয়নি। আবু ইসহাক বলেন: “আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছেন” (১)। হারিসাহ ইবনে মুদাররিব আল-আবদি বলেন: “আমরা আবু মুসার সাথে বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য বের হলাম, অতঃপর তিনি আযান ও ইকামত ছাড়াই আমাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন” (২)। ইমাম ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এর জন্য আযান বা ইকামত সুন্নাহ (سنة) নয়, এবং এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই” (৩)।

 

‌‌৯ - নেককার ব্যক্তিদের দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা সুন্নাহ (سنة); ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে, তিনি বলেন: “মাঝে মাঝে আমি কবির পঙক্তি স্মরণ করতাম যখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতাম যে তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করছেন, আর তিনি মিম্বর থেকে নামার আগেই প্রতিটি নালা উপচে পড়ত:

তিনি এমন এক শুভ্রোজ্জ্বল সত্তা যাঁর চেহারার অসিলায় মেঘমালার নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয় … ইয়াতীমদের আশ্রয়দাতা (৪) ও বিধবাদের রক্ষাকারী।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুল ইসতিসকা, দাঁড়িয়ে বৃষ্টির প্রার্থনা করার অধ্যায়, হাদিস নং ১০২২।

(২) ইবনে আবি শাইবাহ, ২/২২১।

(৩) আল-মুগনি লি ইবনু কুদামা, ৩/৩৩৭।

(৪) ‘আশ্রয়দাতা’ (ثمال) অর্থাৎ: সাহায্যকারী বা উদ্ধারকারী।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو قول أبي طالب (1).

وعن أنس رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كان إذا قحطوا استسقى بالعباس بن عبد المطلب، فقال: اللهم إنا كنا نتوسل إليك بنبينا صلى الله عليه وسلم فتسقينا، وإنا نتوسل إليك بعمِّ نبينا فاسقنا، قال: فيسقون)) (2).

والمعنى أنهم كانوا يستسقون بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم كما تقدم في حديث أنس رضي الله عنه حينما قال رجل: يا رسول الله: هلك المال، وجاع العيال، فادع الله لنا، فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ثم قال: ((اللهم أغثنا، اللهم أغثنا، اللهم أغثنا)) فنزل المطر بإذن الله عز وجل (3)، وعندما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وقحط الناس استسقى عمر رضي الله عنه بعمِّ رسول الله صلى الله عليه وسلم العباس بن عبد المطلب رضي الله عنه في حياته، وذلك بأن يدعو الله لهم.

وعلى هذا كان المسلمون وأئمتهم يستسقون بدعاء

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الاستسقاء، باب سؤال الناس الإمام الاستسقاء إذا قحطوا، برقم 1008، ورقم 1009.

(2) البخاري، كتاب الاستسقاء، باب سؤال الناس الإمام الاستسقاء إذا قحطوا، برقم 1010.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 933، ومسلم، برقم 897، وتقدم تخريجه في أنواع الاستسقاء.
আর এটি হলো আবু তালিবের বক্তব্য (১)।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, যখনই দুর্ভিক্ষ দেখা দিত, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আমরা ইতিপূর্বে আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে আপনার কাছে প্রার্থনা করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: ফলে তাদের বৃষ্টি দান করা হতো (২)।

এর অর্থ হলো, তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন, যেমনটি ইতিপূর্বে আনাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন এক ব্যক্তি এসে বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার-পরিজন ক্ষুধার্ত থাকছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত দুটি উত্তোলন করলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের সাহায্য করুন, হে আল্লাহ! আমাদের সাহায্য করুন, হে আল্লাহ! আমাদের সাহায্য করুন।" অতঃপর মহান আল্লাহর নির্দেশে বৃষ্টি বর্ষিত হলো (৩)। আর যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ল, তখন ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় থাকা অবস্থায় তাঁর চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন। আর তা ছিল মূলত আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করার মাধ্যমে।

আর এর ওপর ভিত্তি করেই মুসলিমগণ এবং তাঁদের ইমামগণ দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুল ইসতিসকা, দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইমামের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনার অধ্যায়, নম্বর ১০০৮ এবং ১০০৯।

(২) বুখারি, কিতাবুল ইসতিসকা, দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইমামের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনার অধ্যায়, নম্বর ১০১০।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, নম্বর ৯৩৩ এবং মুসলিম, নম্বর ৮৯৭। বৃষ্টির প্রার্থনার প্রকারভেদ আলোচনায় এর তাখরিজ (تخريج) ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ২৯)
الصالحين في حياتهم، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ويستحب أن يستسقي الإمام بمن ظهر صلاحه؛ لأن عمر رضي الله عنه استسقى بالعباس عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، واستسقى معاوية والضحاك بيزيد بن الأسود الجرشي)) (1).

 

‌‌سادسًا: كيفية صلاة الاستسقاء: كصلاة العيد؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: (( … خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم متبذِّلاً، متواضعًا، متضرعًا، متخشِّعًا، مترسِّلاً، حتى أتى المصلى ولم يخطب كخطبتكم هذه (2)، ولكن لم يزل في الدعاء، والتضرع، والتكبير، ثم صلى ركعتين كما كان يصلي في العيد)) (3).

وهذا يؤكد قول الجمهور أن صلاة الاستسقاء تُصلَّى كما تُصلَّى صلاة العيد: في العدد، والجهر بالقراءة، والتكبيرات،

--------------------------------------------

(1) الكافي، لابن قدامة، 1/ 535، والمغني له، 3/ 346.

(2) قوله: ((ولم يخطب كخطبتكم هذه)) المعنى نفي للصفة لا لأصل الخطبة: أي لم يخطب كخطبتكم هذه إنما كان جل خطبته الدعاء والتضرع … )).المغني لابن قدامة، 3/ 339.

(3) أبو داود، برقم 1165، والترمذي، برقم 558، والنسائي برقم 1505، 1507، وابن ماجه، برقم 1281، وغيرهم، وتقدم تخريجه في آداب الاستسقاء.
সৎকর্মশীলদের জীবদ্দশায় তাদের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ইমামের জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো এমন ব্যক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা যার নেক আমল প্রকাশ্য; কারণ উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচা আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন এবং মুআবিয়া ও দাহহাক ইয়াজিদ ইবনুল আসওয়াদ আল-জুরাশির মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন)) (১)।

 

‌‌ষষ্ঠ: সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত) আদায়ের পদ্ধতি: ঈদের সালাতের ন্যায়; ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: (( … রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত সাদাসিধেভাবে, বিনম্রভাবে, অনুনয়-বিনয় সহকারে, ভক্তিভরে এবং ধীরস্থিরভাবে বের হলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি ঈদগাহে পৌঁছালেন। তিনি তোমাদের এই খুতবার মতো খুতবা দেননি (২), বরং তিনি নিরন্তর দোয়া, বিনতি এবং তাকবির পাঠে রত ছিলেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন ঠিক যেমনটি তিনি ঈদের সালাতে আদায় করতেন)) (৩)।

এটি অধিকাংশ আলিম (جمهور)-এর অভিমতকে শক্তিশালী করে যে, সালাতুল ইস্তিসকা ঈদের সালাতের পদ্ধতিতেই আদায় করা হবে: রাকাত সংখ্যা, উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ এবং তাকবিরসমূহের ক্ষেত্রে।

--------------------------------------------

(১) আল-কাফি, ইবনে কুদামা কৃত, ১/ ৫৩৫ এবং আল-মুগনি, ৩/ ৩৪৬।

(২) তাঁর উক্তি: ((তোমাদের এই খুতবার মতো খুতবা দেননি)) এর অর্থ হলো পদ্ধতির অস্বীকৃতি, খুতবার মূল ভিত্তি বা অস্তিত্বের অস্বীকৃতি নয়: অর্থাৎ তিনি তোমাদের বর্তমানের প্রচলিত খুতবার মতো খুতবা দেননি বরং তাঁর খুতবার অধিকাংশ জুড়ে ছিল দোয়া এবং অনুনয়-বিনয় … ))। আল-মুগনি, ইবনে কুদামা কৃত, ৩/ ৩৩৯।

(৩) আবু দাউদ, হাদিস নং ১১৬৫; তিরমিজি, হাদিস নং ৫৫৮; নাসাঈ, হাদিস নং ১৫০৫, ১৫০৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১২৮১ এবং অন্যান্য। এর উৎস নিরূপণ (تخريج) পূর্বে 'বৃষ্টি প্রার্থনার আদব' অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ইস্তিসকা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وجواز الخطبة في الاستسقاء بعد الصلاة؛ لأنها في معناها إلا أنه لا وقت لصلاة الاستسقاء، ولكنها لا تفعل في وقت النهي بلا خلاف (1)، والأفضل أن تُصلّى في وقت صلاة العيد (2)؛ لحديث عائشة رضي الله عنها وغيره (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الإنصاف للمرداوي مع المقنع والشرح الكبير،5/ 411،والمغني، لابن قدامة، 3/ 335، والكافي له، 1/ 533، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 2/ 541.

(2) انظر: في صفة صلاة العيد بالتفصيل ما تقدم في صلاة العيدين ((صفة صلاة العيد)).

(3) اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في صفة صلاة الاستسقاء، وهل تقدم على الخطبة أو تؤخر عنها: وقد ذكر الإمام ابن قدامة رحمه الله: أنه لا يعلم بين القائلين بصلاة الاستسقاء خلافًا في أنها ركعتان، وأن الرواية قد اختلفت في صفتها. فروي أنه يكبر فيهما تكبيرات العيد: سبعًا في الأولى، وخمسًا في الثانية، قال: وهو قول: سعيد بن المسيب، وعمر بن عبد العزيز، وأبي بكر محمد بن عمر بن حزم، وداود، والشافعي، وحكي عن ابن عباس؛ لقول ابن عباس رضي الله عنهما: ((وصلى ركعتين كما كان يصلي في العيد))، وروى جعفر بن محمد عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم، وأبا بكر، وعمر، كانوا يصلون صلاة الاستسقاء يكبرون فيها: سبعًا وخمسًا [أخرجه عبد الرزاق في باب الاستسقاء مع كتاب الصلاة، في المصنف، 3/ 85] قال ابن قدامة – رحمه الله: ((والرواية الثانية أنه يصلي ركعتين كصلاة التطوع، وهو مذهب مالك، والأوزاعي، وأبي ثور، وإسحاق؛ لأن عبد الله بن زيد قال: ((خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى المصلى فاستقبل القبلة وحول رداءه، وصلى ركعتين)) وفي لفظ: ((استسقى فصلى ركعتين وقلب رداءه)) [متفق عليه: البخاري، برقم 1012، ورقم 1026، ومسلم، برقم 894] ولم يذكر التكبير، وظاهره أنه لم يكبر، وهذا ظاهر كلام الخرقي، وكيفما فعل كان جائزًا حسنًا.

* وقال أبو حنيفة: لا تسن صلاة الاستسقاء ولا الخروج لها؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم استسقى على المنبر يوم الجمعة، ولم يصلِّ لها، واستسقى عمر بالعباس ولم يصلِّ، وليس هذا بشيء؛ فإنه قد ثبت بما رواه عبد الله بن زيد وابن عباس، وأبو هريرة، أنه خرج صلى الله عليه وسلم، وصلى، وما ذكروه لا يعارض ما رووه؛ لأنه يجوز الدعاء بغير صلاة، وفعل النبي صلى الله عليه وسلم لِمَا ذكروه لا يمنع فعل ما ذكرناه، بل قد فعل النبي صلى الله عليه وسلم الأمرين، قال ابن المنذر: ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الاستسقاء وخطب، وبه قال عوامُّ أهل العلم إلا أبا حنيفة، وخالفه أبو يوسف ومحمد بن الحسن، فوافقا سائر العلماء، والسنة يستغنى بها عن كل قول، ويسن أن يجهر بالقراءة؛ لِمَا روى عبد الله بن زيد قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المصلى فاستسقى فاستقبل القبلة [فجعل إلى الناس ظهره يدعو الله] وحول رداءه حين استقبل القبلة، ثم صلى ركعتين يجهر فيهما بالقراءة)) [متفق عليه: البخاري، برقم 1005، ورقم 1011، ورقم 1012، ورقم 1023، ورقم 1024، ورقم 1025، ورقم 1026، ورقم 1027، ورقم 1028، ومسلم، برقم 894] وإن قرأ فيهما بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى}، و {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ} فحسن؛ لقول ابن عباس رضي الله عنهما: صلّى ركعتين كما كان يصلي في العيد [رواه أهل السنن وتقدم تخريجه] [المغني لابن قدامة، 3/ 335 - 337 ببعض التصرف].

* وقال الإمام النووي رحمه الله: ((أجمع العلماء على أن للاستسقاء سنة، واختلفوا هل تسن له صلاة أم لا، فقال أبو حنيفة: لا تسن له صلاة، بل يستسقى بالدعاء بلا صلاة، وقال سائر العلماء من السلف والخلف: الصحابة والتابعون فمن بعدهم تسن الصلاة، ولم يخالف فيه إلا أبو حنيفة، وتعلق بأحاديث الاستسقاء التي ليس فيها صلاة، واحتج الجمهور بالأحاديث الثابتة في الصحيحين وغيرهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى للاستسقاء ركعتين، وأما الأحاديث التي ليس فيها ذكر الصلاة فبعضها محمول على نسيان الراوي، وبعضها كان في الخطبة للجمعة، ويتعقبه الصلاة للجمعة فاكتفى بها ولو لم يصلِّ أصلاً كان بيانًا لجواز الاستسقاء بالدعاء بلا صلاة، ولا خلاف في جوازه، وتكون الأحاديث المثبتة للصلاة مقدمة؛ لأنها زيادة علم، ولا معارضة بينهما، قال أصحابنا: الاستسقاء ثلاثة أنواع: أحدها الاستسقاء بالدعاء من غير صلاة، الثاني: الاستسقاء في خطبة الجمعة أو في أثر صلاة مفروضة وهو أفضل من النوع الذي قبله، والثالث: وهو أكملها أن يكون بصلاة ركعتين وخطبتين، ويتأهب قبله بصدقة، وصيام، وتوبة، وإقبال على الخير، ومجانبة الشر، ونحو ذلك من طاعة الله تعالى)) [شرح النووي على صحيح مسلم، 6/ 439].

* وقد قال الإمام القرطبي رحمه الله: ((حديث عبد الله بن زيد يقتضي أن سنة الاستسقاء: الخروج إلى المصلى، والخطبة، والصلاة، وبذلك قال جمهور العلماء … )) [المفهم للقرطبي، 2/ 538]. وانظر في صفة صلاة العيد أيضًا: [فتح الباري، لابن حجر، 2/ 499 - 501، والإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن، 4/ 319 - 323، والمفهم للقرطبي، 2/ 539، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 654].

নামাজের পর ইস্তিসকার (বৃষ্টি কামনার) খুতবা প্রদানের বৈধতা রয়েছে; কেননা এটি এর (ঈদের খুতবার) অনুরূপ, তবে ইস্তিসকার নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, কিন্তু তা কোনো মতভেদ ছাড়াই নিষিদ্ধ সময়ে (وقت النهي) আদায় করা যাবে না (১)। আর উত্তম হলো এটি ঈদের নামাজের সময়ে আদায় করা (২); আয়েশা (রা.)-এর হাদিস ও অন্যান্য বর্ণনার কারণে (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইনসাফ লিল মারদাউয়ি মাআল মুকনি ওয়াশ শারহুল কাবির, ৫/৪১১; আল-মুগনি লি ইবনে কুদামা, ৩/৩৩৫; আল-কাফি লাহু, ১/৫৩৩; এবং আর-রওদুল মুরবি মাআ হাশিয়াতি ইবনে কাসিম, ২/৫৪১।

(২) দেখুন: ঈদের নামাজের পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ যা পূর্বে 'ঈদের নামাজের পদ্ধতি' অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) আলিমগণ (রহিমাহুমুল্লাহ তাআলা) ইস্তিসকার নামাজের পদ্ধতি এবং এটি খুতবার আগে হবে নাকি পরে হবে, সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন: ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে: যারা ইস্তিসকার নামাজের প্রবক্তা তাদের মধ্যে এটি দুই রাকাত হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ আছে বলে তার জানা নেই, তবে এর পদ্ধতির বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। বর্ণিত হয়েছে যে, এতে ঈদের নামাজের মতো তাকবির দেওয়া হবে: প্রথম রাকাতে সাতটি এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি। তিনি বলেন: এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে হাযম, দাউদ এবং শাফিঈ-এর অভিমত। ইবনে আব্বাস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে; কারণ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: "তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন যেভাবে তিনি ঈদে নামাজ পড়তেন।" জাফর ইবনে মুহাম্মদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.), আবু বকর এবং উমর ইস্তিসকার নামাজ পড়তেন এবং তাতে সাতটি ও পাঁচটি তাকবির দিতেন [আব্দুর রাজ্জাক এটি আল-মুসান্নাফ গ্রন্থের কিতাবুস সালাতের অন্তর্গত ইস্তিসকা পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, ৩/৮৫]। ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন: "দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো যে, তিনি সাধারণ নফল (تطوع) নামাজের মতো দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। এটি মালিক, আওজাই, আবু সাওর এবং ইসহাকের মাযহাব; কারণ আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ বলেছেন: 'নবী (সা.) ঈদগাহের দিকে বের হলেন, কিবলামুখী হলেন, চাদর উল্টালেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়লেন।' অন্য শব্দে এসেছে: 'তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে চাদর উল্টালেন' [সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১০১২, নং ১০২৬; মুসলিম, হাদিস নং ৮৯৪]। এতে তাকবিরের কথা উল্লেখ নেই, যার বাহ্যিক অর্থ হলো তিনি অতিরিক্ত তাকবির দেননি। খিরাকির বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থও এটিই। যে পদ্ধতিতেই করা হোক তা বৈধ ও উত্তম।"

* আবু হানিফা বলেন: ইস্তিসকার নামাজ বা এর জন্য বের হওয়া সুন্নাহ নয়; কারণ নবী (সা.) জুমার দিন মিম্বারে বসে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন কিন্তু নামাজ পড়েননি, এবং উমর (রা.) আব্বাস (রা.)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন কিন্তু নামাজ পড়েননি। তবে এ বক্তব্যটি সঠিক নয়; কারণ আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ, ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে নবী (সা.) বের হয়েছেন এবং নামাজ পড়েছেন। তারা যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণিত হাদিসের বিরোধী নয়; কারণ নামাজ ছাড়াই দোয়া করা বৈধ। তারা যা উল্লেখ করেছেন নবী (সা.)-এর সেই কাজ আমাদের বর্ণিত কাজের পরিপন্থী নয়, বরং নবী (সা.) উভয়টিই করেছেন। ইবনে মুনযির বলেছেন: এটি সাব্যস্ত যে নবী (সা.) ইস্তিসকার নামাজ পড়েছেন এবং খুতবা দিয়েছেন। আবু হানিফা ছাড়া প্রায় সকল আলিম একমত পোষণ করেছেন, আর আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান তার বিরোধিতা করে অন্যান্য আলিমের সাথে একমত হয়েছেন। সুন্নাহর উপস্থিতিতে অন্য কোনো মতের প্রয়োজন নেই। আর কেরাত উচ্চস্বরে (جهر) পড়া সুন্নাহ; কারণ আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: 'রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদগাহে বের হলেন, বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং কিবলামুখী হলেন [লোকদের দিকে পিঠ দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন] এবং কিবলামুখী হওয়ার সময় তার চাদর উল্টালেন, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়লেন যাতে তিনি উচ্চস্বরে কেরাত পাঠ করেছেন' [সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১০০৫, ১০১১, ১০১২, ১০২৩, ১০২৪, ১০২৫, ১০২৬, ১০২৭, ১০২৮; মুসলিম, হাদিস নং ৮৯৪]। যদি এই দুই রাকাতে সূরা 'সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা' এবং 'হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ' পাঠ করা হয় তবে তা উত্তম; কারণ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উক্তি হলো: তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন যেভাবে তিনি ঈদে নামাজ পড়তেন [সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে] [আল-মুগনি লি ইবনে কুদামা, ৩/৩৩৫-৩৩৭, সামান্য পরিমার্জিত]।

* ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "আলিমগণ একমত হয়েছেন যে ইস্তিসকার জন্য সুন্নাহ রয়েছে, তবে এর জন্য নামাজ সুন্নাহ কি না তা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন। আবু হানিফা বলেছেন: এর জন্য কোনো নামাজ সুন্নাহ নয়, বরং নামাজ ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হবে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য সকল আলিম—সাহাবী, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তীগণ—বলেছেন নামাজ সুন্নাহ। এ বিষয়ে কেবল আবু হানিফা ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং তিনি ইস্তিসকার ঐ সকল হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন যাতে নামাজের উল্লেখ নেই। অন্যদিকে বিদ্বানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (الجمهور) সহিহায়ন এবং অন্যান্য গ্রন্থের প্রমাণিত হাদিসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইস্তিসকার জন্য দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন। আর যেসব হাদিসে নামাজের উল্লেখ নেই, তার কোনোটি বর্ণনাকারীর বিস্মৃতির ওপর নির্ভরশীল, আবার কোনোটি জুমার খুতবার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এরপর জুমার নামাজ পড়ার কারণে সেটিই যথেষ্ট হয়েছে। এমনকি যদি তিনি মোটেও নামাজ না পড়তেন, তবে তা নামাজ ছাড়া দোয়া করে ইস্তিসকার বৈধতা বর্ণনার জন্য হতো, যা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। আর নামাজ সাব্যস্তকারী হাদিসসমূহ অগ্রাধিকার পাবে; কারণ এতে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আমাদের (শাফিঈ মাযহাবের) অনুসারীরা বলেন: ইস্তিসকা তিন প্রকার: প্রথমটি হলো নামাজ ছাড়া কেবল দোয়ার মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি হলো জুমার খুতবায় বা ফরজ নামাজের পর, যা পূর্ববর্তী প্রকারের চেয়ে উত্তম। তৃতীয়টি হলো—যা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ—দুই রাকাত নামাজ ও দুটি খুতবার মাধ্যমে হওয়া। এর পূর্বে দান-সদকা, রোজা, তওবা, নেক কাজের প্রতি আগ্রহ এবং পাপাচার বর্জনের মতো আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে" [শরহুন নববী আলা সহিহ মুসলিম, ৬/৪৩৯]।

* ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেছেন: "আব্দুল্লাহ বিন যায়েদের হাদিস দাবি করে যে ইস্তিসকার সুন্নাহ হলো: ঈদগাহে গমন, খুতবা এবং নামাজ। বিদ্বানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (جمهور العلماء) এ মতই পোষণ করেছেন..." [আল-মুফহিম লিল কুরতুবি, ২/৫৩৮]। ঈদের নামাজের পদ্ধতির বিষয়ে আরও দেখুন: [ফাতহুল বারি লি ইবনে হাজার, ২/৪৯৯-৫০১; আল-ইলাম বি ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম লি ইবনুল মুলাক্কিন, ৪/৩১৯-৩২৩; আল-মুফহিম লিল কুরতুবি, ২/৫৩৯; নাইলুল আওতার লিশ শাওকানি, ২/৬৫৪]।