(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
الله يتجلى في عصر العلم القسم: العقيدة
الكتاب: الله يتجلى في عصر العلم
تأليف: نخبة من العلماء الأمريكيين بمناسبة السنة الدولية لطبيعيات الأرض
أشرف على تحريره: جون كلوفر مونسيما
ترجمة: الدكتور الدمرداش عبد المجيد سرحان
راجعه وعلق عليه: الدكتور محمد جمال الدين الفندي
الناشر: دار القلم، بيروت - لبنان
عدد الصفحات: 172
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিজ্ঞানের যুগে আল্লাহ উদ্ভাসিত বিভাগ: আক্বীদা
বই: বিজ্ঞানের যুগে আল্লাহ উদ্ভাসিত
রচনা: আন্তর্জাতিক ভূ-প্রকৃতিবিদ্যা বর্ষ উপলক্ষে একদল বিশিষ্ট মার্কিন বিজ্ঞানী
সম্পাদনা তদারকি: জন ক্লোভার মনসিমা
অনুবাদ: ডক্টর আদ-দামারাশ আব্দুল মাজীদ সারহান
পর্যবেক্ষণ ও টীকা: ডক্টর মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আল-ফান্দি
প্রকাশক: দারুল কলম, বৈরুত - লেবানন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
الله يتجلى في عصر العلم
বিজ্ঞানের যুগে আল্লাহর মহিমা প্রকাশ
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المشتركون في الكتاب
المشرف على التحرير:
جون كلوفر مونسما: عمل وقتاً ما قسيساً في احدى الكنائس المسيحية ولكنه بعد ان قضى مدة في الدراسات الدينية رأى ان يتحول إلى عمل آخر وصار مؤلفا وصحفيا في الموضوعات الدينية. ثم انصرف إلى دراسة المسائل السياسية والاجتماعية، وعني عناية خاصة بدراسة العلاقة بين العلم والدين على مر العصور.
ترجمة وتقديم:
الدكتور الدمرداش عبد المجيد سرحان: الأستاذ بكلية التربية بجامعة عين شمس. حصل على بكالوريوس في العلوم مع مرتبة الشرف من جامعة القاهرة عام 1936، وعلى دبلوم معهد التربية العالي للمعلمين عام 1938، وعلى درجة الماجستير في التربية من جامعة كولومبيا بأمريكا عام 1947، وعلى درجة الدكتوراه في التربية من جامعة كولومبيا عام 1949. له مؤلفات كثيرة في التربية والعلوم.
এই কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সম্পাদনা তত্ত্বাবধায়ক:
জন ক্লোভার মোনসমা: তিনি এক সময় একটি খ্রিস্টান গির্জার যাজক হিসেবে কাজ করেছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করার পর তিনি অন্য পেশায় মনোনিবেশ করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন এবং ধর্মীয় বিষয়ের লেখক ও সাংবাদিক হয়ে ওঠেন। অতঃপর তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলি অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেন এবং যুগ পরম্পরায় বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
অনুবাদ ও উপস্থাপনা:
ডক্টর আদ-দামরদাশ আবদুল মাজিদ সারহান: তিনি আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক। তিনি ১৯৩৬ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি, ১৯৩৮ সালে শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষা ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা, ১৯৪৭ সালে আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৪৯ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিক্ষায় ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৬)
المراجع:
الدكتور محمد جمال الدين الفندي: أستاذ الطبيعة الجوية بجامعة القاهرة. تخرج في قسم الطبيعة بكلية العلوم جامعة القاهرة عام 1935 مع مرتبة الشرف الأولى. حصل على دبلوم معهد الإرصاد من جامعة لندن عام 1938، ثم على دكتوراه في فلسفة العلوم عام 1946، كما حصل على جائزة الدولة في العلوم عام 1950. له بحوث كثيرة ومؤلفات عديدة في موضوع العلوم المبسطة. ترجم عدة كتب لمؤسسة فرانكلين.
তথ্যসূত্র:
ডক্টর মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-ফান্দি: কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞানের অধ্যাপক। তিনি ১৯৩৫ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীর সম্মানসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৩৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবহাওয়া ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা এবং ১৯৪৬ সালে বিজ্ঞান দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৫০ সালে বিজ্ঞানে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেন। সরলীকৃত বিজ্ঞানের বিষয়ে তাঁর প্রচুর গবেষণা ও বহু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ফাউন্ডেশনের হয়ে বেশ কিছু বই অনুবাদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة المترجم: هل لهذا الكون من إله؟
سؤال تتطلع العقول اليه وتتوق إلى معرفة الإجابة عنه، يوجهه الطفل الصغير إلى أبيه، ويضطرب به قلب الشاب الخائر، فيؤرق نومه وقد لا يجد من يقدم له الجواب الشافي، ويجول أحيانا في عقول ضعفاء الإيمان فيستعيذون بالله من وسوسة الشيطان، ويشغل بال كل إنسان خصوصا في فترات الضعف والمرض والحرمان.
قديما سأل الناس هذا السؤال وانقسموا، تبعا لما هداهم إليه تفكيرهم، حول شيعا. فمنهم من عبد الكون والشمس والقمر، ومنهم من عبد الأصنام، ومنهم من عبد الله الواحد القهار، كما ان منهم من أنكر والحد.
وسوف تتطلع العقول لمعرفة الإجابة عن هذا السؤال في المستقبل، ما دام هنالك كون يسير وعقل يفكر وإنسان يعي وينظر.
ويلوح ان التطلع إلى هذا الأمر جزء من طبيعتنا، لا نستطيع ان ننكره أو نتخلى عنه أو نتغافل نداءه، ولموقف الإنسان من خالق هذا الكون وعقيدته فيه اثر بالغ في تفكيره وحياته وفلسفته ونظرته إلى الأمور وحالته النفسية وحاضره ومستقبله، بل في كيانه ووجوده.
ومع ما لهذا السؤال من أهمية، فان قليلا من الناس يحصلون على الإجابة الشافية عنه، فإذا توجه به الصغير إلى أبيه رده عن التفكير فيه ردا رقيقا، أو هو قد يلهيه بجواب لا ينفع ولا يشفع، معتمدا في ذلك على سهولة اقناعه، وإذا توجه به الشاب إلى
অনুবাদকের ভূমিকা: এই মহাবিশ্বের কি কোনো ইলাহ আছে?
এটি এমন এক প্রশ্ন যার প্রতি মানুষের মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং এর উত্তর জানতে উদগ্রীব থাকে। ছোট শিশু তার পিতার কাছে এই প্রশ্ন করে, আর অবসন্ন যুবকের হৃদয় এতে বিচলিত হয়ে পড়ে, যা তার ঘুম কেড়ে নেয় এবং সম্ভবত সে এমন কাউকে পায় না যে তাকে সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করবে। কখনও কখনও এটি দুর্বল ঈমানদারদের মনেও ঘুরপাক খায়, তখন তারা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। এটি প্রতিটি মানুষের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে, বিশেষ করে দুর্বলতা, অসুস্থতা এবং বঞ্চনার সময়গুলোতে।
প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এই প্রশ্নটি করে আসছে এবং তাদের চিন্তাধারা যেদিকে পরিচালিত করেছে সেই অনুযায়ী তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ মহাবিশ্ব, সূর্য ও চন্দ্রের উপাসনা করেছে, কেউ মূর্তিপূজা করেছে, কেউ একক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ইবাদত করেছে, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্বীকার ও নাস্তিকতা অবলম্বন করেছে।
ভবিষ্যতেও মন এই প্রশ্নের উত্তর জানার আকাঙ্ক্ষা রাখবে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই মহাবিশ্ব গতিশীল থাকবে, চিন্তাশীল মস্তিষ্ক থাকবে এবং এমন মানুষ থাকবে যে অনুধাবন করে ও পর্যবেক্ষণ করে।
এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে, এই বিষয়ের প্রতি আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বভাবেরই অংশ; আমরা একে অস্বীকার করতে পারি না, ত্যাগ করতে পারি না কিংবা এর ডাককে উপেক্ষা করতে পারি না। এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার প্রতি মানুষের অবস্থান এবং তাঁর সম্পর্কে তার আকিদার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে তার চিন্তা, জীবন, দর্শন, বিষয়ের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিক অবস্থা এবং তার বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর; বরং তার সমগ্র সত্তা ও অস্তিত্বের ওপর।
এই প্রশ্নের ব্যাপক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও খুব কম মানুষই এর সন্তোষজনক উত্তর পায়। যখন কোনো শিশু তার পিতার কাছে এই প্রশ্ন করে, তখন পিতা তাকে কোমলভাবে এই চিন্তা থেকে বিরত রাখেন, অথবা তিনি তাকে এমন কোনো উত্তর দিয়ে ভুলিয়ে রাখেন যা কোনো উপকারে আসে না এবং যথেষ্টও নয়; এক্ষেত্রে তিনি শিশুকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলার বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন। আর যুবক যখন এটি নিয়ে অগ্রসর হয়...
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৮)
صديقه أو مدرسه، فقل ان يجد عند أي منهما ما يشفي صدره ويرضي عقله المتفتح. وإذا توجه به إلى بعض رجال الدين فقد يخاطبونه بايآت من الكتب السماوية وأحاديث من كلام الرسل، ويدورون به في حلقة مفرغة مقللين من قيمة ما تكشفت عنه العلوم، ان ينكرون عليه استخدام الأساليب العلمية، فيزداد حيرة في أمره وينصرف على مضض عن التفكير في هذا الموضوع.
ان ما يريده الفرد المثقف في القرن العشرين عندما يسأل هذا السؤال عن خالق الكون لا بد ان يكون متمشياً مع أساليب ونتائج العلوم التي توصلت إلى أسراره الذرة وعزت الفضاء وكشف من سنن الكون وأسراره وظواهره ولا تزال تكشف ما يحير العقول. ان السائل يريد جواباً يقوم على استخدام المنطق السليم ويدعوه إلى الايمان بربه إيمانا يقوم على الاقتناع لا على مجرد التسليم.
وهذا هو عين ما جاء في هذا الكتاب، فلقد تقدم المشرف على تحرير الكتاب بالسؤال التالي: (هل تعتقد في وجود الله؟ وكيف دلتك دراستك وبحوثك عليه؟
وجهه إلى طائفة من العلماء المتخصصين في سائر فروع العلوم من الكيمياء إلى الفيزياء إلى الأحياء إلى الفلك إلى الرياضيات إلى الطب إلى غير ذلك..
واجاب هؤلاء العلماء على سؤال المحرر، مبينين الأسباب العلمية التي تدعوهم إلى الإيمان بالله. ويشتمل هذا الكتاب على اجابات طائفة من هؤلاء العلماء ننقلها إلى أبناء الوطن العربي، ليروا ناحية من نواحي التفكير الحديث، ربما تكون مصدقة لما يقرأون في الكتب السماوية التي بين أيديهم ومثبتة لايمانهم بالله تعالى.
لقد بين اولئك العلماء لنا كيف تدلهم قوانين الديناميكا الحرارية، على انه لا بد ان يكون لهذا الكون من بداية، فاذا كان للكون بداية فلا بد له من مبدئ من صفاته العقل والإرادة واللانهاية.
তার বন্ধু বা তার শিক্ষক; তাদের কারো কাছেই খুব কমই এমন কিছু পাওয়া যায় যা তার বক্ষকে প্রশান্ত করতে পারে এবং তার মুক্তমনা বুদ্ধিবৃত্তিকে সন্তুষ্ট করতে পারে। আর যদি সে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের শরণাপন্ন হয়, তবে তারা হয়তো তাকে আসমানী কিতাবের আয়াত এবং রাসূলগণের বাণীর মাধ্যমে সম্বোধন করবেন, এবং তারা তাকে একটি অহেতুক বৃত্তের মধ্যে ঘুরাতে থাকবেন—বিজ্ঞানের মাধ্যমে যা উন্মোচিত হয়েছে তার গুরুত্বকে খাটো করে দেখিয়ে, এমনকি তারা তার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টিকেও অস্বীকার করে বসেন। ফলে তার মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বৃদ্ধি পায় এবং সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে।
বিংশ শতাব্দীর একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যখন মহাবিশ্বের স্রষ্টা সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করেন, তখন তিনি যা চান তা অবশ্যই বিজ্ঞানের পদ্ধতি এবং ফলাফলের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে; যা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছে, মহাকাশ জয় করেছে এবং মহাবিশ্বের নিয়মাবলী, রহস্য ও ঘটনাবলীকে উন্মোচিত করেছে—যা এখনও বুদ্ধিবৃত্তিকে হতবাক করে এমন বিষয়সমূহ প্রকাশ করে চলেছে। প্রশ্নকারী এমন একটি উত্তর চান যা সঠিক যুক্তি ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তাকে তার রবের প্রতি এমন এক ঈমান বা বিশ্বাসের দিকে আহ্বান জানাবে যা নিছক অন্ধ আনুগত্যের ওপর নয়, বরং পূর্ণ উপলব্ধির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আর এই কিতাবটিতে ঠিক এই বিষয়টিই উপস্থাপিত হয়েছে। কিতাবটির সম্পাদনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি নিম্নোক্ত প্রশ্নটি পেশ করেছিলেন: (আপনি কি আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন? এবং আপনার অধ্যয়ন ও গবেষণা কীভাবে আপনাকে তাঁর দিকে পথপ্রদর্শন করেছে?)
তিনি এই প্রশ্নটি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষজ্ঞ একদল বিজ্ঞানীর নিকট পেশ করেছিলেন—রসায়ন থেকে শুরু করে পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র এবং চিকিৎসা শাস্ত্রসহ অন্যান্য শাখার বিশেষজ্ঞদের নিকট।
সেই সকল বিজ্ঞানীগণ সম্পাদকের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের বৈজ্ঞানিক কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন। এই কিতাবটি সেই সকল বিজ্ঞানীদের একটি দলের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা আমরা আরব বিশ্বের সন্তানদের কাছে তুলে ধরছি, যাতে তারা আধুনিক চিন্তাধারার একটি দিক দেখতে পায়; যা হয়তো তাদের কাছে বিদ্যমান আসমানী কিতাবসমূহে তারা যা পড়ছে তার সত্যতা নিশ্চিত করবে এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি তাদের ঈমানকে সুদৃঢ় করবে।
সেই সকল বিজ্ঞানীগণ আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন যে, তাপগতিবিদ্যার (Thermodynamics) নিয়মাবলী কীভাবে তাদের এই বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করে যে, এই মহাবিশ্বের অবশ্যই একটি শুরু থাকতে হবে। সুতরাং যদি মহাবিশ্বের একটি শুরু থাকে, তবে অবশ্যই এর একজন সূচনাকারী থাকতে হবে, যাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রজ্ঞা, ইচ্ছা এবং অনাদি-অনন্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৯)
نعم ان هذا الخالق لابد ان يكون من طبيعة تخالف طبيعة المادة التي تتكون من ذرات تتألف بدورها من شحنات أو طاقات لا يمكن بحكم العلم ان تكون أبدية أو أزلية. وعلى ذلك فلا بد ان يكون هذا الخالق غير مادي وغير كثيف، لابد ان يكون لطيفا متناهيا في اللطف، خبيرا لا نهاية لخبرته، لا تدركه الأبصار وهو يدرك الأبصار، وهو اللطيف الخبير. واذا كنا نريد ان نصل إليه، فسبيلنا إلى ذلك لا يكون بحواسنا التي لا تستطيع ان ترى إلا الماديات الكثيفة، واذا كنا نريد ان نلمس وجوده فان ذلك لا يمكن ان يتم داخل المعامل أو في أنابيب الاختبار، أو باستخدام المناظر المكبرة أو المقربة، وانما باستخدام العنصر غير المادي فينا كالعقل والبصيرة. وعلى من يريد ان يدرك آيات ذاته العلية ان يرفع عينيه من الرغام ويستخدم عقله في غير تعنت أو تعصب، ويتفكر في خلق السموات والأرض (إنّ في خَلقِ السّمواتِ والأرضِ واختلافِ اللّيلِ والنّهار لأياتً لأولىِ الألبابِ) (ال عمران: 190)
ان فروع العلم كافة تثبت ان هنالك نظاما معجزا يسود هذا الكون، أساسه القوانين والسنن الكونية الثابتة التي لا تتغير ولا تتبدل، والتي يعمل العلماء جاهدين على كشفها والإحاطة بها، وقد بلغت كشوفنا من الدقة قدرا يمكننا من التنبؤ بالكسوف والخسوف وغيرهما من الظواهر قبل وقوعها بمئات السنين.
فمن الذي سن هذه القوانين وأودعها كل ذرة من ذرات الوجود، بل في كل ما هو دون الذرة عند نشأتها الأولى؟ ومن الذي خلق كل ذلك النظام والتوافق والانسجام؟ من الذي صمم فأبدع وقدر فاحسن التقدير؟ هل خلق كل ذلك من غير خالق ام هم الخالقون؟ ان النظام والقانون وذلك الإبداع الذي نلمسه في الكون حيثما اتجهت أبصارنا يدل على انه القدير وعلى انه العليم الخبير من وراء كل شيء.
ويرد العلماء في هذا الكتاب على أولئك الذين يدعون ان الكون نشأ هكذا عن
হ্যাঁ, এই স্রষ্টাকে অবশ্যই এমন এক প্রকৃতির হতে হবে যা পদার্থের প্রকৃতি থেকে ভিন্ন, যা পরমাণু দ্বারা গঠিত, আর সেই পরমাণুগুলো আবার এমন আধান বা শক্তি দ্বারা গঠিত যা বিজ্ঞানের অকাট্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনন্ত বা অনাদি হতে পারে না। সুতরাং, এই স্রষ্টাকে অবশ্যই অজড় এবং সূক্ষ্ম হতে হবে; তাঁকে অবশ্যই চরমভাবে সূক্ষ্ম এবং তাঁর জ্ঞানের কোনো সীমা নেই এমন সম্যক অবগত হতে হবে। দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন, এবং তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সম্যক পরিজ্ঞাত। আর আমরা যদি তাঁর কাছে পৌঁছাতে চাই, তবে আমাদের পথ আমাদের সেই ইন্দ্রিয়গুলো নয় যা কেবল স্থূল জড়বস্তু ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। আমরা যদি তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করতে চাই, তবে তা গবেষণাগারে বা টেস্টটিউবে, কিংবা অণুবীক্ষণ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং আমাদের মধ্যে বিদ্যমান অজড় উপাদান তথা বিবেক ও অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহারের মাধ্যমেই তা সম্ভব। যে ব্যক্তি তাঁর সুউচ্চ সত্তার নিদর্শনসমূহ উপলব্ধি করতে চায়, তাকে অবশ্যই ধুলিবালি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হবে এবং একগুঁয়েমি বা গোঁড়ামি পরিহার করে স্বীয় বিবেককে কাজে লাগাতে হবে, আর আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। (নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে) (আলে ইমরান: ১৯০)
বিজ্ঞানের সকল শাখা এটি প্রমাণ করে যে, এই মহাবিশ্বে এক অলৌকিক শৃঙ্খলা বিরাজমান, যার ভিত্তি হলো মহাজাগতিক অটল নিয়ম ও নীতিসমূহ যা কখনো পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। বিজ্ঞানীরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই নিয়মগুলো উন্মোচন ও আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো বর্তমানে এমন সূক্ষ্ম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমরা সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটার শত শত বছর পূর্বেই সে সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতে সক্ষম।
তবে কে এই নিয়মগুলো প্রবর্তন করেছেন এবং অস্তিত্বের প্রতিটি পরমাণুতে, এমনকি সৃষ্টির আদি লগ্নে পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্রতর কণার মাঝেও এগুলোকে নিহিত করেছেন? কে এই সামগ্রিক শৃঙ্খলা, সামঞ্জস্য ও সংগতি সৃষ্টি করেছেন? কে সেই সত্তা যিনি নকশা করে নিপুণভাবে উদ্ভাবন করেছেন এবং পরিমাপ নির্ধারণ করে নিখুঁতভাবে তা সম্পন্ন করেছেন? এসব কি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? মহাবিশ্বের যে সুশৃঙ্খল নিয়ম ও শৈল্পিক নৈপুণ্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তা প্রমাণ করে যে সবকিছুর মূলে রয়েছেন এক সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবগত সত্তা।
আর এই গ্রন্থে বিজ্ঞানীরা সেই সব লোকদের জবাব দিয়েছেন যারা দাবি করে যে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে এমনি এমনি...
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১০)
طريق المصادفة، فيشرحون لنا معنى المصادفة ويشيرون إلى استخدام الرياضة وقوانين المصادفة لمعرفة مدى احتمال حدوث ظاهرة من الظواهر. فاذا كان لدينا صندوق كبير مليء بآلاف عديدة من الاحرف الأبجدية، فان احتمال وقوع حرف الألف بجوار الميم لتكوين كلمة أم قد يكون كبيرا، اما احتمال تنظيم هذه الحروف لكي تكون قصيدة مطولة من الشعر أو خطابا من ابن إلى أبيه فانه يكون ضئيلا ان لم يكن مستحيلا. ولقد حسب العلماء احتمال اجتماع الذرات التي يتكون منها جزيء واحد من الاحماض الأمينية (وهي المادة الأولية التي تدخل في بناء البروتينات واللحوم) فوجدوا ان ذلك يحتاج إلى بلايين عديدة من السنين، والى مادة لا يتسع لها هذا الكون المترامي الاطراف. هذا لتركيب جزيء واحد على ضآلته، فما بالك بأجسام الكائنات الحية جميعا من نبات وحيوان. وما بالك بما لا يحصى من المركبات المعقدة الاخرى. وما بالك بنشأة الحياة وبملكوت السماوات والأرض. انه يستحيل عقلا ان يكون ذلك قد تم عن طريق المصادفة العمياء أو الخبطة العشواء. لابد لكل ذلك من خالق مبدع عليم خبير، أحاط بكل شيء علماً وقدر شيء ثم هدى.
ويبين الكتاب فوق ذلك مزايا الايمان بالله والاطمئنان اليه والالتجاء إلى رحابه في الصحة والمرض، وكلما نزلت بالإنسان ضائقة أو تهدده خطر أو أوشك أمل لديه ان يضيع. وقد لمس الكثيرون حلاوة الايمان في أنفسهم، بل بل ولزومه لهم ولغيرهم فتشبثوا به وحرصوا عليه حتى ذهب بعض العلماء إلى ان بالإنسان حاجة بيولوجية تدفعه إلى الإيمان بالله: فطرَتَ الله الّتي فَطرَ الناسَ عَلَيها) {الروم: 30} ليس ذلك فحسب، بل ان الكتاب يذهب ليبين كيف ان الإيمان بالله هو أصل الفضائل الاجتماعية والأخلاقية والإنسانية جميعا، فبدون هذا الايمان يصبح الإنسان غالباً حيواناً تحكمه الشهوة ولا يرده ضمير، خصوصا إذا لقن بعض المبادئ (الخالية من الإنسانية) .
الدكتور
الدمرداش عبد المجيد سرحان
আকস্মিকতার পথ; তারা আমাদের নিকট আকস্মিকতার অর্থ ব্যাখ্যা করেন এবং কোনো একটি ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু তা জানার জন্য গণিত ও আকস্মিকতার নিয়মাবলির ব্যবহারের প্রতি ইঙ্গিত করেন। যদি আমাদের নিকট বর্ণমালার হাজার হাজার অক্ষর পূর্ণ একটি বড় বাক্স থাকে, তবে 'উম্ম' (মা) শব্দ গঠনের জন্য 'আলিফ' অক্ষরের পাশে 'মীম' অক্ষরটি পড়ার সম্ভাবনা হয়তো অনেক বেশি হবে; কিন্তু এই অক্ষরগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করার সম্ভাবনা—যাতে তা একটি দীর্ঘ কবিতা অথবা এক পুত্রের পক্ষ থেকে তার পিতার নিকট একটি চিঠিতে পরিণত হয়—তা অত্যন্ত নগণ্য, যদি তা অসম্ভব না হয়। বিজ্ঞানীরা অ্যামিনো অ্যাসিডের (যা প্রোটিন ও গোশত তৈরির প্রাথমিক উপাদান) একটি অণু গঠনকারী পরমাণুসমূহ একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা গণনা করেছেন এবং তারা দেখতে পেয়েছেন যে, এর জন্য কয়েক শত কোটি বছরের প্রয়োজন, এবং এমন পরিমাণ পদার্থের প্রয়োজন যা এই সুদূরপ্রসারী মহাবিশ্বেও সংকুলান হবে না। এটি তো কেবল একটি অণুর গঠনের ক্ষেত্রে তার ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও, তাহলে উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ সকল জীবন্ত প্রাণীর দেহের অবস্থা কী হতে পারে? আর অন্যান্য অগণিত জটিল যৌগিক পদার্থের ব্যাপারেই বা কী বলা যায়? আর জীবনের উৎপত্তি এবং আসমান ও জমিনের বিশাল সাম্রাজ্য সম্পর্কেই বা আপনার কী ধারণা? বুদ্ধিগতভাবে এটি অসম্ভব যে, তা কোনো অন্ধ আকস্মিকতা বা লক্ষ্যহীন দৈব ঘটনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই সবকিছুর জন্য অবশ্যই একজন নিপুণ স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ ও সম্যক পরিজ্ঞাত থাকা আবশ্যক, যিনি স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং প্রতিটি বস্তুকে পরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।
তদুপরি এই গ্রন্থ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার, তাঁর প্রতি প্রশান্ত থাকার এবং সুস্থতা ও অসুস্থতায় তাঁর সান্নিধ্যে আশ্রয় গ্রহণের গুরুত্ব ও উপকারিতা বর্ণনা করে; এবং যখনই মানুষের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হয়, কিংবা কোনো বিপদ তাকে হুমকি দেয়, অথবা তার কোনো আশা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়। অনেকেই নিজেদের মাঝে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করেছেন, বরং তাদের জন্য ও অন্যদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তারা একে আঁকড়ে ধরেছেন এবং এর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো বিজ্ঞানী এই মত পোষণ করেছেন যে, মানুষের মাঝে একটি জৈবিক চাহিদা বিদ্যমান যা তাকে আল্লাহর প্রতি ঈমানের দিকে ধাবিত করে: (আল্লাহর সেই স্বভাব বা প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন) {আর-রূম: ৩০}। শুধু তাই নয়, বরং এই গ্রন্থ এটিও স্পষ্ট করতে চায় যে, আল্লাহর প্রতি ঈমানই হলো সমস্ত সামাজিক, চারিত্রিক ও মানবিক গুণাবলির মূল ভিত্তি। এই ঈমান ব্যতীত মানুষ সাধারণত এমন এক পশুতে পরিণত হয় যা প্রবৃত্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং যাকে কোনো বিবেক বাধা দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন তাকে (মানবতাহীন) কিছু মূলনীতি শিক্ষা দেওয়া হয়।
ডক্টর
আদ-দামিরদাশ আব্দুল মাজিদ সারহান
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১১)
نشأة العالم: هل هو مصادفة أو قصد؟
كتبها: فرانك ألن
عالم الطبيعة البيولوجية
ماجستير ودكتوراه من جامعة كورنل – أستاذ الطبيعة الحيوية بجامعة مانيتويا بكندا من سنة 1904 إلى سنة 1944- اخصائي في أبصار الألوان والبصريات الفسيولوجية وإنتاج الهواء السائل، وحائز على وسام توري الذهبي للجمعية الملكية بكندا.
كثيرا ما يقال ان هذا الكون المادي لا يحتاج إلى خالق، ولكننا اذا سلمنا بان هذا الكون موجود فكيف نفسر وجوده ونشأته؟ هنالك اربعة احتمالات للاجابة عن هذا السؤال: فاما ان يكون هذا الكون مجرد وهم وخيال، وهو ما يتعارض مع القضية التي سلمنا بها حول وجوده، واما ان يكون هذا الكون قد نشأ من تلقاء نفسه من العدم، واما ان يكون أبديا ليس لنشأته بداية، واما ان يكون له خالق.
اما الاحتمال الاول فلا يقيم أمامنا مشكلة سوى مشكلة الشعور والاحساس، فهو يعني ان احساسنا بهذا الكون وإدراكنا لما يحدث فيه لا يعدو ان يكون وهما من الأوهام ليس له ظل من الحقيقة. وقد عاد إلى هذا الرأي في العلوم الطبيعية أخيراً سير جيمس جيبز الذي يرى ان هذا الكون ليس له وجود فعلي، وانه مجرد صورة في أذهاننا. وتبا لهذا الرأي نستطيع ان نقول اننا نعيش في عالم من الاوهام، فمثلا هذه القطارات التي نركبها ونلمسها ليست إلا خيالات، وبها ركاب وهميون وتعبر انهارا لا وجود لها وتسير فوق جسور غير مادية.. الخ، وهو رأي وهمي لا يحتاج إلى مناقشة أو جدال.
জগতের উদ্ভব: এটি কি আকস্মিকতা নাকি উদ্দেশ্যমূলক?
লিখেছেন: ফ্র্যাঙ্ক অ্যালেন
জীব-পদার্থবিজ্ঞানী
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং পিএইচ.ডি – ১৯০৪ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব-পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক - কালার ভিশন (বর্ণদর্শন), ফিজিওলজিক্যাল অপটিক্স (শারীরবৃত্তীয় আলোকবিজ্ঞান) এবং তরল বায়ু উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ, এবং রয়্যাল সোসাইটি অফ কানাডার টোরি গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত।
প্রায়ই বলা হয় যে এই বস্তুগত মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টার প্রয়োজন নেই, কিন্তু আমরা যদি মেনে নিই যে এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব আছে, তবে এর অস্তিত্ব ও উৎপত্তির ব্যাখ্যা আমরা কীভাবে দেব? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য চারটি সম্ভাবনা রয়েছে: হয় এই মহাবিশ্ব কেবল বিভ্রম ও কল্পনা, যা এর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের স্বীকৃত বিষয়ের পরিপন্থী; অথবা এই মহাবিশ্ব শূন্য থেকে নিজে নিজেই উৎপন্ন হয়েছে; অথবা এটি অনাদি যার উৎপত্তির কোনো শুরু নেই; অথবা এর একজন স্রষ্টা রয়েছেন।
প্রথম সম্ভাবনার ক্ষেত্রে, এটি আমাদের সামনে অনুভূতি ও সংবেদনের সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা দাঁড় করায় না। কারণ এর অর্থ হলো এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের অনুভূতি এবং এতে যা ঘটছে সে সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি ভ্রান্ত ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়, যার সত্যতার কোনো লেশমাত্র নেই। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে সম্প্রতি স্যার জেমস জিনস এই মতামতে ফিরে এসেছেন, যিনি মনে করেন যে এই মহাবিশ্বের কোনো প্রকৃত অস্তিত্ব নেই এবং এটি কেবল আমাদের মনের একটি চিত্র। এই মত অনুসারে আমরা বলতে পারি যে আমরা এক মরীচিকার জগতে বাস করছি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যে ট্রেনগুলোতে চড়ি এবং স্পর্শ করি তা কেবল কল্পনা মাত্র, যেখানে কাল্পনিক যাত্রী রয়েছে এবং যা অস্তিত্বহীন নদী পার হচ্ছে এবং অভৌত সেতুর ওপর দিয়ে চলছে... ইত্যাদি। এটি এমন একটি কাল্পনিক মতামত যা কোনো আলোচনা বা তর্কের প্রয়োজন রাখে না।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১২)
اما الرأي الثاني، القائل ان هذا العالم بما فيه من مادة وطاقة قد نشأ هكذا وحده من العدم، فهو لا يقل عن سابقه سخفا وحماقة، ولا يستحق هو ايضا ان يكون موضعا للنظر أو المناقشة.
والرأي الثالث الذي يذهب إلى أن هذا الكون أزلي ليس لنشأته بداية إنما يشترك مع الرأي الذي ينادي بوجود خالق لهذا الكون، وذلك في عنصر واحد هو الازلية. واذا فنحن إما أن نسبب صفة الأزلية إلى عالم ميت، وإما ان ننسبها إلى إله حي يخلق. وليس هنالك صعوبة فكرة في الأخذ باحد هذين الاحتمالين أكثر مما في الاخر، ولكن قوانين الديناميكا الحرارية تدل على ان مكونات هذا الكون تفقد حرارتها تدريجيا وانها سائرة حتما إلى يوم تصير فيه جميع الاجسام تحت درجة من الحرارة بالغلة الانخفاض هي الصفر المطلق، ويومئذ تنعدم الطاقة، وتستحيل الحياة. ولا مناص من حدوث هذه الحالة من انعدام الطاقات عندما تصل درجة حرارة الاجسام إلى الصفر المطلق بمضي الوقت. أما الشمس المستعرة والنجوم المتوهجة والأرض الغنية بأنواع الحياة، فكلها دليل واضح على ان اصل الكون ان أساسه يرتبط بزمان بدأ من لحظة معينة، فهو اذا حدث من الأحداث. ومعنى ذلك انه لابد لاصل الكون من خالق أزلي ليس له بداية، عليم محيط بكل شيء، قوي ليس لقدرته حدود، ولابد ان يكون هذا من صنع يديه.
ان ملاءمة الأرض للحياة تتخذ صورا عديدة لا يمكن تفسيرها على اساس المصادفة أو العشوائية. فالأرض كرة معلقة في الفضاء تدور حول نفسها، فيكون في ذلك تتابع الليل والنهار، وهي تسبح حول الشمس مرة في كل عام، فيكون في ذلك تتابع الفصول، الذي يؤدي بدوره إلى زيادة مساحة الجزيء الصالح للسكنى من سطح كوكبنا ويزيد من اختلاف الانواع النباتية أكثر مما لو كانت الأرض ساكنة. ويحيط بالأرض غلاف غازي يشتمل على الغازات اللازمة للحياة ويمتد حولها إلى ارتفاع كبير (يزيد على 500 ميل) .
আর দ্বিতীয় মতটি, যা বলে যে এই জগৎ এবং এতে বিদ্যমান বস্তু ও শক্তি শূন্য থেকে এভাবেই আপনাআপনি সৃষ্টি হয়েছে, তা পূর্ববর্তী মতটির মতোই নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি থেকে কম কিছু নয় এবং এটিও কোনো বিবেচনা বা আলোচনার যোগ্য হওয়ার দাবি রাখে না।
এবং তৃতীয় মতটি, যা এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে যে মহাবিশ্ব অনাদি এবং এর উৎপত্তির কোনো শুরু নেই, তা এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টার অস্তিত্বের দাবিকারী মতের সাথে কেবল একটি উপাদান অর্থাৎ অনাদিত্বের ক্ষেত্রে একমত পোষণ করে। সুতরাং হয় আমাদের এই অনাদিত্বের বৈশিষ্ট্যকে একটি মৃত জগতের প্রতি আরোপ করতে হবে, নতুবা একে একজন চিরঞ্জীব স্রষ্টার প্রতি আরোপ করতে হবে যিনি সৃষ্টি করেন। এই দুটি সম্ভাবনার যেকোনো একটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অন্যটির চেয়ে বেশি কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক জটিলতা নেই; কিন্তু তাপগতিবিদ্যার সূত্রগুলো নির্দেশ করে যে, এই মহাবিশ্বের উপাদানগুলো ক্রমান্বয়ে তাদের তাপ হারাচ্ছে এবং এগুলো অনিবার্যভাবে এমন এক দিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যেদিন সমস্ত বস্তুর তাপমাত্রা চরম নিম্নস্তরে অর্থাৎ পরম শূন্য তাপমাত্রায় পৌঁছে যাবে। সেদিন শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং জীবন অসম্ভব হয়ে পড়বে। সময়ের সাথে সাথে যখন বস্তুসমূহের তাপমাত্রা পরম শূন্যে পৌঁছাবে, তখন শক্তির এই বিলুপ্তি ঘটা অনিবার্য। তবে প্রজ্বলিত সূর্য, উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি এবং বৈচিত্র্যময় জীবনে সমৃদ্ধ এই পৃথিবী—এসবই স্পষ্ট প্রমাণ যে মহাবিশ্বের মূল ভিত্তি এমন এক সময়ের সাথে যুক্ত যা একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে শুরু হয়েছে। সুতরাং এটি একটি সৃষ্ট ঘটনা। আর এর অর্থ হলো, মহাবিশ্বের আদি উৎসের জন্য অবশ্যই একজন অনাদি স্রষ্টা থাকা আবশ্যক যাঁর কোনো শুরু নেই, যিনি সর্বজ্ঞ, সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী এবং এমন শক্তিশালী যাঁর ক্ষমতার কোনো সীমা নেই; আর অবশ্যই এটি তাঁর দুই হাতের সৃষ্টি।
জীবনের অনুকূলে পৃথিবীর এই উপযোগিতা এমন অনেক রূপ পরিগ্রহ করে যা দৈবঘটনা বা লক্ষ্যহীনতার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। পৃথিবী মহাকাশে ঝুলন্ত একটি গোলক যা তার নিজের অক্ষের ওপর আবর্তিত হয়, ফলে দিন ও রাতের পরিক্রমণ ঘটে; এবং এটি প্রতি বছর একবার সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করে, যার ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে। এটি আমাদের গ্রহের পৃষ্ঠের বাসযোগ্য অংশের আয়তন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং উদ্ভিদ প্রজাতির বৈচিত্র্যকে আরও বৃদ্ধি করে, যা পৃথিবী স্থির থাকলে সম্ভব হতো না। পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে একটি বায়ুমণ্ডল যা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসসমূহ ধারণ করে এবং এটি পৃথিবীর চারপাশে অনেক উচ্চতা (৫০০ মাইলেরও বেশি) পর্যন্ত বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ويبلغ هذا الغلاف الغازي من الكشافة درجة تحول دون وصول ملايين الشهب القاتلة ميلا الينا، منقضة بسرعة ثلاثين ميلا في الثانية، والغلاف الذي يحيط بالأرض يحفظ درجة حرارتها في الحدود المناسبة للحياة، ويحمل بخار الماء من المحيطات إلى مسافات بعيدة داخل القارات، حيث يمكن ان يتكاثف مطرا يحيي الأرض بعد موتها، والمطر مصدر الماء العذب، ولولاء لاصبحت الأرض صحراء جرداء خالية من كل أثر للحياة. ومن هنا نرى ان الجو والمحيطات الموجودة على سطح الأرض نمثل عجلة التوازن في الطبيعة.
ويمتاز الماء بأربع خواص هامة تعمل على صيانة الحياة في المحيطات والبحيرات والأنهار، وخاصة حيثما يكون الشتاء قارسا وطويلا، فالماء يمتص كميات كبيرة من الأوكسجين عندما تكون درجة حرارته منخفضة. وتبلغ كثافة الماء أقصاها في درجة اربعة مئوية. والثلج أقل كثافة من الماء مما يجعل الجليد المتكون في البحيرات والأنهار يطفو على سطح الماء لخفته النسبية، فيهيئ بذلك الفرصة لاستمرار حياة الكائنات التي تعيش في الماء في المناطق الباردة. وعندما يتجمد الماء تنطلق منه كميات كبيرة من الحرارة تساعد على صيانة حياة الاحياء التي تعيش في البحار.
أما الأرض اليابسة فهي بيئة ثابتة لحياة كثير من الكائنات الأرضية، فالتربة تحتوي العناصر التي يمتصها النبات ويمثلها ويحولها إلى انواع مختلفة من الطعام يفتقر اليها الحيوان. ويوجد كثير من المعادن قريبا من سطح الارض، مما هيأ السبيل لقيام الحضارة الراهنة ونشأة كثير من الصناعات والفنون. وعلى ذلك فان الأرض مهيأة على أحسن صورة للحياة. ولا شك ان كل هذا من تيسير حكيم خبير، وليس من المعقول ان يكون مجرد مصادفة أو خبط عشواء. ولقد كان أشعياء على حق عندما قال مشيراً إلى الله: (لم يخلقها باطلاً، للسكن صورها) (45: 18) .
وكثيرا ما يسخر البعض من صغر حجم الأرض بالنسبة لما حولها من فراغ لا نهائي.
এই বায়বীয় আবরণটি এমন এক ঘনত্বের স্তরে পৌঁছেছে যা প্রতি সেকেন্ডে ত্রিশ মাইল বেগে ধেয়ে আসা লক্ষ লক্ষ ঘাতক উল্কাপিণ্ডকে আমাদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী এই বায়ুমণ্ডল এর তাপমাত্রাকে জীবনের জন্য উপযোগী সীমার মধ্যে রক্ষা করে এবং এটি মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্প বহন করে মহাদেশগুলোর অভ্যন্তরে দূর-দূরান্তে নিয়ে যায়, যেখানে তা বৃষ্টি হিসেবে ঘনীভূত হতে পারে যা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করে। বৃষ্টি হলো সুপেয় পানির উৎস, এটি না থাকলে পৃথিবী জীবনের সকল চিহ্নহীন একটি ধূসর মরুভূমিতে পরিণত হতো। এখান থেকে আমরা দেখতে পাই যে, বায়ুমণ্ডল এবং পৃথিবীর উপরিভাগের মহাসাগরগুলো প্রকৃতিতে ভারসাম্যের চক্র হিসেবে কাজ করে।
পানির চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মহাসাগর, হ্রদ এবং নদীগুলোতে জীবন রক্ষায় কাজ করে, বিশেষ করে যেখানে শীতকাল তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। পানি যখন নিম্ন তাপমাত্রায় থাকে তখন তা প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করে। চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়। আর বরফের ঘনত্ব পানি অপেক্ষা কম, ফলে তুলনামূলক হালকা হওয়ার কারণে হ্রদ ও নদীগুলোতে সৃষ্ট বরফ পানির উপরিভাগে ভেসে থাকে; এভাবে এটি শীতল অঞ্চলগুলোতে জলজ প্রাণীদের জীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি করে। আর যখন পানি জমাট বাঁধে, তখন তা থেকে প্রচুর পরিমাণে তাপ নির্গত হয় যা সমুদ্রে বসবাসকারী জীবকুলের জীবন রক্ষায় সাহায্য করে।
অন্যদিকে শুষ্ক ভূমি হলো অনেক পার্থিব জীবের জীবনের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। মাটিতে এমন সব উপাদান রয়েছে যা উদ্ভিদ শোষণ করে, আত্তীকরণ করে এবং সেগুলোকে বিভিন্ন ধরণের খাদ্যে রূপান্তরিত করে যা প্রাণীদের জন্য অপরিহার্য। পৃথিবীর উপরিভাগের নিকটেই অনেক খনিজ পদার্থ বিদ্যমান, যা বর্তমান সভ্যতা গঠন এবং অনেক শিল্প ও কলার উৎপত্তির পথ প্রশস্ত করেছে। অতএব, পৃথিবী জীবনের জন্য সর্বোত্তম রূপে প্রস্তুত করা হয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সবকিছুই এক প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার সুব্যবস্থা, এবং এটি কেবল আকস্মিক কোনো ঘটনা বা লক্ষ্যহীন দৈবচয়ন হওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। যিশাইয় সঠিকই বলেছিলেন যখন তিনি আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন: (তিনি একে বৃথা সৃষ্টি করেননি, বরং বসবাসের যোগ্য করে তৈরি করেছেন) (৪৫: ১৮)।
অনেক সময় কেউ কেউ এর চারপাশের অসীম শূন্যতার তুলনায় পৃথিবীর ক্ষুদ্র আয়তন নিয়ে উপহাস করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولو أن الأرض كانت صغيرة كالقمر، أو حتى لو ان قطرها كان ربع قطرها الحالي لعجزت عن احتفاظها بالغلافين الجوي والمائي اللذين يحيطان بها، ولصارت درجة الحرارة فيها بالغة حد الموت. اما لو كان قطر الأرض ضعف قطرها الحالي لتضاعفت مساحة سطحها أربعة أضعفا واصبحت جاذبيتها للاجسام ضعف ما هي عليه، وانخفض تبعا لذلك ارتفاع غلافها الهوائي، وزاد الضغط الجوي من كيلو غرام واحد إلى كيلو غرامين على السنتيمتر المربع، ويؤثر كل ذلك أبلغ الاثر في الحياة على سطح الأرض، فتتسع مساحة المناطق الباردة اتساعا كبيراً، وتنقص مساحة الأراضي الصالحة للسكنى نقصا ذريعاً، وبذلك تعيش الجماعات الانسانية منفصلة أو في أماكن متنائية، فتزداد العزلة بينها ويتعذر السفر والاتصال، بل قد يصير ضربا من ضروب الخيال.
ولو كانت الأرض في حجم الشمس مع احتفاظها بكثافتها لتضاعفت جاذبيتها للاجسام التي عليها 150 ضعفا، ولنقص ارتفاع الغلاف الجوي إلى اربعة أميال، ولاصبح تبخر الماء مستحيلا، ولارتفع الضغط الجوي إلى ما يزيد على 150 كيلو غراماً على السنتيمتر المربع، ولوصل وزن الحيوان الذي يزن حالياً رطلا واحدا إلى 150 رطلا، ولتضاءل حجم الانسان حتى صار في حجم ابن عرس أو السنجاب، ولتعذرت الحياة الفكرية لمثل هذه المخلوقات.
ولو ازيحت الارض إلى ضعف بعدها الحالي عن الشمس، لنقصت كمية الحرارة التي تتلقاها من الشمس إلى ربع كميتها الحالية، وقطعت الأرض دورتها حول الشمس في وقت اطول، وتضاعفت تبعاً لذلك طول فصل الشتاء، وتجمدت الكائنات الحية على سطح الأرض. ولو نقصت المسافة بين الأرض والشمس إلى نصف ما هي عليها الآن لبلغت الحرارة التي تتلقاها الأرض أربعة أمثال، وتضاعفت سرعتها المدارية حول الشمس، ولآلت الفصول إلى نصف طولها الحالي اذا كانت هناك فصول مطلقا، ولصارت الحياة على سطح الأرض غير ممكنة.
যদি পৃথিবী চাঁদের মতো ছোট হতো, অথবা এমনকি যদি এর ব্যাস বর্তমান ব্যাসের এক-চতুর্থাংশ হতো, তবে এটি একে পরিবেষ্টিত করে রাখা বায়ুমণ্ডল ও জলমণ্ডলকে ধরে রাখতে অক্ষম হতো এবং এর তাপমাত্রা মৃত্যুর চরম সীমায় পৌঁছে যেত। পক্ষান্তরে, পৃথিবীর ব্যাস যদি বর্তমান ব্যাসের দ্বিগুণ হতো, তবে এর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল চার গুণ বৃদ্ধি পেত এবং বস্তুসমূহের প্রতি এর মহাকর্ষ বল বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যেত। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা হ্রাস পেত এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে এক কিলোগ্রাম থেকে বেড়ে দুই কিলোগ্রামে উন্নীত হতো। এই সমস্ত বিষয় পৃথিবীর উপরিভাগের জীবনের ওপর অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলত, ফলে শীতল অঞ্চলসমূহের আয়তন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেত এবং বসবাসের উপযোগী ভূমির পরিমাণ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেত। এর ফলে মানবগোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে বা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করত, তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পেত এবং ভ্রমণ ও যোগাযোগ দুঃসাধ্য হয়ে পড়ত, এমনকি তা একটি কল্পকাহিনীতে পরিণত হতে পারত।
পৃথিবী যদি তার ঘনত্ব বজায় রেখে সূর্যের আকারের হতো, তবে এর ওপর স্থিত বস্তুসমূহের প্রতি এর মহাকর্ষ বল ১৫০ গুণ বৃদ্ধি পেত। বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা কমে চার মাইলে নেমে আসত, পানির বাষ্পীভবন অসম্ভব হয়ে পড়ত এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১৫০ কিলোগ্রামের বেশি হয়ে যেত। বর্তমানে যে প্রাণীর ওজন এক পাউন্ড, তার ওজন ১৫০ পাউন্ডে পৌঁছাত এবং মানুষের আকার সংকুচিত হয়ে বেজি বা কাঠবিড়ালির সমান হয়ে যেত; আর এ জাতীয় প্রাণীদের জন্য বুদ্ধিভিত্তিক জীবন অসম্ভব হয়ে পড়ত।
যদি পৃথিবী সূর্য থেকে তার বর্তমান দূরত্বের দ্বিগুণ দূরত্বে অপসারিত হতো, তবে সূর্য থেকে প্রাপ্ত তাপের পরিমাণ বর্তমানের এক-চতুর্থাংশে নেমে আসত। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে অনেক বেশি সময় নিত, যার ফলে শীতকালের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হয়ে যেত এবং পৃথিবীর উপরিভাগের জীবজগত জমে বরফ হয়ে যেত। আর পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব যদি বর্তমানের অর্ধেক হয়ে যেত, তবে পৃথিবী কর্তৃক প্রাপ্ত তাপের পরিমাণ চার গুণ বেড়ে যেত, সূর্যের চারদিকে এর কক্ষপথীয় গতি দ্বিগুণ হয়ে যেত এবং ঋতুগুলোর স্থায়িত্ব বর্তমানের অর্ধেক হয়ে যেত—যদি আদৌ কোনো ঋতু অবশিষ্ট থাকত—আর পৃথিবীর বুকে জীবন ধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ত।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وعلى ذلك فان الارض بحجمها وبعدها الحاليين عن الشمس وسرعتها في مدارها، تهيئ للإنسان أسباب الحياة والاستمتاع بها في صورها المادية والفكرية والروحية على النحو الذي نشاهده اليوم في حياتنا.
فاذا لم تكن الحياة قد نشأت بحكمة وتصميم سابق فلا بد ان تكون قد نشأت عن طريق المصادفة. فما هي تلك المصادفة اذن حتى نتدبرها ونرى كيف تخلق الحياة؟
ان نظريات المصادفة والاحتمال لها الان من الأسس الرياضية السليمة ما يجعلها تطبق على نطاق واسع حيثما انعدم الحكم الصحيح المطلق، وتضع هذه النظريات امامنا الحكم الاقرب إلى الصواب مع تقدير احتمال الخطأ في هذا الحكم.. ولقد تقدمت دراسة نظرية المصادفة والاحتمال من الوجهة الرياضية تقدما كبيرا حتى أصبحنا قادرين على التنبؤ بحدوث بعض الظواهر التي نقول انها تحدث بالمصادفة والتي لا نستطيع ان نفسر ظهورها بطريقة اخرى (مثل قذف الزهر في لعبة النرد) . وقد صرنا بفضل تقدم هذه الدراسات قادرين على التمييز بين ما يمكن ان يحدث بطريق المصادفة، وما يستحيل حدوثه بهذه الطريقة، وان نحسب احتمال حدوث ظاهرة من الظواهر في مدى معين من الزمان، ولننظر الان إلى الذي تستطيع ان تلعبه المصادفة في نشأة الحياة:
ان البروتينات من المركبات الأساسية في جميع الخلايا الحية. وهي تتكون من خمسة عناصر هي: الكربون، والايدروجين، والنيتروجين، والأوكسجين، والكبريت. ويبلغ عدد الذرات في الجزيء البروتيني، الواحد 40000 ذرة. ولما كان عدد العناصر الكيماوية في الطبيعة 92 عنصرا موزعه كلها توزيعا عشوائياً، فان احتمال اجتماع هذه العناصر الخمسة لكي تكون جزئيا من جزئيات البروتين يمكن حسابه لمعرفة كمية المادة التي ينبغي ان تخلط خلطا مستمرا لكي تؤلف هذا الجزء، ثم لمعرفة طول الفترة الزمنية اللازمة لكي يحدث هذا الاجتماع بين ذرات الجزيء الواحد.
আর সেই অনুযায়ী, পৃথিবী তার বর্তমান আকার, সূর্য থেকে বর্তমান দূরত্ব এবং তার কক্ষপথে ঘূর্ণন গতির মাধ্যমে মানুষের জন্য জীবন ধারণের উপকরণ এবং এর বস্তুগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক রূপসমূহের আস্বাদনের সুযোগ করে দেয়, যা আমরা আজ আমাদের জীবনে প্রত্যক্ষ করছি।
যদি জীবনের সূচনা কোনো প্রজ্ঞা এবং পূর্ব-পরিকল্পনার মাধ্যমে না হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তা আকস্মিকতা বা দৈবচক্রের মাধ্যমে সূচিত হয়েছে। তাহলে সেই আকস্মিকতা আসলে কী, যাতে আমরা তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারি এবং দেখতে পারি যে কীভাবে তা প্রাণের সৃষ্টি করে?
নিশ্চয়ই আকস্মিকতা ও সম্ভাব্যতা তত্ত্বের বর্তমানে এমন সুদৃঢ় গাণিতিক ভিত্তি রয়েছে যা একে বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগযোগ্য করে তুলেছে, বিশেষ করে যেখানে কোনো চূড়ান্ত সঠিক সিদ্ধান্ত অনুপস্থিত থাকে। এই তত্ত্বগুলো আমাদের সামনে সত্যের নিকটতম সিদ্ধান্তটি উপস্থাপন করে এবং সেই সাথে উক্ত সিদ্ধান্তে ভুলের সম্ভাবনাকেও নিরূপণ করে। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আকস্মিকতা ও সম্ভাব্যতা তত্ত্বের অধ্যয়ন এতটা অগ্রসর হয়েছে যে, আমরা এখন এমন কিছু ঘটনার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম যেগুলোকে আমরা আকস্মিক ঘটনা বলে থাকি এবং যেগুলোর আবির্ভাব আমরা অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না (যেমন ছক্কা খেলার গুটি নিক্ষেপ করা)। এই গবেষণাসমূহের অগ্রগতির ফলে আমরা এখন আকস্মিক উপায়ে কী ঘটা সম্ভব এবং এই উপায়ে কী ঘটা অসম্ভব, তার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো বিশেষ ঘটনার ঘটার সম্ভাবনাও গণনা করতে পারি। এখন দেখা যাক জীবনের উৎপত্তিতে এই আকস্মিকতা কী ভূমিকা পালন করতে পারে:
নিশ্চয়ই প্রোটিন হলো সমস্ত জীবন্ত কোষের অন্যতম মৌলিক যৌগ। এটি পাঁচটি মৌল দ্বারা গঠিত, যথা: কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এবং সালফার। একটি প্রোটিন অণুতে পরমাণুর সংখ্যা প্রায় ৪০,০০০। যেহেতু প্রকৃতিতে ৯২টি রাসায়নিক মৌল বিদ্যমান এবং সেগুলো সবই এলোমেলোভাবে বিন্যস্ত, তাই একটি প্রোটিন অণু তৈরি করার জন্য এই পাঁচটি মৌলের একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা গণনা করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জানা যাবে যে, এই অণুটি গঠন করার জন্য কতটুকু পরিমাণ পদার্থকে ক্রমাগত মিশ্রিত করতে হবে এবং একটি অণুর পরমাণুগুলোর মধ্যে এই মিলন ঘটার জন্য কত দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد قام العالم الرياضي السويسري تشارلز يوجين جاي بحساب هذه العوامل جميعا فوجد ان الفرصة لا تتهيأ عن طريق المصادفة لتكوين جزيء بروتيني واحد الا بنسبة 1 إلى 10 160، اي بنسبة 1 إلى رقم عشرة مضروبا في نفسه 160 مرة. وهو رقم لا يمكن النطق به أو التعبير عنه بكلمات. وينبغي ان تكون كمية المادة التي تلزم لحدوث هذا التفاعل بالمصادفة بحيث ينتج جزيء واحد اكثر مما يتسع له كل هذا الكون بملايين المرات. ويتطلب تكوين هذا الجزيء على سطح الأرض وحدها عن طريق المصادفة بلايين لا تحصي من السنوات قدرها العالم السويسري بانها عشرة مضروبة في نفسها 243 مرة من السنين (10 243 سنة) .
ان البروتينات تتكون من سلاسل طويلة من الأحماض الأمنية. فكيف تتألف ذرات هذه الجزئيات؟ انها اذا تآلفت بطريقة اخرى غير التي تتآلف بها، تصير غير صالحة للحياة، بل تصير في بعض الاحيان سموما، وقد حسب العالم الانجليزي ج. ب. ليثز J. B. Leathes الطرق التي يمكن ان تتألف بها الذرات في احد الجزئيات البسيطة من البروتينات فوجد ان عددها يبلغ البلايين (10 48) . وعلى ذلك فانه من المحال عقلا أن تتآلف كل هذه المصادفات لكي تبني جزيئا بروتينيا واحداً.
ولكن البروتينات ليست الا مواد كيماوية عديمة الحياة، ولا تدب فيها الحياة الا عندما يحل فيها ذلك السر العجيب الذي لا ندري من كنهه شيئا. انه العقل اللانهائي، وهو الله وحده، الذي استطاع ان يدرك ببالغ حكمته ان مثل ذلك الجزيء البروتيني يصلح لان يكون مستقرا للحياة فبناه وصوره وأغدق عليه سر الحياة.
সুইজারল্যান্ডের গণিতবিদ চার্লস ইউজিন গাই এই সমস্ত উপাদানগুলো গণনা করেছেন এবং দেখেছেন যে, আকস্মিকভাবে মাত্র একটি প্রোটিন অণু তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০^১৬০ এর মধ্যে মাত্র ১ ভাগ। অর্থাৎ ১০ সংখ্যাটিকে ১৬০ বার নিজে নিজেই গুণ করলে যে সংখ্যাটি পাওয়া যায়, তার বিপরীতে ১ ভাগ। এটি এমন একটি সংখ্যা যা মুখে উচ্চারণ করা বা শব্দে প্রকাশ করা অসম্ভব। এই বিক্রিয়াটি দৈবক্রমে ঘটে একটি অণু উৎপন্ন হওয়ার জন্য যে পরিমাণ পদার্থের প্রয়োজন হবে, তা এই মহাবিশ্বের মোট ধারণক্ষমতার চেয়েও লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি। আর শুধুমাত্র পৃথিবীর উপরিভাগে দৈবক্রমে এই অণুটি গঠিত হতে অগণিত বিলিয়ন বছর সময়ের প্রয়োজন হবে, যা ঐ সুইস বিজ্ঞানী নির্ধারণ করেছেন ১০-কে ২৪৩ বার নিজে নিজেই গুণ করলে প্রাপ্ত বছরের সমান (১০^২৪৩ বছর)।
নিশ্চয়ই প্রোটিনসমূহ অ্যামিনো অ্যাসিডের দীর্ঘ শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত। এই অণুগুলোর পরমাণুসমূহ কীভাবে বিন্যস্ত হয়? এগুলো যদি বর্তমান বিন্যাস ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে বিন্যস্ত হতো, তবে তা জীবনের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ত, এমনকি অনেক সময় তা বিষাক্ত পদার্থে পরিণত হতো। ইংরেজ বিজ্ঞানী জে. বি. লিথেস প্রোটিনের একটি সাধারণ অণুতে পরমাণুসমূহ বিন্যস্ত হওয়ার সম্ভাব্য উপায়গুলো গণনা করেছেন এবং দেখেছেন যে, এর সংখ্যা বিলিয়ন বিলিয়ন (১০^৪৮)। সুতরাং, একটি প্রোটিন অণু গড়ে তোলার জন্য এই সমস্ত দৈব ঘটনার সমন্বয় ঘটা যুক্তিসঙ্গতভাবেই অসম্ভব।
কিন্তু প্রোটিনসমূহ প্রাণহীন রাসায়নিক পদার্থ ব্যতীত আর কিছুই নয়। এতে প্রাণের সঞ্চার ততক্ষণ পর্যন্ত হয় না, যতক্ষণ না এতে সেই বিস্ময়কর রহস্যের অনুপ্রবেশ ঘটে যার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তিনি হলেন অসীম প্রজ্ঞাময় সত্তা, আর তিনি একমাত্র আল্লাহ; যিনি তাঁর পরম প্রজ্ঞা দ্বারা অনুধাবন করেছেন যে, এই ধরনের প্রোটিন অণুই প্রাণের আবাসস্থল হওয়ার যোগ্য। তাই তিনি একে নির্মাণ করেছেন, একে রূপ দান করেছেন এবং এর ওপর প্রাণের রহস্য ঢেলে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
اختبار شاملكتبها: روبرت موريس بيج
عالم الطبيعة
حاصل على دكتوراه في العلوم من جامعة هاملين – اشتغل في معمل البحوث لبحرية الجيش الامريكي منذ سنة 1927 – كان اول من اكتشف الرادار في العالم سنة 1934، سجل نحو 37 بحثا معظمها في الرادار، الف كثيرا من الكتب – يعمل في الوقت الحاضر مديراً مساعدا في معامل بحوث البحرية الامريكية.
يتطلب اختبار صحة فرض من الفروض تهيئة ظروف معينة تناسبه وذلك، للحصول على نتائج يوصل اليها هذا الفرض، على اساس انه فرض سليم. وعلى ذلك فانه لاختبار صحة فرض معين ينبغي ان تتوافر شروط ثلاثة:
ظروف معينة.
تحقيق نتائج تتفق مع سلامة هذا الفرض.
التسليم بصحة هذا الفرض حتى يثبت عكس ذلك.
اما الشرطان الأولان، فلا يدور حولهما جدال، وأما الشرط الثالث فانه كثيرا ما يهمل عند اختبار صحة الفرض رغم أهميته البالغة.
فعندما كانت السفن قديما تصنع من الخشب، بسبب شيوع الاعتقاد انه لا بد ان تصنع هذه السفن من مواد أقل كثافة من الماء لكي تستطيع ان
تطفو، ظهر فرض أو اقتراح جديد يتخلص في انه من الممكن ان تصنع سفن من الحديد الذي هو اكثر كثافة من الماء، وتستطيع هذه السفن برغم ذلك ان تطفو فوق الماء. وقد انكر احد الحدادين صحة هذا الفرض وذهب إلى ان السفن المصنوعة من الحديد لا يمكن ان تطفو على الماء لان الحديد لا يطفوا على الماء، وأيد هذا الحداد وجهة نظره بان أخذ قطعة من الحديد على صورة
একটি সর্বাত্মক পরীক্ষালিখেছেন: রবার্ট মরিস পেজ
পদার্থবিজ্ঞানী
হ্যামলিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী – ১৯২৭ সাল থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষণাগারে কর্মরত – ১৯৩৪ সালে বিশ্বের প্রথম রাডার আবিষ্কারক, রাডার বিষয়ে অধিকাংশসহ প্রায় ৩৭টি গবেষণাপত্র নথিভুক্ত করেছেন, বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন – বর্তমানে মার্কিন নৌ-গবেষণাগারের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
কোনো প্রকল্পের (Hypothesis) সত্যতা যাচাই করার জন্য তার অনুকূল নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি করা প্রয়োজন, যেন সেই প্রকল্পটিকে সঠিক ধরে নিয়ে তার সম্ভাব্য ফলাফল লাভ করা যায়। সেই অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক:
নির্দিষ্ট পরিস্থিতি।
প্রকল্পটির সঠিকতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ফলাফল অর্জন।
বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত প্রকল্পের সত্যতাকে মেনে নেওয়া।
প্রথম দুটি শর্তের ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই, কিন্তু তৃতীয় শর্তটির অত্যধিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় একে উপেক্ষা করা হয়।
প্রাচীনকালে যখন কাঠ দিয়ে জাহাজ তৈরি করা হতো, তখন এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, ভেসে থাকার জন্য জাহাজ অবশ্যই পানির চেয়ে কম ঘনত্বের বস্তু দিয়ে তৈরি হতে হবে। তখন একটি নতুন প্রকল্প বা প্রস্তাবনা সামনে আসে যে, লোহার তৈরি জাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব যা পানির চেয়ে অধিক ঘনত্বের হওয়া সত্ত্বেও পানির ওপর ভেসে থাকতে সক্ষম হবে। জনৈক কর্মকার এই প্রকল্পের সত্যতা অস্বীকার করেন এবং অভিমত ব্যক্ত করেন যে, লোহা দিয়ে তৈরি জাহাজ কিছুতেই পানির ওপর ভাসতে পারে না, কারণ লোহা পানিতে ভাসে না। উক্ত কর্মকার তার মতের সপক্ষে প্রমাণের জন্য লোহার একটি টুকরো নিয়ে...
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حدوة الفرس والقاها في الماء فغاصت فيه. ان هذا الحداد لم يشأ ن يسلم ولو مؤقتا بصحة هذا الفرض، فاعماه ذلك عن ان يفكر في تجربة مناسبة لاختباره، ربما أوصلته إلى نتيجة تختلف عن النتيجة التي وصل اليها، ولو انه سلم ولو مؤقتا بصحة هذا الفرض لالقى في الماء اناء أو حوضا من الحديد بدلا من حدوة الفرس.
وفي بعض الاحيان يتطلب اختبار صحة الفروض ملاحظات قد لا تتوافر أو تتيسر لشخص معين، فاذا فرضنا مثلا ان شخصا لا يستطيع ان يلاحظ الا الأشياء التي تتكون طافية على وجه المحيط، فان مثل هذا الشخص يعجز عن مشاهدة الاشياء التي تطير في الهواء أو تغوص في الماء، فبينما هو يدرك الأشياء التي تسبح على سطح الماء، كالسفن الكبيرة والصغيرة والبقايا العضوية الطافية والطيور عندما تحلق فوق سطح الماء، فان الطيور والطائرات التي تطير في الهواء، والأسماك والغواصات التي تسبح في جوف الماء، تعتبر غير موجودة بالنسبة اليه. فاذا ظهر لهذا الشخص طائر يكون قد هبط من الهواء إلى سطح الماء، أو جسم مغمور خرج من جوف الماء إلى سطحه، فان ذلك يعتبر بالنسبة لهذا الشخص بمثابة ظهور شيء جديد من العدم. وبالعكس اذا اختفى جسم كان على سطح الماء بان طار في الهواء أو غاص في الماء، فان هذا الشخص يعتبر هذه الظاهرة فناء أو زوالا. وهو سوف يجد ان هنالك بعض الظواهر يستطيع ان يفهمها فهما واضحا، وتلك هي الظواهر التي تتصل بالاجسام الطافية على سطح الماء. ولكن سوف تصادفه ظواهر اخرى لا يستطيع لها فهما أو ادراكا، وتلك هي التي تتعلق بظهور بعض الاجسام فجأة على سطح الماء أو اختفائها فجأة من فوق سطحه.
فاذا قابل هذا الشخص شخصا آخر يستطيع بطريقة ما ان يلاحظ الأشياء التي تطير في الهواء، أو تتحرك في جوف الماء، فان كثيرا من الظواهر التي شاهدها الشخص الأول وعجز عن ان يجد لها تفسيرا يمكن شرحها وإدراك أسرارها بمساعدة الشخص الثاني، ومع
ঘোড়ার নাল এবং তিনি তা পানির মধ্যে নিক্ষেপ করলেন, ফলে তা তাতে ডুবে গেল। এই কর্মকার এই অনুমানের সত্যতা এমনকি সাময়িকভাবেও মেনে নিতে চাননি, যা তাকে এটি পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত কোনো পরীক্ষার কথা চিন্তা করা থেকে অন্ধ করে দিয়েছিল; হয়তো তা তাকে সেই ফলাফলের চেয়ে ভিন্ন কোনো ফলাফলে পৌঁছে দিত যেখানে তিনি পৌঁছেছিলেন। তিনি যদি সাময়িকভাবেও এই অনুমানের সত্যতা মেনে নিতেন, তবে তিনি ঘোড়ার নালের পরিবর্তে লোহার কোনো পাত্র বা আধার পানির মধ্যে নিক্ষেপ করতেন।
কখনো কখনো অনুমানের সত্যতা যাচাই করার জন্য এমন কিছু পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয় যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য সহজলভ্য বা সহজসাধ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা ধরি যে একজন ব্যক্তি কেবল সমুদ্রের উপরিভাগে ভাসমান বস্তুগুলোই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, তবে এমন ব্যক্তি বাতাসে উড়ন্ত বা পানির নিচে নিমজ্জিত বস্তুগুলো দেখতে অক্ষম হবেন। তিনি যখন পানির উপরিভাগে ভাসমান বস্তুগুলো বুঝতে পারেন—যেমন বড় ও ছোট জাহাজ, ভাসমান জৈব অবশিষ্টাংশ এবং পানির উপরিভাগে উড়ার সময়কার পাখি—তখন বাতাসে উড়ন্ত পাখি ও বিমান এবং পানির গভীরতায় বিচরণকারী মাছ ও সাবমেরিন তার কাছে অস্তিত্বহীন বলে গণ্য হয়। সুতরাং যদি এই ব্যক্তির সামনে কোনো পাখি দেখা দেয় যা বাতাস থেকে পানির উপরিভাগে নেমে এসেছে, অথবা পানির গভীর থেকে কোনো নিমজ্জিত বস্তু উপরিভাগে উঠে আসে, তবে এই ব্যক্তির কাছে তা শূন্য থেকে নতুন কোনো কিছুর আবির্ভাব হিসেবে গণ্য হয়। বিপরীতভাবে, পানির উপরিভাগে থাকা কোনো বস্তু যদি বাতাসে উড়ে গিয়ে বা পানিতে ডুবে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে এই ব্যক্তি এই ঘটনাটিকে ধ্বংস বা বিলুপ্তি হিসেবে গণ্য করেন। তিনি দেখতে পাবেন যে কিছু ঘটনা রয়েছে যা তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন, আর সেগুলো হলো পানির উপরিভাগে ভাসমান বস্তু সম্পর্কিত ঘটনা। কিন্তু তিনি এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হবেন যা তিনি বুঝতে বা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন না, আর সেগুলো হলো পানির উপরিভাগে হঠাৎ কোনো বস্তুর আবির্ভাব বা সেখান থেকে হঠাৎ কোনো বস্তুর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া।
যদি এই ব্যক্তি অন্য এমন কোনো ব্যক্তির সাথে মিলিত হন যিনি কোনোভাবে বাতাসে উড়ন্ত অথবা পানির গভীরে বিচরণকারী বস্তুগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, তবে প্রথম ব্যক্তি যে সমস্ত ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং যার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে অক্ষম ছিলেন, দ্বিতীয় ব্যক্তির সহায়তায় সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান এবং রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে, এবং...
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ذلك فان الشخص الاول قد يواجه بعض الصعوبات في ادراك بعض المعاني الأساسية التي تعينه على فهم الموضوع مثل الطيران في الهواء أو الغوص في الماء. وسوف يميل هذا الشخص بطبيعة الحال إلى التشكك في قول صاحبه حتى تتبين له بطريق من الطرق صحة المعلومات التي يقدمها له. وقد لا يكون ذلك أمرا هيناً، ورغم ذلك فان صاحبه يستطيع ان يثبت له صدقه بان يتنبأ له في ضوء ما يراه (مما يعجز الشخص الاول عن ملاحظته) ببعض الظواهر والأشياء التي تتحقق فعلا. فهو يستطيع ان يقول له مثلا: ان طائرا سوف يهبط إلى سطح الماء، ثم لا يلبث الطائر ان يهبط فعلا لكي يختطف سمكة من الماء. وتعتبر صحة التنبؤ في هذه الحالة دليلا على صدق صاحبه فيما يشاهده ويقوله.
ولننتقل بعد هذه المقدمة الموجزة إلى فكر وجود الله، ودعنا نعتبرها الان كما يعتبرها البعض مجرد فرض. فاذا أردنا ان نختبر صحة هذا الفرض، فلابد ان نسلم أولا، ولو مؤقتا، بانه فرض صحيح سواء أكنا نعتقد في ذلك ام لا نعتقد، فاذا لم نسلم بصحة هذا الفرض فاننا نعجز عن الوصول إلى اختبار حقيقي له.
ولابد لنا ان نسلم فوق ذلك بما يسلم به الكثيرون من اي قدرتنا على الملاحظة لا تستطيع ان تمتد لغير جزيء ضئيل نسبياً من الحقيقة الكلية. فالاله الذي نسلم بوجوده لا ينتمي إلى عالم الماديات، ولا تستطيع حواسنا المحدودة ان تدركه، وعلى ذلك فمن العبث ان نحاول اثبات وجوده باستخدام العلوم الطبيعية لانه يشغل دائرة غير دائرتها المحدودة الضيقة. فاذا لم يكن للاله وجود مادي فلابد ان يكون ذلك الاله روحانيا، أو هو يوجد في عالم من الحقيقة غير ذلك العالم الفيزيقي على اية حال، وبذلك فانه لا يمكن ان تحده تلك الأبعاد الثلاثة، أو ان يكون خاضعا لقيود الزمان التي نعرفها، ولابد لنا ان نسلم ان هذا الكون المادي الذي يخضع لقيود الزمان والمكان ليس الا جزءا يسيرا من الحقيقة الكبرى التي ينطوي عليها هذا الوجود. وليس مثل ذلك الا كمثل سطح البحر بالنسبة
ফলে, প্রথম ব্যক্তিটি বিষয়টিকে বোঝার জন্য সহায়ক এমন কিছু মৌলিক অর্থ উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে, যেমন বাতাসে উড়া বা পানিতে ডুব দেওয়া। স্বভাবতই এই ব্যক্তিটি তার সঙ্গীর কথার ব্যাপারে সন্দিহান হওয়ার দিকে ঝুঁকবে, যতক্ষণ না কোনো না কোনো উপায়ে তার কাছে প্রদানকৃত তথ্যের সঠিকতা প্রকাশ পায়। আর এটি হয়তো কোনো সহজ কাজ হবে না; তা সত্ত্বেও, তার সঙ্গী যা দেখছে (যা পর্যবেক্ষণ করতে প্রথম ব্যক্তি অক্ষম) তার আলোকে এমন কিছু ঘটনা ও জিনিসের ভবিষ্যদ্বাণী করার মাধ্যমে নিজের সত্যতা প্রমাণ করতে পারে, যা বাস্তবে সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সে তাকে বলতে পারে: একটি পাখি পানির উপরিভাগে নামবে; এরপর পাখিটি প্রকৃতপক্ষে একটি মাছ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পানিতে নামতে দেরি করে না। এই অবস্থায় ভবিষ্যদ্বাণীর সঠিকতা তার সঙ্গী যা দেখছে এবং বলছে তার সত্যতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর আসুন আমরা আল্লাহর অস্তিত্বের চিন্তার দিকে অগ্রসর হই; এবং আসুন আমরা এটিকে এখন সেভাবেই বিবেচনা করি যেভাবে কেউ কেউ একে কেবল একটি অনুমান হিসেবে গণ্য করে। সুতরাং আমরা যদি এই অনুমানের সঠিকতা পরীক্ষা করতে চাই, তবে আমাদের প্রথমে—সাময়িকভাবে হলেও—এটি একটি সঠিক অনুমান হিসেবে মেনে নিতে হবে, আমরা তাতে বিশ্বাস করি বা না করি। কারণ আমরা যদি এই অনুমানের সঠিকতা স্বীকার না করি, তবে আমরা এর প্রকৃত পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে অক্ষম হব।
এর পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই এটি মেনে নিতে হবে, যা অনেকে মেনে নেন যে, আমাদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা সমগ্র সত্যের একটি তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে প্রসারিত হতে পারে না। সুতরাং যে ইলাহর অস্তিত্ব আমরা স্বীকার করি, তিনি বস্তুগত জগতের অন্তর্ভুক্ত নন এবং আমাদের সীমাবদ্ধ ইন্দ্রিয়সমূহ তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না। অতএব, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করা নিরর্থক, কারণ তিনি এমন এক ক্ষেত্র পরিব্যাপ্ত করে আছেন যা বিজ্ঞানের সেই সীমাবদ্ধ ও সংকীর্ণ ক্ষেত্রের বাইরে। অতএব, যদি ইলাহর কোনো বস্তুগত অস্তিত্ব না থাকে, তবে অবশ্যই সেই ইলাহ আত্মিক হবেন, অথবা তিনি যে কোনো অবস্থাতেই এই ভৌত জগৎ ব্যতীত অন্য কোনো সত্যের জগতে বিদ্যমান থাকবেন। এর ফলে, সেই ত্রিমাত্রিক মাত্রাগুলো তাঁকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না, অথবা তিনি আমাদের পরিচিত সময়ের সীমাবদ্ধতার অধীনও হতে পারেন না। আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, এই বস্তুগত মহাবিশ্ব যা স্থান ও কালের সীমাবদ্ধতার অধীন, তা এই অস্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত বৃহত্তর সত্যের একটি সামান্য অংশ মাত্র। আর এর উদাহরণ হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উদাহরণের মতো যা...
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২০)
للشخص الذي اشرنا اليه في بدء الحديث، والذي يعتبر سطح البحر بالنسبة له جزءا ضئيلا من العوالم الاخرى الموجودة فعلا والتي لا يستطيع ان يدركها بسبب قصوره ولكنه قد لا يعجز عن الاستدلال عليها.
فاذا سلمنا بوجود الله فلا بد ان نسلم بقدرته على ان يكشف لنا بعض الحقائق الغيبية التي لا نستطيع ان ندركها لقصورنا. واننا لنجد في الكتب السماوية كثيرا من المعلومات حول العالم الروحاني. وقد وصلت هذه المعلومات الينا عن طريق بعض البشر من الرسل الذين كشف الله لهم من عوالم الغيب ما لم يكشفه لغيرهم. ولا يمكن ان تكون هذه النبوءات خاضعة لقيود الزمان التي نعرفها. وليس التنبؤ بالغيب هو الدليل الوحيد على صدق الرسل، وكلننا نشير اليه كمثال لطريقة من طرق الاستدلال على صحة ما جاءوا به.
وقد سبقت المسيح (1) عليه السلام مثلا نبوءات عديدة جاءت قبله بمئات السنين وتناولت كثيرا من المعلومات حول شخصه وطبيعته وما سوف يقوم به أو يحدث له. وكلها من الاشياء التي عجزت العلوم حتى اليوم ان تجد لها تفسيرا، وقد أيدت الأيام وأثبت التاريخ صدق هذه النبوءات جميعا، فقامت بذلك دليلا على صحة رسالته. ان الايمان بوجود الله من الأمور الخاصة التي تنبت في شعور الانسان وضميره، وتنمو في دائرة خبرته الشخصية.
واذا أراد الإنسان ان يتثبت من صحة المعلومات الغيبية التي يخبره بها شخص آخر، فلا بد ان يشترك في التجربة ويتهيأ لها حتى يستطيع ان يحكم عليها. وكذلك الحال فيما يتعلق بالايمان بالله، فلا بد ان يدرس الإنسان أولا نوع العلاقات التي يمكن ان تكون
--------------------------------------------
সেই ব্যক্তির জন্য যার কথা আমরা আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করেছি, যার কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ সেই সমস্ত বিদ্যমান অন্যান্য জগতের একটি সামান্য অংশ হিসেবে বিবেচিত যা সে আসলে উপলব্ধি করতে পারে না তার সীমাবদ্ধতার কারণে, তবে সেগুলোর অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ আহরণ করতে সে হয়তো অক্ষম নয়।
সুতরাং আমরা যদি আল্লাহর অস্তিত্ব মেনে নেই, তবে অবশ্যই আমাদের তাঁর সেই সক্ষমতাকে স্বীকার করতে হবে যার মাধ্যমে তিনি আমাদের কাছে এমন কিছু অদৃশ্যের বাস্তবতা উন্মোচন করেন যা আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে উপলব্ধি করতে পারি না। আমরা আসমানী কিতাবগুলোতে আধ্যাত্মিক জগত সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাই। এই তথ্যগুলো আমাদের কাছে এসেছে রাসুলদের মতো কিছু মানুষের মাধ্যমে যাদের কাছে আল্লাহ অদৃশ্যের জগতের এমন কিছু উন্মোচিত করেছেন যা তিনি অন্যদের কাছে করেননি। আর এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আমাদের জানা সময়ের সীমাবদ্ধতার অধীন হওয়া সম্ভব নয়। অদৃশ্যের সংবাদ দেওয়া রাসুলদের সত্যতার একমাত্র প্রমাণ নয়, তবে তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন তার সত্যতা প্রমাণের একটি পদ্ধতি হিসেবে আমরা একে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছি।
উদাহরণস্বরূপ, মাসীহ (১) আলাইহিস সালামের আগমনের শত শত বছর আগেই অনেক ভবিষ্যদ্বাণী এসেছিল যা তাঁর সত্তা, প্রকৃতি এবং তিনি যা করবেন বা তাঁর সাথে যা ঘটবে সে সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রদান করেছিল। এগুলোর সবই এমন বিষয় যার ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত অক্ষম হয়েছে, আর দিনগুলো সেগুলোকে সমর্থন করেছে এবং ইতিহাস এই সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা প্রমাণ করেছে, ফলে তা তাঁর রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস এমন এক বিশেষ বিষয় যা মানুষের অনুভূতি ও বিবেকের মধ্যে অঙ্কুরিত হয় এবং তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিমণ্ডলে বিকশিত হয়।
আর মানুষ যদি অন্য কারো দেওয়া অদৃশ্যের সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে সেই অভিজ্ঞতায় অংশ নিতে হবে এবং তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে যাতে সে সেটির ওপর বিচার করতে পারে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, তাই মানুষকে প্রথমে সেই সম্পর্কের ধরণ নিয়ে অধ্যয়ন করতে হবে যা হওয়া সম্ভব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২১)
بينه وبين خالقه، وما ينبغي ان تكون عليه هذه العلاقات، فاذا درس الإنسان الشروط التي يلزم توافرها لقيام هذه العلاقة واتجه بقلبه وكليته نحو تحقيق هذه الشروط فانه سوف يشاهد الحقيقة كاملة، عندئذ يغمر الايمان قلبه ويؤثر في حياته ولا يدع في نفسه مجالا للشك، واذا ذاك يكون الله أقرب اليه من نفسه ويصير إيمانه به يقيناً.
তার ও তার স্রষ্টার মধ্যে, এবং এই সম্পর্কসমূহ কীরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয় সে সম্পর্কে। সুতরাং মানুষ যদি এই সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি অধ্যয়ন করে এবং তার অন্তর ও সমগ্র সত্তা দিয়ে এই শর্তসমূহ বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করে, তবে সে পূর্ণ সত্য প্রত্যক্ষ করবে। তখন ঈমান তার অন্তরকে প্লাবিত করবে এবং তার জীবনে প্রভাব ফেলবে, আর তার মনে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখবে না। এমতাবস্থায় আল্লাহ তার নিজের চেয়েও তার অধিক নিকটবর্তী হবেন এবং তাঁর প্রতি তার ঈমান এক সুদৃঢ় নিশ্চিয়তায় পরিণত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২২)
درس من شجيرة الورد
كتبها: ميربت ستانلي كونجدن
عالم طبيعي وفيلسوف
دكتوراه من جامعة بورتون – أستاذ سابق باحدى كليات فلوريدا – عضو الجمعية الأمريكية الطبيعية – اخصائي في الفيزياء وعلم النفس وفلسفة العلوم والبحوث الانجيلية.
منذ سنوات عديدة رأيت شجيرة ورد جميلة مزهرة نمت على جانب طريق منعزلة في بنسلفانيا. وعندما مررت بالمكان بعد فترة من الزمن، رأيت بجوار الشجيرة أنقاض كوخ صغير متهدم وقد غطتها الأعشاب وبعض البقايا النباتية. وكانت أقرب المساكن تبعد عن هذا المكان بما لا يقل عن نصف ميل. وقد استبعدت من خاطري ان تكون هذه الشجرة قد نمت بجوار الكوخ بمحض المصادفة من بذرة حملتها الريح أو الماء أو بعض الحيوانات الاخرى، أو من جزيء من ساق الورد قذفت به الاقدار إلى هذا المكان. لقد أدركت بالبداهة انه لابد ان تكون هذه الشجيرة قد زرعها انسان لينتفع بها بجوار ذلك الكوخ، ومع انني لم أر هذه الشجيرة عند زراعتها وليس لدي مرجع استدل به على تاريخها فانني لم أشك في أنها قد زرعت في مكانها وتحت ظروفها بوساطة الانسان.
هذا نوع من الاستدلال. وقد نستبعد في بادئ الامر استخدام هذا النوع من المنطق أو التفكير في ميادين العلوم. ولكننا سوف تصدمنا الحقيقة، وهي ان هذا الأسلوب من أساليب الاستدلال هو الأسلوب الوحيد الذي قام عليه علم من اقدم العلوم الطبيعية، الا وهو الفلك. فنحن لا نستطيع ان نخضع المجرات والنجوم والسيارات في أفلاكها لحكم التجربة، كما اننا لا نستطيع ان نتخلص من آثار الاشعة الكونية التي تفصل بيننا وبين
গোলাপের ঝোপ থেকে প্রাপ্ত একটি শিক্ষা
লেখক: মেরিট স্ট্যানলি কংডন
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক
বার্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি – ফ্লোরিডার একটি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক – আমেরিকান ন্যাচারালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য – পদার্থবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, বিজ্ঞানের দর্শন এবং বাইবেলীয় গবেষণায় বিশেষজ্ঞ।
বহু বছর আগে আমি পেনসিলভেনিয়ার এক নির্জন রাস্তার পাশে একটি সুন্দর প্রস্ফুটিত গোলাপ ঝোপ জন্মাতে দেখেছিলাম। কিছুকাল পর যখন আমি সেই স্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন ঝোপটির পাশে একটি জরাজীর্ণ ছোট কুঁড়েঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাই, যা আগাছা এবং উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ দ্বারা আবৃত ছিল। নিকটতম জনবসতিটি সেই স্থান থেকে অন্তত আধা মাইল দূরে অবস্থিত ছিল। আমি আমার মন থেকে এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলাম যে, বাতাস, পানি বা অন্য কোনো প্রাণীর বহন করে আনা বীজ থেকে অথবা নিয়তি ক্রমে এই স্থানে নিক্ষিপ্ত গোলাপের কাণ্ডের কোনো অংশ থেকে সম্পূর্ণ দৈবক্রমে এই ঝোপটি কুঁড়েঘরের পাশে জন্মেছে। আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অনুধাবন করেছিলাম যে, ঐ কুঁড়েঘরের পাশে নিশ্চয়ই কোনো মানুষ এটি রোপণ করেছিল তার থেকে উপকার লাভের উদ্দেশ্যে। যদিও রোপণের সময় আমি এই ঝোপটি দেখিনি এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে জানার মতো কোনো তথ্যসূত্রও আমার কাছে ছিল না, তবুও এটি যে সেই নির্দিষ্ট স্থানে এবং সেই পরিস্থিতিতে কোনো মানুষের মাধ্যমেই রোপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না।
এটি এক প্রকার অনুমাননির্ভর যুক্তি (Inference)। আমরা প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই ধরনের যুক্তি বা চিন্তাধারা প্রয়োগ করা অসম্ভব মনে করতে পারি। কিন্তু একটি সত্য আমাদের বিস্মিত করবে, আর তা হলো—অনুমানের এই পদ্ধতিটিই একমাত্র পদ্ধতি যার ওপর ভিত্তি করে প্রাচীনতম প্রাকৃতিক বিজ্ঞানসমূহের অন্যতম একটি অর্থাৎ জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেননা আমরা ছায়াপথ, নক্ষত্র এবং গ্রহসমূহকে তাদের কক্ষপথে পরীক্ষাগারের পরীক্ষার অধীনে নিয়ে আসতে পারি না, ঠিক যেমন আমরা মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব থেকে নিষ্কৃতি পাই না যা আমাদের এবং আমাদের মাঝে ব্যবধান তৈরি করে।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هذه الاجرام السماوية عند دراستها، بل لا نستطيع ان نعدل ما يطرأ على الموجات الضوئية والصوتية المنبعثة من هذه الاجرام من تغيرات بسبب المسافات الشاسعة التي تفصل بيننا وبينها.
ومع كل ذلك فان هذه الظروف لم تحل بيننا وبين دراسة هذه الكوكب والنجوم في سمواتها، والاستفادة من النظريات والقوانين التي وصلنا اليها في دراسات اخرى مشابهة في ميادين العلوم. وقد وصلنا بفض كل ذلك إلى كثير من المعلومات والحقائق عن هذه العوالم التي لا نستطيع ان نراها الا من بعد، ولا نستطيع ان نمحصها الا تحت ظروف صعبة معقدة. وما بالنا نذهب بعيدا وقد درسنا الذرة واستخدمنا ما نعرفه من قوانين الكتلة والطاقة في استنباط صفاتها وتركيبها وخواصها، ونحن مع ذ
…لك لم نر الذرة حتى اليوم بطريقة مباشرة. ولقد ايدت القنبلة الذرية الأولى ما وصلنا اليه من قوانين ونظريات حول تركيب الذرة غير المنظورة ووظائفها. اننا نستدل على هذه الظواهر جميعا بآثارها، معتمدين في ذلك على الاستدلال المنطقي الصرف وعلى ما لدينا من حقائق اولية بسيطة تتعلق بهذه الظواهر والأشياء. واننا لنستطيع ان نستخدم نفس المنطق الاستدلالي في ادراك وجود الله تعالى ومعرفة صفاته. اننا نستطيع ان نستخدم المنطق لكي ندرك ان لخالق هذا الكون صفات تناظر الصفات التي نجدها في أنفسنا، فلابد ان يكون سبحانه متصفا بالحكمة والإرادة والقدرة.
ومما لا شك فيه اننا نحتاج في محاولتنا لوصف الخالق ومعرفة صفاته إلى مصطلحات ومعان تختلف اختلافا بينا عن تلك التي نستخدمها عندما نصف عالم الماديات، فالصفات المادية والتفسيرات الميكانيكية التي تقوم على نظريات السلوكيين تعجز عن ان تعيننا على تحقيق هذه الغاية. وبخاصة بعد ان تبين لنا ان هذا الكون الذي نعيش فيه لا يمكن ان يكون مادة صرفا وانما هو مادة وروح، أو مادة وغير مادة. ولا نستطيع ان نصف الاشياء غير المادية بالأوصاف المادية وحدها.
এই আসমানি বস্তুগুলো অধ্যয়নের সময়, বরং আমরা সেই পরিবর্তনগুলোকেও সংশোধন করতে সক্ষম নই যা এই জ্যোতিষ্কগুলো থেকে নির্গত আলোকতরঙ্গ এবং শব্দতরঙ্গে ঘটে থাকে, সেই বিশাল দূরত্বের কারণে যা আমাদের এবং সেগুলোর মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করে।
এতৎসত্ত্বেও, এই পরিস্থিতিগুলো আসমানে অবস্থিত এই গ্রহ ও নক্ষত্রসমূহ অধ্যয়ন এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য সমজাতীয় ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তত্ত্ব ও নিয়মাবলী থেকে উপকৃত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আর এ সবকিছুর বদৌলতে আমরা এই জগতগুলো সম্পর্কে অনেক তথ্য ও সত্যে উপনীত হয়েছি, যা আমরা দূর থেকে ছাড়া দেখতে পারি না এবং কঠিন ও জটিল পরিস্থিতি ছাড়া যা যাচাই-বাছাই করতে পারি না। আর আমরা দূরেই বা যাব কেন, অথচ আমরা পরমাণু নিয়ে গবেষণা করেছি এবং এর গুণাবলি, গঠন ও বৈশিষ্ট্য উদঘাটনে ভর ও শক্তির যে নিয়মগুলো জানি তা ব্যবহার করেছি, যদিও আমরা ত
…াসত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সরাসরি পরমাণু দেখিনি। প্রথম পারমাণবিক বোমাটি অদৃশ্য পরমাণুর গঠন ও কার্যাবলী সম্পর্কে আমাদের প্রাপ্ত নিয়ম ও তত্ত্বগুলোকে সমর্থন করেছে। আমরা এই সকল বিষয়ের প্রভাবের মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ পেশ করি, এক্ষেত্রে আমরা কেবল যুক্তিগত অনুমানের ওপর এবং এই বিষয় ও বস্তুগুলোর সাথে সম্পর্কিত আমাদের কাছে থাকা প্রাথমিক সহজ সত্যগুলোর ওপর নির্ভর করি। আর আমরা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব উপলব্ধি এবং তাঁর গুণাবলি জানার ক্ষেত্রে এই একই যুক্তিনির্ভর অনুমানের পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি। এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার এমন কিছু গুণ রয়েছে যা আমাদের নিজেদের মধ্যে পাওয়া গুণাবলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তা উপলব্ধি করার জন্য আমরা যুক্তি ব্যবহার করতে পারি; সুতরাং তিনি অবশ্যই হিকমত (প্রজ্ঞা), ইরাদাহ (ইচ্ছা) এবং কুদরত (ক্ষমতা) গুণে গুণান্বিত হবেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, স্রষ্টাকে বর্ণনা করার এবং তাঁর গুণাবলি জানার প্রচেষ্টায় আমাদের এমন কিছু পরিভাষা ও অর্থের প্রয়োজন হয় যা জড়জগত বর্ণনায় ব্যবহৃত পরিভাষা থেকে স্পষ্টত ভিন্ন; কেননা বস্তুগত গুণাবলি এবং আচরণবাদীদের তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি যান্ত্রিক ব্যাখ্যাসমূহ আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে অক্ষম। বিশেষ করে যখন আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আমরা যে মহাবিশ্বে বাস করি তা নিছক জড় পদার্থ হতে পারে না, বরং তা পদার্থ ও রুহ (আত্মা), অথবা পদার্থ ও অপদার্থের সমন্বয়। আর আমরা অবস্তুগত বিষয়গুলোকে কেবল বস্তুগত গুণাবলি দ্বারা বর্ণনা করতে পারি না।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وكثيرا ما طلبت إلى تلاميذي ان يصفوا لي شيئا غير مادي مثل (الفكرة) ، وطلبت اليهم ان يبينوا لي التركيب الكيماوي للفكرة وطولها بالسنتيمترات، ووزنها بالغرامات ولونها وضغطها وان يصفوا لي شكلها وصورتها. وقد عجزوا جميعا عن تحقيق ذلك. وصار من الواضح انه لكي نصف أمرا غير مادي لا بد من استخدام مصطلحات وأوصاف اخرى تختلف اختلافا كبيرا عن المصطلحات التي نستخدمها في دائرة العلوم.
اننا لا نستطيع ان نسخر من هذه المشكلة أو نفر منها. فلو لم يكن هذا الكون ثنائيا لاستطعنا ان نعرف الفكرة تعريفا ماديا صرفا، وهو ما لم يحدث أبدا. والنظريات المادية التي قدمها ديموقريطس وهوبز والسلوكيون، وكذلك النظريات المثالية الصرف التي تفر هذا الكون تفسيرا معنويا خالصاً مما قدمه ليبنتز وبيركلي وهيجل، نقول ان هذه النظريات الأحادية جميعا لا تعدو ان تكون مجرد افتراضات تقوم على التخمين ولا تستند إلى اي أساس من الوجهة التجريبية. ولابد لأي فلسفة تحاول ان تفسر الطبيعة والكون من ان تختبر أولا لمعرفة مدى قدرتها على تفسير سائر أنواع الحقائق والعوامل والعناصر التي يتألف منها هذا الكون أو تظهر فيه.
ان العلوم حقائق مختبرة، ولكنها مع ذلك تتأثر بخيال الإنسان وأوهامه ومدى بعده عن الدقة في ملاحظاته وأوصافه واستنتاجاته. ونتائج العلوم مقبولة داخل هذه الحدود. فهي بذلك مقصورة على الميادين الكمية في الوصف والتنبؤ، وهي تبدأ بالاحتمالات وتنتهي بالاحتمالات كذلك، وليس باليقين. ونتائج العلوم بذلك تقريبية وعرضة للأخطاء المحتملة في القياس والمقارنات، ونتائجها اجتهادية وقابلة للتعديل بالإضافة والحذف، وليست نهائية. واننا لنرى ان العالم عندما يصل إلى قانون أو نظرية يقول ان هذا هو ما وصلنا اليه حتى الان، ويترك الباب مفتوحا لما قد يستجد من التعديلات.
ان العلوم تبدأ بقضايا أو بديهيات مسلم بصحتها برغم انها لا تستند أساسا على حقيقة
আমি প্রায়শই আমার ছাত্রদের বলেছি যেন তারা আমাকে (চিন্তা)-র মতো একটি অবস্তুগত বিষয়ের বর্ণনা দেয় এবং আমি তাদের কাছে দাবি করেছি যেন তারা আমাকে চিন্তার রাসায়নিক গঠন, সেন্টিমিটারে এর দৈর্ঘ্য, গ্রামে এর ওজন, এর রঙ ও চাপ প্রদর্শন করে এবং এর আকৃতি ও অবয়ব বর্ণনা করে। তারা সকলেই এটি সম্পন্ন করতে অক্ষম হয়েছে। আর এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, কোনো অবস্তুগত বিষয়ের বর্ণনা দিতে হলে এমন কিছু পারিভাষিক শব্দ ও গুণের ব্যবহার অপরিহার্য যা বিজ্ঞান বা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পরিমণ্ডলে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আমরা এই সমস্যাটিকে উপহাস করতে পারি না কিংবা এ থেকে পলায়নও করতে পারি না। যদি এই মহাবিশ্ব দ্বৈত প্রকৃতির না হতো, তবে আমরা চিন্তার একটি বিশুদ্ধ বস্তুগত সংজ্ঞা দিতে সক্ষম হতাম, যা আদতে কখনোই ঘটেনি। ডেমোক্রিটাস, হবস ও আচরণবাদীদের উপস্থাপিত বস্তুগত মতবাদসমূহ এবং একইভাবে লাইবনিজ, বার্কলি ও হেগেলের উপস্থাপিত বিশুদ্ধ ভাববাদী মতবাদসমূহ যা এই মহাবিশ্বকে কেবল একটি আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা প্রদান করে—আমরা বলতে পারি যে এই সকল অদ্বৈতবাদী মতবাদসমূহ নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কিছু কল্পনা মাত্র এবং পরীক্ষামূলক কোনো ভিত্তির ওপর এগুলো প্রতিষ্ঠিত নয়। যেকোনো দর্শন যা প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পায়, তাকে সর্বাগ্রে এই মহাবিশ্বের গঠনকারী বা এতে দৃশ্যমান অন্যান্য সকল প্রকার সত্য, প্রভাবক ও উপাদানসমূহ ব্যাখ্যা করার সক্ষমতার নিরিখে যাচাই করা আবশ্যক।
বিজ্ঞানসমূহ পরীক্ষিত সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও এগুলো মানুষের কল্পনা, বিভ্রান্তি এবং তার পর্যবেক্ষণ, বর্ণনা ও উপসংহারের নির্ভুলতা থেকে দূরত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বিজ্ঞানের ফলাফলসমূহ এই সীমার মধ্যেই গ্রহণযোগ্য। ফলে এগুলো বর্ণনা ও পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কেবল পরিমাণগত ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ; এটি সম্ভাবনা দিয়ে শুরু হয় এবং সম্ভাবনার মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়, কোনো নিশ্চিত ধ্রুব সত্যের মাধ্যমে নয়। ফলে বিজ্ঞানের ফলাফলসমূহ আনুমানিক এবং পরিমাপ ও তুলনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ত্রুটিবিচ্যুতির সম্মুখীন। এর ফলাফলসমূহ গবেষণানির্ভর এবং সংযোজন বা বিয়োজনের মাধ্যমে পরিবর্তনযোগ্য, এগুলো চূড়ান্ত নয়। আমরা দেখি যে একজন বিজ্ঞানী যখন কোনো নিয়ম বা তত্ত্বে উপনীত হন, তখন তিনি বলেন যে আমরা এ পর্যন্ত এতটুকুই পৌঁছেছি, এবং ভবিষ্যতে হতে পারে এমন সংশোধনের জন্য দ্বার উন্মুক্ত রাখেন।
বিজ্ঞান এমন কিছু প্রস্তাবনা বা স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের মাধ্যমে শুরু হয় যার সত্যতা মেনে নেওয়া হয়, যদিও তা মৌলিকভাবে কোনো ধ্রুব সত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فيزيائية ملموسة. وعلى ذلك فان العلوم تقوم على أساس فلسفي. والخبرة الشخصية في العلوم كما في الفلسفة والدين هي المحك النهائي والملاذ الأخير الذي تختبر به جميع الحقائق في العلوم كما في الفلسفة والدين. وبرغم انه لابد ان تكون الحقائق والنظريات التي يصل اليها رجال العلوم قابلة للاختبار والتحقيق على أيدي غيرهم من العلماء فان ادراكنا الشخصي للظواهر الطبيعية يعتبر أمراً نسبيا ويتوقف على ظروف خاصة بنا.
ومع ذلك فان هذه الحدود والقيود لا تهون من شأن الطريقة العلمية ولا من قيمة النتائج التي نصل اليها باستخدامها، ولكنها توجه الجهود وتقيد النتائج. ومن ذلك ندرك عجز العلوم عجزا كليا من ان تعالج المشكلات التي تبعد عن التحليل أو التركيب الكمي.
فلننتقل الان إلى السؤال الذي يدور حول وجود الله، وهو بطبيعة الحال من الاسئلة التي لا نستطيع العلوم بقيودها السابقة ودائرتها المادية الضيقة أن تعالجها. ولكنه اذا كان هنالك تأثير من العالم الروحي على العالم المادي، فان هذا التأثير يدخل في دائرة العلوم الطبيعية. ولا بد من قبول اية طريقة سليمة نستطيع ان تعالج هذه المشكلة، ومن ذلك طريقة الاستدلال المنطقي التي تقوم على تفسير النتائج بنظائرها أو مثيلاتها، وهي الطريقة التي أشرنا اليها من قبل.
وتعالج العلوم كثيرا من الظواهر الطبيعية التي تحدث في هذا الكون، وبرغم ان العلوم لا تؤيد وجود عالم غير مادي تاييدا كاملا، فانها لا تستطيع ان تنفي بصورة قاطعة وجود عوالم اخرى غير مادية وراء العالم المادي. ونستطيع بطريقة الاستدلال والقياس بقدرة الإنسان وذكائه، في عالم يفيض بالأمور العقلية، ان نصل إلى وجوب وجود قوة مسيطرة مدبرة تدبر هذا الكون وتدبر أموره وتعيننا على فهم ما يغمض علينا من أمر منحنيات التوزيع، ودورة الماء في الطبيعة، ودورة ثاني أوكسيد الكربون فيها، وعمليات التكاثر العجيبة، وعمليات التمثيل الضوئي ذات الاهمية البالغة في اختزان الطاقة الشمسية وما لها من أهمية بالغة في حياة
বাস্তব ভৌত বিষয়াবলি। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞান একটি দার্শনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দর্শন ও ধর্মের ন্যায় বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলো চূড়ান্ত মানদণ্ড ও সর্বশেষ আশ্রয়স্থল, যার মাধ্যমে বিজ্ঞান, দর্শন ও ধর্মের সকল সত্যতা যাচাই করা হয়। যদিও বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত সত্য ও তত্ত্বসমূহ অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও যাচাইযোগ্য হওয়া আবশ্যক, তবুও প্রাকৃতিক ঘটনাবলির প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত উপলব্ধি আপেক্ষিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তা আমাদের নিজস্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
তবুও এই সীমাবদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতাগুলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মর্যাদা কিংবা এর ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যে ফলাফলে উপনীত হই তার গুরুত্বকে খাটো করে না, বরং এগুলো প্রচেষ্টাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং ফলাফলকে নির্দিষ্ট সীমারেখায় আবদ্ধ রাখে। এর থেকে আমরা সংখ্যাগত বিশ্লেষণ বা সংশ্লেষণ থেকে দূরে থাকা সমস্যাগুলো নিরসনে বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ অক্ষমতা উপলব্ধি করি।
এখন আমরা আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ক প্রশ্নের দিকে ফিরে যাই। স্বাভাবিকভাবেই এটি এমন একটি প্রশ্ন যা বিজ্ঞান তার পূর্বোক্ত সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণ বস্তুবাদী গণ্ডির কারণে সমাধান করতে সক্ষম নয়। কিন্তু যদি বস্তুগত জগতের ওপর আধ্যাত্মিক জগতের কোনো প্রভাব থেকে থাকে, তবে সেই প্রভাব প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পরিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সমস্যা নিরসনে সক্ষম যেকোনো সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করা অপরিহার্য, যার মধ্যে রয়েছে যৌক্তিক অনুমানের পদ্ধতি যা ফলাফলকে তার সদৃশ বা সমজাতীয় বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; আর এটিই সেই পদ্ধতি যার কথা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
বিজ্ঞান এই মহাবিশ্বে সংঘটিত অনেক প্রাকৃতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। যদিও বিজ্ঞান একটি অভৌত জগতের অস্তিত্বকে পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করে না, তবুও এটি বস্তুগত জগতের বাইরে অন্য কোনো অভৌত জগতের অস্তিত্বকে অকাট্যভাবে অস্বীকার করতে পারে না। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে পরিপূর্ণ এই পৃথিবীতে মানুষের সক্ষমতা ও মেধার দ্বারা অনুমান ও পরিমাপের মাধ্যমে আমরা একজন নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালক সত্তার অস্তিত্বের আবশ্যকতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, যিনি এই মহাবিশ্ব ও এর কার্যাবলি পরিচালনা করেন এবং আমাদের সেই বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করেন যা বণ্টন বক্ররেখা, প্রকৃতিতে পানি চক্র, কার্বন ডাই অক্সাইড চক্র, বিস্ময়কর প্রজনন প্রক্রিয়া এবং সৌরশক্তি সঞ্চয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ও জীবনের ক্ষেত্রে এর অপরিসীম গুরুত্বের মতো জটিল বিষয়াবলি বুঝতে আমাদের সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الكائنات الحية، وما لا يحصى من عجائب من هذا الكون. اذ كيف يتسنى لنا ان نفسر هذه العمليات المعقدة المنظمة تفسيرا يقوم على أساس المصادفة والتخبط العشوائي؟ وكيف نستطيع ان نفسر هذا الانتظام في ظواهر الكون والعلاقات السببية، والتكامل، والغرضية، والتوافق، والتوازن، التي تنتظم سائر الظواهر وتمتد آثارها من عصر إلى عصر؟ كيف يعمل هذا الكون دون ان يكون له خالق مدبر هو الذي خلقه وأبدعه ودبر سائر أموره؟
ان جميع ما في الكون يشهد على وجود الله سبحانه ويدل على قدرته وعظمته. وعندما نقوم نحن العلماء بتحليل ظواهر هذا الكون ودراساتها، حتى باستخدام الطريقة الاستدلالية، فاننا لا نفعل أكثر من ملاحظة آثار أيادي الله وعظمته (1) . ذلك هو الله الذي لا نستطيع ان نصل اليه بالوسائل العلمية المادية وحدها، ولكننا نرى آياته في أنفسنا وفي كل ذرة من ذرات هذا الوجود. وليست العلوم الا دراسة خلق الله وآثار قدرته.
--------------------------------------------
জীবন্ত প্রাণীকুল এবং এই মহাবিশ্বের অগণিত বিস্ময়াবলি। কারণ, কীভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব যে আমরা এই জটিল ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াগুলোকে আকস্মিকতা এবং বিশৃঙ্খল এলোমেলো অবস্থার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করব? আর কীভাবে আমরা মহাবিশ্বের ঘটনাবলির এই শৃঙ্খলা এবং কার্যকারণ সম্পর্ক, পূর্ণতা, উদ্দেশ্যমুখিতা, সামঞ্জস্য ও ভারসাম্যকে ব্যাখ্যা করতে পারি, যা সমস্ত পরিমণ্ডলকে সুসংবদ্ধ করে রেখেছে এবং যার প্রভাব যুগ থেকে যুগান্তরে বিস্তৃত? একজন সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালক ব্যতীত এই মহাবিশ্ব কীভাবে চলতে পারে, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, নিপুণভাবে উদ্ভাবন করেছেন এবং এর সমস্ত বিষয়াদি পরিচালনা করছেন?
নিশ্চয়ই মহাবিশ্বের সবকিছুই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর ক্ষমতা ও মহানত্বের প্রমাণ বহন করে। আর যখন আমরা বিজ্ঞানীরা এই মহাবিশ্বের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ ও অধ্যয়ন করি, এমনকি অনুমানমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করেও, তখন আমরা আল্লাহর হাতের চিহ্ন এবং তাঁর মহানত্ব পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কিছুই করি না (১)। তিনিই আল্লাহ, যাঁর নিকট আমরা কেবল বস্তুগত বৈজ্ঞানিক উপায়ে পৌঁছাতে পারি না; কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে এবং এই অস্তিত্বের প্রতিটি অণুর মাঝে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখতে পাই। আর বিজ্ঞান তো আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর ক্ষমতার নিদর্শনসমূহের অধ্যয়ন ছাড়া আর কিছুই নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النتيجة الحتميةكتبها: جون كليفلاند كوثران
من علماء الكيمياء والرياضة
دكتوراه من جامعة كورنل – رئيس قسم العلوم الطبيعية بجامعة دولث – أخصائي في تحضير النترازول وفي تنقية التنجستين
قال لورد كيلفي – وهو من علماء الطبيعة البارزين في العالم – هذه العبارة القيمة: (اذا فكرت تفكيرا عميقا فان العلوم سوف تضطرك إلى الاعتقاد في وجود الله، ولا بد ان اعلن عن موافقتي كل الموافقة على هذه العبارة.
ان ملاحظة هذا الكون ملاحظة تقوم على الخبرة والذكاء وتدبر ما تعرفه عنه من جميع النواحي سوف تعقودنا إلى التسليم بوجود ثلاثة عوالم من الحقائق، هي العالم المادي (المادة) ، والعالم الفكري (العقل) ، والعالم الروحي (الروح) . وان ما تقدمه الكيمياء في هذا الميدان لابد ان يكون محدوداً لانه قليل من كثير في هذا المجال.
والكيمياء، بحكم اختصاصها بدراسة التركيب والتغيرات التي تطرأ على المادة، بما في ذلك تحول المادة إلى طاقة وتحول الطاقة إلى مادة، تعد من العلوم المادية التي ليس لها صلة بعالم الروحيات. فكيف اذن يتسنى للكيمياء ان تقدم دليلا ماديا على وجود الروح الاعظم أو الله الذي خلق هذا الكون؟ وكيف ينتظر منها ان تختبر الفرض الذي يدعي ان هذا الكون قد نشأن بمحض المصادفة، وان المصادفة هي التي تدبره وتديره، وان جميع ما يحدث فيه يتم بالطريقة العشوائية؟
اننا لنرى ان التطورات الهامة التي تمت في جميع العلوم الطبيعية خلال المائة السنة
অনিবার্য পরিণতিলিখেছেন: জন ক্লিভল্যান্ড কোথরান
রসায়ন ও গণিত শাস্ত্রের বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি – ডুলুথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান – নাইট্রাজল প্রস্তুতকরণ এবং টাংস্টেন বিশুদ্ধকরণ বিশেষজ্ঞ
বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত প্রাকৃতিক বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন এই মূল্যবান উক্তিটি করেছেন: (যদি আপনি গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে বিজ্ঞান আপনাকে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে বাধ্য করবে); আর আমি অবশ্যই এই উক্তির সাথে আমার পূর্ণ সম্মতি ঘোষণা করছি।
এই মহাবিশ্বকে অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা এবং এর সমস্ত দিক নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা আমাদের তিনটি সত্য জগতের অস্তিত্ব স্বীকার করতে পরিচালিত করবে; সেগুলো হলো: বস্তুগত জগত (পদার্থ), বুদ্ধিগত জগত (মন), এবং আধ্যাত্মিক জগত (রুহ)। এই ক্ষেত্রে রসায়ন যা উপস্থাপন করে তা অবশ্যই সীমাবদ্ধ হতে হবে, কারণ এই বিশাল ক্ষেত্রে তা অতি সামান্যই।
রসায়ন, পদার্থের গঠন এবং এতে ঘটা পরিবর্তনসমূহ—যার মধ্যে পদার্থকে শক্তিতে এবং শক্তিকে পদার্থে রূপান্তর অন্তর্ভুক্ত—অধ্যয়নে তার বিশেষত্বের কারণে এমন একটি বস্তুগত বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হয় যার আধ্যাত্মিক জগতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে রসায়নের পক্ষে কীভাবে সেই মহান সত্তা বা আল্লাহ—যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন—তাঁর অস্তিত্বের বস্তুগত প্রমাণ প্রদান করা সম্ভব? আর কীভাবে রসায়নের কাছে এই হাইপোথিসিস বা অনুমান পরীক্ষা করার প্রত্যাশা করা যায় যা দাবি করে যে, এই মহাবিশ্ব নিছক দৈবক্রমে সৃষ্টি হয়েছে, এবং দৈবক্রমই একে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছে, এবং এতে যা কিছু ঘটছে তা বিশৃঙ্খল বা উদ্দেশ্যহীনভাবে সম্পন্ন হচ্ছে?
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, গত একশ বছরে সমস্ত প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে যে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নগুলো সাধিত হয়েছে
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الاخيرة، بما في ذلك الكيمياء، قد حدثت بسبب استخدام الطريقة العلمية في المادة والطاقة. وعند استخدام هذه الطريقة نبذل كل الجهود للتخلص من كل احتمال من الاحتمالات الممكنة التي تجعل النتيجة التي ن صل اليها راجعة إلى محض المصادفة. وقد أثبتت جميع الدراسات العلمية بصورة ثبتت في الماضي ولا تزال ثابتة في الحاضر ان سلوك اي جزيء من أجزاء المادة مهما صغر أو تضاءل حجمه، لا يمكن ان يكون سلوكا عشوائيا، بل انه على نقيض ذلك يخضع لقوانين طبيعية محددة.
وفي كثير من الأحيان يتم اكتشاف القانون قبل اكتشاف أسبابه أو فهم طريقة عمله بفترة طويلة من الزمن، ولكن بمجرد معرفة القانون وتحديد الظروف التي يعمل في ظلها، يثق الكيماويون في كل الثقة. ويظل القانون عاملا ومؤدياً إلى نفس النتائج. وليس من المعقول ان يكون لدى الكيماويين كل هذه الثقة في القوانين الطبيعية لو ان سلوك المادة والطاقة كان من النوع العشوائي الذي تتحكم فيه المصادفة. وعندما يتم أخيرا ادراك الأسباب التي تجعل هذا القانون الطبيعي عاملا وتفسر لنا حقيقته، فان أي أثر لفكرة العشوائية أو المصادفة في سلوك المادة أو الطاقة سوف يندثر اندثارا تاماً.
ومنذ مائة سنة تقريبا رتب العالم الروسي مانداليف العناصر الكيماوية تبعا لتزايد اوزانها الذرية ترتيبا دوريا. وقد وجد ان العناصر التي تقع في قسم واحد تؤلف فصيلة واحدة ويكون لها خواص متشابهة، فهل يمكن ارجاع ذلك إلى مجرد المصادفة؟
وكذلك تمكن العلماء بفضل هذا الترتيب ان يتنبأوا بوجود عناصر لم يكن البشر قد توصلوا اليها بعد، بل أمكن التنبؤ بخواص هذه العناصر المجهولة وتحديدها تحديدا دقيقا، ثم صدقن نبواءتهم في جميع الحالات، فاكتشف العناصر المجهولة وجاءت صفاتها مطابقة كل المطابقة للصفات التي توقعوها. فهل يبقى بعد ذلك مكان للاعتقاد في ان أمور هذا الكون تجري على أساس المصادفة؟ ان اكتشاف مانداليف لا يطلق عليه اسم المصادفة الدورية ولكنه يسمى (القانون الدوري) !
সাম্প্রতিককালে, রসায়নসহ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় যা কিছু ঘটেছে তা পদার্থ ও শক্তির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমেই হয়েছে। আর যখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তখন আমরা প্রতিটি সম্ভাব্য সম্ভাবনা দূর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করি যা আমাদের প্রাপ্ত ফলাফলকে নিছক আকস্মিকতা বা কাকতালীয় বলে গণ্য করতে পারে। সমস্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা অতীতে এটি প্রমাণ করেছে এবং বর্তমানেও তা প্রমাণিত যে, পদার্থের প্রতিটি অণুর আচরণ, তার আকার যতই ক্ষুদ্র বা নগণ্য হোক না কেন, কখনোই বিশৃঙ্খল বা এলোমেলো হতে পারে না; বরং এর বিপরীতে তা নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক নিয়মের অনুসারী।
অনেক সময় দেখা যায় যে, কোনো নিয়মের কারণ উদ্ঘাটন বা এর কার্যপদ্ধতি বোঝার দীর্ঘ সময় পূর্বেই সেই নিয়মটি আবিষ্কৃত হয়ে যায়। কিন্তু যখনই নিয়মটি জানা যায় এবং যে পরিস্থিতির অধীনে এটি কাজ করে তা নির্ধারিত হয়, তখন রসায়নবিদগণ তার ওপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করেন। আর সেই নিয়মটি কার্যকরী থাকে এবং একই ফলাফল প্রদান করতে থাকে। রসায়নবিদদের প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর এই অগাধ আস্থা থাকা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত হতো না, যদি পদার্থ ও শক্তির আচরণ এলোমেলো হতো এবং তা আকস্মিকতা বা কাকতালীয় বিষয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। পরিশেষে যখন সেই কারণগুলো অনুধাবন করা যায় যা এই প্রাকৃতিক নিয়মকে কার্যকর করে এবং আমাদের নিকট এর বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে, তখন পদার্থ বা শক্তির আচরণের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা বা আকস্মিকতার ধারণার সামান্যতম চিহ্নও সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
প্রায় একশ বছর আগে রুশ বিজ্ঞানী মেন্ডেলিভ রাসায়নিক মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক ভরের ক্রমানুসারে পর্যায়বৃত্তভাবে বিন্যস্ত করেছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে, একই শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলগুলো একটি পরিবার গঠন করে এবং তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ একই রকম হয়। তবে কি একে নিছক আকস্মিকতা বা কাকতালীয় বলে গণ্য করা সম্ভব?
একইভাবে, এই বিন্যাসের কল্যাণে বিজ্ঞানীরা এমন সব মৌলের অস্তিত্ব সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতে সক্ষম হয়েছিলেন যা তখনো মানুষের নাগালের বাইরে ছিল; এমনকি সেই অজ্ঞাত মৌলগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও নিখুঁতভাবে আগাম ধারণা দেওয়া এবং সেগুলো সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের ভবিষ্যৎবাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে; সেই অজ্ঞাত মৌলগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে এবং তাদের গুণাবলি প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে গেছে। এরপরও কি এই বিশ্বাস করার কোনো অবকাশ থাকে যে, এই মহাবিশ্বের ঘটনাবলি আকস্মিকতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে? মেন্ডেলিভের এই আবিষ্কারকে 'পর্যায়বৃত্ত আকস্মিকতা' বলা হয় না, বরং একে 'পর্যায়সূত্র' বলা হয়!
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهل يمكن ان نفسر على أساس المصادفة ما وصفه وتوصل اليه العلماء السابقون من تفاعل ذرات عناصر (أ) مع ذرات عنصر (ب) وعدم تفاعلها مع عنصر (جـ) كلا. انهم قد فسروا ذلك على اساس ان هنالك نوعا من الميل او الجاذبية بين جميع ذرات عنصر (أ) وجميع عنصر (ب) . ولكن هذا الميل او الجاذبية منعدم بين ذرات عنصر (أ) وذرات عنصر (ج) .
وقد عرف العلماء كذلك ان سرعة التفاعل بين ذرات المعادن القلوية والماء مثلا تزداد بازدياد اوزانها الذرية. بينما تسلك عناصر الفصيلة الهالوجينية سلوكا مناقضا لهذا السلوك كل المناقصة. ولا يعرف احد سبب التناقض، ومع ذلك فان احدا لم يرجع ذلك إلى محض المصادفة او يظن انه ربما يتعدل سلوك هذه العناصر بعد شهر او شهرين، او تبعا لاختلاف الزمان او المكان، او يحظر بباله ان هذه الذرات ربما لا تتفاعل بنفس الطريقة، او بطريقة عكسية، او طريقة عشوائية.
وقد أثبت اكتشاف تركيب الذرة ان التفاعلات الكيماوية التي نشاهدها والخواص التي نلاحظها ترجع إلى وجود قوانين خاصة وليست محض مصادفة عمياء.
انظر إلى العناصر الكيماوية المعروفة التي يبلغ عددها اثنين بعد المائة، ولاحظ ما بينها من أوجه التشابه والاختلاف العجيبة. فمنها الملون وغيره الملون، وبعضها غاز يصعب تحويله إلى سائل او صلب، وبعضها سائل والآخر صلب يصعب تحويله إلى سائل او غاز، وبعضها هش والآخر شديد الصلابة، وبعضها خفيف والآخر ثقيل، وبعضها موصل جيد والآخر رديء التوصيل، وبعضها مغناطيسي، والآخر غير مغناطيسي، وبعضها نشيط والآخر خامل، وبعضها يكون أحماضا والآخر يكون قواعد، وبعضها معمر والآخر لا يبقى الا لفترة محدودة من الزمان ومع ذلك فانها جميعا تخضع لقانون واحد هو القانون الدوري الذي أشرنا اليه.
পূর্ববর্তী বিজ্ঞানীরা (ক) উপাদানের পরমাণুর সাথে (খ) উপাদানের পরমাণুর বিক্রিয়া এবং (গ) উপাদানের সাথে তার বিক্রিয়া না করার যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তাকে কি আমরা আকস্মিকতার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করতে পারি? না। তারা একে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, (ক) উপাদানের সকল পরমাণু এবং (খ) উপাদানের সকল পরমাণুর মধ্যে এক ধরণের প্রবণতা বা আকর্ষণ বিদ্যমান। কিন্তু এই প্রবণতা বা আকর্ষণ (ক) উপাদানের পরমাণু এবং (গ) উপাদানের পরমাণুর মধ্যে অনুপস্থিত।
বিজ্ঞানীরা আরও জেনেছেন যে, উদাহরণস্বরূপ ক্ষারীয় ধাতুসমূহের পরমাণু এবং পানির মধ্যে বিক্রিয়ার গতি তাদের পারমাণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে হ্যালোজেন শ্রেণির মৌলগুলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ প্রদর্শন করে। এই বৈসাদৃশ্যের কারণ কেউ জানে না, তবুও কেউ একে নিছক আকস্মিকতার ওপর চাপিয়ে দেয় না অথবা কেউ মনে করে না যে এক বা দুই মাস পর অথবা সময় বা স্থানের পরিবর্তনের ফলে এই মৌলগুলোর আচরণ পরিবর্তিত হতে পারে, কিংবা কারো মনে এই চিন্তাও আসে না যে এই পরমাণুগুলো হয়তো একই পদ্ধতিতে অথবা বিপরীত পদ্ধতিতে বা এলোমেলোভাবে বিক্রিয়া করবে না।
পরমাণুর গঠন আবিষ্কার এটি প্রমাণ করেছে যে, আমরা যে রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো দেখি এবং যে বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করি, তা বিশেষ কিছু নিয়মের উপস্থিতির কারণে ঘটে, যা কেবল অন্ধ আকস্মিকতা নয়।
পরিচিত একশত দুই সংখ্যক রাসায়নিক মৌলগুলোর দিকে তাকান এবং সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিস্ময়কর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করুন। সেগুলোর কোনটি রঙিন আবার কোনটি রঙহীন; কোনটি গ্যাসীয় যাকে তরল বা কঠিন অবস্থায় রূপান্তর করা কঠিন; কোনটি তরল আবার কোনটি কঠিন যাকে তরল বা গ্যাসে রূপান্তর করা দুরূহ; কোনটি ভঙ্গুর আবার কোনটি অত্যন্ত শক্ত; কোনটি হালকা আবার কোনটি ভারী; কোনটি সুপরিবাহী আবার কোনটি কুপরিবাহী; কোনটি চুম্বকীয় আবার কোনটি অচুম্বকীয়; কোনটি সক্রিয় আবার কোনটি নিষ্ক্রিয়; কোনটি অম্ল তৈরি করে আবার কোনটি ক্ষার তৈরি করে; কোনটি দীর্ঘস্থায়ী আবার কোনটি কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যমান থাকে। তা সত্ত্বেও এ সবগুলোই একটি সাধারণ নিয়মের অধীন, আর তা হলো পর্যায় সূত্র যার প্রতি আমরা ইঙ্গিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومع ما يبدو من التعقيد في تركيب كل ذرة من ذرات العناصر العديدة، فانها تتكون جميعها من نفس الأنواع الثلاثة من الجزئيات الكهربائية، وهي البروتونات الموجبة والالكترونات السالبة والنيوترونات والتي يعتبر كل منها ناشئا عن اتحاد بروتون واحد مع الكترون واحد. وجميع البروتونات والنيوترونات التي بالذرة الواحدة تقع في نواة مركزية. اما الإلكترونات فانها تدور حول محاورها في مدارات مختلفة حول النواة وعلى أبعاد شاسعة منها مكونة ما يشبه مجموعة شمسية مصغرة. وعلى ذلك فان معظم حجم الذرة يعتبر فراغا كما هي الحال في المجموعة الشمسية.
ونستطيع ان نبسط الامر فنقول: ان الفرق بين ذرة عنصر معين وعنصر آخر يرجع إلى الفرق في عدد البروتونات والنيوترونات التي بالنواة، والى عدد وطريقة تنظيم الالكترونات التي في خارج النواة. وعلى ذلك فان ملايين الأنواع من المواد المختلفة سواء أكانت عناصر أم مركبات، تتألف من جزئيات كهربية ليست في الواقع الا مجرد صور او مظاهر من الطاقة. والمادة يوصفها تتكون من مجموعات من الجزئيات والذرات، والجزئيات والذرات ذاتها، والإلكترونات والنيوترونات التي تتألف منها الذرات، والكهرباء والطاقة ذاتها، انما تخضع جميعا للقوانين معينة وليست وليدة المصادفة بحيث يكفي عدد قليل جدا من ذرات اي عنصر للكشف عنه ومعرفة خواصه. وعلى ذلك فان الكون المادي يسوده النظام وليس الفوضى، وتحكمه القوانين وليس المصادفة او التخبط.
فهل يتصور عاقل او يفكر ان يعتقد ان المادة المجردة من العقل والحكمة قد اوجدت نفسها بنفسها بمحض المصادفة؟ او انها هي التي اوجدت هذا النظام وتلك القوانين ثم فرضته على نفسها؟ لا شك ان الجواب سوف يكون سلبيا. بل ان المادة عندما تتحول إلى طاقة او تتحول الطاقة إلى مادة فان كل ذلك يتم طبقا لقوانين معينة، والمادة الناتجة تخضع لنفس القوانين التي تخضع لها المادة المعروفة التي اوجدت قبلها.
বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের প্রতিটি পরমাণুর গঠনের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে যে জটিলতা পরিলক্ষিত হয়, তা সত্ত্বেও সেগুলো মূলত একই তিন ধরণের বৈদ্যুতিক কণা দ্বারা গঠিত। সেগুলো হলো ধনাত্মক প্রোটন, ঋণাত্মক ইলেকট্রন এবং নিউট্রন; যার প্রতিটি একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রনের মিলনের ফলে উদ্ভূত বলে গণ্য করা হয়। প্রতিটি পরমাণুর সমস্ত প্রোটন ও নিউট্রন একটি কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াসে অবস্থিত। অপরদিকে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারদিকে বিভিন্ন কক্ষপথে নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হয় এবং নিউক্লিয়াস থেকে বিশাল দূরত্বে অবস্থান করে অনেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির সৌরজগতের ন্যায় কাঠামো গঠন করে। ফলস্বরূপ, পরমাণুর আয়তনের অধিকাংশ স্থানই শূন্য হিসেবে বিবেচিত হয়, যেমনটি সৌরজগতের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আমরা বিষয়টিকে সহজভাবে এভাবে বলতে পারি যে: একটি নির্দিষ্ট মৌলিক পদার্থের পরমাণু ও অন্য একটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য মূলত নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার পার্থক্যের কারণে এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনের সংখ্যা ও বিন্যাস পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে ঘটে থাকে। সেই হিসেবে লক্ষ লক্ষ ধরণের বিভিন্ন পদার্থ, তা মৌলিক হোক বা যৌগিক, এমন সব বৈদ্যুতিক কণা দ্বারা গঠিত যা বাস্তবে শক্তির বিভিন্ন রূপ বা প্রকাশ মাত্র। পদার্থ—যা মূলত বিভিন্ন কণা ও পরমাণুর সমষ্টি দ্বারা গঠিত, স্বয়ং পরমাণু ও কণাগুলো, এবং পরমাণু যে ইলেকট্রন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত, এমনকি বিদ্যুৎ ও শক্তি নিজেই—সবই নির্দিষ্ট নিয়মের অনুগামী এবং এগুলো কোনো আকস্মিকতার ফসল নয়। এর প্রমাণ এই যে, যেকোনো মৌলিক পদার্থের অত্যন্ত অল্প সংখ্যক পরমাণুই সেই পদার্থকে শনাক্ত করতে এবং তার বৈশিষ্ট্য জানতে যথেষ্ট। সুতরাং, বস্তুগত মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা বিরাজমান, বিশৃঙ্খলা নয়; এবং এটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীন, কোনো আকস্মিকতা বা এলোমেলো পরিস্থিতির ফল নয়।
কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি কল্পনা করতে পারেন বা এমন চিন্তা পোষণ করতে পারেন যে, বুদ্ধি ও প্রজ্ঞাহীন এই জড় পদার্থ কেবল আকস্মিকভাবেই নিজে নিজেকে অস্তিত্বে নিয়ে এসেছে? অথবা এটি কি নিজেই এই শৃঙ্খলা ও আইনসমূহ সৃষ্টি করেছে এবং তা নিজের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে? নিঃসন্দেহে এর উত্তর হবে নেতিবাচক। বরং পদার্থ যখন শক্তিতে রূপান্তরিত হয় বা শক্তি যখন পদার্থে রূপান্তরিত হয়, তখন তার প্রতিটি ধাপ সুনির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হয়। এবং এর ফলে উৎপন্ন পদার্থটিও ঠিক সেই একই নিয়মের অনুসারী হয়, যে নিয়মগুলোর অনুসারী ছিল তার পূর্বে বিদ্যমান পরিচিত পদার্থসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وتدلنا الكيمياء، على ان بعض المواد في سبيل الزوال او الفناء، ولكن بعضها يسير نحو الفناء بسرعة كبيرة والآخر بسرعة ضئيلة. وعلى ذلك فان المادة ليست أبدية، ومعنى ذلك ايضا انها ليست أزلية، إذ ان لها بداية. وتدل الشواهد من الكيمياء وغيرها من العلوم على ان بداية المادة لم تكن بطيئة او تدريجية، بل اوجدت بصورة فجائية، وتستطيع العلوم ان تحدد لنا الوقت الذي نشأت فيه هذه المواد. وعلى ذلك فان هذا العالم المادي لا بد ان يكون مخلوقا، وهو منذ ان خلق يخضع لقوانين وسنن كونية محددة ليس لعنصر المصادفة بينها مكان.
فاذا كان هذا العالم المادي عاجزا عن ان يخلق نفسه او يحدد القوانين التي يخضع لها، فلابد ان يكون الخلق قد تم بقدرة كائن غير مادي. وتدل الشواهد جميعا على ان هذا الخالق لابد ان يكون متصفا بالعقل والحكمة. إلا ان العقل لا يستطيع ان يعمل في العالم المادي كما في ممارسة الطب والعلاج السيكولوجي دون ان يكون هنالك ارادة، ولابد لمن يتصف بالإرادة ان يكون موجودا وجودا ذاتيا. وعلى ذلك فان النتيجة المنطقية الحتمية التي يفرضها علينا العقل ليست مقصورة على ان لهذا الكون خالقا فحسب، بل لابد ان يكون هذا الخالق حكيما عليما قادرا على كل شيء حتى يستطيع ان يخلق هذا الكون وينظمه ويدبره، ولا بد ان يكون هذا الخالق دائم الوجود تتجلى آياته في كل مكان. وعلى ذلك فانه لا مفر من التسليم بوجود الله خالق هذا الكون وموجهه، كما أشرنا إلى ذلك في بداية هذا المقال.
ان التقدم الذي احرزته العلوم منذ أيام لورد كيلفن يجمعنا نؤكد بصورة لم يسبق لها مثيل ما قاله من قبل من أننا اذا فكرنا عميقا فان العلوم سوف تضطرنا إلى الايمان بالله.
রসায়ন আমাদের এই দিকনির্দেশনা প্রদান করে যে, কিছু পদার্থ ক্ষয় বা বিলুপ্তির পথে রয়েছে, তবে এর মধ্যে কোনটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এবং কোনটি অত্যন্ত ধীর গতিতে বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। সুতরাং বস্তু বা পদার্থ অবিনশ্বর নয়, আর এর অর্থ এই যে এটি অনাদিও নয়, কারণ এর একটি শুরু বা সূচনা রয়েছে। রসায়ন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের প্রমাণাদি এই নির্দেশ করে যে, পদার্থের সূচনা মন্থর বা ক্রমিক ছিল না, বরং এটি আকস্মিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করেছে। বিজ্ঞান আমাদের সেই সময়টি নির্ধারণ করে দিতে সক্ষম যখন এই পদার্থসমূহ উৎপন্ন হয়েছিল। অতএব, এই জড় জগৎ অবশ্যই সৃজিত এবং সৃষ্টির শুরু থেকেই এটি সুনির্দিষ্ট মহাজাগতিক নিয়ম ও বিধানের অধীন, যেখানে দৈব ঘটনার কোনো স্থান নেই।
যেহেতু এই জড় জগৎ নিজেকে সৃষ্টি করতে অথবা নিজের ওপর অর্পিত নিয়মসমূহ নির্ধারণ করতে অক্ষম, তাই অবশ্যই এই সৃষ্টি কোনো এক অভৌত সত্তার ক্ষমতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সকল প্রমাণাদি এই সাক্ষ্য দেয় যে, এই স্রষ্টা অবশ্যই বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার গুণে গুণান্বিত। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বা মনোস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার প্রয়োগের মতো জড় জগতে বুদ্ধির কার্যকারিতা ইচ্ছা ব্যতীত সম্ভব নয়। আর যিনি ইচ্ছার গুণে গুণান্বিত, তাঁকে অবশ্যই স্বয়ংসম্পূর্ণ অস্তিত্বের অধিকারী হতে হবে। অতএব, যুক্তি আমাদের ওপর যে অমোঘ যৌক্তিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় তা কেবল এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই স্রষ্টাকে অবশ্যই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান হতে হবে যেন তিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি, বিন্যস্ত এবং পরিচালনা করতে পারেন। আর এই স্রষ্টাকে অবশ্যই চিরঞ্জীব হতে হবে যাঁর নিদর্শনাবলী সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই, যেমনটি আমরা এই নিবন্ধের শুরুতে উল্লেখ করেছি।
লর্ড কেলভিনের সময় থেকে বিজ্ঞানের যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা আমাদের অভূতপূর্বভাবে এই বিষয়ে নিশ্চিত করে যা তিনি ইতিপূর্বে বলেছিলেন—তা হলো, আমরা যদি গভীরভাবে চিন্তা করি তবে বিজ্ঞান আমাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে বাধ্য করবে।
(খণ্ড: ১)
আল্লাহু ইয়াতাজাল্লা ফী আসরিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فلننظر
إلى الحقائق دون ملل او تحيز
كتبها: ادوارد لوثركيسيل
أخصائي في علم الحيوان والحشرات – حاصل على دكتوراه من جامعة كاليفورنيا – أستاذ علم الأحياء ورئيس القسم بجامعة سان فرانسيسكو – متخصص في دراسة أجنة الحشرات والسلامندر والحشرات ذوات الجناحين.
أضاف البحث العلمي خلال السنوات الأخيرة أدلة جديدة على وجود الله زيادة على الأدلة الفلسفية التقليدية. ونحن لا نقصد من ذلك ان الأدلة الجديدة لازمة او لا غنى عنها، فقد كان في الإثباتات القديمة ما يكفي لاقناع اي انسان يستطيع ان ينظر إلى الموضوع نظرة مجردة عن الميل أو التحيز. وأنا بوصفي ممن يؤمنون بالله أرحب بهذه الأدلة الجديدة لسببين: فهي أولا تزيد معرفتنا بآيات الله وضوحا. وهي ثانيا تساعد على كشف الغطاء عن أعين كثير من صرحاء الشكيين حتى يسلموا بوجود الله.
لقد عمت أمريكا في السنوات الأخيرة موجة من العودة إلى الدين، ولم تتخط هذه الموجة معاهد العلم لدينا. ولا شك ان الكشوف العلمية الحديثة التي تشير إلى ضرورة وجود إله لهذا الكون قد لعبت دورا كبيرا في هذه العودة إلى رحاب الله والاتجاه اليه. وطبيعي ان البحوث العلمية التي أدت إلى هذه الادلة لم يكن يقصد من اجرائها إثبات وجود الخالق، فغاية العلوم هي البحث عن خبايا الطبيعة واستغلال قواها، وهي لا تدخل في البحث عن مشكلة النشأة الأولى، فهذه من المشكلات الفلسفية، والعلوم لا تهتم إلا بمعرفة كيف تؤدي الأشياء وظائفها، وهي لا تهتم بمعرفة من الذي جعلها تعمل او تؤدي هذه الوظائف.
আসুন আমরা একঘেয়েমি বা পক্ষপাত ছাড়াই সত্যের দিকে দৃষ্টিপাত করি।
এটি লিখেছেন: এডওয়ার্ড লুথার কেসেল
প্রাণিবিদ্যা ও পতঙ্গবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ – ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি প্রাপ্ত – সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান – পতঙ্গ ভ্রূণ, স্যালাম্যান্ডার এবং দ্বিপক্ষীয় পতঙ্গ গবেষণায় বিশেষজ্ঞ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা আল্লাহর অস্তিত্বের স্বপক্ষে প্রথাগত দার্শনিক প্রমাণের অতিরিক্ত নতুন প্রমাণাদি যুক্ত করেছে। এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য এটি নয় যে, এই নতুন প্রমাণগুলো অপরিহার্য বা এর বিকল্প নেই; বরং প্রাচীন প্রমাণগুলোর মধ্যেই এমন পর্যাপ্ত উপাদান ছিল যা যে কোনো ব্যক্তিকে তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট, যদি সে পক্ষপাতহীন বা বিমুক্তভাবে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হিসেবে আমি এই নতুন প্রমাণগুলোকে দুটি কারণে স্বাগত জানাই: প্রথমত, এগুলো আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও স্পষ্ট করে। দ্বিতীয়ত, এগুলো অনেক স্পষ্টবাদী সংশয়বাদীর চোখের পর্দা উন্মোচনে সহায়তা করে, যাতে তারা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকায় ধর্মের দিকে ফিরে আসার একটি জোয়ার পরিলক্ষিত হয়েছে এবং এই জোয়ার আমাদের বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানসমূহকেও বাদ দেয়নি। নিঃসন্দেহে আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ, যা এই মহাবিশ্বের জন্য একজন ইলাহ থাকা অপরিহার্য বলে ইঙ্গিত করে, আল্লাহর সান্নিধ্যে ফিরে আসার এবং তাঁর অভিমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। এটা স্বাভাবিক যে, যেসব বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই প্রমাণগুলোর দিকে ধাবিত করেছে, সেগুলো পরিচালনার উদ্দেশ্য স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা ছিল না। বিজ্ঞানের লক্ষ্য হলো প্রকৃতির রহস্য অনুসন্ধান করা এবং এর শক্তিসমূহকে কাজে লাগানো। এটি সৃষ্টির আদি প্রসঙ্গের অনুসন্ধানে প্রবেশ করে না, কারণ এগুলো দার্শনিক সমস্যার অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞান কেবল বস্তু কীভাবে তাদের কার্য সম্পাদন করে তা জানতেই আগ্রহী, আর কে এগুলোকে কার্যকর করেছেন বা এই কাজগুলো সম্পন্ন করিয়েছেন তা জানতে বিজ্ঞান আগ্রহী নয়।