(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: -)
الرسول صلى الله عليه وآله وسلم في عيون غربية منصفة   (حسين حسينى معدى)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الرسول صلى الله عليه وآله وسلم في عيون غربية منصفة

المؤلف: حسين حسينى معدى (المتوفي: معاصر)

الناشر: دار الكتاب العربى - دمشق

الطبعة: الأول - 1419

عدد الصفحات: 280

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নিরপেক্ষ পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)   (হুসাইন হুসাইনী মা'দী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)


কিতাব: নিরপেক্ষ পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)

লেখক: হুসাইন হুসাইনী মা'দী (মৃত্যু: সমসাময়িক)

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌آيات من الذكر الحكيم

قُلْ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً (الأعراف: 158) .

وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ (الأنبياء: 107) .

وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً (سبأ: 28) .

لَتُبْلَوُنَّ فِي أَمْوالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذىً كَثِيراً وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ (آل عمران: 186)

إِنَّا كَفَيْناكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ (الحجر: 95) .

يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِؤُا نُورَ اللَّهِ بِأَفْواهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكافِرُونَ (32) هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (التوبة: 32، 33) .

يا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ (الأنفال: 64) .

إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذاباً مُهِيناً (الأحزاب: 57) .

وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذابٌ عَظِيمٌ (النور: 11) .
মহাগ্রন্থের কতিপয় আয়াত

বলুন: হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রসূল। (আল-আরাফ: ১৫৮) .

আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। (আল-আম্বিয়া: ১০৭) .

আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি। (সাবা: ২৮) .

তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবনের বিষয়ে অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করা হবে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব ও মুশরিকদের পক্ষ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (আল ইমরান: ১৮৬)

নিশ্চয়ই বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই আপনার জন্য যথেষ্ট। (আল-হিজর: ৯৫) .

তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু হতে দেবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। (৩২) তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। (আত-তাওবাহ: ৩২, ৩৩) .

হে নবী! আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (আল-আনফাল: ৬৪) .

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের লানত করেন এবং তাদের জন্য লাঞ্ছনাকর আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন। (আল-আহযাব: ৫৭) .

আর তাদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য রয়েছে মহা আযাব। (আন-নূর: ১১) .
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الإهداء

يشرفنى أن أقدم هذا العمل خالصا لوجه الله الكريم، وأهديه لحبيبه وخليله ورسوله سيدنا ومولانا محمد- صلى الله عليه وسلم عسى أن أنال شفاعته يوم الحشر العظيم.

إلى الذين وهبهم الله البصيرة والإنصاف وحمدا لله أنهم ليسوا قلة فى هذا العالم.

إلى كل من يبحث عن الحقيقة ولا يخشى فى الله لومة لائم.

إلى كل من يساهم فى إظهار صورة الإسلام الصحيحة ونبيه محمد- صلى الله عليه وسلم فى المجتمعات الغربية.

أهدى هذا الكتاب
উৎসর্গ

আমি অত্যন্ত সম্মানের সাথে এই কর্মটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদন করছি এবং এটি তাঁর প্রিয়ভাজন, বন্ধু ও রাসূল আমাদের সাইয়্যিদ ও মাওলা মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি উৎসর্গ করছি; এই আশায় যে, হাশরের মহাদিবসে আমি তাঁর সুপারিশ লাভ করব।

ঐ সকল ব্যক্তিদের প্রতি, যাদেরকে আল্লাহ অন্তর্দৃষ্টি ও ইনসাফ দান করেছেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া যে, এই পৃথিবীতে তাঁরা নগণ্য নন।

ঐ প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি, যারা সত্যের সন্ধান করেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেন না।

ঐ প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি, যারা পশ্চিমা সমাজে ইসলামের সঠিক চিত্র এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে ফুটিয়ে তুলতে অবদান রাখছেন।

আমি এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد النبى الأمين، وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد،، كان محمد- صلى الله عليه وسلم خير الخلق فى طفولته، وأطهر المطهرين فى شبابه، وأنجب البرية فى كهولته، وأزهد الناس فى حياته، وأعدل القضاة فى قضائه، وأشجع قائد فى دفاعه عن الحق، وخير قدوة للمصلحين، وخير أسوة للمربين.

اختصه الله بكل خلق نبيل، وحرسه بعنايته، وحفظه برعايته، وأيده بجوامع الكلم، مع الفصاحة وقوة الحجة، وأمر العالمين بطاعته، وجعل طاعته صلى الله عليه وسلم مقرونة بطاعته تعالى: مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطاعَ اللَّهَ (النساء: 80)

كما عصمه من كل خطأ ومن الناس: وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ (المائدة: 67) .

وطهره من كل دنس، وهداه الصراط المستقيم، ومنح من الآيات والمعجزات مالم يمنحه غيره، وأدبه فأحسن تأديبه، وعلمه ما لم يكن يعلم.

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفى بِاللَّهِ شَهِيداً (الفتح: 28) ولم يسجد صلى الله عليه وسلم لصنم من الأصنام ولم يشرك فى عيد من أعيادها.

كان محمد مثلا كاملا للإنسان الكامل، ذا شخصية قوية جذابة، لا يدانيه أحد فى كماله وعظمته، وصدقه وأمانته، وزهده وعفته.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত, আমাদের নেতা বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৈশবে ছিলেন সৃষ্টির সেরা, যৌবনে ছিলেন পবিত্রদের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র, প্রৌঢ়ত্বে ছিলেন মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, জীবনে ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুনিয়াবিমুখ, বিচারে ছিলেন বিচারকদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ, সত্য রক্ষায় ছিলেন সাহসী সেনাপতি, সংস্কারকদের জন্য ছিলেন সর্বোত্তম আদর্শ এবং শিক্ষকদের জন্য ছিলেন শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

আল্লাহ তাঁকে সকল মহৎ চরিত্রে বিশিষ্ট করেছিলেন, নিজের বিশেষ তত্ত্বাবধানে তাঁকে রক্ষা করেছিলেন, নিজ আশ্রয়ে তাঁকে হেফাযত করেছিলেন এবং প্রাঞ্জলতা ও অকাট্য প্রমাণের সাথে 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবোধক বাণী) দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করেছিলেন। তিনি বিশ্ববাসীকে তাঁর আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্যকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন: যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল (আন-নিসা: ৮০)।

তেমনিভাবে তিনি তাঁকে সকল প্রকার ভুল-ভ্রান্তি থেকে এবং মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন: আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন (আল-মায়িদাহ: ৬৭)।

তিনি তাঁকে সকল অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেছেন, তাঁকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন এবং এমন সব নিদর্শন ও মুজিযা দান করেছেন যা অন্য কাউকে দেননি। তিনি তাঁকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং তাঁর শিষ্টাচারকে অতি উত্তম করেছেন, আর তাঁকে শিখিয়েছেন যা তিনি জানতেন না।

তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর জয়যুক্ত করেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট (আল-ফাতহ: ২৮)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূর্তিসমূহের মধ্য থেকে কোনো মূর্তির সামনে কখনো সিজদাবনত হননি এবং তাদের উৎসবগুলোর কোনো উৎসবে শরিক হননি।

মুহাম্মাদ ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের পূর্ণ দৃষ্টান্ত, শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী; তাঁর পূর্ণতা ও মহত্বে, সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতায় এবং দুনিয়াবিমুখতা ও চারিত্রিক পবিত্রতায় কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
اعترف كل من عرفه بعلو نفسه، وصفاء طبعه، وطهارة قلبه، ونبل خلقه، ورجاحة عقله، وتفوق ذكائه، وحضور بديهته، وقوة إرادته، وثبات عزيمته، ولين جانبه، وتمسكه بالحق، وإقامة العدل. فكان خير قدوة للناس جميعا.

لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً (الأحزاب: 21) .

خلقه الله عظيما، فكانت عظمة فطرية طبيعية، وكان عظيما منذ ولادته، عظيما فى صباه، عظيما فى شبابه، عظيما فى رجولته، عظيما فى كهولته، عظيما فى شيخوخته، عظيما فى صغره وكبره، عظيما قبل الرسالة، عظيما بعدها.

خلقه الله عظيما كما شاء ليعده لأداء رسالته، وهو فى الأربعين فأداها خير أداء. وكان رسولا وهاديا للبشرية المتنازعة المتنافرة، وقدوة مثالية سامية للناس كافة.

ولقد تعرض الأنبياء والرسل الكرام عليهم السلام للتكذيب والتنكيل حتى وصل الأمر إلى درجة قتل بعضهم. ويبين تاريخ الرسالات الإلهية الكبرى أن أنبياء الله الذين حملوها إلى الناس قد تعرضوا لكثير من صنوف الآلام والمحن والعذاب على أيدى الذين حسبوهم من الكاذبين وما أفظعها من تهمة خاصة حين يقذف بها وجوه أصدق الناس حديثا ويزداد الأمر سوآ وتشتد المحنة عند ما يأتى التكذيب والسخرية من الأهل والعشيرة والأصحاب.

فها هى التوراة تقول إن موسى تعرض للنقد الجارح من أخيه هارون وأخته مريم عندما تزوج ثانية من امرأة سمراء أعجبته: «وتكلمات مريم وهارون على موسى بسبب المرأة الكوشية التى اتخذها لأنه كان قد اتخذ امرأة كوشية فحمى غضب الرب عليهما.. فالتفت هارون إلى مريم وإذا هى برصاء فقال هارون لموسى: أسألك يا سيدى لا تجعل علينا الخطيئة التى جمعتتا وأخطأنا بها» (سفر الأعمال 12: 1- 11) .
যিনিই তাঁকে চিনেছেন, তিনিই তাঁর সুউচ্চ আত্মমর্যাদা, প্রকৃতির নির্মলতা, হৃদয়ের পবিত্রতা, উন্নত চরিত্র, প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্ব, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, উপস্থিত বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তির প্রাবল্য, সংকল্পের দৃঢ়তা, স্বভাবের নম্রতা, সত্যের ওপর অবিচলতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি ছিলেন সকল মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।

আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, সেই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (আল-আহযাব: ২১)।

আল্লাহ তাঁকে মহান করে সৃষ্টি করেছেন, ফলে তা ছিল এক মজ্জাগত ও স্বভাবজাত মাহাত্ম্য। তিনি জন্মের সময় থেকেই মহান ছিলেন; মহান ছিলেন তাঁর শৈশবে, মহান ছিলেন তাঁর কৈশোরে, মহান ছিলেন তাঁর যৌবনে, মহান ছিলেন তাঁর প্রৌঢ়ত্বে, মহান ছিলেন তাঁর বার্ধক্যে। তিনি তাঁর জীবনের ছোট-বড় সকল পর্যায়ে মহান ছিলেন। নবুওয়াত লাভের পূর্বেও তিনি মহান ছিলেন এবং নবুওয়াত লাভের পরেও মহান ছিলেন।

আল্লাহ তাঁকে মহান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন যেমনটি তিনি চেয়েছিলেন, যাতে তাঁকে তাঁর রিসালাত বা পয়গাম পৌঁছানোর দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করেন। যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর হলো, তখন তিনি সেই দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করলেন। তিনি ছিলেন বিবাদমান ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন মানবজাতির জন্য একজন রাসূল ও পথপ্রদর্শক, এবং সকল মানুষের জন্য এক সুউচ্চ অনুকরণীয় আদর্শ।

নিশ্চয়ই সম্মানিত নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়া এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমনকি বিষয়টি তাদের কাউকে কাউকে হত্যার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আসমানী রিসালাতসমূহের ইতিহাস স্পষ্ট করে যে, আল্লাহর যে নবীগণ মানুষের কাছে সেই বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁদের হাতে বহু প্রকারের দুঃখ, কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যারা তাঁদের মিথ্যাবাদী মনে করেছিল। এটি কতই না জঘন্য অপবাদ, বিশেষ করে যখন এটি এমন ব্যক্তিদের প্রতি ছুঁড়ে দেওয়া হয় যারা কথায় সবচেয়ে সত্যবাদী! বিষয়টি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে এবং পরীক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে যখন এই মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং বিদ্রূপ নিজ পরিবার, গোত্র ও নিকটজনদের পক্ষ থেকে আসে।

এই তো তাওরাত বলছে যে, মূসা তাঁর ভাই হারুন এবং বোন মারিয়ামের পক্ষ থেকে মর্মাহত করা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন যখন তিনি তাঁর পছন্দের একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন: "আর মারিয়াম ও হারুন মূসার বিরুদ্ধে কথা বলল সেই কূশীয় নারীর কারণে যাকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন; কারণ তিনি একজন কূশীয় নারীকে বিবাহ করেছিলেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত হলো... তখন হারুন মারিয়ামের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে তিনি কুষ্ঠরোগী হয়ে গেছেন। তখন হারুন মূসাকে বললেন: হে আমার প্রভু, আমি আপনার কাছে বিনতি করছি, আমাদের ওপর সেই পাপ চাপাবেন না যা আমরা মূর্খতাবশত করেছি এবং যার মাধ্যমে আমরা অপরাধী হয়েছি।" (সফর আল-আমাল ১২: ১-১১)।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وها هو المسيح يشك فيه أقرباؤه ويعتبرونه مختل العقل: «ولما سمع أقرباؤه خرجوا ليمسكوه، لأنهم قالوا إنه مختل» (إنجيل مرقس 3: 21) ، وكان إخوته- أبناء أمه مريم حسب رواية الإنجيل- يشكون فيه: «قال له إخوته: انتقل من هنا واذهب إلى اليهودية لكى يرى تلاميذك أيضا الأعمال التى تعمل،.. لأن إخوته أيضا لم يكونوا يؤمنون به» (إنجيل يوحنا 7: 3- 5) ، «وحين سمع كثير من تلاميذه بعض مواعظه فإنهم ارتدوا عنه وتركوا صحبته فلم يبق معه إلا اثنا عشر حواريا، قال كثير من تلاميذه إلى الوراء ولم يعودوا يمشون معه. فقال يسوع للاثنى عشر. ألعلكم أنتم أيضا تريدون أن تمضوا؟» (إنجيل يوحنا 6: 60- 66) .

وقد سجل القرآن الكريم افتراآت الكفار والمشركين على الإسلام ونبيه محمد- صلى الله عليه وسلم حتى حديث الإفك ضد زوجه عائشة جعله الله قرآنا يتلى، ولو كان الأمر بيد النبى- صلى الله عليه وسلم لنحاه جانبا. ولكنه عبد لله مأمور قال له ربه: لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ (آل عمران: 128) ، إذ (إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ (آل عمران: 154) . وهذه بعض مفترياتهم على رسول الله محمد- صلى الله عليه وسلم والسخرية منه.

 

‌‌1- اتهامه بالجنون والكهانة والسحر والكذب:

وَقالَ الْكافِرُونَ هذا ساحِرٌ كَذَّابٌ (ص: 4) .

وَإِنْ يَكادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ (القلم: 51) .

إِنَّهُمْ كانُوا إِذا قِيلَ لَهُمْ لا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ (35) وَيَقُولُونَ أَإِنَّا لَتارِكُوا آلِهَتِنا لِشاعِرٍ مَجْنُونٍ (الصافات: 35، 36) .

فَذَكِّرْ فَما أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِكاهِنٍ وَلا مَجْنُونٍ (الطور: 29) .

 

‌‌2- اتهامه بتأليف القرآن وافترائه كذبا على الله:

وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذا إِلَّا إِفْكٌ افْتَراهُ وَأَعانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جاؤُ ظُلْماً وَزُوراً (4) وَقالُوا أَساطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَها فَهِيَ تُمْلى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا (الفرقان: 4- 5) .
আর এই যে মসীহ, যাঁর সম্পর্কে তাঁর নিকটাত্মীয়রা সন্দেহ পোষণ করে এবং তাঁকে বিকৃতমস্তিষ্ক মনে করে: «যখন তাঁর নিকটাত্মীয়রা তা শুনতে পেল, তখন তাঁকে ধরে নিয়ে আসতে বের হলো; কারণ তারা বলছিল যে, তিনি বিকৃতমস্তিষ্ক» (মার্কের ইঞ্জিল ৩: ২১)। তাঁর ভাইয়েরাও—ইঞ্জিলের বর্ণনা অনুযায়ী তারা তাঁর মা মারইয়ামের সন্তান—তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করত: «তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে বলল: এখান থেকে চলে যাও এবং ইয়াহুদিয়াতে যাও, যাতে তোমার শিষ্যরাও তোমার করা কাজগুলো দেখতে পায়... কারণ তাঁর ভাইয়েরাও তাঁর ওপর ঈমান আনত না» (ইউহান্নার ইঞ্জিল ৭: ৩-৫)। «যখন তাঁর অনেক শিষ্য তাঁর কিছু উপদেশ শুনল, তখন তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করল, ফলে তাঁর সাথে বারোজন হাওয়ারী (শিষ্য) ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকল না। তাঁর অনেক শিষ্য পিছুটান দিল এবং আর তাঁর সাথে চলল না। তখন ঈসা সেই বারোজনকে বললেন: তোমরাও কি চলে যেতে চাও?» (ইউহান্নার ইঞ্জিল ৬: ৬০-৬৬)।

পবিত্র কুরআন ইসলাম এবং এর নবী মুহাম্মদ—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর বিরুদ্ধে কাফির ও মুশরিকদের অপবাদসমূহ লিপিবদ্ধ করেছে। এমনকি তাঁর স্ত্রী আয়িশার বিরুদ্ধে ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনাকেও আল্লাহ তিলাওয়াতযোগ্য কুরআনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যদি বিষয়টি নবী—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর হাতে থাকত, তবে তিনি তা সরিয়ে রাখতেন। কিন্তু তিনি তো আল্লাহর একজন আদিষ্ট বান্দা, তাঁর প্রতিপালক তাঁকে বলেছেন: তোমার কোনো অধিকার নেই এ বিষয়ে (আলে ইমরান: ১২৮), কেননা নিশ্চয়ই সমস্ত বিষয় আল্লাহরই অধীনে (আলে ইমরান: ১৫৪)। আর এগুলো রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর বিরুদ্ধে তাদের কিছু অপবাদ ও উপহাসের নমুনা।

 

‌‌১- তাঁকে পাগলামি, গণকগিরি, যাদু এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা:

আর কাফিররা বলেছিল: এ তো একজন যাদুকর ও চরম মিথ্যাবাদী (সোয়াদ: ৪)।

আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী (কুরআন) শোনে, তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দেবে; আর তারা বলে: নিশ্চয়ই সে তো এক পাগল (আল-কলম: ৫১)।

নিশ্চয়ই তাদের যখন বলা হতো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত (৩৫) এবং বলত: আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের বর্জন করব? (আস-সাফফাত: ৩৫, ৩৬)।

অতএব আপনি উপদেশ দান করুন; আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহে আপনি গণক নন এবং পাগলও নন (আত-তূর: ২৯)।

 

‌‌২- তাঁর বিরুদ্ধে কুরআন রচনা করা এবং আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করার অপবাদ:

আর কাফিররা বলে: এ তো এক মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়, যা সে নিজে উদ্ভাবন করেছে এবং অন্য লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তারা জুলুম ও চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে (৪)। আর তারা বলে: এগুলো তো সেকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; অতঃপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে পাঠ করা হয় (আল-ফুরকান: ৪-৫)।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
- وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّما يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهذا لِسانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ (النحل: 103) .

 

‌‌3- السخرية من النبى- صلى الله عليه وسلم-:

وَقالُوا لَوْلا نُزِّلَ هذَا الْقُرْآنُ عَلى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ (الزخرف: 31) .

وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ نَدُلُّكُمْ عَلى رَجُلٍ يُنَبِّئُكُمْ إِذا مُزِّقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ إِنَّكُمْ لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ (7) أَفْتَرى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَمْ بِهِ جِنَّةٌ (سبأ: 7، 8) .

ولقد كان ما تعرض له محمد رسول الله- صلى الله عليه وسلم فى الحرب الدعائية الظالمة، استمرارا لما تعرض له إخوانه السابقون من الأنبياء والمرسلين.

كَذلِكَ ما أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قالُوا ساحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ (52) أَتَواصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طاغُونَ (الذاريات: 52، 53) .

هذا ولقد دأب الغرب المسيحى الصليبى على الطعن فى الإسلام ونبيه.

وتعرضت سيرة خاتم النبيين إلى التشويه والمغالطات والمفتريات والأباطيل على أيدى رجال الكهنوت المسيحى وتلاميذهم من المستشرقين والمبشرين والمنصرين ومن بعض الكتاب والإعلاميين الضالين … إلخ.

لقد تنبأ القرآن بهذا الواقع الأليم فقال: وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذىً كَثِيراً وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ (آل عمران: 186)

واشتد الهجوم فى الغرب على الإسلام والمسلمين بعد الهجوم على مركز التجارة العالمى فى نيويورك، ومبنى البنتاجون فى واشنطن يوم 11 سبتمبر 2001، وأصبح الهجوم على الإسلام ونبيه مادة يومية فى الصحافة والتليفزيون وشبكة الإنترنت والقنوات الفضائية والأفلام السينمائية والكاريكيتير.. إلخ.

وكل مسلم موضع اتهام فى الولايات المتحدة الأمريكية ودول أوروبا بمجرد اكتشاف أنه مسلم.
- আমি অবশ্যই জানি যে, তারা বলে: "তাকে তো একজন মানুষ শিক্ষা দেয়।" তারা যার দিকে ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারব, আর এটি হলো সুস্পষ্ট আরবি ভাষা (আন-নাহল: ১০৩)।

 

‌‌৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিয়ে উপহাস-:

আর তারা বলে: "কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো মহান ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না?" (আজ-জুখরূফ: ৩১)।

আর কাফিররা বলে: "আমরা কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দেব, যে তোমাদেরকে খবর দেয় যে, তোমরা যখন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন তোমরা আবার নতুন সৃষ্টিতে পরিণত হবে? (৭) সে কি আল্লাহর নামে মিথ্যা বলছে, নাকি তাকে পাগলামিতে পেয়েছে?" (সাবা: ৭, ৮)।

মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বৈরী প্রচারযুদ্ধের মাধ্যমে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর পূর্ববর্তী নবী ও রাসূল ভাইদের ওপর যা ঘটেছিল তারই ধারাবাহিকতা।

এভাবেই, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসূল এসেছেন, তখনই তারা বলেছে: "এ তো একজন জাদুকর অথবা পাগল।" (৫২) তারা কি একে অপরের কাছে এই অসিয়ত করে গেছে? বরং তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি (আদ-যারিয়াত: ৫২, ৫৩)।

তাছাড়া, ক্রুসেডার খ্রিস্টান পশ্চিমারা ইসলাম ও এর নবীর ওপর অপবাদ দেওয়া ও আক্রমণ করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে।

খাতামুন্নাবিয়্যীন (নবীগণের মোহর) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনচরিত খ্রিস্টান যাজকগোষ্ঠী এবং তাদের শিষ্য প্রাচ্যবিদ, ধর্মপ্রচারক ও খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণকারী এবং কিছু পথভ্রষ্ট লেখক ও সংবাদকর্মীদের হাতে বিকৃতি, বিভ্রান্তি, অপবাদ এবং মিথ্যার শিকার হয়েছে … ইত্যাদি।

কুরআন এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা সম্পর্কে আগেই ভবিষ্যৎবাণী করেছে, আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবধারী এবং মুশরিকদের কাছ থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।" (আলে ইমরান: ১৮৬)

১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ওয়াশিংটনের পেন্টাগন ভবনে হামলার পর পশ্চিমে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর আক্রমণ তীব্রতর হয়। ইসলাম এবং এর নবীর ওপর আক্রমণ সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট চ্যানেল, চলচ্চিত্র এবং ব্যঙ্গচিত্র ইত্যাদিতে প্রতিদিনের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতে কোনো ব্যক্তি মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়া মাত্রই সে সন্দেহের পাত্রে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولم يعد أمر العداء للإسلام فى الغرب خافيا على أحد فى العالم الإسلامى بعد أن صرح بذلك عشرات الكتاب والمفكرين والباحثين والعلماء والقادة والسياسيين- من الدول الغربية فى كثير من الكتب والإصدارات ووسائل الإعلام.

وأعتقد أن الذين ينكرون وجود هذا العداء بعد الحملات الكثيرة والمتكررة لتشويه صورة الإسلام ونبيه منذ فجر الإسلام هم فى الحقيقة يتهربون من مواجهة الحقيقة لأنها تفرض عليهم واجب العمل للدفاع عن الإسلام ورسوله محمد- صلى الله عليه وسلم.

ولا ننكر أن فى الغرب مفكرين يتحدثون عن الإسلام بإنصاف ولكن تضيع أصواتهم داخل صناعة ضخمة تمولها المخططات الصهيونية الصليبية فى الغرب، هى صناعة الكراهية والعداء للإسلام والمسلمين.

ومما لا ريب فيه، أن هناك أيضا مفكرين عالميين منصفين درسوا الإسلام دراسة عميقة، فأحبه البعض وناصره، وآمن به البعض الآخر، وأعلن إسلامه وصدق فيه..

 

‌‌وهؤلاء الكتاب المفكرون، ينقسمون إلى فريقين:

فريق أعلن إسلامه، فى غير لبس ولا مراآة، وجابه الرأى العام فى بيئته بعقيدته، ثم أخذ يدعو إليه مكرسا وقته وجهده لنشره.

وفريق أحب الإسلام ومدحه. ولا ندرى ماذا أسر فى نفسه؟

وإذا كان الأمر كذلك، فما الذى يمنع الغربيين من الدخول فى الإسلام زرافات ووحدانا؟

إن الإسلام واضح جلى، وإن تعاليمه سهلة ميسورة، تنسجم مع العقل والمنطق، فما السر فى عدم أخذ الغربيين والأوربيين بهذا الدين، وعدم اعتناقهم له فى سرعة سريعة، وفى كثرة هائلة؟

الواقع أن العوامل التى تمنع الغربيين من اعتناق الإسلام كثيرة قوية، ومن
পশ্চিমী বিশ্বে ইসলামের প্রতি শত্রুতার বিষয়টি এখন আর ইসলামি জগতের কারো কাছে গোপন নেই, যেহেতু পশ্চিমা দেশগুলোর অসংখ্য লেখক, চিন্তাবিদ, গবেষক, আলেম, নেতা ও রাজনীতিবিদ বিভিন্ন গ্রন্থ, প্রকাশনা ও সংবাদমাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আমি মনে করি, ইসলামের ঊষালগ্ন থেকে ইসলাম ও এর নবীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য চালানো অসংখ্য ও ধারাবাহিক প্রচারণার পরেও যারা এই শত্রুতার অস্তিত্ব অস্বীকার করে, তারা মূলত সত্যের মুখোমুখি হওয়া থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ, এই সত্য তাদের ওপর ইসলাম ও তার রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিরক্ষায় কাজ করার আবশ্যিক কর্তব্য অর্পণ করে।

আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, পশ্চিমে এমন কিছু চিন্তাবিদ রয়েছেন যারা ইসলামের বিষয়ে ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার সাথে কথা বলেন; কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে ইহুদিবাদী-ক্রুসেডারদের নীল নকশায় অর্থায়িত এক বিশাল শিল্পের অভ্যন্তরে তাদের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়, আর তা হলো ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা তৈরির শিল্প।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ন্যায়নিষ্ঠ চিন্তাবিদও রয়েছেন যারা ইসলাম নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন। ফলে তাদের কেউ কেউ একে ভালোবেসেছেন ও সমর্থন দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ এর প্রতি ঈমান এনেছেন, ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাতে একনিষ্ঠ থেকেছেন।

 

‌‌এই লেখক ও চিন্তাবিদগণ দুই দলে বিভক্ত:

একদল যারা কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা লোকদেখানো উদ্দেশ্য ছাড়াই ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজেদের আকিদা বা বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজ পরিবেশের জনমতের মোকাবিলা করেছেন। এরপর তারা তাদের সময় ও শ্রম উৎসর্গ করে এর প্রচার-প্রসারে দাওয়াত দিতে শুরু করেছেন।

আর অন্য দলটি ইসলামকে ভালোবেসেছে এবং এর প্রশংসা করেছে। আমরা জানি না তারা তাদের অন্তরে কী গোপন রেখেছে?

বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে পশ্চিমাদের দলে দলে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ইসলামে দীক্ষিত হতে কিসে বাধা দিচ্ছে?

নিশ্চয়ই ইসলাম সুস্পষ্ট ও প্রদীপ্ত, আর এর শিক্ষা সহজ ও সাবলীল, যা বিবেক ও যুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাহলে পশ্চিমা ও ইউরোপীয়দের এই দ্বীন গ্রহণ না করা এবং দ্রুত গতিতে ও বিপুল সংখ্যায় একে গ্রহণ না করার রহস্য কী?

বাস্তবতা হলো, পশ্চিমাদের ইসলাম গ্রহণে বাধা প্রদানকারী প্রভাবকসমূহ অনেক এবং শক্তিশালী, যার মধ্যে...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المؤسف أن بعض هذه العوامل يرجع إلى المسلمين أنفسهم بسبب عدم تطبيقهم وتمسكهم بالإسلام، وتكاد الصلة التى بينهم وبينه تكون مجرد صلة اسمية، وينسون عظمة المسلمين وقوتهم أيام كانوا متمسكين بالإسلام، وأيام أن كانت الدنيا لهم.

ولعل المسلمين يعودون إلى دينهم صافيا نقيا، ويستمسكون به فيكونون مرآة حقيقية يتمثل فيها الإسلام قويا ساميا.

ومن العوامل التى ساعدت على تشويه صورة الإسلام ونبيه محمد- صلى الله عليه وسلم والمسلمين فى الغرب وإحجام الكثير منهم عن دخول الإسلام تجربة الكنيسة مع الدين، وما استتبع ذلك من وسائل التبشير والتنصير، ومحاربة الدين الإسلامى على كافة الأصعدة، وبمختلف الوسائل والطرق، ومما ساعد على ذلك أيضا تحالف الصهيونية مع الصليبية فى الغرب، وتخاذل وضعف بعض المسلمين وتقصيرهم فى الدفاع عن دينهم، والدعوة إليه ونشره فى جميع أنحاء العالم، وعدم تصحيح الصورة المغلوطة عن الإسلام فى الغرب.

ويقول جمال الدين الأفغانى: «إن الغربيين يستمدون فكرتهم عن الإسلام من مجرد رؤيتهم للمسلمين، فإنهم يرون المسلمين متخاذلين ضعفاء أذلاء مستكينين، فرقت بينهم الأهواء والشهوات، وقعدت بهم الصغائر، وانصرفوا عن عظائم الأمور، وأصبحوا مستعبدين مستذلين، ويقولون لو كان الإسلام دينا قويا لما كان المسلمون هكذا … » .

ويقول أيضا: «إذا أردنا أن ندعو للإسلام، فليكن أول ما نبدأ به أن نبرهن للغربيين أننا مسلمون» .

والكتاب الذى نقدمه اليوم يعرض جملا من أقوال وشهادات بعض المستشرقين والمفكرين الغربيين الذين أعجبوا بشخصية الرسول العظيم صلى الله عليه وسلم، ومع كونهم لم يرتدوا عباءة الإسلام فإنهم قالوا كلمة حق سطرها التاريخ على ألسنتهم وفى كتبهم وتراثهم، وما أحبوه كذلك إلا لأن أنصبته قد فاضت بكم عظيم من الرقى الشخصى والأخلاقى والحضارى إلى أبعد حد مما جعلهم
দুঃখজনক যে, এই কারণগুলোর কিছু অংশ খোদ মুসলিমদের দিকেই ফিরে যায়, কারণ তারা ইসলামকে বাস্তবায়ন করছে না এবং এর প্রতি অবিচল থাকছে না। তাদের ও ইসলামের মধ্যকার সম্পর্ক প্রায় নামমাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মুসলিমদের সেই গৌরব ও শক্তির কথা ভুলে যাচ্ছে যখন তারা ইসলামের ওপর অবিচল ছিল এবং যখন পৃথিবী তাদের শাসনাধীন ছিল।

সম্ভবত মুসলিমরা তাদের স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে এবং এর ওপর সুদৃঢ় থাকবে, ফলে তারা একটি প্রকৃত দর্পণে পরিণত হবে যেখানে ইসলাম শক্তিশালী ও সুমহান রূপে প্রতিফলিত হবে।

পশ্চিমে ইসলাম, এর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুসলিমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাদের অনেকের ইসলাম গ্রহণে অনীহার পেছনে যেসব কারণ সহায়তা করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ধর্মের সাথে চার্চের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং এর ফলে সৃষ্ট মিশনারি ও খ্রিস্টানকরণ তৎপরতা, সকল স্তরে বিভিন্ন পন্থায় ও উপায়ে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এছাড়া আরও যা সহায়তা করেছে তা হলো পশ্চিমে ক্রুসেডারদের সাথে জায়নবাদের মিত্রতা এবং কিছু মুসলিমদের উদাসীনতা ও দুর্বলতা, তাদের দ্বীন রক্ষায় অবহেলা, সারা বিশ্বে দ্বীনের দাওয়াত ও প্রচারের অভাব এবং পশ্চিমে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলো সংশোধন না করা।

জামালুদ্দিন আফগানি বলেন: «পাশ্চাত্যের লোকেরা ইসলাম সম্পর্কে তাদের ধারণা কেবল মুসলিমদের দেখার মাধ্যমেই গ্রহণ করে। তারা দেখে যে মুসলিমরা হতাশ, দুর্বল, লাঞ্ছিত ও অসহায়; প্রবৃত্তি ও লালসা তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, তুচ্ছ বিষয়গুলো তাদের আটকে রেখেছে, তারা মহৎ কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তারা দাসে পরিণত হয়েছে ও অবমানিত হচ্ছে। তারা বলে, যদি ইসলাম একটি শক্তিশালী ধর্ম হতো, তবে মুসলিমদের এই অবস্থা হতো না... »।

তিনি আরও বলেন: «আমরা যদি ইসলামের দাওয়াত দিতে চাই, তবে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত পাশ্চাত্যের মানুষের কাছে এটা প্রমাণ করা যে আমরা মুসলিম»।

আজ আমরা যে বইটি পেশ করছি তাতে কিছু প্রাচ্যবিদ ও পশ্চিমা চিন্তাবিদদের উক্তি ও সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে যারা মহান রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন। যদিও তারা ইসলামের চাদর গায়ে জড়াননি, তবুও তারা সত্য কথা বলেছেন যা ইতিহাস তাদের মুখনিসৃত বাণী হিসেবে তাদের বই ও ঐতিহ্যে লিপিবদ্ধ করে রেখেছে। তারা তাঁকে এজন্যই ভালোবেসেছেন কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ও সভ্যতায় উৎকর্ষের এমন বিশাল ভাণ্ডার পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল যা তাঁদের মুগ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
معجبين به إلى حد أن جعلهم يسطرون فيه الكتب ويذكرون شخصه فى كل وقت. وهذا جزء من بعض ما قالوا فى عظيم شخصه وصفاته الجليلة.

 

‌‌وأخيرا-

فالكتاب لا يكتفى بسرد الشهادات الإيجابية والمنصفة للرسول- صلى الله عليه وسلم فقط وإنما يقوم بالتحليل والنقد لتاريخ العدوان الفكرى الغربى على الإسلام ونبيه محمد صلى الله عليه وسلم، ويتساءل عن مضمون الإساءة إلى الإسلام فى الغرب. هل هى حرية تعبير أم عقيدة صليبية منذ فجر الإسلام؟

وعلاوة على ذلك يعرض الكتاب وسائل وأساليب لمواجهة حملات الإساءة والتشويه لصورة النبى- صلى الله عليه وسلم فى الغرب.

وفى النهاية يلقى الضوء على بعض المعلومات المهمة عن الرسول- صلى الله عليه وسلم متضمنة لصفاته الخلقيّة والخلقيّة، وما تفرد به- صلى الله عليه وسلم عن باقى الأنبياء.

أيضا يتحدث عن واجب المسلمين فى الدفاع عن دينهم والتصدى لحملات التشكيك فى الإسلام والموجودة فى الغرب حاليا.

وأسأل الله العلى القدير أن أكون قد وفقت فى الدفاع عن سيد الأنبياء والمرسلين محمد- صلى الله عليه وسلم ضد حملات الإساءة والتشوية التى يتعرض لها نبى الإسلام محمد- صلى الله عليه وسلم فى الغرب.

كما أسأله سبحانه وتعالى أن يعيد للمسلمين وحدتهم، حتى يعود إليهم مجدهم وعظمتهم، ويصيروا سادة العالم وقادة الفكر بتطبيقهم لدينهم وشريعتهم كما كانوا.

وأرجوه تعالى أن يعز الإسلام ونبيه الكريم صلى الله عليه وسلم، وأن يظهره على الدين كله ولو كره الكافرون. إنه سميع النداء مجيب الدعاء.

وصلّى الله وسلم على سائر الأنبياء والمرسلين/ والحمد لله رب العالمين

الحسينى الحسينى معدّى
তারা তাঁর প্রতি এতটাই মুগ্ধ যে, তারা তাঁর সম্মানে কিতাবসমূহ রচনা করেছেন এবং সর্বক্ষণ তাঁর ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেন। এটি তাঁর সুমহান ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ গুণাবলী সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্যের একটি অংশ মাত্র।

 

‌‌পরিশেষে-

এই কিতাবটি কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ইতিবাচক ও ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষ্যসমূহ বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইসলাম ও এর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিহাসের বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করে। এটি পশ্চিমে ইসলামের অবমাননার মূল লক্ষ্য সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, এটি কি বাকস্বাধীনতা নাকি ইসলামের ঊষালগ্ন থেকেই চলে আসা ক্রুসেডার মানসিকতা?

অধিকন্তু, কিতাবটি পশ্চিমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও বিকৃত করার অপপ্রচার মোকাবেলার বিভিন্ন উপায় ও পদ্ধতি তুলে ধরেছে।

পরিশেষে, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর আলোকপাত করে, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলী এবং অন্যান্য নবীগণের তুলনায় তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ।

এছাড়াও, এটি নিজেদের দ্বীন রক্ষায় এবং বর্তমানে পশ্চিমে বিদ্যমান ইসলামের বিরুদ্ধে সংশয় সৃষ্টির অপপ্রচার রুখে দিতে মুসলমানদের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করে।

আমি মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই অবমাননা ও বিকৃতির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করার তাওফিক দান করেন, যার সম্মুখীন ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্তমানে পশ্চিমে হচ্ছেন।

আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন মুসলমানদের ঐক্য ফিরিয়ে দেন, যাতে তাদের গৌরব ও মহিমা ফিরে আসে এবং তারা তাদের দ্বীন ও শরীয়ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পূর্বের ন্যায় বিশ্বের অধিপতি ও চিন্তাজগতের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন ইসলাম ও তাঁর সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত করেন এবং ইসলামকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। নিশ্চয়ই তিনি আহ্বান শ্রবণকারী ও দোয়া কবুলকারী।

সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আল-হুসাইনি আল-হুসাইনি মুয়াদী
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الأول الإساءة للرسول ص هوس غربى قديم

 

‌‌تاريخ العدوان الفكرى الغربى على الإسلام وعلى نبيه محمد- عليه الصلاة والسلام-

العدوان الإعلامى الشرس وتصوير الإسلام ونبيه- عليه الصلاة والسلام فى صورة مغايرة للحقيقة بالغة البشاعة ومعاكسة تماما، ليست جديدة، بل هى عقيدة غربية موروثة تشكلت ونمت خلال ثمانية قرون منذ القرن الأول وحتى نهاية القرن الثامن الهجرى.

قد يظن كثير من المسلمين أن العدوان الغربى على الإسلام وتشويه صورة الرسول محمد- عليه الصلاة والسلام واختراع صورة بشعة ومعاكسة لحقيقة دين الإسلام ونبيه من طرف وسائل الإعلام فى الغرب، لا سيما فى أمريكا، من جانب رؤساء بعض الكنائس الإنجيلية أمر جديد حدث بعد هجمات الحادى عشر من سبتمبر 2001 م وقيام الحرب الصليبية المقنّعة الجديدة التى تقودها الولايات المتحدة ضد الإسلام والمسلمين تحت قناع «الحرب على الإرهاب وإزالة أسلحة الدمار الشامل» .
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূল (সা.)-এর প্রতি অবমাননা একটি প্রাচীন পশ্চিমা উন্মাদনা

 

ইসলাম এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিহাস

উগ্র গণমাধ্যম আগ্রাসন এবং ইসলাম ও তাঁর নবী (সা.)-কে সত্যের পরিপন্থী অত্যন্ত বীভৎস ও সম্পূর্ণ বিপরীত রূপে চিত্রায়িত করা কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং এটি একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পশ্চিমা বিশ্বাস, যা হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে অষ্টম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আটশ বছর ধরে গঠিত ও বিকশিত হয়েছে।

অনেক মুসলিম হয়তো মনে করেন যে, ইসলামের ওপর পশ্চিমা আগ্রাসন, রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং পশ্চিমা গণমাধ্যম—বিশেষ করে আমেরিকায়—কিছু ইভানজেলিকাল চার্চের প্রধানদের পক্ষ থেকে ইসলাম ধর্ম ও তাঁর নবীর প্রকৃত রূপের বিপরীতে একটি বীভৎস ও বিপরীত চিত্র উদ্ভাবন করা কোনো নতুন বিষয়, যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর এবং "সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র অপসারণ"-এর আবরণে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন ছদ্মবেশী ক্রুসেডের পর শুরু হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والحق أن هذا العدوان الإعلامى الشرس وتصوير الإسلام ونبيه عليه الصلاة والسلام فى صورة مغايرة بالغة البشاعة ومعاكسة تماما، ليست جديدة، بل هى: عقيدة غربية موروثة تشكلت ونمت خلال ثمانية قرون منذ القرن الأول وحتى نهاية القرن الثامن الهجرى.

وانتقلت هذه العقيدة كاملة متماسكة عبر القرون لتصل إلى القرون الحديثة والمعاصرة. وأصبحت أشبه بالمستنقع الآسن العفن الذى تغرف منه وسائل الإعلام الغربية وبعض رجال الدين الأنجيليين فى أمريكا، وينشرونها عبر وسائلهم المختلفة.

وقبل أن نلقى نظرة موجزة جدّا على تاريخ تلك العقيدة الغربية القائمة على أساس التلفيق والاختراع لتصوير الإسلام فى أشكال مشوهة وبشعة، نعرض لمقتطفات من أقوال بعض رجال الدين الإنجيليين فى أمريكا عن الإسلام ونبيه محمد- عليه الصلاة والسلام ليتضح لكل صاحب فكر خصيب مدى اعتناق هؤلاء لتلك العقيدة الموروثة التى لفقها أسلافهم خلال العصور الوسطى فى أوروبا.

1- جيرى فالويل:Jerry Falwell وهو قسيس إنجيلى معروف له برنامج إذاعى وتلفزيونى يصل إلى أكثر من عشرة ملايين أسبوعيا وله جامعة أصولية خاصة تسمى جامعة الحرية Liberty University وهو الذى يروج فى موقعه على الإنترنت لكتابه «فلنتقدم إلى معركة هرمجدون March To Armgeddon «وهى معركة نهاية التاريخ كما فى معتقدات الإنجيليين. وفى الصفحة الأولى من موقعه على الإنترنت يضع تاريخا ملفقا عن النبى عليه الصلاة والسلام؛ مستمدا بكامله من كتابات بعض الرهبان الأوربيين فى العصور الوسطى.

ويهاجم فالويل النبى؛ من خلال بعض وسائل الإعلام الأمريكية الكبرى.

ومما قاله فالويل مساء يوم الأحد 6 أكتوبر 2002 م فى برنامجه 60 دقيقة ما نصه: «أنا أعتقد أن محمدا كان إرهابيا، لقد قرأت ما يكفى من المسلمين
সত্য কথা হলো, এই হিংস্র মিডিয়া আগ্রাসন এবং ইসলাম ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অত্যন্ত বীভৎস ও সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রে উপস্থাপন করা নতুন কিছু নয়; বরং এটি একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পশ্চিমা বিশ্বাস, যা প্রথম হিজরি শতাব্দী থেকে অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত আটশ বছর ধরে গঠিত ও বিকশিত হয়েছে।

এই বিশ্বাসটি কয়েক শতাব্দী ধরে পূর্ণ ও সুসংহতভাবে আধুনিক ও সমকালীন যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি একটি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত জলাশয়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে পশ্চিমা গণমাধ্যম এবং আমেরিকার কিছু ইভানজেলিকাল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব উপাদান সংগ্রহ করে এবং তাদের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে।

ইসলামকে বিকৃত ও বীভৎস রূপে ফুটিয়ে তোলার জন্য জালিয়াতি ও উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সেই পশ্চিমা বিশ্বাসের ইতিহাসের ওপর অতি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করার আগে, আমরা ইসলাম এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আমেরিকার কিছু ইভানজেলিকাল ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরব। এর মাধ্যমে যেকোনো উর্বর চিন্তাশীল ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, ইউরোপের মধ্যযুগে তাদের পূর্বসূরিরা যে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসটি জাল করেছিল, এই ব্যক্তিরা তা কতটা গভীরভাবে ধারণ করে আছে।

১- জেরি ফলওয়েল (Jerry Falwell): তিনি একজন সুপরিচিত ইভানজেলিকাল যাজক, যার রেডিও এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তাঁর একটি নিজস্ব মৌলবাদী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যার নাম লিবার্টি ইউনিভার্সিটি (Liberty University)। তিনি তাঁর ওয়েবসাইটে নিজের লেখা বই "মার্চ টু আর্মাগেডন" (March To Armgeddon) প্রচার করেন; ইভানজেলিকালদের বিশ্বাস অনুযায়ী এটি ইতিহাসের শেষ যুদ্ধ। তিনি তাঁর ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে একটি বানোয়াট ইতিহাস তুলে ধরেছেন, যা সম্পূর্ণরূপে মধ্যযুগের কিছু ইউরোপীয় সন্ন্যাসীর লেখা থেকে নেওয়া।

ফলওয়েল আমেরিকার কিছু প্রধান গণমাধ্যমের সাহায্যে নবীকে আক্রমণ করে থাকেন।

২০০2 সালের ৬ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর '৬০ মিনিটস' (60 Minutes) নামক অনুষ্ঠানে ফলওয়েল যা বলেছিলেন তার মূল পাঠ হলো: "আমি বিশ্বাস করি যে মুহাম্মদ একজন সন্ত্রাসী ছিলেন; আমি মুসলিমদের সম্পর্কে যথেষ্ট পড়েছি..."
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وغير المسلمين أنه رجل عنف، ورجل حروب.. فى اعتقادى المسيح وضع مثالا للحب كما فعل موسى، وأنا أعتقد أن محمدا وضع مثالا عكسيا!!.

2- بات روبرتسون:Pat Robertson وهو قسيس إنجيلى معروف باهتماماته السياسية وتأييده المعلن لإسرائيل، ويمتلك عددا من المؤسسات الإعلامية من بينها نادى ال) Club 700 (700 وهو برنامج تلفزيونى يصل إلى عشرات الملايين فى الولايات المتحدة الأمريكية إضافة إلى محطة فضائية تصل إلى 90 دولة فى العالم بأكثر من 500 لغة مختلفة وهى محطة (البث النصرانى Christian Broadcasting (ومنها إذاعة الشرق الأوسط المتخصصة فى التنصير فى منطقة العالم العربى.

كما سعى بات روبرتسون إلى الترشيخ لمنصب الرئيس الأمريكى فى عام 1988 م، ويقف خلف أقوى تحالف سياسى دينى فى الحزب الجمهورى وهو (التحالف النصرانى saitsirhC) Coalition ((ويملك أيضا جامعة أصولية هى جامعة ريجنت ytisrevinU tneqeR وفى هجومه على النبى عليه الصلاة والسلام من خلال برنامج هانتى وكولمز ssemloC dna ytinnaH فى قناة فوكس الإخبارية ssweN xaF قال ما يلى: «كل ما عليك هو أن تقرأ ما كتبه محمد فى القرآن، إنه كان يدعو قومه إلى قتل المشركين.. إنه رجل متعصب إلى أقصى حد … إنه كان لصا وقاطع طريق.. «إن ما يدعو إليه هذا الرجل (محمد) فى رأيى الشخصى ليس إلا خديعة وحيلة ضخمة» «إن 80 من القرآن من النصوص النصرانية واليهودية. ولقد ذكر موسى أكثر من 500 مرة فى القرآن. أنا أقول إن هذا القرآن ما هو إلا سرقة من المعتقدات اليهودية..

ثم استدار محمد بعد ذلك ليقتل اليهود والنصارى فى المدينة. أنا أقصد.. أن هذا الرجل (محمد) كان قاتلا (سافكا للدماء) » - قطع الله لسان (روبرتسون) وإنا أنقل هذا ليعلم المنصفون مدى افتراء هذا الأفاك- وسنثبت بعد قليل أن هذا القسيس بات روبرتسون هو اللص والسارق عندما نورد أقوال الرهبان المتعصبين فى العصور الوسطى ليتبين للقارئ الكريم مدى تطابق أقوال هذا
এবং অমুসলিমদের নিকট তিনি একজন সহিংস ও যুদ্ধবাজ ব্যক্তি.. আমার বিশ্বাস মতে মসীহ (ঈসা) প্রেমের একটি উদাহরণ পেশ করেছেন যেমনটি মূসা করেছিলেন, আর আমি মনে করি মুহাম্মদ তার বিপরীত উদাহরণ পেশ করেছেন!!।

২- প্যাট রবার্টসন (Pat Robertson): তিনি একজন ইভানজেলিকাল যাজক যিনি তার রাজনৈতিক আগ্রহ এবং ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের জন্য সুপরিচিত। তিনি বেশ কয়েকটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক, যার মধ্যে রয়েছে '৭০০ ক্লাব' (700 Club) নামক একটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে। এর পাশাপাশি রয়েছে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল যা বিশ্বের ৯০টি দেশে ৫০০-এর বেশি ভাষায় প্রচারিত হয়, আর তা হলো 'খ্রিস্টান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ক' (Christian Broadcasting Network)। এর অধীনে 'মিডল ইস্ট রেডিও'ও রয়েছে যা আরব বিশ্বে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (ধর্মান্তরকরণের) জন্য বিশেষায়িত।

প্যাট রবার্টসন ১৯৮৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক-ধর্মীয় জোট 'খ্রিস্টান কোয়ালিশন' (Christian Coalition)-এর পেছনের মূল ব্যক্তি। এছাড়াও তার একটি কট্টরপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যার নাম 'রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি' (Regent University)। ফক্স নিউজ (Fox News) চ্যানেলের 'হ্যানিটি অ্যান্ড কোমস' (Hannity and Colmes) নামক প্রোগ্রামে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আক্রমণাত্মক বক্তব্যে তিনি যা বলেছিলেন তা হলো: «আপনাকে শুধু কুরআন যা মুহাম্মদ লিখেছেন তা পড়তে হবে, তিনি তার কওমকে মুশরিকদের হত্যার আহ্বান জানাতেন.. তিনি ছিলেন চরম পর্যায়ের একজন ধর্মান্ধ ব্যক্তি … তিনি ছিলেন একজন চোর এবং ডাকাত.. আমার ব্যক্তিগত মতে এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ) যে বিষয়ের দিকে আহ্বান জানান তা একটি বিশাল প্রতারণা ও অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়» «কুরআনের ৮০ শতাংশই খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। কুরআনে মূসার কথা ৫০০-এর বেশি বার উল্লেখ করা হয়েছে। আমি বলছি যে, এই কুরআন ইহুদি ধর্মবিশ্বাসের চুরি করা অংশ বৈ কিছু নয়..

অতঃপর মুহাম্মদ মদিনায় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের হত্যার জন্য উদ্যত হন। আমার অর্থ হলো.. এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ) ছিলেন একজন হত্যাকারী (রক্তপিপাসু) » - আল্লাহ (রবার্টসনের) জিহ্বা কর্তন করুন। আমি এই মিথ্যাবাদীর অপবাদের সীমা ইনসাফপ্রিয় পাঠকদের জানানোর জন্য এটি উদ্ধৃত করছি। আমরা কিছুক্ষণ পরেই প্রমাণ করব যে, এই যাজক প্যাট রবার্টসনই আসল চোর ও তস্কর, যখন আমরা মধ্যযুগের ধর্মান্ধ সন্ন্যাসীদের বক্তব্য তুলে ধরব, যাতে সম্মানিত পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই ব্যক্তির বক্তব্য তাদের সাথে কতটা মিলে যায়...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المأفون مع أقوال عصر الظلمات فى أوربا فى العصور الوسطى ونقله لأقوالهم وأفكارهم.

3- فرانكلين جراهام:Franklin Graham وهو ابن القسيس الأمريكى بيلى جراهام وقد عمل والده قسيسا خاصا للرؤساء الأمريكيين منذ عهد ريتشارد نيكسون، وحتى الرئيس الأمريكى السابق بيل كلينتون. ويتولى ابنه فرانكلين جراهام الآن نفس المهمة بعد تقاعد الأب، وقام بعمل الطقوس الدينية لتنصيب الرئيس الأمريكى الحالى جورج دبليو بوش. ويتولى جميع مسئوليات الكنيسة التى أنشأها أبوه والتى تعد من أكبر الكنائس الأمريكية عددا وتأثيرا، وقامت خلال السنوات الماضية بأكثر من 450 حملة تنصير فى جميع أنحاء العالم. وقد أدلى فرانكلين جراهام بتصريحات إعلامية قال فيها إن الإرهاب جزء من التيار العام للإسلام، وأن القرآن (يحض على العنف) وكرر جراهام خلال برنامج (هاينتى وكولمز) المذاع على قناة فوكس نيوز الأمريكية فى الخامس من أغسطس 2002 م رفضه الاعتذار عن تصريحات أدلى بها بعد حوادث سبتمبر 2001 م وصف فيها الإسلام بأنه دين (شرير) وفى كتاب جديد لفرانكلين جراهام يسمى (الاسم، The name (يحتوى على نصوص تتسم بالسفه والحطة بهدف الإساءة إلى الإسلام ومنها ما يلى: فى الصفحة رقم 71 يقول: «الإسلام.. أسّس بواسطة فرد بشرى مقاتل يسمى محمدا، وفى تعاليمه ترى تكتيك (نشر الإسلام من خلال التوسع العسكرى) ، ومن خلال العنف إذا كان ضروريا، من الواضح أن هدف الإسلام النهائى هو السيطرة على العالم» ويقول فى الصحفة 72 من كتابه إن «القرآن يحتوى على قصص أخذت وحرّفت عن العهدين القديم والجديد.. لم يكن للقرآن التأثير الواسع على الثقافتين الغربية والمتحضرة الذى كان للإنجيل. الاختلاف رقم واحد بين الإسلام والمسيحية أن إله الإسلام ليس إله الديانة المسيحية» .

4- جيرى فاينز:Jerry Vines وهو راعى كنيسة فى جاكسون يل فى فلوريدا، يصل عدد أتباعها إلى 25 ألف شخص، وهو من أبرز المتحدثين
সেই বুদ্ধিহীন ব্যক্তি মধ্যযুগে ইউরোপের অন্ধকার যুগের বক্তব্য এবং তাদের কথা ও চিন্তা-চেতনার উদ্ধৃতি দেওয়ায় তাদের সাথে একাত্ম।

৩- ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহাম: তিনি মার্কিন পাদ্রী বিলি গ্রাহামের পুত্র। তার পিতা রিচার্ড নিক্সনের আমল থেকে শুরু করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিশেষ পাদ্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার পিতা অবসর গ্রহণের পর ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহাম একই দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অভিষেক অনুষ্ঠানের ধর্মীয় রীতিনীতি পরিচালনা করেছেন। তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠিত গির্জার সমস্ত দায়িত্ব পালন করছেন, যা সংখ্যা এবং প্রভাবের দিক থেকে আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম গির্জা হিসেবে বিবেচিত এবং গত কয়েক বছরে এটি সারা বিশ্বে ৪৫০টিরও বেশি খ্রিস্টানিকরণ অভিযান পরিচালনা করেছে। ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহাম মিডিয়ার কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদ ইসলামের মূল ধারার অংশ এবং কুরআন (সহিংসতায় উসকানি দেয়)। ২০০২ সালের ৫ই আগস্ট মার্কিন ফক্স নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত 'হানিটি অ্যান্ড কোলমস' অনুষ্ঠানে গ্রাহাম ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর দেওয়া তার বিবৃতির জন্য ক্ষমা চাইতে পুনরায় অস্বীকার করেন, যেখানে তিনি ইসলামকে একটি 'দুষ্ট' ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহামের 'দ্য নেম' নামক একটি নতুন বইয়ে এমন কিছু পাঠ্য রয়েছে যা মূর্খতা ও হীনম্মন্যতায় পূর্ণ এবং যার উদ্দেশ্য ইসলামকে অবমাননা করা। তার মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ: ৭১ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: "ইসলাম... মুহাম্মদ নামক একজন যোদ্ধা মানুষের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার শিক্ষার মধ্যে আপনি (সামরিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের) কৌশল দেখতে পাবেন এবং প্রয়োজন হলে সহিংসতার মাধ্যমেও। এটা স্পষ্ট যে ইসলামের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিশ্ব দখল করা।" তিনি তার বইয়ের ৭২ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন যে, "কুরআনে এমন সব গল্প রয়েছে যা ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্ট থেকে নেওয়া এবং বিকৃত করা হয়েছে... পশ্চিমা ও সভ্য সংস্কৃতির ওপর বাইবেলের মতো কুরআনের ব্যাপক প্রভাব ছিল না। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে এক নম্বর পার্থক্য হলো ইসলামের ঈশ্বর খ্রিস্টধর্মের ঈশ্বর নন।"

৪- জেরি ভাইনস: তিনি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের একটি গির্জার যাজক, যার অনুসারীর সংখ্যা ২৫ হাজার পর্যন্ত এবং তিনি অন্যতম প্রধান বক্তা।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الأمريكيين فى المؤتمر السنوى للكنائس المعمدانية الجنوبية، وهو أكبر مؤتمر دينى يعقد كل عام. وقام الرئيس الحالى والرئيس السابق بمدح هذا القسيس واعتباره من المتحدثين بصدق عن دينهم وقد أدلى جيرى فاينز بتصريحات تتصف بالقذارة والسفه مليئة بالكراهية والحقد على الإسلام خلال الاجتماع السنوى للكنيسة المعمدانية الجنوبية، والذى عقد مؤخرا فى مدينة سانت لويس بولاية ميسورى الأمريكية.

وخلال الاجتماع افترى جيرى فينزى على الرسول عليه الصلاة والسلام واتهمه زورا وبهتانا بأنه «شاذ يميل للأطفال ويتملكه الشيطان، وتزوج من 12 زوجة آخرهن طفلة عمرها تسع سنوات» وأضاف فاينز أن «الله (الذى يؤمن به المسلمون) ليس الرب الذى يؤمن به المسيحيون» .

هذه الصور الملفقة المشوهة هى عقيدة دينية غربية موروثة ضمن عقائد المجتمع الغربى النصرانى، أصبحت راسخة فى العقل الجمعى الغربى منذ نهاية القرن الثامن الهجرى. وكانت هى المصدر الرئيس للمستشرقين والمنصرين المتعصبين فى العصور الحديثة وهى التى نراها الآن ونسمع بها.

 

‌‌ويمكن أن نوجز مصادر تلك العقيدة الموروثة فى أربعة مصادر رئيسية هى:

 

‌‌1- ما كتبه النصارى الشرقيون وأشهرهم:

يوحنا الدمشقى وتلميذه أبو قرة ويوحنا النقيوسى، ويحيى بن عدى، ومؤلف مجهول لمقالة تسمى الدفاع السريانى.

 

‌‌2- ما كتبه الكتّاب البيزنطيون (الروم) وعلى رأسهم:

ثيوفانس المعترف، ونيقتاس البيزنطى، وجرمانوس.

 

‌‌3- المصادر الأسبانية:

وعلى رأسها المقالة الأسبانية عن محمد عليه الصلاة والسلام وما كتبه ايزدور الأشبيلى، وأولوخيو، وبول الفارو، وغيرهم.

 

‌‌4- ما كتبه ولفقه واخترعه الكتاب الغربيون حتى نهاية القرن الثامن الهجرى.

ويأتى على رأس تلك الكتابات: المشروع الكلونى. وهو أول وأكبر مشروع
আমেরিকানদের দক্ষিণ ব্যাপ্টিস্ট চার্চসমূহের বার্ষিক সম্মেলনে, যা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত বৃহত্তম ধর্মীয় সম্মেলন। বর্তমান এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এই পাদ্রীর প্রশংসা করেছেন এবং তাকে তাদের ধর্মের বিষয়ে সত্যনিষ্ঠ বক্তাদের একজন হিসেবে গণ্য করেছেন। জেরি ভাইনস দক্ষিণ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের বার্ষিক সভায় ইসলাম সম্পর্কে অত্যন্ত নোংরা, নির্বোধ এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষে পূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা সম্প্রতি আমেরিকার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবং সভার চলাকালীন জেরি ভাইনস রাসূল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ওপর অপবাদ দিয়েছেন এবং মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন যে তিনি একজন «বিকৃতমনা শিশু-আসক্ত এবং শয়তান দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলেন, এবং তিনি ১২ জন স্ত্রী গ্রহণ করেছিলেন যাদের মধ্যে শেষজন ছিলেন নয় বছর বয়সী এক শিশু»। ভাইনস আরও যোগ করেছেন যে, «আল্লাহ (যাঁর ওপর মুসলমানরা বিশ্বাস করে) সেই প্রতিপালক নন যাঁকে খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে»।

এই বানোয়াট ও বিকৃত চিত্রগুলো মূলত পশ্চিমা খ্রিস্টান সমাজের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধর্মীয় মতবাদ, যা হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে পশ্চিমা সামষ্টিক মনস্তত্ত্বে বদ্ধমূল হয়ে আছে। এটিই ছিল আধুনিক যুগের গোঁড়া প্রাচ্যবিদ এবং মিশনারিদের প্রধান উৎস, এবং এটিই আমরা বর্তমানে দেখতে পাই ও শুনতে পাই।

 

‌‌এবং সেই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত মতবাদের উৎসগুলোকে আমরা চারটি প্রধান উৎসে সারসংক্ষেপ করতে পারি, সেগুলো হলো:

 

‌‌১- পূর্বদেশীয় খ্রিস্টানদের লিখিত রচনাবলি, যাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন:

ইউহান্না আদ-দিমাশকি (জন অফ দামাস্কাস) ও তাঁর ছাত্র আবু কুররাহ, ইউহান্না আন-নিকিউসি (জন অফ নিকিউ), ইয়াহইয়া ইবনে আদি এবং 'সিরিয়াক ডিফেন্স' নামক প্রবন্ধের একজন অজ্ঞাত লেখক।

 

‌‌২- বাইজেন্টাইন (রোমান) লেখকদের রচনা, যাদের শীর্ষে রয়েছেন:

থিওফেনিস দ্য কনফেসর, নিকেটাস বাইজান্টাইন এবং জার্মানাস।

 

‌‌৩- স্পেনীয় উৎসসমূহ:

যার শীর্ষে রয়েছে মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সম্পর্কে স্পেনীয় প্রবন্ধ এবং ইসিডোর অফ সেভিল (ইজদোর আল-আশবিলি), ইউলোজিয়াস, পাউল আলভারো ও অন্যান্যদের লেখা।

 

‌‌৪- হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা লেখকদের লিখিত, বানোয়াট ও উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ.

আর এই রচনাবলির শীর্ষে রয়েছে: ক্লুনিয়াক প্রজেক্ট। এটি হলো প্রথম এবং বৃহত্তম প্রকল্প।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
استشراقى يهدف بالدرجة الأولى الإساءة إلى الإسلام. وكتاب لمؤلف مجهول يسمى: الدحض الرباعى، وكتاب آخر لمؤلف مجهول يسمى (المتناقضات) وما كتبه كل من: بدرودى الفونسو، وسان بدرو باسكوال، وريكولدو دى مونت كروس، ورامون مارتى، وريموندلول، ووليم الطرابلسى، ووليم الصورى، ووليم آدم، وجاكيوس دى فترى، وهامبرت الرومانى، وفيدينزو أوف بافيا، وغيرهم كثيرون.

ولا مجال هنا لعرض كل ما كتبته تلك المصادر الأربعة الرئيسية عن الإسلام، فالمادة العلمية التى جمعناها عن كل مصدر تغطى مجلدا كاملا.

وسوف نعرض مجرد نماذج مختصرة لبعض تلك الكتابات حتى نرى كيف تشكلت وتكونت تلك العقيدة الغربية الموروثة عن الإسلام ونبى الإسلام محمد عليه الصلاة والسلام.

من النصارى الشرقيين يوحنا الدمشقى (55- 131 هـ/ 675- 749 م) وهو من نصارى الشام، ولد وعاش فى العصر الأموى، وتضلع فى اللاهوت، وكتب كتبا كثيرة، ومن ضمنها كتاب كتبه باليونانية بعنوان الهرطقات. وأفرد فيه فصلا عن الإسلام أطلق عليه اسم (هرطقة الإسماعيليين) ويقصد بالإسماعيليين العرب من أبناء إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام. وهذا الفصل شديد الطعن، اتهم فيه يوحنا العرب بالهرطقة والضلال والخرافة، واعتبرهم فرقة نصرانية متهرطقة، وزعم أن محمدا عليه الصلاة والسلام كان رسولا زائفا ادّعى النبوة زمن الإمبراطور هرقل، بعد أن قرأ العهد القديم والعهد الجديد وتعلّم من راهب أريوسى فتظاهر بالتقوى حتى استمال العرب إليه وأخبرهم أنه تلقى كتابا من السماء، وقدّم فيه تلك الشرائع المضحكة على حد قوله- التى تسمى بالإسلام. ومن التلفيقات التى وضعها يوحنا فى فصله هذا لتشويه صورة النبى عليه الصلاة والسلام زعمه الكاذب أن النبى عليه الصلاة والسلام دخل إلى بيت زينب بنت جحش فى غياب زوجها فافتتن بها وخرج وهو يقول سبحان مقلب القلوب … إلى آخر القصة التى تسربت إلى
প্রাচ্যবিদদের এমন একটি ধারা রয়েছে যার মূল লক্ষ্য হলো ইসলামকে অবমাননা করা। এর মধ্যে রয়েছে জনৈক অজ্ঞাত লেখকের একটি গ্রন্থ যার নাম: আদ-দাহযুর রুবায়ী (চতুর্মুখী খণ্ডন), এবং অন্য এক অজ্ঞাত লেখকের গ্রন্থ যার নাম (আল-মুতানাকিদাত) (অসঙ্গতিসমূহ)। এছাড়া পেদ্রো আলফোনসো, সেন্ট পিটার পাসকোয়াল, রিকোল্ডো দা মন্টে ক্রস, রমন মার্টি, রেমন্ড লাল, উইলিয়াম অফ ট্রিপলি, উইলিয়াম অফ টায়ার, উইলিয়াম অ্যাডাম, জ্যাক ডি ভিট্রি, হামবার্ট অফ রোমান্স, ফিডেনজিও অফ পাভিয়া এবং আরও অনেকের রচনাবলি।

ইসলাম সম্পর্কে উল্লিখিত সেই প্রধান চারটি উৎসের বিস্তারিত বর্ণনা এখানে দেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ প্রতিটি উৎস থেকে সংগৃহীত আমাদের এই জ্ঞানগর্ভ উপাদানগুলো এক একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ড পূর্ণ করার মতো।

আমরা এই রচনাবলির মধ্য থেকে কেবল কিছু সংক্ষিপ্ত নমুনা তুলে ধরব, যাতে আমরা দেখতে পাই যে ইসলাম এবং ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর ব্যাপারে পশ্চিমা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেই ভ্রান্ত ধারণাটি কীভাবে গঠিত ও রূপ লাভ করেছিল।

প্রাচ্যের খ্রিস্টানদের মধ্যে জন অব দামাস্কাস (৫৫-১৩১ হিজরি/ ৬৭৫-৭৪৯ খ্রিস্টাব্দ) অন্যতম, যিনি সিরীয় খ্রিস্টানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উমাইয়া যুগে জন্মগ্রহণ করেন ও বসবাস করেন এবং ধর্মতত্ত্বে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি অনেক কিতাব রচনা করেন, যার মধ্যে গ্রিক ভাষায় রচিত তার 'হেরেসিস' (ধর্মদ্রোহিতা) নামক গ্রন্থটি অন্যতম। তিনি সেখানে ইসলামের জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেন, যার নাম দেন (ইসমাইলীয়দের ধর্মদ্রোহিতা)। এখানে ইসমাইলীয় বলতে তিনি ইবরাহিম ও ইসমাইল (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশধর আরবদের বুঝিয়েছেন। এই অধ্যায়টি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক; যেখানে জন আরবদের ধর্মদ্রোহিতা, পথভ্রষ্টতা এবং কুসংস্কারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন এবং তাদের একটি ধর্মভ্রষ্ট খ্রিস্টান দল হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) ছিলেন সম্রাট হেরাক্লিয়াসের সময়ের একজন মিথ্যা রাসূল, যিনি ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট পাঠ করে এবং একজন এরিয়ান পাদ্রীর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করেছিলেন। এরপর তিনি ধার্মিকতার ভান করে আরবদের নিজের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং তাদের জানান যে তিনি আসমান থেকে একটি কিতাব লাভ করেছেন। সেখানে তিনি —তাঁর ভাষ্যমতে— সেই হাস্যকর বিধিবিধানগুলো উপস্থাপন করেন যা ইসলাম নামে পরিচিত। নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য জন তার এই অধ্যায়ে যেসব মিথ্যা তথ্য জুড়ে দিয়েছেন, তার মধ্যে একটি হলো তার এই ভিত্তিহীন দাবি যে— নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) যায়নাব বিনতে জাহশ-এর ঘরে তাঁর স্বামীর অনুপস্থিতিতে প্রবেশ করেন এবং তাঁর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যান, এবং বেরিয়ে যাওয়ার সময় 'অন্তর পরিবর্তনকারীর পবিত্রতা ঘোষণা করছি' বলতে বলতে বেরিয়ে যান ... গল্পের শেষ পর্যন্ত, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
. ةيدوهيلا ت ادقتعملا ن م ةقرس لاإ وه ام ن آرقلا اذه ن إ ل وقأ انأ. ن آرقلا ى ف ةرم 005 ن م رثكأ ى سوم ركذ دقل و. ةيدوهيلا وةينارصنلا ص وصنلا ن م ن آرقلا ن م 08 ن إ «» ةمخض ةليح وةعيدخ لاإ س يل ى صخشلا ى يأر ى ف) دمحم (ل جرلا اذه هـ يلإ وعدي ام ن إ «.. ق يرط ع طاق واصل ن اك هـ نإ … دح ى صقأ ى لإ ب صعتم ل جر هـ نإ.. ن يكرشملا ل تق ى لإ هـ موق وعدي ن اك هـ نإ، ن آرقلا ى ف دمحم هـ بتك ام أرقت ن أوه ك يلع ام ل ك «: ى لي ام ل اق Fax Newss ةيرابخإلا س كوف ةانق ى ف Hannity and Colmess زملوك وى تناه ج مانرب ل لاخ ن م م لاسلا وةلاصلا هـ يلع ى بنلا ى لع هـ موجه ى ف و Reqent University ت نجير ةعماج ى هـ ةيلوصأ ةعماج اضيأ ك لمي و) Christias

ثم استدار محمد بعد ذلك ليقتل اليهود والنصارى فى المدينة. أنا أقصد.. أن هذا الرجل (محمد) كان قاتلا (سافكا للدماء) » - قطع الله لسان (روبرتسون) وإنا أنقل هذا ليعلم المنصفون مدى افتراء هذا الأفاك- وسنثبت بعد قليل أن هذا القسيس بات روبرتسون هو اللص والسارق عندما نورد أقوال الرهبان المتعصبين فى العصور الوسطى ليتبين للقارئ الكريم مدى تطابق أقوال هذا
আমি বলছি, এই কুরআন ইহুদি বিশ্বাস থেকে চুরি করা ছাড়া আর কিছু নয়। কুরআনে ৫০০ বারের বেশি মূসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনের ৮০ শতাংশ ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। আমার ব্যক্তিগত মতে, এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ) যার দিকে আহ্বান করছেন তা একটি বিশাল প্রতারণা ও চাতুরি ছাড়া আর কিছুই নয়... তিনি একজন ডাকাত ও দস্যু ছিলেন ... তিনি অত্যন্ত চরমপন্থী একজন মানুষ ছিলেন... তিনি তার কওমকে মুশরিকদের হত্যার নির্দেশ দিতেন। আপনার কাজ কেবল মুহাম্মদ কুরআনে যা লিখেছেন তা পাঠ করা। ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘হানিটি অ্যান্ড কোলমস’ অনুষ্ঠানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর আক্রমণ করার সময় তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন। তিনি রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি নামক একটি মৌলবাদী বিশ্ববিদ্যালয়েরও মালিক।

এরপর মুহাম্মদ মদিনায় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের হত্যা করার দিকে মনোনিবেশ করেন। আমি বুঝাতে চাচ্ছি... এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ) একজন খুনি (রক্তপিপাসু) ছিলেন। —আল্লাহ (রবার্টসন)-এর জিহ্বা কর্তন করুন। আমি এটি উদ্ধৃত করছি যাতে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা এই মিথ্যাবাদীর অপপ্রচারের মাত্রা জানতে পারেন। আমরা অচিরেই প্রমাণ করব যে, এই যাজক প্যাট রবার্টসনই হলেন প্রকৃত চোর ও তস্কর, যখন আমরা মধ্যযুগের ধর্মান্ধ পাদ্রিদের বক্তব্যসমূহ তুলে ধরব, যাতে সম্মানিত পাঠকের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে এই ব্যক্তির বক্তব্যগুলোর সাথে তাদের কতটা মিল রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المأفون مع أقوال عصر الظلمات فى أوربا فى العصور الوسطى ونقله لأقوالهم وأفكارهم.

3- فرانكلين جراهام:Franklin Graham وهو ابن القسيس الأمريكى بيلى جراهام وقد عمل والده قسيسا خاصا للرؤساء الأمريكيين منذ عهد ريتشارد نيكسون، وحتى الرئيس الأمريكى السابق بيل كلينتون. ويتولى ابنه فرانكلين جراهام الآن نفس المهمة بعد تقاعد الأب، وقام بعمل الطقوس الدينية لتنصيب الرئيس الأمريكى الحالى جورج دبليو بوش. ويتولى جميع مسئوليات الكنيسة التى أنشأها أبوه والتى تعد من أكبر الكنائس الأمريكية عددا وتأثيرا، وقامت خلال السنوات الماضية بأكثر من 450 حملة تنصير فى جميع أنحاء العالم. وقد أدلى فرانكلين جراهام بتصريحات إعلامية قال فيها إن الإرهاب جزء من التيار العام للإسلام، وأن القرآن (يحض على العنف) وكرر جراهام خلال برنامج (هاينتى وكولمز) المذاع على قناة فوكس نيوز الأمريكية فى الخامس من أغسطس 2002 م رفضه الاعتذار عن تصريحات أدلى بها بعد حوادث سبتمبر 2001 م وصف فيها الإسلام بأنه دين (شرير) وفى كتاب جديد لفرانكلين جراهام يسمى (الاسم، The name (يحتوى على نصوص تتسم بالسفه والحطة بهدف الإساءة إلى الإسلام ومنها ما يلى: فى الصفحة رقم 71 يقول: «الإسلام.. أسّس بواسطة فرد بشرى مقاتل يسمى محمدا، وفى تعاليمه ترى تكتيك (نشر الإسلام من خلال التوسع العسكرى) ، ومن خلال العنف إذا كان ضروريا، من الواضح أن هدف الإسلام النهائى هو السيطرة على العالم» ويقول فى الصحفة 72 من كتابه إن «القرآن يحتوى على قصص أخذت وحرّفت عن العهدين القديم والجديد.. لم يكن للقرآن التأثير الواسع على الثقافتين الغربية والمتحضرة الذى كان للإنجيل. الاختلاف رقم واحد بين الإسلام والمسيحية أن إله الإسلام ليس إله الديانة المسيحية» .

4- جيرى فاينز:Jerry Vines وهو راعى كنيسة فى جاكسون يل فى فلوريدا، يصل عدد أتباعها إلى 25 ألف شخص، وهو من أبرز المتحدثين
সেই নির্বোধ ব্যক্তি ইউরোপের অন্ধকার যুগের বক্তব্যগুলোর সাথে একাত্ম এবং সে তাদের কথা ও চিন্তাধারাকে স্থানান্তর করেছে।

৩- ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহাম: তিনি হলেন আমেরিকান যাজক বিলি গ্রাহামের পুত্র। তার পিতা রিচার্ড নিক্সনের আমল থেকে শুরু করে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পর্যন্ত আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগত যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে পিতার অবসরের পর তার পুত্র ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহাম একই দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অভিষেক অনুষ্ঠানের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেছেন। তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠিত গির্জার সকল দায়িত্ব পালন করছেন, যা সংখ্যা এবং প্রভাবের দিক থেকে আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম গির্জা হিসেবে বিবেচিত। গত কয়েক বছরে এই গির্জাটি বিশ্বজুড়ে ৪৫০টিরও বেশি খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার অভিযান পরিচালনা করেছে। ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহাম গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদ ইসলামের মূলধারার একটি অংশ এবং কুরআন (সহিংসতায় উস্কানি দেয়)। ২০০২ সালের ৫ই আগস্ট আমেরিকান ফক্স নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত (হানিটি অ্যান্ড কোলমস) অনুষ্ঠানে গ্রাহাম ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর ইসলামকে একটি (মন্দ) ধর্ম হিসেবে অভিহিত করে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন। ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহামের একটি নতুন বই, যার নাম (দ্য নেম, The Name), তাতে ইসলামকে অবমাননা করার উদ্দেশ্যে কিছু নির্বুদ্ধিতা ও হীনম্মন্যতাপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ৭১ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: “ইসলাম একজন যুদ্ধবাজ মানব ব্যক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার নাম মুহাম্মদ। তার শিক্ষার মধ্যে আপনি (সামরিক বিস্তারের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের) কৌশল দেখতে পাবেন এবং প্রয়োজন হলে সহিংসতার মাধ্যমে; এটা স্পষ্ট যে ইসলামের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিশ্ব দখল করা।” তিনি তার বইয়ের ৭২ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন যে, “কুরআনে এমন সব কাহিনী রয়েছে যা ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্ট থেকে নেওয়া হয়েছে এবং বিকৃত করা হয়েছে... বাইবেল পশ্চিমা ও সভ্য সংস্কৃতির ওপর যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, কুরআনের সেই প্রভাব নেই। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ইসলামের ইলাহ খ্রিস্টধর্মের ইলাহ নন।”

৪- জেরি ভাইনস: তিনি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের একটি গির্জার যাজক, যার অনুসারীর সংখ্যা ২৫ হাজার পর্যন্ত এবং তিনি অন্যতম প্রধান বক্তা।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الأمريكيين فى المؤتمر السنوى للكنائس المعمدانية الجنوبية، وهو أكبر مؤتمر دينى يعقد كل عام. وقام الرئيس الحالى والرئيس السابق بمدح هذا القسيس واعتباره من المتحدثين بصدق عن دينهم وقد أدلى جيرى فاينز بتصريحات تتصف بالقذارة والسفه مليئة بالكراهية والحقد على الإسلام خلال الاجتماع السنوى للكنيسة المعمدانية الجنوبية، والذى عقد مؤخرا فى مدينة سانت لويس بولاية ميسورى الأمريكية.

وخلال الاجتماع افترى جيرى فينزى على الرسول عليه الصلاة والسلام واتهمه زورا وبهتانا بأنه «شاذ يميل للأطفال ويتملكه الشيطان، وتزوج من 12 زوجة آخرهن طفلة عمرها تسع سنوات» وأضاف فاينز أن «الله (الذى يؤمن به المسلمون) ليس الرب الذى يؤمن به المسيحيون» .

هذه الصور الملفقة المشوهة هى عقيدة دينية غربية موروثة ضمن عقائد المجتمع الغربى النصرانى، أصبحت راسخة فى العقل الجمعى الغربى منذ نهاية القرن الثامن الهجرى. وكانت هى المصدر الرئيس للمستشرقين والمنصرين المتعصبين فى العصور الحديثة وهى التى نراها الآن ونسمع بها.

ويمكن أن نوجز مصادر تلك العقيدة الموروثة فى أربعة مصادر رئيسية هى:

1- ما كتبه النصارى الشرقيون وأشهرهم:

يوحنا الدمشقى وتلميذه أبو قرة ويوحنا النقيوسى، ويحيى بن عدى، ومؤلف مجهول لمقالة تسمى الدفاع السريانى.

2- ما كتبه الكتّاب البيزنطيون (الروم) وعلى رأسهم:

ثيوفانس المعترف، ونيقتاس البيزنطى، وجرمانوس.

3- المصادر الأسبانية:

وعلى رأسها المقالة الأسبانية عن محمد عليه الصلاة والسلام وما كتبه ايزدور الأشبيلى، وأولوخيو، وبول الفارو، وغيرهم.

4- ما كتبه ولفقه واخترعه الكتاب الغربيون حتى نهاية القرن الثامن الهجرى.

ويأتى على رأس تلك الكتابات: المشروع الكلونى. وهو أول وأكبر مشروع
আমেরিকানরা সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট চার্চের বার্ষিক সম্মেলনে, যা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া বৃহত্তম ধর্মীয় সম্মেলন। বর্তমান এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এই যাজকের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে তাঁদের ধর্মের একজন সত্যবাদী বক্তা হিসেবে গণ্য করেছেন। জেরি ভাইনস সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট চার্চের বার্ষিক সভায় ইসলাম সম্পর্কে ঘৃণা ও বিদ্বেষে পূর্ণ অত্যন্ত নোংরা ও নির্বোধ মন্তব্য করেছেন, যা সম্প্রতি আমেরিকার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেই সভা চলাকালে জেরি ভাইনস রাসুল (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর ওপর অপবাদ আরোপ করেন এবং মিথ্যা ও কলঙ্কজনক অভিযোগ এনে বলেন যে তিনি "একজন বিকৃতমনা ব্যক্তি যিনি শিশুদের প্রতি আসক্ত এবং শয়তান দ্বারা প্রভাবিত, এবং তিনি ১২ জন স্ত্রী গ্রহণ করেছিলেন যাদের মধ্যে সর্বশেষ জন ছিলেন নয় বছর বয়সী এক শিশু।" ভাইনস আরও যোগ করেন যে, "আল্লাহ (যাঁর প্রতি মুসলমানরা বিশ্বাস রাখে) সেই প্রভু নন যাঁর প্রতি খ্রিস্টানরা বিশ্বাস রাখে।"

এই বানোয়াট ও বিকৃত চিত্রগুলো হলো পশ্চিমা বিশ্বের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধর্মীয় বিশ্বাস, যা পশ্চিমা খ্রিস্টান সমাজের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত এবং হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে পশ্চিমা সামষ্টিক মানসপটে বদ্ধমূল হয়ে আছে। এটিই আধুনিক যুগে গোঁড়া প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিদের প্রধান উৎস ছিল এবং এটিই আমরা বর্তমানে দেখতে ও শুনতে পাই।

সেই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসের উৎসগুলোকে চারটি প্রধান উৎসে সংক্ষেপ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো:

১- প্রাচ্যের খ্রিস্টানদের লেখা এবং তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন:

ইউহানা আদ-দিমাশকি (জন অফ দামাস্কাস) এবং তাঁর ছাত্র আবু কুররাহ, ইউহানা আন-নিকিউসি (জন অফ নিকিউ), ইয়াহইয়া ইবনে আদি এবং 'সিরীয় প্রতিরক্ষা' নামক একটি প্রবন্ধের জনৈক অজ্ঞাত লেখক।

২- বাইজেন্টাইন (রোমক) লেখকদের লেখা এবং তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন:

থিওফেনস দ্য কনফেসর, নিকিটাস অফ বাইজান্টিয়াম এবং জার্মানাস।

৩- স্পেনীয় উৎসসমূহ:

যার শীর্ষে রয়েছে মুহাম্মদ (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সম্পর্কে স্পেনীয় প্রবন্ধ এবং সেভিল-এর ইসিডোর (আইজডোর আল-আশবিলি), ইউলোজিয়াস (উলুখিও), আলভারো অফ কর্ডোবা (পল আলফারো) ও অন্যদের লেখা।

৪- হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত পশ্চিমা লেখকদের রচিত, জালকৃত ও উদ্ভাবিত লেখাসমূহ।

সেইসব লেখার শীর্ষে রয়েছে: ক্লুনিয়াক প্রজেক্ট (আল-মাশরু আল-কালুনি)। এটিই প্রথম ও বৃহত্তম প্রকল্প।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
استشراقى يهدف بالدرجة الأولى الإساءة إلى الإسلام. وكتاب لمؤلف مجهول يسمى: الدحض الرباعى، وكتاب آخر لمؤلف مجهول يسمى (المتناقضات) وما كتبه كل من: بدرودى الفونسو، وسان بدرو باسكوال، وريكولدو دى مونت كروس، ورامون مارتى، وريموندلول، ووليم الطرابلسى، ووليم الصورى، ووليم آدم، وجاكيوس دى فترى، وهامبرت الرومانى، وفيدينزو أوف بافيا، وغيرهم كثيرون.

ولا مجال هنا لعرض كل ما كتبته تلك المصادر الأربعة الرئيسية عن الإسلام، فالمادة العلمية التى جمعناها عن كل مصدر تغطى مجلدا كاملا.

وسوف نعرض مجرد نماذج مختصرة لبعض تلك الكتابات حتى نرى كيف تشكلت وتكونت تلك العقيدة الغربية الموروثة عن الإسلام ونبى الإسلام محمد عليه الصلاة والسلام.

من النصارى الشرقيين يوحنا الدمشقى (55- 131 هـ/ 675- 749 م) وهو من نصارى الشام، ولد وعاش فى العصر الأموى، وتضلع فى اللاهوت، وكتب كتبا كثيرة، ومن ضمنها كتاب كتبه باليونانية بعنوان الهرطقات. وأفرد فيه فصلا عن الإسلام أطلق عليه اسم (هرطقة الإسماعيليين) ويقصد بالإسماعيليين العرب من أبناء إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام. وهذا الفصل شديد الطعن، اتهم فيه يوحنا العرب بالهرطقة والضلال والخرافة، واعتبرهم فرقة نصرانية متهرطقة، وزعم أن محمدا عليه الصلاة والسلام كان رسولا زائفا ادّعى النبوة زمن الإمبراطور هرقل، بعد أن قرأ العهد القديم والعهد الجديد وتعلّم من راهب أريوسى فتظاهر بالتقوى حتى استمال العرب إليه وأخبرهم أنه تلقى كتابا من السماء، وقدّم فيه تلك الشرائع المضحكة على حد قوله- التى تسمى بالإسلام. ومن التلفيقات التى وضعها يوحنا فى فصله هذا لتشويه صورة النبى عليه الصلاة والسلام زعمه الكاذب أن النبى عليه الصلاة والسلام دخل إلى بيت زينب بنت جحش فى غياب زوجها فافتتن بها وخرج وهو يقول سبحان مقلب القلوب … إلى آخر القصة التى تسربت إلى
প্রাচ্যবিদদের এমন কর্মকাণ্ড যার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ইসলামের অবমাননা করা। এছাড়া জনৈক অজ্ঞাত লেখকের 'আদ-দাহযুর রুবায়ী' (চতুর্মুখী খণ্ডন) নামক গ্রন্থ এবং 'আল-মুতানাকিদাত' (বৈপরীত্যসমূহ) নামক অন্য এক অজ্ঞাত লেখকের গ্রন্থ; আরও রয়েছে পেড্রো আলফোনসো, সান পেড্রো পাসকুয়াল, রিকোল্ডো দা মন্টিক্রোস, রামন মার্টি, রেমন্ড লাল, উইলিয়াম অফ ত্রিপোলি, উইলিয়াম অফ টায়ার, উইলিয়াম অ্যাডাম, জ্যাক ডি ভিট্রি, হামবার্ট অফ রোমান্স, ফিডেনজো অফ পাভিয়া এবং আরও অনেকের লেখা।

ইসলাম সম্পর্কে সেই চারটি প্রধান উৎসের লিখিত সব কিছু এখানে তুলে ধরার অবকাশ নেই; কারণ প্রতিটি উৎস থেকে আমরা যে জ্ঞানগর্ভ উপাদান সংগ্রহ করেছি, তা একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ড জুড়ে থাকার মতো।

আমরা কেবল সেই সকল লেখার কিছু সংক্ষিপ্ত নমুনা তুলে ধরব, যাতে আমরা দেখতে পাই ইসলাম এবং ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে পশ্চিমা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সেই বিশ্বাস বা ধারণা কীভাবে গঠিত ও বিবর্তিত হয়েছে।

প্রাচ্যের খ্রিস্টানদের মধ্যে ছিলেন জন অব ডামাস্কাস বা ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকি (৫৫-১৩১ হিজরি / ৬৭৫-৭৪৯ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি সিরিয়ার একজন খ্রিস্টান ছিলেন, যিনি উমাইয়া যুগে জন্মগ্রহণ করেন এবং বসবাস করেন। তিনি ধর্মতত্ত্বে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং অনেক বই লিখেছিলেন। যার মধ্যে গ্রিক ভাষায় রচিত 'হেরেসিস' (ধর্মদ্রোহিতা) নামক একটি গ্রন্থ অন্যতম। সেখানে তিনি ইসলামের ওপর একটি আলাদা অধ্যায় যুক্ত করেন এবং তার নাম দেন 'ইসমাইলীয়দের ধর্মদ্রোহিতা'। ইসমাইলীয় বলতে তিনি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর আরবদের বুঝিয়েছেন। এই অধ্যায়টি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক; এতে ইয়াহইয়া আরবদেরকে ধর্মদ্রোহিতা, পথভ্রষ্টতা এবং কুসংস্কারের দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি তাদেরকে একটি ধর্মচ্যুত খ্রিস্টান গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করেন এবং দাবি করেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্রাট হেরাক্লিয়াসের আমলে নবুয়তের দাবিদার একজন ভণ্ড নবী ছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি পুরাতন ও নতুন নিয়ম (বাইবেল) পাঠ করার পর এবং একজন এরিয়ান সন্ন্যাসীর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর পরহেজগারির ভান করেন, যতক্ষণ না আরবদের নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি তাদের জানান যে, তিনি আসমান থেকে একটি কিতাব লাভ করেছেন এবং সেখানে তিনি সেই সব—তার ভাষায়—'হাস্যকর বিধানাবলি' পেশ করেন, যাকে ইসলাম বলা হয়। নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ইয়াহইয়া এই অধ্যায়ে যেসকল বানোয়াট গল্প অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তার মধ্যে একটি মিথ্যা দাবি হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যয়নব বিনতে জাহাশের স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার ঘরে প্রবেশ করেন এবং তার প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েন; অতঃপর তিনি 'সুবহানাল্লাহি মুকাল্লিবাল কুলুব' (অন্তর পরিবর্তনকারীর পবিত্রতা ঘোষণা করছি) বলতে বলতে বেরিয়ে আসেন … গল্পের শেষ পর্যন্ত যা অনুপ্রবেশ করেছিল...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بعض كتب التفسير، وأدرك ابن كثير زيفها فأعرض عن ذكرها فى تفسيره وأشار إلى أنها ملفقة لا تصح.

وكان هدف يوحنا الدمشقى من ذلك التشويه تحصين النصارى من أهل الذمة والحيلولة بينهم فى بلاد الشام وبين اعتناق الإسلام حين رأى تسامح المسلمين مع أهل الذمة، ودخول كثير من النصارى فى الإسلام فلم يجد وسيلة لتثبيت النصارى على دينهم سوى اتهام الإسلام بالهرطقة وتشويه سيرة النبى عليه الصلاة والسلام، لتكون صورته فى نظر النصارى صورة كريهة حتى لا يقبلوا على اعتناق الإسلام. وقد انتشر هذا الكتاب فى بلاد الدولة البيزنطية (دولة الروم) واستخدمه الكتّاب البيزنطيون فى هجماتهم الفكرية على الإسلام ثم ترجم إلى اللاتينية وأسهم فى صياغة العقيدة الغربية تجاه الإسلام والمسلمين طوال العصور الوسطى وحتى العصر الحاضر.

ومن الكتّاب البيزنطيين نيقتاس البيزنطى الذى عاش فى القرن الثالث الهجرى/ التاسع الميلادى. وكتب كتابا زعم أنه دحض للقرآن الكريم، ذلك أن الإمبراطور البيزنطى ميخائيل الثالث (227- 254/ 842- 867) تلقى مقالتين من بعض العلماء المسلمين تفندان مزاعم النصارى بأن الله جل وعلا ابن يشاركه فى أسمائه وصفاته، وبطلان مقولة الأقانيم الثلاثة. فكلّف الإمبراطور نيقتاس بالرد عليه فقام نيقتاس بتأليف رده الذى وصفه بأنه (دحض لكتاب محمد المزوّر) . ولم يكن نيقتاس متضلعا فى اللغة العربية، فقام حسب زعمه بالاطلاع على القرآن، وقام باستعراض سوره من سورة البقرة إلى سورة الكهف، وكل سورة يسميها الأسطورة المحمدية رقم كذا. مثلما هو رقمها فى القرآن- ثم يذكر اسمها. وأصدر حكمه الباطل بأن القرآن يصوّر الله- جل وعلا على شكل كروى كامل، أو على شكل مطرقة معدنية مطروقة فى السماء.

ويبدو أن نيقتاس اقتبس هذا الزعم من المقالة الأسبانية التى سأشير إليها بعد قليل. ثم أخذ يسخر من المسلمين على مناصرتهم لهذا التصور المادى- بزعمه-، وقال بأن محمدا عليه الصلاة والسلام قاد المسلمين ليعبدوا فى مكة
কিছু তাফসীর গ্রন্থ; ইবনে কাসীর এগুলোর অসারতা উপলব্ধি করে তাঁর তাফসীরে তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন এবং ইঙ্গিত দেন যে এগুলো বানোয়াট ও সহীহ নয়।

ইউহান্না আদ-দিমাশকি বা জন অফ দামাস্কাসের এই বিকৃতির লক্ষ্য ছিল জিম্মি খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দেওয়া এবং শাম দেশে তাদের ইসলাম গ্রহণের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা। যখন তিনি জিম্মিদের প্রতি মুসলমানদের উদারতা এবং বহু খ্রিস্টানের ইসলামে দীক্ষিত হওয়া দেখলেন, তখন তিনি খ্রিস্টানদের স্বধর্মে টিকিয়ে রাখার জন্য ইসলামকে ধর্মদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বিকৃত করা ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পাননি; যাতে খ্রিস্টানদের চোখে তাঁর ভাবমূর্তি অত্যন্ত নেতিবাচক হয় এবং তারা ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী না হয়। এই বইটি বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে (রোম সাম্রাজ্য) ছড়িয়ে পড়ে এবং বাইজেন্টাইন লেখকরা ইসলামের ওপর তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণে এটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে এটি ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয় এবং মধ্যযুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে।

বাইজেন্টাইন লেখকদের মাঝে নিকিটাস বাইজান্টিনাস অন্যতম, যিনি হিজরি তৃতীয় শতাব্দী বা খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে বসবাস করতেন। তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন যা পবিত্র কুরআনের খণ্ডন বলে তিনি দাবি করেন। মূলত বাইজেন্টাইন সম্রাট তৃতীয় মাইকেল (২২৭-২৫৪ হিজরি / ৮৪২-৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ) মুসলিম আলেমদের কাছ থেকে দুটি প্রবন্ধ পান যা খ্রিস্টানদের এই দাবিকে খণ্ডন করেছিল যে মহান আল্লাহর একজন পুত্র রয়েছে যে তাঁর নাম ও গুণাবলিতে অংশীদার, এবং সেখানে ত্রিত্ববাদের অসারতাও প্রমাণিত ছিল। সম্রাট নিকিটাসকে এর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিলে তিনি তাঁর প্রত্যুত্তরটি সংকলন করেন এবং সেটিকে "মুহাম্মদের জাল কিতাবের খণ্ডন" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নিকিটাস আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন না, তবুও তাঁর দাবি অনুযায়ী তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং সূরা বাকারা থেকে সূরা কাহাফ পর্যন্ত পর্যালোচনা করেন। তিনি প্রতিটি সূরাকে "মুহাম্মদী উপকথা নম্বর এত" নামে অভিহিত করতেন—যেটি কুরআনে তার ক্রমিক নম্বর ছিল—এরপর তিনি সূরার নাম উল্লেখ করতেন। তিনি এই ভিত্তিহীন রায় প্রদান করেন যে, কুরআন মহান আল্লাহকে একটি পূর্ণ গোলক আকারে অথবা আকাশে পিটানো একটি ধাতব হাতুড়ির আকারে চিত্রিত করে।

প্রতীয়মান হয় যে, নিকিটাস এই দাবিটি একটি স্প্যানিশ প্রবন্ধ থেকে গ্রহণ করেছিলেন যা আমি একটু পরেই উল্লেখ করব। এরপর তিনি মুসলমানদের এই বস্তুবাদী কল্পনা—তার দাবি অনুযায়ী—সমর্থন করার কারণে বিদ্রূপ করতে শুরু করেন এবং বলেন যে, মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের মক্কায় ইবাদত করার দিকে পরিচালিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وثنا مصنوعا على غرار أفروديت- معبود الحب والجمال عند الأغريق- وأنه جعل الشيطان ربا للخلق، وظل يؤكد على أن دين محمد عليه الصلاة والسلام دين وثنىّ وأن أتباعه مجرد جماعة من الوثنيين. وكان فى كل سورة يتحدث عنها يوجه السب والشتم إلى النبى عليه الصلاة والسلام زاعما- أنه هو الذى وضع القرآن وشحنه بالأساطير، وأنه أمر أتباعه بقتل من يجعل شريكا فى جانب الله، ولذلك وقع معظم ذلك القتل على النصارى الذين يعبدون المسيح ابن الله- بزعمه- وأخذ نيقتاس يحاول تفنيد بعض نصوص القرآن وقصصه عن طريق مقارنتها بنصوص العهدين القديم والجديد. ويبدو فى هذا متأثرا برأى يوحنا الدمشقى، فزعم على سبيل المثال أن إبراهيم الخليل- عليه السلام لم يصل إلى مكة ولم يبن الكعبة، لأن سفر التكوين لم يذكر ذلك. كما حاول نيقتاس أن يستدل على عقيدة الثالوث ببعض آيات القرآن بتأويلها حسب عقيدته. واختتم حديثه بالتأكيد على أن الذى يعبده محمد عليه الصلاة والسلام ويدعو إلى عبادته إنما هو الشيطان نفسه. والحق أن كل آراء نيقتاس لا تتعدى هذا الهذيان وقد أوردناها لنرى الأثر الذى أسهمت به فى صياغة العقيدة الغربية تجاه الإسلام والمسلمين خلال العصور الوسطى وإلى الآن.

وقد كان لبعض آراء نيقتاس الزائفة أثرها فى الدولة البيزنطية حتى إن أحد رجال الدين ألف رسالة فى زمن الإمبراطور مانويل كومنين (549- 585 هـ/ 1143- 1180 م) يشجب فيها الدين الإسلامى وفيها يلعن مصنفها (الرب الذى يعبده محمد عليه الصلاة والسلام - أستغفر الله تعالى- وقدّم تلك الرسالة للإمبراطور الذي أراد شطب هذه العبارة المقيتة محتجا بأن الرب الذى يعبده محمد عليه الصلاة والسلام إنما هو الأب الذى يعبده النصارى فأصر رجال الدين على أن الذى يعبده محمد عليه الصلاة والسلام إنما هو إله غير إله المسيحيين. وهذا يوضح إلى أى مدى بقيت هذه العقيدة الزائفة حية حتى اعتنقها وقال بها فرانكلين جراهام وجيرى فاينز كما ذكرنا آنفا.

ومنذ النصف من القرن الثالث الهجرى/ النصف الثانى من القرن التاسع
একটি মূর্তি যা গ্রিকদের প্রেম ও সৌন্দর্যের উপাস্য আফ্রোদিতি-র আদলে তৈরি—এবং সে শয়তানকে সৃষ্টির পালনকর্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। সে অবিরত এই দাবি করে আসছিল যে, মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর ধর্ম একটি পৌত্তলিক ধর্ম এবং তাঁর অনুসারীরা নিছক একদল মূর্তিপূজক। সে যে সূরার ব্যাপারেই আলোচনা করত, সেখানেই নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর প্রতি গালিগালাজ ও কটুভাষা প্রয়োগ করত—এই দাবি করে যে, তিনিই কুরআন রচনা করেছেন এবং একে উপকথা দিয়ে পূর্ণ করেছেন। সে আরও দাবি করত যে, তিনি তাঁর অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্তকারীদের হত্যা করে; আর এই কারণেই—তার দাবি অনুযায়ী—সেই হত্যার শিকার অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই হয়েছে, অর্থাৎ সেই খ্রিস্টানরা যারা আল্লাহর পুত্র মসীহের ইবাদত করে। নিকিতাস কুরআনের কিছু পাঠ ও কাহিনী খণ্ডন করার জন্য সেগুলোকে ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্টের পাঠের সাথে তুলনা করার চেষ্টা শুরু করে। এ ক্ষেত্রে তাকে ইউহান্না আদ-দিমাশকি-র মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত বলে মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ, সে দাবি করে যে, ইব্রাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম) মক্কায় পৌঁছেননি এবং কাবাও নির্মাণ করেননি, কারণ আদিপুস্তক বা সিফরুত তাকভীনে এর উল্লেখ নেই। নিকিতাস তার নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী অপব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে কুরআনের কিছু আয়াতের সাহায্যে ত্রিত্ববাদের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করারও চেষ্টা করেছিল। সে তার আলোচনার সমাপ্তি টেনেছিল এই জোর দাবি করে যে, মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) যার ইবাদত করেন এবং যার ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান, তা স্বয়ং শয়তান ছাড়া আর কেউ নয়। প্রকৃতপক্ষে, নিকিতাসের সমস্ত মতামতই এই প্রলাপের বাইরে আর কিছুই নয়; আমরা এগুলো এখানে উল্লেখ করেছি কেবল মধ্যযুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস গঠনে এই মতবাদগুলো যে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা দেখার জন্য।

নিকিতাসের কিছু ভ্রান্ত মতামতের প্রভাব বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে এতটাই ছিল যে, সম্রাট ম্যানুয়েল কমনিনাস (৫৪৯-৫৮৫ হিজরি / ১১৪৩-১১৮০ খ্রিস্টাব্দ)-এর আমলে একজন ধর্মযাজক একটি পুস্তিকা রচনা করেন যেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের নিন্দা করেন। সেই পুস্তিকার লেখক সেখানে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রবের ইবাদত করেন তাঁকে—নাউযুবিল্লাহ—) অভিশাপ দেন এবং পুস্তিকাটি সম্রাটের কাছে পেশ করেন। সম্রাট এই ঘৃণ্য বাক্যটি মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন এই যুক্তিতে যে, মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) যে রবের ইবাদত করেন, তিনি মূলত সেই 'পিতা'ই যাঁর ইবাদত খ্রিস্টানরা করে থাকে। কিন্তু ধর্মযাজকরা এই মর্মে জেদ ধরেন যে, মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) যাঁর ইবাদত করেন, তিনি খ্রিস্টানদের উপাস্য থেকে ভিন্ন এক উপাস্য। এটি স্পষ্ট করে যে, এই ভ্রান্ত বিশ্বাস কতটুকু টিকে ছিল যে, ফ্র্যাঙ্কলিন গ্রাহাম ও জেরি ভাইনসও এটি গ্রহণ করেছেন এবং প্রচার করেছেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

এবং তৃতীয় হিজরি শতকের মাঝামাঝি থেকে / নবম খ্রিস্টীয় শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে—
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الميلادى أصبح فى مقدور رجال الدين فى الغرب الأوروبى الاطلاع على تلك الصور المشوهة حين ترجم أمين مكتبة البلاط البابوى أنستاسيوس بعض تلك الكتابات، الشرقية والبيزنطية إلى اللاتينية وأدمجها فى حولياته التاريخية.

وفى أواخر القرن الثانى الهجرى/ أواخر القرن الثامن وأوائل التاسع الميلادى ظهرت مقالة فى أسبانيا فى أحد الأديرة الشمالية، وهى عبارة عن نص هجومى بذئ على النبى عليه الصلاة والسلام عرفت باسم المقالة الإسبانية عن محمد عليه الصلاة والسلام ولا يعرف كاتبها، ويرجح ناشرها دياز أنها من عمل أحد النصارى المستفزين. وهذه المقالة تصور النبى عليه الصلاة والسلام بصورة مجافية للذوق ومعاكسة لصفاته، فتزعم- زورا وبهتانا أنه كان كاذبا مبتدعا شهوانيا، وأنه دعا عربه المتوحشين إلى أن يتخلوا عن الوثنية، وأن يعبدوا إلها ماديا فى السماء على شكل كرة مادية، وتزعم هذه المقالة الزائفة أن إبليس ظهر لمحمد- عليه الصلاة والسلام مدعيا أنه الملك جبريل، وأخبره أن الرب أرسله ليبشر العرب بما كان قد سمعه فى مدارس المسيحيين ويدعوهم إلى عبادة ذلك الإله المادى فى السماء وهجر عبادة الأوثان. وتزعم المقالة البذيئة أن محمدا عليه الصلاة والسلام عندما مات تعفنت جثته فقامت الكلاب والخنازير بالتهام الجثة العفنة أستغفر الله.

وقد نجم عن هذه المقالة المنحطة أن تشيع بها بعض الرهبان فظهرت حركة فى قرطبة فى منتصف القرن الثالث الهجرى/ التاسع الميلادى، يقوم أفرادها بسب النبى عليه الصلاة والسلام علنا فيؤخذ أفرادها إلى القاضى فيكررون السب والشتم للنبى عليه الصلاة والسلام، الأمر الذى أدى إلى إصدار حكم الإعدام على عدد منهم، تذكر المصادر الأسبانية أن عددهم يبلغ زهاء 50 شخصا، وسمّت تلك المصادر تلك الحركة بحركة الاستشهاد فى قرطبة وبدأت تلك الحركة براهب يدعى بيرفكتوس الذى ذهب إلى السوق فسأله بعض عامة المسلمين عن رأى النصارى فى المسيح ومحمد عليهما الصلاة والسلام فرد قائلا بألوهية المسيح ووصف محمدا عليه الصلاة
খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে পশ্চিম ইউরোপের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষে এই বিকৃত চিত্রগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হয়, যখন পোপের দরবারের গ্রন্থাগারিক অ্যানাস্টাসিয়াস প্রাচ্য ও বাইজেন্টাইন অঞ্চলের এই জাতীয় কিছু লেখনি ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেগুলো তাঁর ঐতিহাসিক বর্ষপঞ্জিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে অর্থাৎ অষ্টম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শেষ এবং নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে স্পেনের একটি উত্তরাঞ্চলীয় মঠে একটি প্রবন্ধের উদ্ভব ঘটে। এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি একটি কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক পাঠ্য, যা 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে স্প্যানিশ প্রবন্ধ' নামে পরিচিত। এর লেখকের পরিচয় জানা যায়নি, তবে এর প্রকাশক ডিয়াজ মনে করেন যে এটি কোনো এক উস্কানিদাতা খ্রিস্টানের কাজ। এই প্রবন্ধটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে এবং তাঁর প্রকৃত গুণাবলির সম্পূর্ণ বিপরীতে চিত্রিত করে। এটি মিথ্যাচার ও অপবাদের সাথে দাবি করে যে—তিনি (নাউযুবিল্লাহ) মিথ্যাবাদী, নতুনের উদ্ভাবক এবং ভোগবিলাসী ছিলেন। এটি আরও দাবি করে যে, তিনি তাঁর অসভ্য আরবদের মূর্তিপূজা ত্যাগ করে আকাশের এক বস্তুগত ইলাহের উপাসনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার আকৃতি ছিল একটি গোলকের মতো। এই ভুয়া প্রবন্ধটি দাবি করে যে, ইবলিস জিবরীল ফেরেশতার ছদ্মবেশে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবির্ভূত হয়েছিল এবং তাঁকে জানিয়েছিল যে, প্রতিপালক তাঁকে সেই সুসংবাদ প্রদানের জন্য পাঠিয়েছেন যা তিনি খ্রিস্টানদের পাঠশালায় শুনেছিলেন; আর উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের সেই আকাশের বস্তুগত ইলাহের ইবাদতের দিকে আহ্বান করা এবং মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করা। এই কুরুচিপূর্ণ প্রবন্ধটি দাবি করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর দেহ পচে যায় এবং কুকুর ও শুকর সেই পচা দেহ ভক্ষণ করে (আস্তাগফিরুল্লাহ)।

এই জঘন্য প্রবন্ধের প্রভাবে কিছু সন্ন্যাসী প্ররোচিত হয়, যার ফলে হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি অর্থাৎ নবম খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে কর্ডোভায় একটি আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের সদস্যরা প্রকাশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালিগালাজ করত। যখন তাদের বিচারকের সামনে আনা হতো, তখন তারা পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি গালিগালাজ ও কটূক্তি করত। এর ফলশ্রুতিতে তাদের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। স্প্যানিশ উৎসসমূহ উল্লেখ করে যে, তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ জন এবং ওই উৎসগুলো এই তৎপরতাকে 'কর্ডোভার শাহাদাত আন্দোলন' বলে অভিহিত করেছে। এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল পারফেক্টাস নামক এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে, যে বাজারে গেলে কিছু সাধারণ মুসলিম তাকে মসীহ এবং মুহাম্মদ (তাঁদের উভয়ের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে খ্রিস্টানদের অভিমত জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে সে মসীহ-এর দেবত্বের কথা বলে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والسلام بتلك الصفات الواردة فى المقالة الأسبانية، فقبضوا عليه وأخذوه إلى القاضى فأصر على موقفه فصدر الحكم بقتله. وقد سار على منواله عدد من الرهبان، منهم بول الفارو، وأولوخيو أسقف طليطلة الأسمى. وأولوخيو كتب رواية عن هذه الحركة وسبّ النبى عليه الصلاة والسلام فحكم عليه بالإعدام سنة 245 هـ/ 859 م. وبول الفارو هو الذى كتب سيرة أولوخيو بعد مقتله.

والاثنان اعتقدا بأن ظهور الإسلام وانتشاره إنما هو الإعداد النهائى لظهور المسيح الدجال، أو هو الدجال نفسه. ومما أورده أولوخيو فى روايته لتلك الحركة أن ثلاثة من الرهبان الأسبان هم جورجيوس، وأورليوس، وناثاليا كتبوا نصا عن آلام المسيح. وقد احتوى النص على هجوم متعصب حاقد على الإسلام ونبى الإسلام عليه الصلاة والسلام فوصف الإسلام بأنه «العقيدة الضالة، وخدعة الشيطان الماكرة وأن الإسماعيليين (أى العرب أبناء إسماعيل ابن إبراهيم عليهما السلام يجلّون نبيّا كاذبا، صدّقوا أنه من خلاله يكون طريق الخلاص، وأن نبى المسلمين إنما هو- بزعمهم- غادر بطبعه ومؤمن بإبليس، وهو وكيل المسيح الدجال، والمستنقع لكل الرذائل، والذى سوف يلقى به فى جهنم، ومن خلال تعاليمه العقيمة كتب على أتباعه عذاب النار السرمدى، وأن الذى تراءى له فى هيئة ملاك إنما هو الشيطان» . ولا شك أن هذه الحركة الحاقدة المتعصبة فى قرطبة وما صاحبها من كتابات الرهبان المقيتة قد أسهمت بدور كبير فى صياغة العقيدة الغربية تجاه الإسلام والمسلمين فى أوروبا طوال العصور الوسطى وإلى اليوم فى الولايات المتحدة الأمريكية.

‌‌[المشروع الكلوني:]

أما المشروع الكلونى: فهو الذى أعدّ كل المواد اللازمة لغرس تلك العقيدة الباطلة فى العقل الغربى وأحكم معظم جوانبها لتستمر قائمة إلى العصر الحاضر.

وهذا المشروع الذى يعتبره بعض الباحثين الغربيين بأنه: المشروع الغربى العالمى الأول لدراسة الإسلام، إنما هو فى حقيقته المشروع الغربى الأكبر لتشويه صورة الإسلام، الذى حدث سنة 537 هـ/ 1143 م.

وينسب هذا المشروع إلى دير كلونى فى جنوب فرنسا الذى تأسس سنة
এবং স্পেনীয় প্রবন্ধে বর্ণিত সেই বৈশিষ্ট্যাবলিসহ সালাম, ফলে তারা তাকে বন্দি করে বিচারকের কাছে নিয়ে যায়। সে তার অবস্থানে অনড় থাকলে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। অনেক সন্ন্যাসী তার পথ অনুসরণ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন পল আলভারো এবং টোলেডোর সর্বোচ্চ বিশপ ইউলোজিয়াস। ইউলোজিয়াস এই আন্দোলন সম্পর্কে একটি আখ্যান লিখেছিলেন এবং নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-কে গালি দিয়েছিলেন, যার ফলে হিজরি ২৪৫ / ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পল আলভারোই ইউলোজিয়াসের মৃত্যুর পর তার জীবনী লিখেছিলেন।

আর তারা দুজনেই বিশ্বাস করত যে, ইসলামের আবির্ভাব ও প্রসার হলো মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অথবা এটি নিজেই দাজ্জাল। ইউলোজিয়াস তার আন্দোলনের বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে যে, তিনজন স্পেনীয় সন্ন্যাসী—জর্জিয়াস, অরেলিয়াস এবং নাথালিয়া—মসীহের যাতনা সম্পর্কে একটি পাঠ্য লিখেছিলেন। সেই পাঠ্যটিতে ইসলাম এবং ইসলামের নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর বিরুদ্ধে চরম ধর্মান্ধ ও বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণ ছিল। সেখানে ইসলামকে বর্ণনা করা হয়েছিল এই বলে যে এটি একটি «পথভ্রষ্ট ধর্মবিশ্বাস এবং শয়তানের ধূর্ত প্রতারণা; আর ইসমাইলিরা (অর্থাৎ আরবগণ, যারা ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের বংশধর) এক মিথ্যা নবীকে সম্মান করে, তারা বিশ্বাস করে যে তাঁর মাধ্যমেই মুক্তির পথ প্রশস্ত হবে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মুসলমানদের নবী স্বভাবগতভাবে বিশ্বাসঘাতক এবং ইবলিসের অনুসারী, তিনি মাসীহ দাজ্জালের প্রতিনিধি এবং সমস্ত পাপাচারের আধার, যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাঁর অসার শিক্ষার মাধ্যমে অনুসারীদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত হয়েছে, আর যে তাকে ফেরেশতার বেশে দেখা দিয়েছিল সে আসলে ছিল শয়তান»। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কর্ডোভার এই বিদ্বেষপূর্ণ ও ধর্মান্ধ আন্দোলন এবং সন্ন্যাসীদের ঘৃণ্য লেখাগুলো মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

[ক্লুনিয়াক প্রকল্প:]

ক্লুনিয়াক প্রকল্প সম্পর্কে বলা যায়: এটিই পশ্চিমা মস্তিষ্কে সেই ভ্রান্ত বিশ্বাস রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান প্রস্তুত করেছিল এবং এর অধিকাংশ দিক এমনভাবে সুসংহত করেছিল যাতে তা বর্তমান যুগ পর্যন্ত টিকে থাকে।

এই প্রকল্পটি, যাকে কিছু পশ্চিমা গবেষক 'ইসলাম অধ্যয়নের প্রথম বৈশ্বিক পশ্চিমা প্রকল্প' হিসেবে গণ্য করেন, তা বাস্তবে ছিল ইসলামকে কলঙ্কিত করার সর্ববৃহৎ পশ্চিমা প্রকল্প, যা হিজরি ৫৩৭ / ১১৪৩ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল।

এই প্রকল্পটি দক্ষিণ ফ্রান্সের ক্লুনি মঠের সাথে সম্পর্কিত, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
297 هـ/ 910 م ومنه انبثقت حركة لإصلاح الحياة الرهبانية عرفت فى التاريخ الأوربى باسم حركة الإصلاح الكلونية التى لم تلبث أن أسهمت فى تقوية الجهاز الكنسى فى الغرب الأوربى ونال دير كلونى منزلة الحصانة تحت الحماية المباشرة للبابا فى روما، والحق المطلق فى أن ينشئ أديرة أخرى تابعة له، وخلال القرنين التاليين من تأسيسه نال دير كلونى تأثيرا كبيرا وثروة ضخمة، وأصبح فى الواقع عاصمة للإمبراطورية الديرية حيث يتبعه أكثر من ستمائة دير، وعشرات الآلاف من الرهبان فى كل مكان من العالم الغربى النصرانى، وأصبح رهبان دير كلونى بابوات وكرادلة وكثير من رؤسائه كانوا مستشارين للأباطرة والملوك. ومن أشهر رهبان دير كلونى الذين وصلوا إلى منصب البابوية، البابا جريجورى السابع، وتلميذه البابا أوربان الثانى الذى أطلق الحروب الصليبية ضد المسلمين.

وفى سنة 516 هـ/ 1122 م تم اختيار رئيس جديد لدير كلونى هو الراهب بيير موريس دى مونتبورسيير، الذى أطلق عليه معاصروه لقب بطرس المكرّم.

وقد أمضى سنواته الأولى فى تدعيم سلطة الدير ومكانته. وفى سنة 536 هـ/ 1142 م قام برحلة إلى شمال الأندلس لزيارة الأديرة الكلونية فى تلك البلاد.

وهناك علم من بعض المترجمين بوجود رسالة لنصرانى شرقى تدافع عن النصرانية وتهاجم الإسلام مكتوبة باللغة العربية، وعرف منهم مضمونها، فقرر القيام بمشروع ترجمتها وترجمة القرآن الكريم وبعض المصنفات الآخرى إلى اللاتينية بهدف دحض الإسلام والرد عليه.

عاد بطرس المكرم إلى دير كلونى فى فرنسا بعد أن اتفق مع خمسة مترجمين للقيام بالعمل لديه وبيّن لهم أهدافه من المشروع وأجزل لهم العطاء لتنفيذه. ونقدم الآن لمحة مختصرة جدا عن أخطر ترجمتين فى المشروع والأثر الذى أحدثته فى صياغة تلك العقيدة الغربية عن الإسلام ونبى الإسلام عليه الصلاة والسلام.

 

‌‌1- ترجمة القرآن الكريم إلى اللغة اللاتينية.

وهى إحدى الترجمات الخمس التى أصبحت تعرف فى أوربا باسم المجموعة الطليطلية. وقام بهذه
২৯৭ হিজরি/ ৯১০ খ্রিস্টাব্দ এবং তা থেকে সন্ন্যাস জীবন সংস্কারের একটি আন্দোলন উদ্ভূত হয়েছিল যা ইউরোপীয় ইতিহাসে ক্লুনিয়াক সংস্কার আন্দোলন নামে পরিচিত। এটি শীঘ্রই পশ্চিম ইউরোপের গির্জার কাঠামোকে শক্তিশালী করতে অবদান রেখেছিল এবং ক্লুনি মঠ রোমের পোপের সরাসরি সুরক্ষায় দায়মুক্তির মর্যাদা এবং এর অধীনে অন্যান্য মঠ স্থাপনের নিরঙ্কুশ অধিকার লাভ করেছিল। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী দুই শতাব্দী জুড়ে ক্লুনি মঠ ব্যাপক প্রভাব ও বিপুল সম্পদ অর্জন করে এবং বাস্তবে এটি একটি মঠ-সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়, যেখানে পশ্চিমের খ্রিস্টান বিশ্বের সর্বত্র ছয়শ’রও বেশি মঠ এবং দশ হাজারেরও বেশি সন্ন্যাসী এর অনুসারী ছিল। ক্লুনি মঠের সন্ন্যাসীরা পোপ ও কার্ডিনাল পদে অধিষ্ঠিত হন এবং এর অনেক প্রধান সম্রাট ও রাজাদের উপদেষ্টা ছিলেন। ক্লুনি মঠের বিখ্যাত সন্ন্যাসীদের মধ্যে যারা পোপের পদে পৌঁছেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পোপ সপ্তম গ্রেগরি এবং তাঁর শিষ্য পোপ দ্বিতীয় আরবান, যিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু করেছিলেন।

৫১৬ হিজরি/ ১১২২ খ্রিস্টাব্দে ক্লুনি মঠের একজন নতুন প্রধান নির্বাচিত হন, তিনি হলেন সন্ন্যাসী পিয়েরে মরিস ডি মন্টবোসিয়ার, যাঁকে তাঁর সমসাময়িকরা 'পিটার দ্য ভেনারেবল' (সম্মানিত পিটার) উপাধি দিয়েছিলেন।

তিনি তাঁর প্রাথমিক বছরগুলো মঠের ক্ষমতা ও মর্যাদা সুসংহত করতে ব্যয় করেছিলেন। ৫৩৬ হিজরি/ ১১৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঐ অঞ্চলের ক্লুনিয়াক মঠগুলো পরিদর্শনের জন্য উত্তর আন্দালুসিয়া সফর করেন।

সেখানে তিনি কিছু অনুবাদকের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, একজন প্রাচ্যের খ্রিস্টানের লেখা একটি আরবি পত্র রয়েছে যা খ্রিস্টধর্মের পক্ষাবলম্বন করে এবং ইসলামের সমালোচনা করে। তিনি তাদের কাছ থেকে এর বিষয়বস্তু জানতে পারেন। ফলে তিনি ইসলামকে খণ্ডন করার এবং এর জবাব দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটিসহ পবিত্র কুরআন ও অন্যান্য কিছু গ্রন্থ লাতিন ভাষায় অনুবাদ করার একটি প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

পিটার দ্য ভেনারেবল তাঁর অধীনে কাজ করার জন্য পাঁচজন অনুবাদকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ফ্রান্সের ক্লুনি মঠে ফিরে আসেন। তিনি তাদের কাছে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য তাদের প্রচুর পারিশ্রমিক দেন। আমরা এখন এই প্রকল্পের সবচেয়ে বিপজ্জনক দুটি অনুবাদ এবং ইসলাম ও ইসলামের নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর প্রতি পশ্চিমা বিশ্বাস গঠনে সেগুলোর প্রভাব সম্পর্কে একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করছি।

 

‌‌১- লাতিন ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ।

এটি সেই পাঁচটি অনুবাদের একটি যা ইউরোপে 'টোলেডো সংগ্রহ' নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি সম্পাদন করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الترجمة مترجم إنجليزى يسمى روبرت أوف كيتون كان قد استقر فى برشلونة فى الأندلس منذ سنة 530 هـ/ 1136 م وأتقن العربية واهتم بالمؤلفات العربية فى علم الفلك والهندسة وقد علم روبرت أوف كيتون من بطرس المكرم أن هدفه تعريف الغرب النصرانى بالإسلام الذى يعتبره هرطقة من الهرطقات الكبرى التى هددت النصرانية، وأن بطرس المكرم ينوى الرد على الإسلام، لذلك قام روبرت أوف كيتون بترجمة خاطئة مغرضة لمعانى القرآن الكريم، كان لها تأثير سىء فى صياغة تلك العقيدة الغربية الحاقدة تجاه الإسلام ونبيه محمد عليه الصلاة والسلام.

وتتضح أهداف روبرت أوف كيتون المبنية على أهداف بطرس المكرم مما جاء فى مقدمته لتلك الترجمة، حيث صدّرها بمقدمة طنانة سماها (تمهيد عن الخرافة الإسلامية المسماة بالقرآن) ومما قاله فى مقدمته، « … أنا كشفت عن شريعة محمد بيدىّ وجلبتها إلى خزينة اللغة الرومانية، الأمر الذى سوف يساعد رسالة المسيح المخلّص على الانتشار وتخليص الجنس البشرى من هذا الإثم- الإسلام- ذلك أن دكاترة الكنيسة أهملوا تلك الهرطقة الكبرى- يقصد الإسلام- لتصل وتصعد إلى شىء ضخم جدا ومفرط لمدة خمسمائة وسبع وثلاثين سنة، لأنها مهلكة وضارة، بسبب أن الزهرة من تلك العقيدة المتعصبة الفاسدة، مجرد غطاء فوق عقرب، تحول دون أن تلفت الانتباه إليه، وتحطّم بالخداع قانون الدين المسيحى … » إلى أن يقول مخاطبا بطرس المكرّم: «ولذلك قمت بالعمل معك لما علمت أن نفسك مجتهدة فى سبيل كل شىء صالح، وأنك تتوق إلى ردم المستنقع غير الخصب للعقيدة الإسلامية … لذلك أنا كشفت عن السبل والوسائل- بكل جهدى- للوصول إلى ذلك … وهكذا أنا أحضرت الخشب والحجارة اللازمة لعمارتك الجميلة التى يجب أن تنتصب فوق الجميع خالدة.

أنا كشفت الغطاء عن دخّان محمد الذى يجب أن يخمد بواسطة منفاخك» .

وقام روبرت أوف كيتون فى ترجمته لمعانى القرآن الكريم بإعادة ترتيب السور وعمد إلى الاختصار والتشويه المتعمّد والحذف والإضافة، وإضفاء
অনুবাদক ছিলেন রবার্ট অফ কেটন নামক একজন ইংরেজ, যিনি ৫৩০ হিজরি/১১৩৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে আন্দালুসের বার্সেলোনায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। তিনি আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যামিতি বিষয়ক আরবি পাণ্ডুলিপির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। রবার্ট অফ কেটন পিটার দ্য ভেনারেবল থেকে জানতে পেরেছিলেন যে, তার লক্ষ্য হলো খ্রিস্টান পাশ্চাত্যকে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যাকে তিনি খ্রিস্টধর্মের জন্য হুমকিস্বরূপ অন্যতম প্রধান ধর্মদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করতেন। পিটার দ্য ভেনারেবল ইসলামের অসারতা প্রমাণের সংকল্প করেছিলেন। ফলস্বরূপ, রবার্ট অফ কেটন পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের একটি ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুবাদ সম্পাদন করেন, যা ইসলাম এবং এর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল।

পিটার দ্য ভেনারেবলের অভিসন্ধির ওপর ভিত্তি করে রবার্ট অফ কেটনের লক্ষ্যসমূহ তার অনুবাদের মুখবন্ধ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি একটি আড়ম্বরপূর্ণ ভূমিকা সংযোজন করেন, যার শিরোনাম দিয়েছিলেন ‘কুরআন নামক ইসলামি রূপকথা সম্পর্কে প্রারম্ভিকা’। তিনি তার ভূমিকায় লিখেছিলেন: « … আমি নিজের হাতে মুহাম্মদের শরীয়তকে উন্মোচিত করেছি এবং তা রোমান ভাষার ভাণ্ডারে নিয়ে এসেছি। এটি ত্রাণকর্তা মসিহের বাণীর প্রসারে এবং মানবজাতিকে এই পাপ—ইসলাম—থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করবে। কেননা গির্জার পণ্ডিতগণ এই বৃহৎ ধর্মদ্রোহিতাকে—তিনি ইসলামকে বুঝিয়েছেন—দীর্ঘ পাঁচশ সাইত্রিশ বছর ধরে উপেক্ষা করেছেন, যার ফলে এটি এক বিশাল ও অতিমাত্রায় রূপ ধারণ করেছে। এটি বিনাশকারী ও অনিষ্টকর, কারণ এই গোঁড়া ও কলুষিত বিশ্বাসের বহিরাবরণ হলো বিচ্ছুর ওপর একটি ঢাকা মাত্র, যা এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণে বাধা দেয় এবং প্রতারণার মাধ্যমে খ্রিস্টীয় ধর্মের আইনকে ধূলিসাৎ করে … » এরপর তিনি পিটার দ্য ভেনারেবলকে সম্বোধন করে বলেন: «এ কারণেই আমি আপনার সাথে কাজ করেছি, যেহেতু আমি জানি যে আপনার আত্মা প্রতিটি সৎ কাজের জন্য সচেষ্ট এবং আপনি ইসলামি আকিদার এই অনুর্বর জলাভূমিকে সমাহিত করতে উন্মুখ … তাই আমি—আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায়—তা অর্জনের পথ ও উপায়সমূহ উন্মোচন করেছি … এভাবে আমি আপনার সেই সুদৃশ্য অট্টালিকার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ ও পাথর সংগ্রহ করেছি, যা সবার ঊর্ধ্বে চিরস্থায়ীভাবে দণ্ডায়মান থাকবে।

আমি মুহাম্মদের ধোঁয়ার আবরণ উন্মোচন করেছি, যা আপনার হাপরের সাহায্যে নিভিয়ে ফেলা কর্তব্য»।

পবিত্র কুরআনের অর্থানুবাদে রবার্ট অফ কেটন সূরাসমূহের ক্রমবিন্যাস পরিবর্তন করেন এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংক্ষিপ্তকরণ, বিকৃতি, বর্জন ও সংযোজন করেন এবং আরোপ করেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الطابع اللاتينى على المعانى، مما أعطى صورة بشعة لمعانى القرآن الكريم.

 

‌‌ومن أمثلة الفساد والتشويه فى تلك الترجمة ما يلى:

أ- أعطى معنى غامضا لخطاب يا أهل الكتاب وجعله يبدو فى معظم الأحيان وكأنه موجه إلى المسلمين.

ب- أضفى على كل الآيات المتعلقة بأحكام الزواج والطلاق معانى جنسية داعرة بحيث تبدو للقارئ الغربى لا سيما الرهبان مثيرة للاشمئزاز والنفور. مثل:

ج- الآية 230 من سورة البقرة؛ فَإِنْ طَلَّقَها فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجاً غَيْرَهُ ترجمها «فلا تحل له حتى يطأها رجل غيره» . والنكاح هنا بمعنى عقد الزواج.

د- الآية 220 من سورة البقرة: وَيَسْئَلُونَكَ عَنِ الْيَتامى قُلْ إِصْلاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخالِطُوهُمْ فَإِخْوانُكُمْ ترجم تخالطوهم بمعنى تمارسوا معهم اللواط.

هـ- الآية 223 من سورة البقرة: نِساؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ ترجمعها بمعنى «فأتوهن فى أدبارهن» .

والآية 50 من سورة الأحزاب: يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنا لَكَ أَزْواجَكَ..

الآية، ترجمها هكذا: «نحن نجيز لك أزواجك اللائى أتيتهن مهورهن، وجميع إيمائك اللائى أعطاكهن الله، وبنات عمك، وبنات عماتك، وبنات خالك وبنات خالاتك، اللائى اتبعنك، وكل امرأة مؤمنة إذ هى ترغب فى تقديم جسدها أو نفسها للرسول، وإذا الرسول يرغب أن يضطجع معها فليفعل، وهذا خاص لك وليس للمؤمنين الآخرين» .

وهذا قليل من كثير مما فى تلك الترجمة القبيحة من تشويه متعمّد.

ولم يقتصر الأمر على ذلك؛ بل قام معلق مجهول بالتعليق والتحشية على تلك الترجمة فزاد فى التشويه إلى أقصى حد فمثلا عندما لا يتفق القصص
অর্থের ওপর ল্যাটিন প্রভাব, যা পবিত্র কুরআনের অর্থের একটি কদর্য রূপ প্রকাশ করেছে।

 

‌‌উক্ত অনুবাদের বিকৃতি ও বিভ্রান্তির কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

ক- 'হে কিতাবধারীগণ' সম্বোধনটির একটি অস্পষ্ট অর্থ প্রদান করা হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে।

খ- বিবাহ ও তালাকের বিধান সংক্রান্ত সমস্ত আয়াতে এমন অশ্লীল যৌনতানির্ভর অর্থ আরোপ করা হয়েছে, যাতে তা পশ্চিমা পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে পাদ্রীদের নিকট অত্যন্ত ঘৃণ্য ও বিরক্তিকর মনে হয়। যেমন:

গ- সূরা বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াত; "অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে এরপর সে তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে।" তিনি এর অনুবাদ করেছেন "সে তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না অন্য কোনো পুরুষ তার সাথে সঙ্গম করে।" অথচ এখানে 'নিকাহ' শব্দটির অর্থ হলো বিবাহের চুক্তি।

ঘ- সূরা বাকারার ২২০ নম্বর আয়াত: "তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলুন, তাদের সংশোধন করাই উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে একত্রে বসবাস করো, তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই।" এখানে তিনি 'তোমরা তাদের সাথে একত্রে বসবাস করো' শব্দটির অনুবাদ করেছেন তাদের সাথে সমকামিতা করা অর্থে।

ঙ- সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াত: "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।" তিনি এর অনুবাদ করেছেন "তাদের মলদ্বার দিয়ে সঙ্গম করো" অর্থে।

এবং সূরা আহযাবের ৫০ নম্বর আয়াত: "হে নবী! আমি আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি..." আয়াতটির অনুবাদ তিনি এভাবে করেছেন: "আমরা আপনার জন্য আপনার সেইসব স্ত্রীদের বৈধ করছি যাদের আপনি মোহরানা প্রদান করেছেন, এবং আপনার সেই সকল দাসীদের যাদের আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন, এবং আপনার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা এবং খালার কন্যাদের, যারা আপনার অনুসরণ করেছে; আর কোনো মুমিন নারী যদি রাসূলের নিকট নিজের শরীর বা নিজেকে অর্পণ করতে চায় এবং রাসূল যদি তার সাথে শয়ন করতে চান, তবে তিনি তা করতে পারেন। এটি কেবল আপনার জন্য বিশেষায়িত, অন্য মুমিনদের জন্য নয়।"

সেই কুৎসিত অনুবাদের মধ্যে বিদ্যমান অসংখ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃতির এটি অতি সামান্য অংশ মাত্র।

বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একজন অজ্ঞাত পরিচয় ভাষ্যকার সেই অনুবাদের ওপর টীকা ও ব্যাখ্যা যুক্ত করেছেন যা বিকৃতিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, যখন কাহিনীগুলো এক হয় না—
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
القرآنى مع بعض قصص العهد القديم يهاجم القرآن، ويتهمه بالخرافة مثل وسوسة الشيطان لآدم وزوجه للأكل من الشجرة وفى العهد القديم أن الحية هى التى أغرت آدم بالأكل من الشجرة. ويعلق المعلق على القرآن بقوله: «كذب وقح» . أيضا القصة الرائعة لحمل مريم بعيسى- عليه السلام كما جاء فى سورة مريم، يسميها أيضا «كذب وقح» .

كما أن هذا المعلق علّق- مثلا- على الآيتين من سورة الغاشية: فَذَكِّرْ إِنَّما أَنْتَ مُذَكِّرٌ (21) لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ (الغاشية: 20، 21) ، علّق عليها موجها الخطاب إلى النبى عليه الصلاة والسلام؛ قائلا: «لماذا أنت بعد كل هذا توجّه أصحابك إلى أن يحوّلوا الناس إلى دينك بالسيف، إذا أنت تقول مثل هذه المبادئ التى لا تجبر الناس على الطاعة، فلماذا تجبر الناس على الطاعة ولماذا تخضعهم بالقوة مثل الحيوانات والبهائم المتوحشة، وليس بواسطة الحجج والبراهين مثل البشر، فى الحقيقة أنت نموذج للكذّاب، فأنت فى كل مكان تناقض نفسك» .

هذه الترجمة المشوهة لمعانى القرآن الكريم التى قام بها روبرت أوف كيتون لحساب بطرس المكرّم سنة 537 هـ/ 1143 م هى أول ترجمة عرفتها أوربا وأحدثت تأثيرا واسعا على الفهم الأوربى المشوه للإسلام حتى القرن الثامن عشر، فقط ظلت تنتشر مخطوطاتها حتى قام عالمان سويسريان بطباعتها فى بازل سنة 949 هـ/ 1543 م. وعن هذه الترجمة اللاتينية قام أريفابينى الإيطالى بترجمتها إلى الإيطالية سنة 953 هـ/ 1547 م. وعن هذه الترجمة الإيطالية قام سالمون اشفجر بترجمتها إلى الألمانية سنة 1025 هـ- 1616 م وعن هذه الترجمة الألمانية ترجمت إلى الهولندية سنة 1051 هـ/ 1641 م.

ومن هنا يتبين لنا الأثر السىء الذى تركته هذه الترجمة على صورة الإ «لام فى الغرب، إذ قامت عليها الكثير من دراسات المستشرقين عن الإسلام.

2- رسالة النصرانى الشرقى: وهى الأخيرة فى المجموعة الطليطلية، وتعرف باسم الرسالة الإسلامية والجواب المسيحى. وهى التى أحدثت المشروع
কুরআনের বর্ণনার সাথে ওল্ড টেস্টামেন্টের কিছু গল্পের তুলনা করে তিনি কুরআনের ওপর আক্রমণ করেন এবং একে রূপকথা হিসেবে অভিযুক্ত করেন; যেমন আদম ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি গাছ থেকে খাওয়ার জন্য শয়তানের প্ররোচনা। অথচ ওল্ড টেস্টামেন্টে রয়েছে যে, সাপই আদমকে গাছ থেকে খেতে প্রলুব্ধ করেছিল। ভাষ্যকার কুরআনের ওপর মন্তব্য করে বলেন: «নির্লজ্জ মিথ্যা»। অনুরূপভাবে সূরা মরিয়মে বর্ণিত ঈসা আলাইহিস সালামের গর্ভধারণের চমৎকার কাহিনীকেও তিনি «নির্লজ্জ মিথ্যা» বলে অভিহিত করেন।

এই ভাষ্যকার সূরা আল-গাশিয়াহ-এর এই দুই আয়াতের ওপরও মন্তব্য করেছেন: "অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা (২১) আপনি তাদের ওপর কোনো ক্ষমতা প্রয়োগকারী নন" (আল-গাশিয়াহ: ২০, ২১)। তিনি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে সম্বোধন করে বলেন: «এতকিছুর পর কেন আপনি আপনার সঙ্গীদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তারা তলোয়ারের মাধ্যমে মানুষকে আপনার ধর্মে দীক্ষিত করে? আপনি যদি এমন সব মূলনীতির কথা বলেন যা মানুষকে আনুগত্য করতে বাধ্য করে না, তবে কেন আপনি মানুষকে আনুগত্য করতে বাধ্য করছেন এবং কেন আপনি তাদের যুক্তিতর্ক ও প্রমাণের মাধ্যমে মানুষের মতো না বুঝিয়ে বন্য পশু ও জানোয়ারের মতো শক্তির মাধ্যমে বশীভূত করছেন? প্রকৃতপক্ষে আপনি একজন মিথ্যাবাদীর আদর্শ, কারণ আপনি প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেরই বিরোধিতা করছেন»।

পবিত্র কুরআনের অর্থের এই বিকৃত অনুবাদটি রবার্ট অফ কেটন ৫৩৭ হিজরি/ ১১৪৩ খ্রিস্টাব্দে পিটার দ্য ভেনারেবল-এর জন্য সম্পন্ন করেছিলেন। এটি ছিল ইউরোপের পরিচিত প্রথম অনুবাদ এবং এটি আঠারো শতক পর্যন্ত ইসলামের প্রতি ইউরোপীয়দের বিকৃত উপলব্ধির ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। এর পাণ্ডুলিপিগুলো কেবল ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে যতক্ষণ না ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে/ ৯৪৯ হিজরিতে দুই সুইস পণ্ডিত ব্যাসেলে (Basel) এটি মুদ্রণ করেন। এই ল্যাটিন অনুবাদ থেকে ইতালীয় আরেফাবিনি ১৫৪৭ খ্রিস্টাব্দে/ ৯৫৩ হিজরিতে ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করেন। এই ইতালীয় অনুবাদ থেকে সলোমন শ্ভাইগার ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে/ ১০২৫ হিজরিতে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন এবং এই জার্মান অনুবাদ থেকে ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে/ ১০৫১ হিজরিতে ওলন্দাজ ভাষায় এটি অনূদিত হয়।

এখান থেকেই আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই অনুবাদটি পশ্চিমে ইসলামের ভাবমূর্তির ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, কারণ ইসলামের ওপর প্রাচ্যবিদদের অনেক গবেষণাই এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।

২- প্রাচ্যীয় খ্রিস্টানের পত্র: এটি তোলেদো (Toledo) সংগ্রহের সর্বশেষ অংশ এবং এটি 'ইসলামি পত্র ও খ্রিস্টীয় উত্তর' নামে পরিচিত। এটিই সেই প্রকল্প যা শুরু করেছিল...
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الكلونى برمته. وهى عبارة عن رسالة وجواب على الرسالة. الرسالة مرسلة من رجل مسلم يدعى عبد الله بن إسماعيل الهاشمى إلى صديق له نصرانى يدعى عبد المسيح بن إسحاق الكندى، وقد صيغت رسالة الهاشمى المزعومة بحيث يبدو قريبا للخليفة المأمون، بينما صيغ الجواب وكأن الكندى المزعوم يعمل فى بلاط الخليفة نفسه. ومن الواضح أن كلا الاسمين مستعاران وأن كاتب النصين عالم عربى نصرانى عاش فى العراق فى القرن الرابع الهجرى/ العاشر الميلادى، والراجع أنه الطبيب والفيلسوف النصرانى يحيى بن عدى المتوفى سنة 364 هـ/ 975 م. ولا نجد لهذه المصنفة ذكرا فى المصادر الإسلامية إلا عند البيرونى المتوفى سنة 440 هـ/ 1048 م. الذى اقتبس منها نصا فى حديثه عن الصابئة.

وقد كلّف بطرس المكرم اثنين من المترجمين بترجمة هذا النص هما بطرس الطليطلى، وبطرس أوف بواتييه. وقد صاغ يحيى بن عدى رسالة الهاشمى المزعوم فى نحو عشرين صفحة، بحيث بدأ بالسلام والرحمة على صديقه النصرانى، زاعما أن ذلك سنة النبى عليه الصلاة والسلام فى مخاطبته للناس بما فيهم النصارى ثم يبدى الهاشمى المزعوم تعبيرات مختلفة من الاحترام لصديقه والإشارة إلى النسب الأصيل للكندى، والإشادة بتقواه وثقافته ومعرفته، ويدعوه إلى اعتناق الإسلام الذى هو دين الحنيفية، دين أبيهما الأول ابراهيم عليه السلام، وهو التوحيد الخالص لله تعالى، ثم يعرض أركان الإسلام الخمسة، والجهاد، ويسهب فى ذكر نعيم الجنة لإغراء صديقه النصرانى باعتناق الإسلام. وأنه إذا اعتنق الإسلام يمكنه الزواج بأربع زوجات ويطلق متى يشاء ويملك من الجوارى ما يشاء، ويحصل على ترقية فى بلاط الخليفة وفى النهاية يعرض على صديقه أن يجيبه بكل صراحة على عرضه وأن يقول ما يحلو له فى الدفاع عن دينه ويحثه على التخلى عن عبادة الثالوث.

وقد أجاب يحيى بن عدى على رسالته التى جعلها على لسان الهاشمى، بجوابه الذى جعله على لسان الكندى فى 140 صفحة، أى أكبر بسبع مرات
সমগ্র ক্লোনি। এটি মূলত একটি পত্র এবং সেই পত্রের উত্তরের সমন্বয়ে গঠিত। পত্রটি আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাইল আল-হাশেমি নামক একজন মুসলিম ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার জনৈক খ্রিস্টান বন্ধু আবদুল মসিহ ইবনে ইসহাক আল-কিন্দিকে পাঠানো হয়েছে। কথিত হাশেমির পত্রটি এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যাতে তাকে খলিফা আল-মামুনের নিকটজন বলে মনে হয়, পক্ষান্তরে উত্তরটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন কথিত কিন্দি খলিফার দরবারেই কর্মরত আছেন। এটি স্পষ্ট যে উভয় নামই ছদ্মনাম এবং উভয় পাঠ্যের লেখক একজন আরব খ্রিস্টান আলেম, যিনি হিজরি চতুর্থ শতাব্দী/খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে ইরাকে বসবাস করতেন। অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো তিনি খ্রিস্টান চিকিৎসক ও দার্শনিক ইয়াহিয়া ইবনে আদি, যিনি ৩৬৪ হিজরি/৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামি উৎসসমূহে এই রচনার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না, কেবল ৪৪০ হিজরি/১০৪৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণকারী আল-বিরুনির নিকট ব্যতিরেকে, যিনি সাবিয়ি সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এখান থেকে একটি উদ্ধৃতি পেশ করেছেন।

সম্মানিত পিটার এই পাঠ্যটি অনুবাদের জন্য দুইজন অনুবাদককে দায়িত্ব প্রদান করেন, তারা হলেন পিটার অফ টলেডো এবং পিটার অফ পোয়াতিয়ে। ইয়াহিয়া ইবনে আদি কথিত হাশেমির পত্রটি প্রায় বিশ পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি তার খ্রিস্টান বন্ধুর প্রতি সালাম ও রহমত বর্ষণের মাধ্যমে শুরু করেছেন; তিনি দাবি করেছেন যে, খ্রিস্টানসহ মানুষের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে এটিই নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর সুন্নত। অতঃপর কথিত হাশেমি তার বন্ধুর প্রতি সম্মানের বিভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এবং কিন্দিকে তার আভিজাত্যপূর্ণ বংশের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, পাশাপাশি তার তাকওয়া, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের প্রশংসা করেন। তিনি তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান, যা হলো হানিফিয়া ধর্ম, তাদের আদি পিতা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ধর্ম; আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ তাওহিদ। এরপর তিনি ইসলামের পাঁচটি রুকন ও জিহাদের কথা উপস্থাপন করেন এবং তার খ্রিস্টান বন্ধুকে ইসলাম গ্রহণে প্রলুব্ধ করার জন্য জান্নাতের নেয়ামতের বর্ণনা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলাম গ্রহণ করলে তিনি চারটি বিবাহ করতে পারবেন, যখন খুশি তালাক দিতে পারবেন, ইচ্ছামতো দাসীদের মালিক হতে পারবেন এবং খলিফার দরবারে পদোন্নতি লাভ করবেন। সবশেষে তিনি তার বন্ধুর নিকট প্রস্তাব দেন যেন তিনি তার এই প্রস্তাবের বিষয়ে অত্যন্ত খোলামেলা উত্তর প্রদান করেন এবং নিজের ধর্ম রক্ষার্থে যা খুশি তা বলার সুযোগ দেন, একইসঙ্গে তাকে ত্রিত্ববাদ উপাসনা ত্যাগ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

ইয়াহিয়া ইবনে আদি হাশেমির জবানিতে রচিত তার সেই পত্রের উত্তর দিয়েছেন কিন্দির জবানিতে ১৪০ পৃষ্ঠায়, যা মূল পত্রের তুলনায় সাতগুণ বড়।
(খণ্ড: ১) আর-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফী উয়ূনি গারবিয়্যাতিম মুনসিফাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
من رسالة الهاشمى، بحيث يترك جوابه الانطباع لدى القارئ النصرانى أنه نال الغلبة والقهر بالحجة والبرهان. ومن الواضح أن يحيى بن عدى كتب هذا الكتاب حين ازداد دخول النصارى فى الإسلام فى القرن الرابع الهجرى، وكان هدفه منه تحصين أهل الذمة من النصارى لمنعهم من اعتناق الإسلام وإقناعهم بأن دينهم هو الدين الصحيح.

ويبدأ يحيى بن عدى جوابه على لسان الكندى المزعوم بالعرفان بالجميل لصديقه الهاشمى والدعاء للخليفة المأمون. ثم يدافع عن عقيدة الثالوث، ويزعم أن عقيدة الحنيفية التى يدعو إليها الهاشمى التى كان عليها إبراهيم عليه السلام إنما هى عبادة الأصنام، حيث يزعم أن إبراهيم ظل يعبدها لمدة سبعين سنة فى حرّان مع آبائه.

ويحاول بأسلوب فلسفى تفنيد عقيدة التوحيد، ثم يوجه هجومه إلى النبى عليه الصلاة والسلام، ويتهمه بأنه تطلع إلى الملك، ولما كان يعرف أن نفوس قريش تأبى أن يصبح ملكا عليها ادّعى النبوة للوصول إلى هدفه. ولا يتحدث جواب الكندى المزعوم عن دعوة النبى عليه الصلاة والسلام فى مكة، وإنما ينتقل فجأة إلى المدينة حيث يزعم أن النبى عليه الصلاة والسلام اغتصب مربد غلامين يتيمين وبنى عليه مسجده، وأنه اصطحب قوما فراغا لا عمل لهم وبدأ فى شن الغارات وممارسة النهب والسلب وقطع الطريق وإخافة السبيل، ويتهم النبى عليه الصلاة والسلام أنه أمر باغتيال بعض الآمنين فى بيوتهم، ثم يشير إلى جروح النبى عليه الصلاة والسلام يوم أحد، ويرى أنه لو كان رسولا لمنعه الله من الضرر، ثم يزعم أن النبى عليه الصلاة والسلام لم يكن له هم إلا امرأة جميلة يتزوجها، ويتهمه بالاستخفاف بالله فى محاباة زوجاته ويكرر حديث الإفك عن عائشة رضى الله عنها.

وبعد ذلك يثير جواب الكندى المزعوم موضوع النبوة وعلاماتها ويزعم أن شروط النبوة لا تتوافر فى محمد عليه الصلاة والسلام. ويزعم أن أهم علامات النبوة هى المعجزات، وأن النبى عليه الصلاة والسلام لم يأت بشىء منها، وأنه
আল-হাশিমীর পত্র থেকে, যাতে তার উত্তর খ্রিস্টান পাঠকের মনে এই ধারণা সৃষ্টি করে যে তিনি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে বিজয় ও আধিপত্য লাভ করেছেন। এটা স্পষ্ট যে, ইয়াহইয়া ইবনে আদি এই বইটি তখন লিখেছিলেন যখন চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে খ্রিস্টানদের ইসলাম গ্রহণের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল; এবং তার উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টান জিম্মিদের সুরক্ষিত করা যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকে এবং তাদের এই বিশ্বাস করানো যে তাদের ধর্মই সঠিক ধর্ম।

ইয়াহইয়া ইবনে আদি তথাকথিত আল-কিন্দ্-র জবানীতে তার বন্ধু আল-হাশিমীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং খলিফা আল-মামুনের জন্য দোয়ার মাধ্যমে তার উত্তর শুরু করেন। এরপর তিনি ত্রিত্ববাদের পক্ষে সাফাই গান এবং দাবি করেন যে, আল-হাশিমী যে হানিফিয়াত বা একত্ববাদী আকিদাহর দিকে ডাকছেন এবং যার ওপর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ছিলেন, তা মূলত মূর্তিপূজা; তিনি দাবি করেন যে, ইব্রাহিম তার পিতৃপুরুষদের সাথে হাররানে সত্তর বছর যাবৎ মূর্তিপূজা করেছিলেন।

তিনি দার্শনিক পদ্ধতিতে তাওহীদের আকিদাহকে খণ্ডন করার চেষ্টা করেন, এরপর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর আক্রমণ শানান এবং তাকে রাজত্বের লালসা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন; তিনি দাবি করেন যে, যখন তিনি বুঝতে পারলেন কুরাইশদের মন তাকে রাজা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করছে, তখন তিনি নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নবুওয়াতের দাবি করেন। তথাকথিত আল-কিন্দ্-র উত্তর মক্কায় নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দাওয়াত সম্পর্কে কোনো কথা বলে না, বরং হঠাৎ করে মদিনার প্রসঙ্গে চলে যায়; যেখানে তিনি দাবি করেন যে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম দুই এতিম বালকের খামার দখল করে সেখানে তার মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং তিনি একদল কর্মহীন লোককে সাথে নিয়ে আক্রমণ চালানো, লুটতরাজ, ডাকাতি ও পথিমধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং পথচারীদের ভীত-সন্ত্রস্ত করা শুরু করেছিলেন। তিনি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে, তিনি নিজের ঘরে নিরাপদ থাকা কিছু মানুষকে হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ওহুদ যুদ্ধের দিন নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের যখম হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং মত দেন যে, তিনি যদি সত্যিই রাসূল হতেন তবে আল্লাহ তাকে এই ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেন। এরপর তিনি দাবি করেন যে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সুন্দর নারীকে বিবাহ করা ছাড়া আর কোনো চিন্তা ছিল না; তিনি তার স্ত্রীদের পক্ষপাতিত্ব করার ক্ষেত্রে আল্লাহকে তুচ্ছজ্ঞান করার অপবাদ দেন এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে অপবাদের কাহিনী পুনরাবৃত্তি করেন।

এরপর তথাকথিত আল-কিন্দ্-র উত্তরে নবুওয়াত ও তার নিদর্শনাবলীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয় এবং দাবি করা হয় যে, নবুওয়াতের শর্তাবলী মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের মধ্যে বিদ্যমান নেই। তিনি দাবি করেন যে, নবুওয়াতের প্রধান নিদর্শন হলো মুজিযা, অথচ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এর কোনটিই নিয়ে আসেননি, এবং তিনি...