(খণ্ড: ১) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح البخاري للسفيري = المجالس الوعظية في شرح أحاديث خير البرية   (شمس الدين السفيري)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: المجالس الوعظية في شرح أحاديث خير البرية صلى الله عليه وسلم من صحيح الإمام البخاري

المؤلف: شمس الدين محمد بن عمر بن أحمد السفيري الشافعي (ت 956هـ)

حققه وخرج أحاديثه: أحمد فتحي عبد الرحمن

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 3 (النسخة الإلكترونية ينقصها المجلد 3)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আস-সাফিরি রচিত শারহুল বুখারি = সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় উপদেশমূলক মজলিসসমূহ   (শামসুদ্দিন আস-সাফিরি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ


কিতাব: ইমাম বুখারি রহ.-এর সহিহ হাদিস হতে সংকলিত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় উপদেশমূলক মজলিসসমূহ

লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আহমদ আস-সাফিরি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৯৫৬ হিজরি)

সম্পাদনা ও হাদিস যাচাইকরণ: আহমদ ফাতহি আব্দুল রহমান

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ইলেকট্রনিক সংস্করণে ৩য় খণ্ডটি অনুপস্থিত)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌ترجمة السفيري

نسبه وموطنة ومذهبه

هو: شمس الدين محمد بن الشيخ زين الدين عمر بن الشيخ شهاب الدين السفيري الحلبي الشافعي، الإمام العلامة ولد بحلب سنة سبع وسبعين وثمانمائة.

وعرف به ناسخ كتابه هذا فقال: العالم العلامة والبحر الفهامة المحدث شيخ الإسلام شمس الدين محمد بن أحمد بن زين الدين بن شهاب الدين السفيري.

ثم قال: السفيري الأصل، حلبي المنشأ، الشافعي المذهب.

شيوخه وعلمه وسفره في تحصيل العلم

ومن أشهر شيوخه الحافظ الإمام جلال الدين السيوطي المتوفى سنة911هـ، ونقل عنه كثيراً في شرحه على صحيح البخاري.

والعلاء الموصلي.

والكمال ابن أبي شريف.

وكمال الدين محمد بن علي القاهري الشافعي قاضي قضاة الشافعية بالديار المصرية، الشهير بالطويل، قال صاحب الشذرات: وأخذ بحلب عنه الشمس السفيري.

وخليل بن نور الله المعروف بمنلا خليل الشافعي نزيل حلب، قال صاحب الشذرات: وأكب على القراءة عليه بها جماعة منهم الشمس السفيري.

والبدر السيوفي، وغيرهم.

وأما عن طلبه للعلم وإقباله عن شيوخه فقد قال نجم الدين الغزي في كتابه الكواكب السائرة، فقد أدرجه في الطبقة الثانية وقال: لازم العلاء الموصلي والبدر السيوفي في فنون شتى، وقرأ على الكمال بن أبي شريف في حاشيته على شرح العقائد النسفية، ورسالة العذبة له، وقدم مع أخيه الشيخ إبراهيم بن أبي شريف إلى دمشق فأجاز له ولبعض الدمشقيين، ثم إلى حلب فقرأ عليه بها رسالة مختصر الرسالة القشيرية له، وقرأ على أبي الفضل الدمشقي في شرحه النزهة في الحساب، وعلى الشيخ محمد الداديخي في شرح الشاطبية لابن القاصح، وعلى غيره.

ودرس بالجامع الكبير بحلب، والعصرونية، والسفاحية، وجامع تغري بردي، وسافر إلى القاهرة سنة سبع وعشرين وتسعمائة، واجتمع بها بشيخ الإسلام زكريا الأنصاري، وحضر الصلاة عليه لما مات في تلك السنة، واجتمع بآخرين منهم: الشيخ نور الدين البحيري، وصحب في صغره الشيخ عبد القادر الدشطوطي، حين قدم
আস-সাফীরির জীবনী

তাঁর বংশপরিচয়, আবাসস্থল ও মাযহাব

তিনি হলেন: শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন শাইখ যায়নুদ্দীন উমর বিন শাইখ শিহাবুদ্দীন আস-সাফীরি আল-হালাবি আশ-শাফিঈ। তিনি একজন ইমাম ও বিজ্ঞ আল্লামা ছিলেন। তিনি ৮৭৭ হিজরি সনে হালাবে (আলেপ্পো) জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর গ্রন্থের প্রতিলিপিকারক তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন: জগতবিখ্যাত আলিম, মহান আল্লামা, প্রজ্ঞার অতল সমুদ্র, মুহাদ্দিস, শাইখুল ইসলাম শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন যায়নুদ্দীন বিন শিহাবুদ্দীন আস-সাফীরি।

অতঃপর তিনি বলেন: বংশগতভাবে আস-সাফীরি, বেড়ে উঠেছেন হালাবে এবং মাযহাবের দিক থেকে শাফিঈ।

তাঁর শিক্ষকগণ, জ্ঞানার্জন ও ইলম হাসিলের উদ্দেশ্যে তাঁর সফর

তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফিয ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি), যাঁর থেকে তিনি তাঁর সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

এবং আল-আলা আল-মাওসিলি।

এবং আল-কামাল ইবন আবী শরীফ।

এবং কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-কাহিরি আশ-শাফিঈ, যিনি মিশরের শাফিঈ বিচারকদের প্রধান (কাযীউল কুযাত) ছিলেন এবং 'আত-তাবীল' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। 'শাযারাত' গ্রন্থের লেখক বলেন: শামস আস-সাফীরি হালাবে তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

এবং খালীল বিন নূরুল্লাহ, যিনি মোল্লা খালীল আশ-শাফিঈ নামে পরিচিত এবং হালাবের বাসিন্দা ছিলেন। 'শাযারাত' গ্রন্থের লেখক বলেন: একদল শিক্ষার্থী সেখানে তাঁর নিকট পাঠগ্রহণে নিবিষ্ট হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে শামস আস-সাফীরিও ছিলেন।

এবং আল-বদর আস-সুয়ূফি এবং অন্যান্যরা।

তাঁর ইলম অন্বেষণ এবং উস্তাদদের প্রতি তাঁর একাগ্রতা সম্পর্কে নাজমুদ্দীন আল-গাযযী তাঁর 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়্যিরাহ' গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁকে দ্বিতীয় স্তরের আলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে আল-আলা আল-মাওসিলি ও আল-বদর আস-সুয়ূফির দীর্ঘ সাহচর্যে ছিলেন। তিনি আল-কামাল ইবন আবী শরীফের নিকট তাঁর 'শরহুল আকাঈদ আল-নাসাফিয়্যাহ'র টীকা (হাশিয়া) এবং তাঁর 'রিসালাতুল আযবাহ' পাঠ করেছেন। তিনি তাঁর ভাই শাইখ ইবরাহীম ইবন আবী শরীফের সাথে দামেস্কে আসেন এবং তিনি (উস্তাদ) তাঁর জন্য ও কিছু দামেস্কবাসীর জন্য ইজাযত (সনদ) প্রদান করেন। অতঃপর তিনি হালাবে ফিরে যান এবং সেখানে তাঁর নিকট তাঁরই লেখা 'রিসালাতু মুখতাসারির রিসালাতিল কুশাইরিয়্যাহ' পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি আবুল ফযল আদ-দিমাশকির নিকট গণিত শাস্ত্রের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শরহুন নুযহাহ' এবং শাইখ মুহাম্মাদ আদ-দাদীখীর নিকট ইবনুল কাসিহ রচিত 'শরহুশ শাতিবিয়্যাহ' পাঠ করেন এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন।

তিনি হালাবের জামে কাবীর, আসরুনিয়্যাহ, সাফফাহিয়্যাহ এবং তাগরি বারদি মসজিদে শিক্ষকতা করেন। তিনি ৯২৭ হিজরি সনে কায়রো সফর করেন এবং সেখানে শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া আল-আনসারীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেই বছর তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর জানাজায় উপস্থিত হন। তিনি আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখ নূরুদ্দীন আল-বুহাইরি। আর শৈশবে তিনি শাইখ আব্দুল কাদির আদ-দাশতুতীর সাহচর্য লাভ করেন যখন তিনি সেখানে আগমন করেছিলেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
حلب، وفي كبره الشيخ شهاب الدين الأنطاكي.

تلامذته الذين أجازهم

للسفيري تلامذة أجازهم لما اجتمعوا به وحملت لنا المراجع اسمين فقط.

فقد أجاز علاء الدين أبا الحسن علي بن سليمان بن أحمد بن محمد المرداوي السعدي ثم الصالحي الحنبلي.

وعبد العزيز بن عبد الواحد بن محمد بن موسى المغربي المكناسي المالكي وحدث أنه لما زار بيت المقدس ودمشق في سنة 951 هـ، ثم ورد حلب فاستجاز بها شمس الدين السفيري، وموفق الدين ابن أبي ذر.

مؤلفاته

له غير شرحه لصحيح البخاري كتاب بعنوان: «تحفة الأخيار في حكم أطفال المسلمين والكفار» ذكره صاحب كشف الظنون.

وفاته

توفي رحمه الله تعالى سنة ست وخمسين وتسعمائة (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: الأعلام للزركلي (1/317) ، وشذرات الذهب في المواضع الآتية (4/38) ، (4/311) ، (4/113) ، (4/220) ، (4/340) ، (4/342) ، وكشف الظنون (6/234) ، والكواكب السائرة (2/56) ، والموسوعة الذهبية في العلوم الإسلامية (28/635) .
হালাব, এবং তাঁর বার্ধক্যে শায়খ শিহাবুদ্দীন আল-আন্তাকি।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ যাদেরকে তিনি ইজাজত প্রদান করেছেন

আস-সাফিরীর এমন কিছু ছাত্র ছিলেন যাদের সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি তাঁদের ইজাজত প্রদান করেছিলেন এবং তথ্যসূত্রগুলো আমাদের কাছে মাত্র দুটি নাম পৌঁছে দিয়েছে।

তিনি আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন সুলাইমান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মারদাভী আস-সাদী অতঃপর আস-সালিহী আল-হানবালীকে ইজাজত প্রদান করেছেন।

এবং আবদুল আযীয বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা আল-মাগরিবী আল-মিকনাসী আল-মালিকী; বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন ৯৫১ হিজরীতে বাইতুল মাকদিস এবং দামেস্ক যিয়ারত করেন, অতঃপর হালাবে উপস্থিত হন, তখন সেখানে তিনি শামসুদ্দীন আস-সাফীরী এবং মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবনে আবি যার-এর নিকট ইজাজত প্রার্থনা করেন।

তাঁর রচনাবলি

সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছাড়াও তাঁর «তুহফাতুল আখইয়ার ফি হুকমি আতফালিল মুসলিমিনা ওয়াল কুফফার» (মুসলিম ও কাফেরদের শিশুদের বিধান বিষয়ে নেককারদের জন্য উপঢৌকন) শিরোনামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন।

মৃত্যু

তিনি রহমাতুল্লাহি তা'আলা নয়শত ছাপ্পান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (১)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আয-যিরিকলী প্রণীত আল-আলাম (১/৩১৭), এবং শাযারাতুয যাহাব-এর নিম্নোক্ত স্থানসমূহে (৪/৩৮), (৪/৩১১), (৪/১১৩), (৪/২২০), (৪/৩৪০), (৪/৩৪২), এবং কাশফুয যুনুন (৬/২৩৪), এবং আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ (২/৫৬), এবং আল-মাওসুয়াতুল যাহাবিয়্যাহ ফিল উলুমিল ইসলামিয়্যাহ (২৮/৬৩৫)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٦)
بسم الله الرحمن الرحيم

وعليه أتوكل (1)

الحمد لله رب العالمين، وصلى على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.

‌‌المجلس الأول

في ترجمة البخاري رضي الله عنه ونفعنا به وفي ذكر شيء من فضائله

فإنه كان من أكابر العلماء، والأولياء والصالحين، وبذكر الأولياء والعلماء والصحابة تنزل الرحمة، كما تنزل على مجالس العلماء، فإن مجالس العلماء روضة من رياض الجنة، تنزل عليهم الرحمة كما ينزل المطر من السماء، تدخل العصاةُ مذنبين وينصرفون مغفوراً لهم، الملائكة تستغفر لهم، ما داموا جلوساً عندهم، إن الله تعالى ينظر إليهم، فيغفر للعالم والمستمع والمحب لهم، فكيف لا تجب محبتهم وإكرامهم، والله تعالى بسببهم ينزل الرحمة على كل من حضر المجالس التي فيها ذكرهم، وكذا ذكر أهل الخير والصلاح فعليك بمجالسة العلماء تنتفع بالحضور عندهم، فإنه من جالس الأخيار سلم، ومن جالس الأشرار ندم، ومن جالس العلماء غنم، نفعنا الله بهم في الدارين.

نسب الإمام البخاري

ولنبدأ بنسبه فنقول:

أما نسبه فهو: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبَة الجعفي.

وجده «بَرْدِزْبَة» كان فارسياً مجوسياً على دين قومه، مات ولم يسلم.

«بَرْدِزْبَة» لفظة بخارية ومعناه بالعربية: الزارع، وجده المغيرة والد «بَرْدِزْبَة» كان مجوسياً، ولكنه أسلم على يد اليمان الجعفي والى بخارى، فلهذا يقال للبخاري الجعفي لكون جده المغيرة أسلم على يد اليماني الجعفي بمذهب من يرى أن من أسلم

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «توكل» ولعلها: «أتوكل» ، كما أثبتناه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই ওপর আমি ভরসা করছি (১)

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সহচরের ওপর।

‌‌প্রথম মজলিস

ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন)-এর জীবনী এবং তাঁর ফযীলতসমূহের কিছু বর্ণনার বিষয়ে

নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ আলিম, আউলিয়া এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। আর আউলিয়া, আলিম এবং সাহাবীদের স্মরণে রহমত নাযিল হয়, যেমনটি আলিমদের মজলিসে নাযিল হয়ে থাকে। নিশ্চয়ই আলিমদের মজলিস জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য থেকে একটি বাগান; আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো তাদের ওপর রহমত নাযিল হয়। পাপিষ্ঠরা গুনাহগার অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করে এবং তাদের ক্ষমা করে দেওয়া অবস্থায় তারা প্রস্থান করে। ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে যতক্ষণ তারা সেখানে বসে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, ফলে তিনি আলিম, শ্রোতা এবং তাঁদেরকে যারা ভালোবাসে তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেন। অতএব কীভাবে তাঁদের ভালোবাসা এবং সম্মান করা ওয়াজিব হবে না? অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁদের কারণেই ওই মজলিসে উপস্থিত প্রত্যেকের ওপর রহমত নাযিল করেন যেখানে তাঁদের আলোচনা করা হয়। অনুরূপভাবে সৎ ও নেককার ব্যক্তিদের আলোচনার ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং আলিমদের সাহচর্য অবলম্বন করা তোমার জন্য আবশ্যক, যাতে তাঁদের উপস্থিতিতে তুমি উপকৃত হতে পারো। কেননা যে ব্যক্তি নেককারদের সংস্পর্শে থাকে সে নিরাপদ থাকে, যে মন্দদের সংস্পর্শে থাকে সে অনুতপ্ত হয়, আর যে আলিমদের সংস্পর্শে থাকে সে লাভবান হয়। আল্লাহ আমাদের উভয় জাহানে তাঁদের দ্বারা উপকৃত করুন।

ইমাম বুখারীর বংশপরিচয়

চলুন আমরা তাঁর বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করি, আমরা বলছি:

তাঁর বংশপরিচয় হলো: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন আল-মুগীরা বিন বারদিযবাহ আল-জু'ফী।

তাঁর প্রপিতামহ 'বারদিযবাহ' ছিলেন পারস্যের একজন অগ্নিপূজক এবং নিজ সম্প্রদায়ের ধর্মের অনুসারী; তিনি ইসলাম গ্রহণ না করেই মৃত্যুবরণ করেন।

'বারদিযবাহ' শব্দটি বুখারার ভাষাভুক্ত এবং আরবিতে এর অর্থ হলো: কৃষক। তাঁর দাদা আল-মুগীরা, যিনি বারদিযবাহ-এর পুত্র, তিনি অগ্নিপূজক ছিলেন, তবে তিনি বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ কারণেই বুখারীকে 'আল-জু'ফী' বলা হয়, যেহেতু তাঁর দাদা আল-মুগীরা ইয়ামানী আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেই মাযহাব অনুযায়ী যারা মনে করেন যে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল...

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: 'তাওয়াক্কাল', সম্ভবত এটি হবে: 'আতাওয়াক্কালু', যেমনটি আমরা সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
على يد شخص كان ولاؤه له (1) .

وجده إبراهيم ولد المغيرة قال شيخ الإسلام ابن حجر (2) : لم نقف على شيء من أخباره.

وأما والده إسماعيل فإنه كان من خيار الناس رضي الله عنه حضر الأكابر، وسمع منهم كالإمام مالك، وحماد بن زيد، وصحب عبد الله بن المبارك ومات والبخاري صغير فنشأ في حجر أمه.

وكانت رضي الله عنها مجابة الدعوة، ومن كراماتها: أن البخاري ذهب بصره في صغره، فرأت أمه في المنام إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام فقال لها: يا هذه قد رَدَّ الله على ابنك بصره بكثرة دعائك أو بكائك، فأصبح وقد رَدَّ الله بصره عليه.

ولد رضي الله عنه ببخارى بالإجماع يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشر ليلة خلت من شوال سنة أربع وتسعين ومائه، وحج رضي الله عنه مع أمه وأخيه أحمد.

مناقب البخاري

وكان أخوه أسنَّ منه، فأقام هو بمكة يطلب العلم مجاوراً، ورجع أخوه أحمد إلى بخارى فمات بها.

وأما حفظة وسيلان ذهنه ففي الغاية والنهاية، نقل عنه ورَّاقُه (3) أنه قال: ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكُتَّاب، قلت: وكم أتى عليك إذ ذاك؟ فقال: عشر سنين أو أقل.

ونقل عنه أنه قال: أحفظ مائه ألف حديث صحيح، ومائتي ألف حديث غير صحيح.

واتفق له حكاية عجيبة تدل على قوة حفظه وهي: أنه لما دخل بغداد سمع به أصحاب الحديث، فاجتمعوا وأرادوا امتحان حفظه فعمدوا إلى مائة حديث فقلبوا متونها وأسانيدها، وجعلوا متن هذا الإسناد إلى إسناد آخر، وإسناد هذا المتن لمتن آخر، ودفعوها إلى عشرة نفس، لكل رجل عشرة أحاديث، وأمروهم إذا حضروا المجلس أن يلقوا ذلك على البخاري، فلما اجتمعوا وحضر في المجلس خلق كثير واطمأن المجلس

--------------------------------------------

(1) يراد به أن نسبة جد الإمام البخاري إلى الجعفي من باب الاعتراف بالفضل الذي صنعه اليماني من أنه كان سبباً في إسلام جد البخاري.

(2) هو: أبو الفضل، شهاب الدين أحمد بن على بن محمد الكناني العسقلاني ابن حجر، من أئمة الحديث وعلومه، وله باع في التاريخ والسير، أصله من عسقلان بفلسطين، مولده سنة (773هـ) بالقاهرة، كان صبيح الوجه، فصيح اللسان، له مؤلفات كثيرة منها: فتح الباري بشرح صحيح البخاري، وهو شرح عظيم الفائدة نقل منه السفيري بعض هذهه الفوائد في مواضع عدة من شرحه هذا، ولابن حجر أيضا في علم الرجال نهذيب التهذيب، وله جهود عظيمة ومباركة في خجمة السنة يعرفها القاصي والداني، وكانت وفاته بالقاهرة سنة (852هـ) .

انظر: الأعلام (4/95) .

(3) وهو: أبو جعفر محمد بن أبي حاتم وراق البخاري، والمراد بقوله «وراقه» أي: الذي يأتي له بالورق الذي يكتب عليه. انظر فتح الباري (9/568) .
এমন একজনের হাতে যার প্রতি তার আনুগত্য (ওয়ালা) ছিল (১)।

তার দাদা হলেন ইব্রাহিম ইবনুল মুগীরাহ। শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার (২) বলেছেন: আমরা তার জীবনকাল সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারিনি।

আর তার পিতা ইসমাইল ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তিনি বড় বড় আলেমদের সান্নিধ্য পেয়েছেন এবং ইমাম মালিক ও হাম্মাদ বিন যায়েদ-এর মতো ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সাহচর্য লাভ করেছেন। বুখারি যখন ছোট ছিলেন তখনই তিনি ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি তাঁর মায়ের কোলে লালিত-পালিত হন।

তিনি (বুখারির মা) আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এমন একজন ছিলেন যার দোয়া কবুল হতো। তাঁর কারামতসমূহের মধ্যে একটি হলো: বুখারি শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তাঁর মা স্বপ্নে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে দেখলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে নারী! তোমার প্রচুর দোয়া বা কান্নাকাটির কারণে আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর ভোর হলে দেখা গেল আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের তেরো তারিখ পার হওয়ার পর জুমার নামাজের পরে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর মা এবং ভাই আহমদের সাথে হজ পালন করেন।

বুখারির মর্যাদা ও গুণাবলি

তাঁর ভাই তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। তিনি (ইমাম বুখারি) ইলম অর্জনের জন্য মক্কায় অবস্থান করেন, আর তাঁর ভাই আহমদ বুখারায় ফিরে যান এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

তাঁর মুখস্থ শক্তি ও মেধার প্রখরতা ছিল চরম সীমায়। তাঁর লেখক (৩) বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম বুখারি বলেছেন: আমি যখন মক্তবে ছিলাম তখনই হাদিস মুখস্থ করার প্রেরণা লাভ করি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: দশ বছর বা তারও কম।

তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমার এক লক্ষ সহিহ হাদিস এবং দুই লক্ষ গায়ের-সহিহ (অ-সহিহ) হাদিস মুখস্থ আছে।

তাঁর সাথে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল যা তাঁর মুখস্থ শক্তির প্রবলতা প্রমাণ করে, আর তা হলো: তিনি যখন বাগদাদে প্রবেশ করেন, তখন হাদিস বিশারদগণ তাঁর কথা শুনলেন। তাঁরা একত্রিত হয়ে তাঁর মুখস্থ শক্তি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁরা একশটি হাদিস নিলেন এবং সেগুলোর মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) উলট-পালট করে দিলেন। তাঁরা এক সনদের মতন অন্য সনদে এবং এক মতনের সনদ অন্য মতনে বসিয়ে দিলেন। এরপর সেগুলো দশজন ব্যক্তির হাতে তুলে দিলেন, প্রত্যেকের কাছে দশটি করে হাদিস। তাঁরা তাঁদের নির্দেশ দিলেন যে, যখন মজলিস বসবে তখন যেন তাঁরা এগুলো বুখারির সামনে উপস্থাপন করেন। যখন সবাই সমবেত হলেন এবং মজলিসে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হলেন এবং মজলিস শান্ত হলো

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, ইমাম বুখারির দাদার সাথে জু’ফি গোত্রের সম্বন্ধটি ইয়ামানি ব্যক্তির কৃত উপকারের স্বীকৃতির স্বরূপ, কারণ তিনিই বুখারির দাদার ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিলেন।

(২) তিনি হলেন: আবুল ফজল, শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-কিনানি আল-আসকালানি ইবনে হাজার। তিনি হাদিস শাস্ত্র ও এর শাখাগুলোর অন্যতম ইমাম ছিলেন এবং ইতিহাস ও জীবনী শাস্ত্রেও তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তাঁর মূল নিবাস ফিলিস্তিনের আসকালানে, জন্ম ৭৭৩ হিজরিতে কায়রোতে। তিনি সুন্দর চেহারার ও বাকপটু ছিলেন। তাঁর অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো 'ফাতহুল বারী বি-শারহি সহিহিল বুখারি'। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেখান থেকে আস-সাফিরি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে কিছু তথ্য বর্ণনা করেছেন। রিজাল শাস্ত্রে (বর্ণনাকারীদের জীবনী) ইবনে হাজারের 'তাহজিবুত তাহজিব' নামক গ্রন্থও রয়েছে। সুন্নাহর খিদমতে তাঁর মহান ও বরকতময় প্রচেষ্টা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলেরই জানা। ৮৫২ হিজরিতে কায়রোতে তাঁর মৃত্যু হয়। আল-আ’লাম (৪/৯৫) দেখুন।

(৩) তিনি হলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আবু হাতিম, বুখারির লেখক (ওয়াররাক)। তাঁর 'ওয়াররাক' হওয়ার অর্থ হলো: তিনি তাঁর জন্য কাগজ সংগ্রহ করে আনতেন যাতে তিনি লিখতেন। ফাতহুল বারী (৯/৫৬৮) দেখুন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
بأهله، انتدب رجل من العشرة فسأله عن حديث من تلك الأحاديث، فقال البخاري: لا أعرفه، فمازال يلقي عليه واحداً بعد واحد حتى فرغ والبخاري يقول له: لا أعرفه، فكان العلماء ممن حضر المجلس يلتفت بعضهم إلى بعض ويقولون: فهم الرجل، من كان لم يدر القصة يقضي على البخاري بالعجز والتقصير وقلة الحفظ، ثم انتدب رجل أيضاً من العشرة فسأله عن حديث من تلك الأحاديث المقلوبة فقال: لا أعرفه، فلم يزل يلقي عليه واحداً بعد واحد حتى فرغ من عشرته، والبخاري يقول له: لا أعرفه، ثم انتدب الثالث والرابع إلى تمام العشرة حتى فرغوا.

فلما عرف أنهم قد فرغوا، التفت إلى الأول فقال: أما حديثك الأول فقلت كذا وصوابه كذا، وحديثك الثاني كذا وصوابه كذا، والثالث والرابع على الولاة حتى أتى على تمام العشرة فرد كل سند إلى إسناده، وكل إسناد إلى متنه، وفعل بالآخرين مثل ذلك، فأقر الناس له بالحفظ، وأذعنوا له بالفضل.

قال شيخ الإسلام ابن حجر: هنا [يخضع للبخاري] (1) فما العجب من رده الخطأ إلى الصواب، فإنه كان حافظاً، بل العجب من حفظه للخطأ على ترتيب ما ألقوه عليه من مرة واحدة.

ذكر مشايخ البخاري

وأما مشايخه الذين كتب عنهم فقد نقل عنه أنه قال: كتبت عن ألف وثمانين نفساً، ليس منهم إلا صاحب حديث.

ونقل عنه أنه قال: ما قدمت على شيخ إلا كان انتفاعه بي أكثر من انتفاعي به.

وأما الجماعة الذين قرؤوا عليه وأخذوا عنه الحديث فخلق كثيرون نحو مائة ألف أو يزيدون، أو ينقصون، وكان يحضر مجلسه أكثر من عشرين ألفاً يأخذون عنه.

ذكر تعظيم الناس للبخاري

وأما ثناء الناس عليه وتعظيمهم له فقد قال ابن خزيمة: «ما تحت أديم السماء أعلم بالحديث منه وأحفظ» (2) .

--------------------------------------------

(1) ما بين [] هكذا بالأصل، وفي مقدمة فتح الباري (ص 486) يقول ابن حجر: قلت: هنا يخضع العالمين … إلى آخره. وانظر أيضاً تغليق التعليق (5/415) .

(2) انظر: التقييد (ص 32) ، وتذكرة الحفاظ (2/556) ، وابن حجر في تغليق التعليق (5/411) ، وفي مقدمة فتح الباري (ص 485) .
দশজনের মধ্য থেকে একজন লোক দাঁড়িয়ে তাঁকে সেসব হাদীসের মধ্য থেকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। ইমাম বুখারী বললেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর সে একে একে তাঁর সামনে হাদীস পেশ করতে থাকল যতক্ষণ না সে শেষ করল, আর বুখারী তাকে বলছিলেন: "আমি এটি জানি না।" মজলিসে উপস্থিত আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "ব্যক্তিটি বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।" আর যারা এই ঘটনা সম্পর্কে জানত না, তারা বুখারীর অক্ষমতা, ত্রুটি এবং মুখস্থশক্তির স্বল্পতার ফয়সালা দিচ্ছিল। এরপর দশজনের মধ্য থেকে দ্বিতীয় একজন লোকও দাঁড়িয়ে সেসব ওলটপালট করা হাদীসের মধ্য থেকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তিনি বললেন: "আমি এটি জানি না।" সে একে একে হাদীসগুলো পেশ করতে থাকল যতক্ষণ না তার দশটি হাদীস শেষ হলো, আর বুখারী তাকে বলছিলেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর তৃতীয় ব্যক্তি, চতুর্থ ব্যক্তি এভাবে দশজন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চলল এবং তারা শেষ করল।

যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তারা শেষ করেছে, তখন তিনি প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: "তোমার প্রথম হাদীসটি তুমি এভাবে বলেছিলে কিন্তু তার সঠিক রূপ হলো এমন, আর তোমার দ্বিতীয় হাদীসটি এমন কিন্তু তার সঠিক রূপ হলো এমন..." এভাবে ধারাবাহিকভাবে তিনি দশটি হাদীস পূর্ণ করলেন এবং প্রত্যেকটি সনদকে তার সঠিক সূত্রের দিকে এবং প্রত্যেকটি সূত্রকে তার সঠিক মতনের দিকে ফিরিয়ে দিলেন। অন্যদের সাথেও তিনি অনুরূপ করলেন। ফলে মানুষ তাঁর মুখস্থশক্তির স্বীকৃতি দিল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নতি স্বীকার করল।

শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার বলেন: এখানে [বুখারীর কাছে মাথা নত করতে হয়] (১)। ভুল হাদীসকে সঠিকের দিকে ফিরিয়ে আনার মাঝে তেমন কোনো বিস্ময় নেই, কারণ তিনি তো হাফেজই ছিলেন। বরং বিস্ময় হলো একবার শোনার মাধ্যমেই তারা যেভাবে হাদীসগুলো ওলটপালট করে পেশ করেছিল, ঠিক সেই বিন্যাস অনুযায়ী সেই ভুলগুলোই মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে।

ইমাম বুখারীর শিক্ষকগণের বর্ণনা

আর তাঁর শিক্ষকদের সম্পর্কে যাদের কাছ থেকে তিনি হাদীস লিখেছেন, তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এক হাজার আশি জন ব্যক্তির কাছ থেকে লিখেছি, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদীস বিশারদ।"

তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এমন কোনো শিক্ষকের কাছে আসিনি যার আমার থেকে প্রাপ্ত উপকার আমার তাঁর থেকে প্রাপ্ত উপকারের চেয়ে বেশি ছিল না।"

আর যারা তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন তাদের সংখ্যা বিপুল, প্রায় এক লক্ষ বা তার বেশি অথবা কিছু কম। তাঁর মজলিসে বিশ হাজারেরও বেশি লোক উপস্থিত হতো যারা তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করত।

ইমাম বুখারীর প্রতি মানুষের সম্মান প্রদর্শনের বর্ণনা

আর তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা এবং তাঁকে সম্মান প্রদর্শন প্রসঙ্গে ইবনে খুজাইমা বলেছেন: "আকাশের নিচে হাদীস সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং অধিক মুখস্থশক্তির অধিকারী আর কেউ নেই।" (২) ।

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। ফাতহুল বারীর ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৪৮৬) ইবনে হাজার বলেন: আমি বলছি: এখানে বিশ্ববাসী নতি স্বীকার করে... শেষ পর্যন্ত। আরও দেখুন: তাগলীকুত তালীক (৫/৪১৫) ।

(২) দেখুন: আত-তাকয়ীদ (পৃষ্ঠা ৩২) , তাযকিরাতুল হুফফায (২/৫৫৬) , ইবনে হাজার তাঁর তাগলীকুত তালীক (৫/৪১১) গ্রন্থে এবং ফাতহুল বারীর ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৪৮৫) ।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
وقال بعضهم: «هو آية من آيات الله يمشي على وجه الأرض» (1) .

وقال له الإمام مسلم مؤلف الصحيح: «أشهد أنه ليس في الدنيا مثلك» (2) .

وكان مسلم كلما دخل يسلم ويقول: «دعني أقبل رجليك يا طبيب الحديث في علله، ويا أستاذ الأستاذين، ويا سيد المحدثين» (3) .

وقال أبو عيسي الترمذي: «لم أر مثله جعله الله زين هذه الأمة» (4) .

وقال عبد الله بن حماد: «وددت أن لو كنت شعرة في جسد محمد بن إسماعيل» (5) .

وحكي أن أهل بغداد كتبوا إلى البخاري كتاباً يثنون عليه فيه ومن جملته:

--------------------------------------------

(1) الذي قال ذلك رجاء الحافظ، قال الذهبي في السير (12/427) يقول أبو عمرو المستنير بن عتيق سمعت رجاء بن المرجى الحافظ يقول: فضل محمد بن إسماعيل على العلماء كفضل الرجال على النساء، فقال له رجل: يا أبا محمد كل ذلك بمرة، فقال: هو آية من آيات الله يمشي على ظهر الأرض.

ورواه الخطيب في تاريخ بغداد (2/25) من طريق محمد بن أبي حاتم، قال: سمعت أبا عمرو المستنير بن عتيق البكري، قال: سمعت رجاء بن المرجى يقول: … فذكره.

(2) حدث بذلك أبو عيسى الترمذي صاحب السنن المشهورة، ونقله عنه الحافظ ابن حجر. انظر: تغليق التعليق (5/411) ، ومقدمة فتح الباري (ص 485) .

(3) رواه الحاكم في معرفة علوم الحديث (1/113) قال: حدثني أبو نصر أحمد بن محمد الوراق قال سمعت أبا حامد أحمد بن حمدون القصار يقول سمعت مسلم بن الحجاج … فذكره.

ورواه أيضاً: الخطيب البغدادي (13/102) ، وذكره ابن حجر في مقدمة فتح الباري (ص 488) ، وفي تغليق التعليق (5/429) ، وانظر: سير أعلام النبلاء (12/432) ، وابن مفلح في المقصد الأرشد في ذكر أصحاب الإمام أحمد (2/95) ، وتهذيب الأسماء (1/88) .

(4) ذكره الذهبي في السير (12/433) وعبارته: وقال أبو عيسى الترمذي: كان محمد بن إسماعيل عند عبد الله بن منير، فلما قام من عنده قال له: «يا أبا عبد الله جعلك الله زين هذه الأمة» قال الترمذي: استجيب له فيه.

وذكره الحافظ ابن حجر في تهذيب التهذيب (9/45) بعبارة قريبة من هذا ففيه: قال له أبو عيسى الترمذي: «قد جعلك الله زين هذه الأمة يا أبا عبد الله» .

(5) رواه عنه الخطيب في تاريخ بغداد (2/28) ، ونقله عنه الذهبي في السير (12/437) ، والنووي في تهذيب الأسماء (ص 88) .

وانظر: تهذيب الكمال (24/458) ، والتقييد (1/33) ، ومقدمة فتح الباري (ص485) .
এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন, যিনি জমিনের উপর বিচরণ করছেন" (১)।

সহীহ গ্রন্থের সংকলক ইমাম মুসলিম তাকে বলেছিলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পৃথিবীতে আপনার মতো আর কেউ নেই" (২)।

মুসলিম যখনই (তার কাছে) প্রবেশ করতেন, তাকে সালাম দিতেন এবং বলতেন: "হে ইল্লাল (হাদিসের ত্রুটি) নির্ণয়ে হাদিসের চিকিৎসক, হে শিক্ষকদের শিক্ষক এবং হে মুহাদ্দিসদের সরদার! আমাকে আপনার পা দুটিতে চুমু খেতে দিন" (৩)।

আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেছেন: "আমি তার মতো কাউকে দেখিনি; আল্লাহ তাকে এই উম্মতের সৌন্দর্য বানিয়েছেন" (৪)।

আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদ বলেছেন: "আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যে, আমি যদি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের শরীরের একটি চুল হতাম" (৫)।

বর্ণিত আছে যে, বাগদাদবাসীরা বুখারীর নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে তারা তাঁর প্রশংসা করেছিলেন এবং তার সারকথা ছিল:

--------------------------------------------

(১) এ কথাটি বলেছিলেন হাফেজ রাজা; আয-যাহাবি আস-সিয়ার (১২/৪২৭) গ্রন্থে বলেন: আবু আমর আল-মুসতানীর ইবনে আতিক বলেন, আমি হাফেজ রাজা ইবনুল মুরজা-কে বলতে শুনেছি: ওলামাদের ওপর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব। তখন এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল: হে আবু মুহাম্মদ, আপনি কি একবারে এত বড় কথা বলে ফেললেন? তিনি বললেন: তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন, যিনি জমিনের পিঠে বিচরণ করছেন।

আল-খাতিব এটি তারিখু বাগদাদ (২/২৫) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আমর আল-মুসতানীর ইবনে আতিক আল-বাকরীকে বলতে শুনেছি... (অতঃপর উল্লিখিত বর্ণনা)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন প্রসিদ্ধ সুনান গ্রন্থের সংকলক আবু ঈসা আত-তিরমিজি এবং হাফেজ ইবনে হাজার এটি তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন: তাগলিকুত তালীক (৫/৪১১) এবং মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী (পৃ. ৪৮৫)।

(৩) আল-হাকিম মা’রিফাতু উলূমিল হাদীস (১/১১৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে আবু নাসর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হামিদ আহমদ ইবনে হামদুন আল-কাসসারকে বলতে শুনেছি, তিনি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে বলতে শুনেছেন... (অতঃপর উল্লিখিত বর্ণনা)।

খাতিব আল-বাগদাদীও এটি বর্ণনা করেছেন (১৩/১০২), এবং ইবনে হাজার এটি মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী (পৃ. ৪৮৮) ও তাগলিকুত তালীক (৫/৪২৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আরও দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (১২/৪৩২), ইবনে মুফলিহ রচিত আল-মাকসাদুল আরশাদ ফী জিকর আসহাবিল ইমাম আহমদ (২/৯৫) এবং তাহযীবুল আসমা (১/৮৮)।

(৪) আয-যাহাবি আস-সিয়ার (১২/৪৩৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তার ভাষ্য হলো: আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আবদুল্লাহ ইবনে মুনীরের নিকট ছিলেন। যখন তিনি তার নিকট থেকে উঠে দাঁড়ালেন, তখন তিনি (ইবনে মুনীর) তাকে বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে এই উম্মতের সৌন্দর্য বানিয়ে দিন।" তিরমিজি বলেন: তার এই দোয়া কবুল হয়েছে।

হাফেজ ইবনে হাজার তাহযীবুত তাহযীব (৯/৪৫) গ্রন্থে এর কাছাকাছি শব্দে উল্লেখ করেছেন, যাতে আছে: আবু ঈসা আত-তিরমিজি তাকে বলেছেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে এই উম্মতের সৌন্দর্য বানিয়েছেন।"

(৫) আল-খাতিব এটি তারিখু বাগদাদ (২/২৮) গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আয-যাহাবি আস-সিয়ার (১২/৪৩৭) গ্রন্থে ও আন-নববী তাহযীবুল আসমা (পৃ. ৮৮) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

আরও দেখুন: তাহযীবুল কামাল (২৪/৪৫৮), আত-তাকয়ীদ (১/৩৩) এবং মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী (পৃ. ৪৮৫)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
المسلمون بخير ما بقيت لهم … وليس بعدك خير حين تفتقد (1)

قال الحاكم: «ولوفتحنا باب الثناء عليه ممن تأخر عن عصره لفني القرطاس، ونفذت الأنفاس، فذاك بحر لا ساحل له» (2) .

رحلته في طلب الحديث

وأما رحلته لأجل أخذ العلم والحديث من العلماء فقد رحل رحلات واسعات، وكتب عن شيوخ متوافرات، وافية متكاثرات، ونقل عنه أنه قال: «دخلت إلى الشام ومصر والجزيرة وإلى البصرة أربع مرات، وأقمت بالحجاز ستة أعوام، لا أُحصي كم دخلت إلى الكوفة وبغداد مع المحدثين» (3) .

كتابه الصحيح وسبب تأليفه

وأما كتابة الصحيح فليس بعد القرآن كتاب أصح منه، وهو أصح من صحيح مسلم على الصحيح، واسمه «الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه» كذا سماه هو رضي الله عنه.

وروي عنه أنه قال: «صنفت كتاب الصحيح في ستة عشر سنة، وخرجت من ستمائة ألف حديث، وجعلته حجة بيني وبين الله عز وجل» (4) .

وسبب تصنيفه لهذا الكتاب ما نقل عنه أنه قال: «رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام كأني واقف بين يديه وبيدي مروحة أذب بها عنه، فسألت بعض المعبرين فقال: أنت تذب الكذب عن حديثه صلى الله عليه وسلم فهو الذي حملني على إخراج الصحيح» (5) .

ونقل عنه أنه قال: «ما وضعت في كتابي هذا حديثاً إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين» (6) .

--------------------------------------------

(1) رواه الخطيب في تاريخ بغداد (2/22) من طريق يحيى بن عمرو بن صالح الفقيه يقول: سمعت أبا العباس محمد بن عبد الرحمن الفقيه يقول: كتب أهل بغداد إلى محمد بن إسماعيل … فذكره.

وانظر: تهذيب الكمال (24/458) ، والتقييد (1/33) ، ومقدمة فتح الباري لابن حجر (ص485) .

(2) نقله عن الحاكم الحافظ ابن حجر في المقدمة (ص 485) وقال: ذكر ذلك في كتابه الكنى.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء (12/407) .

(4) ذكره النووي في تهذيب الأسماء (ص 91) .

(5) ذكره النووي في تهذيب الأسماء (ص 92) .

(6) رواه عنه الخطيب في تاريخ بغداد (2/9) ،، والمزي في تهذيب الكمال (24/443) ، والذهبي في السير (12/402) ، وانظر: تهذيب التهذيب (9/42) ، (ص 92) ، وطبقات الحفاظ (ص 253) .
মুসলমানরা কল্যাণে থাকবে যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকবেন ... আর আপনার অন্তর্ধানের পর কোনো কল্যাণ নেই (১)

আল-হাকিম বলেন: «যদি আমরা তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসার দ্বার উন্মোচন করি, তবে কাগজ ফুরিয়ে যাবে এবং নিঃশ্বাস শেষ হয়ে যাবে; কারণ তিনি এমন এক সমুদ্র যার কোনো উপকূল নেই» (২) ।

হাদিস অন্বেষণে তাঁর সফর

আর আলেমদের নিকট থেকে ইলম ও হাদিস গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাঁর সফরের কথা বলতে গেলে, তিনি সুদূরপ্রসারী সফর করেছেন এবং অসংখ্য ও অগণিত শাইখের নিকট থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি সিরিয়া, মিশর, আল-জাজিরা এবং বসরায় চারবার প্রবেশ করেছি। হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি। আর মুহাদ্দিসদের সাথে কতবার কুফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি, তা আমি গণনা করতে পারব না» (৩) ।

তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থ এবং এটি সংকলনের কারণ

আর তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থের কথা হলো, কুরআনের পর এর চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো কিতাব নেই। সঠিক মতানুসারে এটি 'সহিহ মুসলিম' থেকেও অধিক বিশুদ্ধ। এর নাম হলো «আল-জামেউল মুসনাদুস সহিহুল মুখতাসারু মিন উমুরি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি» (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কার্যাবলি, তাঁর সুন্নতসমূহ এবং তাঁর দিনলিপি সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত সহিহ মুসনাদ সংকলন)। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই এই নামকরণ করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি ষোলো বছর ধরে 'সহিহ' গ্রন্থটি সংকলন করেছি এবং ছয় লক্ষ হাদিস থেকে এটি চয়ন করেছি। আর একে আমি মহান আল্লাহর কাছে আমার জন্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছি» (৪) ।

এই কিতাবটি সংকলনের কারণ হিসেবে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি; যেন আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার হাতে একটি পাখা রয়েছে যা দিয়ে আমি তাঁর থেকে মাছি তাড়াচ্ছি। আমি একজন স্বপ্ন বিশারদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আপনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিস থেকে মিথ্যাকে দূর করবেন। এটিই আমাকে 'সহিহ' গ্রন্থটি সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে» (৫) ।

তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি আমার এই কিতাবে কোনো হাদিসই অন্তর্ভুক্ত করিনি, যার পূর্বে আমি গোসল করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করিনি» (৬) ।

--------------------------------------------

(১) আল-খতিব এটি 'তারিখে বাগদাদ' (২/২২) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন আমর বিন সালিহ আল-ফকিহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি: বাগদাদবাসী মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট লিখেছিলেন ... অতপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

এবং দেখুন: তাহযিবুল কামাল (২৪/৪৫৮), আত-তাকয়িদ (১/৩৩) এবং ইবনে হাজারকৃত ফাতহুল বারির ভূমিকা (পৃ. ৪৮৫)।

(২) আল-হাফিজ ইবনে হাজার এটি আল-হাকিমের বরাতে 'মুকাদ্দিমা' বা ভূমিকায় (পৃ. ৪৮৫) উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: তিনি এটি তাঁর 'আল-কুনা' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/৪০৭)।

(৪) ইমাম নববী এটি 'তাহযিবুল আসমা' (পৃ. ৯১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৫) ইমাম নববী এটি 'তাহযিবুল আসমা' (পৃ. ৯২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৬) আল-খতিব এটি 'তারিখে বাগদাদ' (২/৯), আল-মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' (২৪/৪৪৩) এবং আয-যাহাবি 'সিয়ার' (১২/৪০২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: তাহযিবুত তাহযিব (৯/৪২), (পৃ. ৯২) এবং তাবাকাতুল হুফফায (পৃ. ২৫৩)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥١)
قيل: كان تصنيفه لهذا الكتاب بمكة المشرفة، والغسل بماء زمزم، والصلاة خلف المقام.

وقيل: كان بالمدينة الشريفة، وترجم أبوابه في الروضة المباركة، وصلى لكل ترجمة ركعتين (1) .

وله تصانيف كثيرة غير الصحيح نقل عنه رضي الله عنه أنه قال: «أقمت بالبصرة خمس سنين مع كتبي، أصنف وأحج في كل سنة، وأرجع من مكة إلى البصرة، قال: وأنا أرجو أن الله يبارك للمسلمين في هذه المصنفات» ولقد بارك الله فيها.

زهده وورعه وفضله

وأما سيرته ومناقبه وشمائله وفضائله وزهده وروعة فكثيرة كلَّت الكتَّاب عن حصرها.

قيل: إنه كان عنده شيء من شعرات النبي صلى الله عليه وسلم فجعله في ملبوسه.

ومن فضائله: أنه قال على سبيل التحدث بالنعمة: «إني لأرجو أن ألقى الله ولا يحاسبني أني اغتبت أحد من هذه الأمة» (2) .

اسمع واتعظ يا من يغتاب الناس ويمزق أعراضهم: «أوحى الله إلى موسى عليه السلام من مات تائباً من الغيبة، فهو آخر من يدخل الجنة، ومن مات مصراً عليها فهو أول من يدخل النار» .

وجاء في الحديث: «من كف لسانه عن أعراض الناس قال الله عثرته يوم القيامة» (3) .

وحكي عن داود الطائي رضي الله عنه أنه مر يوماً بموضع فوقع مغشياً عليه فحل إلى

--------------------------------------------

(1) رواه الخطيب في تاريخ بغداد (2/9) من طريق عبد القدوس بن همام يقول: سمعت عدة من المشايخ يقولون: حول محمد بن إسماعيل البخاري تراجم جامعه بين قبر النبي صلى الله عليه وسلم ومنبره، وكان يصلي لكل ترجمة ركعتين.

(2) رواه عنه المزي في تهذيب الكمال (24/446) ، والحافظ ابن حجر من طريقه في تغليق التعليق (5/397) ، ونقله الذهبي في السير (12/439) . وانظر: مقدمة فتح الباري (ص480) ، وصفة الصفوة (4/171) .

(3) أخرجه القضاعي في مسند الشهاب (1/279، رقم 454) عن أبي هريرة مرفوعاً: بطرف: «من أقال نادماً أقاله الله تعالى عثرته يوم القيامة ومن كف … فذكره» .
বলা হয়েছে: তাঁর এই গ্রন্থ রচনা ছিল মক্কা মোকাররমায়, যমযমের পানি দ্বারা গোসল এবং মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে সালাত আদায় করে।

আরও বলা হয়েছে: এটি মদিনা শরীফে ছিল, এবং তিনি এর পরিচ্ছেদগুলো রওজা মোবারকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন (১)।

সহীহ বুখারী ছাড়াও তাঁর অনেক রচনা রয়েছে। তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আমি আমার কিতাবসমূহসহ বসরায় পাঁচ বছর অবস্থান করেছি, আমি গ্রন্থ রচনা করতাম এবং প্রতি বছর হজ পালন করতাম, আর মক্কা থেকে বসরায় ফিরে আসতাম। তিনি বলেন: আমি আশা করি আল্লাহ যেন এই রচনাগুলোর মাধ্যমে মুসলমানদের বরকত দান করেন» আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাতে বরকত দান করেছেন।

তাঁর দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব

আর তাঁর জীবনী, গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য, মর্যাদা, দুনিয়াবিমুখতা এবং চিন্তার গাম্ভীর্য এত অধিক যে লেখকরা তা গণনা করতে অক্ষম।

বলা হয়ে থাকে: তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুলের কিছু অংশ ছিল যা তিনি তাঁর পোশাকের মধ্যে রেখেছিলেন।

তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব এই যে, তিনি নিয়ামতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বলেছিলেন: «আমি আশা করি যে আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করব যে তিনি আমাকে এই উম্মতের কারো গিবত করার জন্য হিসাব নেবেন না» (২)।

হে ওই ব্যক্তি! যে মানুষের গিবত করো এবং তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করো, শোনো এবং উপদেশ গ্রহণ করো: «আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ করেছেন—যে ব্যক্তি গিবত থেকে তওবা করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হবে। আর যে ব্যক্তি এর ওপর অটল থেকে মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি হবে»।

হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি মানুষের সম্মানের ব্যাপারে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন» (৩)।

দাউদ আত-তাঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একদিন একটি স্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে গেলেন, এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো...

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদি এটি 'তারিখে বাগদাদ' (২/৯) গ্রন্থে আব্দুল কুদ্দুস বিন হাম্মামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কয়েকজন শায়খকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী তাঁর জামে'র (সহীহ বুখারী) পরিচ্ছেদগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর এবং মিম্বরের মাঝখানে বসে লিখেছিলেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন।

(২) এটি তাঁর থেকে আল-মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' (২৪/৪৪৬) গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর সূত্রে 'তাগলীকুত তালীক' (৫/৩৯৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' (১২/৪৩৯) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আরও দেখুন: 'মুকাদ্দিমায়ে ফাতহুল বারী' (পৃ. ৪৮০) এবং 'সিফাতুস সাফওয়াহ' (৪/১৭১)।

(৩) আল-কুদায়ী 'মুসনাদুশ শিহাব' (১/২৭৯, নং ৪৫৪) গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার একটি অংশ হলো: «যে ব্যক্তি অনুতপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন এবং যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে...» এরপর তিনি অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
منزله فلما أفاق سئل عن ذلك فقال: «ذكرت أني اغتبت رجلاً في هذا الموضع، فذكرت مطالبته إياي بين يدي الله تعالى» .

قال بعضهم: «الغيبة فاكهة الفقراء، وضيافة الفساق، وبساتين الملوك، ومراتع النساء، ومزابل الأتقياء» .

وقال حاتم الأصم: «المغتاب والنمام قردا أهل النار، والكذب كلب أهل النار، والحاسد خنزير أهل النار» .

وحكي: أن عيسي عليه السلام رأى إبليس وفي يده عسلاً، وفي الأخرى رماداً، فسأله عن ذلك فقال: العسل أجعله في شفاه المغتابين، والرماد أجعله في وجوه الأيتام، حتى يرمدوا فيستقذرهم الناس فلا يفعلون معهم خيراً.

ومنها: أن والده إسماعيل كان كثير المال، نقل عن والده أنه قال: لا أعلم في مالي درهماً من حرام، ولا درهما من شبهة، فلما مات والده إسماعيل انتقل المال إليه، فكان يعطيه مضاربة، فقطع له غريم خمسة وعشرين ألفاً، فقالوا له: استعن عليه بالوالي، فقال: لن أبيع ديني بدنياي، ثم صالح غريمه على أن يعطيه كل شهر عشرة دراهم، وذهب ذلك المال كله (1) .

وحمل إليه بعض عماله بضاعة وكانت مطلوبة، فجاءت إليه التجار آخر النهار وطلبوها منه بربح خمسة آلاف درهم فردهم، فقال لهم: انصرفوا الليلة، فجاءه من الغد تجاراً آخرون فطلبوا منه البضاعة تربح عشرة آلاف درهم، فردهم وقال: إني نويت البارحة أن أدفع إلى الأولين، فلا أغير نيتي ودفعها إليهم (2) .

ونقل عنه أنه قال: كنت استغل كل شهر خمسمائة درهم فأنفقها في الطلب، وما عند الله خير وأبقى (3) .

ومع كثرة هذا المال كان يأتي عليه نهار لا يأكل فيه، وكان أحياناً يأكل لوزتين أو ثلاثاً، وكان يتصدق بماله على الفقراء.

--------------------------------------------

(1) أورده الحافظ ابن حجر في تغليق التعليق (5/394) حكاية عن محمد بن أبي حاتم وراق الإمام البخاري، وذكره أيضاً في مقدمة فتح الباري (ص 479) .

(2) ذكره ابن حجر في تغليق التعليق (5/395) وعزاه إلى غنجار في تاريخه، وانظر: صفة الصفوة (4/170) .

(3) انظر: تغليق التعليق (5/395) ، ومقدمة فتح الباري (ص 480) .
...তার বাড়ি, এরপর যখন তিনি সুস্থ হলেন তখন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: «আমার মনে পড়ল যে আমি এই স্থানে এক ব্যক্তির গিবত করেছিলাম, ফলে মহান আল্লাহর সামনে তার পাওনা দাবি করার বিষয়টি আমার স্মরণে এল।»

তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: «গিবত হলো অভাবীদের ফল, পাপাচারীদের মেহমানদারি, রাজাদের বাগান, নারীদের বিচরণক্ষেত্র এবং মুত্তাকীদের আবর্জনা ফেলার স্থান।»

হাতেম আল-আসাম বলেন: «গিবতকারী ও চোগলখোর হলো জাহান্নামীদের বানর, মিথ্যা হলো জাহান্নামীদের কুকুর এবং হিংসুক হলো জাহান্নামীদের শূকর।»

বর্ণিত আছে যে: ঈসা আলাইহিস সালাম ইবলিসকে দেখলেন যার এক হাতে মধু এবং অন্য হাতে ছাই ছিল। তিনি তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: মধু আমি গিবতকারীদের ঠোঁটে মেখে দিই, আর ছাই আমি এতিমদের মুখে মেখে দিই যাতে তাদের চোখে রোগ হয় এবং মানুষ তাদের ঘৃণা করে, ফলে তারা তাদের সাথে কোনো ভালো ব্যবহার করবে না।

তার মধ্যে একটি হলো: তাঁর পিতা ইসমাইল প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর পিতা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: আমি আমার সম্পদে একটি দিরহাম হারাম অথবা একটি দিরহাম সন্দেহজনক আছে বলে জানি না। যখন তাঁর পিতা ইসমাইল মারা গেলেন, তখন সেই সম্পদ তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়। তিনি তা মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসায় খাটিয়েছিলেন। এরপর এক ঋণগ্রহীতা তাঁর পঁচিশ হাজার দিরহাম আটকে দিল। লোকেরা তাকে বলল: আপনি তার ব্যাপারে শাসনকর্তার সাহায্য নিন। তিনি বললেন: আমি আমার দ্বীনকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করব না। এরপর তিনি তার ঋণগ্রহীতার সাথে প্রতি মাসে দশ দিরহাম প্রদানের শর্তে আপস করলেন এবং সেই পুরো সম্পদটিই চলে গেল (১)।

তাঁর এক কর্মচারী তাঁর কাছে চাহিদাসম্পন্ন কিছু পণ্য নিয়ে এল। দিনের শেষে ব্যবসায়ীরা এসে পাঁচ হাজার দিরহাম লাভে তা কিনতে চাইল কিন্তু তিনি তাদের ফিরিয়ে দিলেন। তিনি তাদের বললেন: আজ রাতে ফিরে যাও। পরের দিন অন্য ব্যবসায়ীরা এসে দশ হাজার দিরহাম লাভে তা চাইল। তিনি তাদেরও ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন: আমি গতরাতে নিয়ত করেছি যে প্রথম দলকেই তা দেব, তাই আমি আমার নিয়ত বদলাব না। অতঃপর তিনি তাদের কাছেই তা সমর্পণ করলেন (২)।

তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: আমি প্রতি মাসে পাঁচশ দিরহাম আয় করতাম এবং তা ইলম অন্বেষণে ব্যয় করতাম; আর আল্লাহর নিকট যা আছে তা-ই উত্তম ও স্থায়ী (৩)।

এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওপর এমন দিন আসত যখন তিনি কিছুই খেতেন না, কখনও কখনও মাত্র দু-তিনটি কাঠবাদাম খেতেন এবং নিজের সম্পদ দরিদ্রদের দান করে দিতেন।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে হাজার এটি 'তাগলীকুত তালীক' (৫/৩৯৪) গ্রন্থে ইমাম বুখারীর লেখক মুহাম্মদ বিন আবি হাতেম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমাতেও (পৃষ্ঠা ৪৭৯) এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) ইবনে হাজার এটি 'তাগলীকুত তালীক' (৫/৩৯৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং গুঞ্জারের তারিখের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আরও দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ (৪/১৭০)।

(৩) দেখুন: তাগলীকুত তালীক (৫/৩৯৫) এবং ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমা (পৃষ্ঠা ৪৮০)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
طلبه العلم مع سعة ماله رضي الله عنه

وطلبه العلم مع سعة هذا المال نقل عنه أنه قال: ما أشريت من حين ولدت من أحد بدرهم ولا بعت أحداً شيئاً، فسئل عن الورق الذي يكتب فيه والحبر فقال: كنت أوكل أنساناً يشتري لي، فكيف لا يكون ولياً.

زهد البخاري

وقد زهد في الدنيا وآثر غيره على نفسه، وصبر على شدة الجوع مع كثرة ما معه من مال، وكل هذا من علامات الأولياء.

قال إبراهيم بن أدهم لرجل: أتحب أن تكون لله ولياً؟ قال: نعم، قال: لا ترغب في شيء من الدنيا والآخرة، وفرِّغ نفسك لله، وأقبل عليه بوجهك ليقبل عليك ويواليك.

بل كثير من أولياء الله يأتيهم رزقهم من غير تعب ولا تكلف، كما حكي عن عتبة الغلام أنه دعا ربه أن يهب له ثلاث خصال في دار الدنيا، دعا أن يمن عليه بصوت حزين، ودمع غزير، وطعام من غير تكلف، فكان إذا قرأ بكى وأبكى، وكانت دموعه جارية دهره، وكان يأوي إلى منزله فيصيب قوته، ولا يدري من أين يأتيه.

وحكي أن رابعة العدوية كانت تطبخ قدراً فاشتهت بصلاً فجاء طائر في منقاره بصلة فألقاها إليها.

ومنها: أنه (1) وقف يصلي فلسعه زنبور سبع عشرة مرة، ولم يقطع صلاته (2) .

وفاة البخاري وما ظهر من الكرامات عند وفاته

وكانت وفاته (3) رضي الله عنه ليلة السبت ليلة عيد الفطر، سنة ست وخمسين ومائتين، عن

--------------------------------------------

(1) الكلام على البخاري رضي الله عنه.

(2) رواه الخطيب البغدادي في تاريخ بغداد (2/12) عن أبي سعيد بكر بن منير يقول: كان محمد بن إسماعيل يصلي ذات يوم فلسعه الزنبور سبع عشرة مرة، فلما قضى صلاته قال: انظروا أي شيء هذا الذي آذاني في صلاتي؟ فنظروا فإذا الزنبور قد ورمه في سبعة عشر موضعاً، ولم يقطع صلاته.

ورواه المزي في تهذيب الكمال (24/446) ، وانظر: تهذيب التهذيب (9/43) ، وتغليق التعليق (5/398) ، ومقدمة فتح الباري (ص 480) ، وسير أعلام النبلاء (12/441) .

(3) وفي سبب وفاته قال ابن حجر في تغليق التعليق (5/441) : قال محمد بن أبي حاتم وراق البخاري سمعت أبا منصور غالب بن جبريل وهو الذي نزل عليه البخاري بخرتنك يقول: أنه أقام أياماً فمرض، واشتد به المرض، حتى وجه إليه رسول من سمرقند ليخرج، فلما وافى تهيأ للركوب، ولبس خفيه وتعمم، فلما مشى قدر عشرين خطوة أو نحوها، وأنا آخذ بعضده، ورجل آخر معي يقوده إلى الدآبة ليركبها فقال رحمه الله: أرسلوني فقد ضعفت، فدعا بدعوات ثم اضطجع، فقبض فسال منه عرق كثير، وكان أوصى أن يكفن في ثلاثة أثواب ليس فيها قميص ولا عمامة، قال: ففعلنا فلما دفناه فاح من تراب قبره رائحة طيبة كالمسك ودامت أياما وجعل الناس يختلفون إلى القبر أياماً يأخذون من ترابه إلى أن جعلنا عليه خشباً مشبكاً.

وانظر: سير أعلام النبلاء (12/466، 467) .
বিপুল সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ইলম অর্জন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

বিপুল সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ইলম অন্বেষণ সম্পর্কে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি যখন থেকে জন্মগ্রহণ করেছি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে এক দিরহামের বিনিময়ে কিছু ক্রয় করিনি এবং কারও কাছে কিছু বিক্রয়ও করিনি।" তাঁকে যখন কাগজ ও কালি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা দিয়ে তিনি লিখতেন, তখন তিনি বললেন: "আমি আমার জন্য ক্রয় করতে একজনকে নিযুক্ত করতাম।" সুতরাং তিনি কেন আল্লাহর ওলী হবেন না!

বুখারীর যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)

তিনি দুনিয়ার প্রতি নির্লিপ্ত ছিলেন এবং নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিতেন। প্রচুর সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি তীব্র ক্ষুধা সহ্য করতেন; আর এ সবই হলো ওলীদের আলামত।

ইবরাহিম বিন আদহাম এক ব্যক্তিকে বললেন: "তুমি কি আল্লাহর ওলী হতে চাও?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো কিছুর প্রতি লোভ কোরো না, নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করো এবং তোমার চেহারাকে তাঁর দিকে নিবদ্ধ করো, যাতে তিনি তোমার দিকে নিবদ্ধ হন এবং তোমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।"

বরং আল্লাহর অনেক ওলীর কাছেই তাদের রিযিক কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট ছাড়াই পৌঁছে যায়। যেমনটি উতবাহ আল-গুলাম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর রবের কাছে দোয়া করেছিলেন যেন তাঁকে দুনিয়াতে তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়: তিনি দোয়া করেছিলেন যেন তাঁকে একটি করুণ সুর, প্রচুর অশ্রু এবং কোনো কষ্ট ছাড়া খাবার দান করা হয়। ফলে তিনি যখন তিলাওয়াত করতেন, নিজে কাঁদতেন এবং অন্যদের কাঁদাতেন; তাঁর অশ্রু সারাজীবন প্রবাহিত হতো। তিনি যখন তাঁর ঘরে ফিরতেন, তখন তাঁর খাবার পেয়ে যেতেন এবং তিনি জানতেন না যে তা কোথা থেকে এসেছে।

বর্ণিত আছে যে, রাবেয়া আল-আদাবিয়্যাহ একটি পাতিলে রান্না করছিলেন, তখন তাঁর একটি পেঁয়াজের প্রয়োজন হলো। এমতাবস্থায় একটি পাখি তার ঠোঁটে একটি পেঁয়াজ নিয়ে এসে তাঁর কাছে ফেলে দিল।

তাঁর অন্যতম কারামত হলো: তিনি (১) নামাজ পড়তে দাঁড়িয়েছিলেন এমতাবস্থায় একটি ভীমরুল তাঁকে সতেরো বার দংশন করেছিল, কিন্তু তিনি তাঁর নামাজ ত্যাগ করেননি (২)।

বুখারীর ইন্তেকাল এবং তাঁর ইন্তেকালের সময় প্রকাশিত কারামতসমূহ

তাঁর ইন্তেকাল (৩) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হয়েছিল ঈদুল ফিতরের রাতে শনিবার দিবাগত রাতে, দুইশ ছাপ্পান্ন হিজরীতে...

--------------------------------------------

(১) এখানে আলোচনা ইমাম বুখারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে।

(২) খতীব বাগদাদী এটি 'তারিখে বাগদাদ' (২/১২) গ্রন্থে আবু সাঈদ বকর বিন মুনির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল একদিন নামাজ পড়ছিলেন, তখন ভীমরুল তাঁকে সতেরো বার দংশন করল। নামাজ শেষ করার পর তিনি বললেন: "দেখো তো, নামাজের মধ্যে কোন জিনিসটি আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল?" তারা তাকিয়ে দেখল যে, ভীমরুল তাঁকে সতেরোটি স্থানে দংশন করে ফুলিয়ে দিয়েছে, অথচ তিনি নামাজ ত্যাগ করেননি।

আল-মিযযী এটি 'তাহযীবুল কামাল' (২৪/৪৪৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: 'তাহযীবুত তাহযীব' (৯/৪৩), 'তাগলীকুত তা'লীক' (৫/৩৯৮), 'মুকাদ্দিমাহ ফাতহুল বারী' (পৃ. ৪৮০), এবং 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' (১২/৪৪১)।

(৩) তাঁর ইন্তেকালের কারণ সম্পর্কে ইবনে হাজার 'তাগলীকুত তা'লীক' (৫/৪৪১) গ্রন্থে বলেন: বুখারীর লেখক মুহাম্মদ বিন আবি হাতিম বলেন, আমি আবু মনসুর গালিব বিন জিবরীলকে—যাঁর কাছে বুখারী খারতাঙ্কে অবস্থান করেছিলেন—বলতে শুনেছি যে: তিনি সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অসুস্থতা তীব্র হলে সমরখন্দ থেকে তাঁর নিকট একজন দূত পাঠানো হলো বের হওয়ার জন্য। যখন তিনি প্রস্তুত হলেন, তিনি সফরের জন্য প্রস্তুতি নিলেন, তাঁর মোজা পরিধান করলেন এবং পাগড়ি বাঁধলেন। এরপর তিনি যখন প্রায় বিশ কদম বা তার কাছাকাছি হাঁটলেন—আমি তাঁর হাত ধরেছিলাম এবং অন্য একজন ব্যক্তি তাঁকে সওয়ারীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিল—তখন তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: "আমাকে ছেড়ে দাও, আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি।" এরপর তিনি কিছু দোয়া করলেন এবং শুয়ে পড়লেন। অতঃপর তাঁর জান কবজ করা হলো এবং তাঁর শরীর থেকে প্রচুর ঘাম নির্গত হলো। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁকে তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়, যাতে জামা বা পাগড়ি না থাকে। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাই করলাম। যখন আমরা তাঁকে দাফন করলাম, তাঁর কবরের মাটি থেকে কস্তুরীর মতো সুগন্ধি বের হতে লাগল এবং তা কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। মানুষ কয়েক দিন ধরে কবরের কাছে আসা-যাওয়া করতে লাগল এবং কবরের মাটি নিতে লাগল, যতক্ষণ না আমরা কবরের ওপর কাঠের বেড়া দিয়ে দিলাম।

আরও দেখুন: 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' (১২/৪৬৬, ৪৬৭)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
اثنين وستين سنة إلا ثلاثة عشر يوماً وصفته: أنه كان نحيف الجسم، ليس بالطويل ولا بالقصير وحق أن ينشد فيه.

تراه من الذكاء نحيف الجسم … عليه من توقده دليل

إذا كان الفتى ضخم المعالي

… فليس يضيره الجسد الضئيل (1)

ولما دفن فاح من تراب قبره رائحة طيبة كالمسك، وكان الناس تأتي إلى قبره يأخذون التراب منه للتبرك به ولشمه، حتى ظهرت الحفرة للناس، ولم يكن يقدر على حفظ القبر بالحراس فنصبوا على القبر أخشاباً مشبكة منعوا الناس بها من الوصول إلى قبره، فكانت الناس تأخذ التراب والحصيات من حوالي القبر، دامت تلك الرائحة أياماً كثيرة، حتى توارت وشاعت في جميع تلك البلاد، ولا يبعد أن تكون هذه الرائحة رائحة صيامه الذي صامه في الحياة وأخفاه عن الناس، فأظهره الله لهم بعد موته، إظهاراً لفضله وعظيم منزلته عنده.

قال العلامة ابن رجب في «اللطائف» : ريح الصائم أطيب عند الله من ريح المسك فكلما اجتهد صاحبه على إخفائه فاح ريحه، ثم قال: لما دفن عبد الله بن غالب كان يفوح من تراب قبره رائحة المسك، فرؤي في النوم فسئل عن تلك الرائحة التي توجد من قبره؟ فقال: تلك رائحة التلاوة والظمأ، ولله در من قال:

وكاتم الحب يوم البين منهتك … وصاحب الوجد لا تخفى سرائره (2)

لم ينم الصادقون أحوالهم، وريح الصدق ينم عليهم، ما أسر أحد سريرة إلا ألبسه

--------------------------------------------

(1) البيتان من بحر «الوافر» ، أنشدهما الشيخ أبو إسحاق الشيرازي. انظر: معجم السفر لأبي طاهر أحمد بن محمد السلفي (ص 124) .

(2) البيت للمتنبي. انظر: المدهش لأبي الفرج بن الجوزي (ص 441) .
বাষট্টি বছর পূর্ণ হতে কেবল তেরো দিন বাকি ছিল। তাঁর শারীরিক বর্ণনা: তিনি ক্ষীণকায় ছিলেন, খুব দীর্ঘও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তাঁর সম্পর্কে নিম্নোক্ত পঙ্‌ক্তিগুলো উচ্চারণ করা যথার্থ:

প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে তুমি তাঁকে ক্ষীণকায় দেখবে … তাঁর প্রজ্জ্বলিত প্রতিভা এর প্রমাণ।

যদি কোনো যুবক সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয় … তবে তাঁর কৃশ দেহ তাঁর কোনো ক্ষতি করে না (১)।

যখন তাঁকে দাফন করা হলো, তাঁর কবরের মাটি থেকে কস্তুরীর মতো সুঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হতে লাগল। মানুষ তাঁর কবরের কাছে আসত এবং বরকত লাভের উদ্দেশ্যে ও ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য কবরের মাটি নিয়ে যেত, এমনকি কবরে গর্তের সৃষ্টি হলো। পাহারাদার দিয়েও কবর রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই তারা কবরের ওপর কাঠের বেড়া দিয়ে দিল যাতে মানুষ কবরের নাগাল না পায়। তখন মানুষ কবরের চারপাশ থেকে মাটি ও কণা সংগ্রহ করত। সেই সুঘ্রাণ দীর্ঘ দিন স্থায়ী ছিল এবং সমস্ত জনপদে তা ছড়িয়ে পড়েছিল। এটা অসম্ভব নয় যে, এই সুঘ্রাণ ছিল তাঁর সেই সিয়াম বা রোজার সুঘ্রাণ যা তিনি জীবদ্দশায় পালন করেছিলেন এবং মানুষের কাছে গোপন রেখেছিলেন; আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যুর পর তা প্রকাশ করে দিয়েছেন, আল্লাহর নিকট তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহান মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।

আল্লামা ইবনে রজব ‘আল-লাতায়েফ’ গ্রন্থে বলেছেন: রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। রোজাদার ব্যক্তি তা যত বেশি গোপন করার চেষ্টা করে, সেই ঘ্রাণ তত বেশি বিচ্ছুরিত হয়। এরপর তিনি বলেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে গালিবকে দাফন করা হলো, তখন তাঁর কবরের মাটি থেকে কস্তুরীর সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তাঁকে স্বপ্নে দেখা হলে কবরের সেই ঘ্রাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: তা হলো তিলাওয়াত ও তৃষ্ণার (রোজার) সুঘ্রাণ। কতই না চমৎকার বলেছেন সেই কবি:

বিচ্ছেদের দিনে ভালোবাসার গোপনকারী প্রকাশ পেয়ে যায় … আর প্রেমিকের গোপন রহস্য কখনো চাপা থাকে না (২)।

সত্যবাদীরা তাঁদের অবস্থাকে গোপন রাখেন না (বরং তা প্রকাশ হয়ে পড়ে), সত্যের সুঘ্রাণ তাঁদের পরিচয় জানিয়ে দেয়। কেউ কোনো বিষয় গোপন রাখলে আল্লাহ তাকে সেই চাদরই পরিধান করিয়ে দেন...

--------------------------------------------

(১) পঙ্‌ক্তি দুটি ‘ওয়াফির’ ছন্দের, যা শেখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি পাঠ করেছেন। দেখুন: আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-সিলাফি রচিত ‘মুজামুস সাফার’ (পৃষ্ঠা ১২৪)।

(২) কবিতাটি মুতানাব্বির। দেখুন: আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি রচিত ‘আল-মুদহিশ’ (পৃষ্ঠা ৪৪১)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
الله رداءها علانية، وما أحسن قول القائل:

كم أكتم حبكم عن الأغياري … والدمع يذيع في الهوى أسراري

كم أستركم هتكتموا أستاري

… من يخفي في الهوى لهيب النار

وقيل: إن بعض العلماء رأي ليلة موته (1) النبي صلى الله عليه وسلم في النوم، ومعه جماعة من أصحابه، وهو واقف في موضع قال: فسلمت عليه، وقلت: يا رسول الله ما وقوفك هاهنا قال: انتظر محمد بن إسماعيل.

ونقل عن الفربري أنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقال لي: أين تريد؟ فقلت: أريد محمد بن إسماعيل البخاري، فقال: اقرأه مني السلام (2) .

وقال أبو زيد المروزي الفقيه: كنت نائماً بين الركن والمقام، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام: فقال: يا أبا زيد إلى متي تدرس الفقه ولا تدرس كتابي؟ فقلت: يا رسول الله وما كتابك؟ فقال: جامع ابن إسماعيل (3) .

وقال الإمام القدوة أبو محمد بن أبي جمرة المالكي نفعنا الله ببركاته: قال لي من لقيته من العارفين عن من لقي من السادة المقر لهم بالفضل: أن صحيح البخاري ما قريء في شدة إلا فرجت، ولا رُكب به في مركب فغرق (4) .

وحكي: أنه قريء مرة في حمص لرفع البلاء فرفعه الله.

وجملة ما في صحيح البخاري من الأحاديث مع المكرر سبعة ألاف ومائتان وخمس وسبعون حديثاً كما جزم به ابن الصلاح، وبإسقاط المكرر أربعة آلاف حديث (5) على

--------------------------------------------

(1) الكلام على الإمام البخاري.

(2) رواه الخطيب في تاريخ بغداد (2/10) بسنده عن أحمد محمد بن محمد بن مكي الجرجاني يقول: سمعت محمد بن يوسف الفربري يقول: … فذكره، وكذا المزي في تهذيب الكمال (24/445) ، وانظر: تغليق التعليق (5/422) ، ومقدمة فتح الباري (ص 489) ، وسير أعلام النبلاء (12/443) ، تهذيب الأسماء (ص 86) .

(3) رواه الرافعي في التدوين في أخبار قزوين (2/46) وفيه: «إلى متى تدرس كتاب الشافعي ولا تدرس كتابي … » ، وأورده ابن حجر في تغليق التعليق (5/422) وقال الحافظ ابن حجر عقبه: قلت: «إسناد هذه الحكاية صحيح ورواتها ثقات أئمة، وأبو زيد من كبار الشافعية، له وجه في المذهب، وقد سمع صحيح البخاري من الفربري، وحدث به عنه، وهو أجل من حدث به عن الفربري» . وانظر: مقدمة فتح الباري (ص 489) ، وتهذيب الأسماء (ص 92) .

(4) ذكره الحافظ السيوطي في تدريب الراوي (1/96) .

(5) انظر: تدريب الراوي (1/104) .
আল্লাহ এর চাদরটি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন, আর কতই না সুন্দর এই উক্তিটি:

কতকাল আমি অন্যদের কাছে তোমাদের ভালোবাসা লুকিয়ে রাখব … অথচ অশ্রুজল অনুরাগের মাঝে আমার গোপন কথাগুলো ফাঁস করে দিচ্ছে।

কতকাল আমি তোমাদের আবৃত রাখব অথচ তোমরা আমার আবরণ উন্মোচন করে দিলে

… অনুরাগের মাঝে আগুনের শিখাকে কে আর গোপন রাখতে পারে?

বলা হয়ে থাকে যে, জনৈক আলেম তাঁর মৃত্যুর রাতে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন। তাঁর সাথে একদল সাহাবী ছিলেন এবং তিনি এক স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি (আলেম) বলেন: আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এখানে কেন দাঁড়িয়ে আছেন? তিনি বললেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের অপেক্ষা করছি।

ফিরাবরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন: তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ? আমি বললাম: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারীর নিকট যেতে চাচ্ছি। তখন তিনি বললেন: তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দাও।

ফকিহ আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী বলেন: আমি রুকন ও মাকামের মাঝখানে ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। তিনি বললেন: হে আবু যায়েদ, কতকাল তুমি ফিকহ পড়বে অথচ আমার কিতাব পড়বে না? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কিতাব কোনটি? তিনি বললেন: ইবনে ইসমাইলের সংকলন (জামে)।

ইমাম ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মদ ইবনে আবু জামরা আল-মালিকী—আল্লাহ আমাদের তাঁর বরকত দিয়ে ধন্য করুন—বলেন: আমি যাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এমন কতিপয় আরেফ ব্যক্তি আমাকে সেই সব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সূত্রে বলেছেন যাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনস্বীকৃত: সহীহ বুখারী কোনো কঠিন বিপদের সময় পাঠ করা হলে তা দূর হয়ে যায়, আর কোনো জাহাজে নিয়ে আরোহণ করলে তা ডুবে যায় না।

বর্ণিত আছে যে: একবার হিমস শহরে বালা-মুসিবত দূর করার জন্য এটি পাঠ করা হয়েছিল এবং আল্লাহ তা দূর করে দিয়েছিলেন।

সহীহ বুখারীতে পুনরাবৃত্তিসহ মোট হাদিসের সংখ্যা হলো সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি, যেমনটি ইবনে সালাহ নিশ্চিতভাবে বলেছেন। আর পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে হাদিস সংখ্যা চার হাজার।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারীর ওপর আলোচনা।

(২) খতিব বাগদাদী এটি তাঁর 'তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থে (২/১০) বর্ণনা করেছেন। তিনি আহমদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাক্কী আল-জুরজানী থেকে তাঁর সনদে বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরীকে বলতে শুনেছি... এরপর তিনি তা উল্লেখ করেন। একইভাবে মিযযী 'তাজহিবুল কামাল' গ্রন্থে (২৪/৪৪৫) এটি উল্লেখ করেছেন। আরও দেখুন: 'তাগলীকুত তালীক' (৫/৪২২), 'ফাতহুল বারী'র ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৪৮৯), 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১২/৪৪৩), এবং 'তাজহিবুল আসমা' (পৃষ্ঠা ৮৬)।

(৩) রাফেয়ী এটি 'আত-তাদউইন ফি আখবারে কাযউইন' গ্রন্থে (২/৪৬) বর্ণনা করেছেন, সেখানে উল্লেখ আছে: «কতকাল তুমি শাফেয়ীর কিতাব পড়বে অথচ আমার কিতাব পড়বে না...»। হাফেজ ইবনে হাজার 'তাগলীকুত তালীক' গ্রন্থে (৫/৪২২) এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর পরে বলেছেন: «এই কাহিনীর সনদ সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ইমাম। আবু যায়েদ ছিলেন শাফেয়ী মাজহাবের একজন বড় ইমাম, মাজহাবের বিষয়ে তাঁর নিজস্ব অভিমত (ওয়াজহ) ছিল। তিনি ফিরাবরী থেকে সহীহ বুখারী শুনেছেন এবং তাঁর সূত্রে তা বর্ণনা করেছেন। ফিরাবরী থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।» আরও দেখুন: 'ফাতহুল বারী'র ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৪৮৯) এবং 'তাজহিবুল আসমা' (পৃষ্ঠা ৯২)।

(৪) হাফেজ সুয়ূতী এটি 'তাদরিবুর রাবী' গ্রন্থে (১/৯৬) উল্লেখ করেছেন।

(৫) দেখুন: 'তাদরিবুর রাবী' (১/১০৪)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٦)
ما قيل (1) .

ومن شعره رضي الله عنه وأرضاه:

اغتنم في الفراغ فضل الركوع … فعسي أن يكون موتك بغتة

كم صحيح رأيت من غير سقم … ذهبت نفسه صحيحة فلتنه (2)

وكم له من الكرامات رضي الله عنه، رفع الله ذكره الشريف وقد فعل، وجعل له لسان صدق في الآخرين وقد جعل.

* * *

--------------------------------------------

(1) قال سراج الدين الأنصاري في المقنع (1/64) : إلا أن هذه العبارة-يقصد عدد ما في صحيح البخاري- قد تندرج تحتها عندهم آثار الصحابة والتابعين وربما عد الحديث المروي بإسنادين حديثين.

قلت: ولذا قال المصنف: على ما قيل.

(2) ذكرهما ابن حجر في تغليق التعليق (5/400) ، ومقدمة فتح الباري (ص 481) .
যা বলা হয়েছে (১)।

তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) কবিতা থেকে কিছু অংশ:

অবসর সময়ে রুকুর ফযিলতকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করো … কেননা হতে পারে তোমার মৃত্যু হবে আকস্মিক

কত সুস্থ ব্যক্তিকে আমি দেখেছি কোনো ব্যাধি ছাড়াই … সুস্থ থাকা অবস্থাতেই তার প্রাণ চলে গিয়েছে (২)

তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কতই না কারামত রয়েছে! আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত মর্যাদাকে উচ্চকিত করুন এবং তিনি তা করেছেনও; আর পরবর্তীদের মাঝে তাঁর সুখ্যাতি দান করুন এবং তিনি তা করেছেনও।

* * *

--------------------------------------------

(১) সিরাজুদ্দীন আনসারী 'আল-মুকনি' (১/৬৪) গ্রন্থে বলেছেন: তবে এই কথাটি—তিনি সহীহ বুখারীর হাদিস সংখ্যা উদ্দেশ্য করেছেন—তাদের নিকট সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসারসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, আর সম্ভবত দুই সনদে বর্ণিত একটি হাদিসকে দুটি হাদিস হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আমি বলছি: এই কারণেই লেখক বলেছেন: 'যেমনটি বলা হয়েছে'।

(২) ইবনে হাজার 'তাগলিকুত তায়লিক' (৫/৪০০) এবং 'মুকাদ্দিমাতু ফাতহুল বারী' (পৃ. ৪৮১)-তে এ দুটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٧)
كتاب بدء الوحي

«قال الشيخ الحافظ الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله تعالى: بسم الله الرحمن الرحيم» .

قال العلماء (1) : «بسم الله» جار ومجرور متعلق بمحذوف اتفاقاً، قدره بعضهم فعلاً نظراً إلى أن الأصل في العمل الأفعال، وقدره بعضهم مصدراً مرفوعاً على الابتدا نظراً إلى أن المقام مقام الابتدا، والتقدير على الأول: «بسم الله ابتدئ» وعلى الثاني: «ابتدائي ببسم الله ثابت» فحذف المبتدأ وخبره، وبقي معمول المبتدأ والتقدير الأول أولى، لأن المصدر لا يعمل محذوفاً.

ولو قيل: إن «بسم الله» متعلق بالاستقرار على أنه في موضع الخبر لمبتدأ محذوف: والتقدير: «ابتدائي مستقر ببسم الله» لم يبعد وسلم من دعوى عمل المصدر في حالة حذفه، قاله في بعض المحققين، وقال: إنه لم يره مسطوراً.

ويقدر متعلق «بسم الله» في كل موضع بحسبه، فإن جعلت «بسم الله» للأكل، قدرت: بسم الله آكل أو أكلي، أو للشرب قدرت: بسم الله أشرب أو شربي، وما أشبه.

فالحاصل أن متعلق «بسم الله» إما «أبتدي» أو «ابتدائي» ، ويسمي «المجرور» حنيئذ «بالظرف اللغو» ، وإما أن يكون المتعلق الاستقرار ويسمي «بالظرف المستقر» ، والفرق بين الظرف اللغو والمستقر: أن الظرف اللغو ما كان عامله خاصاً كالابتداء ونحوه، والمستقر: ما كان عامله عاماً كالاستقراء ونحوه.

وإضافة «اسم» إلى «الله» قيل: من إضافه العام إلى الخاص «كخاتم حديد» .

وقيل: المضاف هنا مقتحم جيء به لإرشاد حسن الأداء.

وقيل: الاسم هنا بمعني التسمية.

وقيل: في الكلام حذف مضاف تقديره: باسم مسمى الله، «والله» علم على الذات المعبود بحق، وتفخم لامه وجوباً إذا ضم ما قبله، قال ابن الجزري:

وفخم اللام من اسم الله … عن فتح أو ضم كعبد الله

و «الرحمن» على وزن فعلان مشتق من «رحم» بالكسر، «كغضبان» من غضب، وهو صفة مشبهة.

فإن قيل: كيف يأتي من «رحم» بالكسر وهو متعدد، وهي لا تأتي إلا من فعل لازم؟

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل ذلك أيضاً في التبيان في إعراب القرآن (1/1) .
ওহীর সূচনা অধ্যায়

«শায়খ, হাফিয, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি»।

উলামায়ে কেরাম বলেছেন (১): «বিসমিল্লাহ» শব্দটি জার ও মাজরুর, যা সর্বসম্মতিক্রমে একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেউ কেউ একে ‘ক্রিয়া’ হিসেবে অনুমান করেছেন এই বিবেচনায় যে, আমল বা ক্রিয়াশীলতার মূল ভিত্তি হলো ক্রিয়া। আবার কেউ কেউ একে ‘মুবতাদা’ হিসেবে পেশকৃত ‘মাসদার’ (ক্রিয়ামূল) হিসেবে অনুমান করেছেন এই বিবেচনায় যে, এটি একটি প্রারম্ভিক ক্ষেত্র। প্রথম মতানুযায়ী অনুমান হবে: «আল্লাহর নামে আমি শুরু করছি»; আর দ্বিতীয় মতানুযায়ী অনুমান হবে: «আল্লাহর নামের সাথে আমার শুরু করা সাব্যস্ত»। এখানে মুবতাদা ও তার খবর উহ্য রাখা হয়েছে এবং মুবতাদার সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটি রয়ে গেছে। তবে প্রথম অনুমানটিই অধিক উত্তম, কারণ মাসদার উহ্য থাকা অবস্থায় আমল করে না।

যদি বলা হয় যে, «বিসমিল্লাহ» শব্দটি ‘ইস্তিকরার’ (স্থায়িত্ব)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর হিসেবে আছে—যার অনুমান হবে: «আমার আরম্ভ করা আল্লাহর নামের মাধ্যমে স্থির বা প্রতিষ্ঠিত»—তবে তা দূরবর্তী হবে না এবং মাসদার উহ্য থাকা অবস্থায় আমল করার দাবি থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। কোনো কোনো গবেষক এটি বলেছেন এবং তিনি এ-ও বলেছেন যে, তিনি এটি কোথাও লিখিত দেখেননি।

«বিসমিল্লাহ»-এর সংশ্লিষ্ট শব্দটিকে প্রত্যেক ক্ষেত্রে তার প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী অনুমান করতে হবে। যদি আপনি খাওয়ার সময় «বিসমিল্লাহ» বলেন, তবে অনুমান হবে: ‘আল্লাহর নামে আমি খাচ্ছি’ বা ‘আমার খাওয়া আল্লাহর নামে’। আর যদি পান করার সময় বলেন, তবে অনুমান হবে: ‘আল্লাহর নামে আমি পান করছি’ বা ‘আমার পান করা আল্লাহর নামে’ এবং অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

সারকথা হলো, «বিসমিল্লাহ»-এর সংশ্লিষ্ট শব্দটি হয় «আমি শুরু করছি» অথবা «আমার শুরু করা»; এমতাবস্থায় ‘মাজরুর’ শব্দটিকে বলা হবে «যারফে লাগভ» (অপ্রয়োজনীয় ظرف)। অথবা সংশ্লিষ্ট শব্দটি হবে ‘ইস্তিকরার’ (স্থায়িত্ব), তখন একে বলা হবে «যারফে মুস্তাকার» (স্থায়ী ظرف)। যারফে লাগভ ও মুস্তাকারের মধ্যে পার্থক্য হলো: যারফে লাগভ-এর আমেল (ক্রিয়াশীল শব্দ) হয় বিশেষ, যেমন ‘শুরু করা’ ইত্যাদি; আর মুস্তাকার-এর আমেল হয় সাধারণ, যেমন ‘স্থির হওয়া’ বা ‘বিদ্যমান থাকা’ ইত্যাদি।

«ইসম» (নাম) শব্দটিকে «আল্লাহ» শব্দের দিকে ইযাফত (সম্বন্ধ) করার বিষয়ে বলা হয়েছে যে, এটি সাধারণকে বিশেষের দিকে সম্বন্ধ করা, যেমন ‘লোহার আংটি’।

আবার বলা হয়েছে যে, এখানে মুদাফ (সম্বন্ধিত শব্দ)টি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে যা কেবল শ্রুতিমাধুর্য ও সুন্দর উপস্থাপনার জন্য আনা হয়েছে।

কারো মতে, এখানে ‘ইসম’ শব্দটি ‘তাসমিয়াহ’ বা নামতকরণের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আবার কারো মতে, এখানে একটি মুদাফ উহ্য আছে যার অনুমান হলো: ‘আল্লাহ নামক সত্তার নামে’। আর «আল্লাহ» শব্দটি সেই সত্তার নাম যার ইবাদত করা সত্য। এই শব্দের ‘লাম’ অক্ষরটিকে মোটা করে পড়া ওয়াজিব যখন তার পূর্বের হরফে পেশ থাকে। ইবনুল জাযারি বলেন:

আর আল্লাহর নামের লাম-কে মোটা করে পড়ো … যবর বা পেশের পর থেকে, যেমন: ‘আব্দুল্লাহ’।

আর «আর-রাহমান» শব্দটি ‘ফা’লান’ ওজনে, যা ‘রাহিমা’ (জের যোগে) থেকে নির্গত—যেমন ‘গাদিব’ থেকে ‘গাদবান’—এটি একটি সিফাতে মুশাব্বাহ (স্থায়ী গুণবাচক শব্দ)।

যদি প্রশ্ন করা হয়: ‘রাহিমা’ (জের যোগে) থেকে এটি কীভাবে আসতে পারে যখন এটি একটি সকর্মক ক্রিয়া, আর এই ওজনটি কেবল অকর্মক ক্রিয়া থেকে আসে?

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনার জন্য আরও দেখুন: ‘আত-তিবইয়ান ফি ইরাবিল কুরআন’ (১/১)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
أجيب عنه: بأنها بنيت من «رحم» بالكسر بعد النقل إلى فعل بالضم، أو بعد تنزيل المتعدي منزلة الفعل اللازم، كما في قولك: «فلان يعطي» .

وههنا سؤال وهو: إن قيل: «الرحمن والرحيم» صفتان مشتقتان من الرحمة، والرحمة: رقة القلب، وهي في حق الله محال تعالى سبحانه عن أن يكون له قلب أو نحوه من صفات الأجسام؟

والجواب عنه: أن أسماء الله تؤخذ باعتبار الغايات، فإذا وصف الله بأمر ولم يصح وصفه به، يحمل على غاية ذلك، وهذه قاعدة في كل مقام، وغاية رقة القلب التفضل والإحسان فهو المراد هنا.

وابتدأ البخاري -رحمه الله تعالى- كتابه «ببسم الله الرحمن الرحيم» اقتداء بالقرآن الكريم العظيم، وعملاً بقول النبي صلى الله عليه وسلم «كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر» (1)

أي: ذاهب البركة، رواه الخطيب بهذا اللفظ في كتابه الجامع،

--------------------------------------------

(1) ذكره النووي بهذا اللفظ في شرحه على صحيح مسلم (1/43) وعزاه إلى عبد القادر الرهاوي في كتابه «الأربعين» ، وكذا الحافظ السيوطي في الجامع الصغير انظر: فيض القدير (5/14) ، قال المناوي: ورواه كذلك الخطيب في تاريخه عن أبي هريرة.

قلت: ولم أقف عليه في تاريخ بغداد، وإنما أورده الخطيب بدون إسناد في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (2/69، رقم 1209) وقد أشار السفيري -المصنف- إلى ذلك.

وقد عدد النووي في شرحه على مسلم (1/43) الروايات في هذا الحديث فقال: «كل أمر ذي بال لا يبدأ بالحمد لله فهو أقطع» ، وفي رواية: «بحمد الله» ، وفي رواية: «بالحمد فهو أقطع» ، وفي رواية: «أجذم» ، وفي رواية: «لا يبدأ فيه بذكر الله» ، وفي رواية: «ببسم الله الرحمن الرحيم» وقال: روينا كل هذه في كتاب الأربعين للحافظ عبد القادر الرهاوي سماعاًٍ من صاحبه الشيخ أبي محمد عبد الرحمن بن سالم الإنباري عنه، وروينا فيه أيضاً من رواية كعب بن مالك الصحابي رضي الله عنه والمشهور رواية أبي هريرة.

وهذا الحديث حسن، وروي موصولاً ومرسلاً، ورواية الموصول إسنادها جيد، ومعنى: «أقطع» : قليل البركة، وكذلك «أجذم» بالجيم والذال المعجمة ويقال منه: «جذم» بكسر الذال «يجذم» بفتحها.

والحديث حسنه برواياته العجلوني في كشف الخفاء (2/156) .

إلا أن الحافظ ابن حجر في فتح الباري (8/220) قال: الرواية المشهورة فيه بلفظ: «حمد الله» وما عدا ذلك من الألفاظ التي ذكرها النووي وردت في بعض طرق الحديث بأسانيد واهية.

وإنما حكم بأنه حديث حسن مع اختلاف لفظه بين حمد وتسمية وذكر لله كما سبق أن قرأنا ذلك عند الإمام النووي، لأن اللفظ الذي فيه «الحمد» هو المشهور كما أشار إلى ذلك الحافظ ابن حجر في فتح الباري، وهذا اللفظ المشهور أخرجه النسائي في السنن الكبرى (6/127، رقم 10328) ، وابن ماجه (1/610، رقم 1894) ، وابن حبان (1/174، رقم 2) ، والدارقطني (1/229) ، والبيهقي في السنن الكبرى (3/208، رقم 5559) جميعاً عن أبي هريرة.

ولكن يمكن الجمع بين الروايات في ذلك بأن البدء يكون بالجميع بالتسمية والتحميد وذكر الله، فإن الذي يبدأ بذلك فقد جمع بين الروايات وحاز فضل ذلك. قاله الخطيب في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (2/69) .
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: এটি ‘রাহিমা’ (জের-সহ) থেকে গঠিত হয়েছে, যা ‘রাহুমা’ (পেশ-সহ) ওজনে স্থানান্তরের পর অথবা সকর্মক ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া হিসেবে গণ্য করার পর গঠিত হয়েছে, যেমনটি বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি দান করে’।

আর এখানে একটি প্রশ্ন রয়েছে, তা হলো: যদি বলা হয়: ‘আর-রাহমান ও আর-রাহিম’ হলো দয়া (রাহমাহ) থেকে উদ্ভূত দুটি গুণবাচক নাম, আর দয়া হলো হৃদয়ের কোমলতা; অথচ আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব, তিনি পবিত্র এবং মহান এর থেকে যে তাঁর কোনো হৃদয় বা দেহের বৈশিষ্ট্যের মতো কিছু থাকবে?

এর উত্তর হলো: আল্লাহর নামসমূহকে এদের চূড়ান্ত পরিণাম বা শেষ ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়। সুতরাং যখন আল্লাহকে এমন কোনো বিষয় দ্বারা বিশেষিত করা হয় যার আক্ষরিক অর্থ তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া সঠিক নয়, তখন সেটিকে এর চূড়ান্ত পরিণামের ওপর প্রয়োগ করা হয়। আর এটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি মূলনীতি। আর হৃদয়ের কোমলতার চূড়ান্ত পরিণাম হলো অনুগ্রহ ও ইহসান (দয়া করা), সুতরাং এখানে এটিই উদ্দেশ্য।

ইমাম বুখারী—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—পবিত্র ও মহান কুরআনের অনুসরণ করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)" (১)—এর ওপর আমল করে তাঁর কিতাব ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ দিয়ে শুরু করেছেন।

অর্থাৎ: বরকতহীন। খতিব বাগদাদী তাঁর ‘আল-জামে’ গ্রন্থে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী তাঁর সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১/৪৩) এই শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে আব্দুল কাদির আর-রাহাভীর তাঁর ‘আল-আরবাঈন’ গ্রন্থের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে হাফেজ সুয়ূতী ‘আল-জামেউস সাগীর’-এ উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ফয়জুল কাদির (৫/১৪)। মানাবী বলেন: খতিব বাগদাদীও তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: আমি এটি তারিখু বাগদাদে খুঁজে পাইনি। খতিব এটি ‘আল-জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি’ (২/৬৯, নং ১২০৯) গ্রন্থে কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থকার সাফীরীও এর দিকে ইশারা করেছেন।

ইমাম নববী মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১/৪৩) এই হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা গণনা করেছেন এবং বলেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ দিয়ে শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছিন্ন (বরকতহীন)", অন্য বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে", অন্য বর্ণনায়: "হামদ-এর মাধ্যমে, যা বিচ্ছিন্ন", অন্য বর্ণনায়: "অসম্পূর্ণ", অন্য বর্ণনায়: "যা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে শুরু করা হয় না", অন্য বর্ণনায়: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম-এর মাধ্যমে"। তিনি বলেছেন: হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রাহাভীর ‘আল-আরবাঈন’ গ্রন্থে আমরা এগুলো সব তাঁর ছাত্র শেখ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন সালিম আল-আনবারীর কাছ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি। আমরা সেখানে সাহাবী কা’ব বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা থেকেও হাদিসটি বর্ণনা করেছি, তবে আবু হুরায়রার বর্ণনাটিই প্রসিদ্ধ।

এই হাদিসটি হাসান। এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) এবং মুরসাল—উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। মুত্তাসিল বর্ণনার সনদটি উত্তম। ‘আকতা’ শব্দের অর্থ: বরকত কম। একইভাবে ‘আজজাম’ (জীম ও যাল দিয়ে) বলা হয়। এর ক্রিয়ারূপ ‘জাযিমা’ (যাল-এ যের) এবং ‘ইয়াজযামু’ (যাল-এ জবর)।

আজলূনী তাঁর ‘কাশফুল খাফা’ (২/১৫৬) গ্রন্থে এর বিভিন্ন বর্ণনাসমূহকে হাসান বলেছেন।

তবে হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ (৮/২২০) গ্রন্থে বলেছেন: এতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাটি হলো ‘হামদুলিল্লাহ’ শব্দে। এছাড়া ইমাম নববী যেসব শব্দ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হাদিসের কিছু সূত্রে দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে।

প্রশংসা (হামদ), তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) এবং আল্লাহর জিকিরের শব্দের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে হাসান হাদিস বলে গণ্য করা হয়েছে—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ইমাম নববীর বক্তব্যে পড়েছি। কারণ যে বর্ণনায় ‘হামদ’ রয়েছে সেটিই প্রসিদ্ধ, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে ইশারা করেছেন। এই প্রসিদ্ধ শব্দটি নাসাঈ ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (৬/১২৭, নং ১০৩২৮), ইবনে মাজাহ (১/৬১০, নং ১৮৯৪), ইবনে হিব্বান (১/১৭৪, নং ২), দারাকুতনী (১/২২৯) এবং বায়হাকী ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (৩/২০৮, নং ৫৫৫৯) গ্রন্থে—সকলেই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

তবে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, বিসমিল্লাহ, হামদ এবং আল্লাহর জিকির—সবকিছুর মাধ্যমেই শুরু হতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো দিয়ে শুরু করবে, সে সব বর্ণনার ওপর আমল করল এবং এর ফজিলত অর্জন করল। খতিব বাগদাদী তাঁর ‘আল-জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি’ (২/৬৯) গ্রন্থে এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٩)
فلهذا ابتدء بها المصنفون في أول كتبهم.

فإن قيل: ما الحكمة في أن الله تعالى ابتدء القرآن العظيم بالبسملة؟

فالجواب: كما قاله البشفي: إنه فعل ذلك سبحانه ليعملنا بابتدائه بالرحمة رضاه عنا، فإن السيد إذا كتب لعبده الغائب كتاباً، عرف رضا سيده وسخطه من عنوان كتابه، والله تعالى جعل عنوان كتابه «بسم الله الرحمن الرحيم» ولم يقل: بسم الجبار والقهار، بل بدأ بالرحمة، وجعلها سابقة على الكل، إشارة لها إلى أن رحمته قبل غضبه، وأن رضاه قبل سخطه، فله الحمد والمنة على ذلك.

جاء في حديث: «أن الله تعالى كتب على نفسه قبل أن يخلق الخلق: إن رحمتي تغلب غضبي» (1) .

وجاء أيضا: «إذا كان يوم القيامة أخرج الله تعالى كتاباً من تحت العرش فيه مكتوب: إن رحمتي سبقت غضبي وأنا أرحم الراحمين» (2) .

فيا أيها الرب الكريم وخير من … ينادى به رباه رباه رباه

تفضل علينا يا كريم برحمة … تعم جميع الخلق وتغشاه

وبارك لنا في الزرع والضرع دائماًً … وغزر لنا شعب النبات وفرعاه

وأرخص لنا الأسعار في كل بلدة … واغن جميع الخلق كلاً بمعناه

وسهل ونفس واقض كل إنابة … وتب واعف واغفر كل ذنب عملناه

--------------------------------------------

(1) متفق عليه أخرجه الإمام البخاري في صحيحه (6/2694، رقم 6969) ، والإمام مسلم في صحيحه (4/2107، رقم 2751) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) رواه عبد الرزاق عن معمر في الجامع (11/411، رقم 20858) من رواية الحكم بن أبان أنه سمع عكرمة يقول: «إن الله تبارك وتعالى إذا فرغ من القضاء بين خلقه أخرج كتاباً من تحت العرش فيه: رحمتي سبقت غضبي، وأنا أرحم الراحمين» ، ومن طريقه ابن جرير الطبري في تفسيره (7/155) ووقع عند الطبري أن الحكم بن أبان قال: عن عكرمة وحسبته أسنده.
এ কারণেই গ্রন্থকারগণ তাঁদের কিতাবের শুরুতে এর (বিসমিল্লাহর) মাধ্যমে সূচনা করে থাকেন।

যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনকে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার রহস্য কী?

এর উত্তর হলো যেমনটি আল-বাশফী বলেছেন: মহান আল্লাহ এমনটি করেছেন যাতে করুণার মাধ্যমে সূচনার দ্বারা আমাদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির বিষয়টি আমাদের জানাতে পারেন। কেননা, কোনো মনিব যদি তাঁর অনুপস্থিত দাসের কাছে কোনো পত্র লেখেন, তবে সেই দাসের প্রতি মনিবের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি পত্রের শিরোনাম দেখেই বোঝা যায়। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের শিরোনাম করেছেন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)। তিনি ‘বিসমিল জাব্বারি ওয়াল ক্বাহহার’ (প্রবল পরাক্রমশালী ও কঠোর দমনকারীর নামে) বলেননি; বরং রহমতের মাধ্যমেই শুরু করেছেন এবং একে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। এটি এই দিকেই ইঙ্গিত করে যে, তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের পূর্ববর্তী এবং তাঁর সন্তুষ্টি তাঁর অসন্তুষ্টির আগে। সুতরাং এর জন্য তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ।

হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বেই নিজের ওপর লিখে নিয়েছেন: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়।" (১)।

আরও বর্ণিত হয়েছে: "যখন কিয়ামত দিবস হবে, তখন মহান আল্লাহ আরশের নিচ থেকে একটি কিতাব বের করবেন যাতে লেখা আছে: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং আমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (২)।

হে মহান প্রতিপালক, যাঁকে ডাকার ক্ষেত্রে আপনিই সর্বোত্তম; হে আমার রব, হে আমার রব, হে আমার রব!

হে মহানুভব, আমাদের ওপর সেই রহমতের করুণা বর্ষণ করুন যা সকল সৃষ্টিকে বেষ্টন করে রাখে ও আচ্ছাদিত করে।

আমাদের শস্য ও গবাদি পশুতে সর্বদা বরকত দান করুন এবং উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখা ও বর্ধিত অংশ আমাদের জন্য প্রাচুর্যময় করুন।

প্রতিটি জনপদে আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য সুলভ করে দিন এবং প্রতিটি সৃষ্টিকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী অভাবমুক্ত করুন।

সকল বিষয় সহজ ও প্রশস্ত করুন এবং প্রতিটি অনুনয় পূরণ করুন; আমাদের তওবা কবুল করুন, মার্জনা করুন এবং আমাদের কৃত সকল পাপ ক্ষমা করুন।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি; ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৬/২৬৯৪, নম্বর ৬৯৬৯) এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪/২১০৭, নম্বর ২৭৫১) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আল-জামি‘ গ্রন্থে (১১/৪১১, নম্বর ২০৮৫৮) মা’মার-এর সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন হাকাম বিন আবান-এর বর্ণনা থেকে যে, তিনি ইকরিমাহ-কে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যখন তাঁর মাখলুকের বিচারকার্য সম্পন্ন করবেন, তখন আরশের নিচ থেকে একটি কিতাব বের করবেন যাতে লেখা থাকবে: আমার রহমত আমার রাগের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং আমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।" তাঁর সূত্র থেকেই ইবনে জারীর তাবারী তাঁর তাফসির গ্রন্থে (৭/১৫৫) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারীর বর্ণনায় এসেছে যে, হাকাম বিন আবান ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ধারণা করেছেন যে তিনি এটিকে মারফু (রাসূলুল্লাহ সা. পর্যন্ত পৌঁছানো) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٠)
لطيفة: قال الإمام الرازي: كتب عارف من العارفين لما دنا أجله «بسم الله الرحمن الرحيم» وأوصى أن تجعل في كفنه فقيل له: أي فائدة لك في هذا؟ قال: أقول يوم القيامة إلهي بعثت إلينا كتاباً وجعلت عنوانه «بسم الله الرحمن الرحيم» فعاملني بعنوان كتابك.

واختلف العلماء في البسملة (1) هل هي آية من الفاتحة، ومن كل سورة أم لا؟ فذهب إمامنا الشافعي إلى أنها آية من الفاتحة، ومن كل سورة إلا براءة، للأخبار ولإجماع الصحابة على إثباتها في المصحف أوائل السور سوى براءة، فلو لم تكن قرآنا لما أجازوا ذلك، لأنه يحمل على اعتقاد ما ليس بقرآن قرآناً.

بل ذكر الروياني من أصحابنا الشافعية في كتابة «البحر» : أن البسملة أفضل آي القرآن.

والحكمة في عدم ابتداء سورة براءة بالبسملة: أنها نزلت في الخوف والقتال بالسيف، والبسملة آية أمان، والأمان والخوف لا يجتمعان.

وذهب الأئمة الثلاثة إلى أنها ليست آية من كل سورة.

واختلاف العلماء فيها لا يكفر جاحدها ومنكرها بخلاف غيرها من أي القرآن إذا أنكره فإنه يكفر.

والبسملة التي في أثناء النمل آية من القرآن بالإجماع.

ومذهب الشافعي يستحب الجهر بها في الصلاة الجهرية (2) ، ومذهب أبي حنيفة وأحمد يسر بها مطلقاً، والإمام مالك لا يقرأها سراً ولا جهراً، وإذا قرأها خارج الصلاة ويأتي بها في أول الفاتحة وأول كل سورة إلا براءة، وإذا قرأ من أول الأجزاء لا من أول السورة فهو مخير بين البسملة وتركها.

وقد ذكر العلماء فوائد متعلقة بالبسملة (3) :

الأولى: أن كعب الأحبار قال: إن الباء من بسم الله بهاء الله، والسين سناوه، والميم ملكه.

الثانية: اشتملت البسملة على ثلاثة أسماء «الله، الرحمن، الرحيم» أما «الله» فهو المستحق للعبادة، وهذا معناه، وهو علم على الله غير مشتق كما قاله طائفة من العلماء منهم الإمام الشافعي، ومحمد بن الحسن، والغزالي.

ونقل عن الأشعري أنه رؤي في المنام فقيل له: ما فعل الله بك؟ فقال: غفر لي بقولي: إن الله علم على ذات الله تعالى، وهو اسم الله الأعظم.

--------------------------------------------

(1) فصل الألوسي في تفسيره روح المعاني (1/39) هذه لمسألة تفصيلا بديعياً فقال: اختلف الناس في البسملة في غير النمل إذ هي فيها بعض آية بالاتفاق على عشرة أقوال: الأول: إنها ليست آية من السور أصلاً. الثاني: أنها آية من جميعها غير براءة. الثالث: أنها آية من الفاتحة دون غيرها. الرابع: أنها بعض آية منها فقط. الخامس: أنها آية فذة أنزلت لبيان رؤوس السور تيمناً وللفصل بينها. السادس: أنه يجوز جعلها آية منها وغير آية لتكرر نزولها بالوصفين. السابع: أنها بعض آية من جميع السور. الثامن: أنها آية من الفاتحة وجزء آية من السور. التاسع: عكسه. العاشر: أنها آيات فذة وإن أنزلت مراراً.

فابن عباس وابن المبارك وأهل مكة كابن كثير وأهل الكوفة كعاصم والكسائي وغيرهما سوى حمزة وغالب أصحاب الشافعي والإمامية على الثاني. وقال بعض الشافعية وحمزة ونسب للإمام أحمد بالثالث. وأهل المدينة ومنهم مالك، والشام ومنهم الأوزاعي، والبصرة ومنهم أبو عمرو ويعقوب على الخامس.

(2) انظر المجموع (3/280) وعبارته فيه: قال الشافعي والأصحاب: ويسن الجهر بالبسملة في الصلاة الجهرية في الفاتحة وفي السورة.

(3) ومن الفوائد التي لم يذكرها المصنف ما قاله في فتح المعين (1/147) : ويسن وقف على رأس كل آية حتى على آخر البسملة، خلافاً لجمع منها أي: من الفاتحة وإن تعلقت بما بعدها للاتباع.
সূক্ষ্ম বিষয়: ইমাম রাযী বলেন: জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু জ্ঞানী) তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ লিখলেন এবং অসিয়ত করলেন যেন তা তার কাফনের ভেতর রাখা হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: এতে আপনার কী লাভ হবে? তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন আমি বলব, হে আমার ইলাহ! আপনি আমাদের নিকট একটি কিতাব পাঠিয়েছেন এবং তার শিরোনাম করেছেন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’, সুতরাং আপনার কিতাবের শিরোনাম অনুযায়ী আমার সাথে আচরণ করুন।

বিসমিল্লাহ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে (১), এটি কি ফাতিহা এবং প্রত্যেক সূরার অংশ, নাকি নয়? আমাদের ইমাম শাফেঈ রহ.-এর মাযহাব হলো, এটি সূরা ফাতিহা এবং 'বারাআত' (তওবা) ব্যতীত প্রত্যেক সূরার একটি আয়াত। এর কারণ হলো বিভিন্ন বর্ণনা এবং সূরা বারাআত ব্যতীত মুসহাফের শুরুতে এটি লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা ঐক্যমত। যদি এটি কুরআন না হতো, তবে তারা তা অনুমোদন করতেন না; কারণ এতে যা কুরআন নয় তাকে কুরআন বলে বিশ্বাস করার আশঙ্কা তৈরি হতো।

বরং আমাদের শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী রুইয়ানী তার ‘আল-বাহর’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে: বিসমিল্লাহ কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত।

সূরা বারাআতের শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার হেকমত বা রহস্য হলো: এটি ভীতি এবং তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, আর বিসমিল্লাহ হলো নিরাপত্তার আয়াত। নিরাপত্তা এবং ভীতি একসাথে একত্রিত হতে পারে না।

অপর তিন ইমামের অভিমত হলো, এটি প্রত্যেক সূরার (অংশ হিসেবে) কোনো আয়াত নয়।

বিসমিল্লাহ নিয়ে ওলামায়ে কেরামের এই মতভেদের কারণে এর অস্বীকারকারীকে কাফির বলা হবে না, যা কুরআনের অন্যান্য আয়াতের ক্ষেত্রে ভিন্ন; সেগুলো অস্বীকার করলে কাফির হয়ে যায়।

সূরা নামলের মাঝখানে থাকা বিসমিল্লাহটি সর্বসম্মতিক্রমে কুরআনের একটি আয়াত।

শাফেঈ মাযহাবে জাহরী (উচ্চৈঃস্বরে পাঠের) নামাজে বিসমিল্লাহ উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা মুস্তাহাব (২)। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমাদের মাযহাব হলো সর্বদা এটি নিঃশব্দে পাঠ করা হবে। ইমাম মালিকের মতে এটি নিঃশব্দে বা উচ্চৈঃস্বরে কোনোভাবেই পাঠ করা হবে না। নামাজের বাইরে পাঠ করলে সূরা ফাতিহা ও তওবা ব্যতীত প্রত্যেক সূরার শুরুতে এটি পাঠ করা হবে। আর সূরার শুরু থেকে না পড়ে যদি মাঝখান থেকে তিলাওয়াত করা হয়, তবে বিসমিল্লাহ পাঠ করা বা না করার ব্যাপারে তিলাওয়াতকারীর ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা রয়েছে।

ওলামায়ে কেরাম বিসমিল্লাহ সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা বা উপকারিতা উল্লেখ করেছেন (৩):

প্রথমত: কাব আল-আহবার বলেছেন: ‘বিসমিল্লাহ’-এর ‘বা’ হলো আল্লাহর বাহা (জৌলুস), ‘সীন’ হলো তাঁর সানা (উজ্জ্বলতা) এবং ‘মীম’ হলো তাঁর মুলক (রাজত্ব)।

দ্বিতীয়ত: বিসমিল্লাহ তিনটি নামকে অন্তর্ভুক্ত করেছে— ‘আল্লাহ, রহমান, রহীম’। ‘আল্লাহ’ শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের একমাত্র যোগ্য সত্তা, এটিই এর অর্থ। এটি আল্লাহ তাআলার সত্তার জন্য নির্ধারিত একটি নাম (আলাম) যা অন্য কোনো শব্দ থেকে উদ্ভূত (মুশতাক) নয়, যেমনটি ইমাম শাফেঈ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং ইমাম গাযালীসহ একদল আলেম বলেছেন।

ইমাম আশআরী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে স্বপ্নে দেখা গিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন আমার এই উক্তির কারণে যে: ‘আল্লাহ’ শব্দটি মহান আল্লাহর সত্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম এবং এটিই আল্লাহর ‘ইসমে আযম’ বা মহানতম নাম।

--------------------------------------------

(১) আলূসী তার তাফসীর রুহুল মাআনীতে (১/৩৯) এ বিষয়ে চমৎকার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন: সূরা নামল ব্যতীত অন্য জায়গায় বিসমিল্লাহর ব্যাপারে মানুষের মধ্যে দশটি অভিমত রয়েছে, কারণ সূরা নামলে এটি আয়াতের অংশ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে। প্রথম: এটি সূরার অংশ হিসেবে মোটেও কোনো আয়াত নয়। দ্বিতীয়: এটি তওবা ব্যতীত সকল সূরার একটি আয়াত। তৃতীয়: এটি কেবল সূরা ফাতিহার আয়াত, অন্য সূরার নয়। চতুর্থ: এটি কেবল ফাতিহার আয়াতের অংশ। পঞ্চম: এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা বরকতের জন্য এবং সূরাগুলোর মাঝে পার্থক্য করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। ষষ্ঠ: এটি একইসাথে সূরার আয়াত এবং স্বতন্ত্র আয়াত হওয়া সম্ভব, কারণ এটি দুই ভাবেই বারবার নাযিল হয়েছে। সপ্তম: এটি সকল সূরার আয়াতের অংশ। অষ্টম: এটি ফাতিহার একটি আয়াত এবং অন্যান্য সূরার আয়াতের অংশ। নবম: এর বিপরীতটি। দশম: এগুলো স্বতন্ত্র আয়াত যদিও তা বারবার নাযিল হয়েছে।

ইবনে আব্বাস, ইবনুল মুবারক, মক্কাবাসী (যেমন ইবনে কাসীর), কুফাবাসী (যেমন আসেম, কিসাঈ প্রমুখ হামযা ব্যতীত), শাফেঈ মাযহাবের অধিকাংশ অনুসারী এবং ইমামিয়্যাহ সম্প্রদায় দ্বিতীয় মতটি পোষণ করেন। কোনো কোনো শাফেঈ আলেম, হামযা এবং ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনা মতে তৃতীয় মতটি গ্রহণ করা হয়েছে। মদিনাবাসী (যাদের মধ্যে ইমাম মালিক রয়েছেন), সিরিয়াবাসী (যাদের মধ্যে আওযাঈ রয়েছেন) এবং বসরার অধিবাসী (যাদের মধ্যে আবু আমর ও ইয়াকুব রয়েছেন) পঞ্চম মতটির ওপর রয়েছেন।

(২) দেখুন আল-মাজমু (৩/২৮০); সেখানে তার ইবারত হলো: শাফেঈ ও তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন: জাহরী নামাজে ফাতিহা ও সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা সুন্নত।

(৩) লেখক যে ফায়দাগুলো উল্লেখ করেননি তার মধ্যে একটি হলো যা ‘ফাতহুল মুঈন’ (১/১৪৭) কিতাবে বলা হয়েছে: প্রত্যেক আয়াতের শেষে থামা সুন্নত, এমনকি বিসমিল্লাহর শেষেও, যদিও তা পরবর্তী অংশের সাথে সম্পৃক্ত হয়। এটি অনুসরণের খাতিরে করা হবে।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦١)
كما ذهب إليه الإمام أبو حنيفة، وأكثر مشايخ التصوف والعارفين، فإنه لا ذكر لصاحب مقام فوق الذكر باسمه مجرداً.

واستدلوا على ذلك بأشياء منها: أن الله تعالى لما خاطب موسي قال: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ} [طه: 14] فلو كان له اسم أعظم منه لقاله.

ومنها: أنه لم يسم به غيره بدليل قوله تعالي {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِياًّ} [مريم: 65] أي: هل تعلم أحد تسم غير الله.

وفي الاسم الأعظم خلاف كثير سيأتي في محله.

واسم الله أعرف المعارف، وقد ذكر هذا الاسم الشريف في القرآن في ألفين وثلاثمائة وستين موضعاً.

وأما اسم «الرحمن» فهو اسم خاص به سبحانه، لأنه صفة لمن وسعت رحمته كل شيء، ومن لم يكن كذلك لا يسمي رحماناً.

وتسمية مسيملة الكذاب برحمان فهو صادر من الكفار فلا عبرة بذلك، فلا يجوز للإنسان أن يسمي ولده بالرحمن بل بعبد الرحمن.

قال السبكي: المختص بالله هو المعرف باللام دون غيره، فعلي قوله يجوز التسمية برحمان لا بالرحمن.

وأما اسم «الرحيم» فإنه يطلق على غير الله أيضاً.

فإن قيل: إذا كانت البسملة من الفاتحة فما الحكمة في ذكر الرحمن الرحيم في الفاتحة، بعد ذكرهما في البسملة؟

فالجواب عنه من وجهين:

أحدها: أن الله تعالى لما ابتدء كتابه بالحمد لله رب العالمين بعد البسملة عَلِم سبحانه أن النفوس ترهب من ذلك، فعقبة بقوله «الرَّحمَنِ الرَّحِيمِ» ليجمع في صفاته بين الرهبة منه، والرغبة إليه فيكون أعون على طاعته وأمنع من معصيتة، ونظير هذا قوله تعالى: {نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ العَذَابُ الأَلِيمُ} [الحجر: 49، 50] ، وقوله تعالى: {غَافِرِ الذَّنبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ العِقَابِ ذِي الطَّوْلِ} [غافر: 3] .
যেমনটি ইমাম আবু হানিফা এবং অধিকাংশ তাসাউফপন্থী শাইখ ও আরিফগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, উচ্চ মাকামের অধিকারীর জন্য তাঁর সত্তাগত নামের যিকিরের উপরে আর কোনো যিকির নেই।

তারা এর সপক্ষে বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তাআলা যখন মুসার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ" [ত্বহা: ১৪]। যদি তাঁর এর চেয়ে মহান কোনো নাম থাকত, তবে তিনি অবশ্যই তা বলতেন।

আরেকটি দলিল হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে এই নামে নামকরণ করা হয়নি, যার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?" [মারইয়াম: ৬৫] অর্থাৎ: আপনি কি আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে জানেন যাকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে?

আর ইসমে আযম বা মহান নামের ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে যা যথাস্থানে আলোচিত হবে।

আল্লাহ নামটি হলো সকল পরিচিত শব্দের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত। এই বরকতময় নামটি কুরআনে দুই হাজার তিনশত ষাটটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর 'আর-রাহমান' নামটি তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) জন্য নির্দিষ্ট, কারণ এটি এমন সত্তার গুণ যার রহমত বা দয়া সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। যার মধ্যে এই গুণ নেই তাকে 'রাহমান' নামে অভিহিত করা যায় না।

আর ভণ্ড মুসাইলিমাকে 'রাহমান' বলাটা ছিল কাফিরদের পক্ষ থেকে, তাই এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সুতরাং কোনো মানুষের জন্য তার সন্তানের নাম 'রাহমান' রাখা জায়েয নয়, বরং 'আবদুর রহমান' রাখা উচিত।

ইমাম সুবকী বলেন: আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হলো আলিফ-লাম যুক্ত শব্দটি (আর-রাহমান), অন্যটি নয়। তাঁর কথা অনুযায়ী, 'রাহমান' নাম রাখা জায়েয হতে পারে, কিন্তু 'আর-রাহমান' নয়।

আর 'আর-রাহীম' নামটি আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে: বিসমিল্লাহ যদি সূরা ফাতিহার অংশ হয়ে থাকে, তবে বিসমিল্লাহতে 'আর-রাহমান আর-রাহীম' উল্লেখ করার পর পুনরায় ফাতিহাতে তা উল্লেখ করার হিকমত বা রহস্য কী?

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: আল্লাহ তাআলা যখন বিসমিল্লাহর পর 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক) দ্বারা তাঁর কিতাব শুরু করলেন, তখন তিনি জানতেন যে মানুষের অন্তর এতে ভীত হতে পারে। তাই এর পরেই তিনি 'আর-রাহমান আর-রাহীম' উল্লেখ করেছেন, যাতে তাঁর গুণাবলিতে ভীতি এবং আশা—উভয়ের সমন্বয় ঘটে। এটি তাঁর আনুগত্যের জন্য অধিক সহায়ক এবং নাফরমানি থেকে বিরত রাখার জন্য বেশি কার্যকর হয়। এর সদৃশ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয়ই আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আর আমার আযাবই হলো যন্ত্রণাদায়ক আযাব।" [হিজর: ৪৯, ৫০] এবং আল্লাহ তাআলার অন্য বাণী: "যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা এবং সামর্থ্যবান।" [গাফির: ৩]
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٢)
وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لو يعلم المؤمن ما عند الله من العقوبة ما طمع بجنته أحد، ولو يعلم الكافر ما عند الله من الرحمة ما قنط من جنته أحد» (1) قاله الغزالى في جواهر القرآن.

ثانيهما: كررهما تأكيداً للرحمة وعناية بها، ومع ذلك عقبهما بقوله {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 4] لئلا يغتروا قاله النيابوري.

و «الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» اسمان من أسماء الله يجب على كل مكلف أن يعلم أن الله سبحانه وتعالى هو الرحمن الرحيم، وأرحم الراحمين.

واختلف العلماء فيهما هل هما بمعنى واحد أم لا؟

فقيل: هما بمعنى واحد وصححه ابن العربي.

والصحيح أن «الرحمن» أبلغ من «الرحيم» كما قاله الأكثرون، ومعنى كون «الرحمن» أبلغ: أن رحمته في الدنيا شاملة له وللكافر والصالح، وتلك الرحمة هي إيصال الرزق، وخلق الصحة والسلامة ورفع الأسقام والمصائب والدواهي.

و «الرحمن» أبلغ من الرحيم، لأن الرحمة الناشئة من الرحمن عامة في حق الولي والعدو والصديق والزنديق، والرحمة الناشئة من الرحيم مختصة بالمؤمنين.

وقد فرق العلماء بين: «الرحمن، والرحيم» بفروق:

الأول: أن «الرحمن» خاص بأهل السماء، و «الرحيم» بأهل الأرض.

الثاني: أن «الرحمن» هو الذي يرحم برحمته واحدة، و «الرحيم» بمائة رحمة فعلى هذا يكون «الرحمن» خاص بأهل الدنيا، و «الرحيم» بأهل الآخرة، ويدل عليه ما رويناه في صحيح مسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله تعالى خلق يوم خلق السماوات والأرض مائة رحمة، كل رحمة طباق ما بين السماء والأرض، فجعل منها في الأرض رحمة، فبها تعطف الوالدة على ولدها، والوحش والطير بعضها على بعض، فإذا كان يوم القيامة أكملها بهذه الرحمة» (2) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام مسلم (4/2109، رقم 2755) .

وأخرجه أيضاً: الترمذي (5/549، رقم 3542) ، والإمام أحمد (2/334، رقم 8396) ، وابن حبان (2/56، رقم 345) ، وأبو يعلى (11/392، رقم 6507) ، والديلمي (3/349، رقم 5056) عن أبي هريرة.

(2) أخرجه الإمام مسلم (4/2109، رقم 2753) .

وأخرجه أيضاً: الطبراني في الكبير (6/255، رقم 6144) ، وابن المبارك في الزهد (ص 312، رقم 894) ، وهناد في الزهد (2/614، رقم 1319) عن سلمان رضي الله عنه.
সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি মুমিন জানত আল্লাহর নিকট কী পরিমাণ শাস্তি রয়েছে, তবে কেউ তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কাফের জানত আল্লাহর নিকট কী পরিমাণ রহমত রয়েছে, তবে কেউ তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হতো না» (১) এটি আল-গাজালী তাঁর 'জাওয়াহিরুল কুরআন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: রহমতকে সুনিশ্চিত করতে এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে শব্দ দুটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। তবুও এর পরপরই তিনি তাঁর বাণী {প্রতিফল দিবসের মালিক} [আল-ফাতিহা: ৪] উল্লেখ করেছেন যাতে তারা প্রবঞ্চিত না হয়। এটি নিসাবুরী বলেছেন।

'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম' আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত দুটি নাম। প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) জন্য এটি জানা ওয়াজিব যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হলেন 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম' (পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু) এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

আলেমগণ এই শব্দ দুটির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে, এগুলো কি একই অর্থের ধারক নাকি ভিন্ন?

কেউ কেউ বলেছেন: এগুলো একই অর্থবোধক; ইবনুল আরাবী একে সঠিক বলে গণ্য করেছেন।

আর বিশুদ্ধ মত হলো—যা অধিকাংশ আলেম বলেছেন—'আর-রাহমান' শব্দটি 'আর-রাহীম' অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। 'আর-রাহমান' অধিক অর্থবহ হওয়ার অর্থ হলো: দুনিয়াতে তাঁর রহমত মুমিন, কাফের ও নেককার সকলের জন্যই ব্যাপক। সেই রহমত হলো রিযিক পৌঁছানো, সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করা এবং রোগ-ব্যাধি, বিপদ-আপদ ও মুসিবত দূর করা।

'আর-রাহমান' শব্দটি 'আর-রাহীম' অপেক্ষা অধিক অর্থবহ, কারণ 'আর-রাহমান' থেকে উদ্ভূত রহমত বন্ধু, শত্রু, মিত্র ও যিন্দিক সবার জন্যই সাধারণ। পক্ষান্তরে 'আর-রাহীম' থেকে উদ্ভূত রহমত কেবল মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট।

আলেমগণ 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম'-এর মধ্যে কতিপয় পার্থক্য বর্ণনা করেছেন:

প্রথমত: 'আর-রাহমান' আসমানবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং 'আর-রাহীম' জমিনবাসীদের জন্য।

দ্বিতীয়ত: 'আর-রাহমান' তিনি যিনি তাঁর একটি রহমতের মাধ্যমে দয়া করেন, আর 'আর-রাහীম' একশটি রহমতের মাধ্যমে। এই হিসেবে 'আর-রাহমান' দুনিয়াবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং 'আর-রাহীম' আখেরাতবাসীদের জন্য। এর প্রমাণ হলো যা আমরা সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি রহমত আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানের সমান। তিনি তা থেকে জমিনে একটি রহমত দান করেছেন। সেই রহমতের কারণেই মা তাঁর সন্তানের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে এবং বন্যপ্রাণী ও পাখিরা একে অপরের প্রতি দয়া করে। যখন কিয়ামত দিবস হবে, তখন তিনি এই রহমতের মাধ্যমে তা পূর্ণ করবেন» (২)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৪/২১০৯, হাদিস নং ২৭৫৫)।

আরও বর্ণনা করেছেন: তিরমিজি (৫/৫৪৯, হাদিস নং ৩৫৪২), ইমাম আহমদ (২/৩৩৪, হাদিস নং ৮৩৯৬), ইবনে হিব্বান (২/৫৬, হাদিস নং ৩৪৫), আবু ইয়ালা (১১/৩৯২, হাদিস নং ৬৫০৭) এবং দাইলামি (৩/৩৪৯, হাদিস নং ৫০৫৬), আবু হুরায়রা থেকে।

(২) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৪/২১০৯, হাদিস নং ২৭৫৩)।

আরও বর্ণনা করেছেন: তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে (৬/২৫৫, হাদিস নং ৬১৪৪), ইবনুল মুবারক তাঁর 'আয-যুহদ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩১২, হাদিস নং ৮৯৪) এবং হান্নাদ তাঁর 'আয-যুহদ' গ্রন্থে (২/৬১৪, হাদিস নং ১৩১৯), সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
الثالث: أن «الرحمن» ذو الرحمة الشاملة، الني وسعت الخلق في أرزاقهم وأسباب معايشهم ومصالحهم، عمت الجميع المؤمن والكافر، وأما «الرحيم» فخاص بالمؤمنين، كما قال {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} [الأحزاب: 43] .

وقيل غير ذلك.

قال العلماء: «الرحمن» خاص بالله تعالى، لا يجوز أن يسمى به غيره بخلاف «الرحيم» وأما مسيلمة الكذاب فقد سماه قومه بذلك حيث قالوا.

سموت بالمجد يا ابن الأكرمين أباً … وانت غوث الورى لازلت رحماناً

عناداً وكفراً لزعمهم أنه كان نبياً، فهو استعمال باطل، صدر من الكفار فلا عبرة به.

وقد ذكر العلماء أن التسمية تستحب في مواضع منها:

في ابتداء المصنفات للتأسي والاقتداء بالقرآن والتبرك بها، قال في نزهة المجالس: روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أول ما كتب القلم: بسم الله الرحمن الرحيم، ذا كتبتم فاكتبوها أوله، وهي مفتاح كل كتاب أنزل، ولما نزل بها جبريل عليه السلام ها ثلاثاً وقال: هي لك ولأمتك وأمرهم لا يدعوها في شيء من أمورهم، فإني لم أدعها طرفة عين مذ نزلت على أبيك آدم عليه السلام وكذلك الملائكة» (1) .

وروي أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكتب أولاً «باسمك اللهم» فلما نزلت السورة هود فيها {بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا} [هود: 41] كتب: «بسم الله» فلما نزلت سورة سبحان وفيها: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أو ادْعُوا الرَّحْمَنَ} [الاسراء: 110] كتب: «بسم الله الرحمن» فلما نزلت سورة النمل فيها {إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنِّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [النمل: 30] كتب: «بسم الله الرحمن الرحيم» (2) .

--------------------------------------------

(1) لم نقف عليه.

(2) رواه أبو داود في مراسيله (ص 90، رقم 35) عن أبي مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وذكره بهذا اللفظ الجصاص في أحكام القرآن (1/7) فقال: وروى أبو قطن عن المسعودي عن الحارث العكلي … فذكره.

وذكره الحافظ السيوطي في الدر المنثور (6/354) وعزاه إلى عبد الرزاق وابن سعد وابن أبي شيبه وابن أبي حاتم عن الشعبي، وأعقبه برواية ابن أبي حاتم عن ميمون بن مهران ولفظها: «إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكتب باسمك اللهم حتى نزلت ? إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنِّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ?» .

وذكره أيضا من ورواية قتادة وعزاه إلى عبد الرزاق وابن المنذر بلفظ: «لم يكن الناس يكتبون … » .

وذكره القرطبي في التفسير (1/92) من رواية الشعبي والأعمش.

وانظر: تفسير البغوي (1/39) ، وفتح القدير (1/185) ، وروح المعاني (1/39) .

وقد روى ابن أبي شيبة في مصنفه (6/337، رقم 31856) معناه عن عبد الله معبد الزماني قال: «لم تنزل بسم الله الرحمن الرحيم في شيء من القرآن إلا في سورة النمل: ? إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنِّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ?» .
তৃতীয়ত: ‘আর-রহমান’ হলেন সেই সত্তা যিনি ব্যাপক করুণার অধিকারী, যা মাখলুকাতের রিজিক, তাদের জীবনযাত্রার মাধ্যম এবং তাদের কল্যাণকে পরিব্যাপ্ত করেছে; এটি মুমিন ও কাফির সকলকেই শামিল করে। আর ‘আর-রাহীম’ মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন তিনি বলেছেন: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু} [আল-আহযাব: ৪৩] ।

এ ছাড়া অন্য কথাও বলা হয়েছে।

উলামায়ে কিরাম বলেছেন: ‘আর-রহমান’ নামটি আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট, ‘আর-রাহীম’-এর বিপরীতে এটি অন্য কারো নাম রাখা জায়েয নয়। তবে ভণ্ড মুসাইলিমাকে তার কওম এই নামে ডেকেছিল, তারা বলেছিল:

হে শ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষদের সন্তান! মর্যাদায় আপনি অনেক উপরে … আপনি সৃষ্টির আশ্রয়দাতা, আপনি তো সর্বদা রহমান

এটি তারা অবাধ্যতা ও কুফরবশত করেছিল তাদের এই দাবির কারণে যে সে একজন নবী ছিল। সুতরাং এটি একটি বাতিল ব্যবহার, যা কাফিরদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পেয়েছে, তাই এর কোনো গুরুত্ব নেই।

উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, বিসমিল্লাহ পাঠ করা বেশ কিছু ক্ষেত্রে মুস্তাহাব, যার মধ্যে রয়েছে:

রচনার শুরুতে কুরআনের অনুসরণ, ইক্তিদা এবং এর মাধ্যমে বরকত হাসিল করার উদ্দেশ্যে। 'নুযহাতুল মাজালিস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: ‘কলম সর্বপ্রথম যা লিখেছে তা হলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। যখন তোমরা কিছু লিখবে তখন এর শুরুতেই এটি লিখো। এটি নাযিলকৃত প্রতিটি কিতাবের চাবিকাঠি। আর যখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এটি নিয়ে নাযিল হলেন, তিনি তিনবার এটি পাঠ করলেন এবং বললেন: এটি আপনার জন্য এবং আপনার উম্মতের জন্য; এবং তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের কোনো বিষয়েই এটি ছেড়ে না দেয়। কেননা আপনার পিতা আদম আলাইহিস সালামের ওপর এটি নাযিল হওয়ার পর থেকে আমি চোখের পলকের জন্যও এটি ছাড়িনি, আর ফেরেশতারাও নয়’ (১) ।

আরও বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরুতে ‘বিসমিকা আল্লাহুম্মা’ লিখতেন। এরপর যখন সূরা হুদ নাযিল হলো, যাতে রয়েছে {আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি} [হুদ: ৪১], তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ লিখতে শুরু করলেন। এরপর যখন সূরা সুবহান (ইসরা) নাযিল হলো, যাতে রয়েছে: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো} [বনী ইসরাঈল: ১১০], তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমান’ লিখতে শুরু করলেন। এরপর যখন সূরা আন-নামল নাযিল হলো, যাতে রয়েছে {নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} [নামল: ৩০], তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ লিখতে শুরু করলেন (২) ।

--------------------------------------------

(১) আমরা এটি খুঁজে পাইনি।

(২) এটি আবু দাউদ তার 'মারাসিল' গ্রন্থে (পৃ. ৯০, নং ৩৫) আবু মালিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

জাসসাস তার 'আহকামুল কুরআন' (১/৭) গ্রন্থে এই শব্দেই এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আবু ক্বাতান মাসউদী থেকে, তিনি হারিস আল-উক্বলী থেকে … বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন।

হাফিজ সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৬/৩৫৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে আবদুর রাজ্জাক, ইবনে সাদ, ইবনে আবি শাইবাহ এবং ইবনে আবি হাতিম-এর দিকে নিসবত করেছেন শাবী থেকে। এর পরপরই তিনি ইবনে আবি হাতিম থেকে মায়মুন ইবনে মিহরান-এর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, যার শব্দ হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'বিসমিকা আল্লাহুম্মা' লিখতেন যতক্ষণ না নাযিল হলো: {নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে}।"

কাতাদাহ-এর বর্ণনা থেকেও তিনি এটি উল্লেখ করেছেন এবং আবদুর রাজ্জাক ও ইবনুল মুনযিরের দিকে নিসবত করেছেন এই শব্দে: "মানুষ লিখত না … "।

কুরতুবী তার তাফসীরে (১/৯২) শাবী ও আমাশ-এর রেওয়ায়েত থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

আরও দেখুন: তাফসীরে বাগভী (১/৩৯), ফাতহুল ক্বাদীর (১/১৮৫), রূহুল মাআনী (১/৩৯)।

ইবনে আবি শাইবাহ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে (৬/৩৩৭, নং ৩১৮৫৬) আব্দুল্লাহ মা'বাদ আল-যামানী থেকে এর অর্থ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "কুরআনের কোনো কিছুতেই বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম নাযিল হয়নি কেবল সূরা আন-নামল ব্যতীত: {নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে}।"
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
واتفق العلماء على جواز كتابتها أول العلم والرسائل، ومنع جماعة من كتابتها في أول ديوان الشعر، إلا إذا كان فيه مواعظاً وحكماً.

وذكر الرازي -رحمه الله تعالى- وغيره فوائد متعلقة بالبسملة:

الفائدة الأولى: قيل: لما أنزلت «بسم الله الرحمن الرحيم» على آدم قال: الآن آمنت على ذريتي من العذاب فلما مات ارتفعت، ثم نزلت على نوح فنجاها من الطوفان، ثم ارتفعت بعد موته ثم نزلت على إبراهيم، فصارت النار عليه برداً وسلاماً، ثم نزلت على سليمان فاستقام ملكه، ثم نزلت على موسي فسلم في البحر، ثم ارتفعت ثم نزلت على عيسي، فأوحى الله إليه: قد نزلت عليك آية الأمان، فلما رفع ارتفعت، ثم نزلت على محمد صلى الله عليه وسلم إلى يوم القيامة، فإذا كان يوم القيامة يأخذ المؤمن كتابة بيمينه ويقول: «بسم الله الرحمن الرحيم» فإذا هو أبيض لا شيء فيه، فيقال له: كان مملوءًا من السيئات ولكن محته «بسم الله الرحمن الرحيم» .

الفائدة الثانية: لما أرسل الله موسى إلى فرعون وتمادى في الطغيان، فدعا عليه مدة، فقال تعالى: يا موسي أنت تنظر إلى كفره وأنا إلى ما هو مكتوب على باب قصره، وذلك أن جبريل عليه السلام كتب عليه «بسم الله الرحمن الرحيم» فلذلك وصفه الله بالمقام الكريم.

قال الرازي: ففي هذا إشارة إلى أن من كتب هذه الكلمة على باب داره أمن من الهلاك، وإن كان كافرًا، فكيف بالذي كتبها على سويداء قلبه من أول عمره إلى آخره لا يكون آمناً يوم القيامة من عذاب الله.
উলামায়ে কেরাম ইলম এবং পত্রাবলীর শুরুতে এটি লেখার বৈধতার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তবে একদল কবিদের কাব্যগ্রন্থের শুরুতে এটি লেখা নিষেধ করেছেন, যদি না তাতে উপদেশ এবং হিকমতপূর্ণ কথা থাকে।

রাজী -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এবং অন্যান্যরা বাসমালাহ (বিসমিল্লাহ) সংশ্লিষ্ট কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন:

প্রথম উপকারিতা: বলা হয়েছে, যখন আদমের ওপর 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হলো, তখন তিনি বললেন: এখন আমি আমার বংশধরদের আযাব থেকে নিরাপদ বোধ করছি। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, এটি তুলে নেওয়া হলো। অতঃপর তা নূহের ওপর অবতীর্ণ হলো এবং এর মাধ্যমে তিনি মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি পেলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এটি আবার তুলে নেওয়া হলো। অতঃপর তা ইব্রাহীমের ওপর অবতীর্ণ হলো এবং তাঁর ওপর আগুন শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে গেল। এরপর তা সুলাইমানের ওপর অবতীর্ণ হলো এবং তাঁর রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। এরপর তা মূসার ওপর অবতীর্ণ হলো এবং তিনি সমুদ্রে নিরাপত্তা পেলেন। তারপর এটি তুলে নেওয়া হলো এবং ঈসার ওপর অবতীর্ণ হলো; তখন আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন: আপনার ওপর নিরাপত্তার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। যখন তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হলো, এটিও উঠে গেল। এরপর তা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য অবতীর্ণ হলো। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন আসবে, মুমিন ব্যক্তি তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং বলবে: 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'। তখন সে দেখবে আমলনামাটি সাদা এবং এতে কিছুই নেই। তখন তাকে বলা হবে: এটি পাপে পরিপূর্ণ ছিল, কিন্তু 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' তা মুছে দিয়েছে।

দ্বিতীয় উপকারিতা: যখন আল্লাহ মূসাকে ফিরআউনের কাছে পাঠালেন এবং সে অবাধ্যতায় সীমা লঙ্ঘন করল, তখন তিনি দীর্ঘকাল তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: হে মূসা, তুমি তার কুফরির দিকে তাকাচ্ছ, আর আমি তাকাচ্ছি তার প্রাসাদের দরজায় যা লেখা আছে তার দিকে। আর তা হলো এই যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সেখানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লিখেছিলেন। এই কারণেই আল্লাহ তাকে 'সম্মানিত স্থান' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রাজী বলেন: এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার ঘরের দরজায় এই বাক্যটি লিখবে সে ধ্বংস থেকে নিরাপদ থাকবে, যদিও সে কাফের হয়। তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যে তার জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ অন্তরের অন্তঃস্থলে এটি লিখে রেখেছে; সে কি কিয়ামতের দিন আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ থাকবে না?
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
وروي عن علي أنه نظر إلى رجل يكتب «بسم الله الرحمن الرحيم» فقال: جودها فإن رجلاً جودها فغفر له (1) .

واختلف الأئمة فيما إذا أرسل الإنسان كلباً له للصيد، ولم يقل «بسم الله الرحمن الرحيم» عند إرساله، وصاد الكلب هل يحل أكله أم لا (2) ؟

ذهب إمامنا الشافعي إلى أنه يحل أكله سواء ترك التسمية سواء ترك التسمية عمداً وسهواً، فإن التسمية عند إرسال الكلب ونحوه للصيد سنة عند الشافعي لا واجبة (3) .

وذهب أبو حنيفة إلى أن ترك التسمية ناسياً حل أكله، وإن تركها عامداً لا يحل.

مثل هذا ما إذا رمى الصيد بسهم فقتله فعلى مذهب الشافعي يحل، وعند أبي حنيفة كان ناسياً حل، وإن كان عامداً لا يحل.

ومثل هذا الذبيحة ما إذا ذبح الإنسان شاة مثلاً وترك التسمية عند ذبحها هل تؤكل أم لا؟

مذهب إمامنا الشافعي يجوز أكلها سواء ترك لتسمية عامداً أو سهواً (4) ، وعند أبي حنيفة إن تركها عمداً لا تؤكل لقوله تعالى {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ} [الأنعام: 121] وإن تركها ناسياً تؤكل (5) .

وأجاب الشافعي عن الآية بأنها محمولة على الذي ذبح لغير الله، فإنه لا يحل أكله.

وأقل التسمية «بسم الله» وأكملها «بسم الله الرحمن الرحيم» ، ويسن أن يقول عند الذبح والقتال «بسم الله والله أكبر» لأن الوقت لا يليق به «الرحمن الرحيم» .

قال ابن العماد: وكيفية التسمية عليه أن يقول: «بسم الله» ولا يقل: «الرحمن الرحيم» لأن المقام لا يناسب الرحمة، ولا يقل: بسم الله واسم محمد.

الفائدة الثالثة: قال الحناطي من الشافعية في فتاويه: لا يجوز جعل الفضة والذهب في ورقة كتب فيها «بسم الله الرحمن الرحيم» ، فإن فعل ذلك مع العلم بالمنع أثم.

الفائدة الرابعة: إذا رأى الإنسان ورقة ملقاة على الأرض وفيها البسملة، أو شيء من القرآن يستحب رفعها بل يجب، إذا خيف أن تداس بالأرجل.

قال ابن الجوزي: «قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من رفع قرطاساً من الأرض فيه «بسم الله الرحمن الرحيم» احتراماً لله تعالى حرم الله وجهه على النار» (6) .

--------------------------------------------

(1) ذكره القرطبي في تفسيره (1/91) .

(2) قد ذكر الجصاص في أحكام القرآن (3/316) الأصل في التسمية عند إرسال الكلب المعلم فقال: وقد روي في التسمية على إرسال الكلب ما حدثنا محمد بن بكر … فساق إسناده إلى الشعبي قال: قال عدي بن حاتم: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: أرسل كلبي؟ قال: «إذا سميت فكل وإلا فلا تأكل، وإن أكل منه فلا تأكل، فإنما أمسك على نفسه» وقال: أرسل كلبي فأجد عليه كلباً آخر؟ قال: «لا تأكل لأنك إنما سميت على كلبك» .

قال الجصاص: فنهاه عن أكل مالم يسم عليه وما شاركه كلب آخر لم يسم عليه، فدل على أن من شرائط ذكاة الصيد التسمية على الإرسال، وهذا يدل أيضا على أن حال الإرسال بمنزلة حال الذبح في وجوب التسمية عليه.

(3) انظر الأم (2/227) .

(4) انظر الأم (2/227) .

(5) انظر الهداية شرح البداية (4/63) .

(6) أخرجه ابن الجوزي في العلل المتناهية (1/87) ضمن أحاديث باب ثواب من رفع قرطاساً من الأرض فيه: «بسم الله الرحمن الرحيم» وروي أحاديثاً عن علي وأنس وأبي هريرة، فذكر الروايات عنهم، ولم يورد هذا الحديث الذي ذكره المصنف بهذا اللفظ، وبالنظر في الرويات التي رواها ابن الجوزي عن علي وأنس وأبي هريرة وجدنا أن أقرب الألفاظ للحديث الذي أورده المصنف حديث أنس فقد رواه بلفظ: «من رفع قرطاساً من الأرض فيه بسم الله الرحمن الرحيم إجلالاً لله أن يداس كتب عند الله من الصديقين، وخفف عن والديه وإن كانا مشركين» .

قال ابن الجوزي: وأما طريق أنس ففيه: العلاء بن مسلمة، قال ابن حبان: يروي الموضوعات والمقلوبات عن الثقات، لا يحل الاحتجاج به، وقال أبو الفتح الأزدي: كان العلاء رجل سوء لا يبالي ما روى لا يحل لمن عرفه أن يروي عنه، وفيه: أبو حفص العبدي، قال أحمد: حرقنا حديثه، وقال يحيى: ليس بشيء.

وحديث أنس أخرجه أيضاً: الخطيب في تالي تلخيص المتشابه (2/458، رقم 274) ، وأورده العجلوني في كشف الخفاء (2/328) وعزاه لأبي الشيخ عن أنس.

والحديث أخرجه ابن عدي في الكامل (5/49، ترجمة رقم 1220) وهي ترجمة: عمر بن حفص أبو حفص العبدي، وقال: ليس بالقوي، وقال في آخر ترجمته: الضعف بين على رواياته.

وترجم له الذهبي في الميزان في (5/226، ترجمة 6081) ، قال الذهبي: قال علي: ليس بثقة، وقال النسائي: متروك، وقال الدارقطني: ضعيف.

وزاد الحافظ ابن حجر على الذهبي في اللسان (4/299، ترجمة 832) فقال: وقال أبو نعيم الأصبهاني: روى عن ثابت المناكير، وقال الساجي: متروك الحديث، وقال عباس الدوري عن يحيى بن معين: أبو حفص العبدي يرفض حديثه.
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লিখতে দেখে বললেন: "এটি সুন্দর করে লেখো, কারণ এক ব্যক্তি এটি সুন্দর করে লিখেছিল ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল।" (১) ।

যদি কোনো ব্যক্তি শিকারের উদ্দেশ্যে তার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেয় এবং ছাড়ার সময় 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' না বলে, আর কুকুরটি শিকার ধরে ফেলে, তবে তা খাওয়া হালাল হবে কি না—এ বিষয়ে ইমামগণ মতভেদ করেছেন (২)?

আমাদের ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর অভিমত হলো, এটি খাওয়া হালাল; চাই সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ বর্জন করুক বা ভুলবশত। কেননা শাফেয়ী রহ.-এর মতে শিকারের জন্য কুকুর বা অনুরূপ কিছু ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত, ওয়াজিব নয় (৩)।

ইমাম আবু হানিফা রহ. এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি ভুলবশত বিসমিল্লাহ বর্জন করা হয় তবে তা খাওয়া হালাল, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা হয় তবে তা হালাল নয়।

অনুরূপভাবে, কেউ যদি শিকারের দিকে তীর নিক্ষেপ করে এবং তা শিকারটিকে মেরে ফেলে, তবে ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী তা হালাল। আর ইমাম আবু হানিফার মতে, যদি ভুলবশত (বিসমিল্লাহ বর্জন) হয় তবে হালাল, আর যদি ইচ্ছাকৃত হয় তবে হালাল নয়।

জবাই করা পশুর ক্ষেত্রেও একই হুকুম; যেমন কোনো ব্যক্তি একটি বকরি জবাই করল এবং জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বর্জন করল, তবে তা খাওয়া যাবে কি না?

আমাদের ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব হলো, বিসমিল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা হোক বা ভুলবশত, তা খাওয়া জায়েজ (৪)। আর ইমাম আবু হানিফার মতে, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা হয় তবে তা খাওয়া যাবে না; আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর কারণে: "আর তোমরা তা থেকে খেয়ো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, নিশ্চয় এটি পাপাচার।" [আল-আনআম: ১২১]। তবে ভুলবশত বর্জন করলে তা খাওয়া যাবে (৫)।

ইমাম শাফেয়ী রহ. এই আয়াতের উত্তর দিয়েছেন যে, এটি ঐ পশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করা হয়েছে; যা খাওয়া হালাল নয়।

বিসমিল্লাহর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো 'বিসমিল্লাহ' এবং পূর্ণরূপ হলো 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'। জবাই করা এবং যুদ্ধের সময় 'বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার' বলা সুন্নাত; কারণ এই মুহূর্তটি 'আর-রহমান আর-রাহিম' (পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু) গুণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইবনুল ইমাদ রহ. বলেন: জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বলার পদ্ধতি হলো—সে বলবে 'বিসমিল্লাহ', কিন্তু 'আর-রহমান আর-রাহিম' বলবে না। কারণ এই স্থানটি দয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর সে 'বিসমিল্লাহ ও মুহাম্মাদের নামে' বলবে না।

তৃতীয় উপকারিতা: শাফেয়ী মাযহাবের হানাতি রহ. তাঁর ফাতওয়ায় বলেছেন: যে কাগজে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখা আছে তাতে সোনা বা রুপা রাখা জায়েজ নেই। কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা জানার পরও এমনটি করে তবে সে গুনাহগার হবে।

চতুর্থ উপকারিতা: যদি কোনো ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকা এমন কোনো কাগজ দেখে যাতে বিসমিল্লাহ বা কুরআনের কিছু অংশ লেখা আছে, তবে তা তুলে নেওয়া মুস্তাহাব, বরং ওয়াজিব; যদি পায়ের নিচে পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইবনুল জাওজি রহ. বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ ভূমি থেকে এমন একটি কাগজ তুলে নিল যাতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখা আছে, আল্লাহ তার চেহারার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।" (৬)।

--------------------------------------------

(১) কুরতুবী তাঁর তাফসীরে (১/৯১) এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) জাসসাস আহকামুল কুরআন (৩/৩১৬) গ্রন্থে শিকারি কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলার মূল বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: শিকারি কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা সম্পর্কে আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে বকর বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি তাঁর সনদ শা'বী পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। শা'বী বলেন: আদি ইবনে হাতিম (রা.) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আমি কি আমার কুকুর (শিকারের জন্য) ছেড়ে দেব? তিনি বললেন: "যখন তুমি আল্লাহর নাম নেবে (বিসমিল্লাহ বলবে) তখন খাও, অন্যথায় খেয়ো না। আর যদি কুকুর নিজে তা থেকে কিছু খেয়ে ফেলে তবে তুমি তা খেয়ো না, কারণ সে তখন নিজের জন্য শিকার করেছে।" তিনি আরও বললেন: "আমি আমার কুকুর ছাড়লাম কিন্তু তার সাথে অন্য একটি কুকুরও দেখতে পেলাম (যেটি আমি ছাড়িনি)?" তিনি বললেন: "খেয়ো না, কারণ তুমি কেবল তোমার কুকুরের ওপর আল্লাহর নাম নিয়েছিলে।"

জাসসাস বলেন: তিনি তাকে ঐ শিকার খেতে নিষেধ করেছেন যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি এবং যার শিকারে অন্য এমন একটি কুকুর শরিক হয়েছে যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, শিকার হালাল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো সেটি ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা। এটি আরও প্রমাণ করে যে, কুকুর ছাড়ার মুহূর্তটি বিসমিল্লাহ ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে জবাই করার মুহূর্তের সমপর্যায়ভুক্ত।

(৩) দেখুন: আল-উম্ম (২/২২৭)।

(৪) দেখুন: আল-উম্ম (২/২২৭)।

(৫) দেখুন: আল-হিদায়াহ শারহুল বিদায়াহ (৪/৬৩)।

(৬) ইবনুল জাওজি এটি আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়া (১/৮৭) গ্রন্থে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' সম্বলিত কাগজ ভূমি থেকে তুলে নেওয়ার সওয়াব বিষয়ক অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি আলী, আনাস এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। তবে গ্রন্থকার (মূল লেখক) যে শব্দে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, ঠিক সেই শব্দে ইবনুল জাওজি বর্ণনা করেননি। ইবনুল জাওজি কর্তৃক বর্ণিত আলী, আনাস ও আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনাগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, গ্রন্থকারের উল্লেখিত হাদীসের নিকটতম শব্দ হলো আনাস (রা.)-এর হাদীসটি। সেটি এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে সম্মান জানানোর জন্য এবং পায়ের নিচে পিষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার জন্য ভূমি থেকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' সম্বলিত একটি কাগজ তুলে নিল, আল্লাহর কাছে তাকে সিদ্দিকদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার পিতামাতার আজাব হালকা করা হবে যদিও তারা মুশরিক হয়।"

ইবনুল জাওজি বলেন: আনাস (রা.)-এর বর্ণনাসূত্রে আল-আলা ইবনে মাসলামাহ রয়েছে। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্যদের নামে বানোয়াট ও উল্টোপাল্টা বর্ণনা দেয়, তার দ্বারা দলিল গ্রহণ করা জায়েজ নয়। আবু ফাতহ আল-আযদি বলেছেন: আল-আলা একজন মন্দ লোক ছিল, সে কী বর্ণনা করছে তার পরোয়া করত না; যে তাকে চেনে তার জন্য তার থেকে বর্ণনা করা জায়েজ নয়। এতে আরও আছে আবু হাফস আল-আবদি। ইমাম আহমাদ বলেন: আমরা তার হাদীস পুড়িয়ে ফেলেছি। ইয়াহইয়া বলেন: সে কিছুই নয় (অযোগ্য)।

আনাস (রা.)-এর এই হাদীসটি খতিব বাগদাদী 'তালি তালখিস আল-মুতাশাবিহ' (২/৪৫৮, নং ২৭৪) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন। আজলুনি এটি 'কাশফুল খাফা' (২/৩২৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আবুশ শাইখের মাধ্যমে আনাস (রা.)-এর দিকে নিসবত করেছেন।

ইবনে আদি হাদীসটি 'আল-কামিল' (৫/৪৯, জীবনী নং ১২২০) গ্রন্থে উমর ইবনে হাফস আবু হাফস আল-আবদির জীবনীতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: সে শক্তিশালী নয়। তার জীবনীর শেষে তিনি বলেছেন: তার বর্ণনাগুলোতে দুর্বলতা স্পষ্ট।

জাহাবি 'মিযানুল ইতিদাল' (৫/২২৬, জীবনী নং ৬০৮১) গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন। জাহাবি বলেন: আলী ইবনে মাদিনি বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। নাসায়ী বলেন: সে পরিত্যক্ত (মাতরুক)। দারা কুতনী বলেন: সে দুর্বল।

হাফিয ইবনে হাজার 'আল-লিসান' (৪/২৯৯, জীবনী নং ৮৩২) গ্রন্থে জাহাবির বক্তব্যের ওপর আরও সংযোজন করে বলেছেন: আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি বলেছেন: সে সাবিত থেকে অনেক মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা করেছে। সাজি বলেছেন: তার হাদীস পরিত্যক্ত। আব্বাস আদ-দুরি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু হাফস আল-আবদির হাদীস বর্জন করা হয়।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٦)
وإذا رفعها جاز له غسلها بالماء وجاز له حرقها بالنار، لكن قال ابن عبد السلام الأولى أن يغسلها بالماء أو يحرقها بالنار، ويجعلها في شق الحائط أو غيره، ولأنها قد تسقط فتوطأ.

وهل الحرق أولى أو الغسل بالماء؟ قال بعضهم: الحرق أولى من الغسل، لأنها بعد الغسل قد تقع على الأرض، ولا يكره الحرق إذا تعلق به غرض صحيح، كما إذا خاف أن توطأ تلك الورقة أو تستعمل في غير القراءة، فقد أحرق عثمان مصاحف، وكان فيها آيات وقرآن منسوخ ولم ينكر عليه.

قال الزركشي: نعم يكره الحرق لغير حاجة (1) .

الفائدة الخامسة: يحرم على الإنسان أن يضع على فراش أو نقش «بسم الله الرحمن الرحيم» أو بشيء من القرآن (2) .

لطيفة خاتمة: كتب قيصر إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن بي صداعاً لا يسكن، فإذا

--------------------------------------------

(1) وفي حكم ذلك يقول أبو بكر البكري في إعانة الطالبين (1/68) : عبارة فتوى ابن حجر -أي: في الورقة التي فيها ذكر الله هل تحرق أم تمزق أم تغسل؟ - تفيد أن المعتمد حرمة التمزيق مطلقاً، ونصها: سئل ابن حجر عمن وجد ورقة ملقاة في طريق فيها اسم الله تعالى ما الذي يفعل بها؟ فأجاب رحمه الله بقوله قال ابن عبد السلام: الأولى غسلها لأن وضعها في الجدار تعرض لسقوطها والإستهانة بها، وقيل: تجعل في جدار، وقيل: يفرق حروفها ويلقيها ذكره الزركشي.

فأما كلام ابن عبد السلام فهو متجه والذي يتجه خلافه وأن الغسل أفضل فقط، وأما التمزيق فقد ذكر الحليمي في منهاجه أنه لا يجوز تمزيق ورقة فيها اسم الله أو اسم رسوله لما فيه من تفريق الحروف وتفريق الكلمة وفي ذلك ازدراء بالمكتوب، فالوجه الثالث شاذ إذ لا ينبغي أن يعول عليه.

(2) قاله الشرواني في حواشيه (1/154) .
এবং যখন কেউ তা তুলে নেয়, তখন সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা তার জন্য জায়েয এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলাও জায়েয। তবে ইবনে আবদুস সালাম বলেছেন যে, উত্তম হলো সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা অথবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা এবং দেয়ালের ফাটলে বা অন্য কোথাও রাখা; কারণ তা পড়ে গিয়ে পদদলিত হতে পারে।

আর পুড়িয়ে ফেলা উত্তম নাকি পানি দিয়ে ধোয়া? তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ধোয়ার চেয়ে পুড়িয়ে ফেলাই উত্তম, কারণ ধোয়ার পর তা মাটিতে পড়ে যেতে পারে। আর যদি কোনো সঠিক উদ্দেশ্য থাকে তবে পুড়িয়ে ফেলা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হবে না, যেমন যদি আশঙ্কা থাকে যে সেই কাগজটি পদদলিত হবে বা তিলাওয়াত ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহৃত হবে; কেননা উসমান (রা.) মুসহাফসমূহ পুড়িয়েছিলেন এবং তাতে রহিত আয়াত ও কুরআন ছিল, আর কেউ তাঁর কাজের প্রতিবাদ করেননি।

যারকাশী বলেছেন: হ্যাঁ, প্রয়োজন ছাড়া পুড়িয়ে ফেলা অপছন্দনীয় (১)।

পঞ্চম শিক্ষা: কোনো ব্যক্তির জন্য বিছানা বা নকশার উপর 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অথবা কুরআনের কোনো অংশ রাখা হারাম (২)।

একটি চমৎকার সমাপ্তি: কায়সার উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, আমার এমন একটি মাথাব্যথা হচ্ছে যা প্রশমিত হচ্ছে না, অতঃপর যখন...

--------------------------------------------

(১) এবং এর বিধান সম্পর্কে আবু বকর আল-বাকরি 'ইয়ানাতুত তালিবিন' (১/৬৮) গ্রন্থে বলেন: ইবনে হাজারের ফতোয়ার ভাষ্য—অর্থাৎ যে কাগজে আল্লাহর জিকির রয়েছে তা কি পুড়িয়ে ফেলা হবে, নাকি ছিঁড়ে ফেলা হবে, নাকি ধুয়ে ফেলা হবে?—এর সারকথা হলো যে, নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী সাধারণভাবে ছিঁড়ে ফেলা হারাম। এর মূল পাঠ হলো: ইবনে হাজারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে থাকা এমন কাগজ পেয়েছে যাতে আল্লাহ তাআলার নাম রয়েছে, সে তা দিয়ে কী করবে? তিনি (রহ.) উত্তরে বলেছেন যে, ইবনে আবদুস সালাম বলেছেন: এটি ধুয়ে ফেলাই উত্তম, কারণ এটি দেয়ালে রাখা হলে পড়ে যাওয়া এবং অবমাননার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর কেউ কেউ বলেছেন: এটি দেয়ালে রাখা হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এর অক্ষরগুলো আলাদা করে ফেলা হবে এবং ফেলে দেওয়া হবে, যা যারকাশী উল্লেখ করেছেন।

ইবনে আবদুস সালামের কথাটি যুক্তিযুক্ত, তবে বিপরীত মতটিও যুক্তিযুক্ত যে শুধু ধুয়ে ফেলাই উত্তম। আর ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে হালিমি তাঁর 'মিনহাজ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ বা তাঁর রাসুলের নাম সম্বলিত কাগজ ছিঁড়ে ফেলা জায়েয নেই, কারণ এতে অক্ষর ও শব্দ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এতে লিখিত বিষয়ের অবমাননা হয়। সুতরাং তৃতীয় মতটি বিচ্ছিন্ন (শায), তাই এর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

(২) শিরওয়ানি তাঁর হাশিয়া গ্রন্থে (১/১৫৪) এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٧)
كان عندك دواءًا ابعثه إليَّ، فبعث إليه عمر قلنسوه فكان إذا وضعها على رأسه سكن صداعه، وإذا رفعها عن رأسه عاوده الصداع، فتعجب من ذلك ففتش القلنسوة فإذا مكتوب فيها «بسم الله الرحمن الرحيم» .

الفائدة السادسة: ذكر ابن الملقن في شرحه على البخاري عن النقاش أنه قال: حين نزلت «بسم الله الرحمن الرحيم» سبحت الجبال فقالت قريش: سحر محمد الجبال (1) .

قال: فإن صح ما ذكره فلذلك معنى، وذلك: أنها آية نزلت على آل داود، وقد كانت الجبال تسبح معه بنص القرآن العظيم.

وقد ورد في فضلها عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «من أراد أن ينجيه الله من الزبائية التسعة عشر فليقرأ «بسم الله الرحمن الرحيم» فيجعل الله له بكل حرف جنة من واحدة (2) .

وسنتكلم على التسمية وننقل فيها فوائد في باب الوضوء إن شاء الله تعالى.

* * *

--------------------------------------------

(1) ذكره الحلبي في سيرتة الحلبية (1/403) من قول النقاش، وقال: قال السهيلي: إن صح ما ذكره فإنما سبحت الجبال خاصة لأن البسملة إنما نزلت على آل داود، وقد كان الجبال تسبح مع داود، وهذا هو ما قاله ابن الملقن كما نقله المصنف.

(2) ذكره الحافظ السيوطي في الدر المنثور (1/26) وعزاه إلى وكيع والثعلبي عن ابن مسعود، وذكره القرطبي وابن كثير.

قال الحافظ ابن كثير: ذكره ابن عطية والقرطبي ووجهه ابن عطية ونصره بحديث: «لقد رأيت بضعة وثلاثين ملكاً يبتدرونها، لقول الرجل: ربنا ولك الحمد حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه» من أجل أنها بضعة وثلاثون حرفاً وغير ذلك. انظر: تفسير القرطبي (1/92) ، وتفسير ابن كثير (1/18) .
আপনার কাছে যদি কোনো ঔষধ থাকে তবে তা আমার কাছে পাঠান। অতঃপর উমর (রা.) তাঁর কাছে একটি টুপি পাঠালেন। যখনই তিনি সেটি মাথায় দিতেন, তাঁর মাথাব্যথা শান্ত হতো; আর যখনই সেটি মাথা থেকে সরাতেন, মাথাব্যথা ফিরে আসত। তিনি এতে বিস্মিত হলেন এবং টুপিটি পরীক্ষা করলেন, তখন দেখা গেল তাতে লেখা আছে: 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'।

ষষ্ঠ ফায়দা: ইবনে আল-মুলাক্কিন বুখারীর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আন-নাক্কাশ থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: যখন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হলো, তখন পাহাড়সমূহ তসবীহ পাঠ করল। তখন কুরাইশরা বলল: মুহাম্মদ পাহাড়গুলোকে জাদু করেছে (১)।

তিনি বলেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা যদি সহীহ হয়, তবে তার একটি গূঢ় অর্থ আছে। তা হলো: এটি এমন একটি আয়াত যা দাউদ (আ.)-এর বংশধরদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল, আর মহান কুরআনের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী পাহাড়সমূহ তাঁর সাথে তসবীহ পাঠ করত।

এর ফজিলত সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি চায় আল্লাহ তাকে উনিশজন যাবানিয়াহ (জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতা) থেকে রক্ষা করুন, সে যেন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করে। তবে আল্লাহ তার জন্য এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তাদের প্রত্যেকের থেকে রক্ষার জন্য একটি করে ঢাল তৈরি করে দেবেন (২)।

আমরা অজুর অধ্যায়ে 'তাসমিয়া' (বিসমিল্লাহ) সম্পর্কে আলোচনা করব এবং ইনশাআল্লাহ তায়ালা সেখানে এ সংক্রান্ত ফায়দাগুলো উদ্ধৃত করব।

* * *

--------------------------------------------

(১) এটি আল-হালাবি তাঁর 'সিরাতে হালাবিয়াহ' (১/৪০৩) গ্রন্থে আন-নাক্কাশের উক্তি থেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আস-সুহাইলি বলেছেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা যদি সহীহ হয়, তবে পাহাড়সমূহ বিশেষভাবে তসবীহ পাঠ করেছিল কারণ বিসমিল্লাহ দাউদ (আ.)-এর বংশধরদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল, আর পাহাড়সমূহ দাউদ (আ.)-এর সাথে তসবীহ পাঠ করত। গ্রন্থকার যেমনটি উদ্ধৃত করেছেন, ইবনে আল-মুলাক্কিনও এটিই বলেছেন।

(২) হাফেজ সুয়ুতী এটি 'আদ-দুররুল মানসুর' (১/২৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ওয়াকি ও আস-সা'লাবী থেকে ইবনে মাসউদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। কুরতুবী এবং ইবনে কাসীরও এটি উল্লেখ করেছেন।

হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: ইবনে আতিয়্যাহ এবং কুরতুবী এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আতিয়্যাহ এর একটি কারণ বর্ণনা করেছেন এবং একটি হাদিস দ্বারা এর সমর্থন করেছেন: "আমি ত্রিশ জনের কিছু বেশি ফেরেশতাকে দেখলাম তারা দ্রুত প্রতিযোগিতা করছেন এই বাক্যটি লেখার জন্য, যখন এক ব্যক্তি বলল: রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাসীরান তইয়িবান মুবারাকান ফিহি (হে আমাদের রব! আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, অঢেল, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা)।" কারণ বাক্যটিতে ত্রিশের কিছু বেশি অক্ষর রয়েছে ইত্যাদি। দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী (১/৯২), এবং তাফসীরে ইবনে কাসীর (১/১৮)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٨)
‌‌المجلس الثاني

في الكلام على قوله: كيف كان بدء الوحي (1) إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي قوله تعالى {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِه} [النساء: 163] .

وفيه طرف من خصائص سيدنا نوح وطرف من فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.

فإن قيل: لأي شيء لم يبتديء البخاري في أول صحيحه «بالحمد» (2)

وهو أمر مهم، وقد صح من حديث أبي هريرة رضي الله عنه (3) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كل كلام لا يبدأ فيه بحمد الله فهو أقطع ناقص البركة» رواه النسائي وابن ماجه (4) .

وأجاب عنه شيخ الإسلام سراج الدين ابن الملقن بسبعة أوجه:

الأول: أن هذا الحديث ليس على شرطه فإن قرة بن عبد الرحمن وهو ممن انفرد به مسلم عن البخاري.

--------------------------------------------

(1) قال ابن حجر في الفتح (1/43) : قوله «بسم الله الرحمن الرحيم كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم» هكذا في رواية أبي ذر والأصيلي بغير «باب» وثبت في رواية غيرهما، فحكي عياض ومن تبعه فيه التنوين وتركه، وقال الكرماني: يجوز فيه الإسكان على سبيل التعداد للأبواب. فلا يكون له إعراب.

(2) لفظ الحديث «كل أمر ذي بال لا يبدأ بحمد الله فهو أقطع» ، وفي رواية: «بحمد الله» ، وفي رواية: «بالحمد فهو أقطع» ، وفي رواية: «أجذم» ، وفي رواية: «لا يبدأ فيه بذكر الله» ، وفي رواية: «ببسم الله الرحمن الرحيم» ، ولفظه المشهور هو ما بدأنا به، أخرجه النسائي في السنن الكبرى (6/127، رقم 10328) ، وابن ماجه في سننه (1/610، رقم 1894) ، وابن حبان في صحيحه (1/174، رقم 2) ، والدارقطني في سننه (1/229) ، والبيهقي في السنن الكبرى (3/208، رقم 5559) جميعاً عن أبي هريرة.

وقد مر في المجلس الأول الكلام بإسهاب عن رواياته وحكمها، وهو بهذا اللفظ حديث حسن.

(3) هو: عبد الرحمن بن صخر الدوسي اليماني، أسلم سنة (7هـ) عام خيبر، كان رضي الله عنه راوية الإسلام لكثرة روايته عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولكثرة ما نقله عن إخوانه من الصحابة فقد روي عنهم علماً كثيراً، قال الشافعي: أبو هريرة أحفظ من روى الحديث في دهره، وبلغ مسنده وعدد أحاديثه (5326) حديثاً، وكانت وفاته بقصره بالعقيق سنة سبع وخمسين، وقيل: سنة ثمان وخمسين، وقيل: سنة تسع وخمسين.

انظر: الإصابة (7/444) .

(4) لفظ الحديث «كل أمر ذي بال لا يبدأ بحمد الله فهو أقطع» ، وفي رواية: «بحمد الله» ، وفي رواية: «بالحمد فهو أقطع» ، وفي رواية: «أجذم» ، وفي رواية: «لا يبدأ فيه بذكر الله» ، وفي رواية: «ببسم الله الرحمن الرحيم» ، ولفظه المشهور هو ما بدأنا به، أخرجه النسائي في السنن الكبرى (6/127، رقم 10328) ، وابن ماجه في سننه (1/610، رقم 1894) ، وابن حبان في صحيحه (1/174، رقم 2) ، والدارقطني في سننه (1/229) ، والبيهقي في السنن الكبرى (3/208، رقم 5559) جميعاً عن أبي هريرة.

وقد مر في المجلس الأول الكلام بإسهاب عن رواياته وحكمها، وهو بهذا اللفظ حديث حسن.
দ্বিতীয় মজলিস

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল (১)—তাঁর এই বাণীর আলোচনা প্রসঙ্গে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি আপনার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি, যেমন ওহী প্রেরণ করেছিলাম নূহের নিকট এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের নিকট} [আন-নিসা: ১৬৩] প্রসঙ্গে।

এতে আমাদের নেতা নূহ আলাইহিস সালামের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার ফজিলত সম্পর্কেও কিছু আলোচনা রয়েছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: ইমাম বুখারী কেন তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতে ‘আল-হামদ’ (আল্লাহর প্রশংসা) (২) দিয়ে শুরু করেননি?

অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু (৩) থেকে বর্ণিত হাদীসে এটি প্রমাণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কথা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছন্ন ও বরকতহীন।" এটি নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (৪)।

এর উত্তরে শায়খুল ইসলাম সিরাজুদ্দিন ইবনুল মুলাক্কিন সাতটি দিক উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত: এই হাদীসটি ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী নয়। কেননা (এর বর্ণনাকারী) কুররাহ বিন আবদুর রহমান এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের থেকে ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারী করেননি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আল-ফাতহ (১/৪৩) গ্রন্থে বলেন: তাঁর বাণী ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল’—এভাবেই আবু যার ও আসীলীর বর্ণনায় ‘বাব’ (পরিচ্ছেদ) শব্দ ছাড়াই এসেছে। তবে অন্যদের বর্ণনায় এটি সাব্যস্ত হয়েছে। আয়াদ ও তাঁর অনুসারীরা এতে তানভীনসহ এবং তানভীন ছাড়া উভয় প্রকার বর্ণনা করেছেন। কিরমানী বলেন: পরিচ্ছেদগুলো গণনা করার পদ্ধতিতে এখানে সুকুন (পড়াও) জায়েজ। সেক্ষেত্রে এর কোনো এরাব বা কারক বিভক্তি থাকবে না।

(২) হাদীসের শব্দ হলো: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছন্ন।" এক বর্ণনায় আছে: "আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে", অন্য বর্ণনায়: "আল-হামদ (প্রশংসা) দ্বারা, তবে তা বিচ্ছন্ন", অন্য বর্ণনায়: "অঙ্গহীন", অন্য বর্ণনায়: "যাতে আল্লাহর জিকির শুরু করা হয় না", অন্য বর্ণনায়: "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দ্বারা"। এর প্রসিদ্ধ শব্দ সেটিই যা দিয়ে আমরা শুরু করেছি। এটি নাসাঈ সুনানে কুবরা (৬/১২৭, নম্বর ১০৩২৮), ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে (১/৬১০, নম্বর ১৮৯৪), ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহে (১/১৭৪, নম্বর ২), দারাকুতনী তাঁর সুনানে (১/২২৯) এবং বায়হাকী সুনানে কুবরা (৩/২০৮, নম্বর ৫৫৫৯) গ্রন্থে সবাই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

প্রথম মজলিসে এর বর্ণনা এবং সেগুলোর হুকুম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। এই শব্দে হাদীসটি ‘হাসান’।

(৩) তিনি হলেন: আবদুর রহমান বিন সাখর আদ-দাওসী আল-ইয়ামানী। তিনি খয়বরের বছর (৭ম হিজরী) ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রচুর হাদীস বর্ণনা এবং তাঁর সাহাবী ভাইদের থেকে অনেক কিছু নকল করার কারণে তিনি ‘রাবিয়াতুল ইসলাম’ বা ইসলামের শ্রেষ্ঠ বর্ণনাকারী ছিলেন। তাঁদের থেকেও তিনি প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ইমাম শাফেয়ী বলেন: আবু হুরায়রা তাঁর সমসাময়িক হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাফেজ (সংরক্ষণকারী) ছিলেন। তাঁর মুসনাদ ও বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫৩২৬ টি। তিনি আল-আকীক নামক স্থানে তাঁর প্রাসাদে সাতান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। বলা হয়: আটান্ন হিজরীতে, আবার বলা হয়: উনষাট হিজরীতে।

দেখুন: আল-ইসাবাহ (৭/৪৪৪)।

(৪) হাদীসের শব্দ হলো: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছন্ন।" এক বর্ণনায় আছে: "আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে", অন্য বর্ণনায়: "আল-হামদ (প্রশংসা) দ্বারা, তবে তা বিচ্ছন্ন", অন্য বর্ণনায়: "অঙ্গহীন", অন্য বর্ণনায়: "যাতে আল্লাহর জিকির শুরু করা হয় না", অন্য বর্ণনায়: "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দ্বারা"। এর প্রসিদ্ধ শব্দ সেটিই যা দিয়ে আমরা শুরু করেছি। এটি নাসাঈ সুনানে কুবরা (৬/১২৭, নম্বর ১০৩২৮), ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে (১/৬১০, নম্বর ১৮৯৪), ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহে (১/১৭৪, নম্বর ২), দারাকুতনী তাঁর সুনানে (১/২২৯) এবং বায়হাকী সুনানে কুবরা (৩/২০৮, নম্বর ৫৫৫৯) গ্রন্থে সবাই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

প্রথম মজলিসে এর বর্ণনা এবং সেগুলোর হুকুম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। এই শব্দে হাদীসটি ‘হাসান’।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٩)
الثاني: أن المراد بالحمد الذكر والثناء، بدليل أنه جاء في رواية: «بذكر الله» (1) والتسمية مشتملة على ذلك، فاكتفي بها لأنها أبلغ الثناء.

الثالث: يحتمل أن البخاري حمد الله بلسانه، لأن الذي اقتضاه لفظ الحمد أن يحمد لا أن يكتبه، وقيل في الجواب غير ذلك (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر التخريج السابق.

(2) قال ابن حجر في الفتح (1/43) : وقد أجاب من شرح هذا الكتاب بأجوبة أخر فيها نظر:

منها: أنه تعارض عنده الابتداء بالتسمية والحمدلة، فلو ابتدأ بالحمدلة لخالف العادة، أو بالتسمية لم يعد مبتدئاً بالحمدلة فاكتفي بالتسمية.

وتعقب بأنه لو جمع بينهما، لكان مبتدئاً بالحمدلة بالنسبة إلى ما بعد التسمية، وهذه هي النكتة في حذف العاطف، فيكون أولى لموافقته الكتاب العزيز، فإن الصحابة افتتحوا كتابة الإمام الكبير بالتسمية والحمد وتلوها، وتبعهم جميع من كتب المصحف بعدهم في جميع الأمصار، من يقول بأن البسملة آية من أول الفاتحة، ومن لا يقول ذلك.

ومنها: أنه راعى قوله تعالى: ? يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ? [الحجرات: 1] فلم يقدم على كلام الله ورسوله شيئا، واكتفى بها عن كلام نفسه.

وتعقب بأنه كان يمكنه أن يأتي بلفظ الحمد من كلام الله تعالى، وأيضاً فقد قدم الترجمة وهي من كلامه على الآية، وكذا ساق السند قبل لفظ الحديث، والجواب عن ذلك: بأن الترجمة والسند وإن كانا متقدمين لفظاُ، لكنهما متأخران تقديراً فيه نظر.

وأبعد من ذلك كله، قول من ادعى: أنه ابتدأ بخطبة فيها حمد وشهادة، فحذفها بعض من حمل عنه الكتاب، وكأن قائل هذا ما رأى تصانيف الأئمة من شيوخ البخاري، وشيوخ شيوخه وأهل عصره كمالك في الموطأ، وعبد الرزاق في المصنف، وأحمد في المسند، وأبي داود في السنن، إلى ما لا يحصى ممن لم يقدم في ابتداء تصنيفه خطبة، ولم يزد على التسمية، وهم الأكثر، والقليل منهم من افتتح كتابه بخطبة، أفيقال في كل من هؤلاء: إن الرواة عنهم حذفوا ذلك؟ كلا، بل يحمل ذلك من صنيعهم، على أنهم حمدوا لفظاً.

ويؤيده ما رواه الخطيب في الجامع عن أحمد: أنه كان يتلفظ بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم إذا كتب الحديث ولا يكتبها، والحامل له على ذلك إسراع أو غيره، أو يحمل على أنهم رأوا ذلك مختصاً بالخطب دون الكتب، ولهذا من افتتح كتابه منهم بخطبة، حمد وتشهد كما صنع مسلم، والله سبحانه وتعالي أعلم بالصواب.

وقد استقر عمل الأئمة المصنفين، افتتاح كتب العلم بالبسملة وكذا معظم كتب الرسائل، واختلف القدماء فيما إذا كان الكتاب كله شعراً، فجاء عن الشعبي منع ذلك، وعن الزهري قال: مضت السنة أن لا يكتب في الشعر بسم الله الرحمن الرحيم، وعن سعيد بن جبير جواز ذلك، وتابعه على ذلك الجمهور. وقال الخطيب: هو المختار.
দ্বিতীয়ত: হামদ বা প্রশংসার মাধ্যমে জিকির ও গুণকীর্তন উদ্দেশ্য, এর প্রমাণ হলো একটি বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে" (১)। আর বিসমিল্লাহর মধ্যে তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই এটিকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে; কারণ এটিই হলো প্রশংসার সবচেয়ে জোরালো মাধ্যম।

তৃতীয়ত: সম্ভাবনা রয়েছে যে, ইমাম বুখারী মৌখিকভাবে আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। কারণ প্রশংসার শব্দ যা দাবি করে তা হলো মৌখিকভাবে প্রশংসা করা, লিখে প্রকাশ করা নয়। এ ব্যাপারে উত্তর হিসেবে আরও কিছু বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী তাখরিজ (উৎস অনুসন্ধান) দেখুন।

(২) ইবনে হাজার ‘আল-ফাতহ’ (১/৪৩) গ্রন্থে বলেছেন: যারা এই কিতাবের ব্যাখ্যা লিখেছেন, তারা আরও কিছু উত্তর দিয়েছেন যাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে:

তার মধ্যে একটি হলো— গ্রন্থকারের কাছে বিসমিল্লাহ এবং হামদালার মাধ্যমে শুরু করার বিষয়টি পরস্পর বিরোধী মনে হয়েছে। কারণ তিনি যদি হামদালার মাধ্যমে শুরু করতেন তবে তা প্রচলিত রীতির পরিপন্থী হতো, অথবা বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করলে হামদালার মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে বলে গণ্য হতো না। তাই তিনি বিসমিল্লাহর ওপরই সন্তুষ্ট থেকেছেন।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তিনি যদি উভয়টিকে একত্রে নিয়ে আসতেন, তবে বিসমিল্লাহর পরবর্তী অংশের তুলনায় হামদালার মাধ্যমে শুরু করা সাব্যস্ত হতো। আর অব্যয় বিলুপ্ত করার রহস্য এটাই। এটিই হতো সর্বোত্তম পন্থা, কারণ তা মহান কিতাব (কুরআন মাজিদ)-এর সাথে সংগতিপূর্ণ হতো। কেননা সাহাবায়ে কেরাম মহাগ্রন্থ কুরআন লেখার শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং হামদ দিয়ে শুরু করেছিলেন এবং তার অনুসরণ করেছিলেন। তাদের পরবর্তী সময়ে সকল ভূখণ্ডের মুসহাফ লেখকরা তাদের অনুসরণ করেছেন— চাই তারা বিসমিল্লাহকে ফাতিহার শুরুর আয়াত মনে করেন কিংবা না করেন।

আরও একটি উত্তর হলো: তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হয়ো না" [হুজুরাত: ১]। তাই তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর ওপর নিজের কোনো কথাকে প্রাধান্য দেননি এবং নিজের কথার পরিবর্তে এটিকেই (বিসমিল্লাহকে) যথেষ্ট মনে করেছেন।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তিনি মহান আল্লাহর কালাম থেকেই প্রশংসার শব্দ নিয়ে আসতে পারতেন। এছাড়া তিনি আয়াতের আগে শিরোনাম নিয়ে এসেছেন যা তাঁর নিজস্ব কথা। একইভাবে হাদীসের মূল শব্দের আগে সনদ উল্লেখ করেছেন। এর জবাবে যা বলা হয়েছে যে— শিরোনাম ও সনদ বাহ্যত আগে এলেও মর্যাদার দিক থেকে পেছনে, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

এই সবগুলোর চেয়েও অবান্তর কথা হলো তাদের দাবি, যারা বলে যে: তিনি হামদ এবং শাহাদাত সম্বলিত খুতবার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, কিন্তু কিতাবটি যারা তাঁর নিকট থেকে বহন করেছেন তাদের কেউ তা বাদ দিয়ে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে এই কথা যিনি বলেছেন তিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদগণ, তাঁদের উস্তাদগণ এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামদের রচনা দেখেননি। যেমন ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে ইমাম মালিক, ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে আব্দুর রাজ্জাক, ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে আহমাদ এবং ‘সুনান’ গ্রন্থে আবু দাউদসহ অসংখ্য ইমামদের রচনা রয়েছে যারা তাদের গ্রন্থের শুরুতে কোনো খুতবা দেননি এবং বিসমিল্লাহর অতিরিক্ত কিছু লেখেননি। তারাই সংখ্যায় বেশি। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক আলিম খুতবার মাধ্যমে কিতাব শুরু করেছেন। তাহলে কি এদের সবার ক্ষেত্রে এ কথা বলা হবে যে— বর্ণনাকারীরা তাদের থেকে তা বাদ দিয়ে দিয়েছেন? কক্ষনোই না! বরং তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা এই যে, তারা মৌখিকভাবে আল্লাহর প্রশংসা করেছেন।

একে সমর্থন করে খতীব আল-বাগদাদী ‘আল-জামে’ গ্রন্থে ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে: তিনি হাদীস লেখার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করতেন কিন্তু তা লিখতেন না। এর কারণ হয়তো দ্রুত লেখা অথবা অন্য কিছু। অথবা এর ব্যাখ্যা এই হতে পারে যে, তারা বিষয়টিকে খুতবার জন্য নির্দিষ্ট মনে করতেন, কিতাবের জন্য নয়। এই কারণেই তাদের মধ্যে যারা খুতবার মাধ্যমে কিতাব শুরু করেছেন, তারা হামদ ও তাশাহহুদ পাঠ করেছেন যেমনটি ইমাম মুসলিম করেছেন। আর মহান আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।

গ্রন্থকার ইমামগণের কর্মপন্থা ইলমী কিতাবসমূহের শুরুতে বিসমিল্লাহ লিখার ওপর স্থির হয়েছে এবং পত্রাবলীর ক্ষেত্রেও অধিকাংশের আমল এটাই। তবে পূর্বসূরীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যদি পুরো কিতাবটি কবিতা হয়। ইমাম শাবী থেকে এর নিষেধজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম যুহরী বলেছেন: সুন্নাত এভাবেই চলে আসছে যে কবিতার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ লেখা হবে না। আবার সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এর বৈধতা বর্ণিত হয়েছে এবং জুমহুর (অধিকাংশ) আলিম তাঁর অনুসরণ করেছেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: এটিই পছন্দনীয় মত।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٠)
وقوله «باب» قال الكرماني: يجوز فيه وفي نظائره ثلاثة أوجه:

الأول: «باب» بالرفع والتنوين.

والثاني: «بابُ» بالرفع بلا تنوين على الإضافة، وعلى التقديرين هو خبر مبتدأ محذوف، أي: هذا باب.

والثالث: «بابْ» بالسكون على سبيل التعداد للأبواب فلا إعراب له، قال البرماوي: ولا يخفى بُعده.

و «بدء الوحي» بالهمز مصدر «بدء» بمعنى البداية، يقال: بدو الوحي بلا همز مصدر بدا يبدي بمعنى ظهر.

و «الوحي» مصدر «وحى يحي» كوعد يعد، ويقال: «أوحى» رباعياً بمعناه، ولكن الأكثر في الاستعمال مصدر الثلاثي.

ومعنى الوحي في اللغة: الإعلام بخفاء، وقيل: بسرعة ومنه الوحا.

وأما في الشرع: فهو إعلام الله تعالى أنبياءه الشيء بكتاب أو برسالة أو ملك أو منام أو إلهام أو نحو ذلك (1) .

واستعمل الوحي في كتاب الله بمعنى الأمر نحو: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الحَوَارِيِّينَ أَنْ

--------------------------------------------

(1) فصل الحافظ ابن حجر في الفتح (1/45) معنى الوحي في اللغة والشرع والمراد به هنا فقال: قوله: «بدء الوحي» قال عياض: روي بالهمز مع سكون الدال من الابتداء، وبغير همز مع ضم الدال وتشديد الواو من الظهور.

قلت: ولم أره مضبوطاً في شيء من الروايات التي اتصلت لنا، إلا أنه وقع في بعضها «كيف كان ابتداء الوحي» ، فهذا يرجح الأول، وهو الذي سمعناه من أفواه المشايخ.

وقد استعمل البخاري هذه العبارة كثيراً، كبدء الحيض، وبدء الأذان، وبدء الخلق.

«والوحي» لغة: الإعلام في خفاء، والوحي أيضا: الكتابة والمكتوب والبعث والإلهام والأمر والإيماء والإشارة والتصويت شيئا بعد شيء.

وقيل: أصله التفهيم، وكل ما دللت به من كلام أو كتابة أو رسالة أو إشارة فهو وحي.

وشرعاً: الإعلام بالشرع، وقد يطلق الوحي ويراد به اسم المفعول منه أي: الموحى، وهو: كلام الله المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم.

وقد اعترض محمد بن إسماعيل التيمي على هذه الترجمة، فقال: لو قال: كيف كان الوحي لكان أحسن، لأنه تعرض فيه لبيان كيفية الوحي، لا لبيان كيفية بدء الوحي فقط.

وتعقب بأن المراد من بدء الوحي، حاله مع كل ما يتعلق بشأنه، أي: تعلق كان، والله أعلم.
এবং তাঁর কথা «পরিচ্ছেদ» প্রসঙ্গে কিরমানি বলেন: এটি এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে তিনটি সুরত বা রূপ জায়েজ:

প্রথম: রফ (পেশ) ও তানভিনসহ «বাবুন্» (পরিচ্ছেদ)।

দ্বিতীয়: ইদাফাত হওয়ার কারণে তানভিন ছাড়া রফ (পেশ) যোগে «বাবু» (পরিচ্ছেদ)। উভয় অবস্থাতেই এটি একটি উহ্য মুবতাদা-র খবর বা বিধেয়, অর্থাৎ: ‘এটি একটি পরিচ্ছেদ’।

তৃতীয়: পরিচ্ছেদসমূহের ক্রম গণনার নিয়মে সুকুন যোগে «বাব্»; এমতাবস্থায় এর কোনো ইরাব বা ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। বিরমাওয়ি বলেন: এর দুর্বলতা বা দূরবর্তিতা অপ্রকাশ্য নয়।

আর হামযাহ-সহ «অহির সূচনা» হলো ‘সূচনা করা’ অর্থবোধক ‘বাদউন’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আর হামযাহ ছাড়া দাল-এর পেশ ও ওয়াও-এর তাশদিদ যোগে ‘প্রকাশ পাওয়া’ অর্থেও এর ব্যবহার রয়েছে।

আর «অহি» শব্দটি ‘ওয়াআ-য়াহি’ এর ক্রিয়ামূল, যা ‘ওয়াদা-ইয়াঈদু’ এর ওজনে। এর সমার্থক হিসেবে চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া ‘আওহা’ থেকেও এটি ব্যবহৃত হয়, তবে তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূলের ব্যবহারই অধিক।

আভিধানিক অর্থে অহির মানে হলো: গোপনে কোনো সংবাদ প্রদান করা। কেউ কেউ বলেছেন: দ্রুত সংবাদ দেওয়া; আর এ থেকেই ‘আল-ওয়াহা’ (দ্রুততা) শব্দটি এসেছে।

আর শরিয়তের পরিভাষায়: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর নবীগণকে কোনো কিতাব, রিসালাত, ফেরেশতা, স্বপ্ন, ইলহাম বা এই জাতীয় কোনো মাধ্যমের সাহায্যে কোনো বিষয় অবগত করা (১)।

আল্লাহর কিতাবে অহি শব্দটি ‘আদেশ’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন: {আর যখন আমি হাওয়ারিদের প্রতি নির্দেশ দিলাম যে...}

--------------------------------------------

(১) হাফিজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’তে (১/৪৫) আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে অহির ব্যাখ্যা এবং এখানে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: তাঁর কথা ‘অহির সূচনা’ প্রসঙ্গে কাজি ইয়াদ বলেন: এটি হামযাহ ও দাল-এর সুকুনসহ ‘ইবতিদা’ (সূচনা) অর্থে বর্ণিত হয়েছে; আবার হামযাহ ছাড়া দাল-এর পেশ ও ওয়াও-এর তাশদিদসহ ‘জুহুর’ (প্রকাশ পাওয়া) অর্থেও বর্ণিত হয়েছে।

আমি (ইবনে হাজার) বলছি: আমাদের নিকট পৌঁছেছে এমন কোনো বর্ণনায় আমি এর নির্দিষ্ট কোনো উচ্চারণ বিধি দেখিনি, তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘কিভাবে অহির সূচনা হয়েছিল’ এই শব্দগুলো এসেছে। এটি প্রথম মতটিকে অর্থাৎ ‘সূচনা’ অর্থটিকে অগ্রাধিকার দেয়। আর এটিই আমরা আমাদের উস্তাদদের নিকট থেকে সরাসরি শুনেছি।

ইমাম বুখারি এই পরিভাষাটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন, যেমন: ঋতুবতী হওয়ার সূচনা, আজানের সূচনা, সৃষ্টির সূচনা ইত্যাদি।

‘অহি’ আভিধানিক অর্থে: গোপনে জানানো। এছাড়াও অহি বলতে লিখন, লিখিত বস্তু, প্রেরণ, ইলহাম, আদেশ, ইঙ্গিত, ইশারা এবং একের পর এক ধ্বনি করাকেও বোঝায়।

কেউ কেউ বলেছেন: এর মূল অর্থ হলো বুঝিয়ে দেওয়া। কথা, লেখা, বার্তা কিংবা ইঙ্গিতের মাধ্যমে যা কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তাই অহি।

আর শরিয়তের পরিভাষায়: শরিয়তের বিধান সম্পর্কে অবগত করা। কখনও কখনও অহি শব্দটি এর কর্মবাচক বিশেষ্য অর্থাৎ ‘প্রত্যাদেশকৃত বিষয়’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়; আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কালাম।

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তাইমি এই শিরোনামের ওপর আপত্তি তুলে বলেছেন: যদি তিনি বলতেন, ‘অহি কেমন ছিল’, তবে তা আরও সুন্দর হতো। কারণ তিনি এখানে কেবল অহির সূচনার ধরন নয়, বরং অহির সামগ্রিক অবস্থার বিবরণ দিয়েছেন।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ‘অহির সূচনা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অহির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অবস্থা ও প্রেক্ষিত, তা যে ধরনের সংশ্লিষ্টতাই হোক না কেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧١)
آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ} [المائدة: 111] .

وبمعني التسخير نحو: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ} [النحل: 68] وهو اتخاذها من الجبل بيوتاً، ومن عبر عن ذلك بالإلهام أراد هدايتها لذلك، وإلا فالإلهام حقيقة إنما يكون للعاقل.

وبمعني الإشارة نحو: {فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَة وَعَشِياًّ} [مريم: 11] وقد يطلق الوحي بمعنى الموحى به كالقرآن والسنة، من إطلاق المصدر على المفعول قال تعالى {إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 4] ، وسنذكر أقسام الوحي في المجالس الآتية.

وإنما صدر البخاري رضي الله عنه كتابه بالوحي لأنه مادة الشريعة وقصده أن جميع أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وحي (1)

لقوله الله سبحانه إخباراً عن نبيه صلى الله عليه وسلم {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3، 4] .

وقوله «إلى رسول الله» المراد: نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وإنما قال: إلى رسول الله ولم يقل إلى الرسول لكراهة ذلك، فقد قال السخاوي (2)

في القول البديع: أسند البيهقي (3) من طريق الشافعي قال: يكره للرجل ان يقول قال الرسول، ولكن قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تعظيماً له والله الموفق.

وصرح شيخنا السيوطي (4) في خصائصه بذلك أيضاً قال: وكره الشافعي أن يقول في حقه: الرسول بل رسول الله، لأنه ليس فيه من التعظيم ما في الإضافة.

فائدة: اختلف العلماء في الرسول والنبي هل هما بمعنى واحد؟

فقيل: هما بمعنى واحد فكل رسول نبي وكل نبي رسول.

والجمهور على أن الرسول أخص من النبي فكل نبي رسول ولا عكس، إذ النبي إنسان أوحى الله إليه بشرع ولم يؤمر تبليغه، فإن أمر تبليغه فرسول أيضاً.

وإنما قال: «إلي رسول الله» ولم يقل: إلى نبي الله، لأن الرسول المتصف بالرسالة، والنبي بالنبوة، والرسالة أفضل من النبوة، لأن الرسالة تثمر هداية الأمة، والنبوة قاصرة على النبي كالعلم والعبادة.

وذهب ابن عبد السلام (5) إلى أن النبوة أفضل من الرسالة، واحتج بأن النبوة: الوحي بمعرفة الله وصفاته، فهي متعلقة بالله من طرفها، والرسالة الأمر بالتبليغ فهي

--------------------------------------------

(1) مراده من ذلك أن السنة بما تحويه من أقواله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وإقراراته وصفاته، هي وحي من عند الله، وهذا أيضاً فيه رد المطاعن عن سنة نبينا المعصوم صلى الله عليه وسلم، وصيانة للشريعة من كيد الغالين، وانتحال المبطلين الذين لا يقرون السنة ولا يأخذون بها بدعوى أنها قول بشر يخطئ وينسى، وقد غفلوا أن الله عصمه صلى الله عليه وسلم أن يخطئ في شرعه ووحيه فسبحانه القائل: ?وَمَا يَنطِقُ عَنِ الهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى? [النجم: 3، 4] ، فالسنة بهذا وحي من الله سبحانه وتعالى.

وإذا أردت الزيادة فنقول لك:

يدل على ذلك قول الحق سبحانه وتعالى: ?وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً? [النساء: 113] ، والحكمة التي في الآية هي السنة، قال الشافعي في الرسالة (ص: 45) : فذكر الله الكتاب وهو القرآن، وذكر الحكمة، فسمعت من أرضى من أهل العلم بالقرآن يقول: الحكمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتفسير الحكمة بالسنة نقله الشافعي عن أئمة ارتضاهم في تفسير القرآن الكريم، وقد روي هذا التفسير تفسير الحكمة بالسنة عن الحسن وقتادة. انظر: الدر المنثور (1/193) ، والخطيب في الفقية (1/88) .

وتوجد آيات أخر تفيد أن السنة وحي من الله عز وجل وينضم إليها أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم التي تؤكد ذلك، فقد روى أبو داود في سننه (4/200، رقم 4604) ، والمروزي في السنة (1/70، رقم 244) ، وأحمد في المسند (4/130) عن المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه … الحديث» .

ويوجد غيره من الأحاديث التي نشير إليها بهذا الحديث، وكلها دلالة قاطعة على أن السنة وحي أنزل من عند الله سبحانه وتعالى ولا يجادل في ذلك إلا معاند.

والعلماء قسموا الوحي إليه صلى الله عليه وسلم إلى قسمين:

الأول: وحي إعلامي، والثاني: وحي إقراري، وللوحي الإعلامي كيفيات متعددة وهي سبع:

الكيفية الأولى: أن يوحى إليه بواسطة الإلهام، فيلقي الله في قلبه المعاني، مع العلم اليقيني أن هذا من عند الله سبحانه، وهذه الكيفية هي المراد من قول الحق سبحانه وتعالى: ?وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَاّ وَحْياً? [الشورى: 51] ، إذ يقابلها إجمال بقية الكيفيات في قوله بعد ذلك: ?أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولاً فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ?، وبهذا قال أكثر المفسرين. انظر: السنة النبوية د. عبد المهدي بن عبد القادر (ص: 26) .

الكيفية الثانية: أن يكلمه الله سبحانه وتعالى من وراء حجاب، فلا يرى صلى الله عليه وسلم ربه، وإنما يسمع كلامه عز وجل، مع اليقين بأنه سبحانه يكلمه، وهذا هو مفهوم من قول الله سبحانه: ?وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَاّ وَحْياً أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ? فقوله سبحانه: ?أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ? هي الكيفية المذكورة هاهنا.

وتكليم الله نبيه صلى الله عليه وسلم إما في اليقظة، كما في ليلة الإسراء والمعراج ين فرضت الصلاة، وإما في النوم كما في حديث: «رأيت ربي في أحسن صورة قال: يما يختصم الملأ الأعلى … الحديث» . رواه الدارمي في الرؤيا (2/51، رقم 2155) ، وأخرجه أحمد في المسند عن عدة من الصحابة منهم ابن عباس، ومعاذ راجع المسند (1/368) ، (4/66) ، (5/243) ، (5/378) .

وفي بعض الروايات ما هو أصرح من هذا ففيها أنه رأى ربه مناماً.

الكيفية الثالثة: الرؤيا الصادقة فيرى صلى الله عليه وسلم الشيء في الرؤيا فهذا من الوحي، إذ رؤيا الأنبياء وحي، وهي حق كما جاء في هذا الحديث الذي معنا من هذا الشرح، وقد جاء ذلك مصرحاً به في روايات أخر نحو ما أخرجه البخاري في الصحيح (1/238، رقم 138) عن عبيد بن عمير بن قتادة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن رؤيا الأنبياء وحي» ثم قرأ: ?إِنِّي أَرَى فِي المَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ? [الصافات: 102] .

وما ذكره السيوطي في الدر (5/280) وعزاه إلى ابن أبي حاتم عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رؤيا الأنبياء وحي» .

فرؤياه المنامية صلى الله عليه وسلم حق لا يعتريها تخييل أو تلبيس، وكذا جميع الأنبياء، تجد هذا جلياً واضحاً في قصة ذبح إبراهيم ولده، وكيف أن ذلك كان بناء على رؤيا منامية، وتجده أيضاً في قصة يوسف، وأن رؤياه الأحد عشر كوكباً والشمس والقمر له ساجدين قد تحققت بعد سنوات.

قال في الفتح (8/717) : قال ابن المرابط في تفسير الرؤيا الصالحة: هي التي ليست ضغثاً، ولا من تلبيس الشيطان، ولا فيها ضرب مثل مشكل أي لا يتوقف على تأويله.

الكيفية الرابعة: أن يوحى إليه بواسطة الملك، وقد تمثل له الملك رجلا، فيكلمه بما أمر به من الوحي.

فأحياناً كان جبريل عليه السلام يأتي رسول الله صلى الله عليه وسلم على صورة دحية الكلبي، فيبلغه عن الله سبحانه وتعالى به.

وأخرج حديث إتيان جبريل في صورة دحية الكلبي النسائي في الكبرى (8/101، رقم 4991) ، والبزار في مسنده (9/419، رقم 4025) كلاهما من حديث أبى هريرة.

وأخرجه الطبراني في المعجم الكبير (1/260، رقم 758) ، وفي المعجم الأوسط (1/7، رقم 7) من حديث أنس بن مالك.

وأخرجه البيهقى في شعب الإيمان (5/175، رقم 6257) من حديث عائشة.

وأخرجه أبو الشيخ في العظمة (2/780، رقم 18) من حديث شريح بن عبيد.

وأخرجه ابن سعد في الطبقات لكبرى (4/250) من حديث ابن عمر ولفظ الجميع: «كان جبرائيل يأتي النبي في صورة دحية الكلبي» .

ودحية صحابي جليل شهد المشاهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم خلا بدر، وكان جميل الهيئة.

وربما تمثل له الملك شخصاً آخر على نحو ما ورد في الحديث عند مسلم في الصحيح (1/37، رقم8) عن عمر بن الخطاب قال: «بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر لا يرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه، وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً» قال: صدقت، قال: فعجبنا له يسأله ويصدقه، قال: فأخبرني عن الإيمان؟ قال: «أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره» قال: صدقت، قال: فأخبرني عن الإحسان؟ قال: «أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك» قال: فأخبرني عن الساعة؟ قال: «ما المسئول عنها بأعلم من السائل» قال: فأخبرني عن إمارتها؟ قال: «أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان» قال: ثم انطلق، فلبثت ملياً ثم قال لي: «يا عمر أتدري من السائل؟» قلت: الله ورسوله أعلم، قال: «فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم» .

وهذه الكيفية من أهون كيفيات الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم كما صرح بذلك في الحديث الذي معنا أيضا من رواية البخاري.

الكيفية الخامسة: أن يوحى إليه بواسطة الملك ولا يرى الملك، وإنما يعلم بمجئ الوحي بعلامات تدل عليه من دوي كدوي النحل أو كصلصلة الجرس كما في الحديث هنا، فيكلمه الملك بالوحي، وهذه أثقل الكيفيات عليه صلى الله عليه وسلم حتى أن عائشة قالت في الحديث: «ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه، وإن جبينه ليتفصد عرقاً» .

ويدل على هذا أيضاً ما عند أحمد في المسند (1/34) من حديث عمر بن الخطاب: «كان إذا نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم الوحي يسمع عند وجهه دوي كدوي النحل … الحديث» .

وفيما يعانية النبي صلى الله عليه وسلم عند نزول الوحي له حكم متعددة، منها: ما يترتب على ذلك من المشقة من زيادة الأجر، ورفعه الدرجات، ومنها: أن يتفرغ صلى الله عليه وسلم للوحي وتتفرغ جوارحه لما سيلقى عليه.

ومن هذه الكيفية ما أخرجه البخاري في الصحيح (3/393) من حديث يعلى بن أمية أن رجلاً أتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالجعرانة، وعليه جبة وعليه أثر الخلوق، وفيه أن يعلى رآه حال نزول الوحي محمر الوجه، يغط كما يغط البكر … الحديث.

الكيفية السادسة: أن يوحى إليه بواسطة الملك، دون أن يرى الملك، ودون أن يكلمه، وإنما يلقي الملك في قلبه صلى الله عليه وسلم ما أمر به من الوحي.

ومن هذه الكيفية ما أخرجه الحاكم (2/4) والشافعي في الرسالة (ص: 53) ، وأبو نعيم في الحلية (10/26، 27) عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن روح القدس نفس في روعي أنه لن تموت نفس حتى تستكمل رزقها، فاتقوا الله وأجملوا في الطلب» .

الكيفية السابعة: أن يوحى إليه بواسطة الملك، وقد ظهر الملك على صورته التي خلقه الله عليها، له ستمائة جناح كما عند البخاري في الصحيح (8/610) ، وفي رواية أخرى عند النسائي وابن مردوية كما في الفتح (8/611) : «له ستمائة جناح يتناثر منها تهاويل الدر والياقوت» ، وغيرهما من الروايات في أوصاف جبريل عليه السلام.

ومن هذه الكيفية رؤيتة صلى الله عليه وسلم جبريل في ليلة المعراج على صورته التي خلقه الله عليها، وفي هذه الليلة أبلغه عن الله ما أبلغه وأجابه ورافقه.

فهذه هي كيفيات الوحي الإعلامي، ورأينا أن منها ما هو بدون ملك، ومنها ما فيه ملك، ومنها ما يكون في اليقظة، ومنها ما يكون في النوم، والصفة العامة في كل هذه الكيفيات أنه صلى الله عليه وسلم يحدث عنده علم يقيني بأن هذا من الله عز وجل.

والوحي الإقراري وهو القسم الثاني من أقسام الوحي فهو: أن يجتهد النبي صلى الله عليه وسلم في الأمر فيسلك فيه مسلكاً ما، فإن كان صواباً أقره الوحي، وإن كلن غير صواب نبهه الوحي، وحينئذ يكون إعلامياً، فالوحي التقريري هو: ما أقر الله سبحانه وتعالى نبيه فيه على صواب فعله من تلقاء نفسه.

وما صدر منه صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو إقرار دائر بين حالين: الأول: حال الإيحاء، والثاني حال عدم الإيحاء.

فأما الأول بأن يوحي الله إليه بالأمر ابتداء فيمثل، أو يوحي إليه انتهاء ليعرفه سبحانه ما يتفق وشريعته، ومثاله ما في حديث أسرى بدر، وهذا الحال الكثير الغالب، فكثيراً ما ابتدأه الوحي، وربما سئل عن الشيء فسكت حتى جاءه الوحي، كما في حديث المتلاعنين وهو عند البخاري في الصحيح (6/2663، رقم 6874) عن سهل بن سعد الساعدي، وسئل الرسول صلى الله عليه وسلم عن الروح فسكت حتى أخبره الوحي. أخرجه البخاري (1/58، رقم 125) ، وسئل عن توزيع التركة فسكت حتى نزلت آية الميراث. أخرجه البخاري (6/2666، رقم 6879) في باب ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يسأل مما لم ينزل عليه الوحي فيقول: لا أدري أو لم يجب حتى ينزل عليه الوحي، ولم يقل برأي ولا بقياس.

وواضح من ترجمة البخاري لهذا الباب تأييداً لما قد قلناه أن هذا هو غالب حالته صلى الله عليه وسلم، ولو راجعت هذا الباب لاستقر ذلك، فراجعه إن شئت، وكل هذا أيضاً يثبت أن السنة وحي أنزل من عند الله.

الحال الثانية: حال عدم الإيحاء، وذلك يتحصل بتركه صلى الله عليه وسلم وشأنه فيتصرف صواباً فيقره الله سبحانه وتعالى على ذلك.

وهذا الحال من مستلزمات سلامة الدين، فما كان الله عز وجل ليترك خطأ يصر من رسوله المبلغ عنه، مما يترتب عليه وقوع الأمة فيه اتباعاً، وإذا كانت الحكمة من إرسال الرسل أن لا تكون للناس على الله حجة، فإن ذلك إنما يتم بعصمة هذا الرسول المبلغ عن ربه من الوقوع في أي خطأ وإلا نبهه، كما في حديث أبي قتادة أن رجلاً سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أرأيت إن قتلت في سبيل الله تكفر عني خطاياي؟ فقال له رسول صلى الله عليه وسلم: «وأنت صابر محتسب، مقبل غير مدبر» ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كيف قلت؟» ، قال: أرأيت إن قتلت في سبيل الله أتكفر عني خطاياي؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «نعم وأنت صابر محتسب، مقبل غير مدبر إلا الدَّين فإن جبريل عليه السلام قال لي ذلك» .

ولقد كان معلوماً لدى الصحابة أن إقرار الرسول صلى الله عليه وسلم إقرار من الله سبحانه وتعالى، وأنه لو حدث أمر يخالف الإسلام لجاء الوحي فأنكر عليهم ذلك، ولقد كانوا أن الوحي قريب وكثير، فلن يترك أمراً مخالفاً يمر، فما أقره رسول الله صلى الله عليه وسلم دون وحي فإنما هو من الإسلام وإلا جاء الوحي.

ومجمل القول أن السنة وحي من الله عز وجل إلى نبيه صلى الله عليه وسلم، وهذا الوحي منه إعلامي وله كيفيات متعددة، ومنه إقراري يقر الله نبيه على تصرف تصرفه صواباً، وقد كان الوحي يراقب تصرفات الأمة أيضاً، فينبه على ما ارتكبوه من أخطاء يظنونها صواباً أو لم يعرفوا مخالفتها، أما ما عرفت مخالفته ووقع فيه فاعله مدركاً تقصيره وعالماً حكمه فهذا ليس داخلاً في دائرة الوحي، وهذا من رحمة الله بالأمة.

قال الشاطبي في الموافقات (4/52) : كل ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من خبر فهو كما أخبر، وهو حق وصدق معتمد عليه فيما أخبر به عنه سواء علينا أنبني عليه في التكليف حكم أم لا، كما أنه إذا شرع حكماً أو أقر أو نهى فهو كما أخبر به الملك عن الله، وبين ما نفث في روعه وألقي في نفسه، أو رآه رؤية كشف، أو اطلاع على مغيب على وجه خارق للعادة، أو كيف ما كان، فذلك معتبر يحتج به، وينبني عليه في الاعتقادات والأعمال جميعاً، لأنه صلى الله عليه وسلم مؤيد بالعصمة وما ينطق عن الهوي. انظر في هذا الموضوع بإسهاب: السنة النبوية (26 – 33) تأليف الدكتور: عبد المهدي بن عبد القادر بن عبد الهادي.

(2) السخاوي هو: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد السخاوي الأصل، القاهري المولد، الشافعي المذهب، نزيل الحرمين الشريفين، ولد في ربيع الأول سنة إحدى وثلاثين وثمانمائة وحفظ القرآن العظيم وهو صغير وصلى به في شهر رمضان، وحفظ عمدة الأحكام والتنبيه والمنهاج وألفية ابن مالك وألفية العراقي وغالب الشاطبية والنخبة لابن حجر وغير ذلك وكلما حفظ كتابا عرضه على مشايخه، وبرع في الفقه والعربية والقراءات والحديث والتاريخ، وشارك في الفرائض والحساب والتفسير وأصول الفقه وغيرها. ومسموعاته كثيرة جداً لا تكاد تنحصر، وأخذ عن جماعة لا يحصون يزيدون على أربعمائة نفس، وأذن له غير واحد بالافتاء والتدريس والاملاء وسمع الكثير على شيخه الحافظ ابن حجر العسقلاني ولازمه أشد الملازمة وحمل عنه ما لم يشاركه فيه غيره، وأخذ عنه أكثر تصانيفه وقال عنه: هو أمثل جماعتي وأذن له، وكان بينه وبين النبي عشرة أنفس وحج بعد وفاة شيخه ابن حجر مع والديه ولقي جماعة من العلماء وأخذ عنهم كالبرهان الزمزي وغيره، ثم حج سنة سبعين وجاور وحدث هناك بأشياء من تصانيفه وغيرها ثم حج في سنة خمس وثمانين وجاور سنة ست وسبع وأقام منهما ثلاثة أشهر، وفي يوم الأحد وقت العصر الثامن والعشرين من شهر شعبان سنة ثمانمائة واثنين حال مجاورته الأخيرة بها وعمره إحدى وسبعون سنة وصلي عليه بعد صلاة الصبح يوم الاثنين ثاني تاريخه بالروضة الشريفة ووقف بنعشه تجاه الحجرة الشريفة ودفن بالبقيع بجوار مشهد الإمام مالك.

انظر: شذرات الذهب (4/15) ، والنور السافر (1/18) .

(3) البيهقي: هو الحافظ أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي البيهقي، أحد أعلام المحدثين الفقهاء، توفي سنة (458هـ) .

انظر: طبقات الشافعية (4/214) ، وتذكرة الحفاظ (3/1132) ، والبداية والنهاية (12/94) .

(4) هو: أبو الفضل، جلال الدين، عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد الطولوني، المصري، الشافعي، عالم مشارك في العلوم ولد ونشأ في القاهرة يتيما، فقيه، محدث، أصولي، مفسر، له تصانيف كثيرة ورائعة منها: جمع الجوامع، والجامع الكبير، والإتقان وغيرها الكثير كانت وفاته سنة (911هـ) ، والسيوطي من شيوخ المصنف الذين نقل عنهم كثيراً.

انظر: الضوء اللامع (4/65) ، وشذرات من ذهب (8/51) ، والبدر الطالع (1/328) .

(5) هو: الشيخ عز الدين عبد العزيز عبد السلام الدمشقي السلمي، كان شيخاً للإسلام عالماً ورعاً زاهداً، آمراً بالمعروف وناهياً عن المنكر، قرأ الفقه على ابن عساكر، والأصول على الشيخ الآمدي، وولي خطابه دمشق فتعرض على سلطان في خطبته لأمر كان فحصل له تشويش انتقل بسببه إلى مصر فأكرمه ملك مصر وولاه خطابة الجامع العتيق والقضاء بها، واستقر بتدريس الصالحية بالقاهرة، وكان الحافظ زكي الدين مدرساً بالكاملية فامتنع من الفتوى مع وجوده، وكان كل منهما يأتي مجلس الآخر واستفاد منه ولم يزل مدرساً بالصالحية إلى أن مات في عاشر جمادي الأولى سنة ستين وستمائة.

انظر: طبقات الفقهاء (1/267) ، وشذرات الذهب (3/301) ، طبقات الشافعية (2/109، ترجمة: 412) ، وطبقات الشافعية الكبرى (8/209، ترجمة: 1183) ، وطبقات المفسرين (1/242، ترجمة: 290) .
আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। তারা বলল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)। [আল-মায়িদাহ: ১১১]।

এবং অনুগত করার অর্থে, যেমন: {আর আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে নির্দেশ দিলেন (ওহী করলেন)} [আন-নাহল: ৬৮]; আর তা হলো পাহাড় থেকে ঘর তৈরি করা। আর যারা এর ব্যাখ্যা 'ইলহাম' (প্রেরণা) দিয়ে করেছেন, তারা এর দ্বারা মৌমাছিকে সেই কাজের দিকে পরিচালিত করা বুঝিয়েছেন; নতুবা প্রকৃতপক্ষে ইলহাম কেবল বুদ্ধিমান সত্তার জন্যই হয়ে থাকে।

এবং ইশারা বা ইঙ্গিতের অর্থে, যেমন: {অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন (ওহী করলেন) যেন তারা সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে} [মারইয়াম: ১১]। কখনো ওহী শব্দটি 'যা অবতীর্ণ করা হয়েছে' সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন কুরআন ও সুন্নাহ; এটি মূল শব্দের (মাসদার) ব্যবহার 'মাফউল' (কর্ম) অর্থে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৪]। আমরা আগামী মজলিসগুলোতে ওহীর প্রকারভেদ বর্ণনা করব।

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবটি ওহী দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটি শরীয়তের মূল উপাদান। তাঁর উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত হাদীসই ওহী। (১)

যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৩, ৪]।

আর তাঁর উক্তি «আল্লাহর রাসূলের প্রতি»; এখানে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে। তিনি «রাসূলের প্রতি» না বলে «আল্লাহর রাসূলের প্রতি» বলেছেন কারণ কেবল 'রাসূল' বলা অপছন্দনীয়। সাখাবী (২)

তাঁর 'আল-কাওলুল বাদী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ইমাম বায়হাকী (৩) ইমাম শাফেয়ীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তির জন্য 'রাসূল বলেছেন' বলা অপছন্দনীয়; বরং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন' বলা উচিত। আল্লাহই তাওফীকদাতা।

আমাদের শাইখ সুয়ূতী (৪) তাঁর 'খাসায়েস' গ্রন্থেও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ী তাঁর ক্ষেত্রে কেবল 'রাসূল' বলা অপছন্দ করতেন, বরং 'আল্লাহর রাসূল' বলা পছন্দ করতেন। কারণ শুধু রাসূল শব্দে সেই সম্মান নেই যা আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলার মধ্যে রয়েছে।

জ্ঞাতব্য: আলেমগণ 'রাসূল' ও 'নবী' একই অর্থে কি না, সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

কেউ কেউ বলেছেন: তারা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, সুতরাং প্রত্যেক রাসূলই নবী এবং প্রত্যেক নবীই রাসূল।

জমহুর বা সংখ্যাধিক আলেমের মতে, রাসূল শব্দটি নবীর চেয়ে অধিক বিশেষ। অর্থাৎ প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। কারণ নবী হলেন সেই মানুষ যার কাছে আল্লাহ শরীয়ত অবতীর্ণ করেছেন কিন্তু তা প্রচার করার নির্দেশ দেননি। আর যদি প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি রাসূলও বটে।

তিনি «আল্লাহর রাসূলের প্রতি» বলেছেন কিন্তু «আল্লাহর নবীর প্রতি» বলেননি, কারণ রাসূল রিসালাত গুণের অধিকারী এবং নবী নবুওয়াত গুণের অধিকারী। আর রিসালাত নবুওয়াতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ রিসালাতের ফল হলো উম্মতের হেদায়েত, আর নবুওয়াত কেবল নবীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে যেমন জ্ঞান ও ইবাদত।

ইবনে আব্দুস সালাম (৫) এই মত পোষণ করেছেন যে, নবুওয়াত রিসালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, নবুওয়াত হলো আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর গুণাবলী সংক্রান্ত ওহী, তাই এর এক প্রান্ত আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। আর রিসালাত হলো প্রচারের নির্দেশ, তাই তা

--------------------------------------------

(১) তাঁর উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি ও গুণাবলী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী। এর মাধ্যমে আমাদের নিষ্পাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপবাদগুলোর খণ্ডন হয় এবং চরমপন্থী ও বাতিলপন্থীদের চক্রান্ত থেকে শরীয়তকে রক্ষা করা হয়। যারা সুন্নাহকে স্বীকার করে না বা তা গ্রহণ করে না এই অজুহাতে যে, এটি মানুষের কথা যার ভুল ও বিস্মৃতি হতে পারে; তারা এই সত্যটি ভুলে গেছে যে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শরীয়ত ও ওহীর ক্ষেত্রে ভুল থেকে রক্ষা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়" [আন-নাজম: ৩, ৪]। সুতরাং সুন্নাহও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী।

যদি আপনি আরও বিস্তারিত জানতে চান তবে আমরা বলব:

এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না এবং আপনার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে" [আন-নিসা: ১১৩]। এই আয়াতে বর্ণিত 'হিকমত' হলো সুন্নাহ। ইমাম শাফেয়ী তাঁর 'আর-রিসালা' (পৃষ্ঠা: ৪৫) গ্রন্থে বলেন: আল্লাহ কিতাব অর্থাৎ কুরআনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি কুরআনের ইলম রাখেন এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বলতে শুনেছি যে, হিকমত হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ। হিকমতের ব্যাখ্যা সুন্নাহ দিয়ে করা ইমাম শাফেয়ী তাঁর নির্ভরযোগ্য ইমামদের থেকে বর্ণনা করেছেন। হাসান বসরী ও কাতাদাহ থেকেও হিকমতের এই ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আদ-দুররুল মানসুর (১/১৯৩), আল-খতিব আল-ফাগীহ (১/৮৮)।

সুন্নাহ যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী, সে সম্পর্কে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। এর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহও একে নিশ্চিত করে। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে (৪/২০০, নম্বর ৪৬০৪), মারওয়াযী তাঁর সুন্নাহ গ্রন্থে (১/৭০, নম্বর ২৪৪) এবং আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৪/১৩০) মিকদাম বিন মাদিকারিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ প্রদান করা হয়েছে... হাদীস শেষ পর্যন্ত।"

এই হাদীস ছাড়াও আরও অনেক হাদীস রয়েছে যা এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। এগুলোর সবই অকাট্য প্রমাণ যে সুন্নাহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী এবং একগুঁয়ে ব্যক্তি ছাড়া কেউ এ নিয়ে বিতর্ক করে না।

আলেমগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আসা ওহীকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

প্রথমত: তথ্যপ্রদানকারী ওহী (ওহী ইলামী), দ্বিতীয়ত: অনুমোদনকারী ওহী (ওহী ইকরারী)। তথ্যপ্রদানকারী ওহীর সাতটি ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে:

প্রথম পদ্ধতি: ইলহাম বা অন্তরে নিক্ষেপের মাধ্যমে ওহী আসা। আল্লাহ তাঁর অন্তরে কোনো বিষয় গেঁথে দিতেন এবং তিনি নিশ্চিতভাবে জানতেন যে এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। মহান আল্লাহর এই বাণীর উদ্দেশ্যও তাই: "আল্লাহর পক্ষে কোনো মানুষের সাথে কথা বলা সম্ভব নয় ওহীর (প্রেরণা বা ইশারার) মাধ্যম ছাড়া" [আশ-শুরা: ৫১]। এর পরবর্তী অংশে বাকি পদ্ধতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে: "অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে, অথবা তিনি কোনো দূত প্রেরণ করেন, অতঃপর সে তাঁর অনুমতিতে যা ইচ্ছা ওহী করে; নিশ্চয়ই তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।" অধিকাংশ মুফাসসির এ কথা বলেছেন। দেখুন: আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ড. আব্দুল মাহদী বিন আব্দুল কাদির (পৃষ্ঠা: ২৬)।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: মহান আল্লাহ পর্দার অন্তরাল থেকে তাঁর সাথে কথা বলা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখতে পেতেন না, কিন্তু আল্লাহর কথা শুনতে পেতেন এবং তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস থাকত যে আল্লাহই তাঁর সাথে কথা বলছেন। এটি আল্লাহর এই বাণী থেকে বোঝা যায়: "অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে"।

আল্লাহর তাঁর নবীর সাথে কথা বলা জাগ্রত অবস্থায় হতে পারে, যেমন মিরাজের রাতে যখন সালাত ফরয করা হয়েছিল; অথবা ঘুমের মধ্যে হতে পারে যেমন হাদীসে এসেছে: "আমি আমার প্রতিপালককে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি, তিনি বললেন: ঊর্ধ্ব জগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে... হাদীস।" এটি দারেমী বর্ণনা করেছেন (২/৫১, নম্বর ২১৫৫) এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে ইবনে আব্বাস ও মুয়াযসহ একাধিক সাহাবীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (১/৩৬৮, ৪/৬৬, ৫/২৪৩, ৫/৩৭৮)।

কিছু বর্ণনায় আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে তিনি তাঁর প্রতিপালককে স্বপ্নে দেখেছেন।

তৃতীয় পদ্ধতি: সত্য স্বপ্ন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে যা দেখতেন তা ওহী হিসেবে গণ্য হতো। কারণ নবীদের স্বপ্ন ওহী এবং তা সত্য। যেমন এই হাদীসেও এসেছে। এটি অন্যান্য বর্ণনায় আরও স্পষ্টভাবে এসেছে যেমন বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১/২৩৮, নম্বর ১৩৮) উবাইদ বিন উমাইর বিন কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নবীদের স্বপ্ন ওহী।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "আমি স্বপ্নে দেখেছি যে তোমাকে যবেহ করছি" [আস-সাফফাত: ১০২]।

সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর গ্রন্থে (৫/২৮০) এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আবী হাতিমের বরাতে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নবীদের স্বপ্ন ওহী।"

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্ন সত্য, এতে কোনো কল্পনা বা সংশয়ের অবকাশ নেই। সকল নবীর ক্ষেত্রেই তাই। ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের স্বীয় সন্তানকে যবেহ করার ঘটনায় এটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে তা ছিল স্বপ্নের ভিত্তিতে। ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনায়ও দেখা যায় যে এগারোটি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চন্দ্রের সেজদা করার স্বপ্ন বহু বছর পর বাস্তবায়িত হয়েছিল।

ফাতহুল বারী গ্রন্থে (৮/৭১৭) বলা হয়েছে: ইবনুল মুরাবিত নেক স্বপ্নের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এটি এমন স্বপ্ন যা এলোমেলো নয়, শয়তানের প্ররোচনা নয় এবং এতে কোনো জটিল রূপক নেই যার ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে।

চতুর্থ পদ্ধতি: ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী আসা। ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণ করে আসতেন এবং আল্লাহ যে ওহীর নির্দেশ দিয়েছেন সে সম্পর্কে কথা বলতেন।

মাঝে মাঝে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম দিহিয়া কালবী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আকৃতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসতেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছে দিতেন।

দিহিয়া কালবীর আকৃতিতে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের আসার হাদীসটি নাসাঈ তাঁর কুবরা গ্রন্থে (৮/১০১, নম্বর ৪৯৯১) এবং বাজ্জার তাঁর মুসনাদে (৯/৪১৯, নম্বর ৪০২৫) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাবারানী তাঁর মুজামুল কবীর (১/২৬০, নম্বর ৭৫৮) এবং মুজামুল আওসাত (১/৭, নম্বর ৭) গ্রন্থে আনাস বিন মালিকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকী শুআবুল ঈমান গ্রন্থে (৫/১৭৫, নম্বর ৬২৫৭) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবুশ শাইখ আল-আজমা গ্রন্থে (২/৭৮০, নম্বর ১৮) শুরাইহ বিন উবাইদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাতুল কুবরা গ্রন্থে (৪/২৫০) ইবনে উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সকলের ভাষ্য হলো: "জিবরাঈল নবীর কাছে দিহিয়া কালবীর আকৃতিতে আসতেন।"

দিহিয়া ছিলেন একজন মহান সাহাবী যিনি বদর ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত সুশ্রী ছিলেন।

কখনো কখনো ফেরেশতা অন্য কোনো ব্যক্তির আকৃতিতেও আসতেন, যেমন মুসলিমে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম, হঠাৎ আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনত না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বসলেন এবং নিজের হাঁটু নবীর হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাত নবীর দুই উরুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন... এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটি জিবরাঈল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।"

ওহীর এই পদ্ধতিটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সবচেয়ে সহজ ছিল, যা বুখারীর বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম পদ্ধতি: ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী আসা কিন্তু ফেরেশতাকে দেখা যেত না। তবে ওহী আসার সময় কিছু আলামত দেখে তা বোঝা যেত, যেমন মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ বা ঘণ্টার শব্দের মতো আওয়াজ শোনা যেত। ফেরেশতা তখন তাঁর সাথে কথা বলতেন। এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সবচেয়ে কঠিন পদ্ধতি। এমনকি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: "আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতে দেখেছি, যখন ওহী শেষ হতো তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।"

এর প্রমাণ হিসেবে মুসনাদে আহমদে (১/৩৪) উমর ইবনুল খাত্তাবের হাদীসে এসেছে: "যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর চেহারার কাছে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত...।"

ওহী নাযিলের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কষ্টের সম্মুখীন হতেন তার পেছনে অনেক হিকমত রয়েছে। যেমন: কষ্টের ফলে সাওয়াব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওহীর জন্য পুরোপুরি নিবিষ্ট করা।

এই পদ্ধতির মধ্যে সেই ঘটনাটিও পড়ে যা বুখারী (৩/৩৯৩) ইয়ালা বিন উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন যখন তিনি জি’রানা নামক স্থানে ছিলেন। তখন তাঁর ওপর ওহী নাযিল হচ্ছিল এবং ইয়ালা তাঁকে দেখলেন যে তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেছে এবং তিনি উটের বাচ্চার মতো শব্দ করছেন...।

ষষ্ঠ পদ্ধতি: ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী আসা, ফেরেশতাকে না দেখে এবং তাঁর সাথে কথা না বলে। বরং ফেরেশতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরে সেই ওহী ঢেলে দিতেন যা তাকে নির্দেশ দেওয়া হতো।

এই পদ্ধতির প্রমাণ হলো হাকেম (২/৪), শাফেয়ী তাঁর আর-রিসালা (পৃষ্ঠা: ৫৩) এবং আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ (১০/২৬, ২৭) গ্রন্থে আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) আমার অন্তরে এই কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার নির্ধারিত রিযিক পূর্ণ করে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রিযিক অন্বেষণে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো।"

সপ্তম পদ্ধতি: ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী আসা, যেখানে ফেরেশতা তাঁর আসল আকৃতিতে প্রকাশিত হতেন যে আকৃতিতে আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ছয়শটি ডানা ছিল, যা বুখারী (৮/৬১০) উল্লেখ করেছেন। নাসাঈ ও ইবনে মারদুবাইয়্যাহর অন্য বর্ণনায় এসেছে: "তাঁর ছয়শটি ডানা ছিল যা থেকে হরেক রঙের মুক্তো ও ইয়াকুত ঝরে পড়ত।" জিবরাঈল আলাইহিস সালামের বর্ণনায় আরও অনেক হাদীস রয়েছে।

এই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত হলো মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিবরাঈলকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখা। সেই রাতে জিবরাঈল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে যা পৌঁছানোর ছিল তা পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গী ছিলেন।

এগুলো হলো তথ্যপ্রদানকারী ওহীর পদ্ধতি। আমরা দেখলাম এর কোনোটি ফেরেশতা ছাড়া, কোনোটি ফেরেশতার মাধ্যমে, কোনোটি জাগ্রত অবস্থায় এবং কোনোটি ঘুমের মধ্যে হয়েছে। এই সমস্ত পদ্ধতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে এই নিশ্চিত জ্ঞান সৃষ্টি হতো যে এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে।

আর অনুমোদনকারী ওহী (ওহী ইকরারী) হলো দ্বিতীয় প্রকার। এটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিষয়ে ইজতিহাদ করে কোনো পথ অবলম্বন করতেন; যদি তা সঠিক হতো তবে ওহী তা অনুমোদন করত। আর যদি সঠিক না হতো তবে ওহী তাঁকে সতর্ক করে দিত এবং তখন সেটি তথ্যপ্রদানকারী ওহীতে পরিণত হতো। সুতরাং অনুমোদনকারী ওহী হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে যে সঠিক কাজ করেছেন তাতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে বহাল রেখেছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি প্রকাশ পায় তা দুটি অবস্থার মধ্যে ঘোরে: প্রথমত: ওহী বিদ্যমান থাকাকালীন অবস্থা, দ্বিতীয়ত: ওহী না থাকা অবস্থা।

প্রথম অবস্থা হলো যখন আল্লাহ শুরুতেই কোনো নির্দেশ দিয়ে ওহী পাঠান অথবা শেষে ওহী পাঠিয়ে তাঁকে জানিয়ে দেন যে তাঁর শরীয়তের সাথে কোনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন বদরের বন্দীদের নিয়ে আলোচনা। এই অবস্থাই বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ওহী শুরুতেই আসত। আবার অনেক সময় কোনো বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হতো কিন্তু ওহী না আসা পর্যন্ত তিনি চুপ থাকতেন। যেমন লিআনকারী দম্পতির হাদীস যা বুখারী (৬/২৬৬৩, নম্বর ৬৮৭৪) সাহল বিন সাদ সায়েদী থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি চুপ ছিলেন যতক্ষণ না ওহী তাঁকে সংবাদ দিল। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (১/৫৮, নম্বর ১২৫)। মিরাজ বা উত্তরাধিকার বণ্টন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি চুপ ছিলেন যতক্ষণ না উত্তরাধিকারের আয়াত নাযিল হলো। বুখারী (৬/২৬৬৬, নম্বর ৬৮৭৯) একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এই শিরোনামে যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হতো যে বিষয়ে ওহী নাযিল হয়নি, তখন তিনি বলতেন আমি জানি না অথবা ওহী না আসা পর্যন্ত উত্তর দিতেন না; তিনি নিজের রায় বা কিয়াস দিয়ে কথা বলতেন না।"

ইমাম বুখারীর এই শিরোনাম থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ অবস্থা এমনই ছিল। আপনি এই অধ্যায়টি পড়লে বিষয়টি নিশ্চিত হবেন। এসব কিছুই প্রমাণ করে যে সুন্নাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ওহী।

দ্বিতীয় অবস্থা: ওহী না থাকা অবস্থা। এটি তখনই হতো যখন আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতেন এবং তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে সেটির ওপর অনুমোদন দিতেন।

এই অবস্থা দ্বীনের বিশুদ্ধতার জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা তাঁর বার্তাবাহক রাসূলের কোনো ভুল হতে দিতেন না যা তিনি প্রচার করেছেন এবং যার ফলে উম্মত তাঁকে অনুসরণ করে ভুলের মধ্যে পড়ে যেত। রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্যই হলো যেন মানুষের কাছে আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো দলিল না থাকে; আর এটি তখনই সম্ভব যখন এই রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সকল ভুল থেকে সংরক্ষিত থাকেন অথবা ভুল হলে তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। যেমন আবু কাতাদার হাদীসে জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলেন: আমি যদি আল্লাহর পথে শহীদ হই তবে কি আমার গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ, যদি তুমি ধৈর্যশীল, সাওয়াবের প্রত্যাশী এবং পলায়ন না করে সম্মুখপানে অগ্রসরমান অবস্থায় থাকো।" এরপর তিনি বললেন: "তুমি কী বললে?" সে প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতীত। কারণ জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমাকে এখনই এই কথা বললেন।"

সাহাবায়ে কেরামের কাছে এটি সুপরিচিত ছিল যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমোদন মানেই আল্লাহর অনুমোদন। যদি ইসলামের পরিপন্থী কিছু ঘটত তবে ওহী এসে তা নিষেধ করত। ওহী সবসময় নিকটবর্তী ও নিয়মিত ছিল, তাই কোনো বিরোধী কাজ অবহেলিত থাকত না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী ছাড়াই যা অনুমোদন করেছেন তা ইসলামেরই অংশ, অন্যথায় ওহী এসে বাধা দিত।

সারকথা হলো, সুন্নাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী। এই ওহীর কিছু হলো তথ্যপ্রদানকারী যার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, আর কিছু হলো অনুমোদনকারী যেখানে আল্লাহ তাঁর নবীকে তাঁর সঠিক কাজের ওপর বহাল রেখেছেন। ওহী উম্মতের কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করত। তারা যদি ভুল করে কিছুকে সঠিক মনে করত বা তার বিরোধিতা সম্পর্কে না জানত তবে ওহী তাদের সতর্ক করত। তবে যারা জেনেশুনে সীমালঙ্ঘন করত বা নিজের ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভুল করত, সেটি ওহীর এই গণ্ডির অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি উম্মতের ওপর আল্লাহর রহমত।

ইমাম শাতিবী তাঁর 'আল-মুয়াফাকাত' (৪/৫২) গ্রন্থে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সংবাদই প্রদান করুন না কেন, তা ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছেন। তা সত্য ও নির্ভরযোগ্য, চাই তা থেকে কোনো শরীয়তের বিধান বের হোক বা না হোক। একইভাবে তিনি যখন কোনো বিধান দেন বা কোনো কাজ অনুমোদন করেন অথবা নিষেধ করেন, সেটি তেমনই যেমনটি ফেরেশতা আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, অথবা তাঁর অন্তরে ঢেলে দেওয়া হয়েছে, অথবা তিনি কাশফ বা অলৌকিকভাবে গায়েবী কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করেছেন। সেটি যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন, তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর বিশ্বাস ও আমল উভয়ই নির্ভরশীল। কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে নিষ্পাপ এবং তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: ড. আব্দুল মাহদী বিন আব্দুল কাদিরের 'আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ' (২৬-৩৩)।

(২) সাখাবী হলেন: শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ সাখাবী (মূল নিবাস সাখা), কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী এবং হারামাইন শরীফাইনের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ৮৩১ হিজরীর রবীউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই কুরআন হিফজ করেন এবং রমজান মাসে তা নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি উমদাতুল আহকাম, আত-তানবীহ, আল-মিনহাজ, আলফিয়্যাতু ইবনে মালিক, আলফিয়্যাতু ইরাকী এবং অধিকাংশ শাতবিয়্যাহ ও ইবনে হাজারের নুখবাহসহ অনেক কিতাব মুখস্থ করেন এবং যখনই কোনো কিতাব হিফজ করতেন তা তাঁর উস্তাদদের শোনাতেন। তিনি ফিকহ, আরবি ভাষা, কিরাত, হাদীস ও ইতিহাসে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), হিসাববিজ্ঞান, তাফসীর ও উসূলে ফিকহেও তাঁর দখল ছিল। তাঁর শোনা হাদীসের সংখ্যা অগণিত। তিনি প্রায় চারশতেরও বেশি উস্তাদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। একাধিক উস্তাদ তাঁকে ফতোয়া প্রদান, পাঠদান ও শ্রুতিলিখনের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর উস্তাদ হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর কাছে প্রচুর হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন। তিনি ইবনে হাজারের অনেক কিতাব বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলতেন: "সে আমার ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য।" ইবনে হাজার তাঁকে অনুমতি প্রদান করেছিলেন। তাঁর ও নবীর মাঝখানে দশজন বর্ণনাকারী ছিল। ইবনে হাজারের মৃত্যুর পর তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে হজ করেন এবং অনেক আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করে শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ৮৭০ হিজরীতে পুনরায় হজ করেন এবং সেখানে অবস্থান করে তাঁর কিতাবসমূহ থেকে পাঠদান করেন। এরপর ৮৮৫ হিজরীতে পুনরায় হজ করেন এবং ৮৮৬ ও ৮৮৭ হিজরীতে সেখানে অবস্থান করেন। সেই অবস্থানের শেষ পর্যায়ে ৮৯৭ হিজরীর ২৮শে শাবান রবিবার আসরের সময় ৭১ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরদিন সোমবার সকালে মসজিদে নববীতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর খাটিয়া কিছুক্ষণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা মোবারকের সামনে রাখা হয়েছিল এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে ইমাম মালিকের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৪/১৫), আন-নূরুস সাফির (১/১৮)।

(৩) বায়হাকী হলেন: হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-বায়হাকী, তিনি হাদীস বিশারদ ফকীহদের অন্যতম ইমাম। তিনি ৪৫৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ (৪/২১৪), তাযকিরাতুল হুফফাজ (৩/১১৩২), আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১২/৯৪)।

(৪) তিনি হলেন: আবুল ফজল জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ আত-তুলুনী আল-মিসরী আশ-শাফেয়ী। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী আলেম ছিলেন। কায়রোতে ইয়াতীম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি ফকীহ, মুহাদ্দিস, উসূলবিদ ও মুফাসসির ছিলেন। তাঁর অসংখ্য চমৎকার কিতাব রয়েছে যার মধ্যে জামউল জাওয়া-মি, আল-জামি আল-কাবীর ও আল-ইতকান অন্যতম। তিনি ৯১১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। সুয়ূতী এই কিতাবের লেখকের অন্যতম উস্তাদ যার থেকে তিনি অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।

দেখুন: আদ-দাওউল লামি (৪/৬৫), শাযারাতুয যাহাব (৮/৫১), আল-বদরুত তালি (১/৩২৮)।

(৫) তিনি হলেন: শাইখ ইযযুদ্দীন আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম আদ-দামেশকী আস-সুলামী। তিনি শাইখুল ইসলাম, পরম পরহেযগার ও দুনিয়াত্যাগী আলেম ছিলেন। তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী ছিলেন। ইবনে আসাকিরের কাছে ফিকহ এবং শাইখ আমেদীর কাছে উসূলে ফিকহ পড়েন। তিনি দামেশকের খতিব নিযুক্ত হন কিন্তু খুতবায় সুলতানের একটি কাজের সমালোচনা করার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার কারণে তিনি মিশরে চলে যান। মিশরের বাদশাহ তাঁকে সম্মানিত করেন এবং কায়রোর প্রাচীন মসজিদের খতিব ও বিচারক নিযুক্ত করেন। তিনি কায়রোর সালিহিয়্যা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। হাফিজ যাকিউদ্দীন কামিলিয়্যাহ মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন কিন্তু ইবনে আব্দুস সালামের উপস্থিতিতে তিনি ফতোয়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। তাঁরা একে অপরের মজলিসে যাতায়াত করতেন এবং তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হতেন। তিনি ৬৬০ হিজরীর ১০ই জুমাদাল উলা-তে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: তাবাকাতুল ফুকাহা (১/২৬৭), শাযারাতুয যাহাব (৩/৩০১), তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ (২/১০৯, জীবনী: ৪১২), তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা (৮/২০৯, জীবনী: ১১৮৩), তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (১/২৪২, জীবনী: ২৯০)।
(খণ্ড: ١) শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٢)
متعلقة بالله من أحد طرفيها، والرسالة الأمر بالتبليغ، فهي متعلقة بالله من أحد طرفيها وبالعباد من الطرف الآخر، والمتعلق بالله من الطرفين أفضل من المتعلق به من أحدهما.

ورد عليه بأن الرسالة أخص من النبوة، كما أن الرسول أخص من النبي فهي مشتملة على النبوة وزيادة.

فائدة أخرى: مبنية على الفرق بين الرسول والنبي أفادها علماء الحديث وهي: ما إذا وقع في الرواية قال رسول الله، أو عن رسول الله هل يجوز تغييره إلى قال النبي، أو عن النبي، وكذا لو ورد قال النبي، أو عن النبي هل يجوز يجوز تغييره إلى قال رسول الله، أو عن رسول؟

اختلف علماء الحديث في ذلك فقال ابن الصلاح (1) : والظاهر أنه لا يجوز وإن جازت الرواية بالمعنى، لاختلاف معنى النبي والرسول.

وقال النووي (2)

: الصواب الجواز لأنه لا يختلف به هنا معنى، وبه قال أحمد بن حنبل، وقد نبه العراقي (3) في ألفيته على ما ذكرنا فقال (4)

:

--------------------------------------------

(1) ابن لصلاح هو: الإمام الحافظ شيخ الإسلام تقي الدين، أبو عمرو عثمان ابن الشيخ صلاح الدين عبد الرحمن بن عثمان بن موسى الكردي، الشهرزوري، الشافعي، صاحب كتاب علوم الحديث، وشرح مسلم وغير ذلك. وسمع من ابن سكينة وابن طبرزد والمؤيد الطوسي وخلائق، ودرس بالصلاحية ببيت المقدس، ثم قدم دمشق وولي دار الحديث الأشرفية، وتخرج به الناس، وكان من أعلام الدين، أحد فضلاء عصره في التفسير والحديث والفقه، مشاركاً في عدة فنون متبحراً في الأصول والفروع، يضرب به المثل، سلفياً زاهداً حسن الاعتقاد، وافر الجلالة، مات في خامس عشر من ربيع الآخر سنة ثلاث وأربعين وستمائة.

انظر: طبقات الحفاظ (1/503، ترجمة: 1107) ، وطبقات المحدثين (1/202، ترجمة: 2136) ، وشذرات الذهب (3/221) ، ووفيات الأعيان (3/243، ترجمة: 411) .

(2) النووي هو: أبو زكريا، محيى الدين، يحيى بن شرف الدين بن مري بن حسن الحزامي الحوزاني الشافعي، علامة الفقه والحديث، مولده ووفاته في نوا من قى حوران بسوريا، له مصنفات كثيرة منها: تهذيب الأسماء واللغات، وشرح مسلم، ورياض الصالحين، والأذكار، توفي سنة (676هـ) .

انظر: طبقات الشافعية (5/165) ، والنجوم الزاهرة (7/278) ، ومفتاح السعادة (1/398) .

(3) العراقي هو: الحافظ الإمام الكبير الشهير أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي ولد بمنشأة المهراني بين مصر والقاهرة في جمادى الأولي سنة (725هـ) ، اشتغل بالعلوم وأحب الحديث، فأكثر من السماع وتقدم في فن الحديث بحيث كان شيوخ عصره يبالغون في الثناء عليه بالمعرفة كالسبكي والعلائي والعز بن جماعة والعماد بن كثير وغيرهم، وله تصانيف رائعة منها: ألفيتة في علوم الحديث، ونظم الاقتراح، والمغني عن حمل الأسفار في تخريج أحاديث كتاب إحياء علوم الدين للغزالى، وتفسير غريب القرآن، وكانت وفاته رحمه الله تعالى في شهر شعبان سنة (806هـ) .

انظر: شذرات الذهب (4/55) ، وطبقات الحفاظ (1/543) ، وطبقات المفسرين (1/309) .

(4) لقد شرح الحافظ السخاوي في فتح المغيث (2/299) هذين البيتين فقال: «إن رسول» وقع في الرواية بأن قيل: رسول الله صلى الله عليه وسلم «نبي» أي: بلفظ النبي «أبدلا» وقت التحمل والأداء والكتابة، «فالظاهر» كما قال ابن الصلاح «المنع» منه والتقيد بما في الرواية «كعكس فغلا» بأن يبدل الرواية فيه بلفظ النبي صلى الله عليه وسلم برسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن جازت الرواية بالمعنى لأن المعنى هنا مختلف يعني بناء على القول بعدم تساوي مفهومهما، وقد كان الإمام أحمد بن حنبل فيما رواه عنه ابنه عبد الله إذا سمع من لفظ المحدث رسول الله ضرب من كتابه نبي الله، وكتب ذلك بدله، لكن قال الخطيب: إن ذلك ليس على وجه اللزوم بل على الاستحباب في اتباع المحدث في لفظه.

«وقد رجى جوازه ابن حنبل» نفسه حيث قال: إذ سأله ابن صالح إنه يكون في الحديث رسول الله، فيجعل الإنسان بدله النبي؟ فقال: أرجو أن لا يكون به بأس، وكذا جوزه حماد بن سلمة، بل قال لعفان وبهز لما جعلا يغيران «النبي» يعني الواقع في الكتاب «برسول الله» يعني الواقع من المحدث: أما أنتما فلا تفقهان أبداً.

«والإمام النووي» أيضاً «صوبه» أي: الجواز، «وهو جلي» واضح، بل قال بعض المتأخرين: إنه لا ينبغي أن يختلف فيه، وقول ابن الصلاح: إن المعنى فيهما مختلف لا يمنعه، فإن المقصود إسناد الحديث إلى سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو حاصل بكل واحد من الصفتين، وليس الباب باب تعبد في اللفظ، لا سيما إذا قلنا إن الرسالة والنبوة بمعنى واحد، وعن البدر بن جماعة أنه لو قيل بالجواز في إبدال النبي بالرسول خاصة لما بعد، لأن في الرسول معنى زائد على النبي وهو الرسالة، إذ كل رسول نبي ولا عكس، وبيانه أن النبوة من النبأ وهو الخبر، فالنبي في العرف هو المنبأ من جهة الله بأمر يقتضي تكليفاً فإن أمر تبليغه إلى غيره فهو رسول، وإلا فهو نبي غير رسول، وحينئذ فالنبي والرسول اشتركا في أمر عام وهو النبأ وافترفا في الرسالة، فإذا قلت: فلان رسول تضمن أنه نبي رسول، وإذا قلت: فلان نبي لم يستلزم أنه رسول.

ولكن قد نازع ابن الجزري في قولهم: كل رسول نبي حيث قال: هو كلام يطلقه من لا تحقيق عنده، فإن جبريل عليه السلام وغيره من الملائكة المكرمين بالرسالة رسل لا أنبياء، قلت: ولذا قيد الفرق بين الرسول والنبي بالرسول البشري، وحديث البراء في تعليم ما يقال عند النوم، إذ رد النبي صلى الله عليه وسلم إبداله لفظ النبي بالرسول فقال: «لا ونبيك الذي أرسلت» تمنع القول بجواز تغيير النبي خاصة بل الاستدلال به لمجرد المنع ممنوع بأن ألفاظ الأذكار توقيفية فلا يدخلها القياس، بل يجب المحافظة على اللفظ الذي جاءت به الرواية، إذ ربما كان فيه خاصية وسر لا يحصل بغيره، أو لعله أراد أن يجمع بين الوصفين في موضع واحد، ولا شك أنه صلى الله عليه وسلم نبي مرسل فهو إذن أكمل فائدة، وذلك يفوت بقوله: «وبرسولك الذي أرسلت» وأيضاً فالبلاغة مقتضية لذلك لعدم تكرير اللفظ لوصف واحد فيه، زاد بعضهم: أو لاختلاف المعنى لأن برسولك يدخل جبريل وغيره من الملائكة الذين ليسوا بأنبياء.
একদিক থেকে এটি আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট, আর রিসালাত হলো প্রচারের আদেশ, যা একদিক থেকে আল্লাহর সাথে এবং অন্যদিক থেকে বান্দাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর যা উভয় দিক থেকে আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট তা একদিক থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ে উত্তম।

এর বিপরীতে বলা হয়েছে যে, রিসালাত নবুওয়াতের চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট, যেমন রসূল নবীর চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট; ফলে রিসালাত নবুওয়াত এবং তার অতিরিক্ত বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে।

অন্য একটি ফায়দা: যা রসূল ও নবীর মধ্যকার পার্থক্যের উপর ভিত্তি করে হাদীস বিশারদগণ প্রদান করেছেন, আর তা হলো: যদি বর্ণনায় 'আল্লাহর রসূল বলেছেন' অথবা 'আল্লাহর রসূল থেকে বর্ণিত' থাকে, তবে কি তা পরিবর্তন করে 'নবী বলেছেন' বা 'নবী থেকে বর্ণিত' বলা জায়েজ হবে? অনুরূপভাবে যদি 'নবী বলেছেন' বা 'নবী থেকে বর্ণিত' থাকে, তবে কি তা পরিবর্তন করে 'আল্লাহর রসূল বলেছেন' বা 'রসূল থেকে বর্ণিত' বলা জায়েজ হবে?

হাদীস বিশারদগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইবনুস সালাহ (১) বলেন: স্পষ্টত এটি জায়েজ নয়, যদিও মর্মগত বর্ণনা জায়েজ; কারণ নবী ও রসূলের অর্থের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

আর আন-নাবাবী (২) বলেন:

সঠিক মত হলো এটি জায়েজ, কারণ এখানে এর দ্বারা অর্থ পরিবর্তিত হয় না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলও একথাই বলেছেন। আল-ইরাকী (৩) তাঁর 'আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে আমাদের উল্লিখিত বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন (৪):

--------------------------------------------

(১) ইবনুস সালাহ হলেন: ইমাম, হাফেজ, শাইখুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনুশ শাইখ সালাহুদ্দীন আবদুর রহমান বিন উসমান বিন মুসা আল-কুর্দি আশ-শাহরাযুরি আশ-শাফেয়ি। তিনি 'উলুমুল হাদীস' ও 'শারহে মুসলিম' সহ আরও অনেক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ইবনু সাকীনাহ, ইবনু তাবারযাদ, মুআইয়্যাদ আত-তুসি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বায়তুল মাকদিসের সালাহিয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন, অতঃপর দামেস্কে এসে আশরাফিয়্যাহ দারুল হাদীসের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মাধ্যমে বহু মানুষ শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ছিলেন দ্বীনের অন্যতম ইমাম এবং তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত। তিনি বহু শাস্ত্রে পারদর্শী এবং উসুল ও ফুরু’ (মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা) বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাঁর উদাহরণ পেশ করা হতো। তিনি ছিলেন সালাফী, দুনিয়াবিমুখ, বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী এবং অত্যন্ত মর্যাদাবান। তিনি ৬৪৩ হিজরীর ১৫ই রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: তাবাকাতুল হুফফায (১/৫০৩, জীবনী: ১১০৭), তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন (১/২০২, জীবনী: ২১৩৬), শাযারাতুয যাহাব (৩/২২১), ওফায়াতুল আ’য়ান (৩/২৪৩, জীবনী: ৪১১)।

(২) আন-নাবাবী হলেন: আবু যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া বিন শারাফুদ্দিন বিন মুররি বিন হাসান আল-হিযামি আল-হাওরানি আশ-শাফেয়ি। তিনি ফিকহ ও হাদীস শাস্ত্রের প্রখ্যাত আলিম। সিরিয়ার হাওরান অঞ্চলের নওয়া গ্রামে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু। তাঁর অনেক রচয়িতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম: তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত, শারহে মুসলিম, রিয়াদুস সালিহীন এবং আল-আযকার। তিনি ৬৭৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ (৫/১৬৫), আন-নুজুমুয যাহিরাহ (৭/২৭৮), মিফতাহুস সাআদাহ (১/৩৯৮)।

(৩) আল-ইরাকী হলেন: হাফেজ, সুপ্রসিদ্ধ মহান ইমাম আবু ফাদল যইনুদ্দীন আবদুর রহীম বিন হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন ইবরাহীম আল-ইরাকী। তিনি ৭২৫ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে মিসর ও কায়রোর মধ্যবর্তী মানশাআতুল মাহরানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে নিমগ্ন ছিলেন এবং হাদীস শাস্ত্রকে ভালোবাসতেন। তিনি প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং হাদীস শাস্ত্রে এমন পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে, তাঁর যুগের প্রখ্যাত শাইখগণ যেমন সুবকী, আল-আলাই, ইজ্জ ইবনে জামাআহ, ইমাদ ইবনে কাসীর এবং অন্যান্যরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন। তাঁর চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: উলুমুল হাদীস বিষয়ক আলফিয়্যাহ, নাযমুল ইক্তিবাহ, গাযালীর ইহয়াউ উলুমিদ্দীনের হাদীসসমূহের তাখরীজ বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-মুগনী আন হামলিল আসফার', এবং তাফসীরে গারীবুল কুরআন। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি ৮০৬ হিজরীর শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৪/৫৫), তাবাকাতুল হুফফায (১/৫৪৩), তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (১/৩০৯)।

(৪) হাফেজ সাখাবী 'ফাতহুল মুগীস' (২/২৯৯) গ্রন্থে এই দুটি পঙক্তির ব্যাখ্যায় বলেন: যদি বর্ণনায় 'রসূল' শব্দটি আসে, অর্থাৎ যদি বলা হয় 'রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম', তবে ধারণ, প্রদান ও লিখনের সময় তাকে 'নবী' শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করা হলে—ইবনুস সালাহ-এর মতে এর 'নিষিদ্ধ' হওয়াটাই স্পষ্ট এবং বর্ণনায় যা আছে তাতে সীমাবদ্ধ থাকাই আবশ্যক। এর বিপরীতটিও (অর্থাৎ নবীকে রসূল দ্বারা পরিবর্তন করা) একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, যদিও মর্মগত বর্ণনা জায়েজ। কারণ এখানে অর্থের ভিন্নতা রয়েছে—অর্থাৎ নবী ও রসূলের মূল অর্থ সমান না হওয়ার মতের ভিত্তিতে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, যখন কোনো মুহাদ্দিসের মুখ থেকে 'রসূলুল্লাহ' শুনতেন, তখন তাঁর কিতাবে লেখা 'নবীউল্লাহ' কেটে দিতেন এবং তার পরিবর্তে যা শুনেছেন তা লিখে দিতেন। তবে খতিব বাগদাদী বলেছেন: এটি আবশ্যকতার ভিত্তিতে নয়, বরং মুহাদ্দিসের শব্দ অনুসরণের মুস্তাহাব বা উত্তম আমল হিসেবে।

ইমাম আহমাদ নিজেই এর বৈধতার আশা প্রকাশ করেছেন—যখন ইবনু সালেহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হাদীসে যদি 'রসূলুল্লাহ' থাকে তবে মানুষ কি তার পরিবর্তে 'নবী' লিখতে পারে? তিনি বলেন: 'আমি আশা করি এতে কোনো সমস্যা নেই'। হাম্মাদ বিন সালামাহ-ও একে বৈধ বলেছেন। বরং তিনি আফফান ও বাহয-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন—যখন তাঁরা কিতাবে থাকা 'নবী' শব্দটিকে মুহাদ্দিসের উচ্চারিত 'রসূলুল্লাহ' দ্বারা পরিবর্তন করছিলেন—'তোমরা দুজনে কখনোই গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না'।

ইমাম নাবাবীও একে সঠিক বলেছেন অর্থাৎ এর বৈধতাকে স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান বলেছেন। বরং পরবর্তী যুগের কেউ কেউ বলেছেন: এ বিষয়ে দ্বিমত করা উচিত নয়। আর ইবনুস সালাহ-এর এই কথা যে—উভয় শব্দের অর্থ ভিন্ন—তা এই বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না। কারণ উদ্দেশ্য হলো হাদীসটিকে আমাদের সাইয়্যেদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা, যা উভয় গুণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর এটি নিছক ইবাদত সংক্রান্ত কোনো শব্দ নয়। বিশেষ করে যখন আমরা বলি যে নবুওয়াত ও রিসালাত একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। বদর ইবনে জামাআহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী শব্দকে পরিবর্তন করে রসূল বলা বিশেষভাবে বৈধ হওয়া অসম্ভব নয়; কারণ রসূল শব্দের মধ্যে নবীর চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে যা হলো রিসালাত। কেননা প্রত্যেক রসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রসূল নন। এর ব্যাখ্যা হলো: নবুওয়াত এসেছে সংবাদ থেকে, আর পরিভাষায় নবী হলেন তিনি যাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো বিষয়ে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যা শরয়ী বিধান দাবি করে। যদি সেই সংবাদ অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি রসূল; অন্যথায় তিনি এমন নবী যিনি রসূল নন। এমতাবস্থায় নবী ও রসূল একটি সাধারণ বিষয়ে অংশীদার, তা হলো সংবাদ; আর তাঁরা রিসালাতের ক্ষেত্রে পৃথক। সুতরাং যখন আপনি বলেন: 'অমুক ব্যক্তি রসূল', তখন তা অন্তর্ভুক্ত করে যে তিনি নবী ও রসূল। আর যখন আপনি বলেন: 'অমুক ব্যক্তি নবী', তখন তা আবশ্যক করে না যে তিনি রসূল।

কিন্তু ইবনু আল-জাযারি তাদের এই কথায় আপত্তি করেছেন যে 'প্রত্যেক রসূলই নবী'। তিনি বলেন: এটি এমন কথা যা কেবল তারাই বলে যাদের গবেষণায় অপূর্ণতা রয়েছে। কারণ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এবং অন্যান্য সম্মানিত ফেরেশতাগণ রিসালাতের গুণে গুণান্বিত রসূল, কিন্তু তাঁরা নবী নন। আমি বলি: এই কারণেই রসূল ও নবীর মধ্যকার পার্থক্যকে 'মানবীয় রসূল' দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। আর ঘুমের দোয়ার বিষয়ে বারা’-এর হাদীসটি—যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'নবী' শব্দের পরিবর্তে 'রসূল' বলাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বলেছিলেন: 'না, বরং তোমার সেই নবীর প্রতি যাকে তুমি প্রেরণ করেছ'—তা বিশেষভাবে নবী শব্দ পরিবর্তনের বৈধতাকে বাধা দেয়। বরং এর মাধ্যমে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার দলিল পেশ করাও মানা, কারণ জিকিরের শব্দসমূহ শরীয়ত নির্ধারিত, এতে অনুমান চলে না। বরং বর্ণনায় যে শব্দ এসেছে তা-ই সংরক্ষণ করা ওয়াজিব, কারণ সম্ভবত তাতে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য বা রহস্য রয়েছে যা অন্য শব্দে পাওয়া যাবে না। অথবা হতে পারে তিনি এক স্থানে উভয় গুণকে একত্রিত করতে চেয়েছিলেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন প্রেরিত নবী, সুতরাং এটি অধিক পূর্ণাঙ্গ অর্থ বহন করে। আর 'তোমার সেই রসূলের প্রতি যাকে তুমি প্রেরণ করেছ' বললে সেই পূর্ণাঙ্গতা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অলঙ্কারশাস্ত্রও দাবি করে যে, একই গুণের জন্য শব্দের পুনরাবৃত্তি না করা হোক। কেউ কেউ আরও যোগ করেছেন: অথবা অর্থের ভিন্নতার কারণে; কারণ 'তোমার রসূল' বললে তাতে জিবরাঈল ও অন্যান্য ফেরেশতারাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যারা নবী নন।