(খণ্ড: ১)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البخاري للسفيري = المجالس الوعظية في شرح أحاديث خير البرية القسم: شروح الحديث
الكتاب: المجالس الوعظية في شرح أحاديث خير البرية صلى الله عليه وسلم من صحيح الإمام البخاري
المؤلف: شمس الدين محمد بن عمر بن أحمد السفيري الشافعي (ت 956هـ)
حققه وخرج أحاديثه: أحمد فتحي عبد الرحمن
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الأجزاء: 3 (النسخة الإلكترونية ينقصها المجلد 3)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সাফিরি রচিত শারহুল বুখারি = সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় উপদেশমূলক মজলিসসমূহ বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
কিতাব: ইমাম বুখারি রহ.-এর সহিহ হাদিস হতে সংকলিত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় উপদেশমূলক মজলিসসমূহ
লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আহমদ আস-সাফিরি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৯৫৬ হিজরি)
সম্পাদনা ও হাদিস যাচাইকরণ: আহমদ ফাতহি আব্দুল রহমান
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ইলেকট্রনিক সংস্করণে ৩য় খণ্ডটি অনুপস্থিত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ترجمة السفيرينسبه وموطنة ومذهبه
هو: شمس الدين محمد بن الشيخ زين الدين عمر بن الشيخ شهاب الدين السفيري الحلبي الشافعي، الإمام العلامة ولد بحلب سنة سبع وسبعين وثمانمائة.
وعرف به ناسخ كتابه هذا فقال: العالم العلامة والبحر الفهامة المحدث شيخ الإسلام شمس الدين محمد بن أحمد بن زين الدين بن شهاب الدين السفيري.
ثم قال: السفيري الأصل، حلبي المنشأ، الشافعي المذهب.
شيوخه وعلمه وسفره في تحصيل العلم
ومن أشهر شيوخه الحافظ الإمام جلال الدين السيوطي المتوفى سنة911هـ، ونقل عنه كثيراً في شرحه على صحيح البخاري.
والعلاء الموصلي.
والكمال ابن أبي شريف.
وكمال الدين محمد بن علي القاهري الشافعي قاضي قضاة الشافعية بالديار المصرية، الشهير بالطويل، قال صاحب الشذرات: وأخذ بحلب عنه الشمس السفيري.
وخليل بن نور الله المعروف بمنلا خليل الشافعي نزيل حلب، قال صاحب الشذرات: وأكب على القراءة عليه بها جماعة منهم الشمس السفيري.
والبدر السيوفي، وغيرهم.
وأما عن طلبه للعلم وإقباله عن شيوخه فقد قال نجم الدين الغزي في كتابه الكواكب السائرة، فقد أدرجه في الطبقة الثانية وقال: لازم العلاء الموصلي والبدر السيوفي في فنون شتى، وقرأ على الكمال بن أبي شريف في حاشيته على شرح العقائد النسفية، ورسالة العذبة له، وقدم مع أخيه الشيخ إبراهيم بن أبي شريف إلى دمشق فأجاز له ولبعض الدمشقيين، ثم إلى حلب فقرأ عليه بها رسالة مختصر الرسالة القشيرية له، وقرأ على أبي الفضل الدمشقي في شرحه النزهة في الحساب، وعلى الشيخ محمد الداديخي في شرح الشاطبية لابن القاصح، وعلى غيره.
ودرس بالجامع الكبير بحلب، والعصرونية، والسفاحية، وجامع تغري بردي، وسافر إلى القاهرة سنة سبع وعشرين وتسعمائة، واجتمع بها بشيخ الإسلام زكريا الأنصاري، وحضر الصلاة عليه لما مات في تلك السنة، واجتمع بآخرين منهم: الشيخ نور الدين البحيري، وصحب في صغره الشيخ عبد القادر الدشطوطي، حين قدم
আস-সাফীরির জীবনীতাঁর বংশপরিচয়, আবাসস্থল ও মাযহাব
তিনি হলেন: শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন শাইখ যায়নুদ্দীন উমর বিন শাইখ শিহাবুদ্দীন আস-সাফীরি আল-হালাবি আশ-শাফিঈ। তিনি একজন ইমাম ও বিজ্ঞ আল্লামা ছিলেন। তিনি ৮৭৭ হিজরি সনে হালাবে (আলেপ্পো) জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর গ্রন্থের প্রতিলিপিকারক তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন: জগতবিখ্যাত আলিম, মহান আল্লামা, প্রজ্ঞার অতল সমুদ্র, মুহাদ্দিস, শাইখুল ইসলাম শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন যায়নুদ্দীন বিন শিহাবুদ্দীন আস-সাফীরি।
অতঃপর তিনি বলেন: বংশগতভাবে আস-সাফীরি, বেড়ে উঠেছেন হালাবে এবং মাযহাবের দিক থেকে শাফিঈ।
তাঁর শিক্ষকগণ, জ্ঞানার্জন ও ইলম হাসিলের উদ্দেশ্যে তাঁর সফর
তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফিয ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি), যাঁর থেকে তিনি তাঁর সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
এবং আল-আলা আল-মাওসিলি।
এবং আল-কামাল ইবন আবী শরীফ।
এবং কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-কাহিরি আশ-শাফিঈ, যিনি মিশরের শাফিঈ বিচারকদের প্রধান (কাযীউল কুযাত) ছিলেন এবং 'আত-তাবীল' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। 'শাযারাত' গ্রন্থের লেখক বলেন: শামস আস-সাফীরি হালাবে তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
এবং খালীল বিন নূরুল্লাহ, যিনি মোল্লা খালীল আশ-শাফিঈ নামে পরিচিত এবং হালাবের বাসিন্দা ছিলেন। 'শাযারাত' গ্রন্থের লেখক বলেন: একদল শিক্ষার্থী সেখানে তাঁর নিকট পাঠগ্রহণে নিবিষ্ট হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে শামস আস-সাফীরিও ছিলেন।
এবং আল-বদর আস-সুয়ূফি এবং অন্যান্যরা।
তাঁর ইলম অন্বেষণ এবং উস্তাদদের প্রতি তাঁর একাগ্রতা সম্পর্কে নাজমুদ্দীন আল-গাযযী তাঁর 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়্যিরাহ' গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁকে দ্বিতীয় স্তরের আলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে আল-আলা আল-মাওসিলি ও আল-বদর আস-সুয়ূফির দীর্ঘ সাহচর্যে ছিলেন। তিনি আল-কামাল ইবন আবী শরীফের নিকট তাঁর 'শরহুল আকাঈদ আল-নাসাফিয়্যাহ'র টীকা (হাশিয়া) এবং তাঁর 'রিসালাতুল আযবাহ' পাঠ করেছেন। তিনি তাঁর ভাই শাইখ ইবরাহীম ইবন আবী শরীফের সাথে দামেস্কে আসেন এবং তিনি (উস্তাদ) তাঁর জন্য ও কিছু দামেস্কবাসীর জন্য ইজাযত (সনদ) প্রদান করেন। অতঃপর তিনি হালাবে ফিরে যান এবং সেখানে তাঁর নিকট তাঁরই লেখা 'রিসালাতু মুখতাসারির রিসালাতিল কুশাইরিয়্যাহ' পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি আবুল ফযল আদ-দিমাশকির নিকট গণিত শাস্ত্রের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শরহুন নুযহাহ' এবং শাইখ মুহাম্মাদ আদ-দাদীখীর নিকট ইবনুল কাসিহ রচিত 'শরহুশ শাতিবিয়্যাহ' পাঠ করেন এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন।
তিনি হালাবের জামে কাবীর, আসরুনিয়্যাহ, সাফফাহিয়্যাহ এবং তাগরি বারদি মসজিদে শিক্ষকতা করেন। তিনি ৯২৭ হিজরি সনে কায়রো সফর করেন এবং সেখানে শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া আল-আনসারীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেই বছর তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর জানাজায় উপস্থিত হন। তিনি আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখ নূরুদ্দীন আল-বুহাইরি। আর শৈশবে তিনি শাইখ আব্দুল কাদির আদ-দাশতুতীর সাহচর্য লাভ করেন যখন তিনি সেখানে আগমন করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
حلب، وفي كبره الشيخ شهاب الدين الأنطاكي.
تلامذته الذين أجازهم
للسفيري تلامذة أجازهم لما اجتمعوا به وحملت لنا المراجع اسمين فقط.
فقد أجاز علاء الدين أبا الحسن علي بن سليمان بن أحمد بن محمد المرداوي السعدي ثم الصالحي الحنبلي.
وعبد العزيز بن عبد الواحد بن محمد بن موسى المغربي المكناسي المالكي وحدث أنه لما زار بيت المقدس ودمشق في سنة 951 هـ، ثم ورد حلب فاستجاز بها شمس الدين السفيري، وموفق الدين ابن أبي ذر.
مؤلفاته
له غير شرحه لصحيح البخاري كتاب بعنوان: «تحفة الأخيار في حكم أطفال المسلمين والكفار» ذكره صاحب كشف الظنون.
وفاته
توفي رحمه الله تعالى سنة ست وخمسين وتسعمائة (1) .
--------------------------------------------
হালাব, এবং তাঁর বার্ধক্যে শায়খ শিহাবুদ্দীন আল-আন্তাকি।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ যাদেরকে তিনি ইজাজত প্রদান করেছেন
আস-সাফিরীর এমন কিছু ছাত্র ছিলেন যাদের সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি তাঁদের ইজাজত প্রদান করেছিলেন এবং তথ্যসূত্রগুলো আমাদের কাছে মাত্র দুটি নাম পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন সুলাইমান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মারদাভী আস-সাদী অতঃপর আস-সালিহী আল-হানবালীকে ইজাজত প্রদান করেছেন।
এবং আবদুল আযীয বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা আল-মাগরিবী আল-মিকনাসী আল-মালিকী; বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন ৯৫১ হিজরীতে বাইতুল মাকদিস এবং দামেস্ক যিয়ারত করেন, অতঃপর হালাবে উপস্থিত হন, তখন সেখানে তিনি শামসুদ্দীন আস-সাফীরী এবং মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবনে আবি যার-এর নিকট ইজাজত প্রার্থনা করেন।
তাঁর রচনাবলি
সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছাড়াও তাঁর «তুহফাতুল আখইয়ার ফি হুকমি আতফালিল মুসলিমিনা ওয়াল কুফফার» (মুসলিম ও কাফেরদের শিশুদের বিধান বিষয়ে নেককারদের জন্য উপঢৌকন) শিরোনামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন।
মৃত্যু
তিনি রহমাতুল্লাহি তা'আলা নয়শত ছাপ্পান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
بسم الله الرحمن الرحيم
وعليه أتوكل (1)
الحمد لله رب العالمين، وصلى على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.
المجلس الأولفي ترجمة البخاري رضي الله عنه ونفعنا به وفي ذكر شيء من فضائله
فإنه كان من أكابر العلماء، والأولياء والصالحين، وبذكر الأولياء والعلماء والصحابة تنزل الرحمة، كما تنزل على مجالس العلماء، فإن مجالس العلماء روضة من رياض الجنة، تنزل عليهم الرحمة كما ينزل المطر من السماء، تدخل العصاةُ مذنبين وينصرفون مغفوراً لهم، الملائكة تستغفر لهم، ما داموا جلوساً عندهم، إن الله تعالى ينظر إليهم، فيغفر للعالم والمستمع والمحب لهم، فكيف لا تجب محبتهم وإكرامهم، والله تعالى بسببهم ينزل الرحمة على كل من حضر المجالس التي فيها ذكرهم، وكذا ذكر أهل الخير والصلاح فعليك بمجالسة العلماء تنتفع بالحضور عندهم، فإنه من جالس الأخيار سلم، ومن جالس الأشرار ندم، ومن جالس العلماء غنم، نفعنا الله بهم في الدارين.
نسب الإمام البخاري
ولنبدأ بنسبه فنقول:
أما نسبه فهو: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبَة الجعفي.
وجده «بَرْدِزْبَة» كان فارسياً مجوسياً على دين قومه، مات ولم يسلم.
«بَرْدِزْبَة» لفظة بخارية ومعناه بالعربية: الزارع، وجده المغيرة والد «بَرْدِزْبَة» كان مجوسياً، ولكنه أسلم على يد اليمان الجعفي والى بخارى، فلهذا يقال للبخاري الجعفي لكون جده المغيرة أسلم على يد اليماني الجعفي بمذهب من يرى أن من أسلم
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁরই ওপর আমি ভরসা করছি (১)
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সহচরের ওপর।
প্রথম মজলিসইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন)-এর জীবনী এবং তাঁর ফযীলতসমূহের কিছু বর্ণনার বিষয়ে
নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ আলিম, আউলিয়া এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। আর আউলিয়া, আলিম এবং সাহাবীদের স্মরণে রহমত নাযিল হয়, যেমনটি আলিমদের মজলিসে নাযিল হয়ে থাকে। নিশ্চয়ই আলিমদের মজলিস জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য থেকে একটি বাগান; আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো তাদের ওপর রহমত নাযিল হয়। পাপিষ্ঠরা গুনাহগার অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করে এবং তাদের ক্ষমা করে দেওয়া অবস্থায় তারা প্রস্থান করে। ফেরেশতারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে যতক্ষণ তারা সেখানে বসে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, ফলে তিনি আলিম, শ্রোতা এবং তাঁদেরকে যারা ভালোবাসে তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেন। অতএব কীভাবে তাঁদের ভালোবাসা এবং সম্মান করা ওয়াজিব হবে না? অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁদের কারণেই ওই মজলিসে উপস্থিত প্রত্যেকের ওপর রহমত নাযিল করেন যেখানে তাঁদের আলোচনা করা হয়। অনুরূপভাবে সৎ ও নেককার ব্যক্তিদের আলোচনার ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং আলিমদের সাহচর্য অবলম্বন করা তোমার জন্য আবশ্যক, যাতে তাঁদের উপস্থিতিতে তুমি উপকৃত হতে পারো। কেননা যে ব্যক্তি নেককারদের সংস্পর্শে থাকে সে নিরাপদ থাকে, যে মন্দদের সংস্পর্শে থাকে সে অনুতপ্ত হয়, আর যে আলিমদের সংস্পর্শে থাকে সে লাভবান হয়। আল্লাহ আমাদের উভয় জাহানে তাঁদের দ্বারা উপকৃত করুন।
ইমাম বুখারীর বংশপরিচয়
চলুন আমরা তাঁর বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করি, আমরা বলছি:
তাঁর বংশপরিচয় হলো: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন আল-মুগীরা বিন বারদিযবাহ আল-জু'ফী।
তাঁর প্রপিতামহ 'বারদিযবাহ' ছিলেন পারস্যের একজন অগ্নিপূজক এবং নিজ সম্প্রদায়ের ধর্মের অনুসারী; তিনি ইসলাম গ্রহণ না করেই মৃত্যুবরণ করেন।
'বারদিযবাহ' শব্দটি বুখারার ভাষাভুক্ত এবং আরবিতে এর অর্থ হলো: কৃষক। তাঁর দাদা আল-মুগীরা, যিনি বারদিযবাহ-এর পুত্র, তিনি অগ্নিপূজক ছিলেন, তবে তিনি বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ কারণেই বুখারীকে 'আল-জু'ফী' বলা হয়, যেহেতু তাঁর দাদা আল-মুগীরা ইয়ামানী আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেই মাযহাব অনুযায়ী যারা মনে করেন যে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
على يد شخص كان ولاؤه له (1) .
وجده إبراهيم ولد المغيرة قال شيخ الإسلام ابن حجر (2) : لم نقف على شيء من أخباره.
وأما والده إسماعيل فإنه كان من خيار الناس رضي الله عنه حضر الأكابر، وسمع منهم كالإمام مالك، وحماد بن زيد، وصحب عبد الله بن المبارك ومات والبخاري صغير فنشأ في حجر أمه.
وكانت رضي الله عنها مجابة الدعوة، ومن كراماتها: أن البخاري ذهب بصره في صغره، فرأت أمه في المنام إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام فقال لها: يا هذه قد رَدَّ الله على ابنك بصره بكثرة دعائك أو بكائك، فأصبح وقد رَدَّ الله بصره عليه.
ولد رضي الله عنه ببخارى بالإجماع يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشر ليلة خلت من شوال سنة أربع وتسعين ومائه، وحج رضي الله عنه مع أمه وأخيه أحمد.
مناقب البخاري
وكان أخوه أسنَّ منه، فأقام هو بمكة يطلب العلم مجاوراً، ورجع أخوه أحمد إلى بخارى فمات بها.
وأما حفظة وسيلان ذهنه ففي الغاية والنهاية، نقل عنه ورَّاقُه (3) أنه قال: ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكُتَّاب، قلت: وكم أتى عليك إذ ذاك؟ فقال: عشر سنين أو أقل.
ونقل عنه أنه قال: أحفظ مائه ألف حديث صحيح، ومائتي ألف حديث غير صحيح.
واتفق له حكاية عجيبة تدل على قوة حفظه وهي: أنه لما دخل بغداد سمع به أصحاب الحديث، فاجتمعوا وأرادوا امتحان حفظه فعمدوا إلى مائة حديث فقلبوا متونها وأسانيدها، وجعلوا متن هذا الإسناد إلى إسناد آخر، وإسناد هذا المتن لمتن آخر، ودفعوها إلى عشرة نفس، لكل رجل عشرة أحاديث، وأمروهم إذا حضروا المجلس أن يلقوا ذلك على البخاري، فلما اجتمعوا وحضر في المجلس خلق كثير واطمأن المجلس
--------------------------------------------
এমন একজনের হাতে যার প্রতি তার আনুগত্য (ওয়ালা) ছিল (১)।
তার দাদা হলেন ইব্রাহিম ইবনুল মুগীরাহ। শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার (২) বলেছেন: আমরা তার জীবনকাল সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারিনি।
আর তার পিতা ইসমাইল ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তিনি বড় বড় আলেমদের সান্নিধ্য পেয়েছেন এবং ইমাম মালিক ও হাম্মাদ বিন যায়েদ-এর মতো ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সাহচর্য লাভ করেছেন। বুখারি যখন ছোট ছিলেন তখনই তিনি ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি তাঁর মায়ের কোলে লালিত-পালিত হন।
তিনি (বুখারির মা) আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এমন একজন ছিলেন যার দোয়া কবুল হতো। তাঁর কারামতসমূহের মধ্যে একটি হলো: বুখারি শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তাঁর মা স্বপ্নে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে দেখলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে নারী! তোমার প্রচুর দোয়া বা কান্নাকাটির কারণে আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর ভোর হলে দেখা গেল আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের তেরো তারিখ পার হওয়ার পর জুমার নামাজের পরে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর মা এবং ভাই আহমদের সাথে হজ পালন করেন।
বুখারির মর্যাদা ও গুণাবলি
তাঁর ভাই তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। তিনি (ইমাম বুখারি) ইলম অর্জনের জন্য মক্কায় অবস্থান করেন, আর তাঁর ভাই আহমদ বুখারায় ফিরে যান এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
তাঁর মুখস্থ শক্তি ও মেধার প্রখরতা ছিল চরম সীমায়। তাঁর লেখক (৩) বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম বুখারি বলেছেন: আমি যখন মক্তবে ছিলাম তখনই হাদিস মুখস্থ করার প্রেরণা লাভ করি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: দশ বছর বা তারও কম।
তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমার এক লক্ষ সহিহ হাদিস এবং দুই লক্ষ গায়ের-সহিহ (অ-সহিহ) হাদিস মুখস্থ আছে।
তাঁর সাথে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল যা তাঁর মুখস্থ শক্তির প্রবলতা প্রমাণ করে, আর তা হলো: তিনি যখন বাগদাদে প্রবেশ করেন, তখন হাদিস বিশারদগণ তাঁর কথা শুনলেন। তাঁরা একত্রিত হয়ে তাঁর মুখস্থ শক্তি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁরা একশটি হাদিস নিলেন এবং সেগুলোর মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) উলট-পালট করে দিলেন। তাঁরা এক সনদের মতন অন্য সনদে এবং এক মতনের সনদ অন্য মতনে বসিয়ে দিলেন। এরপর সেগুলো দশজন ব্যক্তির হাতে তুলে দিলেন, প্রত্যেকের কাছে দশটি করে হাদিস। তাঁরা তাঁদের নির্দেশ দিলেন যে, যখন মজলিস বসবে তখন যেন তাঁরা এগুলো বুখারির সামনে উপস্থাপন করেন। যখন সবাই সমবেত হলেন এবং মজলিসে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হলেন এবং মজলিস শান্ত হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
بأهله، انتدب رجل من العشرة فسأله عن حديث من تلك الأحاديث، فقال البخاري: لا أعرفه، فمازال يلقي عليه واحداً بعد واحد حتى فرغ والبخاري يقول له: لا أعرفه، فكان العلماء ممن حضر المجلس يلتفت بعضهم إلى بعض ويقولون: فهم الرجل، من كان لم يدر القصة يقضي على البخاري بالعجز والتقصير وقلة الحفظ، ثم انتدب رجل أيضاً من العشرة فسأله عن حديث من تلك الأحاديث المقلوبة فقال: لا أعرفه، فلم يزل يلقي عليه واحداً بعد واحد حتى فرغ من عشرته، والبخاري يقول له: لا أعرفه، ثم انتدب الثالث والرابع إلى تمام العشرة حتى فرغوا.
فلما عرف أنهم قد فرغوا، التفت إلى الأول فقال: أما حديثك الأول فقلت كذا وصوابه كذا، وحديثك الثاني كذا وصوابه كذا، والثالث والرابع على الولاة حتى أتى على تمام العشرة فرد كل سند إلى إسناده، وكل إسناد إلى متنه، وفعل بالآخرين مثل ذلك، فأقر الناس له بالحفظ، وأذعنوا له بالفضل.
قال شيخ الإسلام ابن حجر: هنا [يخضع للبخاري] (1) فما العجب من رده الخطأ إلى الصواب، فإنه كان حافظاً، بل العجب من حفظه للخطأ على ترتيب ما ألقوه عليه من مرة واحدة.
ذكر مشايخ البخاري
وأما مشايخه الذين كتب عنهم فقد نقل عنه أنه قال: كتبت عن ألف وثمانين نفساً، ليس منهم إلا صاحب حديث.
ونقل عنه أنه قال: ما قدمت على شيخ إلا كان انتفاعه بي أكثر من انتفاعي به.
وأما الجماعة الذين قرؤوا عليه وأخذوا عنه الحديث فخلق كثيرون نحو مائة ألف أو يزيدون، أو ينقصون، وكان يحضر مجلسه أكثر من عشرين ألفاً يأخذون عنه.
ذكر تعظيم الناس للبخاري
وأما ثناء الناس عليه وتعظيمهم له فقد قال ابن خزيمة: «ما تحت أديم السماء أعلم بالحديث منه وأحفظ» (2) .
--------------------------------------------
দশজনের মধ্য থেকে একজন লোক দাঁড়িয়ে তাঁকে সেসব হাদীসের মধ্য থেকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। ইমাম বুখারী বললেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর সে একে একে তাঁর সামনে হাদীস পেশ করতে থাকল যতক্ষণ না সে শেষ করল, আর বুখারী তাকে বলছিলেন: "আমি এটি জানি না।" মজলিসে উপস্থিত আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "ব্যক্তিটি বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।" আর যারা এই ঘটনা সম্পর্কে জানত না, তারা বুখারীর অক্ষমতা, ত্রুটি এবং মুখস্থশক্তির স্বল্পতার ফয়সালা দিচ্ছিল। এরপর দশজনের মধ্য থেকে দ্বিতীয় একজন লোকও দাঁড়িয়ে সেসব ওলটপালট করা হাদীসের মধ্য থেকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তিনি বললেন: "আমি এটি জানি না।" সে একে একে হাদীসগুলো পেশ করতে থাকল যতক্ষণ না তার দশটি হাদীস শেষ হলো, আর বুখারী তাকে বলছিলেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর তৃতীয় ব্যক্তি, চতুর্থ ব্যক্তি এভাবে দশজন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চলল এবং তারা শেষ করল।
যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তারা শেষ করেছে, তখন তিনি প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: "তোমার প্রথম হাদীসটি তুমি এভাবে বলেছিলে কিন্তু তার সঠিক রূপ হলো এমন, আর তোমার দ্বিতীয় হাদীসটি এমন কিন্তু তার সঠিক রূপ হলো এমন..." এভাবে ধারাবাহিকভাবে তিনি দশটি হাদীস পূর্ণ করলেন এবং প্রত্যেকটি সনদকে তার সঠিক সূত্রের দিকে এবং প্রত্যেকটি সূত্রকে তার সঠিক মতনের দিকে ফিরিয়ে দিলেন। অন্যদের সাথেও তিনি অনুরূপ করলেন। ফলে মানুষ তাঁর মুখস্থশক্তির স্বীকৃতি দিল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নতি স্বীকার করল।
শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার বলেন: এখানে [বুখারীর কাছে মাথা নত করতে হয়] (১)। ভুল হাদীসকে সঠিকের দিকে ফিরিয়ে আনার মাঝে তেমন কোনো বিস্ময় নেই, কারণ তিনি তো হাফেজই ছিলেন। বরং বিস্ময় হলো একবার শোনার মাধ্যমেই তারা যেভাবে হাদীসগুলো ওলটপালট করে পেশ করেছিল, ঠিক সেই বিন্যাস অনুযায়ী সেই ভুলগুলোই মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে।
ইমাম বুখারীর শিক্ষকগণের বর্ণনা
আর তাঁর শিক্ষকদের সম্পর্কে যাদের কাছ থেকে তিনি হাদীস লিখেছেন, তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এক হাজার আশি জন ব্যক্তির কাছ থেকে লিখেছি, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদীস বিশারদ।"
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এমন কোনো শিক্ষকের কাছে আসিনি যার আমার থেকে প্রাপ্ত উপকার আমার তাঁর থেকে প্রাপ্ত উপকারের চেয়ে বেশি ছিল না।"
আর যারা তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন তাদের সংখ্যা বিপুল, প্রায় এক লক্ষ বা তার বেশি অথবা কিছু কম। তাঁর মজলিসে বিশ হাজারেরও বেশি লোক উপস্থিত হতো যারা তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করত।
ইমাম বুখারীর প্রতি মানুষের সম্মান প্রদর্শনের বর্ণনা
আর তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা এবং তাঁকে সম্মান প্রদর্শন প্রসঙ্গে ইবনে খুজাইমা বলেছেন: "আকাশের নিচে হাদীস সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং অধিক মুখস্থশক্তির অধিকারী আর কেউ নেই।" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
وقال بعضهم: «هو آية من آيات الله يمشي على وجه الأرض» (1) .
وقال له الإمام مسلم مؤلف الصحيح: «أشهد أنه ليس في الدنيا مثلك» (2) .
وكان مسلم كلما دخل يسلم ويقول: «دعني أقبل رجليك يا طبيب الحديث في علله، ويا أستاذ الأستاذين، ويا سيد المحدثين» (3) .
وقال أبو عيسي الترمذي: «لم أر مثله جعله الله زين هذه الأمة» (4) .
وقال عبد الله بن حماد: «وددت أن لو كنت شعرة في جسد محمد بن إسماعيل» (5) .
وحكي أن أهل بغداد كتبوا إلى البخاري كتاباً يثنون عليه فيه ومن جملته:
--------------------------------------------
এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন, যিনি জমিনের উপর বিচরণ করছেন" (১)।
সহীহ গ্রন্থের সংকলক ইমাম মুসলিম তাকে বলেছিলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পৃথিবীতে আপনার মতো আর কেউ নেই" (২)।
মুসলিম যখনই (তার কাছে) প্রবেশ করতেন, তাকে সালাম দিতেন এবং বলতেন: "হে ইল্লাল (হাদিসের ত্রুটি) নির্ণয়ে হাদিসের চিকিৎসক, হে শিক্ষকদের শিক্ষক এবং হে মুহাদ্দিসদের সরদার! আমাকে আপনার পা দুটিতে চুমু খেতে দিন" (৩)।
আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেছেন: "আমি তার মতো কাউকে দেখিনি; আল্লাহ তাকে এই উম্মতের সৌন্দর্য বানিয়েছেন" (৪)।
আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদ বলেছেন: "আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যে, আমি যদি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের শরীরের একটি চুল হতাম" (৫)।
বর্ণিত আছে যে, বাগদাদবাসীরা বুখারীর নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে তারা তাঁর প্রশংসা করেছিলেন এবং তার সারকথা ছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
المسلمون بخير ما بقيت لهم
… وليس بعدك خير حين تفتقد (1)
قال الحاكم: «ولوفتحنا باب الثناء عليه ممن تأخر عن عصره لفني القرطاس، ونفذت الأنفاس، فذاك بحر لا ساحل له» (2) .
رحلته في طلب الحديث
وأما رحلته لأجل أخذ العلم والحديث من العلماء فقد رحل رحلات واسعات، وكتب عن شيوخ متوافرات، وافية متكاثرات، ونقل عنه أنه قال: «دخلت إلى الشام ومصر والجزيرة وإلى البصرة أربع مرات، وأقمت بالحجاز ستة أعوام، لا أُحصي كم دخلت إلى الكوفة وبغداد مع المحدثين» (3) .
كتابه الصحيح وسبب تأليفه
وأما كتابة الصحيح فليس بعد القرآن كتاب أصح منه، وهو أصح من صحيح مسلم على الصحيح، واسمه «الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه» كذا سماه هو رضي الله عنه.
وروي عنه أنه قال: «صنفت كتاب الصحيح في ستة عشر سنة، وخرجت من ستمائة ألف حديث، وجعلته حجة بيني وبين الله عز وجل» (4) .
وسبب تصنيفه لهذا الكتاب ما نقل عنه أنه قال: «رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام كأني واقف بين يديه وبيدي مروحة أذب بها عنه، فسألت بعض المعبرين فقال: أنت تذب الكذب عن حديثه صلى الله عليه وسلم فهو الذي حملني على إخراج الصحيح» (5) .
ونقل عنه أنه قال: «ما وضعت في كتابي هذا حديثاً إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين» (6) .
--------------------------------------------
মুসলমানরা কল্যাণে থাকবে যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকবেন
... আর আপনার অন্তর্ধানের পর কোনো কল্যাণ নেই (১)
আল-হাকিম বলেন: «যদি আমরা তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসার দ্বার উন্মোচন করি, তবে কাগজ ফুরিয়ে যাবে এবং নিঃশ্বাস শেষ হয়ে যাবে; কারণ তিনি এমন এক সমুদ্র যার কোনো উপকূল নেই» (২) ।
হাদিস অন্বেষণে তাঁর সফর
আর আলেমদের নিকট থেকে ইলম ও হাদিস গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাঁর সফরের কথা বলতে গেলে, তিনি সুদূরপ্রসারী সফর করেছেন এবং অসংখ্য ও অগণিত শাইখের নিকট থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি সিরিয়া, মিশর, আল-জাজিরা এবং বসরায় চারবার প্রবেশ করেছি। হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি। আর মুহাদ্দিসদের সাথে কতবার কুফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি, তা আমি গণনা করতে পারব না» (৩) ।
তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থ এবং এটি সংকলনের কারণ
আর তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থের কথা হলো, কুরআনের পর এর চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো কিতাব নেই। সঠিক মতানুসারে এটি 'সহিহ মুসলিম' থেকেও অধিক বিশুদ্ধ। এর নাম হলো «আল-জামেউল মুসনাদুস সহিহুল মুখতাসারু মিন উমুরি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি» (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কার্যাবলি, তাঁর সুন্নতসমূহ এবং তাঁর দিনলিপি সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত সহিহ মুসনাদ সংকলন)। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই এই নামকরণ করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি ষোলো বছর ধরে 'সহিহ' গ্রন্থটি সংকলন করেছি এবং ছয় লক্ষ হাদিস থেকে এটি চয়ন করেছি। আর একে আমি মহান আল্লাহর কাছে আমার জন্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছি» (৪) ।
এই কিতাবটি সংকলনের কারণ হিসেবে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি; যেন আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার হাতে একটি পাখা রয়েছে যা দিয়ে আমি তাঁর থেকে মাছি তাড়াচ্ছি। আমি একজন স্বপ্ন বিশারদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আপনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিস থেকে মিথ্যাকে দূর করবেন। এটিই আমাকে 'সহিহ' গ্রন্থটি সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে» (৫) ।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: «আমি আমার এই কিতাবে কোনো হাদিসই অন্তর্ভুক্ত করিনি, যার পূর্বে আমি গোসল করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করিনি» (৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
قيل: كان تصنيفه لهذا الكتاب بمكة المشرفة، والغسل بماء زمزم، والصلاة خلف المقام.
وقيل: كان بالمدينة الشريفة، وترجم أبوابه في الروضة المباركة، وصلى لكل ترجمة ركعتين (1) .
وله تصانيف كثيرة غير الصحيح نقل عنه رضي الله عنه أنه قال: «أقمت بالبصرة خمس سنين مع كتبي، أصنف وأحج في كل سنة، وأرجع من مكة إلى البصرة، قال: وأنا أرجو أن الله يبارك للمسلمين في هذه المصنفات» ولقد بارك الله فيها.
زهده وورعه وفضله
وأما سيرته ومناقبه وشمائله وفضائله وزهده وروعة فكثيرة كلَّت الكتَّاب عن حصرها.
قيل: إنه كان عنده شيء من شعرات النبي صلى الله عليه وسلم فجعله في ملبوسه.
ومن فضائله: أنه قال على سبيل التحدث بالنعمة: «إني لأرجو أن ألقى الله ولا يحاسبني أني اغتبت أحد من هذه الأمة» (2) .
اسمع واتعظ يا من يغتاب الناس ويمزق أعراضهم: «أوحى الله إلى موسى عليه السلام من مات تائباً من الغيبة، فهو آخر من يدخل الجنة، ومن مات مصراً عليها فهو أول من يدخل النار» .
وجاء في الحديث: «من كف لسانه عن أعراض الناس قال الله عثرته يوم القيامة» (3) .
وحكي عن داود الطائي رضي الله عنه أنه مر يوماً بموضع فوقع مغشياً عليه فحل إلى
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: তাঁর এই গ্রন্থ রচনা ছিল মক্কা মোকাররমায়, যমযমের পানি দ্বারা গোসল এবং মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে সালাত আদায় করে।
আরও বলা হয়েছে: এটি মদিনা শরীফে ছিল, এবং তিনি এর পরিচ্ছেদগুলো রওজা মোবারকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন (১)।
সহীহ বুখারী ছাড়াও তাঁর অনেক রচনা রয়েছে। তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আমি আমার কিতাবসমূহসহ বসরায় পাঁচ বছর অবস্থান করেছি, আমি গ্রন্থ রচনা করতাম এবং প্রতি বছর হজ পালন করতাম, আর মক্কা থেকে বসরায় ফিরে আসতাম। তিনি বলেন: আমি আশা করি আল্লাহ যেন এই রচনাগুলোর মাধ্যমে মুসলমানদের বরকত দান করেন» আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাতে বরকত দান করেছেন।
তাঁর দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব
আর তাঁর জীবনী, গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য, মর্যাদা, দুনিয়াবিমুখতা এবং চিন্তার গাম্ভীর্য এত অধিক যে লেখকরা তা গণনা করতে অক্ষম।
বলা হয়ে থাকে: তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুলের কিছু অংশ ছিল যা তিনি তাঁর পোশাকের মধ্যে রেখেছিলেন।
তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব এই যে, তিনি নিয়ামতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বলেছিলেন: «আমি আশা করি যে আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করব যে তিনি আমাকে এই উম্মতের কারো গিবত করার জন্য হিসাব নেবেন না» (২)।
হে ওই ব্যক্তি! যে মানুষের গিবত করো এবং তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করো, শোনো এবং উপদেশ গ্রহণ করো: «আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ করেছেন—যে ব্যক্তি গিবত থেকে তওবা করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হবে। আর যে ব্যক্তি এর ওপর অটল থেকে মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি হবে»।
হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি মানুষের সম্মানের ব্যাপারে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন» (৩)।
দাউদ আত-তাঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একদিন একটি স্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে গেলেন, এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
منزله فلما أفاق سئل عن ذلك فقال: «ذكرت أني اغتبت رجلاً في هذا الموضع، فذكرت مطالبته إياي بين يدي الله تعالى» .
قال بعضهم: «الغيبة فاكهة الفقراء، وضيافة الفساق، وبساتين الملوك، ومراتع النساء، ومزابل الأتقياء» .
وقال حاتم الأصم: «المغتاب والنمام قردا أهل النار، والكذب كلب أهل النار، والحاسد خنزير أهل النار» .
وحكي: أن عيسي عليه السلام رأى إبليس وفي يده عسلاً، وفي الأخرى رماداً، فسأله عن ذلك فقال: العسل أجعله في شفاه المغتابين، والرماد أجعله في وجوه الأيتام، حتى يرمدوا فيستقذرهم الناس فلا يفعلون معهم خيراً.
ومنها: أن والده إسماعيل كان كثير المال، نقل عن والده أنه قال: لا أعلم في مالي درهماً من حرام، ولا درهما من شبهة، فلما مات والده إسماعيل انتقل المال إليه، فكان يعطيه مضاربة، فقطع له غريم خمسة وعشرين ألفاً، فقالوا له: استعن عليه بالوالي، فقال: لن أبيع ديني بدنياي، ثم صالح غريمه على أن يعطيه كل شهر عشرة دراهم، وذهب ذلك المال كله (1) .
وحمل إليه بعض عماله بضاعة وكانت مطلوبة، فجاءت إليه التجار آخر النهار وطلبوها منه بربح خمسة آلاف درهم فردهم، فقال لهم: انصرفوا الليلة، فجاءه من الغد تجاراً آخرون فطلبوا منه البضاعة تربح عشرة آلاف درهم، فردهم وقال: إني نويت البارحة أن أدفع إلى الأولين، فلا أغير نيتي ودفعها إليهم (2) .
ونقل عنه أنه قال: كنت استغل كل شهر خمسمائة درهم فأنفقها في الطلب، وما عند الله خير وأبقى (3) .
ومع كثرة هذا المال كان يأتي عليه نهار لا يأكل فيه، وكان أحياناً يأكل لوزتين أو ثلاثاً، وكان يتصدق بماله على الفقراء.
--------------------------------------------
...তার বাড়ি, এরপর যখন তিনি সুস্থ হলেন তখন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: «আমার মনে পড়ল যে আমি এই স্থানে এক ব্যক্তির গিবত করেছিলাম, ফলে মহান আল্লাহর সামনে তার পাওনা দাবি করার বিষয়টি আমার স্মরণে এল।»
তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: «গিবত হলো অভাবীদের ফল, পাপাচারীদের মেহমানদারি, রাজাদের বাগান, নারীদের বিচরণক্ষেত্র এবং মুত্তাকীদের আবর্জনা ফেলার স্থান।»
হাতেম আল-আসাম বলেন: «গিবতকারী ও চোগলখোর হলো জাহান্নামীদের বানর, মিথ্যা হলো জাহান্নামীদের কুকুর এবং হিংসুক হলো জাহান্নামীদের শূকর।»
বর্ণিত আছে যে: ঈসা আলাইহিস সালাম ইবলিসকে দেখলেন যার এক হাতে মধু এবং অন্য হাতে ছাই ছিল। তিনি তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: মধু আমি গিবতকারীদের ঠোঁটে মেখে দিই, আর ছাই আমি এতিমদের মুখে মেখে দিই যাতে তাদের চোখে রোগ হয় এবং মানুষ তাদের ঘৃণা করে, ফলে তারা তাদের সাথে কোনো ভালো ব্যবহার করবে না।
তার মধ্যে একটি হলো: তাঁর পিতা ইসমাইল প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর পিতা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: আমি আমার সম্পদে একটি দিরহাম হারাম অথবা একটি দিরহাম সন্দেহজনক আছে বলে জানি না। যখন তাঁর পিতা ইসমাইল মারা গেলেন, তখন সেই সম্পদ তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়। তিনি তা মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসায় খাটিয়েছিলেন। এরপর এক ঋণগ্রহীতা তাঁর পঁচিশ হাজার দিরহাম আটকে দিল। লোকেরা তাকে বলল: আপনি তার ব্যাপারে শাসনকর্তার সাহায্য নিন। তিনি বললেন: আমি আমার দ্বীনকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করব না। এরপর তিনি তার ঋণগ্রহীতার সাথে প্রতি মাসে দশ দিরহাম প্রদানের শর্তে আপস করলেন এবং সেই পুরো সম্পদটিই চলে গেল (১)।
তাঁর এক কর্মচারী তাঁর কাছে চাহিদাসম্পন্ন কিছু পণ্য নিয়ে এল। দিনের শেষে ব্যবসায়ীরা এসে পাঁচ হাজার দিরহাম লাভে তা কিনতে চাইল কিন্তু তিনি তাদের ফিরিয়ে দিলেন। তিনি তাদের বললেন: আজ রাতে ফিরে যাও। পরের দিন অন্য ব্যবসায়ীরা এসে দশ হাজার দিরহাম লাভে তা চাইল। তিনি তাদেরও ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন: আমি গতরাতে নিয়ত করেছি যে প্রথম দলকেই তা দেব, তাই আমি আমার নিয়ত বদলাব না। অতঃপর তিনি তাদের কাছেই তা সমর্পণ করলেন (২)।
তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: আমি প্রতি মাসে পাঁচশ দিরহাম আয় করতাম এবং তা ইলম অন্বেষণে ব্যয় করতাম; আর আল্লাহর নিকট যা আছে তা-ই উত্তম ও স্থায়ী (৩)।
এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওপর এমন দিন আসত যখন তিনি কিছুই খেতেন না, কখনও কখনও মাত্র দু-তিনটি কাঠবাদাম খেতেন এবং নিজের সম্পদ দরিদ্রদের দান করে দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
طلبه العلم مع سعة ماله رضي الله عنه
وطلبه العلم مع سعة هذا المال نقل عنه أنه قال: ما أشريت من حين ولدت من أحد بدرهم ولا بعت أحداً شيئاً، فسئل عن الورق الذي يكتب فيه والحبر فقال: كنت أوكل أنساناً يشتري لي، فكيف لا يكون ولياً.
زهد البخاري
وقد زهد في الدنيا وآثر غيره على نفسه، وصبر على شدة الجوع مع كثرة ما معه من مال، وكل هذا من علامات الأولياء.
قال إبراهيم بن أدهم لرجل: أتحب أن تكون لله ولياً؟ قال: نعم، قال: لا ترغب في شيء من الدنيا والآخرة، وفرِّغ نفسك لله، وأقبل عليه بوجهك ليقبل عليك ويواليك.
بل كثير من أولياء الله يأتيهم رزقهم من غير تعب ولا تكلف، كما حكي عن عتبة الغلام أنه دعا ربه أن يهب له ثلاث خصال في دار الدنيا، دعا أن يمن عليه بصوت حزين، ودمع غزير، وطعام من غير تكلف، فكان إذا قرأ بكى وأبكى، وكانت دموعه جارية دهره، وكان يأوي إلى منزله فيصيب قوته، ولا يدري من أين يأتيه.
وحكي أن رابعة العدوية كانت تطبخ قدراً فاشتهت بصلاً فجاء طائر في منقاره بصلة فألقاها إليها.
ومنها: أنه (1) وقف يصلي فلسعه زنبور سبع عشرة مرة، ولم يقطع صلاته (2) .
وفاة البخاري وما ظهر من الكرامات عند وفاته
وكانت وفاته (3) رضي الله عنه ليلة السبت ليلة عيد الفطر، سنة ست وخمسين ومائتين، عن
--------------------------------------------
বিপুল সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ইলম অর্জন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
বিপুল সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ইলম অন্বেষণ সম্পর্কে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি যখন থেকে জন্মগ্রহণ করেছি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে এক দিরহামের বিনিময়ে কিছু ক্রয় করিনি এবং কারও কাছে কিছু বিক্রয়ও করিনি।" তাঁকে যখন কাগজ ও কালি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা দিয়ে তিনি লিখতেন, তখন তিনি বললেন: "আমি আমার জন্য ক্রয় করতে একজনকে নিযুক্ত করতাম।" সুতরাং তিনি কেন আল্লাহর ওলী হবেন না!
বুখারীর যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)
তিনি দুনিয়ার প্রতি নির্লিপ্ত ছিলেন এবং নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিতেন। প্রচুর সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি তীব্র ক্ষুধা সহ্য করতেন; আর এ সবই হলো ওলীদের আলামত।
ইবরাহিম বিন আদহাম এক ব্যক্তিকে বললেন: "তুমি কি আল্লাহর ওলী হতে চাও?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো কিছুর প্রতি লোভ কোরো না, নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করো এবং তোমার চেহারাকে তাঁর দিকে নিবদ্ধ করো, যাতে তিনি তোমার দিকে নিবদ্ধ হন এবং তোমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।"
বরং আল্লাহর অনেক ওলীর কাছেই তাদের রিযিক কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট ছাড়াই পৌঁছে যায়। যেমনটি উতবাহ আল-গুলাম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর রবের কাছে দোয়া করেছিলেন যেন তাঁকে দুনিয়াতে তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়: তিনি দোয়া করেছিলেন যেন তাঁকে একটি করুণ সুর, প্রচুর অশ্রু এবং কোনো কষ্ট ছাড়া খাবার দান করা হয়। ফলে তিনি যখন তিলাওয়াত করতেন, নিজে কাঁদতেন এবং অন্যদের কাঁদাতেন; তাঁর অশ্রু সারাজীবন প্রবাহিত হতো। তিনি যখন তাঁর ঘরে ফিরতেন, তখন তাঁর খাবার পেয়ে যেতেন এবং তিনি জানতেন না যে তা কোথা থেকে এসেছে।
বর্ণিত আছে যে, রাবেয়া আল-আদাবিয়্যাহ একটি পাতিলে রান্না করছিলেন, তখন তাঁর একটি পেঁয়াজের প্রয়োজন হলো। এমতাবস্থায় একটি পাখি তার ঠোঁটে একটি পেঁয়াজ নিয়ে এসে তাঁর কাছে ফেলে দিল।
তাঁর অন্যতম কারামত হলো: তিনি (১) নামাজ পড়তে দাঁড়িয়েছিলেন এমতাবস্থায় একটি ভীমরুল তাঁকে সতেরো বার দংশন করেছিল, কিন্তু তিনি তাঁর নামাজ ত্যাগ করেননি (২)।
বুখারীর ইন্তেকাল এবং তাঁর ইন্তেকালের সময় প্রকাশিত কারামতসমূহ
তাঁর ইন্তেকাল (৩) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হয়েছিল ঈদুল ফিতরের রাতে শনিবার দিবাগত রাতে, দুইশ ছাপ্পান্ন হিজরীতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
اثنين وستين سنة إلا ثلاثة عشر يوماً وصفته: أنه كان نحيف الجسم، ليس بالطويل ولا بالقصير وحق أن ينشد فيه.
تراه من الذكاء نحيف الجسم
… عليه من توقده دليل
إذا كان الفتى ضخم المعالي
… فليس يضيره الجسد الضئيل (1)
ولما دفن فاح من تراب قبره رائحة طيبة كالمسك، وكان الناس تأتي إلى قبره يأخذون التراب منه للتبرك به ولشمه، حتى ظهرت الحفرة للناس، ولم يكن يقدر على حفظ القبر بالحراس فنصبوا على القبر أخشاباً مشبكة منعوا الناس بها من الوصول إلى قبره، فكانت الناس تأخذ التراب والحصيات من حوالي القبر، دامت تلك الرائحة أياماً كثيرة، حتى توارت وشاعت في جميع تلك البلاد، ولا يبعد أن تكون هذه الرائحة رائحة صيامه الذي صامه في الحياة وأخفاه عن الناس، فأظهره الله لهم بعد موته، إظهاراً لفضله وعظيم منزلته عنده.
قال العلامة ابن رجب في «اللطائف» : ريح الصائم أطيب عند الله من ريح المسك فكلما اجتهد صاحبه على إخفائه فاح ريحه، ثم قال: لما دفن عبد الله بن غالب كان يفوح من تراب قبره رائحة المسك، فرؤي في النوم فسئل عن تلك الرائحة التي توجد من قبره؟ فقال: تلك رائحة التلاوة والظمأ، ولله در من قال:
وكاتم الحب يوم البين منهتك
… وصاحب الوجد لا تخفى سرائره (2)
لم ينم الصادقون أحوالهم، وريح الصدق ينم عليهم، ما أسر أحد سريرة إلا ألبسه
--------------------------------------------
বাষট্টি বছর পূর্ণ হতে কেবল তেরো দিন বাকি ছিল। তাঁর শারীরিক বর্ণনা: তিনি ক্ষীণকায় ছিলেন, খুব দীর্ঘও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তাঁর সম্পর্কে নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলো উচ্চারণ করা যথার্থ:
প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে তুমি তাঁকে ক্ষীণকায় দেখবে
… তাঁর প্রজ্জ্বলিত প্রতিভা এর প্রমাণ।
যদি কোনো যুবক সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়
… তবে তাঁর কৃশ দেহ তাঁর কোনো ক্ষতি করে না (১)।
যখন তাঁকে দাফন করা হলো, তাঁর কবরের মাটি থেকে কস্তুরীর মতো সুঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হতে লাগল। মানুষ তাঁর কবরের কাছে আসত এবং বরকত লাভের উদ্দেশ্যে ও ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য কবরের মাটি নিয়ে যেত, এমনকি কবরে গর্তের সৃষ্টি হলো। পাহারাদার দিয়েও কবর রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই তারা কবরের ওপর কাঠের বেড়া দিয়ে দিল যাতে মানুষ কবরের নাগাল না পায়। তখন মানুষ কবরের চারপাশ থেকে মাটি ও কণা সংগ্রহ করত। সেই সুঘ্রাণ দীর্ঘ দিন স্থায়ী ছিল এবং সমস্ত জনপদে তা ছড়িয়ে পড়েছিল। এটা অসম্ভব নয় যে, এই সুঘ্রাণ ছিল তাঁর সেই সিয়াম বা রোজার সুঘ্রাণ যা তিনি জীবদ্দশায় পালন করেছিলেন এবং মানুষের কাছে গোপন রেখেছিলেন; আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যুর পর তা প্রকাশ করে দিয়েছেন, আল্লাহর নিকট তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহান মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।
আল্লামা ইবনে রজব ‘আল-লাতায়েফ’ গ্রন্থে বলেছেন: রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। রোজাদার ব্যক্তি তা যত বেশি গোপন করার চেষ্টা করে, সেই ঘ্রাণ তত বেশি বিচ্ছুরিত হয়। এরপর তিনি বলেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে গালিবকে দাফন করা হলো, তখন তাঁর কবরের মাটি থেকে কস্তুরীর সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তাঁকে স্বপ্নে দেখা হলে কবরের সেই ঘ্রাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: তা হলো তিলাওয়াত ও তৃষ্ণার (রোজার) সুঘ্রাণ। কতই না চমৎকার বলেছেন সেই কবি:
বিচ্ছেদের দিনে ভালোবাসার গোপনকারী প্রকাশ পেয়ে যায়
… আর প্রেমিকের গোপন রহস্য কখনো চাপা থাকে না (২)।
সত্যবাদীরা তাঁদের অবস্থাকে গোপন রাখেন না (বরং তা প্রকাশ হয়ে পড়ে), সত্যের সুঘ্রাণ তাঁদের পরিচয় জানিয়ে দেয়। কেউ কোনো বিষয় গোপন রাখলে আল্লাহ তাকে সেই চাদরই পরিধান করিয়ে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
الله رداءها علانية، وما أحسن قول القائل:
كم أكتم حبكم عن الأغياري
… والدمع يذيع في الهوى أسراري
كم أستركم هتكتموا أستاري
… من يخفي في الهوى لهيب النار
وقيل: إن بعض العلماء رأي ليلة موته (1) النبي صلى الله عليه وسلم في النوم، ومعه جماعة من أصحابه، وهو واقف في موضع قال: فسلمت عليه، وقلت: يا رسول الله ما وقوفك هاهنا قال: انتظر محمد بن إسماعيل.
ونقل عن الفربري أنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقال لي: أين تريد؟ فقلت: أريد محمد بن إسماعيل البخاري، فقال: اقرأه مني السلام (2) .
وقال أبو زيد المروزي الفقيه: كنت نائماً بين الركن والمقام، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام: فقال: يا أبا زيد إلى متي تدرس الفقه ولا تدرس كتابي؟ فقلت: يا رسول الله وما كتابك؟ فقال: جامع ابن إسماعيل (3) .
وقال الإمام القدوة أبو محمد بن أبي جمرة المالكي نفعنا الله ببركاته: قال لي من لقيته من العارفين عن من لقي من السادة المقر لهم بالفضل: أن صحيح البخاري ما قريء في شدة إلا فرجت، ولا رُكب به في مركب فغرق (4) .
وحكي: أنه قريء مرة في حمص لرفع البلاء فرفعه الله.
وجملة ما في صحيح البخاري من الأحاديث مع المكرر سبعة ألاف ومائتان وخمس وسبعون حديثاً كما جزم به ابن الصلاح، وبإسقاط المكرر أربعة آلاف حديث (5) على
--------------------------------------------
আল্লাহ এর চাদরটি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন, আর কতই না সুন্দর এই উক্তিটি:
কতকাল আমি অন্যদের কাছে তোমাদের ভালোবাসা লুকিয়ে রাখব
… অথচ অশ্রুজল অনুরাগের মাঝে আমার গোপন কথাগুলো ফাঁস করে দিচ্ছে।
কতকাল আমি তোমাদের আবৃত রাখব অথচ তোমরা আমার আবরণ উন্মোচন করে দিলে
… অনুরাগের মাঝে আগুনের শিখাকে কে আর গোপন রাখতে পারে?
বলা হয়ে থাকে যে, জনৈক আলেম তাঁর মৃত্যুর রাতে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন। তাঁর সাথে একদল সাহাবী ছিলেন এবং তিনি এক স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি (আলেম) বলেন: আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এখানে কেন দাঁড়িয়ে আছেন? তিনি বললেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের অপেক্ষা করছি।
ফিরাবরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন: তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ? আমি বললাম: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারীর নিকট যেতে চাচ্ছি। তখন তিনি বললেন: তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দাও।
ফকিহ আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী বলেন: আমি রুকন ও মাকামের মাঝখানে ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। তিনি বললেন: হে আবু যায়েদ, কতকাল তুমি ফিকহ পড়বে অথচ আমার কিতাব পড়বে না? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কিতাব কোনটি? তিনি বললেন: ইবনে ইসমাইলের সংকলন (জামে)।
ইমাম ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মদ ইবনে আবু জামরা আল-মালিকী—আল্লাহ আমাদের তাঁর বরকত দিয়ে ধন্য করুন—বলেন: আমি যাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এমন কতিপয় আরেফ ব্যক্তি আমাকে সেই সব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সূত্রে বলেছেন যাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনস্বীকৃত: সহীহ বুখারী কোনো কঠিন বিপদের সময় পাঠ করা হলে তা দূর হয়ে যায়, আর কোনো জাহাজে নিয়ে আরোহণ করলে তা ডুবে যায় না।
বর্ণিত আছে যে: একবার হিমস শহরে বালা-মুসিবত দূর করার জন্য এটি পাঠ করা হয়েছিল এবং আল্লাহ তা দূর করে দিয়েছিলেন।
সহীহ বুখারীতে পুনরাবৃত্তিসহ মোট হাদিসের সংখ্যা হলো সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি, যেমনটি ইবনে সালাহ নিশ্চিতভাবে বলেছেন। আর পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে হাদিস সংখ্যা চার হাজার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
ما قيل (1) .
ومن شعره رضي الله عنه وأرضاه:
اغتنم في الفراغ فضل الركوع
… فعسي أن يكون موتك بغتة
كم صحيح رأيت من غير سقم
… ذهبت نفسه صحيحة فلتنه (2)
وكم له من الكرامات رضي الله عنه، رفع الله ذكره الشريف وقد فعل، وجعل له لسان صدق في الآخرين وقد جعل.
* * *
--------------------------------------------
যা বলা হয়েছে (১)।
তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) কবিতা থেকে কিছু অংশ:
অবসর সময়ে রুকুর ফযিলতকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করো
… কেননা হতে পারে তোমার মৃত্যু হবে আকস্মিক
কত সুস্থ ব্যক্তিকে আমি দেখেছি কোনো ব্যাধি ছাড়াই
… সুস্থ থাকা অবস্থাতেই তার প্রাণ চলে গিয়েছে (২)
তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কতই না কারামত রয়েছে! আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত মর্যাদাকে উচ্চকিত করুন এবং তিনি তা করেছেনও; আর পরবর্তীদের মাঝে তাঁর সুখ্যাতি দান করুন এবং তিনি তা করেছেনও।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
كتاب بدء الوحي
«قال الشيخ الحافظ الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله تعالى: بسم الله الرحمن الرحيم» .
قال العلماء (1) : «بسم الله» جار ومجرور متعلق بمحذوف اتفاقاً، قدره بعضهم فعلاً نظراً إلى أن الأصل في العمل الأفعال، وقدره بعضهم مصدراً مرفوعاً على الابتدا نظراً إلى أن المقام مقام الابتدا، والتقدير على الأول: «بسم الله ابتدئ» وعلى الثاني: «ابتدائي ببسم الله ثابت» فحذف المبتدأ وخبره، وبقي معمول المبتدأ والتقدير الأول أولى، لأن المصدر لا يعمل محذوفاً.
ولو قيل: إن «بسم الله» متعلق بالاستقرار على أنه في موضع الخبر لمبتدأ محذوف: والتقدير: «ابتدائي مستقر ببسم الله» لم يبعد وسلم من دعوى عمل المصدر في حالة حذفه، قاله في بعض المحققين، وقال: إنه لم يره مسطوراً.
ويقدر متعلق «بسم الله» في كل موضع بحسبه، فإن جعلت «بسم الله» للأكل، قدرت: بسم الله آكل أو أكلي، أو للشرب قدرت: بسم الله أشرب أو شربي، وما أشبه.
فالحاصل أن متعلق «بسم الله» إما «أبتدي» أو «ابتدائي» ، ويسمي «المجرور» حنيئذ «بالظرف اللغو» ، وإما أن يكون المتعلق الاستقرار ويسمي «بالظرف المستقر» ، والفرق بين الظرف اللغو والمستقر: أن الظرف اللغو ما كان عامله خاصاً كالابتداء ونحوه، والمستقر: ما كان عامله عاماً كالاستقراء ونحوه.
وإضافة «اسم» إلى «الله» قيل: من إضافه العام إلى الخاص «كخاتم حديد» .
وقيل: المضاف هنا مقتحم جيء به لإرشاد حسن الأداء.
وقيل: الاسم هنا بمعني التسمية.
وقيل: في الكلام حذف مضاف تقديره: باسم مسمى الله، «والله» علم على الذات المعبود بحق، وتفخم لامه وجوباً إذا ضم ما قبله، قال ابن الجزري:
وفخم اللام من اسم الله
… عن فتح أو ضم كعبد الله
و «الرحمن» على وزن فعلان مشتق من «رحم» بالكسر، «كغضبان» من غضب، وهو صفة مشبهة.
فإن قيل: كيف يأتي من «رحم» بالكسر وهو متعدد، وهي لا تأتي إلا من فعل لازم؟
--------------------------------------------
ওহীর সূচনা অধ্যায়
«শায়খ, হাফিয, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি»।
উলামায়ে কেরাম বলেছেন (১): «বিসমিল্লাহ» শব্দটি জার ও মাজরুর, যা সর্বসম্মতিক্রমে একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেউ কেউ একে ‘ক্রিয়া’ হিসেবে অনুমান করেছেন এই বিবেচনায় যে, আমল বা ক্রিয়াশীলতার মূল ভিত্তি হলো ক্রিয়া। আবার কেউ কেউ একে ‘মুবতাদা’ হিসেবে পেশকৃত ‘মাসদার’ (ক্রিয়ামূল) হিসেবে অনুমান করেছেন এই বিবেচনায় যে, এটি একটি প্রারম্ভিক ক্ষেত্র। প্রথম মতানুযায়ী অনুমান হবে: «আল্লাহর নামে আমি শুরু করছি»; আর দ্বিতীয় মতানুযায়ী অনুমান হবে: «আল্লাহর নামের সাথে আমার শুরু করা সাব্যস্ত»। এখানে মুবতাদা ও তার খবর উহ্য রাখা হয়েছে এবং মুবতাদার সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটি রয়ে গেছে। তবে প্রথম অনুমানটিই অধিক উত্তম, কারণ মাসদার উহ্য থাকা অবস্থায় আমল করে না।
যদি বলা হয় যে, «বিসমিল্লাহ» শব্দটি ‘ইস্তিকরার’ (স্থায়িত্ব)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর হিসেবে আছে—যার অনুমান হবে: «আমার আরম্ভ করা আল্লাহর নামের মাধ্যমে স্থির বা প্রতিষ্ঠিত»—তবে তা দূরবর্তী হবে না এবং মাসদার উহ্য থাকা অবস্থায় আমল করার দাবি থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। কোনো কোনো গবেষক এটি বলেছেন এবং তিনি এ-ও বলেছেন যে, তিনি এটি কোথাও লিখিত দেখেননি।
«বিসমিল্লাহ»-এর সংশ্লিষ্ট শব্দটিকে প্রত্যেক ক্ষেত্রে তার প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী অনুমান করতে হবে। যদি আপনি খাওয়ার সময় «বিসমিল্লাহ» বলেন, তবে অনুমান হবে: ‘আল্লাহর নামে আমি খাচ্ছি’ বা ‘আমার খাওয়া আল্লাহর নামে’। আর যদি পান করার সময় বলেন, তবে অনুমান হবে: ‘আল্লাহর নামে আমি পান করছি’ বা ‘আমার পান করা আল্লাহর নামে’ এবং অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও।
সারকথা হলো, «বিসমিল্লাহ»-এর সংশ্লিষ্ট শব্দটি হয় «আমি শুরু করছি» অথবা «আমার শুরু করা»; এমতাবস্থায় ‘মাজরুর’ শব্দটিকে বলা হবে «যারফে লাগভ» (অপ্রয়োজনীয় ظرف)। অথবা সংশ্লিষ্ট শব্দটি হবে ‘ইস্তিকরার’ (স্থায়িত্ব), তখন একে বলা হবে «যারফে মুস্তাকার» (স্থায়ী ظرف)। যারফে লাগভ ও মুস্তাকারের মধ্যে পার্থক্য হলো: যারফে লাগভ-এর আমেল (ক্রিয়াশীল শব্দ) হয় বিশেষ, যেমন ‘শুরু করা’ ইত্যাদি; আর মুস্তাকার-এর আমেল হয় সাধারণ, যেমন ‘স্থির হওয়া’ বা ‘বিদ্যমান থাকা’ ইত্যাদি।
«ইসম» (নাম) শব্দটিকে «আল্লাহ» শব্দের দিকে ইযাফত (সম্বন্ধ) করার বিষয়ে বলা হয়েছে যে, এটি সাধারণকে বিশেষের দিকে সম্বন্ধ করা, যেমন ‘লোহার আংটি’।
আবার বলা হয়েছে যে, এখানে মুদাফ (সম্বন্ধিত শব্দ)টি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে যা কেবল শ্রুতিমাধুর্য ও সুন্দর উপস্থাপনার জন্য আনা হয়েছে।
কারো মতে, এখানে ‘ইসম’ শব্দটি ‘তাসমিয়াহ’ বা নামতকরণের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আবার কারো মতে, এখানে একটি মুদাফ উহ্য আছে যার অনুমান হলো: ‘আল্লাহ নামক সত্তার নামে’। আর «আল্লাহ» শব্দটি সেই সত্তার নাম যার ইবাদত করা সত্য। এই শব্দের ‘লাম’ অক্ষরটিকে মোটা করে পড়া ওয়াজিব যখন তার পূর্বের হরফে পেশ থাকে। ইবনুল জাযারি বলেন:
আর আল্লাহর নামের লাম-কে মোটা করে পড়ো
… যবর বা পেশের পর থেকে, যেমন: ‘আব্দুল্লাহ’।
আর «আর-রাহমান» শব্দটি ‘ফা’লান’ ওজনে, যা ‘রাহিমা’ (জের যোগে) থেকে নির্গত—যেমন ‘গাদিব’ থেকে ‘গাদবান’—এটি একটি সিফাতে মুশাব্বাহ (স্থায়ী গুণবাচক শব্দ)।
যদি প্রশ্ন করা হয়: ‘রাহিমা’ (জের যোগে) থেকে এটি কীভাবে আসতে পারে যখন এটি একটি সকর্মক ক্রিয়া, আর এই ওজনটি কেবল অকর্মক ক্রিয়া থেকে আসে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
أجيب عنه: بأنها بنيت من «رحم» بالكسر بعد النقل إلى فعل بالضم، أو بعد تنزيل المتعدي منزلة الفعل اللازم، كما في قولك: «فلان يعطي» .
وههنا سؤال وهو: إن قيل: «الرحمن والرحيم» صفتان مشتقتان من الرحمة، والرحمة: رقة القلب، وهي في حق الله محال تعالى سبحانه عن أن يكون له قلب أو نحوه من صفات الأجسام؟
والجواب عنه: أن أسماء الله تؤخذ باعتبار الغايات، فإذا وصف الله بأمر ولم يصح وصفه به، يحمل على غاية ذلك، وهذه قاعدة في كل مقام، وغاية رقة القلب التفضل والإحسان فهو المراد هنا.
وابتدأ البخاري -رحمه الله تعالى- كتابه «ببسم الله الرحمن الرحيم» اقتداء بالقرآن الكريم العظيم، وعملاً بقول النبي صلى الله عليه وسلم «كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر» (1)
أي: ذاهب البركة، رواه الخطيب بهذا اللفظ في كتابه الجامع،
--------------------------------------------
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: এটি ‘রাহিমা’ (জের-সহ) থেকে গঠিত হয়েছে, যা ‘রাহুমা’ (পেশ-সহ) ওজনে স্থানান্তরের পর অথবা সকর্মক ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া হিসেবে গণ্য করার পর গঠিত হয়েছে, যেমনটি বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি দান করে’।
আর এখানে একটি প্রশ্ন রয়েছে, তা হলো: যদি বলা হয়: ‘আর-রাহমান ও আর-রাহিম’ হলো দয়া (রাহমাহ) থেকে উদ্ভূত দুটি গুণবাচক নাম, আর দয়া হলো হৃদয়ের কোমলতা; অথচ আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব, তিনি পবিত্র এবং মহান এর থেকে যে তাঁর কোনো হৃদয় বা দেহের বৈশিষ্ট্যের মতো কিছু থাকবে?
এর উত্তর হলো: আল্লাহর নামসমূহকে এদের চূড়ান্ত পরিণাম বা শেষ ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়। সুতরাং যখন আল্লাহকে এমন কোনো বিষয় দ্বারা বিশেষিত করা হয় যার আক্ষরিক অর্থ তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া সঠিক নয়, তখন সেটিকে এর চূড়ান্ত পরিণামের ওপর প্রয়োগ করা হয়। আর এটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি মূলনীতি। আর হৃদয়ের কোমলতার চূড়ান্ত পরিণাম হলো অনুগ্রহ ও ইহসান (দয়া করা), সুতরাং এখানে এটিই উদ্দেশ্য।
ইমাম বুখারী—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—পবিত্র ও মহান কুরআনের অনুসরণ করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)" (১)—এর ওপর আমল করে তাঁর কিতাব ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ দিয়ে শুরু করেছেন।
অর্থাৎ: বরকতহীন। খতিব বাগদাদী তাঁর ‘আল-জামে’ গ্রন্থে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
فلهذا ابتدء بها المصنفون في أول كتبهم.
فإن قيل: ما الحكمة في أن الله تعالى ابتدء القرآن العظيم بالبسملة؟
فالجواب: كما قاله البشفي: إنه فعل ذلك سبحانه ليعملنا بابتدائه بالرحمة رضاه عنا، فإن السيد إذا كتب لعبده الغائب كتاباً، عرف رضا سيده وسخطه من عنوان كتابه، والله تعالى جعل عنوان كتابه «بسم الله الرحمن الرحيم» ولم يقل: بسم الجبار والقهار، بل بدأ بالرحمة، وجعلها سابقة على الكل، إشارة لها إلى أن رحمته قبل غضبه، وأن رضاه قبل سخطه، فله الحمد والمنة على ذلك.
جاء في حديث: «أن الله تعالى كتب على نفسه قبل أن يخلق الخلق: إن رحمتي تغلب غضبي» (1) .
وجاء أيضا: «إذا كان يوم القيامة أخرج الله تعالى كتاباً من تحت العرش فيه مكتوب: إن رحمتي سبقت غضبي وأنا أرحم الراحمين» (2) .
فيا أيها الرب الكريم وخير من
… ينادى به رباه رباه رباه
تفضل علينا يا كريم برحمة
… تعم جميع الخلق وتغشاه
وبارك لنا في الزرع والضرع دائماًً
… وغزر لنا شعب النبات وفرعاه
وأرخص لنا الأسعار في كل بلدة
… واغن جميع الخلق كلاً بمعناه
وسهل ونفس واقض كل إنابة
… وتب واعف واغفر كل ذنب عملناه
--------------------------------------------
এ কারণেই গ্রন্থকারগণ তাঁদের কিতাবের শুরুতে এর (বিসমিল্লাহর) মাধ্যমে সূচনা করে থাকেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনকে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার রহস্য কী?
এর উত্তর হলো যেমনটি আল-বাশফী বলেছেন: মহান আল্লাহ এমনটি করেছেন যাতে করুণার মাধ্যমে সূচনার দ্বারা আমাদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির বিষয়টি আমাদের জানাতে পারেন। কেননা, কোনো মনিব যদি তাঁর অনুপস্থিত দাসের কাছে কোনো পত্র লেখেন, তবে সেই দাসের প্রতি মনিবের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি পত্রের শিরোনাম দেখেই বোঝা যায়। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের শিরোনাম করেছেন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)। তিনি ‘বিসমিল জাব্বারি ওয়াল ক্বাহহার’ (প্রবল পরাক্রমশালী ও কঠোর দমনকারীর নামে) বলেননি; বরং রহমতের মাধ্যমেই শুরু করেছেন এবং একে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। এটি এই দিকেই ইঙ্গিত করে যে, তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের পূর্ববর্তী এবং তাঁর সন্তুষ্টি তাঁর অসন্তুষ্টির আগে। সুতরাং এর জন্য তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ।
হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বেই নিজের ওপর লিখে নিয়েছেন: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়।" (১)।
আরও বর্ণিত হয়েছে: "যখন কিয়ামত দিবস হবে, তখন মহান আল্লাহ আরশের নিচ থেকে একটি কিতাব বের করবেন যাতে লেখা আছে: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং আমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (২)।
হে মহান প্রতিপালক, যাঁকে ডাকার ক্ষেত্রে আপনিই সর্বোত্তম; হে আমার রব, হে আমার রব, হে আমার রব!
হে মহানুভব, আমাদের ওপর সেই রহমতের করুণা বর্ষণ করুন যা সকল সৃষ্টিকে বেষ্টন করে রাখে ও আচ্ছাদিত করে।
আমাদের শস্য ও গবাদি পশুতে সর্বদা বরকত দান করুন এবং উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখা ও বর্ধিত অংশ আমাদের জন্য প্রাচুর্যময় করুন।
প্রতিটি জনপদে আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য সুলভ করে দিন এবং প্রতিটি সৃষ্টিকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী অভাবমুক্ত করুন।
সকল বিষয় সহজ ও প্রশস্ত করুন এবং প্রতিটি অনুনয় পূরণ করুন; আমাদের তওবা কবুল করুন, মার্জনা করুন এবং আমাদের কৃত সকল পাপ ক্ষমা করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
لطيفة: قال الإمام الرازي: كتب عارف من العارفين لما دنا أجله «بسم الله الرحمن الرحيم» وأوصى أن تجعل في كفنه فقيل له: أي فائدة لك في هذا؟ قال: أقول يوم القيامة إلهي بعثت إلينا كتاباً وجعلت عنوانه «بسم الله الرحمن الرحيم» فعاملني بعنوان كتابك.
واختلف العلماء في البسملة (1) هل هي آية من الفاتحة، ومن كل سورة أم لا؟ فذهب إمامنا الشافعي إلى أنها آية من الفاتحة، ومن كل سورة إلا براءة، للأخبار ولإجماع الصحابة على إثباتها في المصحف أوائل السور سوى براءة، فلو لم تكن قرآنا لما أجازوا ذلك، لأنه يحمل على اعتقاد ما ليس بقرآن قرآناً.
بل ذكر الروياني من أصحابنا الشافعية في كتابة «البحر» : أن البسملة أفضل آي القرآن.
والحكمة في عدم ابتداء سورة براءة بالبسملة: أنها نزلت في الخوف والقتال بالسيف، والبسملة آية أمان، والأمان والخوف لا يجتمعان.
وذهب الأئمة الثلاثة إلى أنها ليست آية من كل سورة.
واختلاف العلماء فيها لا يكفر جاحدها ومنكرها بخلاف غيرها من أي القرآن إذا أنكره فإنه يكفر.
والبسملة التي في أثناء النمل آية من القرآن بالإجماع.
ومذهب الشافعي يستحب الجهر بها في الصلاة الجهرية (2) ، ومذهب أبي حنيفة وأحمد يسر بها مطلقاً، والإمام مالك لا يقرأها سراً ولا جهراً، وإذا قرأها خارج الصلاة ويأتي بها في أول الفاتحة وأول كل سورة إلا براءة، وإذا قرأ من أول الأجزاء لا من أول السورة فهو مخير بين البسملة وتركها.
وقد ذكر العلماء فوائد متعلقة بالبسملة (3) :
الأولى: أن كعب الأحبار قال: إن الباء من بسم الله بهاء الله، والسين سناوه، والميم ملكه.
الثانية: اشتملت البسملة على ثلاثة أسماء «الله، الرحمن، الرحيم» أما «الله» فهو المستحق للعبادة، وهذا معناه، وهو علم على الله غير مشتق كما قاله طائفة من العلماء منهم الإمام الشافعي، ومحمد بن الحسن، والغزالي.
ونقل عن الأشعري أنه رؤي في المنام فقيل له: ما فعل الله بك؟ فقال: غفر لي بقولي: إن الله علم على ذات الله تعالى، وهو اسم الله الأعظم.
--------------------------------------------
সূক্ষ্ম বিষয়: ইমাম রাযী বলেন: জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু জ্ঞানী) তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ লিখলেন এবং অসিয়ত করলেন যেন তা তার কাফনের ভেতর রাখা হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: এতে আপনার কী লাভ হবে? তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন আমি বলব, হে আমার ইলাহ! আপনি আমাদের নিকট একটি কিতাব পাঠিয়েছেন এবং তার শিরোনাম করেছেন ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’, সুতরাং আপনার কিতাবের শিরোনাম অনুযায়ী আমার সাথে আচরণ করুন।
বিসমিল্লাহ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে (১), এটি কি ফাতিহা এবং প্রত্যেক সূরার অংশ, নাকি নয়? আমাদের ইমাম শাফেঈ রহ.-এর মাযহাব হলো, এটি সূরা ফাতিহা এবং 'বারাআত' (তওবা) ব্যতীত প্রত্যেক সূরার একটি আয়াত। এর কারণ হলো বিভিন্ন বর্ণনা এবং সূরা বারাআত ব্যতীত মুসহাফের শুরুতে এটি লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা ঐক্যমত। যদি এটি কুরআন না হতো, তবে তারা তা অনুমোদন করতেন না; কারণ এতে যা কুরআন নয় তাকে কুরআন বলে বিশ্বাস করার আশঙ্কা তৈরি হতো।
বরং আমাদের শাফেঈ মাযহাবের অনুসারী রুইয়ানী তার ‘আল-বাহর’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে: বিসমিল্লাহ কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত।
সূরা বারাআতের শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার হেকমত বা রহস্য হলো: এটি ভীতি এবং তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে, আর বিসমিল্লাহ হলো নিরাপত্তার আয়াত। নিরাপত্তা এবং ভীতি একসাথে একত্রিত হতে পারে না।
অপর তিন ইমামের অভিমত হলো, এটি প্রত্যেক সূরার (অংশ হিসেবে) কোনো আয়াত নয়।
বিসমিল্লাহ নিয়ে ওলামায়ে কেরামের এই মতভেদের কারণে এর অস্বীকারকারীকে কাফির বলা হবে না, যা কুরআনের অন্যান্য আয়াতের ক্ষেত্রে ভিন্ন; সেগুলো অস্বীকার করলে কাফির হয়ে যায়।
সূরা নামলের মাঝখানে থাকা বিসমিল্লাহটি সর্বসম্মতিক্রমে কুরআনের একটি আয়াত।
শাফেঈ মাযহাবে জাহরী (উচ্চৈঃস্বরে পাঠের) নামাজে বিসমিল্লাহ উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা মুস্তাহাব (২)। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমাদের মাযহাব হলো সর্বদা এটি নিঃশব্দে পাঠ করা হবে। ইমাম মালিকের মতে এটি নিঃশব্দে বা উচ্চৈঃস্বরে কোনোভাবেই পাঠ করা হবে না। নামাজের বাইরে পাঠ করলে সূরা ফাতিহা ও তওবা ব্যতীত প্রত্যেক সূরার শুরুতে এটি পাঠ করা হবে। আর সূরার শুরু থেকে না পড়ে যদি মাঝখান থেকে তিলাওয়াত করা হয়, তবে বিসমিল্লাহ পাঠ করা বা না করার ব্যাপারে তিলাওয়াতকারীর ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা রয়েছে।
ওলামায়ে কেরাম বিসমিল্লাহ সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা বা উপকারিতা উল্লেখ করেছেন (৩):
প্রথমত: কাব আল-আহবার বলেছেন: ‘বিসমিল্লাহ’-এর ‘বা’ হলো আল্লাহর বাহা (জৌলুস), ‘সীন’ হলো তাঁর সানা (উজ্জ্বলতা) এবং ‘মীম’ হলো তাঁর মুলক (রাজত্ব)।
দ্বিতীয়ত: বিসমিল্লাহ তিনটি নামকে অন্তর্ভুক্ত করেছে— ‘আল্লাহ, রহমান, রহীম’। ‘আল্লাহ’ শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের একমাত্র যোগ্য সত্তা, এটিই এর অর্থ। এটি আল্লাহ তাআলার সত্তার জন্য নির্ধারিত একটি নাম (আলাম) যা অন্য কোনো শব্দ থেকে উদ্ভূত (মুশতাক) নয়, যেমনটি ইমাম শাফেঈ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং ইমাম গাযালীসহ একদল আলেম বলেছেন।
ইমাম আশআরী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে স্বপ্নে দেখা গিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন আমার এই উক্তির কারণে যে: ‘আল্লাহ’ শব্দটি মহান আল্লাহর সত্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম এবং এটিই আল্লাহর ‘ইসমে আযম’ বা মহানতম নাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦١)
كما ذهب إليه الإمام أبو حنيفة، وأكثر مشايخ التصوف والعارفين، فإنه لا ذكر لصاحب مقام فوق الذكر باسمه مجرداً.
واستدلوا على ذلك بأشياء منها: أن الله تعالى لما خاطب موسي قال: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ} [طه: 14] فلو كان له اسم أعظم منه لقاله.
ومنها: أنه لم يسم به غيره بدليل قوله تعالي {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِياًّ} [مريم: 65] أي: هل تعلم أحد تسم غير الله.
وفي الاسم الأعظم خلاف كثير سيأتي في محله.
واسم الله أعرف المعارف، وقد ذكر هذا الاسم الشريف في القرآن في ألفين وثلاثمائة وستين موضعاً.
وأما اسم «الرحمن» فهو اسم خاص به سبحانه، لأنه صفة لمن وسعت رحمته كل شيء، ومن لم يكن كذلك لا يسمي رحماناً.
وتسمية مسيملة الكذاب برحمان فهو صادر من الكفار فلا عبرة بذلك، فلا يجوز للإنسان أن يسمي ولده بالرحمن بل بعبد الرحمن.
قال السبكي: المختص بالله هو المعرف باللام دون غيره، فعلي قوله يجوز التسمية برحمان لا بالرحمن.
وأما اسم «الرحيم» فإنه يطلق على غير الله أيضاً.
فإن قيل: إذا كانت البسملة من الفاتحة فما الحكمة في ذكر الرحمن الرحيم في الفاتحة، بعد ذكرهما في البسملة؟
فالجواب عنه من وجهين:
أحدها: أن الله تعالى لما ابتدء كتابه بالحمد لله رب العالمين بعد البسملة عَلِم سبحانه أن النفوس ترهب من ذلك، فعقبة بقوله «الرَّحمَنِ الرَّحِيمِ» ليجمع في صفاته بين الرهبة منه، والرغبة إليه فيكون أعون على طاعته وأمنع من معصيتة، ونظير هذا قوله تعالى: {نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ العَذَابُ الأَلِيمُ} [الحجر: 49، 50] ، وقوله تعالى: {غَافِرِ الذَّنبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ العِقَابِ ذِي الطَّوْلِ} [غافر: 3] .
যেমনটি ইমাম আবু হানিফা এবং অধিকাংশ তাসাউফপন্থী শাইখ ও আরিফগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, উচ্চ মাকামের অধিকারীর জন্য তাঁর সত্তাগত নামের যিকিরের উপরে আর কোনো যিকির নেই।
তারা এর সপক্ষে বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তাআলা যখন মুসার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ" [ত্বহা: ১৪]। যদি তাঁর এর চেয়ে মহান কোনো নাম থাকত, তবে তিনি অবশ্যই তা বলতেন।
আরেকটি দলিল হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে এই নামে নামকরণ করা হয়নি, যার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?" [মারইয়াম: ৬৫] অর্থাৎ: আপনি কি আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে জানেন যাকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে?
আর ইসমে আযম বা মহান নামের ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে যা যথাস্থানে আলোচিত হবে।
আল্লাহ নামটি হলো সকল পরিচিত শব্দের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত। এই বরকতময় নামটি কুরআনে দুই হাজার তিনশত ষাটটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর 'আর-রাহমান' নামটি তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) জন্য নির্দিষ্ট, কারণ এটি এমন সত্তার গুণ যার রহমত বা দয়া সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। যার মধ্যে এই গুণ নেই তাকে 'রাহমান' নামে অভিহিত করা যায় না।
আর ভণ্ড মুসাইলিমাকে 'রাহমান' বলাটা ছিল কাফিরদের পক্ষ থেকে, তাই এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সুতরাং কোনো মানুষের জন্য তার সন্তানের নাম 'রাহমান' রাখা জায়েয নয়, বরং 'আবদুর রহমান' রাখা উচিত।
ইমাম সুবকী বলেন: আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হলো আলিফ-লাম যুক্ত শব্দটি (আর-রাহমান), অন্যটি নয়। তাঁর কথা অনুযায়ী, 'রাহমান' নাম রাখা জায়েয হতে পারে, কিন্তু 'আর-রাহমান' নয়।
আর 'আর-রাহীম' নামটি আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে: বিসমিল্লাহ যদি সূরা ফাতিহার অংশ হয়ে থাকে, তবে বিসমিল্লাহতে 'আর-রাহমান আর-রাহীম' উল্লেখ করার পর পুনরায় ফাতিহাতে তা উল্লেখ করার হিকমত বা রহস্য কী?
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলা যখন বিসমিল্লাহর পর 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক) দ্বারা তাঁর কিতাব শুরু করলেন, তখন তিনি জানতেন যে মানুষের অন্তর এতে ভীত হতে পারে। তাই এর পরেই তিনি 'আর-রাহমান আর-রাহীম' উল্লেখ করেছেন, যাতে তাঁর গুণাবলিতে ভীতি এবং আশা—উভয়ের সমন্বয় ঘটে। এটি তাঁর আনুগত্যের জন্য অধিক সহায়ক এবং নাফরমানি থেকে বিরত রাখার জন্য বেশি কার্যকর হয়। এর সদৃশ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয়ই আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আর আমার আযাবই হলো যন্ত্রণাদায়ক আযাব।" [হিজর: ৪৯, ৫০] এবং আল্লাহ তাআলার অন্য বাণী: "যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা এবং সামর্থ্যবান।" [গাফির: ৩]
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لو يعلم المؤمن ما عند الله من العقوبة ما طمع بجنته أحد، ولو يعلم الكافر ما عند الله من الرحمة ما قنط من جنته أحد» (1) قاله الغزالى في جواهر القرآن.
ثانيهما: كررهما تأكيداً للرحمة وعناية بها، ومع ذلك عقبهما بقوله {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 4] لئلا يغتروا قاله النيابوري.
و «الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» اسمان من أسماء الله يجب على كل مكلف أن يعلم أن الله سبحانه وتعالى هو الرحمن الرحيم، وأرحم الراحمين.
واختلف العلماء فيهما هل هما بمعنى واحد أم لا؟
فقيل: هما بمعنى واحد وصححه ابن العربي.
والصحيح أن «الرحمن» أبلغ من «الرحيم» كما قاله الأكثرون، ومعنى كون «الرحمن» أبلغ: أن رحمته في الدنيا شاملة له وللكافر والصالح، وتلك الرحمة هي إيصال الرزق، وخلق الصحة والسلامة ورفع الأسقام والمصائب والدواهي.
و «الرحمن» أبلغ من الرحيم، لأن الرحمة الناشئة من الرحمن عامة في حق الولي والعدو والصديق والزنديق، والرحمة الناشئة من الرحيم مختصة بالمؤمنين.
وقد فرق العلماء بين: «الرحمن، والرحيم» بفروق:
الأول: أن «الرحمن» خاص بأهل السماء، و «الرحيم» بأهل الأرض.
الثاني: أن «الرحمن» هو الذي يرحم برحمته واحدة، و «الرحيم» بمائة رحمة فعلى هذا يكون «الرحمن» خاص بأهل الدنيا، و «الرحيم» بأهل الآخرة، ويدل عليه ما رويناه في صحيح مسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله تعالى خلق يوم خلق السماوات والأرض مائة رحمة، كل رحمة طباق ما بين السماء والأرض، فجعل منها في الأرض رحمة، فبها تعطف الوالدة على ولدها، والوحش والطير بعضها على بعض، فإذا كان يوم القيامة أكملها بهذه الرحمة» (2) .
--------------------------------------------
সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি মুমিন জানত আল্লাহর নিকট কী পরিমাণ শাস্তি রয়েছে, তবে কেউ তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কাফের জানত আল্লাহর নিকট কী পরিমাণ রহমত রয়েছে, তবে কেউ তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হতো না» (১) এটি আল-গাজালী তাঁর 'জাওয়াহিরুল কুরআন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: রহমতকে সুনিশ্চিত করতে এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে শব্দ দুটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। তবুও এর পরপরই তিনি তাঁর বাণী {প্রতিফল দিবসের মালিক} [আল-ফাতিহা: ৪] উল্লেখ করেছেন যাতে তারা প্রবঞ্চিত না হয়। এটি নিসাবুরী বলেছেন।
'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম' আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত দুটি নাম। প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) জন্য এটি জানা ওয়াজিব যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হলেন 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম' (পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু) এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
আলেমগণ এই শব্দ দুটির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে, এগুলো কি একই অর্থের ধারক নাকি ভিন্ন?
কেউ কেউ বলেছেন: এগুলো একই অর্থবোধক; ইবনুল আরাবী একে সঠিক বলে গণ্য করেছেন।
আর বিশুদ্ধ মত হলো—যা অধিকাংশ আলেম বলেছেন—'আর-রাহমান' শব্দটি 'আর-রাহীম' অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। 'আর-রাহমান' অধিক অর্থবহ হওয়ার অর্থ হলো: দুনিয়াতে তাঁর রহমত মুমিন, কাফের ও নেককার সকলের জন্যই ব্যাপক। সেই রহমত হলো রিযিক পৌঁছানো, সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করা এবং রোগ-ব্যাধি, বিপদ-আপদ ও মুসিবত দূর করা।
'আর-রাহমান' শব্দটি 'আর-রাহীম' অপেক্ষা অধিক অর্থবহ, কারণ 'আর-রাহমান' থেকে উদ্ভূত রহমত বন্ধু, শত্রু, মিত্র ও যিন্দিক সবার জন্যই সাধারণ। পক্ষান্তরে 'আর-রাহীম' থেকে উদ্ভূত রহমত কেবল মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট।
আলেমগণ 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহীম'-এর মধ্যে কতিপয় পার্থক্য বর্ণনা করেছেন:
প্রথমত: 'আর-রাহমান' আসমানবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং 'আর-রাহীম' জমিনবাসীদের জন্য।
দ্বিতীয়ত: 'আর-রাহমান' তিনি যিনি তাঁর একটি রহমতের মাধ্যমে দয়া করেন, আর 'আর-রাහীম' একশটি রহমতের মাধ্যমে। এই হিসেবে 'আর-রাহমান' দুনিয়াবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং 'আর-রাহীম' আখেরাতবাসীদের জন্য। এর প্রমাণ হলো যা আমরা সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি রহমত আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানের সমান। তিনি তা থেকে জমিনে একটি রহমত দান করেছেন। সেই রহমতের কারণেই মা তাঁর সন্তানের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে এবং বন্যপ্রাণী ও পাখিরা একে অপরের প্রতি দয়া করে। যখন কিয়ামত দিবস হবে, তখন তিনি এই রহমতের মাধ্যমে তা পূর্ণ করবেন» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
الثالث: أن «الرحمن» ذو الرحمة الشاملة، الني وسعت الخلق في أرزاقهم وأسباب معايشهم ومصالحهم، عمت الجميع المؤمن والكافر، وأما «الرحيم» فخاص بالمؤمنين، كما قال {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} [الأحزاب: 43] .
وقيل غير ذلك.
قال العلماء: «الرحمن» خاص بالله تعالى، لا يجوز أن يسمى به غيره بخلاف «الرحيم» وأما مسيلمة الكذاب فقد سماه قومه بذلك حيث قالوا.
سموت بالمجد يا ابن الأكرمين أباً
… وانت غوث الورى لازلت رحماناً
عناداً وكفراً لزعمهم أنه كان نبياً، فهو استعمال باطل، صدر من الكفار فلا عبرة به.
وقد ذكر العلماء أن التسمية تستحب في مواضع منها:
في ابتداء المصنفات للتأسي والاقتداء بالقرآن والتبرك بها، قال في نزهة المجالس: روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أول ما كتب القلم: بسم الله الرحمن الرحيم، ذا كتبتم فاكتبوها أوله، وهي مفتاح كل كتاب أنزل، ولما نزل بها جبريل عليه السلام ها ثلاثاً وقال: هي لك ولأمتك وأمرهم لا يدعوها في شيء من أمورهم، فإني لم أدعها طرفة عين مذ نزلت على أبيك آدم عليه السلام وكذلك الملائكة» (1) .
وروي أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكتب أولاً «باسمك اللهم» فلما نزلت السورة هود فيها {بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا} [هود: 41] كتب: «بسم الله» فلما نزلت سورة سبحان وفيها: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أو ادْعُوا الرَّحْمَنَ} [الاسراء: 110] كتب: «بسم الله الرحمن» فلما نزلت سورة النمل فيها {إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنِّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [النمل: 30] كتب: «بسم الله الرحمن الرحيم» (2) .
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: ‘আর-রহমান’ হলেন সেই সত্তা যিনি ব্যাপক করুণার অধিকারী, যা মাখলুকাতের রিজিক, তাদের জীবনযাত্রার মাধ্যম এবং তাদের কল্যাণকে পরিব্যাপ্ত করেছে; এটি মুমিন ও কাফির সকলকেই শামিল করে। আর ‘আর-রাহীম’ মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন তিনি বলেছেন: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু} [আল-আহযাব: ৪৩] ।
এ ছাড়া অন্য কথাও বলা হয়েছে।
উলামায়ে কিরাম বলেছেন: ‘আর-রহমান’ নামটি আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট, ‘আর-রাহীম’-এর বিপরীতে এটি অন্য কারো নাম রাখা জায়েয নয়। তবে ভণ্ড মুসাইলিমাকে তার কওম এই নামে ডেকেছিল, তারা বলেছিল:
হে শ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষদের সন্তান! মর্যাদায় আপনি অনেক উপরে
… আপনি সৃষ্টির আশ্রয়দাতা, আপনি তো সর্বদা রহমান
এটি তারা অবাধ্যতা ও কুফরবশত করেছিল তাদের এই দাবির কারণে যে সে একজন নবী ছিল। সুতরাং এটি একটি বাতিল ব্যবহার, যা কাফিরদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পেয়েছে, তাই এর কোনো গুরুত্ব নেই।
উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, বিসমিল্লাহ পাঠ করা বেশ কিছু ক্ষেত্রে মুস্তাহাব, যার মধ্যে রয়েছে:
রচনার শুরুতে কুরআনের অনুসরণ, ইক্তিদা এবং এর মাধ্যমে বরকত হাসিল করার উদ্দেশ্যে। 'নুযহাতুল মাজালিস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: ‘কলম সর্বপ্রথম যা লিখেছে তা হলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। যখন তোমরা কিছু লিখবে তখন এর শুরুতেই এটি লিখো। এটি নাযিলকৃত প্রতিটি কিতাবের চাবিকাঠি। আর যখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এটি নিয়ে নাযিল হলেন, তিনি তিনবার এটি পাঠ করলেন এবং বললেন: এটি আপনার জন্য এবং আপনার উম্মতের জন্য; এবং তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের কোনো বিষয়েই এটি ছেড়ে না দেয়। কেননা আপনার পিতা আদম আলাইহিস সালামের ওপর এটি নাযিল হওয়ার পর থেকে আমি চোখের পলকের জন্যও এটি ছাড়িনি, আর ফেরেশতারাও নয়’ (১) ।
আরও বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরুতে ‘বিসমিকা আল্লাহুম্মা’ লিখতেন। এরপর যখন সূরা হুদ নাযিল হলো, যাতে রয়েছে {আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি} [হুদ: ৪১], তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ লিখতে শুরু করলেন। এরপর যখন সূরা সুবহান (ইসরা) নাযিল হলো, যাতে রয়েছে: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো} [বনী ইসরাঈল: ১১০], তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমান’ লিখতে শুরু করলেন। এরপর যখন সূরা আন-নামল নাযিল হলো, যাতে রয়েছে {নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} [নামল: ৩০], তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ লিখতে শুরু করলেন (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
واتفق العلماء على جواز كتابتها أول العلم والرسائل، ومنع جماعة من كتابتها في أول ديوان الشعر، إلا إذا كان فيه مواعظاً وحكماً.
وذكر الرازي -رحمه الله تعالى- وغيره فوائد متعلقة بالبسملة:
الفائدة الأولى: قيل: لما أنزلت «بسم الله الرحمن الرحيم» على آدم قال: الآن آمنت على ذريتي من العذاب فلما مات ارتفعت، ثم نزلت على نوح فنجاها من الطوفان، ثم ارتفعت بعد موته ثم نزلت على إبراهيم، فصارت النار عليه برداً وسلاماً، ثم نزلت على سليمان فاستقام ملكه، ثم نزلت على موسي فسلم في البحر، ثم ارتفعت ثم نزلت على عيسي، فأوحى الله إليه: قد نزلت عليك آية الأمان، فلما رفع ارتفعت، ثم نزلت على محمد صلى الله عليه وسلم إلى يوم القيامة، فإذا كان يوم القيامة يأخذ المؤمن كتابة بيمينه ويقول: «بسم الله الرحمن الرحيم» فإذا هو أبيض لا شيء فيه، فيقال له: كان مملوءًا من السيئات ولكن محته «بسم الله الرحمن الرحيم» .
الفائدة الثانية: لما أرسل الله موسى إلى فرعون وتمادى في الطغيان، فدعا عليه مدة، فقال تعالى: يا موسي أنت تنظر إلى كفره وأنا إلى ما هو مكتوب على باب قصره، وذلك أن جبريل عليه السلام كتب عليه «بسم الله الرحمن الرحيم» فلذلك وصفه الله بالمقام الكريم.
قال الرازي: ففي هذا إشارة إلى أن من كتب هذه الكلمة على باب داره أمن من الهلاك، وإن كان كافرًا، فكيف بالذي كتبها على سويداء قلبه من أول عمره إلى آخره لا يكون آمناً يوم القيامة من عذاب الله.
উলামায়ে কেরাম ইলম এবং পত্রাবলীর শুরুতে এটি লেখার বৈধতার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তবে একদল কবিদের কাব্যগ্রন্থের শুরুতে এটি লেখা নিষেধ করেছেন, যদি না তাতে উপদেশ এবং হিকমতপূর্ণ কথা থাকে।
রাজী -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এবং অন্যান্যরা বাসমালাহ (বিসমিল্লাহ) সংশ্লিষ্ট কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন:
প্রথম উপকারিতা: বলা হয়েছে, যখন আদমের ওপর 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হলো, তখন তিনি বললেন: এখন আমি আমার বংশধরদের আযাব থেকে নিরাপদ বোধ করছি। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, এটি তুলে নেওয়া হলো। অতঃপর তা নূহের ওপর অবতীর্ণ হলো এবং এর মাধ্যমে তিনি মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি পেলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এটি আবার তুলে নেওয়া হলো। অতঃপর তা ইব্রাহীমের ওপর অবতীর্ণ হলো এবং তাঁর ওপর আগুন শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে গেল। এরপর তা সুলাইমানের ওপর অবতীর্ণ হলো এবং তাঁর রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। এরপর তা মূসার ওপর অবতীর্ণ হলো এবং তিনি সমুদ্রে নিরাপত্তা পেলেন। তারপর এটি তুলে নেওয়া হলো এবং ঈসার ওপর অবতীর্ণ হলো; তখন আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন: আপনার ওপর নিরাপত্তার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। যখন তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হলো, এটিও উঠে গেল। এরপর তা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য অবতীর্ণ হলো। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন আসবে, মুমিন ব্যক্তি তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং বলবে: 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'। তখন সে দেখবে আমলনামাটি সাদা এবং এতে কিছুই নেই। তখন তাকে বলা হবে: এটি পাপে পরিপূর্ণ ছিল, কিন্তু 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' তা মুছে দিয়েছে।
দ্বিতীয় উপকারিতা: যখন আল্লাহ মূসাকে ফিরআউনের কাছে পাঠালেন এবং সে অবাধ্যতায় সীমা লঙ্ঘন করল, তখন তিনি দীর্ঘকাল তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: হে মূসা, তুমি তার কুফরির দিকে তাকাচ্ছ, আর আমি তাকাচ্ছি তার প্রাসাদের দরজায় যা লেখা আছে তার দিকে। আর তা হলো এই যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সেখানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লিখেছিলেন। এই কারণেই আল্লাহ তাকে 'সম্মানিত স্থান' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাজী বলেন: এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার ঘরের দরজায় এই বাক্যটি লিখবে সে ধ্বংস থেকে নিরাপদ থাকবে, যদিও সে কাফের হয়। তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যে তার জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ অন্তরের অন্তঃস্থলে এটি লিখে রেখেছে; সে কি কিয়ামতের দিন আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ থাকবে না?
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
وروي عن علي أنه نظر إلى رجل يكتب «بسم الله الرحمن الرحيم» فقال: جودها فإن رجلاً جودها فغفر له (1) .
واختلف الأئمة فيما إذا أرسل الإنسان كلباً له للصيد، ولم يقل «بسم الله الرحمن الرحيم» عند إرساله، وصاد الكلب هل يحل أكله أم لا (2) ؟
ذهب إمامنا الشافعي إلى أنه يحل أكله سواء ترك التسمية سواء ترك التسمية عمداً وسهواً، فإن التسمية عند إرسال الكلب ونحوه للصيد سنة عند الشافعي لا واجبة (3) .
وذهب أبو حنيفة إلى أن ترك التسمية ناسياً حل أكله، وإن تركها عامداً لا يحل.
مثل هذا ما إذا رمى الصيد بسهم فقتله فعلى مذهب الشافعي يحل، وعند أبي حنيفة كان ناسياً حل، وإن كان عامداً لا يحل.
ومثل هذا الذبيحة ما إذا ذبح الإنسان شاة مثلاً وترك التسمية عند ذبحها هل تؤكل أم لا؟
مذهب إمامنا الشافعي يجوز أكلها سواء ترك لتسمية عامداً أو سهواً (4) ، وعند أبي حنيفة إن تركها عمداً لا تؤكل لقوله تعالى {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ} [الأنعام: 121] وإن تركها ناسياً تؤكل (5) .
وأجاب الشافعي عن الآية بأنها محمولة على الذي ذبح لغير الله، فإنه لا يحل أكله.
وأقل التسمية «بسم الله» وأكملها «بسم الله الرحمن الرحيم» ، ويسن أن يقول عند الذبح والقتال «بسم الله والله أكبر» لأن الوقت لا يليق به «الرحمن الرحيم» .
قال ابن العماد: وكيفية التسمية عليه أن يقول: «بسم الله» ولا يقل: «الرحمن الرحيم» لأن المقام لا يناسب الرحمة، ولا يقل: بسم الله واسم محمد.
الفائدة الثالثة: قال الحناطي من الشافعية في فتاويه: لا يجوز جعل الفضة والذهب في ورقة كتب فيها «بسم الله الرحمن الرحيم» ، فإن فعل ذلك مع العلم بالمنع أثم.
الفائدة الرابعة: إذا رأى الإنسان ورقة ملقاة على الأرض وفيها البسملة، أو شيء من القرآن يستحب رفعها بل يجب، إذا خيف أن تداس بالأرجل.
قال ابن الجوزي: «قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من رفع قرطاساً من الأرض فيه «بسم الله الرحمن الرحيم» احتراماً لله تعالى حرم الله وجهه على النار» (6) .
--------------------------------------------
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লিখতে দেখে বললেন: "এটি সুন্দর করে লেখো, কারণ এক ব্যক্তি এটি সুন্দর করে লিখেছিল ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল।" (১) ।
যদি কোনো ব্যক্তি শিকারের উদ্দেশ্যে তার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেয় এবং ছাড়ার সময় 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' না বলে, আর কুকুরটি শিকার ধরে ফেলে, তবে তা খাওয়া হালাল হবে কি না—এ বিষয়ে ইমামগণ মতভেদ করেছেন (২)?
আমাদের ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর অভিমত হলো, এটি খাওয়া হালাল; চাই সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ বর্জন করুক বা ভুলবশত। কেননা শাফেয়ী রহ.-এর মতে শিকারের জন্য কুকুর বা অনুরূপ কিছু ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত, ওয়াজিব নয় (৩)।
ইমাম আবু হানিফা রহ. এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি ভুলবশত বিসমিল্লাহ বর্জন করা হয় তবে তা খাওয়া হালাল, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা হয় তবে তা হালাল নয়।
অনুরূপভাবে, কেউ যদি শিকারের দিকে তীর নিক্ষেপ করে এবং তা শিকারটিকে মেরে ফেলে, তবে ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী তা হালাল। আর ইমাম আবু হানিফার মতে, যদি ভুলবশত (বিসমিল্লাহ বর্জন) হয় তবে হালাল, আর যদি ইচ্ছাকৃত হয় তবে হালাল নয়।
জবাই করা পশুর ক্ষেত্রেও একই হুকুম; যেমন কোনো ব্যক্তি একটি বকরি জবাই করল এবং জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বর্জন করল, তবে তা খাওয়া যাবে কি না?
আমাদের ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব হলো, বিসমিল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা হোক বা ভুলবশত, তা খাওয়া জায়েজ (৪)। আর ইমাম আবু হানিফার মতে, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করা হয় তবে তা খাওয়া যাবে না; আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর কারণে: "আর তোমরা তা থেকে খেয়ো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, নিশ্চয় এটি পাপাচার।" [আল-আনআম: ১২১]। তবে ভুলবশত বর্জন করলে তা খাওয়া যাবে (৫)।
ইমাম শাফেয়ী রহ. এই আয়াতের উত্তর দিয়েছেন যে, এটি ঐ পশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করা হয়েছে; যা খাওয়া হালাল নয়।
বিসমিল্লাহর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো 'বিসমিল্লাহ' এবং পূর্ণরূপ হলো 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'। জবাই করা এবং যুদ্ধের সময় 'বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার' বলা সুন্নাত; কারণ এই মুহূর্তটি 'আর-রহমান আর-রাহিম' (পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু) গুণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইবনুল ইমাদ রহ. বলেন: জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বলার পদ্ধতি হলো—সে বলবে 'বিসমিল্লাহ', কিন্তু 'আর-রহমান আর-রাহিম' বলবে না। কারণ এই স্থানটি দয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর সে 'বিসমিল্লাহ ও মুহাম্মাদের নামে' বলবে না।
তৃতীয় উপকারিতা: শাফেয়ী মাযহাবের হানাতি রহ. তাঁর ফাতওয়ায় বলেছেন: যে কাগজে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখা আছে তাতে সোনা বা রুপা রাখা জায়েজ নেই। কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা জানার পরও এমনটি করে তবে সে গুনাহগার হবে।
চতুর্থ উপকারিতা: যদি কোনো ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকা এমন কোনো কাগজ দেখে যাতে বিসমিল্লাহ বা কুরআনের কিছু অংশ লেখা আছে, তবে তা তুলে নেওয়া মুস্তাহাব, বরং ওয়াজিব; যদি পায়ের নিচে পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ইবনুল জাওজি রহ. বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ ভূমি থেকে এমন একটি কাগজ তুলে নিল যাতে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখা আছে, আল্লাহ তার চেহারার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
وإذا رفعها جاز له غسلها بالماء وجاز له حرقها بالنار، لكن قال ابن عبد السلام الأولى أن يغسلها بالماء أو يحرقها بالنار، ويجعلها في شق الحائط أو غيره، ولأنها قد تسقط فتوطأ.
وهل الحرق أولى أو الغسل بالماء؟ قال بعضهم: الحرق أولى من الغسل، لأنها بعد الغسل قد تقع على الأرض، ولا يكره الحرق إذا تعلق به غرض صحيح، كما إذا خاف أن توطأ تلك الورقة أو تستعمل في غير القراءة، فقد أحرق عثمان مصاحف، وكان فيها آيات وقرآن منسوخ ولم ينكر عليه.
قال الزركشي: نعم يكره الحرق لغير حاجة (1) .
الفائدة الخامسة: يحرم على الإنسان أن يضع على فراش أو نقش «بسم الله الرحمن الرحيم» أو بشيء من القرآن (2) .
لطيفة خاتمة: كتب قيصر إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن بي صداعاً لا يسكن، فإذا
--------------------------------------------
এবং যখন কেউ তা তুলে নেয়, তখন সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা তার জন্য জায়েয এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলাও জায়েয। তবে ইবনে আবদুস সালাম বলেছেন যে, উত্তম হলো সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা অথবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা এবং দেয়ালের ফাটলে বা অন্য কোথাও রাখা; কারণ তা পড়ে গিয়ে পদদলিত হতে পারে।
আর পুড়িয়ে ফেলা উত্তম নাকি পানি দিয়ে ধোয়া? তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ধোয়ার চেয়ে পুড়িয়ে ফেলাই উত্তম, কারণ ধোয়ার পর তা মাটিতে পড়ে যেতে পারে। আর যদি কোনো সঠিক উদ্দেশ্য থাকে তবে পুড়িয়ে ফেলা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হবে না, যেমন যদি আশঙ্কা থাকে যে সেই কাগজটি পদদলিত হবে বা তিলাওয়াত ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহৃত হবে; কেননা উসমান (রা.) মুসহাফসমূহ পুড়িয়েছিলেন এবং তাতে রহিত আয়াত ও কুরআন ছিল, আর কেউ তাঁর কাজের প্রতিবাদ করেননি।
যারকাশী বলেছেন: হ্যাঁ, প্রয়োজন ছাড়া পুড়িয়ে ফেলা অপছন্দনীয় (১)।
পঞ্চম শিক্ষা: কোনো ব্যক্তির জন্য বিছানা বা নকশার উপর 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' অথবা কুরআনের কোনো অংশ রাখা হারাম (২)।
একটি চমৎকার সমাপ্তি: কায়সার উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, আমার এমন একটি মাথাব্যথা হচ্ছে যা প্রশমিত হচ্ছে না, অতঃপর যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
كان عندك دواءًا ابعثه إليَّ، فبعث إليه عمر قلنسوه فكان إذا وضعها على رأسه سكن صداعه، وإذا رفعها عن رأسه عاوده الصداع، فتعجب من ذلك ففتش القلنسوة فإذا مكتوب فيها «بسم الله الرحمن الرحيم» .
الفائدة السادسة: ذكر ابن الملقن في شرحه على البخاري عن النقاش أنه قال: حين نزلت «بسم الله الرحمن الرحيم» سبحت الجبال فقالت قريش: سحر محمد الجبال (1) .
قال: فإن صح ما ذكره فلذلك معنى، وذلك: أنها آية نزلت على آل داود، وقد كانت الجبال تسبح معه بنص القرآن العظيم.
وقد ورد في فضلها عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «من أراد أن ينجيه الله من الزبائية التسعة عشر فليقرأ «بسم الله الرحمن الرحيم» فيجعل الله له بكل حرف جنة من واحدة (2) .
وسنتكلم على التسمية وننقل فيها فوائد في باب الوضوء إن شاء الله تعالى.
* * *
--------------------------------------------
আপনার কাছে যদি কোনো ঔষধ থাকে তবে তা আমার কাছে পাঠান। অতঃপর উমর (রা.) তাঁর কাছে একটি টুপি পাঠালেন। যখনই তিনি সেটি মাথায় দিতেন, তাঁর মাথাব্যথা শান্ত হতো; আর যখনই সেটি মাথা থেকে সরাতেন, মাথাব্যথা ফিরে আসত। তিনি এতে বিস্মিত হলেন এবং টুপিটি পরীক্ষা করলেন, তখন দেখা গেল তাতে লেখা আছে: 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'।
ষষ্ঠ ফায়দা: ইবনে আল-মুলাক্কিন বুখারীর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আন-নাক্কাশ থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: যখন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' অবতীর্ণ হলো, তখন পাহাড়সমূহ তসবীহ পাঠ করল। তখন কুরাইশরা বলল: মুহাম্মদ পাহাড়গুলোকে জাদু করেছে (১)।
তিনি বলেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা যদি সহীহ হয়, তবে তার একটি গূঢ় অর্থ আছে। তা হলো: এটি এমন একটি আয়াত যা দাউদ (আ.)-এর বংশধরদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল, আর মহান কুরআনের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী পাহাড়সমূহ তাঁর সাথে তসবীহ পাঠ করত।
এর ফজিলত সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি চায় আল্লাহ তাকে উনিশজন যাবানিয়াহ (জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতা) থেকে রক্ষা করুন, সে যেন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করে। তবে আল্লাহ তার জন্য এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তাদের প্রত্যেকের থেকে রক্ষার জন্য একটি করে ঢাল তৈরি করে দেবেন (২)।
আমরা অজুর অধ্যায়ে 'তাসমিয়া' (বিসমিল্লাহ) সম্পর্কে আলোচনা করব এবং ইনশাআল্লাহ তায়ালা সেখানে এ সংক্রান্ত ফায়দাগুলো উদ্ধৃত করব।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
المجلس الثانيفي الكلام على قوله: كيف كان بدء الوحي (1) إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي قوله تعالى {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِه} [النساء: 163] .
وفيه طرف من خصائص سيدنا نوح وطرف من فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.
فإن قيل: لأي شيء لم يبتديء البخاري في أول صحيحه «بالحمد» (2)
وهو أمر مهم، وقد صح من حديث أبي هريرة رضي الله عنه (3) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كل كلام لا يبدأ فيه بحمد الله فهو أقطع ناقص البركة» رواه النسائي وابن ماجه (4) .
وأجاب عنه شيخ الإسلام سراج الدين ابن الملقن بسبعة أوجه:
الأول: أن هذا الحديث ليس على شرطه فإن قرة بن عبد الرحمن وهو ممن انفرد به مسلم عن البخاري.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মজলিসআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী শুরুর সূচনা কীভাবে হয়েছিল (১)—তাঁর এই বাণীর আলোচনা প্রসঙ্গে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি আপনার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি, যেমন ওহী প্রেরণ করেছিলাম নূহের নিকট এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের নিকট} [আন-নিসা: ১৬৩] প্রসঙ্গে।
এতে আমাদের নেতা নূহ আলাইহিস সালামের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার ফজিলত সম্পর্কেও কিছু আলোচনা রয়েছে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: ইমাম বুখারী কেন তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতে ‘আল-হামদ’ (আল্লাহর প্রশংসা) (২) দিয়ে শুরু করেননি?
অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু (৩) থেকে বর্ণিত হাদীসে এটি প্রমাণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কথা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছন্ন ও বরকতহীন।" এটি নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (৪)।
এর উত্তরে শায়খুল ইসলাম সিরাজুদ্দিন ইবনুল মুলাক্কিন সাতটি দিক উল্লেখ করেছেন:
প্রথমত: এই হাদীসটি ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী নয়। কেননা (এর বর্ণনাকারী) কুররাহ বিন আবদুর রহমান এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের থেকে ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারী করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
الثاني: أن المراد بالحمد الذكر والثناء، بدليل أنه جاء في رواية: «بذكر الله» (1) والتسمية مشتملة على ذلك، فاكتفي بها لأنها أبلغ الثناء.
الثالث: يحتمل أن البخاري حمد الله بلسانه، لأن الذي اقتضاه لفظ الحمد أن يحمد لا أن يكتبه، وقيل في الجواب غير ذلك (2) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: হামদ বা প্রশংসার মাধ্যমে জিকির ও গুণকীর্তন উদ্দেশ্য, এর প্রমাণ হলো একটি বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে" (১)। আর বিসমিল্লাহর মধ্যে তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই এটিকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে; কারণ এটিই হলো প্রশংসার সবচেয়ে জোরালো মাধ্যম।
তৃতীয়ত: সম্ভাবনা রয়েছে যে, ইমাম বুখারী মৌখিকভাবে আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। কারণ প্রশংসার শব্দ যা দাবি করে তা হলো মৌখিকভাবে প্রশংসা করা, লিখে প্রকাশ করা নয়। এ ব্যাপারে উত্তর হিসেবে আরও কিছু বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
وقوله «باب» قال الكرماني: يجوز فيه وفي نظائره ثلاثة أوجه:
الأول: «باب» بالرفع والتنوين.
والثاني: «بابُ» بالرفع بلا تنوين على الإضافة، وعلى التقديرين هو خبر مبتدأ محذوف، أي: هذا باب.
والثالث: «بابْ» بالسكون على سبيل التعداد للأبواب فلا إعراب له، قال البرماوي: ولا يخفى بُعده.
و «بدء الوحي» بالهمز مصدر «بدء» بمعنى البداية، يقال: بدو الوحي بلا همز مصدر بدا يبدي بمعنى ظهر.
و «الوحي» مصدر «وحى يحي» كوعد يعد، ويقال: «أوحى» رباعياً بمعناه، ولكن الأكثر في الاستعمال مصدر الثلاثي.
ومعنى الوحي في اللغة: الإعلام بخفاء، وقيل: بسرعة ومنه الوحا.
وأما في الشرع: فهو إعلام الله تعالى أنبياءه الشيء بكتاب أو برسالة أو ملك أو منام أو إلهام أو نحو ذلك (1) .
واستعمل الوحي في كتاب الله بمعنى الأمر نحو: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الحَوَارِيِّينَ أَنْ
--------------------------------------------
এবং তাঁর কথা «পরিচ্ছেদ» প্রসঙ্গে কিরমানি বলেন: এটি এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে তিনটি সুরত বা রূপ জায়েজ:
প্রথম: রফ (পেশ) ও তানভিনসহ «বাবুন্» (পরিচ্ছেদ)।
দ্বিতীয়: ইদাফাত হওয়ার কারণে তানভিন ছাড়া রফ (পেশ) যোগে «বাবু» (পরিচ্ছেদ)। উভয় অবস্থাতেই এটি একটি উহ্য মুবতাদা-র খবর বা বিধেয়, অর্থাৎ: ‘এটি একটি পরিচ্ছেদ’।
তৃতীয়: পরিচ্ছেদসমূহের ক্রম গণনার নিয়মে সুকুন যোগে «বাব্»; এমতাবস্থায় এর কোনো ইরাব বা ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। বিরমাওয়ি বলেন: এর দুর্বলতা বা দূরবর্তিতা অপ্রকাশ্য নয়।
আর হামযাহ-সহ «অহির সূচনা» হলো ‘সূচনা করা’ অর্থবোধক ‘বাদউন’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আর হামযাহ ছাড়া দাল-এর পেশ ও ওয়াও-এর তাশদিদ যোগে ‘প্রকাশ পাওয়া’ অর্থেও এর ব্যবহার রয়েছে।
আর «অহি» শব্দটি ‘ওয়াআ-য়াহি’ এর ক্রিয়ামূল, যা ‘ওয়াদা-ইয়াঈদু’ এর ওজনে। এর সমার্থক হিসেবে চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া ‘আওহা’ থেকেও এটি ব্যবহৃত হয়, তবে তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূলের ব্যবহারই অধিক।
আভিধানিক অর্থে অহির মানে হলো: গোপনে কোনো সংবাদ প্রদান করা। কেউ কেউ বলেছেন: দ্রুত সংবাদ দেওয়া; আর এ থেকেই ‘আল-ওয়াহা’ (দ্রুততা) শব্দটি এসেছে।
আর শরিয়তের পরিভাষায়: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর নবীগণকে কোনো কিতাব, রিসালাত, ফেরেশতা, স্বপ্ন, ইলহাম বা এই জাতীয় কোনো মাধ্যমের সাহায্যে কোনো বিষয় অবগত করা (১)।
আল্লাহর কিতাবে অহি শব্দটি ‘আদেশ’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন: {আর যখন আমি হাওয়ারিদের প্রতি নির্দেশ দিলাম যে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧١)
آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ} [المائدة: 111] .
وبمعني التسخير نحو: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ} [النحل: 68] وهو اتخاذها من الجبل بيوتاً، ومن عبر عن ذلك بالإلهام أراد هدايتها لذلك، وإلا فالإلهام حقيقة إنما يكون للعاقل.
وبمعني الإشارة نحو: {فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَة وَعَشِياًّ} [مريم: 11] وقد يطلق الوحي بمعنى الموحى به كالقرآن والسنة، من إطلاق المصدر على المفعول قال تعالى {إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 4] ، وسنذكر أقسام الوحي في المجالس الآتية.
وإنما صدر البخاري رضي الله عنه كتابه بالوحي لأنه مادة الشريعة وقصده أن جميع أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وحي (1)
لقوله الله سبحانه إخباراً عن نبيه صلى الله عليه وسلم {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3، 4] .
وقوله «إلى رسول الله» المراد: نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وإنما قال: إلى رسول الله ولم يقل إلى الرسول لكراهة ذلك، فقد قال السخاوي (2)
في القول البديع: أسند البيهقي (3) من طريق الشافعي قال: يكره للرجل ان يقول قال الرسول، ولكن قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تعظيماً له والله الموفق.
وصرح شيخنا السيوطي (4) في خصائصه بذلك أيضاً قال: وكره الشافعي أن يقول في حقه: الرسول بل رسول الله، لأنه ليس فيه من التعظيم ما في الإضافة.
فائدة: اختلف العلماء في الرسول والنبي هل هما بمعنى واحد؟
فقيل: هما بمعنى واحد فكل رسول نبي وكل نبي رسول.
والجمهور على أن الرسول أخص من النبي فكل نبي رسول ولا عكس، إذ النبي إنسان أوحى الله إليه بشرع ولم يؤمر تبليغه، فإن أمر تبليغه فرسول أيضاً.
وإنما قال: «إلي رسول الله» ولم يقل: إلى نبي الله، لأن الرسول المتصف بالرسالة، والنبي بالنبوة، والرسالة أفضل من النبوة، لأن الرسالة تثمر هداية الأمة، والنبوة قاصرة على النبي كالعلم والعبادة.
وذهب ابن عبد السلام (5) إلى أن النبوة أفضل من الرسالة، واحتج بأن النبوة: الوحي بمعرفة الله وصفاته، فهي متعلقة بالله من طرفها، والرسالة الأمر بالتبليغ فهي
--------------------------------------------
আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। তারা বলল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)। [আল-মায়িদাহ: ১১১]।
এবং অনুগত করার অর্থে, যেমন: {আর আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে নির্দেশ দিলেন (ওহী করলেন)} [আন-নাহল: ৬৮]; আর তা হলো পাহাড় থেকে ঘর তৈরি করা। আর যারা এর ব্যাখ্যা 'ইলহাম' (প্রেরণা) দিয়ে করেছেন, তারা এর দ্বারা মৌমাছিকে সেই কাজের দিকে পরিচালিত করা বুঝিয়েছেন; নতুবা প্রকৃতপক্ষে ইলহাম কেবল বুদ্ধিমান সত্তার জন্যই হয়ে থাকে।
এবং ইশারা বা ইঙ্গিতের অর্থে, যেমন: {অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন (ওহী করলেন) যেন তারা সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে} [মারইয়াম: ১১]। কখনো ওহী শব্দটি 'যা অবতীর্ণ করা হয়েছে' সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন কুরআন ও সুন্নাহ; এটি মূল শব্দের (মাসদার) ব্যবহার 'মাফউল' (কর্ম) অর্থে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৪]। আমরা আগামী মজলিসগুলোতে ওহীর প্রকারভেদ বর্ণনা করব।
ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবটি ওহী দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটি শরীয়তের মূল উপাদান। তাঁর উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত হাদীসই ওহী। (১)
যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৩, ৪]।
আর তাঁর উক্তি «আল্লাহর রাসূলের প্রতি»; এখানে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে। তিনি «রাসূলের প্রতি» না বলে «আল্লাহর রাসূলের প্রতি» বলেছেন কারণ কেবল 'রাসূল' বলা অপছন্দনীয়। সাখাবী (২)
তাঁর 'আল-কাওলুল বাদী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ইমাম বায়হাকী (৩) ইমাম শাফেয়ীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তির জন্য 'রাসূল বলেছেন' বলা অপছন্দনীয়; বরং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন' বলা উচিত। আল্লাহই তাওফীকদাতা।
আমাদের শাইখ সুয়ূতী (৪) তাঁর 'খাসায়েস' গ্রন্থেও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ী তাঁর ক্ষেত্রে কেবল 'রাসূল' বলা অপছন্দ করতেন, বরং 'আল্লাহর রাসূল' বলা পছন্দ করতেন। কারণ শুধু রাসূল শব্দে সেই সম্মান নেই যা আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলার মধ্যে রয়েছে।
জ্ঞাতব্য: আলেমগণ 'রাসূল' ও 'নবী' একই অর্থে কি না, সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
কেউ কেউ বলেছেন: তারা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, সুতরাং প্রত্যেক রাসূলই নবী এবং প্রত্যেক নবীই রাসূল।
জমহুর বা সংখ্যাধিক আলেমের মতে, রাসূল শব্দটি নবীর চেয়ে অধিক বিশেষ। অর্থাৎ প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। কারণ নবী হলেন সেই মানুষ যার কাছে আল্লাহ শরীয়ত অবতীর্ণ করেছেন কিন্তু তা প্রচার করার নির্দেশ দেননি। আর যদি প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি রাসূলও বটে।
তিনি «আল্লাহর রাসূলের প্রতি» বলেছেন কিন্তু «আল্লাহর নবীর প্রতি» বলেননি, কারণ রাসূল রিসালাত গুণের অধিকারী এবং নবী নবুওয়াত গুণের অধিকারী। আর রিসালাত নবুওয়াতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ রিসালাতের ফল হলো উম্মতের হেদায়েত, আর নবুওয়াত কেবল নবীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে যেমন জ্ঞান ও ইবাদত।
ইবনে আব্দুস সালাম (৫) এই মত পোষণ করেছেন যে, নবুওয়াত রিসালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, নবুওয়াত হলো আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর গুণাবলী সংক্রান্ত ওহী, তাই এর এক প্রান্ত আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। আর রিসালাত হলো প্রচারের নির্দেশ, তাই তা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল বুখারী লিস-সাফীরি = আল-মাজালিসুল ওয়াআজিয়্যাহ ফী শারহি আহাদীছি খাইরিল বারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
متعلقة بالله من أحد طرفيها، والرسالة الأمر بالتبليغ، فهي متعلقة بالله من أحد طرفيها وبالعباد من الطرف الآخر، والمتعلق بالله من الطرفين أفضل من المتعلق به من أحدهما.
ورد عليه بأن الرسالة أخص من النبوة، كما أن الرسول أخص من النبي فهي مشتملة على النبوة وزيادة.
فائدة أخرى: مبنية على الفرق بين الرسول والنبي أفادها علماء الحديث وهي: ما إذا وقع في الرواية قال رسول الله، أو عن رسول الله هل يجوز تغييره إلى قال النبي، أو عن النبي، وكذا لو ورد قال النبي، أو عن النبي هل يجوز يجوز تغييره إلى قال رسول الله، أو عن رسول؟
اختلف علماء الحديث في ذلك فقال ابن الصلاح (1) : والظاهر أنه لا يجوز وإن جازت الرواية بالمعنى، لاختلاف معنى النبي والرسول.
وقال النووي (2)
: الصواب الجواز لأنه لا يختلف به هنا معنى، وبه قال أحمد بن حنبل، وقد نبه العراقي (3) في ألفيته على ما ذكرنا فقال (4)
:
--------------------------------------------
একদিক থেকে এটি আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট, আর রিসালাত হলো প্রচারের আদেশ, যা একদিক থেকে আল্লাহর সাথে এবং অন্যদিক থেকে বান্দাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর যা উভয় দিক থেকে আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট তা একদিক থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ে উত্তম।
এর বিপরীতে বলা হয়েছে যে, রিসালাত নবুওয়াতের চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট, যেমন রসূল নবীর চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট; ফলে রিসালাত নবুওয়াত এবং তার অতিরিক্ত বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে।
অন্য একটি ফায়দা: যা রসূল ও নবীর মধ্যকার পার্থক্যের উপর ভিত্তি করে হাদীস বিশারদগণ প্রদান করেছেন, আর তা হলো: যদি বর্ণনায় 'আল্লাহর রসূল বলেছেন' অথবা 'আল্লাহর রসূল থেকে বর্ণিত' থাকে, তবে কি তা পরিবর্তন করে 'নবী বলেছেন' বা 'নবী থেকে বর্ণিত' বলা জায়েজ হবে? অনুরূপভাবে যদি 'নবী বলেছেন' বা 'নবী থেকে বর্ণিত' থাকে, তবে কি তা পরিবর্তন করে 'আল্লাহর রসূল বলেছেন' বা 'রসূল থেকে বর্ণিত' বলা জায়েজ হবে?
হাদীস বিশারদগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইবনুস সালাহ (১) বলেন: স্পষ্টত এটি জায়েজ নয়, যদিও মর্মগত বর্ণনা জায়েজ; কারণ নবী ও রসূলের অর্থের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
আর আন-নাবাবী (২) বলেন:
সঠিক মত হলো এটি জায়েজ, কারণ এখানে এর দ্বারা অর্থ পরিবর্তিত হয় না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলও একথাই বলেছেন। আল-ইরাকী (৩) তাঁর 'আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে আমাদের উল্লিখিত বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন (৪):
--------------------------------------------