(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الرسالة المحمدية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الرسالة المحمدية
المؤلف: سليمان الندوي الحسيني (ت 1373 هـ)
ترجمها إلى العربية: محمد ناظم الندوي
اعتنى بها وعلق عليها: سيد عبد الماجد الغوري
الناشر: دار ابن كثير، (دمشق - بيروت)
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 224
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়া বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়া
লেখক: সুলাইমান নদভী আল-হুসাইনী (মৃত্যু ১৩৭৩ হিজরি)
আরবিতে অনুবাদ করেছেন: মুহাম্মদ নাজিম নদভী
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন: সাইয়্যেদ আব্দুল মাজিদ আল-গাওরি
প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর، (দামেস্ক - বৈরুত)
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
[গ্রন্থের নম্বর প্রদান মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الكتابالحمد لله ربّ العالمين، والصّلاة والسّلام على سيّد المرسلين وخاتم النّبيّين، محمد وآله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد؛ فإن المكتبة الإسلامية حافلة بالكتب في موضوع السّيرة النّبوية على صاحبها الصلاة والسلام- وإذا استعرضنا اللغات الأكثر تأليفا في هذا الموضوع غير العربية نجد اللغة الأردوية أكثرها تأليفا وأغناها في هذا الموضوع، وهي تحتوي على أقوى وأروع ما كتب في السيرة النبوية في العصر الأخير.
ومن جملة تلك الكتب فيها بالأردوية «سيرة النّبي صلى الله عليه وسلم» للعلامة الباحث المؤرخ الشيخ شبلي النّعماني «1» الّذي بدأ بتأليفه وأكمل جزءين منها إذ عاجلته منيته، فعني بتأليف الأجزاء التالية تلميذه النابغ العبقري العلامة سيد سليمان النّدوي حتى أكمله في سبعة مجلدات ضخمة التي تعتبر اليوم
--------------------------------------------
গ্রন্থের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহসানের সাথে যারা তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর; নিশ্চয়ই ইসলামি পাঠাগার সীরাতুন্নবী (যাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বিষয়ে রচিত কিতাবে পরিপূর্ণ। যদি আমরা আরবি ব্যতীত সেই সকল ভাষা পর্যালোচনা করি যেগুলোতে এই বিষয়ে সর্বাধিক রচনা করা হয়েছে, তবে আমরা উর্দুকে এই বিষয়ে সর্বাধিক রচনা সমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধিশালী ভাষা হিসেবে পাই। আধুনিক যুগে সীরাতুন্নবীর ওপর যা কিছু লেখা হয়েছে তার মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী ও চমৎকার কিতাবগুলো এই ভাষাতেই বিদ্যমান।
আর উর্দুর সেই সকল কিতাবের অন্যতম হলো আল্লামা, গবেষক ও ঐতিহাসিক শায়খ শিবলী নোমানী (১)-এর ‘সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’, যা তিনি রচনা শুরু করেছিলেন এবং এর দুটি খণ্ড সমাপ্ত করেছিলেন, অতঃপর তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে। এরপর তাঁর মেধাবী ও অসাধারণ প্রতিভাধর ছাত্র আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী পরবর্তী খণ্ডগুলো রচনার কাজ আঞ্জাম দেন এবং এটি সাতটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত করেন, যা আজ গণ্য হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
موسوعة في السيرة النبوية بالأردوية، ليس لها نظير في أيّ لغة من لغات العالم الإسلاميّ من أقصاه إلى أقصاه.
وقد فاق العلامة سيّد سليمان في تأليفها أستاذه العلامة النّعماني في الاطلاع على أسرار الشريعة، واستكناه وجوه التعويل، ومعرفة السنة النبوية، واستعراض الوقائع والحوادث استعراضا علميا دقيقا يضيق بنا نطاق المقام هنا عن سرد تفاصيل مواضيعها. يقول راوية العصر، وأمين التراث الإسلامي العلامة الكبير الشيخ محمد زاهد الكوثري مشيدا بهذا الكتاب ومقترحا بترجمته إلى العربية على علماء الأزهر: «
… كتاب الأستاذ شبلي النّعماني الهندي وتلميذه وزميله الأستاذ سليمان الندوي في تمحيص السيرة النبوية عن الروايات الزائفة- باللغة الهندية في عدّة مجلدات- قد سدّ فراغا كبيرا في فضح دخيلة المستشرقين والردّ عليهم، وقد ترجم إلى اللغة الإنكليزية ثم إلى اللغة التركية، ولو قام بعض رجال الأدب بترجمته إلى اللغة العربية مع إصلاح بعض مواضع أخطأ فيها لكان هذا عملا نافعا يردّ به كيد أمثال البرنس كيتانو الإيطالي «1» ، وغولد زيهير الهنغاري
… » «2» .
وبعد هذا لا نبالغ إذا قلنا: إنّ صاحب هذا الكتاب الضخم العلّامة سيد سليمان الندوي من كبار المؤلفين في السيرة النبوية لعصره، وقد كان من مزاياه أنه بلغ في توسيع نطاق السيرة النبوية من سرد الأحداث، وبيان الشمائل، ووصف العادات إلى الرسالة المحمدية والتعليمات النّبوية والشريعة الإسلامية، وبحث شعبها المختلفة مبلغا لم يبلغه أحد قبله.
وهذا الكتاب الّذي بين يديك هو مجموعة من ثماني محاضرات للعلامة الندوي التي ألقاها بالأردوية تلبية لدعوة من هيئة التعليم الإسلامي بمدينة
--------------------------------------------
উর্দু ভাষায় রচিত সীরাতে নববীর এমন এক বিশ্বকোষ, যার নজির মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কোনো ভাষাতেই নেই।
আর আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান এটি রচনায় শরীয়তের রহস্যসমূহ অবগত হওয়া, গভীর তত্ত্ব উদঘাটন, সুন্নাতে নববী সম্পর্কে জ্ঞান এবং ঘটনা ও ঘটনাবলীকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ আল্লামা নুমানীকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যার বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করার মতো প্রশস্ততা এখানে নেই। এ যুগের বর্ণনাকারী এবং ইসলামি ঐতিহ্যের আমানতদার মহান আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারী এই কিতাবের প্রশংসা করে এবং আল-আযহারের আলেমদের প্রতি এটি আরবিতে অনুবাদ করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন: «
… হিন্দুস্তানি উস্তাদ শিবলী নুমানী এবং তাঁর ছাত্র ও সহকর্মী উস্তাদ সুলাইমান নদভীর রচিত সীরাতে নববীকে ভিত্তিহীন বর্ণনা থেকে মুক্ত করার কিতাবটি—যা উর্দু ভাষায় কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত—প্রাচ্যবিদদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ফাঁস করতে এবং তাদের জবাব দিতে এক বিশাল শূন্যতা পূরণ করেছে। এটি ইংরেজি এবং এরপর তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। যদি সাহিত্যের কিছু ব্যক্তি এর কিছু ভুল সংশোধন করে একে আরবি ভাষায় অনুবাদ করতেন, তবে এটি একটি অত্যন্ত উপকারী কাজ হতো, যার মাধ্যমে ইতালীয় প্রিন্স কিতানো এবং হাঙ্গেরীয় গোল্ডজিহারদের মতো ব্যক্তিদের চক্রান্ত নস্যাৎ করা যেত «১» , «২» ।
এর পর যদি আমরা বলি যে, এই বিশাল গ্রন্থের রচয়িতা আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী তাঁর যুগের সীরাতে নববীর শ্রেষ্ঠ লেখকদের অন্যতম, তবে তাতে কোনো অতিরঞ্জন হবে না। তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তিনি সীরাতে নববীর পরিধিকে নিছক ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা, গুণাবলি উল্লেখ এবং স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা থেকে মুহাম্মাদী রিসালাত, নববী শিক্ষা ও ইসলামি শরীয়ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন এবং এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা নিয়ে এমন গবেষণা করেছেন যা তাঁর আগে কেউ করতে পারেনি।
আর আপনার হাতে থাকা এই বইটি মূলত আল্লামা নদভীর আটটি বক্তৃতার সংকলন, যা তিনি উর্দু ভাষায় প্রদান করেছিলেন... শহরের ইসলামি শিক্ষা পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مداراس (الهند) عام 1925 م، تلقي هذه المحاضرات الضوء على جوانب السيرة النبوية المختلفة، وتقدّم إلى القارئ عصارة أمهات كتب السيرة النبوية وما كتب فيها باللّغات الأجنبية، وخلاصة لمجلّدات ضخمة لكتابه «سيرة النبي صلى الله عليه وسلم» يقول فيه فقيد الدّعوة الإسلامية العلّامة السيد أبو الحسن علي الحسني الندوي:
«
… فهو من أقوى الكتب في السّيرة وأروعها في جمال التعبير، وبثّ حلاوة الإيمان، وتوثيق الصلة بذات النّبيّ صلى الله عليه وسلم، والكتاب عصارة لمكتبة كاملة في السيرة النبوية، وهو هدية ثمينة لغير المسلمين والمثقفين المسلمين، والباحثين عن الحق للتعريف بالإسلام، ولعرض سيرة النبي صلى الله عليه وسلم بإيجاز، وأسلوب مقنع مؤثّر
… » «1» .
وقد طبعت مجموعة هذه المحاضرات للمرة الأولى عام 1925 م باسم «خطبات مداراس» في كتاب مستقلّ، ونال تلقيا كبيرا، وإقبالا عظيما لدى القراء، حتى صدرت له عدّة طبعات في مدّة قصيرة، وسرعان ما صار الكتاب أهمّ مرجع في السيرة بالأردوية، قلما تخلو اليوم منه مكتبة من مكتبات ناطقي اللغة الأردوية، ثم ترجم الكتاب للإنكليزية باسم، Mohammad The Ideal Prophet وكان الإقبال عليه مثل صنوه بالأردوية.
ثم أراد العلامة المؤلف نقله إلى العربية لرغبة ملحة من الإخوة العرب، لكن كثرة المشاغل وضعف الصحة لم يسمحا له بذلك، فتولّى عملية ترجمته إلى العربية تلميذه الشاعر الأديب الأستاذ محمد ناظم النّدوي وأكمله في مدة قصيرة بأسلوب عربيّ أصيل يترقرق في غضونه وثناياه حلاوة وبهاء؛ من حيث لا يشعر القارئ بأنه مترجم من لغة إلى لغة، وتلك مقدرة فائقة يغتبط بها الأستاذ الكريم أي اغتباط، فصدرت له طبعات عديدة في مصر وسورية، ولكنها كانت في حاجة إلى التنقيح والتحقيق وبعض
--------------------------------------------
মাদ্রাজ (ভারত) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ, এই বক্তৃতাগুলো সীরাতুন্নবীর বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করে এবং পাঠকের সামনে সীরাতুন্নবীর মৌলিক গ্রন্থসমূহ ও বিদেশি ভাষায় এই বিষয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তার নির্যাস এবং তাঁর রচিত 'সীরাতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)' নামক বিশাল খণ্ডগুলোর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে। এ সম্পর্কে ইসলামি দাওয়াহর অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী বলেন:
«
… এটি সীরাত বিষয়ক অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রকাশের মাধুর্য, ঈমানের মিষ্টতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্তার সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে চমৎকার একটি গ্রন্থ। বইটি সীরাতুন্নবীর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগারের নির্যাস। এটি অমুসলিম, শিক্ষিত মুসলিম এবং সত্য অনুসন্ধানীদের জন্য ইসলামকে জানার এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু যৌক্তিক ও প্রভাববিস্তারী পদ্ধতিতে উপস্থাপনের জন্য একটি মূল্যবান উপহার
… » «১» ।
এই বক্তৃতা সংকলনটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো 'খুতবাতে মাদ্রাজ' নামে একটি স্বতন্ত্র বই হিসেবে মুদ্রিত হয় এবং পাঠকদের কাছে বিপুল সমাদর ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এর বেশ কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং শীঘ্রই বইটি উর্দু ভাষায় সীরাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হতে থাকে। বর্তমানে উর্দুভাষীদের এমন কোনো লাইব্রেরি খুব কমই আছে যেখানে এই বইটি নেই। পরবর্তীতে বইটি 'মোহাম্মদ দ্য আইডিয়াল প্রফেট' (Mohammad The Ideal Prophet) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয় এবং এটিও উর্দুর মতোই জনপ্রিয়তা লাভ করে।
এরপর লেখক আল্লামা আরব ভাইদের প্রবল আগ্রহের কারণে এটি আরবিতে অনুবাদ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রচণ্ড ব্যস্ততা এবং অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই তাঁর ছাত্র কবি ও সাহিত্যিক উস্তাদ মুহাম্মদ নাজিম নদভী এটি আরবিতে অনুবাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে একটি মৌলিক আরবি শৈলীতে এটি সম্পন্ন করেন, যার পরতে পরতে মাধুর্য ও সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। পাঠক এটি পড়ার সময় টেরই পাবেন না যে এটি এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে; এটি উস্তাদের এক অনন্য দক্ষতা যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ফলে মিশর ও সিরিয়া থেকে এর অনেকগুলো সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, তবে সেগুলো পরিমার্জন, যাচাই-বাছাই এবং কিছু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
التعليقات والتراجم التي لا بدّ منها، فأشار عليّ أحد أساتذتي الندويين أن أقوم بهذا العمل، وكانت لهذا الكتاب منّة عظيمة عليّ كونه من باكورة الكتب التي قرأتها في السّيرة في الصغر.
فقمت بهذا العمل ما وسعني فيه من الجهد متهيبا خاشعا أمام جلال الموضوع، ومنزلة العلامة المؤلف، وعلو كعبه، وضلوعه في السيرة النبوية مؤمنا بضالة قدر نفسي، وقلة بضاعتي في علم السيرة النبوية حيث لا أزال طالبا صغيرا في مدرسته الوسيعة، أسأل الله أن ينفع بهذا الكتاب، وأن يتقبّله تقبلا حسنا، وأن يجعل عملي فيه خالصا لوجهه، إنّه سميع مجيب.
دمشق 14 ذي القعدة 1421 هـ
7 شباط 2001 م
كتبه
المعتز بالله تعالى
عبد الماجد الغوري
প্রয়োজনীয় টীকা ও জীবনচরিত যা অপরিহার্য ছিল, তাই আমার নদভী উস্তাদদের মধ্যে একজন আমাকে এই কাজটি করার পরামর্শ দেন। শৈশবে সীরাত বিষয়ে পড়া প্রাথমিক বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম হওয়ায় এই বইটির আমার ওপর এক বিশাল অনুগ্রহ রয়েছে।
বিষয়ের গাম্ভীর্য, আল্লামা লেখকের মর্যাদা, তাঁর সুউচ্চ অবস্থান এবং সীরাতে নববীর ক্ষেত্রে তাঁর পারদর্শিতার সামনে বিনয় ও ভীতি সহকারে আমার সাধ্যমতো আমি এই কাজে সচেষ্ট হয়েছি। নিজের নগণ্যতা এবং সীরাত শাস্ত্রে আমার সামান্য জ্ঞানের কথা স্বীকার করছি, যেহেতু আমি এখনও এর বিশাল পাঠশালার এক নগণ্য ছাত্র। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন, একে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
দামেস্ক, ১৪ যিলকদ ১৪২১ হিজরি
৭ ফেব্রুয়ারি ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
লিখেছেন
আল-মুতাজ বিল্লাহ তাআলা
আব্দুল মজিদ আল-গৌরী
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة العلّامة سيّد سليمان الندويإنّ الذين نعرفهم من رجال العلم الإسلامي، والذين عرفناهم، واتصلنا بهم، ودرسنا سيرهم وتراجمهم من رجال الهند وباكستان تنحصر عظمتهم ونبوغهم في ناحية دون ناحية، أو عدّة نواح من نواحي الحياة وشعب العلم، ولكنا لا نعرف من بينهم من أخذ من كلّ شيء بقسط كالعلامة سيد سليمان الندوي.
تخرج العلامة سيد سليمان الندوي في دار العلوم التابعة لندوة العلماء على أساتذتها ومنهم العلامة المحقّق شبلي النعماني.
وجعل من بعد ذلك يساعد الأستاذ النعماني في تحرير مجلة «الندوة» التي كان يرأس تحريرها، والتي كانت أمّ المجلات الأردية العلمية يومئذ.
ثم عيّن مدرسا للغة العربية في دار العلوم التي تخرج فيها، فظهر من كفاءته، وملكته الأدبية، وتفننه في طرق التدريس ما أنطق الألسنة بالثناء عليه. فظلّ كذلك زهاء ست سنين (1906- 1912) كتب خلالها مقالات في مجلة «الندوة» .
ثم التحق بصحيفة «الهلال» الأسبوعية الزاهرة لأبي الكلام «1» - التي لم
--------------------------------------------
আল্লামা সৈয়দ সুলায়মান নদভীর জীবনীইসলামী জ্ঞান জগতের যেসব মনীষীদের আমরা চিনি, যাদের সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে বা যোগাযোগ ছিল, এবং ভারত ও পাকিস্তানের যেসব ব্যক্তিদের জীবনী ও জীবনবৃত্তান্ত আমরা অধ্যয়ন করেছি, তাদের মহানুভবতা ও প্রতিভা জীবনের কোনো নির্দিষ্ট দিক বা জ্ঞানের কয়েকটি শাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আমরা তাদের মধ্যে এমন কাউকে চিনি না যিনি আল্লামা সৈয়দ সুলায়মান নদভীর ন্যায় প্রতিটি বিষয় থেকে যথাযথ অংশ লাভ করেছেন।
আল্লামা সৈয়দ সুলায়মান নদভী নদওয়াতুল উলামার অধীনে পরিচালিত দারুল উলূম থেকে সেখানকার শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা সমাপন করেন, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গবেষক আল্লামা শিবলী নোমানী।
এরপর তিনি উস্তাদ নোমানীকে 'আন-নদওয়া' পত্রিকা সম্পাদনায় সহযোগিতা করতে শুরু করেন, যার প্রধান সম্পাদক ছিলেন স্বয়ং নোমানী। উক্ত পত্রিকাটি তৎকালীন উর্দু ইলমী সাময়িকীগুলোর জননী হিসেবে বিবেচিত হতো।
পরবর্তীতে তিনি যে দারুল উলূম থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন, সেখানেই আরবি ভাষার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে তার দক্ষতা, সাহিত্যিক প্রতিভা এবং পাঠদানের অভিনব পদ্ধতি এমনভাবে প্রকাশ পায় যা সকলের মুখে তার প্রশংসা ছড়িয়ে দেয়। তিনি প্রায় ছয় বছর (১৯০৬-১৯১২) এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং এই সময়ে তিনি 'আন-নদওয়া' পত্রিকায় বহু প্রবন্ধ রচনা করেন।
এরপর তিনি আবুল কালাম আজাদের (১) প্রদীপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘আল-হিলাল’-এ যোগদান করেন—যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
تصدر صحيفة أسبوعية مثلها باللغة الأردية إلى الآن- فعارض صاحبها المبدع في أسلوبه، وجعل ينشىء مقالات افتتاحية، لم يعرف الناس أبا عذرها وابن بجدتها، فتارة نسبوها إلى أبي الكلام، صاحب الصحيفة ورئيس تحريرها وأخرى عزوها إلى سيد سليمان.
وبعد الانقطاع عن دار الهلال أسّس جمعية دار المصنفين الشهيرة التي كان وصّى بها أستاذه شبلي النعماني وعاجلته المنية دون إبراز أمنيته- أمنية تأسيس مجمع علمي- إلى عالم الوجود. تأسس هذا المجمع العلمي- دار المصنفين- سنة 1915 م، 1323 هـ في مدينة أعظم كره «1» مولد الشبلي النعماني، ومنبت أرومته، فعكف السيد سليمان يتعهّد الدار، ويعنى بتدريب الشبان، وتثقيف أحداث الكتّاب، وينشر نتاج قرائحهم بعد تهذيبه إلى أن تكونت جماعة صالحة من أفاضل الكتاب والمؤلفين الذين وقفوا حياتهم لخدمة الدين والعلوم الإسلامية، وأصدر من دار المصنفين مجلة «معارف» الشهرية بالأردوية التي تعتبر أرقى مجلة علمية في الهند.
ومن أبرز أعماله العلمية وأرفعها ذكرا إكماله لكتاب (سيرة النبي صلى الله عليه وسلم الذي كان بدأ بتأليفه أستاذه المحقق العلامة شبلي النعماني، وهذا الكتاب هو دائرة معارف في السيرة النبوية، نشرت منه سبعة مجلدات ضخمة لا يقلّ أحدها عن سبعمئة صفحة من القطع الكبير، وهذه المعلمة من عيون ما ألّفه علماء الإسلام منذ قرون، ومن غرر ما أهداه علماء الهند إلى المكتبة الإسلامية العامّة.
وله مصنفات علمية نافعة غير هذا الكتاب الضخم، سارت سير الشمس
--------------------------------------------
একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো—যা বর্তমানেও উর্দূ ভাষায় প্রকাশিত হয়। এর শৈল্পিক গদ্যশৈলীর অধিকারী মালিকের সাথে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হলেন এবং সম্পাদকীয় প্রবন্ধসমূহ রচনা করতে শুরু করলেন। লোকেরা এই প্রবন্ধগুলোর প্রকৃত উৎস বা লেখক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিল না; কখনো তারা এগুলোকে পত্রিকার স্বত্বাধিকারী ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালামের প্রতি নিসবত করত, আবার কখনো সাইয়্যেদ সুলাইমানের দিকে সোপর্দ করত।
দারুল হিলাল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি বিখ্যাত 'দারুল মুসান্নিফীন' একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন, যার জন্য তাঁর শিক্ষক শিবলী নোমানী অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যু তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষা—অর্থাৎ একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন—বাস্তবায়নের পূর্বেই তাঁকে গ্রাস করেছিল। এই গবেষণা কেন্দ্র—দারুল মুসান্নিফীন—১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৩২৩ হিজরিতে শিবলী নোমানীর জন্মস্থান ও আদি নিবাস আজমগড় শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর সাইয়্যেদ সুলাইমান এই প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনায় নিজেকে নিবেদিত করেন; তিনি যুবকদের প্রশিক্ষণ এবং তরুণ লেখকদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মনোনিবেশ করেন। তিনি তাঁদের প্রতিভার ফসলগুলো পরিমার্জনের পর প্রকাশ করতে থাকেন, যতক্ষণ না একদল যোগ্য আলেম ও গবেষক তৈরি হলেন, যারা দ্বীন ও ইসলামি জ্ঞানের খিদমতে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি দারুল মুসান্নিফীন থেকে উর্দূ ভাষায় মাসিক 'মাআরিফ' পত্রিকা প্রকাশ করেন, যা ভারতের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানগর্ভ সাময়িকী হিসেবে স্বীকৃত।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ইলমি কাজগুলোর মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলো 'সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' গ্রন্থটির সমাপ্তিকরণ, যা তাঁর শিক্ষক মুহাক্কিক আল্লামা শিবলী নোমানী শুরু করেছিলেন। এই গ্রন্থটি সীরাত সাহিত্যের একটি বিশ্বকোষ; এর বিশালকার সাতটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে, যার প্রতিটি অন্তত সাতশত পৃষ্ঠার বড় সাইজের। এই সংকলনটি কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিম মনীষীদের রচিত শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর অন্যতম এবং ভারতের ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক বিশ্ব ইসলামি গ্রন্থাগারের প্রতি এক অনন্য উপঢৌকন।
এই বিশাল গ্রন্থটি ছাড়াও তাঁর আরও অনেক উপকারী ইলমি রচনা রয়েছে, যা সূর্যের আলোর ন্যায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
- كمحاضراته في السيرة النبوية المعروفة ب (خطبات مداراس «1» ) و (سيرة عائشة) و (أرض القرآن) و (العرب والهند) و (خيّام) وغيرها من آثار قلمه التي تفاخر بها اللغة الأردية. وقد بلغ في المواضيع المختلفة من التحقيق والإجادة ما لم يبلغه أحد من معاصريه في هذه البلاد، وأضرب مثلا لذلك مصنفه الشهير في جغرافية القرآن التاريخية المسمّى (أرض القرآن) فقد تناول فيه بالبحث والتحقيق جميع البلاد والأمم المذكورة في الكتاب العزيز، وأحاط بتاريخهم، وجغرافية أماكنهم التي كانوا يقطنونها. صنفه منذ أربعين سنة، والموضوع بكر لم تطمثه أقلام الباحثين، وقد نقل هذا الكتاب النافع- مثل بعض مؤلفاته الآخرى- إلى اللغة الإنكليزية، وكذلك كتابه عن الشاعر الشهير الخيام، يعدّ من أحسن ما ألف في هذا الباب على كثرة ما ألف في الموضوع ببلاد الغرب، وقد شهد بذلك بعض كبار رجال الهند المطلعين على مصنفات الغرب في هذا الموضوع.
وبالنظر إلى هذه المؤلفات القيامة يمكن أن يصدر الحكم بأنّ شخصا واحدا في بعض الظروف ينجز من الأعمال العلمية الهائلة ما لا تستطيع الأكاديميات الكبيرة إنجازه، وقد كتب شاعر الإسلام العلامة محمد إقبال، الذي كان بدوره عالما كبيرا بالفلسفة والعلوم الشرقية، في رسالة له: (إنّ سيد سليمان الندوي يفجّر من الصخرة ينبوعا من العلم، ويمتلك ناصية العلوم الإسلامية) .
كان من مزايا شخصية العلّامة سيد سليمان الندوي: الجامعية، والشمول في المعرفة والبحث، فقد كان خبيرا بالعلوم القديمة والعصرية، وكان مؤرخا، وأديبا، وناقدا، ومحققا، وبجانب ذلك كان فقيها ومحدثا في آن واحد، وبالإضافة إلى هذا الاشتغال والشغف بالبحث العلمي كان من كبار القادة لحركة تحرير البلاد والانتفاضة السياسية للمسلمين، فكان يرأس اجتماعات وحفلات أدبية ولغوية، ويرأس مجالس فقهية، ودينية تضمّ العلماء، وكان أحد أعضاء وفد حركة الخلافة الذي توجه إلى إنكلترا
--------------------------------------------
যেমন সীরাতুন্নবী বিষয়ক তাঁর ভাষণসমূহ যা 'খুতবাতে মাদরাস (১)' নামে পরিচিত, এবং 'সীরাতে আয়েশা', 'আরদুল কুরআন', 'আরব ও হিন্দুস্তান', 'খৈয়াম' এবং তাঁর কলমের অন্যান্য নিদর্শনাবলি যা নিয়ে উর্দু ভাষা গর্ব করে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও পারদর্শিতার এমন স্তরে পৌঁছেছিলেন যেখানে এই ভূখণ্ডে তাঁর সমসাময়িক আর কেউ পৌঁছাতে পারেননি। এর উদাহরণ হিসেবে আমি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আরদুল কুরআন'-এর কথা উল্লেখ করতে পারি যা কুরআনের ঐতিহাসিক ভূগোলের ওপর রচিত। এতে তিনি পবিত্র গ্রন্থে বর্ণিত সকল দেশ ও জাতিগোষ্ঠী নিয়ে গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়েছেন এবং তাদের ইতিহাস ও তাদের আবাসস্থলের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি এটি চল্লিশ বছর আগে রচনা করেছিলেন, এবং বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ নতুন যা নিয়ে আগে কোনো গবেষকের কলম চলেনি। এই উপকারী বইটি - তাঁর অন্যান্য কিছু রচনার মতো - ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। একইভাবে বিখ্যাত কবি খৈয়াম সম্পর্কে তাঁর বইটি এই বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও পশ্চিমা বিশ্বে এই বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে। এ বিষয়ে পশ্চিমের রচনাবলি সম্পর্কে অবগত ভারতের কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এর সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এই মূল্যবান রচনাবলির দিকে তাকালে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তিই এমন বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ সম্পন্ন করতে পারেন যা বড় বড় একাডেমিগুলোও করতে সক্ষম হয় না। ইসলামের কবি আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, যিনি নিজেও দর্শন ও প্রাচ্যবিদ্যায় একজন বড় পণ্ডিত ছিলেন, তাঁর এক পত্রে লিখেছিলেন: "নিশ্চয়ই সৈয়দ সুলাইমান নদভী পাথর থেকে জ্ঞানের ঝরনাধারা প্রবাহিত করেন এবং তিনি ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন।"
আল্লামা সৈয়দ সুলাইমান নদভীর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর সর্বজনীনতা ও ব্যাপকতা। তিনি প্রাচীন ও আধুনিক উভয় বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, সমালোচক ও গবেষক; সেইসাথে তিনি একই সাথে ফকিহ ও মুহাদ্দিসও ছিলেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই নিমগ্নতা ও আবেগের পাশাপাশি তিনি দেশ স্বাধীন করার আন্দোলন এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। তিনি সাহিত্য ও ভাষাতাত্ত্বিক সম্মেলন ও সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করতেন, এবং আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত ফিকহ ও ধর্মীয় মজলিসসমূহের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি খিলাফত আন্দোলনের সেই প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন যারা ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
برئاسة زعيم الأحرار مولانا محمد علي في عام (1920 م) ، لشرح مشاعر المسلمين إزاء قضية الخلافة على المسؤولين البريطانيين، والمثقفين، وقادة الفكر في بريطانيا، وترأس أيضا وفد الخلافة الذي اشترك في المؤتمر الإسلامي الأول؛ الذي دعا إليه الملك عبد العزيز بن سعود في عام (1926 م) ، وكان أحد الأعضاء الثلاثة للوفد الذي توجه إلى أفغانستان بناء على دعوة نادر خان ملك أفغانستان لإعداد خطّة جديدة للتعليم في أفغانستان، وكان العضوان الآخران في الوفد الدكتور محمد إقبال، والسر رأس مسعود نائب رئيس الجامعة الإسلامية بعليجرة.
وقد انتقل في آخر حياته- قبل انتقاله نهائيا إلى باكستان- إلى إمارة بهوبال، وشغل مناصب رئيس القضاة، وأمير الجامعة الأحمدية، والمستشار للشؤون الدينية، ومكث هناك أربع سنوات، ثم اشترك في إعداد الدستور لجمهورية باكستان الإسلامية، وقام بإرشاد هذا البلد الفتي دينيا.
وبقي مشغولا بالذكر والعبادة، والتربية والإفادة، إلى أن وافاه الأجل في غرة ربيع الآخر سنة ثلاث وسبعين وثلاثمئة وألف هجرية (1952 م) في كراتشي، وحضر جنازته كبار العلماء وأعيان البلاد، وسفراء الحكومات الإسلامية والعربية، ودفن بجوار الشيخ شبير أحمد العثماني «1» .
--------------------------------------------
১৯২০ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী এবং ব্রিটেনের চিন্তাশীল নেতাদের নিকট খিলাফত ইস্যু সম্পর্কে মুসলমানদের আবেগ তুলে ধরার জন্য (গঠিত প্রতিনিধিদলে তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)। তিনি ১৯২৬ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সাউদ কর্তৃক আহুত প্রথম ইসলামী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী খিলাফত প্রতিনিধিদলেরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের বাদশাহ নাদির খানের আমন্ত্রণে সেদেশের জন্য নতুন শিক্ষাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য ছিলেন। ওই প্রতিনিধিদলের অপর দুই সদস্য ছিলেন ডক্টর মুহাম্মদ ইকবাল এবং আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার রাস মাসুদ।
তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে—স্থায়ীভাবে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার আগে—ভোপাল রাজ্যে চলে যান। সেখানে তিনি প্রধান বিচারপতি, জামিয়া আহমদিয়ার আমীর এবং ধর্মীয় বিষয়ক উপদেষ্টার পদে আসীন ছিলেন এবং সেখানে চার বছর অবস্থান করেন। এরপর তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেন এবং এই নবগঠিত রাষ্ট্রকে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি জিকির-ইবাদত এবং শিক্ষা ও জ্ঞানদানে মশগুল ছিলেন, অবশেষে ১৩৭৩ হিজরি সালের ১লা রবিউস সানি (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ) করাচিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজায় বড় বড় আলেম, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ইসলামি ও আরব রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে শেখ শাব্বির আহমদ উসমানীর পাশে দাফন করা হয় «১»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفهذه ثماني خطب في ثماني نواح من السيرة النبوية، على صاحبها الصّلاة والتحية، ألقيتها، سنة 1344 هـ باللغة الأوردية- لغة عامة الهند- على جماعات من شباب المسلمين وطلبة الكليات في مدينة مداراس بالهند، فاستمع لها الحاضرون باذان صاغية، وتلقاها المستمعون بقلوب واعية، وقرّظتها الصّحف والمجلّات بكلمات مشجعة، وامتدحها أهل الفضل بالثناء والإطراء، جزاهم الله خيرا. وكان ذلك مما شجعني على طبعها، ونشرها، فطبعت ونشرت مرّات، وأدخلت في مناهج التعليم في بعض الولايات. ثم نقلها بعض المترجمين إلى الإنكليزية فعمّ نفعها. وقد أحببت أن أنقلها إلى العربية لتردّ البضاعة إلى أهلها، فلم يتيسّر لي ذلك لكثرة المشاغل، فرغبت إلى بعض أصحابي أن يكفوني مؤونة النقل، فاستجاب لذلك الأخ الصالح الأديب الفاضل محمد ناظم النّدوي أستاذ اللغة العربية بدار العلوم لندوة العلماء سابقا، وشيخ الجامعة العباسية في بهاولبور الآن، فأتمّ ذلك في عدة أشهر من سنة 1366 هـ وحالت دون طبعها حوادث سياسية حدثت بالهند.
فلما سكنت الزعازع، وأتيح لي الاتصال ببعض الإخوان من العرب المسلمين، سألوني أن أقدم إليهم بعض مؤلفاتي لتنشر على أبناء العربية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকাএগুলো হলো সিরাতে নববীর আটটি দিক সম্পর্কিত আটটি ভাষণ—সেই মহান সত্তার ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—যা আমি ১৩৪৪ হিজরিতে ভারতের সাধারণ ভাষা উর্দুতে ভারতের মাদ্রাজ শহরে মুসলিম যুবক ও কলেজ শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশের সামনে প্রদান করেছিলাম। উপস্থিত শ্রোতারা তা গভীর মনোযোগের সাথে শ্রবণ করেছিলেন এবং মনোযোগী হৃদয়ে তা গ্রহণ করেছিলেন। সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলো উৎসাহব্যঞ্জক শব্দের মাধ্যমে এর ওপর পর্যালোচনা প্রকাশ করেছিল এবং গুণী ব্যক্তিবর্গ এর উচ্চ প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেছিলেন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর এটিই আমাকে এর মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিল। ফলে এটি কয়েকবার মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং কয়েকটি রাজ্যের শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর কিছু অনুবাদক এটিকে ইংরেজিতে ভাষান্তর করেন, ফলে এর উপকারিতা আরও ব্যাপকতা লাভ করে। আমি এটাকে আরবিতে অনুবাদ করতে চেয়েছিলাম যাতে এই সম্পদ তার মূল ধারার (আরবি ভাষী) লোকদের কাছে ফিরে আসে, কিন্তু ব্যস্ততার আধিক্যের কারণে আমার পক্ষে তা সহজ হয়ে ওঠেনি। তাই আমি আমার কিছু সঙ্গীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম যেন তারা অনুবাদের এই শ্রমসাধ্য কাজ আঞ্জাম দিয়ে আমাকে ভারমুক্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে সৎ ও বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ নাজিম নদভী—যিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সাবেক আরবি ভাষা শিক্ষক এবং বর্তমানে বাহাওয়ালপুরের জামিয়া আব্বাসিয়ার শাইখ—সাড়া প্রদান করেন। তিনি ১৩৬৬ হিজরির কয়েক মাসের মধ্যে এর অনুবাদ সম্পন্ন করেন, কিন্তু ভারতে উদ্ভূত কিছু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তখন এর মুদ্রণ সম্ভব হয়নি।
যখন সেই বিশৃঙ্খলা স্তিমিত হলো এবং কিছু আরব মুসলিম ভাইদের সাথে আমার যোগাযোগের সুযোগ হলো, তখন তারা আমার কাছে অনুরোধ করলেন যেন আমি আমার কিছু কিতাব তাদের কাছে পেশ করি যাতে সেগুলো আরবি ভাষাভাষীদের মাঝে প্রকাশ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بمصر، فلبيت دعوتهم، وأهديت إليهم هذه الخطب لتكون مقدمة لأخواتها. وأسأل الله تعالى أن ينفع بها شباب المسلمين، ويجعلها وسيلة لي يوم الدين.
كراتشي (عاصمة باكستان) «1»
20 شعبان 1371 هـ
14 مايو- أيار- 1952 م
المخلص الداعي
سليمان الندوي
--------------------------------------------
মিসরে, আমি তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছি এবং এই ভাষণগুলো তাদের নিকট উপহার হিসেবে পেশ করেছি যেন তা এর সমজাতীয় অন্যান্য বিষয়ের জন্য ভূমিকা স্বরূপ হয়। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিম যুবকদের উপকৃত করেন এবং বিচার দিবসে একে আমার জন্য একটি অসিলা বানান।
করাচি (পাকিস্তানের রাজধানী) «১»
২০ শাবান ১৩৭১ হিজরি
১৪ মে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ
একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্ক্ষী
সুলাইমান নদভী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المحاضرة الأولى سيرة الأنبياء هي الأسوة الحسنة للبشر
প্রথম আলোচনা: নবীদের সীরাত হলো মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خصائص النباتات أكثر من خصائص الجماد، فواجباته أكثر، وخصائص الحيوان أكثر من خصائص النباتات، فواجباته أكثر، ومدارك الإنسان أرقى، فواجباته أعظم.
هذا العالم- وإذا سميناه «المتحف الأعظم» لم نعد الحقّ، ولم نرتكب الشطط «1» - يحتوي على أنواع من المخلوقات: ففيه ما شئت من جماد بديع الألوان، غريب الهيئات، وما يقع عليه نظرك من نبات بين أخضر ناضر، وأصفر فاقع، وأحمر قان إلى غير ذلك من شتى الألوان، وفيه ما يخطر أو لا يخطر على بالك من حيوان لو حاول أحدنا أن يحصي أنواعه لأعياه ذلك.
ومن أنواعه نوع عجيب يفوق سائر الأنواع في هيئته، ويفضل عليها بعلمه ونشاطه، وهو الإنسان.
هذا إذا نظرنا إلى العالم بعين من لا يتبصّر بحكمة ولا يتدبّر بعلم. أما الحكيم الذي ينعم النظر في الأشياء، والعالم الذي يحسن التأمّل في ملكوت الله، فيبدو لهما من الفوارق بين المخلوقات ما يتميّز به كلّ نوع عن غيره، ويكتشفان في كلّ شيء الخصوصية التي يمتاز بها ولا توجد في الأشياء الآخرى؛ لأن البارىء العظيم لما صوّر هذه المخلوقات اختصّ كلّا منها بخصائص، وأودع فيها من القوى ما امتاز به بعضها عن بعض. ومن هنا كانت هذه المخلوقات على غير اطّراد في الطبائع والمواهب، فتراها تتدرّج وترتقي- من أدنى إلى أعلى- على مدارج في الشعور والإدراك والإرادة. وإنّ أول الجماد وهو الهباءة- أو الذرّة كما يسمّونها اليوم- لا تجد فيها أثرا للحياة: من الشعور، والإدراك. ومن الجماد ما تلمح فيه أمارة خفيفة من أمارات الحياة. أما النبات فإن أمارات الحياة بارزة في نمائه واخضراره، بيد أنّه في درجة الصفر من حيث الشعور والإدراك. بينما نجد
--------------------------------------------
উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্জীব বস্তুর বৈশিষ্ট্যের চেয়ে অধিক, তাই এর কার্যাবলিও বেশি। প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে অধিক, তাই তার কার্যাবলিও বেশি। আর মানুষের অনুধাবন ক্ষমতা অধিকতর উন্নত, তাই তার দায়িত্বসমূহও অনেক মহান।
এই মহাবিশ্ব—যাকে যদি আমরা ‘মহাসংগ্রহশালা’ বলি তবে সত্য থেকে বিচ্যুত হব না এবং কোনো অতিরঞ্জনও করা হবে না (১)—তা বিভিন্ন প্রকার সৃষ্টিরাজিতে পরিপূর্ণ। এতে রয়েছে আপনার অভিরুচি অনুযায়ী অপূর্ব বর্ণের ও বিচিত্র আকৃতির নির্জীব বস্তুসমূহ; আপনার দৃষ্টিগোচর হওয়া সতেজ সবুজ, উজ্জ্বল হলুদ ও গাঢ় লাল বর্ণসহ বিভিন্ন রঙের উদ্ভিদরাজি। আরও রয়েছে আপনার কল্পনায় আসা বা না আসা এমন সব প্রাণী, যার প্রকারভেদ গণনা করতে চাইলে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়বে।
আর এই প্রকারসমূহের মধ্যে রয়েছে এক বিস্ময়কর প্রজাতি, যা তার অবয়বে অন্য সকল প্রজাতিকে অতিক্রম করে যায় এবং জ্ঞান ও কর্মতৎপরতায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে; আর তা হলো মানুষ।
এটি তখনই হবে যখন আমরা মহাবিশ্বকে এমন এক দৃষ্টিতে দেখব যা প্রজ্ঞা দ্বারা অবলোকন করে না এবং জ্ঞান দ্বারা চিন্তা করে না। পক্ষান্তরে সেই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যিনি বস্তুনিচয়ের গভীরে দৃষ্টিপাত করেন এবং সেই আলিম বা জ্ঞানী ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাজত্ব সম্পর্কে সুচারুরূপে চিন্তা-গবেষণা করেন, সৃষ্টিরাজির মধ্যকার এমন সব পার্থক্য তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার মাধ্যমে প্রতিটি প্রজাতি অন্যটি থেকে পৃথক হয়ে যায়। তারা প্রতিটি জিনিসের মধ্যে এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্য খুঁজে পান যা তাকে বিশিষ্টতা দান করে এবং অন্য কোনো বস্তুতে তা পাওয়া যায় না। কেননা মহান স্রষ্টা যখন এই সৃষ্টিসমূহকে রূপ দান করেছেন, তখন তাদের প্রত্যেককে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন এবং তাদের মাঝে এমন সব শক্তি গচ্ছিত রেখেছেন যার মাধ্যমে একেকটি অন্যটি থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। এ কারণেই এই সৃষ্টিসমূহ প্রকৃতি ও প্রতিভার দিক থেকে অভিন্ন নয়; বরং আপনি সেগুলোকে অনুভূতি, উপলব্ধি ও ইচ্ছাশক্তির সোপান বেয়ে নিম্নতর থেকে উচ্চতর স্তরে ক্রমউন্নত ও আরোহণ করতে দেখবেন। নির্জীব বস্তুর সূচনা তথা অণু—বা বর্তমানে যাকে পরমাণু বলা হয়—তাতে আপনি জীবনের কোনো চিহ্ন তথা অনুভূতি ও উপলব্ধির অস্তিত্ব পাবেন না। আবার কিছু নির্জীব বস্তু এমন রয়েছে যেগুলোতে জীবনের সামান্য আলামত লক্ষ্য করা যায়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বৃদ্ধি ও সজীবতার মাঝে জীবনের লক্ষণসমূহ সুস্পষ্ট, কিন্তু অনুভূতি ও উপলব্ধির দিক থেকে তা শূন্যের কোঠায়। পক্ষান্তরে আমরা দেখতে পাই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
في الحيوان- مع الإحساس والشعور- إرادة قوية تحمله على الحركة: في القعود، والنهوض، والمشي. وللإنسان إحساس تامّ، وإدراك كامل، وإرادة بالغة، وعزيمة ماضية، وإلى هذه القوى الإنسانية- من شعور تامّ، وإدراك كامل، وإرادة قويّة، وعزيمة صارمة- يرجع تكليف الإنسان، ومن جرّاء ذلك قد حمل أثقال الفرائض، وأعباء الواجبات. وكلّما كان نوع من أنواع المخلوقات أقلّ نصيبا من هذه القوى الموهوبة له من الله، كان أخفّ عبئا في المسؤوليات، وأقلّ واجبات في مناط التكليف. فالجماد ليس عليه واجب قطّ، والنبات قد نال نصيبا من صفات الحياة فأصابه حظّ من الواجبات، أما الحيوان فأكثر حظّا، وأوفر نصيبا من الجماد والنبات في القوى الحيوية، فثقلت عليه أعباؤه من واجبات الحياة وتكاليفها. ولما كان نصيب الإنسان من العقل والمدارك، ومن الذكاء والفطنة، أوفى من سائر المخلوقات وأوفر؛ فقد ازدادت تكاليفه، وواجباته بنسبة ذلك. وتتفاوت الواجبات والتكاليف بين أفراد بني الإنسان بحسب تفاوتهم في مناط هذه الواجبات والتكاليف، أعني العقل والمدارك: فالمجنون، والمعتوه، والأحمق، والصبيّ لا يطالبون بما يطالب به العاقل الفطن، والعالم المثقف، ولا يستطيع أولئك أن يقوموا بما يستطيع أن يقوم به هؤلاء، وكلّ ذلك يرجع إلى تفاوت القوى الباعثة على العلم: بين شعور ناقص، أو إحساس كامل، وخمود الطبيعة، أو توقد القريحة. بل منهم من لا يكلّف بواجب قطّ، ومنهم من يكلّف ببعض الواجبات دون بعضها الآخر، ومنهم من يضطلع بالعبء الأعظم من الواجبات والتكاليف.
ثم إذا تأمّلنا المخلوقات وأمعنا النّظر فيها يبدو لنا أنّه مهما يكن عند مخلوق من شعور ناقص، أو إحساس ضعيف، أو إدراك ضئيل؛ فإنّ القدرة الإلهية قد تتولّى تربيته، وترعى نشأته، وتختصّه بعنايتها، حتى إذا امتازت صفاته، وارتقت مميزاته؛ فوّضت إليه الفطرة من أمر نفسه ما تحتمله قواه، وتستحقّه مواهبه. أليس من مواهب الله لبعض أصناف الحجر أن تتحوّل في جبالها ومعادنها إلى ياقوت وزمرّد، وصار لها هذا البريق الذي تتلألأ به أحجارها، بينما باتت الأحجار الآخرى المجاورة
প্রাণীর মধ্যে—অনুভূতি ও সংবেদনের পাশাপাশি—এমন এক শক্তিশালী ইচ্ছা রয়েছে যা তাকে চলাফেরায় উদ্বুদ্ধ করে: যেমন বসা, দাঁড়ানো এবং হাঁটা। আর মানুষের রয়েছে পূর্ণ অনুভূতি, সজাগ উপলব্ধি, প্রবল ইচ্ছা এবং সুদৃঢ় সংকল্প; আর এই মানবীয় শক্তিসমূহের ওপরই—অর্থাৎ পূর্ণ সংবেদন, সজাগ উপলব্ধি, শক্তিশালী ইচ্ছা এবং কঠোর সংকল্পের ওপরই—মানুষের দায়বদ্ধতা বা তাকলিফ আবর্তিত হয়। এরই ফলে সে ফরজ কার্যাবলীর গুরুভার এবং কর্তব্যের বোঝা বহন করেছে। সৃষ্টিজগতের কোনো প্রজাতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই শক্তিসমূহ থেকে যত কম অংশ পেয়েছে, তার দায়িত্বের বোঝা তত হালকা হয়েছে এবং দায়বদ্ধতার মানদণ্ডে তার আবশ্যিক কর্তব্যের পরিধি তত সংকুচিত হয়েছে। সুতরাং জড় পদার্থের ওপর কোনো কর্তব্য নেই। উদ্ভিদ জীবনের কিছু বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে, তাই সে কর্তব্যের কিঞ্চিৎ অংশ পেয়েছে। আর প্রাণীকুল জীবনশক্তির দিক থেকে জড় ও উদ্ভিদের তুলনায় অধিকতর ও পূর্ণতর অংশ লাভ করেছে, ফলে তার ওপর জীবন ধারণের দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যের বোঝা আরও ভারী হয়েছে। আর যেহেতু মানুষের বুদ্ধি, উপলব্ধি, মেধা ও প্রজ্ঞার অংশ অন্যান্য সকল সৃষ্টির তুলনায় অধিক পূর্ণ ও ব্যাপক, তাই সেই অনুপাতে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত পর্যায়েও এই কর্তব্য ও দায়বদ্ধতার ভিন্নতা রয়েছে, যা নির্ভর করে এই দায়িত্বের মানদণ্ড তথা বুদ্ধি ও উপলব্ধির পার্থক্যের ওপর। অর্থাৎ: পাগল, বিকারগ্রস্ত, নির্বোধ ও শিশু ব্যক্তির কাছে সেই দাবি রাখা হয় না যা একজন বুদ্ধিমান, প্রজ্ঞাবান ও শিক্ষিত ব্যক্তির কাছে রাখা হয়। আর তারা সেই কাজগুলো সম্পাদন করতে সক্ষম নয় যা এরা করতে পারে। এই সবকিছুর মূলে রয়েছে জ্ঞান আহরণের চালিকাশক্তিগুলোর তফাত: যেমন ত্রুটিপূর্ণ সংবেদন বনাম পূর্ণ অনুভূতি, অথবা নিস্তেজ প্রকৃতি বনাম প্রখর মেধা। এমনকি তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ওপর কোনো দায়িত্বই অর্পণ করা হয় না, আবার কেউ কেউ কিছু দায়িত্ব পায় কিন্তু সব নয়, আর কেউ কেউ দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুমহান বোঝা বহন করে।
অতঃপর আমরা যদি সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করি এবং তাতে গভীর দৃষ্টিপাত করি, তবে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো সৃষ্টির মধ্যে সংবেদন যত অপূর্ণ, অনুভূতি যত দুর্বল কিংবা উপলব্ধি যত সামান্যই হোক না কেন; আল্লাহর কুদরত স্বয়ং তার লালন-পালনের ভার গ্রহণ করে, তার বিকাশের তত্ত্বাবধান করে এবং তাকে বিশেষ অনুগ্রহে সিক্ত করে। এমনকি যখন তার গুণাবলি বিকশিত হয় এবং বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত হয়, তখন তার ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তার সত্তার সেই দায়িত্বটুকুই তার ওপর ন্যস্ত করে যা বহন করার ক্ষমতা তার রয়েছে এবং যার সে যোগ্য। এটা কি আল্লাহর বিশেষ দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় যে, পাহাড় ও খনি গর্ভে থাকা কিছু পাথর ইয়াকুত ও পান্নায় রূপান্তরিত হয় এবং তাতে এমন উজ্জ্বল দ্যুতি সৃষ্টি হয়, অথচ তার পার্শ্ববর্তী অন্যান্য পাথরগুলো...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
للياقوت والزمرد محرومة هذا الجمال الذي أخذ بالعيون، والصفات التي تحيّر الألباب. ومن ذا الذي يغذو الحيتان في أعماق البحار، والحيوانات في الآجام «1» والصحاري القاحلة؟ ومن ذا الذي يشفي الحيوان إذا مرض، ويقيه عوادي الحرّ والقرّ «2» في شهور القيظ وليالي الشتاء؟
من جرّاء ذلك نرى هذا الاختلاف البادي في صور أفراد نوع واحد من الحيوان، وهو يرجع إلى عوامل مختلفة: من برودة الجوّ، وحرارة البيئة، وطبيعة المناخ. فالكلب الأوربي يختلف عن الكلب الإفريقيّ بقدر ما بين بلاديهما من اختلاف في الجوّ والبيئة، فتختلف بسبب ذلك حاجاتهما، وتتباين لوازم حياتهما. وقد هيأت الفطرة الإلهية لكلّ منهما أسباب العيش، ولوازم الحياة التي تلائم طبعه، وتقضي بها حاجاته. فللكلب الأوربيّ ما ليس لأخيه الكلب الإفريقيّ من الفرو «3» الأثيث الضافي «4» .
وهكذا ترى الفرق جليا بين الحيوانات الشرقية والحيوانات الغربية في فرائها، وشعورها، وأوبارها، وبراثنها، ومخالبها، وأظفارها بل ترى الفرق أوضح وأجلى في سحنها، ووجوهها، وهيئات جلودها. ومردّ ذلك إلى حكمة خالقها الحكيم المدبّر، العليم بكل مخلوق، وما يحتاج إليه في غذائه، وبقائه، ولوازم حياته.
لقد تبين مما تقدّم: أنّ الخالق القيّوم جل جلاله تكفّل بحاجات مخلوقاته المسلوبة الإحساس والشعور، وأنّ المخلوقات التي رزقت الشعور والإحساس قد وكلت إليها الفطرة الإلهية أمر السعي لتحصيل حاجاتها على قدر ما هي حاصلة عليه من الاستعداد الفطريّ لذلك، فالإنسان مكلّف بالسعي في أسباب رزقه، ومتاع حياته، وهو يلقى من
--------------------------------------------
চুনী ও পান্না সেই সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত যা দৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং সেই বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে যা বুদ্ধিমানদের স্তম্ভিত করে। আর সমুদ্রের অতল গহ্বরে তিমিদের এবং নিবিড় বন ও ঊষর মরুভূমিতে বন্যপ্রাণীদের কে আহার যোগান? আর কে প্রাণীকে সুস্থ করেন যখন সে অসুস্থ হয়, এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপের মাসগুলোতে ও শীতের রাতগুলোতে তাকে দাবদাহ ও হাড়কাঁপানো শীতের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন?
এরই ফলে আমরা এক জাতীয় প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের অবয়বে এই দৃশ্যমান পার্থক্য দেখতে পাই, যা বিভিন্ন কারণের দিকে প্রত্যাবর্তন করে: যেমন আবহাওয়ার শীতলতা, পরিবেশের উষ্ণতা এবং জলবায়ুর প্রকৃতি। সুতরাং ইউরোপীয় কুকুর আফ্রিকান কুকুর থেকে ততটুকুই ভিন্ন হয় যতটুকু তাদের দেশসমূহের আবহাওয়া ও পরিবেশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; ফলে তাদের প্রয়োজনসমূহ ভিন্ন হয় এবং তাদের জীবনোপকরণসমূহ বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়। আর ঐশ্বরিক স্বভাবজাত প্রবৃত্তি প্রত্যেকের জন্য জীবনধারণের মাধ্যম এবং জীবন নির্বাহের এমন উপকরণাদি প্রস্তুত করে রেখেছে যা তার স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যার দ্বারা তার প্রয়োজন মিটে থাকে। সুতরাং ইউরোপীয় কুকুরের জন্য এমন ঘন ও পর্যাপ্ত পশম রয়েছে যা তার আফ্রিকান ভাই কুকুরের নেই।
এভাবেই আপনি প্রাচ্যের ও পাশ্চাত্যের প্রাণীদের লোম, চুল, পশম, থাবা এবং নখের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখতে পান; বরং আপনি তাদের অবয়ব, মুখমণ্ডল এবং চামড়ার গড়নের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও উজ্জ্বল পার্থক্য লক্ষ্য করেন। আর এর মূল কারণ হলো তাদের প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার হিকমত, যিনি সুনিপুণ ব্যবস্থাপক এবং প্রতিটি সৃষ্টি ও তাদের খাদ্য, স্থায়িত্ব ও জীবনোপকরণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে: মহিমান্বিত স্রষ্টা ও কাইয়ুম তাঁর সেই সকল সৃষ্টির প্রয়োজনের জিম্মাদারী গ্রহণ করেছেন যারা অনুভূতি ও বোধশক্তিহীন। আর যে সকল সৃষ্টিকে অনুভূতি ও বোধশক্তি দান করা হয়েছে, তাদের ওপর ঐশ্বরিক প্রবৃত্তি তাদের প্রয়োজন হাসিলের জন্য চেষ্টা-তদবিরের দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাদের মধ্যে বিদ্যমান স্বভাবজাত সক্ষমতা অনুযায়ী। সুতরাং মানুষ তার রিযিকের উপায় ও জীবনোপকরণের অনুসন্ধানে সচেষ্ট হতে আদিষ্ট, আর সে যা প্রাপ্ত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التّعب والعناء ما يلقى في التجارة، والزراعة، والصناعة، وغير ذلك من وسائل الكسب. وليس لجسم الإنسان من الفرو الضّافي، والجلد المتين ما يدفع عنه عوادي البرد القارس، والحرّ اللافح «1» ، لذلك هو مضطرّ إلى أن يعدّ بنفسه ما يقي جسمه حرارة القيظ، ولوافح السموم، وبرودة الشتاء، وسواقع الزّمهرير «2» ، فيصنع مختلف الثياب المناسبة لكلّ جوّ، ويعالج ما يصاب به من أمراض بما هداه إليه إدراكه من عقاقير، وأدوية، ووسائل.
ومن كان من المخلوقات أقلّ نصيبا من الإدراك، وأضعف حيلة في الحصول على متع الحياة، وأسباب العيش، تداركته الفطرة الإلهية، فمنحته في نفسه، وجسمه من أسباب الوقاية وأسلحة الجوارح ما يدفع به عن نفسه عادية الكون ومخلوقاته، ويسّرت له سبل العيش: فمن الحيوانات ما وهبه الخلّاق العظيم مخالب قاطعة، وبراثن مرهفة، ومنها المسلح في فمه بأسنان مفترسة، ومنها ذوات القرون، وذوات الأجنحة، والسوابح في اليمّ، والمدافعة عن كيانها بالحمة السّامة، إلى غير ذلك من الأسلحة والجوارح التي عوّض الله بها لبعض خلقه عما فقده من نعمة العقل، ونور البصيرة، ومذاهب الرأي. أما الإنسان المجرّد من مثل خرطوم الفيل، وقرن الثور، وسمّ الأفعى، وحمّة العقرب وسائر أسلحة الدوابّ والهوامّ، فكان لذلك أعزل ضعيفا، إلا أنه قد أوتي من العقل الكامل، والشعور الشامل، والحسّ المرهف، والفهم الثاقب، والبصيرة النافذة، ما لم يؤت أحد من خلق الله مثله. وهذه المواهب التي امتاز الإنسان بها على سائر المخلوقات تغنيه عما فقده من القوى الجسمية التي امتازت عليه بها الحيوانات القويّة، فاستطاع أن يسخّر الفيل العظيم الهيكل ذا الخرطوم الطويل، وأن يستذلّ الأسد الضّاري ذا البراثن الحديدية، وأن يقبض على الأفعى الثائرة، ويصيد الطيور المحلقة في جو السماء، بل صار لا يعييه حوت في لجج البحار الزاخرة، ولا وحش غابة كثيفة من الوحوش
--------------------------------------------
ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প এবং উপার্জনের অন্যান্য উপায়ে যে ক্লান্তি ও কষ্ট অনুভূত হয়। মানুষের শরীরে এমন ঘন পশম বা মজবুত চামড়া নেই যা তাকে তীব্র হাড়কাঁপানো শীত এবং দহনকারী তাপের (১) আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই সে নিজের দেহকে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ, বিষাক্ত লু-হাওয়া, শীতের শৈত্য এবং চরম শীতের (২) প্রকোপ থেকে রক্ষা করার উপকরণ নিজে প্রস্তুত করতে বাধ্য হয়। ফলে সে প্রত্যেক আবহাওয়ার উপযোগী বিভিন্ন পোশাক তৈরি করে এবং তার বোধশক্তি তাকে যে ভেষজ, ওষুধ ও উপকরণের পথ দেখিয়েছে, তার মাধ্যমে সে আক্রান্ত ব্যাধির চিকিৎসা করে।
সৃষ্টি জগতের মধ্যে যাদের বোধশক্তির অংশ কম এবং জীবন ধারণের আনন্দ ও জীবনযাত্রার উপকরণ সংগ্রহের কৌশল যাদের দুর্বল, ঐশী স্বভাব বা ফিতরত তাদের সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে। ফলে আল্লাহ তাদের সত্তা ও দেহে সুরক্ষার এমন উপায় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গরূপী অস্ত্র দান করেছেন যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ওপর আগত মহাবিশ্ব ও অন্যান্য সৃষ্টির অনিষ্ট প্রতিহত করতে পারে এবং তিনি তাদের জীবনযাত্রার পথ সহজ করে দিয়েছেন। প্রাণীদের মধ্যে কাউকে মহান স্রষ্টা কর্তনকারী নখর ও তীক্ষ্ণ থাবা দান করেছেন, আবার কোনোটি তার মুখে শিকারি দাঁতের অস্ত্রে সজ্জিত। কারো রয়েছে শিং, কারো ডানা, কেউ সমুদ্রে সন্তরণকারী, আবার কেউ বিষাক্ত হুল দিয়ে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করে। এ জাতীয় আরও অনেক অস্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর কিছু সৃষ্টিকে বিবেক-বুদ্ধির নেয়ামত, অন্তর্দৃষ্টির আলো এবং বিচার-বুদ্ধির অভাব পূরণ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে মানুষ হাতির শুঁড়, ষাঁড়ের শিং, সাপের বিষ, বিচ্ছুর হুল এবং অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তু ও পোকামাকড়ের অস্ত্রের মতো সাজসরঞ্জামহীন হওয়ার কারণে নিরস্ত্র ও দুর্বল ছিল। তবে তাকে এমন পূর্ণাঙ্গ বিবেক, ব্যাপক চেতনা, সূক্ষ্ম অনুভূতি, তীক্ষ্ণ বোধশক্তি এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টি দান করা হয়েছে, যা আল্লাহর সৃষ্টির অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। এই প্রতিভাগুলো—যার মাধ্যমে মানুষ অন্যান্য সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে—তাকে সেই শারীরিক শক্তির অভাব থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয় যা শক্তিশালী প্রাণীদের রয়েছে। ফলে সে বিশাল দেহী দীর্ঘ শুঁড়বিশিষ্ট হাতিকে বশীভূত করতে, লৌহসদৃশ থাবাওয়ালা হিংস্র সিংহকে পদানত করতে, উত্তেজিত সাপকে পাকড়াও করতে এবং আকাশে উড়ন্ত পাখিকে শিকার করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি উত্তাল সমুদ্রের বিশাল তিমি বা ঘন বনের কোনো হিংস্র পশুও তাকে কাবু করতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المفترسة الكاسرة؛ لأنه قد اخترع بمواهبه العقلية أسلحة فاق بها على أسلحة سائر المخلوقات مجتمعة بلا استثناء.
مسؤولية الإنسان بقدر مواهبه:سادتي: لا بدّ لكم أن تعترفوا- على اختلاف أديانكم، وتباعد أوطانكم، وتنوّع نزعاتكم وأفكاركم- بأنّ الإنسان قد انهالت عليه الواجبات، وتعدّدت المسؤوليات بسبب ما امتاز به من عقل راجح، ورأي حصيف، وفكر ثاقب، وفقه لطيف، وهذه الواجبات والمسؤوليات تسمّى بلغة الشرع «التكاليف» وهي موجهة إليه من ناحية قواه الظاهرة والباطنة، وكأنّ الإنسان قد خاطب الفطرة الإلهية بلسان مواهبه وقواه أن تفرض عليه عملا، فكان بسببها مكلفا بهذه الواجبات التي تملأ وسعه، وتتناسب مع طاقته، قال الله عز وجل: لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَها [البقرة: 286] .
وعبّر سبحانه عن هذا التكليف بالأمانة في قوله: إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمانَةَ عَلَى السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَها وَأَشْفَقْنَ مِنْها وَحَمَلَهَا الْإِنْسانُ إِنَّهُ كانَ ظَلُوماً جَهُولًا [الأحزاب: 72] . ولا يتصف بالظلم والجهل إلا المكلّف بالعدل والعلم، والظلم والجهل من نعوت الإنسان لا ينعت بهما غيره؛ لأنه لم يكلف بالعدل والعلم إلا هو، فهاتان الصفتان من صفات الإنسان: الأولى ضد العدل، والآخرى ضد العلم. وذلك لا يوجد إلا في الإنسان، فالظلم تعدّي الإنسان حدوده، واستعماله قوّته الظاهرة العاملة في غير محلّها.
والجهل نقص يتطرّق إلى الإنسان من جهة قواه العلمية. والظلوم يقابله العادل، والجهول يضادّه العالم. والعدل والعلم يتصف الإنسان بهما بالقوة لا بالفعل، فيحتاج إلى العدل لتكميل قوته العملية، وإلى العلم والمعرفة لتكميل قوته العلمية. والقرآن الحكيم قد يسمي العدل بالعمل الصّالح، والعلم بالإيمان. قال الله عز وجل: وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ [العصر: 1- 3] فمن لم يعمل صالحا؛ فقد ظلم نفسه، ومن لم يؤمن بالله؛ فقد جهل. ولا ينجو من الخسران إلا من آمن وعمل صالحا. وقد أشهد الله الزمان على خسران الإنسان. ومن الظاهر البيّن أنّ المراد بالزمان الحوادث التي حدثت فيه منذ بدء العالم، وقد صدق
শিকারি ও হিংস্র প্রাণীসমূহ; কেননা সে তার বুদ্ধিবৃত্তিক মেধার সাহায্যে এমন সব অস্ত্র উদ্ভাবন করেছে, যার মাধ্যমে সে ব্যতিক্রমহীনভাবে অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টির সম্মিলিত অস্ত্রের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
মানুষের মেধা অনুযায়ী তার দায়বদ্ধতা:হে সুধীবৃন্দ: আপনাদের ধর্মীয় ভিন্নতা, দূরবর্তী স্বদেশ এবং বিচিত্র প্রবণতা ও চিন্তাধারা সত্ত্বেও আপনাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মানুষের ওপর অনেক কর্তব্য আরোপিত হয়েছে এবং বহুমুখী দায়িত্বের সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হলো তার বিশিষ্ট শ্রেষ্ঠ বিবেক, বিচক্ষণ অভিমত, তীক্ষ্ণ চিন্তা এবং সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা। শরিয়তের পরিভাষায় এই কর্তব্য ও দায়িত্বসমূহকে ‘তাকলিফ’ (দায়িত্বারোপ) বলা হয়, যা তার প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলোর প্রতি নির্দেশিত। মনে হয় যেন মানুষ তার মেধা ও শক্তির ভাষায় খোদায়ী ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির কাছে আবেদন করেছিল যেন তার ওপর কোনো কাজ অর্পণ করা হয়; ফলে সেই মেধা ও শক্তির কারণেই সে এমন সব কর্তব্যের দ্বারা আদিষ্ট হয়েছে যা তার সামর্থ্য অনুযায়ী পূর্ণ এবং তার সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না [আল-বাকারা: ২৮৬]।
মহান আল্লাহ এই দায়িত্বারোপকে ‘আমানত’ হিসেবে ব্যক্ত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ, জমিন ও পাহাড়ের ওপর আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো, আর মানুষ তা বহন করল; নিশ্চয়ই সে অত্যন্ত অবিচারকারী ও অতিশয় অজ্ঞ [আল-আহযাব: ৭২]। আর ন্যায়বিচার ও জ্ঞানের দায়িত্ব যাকে দেওয়া হয়েছে, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে জুলুম ও অজ্ঞতার গুণে গুণান্বিত করা যায় না। জুলুম ও অজ্ঞতা মানুষেরই বৈশিষ্ট্য, অন্য কারো ওপর তা প্রয়োগ করা হয় না; কারণ ন্যায়বিচার ও জ্ঞানের দায়িত্ব কেবল তাকেই দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই দুটি গুণ মানুষেরই বৈশিষ্ট্য: প্রথমটি ন্যায়ের বিপরীত এবং দ্বিতীয়টি জ্ঞানের বিপরীত। এটি কেবল মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়; কারণ জুলুম হলো মানুষের নিজ সীমা লঙ্ঘন করা এবং তার কর্মক্ষম প্রকাশ্য শক্তিকে অন্যায় স্থানে ব্যবহার করা।
আর অজ্ঞতা হলো একটি ত্রুটি যা মানুষের মধ্যে তার জ্ঞানীয় শক্তির দিক থেকে প্রবেশ করে। ‘জালুম’ (অত্যাচারী) এর বিপরীতে রয়েছে ‘আদিল’ (ন্যায়পরায়ণ), আর ‘জাহুল’ (অজ্ঞ) এর বিপরীতে রয়েছে ‘আলিম’ (জ্ঞানী)। ন্যায়বিচার ও জ্ঞান দ্বারা মানুষ সম্ভাব্যতার স্তরে গুণান্বিত থাকে, বাস্তবায়নের স্তরে নয়; তাই তার কর্মশক্তি পূর্ণ করার জন্য ন্যায়বিচারের প্রয়োজন এবং তার জ্ঞানীয় শক্তি পূর্ণ করার জন্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন। কুরআন হাকিম কখনো ন্যায়বিচারকে ‘সৎকাজ’ এবং জ্ঞানকে ‘ঈমান’ নামে অভিহিত করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: সময়ের শপথ (১) নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে (২) তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে (৩) [আল-আসর: ১-৩]। অতএব যে ব্যক্তি সৎকাজ করল না, সে নিজের ওপর জুলুম করল; আর যে আল্লাহর ওপর ঈমান আনল না, সে অজ্ঞ থাকল। ঈমানদার ও সৎকর্মশীল ব্যতীত কেউ ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে না। আল্লাহ সময়ের কসম দিয়ে মানুষের ক্ষতিগ্রস্ততার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর এটি সুস্পষ্ট যে, সময় বলতে বিশ্ব সৃষ্টির সূচনা থেকে এতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলিকে বোঝানো হয়েছে, আর তিনি সত্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
كارليل «1» في وصفه التاريخ بأنه «سجل لأعمال العظماء وسيرهم» ، وتاريخ العالم أصدق شاهد على أنّ كلّ أمّة لم تؤمن بالله، ولم تعمل صالحا بأنها قد خسرت، وهلكت، وكذلك الأفراد الذين لم يؤمنوا بالله، ولم يعملوا صالحا أنهم قد خسروا، وهلكوا. والصّحف السّماوية والأسفار القديمة ملأى بأنّ الظلم والجهل ما وجدا في بيئة إلا وجرّا عليها الخراب والدّمار، والعدل والعمل الصّالح ما وجدا في أمة إلا نتج عنهما الحياة والعمران.
وتقصّ عليك هذه الكتب وغيرها أنباء الذين آمنوا وعملوا الصالحات كيف أفلحوا، وعمروا الدّنيا، وأخبار الذين طغوا وبغوا كيف بادوا، وهلكوا، وذهبوا أحاديث تروى، وتفرّقوا أيدي سبأ، فلم يبق لهم إلا أثر بعد عين.
وتثني هذه الكتب على الذين قاموا أحسن قيام بالواجبات المكلفين بها من قبل فطرتهم، فأدّوا ما عليهم منها خير أداء، كما تذمّ الذين أهملوا فرائضهم، ونبذوها وراء ظهورهم. وحتى الإلياذة «2» ، والشاهنامة «3» ، ومهابهارته «4» ، ورامائن «5» ، وغيتا «6» ، كل هذه الأسفار، تقص علينا أخبار الأمم الذين خلوا من قبل، وتحدّثنا بما وقع من القتال بين الظالمين والعادلين، وبين الكافرين والمؤمنين، وفي ذلك عبرة لأولي الأبصار ممّن يعتبرون بتجارب الأمم، فينتهون عن الظلم والشر، ويرتدعون عن الكفر والشرك، ويقيمون الحقّ، ويتواصون بالخير ويعملون صالحا.
--------------------------------------------
কার্লাইল (১) ইতিহাসকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে এটি হচ্ছে "মহাপুরুষদের কার্যাবলি ও তাঁদের জীবনচরিতের একটি নথিপত্র"। বিশ্বের ইতিহাস হলো এর সবচেয়ে সত্য সাক্ষী যে, যে জাতিই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেনি এবং নেক আমল করেনি, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। একইভাবে সেই সব ব্যক্তি যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেনি এবং নেক আমল করেনি, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। আসমানী কিতাবসমূহ এবং প্রাচীন গ্রন্থসমূহ এ তথ্যে ভরপুর যে, কোনো পরিবেশে যখনই জুলুম ও অজ্ঞতা দেখা দিয়েছে, তখনই তা সেখানে ধ্বংস ও বিপর্যয় ডেকে এনেছে। আর কোনো জাতির মধ্যে যখনই ন্যায়বিচার ও নেক আমল পাওয়া গেছে, তখনই তার ফলে জীবন ও সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এই বইগুলো এবং অন্যান্য কিতাব আপনাকে সেই সব মানুষের সংবাদ প্রদান করে যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে, তারা কীভাবে সফল হয়েছে এবং পৃথিবীকে আবাদ করেছে। আর তাদের সংবাদও দেয় যারা অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করেছে, তারা কীভাবে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস হয়ে গেছে, লোকমুখে কেবল গল্পে পরিণত হয়েছে এবং সাবা জাতির মতো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, ফলে তাদের বাস্তব অস্তিত্বের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি।
এই বইগুলো ঐ সব মানুষের প্রশংসা করে যারা তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্বগুলো সর্বোত্তমভাবে পালন করেছে এবং তাদের ওপর যা কর্তব্য ছিল তা সুন্দরভাবে সম্পাদন করেছে। একইভাবে তারা ঐ সব মানুষের নিন্দা করে যারা তাদের আবশ্যিক কর্তব্যগুলো অবহেলা করেছে এবং সেগুলোকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি ইলিয়াড (২), শাহনামা (৩), মহাভারত (৪), রামায়ণ (৫) এবং গীতা (৬)—এই সব গ্রন্থও আমাদের কাছে পূর্ববর্তী জাতিগুলোর সংবাদ বর্ণনা করে। এবং জালিম ও ন্যায়পরায়ণদের মধ্যে এবং কাফির ও মুমিনদের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তা আমাদের শোনায়। আর এর মধ্যে প্রজ্ঞাবানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে যারা বিভিন্ন জাতির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, ফলে তারা জুলুম ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে, কুফর ও শিরক থেকে ফিরে আসে, সত্য প্রতিষ্ঠা করে, কল্যাণের উপদেশ দেয় এবং নেক আমল করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
حكمة إرسال الله الرسل للبشر:أليست سور القرآن الحكيم، وأسفار التوراة والإنجيل ملأى بالقصص، مسجلة بأنّ كلّ أمّة آمنت وعملت صالحا، وعدلت في الحكم وجاءت بالحسنة قد أفلحت، ونجت، وسعدت، وكلّ أمة ظلمت، وكفرت بأنعم الله، وركبت هواها، وعدت طورها، وتعدّت الحدود الفطرية قد هلكت، وانقرضت دولتها، وتقوّض صرح مجدها. إنّ في بعض آيات كتاب الله قصة لمؤمن عادل صالح، وفي البعض الآخر منها قصة لظالم طاغ: كلّ ذلك ليرتدع الطّاغية عن طغيانه، ويكفّ الفاسق عن الفسق، وينتهي الظالم عن الظلم والبغي، فيعودوا جميعا إلى الرشد، ويكونوا عادلين مؤمنين صالحين.
لأجل ذلك بعث الله الأنبياء والرسل- قبل محمد صلى الله عليه وسلم إلى كلّ بلد، بل إلى كلّ قرية، ليكونوا بسيرتهم الصالحة المستقيمة أسوة لأممهم، فتتبع الشعوب التي بعثوا إليها السنن التي يسنونها لأفرادهم وجماعاتهم، فيستقيموا، ويفلحوا جميعا، أو تهتدي بهدي الأنبياء والرسل طوائف من قومهم على الأقل، فيواصلوا الدّعوة، ويسيروا في طريق الحقّ. وقد بعث الله إلى الإنسانية خاتم رسله محمدا صلى الله عليه وسلم بشيرا للناس كافة ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه، ورحمة للعالمين، لتكون لهم فيه أسوة، ويكون لهم من حياته الشريفة قدوة، ثم يكون مثلا أعلى للذين يأتون بعده إلى أن تقوم الساعة. وقد جاء في القرآن الكريم على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم: فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُراً مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ [يونس: 16] ، وذلك أنّ الرسول صلى الله عليه وسلم ولد فيهم، وترعرع بينهم، ونشأ أمام أعينهم، وعاش بين ظهرانيهم برهة من الدّهر قبل بعثته، فعرفوا أخلاقه كل المعرفة، وجرّبوا عاداته وأعماله، فهو لم يكن فيهم غريبا، ولا خاملا، ولا مجهول الأحوال. والوحي الإلهي في هذه الآية يقدّم حياة الرسول وسيرته الطاهرة قبل البعثة دليلا على نبوّته صلى الله عليه وسلم وأنّ رسالته هي من عند الله العظيم؛ ليؤمن به العرب، ويصدّقوه فيما يخبر به، أو يدعو إليه، فإنّهم قد علموا مصبحه وممساه، واختبروا أخلاقه وعاداته من صباه ونعومة أظافره إلى أن شبّ واكتهل، وأعلن نبوّته، وخرج إلى الناس يدعوهم برسالة الإسلام.
মানুষের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল প্রেরণের হিকমত:প্রজ্ঞাপূর্ণ কুরআনের সূরাসমূহ এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলের কিতাবসমূহ কি এমন সব কাহিনীতে পরিপূর্ণ নয়, যা লিপিবদ্ধ করেছে যে—যে জাতিই ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে, বিচারে ইনসাফ করেছে এবং কল্যাণ নিয়ে এসেছে, তারাই সফল হয়েছে, মুক্তি পেয়েছে এবং সুখী হয়েছে? আর যে জাতিই জুলুম করেছে, আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করেছে, নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে, নিজেদের সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং স্বভাবজাত সীমারেখা অতিক্রম করেছে, তারাই ধ্বংস হয়েছে, তাদের রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়েছে এবং তাদের গৌরবের প্রাসাদ ধূলিসাৎ হয়েছে। আল্লাহর কিতাবের কিছু আয়াতে ন্যায়পরায়ণ ও সৎকর্মশীল মুমিনের কাহিনী রয়েছে, আবার অন্য কিছু আয়াতে রয়েছে অবাধ্য জালেমের কাহিনী। এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো—যাতে দাম্ভিক ব্যক্তি তার অবাধ্যতা থেকে বিরত হয়, পাপাচারী ব্যক্তি পাপাচার থেকে ক্ষান্ত হয় এবং জালেম ব্যক্তি তার জুলুম ও বিদ্রোহ থেকে নিবৃত্ত হয়; ফলে তারা সবাই সঠিক পথে ফিরে আসে এবং তারা ন্যায়পরায়ণ, মুমিন ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বে প্রতিটি জনপদে, বরং প্রতিটি গ্রামে নবী ও রাসূলদের পাঠিয়েছেন, যেন তাঁরা তাঁদের নেক ও সঠিক জীবনচরিতের মাধ্যমে নিজ নিজ উম্মতের জন্য আদর্শ হতে পারেন। ফলে যে জাতিগুলোর নিকট তাঁদের পাঠানো হয়েছে, তারা যেন তাঁদের প্রবর্তিত রীতিনীতি অনুসরণ করে—ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় জীবনেই—এবং তারা সকলে সঠিক পথে পরিচালিত ও সফল হতে পারে। অথবা অন্তত যেন তাদের সম্প্রদায়ের কিছু দল নবী ও রাসূলদের হেদায়েত দ্বারা পথপ্রদর্শন লাভ করে, অতঃপর তারা দাওয়াতের কাজ জারি রাখে এবং সত্যের পথে চলে। আর আল্লাহ মানবজাতির নিকট তাঁর সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সমস্ত মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন; যেন তাঁর মাঝে তাদের জন্য আদর্শ থাকে এবং তাঁর সম্মানিত জীবন থেকে তারা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাভ করতে পারে। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত যারা আসবে, তাদের জন্য তিনি যেন এক মহান আদর্শ হয়ে থাকেন। পবিত্র কুরআনে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুখে বর্ণিত হয়েছে: ‘আমি তো এর আগে তোমাদের মাঝে জীবনের এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি, তবে কি তোমরা বুঝতে পারো না?’ [ইউনুস: ১৬]। বিষয়টি হলো এই যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাঝেই জন্মগ্রহণ করেছেন, তাদের মাঝেই বড় হয়েছেন, তাদের চোখের সামনে বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় তাদের সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। ফলে তাঁরা তাঁর চরিত্র সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিলেন এবং তাঁর অভ্যাস ও কর্মসমূহ পরীক্ষা করে দেখেছিলেন। তিনি তাদের মাঝে কোনো অপরিচিত আগন্তুক ছিলেন না, বা অখ্যাত কেউ ছিলেন না এবং তাঁর অবস্থাও অজ্ঞাত ছিল না। এই আয়াতে খোদায়ী ওহি রাসূলের নবুওয়াত-পূর্ব জীবন ও তাঁর পবিত্র সীরাতকে তাঁর নবুওয়াতের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রমাণ হিসেবে এবং তাঁর রিসালাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসার দলিল হিসেবে পেশ করছে; যাতে আরবরা তাঁর প্রতি ঈমান আনে এবং তিনি যা সংবাদ দেন বা যার দিকে আহ্বান করেন, তাতে তাঁকে সত্যবাদী বলে মেনে নেয়। কারণ তারা তাঁর সকাল-সন্ধ্যা সম্পর্কে জানত এবং তাঁর শৈশব ও কৈশোর থেকে শুরু করে যুবক ও প্রৌঢ় হওয়া পর্যন্ত তাঁর চরিত্র ও অভ্যাসসমূহ পরখ করেছিল—যতক্ষণ না তিনি তাঁর নবুওয়াত ঘোষণা করেন এবং ইসলামের বাণী নিয়ে মানুষের নিকট দাওয়াত দিতে বের হন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفرق بين دعوة الرسل ودعاوى غيرهم:لقد مضى في سالف الأيام كثير من العظماء، دعوا الناس إلى أن يقتدوا بأخلاقهم وأعمالهم، منهم ملوك جبابرة عاشوا في قصورهم الشامخة بين ندمائهم وجلسائهم وملؤوا القلوب مهابة وجلالة، ومنهم قادة جيوش عاشوا بين ضباطهم وجنودهم، يرهبون الناس، ويخيفونهم بشدّة بأسهم، وضخامة أجسامهم، ورواء هندامهم «1» ، ومنهم حكماء وفلاسفة كانوا إذا نطقوا أبانوا، وإذا خطبوا أبدعوا، ونثروا من درر الحكمة ما شاءت بلاغتهم وطلاقة ألسنتهم، فملكوا القلوب، وبهروا النفوس. وترى بجانب هؤلاء طائفة الشعراء ممّن إذا أنشدوا أطربوا، وإذا رتلت أناشيدهم غلبوا السّامعين على أهوائهم، ولعبوا بالقلوب كيف شاؤوا. وقد خلا كثير من الفاتحين الذين دوخوا البلاد، واستولوا على المماليك، كما مرّ في مواكب التاريخ كثير من المثرين والأغنياء الذين كانت أقدامهم تطأ البسط الناعمة والزرابي «2» الوثيرة، ويمشون على الحرير الفاخر والإستبرق «3» الزاهر، اكتنزوا القناطير المقنطرة من الذهب والفضة، واسترعوا أنظار بني آدم بما كانوا فيه من ترف، وعظمة، وسعة. وقد كان هنيبعل القرطاجني «4» ، والإسكندر المقدوني، وقيصر الروم، ودارا «5» الفارسي، ونابليون الفرنسي يملأ كلّ منهم عيون بني آدم بعظمته، وأحداث حياته، ومختلف أعماله، وكذلك نجد سقراط، وأفلاطون، وديوجنس «6» ، وغيرهم من
--------------------------------------------
রাসূলগণের দাওয়াত এবং অন্যদের দাবির মধ্যে পার্থক্য:অতীত দিনগুলোতে বহু মহান ব্যক্তি অতিবাহিত হয়েছেন, যারা মানুষকে তাদের চরিত্র ও কর্ম অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রতাপশালী রাজাগণ, যারা তাদের সুউচ্চ প্রাসাদে পারিষদ ও সহচরদের মাঝে বসবাস করতেন এবং মানুষের হৃদয়ে ভীতি ও মহিমা সঞ্চার করতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সেনাপতিগণ, যারা তাদের কর্মকর্তা ও সৈন্যদের মাঝে বসবাস করতেন; তারা তাদের কঠোর বীরত্ব, বিশাল দেহ এবং পরিপাটি পোশাক-আশাকের মাধ্যমে মানুষকে আতঙ্কিত ও ভীত করে রাখতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রজ্ঞাবান ও দার্শনিকগণ; তারা যখন কথা বলতেন তখন তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতেন, আর যখন ভাষণ দিতেন তখন চমৎকারিত্ব সৃষ্টি করতেন। তাদের বাগ্মিতা ও সাবলীল ভাষার মাধ্যমে তারা প্রজ্ঞার মুক্তা ছড়িয়ে দিতেন, ফলে তারা মানুষের হৃদয় জয় করতেন এবং আত্মাকে বিমোহিত করতেন। আপনি এদের পাশে কবিদের একটি দলকেও দেখতে পাবেন; যারা যখন কবিতা আবৃত্তি করতেন তখন শ্রোতাদের আনন্দিত করতেন, আর যখন তাদের সঙ্গীত বা কাব্য পাঠ করা হতো তখন তারা শ্রোতাদের ওপর তাদের প্রবৃত্তিকে প্রভাবশালী করে তুলতেন এবং তাদের হৃদয় নিয়ে যেভাবে ইচ্ছা খেলা করতেন। অনেক বিজয়ী বীরও গত হয়েছেন যারা দেশসমূহ পদানত করেছিলেন এবং রাজ্যসমূহ দখল করেছিলেন। ঠিক যেমন ইতিহাসের মিছিলে এমন অনেক বিত্তবান ও ধনীরও দেখা মেলে যাদের পা নরম গালিচা ও আরামদায়ক শয্যায় বিচরণ করত। তারা দামী রেশম ও উজ্জ্বল পুরু রেশমের ওপর দিয়ে হাঁটতেন। তারা রাশি রাশি সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করেছিলেন এবং তাদের বিলাসিতা, মহিমা ও প্রাচুর্য দিয়ে বনী আদমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কার্থেজীয় হানিবল, মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার, রোমান সিজার, পারস্যের দারা এবং ফরাসি নেপোলিয়ন—তাদের প্রত্যেকেই তাদের মহিমা, জীবনের ঘটনাবলি এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বনী আদমের দৃষ্টি কেড়েছিলেন। একইভাবে আমরা সক্রেটিস, প্লেটো, ডায়োজিনিস এবং অন্যদেরও পাই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حكماء اليونان وغير اليونان مثل: سبنسر «1» وأضرابه، تجتذب سيرتهم النفوس، وتروق القلوب، وإن اختلفت مظاهر عظمتهم عن مظاهر عظمة الآخرين ممّن ذكرت أسماءهم قبلهم. فهل ترى في حياة هؤلاء وأولئك ما يضمن فلاح بني آدم؟ ومن منهم تؤدي سيرته ودعوته إلى صلاح الإنسانية وسعادتها؟
إنّ في هؤلاء وأولئك لقادة فتحوا البلاد، ودوّخوا المماليك، واقتحموا أقصى الأرض، وأدناها، وذلّلوا ما اعترض سبيلهم من صعاب، وسخّروا الملوك بظبا سيوفهم. ولكن من منهم ترك لمن أتى بعده أسوة يؤتسى بها في تعميم الخير؟ ومن منهم إذا اهتدى الناس بهديه ينجون من المهالك، ويسلكون سبيل السعادة والهناء؟ ومن من هؤلاء استعملوا سيوفهم البواتر «2» في قطع حبائل العقائد الفاسدة، وتخليص العقول من الأوهام الواهية والأفكار الباطلة؟ ومن منهم وقف حياته على حلّ معضلات بني آدم، وكان حريصا على عقد أواصر الإخاء بينهم على الحق والتواصي في الخير؟ وهل يوجد في حياة من ذكرنا من هؤلاء العظماء ما يستعين به بنو الإنسان على تخفيف ما يعانونه من الغمرات في حياتهم الاجتماعية؟ أم في أخلاقهم وأعمالهم ما ييسر للإنسانية الشفاء من أمراضها الخلقية وأوصابها النفسية؟
أم في دعوتهم ما يجلو صدأ القلوب ورينها، أو يرتق فتقا في الحياة الاجتماعية؟
لا شكّ أنّ الشعراء نالوا إعجاب الناس بأناشيدهم الرنّانة، وملكوا النفوس، وتصرّفوا فيها بشعرهم البليغ وقصائدهم الغرّ. ولكن هل نعوا الإنسانية وهم يهيمون في أودية الخيال؟ كلّا! ولذلك لم يكن لهم في جمهورية أفلاطون نصيب، ولا منصب. والشعراء- من هوميروس «3» إلى
--------------------------------------------
গ্রিক ও অ-গ্রিক প্রজ্ঞাবানগণ, যেমন: স্পেন্সার (১) ও তাঁর সমমনাদের জীবনী আত্মাকে আকর্ষণ করে এবং অন্তরকে মুগ্ধ করে, যদিও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ তাঁদের পূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ থেকে ভিন্ন। তবে আপনি কি এই উভয় শ্রেণির জীবনে এমন কিছু দেখতে পান যা বনী আদমের সফলতার নিশ্চয়তা দেয়? তাঁদের মধ্যে কার জীবনী ও দাওয়াত মানবতার সংস্কার ও সুখের দিকে নিয়ে যায়?
নিশ্চয়ই এই উভয় শ্রেণির মধ্যে এমন সব নেতা রয়েছেন যাঁরা দেশ জয় করেছেন, রাজ্যসমূহকে পদানত করেছেন এবং পৃথিবীর দূর ও নিকট প্রান্তে অভিযান চালিয়েছেন; তাঁরা তাঁদের পথে আসা সকল বাধা দূর করেছেন এবং তরবারির অগ্রভাগের আঘাতে রাজাদের বশীভূত করেছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন কোনো আদর্শ রেখে গেছেন যা কল্যাণ বিস্তারে অনুসরণ করা যায়? তাঁদের মধ্যে কার পথ অনুসরণ করলে মানুষ ধ্বংস থেকে মুক্তি পাবে এবং সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের পথ অবলম্বন করবে? তাঁদের মধ্য থেকে কারা ভ্রান্ত বিশ্বাসের রজ্জু ছিন্ন করতে এবং দুর্বল কল্পনা ও বাতিল চিন্তাধারা থেকে বিবেককে মুক্ত করতে তাঁদের তীক্ষ্ণ তলোয়ার (২) ব্যবহার করেছেন? তাঁদের মধ্যে কে বনী আদমের জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং সত্যের ওপর তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে ও কল্যাণের উপদেশে আগ্রহী ছিলেন? আমরা যে সকল মহান ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছি, তাঁদের জীবনে কি এমন কিছু আছে যা মানুষকে তাঁদের সামাজিক জীবনে ভোগ করা দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে সাহায্য করবে? অথবা তাঁদের চরিত্র ও কর্মে কি মানবতার জন্য তার চারিত্রিক ব্যাধি ও মানসিক কষ্ট থেকে আরোগ্য লাভের কোনো সহজ উপায় আছে?
নাকি তাঁদের আহ্বানে এমন কিছু আছে যা অন্তরের মরিচা ও কলুষতা দূর করে, কিংবা সামাজিক জীবনের কোনো ফাটল মেরামত করে?
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কবিগণ তাঁদের সুমধুর ছন্দের মাধ্যমে মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছেন, হৃদয় জয় করেছেন এবং তাঁদের প্রাঞ্জল কাব্য ও উজ্জ্বল কবিতার মাধ্যমে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন। কিন্তু তাঁরা যখন কল্পনার উপত্যকায় ঘুরে বেড়াতেন, তখন কি তাঁরা মানবতার সেবায় কাজ করেছিলেন? কখনোই না! আর এই কারণেই প্লেটোর রিপাবলিকে তাঁদের কোনো অংশ বা পদমর্যাদা ছিল না। আর কবিগণ—হোমার (৩) থেকে শুরু করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
امرىء القيس فمن بعده من شعراء الأمم- لم يكن منهم إلا إثارة كامن العواطف، وتنبيه النائم من الأفكار، أو إحداث لذة، أو ألم في النفوس، ولا ينتظر منهم أن يحلّوا معضلات الحياة الإنسانية، وعويصات مشاكلها. وسبب ذلك أنّهم في سيرتهم وأعمالهم لا يقدمون للناس المثل التي تحتذى، والأسوة التي يقتدى بهم فيها. ولقد وصفهم القرآن الكريم الحكيم أصدق وصف عند ما ذكر سيرتهم بقوله: وَالشُّعَراءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغاوُونَ (224) أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وادٍ يَهِيمُونَ (225) وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ ما لا يَفْعَلُونَ (226) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ [الشعراء: 224- 227] وبهذا سجّل القرآن الحكيم على الشعراء أنّهم لا يؤثّرون بشعرهم اللطيف الحلو على المجتمع البشري؛ لأنهم يهيمون في أودية الأفكار والعواطف بلا إيمان، ولا عمل صالح، ولو اجتمعت لهم هاتان الخصلتان- الإيمان والعمل الصالح- لكان لشعرهم أثر بارز في المجتمع البشري، وعلى كلّ فإنهم ليسوا من الإصلاح في شيء، ولا الإصلاح من شأنهم، ولذلك لا يقدرون على القيام بمهمة إصلاح العالم، وقيادة الناس إلى الرشاد الكامل والفلاح الشامل، ويشهد على صدق هذه الحقيقة تاريخ الأمم في غابرها وحاضرها.
وكذلك نرى الفلاسفة والحكماء بهروا عقول الناس بفلسفتهم، وحاولوا تغيير تيار الحياة البشرية، فعرضوا على الناس من طريف الأفكار ومستحدث النظريات ما حيّر العقول، وأدهش النفوس، لكنّهم لم يقدّموا للناس من سيرتهم أسوة يؤتسى بها، ولا أناروا ظلمات الحياة بقبس من أعمالهم تتضح به مشاكل الإنسانية، فتتمكن من حلّ معضلاتها. وهذا أرسطو قد وضع في فلسفة الأخلاق قوانين أسّس بنيانها، ووطّد أركانها، ولا تزال الجامعات وأساتذتها عاكفين على دراستها: يلقون المحاضرات على طلبتهم في فلسفته، ونسمعهم يثنون على ثقوب فكره، وبعد نظره،
--------------------------------------------
ইমরুল কায়েস এবং তার পরবর্তী সকল জাতির কবিদের অবস্থা ছিল এই যে, তাদের কাজ কেবল সুপ্ত আবেগকে জাগিয়ে তোলা, তন্দ্রাচ্ছন্ন চিন্তাকে জাগ্রত করা কিংবা মনে আনন্দ বা বেদনা সৃষ্টি করাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের থেকে মানবজীবনের জটিল সংকট ও দুরূহ সমস্যাবলির সমাধান প্রত্যাশা করা যায় না। এর কারণ হলো, তারা তাদের বাস্তব জীবন ও কর্মধারায় মানুষের সামনে এমন কোনো আদর্শ পেশ করেন না যা অনুসরণীয় হতে পারে, কিংবা এমন কোনো নমুনা যা তাদের অনুকরণে গ্রহণ করা যায়। প্রজ্ঞাময় কুরআনুল কারীম তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সবচেয়ে সত্য বর্ণনা দিয়ে বলেছে: "আর কবিরা—তাদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা। আপনি কি দেখেন না যে, তারা প্রতিটি উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়? এবং তারা যা করে না, তা-ই বলে। তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তারা ব্যতীত।" [আশ-শুআরা: ২২৪-২২৭]। এর মাধ্যমে প্রজ্ঞাময় কুরআন কবিদের বিষয়ে এটি সাব্যস্ত করেছে যে, তারা তাদের সুকোমল ও সুমিষ্ট কবিতার মাধ্যমে মানবসমাজে কোনো (স্থায়ী) প্রভাব ফেলতে পারে না; কারণ তারা ঈমান ও সৎকর্ম বিহীন চিন্তা ও আবেগের উপত্যকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। যদি তাদের মধ্যে এই দুটি গুণ—ঈমান ও সৎকর্ম—একত্রিত হতো, তবে মানবসমাজে তাদের কবিতার এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকত। মোটের ওপর, সমাজ সংস্কারের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সংস্কার সাধন তাদের কাজও নয়। এই কারণেই তারা বিশ্ব সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালনে এবং মানুষকে পূর্ণাঙ্গ সত্যপথ ও সার্বিক কল্যাণের দিকে পরিচালিত করতে সক্ষম নয়। অতীত ও বর্তমানের জাতিসমূহের ইতিহাস এই সত্যের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
অনুরূপভাবে আমরা দেখি যে, দার্শনিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা তাদের দর্শনের মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে মোহাচ্ছন্ন করেছেন এবং মানবজীবনের গতিধারা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। তারা মানুষের সামনে এমন সব অভিনব চিন্তা ও আধুনিক মতবাদ উপস্থাপন করেছেন যা বুদ্ধিকে হতবুদ্ধি এবং মানবাত্মাকে বিস্মিত করেছে। কিন্তু তারা মানুষের কাছে তাদের জীবন থেকে এমন কোনো আদর্শ পেশ করতে পারেননি যা অনুসরণ করা যায়, কিংবা তাদের কর্মের আলো দিয়ে জীবনের অন্ধকারকে এমনভাবে আলোকিত করতে পারেননি যাতে মানবতার সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠত এবং তারা জটিল সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারত। এই যেমন এরিস্টটল, তিনি নীতিদর্শনের এমন সব মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন যার ভিত্তি তিনি সুদৃঢ় করেছেন এবং স্তম্ভসমূহ মজবুত করেছেন। আজও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং তাদের অধ্যাপকরা তা অধ্যয়নে মগ্ন রয়েছেন: তারা তাদের শিক্ষার্থীদের সামনে তার দর্শনের ওপর বক্তৃতা প্রদান করেন এবং আমরা তাদের শুনি তার চিন্তার সূক্ষ্মতা ও দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وحصافة رأيه، ورجاحة عقله، ولكنّنا- والحقّ يقال- لم نجد رجلا اهتدى بدراسة فلسفة أرسطو، أو وصل بها إلى السعادة المنشودة.
وكذلك نرى في الكلّيات أفاضل من العلماء، وفحول الأساتذة والمدرسين يعجب الطلبة فصيح كلامهم، وبراعة بيانهم، وبليغ حوارهم، وعذب حديثهم، وهم يؤثّرون فيهم بذلاقة ألسنتهم، واتساق أفكارهم، وترتيب معانيهم، لكنّهم لا تعدو محاضراتهم جدران كلياتهم، وقاعات محاضراتهم، وإذا خرجوا منها أصبحوا كعامّة الناس، لا يمتازون عليهم بعمل تتخذه الإنسانية مثالا يحتذى، ولا بخلق يختلفون به عن غيرهم هديا وسمتا.
لقد رأينا على مسرح العالم كثيرا من الملوك الجبابرة الذين حكموا العالم، واستولوا على المماليك، واستعبدوا الأمم. وكم من أرض عمروها، ومدينة دمّروها، وكم وضعوا شعوبا، ورفعوا آخرين، وكم سلبوا، ومنحوا، وضرّوا، ونفعوا، فكانوا في سيرتهم كما قال الله عز وجل على لسان ملكة سبأ: إِنَّ الْمُلُوكَ إِذا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوها وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِها أَذِلَّةً [النمل: 34] . نعم إنّ السيوف البواتر في أيدي بعض الملوك قد قذفت الرّعب في قلوب المجرمين، فكفّوا عن اقتراف الجرائم علانية، وفي وضح النهار، مستترين وراء مكامن الريب، أو قابعين في بيوتهم.
لكنّ سيوف الملوك عجزت عن أن تستلّ الرذائل من قلوب أهلها، وأن تحسم مادة الشرّ في نفوسهم، وأن تطهّر صدورهم من فساد السّرائر، ذلك الفساد الذي يحمل أهله على ارتكاب المعاصي واقتراف السيئات. وأقصى ما يترتّب على رهبة المجرمين والمرجفين من سيف الملوك المسلط عليهم أن يسود الأمن والسّلام سبل البلاد، وأسواق المدن، وشوارعها، وحاراتها، أما إصلاح القلوب، وتهذيب النفوس؛ فمما يخرج عن سلطان السيف، بعجز عن إرادة الملوك. بل الحق- والحقّ أحقّ أن يقال- أنّ رأس كلّ شرّ إنما نجم من قصور بعض الملوك. وإنّ كلّ فساد نبت نابته في فناء حصونهم، بل في قصورهم نبعت عيون الفواحش والجرائم، ومن حصونهم انفجرت ينابيع الظّلم والعدوان، وعلى أيديهم تفاقم كلّ شرّ،
এবং তার মতামতের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব; কিন্তু আমরা—আর সত্য বলাই শ্রেয়—এমন কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পাইনি যে অ্যারিস্টটলের দর্শন অধ্যয়নের মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে অথবা এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্যে পৌঁছেছে।
একইভাবে আমরা বিভিন্ন অনুষদে শ্রেষ্ঠ আলেম, সুদক্ষ অধ্যাপক ও শিক্ষকদের দেখি, যাদের বাকপটুতা, বর্ণনার চমৎকারিত্ব, বাগ্মিতাপূর্ণ সংলাপ এবং মিষ্টভাষে ছাত্ররা মুগ্ধ হয়। তারা তাদের জিহ্বার সাবলীলতা, চিন্তার সামঞ্জস্য এবং অর্থের বিন্যাস দিয়ে ছাত্রদের প্রভাবিত করেন। কিন্তু তাদের বক্তৃতাগুলো কলেজের দেয়াল এবং লেকচার হলের সীমানা অতিক্রম করে না। যখন তারা সেখান থেকে বের হন, তখন তারা সাধারণ মানুষের মতোই হয়ে যান। এমন কোনো কর্ম দ্বারা তারা সাধারণের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন না যাকে মানবজাতি অনুসরণের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, কিংবা এমন কোনো উন্নত চরিত্র দ্বারাও নয় যার মাধ্যমে আদর্শ ও আচরণের দিক থেকে তারা অন্যদের চেয়ে আলাদা হতে পারেন।
আমরা বিশ্বমঞ্চে অনেক প্রতাপশালী রাজাদের দেখেছি যারা বিশ্ব শাসন করেছেন, রাজ্য জয় করেছেন এবং জাতিসমূহকে দাসে পরিণত করেছেন। তারা কত ভূমি আবাদ করেছেন, আবার কত শহর ধ্বংস করেছেন; কত জাতিকে তারা অবনমিত করেছেন এবং কতকে করেছেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন; কত কিছু ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং কত কিছু দান করেছেন, কারো ক্ষতি করেছেন তো কারো উপকার করেছেন। তাদের জীবনাচার ছিল ঠিক তেমনি, যেমনটি মহান আল্লাহ সাবা’র রানীর মুখে ব্যক্ত করেছেন: ‘নিশ্চয়ই রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তখন তারা তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্মানিত অধিবাসীদের অপদস্থ করে।’ [আন-নামল: ৩৪]। হ্যাঁ, কিছু রাজার হাতের তীক্ষ্ণ তলোয়ার অপরাধীদের হৃদয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল, ফলে তারা প্রকাশ্যে এবং দিনের আলোতে অপরাধ করা থেকে বিরত থাকতো, সন্দেহের আড়ালে লুকিয়ে থাকতো অথবা নিজেদের ঘরে অবস্থান করতো।
কিন্তু রাজাদের তলোয়ার মানুষের অন্তর থেকে পাপাচার উপড়ে ফেলতে, তাদের নফস থেকে অনিষ্টের মূল কর্তন করতে এবং গোপন কলুষতা থেকে তাদের বক্ষসমূহকে পবিত্র করতে অক্ষম ছিল। সেই কলুষতা যা মানুষকে নাফরমানি ও পাপাচার করতে উদ্বুদ্ধ করে। রাজাদের উদ্যত তলোয়ারের ভয়ে অপরাধী ও গুজব রটনাকারীদের মনে যে ভীতির সৃষ্টি হয়, তার সর্বোচ্চ ফল হলো দেশের রাস্তাঘাট, শহরের বাজার, সড়ক ও অলিতে-গলিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করা। কিন্তু হৃদয়ের সংশোধন ও নফসের পরিশুদ্ধি তলোয়ারের শাসনের ক্ষমতার বাইরের বিষয় এবং রাজাদের ইচ্ছার অতীত। বরং সত্য—আর সত্য বলাই অধিক সমীচীন—এই যে, সকল অনিষ্টের মূল উৎস মূলত কিছু রাজার ত্রুটি থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। সকল ফাসাদ ও দুর্নীতির অঙ্কুরোদগম ঘটেছে তাদের দুর্গের প্রাঙ্গণে; বরং তাদের প্রাসাদসমূহ থেকেই অশ্লীলতা ও অপরাধের ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়েছে, তাদের দুর্গসমূহ থেকেই জুলুম ও শত্রুতার প্রস্রবণ বিচ্ছুরিত হয়েছে এবং তাদের হাত ধরেই সকল অনিষ্ট চরম আকার ধারণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن أخلاقهم سرت العدوى إلى أخلاق الناس، ولفساد قلوبهم وسوء أعمالهم اتّسع الخرق على الراقع، حتّى أعيا الأطباء داء المجتمع البشري.
وهل خلف لنا الإسكندر المقدوني، وقيصر روما الأعظم مثالا من أعمالهما يصلح المجتمع إذا اقتدى به، وسار على أثرهما فيه؟
وهل نالت حظّا من البقاء والدّوام أيّة سنّة سنّها عظاماء المفكرين للمجتمع البشري من أمثال سولون «1» وغيره من واضعي الشرائع التي يعتبرونها عادلة قيّمة، مع أنّهم أبدعوا فيها ما شاءت لهم أفكارهم الثاقبة، وأنظارهم البعيدة، وقرائحهم المتوقّدة. ولو سأل سائل عن تلك الشرائع القيّمة والقوانين العادلة كم استمرت؟ لما استطاع أحد من أتباعهم وأنصارهم إلا أن يعترف بأن بقاءها كان قصير الأمد، وأنّ نقّادها أكثروا من نقدها، بل شكّ حتى أتباعهم وأنصارهم في نصح أولئك المفكرين، ونقاء سرائرهم، وصفاء قلوبهم، وفي إخلاصهم للإنسانية وللبشر جميعا؛ لأنهم لم يجدوا فيها الحياد الصّادق، والنّصفة المحضة، والعدل الصريح، وبراءة الذمّة من المحاباة، ومن جرّاء ذلك نشأ بعدهم قوم آخرون نبذ حكامهم تلك الشرائع، ومحوها كما يمحو المصححون أخطاء الحروف في الكتابة، ثم شرع هؤلاء الآخرون في سنّ قوانين غيرها تلائم مصالحهم، وتوافق مطامعهم، فجاءت القوانين الجديدة كأختها التي سبقتها غير مراعى فيها حقوق بني آدم كلّهم، ومصالح الأمم بلا استثناء. وفي أيامنا هذه نرى مجالس التشريع في البلاد المتمدينة لا تفتأ تنسخ قوانين كان معمولا بها، وتسنّ بدلا منها قوانين أخرى جديدة، حتى صارت كلّ يوم شريعة تشرّع في مكان شرعية تنسخ، وقانون يسنّ بدلا من قانون يلغى. كل هذا طمعا في بقاء دولة، وتثبيت أركانها، واستيلاء رجالها على مناصبها، ورغبة منهم في زخرف الدنيا وزينتها ونعيمها، لا تحفزهم إلى ذلك مصالح الناس، ولا منافع الأمة كلّها.
--------------------------------------------
এবং তাদের চরিত্র থেকেই মানুষের চরিত্রের মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাদের হৃদয়ের কলুষতা ও কর্মের মন্দ স্বভাবের কারণে ফাটলটি তালিদাতার জন্য এতই প্রশস্ত হয়ে গিয়েছে যে, এমনকি মানবসমাজের ব্যাধি চিকিৎসকদেরও ক্লান্ত করে ফেলেছে।
মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার এবং রোমের মহান সিজার কি তাদের কার্যাবলীর এমন কোনো দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য রেখে গেছেন যা সমাজ সংস্কার করতে পারে, যদি সমাজ তাদের অনুসরণ করে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে?
আর সোলোন এবং অন্যান্য মহান চিন্তাবিদগণ মানবসমাজের জন্য যেসব রীতি প্রবর্তন করেছেন, যা তারা ন্যায়সঙ্গত ও মূল্যবান মনে করেন, সেগুলো কি স্থায়িত্ব ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কোনো অংশ পেয়েছে? যদিও তারা তাতে তাদের প্রখর চিন্তা, দূরদর্শী দৃষ্টি এবং প্রদীপ্ত মেধা দ্বারা যা ইচ্ছা তা-ই উদ্ভাবন করেছিলেন। যদি কোনো জিজ্ঞাসু ব্যক্তি সেই মূল্যবান বিধানাবলী এবং ন্যায়সঙ্গত আইনগুলো কতদিন স্থায়ী হয়েছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তাদের অনুসারী ও সমর্থকদের কেউই এটি স্বীকার না করে পারবে না যে, সেগুলোর স্থায়িত্ব ছিল স্বল্পকালীন। এমনকি পর্যালোচনাকারীরা সেগুলোর সমালোচনা অনেক বেশি করেছেন, বরং তাদের অনুসারী ও সমর্থকরাও সেই চিন্তাবিদদের সদুপদেশ, তাদের অন্তরের বিশুদ্ধতা, হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা এবং মানবজাতি ও সমস্ত মানুষের প্রতি তাদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে; কারণ তারা তাতে সত্যনিষ্ঠ নিরপেক্ষতা, বিশুদ্ধ ইনসাফ, স্পষ্ট ন্যায়বিচার এবং পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত কোনো কিছু খুঁজে পায়নি। যার ফলে তাদের পরে অন্য এমন এক জাতির উদ্ভব হয়েছে যাদের শাসকরা সেইসব বিধান বর্জন করেছে এবং সেগুলো এমনভাবে মুছে ফেলেছে যেমন সংশোধনকারীরা লেখার ভুল বর্ণগুলো মুছে ফেলে। অতঃপর এই পরবর্তী লোকেরা অন্য এমন সব আইন প্রণয়ন শুরু করেছে যা তাদের স্বার্থের অনুকূল এবং তাদের লোভ-লালসার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে নতুন আইনগুলো তার পূর্ববর্তী আইনগুলোর মতোই হয়ে এসেছে, যেখানে আদম সন্তানদের অধিকার এবং ব্যতিক্রমহীনভাবে সকল জাতির স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি। আর বর্তমান সময়ে আমরা সভ্য দেশগুলোর আইনসভাগুলোকে দেখছি যে তারা সর্বদা কার্যকর আইনগুলো বাতিল করছে এবং তার পরিবর্তে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে, এমনকি অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে প্রতিদিন একটি বাতিলকৃত বিধানের স্থলে নতুন বিধান জারি করা হচ্ছে এবং একটি রহিতকৃত আইনের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসবই করা হচ্ছে রাষ্ট্রের টিকে থাকার লালসায়, এর স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করতে এবং এর ব্যক্তিদের পদগুলো দখল করে রাখতে, আর দুনিয়ার চাকচিক্য, সৌন্দর্য ও নিআমতের প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষার কারণে; মানুষের স্বার্থ বা সমগ্র জাতির কল্যাণ তাদের এই কাজে উদ্বুদ্ধ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
سادتي: لقد حدّثتكم عن الطبقة العليا من بني آدم، ممّن يظنّ بهم أنّهم معقد الرّجاء في إصلاح الحياة الاجتماعية وتوجيهها نحو الإرشاد. وقد علمتم من أحوالهم وسيرهم كيف خابت فيهم الآمال، وأخفق الرجاء.
والحقّ أنّ كلّ خير ترون له أثرا في بقعة من بقاع الأرض، وكلّ نور يومض «1» في أيّة أمّة حتى لو كان ضئيلا، وكلّ إثارة من صلاح، أو كرم خلق، أو صفاء سريرة وطهارة قلب، فإن ممّا لا ريب فيه أن مردّه في الأصل إلى رسالات الله، أي إلى هداية النبيين عليهم السلام. فإذا وقعت أنظاركم في بقعة من أرض الله على مظهر من مظاهر العدل يسود الناس، أو رحمة في قلوب طائفة يتبادلونها بينهم، أو وجدتم فئة تتعامل بالتواسي ويساعد أيسارهم ذوي فاقتهم، وأقوياؤهم المظلومين منهم، وأهل العافية فيهم يغيثون الملهوفين، ويطعمون الأيتام، ويعولون الأيامى؛ فاعلموا جازمين غير مرتابين بأنّ هذه الفضائل من آثار تعاليم تلك الطائفة الطاهرة التي تسمّى «الأنبياء» صلاة الله وسلامه عليهم. وذلك لأنّ أقطار الأرض كلّها- على سعتها- قد بلغتها دعوة الأنبياء، وطرقت مسامع أهلها سنن هدايتهم، وأحكام تشريعهم، وحكمة رسالتهم، وما من أمّة إلّا وقد أرسل الله فيها رسله منذرين ومبشرين وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلا فِيها نَذِيرٌ [فاطر: 24] وَلِكُلِّ قَوْمٍ هادٍ [الرعد: 7] ولولا الأنبياء لتهارج الناس كالبهائم، ولتهارشوا كالسّباع الضّواري. فحيثما رأيتم شيئا من الصلاح، وقليلا من الخير، أو كثيرا منه؛ فهو من تعاليمهم، وكلّ دعوة للحقّ في مكان ما من الأرض فإنّما هي صدى لرسالات الله. وحتى الهمج في مجال إفريقية، فضلا عن الأمم الغربية المتمدينة، كل أولئك استقوا من منهل النبوات الصّافي، واستضاؤوا بأنوار الله التي بعث بها أنبياءه، ولا يزالون يستنيرون بهم في كل ما يسمّى حقّا، وكل ما تدلّ عليه عناوين الخير.
--------------------------------------------
হে আমার সুধীজন: আমি আপনাদের নিকট আদম সন্তানদের উচ্চশ্রেণি সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যাদের সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে তারাই সামাজিক জীবন সংস্কার এবং তাকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে আশার কেন্দ্রবিন্দু। তাদের অবস্থা ও জীবনচরিত থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন যে কীভাবে তাদের ব্যাপারে প্রত্যাশাগুলো ব্যর্থ হয়েছে এবং আশা নিষ্ফল হয়েছে।
আর সত্য কথা এই যে, পৃথিবীর কোনো এক ভূখণ্ডে আপনারা যে কল্যাণেরই কোনো চিহ্ন দেখতে পান, অথবা কোনো জাতির মধ্যে যে আলোরই ঝিলিক (১) দেখা দেয় তা যত সামান্যই হোক না কেন, কিংবা কোনো সংস্কারের অংশ, অথবা চরিত্রের মহানুভবতা, কিংবা অন্তরের শুভ্রতা ও হৃদয়ের পবিত্রতা—নিঃসন্দেহে তার মূল উৎস হলো আল্লাহর রিসালাতসমূহ, অর্থাৎ নবিগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) হিদায়াত। সুতরাং যখন আল্লাহর জমিনের কোনো ভূখণ্ডে আপনাদের দৃষ্টি মানুষের মাঝে বিরাজমান ইনসাফের কোনো নিদর্শনের ওপর পড়ে, কিংবা কোনো এক জনগোষ্ঠীর হৃদয়ে একে অপরের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার ওপর পড়ে, অথবা এমন কোনো দল দেখতে পান যারা পারস্পরিক সমবেদনার সাথে আচরণ করে এবং যাদের স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করে, আর তাদের শক্তিশালীরা মজলুমদের সহায়তা করে, এবং তাদের মধ্যকার সুস্থ ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা বিপদগ্রস্তদের উদ্ধার করে, এতিমদের আহার করায় এবং বিধবা ও নিঃস্বদের ভরণপোষণ দেয়; তখন কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে দৃঢ়ভাবে জেনে রাখুন যে, এই সমস্ত গুণাবলি সেই পবিত্র দলের শিক্ষার প্রভাব যা 'নবি' (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) নামে পরিচিত। এর কারণ হলো, পৃথিবীর সমস্ত দিগন্ত—তার বিশালতা সত্ত্বেও—নবিগণের দাওয়াত সেখানে পৌঁছেছে, আর সেখানকার অধিবাসীদের কর্ণকুহরে তাঁদের হিদায়াতের পদ্ধতি, তাঁদের শরয়ি বিধান এবং তাঁদের রিসালাতের হিকমত করাঘাত করেছে। এমন কোনো জাতি নেই যাদের নিকট আল্লাহ সতর্ককারী ও সুসংবাদদানকারী হিসেবে স্বীয় রাসুলগণকে প্রেরণ করেননি; 'এবং এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি' [ফাতির: ২৪] এবং 'প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই হিদায়াতকারী রয়েছে' [রা'দ: ৭]। যদি নবিগণ না থাকতেন, তবে মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বিশৃঙ্খলা করত এবং হিংস্র পশুর ন্যায় একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। সুতরাং আপনারা যেখানেই কোনো সংস্কারের কাজ এবং যৎসামান্য বা প্রচুর কল্যাণ দেখতে পান, তা তাঁদেরই শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত। আর পৃথিবীর যেকোনো স্থানে সত্যের প্রতিটি ডাকই হলো আল্লাহর রিসালাতসমূহেরই প্রতিধ্বনি। এমনকি আফ্রিকার প্রান্তরের অসভ্য মানুষ থেকে শুরু করে পশ্চিমা সভ্য জাতিসমূহ পর্যন্ত—তারা সকলেই নবুওয়তের স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা থেকে পান করেছে এবং আল্লাহর সেই নূর দ্বারা আলোকিত হয়েছে যা দিয়ে তিনি তাঁর নবিগণকে পাঠিয়েছিলেন। আর আজও তারা সেই সমস্ত বিষয়ে তাঁদের আলো গ্রহণ করে চলেছে যাকে সত্য বলা হয় এবং কল্যাণের প্রতিটি শিরোনাম যা নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خلود دعوة الرسل واضمحلال دعاوى غيرهم:إنّ الصفوة المختارة من أهل الطبقة العليا في البشر هم الذين يحكمون القلوب، وتنقاد لسيادتهم النفوس. وأين هؤلاء من الملوك الذين يحكمون الجسوم، ويملكون الأبدان، ويستولون على البلاد؟ أولئك تجري أوامرهم، وتنفذ أحكامهم حيث تخفق القلوب، وإذا كانوا لا يملكون الأسلحة التي يملكها الملوك وأمراء الأجناد، فإنهم يطهّرون الأنفس من آثامها، ويستأصلون الجرائم قبل وقوعها، حيث يجتثون من القلوب جذور الشرور.
وإذا لم يكن لهم ما للشعراء من أناشيد يتغنّى الناس بها؛ فإن الأمم لا تزال تستحلي كلامهم العذب، وتستعذب حديثهم الحلو. لا ريب أنّه لم يكن الرسل رؤساء المجالس التشريعية بالمعنى الحديث، لكنّ سننهم، وتشريعاتهم لا تزال- على تطاول الأيام ومضيّ القرون- نافذة بين الطوائف، يقدّسها علية الناس وسفلتهم، وأحكامهم منقوشة على صفحات القلوب، تذعن لها السّوقة والملوك، ويستسلم لها الفقراء، ويخضع لها الأغنياء.
إنّ يد الأيام قد عبثت- كما يشهد التاريخ بالراجا (أشوكا) «1» ملك (باتلي باتر) «2» ولم تبق يد البلى من أوامره وأحكامه إلا صخورا منقوشة، وحجارة منحوتة. أما (بوذا) «3» فإنه لا يزال يحكم القلوب، وسننه وقوانينه لا يزال كثير من الناس يدينون لها ويطأطئون الرؤوس لحرمتها. وإنّ أوامر ملوك (أجّين) «4» و (هستابور) «5» في دهلي
--------------------------------------------
রাসুলগণের দাওয়াতের অমরত্ব এবং অন্যদের দাবিসমূহের বিলুপ্তি:নিশ্চয়ই মানবজাতির উচ্চস্তরের সেই মনোনীত ও নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গই হৃদয়ের ওপর রাজত্ব করেন এবং তাদের নেতৃত্বের প্রতি আত্মাসমূহ অনুগত হয়। সেসকল রাজাদের সাথে তাদের তুলনা কোথায় যারা কেবল দেহের ওপর রাজত্ব করে, শরীরের মালিক হয় এবং দেশ দখল করে? তারা (রাসুলগণ) এমন ব্যক্তিত্ব যাদের আদেশসমূহ কার্যকর হয় এবং যাদের বিধানসমূহ বাস্তবায়িত হয় সেখানে যেখানে হৃদস্পন্দন অনুভূত হয়। যদিও তাদের নিকট রাজন্যবর্গ ও সেনাপতিদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নেই, তথাপি তারা আত্মাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করেন এবং সংঘটিত হওয়ার আগেই অপরাধ নির্মূল করেন, যেহেতু তারা হৃদয় থেকে মন্দের শিকড় উপড়ে ফেলেন।
আর কবিদের ন্যায় তাদের যদিও এমন কোনো সঙ্গীত নেই যা মানুষ গেয়ে বেড়াবে; তবুও জাতিসমূহ এখনো তাদের সুমিষ্ট বাণীর স্বাদ আস্বাদন করে এবং তাদের হৃদয়গ্রাহী আলোচনাকে তৃপ্তিদায়ক মনে করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসুলগণ আধুনিক অর্থে আইনসভার প্রধান ছিলেন না, কিন্তু তাদের সুন্নাহ ও বিধিবিধানসমূহ—দীর্ঘ কাল ও শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও—বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর রয়েছে। সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত সকলেই একে পবিত্র জ্ঞান করে। তাদের বিধানসমূহ হৃদয়ের পাতায় খোদাই করা রয়েছে, যার সামনে সাধারণ প্রজা থেকে রাজা পর্যন্ত সকলেই নতি স্বীকার করে এবং যার কাছে দরিদ্ররা আত্মসমর্পণ করে ও ধনীরা মস্তক অবনত করে।
ইতিহাস যেমনটি সাক্ষ্য দেয়—সময়ের হাত পাটলিপুত্রের রাজা (অশোক)-এর সাথে খেলা করেছে এবং জরাজীর্ণতার হাত তার আদেশ ও বিধানগুলোর মধ্য থেকে খোদাই করা শিলা ও খোদাই করা পাথর ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। পক্ষান্তরে (বুদ্ধ) এখনো হৃদয়ের ওপর রাজত্ব করছেন, এবং তার রীতিনীতি ও আইনসমূহের প্রতি এখনো অনেক মানুষ আনুগত্য প্রকাশ করে এবং এর মর্যাদার সামনে মস্তক অবনত করে। আর দিল্লির উজ্জয়িনী ও হস্তিনাপুরের রাজাদের আদেশসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقنّوج «1» أمست أثرا بعد عين، بل درست آثارهم، وعفت أعلامهم، وأصبحت ديارهم كأطلال خولة، أما (دهرم شاستر) «2» وهو كتاب العقائد الذي جاء به (منو) فلا زال باقيا نافذا أمره.
والملك (حمورابي) من ملوك بابل كان أول من سنّ القوانين، ولكن أين أوامره وأحكامه؟ لقد نسجت عليها العنكبوت منذ زمان طويل، ولم تدع يد البلى من قوانينه وأحكامه شيئا. أما تعاليم نبي الله إبراهيم عليه السلام فما برحت غضّة طرّية.
وأين فرعون ودعواه أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلى [النازعات: 24] ؟ لقد أصبحت أضحوكة! أما نبيّ الله موسى عليه السلام؛ فإنه يسود نوازع القلوب، ويملك أهواء النفوس، ويدين له كثير من الناس، وتسلم لآياته وبيناته طوائف غير قليلة.
وقوانين سولون زال العمل بها وشيكا، بينما التوراة المنزلة من السماء لا تنفكّ أحكامها وقوانينها قسطاس العدل وميزان النصفة.
والقانون الرّوماني الذي عدّ عيسى عليه السلام جانيا مجرما بمقتضى أحكامه، واعتبره قد اجترح السوء، وأتى ذنبا، قد خلت القرون تسفيه برياحها فأصبح هشيما مضمحلا. أما عيسى عليه السلام فإنّ تعليمه لا يزال نورا تجلى به ظلمات القلوب، وهدى تطهر به نفوس المذنبين، وتزكى به أرواح المجرمين.
وأين أبو جهل «3» وكبرياؤه، وأين كسرى الفرس ودولته وجبروته؟ وأين قيصر الروم وحكومته وطغيانه؟ كلّ أولئك قد طوى الدّهر صحائفهم، وطمست الأقدار دولهم، وتهدّم مجدهم، وذهبوا أدراج الرياح، أمّا
--------------------------------------------
আর কনৌজ «১» এখন কেবল অতীত স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে, বরং তাদের চিহ্নসমূহ মুছে গেছে, তাদের কীর্তিস্তম্ভগুলো বিলীন হয়েছে এবং তাদের জনপদসমূহ খাওলার ধ্বংসাবশেষের মতো হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে (ধর্মশাস্ত্র) «২», যা মানু কর্তৃক আনীত একটি আকিদার গ্রন্থ, তা এখনও অবশিষ্ট রয়েছে এবং তার বিধান কার্যকর আছে।
আর বাবিলের রাজাদের মধ্যে রাজা (হাম্মুরাবি) ছিলেন প্রথম আইন প্রণেতা, কিন্তু কোথায় আজ তাঁর আদেশ ও বিধানসমূহ? দীর্ঘকাল পূর্বেই মাকড়সা তার ওপর জাল বুনেছে এবং জরাজীর্ণতার হাত তাঁর আইন ও বিধানের কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। পক্ষান্তরে আল্লাহর নবী ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শিক্ষা আজও সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে আছে।
আর ফেরাউন এবং তার সেই দাবি ‘আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ রব’ [আন-নাযিআত: ২৪] কোথায় গেল? তা আজ এক উপহাসে পরিণত হয়েছে! পক্ষান্তরে আল্লাহর নবী মুসা আলাইহিস সালাম; তিনি হৃদয়ের স্পন্দনসমূহকে শাসন করছেন, প্রাণের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, অসংখ্য মানুষ তাঁর অনুগত এবং বহু দল তাঁর নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণাদির সামনে আত্মসমর্পণ করেছে।
আর সোলোনের আইনের প্রয়োগ অতি দ্রুতই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অথচ আসমান থেকে অবতীর্ণ তাওরাতের বিধান ও আইনসমূহ ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের মাপকাঠি হিসেবে সদা বিদ্যমান।
আর রোমান আইন, যা তার বিধান অনুযায়ী ঈসা আলাইহিস সালামকে একজন অপরাধী ও পাপিষ্ঠ সাব্যস্ত করেছিল এবং তাঁকে মন্দ কাজে লিপ্ত ও গুনাহগার মনে করেছিল—যুগ-যুগান্তরের বাতাস তাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে এবং তা আজ বিশীর্ণ খড়কুটোয় পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে ঈসা আলাইহিস সালামের শিক্ষা আজও এমন এক নূর হয়ে আছে যার দ্বারা অন্তরের অন্ধকার দূরীভূত হয়, এমন এক হেদায়েত যার মাধ্যমে পাপিষ্ঠদের নফস পবিত্র হয় এবং অপরাধীদের রূহ পরিশুদ্ধ হয়।
আর আবু জেহেল «৩» এবং তার অহংকার কোথায়? কোথায় পারস্যের কিসরা, তার সাম্রাজ্য ও প্রতাপ? কোথায় রোমের কায়সার, তার শাসন ও জুলুম? কালচক্র তাদের নাম-নিশানা মুছে দিয়েছে, নিয়তি তাদের রাষ্ট্রসমূহকে বিলীন করেছে, তাদের গৌরব ধুলোয় মিশে গেছে এবং তারা বাতাসের সাথে উড়ে গেছে। পক্ষান্তরে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
محمّد رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنّ حكمه ما زال ولن يزال باقيا على الدّهر، وأوامره نافذة، وسنته متبعة في كلّ زمان ومكان.
ما من طائفة من الناس أصلحت فساد المجتمع إلا الأنبياء:سادتي وأصدقائي: أظنّكم قد استمعتم لما ألقيت عليكم من الأدلة العقلية والبراهين التاريخية، وإخالها قد تركت فيكم أثرا أورث في قلوبكم يقينا بأنّه لم تكن طائفة من الناس أصلحت من فساد الأخلاق، وقوّمت من عوجها، وهذبت النّفوس وهدتها من ضلال البشر مثل الذي قام به الأنبياء عليهم السلام، فهم الذين أصلحوا الحياة الاجتماعية، وعلّموا الناس الاقتصاد في المعيشة والاعتدال في كلّ شيء. وهم الذين أقاموا العدل في الدنيا، وحكموا بالقسط بين الناس، وزكّوا القلوب، وأخذوا بيد الإنسانية إلى الحق والخير، وأنقذوها من حمأة الرذائل. وإنّ الله سبحانه قد بعثهم ليخرجوا الناس من الظلمات- ظلمات العقائد، وظلمات الأخلاق، وظلمات الأعمال- إلى النور: نور الإيمان، ونور الخلق الكريم، ونور العمل الصّالح. وتركوا بعدهم سنة للناس، يتبعها السّوقة، ويعمل بها الملوك، وينتفع بها صغار الناس وكبارهم، ويتمتّع بخيراتها الأغنياء والبؤساء على السّواء. وإن مثل الأسوة بهم كمثل عين ثرّة فيّاضة تروي البلاد، وتسقي العباد، يشرب منها كلّ عطشان بقدر حاجته، ويرتوي بمائها العذب الزلال كلّ ظمان، فينقع غلّته وَتِلْكَ حُجَّتُنا آتَيْناها إِبْراهِيمَ عَلى قَوْمِهِ نَرْفَعُ دَرَجاتٍ مَنْ نَشاءُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ (83) وَوَهَبْنا لَهُ إِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ كُلًّا هَدَيْنا وَنُوحاً هَدَيْنا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ داوُدَ وَسُلَيْمانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسى وَهارُونَ وَكَذلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (84) وَزَكَرِيَّا وَيَحْيى وَعِيسى وَإِلْياسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ (85) وَإِسْماعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطاً وَكلًّا فَضَّلْنا عَلَى الْعالَمِينَ (86) وَمِنْ آبائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوانِهِمْ وَاجْتَبَيْناهُمْ وَهَدَيْناهُمْ إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ (87) ذلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشاءُ مِنْ عِبادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ ما كانُوا يَعْمَلُونَ (88) أُولئِكَ الَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ فَإِنْ يَكْفُرْ بِها هؤُلاءِ فَقَدْ وَكَّلْنا بِها قَوْماً لَيْسُوا بِها بِكافِرِينَ (89) أُولئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُداهُمُ اقْتَدِهْ [الأنعام: 83- 90] .
মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), কেননা তাঁর বিধান চিরকাল অবশিষ্ট ছিল এবং থাকবে, তাঁর আদেশসমূহ কার্যকর এবং তাঁর সুন্নাত প্রতিটি যুগে ও স্থানে অনুসৃত।
নবীদের দল ছাড়া মানুষের আর কোনো দলই সমাজের অবক্ষয় সংশোধন করেনি:আমার সুধীবৃন্দ ও বন্ধুগণ: আমি মনে করি যে আমি আপনাদের সামনে যেসব যৌক্তিক দলিল এবং ঐতিহাসিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি তা আপনারা শুনেছেন, এবং আমি ধারণা করছি যে সেগুলো আপনাদের ওপর এমন প্রভাব ফেলেছে যা আপনাদের হৃদয়ে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্ম দিয়েছে যে, নবীদের (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) মতো মানুষের আর কোনো দলই নৈতিক অবক্ষয় সংশোধন করেনি, বক্রতাকে সোজা করেনি এবং আত্মাকে পরিশীলিত ও মানুষের পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াত দেয়নি যেমনটি নবীরা (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) করেছেন। তারাই সামাজিক জীবন সংশোধন করেছেন এবং মানুষকে জীবনযাপনে মিতব্যয়িতা ও প্রতিটি বিষয়ে মধ্যপন্থা শিক্ষা দিয়েছেন। তারাই পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন, মানুষের মধ্যে ইনসাফের সাথে বিচার করেছেন, অন্তরসমূহকে পবিত্র করেছেন এবং মানবতার হাত ধরে সত্য ও কল্যাণের দিকে নিয়ে গেছেন এবং তাকে পঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে পাঠিয়েছেন যেন তারা মানুষকে অন্ধকার থেকে—আকীদার অন্ধকার, চরিত্রের অন্ধকার এবং আমলের অন্ধকার থেকে—আলোর দিকে বের করে আনেন: ঈমানের আলো, উত্তম চরিত্রের আলো এবং নেক আমলের আলো। এবং তারা তাদের পরে মানুষের জন্য এমন একটি পথ (সুন্নাত) রেখে গেছেন যা সাধারণ মানুষ অনুসরণ করে, রাজন্যবর্গ তা নিয়ে আমল করে এবং ছোট-বড় সকল মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হয়; ধনী এবং নিঃস্ব সবাই সমানভাবে এর কল্যাণ ভোগ করে। তাদের আদর্শের উদাহরণ হলো একটি প্রবাহমান ঝরনার মতো যা দেশসমূহকে সিক্ত করে এবং বান্দাদের তৃষ্ণা মেটায়, যেখান থেকে প্রত্যেক তৃষ্ণার্থ তার প্রয়োজন অনুযায়ী পান করে এবং প্রতিটি পিপাসার্ত ব্যক্তি এর সুপেয় ও স্বচ্ছ পানি দ্বারা পরিতৃপ্ত হয়, ফলে তার পিপাসা নিবারিত হয়। "আর এটিই ছিল আমার দলিল, যা আমি ইবরাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। নিশ্চয়ই তোমার রব প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ। (৮৩) এবং আমি তাকে দান করেছি ইসহাক ও ইয়াকুবকে; প্রত্যেককেই আমি হেদায়াত দিয়েছি। আর এর আগে আমি নূহকে হেদায়াত দিয়েছিলাম এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে দাউদ, সুলাইমান, আইউব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকে। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি। (৮৪) আর যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলিয়াসকে; তারা সকলেই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। (৮৫) আর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা, ইউনুস ও লুতকে; এবং তাদের প্রত্যেককেই আমি বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (৮৬) আর তাদের পিতৃপুরুষ, বংশধর ও ভাইদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আমি মনোনীত করেছি এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে হেদায়াত দিয়েছি। (৮৭) এটিই আল্লাহর হেদায়াত, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে হেদায়াত দেন। আর তারা যদি শিরক করত তবে তারা যা আমল করত তা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত। (৮৮) এরাই তারা যাদেরকে আমি কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছি। সুতরাং যদি এরা তা অস্বীকার করে, তবে আমি এর জন্য এমন এক সম্প্রদায়কে নিযুক্ত করেছি যারা একে অস্বীকারকারী নয়। (৮৯) এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দিয়েছেন, সুতরাং তুমি তাদের হেদায়াত অনুসরণ করো।" [আল-আনআম: ৮৩-৯০] .
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ترون في هذه الآيات ذكر طائفة خاصّة، وسمّي فيها بعض الذين بعثهم الله لهداية الناس، وفوّض إليهم أمر إصلاح المجتمع: فهم الشّفاء لمرضى القلوب، وبهم البرء لسقام النفوس، وهم هداة الغاوين، الآخذون على أيدي الطغاة، والمرشدون لأهل البغي، والناهون عن المنكرات، وهم الطائفة المقدّسة التي عمّ هديها، وجاد غيثها جميع أنحاء المعمورة، فاستضاء الناس كلّهم بنور هؤلاء الرسل في مختلف الأزمنة وشتّى العصور.
وإنّ الذي نراه في الأمم من الخير والصلاح، وكرم الخلق، وحسن العمل، وطهارة السيرة، وعلوّ النفس، وزكاء الرّوح، ونزاهة القلب، إنّما هو قطرة من بحر تعاليم الأنبياء عليهم السلام، ولمحة من جمال شرائعهم، وأثارة من بركات سيرتهم. وإنّ الإنسانية القلقة المتألمة لا تزال تفتقد آثارهم، وتحرص على اتباع سننهم، ليذهب بذلك روعها، ويطمئنّ قلبها، فتقر الحياة الاجتماعية، وتجد بعض راحتها. ولو أنّ الناس اتبعوا سنن الأنبياء، واستقاموا على الطريق الذي دلوهم عليه؛ لساد الوئام بين الأمم، وعمّ السلام في العالمين.
لقد كان الأنبياء جميعا على خلق عظيم، وقد أوتوا من حميد الخصال، ومعالي الأخلاق ما لم يؤت أحد غيرهم مثله. غير أنّ منهم من تجلّى فيه خلق من الأخلاق، فكان فيه أبرز من غيره وأظهر، فنبيّ الله نوح كان متحمسا في تبليغ الدّين، وإبراهيم كان شديد العناية بأمر التوحيد، وورثه في ذلك إسحاق، وحبب الإيثار إلى إسماعيل، وجاهد موسى جهادا عظيما، وآزره في الحق أخوه هارون، وظهرت الإنابة والاعتراف بالخطأ في يونس، وكان لوط مجاهدا، وغلب على يعقوب التسليم والرضا بأمر الله، وكان داود يرثي للحقّ وخذلانه، وامتلأ قلب سليمان بالحكمة، وكان زكريا متعبدا، وتجلّى في يحيى العفاف، وطهارة النفس، أما عيسى فكان مظهر الزّهد في الدّنيا والرّغبة عن زهرتها، وكان أيوب صبورا على الآلام. وهذه الخصال العالية والأخلاق الفاضلة هي التي يتشرّف بها العالم، وتسعى الأمم للتحلّي بها، وحيثما وجدتم من هذه الخصال
আপনারা এই আয়াতগুলোতে একটি বিশেষ দলের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছেন, এবং এতে এমন কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের আল্লাহ তাআলা মানুষের হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করেছেন এবং সমাজের সংশোধনের দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পণ করেছেন। তাঁরা হলেন রুগ্ন অন্তরের জন্য আরোগ্য এবং আত্মিক ব্যাধির নিরাময়। তাঁরা পথভ্রষ্টদের পথপ্রদর্শক, অত্যাচারীদের হাত পাকড়াওকারী, বিদ্রোহীদের দিশারী এবং মন্দ কাজ থেকে বারণকারী। তাঁরাই সেই পবিত্র দল যাঁদের হিদায়াত সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়েছে এবং যাঁদের কৃপাবৃষ্টি পৃথিবীর সকল প্রান্তে বর্ষিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে ও ভিন্ন ভিন্ন যুগে সকল মানুষ এই রাসূলগণের নূর দ্বারা আলোকিত হয়েছে।
জাতিসমূহের মধ্যে আমরা যে কল্যাণ, সংস্কার, উন্নত চরিত্র, উত্তম কর্ম, পবিত্র জীবনচরিত, আত্মার উচ্চতা, রুহের পবিত্রতা এবং হৃদয়ের স্বচ্ছতা দেখতে পাই, তা মূলত নবিগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) শিক্ষা-সমুদ্রের এক বিন্দু জলরাশি মাত্র। এটি তাঁদের শরিয়তের সৌন্দর্যের একটি ঝলক এবং তাঁদের পুণ্যময় জীবনচরিতের বরকতের কিঞ্চিৎ নিদর্শন। এই উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত মানবতা আজও তাঁদের পদাঙ্ক তালাশ করে এবং তাঁদের সুন্নতের অনুসরণে আগ্রহী থাকে, যাতে এর মাধ্যমে তাদের আতঙ্ক দূর হয় এবং হৃদয়ে প্রশান্তি আসে। ফলে সামাজিক জীবন স্থিতিশীল হয় এবং কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পায়। যদি মানুষ নবিগণের সুন্নতের অনুসরণ করত এবং তাঁরা যে পথের দিশা দিয়েছেন তাতে অবিচল থাকত, তবে জাতিসমূহের মধ্যে সম্প্রীতি বিরাজ করত এবং বিশ্বে শান্তি ছড়িয়ে পড়ত।
নবিগণের সকলেই মহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তাঁদের এমন প্রশংসনীয় গুণাবলি ও উচ্চাঙ্গের নৈতিকতা দান করা হয়েছিল যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। তবে তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যাঁদের মাঝে কোনো বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অন্যদের তুলনায় অধিক বিকশিত ও সুস্পষ্ট ছিল। আল্লাহর নবি নূহ ছিলেন দীন প্রচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উৎসাহী। ইবরাহীম তাওহিদের বিষয়ে অতিশয় যত্নবান ছিলেন এবং ইসহাক তাঁর থেকে এই বৈশিষ্ট্য উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ইসমাঈলের নিকট আত্মত্যাগকে প্রিয় করা হয়েছিল। মূসা এক মহান সংগ্রাম করেছিলেন এবং সত্যের পথে তাঁর ভাই হারুন তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। ইউনুসের মাঝে আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ ও নিজের ভুল স্বীকারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল। লূত ছিলেন একজন সংগ্রামী। ইয়াকূবের ওপর আল্লাহর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ ও সন্তুষ্টির বিষয়টি প্রবল ছিল। দাউদ সত্যের নিঃসঙ্গতা ও এর বিপর্যয়ের জন্য শোকাতুর হতেন। সুলায়মানের অন্তর হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। যাকারিয়া ছিলেন একনিষ্ঠ ইবাদতকারী। ইয়াহইয়ার মাঝে চারিত্রিক পবিত্রতা ও আত্মার শুভ্রতা বিকশিত হয়েছিল। আর ঈসা ছিলেন দুনিয়াবিমুখতা ও পার্থিব চাকচিক্যের প্রতি অনাগ্রহের মূর্ত প্রতীক। আইয়ূব দুঃখ-কষ্টের ওপর পরম ধৈর্যশীল ছিলেন। এই সুউচ্চ বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠ গুণাবলি দ্বারাই বিশ্ব গৌরবান্বিত হয় এবং জাতিসমূহ এই গুণাবলি অর্জনে সচেষ্ট থাকে। আর যেখানেই আপনারা এই গুণাবলির দেখা পাবেন—
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الحميدة والفضائل النبيلة أثرا؛ فكونوا على يقين بأنها من نفثات أولئك الأنبياء، ومن آثار تعليمهم.
إنّ تقدّم المدنيّة الصّالحة، وتوفير عوامل الهناء والرّغد للنّاس، وبلوغ الإنسانية مقام الشّرف، قد ساهمت فيه جميع الطوائف التي اشتركت في عمارة العالم: فعلماء الهيئة اكتشفوا للناس نظام سير الكواكب، والحكماء دلّوا على خواص الأعمال وتأثيرها في الأخلاق، ووصف الأطباء النّطاسيّون خواص العقاقير وتأثير الأدوية في الأدواء، وتفنّن المهندسون في تشييد المباني ومرافقها، وإقامة القصور ومعالمها، وعقدوا على الأنهار القناطر والجسور، واتّسع أهل الصناعات في تنويعها، وإتقانها، وتيسير الأعمال للعمال، فكان من مجموع هذه الجهود عمارة الأرض، ولكلّ فريق من أصحاب هذه الجهود يد في اكتمال المدنية، وتقدّم الحضارة، ونحن نذكر لهم ذلك بالثناء والشكر، غير أننا لا نستطيع أن ننسى أنّ أنبياء الله وحملة رسالاته هم الذين غمرونا بالمنن العظمى؛ لأنّهم عملوا لإصلاح فساد القلوب، واستئصال كوامن الشرور، وتطهير النفوس، وتزكيتها من الأهواء الفاسدة، والأطماع السافلة، والميول المهلكة، فنهجوا بذلك منهج السعادة للحياة الاجتماعية، وبيّنوا للناس ما تعلو به نفوسهم، وما تسفل به، وما تكون به شريفة أو منحطة، فكملت الثقافة الإنسانية برسالاتهم، وبلغت الحضارة بذلك مبلغ الكمال، وتيسّر للمجتمع البشري أن يكون صالحا إذا شاء، وقد أصبح من المتعارف عند الناس أنّ الأخلاق الفاضلة، والسيرة الطاهرة هي شرف الإنسانية ومجدها، ومكارم الأخلاق، ومحاسن العوائد أصل الإنسانية وجوهرها.
وبتعاليم الأنبياء توثّقت العلاقة بين الخلق وخالقه، وحسنت الرابطة بين العبد ومولاه، فتذكّر الإنسان عهده الأزليّ الذي أخذه على نفسه لربه، ولولا الأنبياء، وتعاليمهم، وتجليتهم أسرار النفوس، وكشفهم عن غرائز الفطرة الإنسانية، وما يسعد به المرء أو يشقى؛ لم تبلغ الإنسانية ما بلغته، ولذلك كانت الإنسانية مثقلة بمنن الرسل سلام الله عليهم، فإنّ لهم علينا من الأيادي البيضاء ما لا كفاء له. ومن عرف هذا عرف معه ما يجب لأنبياء
প্রশংসনীয় প্রভাব এবং মহৎ গুণাবলি; সুতরাং আপনারা নিশ্চিত থাকুন যে, এগুলো সেই নবীদেরই শিক্ষা এবং তাঁদের নির্দেশনারই প্রভাব।
নিশ্চয়ই কল্যাণকর সভ্যতার অগ্রগতি, মানুষের জন্য সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ নিশ্চিত করা এবং মানবতার সম্মানের উচ্চ শিখরে আরোহণ—এই সবকিছুর পেছনে সেই সকল গোষ্ঠীর অবদান রয়েছে যারা পৃথিবী আবাদ করার কাজে শরিক হয়েছে: জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ মানুষের জন্য গ্রহ-নক্ষত্রের পরিক্রমণ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ কর্মের বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্রে তার প্রভাব প্রদর্শন করেছেন, দক্ষ চিকিৎসকগণ ভেষজ গুণাবলি এবং রোগের ওপর ওষুধের ক্রিয়া বর্ণনা করেছেন, প্রকৌশলীরা ভবন ও তার সুযোগ-সুবিধা নির্মাণে এবং প্রাসাদ ও তার স্থাপত্যশৈলী স্থাপনে নিপুণতা দেখিয়েছেন, তাঁরা নদীর ওপর পুল ও সেতু নির্মাণ করেছেন এবং শিল্পোদ্যোক্তারা শিল্পের বৈচিত্র্য ও উৎকর্ষ সাধনে এবং শ্রমিকদের কাজ সহজীকরণে প্রসার ঘটিয়েছেন। এই সকল প্রচেষ্টার সমন্বয়েই পৃথিবী আবাদ হয়েছে এবং এই প্রচেষ্টাকারীদের প্রতিটি দলেরই সভ্যতার পূর্ণতা ও সংস্কৃতির অগ্রগতিতে হাত রয়েছে। আমরা প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাথে তাঁদের সেই অবদানের কথা স্মরণ করি। তবে আমরা এটি ভুলে যেতে পারি না যে, আল্লাহর নবীগণ এবং তাঁর বাণীর বাহকগণই আমাদের ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন; কারণ তাঁরা অন্তরের কলুষতা সংশোধনে, অনিষ্টের মূলোৎপাটনে এবং আত্মাকে কুপ্রবৃত্তি, হীন লালসা ও ধ্বংসাত্মক ঝোঁক থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা সামাজিক জীবনের জন্য সৌভাগ্যের পথ রচনা করেছেন এবং মানুষের কাছে স্পষ্ট করেছেন কিসে তাদের আত্মা উন্নত হয় আর কিসে অবনমিত হয়, এবং কিসে তা সম্মানিত হয় আর কিসে হীন হয়। তাঁদের রিসালতের মাধ্যমেই মানব সংস্কৃতি পূর্ণতা পেয়েছে এবং সভ্যতা এর মাধ্যমে উৎকর্ষের চরম সীমায় পৌঁছেছে। ফলে মানব সমাজের পক্ষে কল্যাণময় হওয়া সহজসাধ্য হয়েছে যদি সে চায়। আর মানুষের মাঝে এটি স্বীকৃত হয়েছে যে, উন্নত চরিত্র এবং পবিত্র জীবনই হলো মানবতার সম্মান ও মর্যাদা; এবং মহৎ চরিত্র ও সুন্দর অভ্যাসগুলোই হলো মানবতার মূল ও নির্যাস।
আর নবীদের শিক্ষার মাধ্যমেই সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে এবং বান্দা ও তাঁর মাওলার মধ্যকার বন্ধন সুন্দর হয়েছে। ফলে মানুষ তার সেই অনাদি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করতে পেরেছে যা সে নিজের রবের অনুকূলে নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিল। যদি নবীগণ, তাঁদের শিক্ষা, তাঁদের দ্বারা আত্মার রহস্য উন্মোচন এবং মানব প্রকৃতির সহজাত প্রবৃত্তি ও কিসে মানুষের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য নিহিত তা উদঘাটিত না হতো, তবে মানবতা আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে সেখানে পৌঁছাতে পারত না। এই কারণেই মানবতা রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক) অনুগ্রহে ঋণী; আমাদের ওপর তাঁদের এমন মহান অবদান রয়েছে যার কোনো তুলনা নেই। আর যে ব্যক্তি এটি জেনেছে, সে নবীদের প্রতি কী কর্তব্য তাও অনুধাবন করেছে।