(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
مسند أحمد - ت شاكر - ط دار الحديث القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الإمام أحمد بن حنبل
المؤلف: أحمد بن محمد بن حنبل (164 - 241 هـ)
المحقق: أحمد محمد شاكر
الناشر: دار الحديث - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م
عدد الأجزاء: 20 (آخر 2 فهارس)
وقد اقتصرنا: في هذه النسخة الإلكترونية على 8 الـ أجزاء، التي حققها أحمد شاكر وكان طبعها قديما في دار المعارف، ثم أعادت صفها دار الحديث وأكملوا طباعة المسند
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1434
মুসনাদে আহমাদ - তাহকীক শাকের - দারুল হাদীস সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর মুসনাদ
লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (১৬৪ - ২৪১ হিজরী)
সম্পাদক: আহমাদ মুহাম্মদ শাকের
প্রকাশক: দারুল হাদীস - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২০ (শেষ ২ টি নির্ঘণ্ট)
আমরা সীমাবদ্ধ রেখেছি: এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে কেবল ৮টি খণ্ডের ওপর, যা আহমাদ শাকের তাহকীক করেছিলেন এবং যা পূর্বে দারুল মাআরিফ-এ মুদ্রিত হয়েছিল, অতঃপর দারুল হাদীস পুনরায় এর বিন্যাস সম্পন্ন করে এবং মুসনাদ মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত করে
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যিলকদ ১৪৩৪
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١)
المُسْنَد
للإمام أحمد بن حنبل
(164 - 241)
شرحه وصنع فهارسه
أحمد محمد شاكر
الجزء الأول
من الحديث 1 إلى الحديث 920
دار الحديث القاهرة
আল-মুসনাদ
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের
(১৬৪ - ২৪১)
ব্যাখ্যা এবং সূচিপত্র প্রস্তুত করেছেন
আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির
প্রথম খণ্ড
হাদিস ১ থেকে হাদিস ৯২০ পর্যন্ত
দারুল হাদিস, কায়রো
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣)
المُسْنَد
আল-মুসনাদ
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤)
كافة حقوق الطبع محفوظة للناشر
الطبعة الأولى
1416 هـ -1995 م
دار الحديث - طبع. نشر. توزيع
140 شارع جوهر القائد أمام جامعة الأزهر تليفون: 5116508 - 5918719 - 5919697 فاكس 5919697
সর্বস্বত্ব প্রকাশকের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
দারুল হাদিস - মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
১৪০ জাওহার আল-কায়েদ সড়ক, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। টেলিফোন: ৫১১৬৫০৮ - ৫৯১৮৭১৯ - ৫৯১৯৬৯৭, ফ্যাক্স: ৫৯১৯৬৯৭
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥)
إليه يصْعَدُ الكَلِمُ الطيِّبُ
والعَمَلُ الصالِحُ يَرفعُه
المسند
للإمَامِ أحمَد بن محمّد بن حنبل
(164 - 241)
احتَفِظْ بِهَذَا الْمُسنَدِ
فإنه سَيَكوُنُ للِناسِ إمَامًا
أحمد بن حنبل
شرحه وصنع فهارسه
أحمَد محمّد شَاكر
أكمله
حمزة الزين
তাঁর দিকেই পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে
এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে
আল-মুসনাদ
ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল-এর
(১৬৪ - ২৪১)
এই মুসনাদকে সংরক্ষণ করো
কেননা অচিরেই এটি মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হবে
আহমাদ বিন হাম্বল
এর ব্যাখ্যা ও নির্ঘণ্ট প্রণয়ন করেছেন
আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির
এটি সমাপ্ত করেছেন
হামযা আল-যাইন
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦)
بسم الله الرحمن الرحيم
بركة من الله وحمدالحمد لله رب العالمين. الرحمن الرحيم. مالك يوم الدين. إياك نعبد وإياك نستعين. اهدنا الصراط المستقيم. صراط الذين أنعمت عليهم، غير المغضوب عليهم ولا الضالين.
والحمد لله الذي هدانا لهذا، وما كنا لنهتديَ لولا أن هدانا الله.
وصلى الله على خيرته المصطفى لوحيه، المنتخَب لرسالته، المفضل على جميع خلقه، بفتح رحمته، وختم نبوته. وأعمّ ما أُرسل به مرسَلٌ قبله، المرفوعِ ذكره مع ذِكره في الأولى، والشافع المشفع في الأخرى، أفضل خلقه نفساً، وأجمعهم لكل خلق رضيه في دين ودنيا، وخيرهم نسباً وداراً، محمدٍ عبده ورسوله (1).
وصلى الله على نبينا كلما ذكره الذاكرون، وغفل عن ذكره الغافلون، وصلى عليه في الأولين والآخرين، أفضلَ وأكثرَ وأزكى ما صلى على أحد من خلقه، وزكانا وإياكم بالصلاة عليه، أفضل ما زكى أحداً من أمته بصلاته عليه. والسلام عليه ورحمة الله وبركاته. وجزاه عنّا أفضل ما جزى مرسلاً عن من أُرسل إليه، فإنه أنقذنا به من الهلكة، وجعلنا في خير أُمةٍ أُخرجت للناس، دائنين بدينه الذي ارتضى، واصطفى به ملائكته ومن أنعم عليه من خلقه. فلم تمس بنا نعمة ظهرت ولا بطنت، نلنا بها حظّاً في دين ودنيا، أو دُفع بها عنا مكروه فيهما وفى واحد منهما، إلا ومحمد صلى الله عليه وسلم سببها، القائد إلى خيرها، والهادي إلى رشدها، الذائد عن الهلكة وموارد
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর পক্ষ হতে বরকত ও প্রশংসাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।
এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো পথ পেতাম না।
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত ব্যক্তির ওপর, যিনি তাঁর ওহীর জন্য নির্বাচিত, তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত, তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত, যাঁর মাধ্যমে রহমতের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে এবং নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। যাঁর ওপর অর্পিত দাওয়াত তাঁর পূর্ববর্তী যেকোনো রাসূলের বার্তার চেয়ে ব্যাপক ছিল। যাঁর নাম দুনিয়াতে আল্লাহর নামের সাথে উচ্চমর্যাদা লাভ করেছে এবং পরকালে যিনি সুপারিশকারী ও যাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনি সত্তাগতভাবে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার সকল পছন্দনীয় চরিত্রের আধার; বংশ ও আবাসস্থলের দিক থেকে তিনি সর্বোত্তম—মুহাম্মাদ, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল (১)।
আমাদের নবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতবার স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করে এবং যতবার বিমুখ ব্যক্তিরা তাঁর স্মরণ হতে বিমুখ থাকে। তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মাঝে—এমন রহমত যা সৃষ্টির অন্য কারো ওপর বর্ষিত রহমতের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর, অধিকতর এবং পবিত্রতর। তাঁর ওপর রহমত পাঠের উসিলায় তিনি আমাদের এবং আপনাদের পবিত্র করুন, যেমনটি তিনি তাঁর উম্মতের কাউকে তাঁর ওপর রহমত পাঠের কারণে পবিত্র করেছেন। তাঁর ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা কোনো রাসূলকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি আমাদের তাঁর মাধ্যমে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমাদের মানুষের কল্যাণে বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে গণ্য করেছেন। আমরা তাঁরই দ্বীনের অনুসারী যা তিনি পছন্দ করেছেন এবং যা দিয়ে তিনি তাঁর ফেরেশতা ও তাঁর নেয়ামতপ্রাপ্ত সৃষ্টিজগতকে মনোনীত করেছেন। আমাদের ওপর এমন কোনো প্রকাশ্য কিংবা গোপন নেয়ামত নেই, যার মাধ্যমে আমরা দ্বীন বা দুনিয়াতে কোনো সৌভাগ্য লাভ করেছি, অথবা যার মাধ্যমে আমাদের থেকে উভয় জগতে বা যেকোনো একটিতে কোনো অনিষ্ট দূরীভূত হয়েছে—মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ব্যতীত যার কোনো কারণ নেই। তিনি কল্যাণের দিকে চালক, সঠিক পথের দিশারি এবং ধ্বংস ও বিনাশের উৎসসমূহ থেকে রক্ষাকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧)
السَّوء في خلاف الرشد، المنبه للأسباب التى توردُ الهلكة، القائم بالنصيحة في الإرشاد والإنذار فيها. فصلى الله على محمد وعلى آل محمد كما صلى على إبراهيم وآل إبراهيم، إنه حميد مجيد (1).
…وبعد: فإني حين هُديت إلى حب السنة النبوية المطهرة، والشغف بالفقه فيها، والتعمق في علومها، والتنقيب عن روائعها ونفائس كتبها، وذلك منذ بضع وثلاثين سنة، في أوائل الشباب، بعد استكمال الدراسة الأولى، وجدت في دارنا، في كتب أبي رحمه الله، الصحاح الستة وغيرها، ووجدت فيما وجدت الديوان الأعظم، (كتابَ المسند) لإمام الأئمة، ناصر السنة وقامع البدعة، الإمام أحمد بن حنبل، رضى الله عنه. فوجدته بحراً لا ساحل له، ونوراً يستضاء به، ولكن تنقطع الأعناق دونه، بأنه رتب على مسانيد الصحابة، وجمعت فيه أحاديث كل صحابي متتالية دون ترتيب، فلا يكاد يفيد منه إلا من حفظه، كما كان القدماء الأولون يحفظون، وهيهات، وأنَّى لنا ذلك. فشغفت به وشُغلت. ورأيت أن خير ما تخدم به علوم الحديث أن يوفق رجل لتقريب هذا المسند الأعظم للناس، حتى تعم فائدته، وحتى يكون للناس إمامًا، وتمنيت أن أكون ذلك الرجل.
ثم وجدتُ أن أكابر المحدثين وأئمة الشراح والمؤلفين، كان شأنهم بالنسبة للمسند قريبًا من شأننا، فما كان ليقدم على النقل منه أو على تحقيق رواية فيه، إلا فرد بعد فرد، وعامتهم ينقلون عمن قبلهم، ويقلدون في نسبة الحديث إليه من سبقهم، إلا بضعة رجال كانوا كأن المسند كلَّه على أطراف ألسنتهم، كانوا يعرفونه حقّاً. ولا أكاد أجزم بتسمية أحد من هؤلاء إلا ثلاثة: شيخ الإسلام أبو العباس تقي الدين بن تيمية، وتلميذاه
--------------------------------------------
মন্দ যা সঠিক পথের পরিপন্থী, ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া কারণসমূহ সম্পর্কে সতর্ককারী এবং সে বিষয়ে নির্দেশনা ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে নসিহত প্রদানকারী। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন তিনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম এবং ইবরাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই তিনি অতি প্রশংসিত ও অতি সম্মানিত (১)।
…অতপর: আমি যখন পবিত্র সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা, তার গবেষণায় গভীর অনুরাগ, তার শাস্ত্রসমূহে ব্যুৎপত্তি লাভ এবং তার অনন্য ও মূল্যবান কিতাবাদি অনুসন্ধানে হেদায়েতপ্রাপ্ত হলাম—আর তা ছিল আজ থেকে প্রায় তেত্রিশ বছরেরও বেশি সময় আগে, যৌবনের শুরুতে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর—তখন আমাদের বাড়িতে আমার পিতার (আল্লাহ তাকে রহম করুন) কিতাবগুলোর মধ্যে সিহাহ সিত্তাহ ও অন্যান্য কিতাব খুঁজে পেলাম। সেই সঙ্গে আমি যা পেয়েছিলাম তা হলো এক মহান সংকলন, আইম্মায়ে কেরামের ইমাম, সুন্নাহর সাহায্যকারী ও বিদআতের মূলোৎপাটনকারী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কিতাব 'আল-মুসনাদ'। আমি একে পেলাম এক কূলহীন সমুদ্র এবং এমন এক নূর হিসেবে যার মাধ্যমে আলো পাওয়া যায়। কিন্তু এর গভীরে প্রবেশ করা ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য; কারণ এটি সাহাবীদের মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত ছিল এবং এতে প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদিসগুলো কোনো বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস ছাড়াই একের পর এক সংকলিত হয়েছিল। ফলে যারা এটি মুখস্থ করেছেন তারা ছাড়া আর কেউ এর দ্বারা উপকৃত হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল, যেমনটি প্রাচীনকালের পূর্বসূরি মনীষীরা মুখস্থ রাখতেন। কিন্তু আফসোস, আমাদের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব! ফলে আমি এর প্রতি অনুরক্ত হলাম এবং এতেই নিমগ্ন থাকলাম। আমি উপলব্ধি করলাম যে, হাদিস শাস্ত্রের সর্বোত্তম খিদমত হবে যদি কোনো ব্যক্তিকে এই মহান মুসনাদকে মানুষের জন্য সহজবোধ্য করে তোলার তাওফিক দেওয়া হয়, যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং তা মানুষের জন্য একটি ইমাম বা পথপ্রদর্শক হতে পারে। আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যেন আমিই সেই ব্যক্তি হতে পারি। অতপর আমি দেখলাম যে, বড় বড় মুহাদ্দিস, ব্যাখ্যাকারক এবং লেখকগণের অবস্থাও মুসনাদের ব্যাপারে আমাদের মতোই ছিল। এর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান বা কোনো বর্ণনার তাহকিক করার দুঃসাহস কদাচিৎ দুই-একজন ছাড়া কেউ দেখাতেন না। তাদের অধিকাংশ তাদের পূর্বসূরিদের থেকে উদ্ধৃতি দিতেন এবং হাদিসটিকে মুসনাদের দিকে নিসবত করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতেন। তবে অল্প কয়েকজন ব্যক্তি এমন ছিলেন যাদের কাছে যেন পুরো মুসনাদ তাদের জিহ্বার আগায় ছিল; তারা একে প্রকৃতপক্ষেই চিনতেন। আমি নিশ্চিতভাবে তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ করতে পারছি না: শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর দুই ছাত্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٨)
الحافظان الكبيران، شمس الدين بن القيم، وعماد الدين بن كثير.
فكان هذا المقصد أمنيةَ حياتي، وغاية همي، سنين طويلة، أن أقرب هذا (المسند) للناس. حتى وفقني الله، منذ أكثر من خمسة عشر عاماً، إلى ما أريد، على النحو الذي أريد: أن يكون (المسند) بين أيدي العلماء والمتعلمين، كما هو، كما ألفه مؤلفه، وأن تكون له فهارس وافية متقنة، علمية ولفظية. وأعني باللفظية هذا النوع من الفهارس للأعلام وغيرها، التي شغف بها وبالتوسع فيها أهل عصرنا، تقليداً للإفرنج زعموا! وبالفهارس العلمية، فهارس للأبواب والمسائل العلمية، ترشد الباحث على ضوئها إلى كل ما جاء في المسند في المعنى الذي يريده.
ومكثت أياماً طوالاً أضع خطط العمل ومناهجه، وأغير فيها وأبدل، حتى استقامت السبيل، ووضح النهج واستنار. فشرعت في العمل.
وجعلت لأحاديث الكتاب أرقاماً متتابعة من أول الكتاب إلى آخره.
وجعلتُ هذه الأرقام كالأعلام للأحاديث، بنيت عليها الفهارس التي ابتكرتها كلها.
وأول فائدة لهذا أن الفهارس لا تتغير بتغير طبعات الكتاب، إذا وفق الله لإعادة طبعه.
أما الفهارس اللفظية فهي أنواع:
1 - فهرس للصحابة رواة الأحاديث، مرتب على حروف المعجم، فيه موضع بدء مسنده من هذا مسند، ببيان الجزء ورقم الصفحة، وفيه أرقام الأحاديث التي من روايته، سواء أكانت في مسنده لخاص أم جاءت في مسند غيره من الصحابة؛ فإنه كثيراً ما يقع حديث صحابي في أثناء مسند
দুইজন মহান হাফিয: শামসুদ্দীন ইবনুল কায়্যিম এবং ইমাদুদ্দীন ইবনু কাসীর।
এই উদ্দেশ্যটি দীর্ঘ বছর ধরে আমার জীবনের আকাঙ্ক্ষা এবং আমার চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল যে, আমি এই (মুসনাদ)-কে মানুষের নিকট সহজবোধ্য করে তুলব। অবশেষে পনেরো বছরেরও বেশি সময় আগে আল্লাহ আমাকে আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তাওফীক দান করলেন: যেন (মুসনাদ) আলেম ও শিক্ষার্থীদের হাতে অবিকল সেভাবেই থাকে যেভাবে এর রচয়িতা এটি সংকলন করেছেন; আর যেন এতে পর্যাপ্ত ও নিপুণ জ্ঞানতাত্ত্বিক ও শাব্দিক নির্ঘণ্ট থাকে। শাব্দিক নির্ঘণ্ট বলতে আমি ব্যক্তি ও অন্যান্য বিষয়ের সেই সূচিপত্রকে বোঝাচ্ছি, যেটির প্রতি আমাদের যুগের লোকেরা ইউরোপীয়দের অনুকরণে -তাদের ধারণা মতে- অত্যন্ত অনুরাগী হয়ে পড়েছে এবং এর ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছে। আর জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট বলতে অধ্যায় ও তাত্ত্বিক মাসআলাসমূহের সূচিপত্রকে বোঝাচ্ছি, যা গবেষককে তার অভীষ্ট বিষয়ের আলোকে মুসনাদে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট সকল হাদীসের দিকে পথপ্রদর্শন করবে।
আমি দীর্ঘ দিন ধরে কাজের পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি প্রণয়নে রত থাকলাম, তাতে বারবার পরিবর্তন ও পরিমার্জন করলাম, যতক্ষণ না পথ সুগম হলো এবং কর্মপন্থাটি স্পষ্ট ও উদ্ভাসিত হলো। অতঃপর আমি কাজ শুরু করলাম।
আমি কিতাবটির হাদীসসমূহের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি।
আমি এই নম্বরগুলোকে হাদীসসমূহের জন্য নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যার উপর ভিত্তি করে আমি আমার উদ্ভাবিত সকল নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
এর প্রথম উপকারিতা হলো, আল্লাহ যদি কিতাবটি পুনঃমুদ্রণের তাওফীক দান করেন, তবে কিতাবের সংস্করণ পরিবর্তনের ফলে নির্ঘণ্টগুলো পরিবর্তিত হবে না।
আর শাব্দিক নির্ঘণ্টগুলো কয়েক প্রকার:
১ - হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণের নির্ঘণ্ট, যা হিজায়ী বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্ত। এতে এই মুসনাদ গ্রন্থে সংশ্লিষ্ট সাহাবীর মুসনাদ শুরুর স্থান খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহের নম্বরগুলোও রয়েছে, চাই তা তাঁর নিজস্ব মুসনাদেই থাকুক অথবা অন্য কোনো সাহাবীর মুসনাদের অধীনে বর্ণিত হোক; কেননা প্রায়ই দেখা যায় একজন সাহাবীর হাদীস অন্য কোনো সাহাবীর মুসনাদের মাঝে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٩)
غيره، من غير أن يذكر في مسنده، فيشبَّه على كثير من الباحثين، حتى يظنوا أن الحديث ليس في الكتاب، إذ لم يجدوه في مظنته وكثيرًا ما يكون الحديث من مسند صحابيين أو أكثر، إما مشتركين فيه، وإما منسوبًا كل جزء منه لراويه، فهذا يجب أن يوضع رقمه في مسند كل صحابي له رواية فيه، ثم أستثني من أرقام مسند الصحابي الأحاديث التي ليست من روايته أصلاً، وضعًا للأمور مواضعها. وما كان من رواية صحابي لم يسمَّ وضع في اسم التابعي الذي رواه عن الصحابي المبهم.
2 - فهرس الجرح والتعديل. وهو فهرس للرواة الذين تكلم عليهم الإمام أحمد أو ابنه عبد الله في المسند. وهم قليل، وللرواة الذين أتكلم عليهم في كلامي على الأحاديث. إذ أنني إذا ما تكلمت على راوٍ مرةً، فمن النادر أن أتكلم عليه مرة أخرى، إلا لسبب يتعلق بالرواية. ولم أجعل هذا الفهرس عامًا لكل رجال الأسانيد، فإن هذا متعذر، وهو يطول جداً وتذهب فائدته.
فما فائدة أن يذكر "شعبة بن الحجاج" مثلاً ويذكر بجانبه أرقام كل حديث جاء اسمه في إسناده؟ ومن ذا الذي يستطيع أن يتتبع مواضع هذه الأرقام، وهي تتجاوز المئين؟!
3 - فهرس للأعلام التي تذكر في متن الحديث، إذ أنها تكون في الأغلب الأعلام التي تدور عليها قصة الحديث أو موضع العبرة منه.
4 - فهرس للأماكن التي تذكر في متن الحديث أيضاً، وهي كسابقتها.
5 - فهرس لغريب الحديث، أي للألفاظ اللغوية التي تحتاج إلى شرح كما في "الفائق" و "النهاية" و "اللسان" وغيرها. وقد زدت على ما في هذه الكتب ألفاظاً واستعمالات كثيرة. فأذكر (المادة) وأذكر من الحديث موضع الشاهد الذي يدخل تحتها، كما فعل صاحب النهاية، وأشير إلى رقم الحديث.
অন্য কারো ক্ষেত্রে, তাদের মুসনাদে উল্লেখ করা ছাড়াই, ফলে অনেক গবেষক বিভ্রান্ত হন, এমনকি তারা ধারণা করেন যে হাদিসটি কিতাবে নেই, যেহেতু তারা এটি সম্ভাব্য স্থানে পাননি। অনেক সময় একটি হাদিস দুজন বা ততোধিক সাহাবীর মুসনাদে থাকে, হয় তারা এতে অংশীদার, অথবা এর প্রতিটি অংশ তার বর্ণনাকারীর সাথে সম্পর্কিত। এমতাবস্থায়, হাদিসের নম্বরটি প্রতিটি সাহাবীর মুসনাদে দেওয়া উচিত যারা এটি বর্ণনা করেছেন। এরপর আমি সাহাবীর মুসনাদের নম্বরগুলো থেকে এমন হাদিসগুলোকে বাদ দেই যা মূলত তার বর্ণনা নয়, যাতে বিষয়গুলো যথাযথ স্থানে থাকে। আর যে হাদিসগুলো এমন সাহাবীর বর্ণনা যার নাম উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলো সেই তাবিঈর নামের অধীনে রাখা হয়েছে যিনি ওই অস্পষ্ট সাহাবীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।
২ - জারহ ও তাদীল-এর নির্ঘণ্ট। এটি সেই সব বর্ণনাকারীর নির্ঘণ্ট যাদের সম্পর্কে ইমাম আহমাদ অথবা তার পুত্র আবদুল্লাহ মুসনাদে আলোচনা করেছেন। তাদের সংখ্যা অল্প। এছাড়াও এটি সেই বর্ণনাকারীদের জন্যও যাদের সম্পর্কে আমি হাদিসের আলোচনায় কথা বলেছি। কেননা আমি যদি একবার কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে আলোচনা করি, তবে বর্ণনাসংক্রান্ত কোনো কারণ ছাড়া দ্বিতীয়বার তার সম্পর্কে আলোচনা করা বিরল। আমি এই নির্ঘণ্টটিকে সনদের সকল ব্যক্তির জন্য সাধারণ করিনি, কারণ এটি অসম্ভব এবং এটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে ও এর উপযোগিতা হারিয়ে যাবে।
উদাহরণস্বরূপ, "শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ"-এর নাম উল্লেখ করে তার পাশে সেই সকল হাদিসের নম্বর উল্লেখ করার সার্থকতা কী যেগুলোর সনদে তার নাম এসেছে? আর কে-ই বা এই নম্বরগুলোর অবস্থান অনুসরণ করতে সক্ষম হবে, যখন সেগুলো শতকের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়?!
৩ - হাদিসের মূল পাঠে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরাই সেই সব ব্যক্তি যাদের কেন্দ্র করে হাদিসের ঘটনা আবর্তিত হয় অথবা যারা হাদিসের শিক্ষার মূল বিষয়।
৪ - হাদিসের মূল পাঠে উল্লিখিত স্থানসমূহের নির্ঘণ্ট, এটিও পূর্বোক্তটির মতো।
৫ - গারীবুল হাদিসের (দুরূহ শব্দাবলি) নির্ঘণ্ট। অর্থাৎ এমন ভাষাগত শব্দাবলি যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে, যেমনটি রয়েছে "আল-ফায়িক", "আন-নিহায়াহ", "আল-লিসান" ও অন্যান্য কিতাবে। আমি এই কিতাবগুলোতে যা আছে তার চেয়েও অনেক বেশি শব্দ ও ব্যবহার সংযোজন করেছি। আমি মূল শব্দ (মাদ্দাহ) উল্লেখ করি এবং হাদিস থেকে সেই অংশটি উল্লেখ করি যা এর অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমনটি আন-নিহায়াহ-এর লেখক করেছেন এবং আমি হাদিসের নম্বরের দিকে ইঙ্গিত করি।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وقد كنتُ فكرت في أنواع أخرى من الفهارس اللفظية، وشرعت في بعضها فعلاً. ثم رأيت أن في ذلك إطالة وإرهاقًا لي وللقاريء، على قلة غَنائها، وأن ما اخترت الاقتصار عليه كافٍ وافٍ، والحمد لله.
وأما الفهارس العلمية، فهي الأصل لهذا العمل العظيم. الذي أسأل الله أن يوفقني لإتمامه وإخراجه، وأن يسدّد يدي وعقلي في صنعه، وهو الابتكار الصحيح، الذي ما أظن أحداً سبقني إليه.
وقد بنيت هذه الفهارس أيضاً على الأرقام للأحاديث، بل إن الأرقام هي التى سددت الفكرة وحدّدتها.
فإن كل مطلع على الأحاديث يعلم أن الحديث الواحد قد يدل على معان كثيرة متعددة، في مسائل وأبواب منوعة، وأن هذا هو الذي ألجأ البخاري رضي الله عنه إلى تقطيع الأحاديث وتكرارها في الأبواب، استشهاداً بالحديث في كل موضع يستدل به فيه ولو من بعيد، فكانت صعوبة البحث في صحيحه، الصعوبةَ التى يعانيها كل المشتغلين بالسنة. مع أن هذه الطريقة هي الطريقة الصحيحة للإفادة من الأحاديث: أن يستدلَّ بها في كل موضع تصلح للدلالة فيه. وأما سائر أصحاب الصحاح والسنن، فإنهم تفادوا ذلك، وذكروا الحديث في الموضع الأصلي في الاستدلال، وأعرضوا عما وراءَ ذلك، إلا في الندرة بعد الندرة. ولذلك صرت أجدني -مثلاً- بعد مروري على هذه الفهارس، أيسر عليّ أن أبحث عن حديث في صحيح البخاري من أن أبحث عنه في غيره من الصحاح والسنن، لأني -في الأكثر الأغلب- أجد الحديث في أيّ معنى من المعاني التى يصلح للدلالة عليها.
فهذه الأرقام أراحتنا من كل ذلك، من تقطيع الحديث ومن تكراره. رقم الحديث يوضع في كل باب، وفي كل معنى يدل عليه، أو يصلح للاستشهاد به فيه، دون تكلف ولا مشقة.
আমি শাব্দিক নির্ঘণ্টের অন্যান্য প্রকার সম্পর্কেও চিন্তা করেছিলাম এবং বাস্তবে সেগুলোর কয়েকটির কাজ শুরুও করেছিলাম। তারপর আমি দেখলাম যে, এতে কাজ দীর্ঘায়িত হবে এবং তা আমার ও পাঠকের জন্য ক্লান্তিকর হবে, অথচ তার উপকারিতা হবে খুবই সামান্য। আর আমি যেটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা-ই যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর।
আর বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্টগুলোই হলো এই মহান কাজের মূল ভিত্তি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এটি সমাপ্ত করার ও প্রকাশ করার তাওফিক দান করেন এবং এটি তৈরির ক্ষেত্রে আমার হাত ও আমার মেধাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। এটিই হলো প্রকৃত উদ্ভাবন, যার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় না ইতিপূর্বে কেউ আমার অগ্রগামী হয়েছেন।
আর আমি এই নির্ঘণ্টগুলো হাদিসের ক্রমিক নম্বরের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছি, বরং এই নম্বরগুলোই মূলত এই চিন্তাটিকে সুসংহত ও সুনির্দিষ্ট করেছে।
কেননা হাদিস সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক ব্যক্তিই জানেন যে, একটি হাদিস বিভিন্ন মাসআলা ও অধ্যায়ে বহুবিধ অর্থের ইঙ্গিত দিতে পারে। আর এই বিষয়টিই ইমাম বুখারি (রা.)-কে হাদিসসমূহকে খণ্ডিত করতে এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে তা পুনরায় উল্লেখ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে করে প্রতিটি স্থানে দলিল হিসেবে হাদিসটিকে পেশ করা যায় যেখানে তা সামান্যতম সংগতিপূর্ণ হলেও দলিল হওয়ার যোগ্যতা রাখে। ফলে তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে হাদিস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এমন এক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার সম্মুখীন সুন্নাহর গবেষণায় নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তিই হন। অথচ হাদিস থেকে উপকৃত হওয়ার সঠিক পদ্ধতি হলো এটিই যে, হাদিসটিকে প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানেই দলিল হিসেবে পেশ করা হবে। অন্যদিকে অন্যান্য সহিহ ও সুনান গ্রন্থকারগণ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং তাঁরা হাদিসটিকে শুধুমাত্র তার মূল দলিলি স্থানেই উল্লেখ করেছেন এবং এর বাইরের দিকগুলো পরিহার করেছেন, যা খুবই বিরল ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে। এই কারণে এখন আমি দেখতে পাই যে—উদাহরণস্বরূপ—এই নির্ঘণ্টগুলো দেখার পর, অন্যান্য সহিহ ও সুনান গ্রন্থের তুলনায় সহিহ বুখারিতে কোনো হাদিস অনুসন্ধান করা আমার জন্য অধিকতর সহজ হয়ে গেছে। কারণ আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসটিকে এমন যেকোনো অর্থ বা বিষয়ের অধীনে পেয়ে যাই যার জন্য এটি দলিল হিসেবে উপযুক্ত।
সুতরাং এই নম্বরগুলো আমাদের সেই সব ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে—হাদিস খণ্ডিত করা কিংবা বারবার উল্লেখ করা থেকে। হাদিসের নম্বরটি প্রতিটি অধ্যায়ে এবং প্রতিটি অর্থের অধীনে স্থাপন করা হয়েছে যার প্রতি এটি নির্দেশ করে অথবা যেখানে দলিল হিসেবে এটি পেশ করার উপযোগী, কোনো প্রকার কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١١)
فمن الميسور للباحث في هذا الفهرس أن يجد الباب الذي يريده، أو المعنى الذي يقصده فيجد فيه كل أرقام الأحاديث التي تصلح في بحثه، بالاستقصاء التام، والحصر الكامل.
وقد قرأت من أجل هذا الفهرس كلَّ فهارس كتب السنة، وكتب الفقه، وكتب السير، وكتب الأخلاق، التي يسر لي الحصول عليها، ثم ضممت كل شبه إلى شبهه، وكل شكل إلى شكله. وتخيرت في ترتيبها أقربَ الطرق إلى عقل المحدّث والفقيه، بعد أن قسمتها إلى كتب جاوزت الأربعين، فيها أكثر من ألف باب. وكلما رأيت بابًا فيه شيء من العموم كثرت أرقام أحاديثه، اجتهدت في تقسيمه إلى معان فرعية، ليُحصر أقرب المعاني إلى بعضها في أرقام يسهل على القارئ الرجوع إليها.
والمقصد الأول من هذا كله تقربُ الإفادة من هذا (المسند) الجليل إلى الناس عامة، وأهل الحديث خاصة. حتى يصلوا إلى ما في السنة النبوية من كنوز قد يعسر عليهم الوصول إليها، في كتاب هو كالأصل لجميع كتب السنة أو لأكثرها. ويعجبنى في هذا المعني كلمة قالها الحافظ الخطيب البغدادي في تاريخِ بغداد 1: 213: " فإني رأيت الكتاب الكثير الإفادة المحكم الإجادة، ربما أريد منه الشيء، فيعمد من يريده إلى إخراجه، فيغمض عنه موضعه، ويذهب بطلبه زمانه، فيتركه وبه حاجة إليه، وافتقارٌ إلى وجوده".
…وبينا أنا أطبق القواعد التي ابتكرتها للفهارس على الأحاديث حديثاً حديثاً، كنتُ أجد كثيراً من الأحاديث يشتبه عليّ إسنادها، وأحتاج فيها إلى مراجعة دواوين الحديث وكتب الرجال، فتارة أراجعها وتارة أدعها. ثم بدا لي أن أقيد ما أراجعه في كراسة خاصة، ففعلت. وكنت أفكر في تتبع أحاديثه كلها، وتمييز صحيحها من ضعيفها، ثم أخشى الإقدام على ما قد أعجز
অতএব, এই নির্ঘণ্টে একজন গবেষকের জন্য তার কাঙ্ক্ষিত অধ্যায় অথবা উদ্দিষ্ট বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজতর হবে; এতে তিনি তার গবেষণার জন্য উপযোগী সকল হাদিস নম্বর পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও নির্ভুল পরিবেষ্টনের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।
আমি এই সূচিপত্র তৈরির লক্ষ্যে সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ, ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ, সিরাত ও আখলাকের কিতাবসমূহের সেই সকল নির্ঘণ্ট পাঠ করেছি যা সংগ্রহ করা আমার জন্য সহজ ছিল। এরপর আমি প্রতিটি সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়কে তার অনুরূপ বিষয়ের সাথে এবং প্রতিটি সমজাতীয় বিষয়কে তার স্বজাতীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত করেছি। এগুলো বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি মুহাদ্দিস ও ফকিহদের চিন্তাধারার সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতিটি বেছে নিয়েছি; আমি একে চল্লিশটিরও অধিক মূল পরিচ্ছেদে (কিতাব) বিভক্ত করেছি, যার অধীনে এক হাজারের বেশি অধ্যায় (বাব) রয়েছে। যখনই আমি কোনো অধ্যায়কে কিছুটা সাধারণ বা ব্যাপক হিসেবে দেখেছি যেখানে হাদিস নম্বরের সংখ্যা অনেক বেশি, তখন আমি সেটিকে উপ-বিষয়বস্তুতে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি, যাতে কাছাকাছি অর্থগুলো নির্দিষ্ট কিছু নম্বরে সীমাবদ্ধ থাকে এবং পাঠকের জন্য তা খুঁজে বের করা সহজ হয়।
এই সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য হলো সর্বসাধারণের কাছে এবং বিশেষ করে হাদিসবেত্তাদের নিকট এই মহান (মুসনাদ) থেকে উপকৃত হওয়াকে সহজতর করে দেওয়া। যাতে করে তারা সুন্নাহর সেই সকল ভাণ্ডারে পৌঁছাতে পারেন যা খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হতে পারে এমন একটি কিতাবে, যা সকল সুন্নাহর কিতাব বা অধিকাংশের জন্য মূল ভিত্তি স্বরূপ। এই প্রসঙ্গে হাফেজ খতিব আল-বাগদাদি 'তারিখে বাগদাদ' (১: ২১৩) গ্রন্থে যা বলেছেন তা আমার নিকট চমৎকার মনে হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি এমন অনেক কিতাব দেখেছি যা অত্যন্ত উপকারী এবং সুনিপুণভাবে রচিত, কিন্তু যখন সেখান থেকে কোনো একটি বিষয় প্রয়োজন হয়, তখন অন্বেষণকারী সেটি বের করতে গিয়ে তার প্রকৃত স্থানটি হারিয়ে ফেলে, সেটি খুঁজতে গিয়ে তার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, ফলে সে প্রয়োজন থাকা এবং বিষয়টি পাওয়ার মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তা ছেড়ে দেয়।"
...যখন আমি নির্ঘণ্টের জন্য আমার উদ্ভাবিত নিয়মগুলো প্রতিটি হাদিসের ওপর এককভাবে প্রয়োগ করছিলাম, তখন অনেক হাদিসের সনদ আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে হাদিসের মূল সংকলনসমূহ ও রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ দেখার প্রয়োজন অনুভব করছিলাম; ফলে কখনো আমি সেগুলো অনুসন্ধান করতাম, আবার কখনো ছেড়ে দিতাম। এরপর আমার মনে হলো যে, আমি যা অনুসন্ধান করছি তা একটি বিশেষ খাতায় লিখে রাখি, এবং আমি তাই করলাম। আমি এর সমস্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনার এবং সহিহ ও জয়িফ হাদিসগুলোকে পৃথক করার কথা ভাবছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে এমন কাজে হাত দিতে ভয় পাচ্ছিলাম যা করতে হয়তো আমি সক্ষম হব না।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٢)
عنه والتعرض لشيء أظنني غير أهل له. ثم -كما يقول علماء البلاغة- "أقدم رجلاً وأؤخر أخرى"، وكان معنا في مدينة الزقازيق عاصمة مديرية الشرقية، حين كنت قاضيًا بالمحاكم الشرعية فيها، شاب من الرجال الصالحين المتقين، هو صديقي الدكتور "السيد أحمد أحمد الشريف" رحمه الله، وكان -على أنه تعلم الطب في أوربة، في ألمانيا- من كبار الزاهدين الخائفين من الله، يقوم الليل، ويقبل على قراءة القرآن والتفقه فيه، وعلى فقه السنة والعلم بها، وكانت لنا في مدارستها مجالس، وكنت أعرض عليه ما أعمل في خدمة هذا الديوان الأعظم، فكان يحثني ويستنهض همتي، فاستشرته مراراً في الإقدام على الكلام على الأحاديث من جهة الصحة والضعف، فكان لا يني أن يرغبني في ذلك، ويحملني على الإقدام عليه، بعد التوكل والاعتماد على الله. حتى شرح الله صدري لهذا العمل، فأقدمت واستعنت بالله. والحمد لله على التوفيق.
ولم ألتزم في الكلام على الأحاديث أن أخرّجها كلها، فذلك أمر يطول جدًا إنما جعلت همتي ووكدي أن أبين درجة الحديث، فإن كان صحيحاً ذكرت ذلك، وإن كان ضعيفاً بينت سبب ضعفه. وإن كان في إسناده رجل مختلف في توثيقه وتضعيفه، اجتهدت رأيي على ما وسعه علمي، وذكرت ما أراه. وفي كثير من مثل هذا أخرج الحديث بذكر من رواه من أصحاب الكتب الأخرى.
وعن هذا صنعت الفهرس الثاني من الفهارس اللفظية، ليكون الكلام على الرجل المضعف أو الموثق أو المختلف فيه مرةً واحدة في الأغلب، فيمكن للقاريء إذا عرض له في إسناد أن يبحث عنه في الفهرس، ثم يرجع إلى ما قلته فيه، وما اخترته درجةً له.
তা থেকে এবং এমন কিছুতে লিপ্ত হওয়া যা আমি নিজেকে তার যোগ্য মনে করি না। এরপর—যেমন অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতগণ বলেন— "আমি এক পা এগিয়ে দিচ্ছি এবং অন্য পা পিছিয়ে নিচ্ছি", যখন আমি শারকিয়া প্রদেশের রাজধানী জাকাজিকে শারয়ি আদালতের বিচারক ছিলাম, তখন সেখানে আমাদের সাথে একজন নেককার ও মুত্তাকি যুবক ছিলেন, তিনি হলেন আমার বন্ধু ডক্টর আস-সাইয়্যিদ আহমাদ আহমাদ আশ-শারিফ, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। ইউরোপের জার্মানিতে চিকিৎসাশাস্ত্রে শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত জাহিদ ও আল্লাহভীরু ছিলেন। তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন, কুরআন তিলাওয়াত ও তা অনুধাবনের প্রতি এবং সুন্নাহর প্রজ্ঞা ও জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট থাকতেন। তা পর্যালোচনার জন্য আমাদের বিভিন্ন মজলিস বসত। এই মহান সংকলনের সেবায় আমি যা করতাম, তা তাঁর সামনে পেশ করতাম। তিনি আমাকে উৎসাহ দিতেন এবং আমার হিম্মত জাগ্রত করতেন। হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আমি তাঁর সাথে বহুবার পরামর্শ করেছি। তিনি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা রেখে এই কাজে অগ্রসর হওয়ার জন্য আমাকে ক্রমাগত উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতেন। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা এই কাজের জন্য আমার বক্ষ উন্মোচন করে দিলেন, ফলে আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এতে অগ্রসর হলাম। সকল তাওফীকের জন্য আল্লাহর প্রশংসা।
হাদীস নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আমি সবগুলো হাদীসের তাখরীজ করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করিনি, কারণ সেটি অত্যন্ত দীর্ঘ একটি বিষয় হতো। বরং আমি আমার সকল প্রচেষ্টা কেবল হাদীসের মান স্পষ্ট করার পেছনে ব্যয় করেছি। হাদীসটি সহীহ হলে আমি তা উল্লেখ করেছি, আর যঈফ হলে তার দুর্বলতার কারণ বর্ণনা করেছি। যদি তার সনদে এমন কোনো বর্ণনাকারী থাকেন যার নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে আমার জ্ঞান অনুযায়ী আমি সাধ্যমতো ইজতিহাদ করেছি এবং আমার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছি। এই ধরণের অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য কিতাবের সংকলকদের বরাত দিয়ে আমি হাদীসের তাখরীজ করেছি।
এ কারণেই আমি শাব্দিক নির্ঘণ্টসমূহের মধ্য থেকে দ্বিতীয় নির্ঘণ্টটি তৈরি করেছি, যাতে কোনো দুর্বল, নির্ভরযোগ্য বা বিতর্কিত বর্ণনাকারী সম্পর্কে আলোচনাটি সাধারণত একবারই করা হয়। ফলে পাঠক যখন কোনো সনদে সেই বর্ণনাকারীর নাম পাবেন, তখন তিনি নির্ঘণ্টে তাকে খুঁজে নিতে পারবেন এবং আমি তার সম্পর্কে যা বলেছি ও তার যে মান নির্ধারণ করেছি, সেদিকে ফিরে যেতে পারবেন।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ولم أعرض في شرحي لشيء من أبحاث الفقه والخلاف ونحوهما، في هذا من عملي في هذا الكتاب. إنما هو عمل المستفيد المستنبط. بعد أن تجتمع له الأحاديث بدلالة الفهرس العلمي. وليس (المسند) من الكتب المرتبة على الأبواب حتى يستقيم هذا لشارحه.
واقتصرت في تفسير غريب الحديث على ما تدعو إليه الضرورة جداً، وعلى ما وجدت أصحاب الغريب قد قصروا فيه، أو كان لي رأي يخالف ما قالوا، وهو شيء قليل نادر.
وأحاديث المسند تتكرر كثيراً فيروي الحديث الواحد بأسانيد متعددة، وألفاظ مختلفة أو متقاربة، وبعضها مطول وبعضها مختصر. فرأيت أن أذكر بجواركل حديث رقم الرواية التي سبقت في معناه أو لفظه، فإن كان مكرراً بنصه أو قريباً من نصه قلت: "مكرركذا" وذكرت الرقم الذي مضى، وإن كان الآخر أطول من الأول قلت: "مطول كذا" وإن كان أوجز منه قلت: "مختصر كذا".
ولهذا العمل فائدة أخرى: أن القاريء إذا جاء إلى حديث في معنى من المعاني في آخر مسند صحابي معيَّن، أمكنه بالرجوع إلى الأرقام التي أشير إليها عوداً على بدءٍ أن يجمع كل الروايات في ذلك المعنى للصحابي الواحد، دون أن يرجع فيه إلى الفهرس العلميّ.
ولجمع الروايات فوائد عند علماء هذا الشأن يدركها كل من عاناها.
وأقرب فوائدها تحقيق المعنى الصحيح للحديث، وتقوية أسانيده بانضمام بعضها إلى بعض.
وقد بذلت جهدي في التحقيق والتوثق، وفي العناية بهذه الفهارس التي هي كما سميتها (مقاليد الكنوز). فإن يكن صواباً فإني أحمد الله على
আমি এই গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতিতে ফিকহ ও মতপার্থক্য সংক্রান্ত কোনো আলোচনা আমার ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করিনি। এটি কেবল উপকৃত ও গবেষণাকারীর কাজ, যখন তার কাছে বৈজ্ঞানিক সূচিপত্রের মাধ্যমে হাদিসগুলো একত্রিত হবে। আর 'মুসনাদ' অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসকৃত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় যে এর ব্যাখ্যাকারীর পক্ষে এমনটি করা সহজ হবে।
আর হাদিসের বিরল শব্দের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি কেবল একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, এবং সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে আমি দেখেছি যে বিরল শব্দ শাস্ত্রের লেখকগণ সংক্ষিপ্ত করেছেন, অথবা যেখানে তাদের বক্তব্যের সাথে আমার ভিন্নমত রয়েছে; আর এটি খুবই সামান্য ও বিরল।
মুসনাদের হাদিসসমূহ প্রচুর পুনরাবৃত্ত হয়েছে; ফলে একটি হাদিসই একাধিক সনদে এবং ভিন্ন বা কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার কোনটি দীর্ঘ আবার কোনটি সংক্ষিপ্ত। তাই আমি প্রতিটি হাদিসের পাশে সেই বর্ণনার নম্বর উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি যা অর্থ বা শব্দের দিক থেকে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। যদি সেটি হুবহু বা কাছাকাছি শব্দে পুনরাবৃত্ত হয়, তবে আমি বলেছি: "অমুক নম্বরের পুনরাবৃত্তি" এবং পূর্বের নম্বরটি উল্লেখ করেছি। আর যদি পরেরটি আগেরটির চেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে বলেছি: "অমুক নম্বরের বিস্তারিত রূপ", আর যদি তা থেকে সংক্ষিপ্ত হয়, তবে বলেছি: "অমুক নম্বরের সংক্ষিপ্ত রূপ"।
এই পদ্ধতির আরেকটি উপকারিতা হলো: পাঠক যখন কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীর মুসনাদের শেষের দিকে কোনো অর্থবোধক হাদিস পাবেন, তখন তিনি উল্লেখিত নম্বরগুলোর মাধ্যমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফিরে গিয়ে সেই সাহাবীর বর্ণিত ওই বিষয়ের সকল বর্ণনা একত্রিত করতে পারবেন, এতে তাকে বৈজ্ঞানিক সূচিপত্রের সাহায্য নিতে হবে না।
আর বর্ণনাগুলো একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা এই কাজে নিয়োজিত প্রতিটি ব্যক্তিই উপলব্ধি করতে পারেন।
এর সবচেয়ে নিকটবর্তী উপকারিতা হলো হাদিসের সঠিক মর্ম উদঘাটন করা এবং একটির সাথে অপরটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এর সনদসমূহকে শক্তিশালী করা।
আমি তাহকিক, প্রামাণ্যতা যাচাই এবং এই সূচিপত্রগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, যাকে আমি 'ভাণ্ডারের চাবিকাঠি' হিসেবে নামকরণ করেছি। যদি এটি সঠিক হয়ে থাকে তবে আমি এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি...
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٤)
توفيقه، وإن يكن خطأ، فما أردت إلا الخير، وأستغفر الله.
وأرجو أن يكون عملي هذا محققاً لكلمة الإمام أحمد لابنه عبد الله: "احتفظ بهذا المسند، فإنه سيكون للناس إماماً" وهي الكلمة التى رواها ابن الجوزي في مناقب أحمد ص 191 وجعلناها في صدر الكتاب عنواناً له. فإن الإمام رضي الله عنه توقع أن يكون هذا، ولكنه لم يكن إلا لأفراد أفذاذ معدودين، لا لعامة المحدّثين. فإذا وفق الله لإتمام هذا العمل تحققت الكلمة وتمت: أن يكون المسند للناس إماماً.
وقد قال الحافظ الذهبي، فيما رواه عنه الحافظ شمس الدين بن الجزري في كتاب "المصعد الأحمد" الذي سيأتي إن شاء الله: "فلعل الله تبارك وتعالى أن يقيض لهذا الديوان السامي من يخدمه ويُبوِّبُ عليه، ويتكلم على رجاله، ويرتب هيئته ووضعه، فإنه محتوٍ على أكثر الحديث النبويّ، وقلَّ أن يثبتَ حديث إلا وهو فيه".
وإني أرجو أن تكون دعوةُ الذهبي أُجيبت بما صنعتُ. وأسأل الله سبحانه ِالهُدى والسداد، والعصمة والتوفيق.
وما أبغي أن أتمدح بعملي أو أفخر به، لكني أستطيع أن أقول: إني في بعض ما حققتُ من الأسانيد قد حللت مشاكل، وبيَّنت دقائق، وصححت أخطاء، فاتت على كثير من أئمة الحديث السابقين، لا تقصيراً منهم، ولا اجتهاداً مني، ولكن هذا الديوان (السامي) كما سماه الحافظ الذهبي، كان مفتاحاً لما أغلق، ومناراً يُهتدى به في الظلمات، وكان للناس إماماً، حين وُفّق رجل لخدمته، وحين حُقّقَت أحاديثُه تحقيقاً مفصلاً.
وقد يكون في بعض ما ذهبت إليه من التحقيق شيء من الخطأ، فما يخلو عمل إنسان غير معصوم من الخطأ، ولكني قد أراه خطأ يهدي إلى
তাঁরই তাওফিক, আর যদি ভুল হয়, তবে আমি কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু ইচ্ছা করিনি এবং আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এবং আমি আশা করি যে আমার এই কাজ ইমাম আহমাদ তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর উদ্দেশ্যে যে কথাটি বলেছিলেন তা বাস্তবায়ন করবে: "এই মুসনাদটি সংরক্ষণ করো, কারণ এটি অচিরেই মানুষের জন্য ইমাম (পথপ্রদর্শক) হবে।" এটি সেই বাণী যা ইবনুল জাওযী 'মানাকিবে আহমাদ' এর ১৯১ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং আমরা একে বইটির শুরুতে শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করেছি। ইমাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রত্যাশা করেছিলেন যে এমনটি ঘটবে, তবে এটি কেবল গুটিকয়েক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল, সাধারণ মুহাদ্দিসদের জন্য নয়। সুতরাং আল্লাহ যদি এই কাজ সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন, তবে সেই কথাটি বাস্তবায়িত ও পূর্ণ হবে: যে মুসনাদ মানুষের জন্য ইমাম হবে।
হাফেজ যাহাবী যা বলেছেন—যেমনটি তাঁর থেকে হাফেজ শামসুদ্দিন ইবনুল জাযারি 'আল-মাসআদুল আহমাদ' কিতাবে বর্ণনা করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে—: "হয়তো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এই মহান দীওয়ানের (সংকলন) জন্য এমন কাউকে নিযুক্ত করবেন যে এর খেদমত করবে, একে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করবে, এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে আলোচনা করবে এবং এর কাঠামো ও বিন্যাসকে সুশৃঙ্খল করবে। কেননা এটি অধিকাংশ নববী হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে আছে এবং খুব কম সহিহ হাদিসই আছে যা এর মধ্যে নেই।"
আর আমি আশা করি যে আমার এই কর্মের মাধ্যমে যাহাবীর সেই দোয়া কবুল হয়েছে। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে হিদায়াত, সঠিক পথপ্রাপ্তি, ভুল থেকে সুরক্ষা এবং তাওফিক প্রার্থনা করছি।
আমি আমার কাজের প্রশংসা করতে চাই না বা এটি নিয়ে অহংকার করতে চাই না, তবে আমি বলতে পারি: সনদগুলোর তাহকিক করতে গিয়ে আমি কিছু জটিলতার সমাধান করেছি, সূক্ষ্ম বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছি এবং এমন কিছু ভুল সংশোধন করেছি যা পূর্ববর্তী অনেক হাদিস বিশারদ ইমামদের দৃষ্টিগোচর হয়নি; এটি তাঁদের কোনো অবহেলার কারণে নয়, আর আমার কোনো বিশেষ পাণ্ডিত্যের কারণেও নয়। বরং এই দীওয়ান (মহান সংকলন)—যেমনটি হাফেজ যাহাবী একে নামকরণ করেছেন—তা ছিল বন্ধ দুয়ারের চাবিকাঠি এবং অন্ধকারে পথপ্রদর্শক আলোকবর্তিকা। এটি মানুষের জন্য ইমাম হিসেবে গণ্য হবে যখন কোনো ব্যক্তি এর খেদমতের তাওফিক প্রাপ্ত হবে এবং যখন এর হাদিসগুলো বিস্তারিতভাবে তাহকিক করা হবে।
আমার তাহকিকের কোনো কোনো সিদ্ধান্তে কিছু ভুল থাকতে পারে, কারণ কোনো নিষ্পাপ ব্যক্তি ছাড়া মানুষের কাজ ভুলমুক্ত হতে পারে না। তবে আমি হয়তো একে এমন এক ভুল হিসেবে দেখি যা পথপ্রদর্শন করে...
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٥)
كثير من الصواب، إذ فتح للباحثين بابَ البحث في دقائقَ كانت مغلقة، ومشاكل كانت مستعصية.
ولا يظننَّ ظانّ أني أغلو فيما أقول، فإني أرجو أن يكون عملي خالصاً لوجه الله. وإن كثيرًا من إخواني من علماء السنة القائمين عليها، في مصر والحجاز والشام، قرأوا بعض ما كتبتُ، وأظنهم مُوافِقِيَّ على الوصف الذي وصفت والله الهادي إلى سواء السبيل.
…وكتاب (المسند) مطبوع بمصر في الطبعة الميمنية إدارة السيد أحمد البابي الحلبي، في مجلدات كبار، فيها نحو ثلاثة آلاف صفحة كبيرة، بحروف صغيرة، فرغ من طبعها في شهر جمادى الآخرة سنة 1313، وهي طبعة جيدة من ناحية التصحيح، الخطأ فيها قليل. وذكر مصححها في آخرها أن من أهمّ النسخ التي قوبلت عليها، نسخة من خزانة السادات الوفائية.
وقد وجدت منه جزءاً صغيراً مطبوعاً بالمطبعة الحيدرية في بمبي بالهند في سنة 1308، وهو 280 صفحة من القطع المتوسط، فيه إلى آخر مسند "سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل" أي نحو 190 صفحة من طبعة الحلبي. وهذه القطعة نادرة الوجود، لم أر نسخة ثانية منها غير التي عندي، على أنها مطبوعة لا مخطوطة، وتصحيحها غير جيد. وغالب ظني أن تلك المطبعة الحيدرية لم تتم طبع الكتاب. وقد انتفعت بهذه القطعة في بعض التصحيح، على الرغم مما فيها من خطأ.
وفى دار الكتب المصرية نسخة بخط مغربي دقيق، مصورة بالتصوير الشمسي، عن نسخة في مكتبة عالم لمغرب ومحدثه السيد عبد الحيّ
অনেক সঠিক বিষয়, কারণ এটি গবেষকদের জন্য এমন সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার দ্বার উন্মোচন করেছে যা বন্ধ ছিল এবং এমন সমস্যাগুলো যা ছিল দুর্ভেদ্য।
আর কেউ যেন মনে না করেন যে আমি যা বলছি তাতে অতিশয়োক্তি করছি, কেননা আমি আশা করি যে আমার এ কাজ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হবে। মিসর, হিজাজ ও শামের আহলে সুন্নাহর আলেমদের মধ্যে যারা এর ধারক-বাহক, তাদের অনেকে আমি যা লিখেছি তার কিছু অংশ পড়েছেন। আমার ধারণা যে আমি যা বর্ণনা করেছি তারা সে বিষয়ে আমার সাথে একমত হবেন। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।
…আর (মুসনাদ) কিতাবটি মিসরে ‘মায়মানিয়্যাহ’ ছাপাখানায় সাইয়্যেদ আহমদ আল-বাবী আল-হালাবীর ব্যবস্থাপনায় বড় বড় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এতে ছোট হরফে প্রায় তিন হাজার বড় পৃষ্ঠা রয়েছে। ১৩১৩ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে এর মুদ্রণ শেষ হয়। সংশোধনের দিক থেকে এটি একটি উত্তম মুদ্রণ, এতে ভুলের পরিমাণ কম। এর সংশোধক শেষে উল্লেখ করেছেন যে, যে পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাদাত আল-ওয়াফায়িয়্যাহ গ্রন্থাগারের একটি পাণ্ডুলিপি।
আমি এর একটি ছোট অংশ ভারতের বোম্বাইয়ের ‘হায়দারী’ ছাপাখানায় ১৩০৮ হিজরি সনে মুদ্রিত পেয়েছি। এটি মাঝারি আকারের ২৮০ পৃষ্ঠা সংবলিত, এতে ‘সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল’-এর মুসনাদের শেষ পর্যন্ত রয়েছে, যা হালাবী মুদ্রণের প্রায় ১৯০ পৃষ্ঠার সমান। এই অংশটি দুষ্প্রাপ্য, আমার কাছে থাকা কপিটি ছাড়া আমি এর দ্বিতীয় কোনো কপি দেখিনি, যদিও এটি মুদ্রিত, হাতে লেখা (পাণ্ডুলিপি) নয়। এর সংশোধন ভালো নয়। আমার প্রবল ধারণা যে হায়দারী ছাপাখানাটি কিতাবটির মুদ্রণ সম্পন্ন করেনি। এতে ভুল থাকা সত্ত্বেও আমি সংশোধনের কাজে এই অংশটি থেকে উপকৃত হয়েছি।
আর মিসরীয় ‘দারুল কুতুব’-এ সূক্ষ্ম মাগরিবী হস্তাক্ষরে একটি কপি রয়েছে, যা মরক্কোর আলেম ও মুহাদ্দিস সাইয়্যেদ আব্দুল হাই-এর গ্রন্থাগারে থাকা একটি কপির ছায়ালিপি।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الكتاني، وهي نسخة صحيحة جيدة الضبط والإتقان، نادرة الغلط. وقد استعرتها من دار الكتب للمقابلة والتصحيح.
ورمزت لهذه النسخ بالرموز الآتية:
ح طبعة الحلبي سنة 1313 (1).
هـ القطعة المطبوعة في بمبي بالهند.
ك النسخة الكتانية المغربية.
ولم آل جهدًا في تصحيح متون الأحاديث وأسانيدها، مستعيناً بكتب الحديث والرجال ومعاجم اللغة وغريب الحديث، والحمد الله على توفيقه.
وأثبتُّ في هامش هذه الطبعة أرقام صحف طبعة الحلبي، لأنها مكثت في أيدي الناس أكثر من خمسين سنة، واعتمدها كثير منهم فيما ينقلون عنها، وذكروا أرقامها. وجعلت رقم الصفحة فوق رقم الجزء، ووضعت بينهما خطاً.
وجميع نسخ المسند فيها إسناد أبي بكر القَطِيعي إلى أحمد، يقول في أول كل حديث: "حدثنا عبد الله ثنا أبي" وهذا على طريقة المتقدمين: يذكر الراوي إسناده إلى مؤلف الكتاب في كل حديث، أو في أول كل باب أو كتاب.
فرأيت أن أحذف هذا، ليكون التحدث في كل حديث من الإمام أحمد، اكتفاء بإسناد الكتاب الذي ذكر في أوله، وخشية أن يقوم جاهل بصناعة الحديث والرواية فيجتريء فيزعم أن الكتاب ليس من تأليف الإمام أحمد، وأنه من تأليف القطيعي، كما كان منذ سنين، أن قام رجل في مصر يزعم أن كتاب "الأم" ليس من تأليف الشافعي، لشبهة مثل هذه الشبهة أو أضعف منها.
--------------------------------------------
কাত্তানি সংস্করণ; এটি একটি নির্ভুল, উত্তমরূপে সম্পাদিত ও সুসংরক্ষিত অনুলিপি, যাতে ভুলের পরিমাণ অতি সামান্য। আমি এটি দারুল কুতুব থেকে পাঠান্তর যাচাই ও সংশোধনের জন্য ধার নিয়েছিলাম।
এবং আমি এই অনুলিপিগুলোর জন্য নিম্নোক্ত প্রতীকসমূহ ব্যবহার করেছি:
‘হা’ দ্বারা ১৩১৩ হিজরীর হালাবি সংস্করণ (১)।
‘হে’ দ্বারা ভারতের বোম্বেতে মুদ্রিত অংশ।
‘কাফ’ দ্বারা মরক্কোর কাত্তানি অনুলিপি।
আমি হাদিসের মূল পাঠ (মতন) এবং সনদসমূহ সংশোধনে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। এক্ষেত্রে আমি হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহ, রিজাল শাস্ত্র (বর্ণনাকারীদের জীবনী), অভিধান এবং ‘গরীবুল হাদিস’ (দুর্লভ শব্দাবলি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়েছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর তাওফিকের ওপর।
আমি এই মুদ্রণের টীকাতে হালাবি সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বরগুলো যুক্ত করেছি, কারণ সেটি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের হাতে ছিল এবং অনেকেই উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সেটির ওপর নির্ভর করেছেন ও তার পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছেন। আমি খণ্ড নম্বরের উপরে পৃষ্ঠা নম্বর স্থাপন করেছি এবং তাদের মাঝখানে একটি রেখা টেনে দিয়েছি।
মুসনাদের সকল অনুলিপিতেই ইমাম আহমদের প্রতি আবু বকর আল-কাতিয়ির সনদ বিদ্যমান রয়েছে। তিনি প্রতিটি হাদিসের শুরুতে বলেন: "আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।" এটি পূর্বসূরীদের একটি পদ্ধতি ছিল যে, বর্ণনাকারী প্রতিটি হাদিসের শুরুতে অথবা প্রতিটি অধ্যায় বা কিতাবের শুরুতে মূল গ্রন্থকারের প্রতি তার সনদ উল্লেখ করতেন।
তাই আমি এটি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে প্রতিটি হাদিসের মূল বক্তা সরাসরি ইমাম আহমদ হন। গ্রন্থের শুরুতে উল্লিখিত সনদটিকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। এছাড়া এই আশঙ্কায়ও যে, হাদিস ও বর্ণনা শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ কোনো ব্যক্তি ধৃষ্টতা দেখিয়ে দাবি করে বসতে পারে যে, গ্রন্থটি ইমাম আহমদের সংকলিত নয়, বরং আল-কাতিয়ির সংকলন। যেমনটি কয়েক বছর আগে মিশরে এক ব্যক্তি দাবি করেছিলেন যে, ইমাম শাফেয়ির ‘আল-উম্ম’ কিতাবটি তাঁর রচিত নয়; এই জাতীয় বা এর চেয়েও দুর্বল কোনো সন্দেহের বশবর্তী হয়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ومن المعلوم للمحدثين والمطلعين أن في المسند أحاديث زادها عبد الله ابن أحمد بن حنبل بروايته عن شيوخه، وأحاديث من زيادات القطيعي عن شيوخه أيضاً، وهي قليلة، ففي هذه الأحاديث أبين ذلك صراحة، فأقول: "قال عبد الله بن أحمد" أو: "قال أبو بكر القطيعي". وكذلك في الأحاديث التي وجدها عبد الله بخط أبيه ولم يسمعها منه، أبين أن هذا قول عبد الله، حتى لا يشتبه شيء على القاريء، ولا يستطيع متلاعب أن يتلاعب.
…وقد وجدت أربعة كتب ُألِّفَتْ في شأن هذا المسند خاصة، هي أجزاء صغيرة، فرأيت أن ألحقها به في عملي. اثنان منها أقدمهما بين يديه، إذ كانا كالمقدمة له. وهما: (خصائص المسند) للحافظ أبي موسى المديني، المتوفى سنة 581. و (المصعد الأحمد في ختم مسند الإمام أحمد) للحافظ شمس الدين بن الجزري، إمام القراءات، المتوفى سنة 833.
وهذان الكتابان وجدهما السيد محمد أمين الخانجي رحمه الله، بخط "عبد المنعم بن علي بن مفلح الحنبلي" وتاريخ كتابتهما شهر ذي القعدة من سنة 895، فنسخهما ثم طبعهما في مطبعة السعادة بمصر سنة 1347.
والكتابان الآخران، هما: (القول المسدد في الذبّ عن المسند) تأليف شيخ الإسلام الحافظ ابن حجر العسقلاني، المتوفى سنة 852، تكلم فيه على ثلاثة وعشرين حديثاً في المسند، مما ادعى بعض المحدثين أنها من الأحاديث الموضوعة، وأجاب عنها حديثاً حديثاً. والآخر (ذيل القول المسدد) تأليف المحدّث قاضي الملك محمد صبغة الله الِمدْراسي، فرغ من تأليفه في 6 صفر سنة 1281، تكلم فيه على اثنين وعشرين حديثاً، كالتي قبلها. وهما
মুহাদ্দিসগণ এবং বিজ্ঞজনদের নিকট এটি সুবিদিত যে, মুসনাদে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে বর্ণনা করে এতে যুক্ত করেছেন। এছাড়া আল-কাতীঈর শিক্ষকদের সূত্রে তাঁর করা কিছু সংযোজনও রয়েছে, তবে সেগুলো সংখ্যায় নগণ্য। সুতরাং এই হাদীসগুলোতে আমি বিষয়টি স্পষ্টভাবে বিবৃত করব; আমি বলব: "আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বলেছেন" অথবা: "আবু বকর আল-কাতীঈ বলেছেন"। একইভাবে আব্দুল্লাহ তাঁর পিতার হস্তাক্ষরে যে হাদীসগুলো প্রাপ্ত হয়েছেন কিন্তু তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আমি স্পষ্ট করে দেব যে এটি আব্দুল্লাহর বক্তব্য, যাতে পাঠকের মনে কোনো সংশয় তৈরি না হয় এবং কোনো অপব্যবহারকারী যেন এতে অপব্যবহার করতে না পারে।
…আমি এই মুসনাদ সম্পর্কে বিশেষভাবে রচিত চারটি গ্রন্থ পেয়েছি, যেগুলো মূলত ক্ষুদ্রাকার পুস্তিকা। আমি আমার এই কর্মে সেগুলোকে এর সাথে সংযুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি। এর মধ্যে দু’টি আমি এর প্রারম্ভে উপস্থাপন করছি, যেহেতু সেগুলো এর ভূমিকারূপ। সেগুলো হলো: হাফেজ আবু মুসা আল-মাদীনীর (মৃত্যু: ৫৮১ হিজরী) "খাসাইসুল মুসনাদ" এবং কিরাত শাস্ত্রের ইমাম হাফেজ শামসুদ্দীন ইবনুল জাযারীর (মৃত্যু: ৮৩৩ হিজরী) "আল-মাসআদুল আহমাদ ফী খাতমি মুসনাদিল ইমাম আহমাদ"।
এই গ্রন্থদ্বয় সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীন আল-খানজী (রহিমাহুল্লাহ) "আব্দুল মুনইম বিন আলী বিন মুফলিহ আল-হাম্বলী"র হস্তাক্ষরে প্রাপ্ত হন। সেগুলোর লেখনকাল ছিল ৮৯৫ হিজরীর জিলকদ মাস। তিনি সেগুলো অনুলিপি করেন এবং পরবর্তীতে ১৩৪৭ হিজরীতে মিসরের মাতবাআতুস সাআদাহ থেকে মুদ্রণ করেন।
অপর দু’টি গ্রন্থ হলো: শায়খুল ইসলাম হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানীর (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরী) রচিত "আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাব্বি আনিল মুসনাদ"। এতে তিনি মুসনাদের এমন তেইশটি হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলোকে কোনো কোনো মুহাদ্দিস জাল হাদীস বলে দাবি করেছিলেন এবং তিনি প্রতিটি হাদীসের পৃথক পৃথক জওয়াব দিয়েছেন। আর দ্বিতীয়টি হলো মুহাদ্দিস কাজী আল-মালিক মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ আল-মাদরাজী রচিত "যাইলুল কাওলুল মুসাদ্দাদ"। তিনি ১২৮১ হিজরীর ৬ই সফর এটি রচনা সমাপ্ত করেন। এতে তিনি পূর্বোক্ত কিতাবের ন্যায় বাইশটি হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেগুলো হলো
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٨)
مطبوعان معاً، في حيدر آباد الدكن سنة 1319.
فهذان الكتابان رأيت أن ألحقهما بالمسند في آخره إن شاء الله، على أن أنبه عند كل حديث فيهما على رقمه في المسند. ثم أشير إلى أرقام أحاديث أخر على شرطهما في الكتابين فاتتهما.
وكنتُ أولاً أريد أن أفرقهما في الكتاب، فأنقل كلام كل منهما في موضعه عند الحديث الخاصّ به. ثم رأيت أن ذلك يطيل القول المختصر الذي قصدت التعليق به على كل حديث، وأنّ أكثرَهُ توسع ومحاولة فيها تكلف، لتصحيح حديث ضعيف أو تحسينه. فاكتفيت بالإشارة عند كل حديث إلى ما قيل فيه، ولتحقيق ما أراه حقاً في شأنه، ثم أحفظ الأمانة بإثبات الكتابين بنصهما في آخر الكتاب.
…واخترتُ في ترجمة الإمام أحمد أن أثبت نص ترجمته من (تاريخ الإسلام)، للحافظ الذهبي، لأنها لم يسبق نشرها من قبل، ولأنها من ديوان كبير خطير من أعظم دواوين الإسلام، لرجل حافظ ثقة حجة، ونسخة عزيزة نادرة في المكاتب العامة، لا يوجد منها فيها إلا الجزء بعد الجزء. وأكمل نسخة فيما نعلم، هي التي بدار الكتب المصرية، على أنه ينقصها منه بعض الطبقات (1).
…وطالما فكرتُ في نشر المسند بين الناس، على النحو الذي صنعتُ ووضعتُ، شغفاً بخدمة السنة النبوية وأهلها، وحرصاً على إذاعة فائدة هذا الكتاب الذي جعله مؤلفه للناس إماماً، وخشية أن يضيع هذا العمل الذي لم
--------------------------------------------
সেগুলো একত্রে হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যে ১৩১৯ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছে।
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই বই দুটিকে ইনশাআল্লাহ মুসনাদ-এর শেষে সংযুক্ত করব। এর সাথে আমি সেখানে থাকা প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে মুসনাদ-এর নম্বরটি উল্লেখ করে দেব। এরপর আমি ওই বই দুটির শর্ত অনুযায়ী অন্য হাদিসগুলোর নম্বরের দিকেও ইঙ্গিত করব যা তাদের দৃষ্টিচ্যুত হয়েছে।
শুরুতে আমি বই দুটিকে মূল গ্রন্থের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, যাতে সংশ্লিষ্ট হাদিসের স্থানে উভয়ের মন্তব্য উদ্ধৃত করা যায়। কিন্তু পরবর্তীতে আমি দেখলাম যে, এতে প্রতিটি হাদিসের ওপর আমার যে সংক্ষিপ্ত টীকা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তা দীর্ঘ হয়ে যাবে। তাছাড়া এর অধিকাংশ ছিল অহেতুক দীর্ঘায়ন ও কোনো দুর্বল হাদিসকে সহীহ বা হাসান করার কৃত্রিম চেষ্টা। তাই আমি প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে সে সম্পর্কে যা বলা হয়েছে কেবল তার ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি এবং সে ব্যাপারে আমি যা সঠিক মনে করেছি তা যাচাই করেছি। এরপর আমানত রক্ষার্থে বই দুটিকে তাদের মূল পাঠ্যসহ গ্রন্থের শেষে অবিকলভাবে সংরক্ষণ করেছি।
…ইমাম আহমাদ-এর জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি হাফেজ যাহাবী-র 'তারিখুল ইসলাম' থেকে তার জীবনীর মূল পাঠটি গ্রহণ করাকেই পছন্দ করেছি। কারণ এটি আগে কখনও প্রকাশিত হয়নি এবং এটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিশাল একটি সংকলন থেকে সংগৃহীত। এটি এমন এক ব্যক্তির রচনা যিনি একজন হাফেজ, বিশ্বস্ত এবং হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ)। পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে এর পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত দুর্লভ ও বিরল; সেখানে এর বিচ্ছিন্ন খণ্ড ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। আমাদের জানামতে এর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিটি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত আছে, যদিও সেখানেও এর কিছু স্তর (তবকা) অনুপস্থিত (১)।
…আমি দীর্ঘকাল যাবত সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের সেবার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং এই বইটির উপকারিতা প্রচারের লালসায় মুসনাদ-কে মানুষের মধ্যে বর্তমান অবয়বে প্রকাশ করার কথা চিন্তা করেছি, যেটিকে লেখক মানুষের জন্য একটি পথপ্রদর্শক (ইমাম) হিসেবে তৈরি করেছেন। এছাড়া এই ভয়ও ছিল যে, এমন একটি কাজ যেন হারিয়ে না যায় যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
أُسبق إليه، والذي أعتقد أنه سيكون، إن شاء الله، من أكبر المرغبات لأهل هذا العصر في دراسة الحديث، وأنه سيكون مفتاحاً لجميع كتب السنة لمن وفقه الله. وسعيت في سبيل ذلك جهدي سنين كثيرة، حتى كدت أيأس من طبعه، إلى أن وفقت إلى الاتفاق مع "دار المعارف" على طبعه، وهي من أكبر دور النشر في القاهرة، وأوثقها وأشدها إتقاناً.
وصادف ذلك أن كانت الزيارةُ الرسمية التى شرف فيها مصرَ بزيارته، أسدُ الجزيرة، حامي حمى السنة، رجل العلم والعمل، والسيف والقلم الإمام العادل، (الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن الفيصل آل سعود) أطال الله بقاءه. وكانت هذه الزيارة المباركة من يوم الخميس 6 صفر الخير من هذا العام 1365 إلى يوم الثلاثاء 18 منه (10 - 22 يناير سنة 1946) فما إن رُفع إلى جلالته شأنُ هذا الكتاب، حتى أصدر أمره الكريم إلى حكومته السنية، بالاشتراك في عدد كبير من نسخه، من أوله إلى آخره، إجلالاً لشأن الإمام الكبير، وعطفاً على شخصي الضعيف.
بارك الله في جلالته، وحفظه مؤيداً منصوراً، ذخراً للإسلام والمسلمين، وناشراً للواء العرب، ومجدداً لمجدهم.
وأقر عينيه بأنجاله الأشبال الكرام، السادة النجب، قادة العرب وقدوتهم، وموئل عزهم، الأمراء (سعود) و (فيصل) وإخوتهما.
وأسأل الله المبتديء لنا بنعمه قبل استحقاقها، المديمَها علينا مع تقصيرنا في الإتيان على ما أوجب به من شكره بها، الجاعِلَنا في خير أمة أخرجت للناس، أن يرزقنا فهماً في كتابه، ثم سنة نبيه، وقولاً وعملاً يؤدِّي به عنّا حقَّه، ويوجب لنا نافلة مزيده. إنه سميع الدعاء.
الثلاثاء 11 رجب سنة 1365
11 يونية سنة 1946
أحمد محمد شاكر
عفا الله عنه
যা ইতিপূর্বে আর কখনও করা হয়নি, এবং আমি বিশ্বাস করি যে এটি হবে, ইনশাআল্লাহ, এই যুগের মানুষের কাছে হাদীস অধ্যয়নের জন্য অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা, এবং আল্লাহ যাকে তাওফিক দান করবেন তার জন্য এটি হবে সুন্নাহর সকল কিতাবের চাবিকাঠি। আমি এর জন্য দীর্ঘ বছর ধরে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এমনকি এর মুদ্রণের ব্যাপারে আমি প্রায় নিরাশ হতে যাচ্ছিলাম, পরিশেষে আমি 'দারুল মাআরিফ'-এর সাথে এটি ছাপানোর ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার তাওফিক লাভ করি। এটি কায়রোর অন্যতম বৃহত্তম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিপুণ।
আর এটি এমন সময়ে ঘটল যখন জাযিরাতুল আরবের সিংহ, সুন্নাহর সীমানার রক্ষক, ইলম ও আমলের অধিকারী, তলোয়ার ও কলমের বীর, ন্যায়পরায়ণ ইমাম, (বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল-ফয়সাল আল-সউদ) —আল্লাহ তাঁর জীবন দীর্ঘ করুন— মিশরে তাঁর সরকারি সফর করে দেশটিকে ধন্য করেছিলেন। এই বরকতময় সফরটি ছিল এই বছরের ১৩৬৫ হিজরির ৬ই সফর বৃহস্পতিবার থেকে ১৮ই সফর মঙ্গলবার (১০ - ২২ জানুয়ারি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত। যখন মহামান্যের সমীপে এই কিতাবের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো, তখনই তিনি মহান ইমামের শানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং আমার মতো এক দুর্বল ব্যক্তির প্রতি সদয় হয়ে তাঁর মহান সরকারের প্রতি এর বিপুল সংখ্যক কপি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করার নির্দেশ জারি করেন।
আল্লাহ মহামান্যের ওপর বরকত নাজিল করুন, এবং তাঁকে সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী অবস্থায় হেফাযত করুন, ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সম্পদ হিসেবে কবুল করুন এবং আরবদের ঝাণ্ডার প্রসারক ও তাদের গৌরবের পুনরুজ্জীবনকারী হিসেবে কবুল করুন।
আর তাঁর চোখ জুড়িয়ে দিন তাঁর সম্মানিত ও বীর সন্তানদের মাধ্যমে, যারা মহান নেতা, আরবদের সিপাহসালার ও অনুকরণীয় আদর্শ এবং তাদের সম্মানের আশ্রয়স্থল— অর্থাৎ রাজপুত্র (সউদ) ও (ফয়সাল) এবং তাঁদের অন্য ভাইয়েরা।
আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যিনি আমাদের যোগ্যতা অর্জনের আগেই নেয়ামত দিয়ে শুরু করেন, যিনি আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও আমাদের ওপর নেয়ামত অব্যাহত রাখেন, যিনি আমাদের মানুষের কল্যাণে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন— তিনি যেন আমাদের তাঁর কিতাব এবং অতঃপর তাঁর নবীর সুন্নাহর সঠিক সমঝ দান করেন, এবং এমন কথা ও কাজের তাওফিক দেন যার মাধ্যমে আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর হক আদায় হয় এবং যা আমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে আরও অধিক পুরস্কার প্রাপ্তি অবধারিত করে। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
মঙ্গলবার, ১১ই রজব, ১৩৬৫ হিজরি
১১ই জুন, ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ
আহমদ মুহাম্মদ শাকের
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ثم الحمد لله حق حمده، والشكر له.
فقد نفدت الطبعة الأولى من هذا الجزء (الأول) وأعدنا طبعه في عدد محدود من النسخ. وكان اقتناء الكتاب عزيزاً على علماء الحديث وطلابه.
وكان من توفيق الله ورعايته أن تشرفت هذا العام بزيارة حضرة صاحب الجلالة الملك العادل، ناصر السنة وحافظ حماها، مولاي الإمام (عبد العزيز آل سعود) في (الرياض) الزاهرة، وعرضت على مسامعه الكريمة حاجة العلماء والطلاب إلى اقتناء (المسند) بقيمة ميسرة لهم. فصدر أمره الكريم بطبع عدد آخر على ورق أقل قليلا من الورق الأول، يباع لهم بثمن أقل كثيراً من الثمن الأول.
وطوعاً للأمر العالي الكريم بدأت في الجزء السابع على الوضع الجديد: يكون ثمن الجزء من الورق الأصلي 80 قرشاً، وثمن الجزء من الورق الجديد 30 قرشاً، وقد بينت ذلك في كلمة كتبتها في صدر الجزء السابع.
ثم تفضل حفظه الله وأيده، فأصدر أمره بإعادة طبع الأجزاء الستة الأولى على هذا الوضع أيضاً.
وها هو ذا الجزء الأول، تتلوه الأجزاء الباقية، من فيض مولاي الملك الإمام وواسع كرمه، إن شاء الله.
أطال الله بقاءه مؤيداً منصوراً، موفقاً للخير والعمل الصالح.
الإثنين 19 ذي القعدة سنة 1368
12 سبتمبر سنة 1949
أحمد محمد شاكر
عفا الله عنه
অতঃপর আল্লাহর জন্য যথাযথ প্রশংসা এবং তাঁরই জন্য সকল কৃতজ্ঞতা।
এই (প্রথম) খণ্ডের প্রথম মুদ্রণ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা সীমিত সংখ্যক কপি পুনরায় মুদ্রণ করেছি। এই কিতাবটি সংগ্রহ করা হাদিস বিশারদ ও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল।
আল্লাহর তাওফিক ও করুণা ছিল যে, এই বছর আমি জাঁকজমকপূর্ণ (রিয়াদে) ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, সুন্নাহর সাহায্যকারী ও এর সংরক্ষক, আমার অভিভাবক ইমাম (আবদুল আজিজ আল সৌদ)-এর সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য লাভ করেছি এবং আলেম ও ছাত্রদের জন্য সহজলভ্য মূল্যে (মুসনাদ) সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তাঁর সদয় কর্ণগোচরে পেশ করেছি। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে সম্মানজনক নির্দেশ জারি হলো যেন প্রথম মুদ্রণের কাগজের তুলনায় সামান্য কম মানের কাগজে আরও কিছু সংখ্যা মুদ্রিত হয়, যা তাদের কাছে প্রথম মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে বিক্রি করা হবে।
সেই উচ্চতর ও মহান নির্দেশের অনুগত হয়ে আমি সপ্তম খণ্ডটি নতুন পদ্ধতিতে শুরু করেছি: মূল কাগজের খণ্ডের মূল্য হবে ৮০ কিরশ এবং নতুন কাগজের খণ্ডের মূল্য হবে ৩০ কিরশ। আমি সপ্তম খণ্ডের শুরুতে লেখা একটি বক্তব্যে এটি স্পষ্ট করেছি।
অতঃপর তিনি—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন এবং সাহায্য করুন—অনুগ্রহপূর্বক প্রথম ছয়টি খণ্ডও একইভাবে পুনরায় মুদ্রণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আর এই যে প্রথম খণ্ড, ইনশাআল্লাহ আমার অভিভাবক বাদশাহ ইমামের বদান্যতা ও প্রশস্ত উদারতায় অবশিষ্ট খণ্ডগুলোও ধারাবাহিকভাবে আসবে।
আল্লাহ তাকে সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী হিসেবে দীর্ঘজীবী করুন এবং তাকে কল্যাণ ও নেক আমলের তাওফিক দিন।
সোমবার, ১৯ জিলকদ, ১৩৬৮ হিজরি
১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ
আহমদ মুহাম্মদ শাকির
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
طلائع الكتاب
গ্রন্থের প্রারম্ভিকা
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
خصائص المسند للحافظ أبي موسى المديني المتوفى سنة 581 (1)
قال الشيخ عبد المنعم بن عليّ بن مُفْلح الحنبلي (2): أخبرتني الشيخة الجليلة الأصيلة المسندة المعمَّرة، أم عبد الله عائشة ابنة محمد بن عبد الهادي ابن عبد الحميد بن عبد الهادي بن يوسف بن محمد بن قدامه المقدسي الصالحي (3)، إجازةً منها، قالت: أنبانا أبو عبد الله بن أحمد بن تمام بن حسان الصالحي وغيره، عن أبي العباس أحمد بن عبد الدائم بن نعمة المقدسي، قال: أخبرنا الحافظ أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي سماعاً (ح) قالت عائشة: وأنبأتنا به عالياً بدرجةٍ أمّ عبد الله زينب ابنة عبد الرحيم بن أحمد بن عبد الرحمن البجدي، عن الحافظ ضياء الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي، قالا: أنبأنا الحافظ أبو موسى محمد بن عمر بن أحمد بن عمر الأصبهاني المديني، رحمه الله تعالى، قال: الحمد لله الواسع المنعم، المفضل المكرم، العالم المعلم، الذي أحسن بدءاً وغفر آخراً. وصلواته على محمد المختار من
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনী (মৃত ৫৮১ হিজরি) রচিত 'খাসায়িসুল মুসনাদ' (১)
শায়খ আব্দুল মুনিম বিন আলী বিন মুফলিহ আল-হাম্বলী (২) বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মহান, সম্মানিত, নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘজীবী নারী শায়খা, উম্মু আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী ইবনে আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদী ইবনে ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আস-সালেহি (৩), তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতিক্রমে (ইজাজাতান), তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন তামাম বিন হাসান আস-সালেহি এবং অন্যান্যরা, তাঁরা বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি'মাহ আল-মাকদিসি থেকে। তিনি (আবু আব্বাস) বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি শ্রবণের (সামা') মাধ্যমে (হা)। আয়েশা বলেন: আর আমাদের উচ্চতর সনদে এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন উম্মু আব্দুল্লাহ জয়নাব বিনতে আব্দুর রহিম বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-বাজাদি, তিনি হাফেজ জিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা উভয়ই (আব্দুল গনি ও জিয়াউদ্দীন) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন উমর বিন আহমদ বিন উমর আল-আসবাহানি আল-মাদিনী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশস্ত রিযিকদাতা, নেয়ামত দানকারী, শ্রেষ্ঠত্ব দানকারী, সম্মানদাতা, সর্বজ্ঞ ও শিক্ষক; যিনি সৃষ্টির শুরুতে সৌন্দর্য দান করেছেন এবং পরিণামে ক্ষমা করেছেন। এবং তাঁর সালাত ও দরুদ বর্ষিত হোক মনোনীত মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
خلقه وعلى آله.
أما بعد: فإن مما أنعم الله علينا، أن رَزَقَنا سماعَ كتاب المسند للإمام الكبير، إمام الدين أبي عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رحمه الله تعالى. فحصّل لي والدي، رحمه الله وجزاه عني خيراً، إحضاري قراءته سنة خمس وخمسمائة، على الشيخ المقريء بقية المشايخ أبي علي الحسن بن الحداد.
وكان سماعه لأكثره عن أبي نعيم أحمد بن عبد الله الحافظ -وما فاته منه قريء عليه بإجازته له- وأبو نعيم كان يرويه عن شيخيه أبي علي محمد ابن أحمد بن الحسن الصواف، وأبي بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك القطيعيّ، على ما تنطق فهرست مسموعاتي بخط والدي رحمه الله.
ثم قرأناه أجمع ببغداد على الشيخ الرئيس الثقة أبي القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين الشيباني، من أصل سماعه إلا ما لم يكن عند شيخه، عن أبي على الحسن بن علي بن المذْهِب التميمي الواعظ، عن أبي بكر أحمد بن جعفر بن حمدان القطيعي، عن عبد الله بن أحمد عن أبيه، رحمهما الله تعالى.
ولعمري إن من كان من قبلنا من الحفاظ يتبجحون بجزء واحد يقع لهم من حديث هذا الإمام الكبير، على ما أخبرني الإمام الحافظ أستاذي أبو القاسم إسماعيل بن محمد رحمه الله في إجازته لي، قال: أخبرنا أبو بكر ابن مَرْدَوَيه قال: كتب إليّ أبو حازم العبدوي، يذكر أنه سمع الحاكم أبا عبد الله عند منصرفه من بخارَى يقول: كنت [عند] أبي محمد المزني، فقدم عليه إنسان علوي من بغداد، وكان أقام ببغداد على كتابة الحديث، فسأله أبو محمد المزني، وذلك في سنة ست وخمسين وثلثمائة، عن فائدته ببغداد، وعن باقي إسناد العراق، فذكر في جملة ما ذكر: سمعت مسند
তাঁর সৃষ্টির ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর।
অতঃপর: আল্লাহ আমাদের প্রতি যে সকল অনুগ্রহ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি আমাদেরকে মহান ইমাম, দ্বীনের ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর রচিত 'আল-মুসনাদ' কিতাবটি শ্রবণের তাওফিক দান করেছেন। আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন) পাঁচশত পাঁচ হিজরি সনে কিতাবটি পাঠকালে আমাকে উপস্থিত হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন; যা পঠিত হয়েছিল শায়খ, ক্বারী এবং অবশিষ্ট শায়খদের উত্তরসূরি আবু আলী হাসান ইবনুল হাদ্দাদের সামনে।
আর কিতাবটির অধিকাংশ অংশ তিনি (ইবনুল হাদ্দাদ) শ্রবণ করেছিলেন হাফেজ আবু নুয়াইম আহমদ বিন আবদুল্লাহ থেকে—এবং যে অংশটুকু তাঁর শ্রবণ করা বাকি ছিল, তা তাঁর ইজাজতের (অনুমতি) ভিত্তিতে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল—আর আবু নুয়াইম এটি বর্ণনা করতেন তাঁর দুই শায়খ আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান আস-সাউওয়াফ এবং আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ী থেকে, যেমনটি আমার পিতার হস্তাক্ষরে লিখিত আমার শ্রবণকৃত কিতাবসমূহের তালিকায় বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
অতঃপর আমরা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাগদাদে শায়খ, প্রধান ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব আবু কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন আশ-শায়বানীর নিকট পাঠ করেছি। এটি ছিল তাঁর মূল শ্রবণ থেকে, তবে তাঁর শায়খের নিকট যা ছিল না তা ব্যতীত। তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আলী হাসান বিন আলী বিন আল-মুজহিব আত-তামীমী আল-ওয়ায়েজ থেকে, তিনি আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাতিয়ী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আহমদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (ইমাম আহমদ) থেকে, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আমার জীবনের কসম! আমাদের পূর্ববর্তী হাফেজগণ এই মহান ইমামের হাদিসের মাত্র একটি অংশ প্রাপ্ত হলেই অত্যন্ত গর্ববোধ করতেন; যেমনটি আমাকে ইমাম হাফেজ, আমার উস্তাদ আবু কাসিম ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাকে প্রদত্ত তাঁর অনুমতিপত্রে (ইজাজত) জানিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে মারদুওয়াইহ, তিনি বলেন: আবু হাযিম আল-আবদুওয়ী আমার নিকট লিখেছেন যে, তিনি হাকিম আবু আবদুল্লাহকে বুখারা থেকে ফেরার পথে বলতে শুনেছেন: আমি আবু মুহাম্মদ আল-মুজানীর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন বাগদাদ থেকে জনৈক আলাভী ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন, যিনি হাদিস লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বাগদাদে অবস্থান করেছিলেন। আবু মুহাম্মদ আল-মুজানী তিনশত ছাপ্পান্ন হিজরিতে তাঁকে তাঁর বাগদাদে অর্জিত ইলমি অর্জন এবং ইরাকের অবশিষ্ট সনদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি যা উল্লেখ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল: আমি মুসনাদ শ্রবণ করেছি...
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى من أبي بكر بن مالكٍ في مائة جزء وخمسين جزءاً، فعجب أبو محمد المزني من ذلك، وقال: مائة وخمسون جزءاً من حديث أحمد بن حنبل؟! كنا ونحن بالعراق إذا رأينا عند شيخ من شيوخنا جزءاً من حديث أحمد بن حنبل قضينا العجب من ذلك، فكيف في هذا الوقت هذا المسند الجليل! فعزم الحاكم على إخراج الصحيحين، ولم يكن عنده مسند إسحق الحنظلي، ولا مسند عبد الله بن شِيرويه، ولا مسند أبي العباس السراج، وكان في قلبه ما سمعه من أبي محمد المزني، فعزم على أن يخرج إلى الحج في موسم سنة سبع وستين، فلما ورد في سنة ثمان وستين، أقام بعد الحج ببغداد أشهراً، وسمع جملة المسند من أبي بكر بن مالك، وعاد إلى وطنه، ومد يده إلى إخراج الصحيحين على تراجم المسند (1).
قال شيخنا الحافظ رحمه الله تعالى: وفى هذه السنة مات ابن مالك في آخر السنة سنة ثمان وستين. وأبو محمد المزني هذا من الحفاظ الكبار المكثرين.
…وهذا الكتاب أصل كبير، ومرجع وثيق لأصحاب الحديث، انتُقي من حديث كثير ومسموعات وافرة، فجعله إماماً ومعتمداً، وعند التنازع ملجأ ومستنداً.
على ما أخبرنا والدي وغيره، رحمهما الله تعالى: أن المبارك بن عبد الجبار أبا الحسين كتب إليهما من بغداد: أخبرنا أبو إسحق إبراهيم بن
--------------------------------------------
আহমদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) এর হাদিস আবু বকর ইবনে মালিকের নিকট থেকে একশত পঞ্চাশ খণ্ডে সংগৃহীত ছিল। এতে আবু মুহাম্মদ আল-মুজানি বিস্ময় প্রকাশ করলেন এবং বললেন: আহমদ ইবনে হাম্বলের হাদিসের একশত পঞ্চাশ খণ্ড?! আমরা যখন ইরাকে ছিলাম, তখন আমাদের শায়খদের মধ্যে কারো কাছে আহমদ ইবনে হাম্বলের হাদিসের একটি খণ্ড দেখলেই আমরা অত্যন্ত আশ্চর্য হতাম। তাহলে বর্তমান সময়ে এই মহান মুসনাদের অবস্থা কী হতে পারে! অতঃপর আল-হাকিম দুই সহিহ-এর আদলে (গ্রন্থ) সংকলন করার সংকল্প করলেন। তখন তাঁর নিকট ইসহাক আল-হানজালি, আবদুল্লাহ ইবনে শিরওয়াইহ বা আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ—কারোরই মুসনাদ ছিল না। আবু মুহাম্মদ আল-মুজানির কাছে যা শুনেছিলেন তা তাঁর হৃদয়ে গেঁথে ছিল। তাই তিনি ৬৭ হিজরি সনে হজের মৌসুমে যাত্রার সংকল্প করলেন। অতঃপর যখন ৬৮ হিজরি সন এলো, হজের পর তিনি কয়েক মাস বাগদাদে অবস্থান করলেন এবং আবু বকর ইবনে মালিকের নিকট থেকে সম্পূর্ণ মুসনাদ শ্রবণ করলেন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে এলেন এবং মুসনাদের অধ্যায়গুলোর বিন্যাসের ভিত্তিতে দুই সহিহ-এর আদলে (গ্রন্থ) সংকলনের কাজে হাত দিলেন (১)।
আমাদের শায়খ হাফেজ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: এই বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ৬৮ হিজরি সনে ইবনে মালিক মৃত্যুবরণ করেন। আর এই আবু মুহাম্মদ আল-মুজানি ছিলেন বড় এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত।
…এই কিতাবটি একটি বিশাল মূল ভিত্তি এবং হাদিস বিশারদদের জন্য এক নির্ভরযোগ্য উৎস। এটি প্রচুর হাদিস এবং ব্যাপক শ্রুত বর্ণনা থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি একে ইমাম ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং মতপার্থক্যের সময় একে আশ্রয় ও দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
যেমনটি আমাদের পিতা এবং অন্য শায়খগণ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুবারক ইবনে আবদুল জাব্বার আবু আল-হুসাইন বাগদাদ থেকে তাঁদের নিকট লিখেছেন যে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
عمر بن أحمد بن إبراهيم البرمكي قراءة عليه، حدثنا أبو الحفص عمر بن محمد بن رجاء، حدثنا موسى بن حمدون البزار، قال: قال لنا حنبل بن إسحق: جمعنا عمي، لي ولصالح ولعبد الله، وقرأ علينا المسند، وما سمعه منه -يعنى تاماً- غيرنا، وقال لنا: إن هذا الكتاب قد جمعته وأتقنته من أكثر من سبعمائة وخمسين ألفاً، فما اختلف المسلمون فيه من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فارجعوا إليه، فإن كان فيه وإلا فليس بحجة (1).
بخط أبي بكر بن أبي نصر، قال أبو الحسن اللبناني: سمعت عبد الله ابن أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى يقول: كتب أبي عشرة آلاف ألف حديث، ولم يكتب سواداً في بياض إلا قد حفظه.
وبه قال: أخبرنا البرمكي قراءة عليه فأقرّ به: حدثنى أبي حدثني أبو محمد القاسم بن الحسين الباقلاني بسُرّ مَنْ رأى، قال سمعت أبا بكر بن أبي حامد الفقيه صاحب بيت المال، سمعت عبد الله بن أحمد بن حنبل يقول: قلت لأبي رحمه الله تعالى: لم كرهتَ وضع الكتب وقد عملت المسند؟ فقال عملت هذا الكتاب إماماً، إذا اختلف الناس في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم رُجع إليه.
قال: وحدثني أيضاً القاسم، قال: سمعت أبا الحسن بن عبيد الحافظ، سمعت أبا عبد الرحمن عبد الله بن أحمد يقول: خرج أبي المسند من سبعمائة ألف حديث.
--------------------------------------------
উমর ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-বারমাকি তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে রাজা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে হামদুন আল-বাজার, তিনি বলেন: হাম্বল ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বলেছেন: আমার চাচা (ইমাম আহমাদ), আমাকে, সালিহকে এবং আবদুল্লাহকে একত্রিত করেন এবং আমাদের নিকট 'মুসনাদ' পাঠ করেন, এবং আমাদের ব্যতিত আর কেউ তাঁর নিকট থেকে এটি—অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গভাবে—শোনেনি, এবং তিনি আমাদের বলেছেন: এই কিতাবটি আমি সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি হাদিস থেকে সংকলন ও নিখুঁত করেছি; সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ব্যাপারে মুসলিমগণ যে বিষয়েই মতভেদ করবে, তোমরা এর দিকেই ফিরে এসো; যদি এতে তা থাকে (তবে তা গ্রহণীয়), নতুবা তা দলিল নয় (১)।
আবু বকর ইবনে আবি নাসরের হস্তলিপিতে, আবুল হাসান আল-লুবনানি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি তাআলাকে বলতে শুনেছি: আমার পিতা এক কোটি হাদিস লিখেছিলেন, এবং তিনি সাদার উপর কালো কালি দিয়ে যা কিছু লিখেছেন, তার সবই তিনি মুখস্থ করেছেন।
একই সনদে তিনি বলেন: বারমাকি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম ইবনে আল-হুসাইন আল-বাকিলানি সামাররায় আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বাইতুল মালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফকিহ আবু বকর ইবনে আবি হামিদকে বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, আমি আমার পিতা রহমাতুল্লাহি তাআলাকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কিতাব রচনা করা কেন অপছন্দ করেন, অথচ আপনি তো 'মুসনাদ' প্রস্তুত করেছেন? তিনি বললেন: আমি এই কিতাবটি ইমাম বা পথনির্দেশক হিসেবে তৈরি করেছি, যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বিষয়ে মানুষ যখনই মতভেদে লিপ্ত হবে, তারা যেন এর দিকে ফিরে আসতে পারে।
তিনি বলেন: আল-কাসিম আরও আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাফেজ আবু হাসান ইবনে উবাইদকে বলতে শুনেছি, আমি আবু আব্দুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদকে বলতে শুনেছি: আমার পিতা সাত লক্ষ হাদিস থেকে বাছাই করে 'মুসনাদ' সংকলন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قال الشيخ الحافظ أبو موسى رحمه الله: ولم يخرّج إلا عمن ثبت عنده صدقه وديانته، دون من طعن في أمانته. كما قرأته ببغداد على أبي منصور عبد الرحمن بن محمد بن عبد الواحد القزاز، أخبرنا أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الحافظ، أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد العتيقي، أخبرنا يوسف بن أحمد الصيدلاني بمكة، حدثنا محمد بن عمرو العقيلي، حدثنا عبد الله بن أحمد: سألت أبي عن عبد العزيز بن أبان؟ فقال: لم أُخَرّج عنه في المسند شيئاً، قد أخرجت عنه على غير وجه الحديث، لما حدّث بحديث المواقيت تركته.
…فأما عدد أحاديث المسند، فلم أزل أسمعُ من أفواه الناس أنها أربعون ألفاً، إلى أن قرأت على أبي منصور بن زريق ببغداد، أخبرنا أبو بكر الخطيب (1)، قال: وقال ابن المنادي: لم يكن في الدنيا أحد أروى عن أبيه منه، يعني عبد الله بن أحمد بن حنبل، لأنه سمع المسند، وهو ثلاثون ألفاً، والتفسير، وهو مائة ألف وعشرون ألفاً، سمع منه ثمانين ألفاً والباقي وِجادةٌ (2). فلا أدري هل الذي ذكره ابن المنادي أراد به ما لا مكرر فيه، أو أراد غيره مع المكرر؟ فيصح القولان جميعاً، أو الاعتماد على قول ابن المنادي دون غيره. ولو وجدنا فراغاً لعددناه إن شاء الله تعالى (3).
--------------------------------------------
শাইখ আল-হাফিজ আবু মুসা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি কেবল তাদের নিকট থেকেই বর্ণনা করেছেন যাদের সততা ও দ্বীনদারি তাঁর নিকট প্রমাণিত হয়েছে, যাদের আমানতদারিতা প্রশ্নবিদ্ধ তাদের নিকট থেকে নয়। যেমনটি আমি বাগদাদে আবু মানসুর আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-কাযযাযের নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-হাফিজ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আতিকি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন আহমদ আস-সাইদালানি মক্কায়, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর আল-উকাইলি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ: আমি আমার পিতাকে আবদুল আজিজ বিন আবান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম? তিনি বললেন: আমি মুসনাদে তাঁর থেকে কিছুই সংকলন করিনি, আমি তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনার ধারা ব্যতীত অন্যভাবে গ্রহণ করেছি, কিন্তু যখন তিনি সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করলেন, তখন আমি তাঁকে বর্জন করলাম।
…আর মুসনাদের হাদীস সংখ্যার ব্যাপারে আমি মানুষের মুখে বরাবরই শুনে এসেছি যে তা চল্লিশ হাজার, যতক্ষণ না আমি বাগদাদে আবু মানসুর বিন যুরাইকের নিকট পাঠ করলাম, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-খতিব (১), তিনি বলেন: ইবনুল মুনাদি বলেছেন: পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে অর্থাৎ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বলের চেয়ে তাঁর পিতার পক্ষ থেকে বড় বর্ণনাকারী আর কেউ ছিল না, কারণ তিনি মুসনাদ শ্রবণ করেছেন যা ত্রিশ হাজার হাদীস সম্বলিত, এবং তাফসীর শ্রবণ করেছেন যা এক লক্ষ বিশ হাজার হাদীস সম্বলিত, যার মধ্যে তিনি আশি হাজার সরাসরি শ্রবণ করেছেন এবং বাকিগুলো লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত (২)। আমি জানি না ইবনুল মুনাদি যা উল্লেখ করেছেন তা দ্বারা কি পুনরাবৃত্তিহীন হাদীস বুঝিয়েছেন, নাকি পুনরাবৃত্তি সহ অন্য কিছু বুঝিয়েছেন? এক্ষেত্রে উভয় বক্তব্যই সঠিক হতে পারে, অথবা কেবল ইবনুল মুনাদির কথার ওপর নির্ভর করা যেতে পারে। আমরা যদি সুযোগ পাই তবে ইনশাআল্লাহ তা গণনা করব (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فأما عدد الصحابة فنحو من سبعمائة رجل.
وجدت بخط الشيخ حامد بن أبي الفتح، ذكره أبو عبد الله الحسين بن أحمد الأسدي في كتابه المسمى (مناقب أحمد بن حنبل) أنه سمع أبا بكر بن مالك، يذكر أن جملة ما وعاه المسند أربعون ألف حديث غير ثلاثين أو أربعين، قال: وسمعته -يعني أبا بكر بن مالك- سمعت عبد الله بن أحمد بن حنبل يقول: أخرج أبي هذا المسند من جملة سبعمائة ألف حديث. وقال أبو عبد الله الأسدي: وقد أفردت لذلك كتاباً في جزء واحد، وسميته (كتاب المدخل إلى المسند) أثبتُّ فيه ذلك أجمع.
وذكر الأسدي: سمعت أبا بكر بن مالك يقول: رأيت أبا بكر أحمد ابن سلمان النجاد في النوم، وهو على حالة جميلة، فقلت: أي شيء كان خبرك؟ قال: كل ما تحب، الزم ما أنت عليه وما نحن عليه، فإن الأمر هو ما نحن عليه وما أنتم عليه. ثم قال: بالله إلا حفظت هذا المسند، فهو إمام المسلمين واليه يرجعون، وقد كنت قديماً أسألك بالله إن أعَرْتَ منه أكثر من جزء لمن تعرفه، ليبقى.
قال: وسمعت أبا بكر بن مالك يقول: حضرت مجلس يوسف القاضي سنة خمس وثمانين ومائتين، أسمع منه كتاب الوقوف، فقال لي: من عنده مسند أحمد بن حنبل والفضائل أيش يعملُ ههنا؟ أو كلاماً نحو هذا.
ومن الدليل على أن ما أودعه الإمام أحمد رحمه الله تعالى مسنده قد احتاط فيه إسناداً ومتناً، ولم يورد فيه إلا ما صح عنده، على ما أخبرنا أبو علي سنة خمس، قال: حدثنا أبو نعيم (ح) وأخبرنا ابن الحصين قال: أخبرنا ابن المذْهب قال: أخبرنا القَطيعي قال: حدثنا عبد الله قال: حدثني أبي: قال: حدثنا محمد بن جعفر قال حدثنا شعبة عن أبي التَّيَّاح، قال: سمعتُ
সাহাবীদের সংখ্যার ব্যাপারে বলা যায় যে, তা প্রায় সাতশ জন।
আমি শেখ হামিদ বিন আবি আল-ফাতহ-এর হস্তলিপিতে পেয়েছি, যা আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ আল-আসাদি তাঁর ‘মানাকিবে আহমাদ বিন হাম্বল’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু বকর বিন মালিককে বলতে শুনেছেন যে, ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে সংকলিত মোট হাদিসের সংখ্যা চল্লিশ হাজার থেকে ত্রিশ বা চল্লিশটি কম। তিনি বলেন: আমি তাকে (অর্থাৎ আবু বকর বিন মালিককে) বলতে শুনেছি, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছেন: আমার পিতা সাত লক্ষ হাদিসের সংকলন থেকে এই ‘মুসনাদ’টি বের করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-আসাদি বলেন: আমি এই বিষয়ের জন্য এক খণ্ডে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখেছি এবং এর নাম দিয়েছি ‘কিতাবুল মাদখাল ইলাল মুসনাদ’, যাতে আমি এর সবকিছুই সাব্যস্ত করেছি।
আল-আসাদি উল্লেখ করেছেন: আমি আবু বকর বিন মালিককে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে আবু বকর আহমাদ ইবনে সালমান আন-নাজ্জাদকে সুন্দর অবস্থায় দেখেছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনার অবস্থা কী? তিনি বললেন: তুমি যা পছন্দ করো তেমন। তুমি যে অবস্থায় আছ এবং আমরা যে অবস্থায় আছি তা আঁকড়ে ধরো; কারণ প্রকৃত বিষয়টি তাই যার ওপর আমরা ও তোমরা রয়েছ। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! এই ‘মুসনাদ’টি সংরক্ষণ কোরো; কারণ এটিই মুসলমানদের ইমাম এবং তারা এরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আমি আগে তোমাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলেছিলাম যে, তুমি পরিচিতদের কাছে এর এক খণ্ডের বেশি যেন ধার না দাও, যাতে এটি টিকে থাকে।
তিনি বলেন: আমি আবু বকর বিন মালিককে বলতে শুনেছি: আমি দুইশ পঁচাশি হিজরি সালে বিচারক ইউসুফের মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম এবং তাঁর নিকট থেকে ‘কিতাবুল উকুফ’ শ্রবণ করছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: যার কাছে আহমাদ বিন হাম্বলের ‘মুসনাদ’ ও ‘ফাদায়িল’ আছে সে এখানে কী কাজ করছে? অথবা এই জাতীয় কোনো কথা।
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর ‘মুসনাদ’-এ যা অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তার সনদ ও মতন (মূল পাঠ) উভয় ক্ষেত্রেই যে তিনি অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁর নিকট যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি—এর অন্যতম প্রমাণ হলো সেই বর্ণনা যা আমাদেরকে আবু আলী হিজরি পাঁচ সনে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন— (হা) এবং ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মাযহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আবু আত-তাইয়্যাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أبا زُرْعَةَ يحدث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: يُهلك أمتي هذا الحيُّ من قريش، قالوا: فما تأمرنا يا رسول الله، قال: لو أن الناس اعتزلوهم؟ قال عبد الله: قال لي أبي في مرضه الذي مات فيه: اضربْ على هذا الحديث، فإنه خلاف الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، يعني قوله: اسمعوا وأطيعوا [واصبروا].
وهذا مع ثقة رجال إسناده حين شذ لفظه عن الأحاديث المشاهير أمر بالضرب عليه، فقال عليه ما قلناه. وفيه نظائر له (1).
بخط أحمد بن محمد بن البرداني، عن أبي علي بن الصواف قال: سمعت عبد الله بن أحمد يقول: صنف أبي المسند بعد ما جاء من عند عبد الرزاق.
ذكر علي بن الحسين بن جدي، قال: قرأت بخط أبي حفص عمر ابن عبد الله العكبري، قال: سمعت أبا عبد الله عبيد الله بن محمد، قال سمعت أبا بكر أحمد بن سلمان يقول: سمعت أبا بكر يعقوب بن يوسف المطوعي يقول: جلست إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل ثلاث عشرة سنة، وهو يقرأ المسند على أولاده، ما كتبت منه حرفاً واحداً، وإنما كنت أكتب آدابه وأخلاقه وأتحفظها. وقال عبيد الله: قال لي أبو بكر بن أيوب: سمعت
--------------------------------------------
আবু জুরআহ আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কুরাইশের এই গোত্রটি আমার উম্মতকে ধ্বংস করবে।" তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কী আদেশ দেন?" তিনি বললেন: "যদি মানুষ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকত!" আবদুল্লাহ বলেন: "আমার পিতা তাঁর অন্তিম রোগের সময় আমাকে বলেছিলেন: এই হাদিসটি কেটে দাও, কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদিসের পরিপন্থী; অর্থাৎ তাঁর এই বাণীর: তোমরা শোনো ও আনুগত্য করো [এবং ধৈর্য ধরো]।"
এই হাদিসটির বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও, যখন এর শব্দাবলি প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী (শায) হয়ে দাঁড়ালো, তখন তিনি এটি কেটে দেওয়ার আদেশ দিলেন এবং এর ব্যাপারে তিনি তা-ই বললেন যা আমরা উল্লেখ করেছি। এতে এর আরও সদৃশ উদাহরণ রয়েছে (১)।
আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-বারদানির হস্তাক্ষরে আবু আলী বিন আস-সাউয়াফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আহমদকে বলতে শুনেছি: "আমার পিতা আবদুর রাজ্জাকের নিকট থেকে আসার পর মুসনাদ সংকলন করেছেন।"
আলী বিন আল-হুসাইন বিন জাদি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হাফস ওমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-উকবারির হস্তাক্ষরে পড়েছি, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আহমদ বিন সালমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-মুতাউয়িয়িকে বলতে শুনেছি: "আমি তেরো বছর যাবৎ আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বলের মজলিসে বসেছি যখন তিনি তাঁর সন্তানদের সামনে মুসনাদ পাঠ করতেন। আমি তা থেকে একটি অক্ষরও লিখিনি, বরং আমি তাঁর শিষ্টাচার ও চরিত্র লিখে রাখতাম এবং তা মুখস্থ করতাম।" উবায়দুল্লাহ বলেন: আবু বকর বিন আইয়ুব আমাকে বলেছেন: আমি শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুসনাদে আহমাদ - ত শাকির - ত দারুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
يعقوب يقول: كنت أختلف إلى أحمد ثلاث عشرة سنة، لا أكتب عنه، وهو يقرأ المسند، إنما كنت أنظر إلى هديه أتأدَّبُ به.
أخبرنا ابن الحُصين بإسناده: حدثنا عبد الله حدثنا عثمان بن أبي شيبة حدثنا جرير عن محمد بن سالم عن أبي إسحق عن عاصم بن ضَمرة عن علي رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فيما سقت السماء العشر، وما يُسقى بالغَرْب والداليَة ففيه نصف العشر. قال أبو عبد الرحمن: فحدثت أبي بحديث عثمان عن جرير فأنكره جدا، وكان أبي لا يحدثنا عن محمد بن سالم لضعفه عنده وإنكاره لحديثه.
وقال عبد الله: حدثنا شيبان أبو محمد حدثنا عبد الوارث بن سعيد حدثنا الحسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد عن حبيب بن أبي ثابت عن عاصم ابن ضَمْرة عن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: أتاني جبريل عليه السلام فلم يدخل عليه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ما منعك أن تدخل؟ قال: إنا لا ندخل بيتاً فيه صورة ولا بول. قال: وحدثناه شيبان مرة أخرى: حدثنا عبد الوارث عن حسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد عن حبَّة بن أبي حبة عن عاصم نحوه. قال: وكان أبي لا يحدث عن عمرو بن خالد، يعني كان حديثه لا يسوى عنده شيئاً. قال: وكان في كتاب أبي عن عبد الصمد عن أبيه عن الحسن، يعني ابن ذكوان، عن حبيب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يمشي في خف واحد أو نعل واحد. وفى الحديث كلام كثير غير هذا، فلم يحدثنا به، ضرب عليه في كتابه، فظننت أنه ترك حديثه من أجل أنه روى عن عمرو بن خالد الذي يحدث عن زيد بن علي، وعمرو بن خالد لا يسوى شيئا، وهذا أقوى، لأنه لم يرو عمن روى عن ضعيف وإن كان حاله خالصا.
وبه: حدثنا أبو عامر حدثنا خارجة بن عبد الله عن أبي الرجال عن أمه
ইয়াকুব বলেন: আমি তেরো বছর ধরে আহমাদ (ইবনে হাম্বল)-এর নিকট যাতায়াত করতাম, কিন্তু আমি তাঁর থেকে হাদীস লিখতাম না যখন তিনি মুসনাদ পাঠ করতেন; আমি কেবল তাঁর আদর্শ ও শিষ্টাচার প্রত্যক্ষ করতাম।
ইবনুল হুসাইন তাঁর সনদে আমাদের জানিয়েছেন: আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন জারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আসমান যা সিক্ত করে তাতে উশর (দশভাগের এক ভাগ), আর যা বড় বালতি ও সেচযন্ত্রের সাহায্যে সিক্ত করা হয় তাতে অর্ধ-উশর (বিশভাগের এক ভাগ) প্রদেয়। আবু আবদুর রহমান বলেন: আমি আমার পিতার কাছে উসমানের বর্ণিত জারীরের হাদীসটি উল্লেখ করলাম, তখন তিনি তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন। আমার পিতা মুহাম্মদ ইবনে সালিম থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না, কারণ তাঁর নিকট তিনি দুর্বল ছিলেন এবং তিনি তাঁর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করতেন।
এবং আবদুল্লাহ বলেন: শায়বান আবু মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাসান ইবনে যাকওয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট আসলেন কিন্তু তিনি প্রবেশ করলেন না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আপনাকে প্রবেশ করতে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: আমরা এমন কোনো ঘরে প্রবেশ করি না যাতে কোনো প্রতিকৃতি (ছবি) অথবা পেশাব থাকে। তিনি বলেন: শায়বান আমাদের কাছে পুনরায় বর্ণনা করেছেন: আবদুল ওয়ারিস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে যাকওয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে আবু হাব্বাহ থেকে, তিনি আসিম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আমর ইবনে খালিদ থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না, অর্থাৎ তাঁর নিকট তাঁর হাদীসের কোনো মূল্য ছিল না। তিনি বলেন: আমার পিতার কিতাবে ছিল আবদুস সামাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাসান—অর্থাৎ ইবনে যাকওয়ান—থেকে, তিনি হাবীব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক পায়ে মোজা বা এক পায়ে জুতো পরে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। এই হাদীসে এ ছাড়াও আরও অনেক কথা ছিল, কিন্তু তিনি আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেননি; তিনি তাঁর কিতাবে এটি কেটে দিয়েছিলেন। আমি ধারণা করলাম যে, তিনি তাঁর হাদীসটি বর্জন করেছেন কারণ তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছিলেন, যে কি না যায়েদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করে থাকে। আর আমর ইবনে খালিদের কোনো গুরুত্ব নেই। আর এটিই অধিকতর শক্তিশালী যুক্তি, কারণ তিনি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেননি যে কোনো দুর্বলের থেকে বর্ণনা করে, যদিও লোকটির ব্যক্তিগত অবস্থা নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকে।
এবং তাঁর সূত্রে: আবু আমির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন খারিজাহ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল রিজাল থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে...