(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: -)
سنن ابن ماجه - ت الأرنؤوط القسم: كتب السنة
الكتاب: سنن ابن ماجه ت الأرنؤوط
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن يزيد بن ماجة القزويني (209 - 273 هـ)
المحقق: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]- عادل مرشد - محمَّد كامل قره بللي - عَبد اللّطيف حرز الله
الناشر: دار الرسالة العالمية
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1434
সুনান ইবনে মাজাহ - তাহকীক আল-আরনাউত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সুনান ইবনে মাজাহ, তাহকীক আল-আরনাউত
লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আল-কাজউইনি (২০৯ - ২৭৩ হি.)
মুহাক্কিক: শুয়াইব আল-আরনাউত [মৃ. ১৪৩৮ হি.]- আদিল মুরশিদ - মুহাম্মদ কামিল কারাহ বাল্লি - আবদুল লতিফ হিরজুল্লাহ
প্রকাশক: দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হি. - ২০০৯ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[কিতাবের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলকদ ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১)
السُّنن
تصنيف
الإمام الحَافظ أبي عبد الله محمَّد بن يزيد بن ماجة القزويني
(209 - 273 هـ)
حققه وضبط نصه، وخرج أحاديثه، وعلق عليه
شعيب الأرنؤوط
عادل مرشد
محمَّد كامل قره بللي
عَبد اللّطيف حرز الله
الجزء الأول
دار الرسالة العالمية
আস-সুনান
সংকলন
ইমাম আল-হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আল-কাযভিনি
(২০৯ - ২৭৩ হিজরি)
তাহকিক, পাঠ্য-সম্পাদনা, হাদিস তখরিজ ও টীকা প্রদান করেছেন
শুয়াইব আল-আরনাউত
আদিল মুরশিদ
মুহাম্মদ কামিল কাররা বাল্লি
আব্দুল লতিফ হিরজুল্লাহ
প্রথম খণ্ড
দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৩)
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
جميع الحقُوق محفُوظة للِناّشر
الطبعة الأولى
1430هـ - 2009 م
دار الرسالة العالمية
جميع الحقوق محفوظة
يمنع طبع هذا الكتاب أو أي جزء منه بجميع طرق الطبع والتطوير والنقل والترجمة والتسجيل المرئي والمسموع والحاسوبي وغيرها إلا بأذن خطى من
شركة الرسالة العالمية م. م.
al-Resalah AL-A'Lamiah m
publishers
الإدارة العامة
Head Office
دمشق - الحجاز
شارع مسلم البارودى
بناء خولى وصلاحى
2212773 - 11 (963)
2234305 - 11 (963)
الجمهورية العربية السورية
Syrian Arab Republic
info@resalahonline.com
http://www.resalahonline.com
فرع بيروت
BEIRUT/ LEBANON
TELEFAX:815112 - 319039 - 818615
P.O BOX:117460
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল স্বত্ব প্রকাশকের নিকট সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই বই বা এর কোনো অংশ মুদ্রণ, উন্নয়ন, স্থানান্তর, অনুবাদ, দৃশ্য-শ্রাব্য এবং কম্পিউটারাইজডসহ সকল প্রকার মুদ্রণ ও প্রচার পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ, যদি না নিচের প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয়:
আর-রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ কোম্পানি লিমিটেড
আল-রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ প্রকাশনী
প্রধান কার্যালয়
প্রধান কার্যালয়
দামেস্ক - হিজাজ
মুসলিম আল-বারুদি সড়ক
খাওলি এবং সালাহি ভবন
২২১২৭৭৩ - ১১ (৯৬৩)
২২৩৪৩০৫ - ১১ (৯৬৩)
সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র
সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র
info@resalahonline.com
http://www.resalahonline.com
বৈরুত শাখা
বৈরুত/ লেবানন
টেলিফ্যাক্স: ৮১৫১১২ - ৩১৯০৩৯ - ৮১৮৬১৫
পোস্ট বক্স: ১১৭৪৬০
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة التحقيقإن الحمدَ لله، نَحمَدُهُ ونستعينُه ونستغفِرُه، ونعوذُ به مِن شرورِ أنفسنا، ومِن سيئات أعمالنا، مَن يَهْدِهِ اللهُ، فلا مُضِلَّ له، ومن يُضْلِلْ، فلا هَادِيَ له.
ونشهدُ أن لا إله إلا الله وحدَه لا شريكَ له، ونشهدُ أن محمداً عبدُه ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102]. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد، فهذا كتابُ "السُّنن" للإمام الحافظ أبي عبد الله محمَّد ابن يزيد بن ماجَهْ القَزْوِيني، نَضَعُهُ بينَ يدي الشيوخ وطلاب العلم بعد أن اضطَلَعْنا بأعباءِ تحقيقه على أصولٍ خطيةٍ مُتقنة، غايةً في
সম্পাদনার ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আল-ইমরান: ১০২]। {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১)} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করে (৭১)} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর, এটি হলো ইমাম হাফিজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযউইনি-এর "আস-সুনান" গ্রন্থ। আমরা এটি বিজ্ঞ শায়খ ও জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করছি, যার তাহকিকের (সম্পাদনা ও গবেষণার) গুরুদায়িত্ব আমরা অত্যন্ত নির্ভুল ও নিপুণ কিছু পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পন্ন করেছি, যা অত্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৬)
النفاسة، وضبطِ نصوصه وتخريجِ أحاديثه، وبيانِ درجة كُل حديثٍ منها على نحوِ نرجو أن يجدَ فيه طلبةُ العلم بُغْيتَهم، ويُشبِعَ رغبتهم، وينالَ إعجابَهم بما تميزت به هذه الطبعةُ المتقنة المتميِّزة عن سابقاتها، والله الموفق لا ربَّ سواه.
উৎকর্ষতা, এর পাঠ্যবস্তুর নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং হাদিসসমূহের তাখরিজ ও প্রতিটি হাদিসের মান বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে আমরা আশা করি যে ইলম অন্বেষণকারীরা এতে তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান পাবে, এটি তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করবে এবং পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় এই সুনিপুণ ও অনন্য সংস্করণটি যেসব বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর, তার মাধ্যমে এটি তাদের প্রশংসা অর্জন করবে। আল্লাহই তাওফিকদাতা, তিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই।
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৭)
التعريف بالمصنِّف*
اسمه ونسبه ومولده:هو الحافظُ الكبيرُ الحجةُ المفسِّرُ، أبو عبد الله محمدُ بنُ يزيدَ ابنُ ماجَهْ، الرَّبَعي مولاهم، القَزْوِيني، مصنف "السُّنن" و"التاريخ" و"التفسير"، وحافظُ قَزْوين في عصره (1).
وماجَهْ: بفتح الميم والجيم وبينهما ألف، وفي آخره هاء ساكنة (2)، وهو لقب والده يزيد كما نقله عبدُ الكريم الرافعي في "أخبار قزوين" بخط أبي الحسن القطان راوي "السُّنن" عن ابن ماجه (3)، وكذلك قال أبو يعلى الخليلي (4).
والرَّبَعي: بفتح الراء والباء المُوَحدَةِ، وبعدها عينٌ مهملة، وهي نسبة إلى رَبِيعة (5). قال القاضي أبو يعلى الخليلي: وَلاؤُه لِربيعة (6).
والقَزْوِيني: بفتح القاف وسكون الزاي وكسر الواو وسكون الياء المثناة من تحتها وبعدها نون، نِسبةً إلى قَزْوِينَ (7)، وكانت تُسمى
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের পরিচিতি*
তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:তিনি হলেন মহান হাফিজ, হুজ্জাহ (প্রমাণ), মুফাসসির, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ, রাবাঈ (তাদের মুক্তকৃত দাস), কাজভীনি। তিনি "আস-সুনান", "আত-তারিখ" এবং "আত-তাফসীর" গ্রন্থসমূহের রচয়িতা এবং তাঁর সমকালীন কাজভীনের হাফিজ ছিলেন (১)।
আর 'মাজাহ' শব্দটি: মিম ও জিম বর্ণদ্বয়ে ফাতহা (যবর) এবং এ দুইয়ের মাঝে আলিফ রয়েছে, আর শেষে সাকিনযুক্ত 'হা' (২)। এটি তাঁর পিতা ইয়াযীদের উপাধি, যেমনটি আব্দুল কারীম আর-রাফেয়ী তাঁর "আখবারু কাজভীন" গ্রন্থে ইবনে মাজাহ থেকে "আস-সুনান" এর বর্ণনাকারী আবুল হাসান আল-কাত্তানের হস্তলিপি থেকে উদ্ধৃত করেছেন (৩)। অনুরূপ কথা আবু ইয়ালা আল-খালীলিও বলেছেন (৪)।
আর 'রাবাঈ' শব্দটি: রা এবং এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' বর্ণদ্বয়ে ফাতহা (যবর) এবং এরপর নুক্তাবিহীন 'আইন' বর্ণ রয়েছে। এটি 'রাবিআ' গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (৫)। কাজী আবু ইয়ালা আল-খালীলি বলেছেন: তাঁর 'ওলা' (দাসত্বমুক্তির সম্পর্ক) ছিল রাবিআ গোত্রের সাথে (৬)।
আর 'কাজভীনি' শব্দটি: কাফ বর্ণে ফাতহা (যবর), যা বর্ণে সুকুন, ওয়াও বর্ণে কাসরা (যের), নিচের দিকে দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'ইয়া' বর্ণে সুকুন এবং এরপর নুন বর্ণ রয়েছে। এটি 'কাজভীন' শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (৭), এবং একে বলা হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৮)
بالفارسيةِ: كَشْوين، ومعناها: الحدُّ المنظورُ إليه، أي: المحفوظ، فعُرّبت هذه اللفظةُ، فقيل: قزوين (1)، ولم يزل لأهلِ فارسَ مقاتِلةٌ مِن الأساوِرَةِ يُرابطون فيه، فيدفعون الدَّيلمَ إذا لم يكن بينهم هُدنة، ويحفظون بَلَدَهُم من مُتلصصيهم وغيرِهم إذا جرى بينهم صلح (2).
وقد افتتحها البراءُ بنُ عازب رضي الله عنه في خِلافة عثمانَ بن عفان رضي الله عنه صُلحًا، وولَاّه عثمانُ على الرَّيِّ سنةَ (24) للهجرة (3).
وتقع هذه المدينة اليومَ في الشمال الغربي مِن طهران عاصمةِ إيران، على بُعدِ مئةِ ميل منها، وهي إذ ذاك أحدُ أهمِّ ثغورِ المسلمين (4). وفي شمالها يقع البحر المسمى باسمها بحر قزوين.
وقد خرج منها جماعةٌ مِن العلماء والأئمةِ الفضلاء في كل فنٍّ ونوع، منهم أبو يعلى الخليل بن عبد الله الخليلي الحافظ صاحب كتاب "الإرشاد" المتوفَّى سنةَ (446 هـ).
ومنهم الإمامُ الفقيهُ المحدث عبدُ الكريم بنُ محمَّد الرافعي القزويني شارحُ كتاب "الوجيز" للغزالي، وصاحبُ كتاب "التدوين في أخبار قزوين"، المتوفى سنة (623 هـ).
--------------------------------------------
ফার্সি ভাষায়: কাশউইন, এর অর্থ হলো: দৃষ্টিগোচর সীমানা, অর্থাৎ: সংরক্ষিত। এই শব্দটিকে আরবিকরণ করে বলা হয়েছে ক্বাযবীন (১)। পারস্যের 'আসাওয়িরা' নামক একদল তীরন্দাজ যোদ্ধা সর্বদা সেখানে পাহারায় নিয়োজিত থাকত; তারা দায়লামিদের প্রতিহত করত যখন তাদের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি থাকত না, আর যখন তাদের মধ্যে সন্ধি বিদ্যমান থাকত তখন তারা চোর-ডাকাত ও অন্যদের অনিষ্ট থেকে তাদের শহরকে রক্ষা করত (২)।
বারা বিন আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে সন্ধির মাধ্যমে এটি বিজয় করেন এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হিজরি ২৪ সালে তাঁকে রাই অঞ্চলের গভর্নর নিযুক্ত করেন (৩)।
বর্তমান এই শহরটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে একশ মাইল দূরে উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। সেই সময়ে এটি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ঘাঁটি ছিল (৪)। এর উত্তরে এর নামানুসারেই নাম রাখা ক্বাযবীন সাগর (ক্যাস্পিয়ান সাগর) অবস্থিত।
এখান থেকে প্রতিটি শাস্ত্রে ও বিষয়ে একদল প্রজ্ঞাবান আলেম ও ইমামের আবির্ভাব হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ আবু ইয়ালা আল-খালিল বিন আব্দুল্লাহ আল-খালিলি, যিনি 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থের রচয়িতা এবং ৪৪৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইমাম ফকিহ মুহাদ্দিস আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ আর-রাফেয়ি আল-ক্বাযবীনী, যিনি গাজ্জালির 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থের ব্যাখ্যাকারী এবং 'আত-তাদউইন ফি আখবারি ক্বাযবীন' গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি ৬২৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৯)
*
ولادته:وُلد أبو عبد الله ابن ماجه سنةَ تسعٍ ومئتين (1)، صرَّح هو بذلك فيما نقله أبو الفضلِ محمدُ بنُ طاهر المقدسي مِن خط جعفر بنِ إدريسَ القزويني صاحبِ ابنِ ماجه عنه (2).
*
أسرته:لم يكن أبو عبد الله ابنُ ماجه وحدَه ممن اعتنى بطلبِ العلم من أسرة يزيد المعروف بماجه، بل ظهر غيرُ واحدِ من أفراد هذه الأسرة ذُكِرُوا بالعلم والفقه، فقد كان له إخوةٌ، ذكر بعضَهم صاحبُ ابنِ ماجه جعفرُ بنُ إدريس القزويني، وهم: أبو بكر وأبو عبد الله (3)، وذكر الخطيبُ البغدادي أيضاً مِن إخوته أبا محمدِ الحسن بن يزيد (4)، قال عنه الرافعي: من ثقات الشيوخ (5)، وهذا الأخير له ولد اسمه أبو الحسن أحمد، ذكره حمزة بن يوسف السهمي والرافعي (6)، وله أيضاً حفيدٌ اسمُه محمَّد بنُ حمزة بن
--------------------------------------------
*
তাঁর জন্ম:আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (১); তিনি নিজেই এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যা আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি ইবনে মাজার সাথী জাফর বিন ইদ্রিস আল-কাজভিনি-এর পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (২)।
*
তাঁর পরিবার:মাজাহ নামে পরিচিত ইয়াজিদের পরিবারের মধ্যে কেবল আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ একাই জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেননি, বরং এই পরিবারের আরও একাধিক সদস্যের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল যাঁরা ইলম ও ফিকহের ক্ষেত্রে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর কয়েকজন ভাই ছিল, যাঁদের কয়েকজনের কথা ইবনে মাজার সাথী জাফর বিন ইদ্রিস আল-কাজভিনি উল্লেখ করেছেন; তাঁরা হলেন: আবু বকর এবং আবু আব্দুল্লাহ (৩)। খতিব আল-বাগদাদিও তাঁর ভাইদের মধ্য থেকে আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন ইয়াজিদের নাম উল্লেখ করেছেন (৪); রাফেয়ি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য শাইখদের অন্তর্ভুক্ত (৫)। এই শেষোক্ত ব্যক্তির আবুল হাসান আহমদ নামে এক পুত্র ছিল, যাঁর কথা হামজা বিন ইউসুফ আস-সাহমি এবং রাফেয়ি উল্লেখ করেছেন (৬)। তাঁর মুহাম্মদ বিন হামজা বিন নামে এক নাতিও ছিল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحسن، قال عنه الرافعي: مِن بيت العلم والحديث (1)، وحفيدٌ آخرُ اسمُه علي بن أحمد بن الحسن، ذكره الرافعي (2). إلا أن رائدَهم ومقدَّمهم في العلمِ وأشهرَهم هو أبو عبدِ الله محمدُ بن يزيد رحمه الله تعالى.
وكان لابن ماجه عقبٌ، فقد ذكر صاحبُه جعفرُ بنُ إدريس ولدَه عبدَ الله حين تحدَّث عن وفاته ودفنه (3).
*
ثقافته العلمية وعصره:تنوعت معارفُ الإمام ابنِ ماجه وتعدَّدَتْ جوانبُ ثقافته، فهو مع كونه إماما في الحديث، حافظ ناقدٌ كما وصفه الإمامُ الذهبي (4)، وكان لديه باعٌ في علم التفسير، ودراية قوية بعلم التاريخ، وله في ذلك مصنفات عرفها أهلُ العلم، واستفادُوا منها.
وليس ذلك بالأمرِ الغريب لمثل هذا الإمام، مع ما كان يتمتَع به من الذكاء، وقوةِ الحافظة، والصبرِ على طلب العلم، والمصابرةِ فيه، وتحملِ المشاق في سبيل الرحلة لنيله وتحصيله، فلم يَقنَعْ بما أخذه عن عُلماء قزوين أمثالِ عليّ بن محمَّد الطَّنافسي الكوفي ثم القزويني، وعمرو بنِ رافع البجلىِّ الرازي ثم القزويني، وإسماعيلَ بنِ
--------------------------------------------
আল-হাসান, তাঁর সম্পর্কে আর-রাফেয়ী বলেছেন: ইলম ও হাদীসের ঘরানা থেকে (১), এবং তাঁর অপর এক নাতি যার নাম আলী ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান, রাফেয়ী তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন (২)। তবে তাদের মধ্যে ইলমের ক্ষেত্রে অগ্রগামী, প্রধান এবং সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
ইবনে মাজাহর বংশধর ছিল, কেননা তাঁর সঙ্গী জাফর ইবনে ইদ্রিস তাঁর মৃত্যু ও দাফন সম্পর্কে আলোচনা করার সময় তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর কথা উল্লেখ করেছেন (৩)।
*
তাঁর ইলমী পাণ্ডিত্য ও যুগ:ইমাম ইবনে মাজাহর জ্ঞানের পরিধি ছিল বৈচিত্র্যময় এবং তাঁর পাণ্ডিত্যের দিকগুলো ছিল বহুমুখী। হাদীস শাস্ত্রে একজন ইমাম, হাফেয ও সমালোচক হওয়ার পাশাপাশি—যেমনটি ইমাম আয-যাহাবী তাঁকে বর্ণনা করেছেন (৪)—তাফসীর শাস্ত্রেও তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য এবং ইতিহাস শাস্ত্রে সুদৃঢ় জ্ঞান ছিল। এই বিষয়গুলোতে তাঁর এমন কিছু রচনা রয়েছে যা বিশেষজ্ঞগণ জানতেন এবং তা থেকে উপকৃত হতেন।
এমন ইমামের ক্ষেত্রে এটি কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়, বিশেষ করে তাঁর মেধা, প্রখর স্মৃতিশক্তি, ইলম অন্বেষণে ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং তা অর্জন ও সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেশান্তরের পথে কষ্ট সহ্য করার গুণের কারণে। তিনি কাযউইনের আলিমদের থেকে যা গ্রহণ করেছিলেন তাতে তৃপ্ত ছিলেন না, যেমন আলী ইবনে মুহাম্মদ আত-তানাফিসি আল-কুফি অতঃপর আল-কাযউইনি, আমর ইবনে রাফে আল-বাজালি আর-রাজি অতঃপর আল-কাযউইনি এবং ইসমাইল ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১১)
تَوْبة الثقفي نزيلِ قزوين، ولكنه آثر تركَ الوطن وطِيبِ المُقام في بلده قزوين التي كانت ذات طبيعة خَلّابة، ورحل إلى أقطار بعيدة، وأمصار نائية، وحَرَصَ على الالتقاء بأكابر أهلِ العلمِ فيها، فارتحل إلى الريِّ وسَمِعَ بها مِن الحافظ محمَّد بن حُمَيد الرازي، وإلى نيسابور وسمعَ بها من الحافظ محمَّد بن يحيى الذُهْلي، وإلى العراق وسَمِعَ بها من ابني أبي شَيْبة أبي بكر وعثمان، ومِن أحمد ابن عَبْدة وزهير بنِ حرب، وإلى الشام وسَمِعَ بها من هشام بنِ عمار ومحمد بن المصفَّى ودُحَيم، وإلى مصر ولقي بها أبا طاهر بن السًرْح، ومحمدَ بنَ رُمح ويونس بن عبد الأعلى، وإلى الحجاز وسمع بها من ابن أبي عمر وأبي مروان العثماني بمكة، وبالمدينة من إبراهيم بن المنذر الحِزامي وأبي مصعب الزهري (1).
وقد تمَّ له ذلك وهو في ريعان شبابه، واكتمال قوته، نتبيَّن ذلك مِن سماعه من الشيوخ الذين تقدَّمت وَفَياتُهم، كزهير بن حرب، ومحمد بن عبد الله بن نُمَير، وكانا بالعراق، وقد تُوفِّيا سنة (234 هـ)، وبذلك يكون عمره حين سمع منهما خمسًا وعشرين سنة والله أعلم.
وقد التقى في رحلته هذه بعددٍ من الفقهاء أيضاً، كحَرْملةَ بنِ يحيى التُجيبي والربيعِ بنِ سليمان المُرَادي صاحبَي الإمامِ الشافعي رحمه الله، ويونس بن عبد الأعلى الفقيه المالكي، وكان هذا الأخيرُ أيضاً مِن شيوخ الإقراء على قراءتي نافع بن عبد الرحمن
--------------------------------------------
তাওবাহ আস-সাক্বাফী কাজভিনের বাসিন্দা ছিলেন, কিন্তু তিনি নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করা এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত নিজ শহর কাজভিনে অবস্থানের ওপর প্রবাস জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তিনি দূর-দূরান্তের বিভিন্ন অঞ্চল ও জনপদে ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার শ্রেষ্ঠ আলিমদের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি রাই (Rayy) সফর করেন এবং সেখানে হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। নিশাপুরে তিনি হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলী থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। ইরাকে তিনি আবু শায়বাহর দুই পুত্র আবু বকর ও উসমান, এবং আহমাদ ইবনে আবদাহ ও যুহাইর ইবনে হারব থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। সিরিয়ায় (শাম) তিনি হিশাম ইবনে আম্মার, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসাফফা ও দুহাইম থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। মিসরে তিনি আবু তাহির ইবনে আস-সারহ্, মুহাম্মদ ইবনে রুমহ্ ও ইউনুস ইবনে আবদিল আ'লার সাথে সাক্ষাৎ করেন। হিজাজে থাকাকালীন তিনি মক্কায় ইবনে আবি উমর ও আবু মারওয়ান আল-উসমানী থেকে এবং মদীনায় ইবরাহিম ইবনুল মুনযির আল-হিযামী ও আবু মুসআব আজ-যুহরী থেকে হাদীস শ্রবণ করেন (১)।
আর এটি সম্ভব হয়েছিল তাঁর ভর যৌবনে ও পূর্ণ শক্তিমত্তার সময়ে। এটি আমরা অনুধাবন করতে পারি তাঁর সেই সব শায়খদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করার মাধ্যমে, যারা তুলনামূলক আগে মৃত্যুবরণ করেছিলেন; যেমন যুহাইর ইবনে হারব এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর। তাঁরা ইরাকে ছিলেন এবং ২৩৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। সে হিসেবে তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণের সময় তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তিনি তাঁর এই সফরে বেশ কয়েকজন ফকীহর সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন, যেমন ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দুই শিষ্য হারমালাহ ইবনে ইয়াহইয়া আত-তুজীবী ও রাবি ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদী এবং মালিকী ফকীহ ইউনুস ইবনে আবদিল আ'লা। শেষোক্ত ব্যক্তি নাফি ইবনে আবদির রহমানের দুই ক্বিরাতের ওপর ক্বিরাত শাস্ত্রের অন্যতম শিক্ষকও ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وحمزة بن حبيب الزيات، وكلاهما من القراء السبعة، ومن شيوخ الإقراء الذين لقيهم كذلك عبدُ الله بن أحمد بن بشير بن ذَكْوان أحد الرواة الأثبات عن ابن عامر الدمشقي أحد السبعة.
ولا شكَّ أنه بلقائه أولئك الأئمةَ قد استفاد منهم، وحَرَصَ على ملازمتهم مدةَ مُكْثِه بتلك البلاد، شأنَ طلاب العلم في ذلك العصر، الذين لم يكن يحجُزُهم بُعدُ الشُقَة عن تجشُّم المشقَّة، وكانوا يغتنمون الفرصة، ويستثمرون وقتهم كله في حضور مجالس العلماء والأخذ عنهم والإفادة منهم، وتدوين ما يسمعونه منهم.
وكان تفرقُ العلماءِ في تلك الأمصار واختصاصُ كل منهم بما ليس عند غيره مِن أصناف العلوم حافزاً للنَّبَغَةِ مِن طلاب العلم إلى الرحيل إليهم، وقصدِ مواطن إقامتهم، يستسهلون الصعبَ، ويتحمَّلون المشاقَ، ويتبلغون باليسير، تلبيةَ لنداء الله تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122]، ولتحقيق رضوانِ الله ورغبتهم فيما عنده من الثواب والأجر، ونَدَرَ أن يوجد طالبُ علمٍ في ذلك الزمان ليست له رِحْلة.
*
شيوخه:بما أن الإمامَ ابنَ ماجه كانت له رحلةٌ واسعة، شَمِلَتْ مناطقَ عديدةً مِن بلاد خراسان وما وراء النهر، كما شَمِلَتْ أهمَّ حواضر العلم في بلاد الشام والعراق ومصر والحجاز، فلم يكن غريبًا أن
এবং হামযাহ বিন হাবিব আয-যায়্যাত, তাঁরা উভয়েই সাতজন বিখ্যাত কারীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁরা সেই সকল কিরাআত বিশেষজ্ঞ শাইখদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের সাথে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন বাশির বিন যাকওয়ানও সাক্ষাৎ করেছিলেন, যিনি সাত কারীর অন্যতম ইবনে আমির আদ-দিমাশকির একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন।
নিঃসন্দেহে ঐ সকল ইমামদের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে তিনি উপকৃত হয়েছিলেন এবং সেই দেশগুলোতে অবস্থানের সময় তাঁদের সান্নিধ্যে থাকার জন্য তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এটি ছিল সেই যুগের ইলম অন্বেষণকারীদের রীতি, যাঁদের দীর্ঘ দূরত্ব কষ্ট স্বীকার করা থেকে বিরত রাখতে পারত না। তাঁরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেন এবং আলেমদের মজলিসে উপস্থিত থাকতে, তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ ও উপকার লাভে এবং তাঁদের কাছ থেকে যা শুনতেন তা লিপিবদ্ধ করতে নিজেদের সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করতেন।
বিভিন্ন জনপদে আলেমদের এই বিস্তৃতি এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁদের বিশেষত্ব (যা অন্যের কাছে নেই) মেধাবী ছাত্রদের তাঁদের কাছে সফরের এবং তাঁদের আবাসস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রতি উৎসাহিত করত। তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর আহ্বানে সাড়া দিতে গিয়ে কঠিনকে সহজ মনে করতেন, কষ্ট সহ্য করতেন এবং সামান্য পাথেয় নিয়ে পথ চলতেন: "কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়।" [আত-তাওবাহ: ১২২]। এছাড়া এটি ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর নিকট গচ্ছিত সওয়াব ও প্রতিদানের আশায়। সেই যুগে এমন কোনো ইলম অন্বেষণকারী খুব কমই ছিলেন যার কোনো জ্ঞানমূলক সফর ছিল না।
*
তাঁর শাইখগণ:যেহেতু ইমাম ইবনে মাজাহর সফর ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত, যা খোরাসান এবং মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) এর অনেক অঞ্চলসহ শাম, ইরাক, মিশর ও হিজাজের গুরুত্বপূর্ণ ইলমি কেন্দ্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তাই এটি কোনো বিস্ময়কর বিষয় ছিল না যে...
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يكونَ له شيوخ كثيرون من تلك البلاد، أخذ عنهم، وروى عنهم، وأفاد منهم، قال الحافظ المِزي في ترجمته من "تهذيب الكمال": سمع بخراسان والعراق والحجاز ومصر والشام وغيرِها من البلاد جماعةً يطولُ ذكرهم، قد ذكرنا منهم في كتابنا هذا مَن وقفنا عليه منهم. اهـ.
وقد استقصى الشيخ محمَّد عبد الرشيد النعماني في كتابه "الإمام ابن ماجه وعلم الحديث" -وهو باللغة الأُردية- أسماءَ شيوخِ ابن ماجه الذين روى عنهم في "سننه" و"تفسيره"، ورتبهم على بلادهم، فبلغ عددهم (310)، وكلهم مُترجَمون في "تهذيب الكمال" للحافظ المزي، وفروعه مثل: "تهذيب التهذيب" و"تقريب التهذيب" و"خلاصة تذهيب تهذيب الكمال" وغيرها.
وصنَّف الإمام الحافظ ابن عساكر صاحب "تاريخ دمشق" المتوفى سنة (571 هـ) معجمًا يَشْتَمِلُ على ذكرِ أسماءِ شيوخ الأئمةِ الستة، وهو مطبوعٌ باسم "المُعجَم المُشتمل على ذكر أسماء شيوخ الأئمة النَّبَل".
قلنا: وقد قمنا باستقصاء عددهم في "السُّنن" وحدَها فبلغوا (303) شيخٍ تقريبًا، منهم مَن ليس له سوى حديث أو حديثين أو ثلاثة.
وقد شارك ابنُ ماجه البخاريَ ومسلمًا في كثيرٍ من شيوخهما كمحمد بنِ بشار بُندار، وأبي بكر بن أبي شيبة، وأبي كُريب محمَّد بن العلاء، ومحمد بن عبد الله بن نُمَيْر، وغيرهم.
সেইসব দেশ থেকে তাঁর অনেক উস্তাদ ছিলেন, যাঁদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন, হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হয়েছেন। হাফেজ মিযযি তাঁর 'তাহজিবুল কামাল' গ্রন্থের জীবনীতে বলেছেন: তিনি খোরাসান, ইরাক, হিজাজ, মিসর, শাম এবং অন্যান্য দেশ থেকে এক বিশাল শিক্ষক সমাজের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন যাঁদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে; আমরা আমাদের এই গ্রন্থে তাঁদের মধ্য থেকে তাঁদেরকেই উল্লেখ করেছি যাঁদের সম্পর্কে আমরা অবগত হতে পেরেছি। সমাপ্ত।
শেখ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ নুমানী তাঁর উর্দু ভাষায় রচিত 'আল-ইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া ইলমুল হাদিস' গ্রন্থে ইবনু মাজাহর সেই সকল উস্তাদদের নাম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন যাঁদের থেকে তিনি তাঁর 'সুনান' ও 'তাফসির' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁদেরকে নিজ নিজ দেশের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১০ জন। তাঁদের সকলের জীবনী হাফেজ মিযযির 'তাহজিবুল কামাল' এবং এর শাখা গ্রন্থসমূহ যেমন: 'তাহজিবুত তাহজিব', 'তাকরিবুত তাহজিব', 'খুলাসাতু তাজহিবিত তাহজিবিল কামাল' ইত্যাদিতে বর্ণিত হয়েছে।
'তারিখে দামেশক' এর রচয়িতা ইমাম হাফেজ ইবনু আসাকির (মৃত্যু ৫৭১ হিজরি) একটি অভিধান সংকলন করেছেন যাতে ছয় ইমামের উস্তাদগণের নামের উল্লেখ রয়েছে। এটি 'আল-মুজামুল মুশতামিল আলা জিকরি আসমায়ি শুয়ুখিল আইম্মাতিন নুবাল' নামে মুদ্রিত হয়েছে।
আমরা বলছি: আমরা কেবল 'সুনান' গ্রন্থে তাঁদের সংখ্যা অনুসন্ধান করেছি এবং তাঁরা প্রায় ৩০৩ জন উস্তাদ। তাঁদের মধ্যে এমনও আছেন যাঁদের থেকে বর্ণিত কেবল একটি, দুইটি বা তিনটি হাদিস রয়েছে।
ইবনু মাজাহ অনেক উস্তাদের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের অংশীদার ছিলেন (অর্থাৎ তাঁদের অনেক উস্তাদ একই ব্যক্তি ছিলেন), যেমন: মুহাম্মদ বিন বাশার বুন্দার, আবু বকর বিন আবি শাইবাহ, আবু কুরাইব মুহাম্মদ বিন আলা, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن الشيوخ الذين أكثر ابنُ ماجه عنهم هؤلاء الأربعة الذين شارك البخاري ومسلمًا في الرواية عنهم، وأكثَرَ أيضًا عن محمَّد بن يحيى الذهلي، وعليِّ بنِ محمَّد الطنَافسي، وعبدِ الرحمن بن إبراهيم الدمشقي المعروف بدُحَيْم، ومحمد بن رُمْح المصري، ومحمد بن الصَّبَّاح الجَرْجَرَائي، وهشام بن عمار. ونترجم لهم هنا تراجمَ مُوجَزة:
1 - الإمام الحافظ راوية الإسلام أبو بكر محمَّد بن بشار بن عثمان البصري، الملقَّب بُندارًا، ومعناه: الحافظ، جمع حديث بلده وحفظه، ووصفه ابن خُزيمة بأنه إمامُ أهل زمانه في العلم والأخبار، ولد سنة 167، ولم يرحل مبكرًا برًّا بأمه، ثم رحل بعدَ موتها، وقال: كَتَب عني خمسةُ قُرون، وحدَّثتُ وأنا ابن ثماني عشرة سنة، توفي سنة 252 (1). وهو شيخُ الستة: البخاري ومسلم وأبي داود والترمذي والنسائي وابن ماجه.
2 - الإمامُ الحافظُ عديمُ النظير أبو بكر عبد الله بن محمَّد بن أبي شيبة العَبْسي مولاهم الكوفي، صاحبُ "المسند" و"المصنف" وغيرهما، كان أحفظَ أهلِ زمانه، قال أبو عبيد القاسم بن سَلام: أحسنُهم وضعًا لكتابٍ أبو بكر بن أبي شيبة. توفي سنة 235 (2). وهو شيخ البخاري ومسلم وأبي داود وابن ماجه.
--------------------------------------------
ইবনে মাজাহ যাঁদের নিকট থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন, সেই সকল শায়খদের মধ্যে এই চারজন রয়েছেন যাঁদের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তিনি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের সাথে অংশীদার হয়েছেন। এছাড়া তিনি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী, আলী বিন মুহাম্মাদ আত-তানাফিসি, আব্দুর রহমান বিন ইবরাহীম আদ-দিমাশকী (যিনি দুহাইম নামে পরিচিত), মুহাম্মাদ বিন রুমহ আল-মিসরী, মুহাম্মাদ বিন আস-সাব্বাহ আল-জারজারাঈ এবং হিশাম বিন আম্মার থেকেও অধিক পরিমাণে বর্ণনা করেছেন। আমরা এখানে তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরছি:
১ - ইমাম, হাফেজ, ইসলামের মহান বর্ণনাকারী আবু বকর মুহাম্মাদ বিন বাশশার বিন উসমান আল-বাসরী, যাঁর উপাধি ছিল ‘বুন্দার’। এর অর্থ হলো: হাফেজ (সংরক্ষণকারী); তিনি নিজ শহরের হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও মুখস্থ করেছিলেন। ইবনে খুজাইমাহ তাঁকে তাঁর সমসাময়িক যুগের ইলম ও বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ১৬৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের প্রতি সদাচরণের কারণে তিনি প্রথম দিকে ইলম অর্জনে দেশভ্রমণ করেননি, বরং তাঁর ইন্তেকালের পর সফর শুরু করেন। তিনি বলেন: ‘আমার থেকে পাঁচটি প্রজন্ম (কুরুন) হাদিস লিখেছে, আর আমি আঠারো বছর বয়স থেকেই হাদিস বর্ণনা করছি’। তিনি ২৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (১)। তিনি কুতুবে সিত্তার ছয় ইমাম—বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ-এর শায়খ বা শিক্ষক।
২ - ইমাম, হাফেজ, অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি শায়বাহ আল-আবসি আল-কুফী, তিনি ‘আল-মুসনাদ’ ও ‘আল-মুসান্নাফ’সহ আরও অনেক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি নিজ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন। আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম বলেন: ‘গ্রন্থ রচনার বিন্যাসে তাদের মধ্যে আবু বকর বিন আবি শায়বাহ-ই সর্বোত্তম’। তিনি ২৩৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (২)। তিনি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ-এর শায়খ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - الحافظ أبو كُرَيب محمَّد بن العلاء بن كريب الهَمْداني الكوفي، وُلِدَ سنةَ 161، وكان عارفًا بحديثِ أهلِ الكوفة، مِنْ أحفظِ أهل زمانه، توفي سنة 248 وله 87 عاما (1). وهو شيخ الستة.
4 - الحافظُ الحجة محمَّد بن عبد الله بن نُمير، أبو عبد الرحمن الهَمْداني ثم الخارفي مولاهم الكوفي، ولد سنة نَيف وستين ومئة، وكان رأسًا في العلم والعمل، كان أحمدُ يُعظمه، وقال أبو حاتم: ثقة يُحتج بحديثه. توفي سنة 234 (2). وهو شيخُ البخاري ومسلم وأبي داود وابن ماجه.
5 - الإمامُ الحافظُ البارعُ إمام أهل الحديث بخُرَاسان أبو عبد الله محمَّد بن يحيى بن عبد الله بن خالد بن فارس الذُّهلي مولاهم النيسابوري، وُلِدَ سنةَ بضع وسبعين ومئة، جمع علمَ الزهري وصنَّفه وجوَّده، وكان أحمدُ يُثني عليه ويَنْشُرُ فضلَه، وقال عنه أبو حاتم: إمام أهل زمانه، وقال ابن أبي داود: كان أميرَ المؤمنين في الحديث. توفي سنة 258 (3). وحدَّث عنه البخاري وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه.
6 - الإمامُ الحافظُ المتقنُ أبو الحسن عليُّ بن محمَّد الطنافسيُّ الكوفي، ابنُ أخت الطنافسيين علماءِ الكوفة محمَّد ويعلى وعمر وإبراهيم، سكن قزوين، قال أبو حاتِمٍ: كان ثقةً صدوقًا، هو أحبُّ
--------------------------------------------
৩ - হাফেজ আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ইবনে কুরাইব আল-হামদানী আল-কুফী, ১৬১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুফাবাসীদের হাদীস সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন এবং নিজ সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন। তিনি ২৪৮ হিজরীতে ৮৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (১)। তিনি কুতুবুস সিত্তাহর সংকলকদের উস্তাদ।
৪ - হাফেজুল হুজ্জাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আবু আব্দুর রহমান আল-হামদানী অতপর আল-খারিফী, তাদের আযাদকৃত দাস ও কুফী। তিনি একশো ষাট হিজরীর কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। ইমাম আহমাদ তাকে সম্মান করতেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, তার বর্ণিত হাদীস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তিনি ২৩৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (২)। তিনি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহর উস্তাদ।
৫ - ইমাম হাফেজ আল-বারী' (সুনিপুণ), খুরাসানের আহলে হাদীসদের ইমাম, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে ফারিস আদ-দুহলী, তাদের আযাদকৃত দাস ও নিশাপুরী। তিনি একশো সত্তর হিজরীর কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম যুহরীর ইলম একত্রিত করেন, বিন্যস্ত করেন এবং তা নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেন। ইমাম আহমাদ তার প্রশংসা করতেন এবং তার ফযীলত প্রচার করতেন। আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেন: তিনি নিজ যুগের ইমাম। ইবনে আবি দাউদ বলেন: তিনি হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মু'মিনীন ছিলেন। তিনি ২৫৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (৩)। তার থেকে বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬ - ইমাম হাফেজ আল-মুতকিন (সুদৃঢ়) আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ আত-তানাফিসী আল-কুফী। তিনি কুফার আলেম তানাফিসী ভ্রাতৃদ্বয়—মুহাম্মাদ, ইয়ালা, উমর ও ইব্রাহীমের ভাগ্নে। তিনি ক্বাযভীনে বসবাস করতেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন। তিনি অধিক পছন্দনীয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إليَّ مِن أبي بكر بن أبي شيبة في الفضل والصلاح، وأبو بكر أكثرُ منه حديثا وأفهمُ. توفي سنة 233 (1). وانفرد ابن ماجه من بين الستة بالرواية عنه.
7 - الإمام الحافظُ القاضي الفقيه أبو سعيد عبدُ الرحمن بن إبراهيم بن عمرو بن ميمون الدمشقي، وُلِدَ سنة 170، وكان يُلقَّب بدُحيمٍ اليتيم، قال أبو حاتم: كان دُحيم يُميِّزُ ويَضْبِطُ وهو ثقة. وقال الذهبي: عُنِيَ بهذا الشأن، وفاق الأقرانَ، وجمع وصنَف، وجرَّح وعدَّل، وصحَّح وعلَّل، وكان على مذهب الأوزاعي. توفي سنة 245 (2). وهو شيخ البخاري وأبي داود والنسائي وابن ماجه.
8 - الإمام المحدَث محمَّد بن الصباح بن سفيان، أبو جعفر الجَرْجَرَائي، مولى عمر بن عبد العزيز، وجَرْجَرايا: قرية بينَ واسط وبغداد، كان أحمد يُجِلُّه ويُعظمُه، توفي بجرجرايا سنة 240 (3). وهو شيخُ أبي داود وابن ماجه.
9 - الحافظ الثبت أبو عبد الله محمَّد بن رُمح بن المهاجر بن المحرر التُّجِيبي مولاهم المصري، كان معروفًا بالإتقانِ الزائدِ والحفظ، قال النسائي: لو كان كتَبَ عن مالك لأثبتُّه في الطبقة الأولى مِن أصحابه، يعني لحفظه وإتقانه. وقال الذهبي: أنا أتعجبُ من البخاري كيف لم يرو عنه، فهو أهل لذلك، بل هو أتقن من
--------------------------------------------
মর্যাদা এবং নেককার হওয়ার দিক থেকে আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমার কাছে (পূর্বোক্ত ব্যক্তি অপেক্ষা) অধিক প্রিয়; আবু বকর তাঁর চেয়ে অধিক হাদীসবেত্তা এবং সমঝদার ছিলেন। তিনি ২৩৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (১)। কুতুবে সিত্তার মধ্য থেকে একমাত্র ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
৭ - ইমাম, হাফেজ, বিচারক ও ফকীহ আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আমর ইবনে মাইমুন আদ-দিমাশকী। তিনি ১৭০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং 'দুহাইম আল-ইয়াতিম' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। আবু হাতেম বলেন: দুহাইম হাদীস যাচাই-বাছাই ও সংরক্ষণ করতে পারতেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি এই শাস্ত্রের (হাদীসের) প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, হাদীস সংগ্রহ ও সংকলন করেছিলেন, বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা করেছিলেন, হাদীসকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত এবং এর ত্রুটি চিহ্নিত করেছিলেন এবং তিনি ইমাম আওযাঈর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি ২৪৫ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (২)। তিনি ইমাম বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহর উস্তাদ।
৮ - ইমাম ও মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে আস-সাব্বাহ ইবনে সুফিয়ান, আবু জাফর আল-জারজারায়ী, উমর ইবনে আবদুল আজিজের মুক্তদাস। জারজারায়া হলো ওয়াসিত ও বাগদাদের মধ্যবর্তী একটি গ্রাম। ইমাম আহমদ তাকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। তিনি ২৪০ হিজরীতে জারজারায়ায় ইন্তেকাল করেন (৩)। তিনি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহর উস্তাদ।
৯ - হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে রুমহ ইবনুল মুহাজির ইবনুল মুহাররার আত-তুজীবী আল-মিসরী। তিনি অত্যধিক সূক্ষ্মতা ও মুখস্থশক্তির জন্য পরিচিত ছিলেন। ইমাম নাসাঈ বলেন: তিনি যদি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা লিখে নিতেন, তবে আমি তাঁর মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতার কারণে তাঁকে ইমাম মালিকের ছাত্রদের প্রথম স্তরে স্থান দিতাম। ইমাম যাহাবী বলেন: আমি ইমাম বুখারীকে নিয়ে বিস্ময় বোধ করি যে, তিনি কেন তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি, অথচ তিনি এর যোগ্য ছিলেন; বরং তিনি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قتيبة بنِ سعيد رحمهما الله. توفي سنة 242 (1). وهو شيخ مسلم وابن ماجه.
10 - الإمامُ الحافظُ المقرئُ أبو الوليد هشامُ بنُ عمار بن نُصَير ابن مَيْسرة السُّلَمي الدمشقي، ولد سنة 153، وكان من أوعية العلم، وحدَّث عنه الكبار، توفي سنة 245 (2). وهو من شيوخ البخاري وأبي داود والنسائي وابن ماجه.
*
تلاميذه:وقد تلقى العلمَ من الإمامِ ابنِ ماجه وأخذ الروايةَ عنه غيرُ واحد، حمل بعضُهم عنه كتابه "السُّنن"، واكتفى بعضُهم برواية شيء من حديثه، فمن الذين رَوَوْا عنه كتابَ "السُّنن":
1 - الحافظُ أبو الحسن علي بن إبراهيم بن سَلَمة بن بَحْر القَطّان القزويني، وهو أشهرُ رواة "السُّنن"، وروايته هي المتداوَلةُ بين أهل العلم. وُلِدَ أبو الحسن سنة 254، قال أبو يعلى الخليلي: عالم بجميع العلوم: التفسيرِ والنحوِ واللغةِ والفقهِ القديمِ، لم يكن له نظيرٌ دينًا ودِيانةً وعِبادةً، عُمِّر حتى أدركه الأحداثُ، له أولاد ثلاثة: محمَّد والحسن والحسين. توفي سنة 345 (3). وله زيادات على "السُّنن" عن غير واحدٍ من شيوخه سوى ابن ماجه، وقد ميزناها في طبعتنا هذه بإثبات دائرة سوداء في أولها.
--------------------------------------------
কুতায়বা ইবনে সাঈদ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)। তিনি ২৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)। তিনি মুসলিম ও ইবনে মাজাহর শিক্ষক।
১০ - ইমাম হাফেজ মুকরি আবু ওয়ালিদ হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর ইবনে মাইসারা আস-সুলামী আদ-দিমাশকী, তিনি ১৫৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ইলমের ভাণ্ডার ছিলেন, বড় বড় আলেমগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ২৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)। তিনি বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহর শিক্ষকদের অন্যতম।
*
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইমাম ইবনে মাজাহর নিকট থেকে একের অধিক ব্যক্তি ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর থেকে রেওয়ায়েত গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর নিকট থেকে তাঁর গ্রন্থ "আস-সুনান" গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর কিছু হাদিস বর্ণনার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছেন। যাঁরা তাঁর নিকট থেকে "আস-সুনান" গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
১ - হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সালামা ইবনে বাহর আল-কাত্তান আল-কাযওয়িনী, তিনি "আস-সুনান"-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী এবং তাঁর বর্ণনাটিই আলেমদের মাঝে প্রচলিত। আবুল হাসান ২৫৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আবু ইয়ালা আল-খালীলী বলেন: তিনি সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন: তাফসীর, নাহু, ভাষা ও প্রাচীন ফিকহ। দ্বীনদারি ও ইবাদতের দিক থেকে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও তাঁকে পেয়েছিল। তাঁর তিনজন পুত্র ছিল: মুহাম্মদ, হাসান এবং হুসাইন। তিনি ৩৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)। ইবনে মাজাহ ছাড়াও তাঁর অন্য শিক্ষকদের নিকট থেকে "আস-সুনান"-এ তাঁর কিছু বর্ধিত অংশ রয়েছে, যা আমরা আমাদের এই সংস্করণে শুরুতে একটি কালো বৃত্ত প্রদানের মাধ্যমে পৃথক করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - أبو عبد الله أحمدُ بنُ إبراهيم بن الخليل الخَلِيلي، جدُّ الحافظ أبي يعلى الخليلي، قال الخليليُّ عن جده: سمع بقزوين أبا عبد الله ابن ماجه، وكتب "مسنده" (1). وذكر أنه سَمِعَ الحديث بنهاوند وهَمَذَان على عدد مِن شيوخها (2).
3 - أبو داود سليمان بن يزيد بن سليمان الفاميّ القزويني، قال الخليلي: شيخ قديم مُسِنّ. ارتحل إلى الريّ والعراق ومكة وصنعاء، توفي سنة 339 (3).
4 - أبو جعفر محمَّد بن عيسى المُطَّوِّعي الأَبهَري (4).
5 - أبو بكر حامد بن ليثوية الأبهري (5).
وأشهر هؤلاء جميعًا أبو الحسن القطان، وقد نالت روايتُه القَبولَ من بين سائر الروايات لجلالة قدره في العلم، وبسببه انتشر الكتاب. وبقية الروايات لا تكادُ تُذكر بَلْهَ وجودَ تراجم لأصحابها خلا سليمان بن يزيد الفاميّ، فقد ذُكر فيمن أخذ "السُّنن" من طريقه أحمد بن محمَّد بن المَرْزُبانِ أبو الحسين الصوفي القزويني (6)، وعلي بن الحسن بن أحمد بن إدريس العمري القزويني (7).
--------------------------------------------
২ - আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-খলিল আল-খলিলি, তিনি হাফেজ আবু ইয়ালা আল-খলিলির দাদা। আল-খলিলি তাঁর দাদা সম্পর্কে বলেন: তিনি কাজভিনে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহর নিকট হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর 'মুসনাদ' (১) অনুলিখন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নাহাওয়ান্দ এবং হামাদানের বহু সংখ্যক শায়খের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন (২)।
৩ - আবু দাউদ সুলাইমান বিন ইয়াজিদ বিন সুলাইমান আল-ফামি আল-কাজভিনি। আল-খলিলি বলেন: তিনি একজন প্রাচীন ও বয়োবৃদ্ধ শায়খ ছিলেন। তিনি রাই, ইরাক, মক্কা এবং সানায় ভ্রমণ করেছেন। তিনি ৩৩৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।
৪ - আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-মুত্তাওয়ি আল-আবহারি (৪)।
৫ - আবু বকর হামিদ বিন লায়সুয়াহ আল-আবহারি (৫)।
আর এদের সকলের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন আবু আল-হাসান আল-কাত্তান। ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে অন্যান্য সকল বর্ণনার তুলনায় তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েতটি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং তাঁর মাধ্যমেই কিতাবটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। সুলাইমান বিন ইয়াজিদ আল-ফামি ব্যতীত বাকি বর্ণনাগুলোর কথা তেমন উল্লেখ করা হয় না, এমনকি তাদের বর্ণনাকারীদের জীবনীও তেমন পাওয়া যায় না। সুলাইমান বিন ইয়াজিদ আল-ফামির সূত্রে যারা 'সুনান' গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মারজুবান আবু আল-হুসাইন আস-সুফি আল-কাজভিনি (৬) এবং আলী বিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইদ্রিস আল-উমারি আল-কাজভিনি (৭) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأما تلاميذ ابن ماجه الذين رووا بعضَ الأحاديث عنه، فقد ذكر الحافظ ابن حجر منهم: علي بن سعيد بن عبد الله الغُدَاني العسكري، وإبراهيمَ بنَ دينار الحَوْشَبي الهَمَذاني، وأبا الطيب أحمد بن رَوْح الشَعْراني، وإسحاقَ بن محمَّد القزويني، وجعفرَ بن إدريس، والحسينَ بن علي بن يزدانيار، ومحمدَ بنَ عيسى الصفار، وأبا عمرو أحمد بن محمَّد بن حكيم المديني الأصبهاني (1).
وذكر الخليلي في تلاميذه أيضًا محمَّد بن علي بن خشرماه القزويني (2). وذكر الرافعيُّ فيهم محمدَ بنَ عبد الله الأصبهاني أبا بكر القزويني (3).
*
مصنفاته:إن من شأن العلم أنه إذا لم يُقيَّد نُسِيَ وضاع بموت حامله، ومن هنا حَرَصَ أهلُ العلم مِن سلفنا الصالح رضوان الله تعالى عنهم على تدوين ما اكتسبوه من العلوم، رغبةً منهم في أن ينتشرَ العلمُ، وتستفيدَ منه الأجيال اللاحقة، ولا يبقى حبيسَ صدورهم، فيزولَ بزوالهم.
وكان أهلُ العلم إلى ذلك يعتنون بمصنَّفاتهم تلك، ويضبطونها أيَّما ضَبْطٍ، ويُقْرِؤُونها التلاميذَ ويُجيزونهم بنقلها وإقرائها لمن بعدهم.
--------------------------------------------
আর ইবনে মাজাহর সেইসব ছাত্র যারা তাঁর থেকে কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাফেজ ইবনে হাজার তাঁদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন: আলী বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আল-গুদানি আল-আসকারি, ইব্রাহিম বিন দিনার আল-হাওশাবি আল-হামদানি, আবুল তৈয়ব আহমদ বিন রাওহ আল-শআরানি, ইসহাক বিন মুহাম্মদ আল-কাজভিনি, জাফর বিন ইদ্রিস, আল-হুসাইন বিন আলী বিন ইয়াজদানইয়ার, মুহাম্মদ বিন ঈসা আস-সাফফার এবং আবু আমর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাকিম আল-মাদিনি আল-আসফাহানি (১)।
আল-খলিলি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন আলী বিন খুশরমাহ আল-কাজভিনিকেও উল্লেখ করেছেন (২)। আর রাফেয়ি তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি আবু বকর আল-কাজভিনিকে উল্লেখ করেছেন (৩)।
*
তাঁর রচনাবলী:জ্ঞানের বৈশিষ্ট্য হলো যে, যদি তা লিপিবদ্ধ না করা হয় তবে তা বিস্মৃত হয়ে যায় এবং তার বাহকের মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে যায়। এ কারণেই আমাদের সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) অর্জিত জ্ঞান লিখে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যাতে জ্ঞান ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলো তা থেকে উপকৃত হতে পারে, আর তা যেন কেবল তাঁদের অন্তরেই সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁদের মৃত্যুর সাথে সাথে বিলুপ্ত না হয়ে যায়।
আলেমগণ তাঁদের সেইসব রচনার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করতেন এবং ছাত্রদের তা পড়াতেন ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছানোর ও পড়ানোর অনুমতি প্রদান করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكان الإمامُ ابن ماجه من أولئك الذين اعتنوا بجمع مروياتهم وتصنيفها، فألَّف:
1 - كتاب "التفسير": قال أبو يعلى الخليلي: له سنن وتفسير وتاريخ، وكان عارفًا بهذا الشأن (1). وقد ذكره الحافظ ابن كثير وقال: هو تفسير حافل (2). وذكره الحافظ الذهبي في "الميزان" في ترجمة عتبة بن يقظان، وأورد منه حديثًا، وقال الحافظ شمس الدين الداوودي: كان عارفًا بهذا الشأن (3). وقد ذكره شيخ الإسلام ابن تيميَّة في جملة التفاسير التي يُذكر فيها تفسير الصحابة والتابعين وتابعيهم صِرفًا (4).
وهذا الكتاب لم يصل إلينا مِنه شيء، وأغلبُ الظن أنه فُقِدَ في جملة ما فُقِدَ مِن الكتب في كائنةِ تيمورلنك سنة (853 هـ) في دمشق، فإنه يُفهم من كلام الذهبي المتوفى سنة (748 هـ)، وابن كثير المتوفى سنة (774 هـ) أنهما رأياه، ثم لم نجد له بعدَ ذلك ذكرًا في "معجم" الحافظ ابن حجر المتوفى سنة (852 هـ)، ولا في المعاجم والفهارس المتأخرة.
2 - "السُّنن": وهو هذا الكتاب، وسيأتي الكلامُ عليه مُفَصَّلًا في مبحث خاص إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
ইমাম ইবনে মাজাহ ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও বিন্যাস করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন, তিনি রচনা করেছেন:
১ - "আত-তাফসীর" গ্রন্থ: আবু ইয়ালা আল-খালিলি বলেছেন: তাঁর সুনান, তাফসীর ও ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি এই বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন (১)। হাফেজ ইবনে কাসির এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি তথ্যসমৃদ্ধ তাফসীর (২)। হাফেজ আজ-জাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে উতবাহ বিন ইয়াকজান-এর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখান থেকে একটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। হাফেজ শামসুদ্দিন আদ-দাউদি বলেছেন: তিনি এই বিষয়ে বিজ্ঞ ছিলেন (৩)। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এটিকে সেই সকল তাফসীর গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেগুলোতে কেবল সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের তাফসীর বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে (৪)।
আর এই গ্রন্থটির কোনো অংশই আমাদের কাছে পৌঁছায়নি; প্রবল ধারণা এই যে, ৮৫৩ হিজরি সালে দামেস্কে তৈমুর লঙের তাণ্ডবের সময় যে সকল কিতাব হারিয়ে গিয়েছিল, এটিও সেগুলোর সাথে হারিয়ে গেছে। কেননা ৭৪৮ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আজ-জাহাবি এবং ৭৭৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে কাসিরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে তাঁরা এটি দেখেছিলেন, কিন্তু এরপর ৮৫২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী হাফেজ ইবনে হাজারের 'মু'জাম' কিংবা পরবর্তী সময়ের অন্যান্য অভিধান ও ক্যাটালগগুলোতে এর আর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।
২ - "আস-সুনান": এটি সেই কিতাব, এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে এর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - "التاريخ": ذكره أبو يعلى الخليلي (1). وقال ابنُ طاهر المقدسي: ورأيتُ له بقزوين تاريخًا على الرجال والأمصار مِن عهد الصحابة إلى عصره (2). وذكره كذلك الرافعي في "أخبار قزوين" مرارًا وأكثَرَ النقلَ منه (3). وقال ابنُ خَلِّكان: له "تاريخ" مليح (4). وقال ابنُ كثير: لابن ماجه "تاريخ" كامل مِن لَدُنِ الصحابة إلى عصره (5).
*
ثناء أهل العلم عليه:لا شك أن إخلاصَ المرء وتفانيَه في خدمة العلم وحرصَه على نفع طلاب العلم مما يَنْشُرُ فضلَه ويُطيِّب سيرتَه، ويُخلِّد ذِكرَه مِن بعده، وقد كان ابنُ ماجه رحمه الله مِمن لَهِجَتْ ألسِنةُ أهلِ العلم بالثناء عليه والإشادة بعلمه، والتنويه بفضله.
قال أبو يعلى الخليلي: هو ثقة كبيرٌ متفقٌ عليه محتَجٌّ به، له معرفةٌ بالحديث وحِفظٌ، ارتحل إلى العراقَينِ ومكة والشام ومصر والري لكَتْب الحديث (6).
وقال عبد الكريم بن محمَّد الرافعي: إمام من أئمة المسلمين، كبيرٌ مُتقِن، مقبول بالاتفاق (7).
--------------------------------------------
৩ - "আত-তারিখ" (ইতিহাস): এটি আবু ইয়ালা আল-খালিলি উল্লেখ করেছেন (১)। ইবনুত তাহির আল-মাকদিসি বলেন: আমি কাজউইনে তাঁর একটি ইতিহাসের কিতাব দেখেছি যা সাহাবীগণের যুগ থেকে তাঁর সময় পর্যন্ত বর্ণনাকারী ও দেশসমূহের ওপর রচিত (২)। রাফেয়ি-ও "আখবারু কাজউইন"-এ এটি বারবার উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে অধিকহারে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন (৩)। ইবনে খাল্লিকান বলেন: তাঁর একটি চমৎকার "তারিখ" (ইতিহাসগ্রন্থ) রয়েছে (৪)। ইবনে কাসির বলেন: ইবনে মাজাহর সাহাবীগণের সময় থেকে তাঁর নিজের সময় পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ "তারিখ" (ইতিহাসগ্রন্থ) রয়েছে (৫)।
*
তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন ব্যক্তির ইখলাস (একনিষ্ঠতা), ইলমের সেবায় আত্মনিয়োগ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের উপকারের প্রতি তাঁর আকাঙ্ক্ষা—এমন বিষয় যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে ছড়িয়ে দেয়, তাঁর জীবন চরিতকে সুবাসিত করে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর আলোচনাকে অমর করে রাখে। আর ইবনে মাজাহ (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যাঁকে নিয়ে আলেমগণের রসনা প্রশংসায় মুখরিত ছিল এবং তাঁরা তাঁর ইলম ও শ্রেষ্ঠত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আবু ইয়ালা আল-খালিলি বলেন: তিনি একজন বড় মাপের বিশ্বস্ত (সিকাহ) ব্যক্তিত্ব, যাঁর বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে এবং যাঁর বর্ণনা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য; হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞান ও হিফয (স্মৃতিশক্তি) ছিল। হাদিস সংকলনের উদ্দেশ্যে তিনি ইরাকাইন (কুফা ও বসরা), মক্কা, শাম, মিশর এবং রাই সফর করেছেন (৬)।
আব্দুল কারীম ইবনে মুহাম্মাদ আর-রাফেয়ি বলেন: তিনি মুসলিমদের ইমামগণের মধ্যে একজন ইমাম, মহান ও সূক্ষ্মদর্শী এবং সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال ابنُ خَلِّكانَ: الحافظُ المشهورُ، كان إمامًا في الحديث، عارفًا بعلومه وجميع ما يتعلَّقُ به (1).
وقال شِيرويه الدَّيلَمي في "تاريخ هَمَذَان": ومِن أعيان الأئمةِ مِن أهل قزوين محمدُ بنُ يزيد ابنُ ماجه أبو عبد الله القزويني الحافظُ (2).
وقال المِزَي: محمدُ بن يزيد الرَّبَعي مولاهم، أبو عبد الله ابن ماجه القزويني الحافظ، صاحبُ كتاب "السُّنن"، ذو التصانيف النافعة، والرحلةِ الواسعة (3).
وقال ابنُ الأثير: كان عاقلًا إمامًا عالمًا (4).
وقال ابنُ عبد الهادي: الحافظُ الكبير المفسر أبو عبد الله القَزويني (5).
وقال الذهبي: الحافظُ الكبيرُ الحجةُ المفسرُ، حافظ قزوين في عصره. وقال أيضًا: كان ابنُ ماجه حافظًا ناقدًا صادقًا، واسعَ العلم (6).
--------------------------------------------
এবং ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: তিনি ছিলেন বিখ্যাত হাফেজ, হাদিস শাস্ত্রে ইমাম, এর সকল শাখা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অত্যন্ত বিজ্ঞ (১)।
এবং শিরওয়াইহ আদ-দাইলামি ‘তারিখে হামাজান’-এ বলেছেন: কাজউইনবাসীদের মধ্য থেকে ইমামদের অন্যতম হলেন হাফেজ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আবু আবদুল্লাহ আল-কাজউইনি (২)।
এবং আল-মিযযি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ আর-রাবায়ি (তাদের আযাদকৃত দাস), আবু আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ আল-কাজউইনি হাফেজ, তিনি ‘আস-সুনান’ কিতাবের রচয়িতা, বহু উপকারী গ্রন্থ প্রণেতা এবং বিস্তৃত জ্ঞানার্জনের সফরের অধিকারী (৩)।
এবং ইবনুল আসির বলেছেন: তিনি ছিলেন প্রাজ্ঞ, ইমাম ও আলিম (৪)।
এবং ইবনে আবদুল হাদি বলেছেন: মহান হাফেজ, মুফাসসির আবু আবদুল্লাহ আল-কাজউইনি (৫)।
এবং আয-যাহাবি বলেছেন: মহান হাফেজ, হুজ্জাত (প্রমাণ), মুফাসসির এবং স্বীয় যুগে কাজউইনের হাফেজ। তিনি আরও বলেন: ইবনে মাজাহ ছিলেন হাফেজ, সমালোচক, সত্যবাদী এবং সুবিস্তৃত ইলমের অধিকারী (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الحافظ ابنُ كثير: صاحبُ "السُّنن" المشهورة، وهي دالَّةٌ على عمله وعلمه، وتبحُّره واطلاعه، واتباعه للسنة في الأصولِ والفروعِ (1).
*
مذهبه:لم تذكر المصادِرُ التي بين أيدينا المذهبَ الفقهي الذي دَرَجَ عليه الإمام ابنُ ماجه، لكن يغلب على الظن أنه نشأ على مذهب الإمام الشافعي كمعظم أهل بلده في تلك الأزمنة، ويعزز هذا ما جاء في كتاب "التدوين في أخبار قزوين" للإمام الرافعي الفقيه الشافعي، فقد روى بإسناده إلى ابنِ ماجه قال: جاء يحيى بنُ مَعِين يومًا إلى أحمدَ بنِ حنبل، فقَعَدَ عنده، فمر به الشافعيُّ على بغلته، فقامَ إليه أحمد، فتبعه حتى تغيَّب عنه، وأبطأ على يحيى، فلما أن جاء قال له يحيى بنُ معين: يا أبا عبدِ الله، مَن هذا؟ قال: دع ذا، إن أردتَ الفقه فالزَمْ ذنَبَ البغلة (2).
وقد سُئلَ شيخُ الإسلام ابن تيمية عن عددٍ من الأئمة المصنفين منهم الأئمةُ الستة، هل كانوا مجتهدين لم يقلدوا أحدًا من الأئمة، أم كانوا مقلدين؟ فقال: أما البخاري وأبو داود فإمامانِ في الفقه مِن أهل الاجتهاد، وأما مسلم والترمذي والنسائي وابنُ ماجه وابن خُزيمة وأبو يعلى والبزار ونحوهم، فهم على مذهب أهلِ الحديث،
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে কাসির বলেছেন: তিনি প্রসিদ্ধ "সুনান"-এর রচয়িতা, যা তাঁর কর্ম ও জ্ঞান, পাণ্ডিত্য ও পরিব্যাপ্তি এবং উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা)-তে সুন্নাহর অনুসরণের প্রমাণ বহন করে (১)।
*
তাঁর মাযহাব:আমাদের নিকট বর্তমান উৎসসমূহে ইমাম ইবনে মাজাহ যে ফিকহি মাযহাবের ওপর পরিচালিত ছিলেন তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রবল ধারণা এই যে, তিনি সেই সময়ের তাঁর অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসীর মতো ইমাম শাফেয়ির মাযহাবের ওপর বড় হয়েছেন। শাফেয়ি ফকিহ ইমাম রাফেয়ির "আত-তাদবিন ফি আখবারে কাযউইন" গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা এই ধারণাকে শক্তিশালী করে। তিনি ইবনে মাজাহ পর্যন্ত স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইবনে মাজাহ) বলেন: একদিন ইয়াহইয়া ইবনে মাইন আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট এলেন এবং তাঁর কাছে বসলেন। এমতাবস্থায় ইমাম শাফেয়ি তাঁর খচ্চরের পিঠে চড়ে তাঁদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন আহমদ তাঁর দিকে উঠে গেলেন এবং তিনি দৃষ্টির আড়াল হওয়া পর্যন্ত তাঁর পিছু পিছু চললেন। ইয়াহইয়ার নিকট ফিরে আসতে তাঁর বিলম্ব হলো। যখন তিনি এলেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন তাঁকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, ইনি কে? তিনি বললেন: এসব ছাড়ুন, যদি আপনি ফিকহ অর্জন করতে চান তবে ওই খচ্চরের লেজ আঁকড়ে ধরুন (২)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে কুতুবে সিত্তার ইমামগণসহ একদল মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) ইমাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তাঁরা কি মুজতাহিদ ছিলেন যাঁরা কোনো ইমামের তাকলিদ করেননি, নাকি তাঁরা মুকাল্লিদ ছিলেন? উত্তরে তিনি বলেন: বুখারি ও আবু দাউদ হলেন ফিকহ শাস্ত্রের দুই ইমাম এবং তাঁরা ইজতিহাদের অধিকারী ছিলেন। আর মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযাইমা, আবু ইয়ালা, বাযযার এবং তাঁদের সমগোত্রীয়গণ আহলে হাদিসের মাযহাবের ওপর ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ليسوا مقلدين لِواحد بعينه من العلماء، ولا هم من الأئمة المجتهدين على الإطلاق (1).
وأغلب الظن أنه كان يعمل ويفتي بما أداه إليه اجتهاده في فهم الكتاب والسنة، لأن أهل العصر الذي كان فيه ابنُ ماجه لم يكن علماؤه يَرْضَوْنَ لأنفسهم التقليد، لا حفاظُ الحديثِ ولا أئمةُ الفقه، رحمهم الله.
*
وفاته:قال محمدُ بنُ طاهر المقدسيُّ: رأيتُ بقزوين له -يعني ابنَ ماجه- تاريخًا على الرجال والأمصار مِن عهد الصحابةِ إلى عصره، وفي آخره بخط جعفر بنِ إدريس صاحبِه: مات أبو عبد الله محمدُ ابنُ يزيد ابنُ ماجه المعروف في يومِ الاثنين، ودُفِنَ يومَ الثلاثاء، لثمانِ بَقِينَ مِن شهرِ رمضانَ مِن سنة ثلاث وسبعين ومئتين، ومات وله أربعٌ وستون سنة، وصلى عليه أخوه أبو بكر، وتولَّى دفنَه أبو بكر وأبو عبد الله أخواه، وابنُه عبد الله (2).
--------------------------------------------
তারা আলেমদের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো একজনের মুকাল্লিদ ছিলেন না, আবার তারা নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ ইমামদের অন্তর্ভুক্তও ছিলেন না (১)।
প্রবল ধারণা এই যে, তিনি কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর ইজতিহাদ তাঁকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত করত সে অনুযায়ী আমল করতেন এবং ফতোয়া দিতেন। কারণ ইবনে মাজাহ যে যুগে ছিলেন, সেই যুগের আলেমগণ নিজেদের জন্য তাকলীদ করা পছন্দ করতেন না; না হাদিসের হাফেজগণ, আর না ফিকহের ইমামগণ, আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন।
*
তাঁর মৃত্যু:মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি বলেন: আমি কাজউইনে তাঁর -অর্থাৎ ইবনে মাজাহর- সাহাবীদের যুগ থেকে তাঁর নিজ সময় পর্যন্ত বর্ণনাকারী ও জনপদসমূহের ওপর একটি ইতিহাস গ্রন্থ দেখেছি। তার শেষে তাঁর সঙ্গী জাফর ইবনে ইদরীসের হস্তাক্ষরে লেখা ছিল: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব সোমবার মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মঙ্গলবার দাফন করা হয়েছে, ২৭৩ হিজরি সনের রমজান মাস শেষ হতে আট দিন বাকি থাকতে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল চৌষট্টি বছর। তাঁর জানাযার নামাজ পড়িয়েছেন তাঁর ভাই আবু বকর এবং তাঁর দাফনের দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁর দুই ভাই আবু বকর ও আবু আবদুল্লাহ এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
التعريف بكتاب "السُّنن"
يُعَدُّ كتابُ ابنِ ماجه أحدَ الأصولِ الستة (1) التي تلقاها العلماءُ بالقَبُول، واعتنى بها المحدِّثون والفقهاءُ طبقةً بعدَ طبقةٍ، واشتهرت فيما بينَ الناس، وتصدَّت لها أقلام أهلِ العلم شرحًا لغريبها، وفحصًا عن رجالها، واستنباطًا لفقهها، وجمعًا لمتونها، وتهذيبًا لها.
وهذه الأصولُ الستة قد اشتملت على أحكامِ الإسلام وآدابه، وشرائعه وتوجيهاته، ويرى الإمام النووي رحمه الله أنه لم يَفُتْها مِن الحديث الصحيح والحسن إلا النَّزْرُ اليسيرُ.
وأولُ مَنْ أضاف "سننَ ابن ماجه" إلى الكتب الخمسةِ، مكمِّلًا بها الستة، الحافظُ أبو الفضل محمدُ بنُ طاهر المقدسي المتوفى سنة (507 هـ) في "أطراف الكتب الستة" له، وكذا في "شروط الأئمة
--------------------------------------------
"সুনান" গ্রন্থের পরিচিতিইবনে মাজাহর গ্রন্থটি সেই ছয়টি মূল উসুলের (১) একটি হিসেবে গণ্য করা হয় যা আলেম সমাজ সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, এটি জনসাধারণের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং বিজ্ঞ আলেমগণের কলম এর কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা, বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই, এর ফিকহী মাসআলা উদঘাটন, মূল পাঠ সংগ্রহ ও পরিমার্জনের কাজে নিয়োজিত হয়েছে।
আর এই ছয়টি মূল গ্রন্থ ইসলামের বিধিবিধান, আদব-কায়দা, শরিয়ত এবং দিকনির্দেশনাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করেন যে, অতি সামান্য অংশ ছাড়া সহিহ ও হাসান হাদিসের প্রায় সবই এই গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে।
যিনি সর্বপ্রথম "সুনান ইবনে মাজাহ"কে পাঁচটি গ্রন্থের সাথে যুক্ত করে ছয়টি গ্রন্থ পূর্ণ করেছেন, তিনি হলেন হাফেজ আবু ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৫০৭ হি.), যা তিনি তাঁর "আতরাফুল কুতুবিস সিত্তাহ" এবং "শুরুতুল আইম্মাহ" নামক গ্রন্থে করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الستة" له أيضًا، ثم الحافظُ عبدُ الغني المقدسي المتوفى سنة (600 هـ)، وأول مَنْ جمع أطرافَه مع السننِ الثلاثة الحافظ أبو القاسم ابنُ عساكر المتوفى سنة (571 هـ). فتبعهم على ذلك أصحابُ الأطرافِ، وهذا يشير إلى أن إضافة "سنن ابن ماجه" إلى الخمسةِ إنما كان في أول المئةِ السادسةِ، ولا يُؤثَر في ذلك عن القدماء شيءٌ.
وابنُ ماجه كأصحابِ السُّنن الثلاثة لم يشترِط في كتابه إيرادَ الأحاديث الصحيحة فقط، بل أدرجَ فيها الصحيح والحسن والضعيف والمنكر، ووقع له بضعةُ أحاديث موضوعة لا تَصِحُّ نسبتها إلى النبي صلى الله عليه وسلم. ولهذا وَجَبَ تمييزُ صحيحها مِن سقيمها، وتبيين ما يحتجُّ به مما لا يُحتج به منها، نصحًا لله ولرسوله ولِعامة المسلمين.
وبالرجوع إلى عملنا الدقيق الذي قُمنا به في دراسة أحاديث هذا الكتاب تبين لنا أن الإمامَ ابن ماجه انفردَ مِن بين أصحاب الكتب الخمسة بـ (1213) حديثًا بالمكرَّر، منها (98) حديثًا مما صح إسناده، ومنها (113) أحاديث صحيحة بالمتابعات، ومنها (219) حديثًا تصح بالشواهد، ومنها (58) حديثًا أسانيدُها حسنة، ومنها (42) حديثًا هي حسنةٌ بالمتابعات، ومنها (65) حديثًا هي حسنةٌ بالشواهد، ومنها (6) أحاديث محتملة للتحسين، ومنها (7) أحاديث أوردها مرفوعةً وصححناها موقوفة، ومنها (4) مراسيل، ومنها (384) حديثًا كلها ضعاف، ومنها (184) حديثًا وهي ضعيفة جدًا، ومنها حديث واحد شاذٌ باللفظ الذي ساقه المصنف، ومنها (21) حديثًا منكرًا وموضوعًا، ومنها (11) حديثًا لم نجزم بالحكم عليها.
"ছয়টি কিতাব" (আস-সিততাহ) এর অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, এরপর হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬০০ হিজরি), এবং প্রথম যিনি এর 'আতরাফ' (মূল অংশসমূহ) অন্য তিনটি সুনান গ্রন্থের সাথে একত্রিত করেন তিনি হলেন হাফেজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (মৃত্যু: ৫৭১ হিজরি)। পরবর্তী আতরাফ গ্রন্থকারগণ তাঁদেরই অনুসরণ করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, অন্য পাঁচটি কিতাবের সাথে "সুনানে ইবনে মাজাহ"কে যুক্ত করার বিষয়টি ষষ্ঠ হিজরি শতকের শুরুর দিকে হয়েছিল, এবং এ ব্যাপারে প্রাচীনদের থেকে নির্ভরযোগ্য কিছু বর্ণিত নেই।
ইবনে মাজাহ অন্য তিনটি সুনান গ্রন্থের রচয়িতাদের মতো তাঁর কিতাবে শুধুমাত্র সহিহ হাদিস সংকলনের শর্তারোপ করেননি; বরং তিনি এতে সহিহ, হাসান, জঈফ এবং মুনকার হাদিসও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এমনকি এতে অল্প কিছু জাল (মওজু) হাদিসও চলে এসেছে যেগুলোর সম্বন্ধ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে করা সঠিক নয়। একারণেই এর সহিহ হাদিসগুলোকে জঈফ থেকে পৃথক করা এবং কোনগুলো দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য আর কোনগুলো বর্জনীয় তা স্পষ্ট করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যা আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং সাধারণ মুসলিমদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষার অংশ।
এই কিতাবের হাদিসগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সূক্ষ্ম গবেষণার দিকে তাকালে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইমাম ইবনে মাজাহ অন্য পাঁচটি কিতাবের রচয়িতাদের তুলনায় এককভাবে (পুনরাবৃত্তিসহ) ১২১৩টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে ৯৮টি হাদিসের সনদ সহিহ; ১১৩টি হাদিস 'মুতাবায়াত' (পারস্পরিক সমর্থন) এর মাধ্যমে সহিহ; ২১৯টি হাদিস 'শাওয়াহিদ' (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) এর মাধ্যমে সহিহ; ৫৮টি হাদিসের সনদ হাসান; ৪২টি হাদিস মুতাবায়াতের মাধ্যমে হাসান; ৬৫টি হাদিস শাওয়াহিদের মাধ্যমে হাসান; ৬টি হাদিস হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; ৭টি হাদিস তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন কিন্তু আমরা সেগুলোকে মাওকুফ হিসেবে সঠিক সাব্যস্ত করেছি; ৪টি হাদিস মুরসাল; ৩৮৪টি হাদিস সবই জঈফ; ১৮৪টি হাদিস অত্যন্ত জঈফ; ১টি হাদিস গ্রন্থকারের উল্লেখ করা শব্দ অনুযায়ী 'শায' (বিচ্ছিন্ন); ২১টি হাদিস মুনকার ও জাল; এবং ১১টি হাদিসের ব্যাপারে আমরা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি।
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويظهر مِن هذا الإحصاء أن مجموع الأحاديث الصحيحة والحسنة، لذاتها ولغيرها، التي انفردَ بها ابنُ ماجه عن الكتب الخمسة بلغت (600) حديث، وهي تُساوي نصفَ ما انفرد به تقريبا.
وهذه النتيجة التي توصلنا إليها من خلال دراستنا للأسانيد دراسةَ دقيقة، تَرُدُّ قولَ مَنْ يقولُ: إنَّ كل ما انفردَ به ابنُ ماجه عن الكتب الخمسة، فهو ضعيف.
لكن كتاب "سنن ابن ماجه" دونَ الكتبِ الخمسة في المرتبة، كما قال العلامةُ السِّندي في مقدمة تعليقه. وقد صرح غيرُ واحد مِن الحفاظ أنه لا يجوزُ الاحتجاجُ بحديثِ رواه أصحابُ السُّنن والمسانيد التي لم يَشْتَرِطْ مَن جمعها الصحةَ ولا الحُسنَ ما لم يَتَثبَّت مِن صحته بدراسة إسنادِه، وانتفاء الشذوذ والعِلَّةِ عنه. وقد تولينا بتوفيق الله كل ذلك في تحقيقنا هذا، وأبَنَّا عن درجةِ كل حديث مِن أحاديثه من حيث الصحةُ أو الحسنُ أو الضعفُ.
وقد ذكر أهلُ العلم أن ابن ماجه تفرَّد بجملة أحاديثَ عن رجال متَّهَمين بالكذب وسرقة الحديث، حكم عليها الأئمةُ بالبُطْلان والوضع. وقد أدرج منها العلامة ابنُ الجوزي في كتاب "الموضوعات" (34) حديثًا، وأرقامها على التوالي: 65، 120، 141، 184، 256، 1332، 1333، 1384، 1386، 1583، 1602، 1613، 1615، 1862، 2146، 2289، 2307، 2474،
এই পরিসংখ্যান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সহীহ ও হাসান (লি-যাতিহি ও লি-গাইরিহি) হাদীসের মোট সংখ্যা, যা ইবনে মাজাহ অন্য পাঁচটি কিতাবের বিপরীতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার পরিমাণ ৬০০টি হাদীস; যা তাঁর এককভাবে বর্ণিত হাদীসসমূহের প্রায় অর্ধেক।
সনদসমূহের সূক্ষ্ম পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা যে এই ফলাফলে উপনীত হয়েছি, তা সেই ব্যক্তির বক্তব্যকে খণ্ডন করে যে বলে: অন্য পাঁচটি কিতাবের বিপরীতে ইবনে মাজাহ যা কিছু এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার সবই যঈফ।
তবে "সুনানে ইবনে মাজাহ" গ্রন্থটি মর্যাদার দিক থেকে অন্য পাঁচটি কিতাবের নিচে, যেমনটি আল্লামা সিন্ধি তাঁর টীকাগ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। একাধিক হাফেজে হাদীস এটি স্পষ্ট করেছেন যে, সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ যেখানে সহীহ বা হাসান হওয়ার শর্তারোপ করেননি, সেখানে বর্ণিত কোনো হাদীস ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার সনদ পর্যালোচনার মাধ্যমে তার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়া যায় এবং তাতে কোনো শায (বিচ্যুতি) ও ইল্লাত (সুপ্ত ত্রুটি) না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আল্লাহর তাওফীকে আমরা আমাদের এই তাহকীকে তার সবটুকুই সম্পন্ন করেছি এবং এর প্রতিটি হাদীসের মান—সহীহ, হাসান বা যঈফ হওয়ার দিক থেকে—স্পষ্ট করেছি।
বিদ্বানগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মাজাহ এমন কিছু ব্যক্তির সূত্রে একদল হাদীস এককভাবে বর্ণনা করেছেন যারা মিথ্যাচার এবং হাদীস চুরির দায়ে অভিযুক্ত, যেগুলোকে ইমামগণ বাতিল ও জাল হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লামা ইবনুল জাওযী তাঁর "আল-মাওজুআত" গ্রন্থে সেগুলোর মধ্য থেকে ৩৪টি হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেগুলোর নম্বর পর্যায়ক্রমে: ৬৫, ১২০, ১৪১, ১৮৪, ২৫৬, ১৩৩২, ১৩৩৩, ১৩৮৪, ১৩৮৬, ১৫৮৩, ১৬০২, ১৬১৩, ১৬১৫, ১৮৬২, ২১৪৬, ২২৮৯, ২৩০৭, ২৪৭৪,
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2620، 2705، 2780، 3013، 3221، 3305، 3330، 3340، 3352، 3450، 3487، 4057، 4058، 4126، 4140. وقد نوزع في غير حديث منها كما هو مبيَّن في تعليقاتنا عليها.
وثَمتَ أحاديثُ أخرى عنده حكمنا عليها بالبطلان والوضع فاتت ابنَ الجوزي، انظر على سبيل المثال الأحاديث: 49، 55، 248، 1461، 1485، 1749، 3318، 3355، 3357، 3358.
من أقوال أهل العلم في "السُّنن":
قال الحافظ ابنُ كثير في ترجمة ابن ماجه (1): صاحبُ "السُّنن" المشهورة، وهي دالَّة على عمله وعلمه، وتبحُّره واطِّلاعه، واتباعه للسُّنة في الأصول والفروع، ويشتمل على اثنين وثلاثين كتابًا وألفٍ وخمس مئة باب، وعلى أربعة آلاف حديث كلها جِيَادٌ سوى اليسيرة.
وقال أيضًا في "اختصار علوم الحديث": هو كتابٌ مفيدٌ قويُ التبويب في الفقه.
وقال الحافظ ابن حجر في ترجمة المصنف من "تهذيب التهذيب": وكتابها "السُّنن" جامعٌ جيدٌ كثير الأبواب والغرائب.
--------------------------------------------
২৬২০, ২৭০৫, ২৭৮০, ৩০১৩, ৩২২১, ৩৩০৫, ৩৩৩০, ৩৩৪০, ৩৩৫২, ৩৪৫০, ৩৪৮৭, ৪০৫৭, ৪০৫৮, ৪১২৬, ৪১৪০। এগুলোর মধ্য থেকে একাধিক হাদিস নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, যেমনটি এগুলোর ওপর আমাদের টীকায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সেখানে তাঁর নিকট আরও কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোকে আমরা বাতিল ও জাল হওয়ার হুকুম দিয়েছি, যা ইবনুল জাওযীর দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ দেখুন হাদিস নং: ৪৯, ৫৫, ২৪৮, ১৪৬১, ১৪৮৫, ১৭৪৯, ৩৩১৮, ৩৩৫৫, ৩৩৫৭, ৩৩৫৮।
"আস-সুনান" সম্পর্কে আলেমদের কিছু উক্তি:হাফেজ ইবনে কাসীর ইবনে মাজাহ-এর জীবনীতে (১) বলেছেন: তিনি প্রসিদ্ধ "আস-সুনান" গ্রন্থের রচয়িতা, যা তাঁর কর্ম ও জ্ঞান, পাণ্ডিত্য ও গভীর পর্যবেক্ষণ এবং মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে সুন্নাহর অনুসরণের প্রমাণ বহন করে। এটি বত্রিশটি কিতাব ও এক হাজার পাঁচশ অধ্যায় সংবলিত, এবং এতে চার হাজার হাদিস রয়েছে যার সামান্য কিছু বাদে সবই উত্তম।
তিনি "ইখতিসার উলূমিল হাদিস" গ্রন্থে আরও বলেছেন: এটি ফিকহ শাস্ত্রের বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও উপকারী কিতাব।
হাফেজ ইবনে হাজার "তাহযীবুত তাহযীব" গ্রন্থে গ্রন্থকারের জীবনীতে বলেছেন: তাঁর সংকলিত "আস-সুনান" একটি উত্তম সংকলন, যা অনেক অধ্যায় ও দুর্লভ বর্ণনায় সমৃদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে ইবনে মাজাহ - ত আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المُعتَنون بـ "سنن ابن ماجه"
عُني أهلُ العلم بكتابِ ابن ماجه روايةً ودرايةً، وشرحًا وتعليقًا، وكلامًا على رجاله، وتجريدًا لزوائده.
1 - فشَرَحَه العلامةُ الفقيه النحوي الطبيب ذو الفنون موفق الدين أبو محمَّد عبدُ اللطيف ابن الفقيه يوسف بن محمَّد بن علي الموصلي البغدادي الشافعي نزيل حلب المتوفى سنة (629 هـ) (1). وهو شرح موسَّع كما يُفهم من "الأربعين الطبِّية" للبِرْزالي.
2 - و"الأربعون الطبِّية" استخرجها الحافظ زكي الدين محمَّد ابن يوسف البِرزالي المتوفى سنة (636 هـ) (2) من "سنن ابن ماجه" و"شرحِه" للعلامة عبد اللطيف البغدادي، وقد طبع أولًا في المغرب، ثم طبع في بيروت، وقد جاء في مقدمته: يقول كاتبه محمَّد بن يوسف البرزالي: لما خرجت من مكة شَرَّفها الله تعالى وَقْفةَ الأربعاء قصدتُ الشام بسبب "سنن ابن ماجه"، فلقيت الشيخ أبا محمَّد عبد اللطيف بن يوسف بن محمَّد البغدادي أبقاه الله، فأعُلِمتُ أنها روايتُه، فسألته أن أقرأها عليه، فأنعَمَ، وشرعتُ في قراءتها، فلما وصلتُ أبوابَ الطب سألتُه أن يُوضِّحَ لي مُشكِلَها، ويُبيِّن لي ما تضمنته مِن المعارف الشريفة، والحِكَمِ الغامضة المُنيفة، فأنعم
--------------------------------------------
"সুনানে ইবনে মাজাহ"-এর প্রতি যত্নবান ব্যক্তিবর্গআলেমগণ "সুনানে ইবনে মাজাহ" কিতাবটির প্রতি রেওয়ায়ত ও দিরায়ত (বর্ণনা ও অনুধাবন), ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান, এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনা এবং এর 'জাওয়ায়েদ' (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) পৃথকীকরণের মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
১ - এটি ব্যাখ্যা করেছেন বহু বিদ্যায় পারদর্শী আল্লামা, ফকিহ, ব্যাকরণবিদ ও চিকিৎসক মুয়াফফাকুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল লতিফ ইবনুল ফকিহ ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আল-মাওসিলি আল-বাগদাদি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৬২৯ হি.), যিনি সিরিয়ার আলেপ্পোর বাসিন্দা ছিলেন (১)। এটি একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যেমনটি বিরজালির "আল-আরবাউনাত তিব্বিয়্যাহ" থেকে বোঝা যায়।
২ - আর "আল-আরবাউনাত তিব্বিয়্যাহ" সংকলন করেছেন হাফেজ জাকিউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-বিরজালি (মৃত্যু ৬৩৬ হি.) (২)। তিনি এটি "সুনানে ইবনে মাজাহ" এবং আল্লামা আবদুল লতিফ আল-বাগদাদির রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) থেকে চয়ন করেছেন। এটি প্রথমে মরক্কোতে এবং পরে বৈরুতে মুদ্রিত হয়েছে। এর ভূমিকায় এসেছে: এর লেখক মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-বিরজালি বলেন: আমি যখন বুধবারের অবস্থানের দিন মক্কা —আল্লাহ একে সম্মানিত করুন— থেকে বের হলাম, তখন "সুনানে ইবনে মাজাহ"-এর উদ্দেশ্যে সিরিয়া (শাম) অভিমুখে যাত্রা করলাম। সেখানে আমি শায়খ আবু মুহাম্মাদ আবদুল লতিফ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আল-বাগদাদির —আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন— সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি জানতে পারলাম যে এটি তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়ত, তাই আমি তাঁর নিকট এটি পাঠ করার আবেদন জানালাম। তিনি অনুগ্রহ করলেন এবং আমি তা পাঠ করতে শুরু করলাম। যখন আমি চিকিৎসার (তিব্ব) অধ্যায়গুলোতে পৌঁছলাম, তখন আমি তাঁকে এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিতে এবং এতে নিহিত উচ্চতর জ্ঞান ও সূক্ষ্ম হিকমতসমূহ বর্ণনা করার অনুরোধ জানালাম। তিনি অনুগ্রহ করলেন...
--------------------------------------------