(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: -)
اللحية لماذا   (محمد إسماعيل المقدم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: اللحية لماذا؟

المؤلف: محمد بن أحمد بن إسماعيل المقدم

الناشر: دار طيبة للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1413هـ - 1993م

عدد الصفحات: 30

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1434

দাড়ি কেন?   (মুহাম্মদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: দাড়ি কেন?

লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম

প্রকাশক: দার তাইয়্যেবাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হি. - ১৯৯৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যুল কাদা ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১)
اللِّحيَة لِمَاذَا؟

 

إعداد

محمد بن أحمد بن إسماعيل

عفا الله عنه

 

دار طيبة للنشر والتوزيع

الرياض

شارع السويدى العام - غرب النفق

تليفون 4253737 - 4258866
দাড়ি কেন?

 

প্রস্তুত করেছেন

মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসমাইল

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন

 

দার তাইবা প্রকাশনা ও বিতরণ

রিয়াদ

সুওয়াইদি জেনারেল স্ট্রিট - টানেলের পশ্চিমে

টেলিফোন ৪২৫৩৭৩৭ - ৪২৫৮۸৬৬
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى

1413هـ - 1993م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله مُعِزِّ من أطاعه واتَّقاه، ومُذِلِّ من أضاع أمره وعصاه، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه الذين كان هواهم تبعًا لهداه.

أما بعد

فهذا مختصر "أدلة تحريم حلق اللحية" قرَّبتُه ليكون سهل التناول، بسيط العبارة، وحذفت منه البحوث المفصلة، والتخريجات المسهبة، والعزو الدقيق، وما إلى ذلك من الاستطرادات التي لا تناسب المقام، وأعدت صياغته في صورة مشوقة تناسب جميع القراء.

والله أسأل أن يتقبله بقبول حسن، وأن ينفع به النفع العميم، في الدنيا ويوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، والحمد لله رب العالمين.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অনুগত ও পরহেজগারদের সম্মানিত করেন এবং তাঁর আদেশ লঙ্ঘনকারী ও অবাধ্যদের অপদস্থ করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর, যাঁদের প্রবৃত্তি ছিল তাঁর হেদায়েতের অনুসারী।

অতঃপর,

এটি "দাড়ি মুণ্ডন হারামের দলিলসমূহ (أدلة)"-এর একটি সারসংক্ষেপ (مختصر)। আমি একে সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষায় সংকলন করেছি। এখান থেকে বিস্তারিত গবেষণা, দীর্ঘ হাদিস যাচাই ও উৎস নির্দেশ (تخريج), সূক্ষ্ম উদ্ধৃতি এবং এই জাতীয় অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা বর্জন করেছি যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমি একে সকল পাঠকের উপযোগী করে আকর্ষণীয় রূপে পুনরায় বিন্যস্ত করেছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে সর্বোত্তমভাবে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে ইহকালে ও পরকালে ব্যাপক কল্যাণ দান করেন; সেই দিনে যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌إعفاء اللحية طاعة

فقد قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} الآية. [الأحزاب:36]

وقال عز وجل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}. [النور:63]

ومما أمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم إعفاءُ اللحى (1)، فقد روى ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ: «أَمَرَ بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ، وَإِعْفَاءِ اللِّحْيَةِ» [رواه مسلم]

وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «جُزُّوا الشَّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ» [رواه مسلم]

 

ولما رأى النبي صلى الله عليه وسلم رسولَىْ كسرى وقد حلقا لحاهما، وأعفيا شواربهما، كره أن ينظر إليهما، وقال:

--------------------------------------------

(1) وقد ورد هذا الأمر بصيغ مختلفة هي: (أعفوا، أوفوا، أرخوا، أرجوا، وفروا) اللحى، ومعناها كلها: تركها على حالها.
দাড়ি ছেড়ে দেওয়া একটি আনুগত্য

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকে না।} আয়াত। [আল-আহযাব: ৩৬]

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (فتنة) আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব নেমে আসতে পারে।} [আন-নূর: ৬৩]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ের নির্দেশ (أمر) দিয়েছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো দাড়ি ছেড়ে দেওয়া (১); ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি: «গোঁফ ছেঁটে ফেলার এবং দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ (أمر) দিয়েছেন।» [মুসলিম]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «তোমরা গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও; মাজুসদের বিরোধিতা করো।» [মুসলিম]

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পারস্য সম্রাট কিসরার দুই দূতকে দেখলেন যারা তাদের দাড়ি মুণ্ডন করেছিল এবং গোঁফ লম্বা রেখেছিল, তখন তিনি তাদের দিকে তাকাতে অপছন্দ করলেন এবং বললেন:

--------------------------------------------

(১) এই নির্দেশটি (أمر) বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যা হলো: (ছেড়ে দাও [أعفوا], পূর্ণ করো [أوفوا], ঝুলিয়ে দাও [أرخوا], বর্ধিত করো [أرجوا], পর্যাপ্ত করো [وفروا]) দাড়ি; আর এগুলোর সবগুলোর অর্থ হলো: একে তার নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৬)
"ويلكما من أمركما بهذا؟ "، قالا: "أمرنا بهذا ربنا" يعنيان كسرى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ولكن ربي أمرني بإعفاء لحيتي، وقص شاربي". [حديث حسن]

وصيغة الأمر تدل على وجوب امتثاله، بحيث يثاب فاعله، ويعاقب تاركه.

 

‌‌حلق اللحية معصية

قال الله تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب:36]

وقال عز وجل: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا} [الجن:23]

وقد تقدم أمره صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى، ومخالفتُه معصية محرمة، قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}. [الحشر:7]

وقال صلى الله عليه وسلم: "مَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ، فَاجْتَنِبُوهُ" [متفق عليه].

والأمر بإعفاء اللحى وتوفيرها، يستلزم النهي عن حلقها وتقصيرها بحيث تكون قريبة إلى الحلق، لأن الأمر بالشئ نهي عن ضده.
"তোমাদের উভয়ের জন্য দুর্ভোগ! কে তোমাদের এমনটি করতে নির্দেশ দিয়েছে?" তারা বলল: "আমাদের প্রতিপালক (অর্থাৎ কিসরা) আমাদের এটি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।" অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "কিন্তু আমার প্রতিপালক আমাকে দাড়ি লম্বা করতে এবং গোঁফ খাটো করতে নির্দেশ দিয়েছেন।" [হাসান (حسن) হাদিস]

আর আদেশের এই রূপটি তা পালন করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে, যাতে এটি পালনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয়।

 

‌‌দাড়ি মুণ্ডানো একটি গুনাহ

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়, সে নিশ্চিতভাবে এক সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হয়।} [সুরা আল-আহজাব: ৩৬]

এবং তিনি আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়, তবে নিশ্চয়ই তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, যেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।} [সুরা আল-জিন: ২৩]

ইতিপূর্বে দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ উল্লেখ করা হয়েছে, আর তাঁর অবাধ্য হওয়া একটি নিষিদ্ধ গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [সুরা আল-হাশর: ৭]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছি, তা বর্জন করো।" [মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)]।

দাড়ি লম্বা রাখা এবং তা পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধির নির্দেশটি দাড়ি মুণ্ডানো কিংবা অতিরিক্ত ছোট করা—যাতে তা মুণ্ডানোর কাছাকাছি হয়ে যায়—তা থেকে নিষেধ করাকে অনিবার্য করে; কেননা কোনো বিষয়ের আদেশ তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করার নামান্তর।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৭)
قال صلى الله عليه وسلم "لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ ; فَإِنَّهُ نُورُ الْمُسْلِمِ". [حديث حسن]

ولا فرق بين نتفه من اللحية أو من الرأس، وعن أنس رضي الله عنه قال: " يُكْرَهُ أَنْ يَنْتِفَ الرَّجُلُ الشَّعْرَةَ الْبَيْضَاءَ مِنْ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ" [رواه مسلم]،

والذي يحلق لحيته قد كره الشعر الأسود فضلًا عن الأبيض الذي هو نور المسلم.

وقد رُوي "أن عمر رضي الله عنه وابن أبي يعلى قاضي المدينة ردَّا شهادةَ مَن كان ينتف لحيته".

وقال الغزالي والنووي عليهما الرحمة: "ونتفها -أي اللحية- في أول نباتها تشبه بالمُرْد (1)، ومن المنكرات الكبار".

 

‌‌إعفاء اللحية سنة محمدية

قال عز وجل: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب:21]

--------------------------------------------

(1) مُرْد: جمع أمرد، وهو الغلام طرَّ شاربه، وبلغ خروج لحيته، ولم تَبْدُ.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাদা চুল উপড়ে ফেলো না; কেননা তা মুসলিমের নূর (জ্যোতি)।" [হাসান (حسن) হাদিস]

দাঁড়ি বা মাথা থেকে তা উপড়ে ফেলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তির জন্য তার মাথা ও দাঁড়ি থেকে সাদা চুল উপড়ে ফেলা অপছন্দনীয় (يكره)।" [মুসলিম বর্ণনা করেছেন],

আর যে ব্যক্তি তার দাঁড়ি মুণ্ডন করে, সে যেন কালো চুলকেই অপছন্দ করল, সাদা চুলের কথা তো বলাই বাহুল্য—যা কি না মুসলিমের নূর।

বর্ণিত হয়েছে যে, "উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং মদিনার বিচারক ইবন আবি ইয়ালা সেই ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে নিজের দাঁড়ি উপড়ে ফেলত।"

ইমাম গাজালি ও ইমাম নববী (রাহিমাহুমাল্লাহ) বলেছেন: "দাঁড়ি গজানোর শুরুতে তা উপড়ে ফেলা কিশোরদের (مرد) (১) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া এবং তা বড় ধরনের গর্হিত কাজ (منكرات) সমূহের অন্তর্ভুক্ত।"

 

দাঁড়ি রাখা মুহাম্মাদি সুন্নাত

মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহজাব: ২১]

--------------------------------------------

(১) মুর্দ (مرد): এটি ‘আমরাদ’ শব্দের বহুবচন; আর সে হলো এমন কিশোর যার গোঁফ রেখা দিচ্ছে এবং দাঁড়ি বের হওয়ার সময় হয়েছে কিন্তু এখনও প্রকাশ পায়নি।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৮)
قال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} الآية. [النساء:64]

وقال صلى الله عليه وسلم: "وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم " [رواه مسلم]،

وقد ثبت في صفته الخِلقية صلى الله عليه وسلم أنه كان كثَّ اللحية عظيمها،

فعن أنس رضي الله عنه قال: "كانت لحيته صلى الله عليه وسلم قد ملأت من هاهنا إلى هاهنا، وأمر يده على عارضيه" [رواه ابن عساكر في "تاريخه"].

وكان الصحابة رضي الله عنهم يعرفون أنه يقرأ في الظهر والعصر «بِاضْطِرَابِ لِحْيَتِهِ» [رواه البخاري].

"وكَانَ إِذَا تَوَضَّأَ، أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَأَدْخَلَهُ تَحْتَ حَنَكِهِ فَخَلَّلَ بِهِ لِحْيَتَهُ» [صحيح]، وفي ذلك أحاديث أخرى كثيرة كلها تؤكد أنه صلى الله عليه وسلم كان عظيم اللحية،

فيا عجبًا ممن يَدَّعون حُبَّه صلى الله عليه وسلم، ثم هم لا يحبون صورته، بل يفضلون صورة أعدائه، والله تعالى يقول: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} الأية [آل عمران:31].

والمحبة التي لا تضطر صاحبها إلى اتباع المحبوب والتشبه
মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি কোনো রাসূলকেই কেবল আল্লাহর নির্দেশে আনুগত্য করার জন্যই প্রেরণ করেছি।" [আন-নিসা: ৬৪]

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আর সর্বোত্তম হেদায়াত হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়াত।" [মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত],

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শারীরিক অবয়বের বর্ণনায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি ঘন ও বৃহৎ দাড়ির অধিকারী ছিলেন,

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি এখান থেকে এই পর্যন্ত (পুরো মুখমণ্ডল) পূর্ণ করে থাকত এবং তিনি তাঁর উভয় গালের ওপর হাত বুলিয়ে দেখাতেন।" [ইবনে আসাকির তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন]।

সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে বুঝতে পারতেন যে, তিনি যোহর ও আসরের সালাতে কিরাত পাঠ করছেন। [বুখারি কর্তৃক বর্ণিত]।

"তিনি যখন ওযু করতেন, তখন এক অঞ্জলি পানি নিয়ে তাঁর থুতনির নিচে প্রবেশ করিয়ে তা দিয়ে দাড়ি খিলাল করতেন।" [সহিহ (صحيح)], এবং এ বিষয়ে আরও বহু হাদিস রয়েছে যেগুলোর সবগুলোই এটি নিশ্চিত করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বড় দাড়ির অধিকারী ছিলেন,

অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় তাদের জন্য যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ভালোবাসার দাবি করে, অথচ তারা তাঁর অবয়বকে ভালোবাসে না; বরং তারা তাঁর শত্রুদের অবয়বকে প্রাধান্য দেয়। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" [আলে ইমরান: ৩১]।

আর সেই ভালোবাসা যা তার অধিকারীকে প্রিয়জনের অনুসরণ ও সাদৃশ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে না...
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ৯)
به إدعاء للمحبة وليست بالمحبة (1)، وقد قال بعض الصحابة رضي الله عنهم:

«كُنْت أَمْشِي وَعَلَيَّ بُرْدٌ أَجُرُّهُ فَقَالَ لِي رَجُلٌ: ارْفَعْ ثَوْبَك فَإِنَّهُ أَبْقَى وَأَنْقَى فَنَظَرْت فَإِذَا هُوَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْت إنَّمَا هِيَ بُرْدَةٌ مَلْحَاءُ فَقَالَ: مَا لَك فِي أُسْوَةٌ؟ قَالَ فَنَظَرْت فَإِذَا إزَارُهُ إلَى نِصْفِ سَاقَيْهِ». [حسن لغيره]

فيا حليق اللحية: ماذا يكون جوابك إذا أخذت تسرد المعاذير لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو يقول لك: " أما لك فِيَّ أسوة؟ ".

--------------------------------------------

(1) فالتأسي به صلى الله عليه وسلم هو المحبوب لله تعالى في كل الشئون؛ وإن لم يكن واجبا، لأن المحب لا ينظر إلى الفرق الواجب وغير الواجب، بل هو يتبع المحبوب لأجل حبه له، فما بالك إذا كان واجبًا كإعفاء اللحية؟
এতে কেবল ভালোবাসার দাবি রয়েছে, কিন্তু তা প্রকৃত ভালোবাসা নয় (১)। জনৈক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম এমতাবস্থায় যে, আমার গায়ে একটি চাদর ছিল যা আমি (মাটির ওপর দিয়ে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি আমাকে বললেন: ‘তোমার কাপড় উপরে তোল, কেননা এতে কাপড় অধিক স্থায়ী হয় এবং বেশি পরিচ্ছন্ন থাকে।’ আমি তাকিয়ে দেখলাম তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তখন আমি বললাম, ‘এটি তো কেবল একটি সাদাকালো নকশাযুক্ত চাদর।’ তিনি বললেন: ‘আমার মাঝে কি তোমার জন্য উত্তম আদর্শ (أسوة) নেই?’ তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর আমি লক্ষ করে দেখলাম তাঁর লুঙ্গি ছিল নলার অর্ধেক পর্যন্ত।’» [অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান (حسن لغيره)]

হে দাড়ি মুণ্ডনকারী! আপনার উত্তর কী হবে যখন আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে নানা ওজর-আপত্তি পেশ করতে থাকবেন, অথচ তিনি আপনাকে বলবেন: "আমার মাঝে কি তোমার জন্য উত্তম আদর্শ (أسوة) নেই?"

--------------------------------------------

(১) সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ (التأسي) করা মহান আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়; যদিও তা আবশ্যকীয় (واجب) না হয়। কারণ প্রেমিক ব্যক্তি আবশ্যকীয় (واجب) এবং অনাবশ্যকীয় বিষয়ের পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করে না, বরং সে তো তার প্রিয়তমের প্রতি ভালোবাসার খাতিরেই তাঁকে অনুসরণ করে। তাহলে সে বিষয়ের গুরুত্ব কেমন হবে যখন তা দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার মতো একটি আবশ্যকীয় (واجب) বিধান হবে?
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌حلق اللحية تطرف وانحراف عن هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم

قال الله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا}. [النساء:80]

فإذا كانت سنته صلى الله عليه وسلم قولا وفعلا وصفةً إعفاء اللحية؛ كان حلقها إعراضًا عن طريقته المنيفة، ورغبة عن سنته الشريفة، وقد قال صلى الله عليه وسلم: " … فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي» [متفق عليه].

وقال صلى الله عليه وسلم: «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» [رواه مسلم].

وقال صلى الله عليه وسلم: "لَيْسَ مِنَّا مَنْ عَمِلَ بِسُنَّةِ غَيْرِنَا". [حسن]

ولما أرسل كسرى رجلين إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ودخلا عليه وقد حلقا لحاهما، وأعفيا شواربهما، كره رسول الله صلى الله عليه وسلم النظر إليهما، وقال:

"ويلكما! من أمركما بهذا؟ " قالا: "أمرنا بهذا ربنا" -يعنيان كسرى- فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
দাড়ি মুণ্ডন করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ও হিদায়াত থেকে বিচ্যুতি ও চরমপন্থা

আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হলো, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে পাঠাইনি।" [আন-নিসা: ৮০]

যেহেতু কথা, কাজ এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ছিল দাড়ি ছেড়ে দেওয়া; তাই তা মুণ্ডন করা হবে তাঁর সুমহান পথ থেকে বিমুখতা এবং তাঁর সম্মানিত সুন্নাহর প্রতি অনীহা। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " … সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।" [সর্বসম্মত (متفق عليه)]।

এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।

এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমাদের ছাড়া অন্যের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে।" [হাসান (حسن)]

যখন কিসরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দুজন লোক পাঠাল এবং তারা তাঁর নিকট এমন অবস্থায় প্রবেশ করল যে তারা তাদের দাড়ি মুণ্ডন করেছিল এবং গোঁফ লম্বা করেছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে তাকাতে অপছন্দ করলেন এবং বললেন:

"তোমাদের দুর্ভোগ! কে তোমাদের এই আদেশ দিয়েছে?" তারা বলল: "আমাদের প্রতিপালক (অর্থাৎ কিসরা) আমাদের এই আদেশ দিয়েছেন।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১১)
"ولكن ربي أمرني بإعفاء لحيتي، وقص شاربي". [حسن]

فأنت أنت أيها الحليق، ماذا يكون شعورك إذا تأذى رسول الله صلى الله عليه وسلم من رؤية وجهك؟ بل ماذا يكون جوابك إذا أعرض عنك بوجهه الشريف قائلا:

"ويلك! من أمرك بهذا؟! "

 

‌‌إعفاء اللحية فطرة إنسانية

قال تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ … } الآية. [الروم:30]

والمعنى: فَسَدِّد وجهَكَ، واستمرَّ على الدين الذي شرعه الله لك من الحنيفية ملة إبراهيم، وأنت مع ذلك لازمٌ فطرتَك السليمةَ التي فطر اللهُ الخلقَ عليها، وهي معرفته تعالى وتوحيده، وتوابع ذلك من خصال الفطرة.

وعن عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ "
"কিন্তু আমার রব আমাকে দাড়ি লম্বা রাখার এবং গোঁফ খাটো করার নির্দেশ দিয়েছেন।" [হাসান (حسن)]

অতএব হে দাড়ি মুণ্ডনকারী, আপনার অনুভূতি কেমন হবে যদি আপনার চেহারা দেখে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কষ্ট পান? বরং আপনার উত্তর কী হবে যদি তিনি তাঁর সম্মানিত চেহারা আপনার দিক থেকে ফিরিয়ে নিয়ে বলেন:

"তোমার ধ্বংস হোক! তোমাকে এর নির্দেশ কে দিয়েছে?!"

 

‌‌দাড়ি লম্বা রাখা মানবীয় ফিতরাত

মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং আপনি আপনার চেহারাকে একনিষ্ঠভাবে দ্বীনের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর সেই ফিতরাতের (প্রকৃতির) অনুসরণ করুন, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই … } আয়াত। [সুরা আর-রূম: ৩০]

এর অর্থ হলো: আপনার লক্ষ্য স্থির রাখুন এবং আল্লাহ আপনার জন্য ইব্রাহিমের আদর্শ থেকে যে একনিষ্ঠ দ্বীন প্রবর্তন করেছেন তার ওপর অবিচল থাকুন। এর পাশাপাশি আপনি আপনার সেই সুস্থ ফিতরাতকে আঁকড়ে ধরুন যার ওপর আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন; আর তা হলো মহান আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর তাওহিদ এবং ফিতরাতের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা, আঙুলের জোড়াগুলো ধৌত করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করা এবং পানি দ্বারা শৌচকার্য সম্পাদন করা।"
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১২)
قَالَ زَكَرِيَّا: قَالَ مُصْعَبٌ: وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ" [رواه مسلم].

وخصال الفطرة:

هي الهيئة التي ابتدأ الله خَلْقَ عبادِه عليها، وغَرَسَ في طباعهم فِعلَها والميلَ إليها، واستحسانها، وجبلهم على النفور مما يضادها، بحيث لو ترك إنسان هذه الخصال لم تبق صورته على صورة الآدميين، فكيف من جملة أهل الإسلام الذي هو دين الفطرة؟!

إن صاحب الفطرة السوية التي لم يطرأ عليها فساد بتأثير البيئة المحيطة يظل مدفوعا بفطرته إلى كراهية ما في جسده مما ليس من زينته، ومحبةِ هذه الخصال الجِبِلِّية لو لم يرد بها شرع منزَّل، فكيف وقد جاءت بها شرائع النبيين؟

قال الحافظ السيوطي رحمه الله:

(وأحسن ما قيل في تفسير الفطرة: أنها السنة القديمة التي اختارها الأنبياء، واتفقت عليها الشرائع، فكأنها أمر جِبِلِّي فُطِروا عليه) اهـ.
জাকারিয়া বলেন: মুসআব বলেছেন: "আমি দশম বিষয়টি ভুলে গিয়েছি, তবে সম্ভবত সেটি হলো কুলি করা (المضمضة)।" [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।

আর ফিতরাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصال الفطرة):

এটি হলো সেই প্রকৃতি যার ওপর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের স্বভাবের মধ্যে এর অনুশীলন ও এর প্রতি ঝোঁক ও পছন্দকে গেঁথে দিয়েছেন। আর এর পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে বিমুখ থাকার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দান করেছেন। এমনকি কোনো মানুষ যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো ত্যাগ করে, তবে তার অবয়ব মানুষের অবয়বের মতো অবশিষ্ট থাকে না; তাহলে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত লোকদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত, যা মূলত ফিতরাতেরই ধর্ম?!

নিশ্চয়ই সুস্থ ফিতরাতের (الفطرة السوية) অধিকারী ব্যক্তি, যার ওপর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাবে কোনো বিকৃতি ঘটেনি, সে তার স্বভাবজাত প্রেরণা থেকেই নিজের শরীরের সেই সব বিষয়কে ঘৃণা করে যা তার সৌন্দর্যের অংশ নয়। আর সে এই সহজাত বৈশিষ্ট্যগুলোকে (الخصال الجبلية) ভালোবাসে, যদিও এ ব্যাপারে কোনো অবতীর্ণ শরীয়ত না আসত। তাহলে এখন অবস্থা কেমন হবে, যখন নবীদের শরীয়তসমূহ এগুলো নিয়ে এসেছে?

হাফেজ সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

(ফিতরাতের ব্যাখ্যাকল্পে সবচেয়ে সুন্দর যা বলা হয়েছে তা হলো: এটি এমন এক প্রাচীন সুন্নাত (السنة القديمة) যা নবীগণ পছন্দ করেছেন এবং সকল শরীয়ত এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে; যেন এটি একটি সহজাত বিষয় (أمر جبلي) যার ওপর তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।) সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌حلق اللحية تغيير لخلق الله سبحانه

قال تعالى: {لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} قيل في تفسيرها: هي خبر بمعنى الطلب، أي لا تغيروا خلق الله، والهيئة التي فطركم عليها، وهي معرفة الله وتوحيده، وتوابع ذلك من خصال الفطرة.

وقال تعالى حاكيا عن إبليس قوله: {وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ}. [النساء:119]

وهذا نص صريح في أن تغيير خلق الله عز وجل بدون إذن من الشرع (1) إطاعة لأمر الشيطان، وعصيان للرحمن جل جلاله.

ولعل في قوله تعالى: {وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ} الآية [التغابن:3]

--------------------------------------------

(1) إذ ليس كل تغيير يعد تغييرا لخلق الله، فإن هناك تغييرا أذن فيه الشارع بل أوجبه أو استحبه (كحلق الرأس عند التحلل من الإحرام، وإزالة شعر العانة والإبط، والختان، وقص الأظفار، … إلخ)، فالتغيير الذي تعبَّدَنا الله به ليس من التغيير المذموم، والله تعالى أعلم.
দাড়ি মুণ্ডন করা মহান আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন

মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই}। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: এটি এমন একটি সংবাদ যা নির্দেশের অর্থ প্রদান করে, অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর সৃষ্টি এবং সেই অবয়বকে পরিবর্তন করো না যার ওপর তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তা হলো আল্লাহর পরিচয় লাভ ও তাঁর একত্ববাদ এবং স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের (فطرة) অনুগামী বিষয়সমূহ।

আল্লাহ তাআলা ইবলিসের উক্তি বর্ণনা করে বলেন: {আর আমি অবশ্যই তাদের নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করবেই}। [নিসা: ১১৯]

এটি একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, শরীয়তের (شرع) (১) অনুমতি ব্যতীত মহান আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনা শয়তানের আদেশের আনুগত্য এবং রহমানের অবাধ্যতা।

সম্ভবত মহান আল্লাহর এই বাণীর মধ্যে: {এবং তিনি তোমাদের আকৃতি দান করেছেন, আর তোমাদের আকৃতিসমূহকে সুন্দর করেছেন}। আয়াত [তাগাবুন: ৩]

--------------------------------------------

(১) যেহেতু প্রতিটি পরিবর্তনই আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এমন কিছু পরিবর্তন রয়েছে যার অনুমতি শরীয়ত প্রণেতা (شارع) দিয়েছেন, বরং সেটিকে আবশ্যক (واجب) বা পছন্দনীয় (مستحب) করেছেন (যেমন ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার সময় মাথা মুণ্ডন করা, নাভির নিচের ও বগলের পশম পরিষ্কার করা, খতনা করা, নখ কাটা, … ইত্যাদি)। সুতরাং যে পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন তা নিন্দনীয় পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর মহান আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৪)
إشارة إلى الأمر بتحسين الهيئة والتنظيف، كأنه قال: قد فطركم الله في أحسن صورة وأكمل هيئة، فلا تغيروها بما يقبحها ويشوهها، أو: فحافظوا على ما يستمر به حسنُها، ولا تطيعوا الشيطان في أمره إياكم بتغيير خلق الله.

وفي الحديث: «لَعَنَ اللهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالنَّامِصَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ، وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللهِ» [متفق عليه].

فذكر علة اللعن المستدل به على الحرمة في قوله: "المغيرات خلق الله".

فحالقُ لحيتِهِ للحُسْن مغيرٌ خلق الله سبحانه بل دخوله في الوعيد من باب أولى، لأنه شرع لها من التزين أكثر مما شرع للرجل، وحلق اللحية في معنى النمص الذي هو إزالة شعر الوجه أو الحاجبين، من المرأة للحسن، وهو في حق الرجل أقبح.

 

‌‌إعفاء اللحية من سمت الأنبياء عليهم السلام

تقدم تفسير الفطرة بأنها سنة الأنبياء عليهم السلام،

وقد قال تعالى: {وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ … } الآية [البقرة:142]
বাহ্যিক অবয়ব সুন্দর করা এবং পরিচ্ছন্নতার নির্দেশের দিকে ইঙ্গিত করে যেন তিনি বলেছেন: আল্লাহ তোমাদেরকে সর্বোত্তম অবয়ব এবং পূর্ণাঙ্গ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং একে এমন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তন করো না যা একে কুৎসিত ও বিকৃত করে। অথবা: এর সৌন্দর্য বজায় থাকে এমন বিষয়ের ওপর যত্নশীল হও, এবং আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করার ব্যাপারে শয়তানের আদেশের আনুগত্য করো না।

আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন সেই সব নারীদের যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি অঙ্কন করায়; যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা ভ্রু উপড়ে ফেলানোর কাজ করায়; এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁকা সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে।” [ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه)]।

অতঃপর তিনি অভিশাপের কারণ (علة) উল্লেখ করেছেন—যার মাধ্যমে বিষয়টি নিষিদ্ধ হওয়ার দলিল পেশ করা হয়েছে—আর তা হলো তাঁর এই বাণী: “যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে।”

সুতরাং যে ব্যক্তি সৌন্দর্যের জন্য দাড়ি মুণ্ডন করে, সে মহান আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তনকারী; বরং সে শাস্তির হুমকির অন্তর্ভুক্ত হওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। কারণ, পুরুষের তুলনায় নারীর জন্য সাজসজ্জার বিধান অধিক রাখা হয়েছে। আর দাড়ি মুণ্ডন করা ‘নামস’ (ভ্রু উপড়ানো)-এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, যা মূলত সৌন্দর্যের জন্য নারীর মুখমণ্ডল বা ভ্রুর চুল অপসারণ করাকে বোঝায়; আর পুরুষের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি কুৎসিত।

 

‌‌দাড়ি লম্বা রাখা নবীগণের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত আলাইহিমুস সালাম

ফিতরাত-এর ব্যাখ্যায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, এটি হলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) সুন্নাত (سنة)।

আর মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যখন ইবরাহিমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন … } আয়াত [আল-বাকারাহ: ১৪২]
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وصح عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه فسر الكلمات التي اختُبر بها إبراهيم عليه السلام بخصال الفطرة.

كما دلَّ القرآن العظيم على أن هارون عليه السلام كان موفِّرَّا شعر لحيته.

قال تعالى حاكيا عنه قوله لموسى عليه السلام: {قَالَ يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي … } الآية [طه:94] فلو كان حالقا لما أراد أخوه الأخذ بلحيته.

وقال تعالى بعد أن ذكر أسماء بعض الرسل الكرام ومنهم إبراهيم وهارون عليهما السلام: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ}. [الأنعام:90]

فأمر الله نبينا صلى الله عليه وسلم بالاقتداء بهم، وهو أمر لنا لأن أمر القدوة أمر لأتباعه.

قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب:21]

 

‌‌إعفاء اللحية سبيل المؤمنين

قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ … } الآية. [آل عمران:110]
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে যে শব্দগুলো দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেগুলোকে স্বভাবজাত গুণাবলীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন।

তদ্রূপ মহান কুরআন এ কথার ওপর দলিল প্রদান করে যে, হারুন (আলাইহিস সালাম) তাঁর দাড়ির চুল লম্বা রাখতেন।

আল্লাহ তাআলা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি তাঁর উক্তিটি বর্ণনা করে বলেন: {হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও আমার মাথা ধরবেন না … } আয়াত [ত্বহা: ৯৪]। অতএব তিনি যদি মুণ্ডনকারী হতেন, তবে তাঁর ভাই তাঁর দাড়ি ধরার ইচ্ছা করতেন না।

আল্লাহ তাআলা কতিপয় সম্মানিত রাসুলের নাম উল্লেখ করার পর—যাদের মধ্যে ইব্রাহিম ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম)-ও রয়েছেন—বলেন: {তারাই সেই সব লোক যাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দিয়েছেন, সুতরাং আপনি তাদের হেদায়াতের অনুসরণ করুন}। [আন’আম: ৯০]

সুতরাং আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁদের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মূলত আমাদের প্রতিও একটি নির্দেশ; কারণ আদর্শ পুরুষকে দেওয়া নির্দেশ তাঁর অনুসারীদের জন্যও নির্দেশ হিসেবে গণ্য হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আহযাব: ২১]

 

‌‌দাড়ি লম্বা রাখা মুমিনদের পথ

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদেরকে মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে … } আয়াত। [আল-ইমরান: ১১০]
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال سبحانه: {وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ} الآية. [لقمان:15] وقال صلى الله عليه وسلم «خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ … " الحديث، [متفق عليه].

وقال صلى الله عليه وسلم: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ بَعْدِي عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» [صحيح] وقد ثبت عن الخلفاء الراشدين المهديين وغيرهم من الصحابة والتابعين لهم بإحسان أنهم كانوا ذوى لحى كبيرة، فكان أبو بكر الصديق رضى الله عنه "كث اللحية"، وكان عمر "كثير اللحية "، وكان عثمان "كبير اللحية"، وكان على رضى الله عنه "عريض اللحية، قد أخذت ما بين منكبيه"، فهؤلاء أعقل الأمة كلها بإجماع علمائها، ثم بعدهم الأتباع المحسنون، والمجاهدون الصادقون الذين أخذوا كنوز كسري وقيصر، ودانت لهم مشارق الأرض ومغاربها لم يكن فيهم حالق (1)، لو فتشت فى طول

--------------------------------------------

(1) ومن دعاء المؤمنين عباد الرحمن: {وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا} قال بعض العلماء فى تفسيره: "اجعلنا مؤتمين بمن=
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তুমি সেই ব্যক্তির পথ অনুসরণ করো, যে আমার অভিমুখী হয়েছে} আয়াতাংশ। [লুকমান: ১৫] এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোকগুলো, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ … " হাদিস, [সর্বসম্মত (متفق عليه)]।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরো।" [সহিহ (صحيহ)] হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীন এবং অন্যান্য সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের পক্ষ থেকে এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, তাঁরা দীর্ঘ দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন। যেমন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ছিলেন "ঘন দাড়িবিশিষ্ট", উমর (রা.) ছিলেন "প্রচুর দাড়িবিশিষ্ট", উসমান (রা.) ছিলেন "বিশাল দাড়িবিশিষ্ট" এবং আলী (রা.) ছিলেন "প্রশস্ত দাড়িবিশিষ্ট, যা তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান জুড়ে বিস্তৃত ছিল।" আলেমদের সর্বসম্মত মত (إجماع) অনুযায়ী তাঁরা ছিলেন সমগ্র উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী সেই নিষ্ঠাবান অনুসারী এবং সত্যনিষ্ঠ মুজাহিদগণ, যারা কিসরা ও কায়সারের ধনভাণ্ডার জয় করেছিলেন এবং পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম যাদের শাসনাধীনে এসেছিল, তাদের মধ্যে কেউ দাড়ি মুণ্ডনকারী ছিল না (১), যদি আপনি দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করতেন...

--------------------------------------------

(১) আর মুমিন তথা পরম করুণাময়ের বান্দাদের দুআ হলো: {আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন}। জনৈক আলেম এর তাফসীরে বলেছেন: "আমাদেরকে এমন ব্যক্তিদের অনুসারী বানান যারা=
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৭)
صفحات التاريخ الإسلامى وعرضها لم تجد من أئمة الهدى، ومصابيح الدجى من كان يحلق لحيته، وإنما تسربت إلينا هذه الضلالة، واستمرأها بعض المسلمين لما اتصلوا بالكفار حين احتلوا بلادنا، أو حين رحلوا إلى بلاد هؤلاء الكفار فاحتلوا عقولهم، وأعرضوا عن هدى سلفهم الصالح، واتبعوا غير سبيل المومنين حَذْوَ القُذَّةِ بالقذة، وافتتنوا بسَنن اليهود والنصارى، فحاكَوْهم شبرًا بشبر، وذراعًا بذراع.

 

‌‌حلق اللحية تشبه بالكافرين

قال الله تعالى: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [الجاثية:18]، وهم كل من خالف شريعته صلى الله عليه وسلم، و"أهواؤهم"

--------------------------------------------

= قبلنا، فنصلح لأن يأتم بنا مَن بعدنا"، ولم ينقل عن أحد من السلف الصالح حلق لحيته لعدم جوازه عندهم، ولو كان خيرًا لسبقونا إليه، لأنهم لم يتركوا خصلة من خصال الخير إلا وقد بادروا إليها، قال الإمام ابن حزم رحمه الله فى "مراتب الإجماع": (واتفقوا أن حلق جميع اللحية مُثْلَةٌ لا تجوز) اهـ.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: (يحرم حلق اللحية للأحاديث الصحيحة، ولم يُبِحْهُ أحد) اهـ.
ইসলামি ইতিহাসের পাতাসমূহ এবং তার বর্ণনায় হিদায়াতের ইমামগণ ও অন্ধকারের প্রদীপস্বরূপ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যিনি দাড়ি মুণ্ডন করতেন। বরং এই ভ্রষ্টতা আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে এবং কিছু মুসলমান একে স্বাভাবিক মনে করে নিয়েছে যখন তারা কাফিরদের সংস্পর্শে এসেছে—যখন তারা আমাদের দেশসমূহ দখল করেছিল, অথবা যখন তারা এই কাফিরদের দেশসমূহে সফর করেছিল, ফলে তারা (কাফিররা) তাদের মন-মস্তিষ্ক দখল করে নিয়েছিল। তারা তাদের নেককার পূর্বসূরিদের হিদায়াত থেকে বিমুখ হয়েছে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্যের পথ অনুসরণ করেছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। তারা ইহুদি ও নাসারাদের রীতিনীতিতে মোহাচ্ছন্ন হয়েছে এবং তাদেরকে বিঘত-বিঘত ও হাত-হাত হিসেবে হুবহু অনুকরণ করেছে।

 

‌‌দাড়ি মুণ্ডন করা কাফিরদের সাথে সাদৃশ্যতা

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না} [আল-জাসিয়া: ১৮]। আর তারা হলো তারাই যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরীয়তের বিরোধিতা করে এবং তাদের "খেয়াল-খুশিসমূহ"

--------------------------------------------

= আমাদের পূর্বে, ফলে আমরা যেন এমন হই যে পরবর্তীগণ আমাদের অনুসরণ করা সমীচীন মনে করে। নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফে সালেহীন) কারো থেকে দাড়ি মুণ্ডন করার বিষয়টি বর্ণিত হয়নি, কারণ তাদের নিকট এটি বৈধ ছিল না। যদি এটি কল্যাণকর হতো তবে তারা অবশ্যই আমাদের আগে তা করতেন; কেননা কল্যাণের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যার প্রতি তারা দ্রুত অগ্রসর হননি। ইমাম ইবনে হাজম (রহ.) তাঁর 'মারাতীবুল ইজমা' গ্রন্থে বলেছেন: (তারা একমত হয়েছেন যে, পুরো দাড়ি মুণ্ডন করা একটি বিকৃতি যা জায়েজ নয়)। — সমাপ্ত।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহের কারণে দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম এবং কেউ একে বৈধ করেননি)। — সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৮)
ما يهوونه، وما عليه المشركون من هديهم الظاهر الذى هو من موجبات دينهم الباطل وتوابع ذلك، فهم يهوونه، وموافقتهم فيه اتباع لما يهوونه.

وقال تعالى: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ}. [الحديد: 16]

وقوله تعالى: {وَلَا يَكُونُوا} نهى مطلق عن مشابهتهم، قال ابن كثير: " .. ولهذا نهى الله المؤمنين أن يتشبهوا بهم فى شىء من الأمور الأصلية والفرعية".

إن ترك التشبه بالكفار فى أعمالهم وأقوالهم وأهوائهم من المقاصد والغايات التى أسسها القرآن الكريم، وبيَّنها وفَصَّلها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحققها فى أمور كثيرة من فروع الشريعة: فى الصلاة، والجنائز، والصيام، والأطعمة، واللباس والزينة، والآداب، والعادات، وغيرها،

وقال صلى الله عليه وسلم "لَيْسَ مِنَّا مَنْ عَمِلَ بِسُنَّةِ غَيْرِنَا"، [حسن]

حتى عرف ذلك اليهود الذين كانوا فى مدينة النبى صلى الله عليه وسلم، وشعروا أنه صلى الله عليه وسلم يتحرى أن يخالفهم فى كل شئونهم
তারা যা কামনা করে এবং মুশরিকরা তাদের যে সকল প্রকাশ্য রীতিনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত—যা তাদের বাতিল দ্বীনের আবশ্যিক দাবি ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়—তারা মূলত সেগুলোই পছন্দ করে। সুতরাং এসকল বিষয়ে তাদের সাথে একমত হওয়া তাদের খেয়ালখুশি বা কুপ্রবৃত্তিরই অনুসরণ করার নামান্তর।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "মুমিনদের জন্য কি এখনও সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তরসমূহ বিগলিত হবে? আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদের ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার ফলে তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেছে; আর তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।" [আল-হাদিদ: ১৬]

আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তারা যেন তাদের মতো না হয়" এটি তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের ব্যাপারে এক চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা। ইবনে কাসির বলেন: "আর এ কারণেই আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের সাথে মৌলিক কিংবা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই সাদৃশ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।"

কাফেরদের কাজ, কথা ও কুপ্রবৃত্তির সাদৃশ্য বর্জন করা পবিত্র কুরআনের প্রতিষ্ঠিত অন্যতম মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করেছেন এবং শরিয়তের বহু শাখাগত বিষয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন: যেমন সালাত, জানাজা, সিয়াম, খাদ্যদ্রব্য, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সৌন্দর্যচর্চা, শিষ্টাচার, রীতিনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের আদর্শ ছাড়া অন্য কারও তরীকা অনুযায়ী আমল করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" [হাসান (حسن)]

এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় বসবাসরত ইহুদিরাও বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল এবং তারা অনুভব করেছিল যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকল বিষয়ে তাদের ভিন্ন পথ অবলম্বন করার চেষ্টা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ১৯)
الخاصة بهم، فقالوا: " مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلَّا خَالَفَنَا فِيهِ" [رواه مسلم].

وقال صلى الله عليه وسلم " .. وَمَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ" [صحيح]

وعن الحسن قال: "قلما تشبه رجل بقوم إلا لحق بهم" يعنى فى الدنيا والآخرة.

وقال بعض مشيخة الأنصار: "يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يَقُصُّونَ عَثَانِينَهُمْ -أي لحاهم- وَيُوَفِّرُونَ سِبَالَهُمْ. -أي شواربهم- قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " قُصُّوا سِبَالَكُمْ وَوَفِّرُوا عَثَانِينَكُمْ وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ" [حسن]

وقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ، وَأَوْفُوا اللِّحَى» (1) متفق عليه،

--------------------------------------------

(1) ومما ينبغى التنبه إليه أن المشركين الموجودين فى زمن النبى صلى الله عليه وسلم كانوا ذوى لحى "انظر صحيح مسلم الحديث (1800) "، لأن العرب لم تترك زينة اللحى لا في الجاهلية ولا فى الإسلام، وقد أقرهم الإسلام عليها، ولعلهم توارثوها من دين إبراهيم عليه السلام، وكان الغربيون يعفون لحاهم إلى أن أشاع الملك بطرس ملك روسيا حلق اللحية فى أوربا فى أول القرن السابع عشر، ومنهم تسربت إلى المسلمين هده السنة السيئة فيما بعد. =
তাদের নিজস্ব লোকদের সম্পর্কে তারা বলেছিল: "এই ব্যক্তি আমাদের রীতির এমন কোনো কিছুই ছাড়তে চাচ্ছে না যাতে সে আমাদের বিরোধিতা করছে না" [মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত]।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "..আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" [সহিহ (صحيح)]

হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "খুব কমই এমন হয় যে কোনো ব্যক্তি কোনো জাতির সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে অথচ সে তাদের দলভুক্ত হয় না"—অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতে।

আনসারদের কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আহলুল কিতাবরা তাদের দাড়ি ছোট করে এবং গোঁফ লম্বা রাখে।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা তোমাদের গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো আর আহলুল কিতাবের বিরোধিতা করো।" [হাসান (حسن)]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ খাটো করো এবং দাড়ি পূর্ণাঙ্গরূপে বৃদ্ধি করো।" (১) একমত পোষণকৃত (متفق عليه),

--------------------------------------------

(১) এখানে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা উচিত তা হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে বিদ্যমান মুশরিকরা দাড়ি রাখত "সহিহ মুসলিমের হাদিস (১৮০০) দ্রষ্টব্য", কারণ আরবরা জাহেলি যুগে বা ইসলামি যুগে কখনোই দাড়ির সৌন্দর্য বর্জন করেনি। ইসলাম তাদের এই রীতির ওপর সমর্থন জ্ঞাপন করেছে এবং সম্ভবত তারা এটি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীন থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিল। পশ্চিমা বিশ্বেও দাড়ি বড় রাখার প্রচলন ছিল, যতক্ষণ না রাশিয়ার রাজা পিটার ১৭শ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে দাড়ি কামানোর প্রথা জনপ্রিয় করেন; আর তাদের মাধ্যমেই পরবর্তীকালে মুসলমানদের মধ্যে এই মন্দ রীতির অনুপ্রবেশ ঘটে। =
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২০)
وقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «جُزُّوا الشَّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ» [رواه مسلم].

قال أبو شامة رحمه الله: (وقد حدث قوم يحلقون لحاهم، وهو أشد مما نقل عن المجوس من أنهم كانوا يقصونها).

تنبيه:

اعلم- رحمك الله- أنه لا يقدح فى استمرار هذا التعليل أن بعض المشركين اليوم يعفون لحاهم، وذلك لما يلى:

أولًا: أن حلق اللحية سنةُ أكثرِهم، بل ما تسربت إلينا هذه البدعة إلا من طريقهم.

ثانيًا: وأما من أعفى لحيته منهم باعتبار ذلك رجولة وفحولة، أو اقتداءً بأنبيائهم، فقد سلمت فطرته فى هذه الجزئية التى توافقت شريعتنا فيها

--------------------------------------------

= أما كيفية مخالفة المشركين مع إعفائهم لحاهم فى زمنه صلى الله عليه وسلم فبقص الشارب، وأخذ ما طال عن الشفة، أو بتوفير اللحى إذا كانوا يقصرونها، فالمخالفة هنا فى وصف الفعل، أما إذا حلقوا لحاهم، فنحن نخالفهم فى أصل الفعل بإعفاء اللحى.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো; অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।" [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।

আবু শামাহ (রহ.) বলেছেন: "এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছে যারা দাড়ি মুণ্ডন করে, যা অগ্নিপূজকদের সম্পর্কে বর্ণিত বিষয়ের চেয়েও গুরুতর; কেননা তারা (অগ্নিপূজকরা) দাড়ি কেবল ছোট করত।"

সতর্কবার্তা:

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—বর্তমানে কিছু মুশরিক দাড়ি রাখে, এটি এই কারণ বা যুক্তির (تعليل) ধারাবাহিকতাকে ক্ষুণ্ণ করে না। এর কারণগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: দাড়ি মুণ্ডন করা তাদের অধিকাংশের রীতি, বরং এই নবপ্রবর্তিত বিষয় (بدعة) কেবল তাদের মাধ্যমেই আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে।

দ্বিতীয়ত: তাদের মধ্যে যারা পুরুষত্ব ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে অথবা তাদের নবীদের অনুসরণে দাড়ি রাখে, তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) এই বিশেষ দিকটিতে অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা আমাদের শরিয়াহর সাথেও সংগতিপূর্ণ।

--------------------------------------------

= পক্ষান্তরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মুশরিকরা দাড়ি রাখা সত্ত্বেও তাদের বিরোধিতা করার পদ্ধতি ছিল গোঁফ ছেঁটে ফেলা এবং ঠোঁটের ওপর যা লম্বা হতো তা কেটে ফেলা, অথবা দাড়ি বড় রাখা যদি তারা তা ছোট করত। সুতরাং এক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য ছিল কার্যের বৈশিষ্ট্যে (وصف الفعل)। কিন্তু তারা যদি দাড়ি মুণ্ডন করে, তবে আমরা দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যের মূলে (أصل الفعل) তাদের বিরোধিতা করব।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২১)
مع شريعتهم، وإن كنا نخالفهم بقص الشوارب، وأخذ ما طال عن الشفة، قال صلى الله عليه وسلم: "مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ، فَلَيْسَ مِنَّا". [صحيح]

وإذا كان بعض الكفار -كاليهود- اليوم يعفون لحاهم وآخرون يحلقونها، فنحن مأمورون بمخالفة الحالقين والمقصرين، لا بمخالفة من أعفاها، فلو كانت القاعدة أن ما يفعله الكفار يجب اجتنابه مطلقًا، لوجب علينا ترك الختان لأن اليهود يختتنون.

ثالثا: كذلك لا يقدح فى استمرار التعليل بمخالفة المشركين أن أكثر المسلمين اليوم يحلقون لحاهم، لأن القرآن والسنة حجة عليهم، وقد دلَّا على تحريم تغيير خلق الله، والتشبه بالنساء، ودلت السنة على أن إعفاء اللحية من خصال الفطرة التى لا تتبدل بتبدلِ الأزمان، وانحرافِ البعض عنها، فلا يصح أن نرفض ما شرعه الله لنا، وفَطَرَنا عليه لمجرد أن يتلبس به بعض المخالفين لنا فى الدين، أو يُفَرِّطَ فيه بعض المنتسبين إليه.
তাদের শরীয়তের সাথে মিল থাকা সত্ত্বেও, যদিও আমরা গোঁফ ছোট করা এবং ঠোঁটের ওপর যা লম্বা হয়েছে তা ছেঁটে ফেলার মাধ্যমে তাদের বিরোধিতা করি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার গোঁফ থেকে (অতিরিক্ত অংশ) গ্রহণ করে না (ছেঁটে ফেলে না), সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" [সহিহ (صحيح)]

এবং বর্তমান সময়ে যদি কিছু কাফের—যেমন ইহুদিরা—দাড়ি লম্বা রাখে এবং অন্যরা তা মুণ্ডন করে, তবে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যারা মুণ্ডনকারী এবং যারা ছোটকারী তাদের বিরোধিতা করতে, যারা দাড়ি লম্বা রাখে তাদের বিরোধিতা করতে নয়। যদি নিয়মটি এমন হতো যে, কাফেররা যা করে তা সর্বাবস্থায় বর্জনীয়, তবে আমাদের জন্য খতনা ত্যাগ করাও আবশ্যক হতো, কারণ ইহুদিরাও খতনা করে।

তৃতীয়ত: একইভাবে, বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম দাড়ি মুণ্ডন করে—এই বিষয়টি মুশরিকদের বিরোধিতার যৌক্তিক কারণের ধারাবাহিকতায় কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ; আর এই উভয় উৎস আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করা এবং নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষিদ্ধতার ওপর প্রমাণ পেশ করেছে। সুন্নাহ আরও প্রমাণ করেছে যে, দাড়ি রাখা ফিতরাতের (স্বভাবজাত বিষয়ের) অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট্য, যা সময়ের বিবর্তনে কিংবা কারো বিচ্যুতিতে পরিবর্তিত হয় না। সুতরাং আল্লাহ আমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং যার ওপর আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তা কেবল আমাদের দ্বীনের বিরোধিতাকারীদের তাতে লিপ্ত হওয়া কিংবা এই দ্বীনের অনুসারীদের অবহেলার কারণে বর্জন করা সঠিক হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌إعفاء اللحية رجولة وفحولة

خلق الله عز وجل الذكر والأنثى، وجعل وجود الشعر سمة مشتركة بينهما فى مواضع ليس منها: اللحية والشارب، فإنه ميَّز بهما الرجل عن المرأة، ولَأن يلبس الرجل ملابس المرأة أخف من أن يحلق لحيته تشبهًا بها، لأن لحية الرجل هى الفارق الظاهر، والمميز الواضح بين الرجل والمرأة (1)، وقد شرع الله لكل من الزينة ما يناسب فطرته.

وأباح الشرع للنساء التزين بالذهب والحرير، وحرمهما على

--------------------------------------------

(1) ومن المعلوم طبيَّا أن نمو اللحية فى وجه الرجل أثر من آثار هرمون الذكورة ( Testosterone)، وأن الأمراض التى تطرأ على بعض المرضى، وينشأ عنها نقص فى الرجولة ( Demasculinization) تكون مصحوبة لسقوط شعر اللحية من الوجه، وأن هذا الهرمون لو حُقن في أنثى فإنه يؤدى إلى اضمحلال الأنوثة ( Defeminization) وظهور أعراض الاسترجال ( Virilization) أو التذكير ( Masulinization)، ومن أوضح هذه الأعراض: الشَّعْرانية ( hirsutism) أي كثرة نمو الشعر فى مناطق لم تكن مشعرة كاللحية والشارب.
দাড়ি লম্বা রাখা পুরুষত্ব ও বীরত্বের বহিঃপ্রকাশ

মহান আল্লাহ পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন এবং শরীরের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে চুলের উপস্থিতিকে উভয়ের মাঝে এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তবে দাড়ি ও গোঁফ এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তিনি এই দুটির মাধ্যমে পুরুষকে নারী থেকে পৃথক করেছেন। কোনো পুরুষের জন্য নারীর পোশাক পরিধান করা তার দাড়ি কামিয়ে নারীর সাদৃশ্য গ্রহণ করার তুলনায় অধিক হালকা বিষয়। কারণ পুরুষের দাড়ি হলো পুরুষ ও নারীর মাঝে দৃশ্যমান পার্থক্যকারী এবং সুস্পষ্ট স্বাতন্ত্র্যসূচক চিহ্ন (১)। আর আল্লাহ প্রত্যেকের জন্য এমন সাজসজ্জার বিধান দিয়েছেন যা তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শরিয়ত নারীদের জন্য সোনা ও রেশম দ্বারা অলঙ্কৃত হওয়া বৈধ করেছে এবং পুরুষদের জন্য তা হারাম করেছে

--------------------------------------------

(১) চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সুবিদিত যে, পুরুষের মুখে দাড়ি গজানো হলো পুরুষ হরমোনের (Testosterone) অন্যতম প্রভাব। আর যেসব ব্যাধি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা দেয় এবং যার ফলে পুরুষত্ব হ্রাস (Demasculinization) পায়, তা মুখ থেকে দাড়ির চুল ঝরে পড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। আর এই হরমোন যদি কোনো নারীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা নারীত্ব বিলোপ (Defeminization) এবং পুরুষালি ভাব (Virilization) বা পুংস্ত্ব প্রাপ্তির (Masculinization) লক্ষণসমূহ প্রকাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব লক্ষণের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হলো: অতি লোমশতা (hirsutism), অর্থাৎ শরীরের যেসব স্থানে আগে লোম ছিল না, যেমন দাড়ি ও গোঁফ, সেখানে অধিক চুল গজানো।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৩)
الرجال لأنهما لا يناسبان كمال الرجولة، وكما أن من جمال المرأة أن تعدم اللحية والشارب فى وجهها، فإن جمال الرجل وهيبته ووقاره فى لحيته وشاربه.

 

‌‌حلق اللحية تشبه بالنساء

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ» [رواه البخاري].

وعن عبد الله بن عمرو رضى الله عنهما أنه رأى امرأة متقلدة قوسًا، وهى تمشى مِشية الرجل، فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم «لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِالرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ، وَلَا مَنْ تَشَبَّهَ بِالنِّسَاءِ مِنَ الرِّجَالِ» [صحيح]

ولا شك أن مشابهة حالق اللحية للمرأة أوضح من مشابهة من تقلدت القوس بالرجال.

وكما أن المرأة إن اتخذت لحية مصنوعة فى وجهها تكون متشبهة بالرجل، فكذلك الرجل الذى يطيح بلحيته التى زينه الله بها قد تشبه بالنساء، وأنت إذا سألت رجلًا من
পুরুষদের জন্য, কারণ এই দুটি বিষয় পূর্ণ পুরুষত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমন নারীর চেহারায় দাড়ি ও গোঁফ না থাকাটা তার সৌন্দর্যের অংশ, ঠিক তেমনি পুরুষের সৌন্দর্য, গাম্ভীর্য ও গরিমা তার দাড়ি ও গোঁফের মধ্যেই নিহিত থাকে।

 

‌‌দাড়ি মুণ্ডন করা নারীদের সদৃশ হওয়া

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সব পুরুষদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা নারীদের সদৃশ হয় এবং সেই সব নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা পুরুষদের সদৃশ হয়।” [বুখারি বর্ণনা করেছেন]

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক নারীকে ধনুক কাঁধে ঝুলিয়ে পুরুষের মতো করে হাঁটতে দেখে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে নারীদের মধ্য থেকে পুরুষের সদৃশ হয় এবং যে পুরুষদের মধ্য থেকে নারীর সদৃশ হয়।” [সহিহ (صحيح)]

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাড়ি মুণ্ডনকারীর নারীর সদৃশ হওয়াটা ধনুক বহনকারী নারীর পুরুষের সদৃশ হওয়ার চেয়েও অধিকতর স্পষ্ট।

যেমন কোনো নারী যদি তার চেহারায় কৃত্রিম দাড়ি লাগিয়ে নেয় তবে সে পুরুষের সদৃশ বলে গণ্য হয়, ঠিক তেমনি যে পুরুষ তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে—যা দিয়ে আল্লাহ তাকে সুশোভিত করেছেন—সেও নারীদের সদৃশ হয়ে যায়। আপনি যদি কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন...
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৪)
عامة أهل السنة عن وجه الحليق من يشبه؟ لقال لك: "وجهَ المرأة، ووجه الصبي، ووجه اليهودي والنصراني"، وقد أطلق العلماء على مثل هذا التشبه لفظ "التخنث"،

قال حافظ المغرب ابن عبد البر رحمه الله: (ويحرم حلق اللحية، ولا يفعله إلا المخنثون من الرجال) اهـ.

تنبيهان:

الأول: كما أن من صبغ أطرافه بالحناء قد تشبه بالنساء، ولو كان ذا لحية وشارب وعمامة، فكذلك من حلق لحيته قد تشبه بالنساء، ولو كان ذا شارب وقميص وعمامة.

الثاني: التشبه من الأعمال التى لا يتوقف الاتصاف بها على القصد والنية كالإتلاف والقتل والضرب، فمن فعل ذلك اتصف به وإن لم يقصده، والمفسدة المترتبة على التشبة موجودة، وإن لم يكن له قصد فيها، ولذا نهى صلى الله عليه وسلم عن أعمال لم يقصد فاعلها التشبه، ولا خطر على باله، كالنهى عن الصلاة وقت طلوع الشمس، وحين يستقل الظل
আহলে সুন্নাতের সাধারণ জনগণকে যদি দাড়ি কামানো মুখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে তা কার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? তবে তারা আপনাকে বলবে: "নারীর মুখ, বালকের মুখ এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মুখ।" আর উলামায়ে কেরাম এই ধরণের সাদৃশ্য (تشبه) গ্রহণকে "নারীসুলভ আচরণ (التخنث)" শব্দে অভিহিত করেছেন।

মাগরিবের হাফিজ ইবনে আব্দিল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম; আর পুরুষদের মধ্যে কেবল নারীসুলভ আচরণকারীরা (المخنثون) ছাড়া কেউ এটি করে না।) সমাপ্ত।

দুটি সতর্কতা:

প্রথমত: যেমন কোনো ব্যক্তি যদি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মেহেদি মাখে, তবে সে নারীদের সাদৃশ্য (تشبه) গ্রহণ করল—যদিও তার দাড়ি, গোঁফ ও পাগড়ি থাকে; ঠিক তেমনি যে ব্যক্তি তার দাড়ি মুণ্ডন করল, সেও নারীদের সাদৃশ্য (تشبه) গ্রহণ করল—যদিও তার গোঁফ, জামা ও পাগড়ি থাকে।

দ্বিতীয়ত: সাদৃশ্য (تشبه) গ্রহণ করা এমন আমল বা কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত যার গুণাবলি অর্জিত হওয়ার ক্ষেত্রে সংকল্প ও নিয়তের প্রয়োজন পড়ে না—যেমন কোনো কিছু ধ্বংস করা, হত্যা করা বা আঘাত করা। ফলে যে ব্যক্তি এ কাজ করবে, সে তার দ্বারা বিশেষিত হবে যদিও সে তা ইচ্ছা না করে। আর সাদৃশ্য গ্রহণের ফলে সৃষ্ট অনিষ্টতা বিদ্যমান থাকে, যদিও তাতে তার কোনো উদ্দেশ্য না থাকুক। একারণেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন সব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন যাতে সম্পাদনকারীর সাদৃশ্য (تشبه) গ্রহণের কোনো ইচ্ছা ছিল না এবং তার মনে এমন ধারণাও আসেনি; যেমন সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর থাকে সে সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা।
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالرمح، ووقت الغروب كيلا نتشبه بالكفار الذين يسجدون للشمس فى هذه الأوقات، مع أن المسلم لا يقصد بالسجود إلا الله تعالى.

 

‌‌إعفاء اللحية زينة وتكريم

قال تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ} الآية، [الإسراء:70]

قال بعض العلماء: "من تكريمه إياهم خلقه لهم على أكمل الهيئات وأحسنها".

وذكر بعض العلماء من أمثلة هذا التكريم: تزيين الرجال. باللحى، النساء بالذوائب.

وقد قال تعالى: {صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً … } الآية [البقرة:138]

وقال عز وجل: {لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ} [التين:4]

وقال جل وعلا: يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ (6) الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ (7) فِي أَيِّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَكَ} [الانفطار:6 - 8]

وقال سبحانه وتعالى: {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ} الآية [النمل:88]
বল্লম (পরিমাণ উচ্চতায়), এবং সূর্যাস্তের সময়, যাতে আমরা সেই কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করি যারা এই সময়ে সূর্যকে সিজদা করে; যদিও মুসলিম সিজদার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই উদ্দেশ্য করে।

 

‌‌দাড়ি রাখা সৌন্দর্য ও সম্মান

আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি।" [আল-ইসরা: ৭০]

জনৈক আলেম বলেছেন: "তাদের প্রতি তাঁর (আল্লাহর) সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হলো—তাদেরকে পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম আকৃতি ও অবয়বে সৃষ্টি করা।"

কিছু আলেম এই সম্মানের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: পুরুষদের দাড়ির মাধ্যমে এবং নারীদের অলকগুচ্ছের মাধ্যমে সজ্জিত করা।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আল্লাহর রং; আর আল্লাহর রঙের চেয়ে কার রং অধিকতর সুন্দর?..." [আল-বাকারা: ১৩৮]

মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছি।" [আত-তীন: ৪]

মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: "হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন। তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামতো যেকোনো আকৃতিতে গঠন করেছেন।" [আল-ইনফিতার: ৬-৮]

মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহর কারুকার্য, যিনি প্রতিটি জিনিসকে সুনিপুণভাবে তৈরি করেছেন।" [আন-নামল: ৮৮]
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال صلى الله عليه وسلم: " كُلُّ خَلْقِ اللهِ عز وجل حَسَنٌ ". [صحيح]

فهذه الهيئة التى خَلَقَنا الله عليها نعمة من الله سبحانه وتكريم لنا،

فلا شك أن حلق اللحية والإطاحة بها كفر بهذه النعمة العظيمة، وانتكاس عن سنة مَن هديُه خير الهدى صلى الله عليه وسلم، وانحطاط إلى مستوى الكفرة الذين زُيِّن لهم سوء أعمالهم، فحسبوا أن التمدن والكمال فى القضاء على أكبر الفوارق

الظاهرة بين الرجل والمرأة:

يُقْضَى على المرءِ فى أيام محنته … حتى يرى حَسَنًا ما ليس بالحَسَنِ

وقد بلغ تعظيم الفقهاء إعفاء اللحية إلى أن قال الأئمة أبو حنيفة وأحمد والثورى: " إن اللحية إذا جُنِى عليها، فأزيلت بالكلية، ولم ينبت شعرها، فعلى الجانى دية كاملة كما لو قتل صاجها"، قال ابن مفلح رحمه الله: "لأنه أذهب المقصود، أشبه ما لو أذهب ضوء العين".

ولم يكن لقيس بن سعد لحية، فقال الأنصار: "نِعم السيد قيس لبطولته وشهامته، ولكن لا لحية له، فوالله
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতিটি সৃষ্টিই সুন্দর।" [সহিহ (صحيح)]

সুতরাং এই অবয়ব যাতে আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত এবং আমাদের জন্য সম্মানস্বরূপ,

তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাড়ি মুণ্ডন করা এবং একে সমূলে উপড়ে ফেলা এই মহান নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং যাঁর আদর্শ সর্বোত্তম আদর্শ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সুন্নাহ থেকে বিচ্যুতি। সেইসাথে এটি সেই কাফেরদের স্তরে অবঃপতন, যাদের নিকট তাদের মন্দ আমলসমূহ সুশোভিত করা হয়েছে; ফলে তারা ধারণা করেছে যে, সভ্যতা ও পূর্ণতা নিহিত রয়েছে সবচেয়ে বড় পার্থক্যসমূহ

যা পুরুষ ও নারীর মাঝে দৃশ্যমান, তা মিটিয়ে দেওয়ার মাঝে:

বিপর্যয়ের দিনগুলোতে মানুষের বিচারবুদ্ধি এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে … যে সে অসুন্দরকেও সুন্দর মনে করতে থাকে।

ফকিহগণের নিকট দাড়ি রাখার মহিমা ও গুরুত্ব এতটাই ছিল যে, ইমাম আবু হানিফা, আহমাদ এবং সাওরি (রহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন: "যদি দাড়ির ওপর কোনো অপরাধ সংঘটিত হয় এবং তা সম্পূর্ণরূপে অপসারিত হয় আর পুনরায় চুল না গজায়, তবে অপরাধীর ওপর পূর্ণ রক্তপণ প্রদান করা আবশ্যক হবে, যেমনটি ওই ব্যক্তিকে হত্যা করলে আবশ্যক হতো।" ইবনে মুফলিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কেননা সে (দাড়ির) প্রকৃত উপযোগিতা নষ্ট করে দিয়েছে, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার সদৃশ।"

কায়েস ইবনে সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দাড়ি ছিল না, তাই আনসারগণ বলতেন: "কায়েস তার বীরত্ব ও মহত্ত্বের কারণে কতই না উত্তম নেতা, কিন্তু তার তো দাড়ি নেই! আল্লাহর কসম..."
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৭)
لو كانت اللحية تُشْتَرى بالدراهم، لاشترينا له لحية ليكمل رجلًا".

وقال بعض بنى تميم من رهط الأحنف بن قيس: "وِدِدْتُّ أنا اشترينا للأحنف لحية بعشرين ألفًا " فلم يذكر حَنَفَه وعَوَرَه، وذكر كراهية عدم اللحية، لأن مَن لا لحية له يُرى عند العقلاء ناقصًا.

وذُكِر عن شريح القاضى أنه قال: "وددت لو أن لى لحية بعشَرة آلاف درهم"،

فيا عجبًا من بعض أهل زماننا يود أحدهم لو بذل مالًا عظيمًا لِيُعْدَم لحيتَه إلى الأبد حتى لا يعاني حلقها!

 

‌‌حلق اللحية مهانة

وأئمة الإسلام لم يوجد من بينهم من حلق لحيته فى حياته مرة واحدة، بل إن بعض الأمراء الذين لم يكونوا متفقهين فى الدين كانوا إذا أرادوا أن يؤدبوا فردًا من أفراد الرعية لخطإِ ارتكبه يحلقون لحيته، ويُركبونه دابة، ويُجَوِّلونه بينَ الناس تعييرًا له، ولهذا نصَّ بعض الفقهاء على أنه "يجوز التعزير بحلق الرأس لا اللحية"، أى لأن حلقها حرام، ألا تلمح أنه سُنَّ حلقُ الرأس فى التحلل من
"যদি দাড়ি দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করা যেত, তবে আমরা তার জন্য একটি দাড়ি ক্রয় করতাম যাতে তার পুরুষত্ব পূর্ণতা পায়।"

আহনাফ ইবন কায়সের গোত্র বনী তামীমের কতিপয় লোক বলেছিলেন: "আমি কামনা করি যদি আমরা বিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে আহনাফের জন্য একটি দাড়ি ক্রয় করতে পারতাম।" তারা তার পায়ের বক্রতা বা এক চোখের অন্ধত্বের কথা উল্লেখ করেননি, বরং দাড়ি না থাকার প্রতি অপছন্দনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ বিবেকবানদের নিকট দাড়িহীন ব্যক্তিকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

কাযী শুরাইহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: "আমি কামনা করতাম যদি দশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে আমার একটি দাড়ি থাকত।"

আমাদের জামানার এক শ্রেণির মানুষের অবস্থা কতই না আশ্চর্যের যে, তাদের কেউ কেউ চায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে যাতে চিরতরে তার দাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তাকে তা মুণ্ডন করার বিড়ম্বনা পোহাতে না হয়!

 

দাড়ি মুণ্ডন করা একটি হীন কাজ

ইসলামের ইমামগণের মধ্যে এমন কাউকেই পাওয়া যায় না যিনি তাঁর জীবনে একবারও দাড়ি মুণ্ডন করেছেন। বরং কিছু আমীর, যারা দ্বীনী বিষয়ে সম্যক অবগত ছিলেন না, তারা যখন প্রজাদের মধ্য থেকে কাউকে তার কৃত কোনো অপরাধের জন্য শাস্তি দিতে চাইতেন, তখন তারা তার দাড়ি মুণ্ডন করে দিতেন এবং তাকে কোনো পশুর পিঠে চড়িয়ে মানুষের মাঝে ঘুরিয়ে লাঞ্ছিত করতেন। এই কারণেই কতিপয় ফকীহ (فقهاء) এ কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, "মাথা মুণ্ডন করে শাস্তি (تعزير) প্রদান করা বৈধ হলেও দাড়ি মুণ্ডন করে নয়", অর্থাৎ যেহেতু দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম (حرام)। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার সময় মাথা মুণ্ডন করাকে সুন্নত (سنة) করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإحرام، دون اللحية؟

وبلغ أيضًا من تعظيم السلف شأنها أن رتبوا على حلقها عقوبة اجتماعية قاسية ألا وهى رَدُّ الشهادة، جاء فى "المُيَسَّرِ على خليل" أن "مَنْ تعمَّد حلقها يؤدب، وترد شهادته".

وقال العلامة الدسوقى: "يحرم على الرجل حلق لحيته أو شاربه، ويؤدَّب فاعلُ ذلك".

 

‌‌حلق اللحية مُثْلَة

عن عبد الله بن يزيد الأنصارى رضى الله عنه قال: "نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ النُّهْبَى وَالْمُثْلَةِ"، [رواه البخاري]، والمُثْلَة: التشويه.

وعن سمرة وعمران بن حصين رضى الله عنهما قالا:

"مَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً، إِلَّا أَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ، وَنَهَانَا عَنِ الْمُثْلَةِ" [جيد]

وروى ابن عساكر عن عمر بن عبد العزيز رحمه الله أنه قال: "إن حلق اللحية مُثلة، وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن المثلة".
ইহরাম (الإحرام), দাড়ি (لحية) ব্যতীত?

পূর্বসূরীদের (السلف) নিকট দাড়ির গুরুত্ব এতই অধিক ছিল যে, তাঁরা দাড়ি মুণ্ডনের ওপর কঠোর সামাজিক শাস্তি নির্ধারণ করেছিলেন, আর তা হলো সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান (رد الشهادة)। 'আল-মুয়াসসার আলা খলিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে দাড়ি মুণ্ডন করবে তাকে দণ্ড প্রদান করা হবে এবং তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান (ترد شهادته) করা হবে।"

আল্লামা আদ-দুসুকি বলেন: "পুরুষের জন্য দাড়ি বা গোঁফ মুণ্ডন করা হারাম (حرام), এবং এই কাজ যে করবে তাকে দণ্ড প্রদান করা হবে।"

 

‌‌দাড়ি মুণ্ডন করা অঙ্গবিকৃতি (مثلة)

আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লুণ্ঠন এবং অঙ্গবিকৃতি (المثلة) করতে নিষেধ করেছেন।" [বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন], আর অঙ্গবিকৃতি (المثلة) হলো বিকৃত করা।

সামুরা ও ইমরান বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন:

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সামনে যখনই কোনো ভাষণ দিয়েছেন, তখনই আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অঙ্গবিকৃতি (المثلة) করতে নিষেধ করেছেন।" [উত্তম (جيد)]

ইবনে আসাকির উমর বিন আবদুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই দাড়ি মুণ্ডন করা হলো অঙ্গবিকৃতি (مثلة), আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অঙ্গবিকৃতি (المثلة) করতে নিষেধ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-লিহইয়াতু লি-মাযা (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال الإمام ابن حزم رحمه الله فى "مراتب الإجماع": "واتفقوا أن حلق جميع اللحية مثلة لا تجوز" اهـ.

وإذا كان بعض العلماء عدَّ المبالغة فى قص اللحية مُثْلَة، وعد بعضهم استئصال الشارب بالحلق مثلة، فماذا يكون استئصال اللحية كلها؟

إن الوجه عضو مكرم لأنه مجمع المحاسن والحواس، فمن حقه الكرامة والصيانة لا المثلة والإهانة، وهذا ما عَلَّمَناه رسولُ الله صلى الله عليه وسلم فى قوله: «إِذَا قَاتَلَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ»، وفى لفظ: "فلا يَلْطِمَنَّ الوجهَ" [رواه الشيخان]، ورأى سويد بن مقرِّن رضى الله عنه رجلًا لطم غلامه، فقال: "أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الصُّورَةَ مُحَرَّمَةٌ" [رواه مسلم].

فواعجبًا من أهل زماننا، يهنئون من يشوه خلقته، ويحلق لحيته بقولهم "نعيمًا"!
ইমাম ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "মারাতিবুল ইজমা" গ্রন্থে বলেছেন: "আর তাঁরা (উলামাগণ) ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, সম্পূর্ণ দাড়ি মুণ্ডন করা একটি বিকৃতি (مثلة) যা জায়েয নয়।" সমাপ্ত।

আর যদি কোনো কোনো আলিম দাড়ি কাটার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করাকে বিকৃতি (مثلة) হিসেবে গণ্য করে থাকেন, এবং তাঁদের কেউ কেউ ক্ষুর দিয়ে গোঁফ পুরোপুরি পরিষ্কার করাকে বিকৃতি (مثلة) হিসেবে গণ্য করে থাকেন, তবে পুরো দাড়ি উপড়ে ফেলার বিষয়টি কেমন হবে?

নিশ্চয়ই মুখমণ্ডল একটি সম্মানিত অঙ্গ, কারণ এটি সৌন্দর্য ও ইন্দ্রিয়সমূহের মিলনস্থল; সুতরাং এর প্রাপ্য হলো সম্মান ও সুরক্ষা, বিকৃতি (مثلة) ও অবমাননা নয়। আর এটিই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের শিখিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: "তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সাথে লড়াই করে, সে যেন মুখমণ্ডল এড়িয়ে চলে।" অন্য একটি শব্দে এসেছে: "সে যেন মুখমণ্ডলে চড় না মারে" [দুই শাইখ এটি বর্ণনা করেছেন]। সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক ব্যক্তিকে তার গোলামকে চড় মারতে দেখে বললেন: "তুমি কি জানো না যে, চেহারা (আঘাত করা) হারাম (محرم)?" [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।

আমাদের সময়ের মানুষের জন্য বিস্ময়! তারা সেই ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানায় যে নিজের সৃষ্টিগত অবয়ব বিকৃত করে এবং দাড়ি মুণ্ডন করে, তারা তাকে বলে "আপনার জন্য কল্যাণ হোক"!