(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: -)
موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان - ت حسين أسد   (نور الدين الهيثمي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان

المؤلف: أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807 هـ)

المحقق: حسين سليم أسد الدّاراني [ت 1443 هـ]- عبده علي الكوشك [ت 1436 هـ]

الناشر: دار الثقافة العربية، دمشق

الطبعة: الأولى، (1411 - 1412 هـ) = (1990 - 1992 م)

عدد الأجزاء:9 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1434

মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান - সম্পাদনা: হুসাইন আসাদ   (নুরউদ্দিন আল-হাইসামি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


বই: মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান

লেখক: আবুল হাসান নুরউদ্দিন আলী ইবনে আবি বকর ইবনে সুলাইমান আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি)

সম্পাদক: হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানি [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি]- আবদু আলী আল-কুশক [মৃত্যু ১৪৩৬ হিজরি]

প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ, দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, (১৪১১ - ১৪১২ হিজরি) = (১৯৯০ - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ)

খণ্ড সংখ্যা: ৯ (সর্বশেষটি নির্ঘণ্ট)

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলকদ ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১)
موارد الظمآن

إلى زوائد ابن حبان

للحافظ نور الدين على بن أبى بكر الهيثمي

(735 - 807هـ)

 

الجزء الأول

حققه وخرج نصوصه

حسين سليم أسد الدّاراني

 

دار الثقافة العربية

دمشق- ص. ب:4971 - بيروت-ص. ب: 6433/ 113
মাওয়ারিদুজ জামআন

ইবনে হিব্বানের যাওয়ায়েদ (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) প্রসঙ্গে

হাফেজ নূরুদ্দীন আলী বিন আবু বকর আল-হাইসামীর রচিত

(৭৩৫ - ৮০৭ হিজরি)

 

প্রথম খণ্ড

এটি সম্পাদনা এবং এর পাঠ্যসমূহ যাচাই ও বিশ্লেষণ করেছেন

হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানি

 

দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ

দামেস্ক - পোস্ট বক্স: ৪৯৭১ - বৈরুত - পোস্ট বক্স: ৬৪৩৩/ ১১৩
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
موارد الظمآن
তৃষ্ণার্তের পানীয় উৎসসমূহ
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
جمِيع الحقوق محفوظَة

الطبعة الأولى

1411 هـ - 1990 م

 

دار الثقافة العربية

دمشق- ص. ب:4971 - بيروت- ص. ب: 6433/ 113

 

المُدِيُر المسؤول

أحمد يوسف الدقاق
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১১ হিজরী - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ

দামেস্ক - পোস্ট বক্স: ৪৯৭১ - বৈরুত - পোস্ট বক্স: ৬৪৩৩/ ১১৩

 

দায়িত্বশীল পরিচালক

আহমদ ইউসুফ আদ-দাক্কাক
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تميهد

من الواجب عليّ وأنا أقدم لهذا الكتاب أن أوضح للدارسين أموراً ثلاثة، حتى لا يطول التساؤل، وحتى لا تختلف الآراء في التأويل والتخمين. الأمر الأول: بيان السبب الذي جعلني أقدم لِـ "موارد الظمآن" بالمقدمة نفسها التي كتبتها في تقديمي "صحيح ابن حبان". الثاني: هو أن أجيب على سؤال من يطالبني بطبع صحيح ابن حبان بتحقيقي، وهو ما أُحيل عليه في تخريجاتي "مسند أبي يعلى الموصلي" الذي نشرته دار المأمون للتراث. الممثلة بالأستاذين أحمد يوسف الدقاق، وعبد العزيز رباح. الثالث: توضيح السبب الذي دفعني إلى تحقيق هذا الكتاب الذي ما هو إلا جزء من صحيح ابن حبان الذي أطالب بإخراجه. ولتوضيِح هذا- محاولاً الإيجاز ما استطعت، مختصراً مراحل زمنية طويلة، سائلاً الله تعالى السداد والرشاد- أقول: لقد سلمت مؤسسة الرسالة خمسة مجلدات محققة من "صحيح ابن حبان" مع مقدمة لهذا العمل، وذلك وفاءً بالعقد الموقع بيني وبين ممثل المؤسسة الأستاذ رضوان الدعبول، بتاريخ 6/ 12/1399هـ الموافق 7/ 10/1979 والذي يقضي بأن أقوم بتحقيق هذا السفر العظيم "صحيح ابن حبان"، وبأن تقوم المؤسسة بتعيين مراجع للعمل قبل إرساله إلى الطبع، على أن يثبت اسمي عليه محققاً، كما يثبت اسم المراجع عليه أيضاً مراجعاً.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

এই গ্রন্থের ভূমিকা পেশ করার সময় গবেষক ও পাঠকদের জন্য তিনটি বিষয় স্পষ্ট করা আমার ওপর কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে অহেতুক প্রশ্ন দীর্ঘায়িত না হয় এবং ব্যাখ্যা ও অনুমানের ক্ষেত্রে মতভেদ সৃষ্টি না হয়। প্রথম বিষয়: ‘মাওয়ারিদুজ জামআন’ গ্রন্থের জন্য সেই একই ভূমিকা পেশ করার কারণ বর্ণনা করা, যা আমি ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’-এর ভূমিকায় লিখেছিলাম। দ্বিতীয় বিষয়: যারা আমার তাহকীককৃত (সম্পাদিত) ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’ ছাপানোর দাবি জানাচ্ছেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা; যার কথা আমি ‘মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি’র তাখরীজ করার সময় উল্লেখ করেছিলাম। এই গ্রন্থটি উস্তাদ আহমাদ ইউসুফ আদ-দাক্কাক এবং আব্দুল আজিজ রাব্বাহ-এর প্রতিনিধিত্বকারী ‘দারুল মামুন লিত-তুরাস’ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। তৃতীয় বিষয়: এই কিতাবটি তাহকীক করার কারণ স্পষ্ট করা, যা মূলত ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’-এরই একটি অংশ মাত্র এবং যেটির প্রকাশের দাবি আমার কাছে করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করার লক্ষ্যে—যথাসম্ভব সংক্ষেপ করার চেষ্টা করে, দীর্ঘ সময়ের ঘটনাবলী সংকুচিত করে এবং মহান আল্লাহর কাছে সঠিক পথ ও নির্দেশনার প্রার্থনা করে—আমি বলছি: আমি ‘মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ’-কে ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’-এর পাঁচটি তাহকীককৃত খণ্ড এবং এই কর্মের একটি ভূমিকা প্রদান করেছি। এটি ছিল আমার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উস্তাদ রিদওয়ান আদ-দাবুল-এর মধ্যে ৬/১২/১৩৯৯ হিজরী মোতাবেক ৭/১০/১৯৭৯ তারিখে স্বাক্ষরিত চুক্তির বাস্তবায়ন। উক্ত চুক্তির শর্ত ছিল যে, আমি এই মহান গ্রন্থ ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’-এর তাহকীক সম্পন্ন করব এবং প্রতিষ্ঠানটি মুদ্রণে পাঠানোর আগে এর জন্য একজন পর্যালোচক (মুরাজী) নিয়োগ করবে। সেখানে মুহাক্কিক হিসেবে আমার নাম এবং পর্যালোচক হিসেবে পর্যালোচকের নামও লিপিবদ্ধ থাকবে।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وبالفعل فقد عينت المؤسسة مراجعاً يحظى بحبي واحترامي وهو الأستاذ الشيخ شعيب الأرناؤوط. وصدر المجلد الأول من هذا الصحيح وقد كتب على غلافه الخارجي: حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه شعيب الأرناؤوط وحسين أسد وقلت في نفسي: عسى أن يكون للمؤسسة وجهة نظر تجارية في هذا، والشيخ شعيب- كما قدمت- أخ نحبه ونحترمه، غير أنني استنكرت واستكبرت ما أحدث في المقدمة التي قدمت: فقد حذف منها وأضاف، وأدخل الحواشي في الأصل، وقدم وأخر … وليت الأمر انتهى عند هذا وإنما أدخل فيها: "وكان الرأي الأخير في البت في درجة كل حديث للأستاذ الشيخ شعيب الأرناؤوط". ورجعت إلى صاحبنا الشيخ شعيب، وطلبت إليه توضيح ذلك فتجاوز الإِجابة عن تساؤلي، وقال بلهجة ما عهدتها منه من قبل: "لقد أعطيت نعيم العرقوسي المجلدين الأخيرين ليكون شريكاً لك في هذا العمل" وهنا كان لا بد لي من إطلاعه على العقد الموقع بيني وبين الأستاذ رضوان، فازداد نفوراً، وقدمت احتجاجي إلى المؤسسة المذكورة، وطالبتها بالالتزام بالعقد، وطال الأخذ والرد، ولكنها- لظروف خاصة بها- آثرت مصلحتها وإرضاء الشيخ شعيب على إمضاء العقد والوفاء بالوعد، وطلب إلي أن أقيلها من العقد لأنها تريد لرئيس مكتب التحقيق فيها الشيخ شعيب أن يحقق الصحيح المذكور بأسلوب مغاير للأسلوب الذي اتبعته في عملي. وهنا تركت الفصل الحق في أمري إلى الله في يوم لا ينفع فيه مال، ولا شهرة، ولا جاه، وأجبتها إلى طلبها. ولم يمض طويل زمن حتى رأيت الجزء الثاني من صحيح ابن

প্রকৃতপক্ষে, প্রতিষ্ঠানটি একজন পর্যালোচক নিয়োগ দিয়েছিল যিনি আমার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র, আর তিনি হলেন উস্তাদ শাইখ শুআইব আল-আরনাউত। এই সহীহ-এর প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত হলো এবং এর বাইরের প্রচ্ছদে লেখা ছিল: "এটি তাহকীক করেছেন, হাদীসসমূহ তাখরীজ করেছেন এবং এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন শুআইব আল-আরনাউত ও হুসাইন আসাদ।" আমি মনে মনে বললাম: হতে পারে এতে প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, আর শাইখ শুআইব—যেমনটি আমি আগেই বলেছি—এমন একজন ভাই যাকে আমরা ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমি আমার পেশ করা ভূমিকায় তিনি যা যা পরিবর্তন করেছেন তা দেখে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হলাম: তিনি সেখান থেকে কিছু অংশ মুছে ফেলেছেন, কিছু যোগ করেছেন, টীকাগুলোকে মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং আগে-পিছে করেছেন … আর বিষয়টি যদি এখানেই শেষ হতো! বরং তিনি সেখানে এটিও যুক্ত করেছেন: "প্রতিটি হাদীসের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার উস্তাদ শাইখ শুআইব আল-আরনাউতের ওপর ন্যস্ত ছিল।"

আমি আমাদের বন্ধু শাইখ শুআইবের কাছে ফিরে গেলাম এবং তার কাছে এর ব্যাখ্যা চাইলাম, কিন্তু তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেন এবং এমন এক সুরে কথা বললেন যা আগে কখনো তার কাছ থেকে শুনিনি: "আমি নুআইম আল-আরকুসীকে শেষ দুই খণ্ড দিয়েছি যাতে তিনি এই কাজে আপনার অংশীদার হতে পারেন।" তখন আমার জন্য উস্তাদ রিদওয়ানের সাথে আমার স্বাক্ষরিত চুক্তিটি তাকে দেখানো অনিবার্য হয়ে পড়ল, এতে তার বিমুখতা আরও বেড়ে গেল। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে আমার প্রতিবাদ জানালাম এবং তাদের চুক্তির প্রতি অনুগত থাকার দাবি জানালাম। দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদ চলল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি—তার নিজস্ব কিছু পরিস্থিতির কারণে—চুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেয়ে নিজের স্বার্থ এবং শাইখ শুআইবকে সন্তুষ্ট করাকেই অগ্রাধিকার দিল। এবং তারা আমাকে চুক্তি থেকে অব্যাহতি দিতে অনুরোধ করল, কারণ তারা চাচ্ছিল তাদের তাহকীক অফিসের প্রধান শাইখ শুআইব যেন উল্লিখিত সহীহ-টি আমার অনুসৃত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে তাহকীক করেন। এখানে আমি আমার বিষয়ের ন্যায়সঙ্গত ফয়সালার ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম—এমন একদিনের জন্য যেদিন ধন-সম্পদ, খ্যাতি বা পদমর্যাদা কোনো কাজে আসবে না—এবং আমি তাদের অনুরোধে সাড়া দিলাম। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়নি, আমি যখন সহীহ ইবনে-এর দ্বিতীয় খণ্ডটি দেখতে পেলাম...

(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
حبان في الأسواق، وإذا على غلافه الخارجي: الإِحسان في تقريب صحيح ابن حبان.

المجلد الثاني

حققه وشرحه وعلق عليه

شعيب الأرناؤوط

واستنكرت ذلك أيضاً، وأعلمت المحكمين بذلك فاجتمعا وقابلا بين تحقيقاتي، وبين ما نشر في الجزء الثاني من تحقيقات، ووقَّعا على وثيقة جاء فيها: "وقد تبين لنا أن التحقيقات التي سلمها حسين أسد قد استخدمت من قبل الشيخ شعيب الأرناؤوط الذي نسب العمل إلى نفسه بعد أن أضاف في بعض الأماكن ما لا يزيد عن عشرة بالمئة 10/ من تحقيقات حسين أسد". وهنا قال الأستاذ بسام الجابي ممثل المؤسسة: "إن هناك خطأ وقع وعلي أو أوضحه إنصافاً للشركة، فقد تم ذلك بناء على معلومات قديمة كان قد اتفق عليها بين الأستاذ حسين أسد، وبسام الجابي، ولكن هذا الاتفاق نسخ بالاتفاق اللاحق الموقع من قبل الطرفين والملزم لهما بالتقيد بما فيه. وقد تعهد الأستاذ بسام الجابي ألا يتكرر هذا العمل بالنسبة لهذا الجزء والأجزاء الأخرى، وبناءً عليه نفتح صفحة جديدة، وعلى أساسها نحاسب مسقطين أعتراضنا على هذه الطبعة والله على ما نقول وكيل". ثم وقع الحكمان وذلك بتاريخ21/ 6/1407هـ الموافق 21/ 1/1987. وهنا أكد الأستاذ بسام الجابي أن المؤسسة سوف تقوم بإعادة العمل من جديد وبأسلوب مميز ومختلف عن الأسلوب الذي صدر فيه الجزءان.
বাজারে ইবনে হিব্বান পাওয়া যাচ্ছিল, এবং এর বাইরের প্রচ্ছদে লিখা ছিল: আল-ইহসান ফি তাকরিব সহিহ ইবনে হিব্বান।

দ্বিতীয় খণ্ড

এটি সম্পাদনা, ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন

শুআইব আল-আরনাউত

আমি এটিও প্রত্যাখ্যান করলাম এবং সালিসকারীদের এ বিষয়ে অবহিত করলাম। ফলে তারা একত্রিত হয়ে আমার করা সম্পাদনা এবং দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশিত সম্পাদনার মধ্যে তুলনা করলেন। এরপর তারা একটি দলিলে স্বাক্ষর করলেন যাতে বলা হয়েছে: "আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, হুসাইন আসাদ যে সম্পাদনাগুলো জমা দিয়েছিলেন, তা শায়খ শুআইব আল-আরনাউত ব্যবহার করেছেন এবং তিনি কাজটিকে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন; অথচ তিনি হুসাইন আসাদের সম্পাদনার ওপর কিছু স্থানে ১০% (দশ শতাংশের) বেশি যোগ করেননি।" এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জনাব বাসসাম আল-জাবি বলেন: "একটি ভুল সংঘটিত হয়েছে এবং কোম্পানির ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাকে এটি স্পষ্ট করতে হবে। মূলত এটি উস্তাদ হুসাইন আসাদ এবং বাসসাম আল-জাবির মধ্যে সম্পাদিত একটি পুরনো চুক্তির ভিত্তিতে হয়েছিল, কিন্তু সেই চুক্তিটি পরবর্তীতে উভয় পক্ষের দ্বারা স্বাক্ষরিত এবং পালনীয় একটি নতুন চুক্তির মাধ্যমে রহিত হয়ে গিয়েছিল। জনাব বাসসাম আল-জাবি অঙ্গীকার করেছেন যে, এই খণ্ড বা অন্য কোনো খণ্ডের ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি হবে না। এর ভিত্তিতে আমরা একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছি এবং এই সংস্করণের ওপর আমাদের আপত্তি প্রত্যাহার করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করছি। আমরা যা বলছি সে বিষয়ে আল্লাহই কর্মবিধায়ক।" এরপর সালিসকারীদ্বয় ২১/০৬/১৪০৭ হিজরি মোতাবেক ২১/০১/১৯৮৭ তারিখে স্বাক্ষর করলেন। এ সময় জনাব বাসসাম আল-জাবি নিশ্চিত করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি নতুনভাবে এবং পূর্বের দুটি খণ্ড যে পদ্ধতিতে প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পদ্ধতিতে কাজটি পুনরায় সম্পন্ন করবে।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وخلال هذه الفترة الطويلة كنت منصرفاً إلى تحقيق "مسند أبي يعلى الموصلي" الذي نشرته دار المأمون للتراث، وكنت أحيل على تخريجاتي لصحيح ابن حبان ظناً مني بان العمل سوف يصدر كما قدمته بترقيمي وتخريجي، وما كنت أتصور أن للمراجع حقوقاً كتلك التي جعلها الأخ الشيخ شعيب لنفسه. وفي عام 1407هـ الموافق 1987 م نشرت دار الكتب العلمية "الإِحسان بترتيب صحيح ابن حبان" كاملاً مع الفهارس، ولكنه غير محقق التحقيق العلمي اللائق بمثل هذا السفر الجليل الذي حاول صاحبه أن يستوعب فيه كل ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم -فرأيت-وقد اقترح علي بعض الأفاضل- أن تحقيق "موارد الظمآن إلىِ زوائد ابن حبان" أصبح واجباً عليَّ لأن تحقيق هذا الكتاب يُعد تحقيقاً للإِحسان بكامله إذ الأحاديث الواردة في الإحسان قسمان:

الأول منها: ورد في الصحيحين، أو في أحدهما، وورود هذه الأحاديث فيهما، أو في أحدهما يزيدنا ثقة بصحتها، واطمئناناً لوجوب الالتزام بما جاء فيها.

الثاني منها: هو ما زاد على ما جاء في الصحيحين، وهو ما جمعه الحافظ الهيثمي في "موارد الظمآن" بعد أن رتبه على أبواب الفقه. وهذا القسم من الأحاديث هو الذي يحتاج إلى البحث الدقيق، والتحقيق الجاد، والتأني في الحكم على الأسانيد لبيان حالها.

 

ولذلك فإنني قد عزمت- معتمداً على الله تعالى- على تحقيق هذا الكتاب، مقدماً له بهذه الدراسة القديمة- الحديثة، التي سميتها "مقدمة التحقيق" بنصها الذي قدمته إلى مؤسسة الرسالة في التاريخ المدون في نهايتها، والله ولي التوفيق.
এই দীর্ঘ সময়ে আমি 'মুসনাদে আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি'র তাহকিকের কাজে নিবিষ্ট ছিলাম, যা দারুল মামুন লিত-তুরাস প্রকাশ করেছে। আমি তখন 'সহিহ ইবনে হিব্বান'-এর জন্য আমার করা তাখরিজগুলোর উদ্ধৃতি দিতাম এই ধারণা থেকে যে, কাজটি আমার নম্বর প্রদান ও তাখরিজ অনুযায়ী সেভাবেই প্রকাশিত হবে যেভাবে আমি তা জমা দিয়েছি। আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে, একজন পর্যালোচকের এমন সব অধিকার থাকতে পারে যা ভাই শায়খ শুআইব নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। ১৪০৭ হিজরি মোতাবেক ১৯৮৭ সালে দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সূচিপত্রসহ পূর্ণাঙ্গ 'আল-ইহসান বি-তারতিবি সহিহ ইবনে হিব্বান' প্রকাশ করে, কিন্তু এটি এমন এক মহান গ্রন্থের উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক তাহকিকের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়নি, যে গ্রন্থে এর সংকলক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল সহিহ হাদিস অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। ফলে আমি লক্ষ্য করলাম—এবং কয়েকজন বিজ্ঞ ব্যক্তি আমাকে পরামর্শও দিয়েছিলেন—যে 'মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান'-এর তাহকিক করা আমার জন্য আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। কারণ এই বইটির তাহকিক করা মানেই হলো সমগ্র 'আল-ইহসান'-এর তাহকিক সম্পন্ন করা, যেহেতু 'আল-ইহসান'-এ বর্ণিত হাদিসসমূহ দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: যা বুখারি ও মুসলিম (সহিহাইন), অথবা এই দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদিসগুলো ওই দুই কিতাবে বা এর যেকোনো একটিতে থাকা এগুলোর বিশুদ্ধতার প্রতি আমাদের আস্থা বাড়িয়ে দেয় এবং এগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে তা মেনে চলার আবশ্যকতা সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিন্ত করে।

দ্বিতীয় প্রকার: যা সহিহাইনে বর্ণিত হাদিসগুলোর অতিরিক্ত। হাফেজ আল-হাইসামি একে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করার পর 'মাওয়ারিদুজ জামআন'-এ সংকলন করেছেন। হাদিসের এই অংশটুকুরই সূক্ষ্ম গবেষণা, ঐকান্তিক তাহকিক এবং সনদগুলোর অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা প্রয়োজন।

 

তাই আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে এই কিতাবটির তাহকিক করার দৃঢ় সংকল্প করেছি এবং এই পুরনো ও নতুনের সমন্বয়ে করা অধ্যয়নটিকে এর ভূমিকা হিসেবে পেশ করছি, যার নাম দিয়েছি 'মুকাদ্দিমাতুত তাহকিক' (তাহকিকের ভূমিকা)। এর মূল পাঠটি সেটিই যা আমি এর শেষে উল্লিখিত তারিখে মুয়াসসাসাতুর রিসালার কাছে জমা দিয়েছিলাম। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

إنَّ الْحَمْدَ لله، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بهِ مِنْ شُرُورِ أنْفُسِنَا، وَمِنْ سَيئاتِ أعْمَالِنَا. مَنْ يَهْدِهِ الله فَلَا مُضِل لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ، فَلَا هَادِيَ لَهُ. وَأشْهَدُ انْ لَا إِلهَ إلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأشْهَدُ أنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. (يا أَيهَا الّذِينَ آمَنُوا اتقُوا اللهَ حَق تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُن إلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) [آل عمران: 102]. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1]. {يَا أَيُّهَا الَّذينَ آمَنُوا اتَقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً، يُصْلحْ لَكُم أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ. وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاَ عَظِيماً) [الاحزاب:70].

 

أما بعد: "فإنَّ اللهَ -سبحانه- اخْتار محمداً صلى الله عليه وسلم -من عباده، واستخلصَهُ لنفسه من بلاده، فبعثه إلى خلقه بالحقّ بَشيراً، ومنَ النّار لمَنْ زَاغَ عن سبيله نذيراً، لِيَدْعُوَ الخلقَ من عبادِهِ إلى عبادَتِهِ، وَمِن اتَباعِ السّبُل إلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না) [আলে ইমরান: ১০২]। {হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [নিসা: ১]। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল} [আহযাব: ৭০]।

 

অতঃপর: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর দেশসমূহ থেকে তাঁকে নিজের জন্য চয়ন করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে সত্যসহ তাঁর সৃষ্টির নিকট সুসংবাদদাতা হিসেবে এবং তাঁর পথ থেকে বিচ্যুতদের জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন; যাতে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইবাদতের দিকে এবং নানাবিধ পথের অনুসরণ থেকে..."
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
لُزوم طاعتِهِ. ثم لم يجعَلِ الفَزَعَ عندَ وُقوع حادثةٍ، ولا الهربَ عند وجود نازلةٍ إلاّ إلى الَّذي أُنْزِلَ عليه التَّنزيلُ. وتفَضَّلَ عَلى عبادهِ بِوِلَايَتِهِ التأويل، فَسُنَّتُهُ الفاصلةُ بينَ المتنازعين، وآثارُه القاطعَة بينَ الخصمين" (1). {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء:65].

وقد آمن به مَنْ خاطبهم بقوله صلى الله عليه وسلم "أنتم خير أهل الأرض" (2)، وهم الذين لازَمُوهُ، واتَّبعُوا النورَ الذي أُنزلَ معهُ، وَعَلِمُوا أنَّ الأخذَ بسنّته "اتباعٌ لكتاب اللهِ، واستكمالٌ بطاعة الله، وقوة على دين الله، ليس لأحد تَغييرُها وَلَا تَبْديلُهَا، ولا النظرُ في شيءٍ خَالَفَهَا، مَنِ اهْتَدى بها فهو مُهْتَدٍ، وَمَنِ اسْتنصرَ بها فهو منصورٌ، وَمَنْ تركها اتَّبَعَ غيرَ سبيلِ المؤمنينَ، وَوَلَأه الله ما تولى، وَأصْلاهُ جَهنَّمَ وَسَاءت مَصيراً" (3).

وَلَا يخفى عَلى كل ذي بَصيرة أنَّ الحديثَ النبويَّ هو قولُ الرسول صلى الله عليه وسلم وفعلُهُ، وَإقْرَارُهُ. وَفي كلَ ذلكَ هو مُبَيّنٌ وَمُوَضَحٌ لِمَا جاءَ في القرآنِ الكريمِ، من النصُوصِ العَامَّةِ، والْمُطْلَقَةِ، والْمُجْمَلَةِ. وَهُوَ ممَّا أَمَرَهُ اللهُ بِهِ في قَوْلهِ: (وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ) [النحل: 44].

فالرسول صلى الله عليه وسلم قد أُمِرَ- بمقتضى هذا النص- أنْ يُبَيِّنَ مَعانيَ القرآن، وما يُؤْخَذُ عَنْهُ مِنْ أحكام في العقائد، والعبادات، والمُعاملات، والأخلاق.

--------------------------------------------

(1) "الثقات" لابن حبان1/ 2 - 3.

(2) جزء من حديث أخرجه البخاري في المغازي (4154) باب: غزوة الحديبية، ومسلم في الإِمارة (1856) (71) باب: استحباب مبايعة الإِمام الجيش عند إرادة القتال.

(3) حلية الأولياء" 6/ 324، وسير أعلام النبلاء 8/ 88.
তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা। অতঃপর তিনি কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সময় অস্থিরতা প্রকাশ কিংবা কোনো বিপদ আসার সময় আশ্রয় গ্রহণের স্থান হিসেবে কেবল তাঁকেই নির্ধারণ করেছেন যাঁর প্রতি আসমানি কিতাব নাজিল হয়েছে। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন তাঁকে ব্যাখ্যার দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে; ফলে তাঁর সুন্নাহ বিবাদমানদের মধ্যে মীমাংসাকারী এবং তাঁর আদর্শ বিরোধীদের মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী (১)। {অতএব তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, অতঃপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} [আন-নিসা: ৬৫]।

আর তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন তাঁরা, যাঁদের সম্বোধন করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, "তোমরা পৃথিবীর সর্বোত্তম অধিবাসী" (২)। তাঁরাই তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর সাথে নাজিলকৃত নূর বা আলোর অনুসরণ করেছিলেন। তাঁরা জানতেন যে, তাঁর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা হলো "আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ, আল্লাহর আনুগত্যের পূর্ণতা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তি অর্জন। কারো পক্ষে এটি পরিবর্তন বা পরিমার্জন করার অবকাশ নেই এবং এর বিরোধী কোনো বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ নেই। যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করবে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে, আর যে এর মাধ্যমে সাহায্য চাইবে সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এটি বর্জন করবে সে মুমিনদের পথ ছাড়া ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে, আর আল্লাহ তাকে সে পথেই পরিচালিত করবেন যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, আর তা কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল" (৩)।

প্রত্যেক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, নববী হাদিস হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী, কাজ ও মৌনসম্মতি। আর এই সবকিছুর মাধ্যমেই তিনি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সাধারণ, নিঃশর্ত ও সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী। এটি এমন বিষয় যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা তাঁকে দিয়েছেন এই বাণীতে: (আর আমি আপনার প্রতি যিকির নাজিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে) [আন-নাহল: ৪৪]।

সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে—এই বাণীর দাবি অনুযায়ী—কুরআনের অর্থসমূহ এবং কুরআন থেকে গৃহীত আকিদা, ইবাদত, মুআমালাত ও আখলাক সংক্রান্ত বিধিবিধানসমূহ বর্ণনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিব্বানের "আত-সিকাত" ১/ ২ - ৩।

(২) হাদিসের অংশবিশেষ যা বুখারি 'মাগাজি' অধ্যায়ে (৪১৫৪), পরিচ্ছেদ: হুদায়বিয়ার যুদ্ধ এবং মুসলিম 'ইমারাহ' অধ্যায়ে (১৮৫৬) (৭১), পরিচ্ছেদ: যুদ্ধকালে ইমামের হাতে সেনাবাহিনীর বায়আত গ্রহণ মুস্তাহাব হওয়া—অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

(৩) "হিলইয়াতুল আউলিয়া" ৬/ ৩২৪, এবং "সিয়ারু আলামিন নুবালা" ৮/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
فكان صلى الله عليه وسلم بسُنَتِهِ الْقَوْليةِ وَالْفِعْلِيةِ، هُوَ الْمُعَبِّرَ عَنْ كِتَاب اللهِ، الدَّالَّ عَلى مَعانيه، الْهَادِيَ إلى طرق تطبيقه. فالقرآن والحديث شيئان متلازمان، لا ينفك أحدهما عن الآخر، وهما المصدران الأساسيان لدين الإِسلام. ولما كان الحديث النبوي مبيناً للقرآن وشارحاً له- وهو صادر عن المعصوم الذي لا ينطق عن الهوى، والمسدد بتَأْيِيدِ اللهِ لَهُ- فقد افترضَ الله عز وجل عَلى العباد طاعَتَهُ،- وَقَرَنَ ذَلِكَ بِطَاعَتِهِ- وَاتِّبَاعَ سُنَّتِهِ، والرجُوعَ إِلَيْها فيما اختلفوا فيه من شيء، والرِّضَى بِها، والتَّسْليمَ لَهَا، وَطَرْحَ مَا سِوَاهَا، وَعَدَمَ الْاعْتِدَادِ بقولِ أحدٍ - كائناً من كانَ- إذَا كانَ يُخَالفها، أو يتأوَّلُهَا عَلى غَيْر وجهها، وَقَدْ جَاءَ ذلِكَ صَراحةً في عِدَّةِ آياتٍ مِنْ كتابِ الله: قال تعالى: (فَلا وَرَبِّكَ َلايُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُ ثُمَّ َلا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً) [النساء: 65]. وقال: (وَأَطِيعُوا اللهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُون) [آل عمران: 132]. وقال: (وَمَنْ يُطِعِ اللهَ والرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفيقاً) [النساء: 69]. وقال: (مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهمْ حَفِيظاً) [النساء: 80]. وقال: (وَأَطِيعُوا اللهَ، وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا) [المائدة: 92]. وقال: (وَمَا كانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَل ضَلَالاً مُبِيناً) [الأحزاب: 36].

সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কথা ও কাজের সুন্নাহর মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, তার অর্থসমূহের নির্দেশক এবং তা প্রয়োগের পদ্ধতির পথপ্রদর্শক ছিলেন। অতএব কুরআন ও হাদিস এমন দুটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়, যাদের একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং এ দুটিই ইসলাম ধর্মের মৌলিক উৎস। যেহেতু নববী হাদিস কুরআনের বিশদ বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যাকারী—আর তা এমন একজন মাসুম (নিষ্পাপ) সত্তার পক্ষ থেকে আগত যিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না এবং আল্লাহর সাহায্যপুষ্ট ও নির্দেশিত—তাই আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করাকে আবশ্যক করেছেন এবং তাকে নিজের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি মতপার্থক্য দেখা দিলে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা, তাতে সন্তুষ্ট থাকা, তা পূর্ণরূপে মেনে নেওয়া, তা ব্যতীত অন্য কিছু বর্জন করা এবং তাঁর সুন্নাহর পরিপন্থী কিংবা অন্যভাবে অপব্যাখ্যা করা হলে অন্য কারো কথা গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি যেই হোন না কেন। আর এটি আল্লাহর কিতাবের বেশ কয়েকটি আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে:

মহান আল্লাহ বলেন: (অতএব তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ না করে, এরপর তুমি যা ফয়সালা দাও সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে না নেয়) [আন-নিসা: ৬৫]।

তিনি আরো বলেন: (আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়) [আলে ইমরান: ১৩২]।

তিনি আরো বলেন: (আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে যাদের ওপর আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও নেককারগণ; আর তারা সঙ্গী হিসেবে কতই না চমৎকার!) [আন-নিসা: ৬৯]।

তিনি আরো বলেন: (যে রাসূলের আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি তোমাকে তাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে পাঠাইনি) [আন-নিসা: ৮০]।

তিনি আরো বলেন: (আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো) [আল-মায়িদাহ: ৯২]।

তিনি আরো বলেন: (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হয়) [আল-আহযাব: ৩৬]।

(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وَقَالَ: (وَمَا آتَكمُ الرَسُولُ فَخُذُوهُ، وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا) [الحشر: 7]. ومن هنا اشتدت عنايةُ صَحابة الرسول صلى الله عليه وسلم بما صدَرَ عَنْه من أقوال وأفعال فحفظوها في صدورهم، وقَيَّد بَعْضَهَا عَدَدٌ غَيْرُ قَليل منهم في الصحف وبلغوها لمن جاء بعدهم من التَّابعين، بِدِقَة بالغةٍ، وَعِنَاية لا نظيرَ لَهَا. ثمَّ جاءَ عصرُ التابعين، فَحَذَوْا حَذْوَ الصَّحابةِ في حِفْظِ الحديثِ وَكِتَابَتِهِ، فكان العالم منهم يتردَّدُ على صَحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين كانوا في بلده، فيحفظ مَرْوَيَّاتِهِمْ، وَيَعْقِلُ فَتَاوِيَهُمْ، ويعي تأويلهم لِلآيِ الْكَريمِ. وَاسْتَقَرَّ الأمْرُ عَلَى ذلِكَ إلَى رَأسِ الْمِئةِ الأولى مِنَ الْهِجْرةِ في وِلايةِ الخليفةِ الرَّاشِدِ عمر بن عبد العزيز، فرأى جَمْعَ الحديثِ والسنن، وتَدْوينَهَا تَدْويناً عاماً خشيةَ أن يضيعَ منها شيءٌ بِمَوْتِ حافظيها، فقد روى مالك في "الموطأ" برواية محمد بن الحسن أن عمر بن عبد العزيز كتب إلى أبي بكر بن محمد بن عَمْرو بن حزم- وكان إذ ذاك على إمرة المدينة المنورة موئل العلماء والحفّاظ-: أن انْظُرْ ما كانَ من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أو سُنَّتِهِ، أو حديث عمر، أو نحو هذا، فاكتبه، فإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ العلم، وذهابَ العُلماءِ، وَأوْصَاهُ ان يكتب ما عند عَمْرَةَ بنتِ عبد الرحمن الأنصارية، والقاسم بن محمد بن أبي بكر، وهما على رأس مَن جمع حديث أُم المؤمنين عائشة، وما عندها من العلم.

 

"وَكتَبَ أيْضاً إلى العالم الجليل، المحدّث الحافظ محمد بن مسلم بن عبيد الله بن عبد الله بن شهاب الزهري ت (124) هـ، أنْ يُدَوِّن الحديث والْعِلْمَ، فكان كما قال أبو الزناد: "يَطُوفُ عَلَى الْعُلَمَاءِ، وَمَعَهُ الألْوَاحُ
এবং তিনি বলেছেন: (রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো) [আল-হাশর: ৭]। এখান থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের তাঁর থেকে বিচ্ছুরিত কথা ও কাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ শুরু হয়। ফলে তাঁরা তা নিজেদের অন্তরে মুখস্থ করে রাখতেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে অনেক সংখ্যক সাহাবী এর কিছু অংশ পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ করেন এবং তাঁদের পরবর্তী তাবিঈদের কাছে তা অত্যন্ত নির্ভুলতা ও অতুলনীয় যত্নের সাথে পৌঁছে দেন। এরপর তাবিঈদের যুগ আসে, তাঁরা হাদীস মুখস্থ ও তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তাঁদের মধ্য থেকে আলেমগণ তাঁদের নিজ শহরে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের কাছে যাতায়াত করতেন, তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ মুখস্থ করতেন, তাঁদের ফতোয়াসমূহ অনুধাবন করতেন এবং পবিত্র আয়াতের বিষয়ে তাঁদের ব্যাখ্যাসমূহ আত্মস্থ করতেন। হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষ ভাগে খলীফায়ে রাশেদ ওমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনকাল পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই চলমান ছিল। অতঃপর তিনি হাদীস ও সুন্নাহসমূহ সংগ্রহ ও একটি সাধারণ সংকলন তৈরির উদ্যোগ নেন এই আশঙ্কায় যে, এর হাফেজদের মৃত্যুর ফলে পাছে তা হারিয়ে না যায়। ইমাম মালেক 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমের কাছে—যিনি তখন উলামা ও হাফেজদের কেন্দ্রস্থল মদীনা মুনাওয়ারার আমির ছিলেন—লিখে পাঠান: "তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বা তাঁর সুন্নাহ, কিংবা ওমরের হাদীস বা এই জাতীয় যা আছে তা অনুসন্ধান করো এবং লিখে নাও; কেননা আমি ইলম বিলীন হয়ে যাওয়ার এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।" তিনি তাঁকে আমুরা বিনতে আবদুর রহমান আনসারী এবং কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের কাছে যা আছে তা লিখে রাখার নির্দেশ দেন, কারণ তাঁরা উম্মুল মুমিনীন আয়েশার হাদীস ও ইলম সংগ্রহকারীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন।

 

তিনি বরেণ্য আলেম, মুহাদ্দিস ও হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হি.)-এর কাছেও হাদীস ও ইলম লিপিবদ্ধ করার জন্য লিখে পাঠান। তখন অবস্থা আবুয যিনাদের বর্ণনানুযায়ী এমন ছিল: "তিনি আলেমদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতেন এবং তাঁর সাথে লিখনী ফলক থাকত।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالصحُفُ، يَكْتُبُ كُلَّ مَا يَسْمَعُ" (1).

 

ثُمَّ شاعَ التدوين في الطبقةِ الَّتي تَلِي طبقة الزهري، وَأبي بكر بن حزم، فصنّف عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج بمكة، ت (150) هـ، وأبو عمرو عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي، ت (156 هـ) بالشَّامِ، وأبو عبد الله سفيان بن سعيد الثوري، ت (161 هـ) بالكوفة، وحماد بن سلمة بن دينار، ت (176 هـ) بالبصرة، وَمَعْمَرُ بْنُ رَاشِد، ت (151 هـ) باليمن، كتابه الجامع (2)، ومحمد بن إسحاق، ت (151 هـ) صاحب السيرة والمغازي، وعبد الله بن المبارك، ت (181 هـ) بِخُرَاسَان، وهُشَيم بن بشير، ت (188 هـ) بواسط، وجرير بن عبد الحميد، ت (188 هـ) بالرَّي، والليث بن سعد ت (175 هـ) بمصر.

 

ثم تَلاهم كثير من أهل عصرهم في النَّسْج عَلى مِنْوَالِهم، إلى أنْ رَأى

بَعْضُ الأَئِمَّةِ منهم أنْ يُفْرِدَ حديثَ النبي صلى الله عليه وسلم خاصةً، وَذلِك على رأس المئتين، فصنف عبيد الله بن موسى العبسي، ت (213 هـ) مُسْنَداً، وصنّف مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ الْبَصْري، ت (228 هـ) مُسْنداً، وصنف أسَدُ بن مُوسى الأموي ت (212 هـ) مُسْنداً، وَصَنَّف نُعَيم بن حمَّاد الخزاعي، ت (228 هـ) مُسْنداً- وكانَ نَزِيلَ مِصْرَ.

 

ثُمَّ اقْتَفَى الأئِمَّةُ- بعد ذَلِكَ- أثَرَهُمْ. فَقَلَّما نَجِدُ إِماماً من الحفَّاظ إلا وصنّف حديثه على المسانيد، كالإمام أحمد بن حنبل، ت (241 هـ).

--------------------------------------------

(1) انظر "الأموال" لأبي عبيد ص 358 - 359، والبخاري في العلم، باب: كيف يقبض العلم، وسير أعلام النبلاء 5/ 328، وانظر مقدمة فتح الباري ص 6 - 7، وتدريب الراوي 2/ 90.

(2) وهو ملحق بالمصنف، بدؤه فى 10/ 379، ونهايتة نهاية المجلد (11).
এবং পাণ্ডুলিপিসমূহ, তিনি যা শুনতেন তার প্রতিটিই লিখে রাখতেন (১)।

 

অতঃপর যুহরি এবং আবু বকর বিন হাজমের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে গ্রন্থায়নের কাজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মক্কায় আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ (মৃত্যু ১৫০ হি.), সিরিয়ায় আবু আমর আব্দুর রহমান বিন আমর আল-আওযায়ী (মৃত্যু ১৫৬ হি.), কুফায় আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরি (মৃত্যু ১৬১ হি.), বসরায় হাম্মাদ বিন সালামাহ বিন দিনার (মৃত্যু ১৭৬ হি.), ইয়ামেনে মা'মার বিন রাশিদ (মৃত্যু ১৫১ হি.) তাঁর ‘আল-জামি’ গ্রন্থটি (২), সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের রচয়িতা মুহাম্মদ বিন ইসহাক (মৃত্যু ১৫১ হি.), খুরাসানে আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হি.), ওয়াসিতে হুশাইম বিন বাশির (মৃত্যু ১৮৮ হি.), রায় শহরে জারির বিন আব্দুল হামিদ (মৃত্যু ১৮৮ হি.) এবং মিশরে লাইস বিন সাদ (মৃত্যু ১৭৫ হি.) গ্রন্থ সংকলন করেন।

 

অতঃপর তাদের সমসাময়িক আরও অনেকেই তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। শেষ পর্যন্ত হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে তাদের মধ্য থেকে কিছু ইমাম কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে পৃথকভাবে সংকলন করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ধারায় উবায়দুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি (মৃত্যু ২১৩ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন, মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ আল-বাসরি (মৃত্যু ২২৮ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন, আসাদ বিন মুসা আল-উমাবি (মৃত্যু ২১২ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন এবং নুআইম বিন হাম্মাদ আল-খুযায়ী (মৃত্যু ২২৮ হি.)—যিনি মিশরের বাসিন্দা ছিলেন—একটি মুসনাদ সংকলন করেন।

 

অতঃপর পরবর্তী ইমামগণ তাদের পথ অনুসরণ করেন। ফলে হাফিয ইমামদের মাঝে এমন কাউকে খুব কমই পাওয়া যাবে, যিনি মুসনাদ পদ্ধতিতে হাদিস সংকলন করেননি, যেমন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আবু উবাইদ প্রণীত "আল-আমওয়াল" পৃ. ৩৫৮-৩৫৯; বুখারি, কিতাবুল ইলম, অধ্যায়: কীভাবে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/৩২৮; ফাতহুল বারির ভূমিকা পৃ. ৬-৭; এবং তাদরীবুর রাবি ২/৯০।

(২) এটি মুসান্নাফ গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত, যার শুরু ১০/৩৭৯ পৃষ্ঠায় এবং সমাপ্তি ১১তম খণ্ডের শেষে।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإسحاق بن راهويه، ت (238 هـ)، وعثمان بن أبي شيبة، ت (239 هـ)، وغيرهم من النُّبَلَاءِ.

وَمِنْهم مَنْ صَنَّف على الأبواب، وَعَلَى المسانيدِ مَعاً، كأبي بكر بن عبد الله بن أبي شيبة، ت (235 هـ).

فلما رأى البخاري -رحمه الله تعالى- هذه التَّصانيفَ ورواها، وَانْتَشَقَ رَيَّاهَا، وَاسْتَجْلَى مُحَيَّاهَا، وَجَدَها- بحسب الوضع- جَامِعَةً بين مَا يدخل تَحْتَ التصْحيح والتَّحْسين، والكثير منها يشمله التضعيف فلا يقال لغثه سمين، تحرَّكَتْ هِمَّتُهُ لِجَمْعِ الحديثِ الصَّحيح الذي لا يرتاب فيه أمين.

وَقوَّى عَزْمَهُ عَلى ذلكَ ما سَمِعَهُ مِنْ أُسْتاذه- أَمِير المؤمنين في الحديث والفقه- إِسْحاق بن إبراهيم الحنظلي المعروف بابن راهويه- وقد كان البخاريُ عِنْدَه-: لو جمعتم كتاباً مُختصراً لصحيح سُنَةِ رَسول الله صلى الله عليه وسلم؟.

قالَ: فَوَقَعَ ذلِكَ في قَلْبِي، فَأخَذْتُ في جَمْعِ "الْجَامِعِ الصًحِيح" (1). ثم تلاه تلميذُهُ وَصَاحبُهُ: أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري، فصنف ثاني كتابين مَلآَ الدنيا وَشَغَلا النَّاسَ، فَكَانا الْبِدَايَةَ- وَنِعْمَتِ الْبِدَايَةُ- وكانا النواةَ والمنهج للباحثين في هذا المضمار الشريف.

وَلكِنَّهُمَا -رحمهما الله- لَمْ يَسْتَوْعبا الصحيحَ بما جَمَعَاه، وَلا الْتَزَمَا ذلِكَ، وَقَدْ رَوَيْنَا عَن الْبُخَاريَّ أنهُ قَالَ: "مَا أَدْخَلْتُ فِي كِتَابيَ "الْجَامِعَ " إلا مما صحً، وَتَرَكْتُ مِنَ الضَحَاحِ لِمَلالِ الطَولِ".

وَرَوَئنَا عَن مُسْلمٍ أنه قال. "لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِي صَحِيحٌ وَضْعَتْهُ هُنَا يعني في صحيحه- وَإِئمَا وَضعْتُ هُنا مَا أَجْمَعُوا عَلَى صِحَتِهِ" (2).

--------------------------------------------

(1) هدى السارى ص (6)،مقدمة ابن الصلاح ص:10.

(2) هدى السارى ص (7)،مقدمة ابن الصلاح ص:10.
এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি), এবং উসমান বিন আবু শাইবাহ (মৃত্যু ২৩৯ হিজরি), এবং অন্যান্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ অধ্যায়ভিত্তিক এবং মাসানিদ (রাবি-ভিত্তিক) উভয় পদ্ধতিতেই কিতাব সংকলন করেছেন, যেমন আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু শাইবাহ (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি)।

যখন ইমাম বুখারী—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এই সংকলনগুলো দেখলেন এবং সেগুলো বর্ণনা করলেন, এগুলোর সৌরভ গ্রহণ করলেন এবং এগুলোর সৌন্দর্য অবলোকন করলেন, তখন তিনি সেগুলোকে—সংকলন রীতি অনুযায়ী—সহীহ ও হাসান হাদীসের সংমিশ্রণ হিসেবে পেলেন। এবং এগুলোর অনেকগুলোর মধ্যেই দুর্বল বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই এর অসার বিষয়কে সারবস্তু বলা যায় না। এমতাবস্থায় এমন সহীহ হাদীসসমূহ একত্রিত করার জন্য তাঁর সংকল্প জাগ্রত হলো, যে বিষয়ে কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করবে না।

এবং এ বিষয়ে তাঁর সংকল্পকে আরও দৃঢ় করল যা তিনি তাঁর উস্তাদ—হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনীন—ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালি, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত, তাঁর থেকে শুনেছিলেন—তখন বুখারী তাঁর কাছেই উপস্থিত ছিলেন—: "আপনারা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ সুন্নাহর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতেন?"

তিনি বলেন: এই কথাটি আমার হৃদয়ে রেখাপাত করল, ফলে আমি 'আল-জামি আস-সহীহ' সংকলনে আত্মনিয়োগ করলাম (১)। এরপর তাঁর অনুগামী হলেন তাঁর ছাত্র ও সাথী: আবু হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী। তিনি এমন দুটি কিতাবের দ্বিতীয়টি সংকলন করলেন যা বিশ্বকে পূর্ণ করে দিয়েছে এবং মানুষকে ব্যাপৃত রেখেছে। এ দুটি ছিল সূচনা—আর কতই না চমৎকার সেই সূচনা—এবং এই মহান অঙ্গনের গবেষকদের জন্য তা ছিল মূল ভিত্তি ও আদর্শ পথ।

কিন্তু তাঁরা উভয়েই—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁদের সংকলনসমূহে সমস্ত সহীহ হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং এর প্রতিশ্রুতিও দেননি। আমরা ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "আমি আমার 'জামি' কিতাবে কেবল সহীহ হাদীসই অন্তর্ভুক্ত করেছি, আর দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আরও অনেক সহীহ হাদীস বাদ দিয়েছি।"

আমরা ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "আমার নিকট সহীহ হিসেবে গণ্য এমন সবকিছু আমি এখানে—অর্থাৎ তাঁর সহীহ গ্রন্থে—রাখিনি; বরং আমি এখানে কেবল সেগুলোই সংকলন করেছি যেগুলোর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন" (২)।

--------------------------------------------

(১) হুদাস সারী, পৃষ্ঠা (৬), মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা: ১০।

(২) হুদাস সারী, পৃষ্ঠা (৭), মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা: ১০।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ورَوى الحازمي والإسْماعيلي عن البخاري قوله: "وَمَا تَرَكْتُ مِنَ الصِّحَاحِ أَكْثَرُ" (1). وَهذِهِ النّقولُ اعْتِرافٌ صَريحٌ مِنْهُمَا بِأَنَّهُمَا لَمْ يَذْكُرَا فِي كِتَابَيْهِمَا كُلَّ الصّحِيحِ. فَالْمَجَالُ إذاً وَاسِعٌ، والميدانُ فَسيحٌ أَمامَ مَنْ تَتَحقَّقُ فيه العزيمَةُ، وَصِدْقُ القَصْدِ، وَسَعَةُ الاطِّلاعِ، ودِقَةُ النَّقْدِ لِيُتِمَّ مَا بَدَأَ بِهِ هذانِ الإِمامان العظيمان. وَقَدْ نَهَضَ لِهَذِهِ الْمَهَمَّةِ، الحافظُ الكبيرُ، شيخ الإِسلام، إمام الأئمة، محمد بن إسحاق بن خزيمة (223 - 311 هـ) مُحَاوِلاً استيعابَ الصَحيح في مصنف، قد ضاع مع ما ضاع من ميراثنا العظيم، ولم يبق منه إلا ربعه (2)

 

ثُمَ تَلَقَّفَ الرَّايَةَ من بعده تلميذه النجيبُ، الإِمامُ الحافطُ، أبو حاتم محمد بن حبان البستي، الذي نحن بصدد التعريف به وبكتابه الضخم المسمى بـ "الْمُسْندُ الصَّحِيحُ عَلَى التَّقاسِيمِ وَالأَنْوَاعِ، مِنْ غَيْرِ وُجُودِ قطعٍ فِي سَنَدِهَا وَلَا ثُبُوتِ جَرْحٍ. فِي نَاقِلِيهَا" (3)، والمشهور بين أهل العلم ب "صحيح ابن حبان".

--------------------------------------------

(1) هدى الساري ص (7)، مقدمة ابن الصلاح ص: 10.

(2) وقد قام بتحقيق ما باقي من هذا المصنف العظيم، الدكتور محمد مصطضى الأعظمى، وقد أخرجه في أربعة أجزاء تبدأ بكتاب "الطهارة" وتنتهي بكتاب "الحج" باب: إباحة العمر قبل الحج.

(3) ويقع في "سبعة أسفار". فقد روى الوادى أشي (749) هـ في "برنامجه"ص (204) أنه قرأ جميع التقاسيم والأنواع بسنده، بحرم الله تعالى تجاه الكعبه المعظمة، على إمام المقام الشريف رضي الدين أبي إسحاق إبراهيم الطبرى وكان فى سبعة أسفار دون ما اتصل به من الكلام عليه، ثم قال:" وناولنيه الشيخ شمس=
আল-হাজিমি এবং আল-ইসমাইলি ইমাম বুখারি থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "আমি যে পরিমাণ সহিহ হাদিস বর্জন করেছি তার সংখ্যা অনেক বেশি" (১)। এই বর্ণনাগুলো তাঁদের পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট স্বীকৃতি যে, তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে সমস্ত সহিহ হাদিস উল্লেখ করেননি। সুতরাং ক্ষেত্রটি প্রশস্ত এবং ময়দানটি উন্মুক্ত তাদের জন্য যাদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্প, উদ্দেশ্যের সততা, ব্যাপক জ্ঞান এবং সূক্ষ্ম সমালোচনা-শক্তির সমন্বয় ঘটেছে, যাতে এই দুই মহান ইমাম যা শুরু করেছিলেন তা সম্পন্ন করা যায়। আর এই গুরুদায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়েছিলেন মহান হাফেজ, শায়খুল ইসলাম, ইমামগণের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা (২২৩ - ৩১১ হিজরি)। তিনি একটি সংকলনে সমস্ত সহিহ হাদিস অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, যা আমাদের অন্যান্য মহান ঐতিহ্যের সাথে হারিয়ে গেছে এবং এর মাত্র এক-চতুর্থাংশ অবশিষ্ট রয়েছে (২)।

 

এরপর তাঁর যোগ্য ছাত্র, ইমাম হাফেজ আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি সেই ঝাণ্ডা হাতে তুলে নেন, যাঁর এবং যাঁর বিশাল গ্রন্থ—যাঁর নাম "আল-মুসনাদুস সহিহ আলাত তাকাসিমি ওয়াল আনওয়া', মিন গইরি উজূদি কত'ইন ফি সনাদিহা ওয়ালা সুবূতি জারহিন ফি নাকিলিহা" (৩), এবং যা আলেমদের নিকট "সহিহ ইবনে হিব্বান" নামে প্রসিদ্ধ—সম্পর্কে আমরা পরিচিতি তুলে ধরতে যাচ্ছি।

--------------------------------------------

(১) হুদাস সারি, পৃষ্ঠা: ৭; মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা: ১০।

(২) এই মহান সংকলনের যা অবশিষ্ট রয়েছে তা তাহকিক করেছেন ড. মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আজমি। তিনি এটি চার খণ্ডে বের করেছেন যা "পবিত্রতা অধ্যায়" থেকে শুরু হয়ে "হজ অধ্যায়" এর "হজের পূর্বে ওমরাহ করার বৈধতা" পরিচ্ছেদে শেষ হয়েছে।

(৩) এটি "সাতটি বৃহৎ খণ্ডে" বিন্যস্ত। আল-ওয়াদি আশি (৭৪৯ হিজরি) তাঁর "বারনামাজ" গ্রন্থের ২০৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর পবিত্র হারাম শরিফে মহান কাবার সামনে পবিত্র মাকামের ইমাম রাজি উদ্দিন আবু ইসহাক ইবরাহিম আত-তবারির নিকট তাঁর সনদে পূর্ণ তাকাসিম ও আনওয়া পাঠ করেছেন। এটি তার ওপর সংশ্লিষ্ট আলোচনা ছাড়াই সাতটি বৃহৎ খণ্ডে ছিল। এরপর তিনি বললেন: "আর শায়খ শামস এটি আমাকে প্রদান করেছেন—
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

=الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي الهيجاء الزراد الصالحين، الدمشقي، بجامع الصالحية، وكان في ستة أسفار". وهذا النقل يعني أن كتاب "التقاسيم والأنواع " كانت أصوله متداولة بين أهل العلم في مكة والشام، يسمعونه على الشيوخ ليتصل سماعهم بمؤلفه توثقاً وضبطاً. غير أن هذا التداول وهذا الاهتمام، وهذا الجهد كان محدوداً، وما كان بالقدر الذي يتناسب مع المكانة العظيمة التي يحتلها هذا المصنف الجليل، والدليل على ذلك أننا- وللأسف- حتى ساعة كتابة هذه الأسطر لم نقف على أصل خطي كامل له، على الرغم من البحث والتفتيش عنه في المكتبات العامة والخاصة، وربما نقع على ذلك -إن شاء الله- فيما نستقبل من الأيام. لذلك فإننا نرجو أهل العلم أن يزودونا بعلمهم فيما إذا اهتدوا إلى مكان وجود نسخة كاملة من هذا المصنف الجليل لنسعى إلى الحصول عليها، ولن يذهب العرف بين الله والناس.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

=আদ-দ্বীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আবিল হাইজা আজ-জাররাদ আস-সালিহিন, আদ-দিমাশকি, জামে আস-সালিহিয়্যাতে; এবং এটি ছয় খণ্ডে ছিল।" এই বর্ণনাটির অর্থ হলো, 'আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া' কিতাবটির মূল পাণ্ডুলিপিগুলো মক্কা ও শামের আলেমদের নিকট প্রচলিত ছিল, তারা নির্ভরযোগ্যতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে শায়খদের নিকট এটি শ্রবণ করতেন যাতে লেখকের সাথে তাদের শ্রবণের ধারাবাহিকতা বা সনদ যুক্ত থাকে। তবে এই প্রচার-প্রসার, এই মনোযোগ এবং এই প্রচেষ্টা ছিল সীমিত; যা এই মহান গ্রন্থের উচ্চ মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এর প্রমাণ হলো—দুর্ভাগ্যবশত—এই পঙক্তিগুলো লেখা পর্যন্ত আমরা এই কিতাবের কোনো পূর্ণাঙ্গ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি, যদিও সরকারি ও বেসরকারি পাঠাগারগুলোতে ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান ও খোঁজখবর চালানো হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, সম্ভবত অদূর ভবিষ্যতে আমরা এর সন্ধান পেয়ে যাব। তাই আমরা বিজ্ঞ আলেমদের নিকট অনুরোধ করছি যে, তারা যদি এই মহান গ্রন্থের কোনো পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন, তবে যেন আমাদের তা অবহিত করেন; যাতে আমরা তা সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে পারি। আর আল্লাহ ও মানুষের মাঝে কোনো সৎকর্মই বৃথা যায় না।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ابن حبان (1)

‌‌التعريف به وببيئته:

هوَ الإمام العَلَاّمَةُ، الحَافظ المجوِّدُ، المحقِّقُ الفَاضِلُ، شَيْخ خراسانَ، محمد بن حبان، بن أحمد بن حبان بن معاذ بن معبد، بن سَعيد بن سَهِيد، ويقال: ابن معبد بن هدية بن مُرَّةَ، بن سعد بن يزيد بن زيد، بن عبد الله بن دَارم ابن مالك، بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم بن مُرة بن أُدّ، بن طابخة بن إلياس، بن مُضر بن معد بن عدنان، أبو حاتم التميمي البستي، القاضي، أحد الأئمة الرحّالين والمصنفين.

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة: الأنساب 2/ 209 - 210، معجم البلدان 1/ 415 - 419، إنباء الرواة 3/ 122، الكامل لابن الأثير 8/ 266، اللباب 1/ 151، المختصر في أخبار البشر 2/ 105 - 106، مختصر طبقات علماء الحديث لابن عبد الهادي الورقة (160)، سير أعلام النبلاء 16/ 92 - 104، تذكرة الحفاظ 3/ 920 - 924، ميزان الاعتدال 3/ 506 - 508، العبر 2/ 300، دول الإِسلام 1/ 220، الوافي بالوفيات 2/ 317 - 318، عيون التواريخ/ 11/ الورقة (130)، مرآة الجنان 2/ 357، طبقات الشافعية للسبكي 3/ 131 - 135، البداية والنهاية 11/ 59، لسان الميزان 5/ 112 - 115، النجوم الزاهرة 3/ 342، طبقات الحفاظ للسيوطي ص: (374 - 375)، النحوم الزاهيه 2/ 343،شذرات الذهب 3/ 16، هدية العارفين 2/ 44 - 45، الرسالة المستطرفة للكتاني صر (20 - 21). الأعلام 6/ 78، ومعجم المؤلفين 9/ 173 - 174 وفيه كثير من مصادر الترجمة.
ইবনে হিব্বান (১)

তাঁর পরিচয় ও তাঁর পরিবেশ:

তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা (মহা পণ্ডিত), হাফিজ (হাদিস বিশারদ), সুনিপুণ গবেষক, পুণ্যবান মুহাক্কিক, খোরাসানের শায়খ, মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ ইবনে হিব্বান ইবনে মুআয ইবনে মা’বাদ ইবনে সাঈদ ইবনে সাহীদ। এবং বলা হয়: ইবনে মা’বাদ ইবনে হাদিয়্যাহ ইবনে মুররাহ ইবনে সা’দ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে যায়দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দারিম ইবনে মালিক ইবনে হানযালাহ ইবনে মালিক ইবনে যায়দ মানাত ইবনে তামীম ইবনে মুররাহ ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিখাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে মা’দ ইবনে আদনান; আবু হাতিম আত-তামীমী আল-বুসতী, আল-কাদী (বিচারক), পর্যটক ও গ্রন্থকার ইমামগণের অন্যতম।

--------------------------------------------

(১) জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহ: আল-আনসাব ২/ ২০৯-২১০, মু’জামুল বুলদান ১/ ৪১৫-৪১৯, ইনবাউর রুওয়াত ৩/ ১২২, ইবনুল আসীরের আল-কামিল ৮/ ২৬৬, আল-লুবাব ১/ ১৫১, আল-মুখতাসার ফী আখবারিল বাশার ২/ ১০৫-১০৬, ইবনে আব্দুল হাদীর মুখতাসার তাবাকাতু উলামাইল হাদীস পত্র (১৬০), সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৬/ ৯২-১০৪, তাযকিরাতুল হুফফায ৩/ ৯২০-৯২৪, মীযানুল ইতিদাল ৩/ ৫০৬-৫০৮, আল-ইবার ২/ ৩০০, দুওয়ালুল ইসলাম ১/ ২২০, আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ২/ ৩১৭-৩১৮, উয়ুনুত তাওয়ারীখ ১১/ পত্র (১৩০), মিরআতুল জিনান ২/ ৩৫৭, সুবকীর তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ৩/ ১৩১-১৩৫, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/ ৫৯, লিসানুল মীযান ৫/ ১১২-১১৫, আন-নুজুমুয যাহিরাহ ৩/ ৩৪২, সুয়ূতীর তাবাকাতুল হুফফায পৃষ্ঠা: (৩৭৪-৩৭৫), আন-নুজুমুয যাহিরাহ ২/ ৩৪৩, শাযারাতুয যাহাব ৩/ ১৬, হাদিয়্যাতুল আরিফীন ২/ ৪৪-৪৫, কাত্তানীর আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ পৃষ্ঠা (২০-২১)। আল-আ’লাম ৬/ ৭৮ এবং মু’জামুল মুআল্লিফীন ৯/ ১৭৩-১৭৪, যাতে জীবনীর আরও অনেক উৎস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وُلِدَ بِبُست (1)؟ تلك البلدة التي ازدهت بجمالها، وكانت دُرَّةً في عِقْد الاسلام إذا مَا عُرِّجَ عَلَى ذكْر عُلمَائِهَا وَرِجَالِهَا: إِذَا قِيلَ: أَيُّ الأرْضِ فِي النَّاسِ زِينَةٌ … أَجَبْنَا وَقُلْنَا: أَبْهَجُ الأرْضِ بُسْتُها فَلَوْ أَنَّنِي أَدْرَكْتُ يَوْماً عَمِيدَهَا … لَزِمْتُ يَدَ الْبُسْتِيِّ دَهْراً وَبُسْتُهَا (2) في هذه البقعة من العالم الإِسْلامي، التي حمل إليها الفاتحون- مَعَ العَدالة والدِّيَانَةِ، والرَّحمَةِ " وَالعِمْرَانِ- الحضارةَ والعلمَ والبيانَ وصُنُوفَ المعرفَةِ. فِي هذِهِ البقعة الطِّيبَةِ وُلِدَ هذا الإِمامُ العظيمُ، فَكَانَ عَدْنَانِيَّ النَّسَبِ، أَفَغَانِيَّ الْمَوْلِدِ وَالنَّشْاةِ. وَتدُور عَجَلَةُ الزَّمَنِ، وَيمْضي أَكْثَرُ مِنْ رُبْع قَرْنٍ عَلَى مولد هذَا الإِمام الكبيرِ، دُونَ أَنْ تُحَدِّثَنَا كُتُبُ التَّرَاجِمِ شَيْئاً عَنْ نَشاتِهِ الَأولَى، وَالأحْداثِ الَّتي تعرَّضَ لَهَا، وَطَلبِهِ للعلم، وَاشْتِرَاكِهِ فِي أحْدَاثِ عَصْرِهِ.

--------------------------------------------

(1) - مدينة كبيرة بين سجستان وغزنين وهداة، وهي كثيرة الأنهار والبساتين. سئل عنها بعض الفضلاء فقال: هي كتثنيتها- يعني: بستان. وقد خرج منها جماعة من أعيان الفضلاء منهم: الإِمام الكبير، الفقيه، اللغوي، أبو سليمان الخطابي صاحب "معالم السنن" و"إعجاز القرآن" و"غريب الحديث" وغيرها. ومنهم الأديب البليغ أبي الفتح علي بن محمد البستي صاحب القصيدة السائرة في الحكمة، ومطلعها: زِيادَةُ الْمَرْءِ في دُنْيَاهُ نُقُصَانُ … وَرِبْحُهُ غَيْرَ مَحضِ الْخَيْرِ خُسْرَانُ

(2) قائل ذلك- هو عمران بن موسى بن محمد بن عمران الطَّوْلَقِيّ، يمدح أبا الفتح البسبتي، الشاعر، الكاتب، صاحب التخميس. معجم البلدان1/ 415.
তিনি কি বুস্তে (১) জন্মগ্রহণ করেন? এটি সেই জনপদ যা তার সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত ছিল, এবং যখনই এর আলেম ও মনীষীদের আলোচনার অবতারণা করা হয়, তখন এটি ইসলামের কণ্ঠহারের এক উজ্জ্বল মুক্তা হিসেবে প্রতীয়মান হয়: যখন বলা হয়: মানুষের মাঝে কোন ভূমিটি অলঙ্কারস্বরূপ? … আমরা উত্তর দিয়ে বলি: সবচেয়ে আনন্দময় ভূমি হলো বুস্ত। আমি যদি কোনোদিন এর প্রধানের সাক্ষাৎ পেতাম … তবে আমি চিরকাল সেই বুস্তবাসীর হাত ও বুস্তকে আঁকড়ে থাকতাম (২)। ইসলামী বিশ্বের এই ভূখণ্ডে, যেখানে বিজেতারা—ইনসাফ, ধর্মপরায়ণতা, দয়া ও সমৃদ্ধির সাথে—সভ্যতা, জ্ঞান, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং বিভিন্ন প্রকারের প্রজ্ঞা বয়ে এনেছিলেন; এই পবিত্র ভূমিতেই এই মহান ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বংশসূত্রে ছিলেন আদনানি, আর জন্ম ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে আফগানি। সময়ের চাকা আবর্তিত হয়, এবং এই মহান ইমামের জন্মের পর এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, অথচ জীবনীগ্রন্থগুলো আমাদের তাঁর শৈশব, তাঁর জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহ, তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ এবং সমকালীন ঘটনাবলিতে তাঁর অংশগ্রহণ সম্পর্কে কিছুই জানায় না।

--------------------------------------------

(১) - সিজিস্তান, গজনীন ও হারাতের মধ্যবর্তী একটি বৃহৎ শহর; এটি অসংখ্য নদী ও বাগানে সমৃদ্ধ। কিছু বিদগ্ধ ব্যক্তিকে এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি এর দ্বিবচন শব্দের ন্যায়—অর্থাৎ: বুস্তান (বাগান)। সেখান থেকে একদল বিশিষ্ট গুণীজন বের হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: মহান ইমাম, ফকিহ, ভাষাবিদ আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবি, যিনি "মাআলিমুস সুনান", "ইজাযুল কুরআন", "গারিবুল হাদিস" ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। আরও রয়েছেন বাগ্মী সাহিত্যিক আবুল ফাতহ আলী বিন মুহাম্মদ আল-বুস্তি, যিনি প্রজ্ঞা বিষয়ক সেই প্রসিদ্ধ কবিতার রচয়িতা, যার সূচনা হলো: দুনিয়াতে মানুষের প্রবৃদ্ধি আসলে এক প্রকার ঘাটতি … আর নিরঙ্কুশ কল্যাণ ব্যতীত তার লাভ হলো প্রকৃত ক্ষতি।

(২) এর বক্তা হলেন ইমরান বিন মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইমরান আত-তাওলাকি; তিনি কবি, লেখক ও তাখমিস রচয়িতা আবুল ফাতহ আল-বুস্তির প্রশংসা করছেন। মুজামুল বুলদান, ১/৪১৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد ضَنَّتْ عَلَيْنَا كُتُبُ التَّرَاجِم بكُلِّ ذلِكَ، فَأصْبَحَ ضَائعاً فِي مَتَاهَةِ تاريخ بَعيدٍ لَمْ يُدْرَسْ، وَلَمْ تُسَلِّط، وَلَو شعاعاً وَاحِداً عَلَى جَانبٍ مِنْ جَوانِب هذِهِ الْحَيَاةِ الْكَريمَةِ!! ..

 

‌‌أسباب خروجه من بلده:

بَعْد مُضي هذهِ الفترةِ الغامِضَةِ، نَجدُ ابنَ حبان شَريداً طَريداً، أُكْره عَلى مُفارقة الأهلِ الذين أَحَبَّ، وَالموْطِنِ الَّذي هَام بِهِ وترعرع فِيه. ونسأل عن سبب ذلكَ، فتحدد لنا كتب التراجم سببين لهذا الإخراج المقيت: يَقولُ الذَّهبي في "ميزان الاعَتدال" 3/ 507: "قال أبو إسماعيل الأنصاري، شيخ الإسلام: سألت يحيى بن عمار عن أبي حاتم بن حبان: رَأيْتَهُ؟. فَقَالَ رَأيتُهُ، وَنَحْن أخْرَجناهُ مِنْ سَجستان، كان لهُ علمٌ كَثيِرٌ، ولم يكنْ لهُ كبيرُ دينٍ، قدمَ علينا، فَأنكرَ الحدَّ لله، فَأخرجْنَاهُ" (1). وقال أبو إسماعيل الأنصاري: "سَمِعْتُ عَبْدَ الصمدِ بْنَ مُحمد بن

--------------------------------------------

(1) تعقب الإمام الذهبي هذا القول في "سير أعلام النبلاء" 16/ 97 - 98 بقوله: "قلت: إنكارُكم عليه بِدْعَة أَيْضاً، والخوض في ذلِكَ مما لم يأذن بهِ الله، ولا أتى نصُّ بإثبات ذلك ولا بنفيه، ومن حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه، وتعالى اللهُ أَنْ يُحَدَّ، أَوْ يُوصَفَ إِلَاّ بمَا وَصَفَ بهِ نَفْسَهُ، أَوْ عَلَّمَهُ رُسُلَة بالمعنى الَّذي أرادَ، بِلَا مِثْل وَلَا كَيْفٍ {لَيْسَ كَمِثْلِهَ شَيْء وَهُوًالسمِيعُ الْبَصِيرُ}. [الشورى: 11] ". وقال ابن حَجَرٍ في"لسان الميزان" 5/ 114 بعد أن ذكر القول هِذا: "وَالحَقُّ أَنَّ الحَقَّ مَعَ ابْن حِبَّان". وقال السُّبْكى في "طبقات الشافعية الكبرى" 3/ 132 - 133: "قُلْت َ، انْظُرْ مَا أَجْهَلَ هذَاَ الجارِحَ! وَلَيْتَ شِعْرِي مَن الْمَجْرُوحُ؟ مُثْبتُ الْحَدِّ، أَوْ نَافِيهِ؟. وَقَدْ رَأَيْتُ للحافظ صلاح الدين خَليل بن كيكلديَ العلائي رحمه الله عَلَى هُنا كَلَاماً أَحْبَبْتُ نَقْلَهُ بعِبَارَتِهِ، قَالَ رحمه الله ومن خطه نقلت: "يَا الله العجب!! مَنْ أَحَقُّ بِاْلإخْرَاجِ، وَالتَبْدِيعِ، وَقِلًةِ الدِّينِ؟!.
জীবনী গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে এই সবকিছু প্রকাশ করতে কার্পণ্য করেছে, ফলে তা এক সুদূর ইতিহাসের গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছে যা অধ্যয়ন করা হয়নি এবং এই মহীয়ান জীবনের কোনো একটি দিকের ওপর একটি আলোকচ্ছটাও ফেলা হয়নি!! ..

 

‌‌তার নিজ দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণসমূহ:

এই অস্পষ্ট সময়কাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর, আমরা ইবনে হিব্বানকে লক্ষ্য করি দেশান্তরী ও বিতাড়িত অবস্থায়, যাকে তার প্রিয়জন যাদের তিনি ভালোবাসতেন এবং যে জন্মভূমিতে তিনি বিচরণ করেছেন ও বড় হয়েছেন, তা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। আমরা এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, তখন জীবনী গ্রন্থসমূহ আমাদের জন্য এই ন্যক্কারজনক বহিষ্কারের দুটি কারণ নির্ধারণ করে দেয়: যাহাবি 'মিজানুল ইতিদাল' ৩/ ৫০৭-এ বলেন: "শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাইল আল-আনসারী বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন আম্মারকে আবু হাতিম বিন হিব্বান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: আপনি কি তাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি তাকে দেখেছি এবং আমরাই তাকে সিজিস্তান থেকে বের করে দিয়েছি। তার প্রচুর ইলম ছিল, তবে তার মধ্যে খুব একটা দ্বীনদারি ছিল না। তিনি আমাদের নিকট আসলেন এবং আল্লাহর জন্য সীমা (হদ) অস্বীকার করলেন, তাই আমরা তাকে বের করে দিলাম" (১)। এবং আবু ইসমাইল আল-আনসারী বলেন: "আমি আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন... এর নিকট শুনেছি

--------------------------------------------

(১) ইমাম যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ১৬/ ৯৭ - ৯৮-এ এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন: "আমি বলি: তার ওপর আপনাদের এই আপত্তি তোলাও একটি বিদআত। এমন বিষয়ে লিপ্ত হওয়া যা আল্লাহ অনুমতি দেননি এবং যে বিষয়ে তা সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার কোনো দলিল আসেনি। কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা। আল্লাহ সুউচ্চ, তাকে কোনো সীমানায় সীমাবদ্ধ করা বা তার গুণ বর্ণনা করা যাবে না, কেবল সেভাবেই যা দিয়ে তিনি নিজে নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন অথবা তার রাসূলগণকে সেই অর্থেই শিখিয়েছেন যা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন, কোনো সাদৃশ্য বা ধরণ ছাড়াই {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। [আশ-শুরা: ১১]।" এবং ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' ৫/ ১১৪-এ এই কথাটি উল্লেখ করার পর বলেন: "প্রকৃত সত্য হলো এই যে, সত্য ইবনে হিব্বানের সাথেই ছিল।" এবং সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' ৩/ ১৩২ - ১৩৩-এ বলেন: "আমি বলি, দেখুন এই সমালোচক কতই না অজ্ঞ! হায় যদি আমি জানতাম কে আসলে সমালোচিত? সীমা (হদ) সাব্যস্তকারী, নাকি তা অস্বীকারকারী?।" এবং আমি হাফেজ সালাহুদ্দিন খলিল বিন কাইকালদি আল-আলাই (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই বিষয়ে একটি বক্তব্য দেখেছি যা আমি হুবহু উদ্ধৃত করা পছন্দ করছি। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন এবং আমি তার স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি: "হে আল্লাহ, বিস্ময়কর ব্যাপার!! কে বহিষ্কার, বিদআতি আখ্যা দেওয়া এবং দ্বীনদারির স্বল্পতার জন্য অধিকতর যোগ্য?!"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
محمد يقول: سَمِعْتُ أبي يقول: أنكروا عَلَى ابن حبانَ قَوْلَهُ، النُبُوَّةُ: الْعِلْمُ وَالْعَمَلُ، وَحَكَمُوا عَلَيْهِ بالزَّنْدَقَةِ،- وهَجَرُوهُ، وَكَتَبُوا فِيهِ إِلَى الْخَلِيفَةِ، فَأمَرَ بِقَتْلِهِ. وَسَمِعْتُ غَيْرَهُ يَقُولُ: لِذلِكَ أُخْرِجَ مِنْ سَمَرْقَنْد" (1).

--------------------------------------------

(1) لقد تدبرنا ما كتبه ابن حبان في صحيحه من تعليقات، وما نثره من تأويلات، علّنا نقع على هذه العبارة، أو على شيءٍ يدل عليها، أو تأويلٍ يقود إليها، فلم نجد من ذلك شيئاً، علماً بأن سلوك ابن حبان، ودأبه الدائب فيْ تحصيل الحديث الصحيح، وحرصه على حفظه من قبل الدارسين للعمل به، بعد عقله وفهمه يجعلنا نرجح أن هذه المقولة ألصقها به بعض حاسديه من المتزهدين الذين زهدوا في العلم، فناصبوا أهله العداء، أو القائلين بالحد الذين أغرقوا فيه حتى كادوا أن يقعوا في التجسيم، أو بعض الذين ضاق صدرهم بالتأويل والمتأولين فاعتبروهم الأعداء الألداء، واتهموهم بما هم منه- أو من أكثره- برآء.

قال الحافظ ابن كثير في "البداية" 11/ 259: "وَقَدْ حَاوَلَ بعضهم الكلام فيه مِنْ جهَةِ مُعْتَقَدِهِ، وَنَسَبَهُ إِلَى القولِ بأن النبوة مُكْتَسَبَة، وهي نزْعَةٌ فَلْسفية، والله أعلَمُ بصِحَّةِ عَزْوِهَا إِلَيْهِ، وَنَقْلِهَا عَنْهُ".

وقال الحافظ الذهبي في. "سير أعلام النبلاء "16/ 96 - 97: "هذِهِ حِكَايَةٌ غريبةٌ، وابن حبان مِنْ كِبَار الأئمة، ولَسْنَا نَدَّعي فيه العِصْمَةَ مِنَ اْلخَطَأِ، لكِنْ هذِه اْلكَلِمةُ قَدْ يُطْلِقُهَا المُسْلِمُ، وَيُطْلِقُهَا الفَيْلَسُوفُ الزِّنْدِيقُ.

فَإِطْلَاقُ الْمُسْلِمِ لَهَاَ لَا يُبْتَغَى، لكِنْ نَعْتَذِرُ فَنَقُولُ: لَمْ يُردْ حَصْرَ المبتدأ فى الخبرِ، وَنَظيرُ ذلكَ قَوْلُهَ عليه الصلاة والسلام: "الْحَجُّ عَرَفَةُ". وَمَعْلُومٌ أنَّ الحاج لا يصير بِمُجَرَّدِ الوقوفِ بعرفةَ حَاجاً، بل تبقى عَلَيْهِ فروضٌ وَوَاجِبَات، وَإِنَمَا ذَكَرَ مُهِمَّ الْحَجِّ. وَكَذَا هذَا ذَكَرَ مُهِمَّ النُبُوَّةِ، إِذْ مِنْ أَكْمَلِ صِفَاتِ النَّبي كَمالُ العِلْمِ والْعَمَلِ، فَلا يَكونُ أَحَدٌ نَبِياً إلا بِوُجُودِهِمَا، وَلَيْسَ كُل مَنْ بَرزَ فِيهمَا نبياً، لأنَ النبوةَ مَوْهبةٌ مِنَ الحَقِّ تَعَالَى لا حِيلَةَ لِلْعَبْدِ في اكْتِسَابِهَا، بَلْ بِهَا يَتَوَلَّدُ العلْمُ الَّلدُنِّي، وَالَعَمَل الصالحُ. وَأَمَّا الْفَيْلَسُوفُ فَيَقُولُ: النبوة مُكْتَسَبَةٌ يُنْتِجُهَا العِلْمُ وَالْعَمَلُ، وَهذَا كُفْرٌ لَا يُريدُةُ أبو حاتم أصْلاً، وَحَاشَاه". =
মুহাম্মদ বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: তারা ইবনে হিব্বানের এই উক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন যে, "নবুওয়াত হলো জ্ঞান ও কর্ম", এবং তারা তাকে জিন্দিক হিসেবে বিচার করেছিলেন ও তাকে বর্জন করেছিলেন। তারা তার সম্পর্কে খলিফার কাছে লিখে পাঠান, ফলে তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। আমি অন্যদের বলতে শুনেছি: এ কারণেই তাকে সমরকন্দ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল (১)।

--------------------------------------------

(১) আমরা ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে যেসব টীকা লিখেছেন এবং যেসব ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এই আশায় যে, হয়তো আমরা এই উক্তিটি অথবা এমন কিছু পাব যা এর প্রতি ইঙ্গিত করে বা এমন কোনো ব্যাখ্যা যা এর দিকে ধাবিত করে। কিন্তু আমরা এর কিছুই খুঁজে পাইনি। অথচ ইবনে হিব্বানের স্বভাব এবং সহীহ হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, এবং তা বোঝার ও অনুধাবনের পর আমল করার জন্য শিক্ষার্থীদের তা মুখস্থ রাখার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ আমাদের এই ধারণাকেই জোরালো করে যে, এই উক্তিটি তাঁর ওপর তাঁর এমন কিছু হিংসুক ব্যক্তি আরোপ করেছে যারা ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিমুখ ছিল এবং ইলমওয়ালাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করত, অথবা যারা সীমানা (হাদ্দ) নির্ধারণের প্রবক্তা ছিল এবং এ বিষয়ে তারা এতোটাই বাড়াবাড়ি করেছিল যে তারা প্রায় তাজসিম বা আল্লাহর অবয়ব সাব্যস্ত করার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, অথবা এমন কিছু লোক যাদের অন্তর তাবিল বা ব্যাখ্যার প্রতি সংকীর্ণ ছিল এবং ব্যাখ্যাকারীদের চরম শত্রু মনে করত এবং তাদের ওপর এমন সব অপবাদ দিত যা থেকে তারা—কিংবা তাদের অধিকাংশ—সম্পূর্ণ মুক্ত।

হাফিজ ইবনে কাসীর "আল-বিদায়া" গ্রন্থে (১১/২৫৯) বলেছেন: "তাদের কেউ কেউ তাঁর আকিদাহর দিক থেকে তাঁর সমালোচনা করার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর দিকে এই মতের সম্বন্ধ করেছেন যে নবুওয়াত অর্জনযোগ্য; আর এটি একটি দার্শনিক ঝোঁক। তাঁর দিকে এই মতের সম্বন্ধ করা এবং তাঁর থেকে তা বর্ণনা করার সত্যতা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।"

হাফিজ যাহাবী "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" গ্রন্থে (১৬/৯৬-৯৭) বলেছেন: "এটি একটি অদ্ভুত কাহিনী। ইবনে হিব্বান বড় ইমামদের একজন, তবে আমরা তাঁর ভুলের ঊর্ধ্বে হওয়ার দাবি করি না। কিন্তু এই বাক্যটি একজন মুসলিমও বলতে পারেন, আবার একজন জিন্দিক দার্শনিকও বলতে পারেন। একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে এমন শব্দ ব্যবহার করা সমীচীন নয়, তবে আমরা ওজর পেশ করে বলতে পারি: তিনি মুবতাদাকে খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার ইচ্ছা করেননি। এর উদাহরণ হলো আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বাণী: 'হজ্জ হলো আরাফাহ'। এটি সুবিদিত যে, হাজি শুধু আরাফায় অবস্থানের মাধ্যমেই পূর্ণ হাজি হয়ে যায় না, বরং তার ওপর আরও অনেক ফরজ ও ওয়াজিব কাজ বাকি থাকে। এখানে কেবল হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তেমনি এখানেও নবুওয়াতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, কেননা একজন নবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো জ্ঞান ও কর্মের পূর্ণতা। সুতরাং এই দুটি গুণ ছাড়া কেউ নবী হতে পারেন না। কিন্তু এই দুটিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রত্যেকেই নবী নন, কারণ নবুওয়াত হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দান, যা অর্জনে বান্দার কোনো কৌশল খাটে না; বরং এর মাধ্যমেই ঐশী জ্ঞান এবং নেক আমল জন্ম লাভ করে। পক্ষান্তরে দার্শনিক বলে থাকে: নবুওয়াত হলো অর্জনযোগ্য যা জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে অর্জিত হয়; আর এটি কুফর। আবু হাতিম মোটেও এটি ইচ্ছা করেননি, আল্লাহ তাঁকে এ থেকে রক্ষা করুন।" =
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وإمعانُ النَّظَرِ في هذين الخبرَيْن يُوَضِّحُ أُموراً ينبغي التوقف عندها: أولاً: إنهما يَرْسُمان صورَةً لِبَعْضِ أدْعِيَاءِ العِلْم، الذينَ نَما الحسَدُ في نفوسهم، وَترعرع الحِقْدُ في قلوبهم، فتوهموا أن بيَدِهِمْ أمْرَ تَوْجِيهِ الفكر بَيْنَ النَّاسِ، وَمُصَادَرَةَ كُلِّ مَا لا يُناسِبُ مُيُولَهُمْ وأهْوَاءهَم، سِلاحُهُمْ في ذلِكَ إثارَةُ العَوَامِّ مِنَ النَّاسِ، والوشايةُ بهم إلَى الخليفة، يسند ذلِك افتراءٌ مَرْذولٌ، ويدعمُهُ بَاطل مَخْذولٌ. ثانياً: إنهما يحدِّدَان جِهَةَ الرِّحْلَةِ الَّتي قامَ بِهَا ابن حِبَّان، فقد تَوَجَّهَ إلى مَشْرِق الخِلَافَة- الإِسلامية إشفاقاً عَلَى نَفْسِه من هياج الغَوْغَاءِ مِنَ العوامِّ، الذين يقول فيهم أبو يوسف كبير القضاة في زمن الخليفة هارون الرشيد: "لَوْ انَّ العَوَامَّ كُلَّهُمْ عَبِيدي لأَعْتَقْتُهُمْ". وَتَبَرَّأْتُ مِنْ وَلَائِهِمْ"، وَمِنَ المُتَطَفِّلينَ عَلَى مَوَائِدِ الْعِلْمِ، الْحاقِدينَ، ائَذينَ أَرادُوا بِهِ شَرّاً. وَلَعَلَّة اختارَ ذلِكَ المكانَ في أطرافِ الخِلَافَةِ حيث تضعُفُ قبضةُ السُّلطانِ، فَلَا يَنَالُهُ عقابُة، وَلا تَطالُهُ سياطُ عَذَابهِ، حتى إذَا مَا هَدَأ الْحَالُ، وتُنُوسِىَ مَا كَانَ، وَشَعَرَ بِالطُّمَأْنِينَةِ وَالأمْنِ، عَادَ إِلى قلب الخِلافَةِ". وَجَابَ نَواحِيَهَا المختلِفَةَ، لِيُتِمَّ مَا بَدَأ بهِ، وَلِيُشْبِعَ نَهَمَهُ في طلَب الحديثِ، ولقِي الشُّيوخِ،- والأخذ عنهم، والإِفَادة منهم، ليتسنَّى لهُ أن يَتبوا مركزَ الصَّدَارَةِ بَيْنَ أهل العلم في بَلَدِهِ، وَيكُونَ الإمَامَ المَرْجُوعَ إِلَيْهِ في هذَا الْعِلْم الشَريفِ. ثالثاً: يُوَضِّحُ لَنا النَّص أنَّ سمرقند كانت مِنْ أوَائِل الْبلْدان الَّتي حَطَّ فيها عَصَا تَرْحَاله، وَفي هذا البلدِ الطيبِ اتَّصَلَ بشَيْخِهِ أبي حَفْص عمر بن

--------------------------------------------

= وتعقب الحافظ ابن حجر شي "لسان الميزان "5/ 114 هذه المقولة بقوله: "مَاذَا؟ إلا تَعَصّبٌ زَائِدٌ عَلَى الْمُتَأَوِّلينَ، وَابْنُ حِبَّانَ كَانَ صَاحِبَ فُنُونٍ، وَذَكَاءٍ مُفْرِطٍ، وَحِفْظٍ وَاسِعٍ إِلَى الْغَايَةِ".
এই সংবাদদ্বয়ের গভীর পর্যবেক্ষণ এমন কিছু বিষয় স্পষ্ট করে যার প্রতি মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক: প্রথমত: এগুলো এমন কিছু তথাকথিত ইলমের দাবিদারের চিত্র অঙ্কন করে, যাদের অন্তরে হিংসার উদ্রেক হয়েছে এবং যাদের হৃদয়ে বিদ্বেষ বেড়ে উঠেছে। তারা ধারণা করে বসেছিল যে, মানুষের মধ্যে চিন্তাধারা পরিচালনার চাবিকাঠি তাদের হাতে এবং তাদের রুচি ও প্রবৃত্তির সাথে খাপ খায় না এমন সবকিছু বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও তাদের। এক্ষেত্রে তাদের হাতিয়ার ছিল সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করা এবং খলিফার কাছে তাদের বিরুদ্ধে চোগলখোরি করা, যার মূলে ছিল জঘন্য মিথ্যাচার এবং যা ভিত্তিহীন বাতিলের মাধ্যমে সমর্থিত ছিল। দ্বিতীয়ত: এগুলো ইবনে হিব্বানের সফরের গন্তব্য নির্ধারণ করে। সাধারণ মানুষের উত্তেজনা থেকে নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি ইসলামী খেলাফতের পূর্ব প্রান্তের অভিমুখে যাত্রা করেন। এই সাধারণ মানুষদের সম্পর্কে খলিফা হারুনুর রশিদের সময়ের প্রধান বিচারপতি আবু ইউসুফ বলতেন: "যদি এই সমস্ত সাধারণ মানুষ আমার দাস হতো, তবে আমি তাদের মুক্ত করে দিতাম এবং তাদের আনুগত্যের দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিতাম।" এবং তিনি সেই ইলমের দস্তরখানের পরগাছাদের থেকেও দূরে থাকতে চেয়েছিলেন যারা ছিল বিদ্বেষী এবং তার অনিষ্ট করতে চেয়েছিল। সম্ভবত তিনি খেলাফতের প্রান্তসীমানার এমন এক স্থান বেছে নিয়েছিলেন যেখানে সুলতানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল ছিল, ফলে তিনি তার শাস্তির আওতায় পড়বেন না এবং যন্ত্রণাদায়ক চাবুকের আঘাত তাকে স্পর্শ করবে না। যতক্ষণ না পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যা ঘটেছিল তা বিস্মৃত হয়, এবং যখন তিনি প্রশান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করলেন, তখন তিনি খেলাফতের প্রাণকেন্দ্রে ফিরে আসেন। তিনি এর বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন যা তিনি শুরু করেছিলেন তা পূর্ণ করার জন্য এবং হাদিস অন্বেষণ, শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ, তাদের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ এবং উপকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মেটানোর জন্য; যাতে করে তিনি তার দেশের আলেমদের মধ্যে শীর্ষস্থানে আসীন হতে পারেন এবং এই মহান ইলমের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ইমাম হতে পারেন। তৃতীয়ত: এই পাঠ্যটি আমাদের স্পষ্ট করে দেয় যে, সমরকন্দ ছিল সেই প্রথম শহরগুলোর একটি যেখানে তিনি তার সফরের বিরতি নিয়েছিলেন। আর এই পবিত্র জনপদেই তিনি তার শায়খ আবু হাফস উমর বিন

--------------------------------------------

= হাফিজ ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' (৫/১১৪) গ্রন্থে এই উক্তির সমালোচনা করে বলেছেন: "এটা কী? এটা তো ব্যাখ্যাদানকারীদের প্রতি চরম গোঁড়ামি ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ ইবনে হিব্বান ছিলেন বহু শাস্ত্রের অধিকারী, প্রখর মেধাবী এবং অত্যন্ত গভীর মুখস্থ শক্তির অধিকারী।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
محمد الهمداني السمرقندي، المتوفى سنة (311) للهجرة (1). وَإِذَا ضممنا إلى هذا ما أجمع عليه مُتَرْجِمُوا ابن حبان، من أنه توفي سنة (354 هـ) وهو في عشر الثمانين يتبين لنا:

أ- أنَّ مولده كان في عشر الثمانين من القرن الثالث، وَهذا ما ذَهَبَ إليه بعض مَن ترجم له.

ب- أن ابن حبان بَدَأ رحْلَتَهُ وَعُمُرُهُ لا يقل عن الخامسة والعشرين، كما أنه لا يزيد عَلى الخامسَةِ وَالثلاثين

ج- يَتَحدَّدُ لَنَا مَعْنَى مَا قالَهُ الذهبي في "ميزانه "3/ 506 - وتابعه عليه ابن حجر-: "وَطَلَبَ الْعِلْمَ عَلَى رَأْسِ الثَلَاثِ مِئَةٍ"، فَإِنَهُ يَعْنِي: بَدْأ الرَّحْلَةِ في طَلَب الْعِلْمِ، وَإِلَاّ فَإِنَ ابْنَ حبان عندمَا خَرَجَ مِنْ بلده، كان قد اسْتوعبَ الكثيرَ مِنْ مَعَارِفِ العَصْرِ، وَلا يُمْكنُ أنْ يَغيبَ هذَا عَلَى مِثْلِ الحافِظِ الذَّهَبِي، وَالحافِظِ ابْنِ حَجَرٍ.

وقَدْ دامَتْ هذه الرحلةُ المباركَةُ التي زَرَعَ فيها العالَمَ الإسْلامِيَّ مِنْ أقْصاهُ إِلَى أقْصَاه نيفاً وثلاثين عاماً، فقد قال الحاكم- وهو تلميذه-: "كَانَ ابْنُ حِبَّانَ مِنْ أَوْعِيَةِ الْعِلْمِ في الْفِقْهِ، وَاللُّغَةِ، وَالْحَدِيثِ، وَالْوَعْظِ، وَمِنْ عُقَلَاءِ الرِّجَالَ. قَدِمَ نَيْسَابُورَ سَنَةَ أرْبَعٍ وَثَلاثِينَ وَثلاثِ مِئَةٍ، فَسَارَ إِلَى قَضَاءِ نَسَا، ثُمَ انْصَرَفَ إِلَيْنَا فِي سَنَةِ سِبْعٍ، فَأقَامِ عِنْدَنَا فِي نَيْسَابُورَ، وَبَنَى الْخَانقاه، وَقُرِىءَ عَلَيْهِ جُمْلَةٌ مِنْ مُصَنَّفَاتِهِ، ثُمَّ خرَجَ مِنْ نَيْسَابُورَ إِلَى وَطَنِهِ سَجِستان عَامَ أربعينَ، وكانت الرَّحْلَةُ إِلَيْهِ لِسَمَاعِ حَدِيثِهِ" (2).

--------------------------------------------

(1) شذرات الذهب 2/ 262.

(2) معجم البلدان1/ 417.
মুহাম্মদ আল-হামদানী আস-সামারকান্দি, যিনি হিজরি ৩১১ সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)। আর আমরা যদি এর সাথে ইবনে হিব্বানের জীবনীকারগণের ঐকমত্য পোষণ করা সেই তথ্যের সমন্বয় করি যে, তিনি ৩৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন যখন তাঁর বয়স আশি বছরের কোঠায় ছিল, তবে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে:

ক- তাঁর জন্ম ছিল তৃতীয় শতাব্দীর আশির দশকে, এবং এটিই তাঁর কোনো কোনো জীবনীকার ব্যক্ত করেছেন।

খ- ইবনে হিব্বান যখন তাঁর সফর শুরু করেন তখন তাঁর বয়স পঁচিশ বছরের কম ছিল না, আবার পঁয়ত্রিশ বছরের বেশিও ছিল না।

গ- হাফেজ যাহাবী তাঁর ‘মিজান’ গ্রন্থে (৩/৫০৬)—এবং ইবনে হাজারও তাঁকে অনুসরণ করেছেন—যা বলেছেন তার অর্থ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়: “তিনি তিনশত হিজরির শুরুর দিকে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন”; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে সফরের সূচনা। অন্যথায়, ইবনে হিব্বান যখন নিজ দেশ ত্যাগ করেন, ততক্ষণে তিনি সমকালীন ইলম বা জ্ঞানের অনেক কিছুই আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন এবং হাফেজ যাহাবী ও হাফেজ ইবনে হাজারের মতো ব্যক্তিত্বের নিকট বিষয়টি অজানা থাকা সম্ভব নয়।

আর এই বরকতময় সফর, যার মাধ্যমে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়িয়েছিলেন, তা ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল। হাকেম—যিনি তাঁর ছাত্র—বলেছেন: “ইবনে হিব্বান ছিলেন ফিকহ, ভাষা, হাদিস ও ওয়াজের ইলমের আধার এবং মানুষদের মধ্যে অত্যন্ত বিচক্ষণ। তিনি ৩৩৪ হিজরিতে নিশাপুরে আসেন, এরপর নাসার কাজীর দায়িত্ব পালনে চলে যান। অতঃপর ৩৩৭ হিজরিতে তিনি আমাদের কাছে ফিরে এসে নিশাপুরে অবস্থান করেন এবং একটি খানকাহ নির্মাণ করেন। সেখানে তাঁর গ্রন্থসমূহের একটি বিরাট অংশ পড়ে শোনানো হয়। অতঃপর ৩৪০ হিজরিতে তিনি নিশাপুর থেকে নিজ জন্মভূমি সিজিস্তানে চলে যান এবং তাঁর থেকে হাদিস শোনার জন্য (মানুষের) সফরের গন্তব্য ছিলেন তিনি” (২)।

--------------------------------------------

(১) শাজারাতুজ জাহাব ২/২৬২।

(২) মু‘জামুল বুলদান ১/৪১৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد تابعَ الحاكمَ على هذا معظمُ المترجمينَ لابن حِبَّانَ.

 

‌‌شيوخه في هذه الرحلة ونتائجها

انطلق هذا الإِمام العظيم- وَقَلْبُهُ يَكْتَوي بنار الشوق للأهل، والحنين إلى الوطن- يجوب الأرْضَ، ويصَارعُ أعباءَ الحياةِ وَأوْهَاقَهَا، يُذَلِّلُ الصِّعَابَ متناسياً المتاعبَ. ويتجاوز العقباتِ عَلَّهُ يَجِدُ مَا يُعَزِّيهِ، مُنْصرفاً إلى الجَمْع والتَّحْصِيل، فَكَان يَنْتَزِعُ الْعِلْم مِنْ صُدورِ الرِّجَالِ، وُيدَوِّنُ كلَّ مَا يَسْمَعُ، وَيُسَجِّلُ كُلَّ مَا يُشَاهِدُ، دُونَ أنْ يَصرِفَهُ عَنْ غَايَتِهِ صَارِفٌ. يَقُولُ فِي مُقَدِّمَةِ صحِيحهِ: "لَقَدْ كَتَبْنَا عَنْ أكْثَرَ مِنْ ألْفَيْ شَيْخٍ … " (1). فَقَدْ زَارَ مُعْظَمَ البلدانِ في الخلافَةِ الإِسْلاميةِ المتراميةِ الأطْرَافِ، وفي كل بلدٍ حَلَّهُ كانَ لَهُ شَيْخٌ. أو شيوخٌ تَلَقَّى عَنْهُمُ العِلْمَ، وَروَى عَنْهُمُ الْحَديثَ، وَقَدْ سَمَّى لَنَا مُتَرْجِمُوهُ بَعْضَ شُيوخِهِ، فَقَالُوا: إِنَهُ أَخَذَ الْعِلْمَ فِي:

1 - مَرْو: عن أبي عبد الرحمن عبد الله بن محمود بن سليمان، وعن أبي يحيى محمد بن محمد بن خالد المديني.

2 - سِنْج: عن أبي علي الحسين بن محمد بن مصعب السنجي، وعن أبي عبد الله محمد بن نصر الهُورَقَاني.

3 - نَسَا: عن الحسن بن سفيان، وعن محمد بن يوسف النسائي، وعن محمد بن محمود بن عديّ النسائي.

4 - نَيْسَابُور: عن محمد بن إسحاق بن إبراهيم السراج، وعن محمد بن عبد الرحمن بن شيرويه الأزدي.

5 - أَرْغِيان: عن محمد بن المسيب بن إسحاق الأرغياني.

--------------------------------------------

(1) عند الانتهاء من تحقيق الصحيح، سنقوم- إن شاء الله- بجمع شيخوخه، وسنترجم لكل من نستطيع العثور على ترجمة له في بطون كتب التراجم.
ইবনে হিব্বানের জীবনীকারদের অধিকাংশ এই বিষয়ে হাকিমকে অনুসরণ করেছেন।

 

‌এই সফরে তাঁর শিক্ষকগণ এবং এর ফলাফল

এই মহান ইমাম—যার হৃদয় পরিবার ও স্বদেশের প্রতি বিরহ ও ব্যাকুলতায় দগ্ধ হচ্ছিল—পৃথিবীর পথে পথে ঘুরতে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি জীবনের প্রতিকূলতা ও ঝঞ্ঝার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, দুঃখ-কষ্ট উপেক্ষা করে কঠিন পথকে সহজ করছিলেন। তিনি একের পর এক বাধা অতিক্রম করছিলেন এই আশায় যে, হয়তো তিনি সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন। তিনি ইলম সংগ্রহ ও অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করলেন; তিনি মানুষের হৃদয় থেকে ইলম সংগ্রহ করতেন, যা শুনতেন তা লিপিবদ্ধ করতেন এবং যা দেখতেন তা সংরক্ষণ করতেন; কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। তিনি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "আমরা দুই হাজারেরও বেশি শাইখ থেকে (ইলম) লিখেছি..." (১)। তিনি বিশাল ইসলামী খিলাফতের অধিকাংশ দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং যে জনপদেই তিনি অবতরণ করেছেন, সেখানে তাঁর এক বা একাধিক শাইখ ছিল যাদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনীকারগণ আমাদের জন্য তাঁর কিছু শাইখের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: তিনি ইলম অর্জন করেছেন:

১ - মার্ভ: আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ ইবনে সুলাইমান এবং আবু ইয়াহইয়া মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-মাদিনী থেকে।

২ - সিনজ: আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসআব আস-সিনজী এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-হুরাকানী থেকে।

৩ - নাসা: আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আন-নাসায়ী এবং মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আদি আন-নাসায়ী থেকে।

৪ - নিশাপুর: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আস-সাররাজ এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে শিরওয়াইহ আল-আজদী থেকে।

৫ - আরগিয়ান: মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিব ইবনে ইসহাক আল-আরগিয়ানী থেকে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ-এর তাহকীক সম্পন্ন হলে, ইনশাআল্লাহ, আমরা তাঁর শাইখদের তালিকা একত্রিত করব এবং জীবনী গ্রন্থসমূহ থেকে যাদের জীবনী পাওয়া সম্ভব, তাদের প্রত্যেকের জীবনী উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
6 - جُرْجَان: عن عمران بن موسى بن مجاشع الجرجاني، وأحمد بن محمد بن عبد الكريم الوزان الجرجاني.

7 - الرَّي: عن العباس بن الفضل بن عاذان المقرئ، وعلي بن الحسن بن مسلم الرازي.

8 - الْكَرَجِ: عن أحمد بن عمارة بن الحجاج الحافظ، والحسين بن إسحاق الأصبهاني.

9 - عَسْكَر مُكْرَم: عن عبد الله بن أحمد بن موسى الجواليقى المعروف بـ"عبد ان الأهوازي".

10 - تُسْتَر: عن محمد بن أحمد الرقام، وأحمد بن محمد بن زهير الحافظ.

11 - جُنْدَيْسَابُور: عن عمر بن حفص البزار.

12 - الأهواز: عن محمد بن يعقوب الخطيب.

13 - الأُبُلَّةَ: عن محمد بن زهير الأُبُلِّي، وعن عمر بن عبد الله بن عمر الهَجَرِيّ، والحسين بن محمد بن بسطام الأبلي.

14 - البصرة: عن الفضل بن الحُبَاب الجَمَحِيّ، وأحمد بن عمرو الزَّيْبَقِيّ، وبكر بن أحمد بن سعيد الطاحي، وزكريا بن يحيى الساجي، ومحمد بن علي الصيرفي، وعبد الكريم بن عمر الخطابي، ومحمد بن إبراهيم البدوري، ومحمد بن غدار الحارثي.

15 - واسط: عن جعفر بن أحمد بن سنان القطان، وأحمد بن موسى، والخليل بن محمد الواسطي.

16 - فم الصِّلح: عن عبد الله بن قحطبة بن مرزوق الصِّلْحِيّ.

17 - نَهَر سَابس: عن خلاد بن محمد بن خالد الواسطي.

18 - بغداد: عن حامد بن محمد بن شعيب البلخي، والهيثم بن خلف الدوري، وأحمد بن الحسن بن عبد الجبار الصوفي، وعبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي.
৬ - জুরজান: ইমরান ইবনে মুসা ইবনে মুজাশিয়া আল-জুরজানি এবং আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারিম আল-ওয়াযযান আল-জুরজানি থেকে।

৭ - রাই: আব্বাস ইবনুল ফজল ইবনে আযান আল-মুকরি এবং আলী ইবনুল হাসান ইবনে মুসলিম আর-রাযী থেকে।

৮ - কারাজ: আহমদ ইবনে উমারা ইবনুল হাজ্জাজ আল-হাফিজ এবং আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক আল-আসবাহানি থেকে।

৯ - আসকার মুকরাম: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা আল-জাওয়ালিকি থেকে, যিনি "আবদান আল-আহওয়াযী" নামে পরিচিত।

১০ - তুস্তার: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আর-রাক্কাম এবং আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যুহাইর আল-হাফিজ থেকে।

১১ - জুনদাইসাবুর: উমর ইবনে হাফস আল-বাযযার থেকে।

১২ - আহওয়ায: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-খতিব থেকে।

১৩ - উবুল্লা: মুহাম্মদ ইবনে যুহাইর আল-উবুল্লি, উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-হাজারি এবং আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাসতাম আল-উবুল্লি থেকে।

১৪ - বসরা: ফজল ইবনুল হুবাব আল-জামাহি, আহমদ ইবনে আমর আয-যাইবাক্বি, বকর ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ আত-তাহি, যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি, মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সাইরাফি, আব্দুল কারিম ইবনে উমর আল-খাত্তাবি, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-বাদুরি এবং মুহাম্মদ ইবনে গাদ্দার আল-হারিসি থেকে।

১৫ - ওয়াসিত: জাফর ইবনে আহমদ ইবনে সিনান আল-ক্বাত্তান, আহমদ ইবনে মুসা এবং আল-খলীল ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি থেকে।

১৬ - ফামুস সিলহ: আব্দুল্লাহ ইবনে কাহতাবা ইবনে মারযুক আস-সিলহি থেকে।

১৭ - নাহরে সাবিস: খাল্লাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াসিতি থেকে।

১৮ - বাগদাদ: হামিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শুআইব আল-বালখি, হাইসাম ইবনে খালাফ আদ-দুরি, আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ি থেকে।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
19 - الكوفة: عن أبي عبد الله بن زيدان البَجَلي.

20 - مكة المكرمة: عن محمد بن إبراهيم بن المنذر النَيْسَابُورِي، والمفضل بن محمد بن إبراهيم الجندي.

21 - سَامُرَّاء: عن علي بن سعيد العسكري.

22 - الْمَوْصِل: عن أبي يعلى أحمد بن علي بن المثنى الموصلي، وهارون بن المسكين البلدي، وزيد بن علي بن عبد العزيز بن حبان الموصلي، وروح بن عبد المجيد الموصلي، وإبراهيم بن علي بن عبد العزيز العمري.

23 - سِنْجَاد: عن علي بن إبراهيم بن الهيثم الموصلي.

24 - نَصِيبين: عن هاشم بن يحيى النصيبيني، ومسدد بن يعقوب بن إسحاق الفلوسي.

25 - كفرتوثا، من ديار ربيعة: عن محمد بن الحسين بن أبي معشر السلمي.

26 - سرغامرطا، من ديار مضر: عن أحمد بن خالد بن عبد الملك بن مسرح الحرّاني.

27 - الرافقة: عن محمد بن إسحاق بن إبراهيم بن فروخ البغدادي.

28 - الرقة: عن الحسين بن عبد الله بن يزيد القطان. وأحمد بن محمد بن يحيى الشحام. وعلي بن الحسين العسكري.

29 - مَنْبِج: عن عمر بن سعيد بن سنان الحافظ، وصالح بن الأصبغ بن عامر التنوخي.

30 - حلب: عن أحمد بن داود بن محسن بن هلال المصيصي.

31 - أنْطَاكية: عن وصيف بن عبد الله الحافظ.

32 - طَرَسُوس: عن محمد بن يزيد الدرقي، وإبراهيم بن أبي أُمية الطرسوسي. والحسن بن إسحاق بن إبراهيم الخولاني.
19 - কুফা: আবু আব্দুল্লাহ বিন যায়দান আল-বাজালি থেকে।

20 - মক্কাতুল মুকাররমা: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির আন-নাইসাবুরি এবং আল-মুফাদদাল বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-জুন্দি থেকে।

21 - সামাররা: আলি বিন সাঈদ আল-আসকারি থেকে।

22 - মসুল: আবু ইয়ালা আহমদ বিন আলি বিন আল-মুসান্না আল-মাওসিলি, হারুন বিন আল-মিসকিন আল-বালাদি, যায়দ বিন আলি বিন আব্দুল আজিজ বিন হিব্বান আল-মাওসিলি, রাওহ বিন আব্দুল মাজিদ আল-মাওসিলি এবং ইব্রাহিম বিন আলি বিন আব্দুল আজিজ আল-উমারি থেকে।

23 - সিনজাদ: আলি বিন ইব্রাহিম বিন আল-হাইসাম আল-মাওসিলি থেকে।

24 - নাসিবিন: হাশিম বিন ইয়াহইয়া আন-নাসিবিনি এবং মুসাদ্দাদ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-ফালুসি থেকে।

25 - কাফারতুসা, দিয়ার রাবিয়া থেকে: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আবু মাশার আস-সুলামি থেকে।

26 - সারগামারতা, দিয়ার মুদার থেকে: আহমদ বিন খালিদ বিন আব্দুল মালিক বিন মাসরাহ আল-হাররানি থেকে।

27 - আর-রাফিকা: মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন ফাররুখ আল-বাগদাদি থেকে।

28 - আর-রাক্কা: আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল-কাত্তান, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাহহাম এবং আলি বিন আল-হুসাইন আল-আসকারি থেকে।

29 - মানবিজ: উমর বিন সাঈদ বিন সিনান আল-হাফিজ এবং সালিহ বিন আল-আসবাহ বিন আমির আত-তানুখি থেকে।

30 - হালাব: আহমদ বিন দাউদ বিন মুহসিন বিন হিলাল আল-মাসসিসি থেকে।

31 - আন্তাকিয়া: ওয়াসিফ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ থেকে।

32 - তারসুস: মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ আদ-দারাতি, ইব্রাহিম বিন আবু উমাইয়া আত-তারসুসি এবং আল-হাসান বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-খাওলানি থেকে।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
33 - أذَنَةَ: عن محمد بن علان الأذني.

34 - صَيْداء: عن محمد بن أبي المعافى بن سليمان الصَّيْداوي.

35 - صُور: عن جعفر بن محمد الهمداني.

36 - بَيْروت: عن محمد بن عبد الله بن عبد السلام البيروتي- مكحول-.

37 - حِمْص: عن محمد بن عبد الله بن الفضل الكَلاعي الرَّاهب.

38 - دمشق: عن أحمد بن عمير بن جوصاء الحافظ الدمشقي، وعن جعفر

ابن أحمد بن عاصم الأنصاري الدمشقي، وعن حاجب بن أركين الفرغاني.

39 - عَسْقَلان: عن محمد بن قتيبة اللخمي.

40 - بَيْت المقدس: عن عبد الله بن محمد بن مسلم الخطيب المقدسي.

41 - الرمْلَة: عن محمد بن الحسن أبي بكر بن قتيبة العسقلاني.

42 - الفُسْطاط من مصر: عن أحمد بن شعيب بن علي النسائي، وعن سعيد بن داود بن وردان المصري، وعلي بن الحسين بن سليمان.

43 - هَرَاة: محمد بن المنذر بن سعيد المعدل (1).

رحم الله ابنَ حبان ما كانَ أصبرَهُ عَلَى تَحَمُّل المشاقّ في سبيل العلم، وَجَمْعِ الحديثِ النبويِّ الشَّريفِ، وَتَلَقَيهِ مِنْ أفْوَاهِ أَساتِيذِهِ الذينَ عُرِفوا به في كل مصر من الأمصار. وَهذَا غَيْضٌ مِنْ فَيْضٍ، من الشيوخِ والعلماء ائَذين اتَّصَلَ بهم وأخذ عنهم العلم. ولكن ما الذي خلّفه ابن حبان للمكتبة الِإسلامية؟ قال الخطيب البغدادي الحافظ، فيما رواه عنه ياقوت في "معجم

--------------------------------------------

(1) معجم البلدان 1/ 415 - 417، مقدمة موارد الظمآن صر: 7 - 10. وروضة العقلاء للمؤلف. وكذلك الصحيح فإنه يذكر في كثير من الحالات موطن الشيخ الذي أخذ العلم عنه، ولو استقصينا لأطلنا.
৩৩ - আদানা: মুহাম্মদ ইবনে আললান আল-আদানি থেকে।

৩৪ - সায়দা: মুহাম্মদ ইবনে আবিল মুয়াফা ইবনে সুলাইমান আস-সায়দাওয়ি থেকে।

৩৫ - সুর: জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-হামদানি থেকে।

৩৬ - বৈরুত: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুস সালাম আল-বাইরুতি—মাকহুল—থেকে।

৩৭ - হিমস: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-ফাদল আল-কালায়ি আর-রাহিব থেকে।

৩৮ - দামেস্ক: আহমাদ ইবনে উমাইর ইবনে জাওসা আল-হাফিজ আদ-দিমাশকি থেকে, এবং জাফর

ইবনে আহমাদ ইবনে আসিম আল-আনসারি আদ-দিমাশকি থেকে, এবং হাজিব ইবনে আরকিন আল-ফারগানি থেকে।

৩৯ - আসকালান: মুহাম্মদ ইবনে কুতাইবা আল-লাখমি থেকে।

৪০ - বাইতুল মাকদিস: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-খাতিব আল-মাকদিসি থেকে।

৪১ - আর-রামলা: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আবু বকর ইবনে কুতাইবা আল-আসকালানি থেকে।

৪২ - মিশরের ফুসতাত: আহমাদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলি আন-নাসায়ি থেকে, এবং সাইদ ইবনে দাউদ ইবনে ওয়ারদান আল-মিসরি থেকে, এবং আলি ইবনুল হুসাইন ইবনে সুলাইমান থেকে।

৪৩ - হারাত: মুহাম্মদ ইবনুল মুনজির ইবনে সাইদ আল-মুআদ্দিল (১)।

আল্লাহ ইবনে হিব্বানের ওপর রহম করুন, ইলমের পথে কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে এবং শরিয়তের নববী হাদিস সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে তিনি কতই না ধৈর্যশীল ছিলেন! আর সে ইলম তিনি গ্রহণ করেছিলেন তাঁর সেই সব উস্তাদদের মুখ থেকে যারা প্রতিটি জনপদে এর জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এটি হচ্ছে সেই সব শায়খ ও আলেমদের একটি সামান্য অংশ মাত্র, যাঁদের সাথে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন এবং যাঁদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। কিন্তু ইবনে হিব্বান ইসলামি লাইব্রেরির জন্য কী রেখে গেছেন? হাফিজ খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন, যা তাঁর থেকে ইয়াকুত বর্ণনা করেছেন "মু'জাম...

--------------------------------------------

(১) মু'জামুল বুলদান ১/ ৪১৫ - ৪১৭, মুকাদ্দিমাহ মাওয়ারিদুজ জামআন পৃ: ৭ - ১০। এবং লেখকের রওদাতুল উকালা। তদ্রূপ "আস-সহিহ" গ্রন্থেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে সেই শায়খের আবাসস্থলের কথা উল্লেখ করেন যার কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন; যদি আমরা বিস্তারিত অনুসন্ধান করতাম তবে তা অনেক দীর্ঘ হতো।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
البلدان" 1/ 417: "ومن الكتب الَّتي تَكْثُرُ منافعها، إِنْ كانَتْ عَلَى قَدْرِ مَا تَرْجَمَهَا بهِ وَاضِعُهَا، مصنفات أبيَ حَاتِمٍ محمد بن حبان البُسْتِي، الَّتي ذَكَرَها لِي مَسْعودُ بْنُ نَاصِر السَّجَزيّ ووقفني عَلَى تَذْكِرَةٍ بأسمائِها، ولم يُقَدَّرْ لِيَ الوُصُولُ إلَى النَّظَرِ فِيهَا، لِأنَّهَا غَيْرُ مَوْجُودَةٍ بَيْنَنَا، وَلَا مَعْرُوفَة عِنْدَنَا، وأنَا أذْكُرُ مَا اسْتَحْسَنْتُهُ سِوَى مَا عَدَلْتُ عَنْهُ وَاطَّرَحْتُهُ".

وقَدْ ذَكَرَ الخطيبُ اسْمَاءَ طَائِفةٍ كبيرةٍ مِنْ مُؤَلَّفَاتِ ابْنِ حِبَّانَ نقلها عنه

ياقوت، فكان لَهُمَا الْفَضْلُ في حِفْظ أسْمَاءِ هذَا التُّرَاثِ الْعِلْمِيّ الْعَظِيمِ.

 

‌‌تآليف ابن حبان:

وَأمَّا الكُتُبُ الّتِي انْتَهَتْ إِلَيْنَا مِنْ مُؤَلَّفَاتِ هذَا الإمَامِ البَّارِعِ، وَالْحافِظِ النَّاقِدِ، فَهِيَ:

1 - "الْمُسْنَدُ الصَّحيحُ عَلَى التَّقَاسِيم وَالأنْوَاعِ، مِنْ غَيْرِ وُجُودِ قَطْع. فِي سَنَدِهَا، وَلَا ثُبُوتِ جَرْحٍ فِي نَاقِلِيهَا" وَالْمَشْهُور جمنْدَ الْعُلَمَاءِ بِ "صَحِيحِ ابْنِ حِبَّان " وسنتحدث عنه فيما بعد.

2 - "كِتَابُ الثِّقَات" يقول ابن حبان في مقدمته 1/ 3: "فَلَمَّا رأيْتُ مَعْرفَةَ السُّنَنِ مِنْ أعْظَمِ أَرْكَانِ الدِّينِ، وَأنَّ حِفْظَهَا يَجِبُ عَلَى أكْثَرِ الْمُسْلِمِينَ، وَأنَّهُ لا سبيلَ إِلَى مَعْرِفَةِ السَّقِيمِ مِنَ الصَّحيحِ، ولا صحة إخراج الدليل من الصريَح، إلا بمعرفة ضعفاء المحدثين، وكيفية ما كانوا عليه من الحالات، فأردت أن أُملي أسامي أكثر المحدّثين، ومن الفقهاء من أهل الفضل والصالحين، ومَن سلك سبيلهم من الماضين".

لقد بيّن لنا في هذا النص الدَّافعَ إلى كتابة "الثقات" و"الضعفاء" أيضاً. ولكن ما الخطة التي اتبعها في تأليف كتابه "الثقات"؟.

يقول في مقدمته 1/ 10 "وأبدأ منهما بالثقات، فنذكر ما كانوا عليه
'মু'জামুল বুলদান' ১/ ৪১৭: "এবং যে সকল কিতাবের উপকারিতা অনেক—যদি সেগুলো তার রচয়িতার বর্ণনা অনুযায়ী হয়ে থাকে—তবে সেগুলো হলো আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তির রচনাবলী, যেগুলোর কথা আমার কাছে মাসউদ বিন নাসির আস-সিজজি উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোর নামের একটি তালিকার ব্যাপারে আমাকে অবগত করেছেন। কিন্তু সেগুলো দেখার সুযোগ আমার ভাগ্যে জোটেনি, কারণ সেগুলো আমাদের নিকট বিদ্যমান নেই এবং আমাদের কাছে পরিচিতও নয়। আর আমি যা উত্তম মনে করেছি তাই উল্লেখ করছি, তা ব্যতীত যা থেকে আমি বিমুখ হয়েছি বা বর্জন করেছি।"

খতিব (আল-বাগদাদি) ইবনে হিব্বানের রচনাবলীর এক বিশাল অংশের নাম উল্লেখ করেছেন, যা ইয়াকুত তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এই মহান ইলমি ঐতিহ্যের নামগুলো সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের উভয়েরই বিশেষ অবদান রয়েছে।

 

‌‌ইবনে হিব্বানের রচনাবলী:

আর এই দক্ষ ইমাম এবং সমালোচক হাফিজের যে সকল গ্রন্থ আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেগুলো হলো:

১ - "আল-মুসনাদুস সহিহ আলাত তাকাসিমি ওয়ান আনওয়া, যার সনদে কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো জারহ (ত্রুটি) প্রমাণিত নয়।" এটি আলেমদের নিকট "সহিহ ইবনে হিব্বান" নামে পরিচিত এবং আমরা পরবর্তীতে এ সম্পর্কে আলোচনা করব।

২ - "কিতাবুস সিকাত"; ইবনে হিব্বান এর ভূমিকায় (১/৩) বলেন: "আমি যখন দেখলাম যে সুন্নাহর জ্ঞান হলো দ্বীনের অন্যতম মহান স্তম্ভ, এবং এর সংরক্ষণ অধিকাংশ মুসলিমের জন্য ওয়াজিব, আর দুর্বল বর্ণনাকে সহিহ থেকে আলাদা করার কোনো পথ নেই, এবং প্রকাশ্য দলিল থেকে সঠিক আহরণও সম্ভব নয়—মুহাদ্দিসদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের সম্পর্কে এবং তাদের অবস্থা কেমন ছিল তা জানা ব্যতীত—তাই আমি অধিকাংশ মুহাদ্দিস এবং ফুকাহাদের মধ্য থেকে যারা ফজল ও নেককার ছিলেন এবং অতীতে যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাদের নাম লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা করেছি।"

এই উদ্ধৃতিতে তিনি আমাদের কাছে "আস-সিকাত" এবং সেই সাথে "আদ-দুয়াফা" গ্রন্থ লেখার কারণও স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু তিনি তার "আস-সিকাত" গ্রন্থটি সংকলনে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন?

তিনি তার ভূমিকার ১/১০ পৃষ্ঠায় বলেন: "আমি তাদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্যদের (সিকাত) দিয়ে শুরু করছি, এরপর আমি উল্লেখ করব তারা যে অবস্থার ওপর ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
من الحالات: فأول ما أبدأ في كتابنا هذا ذكر المصطفى صلى الله عليه وسلم، ومولده، ومبعثه، وهجرته إلى أن قبضه الله تعِالى إلى جنته، ثم نذكر بعده الخلفاء الراشدين المهديين بأيامهم إلى أنْ قُتِلَ عَلِي - رحمة الله عليه- ثم نذكر صَحْبَ رسول الله صلى الله عليه وسلم واحداً واحداً عَلَى المعجم إذْ هُمْ خَيْرُ النَّاسِ قَرْناً بَعْدَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، ثم نَذكر بَعْدَهُمُ التابعين الذين شافَهُوا أصحابَ رَسولِ الله صلى الله عليه وسلم في الأقاليم كُلِّها عَلَى المعجم، إذ هم خير الناس بعد الصحابة قرناً، ثم نذكر القرن الثالث الذين رأوا التابعين، فأذكرهم على نحو ما ذكرنا الطبقتين الأوليين، ثم نذكر القرن الرابع الذين هم أتباع التابعين على سبيل مَن قبلهم. وهذا القرن ينتهي إلى زماننا هذا، ولا أذكر في هذا الكتاب إلا الثقات الذين يجوز الاحتجاج بخبرهم".

ونسأل: متى يجوز الاحتجاج بخبر هذا الثقة؟ فيجيبنا: "إذا تعرّى خبره عن خصال خمس، فإذا وجد خبر منكر عن واحد ممّن أذكره في كتابي هذا، فإن الخبر لا ينفك من إحدى خصال خمس:

1 - إمَّا أنْ يكونَ فوق الشَّيْخ الَّذي ذكرتُ اسْمَهُ في كِتَابي هذا، في الإِسناد رَجُل ضعيف.

2 - أو يكون دونَهُ رجلٌ واهٍ لا يجوزُ الاحتجَاجُ بِرِوَايَتِهِ.

3 - أو الْخَبَرُ يَكُونُ مُرْسلاً لا يَلْزَمُنَا بهِ الْحُجَّةُ.

4 - أوْ يَكُونُ مُنْقَطِعاً لَا تَقُومُ بِمِثْلِهِ الحُجَّةُ.

5 - أوْ يَكُونُ في الإسناد رَجُلٌ مُدَلِّس لم يبيِّنْ سَمَاعَهُ في الخبر من الذي سمعه منه" الثقات 1/ 12.
বিভিন্ন অবস্থা থেকে: আমাদের এই গ্রন্থে আমি সর্বপ্রথম মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা, তাঁর জন্ম, নবুয়ত প্রাপ্তি, হিজরত এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতে তুলে নেওয়া পর্যন্ত উল্লেখ করব। এরপর তাঁর পরে আমি হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের দিনগুলোর কথা উল্লেখ করব যতক্ষণ না আলী —রাহমাতুল্লাহি আলাইহি— শহীদ হন। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে একে একে উল্লেখ করব, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তাঁরাই যুগের সর্বোত্তম মানুষ। এরপর আমি তাঁদের পরবর্তী তাবেঈদের কথা উল্লেখ করব যারা বিভিন্ন অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে তাঁদের কথা উল্লেখ করব, কারণ সাহাবীদের পর তাঁরাই যুগের সর্বোত্তম মানুষ। এরপর আমি তৃতীয় প্রজন্মের কথা উল্লেখ করব যারা তাবেঈদের দেখেছেন, এবং আমি তাঁদের ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করব যেভাবে প্রথম দুই স্তরের কথা উল্লেখ করেছি। এরপর আমি চতুর্থ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করব যারা তাবে-তাবেঈন, তাঁদের পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করে। আর এই প্রজন্ম আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি এই গ্রন্থে কেবল সেই সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করব যাদের বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ।

এবং আমরা জিজ্ঞাসা করি: এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর খবর কখন দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হবে? তিনি আমাদের উত্তর দেন: "যখন তাঁর খবর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হবে। যদি আমার এই গ্রন্থে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তির সূত্রে কোনো মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে সেই খবরটি এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হবেই:

১ - হয় এই গ্রন্থে আমি যে শায়খের নাম উল্লেখ করেছি, সনদে তাঁর উপরে কোনো দুর্বল ব্যক্তি রয়েছেন।

২ - অথবা তাঁর নিচে কোনো অত্যন্ত দুর্বল ব্যক্তি রয়েছেন যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।

৩ - অথবা সংবাদটি মুরসাল (সূত্রবিচ্ছিন্ন), যা আমাদের জন্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক নয়।

৪ - অথবা এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), যার মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না।

৫ - অথবা সনদে এমন কোনো মুদাল্লিস (তথ্য গোপনকারী) ব্যক্তি রয়েছেন যিনি তাঁর বর্ণনায় কার কাছ থেকে শুনেছেন তা স্পষ্ট করেননি।" আস-সিকাত ১/ ১২।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
"فَكُلَّ مَنْ ذكرته في كتابي هذَا، إِذَا تَعَرَّى خبره عن الخصال الخمَس التي ذكرتها، فهو عدل يجوز الاحتجاج بخبره، لأن العدل مَن لم يعرف منه الجرح، والجرح ضد التعديل، فمَن لم يعلم بجرح، فهو عدل إذا لم يبيّن ضده، إِذْ لَم- يُكَلَّفِ النَّاسُ مِنَ النَّاسِ مَعْرِفَةَ مَا غَابَ عَنْهُمْ، وَإنَّمَا كُلِّفُوا الْحُكْمَ بِالظَّاهِرِ من الأَشْيَاءِ غير المغيب عنهم، جعلنا الله ممّن أسبل عليهم جَلابيبَ السَّتْر في الدُّنيا، واتَّصل ذلِكَ بالْعَفْوِ عَنْ جِنَايَاتِهِ في العُقْبَى، إِنَّه الفَعَّالُ لما يُريدُ". الثقات 1/ 13 - 14 آخر مقدمَته.

وَقَدْ طُبِعَ هذا الكتاب في تسعة أجزاء، وصنعت لهِ فهارس في مجلد عاشر (1).

3 - كتاب "الجرح والتعديل" وهو في تراجم الرجال مِنْ جِهَة مَنَازِلهم في الرِّوَايَةِ. وهو مُكَمِّلُ لِكِتَابِهِ "الثِّقَات".

4 - كتاب "الضُّعَفَاء" الذي قام بتحقيقه المحقّق الفاضل محمود إبراهيم زايد بعنوان "المجروحين من المحدّثين والضعفاء والمتروكين". وتمّ طبعه بثلاثة أجزاء. وقد قال في تقدمته: 1/ 1. "من خير الكتب وأجمعها، فإن ابن حبان يخطو في هذا الكتاب خطوة واسعة في هذا الفن؛

أ- هو أولاً وضع قواعده العشرين في التضعيف والجرح وترك الرجال.

ب- يذكر اسم الرجل كاملاً، والحكم عليه، والأسباب التي استند إليها في تكوين هذا الحكم، بينما كان النسائي- وهو أُستاذ ابن حبان- وَمَنْ عاصرَهُ أو مَنْ سَبَقَهُ مق الشيوخ يكتفون في مصنفاتهم عن

--------------------------------------------

(1) عندما كتبت هذه الدراسة في 1/ شعبان / 1403 هـ الموافق 13/ أيار 1983 م كان كتاب الثقات يصدر الجزء بعد الجزء، ففصلنا بعض التفصيل غير أن الكتاب قد تم تحقيقه وطبعه بفضل الله فاستبدلنا ذاك، بهذا الذي كتبنا، والله ولي التوفيق.
"আমি আমার এই কিতাবে যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাদের বর্ণিত সংবাদ যদি আমার উল্লিখিত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হয়, তবে তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি যার সংবাদ দলীল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ; কেননা ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি তিনিই যাঁর সম্পর্কে কোনো জরাহ (দোষারোপ) জানা নেই। আর জরাহ হলো তাদীল (ন্যায়নিষ্ঠতা সাব্যস্ত করা)-এর বিপরীত। সুতরাং যার সম্পর্কে কোনো জরাহ জানা নেই, সে-ই ন্যায়নিষ্ঠ যতক্ষণ না তার বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়। কেননা মানুষকে মানুষের অদৃশ্যের বিষয়গুলো জানার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি; বরং তাদের কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যা তাদের নিকট গোপন নয়। আল্লাহ আমাদের দুনিয়াতে তাঁর পর্দার চাদরে আবৃত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পরকালেও যেন এর ধারাবাহিকতায় আমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।" আস-সিকাত ১/১৩ - ১৪, ভূমিকার শেষে।

এই কিতাবটি নয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং দশম খণ্ডে এর নির্ঘণ্ট বা সূচীপত্র তৈরি করা হয়েছে (১)।

৩ - "আল-জারহু ওয়াত তাদীল" কিতাব। এটি বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ, যেখানে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদার দিকটি আলোচিত হয়েছে। এটি তার "আস-সিকাত" কিতাবের পরিপূরক।

৪ - "আদ-দুয়াফা" কিতাব, যা বিজ্ঞ মুহাক্কিক মাহমুদ ইব্রাহিম জায়েদ "আল-মাজরুহীন মিনাল মুহাদ্দিসীন ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকীন" শিরোনামে সম্পাদনা করেছেন। এটি তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। তিনি এর ভূমিকায় (১/১) বলেছেন: "এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সংকলিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ; কেননা ইবনে হিব্বান এই শাস্ত্রে এই কিতাবের মাধ্যমে এক বিশাল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন;

ক- প্রথমত, তিনি বর্ণনাকারীদের দুর্বল সাব্যস্ত করা, দোষারোপ করা এবং বর্জন করার ব্যাপারে বিশটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন।

খ- তিনি ব্যক্তির পূর্ণ নাম উল্লেখ করেন, তার সম্পর্কে হুকুম প্রদান করেন এবং যে কারণগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেগুলো উল্লেখ করেন; যেখানে নাসায়ি—যিনি ইবনে হিব্বানের উস্তাদ—এবং তাঁর সমসাময়িক বা পূর্বসূরি শাইখগণ তাঁদের সংকলনে কেবল...

--------------------------------------------

(১) যখন আমি ১ শাবান ১৪০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩ মে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে এই গবেষণাটি লিখেছিলাম, তখন আস-সিকাত কিতাবটি একের পর এক খণ্ড আকারে প্রকাশিত হচ্ছিল। তখন আমরা কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। তবে কিতাবটির তাহকীক ও মুদ্রণ আল্লাহর অনুগ্রহে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা পূর্বের আলোচনার পরিবর্তে বর্তমান অংশটুকু লিখেছি। আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা জাওয়াইদি ইবনি হিব্বান - ত হুসাইন আসাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ضعفاء الرجال بذكر اسم الراوي، والرأي فيه باختصار شديد مثل: فلان ضعيف، منكر الحديث، ضعّفه فلان، تركه فلان.

ج- ينقل بعد هذا رأي الأئمة في الرجال.

د- ينهي الترجمة برواية الأحاديث التي أنكرها المحدّثون عليه، ويصدر ذلك بقوله: "قال أبو حاتم: .... " لكن لا يسلم له بكل ما جاء فيه، فقد يندّ عن الصواب في بعض ما ذهب إليه كما بيّنه النقاد.

5 - كتاب "روضة العقلاء ونزهة الفضلاء" وهو كتاب نفيس في مكارم الأخلاق والخصال المحمودة، وهو مطبوع بتحقيق محي الدين عبد الحميد، ومحمد عبد الرزاق حمزة، ومحمد حامد الفقي سنة (1949).

6 - كتاب "مشاهير علماء الأمصار" قام بتحقيقه مـ: فلايشهمر سنة (1959). وقد ضم (1602) ترجمة من الصحابة، والتابعين، وأتباع التابعين، ومن تبعهم من الأخيار والصالحين: من الحجاز بحواليها، والعراق بنواحيها، والشام بأطرافها، ومصر بجوانبها، واليمن بما والاها، وخراسان بما دار عليها. هذا ما اطّلعنا عليه من مؤلفات هذا الِإمام التي انتهت إلينا، أما مؤلفاته التي ذكرها مَن ترجم له، ولم نقف عليها، ويغلب على الظن أنها أصبحتِ في حكم المفقود فهي:

1 - كتاب "الهداية إلى علم السنن" الذي قصد فيه إظهارَ الصِّنَاعَتيْنِ، وَهُمَا صِنَاعَتَا الحديثِ والفِقْهِ، يذكر فيه الحديثَ، ويترجم لَه، ثم يذكرُ مَنْ يَتَفَرَّدُ بِذلِكَ الحديثِ، وَمِنْ مَفَارِيدِ أي بَلَدٍ هوَ.

ثم يذكر كُلَّ اسْمٍ فِي إسْنَادِهِ مِنَ الصَّحابيِّ إِلَى شَيْخِهِ بما يعرفُ مِنْ نِسْبَتِهِ، ومولده، وتاريخ وفاته، وكنيته وقبيلته، وفضله وتيقظه، ثم يذكر ما في الحديث من الفقه والحكمة. فإن عِارضه خبِر ذكره وجمع بينهما، وإن تَضادَّ لَفْظُهُ مع خَبر آخرَ تَلَطَّفَ للجمع بينهما حتى يعلم ما في كل خبر من صناعة الحديث والفقه معاً.
বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখপূর্বক দুর্বল বর্ণনাকারীবৃন্দ এবং তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অভিমত, যেমন: অমুক দুর্বল, তার হাদিস প্রত্যাখ্যাত, অমুক তাকে দুর্বল বলেছেন, অমুক তাকে বর্জন করেছেন।

গ- এর পরে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ইমামগণের অভিমত উদ্ধৃত করেন।

ঘ- তিনি জীবনীর সমাপ্তি ঘটান এমন সব হাদিস বর্ণনার মাধ্যমে যা মুহাদ্দিসগণ তার বিপরীতে হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এটি তিনি এই বলে শুরু করেন: "আবু হাতিম বলেছেন: ...." তবে এতে যা কিছু এসেছে তার সবটুকুর সাথে একমত হওয়া যায় না, কেননা তিনি যা গ্রহণ করেছেন তার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত হয়ে থাকতে পারেন, যেমনটি সমালোচকগণ স্পষ্ট করেছেন।

৫ - "রওজাতুল উকালা ওয়া নুজহাতুল ফুজালা" গ্রন্থ। এটি উন্নত চরিত্র এবং প্রশংসনীয় গুণাবলি বিষয়ক একটি মূল্যবান গ্রন্থ। এটি ১৯৪৯ সালে মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ, মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামজা এবং মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকীর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

৬ - "মাশাহিরু উলামাইল আমসার" গ্রন্থ। এটি ১৯৫৯ সালে এম. ফ্লাইশহ্যামার সম্পাদনা করেছেন। এতে সাহাবী, তাবিঈ, তাবে-তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী নেককার ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে ১৬০২ জনের জীবনী স্থান পেয়েছে: হিজাজ ও এর আশপাশ থেকে, ইরাক ও এর সংলগ্ন এলাকা থেকে, শাম ও এর প্রান্তসমূহ থেকে, মিশর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে, ইয়ামেন ও এর সংলগ্ন এলাকা থেকে এবং খোরাসান ও এর পরিবেষ্টিত অঞ্চল থেকে। এই ইমামের রচনাবলির মধ্য থেকে এগুলোই আমরা অবগত হতে পেরেছি যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। আর তাঁর যেসব রচনার কথা তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন কিন্তু আমরা সেগুলো খুঁজে পাইনি এবং প্রবল ধারণা যে সেগুলো বর্তমানে হারানো গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, তা হলো:

১ - "আল-হিদায়াহ ইলা ইলমিস সুনান" গ্রন্থ। এতে তিনি হাদিস ও ফিকহ—এই দুই শাস্ত্রীয় নিপুণতা ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন। এতে তিনি হাদিস উল্লেখ করেন এবং তার শিরোনাম প্রদান করেন, এরপর উল্লেখ করেন কে এই হাদিসটি বর্ণনায় একক হয়েছেন এবং তিনি কোন শহরের একক বর্ণনাকারী।

অতঃপর তিনি সানাদের সাহাবী থেকে শুরু করে তাঁর উস্তাদ পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন তাদের বংশপরিচয়, জন্ম, মৃত্যুতারিখ, উপনাম, গোত্র, মর্যাদা এবং প্রখর স্মৃতিশক্তি যতটুকু জানা যায় সে অনুসারে। এরপর তিনি হাদিসে বিদ্যমান ফিকহ ও হিকমত উল্লেখ করেন। যদি কোনো বর্ণনা এর পরিপন্থী হয়, তবে তিনি সেটি উল্লেখ করেন এবং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করেন। আর যদি এর শব্দ অন্য কোনো বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন, যাতে প্রতিটি বর্ণনার মধ্যে হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো জানা যায়।