(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: -)
وقفات مع قضايا معاصرة شبهات ردود القسم: كتب عامة
الكتاب: وقفات مع قضايا معاصرة شبهات ردود
المؤلف: محمد حازم صلاح أبو إسماعيل محمد عبد الرحيم
الناشر: بداية للإنتاج الإعلامي
الطبعة: الأولى، 2010 م - 1431 هـ
عدد الصفحات: 173
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1434
সমসাময়িক ইস্যুসমূহের ওপর আলোকপাত: সংশয় ও নিরসন বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: সমসাময়িক ইস্যুসমূহের ওপর আলোকপাত: সংশয় ও নিরসন
লেখক: মুহাম্মদ হাজেম সালাহ আবু ইসমাইল মুহাম্মদ আবদুর রহিম
প্রকাশক: বিদায়াহ ফর মিডিয়া প্রোডাকশন
সংস্করণ: প্রথম، ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪৩১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৩
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলকদ ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১)
وقفات مع
قضايا معاصرة
شبهات وردود
أ. حازم صلاح أبو إسماعيل
কিছু পর্যবেক্ষণ
সমসাময়িক বিষয়াবলি
সংশয় ও নিরসন
উস্তাদ হাজেম সালাহ আবু ইসমাইল
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২)
الجزء الأول
وقفات
قضايا معاصرة شبهات وردود
أ. حازم صلاح أبو إسماعيل
প্রথম খণ্ড
পর্যবেক্ষণসমূহ
সমসাময়িক বিষয়াবলি: সংশয় ও নিরসন
উস্তাদ হাজেম সালাহ আবু ইসমাইল
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
اسم الكتاب: وقفات: قضايا معاصرة شبهات ردود
اسم المؤلف: أ. حازم صلاح أبو إسماعيل
مقاس الكتاب: 14.5× 20.5
إشراف ورؤية فنية: محمود خليل
تحرير ومراجعة لغوية: مسعد خيري
تصميم الغلاف: أسامة طه
تجهيز فني: أحمد علي
رقم الإيداع: 23785/ 2009
الطبعة الأولى 2010 م/ 1431 هـ
جميع حقوق الطبع والتوزيع محفوظة في مصر والعالم لشركة
بداية للإنتاج الإعلامي
أحمد خليل - محمود خليل
7 ش عبد العزيز - العتبة - القاهرة - ج. م. ع
تليفاكس: 0020223959408 - 4700072/ 011/002
www.bedaia.com
Email:bedaiasound@hotmail.com
গ্রন্থের নাম: ওয়াকফাত: সমসাময়িক বিষয়াবলি, সংশয় ও নিরসন
লেখকের নাম: উস্তাদ হাজেম সালাহ আবু ইসমাইল
গ্রন্থের আকার: ১৪.৫ × ২০.৫
তত্ত্বাবধান ও শিল্পনির্দেশনা: মাহমুদ খলিল
সম্পাদনা ও ভাষাগত পরিমার্জন: মুসআদ খাইরি
প্রচ্ছদ অলংকরণ: উসামা ত্বহা
কারিগরি প্রস্তুতি: আহমদ আলি
নিবন্ধন নম্বর: ২৩৭৮৫/ ২০০৯
প্রথম প্রকাশ: ২০১০ খ্রিস্টাব্দ/ ১৪৩১ হিজরি
মিশর ও বিশ্বজুড়ে মুদ্রণ ও বিতরণের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত—
বেদায়া মিডিয়া প্রোডাকশন
আহমদ খলিল - মাহমুদ খলিল
৭ আব্দুল আজিজ স্ট্রিট - আল-আতাবা - কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
টেলিফ্যাক্স: ০০২০২২৩৯৫৯৪০৮ - ৪৭০০০৭২/ ০১১/০০২
www.bedaia.com
Email:bedaiasound@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةإن أعداء الإسلام وهم مؤسسات ودول يعملون بقوة ضد الإسلام، يلتقطون الشبهات ليشوهوا صورة الإسلام، وليثيروا الريبة في نفوس أبنائه أنفسهم، ومع الأسف فقد استولوا على بعض الذين يتصورون أنهم مثقفون ليصبحوا خدمًا لهم، يعني أصبح من قومنا ومن شعوبنا من هم خدم لهذه الأفكار.
وهذا الأمر له سبب واحد وهو أن معلومات هؤلاء الخدم عن الإسلام لا تأتي من الإسلام، وإنما تأتي من أعداء الإسلام عن الإسلام.
وحول الشبهات التي تدور بذهن بعض المسلمين أو التي تكون مدخلاً لأعداء الإسلام كي يسمموا بها أفكار المسلمين ويثيروا الريبة في نفوسهم، ومنها مكانة المرأة وحقوقها ومدى عصمة الأنبياء ومشروعية الطلاق في
উপক্রমণিকানিশ্চয়ই ইসলামের শত্রুরা—যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র হিসেবে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সক্রিয়—তারা ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এবং এর অনুসারীদের হৃদয়ে দ্বিধা তৈরির উদ্দেশ্যে নানাবিধ সংশয় (شبهات) খুঁজে বেড়ায়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, তারা এমন কিছু ব্যক্তিকে বশীভূত করেছে যারা নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবী বলে মনে করে, যাতে তারা তাদের সেবকে পরিণত হয়। অর্থাৎ আমাদের স্বজাতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই এমন কিছু লোক তৈরি হয়েছে যারা এই সকল ভ্রান্ত চিন্তাধারার সেবকে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মূলে একটি মাত্র কারণ রয়েছে, আর তা হলো ইসলাম সম্পর্কে এই সেবকদের নিকট যে তথ্য রয়েছে তা সরাসরি ইসলাম থেকে সংগৃহীত নয়, বরং তা আসে ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে ইসলাম সম্পর্কে পরিবেশিত তথ্যের মাধ্যমে।
আর ওই সকল সংশয় (شبهات) প্রসঙ্গে যা কিছু মুসলিমদের মনে ঘুরপাক খায় অথবা যা ইসলামের শত্রুদের জন্য মুসলিমদের চিন্তাধারাকে বিষাক্ত করার এবং তাদের হৃদয়ে সন্দেহ জাগিয়ে তোলার প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে; যার অন্তর্ভুক্ত হলো নারীর মর্যাদা ও অধিকার, নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة) এবং তালাকের বৈধতা সংক্রান্ত...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الإِسلام وحكمته كذلك تعدد الزوجات والرق والعلاقة بين القدر والدعاء وكيفية فهم القرآن والهدف من الخلق وغيرها من الموضوعات الشائكة التي نسأل الله تعالى أن يعيننا على فهم الحق فيها واتباعه وتبيانه للناس.
حازم صلاح أبو إسماعيل
ইসলাম এবং এর প্রজ্ঞা, তদ্রূপ বহুবিবাহ, দাসপ্রথা, তাকদির ও দোয়ার মধ্যকার সম্পর্ক, কুরআন অনুধাবনের পদ্ধতি, সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং এ জাতীয় অন্যান্য জটিল বিষয়সমূহ; আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এগুলোর সত্য অনুধাবনে সহায়তা করেন এবং তা অনুসরণ করার ও মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার তাওফিক দান করেন।
হাজেম সালাহ আবু ইসমাইল
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
হেদায়াত ..
তা কীভাবে অর্জিত হয়?
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الهداية .. كيف تكون؟
إن من أكثر الخواطر ترددًا على أذهان المسلمين وهم يسمعون آيات القرآن الكريم، والمسلمون -جزاهم الله خيرًا- يقاومون هذا الخاطر، ويحاولون ألا يظهروه، وأن يخفوه وأن يكبتوه في أنفسهم خوفًا من أن يكون هذا الخاطر فيه شيء من عدم الإجلال والاحترام لمقام الله رب العالمين ..
إن هذا الخاطر يسأل عنه كثيرون، وهو أنهم وهم يقرؤون القرآن يمرون كثيرًا بقول الله عز وجل: {يُضِلُّ مَن يشآء ويَهدِى مَن يشَآءُ} [النحل:93]، فالله يهدي من يشاء ويضل من يشاء، فتطرأ على الذهن شبهة، هذه الشبهة تقول: إذا كانت الهداية والإضلال مرتبطين بمشيئة الله عز وجل، فكيف يحاسبنا الله على أفعالنا؟! نحن نعلم أن الله عدل، ولكن نريد أن نفهم، كيف يحاسبنا وهو يهدي من يشاء، ويضل من يشاء؟
وكما ذكرت أن المسلمين يقاومون، ويحاولون أن يخفوا هذا الخاطر حتى لا يقعوا فيما يناقض إجلال الله عز وجل لكن في الحقيقة هذا ليس منهج الإِسلام، منهج الإِسلام هو تجلية الحق، وإظهاره، منهج
হেদায়াত.. কীভাবে হয়?
পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ শ্রবণকালে মুসলিমদের মানসপটে সচরাচর যে সকল চিন্তার উদয় হয়, এটি তার মধ্যে অন্যতম। আর মুসলিমগণ—আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—এই চিন্তাকে প্রতিহত করেন এবং তা প্রকাশ না করে নিজেদের অন্তরে গোপন ও অবদমিত করে রাখার চেষ্টা করেন। রাব্বুল আলামীন আল্লাহর শানের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা এটি করে থাকেন...
এই বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে থাকেন; আর তা হলো তারা যখন কুরআন তিলাওয়াত করেন, তখন প্রায়ই মহান আল্লাহর এই বাণীর সম্মুখীন হন: {তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন} [আন-নাহল: ৯৩]। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, যার ফলে মনে একটি সংশয়ের সৃষ্টি হয়। এই সংশয়টি হলো: যদি হেদায়াত এবং পথভ্রষ্টতা মহান আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তিনি আমাদের কর্মের জন্য কীভাবে আমাদের হিসাব গ্রহণ করবেন?! আমরা জানি যে আল্লাহ পরম ন্যায়বিচারক, কিন্তু আমরা বিষয়টি বুঝতে চাই যে, তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন—এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে আমাদের বিচার করবেন?
আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি যে, মুসলিমগণ এই চিন্তাকে প্রতিহত করেন এবং তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন যাতে আল্লাহর মহিমার প্রতি কোনো অমর্যাদা প্রকাশ না পায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ইসলামের পদ্ধতি নয়। ইসলামের পদ্ধতি হলো সত্যকে উদ্ভাসিত করা এবং তা প্রকাশ করা, পদ্ধতি
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإِسلام ليس أن تمنع نفسك من طرح مثل هذا السؤال، بالعكس منهج الإِسلام أن تظهر ما عندك من سؤال؛ لأن الإِسلام ليس عنده ما يخفيه، الإِسلام دين قادر على أن يجيب على كل سؤال بتمكن واقتدار وكفاءة تامة.
ولذلك سبحان الله! بعض المسلمين أيضًا بدأوا يخرجون المسألة من الأزمة، وليجعلوها متناسبة مع العقل الحديث، فقالوا المقصود من الآية أن الله يضل بها من يشاء أن يضل، ويهدي من يشاء أن يهتدي، فيجعل الضمير عائدًا على الشخص نفسه.
وأنا أشكر هؤلاء لغيرتهم على الإِسلام، ولكن أنا أريد أن أجعل المسألة مستحكمة ثقة مني في دين الله، وفيما يطرحه من آيات الهدى البينة الرائعة، يقول الله تعالى: {مَنْ يَشَإِ اللهُ يُضْلِلْهُ وَمَنْ يَشَأْ يَجْعَلْهُ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الأنعام: 39]، من يشأ الله، فالمشيئة راجعة إلى الله، ويقول: {مَنْ يَهْدِ اللهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا} [الكهف: 17] .. لقد ذكروا أن الله هو الذي يقول: أتريدون أن تهدوا من أضل الله، فيكون قد ذكر أن الله يضلهم ..
فأنا أريد أن أقول لكم إن القرآن حتى حين يقول فمن يهديه من بعد الله، فمن يهدي من أضل الله، واضح وصريح في أن الله هو الذي يهدي وأَن الله هو الذي يضل ..
ইসলাম মানে এই নয় যে, আপনি নিজেকে এই ধরণের প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখবেন; বরং ইসলামের পদ্ধতি হলো আপনার মনে যে প্রশ্ন রয়েছে তা প্রকাশ করা; কারণ ইসলামের লুকানোর মতো কিছুই নেই। ইসলাম এমন একটি দ্বীন যা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত দৃঢ়তা, সামর্থ্য ও পূর্ণ যোগ্যতার সাথে প্রদান করতে সক্ষম।
আর একারণেই সুবহানাল্লাহ! কিছু মুসলিমও এই বিষয়টিকে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানোর এবং একে আধুনিক যুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়াস চালিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, আয়াতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাকেই পথভ্রষ্ট করেন যে নিজে পথভ্রষ্ট হতে চায়, আর তাকেই পথপ্রদর্শন করেন যে নিজে হেদায়েত পেতে চায়; এভাবে তারা (আয়াতের) সর্বনামটিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে গণ্য করেছেন।
ইসলামের প্রতি তাদের এই মমত্ববোধের জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, তবে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আমার প্রগাঢ় আস্থা (ثقة) এবং হেদায়েতের যে সুস্পষ্ট ও চমৎকার নিদর্শনসমূহ তিনি উপস্থাপন করেছেন, তার আলোকে আমি বিষয়টিকে আরও সুসংহত করতে চাই। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সরল পথে পরিচালিত করেন} [আল-আনআম: ৩৯]। 'আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন'—অর্থাৎ এখানে ইচ্ছা আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। তিনি আরও বলেন: {আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না} [আল-কাহাফ: ১৭]... তারা উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহই সেই সত্তা যিনি বলেন: তোমরা কি তাকে পথপ্রদর্শন করতে চাও যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? সুতরাং এখানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহই তাদের পথভ্রষ্ট করেন।
তাই আমি আপনাদের বলতে চাই যে, কুরআন এমনকি যখন বলে ‘আল্লাহর পর তাকে কে পথপ্রদর্শন করবে?’ অথবা ‘যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে কে পথপ্রদর্শন করবে?’, তখন এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন যে আল্লাহই পথপ্রদর্শন করেন এবং আল্লাহই পথভ্রষ্ট করেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الآن قد حكمت لكم الموضوع حتى نصعبه .. حتى تفرحوا معي بعد ذلك بفهم آيات الله ..
إن هذا الدين لا يقوم به من يجهله أبدًا، ولا يقوم به إلا من أحاطه من جميع جوانبه وفهمه .. من أشرق الإيمان في قلبه، وأشرق النور في عقله وذهنه وفي فهمه وإدراكه ..
يقول الله تعالى: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ (43)} [العنكبوت] إذن نور الله عز وجل في هذا القرآن.
ولقد ظهرت هذه الإشكالية وهذا التساؤل الذي طُرح لدى البعض على أن المسألة مسألة مزاج، مزاج الله وحاشا لله أن يقول الإنسان على الله عز وجل ما لم يقله الله .. إذ يتصور البعض أن المسألة تتعلق بالحالة المزاجية، وطبعًا الله ليس كمثله شيء، لكن حاشا لله ذلك، هذا ليس شأن الله أبدًا .. بل شأن الله عز وجل أن كل شيء عنده بمقدار، {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان: 2]، {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49)} [القمر]، {سُنَّةَ اللهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللهِ تَبْدِيلًا (23)} [الفتح]، {وَلَا تِجَدُ لِسُنَّتِنَا تًحوِيلًا} [الإسراء:77]، فهناك معيار محدد، مقياس محدد .. لكن من أين نأتي بهذا المعيار والمقياس في قوله تعالى: (يهدي من يشاء ويضل من يشاء)؟
এখন আমি আপনাদের সামনে বিষয়টি সুসংহত করেছি যাতে আমি একে গবেষণালব্ধ বা নিগূঢ় করতে পারি.. যাতে পরবর্তীতে আল্লাহর আয়াতসমূহ অনুধাবনের মাধ্যমে আপনারা আমার সাথে আনন্দিত হতে পারেন।
নিশ্চয়ই এই দ্বীন এমন কেউ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না যে এ সম্পর্কে অজ্ঞ, বরং এটি কেবল সেই ব্যক্তিই আঞ্জাম দিতে পারে যে একে এর সকল দিক থেকে আয়ত্ত করেছে এবং উপলব্ধি করেছে.. যার অন্তরে ঈমান উদ্ভাসিত হয়েছে এবং যার বুদ্ধি, মেধা, বুঝ ও উপলব্ধিতে নূর বিচ্ছুরিত হয়েছে..
মহান আল্লাহ বলেন: {আর এই সকল উপমা আমি মানুষের জন্য পেশ করি এবং বিদ্বানগণ ব্যতীত আর কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না (৪৩)} [আনকাবুত]। সুতরাং মহান আল্লাহর নূর এই কুরআনের মধ্যেই নিহিত।
কারো কারো মাঝে এই সংশয় ও প্রশ্নটি উদয় হয়েছে যে, বিষয়টি যেন খেয়াল-খুশির বিষয়; আল্লাহর মর্জি—আল্লাহর শানে এমন কথা বলা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই যা তিনি স্বয়ং বলেননি—কেননা কেউ কেউ কল্পনা করে যে বিষয়টি মানসিক অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট। বস্তুত আল্লাহ তাআলার সদৃশ কিছুই নেই, আর আল্লাহর জন্য তা অসম্ভব; এটি কোনোভাবেই আল্লাহর শান নয়.. বরং মহান আল্লাহর শান হলো এই যে, তাঁর নিকট প্রতিটি বিষয় সুনির্দিষ্ট মাত্রায় বিদ্যমান। {তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তা যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন} [ফুরকান: ২], {নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত তকদীর অনুযায়ী (৪৯)} [কামার], {এটিই আল্লাহর সুন্নাত যা পূর্বেও অতিক্রান্ত হয়েছে এবং আপনি আল্লাহর সুন্নাতে কোনো পরিবর্তন পাবেন না (২৩)} [ফাতহ], {এবং আপনি আমার সুন্নাতে কোনো বিচ্যুতি পাবেন না} [ইসরা: ৭৭]। সুতরাং এখানে একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ও সুনির্দিষ্ট পরিমাপ রয়েছে.. কিন্তু মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন)—এর ক্ষেত্রে আমরা এই মানদণ্ড ও পরিমাপ কোথা থেকে পাব?
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لقد فهم البعض أن الإضلال والغواية مسألة بدون معيار، لكن في حقيقة الأمر عندما يقول الله سبحانه وتعالى إنه يضل من يشاء، فقد ذكر هذه الفئات المحددة التي شاء الله إضلالها، أو يشاء الله إضلالها، ذكرها تحديدًا .. كما أنه ذكر الفئات التي يشاء الله هداها، ذكرها مثل القانون ..
القانون يقول: إلا الفئات كذا والفئات مذكورة في مواد أخرى، فكذلك كأن القرآن يقول: إن الله يهدي من يشاء ممن ذكرته لكم في آيات القرآن أن الله يشاء هداه، والله يضل من يشاء من الفئات التي يشاء الله إضلالها ممن ذكرها في القرآن ..
والسؤال من الذي يشاء الله إضلاله، ومن الذي يريد الله هدايته قد ورد في نص القرآن .. يقول الله تبارك وتعالى مثلًا عن الذين يضلهم الله سبحانه وتعالى: {وَيُضِلُّ اللهُ الظَّالِمِينَ} [إبراهيم: 27] {وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ} [البقرة: 26].
إذن هؤلاء قوم اتخذوا قرارًا بالظلم أولًا، فدخلوا في فئة اسمها "الظالمون"، ولقد ذكر الله أنه يضل الظالمين، وهؤلاء اتخذوا قرارًا مسبقًا بالفسق، والله تعالى ذكر أن الفاسقين يضلهم الله، وذكر الله تعالى: {إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ} [غافر: 28] .. هؤلاء
কেউ কেউ মনে করেছেন যে, পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহি বিষয়টি কোনো মানদণ্ড ছাড়াই হয়ে থাকে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন যে তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, তখন তিনি সেই সুনির্দিষ্ট শ্রেণিগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন যাদের আল্লাহ পথভ্রষ্ট করতে চেয়েছেন বা চান; তিনি তা সুনির্দিষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে তিনি সেই শ্রেণিগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন যাদের আল্লাহ হেদায়েত দিতে চান, যা অনেকটা আইনের মতো ..
আইন যেমন বলে: অমুক অমুক শ্রেণি ব্যতীত, আর সেই শ্রেণিগুলো অন্য ধারায় বর্ণিত থাকে; ঠিক তেমনিভাবে কুরআন যেন বলছে: আল্লাহ তাদেরই হেদায়েত দান করেন যাদের হেদায়েত দেওয়ার কথা আমি কুরআনের আয়াতসমূহে তোমাদের নিকট উল্লেখ করেছি যে আল্লাহ তাদের হেদায়েত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। আর আল্লাহ তাদেরই পথভ্রষ্ট করেন যাদের পথভ্রষ্ট করার কথা তিনি কুরআনে উল্লেখ করেছেন ..
প্রশ্ন হলো, আল্লাহ কাকে পথভ্রষ্ট করতে চান এবং কাকে হেদায়েত দিতে চান? এর উত্তর কুরআনের পাঠেই বর্ণিত হয়েছে .. আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যেমন সেই ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেন যাদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পথভ্রষ্ট করেন: {আর আল্লাহ জালেমদের পথভ্রষ্ট করেন} [ইব্রাহিম: ২৭], {আর তিনি এর দ্বারা পাপাচারী (فاسق) ব্যতীত কাউকে পথভ্রষ্ট করেন না} [বাকারা: ২৬] ..
সুতরাং, এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা প্রথমে জুলুমের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে তারা "জালেম" নামক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে তিনি জালেমদের পথভ্রষ্ট করেন। আর এরা পূর্বেই পাপাচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে পাপাচারীদের (فاسق) আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ তাআলা আরও উল্লেখ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পথপ্রদর্শন করেন না, যে সীমালঙ্ঘনকারী (مسرف) ও চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)} [গাফির: ২৮] .. এরা
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أسرفوا على أنفسهم في المعصية والكذب، {إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ} [الزمر: 3]، فالآيات محددة والمسألة ليست مطلقة كأن يختار الله مثلًا فلانًا ليهديه، وفلانًا فلا يهديه، لا .. حاشا لله أن يكون الأمر بهذه الصورة، وإنما هو معيار منضبط، {وَأَنَّ اللهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ الْخَائِنِينَ} [يوسف: 52]، مع أن هذه الآية لها أيضًا بعد آخر، {إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللهِ لَا يَهْدِيهِمُ اللهُ} [النحل: 104]، يعني هم اتخذوا قرارًا بالكفر فأصبحوا خارج دائرة الهداية، اتخذوا قرارًا بالظلم، فأخرجوا أنفسهم خارج دائرة الهداية، هذا قرارهم المسبق، هم اتخذوه، هم أسرفوا، هم كفروا، هم خانوا .. {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا (137)} [النساء] الآية ذكرها الله عن المنافقين، إذ إنهم يتلاعبون بالدين .. {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا (137)} [النساء] إذن هم فئة محددة، متلاعبة بالدين؛ لذلك فإن الله يضل من يشاء لأنهم استحقوا هذا الإضلال .. يقول الله تبارك وتعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَظَلَمُوا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقًا (168)} [النساء] في الآية الأولى "ولا ليهديهم سبيلًا"، وفي الثانية "ولا ليهديهم طريقًا" .. إن الذين كفروا
তারা পাপাচার এবং মিথ্যার মাধ্যমে নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না যে মিথ্যুক (كاذب) ও চরম অকৃতজ্ঞ} [যুমার: ৩]। সুতরাং আয়াতসমূহ সুনির্দিষ্ট এবং বিষয়টি এমন নিঃশর্ত নয় যে আল্লাহ চাইলেন অমুককে হিদায়াত দেবেন আর অমুককে দেবেন না, না... আল্লাহর শানে এটি অসম্ভব যে বিষয়টি এমন হবে, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল মানদণ্ড। {আর আল্লাহ নিশ্চয়ই বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্ত সফল হতে দেন না} [ইউসুফ: ৫২], যদিও এই আয়াতের আরেকটি দিকও রয়েছে। {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদের হিদায়াত দেন না} [নাহল: ১০৪], অর্থাৎ তারা কুফরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে তারা হিদায়াতের গণ্ডির বাইরে চলে গেছে। তারা জুলুমের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে তারা নিজেদের হিদায়াতের গণ্ডি থেকে বের করে দিয়েছে। এটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, যা তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে; তারা সীমালঙ্ঘন করেছে, তারা কুফরি করেছে, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে... {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরি করেছে, আবার ঈমান এনেছে, পুনরায় কুফরি করেছে এবং কুফরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদের কোনো পথ প্রদর্শন করবেন না (১৩৭)} [নিসা]। আল্লাহ এই আয়াতটি মুনাফিকদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা দ্বীন নিয়ে খেলা করে... {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরি করেছে, আবার ঈমান এনেছে, পুনরায় কুফরি করেছে এবং কুফরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদের কোনো পথ প্রদর্শন করবেন না (১৩৭)} [নিসা]। সুতরাং তারা একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী যারা দ্বীন নিয়ে খেলা করে; তাই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন কারণ তারা এই পথভ্রষ্টতারই যোগ্য হয়েছে... আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদের কোনো পথ দেখাবেন না (১৬৮)} [নিসা]। প্রথম আয়াতে রয়েছে "তাদের কোনো পথ দেখাবেন না", আর দ্বিতীয় আয়াতে রয়েছে "তাদের কোনো রাস্তা দেখাবেন না"... নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وظلموا وهذه الفئة جمعت بين الكفر والظلم .. إذن الله لا يهدي الكافرين، الله لا يهدي الفاسقين، الله لايهدي الظالمين، ولا يهدي المنافقين، ولا يهدي المتلاعبين، ولا يهدي من هو مسرف كذاب، ولا من هو كاذب كفار ..
إذن هي فئات ذكرها الله تبارك وتعالى، حتى عندما ذكر عن قوم {سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ} [المائدة: 42] .. وقوله: {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ} [المائدة: 41] ثم قال عن هذه الفئة: {أُولَئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ} [المائدة: 41].
لذا حينما تسمع قوله تعالى: "إن الله يضل من يشاء" إياك أن تعتقد أنها فئات مجهولة، أو مسألة متروكة للهوي .. وإنما هي سنن وقواعد وقوانين ومعايير أوحاها الله إلينا، وعرّفنا بها، ولكننا نمر علي آيات القرآن، ولا نقف عندها برغم وضوح الرؤية في آيات القرآن بشأنها ..
أما الهداية .. سبحان الله! فقد ذكرها الله تعالي أيضًا تحديدًا حتى نعلم أن الآية تحيل إلى آيات أخرى؛ لأن العبرة بمجمل آيات القرآن، مثلًا يقول الله سبحانه وتعالى: {فَبَشِّرْ عِبَادِ (17) الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ (18)} [الزمر] ..
এবং তারা জুলুম করেছে; আর এই শ্রেণিটি কুফর ও জুলুমের সমাবেশ ঘটিয়েছে। অতএব, আল্লাহ কাফিরদের হিদায়াত করেন না, আল্লাহ ফাসিকদের হিদায়াত করেন না, আল্লাহ জালিমদের হিদায়াত করেন না এবং তিনি মুনাফিকদেরও হিদায়াত করেন না। তিনি খামখেয়ালিদের পথ দেখান না এবং তাকেও হিদায়াত করেন না যে সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদী (كذاب), আর তাকেও নয় যে মিথ্যাবাদী ও ঘোর অবিশ্বাসী।
সুতরাং এগুলি হলো সেই সব শ্রেণি যাদের কথা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা উল্লেখ করেছেন। এমনকি যখন তিনি সেই সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন যারা: {মিথ্যা শ্রবণে অত্যন্ত তৎপর এবং অবৈধ সম্পদ ভক্ষণে অতি আসক্ত} [আল-মায়েদাহ: ৪২] .. এবং তাঁর বাণী: {তারা শব্দসমূহকে তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে বিচ্যুত করে বিকৃত করে} [আল-মায়েদাহ: ৪১]। এরপর তিনি এই শ্রেণি সম্পর্কে বলেছেন: {এরাই তারা যাদের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি} [আল-মায়েদাহ: ৪১]।
তাই আপনি যখন মহান আল্লাহর বাণী— "নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন" শুনবেন, তখন সাবধান! কখনও মনে করবেন না যে তারা কোনো অজ্ঞাত (مجهولة) শ্রেণি, অথবা বিষয়টি প্রবৃত্তির খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনো বর্জিত (متروكة) বিষয়। বরং এগুলো হলো সুন্নাহ (রীতি), মূলনীতি, নিয়ম এবং মানদণ্ড যা আল্লাহ আমাদের প্রতি ওহি করেছেন এবং আমাদের তা জানিয়েছেন। কিন্তু আমরা কুরআনের আয়াতের পাশ দিয়ে চলে যাই এবং এ বিষয়ে কুরআনের আয়াতসমূহে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্ত্বেও আমরা সেখানে থেমে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করি না..
আর হিদায়াতের বিষয়টি.. সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা এটিও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যাতে আমরা জানতে পারি যে, একটি আয়াত অন্য আয়াতের দিকেই ইঙ্গিত করে; কারণ শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় কুরআনের আয়াতসমূহের সামগ্রিকতা থেকে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {অতএব সুসংবাদ দিন আমার সেই বান্দাদের (১৭) যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। আল্লাহ তাদেরই হিদায়াত করেছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান (১৮)} [আয-যুমার] ..
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
إذن يهدي الله أصحاب صفات أولي الألباب، وفي سورة الرعد صفات لأولي الألباب، والسؤال: من هم أولو الألباب؟ ويمكننا معرفة ذلك من تتبع صفات أولي الألباب في القرآن الكريم ..
أيضًا يهدي الله المتقين، وكذلك مِن الذين يهديهم الله من اتخذوا قرارًا بالإيمان والعمل الصالح، يقول الله عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [البقرة:277] يقول الله تعالى عنهم والذين اهتدوا، هم آمنوا واتخذوا قرارًا بالهدى، {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ (17)} [محمد] {وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [التغابن: 11] لما جاءهم الهدى اهتدوا ..
إذن هؤلاء اتخذوا القرار، فالله لا يعبث، حاشاه ذلك، بل إن الله جعل لنا مشيئة، قال من شاء فليؤمن، ومن شاء فليكفر، فلا يعطل هذه المشيئة .. ولهذا قال تعالى: {وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [آل عمران: 101] فهم اعتصموا بالله ..
ويقول الله تعالي: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللهِ} [القصص: 50] اتبع هواه بغير هدى من الله، هو لا يسير على هدى من الله، وإنما هو يسير هكذا، يدخن السجائر ويصادق زميلات في العمل، والأمور لديه غير منضبطة تمامًا وأحيانًا يصلي وأحيانًا أخرى
সুতরাং, আল্লাহ বুদ্ধিমানদের (أولو الألباب) গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিদের পথ প্রদর্শন করেন। সূরা আর-রা'দে বুদ্ধিমানদের (أولو الألباب) গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো: কারা এই বুদ্ধিমান (أولو الألباب)? পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বুদ্ধিমানদের (أولو الألباب) গুণাবলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমরা তা জানতে পারি।
একইভাবে আল্লাহ মুত্তাকিদের পথ প্রদর্শন করেন। তদ্রূপ আল্লাহ তাদেরও পথ প্রদর্শন করেন যারা ঈমান ও নেক আমল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে} [আল-বাকারা: ২৭৭]। যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—তারা ঈমান এনেছে এবং হেদায়াত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। {যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদেরকে তাদের তাকওয়া দান করেন।} [মুহাম্মদ: ১৭]। {আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} [আত-তাগাবুন: ১১]। যখন তাদের নিকট হেদায়াত আসলো, তখন তারা তা গ্রহণ করলো।
সুতরাং এরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আল্লাহ অনর্থক কোনো কাজ করেন না, তিনি এর থেকে পবিত্র। বরং আল্লাহ আমাদের জন্য ইচ্ছাশক্তি (مشيئة) নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন—যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক; তিনি এই ইচ্ছাশক্তিকে রহিত করেন না। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যে আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, সে অবশ্যই সরল সঠিক পথের (صراط مستقيم) দিশা পায়।} [আলে ইমরান: ১০১]। সুতরাং তারা আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পথনির্দেশ ছাড়াই যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে?} [আল-কাসাস: ৫০]। সে আল্লাহর হেদায়াত ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ করেছে; সে আল্লাহর হেদায়াতের পথে চলে না, বরং সে আপন খেয়াল-খুশিমতো চলে—সিগারেট পান করছে, কর্মক্ষেত্রে নারী সহকর্মীদের সাথে মেলামেশা করছে এবং তার জীবনধারা একেবারেই বিশৃঙ্খল; সে কখনও সালাত আদায় করে আবার কখনও করে না।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لا يصلي .. هو شخص يتبع هواه بغير هدى من الله .. يقول الله تعالي: {وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ} [النساء:66] فهذه خطوة يقوم بها المسلم، ويقول تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا} [النساء:66]، {وَإِذًا لَآتَيْنَاهُمْ مِنْ لَدُنَّا أَجْرًا عَظِيمًا (67) وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا (68)} [النساء].
إذن الهدى للذي يستمع للموعظة وينفذها، فيأتيه الهدى، ويتبعه، وهذا بخلاف الذي يأتيه الهدى ولا يتبعه .. فحينما يقول الله عز وجل: "إن الله يهدي من يشاء" ليس معناها أن الله يهدي من لا يستحق، فهو الله تعالى رب العالمين، ليس كمثله شيء، فكل شيء عند الله تعالى بمقدار، يقول الله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69] .. جاهدوا أي تحركوا إلى الله عز وجل فاستحقوا الهداية ..
والسؤال: ما هي العملة .. عملة الهداية وعملة الغواية؟ العملة هي الخطوة السابقة، الله تعالى بعث إليك الهدى، فتقبله أو ترفضه، إن قبلته فقد حزت العملة التي بها تشتري الهدى، أنك قبلت وأقبلت، وإن رفضت الهدى، فإنك بذلك تكون قد فقدت العملة، وليس معك عملة لشراء الهدى.
তিনি সালাত আদায় করেন না... তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পথনির্দেশ (هدى) ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা যদি তা-ই করত যা তাদের উপদেশ (موعظة) দেওয়া হয়} [নিসা: ৬৬]—এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা একজন মুসলিম গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তারা যদি তা-ই করত যার উপদেশ (موعظة) তাদের দেওয়া হয়েছিল, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য কল্যাণকর এবং (ঈমানে) অধিক সুদৃঢ়কারী (تثبيتًا) হতো} [নিসা: ৬৬], {আর তখন অবশ্যই আমি তাদের আমার পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান দান করতাম (৬৭) এবং অবশ্যই তাদের সরল পথে পরিচালিত (هدى) করতাম (৬৮)} [নিসা]।
সুতরাং পথনির্দেশ (هدى) তার জন্যই, যে উপদেশ (موعظة) শ্রবণ করে এবং তা বাস্তবায়ন করে; ফলে তার কাছে হেদায়াত (هدى) আসে এবং সে তার অনুসরণ করে। আর এটি সেই ব্যক্তির বিপরীত যার কাছে হেদায়াত (هدى) আসে কিন্তু সে তার অনুসরণ করে না। যখন মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন", তখন এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ এমন কাউকে পথ দেখান যে তার যোগ্য নয়। তিনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। আল্লাহর কাছে প্রতিটি বিষয় একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপে রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আমার পথে সাধনা বা প্রচেষ্টা (جاهدوا) চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহে পরিচালিত (هدى) করব} [আনকাবুত: ৬৯]। 'সাধনা বা প্রচেষ্টা (جاهدوا) করেছে' অর্থাৎ তারা মহান আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়েছে, ফলে তারা হেদায়াত (هداية) প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।
প্রশ্ন হলো: বিনিময় মাধ্যমটি কী? হেদায়াত (هداية) এবং ভ্রষ্টতার (غواية) বিনিময় মাধ্যমটি কী? এই বিনিময় মাধ্যমটি হলো পূর্ববর্তী পদক্ষেপ। আল্লাহ তাআলা আপনার কাছে পথনির্দেশ (هدى) পাঠিয়েছেন, এখন আপনি তা গ্রহণ করবেন অথবা প্রত্যাখ্যান করবেন। যদি আপনি তা গ্রহণ করেন, তবে আপনি সেই বিনিময় মাধ্যমটি অর্জন করলেন যা দিয়ে আপনি হেদায়াত (هدى) লাভ করবেন; অর্থাৎ আপনি তা গ্রহণ করেছেন এবং সেদিকে অগ্রসর হয়েছেন। আর যদি আপনি হেদায়াত (هدى) প্রত্যাখ্যান করেন, তবে এর মাধ্যমে আপনি সেই বিনিময় মাধ্যমটি হারিয়ে ফেললেন এবং হেদায়াত (هدى) লাভের জন্য আপনার কাছে আর কোনো বিনিময় মাধ্যম অবশিষ্ট রইল না।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لذلك كما ذكرت من قبل، ذكر القرآن عن قوم أنه هداهم وهم كفار، وقال إن الله قد هداهم .. قال عن ثمود الذين عذبوا وماتوا كفارًا: {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ} [فصلَت:17] ثم قال: {فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى} [فصلت: 17]، وعن فرعون {وَأَهْدِيَكَ إِلَى رَبِّكَ} [النازعات 19] أي أنه هو الذي رفض الهدى، وقال عن آزر والد إبراهم عليه الصلاه والسلام أو عمه، {يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءَنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا (43)} [مريم] سأهديك .. الهدى معناها الدلالة علي الخير، بل إن الله عز وجل يذكر أن الكفار اتخذوا قرارًا بألا يؤمنو في، {وَقَالُوا إِنْ نَتَّبِعِ الْهُدَى مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَا} [القصص: 57] .. ويقول تعالى: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ} [الأنعام:116] هذا وصف عن الكفار .. وقال: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ الْهُدَى} [النجم:23] ما هذا؟ أيذكر القرآن عن قوم أنهم قد جاءهم من ربهم الهدى وهم يتبعون الظن وما تهوي الأنفس وهم كفار؟ والجواب نعم .. وذلك لإبطال حجتهم يوم القيامة.
ولذلك حينما تقرأ سورة الزمر تجد ردًا علي من يريد أن يتحجج وذلك حتي لا يأتي شخص يوم القيامة ويقول {لَوْ أَنَّ اللهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ} [الزمر:57] حتي لا تزعم نفس هذا ..
তাই আমি পূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি, কুরআন এমন এক কওমের কথা উল্লেখ করেছে যে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত (هدى) দিয়েছেন অথচ তারা ছিল কাফির। এবং বলেছেন যে, আল্লাহ অবশ্যই তাদের হিদায়াত (هدى) দিয়েছেন... তিনি সামুদ জাতি সম্পর্কে বলেছেন—যারা আজাবপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল—: {আর সামুদ জাতির কথা, আমি তাদের হিদায়াত (هَدَيْنَاهُمْ) দিয়েছিলাম} [ফুসসিলাত: ১৭]। অতঃপর তিনি বলেছেন: {কিন্তু তারা হিদায়াতের (الهدى) পরিবর্তে অন্ধত্বকে পছন্দ করেছিল} [ফুসসিলাত: ১৭]। আর ফেরাউন সম্পর্কে বলেছেন: {এবং আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে হিদায়াত (أَهْدِيَكَ) করব} [আন-নাযিয়াত: ১৯]। অর্থাৎ সে নিজেই হিদায়াত (الهدى) প্রত্যাখ্যান করেছিল। এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পিতা বা চাচা আজর সম্পর্কে বলেছেন: {হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথে হিদায়াত (أَهْدِكَ) করব} [মারইয়াম: ৪৩]। আমি আপনাকে হিদায়াত করব... হিদায়াত (الهدى) শব্দের অর্থ হলো কল্যাণের দিকে পথপ্রদর্শন করা। বরং মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, কাফিররা ঈমান না আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল: {তারা বলল, যদি আমরা তোমার সাথে হিদায়াত (الهدى) অনুসরণ করি, তবে আমাদের ভূখণ্ড থেকে আমাদের উৎখাত করা হবে} [আল-কাসাস: ৫৭]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা কেবল ধারণার (الظن) অনুসরণ করে} [আল-আনআম: ১১৬]। এটি কাফিরদের সম্পর্কে একটি বর্ণনা। তিনি আরও বলেন: {তারা কেবল ধারণা (الظن) এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, অথচ তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে হিদায়াত (الهدى) এসেছে} [আন-নাজম: ২৩]। এর অর্থ কী? কুরআন কি এমন কোনো কওমের কথা উল্লেখ করছে যাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত (الهدى) এসেছে অথচ তারা ধারণা (الظن) ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করছে এবং তারা কাফির? উত্তর হলো—হ্যাঁ। আর এটি কিয়ামতের দিন তাদের দলিল বা যুক্তি (حجة) খণ্ডন করার জন্য।
আর এই কারণেই যখন আপনি সূরা আয-যুমার পাঠ করবেন, তখন যারা ওজর বা যুক্তি (تحجج) দেখাতে চায় তাদের প্রতি উত্তর খুঁজে পাবেন। যাতে কিয়ামতের দিন কোনো ব্যক্তি এসে এ কথা না বলতে পারে যে, {যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত (هَدَانِي) দিতেন তবে আমি অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম} [আয-যুমার: ৫৭]। যাতে কোনো আত্মা বা নফস (نفس) এমন দাবি করতে না পারে...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا الكلام يقوله البعض، فيقول أحدهم: "لوكان الله هداني لكنت وكنت، لكن هذا أمر خاص بالله، يضل من يشاء ويهدي من يشاء، ويبدو أن الله لا يريد أن يهديني" وهذا كلام خاطئ، وللأسف بسبب مشاهدة الأفلام والمسلسلات والممثلين والممثلات، صارت هذه هي ثقافة المسلمين اليوم، يقول الله عز وجل في هذا الأمر: {أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ (57)} [الزمر] ثم ثم يقول: {بَلَى} يعني بلي بل هديتك وأعطيتك الهدي، {بَلَى قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ (59)} [الزمر:59].
ولذلك لا بد أن نعلم قوله صلي الله عليه وسلم مخبرًا عن ربه في الحديث القدسي: "من تقرب إلى شبرًا تقربت إليه ذراعًا، ومن تقرب إلى ذراعًا تقربت إليه باعًا، ومن أتاني يمشي أتيته هرولة" ..
طبعًا هذا تمثيل لمعني اللفظ وليس لفعل الله، فلابد إذن من اتخاذ خطوة، وخطوة من الله عز وجل أنه أرسل رسوله بالهدي والدلالة علي الخير ودين الحق ليظهره علي الدين كله، فمن استجاب وآمن وأجاب واتبع فإن الله سيعطيه الهدي، ومن رفض وكفر وظلم وكان مسرفًا ومرتابًا وكذابًا وظلومًا وكفر ثم آمن ثم كفر ثم آمن ثم كفر وتلاعب ولم يؤمن بآيات الله و .. و .. فإن الله تعالى يضله.
অনেকে এই কথাটি বলে থাকেন, তাদের কেউ কেউ বলেন: "যদি আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দান করতেন, তবে আমি অমুক অমুক হতাম। কিন্তু এটি আল্লাহর বিশেষ ইচ্ছাধীন বিষয়; তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। মনে হচ্ছে আল্লাহ আমাকে হেদায়াত করতে চান না।" এটি একটি ভ্রান্ত কথা। দুর্ভাগ্যবশত, চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক নাটক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কর্মকাণ্ড দেখার কারণে আজ মুসলমানদের সংস্কৃতি এই রূপ ধারণ করেছে। এই বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {অথবা যেন বলে— আল্লাহ যদি আমাকে পথপ্রদর্শন করতেন, তবে অবশ্যই আমি মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (৫৭)} [সূরা যুমার]। এরপর তিনি বলেন: {অবশ্যই} অর্থাৎ হ্যাঁ, বরং আমি তোমাকে হেদায়াত দান করেছি এবং পথপ্রদর্শন করেছি। {হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তোমার নিকট আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে, অহংকার করেছিলে এবং তুমি কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (৫৯)} [সূরা যুমার: ৫৯]।
তাই আমাদের অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই বাণীটি জানতে হবে, যা তিনি তাঁর রব সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যে ব্যক্তি আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দ্রুতগতিতে আসি।"
অবশ্যই এটি শব্দের অর্থের একটি রূপক উপস্থাপন মাত্র, আল্লাহর কাজের সাদৃশ্য নয়। সুতরাং (বান্দার পক্ষ থেকে) একটি পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পদক্ষেপ হলো তিনি তাঁর রাসুলকে হেদায়াত, কল্যাণের দিশা এবং সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তা সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী হয়। অতএব, যে ব্যক্তি সাড়া দিল, ঈমান আনল এবং অনুসরণ করল, আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করবেন। আর যে প্রত্যাখ্যান করল, কুফরি করল, জুলুম করল এবং সীমালঙ্ঘনকারী, সংশয়বাদী, মিথ্যাবাদী (كذاب) ও ঘোরতর জালিম হলো; যে কুফরি করল, অতঃপর ঈমান আনল, পুনরায় কুফরি করল এবং দ্বীন নিয়ে খেলা করল ও আল্লাহর আয়াতসমূহের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল না, আল্লাহ তাআলা তাকে বিভ্রান্ত করবেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كيف يضله الله؟
هذه نقطة هامة جدًا، فالناس يتصورون أن الله له فعل إضلال، وإنما يقول الله تعالى: {وَيَذَرُهُمْ في طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ} [الأعراف:186] .. {فَنَذَرُ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا في طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ (11)} [يونس] .. إذن الإضلال أن يُتركوا فيما اختاروه، بل لا يكتب الله تعالى عليهم الضلال بمعنى أن يجبرهم عليه وإلا فأين ذلك من قول الله سبحانه وتعالى: {فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ} [الكهف:29]، فتقول له يا رب كيف أشاء أنا إن كنت تجبرني، فيقول لا، الضلال هنا هو مجرد أنك تُترك، ولذلك يقول الله تعالى: {إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا (3)} [الإنسان:3].
إذن مسألة الإيمان والكفر ليست مسألة مطلقة بدون قواعد، وإنما هي مسألة تتم طبقًا لقواعد محددة سلفًا.
আল্লাহ কীভাবে তাকে পথভ্রষ্ট করেন?
এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ ধারণা করে যে, পথভ্রষ্ট করা আল্লাহর একটি সক্রিয় কাজ। অথচ মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেন} [আল-আরাফ: ১৮৬] .. {সুতরাং যারা আমাদের সাক্ষাৎ কামনা করে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিই (১১)} [ইউনুস] .. অতএব, পথভ্রষ্টতা বলতে তাদেরকে তাদের নির্বাচিত বিষয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়াকে বোঝায়। বরং আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর পথভ্রষ্টতা এমনভাবে অবধারিত করেন না যে তাদের তা করতে বাধ্য করা হয়; নতুবা মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে তার সামঞ্জস্য কোথায়: {সুতরাং যার ইচ্ছা সে বিশ্বাস স্থাপন করুক আর যার ইচ্ছা সে অস্বীকার করুক} [আল-কাহাফ: ২৯]? তখন তুমি তাঁকে বলতে পারতে—হে প্রতিপালক, আপনি যদি আমাকে বাধ্যই করেন তবে আমি কীভাবে ইচ্ছা পোষণ করব? তিনি বলবেন—না, এখানে পথভ্রষ্টতা বলতে কেবল তোমাকে তোমার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর সে কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি; হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে (৩)} [আল-ইনসান: ৩]।
সুতরাং, ঈমান ও কুফরের বিষয়টি কোনো নিয়ম-নীতিহীন নিরঙ্কুশ বিষয় নয়, বরং এটি পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحرية في الإِسلاميقول الله عز وجل: {يَرْفَعِ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} في [المجادلة:11] .. إن العلم هو هذا الذي نفعله حين نتدارس آيات الله عز وجل ..
ومن الأمور التي ترد على أذهان البعض مسألة الرق، كيف يسمح الإِسلام أن يكون بشر مالكًا لبشر آخر ونحن نقول إن الإِسلام دين الكرامة الإنسانية؟!
وأنا أقرأ الآيات التي تذكر الإماء والعبيد والحرائر .. فهل يعقل أن الإِسلام الذي يتكلم عن الحرية البشرية والكرامة الإنسانية وتحرير البشر يسمح بأن يكون هناك بشر ملكًا لبشر؟! ويكون هذا عبد فلان وهذه أمة فلان، ويصبحون ميراثًا يورث .. كيف؟!
لماذا لم يحرم الإِسلام الرق؟ وهل من حق الناس أن يقولوا إن المدنية الحديثة والحضارة الحالية أرشد من الإِسلام لأنها حرمت الرق وجعلته محرمًا أما الإِسلام فأباحه؟
من يقول هذا -جزاه الله خيرًا- يغار على الإِسلام ولكن لو علمنا روعة عطاء الإِسلام وتناوله لقضية الرق سنعرف أن هذا الموضوع من
ইসলামে স্বাধীনতামহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।} [আল-মুজাদালা: ১১] .. প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান হলো সেটিই যা আমরা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে পরস্পর অধ্যয়ন ও আলোচনা করার সময় অর্জন করি ..
কিছু মানুষের মনে যে বিষয়গুলো উদিত হয় তার মধ্যে একটি হলো দাসপ্রথা সংক্রান্ত মাসয়ালা; ইসলাম কীভাবে একজন মানুষকে অন্য মানুষের মালিক হওয়ার অনুমতি দেয়, যেখানে আমরা বলে থাকি যে ইসলাম হলো মানবিক মর্যাদার ধর্ম?!
আমি যখন সেই আয়াতগুলো পাঠ করি যেখানে দাসী, দাস এবং স্বাধীন নারীদের কথা উল্লেখ রয়েছে... তখন কি এটি যুক্তিসঙ্গত মনে হয় যে, যে ইসলাম মানুষের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং দাসমুক্তির কথা বলে, তা কি করে একজন মানুষের অন্য মানুষের মালিকানাধীন থাকাকে অনুমোদন দিতে পারে?! আর এ কেমন কথা যে, সে হবে অমুক ব্যক্তির গোলাম এবং এ হবে অমুক ব্যক্তির বাঁদি, আর তারা এমন এক উত্তরাধিকারে পরিণত হবে যা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়... কীভাবে?!
কেন ইসলাম দাসপ্রথাকে হারাম করেনি? আর মানুষের কি এটি বলার অধিকার আছে যে আধুনিক সভ্যতা ও বর্তমান সংস্কৃতি ইসলামের চেয়েও অধিক সঠিক পথনির্দেশক, কারণ তারা দাসপ্রথাকে হারাম করেছে এবং একে নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করেছে, পক্ষান্তরে ইসলাম একে বৈধ রেখেছে?
যারা এটি বলেন—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন—তারা মূলত ইসলামের প্রতি অনুরাগের আতিশয্য থেকেই তা বলেন। কিন্তু আমরা যদি ইসলামের সেই চমৎকার অবদান এবং দাসপ্রথা সংক্রান্ত বিষয়ে এর সমাধানের স্বরূপ সম্পর্কে জানতাম, তবে আমরা বুঝতে পারতাম যে এই বিষয়টি...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مفاخر الإِسلام في باب الحريه وفي باب الكرامة الإنسانية وفي باب تحرير البشر حتى العبيد.
إن الرق في التاريخ البشري كانت له مصادر كثيرة جدًا .. وأنا لا أخص في المجتمع العربي في الجاهلية فقط وإنما كل المجتمعات ولنذهب إلى كليات الحقوق ونسأل عما يدرسونه في القانون الروماني أو القانون عند الآشوريين والبابليين والفراعنة وغيرهم. إن الرق في التاريخ البشري كانت له منابع كثيرة .. كانت هناك حروب وكان المنتصر يأخذ المهزوم ويسترقه .. أيضًا لو أن هناك إنسانًا له دين عند إنسان وعجز المدين عن أن يسدد الدين للدائن فيأخذ المدين نفسه بدلًا من المال ..
وكان المجتمع يمكّن الإنسان من هذا ولا يمكن المدين من الفرار .. فمثلًا إذا خطف شخص من أهله وكان في حيازة شخص آخر فهو ملك له، وله أن يذهب به إلى سوق العبيد ليبيعه ويتم البيع والشراء حتى لو كان هذا الشخص أباه أو أمه، وكان إذا ضاع طفل يجيء أهله ليشتروه ويحرروه من الشخص الذي وجده لأنه قد أصبح عبدًا ومملوكًا ومسترقًا بمقتضى جريمة الاختطاف، والمجتمع يمكنه من ذلك .. وهذا ما حدث مع "زيد بن حارثة" عندما عرف أبوه وأهله مكانه فسافروا بلادًا وصحراوات كثيرة حتى أتوا النبي صلى الله عليه وسلم وقالوا له: ندفع لك ونشتري ابننا .. لكن النبي
স্বাধীনতার ক্ষেত্রে, মানবিক মর্যাদার ক্ষেত্রে এবং দাসসহ সকল মানুষকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ইসলামের গৌরবগাঁথা।
মানব ইতিহাসে দাসত্বের (الرق) বহুবিধ উৎস বিদ্যমান ছিল। আমি কেবল জাহেলিয়াত আমলের আরব সমাজের কথা বলছি না, বরং সকল সমাজের কথাই বলছি। আমরা যদি আইন অনুষদগুলোতে যাই এবং রোমান আইন অথবা আশেরীয়, ব্যাবিলনীয়, ফারাও ও অন্যদের আইন সম্পর্কে সেখানে কী পড়ানো হয় তা জিজ্ঞাসা করি (তবে তা স্পষ্ট হবে)। মানব ইতিহাসে দাসত্বের অনেক উৎস ছিল। সেখানে যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই থাকত এবং বিজয়ী পক্ষ বিজিতদের বন্দী করে তাদের দাসত্বে আবদ্ধ (مسترق) করে নিত। এছাড়া, যদি কোনো ব্যক্তির কাছে অন্য কারো ঋণ থাকতো এবং ঋণগ্রহীতা পাওনাদারকে সেই ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হতো, তবে পাওনাদার অর্থের বদলে খোদ ঋণগ্রহীতাকেই গ্রহণ করে নিত।
আর সমাজ ব্যক্তিকে এই সুযোগ করে দিত এবং ঋণগ্রহীতাকে পালিয়ে যাওয়ার অবকাশ দিত না। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তিকে তার পরিবার থেকে অপহরণ করা হতো এবং সে অন্য কোনো ব্যক্তির কর্তৃত্বে থাকতো, তবে সে তার মালিকানাধীন সম্পদে পরিণত হতো। সেই ব্যক্তি তাকে দাসের বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে পারত এবং এভাবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হতো—এমনকি সেই ব্যক্তিটি যদি তার পিতা বা মাতা-ও হতো। যদি কোনো শিশু হারিয়ে যেত, তবে তার পরিবার আসত তাকে কিনে নিয়ে সেই ব্যক্তির কাছ থেকে মুক্ত করতে যে তাকে খুঁজে পেয়েছে। কারণ, অপহরণের অপরাধের আবশ্যিক ফল হিসেবে সে তখন একজন দাস (عبد), মালিকানাধীন (مملوك) ও দাসত্বে আবদ্ধ (مسترق) ব্যক্তিতে পরিণত হতো এবং সমাজ তাকে এই অধিকার প্রদান করত। আর ঠিক এটাই ঘটেছিল ‘জায়েদ ইবনে হারিসা’-এর সাথে, যখন তার পিতা ও পরিবার তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। তারা অনেক জনপদ ও মরুভূমি পাড়ি দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন: আমরা আপনাকে বিনিময় প্রদান করব এবং আমাদের সন্তানকে আপনার থেকে কিনে নেব। কিন্তু নবী...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
- صلى الله عليه وسلم كان أكرم وقال لهم: "خدوه لو اختاركم" .. لكن زيدًا اختار النبي صلى الله عليه وسلم.
إذن منابع الرق كانت كثيرة جدًا، وعندما جاء الإِسلام حرم كل مصادر الرق ومنابعه .. جفف كل منابع الرق، لأن كل النماذج التي ذكرتها هي حرام في الإِسلام .. حرم الإِسلام كل مدخل وكل سبب وأبقي سببًا واحدًا فقط هو من مفاخر الإِسلام .. وهو طريق واحد فقط ليكون الإنسان عبدًا، هذا الطريق هو أن يأتي إنسان يحاربني ليعتدي على عرضي كدولة إسلامية أو علي مالي أو على عقيدتي، ويحاربني بظلم فأنتصر عليه ويمكنني الله عز وجل منه.
هل تدرون الواقعة الخاصة بـ "مدرسة بحر البقر" في الدقهلية في مصر وهي أنه عندما جاءت طائرة من طائرات اليهود وضربت مدرسة ابتدائية وقتلت الأطفال وملأت الدماء كل مكان اتضح أن الطائرة تقودها "امرأة حامل" جندية في الجيش اليهودي حامل خرجت وضربت المدرسة وعادت .. جريمة نكراء .. مذبحة .. ونحن نعرف صابرا وشاتيلا ودير ياسين في فلسطين وغير ذلك فإذا ما أمكنني الله عز وجل من الذي فعل هذه الجريمة فإن القانون الدولي ينص في هذه الحالة المعاصرة أن من فعل هذا هو مجرم حرب وتتم
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত মহানুভব ছিলেন এবং তিনি তাদের বলেছিলেন: "যদি সে তোমাদের বেছে নেয় তবে তাকে নিয়ে যাও"... কিন্তু জায়েদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই বেছে নিয়েছিলেন।
সুতরাং, দাসত্বের উৎসসমূহ ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো, তখন এটি দাসত্বের সকল উৎস ও প্রবেশপথকে নিষিদ্ধ করল... এটি দাসত্বের প্রতিটি উৎসকে শুষ্ক করে দিল; কারণ আমি ইতিপূর্বে যে উদাহরণগুলো উল্লেখ করেছি তার প্রতিটিই ইসলামে নিষিদ্ধ (حرام)... ইসলাম প্রতিটি প্রবেশপথ ও কারণকে নিষিদ্ধ করেছে এবং কেবলমাত্র একটি কারণ অবশিষ্ট রেখেছে যা ইসলামের গৌরবময় বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত... আর কোনো মানুষের দাস হওয়ার এটিই একমাত্র পথ। সেই পথটি হলো: কোনো ব্যক্তি যখন ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে আমার মর্যাদা, আমার সম্পদ কিংবা আমার আকিদার ওপর আগ্রাসন চালাতে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে এবং অন্যায়ভাবে আমার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, অতঃপর আমি তার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করি এবং মহান আল্লাহ আমাকে তার ওপর সক্ষমতা দান করেন।
আপনারা কি মিশরের দাকাহলিয়ার "বাহর আল-বাকার বিদ্যালয়" সংক্রান্ত বিশেষ ঘটনাটি জানেন? তা হলো—যখন ইহুদিদের একটি বিমান এসে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত করল এবং শিশুদের হত্যা করে চতুর্দিক রক্তে প্লাবিত করে দিল। পরবর্তীতে জানা গেল যে, বিমানটি পরিচালনা করছিল একজন "গর্ভবতী নারী", যে ইহুদি সেনাবাহিনীর একজন গর্ভবতী সৈনিক ছিল। সে এসে বিদ্যালয়ে আক্রমণ করে ফিরে গিয়েছিল... এটি ছিল এক জঘন্য অপরাধ... এক নির্মম হত্যাকাণ্ড... আমরা ফিলিস্তিনের সাবরা ও শাতিলা এবং দেইর ইয়াসিনসহ অন্যান্য ঘটনা সম্পর্কে অবগত। এমতাবস্থায়, মহান আল্লাহ যদি আমাকে এই জঘন্য অপরাধের হোতার ওপর সক্ষমতা দান করেন, তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও যে ব্যক্তি এই কাজ করেছে সে একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
محاكمته وذلك ما فعلوه مع صدام حسين على جرائم حرب وحاكموا زعيم صرب البوسنة على جرائم حرب وهكذا ..
ولكن القرآن الكريم يقول: {فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَثْخَنْتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ} [محمد: 4] .. مادام ضرب الرقاب انتهى والحرب انتهت فلا داعي للقتل إذ يكون القتل في المعركة فإذا استقرت المعركة وأصبحت أنت متمكنًا فلا داعي لأن تقتله فيموت كافرًا وإنما {فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً} [محمَّد:4] الوثاق كناية عن الأسر فإذا ما أخذته يومئذٍ أمامي إما أن أقتله وإما أن أمنحه الحياة .. والإِسلام يريدني أن أتركه حيًا بدل أن أزهق روحه .. سأعطيه الحياة وهذه أول نعمة بأن أعطي الأسير حياته بدلًا من قتله، ثم النعمة الثانية أنني بدلًا من أن أجعله يسجن وأقيد حريته جعلته بين الناس .. بين أهلي وقومي وعشيرتي .. جعلته موجودًا في المجتمع حرًا، ثم النعمة الثالثة أنني بدلًا من أن أبقيه كافرًا مشركًا ويموت كافرًا ويدخل النار أدخلته في المسلمين لعل الله أن يهديه حينما ينظر في أحوال المسلمين ..
وتعلمون قصة الأسير الذي أسره النبي صلى الله عليه وسلم حيث جاء هذا الرجل وكان كافرًا ليحارب النبي صلى الله عليه وسلم فربطه في عمود من أعمدة المسجد ليرى المسلمين حتى إذا ما رأى شأن الإِسلام والمسلمين أسلم.
তাঁর বিচার করা, এবং তারা সাদ্দাম হোসেনের সাথে যুদ্ধাপরাধের দায়ে যা করেছিল এবং তারা বসনিয়ার সার্ব নেতার বিচার যুদ্ধাপরাধের দায়ে করেছিল, আর এভাবেই সব চলে...
কিন্তু পবিত্র কুরআন বলছে: {অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে মোকাবিলা করো, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো, অবশেষে যখন তোমরা তাদের পূর্ণরূপে পরাস্ত করবে, তখন তাদেরকে মজবুতভাবে বাঁধো} [মুহাম্মদ: ৪]... যতক্ষণ না গর্দান উড়িয়ে দেওয়া শেষ হচ্ছে এবং যুদ্ধ সমাপ্ত হচ্ছে, ততক্ষণ হত্যার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই; কেননা হত্যা কেবল যুদ্ধের ময়দানেই হয়ে থাকে। সুতরাং যখন যুদ্ধ স্তিমিত হয়ে যায় এবং আপনি শক্তিশালী অবস্থানে থাকেন, তখন তাকে হত্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই যাতে সে কাফির হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। বরং {অতঃপর তাদের মজবুতভাবে বাঁধো, এরপর হয় অনুগ্রহ করো নয়তো মুক্তিপণ গ্রহণ করো} [মুহাম্মদ: ৪]। 'বন্ধন' হলো বন্দিত্বের একটি রূপক। সুতরাং সেদিন যখন আমি তাকে আমার সামনে পেলাম, তখন হয় আমি তাকে হত্যা করব অথবা আমি তাকে জীবন দান করব। আর ইসলাম চায় যে, আমি তার প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে জীবিত রাখি। আমি তাকে জীবন দান করব এবং এটিই হলো প্রথম নিয়ামত যে, আমি যুদ্ধবন্দীকে হত্যার পরিবর্তে তার জীবন ফিরিয়ে দিলাম। এরপর দ্বিতীয় নিয়ামত হলো, তাকে কারারুদ্ধ করা এবং তার স্বাধীনতা খর্ব করার পরিবর্তে আমি তাকে মানুষের মাঝে রেখেছি... আমার পরিবার, আমার জাতি এবং আমার আত্মীয়-স্বজনের মাঝে। আমি তাকে সমাজে মুক্তভাবে অবস্থান করার সুযোগ দিয়েছি। অতঃপর তৃতীয় নিয়ামত হলো, তাকে কাফির ও মুশরিক অবস্থায় রাখা এবং সে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে জাহান্নামে যাওয়ার পরিবর্তে আমি তাকে মুসলিমদের সান্নিধ্যে নিয়ে এসেছি, যাতে সে মুসলিমদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আল্লাহ হয়তো তাকে হেদায়েত দান করেন।
আর আপনারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আটককৃত সেই বন্দীর কাহিনী জানেন, যখন সেই ব্যক্তি কাফির অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল, তখন তিনি তাকে মসজিদের অন্যতম একটি স্তম্ভের সাথে বেঁধে রেখেছিলেন যাতে সে মুসলিমদের দেখতে পায়। অবশেষে যখন সে ইসলাম ও মুসলিমদের মর্যাদা ও অবস্থা অবলোকন করল, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إذن الإِسلام أعطى الأسير الحياة بدل القتل، وأعطاه الحرية بدل الأسر والسجن، وأعطاه الإِسلام بدل الكفر، ثم أعطاه النعمة الرابعة وهي أن الإِسلام أغرى المسلمين بإعتاق العبيد .. وبهذا يكون قد سد الإِسلام كل المنافذ التي تؤدي إلى الرق وفتح كل المنافذ التي تؤدي إلى الخروج من الرق ..
فمن جامع امرأته في نهار رمضان فتحرير رقبة .. ومن حلف بالله ثم أراد أن يتحلل من قَسَمه فكفارة الأيمان تحرير رقبة .. كفارات كثيرة في الإِسلام تحرير رقبة لدرجة أخرجت العبيد إخراجًا شبه كامل من الرق، فكان يجب أن يكون هناك بديل لتحرير الرقبة لأنه لن توجد رقاب لتُحرر لأنها قد حُررت بالفعل، يقول الله تعالى: {فَمَنْ لَمْ يَجِدْ} (لأنه ما عاد هناك أرقاء بسبب هذه الكفارات) {فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ} [المجادلة:4] إنما قبل إطعام المسلم المسكين وكسوة المسلم الفقير ذكر الله عتق الرقبة حتى لو كان غير مسلم ..
وبعد أن أعطاهم الإِسلام أربع نعم وهي نعمة الحياة بدل القتل .. ونعمة الحرية بدل الأسر .. ونعمة الإِسلام بدل الكفر دون إكراه .. ونعمة التحرير بعد ذلك .. أمر الإِسلام أن نكرم الرقيق المسترق في فترة الرق والعبودية وهي الفترة الطارئة .. وليست هذه فترة استمرار لأن الإِسلام لن يجعل هذا الإنسان مستمرًا في الرق وإنما هي فترة
সুতরাং ইসলাম যুদ্ধবন্দিকে (أسير) হত্যার পরিবর্তে জীবন দান করেছে, আর বন্দিত্ব (أسر) ও কারাবাসের পরিবর্তে দিয়েছে স্বাধীনতা (حرية)। ইসলাম তাকে কুফরের পরিবর্তে ইসলাম দান করেছে। অতঃপর তাকে চতুর্থ একটি নেয়ামত দান করেছে, আর তা হলো—ইসলাম মুসলিমদেরকে ক্রীতদাস (عبيد) মুক্ত করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। এর মাধ্যমে ইসলাম দাসত্বের (رق) দিকে ধাবিত হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে এবং দাসত্ব (رق) থেকে মুক্তির সকল দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
অতএব, যে ব্যক্তি রমজানের দিনে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে, তার জন্য বিধান হলো দাস (رقبة) মুক্তি। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করে এবং পরে সেই শপথ থেকে মুক্ত হতে চায়, তবে শপথের কাফফারা (كفارة) হলো দাস (رقبة) মুক্তি। ইসলামে এমন অনেক কাফফারা (كفارات) রয়েছে যেখানে দাস (رقبة) মুক্তির বিধান দেওয়া হয়েছে, যা দাসদেরকে (عبيد) দাসত্ব (رق) থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বের করে এনেছে। ফলে দাস (رقبة) মুক্তির একটি বিকল্প থাকা আবশ্যক ছিল, কারণ মুক্ত করার মতো আর কোনো দাস (رقاب) অবশিষ্ট থাকবে না যেহেতু তারা ইতিমধ্যে মুক্ত হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখবে না} (কারণ এসকল কাফফারার ফলে সেখানে আর কোনো দাস (أرقاء) অবশিষ্ট নেই) {সে একনাগাড়ে দুই মাস রোজা রাখবে} [আল-মুজাদালাহ: ৪]। কোনো অভাবী মুসলিমকে অন্নদান বা বস্ত্রদানের পূর্বেই আল্লাহ তাআলা দাস (رقبة) মুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, এমনকি সে অমুসলিম হলেও।
ইসলাম তাদেরকে এই চারটি নেয়ামত প্রদান করার পর—যা হলো হত্যার পরিবর্তে জীবনের নেয়ামত, বন্দিত্বের (أسر) বদলে স্বাধীনতার (حرية) নেয়ামত, কোনো জবরদস্তি ছাড়াই কুফরের বদলে ইসলামের নেয়ামত এবং পরবর্তীতে মুক্তিলাভের নেয়ামত—ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে যে, আমরা যেন এই দাসত্বের (رق) ও গোলামির (عبودية) সময়কালে সেই দাসের (رقيق) প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি, যা কেবল একটি সাময়িক পর্যায় মাত্র। এটি কোনো স্থায়ী অবস্থা নয়, কারণ ইসলাম এই মানুষকে স্থায়ীভাবে দাসত্বের (رق) শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং এটি কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী সময়...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مؤقتة حتى تكتمل له نعمة الإِسلام والحياة .. ثم أمرنا الإِسلام في هذه الفترة ألا نظلمه بل نكرمه وننفق عليه ونطعمه.
ومعلوم أن الرسول صلى الله عليه وسلم كانت عنده جارية صغيرة أرسلها لتشتري شيئًا فغابت طوال اليوم تلعب فلما رجعت إلى البيت كان الرسول صلى الله عليه وسلم -غاضبًا، فقال لها صلى الله عليه وسلم: "والله يا جارية لولا خوف القصاص من الله عز وجل لضربتك بهذا السواك".
لم يرضَ النبي صلى الله عليه وسلم أن يضربها بالسواك لأنه يخاف من رب العالمين ..
أيضًا أبو مسعود البدري وهو من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان يضرب عبدًا من عبيده فجاء من خلفه صلى الله عليه وسلم وقال: "إعلم أبا مسعود أن قدرة الله عليك أعظم من قدرتك على هذا" فالتفت أبو مسعود وهو غاضب وممسك بالولد يضربه وأراد أن يلتفت كأنه يريد أن يقول لمن يكلمه هل تدري ماذا فعل؟ فلما التفت فوجئ بأن المتكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففزع وألجم وقال: يا رسول الله هو حر لوجه الله، فقال له: أما إنك لو لم تفعل لمستك النار ..
ً
এটি সাময়িক, যতক্ষণ না তার জন্য ইসলামের নেয়ামত ও জীবনের পূর্ণতা অর্জিত হয়... অতঃপর ইসলাম এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আমাদের নির্দেশ দিয়েছে যে আমরা যেন তার ওপর জুলুম না করি, বরং তাকে সম্মান করি, তার জন্য ব্যয় করি এবং তাকে আহার করাই।
এটি সর্বজনবিদিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একজন কিশোরী পরিচারিকা ছিল, যাকে তিনি কোনো কিছু ক্রয়ের জন্য পাঠিয়েছিলেন। সে সারাদিন খেলাধুলায় মগ্ন থেকে দেরি করে ফিরলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত হলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, হে কিশোরী! যদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কিসাস বা প্রতিশোধের (قصاص) ভয় না থাকত, তবে আমি তোমাকে এই মিসওয়াক দিয়ে আঘাত করতাম।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে মিসওয়াক দিয়ে আঘাত করাও পছন্দ করেননি, কারণ তিনি রাব্বুল আলামীনকে ভয় করতেন...
অনুরূপভাবে আবু মাসউদ আল-বাদরি (রা.), যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যতম সাহাবী (صحابي) ছিলেন, তিনি তার এক গোলামকে প্রহার করছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পেছন থেকে এসে বললেন: "হে আবু মাসউদ! জেনে রাখো, তোমার ওপর আল্লাহর ক্ষমতা এই গোলামের ওপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।" তখন আবু মাসউদ রাগান্বিত অবস্থায় পেছন ফিরে তাকালেন, তখনো তিনি ছেলেটিকে ধরে প্রহার করছিলেন। তিনি এমনভাবে তাকাতে চাইলেন যেন কথা বলনেওয়ালাকে বলতে চান—আপনি কি জানেন সে কী করেছে? কিন্তু যখন তিনি ফিরে তাকালেন, তখন দেখতে পেলেন যে কথা বলনেওয়ালা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি আতঙ্কিত ও বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত। তখন তিনি তাকে বললেন: "জেনে রাখো, তুমি যদি এটি না করতে তবে আগুন তোমাকে স্পর্শ করত।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إذن الله تبارك وتعالى يدعو إلى إكرام هؤلاء الأرقاء .. ثم إن الإسلام لا يمانع إن جاء قانون حرم الرق أو جاء المسلمون فحرموا الاسترقاق فلا بأس، يقول الله تعالى: {فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا} [محمَّد:4] ..
لذا فإن الإِسلام لا يجعل الإسترقاق فريضة .. وإنما جعله مصلحة ونعمة، لكن أصحاب الحضارة الحديثة كالأمريكيين والأوروبيين يسافرون إلى أفريقيا ويشحنون سفنًا وبواخر مليئه بالعبيد السود إذ يسلسلونهم ويجعلونهم ينامون على أرض المركب ويضعون عليهم أثقالًا حتى لا يهربوا ويشحنونهم بالمئات والآلاف حتى يعملوا في أمريكا عبيدًا عند السادة الأوربيين، وظلت أمريكا حتى الستينيات من هذا القرن والسبعنيات بل إلى عهد قريب جدًا مكتوب على المطاعم وبعض الولايات وهذا ما قرأته ووجدته بعيني ممنوع دخول الكلاب والسود ..
لقد ساووا بين العبد الأسود والكلب، وحتى يومنا هذا ونحن في القرن الحادي والعشرين .. إذا اشترى شخص أسود قطعة أرض أو بيتًا -وإن كان حرًا- تنخفض أثمان الأرض؛ لأنه يعتبر شيئًا غير مرغوب فيه، لذا أحيانًا يتكاتف السكان ليشتروا البيت من هذا الأسود ليخرجوه لتظل المنطقة للبيض وحدهم ..
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এই দাসদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন... অতঃপর ইসলাম এতে কোনো বাধা প্রদান করে না যদি দাসত্ব নিষিদ্ধ করে কোনো আইন প্রণীত হয় অথবা মুসলিমগণ দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {অতঃপর হয় অনুগ্রহ করো, না হয় মুক্তিপণ গ্রহণ করো, যতক্ষণ না যুদ্ধ তার অস্ত্রশস্ত্র নামিয়ে রাখে} [মুহাম্মদ: ৪]...
কাজেই ইসলাম দাসত্বকে কোনো আবশ্যিক বিধান হিসেবে সাব্যস্ত করেনি... বরং একে একটি জনকল্যাণ ও নেয়ামত হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ধারকগণ যেমন—আমেরিকান ও ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় যায় এবং কৃষ্ণবর্ণের দাসবোঝাই জাহাজ ও জলযান পরিচালনা করে; তারা তাদের শিকলবদ্ধ করে এবং জাহাজের মেঝেতে শুইয়ে রাখে, তাদের ওপর ভারী ওজন চাপিয়ে দেয় যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে। তারা শত শত ও হাজার হাজার মানুষকে জাহাজে বোঝাই করে নিয়ে যায় যাতে তারা আমেরিকায় ইউরোপীয় প্রভুদের অধীনে দাস হিসেবে কাজ করতে পারে। এই শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশক এমনকি অতি সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত আমেরিকার রেস্তোরাঁগুলোতে এবং কিছু অঙ্গরাজ্যে এটি পরিলক্ষিত হয়েছে—যা আমি নিজে পড়েছি এবং স্বচক্ষে দেখেছি—সেখানে লেখা থাকত: "কুকুর এবং কৃষ্ণবর্ণের মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ"...
তারা কৃষ্ণবর্ণের দাস এবং কুকুরের মাঝে সমতা স্থাপন করেছিল। এমনকি আজ পর্যন্ত, যখন আমরা একবিংশ শতাব্দীতে অবস্থান করছি... যদি কোনো কৃষ্ণবর্ণের ব্যক্তি একখণ্ড জমি বা একটি বাড়ি ক্রয় করেন—যদিও তিনি একজন স্বাধীন মানুষ—তবে সেই জমির মূল্য হ্রাস পায়; কারণ তাকে সেখানে একজন অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এ কারণে মাঝেমধ্যে অধিবাসীরা সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালায় যাতে ওই কৃষ্ণবর্ণের ব্যক্তির নিকট থেকে বাড়িটি কিনে নিয়ে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় এবং এলাকাটি কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য বজায় রাখা যায়...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعندما ذهبت إلى سفارات بعض البلاد الأوربية والأمريكية لآخذ استمارة (للتأشيرة والفيزا) وجدت من ضمن البيانات لون البشرة .. وهذا الكلام في القرن الحادي والعشرين.
إذن العبيد الذين عاشوا في فترة عبودية قليلة .. ثم اعتقوا بقدر الله عز وجل هؤلاء أحبوا الإِسلام لدرجة أن الموالي هؤلاء أصبح منهم كبار الفقهاء في الشريعة الإِسلامية وكبار قواد الجيش والفاتحين ..
وعلى سبيل المثال "عمار بن ياسر" إذ كان عبدًا عند بني مخزوم وهم عائلة خالد بن الوليد، فلما أسلم "خالد بن الوليد" وكان عمار قد أسلم قبله، وبعد مرور عشرين سنة على بدء الدعوة الإِسلامية اختلف خالد وعمار .. فخالد شعر أن عمارًا كان خادمه وخادم أبيه وعائلته فغلظ عليه بشدة فبكى عمار ولم يستطع أن يتكلم إلى خالد؛ لأنه كان السيد طوال العمر .. واشتكى لرسول الله.
فإذا بالنبي صلى الله عليه وسلم يقول لخالد: "يا خالد إن عمارًا يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله ومن آذى عمارًا فقد آذى الله ورسوله".
ويفزع خالد .. ويذهب السيد ليقبّل رأس عمار، ويقول له: سامحني يا أخي .. سامحني لأنني إن آذيتك آذيت الله ورسوله ..
যখন আমি কিছু ইউরোপীয় ও আমেরিকান দেশের দূতাবাসে আবেদনপত্র (ভিসার জন্য) নিতে গেলাম, তখন তথ্যের তালিকায় গায়ের রঙ সংক্রান্ত ঘর দেখতে পেলাম। আর এই কথাটি একবিংশ শতাব্দীর।
সুতরাং সেই সকল দাস যারা স্বল্পকাল দাসত্বের মধ্যে জীবনযাপন করেছিলেন, অতঃপর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তারা মুক্তিপ্রাপ্ত (معتق) হয়েছিলেন; তারা ইসলামকে এতটাই ভালোবেসেছিলেন যে, এই আযাদকৃত দাসদের (الموالي) মধ্য থেকেই ইসলামী শরিয়তের প্রথিতযশা ফকিহ (الفقهاء) এবং সেনাবাহিনীর মহান সেনাপতি ও দিগ্বিজয়ী বীরগণ আবির্ভূত হয়েছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ আম্মার ইবনে ইয়াসিরের কথা বলা যায়; তিনি বনু মাখজুমের নিকট দাস (عبد) ছিলেন, যারা ছিল খালিদ ইবনে ওয়ালিদের পরিবার। যখন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করলেন, আর আম্মার তাঁর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—ইসলামী দাওয়াতের সূচনালগ্ন থেকে বিশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর খালিদ ও আম্মারের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। খালিদ অনুভব করলেন যে, আম্মার ছিলেন তাঁর, তাঁর পিতার এবং তাঁর পরিবারের সেবক; তাই তিনি তাঁর সাথে অত্যন্ত কঠোর আচরণ করলেন। এতে আম্মার কেঁদে ফেললেন কিন্তু তিনি খালিদের সাথে কোনো কথা বলতে পারলেন না, কারণ তিনি সারাজীবন তাঁর মনিব (السيد) ছিলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহর নিকট অভিযোগ করলেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদকে বললেন: "হে খালিদ! নিশ্চয়ই আম্মার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন। যে ব্যক্তি আম্মারকে কষ্ট দিল, সে যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই কষ্ট দিল।"
এতে খালিদ ভীত হয়ে পড়লেন এবং সেই মনিব (السيد) আম্মারের কপালে চুম্বন করতে গেলেন এবং তাঁকে বললেন: "হে আমার ভাই, আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ আমি যদি তোমাকে কষ্ট দিই, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই কষ্ট দিলাম।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي واقعة أخرى يأتي أبو بكر الصديق السيد ومعه أبو سفيان قائد جيش المشركين والذي حارب الرسول صلى الله عليه وسلم طوال فترة الحرب بين قريش وبين الرسول صلى الله عليه وسلم .. وأبو بكر السيد أتى بأبي سفيان السيد وكان أبو بكر طامعًا في إسلامه لأنه لو أسلم قائد جيش ودخل في الإِسلام فهذا عزة للإسلام .. فسار به أبو بكر للرسول صلى الله عليه وسلم وفي الطريق كان هناك ثلاثة من العبيد جالسين فقال أحدهم: يا سبحان الله أمازال يعيش والله إن السيوف لم تشبع من الرقاب، ألا إن سيوف الله لم تشبع بعد من رقاب بعض عباد الله، كلمة غليظة يسمعها أبوسفيان، فاحمر وجه أبي بكر وغضب؛ لأن المصلحة التى ستكون بسبب إسلام أبي سفيان توشك أن تطيش بسبب كلمة مثل هذه ..
وذهب أبو بكر للرسول وقال له: انظر يا رسول الله ما قاله فلان وفلان، فقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "يا أبا بكر فلعلك آذيتهم" إياك أن تكون قلت لهم كلمة تؤذي مشاعرهم لأن رب العالمين عاتب رسول الله في عبد اسمه عبد الله بن أم مكتوم ففيه نزل: {عَبَسَ وَتَوَلَّى (1) أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى (2) وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى (3) أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى (4)} [عبس]، فقال: لا والله يا رسول الله ما آذيتهم فقال: "إنك لو آذيتهم لآذيت الله ورسوله".
অন্য এক ঘটনায়, নেতা আবু বকর সিদ্দিক আসলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন মুশরিক বাহিনীর প্রধান আবু সুফিয়ান, যিনি কুরাইশ ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যকার যুদ্ধের পুরো সময়কাল জুড়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। নেতা আবু বকর নেতা আবু সুফিয়ানকে নিয়ে আসলেন। আবু বকর তাঁর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, কারণ যদি কোনো সেনাপতি ইসলাম গ্রহণ করে ঈমানের ছায়াতলে আশ্রয় নেন, তবে তা ইসলামের জন্য এক বিশেষ মর্যাদার বিষয় হবে। অতঃপর আবু বকর তাঁকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমীপে গমন করলেন। পথিমধ্যে তিনজন দাস উপবিষ্ট ছিলেন। তাদের একজন বলে উঠলেন: "সুবহানাল্লাহ! সে কি এখনো জীবিত আছে? আল্লাহর কসম, তলোয়ারগুলো কি এখনো গ্রীবাসমূহের ওপর তৃপ্ত হয়নি? জেনে রাখো, আল্লাহর তলোয়ারগুলো আল্লাহর কিছু বান্দার গ্রীবার ওপর এখনো তৃপ্ত হয়নি।" এটি ছিল একটি রূঢ় উক্তি যা আবু সুফিয়ান শুনতে পেলেন। এতে আবু বকরের মুখমণ্ডল আরক্তিম হয়ে উঠল এবং তিনি রাগান্বিত হলেন; কারণ আবু সুফিয়ানের ইসলাম গ্রহণের ফলে যে বৃহত্তর কল্যাণ সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, এমন একটি উক্তির কারণে তা নস্যাৎ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
অতঃপর আবু বকর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! লক্ষ্য করুন অমুক অমুক ব্যক্তি কী বলেছে।" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আবু বকর, সম্ভবত তুমি তাদের মনে কষ্ট দিয়েছ।" সাবধান থেকো যে, তাদের এমন কোনো কথা বলবে না যা তাদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়। কারণ রাব্বুল আলামীন আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম নামক জনৈক দাসের বিষয়ে তাঁর রাসুলকে সতর্ক করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে: {সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল, (১) যেহেতু তার নিকট অন্ধ ব্যক্তিটি আসল। (২) আপনি কী জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো, (৩) অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। (৪)} [সূরা আবাসা]। অতঃপর তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাদের কষ্ট দিইনি।" তখন তিনি (রাসুল) বললেন: "যদি তুমি তাদের কষ্ট দিয়ে থাকো, তবে তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকেই কষ্ট দিয়েছ।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إن الإِسلام يدافع عن هؤلاء دفاعًا شديدًا والرسول يقول: "بلال منا آل البيت" .. بلال المسترق من بيت النبوة ..
إذن الإِسلام أكرمهم وما جعل الرق إلا منحًا لعمر ومنحًا للمال ومنحًا لحياة ومنحًا لإسلام ثم إعتاقًا ثم بركة ثم إنفاقًا .. ثم كانت النتيجة التي أخضعت الرقاب وجعلت هؤلاء جميعًا قد أحبوا الإِسلام وتكاتفوا معه ولم يكونوا ضده.
ألا فلترفع رؤوسنا نحن جند الإِسلام نحن أتباع العقيدة المشرفة الرائعة .. إنها رحمة الله للعالمين ..
নিশ্চয়ই ইসলাম এঁদের সপক্ষে অত্যন্ত জোরালোভাবে অবস্থান গ্রহণ করে এবং রাসূল বলেন: "বিলাল আমাদের পরিবারের (آل البيت) অন্তর্ভুক্ত" .. বিলাল, যিনি নবুয়তের ঘর হতে দাসত্বভুক্ত হয়েছিলেন ..
সুতরাং ইসলাম তাঁদের সম্মানিত করেছে এবং দাসত্বকে কেবল আয়ুষ্কাল, সম্পদ, জীবন এবং ইসলামের সপক্ষে একেকটি অনুদান হিসেবে সাব্যস্ত করেছে; যার পর রয়েছে দাসত্বমোচন, অতঃপর বরকত এবং সচ্ছলতা .. অতঃপর এর ফলাফল এমন ছিল যা উদ্ধত মস্তকসমূহকে অবনত করেছিল এবং এই মানুষগুলো সবাই ইসলামকে ভালোবেসেছে ও এর সাথে একাত্ম হয়েছে, তারা কখনোই এর বিপক্ষে ছিল না।
অতএব, ইসলামের সৈনিক হিসেবে আমাদের মস্তক যেন উন্নত থাকে; আমরা সেই সুমহান ও চমৎকার আকিদার অনুসারী .. এটি বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পরম রহমত ..
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাত মাআ কদায়া মুআসিরাহ শুবুহাত রু দুদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الهدف من الخلق
সৃষ্টির উদ্দেশ্য