(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
أدلة تحريم حلق اللحية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أدلة تحريم حلق اللحية
المؤلف: محمد بن أحمد بن إسماعيل المقدم
الطبعة: الرابعة، 1405هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 134
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1434
দাড়ি মুণ্ডন হারাম হওয়ার দলীলসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: দাড়ি মুণ্ডন হারাম হওয়ার দলীলসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম
সংস্করণ: চতুর্থ، ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যিলকদ ১৪৩৪
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
أدلة تحريم حلق اللحية
بحث أعده
محمد بن أحمد بن إسماعيل
عفا الله عنه
দাড়ি মুণ্ডন নিষিদ্ধ হওয়ার দলিলসমূহ
গবেষণাটি প্রস্তুত করেছেন
মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইসমাঈল
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الرابعة
1405 - 1985 م
نشر وتوزيع
مكتبة دار الأرقم
للكويت- ص. ب 43231 حولى
هاتف 561913
حقوق الطبع محفوظة
চতুর্থ সংস্করণ
১৪০৫ - ১৯৮৫ খ্রি.
প্রকাশ ও পরিবেশনায়
মাকতাবা দারুল আরকাম
কুয়েত - পি.ও. বক্স ৪২৩৩১ হাওয়ালি
টেলিফোন ৫৬১৯১৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله هادي الورى طرق الهدى، وزاجرهم عن أسباب التهلكة والردى، وصلاته وسلامه على عباده الذين اصطفى من ملك ونبي مرتضى، وعبد صالح اتبع ما شرعه فاهتدى، وإياه نسأل بمنه وفضله أن ينفعنا بالعلم، وأن يجعلنا من طلابه الصادقين، وأن يوفقنا للعمل بما علمنا وتعلم ما جهلنا، واليه نرغب في أن يعيذنا من إتباع الهوى، وركوب ما لا يرتضى، وأن يعصمنا في الأقوال والأفعال من تزيين الشيطان لنا سوء الأفعال.
وأن يرشدنا لقبول نصح الناصح، وسلوك الطريق الواضح، فما أسعد من ذكر فتذكر، وبصر بعيونه فتبصر.
وصلى الله على من بعثه بالدين القويم والصراط المستقيم، فأكمل به الدين وأوضح به الحق المستبن، محمد بن عبد الله أبي القاسم المصطفى الأمين، صلاة الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
ورضي الله عن الأئمة التابعين والعلماء من بعدهم العاملين، الذين بلغوا إلينا سنته، وشرحوا لنا هديه وطريقته.
اعلموا رحمكم الله، أن الواجب على الناصح فيما يرد عليه من الوقائع، وما يسأل عنه من الشرائع الرجوع إلى ما دل عليه كتاب الله المنزل، وما صح عن نبيه المرسل وما كان عليه الصحابة ومن بعدهم من الصدر الأول، الذين عليهم دون في سواهم ممن خالفهم المعول، فما وافق ذلك أذن فيه وأمر، وما خالفه نهى عنه وزجر، فيكون قد آمن بذلك واتبع، ولا يستحسن فإن من استحسن شرع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতকে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেন এবং ধ্বংস ও পতনের কারণসমূহ থেকে তাদের সতর্ক করেন। এবং তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সেই মনোনীত বান্দাদের ওপর—হোক তারা ফেরেশতা কিংবা মনোনীত নবী—এবং সেই নেককার বান্দার ওপর যে তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুসরণ করে সঠিক পথ লাভ করেছে। আমরা তাঁরই নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ইলম (জ্ঞান) দ্বারা উপকৃত করেন, আমাদের ইলমের সত্যনিষ্ঠ অন্বেষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমরা যা জেনেছি সে অনুযায়ী আমল করার ও যা জানি না তা শিক্ষা করার তাওফিক দান করেন। এবং তাঁরই কাছে আমরা কামনা করি যেন তিনি আমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ ও অপছন্দনীয় কার্যে লিপ্ত হওয়া থেকে আশ্রয় দেন এবং কথা ও কাজে শয়তান কর্তৃক মন্দ কর্মসমূহকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করা থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
আর যেন তিনি আমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীর উপদেশ গ্রহণ এবং সুস্পষ্ট পথে চলার দিকনির্দেশনা দান করেন। সেই ব্যক্তিই পরম সৌভাগ্যবান যাকে উপদেশ দেওয়া হলে সে তা গ্রহণ করে এবং যে চাক্ষুষ দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে।
আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁকে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথের সাথে প্রেরণ করেছেন; যার মাধ্যমে তিনি দ্বীনকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং সুস্পষ্ট সত্যকে আরও স্পষ্ট করেছেন; তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আবুল কাসিম, আল-মুস্তফা, আল-আমিন; আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর বর্ষিত হোক।
এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হন তাবেয়ী ইমামগণ এবং তাঁদের পরবর্তী আমলকারী আলেমগণের ওপর, যাঁরা আমাদের নিকট তাঁর সুন্নাহ পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর হিদায়াত ও কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন।
আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—যে কোনো ঘটনা বা শরীয়তের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে একজন নসিহতকারীর জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব যা নির্দেশ করে তার দিকে, প্রেরিত নবীর থেকে যা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে তার দিকে এবং প্রথম যুগের সেই সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তীগণের অনুসৃত পদ্ধতির দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যাঁদের ওপর নির্ভর করা হয়, তাঁদের বিরোধিতাকারীদের ওপর নয়। সুতরাং যা এসবের সাথে মিলবে সে ব্যাপারে অনুমতি ও নির্দেশ প্রদান করা হবে, আর যা এর পরিপন্থী হবে তা থেকে নিষেধ ও সতর্ক করা হবে। এভাবে সে এর ওপর ঈমান আনবে ও অনুসরণ করবে। সে যেন নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছুকে উত্তম মনে করে বিধান না দেয়, কেননা যে ব্যক্তি নিজের বিবেচনায় কোনো কিছুকে উত্তম মনে করে বিধান দেয়, সে যেন নতুন শরীয়ত প্রবর্তন করল।
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قال أحمد بن يحيى حدثني عبيد بن ميمون، قال حدثني عبد الله بن الجعفري، قال: كان عبد الله بن الحسن يكثر الجلوس إلى ربيعة، (قال): فتذاكروا يوماً السنن، فقال رجل كان في المجلس: "ليس العمل على هذا"، فقال عبد الله: "أرأيت ان كثر الجهال حتى يكونوا هم الحكام فهم الحجة على السنة"؟!
فقال ربيعة: "أشهد أن هذا لكلام أبناء الأنبياء".
(وبعد).
فهذا بحث جامع في "مسائل اللحية" أقدمه ممتثلا قول رب العالمين {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ}، بعد أن مست الحاجة اليه، وقد كادت السنن تطفىء نورها المحدثات والبدع، وتكاثرت المخالفات الشرعية وعم ضررها واستطار شررها ودام الانكباب على العمل بها مع السكوت على الإنكار لها حتى صارت كأنها سنن مقررات، وشرائع من صاحب الشرع محررات، يفنى عليها الكبير، ويكبر عليها الصغير.
والسعيد الموفق من أحيا السنة، ودعا إلى الله عز وجل واستوى عنده مادحه في الحق وذامه، وخالف ما اعتاد الناس وإن أدعوا أنهم على الجادة، غير مبال بما يرمونه به من التنطع في العمل والتشدد في الدين، فذلك قليل من كثير كان يقاسيه الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر، المتمسكون بدين الله من التشنيع والتقبيح وضروب الأذى والتعنيف.
وقد روى عن خير التابعين أويس القرني رحمه الله أنه قال: "إن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لم يدعا للمؤمن صديقاً، نأمرهم بالمعروف فيشتمون أعراضنا، ويجدون على ذلك أعوانا من الفاسقين، حتى- والله- لقد رموني بالعظائم، وأيم الله لا أع أن أقوم فيهم بحقه".
واليوم ونحن نقدم هذه الرسالة نصيحة للمسلمين، نؤكد أن قضية اللحية حكم فرعي، لكنه يندرج تحت أصل كلي غفل عنه الكثيرون، ألا وهو طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم طاعة مطلقة بامتثال كل ما به أمر، والانتهاء عن كل ما عنه زجر.
আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন, উবাইদ ইবনে মাইমুন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আল-জা'ফারি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাসান রবীআহ-র মজলিসে অধিক সময় বসতেন। (তিনি বলেন): একদিন তাঁরা সুনান নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন মজলিসে উপস্থিত এক ব্যক্তি বললেন: "আমল এর ওপর ভিত্তি করে নয়।" তখন আবদুল্লাহ বললেন: "তুমি কি মনে করো, যদি মূর্খদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এমনকি তারাই শাসক হয়ে বসে, তবে কি তারা সুন্নাহর ওপর দলিল হবে?!"
রবীআহ বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটি আম্বিয়া-সন্তানদের কথা।"
(অতঃপর)।
এটি "দাড়ির মাসয়ালাসমূহ" সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা, যা আমি রাব্বুল আলামীনের এই বাণীর অনুগত হয়ে পেশ করছি— {আর আপনি উপদেশ দিন, কারণ নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে}, যেহেতু এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। নিশ্চয়ই নব উদ্ভাবিত বিষয় (محدثات) এবং বিদআতসমূহ (بدع) সুনান-এর নূরকে প্রায় নিভিয়ে দিতে বসেছে। শরীয়ত পরিপন্থী কাজগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে, সেগুলোর ক্ষতি ব্যাপক হয়েছে, এর স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলোর ওপর আমল অব্যাহত রয়েছে—পাশাপাশি সেগুলোর প্রতিবাদ করার ব্যাপারে নীরবতা পালন করা হচ্ছে—এমনকি অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যেন তা সুনির্ধারিত সুনান এবং খোদ শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে প্রবর্তিত সুসংবদ্ধ বিধান, যার ওপর বৃদ্ধরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে এবং ছোটরা বড় হচ্ছে।
সেই সৌভাগ্যবান ও সফল ব্যক্তি যে সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করে এবং আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, আর যার কাছে সত্যের পথে তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী সমান হয়ে যায়। সে মানুষের অভ্যস্ত রীতিনীতির বিরুদ্ধাচরণ করে, যদিও তারা দাবি করে যে তারা সঠিক পথে আছে। সে তাকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত আমলে বাড়াবাড়ি (تنطع) এবং দ্বীনের ব্যাপারে কঠোরতা (تشدد)-র মতো অপবাদের তোয়াক্কা করে না। সৎকাজের আদেশদানকারী এবং অসৎকাজে নিষেধকারী তথা আল্লাহর দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারীদের ওপর যে নিন্দা, কুৎসা এবং নানা ধরনের কষ্ট ও লাঞ্ছনা আসে, তা তো কেবল সমুদ্রের মাঝে বিন্দুর মতো মাত্র।
শ্রেষ্ঠ তাবিঈন (تابعين) উওয়াইস আল-কারনী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ মুমিনের জন্য কোনো বন্ধু অবশিষ্ট রাখেনি। আমরা তাদের সৎকাজের আদেশ দেই, ফলে তারা আমাদের ইজ্জতহানি করে এবং এ কাজে তারা পাপাচারী (فاسقين)-দের মধ্য থেকে সাহায্যকারী পেয়ে যায়। এমনকি আল্লাহর কসম! তারা আমার ওপর গুরুতর সব অপবাদ আরোপ করেছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের মাঝে আল্লাহর হক আদায়ে পিছপা হব না।"
আজ যখন আমরা মুসলমানদের জন্য উপদেশস্বরূপ এই রিসালাহটি পেশ করছি, তখন আমরা গুরুত্বের সাথে বলতে চাই যে, দাড়ির বিষয়টি একটি শাখাগত বিধান (حكم فرعي), কিন্তু এটি এমন এক সামগ্রিক মূলনীতি (أصل كلي)-র অন্তর্ভুক্ত যা অনেকেই বিস্মৃত হয়েছে; আর তা হলো— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা, এমন এক নিঃশর্ত আনুগত্য যার মাধ্যমে তাঁর প্রতিটি আদেশ পালন করা হয় এবং তাঁর প্রতিটি নিষেধ থেকে বিরত থাকা হয়।
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومما يؤكد بإلحاح ضرورة نشر مثل هذا المبحث -وإن كان هناك قضايا عامة هي أخطر منه في واقع المسلمين اليوم- ما يقع من بعض المثبطين من استخفاف واستهزاء بهذه الشعيرة الإسلامية، ووصفها بما لا يليق أن يوصف به أمر تكلم فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بل أمر به وأوجبه • وما يقع من بعض المتفرنجين من استحسان هدى المشركين فى حلق اللحى واستقباح سنة من هديه خير الهدى صلى الله عليه وسلم
• وما يقع من شبهات عقلية سقيمة أو علمية واهية يتذرع بها من ينتسبون إلى العلم الشريف، ويذيعونها في الناس ليبرروا واقعهم المخالف لشرع الله تبارك وتعالى، وهؤلاء ينظر لهم العوام على أنهم القدوة، فيقلدونهم ويحتجون بسلوكهم.
• وما يقع من ضغوط يمارسها بعض الآباء على أبنائهم الذين يحرصون على طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم وامتثال أمره، بدلًا من أن يعينوهم على التقوى والنجاة.
• وما يقع من اضطهاد لمن يحي هذه السنة الواجبة في كثير من الهيئات خاصة القوات المسلحة، حيث يقدس المسئولون فيها أوامر كبرائهم بحلق لحى المجندين، ويحاكمون من يخالفها، ويعاقبونه بالسجن والاضطهاد والأذى في حين لا تصغى منهم أذن لأمر سيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى، غير مبالين بما ورد في اضطهاد المسلم لأجل تدينه من التهديد الأكيد، والوعيد الشديد في الدنيا والآخرة.
وإن تعجب فعجب قولهم: "أنت حر ما لم تضر" وأعجب منه أنهم ينقضون هذا المبدأ ويتدخلون في حرية الغير، وإن كانت لا تضرهم ..
وهذه "الأكذوبة" المسماة "بالحرية الشخصية" لماذا تمنح للفتاة المتهتكة المتبرجة التي هي في الحقيقة جرثومة ضارة بكل مجتمع تمر به، وتمنح للشباب الضائع الذي يتشبه تارة بالنساء وتارة بالكفار، ليس في مظهره فحسب لكن في فكره وأخلاقه وجوهره.
এমন একটি বিষয় প্রকাশের প্রয়োজনীয়তাকে যা অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে—যদিও বর্তমানে মুসলিমদের বাস্তবতায় এর চেয়েও অনেক গুরুতর সাধারণ সমস্যা বিদ্যমান—তা হলো কিছু নিরুৎসাহী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই ইসলামি নিদর্শনের প্রতি তুচ্ছজ্ঞান ও উপহাস প্রদর্শন এবং একে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা যা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নির্দেশের ক্ষেত্রে মোটেও শোভনীয় নয়, বরং তিনি তো এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে আবশ্যক করেছেন।
• আর কিছু পাশ্চাত্যঘেঁষা মানুষের মাঝে দাড়ি মুণ্ডনের ক্ষেত্রে মুশরিকদের রীতিনীতিকে পছন্দ করা এবং যাঁর পথনির্দেশ সর্বোত্তম সেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে অপছন্দ করার যে প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়।
• এছাড়া ইলমে শরীফের সাথে সম্পৃক্ত কিছু মানুষের দুর্বল বুদ্ধিভিত্তিক সংশয় বা অন্তঃসারশূন্য বৈজ্ঞানিক যুক্তির আশ্রয় গ্রহণ, যা তারা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় যাতে আল্লাহর শরিয়ত পরিপন্থী তাদের বাস্তব অবস্থাকে বৈধতা দেওয়া যায়। আর সাধারণ মানুষ তাদের আদর্শ মনে করে তাদের অনুকরণ করে এবং তাদের আচরণকে দলিল হিসেবে পেশ করে।
• কিছু পিতামাতার পক্ষ থেকে তাদের সন্তানদের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করা হয় যারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশ পালনে সচেষ্ট, অথচ তাদের উচিত ছিল সন্তানদের তাকওয়া ও নাজাতের পথে সহযোগিতা করা।
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীতে এই আবশ্যকীয় সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিতকারীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়; যেখানে দায়িত্বশীলরা নিয়োগপ্রাপ্তদের দাড়ি মুণ্ডনের ক্ষেত্রে তাদের ঊর্ধ্বতনদের আদেশকে পবিত্র জ্ঞান করেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের বিচার করেন, কারাদণ্ড, নিপীড়ন ও কষ্টের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করেন। অথচ আদম সন্তানের সর্দার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি লম্বা করার নির্দেশের প্রতি তাদের কোনো কর্ণপাত নেই। একজন মুসলিমকে তার দ্বীনদারির কারণে নিপীড়ন করার ব্যাপারে দুনিয়া ও আখেরাতের যে সুনিশ্চিত হুমকি ও কঠোর হুঁশিয়ারি বর্ণিত হয়েছে, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন।
আর যদি আপনি বিস্মিত হন, তবে তাদের এই কথাটি আশ্চর্যের: 'অন্যের ক্ষতি না করা পর্যন্ত আপনি স্বাধীন'; তবে এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা নিজেরাই এই মূলনীতি ভঙ্গ করে এবং অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, যদিও তা তাদের কোনো ক্ষতি সাধন করে না।
আর এই 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতা' নামক ডাহা মিথ্যাটি কেন সেই বেহায়া ও বেপর্দা নারীকে দেওয়া হয়, যে প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি সমাজের জন্য একটি ক্ষতিকর জীবাণু? এবং কেন তা সেই লক্ষ্যভ্রষ্ট যুবককে দেওয়া হয় যে কখনও নারীর সাদৃশ্য গ্রহণ করে, আবার কখনও কাফেরদের অনুকরণ করে—শুধু বাহ্যিক অবয়বে নয়, বরং চিন্তাধারা, নৈতিকতা এবং সত্তার গভীরেও?
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
كل هؤلاء تحترم وتقدس حريتهم الشخصية، إلا طائفة واحدة تحرم من هذا الحق ويضطهدون إذا مارسوه.
وهم أهل الحق أهل الكتاب والسنة أتباع سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم، وإذا كان هؤلاء يدعون إلى الاهتمام بالجوهر وعدم التركيز على المظهر، فلماذا يشغلون أنفسهم بمظهر هؤلاء المتمسكين بدينهم ويعرضون عن جوهرهم؟ ويستغلون سلطتهم ويكملون نقصهم ويفرغون انهزامهم الداخلي عن طريق الأوامر واللوائح التي ما أنزل الله بها من سلطان بدل أن يتوبوا إلى ربهم ويقلعوا عن غيهم:
اتقوا الله يا غواة قليلا .... واخلعوا العار عنكم والشنارا
ورحم الله عبداً بلغه الحق فانصاع، ولم يعده إلى التكذيب والابتداع، قال عز وجل: {أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ}.
وقد سبق أن طبعت هذه الرسالة مرات أربعاً كانت الأولى منها في ذي الحجة 1396هـ، وقد أعيد النظر فيها، فزيدت، وهذبت، وصححت، ورتبت، ثم ألحق بها -تتميمًا لفائدتها- بحث في دحض بدعة تقسم الدين إلى قشر ولباب التي يتخذها الجهال ذريعة إلى إهدار الظاهر، احتجاجًا بصلاح الباطن، وكذبوا لو صلحت قلوبهم لصلحت ظواهرهم، والله الموفق.
هذا وقد سألت جامع الناس ليوم لا ريب فيه، أن يجمع أهواءنا المتفرقة في أودية الدنيا على ما يزلف لديه ويرضيه، ويخلص أعمالنا لوجهه، وما لم يكن منها له فيصرفه لذلك بلطفه وتلافيه، وأن يختم لي ولسائر إخواني المسلمين بالخاتمة الحسنى قبل انخرام الأجل وفراق الدنيا، وأن يستعملنا بما علمنا ما دام العمل يمكننا، وصلى الله على رسوله وآله وصحبه وسلم، والحمد لله رب العالمين.
এ সকল লোকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান ও পবিত্র জ্ঞান করা হয়, কেবল একটি শ্রেণি ব্যতীত যারা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং তারা এটি চর্চা করলে নিপীড়িত হয়।
তারা হলো সত্যের অনুসারী, কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী। যদি তারা (বিরোধীরা) সারসত্তার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং বাহ্যিক অবয়বের ওপর মনোযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানায়, তবে তারা কেন দ্বীনদার ব্যক্তিদের বাহ্যিক রূপ নিয়ে নিজেদের ব্যতিব্যস্ত রাখে এবং তাদের সারসত্তাকে উপেক্ষা করে? তারা নিজেদের প্রতিপালকের কাছে তওবা করে বিভ্রান্তি ত্যাগ করার পরিবর্তে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নিজেদের অপূর্ণতা পূরণ করে এবং এমন সব আদেশ ও বিধিমালার মাধ্যমে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরাজয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি:
হে পথভ্রষ্টরা! আল্লাহকে কিছুটা ভয় করো... এবং তোমাদের থেকে লজ্জা ও কলঙ্ক দূর করো।
আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি রহম করুন যার নিকট সত্য পৌঁছেছে এবং সে তা মেনে নিয়েছে, আর সেটিকে প্রত্যাখ্যান বা নতুন উদ্ভাবন (ابتداع) এর দিকে ঠেলে দেয়নি। মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তারা আল্লাহর কাছে তওবা করবে না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}
ইতোপূর্বে এই পুস্তিকাটি চারবার মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রথম সংস্করণ ছিল জিলহজ ১৩৯৬ হিজরিতে। এতে পুনরায় নজর দেওয়া হয়েছে, ফলে এটি পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত, সংশোধিত এবং সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। অতঃপর এর উপকারিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে দ্বীনকে ‘খোসা ও শাঁস’ ভাগে বিভক্ত করার নব উদ্ভাবন (بدعة) খণ্ডন করে একটি গবেষণা এতে যুক্ত করা হয়েছে; অজ্ঞরা অভ্যন্তরীণ সংশোধনকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে বাহ্যিক আমল বর্জনের মাধ্যম হিসেবে একে গ্রহণ করে থাকে। তারা মিথ্যা বলেছে; কারণ যদি তাদের অন্তর বিশুদ্ধ হতো, তবে তাদের বাহ্যিক আমলও সংশোধিত হতো। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
পরিশেষে আমি সেই সত্তার নিকট প্রার্থনা করছি, যিনি মানুষকে এমন একদিনে একত্রিত করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই, তিনি যেন দুনিয়ার বিচিত্র পথে ছড়িয়ে থাকা আমাদের প্রবৃত্তিকে এমন বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন যা তাঁর নৈকট্য দান করে এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করে। তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর আমাদের যে আমলগুলো তাঁর জন্য নয়, সেগুলোকে তাঁর অনুগ্রহ ও সংশোধনের মাধ্যমে তাঁরই সন্তুষ্টির দিকে ফিরিয়ে দেন। হায়াত শেষ হওয়ার এবং দুনিয়া ত্যাগের পূর্বে তিনি যেন আমাকে এবং আমার সকল মুসলিম ভাইকে উত্তম পরিণতির সৌভাগ্য দান করেন। আমাদের মধ্যে আমল করার সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত তিনি যেন আমাদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تعريفات أصولية (1)
1 - الحكم الشرعي: هو خطاب الشارع المتعلق بفعل المكلف من حيث إنه مكلف به بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع.
والمراد من "خطاب الشارع" الوصف الذي يعطيه الشارع لما يتعلق بأفعال المكلفين، كأن يقال: إنه حرام أو مكروه أو مطلوب أو مباح أو صحيح أو باطل، أو هو شرط أو سبب أو مانع
… الخ.
ومعنى كلمة "اقتضاء" أي طلب سواء كان الطلب فعل أو طلب منع، فالحرام فيه طلب منع لازم، والوجوب فيه طلب فعل لازم.
"والتخيير" هو أن الشارع أجاز للمكلف أن يفعل أو لا يفعل مثل الأكل أو النوم في وقت معين، ونحو ذلك من الأفعال المعتادة التي لا يتعين عليه واحد منها، وإن كانت جملتها مطلوبة.
"والوضع" هو ربط الشارع بين أمرين مما يتعلق بالمكلفين مثل الربط بين الوراثة ووفاة شخص فتكون وفاته سببًا لوراثة آخر، أو يربط بين أمرين بحيث يكون أحدهما شرطا شرعيًا لتحقق الآخر وترتيب آثاره كالوضوء للصلاة وكاشتراط الشهود للنكاح، وأقسام خطاب الوضع أربعة:
العلل، والأسباب، والشروط، والموانع.
ويسمى الحكم الشرعي إذا كان فيه اقتضاء أو تخيير حكمًا تكليفيًا، وإذا كان فيه ربط بين أمرين حكمًا وضعيًا.
2 - الواجب: مرادف للفرض عند الجمهور، وهو ما طلب على وجه اللزوم فعله بحيث يأثم تاركه، وقال الآمدي: الوجوب الشرعي عبارة عن خطاب الشارع بما ينتهض تركه سببًا للذم شرعًا.
3 - المندوب: هو ما طلب الشارع فعله طلبًا غير لازم، أو ما يثاب فاعله، ولا يعاقب تاركه، أو هو ما يمدح فاعله، ولا يذم الشارع تاركه، أو
--------------------------------------------
উসুল সংক্রান্ত সংজ্ঞাসমূহ (تعريفات أصولية) (১)
১ - শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي): এটি হলো মুকাল্লাফ (المكلف) ব্যক্তির কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানদাতার সম্বোধন (خطاب الشارع), যা বাধ্যবাধকতা (الاقتضاء), ঐচ্ছিকতা (التخيير) অথবা নির্ধারণ (الوضع) হিসেবে অর্পিত হয়।
"বিধানদাতার সম্বোধন" (خطاب الشارع) বলতে সেই গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে বোঝায় যা বিধানদাতা মুকাল্লাফদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট করে প্রদান করেছেন; যেমন বলা হয়: এটি হারাম (حرام), মাকরূহ (مكروه), কাম্য (مطلوب), বৈধ (مباح), সহিহ (صحيح) বা বাতিল (باطل); অথবা এটি শর্ত (شرط), কারণ (سبب) বা প্রতিবন্ধক (مانع)
… ইত্যাদি।
"ইকতিদা" বা বাধ্যবাধকতা (اقتضاء) শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু দাবি করা, চাই তা কোনো কাজ করার দাবি হোক বা বর্জনের দাবি হোক। সুতরাং হারামের (حرام) ক্ষেত্রে বর্জনের আবশ্যকীয় দাবি থাকে এবং ওয়াজিবের (الوجوب) ক্ষেত্রে পালনের আবশ্যকীয় দাবি থাকে।
"তাখয়ীর" বা ঐচ্ছিকতা (التخيير) হলো এই যে, বিধানদাতা মুকাল্লাফকে (المكلف) কোনো কাজ করার বা না করার অনুমতি প্রদান করেছেন, যেমন নির্দিষ্ট সময়ে আহার করা বা ঘুমানো এবং এ জাতীয় সাধারণ কার্যাবলী যার কোনো একটি তার ওপর নির্দিষ্টভাবে আবশ্যক নয়, যদিও সামগ্রিকভাবে এগুলোর দাবি রয়েছে।
"ওয়াদ'ঈ" বা নির্ধারণ (الوضع) হলো মুকাল্লাফদের সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয়ের মধ্যে বিধানদাতার পক্ষ থেকে সংযোগ স্থাপন করা, যেমন উত্তরাধিকার এবং ব্যক্তির মৃত্যুর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা, ফলে একজনের মৃত্যু অন্যের উত্তরাধিকারী হওয়ার কারণ (سبب) হিসেবে গণ্য হয়; অথবা দুটি বিষয়ের মধ্যে এমনভাবে সংযোগ স্থাপন করা যাতে একটি অন্যটির বাস্তবায়ন ও ফলাফল লাভের জন্য শরয়ী শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য হয়, যেমন নামাজের জন্য ওজু এবং নিকাহর জন্য সাক্ষী থাকার শর্তারোপ। নির্ধারণী সম্বোধনের (خطاب الوضع) প্রকারভেদ চারটি:
ইল্লত (العلل), কারণসমূহ (الأسباب), শর্তসমূহ (الشروط) এবং প্রতিবন্ধকসমূহ (الموانع)।
শরয়ী বিধানকে (الحكم الشرعي) যদি তাতে বাধ্যবাধকতা (اقتضاء) বা ঐচ্ছিকতা (تخيير) থাকে তবে 'হুকুম তাকলিফী' বা অর্পিত বিধান (حكم تكليفي) বলা হয়, আর যদি তাতে দুটি বিষয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন বোঝায় তবে তাকে 'হুকুম ওয়াদ'ঈ' বা নির্ধারণী বিধান (حكم وضعي) বলা হয়।
২ - ওয়াজিব (الواجب): জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে এটি ফরজের (الفرض) সমার্থক। এটি এমন কাজ যা আবশ্যকীয়ভাবে পালনের দাবি করা হয়েছে, যার ফলে বর্জনকারী গুনাহগার হয়। আল-আমিদি বলেছেন: শরয়ী ওয়াজিব (الوجوب الشرعي) হলো বিধানদাতার এমন সম্বোধন যার বর্জন শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দার কারণ (سبب) হিসেবে গণ্য হয়।
৩ - মানদুব (المندوب): এটি এমন কাজ যা বিধানদাতা অনাবশ্যকীয়ভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, অথবা যার পালনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না; অথবা এটি এমন কাজ যার পালনকারী প্রশংসিত হয় কিন্তু বিধানদাতা কর্তৃক বর্জনকারী নিন্দিত হয় না, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
هو الراجح فعله مع جواز تركه، وقد يسمى النافلة والسنة (1)، والتطوع والمستحب والإحسان.
4 - الحرام: وهو ضد الواجب، وهو ما في تركه الثواب وفي فعله العقاب، أو هو ما طلب الشارع الكف عن فعله على وجه الحتم واللزوم.
5 - المكروه: هو ما تركه خير من فعله، أو هو ما طلب الشارع الكف عنه طلبًا غير ملزم، وقد يطلق "المكروه" على المحظور، وعلى ما نهي عنه نهي تنزيه، فلا يتعلق بفعله عقاب، وعند الجمهور: لا يذم فاعله ويمدح تاركه.
--------------------------------------------
এটি এমন কাজ যা সম্পাদন করা বর্জনের তুলনায় অগ্রাধিকারযোগ্য (রাজীহ), তবে বর্জন করাও বৈধ। একে নফল (نافلة), সুন্নাহ (سنة) (১), স্বেচ্ছাধীন (تطوع), মুস্তাহাব (مستحب) এবং ইহসান (إحسان) বলা হয়ে থাকে।
৪ - হারাম (حرام): এটি ওয়াজিব (واجب)-এর বিপরীত। এটি এমন বিষয় যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং লিপ্ত হলে শাস্তি পেতে হয়; অথবা যা বিধানদাতা (শারি‘) চূড়ান্ত ও আবশ্যিকভাবে বর্জন করার দাবি জানিয়েছেন।
৫ - মাকরুহ (مكروه): এটি এমন কাজ যা করার চেয়ে বর্জন করা উত্তম। অথবা যা বিধানদাতা (শারি‘) অনাবশ্যকভাবে বর্জন করার দাবি জানিয়েছেন। কখনও কখনও মাকরুহ (مكروه) শব্দটি নিষিদ্ধ (محظور) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আবার কখনও এটি মাকরুহ তানজিহি (نهي تنزيه) অর্থে ব্যবহৃত হয় যার লিপ্ত হওয়ার সাথে কোনো শাস্তি সংশ্লিষ্ট নয়। জুমহুর (جمهور) ফকীহগণের মতে: এর কর্তাকে নিন্দা করা হয় না তবে বর্জনকারী প্রশংসিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأولأدلة تحريم حلق اللحية
فصل الأمر حقيقة في الوجوب (1)
ذهب الجمهور إلى أن صيغة الأمر حقيقة في الوجوب لغة وشرعًا ومن حيث العقل والنقل، فإذا ورد الأمر متجردًا عن القرائن اقتضى الوجوب.
أما العقل: فما علم أهل اللغة قبل ورود الشرع أنهم أطبقوا على ذم عبد لم يمتثل أمر سيده، وأنهم يصفونه بالعصيان ولا يذم ولا يوصف بالعصيان إلا من كان تاركًا لواجب عليه.
وأما النقل: فقت تكرر استدلال السلف بصيغة الأمر مع تجردها عن القرائن على الوجوب، وشاع ذلك وذاع بلا نكير، فأوجب العلم العادي باتفاقهم عليه، وبالتتبع يعلم أن فهم الوجوب لا يحتاج إلى قرينة لتبادره إلى الذهن، بخلاف فهم الندب فإنه يحتاج اليه، واستدلوا بالأدلة الآتية: ا- قوله تعالى لإبليس: {مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ}؟ (2).
وليس المراد منه الاستفهام بالاتفاق، بل الذم، وأنه لا عذر له في الإخلال بالسجود بعد ورود الأمر به له في ضمن قوله تعالى للملائكة: {اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ} (3).
دل ذلك على أن معنى الأمر المجرد عن القرائن الوجوب، ولو لم يكن دالًا
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদদাড়ি মুণ্ডন হারাম হওয়ার দলিলসমূহ
অনুচ্ছেদ: নির্দেশ (الأمر) মূলত আবশ্যকতা (الوجوب) বোঝানোর জন্য (১)
জুমহুর ওলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন যে, নির্দেশসূচক শব্দরূপ (صيغة الأمر) আভিধানিকভাবে (لغة), শরিয়তগতভাবে (شرعًا) এবং বিবেক-বুদ্ধি (العقل) ও বর্ণনা বা দলিলের (النقل) বিচারে মূলত আবশ্যকতা (الوجوب) নির্দেশ করার জন্য। সুতরাং, যখন কোনো নির্দেশ কোনো প্রাসঙ্গিক আলামত (القرائن) মুক্ত হয়ে আসে, তখন তা আবশ্যকতা (الوجوب) দাবি করে।
বিবেক-বুদ্ধির (العقل) ক্ষেত্রে: শরিয়ত আসার আগে থেকেই ভাষা বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে একমত ছিলেন যে, তারা এমন দাসের নিন্দা করতেন যে তার মালিকের নির্দেশ পালন করত না এবং তারা তাকে অবাধ্য বলে অভিহিত করতেন। আর যার উপর কোনো কাজ আবশ্যক (واجب) ছিল, সে তা বর্জন করলেই কেবল তাকে নিন্দা করা যায় এবং অবাধ্য হিসেবে অভিহিত করা যায়।
আর দলিলের (النقل) ক্ষেত্রে: সালাফগণ কোনো প্রাসঙ্গিক আলামত (القرائن) মুক্ত নির্দেশসূচক শব্দরূপ (صيغة الأمر) দ্বারা আবশ্যকতা (الوجوب) সাব্যস্ত করার বিষয়ে বারবার দলিল পেশ করেছেন। এটি কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের এই ঐকমত্যের কারণে বিষয়টি অকাট্য জ্ঞানের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায় যে, নির্দেশ থেকে আবশ্যকতা (الوجوب) বোঝার জন্য অতিরিক্ত কোনো প্রাসঙ্গিক আলামতের (قرينة) প্রয়োজন হয় না, বরং এটি সরাসরি মনে উদিত হয়। পক্ষান্তরে কোনো কিছু মুস্তাহাব (الندب) হওয়ার বিষয়টি বোঝার জন্য অতিরিক্ত আলামতের প্রয়োজন হয়। তাঁরা নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন: ১. ইবলিসের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম, তখন কিসে তোমাকে সেজদা করা থেকে বিরত রাখল?} (২)।
এখানে সর্বসম্মতিক্রমে ঐক্যমত অনুযায়ী জিজ্ঞাসা (الاستفهام) করা উদ্দেশ্য নয়, বরং নিন্দা করা উদ্দেশ্য। কারণ, ফেরেশতাদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ: {তোমরা আদমকে সেজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সবাই সেজদা করল} (৩) - এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সেজদা বর্জন করার পেছনে তার কোনো ওজর বা অজুহাত ছিল না।
এটি প্রমাণ করে যে, প্রাসঙ্গিক আলামত মুক্ত নির্দেশের (الأمر) অর্থ হলো আবশ্যকতা (الوجوب)। যদি এটি নির্দেশক না হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
على الوجوب لما ذمه الله سبحانه وتعالى على الترك، ولكان لإبليس أن يقول: "إنك ما ألزمتني بالسجود".
2 - واستدلوا أيضًا بقوله تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ} (1). فذمهم على ترك فعل ما قيل لهم افعلوه، ولو كان الأمر يفيد الندب لما حسن هذا الكلام، كما لو أنه قال لهم: الأولى أن تفعلوا، ويجوز لكم تركه، فإنه ليس له أن يذمهم على تركه.
3 - واستدلوا أيضًا بقوله عز وجل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} أي يعرضون عنه بترك مقتضاه {أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (2).
لأنه رتب على ترك مقتضى أمره إصابة الفتنة في الدنيا أو العذاب الأليم في الآخرة، فأفادت الآية بما تقتضيه إضافة الجنس في قوله "أمره" من العموم أن لفظ الأمر يفيد الوجوب شرعًا مع تجريده عن القرائن، اذ لولا ذلك لقبح التحذير.
4 - واستدلوا أيضًا بقوله تبارك وتعالى على لسان موسى عليه السلام: مخاطبًا أخاه هارون عليه السلام {قَالَ يَا هَارُونُ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَهُمْ ضَلُّوا (92) أَلَّا تَتَّبِعَنِ أَفَعَصَيْتَ أَمْرِي} (3).
أي تركت مقتضاه، فدل على أن تارك المأمور به عاص، وكل عاص متوعد، وهو دليل الوجوب لهذه الآية.
ولقوله: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ} (4)، والأمر الذي أمره به موسى عليه السلام هو قوله: {اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي} (5). وهو أمر مجرد عن القرائن.
--------------------------------------------
এর আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার ওপর প্রমাণ এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা বর্জন করার কারণে নিন্দা করেছেন। নতুবা ইবলিসের পক্ষে এই কথা বলা সম্ভব হতো যে: "আপনি তো আমাকে সিজদা করার জন্য বাধ্য করেননি।"
2 - তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {যখন তাদের বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না} (১)। এখানে যা করতে বলা হয়েছে তা বর্জন করার কারণে তাদের নিন্দা করা হয়েছে। যদি নির্দেশ (الأمر) দ্বারা মোস্তাহাব (ندব) হওয়া বোঝাত, তবে এই কথাটি সংগত হতো না। যেমন যদি তাদের বলা হতো: "এটি করা তোমাদের জন্য উত্তম, তবে বর্জন করাও জায়েজ", সেক্ষেত্রে তা বর্জন করার কারণে তাদের নিন্দা করা সংগত হতো না।
3 - তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয়} অর্থাৎ যারা তাঁর নির্দেশের দাবি বর্জন করার মাধ্যমে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় {যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} (২)।
কারণ তিনি তাঁর নির্দেশের দাবি বর্জন করার পরিণাম হিসেবে দুনিয়াতে বিপর্যয় অথবা আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই আয়াতে "তাঁর নির্দেশ" (أمره) শব্দটিতে লিঙ্গবাচক বিশেষ্যের সম্বন্ধ (إضافة الجنس) হওয়ার কারণে তা ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করছে; যা থেকে বোঝা যায় যে, নির্দেশ বা আমর (الأمر) শব্দটি যদি কোনো আনুষঙ্গিক প্রমাণ বা আলামত (قرائن) থেকে মুক্ত থাকে, তবে তা শরয়িভাবে আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে। অন্যথায় এই সতর্কবাণী প্রদান করা অশোভন হতো।
4 - তারা মুসা আলাইহিস সালাম-এর জবানে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমেও দলিল পেশ করেছেন, যখন তিনি তাঁর ভাই হারুন আলাইহিস সালাম-কে সম্বোধন করে বলেছিলেন: {তিনি বললেন, হে হারুন! যখন তুমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট হতে দেখলে, তখন আমার অনুসরণ করতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তবে কি তুমি আমার নির্দেশ অমান্য করলে?} (৩)।
অর্থাৎ তুমি আমার নির্দেশের দাবি বর্জন করলে। এটি প্রমাণ করে যে, যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে তা যে ব্যক্তি বর্জন করে সে অবাধ্য (عاص), আর প্রত্যেক অবাধ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধেই শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে; এই আয়াতের প্রেক্ষিতে এটি আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার প্রমাণ।
এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণেও: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন} (৪)। আর মুসা আলাইহিস সালাম তাঁকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হলো তাঁর এই বাণী: {আমার কওমের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করো} (৫)। আর এটি এমন একটি নির্দেশ (أمر) যা কোনো বাড়তি আলামত বা নির্দেশক (قرائن) থেকে মুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
5 - واستدلوا أيضًا بقوله سبحانه وتعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} (1).
والقضاء هنا بمعنى الحكم، و (أمرًا) مصدر من غير لفظه أو حال أو تمييز ولا يصح أن يكون المراد بالقضاء ما هو المراد في قوله تعالى: {فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ} (2). لأن عطف الرسول عليه يمنع ذلك، فتعين أن المراد الحكم، والمراد من الأمر القول لا الفعل.
6 - واستدلوا أيضًا بقوله تعالى: {إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (3).
والمراد منه الأمر حقيقة، وليس بمجاز عن سرعة الإيجاد كما قيل، وعلى هذا يكون الوجود مرادًا بهذا الأمر، أي أراد الله كلما وجد الأمر يوجد المأمور به، فكذا في كل أمر من الله تعالى ومن رسوله صلى الله عليه وسلم.
7 - واستدلوا أيضًا بما صح عنه صلى الله عليه وسلم من قوله: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي، لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ» (4).
وكلمة لولا تفيد انتفاء الشئ لوجود غيره، فهنا تفيد انتفاء الأمر لوجود المشقة، فهذا يدل على أنه لم يوجد الأمر بالسواك عند كل صلاة، والإجماع قائم على أنه مندوب، فلو كان المندوب مأمورا به لكان الأمر قائما عند كل صلاة، فلما لم يوجد الأمر علمنا أن المندوب غير مأمور به.
8 - واستدلوا أيضا بما وقع في قصة بريرة لما رغبها رسول الله صلى الله عليه وسلم في الرجوع إلى زوجها فقالت: "يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: «إِنَّمَا
--------------------------------------------
5 - তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ফয়সালা করার ইখতিয়ার থাকবে না} (১)।
এখানে 'কাদা' অর্থ হলো হুকুম (বিধান), আর 'আমরান' (أمرًا) শব্দটি এর মূল শব্দ ছাড়া অন্য ধাতু হতে আগত মাসদার (ক্রিয়ামূল), অথবা এটি 'হাল' (অবস্থা) কিংবা 'তাময়িজ' (পার্থক্যকারী)। মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি সেগুলোকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন} (২)-এ 'কাদা' দ্বারা যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে, এখানে তা হওয়া সঠিক নয়। কারণ, রাসূলকে এর ওপর আতাফ (সংযুক্ত) করা তা হতে বাধা প্রদান করে। সুতরাং এটি সুনির্ধারিত যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো হুকুম (বিধান), আর 'আমর' (নির্দেশ) দ্বারা কথা উদ্দেশ্য করা হয়েছে, কাজ নয়।
6 - তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {যখন আমরা কোনো কিছু করতে চাই, তখন তার প্রতি আমাদের কথা কেবল এটাই যে, আমরা বলি: ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়} (৩)।
এখানে 'আমর' (নির্দেশ) দ্বারা এর প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য, এটি সৃষ্টির দ্রুততা বুঝাতে মাজায (রূপক) হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি যেমনটি বলা হয়ে থাকে। এই ভিত্তিতে, এই নির্দেশ দ্বারাই অস্তিত্ব লাভ করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ আল্লাহ চেয়েছেন যে, যখনই নির্দেশ পাওয়া যাবে তখনই নির্দেশিত (مأمور به) বিষয়টি অস্তিত্ব লাভ করবে। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিটি নির্দেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।
7 - তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত তাঁর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: «আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম» (৪)।
'লাওলা' শব্দটি অন্য কোনো বিষয়ের উপস্থিতির কারণে কোনো বিষয়ের অনুপস্থিতি বুঝায়। সুতরাং এখানে কষ্টের উপস্থিতির কারণে নির্দেশের অনুপস্থিতি বুঝাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রতি নামাজের সময় মেসওয়াক করার কোনো নির্দেশ বিদ্যমান নেই। অথচ এ ব্যাপারে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত যে, এটি পছন্দনীয় (مندوب)। সুতরাং যদি পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়টি নির্দেশিত (مأمور به) হতো, তবে প্রতি নামাজের সময় নির্দেশটি বিদ্যমান থাকত। যেহেতু কোনো নির্দেশ পাওয়া যায়নি, সেহেতু আমরা জানতে পারলাম যে, পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়টি নির্দেশিত (مأمور به) নয়।
8 - তারা বারীরা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘটনায় যা ঘটেছে তা দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন; যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তার স্বামীর নিকট ফিরে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: «আমি তো কেবল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَشْفَعُ»، قَالَتْ: لَا حَاجَةَ لِي فِيهِ (1) فنفى صلى الله عليه وسلم الأمر منه مع ثبوت الشفاعة الدالة على الندب، وذلك يدل على أن المندوب غير مأمور به، وإذا كان كذلك وجب أن يتناول الأمر الندب.
9 - واستدلوا أيضًا بأن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يستدلون بالأوامر على الوجوب، ولم يظهر مخالف منهم ولا من غيرهم فكان إجماعًا.
فصل أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى وقد روى البخاري ومسلم وغيرهما عن عدة من الصحابة رضوان الله عليهم منهم أبو هريرة رضي الله عنه وابن عمر رضي الله عنهما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى.
وقد روى مسلم عن ابن عمر رضي الله عنهما قوله "أمرنا بإعفاء اللحية".
وورد هذا الأمر بألفاظ مختلفة عدها النووي رحمه الله فبلغت خمسة، وهي قوله صلى الله عليه وسلم: (اعفوا)، (أوفوا)، (أرخوا)، (ارجوا)، (وفروا) والأمر بهذا يفيد وجوب المأمورية بحيث يثاب فاعله ويعاقب تاركه، وليست هناك قرينة تصرفه إلى الندب، ومنه يعلم أن حلق اللحية مخالفة صريحة لأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم.
واعلم أن شبهة القائلين بكراهة حلق اللحية اعتقادهم أن الأمر لغير الوجوب وقد علمت ما فيه (2).
--------------------------------------------
«...আমি কেবল সুপারিশ করছি», তিনি বললেন: «এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই» (১)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে এটি আদেশ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যদিও সুপারিশের বিষয়টি সাব্যস্ত ছিল যা পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব (الندب) হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর এটি একথাই প্রমাণ করে যে, মুস্তাহাব (المندوب) কোনো আদিষ্ট বিষয় নয়। আর যদি বিষয়টি তেমনই হয়, তবে আদেশটি মুস্তাহাব (الندب) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া আবশ্যক।
৯ - তারা আরও দলিল পেশ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আদেশের শব্দগুলো থেকে আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার প্রমাণ গ্রহণ করতেন। তাঁদের মধ্য থেকে বা অন্য কারো পক্ষ থেকে এর কোনো বিরোধী মত প্রকাশ পায়নি, ফলে এটি একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বা ইজমা (إجماعًا) হিসেবে গণ্য হয়েছে।
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি লম্বা রাখার নির্দেশ ইমাম বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সহ একাধিক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিম ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদেরকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এই নির্দেশটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) গণনা করেছেন এবং তা সংখ্যায় পাঁচটি। সেগুলো হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (ছেড়ে দাও - اعفوا), (পূর্ণ করো - أوفوا), (ঝুলিয়ে দাও - أرخوا), (বৃদ্ধি পেতে দাও - ارجوا), (পর্যাপ্ত করো - وفروا)। এই নির্দেশটি আদিষ্ট বিষয়টির আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার প্রমাণ দেয়, যাতে এর সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হবে এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হবে। এখানে এমন কোনো আনুষঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) নেই যা একে মুস্তাহাব (الندب) অর্থে ফিরিয়ে নেবে। এ থেকে জানা যায় যে, দাড়ি মুণ্ডন করা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জেনে রাখুন যে, যারা দাড়ি মুণ্ডন করাকে অপছন্দনীয় বা মাকরুহ মনে করেন, তাদের সংশয়ের কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে আদেশটি আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার জন্য নয়। অথচ আপনি এর স্বরূপ সম্পর্কে জেনেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(فائدة)ويمكن الاستدلال على الوجوب أيضًا بالنهي الوارد بصيغة الأمر، فإن النهى هو طلب الكف عن الفعل، وقد ورد النهي بصيغة الأمر، فقوله صلى الله عليه وسلم: "اعفوا" معناه: اتركوها وافية لا تقصوها كما قال الإمام النووي رحمه الله (1) في تفسير "اعفوا"، ونقل ابن حجر عن ابن دقيق العيد قوله: "حقيقة الإعفاء الترك" (2). فالإعفاء طلب للترك فهو نهى، والنهي يلزم اجتنابه قال تعالى: {وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (3).
وقال صلى الله عليه وسلم: "مَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ فَاجْتَنِبُوهُ" (4).
وقد ذهب الجمهور من أهل الأصول ومن الحنفية والشافعية والمحدثين إلى أن الشيء المعين إذا أمر به كان ذلك الأمر نهيًا عن الشيء المعين المضاد له (5) سواء كان الضد واحدًا -كما إذا أمره بالإيمان فإنه يكون نهيًا عن الكفر، وإذا أمره بالحركة فإنه يكون نهيًا عن السكون- أو كان الضد متعددا كما إذا أمره بالقيام فإنه يكون نهيا عن القعود والاضطجاع والسجود وغير ذلك، فالكف عن الضد لازم للأمر لزوما لا ينفك، إذ لا يصلح الأمر بحال إلا مع الكف عن ضده، فالأمر مستلزم ضرورة النهي عن ضده لاستحالة اجتماع الضدين.
والحاصل أن الأمر بإعفاء اللحية يفهم منه النهي عن حلقها واستئصالها أو تقصيرها بحيث تكون قريبة إلى الحلق، والعلم عند الله تعالى.
وإذا كان النهي عن إزالة اللحية مأخوذا هنا بطريق الالتزام، إلا أنه ورد ما يشعر بالنهي الصريح في حديث أبي ريحانة رضي الله عنه قال: " نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَشْرَةٍ: عَنِ الْوَشْرِ، وَالْوَشْمِ، وَالنَّتْفِ" الحديث (6).
--------------------------------------------
(একটি বিশেষ জ্ঞাতব্য)নির্দেশসূচক রূপের (صيغة الأمر) মাধ্যমে বর্ণিত নিষেধের (نهي) দ্বারাও এই আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণ করা সম্ভব। কেননা নিষেধ (نهي) হলো কোনো কাজ বর্জন করার দাবি, আর এখানে সেই নিষেধটি (نهي) নির্দেশসূচক রূপে (صيغة الأمر) বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ছেড়ে দাও", এর অর্থ হলো: এগুলোকে পরিপূর্ণ অবস্থায় রেখে দাও, কাটবে না—যেমনটি ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) (১) "ছেড়ে দাও" শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন। ইবনে হাজার ইবনে দাকিক আল-ঈদ থেকে উদ্ধৃত করেছেন: "ছেড়ে দেওয়ার প্রকৃত অর্থ হলো বর্জন করা" (২)। সুতরাং ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বর্জনের দাবি রাখে, ফলে এটি একটি নিষেধ (نهي)। আর নিষেধ (نهي) বর্জন করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর রাসূল তোমাদের যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো" (৩)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা বর্জন করো" (৪)।
উসুলবিদ (أصول), হানাফী, শাফেয়ী ও হাদিস বিশারদগণের (محدثين) অধিকাংশের মত হলো, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের নির্দেশ (أمر) প্রদান করা হলে তা সেই বিষয়ের নির্দিষ্ট বিপরীত অবস্থা হতে নিষেধ (نهي) হিসেবে গণ্য হয় (৫)। চাই সেই বিপরীত বিষয়টি একটিই হোক—যেমন ঈমানের নির্দেশ (أمر) দেওয়া হলে তা কুফর হতে নিষেধ (نهই) হিসেবে গণ্য হয়, এবং নড়াচড়া করার নির্দেশ (أمر) দেওয়া হলে তা স্থির থাকা হতে নিষেধ (نهي) হিসেবে গণ্য হয়—কিংবা বিপরীত বিষয়টি একাধিক হোক, যেমন দাঁড়ানোর নির্দেশ (أمر) দেওয়া হলে তা বসা, শোয়া, সিজদা করা ইত্যাদি হতে নিষেধ (نهي) প্রদান করে। সুতরাং বিপরীত বিষয় বর্জন করা নির্দেশের (أمر) সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত, কেননা কোনো নির্দেশই (أمر) তার বিপরীতটি বর্জনের আবশ্যকতা ছাড়া কার্যকর হতে পারে না। তাই নির্দেশ (أمر) অপরিহার্যভাবে তার বিপরীতটি হতে নিষেধকে (نهي) শামিল করে, কারণ দুটি বিপরীত বিষয় একত্রে ঘটা অসম্ভব।
সারকথা হলো, দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ (أمر) থেকে একে মুণ্ডন করা, উপড়ে ফেলা বা এতটাই ছোট করা যা মুণ্ডনের কাছাকাছি—এসব বিষয় হতে নিষেধ (نهي) বুঝা যায়। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার নিকট।
যদিও দাড়ি দূর করার ব্যাপারে নিষেধটি (نهي) এখানে পরোক্ষ বা আনুষঙ্গিক (التزام) হিসেবে এসেছে, তবে আবু রায়হানা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এ বিষয়ে সরাসরি নিষেধের (نهي) উল্লেখ পাওয়া যায়; তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশটি বিষয় হতে নিষেধ (نهي) করেছেন: দাঁত ঘষে সরু করা, উল্কি আঁকা এবং (দাড়ি/চুল) উপড়ানো..." হাদিস (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال القارئ في مرقاة المفاتيح (1): ("والنتف" أي وعن نتف النساء لشعورهن من وجوههن أو نتف اللحية أو الحاجب بأن ينتف البياض منهما أو نتف الشعر عند المصيبة) اهـ.
وإذا صح القول بأن حلق اللحية مثله -كما يفهم من قول الإمام مالك وغيره- فإن النهى الصريح عن الحلق يستفاد من حديث عبد الله بن يزيد الأنصاري رضي الله عنه قال: "نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ النُّهْبَى وَالْمُثْلَةِ" (2). وفي حديث سمرة بن جندب وعمران بن حصين قالا: "مَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً، إِلَّا أَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ، وَنَهَانَا عَنِ الْمُثْلَةِ" (3).
وروى ابن عساكر عن عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه أنه قال: "إن حلق اللحية مثله، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن المثلة" اهـ.
--------------------------------------------
আল-কারী 'মিরকাতুল মাফাতিহ' (১)-এ বলেন: ("এবং উপড়ানো" অর্থাৎ মহিলাদের মুখের লোম উপড়ানো অথবা দাড়ি বা ভ্রু উপড়ানো—সেগুলো থেকে সাদা চুল উপড়ানোর মাধ্যমে হোক—অথবা বিপদের সময় চুল উপড়ানো) সমাপ্ত।
যদি এই কথাটি সঠিক (صح) হয় যে দাড়ি মুণ্ডন করা এর অনুরূপ—যেমনটি ইমাম মালিক এবং অন্যদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—তবে মুণ্ডন করার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল-আনসারি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে পাওয়া যায়; তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) লুণ্ঠন এবং অঙ্গবিকৃতি করতে নিষেধ করেছেন" (২)। সামুরা বিন জুনদুব এবং ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাঝে এমন কোনো ভাষণ দেননি যাতে তিনি আমাদের সদকার আদেশ দেননি এবং অঙ্গবিকৃতি করতে নিষেধ করেননি" (৩)।
ইবনে আসাকির উমর বিন আব্দুল আজিজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই দাড়ি মুণ্ডন করা হলো অঙ্গবিকৃতি, আর রাসূলুল্লাহ (সা.) অঙ্গবিকৃতি করতে নিষেধ করেছেন" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل تحريم تشبه المسلمين بالكفار (1)
تقرر في الشرع أنه لا يجوز للمسلمين رجالًا ونساء التشبه بالكفار سواء في عبادتهم أو أعيادهم أو أزيائهم الخاصة بهم، وهذه قاعدة عظيمة في الشريعة الإسلامية خرج عنها اليوم -مع الأسف- كثير من المسلمن جهلا بدينهم، أو تبعا لأهوائهم، أو انحرافا مع عادات العصر الحاضر وتقاليد أوروبا الكافرة، حتى كان ذلك من أسباب ذل المسلمين وضعفهم وسيطرة الأجانب عليهم واستعمارهم: "إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم" (2).
ومما ينبغي أن يعلم أن أدلة هذه القاعدة المهمة كثيرة في الكتاب والسنة، ومن أدلة الكتاب قوله تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ أُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (3).
ومنها قوله تعالى: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (4).
يخبر تعالى أنه جعل رسوله صلى الله عليه وسلم على شريعة من الأمر شرعها له، وأمره باتباعها، ونهاه عن اتباع أهواء الذين لا يعلمون، وقد دخل في "الذين لا يعلمون" كل من خالف شريعته، و"أهواؤهم" ما يهوونه، وما عليه المشركون من هديهم الظاهر الذي هو من موجبات دينهم الباطل وتوابع
--------------------------------------------
কাফেরদের সাথে মুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বনের হারামের পরিচ্ছেদ (১)শরিয়তে (شرع) এটি সুনির্ধারিত যে, মুসলিম পুরুষ ও নারীদের জন্য কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা বৈধ নয়; চাই তা তাদের ইবাদত, উৎসব বা তাদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক-পরিচ্ছদে হোক। এটি ইসলামি শরিয়তের (شريعة) একটি সুমহান মূলনীতি (قاعدة), যা থেকে বর্তমানে দুঃখজনকভাবে অনেক মুসলিম তাদের দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে, অথবা প্রবৃত্তি অনুসরণের কারণে, অথবা বর্তমান যুগের রীতিনীতি ও কাফের ইউরোপের ঐতিহ্যের দিকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে বেরিয়ে গিয়েছে। এমনকি এটিই মুসলিমদের লাঞ্ছনা, দুর্বলতা এবং তাদের ওপর বিদেশীদের আধিপত্য ও উপনিবেশের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে" (২)।
যা জানা প্রয়োজন তা হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির (قاعدة) স্বপক্ষে কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহতে অনেক দলিল (أدلة) রয়েছে। কিতাবের দলিলসমূহের (أدلة) মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছিলেন। তারাই হলো পাপাচারী (الفاسقون)} (৩)।
এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণী: {অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরিয়তের (شريعة) ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না} (৪)।
মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দ্বীনের একটি বিধান বা শরিয়তের (شريعة) ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন যা তিনি তাঁর জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তিনি তাঁকে তা অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা জানে না তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। "যারা জানে না" এদের অন্তর্ভুক্ত হলো তারা যারা তাঁর শরিয়তের (شريعته) বিরোধিতা করে। আর "তাদের প্রবৃত্তি" হলো যা তারা কামনা করে এবং মুশরিকরা তাদের বাহ্যিক চালচলনে যে বিষয়ের ওপর রয়েছে, যা তাদের বাতিল দ্বীনের আবশ্যকতা ও অনুগামী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ذلك فهم يهوونه، وموافقتهم فيه: اتباع لما يهوونه، ولذا يفرح الكافرون بموافقة المسلمين لهم في بعض أمورهم، ويسرون بذلك، ويودون أن لو بذلوا مالا عظيما ليحصل ذلك.
وقال تعالى: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} (1).
قال شيخ الإسلام أحمد بن تيمية رحمه الله تعالى (2): (فقوله "ولا يكونوا" نهي مطلق عن مشابهتهم، وهو خاص أيضا في النهى عن مشابهتهم في قسوة قلوبهم، وقسوة القلوب من ثمرات المعاصي) اهـ.
قال الحافظ ابن كثير رحمه الله عند تفسير هذه الآية (3): "ولهذا نهى الله المؤمنين أن يتشبهوا بهم في شيء من الأمور الأصلية والفرعية، اهـ.
وفي الباب آيات أخر كثيرة وفيما ذكرنا كفاية.
فتبين من هذه الآيات أن ترك هدي الكفار والتشبه بهم في أعمالهم وأقوالهم وأهوائهم من المقاصد والغايات التي أسسها، وجاء بها القرآن الكريم، وقد قام صلى الله عليه وسلم ببيان ذلك وتفصيله للأمة، وحققه في أمور كثيرة من فروع الشريعة. قال صلى الله عليه وسلم: "لَيْسَ مِنَّا مَنْ عَمِلَ بِسُنَّةِ غَيْرِنَا" (4). حتى عرف ذلك اليهود الذين كانوا في مدينة النبي صلى الله عليه وسلم وشعروا أنه صلى الله عليه وسلم يتحرى أن يخالفهم في كل شئونهم الخاصة بهم فقالوا: "مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ مِنْ أَمْرِنَا شَيْئًا إِلَّا خَالَفَنَا
--------------------------------------------
সেটি এমন বিষয় যা তারা কামনা করে, আর তাতে তাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করা মূলত তাদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ। একারণেই কাফিররা তাদের কিছু বিষয়ে মুসলিমদের ঐকমত্যে আনন্দিত হয় এবং এতে তারা খুশি হয়; এমনকি তারা কামনা করে যে, যদি তারা এটি অর্জনের জন্য বড় কোনো সম্পদও ব্যয় করতে পারত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় হয়নি? আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গিয়েছিল; আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী (فاسقون)} (১)।
শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন (২): (তাঁর বাণী "আর তারা যেন না হয়" তাদের সদৃশ হওয়া থেকে একটি সাধারণ নিষেধাজ্ঞা। এটি বিশেষভাবে তাদের অন্তরের কঠোরতার বিষয়ে সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকেও নিষেধ করে, আর অন্তরের কঠোরতা হলো গুনাহের অন্যতম ফল) উদ্ধৃতি শেষ।
হাফিজ ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের তাফসীরে বলেন (৩): "একই কারণে আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের সাথে মৌলিক বা শাখা-প্রশাখার কোনো বিষয়ে সাদৃশ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।" উদ্ধৃতি শেষ।
এই অধ্যায়ে আরও বহু আয়াত রয়েছে এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।
এই আয়াতগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কাফিরদের হিদায়াত বর্জন করা এবং তাদের কাজ, কথা ও খেয়ালখুশির সাদৃশ্য পরিহার করা সেই সব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত যা পবিত্র কুরআন প্রতিষ্ঠা করেছে ও নিয়ে এসেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের কাছে এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনা প্রদান করেছেন এবং শরীয়তের শাখা-প্রশাখার বহু বিষয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের তরীকা (سنة) ছাড়া অন্যের তরীকা অনুযায়ী আমল করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়" (৪)। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনায় বসবাসকারী ইয়াহুদীরাও তা বুঝতে পেরেছিল এবং তারা অনুভব করেছিল যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যক্তিগত সকল বিষয়েই তাদের বিরোধিতা করার প্রয়াস চালান। তাই তারা বলেছিল: "এই ব্যক্তিটি আমাদের কোনো বিষয়ই ছাড়তে চায় না বরং সবেতেই আমাদের বিরোধিতা করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فِيهِ؟ " (1). وهذا لا ينحصر في باب واحد من أبواب الشريعة المطهرة كالصلاة مثلًا، بل قد تعداها إلى غيرها من العبادات والآداب والعادات، وهذا بعضها مسوق بين يديك لتكون على بصيرة وتقف على أهمية هذا الأمر:
(أ) (من الصلاة):
عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ لَهُ مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: اهْتَمَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلَاةِ كَيْفَ يَجْمَعُ النَّاسَ لَهَا، فَقِيلَ لَهُ: انْصِبْ رَايَةً عِنْدَ حُضُورِ الصَّلَاةِ فَإِذَا رَأَوْهَا آذَنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ، قَالَ: فَذُكِرَ لَهُ الْقُنْعُ - يَعْنِي الشَّبُّورَ وَقَالَ زِيَادٌ: شَبُّورُ الْيَهُودِ (2) - فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ، وَقَالَ: «هُوَ مِنْ أَمْرِ الْيَهُودِ» قَالَ: فَذُكِرَ لَهُ النَّاقُوسُ، فَقَالَ: «هُوَ مِنْ أَمْرِ النَّصَارَى» فَانْصَرَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ وَهُوَ مُهْتَمٌّ لِهَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأُرِيَ الْأَذَانَ فِي مَنَامِهِ" (3) الحديث.
ومن هذا الباب ما ثبت عن عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ وَأَجْهَلُهُ أَخْبِرْنِي عَنِ الصَّلَاةِ فَقَالَ: «صَلِّ صَلَاةَ الصُّبْحِ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَتَرْتَفِعَ؛ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ، ثُمَّ صَلِّ فَالصَّلَاةُ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقِلَّ الظِّلُّ بِالرُّمْحِ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ؛ فَإِنِّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمَ، فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَيْءُ فَصَلِّ؛ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ؛ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ" (4).
ومن ذلك ما رواه جندب بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بخمس وهو يقول: "
… ألا
--------------------------------------------
তাতে?" (১)। আর এটি পবিত্র শরিয়তের কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, যেমন নামাজ; বরং এটি অন্যান্য ইবাদত, শিষ্টাচার এবং অভ্যাসের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। আপনার সামনে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো যাতে আপনি স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারেন এবং এই বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা উপলব্ধি করতে পারেন:
(ক) (নামাজ সংক্রান্ত):
আবু উমাইর বিন আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি তার আনসারি চাচাদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাজের জন্য কীভাবে মানুষকে একত্রিত করা যায় তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাকে বলা হলো: নামাজের সময় হলে একটি পতাকা উত্তোলন করুন, তারা সেটি দেখে একে অপরকে জানিয়ে দেবে। কিন্তু তা তার পছন্দ হলো না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তার কাছে শিঙার (কুন'উ)—অর্থাৎ শাব্বুর—কথা উল্লেখ করা হলো। জিয়াদ বলেন: ইহুদিদের শিঙা (২)—কিন্তু তাও তার পছন্দ হলো না এবং তিনি বললেন: "এটি তো ইহুদিদের কাজ।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তার কাছে ঘণ্টার কথা উল্লেখ করা হলো। তিনি বললেন: "এটি তো নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) কাজ।" অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে জায়িদ ইবনে আবদি রাব্বিহি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চিন্তায় চিন্তিত হয়ে ফিরে গেলেন। এরপর স্বপ্নে তাকে আজান দেখানো হলো" (৩) হাদিস।
এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত আরেকটি প্রমাণ হলো যা আমর ইবনে আবাসা থেকে প্রমাণিত হয়েছে: আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন এবং আমি যা জানি না তা থেকে আমাকে অবহিত করুন; আমাকে নামাজ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "সুবহে সাদিকের নামাজ আদায় করো, তারপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে ওঠা পর্যন্ত নামাজ থেকে বিরত থাকো; কারণ তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং সেই সময়ে কাফেররা তাকে সেজদা করে। তারপর নামাজ আদায় করো, কেননা (সেই সময়ের) নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং সাক্ষী থাকেন, যতক্ষণ না বর্শার ছায়া স্থির হয়। তারপর নামাজ থেকে বিরত থাকো; কারণ সেই সময়ে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। এরপর যখন ছায়া বাড়তে শুরু করবে তখন নামাজ পড়ো; কেননা নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং সাক্ষী থাকেন, যতক্ষণ না তুমি আসরের নামাজ পড়ো। তারপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামাজ থেকে বিরত থাকো; কারণ তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং সেই সময়ে কাফেররা তাকে সেজদা করে।" (৪)।
এর মধ্যে আরও রয়েছে যা জানদাব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন আগে বলতে শুনেছি: " … সাবধান!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ فَإِنِّي أَنْهَاكُمْ، عَنْ ذَلِكَ" (1).
ومن ذلك ما رواه يَعْلَى بْنِ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَالِفُوا الْيَهُودَ فَإِنَّهُمْ لَا يُصَلُّونَ فِي نِعَالِهِمْ، وَلَا خِفَافِهِمْ" (2).
ومن ذلك ما رواه جابر بن عبد الله عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إِنْ كِدْتُمْ لَتَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومِ، يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ، فَلَا تَفْعَلُوا" (3). الحديث، وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى رجلا وهو جالس معتمد على يده اليسرى في الصلاة فقال: "إِنَّهَا صَلَاةُ الْيَهُودِ" (4). وفي رواية: "لَا تَجْلِسْ هَكَذَا، إِنَّمَا هَذِهِ جِلْسَةُ الَّذِينَ يُعَذَّبُونَ" (5).
(ب) (ومن الجنائز):
ما رواه جرير بن عبد الله رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللَّحْدُ لَنَا، وَالشَّقُّ لِأَهْلِ الْكِتَابِ" (6).
(ج) (ومن الصوم):
ما رواه عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ فَصْلَ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَكْلَةُ السَّحَرِ» (7).
وما رواه أبو هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَا
--------------------------------------------
“নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে সিজদাহগাহ (মসজিদ) বানাত। সুতরাং তোমরা কবরসমূহকে সিজদাহগাহ বানিও না; আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।” (১)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইয়ালা ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আউস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা ইহুদিদের বৈপরীত্য করো; কেননা তারা তাদের জুতা ও মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করে না।” (২)।
তদ্রূপ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা তো পারস্য ও রোমের অধিবাসীদের মতো কাজ করতে উপক্রম হয়েছিলে; তারা তাদের রাজাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অথচ তারা (রাজারা) বসা থাকে। তোমরা এরূপ করো না।” (৩)। হাদিস। আর ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে সালাতে বাম হাতের ওপর ভর দিয়ে বসা অবস্থায় নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: “নিশ্চয়ই এটি ইহুদিদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি।” (৪)। অপর এক বর্ণনায় এসেছে: “এভাবে বসো না, এটি তো তাদের বসার ভঙ্গি যাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।” (৫)।
(খ) (জানাযা অধ্যায় হতে):
জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “লাহাদ (পার্শ্ব খননকৃত কবর) আমাদের জন্য, আর শাক্ক (মাঝখানে সরাসরি নিচে খননকৃত কবর) আহলে কিতাবদের জন্য।” (৬)।
(গ) (সিয়াম অধ্যায় হতে):
আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আমাদের সিয়াম এবং আহলে কিতাবদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি গ্রহণ করা।” (৭)।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَّلَ النَّاسُ الْفِطْرَ، لِأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ" (1).
وعَنْ لَيْلَى، امْرَأَةِ بَشِيرٍ قَالَتْ: أَرَدْتُ أَنْ أَصُومَ يَوْمَيْنِ مُوَاصِلَةً، فَمَنَعَنِي بَشِيرٌ، وَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُ وَقَالَ: " يَفْعَلُ ذَلِكَ النَّصَارَى، وَقَالَ عَفَّانُ: يَفْعَلُ ذَلِكَ النَّصَارَى، وَلَكِنْ صُومُوا كَمَا أَمَرَكُمُ اللَّهُ، وَأَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ، فَإِذَا كَانَ اللَّيْلُ فَأَفْطِرُوا" (2).
وعن بْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى» قَالَ: فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم" (3).
وعن أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ يَوْمَ السَّبْتِ وَيَوْمَ الْأَحَدِ أَكْثَرَ مِمَّا يَصُومُ مِنَ الْأَيَّامِ، وَيَقُولُ: «إِنَّهُمَا يَوْمَا عِيدِ الْمُشْرِكِينَ، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أُخَالِفَهُمْ» (4).
(د) (ومن الأطعمة):
ما رواه عدى بن حاتم قال: "قلت: يا رسول الله، إِنِّي أَسْأَلُكَ عَنْ طَعَامٍ لَا أَدَعُهُ إِلَّا تَحَرُّجًا، قَالَ: «لَا تَدَعْ شَيْئًا ضَارَعْتَ فِيهِ نَصْرَانِيَّةً» (5)
والمعنى: لا تتحرج فإنك إن فعلت ذلك، شابهت فيه النصرانية، فإنه من دأب النصارى وترهبهم.
(هـ) (ومن اللباس والزينة):
--------------------------------------------
“দ্বীন ততক্ষণ পর্যন্ত জয়যুক্ত থাকবে যতক্ষণ মানুষ দ্রুত ইফতার করবে, কেননা ইহুদি ও নাসারারা (খ্রিস্টানরা) দেরি করে।” (১)।
বশীরের স্ত্রী লায়লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি একটানা দুই দিন রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলাম, কিন্তু বশীর আমাকে বাধা দিলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: 'নাসারারা এমনটি করে।' আফফান বলেন: 'নাসারারা এমনটি করে, তবে তোমরা সেভাবে রোজা রাখো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো, অতঃপর যখন রাত হবে তখন ইফতার করো'।" (২)।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশুরার রোজা রাখলেন এবং রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি এমন একটি দিন যা ইহুদি ও নাসারারা সম্মান করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'ইনশাআল্লাহ, আগামী বছর আসলে আমরা নবম তারিখেও রোজা রাখব।' বর্ণনাকারী বলেন: কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন।" (৩)।
উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শনিবার ও রবিবার অন্য দিনের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন এবং বলতেন: 'এ দুটি মুশরিকদের উৎসবের দিন, তাই আমি তাদের বিরোধিতা করতে পছন্দ করি'।" (৪)।
(দ) (খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত):
আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে এমন খাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি যা আমি কেবল দ্বিধাবোধ থেকেই বর্জন করি। তিনি বললেন: 'খ্রিস্টধর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় এমন কিছু বর্জন করো না'।" (৫)
এর অর্থ হলো: তুমি দ্বিধাবোধ করো না, কেননা তুমি যদি (বিনা কারণে হালাল বস্তু বর্জন) করো, তবে তাতে খ্রিস্টধর্মের অনুকরণ হয়ে যাবে; কারণ এটি নাসারাদের রীতি এবং তাদের বৈরাগ্যবাদ বা সংসারবিরাগিতা।
(হ) (পোশাক ও অলঙ্কার সংক্রান্ত):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ما رواه عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو حَدَّثَهُ قَالَ: رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، إِنَّ هَذِهِ ثِيَابُ الْكُفَّارِ فَلَا تَلْبَسْهَا» (1).
وفي كتاب أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى عتبة بن فرقد رضي الله عنه: "
… وَإِيَّاكُمْ وَالتَّنَعُّمَ، وَزِيَّ أَهْلِ الشِّرْكِ، وَلَبُوسَ الْحَرِيرَ
… " (2).
وعن علي رضي الله عنه رفعه: «إِيَّاكُمْ وَلِباسَ الرُّهْبَانِ، فَإِنَّهُ مَنْ تَرَهَّبَ أَوْ تَشَبَّهَ فَلَيْسَ مِنِّي» (3).
وعن أبي أمامة رضي الله عنه قال: "خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَشْيَخَةٍ مِنَ الْأَنْصَارٍ بِيضٌ لِحَاهُمْ فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ حَمِّرُوا وَصَفِّرُوا، وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ». قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يَتَسَرْوَلَونَ وَلْا يَأْتَزِرُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَسَرْوَلُوا وَائْتَزِرُوا وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ». قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يَتَخَفَّفُونَ وَلَا يَنْتَعِلُونَ. قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «فَتَخَفَّفُوا وَانْتَعِلُوا وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ». قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يَقُصُّونَ عَثَانِينَهُمْ (4) وَيُوَفِّرُونَ سِبَالَهُمْ (5). قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «قُصُّوا سِبَالَكُمْ وَوَفِّرُوا عَثَانِينَكُمْ وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ» (6).
وعَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ، وَأَوْفُوا اللِّحَى» (7).
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার গায়ে কুসুম রঞ্জিত (জাফরানি রঙের) দুটি কাপড় দেখলেন এবং বললেন: «হে আবদুল্লাহ ইবনে আমর! নিশ্চয়ই এগুলো কাফেরদের পোশাক, সুতরাং তুমি এগুলো পরিধান করো না» (১)।
আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর পক্ষ থেকে উতবা বিন ফারকাদ (রা.)-এর নিকট প্রেরিত পত্রে রয়েছে: "
… এবং তোমরা বিলাসিতা, মুশরিকদের বেশভূষা এবং রেশমি পোশাক পরিধান থেকে বেঁচে থাকো
… " (২)।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি এটি মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «তোমরা বৈরাগীদের পোশাক থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, যে ব্যক্তি বৈরাগ্য অবলম্বন করে অথবা তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে আমার দলভুক্ত নয়» (৩)।
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আনসারদের এমন একদল বৃদ্ধের নিকট বের হলেন যাদের দাড়ি ধবধবে সাদা ছিল। তখন তিনি বললেন: «হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা দাড়ি লাল করো এবং হলুদ করো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো»। তিনি বলেন: তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আহলে কিতাবরা পায়জামা পরিধান করে কিন্তু লুঙ্গি পরিধান করে না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: «তোমরা পায়জামাও পরো এবং লুঙ্গিও পরো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো»। তিনি বলেন: তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আহলে কিতাবরা মোজা পরে কিন্তু জুতা পরে না। তিনি বলেন: তখন নবী (সা.) বললেন: «তোমরা মোজাও পরো এবং জুতাও পরো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো»। তিনি বলেন: তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আহলে কিতাবরা তাদের দাড়ি (৪) ছেঁটে ফেলে এবং তাদের গোঁফ (৫) লম্বা রাখে। তিনি বলেন: তখন নবী (সা.) বললেন: «তোমরা তোমাদের গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা রাখো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো» (৬)।
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ভালোভাবে ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি পূর্ণভাবে ছেড়ে দাও (লম্বা করো)» (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «جُزُّوا الشَّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ» (1). وعنه صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لَا يَصْبُغُونَ فَخَالِفُوهُمْ» (2). وعنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «غَيِّرُوا الشَّيْبَ، وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلَا بِالنَّصَارَى» (3).
(و) (ومن الآداب والعادات):
عن جابر بن عبد الله مرفوعا: «لَا تُسَلِّمُوا تَسْلِيمَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، فَإِنَّ تَسْلِيمَهُمْ بِالْأَكُفِّ وَالرُّؤوسِ وَالْإِشَارَةِ» (4).
وعن الشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ: مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا جَالِسٌ هَكَذَا، وَقَدْ وَضَعْتُ يَدِيَ الْيُسْرَى خَلْفَ ظَهْرِي وَاتَّكَأْتُ عَلَى أَلْيَةِ يَدِي، فَقَالَ: «أَتَقْعُدُ قِعْدَةَ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ؟» (5).
وأخيرا فقد ثبت عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُعِثْتُ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ بِالسَّيْفِ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِي، وَجُعِلَ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي، وَمَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ» (6).
وعن الحسن قال: "قلما تشبه رجل بقوم إلا لحق بهم". يعني في الدنيا والآخرة، فثبت من كل ما تقدم أن مخالفة الكفار وترك التشبه بهم من مقاصد
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন: «তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো, তোমরা মজুসীদের (অগ্নিউপাসকদের) বিরোধিতা করো» (১)। তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইহুদি ও নাসারারা (খ্রিস্টানরা) চুলে রঙ (খিযাব) লাগায় না, অতএব তোমরা তাদের বিপরীত করো» (২)। তাঁর থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন: «তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা (পাকা চুল-দাড়ি) পরিবর্তন করো এবং ইহুদি ও নাসারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না» (৩)।
(এবং) (শিষ্টাচার ও অভ্যাসসমূহ থেকে):
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে মরফূ (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: «তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের সালামের মতো সালাম দিও না। কেননা তাদের সালাম হলো হাতের তালু, মাথা এবং ইশারার মাধ্যমে» (৪)।
শারীদ ইবনে সুয়াইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি এভাবে বসা ছিলাম—আমি আমার বাম হাত পিঠের পেছনে রেখে হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বললেন: «তুমি কি তাদের মতো করে বসছ যাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ নিপতিত হয়েছে?» (৫)।
পরিশেষে, ইবনে উমর (রা.) থেকে প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন: «আমি কিয়ামতের প্রাক্কালে তলোয়ারসহ প্রেরিত হয়েছি, যতক্ষণ না এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা হয় যাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমার রিযিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। আর যে ব্যক্তি আমার আদেশের বিরোধিতা করবে তার জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান নির্ধারিত করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত» (৬)।
হাসান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "খুব কমই এমন হয় যে, কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে আর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় না।" অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতে। অতএব পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, কাফেরদের বিরোধিতা করা এবং তাদের সাদৃশ্য বর্জন করা শরিয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الشريعة الإسلامية العليا التي بني على أساسها هذا الدين، فالواجب على كل المسلمين رجالا ونساء أن يراعوا ذلك في كافة شئونهم، والله وحده المستعان.
شبهه: زعم بعض الناس أن مخالفة الكفار مستحبة لا واجبة، وأن الصحيح هو كراهة التشبه بالكفار لا تحريمه، واستدل على دعواه بورود نصوص تبنى أحكاما شرعية معللة بمخالفة الكفار وهذه المخالفة مستحبة لا واجبة، فمسلك الجمع بينها وبين النصوص الدالة على الوجوب إنما هو القول بكراهة التشبه فقط، لأن هذا الجمع يقدم على النسخ والترجيح، وجواب ذلك من وجوه.
الأول: أن المقرر عند جمهور الأصوليين والفقهاء أنه إذا وردت نصوص تدل على تحريم شيء وردت نصوص أخرى تدل على جوازه، وجب العمل بالنصوص الدالة على التحريم لأنها ناقلة عن البراءة والإباحة التي كان الناس عليها أول الأمر، قبل ورود الخطر.
الثاني: قوله صلى الله عليه وسلم: "من تشبه بقوم فهو منهم" صريح الدلالة على تحريم التشبه بالكفار، وكذا قوله صلى الله عليه وسلم: "أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ ثَلَاثَةٌ" وذكر منهم "وَمُبْتَغٍ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةَ الجَاهِلِيَّةِ" (1).
وروى مسلم عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: "رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم على ثوبين معصفرين، فقال: "إن هذا من لباس الكفار فلا تلبسهما"، قلت: أغسلهما؟ قال: لا، بل أحرقهما"، والإحراق فيه إتلاف مال متقوم، وهذا ينافي القول باستحباب المخالفة.
الثالث: أن الجمع لا يصار اليه عندما تكون النصوص محتملة غير صريحة، وفيما عدا ذلك يصار إلى النسخ أو الترجيح.
الرابع: أن ما تقتضي الأدلة رجحانه هو تحريم التشبه بالكفار فيما هو من خصائصهم، وقد يرد في بعض المسائل ما يصرف هذا الحكم إلى الكراهة فلا يلغي ذلك الأصل بل يخصص في هذه المسائل بعينها، والعلم عند الله تعالى.
--------------------------------------------
ইসলামি শরিয়াহ হলো সর্বোচ্চ ব্যবস্থা যার ওপর এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং সকল মুসলিম নর-নারীর ওপর আবশ্যক হলো তাদের সকল ক্ষেত্রে এটি মেনে চলা। আর আল্লাহ্ই একমাত্র সাহায্যকারী।
সংশয়: কিছু লোক দাবি করে যে, কাফিরদের বিরোধিতা করা মুস্তাহাব (مستحبة), ওয়াজিব (واجبة) নয়; আর সঠিক মত হলো কাফিরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা মাকরুহ (كراهة), হারাম (تحريم) নয়। সে তার দাবির সপক্ষে এমন কিছু নস (نصوص) পেশ করে যেখানে কাফিরদের বিরোধিতার কারণে শারঈ বিধান প্রদান করা হয়েছে এবং এই বিরোধিতা মুস্তাহাব (مستحبة), ওয়াজিব (واجبة) নয়। সুতরাং, এসব নস এবং ওয়াজিব (وجوب) নির্দেশক নসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করার পথ হলো কেবল সাদৃশ্য গ্রহণকে মাকরুহ (كراهة) বলা। কারণ এই সমন্বয় (الجمع) নসখ (النسخ) বা তারজিহ (الترجيح) এর ওপর অগ্রাধিকার পায়। এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া হলো।
প্রথমত: উসুলবিদ (أصوليين) এবং ফকিহগণের (فقهاء) জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট এটি সাব্যস্ত যে, যখন কোনো জিনিসের হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে কিছু নস (نصوص) আসে এবং তার জায়েজ (جواز) হওয়ার ব্যাপারে অন্য কিছু নস (نصوص) আসে, তখন হারাম (تحريم) নির্দেশক নসগুলো অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব (واجب)। কারণ এগুলো মানুষকে সেই মূল দায়মুক্ততা ও বৈধতা (الإباحة) থেকে সরিয়ে আনে, যার ওপর মানুষ নিষেধাজ্ঞা আসার পূর্বে প্রাথমিক অবস্থায় ছিল।
দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" - এটি কাফিরদের সাদৃশ্য গ্রহণের হারাম (تحريم) হওয়ার ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ। অনুরূপভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আল্লাহর কাছে সর্বাধিক ঘৃণিত ব্যক্তি তিন জন", যাদের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন: "ইসলামের ভেতর জাহেলি প্রথার অনুসারী।" (১)।
ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পরিধানে কুসুম ফুল দ্বারা রঞ্জিত দুটি কাপড় দেখলেন এবং বললেন: 'নিশ্চয়ই এগুলো কাফিরদের পোশাক, সুতরাং তুমি এগুলো পরিধান করো না।' আমি বললাম: 'আমি কি এগুলো ধুয়ে ফেলব?' তিনি বললেন: 'না, বরং এগুলো পুড়িয়ে ফেলো'।" আর কোনো মূল্যবান সম্পদ পুড়িয়ে ফেলার অর্থ হলো তা বিনষ্ট করা; এটি বিরোধিতাকে মুস্তাহাব (استحباب) বলার পরিপন্থী।
তৃতীয়ত: যখন নস (نصوص) গুলো দ্ব্যর্থবোধক (محتملة) হয় এবং সুস্পষ্ট (صريحة) না হয়, তখন সমন্বয় (الجمع) করার দিকে ধাবিত হওয়া যায় না। এমতাবস্থায় নসখ (النسخ) অথবা তারজিহ (الترجيح) এর দিকে ধাবিত হতে হয়।
চতুর্থত: দলিলাদি যা অগ্রগণ্য (الرجحان) করে তা হলো—যা কাফিরদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, তাতে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম (تحريم)। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট মাসআলায় এমন কিছু দলিল পাওয়া যেতে পারে যা এই হুকুমকে মাকরুহ (كراهة) হওয়ার দিকে ফিরিয়ে নেয়; তবে এটি সেই মূল নীতিকে (الأصل) বাতিল করে না, বরং কেবল ওই বিশেষ মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে তা খাস (يخصص) হিসেবে গণ্য হয়। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার নিকট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تنبيهات
الأول: مخالفة الكفار إنما تجب فيما ابتدعوه، وكان خاصا بهم لا فيما يشترك فيه الناس كلهم مما هو من لوازم الحياة، كأكل الخبز والنوم والاستضاءة بالكهرباء، إلخ
…الثاني: المذموم من التشبه بالكفار هو ما يخالف الكتاب والسنة، أو ما يكون سببا في اندثار الدين ودروس شرائعه وفساد أهله، أما ما لم يكن كذلك كالأنظمة الإدارية والمشاريع التي تعود بالخير على المسلمين والمنجزات العلمية التي تقوي شوكة المسلمين أو تيسر المعايش فليس بمذموم، بل قد يستحب أو يجب حسب المقاصد التي تؤدي إليها هذه الوسائل فإن الذرائع لها أحكام الغايات وقال تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} (1)،
وقد ورد (2) أن النبي صلى الله عليه وسلم "تحصن من الأحزاب في الخندق حينما أخبره سلمان الفارسي رضي الله عنه أن الفرس يتحصنون به،
وورد (3) أنه أمر زيد بن ثابت أن يتعلم لغة اليهود ليكون ترجمانا له صلى الله عليه وسلم، وقد هم صلى الله عليه وسلم بأن يمنع وطء النساء المراضع خوفا على أولادهن، لأن العرب كانوا يظنون أن الغيلة (وهي وطء المرضع) تضعف ولدها وتضره، فأخبرته صلى الله عليه وسلم فارس والروم بأنهم يفعلون ذلك ولا يضر أولادهم، فأخذ صلى الله عليه وسلم منهم تلك الخطة الطيبة، ولم يمنعه من ذلك أن أصلها من الكفار، وقد انتفع صلى الله عليه وسلم بدلالة ابن الأريقط الدؤلي له في سفر الهجرة على الطريق مع أنه كافر،
وعَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى كِسْرَى، وَقَيْصَرَ، وَالنَّجَاشِيِّ، فَقِيلَ: إِنَّهُمْ لَا يَقْبَلُونَ كِتَابًا إِلَّا بِخَاتَمٍ، «فَصَاغَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا حَلْقَتُهُ فِضَّةً، وَنَقَشَ فِيهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ» (4).
--------------------------------------------
সতর্কবার্তাসমূহ
প্রথমত: কাফেরদের বিরোধিতা করা কেবল সেসব বিষয়েই ওয়াজিব (واجب) যা তারা উদ্ভাবন করেছে এবং যা তাদের জন্য বিশিষ্ট; কিন্তু জীবনের সাধারণ প্রয়োজনে যা সব মানুষের মধ্যে প্রচলিত—যেমন রুটি খাওয়া, ঘুমানো এবং বিদ্যুতের আলো ব্যবহার করা ইত্যাদি—তাতে বিরোধিতা আবশ্যক নয়
…দ্বিতীয়ত: কাফেরদের অনুকরণের ক্ষেত্রে কেবল সেটিই নিন্দনীয় যা কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, অথবা যা দ্বীনের বিলুপ্তি, শরীয়তের বিধানাবলি মিটে যাওয়া এবং এর অনুসারীদের ধ্বংসের কারণ হয়। তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও এমন সব প্রকল্প যা মুসলিমদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং সেই সব বৈজ্ঞানিক অর্জন যা মুসলিমদের শক্তি বৃদ্ধি করে কিংবা জীবনযাত্রাকে সহজ করে, সেগুলো নিন্দনীয় নয়। বরং যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই মাধ্যমগুলো গ্রহণ করা হয়, তার ওপর ভিত্তি করে এগুলো মুস্তাহাব (مستحب) এমনকি ওয়াজিবও (واجب) হতে পারে; কেননা মাধ্যমের বিধান তার উদ্দেশ্যের বিধানেরই অনুরূপ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো} (১),
আরও বর্ণিত (ورد) হয়েছে যে (২), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের সময় খন্দক (পরিখা) খনন করে আত্মরক্ষা করেছিলেন, যখন সালমান আল-ফারসি (রা.) তাঁকে অবহিত করেছিলেন যে পারস্যের অধিবাসীরা এভাবে পরিখা খননের মাধ্যমে আত্মরক্ষা করে।
আরও বর্ণিত (ورد) হয়েছে যে (৩), তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে ইহুদিদের ভাষা শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুবাদক হতে পারেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুগ্ধদানকারী নারীদের সাথে সহবাস নিষিদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তাদের সন্তানদের ক্ষতির আশঙ্কায়, কারণ আরবরা মনে করত যে ‘গিলা’ (দুগ্ধদানকালীন সহবাস) সন্তানকে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। অতঃপর পারস্য ও রোমানরা তাঁকে অবহিত করল যে, তারা এমনটি করে কিন্তু তাতে তাদের সন্তানদের কোনো ক্ষতি হয় না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থেকে সেই উত্তম কর্মপন্থাটি গ্রহণ করেন; আর এর উৎস কাফেরদের থেকে হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণে তাঁকে বাধা দেয়নি। তদ্রূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সফরে পথ চেনার জন্য ইবনে আরীকত আদ-দীলির দিকনির্দেশনা দ্বারা উপকৃত হয়েছিলেন, যদিও সে ছিল একজন কাফের।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরা, কায়সার এবং নাজ্জাশির নিকট পত্র লিখতে চাইলেন। তখন বলা হলো: তারা মোহর (সীল) ছাড়া কোনো পত্র গ্রহণ করে না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রূপার আংটি তৈরি করালেন যার উপরিভাগে খোদাই করা ছিল: ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والمقصود أن الانتفاع بالمخترعات الحديثة التي لا تنافي مقاصد الشريعة (1)، لا دخل له في التشبه المذموم والله أعلم.
الثالث: قال أمير البيان شكيب أرسلان (2) رحمه الله: "إن الواجب على المسلمين لينهضوا ويتقدموا ويترقوا كما ترقى غيرهم من الأمم هو الجهاد بالمال والنفس الذي أمر به الله في القرآن مرارا عديدة، وهو ما يسمونه اليوم بالتضحية، وإن الجهاد بالنفس والمال هو العلم الأعلى، فإذا تعلمت الأمة هذا العلم وعملت به دانت سائر العلوم ودنت منها جميع القطوف" اهـ.
وصدق- رحمه الله فإن مصدر قوة المسلمين ورقيهم هو ليس مدى تشبههم بالفرنج كما يزعم المبددون، ولكن هو مدى تمسكهم بالإسلام الذي ذروة سنامه الجهاد في سبيل الله، و"ما ترك قوم الجهاد إلا ذلوا" كما قال الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم.
ولن تقيم يد الباني وإن جهدت
… دنيا الشعوب وركن الدين مهدود
وقال شكيب أرسلان أيضا: "أضاع الإسلام جاحد وجامد" أما الجاحد فهو الذي يأبي إلا أن يفرنج المسلمين، ويخرجهم عن ذاتيتهم ومقوماتهم، ويحملهم على التنكر لماضيهم، وأما الجامد فهو الذي يضع السدود المنيعة في وجه الرقي الحضاري الذي يقوي شوكة المسلمن، ولا يمس عقيدتهم، ولا شريعتهم، والله وحده المستعان.
دعاة التفرنجدعاة على أبواب جهنملا شك أن واقع المسلمن اليوم، قد صار كثير منهم بل أكثرهم أوروبيين في مظهرهم وعاداتهم بل وأفكارهم - مما تتقطع القلوب منه حسرة، ولكن مما يزيد هذه الحسرة أن هذا الذوبان ما طرأ عليهم إلا خلال حقبة يسيرة من
--------------------------------------------
উদ্দেশ্য হলো যে, আধুনিক উদ্ভাবনসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া যা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) পরিপন্থী নয় (১), তা নিন্দনীয় অনুকরণ বা সাদৃশ্য গ্রহণের (التشبه المذموم) অন্তর্ভুক্ত নয়। আর আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
তৃতীয়ত: আমিরুল বয়ান শাকিব আরসালান (২) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "মুসলিমদের জাগরণ, অগ্রগতি এবং অন্যান্য জাতির মতো উন্নতির জন্য তাদের ওপর যা ওয়াজিব বা আবশ্যক তা হলো জান ও মাল দিয়ে জিহাদ (الجهاد) করা, যা আল্লাহ কুরআনে বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মানুষ যাকে উৎসর্গ বা আত্মত্যাগ বলে অভিহিত করে। জান ও মাল দিয়ে জিহাদ (الجهাদ) হলো সর্বোচ্চ জ্ঞান; যদি উম্মাহ এই জ্ঞান অর্জন করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, তবে অন্যান্য সকল জ্ঞান তাদের অনুগত হবে এবং সাফল্যের সকল ফল তাদের নিকটবর্তী হবে।" সমাপ্ত।
তিনি সত্য বলেছেন—রহিমাহুল্লাহ—কেননা মুসলিমদের শক্তি ও উন্নতির উৎস ফিরিঙ্গিদের (পাশ্চাত্য) অনুকরণ করার মাত্রার ওপর নির্ভর করে না—যেমনটি পথভ্রষ্টরা দাবি করে—বরং তা হলো ইসলামের প্রতি তাদের অবিচলতার ওপর, যার সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ (الجهاد)। আর "কোনো জাতি জিহাদ (الجهাদ) ত্যাগ করলে তারা লাঞ্ছিত হবেই," যেমনটি সত্যবাদী ও প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত (الصادق المصدوق) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
আর নির্মাতার হাত কখনোই জাতির ইহকালকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না, যদিও সে আপ্রাণ চেষ্টা করে,
… যদি দ্বীনের স্তম্ভই বিধ্বস্ত হয়ে থাকে।
শাকিব আরসালান আরও বলেছেন: "ইসলামকে ধ্বংস করেছে দুই দল: অস্বীকারকারী (جاحد) এবং স্থবির বা জড়বাদী (جامد)"। অস্বীকারকারী (جاحد) হলো সেই ব্যক্তি যে মুসলিমদের ইউরোপীয়করণ করতে চায়, তাদের নিজস্ব সত্তা ও আদর্শ থেকে বের করে আনতে চায় এবং তাদের অতীত ইতিহাসকে অস্বীকার করতে বাধ্য করে। আর স্থবির বা জড়বাদী (جامد) হলো সেই ব্যক্তি যে সভ্যতার সেই অগ্রগতির পথে দুর্ভেদ্য বাধা সৃষ্টি করে যা মুসলিমদের শক্তিকে বৃদ্ধি করে এবং তাদের আকীদা (عقيدة) কিংবা শরীয়তের (شريعة) কোনো ক্ষতি করে না। একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
পাশ্চাত্যকরণের আহ্বানকারীগণজাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে আহ্বানকারীগণএতে কোনো সন্দেহ নেই যে বর্তমানে মুসলিমদের বাস্তবতা এমন হয়েছে যে, তাদের অনেকে বরং অধিকাংশ লোক তাদের বাহ্যিক বেশভূষা, অভ্যাস এমনকি চিন্তাধারায় ইউরোপীয় হয়ে গেছে—যা হৃদয়ে গভীর অনুশোচনা সৃষ্টি করে। কিন্তু এই অনুশোচনা আরও বাড়িয়ে দেয় যে, এই বিচ্যুতি বা বিলীন হওয়া তাদের মধ্যে মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানেই ঘটেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الزمان وتم - ويا أسفاه - على يد أعداء الإسلام من الصليبيين الحاقدين الموتورين والزنادقة الملحدين، وما رأينا عالما ولا داعية إسلاميا مخلصا قط قد قرأ هذه البلية الخطيرة، وفيما يلي نسوق عبارات لأبرز هؤلاء المفكرين الذين بذروا بذرة التفرنج ونبذ الإسلام ظهريا.
فأولهم عميل الفكر الغربي الذي قال يوما: (لو وقف الدين الإسلامي حاجزا بيننا وبين فرعونيتنا لنبذناه) فقد طالب صراحة في بعض كتبه ب (أن نسير سيرة الأوروبيين، ونسلك طريقهم لنكون لهم أندادا، ولنكون لهم شركاء في الحضارة، خيرها وشرها، حلوها ومرها، وما يحب منها وما يكره، وما يحمد وما يعاب) (1) اهـ.
فلا جرم أن قال أحد أساتذته "ماسينيون": (لو قرأنا كلام طه حسين لقلنا: هذه بضاعتنا ردت إلينا) اهـ.
وهذا صليبي حقود يذكر في التاريخ على أنه أحد المجددين وهو أبو المبددين يقول في كتابه (اليوم والغد) وهو من الكتب التي غذت فكرة التفرنج وسنت أسوأ السنن للمسلمين المخدوعين: (يجب علينا أن نخرج من آسيا ونلتحق بأوروبا، فإني كلما زادت معرفتي بأوروبا زاد حبي لها وتعلقي بها، وزاد شعوري بأنها مني وأنا منها، وهذا هو مذهبي الذي أعمل له طول حياتي سرا وجهرا، فأنا كافر بالشرق، مؤمن بالغرب) اهـ. ويقول أيضا:
(أريد من التعليم أن يكون أوروبيا لا سلطان للدين عليه، ولا دخول له فيه) ويريد أيضا: (أن تكون الحكومة ديمقراطية برلمانية كما هي في أوروبا، وأن يعاقب كل من يحاول أن يجعلها مثل حكومة هارون الرشيد أو المأمون أوتوقراطية دينية).
--------------------------------------------
কাল অতিবাহিত হয়েছে এবং - হায় আফসোস - ইসলামের শত্রুদের হাতে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে, যারা প্রতিহিংসাপরায়ণ ক্রুসেডার এবং ধর্মত্যাগী যিন্দিক (زنديق) নাস্তিক। আমরা এমন কোনো আলেম বা নিষ্ঠাবান ইসলামি দাঈকে দেখিনি যিনি এই ভয়াবহ বিপদটি অনুধাবন করেছেন। নিচে আমরা সেই সমস্ত বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের কিছু উক্তি তুলে ধরছি যারা পাশ্চাত্যকরণের বীজ বপন করেছেন এবং ইসলামকে পেছনে ছুঁড়ে ফেলেছেন।
তাদের মধ্যে প্রথম জন হলেন পাশ্চাত্য চিন্তাধারার দালাল, যিনি একদিন বলেছিলেন: (যদি ইসলাম ধর্ম আমাদের এবং আমাদের ফেরাউনসত্ত্বার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তা বর্জন করব)। তিনি তার কিছু বইতে স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, (আমাদের উচিত ইউরোপীয়দের জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করা এবং তাদের পথে চলা যাতে আমরা তাদের সমকক্ষ হতে পারি এবং সভ্যতায় তাদের অংশীদার হতে পারি; তার ভালো ও মন্দ, মিষ্টি ও তেতো, পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় এবং প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় সব কিছুতেই) (১) সমাপ্ত।
তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তার জনৈক শিক্ষক 'ম্যাসিনিওন' বলেছিলেন: (আমরা যদি তাহা হোসেনের কথাগুলো পড়ি, তবে আমরা বলব: এ তো আমাদেরই পণ্য যা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে) সমাপ্ত।
আর এই হিংসুক ক্রুসেডার, যাকে ইতিহাসে সংস্কারকদের (مجدد) একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়—অথচ সে হলো ধ্বংসকারীদের হোতা—সে তার 'আল-ইয়াউম ওয়াল গাদ' (আজ ও আগামীকাল) গ্রন্থে বলে, যা পাশ্চাত্যকরণের ধারণাকে পুষ্ট করেছে এবং প্রতারিত মুসলিমদের জন্য নিকৃষ্টতম রীতিনীতি প্রবর্তন করেছে: (আমাদের জন্য আবশ্যক হলো এশিয়া থেকে বেরিয়ে ইউরোপের সাথে যুক্ত হওয়া। ইউরোপ সম্পর্কে আমার জ্ঞান যত বাড়ছে, তার প্রতি আমার ভালোবাসা ও আসক্তিও তত বাড়ছে এবং আমার এই অনুভূতি তীব্র হচ্ছে যে সে আমারই অংশ এবং আমিও তারই অংশ। এটাই আমার আদর্শ যার জন্য আমি সারা জীবন গোপনে ও প্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছি; আমি প্রাচ্যের প্রতি অবিশ্বাসী এবং পাশ্চাত্যের প্রতি বিশ্বাসী) সমাপ্ত। সে আরও বলে:
(আমি চাই শিক্ষা ব্যবস্থা হবে ইউরোপীয় ধাঁচের, যার ওপর ধর্মের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না এবং তাতে ধর্মের কোনো প্রবেশাধিকার থাকবে না)। সে আরও চায়: (সরকার হবে ইউরোপের মতো সংসদীয় গণতান্ত্রিক এবং যে ব্যক্তি একে হারুনুর রশীদ বা মামুনের সরকারের মতো ধর্মীয় স্বৈরতন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ويعدد مناقب الخديوي إسماعيل فيذكر منها أنه (جعلنا نلبس الملابس الأوروبية)، ويريد أن يبطل شريعة الإسلام في تعدد الزوجات وفي الطلاق (بحيث يعاقب بالسجن كل من يتزوج أكثر من واحدة ويمنع الطلاق إلا بحكم محكمة) وهو يريد أن يقتلع من أدبنا كل طابع شرقي مما يسميه (آثار العبودية والذل والتوكل على الآلهة) ثم يمتدح نابليون ويشيد "ببركاته" التي عمت مصر من بعده، ويقول: (آن الأوان لكي نعتاد عادات الأوروبيين، ونلبس لباسهم، ونأكل طعامهم، ونصطنع أساليبهم، في الحكومة والعائلة والاجتماع والزراعة والصناعة) ويقول: (نحن في حاجة إلى ثقافة حرة أبعد ما تكون عن الأديان) وهو يرى أن (اصطناع القبعة أكبر ما يقرب بيننا وبين الأجانب ويجعلنا أمة واحدة، فهو يعد القبعة "رمز الحضارة" يلبسها كل رجل متحضر) (1).
ثم تبلغ جرأته أقصاها حين يسخر من الإسلام وأهله قائلا: (وها نحن أولاء نجد أنفسنا الآن مترددين بين الشرق والغرب، لنا حكومة منظمة على الأساليب الأوروبية، ولكن في وسط الحكومة أجساما شرقية مثل وزارة الأوقاف والمحاكم الشرعية تؤخر تقدم البلاد، ولنا جامعة تبعث بيننا ثقافة العالم المتمدنين، ولكن كلية جامعة الأزهر تقف إلى جانبها تبث بيننا ثقافة القرون المظلمة، ولنا أفندية قد تفرنجوا، لهم بيوت نظيفة، ويقرؤن كتبا سليمة، ولكن إلى جانبهم شيوخا لا يزالون يلبسون الجبب والقفاطين، ولا يتورعون من التوضؤ على قوارع الطريق في الأرياف، ولا يزالون يسمون
--------------------------------------------
তিনি খেদিভ ইসমাইলের গুণাবলি গণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে তিনি (আমাদের ইউরোপীয় পোশাক পরতে বাধ্য করেছেন); তিনি বহুবিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে ইসলামের শরীয়াহকে বাতিল করতে চান (এমনভাবে যে, যে কেউ একের অধিক বিবাহ করবে তাকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং আদালতের নির্দেশ ব্যতীত তালাক নিষিদ্ধ করা হবে)। তিনি আমাদের সংস্কৃতি থেকে প্রতিটি প্রাচ্যদেশীয় বৈশিষ্ট্য উপড়ে ফেলতে চান, যেগুলোকে তিনি (দাসত্ব, লাঞ্ছনা এবং উপাস্যদের ওপর নির্ভরতার অবশেষ) বলে অভিহিত করেন। অতঃপর তিনি নেপোলিয়নের প্রশংসা করেন এবং তার সেই "বরকত" বা আশীর্বাদসমূহের গুণগান করেন যা তার পরবর্তী সময়ে মিশরে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন: (এখন সময় এসেছে যে আমরা ইউরোপীয়দের অভ্যাসে অভ্যস্ত হবো, তাদের পোশাক পরিধান করবো, তাদের খাবার খাবো এবং শাসনব্যবস্থা, পরিবার, সমাজ, কৃষি ও শিল্পে তাদের পদ্ধতিসমূহ গ্রহণ করবো)। তিনি আরও বলেন: (আমাদের এমন এক মুক্ত সংস্কৃতির প্রয়োজন যা ধর্ম থেকে যোজন যোজন দূরে থাকবে)। তিনি মনে করেন যে, (টুপি গ্রহণ করাই আমাদের ও বিদেশিদের মধ্যে নৈকট্য তৈরির সবচেয়ে বড় মাধ্যম এবং এটি আমাদের এক জাতিতে পরিণত করবে; তাই তিনি টুপিকে "সভ্যতার প্রতীক" হিসেবে গণ্য করেন যা প্রত্যেক সভ্য মানুষ পরিধান করে) (১)।
অতঃপর তার ধৃষ্টতা চরমে পৌঁছায় যখন তিনি ইসলাম ও এর অনুসারীদের উপহাস করে বলেন: (এবং আজ আমরা নিজেদের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় পাচ্ছি; আমাদের রয়েছে ইউরোপীয় পদ্ধতিতে সুসংগঠিত সরকার, কিন্তু সেই সরকারের অভ্যন্তরে ওয়াকফ মন্ত্রণালয় ও শরয়ি আদালতের মতো কিছু প্রাচ্যদেশীয় কাঠামো বিদ্যমান যা দেশের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যা আমাদের মাঝে সভ্য বিশ্বের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু এর পাশাপাশি জামেয়া আল-আজহারের কলেজটি দাঁড়িয়ে আছে যা আমাদের মাঝে অন্ধকার যুগের সংস্কৃতি প্রচার করছে। আমাদের এমন কিছু আফান্দি রয়েছেন যারা পাশ্চাত্য ধাঁচ গ্রহণ করেছেন, তাদের পরিচ্ছন্ন বাড়িঘর আছে এবং তারা মানসম্মত বই পড়েন; কিন্তু তাদের পাশেই রয়েছেন এমন সব শায়খ যারা এখনও জুব্বা ও কাফতান পরিধান করেন, পল্লী অঞ্চলের রাস্তার ধারে অজু করতে দ্বিধাবোধ করেন না এবং এখনও তারা নাম দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأقباط واليهود كفارا، كما كان يسميهم عمر بن الخطاب (1) قبل 1300 سنة) اهـ، ثم يقول ذلك الصليبي الحقود في جرأة ووقاحة: (إذا كانت الرابطة الشرقية سخافة لأنها تقوم على أصل كاذب فإن الرابطة الدينية وقاحة، فإننا أبناء القرن العشرين أكبر من أن نعتمد على الدين جامعة تربطنا) اهـ.
فإلى الله عز وجل وحده المشتكي من تسلط هذا الصليبي على عقول ناشئة ينتسبون إلى الإسلام، وتسلط أمثاله على وسائل التوجيه والإعلام في بلادنا إلى يومنا هذا، وكأنهم. هم الأمناء على الدين الحفيظون للإل والذمة:
بأبي وأمي ضاعت الأحلام أم ضاعت الأذهان والأفهام
من حاد عن دين النبي محمد أله بأمر المسلمن قيام
إن لا تكن أسيافهم مشهورة فينا فتلك سيوفهم أقلام
وصدق الله العظيم إذ قال سبحانه: (كليف وإن يظهروا عليكم لا يرقبوا فيكم إلا ولا ذمة). وقال عز وجل: {أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ}.
وصدق رسولنا وأسوتنا الحسنة التي لا نرضى بها بديلا صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم - حيث ذكر أن من علامات زمان الفتنة ظهور (دعاة على أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها)
…--------------------------------------------
কিবতি ও ইহুদিরা কাফের, যেমনটি ওমর ইবনুল খাত্তাব (১) আজ থেকে ১৩০০ বছর আগে তাদের নামে অভিহিত করতেন) সমাপ্ত। এরপর সেই বিদ্বেষপরায়ণ ক্রুসেডার ধৃষ্টতা ও নির্লজ্জতার সাথে বলে: (যদি প্রাচ্যীয় বন্ধন একটি মূর্খতা হয় কারণ এটি একটি মিথ্যা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তবে ধর্মীয় বন্ধন একটি নির্লজ্জতা; কেননা আমরা বিংশ শতাব্দীর সন্তানরা এতটাই প্রগতিশীল যে, আমাদের ঐক্যবদ্ধকারী যোগসূত্র হিসেবে ধর্মের ওপর নির্ভর করা আমাদের জন্য শোভা পায় না) সমাপ্ত।
সুতরাং একমাত্র মহান আল্লাহর কাছেই সেই অভিযোগ, এই ক্রুসেডার কর্তৃক ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত উঠতি প্রজন্মের মেধা ও চিন্তাশক্তি দখলের বিরুদ্ধে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের দেশসমূহের দিকনির্দেশনা ও প্রচারমাধ্যমের ওপর তার মতো ব্যক্তিদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে। যেন তারাই দ্বীনের আমানতদার এবং বংশীয় মর্যাদা ও চুক্তির রক্ষক:
আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন, স্বপ্নগুলো কি হারিয়ে গেছে নাকি মেধা ও প্রজ্ঞা বিলুপ্ত হয়েছে?
যে ব্যক্তি নবী মুহাম্মদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে, মুসলিমদের বিষয়ের ওপর কি তার কোনো কর্তৃত্ব থাকতে পারে?
যদি আমাদের বিরুদ্ধে তাদের তলোয়ারগুলো কোষমুক্ত না-ও থাকে, তবে তাদের সেই কলমগুলোই তলোয়ার হিসেবে সচল।
আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: (কেমন করে? অথচ তারা যদি তোমাদের ওপর জয়ী হয়, তবে তারা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন বা চুক্তির কোনো তোয়াক্কা করবে না)। এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {তারা আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিক্রমে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে}।
আর আমাদের রসূল এবং আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ —যাঁর কোনো বিকল্প আমরা গ্রহণ করি না, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম— সত্যই বলেছেন, যখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে ফিতনার (فتنة) সময়ের অন্যতম আলামত হলো এমন (জাহান্নামের দরজাসমূহে দাঁড়িয়ে থাকা একদল আহ্বানকারীর) আবির্ভাব, যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে তাদেরকেই তারা সেখানে নিক্ষেপ করবে
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فصل حلق اللحية تشبه بالكفاروالدليل على ذلك قوله صلى الله عليه وسلم:
«خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ، وَأَوْفُوا اللِّحَى» (1).
قال شيخ الإسلام (2): (فأمر صلى الله عليه وسلم بمخالفة المشركين مطلقا، ثم قال: "احفوا الشوارب، وأوفوا اللحى") وهذه الجملة الثانية بدل من الأصلي، فإن الإبدال يقع في الجمل كما يقع في المفردات). قال:
(فلفظ مخالفة المشركين دليل على أن جنس المخالفة أمر مقصود للشارع، وإن عينت في هذا الفعل فإن تقديم المخالفة علة تقديم العام على الخاص كما يقال: أكرم ضيفك: أطعمه وحادثه، فأمرك بالإكرام ولا دليل على أن إكرام الضيف مقصود ثم عينت الفعل الذي يكون إكراما في ذلك الوقت، والتقرير في هذا الحديث شبيه بالتقرير من قوله: "لا يصبغون فخالفوهم") اهـ كلامه رحمه الله، وفيه رد على من ادعى عدم الربط بين الأفعال الثلاثة، على أن
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: দাড়ি মুণ্ডন করার মাধ্যমে কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করাএর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী:
«তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো» (১)।
শাইখুল ইসলাম (২) বলেন: (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণভাবে (مطلقًا) মুশরিকদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন, অতঃপর বলেছেন: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো") আর এই দ্বিতীয় বাক্যটি মূল (أصل) এর স্থলাভিষিক্ত (بدل), কেননা শব্দের ক্ষেত্রে যেমন স্থলাভিষিক্ত হওয়া (إبدال) ঘটে তেমনি বাক্যের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে)। তিনি বলেন:
(মুশরিকদের বিরোধিতা করার শব্দমালা এ কথার প্রমাণ যে, বিরুদ্ধাচরণের মূল বিষয়টি শারিয়াহ প্রণেতার (শারী’) একটি উদ্দেশ্য, যদিও তা এই বিশেষ কার্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কেননা বিরুদ্ধাচরণের বিষয়টিকে আগে উল্লেখ করা হলো 'বিশেষ' (خاص) এর ওপর 'সাধারণ' (عام) এর কারণ (علة) বর্ণনার ন্যায়। যেমন বলা হয়: 'তোমার মেহমানকে সম্মান করো: তাকে আহার করাও এবং তার সাথে আলাপ করো'। সুতরাং তিনি তোমাকে সম্মান করার নির্দেশ দিলেন এবং মেহমানকে সম্মান করাই যে উদ্দেশ্য তার কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই, অতঃপর তিনি সেই কাজটিকে নির্দিষ্ট করে দিলেন যা ওই সময়ে সম্মান হিসেবে গণ্য হতো। আর এই হাদিসের উপস্থাপনা তাঁর সেই বাণীর উপস্থাপনার অনুরূপ: "তারা খেজাব লাগায় না, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো") তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) কথা এখানেই শেষ। এতে ওই ব্যক্তির প্রতিবাদ রয়েছে যে এই তিনটি কাজের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে, এই ভিত্তিতে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদিল্লাতু তাহরীমি হালকিল লিহইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
افتراض ذلك لا يضر إذ صيغة الأمر الواردة في كل فعل على حدة حقيقة في وجوب امتثاله كما مر آنفا، والله أعلم.
ومن الأدلة الواردة في ذلك أيضا ما رواه أبو هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «جُزُّوا الشَّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ» (1).
قال شيخ الإسلام رحمه الله (2): (فعقب الأمر بالوصف المشتق المناسب، وذلك دليل على أن مخالفة المجوس أمر مقصود للشارع، وهو العلة في هذا الحكم أو علة أخرى أو بعض علة، وإن كان الأظهر عند الإطلاق أنه علة تامة) وفي حديث أبي إمامة رضي الله عنه قول بعض مشيخة الأنصار رضي الله عنهم: ( .. يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ يَقُصُّونَ عَثَانِينَهُمْ وَيُوَفِّرُونَ سِبَالَهُمْ. قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «قُصُّوا سِبَالَكُمْ وَوَفِّرُوا عَثَانِينَكُمْ وَخَالِفُوا أَهْلَ الْكِتَابِ» (3).
وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أهل الشرك يعفون شواربهم ويحفون لحاهم فخالفوهم فاعفوا اللحى وأحفوا الشوارب" (4) والحاصل أن حلق اللحية مرتبط بهذا الأصل العظيم الذي ذهل عنه المسلمون وأضاعوه، فقد حذر الإسلام من موافقة هؤلاء الكفار في زيهم وأعمالهم وهديهم، ونحن نرى المسلمين اليوم يلهثون وراء أعدائهم، فقد أولعوا بمحاكاتهم وأشربوا في قلوبهم الافتتان بسبيلهم.
وقد كان المسلمون إلى عهد قريب يوفرون لحاهم، ويرون حلقها عيبا ومنقصة، فأصبحوا يعدون الحلق زينة وكمالا، وقال الشيخ على محفوظ رحمه
--------------------------------------------
এটি ধরে নেওয়া কোনো ক্ষতি করে না, কারণ পূর্বে যেমন অতিবাহিত হয়েছে, প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে বর্ণিত আদেশের রূপ (صيغة الأمر) প্রকৃতপক্ষে (حقيقة) সেটির আনুগত্য করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ারই প্রমাণ দেয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
এ বিষয়ে বর্ণিত প্রমাণাদির মধ্যে আরও রয়েছে যা আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো, অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।” (১)।
শাইখুল ইসলাম (রহ.) বলেন (২): (তিনি যুতসই একটি উদ্ভূত গুণের (وصف مشتق) মাধ্যমে আদেশের অনুগমন করেছেন; যা এই প্রমাণ বহন করে যে, অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করা শরয়ি বিধানদাতার (الشارع) অন্যতম উদ্দেশ্য। আর এটিই এই বিধানের কারণ (العلة), অথবা অন্য কোনো কারণ বা কারণের অংশ। যদিও সাধারণভাবে এটিই অধিক স্পষ্ট (الأظهر) যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কারণ (علة تامة))। আর আবু উমামা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে আনসারদের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির বক্তব্য রয়েছে: (.. হে আল্লাহর রাসূল! আহলে কিতাবরা তাদের দাড়ি ছোট করে এবং গোঁফ লম্বা রাখে। তিনি বলেন: নবী (সা.) বললেন: “তোমরা তোমাদের গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো, আর আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো।”) (৩)।
আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নিশ্চয়ই মুশরিকরা তাদের গোঁফ ছেড়ে দেয় এবং দাড়ি ছোট করে, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো; তোমরা দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ ছোট করো।” (৪) সারকথা হলো, দাড়ি মুণ্ডন করা এমন এক মহান মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত যা মুসলমানরা বিস্মৃত হয়েছে এবং হারিয়ে ফেলেছে। ইসলাম এসব কাফেরদের পোশাক-পরিচ্ছদ, কাজকর্ম এবং জীবনপদ্ধতিতে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। অথচ আজ আমরা দেখছি মুসলমানরা তাদের শত্রুদের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছে; তারা তাদের অনুকরণে মত্ত হয়ে পড়েছে এবং তাদের অন্তরে শত্রুদের পথের প্রতি মোহ গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
নিকট অতীত পর্যন্ত মুসলমানরা তাদের দাড়ি লম্বা রাখতেন এবং এটি মুণ্ডন করাকে দোষ ও ত্রুটি হিসেবে গণ্য করতেন। কিন্তু বর্তমানে তারা মুণ্ডন করাকেই সৌন্দর্য ও পূর্ণতা হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছেন। আর শেখ আলী মাহফুজ (রহ.) বলেছেন...
--------------------------------------------