(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: -)
المناسك لابن أبي عروبة   (ابن أبي عروبة)

القسم: الفقه العام


الكتاب: المناسك لابن أبي عروبة

المؤلف: أبو النضر سعيد بن أبي عروبة: مهران العدوي ـ ولاء ـ البصري (ت 156هـ)

دراسة وتحقيق وتعليق: الدكتور عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 116

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মানাসিক লি-ইবনে আবি আরুবাহ   (ইবনে আবি আরুবাহ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: আল-মানাসিক লি-ইবনে আবি আরুবাহ

লেখক: আবু আন-নাদর সাঈদ বিন আবি আরুবাহ: মিহরান আল-আদাবি — আনুগত্যের সূত্রে (ولاء) — আল-বাসরি (মৃত্যু ১৫৬ হিজরি)

গবেষণা, তাহকিক ও টীকা: ডক্টর আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
1 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا السَّبِيلُ إِلَيْهِ؟ قَالَ: «مَنْ وَجَدَ زَادًا وَرَاحِلَةً» ⦗ص: 58⦘ وَهُوَ قَوْلُ الْحَسَنِ وَقَتَادَةَ
১ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, আল-হাসান বলেন: বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, সেটির (হজ্জের) পথ কোনটি? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি পাথেয় ও বাহন সংগ্রহ করতে পেরেছে» ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ আর এটি আল-হাসান ও কাতাদাহর অভিমত।
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
2 - عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: ذُكِرَ لَنَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي خُطْبَتِهِ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ كَتَبَ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ» ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَكُلَّ عَامٍ؟ فَسَكَتَ عَنْهُ نَبِيُّ اللَّهِ، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَكُلَّ عَامٍ؟ فَسَكَتَ عَنْهُ نَبِيُّ اللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَكُلَّ عَامٍ؟ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ: " وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْ قُلْتُ: نَعَمْ ، لَوَجَبَتْ، وَلَوْ وَجَبَتْ لَكَفَرْتُمْ وَمَا اسْتَطَعْتُمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَاتَّبِعُوهُ ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَانْتَهُوا عَنْهُ، فَإِنَّمَا أُهْلِكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، وَكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ. أَلَا وَإِنَّمَا هِيَ حِجَّةٌ وَعُمْرَةٌ، فَمَنْ قَضَاهُمَا فَقَدْ قَضَى الْفَرِيضَةَ، فَمَا أَصَابَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ "
২ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খুতবায় বলেছেন: “হে লোকসকল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ আবশ্যিক করেছেন।” তখন জনৈক মরুচারী ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর নবী, তা কি প্রতি বছর? আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রশ্নে নীরব থাকলেন। সে পুনরায় বলল: হে আল্লাহর নবী, তা কি প্রতি বছর? আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব থাকলেন। অতঃপর সে আবারও বলল: হে আল্লাহর নবী, তা কি প্রতি বছর? তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমি যদি ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তবে তা অবশ্যই পালনীয় (واجب) হয়ে যেত; আর তা যদি অবশ্যই পালনীয় (واجب) হতো, তবে তোমরা তা অস্বীকার করতে এবং তা পালন করার সামর্থ্য রাখতে না। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ দেই, তখন তোমরা তা অনুসরণ করো; আর যখন কোনো বিষয় হতে তোমাদের নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত থাকো। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ এবং অত্যধিক প্রশ্ন করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। জেনে রেখো, এটি কেবল একবারের হজ ও একবারের উমরাহ; সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটি আদায় করল, সে তার আবশ্যিক দায়িত্ব (فريضة) পূর্ণ করল। আর এরপর সে যা অতিরিক্ত করবে, তা নফল বা ঐচ্ছিক (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে।”
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
3 - عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: ذُكِرَ لَنَا أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ إِلَى الْأَمْصَارِ فَلَا يُوجَدَ رَجُلٌ قَدْ بَلَغَ شَيْئًا وَلَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يَحُجَّ إِلَّا ضَرَبْتُ عَلَيْهِ الْجِزْيَةَ، وَاللَّهِ مَا أُولَئِكَ بِمُسْلِمِينَ، وَاللَّهِ مَا أُولَئِكَ بِمُسْلِمِينَ»
৩ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «আমি সংকল্প করেছি যে, আমি বিভিন্ন জনপদে লোক পাঠাব; অতঃপর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ করেনি, তাকে খুঁজে পেলেই আমি তার ওপর জিযিয়া ধার্য করব। আল্লাহর কসম, তারা মুসলিম নয়; আল্লাহর কসম, তারা মুসলিম নয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
4 - عَنْ صَاحِبٍ لَهُ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَرْزَمٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: «مَنْ بَلَغَ شَيْئًا وَلَهُ سَعَةٌ لَمْ يَحُجَّ مَاتَ، فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا، وَإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا»
৪ - তাঁর জনৈক সাথী হতে বর্ণিত, তিনি আল-হাকাম ইবন উতাইবাহ হতে, তিনি আদী ইবন আদী হতে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আরজাম হতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন: "যে ব্যক্তি (হজের) সামর্থ্য লাভ করেছে এবং সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও হজ করেনি, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করুক অথবা চাইলে খ্রিস্টান হয়ে।"
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يَكُونُ لَهُ الْخَادِمُ أَوِ الْمِسْكِينُ أَيَجِبُ عَلَيْهِ الْحَجُّ؟
এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার নিকট সেবক রয়েছে অথবা কোনো অভাবী ব্যক্তি সম্পর্কে যে, তার ওপর কি হজ আদায় করা আবশ্যক?
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
5 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يَكُونُ لَهُ الْخَادِمُ أَوِ الْمِسْكِينُ، فَإِذَا هُوَ لَا يَجْعَلُ عَلَيْهِ شَيْئًا
5 - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, হাসান (বসরী) বলেন: এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার একজন খাদেম বা অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি রয়েছে, অথচ সে তার ওপর কোনো কিছু (আর্থিক বাধ্যবাধকতা) ধার্য করে না।
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ حَجَّ، أَيَحُجُّ أَيْضًا أَوْ يَعْتِقُ أَوْ يَتَصَدَّقُ؟
একজন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যিনি একবার হজ সম্পাদন করেছেন; তিনি কি পুনরায় হজ করবেন, নাকি দাস মুক্ত করবেন অথবা দান-সদকা করবেন?
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
6 - عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ الْحَسَنَ سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ، فَأَمَرَهُ بِالْعَتَاقَةِ وَالصَّدَقَةِ. ⦗ص: 61⦘ قَالَ سَعِيدٌ: وَكَانَ قَتَادَةُ لَا يَقُولُ بِالْحَجِّ؛ مِنْ أَجْلِ الْحَدِيثِ حَدَّثَ بِهِ عَنِ الْحَسَنِ يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
6 - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, হাসানকে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি তাকে দাসমুক্ত করার এবং দান-সাদকা করার নির্দেশ প্রদান করেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ সাঈদ বলেন: কাতাদাহ হজের প্রবক্তা ছিলেন না; মূলত হাসান থেকে বর্ণিত সেই হাদিসটির কারণে, যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফূ (يرفعه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
7 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ مِنْ عَمَلٍ أَفْضَلُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ جِهَادٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ حِجَّةٍ مَبْرُورَةٍ، لَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ فِيهَا وَلَا جِدَالَ»
7 - ক্বাতাদাহ হতে, হাসান হতে বর্ণিত, তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নত (مرفوع) করেছেন, তিনি বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী কোনো আমলই মহান আল্লাহর নিকট আল্লাহর পথে জিহাদ অথবা কবুলকৃত (مبْرُور) হজ্জের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ নয়, যাতে কোনো অশালীনতা, পাপাচার এবং ঝগড়া-বিবাদ নেই।»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
8 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي سَلَمَةَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ الْإِسْلَامَ جَاءَ وَأَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا يُطِيقُ الْحَجَّ، ⦗ص: 62⦘ فَهَلْ يُجْزِي عَنْهُ، أَوْ يُقْبَلُ مِنْهُ أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَاحْجُجْ عَنْ أَبِيكَ، فَإِنَّ أَبَاكَ لَوْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَقُضِيَ عَنْهُ لَقَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ، فَاللَّهُ أَرْحَمُ "
৮ - কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, বনী সালামাহ গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: ইসলাম যখন এসেছে তখন আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ লোক, তিনি হজ পালনের সামর্থ্য রাখেন না। ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ এমতাবস্থায় আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করি, তবে কি তা তাঁর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে কিংবা কবুল করা হবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ করো। কারণ তোমার পিতার ওপর যদি কোনো ঋণ থাকতো এবং তা পরিশোধ করা হতো, তবে আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করতেন; আর আল্লাহ তো সর্বাধিক দয়ালু।"
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
9 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى ابْنَ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي نَذَرَ لَئِنْ أَزْوَيْتُ عَلَيْهِ جَلَبًا لَيَحُجَّنَّ وَلَيَحُجَّنَّ بِي مَعَهُ، فَأَزْوَيْتُ عَلَيْهِ جَلَبًا فَمَاتَ، وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ مِنْ أَمْرِهِ؟ فَقَالَ: هَلْ لِأَبِيكَ وَلَدٌ أَكْبَرُ مِنْكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَلْيَحُجَّ عَنْ أَبِيكَ وَاحْجُجْ مَعَهُ، فَإِنَّ أَبَاكَ لَوْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَقُضِيَ عَنْهُ قُبِلَ مِنْهُ ، فَاللَّهُ أَرْحَمُ
9 - কাতাদাহ থেকে, আযরাহ থেকে, সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বললেন, "আমার পিতা মানত করেছিলেন যে, আমি যদি তাঁর জন্য গবাদি পশুর পাল সংগ্রহ করে দিই, তবে তিনি অবশ্যই হজ করবেন এবং আমাকেও তাঁর সাথে হজে নিয়ে যাবেন। অতঃপর আমি তাঁর জন্য গবাদি পশুর পাল সংগ্রহ করলাম, কিন্তু তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং তিনি তাঁর সেই মানত পূরণ করে যেতে পারেননি।" তিনি (ইবনে আব্বাস) জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার পিতার কি তোমার চেয়ে বড় কোনো সন্তান আছে?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তবে সে যেন তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ আদায় করে এবং তুমিও তার সাথে হজ করো। কেননা তোমার পিতার যদি কোনো ঋণ থাকত এবং তা পরিশোধ করা হতো, তবে তা যেমন তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করা হতো (তেমনি এটিও কবুল হবে); আর আল্লাহ তো অধিকতর দয়ালু।"
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌سُئِلَ عَنِ الْغُلَامِ يَحُجُّ مَعَ أَهْلِهِ، أَيَبْقَى عَلَيْهِ مَا يَبْقَى عَلَى الْمُحْرِمِ؟
পরিবারের সাথে হজ পালনকারী বালক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো; একজন ইহরামকারী ব্যক্তির ওপর যা কিছু প্রযোজ্য হয়, তার ওপরও কি তা প্রযোজ্য হবে?
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
10 - عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: «يَبْقَى عَلَيْهِ مَا يَبْقَى عَلَى الْمُحْرِمِ، وَيُعَلَّمُ الْإِحْرَامَ»
১০ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «একজন এহরামকারীর (محرم) ওপর যা যা অবশিষ্ট থাকে, তার ওপরও তা অবশিষ্ট থাকবে এবং তাকে এহরাম (إحرام) শিক্ষা দেওয়া হবে»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌سُئِلَ: يَحُجُّ قَبْلَ أَنْ يَحْتَلِمَ، وَالْأَعْرَابِيُّ، وَالْمَمْلُوكُ
জিজ্ঞাসিত হলেন: সাবালক হওয়ার পূর্বে হজ সম্পাদন, বেদুইন এবং ক্রীতদাস প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
11 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: «إِذَا حَجَّ الْغُلَامُ قَبْلَ أَنْ يَحْتَلِمَ، ثُمَّ احْتَلَمَ، فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى، وَإِذَا حَجَّ الْأَعْرَابِيُّ، ثُمَّ هَاجَرَ، فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى، وَإِذَا حَجَّ الْمَمْلُوكُ، ثُمَّ أُعْتِقَ، فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى»
11 - কাতাদাহ হতে, ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «যদি কোনো বালক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে হজ করে, অতঃপর সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে তার ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক; আর যদি কোনো মরুবাসী আরব হজ করে, অতঃপর সে হিজরত করে, তবে তার ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক; এবং যদি কোনো দাস হজ করে, অতঃপর তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে তার ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক।»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
12 - عَنْ قَتَادَةَ، وَعَنْ عَطَاءٍ أَنَّهُمَا قَالَا: «إِذَا أُعْتِقَ الْمَمْلُوكُ، أَوِ احْتَلَمَ الْغُلَامُ ⦗ص: 64⦘ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ، فَشَهِدَا الْمَوْقِفَ أَجْزَأَ عَنْهُمَا»
১২ - কাতাদাহ এবং আতা থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: «যদি কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করা হয় কিংবা কোনো বালক আরাফাতের সন্ধ্যায় ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ প্রাপ্তবয়স্ক হয়, অতঃপর তারা উকুফ বা অবস্থানের স্থানে উপস্থিত হয়, তবে তা তাদের পক্ষ থেকে (ফরজ হজ্জ হিসেবে) যথেষ্ট হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌سُئِلَ عَنْ حَجِّ الرَّجُلِ عَنِ الرَّجُلِ وَلَمْ يَحُجَّ بَعْدُ
এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে অন্য ব্যক্তির হজ্জ পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, অথচ তিনি নিজে এখনও হজ্জ করেননি
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
13 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ، فَقَالَ: «مَنْ شُبْرُمَةَ؟» قَالَ: أَخِي، أَوْ قَرِيبٌ لِي، قَالَ: «هَلْ حَجَجْتَ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «فَاجْعَلْ هَذَا عَنْكَ، ثُمَّ حُجَّ عَنْهُ بَعْدُ» ⦗ص: 65⦘

 

14 - قَالَ أَبُو النَّضْرِ: وَكَانَ الْحَسَنُ لَا يَرَى بِهِ بَأْسًا، ذَكَرَهُ قَتَادَةُ عَنْهُ
১৩ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: 'শুপরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'শুপরুমা কে?' সে বলল: 'আমার ভাই' অথবা 'আমার নিকটাত্মীয়'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি কি হজ করেছ?' সে বলল: 'না'। তিনি বললেন: 'তবে এটি তোমার নিজের পক্ষ থেকে গণ্য করো, এরপর তার পক্ষ থেকে হজ করো।' ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘

 

১৪ - আবু আন-নাদর বলেন: আল-হাসান এতে কোনো দোষ নেই (لا بأس به) মনে করতেন; কাতাদাহ তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌سُئِلَ عَنْ حَجِّ الرَّجُلِ عَنِ الرَّجُلِ، هَلْ يُسَمِّيهِ؟
এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে অন্য ব্যক্তির হজ পালন করার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি কি তার নাম উল্লেখ করবেন?
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
15 - عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: «يُسَمِّيهِ عِنْدَ إِحْرَامِهِ وَيَدْعُو لَهُ عِنْدَ الْمَشَاهِدِ»
১৫ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «ব্যক্তি ইহরাম বাঁধার সময় তার (হাদির) নাম নেবে এবং হজ্জের পবিত্র স্থানগুলোতে তার জন্য দোয়া করবে।»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ، أَيُطَافُ عَنْهُ؟
এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তার পক্ষ থেকে কি তাওয়াফ করা যাবে?
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
16 - كَانَ قَتَادَةُ يَقُولُ: «يُطَافُ عَنْهُ إِذَا لَمْ يَقْدِرْ عَلَى ذَلِكَ وَيُسْعَى عَنْهُ، أَوْ يُرْمَى عَنْهُ، إِذَا لَمْ يَقْدِرْ عَلَى ذَلِكَ»
১৬ - কাতাদা বলতেন: “যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার পক্ষ থেকে তাওয়াফ করা হবে এবং তার পক্ষ থেকে সাঈ করা হবে, অথবা তার পক্ষ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করা হবে, যদি সে তাতে সক্ষম না হয়।”
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
17 - عَنْ قَتَادَةَ: أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ تَسْلِيمًا طَافَ عَلَى رَاحِلَتِهِ
17 - কাতাদাহ হতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সওয়ারির ওপর আরোহণ করে তাওয়াফ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌سُئِلَ عَنِ رَجُلٍ، أَوْصَى بِحِجَّةٍ وَاحِدَةٍ؟
একজন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যিনি একটি হজের ওসিয়ত করেছেন?
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
18 - عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ وَهُوَ قَوْلُ قَتَادَةَ: وَعَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّهُمْ قَالُوا: «إِذَا أَوْصَى بِشَيْءٍ وَاجِبٍ فَهُوَ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ»
১৮ - কাতাদা হতে, হাসান থেকে বর্ণিত—এবং এটি কাতাদারও অভিমত—এবং মা'মার হতে, যুহরী থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা বলেছেন: "যদি কেউ কোনো ওয়াজিব (واجب) বিষয়ে অসিয়ত করেন, তবে তা (মৃতের) মোট সম্পদ থেকে প্রদান করা হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
19 - عَنْ رَجُلٍ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنِ النَّخَعِيِّ، قَالَ: «هُوَ مِنَ الثُّلُثِ»
19 - জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি নাখয়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «এটি এক-তৃতীয়াংশের অন্তর্ভুক্ত»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌سُئِلَ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا} [آل عمران: 96]
মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো: {নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা তো মক্কায় অবস্থিত; যা বরকতময়} [আল ইমরান: ৯৬]
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
20 - عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل بَكَّ بِهَا الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ، فَيُصَلِّي النِّسَاءُ قُدَّامَ الرِّجَالِ، وَلَا يَفْعَلُ أَوْ لَا يَصْلُحُ بِبَلَدٍ غَيْرِهِ»
20 - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে (মক্কায়) পুরুষ ও নারীদের ভিড় ঘটিয়েছেন, ফলে নারীরা পুরুষদের সামনে সালাত আদায় করেন; এটি অন্য কোনো শহরে করা হয় না অথবা (অন্য কোনো শহরের জন্য) সমীচীন নয়।»
(খণ্ড: ১) আল-মানাসিক লি-ইবনি আবি আরুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌سُئِلَ عَنْ قَوْلِهِ: {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ} [البقرة: 125]
তাঁর নিকট মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো, যখন আমি এই গৃহকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনের স্থান বানিয়েছিলাম} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল [আল-বাকারা: ১২৫]